(খণ্ড: ১)
আল-গারামিয়্যাহ ফী মুসতালাহিল হাদীস
(পৃষ্ঠা: -)
الغرامية في مصطلح الحديث القسم: علوم الحديث
الكتاب: الغرامية في مصطلح الحديث
المؤلف: أبو العباس أحمد بن فرح الإشبيلي (624 - 699 هـ)
شرح وتوثيق: مرزوق بن هياس الزهراني (الأستاذ المشارك بكلية الحديث الشريف والدراسات الإسلامية بالجامعة الإسلامية بالمدينة المنورة)
الناشر: دار المآثر، المدينة المنورة - المملكة العربية السعودية
الطبعة: الأولى، 1424 هـ - 2003 م
عدد الصفحات: 114
الكتاب/ إهداء من الشارح جزاه الله خيرا للمكتبة الشاملة
[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]
تاريخ النشر بالشاملة: 14 ربيع الأول 1439
হাদিস পরিভাষা (مصطلح الحديث) বিষয়ক আল-ঘারামিয়া বিভাগ: হাদিস শাস্ত্র (علوم الحديث)
বই: হাদিস পরিভাষা (مصطلح الحديث) বিষয়ক আল-ঘারামিয়া
লেখক: আবু আল-আব্বাস আহমদ বিন ফারাহ আল-ইশবেলি (৬২৪ - ৬৯৯ হিজরি)
ব্যাখ্যা (شرح) ও প্রমাণীকরণ (توثيق): মারজুক বিন হায়াস আল-জাহারানি (মদিনা ইসলামি বিশ্ববিদ্যালয়ের হাদিস ও ইসলামি শিক্ষা অনুষদের সহযোগী অধ্যাপক)
প্রকাশক: দারুল মাআসির، মদিনা মুনাওয়ারা - সৌদি আরব
সংস্করণ: প্রথম، ১৪২৪ হিজরি - ২০০৩ খ্রিস্টাব্দ
পৃষ্ঠা সংখ্যা: ১১৪
বইটি/ ব্যাখ্যাদাতার পক্ষ থেকে মাকতাবা শামিলার প্রতি উপহার (إهداء), আল্লাহ তাকে উত্তম প্রতিদান দিন
[বইয়ের পৃষ্ঠা নম্বর মুদ্রিত কপির সাথে মিল রাখা হয়েছে]
শামিলায় প্রকাশের তারিখ: ১৪ রবিউল আউয়াল ১৪৩৯
(খণ্ড: ১)
আল-গারামিয়্যাহ ফী মুসতালাহিল হাদীস
(পৃষ্ঠা: ١)
الغرامية
في مصطلح الحديث
منظومة أبي العباس أحمد بن فرح الإشبيلي
شرح وتوثيق
مرزوق بن هياس آل مرزوق الزهراني
الطبعة الأولى
1422 هـ 2001 م
আল-গরামিয়াহ
হাদিস পরিভাষা (مصطلح الحديث) শাস্ত্রে
আবু আল-আব্বাস আহমাদ বিন ফারাহ আল-ইশবিলী বিরচিত কাব্যগ্রন্থ (منظومة)
ব্যাখ্যা (شرح) ও প্রামাণ্যকরণ (توثيق)
মারযুক বিন হাইয়াস আল মারযুক আল-যাহরানি
প্রথম সংস্করণ
১৪২২ হিজরি ২০০১ খ্রিষ্টাব্দ
(খণ্ড: ১)
আল-গারামিয়্যাহ ফী মুসতালাহিল হাদীস
(পৃষ্ঠা: ٤)
الخطةرأيت أن يكون البحث في قسمين الأول دراسة والثاني شرح وتوثيق.
الدراسة فيها ثلاثة مباحث:
الأول:
المقدمة وفيها نبذة عن علم مصطلح الحديث.
والثاني: ترجمة الناظم وفيها من الجزئيات: نسبه، مولده، نشأته، أول سماعه، رحلاته، أشهر شيوخه، أشهر تلاميذه، ما وقع له من البلاء، صفاته، عقيدته، ثقافته، مكانته الاجتماعية، مؤلفاته، وفاته.
والثالث: إثبات نسبة النظم
شرح ما ألمحت إليه المنظومة، وما ورد فيها من قواعد مصطلح الحديث.
পরিকল্পনাআমি এই গবেষণাটিকে দুটি অংশে বিভক্ত করা সমীচীন মনে করেছি; প্রথমটি হলো পর্যালোচনা এবং দ্বিতীয়টি হলো ব্যাখ্যা ও প্রামাণ্যকরণ (توثيق)।
পর্যালোচনা অংশে তিনটি পরিচ্ছেদ (مباحث) রয়েছে:
প্রথম:
ভূমিকা যাতে হাদিস পরিভাষা (مصطلح الحديث) শাস্ত্র সম্পর্কে সংক্ষিপ্ত আলোচনা করা হয়েছে।
দ্বিতীয়: রচয়িতার জীবনবৃত্তান্ত (ترجمة), যার অন্তর্ভুক্ত বিষয়গুলো হলো: তাঁর বংশপরিচয়, জন্ম, বেড়ে ওঠা, ইলম অর্জনে তাঁর প্রথম শ্রবণ (سماع), তাঁর সফরসমূহ, প্রসিদ্ধ শিক্ষকবৃন্দ (شيوخ), প্রসিদ্ধ ছাত্রবৃন্দ (تلاميذ), তাঁর ওপর আপতিত পরীক্ষা (بلاء), তাঁর গুণাবলি, তাঁর আকিদাহ (عقيدة), তাঁর পাণ্ডিত্য, তাঁর সামাজিক মর্যাদা, তাঁর রচনাবলি এবং তাঁর মৃত্যু।
তৃতীয়: কাব্যটির সম্বন্ধের (نسبة) সত্যতা প্রমাণকরণ।
কাব্যগ্রন্থে যে বিষয়গুলোর প্রতি ইঙ্গিত করা হয়েছে এবং হাদিস পরিভাষার (مصطلح الحديث) যে সকল মূলনীতি (قواعد) এতে বর্ণিত হয়েছে, সেগুলোর ব্যাখ্যা।
(খণ্ড: ১)
আল-গারামিয়্যাহ ফী মুসতালাহিল হাদীস
(পৃষ্ঠা: ٥)
المقدمة
الحمد لله الكريم المنان، واسع الفضل والإحسان، والصلاة والسلام على كامل الخلق والخلق، سيد ولد عدنان، سيد الأولين والآخرين من بني الإنسان، وعلى آله وصحبه، والمتبعين له بإحسان وبعد:
فإن أعظم ما بذل فيه الجهد، واستنفرت له الهمم، وقضيت فيه الأوقات، خدمة كتاب الله العزيز، وسنة رسول الله البشير النذير صلى الله عليه وسلم، أما الكتاب العزيز فجهود العلماء فيه ظاهرة معلومة، وهو محفوظ من الله عز وجل {إِنَّا نَحْنُ نَزَّلْنَا الذِّكْرَ وَإِنَّا لَهُ لَحَافِظُونَ} (1) فتحقق وعد الله عز وجل، إذ وعته العقول، واستوعبته الصدور، وفي وقت قريب من عهد رسول الله صلى الله عليه وسلم دون في مصحف واحد بعناية واهتمام، فتحقق له الحفظ والصون والأمان، فلا ينال منه شيطان من إنس ولا جان.
أما سنة رسول الله صلى الله عليه وسلم فبقيت معرضة للتزوير والتحوير، وهو أمر خطير وشر مستطير، حذر منه البشير النذير صلى الله عليه وسلم فقال: (من كذب علي متعمدا فليتبوأ مقعده من النار) (2)، وهذه لفتة نبوية إلى أن الكذب عليه سيقع لا محالة، لذلك حذر منه أمته، فكان هذا الخبر منه صلى الله عليه وسلم دافعا قويا لأمته من بعده لأخذ الحيطة والحذر في النقل عنه صلى الله عليه وسلم فالحديث عنه شديد كما قال زيد بن أرقم رضي الله عنه (3)، وهكذا احتاط الأصحاب رضي الله عنهم لأنفسهم، يقول أنس
--------------------------------------------
ভূমিকা
সমস্ত প্রশংসা দয়াময়, পরম দাতা, অসীম অনুগ্রহ ও ইহসানের মালিক আল্লাহর জন্য। সালাত ও সালাম বর্ষিত হোক সৃষ্টির পূর্ণতা ও চারিত্রিক মাধুর্যের অধিকারী, আদনান বংশের শ্রেষ্ঠ সন্তান, মানবজাতির মধ্যে পূর্বাপর সকলের সরদার এবং তাঁর পরিবারবর্গ, সাহাবীগণ এবং কিয়ামত পর্যন্ত ইহসানের সাথে তাঁদের অনুসারীদের ওপর। অতঃপর:
নিশ্চয়ই যার পেছনে সর্বাধিক প্রচেষ্টা ব্যয় করা হয়েছে, হিম্মতকে নিয়োজিত করা হয়েছে এবং সময় অতিবাহিত করা হয়েছে, তা হলো আল্লাহর মহাগ্রন্থ এবং সুসংবাদদাতা ও সতর্ককারী রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সুন্নাহর খিদমত। মহাগ্রন্থের ক্ষেত্রে ওলামায়ে কেরামের প্রচেষ্টা সুস্পষ্ট ও সুপরিচিত এবং মহান আল্লাহ তাআলা নিজেই এর সংরক্ষণের দায়িত্ব নিয়েছেন: {নিশ্চয়ই আমিই যিকর অবতীর্ণ করেছি এবং অবশ্যই আমি এর সংরক্ষক} (১)। ফলে আল্লাহর ওয়াদা বাস্তবায়িত হয়েছে, কারণ তা মানুষের মেধা ও হৃদয়ে সংরক্ষিত হয়েছে। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর ইন্তেকালের নিকটবর্তী সময়েই অত্যন্ত যত্ন ও গুরুত্বের সাথে তা একটি পাণ্ডুলিপিতে (মুসহাফ) লিপিবদ্ধ করা হয়। এভাবে এর হেফাজত, সুরক্ষা ও নিরাপত্তা নিশ্চিত হয়েছে, ফলে মানুষ বা জিন শয়তান এতে কোনো পরিবর্তন ঘটাতে পারে না।
অন্যদিকে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সুন্নাহ জালিয়াতি ও বিকৃতির ঝুঁকির সম্মুখীন ছিল, যা একটি অত্যন্ত বিপজ্জনক ও ভয়াবহ বিষয়। সুসংবাদদাতা ও সতর্ককারী রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এ বিষয়ে সতর্ক করে বলেছেন: "যে ব্যক্তি ইচ্ছাকৃতভাবে আমার ওপর মিথ্যা আরোপ করবে, সে যেন জাহান্নামে তার ঠিকানা বানিয়ে নেয়" (২)। এটি ছিল একটি নববী ইঙ্গিত যে, তাঁর ওপর মিথ্যা আরোপের ঘটনা অবশ্যই ঘটবে। এজন্যই তিনি তাঁর উম্মতকে এ বিষয়ে সতর্ক করেছেন। তাঁর এই বাণী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর পরবর্তী উম্মতকে তাঁর থেকে বর্ণনার (نقل) ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ সতর্কতা ও সাবধানতা অবলম্বনে জোরালো প্রেরণা যুগিয়েছে। জায়েদ বিন আরকাম রাদিয়াল্লাহু আনহু এর বর্ণনা অনুযায়ী, তাঁর থেকে হাদিস বর্ণনা করা অত্যন্ত কঠিন কাজ (৩)। এভাবেই সাহাবীগণ রাদিয়াল্লাহু আনহুম নিজেদের ক্ষেত্রে সতর্কতা অবলম্বন করতেন। আনাস
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-গারামিয়্যাহ ফী মুসতালাহিল হাদীস
(পৃষ্ঠা: ٦)
بن مالك رضي الله عنه: "لولا أني أخشى أن أخطئ لحدثتكم بأشياء سمعتها من رسول الله صلى الله عليه وسلم، أو قالها رسول الله صلى الله عليه وسلم " (1)، وشددوا في التثبت من النقلة عن رسول الله صلى الله عليه وسلم فهذا أبو بكر رضي الله عنه في قصة ميراث الجدة لم يقبل خبر المغيرة بن شعبة رضي الله عنه، بل قال: هل معك غيرك؟ فقام محمد بن مسلمة الأنصاري رضي الله عنه فشهد له (2)، وهذا عمر بن الخطاب رضي الله عنه يشدد على أبي موسى الأشعري رضي الله عنه في نقله حديث الاستئذان ويقول: " تأتيني على ذلك ببينة - وفي رواية - لتقيمن عليه بينة" (3)، ويقول في قصة طلاق فاطمة بنت قيس: لا نترك كتاب ربنا وسنة نبينا لقول امرأة لا ندري أصدقت أم كذبت، حفظت أم نسيت (4)، ويزداد الموقف شدة بانقضاء الصدر الأول من الصحابة، فهذا حبر الأمة عبد الله بن عباس رضي الله عنه لم يأذن لحديث بشير بن كعب العدوي إذ يقول: قال رسول الله صلى الله عليه وسلم. فلما رآه لا ينظر إليه ولا يستمع لحديثه قال: يا ابن عباس مالي أراك لا تسمع لحديثي؟ أحدثك عن رسول الله صلى الله عليه وسلم ولا تسمع؟ . فقال ابن عباس رضي الله عنه: إنا كنا مرة إذا سمعنا رجلا يقول: قال رسول الله صلى الله عليه وسلم، ابتدرته أبصارنا وأصغينا إليه بآذاننا، فلما ركب الناس الصعب والذلول لم نأخذ من الناس إلا ما نعرفه (5)،
--------------------------------------------
ইবনে মালিক (রা.) হতে বর্ণিত: "আমি যদি ভুল করার আশঙ্কা না করতাম, তবে আল্লাহর রাসুল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) হতে শোনা অনেক বিষয় তোমাদের কাছে বর্ণনা করতাম, অথবা তিনি বলেছিলেন: আল্লাহর রাসুল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) যা বলেছেন" (১)। আর তারা আল্লাহর রাসুল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর নিকট হতে বর্ণনাকারীদের (نقلة) থেকে প্রাপ্ত তথ্যের সত্যতা যাচাইয়ের (التثبت) ক্ষেত্রে কঠোরতা অবলম্বন করতেন। এই তো আবু বকর (রা.) দাদির মিরাসের ঘটনায় মুগিরা ইবনে শুবা (রা.)-এর সংবাদ (خبر) গ্রহণ করেননি, বরং বলেছিলেন: "তোমার সাথে কি অন্য কেউ আছে?" অতঃপর মুহাম্মদ ইবনে মাসলামা আল-আনসারি (রা.) দাঁড়িয়ে তাঁর পক্ষে সাক্ষ্য দেন (২)। আর এই উমর ইবনে আল-খাত্তাব (রা.) আবু মুসা আল-আশআরি (রা.)-এর ওপর অনুমতি প্রার্থনা সংক্রান্ত হাদিস বর্ণনার ক্ষেত্রে কঠোরতা আরোপ করেন এবং বলেন: "তুমি এর স্বপক্ষে আমার কাছে একটি প্রমাণ (بينة) নিয়ে এসো - অন্য এক বর্ণনা (رواية) অনুযায়ী - অবশ্যই তুমি এর ওপর প্রমাণ (بينة) পেশ করবে" (৩)। আর ফাতিমা বিনতে কাইস-এর তালাকের ঘটনার ক্ষেত্রে তিনি বলেন: "আমরা আমাদের রবের কিতাব এবং আমাদের নবীর সুন্নাত এমন একজন মহিলার কথার কারণে ছেড়ে দেব না, যার সম্পর্কে আমরা জানি না যে সে সত্য বলেছে নাকি মিথ্যা বলেছে, সে মনে রেখেছে নাকি ভুলে গেছে" (৪)। সাহাবীদের প্রথম যুগের (الصدر الأول) অবসানের সাথে সাথে এই অবস্থানের কঠোরতা আরও বৃদ্ধি পায়। এই তো উম্মাহর বিজ্ঞ পণ্ডিত আব্দুল্লাহ ইবনে আব্বাস (রা.) বশির ইবনে কাব আল-আদাউয়ির হাদিস বলার অনুমতি দেননি যখন সে বলছিল: 'আল্লাহর রাসুল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন'। যখন তিনি দেখলেন যে তিনি (ইবনে আব্বাস) তার দিকে তাকাচ্ছেন না এবং তার হাদিস শুনছেন না, তখন সে বলল: 'হে ইবনে আব্বাস, আমার কী হলো যে আমি দেখছি আপনি আমার হাদিস শুনছেন না? আমি আপনার নিকট আল্লাহর রাসুল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) হতে বর্ণনা করছি আর আপনি শুনছেন না?' তখন ইবনে আব্বাস (রা.) বললেন: "আমরা এক সময় এমন ছিলাম যে, যখন কোনো ব্যক্তিকে বলতে শুনতাম 'আল্লাহর রাসুল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন', তখন আমাদের দৃষ্টি তৎক্ষণাৎ তার দিকে নিবদ্ধ হতো এবং আমরা কান পেতে তা শুনতাম। কিন্তু মানুষ যখন সত্য-মিথ্যার বাছবিচারহীন পথে (الصعب والذلول) চলতে শুরু করল, তখন থেকে আমরা মানুষের নিকট হতে কেবল সেইটুকুই গ্রহণ করি যা আমাদের পরিচিত (৫)।"
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-গারামিয়্যাহ ফী মুসতালাহিল হাদীস
(পৃষ্ঠা: ٧)
هكذا مر عهد أصحاب رسول الله رضي الله عنهم بين حيطة وتوثق من صحة النقل، فلما ظهرت الفنتة برز التفتيش عن أحوال الرجال وما هم عليه من الصفات، يقول ابن سيرين رحمه الله: لم يكونوا يسألون عن الإسناد، فلما وقعت الفتنة قالوا: سموا لنا رجالكم، فينظر إلى أهل السنة فيؤخذ حديثهم، وينظر إلى أهل البدعة فلا يؤخذ حديثهم (1)، وكذلك تكلم في هذا الباب جمع من التابعين منهم: الحسن البصري، وسعيد بن المسيب، وعامر الشعبي، والإمام مالك وغيرهم، ومن هنا أصبح الإسناد أمرا لا مفر منه في الرواية، وما ليس له إسناد كمن لا نسب له، ومن أهمية الإسناد نشأت الرحلة إلى الأمصار، بحثا عن التوثق والعلو في الإسناد، واعتبر الأئمة ذلك من الدين، إذ ما لا يتم الواجب إلا به فهو واجب، يقول ابن سيرين رحمه الله: إن هذا العلم دين فانظروا عمن تأخذون دينكم (2).
