(খণ্ড: ১) আত-তাইয়াসীর ফী আহকামিত তাস’ঈর (পৃষ্ঠা: -)
التيسير في أحكام التسعير   (المجيلدي)

القسم: السياسة الشرعية والقضاء


الكتاب: التيسير في أحكام التسعير

المؤلف: أحمد بن سعيد المجيلدي

تقديم وتحقيق: موسى لقبال

الناشر: الشركة الوطنية للنشر والتوزيع، الجزائر

الطبعة: (بدون)

عدد الصفحات: 89

أعده للشاملة: مركز المحتسب http://almohtasb.com

[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]

تاريخ النشر بالشاملة: 21 ربيع الآخر 1439

আল-তায়সির ফি আহকামিত তাসয়ির   (আল-মুজায়লিদি)

বিভাগ: সিয়াসাহ শারইয়্যাহ ও বিচার ব্যবস্থা


বই: আল-তায়সির ফি আহকামিত তাসয়ির

লেখক: আহমদ বিন সাঈদ আল-মুজায়লিদি

উপস্থাপনা ও সম্পাদনা: মুসা লুকবাল

প্রকাশক: আশ-শারিকাতুল ওয়াতানিয়্যাহ লিন-নাশর ওয়াত-তাওযি, আলজেরিয়া

সংস্করণ: (নেই)

পৃষ্ঠা সংখ্যা: ৮৯

শামেলার জন্য প্রস্তুত করেছেন: মারকাযুল মুহতাসিব http://almohtasb.com

[বইয়ের পৃষ্ঠা নম্বর মূল মুদ্রণের সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ]

শামেলায় প্রকাশের তারিখ: ২১ রবিউল আখির ১৪৩৯

(খণ্ড: ১) আত-তাইয়াসীর ফী আহকামিত তাস’ঈর (পৃষ্ঠা: -)
التيسير في أحكام التسعير

 

تأليف

أحمد بن سعيد المجيلدي (المتوفى سنة 1094 هـ)
আত-তাইসির ফি আহকামিত তাসয়ির (মূল্য নির্ধারণের বিধিবিধান সহজীকরণ)

 

রচনায়

আহমদ বিন সাঈদ আল-মুজিলদি (মৃত্যু ১০৯৪ হিজরি)
(খণ্ড: ১) আত-তাইয়াসীর ফী আহকামিত তাস’ঈর (পৃষ্ঠা: ৩৭)
بسم الله الرحمن الرحيم

وصلى الله وسلم على سيدنا ومولانا محمد وآلة ومما ألفه العالم الأفضل، القاضي الأعدل، أبو العباس سيدي أحمد بن سعيد رحمه الله تعالى بمنه وجوده وفضله ونفعنا ببركاته آمين.

نص الكتاب

أحمد من تفضل بالأقوات، وأمد الحيوة، (الحياة) بها في سائر الأوقات وخص النوع الآدمي بنصب الأحكام وكلفه بالعلم بها، والأحكام، وأصلى وأسلم على إنسان عين الحق، وعنصر الحقيقة والصدق، الحاكم على الخيار والأشرار بقوله (لا ضرر ولا ضرار) ورضي الله عن آلة وصحبه وأتباعه وحزبه.

وبعد، فهذه أوراق ينتفع بها من أعمل فكره في مطالعتها وبذل الوسع في
পরম করুণাময় অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে।

এবং আমাদের নেতা ও অভিভাবক মুহাম্মদ এবং তাঁর পরিবারের ওপর আল্লাহর রহমত ও শান্তি বর্ষিত হোক। এটি শ্রেষ্ঠ আলিম, ন্যায়পরায়ণ বিচারক আবু আল-আব্বাস সিদি আহমদ বিন সাঈদ (আল্লাহ তাআলা তাঁর দয়া, দান ও অনুগ্রহে তাঁকে রহম করুন এবং তাঁর বরকত দ্বারা আমাদের উপকৃত করুন, আমিন)-এর রচিত গ্রন্থাবলির অন্তর্ভুক্ত।

গ্রন্থের মূল পাঠ

আমি সেই মহান সত্তার প্রশংসা করছি যিনি অন্ন দান করে অনুগ্রহ করেছেন এবং সর্বক্ষণ এর মাধ্যমে জীবনকে সচল রেখেছেন; আর তিনি মানবজাতিকে বিধানসমূহ প্রবর্তনের মাধ্যমে বৈশিষ্ট্যমণ্ডিত করেছেন এবং তাদের জ্ঞানার্জনের ও বিধানসমূহ পালনের দায়িত্ব অর্পণ করেছেন। আমি দরুদ ও সালাম পেশ করছি সত্যের মূর্ত প্রতীক, হাকিকত ও সততার মূল উৎস, তাঁর বাণী—"ক্ষতি করা যাবে না এবং ক্ষতিগ্রস্ত হওয়া যাবে না"—এর মাধ্যমে পুণ্যবান ও পাপাচারীদের ওপর ফয়সালাকারী মহান ব্যক্তিত্বের প্রতি। এবং আল্লাহ সন্তুষ্ট হোন তাঁর পরিবার-পরিজন, সাহাবীগণ, অনুসারীগণ ও তাঁর দলের ওপর।

অতঃপর, এগুলো এমন কিছু পাতা যা দ্বারা সেই ব্যক্তি উপকৃত হবে যে এটি অধ্যয়নে নিজের চিন্তা নিবিষ্ট করবে এবং এতে স্বীয় সামর্থ্য ব্যয় করবে।
(খণ্ড: ১) আত-তাইয়াসীর ফী আহকামিত তাস’ঈর (পৃষ্ঠা: ৩৮)
مراجعتها ممن يتولى أمور الأسواق وكان على نفسه وعلى المسلمين ذا إشفاق والمحافظة على الحقوق وصف لازب ومجانبة العقوق أمر واجب فيجلب المتولي المنافع، ويأمر بالسراء ويرفع المضار، ويزجر عن الفساد، ومن استعمل في خطة من الخطط، فالمعرفة بأحكامها في حقه تشترط، إذ لا يحل لأحد أن يقدم على أمر حتى يعلم حكم الله فيه وإلا فهو ضال مضل ذو تمويه.

والحامل لي على تسطير هذه الأوراق، وجمع نقول الأئمة فيها بعد الافتراق، إلحاح بعض من ابتلي بخطة الحسبة، ورغبته في تلفيق ذلك أعظم رغبة، فلبيت نداءه، وأجبت دعاءه، رجاء أن يضرب لي بسهم بين المستفيدين، وأن أعد بفضل الله ورحمته من فريق المفيدين. أجاب الله دعاءنا، وحقق رجاءنا، أنه سميع قريب كريم مجيب.
বাজারের বিষয়াদি তদারকি করা তাদের জন্য কর্তব্য যারা এর ব্যবস্থাপনার দায়িত্বে নিয়োজিত এবং যারা নিজেদের ও সাধারণ মুসলমানদের প্রতি দয়ার্দ্র। অধিকার সংরক্ষণ করা একটি অপরিহার্য গুণ এবং অবাধ্যতা বর্জন করা একটি আবশ্যক (واجب) বিষয়। সুতরাং দায়িত্বপ্রাপ্ত ব্যক্তি জনকল্যাণ বয়ে আনবেন, সৎকাজের আদেশ দেবেন, ক্ষতি দূর করবেন এবং অনিষ্ট বা ফাসাদ (فساد) থেকে বিরত রাখবেন। যাকে কোনো কর্মপরিকল্পনা বা পদের দায়িত্বে নিয়োজিত করা হয়, তার জন্য সংশ্লিষ্ট বিষয়ে আহকাম (أحكام) বা বিধানাবলি সম্পর্কে জ্ঞান অর্জন করা শর্ত হিসেবে গণ্য। কেননা, কোনো বিষয়ে আল্লাহর বিধান না জানা পর্যন্ত তাতে প্রবৃত্ত হওয়া কারও জন্য বৈধ নয়; অন্যথায় সে পথভ্রষ্ট, বিভ্রান্তকারী ও প্রবঞ্চক হিসেবে সাব্যস্ত হবে।

এই পৃষ্ঠাগুলো লিপিবদ্ধ করতে এবং এ সংক্রান্ত ইমামগণের বিভিন্ন উদ্ধৃতি একত্রিত করতে আমাকে উদ্বুদ্ধ করেছে হিজবাহ (حسبة) বা জনকল্যাণমূলক তদারকির দায়িত্বে নিয়োজিত জনৈক ব্যক্তির বিশেষ পিড়াপিড়ি এবং এই তথ্যগুলো সংকলিত করার প্রতি তার তীব্র আগ্রহ। তাই আমি তার আহ্বানে সাড়া দিয়েছি এবং তার আবেদন গ্রহণ করেছি, এই আশায় যেন আমি এর দ্বারা উপকৃতদের মাঝে অংশীদার হতে পারি এবং আল্লাহর অনুগ্রহ ও রহমতে অন্যদের জন্য কল্যাণকামীদের অন্তর্ভুক্ত হতে পারি। আল্লাহ আমাদের প্রার্থনা কবুল করুন এবং আমাদের আশা পূর্ণ করুন; নিশ্চয়ই তিনি সর্বশ্রোতা, নিকটবর্তী, মহানুভব ও উত্তরদাতা।
(খণ্ড: ১) আত-তাইয়াসীর ফী আহকামিত তাস’ঈর (পৃষ্ঠা: ৩৯)
وقسمته إلى مقدمة وخمسة (عشرة أبواب) وخاتمة، ليسهل الفحص على مريد ذلك من مسائل الكتاب، ويقرب العثور على أي جزئية رامها في هذا الخطاب والتزمت النقل من اختصار ابن هرون، وابن عرفة، والمعيار لما فيه من إيضاح المسائل التي يشهد بها ذو معرفة.

المقدمة

أما المقدمة ففي تعريف ما رمت جمعه

الأبواب

وأما الأبواب فهي:

الأول في فضل من قام بهذه الخطة الشريفة التي هي الحسبة وشروط المحتسب.

والثاني في حكمه.

والثالث في الأشياء التي تسعر، والتي لا تسعر.

والرابع فيمن يسعر عليه، ومن لا يسعر عليه.

والخامس في المعيار الشرعي، والعادي، وما يباع وزناً، أو كيلا، أو بهما وفي كيفيتهما.
আমি একে একটি ভূমিকা, পনেরোটি (দশটি অধ্যায়) এবং একটি উপসংহারে বিভক্ত করেছি, যাতে এই কিতাবের মাসআলাসমূহ অনুসন্ধান করা আগ্রহী ব্যক্তির জন্য সহজ হয় এবং এই আলোচনায় তিনি যে বিষয়গুলো খুঁজছেন তা সহজে খুঁজে পান। আমি ইবনে হারুন, ইবনে আরাফাহ এবং আল-মি'ইয়ার এর সংক্ষিপ্তসার থেকে উদ্ধৃতি প্রদানের ব্যাপারে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ থেকেছি, কারণ এতে এমন মাসআলাসমূহের স্পষ্ট ব্যাখ্যা রয়েছে যা অভিজ্ঞ ব্যক্তিরা স্বীকার করেন।

ভূমিকা

ভূমিকাটি হলো আমি যা সংকলন করার সংকল্প করেছি তার পরিচয় সম্পর্কে।

অধ্যায়সমূহ

আর অধ্যায়গুলো হলো:

প্রথম অধ্যায়: হিসবাহ নামক এই মহান দায়িত্ব পালনকারীর ফযিলত এবং মুহতাসিবের শর্তাবলী প্রসঙ্গে।

দ্বিতীয় অধ্যায়: এর বিধান প্রসঙ্গে।

তৃতীয় অধ্যায়: যেসব জিনিসের মূল্য নির্ধারণ করা হয় এবং যেসব জিনিসের মূল্য নির্ধারণ করা যায় না সে সম্পর্কে।

চতুর্থ অধ্যায়: যাদের ওপর মূল্য নির্ধারণ করা হয় এবং যাদের ওপর করা হয় না সে সম্পর্কে।

পঞ্চম অধ্যায়: শরয়ি ও প্রচলিত মানদণ্ড এবং যা ওজন বা পরিমাপের ভিত্তিতে কিংবা উভয় পদ্ধতিতে বিক্রি করা হয় এবং তাদের প্রক্রিয়া প্রসঙ্গে।
(খণ্ড: ১) আত-তাইয়াসীর ফী আহকামিত তাস’ঈর (পৃষ্ঠা: ৪০)
والسادس في رد سعر الواحد، والاثنين، لسعر الجماعة.

والسابع، في الأشياء التي يمنع بيعها، أو يكره، في الأسواق وفي منع ذوي العاهات، والقروح، من بيع المائعات وغيرها.

والثامن، في وجوب رفع ضرر عام من الأزقة، والرحاب، وغيرها.

والتاسع، في حكم اختلاط المسلمين في أحكامهم مع أهل الذمة، والتشبه بهم.

والعاشر في بيان الغش، وما يعاقب به من ظهر عليه أو أتهم به.

وأما الخاتمة ففي جمع مسائل لها تعلق بالمعنى الذي هو أساس هذا التأليف، وعليه المبنى وسميته.

