(খণ্ড: ১) আশ-শায ওয়াল মুনকার ওয়া যিয়াদাতুস সিকা - মুওয়াযানাহ বাইনাল মুতাকাদ্দিমীন ওয়াল মুতাআখখিরীন (পৃষ্ঠা: -)
الشاذ والمنكر وزيادة الثقة - موازنة بين المتقدمين والمتأخرين   (عبد القادر المحمدي)

القسم: علوم الحديث


الكتاب: الشاذ والمنكر وزيادة الثقة - موازنة بين المتقدمين والمتأخرين

المؤلف: أبو ذر عبد القادر بن مصطفى بن عبد الرزاق المحمدي

الناشر: دار الكتب العلمية، بيروت - لبنان

الطبعة: الأولى، 1426 هـ - 2005 م

عدد الصفحات: 409

أصل هذا الكتاب: رسالة دكتوراه من الجامعة الإسلامية بإشراف الأستاذ الدكتور بشار عواد معروف

[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]

تاريخ النشر بالشاملة: 22 رمضان 1432

শায (الشاذ), মুনকার (المنكر) এবং নির্ভরযোগ্য বর্ণনাকারীর অতিরিক্ত বর্ণনা (زيادة الثقة) - পূর্বসূরি (المتقدمين) ও উত্তরসূরিদের (المتأخرين) মধ্যে একটি তুলনামূলক আলোচনা   (আব্দুল কাদির আল-মুহাম্মাদী)

বিভাগ: হাদিস বিজ্ঞান (علوم الحديث)


বই: শায (الشاذ), মুনকার (المنكر) এবং নির্ভরযোগ্য বর্ণনাকারীর অতিরিক্ত বর্ণনা (زيادة الثقة) - পূর্বসূরি (المتقدمين) ও উত্তরসূরিদের (المتأخرين) মধ্যে একটি তুলনামূলক আলোচনা

লেখক: আবু যার আব্দুল কাদির বিন মুস্তফা বিন আব্দুর রাজ্জাক আল-মুহাম্মাদী

প্রকাশক: দারুল কুতুব আল-ইলমিয়্যাহ، বৈরুত - লেবানন

সংস্করণ: প্রথম، ১৪২৬ হিজরি - ২০০৫ খ্রিস্টাব্দ

পৃষ্ঠা সংখ্যা: ৪০৯

বইটির উৎস: প্রফেসর ড. বাশশার আওয়াদ মারুফের তত্ত্বাবধানে ইসলামিক ইউনিভার্সিটি থেকে পিএইচডি থিসিস

[বইটির পৃষ্ঠা নম্বর মুদ্রণ কপির অনুরূপ]

শামেলায় প্রকাশের তারিখ: ২২ রমজান ১৪৩২

(খণ্ড: ১) আশ-শায ওয়াল মুনকার ওয়া যিয়াদাতুস সিকা - মুওয়াযানাহ বাইনাল মুতাকাদ্দিমীন ওয়াল মুতাআখখিরীন (পৃষ্ঠা: -)
الشاذ والمنكر وزيادة الثقة

موازنة بين المتقدمين والمتأخرين

تأليف

الدكتور عبد القادر مصطفى المحمدي

أستاذ الحديث وعلومه

الجامعة الاسلامية - بغداد

دار الكتب العلمية - بيروت 2005 م

الطبعة الأولى
ব্যতিক্রমী (شاذ), প্রত্যাখ্যাত (منكر) এবং নির্ভরযোগ্য বর্ণনাকারীর অতিরিক্ত বর্ণনা (زيادة الثقة)

পূর্বসূরি (متقدمين) ও উত্তরসূরিদের (متأخرين) মধ্যে তুলনামূলক পর্যালোচনা

রচনায়

ড. আব্দুল কাদির মুস্তফা আল-মুহাম্মদী

হাদিস ও হাদিস শাস্ত্রের অধ্যাপক

ইসলামি বিশ্ববিদ্যালয় - বাগদাদ

দারুল কুতুবিল ইলমিয়্যাহ - বৈরুত ২০০৫ খ্রিষ্টাব্দ

প্রথম সংস্করণ
(খণ্ড: ১) আশ-শায ওয়াল মুনকার ওয়া যিয়াদাতুস সিকা - মুওয়াযানাহ বাইনাল মুতাকাদ্দিমীন ওয়াল মুতাআখখিরীন (পৃষ্ঠা: ৭)
‌‌المقدمة

الحمد لله ربّ العالمين، والصلاة والسلام على سيدنا محمد المبعوث رحمة للعالمين، وعلى أهل بيته الطيبين الطاهرين، وصحابته الغر الميامين، وبعد:

فإنّ الجهد العظيم الذي بذله الأئمة المتقدمون من علماء الحديث النبوي الشريف في غربلة المرويات، وتفتيش الأسانيد، وبيان أحوال الرواة في مصنفاتهم ومسانيدهم، وفي كتب العلل والتواريخ وما خلفوه لنا من تراث ضخم، يعد مفخرة لهذه الأمة المحمدية، وتتجلى العناية الربانية لها في تهيئة رجال حُفِظَت بهم السنة النبوية كالإمام مالك، وأحمد، والشافعي، والبخاري، ومسلم، وأبي حاتم، وغيرهم رحمهم الله أجمعين.

ولما كان في الأغلب من صنيعهم عدم التصريح بالأسباب التي ارتأوا من خلال ترجيح رواية راوٍ على آخر أو تضعيف حديث فلان في مكان، وتصحيحه في مكان أخر، إذ لم يبينوا لنا أسباب ذلك إلا في بعض الأحاديث التي تعد قليلة الى جنب ما سكتوا عنه، وإنما كانت تلك القرائن والأسباب قد وقرت في نفس الناقد حسب.

ولما انقضى عهد الأئمة الجهابذة المتقدمين نحو نهاية المائة الثالثة جاء المتأخرون فحاولوا استقراء صنيع الأئمة المتقدمين من خلال مصنفاتهم، وحاولوا وضع قواعد في علم مصطلح الحديث يسيرون عليها، فظهر أول كتاب في مصطلح الحديث هو كتاب: "المحدث الفاصل" للرامهرمزي (ت360هـ)، ثم كتاب "معرفة علوم الحديث " لأبي عبد الله الحاكم النيسابوري (ت405هـ)،ثم تلاه كتاب "الكفاية في علم الرواية "للخطيب البغدادي (ت 463هـ)، وهلمّ جراً.

ولما كان منهج الأئمة المتقدمين منهج عملياً تطبيقياً، إذ لم يصرحوا دائماً بمنهجهم في اختيار الأحاديث أو في انتقاء الأسانيد، ولم يبينوا لنا الأسس التي بموجبها اختاروا أحاديث مصنفاتهم كان استقراء الأئمة المتأخرين ظنياً اجتهادياً في الأعم الأغلب؛ ودلالة ذلك هو اختلافهم في كثير من أبواب المصطلح وتعريفاته، كاختلافهم في تعريف
‌‌ভূমিকা

সমস্ত প্রশংসা জগতসমূহের প্রতিপালক আল্লাহর জন্য, এবং দরুদ ও সালাম বর্ষিত হোক আমাদের নেতা মুহাম্মাদ (সা.)-এর ওপর, যাকে বিশ্ববাসীর জন্য রহমতস্বরূপ পাঠানো হয়েছে, এবং তাঁর পবিত্র ও পরিচ্ছন্ন পরিবারবর্গ ও সম্মানীত সৌভাগ্যবান সাহাবীগণের ওপর। অতপর:

নিশ্চয়ই হাদিস শাস্ত্রের পূর্বসূরি (متقدمون) ইমামগণ বর্ণনাগুলোর (مرويات) যাঁচাই-বাছাই, সনদসমূহের (أسانيد) অনুসন্ধান এবং তাঁদের সংকলন ও মুসনাদসমূহ, সূক্ষ্ম ত্রুটি (علل) বিষয়ক গ্রন্থাবলি ও ইতিহাস গ্রন্থে বর্ণনাকারীদের (رواة) অবস্থা বর্ণনায় যে বিশাল পরিশ্রম করেছেন এবং আমাদের জন্য যে বিশাল ঐতিহ্য রেখে গেছেন, তা এই মুহাম্মাদী উম্মাহর জন্য এক গর্বের বিষয়। ইমাম মালিক, আহমাদ, শাফিঈ, বুখারী, মুসলিম, আবু হাতিম এবং তাঁদের মতো অন্যান্যদের (আল্লাহ তাঁদের সকলের প্রতি রহম করুন) মতো এমন ব্যক্তিত্বদের তৈরি করার মাধ্যমে এই উম্মতের প্রতি মহান রবের বিশেষ যত্ন প্রকাশ পেয়েছে, যাঁদের মাধ্যমে সুন্নাহ সংরক্ষিত হয়েছে।

যেহেতু তাঁদের কর্মপদ্ধতিতে অধিকাংশ ক্ষেত্রেই সেই কারণগুলো স্পষ্টভাবে উল্লেখ করা হয়নি যার ভিত্তিতে তাঁরা এক বর্ণনাকারীর (راوي) বর্ণনার ওপর অন্যজনের বর্ণনাকে প্রাধান্য দিয়েছেন, অথবা কোনো নির্দিষ্ট স্থানে অমুকের হাদিসকে দুর্বল (ضعيف) সাব্যস্ত করা এবং অন্য স্থানে সহিহ (صحيح) সাব্যস্ত করার কারণ দর্শিয়েছেন; কেননা তাঁরা আমাদের কাছে এর কারণগুলো খুব অল্প সংখ্যক হাদিস ছাড়া বর্ণনা করেননি, যার তুলনায় অধিকাংশ ক্ষেত্রে তাঁরা নীরব ছিলেন। বরং সেই লক্ষণ ও কারণগুলো কেবল সমালোচকদের (ناقد) অন্তরেই প্রোথিত ছিল।

যখন প্রায় তৃতীয় হিজরী শতকের শেষের দিকে বিজ্ঞ পূর্বসূরি (متقدمون) ইমামদের যুগের সমাপ্তি ঘটল, তখন পরবর্তীগণ (متأخرون) আগমন করলেন এবং তাঁরা পূর্বসূরি (متقدمون) ইমামদের কর্মপদ্ধতি তাঁদের সংকলনসমূহের মাধ্যমে পর্যালোচনার চেষ্টা করলেন। তাঁরা হাদিস পরিভাষা (مصطلح الحديث) বিজ্ঞানে কিছু নীতিমালা প্রণয়নের চেষ্টা করলেন যার ওপর তাঁরা পরিচালিত হবেন। ফলে হাদিস পরিভাষা (مصطلح الحديث) বিষয়ে প্রথম গ্রন্থ হিসেবে আত্মপ্রকাশ করল রামাহুরমুজীর (মৃত্যু ৩৬০ হি.) 'আল-মুহাদ্দিসুল ফাসিল', এরপর আবু আব্দুল্লাহ আল-হাকিম আন-নিশাপুরীর (মৃত্যু ৪০৫ হি.) 'মা'রিফাতু উলুমিল হাদিস', অতঃপর খতীব আল-বাগদাদীর (মৃত্যু ৪৬৩ হি.) 'আল-কিফায়া ফী ইলমির রিওয়ায়াহ' এবং এভাবে ক্রমান্বয়ে।

যেহেতু পূর্বসূরি (متقدمون) ইমামদের পদ্ধতি ছিল প্রায়োগিক ও কর্মমুখী, এবং যেহেতু তাঁরা হাদিস নির্বাচন বা সনদসমূহ (أسانيد) বাছাইয়ের ক্ষেত্রে তাঁদের পদ্ধতি সবসময় স্পষ্টভাবে উল্লেখ করেননি এবং যে ভিত্তির ওপর তাঁরা তাঁদের সংকলনসমূহে হাদিস চয়ন করেছেন তাও আমাদের কাছে বর্ণনা করেননি, তাই পরবর্তী (متأخرون) ইমামদের পর্যালোচনা ছিল অধিকাংশ ক্ষেত্রেই ধারণা ও ইজতিহাদ প্রসূত। এর প্রমাণ হলো পরিভাষার (مصطلح) অনেক অধ্যায় ও তার সংজ্ঞায় তাঁদের মধ্যকার মতভেদ, যেমন তাঁদের মতভেদ রয়েছে সংজ্ঞার ক্ষেত্রে...
(খণ্ড: ১) আশ-শায ওয়াল মুনকার ওয়া যিয়াদাতুস সিকা - মুওয়াযানাহ বাইনাল মুতাকাদ্দিমীন ওয়াল মুতাআখখিরীন (পৃষ্ঠা: ৮)
الحديث الحسن حتى قال ابن الصلاح معقباً على أقوال أهل العلم:

" كل هذه مُستبهم لا يشفي الغليل، وليس فيما ذكره الترمذي والخطابي ما يفصل الحسن عن الصحيح " (1).

وكاختلافهم في تعريف المنكر والشاذ، فبعضهم سوى بينهما، وبعضهم غَفّلَ من سوى بينهما.

وكاختلافهم في قبول زيادة الثقة، أو ردها، فبعضهم قبلها مطلقاً، وبعضهم ردها مطلقاً، وبعضهم فصل في ذلك، وهلمّ جرا.

وهذا الاختلاف يدلل على كون الاستقراء لم يكن تاماً، وأنه كان اجتهادياً تختلف فيه مناظير العلماء وآراؤهم، ولو كان تاماً ثابتاً قائماً على أسسٍ بينةٍ واضحةٍ لا تقبل الشك والجدل لما اختلفت الأقوال إلى هذا الحد فنرى واحداً يثبت والأخر ينفي، من نحو تعارض الوصل والإرسال مثلاً، فبعضهم قدم الوصل مطلقاً والآخر قدم الإرسال مطلقاً فأيهما هو صنيع الأئمة المتقدمين؟!

إذن: "القواعد المقررة في مصطلح الحديث منها ما يذكر فيه خلاف، ولا يحقق الحق فيه تحقيقاً واضحاً، وكثيراً ما يختلف الترجيح باختلاف العوارض التي تختلف في الجزئيات كثيراً، وإدراك الحق في ذلك يحتاج إلى ممارسة طويلة لكتب الحديث والرجال والعلل مع حسن الفهم وصلاح النية " (2).

ولما كانت الحقيقة واحدة لا تتجزأ، ثم تختلف فيها الآراء فهذا يعني أن يكون أحد هذه الآراء صواباً، أو تكون كلها خطأً لان الحقيقة لا تكون اثنين!!

فإذا كانت كتب المصطلح قد كُتبت على وفق استقراء ظني اجتهادي ثم ما برحت أن تحولت تلك الآراء الظنية إلى قواعد يُحاكم عليها الأئمة المتقدمون، فنجد حينئذٍ من يقول: إن الإمام أحمد يُسوّي بين الفرد المطلق والمنكر؟! وكذا الحافظ أبي بكر البرديجي؟! وهو - عندهم - يناقض صنيع الأئمة الآخرين من أقرانه كالإمام البخاري وأبي حاتم، وغيرهما الذين يفرقون بينهم!! ثم أسهبوا في هذا الأمر وطولوا.

--------------------------------------------

(1) مقدمة ابن صلاح ص29، وللمزيد: انظر شرح علل الترمذي، ابن رجب 2/ 574، والنكت على ابن الصلاح، ابن حجر 1/ 424 - 429.

(2) المعلمي اليماني، مقدمة تحقيق الفوائد المجموعة للإمام الشوكاني ص9.
হাসান (الحسن) হাদিস প্রসঙ্গে এমনকি ইবনে আল-সালাহ আলেমদের বক্তব্যের ওপর মন্তব্য করতে গিয়ে বলেছেন:

"এই সব কিছুই অস্পষ্ট যা তৃষ্ণা মেটায় না, এবং ইমাম তিরমিজি ও খাত্তাবি যা উল্লেখ করেছেন তার মধ্যে এমন কিছু নেই যা হাসান (الحسن)-কে সহিহ (الصحيح) থেকে পৃথক করে।" (১)।

যেমন মুনকার (المنكر) ও শায (الشاذ)-এর সংজ্ঞার ক্ষেত্রে তাঁদের মতভেদ; তাঁদের মধ্যে কেউ কেউ এই দুইয়ের মাঝে সমতা বজায় রেখেছেন, আবার কেউ কেউ তাঁদের অসতর্ক বলেছেন যারা এই দুইয়ের মাঝে সমতা বজায় রেখেছেন।

যেমন নির্ভরযোগ্য বর্ণনাকারীর অতিরিক্ত তথ্য (زيادة الثقة) গ্রহণ বা বর্জনের ক্ষেত্রে তাঁদের মতভেদ; তাঁদের মধ্যে কেউ তা নিঃশর্তভাবে গ্রহণ করেছেন, কেউ নিঃশর্তভাবে প্রত্যাখ্যান করেছেন, আবার কেউ এ বিষয়ে বিস্তারিত ব্যাখ্যা দিয়েছেন, আর এভাবেই চলে আসছে।

এই মতভেদ প্রমাণ করে যে, বিষয়টির পর্যবেক্ষণ পূর্ণাঙ্গ ছিল না এবং এটি ছিল গবেষণামূলক (اجتهادي), যেখানে আলেমদের দৃষ্টিভঙ্গি ও মতামতের ভিন্নতা ছিল। যদি এটি সন্দেহাতীত ও বিতর্কের ঊর্ধ্বে থাকা স্পষ্ট ও স্বচ্ছ ভিত্তির ওপর প্রতিষ্ঠিত ও সুদৃঢ় হতো, তবে মতামত এত অধিক ভিন্ন হতো না; যেখানে আমরা দেখি একজন সাব্যস্ত করছেন তো অন্যজন নাকচ করছেন। যেমন সংযুক্ত (الوصل) ও বিচ্ছিন্ন (الإرسال) হওয়ার মধ্যে বিরোধের বিষয়টি; তাঁদের কেউ কেউ নিঃশর্তভাবে সংযুক্ত (الوصل)-কে প্রাধান্য দিয়েছেন, আবার কেউ কেউ নিঃশর্তভাবে বিচ্ছিন্ন (الإرسال)-কে প্রাধান্য দিয়েছেন। তাহলে প্রাচীন ইমামদের কর্মপদ্ধতি কোনটি ছিল?

সুতরাং: "হাদিস শাস্ত্রের পরিভাষায় (مصطلح الحديث) নির্ধারিত নিয়মগুলোর মধ্যে এমন কিছু আছে যাতে মতভেদ বিদ্যমান এবং সেখানে সত্যটি স্পষ্টভাবে উদ্ঘাটিত হয়নি। অনেক সময় বিভিন্ন আনুষঙ্গিক বিষয়ের কারণে প্রাধান্য দানের (الترجيح) বিষয়টি ভিন্ন হয়ে থাকে, যা খুঁটিনাটি বিষয়ের (الجزئيات) ক্ষেত্রে অনেক সময় আলাদা হয়। এক্ষেত্রে সত্য উপলব্ধির জন্য সঠিক বুঝ ও নেক নিয়তের পাশাপাশি হাদিস, রিজাল (الرجال) ও ইল্লাল (العلل) শাস্ত্রের গ্রন্থাবলির ওপর দীর্ঘ অনুশীলন প্রয়োজন।" (২)।

যেহেতু সত্য অভিন্ন ও অবিভাজ্য, অথচ সে বিষয়ে মতামত ভিন্ন ভিন্ন, এর অর্থ হলো এই মতগুলোর কোনো একটি সঠিক অথবা সবগুলোই ভুল; কারণ সত্য কখনো একাধিক হতে পারে না!!

সুতরাং যদি পরিভাষা (المصطلح) বিষয়ক গ্রন্থগুলো ধারণাভিত্তিক গবেষণার (اجتهادي) ওপর ভিত্তি করে রচিত হয়ে থাকে, অতঃপর সেই ধারণাভিত্তিক মতগুলো এমন সব নিয়মে পরিণত হয় যার দ্বারা প্রাচীন ইমামদের বিচার করা হয়, তবে আমরা এমন কাউকে পাই যে বলে: ইমাম আহমাদ কি একক বর্ণনা (الفرد المطلق) ও মুনকার (المنكر)-এর মাঝে সমতা বিধান করতেন?! হাফেজ আবু বকর আল-বারদিজিও কি তাই করতেন?! অথচ তাঁদের মতে—এটি তাঁর সমসাময়িক ইমাম বুখারি ও আবু হাতিমের মতো অন্যান্য ইমামদের কর্মপদ্ধতির বিপরীত, যারা এই দুটির মধ্যে পার্থক্য করতেন!! অতঃপর তাঁরা এই বিষয়ে দীর্ঘ আলোচনা ও বিস্তার করেছেন।

--------------------------------------------

(১) মুকাদ্দিমাহ ইবনে আল-সালাহ পৃষ্ঠা ২৯; বিস্তারিত জানতে দেখুন: শারহ ইলালুত তিরমিজি, ইবনে রাজাব ২/৫৭৪; আন-নুকাত আলা ইবনিস সালাহ, ইবনে হাজার ১/৪২৪-৪২৯।

(২) আল-মুয়াল্লিমি আল-ইয়ামানি, মুকাদ্দিমাহ তাহকিক আল-ফাওয়াইদ আল-মাজমুআ লিল ইমাম আশ-শাওকানি, পৃষ্ঠা ৯।
(খণ্ড: ১) আশ-শায ওয়াল মুনকার ওয়া যিয়াদাতুস সিকা - মুওয়াযানাহ বাইনাল মুতাকাদ্দিমীন ওয়াল মুতাআখখিরীন (পৃষ্ঠা: ৯)
ولما كان هذا المنهج استقرائياً ظنياً اجتهادياً تجد - مثلاً- في الكتاب المتأخر من كتب المصطلح زيادة أبواب أو مصطلحات على ما تقدمه، من ذلك مثلاً: مصطلح "منكر": فالحاكم لم يبوبه في كتاب "معرفة علوم الحديث"؟ أو الخطيب البغدادي وإنما أول من عده نوعاً مستقلاً هو "ابن الصلاح".

ومصطلح "شاذ" تجد أن أبا عبد الله الحاكم قد بوب له باباً، وعده نوعاً من أنواع علوم الحديث، وعرّفه، في حين لا تجد ذلك عند من سبقه كالحافظ الرامهرمزي.

ثم من يتأمل في تعريفه يجده يختلف تماماً عن تعريفه عند علماء المصطلح من بعده.

ولا أريد أن ألج في تفصيلات هذه المسائل، وإنما قصدي: أنّ كتب مصطلح الحديث ُبنيت على الاستقراء الظني الاجتهادي، وليست هي قواعد متفق عليها يعد مخالفها شاذاً مخالفاً، إذ الاختلاف بين علماء المصطلح يدلل على ذلك.

يقول الشيخان الفاضلان الدكتور بشار عواد وشعيب الأرنؤوط: " إن القواعد التي وضعها مؤلفو كتب المصطلح اجتهادية، منها ما هو مبني على استقراء تام، ومنها - وهو في أغلبها - ما هو مبني على استقراء غير تام.

وكذلك الحكم على الرواة في الغالب، لم يبن على الاستقراء التام، فالأحكام الصادرة عن الأئمة النقاد تختلف باختلاف ثقافاتهم، وقدراتهم العلمية والذهنية، والمؤثرات التي أحاطت بهم، وبحسب ما يتراءى لهم من حال الراوي تبعاً لمعرفتهم بأحاديثه ونقدهم مروياته، وتبيّنهم فيه قوة العدالة أو الضبط أو الضعف فيهما، وقد رأينا منهم من ضعف محدثاً بسب غلط يسير وقع فيه لا وزن له بجانب العدد الكثير من الأحاديث الصحيحة التي رواها، ووجدنا منهم من يوثق محدثاً مع كثرة أوهامه وأخطائه، قال العلامة محمد بن إسماعيل الصنعاني صاحب " سبل السلام " في رسالته: " إرشاد النقاد إلى تيسير الاجتهاد ": " قد يختلف كلام إمامين من أئمة الحديث في الراوي الواحد، وفي الحديث الواحد، فيضعف هذا حديثاً، وهذا يصححه، ويرمي هذا رجلاً من الرواة بالجرح، وآخر يعدّله، وذلك مما يشعر أن التصحيح ونحوه من مسائل الاجتهاد التي اختلفت فيها الآراء " (1).

--------------------------------------------

(1) تحرير التقريب 1/ 25.
যেহেতু এই পদ্ধতিটি ছিল আরোহী (استقرائي), ধারণামূলক (ظني) এবং ইজতিহাদী (اجتهادي), তাই আপনি দেখতে পাবেন যে—উদাহরণস্বরূপ—হাদিসের পরিভাষা শাস্ত্রের পরবর্তী কিতাবগুলোতে পূর্ববর্তী কিতাবগুলোর তুলনায় অধ্যায় বা পরিভাষার আধিক্য রয়েছে। এর একটি উদাহরণ হলো: "মুনকার (منكر)" পরিভাষাটি। আল-হাকিম তাঁর 'মা’রিফাতু উলুমিল হাদিস' কিতাবে এর জন্য কোনো স্বতন্ত্র অধ্যায় রাখেননি, আর না খতিব আল-বাগদাদি তা করেছেন। বরং ইবনুস সালাহ-ই প্রথম ব্যক্তি যিনি একে একটি স্বতন্ত্র প্রকার হিসেবে গণ্য করেছেন।

আবার "শায (شاذ)" পরিভাষাটির ক্ষেত্রে দেখবেন যে, আবু আব্দুল্লাহ আল-হাকিম এর জন্য একটি স্বতন্ত্র অধ্যায় রচনা করেছেন, একে হাদিস শাস্ত্রের একটি প্রকার হিসেবে গণ্য করেছেন এবং এর সংজ্ঞায়ন করেছেন; অথচ তাঁর পূর্ববর্তী হাফিজ আল-রামাহুরমুযীর নিকট আপনি এটি পাবেন না।

এরপর যে ব্যক্তি এর সংজ্ঞার ওপর গভীরভাবে দৃষ্টিপাত করবেন, তিনি দেখতে পাবেন যে এটি তাঁর পরবর্তী পরিভাষাবিদ আলিমদের সংজ্ঞার চেয়ে সম্পূর্ণ ভিন্ন।

আমি এই মাসআলাগুলোর বিস্তারিত বিবরণে প্রবেশ করতে চাই না, বরং আমার উদ্দেশ্য হলো: হাদিসের পরিভাষা বিষয়ক কিতাবসমূহ আরোহী (استقرائي), ধারণামূলক (ظني) ও ইজতিহাদী (اجتهادي) ভিত্তির ওপর রচিত হয়েছে। এগুলো এমন কোনো সর্বসম্মত নিয়ম নয় যে, এর বিপরীতকারীকে শায (شاذ) বা নিয়মবহির্ভূত গণ্য করা হবে; কারণ পরিভাষাবিদ আলিমদের মধ্যকার মতভেদই এর প্রমাণ দেয়।

দুই জন বিজ্ঞ শায়খ ডক্টর বাশার আওয়াদ এবং শুয়াইব আল-আরনাউত বলেন: "হাদিসের পরিভাষা বিষয়ক কিতাবসমূহের রচয়িতাগণ যে নিয়মাবলি প্রণয়ন করেছেন তা ইজতিহাদী (اجتهادي); যার কিছু পূর্ণাঙ্গ আরোহ (استقراء تام)-এর ওপর ভিত্তি করে রচিত, আর কিছু—যা সংখ্যায় অধিক—তা অপূর্ণাঙ্গ আরোহ (استقراء غير تام)-এর ওপর ভিত্তি করে রচিত।

তেমনিভাবে বর্ণনাকারীদের (رواة) ওপর প্রদত্ত অধিকাংশ হুকুম বা মূল্যায়নও পূর্ণাঙ্গ আরোহের ওপর ভিত্তি করে নয়। কারণ সমালোচক ইমামদের (أئمة نقاد) পক্ষ থেকে প্রদত্ত সিদ্ধান্তগুলো তাঁদের সংস্কৃতি, জ্ঞানতাত্ত্বিক ও মানসিক সক্ষমতা এবং তাঁদের পারিপার্শ্বিক প্রভাবকের ভিন্নতার কারণে ভিন্ন ভিন্ন হয়ে থাকে। এছাড়া বর্ণনাকারীর হাদিসসমূহ সম্পর্কে তাঁদের জ্ঞান, তাঁর বর্ণিত রেওয়াতসমূহের পর্যালোচনা এবং বর্ণনাকারীর ন্যায়পরায়ণতা (عدالة), নির্ভুলতা (ضبط) অথবা উভয়ের ক্ষেত্রে তাঁর দুর্বলতা (ضعف) সম্পর্কে তাঁদের কাছে যা স্পষ্ট হয়, সেই অনুযায়ী বর্ণনাকারীর অবস্থা সম্পর্কে তাঁদের দৃষ্টিভঙ্গি নির্ধারিত হয়। আমরা তাঁদের মধ্যে কাউকে দেখেছি যে, তিনি একজন মুহাদ্দিসকে তাঁর কৃত সামান্য ভুলের কারণে দুর্বল (ضعف) গণ্য করেছেন, অথচ তাঁর বর্ণিত বিপুল সংখ্যক সহিহ হাদিসের তুলনায় সেই ভুলের কোনো ওজনই নেই। আবার আমরা তাঁদের মধ্যে কাউকে পেয়েছি যিনি একজন মুহাদ্দিসকে তাঁর প্রচুর বিভ্রম (أوهام) ও ভুল থাকা সত্ত্বেও নির্ভরযোগ্য (توثيق) গণ্য করেছেন। 'সুবুলুস সালাম'-এর রচয়িতা আল্লামা মুহাম্মদ ইবনে ইসমাইল আস-সানআনি তাঁর 'ইরশাদুন নুক্কাদ ইলা তাইসিরিল ইজতিহাদ' নামক পুস্তিকায় বলেছেন: "একই বর্ণনাকারী এবং একই হাদিসের ব্যাপারে হাদিস শাস্ত্রের দুইজন ইমামের বক্তব্য ভিন্ন ভিন্ন হতে পারে; ফলে একজন একটি হাদিসকে দুর্বল (تضعيف) করেন এবং অন্যজন একে সহিহ (تصحيح) বলেন। আবার একজন বর্ণনাকারীদের (رواة) কাউকে জরাহ (جرح) বা অভিযুক্ত করেন এবং অন্যজন তাঁকে তাদিল (تعديل) বা নির্ভরযোগ্য ঘোষণা করেন। আর এটিই জানান দেয় যে, সহিহায়ন (تصحيح) এবং এই জাতীয় বিষয়গুলো ইজতিহাদী (اجتهادي) মাসআলাসমূহের অন্তর্ভুক্ত, যেগুলোতে বিভিন্ন মত পরিলক্ষিত হয়" (১)।

--------------------------------------------

(১) তাহরিরুত তাকরিব ১/ ২৫।
(খণ্ড: ১) আশ-শায ওয়াল মুনকার ওয়া যিয়াদাতুস সিকা - মুওয়াযানাহ বাইনাল মুতাকাদ্দিমীন ওয়াল মুতাআখখিরীন (পৃষ্ঠা: ১০)
ومن هنا تأتي أهمية البحوث الحديثة فكل شيء فيه اختلاف ينبغي أن تعاد دراسته بموجب مناهج البحث العلمي الحديثة، التي وفرتها الوسائل الحديثة، والتي لم تكن دائما متوفرة عندهم؛ كالطباعة، والفهارس، ووسائل الاتصال المتطورة، والحاسوب الذي بإمكانه اختصار الزمن على الباحث فهو قد يدلك، او يعينك على الوصول الى طريق يكلفك شهراً دونه!

