(খণ্ড: ১)
মুসনাদুদ দারেমী - তা. আয-যাহরানী
(পৃষ্ঠা: -)
مسند الدارمي - ت الزهراني القسم: كتب السنة
الكتاب: مسند الإمام الدارمي
المؤلف: أبو محمد عبد الله بن عبد الرحمن الدارمي
درسه وضبط نصوصه وحققها: الدكتور/ مرزوق بن هياس آل مرزوق الزهراني
الناشر: (بدون ناشر) (طُبع على نفقة رجل الأعمال الشيخ جمعان بن حسن الزهراني)
الطبعة: الأولى، 1436 هـ - 2015 م
عدد الأجزاء: 2 (متسلسلة الترقيم)
إهداء: من المحقق جزاه الله خيرا للمكتبة الشاملة
[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]
تاريخ النشر بالشاملة: 14 ربيع الأول 1439
মুসনাদ আদ-দারিমি - তাহকিক আয-যাহরানি বিভাগ: সুন্নাহর কিতাবসমূহ
কিতাব: মুসনাদ আল-ইমাম আদ-দারিমি
লেখক: আবু মুহাম্মদ আব্দুল্লাহ বিন আব্দুর রহমান আদ-দারিমি
পাঠ পর্যালোচনা, সংশোধন ও তাহকিক করেছেন: ডক্টর/ মারযুক বিন হাইয়াস আল মারযুক আয-যাহরানি
প্রকাশক: (কোনো নির্দিষ্ট প্রকাশক নেই) (ব্যবসায়ী শেখ জুমআন বিন হাসান আয-যাহরানির ব্যক্তিগত অর্থায়নে মুদ্রিত)
সংস্করণ: প্রথম, ১৪৩৬ হিজরি - ২০১৫ খ্রিস্টাব্দ
খণ্ড সংখ্যা: ২ (ধারাবাহিক নম্বরযুক্ত)
উৎসর্গ: মুহাক্কিকের পক্ষ থেকে (আল্লাহ তাকে উত্তম প্রতিদান দান করুন) আল-মাকতাবাতুশ শামিলার প্রতি
[গ্রন্থের নম্বরবিন্যাস মূল মুদ্রিত কপির অনুরূপ]
শামিলায় প্রকাশের তারিখ: ১৪ রবিউল আউয়াল ১৪৩৯
(খণ্ড: ১)
মুসনাদুদ দারেমী - তা. আয-যাহরানী
(পৃষ্ঠা: ১)
مسند الإمام الدارمي
درسه وضبط نصوصه وحققها
الدكتور
مرزوق بن هياس آل مرزوق الزهراني
الجزء الأول
الطبعة الأولى
1435 هـ 2014 م
ইমাম আদ-দারিমীর মুসনাদ
পাঠ পর্যালোচনা, পাঠ সংশোধন ও গবেষণামূলক সম্পাদনায়
ডক্টর
মারযূক বিন হাইয়াস আল মারযূক আয-যাহরানী
প্রথম খণ্ড
প্রথম সংস্করণ
১৪৩৫ হিজরী ২০১৪ খ্রিষ্টাব্দ
(খণ্ড: ১)
মুসনাদুদ দারেমী - তা. আয-যাহরানী
(পৃষ্ঠা: ২)
الإهداءإلى شيوخي في كل المراحل العلمية وعلى وجه الخصوص المرحلة الجامعية فما فوقها
هديتي
هَدِيَّتِيْ مِنْ عَمَلْ كَفِّيْ وَنُطْقِ فَمِيْ
… نَطَقْ لِسَانِيْ بِهَا وَالْقَيْدُ مِنْ قَلَمِيْ
وَكَمْ عُنِيْتُ بِهَا دَرْساً أُحَقَّقُهَا
… اخْتَرْتُهَا جَوْهَراً مِنْ أَصْدَقِ الْكَلِم
لَمْ أُهْدِهَا لِلشيوخ الَاّ لِنَنْشُرُهَا
… ذُخْراً يُخَلِّدُ ذِكْرَ الخير مِنْ قِدَم
وَلَسْتُ أضْفِيْ لهم فضلاً وَمَعرِفَة
… هُمُ الشيوخ ذَوُوا الأَقْدَارِ وَالنِّعَم
لَكِنَّهُمْ قَدَّمُوْا لِلْعِلْمِ عُدَّتَهُ
… وَأَخْرَجُوْا النَّاسَ مِنْ جهل وَمِنْ ظُلَم
هذي هَدِيَّةُ قَوْمٍ قَدْ أَشَدْتُ بِهمْ
… والشيخ (1) مِنْ بَيْنِهِمْ شَمْسٌ عَلَى القمم الْقمَم
إلى الشيوخ الأماجد، الذين شرّفهم الله عز وجل بقيادة العلم في دولة التوحيد وتشرفت بتلقي العلم عليهم في كافة المراحل التعليمية، وعلى وجه الخصوص في المرحلة الجامعية وما فوقها، فاستفدت منهم جميعا، ومن الأكابر منهم: أصحاب السماحة؛ الشيخ عبد العزيز بن باز، والشيخ محمد الأمين الشنقيطي، والشيخ حماد الأنصاري رحمهم الله رحمة واسعة، والشيخ عبد المحسن العباد والدكتور أكرم العمري، والشيخ أبو بكر الجزائري بارك الله في أعمارهم وأحسن لي ولهم الختام، فقد نلت من أفواههم علما، ومن سمتهم قدوة، ومن أخلاقهم تواضعا وحلما، ومن شجاعتهم في الحق إباء، ومن زهدهم عزة نفس، ولست مشيدا بشخصي بل أشيد بمناهل الفضل والمعرفة.
وإنني بهذه المناسبة أعتقد أن من الواجب عليَّ الإشادة بولاة الأمر؛ حماة العقيدة والمقدسات، الداعين إلى تحكيم الكتاب والسنة، المساندين للعلم والعلماء، وذلك بفضل الله عز وجل ثم بفضل ما وفّروا لأبناء هذه البلاد من أسباب مكّنتهم بفضل الله عز وجل من إنجاز علمي كبير، إنجاز قياسي إذا ما قورن بكثير من البلاد الإسلامية، في مدة لم تتجاوز (50) خمسين عاما، حققت خلالها ثمرة علمية عالية في مجالات التعليم، وقيام آلاف المدارس والمعاهد، في التعليم العام، والتعليم الفني، وفي التعليم العالي عشرات الجامعات، فيها كل التخصصات، وهي ماثلة للعيان مزودة بكثير مما تحتاج من خدمات وتقنية، ومئات الكليات في مختلف متطلبات التنمية
--------------------------------------------
উৎসর্গশিক্ষাজীবনের সকল স্তরের আমার শায়খদের প্রতি, বিশেষ করে স্নাতক ও তদূর্ধ্ব পর্যায়ের শিক্ষকদের প্রতি।
আমার উপহার
আমার এই উপহার আমার হাতের শ্রম এবং মুখের বাণীর নির্যাস
... আমার জিহ্বা তা উচ্চারণ করেছে এবং আমার কলম তা নিবন্ধিত করেছে।
আমি গবেষণার মাধ্যমে এর প্রতি অনেক যত্ন নিয়েছি এবং তা যাচাই করেছি
... আমি একে সত্যনিষ্ঠ বাণীর মধ্য থেকে মণি-মুক্তা হিসেবে নির্বাচন করেছি।
আমি শায়খদের প্রতি এটি উৎসর্গ করিনি কেবল তা প্রচার করার উদ্দেশ্য ছাড়া
... যা অনাদিকাল থেকে চলে আসা কল্যাণকর স্মৃতির এক চিরস্থায়ী সঞ্চয়।
আমি তাঁদের মর্যাদা বা জ্ঞান বাড়িয়ে দিচ্ছি না
... তাঁরা তো উচ্চ মর্যাদা ও অনুগ্রহের অধিকারী মহান শিক্ষক।
বরং তাঁরাই ইলমের পাথেয় ও উপকরণ পেশ করেছেন
... এবং মানুষকে অজ্ঞতা ও অন্ধকার থেকে বের করে এনেছেন।
এটি সেই মহান ব্যক্তিদের প্রতি উপহার যাঁদের আমি প্রশংসা করেছি
... আর তাঁদের মাঝে শায়খ (১) হলেন পাহাড়ের চূড়ায় প্রদীপ্ত সূর্যের মতো।
সেই মহিমান্বিত শায়খদের প্রতি, মহান আল্লাহ যাঁদের তাওহীদের দেশে ইলমের নেতৃত্বের মাধ্যমে সম্মানিত করেছেন এবং সকল শিক্ষা স্তরে, বিশেষ করে স্নাতক ও উচ্চতর স্তরে যাঁদের নিকট ইলম অর্জনের সৌভাগ্য আমার হয়েছে। আমি তাঁদের সকলের নিকট থেকেই উপকৃত হয়েছি, এবং তাঁদের মধ্যে অগ্রগণ্য ব্যক্তিগণ হলেন: মহামান্য শায়খ আব্দুল আজিজ বিন বাজ, শায়খ মুহাম্মদ আল-আমিন আশ-শানকীতি এবং শায়খ হাম্মাদ আল-আনসারী—আল্লাহ তাঁদের প্রতি অবারিত রহমত বর্ষণ করুন। এবং শায়খ আব্দুল মুহসিন আল-আব্বাদ, ডক্টর আকরাম আল-উমারী এবং শায়খ আবু বকর আল-জাযায়েরী—আল্লাহ তাঁদের হায়াতে বরকত দান করুন এবং আমার ও তাঁদের শেষ পরিণতি কল্যাণময় করুন। আমি তাঁদের মুখ থেকে ইলম হাসিল করেছি, তাঁদের চালচলন থেকে আদর্শ গ্রহণ করেছি, তাঁদের আখলাক থেকে বিনয় ও ধৈর্য শিখেছি, সত্যের ক্ষেত্রে তাঁদের আপসহীনতা থেকে দৃঢ়তা এবং তাঁদের দুনিয়াবিমুখতা থেকে আত্মমর্যাদাবোধ অর্জন করেছি। আমি নিজের প্রশংসা করছি না, বরং আমি জ্ঞান ও শ্রেষ্ঠত্বের প্রস্রবণসমূহের প্রশংসা করছি।
এই সুযোগে আমি বিশ্বাস করি যে, উলুল আমর বা রাষ্ট্রীয় কর্তৃপক্ষের প্রশংসা করা আমার দায়িত্ব; যাঁরা আকীদা ও পবিত্র স্থানসমূহের রক্ষক, কিতাব ও সুন্নাহর বিধান কার্যকর করার আহ্বানকারী এবং ইলম ও ওলামাদের সহায়তাকারী। এটি আল্লাহ তাআলার অনুগ্রহে এবং এরপর এই দেশের সন্তানদের জন্য তাঁরা যেসব উপকরণ সরবরাহ করেছেন তার বদৌলতে সম্ভব হয়েছে, যা আল্লাহর অনুগ্রহে তাঁদের এক বিশাল বৈজ্ঞানিক ও তাত্ত্বিক অর্জন সম্পন্ন করতে সক্ষম করেছে। অন্যান্য অনেক মুসলিম দেশের সাথে তুলনা করলে এটি একটি অভাবনীয় অর্জন, যা মাত্র ৫০ (পঞ্চাশ) বছরের কম সময়ে সম্পন্ন হয়েছে। এই সময়ে শিক্ষা ক্ষেত্রে উচ্চতর বৈজ্ঞানিক ফলাফল অর্জিত হয়েছে; সাধারণ ও কারিগরি শিক্ষায় হাজার হাজার স্কুল ও ইনস্টিটিউট এবং উচ্চশিক্ষায় গড়ে উঠেছে কয়েক ডজন বিশ্ববিদ্যালয়, যেখানে সব ধরনের বিশেষায়িত বিভাগ বিদ্যমান। এগুলো প্রয়োজনীয় সেবা ও প্রযুক্তি সমৃদ্ধ হয়ে সবার সামনে দৃশ্যমান এবং উন্নয়নের বিভিন্ন প্রয়োজনে শত শত কলেজ প্রতিষ্ঠিত হয়েছে।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
মুসনাদুদ দারেমী - তা. আয-যাহরানী
(পৃষ্ঠা: ৩)
في البلاد، ولولا فضل الله عز وجل، ثم ذلك البذل السخي ما وصلت أنا والآلاف من أمثالي إلى هذا المستوى، ولا ينكر هذا إلا مكابر غير شاكر للنعمة، وعرفانا بالجميل، ودعوة إلى العمل الصالح والسنن القويم، أقدم للمسلمين هذه الخدمة العلمية، لمصدر من مصادر السنة النبوية الصحيحة، شاكرا لله عز وجل ما أنعم به وتفضّل، وداعيا لولاة الأمر بالصلاح والثبات على الحق، والسعي في الإصلاح الشامل، ولاسيما التعليم لأنه أساس نهضة الأمم راجيا من الله عز وجل، الأجر والثواب.
الدكتور/ مرزوق بن هياس آل مرزوق الزهراني
দেশে, আর মহান আল্লাহর অনুগ্রহ এবং সেই উদার দান না থাকলে আমি এবং আমার মতো হাজার হাজার মানুষ এই স্তরে পৌঁছাতে পারতাম না। কোনো দাম্ভিক ও নেয়ামতের অকৃতজ্ঞ ব্যক্তি ছাড়া অন্য কেউ এটি অস্বীকার করবে না। কৃতজ্ঞতা স্বরূপ এবং সৎকর্ম ও সঠিক সুন্নাহর দিকে আহ্বানের লক্ষ্যে আমি মুসলমানদের জন্য বিশুদ্ধ নববী সুন্নাহর অন্যতম একটি উৎসের এই জ্ঞানগত খিদমত পেশ করছি। মহান আল্লাহ যা কিছু নেয়ামত ও অনুগ্রহ দান করেছেন তার জন্য তাঁর শুকরিয়া জ্ঞাপন করছি এবং দায়িত্বশীলদের জন্য সংশোধন, সত্যের ওপর অবিচলতা এবং সামগ্রিক সংস্কারের—বিশেষ করে শিক্ষার ক্ষেত্রে, যেহেতু তা জাতিসমূহের জাগরণের ভিত্তি—প্রচেষ্টা চালানোর দোয়া করছি, মহান আল্লাহর কাছে এর সওয়াব ও প্রতিদান আশা করছি।
ডক্টর মারজুক বিন হাইয়াস আল-মারজুক আল-জাহরানি
(খণ্ড: ১)
মুসনাদুদ দারেমী - তা. আয-যাহরানী
(পৃষ্ঠা: ৪)
المقدمةالحمد الله أجزل الحمد وأوفاه، وأشهد أن لا إله إلا الله، وحده لا شريك له، رب كل شيء وخالقه ومولاه، وأشهد أن محمدا عبده ورسوله، خيرته من خلقه، كرّمه ربه واجتباه، وأنعم عليه بالنبوة وهداه، وهدى به من الضلالة، وبصَّر من العمى، بلَّغ الرسالة، وبه ختمت الرسالات، فلا نبي بعده ولا رسول، وكان ما جاء به من الحق والهدى، ختما لكل الأديان، فلا يسع بشرا على وجه الأرض إلا الإيمان به، والانضواء تحت رايته ولوائه، صلوات ربي وسلامه عليه، فقد قال تعالى: {الْيَوْمَ أَكْمَلْتُ لَكُمْ دِينَكُمْ وَأَتْمَمْتُ عَلَيْكُمْ نِعْمَتِي وَرَضِيتُ لَكُمُ الْإِسْلَامَ دِينًا} (1)، فهذا كتاب الله ينطق بالحق، لا يأتيه الباطل من بين يديه ولا من خلفه، وقد رُوِيَ عن الخليفة الراشد على بن أبي طالب رضي الله عنه أنه قال: أما أني قد سمعت رسول الله صلى الله عليه وسلم يقول: «ألا إنها ستكون فتنة» فقلت: ما المخرج منها يا رسول الله؟ ، قال: «كتاب الله، فيه نبأ ما كان قبلكم، وخبر ما بعدكم، وحكم ما بينكم، وهو الفصل ليس بالهزل، من تركه من جبار قصمه الله، ومن ابتغى الهدى في غيره أضله الله، وهو حبل الله المتين، وهو الذكر الحكيم، وهو الصراط المستقيم، هو الذي لا تزيغ به الأهواء، ولا تلتبس به الألسنة، ولا يشبع منه العلماء، ولا يخلق على كثرة الردّ، ولا تنقضي عجائبه، هو الذي لم تنتهي الجن إذ سمعته حتى قالوا: {قُلْ أُوحِيَ إِلَيَّ أَنَّهُ اسْتَمَعَ نَفَرٌ مِنَ الْجِنِّ فَقَالُوا إِنَّا سَمِعْنَا قُرْآنًا عَجَبًا (1) يَهْدِي إِلَى الرُّشْدِ فَآمَنَّا بِهِ وَلَنْ نُشْرِكَ بِرَبِّنَا أَحَدًا} (2) من قال به صدق، ومن عمل به أُجر، ومن حكم به عدل، ومن دعا إليه هُدي إلى صراط مستقيم» (3).