ومن هنا نعلم أن الخطوط العريضة لنقد الأسانيد والمتون برزت الحاجة إليها مبكرة في عهد الأصحاب رضي الله عنهم، كما هو واضح مما تقدم ذكره، وهكذا نما الاعتناء بهذا الجانب العظيم، في مراحل تاريخية متفاوتة وهي أربع مراحل:
1 - عهد الأصحاب رضي الله عنهم وما أبدوا فيه من خطوط عريضة لقواعد الحيطة والتثبت في النقل عن رسول الله صلى الله عليه وسلم، وتعتبر هذه المرحلة من بداية القرن الأول إلى نهايته، غير أنه لم يدون شيء كبير في هذا الصدد، سوى ما كان من كتابة عبد الله بن عمر وغيره، فهذا القرن خير القرون، كان فيه
--------------------------------------------
এভাবে আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সাহাবীগণের (রাযিয়াল্লাহু আনহুম) যুগ বর্ণনার বিশুদ্ধতা এবং যাচাই-বাছাইয়ের সতর্কতার মধ্য দিয়ে অতিবাহিত হয়েছে। অতঃপর যখন ফিতনা প্রকাশ পেল, তখন বর্ণনাকারীদের অবস্থা (أحوال الرجال) এবং তাদের গুণাবলী সম্পর্কে অনুসন্ধান শুরু হলো। ইবনে সিরিন (রহ.) বলেন: তারা সনদ (إسناد) সম্পর্কে জিজ্ঞেস করতেন না। কিন্তু যখন ফিতনা দেখা দিল, তখন তারা বলতে লাগলেন: "তোমাদের বর্ণনাকারীদের নাম উল্লেখ করো।" ফলে আহলে সুন্নাহর দিকে লক্ষ্য করা হতো এবং তাদের হাদিস গ্রহণ করা হতো, আর বিদআতিদের দিকে লক্ষ্য করা হতো এবং তাদের হাদিস গ্রহণ করা হতো না (১)। একইভাবে তাবেয়ীদের একটি দলও এ বিষয়ে আলোচনা করেছেন, যাদের মধ্যে হাসান বসরী, সাঈদ ইবনুল মুসায়্যিব, আমির আশ-শা'বী এবং ইমাম মালিক সহ আরও অনেকে রয়েছেন। এখান থেকেই বর্ণনার ক্ষেত্রে সনদ (إسناد) একটি অপরিহার্য বিষয় হয়ে দাঁড়াল; আর যার কোনো সনদ (إسناد) নেই সে ঐ ব্যক্তির ন্যায় যার কোনো বংশপরিচয় নেই। সনদের (إسناد) গুরুত্বের কারণেই বিভিন্ন জনপদে সফরের (الرحلة) সূচনা হয়েছিল, যেন নির্ভরযোগ্যতা (توثق) এবং উচ্চ সনদ (علو في الإسناد) অনুসন্ধান করা যায়। ইমামগণ একে দ্বীনের অংশ হিসেবে গণ্য করেছেন; কেননা যা ছাড়া ওয়াজিব পূর্ণ হয় না, তাও ওয়াজিব। ইবনে সিরিন (রহ.) বলেন: "নিশ্চয়ই এই জ্ঞান হলো দ্বীন, সুতরাং তোমরা লক্ষ্য করো কার নিকট থেকে তোমাদের দ্বীন গ্রহণ করছ" (২)।
এখান থেকে আমরা জানতে পারি যে, সনদ (أسانيد) এবং মতন (متون) পর্যালোচনার (نقد) মূল রূপরেখা সাহাবীগণের (রাযিয়াল্লাহু আনহুম) যুগেই প্রারম্ভিকভাবে প্রয়োজনীয় হয়ে উঠেছিল, যেমনটি পূর্বের আলোচনা থেকে স্পষ্ট হয়েছে। এভাবেই এই মহান বিষয়ের প্রতি যত্নশীলতা বিভিন্ন ঐতিহাসিক পর্যায়ে ধাপে ধাপে বৃদ্ধি পেয়েছে, যা মূলত চারটি পর্যায়ে বিভক্ত:
১ - সাহাবীগণের (রাযিয়াল্লাহু আনহুম) যুগ: আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে হাদিস বর্ণনার ক্ষেত্রে সতর্কতা এবং যাচাই-বাছাইয়ের (تثبت) নিয়মাবলীর যে রূপরেখা তাঁরা প্রকাশ করেছিলেন। এই পর্যায়টি প্রথম হিজরি শতাব্দীর শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত বিস্তৃত বলে গণ্য করা হয়। তবে এ বিষয়ে আব্দুল্লাহ ইবনে ওমর (রা.) এবং অন্যদের লেখনী ছাড়া বড় ধরনের কোনো কিছু সংকলন করা হয়নি। এই শতাব্দী ছিল সর্বোত্তম শতাব্দী, এতে ছিল
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-গারামিয়্যাহ ফী মুসতালাহিল হাদীস
(পৃষ্ঠা: ٨)
الحذر والتشدد في النقل عن رسول الله تدينا، فلا سبيل لتهمة الكذب، بل كان الخوف من الخطأ والنسيان، وجرى الحرص على صحة المنقول وثبوته.
2 - عهد كبار التابعين رحمهم الله:
وهو فترة نشط فيها الاهتمام بالإسناد، والتعرف على أحوال الرجال، وقد تقدم قول ابن سيرين رحمه الله: لم يكونوا يسألون عن الإسناد، فلما وقعت الفتنة قالوا: سموا لنا رجالكم، فينظر إلى أهل السنة فيؤخذ حديثهم، وينظر إلى أهل البدعة فلا يؤخذ حديثهم، وقد تبع هذا القول اتجاهان متضادان في شأن التدوين للسنة وما يتعلق بها من آراء شخصية: فالصدر الأول من التابعين تأثروا بمنهج الأصحاب في عدم الرضى عن كتابة ما سوى القرآن الكريم (1)، وآخرون من التابعين منهم: سعيد بن جبير، وكان يقول: كنت أسير بين ابن عمر وابن عباس، فكنت أسمع الحديث منهما، فأكتبه على واسطة الرحل حتى أنزل فأكتبه (2)، وسعيد بن المسيب رخص لعبد الرحمن بن حرملة في الكتابة حين شكا إليه سوء الحفظ (3)، والشعبي كان يقول: الكتابة قيد العلم، إذا سمعتم مني شيئا فاكتبوه ولو في حائط، ووجد له بعد موته كتاب في الفرائض والجراحات (4)، فهؤلاء وغيرهم من التابعين رأوا ضرورة تقييد العلم
--------------------------------------------
দ্বীনদারির খাতিরে রাসূলুল্লাহ ﷺ থেকে বর্ণনার ক্ষেত্রে সতর্কতা ও কঠোরতা অবলম্বন করা হতো, তাই মিথ্যাচারের অভিযোগের কোনো অবকাশ ছিল না; বরং ভয় ছিল ভুল ও বিস্মৃতির। বর্ণিত বিষয়ের শুদ্ধতা (صحة) ও সাব্যস্ততা (ثبوت) নিশ্চিত করার ব্যাপারে গভীর আগ্রহ বজায় ছিল।
২ - বড় তাবেয়ীদের (আল্লাহ তাঁদের ওপর রহম করুন) যুগ:
এটি এমন এক সময় যখন সনদ (إسناد) বা বর্ণনাসূত্রের প্রতি গুরুত্ব প্রদান এবং বর্ণনাকারীদের অবস্থা (أحوال الرجال) সম্পর্কে জানার বিষয়টি সক্রিয় হয়ে ওঠে। ইতিপূর্বে ইবনে সিরিনের (আল্লাহ তাঁর ওপর রহম করুন) উক্তি বর্ণিত হয়েছে: "তাঁরা সনদ (إسناد) সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করতেন না, কিন্তু যখন ফিতনা দেখা দিল, তখন তাঁরা বললেন: আমাদের কাছে তোমাদের বর্ণনাকারীদের নাম উল্লেখ করো। তখন আহলুস সুন্নাহর দিকে লক্ষ্য করা হতো এবং তাঁদের হাদিস গ্রহণ করা হতো, আর বিদআতীদের (أهل البدعة) দিকে লক্ষ্য করা হতো এবং তাঁদের হাদিস গ্রহণ করা হতো না।" এই উক্তির পরিপ্রেক্ষিতে সুন্নাহ সংকলন (تدوين) এবং এ সংক্রান্ত ব্যক্তিগত মতামতের ক্ষেত্রে দুটি বিপরীতমুখী ধারার সৃষ্টি হয়: তাবেয়ীদের প্রথম প্রজন্মের একদল সাহাবীদের মানহাজ বা কর্মপদ্ধতি দ্বারা প্রভাবিত ছিলেন, যা পবিত্র কুরআন ছাড়া অন্য কিছু লিখার ব্যাপারে অসম্মতি জ্ঞাপন করত (১), আর তাবেয়ীদের মধ্যে অন্য দল—যাঁদের অন্তর্ভুক্ত ছিলেন সাঈদ ইবনে জুবায়ের—তিনি বলতেন: "আমি ইবনে উমর ও ইবনে আব্বাসের মাঝখানে চলতাম এবং তাঁদের থেকে হাদিস শুনতাম। এরপর আমি তা সওয়ারির গদির পেছনের কাষ্ঠখণ্ডে লিখে রাখতাম, যতক্ষণ না আমি নিচে নেমে তা লিখে নিতাম (২)।" সাঈদ ইবনুল মুসাইয়িব আব্দুর রহমান ইবনে হারমালাকে লিখার অনুমতি দিয়েছিলেন যখন তিনি তাঁর কাছে স্মৃতিশক্তির দুর্বলতার (سوء الحفظ) অভিযোগ করেছিলেন (৩)। ইমাম শাবী বলতেন: "লিখন হলো ইলমের শৃঙ্খল; যখন তোমরা আমার থেকে কোনো কিছু শুনবে, তখন তা লিখে রেখো, এমনকি তা দেয়ালে হলেও।" তাঁর মৃত্যুর পর ফারায়েজ (উত্তরাধিকার আইন) ও জরাহাত (ক্ষত সংক্রান্ত বিধিবিধান) বিষয়ে একটি কিতাব পাওয়া গিয়েছিল (৪)। তাঁরা এবং অন্যান্য তাবেয়ীগণ ইলমকে লিপিবদ্ধ (تقييد العلم) করার প্রয়োজনীয়তা অনুভব করেছিলেন।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-গারামিয়্যাহ ফী মুসতালাহিল হাদীস
(পৃষ্ঠা: ٩)
واعتمدوا قول من سمح به من الأصحاب آخرا، منهم أبو بكر وعمر وعلي رضي الله عنهم (1)، وعللوا الكراهة بأن لا يضاهى بكتاب الله تعالى غيره، أو يشتغل عنه بسواه (2)، وقصة الخليفة عمر بن عبد العزيز رحمه الله في الأمر بتدوين العلم مشهورة معلومة، ولا شك أنه استأنس برأي العلماء، وكان أول من حقق له هذه الغاية الإمام الزهري رحمه الله، وكان يفخر بذلك ويقول: لم يدون هذا العلم أحد قبل تدويني (3)، وإن وجد للزهري من القول ما يضاد هذا مثل قوله: لولا أحاديث تأتينا من قبل المشرق، ننكرها لا نعرفها، ما كتبت حديثا ولا أذنت في كتابته (4)، فهذا يؤكد أن مبادرة الخليفة عمر بن عبد العزيز إلى الأمر بكتابة السنة وتدوين ما تفرق بصورة أوسع مما كان في بعض الصحف (5)، وموافقة العلماء من أمثال الإمام الزهري
--------------------------------------------
পরবর্তীতে তাঁরা ঐ সকল সাহাবীদের মতের ওপর নির্ভর করেছেন যাঁরা এটি করার অনুমতি দিয়েছিলেন, তাঁদের মধ্যে রয়েছেন আবু বকর, উমর ও আলী (রাযিয়াল্লাহু আনহুম) (১)। তাঁরা অপছন্দনীয়তার (كراهة) কারণ হিসেবে উল্লেখ করেছেন যে, যেন আল্লাহর কিতাবের সাথে অন্য কিছু সাদৃশ্যপূর্ণ না হয়ে যায় অথবা মানুষ যেন এটি নিয়ে ব্যস্ত হয়ে কিতাবুল্লাহ থেকে বিমুখ না হয়ে পড়ে (২)। ইলম সংকলনের (تدوين) ব্যাপারে খলিফা উমর ইবনে আব্দুল আজিজ (রহিমাহুল্লাহ)-এর ঘটনাটি অত্যন্ত সুপরিচিত ও প্রসিদ্ধ। এতে কোনো সন্দেহ নেই যে, তিনি ওলামায়ে কেরামের মতামতের আলোকে এটি করতে অনুপ্রাণিত হয়েছিলেন। তাঁর এই লক্ষ্য বাস্তবায়নে সর্বপ্রথম যিনি অগ্রসর হয়েছিলেন তিনি হলেন ইমাম যুহরী (রহিমাহুল্লাহ)। তিনি এ নিয়ে গর্ববোধ করতেন এবং বলতেন: "আমার সংকলনের (تدوين) পূর্বে অন্য কেউ এই ইলম সংকলন (تدوين) করেনি" (৩)। যদিও ইমাম যুহরীর পক্ষ থেকে এর বিপরীত বক্তব্যও পাওয়া যায়, যেমন তাঁর এই উক্তি: "পূর্বাঞ্চল থেকে আমাদের কাছে আগত হাদিসসমূহ যদি না থাকতো, যা আমরা বর্জনীয় (منكر) হিসেবে গণ্য করি এবং চিনি না, তবে আমি কোনো হাদিস লিখতাম না এবং তা লেখার অনুমতিও দিতাম না" (৪)। এটি নিশ্চিত করে যে, খলিফা উমর ইবনে আব্দুল আজিজের সুন্নাহ লিপিবদ্ধ করার উদ্যোগ এবং বিভিন্ন সহিফায় (صحيفة) বিক্ষিপ্তভাবে থাকা বিষয়গুলোকে আরও বিস্তৃত পরিসরে সংকলন করার (تدوين) পদক্ষেপ (৫), এবং ইমাম যুহরীর মতো আলেমদের এতে ঐকমত্য পোষণ করা...
