(খণ্ড: ১)
আদাবুল হিসবাহ
(পৃষ্ঠা: -)
آداب الحسبة القسم: السياسة الشرعية والقضاء
الكتاب: آداب الحسبة [مطبوعات معهد العلوم العليا المغربية - الجزء 21]
المؤلف: أبو عبد الله محمد بن أبي محمد السقطي المالقي الأندلسي
المحقق: ليفي بروفنسال - كولان
الناشر: مطبعة إرنست لورو - باريس
عام النشر: 1931
عدد الصفحات: 72
أعده للشاملة: مركز المحتسب http://almohtasb.com
[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]
تاريخ النشر بالشاملة: 21 ربيع الآخر 1439
আদাবুল হিসবাহ বিভাগ: শরয়ী রাজনীতি ও বিচার ব্যবস্থা
গ্রন্থ: আদাবুল হিসবাহ [মরক্কোর উচ্চতর বিজ্ঞান ইনস্টিটিউটের প্রকাশনা - ২১তম খণ্ড]
লেখক: আবু আব্দুল্লাহ মুহাম্মদ বিন আবি মুহাম্মদ আস-সাকাতী আল-মালাকী আল-আন্দালুসী
সম্পাদক: লেভি-প্রোভেনসাল - কোলিন
প্রকাশক: আর্নেস্ট লেরোক্স প্রেস - প্যারিস
প্রকাশকাল: ১৯৩১
পৃষ্ঠা সংখ্যা: ৭২
শামেলা সংস্করণের জন্য প্রস্তুত করেছে: আল-মুহতাসিব সেন্টার http://almohtasb.com
[গ্রন্থের নম্বর বিন্যাস মূল মুদ্রিত কপির অনুরূপ]
শামেলায় প্রকাশের তারিখ: ২১ রবিউল আখের ১৪৩৯
(খণ্ড: ১)
আদাবুল হিসবাহ
(পৃষ্ঠা: -)
آداب الحسبة
تأليف
الفقيه الأجل العالم العارف الأوحد
أبي عبد الله محمد بن أبي محمد السقطي المالقي الأندلسي رحمه الله -
আদাবুল হিসবাহ
রচনায়
মহান ফকিহ (فقيه), প্রাজ্ঞ পণ্ডিত, আধ্যাত্মিক তত্ত্বজ্ঞানী ও অনন্য ব্যক্তিত্ব
আবু আবদুল্লাহ মুহাম্মদ বিন আবি মুহাম্মদ আস-সাকতি আল-মালাকি আল-আন্দালুসি (আল্লাহ তাঁর প্রতি দয়া করুন) -
(খণ্ড: ১)
আদাবুল হিসবাহ
(পৃষ্ঠা: ১)
بِسْمِ اللَّهِ الرَّحْمَنِ الرَّحِيمِ
… صلى الله على سيدنا محمد وآله
قال الفقيه الأجل العالم العارف الأوحد أبي عبد الله محمد بن أبي محمد السقطي رحمه الله بمنه-:
الحمد لله الذي علمنا ما لم نكن نعلم، وفهمنا ما لم نكن نعرف ولا نفهم، وصلى الله على محمد نبيه ورسوله وسلم، وعلى آله الطيبين الطاهرين وشرف وكرم.
وبعد:
فإني لكثرة ما لزمت من الأسفار، وجلت من البلاد والأقطار، أيام رحلتي، وعنفوان شبيبتي وقوتي، وعرفني ثقات المسافرين، وأمناء التجار المتجولين، ألسنة الزمان، وحداث الحوادث من مكان إلى مكان، مع ما تصرفت فيه من الأشغال، وظهرت عليه بسبب الاشتغال، ونبهني على جلائه من رغب مني القرب، ونصح في الكشف عنه من أظهر في ولايتي الاعتقاد والحب، ممن كان شاهد واختبر، واستغنى بالتجربة عن الخبر، وحسنت في ذات الله نيته، وكرمت سجيته وطويته، تحصل في فهمي، وتقرر في حقيقة علمي، من أخبار مفسدي الباعة والصناع بالأسواق وغشهم في الكيل والميزان وبخسهم واستعمالهم الخدع للناس في معاملتهم، والتلبيس عليهم في مداخلتهم وملابستهم، وإحراز الحسبة عليهم وتقلد النظر في أمورهم من لا يحسن لذلك
পরম করুণাময় অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে (শুরু করছি)
… আমাদের নেতা মুহাম্মাদ এবং তাঁর পরিবারের ওপর আল্লাহর রহমত বর্ষিত হোক।
মহান ফকিহ, আলেম, আরেফ এবং অনন্য ব্যক্তিত্ব আবু আবদুল্লাহ মুহাম্মাদ বিন আবি মুহাম্মাদ আস-সাকাতী (আল্লাহ তাঁর অনুগ্রহে তাঁর প্রতি রহম করুন) বলেছেন:
সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর জন্য, যিনি আমাদের এমন কিছু শিখিয়েছেন যা আমরা জানতাম না এবং আমাদের এমন কিছু বুঝিয়েছেন যা আমরা চিনতাম না ও বুঝতাম না। আল্লাহর রহমত ও শান্তি বর্ষিত হোক তাঁর নবী ও রসূল মুহাম্মাদের ওপর এবং তাঁর পবিত্র ও পরিচ্ছন্ন পরিবারের ওপর, যাদের তিনি সম্মানিত ও উচ্চমর্যাদাশীল করেছেন।
অতঃপর:
আমি আমার সফরকালে অধিক ভ্রমণের কারণে এবং দেশ-বিদেশে পরিভ্রমণের ফলে, আমার যৌবনের প্রারম্ভে এবং শক্তির দিনগুলোতে, আমার কাছে নির্ভরযোগ্য (ثقات) পর্যটকগণ এবং ভ্রমণকারী বিশ্বস্ত (أمناء) বণিকগণ সমসাময়িক পরিস্থিতি এবং বিভিন্ন স্থানে ঘটে যাওয়া নিত্যনতুন ঘটনাবলী সম্পর্কে বর্ণনা করেছেন। এর সাথে সাথে আমি বিভিন্ন কর্মব্যস্ততার সাথে যুক্ত থাকাকালীন যা প্রত্যক্ষ করেছি এবং যে বিষয়গুলোর মুখোমুখি হয়েছি, এবং যারা আমার ঘনিষ্ঠ হতে আগ্রহী ছিলেন তারা আমাকে এসব বিষয়ে আলোকপাত করতে উৎসাহিত করেছেন। এছাড়া যারা আমার প্রতি গভীর বিশ্বাস ও ভালোবাসা পোষণ করতেন এবং যারা এই বিষয়গুলো উন্মোচন করার ব্যাপারে আমাকে হিতোপদেশ দিয়েছেন, যারা চাক্ষুষ দর্শন ও পরীক্ষা-নিরীক্ষা করেছেন এবং সংবাদ (الخبر) শোনার পরিবর্তে বাস্তব অভিজ্ঞতাকেই যথেষ্ট মনে করেছেন, যাদের নিয়ত আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য নিবেদিত ছিল এবং যাদের স্বভাব ও চরিত্র ছিল উন্নত—তাদের মাধ্যমে আমার উপলব্ধিতে এটি অর্জিত হয়েছে এবং আমার জ্ঞানের বাস্তবতায় সুনিশ্চিত হয়েছে। অর্থাৎ বাজারে বিক্রেতা ও কারিগরদের দুষ্কর্ম, পরিমাপ ও ওজনে তাদের জালিয়াতি, ওজনে কম দেওয়া এবং লেনদেনের ক্ষেত্রে মানুষের সাথে প্রতারণা ও জালিয়াতির আশ্রয় নেওয়া এবং তাদের সাথে মেলামেশা ও সামাজিকতায় ধোঁকা দেওয়া সম্পর্কে অনেক তথ্য অর্জিত হয়েছে। একইসাথে এমন ব্যক্তিদের ওপর তাদের তদারকির দায়িত্ব এবং তাদের বিষয়াবলী পর্যবেক্ষণের ভার ন্যস্ত হওয়া যারা এই কাজের যোগ্য নয়।
(খণ্ড: ১)
আদাবুল হিসবাহ
(পৃষ্ঠা: ২)
تناولا، ولا يعرف من الحلال والحرام مفصلا ولا مجملا، ما لم يسعني معه إلا التنبيه على مكرهم، والقول بالمعروف في نكرهم، لقول الله تعالى وتبارك: (ولتكن منكم أمة يدعون إلى الخير ويأمرون بالمعروف وينهون عن المنكر وأولئك هم المفلحون) مع أن الخطة لم تزل عظيما شأنها، رفيعا مكانها، وسيطة بين خطة القضاء والمظالم تجاذبهما في وجوه وتشاركهما، وتماثلهما في أمور وتشابكهما، فتجمع بين نظر شرعي وزجر سلطاني موقوفة على هيئة متقلدها وتنفيذ الحقوق للمعترف بها، وكان خلفاء الصدر الأول يباشرونها بأنفسهم لعموم مصلحتها وعظيم ثواب الله عليها إلى أن قصر في بعض الأزمان بواجبها، وتعين من ليس من أهلها للاشتغال بها، فلان أمرها، وهان خطبها وقدرها، وصارت سببا لتكسب المال لا لتفريق بين الحلال والحرام على أن مذهب العلماء أن القاعدة إذا نالها خلل لم يبطل حكمها، ولا زال وإن عفا رسمها.
وقد ولي أحد أصحاب الشافعي الحسبة ببغداد فنزل الجامع والقاضي جالس للحكم فيه فقال له: أما علمت أن الله عز وجل يقول: (في بيوت أذن الله أن ترفع ويذكر فيها اسمه يسبح له فيها بالغدو والآصال رجال لا تلهيهم تجارة ولا بيع عن ذكر) وإنه لتدخل المرأة إليك ومعها الطفل فيبول على الحصير والرجل يطأ الحصر وقد مشي غير متنعل في المواضع القذرة ودارك بك أولى، فلم يجلس بعدها في الجامع للحكم على أن مالكا يقول: القضاء في المسجد من الأمر القديم، ويروى أن يجلس القاضي في المسجد أو رحابة، وقد اتخذ سحنون من أصحابه بيتا في المسجد يقضي فيه، وفي بعض الآثار أن رسول الله صلى الله عليه وسلم كان يقضى في المسجد، ووجه عمر رضي الله عنه إلى العراق ليحرقوا دار ابن موسى الأشعري رضي الله عنه، وقال: اضرمها عليه نارا، لما بلغه أنه كان يقضي فيها وتكلم الناس
গৃহীত বিষয়ের প্রেক্ষাপটে, তারা হালাল ও হারাম সম্পর্কে বিস্তারিত (مفصلاً) কিংবা সংক্ষিপ্ত (مجملاً) কোনো জ্ঞানই রাখে না; এমতাবস্থায় তাদের চক্রান্ত সম্পর্কে সতর্ক করা এবং তাদের মন্দ আচরণের বিপরীতে সৎকাজের (المعروف) কথা বলা ছাড়া আমার আর কোনো অবকাশ ছিল না। কারণ মহান ও বরকতময় আল্লাহর বাণী: (তোমাদের মধ্যে এমন একদল থাকা উচিত যারা কল্যাণের দিকে আহ্বান করবে, সৎকাজের আদেশ দেবে এবং অসৎকাজে (المنكر) বাধা প্রদান করবে; আর তারাই সফলকাম।) যদিও এই পদের গুরুত্ব সর্বদা মহান এবং এর মর্যাদা ছিল অতি উচ্চ। এটি বিচারকার্য (القضاء) এবং অবিচার নিরসন (المظالم) বিভাগের মধ্যবর্তী একটি অবস্থান, যা বিভিন্ন দিক থেকে এই দুটির সাথে সম্পৃক্ত ও অংশীদার এবং বহু ক্ষেত্রে তাদের সদৃশ ও ওতপ্রোতভাবে জড়িত। এটি শরয়ি দৃষ্টিভঙ্গি এবং প্রশাসনিক শাসনের সংমিশ্রণ ঘটায়, যা এর দায়িত্বপ্রাপ্ত ব্যক্তির ব্যক্তিত্ব এবং স্বীকৃত অধিকারসমূহ বাস্তবায়নের ওপর নির্ভরশীল। ইসলামের প্রথম যুগের খলিফাগণ এর ব্যাপক জনকল্যাণ এবং আল্লাহর পক্ষ থেকে প্রাপ্ত মহান সওয়াবের আশায় নিজেরাই এটি পরিচালনা করতেন। পরবর্তীতে কোনো কোনো যুগে এর আবশ্যিক দায়িত্ব পালনে শিথিলতা দেখা দেয় এবং যারা এর যোগ্য নয় তারা এই কাজে নিযুক্ত হয়। ফলে এর শৃঙ্খলা শিথিল হয়ে পড়ে এবং এর গুরুত্ব ও মর্যাদা তুচ্ছ হয়ে যায়। এটি হালাল ও হারামের মধ্যে পার্থক্য করার পরিবর্তে অর্থ উপার্জনের একটি মাধ্যমে পরিণত হয়। তবে আলেমগণের মাযহাব হলো, যদি কোনো মূলনীতিতে (القاعدة) ত্রুটি দেখা দেয়, তবে এর বিধান (الحكم) বাতিল হয়ে যায় না এবং এর বাহ্যিক রূপ বিলীন হলেও এর কার্যকারিতা নিঃশেষ হয় না।
ইমাম শাফেয়ির এক অনুসারী বাগদাদে হিসবাহ পদের দায়িত্ব গ্রহণ করেন। তিনি জামে মসজিদে প্রবেশ করলেন যেখানে বিচারক বিচারকার্য পরিচালনার জন্য বসা ছিলেন। তিনি তাকে উদ্দেশ্য করে বললেন: "আপনি কি জানেন না যে আল্লাহ আযযা ওয়া জাল্লা বলেন: (সেই সব ঘরে যেগুলোকে উন্নীত করতে এবং যেখানে তাঁর নাম স্মরণ করতে আল্লাহ আদেশ দিয়েছেন, সেখানে সকাল ও সন্ধ্যায় তাঁর পবিত্রতা বর্ণনা করে এমন লোকরা, যাদেরকে ব্যবসা ও ক্রয়-বিক্রয় আল্লাহর স্মরণ থেকে বিমুখ করে না)। আপনার কাছে নারী আসে যার সাথে শিশু থাকে, সে মাদুরের ওপর প্রস্রাব করে দেয়। আর মানুষ জুতো ছাড়া অপবিত্র স্থানে হাঁটার পর মাদুর মাড়িয়ে ভেতরে প্রবেশ করে। অথচ আপনার নিজস্ব বাসভবনই আপনার জন্য অধিক উপযুক্ত।" এরপর থেকে তিনি আর বিচারের জন্য জামে মসজিদে বসেননি। যদিও ইমাম মালিক বলেন: মসজিদে বিচারকার্য (القضاء) পরিচালনা করা একটি প্রাচীন রীতি। বর্ণিত আছে যে, বিচারক মসজিদে বা এর সংলগ্ন প্রশস্ত চত্বরে বসবেন। সাহনুন তাঁর সাথীদের থেকে মসজিদের ভেতর একটি কক্ষ গ্রহণ করেছিলেন যেখানে তিনি বিচারকার্য পরিচালনা করতেন। কিছু বর্ণনায় (الآثار) এসেছে যে, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মসজিদে বিচারকার্য পরিচালনা করতেন। আর উমর রাদিয়াল্লাহু আনহু ইরাকে লোক পাঠিয়েছিলেন ইবনে মুসা আশআরি রাদিয়াল্লাহু আনহুর ঘর জ্বালিয়ে দেওয়ার জন্য। তিনি বলেছিলেন: "তার ঘরটি আগুনে জ্বালিয়ে দাও", যখন তাঁর কাছে সংবাদ পৌঁছাল যে তিনি সেখানে বিচারকার্য পরিচালনা করছেন এবং লোকজন নানা কথা বলছে।
(খণ্ড: ১)
আদাবুল হিসবাহ
(পৃষ্ঠা: ৩)
في ذلك فقيل إنما كان لما يتخوف من عجز الضعيف عن الوصول إليه، وإن عاقه عائق عن الخروج منها من مرض أو غيره فليفتح بابه ولا يمنع أحدا منه، ودعا أحد الملوك علي بن عبد الرحمن التميمي إلى شرطة الكوفة، فقال: لا أقبلها إلا أن تكفيني أهلك وأولادك، فقال: يا غلام ناد فيهم: من طلب إليه منهم حاجة فقد برئت منه الذمة، فقال الشعبي: فما رأيت صاحب شرطة أهيب منه ولقد كان يمر عليه الشهر وأزيد منه فلا يرتفع إليه خصمان لفرط مهابته.
وجعلت كتابي هذا مقسما على ثمانية أبواب ليقرب النظر فيه ويسهل فهمه على مستعمليه إن شاء الله تعالى وبه أستعين وهو حسبي ونعم الوكيل.
الباب الأول
في مقدمات الحسبة وشأن المحتسب
قال الله تبارك وتعالى: (كنت خير أمة أخرجت للناس تأمرون بالمعروف وتنهون عن المنكر) وقال عز وجل: (إن الله يأمر بالعدل والإحسان)، وقال عز من قائل: (وأحل الله البيع وحرم الربا)، وقال عز وجل: (ويل للمطففين الذين إذا اكتالوا على الناس يستوفون وإذا كالوهم أو وزنوهم يخسرون ألا يظن أولئك أنهم مبعوثون ليوم عظيم) وقال عز وجل: (واتقوا يوما ترجعون فيه إلى الله ثم توفي كل نفس ما كسبت وهم لا يظلمون)، وقال رسول الله صلى الله عليه وسلم: من غشنا فليس منا.
এ প্রসঙ্গে বলা হয়েছে যে, তা কেবল এ আশঙ্কায় ছিল যে কোনো দুর্বল (ضعيف) ব্যক্তি যেন তার নিকট পৌঁছাতে অক্ষম না হয়। আর যদি কোনো অসুস্থতা বা অন্য কোনো প্রতিবন্ধকতা তাকে বাইরে বের হতে বাধা দেয়, তবে সে যেন তার দরজা উন্মুক্ত রাখে এবং কাউকে তা থেকে বঞ্চিত না করে। জনৈক সম্রাট আলি ইবনে আবদুর রহমান আত-তামিমিকে কুফার পুলিশ প্রশাসনের দায়িত্ব গ্রহণের আহ্বান জানালে তিনি বলেন: "আমি এটি গ্রহণ করব না যতক্ষণ না আপনি আপনার পরিবার ও সন্তানদের থেকে আমাকে দায়মুক্ত করবেন।" রাজা তখন বললেন: "হে যুবক! তাদের মধ্যে ঘোষণা করে দাও যে, তাদের কেউ যদি তার কাছে কোনো প্রয়োজন নিয়ে আসে, তবে তার প্রতি আমার কোনো দায়বদ্ধতা থাকবে না।" শাবি বলেন: "আমি তার চেয়ে অধিক প্রভাবশালী ও গাম্ভীর্যপূর্ণ কোনো পুলিশ প্রধান দেখিনি। তার প্রভাবের আধিক্যের কারণে এমন হতো যে, এক মাস বা তারও বেশি সময় অতিবাহিত হয়ে যেত অথচ কোনো বিবাদমান দুই পক্ষ তার কাছে বিচার নিয়ে আসত না।"
আমি আমার এই গ্রন্থটিকে আটটি অধ্যায়ে বিন্যস্ত করেছি যাতে এটি পর্যালোচনা করা সহজ হয় এবং ইনশাআল্লাহ ব্যবহারকারীদের জন্য তা অনুধাবন করা সহজসাধ্য হয়। আমি আল্লাহর কাছেই সাহায্য প্রার্থনা করছি, তিনিই আমার জন্য যথেষ্ট এবং কতই না চমৎকার কর্মবিধায়ক।
প্রথম অধ্যায়
হিসবাহর (পাবলিক তদারকি) ভূমিকা ও মুহতাসিবের (তত্ত্বাবধায়ক) অবস্থা প্রসঙ্গে
আল্লাহ তাবারাকা ওয়া তায়ালা ইরশাদ করেছেন: "তোমরাই হলে শ্রেষ্ঠ উম্মত, যাদের মানবজাতির কল্যাণের জন্য বের করা হয়েছে; তোমরা সৎকাজের আদেশ দেবে এবং অসৎকাজ থেকে নিষেধ করবে।" আল্লাহ আযযা ওয়া জাল্লা আরও বলেন: "নিশ্চয়ই আল্লাহ ন্যায়পরায়ণতা ও সদাচরণের নির্দেশ দেন।" মহান আল্লাহ আরও বলেন: "আল্লাহ ব্যবসাকে হালাল করেছেন এবং সুদকে হারাম করেছেন।" আল্লাহ আযযা ওয়া জাল্লা আরও বলেন: "ধ্বংস সেই সকল মাপে কম দানকারীদের জন্য, যারা যখন মানুষের কাছ থেকে মেপে নেয় তখন পূর্ণমাত্রায় গ্রহণ করে। আর যখন তাদের মেপে দেয় বা ওজন করে দেয়, তখন তারা কম দেয়। তারা কি চিন্তা করে না যে, তারা এক মহা দিবসে পুনরুত্থিত হবে?" আল্লাহ আযযা ওয়া জাল্লা আরও বলেন: "তোমরা সেই দিনকে ভয় করো, যেদিন তোমাদের আল্লাহর দিকে ফিরিয়ে নেওয়া হবে, অতঃপর প্রত্যেক ব্যক্তিকে তার উপার্জিত আমলের পূর্ণ প্রতিদান দেওয়া হবে এবং তাদের ওপর কোনো জুলুম করা হবে না।" আর আল্লাহর রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেছেন: "যে আমাদের সাথে প্রতারণা করবে, সে আমাদের অন্তর্ভুক্ত নয়।"
(খণ্ড: ১)
আদাবুল হিসবাহ
(পৃষ্ঠা: ৪)
ونهى عليه السلام عن بيع الطعام قبل أن يستوفي، وعن بيعتين في بيعة، وعن الكالئ بالكالئ، وعن البيع والسلف، وعن بيع الحيوان باللحم، وعن بيع الحيوان بعضه ببعض، وعن بيع الكلب وعن بيع الهر، وعن أن يبيع الرجل على بيع أخيه حتى يبتاع أو يدور، وعن النجش والتصرية، وعن ذبح ذوات الدر، وعن تلاقي الركبان، وعن بيع الحاضر للبادي، وعن بيع الذهب بالذهب، والفضة بالفضة والبر بالبر والشعير بالشعير والتمر بالتمر والملح بالملح إلا مثلا بمثل يدا بيد، وعن المزابنة وهي بيع التمر بالتمر في رؤوس النخل والعنب بالزبيب والزرع بالحنطة وفريكه بيابسة والقمح المبلول بيابسه، وعن الصبرة بالصبرة، وعن العينة وهي أن يقول الرجل للرجل: اشتري كذا وأربحك به فيه كذا، وعن بيع التمر حتى يبدو صلاحه، وعن بيع التمر حتى يزهو والسنبل حتى يبيض، وعن صوف على ظهر ولبن في ضرع، وعن المحاقلة، وعن المخاية وهي كراء الأرض بما تنبت.
