(খণ্ড: ১)
বুগয়াতুল ইরবাহ ফী মা’রিফাতি আহকামিল হিসবাহ লিইবনিদ দাইবা
(পৃষ্ঠা: -)
بغية الإربة في معرفة أحكام الحسبة لابن الديبع القسم: السياسة الشرعية والقضاء
الكتاب: بغية الإربة في معرفة أحكام الحسبة
المؤلف: وجيه الدين عبد الرحمن بن علي الشيباني المعروف بـ «ابن الديبع» (866 هـ - 944 هـ / 1461 م - 1537 م)
دراسة وتحقيق: طلال بن جميل الرفاعي (أستاذ مشارك النظم الإسلامية - كلية الشريعة - جامعة أم القرى)
الناشر: معهد البحوث العلمية - مركز احياء التراث الاسلامي - جامعة أم القرى، مكة المكرمة - المملكة العربية السعودية
الطبعة: الأولى، 1423 هـ - 2002 م
عدد الصفحات: 83
أعده للشاملة: مركز المحتسب http://almohtasb.com
[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]
تاريخ النشر بالشاملة: 21 ربيع الآخر 1439
ইবনুদ দাইবা' বিরচিত বুগইয়াতুল ইরিবা ফি মা'রিফাতি আহকামিল হিসবাহ বিভাগ: সিয়াসাহ শারইয়্যাহ (ইসলামী রাজনীতি) ও বিচারব্যবস্থা
গ্রন্থ: বুগইয়াতুল ইরিবা ফি মা'রিফাতি আহকামিল হিসবাহ
লেখক: ওয়াজিহ উদ্দিন আব্দুর রহমান বিন আলী আল-শাইবানী, যিনি «ইবনুদ দাইবা'» নামে পরিচিত (৮৬৬ হি. - ৯৪৪ হি. / ১৪৬১ খ্রি. - ১৫৩৭ খ্রি.)
গবেষণা ও সম্পাদনা: তালাল বিন জামিল আল-রিফায়ি (সহযোগী অধ্যাপক, ইসলামী শাসনব্যবস্থা - শরীআহ অনুষদ - উম্মুল কুরা বিশ্ববিদ্যালয়)
প্রকাশক: বৈজ্ঞানিক গবেষণা ইনস্টিটিউট - ইসলামী ঐতিহ্য পুনরুজ্জীবন কেন্দ্র - উম্মুল কুরা বিশ্ববিদ্যালয়, মক্কা মুকাররমা - সৌদি আরব বাদশাহী
সংস্করণ: প্রথম, ১৪২৩ হি. - ২০০২ খ্রি.
পৃষ্ঠা সংখ্যা: ৮৩
শামেলা সংস্করণের জন্য প্রস্তুতকারক: আল-মুহতাসিব সেন্টার http://almohtasb.com
[গ্রন্থের পৃষ্ঠা নম্বর মূল ছাপানো কপির অনুরূপ]
শামেলায় প্রকাশের তারিখ: ২১ রবিউস সানি ১৪৩৯
(খণ্ড: ১)
বুগয়াতুল ইরবাহ ফী মা’রিফাতি আহকামিল হিসবাহ লিইবনিদ দাইবা
(পৃষ্ঠা: -)
بغية الإربة في معرفة أحكام الحسبة
تصنيف
وجيه الدين عبد الرحمن بن علي الشيباني المعروف بـ «ابن الديبع»
(866 هـ - 944 هـ / 1461 م - 1537 م)
دراسة وتحقيق
الدكتور طلال بن جميل الرفاعي
أستاذ مشارك النظم الإسلامية
كلية الشريعة - جامعة أم القرى
বুগইয়াতুল ইরবাহ ফি মা’রিফাতি আহকামিল হিসবাহ (জনকল্যাণমূলক তদারকির বিধানাবলি জানার আকাঙ্ক্ষিত মাধ্যম)
গ্রন্থনায়
ওয়াজিহউদ্দীন আবদুর রহমান বিন আলী আশ-শাইবানী, যিনি «ইবনুদ দাইবা» নামে পরিচিত
(৮৬৬ হিজরি - ৯৪৪ হিজরি / ১৪৬১ খ্রিষ্টাব্দ - ১৫৩৭ খ্রিষ্টাব্দ)
গবেষণা ও সম্পাদনায়
ডক্টর তালাল বিন জামিল আল-রিফায়ি
সহযোগী অধ্যাপক, ইসলামী প্রশাসনিক ব্যবস্থা বিভাগ
শরীয়াহ অনুষদ - উম্মুল কুরা বিশ্ববিদ্যালয়
(খণ্ড: ১)
বুগয়াতুল ইরবাহ ফী মা’রিফাতি আহকামিল হিসবাহ লিইবনিদ দাইবা
(পৃষ্ঠা: ৫৩)
مقدمة المؤلفالحمد لله الذي بين الأحكام، وشرع الحلال والحرام ودعا إلى الخير ودل عليه أهل طاعته، وأمر بالمعروف ونهى عن المنكر لشناعته، وأشهد ألا إله إلا الله وحده لا شريك له، الحكم العدل في أحكامه، وأشهد أن محمد عبده ورسوله المخصوص بتشريفه وإكرامه صلى الله عليه وسلم ما قامت به الأركان الحق الدعائم وعلى آله وصحبه الذين كانوا لا تأخذهم في الله لومة لائم.
أما بعد فقد جمعت هذه الورقات في أحكام الحسبة لينتفع بها من كان له في ولاية الأحكام رغبة، وليعرف ما له، وما عليه من الأحكام، فليس العالم كالجاهل عند أولي الأحلام، وسميتها "ببغية الإربة في أحكام الحسبة"، وجعلتها في ستة فصول وخاتمة، وأسأل الله تعالى أن يرزقني وسائر المسلمين حسن الخاتمة.
লেখকের ভূমিকাসমস্ত প্রশংসা আল্লাহর জন্য, যিনি বিধানসমূহ (أحكام) সুস্পষ্ট করেছেন এবং বৈধ (حلال) ও অবৈধ (حرام) বিষয়সমূহ বিধিবদ্ধ করেছেন। তিনি কল্যাণের দিকে আহ্বান করেছেন এবং তাঁর অনুগতদের সেদিকে পথপ্রদর্শন করেছেন। তিনি সৎ কাজের আদেশ (أمر بالمعروف) দিয়েছেন এবং তার জঘন্যতার কারণে অসৎ কাজ থেকে নিষেধ (نهي عن المنكر) করেছেন। আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, আল্লাহ ছাড়া কোনো সত্য উপাস্য নেই, তিনি একক ও অদ্বিতীয়; তিনি তাঁর বিচারকার্যে ন্যায়পরায়ণ বিচারক। আমি আরও সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, মুহাম্মদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) তাঁর বান্দা ও রাসূল, যাঁকে বিশেষ মর্যাদা ও সম্মানে ভূষিত করা হয়েছে। তাঁর ওপর এবং তাঁর পরিবারবর্গ ও সাহাবীগণের ওপর আল্লাহর রহমত ও শান্তি বর্ষিত হোক, যতক্ষণ হকের স্তম্ভ ও খুঁটিসমূহ সুদৃঢ় থাকবে; এবং সেই সাহাবীগণের ওপর, যাঁরা আল্লাহর দ্বীনের ব্যাপারে কোনো নিন্দুকের নিন্দাকে পরোয়া করতেন না।
অতঃপর: আমি এই পৃষ্ঠাগুলোতে হিসবাহ (حسبة) সংক্রান্ত বিধানসমূহ (أحكام) সংকলন করেছি, যাতে বিচারিক দায়িত্ব পালনে আগ্রহী ব্যক্তিগণ এর মাধ্যমে উপকৃত হতে পারেন এবং নিজ নিজ অধিকার ও কর্তব্য সম্পর্কে অবগত হতে পারেন। কেননা জ্ঞানবানদের নিকট আলেম ও জাহেল সমান নয়। আমি এই কিতাবটির নামকরণ করেছি "বুগইয়াতুল ইরবাহ ফি আহকামিল হিসবাহ" এবং একে ছয়টি অধ্যায় ও একটি উপসংহারে বিন্যস্ত করেছি। আমি মহান আল্লাহর নিকট প্রার্থনা করি, তিনি যেন আমাকে ও সকল মুসলিমকে উত্তম সমাপ্তি (حسن الخاتمة) দান করেন।
(খণ্ড: ১)
বুগয়াতুল ইরবাহ ফী মা’রিফাতি আহকামিল হিসবাহ লিইবনিদ দাইবা
(পৃষ্ঠা: ৫৪)
الفصل الأولفي حقيقة الحسبة وبيان كونها فرض عين على من وليها، وكفاية على غيره من سائر المسلميناعلم أن حقيقة الحسبة هي الأمر بالمعروف إذا ظهر تركه والنهي عن المنكر إذا ظهر فعله، والمراد بالمعروف هو الأمر بالواجبات، والمندوبات والنهي عن المنكر النهي عن المحرمات، والمكروهات، قال الله تعالى: {ولتكن منكم أمة يدعون
প্রথম পরিচ্ছেদহিসবাহ-এর স্বরূপ এবং এর দায়িত্বপ্রাপ্ত ব্যক্তির ওপর তা ব্যক্তিগতভাবে বাধ্যতামূলক (فرض عين) হওয়া এবং অন্যান্য সাধারণ মুসলিমদের ওপর তা সমষ্টিগতভাবে বাধ্যতামূলক (كفاية) হওয়ার বর্ণনা প্রসঙ্গেজেনে রাখুন যে, হিসবাহ-এর প্রকৃত রূপ হলো সৎ কাজের আদেশ প্রদান করা যখন তা বর্জন করার বিষয়টি প্রকাশ পায় এবং অসৎ কাজ থেকে বারণ করা যখন তা সংঘটিত হওয়ার বিষয়টি প্রকাশ পায়। আর ‘মারূফ’ (সৎ কাজ) বলতে উদ্দেশ্য হলো আবশ্যিক (واجبات) ও পছন্দনীয় (مندوبات) বিষয়সমূহের আদেশ প্রদান করা এবং ‘মুনকার’ (অসৎ কাজ) থেকে নিষেধ বলতে নিষিদ্ধ (محرمات) ও অপছন্দনীয় (مكروهات) বিষয়সমূহ থেকে বারণ করাকে বোঝায়। আল্লাহ তাআলা ইরশাদ করেছেন: {আর তোমাদের মধ্য থেকে এমন একটি দল যেন থাকে যারা (মানুষকে কল্যাণের দিকে) আহ্বান করবে...