"التيسير في أحكام التسعير" والله سبحانه وتع (تعالى) المرشد للصواب، والملهم، إلى الحق الذي ليس فيه ارتياب. فأقول:
এবং ষষ্ঠটি হলো এক বা দুইজনের নির্ধারিত মূল্যকে সমষ্টিগত বা সাধারণ মূল্যের দিকে ফিরিয়ে নেওয়া প্রসঙ্গে।

এবং সপ্তমটি হলো বাজারে যেসব জিনিস বিক্রয় করা নিষিদ্ধ অথবা অপছন্দনীয় (يكره), এবং তরল ও অন্যান্য দ্রব্য বিক্রয়ে বিকলাঙ্গ ও জখমপ্রাপ্ত ব্যক্তিদের বিরত রাখা প্রসঙ্গে।

এবং অষ্টমটি হলো গলি, প্রশস্ত প্রাঙ্গণ এবং এজাতীয় অন্যান্য স্থান থেকে সাধারণ জনদুর্ভোগ বা ক্ষতি অপসারণের আবশ্যকতা প্রসঙ্গে।

এবং নবমটি হলো বিধি-বিধানের ক্ষেত্রে জিম্মিদের (أهل الذمة) সাথে মুসলিমদের মেলামেশা এবং তাদের সদৃশ হওয়ার (التشبه) বিধান প্রসঙ্গে।

এবং দশমটি হলো প্রতারণার (الغش) বিবরণ এবং যার মাঝে তা প্রকাশ পায় বা যে এতে অভিযুক্ত হয় তার শাস্তির বিধান প্রসঙ্গে।

আর উপসংহারটি এমন কিছু মাসআলার সমষ্টি যা এই রচনার মূল বিষয়ের সাথে সম্পৃক্ত—যা এই রচনার মূল ভিত্তি এবং যার ওপর এর কাঠামো প্রতিষ্ঠিত। আমি এর নামকরণ করেছি—

"আত-তাইসির ফি আহকামিত তাসইর"; আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআলাই সঠিক পথের দিশারি এবং সেই সত্যের অনুপ্রেরণাদাতা যাতে কোনো সংশয় নেই। অতএব আমি বলছি:
(খণ্ড: ১) আত-তাইয়াসীর ফী আহকামিত তাস’ঈর (পৃষ্ঠা: ৪১)
‌‌المقدمة

في التعريف، بالتسعير، وكلام الأئمة فيه لغة، واصطلاحاً، على اختلاف التفسير.

التسعير لغة، هو القدر الذي يقوم عليه الثمن، وسعروا تسعيراً، اتفقوا على سعر، قاله في القاموس، واصطلاحاً، قال ابن عرفة حد التسعير، تحديد حاكم السوق لبائع المأكول فيه قدراً للمبيع المعلوم، بدرهم معلوم.
ভূমিকা

দ্রব্যমূল্য নির্ধারণ (تسعير) এর পরিচিতি এবং এ প্রসঙ্গে বিভিন্ন ব্যাখ্যা (تفسير) অনুযায়ী ইমামগণের আভিধানিক (لغة) ও পারিভাষিক (اصطلاحاً) বক্তব্য প্রসঙ্গে।

আভিধানিক (لغة) অর্থে দ্রব্যমূল্য নির্ধারণ (تسعير) হলো সেই পরিমাণ যার ওপর মূল্য নির্ধারিত হয়। 'তারা মূল্য নির্ধারণ করেছে' (সায়্যারু তাসঈরান) অর্থ হলো তারা একটি মূল্যের ওপর একমত হয়েছে—এটি ‘আল-কামুস’ গ্রন্থে বলা হয়েছে। আর পারিভাষিক (اصطلاحاً) অর্থে ইবনে আরাফাহ দ্রব্যমূল্য নির্ধারণের (تسعير) সংজ্ঞা (حد) প্রদান করে বলেন, বাজারের শাসক বা কর্তৃপক্ষ কর্তৃক খাদ্যদ্রব্য বিক্রেতার জন্য নির্দিষ্ট দিরহামের বিনিময়ে বিক্রয়যোগ্য মালের একটি সুনির্দিষ্ট পরিমাণ নির্ধারণ করে দেওয়া।
(খণ্ড: ১) আত-তাইয়াসীর ফী আহকামিত তাস’ঈর (পৃষ্ঠা: ৪২)
‌‌الباب الأول

 

في فضل الحسبة، و‌‌شروط المحتسب

اعلم أن الحسبة من أعظم الخطط الدينية، وهي بين خطة القضاء وخطة الشرطة، جامعة بين نظر شرعي ديني وزجر سياسي سلطاني، فلعموم مصلحتها، وعظيم منفعتها، تولى أمرها الخلفاء الراشدون، والأمراء المهتدون لم يوكلوا أمرها إلى غيرهم مع ما كانوا فيه من شغل الجهاد، وتجهيز الجيوش للمكافحة والجلاد.

شروط المحتسب

ومن شروط المحتسب، أن يكون ذكراً، إذ الداعي إلى اشتراط الذكورية أسباب لا تحصى، وأمور لا تستقصي. ولا يرد ما ذكره ابن هرون أن عمر رضي الله عنه ولي الحسبة على سوق من أسواق المدينة لامرأة تسمى الشفاء "بنت عبد الله". وهي أم سليمان ابن أبي
প্রথম অধ্যায়

 

হিসবাহ-এর (حسبة) মর্যাদা এবং মুহতাসিবের (محتسب) শর্তাবলী

জেনে রাখুন যে, হিসবাহ (حسبة) অন্যতম মহান দ্বীনি পদমর্যাদা; যা বিচার বিভাগীয় (قضاء) এবং পুলিশি (شرطة) পদের মধ্যবর্তী একটি অবস্থান এবং এটি শারঈ দ্বীনি দৃষ্টিভঙ্গি ও রাজনৈতিক সুলতানি শাসনের সমন্বয়কারী। এর ব্যাপক জনকল্যাণ এবং বিশাল উপযোগিতার কারণে খুলাফায়ে রাশেদীন এবং হিদায়াতপ্রাপ্ত আমীরগণ নিজেরাই এর দায়িত্ব পরিচালনা করেছেন; জিহাদের ব্যস্ততা এবং যুদ্ধের জন্য সৈন্যবাহিনী প্রস্তুত করার কঠিন কাজের মাঝেও তাঁরা এর দায়িত্ব অন্যের হাতে সোপর্দ করেননি।

মুহতাসিবের (محتسب) শর্তাবলী

মুহতাসিবের (محتسب) শর্তাবলীর অন্তর্ভুক্ত হলো—তাঁকে পুরুষ হতে হবে; কেননা পুরুষ হওয়ার শর্ত আরোপ করার পেছনে অগণিত কারণ ও অপরিসীম বিষয়াদি রয়েছে। ইবনে হারুন বর্ণিত এই তথ্যটি এখানে আপত্তি হিসেবে আসবে না যে, উমর (রা.) মদীনার বাজারসমূহের কোনো একটির হিসবাহ (حسبة) বা তদারকির দায়িত্ব 'আশ-শিফা বিনতে আব্দুল্লাহ' নামক এক মহিলার ওপর ন্যস্ত করেছিলেন। তিনি ছিলেন সুলাইমান ইবনে আবি-এর মাতা।
(খণ্ড: ১) আত-তাইয়াসীর ফী আহকামিত তাস’ঈর (পৃষ্ঠা: ৪৩)
خيثمة الأنصارية، لأن الحكم على الغالب، والشاذ لا حكم له وتلك القضية من الندور بمكان، أو لعله في أمر خاص يتعلق بأمور النسوة ومن شروطه أيضاً أن يكون مسلماً، إذ لا ولاية لكافر على مسلم ولا أمامه، وأن يكون بالغاً، إذ الأمور مع الصبي لا تكاد تنضبط غالباً بزمام، لامتزاجه في الغالب، بقلة التثبت، وكثرة الأوهام، وأن يكون عدلا إذ هي أصل في الخطط، والولايات، والأمور المباينة للجنايات، ومن شروط الكمال، أن يكون لا يخاف في الله لومة لائم- ذا مهابة، ووقار، وهمته عالية عن دني الأقدار، وفظاظة يشوبها رفق وروي عن علي رضي الله عنه، أنه أدب رجلا فقال له: قتلتني يا أمير المؤمنين، فقال الحق قتلك فقال له ارحمني فقال: الذي أوجب عليك الحد ارحم بك مني.
খায়সামা আল-আনসারীয়া; কারণ বিধান সাধারণত অধিকাংশের ওপর ভিত্তি করে প্রদান করা হয় এবং ব্যতিক্রমী (شاذ) বিষয়ের কোনো বিধান নেই। সেই বিষয়টি ছিল অত্যন্ত বিরল, অথবা সম্ভবত এটি নারীদের বিষয়াবলির সাথে সংশ্লিষ্ট বিশেষ কোনো প্রসঙ্গের অন্তর্ভুক্ত ছিল। এর অন্যতম শর্তাবলির মধ্যে আরও রয়েছে যে, তাকে অবশ্যই মুসলিম হতে হবে; কেননা কোনো মুসলিমের ওপর কাফিরের কোনো কর্তৃত্ব বা ইমামত থাকতে পারে না। তাকে প্রাপ্তবয়স্ক হতে হবে; কারণ শিশুদের ক্ষেত্রে বিষয়গুলো সাধারণত সুশৃঙ্খল থাকে না, যেহেতু অধিকাংশ ক্ষেত্রে তাদের মধ্যে যাচাই-বাছাইয়ের অভাব (قلة التثبت) এবং বিভ্রান্তির (الأوهام) আধিক্য বিদ্যমান থাকে। তাকে ন্যায়পরায়ণ (عدلا) হতে হবে; কারণ এটি বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পদমর্যাদা, নেতৃত্ব এবং অপরাধমুক্ত বিষয়াবলির মূল ভিত্তি। আর পূর্ণতার শর্তাবলির অন্তর্ভুক্ত হলো এই যে, তিনি আল্লাহর সন্তুষ্টির পথে কোনো নিন্দুকের নিন্দার পরোয়া করবেন না; তিনি প্রভাব ও গাম্ভীর্যের অধিকারী হবেন, তাঁর সংকল্প হবে হীন ও নীচ বিষয়াবলির ঊর্ধ্বে এবং তাঁর কঠোরতার মাঝে কোমলতার সংমিশ্রণ থাকবে। আলী (রাযিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণিত (روي) হয়েছে যে, তিনি এক ব্যক্তিকে শাস্তি প্রদান করেছিলেন, তখন লোকটি তাঁকে বলেছিল: ‘হে আমিরুল মুমিনীন, আপনি তো আমাকে মেরে ফেললেন!’ তিনি উত্তরে বললেন: ‘সত্যই তোমাকে হত্যা করেছে।’ লোকটি বলল: ‘আমার প্রতি দয়া করুন।’ তিনি বললেন: ‘যিনি তোমার ওপর দণ্ডবিধি (الحد) আবশ্যক করেছেন, তিনি তোমার প্রতি আমার চেয়েও বেশি দয়ালু।’
(খণ্ড: ১) আত-তাইয়াসীর ফী আহকামিত তাস’ঈর (পৃষ্ঠা: ৪৪)
ومن حقه ألا يؤدب أحد حتى يتقدم له فيما أمر به، أو نهى عنه ويتأنى ولا يؤدب أحداً إلا بعد التحقيق، قال تعالى {وما كنا معذبين حتى نبعث رسولا}.

وقد أدب عمر رضي الله عنه رجلا رآه يصلي بين النساء فقال له: والله لئن كنت أحسنت، فقد ظلمتني وإن كنت اسأت فما اعلمتني، فقال له عمر أما سمعت ينهي أن يطوف الرجال مع النساء فقال له والله، ما سمعت، ثم ألقى له الدرة، فقال له: اقتص، فقال لا اقتص اليوم، فقال فاعف فقال لا، وانصرف ثم لقيه غداً فقال له: أما لك أن تقتص، أو تعفو، فقال قد عفوت.

