(খণ্ড: ১)
হুকূকুল মারআতি ফী দাউইল কিতাবি ওয়াস সুন্নাহ
(পৃষ্ঠা: -)
حقوق المرأة في ضوء الكتاب والسنة القسم: كتب عامة
الكتاب: حقوق المرأة في ضوء الكتاب والسنة
المؤلف: الدكتور/ مرزوق بن هياس آل مرزوق الزهراني
الناشر: (بدون ناشر)
الطبعة: الأولى، 1428 هـ - 2007 م
عدد الصفحات: 217
الكتاب/ إهداء من المؤلف جزاه الله خيرا للمكتبة الشاملة
[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]
تاريخ النشر بالشاملة: 14 ربيع الأول 1439
কুরআন ও সুন্নাহর আলোকে নারীর অধিকার বিভাগ: সাধারণ বইসমূহ
গ্রন্থ: কুরআন ও সুন্নাহর আলোকে নারীর অধিকার
লেখক: ডক্টর/ মারজুক বিন হায়াস আল মারজুক আল-জাহরানি
প্রকাশক: (প্রকাশকহীন)
সংস্করণ: প্রথম, ১৪২৮ হিজরি - ২০০৭ খ্রিস্টাব্দ
পৃষ্ঠা সংখ্যা: ২১৭
গ্রন্থটি/ লেখকের পক্ষ থেকে মাকতাবাতুশ শামিলার জন্য একটি উপহার, আল্লাহ তাকে উত্তম প্রতিদান দান করুন
[গ্রন্থের পৃষ্ঠা সংখ্যা মুদ্রিত কপির সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ]
শামিলায় প্রকাশের তারিখ: ১৪ রবিউল আউয়াল ১৪৩৯
(খণ্ড: ১)
হুকূকুল মারআতি ফী দাউইল কিতাবি ওয়াস সুন্নাহ
(পৃষ্ঠা: ১)
حقوق المرأة في ضوء الكتاب والسنة
دراسة عصرية موثقة
إعداد
د/ مرزوق بن هياس آل مرزوق الزهراني
কুরআন ও সুন্নাহর আলোকে নারীর অধিকার
একটি প্রামাণ্য (موثقة) সমকালীন গবেষণা
গ্রন্থনায়
ড. মারজুক বিন হায়াস আল মারজুক আল জাহরানি
(খণ্ড: ১)
হুকূকুল মারআতি ফী দাউইল কিতাবি ওয়াস সুন্নাহ
(পৃষ্ঠা: ১)
(1)المقدمةالحمد لله والصلاة والسلام على المبعوث رحمة للعالمين: نبينا محمد حجة الله على الخلق أجمعين، صلى الله عليه وعلى آله وصحبه والتابعين، ومن استجاب لدعوته وعمل بما أنزل الله عليه وهو الحق المبين، وسار على نهجه إلى يوم الدين، أما بعد:
فإن الدعوة إلى تحرير المرأة في هذا العصر جاءت ضمن حملة شعواء شاملة على كل ما ينتمي إلى الإسلام، وقد نحج الأعداء في استقطاب ثلة من أبناء المسلمين للقيام بمهمة الدعوة إلى تحرير المرأة، والعجب أن الدعوة مبنية على أن المرأة لم تأخذ حقوقها كاملة في ظل الإسلام، وقد أدرك الأعداء أن خير من يقوم بهذه المهمة هم أبناء وبنات المسلمين، بعد أن زودوا بالأفكار والمبررات المختلقة لهذا الفكر الهدام، فالمسلمون يقبلون من أبنائهم وبناتهم ما لا يقبلونه من الأعداء، فاكتفى الأعداء بإعداد خطط الهدم، وأبناء المسلمين وبناتهم يقومون بالتنفيذ، ومن هنا وجب على علماء المسلمين العالمين بكتاب الله عز وجل وسنة رسوله صلى الله عليه وسلم أن يتصدوا لهذه الهجمة الشرسة، ببيان حقوق المرأة في ضوء الكتاب والسنة، وذلك لأهمية الموضوع في العدل والمساواة وإعطاء كل ذي حق حقه، وليأمن الناس على أن حقوقهم المشروعة تصل إليهم في ظل الإسلام، ولاسيما في بلادنا المملكة العربية السعودية، إذ الحكم فيها قائم على الكتاب والسنة، والإجماع، والقياس بعد النظر في الأشباه والنظائر، وما تقضي به المصالح المرسلة فيما لا ضرر فيه ولا ضرار.
(1)ভূমিকাসকল প্রশংসা আল্লাহর জন্য এবং সালাত ও সালাম বর্ষিত হোক বিশ্বজগতের জন্য রহমতস্বরূপ প্রেরিত আমাদের নবী মুহাম্মাদ (সা.)-এর ওপর, যিনি সকল সৃষ্টির ওপর আল্লাহর পক্ষ থেকে এক অকাট্য প্রমাণ (حجة); তাঁর পরিবারবর্গ, সাহাবী এবং অনুসারী (التابعين)গণের ওপর এবং যারা তাঁর দাওয়াতে সাড়া দিয়েছেন ও তাঁর ওপর আল্লাহ যা অবতীর্ণ করেছেন—যা সুস্পষ্ট সত্য—তদনুসারে আমল করেছেন এবং কিয়ামত পর্যন্ত তাঁর পথে চলেছেন। অতঃপর:
বর্তমান যুগে নারী মুক্তির যে আহ্বান জানানো হচ্ছে, তা ইসলামের সাথে সম্পৃক্ত সবকিছুর ওপর এক সর্বাত্মক ও ভয়াবহ আক্রমণের অংশ হিসেবে আবির্ভূত হয়েছে। শত্রুরা নারী মুক্তির এই প্রচারণার দায়িত্ব পালনের জন্য মুসলিম সন্তানদের একটি দলকে নিজেদের দিকে টানতে সক্ষম হয়েছে। আশ্চর্যের বিষয় এই যে, এই প্রচারণার মূল ভিত্তি হলো—ইসলামের ছায়াতলে নারীরা তাদের পূর্ণ অধিকার লাভ করেনি। শত্রুরা বুঝতে পেরেছে যে, এই ধ্বংসাত্মক চিন্তাধারার জন্য বানোয়াট যুক্তি ও ধারণায় সজ্জিত করার পর মুসলিম ছেলে-মেয়েরাই এই কাজ করার জন্য সর্বোত্তম। কারণ, মুসলিমরা তাদের সন্তানদের থেকে যা গ্রহণ করে, তা শত্রুদের থেকে গ্রহণ করে না। ফলে শত্রুরা কেবল ধ্বংসের নীল নকশা তৈরি করেই ক্ষান্ত হয়েছে, আর মুসলিম ছেলে-মেয়েরাই তার বাস্তবায়ন করছে। এই প্রেক্ষাপটেই আল্লাহ আজ্জা ওয়াজাল্লার কিতাব এবং তাঁর রাসূল (সা.)-এর সুন্নাহ সম্পর্কে অভিজ্ঞ মুসলিম আলেমদের ওপর এই বিধ্বংসী আক্রমণ প্রতিহত করা ওয়াজিব হয়ে পড়েছে। কিতাব ও সুন্নাহর আলোকে নারীর অধিকারসমূহ সুস্পষ্ট করার মাধ্যমেই এটি করতে হবে; কারণ ন্যায়বিচার ও সমতা রক্ষা এবং প্রত্যেক হকদারকে তার ন্যায্য অধিকার প্রদানের ক্ষেত্রে এ বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এর উদ্দেশ্য হলো, মানুষ যেন এই মর্মে আশ্বস্ত হতে পারে যে, ইসলামের সুশীতল ছায়াতলে তাদের শরীয়তসম্মত অধিকারসমূহ সুনিশ্চিত হয়; বিশেষত আমাদের দেশ সৌদি আরব রাজ্যে, যেখানে শাসনব্যবস্থা কিতাব, সুন্নাহ, ঐক্যমত্য (إجماع) এবং সাদৃশ্যপূর্ণ বিষয়াদি পর্যালোচনার ভিত্তিতে তুলনামূলক অনুমান (قياس) এবং সেই সাথে এমন জনকল্যাণ (المصالح المرسلة)-এর ওপর প্রতিষ্ঠিত, যাতে কোনো ক্ষতি বা অনিষ্ট নেই।
(খণ্ড: ১)
হুকূকুল মারআতি ফী দাউইল কিতাবি ওয়াস সুন্নাহ
(পৃষ্ঠা: ২)
إن عدالة الإسلام المباركة يراد منها إحقاق الحق كما أراد الله ورسوله، وإنصاف كل فرد على وجه الأرض، بإعطائه حقوقه المشروعة، ذكرا كان أو أنثى، حتى لو كان عدوا، ولهذا على علماء المسلمين حماية الشريعة الغراء من عبث العابثين، وانتحال المبطلين، وعليهم رد كيد الأعداء، الطاعنين في الإسلام بزعمهم أنه بخس الحقوق، وقيّد الحريات، ولاسيما حقوق المرأة وحريتها، وهو بهتان عظيم، وافتراء على أقدس الأديان، وأوسعها وأكملها عدلا وحرية ومساواة، فالإسلام لم يأت إلا رحمة للناس كافة، ولذلك أرسل نبينا محمد صلى الله عليه وسلم {وَمَا أَرْسَلْنَاكَ إِلَّا رَحْمَةً لِلْعَالَمِينَ} (1) هكذا الأمر للناس كافة دون استثناء، بل وللجن أيضا {وَإِذْ صَرَفْنَا إِلَيْكَ نَفَرًا مِنَ الْجِنِّ يَسْتَمِعُونَ الْقُرْآنَ فَلَمَّا حَضَرُوهُ قَالُوا أَنْصِتُوا فَلَمَّا قُضِيَ وَلَّوْا إِلَى قَوْمِهِمْ مُنْذِرِينَ} (2) وما حدث هذا الأمر إلا لمخاطبتهم بالإسلام الذي جاء به نبينا محمد صلى الله عليه وسلم، وإذا كان مجيء الإسلام جملة وتفصيلا على لسان نبينا محمد صلى الله عليه وسلم ليكون رحمة للعالمين: الجن والإنس، من عند خالقهم العليم ببيان ما يصلح أحوالهم وما يفسدها، فكيف يتسنى لزاعم أن يزعم أن الإسلام فيه ظلم وعسف وتقييد للحريات، والعجب أن تسمع هذا الهراء من بعض المنتسبين إلى الإسلام، وكان أحسن منه قولا في الإسلام قول من لم يؤمن بمحمد صلى الله عليه وسلم: ذلك المستشرق، إذ قال: "وفي الحقيقة لو قرأ المسيحيون باهتمام شريعة المسلمين
--------------------------------------------
ইসলামের বরকতময় ন্যায়বিচার বলতে আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের অভিপ্রায় অনুযায়ী সত্য প্রতিষ্ঠা করা এবং পৃথিবীর প্রতিটি ব্যক্তিকে—সে পুরুষ হোক বা নারী, এমনকি শত্রু হলেও—তার বৈধ অধিকার প্রদানের মাধ্যমে ইনসাফ করাকে বোঝায়। এ কারণেই মুসলিম আলেমদের ওপর এই মহিমান্বিত শরীয়তকে লক্ষ্যহীনদের অনর্থক কারসাজি এবং বাতিলপন্থীদের মিথ্যাচার থেকে রক্ষা করা আবশ্যক। তদ্রূপ ইসলামের বিরুদ্ধে অপবাদ আরোপকারী সেইসব শত্রুদের ষড়যন্ত্র নস্যাৎ করাও তাদের দায়িত্ব, যারা দাবি করে যে ইসলাম মানুষের অধিকার খর্ব করেছে এবং স্বাধীনতাকে শৃঙ্খলিত করেছে—বিশেষত নারীর অধিকার ও স্বাধীনতার ক্ষেত্রে। এটি এক বিরাট অপবাদ এবং সবচেয়ে পবিত্র, সুপ্রশস্ত ও ন্যায়বিচার, স্বাধীনতা ও সাম্যের দিক থেকে সবচেয়ে পূর্ণাঙ্গ দ্বীনের ওপর এক চরম মিথ্যাচার। কেননা ইসলাম সকল মানুষের জন্য কেবল রহমত হিসেবেই এসেছে। এজন্যই আমাদের নবী মুহাম্মাদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-কে প্রেরণ করা হয়েছে: {আমি আপনাকে বিশ্বজগতের জন্য কেবল রহমত হিসেবেই পাঠিয়েছি} (১)। এভাবেই কোনো ব্যতিক্রম ছাড়াই বিষয়টি সকল মানুষের জন্য নির্দেশিত হয়েছে, বরং জীনদের জন্যও: {স্মরণ করুন, যখন আমি আপনার প্রতি একদল জীনকে আকৃষ্ট করেছিলাম যারা কুরআন শুনছিল; যখন তারা উপস্থিত হলো, তখন তারা বলল—চুপ করে শোনো; যখন পাঠ শেষ হলো, তখন তারা তাদের সম্প্রদায়ের নিকট সতর্ককারী হিসেবে ফিরে গেল} (২)। আমাদের নবী মুহাম্মাদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) যে ইসলাম নিয়ে এসেছেন, তার মাধ্যমে তাদেরকে সম্বোধন করার উদ্দেশ্যেই এই ঘটনা ঘটেছিল। যদি আমাদের নবী মুহাম্মাদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর জবানীতে ইসলামের সামগ্রিক ও বিস্তারিত আগমন জীন ও ইনসান—উভয় জগতের জন্য রহমত হিসেবে হয়, যা তাদের সর্বজ্ঞাত স্রষ্টার পক্ষ থেকে তাদের সংশোধন ও অনিষ্টের বিবরণের মাধ্যমে এসেছে, তবে কীভাবে কোনো দাবিদার এমন দাবি করতে পারে যে ইসলামের মধ্যে জুলুম, কঠোরতা ও স্বাধীনতার সীমাবদ্ধতা রয়েছে? আশ্চর্যের বিষয় হলো, ইসলামের সাথে সম্পৃক্ত কিছু লোকের কাছ থেকেও এমন অসার কথা শুনতে হয়। অথচ তাদের চেয়েও উত্তম কথা ইসলাম সম্পর্কে সেই ব্যক্তি বলেছেন যিনি মুহাম্মাদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর প্রতি ঈমান আনেননি; অর্থাৎ সেই প্রাচ্যবিদ, যখন তিনি বলেছিলেন: "প্রকৃতপক্ষে খ্রিষ্টানরা যদি মনোযোগ সহকারে মুসলমানদের শরীয়ত অধ্যয়ন করত..."
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
হুকূকুল মারআতি ফী দাউইল কিতাবি ওয়াস সুন্নাহ
(পৃষ্ঠা: ৩)
وتاريخهم، وتدبروهما لاستولى عليهم الحياء حين يشاهدون هؤلاء المسلمين ذوي غيرة على عبادتهم وتقواهم وتصدّقهم، وإلى أي حد هم متفانون في إخلاصهم، قانتون في مساجدهم، وإلى أي حد هم مطيعون لرئيسهم الروحي، حتى أن الحاكم لا يحاول أمرا إلا بعد مشورة المفتي، وإلى أي حد هم مهتمون بمراعاة أوقات الصلوات الخمس، في كل يوم حيث وجدوا، وأيا كانت مشاغلهم، ما أشد مراعاتهم دائما لصومهم، من الصباح حتى المساء، طول أيام الشهر بلا انقطاع، وما أكثر توادّ المسلمين وتراحمهم، وما أعظم ما يرى من عنايتهم بالغرباء في نزلهم، سواء بالفقير أم بالنازح المسافر، لو تأملنا عدالتهم ونزاهتهم، وسائر فضائلهم الخلقية، لخجلنا من جمودنا، سواء في عبادتنا، أم في تراحمنا، ولخجلنا من جورنا وإفراطنا وتعسفنا، ولا ريب أن هؤلاء الناس سيقيمون الحجة علينا، ولا شك أن عبادتهم وتقواهم وأعمالهم والرحمة فيهم هي الأسباب الرئيسة لنمو الدعوة المحمدية" (1).
ويقول مستشرق آخر أشد عداوة للإسلام من هذا: "نجد كثيرين من الإغريق من ذوي المواهب العالية والميزات الخلقية، قد بلغ من تأثرهم بتفوق المسلمين، أنهم حتى عندما كانوا يتجنبون الاندماج في خدمة السلطان (2)، بأداء ضريبة الأبناء، كانوا يدخلون في دين محمد بمحض إرادتهم".
إن ما يعزوه المنصفون من المستشرقين من فضائل وأخلاق حسنة إلى المسلمين، مرده الإسلام نفسه الذي لا يعرف إلا الكمال في كل فضيلة، ومن قرأ تأريخ الإسلام بفقه وتجرّد، لا
--------------------------------------------
এবং তাদের ইতিহাস; আর এই উভয়টি নিয়ে যদি তারা চিন্তা-গবেষণা করত, তবে যখন তারা এই মুসলমানদের তাদের ইবাদত, তাকওয়া ও দান-সদকার প্রতি প্রবল অনুরাগ দেখত এবং দেখত যে তারা তাদের ইখলাসের ক্ষেত্রে কতটা নিবেদিতপ্রাণ, তাদের মসজিদে কতটা বিনীত ও অনুগত, এবং তাদের আধ্যাত্মিক নেতার প্রতি কতটা অনুগত—এমনকি শাসক মুফতির পরামর্শ ব্যতিরেকে কোনো বিষয়ের সংকল্প করেন না—তবে তারা লজ্জায় অবনত হয়ে যেত। এছাড়া তারা যেখানেই থাকুক না কেন এবং তাদের যে ব্যস্ততাই থাকুক না কেন, প্রতিদিন পাঁচ ওয়াক্ত নামাজের সময়ানুবর্তিতার প্রতি তারা কতটা যত্নশীল; মাসব্যাপী নিরবচ্ছিন্নভাবে সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত তাদের সিয়াম বা রোজার প্রতি সর্বদা কতই না কঠোর যত্নশীল; মুসলমানদের পারস্পরিক ভালোবাসা ও দয়া কতই না গভীর; এবং তাদের সরাইখানায় আগন্তুকদের প্রতি, তা সে অভাবী হোক বা প্রবাসী মুসাফির, তাদের যত্ন কতই না মহান। আমরা যদি তাদের ন্যায়পরায়ণতা, সততা এবং অন্যান্য চারিত্রিক শ্রেষ্ঠত্ব নিয়ে চিন্তা করতাম, তবে আমাদের ইবাদত বা আমাদের পারস্পরিক সহমর্মিতা—উভয় ক্ষেত্রেই আমাদের স্থবিরতার জন্য আমরা লজ্জিত হতাম; আর আমাদের অবিচার, বাড়াবাড়ি ও জুলুমের জন্য লজ্জিত হতাম। এতে কোনো সন্দেহ নেই যে, এই লোকগুলো আমাদের বিরুদ্ধে দলিল বা প্রমাণ (حجة) পেশ করবে এবং এতেও কোনো সংশয় নেই যে, তাদের ইবাদত, তাকওয়া, কর্ম এবং তাদের মধ্যকার রহমতই হলো মুহাম্মাদী দাওয়াতের প্রসারের প্রধান কারণ।" (১)।
অন্য এক প্রাচ্যবিদ, যিনি এর চেয়েও ইসলামের প্রতি অধিক বিদ্বেষপরায়ণ, তিনি বলেন: "আমরা অনেক উচ্চ প্রতিভা ও চারিত্রিক গুণাবলী সম্পন্ন গ্রীকদের দেখতে পাই যারা মুসলমানদের শ্রেষ্ঠত্ব দ্বারা এতটাই প্রভাবিত হয়েছিলেন যে, তারা যখন শিশু-কর প্রদানের মাধ্যমে সুলতানের (২) অধীনে চাকরিতে যুক্ত হওয়া এড়িয়ে চলতেন, তখনও তারা স্বতঃস্ফূর্তভাবে মুহাম্মদের ধর্মে দীক্ষিত হতেন।"
ন্যায়নিষ্ঠ প্রাচ্যবিদগণ মুসলমানদের প্রতি যেসব ফযিলত ও উত্তম চরিত্রের সম্বন্ধ করেন, তার মূল উৎস হলো স্বয়ং ইসলাম, যা প্রতিটি ফযিলতের ক্ষেত্রে কেবল পূর্ণতাকেই চেনে। আর যে ব্যক্তি প্রজ্ঞা বা সঠিক উপলব্ধি (فقه) ও নিরপেক্ষতার সাথে ইসলামের ইতিহাস পাঠ করেছে, সে...