(খণ্ড: ১)
বুগয়াতুল ইরবাহ ফী মা’রিফাতি আহকামিল হিসবাহ লিইবনিদ দাইবা
(পৃষ্ঠা: ৫৫)
إلى الخير ويأمرون بالمعروف وينهون عن المنكر وأولئك هم المفلحون}، قال المفسرون الخطاب للمؤمنين في هذه الآية أي كونوا أمة تدعون إلى الخير أي الإيمان بالله ورسوله وتأمرون بالمعروف أي بطاعة الله وتنهون عن المنكر أي عن معصية الله تعالى: {وأولئك هم المفلحون} يعني الآمرين بالمعروف والناهين عن المنكر، وانهوا عن المنكر قبل أن تدعوني فلا أجيبكم وتسألوني فلا أعطيكم، و (تستنصروني) فلا أنصركم"، قال العلماء كان النبي صلى لله عليه وسلم يجب عليه النهي عن المنكر مطلقًا، وذلك من الواجبات المختص عليه الصلاة والسلام بوجوبها عليه فكان يجب عليه صلى الله عليه وسلم إذا رأى منكرًا أن ينكره، ويغيره من غير تفصيل بالخوف، أو عدمه، وغيره من سائر الأمة لا يجب عليه ذلك إلا إذا أمكنه،
কল্যাণের দিকে এবং তারা সৎকাজের আদেশ দেয় ও মন্দ কাজ থেকে নিষেধ করে (عن المنكر); আর তারাই সফলকাম।} মুফাসসিরগণ বলেছেন, এই আয়াতে সম্বোধন মুমিনদের প্রতি করা হয়েছে, অর্থাৎ তোমরা এমন এক জাতি হও যারা কল্যাণের দিকে অর্থাৎ আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের প্রতি ঈমানের দিকে আহ্বান জানাবে, সৎকাজের আদেশ দিবে অর্থাৎ আল্লাহর আনুগত্যের নির্দেশ দিবে এবং মন্দ কাজ থেকে নিষেধ করবে (عن المنكر) অর্থাৎ আল্লাহ তাআলার নাফরমানি থেকে বাধা দিবে। {আর তারাই সফলকাম} অর্থাৎ যারা সৎকাজের আদেশ দানকারী এবং মন্দ কাজ থেকে নিষেধকারী (عن المنكر)। তোমরা মন্দ কাজ থেকে নিষেধ (عن المنكر) করো সেই সময়ের পূর্বেই যখন তোমরা আমাকে ডাকবে কিন্তু আমি তোমাদের ডাকে সাড়া দেব না, আমার কাছে প্রার্থনা করবে কিন্তু আমি তোমাদের দান করব না এবং (আমার কাছে সাহায্য চাইবে) কিন্তু আমি তোমাদের সাহায্য করব না। উলামায়ে কেরাম বলেছেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর ওপর নিরঙ্কুশভাবে মন্দ কাজ থেকে নিষেধ করা (النهي عن المنكر) ওয়াজিব ছিল। এটি ছিল সেই সকল ওয়াজিবের অন্তর্ভুক্ত যা বিশেষভাবে তাঁর ওপর (সা.) আবশ্যক করা হয়েছিল। তাই নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যখনই কোনো মন্দ কাজ (منكرًا) দেখতেন, তখন ভয়-ভীতি বা অন্য কোনো বিষয়ের বিস্তারিত বিবেচনা ছাড়াই তা অস্বীকার করা এবং পরিবর্তন করা তাঁর ওপর ওয়াজিব ছিল। তবে উম্মতের অন্যান্যদের জন্য সক্ষমতা ব্যতীত তা আবশ্যক নয়।
(খণ্ড: ১)
বুগয়াতুল ইরবাহ ফী মা’রিফাতি আহকামিল হিসবাহ লিইবনিদ দাইবা
(পৃষ্ঠা: ৫৬)
وقدر عليه، وذلك لأن الله تعالى وعد النبي صلى الله عليه وسلم بالعصمة، والحفظ لقوله تعالى: {والله يعصمك من الناس} غيره ليس كذلك، فإذا تقرر أن الأمر بالمعروف، والنهي عن المنكر من فروض الكفايات، ونصب الإمام الأعظم لذلك من يتولاه وهو المحتسب لزمه القيام بذلك، وكان في حقه فرض عين، وغيره من سائر المسلمين إنما يكون عليه فرض كفاية، والله أعلم.
الفصل الثانيفي الفروق بين المحتسب وغيرهاعلم وفقك الله وإياي أن الفرق بين المحتسب وغيره يكون من تسعة أوجه:
أحدها أن ذلك فرض تعين على المحتسب بحكم الولاية، وغيره إنما هو عليه فرض كفاية.
الثاني: أن قيام المحتسب بذلك إنما هو من حقوق تصرفه الذي لا يجوز له أن يتساهل فيها بخلاف غيره، الثالث: أنه منصوب للاستعداء إليه بما يجب إنكاره، وليس أحاد المسلمين كذلك. الرابع: أنه يجب عليه إجابة من استعداه، ولا يجب ذلك على غيره. الخامس: أن يبحث عن المنكرات الظاهرة فينكرها، ويفحص عما ترك من المعروف الظاهر فيأمر به وليس على غيره بحث ولا فحص، السادس أن يتخذ له على الإنكار أعوانًا لأنه عمل هو منصوب له، وإليه مندوب، وليكون له أقهر وعليه أقدر، وليس ذلك لغيره. السابع: أن له أن يعزر بالمنكرات الظاهرة، وليس للآحاد ذلك. الثامن أن له أن يرتزق أي يأخذ على عمله رزقًا من بيت المال، التاسع: ما يتعلق بالعرف دون الشرع
এবং আল্লাহ তাকে এর ওপর সামর্থ্য দান করেছেন; আর তা এ কারণে যে, আল্লাহ তাআলা নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-কে সুরক্ষা (العصمة) ও হেফাজতের প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন, যেমন মহান আল্লাহ বলেন: {আর আল্লাহ আপনাকে মানুষের থেকে রক্ষা করবেন}। অন্য কেউ এমন নয়। সুতরাং যখন এটি সাব্যস্ত হলো যে, সৎ কাজের আদেশ (الأمر بالمعروف) ও অসৎ কাজের নিষেধ (النهي عن المنكر) ফরযে কিফায়া (فروض الكفايات) সমূহের অন্তর্ভুক্ত, এবং প্রধান ইমাম যখন এর জন্য কোনো দায়িত্বশীল নিয়োগ করেন—যিনি হলেন মুহতাসিব (المحتسب)—তখন এই দায়িত্ব পালন করা তার জন্য অপরিহার্য হয়ে যায় এবং এটি তার ক্ষেত্রে ফরযে আইন (فرض عين) হয়ে দাঁড়ায়; আর অবশিষ্ট সাধারণ মুসলমানদের ক্ষেত্রে তা ফরযে কিফায়া (فرض كفاية) হিসেবে গণ্য হয়। আল্লাহই ভালো জানেন।
দ্বিতীয় পরিচ্ছেদমুহতাসিব (المحتسب) এবং অন্যদের মধ্যকার পার্থক্যসমূহ প্রসঙ্গেজেনে রাখুন, আল্লাহ আপনাকে ও আমাকে তাওফিক দান করুন, মুহতাসিব (المحتسب) এবং অন্যদের মধ্যকার পার্থক্য নয়টি দিক থেকে পরিলক্ষিত হয়:
প্রথমত: প্রশাসনিক ক্ষমতার (الولاية) কারণে এটি মুহতাসিবের (المحتسب) ওপর ফরযে আইন (فرض تعين) হয়ে যায়, আর অন্যদের ওপর এটি কেবল ফরযে কিফায়া (فرض كفاية)।
দ্বিতীয়ত: মুহতাসিবের (المحتسب) এ দায়িত্ব পালন করা তার প্রশাসনিক এখতিয়ারের (تصرفه) হকের অন্তর্ভুক্ত, যাতে তার পক্ষে শিথিলতা প্রদর্শন করা বৈধ নয়; যা অন্যদের ক্ষেত্রে ভিন্ন। তৃতীয়ত: মুহতাসিবকে নিয়োগই করা হয়েছে যাতে কোনো মন্দ কাজ প্রতিরোধ করার প্রয়োজনে তার কাছে প্রতিকার প্রার্থনা (الاستعداء) করা যায়, কিন্তু সাধারণ মুসলমানদের (آحاد المسلمين) বিষয়টি তেমন নয়। চতুর্থত: যে ব্যক্তি তার কাছে প্রতিকার প্রার্থনা করে, তার ডাকে সাড়া দেওয়া তার জন্য ওয়াজিব; কিন্তু অন্যদের ওপর তা ওয়াজিব নয়। পঞ্চমত: তিনি প্রকাশ্য অপকর্মগুলো (المنكرات الظاهرة) অনুসন্ধান করবেন এবং তা প্রতিরোধ করবেন, আর কোনো প্রকাশ্য সৎ কাজ (المعروف الظاهر) বর্জন করা হয়ে থাকলে তা তদন্ত করবেন এবং পালনের আদেশ দেবেন; অন্যদের ওপর এমন কোনো অনুসন্ধান বা তদন্তের দায়িত্ব নেই। ষষ্ঠত: তিনি অন্যায়ের প্রতিরোধের জন্য সাহায্যকারী (أعوانًا) গ্রহণ করবেন; কারণ এটি এমন এক কাজ যার জন্য তাকে নিযুক্ত করা হয়েছে এবং তাকে এর দায়িত্ব প্রদান করা হয়েছে, যাতে তিনি অধিক প্রভাব বিস্তার করতে পারেন এবং সামর্থ্যবান হতে পারেন; অন্যদের জন্য এই সুযোগ নেই। সপ্তমত: প্রকাশ্য অপকর্মের জন্য তার দণ্ড বা তা'জির প্রদান (يعزر) করার ক্ষমতা রয়েছে, যা সাধারণ ব্যক্তিদের নেই। অষ্টমত: তিনি তার কাজের বিনিময়ে বায়তুল মাল থেকে ভাতা গ্রহণ (يرتزق) করতে পারেন। নবমত: যা শরয়ি বিধানের চেয়ে সামাজিক প্রথার (العرف) সাথে সংশ্লিষ্ট।
(খণ্ড: ১)
বুগয়াতুল ইরবাহ ফী মা’রিফাতি আহকামিল হিসবাহ লিইবনিদ দাইবা
(পৃষ্ঠা: ৫৭)
كمقاعد الأسواق، وإخراج الأجنحة، فينكرها، ويقر من ذلك ما أداه إليه اجتهاده وليس هذا للآحاد.
فهذا بيان الفرقة بين متولي الحسبة، وبين غيره من المسلمين عند الأمر بالمعروف والنهي عن المنكر فأعمله، وليس للمحتسب سماع الدعاوي الخارجة عن المنكرات في العقود، والمعاملات، (والطلبات)، وسائر الحقوق، فلا يجوز أن يسمع الدعاوي فيها، ولا أن يتعرض للحكم فيها لا في كثير من الحقوق، ولا في قليلها من درهم فما دون إلا أن يصرح له بذلك بنص صريح، [يزيد على إطلاق الحسبة فيجوز، ويصير بهذه الزيادة جامعًا بين قضاء وحسبة فيراعي فيه أن يكون من أهل الاجتهاد]، والله أعلم.