وعلى المحتسب أن يحتسب في كل ما يراه مصلحة للمسلمين وأن ينظر في جميع الأمور الجليلة، والحقيرة، وقد كان بعض أصحاب الشافعي لما قدم لها من بغداد، أقام قاضياً وجده يقضي في المسجد فقال له ألم تسمع قوله تعالى {في بيوت أذن الله أن ترفع}. ولكن هذا يخالف ما روي من استحباب
তাঁর হকের অন্তর্ভুক্ত হলো যে, যাকে কোনো বিষয়ে আদেশ করা হয়েছে বা যা থেকে নিষেধ করা হয়েছে তা ব্যক্ত না করা পর্যন্ত তাকে শাসন করা যাবে না। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে ধৈর্যশীল হতে হবে এবং সত্যতা যাচাই (تحقيق) ব্যতীত কাউকে শাস্তি প্রদান করা যাবে না। মহান আল্লাহ ইরশাদ করেছেন: "আর আমি ততক্ষণ পর্যন্ত শাস্তি প্রদান করি না, যতক্ষণ না কোনো রাসুল প্রেরণ করি।"

ওমর (রা.) এক ব্যক্তিকে নারীদের মাঝখানে নামাজ পড়তে দেখে শাসন করেছিলেন। তখন সেই ব্যক্তি তাঁকে বলল: "আল্লাহর শপথ! যদি আমি ভালো কাজ করে থাকি তবে আপনি আমার ওপর জুলুম করেছেন, আর যদি আমি ভুল করে থাকি তবে আপনি আমাকে তা জানাননি।" ওমর (রা.) তাকে বললেন: "তুমি কি শোনোনি যে পুরুষদের নারীদের সাথে তাওয়াফ করতে নিষেধ করা হয়েছে?" সে বলল: "আল্লাহর শপথ! আমি তা শুনিনি।" অতঃপর তিনি তার দিকে চাবুকটি নিক্ষেপ করলেন এবং বললেন: "প্রতিশোধ (قصاص) গ্রহণ করো।" সে বলল: "আজ আমি প্রতিশোধ নেব না।" তিনি বললেন: "তবে ক্ষমা করে দাও।" সে বলল: "না।" অতঃপর সে চলে গেল। পরদিন পুনরায় তার সাথে দেখা হলে তিনি তাকে বললেন: "তোমার কি প্রতিশোধ নেওয়ার অথবা ক্ষমা করার সময় হয়নি?" সে বলল: "আমি ক্ষমা করে দিয়েছি।"

আর মুহতাসিবের (محتسب) দায়িত্ব হলো মুসলিমদের জন্য যা কল্যাণকর (مصلحة) মনে করেন সে বিষয়ে ব্যবস্থা গ্রহণ করা এবং ছোট-বড় সকল বিষয়ের প্রতি লক্ষ্য রাখা। ইমাম শাফেয়ীর জনৈক অনুসারী যখন বাগদাদ থেকে সেখানে আসলেন, তিনি এক ব্যক্তিকে কাজি হিসেবে নিয়োজিত দেখলেন যিনি মসজিদে বিচারকার্য পরিচালনা করছিলেন। তিনি তাকে বললেন: "তুমি কি মহান আল্লাহর এই বাণী শোনোনি— 'সেই সকল ঘরে যা উচ্চকিত করার আদেশ আল্লাহ দিয়েছেন'?" তবে এটি মুস্তাহাব (استحباب) হওয়ার বিষয়ে যা বর্ণিত (روي) হয়েছে তার পরিপন্থী।
(খণ্ড: ১) আত-তাইয়াসীর ফী আহকামিত তাস’ঈর (পৃষ্ঠা: ৪৫)
مالك الجلوس للقاضي، في المسجد، ليتوصل إليه القوي، والضعيف، والصغير، والكبير، وقد كان محتسب أمر المؤذنين أن يعصبوا على أعينهم، وقت صعودهم للتأذين على السطوح والمنائر وليكن ليناً في فظاظة، ضعيفاً في قوة: يوبخ ويزجر، ويتوعد ويسجن ويضرب، ويعاقب سراً وجهراً، ويطوف بعد التثبت، كما قال تعالى فتثبتوا أو فتبينوا أن تصيبوا قوماً بجهالة، فتصبحوا على ما فعلتم نادمين الآية. ويتخذ من ثقات أهل السوق، من يعرف ثقته وأمانته ونصيحته للمسلمين يبحث له عن أحوال الباعة ويتفقد الموازين، والامداد بنفسه مرة بعد مرة، في الأوقات المعهودة وغير المعهودة فما ظهر من المناكر غيره، بحيث لا يتجسس على أحد ممن ابتلي بشيء من هذه القاذورات الخاصة به إلا الجماهير وقد قال صلى الله عليه وسلم (من ابتلي بشيء من هذه القاذورات فليستتر بستر الله عليه، فإن من

ইমাম মালিক (রহ.) বিচারকের জন্য মসজিদে বসা সমীচীন মনে করতেন, যাতে শক্তিশালী, দুর্বল (ضعيف), ছোট এবং বড় নির্বিশেষে সকলেই তাঁর নিকট পৌঁছাতে পারে। মুহতাসিব (তত্ত্বাবধায়ক) মুয়াজ্জিনদের এই আদেশ দিতেন যে, তারা যখন আজান দেওয়ার জন্য ছাদ এবং মিনারের ওপর আরোহণ করবে, তখন যেন তারা তাদের চোখ বেঁধে নেয়। তাকে কর্কশ মেজাজের মাঝেও কোমল এবং শক্তির মাঝেও নমনীয় হতে হবে: সে তিরস্কার করবে, ধমক দেবে, ভীতি প্রদর্শন করবে, কারারুদ্ধ করবে এবং প্রহার করবে; আর সে গোপনে ও প্রকাশ্যে দণ্ড প্রদান করবে। সে তথ্য যাচাইকরণের (تثبت) পর পরিভ্রমণ করবে, যেমনটি মহান আল্লাহ বলেছেন: "তোমরা যাচাই করে নাও (فتثبتوا)" অথবা "স্পষ্টভাবে জেনে নাও (فتبينوا)", পাছে অজ্ঞতাবশত তোমরা কোনো সম্প্রদায়ের ক্ষতি না করে ফেল এবং পরে তোমাদের কৃতকর্মের জন্য অনুতপ্ত হতে না হয় (আল-আয়াত)। সে বাজারের নির্ভরযোগ্য (ثقات) ব্যক্তিদের মধ্য থেকে এমন লোক নির্বাচন করবে যাদের নির্ভরযোগ্যতা (ثقة), আমানতদারি এবং মুসলিমদের প্রতি শুভকামনার বিষয়টি সুপরিচিত। তারা তার পক্ষ হয়ে বিক্রেতাদের অবস্থা অনুসন্ধান করবে এবং সে নিজেও নির্ধারিত ও অনির্ধারিত সময়ে বারবার ওজন ও পরিমাপের যন্ত্রসমূহ তদারকি করবে। ফলে যা কিছু বর্জনীয় (منكر) বিষয় প্রকাশ পাবে, সে তা পরিবর্তন করে দেবে; তবে শর্ত হলো সে এমন কারো ব্যক্তিগত পঙ্কিলতার ব্যাপারে গোয়েন্দাগিরি করবে না যে তাতে লিপ্ত হয়েছে, যতক্ষণ না তা জনসমক্ষে প্রকাশ পায়। রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন: "যে ব্যক্তি এই ধরণের কোনো পঙ্কিলতায় লিপ্ত হয়, সে যেন আল্লাহর দেওয়া আবরণে তা গোপন রাখে, কারণ যে ব্যক্তি..."

(খণ্ড: ১) আত-তাইয়াসীর ফী আহকামিত তাস’ঈর (পৃষ্ঠা: ৪৬)
أبدى لنا صفحته أقمنا عليه الحد) كما قال تعالى (ولا تجسسوا). ولا ينبغي له أن يتسور دار قوم إذا اتهمهم بمعصية، ما لم ترتفع فيها أصوات الملاهي والمناكر، وضجيج السكارى، فله الهجوم عليهم حينئذ وتغيير المنكر واجب إذ ذاك. واجرة أعوان المحتسب كأجرة أعوان القاضي قال ابن عاصم:

واجرة العون على طالب حق … ومن سواه إن الد تستحق

 

‌‌تكميل

وسئل ابن مرزوق عمن له معرفة بأحوال أهل السوق والمعرفة في تسعير الفواكه وغيرها عدا الزرع، ويعرف من ذلك الجيد والرديء هل يجوز له أخذ الأجرة على الباعة أو لا يجوز ذلك فأجاب إن كان في نصبه ناظراً عليهم منفعة للمسلمين، لقطعه مادة فساد الباعة، من غش في المبيعات، وسرقة في المكيلات، والموزونات وما أشبه ذلك من الإضرارات، التي يفعلها الباعة، نصب وحل له الارتزاق على ذلك. وسئل عن أجرة عون القاضي، الذي يأتي بالمتخلف عن دعوة قاضي وطنهم والسجان هل على الطالب أو على المطلوب
(যদি সে) আমাদের নিকট নিজেকে প্রকাশ করে দেয় তবে আমরা তার উপর নির্ধারিত দণ্ড (الحد) কার্যকর করব, যেমনটি আল্লাহ তাআলা বলেছেন: "আর তোমরা ছিদ্রান্বেষণ করো না"। তার জন্য সমীচীন নয় যে, সে কোনো গোত্রের ঘরবাড়িতে প্রাচীর টপকে প্রবেশ করবে যখন সে তাদের কোনো পাপাচারে লিপ্ত হওয়ার সন্দেহ করবে, যতক্ষণ না সেখানে বাদ্যযন্ত্রের শব্দ, গর্হিত বিষয়সমূহ (المناكر) এবং মাতালদের শোরগোল বৃদ্ধি পায়; এমতাবস্থায় তাদের ওপর অতর্কিত অভিযান চালানো তার জন্য বৈধ এবং তখন গর্হিত কাজ (المنكر) পরিবর্তন করা আবশ্যক (واجب)। মুহতাসিব বা বাজার পরিদর্শকের সহকারীদের পারিশ্রমিক বিচারকের সহকারীদের পারিশ্রমিকের মতোই। ইবনে আসিম বলেছেন:

অধিকার অন্বেষণকারীর ওপর সহকারীর পারিশ্রমিক ধার্য হয় … আর সে ব্যতীত যে অবাধ্য হয় তার ওপর তা প্রযোজ্য হয়

 

‌‌পরিপূরক

ইবনে মারজুককে এমন ব্যক্তি সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করা হয়েছিল যার বাজারের ব্যবসায়ীদের অবস্থা সম্পর্কে জ্ঞান রয়েছে এবং শস্য বাদে ফলমূল ও অন্যান্য জিনিসের দাম নির্ধারণে অভিজ্ঞতা রয়েছে, এবং সে এগুলোর মধ্যে উৎকৃষ্ট (الجيد) ও নিকৃষ্ট (الرديء) চেনে—তার জন্য বিক্রেতাদের নিকট থেকে পারিশ্রমিক গ্রহণ করা কি বৈধ (يجوز) হবে নাকি বৈধ হবে না? তিনি উত্তর দিলেন যে, যদি তাকে তাদের ওপর পরিদর্শক হিসেবে নিয়োগ দেওয়ার মধ্যে মুসলিমদের কল্যাণ থাকে, যাতে বিক্রেতাদের দুর্নীতির পথ রুদ্ধ হয়, যেমন বিক্রয়যোগ্য পণ্যে প্রতারণা (غش) করা, মাপ ও ওজনে কম দেওয়া এবং এ জাতীয় অন্যান্য ক্ষয়ক্ষতি যা বিক্রেতারা করে থাকে, তবে তাকে নিয়োগ দেওয়া যাবে এবং এর বিনিময়ে তার জন্য পারিশ্রমিক গ্রহণ করা বৈধ (حل) হবে। তাঁকে বিচারকের সহকারীর পারিশ্রমিক সম্পর্কেও জিজ্ঞাসা করা হয়েছিল, যে কি না স্থানীয় বিচারকের তলব উপেক্ষা করা ব্যক্তিকে ধরে আনে, এবং কারারক্ষীর পারিশ্রমিক সম্পর্কেও প্রশ্ন করা হয়েছিল যে, তা কি ফরিয়াদী (الطالب) নাকি বিবাদী (المطلوب)-এর ওপর বর্তাবে?
(খণ্ড: ১) আত-তাইয়াসীর ফী আহকামিত তাস’ঈর (পৃষ্ঠা: ৪৭)
وهل هي محدودة؟ وهل يجوز للقاضي أن يسجن في ولاة الأمر، أو لا يجوز له ذلك؟ فأجاب إن كان المطلوب يلد ويتغيب عن مجلس الحكم تعنينا وطالبه فالأجرة عليه، وإلا فعلى الطالب، والمحبوس كذلك، إن عرف أنه ملد، ظالم بالمطل، فالأجرة عليه، وإلا فالأجرة على الذي طلبه. وأما سجن الأدب فعلى المحبوس، ولا أعلم لذلك قدراً محدوداً، لكن ينظر القاضي فيما يشبه أن يكون أجرة، على ذلك الفعل الذي فعله المتصرف بين يديه، وقدر المؤونة من ذلك وكذا في سجن السجان، ولا يترك الخدم ينتقمون من الناس.
আর তা কি সুনির্দিষ্ট (محدود)? এবং বিচারকের জন্য কি শাসকবর্গের (ولاة الأمر) অধীনে কাউকে কারারুদ্ধ করা বৈধ, নাকি তার জন্য তা বৈধ নয়? তিনি উত্তর দিলেন: যদি অভিযুক্ত ব্যক্তি হঠকারী (ملد) হয় এবং কষ্ট দেওয়ার অভিপ্রায়ে বিচারিক মজলিস থেকে অনুপস্থিত থাকে এবং বাদী তাকে তলব করে, তবে পারিশ্রমিক তার ওপরই বর্তাবে; অন্যথায় তা আবেদনকারীর (طالب) ওপর হবে। বন্দীর ক্ষেত্রেও একই বিধান, যদি প্রতীয়মান হয় যে সে হঠকারী (ملد) ও পাওনা পরিশোধে টালবাহানাকারী জালিম (ظالم بالمطل), তবে পারিশ্রমিক তার ওপরই বর্তাবে; অন্যথায় পারিশ্রমিক সেই ব্যক্তির ওপর হবে যে তাকে তলব করেছে। আর শিষ্টাচারমূলক কারাদণ্ডের (سجن الأدب) ক্ষেত্রে খরচ বন্দীর ওপরই বর্তাবে। এর জন্য কোনো সুনির্দিষ্ট (محدود) পরিমাণের কথা আমার জানা নেই, তবে বিচারক সেই কাজের জন্য উপযুক্ত পারিশ্রমিক বিবেচনা করবেন যা তার সম্মুখে থাকা নির্বাহকারী ব্যক্তি সম্পাদন করেছে এবং সেই অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যয়নির্বাহের (المؤونة) পরিমাণ নির্ধারণ করবেন। কারারক্ষীর কারাগারের ক্ষেত্রেও অনুরূপ বিধান প্রযোজ্য হবে এবং তিনি সেবকদেরকে মানুষের ওপর প্রতিশোধ গ্রহণের সুযোগ দেবেন না।
(খণ্ড: ১) আত-তাইয়াসীর ফী আহকামিত তাস’ঈর (পৃষ্ঠা: ৪৮)
‌‌الباب الثاني