وقد كرم الله عبده ورسوله نبينا محمد صلى الله عليه وسلم بأن جعله لا ينطق عن الهوى، فقوله وفعله وتقريره حق وشرع متبع، منزل على الأحكام الخمسة، ولذلك قال صلى الله عليه وسلم: «ألا إني أوتيت الكتاب ومثله معه، ألا إني أوتيت القرآن ومثله معه، ألا يوشك رجل ينثني شبعانا على أريكته يقول: عليكم
--------------------------------------------
ভূমিকাসকল প্রশংসা আল্লাহর জন্য, অত্যন্ত ব্যাপক ও পরিপূর্ণ প্রশংসা। আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, আল্লাহ ছাড়া কোনো ইলাহ নেই, তিনি একক, তাঁর কোনো শরিক নেই। তিনি প্রতিটি জিনিসের রব, স্রষ্টা ও অভিভাবক। আমি আরও সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, মুহাম্মদ আল্লাহর বান্দা ও রাসুল; তাঁর সৃষ্টির মধ্যে সর্বোত্তম ব্যক্তি। তাঁর প্রতিপালক তাঁকে সম্মানিত করেছেন ও মনোনীত করেছেন। তাঁকে নবুওয়াত দান করে ধন্য করেছেন এবং সঠিক পথ দেখিয়েছেন। তাঁর মাধ্যমে পথভ্রষ্টতা থেকে হেদায়েত দান করেছেন এবং অন্ধত্ব থেকে দৃষ্টি দান করেছেন। তিনি রিসালাত পৌঁছে দিয়েছেন এবং তাঁর মাধ্যমেই রিসালাতের সিলসিলা সমাপ্ত হয়েছে; তাঁর পরে আর কোনো নবী বা রাসুল নেই। তিনি যে সত্য ও হেদায়েত নিয়ে এসেছেন তা সকল দ্বীনের সমাপ্তি। সুতরাং পৃথিবীর বুকে কোনো মানুষের জন্য তাঁকে বিশ্বাস করা এবং তাঁর পতাকাতলে শামিল হওয়া ছাড়া আর কোনো অবকাশ নেই। তাঁর ওপর আমার প্রতিপালকের দরুদ ও সালাম বর্ষিত হোক। কেননা আল্লাহ তাআলা বলেছেন: "আজ আমি তোমাদের জন্য তোমাদের দ্বীনকে পূর্ণ করলাম এবং তোমাদের ওপর আমার নিয়ামত সম্পূর্ণ করলাম এবং ইসলামকে তোমাদের জন্য দ্বীন হিসেবে মনোনীত করলাম।" (১), এটি আল্লাহর কিতাব যা সত্য প্রকাশ করে, এর সামনে বা পেছন থেকে কোনো মিথ্যা আসতে পারে না। খুলাফায়ে রাশেদীনের অন্যতম আলী ইবনে আবি তালিব (রা.) থেকে বর্ণিত হয়েছে যে তিনি বলেন: আমি রাসুলুল্লাহ (সা.)-কে বলতে শুনেছি: "জেনে রাখো, অচিরেই ফিতনা দেখা দেবে।" আমি বললাম: হে আল্লাহর রাসুল! তা থেকে উত্তরণের পথ কী? তিনি বললেন: "আল্লাহর কিতাব। এতে রয়েছে তোমাদের পূর্ববর্তীদের সংবাদ, তোমাদের পরবর্তীদের খবর এবং তোমাদের মধ্যকার বিবাদসমূহের মীমাংসা। এটি চূড়ান্ত ফয়সালা, কোনো কৌতুক নয়। কোনো অহঙ্কারী একে বর্জন করলে আল্লাহ তাকে চূর্ণ করে দেবেন। যে ব্যক্তি একে ছেড়ে অন্য কোথাও হেদায়েত খুঁজবে, আল্লাহ তাকে পথভ্রষ্ট করবেন। এটি আল্লাহর মজবুত রশি, এটি প্রজ্ঞাপূর্ণ উপদেশ এবং এটিই সরল পথ। এর মাধ্যমে প্রবৃত্তিগুলো বিচ্যুত হয় না, এর প্রভাবে জিহ্বাগুলো বিভ্রান্ত হয় না, আলেমগণ এটি থেকে তৃপ্ত হন না, বারবার পাঠেও এটি পুরোনো হয় না এবং এর বিস্ময়কর বিষয়গুলো শেষ হয় না। এটি এমন কিতাব যা শুনে জিনেরা ক্ষান্ত হয়নি, যতক্ষণ না তারা বলেছিল: 'বলুন, আমার প্রতি ওহি পাঠানো হয়েছে যে, জিনদের একটি দল মনোযোগ দিয়ে শুনেছে এবং বলেছে: আমরা এক বিস্ময়কর কুরআন শুনেছি, (১) যা সঠিক পথ প্রদর্শন করে। ফলে আমরা তাতে ঈমান এনেছি এবং আমরা কখনো আমাদের রবের সাথে কাউকে শরিক করব না।' (২) যে ব্যক্তি এর ভিত্তিতে কথা বলে সে সত্য বলে, যে এর ওপর আমল করে সে পুরস্কৃত হয়, যে এর মাধ্যমে ফয়সালা করে সে ইনসাফ করে এবং যে এর দিকে আহ্বান করে সে সরল পথের দিকে হেদায়েতপ্রাপ্ত হয়।" (৩)।
আল্লাহ তাআলা তাঁর বান্দা ও রাসুল আমাদের নবী মুহাম্মদ (সা.)-কে এই সম্মান দান করেছেন যে, তাঁকে নিজের প্রবৃত্তির তাড়নায় কথা বলা থেকে মুক্ত রেখেছেন। ফলে তাঁর কথা, কাজ ও মৌন সম্মতি সত্য এবং অনুসরণীয় শরিয়ত, যা পাঁচটি বিধানের ওপর আবর্তিত। এই কারণেই রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন: "জেনে রেখো, আমাকে কিতাব এবং তার সাথে তার অনুরূপ বস্তু প্রদান করা হয়েছে। সাবধান, অচিরেই এমন এক ব্যক্তি আসবে যে তার খাটে হেলান দিয়ে পেট ভরা অবস্থায় বলবে: তোমরা কেবল...
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
মুসনাদুদ দারেমী - তা. আয-যাহরানী
(পৃষ্ঠা: ৫)
بالقرآن، فما وجدتم فيه من حلال فأحلوه، وما وجدتم فيه من حرام فحرموه، ألا لا يحل لكم لحم الحمار الأهلي، ولا كل ذي ناب من السباع، ألا ولا لقطة من مال معاهد، إلا أن يستغني عنها صاحبها، ومن نزل بقوم فعليهم أن يقروه، فإن لم يقروه فلهم أن يُعْقِبُوه بمثل قِراهم» (1) وإذا كان الله تكفل بحفظ كتابه العزيز، فقال تعالى: {إِنَّا نَحْنُ نَزَّلْنَا الذِّكْرَ وَإِنَّا لَهُ لَحَافِظُونَ} (2) فإن أعظم ما بذل فيه الجهد، واستنفرت له الهمم، وقضيت فيه الأوقات، خدمة كتاب الله العزيز، وسنة رسول الله البشير النذير صلى الله عليه وسلم، أما الكتاب العزيز فجهود العلماء فيه ظاهرة معلومة، وهو محفوظ من الله عز وجل، وتحقق وعد الله عز وجل، إذ وعته العقول، واستوعبته الصدور، وفي وقت قريب من عهد رسول الله صلى الله عليه وسلم دُوِّن في مصحف واحد بعناية واهتمام، فتحقق له الحفظ والصون والأمان، فلا ينال منه شيطان من إنس ولا جان.
أما سنة رسول الله صلى الله عليه وسلم فقد تكفل الله عز وجل بحفظها إذ قيَّض لنبيه صلى الله عليه وسلم رجالا اختارهم لصحبته صلى الله عليه وسلم، فكانوا خيارا عدولا أمناء، حفظوا ما سمعوا من رسول الله صلى الله عليه وسلم، وأدَّوه بحرص وأمانة، لكن بقيت السنة مُعَرَّضة بعدهم رضي الله عنهم للتزوير والتحوير، وهو أمر خطير وشر مستطير، حذر منه البشير النذير صلى الله عليه وسلم فقال: «من كذب علي متعمدا فليتبوأ مقعده من النار» (3) وهذه لفتة نبوية إلى أن الكذب عليه سيقع لا محالة، لذلك حذر منه أمته، فكان هذا الخبر منه صلى الله عليه وسلم دافعا قويا لأمته من بعده لأخذ الحيطة والحذر في النقل عنه صلى الله عليه وسلم فالحديث عنه شديد كما قال زيد بن أرقم رضي الله عنه (4)، وهكذا احتاط الأصحاب رضي الله عنهم لأنفسهم، يقول أنس بن مالك رضي الله عنه: «لولا أني أخشى أن أخطئ لحدثتكم بأشياء سمعتها من رسول الله صلى الله عليه وسلم، أو قالها رسول الله صلى الله عليه وسلم» (5) وشددوا في التثبت من النقلة عن رسول الله صلى الله عليه وسلم فهذا أبو بكر رضي الله عنه في قصة ميراث الجدة لم يقبل خبر المغيرة بن شعبة رضي الله عنه، بل قال: هل معك غيرك؟ فقام محمد بن مسلمة الأنصاري رضي الله عنه فشهد له (6)، وهذا عمر بن الخطاب رضي الله عنه يشدد على أبي موسى الأشعري رضي الله عنه في نقله حديث الاستئذان ويقول: " تأتيني على ذلك ببينة - وفي
--------------------------------------------
কুরআন দিয়ে; সুতরাং এতে যা হালাল পাবে তাকে হালাল গণ্য করবে এবং যা হারাম পাবে তাকে হারাম গণ্য করবে। জেনে রেখো, তোমাদের জন্য গৃহপালিত গাধার মাংস হালাল নয়, আর হিংস্র প্রাণীদের মধ্যে ছেদনকারী দাঁতযুক্ত কোনো প্রাণীও নয়। সাবধান, কোনো চুক্তিবদ্ধ অমুসলিম (মুয়াহিদ)-এর হারানো সম্পদ কুড়িয়ে পাওয়াও তোমাদের জন্য বৈধ নয়, যদি না তার মালিক তা থেকে অমুখাপেক্ষী হয় (অর্থাৎ নিজ থেকেই তা ছেড়ে দেয়)। আর যে ব্যক্তি কোনো সম্প্রদায়ের মেহমান হবে, তাদের কর্তব্য হলো তার আতিথেয়তা করা; যদি তারা তার মেহমানদারি না করে, তবে তার অধিকার রয়েছে তাদের নিকট থেকে তার আতিথেয়তার সমপরিমাণ আদায় করে নেওয়ার। (১) আল্লাহ যখন তাঁর সম্মানিত কিতাব সংরক্ষণের দায়িত্ব নিজে গ্রহণ করেছেন এবং মহান আল্লাহ ইরশাদ করেছেন: {নিশ্চয় আমি যিকর (কুরআন) অবতীর্ণ করেছি এবং আমিই এর সংরক্ষণকারী} (২) তখন আল্লাহ তাআলার মহান কিতাব এবং সুসংবাদদাতা ও সতর্ককারী রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের সুন্নাহর খিদমতই হলো এমন ক্ষেত্র যেখানে সর্বোচ্চ প্রচেষ্টা ব্যয় করা হয়েছে, সংকল্পসমূহকে জাগ্রত করা হয়েছে এবং সময় অতিবাহিত করা হয়েছে। মহান কিতাবের ক্ষেত্রে ওলামায়ে কিরামের প্রচেষ্টা সুস্পষ্ট ও সুবিদিত। এটি মহান আল্লাহর পক্ষ থেকে সংরক্ষিত এবং মহান আল্লাহর প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়িত হয়েছে; কারণ তা জ্ঞানীদের স্মৃতিতে সংরক্ষিত হয়েছে এবং মানুষের অন্তরে স্থান করে নিয়েছে। রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের যুগের নিকটবর্তী সময়েই অত্যন্ত সতর্কতা ও গুরুত্বের সাথে তা একটি পাণ্ডুলিপিতে (মুসহাফ) সংকলিত হয়েছে। ফলে এর জন্য হেফাজত, সুরক্ষা ও নিরাপত্তা নিশ্চিত হয়েছে এবং মানুষ বা জিন শয়তান কেউই এর কোনো ক্ষতি করতে পারে না।
রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের সুন্নাহর বিষয়েও মহান আল্লাহ তা সংরক্ষণের দায়িত্ব নিয়েছেন। কারণ তিনি তাঁর নবীর সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম জন্য এমন একদল লোক নির্ধারণ করেছিলেন যাদেরকে তিনি তাঁর সাহচর্য লাভের জন্য মনোনীত করেছিলেন। তাঁরা ছিলেন সর্বোত্তম, ন্যায়পরায়ণ ও আমানতদার। রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের কাছ থেকে তাঁরা যা শুনেছেন তা মুখস্থ করেছেন এবং অত্যন্ত আগ্রহ ও বিশ্বস্ততার সাথে তা পৌঁছে দিয়েছেন। তবে তাঁদের (রাদিয়াল্লাহু আনহুম) পরে সুন্নাহ বিকৃতি ও পরিবর্তনের সম্মুখীন হওয়ার সম্ভাবনা থেকে গিয়েছিল। এটি একটি অত্যন্ত বিপজ্জনক ও ক্ষতিকর বিষয় ছিল, যে বিষয়ে সুসংবাদদাতা ও সতর্ককারী নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম সতর্ক করে দিয়ে বলেছিলেন: «যে ব্যক্তি ইচ্ছাকৃতভাবে আমার নামে মিথ্যা বলবে, সে যেন জাহান্নামে তার ঠিকানা বানিয়ে নেয়» (৩) এটি ছিল নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের পক্ষ থেকে একটি ইঙ্গিত যে, তাঁর নামে মিথ্যাচার অবশ্যই ঘটবে; তাই তিনি তাঁর উম্মতকে এ বিষয়ে সতর্ক করেছেন। রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের এই সংবাদটি তাঁর পরবর্তী উম্মতের জন্য তাঁর থেকে কোনো কিছু বর্ণনা করার ক্ষেত্রে সতর্কতা ও সাবধানতা অবলম্বনের এক শক্তিশালী প্রেরণা হিসেবে কাজ করেছে। যায়েদ বিন আরকাম রাদিয়াল্লাহু আনহু যেমনটি বলেছেন যে, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের পক্ষ থেকে হাদিস বর্ণনা করা অত্যন্ত কঠিন কাজ (৪)। এভাবে সাহাবীগণ রাদিয়াল্লাহু আনহুম নিজেদের বিষয়ে সতর্কতা অবলম্বন করতেন। আনাস বিন মালিক রাদিয়াল্লাহু আনহু বলেন: «আমি যদি ভুল করার ভয় না করতাম, তবে আমি আপনাদের নিকট রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের কাছ থেকে শোনা অনেক কিছু বর্ণনা করতাম অথবা যা রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছিলেন» (৫)। তাঁরা রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম থেকে বর্ণনাকারীদের সত্যতা যাচাইয়ের ক্ষেত্রে অত্যন্ত কঠোর ছিলেন। যেমন আবু বকর রাদিয়াল্লাহু আনহু দাদীর মিরাসের ঘটনায় মুগীরা বিন শু’বা রাদিয়াল্লাহু আনহুর সংবাদ গ্রহণ করেননি, বরং বলেছিলেন: তোমার সাথে আর কেউ আছে কি? তখন মুহাম্মদ বিন মাসলামাহ আনসারী রাদিয়াল্লাহু আনহু দাঁড়িয়ে তাঁর পক্ষে সাক্ষ্য দিলেন (৬)। আর এই যে উমর ইবনুল খাত্তাব রাদিয়াল্লাহু আনহু, তিনি আবু মুসা আল-আশআরী রাদিয়াল্লাহু আনহুর অনুমতি প্রার্থনা সংক্রান্ত হাদিস বর্ণনার ক্ষেত্রে কড়াকড়ি করেন এবং বলেন: "তোমাকে এ বিষয়ে প্রমাণ নিয়ে আসতে হবে" - এবং...
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
মুসনাদুদ দারেমী - তা. আয-যাহরানী
(পৃষ্ঠা: ৬)
رواية - لتقيمن عليه بينة " (1) ويقول في قصة طلاق فاطمة بنت قيس: "لا نترك كتاب ربنا وسنة نبينا لقول امرأة لا ندري أصدقت أم كذبت، حفظت أم نسيت" (2)، ويزداد الموقف شدة بانقضاء الصدر الأول من الصحابة، فهذا حبر الأمة عبد الله بن عباس رضي الله عنه لم يأذن لحديث بشير بن كعب العدوي إذ يقول: قال رسول الله صلى الله عليه وسلم. فلما رآه لا ينظر إليه ولا يستمع لحديثه قال: يا ابن عباس مالي أراك لا تسمع لحديثي؟ أحدثك عن رسول الله صلى الله عليه وسلم ولا تسمع؟ . فقال ابن عباس رضي الله عنه: "إنا كنا مرة إذا سمعنا رجلا يقول: قال رسول الله صلى الله عليه وسلم ابتدرته أبصارنا وأصغينا إليه بآذاننا، فلما ركب الناس الصعب والذلول لم نأخذ من الناس إلا ما نعرفه" (3)، هكذا مرّ عهد أصحاب رسول الله رضي الله عنهم بين حيطة وتوثُّق من صحة النقل، فلما ظهرت الفتنة برز التفتيش عن أحوال الرجال وما هم عليه من الصفات، يقول ابن سيرين رحمه الله: " لم يكونوا يسألون عن الإسناد، فلما وقعت الفتنة قالوا: سموا لنا رجالكم، فينظر إلى أهل السنة فيؤخذ حديثهم، وينظر إلى أهل البدعة فلا يؤخذ حديثهم" (4)، وكذلك تكلم في هذا الباب جمع من التابعين منهم: الحسن البصري، وسعيد بن المسيب، وعامر الشعبي، والإمام مالك وغيرهم، ومن هنا أصبح الإسناد أمرا لا مفرّ منه في الرواية، وما ليسله إسناد كمن لا نسبله، ومن أهمية الإسناد نشأت الرحلة إلى الأمصار، بحثا عن التوثق والعلو في الإسناد، واعتبر الأئمة ذلك من الدين، إذ ما لا يتم الواجب إلا به فهو واجب، كما هو معلوم في علم الأصول، يقول ابن سيرين رحمه الله: "إن هذا العلم دين فانظروا عمن تأخذون دينكم" (5).
ومن هنا نعلم أن الخطوط العريضة لنقد الأسانيد والمتون برزت الحاجة إليها مبكرة في عهد الأصحاب رضي الله عنهم، كما هو واضح مما تقدم ذكره، وهكذا نما الاعتناء بهذا الجانب العظيم، في مراحل تاريخية متفاوتة وهي أربع مراحل:
1 - عهد الأصحاب رضي الله عنهم وما أبدوا فيه من خطوط عريضة لقواعد الحيطة والتثبت في النقل عن رسول الله صلى الله عليه وسلم، وتعتبر هذه المرحلة من بداية القرن الأول إلى نهايته، غير أنه لم يدون شيء
--------------------------------------------
বর্ণনা - "অবশ্যই তোমাকে এর ওপর প্রমাণ পেশ করতে হবে" (১)। এবং ফাতিমা বিনতে কায়সের তালাকের ঘটনায় তিনি বলেন: "আমরা কোনো নারীর কথার কারণে আমাদের রবের কিতাব এবং আমাদের নবীর সুন্নাহ বর্জন করব না; যার সম্পর্কে আমরা জানি না যে সে সত্য বলেছে নাকি মিথ্যা, সে স্মরণ রেখেছে নাকি ভুলে গেছে" (২)। সাহাবায়ে কিরামের প্রথম প্রজন্মের বিদায়ের সাথে সাথে পরিস্থিতির কঠোরতা বৃদ্ধি পায়। এই যে উম্মতের বিজ্ঞ পণ্ডিত আবদুল্লাহ ইবনে আব্বাস (রাযিয়াল্লাহু আনহু), তিনি বশীর ইবনে কা'ব আল-আদাবীর হাদীস শ্রবণে কর্ণপাত করেননি যখন তিনি বলছিলেন: "রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন।" যখন তিনি (বশীর) দেখলেন যে ইবনে আব্বাস তার দিকে তাকাচ্ছেন না এবং তার কথা শুনছেন না, তখন তিনি বললেন: "হে ইবনে আব্বাস, কী ব্যাপার আমি আপনাকে আমার হাদীস শুনতে দেখছি না? আমি আপনার কাছে রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) এর পক্ষ থেকে হাদীস বর্ণনা করছি, আর আপনি শুনছেন না?" তখন ইবনে আব্বাস (রাযিয়াল্লাহু আনহু) বললেন: "আমরা এক সময় এমন ছিলাম যে, যখনই কাউকে বলতে শুনতাম: রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন, তখনই আমাদের চোখগুলো তার দিকে দ্রুত নিবদ্ধ হতো এবং আমাদের কানগুলো তার দিকে মনোনিবেশ করত। কিন্তু মানুষ যখন বাছবিচারহীনভাবে সব ধরনের পথে চলতে শুরু করল, তখন থেকে আমরা মানুষের কাছ থেকে কেবল তা-ই গ্রহণ করি যা আমাদের পরিচিত (বা নির্ভরযোগ্য)" (৩)। এভাবেই রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর সাহাবীদের যুগটি বর্ণনার বিশুদ্ধতা যাচাই এবং সতর্কতার মধ্য দিয়ে অতিবাহিত হয়েছে। অতঃপর যখন ফিতনা প্রকাশ পেল, তখন বর্ণনাকারীদের অবস্থা এবং তাদের গুণাবলী সম্পর্কে অনুসন্ধানের প্রয়োজনীয়তা দেখা দিল। ইবনে সীরীন (রাহিমাহুল্লাহ) বলেন: "তারা আগে সনদ সম্পর্কে জিজ্ঞেস করতেন না। কিন্তু যখন ফিতনা সংঘটিত হলো, তখন তারা বলতে লাগলেন: আমাদের কাছে তোমাদের বর্ণনাকারীদের নাম বলো। অতঃপর আহলুস সুন্নাহর দিকে লক্ষ্য করা হতো এবং তাদের হাদীস গ্রহণ করা হতো; আর বিদআতীদের দিকে লক্ষ্য করা হতো এবং তাদের হাদীস গ্রহণ করা হতো না" (৪)। অনুরূপভাবে এই বিষয়ে তাবিঈদের একদল আলোচনা করেছেন, যাদের মধ্যে রয়েছেন: হাসান বসরী, সাঈদ ইবনুল মুসায়্যিব, আমির আশ-শা'বী, ইমাম মালিক এবং অন্যান্যরা। এখান থেকেই হাদীস বর্ণনার ক্ষেত্রে সনদ একটি অপরিহার্য বিষয়ে পরিণত হয়। যার সনদ নেই, সে যেন এমন এক ব্যক্তি যার কোনো বংশপরিচয় নেই। সনদের গুরুত্ব থেকেই বিভিন্ন জনপদে সফরের (রিহলাহ) প্রচলন ঘটে, যা ছিল মূলত নির্ভরযোগ্যতা এবং উচ্চতর সনদের (উলূউল ইসনাদ) সন্ধানে। ইমামগণ এটিকে দ্বীনের অংশ হিসেবে গণ্য করেছেন; কারণ যে মাধ্যম ছাড়া ওয়াজিব সম্পন্ন হয় না, সেই মাধ্যমটিও ওয়াজিব—যেমনটি উসূলে ফিকহ শাস্ত্রে প্রসিদ্ধ। ইবনে সীরীন (রাহিমাহুল্লাহ) বলেন: "নিশ্চয়ই এই ইলম হলো দ্বীন, সুতরাং তোমরা কার কাছ থেকে তোমাদের দ্বীন গ্রহণ করছ, তা ভেবে দেখো" (৫)।
এ থেকে আমরা জানতে পারি যে, সনদ ও মতন (মূল পাঠ) পর্যালোচনার রূপরেখা বা প্রয়োজনীয়তা সাহাবায়ে কিরাম (রাযিয়াল্লাহু আনহুম)-এর যুগেই খুব দ্রুত প্রকাশ পেয়েছিল, যেমনটি উপরে বর্ণিত আলোচনা থেকে স্পষ্ট। এভাবেই এই মহান বিষয়ের প্রতি যত্নবান হওয়ার ধারাটি বিভিন্ন ঐতিহাসিক পর্যায় অতিক্রম করে বিকশিত হয়েছে, যা মূলত চারটি পর্যায়:
১ - সাহাবায়ে কিরাম (রাযিয়াল্লাহু আনহুম)-এর যুগ এবং রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) থেকে বর্ণনার ক্ষেত্রে সতর্কতা ও যাচাই-বাছাইয়ের যে নীতিমালা ও রূপরেখা তারা প্রদর্শন করেছিলেন। এই পর্যায়টি প্রথম হিজরী শতাব্দীর শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত বিবেচিত হয়, যদিও তখন কিছুই লিখিত আকারে সংকলিত হয়নি।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
মুসনাদুদ দারেমী - তা. আয-যাহরানী
(পৃষ্ঠা: ৭)
كبير في هذا الصدد، سوى ما كان من كتابة عبد الله بن عمر وغيره، فهذا القرن خير القرون، كان فيه الحذر والتشدد في النقل عن رسول الله تدينا، فلا سبيل لتهمة الكذب، بل كان الخوف من الخطأ والنسيان، وجرى الحرص على صحة المنقول وثبوته.