যেমন বাজারের বসার জায়গাগুলো এবং বারান্দা বা ছাদ প্রসারণের মতো বিষয়গুলো; তিনি এগুলোকে নিষিদ্ধ করবেন এবং এগুলোর মধ্য থেকে তার গবেষণা (اجتهاد) যা অনুমোদন করে তা বহাল রাখবেন; আর এটি সাধারণ ব্যক্তিদের (الآحاد) জন্য প্রযোজ্য নয়।
এটি সৎকাজের আদেশ ও অসৎকাজের নিষেধ (الأمر بالمعروف والنهي عن المنكر)-এর ক্ষেত্রে হিসবাহ (حسبة) বা জনকল্যাণমূলক তদারকির দায়িত্বে নিয়োজিত ব্যক্তি এবং অন্যান্য সাধারণ মুসলিমদের মধ্যাকার পার্থক্যের বর্ণনা; সুতরাং এটি জেনে আমল করো। আর মুহতাসিব (محتسب) বা তদারককারীর জন্য চুক্তি, লেনদেন, দাবি-দাওয়া এবং অন্যান্য অধিকার সংক্রান্ত বিষয়ে যা প্রকাশ্য অপরাধের (منكرات) বহির্ভূত, এমন কোনো মামলা শোনা বৈধ নয়। সুতরাং সেসব বিষয়ে মামলা শোনা তার জন্য জায়েজ নয় এবং সেসব বিষয়ে রায় প্রদানের অধিকারও তার নেই; চাই তা অধিক পরিমাণ অধিকার সংক্রান্ত হোক বা এক দিরহাম বা তার কম সামান্য পরিমাণের ক্ষেত্রে হোক না কেন। তবে যদি তাকে কোনো স্পষ্ট নির্দেশনার মাধ্যমে এটি করার অনুমতি প্রদান করা হয় [যা সাধারণ হিসবাহ (حسبة)-এর অতিরিক্ত হবে, তবে তা জায়েজ হবে এবং এই অতিরিক্ত ক্ষমতার কারণে তিনি বিচার বিভাগ (قضاء) ও হিসবাহ (حسبة)-এর সমন্বিত দায়িত্বশীল হবেন; এমতাবস্থায় তাকে অবশ্যই ইজতিহাদের অধিকারী (أهل الاجتهاد) হতে হবে], আল্লাহই সর্বজ্ঞ।
(খণ্ড: ১)
বুগয়াতুল ইরবাহ ফী মা’রিফাতি আহকামিল হিসবাহ লিইবনিদ দাইবা
(পৃষ্ঠা: ৫৮)
الفصل الثالثفي أركان الحسبةقال الإمام حجة الإسلام الغزالي رحمه الله في كتابه إحياء علوم الدين للحسبة أركان:
الأول المحتسب وله شروط منها أن يكون بالغًا عاقلًا، ومنها أن يكون مسلمًا فلا حسبة لكافر على مسلم، ومنها أن يكون قادرًا فلا حسبة للعاجز عما يتولي
তৃতীয় পরিচ্ছেদহিসবাহ (حسبة)-এর স্তম্ভসমূহ (أركان) প্রসঙ্গেইমাম হুজ্জাতুল ইসলাম আল-গাজালী (রহিমাহুল্লাহ) তাঁর ‘ইহ্ইয়াউ উলূমিদ্দীন’ গ্রন্থে বলেছেন যে, হিসবাহ (حسبة)-এর কয়েকটি স্তম্ভ (أركান) রয়েছে:
প্রথমটি হলো মুহতাসিব (محتسب), আর তাঁর জন্য কতগুলো শর্ত রয়েছে; তন্মধ্যে একটি হলো প্রাপ্তবয়স্ক ও বুদ্ধিমান হওয়া, দ্বিতীয়টি হলো মুসলিম হওয়া, কারণ একজন মুসলিমের ওপর কাফিরের কোনো হিসবাহ (حسبة) নেই; এবং অন্যতম শর্ত হলো সক্ষম হওয়া, কেননা কোনো ব্যক্তি যে দায়িত্ব পালনে অক্ষম, তার জন্য সেই বিষয়ে কোনো হিসবাহ (حسبة) নেই।
(খণ্ড: ১)
বুগয়াতুল ইরবাহ ফী মা’রিফাতি আহকামিল হিসবাহ লিইবনিদ দাইবা
(পৃষ্ঠা: ৫৯)
ولا تشترط الحرية، ولا الذكورة، ولا العدالة، وآداب المحتسب العلم والورع
স্বাধীন হওয়া (الحرية), পুরুষ হওয়া (الذكورة) কিংবা ন্যায়পরায়ণতা (العدالة) শর্ত নয়; আর মুহতাসিব (المحتسب)-এর শিষ্টাচার হলো জ্ঞান এবং পরহেজগারিতা (الورع)।
(খণ্ড: ১)
বুগয়াতুল ইরবাহ ফী মা’রিফাতি আহকামিল হিসবাহ লিইবনিদ দাইবা
(পৃষ্ঠা: ৬০)
وحسن الخلق، والمداراة، وإذا علم المحتسب أن كلامه لا ينفع ولا يؤثر، وأنه لا يقدر على التأديب أو يضر به سقط الوجوب، وحرم عليه حضور مواضع المنكر، ولا يخرج من بيته إلا لحاجة مهمة، أو واجب ولا يلزمه مفارقة (البلد)، و (ولا الهجرة)، (إلا أن يرهق إلى الفساد أو يحمل على مساعدة) [السلاطين في] الظلم والمنكرات، وإن علم أنه لا ينفع كلامه لكنه لا يخاف مكروهًا استحب له المنع
এবং উত্তম চরিত্র ও নমনীয়তা (অবলম্বন করা)। যখন মুহতাসিব (ধর্মীয় তত্ত্বাবধায়ক) অনুধাবন করেন যে তার কথা কোনো উপকারে আসবে না এবং কোনো প্রভাব ফেলবে না, আর তিনি শাসন করতে সক্ষম নন অথবা এর ফলে ক্ষতির আশঙ্কা থাকে, তখন [মন্দ কাজ প্রতিরোধের] আবশ্যকতা (وجوب) রহিত হয়ে যায়। এমতাবস্থায় গর্হিত বিষয় (منكر)-এর স্থানে তার উপস্থিতি হারাম হয়ে যায়। গুরুত্বপূর্ণ প্রয়োজন কিংবা কোনো আবশ্যিক কাজ ছাড়া তার ঘর থেকে বের হওয়া উচিত নয়। তার জন্য শহর ত্যাগ করা কিংবা হিজরত করা আবশ্যক নয়, যতক্ষণ না তাকে পাপাচারের দিকে ঠেলে দেওয়া হয় কিংবা জুলুম ও গর্হিত বিষয়সমূহ (منكرات)-এর ক্ষেত্রে [শাসকদের] সহযোগিতা করতে বাধ্য করা হয়। আর যদি তিনি জানেন যে তার কথা ফলপ্রসূ হবে না, কিন্তু কোনো অপছন্দনীয় বা ক্ষতিকর (مكروه) পরিণতির ভয় না থাকে, তবে তার জন্য তা প্রতিরোধ করা মুস্তাহাব (استحب) বা পছন্দনীয়।
(খণ্ড: ১)
বুগয়াতুল ইরবাহ ফী মা’রিফাতি আহকামিল হিসবাহ লিইবনিদ দাইবা
(পৃষ্ঠা: ৬১)
ولا يلزمه المنع، ولو رأى فاسقًا معلنًا وعنده سيف وبيده قدح خمر، ولو علم أنه لو أنكر عليه شربه يضربه بالسيف حرمت عليه الحسبة، ولو علم أنه يضرب غيره من أصحابه وأقاربه فكذلك، وإن علم أنه يأخذ ماله أو مال أقاربه، أو رفقائه سقط الوجوب، ويختلف ذلك بالقلة والكثرة والظن الغالب في هذه الأبواب العلم، ولا يسقط الوجوب كخوف فوات المطالب فيلزمه الإنكار على معلمه، وقريبه، وعلى من يواسيه بمال، أو ينصره بجاه إلا أن يعينوه أو يضطر إليهم فلا يعد في سقوطه.
الركن الثاني:ما فيه من الحسبة وله شروط: منها أن يكون منكرًا وإن لم تكن معصية حتى لو رأى صبيًا، أو مجنونًا يشرب الخمر فعلى المحتسب أن يريقها، وكذا إذا رأي مجنونًا يزني بمجنونة، أو بهيمة [فعليه أن يمنعه منها]، ومنها أن تكون المعصية موجودة في الحال فإذا فرغ من الشرب، أو الزنا فلا حسبة للآحاد فيما مضى، ولا فيما يوجد من بعد إذا
এবং তার জন্য বাধা প্রদান আবশ্যক নয়, এমনকি যদি সে প্রকাশ্যে পাপাচারী (فاسق) কোনো ব্যক্তিকে দেখে যার কাছে তলোয়ার আছে এবং হাতে মদের পেয়ালা রয়েছে। যদি সে জানে যে, তাকে মদ্যপানে বাধা দিলে সে তলোয়ার দিয়ে তাকে আঘাত করবে, তবে তার ওপর হিবসাহ (حسبة) হারাম হয়ে যাবে। আর যদি সে জানে যে, সে তার পরিবর্তে তার সঙ্গী বা আত্মীয়স্বজনদের আঘাত করবে, তবে সেক্ষেত্রেও একই বিধান। আর যদি সে জানে যে, সে তার সম্পদ অথবা তার আত্মীয় বা সঙ্গীদের সম্পদ কেড়ে নেবে, তবে আবশ্যকতা (وجوب) রহিত হয়ে যাবে। এই বিষয়টি (সম্পদের) অল্প বা বেশির প্রেক্ষিতে ভিন্ন হতে পারে এবং এই অধ্যায়গুলোতে প্রবল ধারণা (الظن الغالب) জ্ঞানের স্থলাভিষিক্ত হয়। তবে পার্থিব লক্ষ্য অর্জনে ব্যর্থ হওয়ার ভয়ে আবশ্যকতা (وجوب) রহিত হয় না; সুতরাং তার শিক্ষক, আত্মীয় এবং এমন ব্যক্তির প্রতিবাদ করাও তার ওপর আবশ্যক (وجوب) যে তাকে সম্পদ দিয়ে সাহায্য করে বা প্রভাব-প্রতিপত্তি দিয়ে সহযোগিতা করে—অবশ্য যদি তারা তাকে সাহায্য করে অথবা সে তাদের প্রতি মুখাপেক্ষী হতে বাধ্য হয়, তবে আবশ্যকতা রহিত হওয়ার ক্ষেত্রে তা গণ্য হবে না।
দ্বিতীয় রুকন (الركن الثاني):যাতে হিবসাহ (حسبة) কার্যকর হয় এবং এর কিছু শর্তাবলী রয়েছে: তার মধ্যে একটি হলো—তা গর্হিত (منكر) কাজ হতে হবে, যদিও তা গুনাহ (معصية) না হয়। এমনকি যদি কেউ কোনো শিশু বা পাগলকে মদ পান করতে দেখে, তবে প্রতিহতকারীর (المحتسب) ওপর আবশ্যিক কর্তব্য হলো তা ঢেলে ফেলে দেওয়া। অনুরূপভাবে যদি সে কোনো পাগলকে কোনো পাগলীর সাথে বা কোনো পশুর সাথে ব্যভিচারে (زنا) লিপ্ত হতে দেখে [তবে তাকে বাধা দেওয়া তার ওপর আবশ্যক]। আরেকটি শর্ত হলো—গুনাহটি (معصية) বর্তমান অবস্থায় বিদ্যমান থাকতে হবে। সুতরাং যদি মদ্যপান বা ব্যভিচার (زنا) শেষ হয়ে যায়, তবে যা অতীত হয়ে গেছে সে বিষয়ে সাধারণ ব্যক্তিবর্গের (آحاد) জন্য কোনো হিবসাহ (حسبة) নেই, আর যা ভবিষ্যতে ঘটবে সে বিষয়েও নয় যদি...
(খণ্ড: ১)
বুগয়াতুল ইরবাহ ফী মা’রিফাতি আহকামিল হিসবাহ লিইবনিদ দাইবা
(পৃষ্ঠা: ৬২)
علمه بالقرينة أنه عائد إليه، إلا وعظًا، ومنها أن يكون ظاهرًا بلا تجسس، وكل من يستر معصيته في داره، وأغلق عليه بابه لم يجز التجسس عليه إلا أن يظهر من الدار ظهورًا يعرفها الخارج، كصوت المزمار، والأوتار، والسكارى بالكلمات المألوفة بينهم، وكذا لو فاحت روائح الخمر وعلم بالقرائن تعاطيهم شربها، وقد (يستر) الخمر والملاهي تحت أذيال الثياب، فإذا رأي فاسقًا تحت ذيله شيء لم يجز كشفه ما لم يظهر حاله كرائحة الخمر وغيرها، ومنها منكرًا مقطوعًا به، فليس للحنفي أن ينكر على الشافعي أكله الضب، والضبع، ومتروك التسمية، ولا الشافعي أن ينكر على الحنفي شرب النبيذ
পরিপার্শ্বিক আলামত দ্বারা এটি বোঝা যায় যে তা তারই দিকে ফিরে আসছে, তবে উপদেশ প্রদান ব্যতিরেকে। এর অন্যতম শর্ত হলো তা গোয়েন্দাগিরি ব্যতিরেকে প্রকাশ্য হতে হবে। যে ব্যক্তি তার ঘরের ভেতরে নিজের পাপাচার গোপন রাখে এবং দরজা বন্ধ করে রাখে, তার ওপর গোয়েন্দাগিরি করা জায়েজ নয়, যতক্ষণ না ঘর থেকে এমন কিছু প্রকাশ পায় যা বাইরের লোক বুঝতে পারে; যেমন—বাঁশি বা বাদ্যযন্ত্রের আওয়াজ এবং মাতালদের মাঝে প্রচলিত কথাবার্তা। তদ্রূপ যদি মদের গন্ধ ছড়িয়ে পড়ে এবং আলামত দ্বারা তাদের মদ্যপানের বিষয়টি নিশ্চিত হওয়া যায়। কখনো কখনো কাপড়ের নিচে মদ ও বাদ্যযন্ত্র গোপন রাখা হয়; এমতাবস্থায় যদি কোনো পাপাচারী ব্যক্তির কাপড়ের নিচে কিছু দেখা যায়, তবে তা উন্মোচন করা জায়েজ নয় যতক্ষণ না মদের গন্ধ বা অন্য কিছুর মাধ্যমে তার প্রকৃত অবস্থা প্রকাশ পায়। এর অন্যতম শর্ত হলো বিষয়টি অকাট্যভাবে একটি গর্হিত (منكر) বিষয় হওয়া। সুতরাং একজন হানাফি ব্যক্তির জন্য কোনো শাফেয়ি ব্যক্তির গোসাপ, হায়েনা কিংবা বিসমিল্লাহ বর্জিত (متروك) জবাইকৃত পশুর গোশত খাওয়ার ব্যাপারে আপত্তি করা বৈধ নয়, আর শাফেয়ি ব্যক্তির জন্যও হানাফি ব্যক্তির নাবীজ পানের ব্যাপারে আপত্তি তোলা জায়েজ নয়।
(খণ্ড: ১)
বুগয়াতুল ইরবাহ ফী মা’রিফাতি আহকামিল হিসবাহ লিইবনিদ দাইবা
(পৃষ্ঠা: ৬৩)
[الذي ليس بمسكر]، وأخذ ميراث ذوي الأرحام، وسكنى دار أخذها بشفعة الجوار، نعم لو رآه الشافعي يشرب النبيذ وينكح بلا ولي ويطأها فله أن ينكر عليه لأن على كل مقلد إتباع مقلده، ويعصى بمخالفته، ولو رأي الشافعي الحنفي يأكل الضب أو الضبع أو يترك التسمية فله أن يقول إما أن تعتقد أن الشافعي أولى بالإتباع أو تترك ذلك وكذا الحنفي أن يقول للشافعي إذا نكح بلا ولي، لأن قول من قال لكل مقلد أن يختار من المذاهب ما أراد غير معتقده.