وهذه البحوث التي تقوم على الاستقراء التام لصنيع أئمة النقد لا تعني بداهة إنكار جهود العلماء من المتأخرين، إنما هو استمرار في خدمة هذا العلم الشريف؛ فلو قدر للحافظ ابن حجر العسقلاني أو السخاوي مثلا الحياة في مثل هذه الظروف وأتيحت لهم مثل هذه الوسائل فإنهم بالتأكيد سيتعلمونها ويستخدمونها في خدمة علم الحديث أعظم استعمال، ويخرجون بنتائج عظيمة؛ وإلا فانهم رغم صعوبة الوسائل آنذاك وعسرها كانوا يتناقشون الآراء ويرجحون ما يرونه صواباً على وفق القرائن التي بين أيديهم، ويخالفون سالفيهم.

وهذا كله ليس بمقدور أي أحد الخوض فيه ألا من سلك جادة العلم الشرعي، وشمر عن ساعديه، وأفنى عمره في خدمة هذا العلم الشريف ومارسه، وتعرف على طرائق الأئمة المتقدمين وعلى أقوالهم وصنيعهم في كتب الراوية والعلل.

ثم ارتأيت بعد استخارة الله تعالى أن اختار أهم هذه الموضوعات في نظري، وهو "الشاذ والمنكر وزيادة الثقة موازنة بين المتقدمين والمتأخرين "، وهو دراسة لتطور مفهوم هذه المصطلحات الثلاثة ثم تغير معانيها عند المتأخرين، موازناً بها مع أقوال الأئمة المتقدمين وتطبيقاتهم في مصنفاتهم.

وضم الكتاب بابين وتمهيد لكل باب.

جعلت الباب الأول: في مفهوم الحديث الشاذ والمنكر وزيادة الثقة في مصطلح الحديث، وقارنته بصنيع الأئمة المتقدمين وخرجت بنتيجة تلك الموازنة، وتضمن الباب فصولاً ثلاثة:

أفردت الفصل الأول منها إلى مفهوم الحديث المنكر، وقسمته إلى مباحث ثلاثة، خصصت المبحث الأول منها لتعريف الحديث المنكر لغةً واصطلاحاً، وجعلت الثاني: لتقسيم آرائهم إلى مفاهيم.

أما المبحث الثالث: فقد استعرضت فيه صنيع بعض الأئمة المتقدمين في مفهومهم
এখান থেকেই আধুনিক গবেষণার গুরুত্ব ফুটে ওঠে; কেননা যেসব বিষয়ে মতভেদ রয়েছে, সেগুলোকে আধুনিক বৈজ্ঞানিক গবেষণা পদ্ধতির আলোকে পুনরায় অধ্যয়ন করা আবশ্যক। এই পদ্ধতিগুলো বর্তমান সময়ের আধুনিক উপায়-উপকরণ দ্বারা সম্ভব হয়েছে, যা সর্বদাই তাঁদের নিকট লভ্য ছিল না; যেমন মুদ্রণযন্ত্র, সূচিপত্র (فهارس), উন্নত যোগাযোগ মাধ্যম এবং কম্পিউটার। কম্পিউটার একজন গবেষকের সময়কে সংক্ষেপ করে দিতে পারে; এটি আপনাকে এমন কোনো পথের সন্ধান দিতে পারে বা পৌঁছাতে সাহায্য করতে পারে, যা অর্জন করা এটি ছাড়া হয়তো মাসব্যাপী সময়ের ব্যাপার ছিল!

সমালোচনা শাস্ত্রের ইমামগণের (أئمة النقد) কর্মপদ্ধতির পূর্ণাঙ্গ পর্যালোচনার (استقراء تام) ওপর ভিত্তি করে পরিচালিত এই গবেষণাগুলোর অর্থ স্বতঃসিদ্ধভাবেই পরবর্তী যুগের (متأخرين) আলেমদের প্রচেষ্টাকে অস্বীকার করা নয়; বরং এটি এই মহান শাস্ত্রের সেবায় একটি ধারাবাহিকতা মাত্র। উদাহরণস্বরূপ, হাফেজ ইবনে হাজার আসকালানি বা সাখাভি যদি বর্তমান সময়ের মতো পরিস্থিতিতে বেঁচে থাকতেন এবং তাঁদের নিকট যদি এই মাধ্যমগুলো সহজলভ্য হতো, তবে তাঁরা অবশ্যই তা শিখতেন এবং হাদিস শাস্ত্রের সেবায় এর সর্বোত্তম ব্যবহার নিশ্চিত করতেন এবং মহান সব ফলাফল বের করে আনতেন। অন্যথায় দেখা যায় যে, তৎকালীন সময়ে উপকরণের অপ্রতুলতা ও প্রতিকূলতা সত্ত্বেও তাঁরা বিভিন্ন মতামত নিয়ে আলোচনা করতেন এবং তাঁদের নিকট বিদ্যমান প্রমাণের ভিত্তিতে যা সঠিক মনে করতেন তাকেই প্রাধান্য (ترجيح) দিতেন এবং তাঁদের পূর্বসূরিদের মতের বিরোধিতা করতেন।

আর এই সব বিষয়ে গভীরভাবে প্রবেশ করা যে কারো পক্ষে সম্ভব নয়; কেবল সেই ব্যক্তিই তা পারে যে শরয়ি ইলমের সঠিক পথে চলেছে, কঠোর পরিশ্রমের জন্য প্রস্তুত হয়েছে, এই মহান শাস্ত্রের সেবায় নিজের জীবন উৎসর্গ করেছে ও চর্চা করেছে এবং পূর্ববর্তী ইমামগণের (متقدمين) কর্মপদ্ধতি, তাঁদের বক্তব্য এবং রেওয়ায়ত ও সুক্ষ্ম ত্রুটি (علل) বিষয়ক গ্রন্থসমূহে তাঁদের প্রযুক্ত পদ্ধতি সম্পর্কে সম্যক অবগত হয়েছে।

অতঃপর মহান আল্লাহর কাছে ইস্তিখারা করার পর আমি আমার দৃষ্টিতে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়টি বেছে নেওয়া সমীচীন মনে করেছি, তা হলো: "শাজ (شاذ), মুনকার (منكر) এবং নির্ভরযোগ্য বর্ণনাকারীর অতিরিক্ত অংশ (زيادة الثقة): পূর্ববর্তী (متقدمين) ও পরবর্তী (متأخرين) আলেমদের মধ্যে একটি তুলনামূলক পর্যালোচনা"। এটি মূলত এই তিনটি পারিভাষিক শব্দের সংজ্ঞার বিবর্তন এবং পরবর্তী যুগের (متأخرين) আলেমদের নিকট এর অর্থ পরিবর্তনের একটি অধ্যয়ন, যেখানে পূর্ববর্তী ইমামগণের (متقدمين) বক্তব্য ও তাঁদের গ্রন্থসমূহে এগুলোর প্রায়োগিক রূপের সাথে তুলনা করা হয়েছে।

গ্রন্থটিতে দুটি অধ্যায় এবং প্রতিটি অধ্যায়ের জন্য একটি করে ভূমিকা রয়েছে।

আমি প্রথম অধ্যায়টিকে হাদিস শাস্ত্রের পরিভাষায় শাজ (شاذ), মুনকার (منكر) এবং নির্ভরযোগ্য বর্ণনাকারীর অতিরিক্ত অংশ (زيادة الثقة)-এর ধারণার জন্য নির্ধারণ করেছি এবং পূর্ববর্তী ইমামগণের (متقدمين) কর্মপদ্ধতির সাথে এর তুলনা করেছি এবং সেই তুলনামূলক পর্যালোচনার ফলাফল বের করে এনেছি। এই অধ্যায়টি তিনটি পরিচ্ছেদ নিয়ে গঠিত:

আমি এর প্রথম পরিচ্ছেদটি মুনকার (منكر) হাদিসের সংজ্ঞার জন্য স্বতন্ত্র করেছি এবং একে তিনটি অনুচ্ছেদে ভাগ করেছি। প্রথম অনুচ্ছেদটি মুনকার (منكر) হাদিসের শাব্দিক ও পারিভাষিক (لغةً واصطلاحاً) সংজ্ঞার জন্য নির্দিষ্ট করেছি এবং দ্বিতীয় অনুচ্ছেদটি তাঁদের মতামতের ধারণাগত বিন্যাসের জন্য নির্ধারণ করেছি।

আর তৃতীয় অনুচ্ছেদে আমি কয়েকজন পূর্ববর্তী ইমামের (متقدمين) দৃষ্টিভঙ্গিতে এ সংক্রান্ত তাঁদের কর্মপদ্ধতি পর্যালোচনা করেছি।
(খণ্ড: ১) আশ-শায ওয়াল মুনকার ওয়া যিয়াদাতুস সিকা - মুওয়াযানাহ বাইনাল মুতাকাদ্দিমীন ওয়াল মুতাআখখিরীন (পৃষ্ঠা: ১১)
للحديث المنكر، ثم خرجنا بنتيجة مفادها: أن المتقدمين لم يطلقوا تلك العبارات إطلاقاً اصطلاحياً وإنما أرادوا بها المعاني اللغوية.

وتناولت في الفصل الثاني مفهوم الحديث الشاذ عند علماء المصطلح موازناً مع مفاهيم الأئمة المتقدمين، وجعلته في أربعة مباحث، ففي المبحث الأول عرفنا بالحديث الشاذ لغةً واصطلاحاً، وفي المبحث الثاني استعرضت مفاهيم المتأخرين.

أما المبحث الثالث: فقد استعرضنا فيه صنيع بعض الأئمة المتقدمين وخرجنا بنتيجة مهمة، وتحقق عندنا أن المتقدمين استعملوا مصطلح الشاذ استعمالاً لغوياً حسب.

وأما المبحث الرابع: فقد خصصناه لعلاقة الشاذ بالمنكر، وهي دراسة قادتنا إلى: أن الحديث الشاذ والمنكر عند الأئمة المتقدمين وجمهور المتأخرين بمعنىً واحد وان الأئمة المتقدمين إنما أطلقوا هذه الألفاظ (شاذ، منكر، غير محفوظ، غير معروف)،وغيرها إطلاقاً لغوياً إذ قصدوا به الحديث الخطأ.

ثم أفردت الفصل الثالث إلى الكلام على مفهوم زيادة الثقة عند أهل المصطلح، واقتضت طبيعة الدراسة أن يكون هذا الفصل في خمسة مباحث، حيث عَرّفت في المبحث الأول الزيادة لغةً واصطلاحاً. واستعرضت في المبحث الثاني مفهوم الزيادة عند الأئمة من المتأخرين.

وناقشت في المبحث الثالث الأمثلة التي استدل بها أهل المصطلح على قبول الزيادة، وبينّا أنها أمثلة غير دقيقة في الأغلب الأعم، فإن أكثرها من قبيل اختلاف الرواة في الحديث الواحد.

وأما المبحث الرابع: فقد استعرضت فيه أقوال الأئمة المتقدمين في مفهوم زيادة الثقة.

كما تناولت في المبحث الخامس آراء بعض علماء أصول الفقه في هذه المسألة، لأن كُتّاب المصطلح تطرقوا في مباحثهم إلى أقوال الأصوليين في هذه المسألة.

وكانت خلاصة هذا الفصل: أن علماء المصطلح خلطوا بين زيادة الثقة وبين الشاذ والمنكر، وأن زيادة الثقة مقبولة عند أئمة الحديث من المتقدمين ولكن بمفهوم يختلف عما اصطلح عليه كثير من المتأخرين.

وأما الباب الثاني: فقد أفردته لمعرفة مذهب الأئمة المتقدمين في قبول الزيادة أو ردها بالرجوع إلى صنيعهم في كتبهم الحديثية أو في كتبهم التي ألفوها لبيان علل الحديث،
অস্বীকৃত (منكر) হাদিস সম্পর্কে। এরপর আমরা এই সিদ্ধান্তে উপনীত হয়েছি যে: পূর্ববর্তী ইমামগণ (المتقدمون) এই শব্দগুলোকে পারিভাষিক (اصطلاحي) অর্থে প্রয়োগ করেননি, বরং তারা এর দ্বারা আভিধানিক অর্থই উদ্দেশ্য নিয়েছেন।

দ্বিতীয় অধ্যায়ে আমি হাদিস শাস্ত্রের পণ্ডিতদের নিকট ব্যতিক্রমী (شاذ) হাদিসের ধারণা নিয়ে আলোচনা করেছি এবং পূর্ববর্তী ইমামগণের (المتقدمون) ধারণার সাথে এর তুলনা করেছি। আমি একে চারটি পরিচ্ছেদে বিন্যস্ত করেছি। প্রথম পরিচ্ছেদে আমরা ব্যতিক্রমী (شاذ) হাদিসের আভিধানিক ও পারিভাষিক (اصطلاح) পরিচয় তুলে ধরেছি এবং দ্বিতীয় পরিচ্ছেদে পরবর্তী ইমামগণের (المتأخرون) ধারণাসমূহ পর্যালোচনা করেছি।

তৃতীয় পরিচ্ছেদে আমরা কতিপয় পূর্ববর্তী ইমামের (المتقدمون) কর্মপদ্ধতি পর্যালোচনা করেছি এবং একটি গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্তে উপনীত হয়েছি। আমাদের নিকট এটি সুস্পষ্ট হয়েছে যে, পূর্ববর্তীগণ (المتقدمون) ব্যতিক্রমী (شاذ) পরিভাষাটি শুধুমাত্র আভিধানিক অর্থেই ব্যবহার করেছেন।

চতুর্থ পরিচ্ছেদটি আমরা ব্যতিক্রমী (شاذ) ও অস্বীকৃত (منكر) হাদিসের মধ্যকার সম্পর্কের জন্য নির্দিষ্ট করেছি। এটি এমন একটি গবেষণা যা আমাদের এই সিদ্ধান্তে উপনীত করেছে যে: পূর্ববর্তী ইমামগণের (المتقدمون) নিকট এবং পরবর্তী ইমামগণের (المتأخرون) অধিকাংশের নিকট ব্যতিক্রমী (شاذ) ও অস্বীকৃত (منكر) হাদিস একই অর্থে ব্যবহৃত হয়। মূলত পূর্ববর্তী ইমামগণ (المتقدمون) এই শব্দগুলো—ব্যতিক্রমী (شاذ), অস্বীকৃত (منكر), অসংরক্ষিত (غير محفوظ), অপরিচিত (غير معروف) ইত্যাদি—শাব্দিক অর্থেই প্রয়োগ করেছেন, যার দ্বারা তারা মূলত ভুল হাদিস উদ্দেশ্য নিয়েছেন।

এরপর আমি তৃতীয় অধ্যায়টি হাদিস শাস্ত্রের পণ্ডিতদের নিকট নির্ভরযোগ্য বর্ণনাকারীর অতিরিক্ত বর্ণনা (زيادة الثقة) সংক্রান্ত আলোচনার জন্য স্বতন্ত্রভাবে সাজিয়েছি। এই গবেষণার ধরন অনুযায়ী অধ্যায়টিকে পাঁচটি পরিচ্ছেদে বিন্যস্ত করতে হয়েছে। প্রথম পরিচ্ছেদে আমি অতিরিক্ত বর্ণনা (الزيادة)-র আভিধানিক ও পারিভাষিক (اصطلاح) সংজ্ঞা প্রদান করেছি। দ্বিতীয় পরিচ্ছেদে আমি পরবর্তী ইমামগণের (المتأخرون) নিকট অতিরিক্ত বর্ণনা (الزيادة)-র ধারণাটি পর্যালোচনা করেছি।

তৃতীয় পরিচ্ছেদে আমি সেই উদাহরণগুলো নিয়ে আলোচনা করেছি যা হাদিস শাস্ত্রের পণ্ডিতগণ অতিরিক্ত বর্ণনা (الزيادة) গ্রহণের স্বপক্ষে দলিল হিসেবে পেশ করেছেন। আমরা স্পষ্ট করেছি যে, এগুলোর অধিকাংশ উদাহরণই সঠিক নয়; বরং এর বেশিরভাগই একক কোনো হাদিসের বর্ণনাকারীদের পারস্পরিক মতভেদের অন্তর্ভুক্ত।

চতুর্থ পরিচ্ছেদে আমি নির্ভরযোগ্য বর্ণনাকারীর অতিরিক্ত বর্ণনা (زيادة الثقة) সম্পর্কে পূর্ববর্তী ইমামগণের (المتقدمون) বক্তব্যসমূহ পর্যালোচনা করেছি।

একইভাবে পঞ্চম পরিচ্ছেদে আমি এই বিষয়ে উসুলুল ফিকহ শাস্ত্রের কতিপয় পণ্ডিতের মতামত নিয়ে আলোচনা করেছি, কারণ হাদিস শাস্ত্রের লেখকরা তাদের আলোচনায় উসুল শাস্ত্রবিদদের (الأصوليون) বক্তব্যসমূহও উল্লেখ করেছেন।

এই অধ্যায়ের সারসংক্ষেপ হলো: হাদিস শাস্ত্রের পণ্ডিতগণ নির্ভরযোগ্য বর্ণনাকারীর অতিরিক্ত বর্ণনা (زيادة الثقة) এবং ব্যতিক্রমী (شاذ) ও অস্বীকৃত (منكر) হাদিসের মধ্যে গুলিয়ে ফেলেছেন। মূলত নির্ভরযোগ্য বর্ণনাকারীর অতিরিক্ত বর্ণনা (زيادة الثقة) পূর্ববর্তী (المتقدمون) হাদিস বিশারদদের নিকট গ্রহণযোগ্য, তবে তা এমন এক ধারণার ভিত্তিতে যা পরবর্তীকালের (المتأخرون) অনেক আলিমের পরিভাষার চেয়ে ভিন্ন।

দ্বিতীয় পরিচ্ছেদটি আমি অতিরিক্ত বর্ণনা (الزيادة) গ্রহণ বা বর্জনের ক্ষেত্রে পূর্ববর্তী ইমামগণের (المتقدمون) কর্মপন্থা জানার জন্য নির্দিষ্ট করেছি। এক্ষেত্রে আমি তাদের হাদিস গ্রন্থসমূহ অথবা হাদিসের ত্রুটি (علل) বর্ণনায় তাদের রচিত গ্রন্থসমূহে তাদের কর্মপদ্ধতির সাহায্য নিয়েছি।
(খণ্ড: ১) আশ-শায ওয়াল মুনকার ওয়া যিয়াদাতুস সিকা - মুওয়াযানাহ বাইনাল মুতাকাদ্দিমীন ওয়াল মুতাআখখিরীন (পৃষ্ঠা: ১২)
فاقتضت الدراسة أن يكون هذا الباب على فصلين.

أولهما: استقرأت فيه صنيعهم من كتب الرواية واخترنا أبرز مصنفاتهم: كالموطأ للإمام مالك ابن أنس، وصحيح الإمام البخاري، وصحيح الإمام مسلم، وسنن أبي داود، وجامع الترمذي، وسنن النسائي، وصحيح ابن خزيمة.

أما في الفصل الثاني: فقد استقرأت صنيعهم في كتب العلل واخترنا أبرز كتب العلل: ككتاب علل ابن أبي حاتم، وعلل الترمذي، والتمييز للإمام مسلم، واخترنا من كتب المتأخرين أبرز كتاب في العلل وهو كتاب علل الحديث للإمام الدارقطني.

ومما يجدر التنبيه عليه أننا أولينا مفهوم زيادة الثقة اهتماماً أكثر من الشاذ والمنكر وذلك لما حصل فيه من الخلط ولما له من صلة وطيدة بينه وبين الشذوذ والنكارة، ولما رأينا من صنيع بعض المعاصرين من تصحيح مئات الأحاديث الشاذة والمنكرة بحجة أنها زيادة ثقة والزيادة من الثقة مقبولة، كما فعل الشيخ ناصر الدين الألباني رحمه الله في كتابه " سلسلة الأحاديث الصحيحة " حيث صحح على هذه القاعدة عشرات الأحاديث الضعيفة مما أخطأ فيه الرواة. والحق أنّ أسّ دراستنا هذه تتعلق بهذا الموضوع الخطير، فنحن حينما فصلّنا القول في هذا الباب ليس لكونه مبحثاً أو قضية تتعلق بزيادة الثقة حسب، ولكنه يتصل في حقيقته اتصالاً وثيقاً بالشذوذ والنكارة أيضاً.

وأخيراً أقول: من خلال دراستي في هذا الموضوع استفدت فوائد عظيمة، إذ قد اطلعت على كتب ومصنفات شتى، يعلم الله بعَدَدَها وعُدَدِها، وعرفت علماً بعد جهل، أن الأئمة المتقدمين هبة الله لهذه الأمة حفظ بهم الدين؛ قال الخطيب في كفايته:" ولولا عناية أصحاب الحديث بضبط السنن وجمعها واستنباطها من معادنها والنظر في طرقها لبطلت الشريعة وتعطلت أحكامها إذ كانت مستخرجة من الآثار المحفوظة ومستفادة من

السنن المنقولة " (1)،وتبين لي أن بعض المتأخرين ولا سيما المعاصرين نأوا بعيداً عن منهج الأئمة المتقدمين، وكل التناقضات التي يتهم المغرضون بها الحديث وأهله هو جريرة هذا البعد.

وآخر دعوانا أن الحمد لله رب العالمين والصلاة والسلام على سيد الأنبياء والمرسلين صلى الله عليه وسلم.

--------------------------------------------

(1) الكفاية ص 5 - 7.
গবেষণার দাবি অনুযায়ী এই অধ্যায়টি দুটি পরিচ্ছেদে বিন্যস্ত হয়েছে।

প্রথম পরিচ্ছেদে: আমি বর্ণনার কিতাবসমূহ থেকে তাদের কর্মপদ্ধতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করেছি এবং তাদের প্রসিদ্ধ গ্রন্থসমূহ নির্বাচন করেছি: যেমন ইমাম মালিক ইবনে আনাসের মুয়াত্তা, সহিহ ইমাম বুখারি, সহিহ ইমাম মুসলিম, সুনান আবু দাউদ, জামি তিরমিজি, সুনান নাসায়ি এবং সহিহ ইবনে খুজাইমা।

আর দ্বিতীয় পরিচ্ছেদে: আমি ইল্লাল বা সূক্ষ্ম ত্রুটি বিষয়ক কিতাবসমূহে (كتب العلل) তাদের কর্মপদ্ধতি পর্যবেক্ষণ করেছি এবং ইল্লাল বা সূক্ষ্ম ত্রুটি বিষয়ক প্রসিদ্ধ গ্রন্থসমূহ নির্বাচন করেছি: যেমন ইবনে আবি হাতিমের কিতাবুল ইলাল, তিরমিজির ইলাল এবং ইমাম মুসলিমের আত-তাময়িজ; আর পরবর্তী যুগের লেখকদের মধ্য থেকে ইল্লাল বিষয়ক সবচেয়ে প্রসিদ্ধ গ্রন্থ হিসেবে ইমাম দারা কুতনির ইলালুল হাদিস কিতাবটি নির্বাচন করেছি।

এখানে একটি বিষয় সতর্ক করা প্রয়োজন যে, আমরা শায বা বিচ্যুত (شاذ) এবং মুনকার বা অগ্রহণযোগ্য (منكر) এর তুলনায় নির্ভরযোগ্য রাবির অতিরিক্ত বর্ণনা (زيادة الثقة) এর প্রসঙ্গের প্রতি অধিক গুরুত্ব দিয়েছি। এর কারণ হলো—এতে যে বিভ্রান্তি ঘটেছে তা স্পষ্ট করা এবং শায (شذوذ) ও মুনকার (نكارة) এর সাথে এর যে গভীর সম্পর্ক রয়েছে তা তুলে ধরা। এছাড়া আমরা বর্তমান সময়ের (المعاصرون) কিছু গবেষকের কর্মপদ্ধতি দেখেছি, যারা শত শত শায (شاذ) এবং মুনকার (منكر) হাদিসকে 'নির্ভরযোগ্য রাবির অতিরিক্ত বর্ণনা (زيادة الثقة) গ্রহণযোগ্য'—এই যুক্তিতে সহিহ (صحيح) বলে গণ্য করেছেন। যেমন শেখ নাসিরুদ্দিন আলবানী (রহ.) তার "সিলসিলাতুল আহাদিস আস-সহিহা" গ্রন্থে করেছেন, যেখানে তিনি এই মূলনীতির ভিত্তিতে অনেক দুর্বল (ضعيف) হাদিসকে সহিহ (صحيহ) বলে দিয়েছেন যেগুলোতে বর্ণনাকারীরা ভুল করেছিলেন। প্রকৃতপক্ষে আমাদের এই গবেষণার মূল ভিত্তি এই গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ের সাথেই সংশ্লিষ্ট। আমরা যখন এই অধ্যায়ে বিস্তারিত আলোচনা করেছি, তা কেবল নির্ভরযোগ্য রাবির অতিরিক্ত বর্ণনা (زيادة الثقة) সংক্রান্ত কোনো একটি মাসয়ালা হওয়ার কারণে নয়, বরং এর হাকিকত শায (شذوذ) ও মুনকার (نكارة) এর সাথেও নিবিড়ভাবে সম্পৃক্ত।

পরিশেষে আমি বলব: এই বিষয়টি নিয়ে গবেষণার মাধ্যমে আমি প্রভূত উপকৃত হয়েছি; কেননা আমি অসংখ্য কিতাব ও গ্রন্থাবলী অধ্যয়ন করেছি, যার সংখ্যা কেবল আল্লাহই জানেন। অজ্ঞতার পর আমি এই জ্ঞান অর্জন করেছি যে, পূর্ববর্তী ইমামগণ (المتقدمون) এই উম্মতের জন্য আল্লাহর এক বিশেষ নেয়ামত, যাদের মাধ্যমে তিনি দ্বীনকে হিফাজত করেছেন। খতিব বাগদাদি তার 'কিফায়া' গ্রন্থে বলেছেন: "হাদিস বিশারদগণ যদি সুন্নাহসমূহ যথাযথভাবে সংরক্ষণ ও সংকলন না করতেন, এর উৎস থেকে তা আহরণ না করতেন এবং এর বিভিন্ন সূত্র (طرق) পর্যবেক্ষণ না করতেন, তবে শরিয়ত বিলুপ্ত হয়ে যেত এবং এর বিধানসমূহ অকেজো হয়ে পড়ত; যেহেতু শরিয়ত সংরক্ষিত বর্ণনা (آثار) ও বর্ণিত সুন্নাহ থেকেই উৎসারিত।" (১), আর আমার কাছে এটিও স্পষ্ট হয়েছে যে, পরবর্তী যুগের (المتأخرون) কিছু আলেম এবং বিশেষ করে বর্তমান সময়ের (المعاصرون) অনেকে পূর্ববর্তী ইমামদের (المتقدمون) মানহাজ বা কর্মপদ্ধতি (منهج) থেকে দূরে সরে গেছেন। হাদিস ও হাদিস বিশারদদের বিরুদ্ধে বিদ্বেষীরা যে সব স্ববিরোধিতার অভিযোগ তোলে, তা মূলত এই দূরত্বেরই ফসল।

আমাদের শেষ কথা হলো—সমস্ত প্রশংসা জগতসমূহের প্রতিপালক আল্লাহর জন্য এবং সালাত ও সালাম বর্ষিত হোক নবীকুল শিরোমণি ও রাসুলগণের সরদারের ওপর (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)।

--------------------------------------------

(১) আল-কিফায়া, পৃষ্ঠা ৫ - ৭।
(খণ্ড: ১) আশ-শায ওয়াল মুনকার ওয়া যিয়াদাতুস সিকা - মুওয়াযানাহ বাইনাল মুতাকাদ্দিমীন ওয়াল মুতাআখখিরীন (পৃষ্ঠা: ১৩)
‌‌الباب الأول: مفهوم الحديث المنكر والشاذ وزيادة الثقة
প্রথম অধ্যায়: অগ্রহণযোগ্য (منكر) ও ব্যতিক্রমী (شاذ) হাদিস এবং নির্ভরযোগ্য বর্ণনাকারীর অতিরিক্ত বর্ণনার (زيادة الثقة) ধারণা
(খণ্ড: ১) আশ-শায ওয়াল মুনকার ওয়া যিয়াদাতুস সিকা - মুওয়াযানাহ বাইনাল মুতাকাদ্দিমীন ওয়াল মুতাআখখিরীন (পৃষ্ঠা: ১৫)
‌‌تمهيد

‌‌أولاً: مفهوم مصطلح " المتقدمين " و " المتأخرين ":

يُذكر مصطلح: " المتقدمون " في غالبية كتب المصطلح وكتب الحديث عامة، ويختلف فهم المقصود من إطلاقهم هذا، فما المراد من هذا المصطلح؟

ذهب الإمام الذهبي في مقدمة "الميزان " إلى أنّ الحد الفاصل بين المتقدم والمتأخر هو رأس سنة ثلاثمائة (1)، وذكر في "التذكرة " أن بداية نقص علوم السنة، وبداية ظهور العلوم العقلية، وتناقص الاجتهاد، وظهور التقليد في آخر الطبقة التاسعة، فقال واصفاً تلك الطبقة:" فان المجلس الواحد في هذا الوقت كان يجتمع فيه أزيد من عشرة آلاف محبرة يكتبون الآثار النبوية ويعتنون بهذا الشأن وبينهم نحو من مئتي إمام قد برزوا وتأهلوا للفتيا، فلقد تفانى أصحاب الحديث وتلاشوا وتبدل الناس بطلبه يهزأ بهم أعداء الحديث والسنة ويسخرون منهم وصار علماء العصر في الغالب عاكفين على التقليد في الفروع من غير تحرير لها، ومكبين على عقليات من حكمة الأوائل وآراء المتكلمين من غير أن يتعقلوا أكثرها، فعم البلاء، واستحكمت الأهواء، ولاحت مبادئ رفع العلم وقبضه من الناس " (2). وكذلك فعل أبو عمرو بن المرابط ت (752) هـ في إطلاقه إلى أول القرن الرابع فقال: "قد دونت الأخبار، وما بقي للتجريح فائدة، بل انقطعت من رأس الأربع مئة " (3).

وأما ما ذهب إليه الدكتور حمزة المليباري إلى أنهم أهل الرواية، وهم أصحاب الفترة الممتدة من عصر الصحابة الكرام، وإلى نهاية القرن الخامس الهجري، وجعل الميزة أنهم يروون المرويات بالأسانيد؟ (4)،فهذه الميزة غير منضبطة بضابط مستقيم، فالرواية بالإسناد ممتدة إلى يوم الناس هذا، ثم البون شاسع في المنهجية، والأسلوب بين الإمام

البخاري ت (256) وبين أهل القرن الرابع كأبي عبد الله الحاكم ت (405) - مثلا -.

 

والذي أراه أن كلام الإمام الذهبي ومن تابعه أدق بكثير، فلا بد من اعتبار المدة

--------------------------------------------

(1) انظر ميزان الاعتدال 1/ 4.

(2) تذكرة الحفاظ 2/ 529 - 530، وانظر المنهج المقترح، العوني ص 62.

(3) فتح المغيث، السخاوي 3/ 271،وانظر الإعلان بالتوبيخ لمن ذم التأريخ، له ص 92 و 106.