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-গারামিয়্যাহ ফী মুসতালাহিল হাদীস
(পৃষ্ঠা: ١٠)
على رأيه كان خوفا من دروس (1) العلم وذهاب أهله، وأن يدخل في سنة رسول الله صلى الله عليه وسلم ما ليس منها، وهو ما تنبه له الزهري من تلك الأحاديث الآتية من قبل المشرق، ونجزم أن بداية جدية التفكير في تدوين السنة وتصنيف علومها كانت في عهد التابعين من أيام الزهري وأقرانه، لكنها بالنسبة لقواعد علوم الحديث لم تتجاوز نقل أقوال مبثوثة (2)، أثرت عن الأصحاب والأئمة من التابعين، وهي لا تمثل مادة علمية كاملة لقواعد مصطلح الحديث، سوى أنها فتحت الباب على مصراعيه للبحث والنظر في هذا الموضوع الخطير.
3 - مرحلة التصنيف في بعض فوائد علوم الحديث:
هذه المرحلة تقدر بما يقارب (150) سنة من بداية القرن الثالث إلى منتصف الرابع تميزت هذه الفترة عن سابقتها بإبراز بعض قواعد علوم الحديث في مصنفات مستقلة، مثل كتاب العلل لابن المديني، ومعظم المادة العلمية في هذه المرحلة إما قواعد مستقلة في كتب متفرقة، كما في الرسالة والأم للإمام الشافعي، أو مبثوثة في مصنفات الحديث على اختلاف طرائقها في التصنيف، كما في مصنفات الإمام البخاري، ومقدمة صحيح مسلم، وما كتبه الترمذي من العلل، وما نقل عن الإمام أحمد، وعن أبي داود وغيرهم، يقول الإمام مسلم رحمة الله علينا وعليه: وإنما ألزموا أنفسهم الكشف عن معايب رواة الحديث وناقلي الأخبار، وأفتوا بذلك حين سئلوا،
--------------------------------------------
তাঁর মতে, এটি ছিল জ্ঞান বিলুপ্ত (دروس) হওয়া এবং এর ধারকদের বিদায় নেওয়ার আশঙ্কা থেকে, এবং যাতে রাসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর সুন্নাহর মধ্যে এমন কিছু প্রবেশ না করে যা তার অন্তর্ভুক্ত নয়। আর এটিই ছিল সেই বিষয় যা সম্পর্কে ইমাম জুহরি প্রাচ্য থেকে আসা সেই হাদিসগুলো দেখে সচেতন হয়েছিলেন। আমরা নিশ্চিতভাবে বলতে পারি যে, সুন্নাহর সংকলন (تدوين) এবং এর জ্ঞানসমূহের শ্রেণিবিভাগ করার বিষয়ে গুরুত্ব সহকারে চিন্তাভাবনার সূচনা হয়েছিল তাবিঈদের (التابعين) যুগে ইমাম জুহরি এবং তাঁর সমসাময়িকদের সময়ে। তবে হাদিস বিজ্ঞানের (علوم الحديث) মূলনীতিসমূহের ক্ষেত্রে এগুলো সাহাবী এবং তাবিঈ (التابعين) ইমামদের থেকে বর্ণিত বিক্ষিপ্ত (مبثوثة) বক্তব্যের উদ্ধৃতির বাইরে তেমন কিছু ছিল না। এগুলো হাদিস পরিভাষা (مصطلح الحديث) শাস্ত্রের মূলনীতিসমূহের জন্য কোনো পূর্ণাঙ্গ জ্ঞানতাত্ত্বিক উপাদান উপস্থাপন করে না; বরং এটি এই গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে গবেষণা ও পর্যালোচনার দ্বার উন্মুক্ত করে দিয়েছিল।
৩ - হাদিস বিজ্ঞানের (علوم الحديث) কিছু উপযোগিতা সংকলনের পর্যায়:
এই পর্যায়টি তৃতীয় শতাব্দীর শুরু থেকে চতুর্থ শতাব্দীর মাঝামাঝি পর্যন্ত প্রায় (১৫০) বছর সময়কাল পর্যন্ত বিস্তৃত। এই সময়কালটি তার পূর্ববর্তী সময়ের চেয়ে স্বতন্ত্র ছিল হাদিস বিজ্ঞানের (علوم الحديث) কিছু মূলনীতিকে স্বতন্ত্র গ্রন্থে সংকলন করার মাধ্যমে, যেমন ইবনে আল-মাদীনির কিতাবুল ইলাল (العلل)। এই পর্যায়ের অধিকাংশ জ্ঞানতাত্ত্বিক উপাদান ছিল হয় ভিন্ন ভিন্ন গ্রন্থে স্বতন্ত্র মূলনীতি হিসেবে, যেমন ইমাম শাফেয়ির আর-রিসালা এবং আল-উম্ম গ্রন্থে, অথবা হাদিস সংকলনগুলোতে তাদের সংকলন পদ্ধতির ভিন্নতা অনুযায়ী বিক্ষিপ্তভাবে (مبثوثة) ছড়িয়ে থাকা অবস্থায়, যেমন ইমাম বুখারির সংকলনসমূহে, সহিহ মুসলিমের ভূমিকা, এবং ইমাম তিরমিযি সূক্ষ্ম ত্রুটি (العلل) বিষয়ে যা লিখেছেন তাতে, এবং ইমাম আহমাদ ও আবু দাউদসহ অন্যদের থেকে যা বর্ণিত হয়েছে তাতে। ইমাম মুসলিম (আমাদের ও তাঁর উপর আল্লাহর রহমত বর্ষিত হোক) বলেন: “নিশ্চয়ই তাঁরা হাদিসের বর্ণনাকারী (رواة) এবং সংবাদের বাহকদের দোষ-ত্রুটি উন্মোচন করাকে নিজেদের জন্য আবশ্যক করে নিয়েছিলেন এবং যখন তাঁদের এ বিষয়ে জিজ্ঞাসা করা হতো, তখন তাঁরা সেই অনুযায়ী ফতোয়া প্রদান করতেন।”
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-গারামিয়্যাহ ফী মুসতালাহিল হাদীস
(পৃষ্ঠা: ١١)
لما فيه من عظيم الخطر، إذ الأخبار بأمر الدين إنما تأتي بالتحليل أو التحريم، أو أمر أو نهي، أو ترغيب أو ترهيب، فإذا كان الراوي لها ليس بمعدن للصدق والأمانة، ثم أقدم على الرواية عنه من قد عرفه، ولم يبين ما فيه لغيره ممن جهل معرفته، كان آثما بفعله ذلك، غاشا لعوام المسلمين، إذ لا يؤمن على بعض من سمع تلك الأخبار أن يستعملها، أو يستعمل بعضها. . . (1).
4 - مرحلة النضج:
هذه المرحلة هي مرحلة النضج والاستواء، مرحلة كد العلماء فيها أذهانهم، فأنتجوا علم مصطلح الحديث، وجعلوه علما قائما بذاته، يرتكز على منهج دقيق منضبط، دونت فيه قواعد مصطلح الحديث في مصنفات مستقلة، بعضها لم يستوعب، لكنه حصل بالتكامل بينها، فأصبح الباحث يجد مطلبه في أي باب من أبواب هذا العلم الجليل، وكان أول من دون قواعد هذا العلم القاضي أبو محمد الحسن بن عبد الرحمن بن خلاد الرامهرمزي رحمه الله (2)، في كتابه "المحدث الفاصل بين الراوي والواعي" أجاد ولم يستوعب، وتلاه أبو عبد الله الحاكم بكتابه "معرفة علوم الحديث" تعقبه أبو نعيم في كتابه "المستخرج على كتاب الحاكم" ثم الخطيب
--------------------------------------------
যেহেতু এতে গুরুতর বিপদ রয়েছে, কারণ দ্বীনি বিষয়ের সংবাদসমূহ মূলত হালাল (تحليل) বা হারাম (تحريم), আদেশ বা নিষেধ, অথবা উৎসাহ (ترغيب) বা ভীতিপ্রদর্শনের (ترهيب) বার্তা নিয়ে আসে। সুতরাং যখন এর বর্ণনাকারী (راوي) সত্যবাদিতা (صدق) ও বিশ্বস্ততার (أمانة) আধার না হন, অথচ তার অবস্থা চেনা সত্ত্বেও কেউ তার থেকে বর্ণনা (رواية) করার পদক্ষেপ নেয় এবং তার ত্রুটিপূর্ণ অবস্থা সম্পর্কে অন্যদের কাছে স্পষ্ট করে না যারা এ সম্পর্কে অজ্ঞ, তবে সে তার এই কাজের কারণে পাপী সাব্যস্ত হবে এবং সাধারণ মুসলিমদের সাথে প্রতারণা করবে। কেননা এমনটি নিশ্চিত নয় যে, যারা ওইসব সংবাদ শুনবে তারা তার সবটুকু বা অংশবিশেষ আমল করবে না। . . (১)।
৪ - পরিপক্বতার পর্যায়:
এই পর্যায়টি হলো পরিপক্বতা ও পূর্ণতার পর্যায়। এটি এমন একটি পর্যায় যেখানে আলেমগণ তাদের মেধা নিবিষ্ট করেছেন এবং এর ফলে হাদিস শাস্ত্রের পরিভাষা (مصطلح الحديث) বিদ্যার উন্মেষ ঘটিয়েছেন। তারা একে একটি স্বতন্ত্র বিজ্ঞান হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেছেন, যা একটি সুক্ষ্ম ও সুশৃঙ্খল পদ্ধতির ওপর ভিত্তি করে দাঁড়িয়ে আছে। এতে হাদিস শাস্ত্রের পরিভাষার (مصطلح الحديث) নিয়মাবলী স্বতন্ত্র গ্রন্থে (مصنفات) সংকলিত হয়েছে। এগুলোর কোনো কোনটি পূর্ণাঙ্গ ছিল না, কিন্তু সেগুলোর পারস্পরিক সমন্বয়ের মাধ্যমে পূর্ণতা অর্জিত হয়েছে। ফলে গবেষকগণ এই মহান বিদ্যার যেকোনো অধ্যায়ে তাদের কাঙ্ক্ষিত বিষয় খুঁজে পেতে সক্ষম হন। এই শাস্ত্রের নিয়মাবলী সর্বপ্রথম যিনি সংকলন করেন তিনি হলেন কাজি আবু মুহাম্মদ আল-হাসান ইবনে আব্দুর রহমান ইবনে খাল্লাদ আর-রামাহুরমুজি (রহমাতুল্লাহি আলাইহি) (২), তাঁর "আল-মুহাদ্দিসুল ফাসিল বাইনার রাওয়ি ওয়াল ওয়া'য়ি" নামক গ্রন্থে। তিনি চমৎকার লিখেছেন তবে সবটুকু অন্তর্ভুক্ত করতে পারেননি। এরপর আবু আব্দুল্লাহ আল-হাকিম তাঁর "মা'রিফাতু উলুমিল হাদিস" গ্রন্থটি রচনা করেন এবং আবু নুয়াইম তাঁর "আল-মুসতাখরাজ আলা কিতাবিল হাকিম" গ্রন্থের মাধ্যমে তাকে অনুসরণ করেন, তারপর আল-খতিব...
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-গারামিয়্যাহ ফী মুসতালাহিল হাদীস
(পৃষ্ঠা: ١٢)
البغدادي في كتبه الكثيرة (1)، وقد أفرد كل فن من فنون الحديث بمؤلف في الغالب، ومن هنا كان كل من جاء بعده من العلماء في هذا العلم عالة على مصنفات الخطيب، ولم ينشط البحث عن الفوائد والنكت في هذا العلم إلا بعد أن أخرج أبو عمرو بن الصلاح كتابه المشهور بمقدمة ابن الصلاح، فإنه اعتنى بمؤلفات من سبقه فجمع شتات مقاصدها، وأضاف إليها من الفوائد الكثيرة ما جعل كتابه بحق أحسن ما كتب في هذا العلم، فاق من سبقه وبقي من بعده مشتغلا بكتابه هذا، ما بين دارس ومدرس وشارح (2) وناظم ومنكت (3) ومختصر قال الحافظ ابن حجر: "فلا يحصى كم ناظم له (4)
--------------------------------------------
আল-বাগদাদী তার অসংখ্য কিতাবে (১), তিনি হাদিসের প্রতিটি শাখা (فن) নিয়ে সাধারণত পৃথক গ্রন্থ রচনা করেছেন। একারণেই পরবর্তীতে এই শাস্ত্রে আগত সকল আলেম খতিবের সংকলনসমূহের (مصنفات) ওপর নির্ভরশীল (عالة) ছিলেন। এই শাস্ত্রে সূক্ষ্ম রহস্য (نكت) ও ফায়দা অন্বেষণের গবেষণা ততটা প্রাণবন্ত হয়নি যতক্ষণ না আবু আমর ইবনুস সালাহ তার বিখ্যাত গ্রন্থ 'মুকাদ্দিমাহ ইবনুস সালাহ' প্রকাশ করেন। তিনি তার পূর্ববর্তীদের রচনাগুলোর প্রতি সবিশেষ মনোনিবেশ করেন এবং তাদের উদ্দেশ্যগুলোকে একত্রিত করেন। এর সাথে তিনি এমন অনেক ফায়দা যোগ করেন যা তার কিতাবটিকে যথার্থই এই শাস্ত্রে রচিত সর্বশ্রেষ্ঠ কিতাবে পরিণত করে। তিনি তার পূর্ববর্তীদের ছাড়িয়ে যান এবং তার পরবর্তী সবাই এই কিতাব নিয়ে ব্যস্ত থাকেন—কেউ শিক্ষার্থী, কেউ শিক্ষক, কেউ ব্যাখ্যাকারী (شارح) (২), কেউ ছন্দবদ্ধকারী (ناظم), কেউ টীকাকার (منكت) (৩) এবং কেউ সংক্ষেপকারী (مختصر)। হাফিজ ইবনু হাজার বলেন: "একে কতজন ছন্দবদ্ধ করেছেন (৪) তা গণনা করা সম্ভব নয়।"
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-গারামিয়্যাহ ফী মুসতালাহিল হাদীস
(পৃষ্ঠা: ١٣)
ومختصر (1)، ومستدرك عليه ومعارض له (2) ومنتصر" (3) ونرى أن مراحل التدوين والتدقيق والتحقيق أربع أيضا:
الأولى: بدأت بكتاب الرامهرمزي، فقد حاز السبق في تدوين أبواب من هذا العلم.
والثانية: بدأت بمؤلفات الخطيب البغدادي، فكل من جاء بعده صار عالة على مصنفاته في هذا العلم.
والثالثة: بدأت بكتابة أبي عمرو بن الصلاح، فقد لاقى قبولا كبيرا عند العلماء، فتنافسوا في الاشتغال به على ما تقدم بيانه.
والرابعة: بدأت بكتابة ابن حجر، فقد استفاد منها من أتى بعده من العلماء، فإنه دقيق الملاحظة واسع العلم حسن التنظيم، اشتغل العلماء بمؤلفه النفيس "نخبة الفكر" فمنهم الشارح له والناظم، ولا أنفس من شرحه هو لها المسمى "نزهة النظر" وصدق الحافظ العراقي رحمة الله علينا وعليه إذ قال: وبعد فعلم الحديث خطير وضعه، كثير نفعه، وبه يعرف الحلال والحرام، ولأهله اصطلاح لا بد للطالب من فهمه (4).