وخرج رسول الله صلى الله عليه وسلم إلى المصلى فرأى الناس يتبايعون فقال: يا معشر التجار فاستجابوا له صلى الله عليه وسلم ورفعوا أعناقهم وأبصارهم إليه فقال: إن التجار يبعثون يوم القيامة فجارا إلا من اتقي الله وبر وصدق، وقال صلى الله عليه وسلم: التاجر الصدوق المسلم مع النبيين والصديقين والشهداء يوم القيامة، وقال صلى الله عليه وسلم: الحلف منفقة للسلع ممحقة للربح، وقال عليه السلام: إن الحلال بين والحرام بين وبينهما أمور متشابهات لا يعلمهن كثير من الناس فمن اتقي الشبهات استبرأ لدينه وعرضه ومن وقع في الشبهات وقع في الحرام، ومر عليه السلام بصبرة طعام فأدخل يده فيها فنالت أصابعه بللا فقال: ما هذا يا صاحب الطعام، فقال: أصابته السماء يا رسول الله، فقال: أفلا جعلته فوق الطعام كي يراه الناس، من غش
এবং তিনি (আলাইহিস সালাম) পণ্য পুরোপুরি হস্তগত করার পূর্বে খাদ্য বিক্রি করা, এক বিক্রয়ের মধ্যে দুই বিক্রয় (بيعتين في بيعة), বাকির বিনিময়ে বাকি (الكالئ بالكالئ) লেনদেন করা, ঋণ ও বিক্রয় একত্র করা, মাংসের বিনিময়ে জীবিত পশু বিক্রয়, এক পশুর বিনিময়ে অন্য পশু বিক্রয়, কুকুর ও বিড়াল বিক্রয় এবং কোনো ব্যক্তির সওদার ওপর অন্য ভাইয়ের সওদা করা যতক্ষণ না সে ক্রয় সম্পন্ন করে বা ছেড়ে দেয়—তা থেকে নিষেধ করেছেন। তিনি কৃত্রিমভাবে দাম বাড়ানো (النجش), ধোঁকা দেওয়ার উদ্দেশ্যে পশুর ওলানে দুধ জমিয়ে রাখা (التصرية), দুগ্ধবতী পশু জবাই করা, বাণিজ্যিক কাফেলার সাথে শহরের বাইরে গিয়ে সাক্ষাৎ করা (تلاقي الركبان), কোনো শহুরে লোক কর্তৃক গ্রাম্য লোকের পণ্য বিক্রয় (بيع الحاضر للبادي) এবং স্বর্ণের বিনিময়ে স্বর্ণ, রুপার বিনিময়ে রুপা, গমের বিনিময়ে গম, যবের বিনিময়ে যব, খেজুরের বিনিময়ে খেজুর ও লবণের বিনিময়ে লবণ বিক্রয় করতে নিষেধ করেছেন; তবে তা সমপরিমাণ ও হাতে হাতে (يدا بيد) হলে বৈধ। তিনি মুজাবানাহ (المزابنة) থেকেও নিষেধ করেছেন, যা হলো গাছের মাথায় থাকা খেজুরের বিনিময়ে পাড়া খেজুর বিক্রয় করা, আঙুরের বিনিময়ে কিসমিস বিক্রয় করা, শস্যক্ষেতের ফসলের বিনিময়ে গম বিক্রয় করা, আর্দ্র শস্য শুষ্ক শস্যের বিনিময়ে এবং ভেজা গম শুকনা গমের বিনিময়ে বিক্রয় করা। তিনি পরিমাপ না করে এক স্তূপ খাদ্যের বিনিময়ে অন্য স্তূপ খাদ্য বিক্রয় এবং আইনাহ (العينة) পদ্ধতি থেকেও নিষেধ করেছেন; আর তা হলো কোনো ব্যক্তি অন্যকে বলবে: 'আমার জন্য অমুক বস্তু কিনে দাও, আমি তোমার কাছ থেকে এত লাভে তা কিনে নেব।' তিনি খেজুর পরিপক্ক (صلاحه) হওয়ার আগে এবং খেজুর বর্ণিল বা লালচে-হলুদ (يزهو) হওয়ার আগে ও গমের শীষ সাদা হওয়ার আগে তা বিক্রয় করতে নিষেধ করেছেন। তিনি পশুর পিঠের পশম এবং ওলানে থাকা দুধ (আলাদা করার আগে) বিক্রয় করতে, মুহাকালাহ (المحاقلة) এবং মুখায়াহ (المخاية) থেকেও নিষেধ করেছেন, যার অর্থ হলো ভূমিতে উৎপাদিত ফসলের বিনিময়ে জমি ভাড়া দেওয়া।
রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ঈদগাহের দিকে বের হলেন এবং দেখলেন মানুষ ক্রয়-বিক্রয় করছে। তিনি বললেন: হে ব্যবসায়ী সম্প্রদায়! তারা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের ডাকে সাড়া দিলেন এবং তাদের ঘাড় ও দৃষ্টি তাঁর দিকে উত্তোলন করলেন। তিনি বললেন: নিশ্চয়ই ব্যবসায়ীরা কিয়ামতের দিন পাপাচারী (فجارا) হিসেবে পুনরুত্থিত হবে, তবে তারা ব্যতীত যারা আল্লাহকে ভয় করেছে, পুণ্য অর্জন করেছে এবং সত্য কথা বলেছে। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আরও বলেছেন: সত্যবাদী মুসলিম ব্যবসায়ী কিয়ামতের দিন নবীগণ, সত্যনিষ্ঠ (الصديقين) এবং শহীদদের (الشهداء) সাথে থাকবেন। তিনি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: মিথ্যা কসম পণ্য বিক্রয়ে সহায়ক হলেও তা মুনাফা বিনাশকারী। তিনি আলাইহিস সালাম বলেছেন: নিশ্চয়ই হালাল স্পষ্ট এবং হারামও স্পষ্ট; আর এ দুয়ের মাঝে রয়েছে বহু সন্দেহজনক (متشابهات) বিষয়, যা অনেক মানুষই জানে না। সুতরাং যে ব্যক্তি সন্দেহজনক বিষয় থেকে বেঁচে থাকল, সে তার দ্বীন ও সম্মান রক্ষা করল। আর যে ব্যক্তি সন্দেহজনক বিষয়ে লিপ্ত হলো, সে হারামে পতিত হলো। তিনি আলাইহিস সালাম একটি খাদ্যের স্তূপের পাশ দিয়ে যাচ্ছিলেন, তখন তিনি তার ভেতরে হাত প্রবেশ করালেন এবং তাঁর আঙুলগুলো আর্দ্রতা স্পর্শ করল। তিনি বললেন: হে খাদ্যের মালিক, এটি কী? সে বলল: হে আল্লাহর রাসূল, এতে বৃষ্টির পানি লেগেছে। তিনি বললেন: তবে কেন তুমি তা খাদ্যের উপরে রাখলে না যাতে মানুষ তা দেখতে পায়? যে ব্যক্তি প্রতারণা (غش) করল...
(খণ্ড: ১)
আদাবুল হিসবাহ
(পৃষ্ঠা: ৫)
فليس مني، ولعن صلى الله عليه وسلم آكل الربا ومؤكله وكاتبه وشاهديه وقال: هم سواء، وقال صلى الله عليه وسلم: إن الربى وإن كثر فإنه يرجع إلى قل، وقال صلى الله عليه وسلم: ما نقص قوم المكيال والميزان إلا أخذوا بالسنين وشدة المؤنة وجور السلطان عليهم، وقال صلى الله عليه وسلم: رحمه الله رجلا سمحا إذا باع وإذا اشترى وإذا اقتضى، وقال الناس: يا رسول الله غلا السعر فسعر لنا، فقال: إن الله هو المسعر القابض الباسط الرازق وإني لأرجو أن ألقى الله وليس أحد منكم يطالبني بمظلمة في دم ولا مال، وقال: بيع المحفلات خلابة ولا تحل خلابة مسلم، ومر عم رضي الله عنه على حاطب بن أبي بلتعة وهو يبيع زبيبا في السوق فقال له: إما أن تزيد في السعر وإما أن تخرج من سوقنا، وقال رضي الله عنه: من جلب طعاما على عمود ظهره فذلك ضيف عمر يبيعه كيف يشاء ويذهب به حيث شاء، وتمنع الحكرة إذا ضرت بالناس وكانوا بحال ضيق وشدة، ومن احتكر طعاما في حين الرخاء وحدث غلاء السعر فهل يجبر على إخراجه للناس أم لا، وجهان يأخذ بأيهما شاء من يجب له النظر في ذلك وكذلك يأمر في وقت الشدة بإخراج الأطعمة إلى السوق وتباع فيها ولا تباع في الدور لما في ذلك من تقوية النفوس.
ويجب أن يكون من ولي النظر في الحسبة فقيها في الدين قائما مع الحق نزيه النفس عالي الهمة معلوم العدالة ذا أناة وحلم، وتيقظ وفهم، عارفا بجزئيات الأمور، وسياسيات الجمهور، لا يستنفره طمع ولا تلحقه هوادة ولا تأخذه في الله لومة لائم مع مهابة تمنع من الإدلال عليه وترهب الجاني لديه، فقد روي عن علي رضي الله عنه أنه أقام الحد على رجل فقال: قتلتني يا أمير المؤمنين، فقال له: الحق قتلك، قال فارحمني، قال الذي أوجب عليك الحد أرحم بك مني، ومن شأنه ألا يثرب في شيء إلا بعد أن ينهى عنه ويتقدم فيه ولا ينكر
...সে আমার দলভুক্ত নয়। রাসূলুল্লাহ (সা.) সুদ গ্রহণকারী, সুদ প্রদানকারী, সুদের লেখক এবং তার দুই সাক্ষীকে অভিশপ্ত করেছেন এবং বলেছেন: তারা সকলে সমান। রাসূলুল্লাহ (সা.) আরও বলেছেন: সুদের পরিমাণ যতই বৃদ্ধি পাক না কেন, তার শেষ পরিণতি হয় স্বল্পতা বা সংকীর্ণতা। রাসূলুল্লাহ (সা.) আরও বলেছেন: কোনো জাতি যখনই মাপে ও ওজনে কম দেয়, তখনই তাদের দুর্ভিক্ষ, জীবনযাত্রার কঠোরতা এবং শাসকের জুলুমের মাধ্যমে পাকড়াও করা হয়। রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেন: আল্লাহ সেই ব্যক্তির প্রতি রহম করুন যে বিক্রয় করার সময়, ক্রয় করার সময় এবং পাওনা আদায়ের সময় সহনশীল ও উদার হয়। লোকেরা বলল: হে আল্লাহর রাসূল! দ্রব্যমূল্য বেড়ে গেছে, তাই আপনি আমাদের জন্য মূল্য নির্ধারণ করে দিন। তিনি বললেন: নিশ্চয়ই আল্লাহই মূল্য নির্ধারণকারী, সংকীর্ণকারী, প্রশস্তকারী এবং রিযিকদাতা। আমি আশা করি আল্লাহর সাথে এমন অবস্থায় সাক্ষাত করব যে, তোমাদের কেউ যেন রক্ত বা সম্পদ সংক্রান্ত কোনো জুলুমের দাবিতে আমাকে অভিযুক্ত না করে। তিনি আরও বলেছেন: বিক্রয় বৃদ্ধির উদ্দেশ্যে পশুর ওলানে দুধ জমিয়ে রাখা (محفلات) এক প্রকার প্রতারণা, আর কোনো মুসলিমের সাথে প্রতারণা করা বৈধ নয়। হযরত উমর (রা.) হাতিব ইবনে আবি বালতায়া-এর পাশ দিয়ে যাওয়ার সময় তাকে বাজারে কিশমিশ বিক্রি করতে দেখে বললেন: হয় তুমি মূল্য বৃদ্ধি করো, নতুবা আমাদের বাজার থেকে বেরিয়ে যাও। তিনি (রা.) আরও বলেছেন: যে ব্যক্তি নিজের কাঁধে করে খাদ্যশস্য বহন করে নিয়ে আসবে, সে উমরের মেহমান; সে যেভাবে ইচ্ছা তা বিক্রয় করবে এবং যেখানে ইচ্ছা নিয়ে যাবে। পণ্য মজুদদারি করা নিষিদ্ধ হবে যদি তা মানুষের ক্ষতির কারণ হয় এবং তারা অভাব ও সংকটের মধ্যে থাকে। প্রাচুর্যের সময় কেউ যদি খাদ্যশস্য মজুদ করে এবং পরবর্তীতে দ্রব্যমূল্য বৃদ্ধি পায়, তবে তাকে তা বাজারে বের করে দিতে বাধ্য করা হবে কি না—এ বিষয়ে দুটি অভিমত রয়েছে; যার ওপর তদারকির দায়িত্ব অর্পিত তিনি এ দুটির মধ্য থেকে যেটি উপযুক্ত মনে করেন সেটি গ্রহণ করবেন। অনুরূপভাবে, সংকটের সময়েও খাদ্যদ্রব্য বাজারে নিয়ে আসার এবং সেখানে বিক্রয় করার নির্দেশ দেওয়া হবে; তা বাড়িতে বসে বিক্রয় করা যাবে না, যাতে সাধারণ মানুষের মনে স্বস্তি ও মনোবল ফিরে আসে।
যিনি হিসবাহ বা জনকল্যাণমূলক তদারকির দায়িত্ব পালন করবেন, তাকে অবশ্যই দ্বীনের জ্ঞানে ফকীহ হতে হবে, সত্যের ওপর প্রতিষ্ঠিত হতে হবে, নিষ্কলুষ চরিত্রের অধিকারী এবং উচ্চাকাঙ্ক্ষী হতে হবে। তার ন্যায়পরায়ণতা (عدالة) সর্বজনবিদিত হতে হবে এবং তাকে ধৈর্য, সহনশীলতা, সতর্কতা ও প্রজ্ঞার অধিকারী হতে হবে। তাকে বিষয়ের সূক্ষ্মতা এবং জননীতি সম্পর্কে সম্যক অবগত হতে হবে। কোনো লালসা যেন তাকে বিচ্যুত না করে, কোনো শৈথিল্য যেন তাকে স্পর্শ না করে এবং আল্লাহর কাজে কোনো নিন্দুকের নিন্দা যেন তাকে প্রভাবিত না করে। তার মধ্যে এমন ব্যক্তিত্ব ও গাম্ভীর্য থাকা আবশ্যক যা অন্যের অনধিকার চর্চাকে প্রতিহত করে এবং অপরাধীকে তটস্থ রাখে। হযরত আলী (রা.) থেকে বর্ণিত (روي) হয়েছে যে, তিনি এক ব্যক্তির ওপর নির্ধারিত দণ্ড (حد) কার্যকর করছিলেন। তখন লোকটি বলল: হে আমিরুল মুমিনীন! আপনি তো আমাকে মেরে ফেললেন। তিনি বললেন: সত্য (ন্যায়বিচার) তোমাকে হত্যা করেছে। লোকটি বলল: তবে আমার প্রতি দয়া করুন। তিনি বললেন: যিনি তোমার ওপর এই দণ্ড (حد) অবধারিত করেছেন, তিনি তোমার প্রতি আমার চেয়েও বেশি দয়ালু। আর তদারককারীর নীতি হলো, কোনো বিষয়ে নিষেধাজ্ঞা প্রদান ও সতর্ক করার আগে তিনি তিরস্কার করবেন না এবং তা প্রত্যাখ্যান করবেন না।
(খণ্ড: ১)
আদাবুল হিসবাহ
(পৃষ্ঠা: ৬)
على أحد إلا بعد أن يحقق ما هو، قال الله تعالى: وما كنا معذبين حتى نبعث رسولا، وكما روى عن عمر رضي الله عنه حين رأي رجلا يطوف بالبيت وعل عنقه مثل المهاة جمالا وحسنا وهو يقول:
عدت لهاذي جملا ذلولا
موطأ أتَّبع السهولا
أعدلها بالكف أن تميلا
أحذر أن تسقط أو تزولا
أرجو بذلك نائلا جميلا
فقال عمر: من هذه يا عبد الله التي وهبت لها حجك، فقال امرأتي يا أمير المؤمنين وإنها حمقاء مرغامة، أكول قمامه، لا يبقي لها خامه، قال له ما لك لا تطلقها، قال: إنها حسناء لا تفرك، وأم صبيان لا تترك، فقال فشأنك بها فلم ينكر رضي الله عنه حتى استخبره.
وروى أنه رضي الله عنه نهى عن الرجال أن يطوفوا مع النساء فرأى رجلا يصلي مع النساء فضربه بالدرة فقال الرجل: والله لئن كنت أحسنت لقد ظلمتني ولئن كنت أسأت فما أعلمتني؟ فقال عمر: أما شهدت عزمتي، فقال ما شهدت لك عزمة، فألقي إليه الدرة وقال: اقتص، قال: لا اقتص اليوم، قال فاعف عني، قال: لا أعفو، فافترقا ثم لقيه في الغد فتغير وجه عمر رضي الله عنه فقال له الرجل: يا أمير المؤمنين كأني أرى ما كان مني قد أسرع فيك، قال: أجل، قال: فإني أشهدك أني عفوت عنك.
وحكي أن ابن عائشة رأى رجلا يكلم امرأة في الطريق فقال له: إن كانت
...কারো বিষয়ে [কোনো সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা উচিত নয়] যতক্ষণ না সে বিষয়টি নিশ্চিত করে। আল্লাহ তাআলা বলেছেন: "আর আমি রাসূল না পাঠানো পর্যন্ত কাউকে শাস্তি দেই না।" যেমন উমর (রা.) থেকে বর্ণিত (روي) হয়েছে যে, তিনি এক ব্যক্তিকে কাবার চারপাশ তাওয়াফ করতে দেখলেন, যার ঘাড় বুনো গাভীর ন্যায় সুন্দর ও মনোরম ছিল এবং সে বলছিল:
আমি এর জন্য এক অনুগত উটে পরিণত হয়েছি,
মৃদু পদক্ষেপে আমি সহজ পথ অনুসরণ করি,
হাত দিয়ে আমি তাকে সোজা রাখি যাতে হেলে না পড়ে,
আমি আশঙ্কা করি পাছে সে পড়ে যায় বা স্থানচ্যুত হয়,
এর মাধ্যমে আমি উত্তম প্রতিদান প্রত্যাশা করি।
তখন উমর (রা.) বললেন: হে আল্লাহর বান্দা! এই নারী কে যার জন্য তুমি তোমার হজ উৎসর্গ করেছ? সে বলল: হে আমিরুল মুমিনিন! তিনি আমার স্ত্রী। তবে তিনি নির্বোধ ও অত্যন্ত কলহপ্রিয়, অতিভোজী এবং ঘরের সকল খাদ্য নিঃশেষকারী। উমর (রা.) তাকে বললেন: কেন তুমি তাকে তালাক দিচ্ছ না? সে বলল: তিনি অতি সুন্দরী তাই তাকে ঘৃণা করা যায় না, আর তিনি সন্তানদের জননী তাই তাকে ত্যাগ করা যায় না। তখন তিনি বললেন: তবে তোমার ইচ্ছা অনুযায়ী তাকে নিয়ে থাকো। সুতরাং উমর (রা.) বিষয়টি সম্পর্কে বিস্তারিত অবগত হওয়ার আগ পর্যন্ত কোনো প্রতিবাদ করেননি।
আরও বর্ণিত (روي) আছে যে, তিনি (রা.) পুরুষদের মহিলাদের সাথে তাওয়াফ করতে নিষেধ করেছিলেন। একদা তিনি এক ব্যক্তিকে মহিলাদের সাথে সালাত আদায় করতে দেখলেন এবং তাকে দোররা দিয়ে আঘাত করলেন। তখন লোকটি বলল: আল্লাহর কসম! আমি যদি ভালো কাজ করে থাকি তবে আপনি আমার ওপর জুলুম করেছেন, আর যদি আমি মন্দ কাজ করে থাকি তবে আপনি তো আমাকে তা শিক্ষা দেননি। উমর (রা.) বললেন: তুমি কি আমার কঠোর নির্দেশ শোনোনি? সে বলল: আমি আপনার কোনো নির্দেশের কথা শুনিনি। তখন তিনি তার দিকে দোররাটি ছুড়ে দিলেন এবং বললেন: আমার থেকে প্রতিশোধ (قصاص) গ্রহণ করো। সে বলল: আজ আমি প্রতিশোধ নেব না। উমর (রা.) বললেন: তবে আমাকে ক্ষমা করো। সে বলল: আমি ক্ষমা করব না। এরপর তারা আলাদা হয়ে গেলেন। পরদিন যখন তার সাথে দেখা হলো, উমর (রা.)-এর চেহারার বর্ণ বিবর্ণ হয়ে গিয়েছিল। লোকটি তাকে বলল: হে আমিরুল মুমিনিন! আমি দেখতে পাচ্ছি যে আমার বিষয়টি আপনার ওপর গভীর প্রভাব ফেলেছে। তিনি বললেন: হ্যাঁ। লোকটি বলল: আমি আপনাকে সাক্ষী রাখছি যে, আমি আপনাকে ক্ষমা করে দিয়েছি।
আরও বর্ণিত (حكي) আছে যে, ইবনে আইশা এক ব্যক্তিকে রাস্তার মাঝে এক মহিলার সাথে কথা বলতে দেখলেন। তখন তিনি তাকে বললেন: সে যদি
(খণ্ড: ১)
আদাবুল হিসবাহ
(পৃষ্ঠা: ৭)
حرمتك إنه لقبيح بك أن كلمها بين الناس وإن لم تكن حرمتك فهو أقبح، ثم تولي عنه وجلس للناس يحدثهم فإذا برقعة قد ألقيت في حجره مكتوب فيها:
إن التي أبصرتني
… سحرا أكلمها رسول
أدت إلي رسالة
… كادت لها نفسي تسيل
من فاتر الألحاظ يجذب خصره ردف ثقيل
متنكبا قوس الصبي
… يرمي وليس له رسيل
فلو أن اذنك عندنا
… حتى تسمع ما نقول
لرأيت ما استقبحت
… من أمري هو الحسن الجميل
فقرأها ابن عائشة ووجد على ظهرها مكتوبا: أبو نواس فقال: مالي ولأبي نواس محتمل.
وكان في الكوفة محتسب لم يترك مؤذنا يؤذن في منار إلا معصوب العينين من أجل ديار الناس وحريمهم ولله دره فإنه احتاط وأجاد.
ولقد كنت أقول منذ رأيت هذه الحكاية: ليت شعري لم فعل هذا، حتى حكى لي جماعة من الثقات أنهم شاهدوا بمراكش قضية عجيبة وذلك أن أحد الرؤساء أمر ليلة من الليالي حشمة وخدمه أن يتظاهروا لديه بصحن داره في السلاح التام ليري ما يعجبه منهم وبين يديه شمع زاهر وأضواء كثيرة وجعلوا يحمل بعضهم على بعض يظهرون لسيدهم ما أحكموه من ما طلبهم به فبصر بهم مؤذن من منار مسجد كان يطلع على الدار فصاح باللسان الغربي: غدرتم يا مسلمين ودخلت دار فلان، فتسابق الناس إلى الدار ووقعت من ذلك في البلد رجة عظيمة وتمشى الصياح في الناس وكانت هيشة كبيرة كان سببها اطلاع
আপনার পরিজন; জনসম্মুখে তার সাথে আপনার কথা বলা অত্যন্ত কুরুচিপূর্ণ; আর যদি সে আপনার পরিজন না হয়, তবে তা আরও বেশি জঘন্য। অতঃপর তিনি তার দিক থেকে মুখ ফিরিয়ে নিলেন এবং লোকদের নিকট হাদিস বর্ণনার জন্য বসলেন। হঠাৎ তার কোলে একটি চিরকুট নিক্ষেপ করা হলো যাতে লেখা ছিল:
নিশ্চয় যাকে আপনি প্রভাতে আমার সাথে কথা বলতে দেখেছেন
… সে একজন বার্তা বাহক মাত্র
সে আমার কাছে একটি বার্তা পৌঁছে দিয়েছে
… যাতে আমার প্রাণ ওষ্ঠাগত হয়েছিল
ঢিলেঢালা চাউনিবিশিষ্ট, যার ভারী নিতম্ব ক্ষীণ কটিদেশকে আকর্ষণ করছে
যৌবনের ধনুক কাঁধে ঝুলিয়ে
… সে তীর নিক্ষেপ করে অথচ তার কোনো সঙ্গী নেই
যদি আপনার কান আমাদের নিকট থাকত
… তবে আমরা যা বলি তা আপনি শুনতে পেতেন
তবে আপনি আমার যে বিষয়টিকে কুরুচিপূর্ণ মনে করেছেন
… তা অত্যন্ত সুন্দর ও চমৎকার হিসেবেই দেখতে পেতেন
ইবনে আইশা এটি পাঠ করলেন এবং এর পেছনে 'আবু নুওয়াস' লেখা দেখতে পেলেন। তখন তিনি বললেন: "আবু নুওয়াসের সাথে আমার কীসের লেনদেন? এটি সহনীয় (محتمل)।"
কুফায় একজন মুহতাসিব ছিলেন যিনি কোনো মুয়াজ্জিনকে চোখ বাঁধা অবস্থা ছাড়া মিনারে আজান দিতে অনুমতি দিতেন না। এটি ছিল মানুষের ঘরবাড়ি এবং তাদের পর্দার গোপনীয়তা রক্ষার খাতিরে। আল্লাহর কসম, তিনি কতই না উত্তম কাজ করেছেন! কেননা তিনি সতর্কতা অবলম্বন করেছেন এবং সঠিক সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।
আমি যখন থেকে এই কাহিনীটি দেখেছি, তখন থেকেই ভাবতাম: হায়! তিনি কেন এমনটি করতেন? পরিশেষে নির্ভরযোগ্য (الثقات) একদল ব্যক্তি আমার কাছে বর্ণনা করলেন যে, তারা মারাকেশে এক অদ্ভুত ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী ছিলেন। তা হলো— জনৈক নেতা কোনো এক রাতে তার অনুসারী ও সেবকদের নির্দেশ দিলেন যেন তারা তার প্রাসাদের আঙিনায় পূর্ণ রণসাজে সজ্জিত হয়ে মহড়া দেয়, যাতে তিনি তাদের রণকৌশল দেখে আনন্দিত হতে পারেন। তার সামনে প্রজ্জ্বলিত মোমবাতি ও প্রচুর আলো ছিল। তারা একে অপরের ওপর আক্রমণ করার মহড়া দিচ্ছিল এবং তাদের মনিব যা চেয়েছিলেন, তাতে তারা তাদের পারদর্শিতা প্রদর্শন করছিল। এমতাবস্থায় একটি মসজিদের মিনার থেকে জনৈক মুয়াজ্জিন তাদের দেখতে পেলেন, যেখান থেকে ওই বাড়িটি দেখা যেত। তিনি পশ্চিমা ভাষায় চিৎকার করে উঠলেন: "হে মুসলিমগণ, তোমরা বিশ্বাসঘাতকতা করেছ! অমুকের বাড়িতে হামলা হয়েছে!" ফলে মানুষ সেই বাড়ির দিকে ছুটে এল এবং শহরে এক বিশাল হুলস্থুল সৃষ্টি হলো। চারদিকে মানুষের আর্তনাদ ছড়িয়ে পড়ল এবং এটি এক বড় হাঙ্গামায় রূপ নিল, যার মূল কারণ ছিল উপর থেকে উঁকি দিয়ে দেখা।
(খণ্ড: ১)
আদাবুল হিসবাহ
(পৃষ্ঠা: ৮)
المؤذن، مع أني رأيت بعض المتحدثين يحقق إنما قصد هذا المؤذن المكر بصاحب الدار والتبشيع عليه حسدا على ما بسط له من دنياه وقد يمكن ذلك إلى غير ذلك من ما يخاف في حقهم من الفتن عليهم سبب اطلاعهم، كما اتفق للرجل الدهان الذي رأيته بغرناطة وحدثت عليه أنه كان مؤذنا أيام فتائه بإحدي البنيات وكان يشرف من موضع أذانه على دار فيها جارية حسناء أعجبه حالها ولما علمت بشأنه لم تزل تبرح له وتشير إليه وتنازيه حتى شغف بها فعرضت له يومًا وهو في أثناء الآذان وشغلته حتى زاد أو نقص وسمعه الناس فأجفلوا إليه وشاع أمره فاضطرته الحال إلى أن فر عن ذلك الموضع واستوطن غيره وترك الآذان ولزم صنعته إلى أن توفي عفا الله عنا وعنه وكفانا الفتن بمنه.