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
হুকূকুল মারআতি ফী দাউইল কিতাবি ওয়াস সুন্নাহ
(পৃষ্ঠা: ৪)
يجد غير هذا، ويجد أن الإسلام لم ينطلق فاتحا الأقطار شرقا وغربا إلا لنجدة الناس ورحمتهم، كيما يحرر قلوبهم من العبودية لغير الله تعالى، وينير عقولهم بالتفكير في من خلقهم، ومن أجلهم خلق ما في الأرض، وخلق الأزواج كلها {هُوَ الَّذِي خَلَقَ لَكُمْ مَا فِي الْأَرْضِ جَمِيعًا} (1) وقال تعالى: {وَمِنْ آيَاتِهِ أَنْ خَلَقَ لَكُمْ مِنْ أَنْفُسِكُمْ أَزْوَاجًا لِتَسْكُنُوا إِلَيْهَا وَجَعَلَ بَيْنَكُمْ مَوَدَّةً وَرَحْمَةً إِنَّ فِي ذَلِكَ لَآيَاتٍ لِقَوْمٍ يَتَفَكَّرُونَ} (2) جاء الإسلام فاتحا ليحرر الضمائر والعقول، من قيود الوثنية والجهل بالله تعالى، ويطلق حريات الناس في البحث عن الحق، ومحاربة الباطل، لإقرار العدالة بين الناس كافة، ومنع الفساد في الأرض، ومن أجل ذلك انطلق إلى الشرق يقاتل، من أجل رحمة الناس، وإخراجهم من تلك الإهانة البالغة: عبادة الفروج والأبقار، إنسان كرّمه الله يعبد بقرة خلقت لخدمته وأكله وشربه، وهو في ذل مقيت يتبرك بروثها ويغتسل ببولها، إنه أمر عجيب أن يهدر إنسان كرامته، وأن يعبد فرجا أو قردا أو خنزيرا، أو غير ذلك مما لا عدّ له ولا حصر في ديانات الوثنيين، التي جعلت الإنسان الذي كرّمه الإسلام، في هوان مستمر وحقارة لا مثيل لها، جاء الإسلام لرحمة الناس من هذا البلاء ومن بلاء العنصريات، التي أذابها بين المؤمنين به كما يذوب الملح في الماء، وفي غير الإسلام لا زالت قائمة ماثلة للعيان، فبالأمس القريب كانت جنوب إفريقيا مضرب المثل في
--------------------------------------------
তিনি এ ব্যতীত অন্য কিছু পাবেন না; বরং তিনি দেখতে পাবেন যে, ইসলাম পূর্ব ও পশ্চিমে দেশসমূহ বিজয়ের উদ্দেশ্যে কেবল মানুষের সাহায্য ও করুণার জন্যই অগ্রসর হয়েছে, যাতে আল্লাহ তাআলা ব্যতীত অন্যের দাসত্ব থেকে তাদের অন্তরসমূহকে মুক্ত করতে পারে এবং তাদের জ্ঞানকে সেই সত্তার বিষয়ে চিন্তার মাধ্যমে আলোকিত করতে পারে যিনি তাদের সৃষ্টি করেছেন এবং যাদের জন্য তিনি জমিনের সব কিছু এবং সমস্ত জোড়া সৃষ্টি করেছেন। {তিনিই সেই সত্তা, যিনি তোমাদের জন্য জমিনে যা কিছু আছে সব সৃষ্টি করেছেন} (১) এবং আল্লাহ তাআলা বলেন: {আর তাঁর নিদর্শনাবলির মধ্যে অন্যতম হলো যে, তিনি তোমাদের জন্য তোমাদের মধ্য থেকে তোমাদের সঙ্গিনীদের সৃষ্টি করেছেন যাতে তোমরা তাদের নিকট প্রশান্তি পাও এবং তোমাদের মাঝে ভালোবাসা ও করুণা সৃষ্টি করেছেন। নিশ্চয় এতে চিন্তাশীল সম্প্রদায়ের জন্য অনেক নিদর্শন রয়েছে} (২) ইসলাম বিজয়ী বেশে এসেছে বিবেক ও বুদ্ধিকে মূর্তিপূজা ও আল্লাহ তাআলা সংক্রান্ত অজ্ঞতার শৃঙ্খল থেকে মুক্ত করতে এবং সত্যের অন্বেষণে ও মিথ্যার বিরুদ্ধে সংগ্রামে মানুষের স্বাধীনতা অবারিত করতে, যেন সকল মানুষের মাঝে ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠিত হয় এবং জমিনে বিপর্যয় রোধ করা যায়। আর এ লক্ষ্যেই তা যুদ্ধের ময়দানে পূর্ব দিকে অগ্রসর হয়েছিল—মানুষের প্রতি দয়াবশত এবং তাদেরকে সেই চরম লাঞ্ছনা থেকে বের করে আনার জন্য, যা হলো লজ্জাস্থান ও গরুর পূজা; যে মানুষকে আল্লাহ সম্মানিত করেছেন, সে এমন এক গরুর ইবাদত করে যাকে সৃষ্টি করা হয়েছে তার সেবা, আহার ও পানীয়ের জন্য; অথচ সে চরম ঘৃণ্য লাঞ্ছনার সাথে তার গোবর দিয়ে বরকত গ্রহণ করে এবং তার প্রস্রাব দিয়ে গোসল করে। এটি অত্যন্ত আশ্চর্যজনক যে, মানুষ তার নিজের মর্যাদা ধূলিসাৎ করে দেয় এবং লজ্জাস্থান, বানর, শুকর অথবা মূর্তিপূজকদের ধর্মে বিদ্যমান এমন অসংখ্য ও অগণিত জিনিসের উপাসনা করে, যা সেই মানুষকে—যাকে ইসলাম সম্মানিত করেছে—ক্রমাগত অবমাননা ও নজিরবিহীন হীনতার স্তরে নামিয়ে দিয়েছে। ইসলাম এসেছে মানুষকে এই আপদ এবং বর্ণবাদের অভিশাপ থেকে উদ্ধার করতে, যা ইসলাম বিশ্বাসীদের মাঝে এমনভাবে বিলীন করে দিয়েছে যেমন পানিতে লবণ মিশে যায়। ইসলাম ব্যতীত অন্য মতাদর্শে এটি আজও স্পষ্টভাবে বিদ্যমান; নিকট অতীতেও দক্ষিণ আফ্রিকা এর এক চরম দৃষ্টান্ত ছিল...
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
হুকূকুল মারআতি ফী দাউইল কিতাবি ওয়াস সুন্নাহ
(পৃষ্ঠা: ৫)
التمييز العنصري، ولا زالت تشوبها أكدار العنصرية، وما يلاقيه الشعب الفلسطيني من عذاب وقتل ودمار وتهجير من أبرز أسبابه العنصرية، ومن زعم أن الإسلام جاء لغير الرحمة والعدل والمساواة، وموازنة الحقوق والواجبات، فقد أعظم الفرية على الله ورسوله والمؤمنين، ولهذا فإننا حينما نطرح حقوق المرأة في الكتاب والسنة النبوية إنما نفعل ذلك لبيان الحق {لِيَهْلِكَ مَنْ هَلَكَ عَنْ بَيِّنَةٍ وَيَحْيَى مَنْ حَيَّ عَنْ بَيِّنَةٍ وَإِنَّ اللَّهَ لَسَمِيعٌ عَلِيمٌ} (1) إننا يقول للناس: إن الإسلام هبة من الله تعالى لآدم عليه السلام وبنيه، فلم يكن أمرا جديدا جاء به نبينا محمد صلى الله عليه وسلم، بل ما جاء به صلى الله عليه وسلم حق مرتبط بالرسالات السابقة، إنها جميعا تدعو إلى عبادة الله وحده لا شريك له، وتطالب بتحكيم شرعه، فكل فرد من بني آدم مطالب أن يرتبط بالرسالة الربانية في كل شئونه في الحياة، وكان الأنبياء عليهم وعلى نبينا الصلاة والسلام أول من استجاب للرسالة الربانية، وتبعهم أصحابهم ومن بعدهم من العلماء العاملين، والدعاة المصلحين، والأئمة المجتهدين، وليس ذلك مقصورا على زمان دون آخر، بل طالبهم بالإيمان بما جاءت به الرسل، في كل زمان ومكان، أمر الله بذلك نبينا محمدا صلى الله عليه وسلم فقال تعالى: {قُلْ آمَنَّا بِاللَّهِ وَمَا أُنْزِلَ عَلَيْنَا وَمَا أُنْزِلَ عَلَى إِبْرَاهِيمَ وَإِسْمَاعِيلَ وَإِسْحَاقَ وَيَعْقُوبَ وَالْأَسْبَاطِ وَمَا أُوتِيَ مُوسَى وَعِيسَى وَالنَّبِيُّونَ مِنْ
--------------------------------------------
জাতিগত বৈষম্য এবং বর্ণবাদের পঙ্কিলতা আজও পৃথিবীকে আচ্ছন্ন করে রেখেছে। ফিলিস্তিনি জনগণ আজ যে নিগ্রহ, হত্যাযজ্ঞ, ধ্বংসলীলা এবং দেশান্তরের শিকার হচ্ছে, তার অন্যতম প্রধান কারণ হলো এই বর্ণবাদ। যে ব্যক্তি দাবি করে যে, ইসলাম করুণা, ন্যায়বিচার ও সাম্য এবং অধিকার ও কর্তব্যের ভারসাম্যের বিধান ব্যতীত অন্য কোনো উদ্দেশ্যে এসেছে, সে আল্লাহ, তাঁর রাসুল এবং মুমিনদের প্রতি এক গুরুতর অপবাদ রটনা করল। এই লক্ষ্যেই যখন আমরা কুরআন এবং নববী সুন্নাহর আলোকে নারীর অধিকারের প্রসঙ্গটি উত্থাপন করি, তখন মূলত সত্যকে স্পষ্ট করার জন্যই তা করি; যাতে "ধ্বংস হওয়ার যোগ্য ব্যক্তি সুস্পষ্ট প্রমাণের ভিত্তিতে ধ্বংস হয় এবং জীবিত থাকার যোগ্য ব্যক্তি সুস্পষ্ট প্রমাণের ভিত্তিতে জীবিত থাকে। নিশ্চয়ই আল্লাহ সর্বশ্রোতা ও সর্বজ্ঞ।" (১) আমরা মানুষকে বলি যে: ইসলাম আদম (আলাইহিস সালাম) এবং তাঁর সন্তানদের প্রতি মহান আল্লাহ তাআলার এক বিশেষ দান। এটি আমাদের নবী মুহাম্মদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) কর্তৃক আনীত সম্পূর্ণ নতুন কোনো বিষয় ছিল না; বরং তিনি যা নিয়ে এসেছেন তা পূর্ববর্তী আসমানি বার্তা বা রিসালাতের সাথে ওতপ্রোতভাবে সম্পৃক্ত সত্য। সেই সকল আসমানি বার্তাই এক আল্লাহর ইবাদতের আহ্বান জানায় যাঁর কোনো শরিক নেই এবং আল্লাহর প্রবর্তিত বিধানের প্রাধান্য দাবি করে। সুতরাং আদম সন্তানের প্রত্যেকটি ব্যক্তির কর্তব্য হলো জীবনের সকল ক্ষেত্রে এই খোদায়ী বার্তার সাথে নিজেকে সম্পৃক্ত করা। নবীগণ (আলাইহিমুস সালাম) এবং আমাদের নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) সর্বপ্রথম এই খোদায়ী বার্তার প্রতি সাড়া দিয়েছেন। অতঃপর তাঁদের সাহাবাগণ এবং তাঁদের পরবর্তী কর্মনিষ্ঠ আলেমগণ, সংস্কারক দাঈগণ এবং মুজতাহিদ (مجتهدين) ইমামগণ (أئمة) তাঁদের অনুসরণ করেছেন। এটি কোনো নির্দিষ্ট সময়ের জন্য সীমাবদ্ধ নয়; বরং আল্লাহ তাআলা সকল স্থান ও সময়ের মানুষকে রাসুলগণের আনীত বিষয়ের ওপর ঈমান আনার নির্দেশ দিয়েছেন। আল্লাহ তাআলা আমাদের নবী মুহাম্মদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-কে এই নির্দেশ প্রদান করে বলেন: "বলুন: আমরা ঈমান এনেছি আল্লাহর প্রতি এবং যা আমাদের প্রতি অবতীর্ণ হয়েছে, আর যা ইবরাহীম, ইসমাইল, ইসহাক, ইয়াকুব ও তাঁর বংশধরদের ওপর অবতীর্ণ হয়েছিল এবং যা মুসা, ঈসা ও অন্যান্য নবীদের প্রতি তাঁদের..."
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
হুকূকুল মারআতি ফী দাউইল কিতাবি ওয়াস সুন্নাহ
(পৃষ্ঠা: ৬)
رَبِّهِمْ لَا نُفَرِّقُ بَيْنَ أَحَدٍ مِنْهُمْ وَنَحْنُ لَهُ مُسْلِمُونَ} (1) وخاطب المؤمنين به عز وجل فقال: {قُولُوا آمَنَّا بِاللَّهِ وَمَا أُنْزِلَ إِلَيْنَا وَمَا أُنْزِلَ إِلَى إِبْرَاهِيمَ وَإِسْمَاعِيلَ وَإِسْحَاقَ وَيَعْقُوبَ وَالْأَسْبَاطِ وَمَا أُوتِيَ مُوسَى وَعِيسَى وَمَا أُوتِيَ النَّبِيُّونَ مِنْ رَبِّهِمْ لَا نُفَرِّقُ بَيْنَ أَحَدٍ مِنْهُمْ وَنَحْنُ لَهُ مُسْلِمُونَ} (2) وأمرهم بالتطبيق العملي لذلك فقال تعالى: {وَجَاهِدُوا فِي اللَّهِ حَقَّ جِهَادِهِ هُوَ اجْتَبَاكُمْ وَمَا جَعَلَ عَلَيْكُمْ فِي الدِّينِ مِنْ حَرَجٍ مِلَّةَ أَبِيكُمْ إِبْرَاهِيمَ هُوَ سَمَّاكُمُ الْمُسْلِمِينَ مِنْ قَبْلُ وَفِي هَذَا لِيَكُونَ الرَّسُولُ شَهِيدًا عَلَيْكُمْ وَتَكُونُوا شُهَدَاءَ عَلَى النَّاسِ فَأَقِيمُوا الصَّلَاةَ وَآتُوا الزَّكَاةَ وَاعْتَصِمُوا بِاللَّهِ هُوَ مَوْلَاكُمْ فَنِعْمَ الْمَوْلَى وَنِعْمَ النَّصِيرُ} (3) هذا وصف لما عليه المسلمون مع نبينا محمد صلى الله عليه وسلم، وبيان بأن هذا النهج هو نهج النبي إبراهيم عليه السلام {وَقَالُوا كُونُوا هُودًا أَوْ نَصَارَى تَهْتَدُوا قُلْ بَلْ مِلَّةَ إِبْرَاهِيمَ حَنِيفًا وَمَا كَانَ مِنَ الْمُشْرِكِينَ} (4) وقال تعالى: {قُلْ صَدَقَ اللَّهُ فَاتَّبِعُوا مِلَّةَ إِبْرَاهِيمَ حَنِيفًا وَمَا كَانَ مِنَ
--------------------------------------------
...তাদের প্রতিপালকের পক্ষ থেকে; আমরা তাঁদের কারো মধ্যে কোনো পার্থক্য করি না এবং আমরা তাঁরই প্রতি অনুগত।} (১) এবং মুমিনদের সম্বোধন করে মহান আল্লাহ বললেন: {তোমরা বলো, আমরা আল্লাহর প্রতি ঈমান এনেছি এবং যা আমাদের প্রতি অবতীর্ণ হয়েছে এবং যা ইব্রাহিম, ইসমাইল, ইসহাক, ইয়াকুব ও তাঁদের বংশধরদের প্রতি অবতীর্ণ হয়েছে, আর যা মুসা ও ঈসাকে প্রদান করা হয়েছে এবং যা নবীগণকে তাঁদের প্রতিপালকের পক্ষ থেকে প্রদান করা হয়েছে। আমরা তাঁদের কারো মধ্যে কোনো পার্থক্য করি না এবং আমরা তাঁরই প্রতি অনুগত।} (২) এবং তিনি তাদেরকে এর বাস্তব প্রয়োগের নির্দেশ দিয়ে আল্লাহ তাআলা বললেন: {আর তোমরা আল্লাহর পথে জিহাদ করো যেভাবে জিহাদ করা উচিত। তিনি তোমাদেরকে মনোনীত করেছেন এবং দ্বীনের ব্যাপারে তোমাদের ওপর কোনো সংকীর্ণতা রাখেননি; এটি তোমাদের পিতা ইব্রাহিমের মিল্লাত। তিনি পূর্বে তোমাদের নামকরণ করেছেন মুসলিম এবং এই কিতাবেও, যাতে রাসুল তোমাদের ওপর সাক্ষী হন এবং তোমরা মানবজাতির ওপর সাক্ষী হও। সুতরাং তোমরা সালাত কায়েম করো, জাকাত প্রদান করো এবং আল্লাহকে মজবুতভাবে আঁকড়ে ধরো। তিনিই তোমাদের অভিভাবক; কতই না উত্তম অভিভাবক এবং কতই না উত্তম সাহায্যকারী।} (৩) এটি আমাদের নবী মুহাম্মদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর সাথে মুসলিমদের যে অবস্থা তার বর্ণনা, এবং এই পথই যে নবী ইব্রাহিম (আলাইহিস সালাম)-এর পথ তারই এক স্পষ্ট বর্ণনা। {তারা বলে, তোমরা ইহুদি বা নাসারা হয়ে যাও, তবেই হেদায়েত পাবে। বলো, বরং আমরা একনিষ্ঠ ইব্রাহিমের মিল্লাত অনুসরণ করি এবং তিনি মুশরিকদের অন্তর্ভুক্ত ছিলেন না।} (৪) আল্লাহ তাআলা আরও বলেছেন: {বলো, আল্লাহ সত্য বলেছেন। সুতরাং তোমরা একনিষ্ঠভাবে ইব্রাহিমের মিল্লাত অনুসরণ করো এবং তিনি ছিলেন না...