--------------------------------------------
এবং সংক্ষেপিত গ্রন্থ (مختصر) (১), এবং এর উপর সম্পূরক (مستدرك) ও এর সমালোচনামূলক (معارض) গ্রন্থ (২) এবং এর স্বপক্ষে রচিত (منتصر)" (৩)। আমরা মনে করি যে লিপিবিদ্ধকরণ (تدوين), সূক্ষ্ম যাচাই (تدقيق) এবং গবেষণার (تحقيق) স্তরগুলোও চারটি:
প্রথম স্তর: এটি রামহুরমুযী-এর কিতাবের মাধ্যমে শুরু হয়েছে; কেননা এই শাস্ত্রের বিভিন্ন অধ্যায় লিপিবিদ্ধ করার (تدوين) ক্ষেত্রে তিনি অগ্রগামিতা অর্জন করেছেন।
দ্বিতীয় স্তর: এটি খতীব বাগদাদীর রচনাবলির মাধ্যমে শুরু হয়েছে; ফলে তাঁর পরবর্তী যারাই এসেছেন, তারা সবাই এই শাস্ত্রে তাঁর গ্রন্থসমূহের মুখাপেক্ষী হয়েছেন।
তৃতীয় স্তর: এটি আবু আমর ইবনুল সালাহ-এর লেখনীর মাধ্যমে শুরু হয়েছে; এটি ওলামায়ে কেরামের নিকট ব্যাপক গ্রহণযোগ্যতা পেয়েছে। তাই তারা এটি নিয়ে গবেষণায় লিপ্ত হতে একে অপরের সাথে প্রতিযোগিতা করেছেন, যেমনটি পূর্বে বর্ণিত হয়েছে।
চতুর্থ স্তর: এটি ইবনে হাজারের লেখনীর মাধ্যমে শুরু হয়েছে; তাঁর পরবর্তী ওলামায়ে কেরাম তাঁর থেকে উপকৃত হয়েছেন। কেননা তিনি ছিলেন সূক্ষ্ম পর্যবেক্ষণক্ষম, অগাধ জ্ঞানের অধিকারী এবং চমৎকার বিন্যাসকারী। ওলামায়ে কেরাম তাঁর মূল্যবান গ্রন্থ "নুখবাতুল ফিকার" নিয়ে ব্যস্ত ছিলেন; তাদের মধ্যে কেউ ছিলেন এর ব্যাখ্যাকারী (الشارح), আবার কেউ এর কাব্যরূপদানকারী (الناظم)। তাঁর নিজের করা এর ব্যাখ্যাগ্রন্থ "নুযহাতুন নাযার"-এর চেয়ে মূল্যবান আর কিছু নেই। হাফেজ (الحافظ) ইরাকি (আমাদের ও তাঁর প্রতি আল্লাহর রহমত বর্ষিত হোক) সত্যই বলেছেন: "অতঃপর, হাদিস শাস্ত্রের মর্যাদা অত্যন্ত গুরুত্ববহ, এর উপকারিতা অনেক বেশি; এর মাধ্যমেই হালাল ও হারাম চেনা যায়। আর এই শাস্ত্রের পণ্ডিতদের নিজস্ব পরিভাষা (اصطلاح) রয়েছে, যা একজন শিক্ষার্থীর জন্য বোঝা অপরিহার্য" (৪)।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-গারামিয়্যাহ ফী মুসতালাহিল হাদীস
(পৃষ্ঠা: ١٤)
وقد وقفت على أبيات معدودة بعشرين بيتا، نظمت من قبل أحمد بن فرح الإشبيلي، نظمها بأسلوب مشوق لحفظها، ميسر بعد توفيق الله أمرها، ضمنها (28) ثمانية وعشرين نوعا من أنواع مصطلح الحديث، عني بها بعده جمع من العلماء، من حيث الحفظ والفهم والشرح، وقد شرحت من قبل بعض العلماء باختصار فيما يخص مصطلح الحديث، وتضمن الشرح الجانب الأدبي والبلاغي، وبيان ما فيها من المحسنات اللفظية، فشدتني الرغبة في شرح ما ضمت من أنواع مصطلح الحديث، شرحا فيه إضافة مفيدة، معرضا عما اعتنى به الشراح مما يتعلق بالحب والغرام، وما يتعلق بجانب المحسنات اللفظية، والعبارات الأدبية، وقد بدأته بهذه المقدمة، مضفيا زيادة بيان لم تكن فيما أذكر من الشروح التي وقفت عليها، ومضيفا ترجمة وافية للناظم في (14) أربعة عشرمبحثا، تلا ذلك إثبات نسبة المنظومة، كل ذلك وفق منهج علمي حديث، رجاء أن يكون هذا الجهد تبصرة للمبتدي وتذكرة للمنتهي، سائلا الله عز وجل أن يجعله عملا متقبلا، ولا يحرمنا أجره إلى يوم الدين، وصلى الله وسلم وبارك على خاتم الأنبياء والمرسلين.
الشارح
আমি বিশটি পংক্তি সম্বলিত একটি কবিতার সন্ধান পেয়েছি যা আহমদ ইবনে ফারাহ আল-ইশবিলি রচনা করেছেন। তিনি এটি মুখস্থ করার সুবিধার্থে একটি চিত্তাকর্ষক শৈলীতে সাজিয়েছেন, যা আল্লাহর তৌফিকের পর বিষয়টিকে সহজতর করেছে। এতে তিনি হাদিস পরিভাষার (مصطلح الحديث) আটাশটি প্রকার (نوع) অন্তর্ভুক্ত করেছেন। তাঁর পরবর্তী সময়ে একদল আলেম এর মুখস্থ, অনুধাবন এবং ব্যাখ্যার ক্ষেত্রে বিশেষ গুরুত্বারোপ করেছেন। ইতিপূর্বে কিছু আলেম হাদিস পরিভাষার (مصطلح الحديث) আলোকে এর সংক্ষিপ্ত ব্যাখ্যা প্রদান করেছেন, যেখানে সাহিত্যিক ও অলঙ্কারিক দিক এবং শাব্দিক অলংকারের বর্ণনা প্রাধান্য পেয়েছিল। তাই আমার মনে এই কবিতায় বর্ণিত হাদিস পরিভাষার (مصطلح الحديث) প্রকারগুলোর (أنواع) এমন একটি ব্যাখ্যা করার আকাঙ্ক্ষা জাগ্রত হলো, যা একটি কার্যকর সংযোজন হিসেবে বিবেচিত হবে। এক্ষেত্রে পূর্ববর্তী ব্যাখ্যাকারগণ প্রেম-ভালোবাসা এবং শাব্দিক অলংকার ও সাহিত্যিক অভিব্যক্তির যে দিকগুলোর প্রতি মনোনিবেশ করেছিলেন, আমি তা এড়িয়ে গিয়েছি। আমি এই ভূমিকা দিয়ে এটি শুরু করেছি এবং এতে এমন কিছু অতিরিক্ত ব্যাখ্যা যুক্ত করেছি যা আমার দেখা পূর্ববর্তী ব্যাখ্যাগুলোতে ছিল না। এছাড়া আমি চৌদ্দটি পরিচ্ছেদে রচয়িতার একটি বিস্তারিত জীবনী প্রদান করেছি। এরপর আধুনিক বৈজ্ঞানিক পদ্ধতি অনুসরণে এই কাব্যগ্রন্থটির সঠিক সম্পৃক্ততা প্রমাণ করা হয়েছে। এই শ্রমের উদ্দেশ্য হলো—এটি যেন শিক্ষানবিশদের জন্য আলোকবর্তিকা এবং অভিজ্ঞদের জন্য স্মারক হয়। মহান আল্লাহর কাছে প্রার্থনা করি তিনি যেন একে একটি কবুলযোগ্য আমল হিসেবে গ্রহণ করেন এবং শেষ বিচার দিবস পর্যন্ত আমাদের এর প্রতিদান থেকে বঞ্চিত না করেন। আল্লাহ তাআলা সর্বশেষ নবী ও রাসুলের ওপর দরুদ, সালাম ও বরকত বর্ষণ করুন।
ব্যাখ্যাকার
(খণ্ড: ১)
আল-গারামিয়্যাহ ফী মুসতালাহিল হাদীস
(পৃষ্ঠা: ١٥)
ترجمة الناظم
نسبه:شهاب الدين أبو العباس، أحمد بن فرح (1) بن أحمد، اللخمي الإشبيلي الشافعي، نزيل دمشق (2).
نسبته:اللخمي: نسبة إلى لخم قبيلة من اليمن نزلت الشام (3)، الإشبيلي: نسبة إلى إلى اشبيلية، بلدة من بلاد الأندلس، تقع على نهر وادي الكبير، قريبة من البحر يطل عليها جبل الشرف، وقد كانت قاعدة ملك الأندلس، وبها كان بنوا عباد (4)، الشافعي: نسبة إلى الإمام محمد بن إدريس الشافعي، نسبة إلى المذهب الفقهي.
مولده:ولد بإشبيلية إحدى مدن الأندلس الإسلامية، سنة (624) أربع وعشرين وستمائة من الهجرة، وقال ابن كثير سنة (625) (5).
--------------------------------------------
নাযিমের (কবিতা রচয়িতা) জীবনীতাঁর বংশপরিচয়:শিহাবউদ্দীন আবুল আব্বাস, আহমদ বিন ফারাহ (১) বিন আহমদ, আল-লাখমী আল-ইশবিলী আশ-শাফিঈ, দামেস্কের অধিবাসী (২)।
তাঁর সম্বন্ধ (নিসবত):আল-লাখমী: এটি ইয়ামেনের লাখম গোত্রের প্রতি সম্বন্ধযুক্ত যারা শাম (৩) দেশে বসতি স্থাপন করেছিল। আল-ইশবিলী: এটি আন্দালুসের অন্যতম শহর ইশবিলীয়ার প্রতি সম্বন্ধযুক্ত, যা ওয়াদিউল কাবীর নদীর তীরে অবস্থিত এবং সমুদ্রের নিকটবর্তী; এর সন্নিকটে জাবালুশ শরাফ পাহাড় অবস্থিত। এটি আন্দালুসের রাজধানী ছিল এবং সেখানে বনু আব্বাদ (৪) বংশের শাসন ছিল। আশ-শাফিঈ: এটি ইমাম মুহাম্মদ বিন ইদরীস আশ-শাফিঈর প্রতি সম্বন্ধযুক্ত, যা ফিকহী মাযহাব নির্দেশ করে।
তাঁর জন্ম:তিনি হিজরী ৬২৪ (ছয়শত চব্বিশ) সনে ইসলামী আন্দালুসের অন্যতম শহর ইশবিলীয়াতে জন্মগ্রহণ করেন। তবে ইবনে কাসীর একে ৬২৫ (৫) হিজরী সন বলে উল্লেখ করেছেন।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-গারামিয়্যাহ ফী মুসতালাহিল হাদীস
(পৃষ্ঠা: ١٦)
نشأته:نشأ بمسقط رأسه إلى أن أسره الفرنج (الإسبان) سنة (646) ست وأربعين وستمائة من الهجرة (1)، ولم نقف على مزيد من المعلومات في هذا الجانب.
أول سماعه:الذي يظهر والله أعلم أن أول سماع ابن فرح العلم كان سنة بضع وخمسين وستمائة من الهجرة، بعد نجاته من الأسر، في أول رحلة له إلى مصر، حيث تفقه على العز بن عبد السلام وغيره (2).
رحلاته:بعد أن تخلص من الأسر، ورد الديار المصرية، سنة بضع وخمسين وستمائة من الهجرة، وهي أول رحلة له، فسمع من شيخ الشيوخ في مصر شرف الدين عبد العزيز الأنصاري الحموي، ومن الإمام عز الدين بن عبد السلام وطبقتهما، ورحل إلى دمشق، ونزل بالشامية البرانية، أكبر المدارس وأعظمها، وأكثرها فقهاء وأكثرها أوقافا (3)، وسمع من أحمد بن عبد الدائم، وعمر الكرماني، وفراس العسقلاني، ووإبراهيم بن إسماعيل بن أبي اليسر، وخلق سواهم، واعتنى بالحديث، وأتقن ألفاظه ومعانيه حتى صار من الأئمة فيه، ورحل إلى مكة لأداء فريضة الحج (4).
--------------------------------------------
তাঁর বেড়ে ওঠা:তিনি তাঁর জন্মভূমিতেই বেড়ে ওঠেন যতক্ষণ না ৬৪৬ (ছয়শত ছেচল্লিশ) হিজরি সনে ইউরোপীয়রা (স্পেনীয়রা) তাঁকে বন্দি করে (১), এবং আমরা এই বিষয়ে এর চেয়ে অধিক কোনো তথ্য লাভ করতে পারিনি।
তাঁর ইলম শ্রবণের (سماع) সূচনা:যা প্রতীয়মান হয়—আর আল্লাহই সবচেয়ে ভালো জানেন—ইবনে ফরাহ-এর ইলম শ্রবণের (سماع) সূচনা ছিল ৬৫০ হিজরির পরবর্তী কয়েক বছর অতিক্রান্ত হওয়ার পর, বন্দিদশা থেকে তাঁর মুক্তির পর মিশরে তাঁর প্রথম সফরের সময়। সেখানে তিনি ইজ্জ ইবনে আব্দুস সালাম ও অন্যান্যদের নিকট ফিকহ শাস্ত্রের জ্ঞান অর্জন করেন (২)।
তাঁর সফরসমূহ:বন্দিদশা থেকে মুক্তি পাওয়ার পর তিনি ৬৫০ হিজরির পরবর্তী কয়েক বছর অতিক্রান্ত হওয়ার পর মিশর ভূখণ্ডে আগমন করেন এবং এটিই ছিল তাঁর প্রথম সফর। সেখানে তিনি মিশরের শায়খুশ শুয়ূখ শরফুদ্দীন আব্দুল আজিজ আল-আনসারী আল-হামাভী, ইমাম ইজ্জুদ্দীন ইবনে আব্দুস সালাম এবং তাঁদের সমপর্যায়ভুক্ত (طبقة) ব্যক্তিবর্গের নিকট থেকে শ্রবণ (سماع) করেন। এরপর তিনি দামেস্কে সফর করেন এবং শামিয়া আল-বারানিয়াতে অবস্থান করেন, যা ছিল বৃহত্তম ও সর্বশ্রেষ্ঠ মাদ্রাসা এবং ফকিহ ও ওয়াকফকৃত সম্পত্তির প্রাচুর্যের দিক থেকে শীর্ষস্থানীয় (৩)। সেখানে তিনি আহমাদ ইবনে আব্দুল দায়িম, ওমর আল-কিরমানি, ফিরাস আল-আসকালানি, ইব্রাহিম ইবনে ইসমাইল ইবনে আবিল ইউসর এবং আরও অনেকের কাছ থেকে শ্রবণ (سماع) করেন। তিনি হাদিসের প্রতি গভীর মনোনিবেশ করেন এবং এর শব্দ ও অর্থের বিষয়ে পূর্ণ দক্ষতা (إتقان) অর্জন করেন, এমনকি তিনি এ শাস্ত্রে ইমামদের অন্তর্ভুক্ত হন। অতঃপর হজের ফরজ আদায়ের উদ্দেশ্যে তিনি মক্কায় সফর করেন (৪)।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-গারামিয়্যাহ ফী মুসতালাহিল হাদীস
(পৃষ্ঠা: ١٧)
أشهر شيوخه:شرف الدين عبد العزيز الأنصاري الحموي، والإمام عز الدين بن عبد السلام، سمع منهما بمصر، وسمع من معين الدين أجمد بن زين الدين، وإسماعيل بن عزوز، والنجيب بن الصيقل، ومكي بن المسلم بن علان، وأحمد بن عبد الدائم وخلق (1).
أشهر تلاميذه:الحافظ الذهبي فقد صرح في التذكرة أنه من شيوخه فقال: شيخنا الإمام العالم الحافظ شيخ المحدثين، وروى عنه قول علي بن أبي طالب رضي الله عنه: "لأن أخر من السماء أحب إلي من أن أكذب على رسول الله صلى الله عليه وسلم وإذا حدثتكم فيما بيننا فإن الحرب خدعة" (2) ونقل السبكي عن شيخه الذهبي قوله: أخذت عنه ونعم الشيخ (3)، والحافظان: شرف الدين أحمد بن محمد الدمياطي، وعيسى بن أحمد اليونيني، وقد سمعا عليه منظومته هذه، وسمع منه البرزالي، وعثمان بن بلبان المقاتلي، وأبو محمد بن أبي الوليد (4).