في حكم التسعير

في إباحة التسعير، وما ورد في ذلك عن النبي صلى الله عليه وسلم وعن السلف الصالح. وعن ابن هرون. سئل النبي صلى الله عليه وسلم، عن التسعير فقال: (إن الله هو القابض الباسط والمغلي 2 ب والمرخص وإني لأرجو أن ألقي الله، وليس لأحد منكم عندي مظلمة)، ولهذا روى ابن القاسم عن مالك: أنه لا يجعل لأهل السوق سعراً يبيعون عليه، وروى أشهب عنه، في العتبية، يسعر على الجزارين، بقدر ما يرى من شرائهم يقول لهم اشتروا على هذا وإلا فاخرجوا من السوق. ابن عرفة، وأهل السوق في تركهم لبيعهم باختيارهم ومنعهم، سماع عيسى، ابن القاسم مع سماعه ونقله عن ابن حبيب.
দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ

মূল্য নির্ধারণের বিধান প্রসঙ্গে

মূল্য নির্ধারণের বৈধতা এবং এ বিষয়ে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ও সালফে সালেহীন থেকে যা বর্ণিত হয়েছে। এবং ইবনে হারুন থেকে বর্ণিত। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে মূল্য নির্ধারণ সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করা হলে তিনি বলেন: (নিশ্চয়ই আল্লাহ হলেন রিযিক সংকুচিতকারী, প্রশস্তকারী, মূল্য বৃদ্ধিকারী [২-খ] এবং মূল্য হ্রাসকারী। আর আমি আশা রাখি যে, আমি আল্লাহর সাথে এমন অবস্থায় সাক্ষাৎ করব যেন তোমাদের কারো আমার বিরুদ্ধে কোনো জুলুমের অভিযোগ না থাকে)। এ কারণেই ইবনুল কাসিম ইমাম মালিক থেকে বর্ণনা (روى) করেছেন যে: তিনি বাজারবাসীদের জন্য এমন কোনো মূল্য নির্ধারণ করবেন না যার ওপর ভিত্তি করে তারা কেনাবেচা করবে। আশহাব তাঁর থেকে 'আল-উতবিয়্যাহ' গ্রন্থে বর্ণনা (روى) করেছেন যে, কসাইদের ওপর তাদের ক্রয়মূল্যের পরিমাণ অনুযায়ী মূল্য নির্ধারণ করা হবে; তাদের বলা হবে: "এই দামে কেনাবেচা করো, অন্যথায় বাজার থেকে বেরিয়ে যাও।" ইবনে আরাফা; এবং বাজারবাসীদের ইচ্ছানুসারে কেনাবেচা বর্জন করা ও তাদের তা থেকে বিরত রাখার বিষয়টি 'সামাউ ঈসা' গ্রন্থে ইবনুল কাসিমের শ্রবণ (سماع) এবং ইবনে হাবিব থেকে তাঁর প্রাপ্ত বর্ণনা (نقل) সংশ্লিষ্ট বিবরণে রয়েছে।
(খণ্ড: ১) আত-তাইয়াসীর ফী আহকামিত তাস’ঈর (পৃষ্ঠা: ৪৯)
عن سماع القرينين. وعليه يجب على صاحب السوق الموكل بمصلحته، أن يجعل لهم من الربح ما يشبه ويمنعهم من الزيادة عليه، ويتفقدهم في ذلك ويلزمهم إياه كيفما تقلب السعر زيادة أو نقصاناً، ومن عصاه يعاقبه بعد هذا الباب فليراجع، واجمعوا على أنه، لا يقول لهم، لا تبيعوا إلا بكذا، وكذا ربحتم أو خسرتم، من غير أن ينظر إلى ما يشترون به. وعلى أنه لا يقول لهم، لا تبيعوا إلا بمثل الثمن الذي اشتريتم به. وإن ضرب لهم الربح على ما يشترون، منعهم أن يغلوا السعر، وأن لم يزيدوا إذ يتساهلون فيه، وإن علم ذلك منهم، ضرب لهم الربح على ما يعلم من مبلغ السعر، وقال (يقول) لا تبيعوا إلا بكذا، وكذا، ولا تشتروا إلا عليه. قال ابن حبيب: لا يكون التسعير عند من أجازه إلا على (رضى) ومن أكره الناس عليه فقد أخطأ.

ونص كلامه: صفة ما ينبغي للأمام أن يفعله من التسعير، أن يجمع وجوه ذلك الشيء، ويحضر غيرهم استظهاراً على صدقهم، ويسألهم كيف يشترون؟ وكيف يبيعون؟ وينازلهم إلى ما فيه لهم وللعامة مصلحة وسداد.
দুই সমসাময়িক ব্যক্তির শ্রবণ (سماع) সম্পর্কে। এমতাবস্থায়, বাজারের জনস্বার্থে নিয়োজিত দায়িত্বশীলের জন্য আবশ্যক হলো ব্যবসায়ীদের জন্য এমন মুনাফা নির্ধারণ করা যা যৌক্তিক এবং তাদের এর অতিরিক্ত গ্রহণে বাধা প্রদান করা। তাকে এ বিষয়ে নিয়মিত তদারকি করতে হবে এবং মূল্যের হ্রাস-বৃদ্ধি নির্বিশেষে তাদের তা মেনে চলতে বাধ্য করতে হবে। এরপরও যারা অবাধ্য হবে, তাকে এই অধ্যায়ের পরবর্তী আলোচনা অনুযায়ী শাস্তি প্রদান করতে হবে; অতএব বিষয়টি দেখে নেওয়া উচিত। আর ওলামায়ে কেরাম এ ব্যাপারে একমত হয়েছেন যে, ব্যবসায়ীরা কী দামে পণ্য ক্রয় করছে তা বিবেচনা না করেই দায়িত্বশীল তাদের বলবে না যে— ‘তোমরা লাভ বা লোকসান যাই হোক না কেন, অমুক অমুক নির্দিষ্ট দাম ছাড়া বিক্রি করবে না।’ এবং সে তাদের এও বলবে না যে, ‘তোমরা যে মূল্যে ক্রয় করেছ কেবল সেই মূল্যেই বিক্রয় করবে।’ যদি সে তাদের ক্রয়মূল্যের ওপর ভিত্তি করে মুনাফা নির্ধারণ করে দেয়, তবে সে তাদের উচ্চমূল্য নির্ধারণে বাধা প্রদান করবে। এমনকি তারা যদি মূল্য বৃদ্ধি না-ও করে কিন্তু ক্রয়ের ক্ষেত্রে শিথিলতা প্রদর্শন করে এবং দায়িত্বশীল যদি তা জানতে পারে, তবে সে বাজারমূল্য বিবেচনায় মুনাফা নির্ধারণ করে দেবে এবং বলবে— ‘তোমরা এই নির্দিষ্ট মূল্যে ব্যতীত বিক্রয় করবে না এবং এই নির্ধারিত মূল্যের বেশিতে ক্রয়ও করবে না।’ ইবন হাবিব বলেন: ‘যারা মূল্য নির্ধারণকে বৈধ মনে করেন, তাদের মতে এটি অবশ্যই পারস্পরিক সম্মতির ভিত্তিতে হতে হবে। আর যে ব্যক্তি মানুষকে এর ওপর বাধ্য করবে, সে ভুল করল।’

তার বক্তব্যের মূল পাঠ হলো: ‘মূল্য নির্ধারণের ক্ষেত্রে ইমাম বা শাসকের যা করা উচিত তার পদ্ধতি হলো—সংশ্লিষ্ট পণ্যের ব্যবসায়ীদের একত্রিত করা এবং তাদের সত্যবাদিতা যাচাইয়ের উদ্দেশ্যে অন্যদেরও সেখানে উপস্থিত রাখা। অতঃপর তিনি তাদের জিজ্ঞাসা করবেন: তোমরা কীভাবে ক্রয় করো এবং কীভাবে বিক্রয় করো? এরপর তিনি তাদের সাথে এমন একটি সমঝোতায় পৌঁছাবেন যাতে তাদের এবং সাধারণ জনগণের জন্য কল্যাণ ও সঠিকতা নিহিত রয়েছে।’
(খণ্ড: ১) আত-তাইয়াসীর ফী আহকামিত তাস’ঈর (পৃষ্ঠা: ৫০)
ويجبرون على التسعير، وعلى هذا أجازه من أجازه كلامه.

وسئل يحيي بن عمر، عن التسعير، فأجاب بنحو هذا الكلام وأطال النفس في ذلك فراجعه، في المعيار في كتاب البيوع إن شئت ومن كلامه (يحيى بن عمر) قال مالك: لا خير في التسعير على الناس ومن حط من سعر الناس أقيم.

وعن ابن وهب، سئل مالك عن صاحب السوق، يريد أن يسعر، فيقول: أما بعتم بكذا وإلا خرجتم من السوق فقال: لا خير فيها. ونقل ابن رشد وجوب التسعير. وقصة عمر مع حاطب الآتية، تشهد لمن أجاز التسعير والله أعلم. وتأمل كلام ابن عرفة الآتي في الباب الذي بعد هذا، تجده نصاً صريحاً في الجواز.
এবং তাদের মূল্য নির্ধারণ (تسعير) করতে বাধ্য করা হবে, আর এরই ওপর ভিত্তি করে যারা একে অনুমোদন (أجازه) করেছেন তাদের বক্তব্য সাব্যস্ত হয়েছে।

ইয়াহইয়া ইবনে উমরকে মূল্য নির্ধারণ (تسعير) সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করা হলে তিনি এই কথার অনুরূপ উত্তর প্রদান করেন এবং এ বিষয়ে দীর্ঘ আলোচনা করেন; আপনি চাইলে ‘আল-মেয়ার’ গ্রন্থের ক্রয়-বিক্রয় অধ্যায়ে তা দেখে নিতে পারেন। তাঁর (ইয়াহইয়া ইবনে উমর) বর্ণনা অনুযায়ী ইমাম মালিক বলেছেন: মানুষের ওপর মূল্য নির্ধারণ (تسعير) করার মধ্যে কোনো কল্যাণ নেই; আর যে ব্যক্তি বাজারের প্রচলিত মূল্যের চেয়ে কম মূল্যে পণ্য বিক্রয় করবে তাকে বাজার থেকে সরিয়ে দেওয়া হবে।

ইবনে ওয়াহাব থেকে বর্ণিত, ইমাম মালিককে বাজারের দায়িত্বশীল সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করা হয়েছিল, যিনি মূল্য নির্ধারণ (تسعير) করতে চান এবং বলেন: “হয় তোমরা এই নির্দিষ্ট মূল্যে বিক্রি করবে, নতুবা বাজার থেকে বেরিয়ে যাবে।” তখন তিনি (ইমাম মালিক) বললেন: এতে কোনো কল্যাণ নেই। ইবনে রুশদ মূল্য নির্ধারণ (تسعير) ওয়াজিব বা অপরিহার্য (وجوب) হওয়া বর্ণনা করেছেন। আর উমর (রা.)-এর সাথে হাতিব (রা.)-এর পরবর্তী ঘটনাটি যারা মূল্য নির্ধারণ বৈধ (أجاز) মনে করেন তাদের সপক্ষে প্রমাণ দেয়, আল্লাহই সর্বজ্ঞ। পরবর্তী অধ্যায়ে ইবনে আরাফার যে বক্তব্যটি আসবে সেটি লক্ষ্য করলে আপনি একে বৈধতার (جواز) ক্ষেত্রে একটি সুস্পষ্ট বক্তব্য (نص صريح) হিসেবে পাবেন।
(খণ্ড: ১) আত-তাইয়াসীর ফী আহকামিত তাস’ঈর (পৃষ্ঠা: ৫১)
‌‌الباب الثالث

في الأشياء التي تسعر، والتي لا تسعر

قال ابن هارون: يسعر الحاكم على الجزارين بقدر ما يرى من شرائهم يقول لهم اشتروا على هذا وإلا فاخرجوا من السوق. وقد مر عمر بن الخطاب رضي الله عنه على حاطب بن أبي بلتعة يبيع زبيباً في السوق، فقال له إما أن تزيد في السعر وإلا فاخرج من سوقنا قال ابن حبيب، يختص بالمكيل والموزون خاصة، طعاماً كان أو غيره. فقوله: أو غيره لا يتناوله حد التسعير المتقدم لابن عرفة فتأمله، فأهل الحرف كالخراز، والحداد على هذا لا يسعر لهم لتفاوت صنعتهم جودة ورداءة (3 أ) وسيأتي في الباب الرابع الكلام عليه.