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
হুকূকুল মারআতি ফী দাউইল কিতাবি ওয়াস সুন্নাহ
(পৃষ্ঠা: ৭)
الْمُشْرِكِينَ} (1) وأثنى الله تعالى على هذا المنهج فقال: {وَمَنْ أَحْسَنُ دِينًا مِمَّنْ أَسْلَمَ وَجْهَهُ لِلَّهِ وَهُوَ مُحْسِنٌ وَاتَّبَعَ مِلَّةَ إِبْرَاهِيمَ حَنِيفًا وَاتَّخَذَ اللَّهُ إِبْرَاهِيمَ خَلِيلًا} (2) وأمر تعالى نبينا محمدا صلى الله عليه وسلم أن يعلن بأن الله هداه إلى طريق الحق فقال تعالى: {قُلْ إِنَّنِي هَدَانِي رَبِّي إِلَى صِرَاطٍ مُسْتَقِيمٍ دِينًا قِيَمًا مِلَّةَ إِبْرَاهِيمَ حَنِيفًا وَمَا كَانَ مِنَ الْمُشْرِكِينَ} (3) وبيّن تعالى أن هذا الاتباع ما هو إلا وحي منه تعالى إلى نبينا محمد صلى الله عليه وسلم {ثُمَّ أَوْحَيْنَا إِلَيْكَ أَنِ اتَّبِعْ مِلَّةَ إِبْرَاهِيمَ حَنِيفًا وَمَا كَانَ مِنَ الْمُشْرِكِينَ} (4) وكان ما جاء به نبينا محمد صلى الله عليه وسلم خاتمة كل الأديان، وكان صلى الله عليه وسلم خاتمة الأنبياء والرسل، فلا نبي بعده، ولا رسول بعده، ولا دين غير ما جاء به صلى الله عليه وسلم، وما سواه من الأديان إما حق منسوخ بما جاء به صلى الله عليه وسلم، أو باطل مفترى، قال تعالى: {إِنَّ الدِّينَ عِنْدَ اللَّهِ الْإِسْلَامُ وَمَا اخْتَلَفَ الَّذِينَ أُوتُوا الْكِتَابَ إِلَّا مِنْ بَعْدِ مَا جَاءَهُمُ الْعِلْمُ بَغْيًا بَيْنَهُمْ وَمَنْ يَكْفُرْ بِآيَاتِ اللَّهِ فَإِنَّ اللَّهَ سَرِيعُ
--------------------------------------------
মুশরিকদের অন্তর্ভুক্ত ছিলেন না} (১) এবং মহান আল্লাহ এই আদর্শের প্রশংসা করে বলেছেন: {আর দ্বীনের ক্ষেত্রে তার চেয়ে উত্তম কে, যে আল্লাহর কাছে নিজেকে আত্মসমর্পণ করেছে এমতাবস্থায় যে সে সৎকর্মশীল এবং সে ইব্রাহীমের একনিষ্ঠ আদর্শ অনুসরণ করেছে? আর আল্লাহ ইব্রাহীমকে বন্ধু হিসেবে গ্রহণ করেছেন} (২)। মহান আল্লাহ আমাদের নবী মুহাম্মদ (সা.)-কে এই ঘোষণা দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন যে, আল্লাহ তাঁকে সত্যের পথে পরিচালিত করেছেন। আল্লাহ তাআলা বলেন: {বলুন, নিশ্চয়ই আমার প্রতিপালক আমাকে সঠিক পথে পরিচালিত করেছেন, যা একটি সুপ্রতিষ্ঠিত দ্বীন এবং ইব্রাহীমের একনিষ্ঠ আদর্শ; আর তিনি মুশরিকদের অন্তর্ভুক্ত ছিলেন না} (৩)। মহান আল্লাহ বর্ণনা করেছেন যে, এই অনুসরণ তাঁর পক্ষ থেকে আমাদের নবী মুহাম্মদ (সা.)-এর প্রতি প্রত্যাদেশ (وحي) ব্যতীত আর কিছু নয়: {অতঃপর আমরা আপনার প্রতি প্রত্যাদেশ (وحي) পাঠালাম যে, আপনি একনিষ্ঠভাবে ইব্রাহীমের আদর্শ অনুসরণ করুন; আর তিনি মুশরিকদের অন্তর্ভুক্ত ছিলেন না} (৪)। আমাদের নবী মুহাম্মদ (সা.) যা নিয়ে এসেছেন তা ছিল সকল দ্বীনের পরিসমাপ্তি, আর তিনি (সা.) ছিলেন নবী ও রাসূলদের সর্বশেষ ধারক। সুতরাং তাঁর পরে কোনো নবী নেই, তাঁর পরে কোনো রাসূল নেই এবং তিনি (সা.) যা নিয়ে এসেছেন তা ছাড়া অন্য কোনো দ্বীন নেই। এর বাইরে অন্যান্য সকল দ্বীন হয় নবী (সা.) যা নিয়ে এসেছেন তার মাধ্যমে রহিত (منسوخ) সত্য, অথবা তা বাতিল ও বানোয়াট (مفترى)। আল্লাহ তাআলা বলেন: {নিশ্চয়ই আল্লাহর নিকট দ্বীন হলো ইসলাম। আর কিতাবপ্রাপ্তরা তাদের নিকট জ্ঞান আসার পরও কেবল পরস্পর বিদ্বেষবশত মতভেদ করেছে। আর যে কেউ আল্লাহর নিদর্শনসমূহ অস্বীকার করে, তবে আল্লাহ দ্রুত হিসাব গ্রহণকারী
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
হুকূকুল মারআতি ফী দাউইল কিতাবি ওয়াস সুন্নাহ
(পৃষ্ঠা: ৮)
الْحِسَابِ} (1) فلا يطلب دين سواه، ولا يعبد الله بغيره، قال تعالى: {وَمَنْ يَبْتَغِ غَيْرَ الْإِسْلَامِ دِينًا فَلَنْ يُقْبَلَ مِنْهُ وَهُوَ فِي الْآخِرَةِ مِنَ الْخَاسِرِينَ} (2) وقال رسول الله صلى الله عليه وسلم:
1 - (لا يسمع بي من أمتي، يهودي، أو نصراني، ثم لا يؤمن بي إلا دخل النار) (3) فالإسلام ليس نظرية تبنى على التجربة، إنه علم مؤكد لا ريب فيه، لأنه وحي منزّل من خالق عليم، لبيان أن ما وقع فيه بنو آدم من عبادة غير الله، أو تحريف ما هو حق وتزويره، بقصد وضع مناهج للحياة أنه من عمل الشيطان، الذي يجلب على بني آدم بخيله ورجله ليضلهم عن سبيل الله، ومن لم يقتنع بهذا فلا نملك له الهداية، فذلك فضل الله يؤتيه من يشاء، والله ذو الفضل العظيم.
--------------------------------------------
হিসাব গ্রহণকারী।} (১) সুতরাং তিনি (আল্লাহ) ব্যতীত অন্য কোনো জীবনব্যবস্থা কবুল করবেন না এবং তিনি ব্যতীত অন্য কারও ইবাদত করা হবে না। মহান আল্লাহ বলেন: {আর যে ইসলাম ছাড়া অন্য কোনো দ্বীন অন্বেষণ করবে, তা কখনো তার থেকে কবুল করা হবে না এবং সে পরকালে ক্ষতিগ্রস্তদের অন্তর্ভুক্ত হবে।} (২) এবং রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন:
১ - (আমার এই উম্মতের কোনো ইহুদি বা নাসারা যদি আমার কথা শোনে, এরপর সে আমার প্রতি ঈমান না আনে, তবে সে অবশ্যই জাহান্নামে প্রবেশ করবে) (৩) বস্তুত ইসলাম এমন কোনো মতবাদ নয় যা অভিজ্ঞতার ওপর ভিত্তি করে গড়ে ওঠে; বরং এটি একটি সুনিশ্চিত জ্ঞান যাতে কোনো সন্দেহ নেই। কারণ এটি সর্বজ্ঞাত স্রষ্টার পক্ষ থেকে অবতীর্ণ ওহি (وحي)। এটি একথার বর্ণনার জন্য যে, বনী আদম আল্লাহ ব্যতীত অন্যের ইবাদতে লিপ্ত হওয়া, কিংবা সত্যকে বিকৃত ও জালিয়াতি করার যে কাজে লিপ্ত হয়েছে—জীবন বিধান রচনার হীন উদ্দেশ্যে—তা মূলত শয়তানের কাজ। শয়তান বনী আদমকে আল্লাহর পথ থেকে বিচ্যুত করার জন্য তার অশ্বারোহী ও পদাতিক বাহিনীকে নিয়ে ঝাঁপিয়ে পড়ে। আর যে ব্যক্তি এতে আশ্বস্ত হবে না, তাকে হেদায়াত দেওয়ার ক্ষমতা আমাদের নেই; কারণ তা আল্লাহর অনুগ্রহ, তিনি যাকে ইচ্ছা তা দান করেন এবং আল্লাহ মহা অনুগ্রহশীল।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
হুকূকুল মারআতি ফী দাউইল কিতাবি ওয়াস সুন্নাহ
(পৃষ্ঠা: ৯)
(2)خطة البحثرأيت أن يبنى هذا البحث على أبواب، وفصول ومباحث على النحو التالي:
الباب الأول حول الإنسان، وفيه فصلان:
الفصل الأول: خلق الإنسان، وفيه مباحث:
المبحث الأول: تعريف الإنسان.
المبحث الثاني: بيان أصل خلقة.
المبحث الثالث: اصطفاء الإنسان وتكريمه.
الفصل الثاني التوجه والارتباط، وفيه مباحث
المبحث الأول: الرسالة إلى الإنسان.
المبحث الثاني: ارتباط الإنسان بالرسالة.
الباب الثاني: المساواة بين الرجل والمرأة، وفيه فصلان:
الفصل الأول: أصل الخلق وحق الحياة، ومتطلباتها، وفيه مباحث:
المبحث الأول: المساواة في أصل الخلق.
المبحث الثاني: المساواة في حق الحياة.
المبحث الثالث: المساواة في متطلبات الحياة.
المبحث الرابع: المساواة في حق التكريم.
المبحث الخامس: المساواة في حق الكسب.
المبحث السادس: المساواة في حق النكاح المبني على الشرع.
المبحث السابع: المساواة في حق اختيار الزوج.
المبحث الثامن: المساواة في حق قضاء الوطر.
المبحث التاسع: المساواة في تحريم نكاح المشركين.
(২)গবেষণা পরিকল্পনা (خطة البحث)আমি এই গবেষণাকে নিম্নোক্তভাবে বিভিন্ন খণ্ড (الباب), অধ্যায় (الفصل) এবং অনুচ্ছেদের (المبحث) ভিত্তিতে বিন্যস্ত করার সিদ্ধান্ত নিয়েছি:
প্রথম খণ্ড (الباب الأول): মানুষ প্রসঙ্গে, এতে দুটি অধ্যায় (الفصل) রয়েছে:
প্রথম অধ্যায় (الفصل الأول): মানব সৃষ্টি, এতে কয়েকটি অনুচ্ছেদ (المبحث) রয়েছে:
প্রথম অনুচ্ছেদ (المبحث الأول): মানুষের সংজ্ঞা।
দ্বিতীয় অনুচ্ছেদ (المبحث الثاني): তার সৃষ্টির মূল উপাদানের বর্ণনা।
তৃতীয় অনুচ্ছেদ (المبحث الثالث): মানুষকে নির্বাচন ও সম্মানিত করা।
দ্বিতীয় অধ্যায় (الفصل الثاني): অভিমুখ ও সম্পৃক্ততা, এতে কয়েকটি অনুচ্ছেদ (المبحث) রয়েছে:
প্রথম অনুচ্ছেদ (المبحث الأول): মানুষের প্রতি প্রেরিত ঐশী বার্তা।
দ্বিতীয় অনুচ্ছেদ (المبحث الثاني): ঐশী বার্তার সাথে মানুষের সম্পৃক্ততা।
দ্বিতীয় খণ্ড (الباب الثاني): নারী ও পুরুষের মধ্যে সমতা, এতে দুটি অধ্যায় (الفصل) রয়েছে:
প্রথম অধ্যায় (الفصل الأول): সৃষ্টির উৎস, জীবনের অধিকার এবং এর প্রয়োজনীয় অনুষঙ্গসমূহ, এতে কয়েকটি অনুচ্ছেদ (المبحث) রয়েছে:
প্রথম অনুচ্ছেদ (المبحث الأول): সৃষ্টির উৎসের ক্ষেত্রে সমতা।
দ্বিতীয় অনুচ্ছেদ (المبحث الثاني): জীবনের অধিকারের ক্ষেত্রে সমতা।
তৃতীয় অনুচ্ছেদ (المبحث الثالث): জীবনের প্রয়োজনীয় অনুষঙ্গসমূহের ক্ষেত্রে সমতা।
চতুর্থ অনুচ্ছেদ (المبحث الرابع): মর্যাদাপ্রাপ্তির অধিকারের ক্ষেত্রে সমতা।
পঞ্চম অনুচ্ছেদ (المبحث الخامس): উপার্জনের অধিকারের ক্ষেত্রে সমতা।
ষষ্ঠ অনুচ্ছেদ (المبحث السادس): শরীয়াহ (الشرع) ভিত্তিক বিবাহের অধিকারের ক্ষেত্রে সমতা।
সপ্তম অনুচ্ছেদ (المبحث السابع): জীবনসঙ্গী নির্বাচনের অধিকারের ক্ষেত্রে সমতা।
অষ্টম অনুচ্ছেদ (المبحث الثامن): জৈবিক চাহিদা পূরণের অধিকারের ক্ষেত্রে সমতা।
নবম অনুচ্ছেদ (المبحث التاسع): মুশরিকদের (المشركين) সাথে বিবাহ নিষিদ্ধ হওয়ার ক্ষেত্রে সমতা।
(খণ্ড: ১)
হুকূকুল মারআতি ফী দাউইল কিতাবি ওয়াস সুন্নাহ
(পৃষ্ঠা: ১০)
الفصل الثاني: المساواة في التكليف وتحمل المسئولية، وفيه مباحث.
المبحث الأول: المساواة في التكليف.
المبحث الثاني: المساواة في تحمل المسئولية.
المبحث الثالث: المساواة في الحدود.
المبحث الرابع: المساواة في حق الشورى.
المبحث الخامس: المساواة في حرية الرأي.
المبحث السادس: المساواة في حق التعليم.
المبحث السابع: المساواة في حق تعليم الغير.
الباب الثالث: الفروق بين الرجل والمرأة، وفيه فصلان.
الفصل الأول: ما ينفرد به الرجل عن المرأة، وفيه مباحث.
المبحث الأول: القوامة.
المبحث الثاني: وجوب الصلاة في جماعة.
المبحث الثالث: إباحة الزواج بأكثر من امرأة.
المبحث الرابع: إباحة الاستمتاع بملك اليمين.
المبحث الخامس: إباحة الزواج من المرأة الكتابية.
المبحث السادس: جعل العصمة بيد الرجل.
المبحث السابع: الطلاق صيغته وصفته للرجل.
المبحث الثامن: الرجوع عن الطلاق للرجل.
المبحث التاسع: الإمهال في حالة الإيلاء.
المبحث العاشر: الولاية على المحارم.
المبحث الحادي عشر: انتساب الأبناء.
المبحث الثاني عشر: زيادة النصيب في الميراث وليس مطلقا.
المبحث الثالث عشر: شهادته بشهادة اثنتين وليس مطلقا.
দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ: শরয়ী দায়বদ্ধতা (التكليف) এবং দায়িত্ব বহনের ক্ষেত্রে সমতা, এবং এতে কয়েকটি উপ-পরিচ্ছেদ রয়েছে।
প্রথম উপ-পরিচ্ছেদ: শরয়ী দায়বদ্ধতার (التكليف) ক্ষেত্রে সমতা।
দ্বিতীয় উপ-পরিচ্ছেদ: দায়িত্ব বহনের ক্ষেত্রে সমতা।
তৃতীয় উপ-পরিচ্ছেদ: দণ্ডবিধির (الحدود) ক্ষেত্রে সমতা।
চতুর্থ উপ-পরিচ্ছেদ: পরামর্শের (الشورى) অধিকারের ক্ষেত্রে সমতা।
পঞ্চম উপ-পরিচ্ছেদ: মতপ্রকাশের স্বাধীনতার ক্ষেত্রে সমতা।
ষষ্ঠ উপ-পরিচ্ছেদ: শিক্ষার অধিকারের ক্ষেত্রে সমতা।
সপ্তম উপ-পরিচ্ছেদ: অন্যকে শিক্ষিত করার অধিকারের ক্ষেত্রে সমতা।
তৃতীয় অধ্যায়: পুরুষ ও নারীর মধ্যে বিদ্যমান পার্থক্যসমূহ, এবং এতে দুটি পরিচ্ছেদ রয়েছে।
প্রথম পরিচ্ছেদ: যে সকল বিষয়ে পুরুষ নারীর থেকে স্বতন্ত্র, এবং এতে কয়েকটি উপ-পরিচ্ছেদ রয়েছে।
প্রথম উপ-পরিচ্ছেদ: অভিভাবকত্ব ও কর্তৃত্ব (القوامة)।
দ্বিতীয় উপ-পরিচ্ছেদ: জামাতের সাথে সালাত আদায়ের আবশ্যকতা।
তৃতীয় উপ-পরিচ্ছেদ: একাধিক স্ত্রী গ্রহণের বৈধতা।
চতুর্থ উপ-পরিচ্ছেদ: মালিকানাধীন দাসীদের (ملك اليمين) সাথে সম্পর্কের বৈধতা।
পঞ্চম উপ-পরিচ্ছেদ: কিতাবী নারীর সাথে বিবাহের বৈধতা।
ষষ্ঠ উপ-পরিচ্ছেদ: বৈবাহিক বন্ধন ছিন্ন করার এখতিয়ার (العصمة) পুরুষের হাতে থাকা।
সপ্তম উপ-পরিচ্ছেদ: পুরুষের জন্য তালাকের (الطلاق) শব্দ ও প্রকৃতি।
অষ্টম উপ-পরিচ্ছেদ: তালাক থেকে পুরুষের প্রত্যাবর্তনের (الرجوع) বিধান।
নবম উপ-পরিচ্ছেদ: ঈলার (الإيلاء) ক্ষেত্রে সময় নির্ধারণ।
দশম উপ-পরিচ্ছেদ: মাহরামদের ওপর অভিভাবকত্ব (الولاية)।
একাদশ উপ-পরিচ্ছেদ: সন্তানদের বংশীয় সম্বন্ধ।
দ্বাদশ উপ-পরিচ্ছেদ: মিরাছের ক্ষেত্রে অংশের আধিক্য, যা ঢালাওভাবে নয়।
ত্রয়োদশ উপ-পরিচ্ছেদ: তার সাক্ষ্য (شهادة) দুইজন নারীর সাক্ষ্যের সমতুল্য হওয়া, যা ঢালাওভাবে নয়।
(খণ্ড: ১)
হুকূকুল মারআতি ফী দাউইল কিতাবি ওয়াস সুন্নাহ
(পৃষ্ঠা: ১১)
المبحث الرابع عشر: حرمة الاستمتاع من الزوجة بالفرج في حالتي الحيض والنفاس.
المبحث الخامس عشر: حرمة إتيان الزوجة في الدبر.
المبحث السادس عشر: الولاية العامة والخاصة.
المبحث السابع عشر: الجهاد.
المبحث الثامن عشر: وجوب النفقة على الزوج.
المبحث التاسع عشر: وجوب نفقة المرضعة على الزوج.
الفصل الثاني: ما تنفرد به المرأة عن الرجل، وفيه مباحث.
المبحث الأول: خلقها من الرجل.
المبحث الثاني: وجوب الحجاب.
المبحث الثالث: حق الرضاع والحضانة.
المبحث الرابع: حق الزينة والتجمل.
المبحث الخامس: حق رعاية الأسرة.
المبحث السادس: حق الأمومة، وزيادة البر.
المبحث السابع: عدم وجوب الجهاد.
المبحث الثامن: وجوب العدة على المرأة.
المبحث التاسع: حرمة كتمان ما يخلق في الأرحام.
المبحث العاشر: حق المرأة في كيفية الطلاق.
المبحث الحادي عشر: حق المرأة في المخالعة.
المبحث الثاني عشر: حق المرأة في العدل وعدم المضارة.
المبحث الثالث عشر: حق المرأة الميراث.
الخاتمة
الفهارس:
فهرس الآيات. فهرس الأحاديث. فهرس المصادر. فهرس الموضوعات.
চতুর্দশ পরিচ্ছেদ: ঋতুস্রাব (حيض) ও প্রসূতি অবস্থা (نفاس) চলাকালীন স্ত্রীর সাথে যৌনাঙ্গ ব্যবহারের নিষিদ্ধতা।
পঞ্চদশ পরিচ্ছেদ: স্ত্রীর সাথে পায়ুপথে সঙ্গমের নিষিদ্ধতা।
ষোড়শ পরিচ্ছেদ: সাধারণ ও বিশেষ অভিভাবকত্ব (ولاية)।
সপ্তদশ পরিচ্ছেদ: জিহাদ (جهاد)।
অষ্টাদশ পরিচ্ছেদ: স্বামীর ওপর ভরণপোষণ (نفقة) প্রদানের আবশ্যকতা।
উনবিংশ পরিচ্ছেদ: স্বামীর ওপর স্তন্যদানকারিণী মহিলার ভরণপোষণ (نفقة) প্রদানের আবশ্যকতা।
দ্বিতীয় অধ্যায়: পুরুষ থেকে নারী যেসব বিষয়ে স্বতন্ত্র, এতে বেশ কিছু পরিচ্ছেদ রয়েছে।
প্রথম পরিচ্ছেদ: পুরুষ থেকে নারীর সৃষ্টি।
দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ: হিজাব (حجاب) পালনের আবশ্যকতা।
তৃতীয় পরিচ্ছেদ: স্তন্যদান ও শিশু লালন-পালনের অধিকার।
চতুর্থ পরিচ্ছেদ: সাজসজ্জা ও সৌন্দর্য চর্চার অধিকার।
পঞ্চম পরিচ্ছেদ: পরিবার দেখাশোনার অধিকার।
ষষ্ঠ পরিচ্ছেদ: মাতৃত্বের অধিকার এবং অধিক সদাচরণের গুরুত্ব।
সপ্তম পরিচ্ছেদ: জিহাদ (جهاد) আবশ্যক না হওয়া।
অষ্টম পরিচ্ছেদ: নারীর ওপর ইদ্দত (عدة) পালনের আবশ্যকতা।
নবম পরিচ্ছেদ: জরায়ুতে যা সৃষ্টি করা হয় তা গোপন করার নিষিদ্ধতা।
দশম পরিচ্ছেদ: তালাক পদ্ধতির ক্ষেত্রে নারীর অধিকার।
একাদশ পরিচ্ছেদ: খোলা (مخالعة) তালাকের ক্ষেত্রে নারীর অধিকার।
দ্বাদশ পরিচ্ছেদ: ন্যায়বিচার এবং ক্ষতিগ্রস্ত না হওয়ার বিষয়ে নারীর অধিকার।
ত্রয়োদশ পরিচ্ছেদ: নারীর উত্তরাধিকার (ميراث) সংক্রান্ত অধিকার।
উপসংহার
নির্ঘণ্টসমূহ:
আয়াতের নির্ঘণ্ট। হাদিসের নির্ঘণ্ট। উৎসগ্রন্থের নির্ঘণ্ট। বিষয়সূচির নির্ঘণ্ট।
(খণ্ড: ১)
হুকূকুল মারআতি ফী দাউইল কিতাবি ওয়াস সুন্নাহ
(পৃষ্ঠা: ১২)
(3)الباب الأول حول الإنسان، وفيه فصلان:
1/ 3 - الفصل الأول: خلق الإنسان، وفيه مباحث:
2/ 3 - المبحث الأول: تعريف الإنسان.