ما وقع له من البلاء:لقد كانت حروب التتار في المشرق، والفرنج في المغرب بلاء عظيما على المسلمين، نالهم فيها من الذل والهوان، ما الله به عليم، ويشبهه ما يقع للمسلمين اليوم في كثير من البلدان، قال الذهبي تلميذ الناظم: بقي في أسر
--------------------------------------------
তাঁর উল্লেখযোগ্য শিক্ষকগণ:শারাফ আল-দীন আব্দুল আজিজ আল-আনসারী আল-হামাওয়ী এবং ইমাম ইযযুদ্দীন ইবনে আব্দুস সালাম; তিনি মিশরে তাঁদের নিকট হতে শ্রবণ করেছেন। এছাড়া তিনি মুয়ীন আল-দীন আহমদ বিন যয়ন আল-দীন, ইসমাইল বিন আযযূয, আল-নাজীব বিন আল-সাইকাল, মক্কী বিন আল-মুসলিম বিন আল্লান, আহমদ বিন আব্দুল দায়িম এবং আরও অসংখ্য (خلق) আলেমের নিকট শিক্ষা গ্রহণ করেছেন (১)।
তাঁর উল্লেখযোগ্য ছাত্রগণ:হাফিজ (الحافظ) আল-যাহাবী; তিনি 'তাজকিরাহ' গ্রন্থে স্পষ্টভাবে উল্লেখ করেছেন যে, তিনি তাঁর শাইখদের অন্তর্ভুক্ত ছিলেন। তিনি বলেন: "আমাদের শাইখ, ইমাম, আলিম, হাফিজ (الحافظ), মুহাদ্দিসগণের শাইখ (شيخ المحدثين)"। তিনি তাঁর সূত্রে আলী বিন আবু তালিব (রাযিয়াল্লাহু আনহু)-এর এই উক্তিটি বর্ণনা করেছেন: "আকাশ থেকে জমিনে আছড়ে পড়া আমার কাছে রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর ওপর মিথ্যারোপ (أكذب) করার চেয়ে অধিক প্রিয়। আর আমি যখন তোমাদের নিকট আমাদের মধ্যকার বিষয়ে কোনো হাদিস বর্ণনা করি (حدثتكم), তখন জেনে রেখো যুদ্ধ হলো একটি কৌশল" (২)। আল-সুবকী তাঁর শাইখ আল-যাহাবীর এই উক্তিটি উদ্ধৃত করেছেন: "আমি তাঁর নিকট থেকে শিক্ষা গ্রহণ করেছি এবং তিনি কতই না উত্তম শাইখ ছিলেন" (৩)। এছাড়া দুই হাফিজ (الحافظان) শারাফ আল-দীন আহমদ বিন মুহাম্মদ আল-দিমইয়াতি এবং ঈসা বিন আহমদ আল-ইউনীনী তাঁর নিকট হতে তাঁর এই কাব্যগ্রন্থটি (منظومته) শ্রবণ করেছেন। তাঁর নিকট আরও শ্রবণ করেছেন আল-বির্জালী, উসমান বিন বালবান আল-মুকাতিলী এবং আবু মুহাম্মদ বিন আবুল ওয়ালিদ (৪)।
তাঁর ওপর আপতিত পরীক্ষা ও বিপদসমূহ:প্রাচ্যে তাতার এবং প্রতীচ্যে ক্রুসেডারদের যুদ্ধ ছিল মুসলমানদের জন্য এক মহান পরীক্ষা (بلاء), যার ফলে তারা চরম লাঞ্ছনা ও অপমানের শিকার হয়েছিল, যা একমাত্র আল্লাহই সম্যক অবগত। এর সাথে বর্তমান সময়ে বিভিন্ন দেশে মুসলমানদের ওপর যা ঘটছে তার সাদৃশ্য রয়েছে। নাজিম বা কাব্যগ্রন্থের রচয়িতার ছাত্র আল-যাহাবী বলেছেন: "তিনি বন্দিদশায় (أسر) অতিবাহিত করেন..."
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-গারামিয়্যাহ ফী মুসতালাহিল হাদীস
(পৃষ্ঠা: ١٨)
الفرنج مدة ثم خلصه الله (1)، وقد جاء ما يفيد بأن مقدار هذه المدة بضع عشرة سنة، إذ وقع في الأسر سنة (646) ست وأربعين وستمائة من الهجرة، إلى بضع وخمسين وستمائة، فيكون مكثه في الأسر على أقل تقدير (8) ثمان سنوات، وقد أسر في بلده وعمره (17) سبع عشرة سنه (2).
ثناء العلماء عليه:يقول تلميذه الحافظ الذهبي: شيخنا الإمام العالم، الحافظ الزاهد، شيخ المحدثين، كان إماما متقنا، عارفا الفقه كثير الإفادة، عني بهذا، على هذا الشأن، ثم أقبل على تقييد الألفاظ، وفهم المتون ومذاهب العلماء، وكانت له حلقة إقراء للحديث وفنونه، حضرت مجالسه، نعم الشيخ كان، علما وفضلا ووقارا، واستحضارا وثقة وصدقا وتعففا وقصدا، له أشغال بجامع دمشق يقرئ الفقه والحديث (3)، ووصفه تلميذ تلميذه أبو نصر عبد الوهاب السبكي بالإمامة والحفظ والزهد، وكان من كبار أئمة هذا الشأن، وممن يجري فيه وهو طلق اللسان (4).
صفاته:يقول الذهبي: كان مهيبا مديد القامة، متزهدا عابدا صالحا، حسن
--------------------------------------------
তিনি ক্রুসেডারদের নিকট কিছুকাল বন্দি ছিলেন, অতঃপর আল্লাহ তাঁকে মুক্তি দান করেন (১)। বর্ণনায় এসেছে যে, এই বন্দিদশার মেয়াদ ছিল দশ বছরেরও অধিক সময়, কারণ তিনি হিজরি ৬৪৬ সালে বন্দি হন এবং ৬৫০-এর কয়েক বছর পর পর্যন্ত বন্দি ছিলেন। সে হিসেবে তাঁর বন্দিদশার মেয়াদ ছিল ন্যূনতম ৮ (আট) বছর। নিজ শহরে অবস্থানকালে মাত্র ১৭ (সতেরো) বছর বয়সে তিনি বন্দি হন (২)।
তাঁর সম্পর্কে আলেমগণের প্রশংসা:তাঁর ছাত্র হাফিজ (الحافظ) আয-যাহাবি বলেন: আমাদের শায়খ ইমাম, আলেম, হাফিজ (الحافظ), যাহিদ (الزاهد), মুহাদ্দিসগণের (المحدثين) শায়খ। তিনি ছিলেন একজন সুসংহত (متقنا) ইমাম, ফিকহ শাস্ত্রে অভিজ্ঞ এবং অত্যন্ত জ্ঞান বিতরণকারী। তিনি এই শাস্ত্রের প্রতি এবং এই বিষয়ের প্রতি যত্নশীল ছিলেন। অতঃপর তিনি শব্দসমূহ লিপিবদ্ধ করা, মতনসমূহ (المتون) অনুধাবন করা এবং আলেমগণের মাযহাবসমূহ আয়ত্ত করার দিকে মনোনিবেশ করেন। হাদিস এবং এর বিভিন্ন শাস্ত্র পাঠদানের জন্য তাঁর একটি পাঠদান মজলিস ছিল। আমি তাঁর মজলিসগুলোতে উপস্থিত হয়েছি। তিনি কতই না উত্তম শায়খ ছিলেন! ইলম, শ্রেষ্ঠত্ব, গাম্ভীর্য, স্মৃতিশক্তি, নির্ভরযোগ্যতা (ثقة), সত্যবাদিতা (صدقا), পবিত্রতা এবং পরিমিতিবোধে তিনি ছিলেন অনন্য। দামেস্কের জামে মসজিদে ফিকহ ও হাদিস পাঠদানে তাঁর বিশেষ ব্যস্ততা ছিল (৩)। তাঁর ছাত্রের ছাত্র আবু নাসর আব্দুল ওয়াহহাব আস-সুবকি তাঁকে ইমামত, হিফজ (الحفظ) এবং যুহদ (الزهد) দ্বারা গুণান্বিত করেছেন। তিনি এই শাস্ত্রের বড় ইমামদের অন্তর্ভুক্ত ছিলেন এবং এই বিষয়ে তাঁর সাবলীল বাগ্মিতা ছিল (৪)।
তাঁর গুণাবলি:আয-যাহাবি বলেন: তিনি ছিলেন অত্যন্ত মর্যাদাবান ও দীর্ঘকায়, দুনিয়াবিমুখ (متزهدا), ইবাদতগুজার (عابدا) ও নেককার (صالحا), সুন্দর...
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-গারামিয়্যাহ ফী মুসতালাহিল হাদীস
(পৃষ্ঠা: ١٩)
السمت يلبس زي الصوفية، وكان فيه ديانة وورع وصيانة (1).
عقيدته:لم نقف على ما يثلب عقيدته رحمه الله وقد أثنى عليه الحافظ الذهبي وهو تلميذه ومن أعرف الناس به، ولو ظهر له ما يقدح في عقيدته لذكره وما سكت عنه، بل ولا أخذ عنه، وأثنى عليه الحافظ ابن كثير رحمة الله علينا وعليه، فهو محمول على السلامة في ذلك، وما ذكر عنه من التزي بزي الصوفية يحمل على السلامة من الغلو ما لم يثبت خلاف ذلك.
ثقافته:نال الإمامة في الحديث، إذ شهد له بهذا أئمة معتبرون، وقد عرضت عليه مشيخة دار النورية، وعده الحافظ ابن كثير في طبقات الفقهاء من الشافعية كل هذا، مع ما ذكر العلماء من أوصافه والثناء عليه، ينبئ عن ثقافة له واسعة في علوم شتى منها - على وجه الوثوق ـ: السنة وعلومها، والفقه وأصوله، واللغة وعلومها، وقد بان ذلك بجلاء في منظومته البديعة السبك في اللفظ والمعنى (2).
مكانته الاجتماعية:إن من تعرض عليه رئاسة دور العلم، ويوصف بالإمامة والحفظ والعبادة والزهد والورع، ويكون الواصفون له أئمة عاصروه وعرفوا أمره لحري أن
--------------------------------------------
বাহ্যিক অবয়ব ও আচরণের দিক থেকে তিনি সুফিদের পোশাক পরিধান করতেন এবং তাঁর মধ্যে ধার্মিকতা, পরহেজগারি (ورع) ও চারিত্রিক নিষ্কলুষতা (صيانة) বিদ্যমান ছিল (১)।
তাঁর আকিদাহ:আমরা তাঁর আকিদাহকে কলঙ্কিত করে এমন কোনো বিষয়ের সন্ধান পাইনি, আল্লাহ তাঁর ওপর রহম করুন। হাফেজ আজ-জাহাবি তাঁর প্রশংসা করেছেন, যিনি ছিলেন তাঁর ছাত্র এবং তাঁর সম্পর্কে সর্বাধিক অবগত ব্যক্তিদের একজন। যদি তাঁর আকিদাহর ব্যাপারে ত্রুটিপূর্ণ কিছু প্রকাশ পেত, তবে তিনি অবশ্যই তা উল্লেখ করতেন এবং এ ব্যাপারে নীরব থাকতেন না, এমনকি তাঁর নিকট থেকে হাদিস গ্রহণও করতেন না। হাফেজ ইবনে কাসিরও (আমাদের এবং তাঁর ওপর আল্লাহর রহমত বর্ষিত হোক) তাঁর প্রশংসা করেছেন। সুতরাং এ ক্ষেত্রে তিনি নিষ্কলুষ হিসেবেই পরিগণিত। আর সুফিদের ন্যায় পোশাক পরিধানের যে বিষয়টি তাঁর সম্পর্কে উল্লেখ করা হয়েছে, তা চরমপন্থা (غلو) থেকে মুক্ত বলেই গণ্য হবে যতক্ষণ না এর বিপরীত কিছু প্রমাণিত হয়।
তাঁর পাণ্ডিত্য:তিনি হাদিস শাস্ত্রে ইমামত (إمامة) লাভ করেছিলেন, কারণ নির্ভরযোগ্য (معتبر) ইমামগণ তাঁর ব্যাপারে এই সাক্ষ্য দিয়েছেন। তাঁকে ‘দারুন নুরিয়া’র প্রধানের পদ (মশায়খাত) প্রস্তাব করা হয়েছিল। হাফেজ ইবনে কাসির তাঁকে শাফেয়ী মাযহাবের ফকিহদের স্তরবিন্যাস সম্বলিত গ্রন্থ ‘তাবাকাতুল ফুকাহা’-এর অন্তর্ভুক্ত করেছেন। এই সবকিছুর পাশাপাশি উলামায়ে কেরাম তাঁর যে গুণাবলি ও প্রশংসা বর্ণনা করেছেন, তা বিভিন্ন শাস্ত্রে তাঁর ব্যাপক পাণ্ডিত্যের জানান দেয়। বিশেষ করে—দৃঢ়তার সাথে বলা যায়—সুন্নাহ ও এর সংশ্লিষ্ট বিজ্ঞানসমূহ, ফিকহ ও এর মূলনীতি (أصول), এবং ভাষা ও এর সংশ্লিষ্ট বিজ্ঞানসমূহে তাঁর গভীর জ্ঞান ছিল। তাঁর চমৎকার শব্দশৈলী ও অর্থমাধুর্যপূর্ণ কাব্যে (মনজুমা) বিষয়টি স্পষ্টভাবে ফুটে উঠেছে (২)।
তাঁর সামাজিক মর্যাদা:যাঁকে দ্বীনি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানসমূহের প্রধান পদের প্রস্তাব দেওয়া হয় এবং যাঁকে ইমামত (إمامة), হেফজ বা প্রখর স্মৃতিশক্তি (حفظ), ইবাদত, দুনিয়াবিমুখতা (زهد) ও পরহেজগারি (ورع) গুণে গুণান্বিত করা হয়—আর এই গুণগানকারী ব্যক্তিগণও যদি এমন ইমাম হন যাঁরা তাঁর সমসাময়িক এবং তাঁর অবস্থা সম্পর্কে পূর্ণ অবগত—তবে তিনি নিশ্চিতভাবেই এ যোগ্য যে
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-গারামিয়্যাহ ফী মুসতালাহিল হাদীস
(পৃষ্ঠা: ٢٠)
يشار إليه بالبنان، وأن يسير بعلمه الركبان، فضلا عن إحاطة مجتمعه بمكانته بينهم، فلم يكن شخصا عاديا بينهم، بل كان مشهورا بالعلم والدين والعبادة والورع، ومعلوم أن العلماء رؤوس الناس ومحط أنظارهم، فكيف بمن جلس لإقراء الحديث والفقه في جامع دمشق في أول النهار من كل يوم، وعرض عليه جهات (1) كثيرة فيعرض عنها، كما ذكر ابن كثير، وابن تغري بردي (2).
مؤلفاته:لم نقف على كم من مؤلفات هذا الإمام سوى هذا النظم (قصيدة في أصول الحديث)، وشرح الأربعين النووية، ومختصر خلافيات البيهقي (3)، ويقول ابن كثير: له كتابة لكتب كبيرة وصغار، وله شعر جيد من ذلك: قصيدة نحو عشرين بيتا في أنواع الحديث (4).
وفاته:قال الحافظ الذهبي: انتقل إلى رحمة الله تعالى، حميدا مفيدا بمنزله في تربة أم الصالح مبطونا، في (9/ 6/699) ليلة الأربعاء التاسع من جمادى الآخرة، سنة تسع وتسعين وستمائة من الهجرة (5).