(4) نظرات جديدة في علوم الحديث ص11.
ভূমিকা

প্রথমত: "পূর্ববর্তী" (متقدمين) এবং "পরবর্তী" (متأخرين) পরিভাষা দুটির ধারণা:

অধিকাংশ পরিভাষা ও সাধারণ হাদিস গ্রন্থে "পূর্ববর্তীগণ" (متقدمون) পরিভাষাটি উল্লেখ করা হয়। এর প্রয়োগ দ্বারা আলেমগণ কী উদ্দেশ্য নিয়েছেন সে সম্পর্কে ভিন্ন ভিন্ন উপলব্ধি রয়েছে। তাহলে এই পরিভাষাটির প্রকৃত অর্থ কী?

ইমাম জাহাবি তার মিজানুল ইতিদাল গ্রন্থের ভূমিকায় এই অভিমত ব্যক্ত করেছেন যে, পূর্ববর্তী (متقدم) এবং পরবর্তী (متأخر)-এর মধ্যকার বিভাজন রেখা হলো ৩০০ হিজরি সনের শুরু (১)। তিনি তাজকিরাতুল হুফফাজ গ্রন্থে উল্লেখ করেছেন যে, নবম তবকা বা স্তরের শেষ দিকে সুন্নাহর ইলম হ্রাস পাওয়া, আকলি বা যুক্তিভিত্তিক বিজ্ঞানের প্রকাশ ঘটা, ইজতিহাদ (اجتهاد) কমে যাওয়া এবং তাকলিদ (تقليد) বা অন্ধ অনুসরণের সূচনা ঘটে। উক্ত তবকার বর্ণনা দিতে গিয়ে তিনি বলেন: "সেই সময়ে এক একটি মজলিসে দশ হাজারেরও বেশি দোয়াত সংগৃহীত হতো, যারা নববী আসার (آثار) লিপিবদ্ধ করতেন এবং এই বিষয়ে যত্নবান হতেন। তাদের মধ্যে প্রায় দুইশ ইমাম ছিলেন যারা প্রসিদ্ধি লাভ করেছিলেন এবং ফতোয়া প্রদানের যোগ্য ছিলেন। অতঃপর হাদিস বিশারদগণ বিলীন ও নিঃশেষ হয়ে গেলেন এবং ইলম অন্বেষণে মানুষের মাঝে পরিবর্তন আসল। হাদিস ও সুন্নাহর শত্রুরা তাদের নিয়ে বিদ্রুপ ও উপহাস করতে শুরু করল। আর যুগের আলেমগণ অধিকাংশ ক্ষেত্রে ফروع বা শাখা-প্রশাখায় যাচাই-বাছাই ছাড়াই তাকলিদ (تقليد)-এ মগ্ন হয়ে পড়লেন। তারা প্রাচীনদের হিকমত ও মুতাকাল্লিমদের আকলি মতবাদের ওপর ঝুঁকে পড়লেন, যার অধিকাংশ তারা অনুধাবন করতেন না। ফলে বিপর্যয় ছড়িয়ে পড়ল, কুপ্রবৃত্তি শক্তিশালী হলো এবং মানুষের মাঝ থেকে ইলম উঠে যাওয়া ও বিলুপ্ত হওয়ার লক্ষণ প্রকাশ পেল" (২)। অনুরুপভাবে আবু আমর ইবনুল মুরাবিত (মৃত্যু: ৭৫২ হি.) এই পরিভাষাটিকে চতুর্থ শতাব্দীর শুরু পর্যন্ত নির্ধারণ করে বলেছেন: "সংবাদসমূহ লিপিবদ্ধ হয়ে গেছে, আর জারহ (تجريح) বা দোষারোপের আর কোনো উপকারিতা অবশিষ্ট নেই, বরং চারশ হিজরির শুরু থেকেই তা বিচ্ছিন্ন হয়ে গেছে" (৩)।

পক্ষান্তরে ডক্টর হামজা আল-মালিবারি যে মত পোষণ করেছেন তা হলো, তারা হলেন বর্ণনাকারী, যারা সম্মানিত সাহাবায়ে কেরামের যুগ থেকে শুরু করে পঞ্চম হিজরি শতাব্দীর শেষ পর্যন্ত সময়কালের অন্তর্ভুক্ত। তিনি তাদের এই বৈশিষ্ট্য নির্ধারণ করেছেন যে, তারা হাদিসসমূহ সনদ (أسانيد)-সহ বর্ণনা করতেন (৪)। তবে এই বৈশিষ্ট্যটি সুনির্দিষ্ট মানদণ্ডে সঠিক নয়। কারণ সনদ (إسناد)-এর মাধ্যমে বর্ণনা বর্তমান সময় পর্যন্ত অব্যাহত রয়েছে। তাছাড়া ইমাম বুখারি (মৃত্যু: ২৫৬ হি.) এবং চতুর্থ শতাব্দীর আলেম যেমন- আবু আব্দুল্লাহ আল-হাকিম (মৃত্যু: ৪০৫ হি.)-এর মানহাজ বা পদ্ধতি এবং শৈলীর মধ্যে বিশাল ব্যবধান রয়েছে।

 

আমি মনে করি যে, ইমাম জাহাবি এবং যারা তাকে অনুসরণ করেছেন তাদের বক্তব্য অনেক বেশি সূক্ষ্ম ও সঠিক। তাই সময়কাল বিবেচনা করা অপরিহার্য।

--------------------------------------------

(১) দেখুন: মিজানুল ইতিদাল ১/৪।

(২) তাজকিরাতুল হুফফাজ ২/৫২৯-৫৩০; এবং দেখুন: আল-মানহাজ আল-মুকতারাহ, আল-আউনি, পৃ. ৬২।

(৩) ফাতহুল মুগিস, সাখাভি ৩/২৭১; এবং দেখুন: আল-ই'লান বিত-তাওবিখ লিমান জাম্মাত তারিখ, পৃ. ৯২ ও ১০৬।

(৪) নাজারাত জাদিদাহ ফি উলুমিল হাদিস, পৃ. ১১।
(খণ্ড: ১) আশ-শায ওয়াল মুনকার ওয়া যিয়াদাতুস সিকা - মুওয়াযানাহ বাইনাল মুতাকাদ্দিমীন ওয়াল মুতাআখখিরীন (পৃষ্ঠা: ১৬)
الزمنية التي عاشها الطرفان - المتقدمون والمتأخرون - ففي ذاك الزمان، في القرن الأول والثاني والثالث، استقرت الروايات وغُربلت الأحاديث فتبين صحيحها من سقيمها، ودونت المصنفات وعرفت الطرق والمخارج، وكل من جاء بعدهم فهو عيال عليهم.

ومما يدلل على ضعف الرواية بعد القرن الثالث ما قاله عالم جهبذ عاش في تلك الحقبة هو الإمام ابن حبان ت (354) هـ إذ قال في مقدمة كتابه " التقاسيم والأنواع " ما نصه:

" وإني لما رأيت الأخبار طرقها كثرت ومعرفة الناس بالصحيح منها قلّت لاشتغالهم بكتبة الموضوعات وحفظ الخطأ والمقلوبات حتى صار الخبر الصحيح مهجوراً لا يكتب والمنكر المقلوب عزيزاً يستغرب وأن من جمع السنن من الأئمة المرضيين وتكلم عليها من أهل الفقه والدين أمعنوا في ذكر الطرق للأخبار وأكثروا من تكرار المعاد للآثار قصداً منهم لتحصيل الألفاظ على من رام حفظها من الحفاظ، فكان ذلك سبب اعتماد المتعلم على ما في الكتاب، وترك المقتبس التحصيل للخطاب … ." (1).

وقال أبو عبد الله الحاكم ت (405) هـ:" نبغ في عصرنا هذا جماعة يشترون الكتب فيحدثون بها وجماعة يكتبون سماعاتهم بخطوطهم في كتب عتيقة في الوقت فيحدثون بها فمن يسمع منهم من غير أهل الصنعة فمعذور بجهله فأما أهل الصنعة إذا سمعوا من أمثال هؤلاء بعد الخبرة ففيه جرحهم وإسقاطهم إلى أن تظهر توبتهم، على أن الجاهل بالصنعة لا يعذر فإنه يلزمه السؤال عما لا يعرفه وعلى ذلك كان السلف رضي الله عنهم أجمعين " (2).

هذا أحد علماء القرن الرابع، هو الحاكم النيسابوري نص على تخفف شروط العدالة والضبط لأهل زمانه، فلم يذكر في الضبط إلا ما يتعلق بضبط الكتاب، وقد أشار

الى هذه المسألة قبله الإمام الرامهرمزي، في كتابه المحدث الفاصل (3)،وهذا يدلل على الفرق الكبير بين منهج القرن الثالث، ومنهج القرن الرابع.

وقد نبّه الحافظ ابن الصلاح على هذه المسألة فقال:" وقد سبق إلى نحو ما ذكرناه

--------------------------------------------

(1) الإحسان 1/ 102.

(2) معرفة علوم الحديث ص 15 - 16.

(3) انظر المحدث الفاصل 159 - 162، والمنهج المقترح، العوني ص 53.
উভয় পক্ষ—পূর্বসূরি (المتقدمون) এবং উত্তরসূরি (المتأخرون)—যে সময়কালে বসবাস করেছেন: সেই যুগে, অর্থাৎ প্রথম, দ্বিতীয় এবং তৃতীয় শতাব্দীতে বর্ণনাগুলো স্থিতিশীল হয়েছিল এবং হাদিসগুলোকে যাচাই-বাছাই করা হয়েছিল। ফলে সেগুলোর সহিহ (صحيح) এবং ত্রুটিপূর্ণ (سقيم) অংশগুলো সুস্পষ্ট হয়ে ওঠে। কিতাবসমূহ সংকলিত হয় এবং বর্ণনার পথ ও উৎসগুলো পরিচিতি লাভ করে। তাদের পরবর্তী যারাই এসেছেন, তারা সবাই তাদের ওপর নির্ভরশীল।

তৃতীয় শতাব্দীর পরে বর্ণনার দুর্বলতা (ضعف) প্রকাশের প্রমাণ হিসেবে সেই যুগের একজন প্রাজ্ঞ আলিম ইমাম ইবনে হিব্বান (মৃত্যু ৩৫৪ হি.) তাঁর 'আল-তাকাসিম ওয়াল আনওয়া' গ্রন্থের ভূমিকায় যা বলেছেন তা হলো:

"আমি যখন দেখলাম যে বর্ণনার পথসমূহ অনেক বেড়ে গেছে এবং সহিহ (صحيح) হাদিস সম্পর্কে মানুষের জ্ঞান কমে গেছে—কারণ তারা জাল (الموضوعات) বর্ণনা লিখতে এবং ভুল (الخطأ) ও উল্টানো (المقلوبات) বর্ণনা মুখস্থ করতে ব্যস্ত হয়ে পড়েছে; এমনকি সহিহ (صحيح) বর্ণনা পরিত্যক্ত হয়ে পড়েছে যা আর লেখা হয় না, আর মুনকার (المنكر) ও উল্টানো (المقلوب) বর্ণনাগুলো দুর্লভ ও বিস্ময়কর হয়ে উঠেছে। অথচ গ্রহণযোগ্য ইমামগণের মধ্য থেকে যারা সুনান সংকলন করেছেন এবং ফিকহ ও দ্বীনের বিদগ্ধজন যারা সেগুলোর ওপর আলোচনা করেছেন, তারা বর্ণনার পথগুলোর বিস্তারিত উল্লেখ করেছেন এবং আছারসমূহ বারবার বর্ণনা করেছেন। তাদের উদ্দেশ্য ছিল হাফিজদের মধ্যে যারা শব্দগুলো সংরক্ষণ করতে চায় তাদের জন্য তা সহজ করা। এটিই ছিল শিক্ষার্থীর কিতাবের ওপর নির্ভরশীল হওয়ার এবং মূল বক্তব্য আহরণ বর্জন করার কারণ …।" (১)।

আবু আব্দুল্লাহ আল-হাকিম (মৃত্যু ৪০৫ হি.) বলেন: "আমাদের এই যুগে এমন একদল লোকের উদ্ভব হয়েছে যারা কিতাব কেনে এবং তা থেকে বর্ণনা করে। আবার একদল লোক পুরনো কিতাবগুলোতে তৎক্ষণাৎ নিজেদের হাতের লেখায় তাদের শ্রবণসমূহ লিপিবদ্ধ করে এবং তা থেকে বর্ণনা করে। এই শাস্ত্রের বাইরের সাধারণ মানুষ যারা তাদের থেকে হাদিস শোনে, তাদের অজ্ঞতার কারণে তারা ক্ষমার যোগ্য। কিন্তু এই শাস্ত্রের পণ্ডিতগণ যদি অভিজ্ঞতার পরেও এই ধরনের লোকদের থেকে হাদিস শ্রবণ করেন, তবে তাদের তওবা প্রকাশ না পাওয়া পর্যন্ত এটি তাদের জন্য জারহ (جرح) এবং তাদের গ্রহণযোগ্যতা বাতিলের (إسقاط) কারণ হিসেবে গণ্য হবে। তবে শাস্ত্র সম্পর্কে অজ্ঞ ব্যক্তিকেও ছাড় দেওয়া হবে না, কারণ তার যা জানা নেই সে সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করা তার জন্য আবশ্যক। পূর্বসূরিগণ (السلف) এই নীতির ওপরই অটল ছিলেন।" (২)।

তিনি চতুর্থ শতাব্দীর একজন আলিম; তিনি হলেন আল-হাকিম আল-নাইসাবুরি। তিনি তাঁর সমসাময়িকদের জন্য আদালাত (العدالة) এবং দাবত (الضبط) এর শর্তাবলি শিথিল করার কথা উল্লেখ করেছেন। তিনি দাবত (الضبط) এর ক্ষেত্রে কেবল কিতাব সংরক্ষণের বিষয়টি উল্লেখ করেছেন। তাঁর পূর্বে ইমাম রামাহুরমুজি তাঁর 'আল-মুহাদ্দিস আল-ফাসিল' (৩) গ্রন্থে এই বিষয়ের প্রতি ইঙ্গিত করেছেন। এটি তৃতীয় শতাব্দীর মানহাজ এবং চতুর্থ শতাব্দীর মানহাজের মধ্যে এক বিশাল পার্থক্যের প্রমাণ দেয়।

হাফিজ ইবনে আস-সালাহ এই বিষয়ে সতর্ক করে বলেন: "আমরা যা উল্লেখ করেছি তার অনুরূপ আগে বর্ণিত হয়েছে

--------------------------------------------

(১) আল-ইহসান ১/১০২।

(২) মা'রিফাতু উলুমিল হাদিস, পৃষ্ঠা ১৫ - ১৬।

(৩) দেখুন: আল-মুহাদ্দিস আল-ফাসিল ১৫৯ - ১৬২, এবং আল-মানহাজ আল-মুকতারাআহ, আল-আউনি, পৃষ্ঠা ৫৩।
(খণ্ড: ১) আশ-শায ওয়াল মুনকার ওয়া যিয়াদাতুস সিকা - মুওয়াযানাহ বাইনাল মুতাকাদ্দিমীন ওয়াল মুতাআখখিরীন (পৃষ্ঠা: ১৭)
الحافظ الفقيه أبو بكر البيهقي رحمه الله، فإنه ذكر فيما روينا عنه توسع من توسع في السماع من بعض محدثي زمانه الذين لا يحفظون حديثهم ولا يحسنون قراءته من كتبهم، ولا يعرفون ما يقرأ عليهم بعد أن تكون القراءة عليهم من أصل سماعهم، ووجه ذلك بأن الأحاديث التي قد صحت أو وقفت بين الصحة والسقم قد دونت وكتبت في الجوامع التي جمعها أئمة الحديث ولا يجوز أن يذهب شيء منها على جميعهم، وإن جاز أن يذهب على بعضهم لضمان صاحب الشريعة حفظها، قال - يريد البيهقي -: فمن جاء اليوم بحديث لا يوجد عند جميعهم لم يقبل منه، ومن جاء بحديث معروف عندهم فالذي يرويه لا ينفرد بروايته والحجة قائمة بحديثه برواية غيره والقصد من روايته والسماع منه أن يصير الحديث مسلسلاُ بحدثنا وأخبرنا وتبقى هذه الكرامة التي خصت بها هذه الأمة شرفاً لنبينا المصطفى صلى الله عليه وعلى آله وسلم، والله أعلم" (1).

وقد تكلمنا على هذه المسألة في صفحات من هذا البحث، وبينا الفرق الشاسع بين منهج علماء القرن الثالث وعلماء القرن الرابع من خلال الأمثلة التي سقناها في الفصل التطبيقي (2).

وعلى كل حال فالذي نقصده بالمتقدمين في هذه الأطروحة هم علماء الحديث في القرون الثلاثة الأولى، أي إلى رأس سنة (300) هجرية، وتشمل علماء الحديث الأئمة الأوائل: كالليث، والأوزاعي، والسفيانين، ومالك، وابن معين، وابن المديني، وأبي حاتم، وأبي زرعة الرازيين، وأحمد، والبخاري، ومسلم، وأبو داود، والترمذي، وابن ماجه، والنسائي وابن خزيمة، وغيرهم. فهؤلاء جميعهم هم من طبقة القرن الثالث وعلمائها.

وقد أدخلنا معهم الإمام النسائي وابن خزيمة، وإن كانا قد توفيا مطلع القرن الرابع وذلك لأسباب:

1 - إنهما عاشا حياتهما العلمية في القرن الثالث وإن توفي النسائي سنة 303هـ، وابن خزيمة سنة 311 هـ.

2 - من المرجح الذي يكاد أن يكون مؤكداً أنهما ألفا كتابيهما في أواخر المئة الثالثة.

--------------------------------------------

(1) مقدمة ابن الصلاح ص 104.

(2) انظر مثلاً ص 321و370 من هذا الكتاب.
হাফেজ ও ফকিহ আবু বকর আল-বাইহাকি (রহমাতুল্লাহি আলাইহি) থেকে বর্ণিত হয়েছে যে, তিনি তাঁর সময়ের এমন কিছু মুহাদ্দিসের কাছ থেকে হাদিস শ্রবণের (سماع) ক্ষেত্রে শিথিলতা প্রদর্শনকারীদের সমালোচনা করেছেন, যারা তাদের হাদিস মুখস্থ রাখতেন না, নিজেদের কিতাব থেকে সঠিকভাবে পাঠ করতে পারতেন না এবং তাদের সামনে যা পাঠ করা হতো তা তারা বুঝতে পারতেন না, যদিও সেই পাঠ তাদের মূল পাণ্ডুলিপি থেকেই হতো। এর কারণ হিসেবে বলা হয়েছে যে, যেসব হাদিস বিশুদ্ধ (صحيح) হিসেবে প্রমাণিত হয়েছে অথবা যেগুলো বিশুদ্ধতা (صحيح) ও দুর্বলতার (سقيم) মাঝামাঝি পর্যায়ে রয়েছে, সেগুলো হাদিসের ইমামদের সংকলিত বিভিন্ন জামে’ কিতাবসমূহে ইতোমধ্যেই সংকলিত ও লিপিবদ্ধ হয়ে গেছে। আর এটা অসম্ভব যে, এই সমস্ত হাদিসের কোনো অংশই তাদের সবার অগোচরে হারিয়ে যাবে; যদিও শরিয়ত প্রবর্তকের পক্ষ থেকে হাদিস সংরক্ষণের নিশ্চয়তা থাকার কারণে ব্যক্তিগতভাবে কারো কারো কাছে কোনো অংশ অজানা থাকা সম্ভব। তিনি—অর্থাৎ বাইহাকি—বলেন: "বর্তমানে যদি কেউ এমন কোনো হাদিস নিয়ে আসে যা তাঁদের (পূর্ববর্তী ইমামদের) কারও কাছে পাওয়া যায় না, তবে তা গ্রহণ করা হবে না। আর যদি কেউ এমন কোনো হাদিস নিয়ে আসে যা তাঁদের কাছে পরিচিত, তবে বর্ণনাকারী ওই হাদিসটি বর্ণনায় একক (منفرد) হিসেবে গণ্য হবেন না। বরং অন্য বর্ণনার মাধ্যমে সেই হাদিসের স্বপক্ষে প্রমাণ বা হুজ্জত প্রতিষ্ঠিত হয়েই আছে। তাঁর কাছ থেকে বর্ণনা করা এবং শ্রবণের (سماع) মূল উদ্দেশ্য হলো হাদিসটি 'হাদ্দাসানা' ও 'আখবারানা' শব্দযোগে পরম্পরাযুক্ত (مسلسل) হওয়া এবং এই মর্যাদা যেন এই উম্মতের জন্য একটি বিশেষ সম্মান হিসেবে অবশিষ্ট থাকে, যা আমাদের নির্বাচিত নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়া সাল্লাম)-এর জন্য এক অনন্য মর্যাদা।" আল্লাহই ভালো জানেন। (১)

আমরা এই গবেষণার বিভিন্ন পৃষ্ঠায় এই বিষয়টি নিয়ে আলোচনা করেছি এবং আমাদের প্রায়োগিক অধ্যায়ে বর্ণিত উদাহরণগুলোর মাধ্যমে তৃতীয় হিজরি শতাব্দী ও চতুর্থ হিজরি শতাব্দীর আলেমদের মানহাজ বা কর্মপদ্ধতির মধ্যকার বিশাল পার্থক্য স্পষ্ট করেছি। (২)

যাই হোক, এই গবেষণাপত্রে আমরা পূর্বসূরি (متقدمين) বলতে প্রথম তিন শতাব্দীর হাদিস বিশারদদের বুঝিয়েছি, অর্থাৎ ৩০০ হিজরি সাল পর্যন্ত সময়কালকে। এর মধ্যে প্রথম যুগের ইমামগণ অন্তর্ভুক্ত: যেমন লাইস, আওজায়ি, দুই সুফিয়ান, মালেক, ইবনে মাইন, ইবনে আল-মাদিনি, আবু হাতিম ও আবু জুরআ আর-রাজিদ্বয়, আহমদ, বুখারি, মুসলিম, আবু দাউদ, তিরমিজি, ইবনে মাজাহ, নাসায়ি, ইবনে খুজাইমা এবং অন্যান্যরা। তাঁরা সবাই তৃতীয় শতাব্দীর স্তরভুক্ত আলেম।

আমরা ইমাম নাসায়ি এবং ইবনে খুজাইমাকেও তাঁদের অন্তর্ভুক্ত করেছি, যদিও তাঁরা চতুর্থ শতাব্দীর শুরুতে ইন্তেকাল করেছেন। এর কারণগুলো হলো:

১ - তাঁরা তাঁদের ইলমি জীবন তৃতীয় শতাব্দীতেই অতিবাহিত করেছেন, যদিও নাসায়ি ৩০৩ হিজরিতে এবং ইবনে খুজাইমা ৩১১ হিজরিতে ইন্তেকাল করেন।

২ - এটি প্রায় নিশ্চিতভাবে বলা যায় যে, তাঁরা তাঁদের কিতাবসমূহ তৃতীয় শতাব্দীর শেষভাগেই রচনা করেছেন।

--------------------------------------------

(১) মুকাদ্দিমাহ ইবনে সালাহ, পৃষ্ঠা ১০৪।

(২) উদাহরণস্বরূপ এই কিতাবের ৩২১ ও ৩৭০ পৃষ্ঠা দেখুন।
(খণ্ড: ১) আশ-শায ওয়াল মুনকার ওয়া যিয়াদাতুস সিকা - মুওয়াযানাহ বাইনাল মুতাকাদ্দিমীন ওয়াল মুতাআখখিরীন (পৃষ্ঠা: ১৮)
3 - إنهما شاركا أصحاب الكتب الستة في عدد كبير من شيوخهم، فقد شارك النسائي البخاري ومسلماً في بعض شيوخهما، مثل محمد بن بشار، ومحمد بن المثنى، وقتيبة بن سعيد، وغيرهم (1).

4 - تلقي الأمة لكتاب النسائي بالقبول وعده من كتب السنة المعتمدة، فأعطي المرتبة الخامسة بعد جامع الترمذي، وقبل سنن ابن ماجه، الذي توفي قبله سنة (273) هـ (2)،وقد بالغ بعض الأئمة في امتداحه حتى أطلقوا عليه اسم الصحيح (3)، وهذا من باب المبالغة في المدح والثناء على الكتاب.

5 - أمّا الإمام ابن خزيمة ت (311) هـ فقد شارك الشيخين في بعض شيوخهم، مثل إسحاق ابن راهويه، ومحمود بن غيلان، وأحمد بن منيع، ويونس بن عبد الأعلى، وغيرهم (4)، وكان الإمامان البخاري ومسلم يعرفان قدره وعلمه فرويا عنه خارج صحيحهما (5)، وهذا من قبيل رواية الأكابر عن الأصاغر.

فالإمامان النسائي وابن خزيمة خاتمة ذلك الجيل العظيم جيل الرواية المتقنة، والدراية المحصنة.

أمّا ما نعنيه - هنا - بالمتأخرين فهم كل من جاء بعد ابن خزيمة وإلى يومنا هذا من المعاصرين، وهم وإن كانوا يتفاوتون في المنهجية والفهم والضبط؛ إذ مما لا شك فيه أن ابن حبان ت (354) يختلف عن السيوطي ت (911)، ومنهجية الدارقطني ت

(385)، والتي هي أقرب إلى منهجية المتقدمين تختلف عن منهجية الحاكم النيسابوري (405) هـ، وقد تجد ابن رجب الحنبلي (795) هـ أقرب لمنهجية المتقدمين من كثير ممن سبقه، إلاّ أنهم يشتركون في كونهم يمثلون مرحلة ما بعد الاستقرار، أعني استقرار الرواية ومعرفة الطرق والمظان (6)، فهم يمثلون مرحلة الاستقراء

--------------------------------------------

(1) انظر مقدمة عمل اليوم والليلة، فاروق حمادة ص 18.

(2) انظر الإرشاد، الخليلي 1/ 436.

(3) انظر الإرشاد 2/ 767 - 768، والتقييد، ابن نقطة 1/ 151، وانظر علل الحديث وتطبيقاتها، محمد محمود سليمان ص44.

(4) انظر سير أعلام النبلاء، الذهبي 2/ 721.

(5) مصدر سابق.

(6) انظر ص 222 من هذا البحث.
3 - তাঁরা উভয়ে 'কুতুব আস-সিত্তাহ'-এর রচয়িতাদের সাথে তাঁদের বহুসংখ্যক শিক্ষাগুরুর (شيوخ) ক্ষেত্রে অংশীদার হয়েছেন। ইমাম নাসায়ি ইমাম বুখারি ও ইমাম মুসলিমের কিছু শিক্ষাগুরুর ক্ষেত্রে অংশীদার হয়েছেন; যেমন: মুহাম্মদ বিন বাশার, মুহাম্মদ বিন আল-মুসান্না, কুতাইবাহ বিন সাঈদ এবং অন্যান্য (১)।

4 - উম্মাহ কর্তৃক ইমাম নাসায়ির কিতাবটি গ্রহণ করে নেওয়া এবং এটিকে সুন্নাহর নির্ভরযোগ্য কিতাবসমূহের অন্তর্ভুক্ত করা। ফলে একে জামে আত-তিরমিজির পরে এবং সুনানে ইবনে মাজাহর পূর্বে পঞ্চম স্থানে রাখা হয়েছে, যিনি তাঁর পূর্বে ২৭৩ হিজরিতে মৃত্যুবরণ করেছেন (২)। কোনো কোনো ইমাম তাঁর অতিশয় প্রশংসা করতে গিয়ে একে ‘সহিহ’ (الصحيح) নামেও অভিহিত করেছেন (৩), যা মূলত কিতাবটির প্রশংসা ও গুণকীর্তনের ক্ষেত্রে এক ধরনের অতিরঞ্জন।

5 - আর ইমাম ইবনে খুজাইমাহ (মৃত্যু ৩১১ হি.) শাইখাইনের কিছু শিক্ষাগুরুর (شيوخ) ক্ষেত্রে অংশীদার ছিলেন; যেমন: ইসহাক ইবনে রাহওয়াইহ, মাহমুদ বিন গাইলান, আহমদ বিন মানি‘, ইউনুস বিন আবদুল আলা এবং অন্যান্য (৪)। ইমাম বুখারি ও ইমাম মুসলিম তাঁর মর্যাদা ও ইলম সম্পর্কে অবগত ছিলেন, তাই তাঁরা তাঁদের ‘সহিহ’ গ্রন্থের বাইরে তাঁর থেকে বর্ণনা (رويا) করেছেন (৫); আর এটি জ্যেষ্ঠদের কনিষ্ঠদের থেকে বর্ণনার (رواية الأكابر عن الأصاغر) অন্তর্ভুক্ত।

ইমাম নাসায়ি এবং ইমাম ইবনে খুজাইমাহ হলেন সেই মহান প্রজন্মের সর্বশেষ প্রতিনিধি, যারা ছিলেন সুনিপুণ বর্ণনা (رواية) এবং সুরক্ষিত গভীর বোধের (دراية) অধিকারী।

এখানে ‘পরবর্তী যুগের আলেম’ (المتأخرين) বলতে আমরা তাঁদের বুঝাচ্ছি, যারা ইবনে খুজাইমাহর পর থেকে বর্তমান সময় পর্যন্ত আবির্ভূত হয়েছেন। যদিও তাঁদের মানহাজ বা কর্মপদ্ধতি, অনুধাবন এবং মুখস্থশক্তির নির্ভুলতার (ضبط) মধ্যে পার্থক্য রয়েছে; কেননা এতে কোনো সন্দেহ নেই যে, ইবনে হিব্বান (মৃত্যু ৩৫৪ হি.) ইমাম সুয়ুতি (মৃত্যু ৯১১ হি.) থেকে ভিন্ন ছিলেন। আবার ইমাম দারা কুতনির (মৃত্যু ৩৮৫ হি.) মানহাজ, যা পূর্ববর্তী যুগের আলেমদের (المتقدمين) মানহাজের অধিক নিকটবর্তী, তা ইমাম হাকেম নিশাপুরির (মৃত্যু ৪০৫ হি.) মানহাজ থেকে ভিন্ন। এমনকি আপনি ইবনে রজব হাম্বলিকে (মৃত্যু ৭৯৫ হি.) তাঁর পূর্বসূরি অনেকের তুলনায় পূর্ববর্তী যুগের আলেমদের (المتقدمين) মানহাজের অধিক নিকটবর্তী পাবেন। তবে তাঁরা এই বিষয়ে একমত যে, তাঁরা স্থায়িত্ব পরবর্তী পর্যায়ের প্রতিনিধিত্ব করেন; অর্থাৎ বর্ণনার (الرواية) স্থায়িত্ব লাভ এবং বিভিন্ন সূত্র (الطرق) ও সম্ভাব্য উৎসস্থল (المظان) সম্পর্কে অবগত হওয়ার পরবর্তী পর্যায় (৬)। তাঁরা মূলত অনুসন্ধান বা আরোহী পদ্ধতির (الاستقراء) স্তরের প্রতিনিধিত্ব করেন।

--------------------------------------------

(1) দেখুন: আমালুল ইয়াওমি ওয়াল লাইলাহ-এর ভূমিকা, ফারুক হামাদাহ, পৃষ্ঠা ১৮।

(2) দেখুন: আল-ইরশাদ, আল-খালিলি, ১/৪৩৬।

(3) দেখুন: আল-ইরশাদ, ২/৭৬৭-৭৬৮; আল-তাকয়িদ, ইবনে নুকতাহ, ১/১৫১; এবং হাদিসের ত্রুটি (علل) ও এর প্রয়োগ, মুহাম্মদ মাহমুদ সুলাইমান, পৃষ্ঠা ৪৪।

(4) দেখুন: সিয়ারু আলামিন নুবালা, আয-যাহাবি, ২/৭২১।

(5) পূর্বোক্ত উৎস।

(6) দেখুন: এই গবেষণার ২২২ পৃষ্ঠা।
(খণ্ড: ১) আশ-শায ওয়াল মুনকার ওয়া যিয়াদাতুস সিকা - মুওয়াযানাহ বাইনাল মুতাকাদ্দিমীন ওয়াল মুতাআখখিরীন (পৃষ্ঠা: ১৯)
بعد الاستقرار، ومرحلة المستدركات بعد الأصول، ومرحلة المستخرجات على الطرق والشيوخ فهم تبع لأولئك الأوائل، ويندر أن يخلص لهم حديث فات الأوائل - المتقدمين -، كما قال الحافظ ابن الصلاح، وسيتضح هذا الأمر طياً في مباحث هذه الرسالة إن شاء الله تعالى.