2 - عهد كبار التابعين رحمهم الله وهو فترة نشط فيها الاهتمام بالإسناد، والتعرف على أحوال الرجال، وقد تقدم قول ابن سيرين رحمه الله: لم يكونوا يسألون عن الإسناد، فلما وقعت الفتنة قالوا: سموا لنا رجالكم، فينظر إلى أهل السنة فيؤخذ حديثهم، وينظر إلى أهل البدعة فلا يؤخذ حديثهم، وقد تبع هذا القول اتجاهان متضادان في شأن التدوين للسنة وما يتعلق بها من آراء شخصية: فالصدر الأول من التابعين تأثروا بمنهج الأصحاب في عدم الرضى عن كتابة ما سوى القرآن الكريم (1)، وآخرون من التابعين منهم: سعيد بن جبير، وكان يقول: كنت أسير بين ابن عمر وابن عباس، فكنت أسمع الحديث منهما، فأكتبه على واسطة الرحل حتى أنزل فأكتبه (2)، وسعيد بن المسيب رخص لعبد الرحمن بن حرملة في الكتابة حين شكا إليه سوء الحفظ (3)، والشعبي كان يقول: " الكتابة قيد العلم، إذا سمعتم مني شيئا فاكتبوه ولو في حائط " ووجدله بعد موته كتاب في الفرائض والجراحات (4)، فهؤلاء وغيرهم من التابعين رأوا ضرورة تقييد العلم واعتمدوا قول من سمح به من الأصحاب آخرا، منهم أبو بكر وعمر وعلي رضي الله عنهم (5)، وعللوا الكراهة بأن لا يضاهى بكتاب الله تعالى غيره، أو يشتغل عنه بسواه (6)، وقصة الخليفة عمر بن عبد العزيز رحمه الله في الأمر بتدوين العلم مشهورة معلومة، ولا شك أنه استأنس برأي العلماء، وكان أول من حققله هذه الغاية الإمام الزهري رحمه الله، وكان يفخر بذلك ويقول: لم يدون هذا العلم أحد قبل تدويني (7)، وإن وجد للزهري من القول ما يُضاد هذا مثل قوله: " لولا
--------------------------------------------
এই ক্ষেত্রে আবদুল্লাহ ইবনে উমর এবং অন্যদের লিখনী ব্যতীত বড় ধরনের কিছু ছিল না। আর এই যুগটি ছিল সর্বোত্তম যুগ; এতে রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) থেকে বর্ণনার ক্ষেত্রে দ্বীনদারিতার কারণে সতর্কতা ও কঠোরতা বজায় রাখা হতো। ফলে মিথ্যাচারের কোনো অভিযোগের অবকাশ নেই, বরং ভুল এবং বিস্মৃতির ভয়ই কাজ করত এবং বর্ণিত বিষয়ের বিশুদ্ধতা ও স্থায়িত্বের ব্যাপারে গভীর আগ্রহ বজায় ছিল।
২ - প্রবীণ তাবেয়ীগণের (রহিমাহুমুল্লাহ) যুগ: এটি এমন এক সময় যখন সনদের প্রতি মনোযোগ এবং বর্ণনাকারীদের অবস্থা যাচাইয়ের আগ্রহ বৃদ্ধি পায়। ইবনে সিরীন (রহিমাহুল্লাহ)-এর উক্তি ইতিপূর্বেই অতিবাহিত হয়েছে: "তারা সনদ সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করতেন না, কিন্তু যখন ফিতনা শুরু হলো তখন তারা বললেন: আমাদের নিকট তোমাদের বর্ণনাকারীদের নাম উল্লেখ করো। তখন আহলুস সুন্নাহর দিকে লক্ষ্য করা হতো এবং তাদের হাদীস গ্রহণ করা হতো, আর বিদআতিদের দিকে লক্ষ্য করা হতো এবং তাদের হাদীস গ্রহণ করা হতো না।" এই উক্তির পরে সুন্নাহর সংকলন এবং এ সংক্রান্ত ব্যক্তিগত মতামতের ক্ষেত্রে দুটি বিপরীতমুখী ধারার সৃষ্টি হয়: তাবেয়ীদের প্রথম অংশ সাহাবীগণের আদর্শে প্রভাবিত ছিলেন, যারা পবিত্র কুরআন ব্যতীত অন্য কিছু লেখা পছন্দ করতেন না (১); আর তাবেয়ীদের মধ্যে অপর একটি দল ছিলেন: সাঈদ ইবনে জুবায়ের, তিনি বলতেন: "আমি ইবনে উমর ও ইবনে আব্বাসের মাঝখানে চলতাম এবং তাদের থেকে হাদীস শুনতাম, তা আমি উটের পালের মাঝখানে লিখে রাখতাম, এরপর যখন অবতরণ করতাম তখন তা লিখে নিতাম" (২)। সাঈদ ইবনে মুসায়্যিব যখন আব্দুর রহমান ইবনে হারমালার নিকট স্মৃতির দুর্বলতার অভিযোগ করলেন, তখন তাকে লেখার অনুমতি দিয়েছিলেন (৩)। শাবী বলতেন: "লিখনী হলো জ্ঞানের শৃঙ্খল, তোমরা আমার থেকে কিছু শুনলে তা লিখে নাও, এমনকি দেয়ালে হলেও।" তাঁর মৃত্যুর পর ফারায়েয (উত্তরাধিকার আইন) এবং জরাহাত (আহত ব্যক্তির দণ্ডবিধি) সংক্রান্ত তাঁর একটি পাণ্ডুলিপি পাওয়া গিয়েছিল (৪)। তাঁরা এবং অন্যান্য তাবেয়ীগণ ইলম বা জ্ঞানকে লিপিবদ্ধ করা আবশ্যক মনে করতেন এবং সাহাবীগণের মধ্যে যারা শেষ সময়ে এর অনুমতি দিয়েছিলেন তাদের কথার ওপর নির্ভর করতেন, যাঁদের মধ্যে আবু বকর, উমর ও আলী (রাযিয়াল্লাহু আনহুম) ছিলেন (৫)। তাঁরা (লেখার প্রতি) অপছন্দের কারণ হিসেবে উল্লেখ করেছেন যে, আল্লাহর কিতাবের সমকক্ষ যেন অন্য কিছু না হয় অথবা কুরআন বাদ দিয়ে মানুষ যেন অন্য কিছুতে মশগুল না হয়ে পড়ে (৬)। ইলম সংকলনের আদেশ প্রদানের ক্ষেত্রে খলিফা উমর ইবনে আব্দুল আজীজ (রহিমাহুল্লাহ)-এর ঘটনাটি সুবিদিত ও মশহুর। এতে কোনো সন্দেহ নেই যে, তিনি ওলামায়ে কেরামের মতামতের সহায়তা নিয়েছিলেন। ইমাম যুহরী (রহিমাহুল্লাহ) ছিলেন প্রথম ব্যক্তি যিনি তাঁর এই লক্ষ্য বাস্তবায়ন করেছিলেন; তিনি এতে গর্ববোধ করতেন এবং বলতেন: "আমার সংকলনের আগে এই ইলম কেউ সংকলন করেনি" (৭)। যদিও যুহরীর পক্ষ থেকে এর বিপরীত বক্তব্য পাওয়া যায়, যেমন তাঁর কথা: "যদি না হতো
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
মুসনাদুদ দারেমী - তা. আয-যাহরানী
(পৃষ্ঠা: ৮)
أحاديث تأتينا من قبل المشرق، ننكرها لا نعرفها، ما كتبت حديثا ولا أذنت في كتابته " (1)، فهذا يؤكد أن مبادرة الخليفة عمر بن عبد العزيز إلى الأمر بكتابة السنة وتدوين ما تفرق بصورة أوسع مما كان في بعض الصحف (2)، وموافقة العلماء من أمثال الإمام الزهري على رأيه كان خوفا من دروس (3) العلم وذهاب أهله، وأن يدخل في سنة رسول الله صلى الله عليه وسلم ما ليس منها، وهو ما تنبهله الزهري من تلك الأحاديث الآتية من قبل المشرق، ونجزم أن بداية جِدية التفكير في تدوين السنة وتصنيف علومها كانت في عهد التابعين من أيام الزهري وأقرانه، لكنها بالنسبة لقواعد علوم الحديث لم تتجاوز نقل أقوال مبثوثة (4)، أُثرت عن الأصحاب والأئمة من التابعين، وهي لا تمثل مادة علمية كاملة لقواعد مصطلح الحديث، سوى أنها فتحت الباب على مصراعيه للبحث والنظر في هذا الموضوع الخطير.
3 - مرحلة بداية التدوين: هذه المرحلة تقدر بما يقارب (150) سنة من بداية القرن الثالث إلى منتصف الرابع تميزت هذه الفترة عن سابقتها بإبراز بعض قواعد علوم الحديث في مصنفات مستقلة، مثل كتاب العلل لابن المديني، ومعظم المادة العلمية في هذه المرحلة إما قواعد مستقلة في كتب متفرقة، كما في الرسالة والأم للإمام الشافعي، أو مبثوثة في مصنفات الحديث على اختلاف طرائقها في التصنيف، كما في مصنفات الإمام البخاري، ومقدمة صحيح مسلم، وما كتبه الترمذي من العلل، وما نقل عن الإمام أحمد، وعن أبي داود وغيرهم، يقول الإمام مسلم رحمة الله علينا وعليه: وإنما ألزموا أنفسهم الكشف عن معايب رواة الحديث وناقلي الأخبار، وأفتوا بذلك حين سئلوا، لما فيه من عظيم الخطر، إذ الأخبار بأمر الدين إنما تأتي بالتحليل أو
--------------------------------------------
"পূর্ব দিক থেকে আমাদের কাছে এমন কিছু হাদিস আসছে যা আমরা অস্বীকার করি এবং চিনি না। আমি কোনো হাদিস লিখিনি এবং তা লিখতে অনুমতিও দেইনি" (১)। এটি নিশ্চিত করে যে, খলিফা উমর বিন আব্দুল আজিজের সুন্নাহ লিপিবদ্ধ করার আদেশ প্রদানের উদ্যোগ এবং বিভিন্ন পাণ্ডুলিপিতে ছড়িয়ে থাকা বিষয়গুলোকে পূর্বের তুলনায় আরও বিস্তৃত আকারে সংকলিত করার পদক্ষেপ (২), এবং ইমাম যুহরীর মতো আলেমদের তাঁর মতের সাথে একমত হওয়া মূলত ইলম বিলুপ্ত হওয়া (৩) ও ইলম বহনকারীদের চলে যাওয়ার আশঙ্কার কারণেই ছিল। আর যাতে রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের সুন্নাহর মধ্যে এমন কিছু প্রবেশ না করে যা তার অন্তর্ভুক্ত নয়। ইমাম যুহরী পূর্ব দিক থেকে আসা সেই হাদিসগুলোর ব্যাপারে সতর্ক হয়েছিলেন। এবং আমরা দৃঢ়ভাবে বলতে পারি যে, সুন্নাহ সংকলন এবং এর ইলম বা শাস্ত্রসমূহ বিন্যস্ত করার গুরুত্ব নিয়ে চিন্তাভাবনার সূচনা হয়েছিল ইমাম যুহরী ও তাঁর সমসাময়িক তাবেঈদের যুগে। তবে হাদিস শাস্ত্রের উসুল বা নীতিমালার ক্ষেত্রে তা সাহাবী ও তাবেঈ ইমামদের থেকে বর্ণিত ছড়িয়ে থাকা উক্তিগুলো (৪) বর্ণনার মধ্যেই সীমাবদ্ধ ছিল। সেগুলো হাদিসের পরিভাষা সংক্রান্ত নীতিমালার কোনো পূর্ণাঙ্গ বৈজ্ঞানিক উপাত্ত উপস্থাপন করে না, বরং এই গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে গবেষণা ও পর্যালোচনার দ্বার উন্মুক্ত করে দিয়েছিল।
৩ - সংকলনের সূচনালগ্ন: এই পর্যায়টি তৃতীয় শতাব্দীর শুরু থেকে চতুর্থ শতাব্দীর মধ্যভাগ পর্যন্ত প্রায় (১৫০) বছরব্যাপী বিস্তৃত। এই সময়টি পূর্ববর্তী সময়ের চেয়ে স্বতন্ত্র ছিল হাদিস শাস্ত্রের কিছু নীতিমালাকে স্বতন্ত্র গ্রন্থে প্রকাশ করার মাধ্যমে, যেমন ইবনুল মাদীনীর 'কিতাবুল ইলাল'। এই পর্যায়ের অধিকাংশ ইলমি উপাদান হয় বিভিন্ন গ্রন্থে ছড়িয়ে থাকা স্বতন্ত্র নীতিমালা হিসেবে ছিল—যেমন ইমাম শাফেয়ীর 'আর-রিসালা' ও 'আল-উম্ম' গ্রন্থে, অথবা হাদিস সংকলনগুলোর বিন্যাস পদ্ধতি অনুযায়ী সেগুলোর মধ্যে ছড়িয়ে ছিল, যেমন ইমাম বুখারীর সংকলনসমূহ, সহীহ মুসলিমের ভূমিকা, ইমাম তিরমিযী রচিত 'ইলাল', এবং ইমাম আহমাদ, আবু দাউদ ও অন্যদের থেকে যা বর্ণিত হয়েছে। ইমাম মুসলিম (আমাদের ও তাঁর ওপর আল্লাহর রহমত বর্ষিত হোক) বলেন: তারা হাদিসের রাবী ও সংবাদ বহনকারীদের দোষ-ত্রুটি উন্মোচনের বিষয়টি নিজেদের ওপর আবশ্যক করে নিয়েছিলেন এবং যখন এ বিষয়ে তাদের জিজ্ঞাসা করা হতো, তখন তারা ফতোয়া দিতেন। কারণ এতে চরম ঝুঁকি নিহিত রয়েছে। কেননা দ্বীনি বিষয়ের সংবাদসমূহ হয় হালাল করার জন্য আসে অথবা...