--------------------------------------------
তিনি ছিলেন আঙ্গুল দিয়ে ইশারা করার মতো (প্রসিদ্ধ) এবং তার ইলম দেশ-বিদেশে ছড়িয়ে পড়েছিল। তদুপরি, সমাজ তার মর্যাদার বিষয়ে পূর্ণ অবগত ছিল, তিনি তাদের মাঝে সাধারণ কোনো ব্যক্তি ছিলেন না; বরং ইলম, দ্বীনদারি, ইবাদত ও পরহেজগারির জন্য সুপ্রসিদ্ধ ছিলেন। আর এটি সবারই জানা যে, উলামাগণ হলেন মানুষের নেতা এবং তাদের দৃষ্টির কেন্দ্রবিন্দু। তাহলে তার মর্যাদা কতটুকু হতে পারে, যিনি প্রতিদিন দিনের শুরুতে দামেস্কের জামে মসজিদে হাদিস ও ফিকহ পড়ানোর জন্য বসতেন এবং তার কাছে অনেক উচ্চপদ (১) পেশ করা হয়েছিল কিন্তু তিনি তা প্রত্যাখ্যান করেছিলেন, যেমনটি ইবনে কাসির ও ইবনে তাগরি বারদি (২) উল্লেখ করেছেন।
তার রচনাবলি:এই কাব্যগ্রন্থ (হাদিসশাস্ত্রের মূলনীতি (أصول الحديث) বিষয়ক কাসিদা), শরহে আরবাঈন নববী এবং মুখতাসার খিলাফিয়্যাত আল-বাইহাকি (৩) ব্যতীত এই ইমামের অন্য কোনো রচনার সন্ধান আমরা পাইনি। ইবনে কাসির বলেন: তিনি ছোট-বড় অনেক কিতাব লিখেছেন এবং তার কিছু চমৎকার কবিতা রয়েছে। তার মধ্যে অন্যতম হলো হাদিসের প্রকারভেদ (أنواع الحديث) নিয়ে রচিত প্রায় বিশ লাইনের একটি কাসিদা (৪)।
মৃত্যু:আল-হাফিজ আয-যাহাবি বলেন: তিনি প্রশংসিত এবং উপকারী হিসেবে তার বাসভবনে তুরাবাতু উম্মিস সালিহ-এ উদরাময় রোগে আক্রান্ত অবস্থায় ৯ই জুমাদাল আখিরাত ৬৯৯ হিজরি, বুধবার রাতে আল্লাহর রহমতের দিকে পাড়ি জমিয়েছেন (৫)।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-গারামিয়্যাহ ফী মুসতালাহিল হাদীস
(পৃষ্ঠা: ٢١)
إثبات نسبة المنظومةما من شك في نسبة هذه المنظومة اللطيفة، المؤثرة البليغة إلى قائلها الإمام ابن فرح الإشبيلي رحمه الله، وذلك للنقول التالية: قال السبكي (ت 727 هـ) وهو تلميذ تلميذ الناظم بعد أن ترجم له وأورد القصيدة: وهذه القصيدة بليغة، جامعة لغالب أنواع الحديث (1) قال الحافظ ابن كثير:
(ت 774 هـ): له شعر جيد من ذلك: قصيدة نحو عشرين بيتا في أنواع الحديث، ونقل ابن العماد قول ابن ناصر الدين محمد بن أبي بكر (ت 842 هـ) في التبيان (2): ومن نظمه الرائق قصيدته التي أولها:
غرامي صحيح والرجا فيك معضل، وقد حفظها جماعة، وعلى فهمها عولوا، وذكر منها أبياتا (3) قال: وقد أنشدني القصيدة أحد الوعاظ، وأعجبت بما فيها من تورية الألفاظ، فرأيتها حينئذ قاصرة، ونظم على غرارها قصيدة استدرك فيها أنواعا لم تذكر فيها، وسماها "عقود الدرر في علوم الأثر" (4) وذكر أن ابن جماعة نظم على غرارها أيضا، قال الحافظ ابن حجر: (ت 852 هـ) في معرض كلامه عن محمد بن أبي بكر بن عبد العزيز ابن جماعة الحموي: ونظم قصيدة على طريقة ابن فرح أودعها
--------------------------------------------
মনজুমা (المنظومة) সম্বন্ধীয় প্রমাণএই চমৎকার, হৃদয়স্পর্শী ও অলঙ্কারপূর্ণ মনজুমাটি (المنظومة) এর রচয়িতা ইমাম ইবনে ফারাহ আল-ইশবিলি (আল্লাহ তাঁর প্রতি দয়া করুন)-এর প্রতি সম্বন্ধযুক্ত হওয়ার ব্যাপারে কোনো সন্দেহ নেই। এর সপক্ষে নিম্নোক্ত উদ্ধৃতিগুলো প্রণিধানযোগ্য: আস-সুবকি (মৃত্যু ৭২৭ হি.), যিনি এই কাব্য রচয়িতার ছাত্রের ছাত্র ছিলেন, তিনি তাঁর জীবনী উল্লেখ করার এবং কবিতাটি উদ্ধৃত করার পর বলেন: "এই কবিতাটি অত্যন্ত সাবলীল এবং এটি হাদিসের অধিকাংশ প্রকারের (أنواع) সংকলন।" (১) হাফিজ ইবনে কাসির বলেন:
(মৃত্যু ৭৭৪ হি.): "তাঁর চমৎকার কিছু কবিতা রয়েছে, যার মধ্যে রয়েছে হাদিসের প্রকারভেদ (أنواع) নিয়ে রচিত প্রায় বিশ পঙক্তির একটি কবিতা।" ইবনুল ইমাদ ‘আত-তিবইয়ান’ গ্রন্থে (২) ইবনে নাসিরুদ্দিন মুহাম্মদ বিন আবি বকর (মৃত্যু ৮৪২ হি.)-এর উক্তি বর্ণনা করেছেন: "তাঁর চমৎকার কাব্যিক রচনার মধ্যে সেই কবিতাটি অন্যতম যার প্রথম পঙক্তি হলো:
‘আমার প্রেম সহিহ (صحيح) এবং তোমার প্রতি আমার আশা মুদাল (معضل)’। এটি একদল আলেম মুখস্থ করেছেন এবং এর মর্ম উপলব্ধির ওপর নির্ভর করেছেন। তিনি সেখান থেকে কয়েকটি পঙক্তি উল্লেখ করেছেন।" (৩) তিনি বলেন: "একজন উপদেশদাতা আমাকে কবিতাটি শুনিয়েছিলেন এবং এর শব্দশৈলীর দ্ব্যর্থবোধকতায় (تورية) আমি মুগ্ধ হয়েছিলাম। তখন আমি এটিকে কিছুটা অপূর্ণাঙ্গ মনে করেছিলাম। ফলে তিনি এর আদলে একটি কবিতা রচনা করেন যেখানে এমন কিছু প্রকারভেদ সংযোজন (استدراك) করেছেন যা এতে উল্লেখ করা হয়নি এবং তিনি এর নাম দিয়েছেন ‘উকুুদুদ দুরার ফি উলুমিল আসার’।" (৪) তিনি আরও উল্লেখ করেছেন যে, ইবনে জামাআহ-ও এর আদলে কবিতা লিখেছেন। হাফিজ ইবনে হাজার (মৃত্যু ৮৫২ হি.) মুহাম্মদ বিন আবি বকর বিন আব্দুল আজিজ ইবনে জামাআহ আল-হামাভি সম্পর্কে আলোচনার এক পর্যায়ে বলেন: "তিনি ইবনে ফারাহ-এর পদ্ধতিতে একটি কবিতা রচনা করেছেন যাতে তিনি সন্নিবেশিত করেছেন..."
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-গারামিয়্যাহ ফী মুসতালাহিল হাদীস
(পৃষ্ঠা: ٢٢)
علوم الحديث (1) وفي هذا نظر، لأنه شرح قصيدة ابن فرح، وليست له قدرة على محاكاة قصيدة ابن فرح لقول السخاوي (ت 902 هـ): لم يرزق ملكة في الاختصار، ولا سعادة في حسن التصنيف، وكذا كان ينظم شعرا عجيبا، غالبه غير موزون، ولذا كان يخفيه كثيرا إلا عمن يختص به ممن لا يدري الوزن (2)، وعن ابن فرح يقول يوسف بن تغري بردي: هو صاحب القصيدة المشتملة على صفات الحديث، ثم أورد منها ثمانية أبيات وقال: وهي أطول من ذلك (3) وهذه المنظومة لاقت استحسان العلماء وعنايتهم، فتناول شرحها عدد كبير من العلماء من أقدمهم: محمد بن أبي بكر بن عبد العزيز بن محمد بن إبراهيم بن سعد الله بن جماعة (4)، نص عليه السخاوي في ترجمته، وعنوانه "زوال القرح بشرح منظومة ابن فرح" (5)، وقاسم بن قطلو بغا
--------------------------------------------
হাদিস শাস্ত্র (علوم الحديث) (১) এতে পর্যালোচনার অবকাশ রয়েছে (وفي هذا نظر), কারণ তিনি ইবনে ফারাহ-এর কবিতার ব্যাখ্যা (شرح) করেছেন, অথচ ইবনে ফারাহ-এর কবিতার অনুকরণ করার সক্ষমতা তাঁর ছিল না। ইমাম সাখাভী (মৃত্যু ৯০২ হিজরি)-এর উক্তি অনুযায়ী: "সংক্ষিপ্তকরণের দক্ষতা (ملكة) এবং সুন্দর বিন্যাসের সৌভাগ্য তাঁর হয়নি। তেমনিভাবে তিনি অদ্ভুত কবিতা রচনা করতেন, যার অধিকাংশের ছন্দ ঠিক থাকত না। এ কারণে তিনি তাঁর ঘনিষ্ঠজন ছাড়া অন্যদের কাছে তা গোপন রাখতেন, যারা ছন্দ সম্পর্কে জানত না (২)। ইবনে ফারাহ সম্পর্কে ইউসুফ ইবনে তাগরি বারদি বলেন: তিনি সেই কবিতার (القصيدة) রচয়িতা যা হাদিসের বৈশিষ্ট্যসমূহ (صفات الحديث) সম্বলিত। অতঃপর তিনি সেখান থেকে আটটি চরণ উল্লেখ করে বলেন: এটি এর চেয়েও দীর্ঘ (৩)। এই কাব্যগ্রন্থটি (المنظومة) আলেমদের প্রশংসা ও মনোযোগ লাভ করেছে। বহু আলেম এর ব্যাখ্যা (شرح) করেছেন, যাদের মধ্যে প্রাচীনতম হলেন: মুহাম্মদ ইবনে আবু বকর ইবনে আব্দুল আজিজ ইবনে মুহাম্মদ ইবনে ইব্রাহিম ইবনে সাদুল্লাহ ইবনে জামাআহ (৪)। সাখাভী তাঁর জীবনীতে (ترجمة) এটি স্পষ্টভাবে উল্লেখ (نص عليه) করেছেন এবং এর শিরোনাম হলো 'জাওয়ালুল কারহ বি-শারহি মানজুমাহ ইবনে ফারাহ' (৫), এবং কাসিম ইবনে কুতলুবুগা
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-গারামিয়্যাহ ফী মুসতালাহিল হাদীস
(পৃষ্ঠা: ٢٣)
الحنفي (1)، ذكر شرحه حاجي خليفة (2)، ولم يذكره السخاوي المعاصر له، وشرحه من المتأخرين: يحي بن عبد الرحمن القرافي الأصفهاني (3)، وعلى شرحه وضع إبراهيم بن محمد بن أحمد بن خالد البرماوي (4) حاشيته، ومحمد الأمير الكبير (5)، وشروحهم من مصورات مركز خدمة السنة والسيرة النبوية عن مكتبة شيخنا حماد الأنصاري رحمة الله علينا وعليه، ومكتبة ابن أبي العباس المرسي الإسكندرية، والمحمودية بالمدينة، وشرحها أيضا السفاريني شمس الدين محمد بن أحمد بن سالم (ت 1188 هـ) (6).
--------------------------------------------
আল-হানাফি (১), হাজি খলিফা (২) এর ব্যাখ্যার কথা উল্লেখ করেছেন, কিন্তু তাঁর সমসাময়িক আস-সাখাভি তা উল্লেখ করেননি। পরবর্তী যুগের আলেমদের মধ্যে যারা এটি ব্যাখ্যা করেছেন তাঁরা হলেন: ইয়াহইয়া বিন আবদুর রহমান আল-কারাফি আল-আসফাহানি (৩)। তাঁর ব্যাখ্যার ওপর ইব্রাহিম বিন মুহাম্মদ বিন আহমদ বিন খালিদ আল-বারমাউই (৪) তাঁর টীকা (حاشية) রচনা করেছেন। এছাড়া মুহাম্মদ আল-আমির আল-কবীর (৫)-ও ব্যাখ্যা করেছেন। তাঁদের ব্যাখ্যাগ্রন্থসমূহ আমাদের শায়খ হাম্মাদ আল-আনসারি (আল্লাহর রহমত আমাদের ও তাঁর ওপর বর্ষিত হোক)-এর লাইব্রেরি, আলেকজান্দ্রিয়ার ইবন আবি আব্বাস আল-মুরসি লাইব্রেরি এবং মদিনার মাহমুদিয়া লাইব্রেরি থেকে 'মারকায খিদমাতিস সুন্নাহ ওয়াস সিরাত আন-নববীয়া' কর্তৃক সংগৃহীত পাণ্ডুলিপির অনুলিপিসমূহের অন্তর্ভুক্ত। শামসুদ্দিন মুহাম্মদ বিন আহমদ বিন সালিম আস-সাফারিনি (মৃত্যু ১১৮৮ হিজরি) (৬)-ও এটি ব্যাখ্যা করেছেন।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-গারামিয়্যাহ ফী মুসতালাহিল হাদীস
(পৃষ্ঠা: ٢٤)
نقل ابن العماد قول ابن ناصر الدين في ذكره (1) وشرحها آخرون، منهم: الأمير الصغير له الشرح المليح على منظومة غرامي صحيح (2) وأعرابي محمد (3)، وبدر الدين محمد بن يوسف بن بدر الدين الحسني المغربي (ت 1354 هـ) (4)، والديمي محمد بن عثمان، والسفاريني، والعثماني ولي الدين، والعدوي محمد بن عبادة، وابن قدامة المقدسي (5)، وتوجد جملة من الشروح المجهولة (6) تصب في ميدان الاعتناء بمنظومة ابن فرح رحمة الله علينا وعليه.