 

‌‌ثانياً: منهج النقد الحديثي بين المتقدمين والمتأخرين:

‌‌أولاً: عند المتقدمين

يقوم منهج النقد عند الأئمة المتقدمين على مرحلتين:

المرحلة الأولى: وتقوم على نقد المتون، ومن خلالها يتم الكلام في الرواة جرحاً أو تعديلاً، وتمتد هذه المرحلة من عصر الصحابة حتى نهاية النصف الأول من القرن الثاني الهجري، ويتمثل هذا المنهج برد الصحابة بعضهم على بعض حينما يستمعون إلى متون الأحاديث المروية والأحكام المتصلة بها، تلك المتون التي يرونها تعارض بعض المتون الأخرى، كاعتراضات أم المؤمنين عائشة رضي الله عنها على بعض الصحابة، أو اعتراضات ابن مسعود، أو ابن عباس رضي الله عنهم أجمعين.

والمرحلة الثانية: وهي تمثل مرحلة التبويب والتنظيم من خلال جمع ودراسة أحاديث كل محدث والحكم عليه من خلال تلك المرويات، ويظهر ذلك في الأحكام التي أصدرها الأئمة على الرواة كعلي ابن المديني، ويحيى بن معين، وأحمد بن حنبل، وأبي زرعة وأبي حاتم الرازيين، والبخاري، ومسلم، وأبي داود، وأضرابهم.

ولا يساورنا شك أن بعض العلماء المتقدمين قد تكلموا في الرواة ممن عاصروهم أو لاقوهم جرحاً أو تعديلًا، كالإمام مالك بن أنس، والسفيانيين، وشعبة بن الحجاج،

وحماد بن زيد، والأوزاعي، ووكيع بن الجراح، ثم أن العلماء من الطبقة التي تلت هؤلاء قد تكلموا في الرواة الذين أخذوا عنهم واتصلوا بهم.

والسؤال الذي يطرح نفسه: هو كيف نفسر كلام كبار علماء النقد ممن عاشوا في المئة الثالثة في رجال لم يلحقوا بهم من التابعين ومن بعدهم، ولم يؤثر للمتقدمين فيهم جرح أو تعديل حتى نقول: إنهم اعتمدوا أقوال من سبقهم فيهم؟

الجواب: إنهم أصدرا أحكامهم عن طريق تفتيش حديثهم المجموع، واستناداً إلى ذلك.
স্থিতিশীলতার পর, এবং মূল গ্রন্থগুলোর পর মুস্তাদরাক (المستدركات) রচনার পর্যায়, এবং সনদ ও শায়খদের ভিত্তিতে মুস্তাখরাজ (المستخرجات) রচনার পর্যায়ের সংকলকগণ সেই পূর্ববর্তীদেরই অনুসারী। আর এটি বিরল যে, তাঁদের কাছে এমন কোনো হাদিস বিশুদ্ধ হিসেবে গণ্য হবে যা পূর্ববর্তী—মুতাকাদ্দিমীন (المتقدمين)—ইমামগণের অগোচরে ছিল; যেমনটি হাফেজ ইবনে সালাহ বলেছেন। এই বিষয়টি ইনশাআল্লাহ এই প্রবন্ধের আলোচনায় পর্যায়ক্রমে স্পষ্ট হবে।

 

‌‌দ্বিতীয়ত: মুতাকাদ্দিমীন (المتقدمين) ও মুতাআখখিরীন (المتأخرين)-দের মাঝে হাদিস পর্যালোচনার পদ্ধতি:

‌‌প্রথমত: মুতাকাদ্দিমীন (المتقدمين)-দের নিকট

মুতাকাদ্দিমীন (المتقدمين) ইমামগণের নিকট পর্যালোচনা পদ্ধতি দুটি পর্যায়ের ওপর প্রতিষ্ঠিত:

প্রথম পর্যায়: এটি মতন (المتون) পর্যালোচনার ওপর ভিত্তি করে গড়ে উঠেছে, যার মাধ্যমে বর্ণনাকারীদের ব্যাপারে জরাহ (جرحاً) বা তাদিল (تعديلاً) করা হয়। এই পর্যায়টি সাহাবীগণের যুগ থেকে হিজরি দ্বিতীয় শতাব্দীর প্রথমার্ধ পর্যন্ত বিস্তৃত। এই পদ্ধতির উদাহরণ হলো—সাহাবীগণ যখন বর্ণিত হাদিসের মতন (المتون) এবং এর সাথে সংশ্লিষ্ট বিধানাবলি শ্রবণ করতেন, তখন তাঁরা একে অপরের বর্ণনা নাকচ করতেন যদি তাঁরা মনে করতেন যে তা অন্য কোনো মতনের সাথে সাংঘর্ষিক। যেমন উম্মুল মুমিনীন আয়েশা (রা.)-এর কিছু আপত্তি যা তিনি কিছু সাহাবীর ওপর করেছিলেন, অথবা ইবনে মাসউদ বা ইবনে আব্বাস (রা.)-এর আপত্তি।

দ্বিতীয় পর্যায়: এটি বিন্যাস ও সুশৃঙ্খলকরণের পর্যায়কে প্রতিনিধিত্ব করে। প্রতিটি মুহাদ্দিসের হাদিসগুলো সংগ্রহ ও পর্যালোচনার মাধ্যমে এবং সেই বর্ণিত হাদিসগুলোর (المرويات) ওপর ভিত্তি করে তাঁদের সম্পর্কে সিদ্ধান্ত প্রদান করা হয়। এটি আলী ইবনুল মাদিনী, ইয়াহইয়া ইবনে মাঈন, আহমাদ ইবনে হাম্বল, আবু জুরআ ও আবু হাতিম আর-রাজিদ্বয়, বুখারী, মুসলিম, আবু দাউদ এবং তাঁদের সমপর্যায়ের ইমামগণ বর্ণনাকারীদের ব্যাপারে যে সিদ্ধান্ত দিয়েছেন তাতে পরিলক্ষিত হয়।

এতে আমাদের কোনো সন্দেহ নেই যে, কিছু মুতাকাদ্দিমীন (المتقدمين) আলেম তাঁদের সমসাময়িক বা যাদের সাথে তাঁদের সাক্ষাৎ হয়েছে এমন বর্ণনাকারীদের জরাহ (جرحاً) বা তাদিল (تعديلاً) করেছেন; যেমন ইমাম মালিক বিন আনাস, দুই সুফিয়ান, শু'বা ইবনুল হাজ্জাজ,

হাম্মাদ বিন যায়েদ, আওযায়ী এবং ওয়াকি ইবনুল জাররাহ। এরপর তাঁদের পরবর্তী স্তরের আলেমগণ সেইসব বর্ণনাকারীদের সম্পর্কে মন্তব্য করেছেন যাদের থেকে তাঁরা জ্ঞান অর্জন করেছেন এবং যাদের সাথে তাঁদের সংযোগ ছিল।

এখন প্রশ্ন জাগে: তৃতীয় শতাব্দীতে বসবাসকারী শীর্ষস্থানীয় পর্যালোচনা বিশেষজ্ঞ আলেমগণ তাবিঈন (التابعين) এবং তাঁদের পরবর্তী স্তরের এমন ব্যক্তিদের সম্পর্কে কীভাবে মূল্যায়ন করলেন যাদের তাঁরা পাননি? অথচ তাঁদের সম্পর্কে মুতাকাদ্দিমীন (المتقدمين) ইমামদের কোনো জরাহ (جرح) বা তাদিল (تعديل) বর্ণিত নেই যা থেকে আমরা বলতে পারি যে তাঁরা তাঁদের পূর্বসূরিদের বক্তব্যের ওপর নির্ভর করেছেন?

উত্তর হলো: তাঁরা তাঁদের সংগৃহীত হাদিসসমূহ পুঙ্খানুপুঙ্খ তদন্ত করার মাধ্যমে এবং তার ভিত্তিতেই এই সিদ্ধান্তগুলো প্রদান করেছেন।
(খণ্ড: ১) আশ-শায ওয়াল মুনকার ওয়া যিয়াদাতুস সিকা - মুওয়াযানাহ বাইনাল মুতাকাদ্দিমীন ওয়াল মুতাআখখিরীন (পৃষ্ঠা: ২০)
وسأضرب لذلك أمثلة:" قال ابن أبي حاتم في ترجمة أحمد بن إبراهيم الحلبي: " سألت أبي عنه، وعرضت عليه حديثه فقال: لا أعرفه، وأحاديثه باطلة موضوعة كلها ليس لها أصول، يدل حديثه على أنه كذاب" (1)، وقال في ترجمة أحمد بن المنذر بن الجارود القزاز: " سألت أبي عنه فقال: لا أعرفه، وعرضت عليه حديثه فقال: حديث صحيح " (2).

وقال أبو عبيد الآجري في مسلمة بن محمد الثقفي البصري: " سألت أبا داود عنه قلت: قال يحيى (يعني ابن معين): ليس بشيء؟ قال: حدثنا عنه مسدد أحاديث مستقيمة، قلت: حدث عن هشام، عن عروة، عن أبيه، عن عائشة: إياكم والزنج فإنهم خلق مشوّه. فقال: مَنْ حدث بهذا فاتهمه " (3).

فهذه الأمثلة الثلاثة واضحة الدلالة على أن أبا حاتم الرازي وأبا داود لم يعرفا هؤلاء الرواة إلا عن طريق تفتيش حديثهم المجموع، وأنهما أصدرا أحكامهما استناداً إلى ذلك.

وقل مثل ذلك في قول الإمام البخاري (ت 256) في إبراهيم بن إسماعيل بن أبي حبيبة الأشهلي المدني (83 - 165): منكر الحديث، وقول أبي حاتم الرازي (ت

277هـ) فيه: شيخ ليس بقوي، يكتب حديثه ولا يحتج به، منكر الحديث، وقول النسائي (ت 303هـ) فيه: ضعيف.

"فهؤلاء العلماء الثلاثة لم يدركوه ولا عرفوه عن قرب ولا نقلوا عن شيوخهم أو آخرين ما يفيد ذلك، فكيف تم لهم الحصول على هذه النتائج والأقوال؟ واضح أنهم جمعوا حديثه ودرسوه، واصدروا أحكامهم اعتماداً على هذه الدراسة " (4).

ويرى الواقف على أقوال الأئمة المتقدمين، وصنيعهم في المصنفات والجوامع

--------------------------------------------

(1) الجرح والتعديل 2/ 40 ترجمة (5).

(2) الجرح والتعديل 2/ ترجمة (170) قلت: ومن أمثلته أيضا: قال في ترجمة أحمد بن بحر العسكري: " سألت أبي عنه وعرضت عليه حديثه فقال: حديث صحيح. وهو لا يعرفه " الجرح والتعديل 2/ 42 (15).

(3) تهذيب الكمال 7/ 112 (6554).

(4) مقدمة تحرير التقريب، د. بشار عواد، والشيخ شعيب الأرنؤوط 1/ 18 - 20، وانظر مقدمة تأريخ الخطيب، د. بشار عواد معروف 1/ 137 - 138.
আমি এর কিছু উদাহরণ প্রদান করব: ইবনে আবি হাতিম আহমদ ইবনে ইবরাহিম আল-হালাবি-এর জীবনীতে বলেছেন: "আমি আমার পিতাকে তাঁর সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করলাম এবং তাঁর বর্ণিত হাদিসগুলো তাঁর কাছে পেশ করলাম। তিনি বললেন: আমি তাঁকে চিনি না, তবে তাঁর হাদিসগুলো বাতিল (باطلة) ও বানোয়াট (موضوعة), এগুলোর কোনো ভিত্তি নেই। তাঁর বর্ণিত হাদিস প্রমাণ করে যে তিনি একজন চরম মিথ্যাবাদী (كذاب)।" (১), এবং তিনি আহমদ ইবনে আল-মুনজির ইবনে আল-জারুদ আল-কাযযায-এর জীবনীতে বলেছেন: "আমি আমার পিতাকে তাঁর সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করলাম, তিনি বললেন: আমি তাঁকে চিনি না। আমি তাঁর হাদিস তাঁর কাছে পেশ করলাম, তিনি বললেন: এটি সহিহ (صحيح) হাদিস।" (২)।

আবু উবাইদ আল-আজুরি মাসলামাহ ইবনে মুহাম্মদ আস-সাকাফি আল-বাসরি সম্পর্কে বলেছেন: "আমি আবু দাউদকে তাঁর সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করলাম এবং বললাম: ইয়াহইয়া (অর্থাৎ ইবনে মায়িন) বলেছেন—তিনি কিছুই নন (ليس بشيء)? তিনি বললেন: মুসাদ্দাদ আমাদের কাছে তাঁর সূত্রে সঠিক (مستقيمة) হাদিসসমূহ বর্ণনা করেছেন। আমি বললাম: তিনি হিশাম থেকে, তিনি উরওয়াহ থেকে, তিনি তাঁর পিতা থেকে এবং তিনি আয়েশা (রা.) থেকে বর্ণনা করেছেন: 'তোমরা কৃষ্ণাঙ্গদের ব্যাপারে সতর্ক থাকো, কারণ তারা বিকৃত সৃষ্টি।' তখন তিনি বললেন: 'যে ব্যক্তি এটি বর্ণনা করেছে তাকে অভিযুক্ত (اتهمه) করো'।" (৩)।

এই তিনটি উদাহরণ স্পষ্টভাবে নির্দেশ করে যে, আবু হাতিম আল-রাজি এবং আবু দাউদ এই বর্ণনাকারীদের সম্পর্কে কেবল তাঁদের সংগৃহীত হাদিসগুলো যাচাই-বাছাই করার মাধ্যমেই জানতে পেরেছেন এবং এর ওপর ভিত্তি করেই তাঁরা তাঁদের সিদ্ধান্ত প্রদান করেছেন।

অনুরূপ কথা ইমাম বুখারি (মৃত ২৫৬ হি.) কর্তৃক ইবরাহিম ইবনে ইসমাইল ইবনে আবি হাবিবা আল-আশহালি আল-মাদানি (৮৩ - ১৬৫ হি.) সম্পর্কে বলা মন্তব্যের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য: তিনি মুনকারুল হাদিস (منكر الحديث)। আবু হাতিম আল-রাজি (মৃত

২৭৭ হি.) তাঁর সম্পর্কে বলেছেন: তিনি একজন বয়োজ্যেষ্ঠ (شيخ), তবে শক্তিশালী (ليس بقوي) নন; তাঁর হাদিস লেখা যাবে কিন্তু তা দিয়ে দলিল পেশ করা যাবে না (لا يحتج به), তিনি মুনকারুল হাদিস (منكر الحديث)। এবং নাসায়ি (মৃত ৩০৩ হি.) তাঁর সম্পর্কে বলেছেন: তিনি দুর্বল (ضعيف)।

"এই তিনজন আলেম তাঁকে পাননি এবং তাঁকে কাছ থেকেও চিনতেন না, আর তাঁরা তাঁদের উস্তাদ বা অন্যদের থেকেও এমন কিছু বর্ণনা করেননি যা থেকে এটি বোঝা যায়। তাহলে কীভাবে তাঁরা এই ফলাফল এবং মন্তব্যে উপনীত হলেন? এটি স্পষ্ট যে তাঁরা তাঁর হাদিসগুলো সংগ্রহ করেছেন ও অধ্যয়ন করেছেন এবং সেই অধ্যয়নের ওপর ভিত্তি করেই তাঁদের সিদ্ধান্তগুলো প্রদান করেছেন।" (৪)।

পূর্ববর্তী ইমামদের বক্তব্য এবং মুসান্নাফ ও জামি গ্রন্থসমূহে তাঁদের কর্মপদ্ধতি সম্পর্কে অবগত ব্যক্তি দেখতে পান যে...

--------------------------------------------

(১) আল-জারহ ওয়াত-তাদিল ২/৪০, জীবনী নং (৫)।

(২) আল-জারহ ওয়াত-তাদিল ২/ জীবনী নং (১৭০)। আমি বলছি: এর আরও উদাহরণের মধ্যে রয়েছে: তিনি আহমদ ইবনে বাহর আল-আসকারি-এর জীবনীতে বলেছেন: "আমি আমার পিতাকে তাঁর সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করলাম এবং তাঁর হাদিসগুলো তাঁর কাছে পেশ করলাম। তিনি বললেন: হাদিসটি সহিহ (صحيح), অথচ তিনি তাঁকে চেনেন না।" আল-জারহ ওয়াত-তাদিল ২/৪২ (১৫)।

(৩) তাহজিবুল কামাল ৭/১১২ (৬৫৫৪)।

(৪) তাহরিরুত তাকরিব-এর ভূমিকা, ড. বাশার আওয়াদ ও শেখ শুয়াইব আল-আরনাউত ১/১৮ - ২০; আরও দেখুন তারিখুল খতিব-এর ভূমিকা, ড. বাশার আওয়াদ মারুফ ১/১৩৭ - ১৩৮।
(খণ্ড: ১) আশ-শায ওয়াল মুনকার ওয়া যিয়াদাতুস সিকা - মুওয়াযানাহ বাইনাল মুতাকাদ্দিমীন ওয়াল মুতাআখখিরীন (পৃষ্ঠা: ২১)
والسنن ونحوها، وكذا كتب العلل والتواريخ أنهم يتعاملون مع الحديث بشكل شمولي، غير مجزأ ولا مخل، مستعملين أوجز العبارات التي يفهمها أهل الصنعة، كقولهم: (غير محفوظ)، (منكر)، (وهم)، (خطأ).وإنما استعملها النقاد هكذا دون تفصيل - في الأغلب - لأنهم خشوا أن تلتبس الأحاديث على غير المحدثين إذا ما طولوا ببيان علل كل حديث، أو لأنهم اكتفوا بتقديم النتائج من غير بيان الأدلة التي حدت بهم إلى ذلك في الأغلب الأعم دفعاً للتطويل وطلباً للاختصار (1)،والتي أصبحت فيما بعد غامضة، خاصة عندما ضعف علم الحديث، وتوسع بعض الفقهاء في قبول الأحاديث الضعيفة، فأصبحت تلك العبارات كأنها طلاسم، يفسرها كل محدث، أو فقيه (من المتأخرين) بنحو فهمه ومذهبه!!.

كما أثرت مناهج الفقهاء والأصوليين وحاجتهم المتزايدة إلى قبول الأحاديث من أجل الاستدلال بها في هذا المنحى، فمثلا:

قال ابن الصلاح: " الحديث الذي رواه بعض الثقات مرسلا وبعضهم متصلا: اختلف أهل الحديث في أنه ملحق بقبيل الموصول أو بقبيل المرسل؟

مثاله حديث:" لا نكاح إلا بولي "، رواه إسرائيل بن يونس في آخرين عن جده أبي إسحاق السبيعي عن أبي بردة عن أبيه أبي موسى الأشعري عن رسول الله صلى الله عليه وسلم مسندا هكذا متصلا، ورواه سفيان الثوري وشعبة عن أبي إسحاق عن أبي بردة عن النبي صلى الله عليه وسلم مرسلا هكذا، فحكى الخطيب الحافظ أن: " أكثر أصحاب الحديث يرون الحكم في

هذا وأشباهه للمرسل "، وعن بعضهم أن الحكم للأكثر وعن بعضهم أن الحكم للأحفظ، فإذا كان من أرسله أحفظ ممن وصله فالحكم لمن أرسله، ثم لا يقدح ذلك في عدالة من وصله وأهليته، ومنهم من قال: من أسند حديثا قد أرسله الحفاظ فإرسالهم له يقدح في مسنده وفي عدالته وأهليته، ومنهم من قال: الحكم لمن أسنده إذا كان عدلا ضابطا فيقبل خبره وإن خالفه غيره سواء كان المخالف له واحدا أو جماعة، قال الخطيب: هذا القول هو الصحيح قلت وما صححه هو الصحيح في الفقه وأصوله" (2).

قلت: تأمل قوله: "أكثر أصحاب الحديث يرون الحكم في هذا وأشباهه للمرسل، وعن بعضهم أن الحكم للأكثر وعن بعضهم أن الحكم للأحفظ" ثم يرجح ماذا؟: " قال

--------------------------------------------

(1) انظر مقدمة جامع الترمذي، د. بشار عواد معروف 1/ 33، ونظرات جديدة، المليباري ص 95.

(2) مقدمة ابن الصلاح ص 59.
সুনান এবং অনুরূপ গ্রন্থাবলি, একইভাবে ইল্লাল (হাদিসের সূক্ষ্ম ত্রুটি বিষয়ক) ও ইতিহাসের কিতাবসমূহে দেখা যায় যে, তাঁরা (মুহাদ্দিসগণ) হাদিসের সাথে একটি সামগ্রিক দৃষ্টিভঙ্গিতে আচরণ করেন, যা খণ্ডিত বা ত্রুটিপূর্ণ নয়। তাঁরা অত্যন্ত সংক্ষিপ্ত শব্দমালা ব্যবহার করেন যা এই শিল্পের বিশেষজ্ঞরাই বুঝতে পারেন, যেমন তাঁদের উক্তি: ‘অসংরক্ষিত (غير محفوظ)’, ‘প্রত্যাখ্যাত (منكر)’, ‘ভ্রম (وهم)’, ‘ভুল (خطأ)’। সাধারণত সমালোচকগণ কোনো বিস্তারিত ব্যাখ্যা ছাড়াই এগুলো এভাবে ব্যবহার করেছেন; কারণ তাঁরা আশঙ্কা করতেন যে, প্রতিটি হাদিসের সূক্ষ্ম ত্রুটিগুলো (علل) বিস্তারিত বর্ণনা করে দীর্ঘায়িত করলে মুহাদ্দিসগণ ব্যতীত অন্যদের কাছে হাদিসগুলো অস্পষ্ট বা জটিল হয়ে উঠতে পারে। অথবা তাঁরা অধিকাংশ ক্ষেত্রে দীর্ঘসূত্রিতা পরিহার ও সংক্ষিপ্তকরণের উদ্দেশ্যে দলিল-প্রমাণ উল্লেখ ছাড়াই কেবল ফলাফলগুলো উপস্থাপন করেছেন (১), যা পরবর্তীতে অস্পষ্ট হয়ে পড়ে; বিশেষ করে যখন হাদিস শাস্ত্রের জ্ঞান দুর্বল হয়ে যায় এবং কিছু ফকিহ দুর্বল (ضعيفة) হাদিস গ্রহণের ক্ষেত্রে শিথিলতা প্রদর্শন করেন। ফলে সেই পরিভাষাগুলো যেন এক একটি রহস্যময় সংকেতে পরিণত হয়, যা পরবর্তী যুগের প্রত্যেক মুহাদ্দিস বা ফকিহ নিজের বুঝ ও মাযহাব অনুযায়ী ব্যাখ্যা করতে শুরু করেন!!

একইভাবে ফকিহ ও উসুলবিদগণের কর্মপন্থা এবং দলিল হিসেবে পেশ করার জন্য হাদিস গ্রহণের ক্রমবর্ধমান প্রয়োজনীয়তাও এই ধারায় প্রভাব ফেলেছে। উদাহরণস্বরূপ:

ইবনুস সালাহ বলেন: "যে হাদিসটি কোনো কোনো নির্ভরযোগ্য (ثقات) রাবি বিচ্ছিন্ন (مرسلا) হিসেবে এবং অন্য কেউ সংযুক্ত (متصلا) হিসেবে বর্ণনা করেছেন, সেটির ক্ষেত্রে হাদিস বিশারদগণ মতভেদ করেছেন যে, এটি কি সংযুক্ত (الموصول) প্রকারের অন্তর্ভুক্ত হবে নাকি বিচ্ছিন্ন (المرسل) প্রকারের অন্তর্ভুক্ত হবে?

এর উদাহরণ হলো এই হাদিস: 'অভিভাবক ব্যতীত কোনো বিবাহ নেই'। ইসরাঈল ইবনে ইউনুস এবং আরও অনেকে তাঁর দাদা আবু ইসহাক আস-সাবিঈ থেকে, তিনি আবু বুরদাহ থেকে, তিনি তাঁর পিতা আবু মুসা আল-াশআরি থেকে রাসুলুল্লাহ (সা.) হতে সূত্রযুক্ত (مسندا) বা সংযুক্ত (متصلا) হিসেবে এভাবেই বর্ণনা করেছেন। আবার সুফিয়ান আস-সাওরি ও শু'বাহ একে আবু ইসহাক থেকে আবু বুরদাহ হয়ে নবী (সা.) হতে বিচ্ছিন্ন (مرسلا) হিসেবে এভাবেই বর্ণনা করেছেন। খতিব আল-বাগদাদি বর্ণনা করেছেন যে: 'অধিকাংশ হাদিস বিশারদগণের মতে এ জাতীয় ক্ষেত্রে সিদ্ধান্ত বিচ্ছিন্ন (مرسل) বর্ণনার পক্ষেই যায়'। আবার কারো কারো মতে ফয়সালা হবে সংখ্যাধিক্য বর্ণনাকারীর (الأكثر) ভিত্তিতে, আবার কেউ বলেছেন সিদ্ধান্ত হবে অধিক প্রখর স্মৃতিসম্পন্ন বা সংরক্ষণকারী (الأحفظ) রাবির বর্ণনার ভিত্তিতে। সুতরাং যিনি বিচ্ছিন্ন (أرسله) হিসেবে বর্ণনা করেছেন তিনি যদি সংযুক্তকারীর (وصله) চেয়ে অধিক প্রখর স্মৃতিসম্পন্ন (أحفظ) হন, তবে ফয়সালা বিচ্ছিন্নকারীর পক্ষেই যাবে। আর এটি যিনি সংযুক্ত করেছেন তাঁর নির্ভরযোগ্যতা (عدالة) ও যোগ্যতাকে ক্ষুণ্ণ করবে না। আবার তাঁদের মধ্যে কেউ কেউ বলেছেন: যদি এমন সব হাফিজগণ হাদিসটিকে বিচ্ছিন্ন (أرسله) হিসেবে বর্ণনা করেন যার বিপরীতে কেউ তা সূত্রযুক্ত বা মুসনাদ (أسند) হিসেবে বর্ণনা করেন, তবে তাঁদের সেই বিচ্ছিন্নভাবে বর্ণনা করাটা উক্ত মুসনাদ বর্ণনাকারীর নির্ভরযোগ্যতা ও যোগ্যতার ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলবে। আবার কেউ বলেছেন: ফয়সালা তাঁরই বর্ণনার পক্ষে যিনি হাদিসটিকে সূত্রযুক্ত (أسنده) করেছেন, যদি তিনি ন্যায়পরায়ণ (عدلا) ও প্রখর স্মৃতিশক্তিসম্পন্ন (ضابطا) হন। ফলে তাঁর বর্ণনা কবুল করা হবে যদিও অন্য কেউ তাঁর বিরোধিতা করেন, সেই বিরোধী পক্ষ একজন হোক বা এক দল। খতিব বলেন: এই মতটিই সঠিক। আমি (ইবনুস সালাহ) বলছি, তিনি যা সঠিক বলেছেন তা ফিকহ ও উসুলুল ফিকহের দৃষ্টিতে সঠিক" (২)।

আমি বলছি: তাঁর এই কথার দিকে লক্ষ করুন: "অধিকাংশ হাদিস বিশারদগণের মতে এ জাতীয় ক্ষেত্রে সিদ্ধান্ত বিচ্ছিন্ন (مرسل) বর্ণনার পক্ষেই যায়, আবার কারো কারো মতে সংখ্যাধিক্যের ভিত্তিতে এবং কারো মতে অধিক প্রখর সংরক্ষণকারীর ভিত্তিতে"। এরপর তিনি কোনটিকে প্রাধান্য দিচ্ছেন? "তিনি বলেন...

--------------------------------------------

(১) দেখুন: জামি আত-তিরমিজি-এর ভূমিকা, ড. বাশার আওয়াদ মারুফ ১/৩৩ এবং নাজারাত জাদিদাহ, আল-মুলিবারি পৃ. ৯৫।

(২) মুকাদ্দিমাহ ইবনুস সালাহ, পৃ. ৫৯।
(খণ্ড: ১) আশ-শায ওয়াল মুনকার ওয়া যিয়াদাতুস সিকা - মুওয়াযানাহ বাইনাল মুতাকাদ্দিমীন ওয়াল মুতাআখখিরীন (পৃষ্ঠা: ২২)
الخطيب: هذا القول هو الصحيح، قلت: وما صححه هو الصحيح في الفقه وأصوله " (1). فرجح ابن الصلاح رأي محدث متأخر مثل الخطيب وأتبعه بأن هذا هو مذهب الفقهاء والأصوليين.

ثم جاء بعده الإمام النووي، وهو من كبار الفقهاء ليطلق قبول الزيادة إذا كانت من ثقة، وليصبح قاعدة عريضة للمحدثين من بعده؟

ومن ذلك أيضاً تقسيم الحديث إلى متواتر وآحاد وإدخال ذلك في كتب الحديث، رغم أنَّ ذلك هو من صنيع الفقهاء والأصوليين.

وهذا وإن كان محموداً بيد أنه غريب عن منهج المحدثين، إذ جلَّ اهتمامهم هو صحة نسبة الحديث إلى النبي صلى الله عليه وسلم، سواء أكان آحاداً، أم متواتراً، ويعد الخطيب البغدادي أول من صرح بتقسيم الحديث إلى متواتر وآحاد بالمفهوم الذي استقر عليه علماء المصطلح من بعده، يقول ابن الصلاح: " ومن المشهور المتواتر، الذي يذكره أهل الفقه وأصوله، وأهل الحديث لا يذكرونه باسمه الخاص المشعر بمعناه الخاص وإن كان الخطيب البغدادي قد ذكره، ففي كلامه ما يشعر بأنه اتبع فيه غير أهل الحديث، ولعل ذلك لكونه لا تشمله صناعتهم ولا يكاد يوجد في رواياتهم" (2).

وقال الفقيه ابن أبي الدم الشافعي ت 642هـ: " اعلم أن الخبر المتواتر: إنما ذكره الأصوليون دون المحدثين خلا الخطيب أبا بكر البغدادي، فإنه ذكره تبعاً للمذكورين، وإنما لم يذكره المحدثون لأنه لا يكاد يوجد في روايتهم، ولا يدخل في صناعتهم " (3).

ولا أريد أن أخوض في جزيئات الاصطلاح، لأن ذلك يطول ويحتاج إلى تسويد صفحات أمثال هذا الكتاب.