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
মুসনাদুদ দারেমী - তা. আয-যাহরানী
(পৃষ্ঠা: ৯)
التحريم، أو أمر أو نهي، أو ترغيب أو ترهيب، فإذا كان الراوي لها ليس بمعدن للصدق والأمانة، ثم أقدم على الرواية عنه من قد عرفه، ولم يبين ما فيه لغيره ممن جهل معرفته، كان آثما بفعله ذلك، غاشا لعوام المسلمين، إذ لا يؤمن على بعض من سمع تلك الأخبار أن يستعملها، أو يستعمل بعضها
… (1)
4 - مرحلة النضج والاستواء، هذه المرحلة كدَّ العلماء فيها أذهانهم، فأنتجوا علم مصطلح الحديث، وجعلوه علما قائما بذاته، يرتكز على منهج دقيق منضبط، دونت فيه قواعد مصطلح الحديث في مصنفات مستقلة، بعضها لم يستوعب، لكنه حصل بالتكامل بينها، فأصبح الباحث يجد مطلبه في أي باب من أبواب هذا العلم الجليل، وكان أول من دون قواعد هذا العلم القاضي أبو محمد الحسن بن عبد الرحمن بن خلاد الرامهرمزي رحمه الله (2)، في كتابه " المحدث الفاصل بين الراوي والواعي" أجاد ولم يستوعب، وتلاه أبو عبدالله الحاكم بكتابه " معرفة علوم الحديث " تعقبه أبو نعيم في كتابه " المستخرج على كتاب الحاكم " ثم الخطيب البغدادي في كتبه الكثيرة (3)، وقد أفرد كل فن من فنون الحديث بمؤلف في الغالب، ومن هنا كان كل من جاء بعده من العلماء في هذا العلم عالة على مصنفات الخطيب، ولم ينشط البحث عن الفوائد والنكت في هذا العلم إلا بعد أن أخرج أبو عمرو بن الصلاح كتابه المشهور بمقدمة ابن الصلاح، فإنه اعتنى بمؤلفات من سبقه فجمع شتات مقاصدها، وأضاف إليها من الفوائد الكثيرة ما جعل كتابه بحق أحسن ما كتب في هذا العلم، فاق من سبقه وبقي من بعده مشتغلا بكتابه هذا، ما بين دارس ومدرس وشارح (4)
--------------------------------------------
হারাম সাব্যস্ত করা, অথবা আদেশ বা নিষেধ, কিংবা উৎসাহ প্রদান বা ভীতি প্রদর্শন সংক্রান্ত বিষয়। সুতরাং বর্ণনাকারী যদি সত্যবাদিতা ও আমানতদারিতার আধার না হন, অতঃপর তাঁর সম্পর্কে অবগত কোনো ব্যক্তি তাঁর অবস্থা অন্যদের কাছে স্পষ্ট না করে তাঁর থেকে বর্ণনা প্রচার করেন, তবে তিনি তাঁর এই কাজের জন্য গুনাহগার হবেন এবং সাধারণ মুসলমানদের সাথে প্রতারণা করবেন। কেননা, যারা সেই সংবাদগুলো শুনবে, তাদের কেউ কেউ সেগুলো আমল করবে বা সেগুলোর কিছু অংশ আমল করবে—এমন কোনো নিশ্চয়তা নেই
… (১)
৪ - পরিপক্বতা ও পূর্ণতা অর্জনের স্তর: এই স্তরে আলেমগণ তাঁদের মেধা নিংড়ে দিয়েছেন, ফলে তাঁরা হাদিস শাস্ত্রের পরিভাষা (ইলমে মুসতালাহুল হাদিস) উদ্ভাবন করেছেন এবং একে একটি স্বতন্ত্র বিজ্ঞান হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেছেন, যা একটি সূক্ষ্ম ও সুশৃঙ্খল পদ্ধতির ওপর ভিত্তি করে দাঁড়িয়ে আছে। এই স্তরে হাদিস শাস্ত্রের পরিভাষার নিয়মাবলি স্বতন্ত্র গ্রন্থসমূহে সংকলিত হয়েছে। যদিও এগুলোর কোনো কোনোটি সকল বিষয়কে আয়ত্ত করতে পারেনি, তবে একে অপরের পরিপূরক হওয়ার মাধ্যমে পূর্ণতা অর্জিত হয়েছে। ফলে একজন গবেষক এই মহান শাস্ত্রের যেকোনো অধ্যায়ে তাঁর কাঙ্ক্ষিত গন্তব্য খুঁজে পান। এই শাস্ত্রের নিয়মাবলি সর্বপ্রথম যিনি সংকলন করেছেন তিনি হলেন কাজী আবু মুহাম্মদ আল-হাসান ইবনে আবদুর রহমান ইবনে খাল্লাদ আর-রামাহুরমুজি রহিমাহুল্লাহ (২), তাঁর "আল-মুহাদ্দিসুল ফাসিল বাইনার রাবি ওয়াল ওয়ায়ি" কিতাবে। তিনি অত্যন্ত নিপুণতার সাথে এটি সম্পন্ন করেছেন তবে সমস্ত বিষয় এতে অন্তর্ভুক্ত করতে পারেননি। তাঁর পরবর্তীকালে আবু আবদুল্লাহ আল-হাকিম তাঁর "মারেফাতু উলুমিল হাদিস" কিতাবটি রচনা করেন। তাঁর অনুসরণ করেন আবু নুআইম তাঁর "আল-মুস্তাখরাজ আলা কিতাবিল হাকিম" গ্রন্থের মাধ্যমে। অতঃপর খতিব আল-বাগদাদি তাঁর বহুসংখ্যক কিতাব রচনা করেন (৩)। তিনি হাদিসের প্রতিটি শাখাকে সাধারণত স্বতন্ত্র গ্রন্থের মাধ্যমে পৃথক করেছেন। একারণেই তাঁর পরবর্তী এই শাস্ত্রের সকল আলেম খতিবের সংকলনসমূহের ওপর নির্ভরশীল হয়েছেন। তবে এই শাস্ত্রের বিভিন্ন ফায়দা ও সূক্ষ্ম বিষয়াবলি নিয়ে গবেষণা কেবল তখনই গতিশীল হয় যখন আবু আমর ইবনুস সালাহ তাঁর বিখ্যাত কিতাব "মুকাদ্দিমাহ ইবনুস সালাহ" প্রকাশ করেন। তিনি তাঁর পূর্ববর্তীদের রচনাবলির প্রতি বিশেষ যত্ন নিয়েছেন এবং সেগুলোর বিক্ষিপ্ত উদ্দেশ্যসমূহকে একত্রিত করেছেন। এর সাথে তিনি এমন অনেক ফায়দা যোগ করেছেন যা তাঁর কিতাবটিকে প্রকৃতপক্ষে এই শাস্ত্রে লিখিত সর্বোত্তম কিতাবে পরিণত করেছে। তিনি তাঁর পূর্ববর্তীদের ছাড়িয়ে গেছেন এবং তাঁর পরবর্তীগণ এই কিতাব নিয়েই ব্যস্ত থেকেছেন—কেউ শিক্ষার্থী হিসেবে, কেউ শিক্ষক হিসেবে আবার কেউ ব্যাখ্যাকার হিসেবে (৪)।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
মুসনাদুদ দারেমী - তা. আয-যাহরানী
(পৃষ্ঠা: ১০)
وناظم ومنكت (1) ومختصر قال الحافظ ابن حجر: فكم من ناظمله (2) ومختصر (3) ومستدرك عليه ومعارضله (4) ومنتصر (5) ونرى أن مراحل التدوين والتدقيق والتحقيق أربع أيضا:
الأولى: بدأت بكتاب الرامهرمزي، فقد حاز السبق في تدوين أبواب من هذا العلم.
الثانية: بدأت بمؤلفات الخطيب البغدادي، فكل من جاء بعده صار عالة على مصنفاته في هذا العلم.
الثالثة: بدأت بكتابة أبي عمرو بن الصلاح، فقد لاقى قبولا كبيرا عند العلماء، فتنافسوا في الاشتغال به على ما تقدم بيانه.
الرابعة: بدأت بكتابة ابن حجر، فقد استفاد منها من أتى بعده من العلماء، فإنه دقيق الملاحظة واسع العلم حسن التنظيم، اشتغل العلماء بمؤلفه النفيس: نخبة الفِكَر، فمنهم الشارحله والناظم، ولا أنفس من شرحه هو لها المسمى: نزهة النظر، وصدق الحافظ العراقي رحمة الله علينا وعليه إذ قال: وبعد فعلم الحديث خطير وضعه، كثير نفعه، وبه يعرف الحلال والحرام، ولأهله اصطلاح لا بد للطالب منفهمه (6) وهذا كله ينضوي تحت قول نبينا محمد صلى الله عليه وسلم: «نَضَّر الله امرءا سمع منا حديثا، فحفظه فبلغه غيره، فرب حامل فقه ليس بفقيه» (7) وكفاهم هذا الدعاء شرفا، بوأهم الله من الجنة غرفا، ولقّاهم الفوز العظيم، قال رسول الله صلى الله عليه وسلم: «بلغوا عني ولو آية، وحدثوا عن
--------------------------------------------
এবং কাব্য রচয়িতা, মন্তব্যকারী (১) ও সংক্ষিপ্তকারী। হাফেজ ইবন হাজার বলেন: কতজনই তো একে কাব্যে রূপান্তর করেছেন (২), সংক্ষিপ্ত করেছেন (৩), এর ওপর মুস্তাদরাক (পরিপূরক) লিখেছেন, এর বিরোধিতা করেছেন (৪) এবং এর সপক্ষে অবস্থান নিয়েছেন (৫)। আমরা মনে করি যে, গ্রন্থায়ন, সূক্ষ্ম বিশ্লেষণ ও যাচাই-বাছাইয়ের পর্যায়গুলোও চারটি:
প্রথম: এটি শুরু হয়েছে ইমাম রামহুরমুযীর কিতাবের মাধ্যমে। কেননা এই শাস্ত্রের বিভিন্ন অধ্যায় গ্রন্থায়নের ক্ষেত্রে তিনি অগ্রগামিতা অর্জন করেছেন।
দ্বিতীয়: এটি শুরু হয়েছে খতিব আল-বাগদাদীর রচনাবলীর মাধ্যমে। কেননা তাঁর পরবর্তী সময়ে যারা এসেছেন, তারা সবাই এই শাস্ত্রে তাঁর কিতাবসমূহের মুখাপেক্ষী হয়েছেন।
তৃতীয়: এটি শুরু হয়েছে আবু আমর ইবনুস সালাহর লেখার মাধ্যমে। এটি আলেমদের কাছে ব্যাপক গ্রহণযোগ্যতা লাভ করেছে, ফলে তারা এর পেছনে শ্রম দিতে প্রতিযোগিতায় অবতীর্ণ হয়েছেন—যেমনটি পূর্বে বর্ণিত হয়েছে।
চতুর্থ: এটি শুরু হয়েছে ইবন হাজারের লেখার মাধ্যমে। তাঁর পরবর্তী আলেমগণ তাঁর থেকে উপকৃত হয়েছেন; কেননা তিনি ছিলেন সূক্ষ্ম পর্যবেক্ষক, অগাধ জ্ঞানের অধিকারী এবং সুশৃঙ্খল বিন্যাসকারী। আলেমগণ তাঁর মূল্যবান গ্রন্থ 'নুখবাতুল ফিকার' নিয়ে ব্যস্ত থেকেছেন; তাদের মধ্যে কেউ এর ব্যাখ্যা লিখেছেন, কেউ কাব্যে রূপ দিয়েছেন। তবে তাঁর নিজের করা ব্যাখ্যাগ্রন্থ 'নুযহাতুন নাযার'-এর চেয়ে মূল্যবান আর কিছু নেই। হাফেজ আল-ইরাকি (আমাদের ও তাঁর ওপর আল্লাহর রহমত বর্ষিত হোক) সত্যই বলেছেন যখন তিনি বলেছেন: "অতঃপর, হাদিস শাস্ত্রের মর্যাদা অত্যন্ত উচ্চ, এর উপকারিতা অপরিসীম। এর মাধ্যমেই হালাল ও হারাম চেনা যায়। এই শাস্ত্রের পণ্ডিতদের নিজস্ব পরিভাষা রয়েছে যা একজন শিক্ষার্থীর জন্য বোঝা অপরিহার্য (৬)।" আর এ সবকিছুই আমাদের নবী মুহাম্মদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর এই বাণীর অন্তর্ভুক্ত: "আল্লাহ সেই ব্যক্তিকে সজীব ও প্রফুল্ল রাখুন, যে আমার থেকে কোনো হাদিস শুনল, অতঃপর তা মুখস্থ রাখল এবং অন্যের কাছে পৌঁছে দিল। কেননা অনেক ফিকহ (জ্ঞান) বহনকারী নিজে ফকিহ (গভীর প্রজ্ঞাবান) নন (৭)।" তাদের সম্মানের জন্য এই দোয়াই যথেষ্ট। আল্লাহ তাদের জান্নাতের সুউচ্চ কক্ষসমূহে স্থান দান করুন এবং তাদের মহাসাফল্য নসিব করুন। আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন: "আমার পক্ষ থেকে পৌঁছে দাও, যদি তা একটি আয়াতও হয়। আর বর্ণনা করো...
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
মুসনাদুদ দারেমী - তা. আয-যাহরানী
(পৃষ্ঠা: ১১)
بني إسرائيل ولا حرج، ومن كذب علي متعمدا، فليتبوأ مقعده من النار» (1) ومعلومة خطبة رسول الله صلى الله عليه وسلم في حجة الوداع وفيها «ألا ليبلغ الشاهد الغائب، فرب مبلغ أوعى من سامع» اتفقا عليه في الصحيحين (2)، فالمبلغون هم الذين جعلهم الله أركان هذه الشريعة، النقية الزاهرة والحجة الباهرة، وهدم بهم كل بدعة شنيعة، لولاهم لكانت ظاهرة، وكل فئة تتحيز إلى هوى ترجع إليه، فهي تتحيز رأيا تعكف عليه، سوى أصحاب الحديث فإن الكتاب هديهم، والسنة حجتهم، والنبي صلى الله عليه وسلم فيؤهم وإليه نسبتهم، فهم الجمهور العظيم، وسبيلهم الصراط المستقيم، وهم الذين لا يزالون على الحق ظاهرين، ولمن عاداهم وناوأهم قاهرين، قال رسول الله صلى الله عليه وسلم: «لا تزال طائفة من أمتي إلى الحق، ظاهرين إلى يوم القيامة».
قال الإمام البخاري رحمه الله: يعني أهل الحديث (3) وكلام الأئمة كثير في الترغيب في نقل ما ثبت عن رسول الله صلى الله عليه وسلم، وفي التحذير من الكذب عليه، فإن الكذب عليه مهلكة قال صلى الله عليه وسلم: «من كذب علي متعمدا، فليتبوأ مقعده من النار» إذا فالإسناد من أهم ما يعتني به طالب العلم، وهو من الدين ولولا الإسناد لقال من شاء ما شاء، ومثل الذي يطلب أمر دينه بلا إسناد كمثل الذي يرتقي السطح بلا سلم، ومن أراد الذب عن سنة رسول الله فسلاحه الإسناد، وطلب الإسناد العالي سنة صحيحة (4)، روى أنس رضي الله عنه حديث الأعرابي " يا محمد أتانا رسولك فزعم " (5) فقد طلب الأعرابي العلو وتجاوز الشخص الذي أخبره إلى رسول الله صلى الله عليه وسلم وسأله، وقد ناله من مشقة السفر إلى رسول الله صلى الله عليه وسلم ما ناله، قال العراقي: ولو كان طلب العلو في الإسناد غير مستحب لأنكر عليه سؤاله عما أخبر به رسوله، لأمره بالاقتصار على ما أخبره الرسول عنه (6)، ومن هنا نشيد
--------------------------------------------
বনী ইসরাঈল থেকে বর্ণনা করো, এতে কোনো দোষ নেই। আর যে ব্যক্তি ইচ্ছাকৃতভাবে আমার ওপর মিথ্যা আরোপ করবে, সে যেন আগুনের মধ্যে তার বাসস্থান বানিয়ে নেয়» (১) বিদায় হজ্জের ভাষণে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের খুতবা সুবিদিত, যাতে রয়েছে: «সাবধান! যে উপস্থিত আছে সে যেন অনুপস্থিতের কাছে পৌঁছে দেয়। কেননা, যার কাছে পৌঁছানো হয় সে অনেক সময় সরাসরি শ্রবণকারীর চেয়ে অধিক সংরক্ষণকারী হয়ে থাকে» ইমাম বুখারী ও মুসলিম উভয়ে এটি সহীহাইন গ্রন্থে বর্ণনা করেছেন (২)। অতএব, যারা বাণী পৌঁছে দেন তারা হলেন এমন একদল মানুষ যাদের আল্লাহ এই পবিত্র, উজ্জ্বল শরীয়ত এবং সুস্পষ্ট প্রমাণের স্তম্ভ বানিয়েছেন। আল্লাহ তাদের মাধ্যমে প্রতিটি নিকৃষ্ট বিদআতকে ধ্বংস করেছেন, যা তারা না থাকলে প্রকাশ পেয়ে যেত। আর প্রত্যেক গোষ্ঠীই কোনো না কোনো প্রবৃত্তি বা খেয়াল-খুশির দিকে ঝুঁকে পড়ে যেদিকে তারা প্রত্যাবর্তন করে; তারা এমন মতামতের পক্ষপাতিত্ব করে যাতে তারা মগ্ন থাকে। কেবল আহলুল হাদীস ব্যতীত, কেননা কিতাব (কুরআন) হলো তাদের পথপ্রদর্শক, সুন্নাহ হলো তাদের দলিল এবং নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হলেন তাদের আশ্রয় ও তাঁর দিকেই তাদের সম্বন্ধ। তারাই হলো বৃহৎ জামাত, আর তাদের পথই হলো সরল সঠিক পথ। তারাই সেই লোক যারা হকের ওপর অটল ও বিজয়ী থাকবে এবং তাদের শত্রু ও বিরোধীদের ওপর তারা প্রবল থাকবে। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: «আমার উম্মতের একটি দল কিয়ামত পর্যন্ত হকের ওপর অটল ও বিজয়ী থাকবে»।
ইমাম বুখারী রাহিমাহুল্লাহ বলেছেন: অর্থাৎ তারা হলো আহলুল হাদীস (৩)। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে যা প্রমাণিত হয়েছে তা বর্ণনার প্রতি উৎসাহ প্রদানে এবং তাঁর ওপর মিথ্যা আরোপের ব্যাপারে সতর্কীকরণে ইমামদের অসংখ্য বক্তব্য রয়েছে। নিশ্চয়ই তাঁর ওপর মিথ্যা আরোপ করা ধ্বংসাত্মক। তিনি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: «যে ব্যক্তি ইচ্ছাকৃতভাবে আমার ওপর মিথ্যা আরোপ করবে, সে যেন আগুনের মধ্যে তার বাসস্থান বানিয়ে নেয়»। অতএব, ইসনাদ বা বর্ণনাসূত্র হলো ইলম অন্বেষণকারীর জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলোর অন্তর্ভুক্ত এবং এটি দ্বীনের অংশ। যদি ইসনাদ না থাকতো, তবে যার যা ইচ্ছা তা-ই বলত। আর যে ব্যক্তি ইসনাদ ছাড়া নিজ দ্বীনের বিষয়গুলো তালাশ করে, তার উদাহরণ হলো সেই ব্যক্তির মতো যে সিঁড়ি ছাড়াই ছাদে আরোহণ করতে চায়। যে ব্যক্তি রাসূলুল্লাহর সুন্নাহর প্রতিরক্ষা করতে চায়, তার হাতিয়ার হলো ইসনাদ। আর উচ্চতর ইসনাদ অন্বেষণ করা একটি সঠিক পদ্ধতি (৪)। আনাস রাযিয়াল্লাহু আনহু জনৈক মরুবাসীর হাদীস বর্ণনা করেছেন: "হে মুহাম্মাদ! আপনার প্রতিনিধি আমাদের কাছে এসে দাবি করেছেন" (৫)। মূলত ঐ মরুবাসী উচ্চতর সূত্র অন্বেষণ করেছিলেন এবং তার কাছে সংবাদ প্রদানকারী ব্যক্তিকে অতিক্রম করে সরাসরি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের কাছে গিয়ে তাকে জিজ্ঞাসা করেছিলেন। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের কাছে পৌঁছাতে সফরের যে কষ্ট হওয়ার তা তার হয়েছিল। ইরাকী বলেন: যদি ইসনাদে উচ্চতর স্তর অন্বেষণ করা মুস্তাহাব না হতো, তবে রাসূলের প্রেরিত ব্যক্তি যে সংবাদ তাকে দিয়েছিলেন তা পুনরায় জিজ্ঞাসা করার কারণে নবীজি তাকে ভর্ৎসনা করতেন এবং প্রতিনিধির সংবাদের ওপরই সীমাবদ্ধ থাকতে নির্দেশ দিতেন (৬)। আর এখান থেকেই আমরা প্রশংসা করি
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
মুসনাদুদ দারেমী - তা. আয-যাহরানী
(পৃষ্ঠা: ১২)
بالإمام الدارمي رحمه الله، فما هو إلا واحد من أولئك الأفذاذ الذين خدموا السنة وذبوا عنها بالتحقق من المتن والإسناد، وستقف في ترجمته على مكانته ومكانة مسنده هذا، نسأل الله لنا وله ولكل من آمن بمحمد صلى الله عليه وسلم، وخدم سنته النضارة في الدنيا والآخرة، في مقعد صدق عند مليك مقتدر.