قال ابن عرفة: إذا كان الإمام عدلا ورأى التسعير مصلحة، يجمع وجوه أهل (سوق) ذلك الشيء، ويسألهم كيف يبيعون؟ ؟ وكيف يشترون؟ وليس ما أجازه في القمح والشعير وشبهه من ذلك، لأن الجالب يبيعه ولا يترك التجار يبيعونه على أيديهم، إنما ذلك في مثل الزيت
তৃতীয় পরিচ্ছেদ

যে সকল জিনিসের মূল্য নির্ধারণ করা হবে এবং যেগুলোর মূল্য নির্ধারণ করা হবে না

ইবনে হারুন বলেন: শাসক কসাইদের ক্রয়মূল্যের ভিত্তিতে তাদের পণ্যের মূল্য নির্ধারণ করে দেবেন। তিনি তাদেরকে বলবেন, এই মূল্যে ক্রয় করো, অন্যথায় বাজার থেকে বের হয়ে যাও। উমর ইবনুল খাত্তাব (রা.) বাজারে হাতিব ইবনে আবি বালতাআ-কে কিসমিস বিক্রি করতে দেখে তাকে বললেন, হয় তুমি দাম বাড়িয়ে দাও, নতুবা আমাদের বাজার থেকে বের হয়ে যাও। ইবনে হাবিব বলেন, এটি বিশেষভাবে পরিমাপযোগ্য (مكيل) এবং ওজনযোগ্য (موزون) পণ্যের সাথে সংশ্লিষ্ট, তা খাদ্যদ্রব্য হোক বা অন্য কিছু। তার উক্তি ‘বা অন্য কিছু’ ইবনে আরাফা বর্ণিত মূল্য নির্ধারণের সংজ্ঞার আওতাভুক্ত নয়, সুতরাং বিষয়টি অনুধাবনযোগ্য। তাই মুচি ও কামারের মতো কারিগরদের পণ্যের মূল্য নির্ধারণ করা হবে না, কারণ তাদের কাজের গুণগত মান ও কারুশৈলীর উৎকর্ষ ও অপকর্ষের ভিন্নতা থাকে (৩-ক)। চতুর্থ পরিচ্ছেদে এ বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা আসবে।

ইবনে আরাফা বলেন: যদি ইমাম বা শাসক ন্যায়পরায়ণ (عدل) হন এবং মূল্য নির্ধারণে জনকল্যাণ (مصلحة) দেখেন, তবে তিনি সেই পণ্যের বাজারের গণ্যমান্য ব্যক্তিদের একত্রিত করবেন এবং তাদের জিজ্ঞেস করবেন যে, তারা কীভাবে বিক্রি করছে? এবং কীভাবে কিনছে? গম, যব ও এই জাতীয় জিনিসের ক্ষেত্রে যে অনুমতি দেওয়া হয়েছে তা এর অন্তর্ভুক্ত নয়, কারণ আমদানিকারক নিজেই তা বিক্রি করে এবং ব্যবসায়ীদের মাধ্যমে তা বিক্রি করায় না; বরং এটি তেলের মতো জিনিসের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য।
(খণ্ড: ১) আত-তাইয়াসীর ফী আহকামিত তাস’ঈর (পৃষ্ঠা: ৫২)
والسمن والعسل واللحم والبقل والفاكهة وشبه ذلك، ما عدا البز والقطن وشبهه. قيل ليحيى بن عمر ضع لنا القيمة التي تقام على الجزارين وغيرهم من أرباب الحوانيت الذين يبيعون السمن والعسل والزيت والشحم، فإنهم إن تركوا بغير قيمة أهلكوا العامة، لخفة السلطان وضعفه وإن جعلت لهم قيمة، فهل ترى ذلك جائزاً؟ فإن كان جائزاً فماذا يجب على السلطان أن يفعل فيمن نقص من القيمة، وقدر من عندك بحجة ظاهرة، وأمر بين، وتبريرنا ما كتبنا به إليك، فأجاب وقال: قال مالك: لا خير في التسعير، ومن حط عن سعر الناس أقيم. وقال أيضاً: إن قال صاحب السوق بع على ثلث رطل من الضأن، ونصف رطل من الإبل قال: فما أرى به بأساً وإن سعر عليهم شيئاً يكون فيها ربح قدر لهم من غير اشتطاط.
ঘি, মধু, গোশত, শাকসবজি, ফলমূল এবং এই জাতীয় অন্যান্য দ্রব্যাদি, তবে কাপড় ও তুলা এবং এই জাতীয় বিষয়গুলো ব্যতীত। ইয়াহইয়া বিন উমরকে বলা হলো, কসাই এবং অন্যান্য দোকান মালিক—যারা ঘি, মধু, তেল ও চর্বি বিক্রি করে—তাদের জন্য একটি মূল্য নির্ধারণ করে দিন; কেননা সুলতানের শিথিলতা ও দুর্বলতার সুযোগে তাদের যদি নিয়ন্ত্রণহীনভাবে ছেড়ে দেওয়া হয়, তবে তারা সাধারণ জনগণকে ক্ষতিগ্রস্ত করবে। যদি তাদের জন্য মূল্য নির্ধারণ করা হয়, তবে আপনি কি একে বৈধ (جائز) মনে করেন? আর যদি তা বৈধ (جائز) হয়, তবে যে ব্যক্তি নির্ধারিত মূল্যের চেয়ে কম দেবে, সুলতানের তার প্রতি কী করা উচিত? আপনি আপনার পক্ষ থেকে সুস্পষ্ট দলিল এবং স্পষ্ট বিষয়ের আলোকে এটি নির্ধারণ করুন, যা আমাদের এই আবেদনের সপক্ষে আপনার লিখিত একটি যৌক্তিক ভিত্তি হবে। অতঃপর তিনি উত্তর দিয়ে বললেন: ইমাম মালিক বলেছেন, মূল্য নির্ধারণ (تسعير) করার মধ্যে কোনো কল্যাণ নেই; আর যে ব্যক্তি মানুষের প্রচলিত বাজার মূল্যের চেয়ে কমিয়ে বিক্রি করবে, তাকে বাজার থেকে সরিয়ে দেওয়া হবে। তিনি আরও বলেছেন: বাজার পরিদর্শক (صاحب السوق) যদি বলেন, এক রতল ভেড়ার গোশত তিন ভাগের এক ভাগ দামে এবং এক রতল উটের গোশত অর্ধেক দামে বিক্রি করো; তবে তিনি বলেন: আমি এতে কোনো দোষ দেখি না। আর যদি তাদের জন্য এমন মূল্য নির্ধারণ করে দেওয়া হয় যাতে কোনো প্রকার বাড়াবাড়ি (اشتطاط) ছাড়াই তাদের লভ্যাংশ নিশ্চিত থাকে, তবে তাও গ্রহণযোগ্য।
(খণ্ড: ১) আত-তাইয়াসীর ফী আহকামিত তাস’ঈর (পৃষ্ঠা: ৫৩)
‌‌الباب الرابع

فيمن يسعر عليه، وفيمن لا يسعر عليه

(قال) ابن عرفة، الجالب لا يسعر عليه. (قال) ابن رشد اتفاقاً قال: إن حط عن قدر السوق أمر بمساواته أو قيامه انظر تمامه في الباب السادس، ولا يسعر على المحتكر، حيث يؤمر بإخراج طعامه إلى السوق ويبيع ما فضل عن قوت عياله كيف شاء ولا يسعر عليه، فإن سألوا الناس ما يحتمل أن يكون ثمناً قال: هو مالهم يفعلون فيه ما أحبوه، ولا يجبرون على بيعه بسعر يوقت لهم، فهم أحق بأموالهم، ولا أرى أن يسعر عليهم، وما أراهم إنما رغبوا وأعطوا ما يشتهون. وأما التسعير فظلم لا يعمل به من أراد العدل.

قال يحيى بن عمر قوت عيالهم يعني قوت سنة، كانوا تجاراً أو حرثوا لأنفسهم، يترك لهم قوت سنة، ويؤمرون ببيع ما بقي قال يحيى بن عمر وأرى على صاحب السوق أن يأمر البدويين إذا أتوا بالطعام يبيعونه، فلا ينزلوه في الدور والفناديق فلا يبيعوه لا في الدور، ولا في الفناديق وأن يخرجوه إلى
চতুর্থ অধ্যায়

যাদের ওপর মূল্য নির্ধারণ করা হয় এবং যাদের ওপর করা হয় না প্রসঙ্গে

(ইবনে আরাফাহ) বলেছেন, আমদানিকারকের (الجالب) ওপর মূল্য নির্ধারণ করা যাবে না। (ইবনে রুশদ) সর্বসম্মতভাবে (اتفاقاً) বলেছেন: যদি কেউ বাজারদরের চেয়ে দাম কমিয়ে দেয়, তবে তাকে বাজারের সমমূল্যে বিক্রি করতে অথবা বাজার থেকে উঠে যেতে নির্দেশ দেওয়া হবে। এ বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা ষষ্ঠ অধ্যায়ে দেখুন। আর মজুতদারের (المحتكر) ওপর মূল্য নির্ধারণ করা হবে না; বরং তাকে তার খাদ্যসামগ্রী বাজারে বের করার নির্দেশ দেওয়া হবে এবং সে তার পরিবারের ভরণপোষণের অতিরিক্ত অংশ যেভাবে ইচ্ছা বিক্রি করবে, তার ওপর কোনো মূল্য নির্ধারণ করা হবে না। যদি তারা এমন মূল্য চায় যা দাম হওয়ার সম্ভাবনা রাখে, তবে তিনি বলেন: এটি তাদের সম্পদ, তারা এতে যা ইচ্ছা তা-ই করবে। তাদের জন্য কোনো নির্দিষ্ট সময়ে নির্দিষ্ট মূল্যে পণ্য বিক্রয় করতে বাধ্য করা হবে না, কারণ তারা তাদের সম্পদের ব্যাপারে অধিক হকদার। আর আমি মনে করি না যে তাদের ওপর মূল্য নির্ধারণ করা উচিত। আর আমি মনে করি না যে তারা কেবল প্রলুব্ধ হয়েছে এবং যা চেয়েছে তা-ই দেওয়া হয়েছে। বস্তুত মূল্য নির্ধারণ (التسعير) হলো জুলুম (ظلم), ন্যায়বিচার (العدل) প্রত্যাশী কেউ তা অনুযায়ী আমল করে না।

ইয়াহইয়া ইবনে উমর বলেন, তাদের পরিবারের ভরণপোষণ অর্থ এক বছরের খোরাকি; তারা ব্যবসায়ী হোক কিংবা নিজেদের জন্য চাষাবাদ করুক না কেন, তাদের জন্য এক বছরের খোরাকি রেখে দেওয়া হবে এবং অবশিষ্ট অংশ বিক্রি করার নির্দেশ দেওয়া হবে। ইয়াহইয়া ইবনে উমর আরও বলেন, আমি মনে করি বাজার পরিদর্শকের কর্তব্য হলো বেদুইনরা যখন খাদ্যদ্রব্য নিয়ে আসবে তখন তাদের তা বিক্রি করার নির্দেশ দেওয়া; তারা যেন তা ঘরবাড়ি বা সরাইখানায় না নামায় এবং সেখানে যেন বিক্রি না করে। বরং তারা যেন তা বের করে নিয়ে আসে...
(খণ্ড: ১) আত-তাইয়াসীর ফী আহকামিত তাস’ঈর (পৃষ্ঠা: ৫৪)
أسواق المسلمين حيث يدركه الضعيف والعجوز الكبيرة. قيل ليحيى فإن قال البدوي أنه تدخل على مضرة فيمن يشتري مني نصف دينار أو ثلث دينار، فربما طالت إقامتي ولا أرجع إلى بلدي، (وإنما معي زاد يوم أو يومين. قال يحيى. يقال له حط من السعر نصف الثمن أو ربعه، فينفذ طعامك سريعاً، وترجع إلى بلدك) وأما ما ذكرت من المقام والمضرة، فأنت تريد أن تبيع نافقاً وتريد أن ترجع سريعاً إلى بلدك فلا يمكنك هذا، لأنه ضرر على المسلمين، قيل ليحيى بن عمر: فإن جلبه من لا يعرف بيعه أراد ليأكله. فقال إذا صح هذا خلي بينه وبين طعامه ليحمله إلى داره، قيل له فإن أراد الرجل أن يبيع قمحاً جلبه من منزله إلى بيته. فاحتاج إلى ثمنه فعرض منه قليلاً في يده في السوق فاشترى منه الحناطون على الصفة، ليكتالوه في داره وينقلوه إلى حوانيتهم فقال أرى أن لا يمكن البائع أن يبيع في داره وأرى أن ينقله إلى سوق المسلمين. قيل له: فإن كان أهل القصر
মুসলমানদের বাজারসমূহ যেখানে দুর্বল (ضعيف) ব্যক্তি এবং বৃদ্ধা নারীও তা সংগ্রহ করতে পারে। ইয়াহইয়াকে জিজ্ঞাসা করা হলো, "যদি কোনো বেদুইন বলে যে, আমার কাছ থেকে যারা অর্ধেক দিনার বা এক-তৃতীয়াংশ দিনার সমপরিমাণ পণ্য ক্রয় করে, তাদের কারণে আমি ক্ষতির সম্মুখীন হচ্ছি; কারণ এতে হয়তো আমার অবস্থানের মেয়াদ দীর্ঘ হয়ে যাবে এবং আমি নিজ দেশে ফিরে যেতে পারব না, (এবং আমার কাছে মাত্র এক বা দুই দিনের পাথেয় রয়েছে। ইয়াহইয়া বললেন: তাকে বলা হবে, তুমি মূল্য থেকে অর্ধেক বা এক-চতুর্থাংশ কমিয়ে দাও, তবে তোমার খাদ্যদ্রব্য দ্রুত বিক্রি হয়ে যাবে এবং তুমি তোমার দেশে ফিরে যেতে পারবে।)" আর অবস্থান এবং ক্ষতির বিষয়ে তুমি যা উল্লেখ করেছ, সে ক্ষেত্রে তুমি চাও উচ্চমূল্যে পণ্য বিক্রয় করতে এবং দ্রুত দেশে ফিরে যেতে; এটি তোমার পক্ষে সম্ভব নয়, কারণ এতে মুসলমানদের ক্ষতি নিহিত রয়েছে। ইয়াহইয়া ইবনে উমরকে জিজ্ঞাসা করা হলো: "যদি এমন কেউ শস্য নিয়ে আসে যার বিক্রয় করার ইচ্ছা নেই বরং সে তা খাওয়ার জন্য এনেছে?" তিনি বললেন: "যদি এটি সঠিক (صحيح) হয়, তবে তাকে ও তার খাদ্যের ব্যাপারে ছাড় দেওয়া হবে যাতে সে তা নিজের বাড়িতে নিয়ে যেতে পারে।" তাকে জিজ্ঞাসা করা হলো, "যদি কোনো ব্যক্তি তার বাড়ি থেকে আনা গম বিক্রি করতে চায় এবং তার অর্থের প্রয়োজন হয়, ফলে সে বাজারে তার হাতে সামান্য নমুনা প্রদর্শন করে আর শস্য ব্যবসায়ীরা গুণাগুণের ভিত্তিতে তা ক্রয় করে নেয়, যাতে তারা তার বাড়িতে গিয়ে তা মেপে নেয় এবং নিজ নিজ দোকানে নিয়ে যায়?" তিনি বললেন: "আমি মনে করি যে, বিক্রেতাকে তার বাড়িতে বিক্রি করার সুযোগ দেওয়া উচিত নয় এবং আমি মনে করি যে, তার উচিত তা মুসলমানদের বাজারে স্থানান্তর করা।" তাকে বলা হলো: "যদি দুর্গের অধিবাসীরা..."
(খণ্ড: ১) আত-তাইয়াসীর ফী আহকামিত তাস’ঈর (পৃষ্ঠা: ৫৫)
ليس لهم رحبة ينصب فيها الطعام قال: أرى أن يكتروا الحوانيت ويبرزوه فيها، ويمنع الناس أن يشتروه في الدور (إذا كان السعر غالياً وأضر ذلك بالسوق) وإذا كان السعر رخيصاً ولم يضر بالسوق خلي بين الناس وبين أن يشتروا حيث أحبوا أو يدخروا. قيل ليحيى فإذا أراد الرجل الذي لا يعرف بيع الطعام ولا يحتكر، أن يشتري في الغلاء قوت سنة. قال لا يمكن من ذلك انتهى (كلام يحيى).