الإِنسانُ أَصله إِنْسِيانٌ، لأَن العرب قاطبة قالوا في تصغيره: أُنَيْسِيانٌ، فدلت الياء الأَخيرة على الياء في تكبيره، إِلا أَنهم حذفوها لمّا كثر في كلامهم، والجمع الناس، مذكّر، وفي التنزيل: يا أَيها الناسُ، وقد يؤنّث على معنى القبيلة أَو الطائفة، كقولهم: جاءَتك الناسُ، معناه: جاءَتك القبيلة، أَو القطعة منهم، وفي حديث ابن صَيَّاد: قال النبي صلى الله عليه وسلم ذاتَ يوم:
2 - (انْطَلِقوا بنا إِلى أُنَيسيانٍ قد رأَينا شأْنه) وهو تصغير إِنسان، جاء شاذّاً على غير قياس، وقياسه أُنَيْسانٌ، وإِذا قالوا أَناسينُ فهو جمع بَيِّنٌ، مثل بُسْتانٍ وبَساتينَ، وإِذا قالوا: أَناسي كثيراً، فخففوا الياء، وأَسقطوا الياء التي تكون فيما بين عين الفعل ولامه، مثل قَراقيرَ وقراقِرَ، ويُبَيِّنُ جواز أَناسي، بالتخفيف، قول العرب: أَناسيَة كثيرة، والواحدُ إِنْسِيٌّ وأُناسٌ، روي عن ابن عباس رضي الله عنهما أَنه قال: إِنما سمي الإِنسان إِنساناً لأَنه عهد إِليه فَنَسيَ، وهو حجة قوية لمن قال: إِذا كان الإِنسان في الأَصل إِنسيانٌ، فهو إِفْعِلانٌ من النِّسْيان (1).
فالإنسان اسم جنس يطلق على بني آدم، الذكر والأنثى، الصغير والكبير، الأبيض والأحمر، والأصفر والأسود، وهذا الجنس من خلق الله تعالى، كتب له الاصطفاء من سائر المخلوقات، والتكريم
--------------------------------------------
(৩)প্রথম অধ্যায়: মানুষ প্রসঙ্গে, এবং এতে দুটি পরিচ্ছেদ রয়েছে:১/ ৩ - প্রথম পরিচ্ছেদ: মানুষ সৃষ্টি, এবং এতে কয়েকটি অনুচ্ছেদ রয়েছে:২/ ৩ - প্রথম অনুচ্ছেদ: মানুষের সংজ্ঞা.
'ইনসান' শব্দের মূল উৎস হলো 'ইনসিয়ান', কারণ সমগ্র আরব জাতি এর ক্ষুদ্রার্থ রূপ গঠনে 'উনাইসিয়ান' শব্দ ব্যবহার করেন। সুতরাং এর শেষ 'ইয়া' বর্ণটি মূল শব্দের পূর্ণরূপে 'ইয়া' বর্ণের উপস্থিতিকে নির্দেশ করে। তবে আরবরা তাদের কথোপকথনে অধিক ব্যবহারের কারণে এটি বিলুপ্ত করে দিয়েছে। এর বহুবচন হলো 'নাস', যা পুংলিঙ্গ। পবিত্র কুরআনে বর্ণিত হয়েছে: "হে মানুষ"। কখনো কখনো গোত্র বা দলের অর্থে এটি স্ত্রীলিঙ্গ হিসেবেও ব্যবহৃত হয়, যেমন তাদের উক্তি: "মানুষ তোমার কাছে এসেছে", যার অর্থ: একটি গোত্র বা তাদের একটি অংশ তোমার কাছে এসেছে। ইবনে সইয়াদ সংক্রান্ত হাদিসে বর্ণিত হয়েছে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম একদিন এরশাদ করেছিলেন:
২ - ("তোমরা আমাদের সাথে সেই ক্ষুদ্র মানুষটির কাছে চলো যার অবস্থা আমরা দেখেছি")। এটি 'ইনসান' শব্দের ক্ষুদ্রার্থ রূপ, যা বিরল বা নিয়মবহির্ভূত (شاذ) ভাবে এসেছে; আর এর ভাষাতাত্ত্বিক নিয়ম হলো 'উনাইসান'। যখন তারা 'আনাাসিন' বলে, তখন এটি একটি সুস্পষ্ট বহুবচন, যেমন: 'বুস্তান' ও 'বাসাতিন'। আর যখন তারা 'আনাাসি' অধিক পরিমাণে ব্যবহার করে, তখন তারা 'ইয়া' বর্ণটিকে হালকা করে উচ্চারণ করে এবং কালিমার 'আইন' ও 'লাম' বর্ণের মধ্যবর্তী 'ইয়া' বর্ণটিকে বিলুপ্ত করে দেয়, যেমন: 'কারাকির' ও 'কারাকির'। 'আনাাসি' শব্দের হালকা উচ্চারণ বৈধ হওয়ার প্রমাণ হলো আরবদের উক্তি: 'আনাাসিয়াহ কাসিরাহ'। এর একবচন হলো 'ইনসি' এবং 'উনাস'। ইবনে আব্বাস রাযিয়াল্লাহু আনহুমা থেকে বর্ণিত হয়েছে যে, তিনি বলেছেন: "মানুষকে 'ইনসান' নামকরণ করা হয়েছে কারণ তার থেকে প্রতিশ্রুতি নেওয়া হয়েছিল কিন্তু সে তা ভুলে গিয়েছিল"। এটি তাদের পক্ষে এক শক্তিশালী দলিল যারা বলেন: যদি 'ইনসান' শব্দের মূল প্রকৃতপক্ষে 'ইনসিয়ান' হয়, তবে এটি 'বিস্মৃতি' শব্দ হতে 'ইফ'ইলান' ওজনে গঠিত।
সুতরাং 'ইনসান' হলো একটি জাতিবাচক নাম যা বনী আদমের ওপর প্রয়োগ করা হয়—সেটি পুরুষ বা নারী, ছোট বা বড়, সাদা বা লাল এবং হলুদ বা কালো যাই হোক না কেন। এই প্রজাতিটি আল্লাহ তাআলার সৃষ্টির অন্তর্ভুক্ত, যাদের জন্য তিনি সমস্ত সৃষ্টির মধ্য থেকে মনোনীত করেছেন এবং শ্রেষ্ঠত্ব ও সম্মান নির্ধারণ করেছেন।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
হুকূকুল মারআতি ফী দাউইল কিতাবি ওয়াস সুন্নাহ
(পৃষ্ঠা: ১৩)
على سائرها، قال الله تعالى: {وَلَقَدْ كَرَّمْنَا بَنِي آدَمَ وَحَمَلْنَاهُمْ فِي الْبَرِّ وَالْبَحْرِ وَرَزَقْنَاهُمْ مِنَ الطَّيِّبَاتِ وَفَضَّلْنَاهُمْ عَلَى كَثِيرٍ مِمَّنْ خَلَقْنَا تَفْضِيلًا} (1) والذي يهمنا في هذا البحث الإنسان المرأة:
3/ 3 - المبحث الثانيبيان أصل خلق الإنسان.
لقد خلق الله البشر من نفس واحدة هي آدم عليه السلام، وكان خلقه من تراب، قال تعالى: {إِنَّ مَثَلَ عِيسَى عِنْدَ اللَّهِ كَمَثَلِ آدَمَ خَلَقَهُ مِنْ تُرَابٍ ثُمَّ قَالَ لَهُ كُنْ فَيَكُونُ} (2) هذا ما يتعلق بخلق آدم عليه السلام بادئ ذي بدء، ثم خلق من هذه النفس التي هي آدم زوجها حواء، قال تعالى: {يَاأَيُّهَا النَّاسُ اتَّقُوا رَبَّكُمُ الَّذِي خَلَقَكُمْ مِنْ نَفْسٍ وَاحِدَةٍ وَخَلَقَ مِنْهَا زَوْجَهَا وَبَثَّ مِنْهُمَا رِجَالًا كَثِيرًا وَنِسَاءً وَاتَّقُوا اللَّهَ الَّذِي تَسَاءَلُونَ بِهِ وَالْأَرْحَامَ إِنَّ اللَّهَ كَانَ عَلَيْكُمْ رَقِيبًا} (3) ومن هذين الزوجين تحوّل خلق الناس جميعا من نطفة، كوّنها الله تعالى في علاقة بين الذكر والأنثى، نطفة من ماء مهين، أمشاج {أَكَفَرْتَ
--------------------------------------------
অন্য সবকিছুর ওপর; মহান আল্লাহ তাআলা ইরশাদ করেছেন: {আর আমি অবশ্যই আদম সন্তানকে মর্যাদা দান করেছি এবং আমি তাদেরকে স্থলে ও জলে চলাচলের বাহন দিয়েছি; আমি তাদেরকে উত্তম রিযিক দান করেছি এবং আমি যাদের সৃষ্টি করেছি তাদের অনেকের ওপর তাদেরকে শ্রেষ্ঠত্ব দিয়েছি।} (১) আর এই গবেষণায় আমাদের নিকট যা গুরুত্বপূর্ণ তা হলো নারী হিসেবে মানুষ:
৩/ ৩ - দ্বিতীয় পরিচ্ছেদমানুষ সৃষ্টির মূল উৎসের বর্ণনা.
আল্লাহ তাআলা মানবজাতিকে একটি একক সত্তা হতে সৃষ্টি করেছেন, আর তিনি হলেন আদম আলাইহিস সালাম। তাঁর সৃষ্টি ছিল মাটি হতে। মহান আল্লাহ ইরশাদ করেন: {নিশ্চয়ই আল্লাহর নিকট ঈসার দৃষ্টান্ত আদমেরই মতো। তিনি তাকে মাটি দিয়ে সৃষ্টি করেছেন, অতঃপর তাকে বলেছেন, ‘হও’, ফলে সে হয়ে গেল।} (২) এটি সূচনালগ্নে আদম আলাইহিস সালামের সৃষ্টির সাথে সংশ্লিষ্ট বিষয়। অতঃপর তিনি এই এক সত্তা আদম হতেই তাঁর স্ত্রী হাওয়াকে সৃষ্টি করেছেন। আল্লাহ তাআলা ইরশাদ করেন: {হে মানব সমাজ! তোমরা তোমাদের রবের তাকওয়া অবলম্বন করো, যিনি তোমাদেরকে এক ব্যক্তি থেকে সৃষ্টি করেছেন এবং তার থেকে তার স্ত্রীকে সৃষ্টি করেছেন এবং তাদের দু’জন থেকে বহু নর-নারী বিস্তার করেছেন। আর তোমরা আল্লাহর তাকওয়া অবলম্বন করো, যাঁর দোহাই দিয়ে তোমরা একে অপরের নিকট আবেদন করে থাকো এবং আত্মীয়তার বন্ধন সম্পর্কে সচেতন থাকো। নিশ্চয়ই আল্লাহ তোমাদের ওপর তীক্ষ্ণ নজর রাখেন।} (৩) আর এই দম্পতি থেকেই সমস্ত মানুষের সৃষ্টি রূপান্তরিত হয়েছে শুক্রবিন্দুতে, যা আল্লাহ তাআলা নর ও নারীর সম্পর্কের মাধ্যমে তৈরি করেছেন; এমন এক শুক্রবিন্দু যা তুচ্ছ পানি হতে উৎপন্ন এবং মিশ্রিত {তুমি কি কুফরি করলে...
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
হুকূকুল মারআতি ফী দাউইল কিতাবি ওয়াস সুন্নাহ
(পৃষ্ঠা: ১৪)
بِالَّذِي خَلَقَكَ مِنْ تُرَابٍ ثُمَّ مِنْ نُطْفَةٍ ثُمَّ سَوَّاكَ رَجُلًا} (1) تسري في رحم المرأة بعد علاقتها بالرجل، في أطوار التخليق، قال تعالى: {يَاأَيُّهَا النَّاسُ إِنْ كُنْتُمْ فِي رَيْبٍ مِنَ الْبَعْثِ فَإِنَّا خَلَقْنَاكُمْ مِنْ تُرَابٍ ثُمَّ مِنْ نُطْفَةٍ ثُمَّ مِنْ عَلَقَةٍ ثُمَّ مِنْ مُضْغَةٍ مُخَلَّقَةٍ وَغَيْرِ مُخَلَّقَةٍ لِنُبَيِّنَ لَكُمْ وَنُقِرُّ فِي الْأَرْحَامِ مَا نَشَاءُ إِلَى أَجَلٍ مُسَمًّى} (2) فيخرج بعد ذلك بشرا سويا، ليأخذ مساره في الحياة وفق ما قدّر الله له، قال تعالى: {ثُمَّ نُخْرِجُكُمْ طِفْلًا ثُمَّ لِتَبْلُغُوا أَشُدَّكُمْ وَمِنْكُمْ مَنْ يُتَوَفَّى وَمِنْكُمْ مَنْ يُرَدُّ إِلَى أَرْذَلِ الْعُمُرِ لِكَيْلَا يَعْلَمَ مِنْ بَعْدِ عِلْمٍ شَيْئًا} (3) وقال تعالى: {هُوَ الَّذِي خَلَقَكُمْ مِنْ تُرَابٍ ثُمَّ مِنْ نُطْفَةٍ ثُمَّ مِنْ عَلَقَةٍ ثُمَّ يُخْرِجُكُمْ طِفْلًا ثُمَّ لِتَبْلُغُوا أَشُدَّكُمْ ثُمَّ لِتَكُونُوا شُيُوخًا وَمِنْكُمْ مَنْ يُتَوَفَّى مِنْ قَبْلُ وَلِتَبْلُغُوا أَجَلًا مُسَمًّى وَلَعَلَّكُمْ تَعْقِلُونَ} (4) فكان أصل خلق الإنسان وهو آدم عليه السلام من تراب، ثم خلقت فيه النطفة، وخلقت له الزوج حواء، ومنهما خلق الأزواج، قال تعالى: {وَاللَّهُ
--------------------------------------------
{যিনি তোমাকে সৃষ্টি করেছেন মাটি থেকে, অতঃপর বীর্য থেকে, তারপর তোমাকে পূর্ণাঙ্গ মানুষ হিসেবে সুঠাম করেছেন} (১) যা পুরুষের সাথে সম্পর্কের পর নারীর জরায়ুতে সৃষ্টির বিভিন্ন পর্যায়ে আবর্তিত হয়। আল্লাহ তাআলা বলেন: {হে মানুষ! যদি তোমরা পুনরুত্থান সম্পর্কে সন্দেহে থাকো, তবে (জেনে রেখো) আমি তোমাদের সৃষ্টি করেছি মাটি থেকে, অতঃপর বীর্য থেকে, তারপর জমাট রক্ত থেকে, তারপর মাংসপিণ্ড থেকে—যা কখনো পূর্ণাকৃতি পায় আবার কখনো পায় না—যাতে আমি তোমাদের কাছে সুস্পষ্ট করি। আর আমি জরায়ুতে যা ইচ্ছা করি এক নির্দিষ্ট কাল পর্যন্ত স্থির রাখি।} (২) এরপর সে একজন সুঠাম মানুষ হিসেবে বের হয়ে আসে, যাতে সে আল্লাহ তার জন্য যা নির্ধারণ করেছেন সে অনুযায়ী জীবনের পথে চলতে পারে। আল্লাহ তাআলা বলেন: {অতঃপর আমি তোমাদের শিশুরূপে বের করি, যেন তোমরা তোমাদের যৌবনে পদার্পণ করো। আর তোমাদের মধ্যে কারো মৃত্যু ঘটানো হয় এবং কাউকে নিকৃষ্টতম বয়সে উপনীত করা হয়, যাতে সে জানার পর আবার সব কিছু ভুলে যায়।} (৩) আল্লাহ তাআলা আরও বলেন: {তিনিই তোমাদের সৃষ্টি করেছেন মাটি থেকে, অতঃপর বীর্য থেকে, তারপর জমাট রক্ত থেকে, এরপর তোমাদের বের করেন শিশুরূপে, যাতে তোমরা তোমাদের যৌবনে উপনীত হও এবং পরবর্তীতে বৃদ্ধ হও। তোমাদের মধ্যে কারো এর পূর্বেই মৃত্যু হয় এবং যেন তোমরা এক নির্দিষ্ট সময়ে উপনীত হও, আর যাতে তোমরা অনুধাবন করতে পারো।} (৪) বস্তুত মানুষের আদি সৃষ্টি—অর্থাৎ আদম আলাইহিস সালাম—মাটি থেকে, অতঃপর তার মাঝে বীর্য সৃষ্টি করা হয়েছে এবং তার জন্য তার সঙ্গিনী হাওয়াকে সৃষ্টি করা হয়েছে, আর তাদের উভয় থেকেই জোড়ায় জোড়ায় মানুষ সৃষ্টি করা হয়েছে। আল্লাহ তাআলা বলেন: {আর আল্লাহ...
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
হুকূকুল মারআতি ফী দাউইল কিতাবি ওয়াস সুন্নাহ
(পৃষ্ঠা: ১৫)
خَلَقَكُمْ مِنْ تُرَابٍ ثُمَّ مِنْ نُطْفَةٍ ثُمَّ جَعَلَكُمْ أَزْوَاجًا وَمَا تَحْمِلُ مِنْ أُنْثَى وَلَا تَضَعُ إِلَّا بِعِلْمِهِ وَمَا يُعَمَّرُ مِنْ مُعَمَّرٍ وَلَا يُنْقَصُ مِنْ عُمُرِهِ إِلَّا فِي كِتَابٍ إِنَّ ذَلِكَ عَلَى اللَّهِ يَسِيرٌ} (1) ومن هنا ورد قول رسول الله: صلى الله عليه وسلم
3 - (إنما النساء شقائق الرجال) (2) أي مثلهم في الخلق، ومثلهم في التكريم، ومثلهم في العبادة، ومثلهم في تحمل المسئولية، كل حسب قدراته وما فطر عليه، وما اقتضى التكوين الخلقي استثناءه للرجل أو للمرأة، فذلك لكونه لا يصلح له غيره.
4/ 3 - المبحث الثالثاصطفاء الإنسان وتكريمه.
لما خلق الله آدم عليه السلام أسكنه وزوجه الجنة {وَقُلْنَا يَاآدَمُ اسْكُنْ أَنْتَ وَزَوْجُكَ الْجَنَّةَ وَكُلَا مِنْهَا رَغَدًا حَيْثُ شِئْتُمَا وَلَا تَقْرَبَا هَذِهِ الشَّجَرَةَ فَتَكُونَا مِنَ الظَّالِمِينَ} (3) وكان فيما قدّر الله عز وجل أن آدم وزوجه يأكلان من الشجرة، ويخرجان من الجنة، بسبب تزيين الشيطان ذلك لهما {فَوَسْوَسَ لَهُمَا الشَّيْطَانُ لِيُبْدِيَ لَهُمَا مَا وُورِيَ عَنْهُمَا مِنْ سَوْآتِهِمَا وَقَالَ مَا نَهَاكُمَا رَبُّكُمَا عَنْ هَذِهِ الشَّجَرَةِ إِلَّا أَنْ تَكُونَا
--------------------------------------------
{তিনি তোমাদেরকে সৃষ্টি করেছেন মাটি থেকে, অতঃপর বীর্য থেকে, অতঃপর তোমাদেরকে জোড়ায় জোড়ায় বিভক্ত করেছেন। কোনো নারী গর্ভধারণ করে না এবং সন্তান প্রসব করে না তাঁর জ্ঞান ব্যতীত। আর কোনো দীর্ঘায়ু ব্যক্তিকে আয়ু দেওয়া হয় না অথবা তার আয়ু কমানো হয় না, কিন্তু তা কিতাবে লিপিবদ্ধ থাকে। নিশ্চয়ই তা আল্লাহর জন্য সহজ।} (১) আর এখান থেকেই আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর বাণী বর্ণিত হয়েছে:
৩ - (নিশ্চয়ই মহিলারা পুরুষদের সহোদরা সদৃশ) (২) অর্থাৎ তারা সৃষ্টিতে তাদের মতো, মর্যাদাদানে তাদের মতো, ইবাদতে তাদের মতো এবং দায়িত্ব বহনের ক্ষেত্রে তাদের মতো; প্রত্যেকেই নিজ নিজ সক্ষমতা এবং স্বভাবজাত প্রকৃতির উপর ভিত্তি করে (দায়িত্বশীল)। আর সৃষ্টিগত কাঠামো পুরুষ বা মহিলার জন্য যা ব্যতিক্রম করার দাবি রাখে, তা এজন্যই যে তা ছাড়া অন্যটি তার জন্য উপযোগী নয়।
৪/ ৩ - তৃতীয় পরিচ্ছেদমানুষের শ্রেষ্ঠত্ব দান ও তাকে সম্মানিত করা.