ইমাম দারেমী (রাহিমাহুল্লাহ)-এর ক্ষেত্রে বলতে হয়, তিনি সেই সকল অদ্বিতীয় ব্যক্তিবর্গের অন্যতম যারা সুন্নাহর খিদমত করেছেন এবং মতন ও ইসনাদ যাচাই-তদন্তের মাধ্যমে তা সুদৃঢ়ভাবে রক্ষা করেছেন। তাঁর জীবনী পাঠ করলে আপনি তাঁর সুউচ্চ মর্যাদা এবং তাঁর এই মুসনাদ গ্রন্থের গুরুত্ব সম্পর্কে জানতে পারবেন। আমরা আল্লাহর কাছে আমাদের জন্য, তাঁর জন্য এবং যারা মুহাম্মাদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর ওপর ঈমান এনেছে ও তাঁর সুন্নাহর খিদমত করেছে, তাদের সকলের জন্য দুনিয়া ও আখেরাতে উজ্জ্বলতা এবং সর্বশক্তিমান অধিপতির নিকট সত্যের আসনে সুউচ্চ মর্যাদার প্রার্থনা করছি।
(খণ্ড: ১)
মুসনাদুদ দারেমী - তা. আয-যাহরানী
(পৃষ্ঠা: ১৩)
سبب تحقيق مسند الدارميلا يجهل أهل العلم وطلابه أن نبع روايات السنة النبوية هو الكتب التسعة، على نسق ما بين العلماء رحمهم الله من تفاوتها فيما حوت من الصحيح، لكن كل ما سواها من المسانيد، والجوامع، والمستدركات، والمصنفات، والأجزاء، راجع إليها فيما صح في الغالب، إلا ما كان من الغرائب الواردة فيها وفي كتب التراجم، ففيها ما هو من غرائب الصحيح، ومنها سوى ذلك، ولما كان كتاب الدارمي هذا أحد الكتب التسعة، وكان جمع مخطوطات الكتب التسعة وإعادة تحقيقها كتابا تلو الآخر، مشروعا طرح في مركز خدمة السنة والسيرة النبوية بالجامعة الإسلامية، ولم يُقدر للمركز المذكور النهوض بأعباء ما وضع للعمل فيه من خطط علمية نادرة الوجود، لأسباب مالية ووظيفية، اختلف عليها أصحاب القرار، توقف العمل في المركز إلى يومنا هذا، ولما كان مسند الدارمي تاسع كتب الحديث المقدمة عند العلماء رحمهم الله، وهي: صحيح البخاري، وصحيح مسلم، وسنن أبي داود، وسنن الترمذي، وسنن النسائي، وسنن ابن ماجه، ومسند أحمد، ومسند الدارمي، وموطأ مالك، وقد أوقف العمل في مشروع مركز خدمة السنة، فقررت جمع مخطوطات مسند الدارمي، على أوسع ما أمكن، لضبط النص، وتخريجه بعيدا عن الاسهاب في التخريج مستهدفا عامة المثقفين، وذلك على النحو التالي:
ما كان في الصحيحين أو في أحدهما أقف عنده ولا أزيد عليه، ولم أذكر أطراف الحديث عند البخاري، لأنه عمل تخصصي يسهل للباحث الوصول إليه، وما كان في السنن الأربعة أقف عنده مع التعقيب بحكم الإمام الألباني رحمه الله، وكذلك ما كان في واحد منها، وقد أضيف مسند الإمام أحمد لتعدد رواية النص في أكثر أحاديثه، ولم ألتزم استيعاب الروايات المكررة، وما سوى ذلك أخرجه من مصادره، وكل ذلك مصدَّر بالحكم على سند المصنف في الحاشية، وما لم أذكر له تخريجا فهو مما انفرد به المصنف، رمزت له بالحرف (ت: ) وهو مخرج في كتابي (القطوف الدانية فيما انفرد به الدارمي عن الثمانية) ذاكرا رقم الحديث ليسهل الرجوع إليه، وما لم أقف عليه في موضع آخر، فأذكر الحكم على رواية الدارمي، ولا أعقب بذكر رقمه في القطوف إذ لا زيادة في المعلومات.
وقد اعتمدت أرقام الأحاديث لتوثيق معلومات التخريج، ولإفادة من يرغب في البحث، جعلت أرقام الأحاديث في المطبوعات وفي التحفة والإتحاف في نهاية كل حديث، ليتمكن الراغب في المراجعة من الوقوف على الحديث في المطبوعات، وهي خمس مطبوعات: مطبوعة البغا،
মুসনাদ আদ-দারিমি তাহকিক করার কারণইলম অন্বেষী ও আলেমগণের নিকট এটি অজানা নয় যে, সুন্নাহর বর্ণনার মূল উৎস হলো নয়টি কিতাব (কুতুবুত তিসআহ), যা আলেমগণ (রাহিমাহুল্লাহ) তাদের মধ্যে বিদ্যমান সহিহ হাদিসের ভিন্নতার তারতম্য অনুযায়ী বিন্যস্ত করেছেন। তবে অধিকাংশ ক্ষেত্রে সহিহ বর্ণনার দিক থেকে এর বাইরে থাকা অন্যান্য সকল মুসনাদ, জামে, মুস্তাদরাক, মুসান্নাফ এবং অজযা (খণ্ডসমূহ) এই নয়টি কিতাবেরই অনুগামী। তবে এতে এবং জীবনীগ্রন্থগুলোতে বর্ণিত বিরল বর্ণনাগুলো এর ব্যতিক্রম; সেগুলোর মধ্যে কিছু সহিহ পর্যায়ের বিরল বর্ণনা রয়েছে, আবার কিছু এর বাইরেও রয়েছে। যেহেতু ইমাম দারিমির এই কিতাবটি নয়টি কিতাবের অন্যতম একটি, আর নয়টি কিতাবের পাণ্ডুলিপিগুলো সংগ্রহ করা এবং একের পর এক কিতাবগুলো পুনরায় তাহকিক করা ছিল একটি প্রকল্প যা মদিনা ইসলামি বিশ্ববিদ্যালয়ের ‘মারকাজু খিদমাতিস সুন্নাহ ওয়াস সিরাতিন নাবাবিয়্যাহ’-তে উত্থাপিত হয়েছিল। কিন্তু আর্থিক ও দাপ্তরিক কিছু কারণে, যা নিয়ে সিদ্ধান্ত গ্রহণকারীদের মধ্যে মতভেদ ছিল, উক্ত মারকাজের পক্ষে তাদের বিরল বৈজ্ঞানিক পরিকল্পনা বাস্তবায়নের দায়ভার গ্রহণ করা সম্ভব হয়নি; ফলে আজ পর্যন্ত সেই মারকাজের কাজ বন্ধ রয়েছে। যেহেতু আলেমদের (রাহিমাহুল্লাহ) নিকট অগ্রাধিকারপ্রাপ্ত হাদিস গ্রন্থগুলোর মধ্যে মুসনাদ আদ-দারিমি হলো নবম কিতাব—আর কিতাবগুলো হলো: সহিহুল বুখারি, সহিহ মুসলিম, সুনানে আবু দাউদ, সুনানে তিরমিজি, সুনানে নাসায়ি, সুনানে ইবনে মাজাহ, মুসনাদে আহমাদ, মুসনাদ আদ-দারিমি এবং মুওয়াত্তা মালিক—এবং যেহেতু মারকাজু খিদমাতিস সুন্নাহ-এর প্রকল্পের কাজ বন্ধ হয়ে গেছে, তাই আমি সিদ্ধান্ত নিলাম যে, পাঠ্য বিষয়কে (টেক্সট) নির্ভুল করার লক্ষ্যে মুসনাদ আদ-দারিমির পাণ্ডুলিপিগুলো যথাসম্ভব ব্যাপকভাবে সংগ্রহ করব এবং সাধারণ শিক্ষিত মানুষদের কথা বিবেচনা করে দীর্ঘ বর্ণনা পরিহার করে এর তাখরিজ করব। তা নিম্নরূপ পদ্ধতিতে সম্পন্ন করা হবে:
যা সহিহাইন (বুখারি ও মুসলিম) বা এই দুটির যেকোনো একটিতে বিদ্যমান রয়েছে, আমি সেখানেই সীমাবদ্ধ থাকব এবং এর অতিরিক্ত কিছু করব না। বুখারির ক্ষেত্রে আমি হাদিসের আতরাফ (সূত্র বা অংশবিশেষ) উল্লেখ করিনি, কারণ এটি একটি বিশেষায়িত কাজ যা একজন গবেষকের জন্য খুঁজে পাওয়া সহজ। আর যা চার সুনান গ্রন্থে বিদ্যমান রয়েছে, আমি সেখানেও সীমাবদ্ধ থাকব এবং সাথে ইমাম আলবানি (রাহিমাহুল্লাহ)-এর হুকুম উল্লেখ করব। একইভাবে যদি কোনো হাদিস এই চারটির কোনো একটিতেও থাকে, তবে সেখানেও একই নিয়ম অনুসরণ করব। অনেক হাদিসের পাঠের বর্ণনা একাধিক হওয়ার কারণে আমি ইমাম আহমাদের মুসনাদকেও যুক্ত করেছি। তবে আমি পুনরাবৃত্ত বর্ণনাগুলোর পূর্ণ ব্যাপ্তির দায়ভার গ্রহণ করিনি। এগুলোর বাইরে যা রয়েছে, তা এর মূল উৎসসমূহ থেকে তাখরিজ করেছি এবং এর সবটুকুই পাদটীকায় গ্রন্থকারের সনদের ওপর হুকুম প্রদানের মাধ্যমে শুরু করা হয়েছে। আর যেগুলোর কোনো তাখরিজ আমি উল্লেখ করিনি, সেগুলো গ্রন্থকারের একক বর্ণনা (তাফাররুদ)। সেগুলোকে আমি (ত: ) সংকেত দ্বারা চিহ্নিত করেছি এবং আমার রচিত ‘আল-কুতুফ আদ-দানিয়াহ ফিমা ইনফারাদা বিহি আদ-দারিমি আনিল সামানিয়াহ’ কিতাবে তা তাখরিজ করা হয়েছে, যেখানে হাদিস নম্বর উল্লেখ করা হয়েছে যাতে সহজে তা খুঁজে পাওয়া যায়। আর যা অন্য কোনো স্থানে আমি খুঁজে পাইনি, সে ক্ষেত্রে আমি ইমাম দারিমির বর্ণনার ওপর হুকুম উল্লেখ করেছি, তবে ‘আল-কুতুফ’-এর নম্বর পুনরায় উল্লেখ করিনি কারণ তাতে তথ্যের কোনো বৃদ্ধি হবে না।
আমি তাখরিজের তথ্যের প্রামাণিকতার জন্য হাদিস নম্বরগুলোর ওপর নির্ভর করেছি। আর যারা গবেষণা করতে আগ্রহী তাদের উপকারের জন্য প্রতিটি হাদিসের শেষে বিভিন্ন মুদ্রিত সংস্করণ, ‘তুহফা’ এবং ‘ইতিহাফ’-এর হাদিস নম্বরগুলো দিয়ে দিয়েছি, যাতে আগ্রহী ব্যক্তিরা মুদ্রিত সংস্করণগুলোতে হাদিসটি খুঁজে পেতে সক্ষম হন। আর এই মুদ্রিত সংস্করণগুলো হলো পাঁচটি: বুগা সংস্করণ,
(খণ্ড: ১)
মুসনাদুদ দারেমী - তা. আয-যাহরানী
(পৃষ্ঠা: ১৪)
ورمزها (ب) ومطبوعة الداراني (د) ومطبوعة دار الكتب العلمية (ع) ومطبوعة فتح المنان (ف) ومطبوعة محمود عبد المحسن (م) وقد دققت المقابلة بين المخطوطات، وعددها (11) إحدى عشرة مخطوطة، واعتمدت عناوين الأبواب التي في (ت، ك) وأهملت ما خالفها بزيادة أو نقص في اللفظ، وأهملت كل ما كان مخالفا في المطبوعات المذكورة لما في الأصول، بعد التحقق من كونه خطأً أو تحريفا أو تصحيفا، أو إقحاما، أو زيادة.
وقد تجاوزت في المقابلة بين الأصول الخطية ذاتها وبينها وبين المطبوعات نحو (حدثنا، ثنا، نا، أخبرنا، أنا، أنبأنا، أنبأ، أبنا، قال: فقال: وقال، كان، فكان، وكان، كنا، وكنا، معها، ومعها، السماطين، سماطين، ماء، الماء، فوالذي، والذي، الرسول، النبي، و، أو، ما، من، وهو مما لا يختلف فيه المعنى، وكذلك ما تختلف فيه النسخ من الدعاء نحو: رضي الله عنه، أوعنهما، أوعنها، صلى الله عليه وسلم، عليه السلام عز وجل، رضي الله عنهم، وهذه الأدعية استحسنت إثباتها لما فيها من الخير، ولو لم تكن في الأصلين التكامليين (ت، ك) وتجاوزت كذلك: باب في كذا، أو باب كذا، وذكر البسملة في أول كل كتاب كما في بعض النسخ، وكل ما ورد في المطبوعات وليس في أحد الأصول الخطية فهو مهمل عندي لتأكدي من أن الصواب ما أثبته من الأصول، وما ألحق من النص صوابا في هوامش الأصول أو أحدها أعتبره من صلب النص، وقد أذكر أنه لحق في الهامش، وما كان تعليقا أبينه.
كتبت النص وفق قواعد الإملاء المعروفة في هذا العصر، صححت كتابة (ابن) بألف أو
… (قالو) بدون ألف، (سيل) بالياء بدل الهمزة (سال) بألف بدل الهمزة، ونقط الألف المقصورة ونحوهذا.
وقد تضمن هذا المسند (3738) حديثا وأثرا بالمكرر، موزعة على (1371) بابا من العلم، أغلب الأبواب معنون على حديث واحد، أو بضعة أحاديث، وقلّ أن يكون من العشرة فما فوق، وهي أحاديث منها ما اتفق على صحته الشيخان: البخاري ومسلم، وعددها (569) حديثا وأثرا، أو وافق المتفق عليه في طرف منه (38) حديثا، ومنها ما انفرد به البخاري وعددها (113) حديثا، وأثرا، وما انفرد به مسلم وعددها (34) أو وافق طرفا منه ما في الصحيحين أو أحدهماوعددها (38) حديثا، وأحاديث فيما بقي من الكتب، أو في بعضها لا تقل عن الحسن، أو الحسن لغيره، إما أن يكون في السند راوٍ سكت عنه النقاد وذكره ابن حبان في الثقات؛ فهذا عندي على السلامة، ومنها يقوي بعضها بعضا، ومنها ما هو طرف من حديث في الصحيحين أو أحدهما، أو في غيرهما، ومنها ما أصله في الصحيحين أو أحدهما أو في غيرهما، ومنها ماله
এর সংকেত (বা) এবং আল-দারানি সংস্করণ (দাল), এবং দারুল কুতুব আল-ইলমিয়্যাহ সংস্করণ (আইন), এবং ফাতহুল মান্নান সংস্করণ (ফা), এবং মাহমুদ আব্দুল মুহসিন সংস্করণ (মিম)। আমি পাণ্ডুলিপিগুলোর মধ্যে তুলনামূলক যাচাই অত্যন্ত সূক্ষ্মভাবে সম্পন্ন করেছি, যার সংখ্যা ১১ (এগারো) টি। আমি (তা, কাফ) পাণ্ডুলিপিতে উল্লিখিত অধ্যায়ের শিরোনামগুলো গ্রহণ করেছি এবং শব্দগত আধিক্য বা ঘাটতির কারণে যা সেগুলোর বিপরীত হয়েছে তা বর্জন করেছি। মূল পাণ্ডুলিপির বিপরীতে উল্লিখিত মুদ্রিত সংস্করণগুলোতে যা কিছু পাওয়া গেছে, তা ভুল, বিকৃতি, মুদ্রণ প্রমাদ, অনধিকার প্রবেশ বা অতিরিক্ত হওয়া নিশ্চিত হওয়ার পর আমি তা বর্জন করেছি।
আমি মূল পাণ্ডুলিপিগুলোর নিজেদের মধ্যে এবং পাণ্ডুলিপি ও মুদ্রিত সংস্করণগুলোর মধ্যে তুলনার ক্ষেত্রে (আমাদের নিকট হাদীস বর্ণনা করেছেন, আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, আমাদের নিকট সংবাদ দিয়েছেন, তিনি বললেন, অতঃপর তিনি বললেন, এবং তিনি বললেন, ছিল, অতঃপর ছিল, এবং ছিল, আমরা ছিলাম, এবং আমরা ছিলাম, তার সাথে, এবং তার সাথে, দুই সারি, দুই সারি, পানি, পানি, অতঃপর সেই সত্তার কসম যার, এবং সেই সত্তার কসম যার, রাসূল, নবী, এবং, অথবা, যা, থেকে) এর মতো বিষয়গুলো এড়িয়ে গিয়েছি, যা অর্থের কোনো পরিবর্তন ঘটায় না। একইভাবে পাণ্ডুলিপিগুলোতে দুআ’র ক্ষেত্রে যে পার্থক্য রয়েছে যেমন: (আল্লাহ তাঁর ওপর সন্তুষ্ট হন, অথবা তাঁদের উভয়ের ওপর, অথবা তাঁর ওপর (নারী), আল্লাহর রহমত ও শান্তি বর্ষিত হোক, তাঁর ওপর শান্তি বর্ষিত হোক, মহান ও পরাক্রমশালী, আল্লাহ তাঁদের সকলের ওপর সন্তুষ্ট হন) এ বিষয়গুলোও এড়িয়ে গিয়েছি। এই দুআ’গুলো বহাল রাখা আমি কল্যাণকর মনে করেছি, যদিও তা পরিপূরক মূল দুই পাণ্ডুলিপিতে (তা, কাফ) বিদ্যমান ছিল না। একইভাবে আমি ‘অমুক বিষয়ে অধ্যায়’ বা ‘অমুক অধ্যায়’ এবং কিছু পাণ্ডুলিপির মতো প্রতিটি কিতাবের শুরুতে বিস্মিল্লাহর উল্লেখের বিষয়গুলো এড়িয়ে গিয়েছি। মুদ্রিত সংস্করণগুলোতে যা কিছু এসেছে কিন্তু কোনো মূল পাণ্ডুলিপিতে নেই, তা আমার নিকট বর্জনীয়; কারণ আমি নিশ্চিত হয়েছি যে মূল পাণ্ডুলিপি থেকে আমি যা সাব্যস্ত করেছি সেটিই সঠিক। আর মূল পাণ্ডুলিপি বা তার কোনো একটির পার্শ্বটীকায় সংশোধনী হিসেবে যা যুক্ত করা হয়েছে, সেটিকে আমি মূল পাঠের অংশ হিসেবেই গণ্য করেছি। আমি প্রয়োজনে উল্লেখ করতে পারি যে এটি পার্শ্বটীকায় যুক্ত হয়েছে, আর যা স্বতন্ত্র টিকা তা আমি স্পষ্ট করে দেব।
আমি বর্তমান যুগে প্রচলিত বানানের নিয়ম অনুযায়ী মূল পাঠটি লিখেছি। আমি (ইবন) শব্দটিকে আলিফ দিয়ে বা
… (কালু) আলিফ ছাড়া, হামযার পরিবর্তে ‘ইয়া’ দিয়ে (সাইল), হামযার পরিবর্তে আলিফ দিয়ে (সাল) এবং আলিফ মাকসুরার নুকতা প্রদান ও এ জাতীয় বিষয়গুলো সংশোধন করেছি।
এই মুসনাদ গ্রন্থটিতে পুনরাবৃত্তিসহ (৩৭৩৮)টি হাদীস ও আসার অন্তর্ভুক্ত রয়েছে, যা (১৩৭১)টি ইলমি অধ্যায়ে বিভক্ত। অধিকাংশ অধ্যায় একটি হাদীস বা কয়েকটি হাদীসের ওপর ভিত্তি করে শিরোনামযুক্ত করা হয়েছে এবং দশটি বা তার বেশি হাদীস সম্বলিত অধ্যায় খুব কমই রয়েছে। এই হাদীসগুলোর মধ্যে কিছু এমন রয়েছে যার বিশুদ্ধতার ওপর শাইখাইন (বুখারী ও মুসলিম) একমত হয়েছেন, যার সংখ্যা (৫৬৯)টি হাদীস ও আসার। অথবা যা মুত্তাফাকুন আলাইহি (সর্বসম্মত) হাদীসের কোনো অংশের সাথে মিল রাখে এমন হাদীস (৩৮)টি। এর মধ্যে ইমাম বুখারী এককভাবে বর্ণনা করেছেন এমন হাদীস ও আসারের সংখ্যা (১১৩)টি, ইমাম মুসলিম এককভাবে বর্ণনা করেছেন এমন হাদীস (৩৪)টি, অথবা বুখারী ও মুসলিমের বা তাঁদের কোনো একজনের কোনো হাদীসের অংশের সাথে মিল রাখে এমন হাদীস (৩৮)টি। অবশিষ্ট কিতাবসমূহে অথবা সেগুলোর কোনো কোনোটিতে বিদ্যমান হাদীসসমূহ হাসান বা হাসান লি-গাইরিহি পর্যায়ের নিচে নয়। হয় সনদে এমন কোনো বর্ণনাকারী রয়েছেন যার সম্পর্কে সমালোচকগণ নীরব থেকেছেন এবং ইবনে হিব্বান তাকে 'আস-সিকাত' (নির্ভরযোগ্যদের তালিকা) গ্রন্থে উল্লেখ করেছেন; এটি আমার কাছে ত্রুটিমুক্ত ও নিরাপদ। আবার কিছু হাদীস একে অপরকে শক্তিশালী করে। কিছু হাদীস বুখারী-মুসলিম বা তাদের কোনো একটির অথবা অন্য কোনো গ্রন্থের হাদীসের অংশবিশেষ। আবার কোনো কোনোটির মূল ভিত্তি বুখারী-মুসলিম বা তাদের কোনো একটিতে অথবা অন্য কোথাও রয়েছে। আবার কোনোটির এমন...