الركن الثالث المحتسب (عليه):وشرط أن يكون إنسانًا، ولا يشترط أن يكون المنكر عليه المنكر إذ ينكر على الصبي، والمجنون، ولا أن يكون مسلمًا إذ ينكر على الكافر الزنا وإظهار الخمر وشربها، ولو رأى البهائم قد استرسلت في زرع، وقدر على حفظها من الضياع من
[যা নেশাজাতীয় নয়], এবং রক্তসম্পর্কীয় আত্মীয়দের উত্তরাধিকার গ্রহণ করা এবং প্রতিবেশী হওয়ার সুবাদে অগ্রক্রয়াধিকারের ভিত্তিতে অর্জিত ঘরে বসবাস করা। হ্যাঁ, যদি কোনো শাফেঈপন্থী দেখেন যে কোনো ব্যক্তি নাবিয পান করছে, অভিভাবক ব্যতীত বিবাহ করছে এবং সহবাস করছে, তবে তার জন্য তাকে নিষেধ করার অধিকার রয়েছে; কারণ প্রত্যেক অনুসারীর ওপর তার অনুসৃত ইমামের আনুগত্য করা আবশ্যক এবং তার বিরুদ্ধাচরণ করা পাপে গণ্য হয়। যদি কোনো শাফেঈপন্থী দেখেন যে কোনো হানাফী গুঁইসাপ বা হায়েনা খাচ্ছেন অথবা (যবেহকালে) তাসমিয়া বর্জন করছেন, তবে তিনি তাকে বলতে পারেন: হয় আপনি বিশ্বাস করুন যে শাফেঈর অনুসরণ করাই অধিকতর উত্তম, নতুবা এটি বর্জন করুন। অনুরূপভাবে হানাফী ব্যক্তিও শাফেঈকে বলতে পারেন যখন তিনি অভিভাবক ব্যতীত বিবাহ করেন; কেননা যারা বলেন যে প্রত্যেক অনুসারীর জন্য নিজ বিশ্বাসের বাইরে অন্য মাযহাব থেকে যা ইচ্ছা গ্রহণ করার সুযোগ রয়েছে—তাদের এ উক্তিটি সঠিক নয়।
তৃতীয় রুকন: আল-মুহতাসাব আলাইহি (عليه) (যার ওপর আপত্তি জানানো হচ্ছে):এর শর্ত হলো তাকে মানুষ হতে হবে। যার ওপর আপত্তি করা হচ্ছে (المنكر عليه), তার জন্য মন্দ কাজ (منكر) হওয়া শর্ত নয়; যেহেতু শিশু এবং উন্মাদের মন্দ কাজের (منكر) ক্ষেত্রেও আপত্তি জানানো হয়। তাকে মুসলিম হওয়াও শর্ত নয়; যেহেতু কাফেরকেও ব্যভিচার, প্রকাশ্যে মদ্যপ্রদর্শন এবং মদ্যপান থেকে বাধা প্রদান করা হয়। আর যদি কেউ দেখে যে চতুষ্পদ প্রাণী ফসলের মধ্যে ঢুকে পড়েছে এবং সেগুলোকে বিনষ্ট হওয়া থেকে রক্ষা করতে সক্ষম হয়...
(খণ্ড: ১)
বুগয়াতুল ইরবাহ ফী মা’রিফাতি আহকামিল হিসবাহ লিইবনিদ দাইবা
(পৃষ্ঠা: ৬৪)
غير أن يناله تعب في بدنه أو خسران في حاله، أو نقص في جاهه وجب الدفع، وفيه نظر لأن الدفع من المال غير واجب، وتثبت الحسبة على الوالد بالتعريف، والوعظ والنصح وكسر العود وإراقة الخمر، ورد ما غصب إلى ما مالكه، وإبطال الصور المنقوشة على حيطانه والمنقورة في خشب بيته، وليس عليه الحسبة بالسب والتعنيف والتهديد، وهذا الترتيب يجري في العبد مع سيده، والزوجة مع الزوج، وأما الرعية مع السلطان فليس لهم إلا التعريف والنصح، وأما التلميذ مع الأستاذ فأمره أحق لأن المحترم هو الأستاذ المفيد للعلم من حيث الدين ولا حرمة لعالم لا يعمل بعلمه، وله أن (يعامله) بموجب علمه الذي يعلمه منه.
الركن الرابعالاحتساب وله درجاتالأولى: التعرف لا التجسس، وهو حرام فلا يجوز أن يسترق السمع على دار غيره يسمع الأوتار، ولا أن يستنشق [ليدرك] رائحة الخمر، ولا أن يستخبر جيرانه ليخبروه بما (جرى) في داره، نعم لو أخبره عدلان ابتداء بأن (فلانًا) يشرب في داره الخمر، أو في داره خمر أعدها للشرب فله الهجوم على داره، وإن
যদি শরীর পরিশ্রান্ত হওয়া, ব্যক্তিগত অবস্থার ক্ষতি হওয়া অথবা সামাজিক মর্যাদাহানি ঘটার আশঙ্কা না থাকে, তবে তা প্রতিহত করা ওয়াজিব। তবে এই বিষয়ে দ্বিমত রয়েছে, কারণ অর্থ ব্যয় করে প্রতিহত করা ওয়াজিব নয়। পিতার ক্ষেত্রে সংশোধনমূলক তদারকি (الحسبة) কেবল অবগত করা, ওয়াজ (الوعظ) ও নসিহত (النصح) প্রদান করা, বাদ্যযন্ত্র ভেঙে ফেলা, মদ ঢেলে দেওয়া, জবরদখল করা বস্তু প্রকৃত মালিকের নিকট ফিরিয়ে দেওয়া এবং দেয়ালের ওপর অঙ্কিত ও কাঠের ওপর খোদাই করা প্রতিকৃতিসমূহ বিনষ্ট করার মাধ্যমে সাব্যস্ত হবে। গালিগালাজ, রূঢ়তা বা হুমকির মাধ্যমে পিতার প্রতি কোনো তদারকি (الحسبة) করা যাবে না। এই একই নিয়ম দাসের ক্ষেত্রে তার মনিবের সাথে এবং স্ত্রীর ক্ষেত্রে তার স্বামীর সাথে প্রযোজ্য হবে। তবে সুলতানের ক্ষেত্রে প্রজাদের দায়িত্ব কেবল অবগত করা এবং নসিহত (النصح) প্রদান করা। আর উস্তাদের ক্ষেত্রে ছাত্রের বিষয়টি অধিক অগ্রগণ্য, কেননা দীনের বিচারে সেই উস্তাদই সম্মানের যোগ্য যিনি ইলমের মাধ্যমে উপকার করেন। আর যে আলেম নিজের ইলম অনুযায়ী আমল করেন না, তার কোনো মর্যাদা নেই। ছাত্রের জন্য অধিকার রয়েছে উস্তাদের নিকট থেকে অর্জিত ইলমের দাবি অনুযায়ী তার সাথে আচরণ করার।
চতুর্থ রুকনইহতিসাব (الاحتساب) এবং এর স্তরসমূহপ্রথম স্তর: অবগত হওয়া (التعرف), গোয়েন্দাগিরি (التجسس) করা নয়। এটি হারাম, তাই অন্যের ঘরের ভেতরে কান পেতে বাদ্যযন্ত্রের শব্দ শোনার চেষ্টা করা, মদের গন্ধ পাওয়ার জন্য ঘ্রাণ নেওয়ার চেষ্টা করা অথবা প্রতিবেশীদের নিকট থেকে কারো ঘরের অভ্যন্তরীণ সংবাদ অনুসন্ধান করা জায়েজ নয়। তবে যদি প্রারম্ভিকভাবে দুইজন ন্যায়পরায়ণ ব্যক্তি (عدلان) তাকে সংবাদ দেয় যে, অমুক ব্যক্তি তার ঘরে মদ পান করছে অথবা তার ঘরে পানের উদ্দেশ্যে মদ প্রস্তুত করে রেখেছে, তবে তার জন্য সেই ঘরে প্রবেশ করার অধিকার রয়েছে, যদিও...
(খণ্ড: ১)
বুগয়াতুল ইরবাহ ফী মা’রিফাতি আহকামিল হিসবাহ লিইবনিদ দাইবা
(পৃষ্ঠা: ৬৫)
أخبره عبدان، أو عدل واحد فالأولى أن يمتنع.
الثانية: التعريف فإنه يعذر بالجهل فيجب تعريفه باللطف بلا عنف، كما لو رأى سواديًا يصلي ولا يحسن الركوع والسجود، فيقول له خفية إن الإنسان لا يولد عالمًا، وقد كنا جاهلين بأمور الصلاة فلعل قريتك خالية من أهل العلم، أو عالمها مقصر في شرح الصلاة وإيضاحها وهكذا يتلطف [من غير إيذاء] فإن إيذاء المسلم حرام. كما أن تقريره على المنكر حرام، ومن أستبدل (السكوت) عن النهي [فهو كمن] غسل البول بالدم، ولا يفعله عاقل.
الثالثة النهي بالوعظ والنصح، والتخويف بالله، ويورد على ذلك الأخبار الواردة بالوعيد فيه، ويحكي للمواعظ بسيرة وعادة المتقين.
যদি তাকে দুজন (عبدان) বা একজন ন্যায়পরায়ণ (عدل) ব্যক্তি সংবাদ দেন, তবে তা থেকে বিরত থাকাই শ্রেয়।
দ্বিতীয়: পরিচিতি প্রদান। কেননা অজ্ঞতার কারণে ব্যক্তিকে ক্ষমা করা হয়, তাই কঠোরতা ছাড়াই নম্রভাবে তাকে বিষয়টি অবগত করা আবশ্যক। যেমন যদি কেউ কোনো সাধারণ গ্রামবাসীকে নামাজ পড়তে দেখে যে রুকু ও সেজদা যথাযথভাবে সম্পন্ন করতে পারছে না, তবে তাকে গোপনে বলবে যে, মানুষ আলেম হয়ে জন্মায় না; আমরাও নামাজের মাসয়ালা সম্পর্কে অজ্ঞ ছিলাম। হতে পারে আপনার গ্রামে কোনো আলেম নেই অথবা সেখানকার আলেম নামাজের ব্যাখ্যা ও তা স্পষ্ট করার ক্ষেত্রে অবহেলা করেছেন। এভাবে কষ্ট প্রদান ব্যতিরেকে [من غير إيذاء] নম্রতা প্রদর্শন করবে, কেননা কোনো মুসলিমকে কষ্ট দেওয়া হারাম। তদ্রূপ কোনো অন্যায়ের ওপর মৌন সমর্থন (تقرير) দেওয়াও হারাম। আর যে ব্যক্তি মন্দ কাজ থেকে নিষেধ করার পরিবর্তে নীরবতাকে (السكوت) বেছে নিল, সে যেন রক্ত দিয়ে প্রস্রাব ধৌত করল; কোনো বুদ্ধিমান ব্যক্তি এমন কাজ করে না।
তৃতীয়: উপদেশ ও নসিহতের মাধ্যমে এবং আল্লাহর ভয় প্রদর্শনের মাধ্যমে নিষেধ করা। এক্ষেত্রে এ বিষয়ে বর্ণিত সতর্কবার্তামূলক সংবাদসমূহ (الأخبار) উপস্থাপন করবে এবং উপদেশের জন্য মুত্তাকিদের জীবনী ও রীতিনীতি বর্ণনা করবে।
(খণ্ড: ১)
বুগয়াতুল ইরবাহ ফী মা’রিফাতি আহকামিল হিসবাহ লিইবনিদ দাইবা
(পৃষ্ঠা: ৬৬)
الرابعة: السب والتعنيف والأقوال الغليظة كقوله يا فاسق، يا فاجر، يا أحمق، يا جاهل، يا غبي، ولا يفحش، في القول بما فيه نسبته إلى الزنا، ومقدماته ولا إلى الكذب.