والذي يهمنا هنا أن منهج النقد عند المتأخرين نحا منحىً آخر عنه عند المتقدمين، وأصل هذا: أن المتقدمين حين جمعوا الحديث وغربلوه عرفوا صحيحه من سقيمه استنادا إلى قواعد نعرف بعضها، ونجهل الكثير منها، لكن من أبرزها موافقته لما عرفوه من

--------------------------------------------

(1) انظر شرح علل الترمذي 2/ 638، والنكت على ابن الصلاح 2/ 607 - 608، والمنهج المقترح، العوني ص217.

(2) مقدمة ابن الصلاح ص265.

(3) لقط اللآلئ المتناثرة في الأحاديث المتواترة، الزبيدي ص17، وانظر المنهج المقترح، العوني ص92.
আল-খতিব বলেন: "এই মতটিই হলো সঠিক (صحيح)।" আমি বলছি: তিনি যা সহিহ (صحيح) হিসেবে সাব্যস্ত করেছেন, তা-ই ফিকহ ও উসুলে সঠিক (صحيح)। (১)। সুতরাং ইবনেস সালাহ আল-খতিবের মতো পরবর্তী যুগের একজন মুহাদ্দিসের মতকে প্রাধান্য দিয়েছেন এবং তার অনুসরণ করে বলেছেন যে, এটিই ফকিহ ও উসুলবিদদের মাযহাব।

এরপর আসলেন ইমাম নববী, যিনি বড় ফকিহদের অন্তর্ভুক্ত ছিলেন। তিনি নির্ভরযোগ্য (ثقة) বর্ণনাকারীর অতিরিক্ত তথ্য (زيادة) গ্রহণ করার বিষয়টি শর্তহীনভাবে প্রচার করেন, যা তার পরবর্তী মুহাদ্দিসদের জন্য একটি ব্যাপক মূলনীতিতে পরিণত হয়।

এর অন্তর্ভুক্ত আরেকটি বিষয় হলো, হাদিসকে মুতাওয়াতির (متواتر) ও আহাদ (آحاد) হিসেবে বিভক্ত করা এবং হাদিসের গ্রন্থসমূহে তা অন্তর্ভুক্ত করা; যদিও এটি মূলত ফকিহ ও উসুলবিদদের কাজ ছিল।

এটি যদিও প্রশংসনীয়, তবে তা মুহাদ্দিসদের পদ্ধতির (মানহাজ) তুলনায় কিছুটা ভিন্ন। কারণ তাদের মূল মনোযোগ ছিল রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর দিকে হাদিসের সম্বন্ধের বিশুদ্ধতা (صحة) নিশ্চিত করা, তা আহাদ (آحاد) হোক কিংবা মুতাওয়াতির (متواتر)। আল-খতিব আল-বাগদাদিই প্রথম ব্যক্তি যিনি হাদিসকে মুতাওয়াতির (متواتر) ও আহাদ (آحاد) হিসেবে বিভক্ত করার বিষয়টি সেই ধারণায় স্পষ্টভাবে ব্যক্ত করেন, যা পরবর্তী পরিভাষা বিশেষজ্ঞগণ স্থির করেছেন। ইবনেস সালাহ বলেন: "মশহুর (مشهور) হাদিসের মধ্যে রয়েছে মুতাওয়াতির (متواتر), যা ফকিহ ও উসুলবিদগণ উল্লেখ করেন। কিন্তু হাদিস শাস্ত্রবিদগণ একে এমন কোনো বিশেষ নামে উল্লেখ করেন না যা এর বিশেষ অর্থের প্রতি ইঙ্গিত করে। আল-খতিব আল-বাগদাদি যদিও এটি উল্লেখ করেছেন, তবে তার বক্তব্যের ধরনে বুঝা যায় যে, এক্ষেত্রে তিনি হাদিস শাস্ত্রবিদদের ব্যতীত অন্যদের অনুসরণ করেছেন। সম্ভবত এর কারণ হলো, এটি তাদের হাদিসশাস্ত্রীয় প্রক্রিয়ার অন্তর্ভুক্ত নয় এবং তাদের বর্ণনায় এটি খুব একটা পাওয়াই যায় না।" (২)।

ফকিহ ইবনে আবিদ দাম আশ-শাফিয়ি (মৃত্যু ৬৪২ হি.) বলেন: "জেনে রাখুন যে, মুতাওয়াতির (متواتر) সংবাদ কেবল উসুলবিদগণই উল্লেখ করেছেন, মুহাদ্দিসগণ নন; আল-খতিব আবু বকর আল-বাগদাদি ব্যতীত, কারণ তিনি উল্লিখিত ব্যক্তিদের অনুসরণ করে এটি উল্লেখ করেছেন। মুহাদ্দিসগণ এটি উল্লেখ না করার কারণ হলো, এটি তাদের বর্ণনায় প্রায় পাওয়াই যায় না এবং এটি তাদের হাদিসশাস্ত্রীয় প্রক্রিয়ার অন্তর্ভুক্ত নয়।" (৩)।

আমি পরিভাষার খুঁটিনাটি বিষয়ে গভীরে প্রবেশ করতে চাই না, কারণ তাতে আলোচনা দীর্ঘ হবে এবং এই গ্রন্থের মতো আরও অনেক পৃষ্ঠা কালো করার প্রয়োজন পড়বে।

আমাদের কাছে এখানে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, পরবর্তী যুগের আলেমদের সমালোচনার পদ্ধতি পূর্ববর্তী যুগের আলেমদের পদ্ধতি থেকে ভিন্ন পথে পরিচালিত হয়েছে। এর মূল কারণ হলো: পূর্ববর্তীগণ যখন হাদিস সংগ্রহ ও যাচাই-বাছাই করেছেন, তখন তারা এর সহিহ (صحيح) ও রুগ্ণ (سقيم) হাদিসগুলোকে আলাদা করতে সক্ষম হয়েছিলেন এমন কিছু মূলনীতির ভিত্তিতে যার কিছু আমরা জানি এবং অনেকগুলোই আমাদের অজানা। তবে এর মধ্যে অন্যতম প্রধান হলো তারা যা জানতেন তার সাথে হাদিসের সংগতি থাকা...

--------------------------------------------

(১) দেখুন: শারহু ইলালিত তিরমিজি ২/৬৩৮, এবং আন-নুকাত আলা ইবনিস সালাহ ২/৬০৭-৬০৮, এবং আল-মানহাজুল মুকতারাহ, আল-আউনি, পৃ. ২১৭।

(২) মুকাদ্দিমা ইবনিস সালাহ, পৃ. ২৬৫।

(৩) লাকাতুল লাআলিল মুতানাসিরাহ ফিল আহাদিসিল মুতাওয়াতিরাহ, আয-যাবিদি, পৃ. ১৭, এবং দেখুন: আল-মানহাজুল মুকতারাহ, আল-আউনি, পৃ. ৯২।
(খণ্ড: ১) আশ-শায ওয়াল মুনকার ওয়া যিয়াদাতুস সিকা - মুওয়াযানাহ বাইনাল মুতাকাদ্দিমীন ওয়াল মুতাআখখিরীন (পৃষ্ঠা: ২৩)
القواعد الكلية للشريعة الإسلامية، في حين اعتمد المتأخرون على كتب المصطلح القائمة أصلا على معرفة الرواة فكان جل حكمهم ينصب على الأسانيد لا على المتون فتكون الأسانيد حاكمة على المتون، وقد مر قول ابن أبي حاتم في ترجمة أحمد بن إبراهيم الحلبي: " سألت أبي عنه، وعرضت عليه حديثه فقال: لا أعرفه، وأحاديثه باطلة موضوعة كلها ليس لها أصول، يدل حديثه على أنه كذاب" (1).

وقد كان الحديث عند المتقدمين يعتمد على قواعد ثلاث: رواية -أعني من حيث السند أو المتن -، والدراية، والفقه.

يقول علي بن المديني:" التفقه في معاني الحديث نصف العلم، ومعرفة الرجال نصف العلم" (2).

فليس العالم الذي يتعلم نصفاً، ويدع النصف الثاني، فتنزلق قدمه، وقد تُدقُ عنُقهُ! قال عبد الله بن وهب: "لولا الله أنقذني بمالك والليث لضللت. فقيل له: كيف ذلك؟ قال: أكثرت من الحديث فحيّرني، فكنت أعرض ذلك على مالك والليث فيقولان لي: خذ هذا ودع هذا " (3).

وقال قتادة بن دعامة السدوسي: " من لم يعرف الاختلاف لم يشم أنفه الفقه " (4).

وقال سفيان الثوري:" لو كان أحدنا قاضياً لضربنا بالجريد فقيهاً لا يتعلم الحديث، ومحدثاً لا يتعلم الفقه " (5).

وقال أيضاً: " تفسير الحديث خير من الحديث " (6)، أي خير من سماعه، وحفظه كما ورد عن أبي أسامة: " تفسير الحديث خير من سماعه " (7). وهذا يعني فهم فقه الحديث ومعناه.

--------------------------------------------

(1) الجرح والتعديل 2/ 40 ترجمة (5).

(2) سير أعلام النبلاء، الذهبي 11/ 48.

(3) ترتيب المدارك، القاضي عياض 2/ 427، وأصل النص عند ابن حبان في المجروحين 1/ 42 بلفظ قريب.

(4) جامع بيان العلم، ابن عبد البر 2/ 46، وانظر نظرات جديدة في علوم الحديث، المليباري ص55.

(5) نقله الكتاني في مقدمة نظم المتناثر من الحديث المتواتر ص3.

(6) أدب الإملاء، السمعاني ص135، وانظر نظرات جديدة، المليباري 56.

(7) مصدر سابق.
ইসলামী শরীয়াহর সামগ্রিক মূলনীতিসমূহ, যেখানে পরবর্তী যুগের আলেমগণ (المتأخرون) মূলত রাবী পরিচিতির ওপর ভিত্তি করে রচিত পরিভাষা বিষয়ক গ্রন্থাবলির ওপর নির্ভর করেছেন। ফলে তাদের অধিকাংশ হুকুম বা সিদ্ধান্ত মতনের (المتون) পরিবর্তে সনদের (الأسانيد) ওপর কেন্দ্রীভূত হয়েছে, যার ফলে সনদসমূহ মতনের ওপর প্রভাবশালী হয়ে উঠেছে। আহমদ ইবনে ইবরাহীম আল-হালাবীর জীবনীতে (ترجمة) ইবনে আবি হাতিমের উক্তিটি ইতিপূর্বে অতিবাহিত হয়েছে: "আমি আমার পিতাকে তাঁর সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করেছি এবং তাঁর বর্ণিত হাদিসগুলো তাঁর কাছে পেশ করেছি। তখন তিনি বললেন: 'আমি তাকে চিনি না। তাঁর হাদিসগুলো বাতিল (باطلة) ও জাল (موضوعة); এগুলোর কোনো ভিত্তি (أصول) নেই। তাঁর হাদিস প্রমাণ করে যে তিনি একজন চরম মিথ্যাবাদী (كذاب)।'" (১)।

পূর্ববর্তী যুগের আলেমগণের (المتقدمين) নিকট হাদিস তিনটি মূলনীতির ওপর নির্ভরশীল ছিল: বর্ণনা (رواية) - অর্থাৎ সনদ বা মতনের দিক থেকে -, বিশ্লেষণ (الدراية) এবং ফিকহ (الفقه)।

আলী ইবনে আল-মাদিনী বলেন: "হাদিসের অর্থের গভীর অনুধাবন (التفقه) হচ্ছে ইলমের অর্ধেক, আর রাবীদের পরিচয় (معرفة الرجال) জানা হচ্ছে ইলমের বাকি অর্ধেক।" (২)।

সুতরাং সেই ব্যক্তি প্রকৃত আলেম নয় যে অর্ধেক শেখে এবং বাকি অর্ধেক বর্জন করে; ফলে তার পদস্খলন ঘটে এবং ধ্বংসের মুখে পতিত হয়! আব্দুল্লাহ ইবনে ওয়াহাব বলেছেন: "আল্লাহ যদি ইমাম মালেক ও লাইসের মাধ্যমে আমাকে উদ্ধার না করতেন, তবে আমি পথভ্রষ্ট হতাম।" তাকে জিজ্ঞাসা করা হলো: "তা কীভাবে?" তিনি বললেন: "আমি প্রচুর হাদিস সংগ্রহ করেছিলাম যা আমাকে দ্বিধান্বিত করে তুলেছিল। পরে আমি সেগুলো ইমাম মালেক ও লাইসের নিকট পেশ করতাম; তারা আমাকে বলতেন: 'এটি গ্রহণ করো আর এটি বর্জন করো'।" (৩)।

কাতাদাহ ইবনে দি'আমাহ আস-সাদূসী বলেন: "যে ব্যক্তি আলেমদের মতভেদ সম্পর্কে অবগত নয়, সে ফিকহের (الفقه) ঘ্রাণও পায়নি।" (৪)।

সুফিয়ান আস-সাওরী বলেন: "আমাদের কেউ যদি বিচারক হতো, তবে আমরা ঐ ফকিহকে খেজুরের শাখা দিয়ে প্রহার করতাম যে হাদিস শেখে না, এবং ঐ মুহাদ্দিসকেও প্রহার করতাম যে ফিকহ শেখে না।" (৫)।

তিনি আরও বলেছেন: "হাদিসের ব্যাখ্যা খোদ হাদিসের চেয়েও উত্তম।" (৬), অর্থাৎ হাদিস শ্রবণ ও তা মুখস্থ করার চেয়ে উত্তম; যেমনটি আবু উসামা থেকে বর্ণিত হয়েছে: "হাদিসের ব্যাখ্যা তা শ্রবণ করার চেয়ে উত্তম।" (৭)। আর এর দ্বারা উদ্দেশ্য হলো হাদিসের ফিকহ ও এর মর্মার্থ অনুধাবন করা।

--------------------------------------------

(১) আল-জারহ ওয়াত তা'দীল ২/ ৪০, জীবনী নং (৫)।

(২) সিয়ার আ'লাম আন-নুবালা, আয-যাহাবী ১১/ ৪৮।

(৩) তারতীবুল মাদারিক, কাজী আয়াজ ২/ ৪২৭; মূল পাঠটি ইবনে হিব্বানের আল-মাজরুহীন ১/ ৪২ গ্রন্থে কাছাকাছি শব্দে বর্ণিত হয়েছে।

(৪) জামিউ বায়ানিল ইলম, ইবনে আব্দুল বার ২/ ৪৬; আরও দেখুন: নাযারাত জাদিদাহ ফি উলূমিল হাদিস, আল-মুলিবারী, পৃষ্ঠা ৫৫।

(৫) কাত্তানী এটি নাযমুল মুতানাছির মিনাল হাদিসিল মুতাওয়াতির এর ভূমিকায় পৃষ্ঠা ৩-এ উল্লেখ করেছেন।

(৬) আদাবুল ইমলা, আস-সামআনী, পৃষ্ঠা ১৩৫; আরও দেখুন: নাযারাত জাদিদাহ, আল-মুলিবারী, পৃষ্ঠা ৫৬।

(৭) পূর্বোক্ত উৎস।
(খণ্ড: ১) আশ-শায ওয়াল মুনকার ওয়া যিয়াদাতুস সিকা - মুওয়াযানাহ বাইনাল মুতাকাদ্দিমীন ওয়াল মুতাআখখিরীন (পৃষ্ঠা: ২৪)
ويقول الإمام أحمد: " إن العالم إذا لم يعرف الصحيح والسقيم والناسخ والمنسوخ من الحديث لا يسمى عالماً " (1).

وروى الخطيب البغدادي بسنده إلى مغيرة الضبي، قال: " أبطأت على إبراهيم فقال يا مغيرة ما أبطأ بك؟ قال قلت: قدم علينا شيخ فكتبنا عنه أحاديث، فقال إبراهيم: لقد رأيتنا وما نأخذ الأحاديث إلا ممن يعلم حلالها من حرامها وحرامها من حلالها، وإنك لتجد الشيخ يحدث بالحديث فيحرف حلاله عن حرامه وحرامه عن حلاله وهو لا يشعر" (2).

فالجهابذة من المتقدمين من لم يفصلوا متن الحديث عن سنده، ولا هذين عن فقهه ومعناه، فإذا جاءهم الحديث فأول ما ينظرون إلى معناه هل هو موافق للشرع أم لا؟ ثم هل هو موافق للمحفوظ أم لا؟ فلعل راويه قد أخطأ فيه، أو وهم في متنه، أو لعله خالف ما عند الناس.

فالناقد حينما ينظر إلى الحديث لتقييمه يعتبر بالسند والمتن لمعرفة هل حدّث هذا الراوي بهذا الحديث؟ وتتم المعرفة بجمع الطرق وضم بعضها إلى بعض مع الدقة في الفهم والمعرفة.

ويذكر الدكتور حمزة المليباري: " أن الجوانب الفقهية ومعرفة الصحيح والسقيم لم تكن محل عناية كافة المحدثين في المرحلة الأولى، بل إن الكثيرين منهم لا تهمّهم إلاّ عملية الرواية، وضبطها وحفظها، غير أن هؤلاء كفوا عن الخوض في نقد الأحاديث، وأمّا النقاد فيختلفون عنهم في التكوين العلمي بصورة واضحة وحفاظ الحديث الذين تمكنوا من علوم الحديث بشقيها - فقه الحديث، ومعرفة الصحيح والسقيم - هم وحدهم الذين سبروا أغوار النقد، وهم بعينهم اعتبارنا في البحث، وإنَّ تصحيح الأحاديث وتعليلها لا يتأتى لأحد دون التكوين العلمي المزدوج " (3).

قلت: رغم صحة هذا الكلام لكن قوله: " إن الكثيرين منهم لا تهمّهم إلاّ عملية الرواية، وضبطها وحفظها … "،ربما يفهم منه أنه يريد بذلك " كثيراً " من كبار علماء

--------------------------------------------

(1) معرفة علوم الحديث، الحاكم ص60.

(2) الكفابة ص 169.

(3) نظرات جديدة ص61.
ইমাম আহমদ বলেন: "একজন আলেম যদি হাদিসের সহিহ (الصحيح), সাকিম (السقيم), নাসিখ (الناسخ) এবং মানসুখ (المنسوখ) সম্পর্কে না জানেন, তবে তাকে আলেম বলা যায় না।" (১)।

খতিব আল-বাগদাদি তার সনদ (سند) সহ মুগিরা আদ-দাব্বি থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: "আমি ইব্রাহিমের কাছে যেতে দেরি করেছিলাম। তিনি বললেন, হে মুগিরা, তোমার দেরি হলো কেন? আমি বললাম: আমাদের কাছে একজন শায়খ এসেছেন, আমরা তার কাছ থেকে কিছু হাদিস লিখেছি। তখন ইব্রাহিম বললেন: তুমি আমাদের দেখেছ যে, আমরা কেবল তাদের কাছ থেকেই হাদিস গ্রহণ করতাম যারা এর হালালকে হারাম থেকে এবং হারামকে হালাল থেকে পৃথক করতে জানত। অথচ তুমি এমন একজন শায়খকে পাবে যিনি হাদিস বর্ণনা করেন কিন্তু অজান্তেই এর হালালকে হারামে এবং হারামকে হালালে পরিবর্তন করে ফেলেন।" (২)।

পূর্ববর্তী যুগের বিশেষজ্ঞগণ হাদিসের মতন (متن) কে এর সনদ (سند) থেকে পৃথক করতেন না, আর এই দুইটিকে এর ফিকহ (فقه) ও অর্থ থেকেও আলাদা করতেন না। সুতরাং যখন তাদের কাছে কোনো হাদিস আসত, তখন তারা প্রথমে এর অর্থের দিকে লক্ষ্য করতেন যে তা শরয়ি বিধানের সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ কি না? এরপর দেখতেন তা মাহফুজ (المحفوظ) এর সাথে সংগতিপূর্ণ কি না? কারণ হয়তো এর বর্ণনাকারী (راوي) ভুল করেছেন, অথবা এর মতন (متن) বর্ণনায় বিভ্রান্তিতে (وهم) পড়েছেন, অথবা হয়তো তিনি মানুষের কাছে যা সংরক্ষিত আছে তার বিরোধিতা করেছেন।

একজন সমালোচক (الناقد) যখন কোনো হাদিসের মূল্যায়নের জন্য তা দেখেন, তখন তিনি সনদ (السند) ও মতন (المتن) উভয়কে বিবেচনা করেন এটা জানার জন্য যে, এই বর্ণনাকারী (الراوي) কি প্রকৃতপক্ষে এই হাদিসটি বর্ণনা করেছেন? আর এই জ্ঞান অর্জিত হয় বিভিন্ন তুরুক (الطرق) সংগ্রহ করে এবং অত্যন্ত সূক্ষ্ম বুঝ ও জ্ঞানের সাথে সেগুলোকে একত্রিত করার মাধ্যমে।

ড. হামজা আল-মালিবারি উল্লেখ করেন: "ফিকহি দিকসমূহ এবং সহিহ (الصحيح) ও সাকিম (السقيم) বিষয়ক জ্ঞান প্রথম স্তরের সকল মুহাদ্দিসের মনোযোগের কেন্দ্রবিন্দু ছিল না। বরং তাদের অনেকের কাছেই বর্ণনা (الرواية) প্রক্রিয়া, তার জাবত (ضبط) এবং মুখস্থ রাখাই ছিল একমাত্র গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। তবে তারা হাদিসের সমালোচনা (نقد) করার ক্ষেত্রে বিরত থাকতেন। পক্ষান্তরে, সমালোচকদের (النقاد) জ্ঞানতাত্ত্বিক গঠন তাদের চেয়ে স্পষ্টভাবেই ভিন্ন ছিল। আর হাদিসের হাফেজগণ যারা উলুমুল হাদিসের উভয় শাখা—হাদিসের ফিকহ এবং সহিহ (الصحيح) ও সাকিম (السقيم) এর জ্ঞান—উভয়টিতে পারদর্শী ছিলেন, কেবল তারাই সমালোচনার গভীরে অবগাহন করেছেন। গবেষণার ক্ষেত্রে তারাই আমাদের বিবেচ্য। আর হাদিসের তাসহিহ (تصحيح) এবং তালিল (تعليل) করা দ্বিমুখী জ্ঞানতাত্ত্বিক গঠন ছাড়া কারো পক্ষে সম্ভব নয়।" (৩)।

আমি (গ্রন্থকার) বলি: এই কথাটি সঠিক হওয়া সত্ত্বেও তার এই উক্তি: "তাদের অনেকের কাছেই বর্ণনা (الرواية) প্রক্রিয়া, জাবত (ضبط) ও মুখস্থ রাখাই ছিল একমাত্র গুরুত্বপূর্ণ বিষয়..."—এ থেকে হয়তো এমনটা বোঝা যেতে পারে যে, তিনি এর দ্বারা বড় আলেমদের "অনেকে" বলতে চেয়েছেন...

--------------------------------------------

(১) মারেফাতু উলুমিল হাদিস, আল-হাকিম, পৃষ্ঠা ৬০।

(২) আল-কিফায়া, পৃষ্ঠা ১৬৯।

(৩) নাজারাত জাদিদাহ, পৃষ্ঠা ৬১।
(খণ্ড: ১) আশ-শায ওয়াল মুনকার ওয়া যিয়াদাতুস সিকা - মুওয়াযানাহ বাইনাল মুতাকাদ্দিমীন ওয়াল মুতাআখখিরীন (পৃষ্ঠা: ২৫)
الحديث، وما

أخاله قصد ذلك، فإن جل كبار المحدثين الجهابذة المعروفين كانوا على دراية تامة بذلك، ومما لا شك فيه أن المقياس في هذا هو كتابة العلل، فالإمام مالك لم يدون لنا كتاباً مستقلاً في العلل ولكنه إمام العلل في زمانه، ولم يصل إلينا أن سفيان بن عيينة أو الثوري أو شعبة أو ابن مهدي مثلاً لهم مصنفات مستقلة في العلل، فهل هذا يعني أنهم لم يحسنوها؟!

بل بلا منازع هؤلاء - وغيرهم - هم رجالات العلل والنقد!!

هذا فضلاً عن أن كتب الأئمة المتقدمين في السنن أو العلل حينما تقتضي منهجيتهم ذلك، كما فعل الإمام الترمذي مثلاً في " الجامع الكبير " لأنه إنما ألف هذا الكتاب من أجل النقد وبيان عمل الفقهاء (1)، أو يكون الكتاب مخصصا ً للعلل كما في كتب العلل.

وهكذا فإنّ نقد المحدّثين في المرحلة الأولى نقد علمي متكامل بجميع عناصره، لا يفصل الإسناد عن المتن، ويقوم أسهُ على المعرفة الحديثية والفقهية (2).

وسأوضح منهجية المتقدمين من خلال المراحل الآتية:-

فلو جئتهم بحديث مسند مرفوعٍ بمتن معين فإنهم:

1 - ينظرون إلى متن الحديث هل يخالف نصاً شرعياً أو يخالف الواقع؟. وهذه القنطرة الأولى.

ومن أمثلته: قال عبد الله بن أحمد بن حنبل:" سمعت أبي يقول حدثنا عباد بن العوام عن محمد بن إسحاق بن يسار عن عمران بن أبي أنس أن رجلاً كان له كلب صائد قد أعطيه به عشرين بعيرا فخطب امرأة وخطبها معه رجل من قومها فقالت: لا أنكحك إلا على كلبك فنكحها وساق الكلب إليها فعدا عليه الآخر فقتله فترافعوا إلى عثمان بن عفان فغرمه عشرين بعيراً، سمعت أبي يقول: هذا باطل نهى النبي صلى الله عليه وسلم عن ثمن الكلب " (3).

2 - هل هذا المتن محفوظ عند أئمة الحديث أو لا؟

--------------------------------------------

(1) انظر مقدمة جامع الترمذي، تحقيق د. بشار عواد معروف 1/ 9.

(2) انظر: نظرات جديدة، المليباري ص97 - 98.

(3) العلل ومعرفة الرجال 1/ 408 (2661) وللمزيد انظر الأحاديث (459و618 و694و 695 و698 و700 و749 و 662).
হাদিস সম্পর্কে; আমি মনে করি না যে তিনি এমনটিই বুঝাতে চেয়েছেন। কারণ, প্রখ্যাত বিশেষজ্ঞ মুহাদ্দিসগণের (محدثين) অধিকাংশেরই এ বিষয়ে পূর্ণ জ্ঞান ছিল। এতে কোনো সন্দেহ নেই যে, এক্ষেত্রে মাপকাঠি হলো 'ত্রুটিসমূহ' (علل) বিষয়ক গ্রন্থ রচনা। কেননা ইমাম মালেক আমাদের জন্য 'ত্রুটিসমূহ' (علل) বিষয়ে কোনো স্বতন্ত্র গ্রন্থ লিখে যাননি, অথচ তিনি স্বীয় যুগের ত্রুটিবিদ্যার ইমাম ছিলেন। সুফিয়ান ইবন উইয়াইনাহ, আস-সাওরি, শুবা কিংবা ইবন মাহদির মতো বরেণ্য ইমামদের থেকে 'ত্রুটিসমূহ' (علل) বিষয়ক কোনো স্বতন্ত্র গ্রন্থ আমাদের কাছে পৌঁছেনি; তার অর্থ কি এই যে তারা এ বিষয়ে পারদর্শী ছিলেন না?!

বরং নিঃসন্দেহে তারা এবং অন্যান্যরা ছিলেন হাদিসের সূক্ষ্ম ত্রুটি বিশ্লেষণ ও সমালোচনার (نقد) দিকপাল!!

এছাড়া পূর্ববর্তী ইমামগণের সুনান কিংবা 'ত্রুটিসমূহ' (علل) বিষয়ক গ্রন্থসমূহে যখনই তাদের কর্মপদ্ধতির প্রয়োজন হয়েছে, তারা তা প্রয়োগ করেছেন। যেমন ইমাম তিরমিজি 'আল-জামি আল-কাবীর' গ্রন্থে করেছেন। কারণ তিনি এই গ্রন্থটি সংকলনই করেছিলেন সমালোচনা (نقد) এবং ফকিহদের আমল বর্ণনার জন্য (১), অথবা গ্রন্থটি 'ত্রুটিসমূহ' (علل) বিষয়ক গ্রন্থের ন্যায় নির্দিষ্ট করে সংকলিত হয়েছে।

এভাবেই প্রাথমিক যুগের মুহাদ্দিসগণের (محدثين) সমালোচনা (نقد) ছিল সকল উপাদানে সমৃদ্ধ একটি পূর্ণাঙ্গ বৈজ্ঞানিক সমালোচনা, যা সনদকে (إسناد) মতন (متن) থেকে বিচ্ছিন্ন করে না এবং এর ভিত্তি হাদিস ও ফিকহ শাস্ত্রীয় জ্ঞানের ওপর প্রতিষ্ঠিত (২)।

আমি পরবর্তী পর্যায়গুলোর মাধ্যমে পূর্ববর্তীগণের কর্মপদ্ধতি স্পষ্ট করব:-

যদি আপনি তাদের নিকট একটি নির্দিষ্ট মতন (متن) সম্বলিত সূত্রযুক্ত মুসনাদ (مسند) ও মারফু (مرفوع) হাদিস নিয়ে আসেন, তবে তারা:

১ - হাদিসের মতন (متن) পর্যবেক্ষণ করবেন যে, তা কোনো শরিয়তি দলিল বা বাস্তবতার পরিপন্থী কি না। এটিই হলো প্রথম সোপান।

এর উদাহরণ: আবদুল্লাহ ইবন আহমদ ইবন হাম্বল বলেন: "আমি আমার পিতাকে বলতে শুনেছি, তিনি বলেন: আব্বাদ ইবনুল আওয়াম আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন মুহাম্মদ ইবন ইসহাক ইবন ইয়াসার থেকে, তিনি ইমরান ইবন আবি আনাস থেকে বর্ণনা করেন যে, এক ব্যক্তির একটি শিকারি কুকুর ছিল যার বিনিময়ে তাকে বিশটি উট দেওয়ার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছিল। সে এক নারীকে বিয়ের প্রস্তাব দেয়। তার গোত্রের অন্য এক ব্যক্তিও তাকে বিয়ের প্রস্তাব দিয়েছিল। সেই নারী বলল: 'আমি তোমার ওই কুকুরটি ছাড়া তোমাকে বিয়ে করব না।' তখন সে তাকে বিয়ে করল এবং কুকুরটি মোহর হিসেবে তাকে প্রদান করল। কিন্তু অন্য লোকটি সেই কুকুরটির ওপর চড়াও হয়ে সেটিকে মেরে ফেলল। তারা বিষয়টি উসমান ইবন আফফানের নিকট উত্থাপন করলে তিনি তাকে বিশটি উট জরিমানা প্রদানের নির্দেশ দেন। আমি আমার পিতাকে বলতে শুনেছি: এটি বাতিল (باطل); কারণ নবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম কুকুরের বিক্রয়মূল্য গ্রহণ করতে নিষেধ করেছেন" (৩)।

২ - এই মতনটি (متن) হাদিস বিশারদদের নিকট সংরক্ষিত বা মাহফুজ (محفوظ) কি না?