--------------------------------------------
ইবনুল ইমাদ তাঁর বর্ণনায় (১) ইবনু নাসিরুদ্দিনের উক্তি উদ্ধৃত করেছেন এবং অন্যরাও এটি ব্যাখ্যা করেছেন, তাঁদের মধ্যে রয়েছেন: আল-আমীর আল-সাগীর—যাঁর 'গরামি সহিহ' (২) মানজুমার ওপর 'আল-শারহুল মালিহ' নামক ব্যাখ্যাগ্রন্থ রয়েছে—এবং আরাবি মুহাম্মদ (৩), বদরুদ্দিন মুহাম্মদ ইবনে ইউসুফ ইবনে বদরুদ্দিন আল-হাসানি আল-মাগরিবি (মৃত্যু ১৩৫৪ হিজরি) (৪), দাইমি মুহাম্মদ ইবনে উসমান, আস-সাফারিনি, আল-উসমানি ওয়ালিউদ্দিন, আল-আদাউই মুহাম্মদ ইবনে উবাদাহ এবং ইবনু কুদামাহ আল-মাকদিসি (৫)। এছাড়াও ইবনে ফারাহ (আল্লাহ আমাদের ও তাঁর প্রতি রহম করুন)-এর মানজুমার পরিচর্যার ক্ষেত্রে বেশ কিছু অজ্ঞাত (مجهولة) ব্যাখ্যাগ্রন্থের (৬) সন্ধান পাওয়া যায়।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-গারামিয়্যাহ ফী মুসতালাহিল হাদীস
(পৃষ্ঠা: ٢٥)
القسم الثاني شرح المنظومة
تمهيد:هذا أوان الشروع في شرح هذه المنظومة اللطيفة البديعة، وهي تقع في عشرين بيتا (1)، أخذ النصف الأول من شطر البيت الأول عنوانا لها وهو قوله: غرامي صحيح. ولعل ذلك من شراحها وليس من ناظمها، فمنهم من سماها بذلك، ومنهم من سماها القصيدة الغرامية، ومنهم من سماها منظومة ابن فرح الإشبيلي، واستحسنت تسميتها بالغرامية في مصطلح الحديث مبررا هذه التسمية بأن الناظم شغف بقواعد مصلح الحديث لكونها سلاح المحدث للذود عن سنة المصطفى صلى الله عليه وسلم وصيانة كلامه من التزوير والتحوير، ويظهر من محتوى القصيدة أن الناظم لم يقصد الاستيعاب لجميع ما قرر النقاد في علم مصطلح الحديث، وكأنه أرادها لطيفة بديعة في لفظها ومعناها، إذ أوجد فيها من الجمع بين معنيين غير متناسبين بلفظين لهما معنيان متناسبان، أحدهما قريب وهو غير مراد والثاني بعيد وهو المقصود في النظم، فجاءت سهلة سلسة رائقة، ولم يبدأها بمقدمة، وكأنه والله أعلم أراد الإيحاء بأن حاله من الولع والوله، يغني عن مقاله وتقدمته فقال رحمة الله علينا وعليه:
--------------------------------------------
দ্বিতীয় অংশ: কাব্যগ্রন্থের ব্যাখ্যা (শরহ)
উপক্রমণিকা:এই সূক্ষ্ম ও চমৎকার কাব্যগ্রন্থটির ব্যাখ্যা শুরু করার এখনই উপযুক্ত সময়। এটি বিশটি চরণের (বয়েত) সমন্বয়ে গঠিত (১)। এর প্রথম চরণের প্রথমাংশকে এর শিরোনাম হিসেবে গ্রহণ করা হয়েছে, আর তা হলো তাঁর এই উক্তি: "গরামি সহিহ (صحيح)"। সম্ভবত এটি এর ব্যাখ্যাকারদের পক্ষ থেকে করা হয়েছে, মূল কাব্যকারের (নাজিম) পক্ষ থেকে নয়। তাঁদের মধ্যে কেউ একে এই নামেই অভিহিত করেছেন, কেউ একে "আল-কাসিদাতুল গরামিয়্যাহ" বলেছেন, আবার কেউ একে "ইবনে ফারাহ আল-ইশবিলির কাব্যগ্রন্থ" হিসেবে নামকরণ করেছেন। আমি হাদিস পরিভাষা (مصطلح الحديث) শাস্ত্রে একে "গরামিয়্যাহ" নামে অভিহিত করাকে উত্তম মনে করেছি এবং এই নামকরণের সপক্ষে আমার যুক্তি হলো—কাব্যকার হাদিস পরিভাষা (مصطلح الحديث)-র নিয়মাবলির প্রতি অত্যন্ত অনুরাগী ছিলেন। কারণ এটি হলো মুহাদ্দিসের হাতিয়ার, যার মাধ্যমে তিনি আল-মুস্তাফা সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সুন্নাহর প্রতিরক্ষা করেন এবং তাঁর বাণীকে জালিয়াতি ও বিকৃতি থেকে রক্ষা করেন। কবিতার বিষয়বস্তু থেকে এটি স্পষ্ট হয় যে, কাব্যকার হাদিস পরিভাষা (مصطلح الحديث) বিদ্যায় সমালোচকগণ (نقاد) যা কিছু নির্ধারণ করেছেন, তার সবটুকুকে অন্তর্ভুক্ত করার ইচ্ছা করেননি। বরং মনে হয় তিনি একে শব্দ ও অর্থের দিক থেকে সূক্ষ্ম ও চমৎকার করতে চেয়েছেন; কারণ তিনি এতে এমন দুটি ভিন্নধর্মী অর্থের সমাবেশ ঘটিয়েছেন যাদের শব্দদ্বয়ের দুটি সামঞ্জস্যপূর্ণ অর্থ রয়েছে; যার একটি নিকটবর্তী কিন্তু তা উদ্দেশ্য নয়, আর দ্বিতীয়টি দূরবর্তী যা কাব্যিক বিন্যাসে কাঙ্ক্ষিত বা উদ্দেশ্য। ফলে এটি অত্যন্ত সহজ, সাবলীল ও মনোমুগ্ধকর হয়েছে। তিনি এটি কোনো ভূমিকা ছাড়াই শুরু করেছেন; সম্ভবত—আল্লাহই ভালো জানেন—তিনি এটি বোঝাতে চেয়েছেন যে, তাঁর অনুরাগ ও ব্যাকুলতার অবস্থা তাঁর কোনো বক্তব্য বা ভূমিকার প্রয়োজনীয়তা দূর করে দেয়। তিনি (আল্লাহ আমাদের ও তাঁর ওপর রহমত বর্ষণ করুন) বলেন:
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-গারামিয়্যাহ ফী মুসতালাহিল হাদীস
(পৃষ্ঠা: ٢٦)
1 - غرامي صحيح والرجا فيك معضل
… وحزني ودمعي مرسل ومسلسل
2 - وصبري عنكم يشهد العقل أنه
… ضعيف ومتروك وذلي أجمل
3 - ولا حسنٌ إلا استماع حديثكم
… مشافهة يملى علي فأنقل
4 - وأمري موقوف عليك وليس لي
… على أحد إلا عليك المعوّل
5 - ولو كان مرفوعا إليك لكنت لي
… على رغم عذالي ترق وتعذل
6 - وعذل عذولي منكر لا أسيغه
… وزور وتدليس يرد ويهمل
7 - أقضي زماني فيك متصل الأسى
… ومنقطعا عما به أتوصل
8 - وها أنا في أكفان هجرك مدرج
… تكلفني ما لا أطيق فأحمل
9 - فأجريت دمعي فوق خدي مدبجا
… وما هي إلا مهجتي تتحلل
10 - فمتفق جفني وسهدي وعبرتي
… ومفترق صبري وقلبي المبلبل
11 - ومؤتلف وجدي وشجوي ولوعتي
… ومختلف حظي وما منك آمل
12 - خذ الوجد عني مسندا ومعنعنا
… فغيري بموضوع الهوى يتحلل
13 - وذا نبذة من مبهم الحب فاعتبر
… وغامضة إن رمت شرحا أطول
14 - عزيز بكم صب ذليل لعزكم
… ومشهور أوصاف المحب التذلل
15 - غريب يقاسي البعد عنك وماله
… وحقك عن دار البلى متحول
16 - فرفقا بمقطوع الرسائل ماله
… إليك سبيل لا ولا عنك معدل
17 - ولا زلت في عز منيع ورفعة
… ولا زلت تعلو بالتجني فأنزل
18 - أوري بسعدى والرباب وزينب
… وأنت الذي تعنى وأنت المؤمل
19 - فخذ أولا من آخر ثم أولا
… من النصف منها فهو فيه مكمل
20 - أبر إذا أقسمت أني بحبه
… أهيم وقلبي بالصبابة مشعل
1 - আমার অনুরাগ বিশুদ্ধ (صحيح) এবং তোমার প্রতি আমার প্রত্যাশা জটিল (معضل)... আমার দুঃখ ও অশ্রু বিচ্ছিন্ন (مرسل) ও অবিচ্ছিন্ন (مسلسل)।
2 - তোমার বিরহে আমার ধৈর্য সম্পর্কে বুদ্ধি সাক্ষ্য দেয় যে, তা দুর্বল (ضعيف) ও পরিত্যক্ত (متروك); আর আমার বিনয়ই অধিক সুন্দর।
3 - তোমার কথা সরাসরি শ্রবণের চেয়ে উত্তম (حسن) আর কিছু নেই, যা আমার নিকট পাঠ করা হয় আর আমি তা বর্ণনা করি।
4 - আমার সকল বিষয় তোমার ওপর স্থগিত (موقوف), আর তুমি ছাড়া অন্য কারো ওপর আমার কোনো নির্ভরতা নেই।
5 - যদি বিষয়টি তোমার নিকট উন্নীত (مرفوع) হতো, তবে নিন্দুকদের বাধা সত্ত্বেও তুমি আমার প্রতি সদয় হতে এবং আমাকে ভর্ৎসনা করতে।
6 - আমার নিন্দুকের ভর্ৎসনা অগ্রহণযোগ্য (منكر) যা আমি সহ্য করি না; তা মিথ্যা ও প্রতারণা (تدليس) যা প্রত্যাখ্যান ও উপেক্ষা করা হয়।
7 - তোমার প্রেমে আমি অবিরাম (متصل) দুঃখের মাঝে অতিবাহিত করি, আর বিচ্ছিন্ন (منقطع) হয়ে পড়েছি সেই মাধ্যমগুলো থেকে যার মাধ্যমে আমি তোমার সান্নিধ্য পাই।
8 - আর দেখো, আমি তোমার বিচ্ছেদের কাফনে অন্তর্ভুক্ত (مدبج); তুমি আমার ওপর এমন ভার চাপিয়ে দাও যা আমি সহ্য করতে পারি না, তবুও আমি তা বহন করি।
9 - অতঃপর আমি আমার কপোলে যুগল (مدبج) অশ্রু প্রবাহিত করলাম, আর এ তো কেবল আমার বিগলিত প্রাণ।
10 - আমার চোখের পাতা, অনিদ্রা ও অশ্রু এখন অভিন্ন (متفق), আর আমার ধৈর্য ও বিচলিত হৃদয় হয়ে পড়েছে পৃথক (مفترق)।
11 - আমার আবেগ, দুঃখ ও অস্থিরতা সমজাতীয় (مؤتلف), আর আমার ভাগ্য ও তোমার নিকট আমার প্রত্যাশা বৈচিত্র্যময় (مختلف)।
12 - আমার প্রেমাবেগকে গ্রহণ করো সনদযুক্ত (مسند) ও পরম্পরাযুক্ত (معنعن) হিসেবে; কেননা অন্য কেউ বানোয়াট (موضوع) ভালোবাসার মাধ্যমে বৈধতা খোঁজে।
13 - এটি প্রেমের অস্পষ্ট (مبهم) দিকগুলোর একটি সংক্ষিপ্ত অংশ, অতএব শিক্ষা গ্রহণ করো; আর যদি তুমি দীর্ঘ ব্যাখ্যা চাও তবে তা হবে রহস্যময়।
14 - তোমাদের মাধ্যমে সম্মানিত (عزيز) এক অনুরাগী তোমাদের সম্মানের নিকট লাঞ্ছিত, আর প্রেমিকের সুপরিচিত (مشهور) বৈশিষ্ট্য হলো বিনয়।
15 - এক অনন্য (غريب) ব্যক্তি তোমার থেকে দূরত্ব সইছে, আর তোমার শপথ! ধ্বংসের আবাস থেকে তার কোনো ফেরার পথ নেই।
16 - সুতরাং সেই ছিন্ন (مقطوع) পত্র প্রেরকের প্রতি সদয় হও, যার তোমার কাছে পৌঁছানোর কোনো পথ নেই এবং তোমার থেকে বিমুখ হওয়ারও কোনো উপায় নেই।
17 - তুমি সর্বদা অজেয় সম্মান ও উচ্চমর্যাদায় থাকো; তুমি মিথ্যে অভিযোগে সর্বদা উপরে উঠতে থাকো আর আমি নিচে নামতে থাকি।
18 - আমি সুআদা, রাবাব ও জয়নবের নাম নিয়ে ইঙ্গিত করি, অথচ উদ্দেশ্য কেবল তুমিই এবং তুমিই একমাত্র প্রত্যাশিত।
19 - সুতরাং শেষের থেকে প্রথমটি গ্রহণ করো, অতঃপর অর্ধাংশ থেকে প্রথমটি; তবেই তা পূর্ণ হবে।
20 - আমি সত্যবাদী হবো যদি কসম করি যে, আমি তার প্রেমে আত্মহারা এবং আমার হৃদয় অনুরাগের অগ্নিতে প্রজ্বলিত।
(খণ্ড: ১)
আল-গারামিয়্যাহ ফী মুসতালাহিল হাদীস
(পৃষ্ঠা: ٢٧)
البيت الأول:1 - غرامي صحيح والرجا فيك معضل
… وحزني ودمعي مرسل ومسلسل
ذكر ابن فرح رحمة الله علينا وعليه في هذا البيت أربعة من أنواع الحديث:
النوع الأول الصحيح:وهو: ما اتصل إسناده بنقل العدل الضابط، عن مثله إلى منتهاه، من عير شذوذ ولا علة.
وهذا تعريف جامع مانع، خرجت به أضداده (1).
العدل: المراد به الراوي المتصف بالعدالة. والعدالة: ملكة تمنع الراوي من اقتراف الكبائر، وتكسبه الاحتراز من الصغائر. والكبيرة: هي المعصية التي توجب الحد. والصغيرة: هي المعصية التي لا توجب الحد. وعلى هذا التعريف قال العلماء (2): أصح الأسانيد مالك، عن نافع، عن ابن عمر، وقالوا: أصحها الشافعي، عن مالك، عن نافع، عن ابن عمر (3)، وبنى الإمام صلاح الدين العلائي وغيره على ذلك، أن أجلها ما رواه أحمد، عن الشافعي، عن مالك، عن نافع، عن ابن عمر، لاتفاق أهل الحديث على جلالة هؤلاء، وهذه تسمى سلسلة الذهب (4).
--------------------------------------------
প্রথম পঙ্ক্তি:১ - আমার প্রেম সঠিক (صحيح) এবং তোমার প্রতি প্রত্যাশা সমস্যাক্রান্ত (معضل) … আর আমার দুঃখ ও অশ্রু বিচ্ছিন্ন (مرسل) ও অনুক্রমিক (مسلسل)
ইবনে ফারাহ (রহমাতুল্লাহি আলাইহি) এই পঙ্ক্তিতে হাদিসের প্রকারভেদসমূহের মধ্যে চারটি প্রকারের উল্লেখ করেছেন:
প্রথম প্রকার: সঠিক (صحيح):এটি হলো: যার সনদ (إسناد) নিরবচ্ছিন্নভাবে ন্যায়পরায়ণ (عدل) ও তুখোড় স্মৃতিশক্তিসম্পন্ন (ضابط) বর্ণনাকারীর মাধ্যমে তার সমপর্যায়ের বর্ণনাকারী থেকে শেষ পর্যন্ত বর্ণিত হয়, যাতে কোনো বৈসাদৃশ্য (شذوذ) বা গোপন ত্রুটি (علة) থাকে না।
এটি একটি পূর্ণাঙ্গ ও বর্জনকারী সংজ্ঞা, যার মাধ্যমে এর বিপরীত বিষয়গুলো সংজ্ঞার বাইরে চলে গেছে (১)।
ন্যায়পরায়ণ (عدل): এর দ্বারা এমন বর্ণনাকারী উদ্দেশ্য যিনি ন্যায়পরায়ণতা (عدالة) গুনে গুণান্বিত। আর ন্যায়পরায়ণতা (عدالة) হলো এমন এক চারিত্রিক দৃঢ়তা যা বর্ণনাকারীকে কবিরা গুনাহ সংঘটন থেকে বিরত রাখে এবং সগিরা গুনাহ থেকে বেঁচে থাকতে উদ্বুদ্ধ করে। কবিরা গুনাহ: এটি এমন পাপাচার যা শরয়ি দণ্ড বা হদ কার্যকর হওয়াকে আবশ্যক করে। সগিরা গুনাহ: এটি এমন পাপাচার যা শরয়ি দণ্ড বা হদ কার্যকর হওয়াকে আবশ্যক করে না। এই সংজ্ঞার ওপর ভিত্তি করে উলামায়ে কেরাম বলেছেন (২): বিশুদ্ধতম সনদ (أصح الأسانيد) হলো মালিক, নাফে‘ থেকে, তিনি ইবনে উমর থেকে। তাঁরা আরও বলেছেন: এর মধ্যে সর্বাধিক বিশুদ্ধ হলো শাফেয়ী, মালিক থেকে, তিনি নাফে‘ থেকে, তিনি ইবনে উমর থেকে (৩)। ইমাম সালাহউদ্দিন আল-আলাঈ এবং অন্যান্যরা এর ওপর ভিত্তি করে সিদ্ধান্ত দিয়েছেন যে, এদের মধ্যে সর্বাধিক মর্যাদাপূর্ণ হলো যা ইমাম আহমাদ, শাফেয়ী থেকে, তিনি মালিক থেকে, তিনি নাফে‘ থেকে, তিনি ইবনে উমর থেকে বর্ণনা করেছেন। কারণ হাদিস বিশারদগণ এই বর্ণনাকারীদের মহানুভবতার ব্যাপারে ঐকমত্য পোষণ করেছেন। একে 'স্বর্ণশিখল' (সিলসিলাতুয যাহাব) বলা হয় (৪)।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-গারামিয়্যাহ ফী মুসতালাহিল হাদীস
(পৃষ্ঠা: ٢٨)
أقسام الصحيح:قال الحاكم رحمة الله علينا وعليه: الصحيح من الحديث عشرة أقسام: خمسة متفق عليها، وخمسة مختلف فيها.
المتفق عليها:اختيار البخاري ومسلم، وهو الدرجة الأولى من الصحيح، وهو أن لا يذكر إلا ما رواه صحابي مشهور، عن رسول لله صلى الله عليه وسلم، له راويان ثقتان فأكثر، ثم يرويه عنه من أتباع الأتباع، الحافظ المتقن المشهور على ذلك الشرط، والأحاديث المروية بهذه الشريطة لا يبلغ عددها عشرة آلاف حديث.
مثل الأول إلا أن راويه من الصحابة ليس له إلا راو واحد.
مثل الأول إلا أن راويه من التابعين ليس له إلا راو واحد.
الأحاديث الأفراد الغرائب التي رواها الثقات العدول.
أحاديث جماعة من الأئمة، عن آبائهم، عن أجدادهم، ولم تتواتر الرواية عن آبائهم عن أجدادهم بها إلا عنهم، كصحيفة عمرو بن شعيب، عن أبيه عن جده. وبهز بن حكيم، وإياس بن معاوية، عن أبيه، عن جده. وأجدادهم صحابة وأحفادهم ثقات، فهذه الأقسام الخمسة مخرجة في كتب الأئمة، الشيخين وغيرهما فيحتج بها (1)، والذي أراه أن هذا التقسيم يرجع إلى قسم واحد وهو الحديث المقبول.