الخامسة: التغيير للمنكر باليد ككسر الملاهي، وإراقة الخمر، وخلع الحرير من رأسه [وعن بدنه]، وإخراجه من الدار المغصوبة.
চতুর্থ: গালমন্দ করা, কঠোরভাবে ভর্ৎসনা করা এবং কর্কশ বাক্য প্রয়োগ করা, যেমন তাকে বলা— হে পাপাচারী (فاسق), হে পাপিষ্ঠ (فاجر), হে নির্বোধ, হে অজ্ঞ, হে মূর্খ। আর এমন কোনো অশ্লীল বাক্য প্রয়োগ করা যাবে না যাতে ব্যভিচার বা তার ভূমিকার সংশ্লিষ্টতা থাকে এবং মিথ্যার (كذب) ক্ষেত্রেও নয়।
পঞ্চম: হাত দ্বারা মন্দ কাজ (منكر) পরিবর্তন করা, যেমন— বাদ্যযন্ত্র ভেঙে ফেলা, মদ ঢেলে দেওয়া, মাথা [এবং দেহ] থেকে রেশমি বস্ত্র সরিয়ে ফেলা এবং জবরদখলকৃত বাড়ি থেকে তাকে বের করে দেওয়া।
(খণ্ড: ১)
বুগয়াতুল ইরবাহ ফী মা’রিফাতি আহকামিল হিসবাহ লিইবনিদ দাইবা
(পৃষ্ঠা: ৬৭)
السادسة: التهديد والتخويف بعقوبة كقوله دع [عنك] هذا وإلا كسرت رأسك، أو لأمرن به ونحوهما، ولا يخوفه بما لا يجوز كقوله لأنهبن دارك، لأضربن ولدك.
السابعة: مباشرة الضرب باليد والرجل بقدر الحاجة، فإن احتاج إلى شهر السلاح فله ذلك.
الثامنة: أن [لا يقدر عليه بنفسه ويحتاج إلى أعوان يُشهرون السلاح] إن احتاج إليه، فإن تقابلا صفان، وتقاتلا فهو كما قال بعضهم إلى بعض.
ষষ্ঠ: শাস্তির ভয় প্রদর্শন ও হুমকি প্রদান; যেমন তার এই উক্তি— "তুমি এটি বর্জন করো নতুবা আমি তোমার মস্তক চূর্ণ করব" অথবা "আমি এর জন্য (শাস্তির) নির্দেশ দেব" এবং এই জাতীয় কথা। তবে তাকে এমন বিষয়ের ভয় দেখাবে না যা (শরিয়ত অনুযায়ী) বৈধ নয়; যেমন তার উক্তি— "আমি তোমার ঘরবাড়ি লুণ্ঠন করব" বা "আমি তোমার সন্তানকে প্রহার করব।"
সপ্তম: প্রয়োজন অনুযায়ী হাত ও পা দ্বারা সরাসরি প্রহার করা। যদি অস্ত্র উঁচিয়ে ধরার প্রয়োজন পড়ে, তবে তার জন্য সেটি বৈধ।
অষ্টম: যখন সে একাকী তা করতে সক্ষম হবে না এবং তার এমন একদল সাহায্যকারীর প্রয়োজন হবে যারা প্রয়োজনবোধে অস্ত্র প্রদর্শন করবে। এমতাবস্থায় যদি দুই দল মুখোমুখি হয় এবং যুদ্ধে লিপ্ত হয়, তবে বিষয়টি হবে ঠিক তেমনই যেমনটি একে অপরের সাথে যুদ্ধের ক্ষেত্রে হয়ে থাকে।
(খণ্ড: ১)
বুগয়াতুল ইরবাহ ফী মা’রিফাতি আহকামিল হিসবাহ লিইবনিদ দাইবা
(পৃষ্ঠা: ৬৮)
الفصل الرابعفي المنكرات المألوفة وهي أنواع
الأول منكرات المساجد:
كأساة الصلاة بترك الطمأنينة في ركوعها وسجودها، [وهو منكر مبطل للصلاة]، فيجب النهي عنها إلا للحنفي، وكقراءة القرآن جنبًا، فيجب النهي عنه، وتلقين الصحيح الذي يكثر [اللحن في القرآن إن كان قادرًا على التعلم] فليمتنع عن القراءة [قبل التعلم] فإن من أهمل التعلم فقد عصى، فإن لم (يطاوعه لسانه) فإن أكثر ما (يقرؤه) لحنًا فليتركه وليشتغل بتعلم فاتحة الكتاب، وتصحيحها فإن كان الأكثر صحيحًا ولا يقدر على التسوية فلا بأس أن يقرأ، ولكن يخفي صوته حتى لا يسمع غيره، وتراسل المؤذنين في الأذان، وتطويلهم في كلماته، وانحرافهم عن صوب القبلة في الحيعلتين (وانفراد) كل واحد بأذان بلا توقف إلى انقطاع الأخر منكرات مكروهة يجب تعريفها، وإن صدر عن معرفة فيستحب منعه، ولو
চতুর্থ পরিচ্ছেদপ্রচলিত বর্জনীয় কাজসমূহ (المنكرات المألوفة) প্রসঙ্গে আর তা কয়েক প্রকার।
প্রথমত, মসজিদের বর্জনীয় কাজসমূহ (منكرات المساجد):
যেমন রুকু ও সিজদায় স্থিরতা (طمأنينة) পরিত্যাগ করার মাধ্যমে যথাযথভাবে নামাজ আদায় না করা, [আর এটি নামাজ বাতিলকারী (مبطل) একটি বর্জনীয় কাজ (منكر)], সুতরাং হানাফি মাজহাবের অনুসারী ব্যতীত অন্যদের ক্ষেত্রে এটি নিষেধ করা ওয়াজিব। তেমনিভাবে অপবিত্র (جنب) অবস্থায় কুরআন তিলাওয়াত করাও একটি নিষিদ্ধ কাজ। আর যে ব্যক্তি শিখতে সক্ষম হওয়া সত্ত্বেও কুরআনে প্রচুর ভুল পাঠ (لحن) করে, তাকে সঠিক পাঠ শিখিয়ে দেওয়া ওয়াজিব। সুতরাং শেখার পূর্বে তার তিলাওয়াত করা থেকে বিরত থাকা উচিত। কেননা যে ব্যক্তি শেখার ব্যাপারে অবহেলা করল, সে পাপে লিপ্ত হলো। আর যদি তার জিহ্বা বশ না মানে (উচ্চারণ ঠিক না হয়), তবে যদি তার পঠিত বিষয়ের অধিকাংশ ভুল (لحن) হয়, তবে তার তিলাওয়াত ছেড়ে দেওয়া উচিত এবং সূরা ফাতিহা শেখা ও তা শুদ্ধ করার কাজে মনোনিবেশ করা উচিত। আর যদি অধিকাংশ পাঠ সঠিক হয় এবং পুরোপুরি শুদ্ধ করতে সক্ষম না হয়, তবে তিলাওয়াত করাতে কোনো অসুবিধা নেই, কিন্তু সে তার আওয়াজ নিচু রাখবে যাতে অন্য কেউ না শোনে। আর আজানের ক্ষেত্রে মুয়াজ্জিনদের ছন্দবদ্ধ সুর করা, আজানের শব্দগুলোকে অতিরিক্ত দীর্ঘ করা, 'হাইয়া আলাস সালাহ' ও 'হাইয়া আলাল ফালাহ' বলার সময় কিবলার দিক থেকে বিচ্যুত হওয়া এবং একে অপরের শেষ হওয়া পর্যন্ত অপেক্ষা না করে প্রত্যেকের পৃথকভাবে আজান দেওয়া—এসবই অপছন্দনীয় (مكروهة) বর্জনীয় কাজ (منكرات), যা সম্পর্কে অবগত করা ওয়াজিব। আর যদি জেনেশুনে এমনটা করা হয়, তবে তা প্রতিরোধ করা মুস্তাহাব, যদিও...
(খণ্ড: ১)
বুগয়াতুল ইরবাহ ফী মা’রিফাতি আহকামিল হিসবাহ লিইবনিদ দাইবা
(পৃষ্ঠা: ৬৯)
لبس الخطيب ثوبًا أسود يغلب عليه الإبريسيم، أو أمسك سيفًا مذهبًا كان فاسقا يجب الإنكار عليه، ومجرد السواد لا يكره، ولا يستحب، ومن قال أنه مكروه، أو بدعة أراد أنه لم يكن معهودًا في الصدر الأول، ولكن إذا لم يرد نهي فلا ينبغي أن يسمى بدعة ولا مكروه، ولكنه ترك المستحب، ويجب على المحتسب منع الواعظ المبتدع والقاص الكاذب في الأخبار ولا يجوز حضور مجلسهم إلا للمنع، وإذا مال كلام الواعظ إلى الإرجاء وتجرئة الناس على المعاصي (وازدادوا) به جراءةً على الله، ووثوقًا بعفوه ورحمته، وزاد به رجاؤهم على خوفهم وجب منعه، بل لو رجح خوفهم على رجائهم كان أليق وأحسن، ولو كان الواعظ شابًا مزينًا كثير الأشعار والحركات والإشارات وقد حضر مجلسه النساء وجب المنع، فإن فساده أكثر من
খতিব যদি রেশমবহুল কালো পোশাক পরিধান করেন অথবা স্বর্ণখচিত তলোয়ার ধারণ করেন, তবে তিনি পাপাচারী (فاسق) হিসেবে গণ্য হবেন এবং তার প্রতিবাদ (الإنكار) করা আবশ্যক। কেবলমাত্র কালো পোশাক পরিধান করা অপছন্দনীয় (مكروه) নয় এবং পছন্দনীয় (مستحب)-ও নয়। যারা একে অপছন্দনীয় (مكروه) বা বিদআত (بدعة) বলেন, তারা মূলত এটিই বুঝাতে চান যে ইসলামের প্রাথমিক যুগে এর প্রচলন ছিল না। তবে যেহেতু কোনো স্পষ্ট নিষেধ (نهي) বর্ণিত হয়নি, তাই একে বিদআত (بدعة) বা অপছন্দনীয় (مكروه) বলা সমীচীন নয়, বরং এটি পছন্দনীয় (المستحب) আমল বর্জন করার নামান্তর। হিসবা পরিদর্শক (المحتسب)-এর দায়িত্ব হলো বিদআতী (المبتدع) বক্তা এবং বর্ণনার (الأخبار) ক্ষেত্রে মিথ্যাবাদী (الكاذব) কিচ্ছাকারককে প্রতিহত করা; আর তাদের প্রতিহত করার উদ্দেশ্য ব্যতীত তাদের মজলিসে উপস্থিত হওয়া বৈধ নয়। যদি বক্তার আলোচনা ইরজা (الإرجاء)-এর দিকে ঝুঁকে পড়ে এবং মানুষকে পাপকাজ (المعاصي)-এর প্রতি প্ররোচিত করে এবং (তারা এর মাধ্যমে) আল্লাহর অবাধ্যতায় আরও সাহসী হয়ে ওঠে, তাঁর ক্ষমা ও দয়ার ওপর অতিমাত্রায় নির্ভরশীল হয়ে পড়ে এবং তাদের অন্তরে ভয়ের চেয়ে আশার আধিক্য ঘটে, তবে তাকে প্রতিহত করা আবশ্যক। বরং তাদের আশার তুলনায় ভয়ের আধিক্য থাকাই ছিল অধিক সংগত ও উত্তম। আর বক্তা যদি এমন সুসজ্জিত যুবক হয় যে প্রচুর কবিতা আবৃত্তি করে এবং অঙ্গভঙ্গি ও ইশারার আশ্রয় নেয় এবং তার মজলিসে নারীদের সমাগম ঘটে, তবে তাকে প্রতিহত করা আবশ্যক; কারণ এর ফাসাদ (فساده) বা অনিষ্টের মাত্রা...