যখন আল্লাহ আদম (আলাইহিস সালাম)-কে সৃষ্টি করলেন, তখন তাঁকে ও তাঁর স্ত্রীকে জান্নাতে বসবাস করতে দিলেন {আর আমি বললাম: হে আদম! তুমি ও তোমার স্ত্রী জান্নাতে বসবাস কর এবং যেখান থেকে ইচ্ছা সাচ্ছন্দ্যে আহার কর, কিন্তু এই বৃক্ষের নিকটবর্তী হয়ো না, অন্যথায় তোমরা জালিমদের অন্তর্ভুক্ত হবে} (৩)। আল্লাহর নির্ধারিত ফয়সালার অন্তর্ভুক্ত ছিল যে, শয়তানের প্ররোচনার কারণে আদম ও তাঁর স্ত্রী সেই বৃক্ষ থেকে আহার করবেন এবং জান্নাত থেকে বের হবেন। {অতঃপর শয়তান তাদেরকে কুমন্ত্রণা দিল যাতে তাদের লজ্জাস্থান, যা তাদের কাছে গোপন ছিল, তা তাদের নিকট প্রকাশ করে দেয়। সে বলল: তোমাদের প্রতিপালক তোমাদেরকে এই বৃক্ষ থেকে কেবল এজন্যই নিষেধ করেছেন যেন তোমরা...}
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
হুকূকুল মারআতি ফী দাউইল কিতাবি ওয়াস সুন্নাহ
(পৃষ্ঠা: ১৬)
مَلَكَيْنِ أَوْ تَكُونَا مِنَ الْخَالِدِينَ} (1) فأكلا منها ووقعا في الخطأ {وَنَادَاهُمَا رَبُّهُمَا أَلَمْ أَنْهَكُمَا عَنْ تِلْكُمَا الشَّجَرَةِ وَأَقُلْ لَكُمَا إِنَّ الشَّيْطَانَ لَكُمَا عَدُوٌّ مُبِينٌ} (2) وكان من قضاء الله تعالى أن يخرج آدم وزوجه من الجنة {وَقُلْنَا اهْبِطُوا بَعْضُكُمْ لِبَعْضٍ عَدُوٌّ وَلَكُمْ فِي الْأَرْضِ مُسْتَقَرٌّ وَمَتَاعٌ إِلَى حِينٍ} (3) وتاب الله عز وجل على آدم وغفر له خطأه {فَتَلَقَّى آدَمُ مِنْ رَبِّهِ كَلِمَاتٍ فَتَابَ عَلَيْهِ إِنَّهُ هُوَ التَّوَّابُ الرَّحِيمُ} (4) وغلب آدم موسى عليهما السلام لما حاجّه في الخروج من الجنة قال رسول الله صلى الله عليه وسلم:
4 - (احتجَّ آدم وموسى، فقال له موسى: يا آدم أنت أبوينا خيَّبتنا وأخرجتنا من الجنة، قال له آدم: يا موسى اصطفاك الله بكلامه، وخطَّ لك بيده، أتلومني على أمر قدَّره الله عليَّ قبل أن يخلقني بأربعين سنة؟ فحجَّ آدم موسى، فحجَّ آدم موسى) (5) وجاء دور الاصطفاء لأدم وذريته ليستعمرهم الله تعالى في الأرض، فقال تعالى للملائكة: {إِنِّي جَاعِلٌ فِي الْأَرْضِ خَلِيفَةً قَالُوا أَتَجْعَلُ فِيهَا
--------------------------------------------
...ফেরেশতা হয়ে যাও অথবা তোমরা চিরঞ্জীবদের অন্তর্ভুক্ত হও} (১) অতঃপর তারা উভয়ে তা থেকে আহার করলেন এবং ভুলের শিকার হলেন {আর তাদের প্রতিপালক তাদের ডেকে বললেন, আমি কি তোমাদেরকে ওই বৃক্ষটি থেকে নিষেধ করিনি এবং তোমাদেরকে বলিনি যে, নিশ্চয়ই শয়তান তোমাদের উভয়ের জন্য প্রকাশ্য শত্রু?} (২) আর আল্লাহর ফয়সালা ছিল এই যে, আদম ও তাঁর স্ত্রীকে জান্নাত থেকে বের করে দেওয়া হবে {এবং আমি বললাম, তোমরা নেমে যাও, তোমরা একে অপরের শত্রু; আর পৃথিবীতে তোমাদের জন্য একটি নির্দিষ্ট সময় পর্যন্ত বসবাস ও জীবনোপকরণ রয়েছে} (৩) আল্লাহ আজ্জা ওয়া জাল্লা আদমের তওবা কবুল করলেন এবং তাঁর ভুল ক্ষমা করে দিলেন {অতঃপর আদম তাঁর প্রতিপালকের পক্ষ থেকে কিছু বাণী প্রাপ্ত হলেন, সুতরাং তিনি তাঁর তওবা কবুল করলেন; নিশ্চয়ই তিনি অত্যন্ত তওবা কবুলকারী, পরম দয়ালু} (৪) আর আদম মূসা (আলাইহিমাস সালাম)-এর ওপর তর্কে জয়ী হলেন যখন তিনি জান্নাত থেকে বের হওয়ার বিষয়ে তাঁর সাথে বিতর্ক করেছিলেন। রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন:
৪ - (আদম ও মূসা পরস্পর বিতর্ক করলেন। মূসা তাঁকে বললেন: হে আদম! আপনি আমাদের পিতা, আপনি আমাদের নিরাশ করেছেন এবং জান্নাত থেকে বের করে দিয়েছেন। আদম তাঁকে বললেন: হে মূসা! আল্লাহ আপনাকে তাঁর বাণীর মাধ্যমে মনোনীত করেছেন এবং স্বহস্তে আপনার জন্য লিখে দিয়েছেন। আপনি কি আমাকে এমন একটি বিষয়ের জন্য তিরস্কার করছেন যা আমার সৃষ্টির চল্লিশ বছর পূর্বেই আল্লাহ আমার জন্য নির্ধারণ করে রেখেছিলেন? এভাবে আদম মূসার ওপর তর্কে জয়ী হলেন, আদম মূসার ওপর তর্কে জয়ী হলেন) (৫) এরপর আদম ও তাঁর বংশধরদের মনোনীত করার পালা এল যাতে আল্লাহ তাআলা তাঁদেরকে পৃথিবীতে আবাদ করেন। অতঃপর তিনি ফেরেশতাদের বললেন: {নিশ্চয়ই আমি পৃথিবীতে একজন খলিফা সৃষ্টি করছি। তারা বলল: আপনি কি সেখানে...
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
হুকূকুল মারআতি ফী দাউইল কিতাবি ওয়াস সুন্নাহ
(পৃষ্ঠা: ১৭)
مَنْ يُفْسِدُ فِيهَا وَيَسْفِكُ الدِّمَاءَ وَنَحْنُ نُسَبِّحُ بِحَمْدِكَ وَنُقَدِّسُ لَكَ قَالَ إِنِّي أَعْلَمُ مَا لَا تَعْلَمُونَ} (1) وكرّم الله آدم وذريته {وَلَقَدْ كَرَّمْنَا بَنِي آدَمَ وَحَمَلْنَاهُمْ فِي الْبَرِّ وَالْبَحْرِ وَرَزَقْنَاهُمْ مِنَ الطَّيِّبَاتِ وَفَضَّلْنَاهُمْ عَلَى كَثِيرٍ مِمَّنْ خَلَقْنَا تَفْضِيلًا} (2) كرّمهم الله تعالى بالعقل وتحمّل أمانة التكاليف التي يبلّغها الرسل إليهم إلى أن يرث الله الأرض ومن عليها، وبنى عز وجل ذلك التكريم على مقدار الاستجابة لله ورسوله، وما يحدثون من خير وشر، ولم يفرّق بين الذكور والإناث في هذا الأمر، لكل منهم ما اكتسب من الخير أو الشر {كُلُّ نَفْسٍ بِمَا كَسَبَتْ رَهِينَةٌ} (3) والإنسان مسئول عن عمله ومجزي عليه، وذلك بمقتضى العهد الذي أخذ على بني آدم {وَإِذْ أَخَذَ رَبُّكَ مِنْ بَنِي آدَمَ مِنْ ظُهُورِهِمْ ذُرِّيَّتَهُمْ وَأَشْهَدَهُمْ عَلَى أَنْفُسِهِمْ أَلَسْتُ بِرَبِّكُمْ قَالُوا بَلَى شَهِدْنَا أَنْ تَقُولُوا يَوْمَ الْقِيَامَةِ إِنَّا كُنَّا عَنْ هَذَا غَافِلِينَ} (4).
--------------------------------------------
{...যারা সেখানে ফাসাদ সৃষ্টি করবে এবং রক্তপাত ঘটাবে? অথচ আমরা আপনার প্রশংসাসহ পবিত্রতা মহিমা ঘোষণা করছি এবং আপনার পবিত্রতা বর্ণনা করছি। তিনি বললেন: নিশ্চয়ই আমি যা জানি, তোমরা তা জানো না} (১) এবং আল্লাহ আদম ও তাঁর বংশধরদের সম্মানিত করেছেন {আর অবশ্যই আমি আদম সন্তানকে মর্যাদা দান করেছি এবং আমি তাদেরকে স্থলে ও জলে চলাচলের বাহন দিয়েছি এবং তাদেরকে উত্তম রিযিক দান করেছি এবং আমি যাদেরকে সৃষ্টি করেছি তাদের অনেকের ওপর তাদেরকে শ্রেষ্ঠত্ব দান করেছি} (২)। আল্লাহ তাআলা তাদেরকে বিবেক-বুদ্ধি এবং শরীয়তি বিধানের আমানত বহনের মাধ্যমে সম্মানিত করেছেন যা রাসূলগণ তাঁদের কাছে পৌঁছে দেন যতক্ষণ না আল্লাহ পৃথিবী ও এর ওপর যা কিছু আছে তার উত্তরাধিকারী হন। আল্লাহ আজ্জা ওয়া জাল্লা এই সম্মানকে আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের আহ্বানে সাড়া দেওয়ার মাত্রা এবং তারা যে ভালো ও মন্দ কাজ করে তার ওপর ভিত্তি করে নির্ধারণ করেছেন। তিনি এই বিষয়ে নারী ও পুরুষের মধ্যে কোনো পার্থক্য করেননি; তাদের প্রত্যেকের জন্য রয়েছে যা তারা কল্যাণ বা অকল্যাণ হিসেবে অর্জন করেছে {প্রত্যেক ব্যক্তি তার কৃতকর্মের জন্য দায়বদ্ধ} (৩)। মানুষ তার আমলের জন্য দায়ী এবং সে অনুযায়ী তাকে প্রতিফল দেওয়া হবে; আর এটি সেই অঙ্গীকারের দাবি অনুযায়ী যা আদম সন্তানদের কাছ থেকে নেওয়া হয়েছিল {আর যখন তোমার প্রতিপালক আদম সন্তানদের পৃষ্ঠদেশ থেকে তাদের বংশধরদের বের করে আনলেন এবং তাদেরকে তাদের নিজেদের ওপর সাক্ষী রাখলেন (বললেন): আমি কি তোমাদের প্রতিপালক নই? তারা বলল: অবশ্যই, আমরা সাক্ষ্য দিচ্ছি। যেন কিয়ামতের দিন তোমরা বলতে না পারো যে, আমরা এ বিষয়ে অনবহিত ছিলাম} (৪)।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
হুকূকুল মারআতি ফী দাউইল কিতাবি ওয়াস সুন্নাহ
(পৃষ্ঠা: ১৮)
5/ 3 - الفصل الثاني التوجه والارتباط، وفيه مباحث
6/ 3 - المبحث الأول: الرسالة إلى الإنسان.
لما كان المصطفى من المخلوقات آدم وذريته، ونال بذلك شرف التكريم على سائر المخلوقات، كانت الرسالة إلى الإنسان دون ما سواه من المخلوقات، وذلك لإحكام العلاقة بين الخالق رب العزة والجلال والمخلوق آدم وذريته، من خلال ما يرد في الرسالة من تنظيم لحياة وحقوق وواجبات هذا المخلوق، ولرسم الطريق السوي بينه وبين خالقه، وتحديد نتيجة سلوك المخلوق، والتحذير من عدم سلوك المنهج السوي، وبيان ما ينتج عن ذلك من تدمير لاصطفاء الإنسان وتكريمه، وكان من رحمة الله عز وجل ببني آدم أنه رفع عنهم العذاب قبل الرسالة قال تعالى: {وَمَا كُنَّا مُعَذِّبِينَ حَتَّى نَبْعَثَ رَسُولًا} (1) وأنه يرسل إليهم الرجل منهم بلسانهم كيما يفهموا المراد، ولا يلتبس عليهم الأمر، قال تعالى: {وَمَا أَرْسَلْنَا مِنْ رَسُولٍ إِلَّا بِلِسَانِ قَوْمِهِ لِيُبَيِّنَ لَهُمْ فَيُضِلُّ اللَّهُ مَنْ يَشَاءُ وَيَهْدِي مَنْ يَشَاءُ وَهُوَ الْعَزِيزُ الْحَكِيمُ} (2) ولكن بعد رسم طريق الخير، وبيان طريق الشر، وتمكين الإنسان من التمييز بينهما، وإعطائه القدرة الكاملة على الاختيار {مَنِ اهْتَدَى فَإِنَّمَا يَهْتَدِي لِنَفْسِهِ وَمَنْ ضَلَّ فَإِنَّمَا
--------------------------------------------
৫/ ৩ - দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ: অভিমুখিতা ও সংশ্লিষ্টতা, এবং এতে রয়েছে কয়েকটি উপ-অধ্যায়৬/ ৩ - প্রথম উপ-অধ্যায়: মানুষের প্রতি রিসালাত.
যেহেতু মাখলুকাতের মধ্যে আদম ও তাঁর বংশধরদের মনোনীত করা হয়েছে এবং এর মাধ্যমে তারা অন্যান্য মাখলুকাতের ওপর বিশেষ মর্যাদা ও সম্মান লাভ করেছে, তাই অন্যান্য মাখলুকাত বাদ দিয়ে কেবল মানুষের প্রতিই রিসালাত অবতীর্ণ হয়েছে। আর এটি করা হয়েছে মহান প্রতিপালক রব্বুল ইজ্জাত ওয়াল জালাল এবং মাখলুক আদম ও তাঁর সন্তানদের মধ্যে সম্পর্ক সুদৃঢ় করার জন্য; যা সাধিত হয় রিসালাতে বর্ণিত এই মাখলুকাতের জীবন পরিচালনা, অধিকার ও দায়িত্বসমূহের বিন্যাসের মাধ্যমে, তার ও তার স্রষ্টার মধ্যে সরল পথ অঙ্কনের মাধ্যমে, মাখলুকাতের আচরণের ফলাফল নির্ধারণ এবং সঠিক পথ অনুসরণ না করার ব্যাপারে সতর্কীকরণের মাধ্যমে, আর এর ফলে মানুষের মনোনয়ন ও সম্মান ধ্বংসের যে পরিণতি সৃষ্টি হয় তা বর্ণনার মাধ্যমে। বনী আদমের প্রতি আল্লাহ আযযা ওয়া জাল্লার অন্যতম রহমত এই যে, তিনি রিসালাত প্রেরণের পূর্বে তাদের ওপর থেকে শাস্তি উঠিয়ে নিয়েছেন। আল্লাহ তাআলা ইরশাদ করেছেন: {আর আমি কোনো রাসুল প্রেরণ না করা পর্যন্ত কাউকে শাস্তি প্রদান করি না} (১) আর তিনি তাদের নিকট তাদের মধ্য থেকেই একজনকে তাদের ভাষায় প্রেরণ করেন যাতে তারা উদ্দেশ্য বুঝতে পারে এবং বিষয়টি তাদের কাছে অস্পষ্ট না হয়। আল্লাহ তাআলা ইরশাদ করেছেন: {আমি প্রত্যেক রাসুলকেই তার স্বজাতির ভাষাভাষী করে পাঠিয়েছি যেন সে তাদের নিকট পরিষ্কারভাবে বর্ণনা করতে পারে। অতঃপর আল্লাহ যাকে ইচ্ছা পথভ্রষ্ট করেন এবং যাকে ইচ্ছা সঠিক পথ প্রদর্শন করেন। আর তিনি পরাক্রমশালী ও প্রজ্ঞাময়} (২) তবে কল্যাণের পথ অঙ্কন, অকল্যাণের পথ বর্ণনা এবং উভয়টির মধ্যে পার্থক্য করার সামর্থ্য প্রদান ও স্বাধীনভাবে নির্বাচনের পূর্ণ ক্ষমতা দেওয়ার পর; {যে ব্যক্তি সঠিক পথ প্রাপ্ত হয়, সে নিজের মঙ্গলের জন্যই সঠিক পথ প্রাপ্ত হয়, আর যে পথভ্রষ্ট হয় সে তো নিজেরই ক্ষতির জন্য (পথভ্রষ্ট হয়)...}
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
হুকূকুল মারআতি ফী দাউইল কিতাবি ওয়াস সুন্নাহ
(পৃষ্ঠা: ১৯)
يَضِلُّ عَلَيْهَا} (1) وقال تعالى: {وَقُلِ الْحَقُّ مِنْ رَبِّكُمْ فَمَنْ شَاءَ فَلْيُؤْمِنْ وَمَنْ شَاءَ فَلْيَكْفُرْ إِنَّا أَعْتَدْنَا لِلظَّالِمِينَ نَارًا أَحَاطَ بِهِمْ سُرَادِقُهَا وَإِنْ يَسْتَغِيثُوا يُغَاثُوا بِمَاءٍ كَالْمُهْلِ يَشْوِي الْوُجُوهَ بِئْسَ الشَّرَابُ وَسَاءَتْ مُرْتَفَقًا} (2) وكان الرسل عليهم السلام كافة مرتبطين عمليا بالرسالة في كل شئون الحياة، على أن الحياة الدنيا مؤقتة تستنبت فيها الأعمال لصالح الآخرة: الحياة الدائمة، ولذلك علّموا المؤمنين ذلك الارتباط، ليكون الولاء للمرسل والرسالة، وللرسول بالتبع، ولذلك قال صلى الله عليه وسلم:
5 - (لا تطروني، كما أطرت النصارى ابن مريم، فإنما أنا عبده، فقولوا: عبد الله ورسوله) (3) وعلّم أصحابه أن الرسالة هي الباقية إلى أن يرث الله الأرض ومن عليها، وأن الرسول هو المعلّم المبلّغ في زمن محدود، ثم يذهب وتبقى الرسالة في الأمة، وقد طبّق هذا الرسل جميعا من نوح عليه السلام، إلى نبينا محمد صلى الله عليه وسلم، والقرآن شاهد بذلك، فكل نبي أرسله الله بلّغ المؤمنين به قدسية الرسالة والارتباط بها، وعملوا على تحقيق ذلك، لأن الرسالة هي الباقيه لإكمال مشوار الحياة بعد المبلّغين.