وقد تقدم لبعض الشعراء في ذلك:
ليتني في المؤذنين حياتي
… إنهم يبصرون من في السطوح
فيشيرون أو تشير إليهم
… بالهوى كل ذات دل مليح
والناظر في الحسبة ينكر بحسب الموضع والشخص والحال، وترك مواضع الريب واجب والنبي صلى الله عليه وسلم يقول: دع ما يريبك إلى ما لا يريبك، والله عز وجل يقول: ولا تجسسوا، وقال تبارك وتعالى: فتبينوا أن تصيبوا قوما بجهالة فتصبحوا على ما فعلتم نادمين، والنبي صلى الله عليه وسلم يقول: من أتى من هذه القاذورات فليستتر فإن من أبدى لنا ضفحته أقمنا عليه حد الله، وإذا سمع أصوات ملاة منكر بدار أنكرها خارج الدار وزجر عليها ولم يعجم على الكشف وليس له أن يتجسس إلا إذا غلب على ظنه أو عرفه ثقة أو دلت أمارات على انتهاك حرمة
মুয়াজ্জিন সম্পর্কে বলা হয়েছে যে, যদিও আমি কিছু আলোচককে এই বিষয়টি নিশ্চিত করতে দেখেছি যে, এই মুয়াজ্জিন মূলত গৃহকর্তার প্রতি চক্রান্ত এবং তাকে কলঙ্কিত করার উদ্দেশ্য পোষণ করেছিলেন, যা ছিল তার পার্থিব সহায়-সম্পত্তির প্রতি ঈর্ষাবশত। তাদের দৃষ্টিগোচর হওয়ার সুযোগ থাকার কারণে তাদের ক্ষেত্রে যে সকল ফিতনার আশঙ্কা করা হয়, এটি তারই অন্তর্ভুক্ত। যেমনটি গ্রানাডায় দেখা সেই তৈলমর্দনকারীর ক্ষেত্রে ঘটেছিল। তার সম্পর্কে আমাকে বলা হয়েছে যে, তিনি তার যৌবনকালে একটি ছোট মসজিদের মুয়াজ্জিন ছিলেন। আজান দেওয়ার স্থান থেকে তিনি একটি ঘরের দিকে দৃষ্টিপাত করতেন যেখানে একজন সুন্দরী দাসী ছিল, যার রূপ তাকে বিমোহিত করেছিল। যখন সে মেয়েটি তার বিষয়টি জানতে পারল, তখন সে অবিরত তার সামনে আসতে লাগল এবং তার দিকে ইশারা করতে ও তাকে প্রলুব্ধ করতে লাগল, যতক্ষণ না তিনি তার প্রতি আসক্ত হয়ে পড়লেন। একদিন তিনি যখন আজান দিচ্ছিলেন, তখন সে তার সামনে উপস্থিত হলো এবং তাকে এমনভাবে বিভোর করে ফেলল যে তিনি আজানের শব্দ বাড়িয়ে বা কমিয়ে ফেললেন। লোকজন তা শুনতে পেয়ে তার দিকে ছুটে এল এবং বিষয়টি জানাজানি হয়ে গেল। পরিস্থিতির চাপে তিনি সেই স্থান ছেড়ে পালিয়ে যেতে এবং অন্য স্থানে বসতি স্থাপন করতে বাধ্য হলেন। তিনি আজান দেওয়া ছেড়ে দিলেন এবং মৃত্যু পর্যন্ত নিজের পেশায় নিয়োজিত রইলেন। আল্লাহ আমাদের ও তাকে ক্ষমা করুন এবং তাঁর অনুগ্রহে আমাদের ফিতনা থেকে রক্ষা করুন।
এ বিষয়ে জনৈক কবির পঙক্তি ইতিপূর্বে অতিবাহিত হয়েছে:
হায়! সারা জীবন যদি মুয়াজ্জিনদের অন্তর্ভুক্ত হতাম
… তারা ছাদের ওপর অবস্থানকারীদের দেখতে পায়।
তখন তারা ইশারা করে অথবা প্রতিটি লাবণ্যময়ী সুন্দরী
… অনুরাগের সাথে তাদের দিকে ইশারা করে।
হিসবাহ তদারককারী (মুহতাসিব) স্থান, ব্যক্তি এবং অবস্থা ভেদে আপত্তি জানাবেন। সন্দেহের উদ্রেককারী বিষয় বর্জন করা ওয়াজিব (আবশ্যক)। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন: "যা তোমাকে সন্দেহে ফেলে তা বর্জন করে সেই বিষয়ের দিকে ধাবিত হও যা তোমাকে সন্দেহে ফেলে না।" আল্লাহ আযযা ওয়া জাল্লা বলেন: "তোমরা ছিদ্রান্বেষণ করো না।" আল্লাহ তাবারাকা ওয়া তায়ালা আরও বলেন: "তোমরা যাচাই করে নাও, পাছে অজ্ঞতাবশত তোমরা কোনো কওমকে আক্রমণ করে বসো, যার ফলে তোমাদের কৃতকর্মের জন্য তোমাদের অনুতপ্ত হতে হয়।" নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম আরও বলেছেন: "যে ব্যক্তি এই সকল অশ্লীল কাজের কোনোটিতে লিপ্ত হয়, সে যেন তা গোপন রাখে। কেননা যে ব্যক্তি আমাদের সামনে তার বিষয়াদি প্রকাশ করে দেবে, আমরা তার ওপর আল্লাহর নির্ধারিত দণ্ড কার্যকর করব।" যদি তিনি কোনো ঘরে বর্জনীয় বা মন্দ (منكر) শব্দের কোলাহল শোনেন, তবে ঘরের বাইরে থেকে তার প্রতিবাদ করবেন এবং তা থেকে বিরত থাকার নির্দেশ দেবেন, কিন্তু তা উন্মোচনের চেষ্টা করবেন না। তার জন্য গোয়েন্দাগিরি করার অধিকার নেই, যতক্ষণ না তার প্রবল ধারণা জন্মে অথবা কোনো নির্ভরযোগ্য (ثقة) ব্যক্তি তাকে অবহিত করেন অথবা পবিত্রতা লঙ্ঘনের সুস্পষ্ট আলামত বা নিদর্শন পাওয়া যায়।
(খণ্ড: ১)
আদাবুল হিসবাহ
(পৃষ্ঠা: ৯)
يخاف فواتها كمن خلا برجل ليقتله أو بامرأة ليزني بها فله أن يتجسس على ذلك ويهجم عليه قبل أن يقع ويفوت الأمر فيه.
ومن صفاته أيضا أن يكون يستعمل اللين من غير ضعف والشدة من غير عنف حتى لا ترتجي لكثرة تيقظه غفلة ولا تؤمن على ذي منكر سطوته في أدب الجاني أول مرة بالتوبيخ والزجر وفي الثانية بالسجن والوعيد وفي الثالثة بالضرب والشهرة، فإن استمر على غوائه وسوء أفعاله تابعه بالتنكيل وجعل أهم أموره تفقده لسقوط الثقة به حتى يتوب أو يرتفع عن سوق المسلمين.
ويقدم من ثقات أهل الأسواق ووجوه أرباب الصنائع من تعرف ثقته، وينفع المسلمين نصحه ومعرفته، يستظهر بهم عل سائرهم، ويطلعونه على خفي أسرارهم وخبيث سرائرهم، حتى لا يختفي من أمورهم كثير ولا قليل، ولا يستتر من شأنهم دقيق ولا جليل فيزول مكرهم، ويرتفع على المسلمين غشهم وضرهم، ويتفقد مع الأحيان أحوال رجاله ولا يعين أحدا منهم لشغل معين كوزن الخبز على الخبازين وغيره فإنه إن فعل ذلك تقدم إلى ذلك الرجل بالرشوة وذلك عليه في الوزن، ولا يعلم رجاله أبدا خروجه لأمر معين من أمور الحسبة فإنهم إن علموا ذلك تقدم واحد منهم أو قدموا غيرهم إلى أرباب ذلك الأمر الذي يخرج فيه ويشعرهم بقصده فيغيب صاحب الدلسة وفاعل الريبة أو يغيب عين الشيء الفاسد فلا تمكن إقامة الحجة عليه، وربما إذا وجد بعد ذلك يزعم أن ذلك الشيء الفاسد لم يكن له وإنما جعل بموضعه عند تغييبه عنه ويخفق سعي المحتسب في ذلك، وكذلك إذا عثر على خبز ناقص الوزن أو لطيف الصعنة أو قليل الطبخ أو شيء فاسد بدلسة أو غيرها من أوجه الفاسد، ويأمر بالخبز أن يكسر والشيء الفاسد أن يهراق فلا يكل ذلك إلى رجاله
যে বিষয়গুলো হাতছাড়া হওয়ার ভয় থাকে, যেমন কেউ কোনো ব্যক্তিকে হত্যার উদ্দেশ্যে বা কোনো নারীর সাথে ব্যভিচার করার উদ্দেশ্যে নির্জনে একত্রিত হলো; এক্ষেত্রে মুহতাসিবের জন্য তা অনুসন্ধান করা এবং ঘটনাটি ঘটার ও নিয়ন্ত্রণের বাইরে যাওয়ার পূর্বেই সেখানে অভিযান চালানো বৈধ।
তার গুণাবলির মধ্যে এটিও অন্তর্ভুক্ত যে, তিনি দুর্বলতা প্রকাশ না করে কোমলতা এবং সহিংসতা বর্জন করে কঠোরতা অবলম্বন করবেন। তার চরম সতর্কতার কারণে যেন কেউ তার অসতর্কতার প্রত্যাশা না করে, আবার কোনো দুষ্কর্মকারী তার পাকড়াও থেকে নিরাপদ বোধ না করে। তিনি অপরাধীকে প্রথমবার তিরস্কার ও ধমকের মাধ্যমে, দ্বিতীয়বার কারাবাস ও হুমকির মাধ্যমে এবং তৃতীয়বার প্রহার ও জনসমক্ষে অপদস্থ করার মাধ্যমে শাসন করবেন। যদি সে তার পথভ্রষ্টতা ও মন্দ কর্মে অবিচল থাকে, তবে তিনি কঠোর শাস্তির মাধ্যমে তার তদারকি অব্যাহত রাখবেন। তার প্রতি নির্ভরযোগ্যতা (ثقة) নষ্ট হয়ে যাওয়ার কারণে মুহতাসিবের প্রধান কাজ হবে তাকে পর্যবেক্ষণে রাখা, যতক্ষণ না সে তওবা করে অথবা মুসলমানদের বাজার থেকে সরে যায়।
তিনি বাজারের নির্ভরযোগ্য ব্যক্তিবর্গ (ثقات) এবং পেশাজীবী প্রধানদের মধ্য থেকে এমন ব্যক্তিদের সামনে নিয়ে আসবেন যাদের নির্ভরযোগ্যতা (ثقة) সুপরিচিত, এবং যাদের সদুপদেশ ও জ্ঞান মুসলমানদের উপকারে আসে। তিনি তাদের মাধ্যমে অন্যদের অবস্থা পর্যবেক্ষণ করবেন। তারা তাকে তাদের গোপন রহস্য এবং মন্দ বিষয়গুলো সম্পর্কে অবহিত করবেন, যাতে তাদের ক্ষুদ্র বা বৃহৎ কোনো বিষয়ই গোপন না থাকে এবং তাদের তুচ্ছ বা গুরুত্বপূর্ণ কোনো অবস্থাই আড়ালে না থাকে। ফলে তাদের চক্রান্ত দূর হবে এবং মুসলমানদের ওপর থেকে তাদের প্রতারণা ও ক্ষতি অপসারিত হবে। তিনি সময়ে সময়ে তার অধিনস্থ লোকদের অবস্থা পর্যবেক্ষণ করবেন। তিনি তাদের কাউকে নির্দিষ্ট কোনো কাজের জন্য স্থায়ীভাবে নিযুক্ত করবেন না, যেমন রুটি প্রস্তুতকারীদের রুটির ওজন পরীক্ষা করা। কারণ তিনি যদি এমনটি করেন, তবে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি সেই লোকটিকে ঘুষ দিতে পারে এবং ওজনের ক্ষেত্রে কারচুপি করতে পারে। তিনি কখনোই তার লোকদের হিসবাহ সংক্রান্ত কোনো বিশেষ অভিযানে বের হওয়ার কথা আগেভাগে জানাবেন না। কারণ তারা যদি তা জানতে পারে, তবে তাদের কেউ অথবা তারা অন্য কাউকে সেই সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের কাছে পাঠিয়ে দেবে যাদের বিরুদ্ধে অভিযান চালানো হচ্ছে এবং তাদেরকে তার উদ্দেশ্য সম্পর্কে সতর্ক করে দেবে। ফলে প্রতারণা (دلسة) বা সন্দেহজনক কাজের সাথে জড়িত ব্যক্তি আত্মগোপন করবে অথবা ত্রুটিযুক্ত বস্তুটিকে সরিয়ে ফেলবে, যার ফলে তার বিরুদ্ধে প্রমাণ উপস্থাপন করা সম্ভব হবে না। হতে পারে এরপর যখন তাকে পাওয়া যাবে, তখন সে দাবি করবে যে সেই ত্রুটিযুক্ত বস্তুটি তার ছিল না, বরং তার অনুপস্থিতিতে সেখানে রাখা হয়েছে; ফলে মুহতাসিবের প্রচেষ্টা ব্যর্থ হবে। একইভাবে যখন ওজনে কম রুটি, নিম্নমানের কারিগরি, কম সেঁকা রুটি অথবা প্রতারণা (دلسة) বা অন্য কোনো উপায়ে নষ্ট হওয়া কোনো জিনিসের সন্ধান পাওয়া যাবে, তখন তিনি রুটিগুলো ভেঙে ফেলার এবং নষ্ট জিনিসটি ঢেলে ফেলে দেওয়ার নির্দেশ দেবেন এবং এই দায়িত্বটি কেবল তার অধিনস্থদের ওপর ছেড়ে দেবেন না।
(খণ্ড: ১)
আদাবুল হিসবাহ
(পৃষ্ঠা: ১০)
ويباشره بنفسه حتى يصير جميع الخبز كسرا دقيقة الجرم ويعني بالشيء الفاسد بالرمي لئلا يأخذه رجالة من صاحب ذلك رشوة فلا يكسرون من الخبز إلا القليل ولا يرمون من الفاسد إلا اليسير أو يكسرون الخبز أنصافا أو أثلاثا فيجمع صاحبها بعضها إلى بعض ولا يبيعها بالميزان ويتمشى في الناس على دلستها.
ولا يبيح لهم أن يأخذوا شيئا من أحد إلا إن وجدوه ذا دلسة أو صاحب ريبة في صنعته فإنهم يكتفون في جعلهم باليسير مثل ربع الدرهم وقدره، وكذلك مؤنة السجن على من يسجن ومثل ذلك الإجحاف فيه وإذ لابد للسلطان من وزعة والظالم أحق من حمل عليه.
ويعتمد على أن يسم الاكيال والموازين والغرابيل وصنج أرباب الموازين بميسم معلوم عنده وكذلك قفاف الوزن، ويأمر عملة الخبز أن يصنع كل واحد منهم طابعا ينقش فيه اسمه ويطبع على خبزه ليتميز خبز كل واحد بطابعه وتقوم الحجة به على صاحبه.
ويضمن كل من له خدمة يتصرفون بين يديه من الباعة إحضارهم لديه خبرت عليهم دلسة أو وجد لهم مستنكر فالدقاق يضمن عن غربالة ووزانه والخباز يضمن عن عماله ووزانه وعجانه وفرانه والجلاس لبيع خبزه بكوشة عمله والسفاج عجانه وقطاعه ويؤدب كل واحد منهم على فساد عمله، ويلزم صاحب كل شغل أن يكون المطلوب بجميع ما يفعل متصرفوه في شغله وكل ذلك بالشهادة، ولا يستخلف أحد أحدا على شغله ولا صبيا صغيرا للبيع في دكانه إلا أن يلتزم ما يفعله ويكون المطلوب بما يظهر عليه من غش أو دلسة، وإن لم يتقدم إليهم بذلك ويربطهم إليه فيعتذروا إليه عند وجود الدلسة وظهور الغش بعدم العلم به، ويختفي المتصرف في عمله فلا يوجد
তিনি নিজে সরাসরি তত্ত্বাবধান করবেন যতক্ষণ না সমস্ত রুটি ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র টুকরোয় পরিণত হয়। তিনি নষ্ট বা পচা দ্রব্যাদি বর্জন করার ব্যাপারে সজাগ থাকবেন, যাতে তাঁর অধীনস্থ ব্যক্তিরা সংশ্লিষ্ট মালিকের কাছ থেকে কোনো ঘুষ গ্রহণ না করে। অন্যথায় তারা রুটির সামান্য অংশই ভাঙবে এবং পচা মালের খুব অল্পই ফেলে দেবে; অথবা তারা রুটিগুলোকে দুই বা তিন টুকরো করে ভেঙে রাখবে যাতে মালিক সেগুলো পুনরায় জোড়া লাগিয়ে দেয় এবং ওজনে বিক্রি না করে বরং প্রতারণা বা ত্রুটি গোপনের (تدليس) আশ্রয় নিয়ে সাধারণ মানুষের কাছে চালিয়ে দেয়।
তিনি তাদের (অধীনস্থদের) জন্য কারো কাছ থেকে কিছু গ্রহণ করা বৈধ করবেন না, যতক্ষণ না তারা কাউকে প্রতারণাকারী (تدليس) বা তার পেশায় সন্দেহভাজন (ريبة) হিসেবে পায়। সেক্ষেত্রে তারা পারিশ্রমিক হিসেবে দিরহামের এক চতুর্থাংশ বা সমপরিমাণ সামান্য কিছু গ্রহণ করেই সন্তুষ্ট থাকবে। একইভাবে কারাবন্দীর কারাদণ্ডের খরচ তার নিজের ওপরই বর্তাবে এবং এতে কোনো জুলুম করা যাবে না। যেহেতু সুলতানের জন্য শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী থাকা অপরিহার্য, আর জালিম ব্যক্তিই তার ওপর আরোপিত শাস্তির অধিক যোগ্য।
তিনি মাপার পাত্র, দাড়ি-পাল্লা, চালনি এবং ওজনকারীদের বাটখারাগুলোকে তাঁর নিকট সংরক্ষিত একটি নির্দিষ্ট সিলমোহরের মাধ্যমে চিহ্নিত করার বিষয়টি নিশ্চিত করবেন। তেমনিভাবে ওজনের ঝুড়িগুলোকেও চিহ্নিত করবেন। তিনি রুটি প্রস্তুতকারকদের নির্দেশ দেবেন যেন তাদের প্রত্যেকে নিজ নিজ নামে একটি করে ছাঁচ তৈরি করে এবং তা তাদের রুটির ওপর ছাপ দেয়, যাতে প্রত্যেকের রুটি তার নির্দিষ্ট ছাঁচ দ্বারা পৃথকভাবে চেনা যায় এবং এর মাধ্যমে মালিকের বিরুদ্ধে অকাট্য দলিল (حجة) প্রতিষ্ঠিত হয়।
যেসব বিক্রেতার অধীনে কর্মচারীরা কাজ করে, তাদের প্রত্যেকের জিম্মাদারী হলো কর্মচারীদের উপস্থিত করা যদি তাদের মাধ্যমে কোনো প্রতারণা বা ত্রুটি গোপনের (تدليس) খবর পাওয়া যায় অথবা তাদের মধ্যে কোনো আপত্তিকর বা প্রত্যাখ্যাত (منكر) বিষয় পরিলক্ষিত হয়। অতএব, ময়দা পেষণকারী তার চালনি চালক ও ওজনকারীর কাজের জন্য দায়ী থাকবে; রুটি প্রস্তুতকারক তার শ্রমিক, ওজনকারী, খামির প্রস্তুতকারী ও তন্দুর চালকের জন্য দায়ী থাকবে; দোকানে বসে রুটি বিক্রেতা তার বিক্রয় কেন্দ্রের কাজের জন্য এবং মিষ্টান্ন প্রস্তুতকারী তার খামির প্রস্তুতকারী ও কর্তনকারীর জন্য দায়ী থাকবে। তাদের প্রত্যেকেই নিজ নিজ কাজের ত্রুটির জন্য শাসিত হবে। প্রতিটি ব্যবসার মালিকের জন্য এটি বাধ্যতামূলক যে, তার অধীনে কর্মরত ব্যক্তিরা যা কিছু করবে তার সবকিছুর জন্য তাকেই জবাবদিহি করতে হবে এবং এই সবকিছু সাক্ষ্যের (شهادة) মাধ্যমে প্রমাণিত হতে হবে। কেউ নিজের কাজের ভার অন্যের ওপর ন্যস্ত করতে পারবে না এবং কোনো অপ্রাপ্তবয়স্ক শিশুকে তার দোকানে বিক্রয়ের জন্য প্রতিনিধি নিযুক্ত করতে পারবে না, যতক্ষণ না সে তার কৃতকর্মের দায়ভার গ্রহণ করবে এবং তার পক্ষ থেকে প্রকাশ পাওয়া কোনো জালিয়াতি বা প্রতারণা ও ত্রুটি গোপনের (تدليس) জন্য মূল মালিককে দায়ী করা হবে। যদি আগে থেকেই তাদের এই বিষয়ে সতর্ক করা না হয় এবং নিয়মের অধীনে আনা না হয়, তবে প্রতারণা (تدليس) ও জালিয়াতি প্রকাশ পাওয়ার সময় তারা অজ্ঞতার অজুহাত পেশ করবে এবং প্রকৃত কর্মী আত্মগোপন করবে, ফলে তাকে আর খুঁজে পাওয়া যাবে না।
(খণ্ড: ১)
আদাবুল হিসবাহ
(পৃষ্ঠা: ১১)
سبيل لدفع ذلك السبب وإيقاع العقوبة بالفاعل له، ومتى أخذ ذلك ولم ينبه المعلم عليه ولا تشكي منه وغاب الفاعل وعجز عن إحضاره بحكم ضمانه إياه لم يصدق في عدم العلم بما اتفق وكانت العقوبة عليه أوجب والتنكيل أشد.
ويأمر باعة الخبز أن يتخذوا موازين وصنجا معدة لها تكون معهم في دكانهم فإذا اختبر عليهم الخبز بالوزن وألفاه ناقصا أقام الحجة عليهم باتخاذهم الموازين وتركهم وزن الخبز بها على عملته ويؤديهم على مسامحتهم في بيع الناقص، وكذلك شأنه مع باعة الدقيق وعملته في الغرابيل لتقوم الحجة لذلك عليهم أيضا، ويكون معلوما عنده ما في بلده من الطعام المختزن لوقت الحاجة إليه وكذلك ما يحتاج إليه بلده من الطعام في كل يوم وما يرد عليه من الطعام ويعمل فيه من الدقيق ويجلب منه أيضا إليه ليتوصل بذلك إلى زيادة السعر ونقصه وعمارة البلد والزهادة فيه والله الموفق للصواب لا رب غيره.