(খণ্ড: ১)
বুগয়াতুল ইরবাহ ফী মা’রিফাতি আহকামিল হিসবাহ লিইবনিদ দাইবা
(পৃষ্ঠা: ৭০)
صلاحه، بل ينبغي أن (لا يسلم الوعظ إلا) (لمن) علم من ظاهره الورع، وهيئته السكينة والوقار وزيه زي الصالحين، وإلا فلا يزاد الناس به إلا تماديًا في الضلال فيجب أن يضرب بين النساء والرجال حائل يمنع النظر فإنه مظنة الفساد، ويجب منع النساء من حضور المساجد للصلاة، ومجالس الوعظ إذا خيفت الفتنة، ومنع
তার সততা (صلاحه); বরং উচিত হলো যে, (ওয়াজ-নসিহতের দায়িত্ব কেবল তাকেই সোপর্দ করা হবে) (যাকে) বাহ্যিক দিক থেকে পরহেজগারি (الورع) গুণের অধিকারী হিসেবে জানা যায়, যার অবয়বে প্রশান্তি ও গাম্ভীর্য ফুটে ওঠে এবং যার পোশাক নেককারদের (الصالحين) পোশাকের অনুরূপ হয়। অন্যথায়, তার দ্বারা মানুষের কেবল পথভ্রষ্টতায় নিমজ্জিত হওয়া বৃদ্ধি পাবে। সুতরাং নারী ও পুরুষদের মাঝে এমন অন্তরাল স্থাপন করা আবশ্যক যা দৃষ্টি বিনিময় রোধ করে, কেননা এটি অনাচারের আশঙ্কা তৈরি করে। এছাড়া ফিতনার আশঙ্কা থাকলে নারীদের মসজিদে সালাত আদায়ের জন্য উপস্থিতি এবং ওয়াজের মজলিসে অংশগ্রহণ করা থেকে বিরত রাখা আবশ্যক, এবং বিরত রাখা...
(খণ্ড: ১)
বুগয়াতুল ইরবাহ ফী মা’রিফাতি আহকামিল হিসবাহ লিইবনিদ দাইবা
(পৃষ্ঠা: ৭১)
(الحلق) يوم الجمعة، ومنع الأدوية، والأطعمة، والتعويذات، وقيام السؤال وقراءتهم الأشعار المحرمة، ومنع أهل الشعبذة والتلبيسات، وكذا أرباب التعويذات، الذين يتواصلون ببيعها إلى تلبيسات على الصبيان والسوداية فهذا حرام في المسجد وخارجه، ويجب المنع منه، بل كل بيع فيه كذب وتلبيس وإخفاء عيب على المشتري فغير مباح، ومنها ما هو خارج المسجد كالخياطة، وبيع الأدوية والكتب، والأطعمة، فلا
জুমার দিনে (ইলমি) হালকা (الحلق) গঠন করা, এবং ওষুধ, খাদ্যদ্রব্য ও তাবীজাত (تعويذات) বিক্রি নিষিদ্ধ করা; আর সাহায্যপ্রার্থীদের দাঁড়িয়ে সাহায্য চাওয়া ও তাদের নিষিদ্ধ কবিতা পাঠ করা এবং ভেলকিবাজ ও প্রতারকদের প্রতিরোধ করা; একইভাবে তাবীজ ব্যবসায়ীদেরও (প্রতিরোধ করা), যারা শিশু ও বিকারগ্রস্তদের নিকট এগুলো বিক্রির মাধ্যমে প্রবঞ্চনা দেয়—এই সবকিছু মসজিদের ভেতরে ও বাইরে হারাম (حرام) এবং তা প্রতিহত করা ওয়াজিব (واجب)। বরং এমন প্রতিটি ক্রয়-বিক্রয় যাতে মিথ্যা, প্রতারণা এবং ক্রেতার কাছে পণ্যের দোষ গোপন করা হয়, তা মুবাহ (مباح) নয়। আর যা মসজিদের বাইরে হয়ে থাকে যেমন দর্জিগিরি, ওষুধ, বই এবং খাদ্যদ্রব্য বিক্রয়, তবে তা...
(খণ্ড: ১)
বুগয়াতুল ইরবাহ ফী মা’রিফাতি আহকামিল হিসবাহ লিইবনিদ দাইবা
(পৃষ্ঠা: ৭২)
تحرم في المسجد إن لم تضيق المكان على المصلين والمعتكفين، ولم يشوش عليهم، وجرى في أوقات نادرة وأيام معدودة، فإن اتخذ المسجد دكانًا على الدوام حرم، ووجب المنع، فإن من المباحات ما يباح بشرط القلة، فإن كثر صار صغيرة، كما أن من الذنوب ما يكون صغيرة بعدم الإصرار.
النوع الثاني: منكرات السوق(من المنكرات) المعتادة في الأسواق كالكذب في المرابحة، أو خفاء العيب، وترك الإيجاب والقبول في البيع، وبيع الملاهي والصور، وبيع العبيد والصبيان، وبيع الأواني المتخذة من الذهب والفضة، وبيع ثياب الحرير للرجال، وقلانس
মসজিদে এটি নিষিদ্ধ হবে যদি তা মুসল্লি ও ইতিকাফকারীদের জন্য জায়গা সংকীর্ণ না করে এবং তাদের কাজে বিঘ্ন সৃষ্টি না করে, আর তা যদি কেবল বিরল সময়ে ও নির্দিষ্ট কয়েক দিনের জন্য হয়। কিন্তু মসজিদকে যদি স্থায়ীভাবে দোকানে পরিণত করা হয় তবে তা হারাম হবে এবং তা প্রতিহত করা আবশ্যক হবে। কারণ কিছু বৈধ (مباح) বিষয় রয়েছে যা স্বল্পতার শর্তে অনুমোদিত, কিন্তু তা অধিক হলে সগীরা বা ছোট গুনাহ (صغيرة) হয়ে যায়; ঠিক যেমন কিছু গুনাহ অনড় না থাকার কারণে সগীরা বা ছোট গুনাহ (صغيرة) হিসেবে গণ্য হয়।
দ্বিতীয় প্রকার: বাজারের আপত্তিকর বিষয়সমূহ (منكرات)বাজারে সচরাচর দৃশ্যমান (আপত্তিকর বিষয়সমূহের (منكرات)) মধ্যে রয়েছে মুরাবাহা কেনাবেচায় মিথ্যা বলা, পণ্যের ত্রুটি গোপন করা, ক্রয়-বিক্রয়ে প্রস্তাব ও গ্রহণ বর্জন করা, বাদ্যযন্ত্র ও ছবি বিক্রি করা, দাস ও শিশু বিক্রি করা, সোনা ও রূপার তৈরি পাত্র বিক্রি করা এবং পুরুষদের জন্য রেশমি পোশাক ও টুপি বিক্রি করা।
(খণ্ড: ১)
বুগয়াতুল ইরবাহ ফী মা’রিফাতি আহকামিল হিসবাহ লিইবনিদ দাইবা
(পৃষ্ঠা: ৭৩)
الذهب والحرير التي لا تصلح [إلا] للرجال ويعرف ذلك بعادة البلد، وكل ذلك منكرات، ويجب المنع منه.
النوع الثالث: منكرات الشوارعكوضع الأسطوانات، والدكات، وغرس الأشجار، وإخراج الرواشن، والأجنحة، ووضع الأخشاب والأحمال، والأطعمة، وكل ذلك يجب منعه إذا كان يؤدي إلى تضييق الطريق، وتتضرر به المارة، وكذا ربط الدواب على الطريق، وسوقها مع الشوك أو الحطب بحيث يمزق ثياب الناس، وطرح القمامة على الطريق، ورش الماء بحيث يخاف منه التزلق، وإرسال الماء من الميازيب في الطريق الضيقة طالقًا الثلج والماء المجتمع في الطريق، ولو كان له كلب عقور على باب داره وجب منعه.
সোনা ও রেশম যা [কেবল] পুরুষদের জন্য সংগত নয় এবং যা সংশ্লিষ্ট জনপদের রীতিনীতি দ্বারা নির্ধারিত হয়; এ সব কিছুই গর্হিত বিষয় (منكرات) এবং তা প্রতিরোধ করা আবশ্যক।
তৃতীয় প্রকার: রাস্তাঘাটের গর্হিত বিষয়সমূহ (منكرات)যেমন—খাম্বা স্থাপন করা, চাতাল বা বেঞ্চ তৈরি করা, বৃক্ষরোপণ করা, জানালার তাক ও ঝুলন্ত ছাদ বের করা এবং কাঠ, মালপত্র ও খাদ্যদ্রব্য রাখা; এই সব কিছুই বন্ধ করা আবশ্যক যদি তা পথ সংকীর্ণ করে এবং পথচারীদের কষ্টের কারণ হয়। অনুরূপভাবে রাস্তার ওপর পশু বেঁধে রাখা, কাঁটা বা জ্বালানি কাঠসহ পশু তাড়িয়ে নেওয়া—যাতে মানুষের কাপড় ছিঁড়ে যাওয়ার উপক্রম হয়, রাস্তায় ময়লা-আবর্জনা নিক্ষেপ করা, পানি ছিটানো—যার কারণে পিছলে পড়ার আশঙ্কা থাকে, সংকীর্ণ রাস্তায় পরনালীর মাধ্যমে পানি প্রবাহিত করা এবং রাস্তায় বরফ ও জমে থাকা পানি ছেড়ে দেওয়া। আর যদি কারো ঘরের দরজায় কামড়ানোর স্বভাবের হিংস্র কুকুর থাকে, তবে তা প্রতিরোধ করাও আবশ্যক।
(খণ্ড: ১)
বুগয়াতুল ইরবাহ ফী মা’রিফাতি আহকামিল হিসবাহ লিইবনিদ দাইবা
(পৃষ্ঠা: ৭৪)
النوع الرابع: منكرات الحماماتكالصورة على بابه وكشف العورة والنظر إليها، وكشف الدلاك عن الفخذ وما تحت السرة لتنحية الوسخ وإدخال اليد تحت الإزار، والإنبطاح على الوجه بين يدي الدلاك فكل ذلك حرام، إلا الانبطاح فإنه مكروه، ولا يجوز غمس اليد والأواني النجسة في المياه القليلة، وغسل الإزار، والطاس النجس في الحوض وماؤه قليل، ولو كان فيه (حجارة) ملساء ينزلق الغافلون بها وجب قلعها وإزالتها، وترك السدر والصابون المزلق على أرض الحمام (منكر) يجب منعه.