(খণ্ড: ১)
মুসনাদুদ দারেমী - তা. আয-যাহরানী
(পৃষ্ঠা: ১৫)
شواهد في الصحيحين أو في أحدهما، أو في غيرهما، ومنها ما تفرد به الدارمي، وقد أفردتها في مؤلف سميته "القطوف الدانية فيما انفرد به الدارمي عن الثمانية" وفيه من الضعيف قليل، ومن الرواة من قيل فيه: متروك، ومنكر، أو واه، أو يضع الحيث، وهؤلاء لا يتجاوز عددهم العشرة، ومنهم من صح ما رووا من طريق أخرى، وبيان ذلك كله في التخريج.
ومن هنا تبرز مكانة هذا الكتاب العلمية، بين التسعة المعروفة، والعجب من عدم اعتباره من الستة الصحاح، فإنه في نظري أحق من سنن ابن ماجه بذلك، والسبر والاعتبار يوضحان ذلك، والله أعلم.
وقد رقمت أحاديث الدارمي ترقيما عاما، وجعلت ترقيما خاصا لأحاديث الأبواب بين هلالين، هكذا: 1 - (1) كما رقمت الأبواب ترقيما عاما لكل الأبواب، وعددها (1389) بابا من العلم، ورمزت في التخريج لِمَا انفرد به الدارمي بحرف التاء هكذا، ت:
فالحمد لله أولا وآخرا على توفيقه، وأن أعان ويسر على إنجاز هذا العمل المبارك، وأسأله تعالى أن ينفع به من وقف عليه وطالعه، وأن يجعله ثقلا في ميزان الحسنات، يمحو به السيئات، وبه يرفع الدرجات في أعالي الجنات.
সহীহাইন অথবা তাদের কোনো একটিতে, কিংবা অন্য কোনো কিতাবে এই বর্ণনাগুলোর সমর্থনকারী বর্ণনা রয়েছে। এর মধ্যে কিছু বর্ণনা রয়েছে যা কেবল দারেমী এককভাবে বর্ণনা করেছেন। আমি এগুলোকে একটি স্বতন্ত্র গ্রন্থে সংকলিত করেছি যার নাম দিয়েছি "আল-কুতুফুদ দানিয়াহ ফীমা ইনফারাদা বিহি আদ-দারেমী আনিত সামানিয়াহ"। এতে অল্প কিছু যঈফ বা দুর্বল বর্ণনা রয়েছে। বর্ণনাকারীদের মধ্যে এমন কেউ কেউ আছেন যাদের সম্পর্কে বলা হয়েছে: মাতরূক (পরিত্যক্ত), মুনকার (প্রত্যাখ্যাত), ওয়াহী (অত্যন্ত দুর্বল) কিংবা যারা হাদিস জাল করেন। তাদের সংখ্যা দশের অধিক নয়। তাদের মধ্যে কারো কারো বর্ণিত হাদিস অন্য কোনো সূত্রে সহীহ হিসেবে সাব্যস্ত হয়েছে। এ সবকিছুর বিস্তারিত বিবরণ তাখরীজে (উৎস পর্যালোচনায়) প্রদান করা হয়েছে।
এখান থেকেই প্রসিদ্ধ নয়টি কিতাবের মাঝে এই কিতাবটির ইলমী মর্যাদা প্রকাশ পায়। বিস্ময়ের বিষয় হলো, একে প্রসিদ্ধ ছয়টি বিশুদ্ধ কিতাবের (সিত্তাহ সিহাহ) অন্তর্ভুক্ত হিসেবে গণ্য করা হয়নি, অথচ আমার দৃষ্টিতে এটি সুনানে ইবনে মাজাহ-এর চেয়েও সেই মর্যাদার অধিক যোগ্য। গভীর পর্যবেক্ষণ ও বিচার-বিশ্লেষণ বিষয়টি স্পষ্ট করে দেয়। আল্লাহই সর্বজ্ঞ।
আমি দারেমীর হাদিসগুলোকে সাধারণ ক্রমিক নম্বর দিয়েছি এবং অধ্যায়ভিত্তিক হাদিসগুলোর জন্য প্রথম বন্ধনীতে বিশেষ নম্বর দিয়েছি, এভাবে: ১ - (১)। অনুরূপভাবে আমি সকল অধ্যায়ের জন্য একটি সাধারণ ক্রমিক নম্বর ব্যবহার করেছি, যার মোট সংখ্যা হলো ১৩৮৯ টি ইলমী অধ্যায়। আর তাখরীজে দারেমীর একক বর্ণনাসমূহের ক্ষেত্রে 'তা' বর্ণ দ্বারা সংকেত প্রদান করেছি এভাবে, তা:
সুতরাং শুরুতে ও শেষে সকল প্রশংসা আল্লাহর জন্য তাঁর তাওফীকের কারণে, এবং এজন্য যে তিনি এই বরকতময় কাজ সম্পন্ন করতে সাহায্য ও সহজ করেছেন। আমি মহান আল্লাহর কাছে প্রার্থনা করি, তিনি যেন এর পাঠক ও পর্যালোচনাকারীদের এর দ্বারা উপকৃত করেন এবং একে নেক আমলের পাল্লায় ভারী করেন, যার মাধ্যমে তিনি পাপসমূহ মোচন করবেন এবং জান্নাতের সুউচ্চ শিখরে মর্যাদা বৃদ্ধি করবেন।
(খণ্ড: ১)
মুসনাদুদ দারেমী - তা. আয-যাহরানী
(পৃষ্ঠা: ১৬)
رواة مسند الدارميمسند الدارمي هو رواية أبي عمران عيسى بن عمر بن العباس السمرقندي (1) رحمة الله عنه.
رواية الإمام أبي محمد عبد الله بن أحمد بن حموية السرخسي الحموي (2) عنه.
روابة أبي الحسن عبد الرحمن بن محمد بن المظفر الداودي البوشنجي (3) عنه.
رواية أبي الوقت عبد الأول بن عيسى بن شعيب السجزي الهروي (4) عنه.
--------------------------------------------
মুসনাদ আদ-দারিমি-র বর্ণনাকারীগণমুসনাদ আদ-দারিমি হলো আবু ইমরান ঈসা বিন উমর বিন আব্বাস আস-সামারকান্দি (১)-এর বর্ণনা, আল্লাহ তাঁর ওপর রহমত বর্ষণ করুন।
ইমাম আবু মুহাম্মাদ আব্দুল্লাহ বিন আহমদ বিন হামুয়াহ আস-সারখাসি আল-হামুয়ি (২)-এর বর্ণনা তাঁর থেকে।
আবু হাসান আব্দুর রহমান বিন মুহাম্মাদ বিন মুজাফফর আদ-দাউদি আল-বুশাঞ্জি (৩)-এর বর্ণনা তাঁর থেকে।
আবু ওয়াক্ত আব্দুল আউয়াল বিন ঈসা বিন শুআইব আস-সিজজি আল-হারাউই (৪)-এর বর্ণনা তাঁর থেকে।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
মুসনাদুদ দারেমী - তা. আয-যাহরানী
(পৃষ্ঠা: ১৭)
رواية الشيخ الأجل زكريا بن أبي الحسين بن حسان العلبي (1) عنه.
الرواة عن أبي الوقت1 - زكريا بن أبي الحسين بن حسان العلبي عنه (ت)
2 - أبو عبد الله محمد بن محمد بن سرايا بن علي البلدي (2) عنه
(ك).
3 - شمس الدين أبو العباس أحمد بن عبد الله بن عبد الصمد بن عبد الرزاق السلمي البغدادي (3) (ر/أ، ر/ب).
4 - أبو المنجا عبد الله بن عمر اللتي (4) في ثبت سند الأمير الكبير (سد الأرب ص: 80) المتصل به سندنا.
--------------------------------------------
মহান শাইখ যাকারিয়া ইবনে আবিল হুসাইন ইবনে হাসান আল-উলাবি (১) এর বর্ণনা তাঁর থেকে।
আবুল ওয়াক্ত থেকে বর্ণনাকারীগণ১ - যাকারিয়া ইবনে আবিল হুসাইন ইবনে হাসান আল-উলাবি তাঁর থেকে (তা)
২ - আবু আব্দুল্লাহ মুহাম্মাদ ইবনে মুহাম্মাদ ইবনে সারায়া ইবনে আলী আল-বালাদি (২) তাঁর থেকে
(কা)।
৩ - শামসুদ্দিন আবুল আব্বাস আহমাদ ইবনে আব্দুল্লাহ ইবনে আব্দুস সামাদ ইবনে আব্দুর রাজ্জাক আস-সুলামি আল-বাগদাদি (৩) (রা/আ, রা/বা)।
৪ - আবুল মানজা আব্দুল্লাহ ইবনে উমর আল-লাতি (৪) আমীর আল-কাবীরের সনদ সংগ্রহে (সাদ্দ আল-আরব পৃষ্ঠা: ৮০), যার মাধ্যমে আমাদের সনদটি সংযুক্ত হয়েছে।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
মুসনাদুদ দারেমী - তা. আয-যাহরানী
(পৃষ্ঠা: ১৮)
سندي في رواية مسند الدرميهذا من شرف أصحاب الحديث شرفهم الله تعالى أن بقي لهم الارتباط بسلسلة من نقلة السنة النبوية المشرفة، عن رسول الله صلى الله عليه وسلم، وإن كان اليوم لا يُعول على أسانيد ما بعد عصر الرواية المعتبر فيها الإسناد، فقد محَّص النقاد الأسانيد في تلك الحقبة من الزمان، وعرَّفوا لنا رجالها من حيث الضبط والعدالة، ورسموا معالم الطريق على أوضح ما يكون البيان والجلاء، ولم يبق لنا إلا التبرك بسلسلة النقل من جيل إلى جيل، لهذا أحببت انتظامي في هذا العقد المبارك، رجاء أن أكون ممن استحق دعوة رسول الله صلى الله عليه وسلم حين قام بالخيف من منى فقال: «نضر الله عبدا سمع مقالتي فوعاها، ثم أداها إلى من لم يسمعها، فرب حامل فقه لا فقه له، ورب حامل فقه إلى من هو أفقه» فبالإجازة من الشيخ العالم علم الدين محمد بن ياسين بن عيسى الفاداني المكي، في سنة (1404 هـ) أجازني كتابة بما في ثبته (الدر النثير في الاتصال بثبت الأمير) عن الشيخ عبد الرحمن كريم بخش الهندي قراءة وإجازة، عن الشيخ العالم حضرت نور الفنجابي الهندي إجازة، عن مؤسس المدرسة الصولتية الشيخ العالم رحمت الله بن خليل الرحمن الهندي المتوفي بمكة في سنة (1280 هـ) عن الشيخ العالم الفاضل علي أحمد الهندي، عن محدث الهند الشاه عبد العزيز الدهلوي (1)، عن أبيه الشاه ولي الله بن عبد الرحيم الدهلوي (2)، عن العلامة عثمان بن حسن الدمياطي، عن العلامة الشيخ محمد بن أحمد الأمير الكبير، عن الأستاذ الحفني، عن شيخه البديري، عن الملا إبراهيم الصفي القشاشي، عن الشمس الرملي، عن شيخ الإسلام زكريا، عن مسند الدنيا محمد بن مقبل الحلبي، عن جويرية بنت أحمد الكردي الهكاري، أنا علي بن عمر الكردي، أنا أبو المنجا عبد الله بن عمر اللتي، أنا الداودي، أنا السرخسي، أنا أبو عمران عيسى بن عمر السمرقندي، أنا الدارمي قال: أنا يزيد بن هارون، أنا حميد، عن أنس رضي الله عنه، عن النبي صلى الله عليه وسلم قال: «إن في الجنة لسوقا» - قالوا: وما هو؟ قال: «كثبان (3)، من مسك، يخرجون إليها
--------------------------------------------
মুসনাদ আদ-দারিমী বর্ণনায় আমার সনদএটি হাদীস বিশেষজ্ঞদের জন্য এক অনন্য মর্যাদা যে, আল্লাহ তাআলা তাদের এই সম্মান দান করেছেন—যাতে আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে বর্ণিত নবীজির পবিত্র সুন্নাহর বর্ণনাকারীদের ধারাক্রমের সাথে তাদের সম্পৃক্ততা অবশিষ্ট থাকে। যদিও বর্তমানে নির্ভরযোগ্য বর্ণনার যুগের পরবর্তী সনদগুলোর ওপর আর নির্ভর করা হয় না, কারণ সেই সময়ের সমালোচকগণ সনদসমূহ পুঙ্খানুপুঙ্খ যাচাই করেছেন এবং বর্ণনাকারীদের নির্ভরযোগ্যতা ও ন্যায়পরায়ণতার বিষয়টি আমাদের কাছে তুলে ধরেছেন। তারা এই পথের নিদর্শনসমূহকে অত্যন্ত স্পষ্টভাবে বর্ণনা করেছেন। এখন আমাদের জন্য কেবল প্রজন্ম থেকে প্রজন্মান্তরে এই বর্ণনার ধারাক্রমের মাধ্যমে বরকত হাসিল করাই অবশিষ্ট রয়েছে। এই কারণেই আমি এই বরকতময় শৃঙ্খলে নিজেকে যুক্ত করতে পছন্দ করেছি, এই আশায় যে আমি যেন আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সেই দোয়ার অন্তর্ভুক্ত হতে পারি যা তিনি মিনার খাইফ নামক স্থানে দাঁড়িয়ে করেছিলেন: "আল্লাহ সেই বান্দাকে সজীব ও সতেজ রাখুন যে আমার কথা শুনেছে, তা সংরক্ষণ করেছে এবং যারা শোনেনি তাদের কাছে তা পৌঁছে দিয়েছে। কেননা অনেক ইলমের বহনকারী এমন আছেন যিনি নিজে প্রজ্ঞাবান নন, আবার অনেক ইলমের বহনকারী এমন ব্যক্তির কাছে ইলম পৌঁছে দেন যিনি তার চেয়েও বেশি প্রজ্ঞাবান।" সুতরাং শায়খ আলিম আলম আদ-দীন মুহাম্মদ বিন ইয়াসিন বিন ঈসা আল-ফাদানী আল-মাক্কীর পক্ষ থেকে ১৪০৪ হিজরীতে প্রাপ্ত ইজাযতের মাধ্যমে; তিনি আমাকে তার সাবাত (সনদ সংকলন) 'আদ-দুররুন নাছীর ফিল ইত্তিসাল বি-সাবাতিল আমীর'-এ বর্ণিত বিষয়গুলোর লিখিত ইজাযত দিয়েছেন শায়খ আবদুর রহমান কারীম বখশ আল-হিন্দীর নিকট থেকে পাঠ ও ইজাযত সূত্রে, তিনি শায়খ আলিম হযরত নূর আল-পাঞ্জাবী আল-হিন্দীর নিকট থেকে ইজাযত সূত্রে, তিনি মাদ্রাসা সাওলাতিয়ার প্রতিষ্ঠাতা শায়খ আলিম রহমতুল্লাহ বিন খলীলুর রহমান আল-হিন্দী (যিনি ১২৮০ হিজরীতে মক্কায় ইন্তেকাল করেন) থেকে, তিনি শায়খ আলিম ফাযিল আলী আহমদ আল-হিন্দী থেকে, তিনি হিন্দুস্তানের মুহাদ্দিস শাহ আব্দুল আযীয আদ-দেহলভী (১) থেকে, তিনি তার পিতা শাহ ওয়ালীউল্লাহ বিন আব্দুর রহীম আদ-দেহলভী (২) থেকে, তিনি আল্লামা উসমান বিন হাসান আদ-দুময়াতী থেকে, তিনি আল্লামা শায়খ মুহাম্মদ বিন আহমদ আল-আমীর আল-কাবীর থেকে, তিনি উস্তাদ আল-হাফনী থেকে, তিনি তার শায়খ আল-বুদাইরী থেকে, তিনি মোল্লা ইবরাহীম আস-সাফী আল-কুশাশী থেকে, তিনি শামস আর-রামলী থেকে, তিনি শায়খুল ইসলাম যাকারিয়া থেকে, তিনি মুসনাদুদ দুনিয়া মুহাম্মদ বিন মুকবিল আল-হালাবী থেকে, তিনি জুওয়াইরিয়া বিনতে আহমদ আল-কুর্দী আল-হাককারী থেকে, তিনি আলী বিন উমর আল-কুর্দী থেকে, তিনি আবু আল-মুঞ্জা আব্দুল্লাহ বিন উমর আল-লাত্তী থেকে, তিনি আদ-দাউদী থেকে, তিনি আস-সারাখসী থেকে, তিনি আবু ইমরান ঈসা বিন উমর আস-সামারকান্দী থেকে, তিনি আদ-দারিমী থেকে। তিনি (দারিমী) বলেন: আমাদের সংবাদ দিয়েছেন ইয়াযীদ বিন হারুন, সংবাদ দিয়েছেন হুমায়দ, তিনি আনাস রাযিয়াল্লাহু আনহু থেকে, তিনি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেছেন: "নিশ্চয় জান্নাতে একটি বাজার রয়েছে"—লোকেরা জিজ্ঞেস করল: সেটি কী? তিনি বললেন: "কস্তুরীর টিলা (৩), তারা সেদিকে বের হবে..."
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
মুসনাদুদ দারেমী - তা. আয-যাহরানী
(পৃষ্ঠা: ১৯)
فيجتمعون (1)، فيها، فيبعث الله عليهم ريحا فتدخلهم (2) بيوتهم، فيقول لهم أهلوهم: لقد ازددتم بعدنا حسنا، ويقولون لأهليهم: مثل ذلك» (3). وهذا أعلى ماعنده.
ترجمة الدارميرحمة الله علينا وعليه
نسبه:عبد الله بن عبد الرحمن بن الفضل بن بهرام بن عبد الله (4).
كنيته: أبو محمد.
نسبته:الدارمي، التميمي، السمرقندي، نسبة إلى دارم بن مالك بن حنضلة بن زيد بن مناة بن تميم (5)، فنسب إلى الجدين: دارم وتميم، ودارم بطن من تميم.
ولادته:ولد سنة (181) إحدى وثمانين ومائة من الهجرة (6)، قال الدارمي: ولدت في سنة مات بن المبارك سنة إحدى وثمانين ومائة (7).