--------------------------------------------

(১) দেখুন: জামি তিরমিজির মুকাদ্দিমা, ড. বাশার আওয়াদ মারুফ সম্পাদিত ১/৯।

(২) দেখুন: নজরত জাদিদাহ, আল-মুলিব্বারি পৃষ্ঠা ৯৭-৯৮।

(৩) আল-ইলাল ওয়া মারিফাতুর রিজাল ১/৪০৮ (২৬৬১); অধিক বিবরণের জন্য দেখুন হাদিস নং (৪৫৯, ৬১৮, ৬৯৪, ৬৯৫, ৬৯৮, ৭০০, ৭৪৯ এবং ৬৬২)।
(খণ্ড: ১) আশ-শায ওয়াল মুনকার ওয়া যিয়াদাতুস সিকা - মুওয়াযানাহ বাইনাল মুতাকাদ্দিমীন ওয়াল মুতাআখখিরীন (পৃষ্ঠা: ২৬)
قال ابن أبي حاتم:" سألت أبي عن حديث أوس بن ضمعج عن ابن مسعود عن النبي صلى الله عليه وسلم؟ فقال: قد اختلفوا في متنه، رواه فطن والأعمش عن إسماعيل بن رجاء عن أوس بن ضمعج عن ابن مسعود عن النبي صلى الله عليه وسلم قال يؤم القوم أقرؤهم لكتاب الله فإن كانوا في القراءة سواء فأعلمهم بالسنة، ورواه شعبة والمسعودي عن إسماعيل بن رجاء لم يقولوا: أعلمهم بالسنة، قال أبي: كان شعبة يقول: إسماعيل بن رجاء كأنه شيطان من حسن حديثه، وكان يهاب هذا الحديث يقول: حكم من الأحكام عن رسول الله صلى الله عليه وسلم لم يشاركه أحد، قال أبي شعبة أحفظ من كلهم، قال أبو محمد: ليس قد رواه السدي عن أوس بن ضمعج؟ قال: إنما رواه الحسن بن يزيد الأصم عن السدي وهو شيخ أين كان الثوري وشعبة عن هذا الحديث؟! وأخاف أن لا يكون محفوظاً " (1).

وقال: " سألت أبي عن حديث رواه ابن عيينة عن سعيد بن أبي عروبة عن قتادة عن حسان بن بلال عن عمار عن النبي صلى الله عليه وسلم في تخليل اللحية؟ قال أبي: لم يحدث بهذا أحد سوى ابن عيينة عن ابن أبي عروبة، قلت: صحيح؟ قال: لو كان صحيحاً لكان

في مصنفات ابن أبي عروبة، ولم يذكر ابن عيينة في هذا الحديث وهذا أيضاً مما يوهنه " (2).

3 - هل هذا الحديث تفرد به راويه عن بقية الرواة فزاد فيه ما لم يحفظ عند بقية الرواة فإذا كان قد زاد ولم يحفظ استنكر عليه.

فمثلاً: قال الإمام أحمد:" كنت أتهيب حديث مالك " من المسلمين " يعني حتى وجدته من حديث العمريين، قيل له: أمحفوظ هو عندك: " من المسلمين "؟، قال: نعم " (3).

ومنه: قال ابن المديني باب: " علل حديث منزلنا غداً إن شاء الله بخيف بني كنانة ". قال علي: حديث أبي هريرة عن النبي صلى الله عليه وسلم: " منزلنا غداً إن شاء الله بالخيف عند الضحى ". رواه الزهري فاختلف على الزهري في إسناده. فرواه الأوزاعي وإبراهيم بن سعد والنعمان بن راشد وإبراهيم بن إسماعيل بن مجمع كلهم عن الزهري عن أبي سلمة عن أبي هريرة. إلاّ أنَّ معمراً أدرجه في حديث علي بن الحسين عن عمرو بن عثمان عن أسامة بن زيد:" وهل ترك لي عقيل منزلاً "، فأدرج عنه: " منزلنا غداً ".وقد رواه

--------------------------------------------

(1) علل ابن أبي حاتم 1/ 92 (248).

(2) علل ابن أبي حاتم 1/ 23 (60).

(3) شرح علل الترمذي، ابن رجب 2/ 632.
ইবনে আবি হাতিম বলেন: "আমি আমার পিতাকে আউস ইবনে দামআজ থেকে, তিনি ইবনে মাসউদ থেকে এবং তিনি নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) থেকে বর্ণিত একটি হাদিস সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করলাম। তিনি বললেন: এর মূল পাঠ (متن) নিয়ে তারা মতভেদ করেছেন। এটি ফাতান এবং আল-আমাশ বর্ণনা করেছেন ইসমাইল ইবনে রাজা থেকে, তিনি আউস ইবনে দামআজ থেকে, তিনি ইবনে মাসউদ থেকে এবং তিনি নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) থেকে, যিনি বলেছেন: 'লোকদের ইমামতি করবে তাদের মধ্যে যে আল্লাহর কিতাবে সর্বাধিক দক্ষ। যদি তারা কিরাআতে সমান হয়, তবে তাদের মধ্যে সুন্নাহ সম্পর্কে অধিক অভিজ্ঞ ব্যক্তি।' অন্যদিকে শু'বাহ এবং আল-মাসউদি ইসমাইল ইবনে রাজা থেকে এটি বর্ণনা করেছেন, তবে তারা 'সুন্নাহ সম্পর্কে অধিক অভিজ্ঞ' কথাটি বলেননি। আমার পিতা বললেন: শু'বাহ বলতেন: 'ইসমাইল ইবনে রাজা তার হাদিসের উৎকর্ষের কারণে যেন শয়তান (বিস্ময়কর প্রতিভাবান)।' তিনি এই হাদিসটি সম্পর্কে আশঙ্কিত থাকতেন এবং বলতেন: এটি রাসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) থেকে বর্ণিত বিধানসমূহের একটি বিধান যা অন্য কেউ বর্ণনা করেনি। আমার পিতা বলেন: শু'বাহ তাদের সবার চেয়ে অধিক স্মৃতিশক্তিসম্পন্ন (أحفظ)। আবু মুহাম্মদ বললেন: আস-সুদ্দী কি এটি আউস ইবনে দামআজ থেকে বর্ণনা করেননি? তিনি বললেন: এটি কেবল হাসান ইবনে ইয়াজিদ আল-আসাম আস-সুদ্দী থেকে বর্ণনা করেছেন, অথচ তিনি একজন শাইখ (شيخ); এই হাদিস বর্ণনার সময় সাওরি এবং শু'বাহ কোথায় ছিলেন?! আমি আশঙ্কা করছি যে এটি সংরক্ষিত (محفوظ) নয়।" (১)।

এবং তিনি বলেন: "আমি আমার পিতাকে ইবনে উয়াইনা কর্তৃক সাঈদ ইবনে আবি আরুবাহ থেকে, তিনি কাতাদাহ থেকে, তিনি হাসসান ইবনে বিলাল থেকে, তিনি আম্মার থেকে এবং তিনি নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) থেকে দাড়ি খিলাল করা সম্পর্কে বর্ণিত হাদিসটি নিয়ে জিজ্ঞাসা করলাম। আমার পিতা বললেন: ইবনে আবি আরুবাহ থেকে ইবনে উয়াইনা ছাড়া আর কেউ এটি বর্ণনা করেনি। আমি বললাম: এটি কি বিশুদ্ধ (صحيح)? তিনি বললেন: এটি যদি বিশুদ্ধ (صحيح) হতো তবে ইবনে আবি আরুবাহর মুসান্নাফ গ্রন্থাবলীতে থাকত। আর ইবনে উয়াইনা এই হাদিসে ইবনে আবি আরুবাহর উদ্ধৃতি উল্লেখ করেননি, যা একে আরও দুর্বল (يوهنه) করে দেয়।" (২)।

৩ - এই হাদিসটি কি এর বর্ণনাকারী অন্যান্য বর্ণনাকারীদের তুলনায় এককভাবে বর্ণনা (تفرد) করেছেন এবং এতে এমন কিছু অতিরিক্ত অংশ যোগ করেছেন যা অন্যান্য বর্ণনাকারীদের নিকট সংরক্ষিত (محفوظ) নেই? যদি তিনি এমন কিছু যোগ করেন যা সংরক্ষিত (محفوظ) নয়, তবে তা তার পক্ষ থেকে মুনকার হিসেবে গণ্য (استنكر) হবে।

উদাহরণস্বরূপ: ইমাম আহমাদ বলেন: "আমি মালিক বর্ণিত 'মুসলিমদের পক্ষ থেকে' (من المسلمين) কথাটি সংবলিত হাদিসটি গ্রহণ করতে ইতস্ততবোধ করতাম, যতক্ষণ না আমি উমারি বংশীয়দের হাদিসে এটি পেয়েছি।" তাকে জিজ্ঞাসা করা হলো: আপনার নিকট কি 'মুসলিমদের পক্ষ থেকে' শব্দগুলো সংরক্ষিত (محفوظ)? তিনি বললেন: হ্যাঁ। (৩)।

এর মধ্যে রয়েছে: ইবনুল মাদিনি বলেন, পরিচ্ছেদ: "ইনশাআল্লাহ আগামীকাল বনু কিনানার খায়েফে আমাদের অবস্থান হবে" - শীর্ষক হাদিসটির ত্রুটিসমূহ (علل)। আলি বলেন: আবু হুরায়রা (রা.) নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) থেকে বর্ণনা করেছেন: "ইনশাআল্লাহ আগামীকাল পূর্বাহ্ণে আমাদের অবস্থান হবে খায়েফে।" এটি জুহরি বর্ণনা করেছেন, তবে জুহরির কাছ থেকে এর সনদ (إسناد) নিয়ে মতভেদ দেখা দিয়েছে। আওজায়ি, ইব্রাহিম ইবনে সাদ, নুমান ইবনে রাশিদ এবং ইব্রাহিম ইবনে ইসমাইল ইবনে মাজমা—তারা সবাই জুহরি থেকে, তিনি আবু সালামা থেকে এবং তিনি আবু হুরায়রা থেকে বর্ণনা করেছেন। তবে মা’মার একে আলি ইবনুল হুসাইন কর্তৃক আমর ইবনে উসমান থেকে এবং তিনি উসামা ইবনে যায়েদ থেকে বর্ণিত "আকিল কি আমার জন্য কোনো ঘর বাকি রেখেছে?" শীর্ষক হাদিসের অন্তর্ভুক্ত (أدرجه) করেছেন এবং তার থেকে "আগামীকাল আমাদের অবস্থান হবে" কথাটি যোগ করেছেন। আর এটি বর্ণনা করেছেন...

--------------------------------------------

(১) ইলাল ইবনে আবি হাতিম ১/৯২ (২৪৮)।

(২) ইলাল ইবনে আবি হাতিম ১/২৩ (৬০)।

(৩) শারহু ইলালিত তিরমিজি, ইবনে রজব ২/৬৩২।
(খণ্ড: ১) আশ-শায ওয়াল মুনকার ওয়া যিয়াদাতুস সিকা - মুওয়াযানাহ বাইনাল মুতাকাদ্দিমীন ওয়াল মুতাআখখিরীন (পৃষ্ঠা: ২৭)
محمد بن أبي حفصة عن الزهري عن علي بن حسين عن عمرو بن عثمان عن أسامة، ولم يذكر فيه: " منزلنا بالخيف" (1).

4 - ينظر هل الراوي تفرد بهذا الحديث - أصلاً -أم توبع عليه؟ فإن توبع فقد زالت الغرابة، وإلاّ يبقى في دائرة الاختبار؟

قال عبد الله بن أحمد بن حنبل: سألت أبي قلت: كان يحيى بن سعيد يحدث عن همام؟ فقال زعم عفان قال: كان يحيى يسألني عن حديث همام حيث قدم معاذ بن هشام فكان يسألني: كيف قال همام، قال أبي وذاك أنه وافق هشاماً في أحاديث، قال أبي: كان يحيى يرى أنه ليس مثل سعيد، وسمعت عبد الرحمن بن مهدي يقول همام عندي في

الصدق مثل سعيد بن أبي عروبة سمعت أبي مرة ذكر هماما فقال: كان يحيى ينكر على همام أنه يزيد في الإسناد، يعني: فلما قدم معاذ وافقه على بعض تلك الأحاديث لهشام" (2).

فالمتقدمون يعلّون الأحاديث التي ينفرد بها الراوي، إذا كانت غير معروفة عندهم، ولو كان راويها ثقة، يقول الحافظ ابن رجب الحنبلي: "وأما أكثر الحفاظ المتقدمون فإنهم يقولون في الحديث إذا انفرد به واحد وإن لم يرو الثقات خلافه أنه لا يتابع عليه، ويجعلون ذلك علة فيه، اللهم إلا أن يكون ممن كثر حفظه واشتهرت عدالته وحديثه كالزهري ونحوه، وربما يستنكرون بعض تفردات الثقات الكبار أيضا، 0ولهم في كل حديث نقد خاص وليس عندهم لذلك ضابط يضبطه " (3).

5 - فإن كثر من الراوي تفرده، وعمت غرائبه، أصبح (منكر الحديث).

قال الحسين بن إدريس الأنصاري عن أبي داود:" قلت لأحمد: عبد الملك بن أبي سليمان؟ قال: ثقة، قلت يخطئ؟ قال: نعم، وكان من أحفظ أهل الكوفة إلا أنه رفع أحاديث عن عطاء.

وقال علي بن الحسين بن حبان: وجدت في كتاب أبي بخط يده سئل أبو زكريا يحيى بن معين عن حديث عطاء عن جبر عن النبي صلى الله عليه وسلم في الشفعة؟ قال: هو حديث لم يحدث به أحد إلا عبد الملك بن أبي سليمان عن عطاء وقد أنكره عليه الناس ولكن عبد الملك

--------------------------------------------

(1) علل ابن المديني ص81 - 83 (117)، وانظر الأحاديث (53، 105، 175).

(2) العلل (1231).

(3) شرح علل الترمذي، ابن رجب 2/ 582.
মুহাম্মদ ইবনে আবি হাফসাহ থেকে জুহরি থেকে আলি ইবনে হুসাইন থেকে আমর ইবনে উসমান থেকে উসামা বর্ণনা করেছেন, এবং তিনি এতে "খাইফে আমাদের আবাস" কথাটি উল্লেখ করেননি (১)।

৪ - এটি দেখা হবে যে, বর্ণনাকারী কি এই হাদিসটি এককভাবে (تفرد) বর্ণনা করেছেন - মূলগতভাবে - নাকি তাকে অন্য কেউ অনুসরণ (توبع) করেছেন? যদি অনুসরণ করা হয়ে থাকে তবে এর এককত্ব বা অদ্ভূতত্ব (الغرابة) দূর হয়ে যাবে, অন্যথায় তা পরীক্ষার গণ্ডিতেই থেকে যাবে?

আবদুল্লাহ ইবনে আহমদ ইবনে হাম্বল বলেন: আমি আমার পিতাকে জিজ্ঞাসা করলাম: ইয়াহইয়া ইবনে সাঈদ কি হাম্মাম থেকে হাদিস বর্ণনা করতেন? তিনি বললেন, আফফান দাবি করেছেন যে: ইয়াহইয়া আমাকে হাম্মামের হাদিস সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করতেন যখন মুয়াজ ইবনে হিশাম আসলেন। তিনি আমাকে জিজ্ঞাসা করতেন: হাম্মাম কীভাবে বর্ণনা করেছেন? আমার পিতা বললেন, আর এর কারণ ছিল এই যে, তিনি কিছু হাদিসে হিশামের সাথে একমত হয়েছিলেন। আমার পিতা বলেন: ইয়াহইয়া মনে করতেন যে তিনি সাঈদের মতো নন। আমি আবদুর রহমান ইবনে মাহদিকে বলতে শুনেছি, সত্যবাদিতার (الصدق) ক্ষেত্রে হাম্মাম আমার কাছে সাঈদ ইবনে আবি আরুবাহর মতো। আমি আমার পিতাকে একবার হাম্মামের কথা উল্লেখ করতে শুনেছি, তিনি বলেছিলেন: ইয়াহইয়া হাম্মামের ব্যাপারে এটি অস্বীকৃতি জানাতেন (ينكر) যে তিনি সনদে (الإسناد) কিছু বৃদ্ধি করতেন। অর্থাৎ: যখন মুয়াজ আসলেন, তিনি হিশামের বর্ণিত সেসব হাদিসের কয়েকটিতে তার সাথে একমত হলেন (২)।

পূর্ববর্তী বিদ্বানগণ সেসব হাদিসকে ত্রুটিযুক্ত (يعلّون) সাব্যস্ত করেন যা বর্ণনাকারী এককভাবে (ينفرد) বর্ণনা করেছেন, যদি তা তাদের কাছে পরিচিত না হয়, যদিও তার বর্ণনাকারী নির্ভরযোগ্য (ثقة) হন। হাফেজ ইবনে রাজাব হাম্বলী বলেন: "আর অধিকাংশ পূর্ববর্তী হাফেজগণ (সংরক্ষণকারীগণ) কোনো হাদিস সম্পর্কে বলেন যে, যখন তা কোনো একজন এককভাবে বর্ণনা করেন এবং নির্ভরযোগ্য বর্ণনাকারীগণ (الثقات) তার বিপরীতে কিছু বর্ণনা না করলেও তার কোনো অনুসরণকারী পাওয়া যায় না (لا يتابع عليه), এবং তারা একে একটি ত্রুটি (علة) হিসেবে গণ্য করেন। তবে হ্যাঁ, যদি বর্ণনাকারী এমন কেউ হন যার হেফজ বা স্মরণশক্তি প্রখর এবং যার ন্যায়পরায়ণতা (عدالته) ও হাদিস প্রসিদ্ধ, যেমন জুহরি বা তার সমপর্যায়ের কেউ। কখনো কখনো তারা বড় বড় নির্ভরযোগ্য বর্ণনাকারীদের (الثقات) একক বর্ণনাকেও অস্বীকৃতি জানান (يستنكرون), এবং প্রতিটি হাদিসের ক্ষেত্রে তাদের বিশেষ সমালোচনা (نقد) রয়েছে এবং এর জন্য তাদের কাছে কোনো নির্দিষ্ট ধরাবাঁধা নিয়ম (ضابط) নেই" (৩)।

৫ - যদি কোনো বর্ণনাকারীর পক্ষ থেকে একক বর্ণনার (تفرده) আধিক্য ঘটে এবং তার অদ্ভূত বা অপরিচিত বর্ণনাগুলো (غرائبه) ব্যাপক হয়, তবে সে 'হাদিস বর্ণনায় প্রত্যাখ্যাত' (منكر الحديث) হয়ে যায়।

হুসাইন ইবনে ইদ্রিস আল-আনসারী আবু দাউদ থেকে বর্ণনা করেন: "আমি আহমদকে জিজ্ঞাসা করলাম: আবদুল মালিক ইবনে আবি সুলাইমান সম্পর্কে আপনার অভিমত কী? তিনি বললেন: নির্ভরযোগ্য (ثقة)। আমি বললাম, তিনি কি ভুল করতেন? তিনি বললেন: হ্যাঁ, তিনি কুফাবাসীদের মধ্যে অন্যতম প্রখর স্মৃতিসম্পন্ন ছিলেন, তবে তিনি আতা থেকে বর্ণিত কিছু হাদিসকে মারফু (رفع) হিসেবে বর্ণনা করতেন।

আলী ইবনে হুসাইন ইবনে হিব্বান বলেন: আমি আমার পিতার কিতাবে তার নিজ হাতের লেখায় পেয়েছি যে, আবু জাকারিয়া ইয়াহইয়া ইবনে মাঈনকে আতা থেকে জাবর হয়ে নবী (সা.) থেকে বর্ণিত শুফ’আ (অগ্রক্রয়) সংক্রান্ত হাদিস সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করা হয়েছিল। তিনি বললেন: এটি এমন একটি হাদিস যা আবদুল মালিক ইবনে আবি সুলাইমান ছাড়া আতা থেকে আর কেউ বর্ণনা করেননি। আর মানুষ তার এই বর্ণনাটিকে অগ্রহণযোগ্য (أنكره) মনে করেছে, কিন্তু আবদুল মালিক...

--------------------------------------------

(১) ইলাল ইবনে মাদীনী পৃষ্ঠা ৮১ - ৮৩ (১১৭), এবং দেখুন হাদিস নং (৫৩, ১০৫, ১৭৫)।

(২) আল-ইলাল (১২৩১)।

(৩) শরহু ইলালি তিরমিজি, ইবনে রাজাব ২/ ৫৮২।
(খণ্ড: ১) আশ-শায ওয়াল মুনকার ওয়া যিয়াদাতুস সিকা - মুওয়াযানাহ বাইনাল মুতাকাদ্দিমীন ওয়াল মুতাআখখিরীন (পৃষ্ঠা: ২৮)
ثقة صدوق لا يرد على مثله، قلت له: تكلم شعبة فيه؟ قال نعم، قال شعبة: لو جاء عبد الملك بآخر مثل هذا لرميت بحديثه، وقال عبد الله بن أحمد بن حنبل عن أبيه: هذا حديث منكر " (1).

6 - يلاحظ الراوي فلعله ركب سند حديث على متن آخر، أو العكس، ومنه:

قال ابن المديني في حديث: " لا يحرم من الرضاعة المصة والمصتان ": " رواه يعقوب بن إبراهيم بن سعد عن أبيه عن ابن إسحاق عن هشام بن عروة عن أبيه عن عبد الله بن الزبير عن الحجاج بن أبي الحجاج عن أبي هريرة، وهذا غلط، ورواه يحيى بن سعيد عن هشام بن عروة عن أبيه عن عبد الله بن الزبير عن النبي صلى الله عليه وسلم ورواه هشام بن عروة

عن أبيه عن الحجاج بن أبي الحجاج أنه سأل النبي صلى الله عليه وسلم ما يذهب عني مذمة الرضاع؟ قال: "غرة عبد أو أمة "، وحديث ابن إسحاق عندهم خطأ، وأدخل حديثاً في حديث، والحديث عندي حديث هشام بن عروة عن أبيه عن عبد الله بن الزبير عن النبي صلى الله عليه وسلم:" لا تحرم المصة والمصتان " وحديث هشام بن عروة عن الحجاج بن أبي الحجاج أنه سأل النبي صلى الله عليه وسلم ما يذهب مذمة الرضاع " (2).

ومن ذلك أيضا: ما أخرجه النسائي 8/ 273 فقال: أخبرنا محمد بن أبان قال: حدثنا شبابة بن سوار قال: حدثنا شعبة، عن بكير بن عطاء عن عبد الرحمن بن يعمر عن النبي صلى الله عليه وسلم: " نهى عن الدباء والمزفت " (3).

فهذا الحديث صح من طريق عدة صحابة رضي الله عنهم عن النبي صلى الله عليه وسلم أخرجه الشيخان وغيرهما (4).

ولم يعرف بهذا الإسناد، وإنما المعروف به حديث " الحج عرفة " (5)،ولا يعرف بهذا الإسناد غير هذا الحديث.

--------------------------------------------

(1) تهذيب الكمال 4/ 556 (4120).

(2) علل ابن المديني 1/ 82، وانظر علل ابن أبي حاتم 1/ 76.

(3) انظر تفصيله في المسند الجامع 12/ 366 (9590).

(4) من طريق علي وعائشة وأنس وأبي هريرة وابن عمر رضي الله عنهم انظر تفصليه في المسند الجامع 2/ (882) و6/ (4460 و4461) و 8/ (5907) و 9/ (6647 و 6649و 6650) و10/ (7889)، و17/ (13854)، و 9 / (15946) و 20 / (16845 و 1646) … و 20 / (17462).

(5) أخرجه أحمد والأربعة، انظر المسند الجامع 12/ 365 (9589).
"তিনি নির্ভরযোগ্য (ثقة) ও সত্যবাদী (صدوق), তাঁর মতো ব্যক্তির বর্ণনা প্রত্যাখ্যান করা হয় না। আমি তাঁকে বললাম: শু'বাহ কি তাঁর ব্যাপারে সমালোচনা করেছেন? তিনি বললেন: হ্যাঁ। শু'বাহ বলেছেন: যদি আব্দুল মালিক এর মতো আরও একটি বর্ণনা নিয়ে আসতেন, তবে আমি তাঁর হাদিস বর্জন করতাম। আব্দুল্লাহ ইবনে আহমাদ ইবনে হাম্বল তাঁর পিতা থেকে বর্ণনা করেছেন: "এটি একটি অপ্রসিদ্ধ (منكر) হাদিস।" (১)।

৬ - বর্ণনাকারীর (الراوي) প্রতি লক্ষ্য রাখা হয়, কারণ হতে পারে তিনি এক হাদিসের সনদকে (سند) অন্য হাদিসের মতনের (متن) ওপর জুড়ে দিয়েছেন, অথবা এর বিপরীতটি করেছেন। এর উদাহরণ হলো:

ইবনুল মাদিনী একটি হাদিস সম্পর্কে বলেন: "দুগ্ধপানের কারণে একবার বা দুবার চুষলে তা হারাম সাব্যস্ত হয় না": "এটি বর্ণনা করেছেন ইয়াকুব ইবনে ইব্রাহিম ইবনে সাদ তাঁর পিতা থেকে, তিনি ইবনে ইসহাক থেকে, তিনি হিশাম ইবনে উরওয়াহ থেকে, তিনি তাঁর পিতা থেকে, তিনি আবদুল্লাহ ইবনুল জুবায়ের থেকে, তিনি হাজ্জাজ ইবনে আবি হাজ্জাজ থেকে, তিনি আবু হুরায়রা থেকে। আর এটি একটি ভুল (غلط)। পক্ষান্তরে ইয়াহইয়া ইবনে সাঈদ এটি হিশাম ইবনে উরওয়াহ থেকে, তিনি তাঁর পিতা থেকে, তিনি আবদুল্লাহ ইবনুল জুবায়ের থেকে, তিনি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে বর্ণনা করেছেন। আবার হিশাম ইবনে উরওয়াহ এটি

তাঁর পিতা থেকে, তিনি হাজ্জাজ ইবনে আবি হাজ্জাজ থেকে বর্ণনা করেছেন যে, তিনি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে জিজ্ঞাসা করেছিলেন: দুগ্ধপানের দায়মুক্তির উপায় কী? তিনি বললেন: "একজন দাস বা দাসী মুক্তি দেওয়া।" তাদের মতে ইবনে ইসহাকের বর্ণিত হাদিসটি ত্রুটিপূর্ণ (خطأ), তিনি এক হাদিসের মধ্যে অন্য হাদিস ঢুকিয়ে দিয়েছেন। আমার নিকট সঠিক হাদিস হলো হিশাম ইবনে উরওয়াহ-এর হাদিসটি যা তিনি তাঁর পিতা থেকে, তিনি আবদুল্লাহ ইবনুল জুবায়ের থেকে, তিনি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে বর্ণনা করেছেন: "একবার বা দুবার চুষলে হারাম হয় না" এবং হিশাম ইবনে উরওয়াহ-এর হাদিসটি হাজ্জাজ ইবনে আবি হাজ্জাজ থেকে, যাতে তিনি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে দুগ্ধপানের দায়মুক্তি সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করেছিলেন (২)।

অনুরূপ আরেকটি উদাহরণ হলো: যা নাসায়ী (৮/২৭৩) বর্ণনা করেছেন। তিনি বলেন: মুহাম্মাদ ইবনে আবান আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, তিনি বলেন: শাবাবাহ ইবনে সাওয়ার আমাদের বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: শু'বাহ আমাদের বর্ণনা করেছেন বুকাইর ইবনে আতা থেকে, তিনি আব্দুর রহমান ইবনে ইয়ামুর থেকে, তিনি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে বর্ণনা করেন: "তিনি কদু বা লাউয়ের পাত্র এবং আলকাতরা মাখানো পাত্র ব্যবহার করতে নিষেধ করেছেন" (৩)।

এই হাদিসটি বেশ কয়েকজন সাহাবী (রাযিয়াল্লাহু আনহুম)-এর সূত্রে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে বিশুদ্ধভাবে (صح) প্রমাণিত হয়েছে, যা শাইখাইন (বুখারি ও মুসলিম) এবং অন্যান্যরা বর্ণনা করেছেন (৪)।

কিন্তু এই সনদে (الإسناد) এটি পরিচিত নয়। বরং এই সনদে পরিচিত হাদিসটি হলো: "আরাফাহ-ই হলো হজ" (৫), এবং এই সনদ (الإسناد) ছাড়া এই হাদিসটি অন্য কোনোভাবে পরিচিত নয়।

--------------------------------------------

(১) তাহযিবুল কামাল ৪/৫৫৬ (৪১২০)।

(২) ইলাল ইবনুল মাদিনী ১/৮২, এবং দেখুন ইলাল ইবনে আবি হাতিম ১/৭৬।

(৩) বিস্তারিত দেখুন মুসনাদ আল-জামি' ১২/৩৬৬ (৯৫৯০)।

(৪) আলী, আয়েশা, আনাস, আবু হুরায়রা এবং ইবনে উমর (রাযিয়াল্লাহু আনহুম)-এর সূত্রে, বিস্তারিত দেখুন মুসনাদ আল-জামি' ২/(৮৮২), ৬/(৪৪৬০ ও ৪৪৬১), ৮/(৫৯০৭), ৯/(৬৬৪৭, ৬৬৪৯ ও ৬৬৫০), ১০/(৭৮৮৯), ১৭/(১৩৮৫৪), ১৯/(১৫৯৪৬), ২০/(১৬৮৪৫ ও ১৬৪৬)... এবং ২০/(১৭৪৬২)।

(৫) আহমাদ এবং চারজন সুনান গ্রন্থকার এটি বর্ণনা করেছেন, দেখুন মুসনাদ আল-জামি' ১২/৩৬৫ (৯৫৮৯)।
(খণ্ড: ১) আশ-শায ওয়াল মুনকার ওয়া যিয়াদাতুস সিকা - মুওয়াযানাহ বাইনাল মুতাকাদ্দিমীন ওয়াল মুতাআখখিরীন (পৃষ্ঠা: ২৯)
قال الحافظ ابن رجب: " أنكره على شبابة طائفة من الأئمة منهم الإمام أحمد، والبخاري، وأبو حاتم، وابن عدي؛ … قال أحمد: إنما روى شعبة بهذا الإسناد حديث الحج؛ يشير إلى أنه لا يعرف بهذا الإسناد غير حديث الحج " (1).وقال أبو حاتم: " هذا حديث منكر، لم يروه غير شبابة، ولا يعرف له أصل " (2).

7 - فإذا كان الراوي ضعيفاً ولم يتابع فإن مجرد تفرده بالمتن نوع ضعف، وإن خالف فهو حديث منكر وإن توبع بمن هو مثله فلا يسلم، أما إن كان بأحسن منه فربما اعتضد، ويعتمد ذلك على حسب القرائن.

8 - قد ينتقي الناقد البارع من حديث الضعيف أصح رواياته، وهذا لا يُقبل إلاّ عند أئمة الشأن كـ (البخاري ومسلم) (3) ومن هو قرين لهما في النقد والفهم، لأنه أعلم بحديثه وبمظانه في السنن.

9 - إن لكل حديث من الأحاديث قرينة خاصة به كما نص على ذلك الأئمة المحققون، فعند ترجيح حديث على حديث أو قبول رواية راوٍ في موضع وردها من الراوي نفسه في موضع آخر هناك قرائن ومعطيات على أساسها يتم ترجيح الرواية وقبولها في هذا دون ذلك.

10 - إن الأئمة المتقدمين يوردون أحياناً الحديث المعلول ليبينوا علته، فينبهوا عليه، وقد صرح بعضهم بذلك كأن يورد الصحيح أولاً ثم يورد المعلول رديفه كما في صنيع الإمام مسلم -كما سيأتي -؛ وبعضهم يضع الحديث المعلول أولا ثم يورد الصحيح بعده.