الباب الثاني
في الكيالين والأكيال
أما الكيالون للطعام فيعرفون أنواعه بكثرة الاختبار لها والحيلة بتناولها ولا يخفى عليهم قدر إصداقها في الكيل، فمن القمح ما يصدق القدح منه ثلاثين رطلا ومنه ما يصدق اثنين وثلاثين وثلاثة وأربعة وثلاثين، ومن الشعير والشنتية ما يصدق القدح منه ربعا واحدًا ومنه ما يقصر عن ذلك، ويصدق القدح من الذرة مثل القمح، فإذا وعدهم المبتاء بالزيادة في الأجرة ليحسنوا
সেই কারণটি প্রতিহত করার এবং অপরাধীর ওপর শাস্তি কার্যকর করার এটিই পন্থা। যখন তা গ্রহণ করা হয় অথচ তত্ত্বাবধায়ক এ বিষয়ে অবহিত না করেন কিংবা এ নিয়ে কোনো অভিযোগ না করেন, আর অপরাধী নিখোঁজ থাকে এবং তার জামানতদার হওয়া সত্ত্বেও তাকে উপস্থিত করতে সে অক্ষম হয়, তখন যা ঘটেছে সে বিষয়ে তার অনবহিত থাকার দাবি সত্য বলে গণ্য হবে না; বরং তার ওপর দণ্ডারোপ করা অধিক আবশ্যক এবং শাস্তি হবে অত্যন্ত কঠোর।
তিনি রুটি বিক্রেতাদের নির্দেশ দেবেন যেন তারা দোকানে তাদের ব্যবহারের জন্য প্রস্তুতকৃত দাঁড়িপাল্লা ও বাটখারা রাখে। যখন রুটির ওজন পরীক্ষা করা হয় এবং তা ওজনে কম পাওয়া যায়, তখন তাদের বিরুদ্ধে প্রমাণ (حجة) প্রতিষ্ঠিত হবে এই কারণে যে, তাদের কাছে দাঁড়িপাল্লা থাকা সত্ত্বেও তারা রুটি তৈরির সময় তা দ্বারা ওজন করেনি। ওজনে কম বিক্রির ক্ষেত্রে তাদের শিথিলতার জন্য তিনি তাদের শাস্তি প্রদান করবেন। একইভাবে আটা বিক্রেতা এবং চালনি ব্যবহারকারীদের ক্ষেত্রেও একই নীতি প্রযোজ্য হবে যাতে তাদের বিরুদ্ধেও প্রমাণ (حجة) প্রতিষ্ঠিত হয়। তার নিকট নিজ শহরের আপৎকালীন সময়ের জন্য মজুদকৃত খাদ্যের পরিমাণ সম্পর্কে তথ্য থাকতে হবে। তেমনিভাবে প্রতিদিন শহরে কী পরিমাণ খাদ্যের প্রয়োজন, কী পরিমাণ খাদ্য সরবরাহ হচ্ছে, কী পরিমাণ আটা প্রস্তুত হচ্ছে এবং কী পরিমাণ আমদানি করা হচ্ছে সে সম্পর্কেও তাকে অবগত থাকতে হবে; যাতে এর মাধ্যমে বাজারমূল্যের হ্রাস-বৃদ্ধি এবং শহরের সমৃদ্ধি ও অভাব সম্পর্কে সম্যক ধারণা লাভ করা যায়। আল্লাহই সঠিক পথের তাওফিকদানকারী, তিনি ব্যতীত কোনো প্রতিপালক নেই।
দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ
পরিমাপকারী এবং পরিমাপের পাত্র প্রসঙ্গে
খাদ্য পরিমাপকারীরা ক্রমাগত পরীক্ষা-নিরীক্ষা ও নিপুণ কৌশলের মাধ্যমে খাদ্যের বিভিন্ন প্রকার সম্পর্কে সম্যক জ্ঞান রাখেন এবং পরিমাপের ক্ষেত্রে এর প্রকৃত পরিমাণ তাদের কাছে অস্পষ্ট থাকে না। গমের ক্ষেত্রে কোনোটির এক কাদাহ ওজন ত্রিশ রতল হয়, আবার কোনোটি বত্রিশ, তেত্রিশ বা চৌত্রিশ রতলও হয়। যব ও শানতিয়্যাহ-এর ক্ষেত্রে কোনোটির এক কাদাহ-এর ওজন এক চতুর্থাংশ হয়, আবার কোনোটি তার চেয়েও কম হয়। ভুট্টার ক্ষেত্রে এক কাদাহ-এর ওজন গমের ওজনের অনুরূপ হয়। এমতাবস্থায়, যখন ক্রেতা তাদের পারিশ্রমিক বৃদ্ধির প্রতিশ্রুতি দেয় যেন তারা সুষ্ঠুভাবে...
(খণ্ড: ১)
আদাবুল হিসবাহ
(পৃষ্ঠা: ১২)
في الكيل ألحقوا الدون في الإصداق بالعالي وذلك أن الكيال إذا قعد للكيل قعد على ركبتيه ومقادم رجليه واغترف الطعام بالقدح وزاد في الغرف وقلب القدح بقوة وأقعد أكثره على فخذيه وطرف كدس الطعام وجبد الطعام بيديه وأمد على الكيل ذراعيه ويديه فتراص الطعام في الكيل بالإقعاد الأول وتدكن بهذا الجذب وإمرار اليدين والذراعين عليه ثم أزال فخذيه عنه فقعد القدح واهتز ونزل الطعام في جوفه وصدق بحسب إرادته.
وإذا قصد العدل قعد على هيئته المذكورة وأقعد القدح على قعره وصب فيه صبا خفيفا فإذا امتلأ رفعه برفع ثم أفرغه واغترف بالقدح من الطعام قليلا وقلبه برفق على كدس الطعام متصلا بركبتيه ودون أن يضع شيئا منه عليهما أو يحنوا عليه ويجبد الطعام إليه بيديه ولا يمرهما عليه ويضعه فيه قليلا قليلا فلا يتحرك الكيل ولا يتراص الطعام فيه ويرفعه برفق ويفرغه كذلك.
وإذا قصد الاخسار فعل على ما يفعل إذا قصد العدل واستعجل بوضع الطعام فيه ورفعه وتفريغه قبل أن يوفيه الحق المعلوم فيه، ومتى وضع فيه من الطعام قدر ثلث فعل على ما يفعل إذا قصد غير ذلك وقلبه وكمله بالطعام فإنما يقصد الاستيفاء وكذلك متى وضع الكيال القدح على ركبتيه فإنما قصده الاستيفاء بحسب ما يمكنه من فخذيه، ويزيل في الكيل الممسوح إذا قصد الاخسار أن يوفر الطعام على الصفيحة صفا أو صفين أو ما استطاع وإنما ألحق في ذلك أن يمسح ما على الصفائح.
وأما أصحاب أكيال المائعات فلمفسديهم حيل منها إذا قصد الإخسار أن يصبوا في الإناء صبا عنيفا لم يتركوه يهدأ ويفرغون الكيل وهو مبخوس وربما أمالوه من جهة واحدة وهي التي تقابل الذي تكتال له فيتوهم أن ذلك الجرى على وهو قد أخسر، ومنها أن يدخلوا قيعان الأكيال النحاسية إلى داخلها
পরিমাপের ক্ষেত্রে, তারা সত্যতার (الإصداق) সাথে উচ্চমানের ও নিম্নমানের পরিমাপকে একীভূত করে ফেলে। আর তা এভাবে যে, যখন একজন পরিমাপকারী পরিমাপ করার জন্য বসে, তখন সে তার দুই হাঁটু এবং পায়ের অগ্রভাগের ওপর ভর দিয়ে বসে এবং পাত্র দিয়ে খাদ্যদ্রব্য উঠিয়ে নেয়। সে খাদ্য উঠানোর মাত্রা বাড়িয়ে দেয় এবং পাত্রটি সজোরে উল্টে দেয়। সে পাত্রের অধিকাংশ অংশ নিজের দুই উরুর ওপর এবং খাদ্যস্তূপের এক প্রান্তে স্থাপন করে। সে নিজের হাত দিয়ে খাদ্য টেনে আনে এবং পরিমাপের পাত্রের ওপর নিজের দুই বাহু ও হাত প্রসারিত করে দেয়। ফলে প্রথমবার বসার কারণেই পাত্রের খাদ্যগুলো ঠাসা হয়ে যায় এবং হাত ও বাহু দিয়ে খাদ্য টানা ও নাড়াচাড়া করার কারণে তা আরও ঘনবিন্যস্ত হয়ে যায়। এরপর যখন সে নিজের উরু সরিয়ে নেয়, পাত্রটি স্থির হয় ও নড়ে ওঠে এবং খাদ্যগুলো পাত্রের গভীরে বসে যায়; এভাবে তার ইচ্ছা অনুযায়ী এটি পূর্ণতা (صدق) পায়।
আর সে যখন ন্যায়পরায়ণতা (العدل) বজায় রাখার সংকল্প করে, তখন সে উল্লেখিত পদ্ধতিতেই বসে এবং পাত্রটিকে তার তলার ওপর স্থিরভাবে রাখে এবং তাতে অত্যন্ত ধীরলয়ে খাদ্য ঢালে। যখন পাত্রটি পূর্ণ হয়, তখন সে সতর্কতার সাথে তা উত্তোলন করে এবং ঢেলে দেয়। সে পাত্র দিয়ে সামান্য খাদ্য উঠিয়ে নেয় এবং তা আলতোভাবে খাদ্যস্তূপের ওপর উবুড় করে দেয় যা তার হাঁটুর সাথে লেগে থাকে, তবে সেগুলোর ওপর কোনো খাদ্য রাখে না বা তার ওপর ঝুঁকে পড়ে না। সে নিজের হাত দিয়ে খাদ্য নিজের দিকে টেনে আনে ঠিকই, কিন্তু পাত্রের ওপর হাত বুলায় না এবং অল্প অল্প করে খাদ্য তাতে রাখে। ফলে পরিমাপের পাত্রটি নড়ে ওঠে না এবং খাদ্যও তাতে ঠাসা হয়ে যায় না; অতঃপর সে অত্যন্ত নম্রভাবে তা উত্তোলন করে এবং সেভাবেই ঢেলে দেয়।
আর যখন সে ওজনে কম দেওয়ার (الإخسار) ইচ্ছা করে, তখন সে ন্যায়পরায়ণ ব্যক্তির ন্যায় আচরণ করে, তবে পাত্রে খাদ্য রাখা, তা উত্তোলন করা এবং ঢেলে দেওয়ার ক্ষেত্রে তাড়াহুড়ো করে—নির্ধারিত হক বা পরিমাণ পূর্ণ হওয়ার আগেই সে কাজ শেষ করে ফেলে। যখন সে পাত্রে এক-তৃতীয়াংশ পরিমাণ খাদ্য রাখে, তখন সে এমনভাবে কাজ করে যেন সে অন্য কিছুর সংকল্প করছে এবং তা উল্টে দিয়ে খাদ্য দ্বারা পূর্ণ করে; মূলত এর মাধ্যমে সে পূর্ণমাত্রায় গ্রহণ (الاستيفاء) করার উদ্দেশ্য রাখে। একইভাবে, যখন পরিমাপকারী তার হাঁটুর ওপর পাত্রটি রাখে, তখন তার উদ্দেশ্য থাকে নিজের উরু ব্যবহার করে যতটুকু সম্ভব পূর্ণমাত্রায় গ্রহণ (الاستيفاء) করা। আর সমতল পরিমাপের ক্ষেত্রে যখন সে ওজনে কম দেওয়ার (الإخسار) সংকল্প করে, তখন সে পাত্রের কিনারায় এক বা দুই সারি খাদ্য বা যতটুকু সম্ভব খাদ্য বাড়িয়ে দেয়; মূলত এর মাধ্যমে কিনারার বাড়তি অংশগুলো সমান করে দেওয়ার বাহানায় সে ওজনে কম দিয়ে থাকে।
তরল পদার্থ পরিমাপকারীদের মধ্যে যারা অসৎ, তাদেরও কিছু কৌশল রয়েছে। যেমন—যখন তারা ওজনে কম দেওয়ার (الإخسار) ইচ্ছা করে, তখন তারা পাত্রে অত্যন্ত প্রবলভাবে তরল ঢালে এবং তা স্থির হওয়ার সুযোগ দেয় না; ফলে তারা ঘাটতিযুক্ত (مبخوس) অবস্থায় পাত্রটি খালি করে ফেলে। অনেক সময় তারা পাত্রটিকে একদিকে কাত করে ধরে যা ক্রেতার সম্মুখভাগে থাকে, ফলে ক্রেতা মনে করে যে পরিমাপ ঠিকঠাক চলছে, অথচ বাস্তবে তাকে ওজনে কম (أخسر) দেওয়া হয়েছে। তাদের আরেকটি কৌশল হলো তামা বা পিতলের তৈরি পরিমাপক পাত্রগুলোর তলা ভেতরের দিকে ঠেলে ঢুকিয়ে দেওয়া।
(খণ্ড: ১)
আদাবুল হিসবাহ
(পৃষ্ঠা: ১৩)
وجوانبها فيوهم أنها قد اندقت أو على ذلك النوع صنعت وهي تنقص بحسب ذلك ويحشون في أجواف الأكيال غير النحاسية الطين اليابس الجليل أو ما شاكله أو الجبص المحلول أو الشمع المذاب فينقص بذلك، وكذلك النحاسية إن لم يستطيعوا فيها ما تقدم ولا سيما إذا كانت الأكيال ضيقة الأفواه.
وشأن المحتسب مع هؤلاء أن يختبر عليهم الطعام والمائعات بكيال من أهل الثقة يستعمله مقدما عليهم قد خبر منه النصح والتنبيه على المكايد والخدع والغيرة على المسلمين ويزن ما يسعه ذلك الكيل الذي يختبر به وما بلغ وزنه إليه يكون مثالا له ومعلوما عنده لما يكيله أولئك من أنواع ما يكتال حتى لا يمكن لأحد الإخسار في الكيل ولا الزيادة فيه بعد أن يحملهم على أن يكون أكيال الأرباع منشورة الأفواه مبرودة الحواشي من خارج لا يحتمل حافاتها الزائدة بوجه ولا تتعاهد النحاسية بالإصلاح والاعتدال ويتفقد أجوافها ولا سيما عند من يتطرق الظن إليه وسقط الثقة به.
وقيل في ذلك كله مقال مثال يكون كالقانون في جميع الأكيال بتنبيه على الجاري الآن بمالقة فالقدح يصدق من الكزبر اليابس الصحيح الطيب أحد عشر رطلا والرطل ست عشرة أوقية والأوقية عشرون درهما قضة إمامية، وثمن الربع الجاري بمالقة في الكيل يصدق من العسل الطيب الأندلسي في الغالب ثلاثة أرطال ونصف ومن الطيب العدوي ثلاثة أرطال وست أواق إلى ثلاثة أرطال، وربع من الزبيب رطلين وربع ومن الخل ثلاثة أرطال غير ربع إلى رطلين ونصف ومن اللبن الغنمي ثلاثة أرطال وربع ومن المعزي ثلاثة أرطال وثلاث أواق، وبحسب هذه التجربة وما يعطيه النظر بالمشاهدة يفعل الناظر في الحسبة لمن يقع من أولئك إن شاء الله.
এবং এর পার্শ্বসমূহ, যা এমন ধারণা দেয় যে তা সংকুচিত হয়ে গেছে অথবা সেই পদ্ধতিতেই তৈরি করা হয়েছে, ফলে সে অনুযায়ী তার পরিমাণ কমে যায়। তারা তামা ব্যতীত অন্য উপাদানে তৈরি পরিমাপক পাত্রগুলোর ভেতরে শুকনো মাটি বা অনুরূপ কিছু, অথবা তরল জিপসাম বা গলিত মোম দিয়ে পূর্ণ করে রাখে, যার ফলে পরিমাণে ঘাটতি হয়। একইভাবে তামার পাত্রেও এমনটি করা হয় যদি তারা পূর্বোক্ত পদ্ধতিগুলো প্রয়োগ করতে না পারে, বিশেষ করে যখন পরিমাপক পাত্রগুলোর মুখ সংকীর্ণ হয়।
এদের ব্যাপারে মুহতাসিবের (বাজার পরিদর্শক) দায়িত্ব হলো তিনি খাদ্যদ্রব্য ও তরল পদার্থগুলো নির্ভরযোগ্য (ثقة) ব্যক্তিদের মধ্য থেকে এমন একজন পরিমাপকারীর মাধ্যমে পরীক্ষা করবেন, যাঁকে তিনি অন্যদের তুলনায় অগ্রাধিকার দিয়ে নিয়োগ করবেন এবং যাঁর সততা, কূটকৌশল ও প্রতারণা সম্পর্কে সতর্কতা এবং মুসলিমদের প্রতি কল্যাণকামিতা সম্পর্কে তিনি অবগত। ওই পরীক্ষামূলক পাত্রে যতটুকু ধরে তা তিনি ওজন করবেন এবং এর ওজন যা হবে তা তাঁর নিকট একটি আদর্শ মান হিসেবে নির্ধারিত থাকবে, যাতে অন্যরা যা পরিমাপ করে তার ক্ষেত্রে কেউ মাপে কম বা বেশি করতে না পারে। তিনি তাদের বাধ্য করবেন যেন চতুর্থাংশ পরিমাপক পাত্রগুলোর মুখ প্রশস্ত হয় এবং এর বাইরের কিনারাগুলো মসৃণ হয় যাতে এর উপরিভাগে কোনো অতিরিক্ত অংশ থাকার সুযোগ না থাকে। তামার পাত্রগুলো মেরামত ও ভারসাম্যপূর্ণ কি না তা তদারকি করবেন এবং এগুলোর ভেতরটা বিশেষভাবে পরীক্ষা করবেন, বিশেষ করে যাদের ব্যাপারে সংশয় (الظن) তৈরি হয় এবং যাদের নির্ভরযোগ্যতা ক্ষুণ্ণ (سقط الثقة) হয়েছে।
এ সব বিষয়ে একটি আদর্শ দৃষ্টান্তমূলক নীতিমালা বর্ণনা করা হয়েছে যা সমস্ত পরিমাপের ক্ষেত্রে একটি নিয়মের মতো কার্যকর হবে, যেখানে বর্তমানে মালাগাতে প্রচলিত পরিমাপ সম্পর্কে অবহিত করা হয়েছে। যেমন—এক কদহ শুকনো, বিশুদ্ধ (صحيح) ও উন্নতমানের ধনে এগারো রতলের সমান হয়। এক রতল হয় ষোলো উকিয়ার সমান এবং এক উকিয়া হয় বিশ ইমামি রৌপ্য দিরহামের সমান। মালাগাতে বর্তমানে প্রচলিত এক চতুর্থাংশের আট ভাগের এক ভাগ পরিমাপে সাধারণত সাড়ে তিন রতল উন্নতমানের আন্দালুসি মধু হয়। উন্নত আদওয়ি মধু তিন রতল ছয় উকিয়া থেকে তিন রতল পর্যন্ত হয়। কিশমিশ সোয়া দুই রতল, ভিনেগার পৌনে তিন রতল থেকে আড়াই রতল, ভেড়ার দুধ সোয়া তিন রতল এবং ছাগলের দুধ তিন রতল তিন উকিয়া হয়। এই অভিজ্ঞতা এবং প্রত্যক্ষ পর্যবেক্ষণের ভিত্তিতে যা প্রতীয়মান হয়, মুহতাসিব (বাজার পরিদর্শক) সেই অনুযায়ী এই অপরাধে লিপ্ত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ করবেন ইনশাআল্লাহ।
(খণ্ড: ১)
আদাবুল হিসবাহ
(পৃষ্ঠা: ১৪)
الباب الثالث
في الموازين والأكيال والوزَّانين والكيالين
أحق الموازين ما كان ثقبه في قصبته وكان الثقب موسع الجهتين مشرك الوسط يعمه المسمار، وأخسرها للحق ما كان ثقبه في اللسان أو كان في القصبة غير مشرك الوسط أو كان مسماره رقيقا بالإضافة إلى ثقبته وإيقاعه بها، ولمفسديهم حيل وخدائع منهم من يضع أصل إبهام يده اليسري على حاشية كفة الميزان حين الوزن يوهم لذلك أنه يمسكها وقد جعل تحتها شيئا مرتفعا من الآلات إذا وصلت كفة الصنوج إليه خرج لسان الميزان عن القبة وينزلها بيده المذكورة مع الشيء الموزون يسيرا يسيرا إلى أن يحس أنها وصلت إلى الذي تحتها فيرفع رأسه إلى قبة الميزان كأنه ينظر إلى اللسان هل خرج عن القبة أم لا ويرفع المشترى رأسه كذلك فيرى اللسان قد خرج عن القبة ويفرغ له البائع المبيع من الكفة والمبتاع يتخيل أنه قد وصل إلى حله والبائع قد أخسره.
ومنهم من يرتبط شعرة في مقلوب كفة الميزان من فلس الكوكب ويفها على إبهام رجله ويجعل قدمه واقفا على عقبه فإذا وضع في الكفة ما يوزن أنزل إبهام رجله إلى أسفل فهبطت الشعرة إلى أسفل وخرج لسان الميزان عن القبة فيرفع مقدم رجله ويفرغ الكفة وقد نقص في الوزن ما نقص، وهذه المكيدة لا يعمل بها إلا من يكون للوزن جالسا على كرسي.
ومنهم من يعد صفيحة رصاص تكون زنتها ثلاث أواق أو أزيد ويدهن وجهها بالشحم أو الشمع المخلوط فيه الزيت فإذا جاء من يشتري يلصق تلك القطعة
তৃতীয় অধ্যায়
নিক্তি, পরিমাপক, ওজনকারী এবং পরিমাপকারীদের বর্ণনায়
নিক্তিসমূহের মধ্যে সর্বাধিক সঠিক ও ন্যায্য হলো সেটি, যার ছিদ্র এর দণ্ডের মধ্যে থাকে এবং ছিদ্রটির উভয় প্রান্ত প্রশস্ত ও মধ্যভাগ সংকুচিত হয় যাতে পেরেকটি একে পূর্ণরূপে পরিবেষ্টন করে। পক্ষান্তরে ন্যায্যতা বিচারে সর্বাধিক ত্রুটিপূর্ণ হলো সেই নিক্তি, যার ছিদ্র কাঁটা বা জিহ্বার মধ্যে থাকে অথবা দণ্ডের মধ্যে ছিদ্র থাকা সত্ত্বেও তার মধ্যভাগ সংকুচিত নয়, কিংবা ছিদ্রের তুলনায় তার পেরেকটি চিকন এবং তা ছিদ্রের সাথে অসামঞ্জস্যপূর্ণ। ওজনকারীদের মধ্যে যারা অনিষ্টকারী, তাদের বিভিন্ন অপকৌশল ও প্রতারণা রয়েছে। তাদের মধ্যে কেউ ওজন করার সময় বাম হাতের বৃদ্ধাঙ্গুলির গোড়া নিক্তির পাল্লার কিনারায় এমনভাবে রাখে যাতে মনে হয় সে কেবল সেটি ধরে আছে; অথচ সে তার নিচে সরঞ্জামের মধ্য হতে এমন একটি উঁচু বস্তু স্থাপন করে রাখে যে, যখন বাটখারার পাল্লাটি সেই পর্যন্ত পৌঁছায়, তখন নিক্তির কাঁটাটি গম্বুজাকৃতি অংশ হতে বাইরে বেরিয়ে আসে। অতঃপর সে তার উল্লিখিত হাত দিয়ে ওজনকৃত বস্তুর সাথে পাল্লাটিকে ধীরে ধীরে নিচে নামায় যতক্ষণ না সে অনুভব করে যে এটি নিচের সেই বস্তুটিকে স্পর্শ করেছে। এরপর সে নিক্তির গম্বুজাকৃতি অংশের দিকে মাথা তোলে যেন সে কাঁটাটির দিকে তাকাচ্ছে যে তা গম্বুজের বাইরে এসেছে কি না। ক্রেতাও একইভাবে মাথা তোলে এবং দেখতে পায় যে কাঁটাটি গম্বুজের বাইরে চলে এসেছে। তখন বিক্রেতা ক্রেতার জন্য পাল্লা হতে বিক্রিত পণ্যটি ঢেলে দেয়, আর ক্রেতা মনে করে যে সে তার ন্যায্য পাওনা পূর্ণরূপে পেয়েছে, অথচ বিক্রেতা তাকে ওজনে কম দিয়েছে।
তাদের মধ্যে কেউ কেউ পাল্লার উল্টো পিঠে ধাতব পাতের অংশে একটি চুল বেঁধে নেয় এবং তা নিজের পায়ের বৃদ্ধাঙ্গুলিতে জড়িয়ে রাখে। সে তার পা গোড়ালির ওপর ভর দিয়ে দাঁড় করিয়ে রাখে। যখন পাল্লায় ওজন করার মতো কিছু রাখা হয়, তখন সে পায়ের বৃদ্ধাঙ্গুলি নিচে নামিয়ে দেয়, ফলে চুলটি নিচের দিকে নেমে যায় এবং নিক্তির কাঁটা গম্বুজ হতে বাইরে চলে আসে। এরপর সে পায়ের সামনের অংশ উপরে তোলে এবং পাল্লাটি খালি করে দেয়; অথচ এর ফলে ওজনে যতটুকু কম হওয়ার তা হয়ে গেছে। এই কৌশল কেবল তারাই অবলম্বন করে যারা ওজন করার সময় চেয়ারে বসে থাকে।
তাদের মধ্যে কেউ কেউ সিসার একটি পাত প্রস্তুত করে যার ওজন তিন আউকিয়া বা তার বেশি হয় এবং এর উপরিভাগে চর্বি অথবা তেলমিশ্রিত মোমের প্রলেপ দেয়। অতঃপর যখন কোনো ক্রেতা আসে, সে সেই টুকরাটি সংযুক্ত করে দেয়...