ومن اشترى دون السعر، وهو جاهل به فله الرجوع بما بقي له بحساب السعر. قال المالقي: لا احتساب على جالب الطعام ولا لمن يبيع بغير دكان ولا حانوت يعرض للخاص والعام ولا على الفواكه، والخضر، إلا لغلاء مفرط، ولا على السكرى (السطري؟ ) ولا على الدباغ، والسمسار، والخراز، والبناء، والكاتب، والصاغة والشراط والنكاز والحواز والخياط والبرام والصفار، والقواس، والخراط، والفخار والحائك والنجار والرماح والحداد، وجميع أهل الحرف والصنائع والمتسببين من حمال أو سواه ودلائل وسمسار وغيرهم. ولكن ينبغي للوالي أن يقبض من أهل كل صنعة
তাদের জন্য এমন কোনো প্রশস্ত প্রাঙ্গণ নেই যেখানে খাদ্যদ্রব্য প্রদর্শনের ব্যবস্থা করা যায়। তিনি বললেন: আমার অভিমত হলো তারা যেন দোকান ভাড়া নেয় এবং সেখানে পণ্য প্রদর্শন করে, আর (যদি মূল্য চড়া হয় এবং তা বাজারের জন্য ক্ষতিকর হয় তবে) মানুষকে ব্যক্তিগত আবাসস্থল থেকে পণ্য ক্রয় করতে নিষেধ করা হবে। তবে মূল্য যদি সস্তা হয় এবং বাজারের কোনো ক্ষতি না হয়, তবে মানুষ তাদের পছন্দমতো স্থান থেকে ক্রয় করুক কিংবা মজুত করুক—সে ব্যাপারে তাদের স্বাধীনতা দেওয়া হবে। ইয়াহইয়াকে জিজ্ঞাসা করা হলো, যে ব্যক্তি খাদ্য কেনাবেচায় অভ্যস্ত নয় এবং মজুতদার হিসেবেও পরিচিত নয়, সে যদি চড়া মূল্যের সময় এক বছরের খোরাকি কিনে রাখতে চায়, তবে তার হুকুম কী? তিনি বললেন: তাকে সেই সুযোগ দেওয়া যাবে না। (ইয়াহইয়ার বক্তব্য সমাপ্ত)।

আর যে ব্যক্তি বাজারদর সম্পর্কে অজ্ঞ থেকে বাজারমূল্যের চেয়ে কম দামে পণ্য ক্রয় করেছে, বাজারদর অনুযায়ী অবশিষ্ট মূল্য পরিশোধের দাবি করার অধিকার তার রয়েছে। আল-মালাকি বলেন: খাদ্য আমদানিকারকের ওপর কোনো মূল্য নিয়ন্ত্রণ নেই। তদ্রূপ যার নির্দিষ্ট কোনো দোকান বা বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠান নেই এবং যে সাধারণ ও বিশিষ্ট সকলের নিকট পণ্য প্রদর্শন করে বিক্রি করে, তার ওপরও কোনো বাধ্যবাধকতা নেই। ফলমূল ও শাকসবজির ক্ষেত্রেও একই নিয়ম, তবে যদি মূল্য অত্যধিক বৃদ্ধি পায় তবে ভিন্ন কথা। এছাড়া চিনি বিক্রেতা (সাতারি?), চর্মকার, দালাল, মুচি, রাজমিস্ত্রি, লেখক, স্বর্ণকার, পাহারাদার, খননকারী, মালবাহক, দর্জি, মৃৎপাত্র নির্মাতা, তাম্রশিল্পী, ধনুক নির্মাতা, লেদ-মিস্ত্রি, কুমার, তাঁতি, সূত্রধর, বল্লম নির্মাতা, কামার এবং সকল প্রকার কারিগর, পেশাজীবী ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি যেমন কুলি বা অন্য কেউ এবং পথপ্রদর্শক ও দালালদের ওপরও কোনো মূল্য নির্ধারণ করা হবে না। তবে ওয়ালির (শাসকের) উচিত প্রত্যেক পেশার মানুষের থেকে...
(খণ্ড: ১) আত-তাইয়াসীর ফী আহকামিত তাস’ঈর (পৃষ্ঠা: ৫৬)
حميلاً توثقاً بأثمان الناس وأن يكون أميناً وثقة عارفاً بصنعته خبيراً بالجيدو الرديء من حرفته يحفظ لجماعته ما يجب أن يحفظ من أمورهم ويجري أمورهم على ما يجب أن تجري، ولا يخرجون عن العادة، فيما جرت به العادة في صنعتهم وللمحتسب تمزيق ثوب إن خرج عن عادته، وتخريق الجلد وحرقه إن خرج عن عادته، وكذلك سائر الأشياء، وذلك بعد وقوف العارفين عليه (والله الموفق).
মানুষের সম্পদের মূল্যের নিশ্চয়তা বিধানে জামিনদার হওয়া এবং তাকে আমানতদার ও নির্ভরযোগ্য (ثقة) হতে হবে; যিনি আপন শিল্প সম্পর্কে সম্যক অবগত এবং স্বীয় পেশার ভালো ও মন্দ মানের বিষয়ে অভিজ্ঞ। তিনি তার সম্প্রদায়ের জন্য তাদের বিষয়াবলির যা সংরক্ষণ করা আবশ্যক তা সংরক্ষণ করবেন এবং তাদের কার্যাবলি যেভাবে পরিচালিত হওয়া বাঞ্ছনীয় সেভাবেই আঞ্জাম দেবেন। তারা যেন তাদের পেশার প্রচলিত রীতিনীতি বা প্রথার বাইরে না যায়। কোনো পোশাক যদি প্রচলিত প্রথার বাইরে তৈরি করা হয়, তবে মুহতাসিবের জন্য তা ছিঁড়ে ফেলার অধিকার রয়েছে। একইভাবে চামড়া যদি প্রথা বহির্ভূত হয় তবে তা ছিদ্র করে ফেলা বা পুড়িয়ে ফেলার এখতিয়ারও তার আছে। অন্যান্য জিনিসের ক্ষেত্রেও একই বিধান প্রযোজ্য। আর এই ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে অভিজ্ঞ ব্যক্তিদের পর্যবেক্ষণের পর (আল্লাহই তাওফিকদাতা)।
(খণ্ড: ১) আত-তাইয়াসীর ফী আহকামিত তাস’ঈর (পৃষ্ঠা: ৫৭)
‌‌الباب الخامس

في المعيار الشرعي (والعادي) وما يباع وزناً أو وكيلا أو بهما معا وفي كيفيتهما

قال صاحب المختصر: واعتبرت المماثلة بمعيار الشرع وإلا فبالعادة، فالمعيار الشرعي للذهب والفضة وسائر النقود الميزان وللقمح والشعير وسائر ما تؤدي منه زكاة الفطر، الكيل وغير ما ذكر تتبع فيه العادة العامة في كل بلد، كالوزن في اللحم والجبن، والخاصة كالجوز والرمان والأرز والسمن والعسل فإنه يختلف باختلاف البلدان، فيعمل في كل بلد بعادته
‌‌পঞ্চম পরিচ্ছেদ

শরয়ি পরিমাপক (المعيار الشرعي) ও প্রথাগত পরিমাপক (العادي) প্রসঙ্গে এবং যা ওজনে, পরিমাপে (الكيل) অথবা উভয় পদ্ধতিতে বিক্রি করা হয় এবং সেগুলোর পদ্ধতি প্রসঙ্গে