--------------------------------------------
...এর ওপরই তা (পথভ্রষ্টতা) বর্তাবে।} (১) আর মহান আল্লাহ বলেন: {এবং আপনি বলুন, সত্য তোমাদের প্রতিপালকের পক্ষ হতে; সুতরাং যার ইচ্ছা সে ঈমান আনুক এবং যার ইচ্ছা সে কুফরি করুক। নিশ্চয়ই আমি জালিমদের জন্য এমন আগুন প্রস্তুত রেখেছি যার বেষ্টনী তাদেরকে পরিবেষ্টন করে রাখবে। আর যদি তারা পানীয় প্রার্থনা করে তবে তাদেরকে গলিত ধাতুর ন্যায় পানীয় দ্বারা সাহায্য করা হবে যা তাদের মুখমণ্ডল দগ্ধ করবে। কতই না নিকৃষ্ট সে পানীয় এবং কতই না মন্দ সে আশ্রয়স্থল!} (২) আর সমস্ত রাসূল আলাইহিমুস সালাম জীবনের সর্বক্ষেত্রে রিসালাতের সাথে ব্যবহারিকভাবে সংশ্লিষ্ট ছিলেন। যেহেতু পার্থিব জীবন ক্ষণস্থায়ী, যেখানে স্থায়ী জীবন তথা আখেরাতের কল্যাণের জন্য আমলের বীজ বপন করা হয়। তাই তাঁরা মুমিনদের সেই সংশ্লিষ্টতা শিখিয়েছেন, যাতে আনুগত্য হয় মূলত প্রেরণকারী ও রিসালাতের প্রতি, আর রাসূলের প্রতি আনুগত্য হবে তার অনুবর্তী হিসেবে। সেই কারণেই রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন:
৫ - (তোমরা আমার অতিরঞ্জিত প্রশংসা করো না যেমন নাসারারা মারইয়াম-তনয়ের ক্ষেত্রে করেছে। আমি তো কেবল তাঁর বান্দা, সুতরাং তোমরা বলো: আল্লাহর বান্দা ও তাঁর রাসূল।) (৩) তিনি তাঁর সাহাবীদের শিখিয়েছেন যে, রিসালাতই অবশিষ্ট থাকবে যতক্ষণ না আল্লাহ পৃথিবী এবং এর ওপর যা কিছু আছে তার উত্তরাধিকার গ্রহণ করেন, আর রাসূল হলেন একটি নির্দিষ্ট সময়ের জন্য শিক্ষক ও প্রচারকারী; অতঃপর তিনি চলে যাবেন এবং রিসালাত উম্মতের মাঝে অবশিষ্ট থাকবে। নূহ আলাইহিস সালাম থেকে আমাদের নবী মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম পর্যন্ত সকল রাসূলই এটি কার্যকর করেছেন এবং কুরআন এর সাক্ষী। সুতরাং আল্লাহ যে নবীকেই প্রেরণ করেছেন, তিনি তাঁর প্রতি বিশ্বাসী মুমিনদের কাছে রিসালাতের পবিত্রতা ও এর সাথে সংশ্লিষ্টতার কথা পৌঁছে দিয়েছেন এবং তা বাস্তবায়নে কাজ করেছেন। কারণ প্রচারকারীদের তিরোধানের পর জীবনযাত্রার পথ পূর্ণ করতে রিসালাতই অবশিষ্ট থাকে।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
হুকূকুল মারআতি ফী দাউইল কিতাবি ওয়াস সুন্নাহ
(পৃষ্ঠা: ২০)
7/ 3 - المبحث الثانيارتباط الإنسان بالرسالة.
لقد كان الإسلام والمسلمون في الصدر الأول شيئا واحدا، الإسلام هو المسلم، والمسلم هو الإسلام، قوة إيمانية بالله ورسوله هائلة، وتصديق بشرع الله ورسوله، وتطبيق عملي فريد لمنهج الإسلام، ومن هنا جاء قول الرسول صلى الله عليه وسلم:
6 - (خيركم قرني، ثم الذين يلونهم، ثم الذين يلونهم) قال عمران: لا أدري، أذكر النبي صلى الله عليه وسلم بعد قرنه قرنين أو ثلاثة) (1) فالمركز الأول عصر النبوة والأصحاب رضي الله عنهم، والمركز الثاني عصر التابعين بما فيه من قصور عن سابقه، والثالث عصر أتباع التابعين بما فيه من قصور عن سابقه أيضا، وفي الحقيقة أن بدء الجفوة ولو في أمر يسير بين الإسلام وبعض المسلمين برز بعد مقتل عثمان رضي الله عنه، والفتنة بين علي ومعاوية رضي الله عنهما، وأخذ يتنامى إلى أن صح قول من قال: إن الإسلام شيء والمسلمين شيء آخر، وإن كان هذا لا ينطبق تماما على عهد الدولة الإسلامية الواحدة، فقد كان فيها خير كثير، لكنه قوي لمّا تشرذمة الدولة الإسلامية بفعل أعداء الإسلام، وتمادى أكثر المسلمين في المفارقة حتى أصبح القول المذكور حقيقة لا تنكر في هذا العصر، وليس على كل فرد، والسبب في هذه المفارقة الشديدة، عدم الأخذ بما أخذت به القرون المفضلة، فقد تناول أهلها الإسلام بالنظر إلى قدسية المرسل والرسالة والرسول (2) وكان تعظيم الرسول صلى الله عليه وسلم عندهم منبثقا من تعظيم المرسل
--------------------------------------------
৭/ ৩ - দ্বিতীয় পরিচ্ছেদবার্তার (রিসালাতের) সাথে মানুষের সম্পর্ক.
ইসলামের প্রাথমিক যুগে ইসলাম এবং মুসলিমগণ একই সত্তা ছিলেন; ইসলামই ছিলেন মুসলিম এবং মুসলিমই ছিলেন ইসলাম। আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের প্রতি এক সুমহান ঈমানি শক্তি, আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের শরয়ি বিধানের প্রতি পূর্ণ বিশ্বাস এবং ইসলামের মূলনীতির এক অনন্য বাস্তব প্রয়োগ বিদ্যমান ছিল। এখান থেকেই রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের বাণীর অবতারণা হয়েছে:
৬ - (তোমাদের মধ্যে সর্বোত্তম হলো আমার যুগ, অতঃপর যারা তাদের পরবর্তী, অতঃপর যারা তাদের পরবর্তী) ইমরান বলেন: আমি জানি না নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর যুগের পর আরও দুই যুগের কথা উল্লেখ করেছেন নাকি তিন যুগের। (১) সুতরাং প্রথম স্তর হলো নবুওয়াত এবং সাহাবীগণের (الصحابة) যুগ (রাযিয়াল্লাহু আনহুম), দ্বিতীয় স্তর হলো তাবিঈদের (التابعين) যুগ—যাতে তার পূর্ববর্তী যুগের তুলনায় কিছুটা ঘাটতি ছিল, এবং তৃতীয় স্তর হলো তাবি-তাবিঈদের (أتباع التابعين) যুগ—যাতেও তার পূর্ববর্তী যুগের তুলনায় কিছুটা ঘাটতি ছিল। প্রকৃতপক্ষে, ইসলাম এবং কিছু মুসলিমের মধ্যে সামান্য বিষয়ে হলেও দূরত্বের সূচনা হয়েছিল উসমান (রাযিয়াল্লাহু আনহু)-এর শাহাদাত এবং আলী ও মুয়াবিয়া (রাযিয়াল্লাহু আনহুমা)-এর মধ্যকার ফিতনার (الفتنة) পর। এই দূরত্ব ক্রমশ বৃদ্ধি পেতে থাকে, যতক্ষণ না এক বক্তার উক্তি সঠিক বলে গণ্য হতে শুরু করে যে: 'ইসলাম এক জিনিস আর মুসলিমরা অন্য জিনিস'। যদিও এই কথাটি একক ইসলামি রাষ্ট্রের আমলের সাথে পূর্ণাঙ্গভাবে খাপ খায় না, কারণ তখনো অনেক কল্যাণ অবশিষ্ট ছিল। কিন্তু ইসলামের শত্রুদের ষড়যন্ত্রে যখন ইসলামি রাষ্ট্র খণ্ডবিখণ্ড হয়ে গেল, তখন এই বিচ্ছেদ আরও প্রকট রূপ ধারণ করল। অধিকাংশ মুসলিম এই পার্থক্যের পথে এতদূর এগিয়ে গেছে যে, উক্ত কথাটি বর্তমান যুগে এক অনস্বীকার্য সত্যে পরিণত হয়েছে—যদিও তা প্রত্যেক ব্যক্তির ক্ষেত্রে প্রযোজ্য নয়। এই চরম বিচ্ছেদের কারণ হলো, শ্রেষ্ঠ যুগসমূহের (القرون المفضلة) মানুষেরা যা আঁকড়ে ধরেছিলেন তা পরবর্তীকালে আঁকড়ে না ধরা। কেননা সেই যুগের মানুষেরা প্রেরক, প্রেরিত বার্তা এবং রাসূলের পবিত্রতার প্রতি লক্ষ্য রেখে ইসলামকে গ্রহণ করেছিলেন। (২) তাঁদের নিকট রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের প্রতি সম্মান প্রদর্শন ছিল মূলত মহান প্রেরকের প্রতি সম্মান প্রদর্শনেরই বহিঃপ্রকাশ।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
হুকূকুল মারআতি ফী দাউইল কিতাবি ওয়াস সুন্নাহ
(পৃষ্ঠা: ২১)
والرسالة، ولم يكن لمجرد شخصه صلى الله عليه وسلم، فإنه بشر مثلهم، ولذلك قال ضمام بن ثعلبة رضي الله عنه: فيما رواه أنس رضي الله عنه قال:
7 - (بينما نحن جلوس مع النبي صلى الله عليه وسلم في المسجد، دخل رجل على جمل، فأناخه في المسجد ثم عقله، ثم قال لهم: أيكم محمد؟ والنبي صلى الله عليه وسلم متكئ بين ظهرانيهم، فقلنا: هذا الرجل الأبيض المتكئ. فقال له الرجل: ابن عبد المطلب؟ فقال له النبي صلى الله عليه وسلم: قد أجبتك، فقال الرجل للنبي صلى الله عليه وسلم: إني سائلك فمشدد عليك في المسألة، فلا تجد عليّ في نفسك، فقال: سل عما بدا لك، فقال: أسألك بربك ورب من قبلك، آلله أرسلك إلى الناس كلهم؟ ، فقال: اللهم نعم، قال: أنشدك بالله، آلله أمرك أن نصلي الصلوات الخمس في اليوم والليلة؟ ، قال: اللهم نعم، قال أنشدك بالله، آلله أمرك أن نصوم هذا الشهر من السنة؟ ، قال: اللهم نعم، قال: أنشدك بالله، آلله أمرك أن تأخذ هذه الصدقة من أغنيائنا فتقسمها على فقرائنا؟ ، فقال النبي صلى الله عليه وسلم: اللهم نعم، فقال الرجل: آمنت بما جئت به، وأنا رسول من ورائي من قومي، وأنا ضمام بن ثعلبة، أخو بني سعد بن بكر) (1) هذا تعظيم للمرسل والرسالة، وقد كان رسول الله صلى الله عليه وسلم لا يتميز عن أصحابه، ولذلك لم يعرفه ضمام إلا بعد السؤال عنه، وكان صلى الله عليه وسلم يقول لمن يرى عليه الرهبة:
8 - (هوّن عليك فإنما أنا ابن امرأة من قريش كانت تأكل القديد في هذه البطحاء) (2) وسار أصحابه من بعده في تقديس الرسالة مساره صلى الله عليه وسلم، بايع الناس أبا بكر رضي الله عنه فقال: إني وليت عليكم ولست بخيركم، فإن أحسنت فأعينوني، وإن أسأت فقوّمني، الصدق
--------------------------------------------
এবং রিসালাত, আর তা নিছক তাঁর (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) ব্যক্তিসত্তার জন্য ছিল না, কারণ তিনি তাদের মতোই একজন মানুষ ছিলেন। আর এ কারণেই যিমাম ইবনে সা’লাবা (রাদিয়াল্লাহু আনহু) তা-ই বলেছিলেন যা আনাস (রাদিয়াল্লাহু আনহু) বর্ণনা করেছেন। তিনি বলেন:
৭ - (আমরা যখন মসজিদে নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর সাথে বসা ছিলাম, তখন এক ব্যক্তি উটের পিঠে চড়ে প্রবেশ করল। সে মসজিদে উটটি বসাল এবং সেটিকে বাঁধল। তারপর তাদেরকে বলল: তোমাদের মধ্যে মুহাম্মদ কে? নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) তখন তাদের মাঝে হেলান দিয়ে বসা ছিলেন। আমরা বললাম: এই যে হেলান দিয়ে বসা ফর্সা ব্যক্তিটি। তখন লোকটি তাঁকে বলল: হে ইবনে আবদুল মুত্তালিব? নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) তাকে বললেন: আমি তোমাকে উত্তর দিচ্ছি। লোকটি নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-কে বলল: আমি আপনাকে কিছু জিজ্ঞাসা করব এবং প্রশ্নের ক্ষেত্রে আপনার প্রতি কঠোর হব, তাই আপনি মনে কিছু নেবেন না। তিনি বললেন: তোমার যা মনে আসে জিজ্ঞাসা করো। সে বলল: আমি আপনাকে আপনার প্রতিপালক এবং আপনার পূর্ববর্তীদের প্রতিপালকের কসম দিয়ে জিজ্ঞাসা করছি, আল্লাহ কি আপনাকে সকল মানুষের নিকট পাঠিয়েছেন? তিনি বললেন: আল্লাহুম্মা না’আম (হে আল্লাহ, হ্যাঁ)। সে বলল: আমি আপনাকে আল্লাহর কসম দিয়ে বলছি, আল্লাহ কি আপনাকে দিন ও রাতে পাঁচ ওয়াক্ত সালাত আদায়ের নির্দেশ দিয়েছেন? তিনি বললেন: আল্লাহুম্মা না’আম (হে আল্লাহ, হ্যাঁ)। সে বলল: আমি আপনাকে আল্লাহর কসম দিয়ে বলছি, আল্লাহ কি আপনাকে বছরের এই মাসে রোজা রাখার নির্দেশ দিয়েছেন? তিনি বললেন: আল্লাহুম্মা না’আম (হে আল্লাহ, হ্যাঁ)। সে বলল: আমি আপনাকে আল্লাহর কসম দিয়ে বলছি, আল্লাহ কি আপনাকে নির্দেশ দিয়েছেন যে আপনি আমাদের ধনীদের থেকে এই সাদাকা গ্রহণ করবেন এবং তা আমাদের দরিদ্রদের মধ্যে বণ্টন করবেন? নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বললেন: আল্লাহুম্মা না’আম (হে আল্লাহ, হ্যাঁ)। তখন লোকটি বলল: আপনি যা নিয়ে এসেছেন তার ওপর আমি ঈমান আনলাম, আর আমি আমার গোত্রের যারা পেছনে রয়েছে তাদের প্রতিনিধি। আমি যিমাম ইবনে সা’লাবা, বনু সা’দ ইবনে বকর গোত্রের ভাই।) (১) এটি মূলত প্রেরিত (مرسل) এবং রিসালাতের প্রতি সম্মান প্রদর্শন। রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) তাঁর সাহাবীদের থেকে নিজেকে আলাদা বৈশিষ্ট্যে রাখতেন না, যার ফলে যিমাম তাঁকে জিজ্ঞাসা করা ব্যতীত চিনতে পারেননি। তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) যাঁর মাঝে তাঁর প্রতি ভীতি লক্ষ্য করতেন তাকে বলতেন:
৮ - (তুমি সহজ হও, আমি তো কুরাইশ বংশের এমন এক মহিলার পুত্র, যিনি এই উপত্যকায় শুকনো গোশত খেতেন।) (২) এবং তাঁর পরবর্তী সাহাবীগণ রিসালাতকে পবিত্র জ্ঞান করার ক্ষেত্রে তাঁর (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) পথ অনুসরণ করেছেন। যখন মানুষ আবু বকর (রাদিয়াল্লাহু আনহু)-এর হাতে বায়আত গ্রহণ করল, তিনি বললেন: আমাকে তোমাদের ওপর দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে অথচ আমি তোমাদের মধ্যে সর্বোত্তম নই। আমি যদি ভালো কাজ করি তবে আমাকে সহযোগিতা করো, আর যদি ভুল করি তবে আমাকে সংশোধন করে দিও। সত্য...
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
হুকূকুল মারআতি ফী দাউইল কিতাবি ওয়াস সুন্নাহ
(পৃষ্ঠা: ২২)
أمانة، والكذب خيانة، والضعيف فيكم قوي عندي، حتى أريح (1) عليه حقه - إن شاء الله - والقوي فيكم ضعيف عندي، حتى آخذ الحق منه - إن شاء الله - لا يدع قوم الجهاد في سبيل الله إلا ضربهم الله بالذل، ولا تشيع الفاحشة في قوم إلا عمهم الله بالبلاء، أطيعوني ما أطعت الله ورسوله، فإذا عصيت الله ورسوله فلا طاعة لي عليكم (2) وهنا نلاحظ ارتباط أبي بكر بقدسية الرسالة، والتركيز على الالتزام بصحة المنهج.
وبايعوا ابن الخطاب رضي الله عنه فأهمّه الأمر وخشي أن ينظر الناس إلى شخصه وينسون تقديس الرسالة، قال حذيفة رضي الله عنه:
9 - (دخلت على عمر وهو قاعد على جذع في داره وهو يحدث نفسه، فدنوت منه فقلت: ما الذي أهمك يا أمير المؤمنين؟ ، فقال هكذا بيده وأشار بها، قلت: الذي يهمّك والله لو رأينا منك أمرا ننكره لقوّمناك، قال: آلله الذي لا إله إلا هو، لو رأيتم مني أمرا تنكرونه لقومتموه؟ ، فقلت: آلله الذي لا إله إلا هو، لو رأينا منك أمرا ننكره لقوّمناك، قال: ففرح بذلك فرحا شديدا وقال: الحمد لله الذي جعل فيكم أصحاب محمد الذي إذا رأى مني أمرا ينكره قوّمني) (3) ولم يترك الأعداء الكيد للإسلام فبرزت الدعوة إلى تقديس الأشخاص، ليتمكنوا من خلق الجو المناسب لهدم الإسلام لبنة لبنة، ولو طال الزمن في نظرهم، وكان أول ما بدئ بالدعوة إلى الأخذ بدم الخليفة عثمان رضي الله عنه، وهي كما قال الخليفة علي بن أبي طالب رضي الله عنه في التحكيم: كلمة حق أريد بها باطل، تلت بعد ذلك دعوة عبد الله بن سبأ إلى تقديس آل البيت، وكان الهدف
--------------------------------------------
সত্যবাদিতা আমানত এবং মিথ্যা হলো খিয়ানত। তোমাদের মধ্যে যে দুর্বল, সে আমার নিকট শক্তিশালী যতক্ষণ না আমি তাকে তার অধিকার ফিরিয়ে দেই (১) - ইনশাআল্লাহ - আর তোমাদের মধ্যে যে শক্তিশালী, সে আমার নিকট দুর্বল যতক্ষণ না আমি তার থেকে অধিকার আদায় করে নিই - ইনশাআল্লাহ। কোনো জাতি আল্লাহর পথে জিহাদ পরিত্যাগ করে না, তবে আল্লাহ তাদের লাঞ্ছনা দ্বারা আঘাত করেন। আর কোনো জাতির মধ্যে যখন অশ্লীলতা ছড়িয়ে পড়ে, তখন আল্লাহ তাদের বিপদে নিমজ্জিত করেন। আমি যতক্ষণ আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের আনুগত্য করি, ততক্ষণ তোমরা আমার আনুগত্য করো। আর যদি আমি আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের অবাধ্যতা করি, তবে আমার প্রতি তোমাদের আনুগত্যের কোনো বাধ্যবাধকতা নেই (২)। এখানে আমরা লক্ষ্য করি যে, আবু বকর (রা.)-এর সাথে রিসালাতের পবিত্রতার সম্পৃক্ততা এবং মানহাজের বিশুদ্ধতা (صحة) বজায় রাখার প্রতি অঙ্গীকারবদ্ধ হওয়ার ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়েছে।
অতঃপর তারা ইবনুল খাত্তাব (রা.)-এর হাতে বাইয়াত গ্রহণ করেন। বিষয়টি তাকে বিচলিত করল এবং তিনি এই আশঙ্কা করলেন যে, পাছে মানুষ তার ব্যক্তিত্বের দিকে তাকাতে গিয়ে রিসালাতের পবিত্রতাকে ভুলে না যায়। হুজাইফা (রা.) বলেন:
9 - (আমি উমর (রা.)-এর কাছে প্রবেশ করলাম, তখন তিনি তার ঘরের একটি কাষ্ঠখণ্ডের ওপর বসে আপন মনে কথা বলছিলেন। আমি তার কাছে গিয়ে বললাম: হে আমিরুল মুমিনীন, কিসে আপনাকে চিন্তিত করল? তিনি হাত দিয়ে এভাবে ইশারা করলেন। আমি বললাম: আপনার চিন্তার বিষয়ে আল্লাহর শপথ, যদি আমরা আপনার পক্ষ থেকে এমন কিছু দেখি যা আমরা অপছন্দ করি, তবে অবশ্যই আমরা আপনাকে সোজা করে দেব। তিনি বললেন: আল্লাহর শপথ, যিনি ছাড়া আর কোনো ইলাহ নেই, তোমরা যদি আমার মধ্যে অপছন্দনীয় কিছু দেখতে পাও তবে কি তোমরা আমাকে সোজা করে দিতে? আমি বললাম: আল্লাহর শপথ, যিনি ছাড়া আর কোনো ইলাহ নেই, যদি আমরা আপনার পক্ষ থেকে অপছন্দনীয় কিছু দেখি তবে অবশ্যই আমরা আপনাকে সোজা করে দেব। তিনি বললেন: এতে তিনি অত্যন্ত আনন্দিত হলেন এবং বললেন: সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর জন্য, যিনি তোমাদের মধ্যে মুহাম্মাদ (সা.)-এর এমন সাহাবী রেখেছেন, যে আমার মধ্যে কোনো অপছন্দনীয় বিষয় দেখলে আমাকে সোজা করে দেবে।) (৩) শত্রুরা ইসলামের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র করা ছাড়েনি, ফলে ব্যক্তিপূজার ডাক সামনে আসে; যাতে তারা ইসলামের প্রতিটি স্তম্ভ একে একে ধ্বংস করার উপযুক্ত পরিবেশ তৈরি করতে পারে, যদিও তাদের দৃষ্টিতে এতে দীর্ঘ সময় লাগে। এর সূচনা হয়েছিল খলিফা উসমান (রা.)-এর হত্যার প্রতিশোধ নেওয়ার ডাক দিয়ে, যা সম্পর্কে খলিফা আলী ইবনে আবি তালিব (রা.) তাহকিমের সময় বলেছিলেন: এটি এমন একটি সত্য কথা যার মাধ্যমে বাতিলের উদ্দেশ্য সাধন করা হয়েছে। এরপর আহলে বাইতকে পবিত্র জ্ঞান করার বিষয়ে আবদুল্লাহ ইবনে সাবার আহ্বান আসে এবং এর লক্ষ্য ছিল...