النوع الخامس منكرات الضيافةكفرش الحرير، ومجمرة الذهب والفضة، واستعمال الطيب من آنية الذهب والفضة، والستور المصورة، وسماع الأوتار والقينات، واجتماع النساء على السطوح للنظر
চতুর্থ প্রকার: গোসলখানার গর্হিত বিষয়সমূহ (منكرات)যেমন এর দরজায় ছবি থাকা, সতর (العورة) উন্মুক্ত করা ও তার দিকে তাকানো, শরীর মালিশকারীর ময়লা দূর করার উদ্দেশ্যে উরু ও নাভির নিচের অংশ উন্মুক্ত করা, লুঙ্গির নিচে হাত প্রবেশ করানো এবং মালিশকারীর সামনে উপুড় হয়ে শুয়ে থাকা—এসবই হারাম (حرام), তবে উপুড় হয়ে শোয়া মাকরূহ (مكروه)। অল্প পানিতে হাত ও অপবিত্র পাত্র ডুবানো এবং হাউজের পানি অল্প হলে সেখানে লুঙ্গি ও অপবিত্র পেয়ালা ধোয়া জায়েজ নেই। যদি সেখানে এমন মসৃণ পাথর থাকে যার ফলে অসতর্ক ব্যক্তিরা পিছলে যেতে পারে, তবে তা উপড়ে ফেলা ও অপসারণ করা ওয়াজিব। গোসলখানার মেঝেতে কুল পাতা ও পিচ্ছিল সাবান ফেলে রাখা একটি গর্হিত কাজ (منكر), যা প্রতিরোধ করা আবশ্যক।
পঞ্চম প্রকার: মেহমানদারির গর্হিত বিষয়সমূহ (منكرات)যেমন রেশমি বস্ত্র বিছানো, সোনা ও রুপার তৈরি ধুনুচি ব্যবহার করা, সোনা ও রুপার পাত্র হতে সুগন্ধি ব্যবহার করা, ছবিযুক্ত পর্দা লাগানো, বাদ্যযন্ত্র ও গায়িকাদের গান শোনা এবং দেখার উদ্দেশ্যে নারীদের ছাদে একত্রিত হওয়া।
(খণ্ড: ১)
বুগয়াতুল ইরবাহ ফী মা’রিফাতি আহকামিল হিসবাহ লিইবনিদ দাইবা
(পৃষ্ঠা: ৭৫)
إلى الرجال، كل ذلك حرام يجب منعه، ومهما كان الطعام والثياب حراما، والموضع مغصوبا [فهو من] أشد (المنكرات)، ولو كان هناك لابس حرير، وخاتم [ذهب] فهو فاسق لا يجوز الجلوس معه (من غير) ضرورة، ولو كان هناك مبتدع متكلم في بدعته فيجوز الحضور لمن يقدر (الرد عليه)، وإن كان لا يتكلم فيجوز الحضور مع إظهار الكراهة، ولو كان في الموضع مضحك يضحك الناس بالفحش والكذب لم يجوز الحضور أو يغيرها جاز إن قل، ولو اتخذه عادة لم يجب، وليس من المنكرات [كل كذب لا يخفى أنه كذب ولا يقصد به التليس كقول الإنسان مثلا] طلبتك اليوم ألف مرة، (وأعدت) الكلام ألف مرة وشبهها، والإسراف في الطعام،
পুরুষদের প্রতি, এ সমস্তই নিষিদ্ধ (حرام) যা প্রতিরোধ করা আবশ্যক। আর খাদ্য ও পোশাক যদি নিষিদ্ধ (حرام) হয় এবং স্থানটি জবরদখলকৃত (مغصوب) হয়, [তবে তা] জঘন্যতম গর্হিত বিষয়সমূহের (المنكرات) অন্তর্ভুক্ত। আর সেখানে যদি রেশম পরিহিত অথবা স্বর্ণের আংটি [পরিহিত] কেউ থাকে, তবে সে পাপাচারী (فاسق); জরুরি প্রয়োজন (ضرورة) ব্যতিরেকে তার সাথে বসা জায়েয নয়। আর যদি সেখানে কোনো বিদআতপন্থী (مبتدع) ব্যক্তি থাকে যে তার বিদআত নিয়ে আলোচনা করছে, তবে যে ব্যক্তি তার প্রতিবাদ করতে (الرد عليه) সক্ষম, তার জন্য সেখানে উপস্থিত হওয়া জায়েয। আর যদি সে কথা না বলে, তবে অপছন্দনীয়তা (كراهة) প্রকাশ করে সেখানে উপস্থিত হওয়া জায়েয। যদি সেই স্থানে এমন কোনো কৌতুককারী থাকে যে অশ্লীলতা ও মিথ্যার মাধ্যমে মানুষকে হাসায়, তবে সেখানে উপস্থিত হওয়া জায়েয নয়; অথবা যদি সে তা পরিবর্তন করে এবং তা নগণ্য হয়, তবে জায়েয হতে পারে। তবে যদি সে একে অভ্যাসে পরিণত করে নেয়, তবে (উপস্থিত হওয়া) আবশ্যক নয়। আর ঐ সকল মিথ্যা গর্হিত বিষয়ের (المنكرات) অন্তর্ভুক্ত নয় [যা মিথ্যা হওয়া কারো নিকট অস্পষ্ট নয় এবং যা দ্বারা প্রতারণার উদ্দেশ্য থাকে না; যেমন মানুষের উদাহরণস্বরূপ বলা:] “আমি আজ তোমাকে হাজার বার খুঁজেছি”, কিংবা “আমি কথাটি হাজার বার পুনরাবৃত্তি করেছি (أعدت)” এবং এই জাতীয় কথাবার্তা; আর খাদ্যে অপচয় (إسراف) করাও অনুরূপ।
(খণ্ড: ১)
বুগয়াতুল ইরবাহ ফী মা’রিফাতি আহকামিল হিসবাহ লিইবনিদ দাইবা
(পৃষ্ঠা: ৭৬)
والبناء، وصرف المال إلى الطرب، والنائحة منكر يجب منعه، قلت وذكر غير الإمام رحمه الله (عن) المحتسب أمور.
الأول ما يتعلق بحق الله تعالى،
وهو نوعان أحدهما ما يؤمر به الجمع كإقامة الجمعة بحيث تجتمع بشروطها، فإن كانوا عددا يرون انعقادها بهم، والمحتسب لا يراه فلا يأمرهم بما لا يجوز، ولا ينهاهم عما يرون فرضا عليهم. ويأمرهم (بصلاة) العيد وجوبا لأن الأمر بالمعروف هو الأمر بالطاعة.
النوع الثاني: ما يؤمر به الآحاد فلو أخر بعض الناس (صلاة) عن وقتها وقال نسيته حثه على المراقبة، ولا يعترض على من أخرها إلى أخر الوقت.
...এবং ইমারত নির্মাণ, আমোদ-প্রমোদে অর্থ ব্যয় এবং বিলাপকারিণী হলো গর্হিত কাজ (منكر) যা প্রতিহত করা আবশ্যক। আমি বলি, ইমাম (রহিমাহুল্লাহ) ব্যতীত অন্যগণ মুহতাসিবের দায়িত্ব সম্পর্কে কতিপয় বিষয় উল্লেখ করেছেন।
প্রথমত, যা মহান আল্লাহর হকের সাথে সংশ্লিষ্ট,
আর তা দুই প্রকার। প্রথমটি হলো যা সমষ্টিগতভাবে পালন করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে, যেমন জুমার সালাত কায়েম করা যেন তা নির্দিষ্ট শর্তাবলি অনুযায়ী আদায় হয়। যদি তারা এমন একটি সংখ্যা বা জামাত হয় যারা মনে করে যে তাদের মাধ্যমে জুমা বৈধভাবে সংঘটিত হবে, কিন্তু মুহতাসিব তা মনে করেন না, তবে তিনি তাদের এমন কাজের আদেশ দেবেন না যা অনুমোদিত নয়, আবার তারা যেটিকে নিজেদের জন্য অপরিহার্য (فرض) মনে করে তা হতেও তাদের নিষেধ করবেন না। আর তিনি তাদের আবশ্যিকভাবে (وجوبا) ঈদের সালাতের আদেশ দেবেন, কেননা সৎকাজের আদেশ প্রদান হলো মূলত আনুগত্যের কাজেরই আদেশ।
দ্বিতীয় প্রকার: যা একক ব্যক্তিদের (الآحاد) প্রতি নির্দেশিত। সুতরাং যদি কোনো ব্যক্তি সালাতকে তার ওয়াক্ত থেকে বিলম্বিত করে এবং বলে যে সে তা ভুলে গিয়েছিল, তবে মুহতাসিব তাকে মহান আল্লাহর পর্যবেক্ষণের (المراقبة) ব্যাপারে উদ্বুদ্ধ করবেন। তবে যে ব্যক্তি ওয়াক্তের শেষ সময় পর্যন্ত সালাতকে বিলম্বিত করে, তার ওপর কোনো আপত্তি উত্থাপন করা হবে না।
(খণ্ড: ১)
বুগয়াতুল ইরবাহ ফী মা’রিফাতি আহকামিল হিসবাহ লিইবনিদ দাইবা
(পৃষ্ঠা: ৭৭)
الأمر الثاني ما يتعلق (بحقوق الآدميين)
وهو نوعان أيضًا:
أحدهما عام كالبلد إذا تعطل شربه، أو انهدم سوره، أو جامعه، أو طُرقُه المحتاجون إليها، فإن كان في بيت المال، مال عمر ذلك منه، وإن لم يكن فيه مال أمر أهل الأمكنة أن يخرج كل واحد ما يسهل عليه وتطيب به نفسه لإصلاح ذلك.
النوع الثاني: خاص كمطل المدين الموسر، فالمحتسب يأمره بالأداء إذا استعدى وليس له الضرب والحبس.
الأمر الثالث الحقوق المشتركة
كأمر الأولياء بانكاح الأكفاء، وإلزام النساء العدد وأحكامها وأخذ السادة بحقوق الأرقاء، وأصحاب البهائم يتعهدها وأن (لا) يستعملوها فيما لا تطيق، ومن المنكرات تغيير هيئة العبادة كالجهر في الصلاة السرية، والإسرار في الصلاة
দ্বিতীয় বিষয়টি মানুষের অধিকার (حقوق الآدميين) সংশ্লিষ্ট।
এটিও দুই প্রকার:
তার একটি হলো সাধারণ (عام); যেমন কোনো জনপদের পানীয় জলের ব্যবস্থা বিকল হওয়া, শহর রক্ষা প্রাচীর ধসে পড়া, সেখানকার কেন্দ্রীয় মসজিদ অথবা জনসাধারণের প্রয়োজনীয় রাস্তাঘাট সংস্কার করা। যদি রাষ্ট্রীয় কোষাগারে অর্থ থাকে, তবে প্রশাসক তা থেকে তা সংস্কার করবেন। আর যদি তাতে অর্থ না থাকে, তবে তিনি সংশ্লিষ্ট এলাকার বাসিন্দাদের নির্দেশ দেবেন যেন প্রত্যেকে তার স্বতঃস্ফূর্ত ইচ্ছায় সামর্থ্য অনুযায়ী তা সংশোধনের জন্য ব্যয় করে।
দ্বিতীয় প্রকারটি হলো বিশেষ (خاص); যেমন সচ্ছল দেনাদারের পাওনা পরিশোধে বিলম্ব বা টালবাহানা করা। এক্ষেত্রে পাওনাদার অভিযোগ করলে মুহতাসিব তাকে পরিশোধের নির্দেশ দেবেন, তবে তার প্রহার বা কারারুদ্ধ করার এখতিয়ার নেই।
তৃতীয় বিষয়টি হলো যৌথ অধিকার (الحقوق المشتركة) সংক্রান্ত।
যেমন অভিভাবকদের উপযুক্ত সমতা সম্পন্ন পাত্রের (الأكفاء) সাথে বিয়ে দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া, নারীদের ইদ্দত (العدد) ও এর বিধানাবলি পালনে বাধ্য করা, মালিকদের পক্ষ থেকে দাসদের অধিকার আদায় নিশ্চিত করা এবং পশু মালিকদের নির্দেশ দেওয়া যেন তারা পশুর যত্ন নেয় এবং সাধ্যাতীত কোনো কাজে তাদের ব্যবহার না করে। আর গর্হিত বিষয়ের (المنكرات) অন্তর্ভুক্ত হলো ইবাদতের পদ্ধতি পরিবর্তন করা, যেমন যেসব নামাজে নিঃশব্দে পাঠ করার বিধান (الصلاة السرية) তাতে উচ্চস্বরে পাঠ (الجهر) করা এবং উচ্চস্বরে পাঠের নামাজে নিঃশব্দে (الإسرار) পাঠ করা।
(খণ্ড: ১)
বুগয়াতুল ইরবাহ ফী মা’রিফাতি আহকামিল হিসবাহ লিইবনিদ দাইবা
(পৃষ্ঠা: ৭৮)
الجهرية، والزيادة في الأذان، والتصدي للتدريس، أو الوعظ وليس من أهلها، والوقوف في طريق خال مع امرأة لا في شارع يطرقه الناس فيقول له المحتسب إن كانت محرما لك فصنها من الريبة، ولا ينكر في حقوق الآدمي كتعدي الجار في [حد لجاره أو حريم لداره أو وضع بنيان أو أجذع على] جداره إلا إذا أستعدى عليه، وينكر على من يطيل (الصلاة) من أئمة المساجد المطروقة وعلى القضاة إذا حجبوا الخصوم واقصروا في النظر في الخصومات، ويختبر السوقي المختص بمعاملة النساء فإن ظهرت خيانته منعه من معاملتهن، قال الإمام النووي رحمه الله: " ولا يسقط الفرض
উচ্চৈঃস্বরে পাঠ করা, আজানে অতিরিক্ত কিছু সংযোজন করা, এবং শিক্ষকতা কিংবা ওয়াজ-নসিহতের যোগ্য না হওয়া সত্ত্বেও এর দায়িত্ব গ্রহণ করা; এছাড়া কোনো নির্জন পথে কোনো মহিলার সাথে অবস্থান করা—এমন কোনো জনাকীর্ণ রাস্তা নয় যেখানে মানুষ সচরাচর যাতায়াত করে। এমতাবস্থায় মুহতাসিব তাকে বলবেন: যদি সে আপনার মাহরাম হয়, তবে তাকে সন্দেহের উদ্রেক থেকে রক্ষা করুন। আর মানুষের ব্যক্তিগত অধিকার সংক্রান্ত বিষয়ে তিনি হস্তক্ষেপ করবেন না, যেমন—প্রতিবেশীর [সীমানা, বাড়ির আঙিনা, ইমারত নির্মাণ কিংবা কড়িকাঠ স্থাপন] সংক্রান্ত বিষয়ে তার দেয়ালের ওপর কোনো হস্তক্ষেপ করা, যতক্ষণ না ভুক্তভোগী তার কাছে বিচারপ্রার্থনা করেন। তিনি সেই সব ইমামদের ওপর আপত্তি জানাবেন যারা জনাকীর্ণ মসজিদে (সালাত) দীর্ঘ করেন, এবং সেই সব বিচারকদের ওপর যারা বিবাদমান পক্ষদের সাক্ষাতে বাধা দেন কিংবা বিবাদ মীমাংসায় অবহেলা প্রদর্শন করেন। আর তিনি সেই সব বাজারীদের পরীক্ষা করবেন যারা বিশেষভাবে মহিলাদের সাথে লেনদেন করে; যদি তার বিশ্বাসঘাতকতা প্রকাশ পায়, তবে তাকে তাদের সাথে লেনদেন করতে নিষেধ করবেন। ইমাম নববী (রাহিমাহুল্লাহ) বলেন: "আর ফরয রহিত হয় না..."