মুখতাসার-এর লেখক বলেন: সমতা (المماثلة) শরয়ি পরিমাপক দ্বারা বিবেচিত হবে, অন্যথায় প্রথা বা অভ্যাসের (العادة) ভিত্তিতে। স্বর্ণ, রৌপ্য এবং অন্যান্য সকল মুদ্রার ক্ষেত্রে শরয়ি পরিমাপক হলো তুলাদণ্ড বা ওজন (الميزان); আর গম, যব এবং যাকাতুল ফিতর আদায় করা হয় এমন সকল বস্তুর ক্ষেত্রে তা হলো পরিমাপ (الكيل)। উল্লিখিত বিষয়গুলো ব্যতীত অন্য সব ক্ষেত্রে প্রতিটি জনপদের সাধারণ প্রথা (العادة العامة) অনুসরণ করা হবে, যেমন গোশত এবং পনিরের ক্ষেত্রে ওজন (الوزن); আর বিশেষ প্রথা (العادة الخاصة) যেমন আখরোট, ডালিম, চাল, ঘি ও মধুর ক্ষেত্রে, কারণ তা জনপদভেদে ভিন্ন ভিন্ন হতে পারে। সুতরাং প্রতিটি জনপদে সেখানকার প্রচলিত প্রথা (العادة) অনুযায়ী আমল করা হবে।
(খণ্ড: ১) আত-তাইয়াসীর ফী আহকামিত তাস’ঈর (পৃষ্ঠা: ৫৮)
إن أتحدث وإلا فأغلبها إن اعتيدت وبهما معاً أن أستورده قال ابن عرفه: يقال لهم اشتروا على ثلث رطل إلخ فراجعه في الباب الذي قبل هذا وسئل مالك (4 أ) عما يجب على الكيال في الكيل، وهل يطفف؟ قال لا يطفف، لأن الله تعالى يقول (ويل للمطففين) ولا خير في التطفيف، ولكن يصب عليه حتى يجنبذه فإذا جنبذه أمسك. قيل لمالك: من اشترى وزناً من اللحم أو الزعفران أو غير ذلك، أيأخذ ذلك بميل الميزان أم لا فقال حد ذلك أن يكون لسان الميزان معتدلا. قيل: وإن سأله أن يميله قال لم أر ذلك له، قال مالك: وأرى السلطان أن يضرب الناس على الوفاء. والوفاء عندي إذا ملأ رأس المكيال. وأما الرزم والزلزلة فلا أراهما من الوفاء. رأيته كأنه يكره ذلك، وقال سمعت مالكاً وقد سئل عن التطفيف، في الربويات قال له صاحب السوق أنهم يستوفون في الحوائط، ويكيلون للناس هنا بكيل دون ذلك، فرأيت أن يمسح رأس الويبة
আমি যদি বলি, অন্যথায় তাদের অধিকাংশই যদি তাতে অভ্যস্ত হয়ে থাকে এবং উভয়টি একত্রিত হয় তবে আমি তা আমদানি করব। ইবনে আরাফাহ বলেছেন: তাদের বলা হতো যে, তোমরা এক রতলের এক-তৃতীয়াংশের ভিত্তিতে ক্রয় কর ইত্যাদি। অতএব এর পূর্ববর্তী অধ্যায়ে বিষয়টি দেখে নিন। ইমাম মালিককে (৪ ক) পরিমাপকারীর ওপর পরিমাপের ক্ষেত্রে কী আবশ্যক এবং সে কি ওজনে কম দেবে (تطفيف) কি না—সে সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করা হয়েছিল। তিনি বললেন, সে ওজনে কম দেবে (تطفيف) না; কেননা মহান আল্লাহ বলেছেন: (দুর্ভোগ তাদের জন্য যারা মাপে কম দেয়)। আর ওজনে কম দেওয়ার (تطفيف) মধ্যে কোনো কল্যাণ নেই। তবে সে তার ওপর ঢালতে থাকবে যতক্ষণ না তা আন্দোলিত হয়; আর যখন তা আন্দোলিত হবে তখন সে থেমে যাবে। মালিককে জিজ্ঞাসা করা হলো: কেউ যদি মাংস, জাফরান বা অন্য কিছু ওজনের ভিত্তিতে ক্রয় করে, তবে সে কি দাঁড়িপাল্লার ঝুঁকে পড়ার (ميل) ভিত্তিতে তা গ্রহণ করবে কি না? তিনি বললেন: এর সীমানা হলো দাঁড়িপাল্লার কাঁটা সাম্যাবস্থায় (معتدل) থাকা। জিজ্ঞাসা করা হলো: যদি সে তাকে তা ঝুঁকিয়ে দিতে বলে? তিনি বললেন: আমি তার জন্য এটি সমীচীন মনে করি না। মালিক বলেন: আমি মনে করি শাসকের উচিত লোকজনকে পূর্ণতা প্রদানের (وفاء) ওপর বাধ্য করা। আর আমার নিকট পূর্ণতা প্রদান (وفاء) হলো যখন সে পরিমাপক পাত্রের (مكيال) উপরিভাগ পূর্ণ করবে। আর ঠেসে দেওয়া বা সজোরে নাড়াচাড়াকে আমি পূর্ণতা প্রদানের (وفاء) অন্তর্ভুক্ত মনে করি না। আমি তাকে দেখলাম যে তিনি বিষয়টিকে অপছন্দ করছেন। তিনি বলেন, আমি মালিককে বলতে শুনেছি যখন তাঁকে সুদযুক্ত পণ্যসমূহের (ربويات) ক্ষেত্রে ওজনে কম দেওয়া (تطفيف) সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করা হয়েছিল। বাজারের তদারককারী তাকে বললেন যে, তারা বাগানগুলোতে পূর্ণ মাত্রায় গ্রহণ করে কিন্তু এখানে মানুষের জন্য তার চেয়ে কম মাপে পরিমাপ করে। তখন আমি অভিমত দিলাম যে, সে যেন ওয়াইবাহর (ويبة) উপরিভাগ সমান করে দেয়।
(খণ্ড: ১) আত-তাইয়াসীর ফী আহকামিত তাস’ঈর (পৃষ্ঠা: ৫৯)
لا يبخس فيه أحد فقال مالك عليك أن تأمر الناس بالوفاء هنالك وما هنا فمن ظلم فنفسه ظلم. وكره مسح الويبة تطفيفاً كراهة شديدة، وقال: أكره التطفيف، وقرأ هذه الآية مرتين (ويل للمطففين). وعن ابن الماجشون أن رسول الله صلى الله عليه وسلم أمر بتصبير الكيل، وأن يبايع عليه، وقال إن البركة في رأسه ونهي عن الطفاف وحدث أنه بلغه أن كيل فرعون إنما كان على الطفاف (الصفاق) مسحاً بالحديد قال ابن حبيب: وسمعت مطرفاً وابن الماجشون. يقولان: كان مالك يأمر أن يكون كيل الورق على التصبير، وينهى عن الطفاف (الصفاق) ويكره رزم الكيل وتحريكه قيل له كيف يكون؟ قال يملأ الصاع من غير رزم ولا تحريك، ويسرح (الكيال) الطعام بيده على رأس الكيل فذلك الوفاء، وقال ابن حبيب: سمعت ابن الماجشون يقول: ينبغي للسلطان أن يتفقد المكيال والميزان في كل حين وأن يضرب الناس على الوفاء، وكذلك كان مالك يقول ويأمر به ولاة السوق بالمدينة أهـ كلامه صح من المعيار زاد ويجب على الحناطين أن لا يبيعوا القمح
সেখানে যেন কারো প্রাপ্য কম দেওয়া না হয়। ইমাম মালিক বললেন, "আপনার কর্তব্য হলো মানুষকে সেখানে এবং এখানে পূর্ণ মাত্রায় প্রদানের নির্দেশ (أمر) দেওয়া। সুতরাং যে ব্যক্তি জুলুম করল, সে প্রকৃতপক্ষে নিজের প্রতিই জুলুম করল।" তিনি মাপে কারচুপি করার উদ্দেশ্যে পরিমাপক পাত্র (ওয়াইবা) মুছে সমান করাকে তীব্রভাবে অপছন্দ করতেন এবং বলতেন, "আমি মাপে কম দেওয়া অপছন্দ করি।" অতঃপর তিনি এই আয়াতটি দুইবার পাঠ করলেন: "ধ্বংস সেই সব ব্যক্তিদের জন্য যারা মাপে কম দেয়।" ইবনুল মাজিশূন থেকে বর্ণিত যে, রাসুলুল্লাহ (সা.) পরিমাপের পাত্র কানায় কানায় পূর্ণ করার নির্দেশ (أمر) দিয়েছেন এবং সেই অনুযায়ী লেনদেন করতে বলেছেন। তিনি বলেছেন, "নিশ্চয়ই বরকত এর উপরিভাগেই নিহিত।" তিনি মাপে কম করা বা উপরিভাগ সমান করা থেকে নিষেধ করেছেন। বর্ণিত হয়েছে (حدث) যে, তাঁর কাছে সংবাদ পৌঁছেছে (بلغ) যে ফেরাউনের পরিমাপ পদ্ধতি ছিল লোহার দণ্ড দিয়ে উপরিভাগ সমান করে মুছে ফেলার মাধ্যমে। ইবনে হাবিব বলেন, আমি মুতাররিফ ও ইবনুল মাজিশূনকে বলতে শুনেছি: ইমাম মালিক রুপার মুদ্রার বিনিময়ে শস্য পরিমাপ করার সময় কানায় কানায় পূর্ণ করার নির্দেশ দিতেন এবং মাপে কারচুপি বা উপরিভাগ সমান করা থেকে নিষেধ করতেন। তিনি পরিমাপের পাত্র আছাড় দেওয়া বা ঝাঁকানো অপছন্দ করতেন। তাঁকে জিজ্ঞাসা করা হলো, এটি কীভাবে হবে? তিনি বললেন, "সা' (পরিমাপক পাত্র) আছাড় দেওয়া বা ঝাঁকানো ছাড়াই পূর্ণ করা হবে এবং পরিমাপকারী তার হাত দিয়ে খাবারের উপরিভাগ সমান করে সরিয়ে দেবেন; আর এটাই হলো পূর্ণতা।" ইবনে হাবিব বলেন, আমি ইবনুল মাজিশূনকে বলতে শুনেছি: সুলতানের উচিত সর্বদা পরিমাপক পাত্র ও দাড়িপাল্লা তদারকি করা এবং ওজনে পূর্ণতা বজায় রাখার বিষয়ে মানুষকে বাধ্য করা। ইমাম মালিকও অনুরূপ বলতেন এবং মদিনার বাজার তদারককারীদের এ বিষয়ে নির্দেশ দিতেন। তাঁর বক্তব্যের সমাপ্তি। এটি 'আল-মেয়িার' গ্রন্থ থেকে সঠিক (صح) বলে প্রমাণিত। এতে আরও সংযোজন করা হয়েছে যে, গম বিক্রেতাদের জন্য গম বিক্রি না করা আবশ্যক।
(খণ্ড: ১) আত-তাইয়াসীর ফী আহকামিত তাস’ঈর (পৃষ্ঠা: ৬০)
والشعير والفول والعدس والحمص وجميع القطاني حتى يغرباوه. والحناط هو الكيال كما فسره في غير هذا الموضع قال المالقي: بيع الدقيق بالوزن أولى من الكيل، والحب بالكيل والوزن لكن الكيل أعرف عند الناس وقد نهي عن ميزان الرمانة إلا إن كان الوازن بها أميناً غير بائع ولا مشتر فيجوز والله أعلم.

ويؤمر الوازن بتطهير الميزان، ولا يوزن المأكول بما يوزن به غيره. وأصدق الموازين ما كان ثقبه في قصبته وعموده، وكان الثقب واسع الجهتين ضيق الوسط مشوكة. مثل المسمار وأكذبه ما كان ثقبه في اللسان أو كان وسط الثقب غير مشوك أو كان المسمار رقيقاً على (نشاع؟ ) الثقب. وكذلك إذا اختلفت أوزان الكفات. وأصدق المكاييل وأقربها للمصلحة المستدير الشكل. وأما المثلث أو المربع أو ذو الزوايا كيفما كانت، فليس بصحيح (4 ب) وللمكيال والوازن أنواع من الخدع والحيل فعلى المحتسب أن يتفقدهم في جميع الأحوال، وينبه على خدعهم من لا خبره له بأحوالهم الذميمة، ويتعرض لمن اشترى منهم بالقرب ويعيد ما وزنوه لعله يطلع على غشهم.
বার্লি, শিম, মুসুর ডাল, ছোলা এবং সব ধরণের ডাল জাতীয় শস্য যতক্ষণ না তা ঝেড়ে পরিষ্কার করা হয়। আর 'হান্নাত' (শস্য বিক্রেতা) হলেন সেই ব্যক্তি যিনি পরিমাপ করেন, যেমনটি তিনি অন্য স্থানে ব্যাখ্যা করেছেন। আল-মালাকি বলেন: আটা বা ময়দা ওজনে বিক্রি করা পরিমাপের চেয়ে উত্তম, আর শস্য পরিমাপ ও ওজন উভয় পদ্ধতিতেই হতে পারে; তবে মানুষের কাছে পরিমাপের পদ্ধতিটিই অধিক পরিচিত। আর 'রুম্মানা' (এক পাল্লার তুলাদণ্ড) পাল্লায় ওজন করা নিষিদ্ধ করা হয়েছে, তবে যদি ওজনকারী ব্যক্তি একজন বিশ্বস্ত (أمين) ব্যক্তি হন এবং তিনি বিক্রেতা বা ক্রেতা কোনোটিই না হন, তবে তা জায়েজ হবে; আল্লাহই ভালো জানেন।

ওজনকারীকে তুলাদণ্ড পরিষ্কার রাখার নির্দেশ দেওয়া হবে এবং খাদ্যদ্রব্য এমন কিছু দিয়ে ওজন করা যাবে না যা দিয়ে অন্যান্য জিনিস ওজন করা হয়। সবচেয়ে সত্য (أصدق) বা সঠিক তুলাদণ্ড হলো সেটি, যার ছিদ্র দণ্ড ও খুঁটির মধ্যে থাকে এবং ছিদ্রটি দুই দিকে প্রশস্ত ও মাঝখানে সংকীর্ণ হয়ে কাঁটার মতো থাকে; যেমনটি পেরেকের ক্ষেত্রে দেখা যায়। আর সবচেয়ে মিথ্যা (أكذب) বা ত্রুটিপূর্ণ হলো সেটি, যার ছিদ্রটি জিহ্বায় (কাঁটায়) থাকে অথবা ছিদ্রের মধ্যভাগ কাঁটার মতো নয় কিংবা ছিদ্রের জন্য পেরেকটি পাতলা হয়। একইভাবে যদি দুই পাল্লার ওজনে পার্থক্য থাকে। আর পরিমাপের পাত্রগুলোর মধ্যে সবচেয়ে সত্য (أصدق) এবং জনস্বার্থের নিকটবর্তী হলো গোলাকার আকৃতির পাত্র। তবে ত্রিভুজাকার, বর্গাকার বা কোণবিশিষ্ট যে কোনো আকৃতির পাত্রই সঠিক (صحيح) নয় (৪ খ)। পরিমাপক ও ওজনকারীদের বিভিন্ন ধরণের প্রতারণা ও কৌশল থাকে, তাই মুহতাসিবের (বাজার পরিদর্শক) কর্তব্য হলো সব অবস্থায় তাদের তদারকি করা। আর যাদের তাদের এই হীন অবস্থা সম্পর্কে কোনো অভিজ্ঞতা নেই, তাদেরকে তাদের প্রতারণা সম্পর্কে সতর্ক করা উচিত। যারা তাদের কাছ থেকে নিকটেই পণ্য ক্রয় করেছে তাদের পর্যবেক্ষণ করা এবং তারা যা ওজন করেছে তা পুনরায় ওজন করা প্রয়োজন, যাতে সম্ভবত তাদের জালিয়াতি উদঘাটিত হয়।
(খণ্ড: ১) আত-তাইয়াসীর ফী আহকামিত তাস’ঈর (পৃষ্ঠা: ৬১)
‌‌الباب السادس