(খণ্ড: ১)
আদাবুল হিসবাহ
(পৃষ্ঠা: ১৫)
بيده اليسري في باطن الكفة ويزن بها كذلك فينتقص المشترى من كل وزنة ثقل الرصاص المذكور فذا أكمل قصده انتزعها ولا يشعر به ويلقيها في الأرض بين يديه إلى حين يحتاج إليها.
ومنهم من يكتفي في ذلك بأصل إبهام يده اليسرى لكثرة حنكته وتصرفه بها في الإخسار والنقص.
ومنهم من يجبد ويرفد فيخسر إذا رفع أو يربح إذا قبض
ومنهم من يجعل لميزانه خيطا يكون من مؤخر القصبة إلى ما سائله من جوائز السقف أو غيره يوهم أنه يعدله به وإنما المقصود به إسراع الارجاح.
ومنهم من أخذ صنوجا من رصاص مجوفة قد ملئت شمعا فتعطي الجرم ولا تعطي الوزن.
ومنهم من يجعل نصف الصفيحة من الرصاص ونصفها من الشمع ويغشيها بالجلد فيوهم بجرمها وهي تنقص على الوزن.
ومنهم من يتخذ صنجا من الحديد يحلق فيها عمادًا طبع عليها بطابع المحتسب بدل حلقها الكبار بصغار خدع بها.
ومنهم من يرطب القمح والشعير في الزيت فإذا رطب غرز فيه أطراف إبر الحديد وأخفى مغارزها ليوهم بذلك عند القبض أن الشعير على أصله وهو يأخذ مثلي ثقله بما فيه من أطراف الإبر.
ولقد أخبرني بعض المتجولين أهل الاعتناء بالأمور والبحث على النواشي والتحدث بالغرائب أنه رأى ميزانا قد اتخذ فارغ القصبة ووضع فيها الزنبق فإذا جعل في كفته الوزان شيئا جذبه برفق فمال وجرى الزئبق إلى طرف
তিনি তার বাম হাতের তালুর অভ্যন্তরে সিসার টুকরাটি রাখেন এবং সেভাবেই ওজন করেন; ফলে ক্রেতা প্রতি ওজনে উল্লিখিত সিসার ভারের সমপরিমাণ পণ্য কম পায়। যখন তার উদ্দেশ্য পূরণ হয়, তখন সে সেটি সরিয়ে নেয় অথচ ক্রেতা তা টেরও পায় না। এরপর সে সেটি তার সামনের মাটিতে ফেলে রাখে যতক্ষণ না পুনরায় সেটির প্রয়োজন হয়।
তাদের মধ্যে কেউ কেউ ওজনে কারচুপি ও লোকসান ঘটানোর কাজে অত্যধিক পারদর্শিতা ও কৌশলের কারণে এক্ষেত্রে কেবল বাম হাতের বৃদ্ধাঙ্গুলির গোড়া ব্যবহার করাকেই যথেষ্ট মনে করে।
তাদের মধ্যে কেউ কেউ (পাল্লা) নিজের দিকে টানে বা চাপ দিয়ে ধরে; ফলে পণ্য উঠানোর সময় (ক্রেতার) লোকসান ঘটায় অথবা পণ্য গ্রহণের সময় (নিজের) লাভ নিশ্চিত করে।
তাদের মধ্যে কেউ কেউ নিজের দাড়িপাল্লায় একটি সুতা লাগিয়ে রাখে, যা দণ্ডের শেষ প্রান্ত থেকে ছাদের কড়ি বা অন্য কিছুর সাথে ঝোলানো থাকে। সে এর মাধ্যমে এমন ধারণা দেয় যেন সে পাল্লা সামঞ্জস্যপূর্ণ করছে, অথচ এর প্রকৃত উদ্দেশ্য হলো পাল্লার একদিকে ঝুঁকে পড়াকে ত্বরান্বিত করা।
তাদের মধ্যে কেউ কেউ সিসার তৈরি এমন ফাঁপা বাটখারা ব্যবহার করে যা মোম দিয়ে পূর্ণ করা থাকে। এগুলো দেখতে বড় মনে হলেও ওজনে প্রকৃত মান দেয় না।
তাদের মধ্যে কেউ কেউ (বাটখারার) পাতের অর্ধেক সিসা এবং অর্ধেক মোম দিয়ে তৈরি করে এবং তা চামড়া দিয়ে ঢেকে দেয়। এতে করে এর অবয়ব দেখে বিভ্রান্তি সৃষ্টি হয়, অথচ ওজনে তা কম থাকে।
তাদের মধ্যে কেউ কেউ লোহার এমন বাটখারা গ্রহণ করে যার মাঝখানে ছিদ্র থাকে। সেগুলোতে বড় ছিদ্রের পরিবর্তে ছোট ছিদ্র লাগিয়ে প্রতারণা করার উদ্দেশ্যে বাজার পরিদর্শক (المحتسب) এর সিল মোহর অঙ্কিত থাকে।
তাদের মধ্যে কেউ কেউ গম ও যব তেলে ভিজিয়ে রাখে। যখন তা ভিজে যায়, তখন তাতে লোহার সুঁইয়ের অগ্রভাগ গেঁথে দেয় এবং সুঁই প্রবেশের স্থানগুলো গোপন রাখে। এর মাধ্যমে সে পণ্য হস্তান্তরের সময় এমন ধারণা দেয় যে যব তার প্রকৃত অবস্থাতেই আছে, অথচ সুঁইয়ের ওজনের কারণে সে দ্বিগুণ ওজন হাতিয়ে নেয়।
বিভিন্ন বিষয় পর্যবেক্ষণকারী এবং বিচিত্র ও অদ্ভুত ঘটনা অনুসন্ধানী জনৈক পর্যটক আমাকে অবহিত করেছেন যে, তিনি এমন একটি দাড়িপাল্লা দেখেছেন যার দণ্ডটি ছিল ফাঁপা এবং তার ভেতরে পারদ রাখা হয়েছিল। যখন ওজনকারী পাল্লায় কোনো বস্তু রাখত, তখন সে আলতো করে তা টান দিত, ফলে পারদ একদিকে গড়িয়ে যেত এবং পাল্লা ঝুঁকে পড়ত।
(খণ্ড: ১)
আদাবুল হিসবাহ
(পৃষ্ঠা: ১৬)
القصبة فخرج اللسان عن القبة وحسب المبتاع أن البائع سامحه في الزائد وهو قد نقصه حقه.
وكذلك حكى لي من أثق به دينا وأمانة وصدق لسان ومعرفة أنه حضر بموضع يجلب إليه الدقيق للمبيع ويجلب إليه للشراء ولزمه المقام به إياما وبه قوم معدون للوزن بالربع والعمود فرأى من فسادهم عجبا ومن تخليطهم ما أوجب التحدث به عنهم وذلك أن الوارد بالدقيق إذا وصل إليهم اجتمعوا إليه وسألوه عن موضعه وأحواله وكيفية أسعار موضعه وكيف اشترى الطعام وما صدق الكيل له من الوزن وفي أي رحى طحن فإن كان بدويا وأجابهم أنه أخذ الطعام من إصابته حزرا دون كيل وسمى لهم الرحى التي طحن فيها أمكنتهم المؤاربة فيه والحيلة عليه وأمهنوا دقيقه بكل وجه وجعلوا النقص الذي يظهر في ذلك في جانب الأخذ بالحرز دون الوزن وفي أي الرحى كثيرة التغير معلومة الاخسار والرحوي الذي فيها مشهور السرقة، وتولى الوزن المذكور واحد منهم فتارة يأخذ الدقيق من العدل في قفة الوزن ويفرق بكلتي يديه في الأرض ويطيل المدة في ذلك ويفرق المجتمع في الأرض برجليه ليغفل عنه صاحب الدقيق، ويواعد الوزان لذلك نساء من السعادة يكنسونه ويجمعونه ويقسمون مع الوزان آخر النهار، وتارة يأخذ في القفة أكثر من الربع ويوقف قدمه على عقبها يرفد القفة بها وينقص منها غرفة بعد غرفة حتى يطول الأمر ويعلم أنه بقي زائدا على الربع ثلاثة أرطال أو أربعة فيخطف القفة بسرعة من العمود ويفرغها في وعاء رجل يعرف مواطأته له على ذلك حتى يحاسبه بعد ارتفاع السوق على نصف الربع زائدا أو أزيد من ذلك، وتارة يلتمس القفة من البائع ويفرغ الربع كله في وعاء رجل معد لذلك فيمضي به بين الناس
দাঁড়ি-পাল্লার দণ্ডটি এমনভাবে ধরা হলো যে, কাঁটাটি নির্দেশক কাঠামো থেকে বেরিয়ে গেল। ক্রেতা মনে করল বিক্রেতা অতিরিক্ত পরিমাণে দিয়ে তাকে ছাড় দিয়েছেন, অথচ প্রকৃতপক্ষে বিক্রেতা তার প্রাপ্য অধিকার থেকে তাকে বঞ্চিত করেছে।
একইভাবে আমার কাছে এমন একজন ব্যক্তি বর্ণনা করেছেন যাঁর দ্বীনদারী, আমানতদারি, সত্যবাদিতা এবং প্রজ্ঞার উপর আমি আস্থা রাখি (أثق به), যে তিনি এমন এক স্থানে উপস্থিত ছিলেন যেখানে আটা বিক্রির জন্য আনা হতো এবং ক্রয়ের জন্য মানুষ আসত। সেখানে তাঁকে কয়েকদিন অবস্থান করতে হয়েছিল। সেখানে এমন কিছু লোক ছিল যারা পাল্লা ও দাঁড়িপাল্লার দণ্ড দিয়ে ওজন করার কাজে নিয়োজিত ছিল। তিনি তাদের দুর্নীতির বিস্ময়কর চিত্র এবং এমন সব জালিয়াতি প্রত্যক্ষ করেছেন যা তাদের সম্পর্কে আলোচনা করা আবশ্যিক করে তুলেছে। আর তা হলো এই যে, যখনই কোনো আটা বহনকারী তাদের কাছে পৌঁছাত, তারা তার চারপাশে সমবেত হতো এবং তার এলাকা, তার অবস্থা, তার এলাকার বাজারদর কেমন, সে কীভাবে খাদ্যদ্রব্য কিনেছে, ওজনের তুলনায় পরিমাপের সত্যতা কতটুকু এবং কোন জাঁতায় তা পিষানো হয়েছে—সেসব বিষয়ে তাকে জিজ্ঞাসা করত। যদি সে গ্রাম্য ব্যক্তি হতো এবং উত্তর দিত যে সে খাদ্যশস্যটি কোনো পরিমাপ ছাড়াই অনুমানের ভিত্তিতে সংগ্রহ করেছে এবং যে জাঁতায় তা পিষানো হয়েছে তার নাম বলত, তখন তারা তার সাথে প্রতারণা ও চাতুরি করার সুযোগ পেয়ে যেত এবং সবদিক থেকে তার আটাকে অবমূল্যায়ন করত। তারা ওজনে যে ঘাটতি দেখা দিত, তার দায়ভার ওজনের পরিবর্তে অনুমানের ভিত্তিতে সংগ্রহের ওপর চাপিয়ে দিত। এছাড়া কোন জাঁতায় বেশি পরিবর্তন ঘটে, কোনটিতে লোকসান সুনিশ্চিত এবং কোন জাঁতার মালিক চুরির জন্য কুখ্যাত—সেগুলোকেও অজুহাত হিসেবে দাঁড় করাত। তাদের মধ্যে একজন উক্ত ওজনের দায়িত্ব গ্রহণ করত। কখনো সে বস্তা থেকে আটা নিয়ে পাল্লার ঝুড়িতে রাখত এবং দুই হাত দিয়ে কিছু আটা মাটিতে ছড়িয়ে দিত। সে এই কাজে দীর্ঘ সময়ক্ষেপণ করত এবং মাটিতে জমিয়ে রাখা আটাগুলো পা দিয়ে ছড়িয়ে দিত যাতে আটার মালিক সেদিকে খেয়াল না করতে পারে। ওজনকারী এজন্য কিছু অভাবী নারীর সাথে চুক্তি করে রাখত, যারা সেই আটা ঝাড়ু দিয়ে সংগ্রহ করত এবং দিনের শেষে ওজনকারীর সাথে তা ভাগ করে নিত। আবার কখনো সে ঝুড়িতে নির্ধারিত পরিমাণের চেয়ে বেশি আটা নিত এবং নিজের গোড়ালি উঁচু করে ঝুড়িটিকে ঠেস দিয়ে ধরে রাখত। এরপর এক এক মুঠো করে তা থেকে কমাতে থাকত যতক্ষণ না দীর্ঘ সময় অতিবাহিত হয়। যখন সে বুঝতে পারত যে নির্ধারিত পরিমাণের চেয়ে আরও তিন বা চার রতল অতিরিক্ত রয়ে গেছে, তখন সে দ্রুত দণ্ড থেকে ঝুড়িটি ছিনিয়ে নিত এবং এমন এক ব্যক্তির পাত্রে তা ঢেলে দিত যার সাথে তার যোগসাজশ ছিল। যাতে বাজার শেষ হওয়ার পর সে সেই অতিরিক্ত অর্ধ-পরিমাণ বা তার চেয়েও বেশি অংশের হিসাব বুঝে নিতে পারে। কখনো সে বিক্রেতার কাছ থেকে ঝুড়িটি চেয়ে নিত এবং পুরো নির্ধারিত অংশটিই এই কাজের জন্য প্রস্তুত রাখা এক ব্যক্তির পাত্রে ঢেলে দিত, যে এরপর ভিড়ের মধ্য দিয়ে তা নিয়ে সটকে পড়ত।
(খণ্ড: ১)
আদাবুল হিসবাহ
(পৃষ্ঠা: ১৭)
وربما يشعر له صاحب الدقيق فيصيح به ويثقل نفسه بالوزن والعدد ولا يجيبه إلا بعد أمد بعيد فإذا عرفه أنه دفع ربع دقيق لمن لم يدفع له ثمنه غالطه وقال له: قد كان دفع لك الثمن ووزنته عليه، أليس الرجل الذي صفته كذا ولباسه كذا، ويوافقه شريكه على ذلك ويشهد له بالدفع فيخسر المسكين وهو على حق.
وإن كان صاحب الدقيق من المحتكمين الذين قد خبروا الأمور وعرفوا نقائض أولئك الوزانين عرفهم بالسوم والأصداق والتحفظ في الطحن حتى لم يوجدهم سبيلا إلى قصدهم منه لم تكن حيلتهم معه إلا أن يدسوا له من يغالطه بالمدلس ويغلطه في العدد ولا يمكنه مع كيسه أن ينفصل عنهم سالما منهم، ولقد اجتمعت يوما مع قوم من التجار المسافرين وتحدثنا مليا إلى أن قال أحدهم: أخبركم بما اتفق لي مع رجل يبيع التين الإشبيلي المعروف بالشعري وذلك أني كنت مع رجلين من الأصحاب ومررنا برجل يبيع التين المذكور وبين يديه عدل وعليه ثلاثة من التين في غاية من القد ونهاية من اسوداد اللون وبدع من التخطيط الأبيض فاستطرفنا ذلك النوع واعجب كل واحد منا به وافترقنا عنه وصار كل واحد منا إليه وهو يخفي مسيره عن صاحبه ليحوز تلك الثلاث التي كانت على العدد واشترى كل واحد منا التين وبايعه بوزن تلك الثلاث فلما وصل كل واحد منا إلى بيته من الخان الذي كنا فيه أفرغ التين من وعائه ولم يجد تلك المقصودة فيه واختبر مشتراه بالوزن فوجده صحيحا فعجب مما اتفق له وأخبر صاحبيه بذلك فوجدهما على مثل ذلك، ولما سرنا باسطوان الخان المذكور على عادة المسافرين قال أحدنا: اتفق لي اليوم أيها التجار كيت وكيت ولقد رأيته وضعها في الوزانة ووزنها ثم أفرغ الوزانة في الوعاء الذي دفعت له، فلما سمع الحاضرون ما وصف لهم ضحك
অনেক সময় আটার মালিক বিষয়টি টের পেয়ে তাকে চিৎকার করে ডাকেন। কিন্তু সে ওজন ও গণনায় নিজেকে ব্যতিব্যস্ত রেখে দীর্ঘ সময় অতিবাহিত হওয়ার আগে উত্তর প্রদান করে না। যখন তিনি তাকে অবগত করেন যে, সে এমন একজনকে এক চতুর্থাংশ আটা দিয়ে দিয়েছে যে তার মূল্য পরিশোধ করেনি, তখন সে তাকে বিভ্রান্তিতে ফেলে বলে: সে তো আপনাকে মূল্য পরিশোধ করেছে এবং আমি তার সামনেই ওজন করেছি; ঐ ব্যক্তি কি এমন অবয়ব এবং এমন পোশাক পরিহিত ছিল না? তখন তার অংশীদারও এই বিষয়ে একমত পোষণ করে এবং মূল্য পরিশোধের সপক্ষে সাক্ষ্য দেয়। ফলে অসহায় লোকটি সত্যের ওপর প্রতিষ্ঠিত থাকা সত্ত্বেও লোকসানের সম্মুখীন হয়।
আর আটার মালিক যদি সেই বিচক্ষণ ব্যক্তিদের অন্তর্ভুক্ত হন যারা বিষয়াদি পরীক্ষা-নিরীক্ষা করেছেন এবং ঐসব ওজনকারীদের বৈপরীত্য সম্পর্কে অবগত আছেন, তবে তিনি দরদাম, সততা এবং পেষাইয়ের সতর্কতার মাধ্যমে তাদের শনাক্ত করে নেন, যাতে তারা তাকে প্রতারিত করার কোনো অবকাশ না পায়। এমতাবস্থায় তার ক্ষেত্রে তাদের কূটকৌশল কেবল এটাই থাকে যে, তারা তার নিকট এমন একজনকে অনুপ্রবেশ করায় যে প্রবঞ্চনামূলক (مدلس) বিষয়ের মাধ্যমে তাকে বিভ্রান্ত করে এবং গণনায় ভুল করিয়ে দেয়। ফলে তার তীক্ষ্ণ বুদ্ধি থাকা সত্ত্বেও তাদের থেকে সম্পূর্ণ নিরাপদ থাকা তার পক্ষে সম্ভব হয় না। একদিন আমি একদল মুসাফির ব্যবসায়ীর সাথে একত্রিত হলাম এবং আমরা দীর্ঘক্ষণ আলাপচারিতা করলাম। একপর্যায়ে তাদের একজন বলল: 'শাইরি' নামে পরিচিত সেভিলের ডুমুর বিক্রেতা এক ব্যক্তির সাথে আমার যা ঘটেছিল তা আপনাদের বলছি। ঘটনাটি হলো, আমি আমার দুজন সঙ্গীর সাথে ছিলাম এবং আমরা উল্লিখিত ডুমুর বিক্রেতার পাশ দিয়ে অতিক্রম করছিলাম। তার সম্মুখে একটি বস্তা ছিল এবং তার ওপর অত্যন্ত সুঠাম গড়ন, ঘন কৃষ্ণবর্ণ এবং চমৎকার শ্বেত রেখা বিশিষ্ট তিনটি ডুমুর রাখা ছিল। আমরা সেই বিচিত্র প্রকারটি দেখে আশ্চর্যান্বিত হলাম এবং আমাদের প্রত্যেকেই তা দেখে মুগ্ধ হলো। অতঃপর আমরা পরস্পর থেকে পৃথক হয়ে গেলাম এবং আমাদের প্রত্যেকেই অন্য সঙ্গীদের নিকট নিজের গমনাগমন গোপন রেখে তার সমীপে উপস্থিত হলো যাতে ঐ নির্দিষ্ট তিনটি ডুমুর সে লাভ করতে পারে। আমাদের প্রত্যেকেই ডুমুর ক্রয় করল এবং ঐ তিনটি ডুমুরের ওজনেই ক্রয়-বিক্রয় সম্পন্ন করল। যখন আমরা সরাইখানার নিজ নিজ আবাসে পৌঁছালাম এবং পাত্র থেকে ডুমুরগুলো ঢাললাম, তখন সেখানে সেই কাঙ্ক্ষিত ডুমুরগুলো পাওয়া গেল না। অথচ ক্রয়কৃত পণ্যের ওজন পরীক্ষা করে দেখা গেল তা যথাযথ আছে। এতে সে যা ঘটেছে তাতে বিস্মিত হলো এবং তার দুই সঙ্গীকে বিষয়টি অবহিত করল। দেখল যে তারাও তদ্রূপ পরিস্থিতির সম্মুখীন হয়েছে। যখন আমরা মুসাফিরদের রীতি অনুযায়ী উক্ত সরাইখানার বারান্দায় পায়চারি করছিলাম, তখন আমাদের একজন বলল: হে ব্যবসায়ীগণ, আজ আমার সাথে এই এই ঘটনা ঘটেছে। আমি দেখেছি সে ডুমুরগুলো পাল্লায় রাখল এবং ওজন করল, অতঃপর পাল্লাটি আমার প্রদত্ত পাত্রে খালি করে দিল। উপস্থিত ব্যক্তিবর্গ যখন তার এই বর্ণনা শ্রবণ করল, তারা হেসে উঠল।
(খণ্ড: ১)
আদাবুল হিসবাহ
(পৃষ্ঠা: ১৮)
واحد منهم وقال: يا أخي قد اتفق لي ذلك مع هذا الرجل وأتعب أمره خاطري ولما بلغ مني جعلت ألاينه لأكشف عن مدكته حتى رأيته أول ما يجعل في الوزانة تلك الثلاث المقصودة ويلصقها بركن الوزانة فإذا وزن رجح الميزان بمثل نصفها فإذا أخذ الوزانة من الميزان أخذها من قعرها وعض بيده على الركن الذي ألصق التين به وأمسكه فيها ثم أفرغها في الوعاء وبقي في الوزانة الثلاث المذكورة ثم رمي بالوزانة المذكورة إلى جانبه بموضع فارغ قد أعده إلى ذلك لتقع في فراغ ولا يشعر بها أحد فإذا ذهب المبتاع أخرجها وجعلها في موضع العدل وغير ما علمت بما يعمل جئته وقلت له: كم ثمن هذه خاصة، واستشعر ما إليه قصدت قبل على يده وقال: يا مولاي إذا جئتني وقد فرغت من العدل خذها بلا ثمن.
ولما كانت الاختراعات لا تحصر والحيل لا تحصي رأيت أن اكتفي في كل باب بمقدمة يستدل بها على ما سواها قصدا للاختصار تركا للتطويل.
وشأن المحتسب مع هؤلاء الأصناف إن يختبر موازينهم حتى تكون على النوع الأحق وتكون صنوجهم دون حلق مطبوعا عليها ولا مغشاة بجلد ولا تكون من الحجارة الرخوة كالسبخ وبعض الجندل الأبيض فإن ذلك من الخفة بحيث يخيل الناظر صنجة الرطل أنها صنجة الرطلين.
ويمنعهم أن يزلوا للناس بحجارة ينحتونها بأيديهم ويعدلها بعضهم لبعض ويخسرون الناس وإذا رأوا المحتسب يرمونها الزقاق أو يرفدون بها أطباقهم وكراسي سلعهم ويعتذرون عنها متى طلبوا بصنوجهم.