بلده:
--------------------------------------------
তারা সেখানে একত্রিত হবে (১), অতঃপর আল্লাহ তাদের ওপর একটি বায়ু প্রেরণ করবেন যা তাদের ঘরে প্রবেশ করিয়ে দিবে (২), তখন তাদের পরিবারবর্গ তাদের বলবে: আমাদের ছেড়ে যাওয়ার পর তোমাদের সৌন্দর্য আরও বৃদ্ধি পেয়েছে; আর তারাও তাদের পরিবারবর্গকে অনুরূপ বলবে (৩)। আর এটিই তাঁর নিকট থাকা সর্বোচ্চ (হাদিস বা মান)।
আদ-দারিমীর জীবনীআমাদের এবং তাঁর ওপর আল্লাহর রহমত বর্ষিত হোক
তাঁর বংশপরিচয়:আবদুল্লাহ বিন আবদুর রহমান বিন আল-ফাদল বিন বাহরাম বিন আবদুল্লাহ (৪)।
তাঁর উপনাম (কুনয়াত): আবু মুহাম্মদ।
তাঁর নিসবত (সম্পর্কিত নাম):আদ-দারিমী, আত-তামিমী, আস-সামারকান্দী। এটি দারিম বিন মালিক বিন হানজালা বিন যায়েদ বিন মানাত বিন তামীম-এর (৫) দিকে সম্পর্কিত। ফলে তিনি দুই পূর্বপুরুষ: দারিম ও তামীমের দিকে সম্বন্ধযুক্ত হয়েছেন; আর দারিম হলো তামীম গোত্রের একটি শাখা।
তাঁর জন্ম:তিনি হিজরি ১৮১ (একশত একাশি) সালে জন্মগ্রহণ করেন (৬)। আদ-দারিমী বলেন: আমি সেই বছর জন্মগ্রহণ করেছি যে বছর ইবনুল মুবারক ইন্তেকাল করেন, অর্থাৎ একশত একাশি সালে (৭)।
তাঁর দেশ:
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
মুসনাদুদ দারেমী - তা. আয-যাহরানী
(পৃষ্ঠা: ২০)
سمرقند، وقد نسب إليها كغيره من الأئمة الذين نشاؤوا في هذه البلدة العظيمة، وهي: مجموعة قرى من بلاد خراسان، خرج منها أئمة كبار.
سعيه في طلب العلم:لم أقف على ذكر لنشأة الدارمي، وطفولته، ولا متى بدأ سعيه في طلب العلم، و
رحلاته تشهد بحرصه على طلب العلم.
رحلاته:
كان أحد الرحالين في الحديث والموصوفين بجمعه وحفظه والإتقان له مع الثقة (1)، فرحل إلى العراق، والشام، ومصر، وأخذ عن أعلام علمائها، وبيان ذلك في ذكر بعض شيوخه، وسكن بغداد، وكان يقول: كان يُقرعُ عليّ بأبي ببغداد فأقول: من ذا؟ فيقول يحيى بن حسان، نعم الإدام الخل (2).
من أشهر شيوخه:شيوخه كثيرون منهم من الجيل الثالث أتباع التابعين، أئمة ثقات، من أمثال: يزيد بن هارون وعبد الله بن موسى ومحمد بن يوسف الفريابي ويعلى بن عبيد وجعفر بن عون ويحيى بن حسان التنيسي وأبي المغيرة الحمصي الخولاني، والحكم بن نافع البهراني، وعثمان بن عمر بن فارس، وسعيد بن عامر الضبعي، وعبد الصمد بن عبد الوارث، وأحمد بن إسحاق الحضرمي، وأشهل بن حاتم، وزكريا بن عدى، وأبى صالح كاتب الليث بن سعد (3)، والنضر بن شميل، ووهب بن جرير، وطبقتهم بالحرمين، وخراسان، والشام، والعراق، ومصر (4) وسمع بدمشق أبا مسهر الغساني، ومروان بن محمد، وعبد الوهاب بن سعيد المفتي، وزيد بن يحيى بن عبيد الدمشقي، ومحمد بن المبارك الصوري، وعبدالله بن جعفر الرقي، ودحيما، وأحمد بن عبد الرحمن، والقاسم بن كثير، وعبيدالله بن عبدالمجيد الحنفي، وأخيه أبي بكرعبدالكبير، ومحمد بن بكر البرساني، ومحمد بن كثير المصيصي، وعبدان بن عثمان، والنضر بن شميل، ويحيى بن حماد،
--------------------------------------------
সমরকন্দ; এই মহান শহরে বেড়ে ওঠা অন্যান্য ইমামদের মতো তিনিও এর দিকেই সম্বন্ধিত হয়েছেন। এটি খোরাসান অঞ্চলের একগুচ্ছ গ্রাম নিয়ে গঠিত, যেখান থেকে বড় বড় ইমামগণ বের হয়েছেন।
ইলম অর্জনে তাঁর প্রচেষ্টা:আমি দারেমীর বেড়ে ওঠা, শৈশব বা তিনি কখন ইলম অর্জনে সচেষ্ট হয়েছিলেন সে সম্পর্কে কোনো বর্ণনা পাইনি। তবে তাঁর
সফরসমূহ ইলম অর্জনে তাঁর ঐকান্তিক আগ্রহের সাক্ষ্য দেয়।
তাঁর সফরসমূহ:
তিনি ছিলেন হাদীসের ক্ষেত্রে অন্যতম পর্যটক এবং নির্ভরযোগ্যতার সাথে হাদীস সংগ্রহ, মুখস্থকরণ ও নিখুঁতভাবে আয়ত্ত করার বিশেষণে বিশেষায়িত (১)। তিনি ইরাক, সিরিয়া ও মিশরে সফর করেন এবং সেখানকার প্রথিতযশা আলেমদের নিকট থেকে শিক্ষা গ্রহণ করেন। তাঁর কতিপয় উস্তাদের বর্ণনায় তা স্পষ্ট হবে। তিনি বাগদাদে বসবাস করতেন এবং বলতেন: "বাগদাদে থাকাকালীন আমার দরজায় কড়া নাড়া হতো, আমি বলতাম: কে? তখন ইয়াহইয়া ইবনে হাসান বলতেন: সিরকা কতই না চমৎকার সালন (২)।"
তাঁর প্রসিদ্ধ উস্তাদগণের মধ্য থেকে কয়েকজন:তাঁর উস্তাদগণ সংখ্যায় অনেক, যাদের মধ্যে রয়েছেন তৃতীয় প্রজন্মের তাবে-তাবেয়ীগণ ও নির্ভরযোগ্য ইমামগণ। যেমন: ইয়াজিদ ইবনে হারুন, আবদুল্লাহ ইবনে মুসা, মুহাম্মদ ইবনে ইউসুফ আল-ফিরইয়াবি, ইয়ালা ইবনে উবাইদ, জাফর ইবনে আউন, ইয়াহইয়া ইবনে হাসান আত-তিননিসি, আবু আল-মুগিরা আল-হিমসি আল-খাওলানি, আল-হাকাম ইবনে নাফি আল-বাহরানি, উসমান ইবনে উমর ইবনে ফারিস, সাঈদ ইবনে আমির আদ-দুবায়ী, আবদুস সামাদ ইবনে আবদুল ওয়ারিস, আহমদ ইবনে ইসহাক আল-হাদরামি, আশহাল ইবনে হাতিম, জাকারিয়া ইবনে আদি, আবু সালেহ (লাইস ইবনে সা'দের লেখক) (৩), নাদর ইবনে শুমাইল, ওয়াহাব ইবনে জারির এবং মক্কা-মদিনা, খোরাসান, সিরিয়া, ইরাক ও মিশরে তাঁদের সমপর্যায়ের ব্যক্তিবর্গ (৪)। তিনি দামেস্কে আবু মুসহির আল-গাসসানি, মারওয়ান ইবনে মুহাম্মদ, আবদুল ওয়াহাব ইবনে সাঈদ আল-মুফতি, জাইদ ইবনে ইয়াহইয়া ইবনে উবাইদ আদ-দিমাশকি, মুহাম্মদ ইবনে আল-মুবারক আস-সুরি, আবদুল্লাহ ইবনে জাফর আর-রাক্কি, দুহাইম, আহমদ ইবনে আবদুর রহমান, কাসিম ইবনে কাসির, উবাইদুল্লাহ ইবনে আবদুল মাজিদ আল-হানাফি, তাঁর ভাই আবু বকর আবদুল কাবির, মুহাম্মদ ইবনে বকর আল-বুরসানি, মুহাম্মদ ইবনে কাসির আল-মাসিসি, আবদান ইবনে উসমান, নাদর ইবনে শুমাইল এবং ইয়াহইয়া ইবনে হাম্মাদের নিকট থেকে হাদীস শ্রবণ করেছেন।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
মুসনাদুদ দারেমী - তা. আয-যাহরানী
(পৃষ্ঠা: ২১)
ووهب بن حرب، وبشر بن عمر الزهراني، وأبي نعيم الفضل بن دكين، وخالد بن مخلد القطواني، ومحمد بن القاسم الأسدي، وسهل بن حماد الدلال، وأبي عاصم، والأسود بن عامر شاذان، وأبي عبد الرحمن المقرئ، وقبيصة بن عقبة، وعبيد الله بن موسى، وأبي النضر هاشم بن القاسم، ويونس بن محمد المؤدب، وعفان، ويعلى بن أسد، وأبي الوليد الطيالسي، ومنصور بن سلمة الخزاعي، وخلق سواهم (1)، وينزل إلى دحيم وخليفة ابن خياط (2).
حالته الاجتماعية:كان فتا نبيها ذا همة عالية، حتى عد رابع أربعة اشتهروا بالفتوة في المكارم وطلب لعلم، فتيان خراسان أربعة: الدارمي، والبخاري، وزكريا اللؤلئي، والحسن بن شجاع (3).
من تلاميذه:روى عنه خلق كثير بعضهم من أقرانه من أمثال:
الإمام مسلم، وأبو داود، والترمذي، وعبد بن حميد وهو أقدم منه، ورجاء بن مرجيالحافظ، والحسن بن الصباح البزار، ومحمد بن بشار بندار، ومحمد بن يحيى: وهم أكبر منه، وروى الترمذي أيضا عن محمد بن إسماعيل البخاري عنه، وبقيّ بن مخلد، وأبو زرعة، وأبو حاتم، وإبراهيم بن أبي طالب، وجعفر بن أحمد بن فارس، وجعفر الفريابي، وعمر بن محمد بن بجير، ومحمد بن النضر الجارودي، وعيسى بن عمر السمرقندي راوي مسنده عنه، وآخرون، ومحمد بن يحيى الذهلي، وقدم بغداد وحدث بها فروى عنه من أهلها:
صالح بن محمد المعروف بجزرة، وعبد الله بن احمد بن حنبل، ومحمد بن عبدوس بن كامل السراج، وروى عنه أيضا محمد بن عبد الله الحضرمي مطين قال الخطيب: وأراه سمع منه ببغداد وبالكوفة (4) والنسائي خارج سننه، وحفص بن أحمد بن فارس الأصبهاني، وعيسى بن عمر السمرقندي (5).
--------------------------------------------
ওয়াহব ইবনুল হারব, বিশর ইবনে উমর আয-যাহরানী, আবু নুয়াইম আল-ফাযল ইবনে দুকাইন, খালিদ ইবনে মাখলাদ আল-কাতওয়ানি, মুহাম্মাদ ইবনুল কাসিম আল-আসাদি, সাহল ইবনে হাম্মাদ আদ-দাল্লাল, আবু আসিম, আল-আসওয়াদ ইবনে আমির শাযান, আবু আবদুর রহমান আল-মুকরি, ক্বাবিসাহ ইবনে উক্ববাহ, উবাইদুল্লাহ ইবনে মুসা, আবু আন-নাযর হাশিম ইবনুল কাসিম, ইউনুস ইবনে মুহাম্মাদ আল-মুয়াদ্দিব, আফফান, ইয়ালা ইবনে আসাদ, আবু আল-ওয়ালিদ আত-তায়ালিসি, মানসুর ইবনে সালামাহ আল-খুযাই এবং এছাড়া আরও অনেকে (১), এবং তিনি দুহাইম ও খলিফা ইবনে খাইয়াত পর্যন্ত বর্ণনা করেছেন (২)।
তাঁর সামাজিক অবস্থা:তিনি ছিলেন উচ্চাকাঙ্ক্ষী এক তীক্ষ্ণধী যুবক, এমনকি তাঁকে আভিজাত্য ও ইলম অন্বেষণে বীরত্বের জন্য সুপরিচিত চারজনের চতুর্থজন হিসেবে গণ্য করা হতো। খোরাসানের বীর যুবক হলেন চারজন: আদ-দারিমি, আল-বুখারি, জাকারিয়া আল-লু’লু’ই এবং আল-হাসান ইবনে শুজা (৩)।
তাঁর ছাত্রগণ:তাঁর থেকে অসংখ্য লোক বর্ণনা করেছেন, যাঁদের মধ্যে কেউ কেউ তাঁর সমসাময়িক ছিলেন, যেমন:
ইমাম মুসলিম, আবু দাউদ, আত-তিরমিযী, আবদ ইবনে হুমাইদ—যিনি তাঁর চেয়ে বয়সে বড় ছিলেন, হাফেয রাজা ইবনে মুরজি, আল-হাসান ইবনে সাবাহ আল-বাযযার, মুহাম্মাদ ইবনে বাশশার বুন্দার এবং মুহাম্মাদ ইবনে ইয়াহইয়া: তাঁরা তাঁর চেয়ে বয়সে বড় ছিলেন। আত-তিরমিযী মুহাম্মাদ ইবনে ইসমাইল আল-বুখারির মাধ্যমেও তাঁর থেকে বর্ণনা করেছেন। এছাড়া বাকি ইবনে মাখলাদ, আবু যুরআহ, আবু হাতিম, ইবরাহিম ইবনে আবু তালিব, জাফর ইবনে আহমাদ ইবনে ফারিস, জাফর আল-ফিরইয়াবি, উমর ইবনে মুহাম্মাদ ইবনে বুজাইর, মুহাম্মাদ ইবনে নাযর আল-জারুদি, ঈসা ইবনে উমর আস-সামারকান্দি—যিনি তাঁর থেকে তাঁর মুসনাদ বর্ণনা করেছেন, এবং অন্যান্যরা। মুহাম্মাদ ইবনে ইয়াহইয়া আয-যুহলি। তিনি বাগদাদে আগমন করেন এবং সেখানে হাদীস বর্ণনা করেন, ফলে সেখানকার অধিবাসীদের মধ্যে তাঁর থেকে বর্ণনা করেছেন:
সালিহ ইবনে মুহাম্মাদ (যিনি জাযারাহ নামে পরিচিত), আবদুল্লাহ ইবনে আহমাদ ইবনে হাম্বল, মুহাম্মাদ ইবনে আবদুস ইবনে কামিল আস-সাররাজ। মুহাম্মাদ ইবনে আবদুল্লাহ আল-হাযরামি মুতাইনও তাঁর থেকে বর্ণনা করেছেন। আল-খতিব বলেন: আমার ধারণা তিনি তাঁর থেকে বাগদাদ ও কুফায় শ্রবণ করেছেন (৪)। এছাড়া নাসাঈ (তাঁর সুনান গ্রন্থের বাইরে), হাফস ইবনে আহমাদ ইবনে ফারিস আল-আসবাহানি এবং ঈসা ইবনে উমর আস-সামারকান্দি (৫)।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
মুসনাদুদ দারেমী - তা. আয-যাহরানী
(পৃষ্ঠা: ২২)
مكانته العلمية:كان إماما حافظا، ثقة فاضلا، أثنى عليه العلماء الكبار بما هو أهله وقال محمد بن بشاروهو من تلاميذ الدارمي: حفاظ الدنيا أربعة: أبو زرعة بالري، ومسلم بنيسابور، وعبدالله بن عبدالرحمن بسمرقند، ومحمد بن إسماعيل ببخاري، كان بندار يفتخر بكونهم حملوا عنه (1)، وقال رجاء بن مرجي وهو من تلاميذه أيضا: رأيت سليمان الشاذكوني وإسحاق بن راهويه - وسمَّى جماعة - فما رأيت أحفظ عن عبدالله الدارمي وقال أبو حاتم الرازي، محمد بن إسماعيل أعلم من دخل العراق، ومحمد بن يحيى أعلم من بخراسان اليوم، ومحمد بن أسلم أورعهم، وعبدالله بن عبدالرحمن أثبتهم (2)، وهنا نلاحظ أن أبا حاتم يرى الدارمي أثبت من البخاري وشيخه الذهلي، وهما إمامان عظيمان ولاسيما البخاري، وليس في هذا مبالغة من أبي حاتم، فالدارمي معدود من الأئمة الكبار يشهادة الآئمة أنفسهم، يقول أبو حامد بن الشرقي: إنما أخرجت خراسان من أئمة الحديث خمسة: محمد بن يحيى، ومحمد بن إسماعيل، وعبدالله بن عبدالرحمن، ومسلم بن الحجاج، وإبراهيم بن أبي طالب (3)، فالأول البخاري، والثاني الذهلي، والثالث الدارمي، والرابع مسلم بن الحجاج، وقال إسحاق بن داود السمرقندي: قدم قريب لي من الشاش فقال: أتيت ابن حنبل فجعلت أصف له بن المنذر، وجعلت أمدحه، فقال ابن حنبل: لا أعرف هذا، قد طالت غيبة إخواننا عنا، ولكن أين أنت عن عبد الله بن عبد الرحمن؟ عليك بذاك السيد، عليك بذاك السيد، عليك بذاك السيد: عبد الله بن عبد الرحمن، وقال رجاء بن جابر المرجى: رأيت ابن حنبل، وإسحاق، وبن المديني، والشاذكونى، فما رأيت أحفظ من عبد الله - يعني الدارمي - وقال: ما أعلم أحدا أعلم بحديث النبي صلى الله عليه وسلم من عبد الله بن عبد الرحمن (4)، وقال عبد الصمد بن سليمان الأعرج البلخي: سألت أحمد بن حنبل عن الحماني فقال: تركناه بقول عبد الله بن عبد الرحمن السمرقندي، لأنه إمام (5)، وقال محمد بن عبد الله بن المبارك المخرمي ببغداد: يا أهل خراسان،
--------------------------------------------
তার ইলমি মাকাম (বিদ্বান হিসেবে অবস্থান):তিনি ছিলেন একজন হাফেজ ইমাম, নির্ভরযোগ্য ও ফযীলতপূর্ণ ব্যক্তিত্ব। বড় বড় আলেমগণ তাকে তার যথাযথ মর্যাদা অনুযায়ী প্রশংসা করেছেন। দারেমির অন্যতম ছাত্র মুহাম্মদ ইবনে বাশশার বলেন: দুনিয়ার হাফেজ হলেন চারজন: রাই-এ আবু জুরআহ, নিশাপুরে মুসলিম, সমরকন্দে আবদুল্লাহ ইবনে আবদুর রহমান এবং বুখারায় মুহাম্মদ ইবনে ইসমাইল। বুন্দার (ইবনে বাশশার) গর্ববোধ করতেন যে, তারা সকলে তার কাছ থেকে হাদিস গ্রহণ করেছেন (১)। তার আরেক ছাত্র রাজা ইবনে মুরজি বলেন: আমি সুলাইমান আশ-শাজকুনি ও ইসহাক ইবনে রাহওয়াইহ-কে দেখেছি—এবং তিনি একদল আলেমের নাম উল্লেখ করেন—কিন্তু আমি আবদুল্লাহ আদ-দারেমির চেয়ে বড় হাফেজ আর কাউকে দেখিনি। আবু হাতিম আর-রাজি বলেন: ইরাকে প্রবেশকারীদের মধ্যে মুহাম্মদ ইবনে ইসমাইল সবচেয়ে বেশি জ্ঞানী, আজ খোরাসানে মুহাম্মদ ইবনে ইয়াহইয়া সবচেয়ে বড় আলেম, মুহাম্মদ ইবনে আসলাম তাদের মধ্যে সবচেয়ে বেশি পরহেজগার এবং আবদুল্লাহ ইবনে আবদুর রহমান তাদের মধ্যে সবচেয়ে বেশি সুদৃঢ় ও নির্ভরযোগ্য (২)। এখানে আমরা লক্ষ্য করি যে, আবু হাতিম দারেমিকে বুখারি এবং তার উস্তাদ জুহলি থেকেও বেশি নির্ভরযোগ্য মনে করতেন। যদিও তারা উভয়ই মহান ইমাম, বিশেষ করে বুখারি; আর আবু হাতিমের এই বক্তব্যে কোনো অতিরঞ্জন নেই, কারণ দারেমি খোদ ইমামদের সাক্ষ্যেই বড় ইমামদের অন্তর্ভুক্ত ছিলেন। আবু হামিদ ইবনুশ শারকি বলেন: খোরাসান হাদিসের ইমামদের মধ্য থেকে কেবল পাঁচজনকে তৈরি করেছে: মুহাম্মদ ইবনে ইয়াহইয়া, মুহাম্মদ ইবনে ইসমাইল, আবদুল্লাহ ইবনে আবদুর রহমান, মুসলিম ইবনুল হাজ্জাজ এবং ইব্রাহিম ইবনে আবি তালিব (৩)। এখানে প্রথমজন (বুখারি), দ্বিতীয়জন জুহলি, তৃতীয়জন দারেমি এবং চতুর্থজন মুসলিম ইবনুল হাজ্জাজ। ইসহাক ইবনে দাউদ আস-সমরকন্দি বলেন: শাশ থেকে আমার এক আত্মীয় এল এবং বলল: আমি ইবনে হাম্বলের কাছে গিয়ে ইবনে মুনজিরের কথা বলছিলাম এবং তার প্রশংসা করছিলাম। তখন ইবনে হাম্বল বললেন: আমি একে চিনি না, আমাদের ভাইরা দীর্ঘকাল আমাদের থেকে দূরে আছেন। কিন্তু তুমি আবদুল্লাহ ইবনে আবদুর রহমানের ব্যাপারে কোথায়? তুমি সেই সর্দারের কাছে যাও, তুমি সেই সর্দারের কাছে যাও, তুমি সেই সর্দারের কাছে যাও: তিনি হলেন আবদুল্লাহ ইবনে আবদুর রহমান। রাজা ইবনে জাবির আল-মুরজি বলেন: আমি ইবনে হাম্বল, ইসহাক, ইবনুল মাদিনি এবং শাজকুনিকে দেখেছি, তবে আমি আবদুল্লাহর—অর্থাৎ দারেমির—চেয়ে বড় হাফেজ আর কাউকে দেখিনি। তিনি আরও বলেন: নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের হাদিস সম্পর্কে আবদুল্লাহ ইবনে আবদুর রহমানের চেয়ে বেশি জ্ঞানী কাউকে আমি জানি না (৪)। আবদুস সামাদ ইবনে সুলাইমান আল-আরাজ আল-বালখি বলেন: আমি আহমদ ইবনে হাম্বলকে হিম্মানি সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করলে তিনি বললেন: আবদুল্লাহ ইবনে আবদুর রহমান আস-সমরকন্দির মতানুসারে আমরা তাকে বর্জন করেছি, কারণ তিনি একজন ইমাম (৫)। বাগদাদে মুহাম্মদ ইবনে আবদুল্লাহ ইবনে মোবারক আল-মাখরামি বলেন: হে খোরাসানবাসী,
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
মুসনাদুদ দারেমী - তা. আয-যাহরানী
(পৃষ্ঠা: ২৩)
ما دام عبد الله بن عبد الرحمن بين أظهركم فلا تشتغلوا بغيره (1)، وقال أبو سعيد الأشج: عبد الله بن عبدالرحمن إمامنا (2)، وقال عثمان بن أبي شيبة: أمْرُ عبدالله بن عبدالرحمن أعظم من ذاك، فيما يقولون من البُصر والحفظ وصيانة النفس عافاه الله (3)، وقال محمد بن عبدالله بن نمير: غلبنا عبدالله بن عبدالرحمن بالحفظ والورع (4)، وقال أبوحاتم: عبدالله ابن عبدالرحمن السمرقندي إمام أهل زمانه (5)، وكان يقصده الحفاظ لحديث «نعم الإدام الخل» وهو حديث صحيح غريب فرد على شرط الشيخين وانفرد مسلم به، ورواه أيضا أبوعيسى في جامعه كلاهما عن أبي محمد الدارمي تفرد به قال الدارمي: فكان يُدق عليّ الباب وأنا ببغداد فأقول من ذا فيقول يحيى بن حسان نعم الإدام الخل (6).