يقول الحافظ ابن رجب في هذا:"وقد اعترض على الترمذي رحمه الله بأنه في غالب الأبواب يبدأ بالأحاديث الغريبة الإسناد غالباً، وليس ذلك بعيب فإنه رحمه الله يبين ما فيها من العلل، ثم يبين الصحيح في الإسناد.

وكان مقصده رحمه الله ذكر العلل، ولهذا تجد النسائي إذا استوعب طرق

--------------------------------------------

(1) شرح علل الترمذي 2/ 648.

(2) علل ابن أبي حاتم 2/ 27 (1557).

(3) وقد انتقى الإمام البخاري مثل ذلك في (2806) و (5642) و (6229)، والإمام مسلم (188) و (211) (510) و (1080) و (1283) و (1429)، وانظر ص 222 من هذا الكتاب.
হাফিজ ইবনে রজব বলেন: "ইমামদের একটি দল শাবাবার বর্ণনাকে প্রত্যাখ্যান (أنكره) করেছেন, যাদের মধ্যে রয়েছেন ইমাম আহমাদ, বুখারী, আবু হাতেম এবং ইবনে আদি; … আহমাদ বলেন: শুবা এই সনদ (إسناد) দিয়ে কেবল হজের হাদিসটি বর্ণনা করেছেন; তিনি ইঙ্গিত করছেন যে এই সনদ (إسناد) দিয়ে হজের হাদিস ব্যতীত অন্য কোনো হাদিস পরিচিত নয়।" (১)। এবং আবু হাতেম বলেন: "এটি একটি প্রত্যাখ্যাত (منكر) হাদিস, শাবাবা ছাড়া অন্য কেউ এটি বর্ণনা করেননি এবং এর কোনো ভিত্তি (أصل) জানা নেই।" (২)।

৭ - সুতরাং যদি কোনো বর্ণনাকারী দুর্বল (ضعيفاً) হন এবং তাঁর কোনো সমর্থক বর্ণনা (متابع) না থাকে, তবে মতন (متن) বা মূল পাঠে তাঁর একক হওয়া এক প্রকার দুর্বলতা। আর যদি তিনি বিরোধপূর্ণ বর্ণনা করেন, তবে সেটি প্রত্যাখ্যাত (منكر) হাদিস। আর যদি তাঁর মতো অন্য কারো মাধ্যমে সমর্থিত (توبع) হয়, তবুও তা ত্রুটিমুক্ত হয় না। তবে যদি তাঁর চেয়ে উত্তম কারো মাধ্যমে সমর্থিত হয়, তবে সম্ভবত তা শক্তিশালী হয়। এটি প্রাসঙ্গিক আলামতসমূহের (القرائن) ওপর নির্ভর করে।

৮ - একজন দক্ষ সমালোচক একজন দুর্বল (الضعيف) বর্ণনাকারীর হাদিস থেকে তার বিশুদ্ধতম বর্ণনাগুলো বাছাই করে নিতে পারেন। এটি কেবল বুখারী ও মুসলিম এবং তাঁদের সমপর্যায়ের সমালোচক ও সমঝদার ইমামদের নিকট গ্রহণযোগ্য, কারণ তাঁরা সংশ্লিষ্ট বর্ণনাকারীর হাদিস এবং সুনান গ্রন্থসমূহে সেগুলোর উৎস সম্পর্কে অধিক অবগত।

৯ - প্রতিটি হাদিসের জন্য একটি বিশেষ আলামত (قرينة) থাকে, যেমনটি গবেষক ইমামগণ উল্লেখ করেছেন। সুতরাং এক হাদিসকে অন্য হাদিসের ওপর প্রাধান্য দেওয়ার ক্ষেত্রে অথবা কোনো নির্দিষ্ট স্থানে একজন বর্ণনাকারীর বর্ণনা গ্রহণ ও অন্য স্থানে তা প্রত্যাখ্যান করার ক্ষেত্রে কিছু আলামত ও তথ্য থাকে, যার ভিত্তিতে বর্ণনাটিকে এক স্থানে গ্রহণ ও অন্য স্থানে বর্জন করা হয়।

১০ - পূর্ববর্তী ইমামগণ কখনো কখনো ত্রুটিযুক্ত (المعلول) হাদিস উল্লেখ করেন যাতে তাঁরা এর ত্রুটি (علته) স্পষ্ট করতে পারেন এবং সে সম্পর্কে সতর্ক করতে পারেন। তাঁদের কেউ কেউ এটি স্পষ্টভাবে ব্যক্ত করেছেন, যেমন প্রথমে বিশুদ্ধ (الصحيح) হাদিসটি উল্লেখ করে পরে তার অনুগামী হিসেবে ত্রুটিযুক্ত (المعلول) বর্ণনাটি নিয়ে আসা, যেমনটি ইমাম মুসলিম করেছেন—যা সামনে আলোচিত হবে। আবার কেউ কেউ প্রথমে ত্রুটিযুক্ত (المعلول) হাদিসটি উল্লেখ করে পরে বিশুদ্ধ (الصحيح) হাদিসটি নিয়ে আসেন।

হাফিজ ইবনে রজব এ বিষয়ে বলেন: "তিরমিযী (রাহিমাহুল্লাহ)-এর ওপর এই আপত্তি করা হয়েছে যে, তিনি অধিকাংশ অধ্যায়ে সাধারণত একক (الغريبة) সনদের হাদিস দিয়ে শুরু করেন। কিন্তু এটি কোনো ত্রুটি নয়, কারণ তিনি সেগুলোর মধ্যে থাকা ত্রুটিসমূহ (العلل) বর্ণনা করেন এবং পরবর্তীতে সনদের বিশুদ্ধ (الصحيح) দিকটি স্পষ্ট করেন।

তাঁর উদ্দেশ্য ছিল ত্রুটিসমূহ (العلل) উল্লেখ করা। এজন্যই আপনি দেখবেন যখন নাসাঈ বর্ণনাগুলোর সূত্রসমূহ (طرق) পূর্ণাঙ্গভাবে উল্লেখ করেন...

--------------------------------------------

(১) শারহু ইলালিত তিরমিযী ২/৬৪৮।

(২) ইলালু ইবনি আবি হাতিম ২/২৭ (১৫৫৭)।

(৩) ইমাম বুখারী এরূপ বাছাই করেছেন হাদিস নং ২৮০৬, ৫৬৪২ ও ৬২২৯-এ এবং ইমাম মুসলিম ১৮৮, ২১১, ৫১০, ১০৮০, ১২৮৩ ও ১৪২৯ নং হাদিসে। এই বইয়ের ২২২ পৃষ্ঠা দ্রষ্টব্য।
(খণ্ড: ১) আশ-শায ওয়াল মুনকার ওয়া যিয়াদাতুস সিকা - মুওয়াযানাহ বাইনাল মুতাকাদ্দিমীন ওয়াল মুতাআখখিরীন (পৃষ্ঠা: ৩০)
الحديث بدأ بما هو غلط بعد ذلك الصواب المخالف له، وأما أبو داود رحمه الله فكانت عنايته بالمتون أكثر، ولهذا يذكر الطرق واختلاف ألفاظها، والزيادات المذكورة في بعضها دون بعض، فكانت عنايته بفقه الحديث أكثر من عنايته بالأسانيد، فلهذا يبدأ بالصحيح من الأسانيد، وربما لم يذكر الإسناد المعلل بالكلية " (1).

والذي أريد قوله: إنّ إطلاق العبارات النقدية أمر نسبي، يطلقها المجرّح نتيجة لقرائن بدت له، ومن مجموعها أصدر هذا الحكم، وهذه الألفاظ وصفية، أي ليست مرتبة حديثية مستقلة، أطلقها النقاد على تفردات الرواة بما لم يحفظ عندهم، ولما كان الوهم والخطأ من فطرة البشر، فهو أيضاً يشمل رواة الأحاديث، بل من النادر أنك تجد

راوياً سلم من الوهم، حتى جهابذة العلل، يقول عبد الرحمن بن أبي حاتم: " سألت أبي وأبا زرعة عن حديث رواه شعبة عن منصور عن الفيض بن أبي حثمة عن أبي ذر أنه كان إذا خرج من الخلاء قال: " الحمد لله الذي عافاني واذهب عني الأذى "؟ فقال أبو زرعة: وهم شعبة في هذا الحديث ورواه الثوري فقال: عن منصور عن أبي علي عبيد بن علي عن أبي ذر وهذا الصحيح وكان أكثر وهم شعبة في أسماء الرجال، وقال أبي: كذا قال سفيان، وكذا قال شعبة، والله أعلم أيهما الصحيح، والثوري أحفظ وشعبة ربما أخطأ في أسماء الرجال ولا يدري هذا منه أم لا؟ " (2).

فهذا أمير المؤمنين في الحديث قد يهم! فما بالك بغيره؟ وهذا الوهم نسبي لا يقاس أمام حفظ وإتقان وضبط شعبة بن الحجاج (أمير المؤمنين في الحديث)، وحسبه شرفا أن تحسب الأحاديث التي أخطأ بها، وهي قد لا تتجاوز أصابع اليد الواحدة!

فالراوي كلما وافقت روايته رواية الثقات، ولم تكد تخالف كان إلى الضبط أقرب، وكلما جاءك بالغرائب، والمنفردات كان إلى الوهم أقرب، وأطلق عليه: " يروي الغرائب، له غرائب، … "، وهذه الغرائب مذمومة عند السلف، قال إبراهيم النخعي:" كانوا يكرهون الغريب من الحديث" (3)،وقال الإمام مالك بن أنس:"شر العلم الغريب، وخير

--------------------------------------------

(1) شرح علل الترمذي 2/ 626.

(2) علل ابن أبي حاتم 1/ 27 (45).

(3) الكفاية، الخطيب البغدادي ص 171.
হাদিসটি শুরু হয়েছিল একটি ভুলের (غلط) মাধ্যমে, পরবর্তীতে এর বিপরীতে সঠিকটি (الصواب) বর্ণিত হয়েছে। আর আবু দাউদ (রহ.)-এর মনোযোগ হাদিসের মূল পাঠের (المتون) প্রতি অধিক ছিল; এ কারণে তিনি বর্ণনার সূত্রগুলো (الطرق) এবং সেগুলোর শব্দগত ভিন্নতা এবং কিছু বর্ণনায় অতিরিক্ত তথ্য—যা অন্যগুলোতে নেই—উল্লেখ করতেন। হাদিসের ফিকহ বা মর্মার্থ অনুধাবনের প্রতি তাঁর মনোযোগ হাদিসের সনদগুলোর (الأسانيد) প্রতি মনোযোগের তুলনায় অধিক ছিল। এই কারণেই তিনি সহিহ (الصحيح) সনদ (الأسانيد) দিয়ে শুরু করতেন এবং সম্ভবত ত্রুটিপূর্ণ (المعلل) সনদ (الإسناد) সম্পূর্ণরূপে বর্জন করতেন। (1).

আমি যা বলতে চাই তা হলো: সমালোচনাগত পরিভাষাগুলোর (العبارات النقدية) প্রয়োগ একটি আপেক্ষিক বিষয়। সমালোচক (المجرح) তাঁর নিকট প্রতীয়মান কিছু আলামত বা ইঙ্গিতের (قرائن) ভিত্তিতে এগুলো প্রয়োগ করেন এবং সেগুলোর সমষ্টি থেকে এই হুকুম (حكم) প্রদান করেন। এই শব্দগুলো মূলত বর্ণনামূলক পরিভাষা, অর্থাৎ এগুলো হাদিসের কোনো স্বতন্ত্র স্তর নয়। সমালোচকগণ বর্ণনাকারীদের সেই একক বর্ণনাগুলোর (تفردات) ক্ষেত্রে এই শব্দগুলো ব্যবহার করেছেন, যা তাঁদের নিকট সংরক্ষিত হাদিসের পরিপন্থী। যেহেতু বিভ্রান্তি (الوهم) এবং ভুল (الخطأ) মানুষের সহজাত প্রবৃত্তি, তাই এটি হাদিস বর্ণনাকারীদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য। বরং এমন বর্ণনাকারী (রাবি) পাওয়া বিরল

যিনি বিভ্রান্তি (الوهم) থেকে সম্পূর্ণ মুক্ত ছিলেন, এমনকি হাদিসের সূক্ষ্ম ত্রুটি বিশারদগণের (جهابذة العلل) ক্ষেত্রেও এটি সত্য। আবদুর রহমান ইবনে আবি হাতিম বলেন: "আমি আমার পিতা এবং আবু যুরআহ-কে একটি হাদিস সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করেছিলাম যা শু'বাহ, মনসুর থেকে, তিনি ফায়েজ ইবনে আবি হাসমাহ থেকে, তিনি আবু যার (রা.) থেকে বর্ণনা করেছেন যে, তিনি যখন শৌচাগার থেকে বের হতেন তখন বলতেন: 'সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর জন্য যিনি আমাকে সুস্থতা দান করেছেন এবং আমার থেকে কষ্ট দূর করে দিয়েছেন'?" আবু যুরআহ বললেন: "শু'বাহ এই হাদিসটিতে বিভ্রান্ত (وهم) হয়েছেন। এটি সাওরি বর্ণনা করেছেন এবং তিনি বলেছেন: মনসুর থেকে, তিনি আবু আলী উবাইদ ইবনে আলী থেকে, তিনি আবু যার (রা.) থেকে। আর এটাই হলো সঠিক (الصحيح)। শু'বাহর অধিকাংশ বিভ্রান্তি (وهم) মূলত ব্যক্তিদের নামের (أسماء الرجال) ক্ষেত্রে হতো।" আমার পিতা বলেন: "সুফিয়ানও অনুরূপ বলেছেন, শু'বাহও অনুরূপ বলেছেন, তবে আল্লাহই ভালো জানেন কোনটি সঠিক (الصحيح)। সাওরি অধিক মুখস্থকারী (أحفظ) এবং শু'বাহ কখনো কখনো ব্যক্তিদের নামের (أسماء الرجال) ক্ষেত্রে ভুল (أخطأ) করতেন, আর এটি তাঁর পক্ষ থেকে তেমন কি না তা বুঝা যায় না।" (2).

ইনি তো হাদিসের আমিরুল মুমিনিন, তিনিও কখনো বিভ্রান্ত (وهم) হতে পারেন! তাহলে অন্যদের অবস্থা কী হবে? আর এই বিভ্রান্তি (الوهم) আপেক্ষিক, যা শু'বাহ ইবনুল হাজ্জাজ (হাদিসের আমিরুল মুমিনিন)-এর মুখস্থ শক্তি (حفظ), পারদর্শিতা (إتقان) এবং নির্ভুলতার (الضبط) তুলনায় নগণ্য। তাঁর সম্মানের জন্য এতটুকুই যথেষ্ট যে, তাঁর করা ভুল (أخطأ) হাদিসগুলো গণনা করা সম্ভব এবং সেগুলো হাতের আঙুলের সংখ্যার বেশি হবে না!

সুতরাং বর্ণনাকারীর (الراوي) বর্ণনা নির্ভরযোগ্য বর্ণনাকারীদের (الثقات) বর্ণনার সাথে যত বেশি মিলবে এবং যত কম বিরোধিতা করবে, তিনি নির্ভুলতার (الضبط) তত কাছাকাছি হবেন। আর তিনি যখনই আপনার নিকট অদ্ভুত (الغرائب) এবং একক বর্ণনা (المنفردات) নিয়ে আসবেন, তখন তিনি বিভ্রান্তির (الوهم) অধিক নিকটবর্তী হবেন। এমতাবস্থায় তাঁর সম্পর্কে বলা হয়: "তিনি অদ্ভুত হাদিস বর্ণনা করেন (يروي الغرائب), তাঁর মাঝে অদ্ভুত বিষয় রয়েছে (له غرائب)، … "। আর এই অদ্ভুত বর্ণনাগুলো (الغرائب) সালাফগণের নিকট নিন্দনীয় ছিল। ইব্রাহিম নাখয়ি বলেন: "তাঁরা হাদিসের অদ্ভুত বিষয়গুলোকে (الغريب) অপছন্দ করতেন।" (3), ইমাম মালিক ইবনে আনাস বলেন: "নিকৃষ্টতম ইলম হলো অদ্ভুত বিষয় (الغريب), আর সর্বোত্তম..."

--------------------------------------------

(1) শারহু ইলালিত তিরমিজি ২/৬২৬।

(2) ইলালু ইবনি আবি হাতিম ১/২৭ (৪৫)।

(3) আল-কিফায়াহ, আল-খতিব আল-বাগদাদি, পৃ. ১৭১।
(খণ্ড: ১) আশ-শায ওয়াল মুনকার ওয়া যিয়াদাতুস সিকা - মুওয়াযানাহ বাইনাল মুতাকাদ্দিমীন ওয়াল মুতাআখখিরীন (পৃষ্ঠা: ৩১)
العلم الظاهر الذي قد رواه الناس " (1)، وقال عبد الرزاق:" كنا نرى أن غريب الحديث خير فإذا هو شر " (2).

 

‌‌ثانياً: عند المتأخرين:

وأمّا منهج أئمة الحديث من المتأخرين في النقد فإنه نحا منحىً آخر بدأ بابي عبد الله الحاكم إذ فرّق بين السند والمتن، فكان نقطة تحول في علم الحديث ويتضح منهجه في ذلك في حكمه على أحاديث كثيرة أنها صحيحة الإسناد، وكان لا بد أن يخرجها صاحبا الصحيحين، البخاري ومسلم، فقال مرات لا تحصى: " صحيح على شرطيهما ولم

يخرجاه "، " صحيح الإسناد على شرطيهما ولم يخرجاه "، " إسناده صحيح على شرط البخاري ولم يخرجه "، " صحيح الإسناد على شرط مسلم ولم يخرجه "، وهكذا.

فجعل صحة الإسناد شرطاً لقبول الحديث، متغاضياً عن صحة المتن فأدخل متون منكرة، ومعلولة، ظاهر إسانيدها صحيحة (3). وهكذا بدأ علم الحديث يأخذ منحىً جديداً يختلف عمّا كان عليه قبل الحاكم النيسابوري.

يقول الإمام الذهبي ً في معرض الكلام عن عنعنة المدلس:"وهذا في زماننا يعسر نقده على المحدث، فإن أولئك الأئمة كالبخاري وأبي حاتم وأبي داود، عاينوا الأصول، وعرفوا عللها، وأما نحن فطالت علينا الأسانيد، وفقدت العبارات المتيقنة، وبمثل هذاونحوه دخل الدّخل على الحاكم في تصرفه في المستدرك " (4).

ولما شرع المتأخرون بكتابة مصطلح الحديث -وهذا أمر طبيعي، إذ هو تلبية لحاجة طلبة العلم لمصطلح نظري ييسر لهم ولوج علم الحديث، خاصة بعد ضعفه في تلك الأزمان كما بينه العلماء في ذلك الوقت فوضعت كتب المصطلح- أصبح النقد عندهم قائماً على الإسناد، في الأعم الأغلب واصبح من وثقه المتقدمون صُحَحَ حديثه، ومن ضعفه المتقدمون ضُِعفَ حديثه، ومن تركه المتقدمون حكموا على حديثه بالضعف الشديد، مع عدم إدراكهم دائماً لمسألة الانتقاء.

--------------------------------------------

(1) شرح علل الترمذي، ابن رجب 2/ 622.

(2) فتح المغيث، السخاوي 2/ 310.

(3) انظر بحث " منهج الذهبي في تلخيص مستدرك الحاكم "، لزميلنا الشيخ عزيز رشيد.

(4) الموقظة ص46.
সেই প্রকাশ্য জ্ঞান যা মানুষ বর্ণনা করেছে" (১), এবং আব্দুর রাজ্জাক বলেন: "আমরা মনে করতাম যে গরিব (غريب) হাদিস উত্তম, কিন্তু পরে দেখা গেল তা মন্দ।" (২)।

 

‌‌দ্বিতীয়ত: পরবর্তী যুগের আলেমদের (متأخرين) নিকট:

আর সমালোচনার ক্ষেত্রে পরবর্তী যুগের (متأخرين) হাদিস বিশারদদের পদ্ধতি অন্য এক পথ অবলম্বন করেছিল, যা আবু আব্দুল্লাহ আল-হাকিমের মাধ্যমে শুরু হয়েছিল। তিনি সনদ (سند) ও মতন (متن)-এর মধ্যে পার্থক্য করেন, যা হাদিসশাস্ত্রে একটি পরিবর্তনের বিন্দু হিসেবে চিহ্নিত হয়। তাঁর এই পদ্ধতিটি অনেক হাদিসের ক্ষেত্রে তাঁর দেওয়া সেই সিদ্ধান্তের মাধ্যমে স্পষ্ট হয় যেখানে তিনি সেগুলোকে বিশুদ্ধ সনদবিশিষ্ট (صحيحة الإسناد) বলে অভিহিত করেছেন। সেই হাদিসগুলো বুখারি ও মুসলিম—এই দুই ‘সহিহ’ গ্রন্থের রচয়িতাদের সংকলন করা আবশ্যক ছিল। তাই তিনি অসংখ্যবার বলেছেন: "এটি তাদের উভয়ের শর্ত (شرط) অনুযায়ী সহিহ (صحيح), কিন্তু তারা এটি সংকলন করেননি", "তাদের উভয়ের শর্ত (شرط) অনুযায়ী সনদটি বিশুদ্ধ (صحيح الإسناد), কিন্তু তারা এটি সংকলন করেননি", "এর সনদটি বুখারির শর্ত (شرط) অনুযায়ী বিশুদ্ধ (صحيح), কিন্তু তিনি এটি সংকলন করেননি", "মুসলিমের শর্ত (شرط) অনুযায়ী সনদটি বিশুদ্ধ (صحيح الإسناد), কিন্তু তিনি এটি সংকলন করেননি", এভাবেই।

তিনি সনদের বিশুদ্ধতাকে (صحة الإسناد) হাদিস কবুলের শর্ত (شرط) হিসেবে নির্ধারণ করেন এবং মতনের বিশুদ্ধতার প্রতি উপেক্ষা প্রদর্শন করেন। এর ফলে তিনি এমন অনেক মতন (متون) অন্তর্ভুক্ত করেন যা প্রত্যাখ্যাত (منكرة) এবং ত্রুটিপূর্ণ (معلولة), যদিও সেগুলোর বাহ্যিক সনদগুলো (إسانيد) বিশুদ্ধ (صحيحة)। এভাবেই হাকিম আল-নাইসাবুরির পূর্ববর্তী সময়ের তুলনায় হাদিসশাস্ত্র একটি নতুন মোড় নিতে শুরু করে।

ইমাম দাহাবি মুদাল্লিস (مدلس) বর্ণনাকারীর ‘আনআনা’ (عنعنة) প্রসঙ্গে বলেন: "আমাদের যুগে একজন মুহাদ্দিসের পক্ষে এর সমালোচনা করা অত্যন্ত কঠিন। কারণ সেই ইমামগণ, যেমন বুখারি, আবু হাতিম এবং আবু দাউদ, মূল উৎসগুলো প্রত্যক্ষ করেছিলেন এবং সেগুলোর সুক্ষ্ম ত্রুটিসমূহ (علل) সম্পর্কে অবগত ছিলেন। কিন্তু আমাদের ক্ষেত্রে সনদগুলো (أسانيد) দীর্ঘ হয়ে গেছে এবং নিশ্চিত অভিব্যক্তিগুলো হারিয়ে গেছে। এ ধরনের এবং এর কাছাকাছি কারণেই হাকিমের ‘আল-মুস্তাদরাক’ পরিচালনার ক্ষেত্রে কিছু বিচ্যুতি প্রবেশ করেছে।" (৪)।

যখন পরবর্তী যুগের আলেমগণ (متأخرون) ‘মুসতালাহুল হাদিস’ রচনা শুরু করলেন—এবং এটিই স্বাভাবিক ছিল, কারণ তা ছিল ইলমে হাদিসের তাত্ত্বিক পরিভাষার প্রয়োজনীয়তা পূরণ করা যা শিক্ষার্থীদের জন্য এ শাস্ত্রে প্রবেশ সহজতর করে, বিশেষ করে তৎকালীন সময়ে এ শাস্ত্র দুর্বল হয়ে পড়ার পর যেমনটি তৎকালীন উলামায়ে কেরাম বর্ণনা করেছেন এবং পরিভাষার কিতাবসমূহ সংকলিত হয়েছে—তখন তাদের নিকট সমালোচনা মূলত সনদের (إسناد) ওপর ভিত্তি করে গড়ে ওঠে। অধিকাংশ ক্ষেত্রে দেখা যায়, পূর্ববর্তীগণ (متقدمون) যাকে নির্ভরযোগ্য (وثقه) বলেছেন, তার হাদিসকে তারা সহিহ (صحيح) সাব্যস্ত করেছেন। আর পূর্ববর্তীগণ (متقدمون) যাকে দুর্বল (ضعفه) বলেছেন, তার হাদিসকে তারা দুর্বল (ضعيف) সাব্যস্ত করেছেন। আর পূর্ববর্তীগণ (متقدمون) যাকে বর্জন (تركه) করেছেন, তার হাদিসকে তারা তীব্র দুর্বলতা (الضعف الشديد) বা অত্যন্ত দুর্বল বলে রায় দিয়েছেন। তবে এক্ষেত্রে তারা সবসময় যাচাই-বাছাইয়ের (انتقاء) বিষয়টি অনুধাবন করতে পারেননি।

--------------------------------------------

(১) শারহু ইলালিত তিরমিজি, ইবনে রাজাব ২/৬২২।

(২) ফাতহুল মুগিস, সাখাভি ২/৩১০।

(৩) দেখুন গবেষণা পত্র "মানহাজুদ দাহাবি ফি তালখিসি মুস্তাদরাকিল হাকিম", আমাদের সহকর্মী শেখ আজিজ রশিদ।

(৪) আল-মুগিজাহ, পৃষ্ঠা ৪৬।
(খণ্ড: ১) আশ-শায ওয়াল মুনকার ওয়া যিয়াদাতুস সিকা - মুওয়াযানাহ বাইনাল মুতাকাদ্দিমীন ওয়াল মুতাআখখিরীন (পৃষ্ঠা: ৩২)
إن هذا العمل جعلهم في بعض الأحيان يتبعون قواعد صماء لا ينظرون فيها إلى معاني الحديث أو فقهه، أو مخالفته، أو موافقته للقواعد العملية للشريعة التي سار عليها المتقدمون، وأدخل هذا العلم في متاهات صعبة.

إن الاعتماد على الإسناد حسب، واستناداً إلى توثيق الرجال وتضعيفهم جعلهم يلزمون المتقدمين بأشياء لم تكن تلزمهم، كما فعل الإمام الدارقطني في الإلزامات والتتبع، وكما فعل أبي عبد الله الحاكم في المستدرك مع كثرة أخطائه (1)، ولكنه بلا شك جاء بكثير من الأسانيد التي استخدمها الشيخان في كتابيهما ولكنهما لم يرويا هذه الأحاديث التي ساقها أو غيرها لأسباب لا نعرفها عموماً، ومن َثمّ أخذت فكرة الأسانيد التي على شرط

البخاري، أو شرط مسلم تظهر منذ ذلك الوقت المبكر عند المتأخرين مما خلق إرباكاً كبيراً ومساءلات لا حد لها في الأحاديث التي أوردها المتأخرون بموجب هذه القواعد النقدية التي لم يعرفها المتقدمون، ولا عملوا بها.

يقول أستاذنا الدكتور بشار: " شاع عند المتأخرين، ومنهم الحاكم، من قول: إن هذا الحديث على شرط الشيخين، أو على شرط البخاري، أو على شرط مسلم، وكأن شروطهما كانت معروفة لكل أحد من الناس، نعم، حاول بعض المتأخرين معرفة شروط الشيخين بالاستقراء ونقل بعض النصوص، كما فعل محمد بن طاهر المقدسي ت507 هـ، والحازمي ت584 هـ، ولكن هذا في حقيقة أمره مجرد تخمين واستنتاجات قائمة على استقراء غير تام لصنيع الشيخين في كتابيهما، فإن أحداً لا يمكنه الجزم بالطريقة التي تم بموجبها اختيار المؤلفين أحاديث كتابيهما، قال ابن طاهر المقدسي في مقدمة كتابه: " اعلم أن البخاري ومسلماً ومن ذكرنا بعدهما لم ينقل عن واحد منهم أنه قال: شرطت أن أخرج في كتابي ما يكون على الشرط الفلاني، وإنما يعرف ذلك من سبر كتبهم فيعلم بذلك شرط كل رجل منهم " (2)،وقد انتقى الشيخان من الأحاديث انتقاءً لا ندرك تماماً الأسس التي تم بموجبها هذا الانتقاء، فلا ندري مثلاً لماذا انتقيا من موطأ مالك هذه الأحاديث، ولماذا انتقيا هذه المرويات من حديث نافع مولى ابن عمر رضي الله عنه؟ ولماذا انتقيا

--------------------------------------------

(1) من المعروف أن كثيرا من الرجال الذين زعم الحاكم أنهم من رجال البخاري أو مسلم هم ليسوا من رجالهما.