ويأخذهم بأن يعرضوا موازينهم في أوجه حوانيتهم ويجلس البائع من داخل الحانوت والميزان بين يديه بحيث تكون الكفة التي للوزن على يمينه والكفة التي لا صنوج لها على شماله
তাদের মধ্যে একজন বললেন: হে ভাই, এই লোকটির সাথে আমারও এমনটি ঘটেছে এবং তার ব্যাপারটি আমার চিন্তাকে ভারাক্রান্ত করে তুলেছিল। যখন বিষয়টি আমাকে অতিষ্ঠ করে তুলল, তখন আমি তার প্রতারণার গূঢ় রহস্য উদ্ঘাটন করার জন্য তার সাথে নমনীয় আচরণ করতে শুরু করলাম। শেষ পর্যন্ত আমি দেখলাম, সে ওজন করার পাত্রে শুরুতেই সেই নির্দিষ্ট তিনটি বস্তু রাখে এবং সেগুলোকে ওজন-পাত্রের এক কোণে সেঁটে দেয়। ফলে যখন ওজন করা হয়, তখন পাল্লাটি তার অর্ধেক পরিমাণ ওজনে ঝুঁকে পড়ে। যখন সে দাঁড়িপাল্লা থেকে ওজন-পাত্রটি সরিয়ে নেয়, তখন সে সেটিকে নিচ থেকে ধরে এবং যে কোণে সে ডুমুরগুলো সেঁটে দিয়েছিল, সেখানে হাত দিয়ে চেপে ধরে রাখে। এরপর সে পণ্যটি পাত্রে ঢেলে দেয় কিন্তু ওই তিনটি নির্দিষ্ট বস্তু ওজন-পাত্রেই রয়ে যায়। তারপর সে উক্ত ওজন-পাত্রটি তার পাশে একটি নির্দিষ্ট খালি জায়গায় এমনভাবে নিক্ষেপ করে যাতে তা নিঃশব্দে পড়ে এবং কেউ তা টের না পায়। ক্রেতা চলে গেলে সে সেগুলো বের করে বস্তার ভেতর রেখে দেয়। তার কাজের ধরন জানার পর আমি একদিন তার কাছে গিয়ে বললাম: শুধু এই বিশেষ কটির দাম কত? সে আমার অভিপ্রায় বুঝতে পেরে আগেভাগেই আমার হাতে চুম্বন করল এবং বলল: হে আমার মনিব, আমি যখন বস্তার কাজ শেষ করব, তখন আপনি আসবেন এবং কোনো মূল্য ছাড়াই এগুলো নিয়ে যাবেন।
যেহেতু নিত্য-নতুন উদ্ভাবন ও প্রতারণার কৌশলগুলোর কোনো শেষ নেই এবং ধূর্ততার কোনো ইয়ত্তা নেই, তাই আমি সংক্ষেপ করার উদ্দেশ্যে এবং দীর্ঘসূত্রতা পরিহার করতে প্রতিটি অধ্যায়ে এমন একটি ভূমিকা উল্লেখ করা যথেষ্ট মনে করেছি, যা দ্বারা অন্যান্য বিষয়গুলোও অনুমান করা সম্ভব হয়।
এই শ্রেণির লোকদের ব্যাপারে বাজার পরিদর্শকের দায়িত্ব হলো তাদের দাঁড়িপাল্লাগুলো পরীক্ষা করা, যাতে সেগুলো সঠিক মানদণ্ড অনুযায়ী হয়। আর তাদের বাটখারাগুলো যেন আংটাবিহীন ও সিলমোহরযুক্ত হয়, কোনো চামড়া দিয়ে মোড়ানো না থাকে এবং সেগুলো যেন লোনা পাথর বা সাদা পাথরের মতো ভঙ্গুর পাথর দ্বারা নির্মিত না হয়। কারণ এই ধরনের পাথর ওজনে এতটাই হালকা হয় যে, দর্শক এক রতলের বাটখারাকে দুই রতলের বাটখারা বলে ভ্রম করতে পারে।
তিনি তাদের এ কাজ থেকে বিরত রাখবেন যে, তারা নিজ হাতে খোদাই করা পাথর দিয়ে মানুষের ওজনে কারচুপি করবে এবং একে অপরের পাল্লা ঠিক করে দেবে, যার ফলে মানুষের ক্ষতি সাধিত হয়। তারা যখন বাজার পরিদর্শককে দেখতে পায়, তখন সেগুলো গলিতে ফেলে দেয় অথবা তাদের থালাবাসন বা পণ্যের সরঞ্জামের নিচে ঠেকনা হিসেবে ব্যবহার করে এবং বাটখারা চাইলে সেগুলো সম্পর্কে নানা অজুহাত পেশ করে।
তিনি তাদের নির্দেশ দেবেন যাতে তারা দোকানের সামনের অংশে দাঁড়িপাল্লা প্রদর্শন করে। বিক্রেতা দোকানের ভেতরে বসবে এবং দাঁড়িপাল্লা থাকবে তার সামনে; যাতে ওজনের পাল্লাটি (বাটখারার পাল্লা) তার ডান দিকে এবং যেটিতে বাটখারা নেই (পণ্যের পাল্লা) সেটি তার বাম দিকে থাকে।
(খণ্ড: ১)
আদাবুল হিসবাহ
(পৃষ্ঠা: ১৯)
ويتخذ بائع الفاكهة اليابسة وعاء للوزن من الدوم أو ما شاكلة شرحيا لا يخفي من خارجة ما في جوفه، وبائع الفاكهة الرطبة وعاء من الحلفاء وما شاكلها كالصناج ويتعاهده بالغسل والتفليس لما يعلق به من النداوة والغبار ويجعل نقل ذلك الوعاء من الرصاص وغيره مستطيلا بحلقة مبشوسة فيه يخالف أشكال الصنوج ولا يشبهها حتى يكون المشترى على ثقة من التلبيس والخلابة.
ويضع الدقيق وما شابهه بالكفة دون وعاء الوزن، وكذلك يأخذ أصحاب الأكيال بأن تكون صفائح أكيالهم المعترضة في أوسطها مساوية صفائح أجنابها ويكون العود الذي يمسح به على أفواهها قويا غير لدن كالقبطال الذي للبناء ولا ينحني بوجه ويماس الصفائح بالأجناب والوسط على نهاية الاعتدال عند المسح به، هذا إن كان الكيل بالممسوح وإن كان الكيل بالمكتال فتكون حافاتها من الضيق بحيث لا يحتمل التركيب.
ويأخذ الكيال بأن يضع الكيل على قعة جالسا ويصب فيه الزرع بيديه معا ولا يمر بهما وبذراعيه على فمه أن يستوي مثله ويحذره من هذه وهذه صفة الحق فيه، ومتى صنع الكيال الكيل على طرفي ركبتيه وجعل فيه الزرع وهو على جانبه حتى يتحصل فيه قدر نصف ما يحتمل أو ثلثيه ثم أزال ركبتيه وأقعد الكيل على قعره وأفرغ الزرع حتى يمتلي ويمسح عليه أو يستوفيه إن كان مكتالا وكذلك إذا وضع الكيل على جانبه وملا منه بالزرع قدر نصفه أو ثلثيه ثم أقعده بقوة على قعره وصب فيه الزرع بيديه معًا إلى كماله أو مر على فم الكيل بذراعيه ويديه أو هزه فإنه يزيد بكل وجه من هذه
শুকনো ফল বিক্রেতা ওজনের পাত্র হিসেবে ডুম কাঠ বা অনুরূপ স্বচ্ছ উপাদান গ্রহণ করবে, যা তার ভেতরে থাকা বস্তুকে বাইরে থেকে আড়াল করবে না। আর তাজা ফল বিক্রেতা ঘাস বা অনুরূপ উপাদান দিয়ে তৈরি ঝুড়ি ব্যবহার করবে এবং আর্দ্রতা ও ধূলিকণা লেগে যাওয়ার কারণে তা নিয়মিত ধৌত ও পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন করবে। সে এই ওজনের পাত্রের বাটখারা সীসা বা অন্য ধাতু দিয়ে লম্বাটে আকৃতির তৈরি করবে এবং তাতে একটি আংটা সংযুক্ত থাকবে, যা সাধারণ বাটখারার আকৃতি থেকে ভিন্ন হবে এবং তার সদৃশ হবে না; যাতে ক্রেতা প্রতারণা ও জালিয়াতি থেকে আশ্বস্ত (ثقة) থাকতে পারেন।
সে আটা ও অনুরূপ বস্তু ওজনের পাত্র ছাড়াই সরাসরি পাল্লায় রাখবে। একইভাবে পরিমাপপাত্রের মালিকদের নির্দেশ দেওয়া হবে যেন তাদের পরিমাপপাত্রের মাঝখানের আড়াআড়ি পাতগুলো পার্শ্ববর্তী পাতগুলোর সমান হয়। আর পাত্রের উপরিভাগ সমান করার জন্য ব্যবহৃত কাঠিটি যেন অনমনীয় ও শক্তিশালী হয়—যেমন রাজমিস্ত্রিদের ব্যবহৃত লেভেলিং কাঠি—এবং তা যেন কোনোভাবেই বেঁকে না যায়। সমান করার সময় কাঠিটি যেন পার্শ্ববর্তী ও মাঝখানের পাতের সাথে পূর্ণ ভারসাম্যের সাথে লেগে থাকে। এটি তখনই প্রযোজ্য যখন পরিমাপটি সমান করে নেওয়ার নিয়ম থাকে। আর যদি পরিমাপটি স্তূপাকার করে নেওয়ার নিয়ম হয়, তবে পাত্রের কিনারাগুলো এমন সংকীর্ণ হতে হবে যেন সেখানে অতিরিক্ত শস্য স্তূপ করা সম্ভব না হয়।
পরিমাপকারীকে নির্দেশ দেওয়া হবে যেন সে পরিমাপপাত্রটি সমতলে স্থিরভাবে বসিয়ে তাতে দুই হাত দিয়ে শস্য ঢালে। সে যেন হাত বা বাহু দিয়ে পাত্রের মুখ স্পর্শ না করে; তাকে এ বিষয়ে সতর্ক করা হবে, কারণ এটিই হলো ন্যায়সঙ্গত পদ্ধতি। যখন পরিমাপকারী পাত্রটি তার দুই হাঁটুর ওপর রাখে এবং তা একদিকে কাত করে তাতে শস্য ঢালে যতক্ষণ না অর্ধেক বা দুই-তৃতীয়াংশ পূর্ণ হয়, এরপর হাঁটু সরিয়ে পাত্রটি সোজা করে বসায় এবং বাকি শস্য ঢেলে পূর্ণ করে সমান করে দেয় অথবা স্তূপাকার করে; কিংবা সে যদি পাত্রটি কাত করে অর্ধেক বা দুই-তৃতীয়াংশ ভরে সজোরে সোজা করে বসায় এবং দুই হাতে শস্য ঢেলে পূর্ণ করে, অথবা বাহু ও হাত দিয়ে পাত্রের মুখ চেপে ধরে কিংবা পাত্রটি ঝাঁকুনি দেয়—তবে এগুলোর প্রতিটি উপায়েই মালের পরিমাণ বৃদ্ধি পায়।
(খণ্ড: ১)
আদাবুল হিসবাহ
(পৃষ্ঠা: ২০)
الأوجه الأربعة رطلا واحدًا في الكيل على الحق فيه وربما أزيد بحسب ما يتمكن له.
ويجعل بائع الدقيق بالربع والعمود أدوارا من الدوم ويفرغ فيها الدقيق ويباع منها ويقف الوزان داخلها ويعرض عمود الوزن في وجه الحانوت وكله مفروش بالأجر ومصطبة مرتفعة والناس تحتها ولا يخلص للدقيق إلا صاحبه والوزان له وتكون القفة بالدقيق توازي الدور حتى لا يقع منها شيء إلا في الدقيق فإذا كمل صاحب الدقيق بيعه نفض الدور ولم يضع له شيء ولا أمكنت الوزان حيلة لكونه على ما وصفنا في علو والناس ينظرون إليه، ولا يبيع إلا ربعا أو نصف ربع وإن بقي له من الدقيق أقل من ذلك احتمل متاعة معه، ومع هذا هذا كله يختبر على كل صنف ما أمكنه متى أمكنه مما قد خرج عنهم بالبيع وفرغوا من كيله أو وزنه ويتابعهم البحث في ذلك وبالتوالي يظهر حق المحق وباطل المبطل والله المستعان وهو المخلص لا رب سواه.
الباب الرابع
في عملة الدقيق والخبز وباعتها
أما هؤلاء فأصناف ومعلموهم يجمعون بين التجارة والصنعة ومفسدوهم اهل جرأة وغش ولا يرتدعون إلا بمؤلم النكال وشديد العقاب.
فمنهم باعته ولمفسديهم خدع وغشوش منها أنهم يخلطون الطيب مع اللطيف ويبعون الجميع بسوم الطيب الذي قد رسمه عليهم المحتسب، ومنها أنهم يجعلون الطيب على اللطيف ليراه المشترى ثم يغرف له من الوسط ويعطيه وهو في غفلة عما في داخل الظاهر ويسمون ذلك المغفر، ومنهم من يخلط فيه النخال
চারদিকের বিচারে পরিমাপের ক্ষেত্রে যথাযথভাবে এক রতল (رطل) প্রদান করতে হবে, অথবা সামর্থ্য অনুযায়ী কিছুটা বেশিও দেওয়া যেতে পারে।
আটা বিক্রেতা সিকি (ربع) এবং তুলাদণ্ড ব্যবহারের সময় ডোম তালগাছের তৈরি বৃত্তাকার পাত্র ব্যবহার করবে এবং তাতে আটা ঢেলে সেখান থেকে বিক্রি করবে। ওজনকারী ব্যক্তি এর ভেতরে অবস্থান করবে এবং ওজনের দণ্ডটি দোকানের সম্মুখভাগে প্রদর্শন করবে। পুরো স্থানটি ইটের মেঝেযুক্ত এবং একটি উঁচু বেদীর ন্যায় হবে, যার নিচে মানুষ অবস্থান করবে। আটা ও ওজনকারীর নিকট সংশ্লিষ্ট মালিক ও ওজনকারী ব্যতীত অন্য কেউ পৌঁছাতে পারবে না। আটার ঝুড়িটি বৃত্তাকার পাত্রের সমান্তরালে থাকবে যাতে আটার কোনো অংশ বাইরে না পড়ে। যখন আটার মালিকের বিক্রি শেষ হবে, তখন সে পাত্রটি ঝেড়ে পরিষ্কার করবে যাতে তার কোনো অংশই নষ্ট না হয়। এমতাবস্থায় ওজনকারীর পক্ষে কোনো প্রকার কারচুপি করা সম্ভব নয়, কারণ আমরা যেমন বর্ণনা করেছি সে উঁচুতে অবস্থান করবে এবং সাধারণ মানুষ তাকে পর্যবেক্ষণ করবে। সে কেবল এক সিকি (ربع) অথবা অর্ধেক সিকি (نصف ربع) পরিমাণই বিক্রি করবে। যদি তার কাছে এর চেয়ে কম পরিমাণ আটা অবশিষ্ট থাকে, তবে সে তার মালপত্র সাথে নিয়ে যাবে। এতৎসত্ত্বেও, বিক্রিত প্রতিটি শ্রেণীর পণ্যের ওপর যখনই সম্ভব পরীক্ষা চালাতে হবে, বিশেষ করে যেসব পণ্যের পরিমাপ বা ওজন সম্পন্ন করে তারা অবসর হয়েছে। এ বিষয়ে তাদের ওপর ক্রমাগত অনুসন্ধান চালিয়ে যেতে হবে। এর ফলে পর্যায়ক্রমে সত্যনিষ্ঠ ব্যক্তির সত্যতা এবং মিথ্যাশ্রয়ীর অসারতা প্রকাশ পাবে। আল্লাহর কাছেই সাহায্য প্রার্থনা করছি, তিনিই ত্রাণকর্তা এবং তিনি ছাড়া কোনো প্রতিপালক নেই।
চতুর্থ পরিচ্ছেদ
আটা ও রুটি প্রস্তুতকরণ এবং তাদের বিক্রেতা প্রসঙ্গে
তারা বিভিন্ন শ্রেণীতে বিভক্ত। তাদের কারিগররা ব্যবসা ও শিল্পকর্মের সমন্বয় ঘটায়। তবে তাদের মধ্যে যারা অসৎ, তারা অত্যন্ত দুঃসাহসী ও প্রতারক হয়ে থাকে। যন্ত্রণাদায়ক শাস্তি ও কঠোর দণ্ড ব্যতীত তারা নিবৃত্ত হয় না।
তাদের মধ্যে একদল রয়েছে বিক্রেতা। তাদের অসৎ লোকদের বিভিন্ন প্রতারণা ও জালিয়াতি রয়েছে। তন্মধ্যে একটি হলো, তারা উন্নত মানের আটার সাথে নিম্নমানের আটা মিশ্রিত করে এবং উভয়টিই সেই উন্নত মানের আটার মূল্যে বিক্রি করে, যা মুহতাসিব (محتسب) তাদের জন্য নির্ধারণ করে দিয়েছেন। আরেকটি জালিয়াতি হলো, তারা উন্নত মানের আটা উপরে রাখে যাতে ক্রেতা তা দেখতে পায়, অতঃপর মধ্যভাগ থেকে তুলে তাকে প্রদান করে। ক্রেতা উপরের আবরণের ভেতরের অবস্থা সম্পর্কে অসতর্ক থাকে; তারা একে 'মাগফার' নামে অভিহিত করে। আবার কেউ কেউ এর সাথে তুষ মিশ্রিত করে।
(খণ্ড: ১)
আদাবুল হিসবাহ
(পৃষ্ঠা: ২১)
الدق بما فيه من الدق الشبية بالسميد وغير ذلك من الدلس ثم يمضي إلى السقيف التي يباع فيها الدقيق البراني ويشتري فيها ربعا واحدا ويضعه في الجميع فإذا وقف عليه المشترى وسأله كيف يبيع الدقيق يقول له الآن والله اشتريته بسوم كذا ويبيع الجميع على ذلك السوم ويعتقد المشتري أنه أحمد إليه بأن أعطاه إياه بسوم ما اشتراه إلى غير ذلك من الخدع.
ومنهم الغربالون وغشهم بأن لا يستوفوا تنقية الطعام مما فيه ولا الدقيق من نخالته ولهم مع ذلك في الوزن حرص مع الطحانين وأصحاب الدقيق أضربنا عنهم لاتساع القول فيهم.
ومنهم الطحانون وغشهم بأن يخلطوا الرديء مع الطيب ليأخذوا من الطيب ويجعلوا الرديء ويخفي فعلهم.
ولقد أخبرني عدل من الشهود كيس من جلة الطلبة أنه نزل في ليلة من الليالي في علو مبتني على رحى تصنع فيها الطرامج وكان في ذلك المبتنى طاق يشرف منه على داخل الرحى فانتبهت يقول من آخر الليل ولم أسمع دوي الطحن فنظرة في جوف الرحي فإذا الطحان قد أخذ من دقيق الدرمك جزءا وأزاله إلى ناحية ووضع عوضه من دقيق المدهون ووضع الدقيق بعد أن غربله ووضع في النخال مغربل كنس الرحى ورأيته في ليلة أخرى وقد أخذ أعدال القمح وفتح عنها واستسقي الماء وسقى القمح بها وقد أخذ منه بقدر الماء قمحا واستأثر به فزاد القمح بذلك لينا ورخوصة وتركه إلى أن دخل الليل ورفعه للطحن ولما حدث فيه من الرخاوة لم تزل الرحي تشبك عليه مرة بعد أخرى ويتغير الدقيق ويفسد لونه ولم يكن له بد من أن يرفع الحجر إثر كل عدل وينقشه ومع كثرة النقش وقع الحجر في الدقيق مع ما يخرج من
আটা বা ময়দার সাথে সুজির মতো মিহি গুঁড়ো এবং অন্যান্য জিনিস মিশিয়ে প্রতারণা (تدليس) করা হয়। এরপর বিক্রেতা এমন এক শেডের নিচে যায় যেখানে উৎকৃষ্ট মানের আটা বিক্রি হয় এবং সেখান থেকে এক চতুর্থাংশ পরিমাণ ক্রয় করে তা পুরো মিশ্রণের সাথে মিশিয়ে দেয়। যখন ক্রেতা তার সামনে দাঁড়ায় এবং তাকে জিজ্ঞাসা করে সে আটা কত দামে বিক্রি করছে, তখন সে বলে, ‘আল্লাহর কসম, আমি এখনই এটি অমুক দামে কিনেছি।’ সে পুরো মিশ্রণটি সেই দামেই বিক্রি করে। আর ক্রেতা মনে করে যে বিক্রেতা তার প্রতি দয়া করছে, যেহেতু সে যে দামে কিনেছে সেই দামেই তাকে দিয়ে দিচ্ছে। এ জাতীয় আরও অনেক প্রতারণা রয়েছে।
তাদের মধ্যে রয়েছে চালনাকারীগণ (যারা চালনি দিয়ে আটা ছাঁকে)। তাদের প্রতারণা হলো এই যে, তারা খাদ্যদ্রব্য থেকে ময়লা-আবর্জনা পুরোপুরি পরিষ্কার করে না এবং আটা থেকে ভুসিও ঠিকমতো আলাদা করে না। তদুপরি ওজনের ক্ষেত্রেও আটা কলওয়ালা ও আটা ব্যবসায়ীদের সাথে তাদের অতিশয় লোভাতুর সংশ্লিষ্টতা থাকে। তাদের সম্পর্কে আলোচনার পরিধি অনেক বড় হওয়ায় আমরা তা থেকে বিরত থাকলাম।
তাদের মধ্যে রয়েছে আটা কলওয়ালা বা আটা পেষণকারীগণ। তাদের প্রতারণা হলো এই যে, তারা উৎকৃষ্ট মানের আটার সাথে নিম্নমানের আটা মিশিয়ে দেয়, যাতে তারা ভালো আটার কিছু অংশ নিজেরা রেখে দিয়ে সেখানে নিম্নমানের আটা ঢুকিয়ে দিতে পারে; আর তাদের এই অপকর্মটি গোপনই থেকে যায়।
এক ন্যায়পরায়ণ (عدل) সাক্ষী এবং ছাত্রদের মধ্যে অত্যন্ত বিজ্ঞ ও সচেতন এক ব্যক্তি আমাকে জানিয়েছেন যে, এক রাতে তিনি আটা কলের উপরে অবস্থিত একটি উঁচু স্থানে অবস্থান করছিলেন যেখানে বিশেষ ধরণের পিঠা বা রুটি তৈরি করা হতো। সেই স্থাপনায় একটি জানালা ছিল যেখান থেকে কলের ভেতরটা দেখা যেত। তিনি বলেন, ‘রাতের শেষভাগে আমার ঘুম ভেঙে গেল, কিন্তু আমি গম পেষার কোনো শব্দ শুনতে পাচ্ছিলাম না। আমি কলের ভেতর তাকিয়ে দেখলাম যে, কলওয়ালা উৎকৃষ্ট সাদা আটার একটি অংশ তুলে নিয়ে এক পাশে সরিয়ে রাখল এবং তার বদলে সেখানে নিম্নমানের আটা মিশিয়ে দিল। সে আটা চালনি দিয়ে ছাঁকার পর আটা কলের ঝাড়ু দেওয়া ময়লা ও ধুলোবালিও অবশিষ্টাংশের সাথে মিশিয়ে দিল। অন্য এক রাতে আমি তাকে দেখলাম যে, সে গমের বস্তাগুলো খুলল এবং পানি নিয়ে এসে গমের ওপর ছিটিয়ে দিল। পানির পরিমাণের সমতুল্য গম সে নিজে সরিয়ে নিল এবং আত্মসাৎ করল। এর ফলে গমগুলো নরম ও ভারী হয়ে গেল। সে রাত গভীর হওয়া পর্যন্ত এগুলোকে রেখে দিল এবং তারপর পেষার জন্য তুলল। গমে অতিরিক্ত আর্দ্রতা ও নরম ভাব থাকার কারণে পেষার সময় কলটি বারবার আটকে যাচ্ছিল, আটার গুণমান পরিবর্তিত হয়ে গেল এবং এর রঙ নষ্ট হয়ে গেল। প্রতিটি বস্তা পেষার পর তাকে পাথরটি তুলে পরিষ্কার করতে ও খোদাই করতে হচ্ছিল। বারবার এই খোদাই করার ফলে পাথরের কণা আটার সাথে মিশে যাচ্ছিল এবং এর সাথে যা বের হয়ে আসছিল...’
(খণ্ড: ১)
আদাবুল হিসবাহ
(পৃষ্ঠা: ২২)
تضريس الحجر عند الدور حتى فحش لكثرته فتحصل من أمره بما فعل أن حال وأفسد.
ويغشون أيضا بأن يأخذوا من القمح ويجعلون عوضه ما يمكنهم من العظام وشوابي البحر ومجره في بلد الساحل والتراب الأبيض والكدان الرخص كما سمعت يوما رجلا يحدث وقد تعجب مما رأى فقال: كنت واقفا على قارعة طريق يفضي إلى رحى فإذا بطحانها يتوجه إليها على دابة وتحته عدل فارغ وقد أبصر إلى جانب الطريق قلبيرة بالية فسمعته يقول: ربع دقيق هنا ترفد لي ونزع عن الدابة وجعلها في قعر عدله وعاد إلى ركوبه ومضى لوجهه.
ويغشون أيضا بأن يأخذوا من الدرمك ما شاؤوا ويعوضون عنه شنتيه بيضاء مغربلة بعد الطحن ولا يكاد يشعر بذلك إلا عند اختبار الخبز منه فإنه لا يرتفع في الخمير ارتفاع الدرمك السالم.