في رفع (سعر) الواحد والاثنين لسعر الجماعة

(قال) ابن هرون: قال أصبغ: ولا تقام الجماعة لواحد أو اثنين ويقام الواحد والاثنان لجماعة قال ابن حبيب: هذا يختص بالكيل والموزون خاصة، طعاماً. (كان) أو غيره مع التساوي في الصفة فإن اختلفت صفته لم يؤمر بائع الجيد أن يبيع مثل سعر الدنيء قال ابن عرفة، سمع عيسى ابن، القاسم من حط السعر أو أدخل على الناس فساداً أمر بسعر الناس، أو الخروج، من السوق، ولو باع (واحد) أربعة أرطال، والناس يبيعون ثلاثة لم يقوموا لواحد، ولا لاثنين، ولا لخمسة، وإنما يقام الواحد والاثنان إذا حطوا عن جل سعر الناس، فأدخلوا فساداً. وسمع ابن القاسم ليس لجالب الطعام أن يبيع بدون سعر الناس. قال سحنون، يريد مما هو في جودة
ষষ্ঠ অধ্যায়

এক বা দুই ব্যক্তির মূল্যকে (سعر) সাধারণ মানুষের মূল্যে উন্নীত করা প্রসঙ্গে

(বলেন) ইবনে হারুন: আসবাগ বলেছেন: এক বা দুইজনের জন্য সাধারণ জনগণকে বাধ্য করা হবে না, বরং এক বা দুইজনকে সাধারণ জনগণের মূল্যে পরিচালিত হতে বাধ্য করা হবে। ইবনে হাবিব বলেন: এটি বিশেষভাবে পরিমাপযোগ্য (كيل) এবং ওজনযোগ্য (موزون) পণ্যের সাথে নির্দিষ্ট, তা খাদ্যদ্রব্য হোক বা অন্য কিছু, যদি তা গুণগত মানের (صفة) দিক থেকে সমান হয়। তবে যদি গুণগত মান ভিন্ন হয়, তবে উন্নতমানের পণ্য বিক্রেতাকে নিম্নমানের পণ্যের মূল্যে বিক্রি করার নির্দেশ দেওয়া হবে না। ইবনে আরাফাহ বলেন, ঈসা ও ইবনুল কাসিম বর্ণনা করেছেন যে, যে ব্যক্তি মূল্য (سعر) কমিয়ে দেয় অথবা মানুষের মাঝে বিশৃঙ্খলা (فسادًا) সৃষ্টি করে, তাকে সাধারণ মানুষের মূল্যে বিক্রি করার অথবা বাজার থেকে বেরিয়ে যাওয়ার নির্দেশ দেওয়া হবে। আর যদি (একজন) চার রতল বিক্রি করে এবং মানুষ তিন রতল দরে বিক্রি করে, তবে এক জন, দুই জন বা পাঁচ জনের জন্য সকলকে বাধ্য করা হবে না। বরং কেবল তখনই এক বা দুইজনকে বাধ্য করা হবে যখন তারা জনগণের সাধারণ মূল্যের চেয়ে কমিয়ে দেবে এবং বিশৃঙ্খলা (فسادًا) সৃষ্টি করবে। ইবনুল কাসিম বর্ণনা করেছেন যে, খাদ্য আমদানিকারকের জন্য সাধারণ মানুষের মূল্যের চেয়ে কমে বিক্রি করা বৈধ নয়। সাহনুন বলেন, এর দ্বারা উদ্দেশ্য হলো যা গুণগত মানে সমান।
(খণ্ড: ১) আত-তাইয়াসীর ফী আহকামিত তাস’ঈর (পৃষ্ঠা: ৬২)
سلعته، وليس عليه أن يبيع الجيد بسعر الرديء. قال ابن رشد: معنى بدون سعر الناس في المثمون؛ لا الثمن. وذكر بعض الناس تأويلا على رواية ابن القاسم هذه وأمثالها، أن الواحد والاثنين (من أهل السوق) ليس لهم أن يبيعوا بأرخص من (بيع) أهل السوق، لأنه ضرر بهم وممن قاله عبد الوهاب بن محمد بن نصر البغدادي، وهو غلط ظاهر إذ لا يلام أحد على المسامحة على البيع، بل يشكر عليها، ومثل قول سحنون الأول، قول ابن حبيب، إنما المنع إذا تساوي الطعام أو تقارب، وإن اختلف فزاد صاحب الجيد على صاحب الدنيء الدرهم والدرهمين في المد فلا يمنع، وتحديده بالدرهم والدرهمين في المد، فيما بين الجيد والرديء، إنما هو في الأندلس إذ ليس (بين) قمحها، من الاختلاف، مثل ما بأفريقية، ولا بمكة، حيث تجتمع سمراء الشام، والمحمولة قاله فضل، وهو صحيح، وإذا كان المرخصون الاثنين والثلاثة ونحو ذلك مما يصير لم يرد عليهم غيرهم، (ممن هو كثير، فإن كانوا كثيراً رد عليهم غيرهم ممن هو كثير) وإن كانوا أكثر منهم. وإن كان الكل قليلاً فالأقل تبع للأكثر، إذا كان الأكثر هم المرخصون وإلا ترك كل
তার পণ্য; আর উন্নত মানের (جيد) পণ্য নিম্নমানের (رديء) পণ্যের মূল্যে বিক্রি করা তার জন্য আবশ্যক নয়। ইবনে রুশদ বলেন: ‘জনসাধারণের নির্ধারিত মূল্যের চেয়ে কমে’ কথাটির অর্থ হলো বিক্রয়যোগ্য পণ্যের (مثمون) ক্ষেত্রে, মুদ্রার (ثمن) ক্ষেত্রে নয়। কেউ কেউ ইবনুল কাসিমের এই বর্ণনা (رواية) এবং অনুরূপ বর্ণনার ব্যাখ্যায় উল্লেখ করেছেন যে, বাজারবাসীদের মধ্য থেকে একজন বা দু’জনের পক্ষে বাজারের অন্যান্যদের তুলনায় সস্তায় বিক্রি করার অধিকার নেই, কারণ এতে তাদের ক্ষতি হয়। যারা এই মত ব্যক্ত করেছেন তাদের মধ্যে আব্দুল ওয়াহাব বিন মুহাম্মদ বিন নাসর আল-বাগদাদি অন্যতম; তবে এটি একটি স্পষ্ট ভুল (غلط), কেননা বিক্রির ক্ষেত্রে সহনশীলতা প্রদর্শনের জন্য কাউকে তিরস্কার করা যায় না, বরং এর জন্য তাকে ধন্যবাদ জানানো উচিত। ইবনে হাবিবের বক্তব্যটিও সহনূনের প্রথম বক্তব্যের অনুরূপ; (তা হলো) নিষেধাজ্ঞা কেবল তখনই প্রযোজ্য যখন খাদ্যশস্য মানে সমান বা কাছাকাছি হয়। কিন্তু যদি মানে পার্থক্য থাকে এবং উন্নত মানের (جيد) খাদ্যের মালিক নিম্নমানের (دنيء) খাদ্যের মালিকের চেয়ে প্রতি মুদ্দে (مد) এক বা দুই দিরহাম বেশি নেয়, তবে তা নিষিদ্ধ নয়। উন্নত ও নিম্নমানের পার্থক্যের ক্ষেত্রে প্রতি মুদ্দে (مد) এক বা দুই দিরহামের এই সীমা নির্ধারণ মূলত আন্দালুসের প্রেক্ষাপটে; কারণ সেখানকার গমের মধ্যে সেরূপ পার্থক্য নেই যা আফ্রিকা বা মক্কায় দেখা যায়, যেখানে সিরিয়ার উন্নত লাল গম ও আমদানিকৃত শস্য একত্রিত হয়—একথা ফদল বলেছেন এবং তা সঠিক (صحيح)। আর যখন মূল্য হ্রাসকারী ব্যক্তি দুই বা তিনজন বা এই জাতীয় হয় যাদের সংখ্যা এতো বেশি নয় যে অন্যরা তাদের বাধা দেবে (সেক্ষেত্রে বিষয়টি ভিন্ন); তবে তারা যদি সংখ্যায় অধিক হয় তবে অন্যরা তাদের বাধা দেবে যারা সংখ্যায় প্রচুর, যদিও বা তারা (মূল্য হ্রাসকারীরা) সংখ্যায় তাদের চেয়ে বেশি হয়। আর যদি সবাই সংখ্যায় কম হয়, তবে সংখ্যালঘু সংখ্যাগুরুকে অনুসরণ করবে—যদি সংখ্যাগুরুরাই মূল্য হ্রাসকারী হয়, অন্যথায় প্রত্যেককে নিজ নিজ অবস্থায় ছেড়ে দেওয়া হবে।
(খণ্ড: ১) আত-তাইয়াসীর ফী আহকামিত তাস’ঈর (পৃষ্ঠা: ৬৩)
وأحد على بيعه اهـ.

قيل لمالك فالرجل يأتي بطعامه وليس بالجيد وقد سعره بأرخص من الآخر الطيب فيقول صاحب السوق لغيره: أما بعتم مثله وأما قمتم من السوق، فقال: لا خير في ذلك، ولكن لو أن رجلاً أراد بذلك فساد السوق، لرأيت أن يقال له: إما أن تلحق بسعر الناس، وإما خرجت. وإما أن يقال للناس كلهم إما أن تبيعوا بكذا وإما أن تخرجوا فليس بصواب.
এবং তার বিক্রয়ের ব্যাপারে কাউকেই বাধ্য করা হবে না। সমাপ্ত।

ইমাম মালিককে জিজ্ঞাসা করা হলো—কোনো ব্যক্তি যদি তার খাদ্যদ্রব্য নিয়ে আসে যা খুব একটা উন্নত মানের নয় এবং সে এর দাম অন্য ভালো মানের দ্রব্যের চেয়ে কম নির্ধারণ করে, এমতাবস্থায় বাজার পরিচালক অন্যদের বলেন: "হয় তোমরাও তার মতো দামে বিক্রি করো, নতুবা বাজার থেকে উঠে যাও।" তিনি (মালিক) উত্তরে বললেন: "এতে কোনো কল্যাণ নেই। তবে যদি কোনো ব্যক্তি এর মাধ্যমে বাজারের বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির ইচ্ছা পোষণ করে, তবে আমি মনে করি তাকে বলা উচিত: হয় তুমি জনগণের মূল্যের সাথে সামঞ্জস্য বজায় রাখো, নতুবা বাজার থেকে বেরিয়ে যাও। কিন্তু সকল মানুষকে যদি এই নির্দেশ দেওয়া হয় যে, হয় তোমরা নির্দিষ্ট দামে বিক্রি করো নতুবা বেরিয়ে যাও, তবে তা সঠিক (صواب) নয়।"
(খণ্ড: ১) আত-তাইয়াসীর ফী আহকামিত তাস’ঈর (পৃষ্ঠা: ৬৪)
‌‌الباب السابع

في الأشياء التي يمنع بيعها، أو يكره في الأسواق وغيرها وفي منع ذوي العاهات والقروح من بيع المائعات وغيرها

كره مالك عمل الداريات (والصور) وبيعها من الصبيان (5 أ) وكذا قال في العظام على قدر شبر يجعل لها صورة. ولا يحل للمحتسب أن يترك كل ما نهي الشرع عن بيعه أو شرائه، أن يباع في أسواق المسلمين، نهي عنه تحريم أو نهي كراهة، كآلات الملاهي من عود ودف، وبوق ومزهر وطنبور، وإن كان يجوز ضرب بعضها كالدف في الأعراس، لكن بيعه وكراؤه منهي عنه، وكذا الأواني التي لا تصلح إلا للخمر، أو النبيذ قال في المعيار، كتب إلى عبد الله بن طالب بعض قضاته، رفع إلى في
সপ্তম পরিচ্ছেদ

বাজার ও অন্যান্য স্থানে যে সকল জিনিসের বেচাকেনা নিষিদ্ধ (يمنع) বা অপছন্দনীয় (يكره) এবং শারীরিক ত্রুটি ও ক্ষতবিক্ষত ব্যক্তিদের তরল দ্রব্য ও অন্যান্য জিনিস বিক্রয় করা থেকে বিরত রাখা প্রসঙ্গে

ইমাম মালিক পুতুল (এবং প্রতিকৃতি (صور)) তৈরি করা এবং শিশুদের নিকট তা বিক্রয় করা অপছন্দনীয় (كره) মনে করেছেন। এক বিঘত পরিমাণ হাড় দিয়ে প্রতিকৃতি (صورة) তৈরি করা হলে সে ক্ষেত্রেও তিনি একই মত দিয়েছেন। শরয়ি বিধানে যা কিছু ক্রয়-বিক্রয় করা নিষেধ করা হয়েছে, তা মুসলিমদের বাজারে বিক্রয় করতে দেওয়া মুহতাসিবের জন্য বৈধ নয়; সেই নিষেধাজ্ঞা হারাম (تحريم) পর্যায়ের হোক কিংবা অপছন্দনীয় (كراهة) পর্যায়ের। যেমন বাদ্যযন্ত্রসমূহ: উদ, দফ, শিঙা, মিজহার এবং তানবুর। যদিও বিয়ের অনুষ্ঠানে দফ বাজানো জায়েজ, তবুও তা বিক্রয় করা কিংবা ভাড়া দেওয়া নিষিদ্ধ (منهي عنه)। তদ্রূপ ওই সকল পাত্র যা কেবল মদ বা নাবীযের জন্য উপযুক্ত। আল-মিয়ার গ্রন্থে বলা হয়েছে, আবদুল্লাহ ইবনে তালিবের নিকট তাঁর জনৈক বিচারক লিখেছেন যে, আমার নিকট পেশ করা হয়েছে...