(খণ্ড: ১)
বুগয়াতুল ইরবাহ ফী মা’রিফাতি আহকামিল হিসবাহ লিইবনিদ দাইবা
(পৃষ্ঠা: ৭৯)
المكلف بظنه أنه لا يقبل كلامه ولعلمه أنه لا يؤثر أمره ونهيه"، وقد سبق في كلام الغزالي تفصيل في ذلك، ولا يشترط في الامر والناهي أن يكون ممتثلا ما يأمر بهن مجتنبا ما ينهي عنه، بل عليه (الأمر للامتثال والنهي للاجتناب) وإن أخل بأحدهم لم (يخل) بالأخر والله الموفق.
الفصل الخامسفي وجوب الأمر بالمعروف والنهي عن المنكر على آحاد الناس بعد قدرتهماعلم أنه لا يختص الأمر بالمعروف والنهي عن المنكر بالولاة، بل يجوز ذلك للآحاد، ويجب عليهم بحد قدرتهم على ذلك، فإنما يأمر وينهي من كان عالما بما يأمر به وينهى عنه، ويختلف ذلك بالأشياء، فإن ذلك من الواجبات الظاهرة والمحرمات المشهورة (كالصلاة) والصيام، والزنا، والخمر، فعلى كل عالم بها الإنكار منها، وإن كان من دقائق الأقوال والأفعال، ومما يتعلق بالاجتهاد، ولم يكن للعوام الابتداء به، بل ذلك للعلماء أو من علمه العلماء، والعلماء إنما ينكرون ما أجمع على إنكاره، وأما المختلف فلا إنكار فيه إلا أن يعتقد تحريمه، على من يعتقد تحريمه، كالشافعي ينكر على الشافعي شرب النبيذ، والوطء في النكاح بلا ولي، كما ذكرناه أولا، ويستحب الخروج من الخلاف إذا لم يلزم منه إخلال سنة ثابتة، أو وقوع في خلاف آخر.
শরীয়তের বিধান পালনে দায়বদ্ধ ব্যক্তি (المكلف) যার ধারণা এই যে তার কথা গ্রহণ করা হবে না এবং যার জ্ঞান এই যে তার আদেশ ও নিষেধ কোনো প্রভাব ফেলবে না; এ বিষয়ে ইমাম গাজালীর বক্তব্যে বিস্তারিত আলোচনা গত হয়েছে। আদেশকারী ও নিষেধকারীর জন্য এটি শর্ত নয় যে, তিনি যা আদেশ করছেন তা নিজে পালন করবেন এবং যা থেকে নিষেধ করছেন তা নিজে বর্জন করবেন। বরং তার ওপর দায়িত্ব হলো (পালনের উদ্দেশ্যে আদেশ করা এবং বর্জনের উদ্দেশ্যে নিষেধ করা); যদি তিনি এর একটিতে ত্রুটি করেন তবে যেন অন্যটিতে ত্রুটি (يخل) না করেন। আর আল্লাহই তাওফিকদাতা।
পঞ্চম পরিচ্ছেদসক্ষমতা অনুযায়ী সাধারণ মানুষের ওপর সৎ কাজের আদেশ ও অসৎ কাজের নিষেধের আবশ্যকতা (وجوب) প্রসঙ্গেজেনে রাখুন যে, সৎ কাজের আদেশ ও অসৎ কাজের নিষেধ কেবল শাসকদের সাথে সুনির্দিষ্ট নয়, বরং সাধারণ মানুষের জন্যও এটি বৈধ এবং তাদের সক্ষমতা অনুযায়ী এটি তাদের ওপর আবশ্যক (يجب)। বস্তুত কেবল তিনিই আদেশ ও নিষেধ করবেন যিনি যা আদেশ করছেন বা যা থেকে নিষেধ করছেন সে সম্পর্কে জ্ঞান রাখেন। বিষয়ের ভিন্নতার কারণে এটি ভিন্ন হতে পারে। যদি বিষয়টি প্রকাশ্য ওয়াজিব (الواجبات) এবং সুপ্রসিদ্ধ হারাম (المحرمات) বিষয়াবলীর অন্তর্ভুক্ত হয়, যেমন- সালাত, সিয়াম, ব্যভিচার ও মদ; তবে সে সম্পর্কে অবগত প্রত্যেক আলেমের জন্যই তা নিষেধ করা আবশ্যক। কিন্তু যদি বিষয়টি সূক্ষ্ম কথা ও কাজের অন্তর্ভুক্ত হয় এবং ইজতিহাদ (الاجتهاد)-এর সাথে সংশ্লিষ্ট হয়, তবে সাধারণ মানুষের জন্য তাতে হস্তক্ষেপ করা ঠিক নয়; বরং তা আলেমদের জন্য অথবা আলেমগণ যাদের শিখিয়েছেন তাদের জন্য। আর আলেমগণ কেবল সেই বিষয়েরই প্রতিবাদ করবেন যেটির অবৈধতার ওপর ঐকমত্য (أجمع) প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। তবে যে বিষয়ে মতভেদ রয়েছে সেখানে প্রতিবাদের অবকাশ নেই, কেবল সেই ব্যক্তির ক্ষেত্রে প্রতিবাদ করা যাবে যে সেটিকে হারাম (تحريمه) বলে বিশ্বাস করে। যেমন—একজন শাফেয়ি অন্য একজন শাফেয়িকে নাবীয পান করতে অথবা অভিভাবকহীন বিবাহ করতে দেখলে নিষেধ করবেন, যা আমরা পূর্বে উল্লেখ করেছি। আর মতভেদ থেকে বেরিয়ে আসা মুস্তাহাব (يستحب), যদি এর ফলে কোনো প্রমাণিত (ثابتة) সুন্নাহ (سنة) লঙ্ঘিত না হয় অথবা অন্য কোনো মতভেদে পতিত হওয়ার আশঙ্কা না থাকে।
(খণ্ড: ১)
বুগয়াতুল ইরবাহ ফী মা’রিফাতি আহকামিল হিসবাহ লিইবনিদ দাইবা
(পৃষ্ঠা: ৮০)
الفصل السادسفي مراتب النهي عن المنكراعلم أن الناهي عن المنكر يغير أولا باليد، فإن لم يستطع فبلسانه، فإن لم يستطع فبقلبه، ولا يكفي الوعظ لمن يمكنه الإزالة باليد، ولا يكفي بالقلب لمن يقدر على النهي باللسان، ويرفق بالجاهل أو الظالم الذي يخاف شره، وليس للآمر والناهي البحث والتجسس ولا اقتحام الدور بالظنون، وإن غلب على الظن إستسرار قوم بالمنكر بآثار وإمارات، فإن كان مما يفوت تداركه بأن أخبره ثقة أن رجلا خلا برجل ليقتله أو بامرأة ليزني بها جاز التجسس والإقدام على الكشف، وإن لم يثبت تداركه فلا يجوز، ولو خاف الآمر والناهي على نفسه، أو على غيره مفسدة أعظم من مفسدة المنكر الواقع سقط الوجوب.
خاتمةقال الإمام أبو الحسن الماوردي رحمه الله في كتابه الأحكام السلطانية: لو ظن المحتسب برجل أنه لا يغتسل من الجنابة، أو لا يصلي، أو لا يصوم لم يأخذه بالنقمة، ولو رآه يأكل في رمضان لم يؤذيه إلا بعد سؤاله عن الأكل فإن ذكر عذرًا كالمرض والسفر، واحتمال حاله ذلك كف عنه وأمره بإخفاء الأكل، كما لو علم عذره، ولو رأي من يسأل وعلم أنه غني بمال، أو عمل منعه وأدبه، ولو رأى عليه آثار الغنى أعلمه بالتحريم
ষষ্ঠ পরিচ্ছেদঅসৎকাজ প্রতিরোধের স্তরবিন্যাস প্রসঙ্গেজেনে রাখুন যে, কোনো অপকর্ম বা মন্দ কাজ প্রতিরোধকারী প্রথমে হাত দিয়ে তা পরিবর্তন করবেন, যদি তাতে সক্ষম না হন তবে জিহ্বা দ্বারা, আর যদি তাতেও সক্ষম না হন তবে অন্তর দ্বারা। যার পক্ষে হাত দিয়ে অপকর্ম দূর করা সম্ভব, তার জন্য কেবল উপদেশ প্রদান যথেষ্ট নয়। আর যার জিহ্বা দিয়ে বাধা দেওয়ার সক্ষমতা রয়েছে, তার জন্য কেবল অন্তরের ঘৃণা যথেষ্ট নয়। জাহেল (মূর্খ) কিংবা এমন জালিম যার অনিষ্টের ভয় রয়েছে, তাদের সাথে নম্র ব্যবহার করতে হবে। আদেশদাতা ও নিষেধকারীর জন্য গোয়েন্দাগিরি করা, গোপন অনুসন্ধান চালানো কিংবা নিছক ধারণার বশবর্তী হয়ে ঘরবাড়িতে অনধিকার প্রবেশ করার অধিকার নেই। যদিও কোনো আলামত বা চিহ্নের ভিত্তিতে প্রবল ধারণা জন্মে যে, কোনো গোষ্ঠী গোপনে কোনো মন্দ কাজে লিপ্ত রয়েছে। তবে বিষয়টি যদি এমন হয় যা হাতছাড়া হলে আর প্রতিকার করা সম্ভব নয়—যেমন কোনো নির্ভরযোগ্য (ثقة) ব্যক্তি সংবাদ দিল যে, কোনো ব্যক্তি অন্য কাউকে হত্যা করার জন্য নির্জনে অবস্থান করছে কিংবা কোনো নারীর সাথে ব্যভিচারে লিপ্ত হওয়ার জন্য নির্জনে মিলিত হয়েছে—তবে গোয়েন্দাগিরি করা এবং বিষয়টি উদঘাটনে অগ্রসর হওয়া বৈধ। কিন্তু বিষয়টি যদি এমন (জরুরি) না হয়, তবে তা বৈধ নয়। যদি আদেশদাতা বা নিষেধকারী নিজের ওপর কিংবা অন্যের ওপর চলমান অপকর্মের চেয়েও বৃহত্তর কোনো ফাসাদ বা বিপর্যয়ের আশঙ্কা করেন, তবে সেই দায়িত্বের আবশ্যকতা বাতিল হয়ে যাবে।
উপসংহারইমাম আবুল হাসান আল-মাওয়ার্দি (রহিমাহুল্লাহ) তাঁর আল-আহকামুস সুলতানিয়্যাহ গ্রন্থে বলেছেন: যদি কোনো মুহতাসিব (তদারককারী) কোনো ব্যক্তি সম্পর্কে ধারণা করেন যে সে জানাবাত (অপবিত্রতা) থেকে গোসল করছে না, কিংবা সালাত আদায় করছে না, কিংবা সিয়াম পালন করছে না, তবে তিনি তাকে দণ্ড প্রদান করবেন না। যদি তিনি কাউকে রমজান মাসে আহার করতে দেখেন, তবে তাকে আহারের কারণ জিজ্ঞেস করার আগে কষ্ট দেবেন না। যদি সে অসুস্থতা বা সফরের মতো কোনো ওজরের কথা উল্লেখ করে এবং তার অবস্থা যদি তেমন হওয়ার সম্ভাবনা থাকে, তবে তিনি তা থেকে বিরত থাকবেন এবং তাকে গোপনে আহার করার নির্দেশ দেবেন, যেমনটি তিনি করতেন যদি তার ওজর সম্পর্কে আগে থেকেই নিশ্চিত হতেন। যদি তিনি কাউকে ভিক্ষা করতে দেখেন এবং জানেন যে সে ধন-সম্পদ বা কর্মক্ষমতার দিক থেকে অভাবমুক্ত, তবে তিনি তাকে বাধা দেবেন এবং শাসন করবেন। আর যদি তার মাঝে ধনাঢ্যতার ছাপ দেখতে পান, তবে তাকে এর নিষিদ্ধতা সম্পর্কে অবহিত করবেন।