وبأرحى مالقة عجب يجب التحدث به وذلك غار فيه تراب أبيض يحتفر ويخلط في الدقيق ويزعم أهل تلك الجمعة أنه يحسن باختمار ما يخلط معه من الدقيق والناظرون في الحسبة بمالقة يمنعون منه ويبنون فم الغار مرة ويردمونه أخرى ومتى غفل عنه حفر عليه ودلي به، ومع ذلك كله فالمفسد لا يغفل والخدع جمعة.
ولقد وجهت يوما غلامي إلى الرحى بقمح إلى الطحن فغاب عني ثلاثة أيام متوالية حتى أشفقت من أمره وخفت فواته بالدابة والطعام فخرجت في طلبه وبحثت وألفيته في رحى خفية وقد تلقاه طحانها وخدعه وعرفه بأن بيني وبينه ما يوجب إكرام الغلام وبره واحتمله إلى تلك الرحى وشرع في طحن القمح وشغله حتى أخذ له من القمح وتركه بالرحى وخرج إلى الساقية التي يخرج عليها ماء
জাঁতাকল ঘোরানোর সময় পাথরের খাঁজ কাটার কাজ যখন অতিরিক্ত করা হয়, তখন তা কদর্য রূপ ধারণ করে; ফলে এই কাজের মাধ্যমে আটার অবস্থা পরিবর্তিত ও নষ্ট হয়ে যায়।
তারা গমের অংশ বিশেষ সরিয়ে নিয়ে তার পরিবর্তে হাড়ের গুঁড়ো, সামুদ্রিক শ্যাওলা ও ঝিনুক (উপকূলীয় অঞ্চলে), সাদা মাটি এবং সস্তা নরম পাথর মিশিয়েও ভেজাল দেয়। যেমনটি আমি একদিন এক ব্যক্তিকে বর্ণনা (حدث) করতে শুনেছি, তিনি যা দেখেছিলেন তাতে বিস্ময় প্রকাশ করে বলছিলেন: "আমি একটি জাঁতাকলের দিকে যাওয়ার পথের মোড়ে দাঁড়িয়ে ছিলাম। তখন দেখলাম এক আটা পেষাইকারী পশুর পিঠে চড়ে সেদিকে যাচ্ছে, তার সাথে একটি খালি বস্তা ছিল। সে পথের পাশে একটি জীর্ণ মাদুর দেখতে পেল। আমি তাকে বলতে শুনলাম: 'এটুকু দিয়ে তো এখানে এক চতুর্থাংশ ময়দা বাড়িয়ে নেওয়া যাবে।' এরপর সে পশু থেকে নেমে সেটি বস্তার তলদেশে রাখল এবং পুনরায় আরোহণ করে নিজের গন্তব্যে চলে গেল।"
তারা উন্নত মানের ময়দা থেকে যতটুকু ইচ্ছা সরিয়ে নিয়ে তার পরিবর্তে পেষাইয়ের পর চালনি দিয়ে চালা সাদা নিকৃষ্ট মানের আটা মিশিয়েও প্রতারণা করে। রুটি তৈরির সময় পরীক্ষা না করা পর্যন্ত এটি প্রায় বোঝাই যায় না; কেননা খামির করার সময় এটি খাঁটি উন্নত মানের ময়দার মতো ফুলে ওঠে না।
মালাকার জাঁতাকলগুলোতে এক আশ্চর্যজনক বিষয় পরিলক্ষিত হয় যা আলোচনা করা আবশ্যক। সেখানে একটি গুহা রয়েছে যাতে সাদা মাটি পাওয়া যায়; তা খুঁড়ে বের করে ময়দার সাথে মেশানো হয়। সেই জনপদের অধিবাসীরা দাবি করে যে, এটি ময়দার সাথে মিশিয়ে খামির করলে তার গুণগত মান বৃদ্ধি পায়। মালাকার বাজার পরিদর্শকগণ এটি নিষিদ্ধ করেন এবং কখনো গুহার মুখ প্রাচীর দিয়ে আটকে দেন, আবার কখনো মাটি দিয়ে ভরাট করে দেন। কিন্তু যখনই তারা উদাসীন হয়, তখনই আবার তা খনন করে ব্যবহার করা হয়। এতদসত্ত্বেও, অনিষ্টকারী ব্যক্তি কখনও নিবৃত্ত হয় না এবং প্রতারণা চলতেই থাকে।
একদিন আমি আমার গোলামকে গম পেষাই করার জন্য জাঁতাকলে পাঠালাম। সে টানা তিন দিন নিখোঁজ ছিল, এমনকি আমি তার ব্যাপারে শঙ্কিত হয়ে পড়লাম এবং তার ও পশুর জীবন নিয়ে ভয় পেতে লাগলাম। আমি তার খোঁজে বের হলাম এবং তাকে একটি নিভৃত জাঁতাকলে খুঁজে পেলাম। সেখানকার আটা পেষাইকারী তাকে পেয়ে প্রবঞ্চিত করেছিল; সে তাকে জানিয়েছিল যে আমার সাথে তার এমন সুসম্পর্ক রয়েছে যা গোলামের প্রতি সম্মান ও সদাচরণকে অপরিহার্য করে তোলে। এভাবে সে তাকে সেই জাঁতাকলে নিয়ে যায় এবং গম পেষাইয়ের কাজে নিয়োজিত রেখে তাকে ব্যস্ত করে ফেলে, যাতে সে গম থেকে কিছু অংশ হাতিয়ে নিতে পারে। এরপর সে তাকে জাঁতাকলে রেখে পানির নালা দিয়ে যেখানে পানি বের হয় সেখানে চলে যায়...
(খণ্ড: ১)
আদাবুল হিসবাহ
(পৃষ্ঠা: ২৩)
الرحى المذكورة وألقى القمح فيها مع حاشيتها مضد أن ينزل إلى القعر ويظهر ولم يلقه في وسطها فيحمله تيار الماء ولا يتمكن له ما يريد ثم دعا الغلام ولما خرج إليه أراه القمح وقال له: الرحى تصفي وأمره أن يجمع ذلك القمح من الماء والحفن فيه مخافة المتضيع فاشتغل الغلام بذلك وتمكن المذكور من القمح بالرحى فأخذ من القمح والدقيق وجعله في أوعية معدة عنده لذلك ودفن بعضها وغطي منها وأخفاها ودخل عليهما الليل فجنا من الدقيق وأكلا ولما كان من الغد وضع القمح المبلول للشمس ويطمعه في تيبيسه وطحنه وأكلا من الدقيق كذلك يومهما وليلتهما ويقصد بذلك إخفاء فعله وإتلافع وعندما وجدتهما كذلك وصف إلي ما تخيل المذكور أنه يجوز علي فتحققت مكره بالغلام وخدعة له فقبضت عليه واضطررته بنوع من الاجتهاد إلى أن جعلته يحفر موضعا ويخرج وعاء مملواءا قمحا ويزيل غطاءه ويخرج وعاء مملؤا دقيقا حتى تجمع قدر الربعين من الحمل ولم ينقص منه إلا ما أكلا وابتل خاصة.
وقد كنت أيام نظري في الحسبة قد بايت جماعة من الشهود والأمناء في رحى لعمل قيمة الدقيق فجاء الطحان وكنس الرحى وأعده للطحن ورفع القمح في الغنص وخرج عن الرحى وذهب وترك صبيا مناهزا في سنه يتصرف بالرحى ولم يزل الصبي وعريانا في تشمير له وليس بالرحى شيء غير عدل فارغ مفروش إلى جهة كان الصبي يرجع إليه ويمتد عليه إذا أراد أن يستريح وحان وقت صلاة المغرب فخرجت لتجديد الوضوء وخرج من كان معى وتركت أحد ثقاتي بالرحى ولما لم ير غير ذلك الصبي الصغير احتقره وخرج بعدي لتجديد الوضوء كذلك وعندما رأيته وقع في خاطري أنه أتى علينا والقمح بالرحى فانتبهت على تركه إياه ورجعت إلى الرحى ولم أر به ما تغير وأشعرت الحاضرين بما اتفق
উল্লিখিত যাঁতাকল এবং এতে গমের অবশিষ্টাংশসহ নিক্ষেপ করা হলো যাতে তা তলানিতে গিয়ে জমা হয় এবং দৃশ্যমান হয়। তিনি এটি মাঝখানে নিক্ষেপ করেননি যাতে পানির প্রবল স্রোত তা ভাসিয়ে নিয়ে না যায় এবং তিনি যা চাচ্ছেন তা যেন অর্জনে সক্ষম না হন। অতঃপর তিনি বালকটিকে ডাকলেন এবং যখন সে তার কাছে এল, তাকে গমগুলো দেখালেন এবং বললেন: "যাঁতাকল পরিষ্কার করছে।" তিনি তাকে সেই গমগুলো পানি থেকে সংগ্রহ করার নির্দেশ দিলেন এবং অপচয় হওয়ার ভয়ে সেগুলো মুষ্টিবদ্ধ করতে বললেন। বালকটি সেই কাজে লিপ্ত হলো এবং সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি যাঁতাকল থেকে গমের নাগাল পেলেন। তিনি গম ও আটা গ্রহণ করলেন এবং তা এর জন্য সংরক্ষিত পাত্রে রাখলেন। কিছু অংশ পুঁতে রাখলেন এবং কিছু অংশ ঢেকে গোপন করলেন। রাত নেমে এলে তারা সেই আটা সংগ্রহ করে আহার করলেন। পরের দিন ভেজা গমগুলো রোদে দেওয়া হলো তা শুকানো এবং পেষার আশায়। সেদিন দিনরাত তারা সেই আটা থেকেই আহার করলেন। এর মাধ্যমে তার উদ্দেশ্য ছিল নিজের কর্ম গোপন করা এবং তা বিনষ্ট করা। আমি যখন তাদের সেই অবস্থায় পেলাম, তখন সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি যা ধারণা করেছিলেন যে আমার ওপর তা কার্যকর হবে, তা তিনি আমার কাছে বর্ণনা করলেন। আমি বালকটির প্রতি তার চক্রান্ত ও প্রতারণা নিশ্চিতভাবে বুঝতে পারলাম। ফলে আমি তাকে পাকড়াও করলাম এবং এক ধরণের কঠোর প্রচেষ্টার (اجتهاد) মাধ্যমে তাকে এমন একটি স্থান খনন করতে বাধ্য করলাম যেখান থেকে সে একটি গম ভর্তি পাত্র বের করল। সে এর ঢাকনা সরাল এবং একটি আটা ভর্তি পাত্র বের করল। এভাবে প্রায় দুই-চতুর্থাংশ বোঝা একত্রিত হলো এবং তারা যা খেয়েছিল এবং যা বিশেষভাবে ভিজে গিয়েছিল তা ছাড়া আর কিছুই কম ছিল না।
আমি যখন হিসবাহ (বাজার তদারকি) দায়িত্বে ছিলাম, তখন আটার মান নির্ধারণের জন্য একদল সাক্ষী ও আমানতদার ব্যক্তিকে নিয়ে একটি যাঁতাকলে রাত কাটিয়েছিলাম। ময়দা পেষাইকারী ব্যক্তি এসে যাঁতাকলটি ঝাড়ু দিল এবং পেষার জন্য প্রস্তুত করল। সে গমগুলো শস্য-পাত্রে তুলে যাঁতাকল থেকে বেরিয়ে চলে গেল এবং সেখানে প্রায় বয়ঃসন্ধিকালে পৌঁছানো এক কিশোরকে কাজ করার জন্য রেখে গেল। কিশোরটি খালি গায়ে কাজ করছিল এবং সেখানে একটি খালি বস্তা ছাড়া আর কিছুই ছিল না, যা একপাশে বিছানো ছিল। কিশোরটি যখনই বিশ্রাম নিতে চাইত, তখনই সেখানে ফিরে যেত এবং শুয়ে পড়ত। মাগরিবের নামাজের সময় হলে আমি ওজু নবায়ন করার জন্য বের হলাম। আমার সাথে যারা ছিল তারাও বের হলো। আমি আমার একজন নির্ভরযোগ্য (ثقة) ব্যক্তিকে যাঁতাকলে রেখে গেলাম। তিনি যখন সেই ছোট বালক ছাড়া আর কাউকে দেখলেন না, তখন তাকে তুচ্ছজ্ঞান করলেন এবং আমার পরে তিনিও ওজু নবায়ন করতে বের হলেন। আমি যখন তাকে দেখলাম, আমার মনে হলো যে গম যাঁতাকলে থাকা অবস্থায় সে আমাদের কাছে চলে এসেছে। আমি তাকে সেখানে ফেলে আসার বিষয়ে সচেতন হলাম এবং যাঁতাকলে ফিরে গেলাম। সেখানে কোনো পরিবর্তন দেখতে পেলাম না এবং উপস্থিত সকলকে যা ঘটেছিল তা অবগত করলাম।
(খণ্ড: ১)
আদাবুল হিসবাহ
(পৃষ্ঠা: ২৪)
لكن لم يمكنني في ذلك الحين اختبار شيء من ذلك وبقيت إلى أن كمل الطحين مع انصداع الفجر ووزن الدقيق فنقص من الوزن الأول نصف ربع واحد فوجهت عن المعلم وعرفته فتجاهل ووقف معي أنه لم يحضر واشتددت في ذلك عليه وعلى الصبي وعند ما ظن مني العزم على الإيقاع وتخيل ذلك منى قال للصبي: هذا أمر لا ينجيني منه إلا أن ترد ما أخذت فقام الصبي وكشف العدل عن حفرتين مملوءتين فأخذ وأوزن فكان نصف الربع الذي نقص.
ولقد حدثني من أثق به أنه رأى بقرية رجلا من أكياس الميارة الذين يبتاعون القمح ويسوقونه على دوابهم ويطحنونه بالأرحى ويجلبونه للبلاد ويعيشون من ذلك وقد وصل للرحى عنده بالقرية ولما رآه الطحان خرج عن الرحى وترك متعلما له هناك وأنزل الجل جله وشرع في الطحن وكان دربا بأمور الرحى ولم يمكن الصبي من شيء من أمورة ولا يحتاج إليه بوجه إلى أن كمل طحنه وضمه في عدله وأعطي للصبي أجر الطحن ورفع حمله على دابته وانصرف لوجهه ولحين ذلك دخل الطحان الرحى وسأل متعلمه عما تحصل له من دقيق المذكور أو قمحه فقال له: والله ما أمكنني من شيء ولا أحتاج إلي في شيء إلى أن كمل شغله ومضى بسبيله فلامه وانبه ثم شد حزامه على دراعته ولبس عليها جبة وأخذ منقاش الرحي وأزال عودة واشتد في إثر الرجل حتى أدركه على قدر ميلين أو ثلاثة وجعل يصيح عليه: قف علي فقد قتلتني بالجري، فوقف الرجل حتى وصل إليه وقال: خرجت عنك وتركت منقاش الرحى في الموضع الذي يقع عليه الدقيق فغرفته في جملة الدقيق فلم تشعر به فقال له الميار: ما هو إلا في الدقيق، وأنزلا معا الحمل بالأرض وفتح العدل الواحد وجعل يدخل يديه فيه ويحفر الدقيق يوهم أنه يبحث على
কিন্তু সেই সময়ে আমার পক্ষে এগুলোর কোনোটিই পরীক্ষা করা সম্ভব ছিল না এবং আমি ফজর হওয়া পর্যন্ত অপেক্ষা করলাম যতক্ষণ না আটা পেষণ সম্পন্ন হলো। অতঃপর আটা ওজন করা হলে দেখা গেল প্রথম ওজনের চেয়ে আধা রুব (এক চতুর্থাংশের অর্ধেক) পরিমাণ কম হয়েছে। আমি প্রধান কারিগরের কাছে লোক পাঠালাম এবং তাকে বিষয়টি অবগত করলাম, কিন্তু সে না জানার ভান করল এবং আমার সামনে দাঁড়িয়ে দাবি করল যে সে সেখানে উপস্থিত ছিল না। আমি তার এবং সেই বালকের ওপর এ ব্যাপারে কঠোরতা প্রদর্শন করলাম। যখন সে বুঝতে পারল যে আমি তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে দৃঢ়প্রতিজ্ঞ, তখন সে বালকটিকে বলল: "এই বিপদ থেকে আমাকে কেউ উদ্ধার করতে পারবে না যদি না তুমি যা গ্রহণ করেছ তা ফেরত দাও।" তখন বালকটি উঠে দাঁড়াল এবং শস্যের বস্তার নিচ থেকে আটা ভর্তি দুটি গর্ত উন্মোচন করল। সে সেখান থেকে আটা বের করে ওজন করল এবং তা ঠিক সেই আধা রুব পরিমাণই ছিল যা কম পড়েছিল।
যাঁর ওপর আমি আস্থা রাখি এমন একজন নির্ভরযোগ্য (ثقة) ব্যক্তি আমাকে বর্ণনা করেছেন যে, তিনি একটি গ্রামে শস্য সরবরাহকারীদের (মিয়্যারা) মধ্যে একজন চতুর ব্যক্তিকে দেখেছিলেন, যারা গম ক্রয় করে গবাদি পশুর পিঠে বহন করে নিয়ে যায়, জাঁতাকলে তা পিষে এবং বিভিন্ন জনপদে তা নিয়ে আসে এবং এভাবেই জীবিকা নির্বাহ করে। লোকটি গ্রামের একটি জাঁতাকলে পৌঁছালে আটা পিষিয়ে তাকে দেখে জাঁতা ছেড়ে বেরিয়ে গেল এবং সেখানে তার এক শিক্ষানবিশকে রেখে গেল। লোকটি তার বস্তা নামাল এবং নিজেই আটা পেষণ শুরু করল। সে জাঁতা চালানোর কাজে অত্যন্ত দক্ষ ছিল এবং বালকটিকে কোনো কাজে হাত দিতে দেয়নি, এমনকি কোনো বিষয়ে তার সাহায্যও প্রার্থনা করেনি। শেষ পর্যন্ত সে পেষণ সমাপ্ত করে আটা বস্তায় ভরল এবং বালকটিকে পেষাইয়ের পারিশ্রমিক দিয়ে পশুর পিঠে বোঝা চাপিয়ে নিজ গন্তব্যে রওনা হলো। ঠিক সেই মুহূর্তে প্রধান পিষিয়ে জাঁতাকলে প্রবেশ করল এবং তার শিক্ষানবিশকে জিজ্ঞেস করল যে ওই ব্যক্তির আটা বা গম থেকে সে কিছু হস্তগত করতে পেরেছে কি না। শিক্ষানবিশ উত্তর দিল: "আল্লাহর কসম, সে আমাকে কোনো সুযোগই দেয়নি এবং কোনো কিছুতেই আমার প্রয়োজন বোধ করেনি; সে নিজের কাজ শেষ করে চলে গেছে।" এতে পিষিয়ে তাকে তিরস্কার ও ভর্ৎসনা করল। এরপর সে তার জামার ওপর কোমরবন্ধ শক্ত করে বাঁধল এবং তার ওপর একটি জুব্বা পরল। অতঃপর সে জাঁতা পরিষ্কার করার যন্ত্র (মিনকাশ) নিল এবং এর হাতল খুলে ফেলে লোকটির পিছু নিল। প্রায় দুই বা তিন মাইল পথ অতিক্রম করার পর সে তাকে ধরে ফেলল এবং চিৎকার করে বলতে লাগল: "থামো! তোমার পেছনে দৌড়াতে দৌড়াতে তুমি আমাকে মেরে ফেলেছ।" লোকটি থামল এবং পিষিয়ে তার কাছে পৌঁছে বলল: "আমি কাজ ফেলে গিয়েছিলাম এবং জাঁতার যেখানে আটা জমা হয় সেখানে পরিষ্কার করার যন্ত্রটি রেখে এসেছিলাম, তুমি না বুঝেই তা আটার সাথে বস্তায় ভরে নিয়ে এসেছ।" সরবরাহকারী লোকটি বলল: "তা তো আটার ভেতরেই থাকার কথা।" এরপর তারা উভয়ে মিলে মাটি থেকে বোঝাটি নামাল এবং একটি বস্তা খুলে সে (পিষিয়ে) আটার ভেতরে হাত ঢুকিয়ে খনন করতে লাগল, যেন সে কিছু তালাশ করছে...
(খণ্ড: ১)
আদাবুল হিসবাহ
(পৃষ্ঠা: ২৫)
المنقاش ويسقط كمه على العدل فيرفع يديه كأنه يزيل بذلك كمه وينصب الدقيق في كمه إلى موضع شد الحزام ثم أظهر أنه لم يجد في ذلك العدل شيئا وفعل بالعدل الآخر مثل ذلك ثم أخرج المنقاش وقال أليس هذا هو وخجل الرجل وتنصل من ذلك وحلف أنه لم يره ولم يشعر به وتركه وحمله وانصرف على نهاية الانحفاز حتى دخل الرحى وحل حزامه فسقط الدقيق الذي اجتمع في محزمه وكان أزيد من ثلث ربع واحد ثم قال للمتعلم هكذا يعمل الشغل.