--------------------------------------------
বিশুদ্ধ (صحيح) হাদিসের প্রকারভেদ:আল-হাকিম (রহমাতুল্লাহি আলাইনা ওয়া আলাইহি) বলেছেন: বিশুদ্ধ (صحيح) হাদিস দশ প্রকার: পাঁচ প্রকারের ওপর ঐকমত্য (متفق عليها) রয়েছে এবং পাঁচ প্রকারের ক্ষেত্রে মতভেদ (مختلف فيها) রয়েছে।
ঐকমত্যপূর্ণ (متفق عليها) প্রকারসমূহ:বুখারি ও মুসলিমের পছন্দকৃত হাদিস, যা বিশুদ্ধ (صحيح) হাদিসের প্রথম স্তর। তা হলো এমন হাদিস যা কেবল এমন একজন বিখ্যাত সাহাবী বর্ণনা করেছেন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে, যাঁর অন্তত দুইজন নির্ভরযোগ্য (ثقة) বর্ণনাকারী রয়েছেন; অতঃপর তা তাঁর থেকে বর্ণনা করেছেন তাবে-তাবেঈনদের মধ্য থেকে এমন বর্ণনাকারী যিনি সেই শর্ত অনুযায়ী হাফেজ ও নিপুণ (متقন) হিসেবে সুপরিচিত। এই শর্তে বর্ণিত হাদিসগুলোর সংখ্যা দশ হাজারে পৌঁছায় না।
প্রথম প্রকারের অনুরূপ, তবে সাহাবী থেকে বর্ণনাকারী কেবল একজন।
প্রথম প্রকারের অনুরূপ, তবে তাবেয়ী থেকে বর্ণনাকারী কেবল একজন।
ঐ সকল একক (أفراد) ও বিরল (غرائب) হাদিসসমূহ যা নির্ভরযোগ্য (ثقات) ও ন্যায়পরায়ণ (عدول) বর্ণনাকারীগণ বর্ণনা করেছেন।
একদল ইমামের হাদিস যা তাঁরা তাঁদের পিতা থেকে এবং তাঁরা তাঁদের দাদা থেকে বর্ণনা করেছেন, অথচ তাঁদের পিতা ও দাদার নিকট থেকে তাঁদের ব্যতিরেকে বর্ণনার পরম্পরা ব্যাপকভাবে (تواتر) বিস্তার লাভ করেনি। যেমন: আমর ইবনে শুআইব তাঁর পিতা থেকে এবং তিনি তাঁর দাদা থেকে বর্ণিত সহীফা (পাণ্ডুলিপি)। তদ্রূপ বাহজ ইবনে হাকিম এবং ইয়াস ইবনে মুয়াবিয়া তাঁদের পিতা থেকে এবং তাঁরা তাঁদের দাদা থেকে বর্ণনা করেছেন। তাঁদের দাদাগণ ছিলেন সাহাবী এবং তাঁদের নাতিগণ নির্ভরযোগ্য (ثقات)। এই পাঁচ প্রকার ইমামদের কিতাবসমূহে (যেমন: দুই শাইখ—বুখারি ও মুসলিম—এবং অন্যান্যদের কিতাবে) সংকলিত হয়েছে, সুতরাং এগুলো দ্বারা দলিল পেশ করা (احتجاج) যাবে (১)। তবে আমার অভিমত এই যে, এই বিভাজনটি মূলত একটি প্রকারেই পর্যবসিত হয়, আর তা হলো গ্রহণযোগ্য (مقبول) হাদিস।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-গারামিয়্যাহ ফী মুসতালাহিল হাদীস
(পৃষ্ঠা: ٢٩)
أما الخمسة المختلف فيها فهي:المرسل، وأحاديث المدلسين إذا لم يذكروا سماعهم، وما أسنده ثقة وأرسله جماعة من الثقات، وروايات الثقات غير الحفاظ العارفين، وروايات المبتدعة إذا كانوا صادقين (1)، فالقسمان الأول والثاني ليس منهما شيء.
والقسم الثالث:
ما أسنده ثقة
… الخ، ففي الصحيحين عدة أحاديث اختلف في وصلها وإرسالها.
والرابع:
روايات الثقات
… الخ، ليس هو من قبيل المختلف فيه، فهو متفق على قبوله والاحتجاج به، إذا وجدت شرائط القبول، وليس يشترط في الراوي أن يكون حافظا، والخامس: روايات المبتدعة
… الخ، فنعم فيه الخلاف، ولكن وقعت في الصحيحين أحاديث عن جماعة من المبتدعة عرف صدقهم، واشتهرت معرفتهم بالحديث، فلم يطرحوا للبدعة (2)، وهذه الأقسام تمثل قسما واحدا وهو المختلف في قبوله.
ومن وجهة نظر أخرى قسم المحققون الحديث الصحيح إلى سبعة أقسام:
--------------------------------------------
আর যে পাঁচটি বিষয়ে মতভেদ রয়েছে সেগুলো হলো:বিচ্ছিন্ন (مرسل), এবং তাদলীসকারীদের (مدلسين) হাদিস যখন তারা তাদের সরাসরি শোনার কথা উল্লেখ করে না, এবং যা একজন নির্ভরযোগ্য (ثقة) রাবি মুসনাদ হিসেবে বর্ণনা করেছেন অথচ একদল নির্ভরযোগ্য বর্ণনাকারী (ثقات) তা মুরসাল হিসেবে বর্ণনা করেছেন, এবং প্রাজ্ঞ হাফেজ নন এমন নির্ভরযোগ্য বর্ণনাকারীদের বর্ণনা, এবং বিদআতীদের (مبتدعة) বর্ণনা যদি তারা সত্যবাদী (صادقين) হন (১); তবে প্রথম ও দ্বিতীয় প্রকারের কিছুই এখানে নেই।
তৃতীয় প্রকার:
যা নির্ভরযোগ্য (ثقة) ব্যক্তি মুসনাদ হিসেবে বর্ণনা করেছেন
… ইত্যাদি; সহীহাইনে এমন বেশ কিছু হাদিস রয়েছে যেগুলোর মুত্তাসিল হওয়া (وصل) এবং মুরসাল হওয়া (إرسال) নিয়ে মতভেদ রয়েছে।
চতুর্থ প্রকার:
নির্ভরযোগ্য বর্ণনাকারীদের (ثقات) বর্ণনা
… ইত্যাদি; এটি মতভেদপূর্ণ বিষয়ের অন্তর্ভুক্ত নয়। বরং গ্রহণের শর্তাবলি পাওয়া গেলে এর গ্রহণযোগ্যতা এবং এটি দ্বারা দলিল পেশ করার (احتجاج) বিষয়ে ঐক্যমত রয়েছে। আর বর্ণনাকারীর (راوي) জন্য হাফেজ (حافظ) হওয়া শর্ত নয়। এবং পঞ্চম প্রকার: বিদআতীদের (مبتدعة) বর্ণনা
… ইত্যাদি; হ্যাঁ, এতে মতভেদ রয়েছে, কিন্তু সহীহাইনে একদল বিদআতীর (مبتدعة) সূত্রে এমন হাদিস এসেছে যাদের সত্যবাদিতা (صدق) স্বীকৃত এবং হাদিস শাস্ত্রে যাদের জ্ঞান সুপরিচিত, তাই কেবল বিদআতের কারণে তাদের হাদিস বর্জন করা হয়নি (২)। এই প্রকারগুলো মূলত একটি বিষয়কেই উপস্থাপন করে, আর তা হলো যার গ্রহণযোগ্যতা নিয়ে মতভেদ রয়েছে।
অন্য দৃষ্টিকোণ থেকে গবেষকগণ (محققون) সহিহ (صحيح) হাদিসকে সাতটি প্রকারে বিভক্ত করেছেন:
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-গারামিয়্যাহ ফী মুসতালাহিল হাদীস
(পৃষ্ঠা: ٣٠)
ما اتفق عليه البخاري ومسلم، وهذا في نظرهم أعلى درجات الصحيح.
ما انفرد به البخاري.
ما انفرد به مسلم.
ما كان على شرط البخاري ومسلم، ولم يخرجاه.
ما كان على شرط البخاري ولم يخرجه.
ما كان على شرط مسلم ولم يخرجه.
ما لم يكن على شرطهما ولا واحد منهما، وصح عند أئمة الحديث.
قال الحافظ ابن حجر رحمة الله علينا وعليه معقبا على هذا التقسيم: نعم قد يكون في هذا الجانب أيضا قوة من جهة أخرى، وهو أن المتن الذي تعددت طرقه أقوى من المتن الذي ليس له إلا طريق واحدة، فالذي يظهر من هذا أن لا يحكم لأحد الجانبين بحكم كلي.
بل قد يكون ما اتفقا عليه من حديث صحابي واحد إذا لم يكن فردا غريبا أقوى مما أخرجه أحدهما من حديث صحابي غير الصحابي الذي أخرجه الآخر، وقد يكون العكس إذا كان ما اتفقا عليه من صحابي واحد فردا غريبا، فيكون ذلك أقوى منه.
وهذه الأقسام التي ذكرها ابن الصلاح، للصحيح ما شية على قواعد الأئمة ومحققي النقاد، إلا أنها قد لا تطرد لأن الحديث الذي ينفرد به مسلم مثلا، إذا فرض مجيئه من طرق كثيرة حتى تبلغ التواتر أو الشهرة القوية، ويوافقه على تخريجه مشترطو الصحة مثل أن يقال فيه: إن ما انفرد البخاري بتخريجه إذا كان فردا ليس له إلا مخرج واحد أقوى من ذلك، فليحمل
যা বুখারি ও মুসলিম একমত হয়ে বর্ণনা করেছেন এবং এটি তাদের দৃষ্টিতে সহিহ (الصحيح) এর সর্বোচ্চ স্তর।
যা বুখারি এককভাবে বর্ণনা করেছেন।
যা মুসলিম এককভাবে বর্ণনা করেছেন।
যা বুখারি ও মুসলিমের শর্ত (شرط) অনুযায়ী হওয়া সত্ত্বেও তারা তা বর্ণনা করেননি।
যা বুখারির শর্ত (شرط) অনুযায়ী কিন্তু তিনি তা বর্ণনা করেননি।
যা মুসলিমের শর্ত (شرط) অনুযায়ী কিন্তু তিনি তা বর্ণনা করেননি।
যা তাদের উভয়ের কিংবা কোনো একজনের শর্ত (شرট) অনুযায়ী নয়, তবে হাদিস বিশারদদের নিকট তা সহিহ (صحيح) সাব্যস্ত হয়েছে।
হাফিজ ইবনে হাজার (রাহিমাহুল্লাহ) এই বিভাজনের ওপর মন্তব্য করে বলেন: হ্যাঁ, এই ক্ষেত্রে অন্য দিক থেকেও একটি শক্তিশালী দিক থাকতে পারে, আর তা হলো—যে মূল পাঠের (المتن) সূত্রের (طرق) আধিক্য রয়েছে তা এমন মূল পাঠ (المتن) অপেক্ষা শক্তিশালী যার কেবল একটিই সূত্র (طريق) রয়েছে। অতএব, এ থেকে প্রতীয়মান হয় যে, কোনো একটি পক্ষকে ঢালাওভাবে কোনো চূড়ান্ত হুকুম বা সিদ্ধান্তে উপনীত করা যাবে না।
বরং এমন হতে পারে যে, তারা দুজন একজন সাহাবির হাদিসের ব্যাপারে একমত হয়েছেন—যদি তা একক (فرد) বা অপরিচিত (غريب) না হয়—তবে তা তাদের কোনো একজনের বর্ণিত এমন হাদিসের তুলনায় অধিক শক্তিশালী হতে পারে যা ভিন্ন কোনো সাহাবি থেকে বর্ণিত হয়েছে। আবার এর বিপরীতও হতে পারে যদি তারা দুজন একজন সাহাবির হাদিসের ব্যাপারে একমত হন কিন্তু তা একক (فرد) বা অপরিচিত (غريب) হয়, তবে অন্যটি এর চেয়েও শক্তিশালী হতে পারে।
ইবনুস সালাহ সহিহ (صحيح) এর যে বিভাগগুলো উল্লেখ করেছেন, তা ইমামগণ এবং যাচাইকারী সমালোচকদের (النقاد) মূলনীতির আলোকেই করেছেন। তবে এটি সর্বদা প্রযোজ্য নাও হতে পারে; কারণ উদাহরণস্বরূপ, মুসলিম যে হাদিসটি এককভাবে বর্ণনা করেছেন, যদি ধরে নেওয়া হয় যে তার সূত্র (طرق) অনেক বেশি যা মুতাওয়াতির (تواتر) বা শক্তিশালী মাশহুর (الشهرة) পর্যায়ে পৌঁছেছে এবং সহিহ (صحة) হওয়ার শর্তারোপকারীরাও তার বর্ণনার সাথে একমত হয়েছেন; তখন কি এমন বলা হবে যে—বুখারি যা এককভাবে বর্ণনা করেছেন তা যদি একক (فرد) এবং যার কেবল একটিই উৎস (مخرج) থাকে তবে সেটিই এর চেয়ে শক্তিশালী হবে? সুতরাং একে এভাবেই গ্রহণ করা উচিত...
(খণ্ড: ১)
আল-গারামিয়্যাহ ফী মুসতালাহিল হাদীস
(পৃষ্ঠা: ٣١)
إطلاق ما تقدم من تقسيمه على الأكثر (1)، وفي هذا لفتة من الحافظ إلى أن التقسيم المذكور غير مسلم مطلقا، لذلك قال تلميذه ابن قطلوبغا: قوة الحديث إنما هي بالنظر إلى رجاله، لا بالنظر إلى كونه في كتاب كذا. وعنه نقل ابن الحنبلي ولم يعترض. وقال بهذا الأمير الصنعاني، والشيخ أحمد شاكر (2).
فالقسم الأول:
ما اتفق عليه البخاري ومسلم، لا يتحقق فيه أنه أعلى الصحيح بإطلاق، فالشيخان قد رويا من أحاديث صحيفة همام المشتملة على (142) حديثا اتفقا على (23) حديثا منها، وليست هي من أعلى مراتب الصحيح، ومنها (97) حديثا بسند واحد هو: عبد الرزاق، عن معمر، عن همام، عن أبي هريرة (3)، اتفقا على (23) وانفرد البخاري ب (16) وانفرد مسلم ب (58) (4).
والقسم الثاني:
ما انفرد به البخاري، يرد عليه أيضا: أن البخاري انفرد عن مسلم ب (16) حديثا من صحيفة همام نفسها وبالسند نفسه، فكيف يكون أقوى مما رواه مسلم من الصحيفة ذاتها وبنفس السند؟ ،
--------------------------------------------
পূর্ববর্তী শ্রেণিবিভাগের সাধারণ প্রয়োগটি অধিকাংশের মতানুসারের ভিত্তিতে করা হয়েছে (১), এবং এতে আল-হাফিজের পক্ষ থেকে একটি ইঙ্গিত রয়েছে যে, উল্লিখিত শ্রেণিবিভাগটি সর্বতোভাবে স্বীকৃত নয়। এ কারণেই তাঁর ছাত্র ইবনে কুতলুবুগা বলেছেন: হাদিসের শক্তি মূলত এর বর্ণনাকারীদের (رجال) অবস্থার ওপর নির্ভর করে, তা অমুক কিতাবে থাকার ওপর নির্ভর করে না। ইবনুল হানবালি তাঁর থেকে এটি বর্ণনা করেছেন এবং কোনো আপত্তি করেননি। আমির আস-সানআনি এবং শায়খ আহমদ শাকিরও এই মত পোষণ করেছেন (২)।
সুতরাং প্রথম প্রকার:
বুখারি ও মুসলিম যে হাদিসের ওপর একমত হয়েছেন; এটি যে নিরঙ্কুশভাবে বিশুদ্ধ (صحيহ) হাদিসের সর্বোচ্চ স্তর হবে, তা প্রমাণিত নয়। কারণ শায়খাইন (বুখারি ও মুসলিম) 'সহিফা হাম্মাম' থেকে হাদিস বর্ণনা করেছেন যা ১৪২টি হাদিস সম্বলিত; এর মধ্যে তাঁরা মাত্র ২৩টি হাদিসের ওপর একমত হয়েছেন, অথচ এগুলো বিশুদ্ধ (صحيহ) হাদিসের সর্বোচ্চ স্তরের অন্তর্ভুক্ত নয়। এর মধ্যে ৯৭টি হাদিস এমন যা একটি মাত্র সনদ (سند) এর মাধ্যমে বর্ণিত, আর তা হলো: আবদুর রাজ্জাক, মা'মার থেকে, তিনি হাম্মাম থেকে, তিনি আবু হুরায়রা থেকে (৩)। তাঁরা ২৩টি হাদিসে একমত হয়েছেন, বুখারি এককভাবে ১৬টি এবং মুসলিম এককভাবে ৫৮টি বর্ণনা করেছেন (৪)।
এবং দ্বিতীয় প্রকার:
যা কেবল বুখারি বর্ণনা করেছেন; এর ওপরও একই আপত্তি উত্থাপিত হয়: বুখারি 'সহিফা হাম্মাম' থেকেই এবং একই সনদ (سند) এর মাধ্যমে মুসলিমকে ছাড়া ১৬টি হাদিস এককভাবে বর্ণনা করেছেন। এমতাবস্থায়, এটি কীভাবে সেই একই সহিফা এবং একই সনদ (سند) থেকে মুসলিম যা বর্ণনা করেছেন তার চেয়ে বেশি শক্তিশালী হতে পারে? ,
--------------------------------------------