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
হুকূকুল মারআতি ফী দাউইল কিতাবি ওয়াস সুন্নাহ
(পৃষ্ঠা: ২৩)
منها الصرف عن تقديس الرسالة، وهي أخطر ما رمي به الإسلام، إذ تدرجت هذه الدعوة من طور إلى طور حتى جاء من يقول بألوهية علي رضي الله عنه، وقد استغل حب آل البيت عليهم السلام استغلالا واسعا، ولأغراض شتّى، حتى تحوّل التقديس الروحي إلى الأشخاص أكثر من الرسالة، وأحدثوا لتقديس الأشخاص في الزمان والمكان ما هو مخالف لمنهج الرسالة، وأدخلوا في القيم الروحية من البدع شيئا كثيرا، من تلمّس وتمسّح بقبور الأشخاص، وترنّم بالمدائح في احتفالات تقام لذلك، واتّسع الخرق على الراقع، حينما خرج عن إطار آل البيت عليهم السلام إلى غيرهم من الناس، ممن يقال عنهم: الأقطاب، والأولياء، والصالحون، وهلم جرا، وجاء التصوف الغالي في أمر هؤلاء ببدع لا تقل عما أحدث في أمر آل البيت عليهم السلام، وأصبحت هذه الأمور ظاهرة في العالم، تمثل ارتباطا روحيا لدى الكثيرين من الناس تجاه الأنبياء، والأولياء، والصالحين، ومن يرون أهليته للتقديس، وأصبح عندهم منهج تربوي يوجه مشاعر الآخرين إلى الشخصية المراد تقديسها، وإرساء علاقة حب شخصي لا ارتباط له بمنهج الدين الصحيح، وقد تجد من هؤلاء القوم من يخشى غضبة الولي، ولا يخاف من غضب الله عز وجل، ولو استحلفته بالله على أمر هو فيه كاذب لحلف دون تردد، ولكنه لا يجرؤ على الحلف بالولي كاذبا، وتجده لا يغضب لمخالفة الدين أوسبّه، ولا لذات الله جل جلاله، بل قد يمارس ذلك فيسب الله عز وجل، ويسب الدين، ولا تأخذه لومة لائم في حماية
جناب الشخص المقدس.
ومن منطلق الغلو في حب آل البيت، وما شاع له من قبول عند العامة، وما حصد من قيل عنه: إنه من آل البيت من غنائم في
এর মধ্যে অন্যতম হলো রিসালতের পবিত্রতা থেকে বিমুখ করা, যা ইসলামের বিরুদ্ধে পরিচালিত অন্যতম বিপজ্জনক পদক্ষেপ। কেননা এই দাওয়াত পর্যায়ক্রমে এক স্তর থেকে অন্য স্তরে এমনভাবে ধাবিত হয়েছে যে, পরিশেষে এমন লোকের আবির্ভাব ঘটেছে যারা আলি (রা.)-এর উপাস্য হওয়ার দাবি করেছে। আহলে বায়তের (আ.) প্রতি ভালোবাসাকে এখানে বিভিন্ন উদ্দেশ্যে অত্যন্ত ন্যাক্কারজনকভাবে ব্যবহার করা হয়েছে, যার ফলে আধ্যাত্মিক পবিত্রতা ও ভক্তি রিসালতের চেয়ে ব্যক্তির প্রতি অধিক কেন্দ্রীভূত হয়ে পড়েছে। তারা স্থান ও কালের নিরিখে ব্যক্তিদের পবিত্র জ্ঞান করার ক্ষেত্রে এমন সব নব-উদ্ভাবিত বিষয়ের অবতারণা করেছে যা রিসালতের পদ্ধতির পরিপন্থী। তারা আধ্যাত্মিক মূল্যবোধের মধ্যে প্রচুর পরিমাণে বিদআত (بدعة) অনুপ্রবেশ করিয়েছে; যেমন—ব্যক্তিদের কবরে হাত বুলানো ও তা স্পর্শ করা এবং এই উদ্দেশ্যে আয়োজিত অনুষ্ঠানগুলোতে সুর করে প্রশংসাগীতি গাওয়া। পরিস্থিতি ক্রমান্বয়ে নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায় যখন এই বিষয়টি কেবল আহলে বায়তের (আ.) গণ্ডি ছাড়িয়ে অন্যান্য মানুষের মাঝেও ছড়িয়ে পড়ে, যাদের সম্পর্কে কুতুব, অলি ও নেককার (صالح) বলা হয়। এই ব্যক্তিদের বিষয়ে চরমপন্থী (غلو) তাসাউফ এমন সব বিদআতের (بدعة) জন্ম দিয়েছে যা আহলে বায়তের ক্ষেত্রে সৃষ্ট বিষয়গুলোর চেয়ে কোনো অংশে কম নয়। বর্তমানে এই বিষয়গুলো বিশ্বে এমন এক রূপে প্রকাশ পেয়েছে যা অনেক মানুষের মাঝে নবী, অলি ও নেককার (صالح) ব্যক্তি এবং যাদেরকে তারা পবিত্র মনে করে, তাদের প্রতি এক ধরণের আধ্যাত্মিক সম্পর্কের প্রতিনিধিত্ব করে। তাদের নিকট এমন এক শিক্ষামূলক পদ্ধতি তৈরি হয়েছে যা অন্যদের আবেগ-অনুভূতিকে সেই নির্দিষ্ট ব্যক্তির পবিত্রতার দিকে ধাবিত করে এবং একটি ব্যক্তিগত ভালোবাসার সম্পর্ক সুদৃঢ় করে, যার সাথে দীনের সঠিক পদ্ধতির কোনো সম্পর্ক নেই। আপনি এই সম্প্রদায়ের এমন লোকও পাবেন যে কি না অলির রাগান্বিত হওয়াকে ভয় পায়, কিন্তু মহান আল্লাহর ক্রোধকে ভয় পায় না। যদি আপনি তাকে কোনো বিষয়ে আল্লাহর নামে শপথ করতে বলেন যাতে সে মিথ্যাবাদী (كاذب), তবে সে দ্বিধাহীনভাবে শপথ করবে। কিন্তু সে অলির নামে মিথ্যা শপথ করার সাহস পাবে না। আপনি তাকে দেখবেন যে দীনের বিরোধিতা করা বা দীনকে গালি দেওয়ার কারণে সে রাগান্বিত হয় না, এমনকি মহান আল্লাহর সত্তার অবমাননাতেও সে ক্ষুব্ধ হয় না; বরং সে নিজেই মহান আল্লাহ ও দীনকে গালি দেয়, অথচ তথাকথিত পবিত্র ব্যক্তির মর্যাদা রক্ষায় সে কোনো নিন্দুকের নিন্দার পরোয়া করে না।
পবিত্র ব্যক্তির সম্মান রক্ষার্থে।
আহলে বায়তের প্রতি ভালোবাসার ক্ষেত্রে এই চরমপন্থা (غلو) এবং সাধারণ মানুষের মাঝে এর যে ব্যাপক গ্রহণযোগ্যতা তৈরি হয়েছে, আর যাদের সম্পর্কে বলা হয় যে তারা আহলে বায়তের অন্তর্ভুক্ত, তাদের পক্ষ থেকে অর্জিত বিভিন্ন পার্থিব সুবিধাসমূহ...
(খণ্ড: ১)
হুকূকুল মারআতি ফী দাউইল কিতাবি ওয়াস সুন্নাহ
(পৃষ্ঠা: ২৪)
مجال التقديس أولا، وفي مجال التموّل من الخمس وغيره، برزت ظاهرة ادّعاء النسب إلى آل البيت لمآرب عديدة منها ما ذكر، ومنها ما يتعلق بالسياسة والحكم، وما يتعلق بالمصالح الذاتية، فأصبح عند هؤلاء عدم الارتباط بالرسالة وتقديسها، وحلّ محله الارتباط بالشخصية المقدسة، وحياكة الأقوال في تعظيمها وتقديسها، ولو أسندوا في تعظيمها بعض الأقوال للرسالة فهي لا تعدوا أحد أمرين:
الأول: تأويل النص على غير المراد منه، إن كان مما ورد في الرسالة، كلا أو جزءا.
والثاني: صناعة النص ونسبته زورا إلى الرسالة لتقوية الهدف.
وهذا كله خلاف المنهج السوي: كتاب الله عز وجل، وسنة رسوله صلى الله عليه وسلم، وهما يخاطبان الأشخاص من خلال الرسالة، ويدعوان إلى الارتباط بها مباشرة، في كل الأحوال: الدينية، والأخلاقية، والتعليمية، والدعوية، وكل ما يتعلق بالفكر والحوار، وأدب الحديث، وحالات الحرب والسلم، وحذّر القرآن من الانتماء إلى الأشخاص ومنهم الأنبياء عليهم السلام، وخاتمهم نبينا محمد صلى الله عليه وسلم {وَمَا مُحَمَّدٌ إِلَّا رَسُولٌ قَدْ خَلَتْ مِنْ قَبْلِهِ الرُّسُلُ أَفَإِنْ مَاتَ أَوْ قُتِلَ انْقَلَبْتُمْ عَلَى أَعْقَابِكُمْ وَمَنْ يَنْقَلِبْ عَلَى عَقِبَيْهِ فَلَنْ يَضُرَّ اللَّهَ شَيْئًا وَسَيَجْزِي اللَّهُ الشَّاكِرِينَ} (1) تبليغ الرسالة مهمته صلى الله عليه وسلم، فله الطاعة والاتباع، وللرسالة التقديس والبقاء، لأنها رسالة الله عز وجل، وإرادته في الحياة، وهي التي تبقى لتدبير حياة الناس، والرسل يموتون
--------------------------------------------
পবিত্রকরণের ক্ষেত্র প্রথমত, এবং খুমস ও অন্যান্য উপায়ে সম্পদ অর্জনের ক্ষেত্রে আহলে বাইতের প্রতি বংশীয় সম্বন্ধ দাবি করার একটি প্রবণতা নানাবিধ উদ্দেশ্যে প্রকাশ পেয়েছে। এর কিছু পূর্বে বর্ণিত হয়েছে, আর কিছু রাজনীতি ও শাসনব্যবস্থা এবং ব্যক্তিগত স্বার্থের সাথে সংশ্লিষ্ট। ফলে এই শ্রেণির লোকদের নিকট মূল বার্তার (রিসালাত) সাথে সম্পৃক্ত থাকা ও সেটিকে পবিত্র জ্ঞান করার বিষয়টি বিলুপ্ত হয়ে গেছে এবং তার স্থলাভিষিক্ত হয়েছে কোনো পবিত্র ব্যক্তিত্বের সাথে সম্পৃক্ত হওয়া। তারা সেই ব্যক্তিত্বের মহিমা কীর্তন ও তাকে পবিত্র প্রমাণে নানা কথা বুনতে শুরু করে। তারা যদি সেই মহিমা বর্ণনায় কোনো বক্তব্যকে মূল বার্তার দিকে সম্পর্কিত (إسناد) করে, তবে তা দুটি বিষয়ের বাইরে যায় না:
প্রথমত: মূল বার্তার কোনো পাঠের (نص) যদি আংশিক বা পূর্ণাঙ্গ কোনো ভিত্তি থেকে থাকে, তবে তার উদ্দেশ্যবহির্ভূত অপব্যাখ্যা (تأويل) করা।
দ্বিতীয়ত: নিজেদের লক্ষ্য শক্তিশালী করার জন্য পাঠ বা নস (نص) তৈরি করা এবং মিথ্যাভাবে (زور) তা মূল বার্তার দিকে সম্পর্কিত করা (نسبة)।
আর এসবই সঠিক আদর্শের পরিপন্থী, যা হলো মহান আল্লাহর কিতাব এবং তাঁর রাসূলের সুন্নাহ। এ দুটি উৎস মানুষকে মূল বার্তার মাধ্যমেই সম্বোধন করে এবং সকল ক্ষেত্রে—তা ধর্মীয়, নৈতিক, শিক্ষামূলক, দাওয়াহ বিষয়ক এবং চিন্তা, সংলাপ, কথোপকথনের আদব ও যুদ্ধ-শান্তি সংশ্লিষ্ট যা-ই হোক না কেন—সরাসরি সেই বার্তার সাথেই সম্পৃক্ত হতে আহ্বান জানায়। কুরআন কোনো ব্যক্তির সাথে অন্ধভাবে জড়িয়ে পড়ার ব্যাপারে সতর্ক করেছে, এমনকি তারা নবীগণ (আলাইহিমুস সালাম) হলেও, যাঁদের সর্বশেষ হলেন আমাদের নবী মুহাম্মদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম): {আর মুহাম্মদ একজন রাসূল বৈ তো নন; তাঁর পূর্বে আরও বহু রাসূল অতিবাহিত হয়েছেন। সুতরাং তিনি যদি মারা যান কিংবা নিহত হন, তবে কি তোমরা পিছু হটে যাবে? আর যে পিছু হটে যাবে, সে আল্লাহর কোনোই ক্ষতি করতে পারবে না। আর আল্লাহ শীঘ্রই কৃতজ্ঞদের পুরস্কৃত করবেন।} (১) রিসালাত বা বার্তা পৌঁছে দেওয়াই ছিল তাঁর (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) দায়িত্ব; সুতরাং তাঁর প্রতি রয়েছে আনুগত্য ও অনুসরণ, আর দ্বীনি বার্তার জন্য রয়েছে পবিত্রতা ও স্থায়িত্ব। কারণ এটি মহান আল্লাহর বার্তা এবং জীবন সম্পর্কে তাঁরই অভিপ্রায়; মানুষের জীবন পরিচালনার জন্য এটিই অবশিষ্ট থাকে, আর রাসূলগণ তো মৃত্যুবরণ করেন।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
হুকূকুল মারআতি ফী দাউইল কিতাবি ওয়াস সুন্নাহ
(পৃষ্ঠা: ২৫)
لأنهم بشر، وقد عملوا لارتباط الناس بالرسالة وتقديسها، وهم لا يتكلمون عن ذواتهم من خلال الرسالة، ولم يوجهوا الأتباع إلى شيء من تقديس الذات، وهم يتلطفون بأتباعهم ويشفقون عليهم، فهذا نوح عليه عليه السلام أول الأنبياء، يقول لقومه: {يَاقَوْمِ اعْبُدُوا اللَّهَ مَا لَكُمْ مِنْ إِلَهٍ غَيْرُهُ إِنِّي أَخَافُ عَلَيْكُمْ عَذَابَ يَوْمٍ عَظِيمٍ} (1) وهذا التلطف والخوف من نوح عليه السلام ورد في أكثر من آية في كتاب الله عز وجل، ولبث فيهم ألف سنة إلا خمسين عاما يدعوهم إلى النجاة بتقديس الرسالة، ولم يدع إلى تقديس نفسه ولا مرة واحدة، والرسل كافة على نفس المنهج، وآخرهم نبينا محمد صلى الله عليه وسلم عرض عليه قريش الجاه والمال والملك فلم يقبل صلى الله عليه وسلم، وقال:
10 - (يا عم والله لو وضعوا الشمس في يميني والقمر في يساري على أن أترك هذا الأمر حتى يظهره الله أو أهلك فيه ما تركته) (2) لماذا هذا الموقف من رسول الله صلى الله عليه وسلم؟ لأن الأمر لا يتعلق بالأشخاص وإنما هو متعلق بالمرسل جل جلاله وبالرسالة، فليس المراد تقديس الرسول صلى الله عليه وسلم، وإنما المراد الاستجابة له والإيمان برسالته، والتطبيق الفعلي لما جاء به، ولذلك لم يقل صلى الله عليه وسلم: تركت فيكم فلان وفلان من عظماء الصحابة ومنهم ابن عمه وزوج ابنته علي رضي الله عنه، وإنما قال:
11 - (تركت فيكم ما لن تضلوا بعده إن اعتصمتم به: كتاب الله، وأنتم تسألون عني، فما أنتم قائلون؟ ، قالوا: نشهد أنك قد بلّغت وأدّيت ونصحت، فقال بإصبعه السبابة، يرفعها إلى السماء
--------------------------------------------
কারণ তাঁরা মানুষ, এবং তাঁরা কাজ করেছেন যাতে মানুষ রিসালাতের সাথে সম্পৃক্ত হয় এবং সেটিকে পবিত্র জ্ঞান করে। তাঁরা রিসালাতের আবরণে নিজেদের সত্তা সম্পর্কে কথা বলেন না এবং তাঁরা অনুসারীদের আত্ম-পূজার কোনো বিষয়ের দিকে পরিচালিত করেননি। তাঁরা তাঁদের অনুসারীদের সাথে নম্র আচরণ করেন এবং তাঁদের প্রতি মমত্ববোধ পোষণ করেন। এই যে নুহ (আলাইহিস সালাম), তিনি নবীদের মধ্যে প্রথম, তিনি তাঁর সম্প্রদায়কে বলেন: {হে আমার সম্প্রদায়! তোমরা আল্লাহর ইবাদত করো, তিনি ব্যতীত তোমাদের আর কোনো উপাস্য নেই; নিশ্চয় আমি তোমাদের ওপর এক মহাদিবসের আজাবের আশঙ্কা করছি} (১)। নুহ (আলাইহিস সালাম)-এর এই নম্রতা ও আশঙ্কা মহান আল্লাহর কিতাবের একাধিক আয়াতে বর্ণিত হয়েছে। তিনি তাঁদের মাঝে পঞ্চাশ বছর কম এক হাজার বছর অবস্থান করে রিসালাতের পবিত্রতার মাধ্যমে মুক্তির দিকে দাওয়াত দিয়েছিলেন এবং একবারের জন্যও নিজের পবিত্রতা বা মহত্ত্ব প্রচারের দিকে আহ্বান করেননি। আর সকল রাসুলই একই পদ্ধতি (منهج)-এর ওপর ছিলেন। তাঁদের সর্বশেষ হলেন আমাদের নবী মুহাম্মদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম); কুরাইশরা তাঁর সামনে পদমর্যাদা, অর্থ-সম্পদ ও রাজত্ব পেশ করেছিল, কিন্তু তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) তা গ্রহণ করেননি এবং বলেছিলেন:
১০ - (হে চাচা! আল্লাহর কসম, তাঁরা যদি আমার ডান হাতে সূর্য আর বাম হাতে চাঁদ এনে দেয় যাতে আমি এই বিষয়টি ছেড়ে দেই, যতক্ষণ না আল্লাহ একে বিজয়ী করেন অথবা আমি এর জন্য ধ্বংস হয়ে যাই, তবুও আমি তা ছাড়ব না) (২)। রাসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর এই অবস্থানের কারণ কী? কারণ বিষয়টি ব্যক্তিদের সাথে সম্পৃক্ত নয়, বরং তা প্রেরণকারী মহান সত্তা ও রিসালাতের সাথে সংশ্লিষ্ট। সুতরাং উদ্দেশ্য রাসুলের (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) পবিত্রতা ঘোষণা নয়, বরং তাঁর ডাকে সাড়া দেওয়া, তাঁর রিসালাতের ওপর ঈমান আনা এবং তিনি যা নিয়ে এসেছেন তাঁর বাস্তব প্রয়োগ করা। এই কারণেই তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেননি যে: 'আমি তোমাদের মাঝে মহান সাহাবীগণের মধ্য থেকে অমুক অমুককে রেখে গেলাম', যাঁদের অন্তর্ভুক্ত ছিলেন তাঁর চাচাতো ভাই ও জামাতা আলী (রাদিয়াল্লাহু আনহু)। বরং তিনি বলেছিলেন:
১১ - (আমি তোমাদের মাঝে এমন কিছু রেখে যাচ্ছি যা আঁকড়ে ধরলে তোমরা কখনো পথভ্রষ্ট হবে না: আল্লাহর কিতাব। আর তোমাদেরকে আমার সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করা হবে, তখন তোমরা কী বলবে? তাঁরা বলল: আমরা সাক্ষ্য দিচ্ছি যে আপনি পৌঁছে দিয়েছেন, হক আদায় করেছেন এবং নসিহত করেছেন। এরপর তিনি তাঁর তর্জনী আঙুল আকাশের দিকে উত্তোলন করে বললেন...