وكذلك حدثني شيخ من البنائين قال: كان معى رجل يخدم وكان مقدورا عليه في رزقه ضيق الحال فغاب عني أياما ولم أعلم له مستقرا ولا وقفت له على أثر إلى أن لقيته يوما فسلم علي وسألته عن حاله ومغيبه فقال: حالي حسنة وسبب ذلك أنه كان لي صاحب طحانا بالأرحى فلقيته يوما وسألني عن حالي فشكوت له منها فقال اغد علي في الرحى التي أنا فيها لتقيم عندي يوما وتستريح من الخدمة، ففعلت ذلك ووصلت إليه وأقمت معه اليوم كله فلما كان من العشي أعطاني فوق كفايتي من الدقيق الذي جمع ورأيت ما صنع فجئته يوما آخر فغاب عن الرحى وتركني عوضه فعملت ما عمل وجمعت أزيد مما جمع وآل الحال بي إلى أن اتخذت رحى أخرى أنا فيها وسألتك بالله أن تصل إلي على وجه الفرجة فإن هنالك أنشاما مظلة وجداول جارية فأجبته إلى ما سألني وجئته وأقمت عنده بعض النهار فيما وصف وفي أثناء ذلك وصل إلى الرحى رجل يحمل قمح على بغلة ونزل وارتبط بغلته بخارج الرحي على مقربة منه ودخل الرحى يشتغل بطحنه وعند ما أنشب شغله وصاحب الرحى في ذلك كله معي وفي الرحى متعلم له فخرج ذلك المتعلم وحل ثقاف الدابة وسرحها ثم صاح
চিমটা (বা খোদাই যন্ত্র) এবং সে তার আস্তিনটি শস্যের বস্তার ওপর ঝুকিয়ে দিল। এরপর সে তার হাত দু’টি এমনভাবে ওঠাল যেন সে তার আস্তিন ঝাড়ছে, আর সেই আস্তিনের ভেতর দিয়ে আটার গুঁড়ো তার কোমরবন্ধনী পর্যন্ত গড়িয়ে পড়ল। তারপর সে প্রকাশ করল যে সে সেই বস্তার ভেতর কিছুই পায়নি। অন্য বস্তার সাথেও সে একই কাজ করল। এরপর সে চিমটাটি বের করল এবং বলল, "এটি কি সেই জিনিস নয়?" এতে লোকটি লজ্জিত হলো এবং বিষয়টি অস্বীকার করল। সে কসম খেয়ে বলল যে সে এটি দেখেনি এবং এটি সম্পর্কে অনুভবও করতে পারেনি। সে তাকে ছেড়ে দিল, নিজের বোঝা বহন করে চলে গেল। সে অত্যন্ত দ্রুততার সাথে প্রস্থান করল যতক্ষণ না সে জাঁতাকলে (ময়দা পেষার স্থান) প্রবেশ করল। সেখানে গিয়ে সে তার কোমরবন্ধনী খুলে ফেলল এবং তার কোমরবন্ধনীতে জমা হওয়া আটা নিচে পড়ে গেল। এর পরিমাণ ছিল এক-চতুর্থাংশের এক-তৃতীয়াংশের চেয়েও বেশি। এরপর সে তার শিক্ষার্থীকে বলল, "কাজ এভাবেই করতে হয়।"
অনুরূপভাবে রাজমিস্ত্রিদের একজন শায়খ (شيخ) আমাকে বর্ণনা করেছেন (حدثني), তিনি বলেন: আমার সাথে এক ব্যক্তি কাজ করত যার রিযিক ছিল সংকীর্ণ এবং জীবনযাত্রা ছিল কঠিন। সে কয়েক দিন আমার থেকে নিরুদ্দেশ ছিল। আমি তার কোনো অবস্থান জানতাম না এবং তার কোনো হদিসও পাচ্ছিলাম না। অবশেষে একদিন তার সাথে আমার দেখা হলো। সে আমাকে সালাম দিল এবং আমি তাকে তার অবস্থা ও অনুপস্থিতি সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করলাম। সে বলল: "আমার অবস্থা এখন ভালো। এর কারণ হলো, জাঁতাকলে কাজ করে এমন এক ময়দা পেষাইকারী আমার বন্ধু ছিল। একদিন তার সাথে আমার দেখা হলে সে আমার অবস্থা জানতে চাইল এবং আমি তার কাছে আমার দুরবস্থার কথা অভিযোগ করলাম। সে বলল, 'আগামীকাল আমার কাছে জাঁতাকলে এসো যেখানে আমি কাজ করি, যাতে তুমি একদিন আমার নিকট অবস্থান করতে পারো এবং পরিশ্রম থেকে কিছুটা বিশ্রাম নিতে পারো।' আমি তাই করলাম এবং তার নিকট গিয়ে সারাদিন অবস্থান করলাম। সন্ধ্যাবেলায় সে আমাকে সংগৃহীত আটা থেকে আমার প্রয়োজনের অতিরিক্ত প্রদান করল এবং সে যা করেছিল আমি তা লক্ষ্য করলাম। অন্য একদিন আমি পুনরায় তার কাছে গেলাম, কিন্তু সে জাঁতাকলে ছিল না এবং আমাকে তার স্থলাভিষিক্ত করে গেল। সে যা করেছিল আমি তা-ই করলাম এবং সে যা সংগ্রহ করেছিল আমি তার চেয়েও বেশি সংগ্রহ করলাম। এখন আমার অবস্থা এই যে আমি নিজেই অন্য একটি জাঁতাকল নিয়েছি। আমি আপনাকে আল্লাহর দোহাই দিয়ে বলছি যে আপনি আমোদ-প্রমোদের উদ্দেশ্যে আমার কাছে আসবেন, কারণ সেখানে ছায়াদানকারী বৃক্ষ এবং প্রবহমান ঝরনা রয়েছে।" আমি তার আহ্বানে সাড়া দিলাম এবং তার নিকট গেলাম। সে যেভাবে বর্ণনা করেছিল সেভাবে আমি সেখানে দিনের কিছু সময় অবস্থান করলাম। এরই মধ্যে গাধার পিঠে গম বোঝাই করে এক ব্যক্তি জাঁতাকলে উপস্থিত হলো। সে নিচে নামল এবং জাঁতাকলের নিকটেই বাইরে তার গাধাটিকে বাঁধল। সে গম পেষার কাজে লিপ্ত হওয়ার জন্য ভেতরে প্রবেশ করল। যখন সে কাজে নিমগ্ন হলো—আর জাঁতাকলের মালিক তখন আমার সাথেই ছিল—তখন জাঁতাকলে তার একজন শিক্ষার্থী ছিল। সেই শিক্ষার্থী বাইরে বের হলো এবং পশুর বাঁধন খুলে দিয়ে সেটিকে ছেড়ে দিল। এরপর সে উচ্চস্বরে চিৎকার করল।
(খণ্ড: ১)
আদাবুল হিসবাহ
(পৃষ্ঠা: ২৬)
بالرجل فقال له: ادرك بغلتك فقد ذهبت وخرج الرجل وعدا وراءها حتى لحقها ودخل المتعلم إلى الرحى ووصل الرجل بالبغلة وأوثقها ثم عاد إلى الرحى فسمعنا بينهما محاملة أوجبت أن دخلت عليهما وألفيناهما يتضاربان والرجل يقول: أخذ والله القمح، والمتعلم ينكر وفرقنا بينهما إلى أن كمل الطحن والرجل يقول: والله لقد ذهب نصف قدر ربع دقيق وقمنا عليه وقلنا إنما يظهر ذلك إذا وزنت، وانفصل الرجل مشتغل الخاطر، ولما تغيب عنا قال صاحبي للمتعلم اركي ما أخذت له، فأخرج قدر ثلث ربع واحد من القمح فقلت له: ومن مثل هذا عيش ولا تتقي الله وإن كنت الآن أرفه فقد كنت ترزق حلالا وتركته وذهبت فلم أرجع إليه بعدها إلى الآن ولقيته بعد ذلك فوعظته فقال لي: كذلك يفعل الكل في ذلك الشغل، وأما الباعة فقد تقدم الكلام في الموازين والصنوج ما فيه كفاية وبالله الاستعانة وعليه التوكل.
فمنهم عملة الخبز وباعته ويغش مفسدوهم بخلط المدهون في الدرمك والأحمر في المدهون والشعير بالنخال الدق والشنتية بالصلصال الأبيض ويصنعون الناقص بالقصد يوفرون على المعلمين ليؤثروهم بالاشتغال والمنفعة، ويحتج المعلم على المحتسب إذا اعتزله على التدليس أو النقص بأن يقول إنما أنا تاجر والعملة يفعلون ما شاؤوا فخذوهم بفعلهم، والعملة يوافقون المعلم على ما يفعلون من ذلك ينصبون أنفسهم للهوان والضرب بالأسواط ولا يبالون بشيء من ذلك وقد اتخذوه مهيعا متبعا.
ولقد رأيت واحدًا منهم يوما في معظم أيام البرد وقد تجرد وأعلى ظهره أحشن من الكف قد ملأ ظهره فسألت عن ذلك فقيل أثر السوط لكثرة ما ضرب وكان يجرد في صحن حمام عند ما خطر آخر من صناعته على أن يصب على رأسه من صهريج الحمام المذكور أربعين كوبا مملؤة ماء، كثيرا ما كان
লোকটির কাছে গিয়ে তিনি বললেন, "তোমার খচ্চরটি ধরো, সেটি পালিয়ে গেছে।" লোকটি বেরিয়ে গেল এবং সেটির পেছনে দৌড়ালো যতক্ষণ না সেটিকে ধরতে পারলো। ইতিমধ্যে প্রশিক্ষণার্থীটি জাঁতাকলে প্রবেশ করলো। লোকটি খচ্চরটি নিয়ে ফিরে এলো এবং সেটিকে শক্ত করে বাঁধলো। তারপর সে জাঁতাকলের কাছে ফিরে এলো। তখন আমরা তাদের দুজনের মধ্যে এমন বিবাদ শুনতে পেলাম যা আমাদের সেখানে যেতে বাধ্য করলো। আমরা তাদের হাতাহাতি করতে দেখলাম। লোকটি বলছিল, "আল্লাহর কসম, সে গম চুরি করেছে", আর প্রশিক্ষণার্থীটি তা অস্বীকার করছিল। আটা পেষণ সম্পন্ন হওয়া পর্যন্ত আমরা তাদের মাঝে বিবাদ মিটিয়ে দিলাম। লোকটি বলছিল, "আল্লাহর কসম, আটার প্রায় অর্ধেক চতুর্থাংশ পরিমাণ কমে গেছে।" আমরা তার ওপর কঠোর হলাম এবং বললাম, "এটি কেবল তখনই স্পষ্ট হবে যখন এটি ওজন করা হবে।" লোকটি বিষণ্ণ মনে বিদায় নিলো। যখন সে আমাদের দৃষ্টির আড়ালে চলে গেল, তখন আমার সাথী প্রশিক্ষণার্থীটিকে বললো, "তার থেকে যা নিয়েছ তা বের করো।" তখন সে প্রায় এক চতুর্থাংশের তিন ভাগের এক ভাগ গম বের করলো। আমি তাকে বললাম, "এই উপার্জনে কি জীবন চলে? তুমি কি আল্লাহকে ভয় করো না? যদিও এখন তুমি সচ্ছল আছো, কিন্তু তুমি তো হালাল রিযিক পেতে। তুমি তা ত্যাগ করে চলে গিয়েছ।" এরপর থেকে আজ পর্যন্ত আমি আর তার কাছে ফিরে যাইনি। পরবর্তীতে তার সাথে আমার দেখা হলে আমি তাকে নসিহত করলাম। সে আমাকে বললো, "এই পেশার সবাই এমনটাই করে।" আর বিক্রেতাদের ক্ষেত্রে দাঁড়িপাল্লা ও ওজনের বাটখারা সম্পর্কে ইতিপূর্বেই পর্যাপ্ত আলোচনা করা হয়েছে। আল্লাহর কাছেই সাহায্য প্রার্থনা করছি এবং তাঁর ওপরই ভরসা রাখছি।
তাদের অন্তর্ভুক্ত হলো রুটি প্রস্তুতকারক ও বিক্রেতা। তাদের মধ্যকার ফাসাদ সৃষ্টিকারীরা মিহি ময়দার সাথে নিম্নমানের ময়দা, নিম্নমানের ময়দার সাথে লাল আটা, মিহি ভুসির সাথে যব এবং সাদা মাটির সাথে নিম্নমানের গম মিশিয়ে প্রতারণা (تدليس) করে। তারা ইচ্ছাকৃতভাবে পরিমাণে কম তৈরি করে যাতে কারিগরদের (মালিকদের) মুনাফা বৃদ্ধি পায় এবং তারা তাদের কাজে নিয়োজিত রাখতে পছন্দ করে। যখন বাজার পরিদর্শক (মুহতাসিব) কোনো মালিককে প্রতারণা (تدليس) বা ওজনে কম দেওয়ার কারণে পাকড়াও করেন, তখন মালিক এই বলে অজুহাত দেখান যে, "আমি তো কেবল ব্যবসায়ী, কারিগররা যা ইচ্ছা তাই করে, সুতরাং তাদের কাজের জন্য তাদেরই ধরুন।" আর কারিগররা মালিকের এই কাজের সাথে একমত হয়; তারা নিজেদের লাঞ্ছনা এবং চাবুকের আঘাতের জন্য সঁপে দেয় এবং এসবে তারা বিন্দুমাত্র পরোয়া করে না। তারা এটাকে একটি নিয়মিত পদ্ধতিতে পরিণত করেছে।
আমি তাদের একজনকে প্রচণ্ড শীতের এক দিনে দেখেছিলাম, সে তার পোশাক খুলে ফেলেছিল। তার পিঠের উপরিভাগ হাতের তালুর চেয়েও রুক্ষ হয়ে গিয়েছিল এবং তা চাবুকের দাগে ভরে গিয়েছিল। আমি এ সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করলে বলা হলো, এটি বারবার চাবুক মারার ফলে সৃষ্ট চিহ্ন। তাকে যখন গোসলখানার চত্বরে পোশাকহীন করা হয়েছিল, তখন তার পেশার অন্য একজন প্রস্তাব করলো যেন উক্ত গোসলখানার চৌবাচ্চা থেকে তার মাথায় চল্লিশ পেয়ালা পানি ঢেলে দেওয়া হয়। সে প্রায়শই এমনটা করত...
(খণ্ড: ১)
আদাবুল হিসবাহ
(পৃষ্ঠা: ২৭)
يواجر نفسه وترفع قيمة خدمته ليفعل ما شاء المعلم من تلك النقائص فإذا عثر عليه فيها وحضر عند المحتسب اعترف بما فعل ثقة منه بأن ضرب المحتسب لا يؤثر فيه، ولما علمت منه ما علمت جعلت عقوبته السجن وطولته عليه بقدر فعله فكان ذلك عليه أبلغ من الضرب وأردع له عن مثل ذلك الفعل ومن كان على ما وصفنا ما عسى أن يبلغ منه أسواط المحتسب إذا ضربه القدر المباح شرعا.
ويضطرون المحتسب إلى أن يقيم لهم القيمة بمحضر الشهود وذلك لما يرجونه من خدعهم له وتلبيسهم عليه وعلى من يخضر معه إذ ليست صنعتهم ولا الراذئل من أفعالهم وكان يتوصل إلى تحقيق ذلك بالحساب أو بمرة واحدة ثم ما نقص من السوم أو زاد عمل بحساب ذلك إذ مقدمات ذلك لا يمكنهم جحدها وذلك أن كل ربع من خمسة وعشرين رطلا أربعمائة أوقية والرطل ست عشرة أوقية ويطلع فيها بالماء الثلث الواحد وذلك مائتا أوقية فيكون الربع عجينا وسطا طيبا على ما يجب ست مائة أوقية وإذا كان المحتسب قد عبر على الدقاقين الدقيق حتى كان ثمن الربع معلوما ووزنه معلوم ويبايعه الناس معهم على ذلك فما المنفعة في تعبيره مع الخبازين إلا زيادة التشغيب وطلب التلبيس والتماس الغفلة لينتهز الفرصة لأنهم يكثرون الغبار ليقل الإصداق ويزيدون في عدد العجانين لتزيد الأجرة ويقللون الماء لينقص الإصداق فيسمونه العجين القاسح فإذا أفرغوا من شغلهم مع المحتسب حطوا من العجانين ونقصوا الغبار وزادوا في الماء وأربحوا لمعلمهم ما يتوفر من ذلك والقليل في الكثير كثير.
ونذكر في ذلك مثالا جارت العادة به بينهم ما لم يفرضوا التعبير مع المحتسب وهو أن يأخذوا قنطارا من سوم ما يبيعه الدقاق وقيمته الآن ثلاثون درهما
সে নিজেকে ভাড়া দেয় এবং তার সেবামূল্য বৃদ্ধি করা হয় যাতে সে তার মনিবের ইচ্ছা অনুযায়ী সেই ত্রুটিপূর্ণ কাজগুলো করতে পারে। যখন সে এই অবস্থায় ধরা পড়ে এবং বাজার পরিদর্শক (মুহতাসিব)-এর নিকট উপস্থিত হয়, তখন সে যা করেছে তা স্বীকার করে নেয়; কারণ তার এই দৃঢ় বিশ্বাস (ثقة) ছিল যে, বাজার পরিদর্শকের প্রহার তার ওপর কোনো প্রভাব ফেলবে না। যখন আমি তার সম্পর্কে যা জানার ছিল তা অবগত হলাম, তখন তার অপরাধের মাত্রা অনুযায়ী তাকে কারাদণ্ড প্রদান করলাম এবং তা দীর্ঘায়িত করলাম। এটি তার জন্য প্রহারের চেয়েও অধিক কার্যকর এবং এই ধরনের কাজ থেকে নিবৃত্ত করার ক্ষেত্রে অধিক শক্তিশালী প্রমাণিত হলো। আমরা যার অবস্থার বর্ণনা দিলাম, বাজার পরিদর্শকের বেত্রাঘাত তার ওপর কী-ই বা প্রভাব ফেলবে, যদি তা শরয়িভাবে অনুমোদিত পরিমিত সীমার মধ্যে থাকে?
তারা বাজার পরিদর্শককে সাক্ষীদের উপস্থিতিতে মূল্য নির্ধারণ করতে বাধ্য করে। এটি তারা এই আশায় করে যে, তারা তাকে এবং তার সাথে উপস্থিত ব্যক্তিদের প্রতারিত ও বিভ্রান্ত করবে। কারণ এটি তাদের মূল পেশা নয় এবং তাদের কর্মকাণ্ডের হীনতা সাধারণের নিকট স্পষ্ট নয়। হিসাবের মাধ্যমে বা একবার যাচাইয়ের মাধ্যমেই এর সত্যতা নিশ্চিত করা সম্ভব ছিল। অতঃপর নির্ধারিত দরের চেয়ে যা কম বা বেশি হতো, সেই হিসাব অনুযায়ী ব্যবস্থা গ্রহণ করা হতো। কেননা এর প্রাথমিক বিষয়গুলো তারা অস্বীকার করতে পারে না; আর তা হলো এই যে, প্রতি পঁচিশ রতলের এক-চতুর্থাংশ (রুব) হলো চারশ উকিয়া, আর এক রতল হলো ষোলো উকিয়া। এতে এক-তৃতীয়াংশ পানি যোগ করা হয়, যা হলো দুইশ উকিয়া। ফলে এক-চতুর্থাংশ ময়দা থেকে নিয়ম অনুযায়ী মধ্যম মানের উৎকৃষ্ট খামির প্রস্তুত হয় ছয়শ উকিয়া। যখন বাজার পরিদর্শক ময়দা বিক্রেতাদের ময়দা পরীক্ষা করেছেন এবং এক-চতুর্থাংশের মূল্য ও ওজন সুনিশ্চিত করেছেন এবং মানুষ তাদের সাথে সে অনুযায়ী লেনদেন করছে, তখন রুটি প্রস্তুতকারীদের সাথে তা পুনরায় পরীক্ষা করার মাধ্যমে গোলযোগ বৃদ্ধি, প্রতারণার সুযোগ অন্বেষণ এবং তাদের অসতর্ক মুহূর্তের অপেক্ষায় থাকা ছাড়া আর কী লাভ হতে পারে? তারা সুযোগ গ্রহণ করতে চায় কারণ তারা আটার ধুলো বেশি ওড়ায় যাতে সঠিক ওজন কম প্রতীয়মান হয়, তারা খামির প্রস্তুতকারকদের সংখ্যা বৃদ্ধি করে যাতে পারিশ্রমিক বেশি দেখানো যায় এবং তারা পানির পরিমাণ কমিয়ে দেয় যাতে উৎপাদিত পণ্যের পরিমাণ হ্রাস পায়। তারা একে শক্ত খামির বলে অভিহিত করে। যখন তারা বাজার পরিদর্শকের সাথে তাদের কাজ শেষ করে, তখন তারা খামির প্রস্তুতকারকদের সংখ্যা কমিয়ে দেয়, ধুলো ওড়ানো হ্রাস করে এবং পানির পরিমাণ বাড়িয়ে দেয়। এভাবে তারা তাদের মনিবের জন্য যা উদ্বৃত্ত থাকে তা থেকে মুনাফা অর্জন করে; আর মোটের ওপর সামান্য পরিমাণও অনেক হয়ে দাঁড়ায়।
আমরা এ বিষয়ে একটি উদাহরণ উল্লেখ করছি যা তাদের মধ্যে প্রচলিত প্রথা হয়ে দাঁড়িয়েছে, যতক্ষণ না তারা বাজার পরিদর্শকের উপস্থিতিতে ওজন নির্ধারণে বাধ্য হয়; আর তা হলো তারা ময়দা বিক্রেতার বিক্রিত পণ্যের দর অনুযায়ী এক ক্বিনতার ময়দা গ্রহণ করে, যার বর্তমান মূল্য হলো ত্রিশ দিরহাম।
(খণ্ড: ১)
আদাবুল হিসবাহ
(পৃষ্ঠা: ২৮)
وأواقيه ألف أوقية وستمائة أوقية ويطلع فيه ثمانمائة أوقية فيكون عجينا ألفي أوقية وأربعمائة أوقية ويلزمه في العمل ثلاثة عجانين بدرهم ونصف ورفاد بثلاثة أثمان درهم ووقاف بنصف درهم وملح وماء بنصف ثمن درهم وحطب بخمسة أثمان درهم ويجتمع في ذلك ثلاثة وثلاثون درهما ونصف ثمن ويعطي لهم ربح ذلك بحسب نظر المحتسب وأقله ما يؤخذ بالأسواق في حسب الدينار وإن وسع عليهم قليلا وطلبهم بالطيب عملا وطبخا كان حسنا وإذا جعلنا المؤن ستة دراهم وقسمنا على الستة والثلاثين درهما أواقي عجين القنطار كله وجب لكل درهم منها ست وستون أوقية ولكل ربع درهم واحد ست عشرة أوقية ونصف ويفضل شيء يسير يتجافي عنه لنزارته وينقص من ذلك في الطبخ أوقية ونصف فيبقي خمس عشرة أوقية مطبوخة بربع درهم واحد.
ويغش الوقاف في طبخ الخبز بأن يحط من الحطب فيه عند التعبير فلا يحمي قعر الفرن ولا يعتدل هواؤه ويترك الخبز فيه فيجف ماؤه ويتنقص وزنه وإذا كان في غير التعبير زاد في الحطب وعدل هواء الفرن وقدم جهة اليمين منه لبعده من النار فإذا كان الخبز مفتوح اليد مقبطلا حسن الصنعة وروح بعضه عن بعض في الفرن وتركه المدة التي يحتاج فيخرج الخبز حسن المنظر مطبوخ الأعلى والأسفل رطب الفتاتة، وإذا أجيد عجين الخبز وعتق تمد فتاتة فتمتد وقد كان بعض المحتسبين يختبر ذلك بأن يدخل مسلة الحديد بخيط الصوف فينفذ الخبزة بها من القعر إلى الوجه فإن خرجت فتاتته في خيط الصوف كسر الخبز لقلة عجنه وإن لم يخرج في الخيط شيء فطيب فذلك الطيب المراد.
ويصدق القفيز السبتي وعدد أقداحه أربعون قدحا من القمح العامري إذا
এর ওজন এক হাজার ছয়শ আওকিয়া (أوقية), এতে আটশ আওকিয়া উৎপাদিত হয়। ফলে ময়দার মণ্ড হয় দুই হাজার চারশ আওকিয়া। এটি তৈরিতে তিনজন রুটি প্রস্তুতকারকের (عجانين) জন্য দেড় দিরহাম (درهم), একজন সাহায্যকারীর (رفاد) জন্য দিরহামের আট ভাগের তিন ভাগ, একজন তদারককারীর (وقاف) জন্য আধা দিরহাম, লবণ ও পানির জন্য দিরহামের আট ভাগের আধ ভাগ এবং জ্বালানি কাঠের জন্য দিরহামের আট ভাগের পাঁচ ভাগ ব্যয় হয়। সব মিলিয়ে তেত্রিশ দিরহাম এবং দিরহামের আট ভাগের এক ভাগ খরচ হয়। মুহতাসিবের (المحتسب) পর্যবেক্ষণ অনুযায়ী তাদের লভ্যাংশ প্রদান করা হবে। সর্বনিম্ন লাভ ধরা হবে বাজারে দিনারের (دينار) বিনিময় হার অনুযায়ী যা গ্রহণ করা হয়। যদি তাদের প্রতি কিছুটা উদারতা প্রদর্শন করা হয় এবং উত্তম কাজ ও রন্ধনশৈলীর দাবি করা হয়, তবে তা উত্তম। আমরা যদি উৎপাদন খরচ ছয় দিরহাম ধরি এবং পুরো এক কুনতার (القنطار) ওজনের মণ্ডকে ছত্রিশ দিরহাম দ্বারা ভাগ করি, তবে প্রতি দিরহামের জন্য ছেষট্টি আওকিয়া বরাদ্দ হয়। আর প্রতি সিকি দিরহামের জন্য সাড়ে ষোল আওকিয়া। সামান্য কিছু বাড়তি থেকে যায় যা নগণ্য হওয়ার কারণে উপেক্ষা করা হয়। রুটি সেঁকার সময় তা থেকে দেড় আওকিয়া কমে যায়, ফলে এক সিকি দিরহামের বিনিময়ে পনেরো আওকিয়া সেঁকা রুটি অবশিষ্ট থাকে।
তদারককারী (وقاف) রুটি সেঁকার সময় জ্বালানি কাঠে কারচুপি করতে পারে, যার ফলে পরীক্ষার সময় সে কাঠ কমিয়ে দেয়। এতে চুলার তলদেশ পর্যাপ্ত উত্তপ্ত হয় না এবং ভেতরের তাপমাত্রার ভারসাম্য বজায় থাকে না। সে রুটি ভেতরে ফেলে রাখে, ফলে এর জলীয় অংশ শুকিয়ে যায় এবং ওজন কমে যায়। আর যখন পরীক্ষার সময় থাকে না, তখন সে কাঠ বাড়িয়ে দেয় এবং চুলার তাপমাত্রা ঠিক রাখে। আগুনের উত্তাপ থেকে দূরে থাকার কারণে সে রুটি চুলার ডান দিকে এগিয়ে রাখে। রুটি যদি সুবিন্যস্ত ও সুনিপুণ হয় এবং চুলার ভেতর একে অপরের থেকে পর্যাপ্ত দূরত্বে থাকে এবং প্রয়োজনীয় সময় পর্যন্ত রাখা হয়, তবে রুটিটি দেখতে সুন্দর হয়, এর উপর ও নিচ উভয় দিক ভালোভাবে সেঁকা হয় এবং এর ভেতরের অংশ নরম থাকে। যখন ময়দা ভালোভাবে মাখানো হয় এবং তা পরিপক্ক হয়, তখন এর ভেতরের অংশ প্রসারিত হয়। কোনো কোনো মুহতাসিব (المحتسب) এটি পরীক্ষার জন্য পশমি সুতা লাগানো লোহার সুঁই ব্যবহার করতেন, যা দিয়ে তিনি রুটির তলদেশ থেকে উপরিভাগ পর্যন্ত ছিদ্র করে দিতেন। যদি সুতার সাথে রুটির কণা বের হয়ে আসত, তবে ময়দা মাখানো কম হয়েছে বলে রুটিটি ভেঙে ফেলা হতো। আর যদি সুতায় কিছু লেগে না থাকত, তবে তা ভালো বলে গণ্য হতো; আর এটিই হচ্ছে কাঙ্ক্ষিত গুণমান।
সাবতি কাফিজ (القفيز) এবং আমেরি গমের ক্ষেত্রে তার কাদা (قدح) সংখ্যা চল্লিশটি হওয়া সঠিক বলে গণ্য হবে যদি