(2) شروط الأئمة الستة ص 17.
এই কর্মপ্রক্রিয়া কখনো কখনো তাদেরকে এমন কিছু কঠোর নিয়ম অনুসরণ করতে বাধ্য করেছে যেখানে তারা হাদিসের অর্থ বা এর ফিকহ (গভীর বোধ), অথবা অগ্রজদের (المتقدمون) অনুসৃত শরিয়তের ব্যবহারিক নিয়মনীতির সাথে এর সংগতি বা অসংগতির বিষয়টি বিবেচনা করেননি; আর এটি এই ইলমকে (জ্ঞানকে) এক কঠিন গোলকধাঁধায় ফেলে দিয়েছে।

শুধুমাত্র সনদের (الإسناد) ওপর নির্ভর করা এবং বর্ণনাকারীদের নির্ভরযোগ্য (توثيق) বা দুর্বল (تضعيف) সাব্যস্ত করার ওপর ভিত্তি করে তারা অগ্রজদের (المتقدمون) ওপর এমন সব বিষয় আবশ্যক করে দিয়েছেন যা তাঁদের জন্য আবশ্যক ছিল না। যেমনটি ইমাম দারাকুতনি 'আল-ইলযামাত ওয়াত তাতাব্বু' গ্রন্থে করেছেন এবং আবু আব্দুল্লাহ আল-হাকিম তাঁর 'আল-মুস্তাদরাক' গ্রন্থে অসংখ্য ভুল (১) থাকা সত্ত্বেও করেছেন। তবে তিনি নিঃসন্দেহে এমন অনেক সনদ (الأسانيد) উপস্থাপন করেছেন যা শাইখাইন (বুখারি ও মুসলিম) তাঁদের গ্রন্থদ্বয়ে ব্যবহার করেছিলেন, কিন্তু তাঁরা সেই হাদিসগুলো বা অন্যান্য হাদিসগুলো বর্ণনা করেননি এমন কিছু কারণে যা আমরা সাধারণত জানি না। ফলে সেখান থেকেই এমন সনদের (الأسانيد) ধারণা জন্মেছে যা বুখারির শর্ত (شرط) অনুযায়ী,

অথবা মুসলিমের শর্ত (شرط) অনুযায়ী; যা সেই শুরুর সময় থেকেই পরবর্তী (المتأخرون) আলেমদের মাঝে প্রকাশ পেতে থাকে। এর ফলে পরবর্তীগণ (المتأخرون) যে হাদিসগুলো বর্ণনা করেছেন সেগুলোর ক্ষেত্রে এক বিশাল বিভ্রান্তি এবং সীমাহীন প্রশ্নের সৃষ্টি হয়েছে, যা মূলত এমন কিছু সমালোচনামূলক নিয়মের ভিত্তিতে করা হয়েছে যা অগ্রজরা (المتقدمون) জানতেন না এবং সে অনুযায়ী আমলও করেননি।

আমাদের উস্তাদ ডক্টর বাশার বলেন: "পরবর্তী (المتأخرون) আলেমদের মাঝে, যাদের মধ্যে আল-হাকিমও রয়েছেন, এই কথাটি প্রসিদ্ধ হয়ে যায় যে: 'এই হাদিসটি শাইখাইনের শর্ত (شرط) অনুযায়ী', অথবা 'বুখারির শর্ত (شرط) অনুযায়ী' বা 'মুসলিমের শর্ত (شرط) অনুযায়ী'। যেন তাঁদের শর্তসমূহ (الشروط) প্রত্যেকের কাছেই সুপরিচিত ছিল। হ্যাঁ, পরবর্তী (المتأخرون) আলেমদের কেউ কেউ পর্যালোচনার (استقراء) মাধ্যমে এবং কিছু উদ্ধৃতি হস্তান্তরের মাধ্যমে শাইখাইনের শর্তসমূহ (الشروط) জানার চেষ্টা করেছেন, যেমনটি করেছেন মুহাম্মদ ইবনে তাহির আল-মাকদিসি (মৃত্যু ৫০৭ হিজরি) এবং আল-হাযিমি (মৃত্যু ৫৮৪ হিজরি)। কিন্তু এটি প্রকৃতপক্ষে কেবল অনুমান এবং অসম্পূর্ণ পর্যালোচনার (استقراء) ওপর ভিত্তি করে নেওয়া কিছু সিদ্ধান্ত যা শাইখাইন তাঁদের গ্রন্থদ্বয়ে যেভাবে কাজ করেছেন তার ওপর নির্ভরশীল। কেননা, গ্রন্থকারদ্বয় যে পদ্ধতিতে তাঁদের বইয়ের জন্য হাদিস নির্বাচন করেছেন, সে ব্যাপারে নিশ্চিতভাবে বলা কারো পক্ষেই সম্ভব নয়। ইবনে তাহির আল-মাকদিসি তাঁর গ্রন্থের ভূমিকায় বলেন: 'জেনে রেখো যে, বুখারি, মুসলিম এবং তাঁদের পরে আমরা যাঁদের কথা উল্লেখ করেছি, তাঁদের কারো কাছ থেকেই এমন কোনো কথা বর্ণিত হয়নি যে তিনি বলেছেন: আমি শর্ত (شرط) করেছি যে আমি আমার গ্রন্থে কেবল সেই হাদিসগুলোই সংকলন করব যা অমুক শর্ত (شرط) অনুযায়ী হবে। বরং এটি তাঁদের গ্রন্থসমূহ পর্যালোচনার মাধ্যমেই জানা যায়, যার ফলে তাঁদের প্রত্যেকের শর্ত (شرط) সম্পর্কে অবগত হওয়া সম্ভব হয়' (২)। শাইখাইন হাদিসসমূহ থেকে এমনভাবে নির্বাচন করেছেন যার মূল ভিত্তি আমরা পুরোপুরি অনুধাবন করতে পারি না। যেমন—আমরা জানি না কেন তাঁরা মুয়াত্তা মালিক থেকে এই নির্দিষ্ট হাদিসগুলোই নির্বাচন করলেন, আর কেনই বা তাঁরা ইবনে উমরের (রা.) আজাদকৃত গোলাম নাফে’র বর্ণিত হাদিসসমূহ থেকে এই বিশেষ বর্ণনাগুলোই বেছে নিলেন? আর কেনই বা তাঁরা নির্বাচন করলেন...

--------------------------------------------

(১) এটি সর্বজনবিদিত যে, আল-হাকিম যাদেরকে বুখারি বা মুসলিমের বর্ণনাকারী বলে দাবি করেছেন, তাদের অনেকেই মূলত তাঁদের বর্ণনাকারী নন।

(২) শুরুতুল আইম্মতিস সিত্তাহ, পৃষ্ঠা ১৭।
(খণ্ড: ১) আশ-শায ওয়াল মুনকার ওয়া যিয়াদাতুস সিকা - মুওয়াযানাহ বাইনাল মুতাকাদ্দিমীন ওয়াল মুতাআখখিরীন (পৃষ্ঠা: ৩৩)
هذه المرويات من أحاديث الثقات أمثال: أيوب السختياني، وجرير بن حازم، وجعفر بن إياس اليشكري، والليث بن سعد، وعبيد الله بن عمر العمري، وغيرهم .. ، فلماذا أخذا من مروياتهم ما أخذا وتركا ما تركا؟؟ فليس هناك من جواب إلا القول بالانتقاء.

وقل مثل ذلك في الرواة المتكلم فيهم الذين أخرجا لهما في صحيحيهما، إذ انتقيا من أحاديثهم أصحها، أو قل أسلمها من العيوب مما يصلح في بابه، إذ أخرجاها في غير أبواب الحلال والحرام. واستعاض بعضهم بقولهم: " رجاله رجال الصحيح "، أو" رجاله رجال البخاري"، أو " رجاله رجال مسلم ". وهذا فيه نظر من وجهين:

الأول: إن كون رواة الإسناد من رجال الشيخين أو أحدهما لا يعني أن الشيخين قد أخرجا بهذا الإسناد، أعني برواية الواحد عن الآخر …

الثاني: أن الشيخين قد رويا لرجال من رجالهما ممن عرفوا بالضعف، فانتقيا قليلاً، أو كثيراً من حديثهم الصحيح، فكيف عندئذٍ نوهم بأن حديث مثل هذا الشيخ أو الراوي صحيح في جملته … ." (1).

وحاول بعض المتأخرين أن يجدوا أشياء جديدة فاتت المتقدمين - بزعمهم- كأن يوصلوا المرسل، ويرفعوا الموقوف، أو يزيدوا في لفظة ما لم تكن معروفة عند المتقدمين وهي بجميعها إما أن تكون مما تركه المتقدمون لعلة فيه، أو سرقه السراقون.

فمن أمثلة ذلك: قال رسول الله صلى الله عليه وسلم:" أنا مدينة العلم وعلي بابها " (2).

قلت: جاء هذا الحديث من طرق متعددة هي أكثر من سبعة عشر طريقاً عن ثلاثة من الصحابة: " علي، وجابر، وابن عباس " رضي الله عنهم.

فهذا الحديث أعلّه المتقدمون -أصلاً-، قال يحيى بن معين: " رأيت عمر بن إسماعيل بن مجالد ليس بشيء كذاب رجل سوء خبيث حدث عن أبى معاوية عن الأعمش عن مجاهد عن ابن عباس عن النبي صلى الله عليه وسلم: أنا مدينة العلم وعلي بابها "؟ وهو حديث ليس له أصل. قال عبد الله: وسألت أبى عنه فقال: ما أراه إلا صدق. أنبأنا عبد الرحمن قال: سألت أبى عن عمر بن إسماعيل بن مجالد فقال: ضعيف الحديث، أخبرنا عبد الرحمن قال:

--------------------------------------------

(1) مقدمة تأريخ بغداد 1/ 173 - 176 بتصرف، وانظر تمامه هناك فإن فيه زيادة فائدة.

(2) أخرجه الترمذي (3732)، وفي العلل الكبير (699)، والحاكم 3/ 137 و138، والطبراني في الكبير 11/ 65 (11061).
এই বর্ণনাগুলো নির্ভরযোগ্য (الثقات) বর্ণনাকারীদের হাদিস থেকে গৃহীত, যেমন: আইয়ুব আল-সাখতিয়ানি, জারির বিন হাজিম, জাফর বিন ইয়াস আল-ইয়াশকারি, আল-লায়স বিন সাদ, উবাইদুল্লাহ বিন উমর আল-উমারি এবং অন্যান্য... তাহলে তাঁরা কেন তাঁদের বর্ণনা থেকে যা গ্রহণ করার তা গ্রহণ করেছেন এবং যা বর্জন করার তা বর্জন করেছেন?? এর উত্তরে নির্বাচন (الانتقاء) করার কথা বলা ছাড়া আর কোনো উপায় নেই।

অনুরূপ কথা সেই সমস্ত সমালোচিত বর্ণনাকারী (الرواة المتكلم فيهم)-দের ব্যাপারেও বলা যায় যাদের বর্ণনা তাঁরা তাঁদের সহিহ গ্রন্থে (সহিহ বুখারি ও সহিহ মুসলিম) গ্রহণ করেছেন। কারণ তাঁরা তাঁদের বর্ণিত হাদিসগুলো থেকে সর্বাধিক সহিহ (أصحها) অথবা ত্রুটি (العيوب) থেকে সর্বাধিক মুক্ত হাদিসগুলোই নির্বাচন করেছেন যা সংশ্লিষ্ট বিষয়ের জন্য উপযুক্ত, কেননা তাঁরা সেগুলো হালাল ও হারামের অধ্যায় ব্যতীত অন্য অধ্যায়ে বর্ণনা করেছেন। পরবর্তীতে কেউ কেউ এর পরিবর্তে এই কথা বলেছেন যে: "এর বর্ণনাকারীগণ সহিহ গ্রন্থের বর্ণনাকারী", অথবা "এর বর্ণনাকারীগণ বুখারির বর্ণনাকারী", অথবা "এর বর্ণনাকারীগণ মুসলিমের বর্ণনাকারী"। কিন্তু বিষয়টি দুই দিক থেকে বিবেচনার দাবি রাখে:

প্রথমত: সনদের (الإسناد) বর্ণনাকারীগণ দুই শায়খ (الشيخين) বা তাঁদের একজনের বর্ণনাকারী হওয়ার অর্থ এই নয় যে, তাঁরা এই সনদে হাদিসটি বর্ণনা করেছেন, অর্থাৎ একজনের মাধ্যমে অন্যজনের বর্ণনা …

দ্বিতীয়ত: দুই শায়খ (الشيخين) তাঁদের এমন কিছু বর্ণনাকারীর হাদিস বর্ণনা করেছেন যারা দুর্বলতা (بالضعف) এর জন্য পরিচিত ছিলেন, তবে তাঁরা তাঁদের বর্ণিত হাদিসের মধ্য থেকে অল্প বা অধিক পরিমাণে সহিহ (الصحيح) হাদিসগুলো নির্বাচন (انتقيا) করে নিয়েছেন। এমতাবস্থায় আমরা কীভাবে এমন ধারণা দিতে পারি যে, এই শায়খ বা বর্ণনাকারীর হাদিস সামগ্রিকভাবে সহিহ (صحيح) … ।" (১)।

আর পরবর্তী যুগের (المتأخرين) কিছু আলেম এমন কিছু নতুন বিষয় খুঁজে পাওয়ার চেষ্টা করেছেন যা পূর্ববর্তীগণের (المتقدمين) দৃষ্টির অগোচরে রয়ে গিয়েছিল—তাদের দাবি অনুযায়ী—যেমন বিচ্ছিন্ন (المرسل) হাদিসকে সংযুক্ত করা, মাওকুফ (الموقوف) হাদিসকে মারফু হিসেবে বর্ণনা করা, অথবা কোনো শব্দ বৃদ্ধি করা যা পূর্ববর্তীগণের (المتقدمين) নিকট পরিচিত ছিল না। এগুলোর সবই হয় এমন যা পূর্ববর্তীগণ (المتقدمون) কোনো ত্রুটির (علة) কারণে বর্জন করেছিলেন, অথবা তা জালিয়াতদের কারসাজি।

এর একটি উদাহরণ হলো: রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: "আমি জ্ঞানের শহর আর আলী তার দরজা" (২)।

আমি বলছি: এই হাদিসটি সতেরটিরও বেশি বিভিন্ন সূত্রে (طرق) তিনজন সাহাবী থেকে বর্ণিত হয়েছে: "আলী, জাবির এবং ইবনে আব্বাস" রাদিয়াল্লাহু আনহুম।

মূলত পূর্ববর্তীগণ (المتقدمون) এই হাদিসটিকে ত্রুটিযুক্ত (أعلّه) সাব্যস্ত করেছেন। ইয়াহইয়া বিন মাইন বলেছেন: "আমি উমর বিন ইসমাইল বিন মুজালিদকে দেখেছি, সে উল্লেখযোগ্য কিছু নয় (ليس بشيء), সে চরম মিথ্যাবাদী (كذاب), এক মন্দ ও খবিস ব্যক্তি; সে আবু মুয়াবিয়া থেকে, তিনি আমাশ থেকে, তিনি মুজাহিদ থেকে, তিনি ইবনে আব্বাস থেকে এবং তিনি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে বর্ণনা করেছেন: 'আমি জ্ঞানের শহর আর আলী তার দরজা'?" অথচ এটি এমন একটি হাদিস যার কোনো ভিত্তি নেই (ليس له أصل)। আব্দুল্লাহ বলেন: আমি আমার পিতাকে এই বিষয়ে জিজ্ঞাসা করলে তিনি বললেন: "আমি মনে করি সে সত্যই বলেছে"। আব্দুর রহমান আমাদের জানিয়েছেন যে, তিনি বলেন: আমি আমার পিতাকে উমর বিন ইসমাইল বিন মুজালিদ সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করলে তিনি বললেন: "সে দুর্বল হাদিস বর্ণনাকারী (ضعيف الحديث)"। আব্দুর রহমান আমাদের সংবাদ দিয়েছেন যে:

--------------------------------------------

(১) মুকাদ্দিমা তারিখ বাগদাদ ১/ ১৭৩ - ১৭৬ (সংক্ষেপিত), বিস্তারিত সেখানে দেখুন কারণ সেখানে অতিরিক্ত ফায়দা রয়েছে।

(২) তিরমিজি (৩৭৩২), আল-ইলাল আল-কাবির (৬৯৯), আল-হাকিম ৩/ ১৩৭ ও ১৩৮, তাবারানি আল-কাবির ১১/ ৬৫ (১১০৬১)।
(খণ্ড: ১) আশ-শায ওয়াল মুনকার ওয়া যিয়াদাতুস সিকা - মুওয়াযানাহ বাইনাল মুতাকাদ্দিমীন ওয়াল মুতাআখখিরীন (পৃষ্ঠা: ৩৪)
سئل أبو زرعة عن عمر بن إسماعيل بن مجالد فقال: أملى علينا عن أبى معاوية عن الأعمش عن مجاهد عن ابن عباس عن النبي صلى الله عليه وسلم:أنا مدينة العلم وعلى بابها "، فأتيت يحيى بن معين فذكرت ذلك له فقال: قل يا عدو الله متى كتبت أنت هذا عن أبي معاوية؟ إنما كتبت أنت عن أبي معاوية ببغداد ولم يحدث أبو معاوية هذا الحديث ببغداد؟! " (1).

وأعله أيضا الإمام أحمد، وقال: " ما سمعناه! "، وعده كذباً! (2).

وأنكره الإمام البخاري (3)، والترمذي (4)،وكذا جهبذ العلل من المتأخرين الإمام الدارقطني (5)، وقال جمهور المحققين من المتأخريين: "موضوع "،كابن عدي (6)، والعقيلي (7)، وابن الجوزي (8)، والذهبي (9) وغيرهم، وإنما أعلّوه باعتبار أصل المتن، وأنّه لم يصح به.

قال ابن حبان: " كل من حدّث بهذا المتن إنما سرقه من أبي الصلت وإن قلب إسناده " (10). وعدَّ الدارقطني جماعة ممّن سرقه، حتى بلغوا عشرة (11).

فالحديث بهذا المتن لا يصح، ولو جاء من طريق صحيح لأنه لم يحفظ، وكل الطرق موضوعة له.

ثم جاء الحاكم ليصححه؟! ويقول:" هذا حديث صحيح الإسناد ولم يخرجاه" (12)؟

--------------------------------------------

(1) الجرح والتعديل، ابن أبي حاتم 6/ 99 (514).

(2) العلل ومعرفة الرجال 2/ 107 (645).

(3) علل الترمذي الكبير ص 375 (699)

(4) الجامع (3732)، والعلل ص 375 (699).

(5) العلل 3/ 247 (386)، وانظر لسان الميزان، ابن حجر 1/ 179 (574).

(6) الكامل 2/ 412 (840)، و5/ 67 (1244).

(7) الضعفاء 3/ 149 (1134).

(8) الموضوعات 1/ 348 فما بعد.

(9) تذكرة الحفاظ 1/ 1231 (1047)، وميزان الاعتدال 1/ 249 (428)، وفي 2/ 145 (1527) وغيرها.

(10) المجروحين 2/ 152.

(11) ذكره الدكتور الدميني، في كتابه مقاييس نقد متون السنة ص 167، ولم أقف عليه.

(12) المستدرك 3/ 138.
উমর ইবন ইসমাইল ইবন মুজালিদ সম্পর্কে আবু জুরআহ-কে জিজ্ঞাসা করা হলে তিনি বলেন: সে আমাদের কাছে আবু মুয়াবিয়া থেকে, তিনি আমাশ থেকে, তিনি মুজাহিদ থেকে, তিনি ইবন আব্বাস থেকে এবং তিনি নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) থেকে শ্রুতলিপি দিয়েছেন যে: "আমি জ্ঞানের নগরী এবং আলী তার দরজা।" অতঃপর আমি ইয়াহইয়া ইবন মাঈনের নিকট এসে তার কাছে বিষয়টি উল্লেখ করলাম। তিনি বললেন: (তাকে) বলো, ওহে আল্লাহর দুশমন! তুমি কখন এটি আবু মুয়াবিয়ার নিকট থেকে লিখেছিলে? তুমি তো আবু মুয়াবিয়ার নিকট থেকে কেবল বাগদাদে লিখেছিলে, অথচ আবু মুয়াবিয়া বাগদাদে এই হাদিসটি বর্ণনা করেননি! (১)।

ইমাম আহমদও একে ত্রুটিযুক্ত (أعله) সাব্যস্ত করেছেন এবং বলেছেন: "আমরা এটি শুনিনি!" আর তিনি একে মিথ্যা (كذباً) গণ্য করেছেন! (২)।

ইমাম বুখারি (৩) এবং তিরমিজি (৪) একে প্রত্যাখ্যান (أنكره) করেছেন। অনুরূপভাবে পরবর্তী যুগের ইললুল হাদিসের বিশেষজ্ঞ ইমাম দারা কুতনি (৫) এটি প্রত্যাখ্যান করেছেন। পরবর্তী যুগের অধিকাংশ গবেষক আলেম একে "জাল (موضوع)" বলেছেন; যেমন ইবন আদি (৬), উকায়লি (৭), ইবনুল জাওজি (৮), আজ-জাহাবি (৯) এবং অন্যান্যগণ। তারা মূলত একে হাদিসের মূল পাঠের (المتن) ভিত্তিতে ত্রুটিযুক্ত সাব্যস্ত করেছেন যে, এটি বিশুদ্ধ নয় (لم يصح)।

ইবন হিব্বান বলেছেন: "যারা এই পাঠটি (المتن) বর্ণনা করেছেন, তারা আসলে আবুস সালত থেকে এটি চুরি করেছেন, যদিও তারা এর সনদ (إسناده) পরিবর্তন করে দিয়েছেন" (১০)। দারা কুতনি এমন একদল বর্ণনাকারীকে গণ্য করেছেন যারা এটি চুরি করেছেন, এমনকি তাদের সংখ্যা দশ পর্যন্ত পৌঁছেছে (১১)।

সুতরাং, এই পাঠসহ (المتن) হাদিসটি বিশুদ্ধ নয় (لا يصح), যদিও তা কোনো বিশুদ্ধ (صحيح) সূত্রের (طريق) মাধ্যমে আসত; কারণ এটি সংরক্ষিত নয় (لم يحفظ), এবং এর সকল সূত্রই (الطرق) জাল (موضوعة)।

অতঃপর হাকেম এসে একে বিশুদ্ধ সাব্যস্ত (ليصححه) করতে চাইলেন?! এবং বললেন: "এই হাদিসটির সনদ বিশুদ্ধ (صحيح الإسناد) কিন্তু তারা এটি বর্ণনা করেননি" (১২)?

--------------------------------------------

(১) আল-জারহ ওয়াত তা'দিল, ইবন আবি হাতিম ৬/৯৯ (৫১৪)।

(২) আল-ইলাল ওয়া মারিফাতুর রিজাল ২/১০৭ (৬৪৫)।

(৩) ইলালুত তিরমিজি আল-কাবির, পৃষ্ঠা ৩৭৫ (৬৯৯)।

(৪) আল-জামি (৩৭৩২) এবং আল-ইলাল, পৃষ্ঠা ৩৭৫ (৬৯৯)।

(৫) আল-ইলাল ৩/২৪৭ (৩৮৬), এবং দেখুন লিসানুল মিযান, ইবন হাজার ১/১৭৯ (৫৭৪)।

(৬) আল-কামিল ২/৪১২ (৮৪০) এবং ৫/৬৭ (১২৪৪)।

(৭) আদ-দুয়াফা ৩/১৪৯ (১১৩৪)।

(৮) আল-মাওদুআত ১/৩৪৮ এবং পরবর্তী পৃষ্ঠাগুলো।

(৯) তাযকিরাতুল হুফফাজ ১/১২৩১ (১০৪৭), মিযানুল ইতিদাল ১/২৪৯ (৪২৮) এবং ২/১৪৫ (১৫২৭) ও অন্যান্য।

(১০) আল-মাজরুহিন ২/১৫২।

(১১) ড. আল-দুমাইনি এটি তার 'মাকায়িসু নাকদি মুতুনিল সুন্নাহ' গ্রন্থের ১৬৭ পৃষ্ঠায় উল্লেখ করেছেন, তবে আমি এর মূল উৎস পাইনি।

(১২) আল-মুস্তাদরাক ৩/১৩৮।
(খণ্ড: ১) আশ-শায ওয়াল মুনকার ওয়া যিয়াদাতুস সিকা - মুওয়াযানাহ বাইনাল মুতাকাদ্দিমীন ওয়াল মুতাআখখিরীন (পৃষ্ঠা: ৩৫)
وتبعه الحافظ ابن حجر العسقلاني فقال: " حسن بمجموع طرقه " (1)، وقال في لسان الميزان: "وهذا الحديث له طرق كثيرة في مستدرك الحاكم أقل أحوالها أن يكون للحديث أصل فلا ينبغي أن يطلق القول عليه بالوضع " (2).

وإنما قال ذلك لأنه: " اعتبر كثرة الطرق دليلاً على حسنه، وإن لم تسلم واحدة منها من الطعن " (3).

فالفرق بين منهجية النقد عند المتأخرين تختلف كثيراً عنها عند المتقدمين وأكثر ما يوضح هذا الفارق هو مبحث (زيادة الثقة)، إذ كم من أحاديث مرفوعة ردّها

المتقدمون لكون المحفوظ (موقوفاً) أو (مرسلاً)، أو غيرها من العلل رغم أنَّ الزائد ثقة، ثم يأتي بعدهم المتأخرون ليصححوا مثل ذلك اعتماداً على صحة السند وأن الزائد قد حفظ والحافظ حجة على من لم يحفظ؟

فعكسوا ميزان النقد، وتحول فيما بعد معيار صحة الحديث وعدمه هو اتصال السند، بنقل العدول الضابطين، أمّا (من غير شذوذ) فكان نصيبه خمطاً، إذ الشاذ قد يكون اسماً بلا مسمى!؟، فالبعض زعم أنّ الأئمة قد سووا بين الشاذ والفرد المطلق؟، فيلزم أن يكون في الشاذ الصحيح وغير الصحيح، وبعضهم خصصه فأطلقه على تفرد الثقة وهذا يلزم أن يكون في الصحيح الشاذ وغير الشاذ (4)؟! وهذا يعني أنّ قول الناقد: "شاذ " قد يريد به الحديث الصحيح الفرد الذي لا يتابع!،وهو قول مردود كما بينه الحافظ ابن حجر، كما سيأتي.

ثم جاءت بعض النصوص التي فصلت الإسناد عن المتن، فقد يصح الحديث سنداً ولا يصح متناً ثم تطلق عبارة التصحيح هكذا (إسناده صحيح، ورجاله ثقات)، فتعكّز عليها بعض المتأخرين، وخاصة من المعاصرين ليصححوا مئات، بل آلاف الأحاديث المعلولة تحت هذا الغطاء:" إسناده صحيح ".

بل كم تعكزّ بعض المعاصرين على عبارات الأئمة من المتأخرين الذين فصلوا

--------------------------------------------

(1) نقلاً عن الأسرار المرفوعة- الموضوعات الكبرى -، القاري ص118، وكشف الخفاء، العجلوني 1/ 235.

(2) لسان الميزان 2/ 122 (513).

(3) الدميني، نقد متون السنة ص167.

(4) انظر النكت على ابن الصلاح 2/ 652، وانظر ص 86 من هذا الكتاب.
হাফেজ ইবনে হাজার আল-আসকালানি তাঁকে অনুসরণ করেছেন এবং বলেছেন: "এর সকল সূত্রের সমষ্টিগত বিচারে এটি হাসান (حسن)" (১), এবং তিনি লিসানুল মিজান-এ বলেছেন: "মুস্তাদরাক আল-হাকেম-এ এই হাদিসের অনেকগুলো সূত্র রয়েছে, যার সর্বনিম্ন অবস্থা হলো হাদিসটির একটি ভিত্তি রয়েছে; সুতরাং এর ওপর জাল (وضع) হওয়ার হুকুম আরোপ করা উচিত নয়" (২)।

তিনি এ কথাটি বলেছেন কারণ: "তিনি সূত্রের আধিক্যকে হাদিসটি হাসান (حسن) হওয়ার দলীল হিসেবে গণ্য করেছেন, যদিও সেগুলোর একটিও আপত্তিমুক্ত নয়" (৩)।

পরবর্তী যুগের (মুতাআখখিরিন) সমালোচনামূলক পদ্ধতির সাথে পূর্ববর্তী যুগের (মুতাক্বাদ্দিমিন) পদ্ধতির পার্থক্য অনেক এবং এই পার্থক্যটি সবচেয়ে বেশি স্পষ্ট হয় 'নির্ভরযোগ্য রাবির অতিরিক্ত বর্ণনা' (زيادة الثقة) সংক্রান্ত আলোচনায়। কেননা, পূর্ববর্তীগণ এমন অনেক মারফু (مرفوع) হাদিস প্রত্যাখ্যান করেছেন যা সংরক্ষিত বর্ণনার বিপরীত হওয়ার কারণে মাওকুফ (موقوف) বা মুরসাল (مرسل) অথবা অন্যান্য ত্রুটির (العلل) কারণে অগ্রহণযোগ্য ছিল, যদিও অতিরিক্ত বর্ণনাকারী একজন নির্ভরযোগ্য (ثقة) ব্যক্তি ছিলেন। এরপর পরবর্তী যুগের আলেমগণ এসে সনদের বিশুদ্ধতার (صحة السند) ওপর ভিত্তি করে এই ধরনের হাদিসগুলোকে সহিহ (صحيح) বলে গণ্য করেন এবং যুক্তি দেন যে অতিরিক্ত বর্ণনাকারী তা মুখস্থ রেখেছেন, আর যে মুখস্থ রেখেছে সে তার বিরুদ্ধে দলিল যে মুখস্থ রাখেনি?

ফলে তাঁরা সমালোচনার মানদণ্ডকে উল্টে দিয়েছেন এবং পরবর্তীতে হাদিস সহিহ (صحيح) হওয়া বা না হওয়ার মানদণ্ড হয়ে দাঁড়ায় সনদের নিরবচ্ছিন্নতা (اتصال السند), যা ন্যায়পরায়ণ (العدول) ও প্রখর স্মৃতিশক্তিসম্পন্ন (الضابطين) রাবিদের বর্ণনার মাধ্যমে সাব্যস্ত হয়। তবে 'অসংগতিমুক্ত' (من غير شذوذ) হওয়ার বিষয়টি অবহেলিত রয়ে যায়, কেননা অসংগতিপূর্ণ (الشاذ) বিষয়টি তখন কেবল নামেই সীমাবদ্ধ ছিল, বাস্তবে এর প্রয়োগ ছিল না!? কেউ কেউ দাবি করেছেন যে ইমামগণ অসংগতিপূর্ণ (الشاذ) এবং একক বর্ণনার (الفرد المطلق) মধ্যে সমতা বজায় রেখেছেন? ফলে অসংগতিপূর্ণ (الشاذ) হাদিসের মধ্যে সহিহ (صحيহ) এবং অ-সহিহ উভয়টি থাকাই আবশ্যক হয়ে পড়ে। আবার কেউ কেউ একে নির্দিষ্ট করে কেবল নির্ভরযোগ্য রাবির একক বর্ণনার (تفرد الثقة) ক্ষেত্রে প্রয়োগ করেছেন, যার ফলে সহিহ (صحيহ) হাদিসের মধ্যে অসংগতিপূর্ণ (الشاذ) এবং অসংগতিমুক্ত উভয় প্রকার থাকা আবশ্যক হয়ে পড়ে (৪)?! এর অর্থ হলো, একজন সমালোচকের "অসংগতিপূর্ণ (شاذ)" উক্তিটির দ্বারা এমন একক সহিহ (صحيহ) হাদিস উদ্দেশ্য হতে পারে যার কোনো সমর্থক বর্ণনা নেই! আর এটি একটি প্রত্যাখ্যাত মত, যা হাফেজ ইবনে হাজার বর্ণনা করেছেন, যেমনটি সামনে আসবে।

এরপর এমন কিছু পাঠ্য সামনে আসে যা ইসনাদকে (الإسناد) মাতান (المتن) থেকে পৃথক করে ফেলে। ফলে কোনো হাদিস সনদের দিক থেকে সহিহ (صحيح) হতে পারে কিন্তু মাতানের দিক থেকে সহিহ (صحيহ) নাও হতে পারে। এরপর বিশুদ্ধকরণের পরিভাষাটি এভাবে প্রয়োগ করা হতে থাকে: "এর সনদ সহিহ এবং এর রাবিগণ নির্ভরযোগ্য (ثقات)"। পরবর্তীতে কিছু আলেম, বিশেষ করে সমসাময়িকদের অনেকে এই বিষয়টির ওপর ভর করে "এর সনদ সহিহ" এই আবরণে শত শত বরং হাজার হাজার ত্রুটিযুক্ত (المعلولة) হাদিসকে সহিহ (صحيহ) বলে আখ্যায়িত করেছেন।

এমনকি সমসাময়িকদের মধ্যে অনেকেই পরবর্তী যুগের সেই ইমামদের বক্তব্যের ওপর নির্ভর করেছেন যারা পৃথক করেছেন...

--------------------------------------------

(১) আল-আসরার আল-মারফুআ - আল-মাওদুআত আল-কুবরা, মোল্লা আলী ক্বারি, পৃ. ১১৮ এবং কাশফুল খাফা, আল-আজলুনি ১/২৩৫।

(২) লিসানুল মিজান ২/১২২ (৫১৩)।

(৩) আদ-দুমাইনি, নাকদু মুতুনুস সুন্নাহ, পৃ. ১৬৭।

(৪) দেখুন: আন-নুয়াকাত আলা ইবনিস সালাহ ২/৬৫২ এবং এই বইয়ের ৮৬ পৃষ্ঠা।