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
হুকূকুল মারআতি ফী দাউইল কিতাবি ওয়াস সুন্নাহ
(পৃষ্ঠা: ২৬)
وينكتها إلى الناس اللهم اشهد، اللهم اشهد) (1) وقد صدق من قال إن جاهلية اليوم أكثر إغراقا من الجاهلية السابقة، قوم نوح احتجوا عليه بأنه بشر مثلهم {فَقَالَ الْمَلَأُ الَّذِينَ كَفَرُوا مِنْ قَوْمِهِ مَا نَرَاكَ إِلَّا بَشَرًا مِثْلَنَا وَمَا نَرَاكَ اتَّبَعَكَ إِلَّا الَّذِينَ هُمْ أَرَاذِلُنَا بَادِيَ الرَّأْيِ وَمَا نَرَى لَكُمْ عَلَيْنَا مِنْ فَضْلٍ بَلْ نَظُنُّكُمْ كَاذِبِينَ} (2) وجاهلية اليوم أسرفوا في تقديس الأشخاص حتى تجاوزا الرسل إلى من دونهم من الناس، بل زعموا في بعضهم أنهم في مقام أفضل من مقام الرسل، كمن يقول: إن لأئمتنا مكانة لم يبلغها ملك مقرب ولا نبي مرسل، فخرجوا بكثير من الناس عن تقديس الرسالة، وأفقدوهم المنهج السوي الذي جاء به نبينا محمد صلى الله عليه وسلم، على أن تقديس الرسالة والعمل بالمنهج السوي لا يزال قائما إلى أن يرث الله الأرض ومن عليها، وهو ما أخبر به نبينا محمد صلى الله عليه وسلم،
12 - (لا تزال طائفة من أمتي على الحق، منصورة حتى يأتي أمر الله) (3) وعلينا في هذا العصر وقد كثر أعداء الإسلام، أن نعتصم بالمنهج السوي: كتاب الله عز وجل، وسنة المصطفى نبينا محمد صلى الله عليه وسلم، ولا بد أن نركّز أولا على تقديس الدين كما أراد الله جل جلاله، وكما أمر رسول الله صلى الله عليه وسلم، ونجد ونجتهد في إثراء الناس بالقيم الروحية، التي تلقّاها الصحابة من رسول الله صلى الله عليه وسلم، وبها صمدوا أمام الأعداء بدءا ببلال رضي الله عنه، صاحب القول العظيم: أحد أحد، وآل ياسر صدق الله العظيم، يمر بهم رسول الله صلى الله عليه وسلم وهم يعذبون، فيقول:
--------------------------------------------
...এবং মানুষের মাঝে তা প্রচার করেন। হে আল্লাহ, আপনি সাক্ষী থাকুন! হে আল্লাহ, আপনি সাক্ষী থাকুন!) (১) আর যিনি বলেছেন তিনি সত্যই বলেছেন যে, বর্তমান সময়ের অজ্ঞতা (জাহিলিয়াত) পূর্ববর্তী সময়ের অজ্ঞতার চেয়েও অধিক গভীর। নূহ (আলাইহিস সালাম)-এর সম্প্রদায় তাঁর বিরুদ্ধে এই বলে যুক্তি দিয়েছিল যে, তিনি তাদের মতোই একজন মানুষ: {অতঃপর তাঁর সম্প্রদায়ের কাফির নেতৃবৃন্দ বলল, ‘আমরা তো তোমাকে আমাদের মতোই একজন মানুষ ছাড়া আর কিছু দেখছি না এবং আমরা দেখছি যে, আমাদের মধ্যে যারা বাহ্যিক দৃষ্টিতে নিচু স্তরের তারা ছাড়া আর কেউ তোমার অনুসরণ করেনি। আর আমাদের ওপর তোমাদের কোনো শ্রেষ্ঠত্বও আমরা দেখছি না, বরং আমরা তোমাদের মিথ্যাবাদী মনে করি।} (২) আর বর্তমান যুগের মূর্খরা ব্যক্তিদের অতিভক্তির ক্ষেত্রে সীমা লঙ্ঘন করেছে, এমনকি তারা রাসূলদের অতিক্রম করে অন্য মানুষের পর্যায়ে চলে গেছে। বরং তারা তাদের কারো কারো ব্যাপারে দাবি করেছে যে, তারা রাসূলদের চেয়েও শ্রেষ্ঠ মর্যাদায় আসীন। যেমন কেউ বলে: আমাদের ইমামদের এমন এক মর্যাদা রয়েছে যেখানে কোনো নৈকট্যপ্রাপ্ত ফেরেশতা কিংবা প্রেরিত নবী (نبي مرسل) পৌঁছাতে পারেননি। ফলে তারা বহু মানুষকে রিসালাতের পবিত্রতাবোধ থেকে বিচ্যুত করেছে এবং আমাদের নবী মুহাম্মদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) যে সঠিক আদর্শ নিয়ে এসেছেন, তা থেকে তাদের বঞ্চিত করেছে। অথচ রিসালাতের প্রতি সম্মান ও সঠিক আদর্শের ওপর আমল ততক্ষণ পর্যন্ত অব্যাহত থাকবে যতক্ষণ না আল্লাহ পৃথিবী ও তার ওপর যা আছে তার উত্তরাধিকারী হবেন। আর এটিই আমাদের নবী মুহাম্মদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) সংবাদ দিয়েছেন,
১২ - (আমার উম্মতের একটি দল সর্বদা সত্যের ওপর অটল ও বিজয়ী থাকবে, আল্লাহর নির্দেশ আসা পর্যন্ত) (৩) বর্তমান যুগে যখন ইসলামের শত্রুরা বৃদ্ধি পেয়েছে, তখন আমাদের কর্তব্য হলো সঠিক আদর্শকে দৃঢ়ভাবে আঁকড়ে ধরা: আল্লাহর কিতাব এবং মুস্তফা নবী মুহাম্মদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর সুন্নাহ। আমাদের অবশ্যই প্রথমত দ্বীনের পবিত্রতাকে সেভাবে প্রাধান্য দিতে হবে যেভাবে মহান আল্লাহ চেয়েছেন এবং যেভাবে রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) নির্দেশ দিয়েছেন। আর আমাদের প্রচেষ্টা চালাতে হবে মানুষকে সেই আধ্যাত্মিক মূল্যবোধে সমৃদ্ধ করতে, যা সাহাবীগণ রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) থেকে গ্রহণ করেছিলেন। এর মাধ্যমেই তাঁরা শত্রুদের মোকাবিলায় অবিচল ছিলেন, যার সূচনা হয়েছিল বিলাল (রাযিয়াল্লাহু আনহু)-এর মাধ্যমে, যিনি সেই মহান বাণীর প্রবক্তা: ‘আহাদুন আহাদ’ (আল্লাহ এক, অদ্বিতীয়)। আর ইয়াসিরের পরিবার—মহান আল্লাহ সত্য বলেছেন—রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) তাঁদের পাশ দিয়ে যেতেন যখন তাঁদেরকে নির্যাতন করা হচ্ছিল, তখন তিনি বলতেন:
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
হুকূকুল মারআতি ফী দাউইল কিতাবি ওয়াস সুন্নাহ
(পৃষ্ঠা: ২৭)
13 - (صبرا يا آل ياسر فإن موعدكم الجنة) (1) هذا النموذج الفريد لم تستولي عليهم المحنة وما هم فيه من البلاء، كان تقديسهم للرسالة أعظم من تقديسهم لسلامتهم من الأذى أو الموت، ولم يتعلقوا بشخص رسول الله صلى الله عليه وسلم لعلمهم أنه بشر، لا يملك لهم إلا التثبيت وصدق الموعد، وقد حوّل هؤلاء النفر المحنة إلى فرحة عظيمة أنستهم ما هم فيه من العذاب الأليم، فأصروا على الانتصار على العدو بالصبر، وهو السلاح المتوفر لديهم، والقوة التي لا تقهر، فإن قريشا لم يرغبوا في موت هؤلاء، أكثر من رغبتهم في أن يعودوا إلى التكذيب بالرسالة، وعدم تصديق محمد صلى الله عليه وسلم ولقد كان الصبر نصرا على الأعداء ولو أدى إلى الموت.
إن عمل الصحابة رضي الله عنهم ومواقفهم توحي لكل مسلم يطلب المنهج السوي، أنهم القدوة بعد رسول الله صلى الله عليه وسلم، الرجال منهم والنساء على حد سواء، وأنهم آمنوا بالرسالة وقدّسوها في واقع عمليّ فريد، وحملوا مسئولية الدفاع عنهما وتبليغها إلى من بعدهم على المنهج السوي، الذي تلّقوه من رسول الله صلى الله عليه وسلم، ولذلك قال صلى الله عليه وسلم:
14 - (يرث هذا العلم من كل خلف عدوله، ينفون عنه تحريف الغالين، وانتحال المبطلين، وتأويل الجاهلين) (2) وفي رواية "يحمل" وقد كانت الواقعة تحدث في عهد رسول الله صلى الله عليه وسلم في أيّ أمر من أمور الحياة، وكان الصحابة في هذه المواقف يفزعون إلى رسول الله صلى الله عليه وسلم ليعطي الحكم في الواقعة، فلا يكون لديه من الأمر شيء، وربما أقلقه ذلك صلى الله عليه وسلم فيتطلع إلى السماء ملتمسا الفرج
--------------------------------------------
১৩ - (হে ইয়াসিরের পরিবার! ধৈর্য ধারণ করো, কারণ জান্নাতই তোমাদের ঠিকানা) (১) এই অনন্য দৃষ্টান্তটি তাদের ওপর আসা কঠিন পরীক্ষা ও বিপদের কাছে নতি স্বীকার করেনি। তাদের কাছে রিসালাতের পবিত্রতা ও মর্যাদা নিজেদের নিরাপত্তা কিংবা মৃত্যু থেকে বেঁচে থাকার চেয়েও অনেক বড় ছিল। তারা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের পবিত্র সত্তার প্রতি কেবল এজন্যই অনুরাগী ছিলেন না যে তিনি একজন মানুষ, বরং তারা জানতেন তিনি কেবলমাত্র তাদের সত্যের ওপর অবিচল রাখা এবং সত্য প্রতিশ্রুতির নিশ্চয়তা দান করেন। এই ব্যক্তিবর্গ কঠিন বিপদকে এক বিশাল আনন্দে রূপান্তরিত করেছিলেন, যা তাদের সেই যন্ত্রণাদায়ক শাস্তির কথা ভুলিয়ে দিয়েছিল। তারা ধৈর্যের মাধ্যমে শত্রুর বিরুদ্ধে বিজয়ী হওয়ার সংকল্প করেছিলেন, যা ছিল তাদের কাছে থাকা সহজলভ্য হাতিয়ার এবং এক অপরাজিত শক্তি। কুরাইশরা এই মানুষগুলোর মৃত্যুর চেয়ে বরং এটাই বেশি চেয়েছিল যে, তারা যেন রিসালাতকে অস্বীকার করে এবং মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে মিথ্যা প্রতিপন্ন করার পথে ফিরে যায়। আর ধৈর্যই ছিল শত্রুদের বিরুদ্ধে প্রকৃত বিজয়, যদিও তা মৃত্যুর দিকে নিয়ে যায়।
সাহাবায়ে কেরাম রাদিয়াল্লাহু আনহুমের আমল ও তাঁদের অবস্থান সেই প্রত্যেক মুসলমানের জন্য অনুপ্রেরণা যারা সঠিক পথ ও আদর্শ অনুসন্ধান করে। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের পর পুরুষ ও নারী নির্বিশেষে তাঁরাই হলেন শ্রেষ্ঠ আদর্শ। তাঁরা রিসালাতের প্রতি ঈমান এনেছিলেন এবং এক অনন্য বাস্তব কর্মপদ্ধতির মাধ্যমে তাকে পরম শ্রদ্ধা ও গুরুত্ব প্রদান করেছিলেন। তাঁরা এই দ্বীনকে রক্ষা করা এবং পরবর্তী প্রজন্মের কাছে তা পৌঁছে দেওয়ার দায়িত্ব এমন সঠিক পন্থায় (মানহাজ) পালন করেছিলেন, যা তাঁরা সরাসরি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের কাছ থেকে গ্রহণ করেছিলেন। একারণেই তিনি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন:
১৪ - (প্রত্যেক প্রজন্মের নির্ভরযোগ্য ও ন্যায়পরায়ণ ব্যক্তিগণ (عدول) এই ইলম উত্তরাধিকার সূত্রে লাভ করবেন। তারা এর থেকে সীমালঙ্ঘনকারীদের বিকৃতি, বাতিলপন্থীদের মিথ্যা দাবি এবং মূর্খদের অপব্যাখ্যা দূর করবেন) (২) অন্য একটি বর্ণনায় (رواية) "يحمل" (বহন করবেন) শব্দটি এসেছে। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের যুগে জীবনের যেকোনো বিষয়ে কোনো ঘটনা ঘটলে সাহাবায়ে কেরাম সেই বিষয়ে ফয়সালার জন্য রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের কাছে ব্যাকুল হয়ে ছুটে আসতেন। অনেক সময় তাঁর কাছে সে বিষয়ে তৎক্ষণাৎ কোনো ওহী বা সমাধান থাকত না, যা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে চিন্তিত করত এবং তিনি সমাধানের প্রত্যাশায় আকাশের দিকে তাকিয়ে থাকতেন।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
হুকূকুল মারআতি ফী দাউইল কিতাবি ওয়াস সুন্নাহ
(পৃষ্ঠা: ২৮)
من عند الله الذي أرسله، وقد يتأخر نزول الوحي ويحاول بعض الصحابة أن يقدم رأيا، ولكن رسول الله يتطلع إلى الرسالة لأن فيها القول الفصل، فينزل الوحي بالحكم فيبلّغ النبي صلى الله عليه وسلم المسلمين، وهم يبادرون إلى التنفيذ دون حوار أو مناقشة، وأسباب نزول الآيات من أعظم الشواهد على ما نقول.
ولقد كان الجانب البطولي مهما في نقل الرسالة إلى الآخرين، وليس هذا خاص بالإسلام، بل جميع الرسالات لم تستغن عن وجود الأبطال مع الرسل وبعدهم، ولذلك كان رسول الله يتطلع إلى ذلك وهو سيد الأبطال صلى الله عليه وسلم، ولو كان الأمر يتعلق بشخصه لتولّى ذلك وكفى، ولكن الأمر يتعلق بنقل الرسالة من جيل إلى جيل حتى يرث الله الأرض ومن عليها، فلابد من وجود أبطال من الأمة، وكان صلى الله عليه وسلم يلحّ في الدعاء ويقول:
15 - (الَلهم أعز الإسلام بأحب هذين الرجلينِ إليك بأبي جهل أو بعمر بن الخطاب) (1) وكان أحبهما عمر بن الخطاب رضي الله عنه، وأصبح الرسول صلى الله عليه وسلم وأصحابه في عزة منذ أن أسلم عمر رضي الله عنه، وتوالى الأبطال الذين توفر فيهم الإيمان بقداسة الرسالة، والاستعداد للدفاع عنها ونقلها إلى الآخرين، وكان نتاج ذلك ما عرف عن المسلمين، من البطولات في حماية دين الله، ونشره من خلال الفتوحات، وإخراج الناس من عبادة العباد إلى عبادة رب العباد، وقامت للإسلام دولة لم يعرف التاريخ دولة نشرت الحق والعدل، ووحدت الأمم والشعوب مثلها إلى يومنا هذا، وأقامت من أسس العلم والحضارة ما أسهم بفعالية في إزاحة الجهل والظلام عن شعوب الغرب، الذين لا يقيمون للإسلام وزنا
--------------------------------------------
মহান আল্লাহর পক্ষ থেকে, যিনি তাকে প্রেরণ করেছেন। ওহি অবতরণে কখনো বিলম্ব হতো এবং কোনো কোনো সাহাবী নিজস্ব মতামত প্রদানের চেষ্টা করতেন, কিন্তু আল্লাহর রাসূল বার্তার (রিসালাতের) প্রতীক্ষায় থাকতেন, কারণ তাতে থাকতো চূড়ান্ত ফয়সালা। অতঃপর বিধানসহ ওহি নাজিল হতো এবং নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) মুসলিমদের তা অবহিত করতেন, আর তারা কোনো প্রকার বিতর্ক বা আলোচনা ছাড়াই তা বাস্তবায়নে দ্রুত অগ্রসর হতেন। আয়াত নাজিলের প্রেক্ষাপটসমূহ আমাদের এই দাবির অন্যতম শ্রেষ্ঠ প্রমাণ।
অন্যের কাছে বার্তা পৌঁছে দেওয়ার ক্ষেত্রে বীরত্বপূর্ণ দিকটি ছিল অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এটি কেবল ইসলামের জন্য নির্দিষ্ট নয়, বরং সকল ঐশী বার্তার ক্ষেত্রেই নবীগণের সাথে এবং তাঁদের পরবর্তী সময়ে বীরদের উপস্থিতির প্রয়োজন ছিল। এই কারণেই আল্লাহর রাসূল এই বিষয়ের প্রতি গুরুত্ব দিতেন, আর তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) ছিলেন বীরদের সরদার। বিষয়টি যদি কেবল তাঁর ব্যক্তিগত সত্তার সাথে সম্পৃক্ত হতো, তবে তিনি একাই তার জন্য যথেষ্ট হতেন; কিন্তু বিষয়টি ছিল প্রজন্মের পর প্রজন্ম ধরে এই বার্তা পৌঁছে দেওয়ার সাথে সংশ্লিষ্ট—যতক্ষণ না আল্লাহ পৃথিবী ও এর অধিবাসীদের উত্তরাধিকারী হন। তাই উম্মাহর মধ্যে বীরদের উপস্থিতি ছিল অপরিহার্য। তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) দোয়ায় বিশেষ কাকুতি-মিনতি করতেন এবং বলতেন:
15 - (হে আল্লাহ! এই দুই ব্যক্তির মধ্যে যে আপনার কাছে অধিক প্রিয়—আবু জাহল অথবা উমর ইবনুল খাত্তাব—তার মাধ্যমে ইসলামকে শক্তিশালী করুন।) তাদের মধ্যে উমর ইবনুল খাত্তাব (রাদিয়াল্লাহু আনহু) আল্লাহর নিকট অধিক প্রিয় ছিলেন। উমর (রাদিয়াল্লাহু আনহু) ইসলাম গ্রহণ করার পর থেকেই আল্লাহর রাসূল ও তাঁর সাহাবীগণ শক্তিশালী অবস্থানে উপনীত হন। এরপর একের পর এক এমন সব বীরদের আগমন ঘটে যাদের অন্তরে ছিল বার্তার পবিত্রতার প্রতি ঈমান এবং তা রক্ষা ও অন্যের কাছে পৌঁছে দেওয়ার দৃঢ় প্রস্তুতি। এর ফলস্বরূপ আল্লাহর দ্বীন রক্ষা এবং বিজয়াভিযানের মাধ্যমে তা প্রসারের ক্ষেত্রে মুসলিমদের যে বীরত্বগাথা ইতিহাসখ্যাত হয়েছে, তা সম্ভব হয়েছিল। তারা মানুষকে মানুষের দাসত্ব থেকে মুক্ত করে বান্দাদের রবের ইবাদতের দিকে নিয়ে এসেছিলেন। ইসলামের এমন এক রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল, যার মতো সত্য ও ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠাকারী এবং জাতি ও গোষ্ঠীর মধ্যে ঐক্য আনয়নকারী রাষ্ট্রের উদাহরণ ইতিহাস আজ পর্যন্ত প্রত্যক্ষ করেনি। এই রাষ্ট্র জ্ঞান ও সভ্যতার এমন বুনিয়াদ তৈরি করেছিল যা পশ্চিমা জাতিগুলোর মধ্য থেকে মূর্খতা ও অন্ধকার দূর করতে কার্যকর অবদান রেখেছিল, যারা বর্তমানে ইসলামকে কোনো গুরুত্বই প্রদান করে না।
--------------------------------------------