عقيدته:كان رحمه الله من أئمة أهل السنة والجماعة، على السنن القويم، والصراط المستقيم، لم يغمز في دينه، أوصى به الإمام أحمد إمام أهل السنة والجماعة، وقد أظهر علم الحديث والآثار بسمرقند، وذب عنها الكذب (7).
ذكر بعض صفاته:قال الذهبي: قد كان الدارمي ركنا من أركان الدين (8)، وكان على غاية العقل، وفي نهاية الفضل، يضرب به المثل في الديانة، والحلم والرزانة، والاجتهاد والعبادة، والتقلل والزهادة (9)، وكان ثقة زيادة، أثنى العلماء عليه خيرا (10)، وكان من أهل الصدق والورع والزهد (11)، قال الإمام أحمد
--------------------------------------------
যতদিন আবদুল্লাহ ইবনে আবদুর রহমান তোমাদের মাঝে আছেন, ততদিন তোমরা অন্য কারো প্রতি মনোনিবেশ করো না (১)। আবু সাঈদ আল-আশাজ বলেছেন: আবদুল্লাহ ইবনে আবদুর রহমান আমাদের ইমাম (২)। উসমান ইবনে আবি শায়বাহ বলেছেন: আবদুল্লাহ ইবনে আবদুর রহমানের বিষয়টি তার চেয়েও মহান যা মানুষ তার তীক্ষ্ণদৃষ্টি, মুখস্থশক্তি এবং আত্মসংযম সম্পর্কে বলে থাকে; আল্লাহ তাকে সুস্থ রাখুন (৩)। মুহাম্মদ ইবনে আবদুল্লাহ ইবনে নুমাইর বলেছেন: আবদুল্লাহ ইবনে আবদুর রহমান মুখস্থশক্তি ও পরহেজগারির দিক থেকে আমাদের ছাড়িয়ে গেছেন (৪)। আবু হাতিম বলেছেন: আবদুল্লাহ ইবনে আবদুর রহমান আস-সামারকান্দি তাঁর সমসাময়িকদের ইমাম ছিলেন (৫)। হাফেজগণ তাঁর কাছে আসতেন "সিরকা কতই না উত্তম তরকারি" হাদীসটির জন্য। এটি একটি সহীহ, গরীব ও একক বর্ণনা যা শায়খাইনের (বুখারী ও মুসলিম) শর্তানুসারে বর্ণিত এবং ইমাম মুসলিম এককভাবে এটি বর্ণনা করেছেন। আবু ঈসা (আত-তিরমিযী) তাঁর জামে গ্রন্থে এটি বর্ণনা করেছেন। তাঁরা উভয়েই আবু মুহাম্মদ আদ-দারিমি থেকে এটি বর্ণনা করেছেন, যা তিনি এককভাবে বর্ণনা করেছিলেন। আদ-দারিমি বলেন: আমি যখন বাগদাদে ছিলাম, তখন আমার দরজায় করাঘাত করা হতো। আমি বলতাম, "কে?" তখন ইয়াহইয়া ইবনে হাসসান বলতেন, "সিরকা কতই না উত্তম তরকারি" (৬)।
তাঁর আকিদাহ:তিনি (আল্লাহ তাঁর ওপর রহমত করুন) আহলুস সুন্নাহ ওয়াল জামাআতের ইমামদের অন্তর্ভুক্ত ছিলেন, সঠিক সুন্নাহ এবং সরল পথের ওপর প্রতিষ্ঠিত ছিলেন। তাঁর দ্বীনের ব্যাপারে কোনো ত্রুটি বা সমালোচনা করা হয়নি। আহলুস সুন্নাহ ওয়াল জামাআতের ইমাম, ইমাম আহমাদ তাঁর ব্যাপারে অসিয়ত করেছেন। তিনি সমরকন্দে হাদীস ও আসার (সাহাবীদের বাণী) প্রকাশ করেছিলেন এবং সেখান থেকে মিথ্যাকে বিতাড়িত করেছিলেন (৭)।
তাঁর কিছু গুণাবলির বর্ণনা:আয-যাহাবি বলেছেন: আদ-দারিমি দ্বীনের স্তম্ভগুলোর অন্যতম একজন স্তম্ভ ছিলেন (৮)। তিনি ছিলেন প্রজ্ঞার চরম শিখরে এবং মর্যাদার শেষ প্রান্তে। দ্বীনদারি, সহনশীলতা, গাম্ভীর্য, কঠোর পরিশ্রম, ইবাদত, অনাড়ম্বরতা এবং কৃচ্ছ্রসাধনায় তিনি উদাহরণ হিসেবে গণ্য হতেন (৯)। তিনি অত্যন্ত নির্ভরযোগ্য ছিলেন এবং ওলামায়ে কেরাম তাঁর উত্তম প্রশংসা করেছেন (১০)। তিনি সত্যবাদিতা, পরহেজগারি এবং দুনিয়াবিমুখতার অনুসারী ছিলেন (১১)। ইমাম আহমাদ বলেছেন
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
মুসনাদুদ দারেমী - তা. আয-যাহরানী
(পৃষ্ঠা: ২৪)
ابن حنبل وذكر عبد الله بن عبد الرحمن: هو ذاك السيد، ثم قال: عُرض عليّ الكفر فلم أقبل (1)، وعُرض عليه الدنيا فلم يقبل (2)، وقال محمد بن عبدالله بن نمير: غلبنا عبدالله بن عبدالرحمن بالحفظ والورع (3)، وقال محمد بن إبراهيم بن منصور الشيرازي كان عبدالله على غاية من العقل والديانة من يضرب به المثل في الحلم والدراية والحفظ والعبادة والزهادة أظهر علم الحديث والآثار بسمرقند وذب عنها الكذب وكان مفسرا كاملا وفقيها عالما (4)، وقال أبو حاتم بن حبان: كان الدارمي من الحفاظ المتقنين وأهل الورع في الدين ممن حفظ وجمع وثقفه وصنف وحدث وأظهر السنة ببلده ودعا إليها وذب عن حريمها وقمع من خالفها (5).
ألقابه العلمية:الإمام الحافظ شيخ الإسلام بسمرقند، الحافظ عالم سمرقند (6).
مناصبه:طلب ليكون قاضيا على سمرقند فأبى فالح عليه السلطان حتى تقلده وقضى قضية واحدة ثم استعفي فأعفي (7).
مؤلفاته:صنف المسند والتفسير والجامع (8)، ومسنده المذكور عالي السند وهو في طبقة منتخب مسند عبد بن حميد (9)، قال أحمد بن سيار المروزي الحافظ كان الدارمي حسن المعرفة قد دون المسند والتفسير (10).
--------------------------------------------
ইবন হাম্বল এবং আবদুল্লাহ ইবন আবদুর রহমান সম্পর্কে উল্লেখ করা হয়েছে: তিনি সেই নেতা। এরপর তিনি বলেন: আমার কাছে কুফরি পেশ করা হয়েছিল কিন্তু আমি তা গ্রহণ করিনি (১), আর তাঁর কাছে দুনিয়া পেশ করা হয়েছিল কিন্তু তিনি তা গ্রহণ করেননি (২)। মুহাম্মদ ইবন আবদুল্লাহ ইবন নুমাইর বলেন: আবদুল্লাহ ইবন আবদুর রহমান মুখস্থশক্তি ও খোদাভীতিতে আমাদের ছাড়িয়ে গেছেন (৩)। মুহাম্মদ ইবন ইবরাহিম ইবন মানসুর আল-শিরাজি বলেন: আবদুল্লাহ জ্ঞান-বুদ্ধি ও দীনদারীর চূড়ান্ত শিখরে ছিলেন, যার সহনশীলতা, বিচক্ষণতা, মুখস্থশক্তি, ইবাদত ও দুনিয়াবিমুখতার উদাহরণ দেওয়া হয়। তিনি সমরকন্দে হাদিস ও আছারের জ্ঞান প্রকাশ করেছিলেন এবং মিথ্যা থেকে তা রক্ষা করেছিলেন। তিনি একজন পূর্ণাঙ্গ মুফাসসির এবং বিজ্ঞ ফকিহ ছিলেন (৪)। আবু হাতিম ইবন হিব্বান বলেন: আদ-দারিমী ছিলেন অত্যন্ত দক্ষ হাফেজদের অন্তর্ভুক্ত এবং দীনের ক্ষেত্রে খোদাভীরু ব্যক্তিদের অন্যতম; যারা মুখস্থ করেছেন, সংকলন করেছেন, বিচক্ষণতা অর্জন করেছেন, গ্রন্থ রচনা করেছেন এবং বর্ণনা করেছেন। তিনি স্বদেশে সুন্নাহকে প্রকাশ করেছেন, এর দিকে আহ্বান জানিয়েছেন, এর মর্যাদা রক্ষা করেছেন এবং বিরোধীদের দমন করেছেন (৫)।
তাঁর জ্ঞানগত উপাধি:ইমাম, হাফেজ, সমরকন্দের শাইখুল ইসলাম, হাফেজ, সমরকন্দের আলেম (৬)।
তাঁর পদমর্যাদা:তাঁকে সমরকন্দের কাজি হওয়ার জন্য অনুরোধ করা হয়েছিল কিন্তু তিনি অস্বীকৃতি জানান। এরপর সুলতান তাঁকে বারবার পীড়াপীড়ি করেন যতক্ষণ না তিনি তা গ্রহণ করেন। তিনি মাত্র একটি বিচার সম্পন্ন করেন এবং এরপর অব্যাহতি চান, ফলে তাঁকে অব্যাহতি দেওয়া হয় (৭)।
তাঁর রচনাবলি:তিনি আল-মুসনাদ, আত-তাফসির এবং আল-জামি গ্রন্থ রচনা করেছেন (৮)। তাঁর উল্লেখিত মুসনাদটি উচ্চ সনদের অধিকারী এবং এটি 'মুনতাখাব মুসনাদ আবদ ইবন হুমাইদ'-এর স্তরের (৯)। হাফেজ আহমাদ ইবন সাইয়ার আল-মারওয়াযী বলেন: আদ-দারিমীর ইলম ও মা'রিফাত খুব চমৎকার ছিল, তিনি মুসনাদ ও তাফসির সংকলন করেছিলেন (১০)।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
মুসনাদুদ দারেমী - তা. আয-যাহরানী
(পৃষ্ঠা: ২৫)
وفاته:قال أحمد بن سيار: عبد الله بن عبد الرحمن أبو محمد، كان حسن المعرفة، قد دوَّن المسند والتفسير، مات في سنة خمس وخمسين - يعني ومائتين - يوم التروية بعد العصر، ودفن يوم عرفة وذلك في يوم الجمعة، وهو ابن خمس وسبعين سنة (1)، وقال أحمد بن ماهان البلخي الحافظ: مات عبد الله بن عبد الرحمن السمرقندي يوم عرفة، وذلك يوم الخميس ودفن يوم الجمعة، سنة خمس وخمسين ومائتين (2) قال إسحاق بن أحمد بن خلف كنا عند محمد بن إسماعيل البخاري فورد عليه كتاب فيه نعي عبدالله بن عبدالرحمن فنكسرأسه ثم رفع واسترجع وجعل تسيل دموعه على خديه ثم أنشأ يقول:
إن تبق تفع بالأحبة كلهم
… وفناء نفسك لا أبا لك أفجع
ثم قال إسحاق ما سمعناه ينشد إلا يجيء في الحديث (3) قلت: هذه مكانة الدارمي عند البخاري، رحمهم الله رحمة واسعة، ونسأله تعالى أن يرحمنا بمنه وكرمه وهو أرحم الراحمين.
--------------------------------------------
তাঁর মৃত্যু:আহমদ বিন সাইয়্যার বলেন: আবদুল্লাহ বিন আবদুর রহমান আবু মুহাম্মদ, তিনি প্রখর জ্ঞানের অধিকারী ছিলেন, তিনি মুসনাদ এবং তাফসীর সংকলন করেছেন। তিনি দুইশত পঞ্চান্ন হিজরী সালের তারওয়িয়াহর দিনে আসরের পর মৃত্যুবরণ করেন এবং জুমুআর দিনে আরাফাতের দিনে তাঁকে দাফন করা হয়, সে সময় তাঁর বয়স ছিল পঁচাত্তর বছর (১)। হাফেজ আহমদ বিন মাহান আল-বালখী বলেন: আবদুল্লাহ বিন আবদুর রহমান আস-সামারকান্দী আরাফাতের দিনে মৃত্যুবরণ করেন, সেটি ছিল বৃহস্পতিবার এবং তাঁকে জুমুআর দিনে দাফন করা হয়, সালটি ছিল দুইশত পঞ্চান্ন হিজরী (২)। ইসহাক বিন আহমদ বিন খালাফ বলেন: আমরা মুহাম্মদ বিন ইসমাইল আল-বুখারীর নিকট অবস্থান করছিলাম, এমতাবস্থায় তাঁর নিকট একটি পত্র আসল যাতে আবদুল্লাহ বিন আবদুর রহমানের মৃত্যু সংবাদ ছিল। তিনি তাঁর মাথা নিচু করলেন, এরপর মাথা তুলে ইস্তিরজা পাঠ করলেন (ইন্নালিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন পড়লেন) এবং তাঁর দুগাল বেয়ে অশ্রু প্রবাহিত হতে লাগল। এরপর তিনি আবৃত্তি করতে শুরু করলেন:
যদি আপনি বেঁচে থাকেন তবে সকল প্রিয়জনের বিয়োগব্যথা ভোগ করবেন
… আর আপনার নিজের জীবনের অবসান—হে পিতৃহীন—তা আরও অধিক বেদনাদায়ক।
এরপর ইসহাক বলেন: হাদীসে বর্ণিত হওয়া ব্যতীত আমরা তাঁকে অন্য সময় কবিতা আবৃত্তি করতে শুনিনি (৩)। আমি বলছি: ইমাম বুখারীর নিকট ইমাম দারিমীর মর্যাদা ছিল এমনই; আল্লাহ তাঁদের উভয়ের প্রতি প্রশস্ত রহমত বর্ষণ করুন। আমরা মহান আল্লাহর নিকট তাঁর অনুগ্রহ ও দয়া ভিক্ষা করি যেন তিনি আমাদের প্রতি রহমত করেন, আর তিনি সর্বশ্রেষ্ঠ দয়ালু।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
মুসনাদুদ দারেমী - তা. আয-যাহরানী
(পৃষ্ঠা: ২৬)
مقابلة المخطوطاتإن هذه النسخ يلتقي رواتها في أبي الوقت عبد الأول بن عيسى السجزي، كما تقدم بيانه والأصل المبني عليه من هذه المخطوطات هو نسخة رئيس الكتاب، وبالنسبة إليها ففي (د) نقص من الأول إلى جزء من حديث (102) بعد باب التورع عن الجواب فيما ليس فيه كتاب ولا سنة، وهذا النقص موجود في (ل) من الأول إلى جزء من حديث (102) ويؤكد هذا أن (ل) فرع عن (د) لحداثة الخط في (ل) وعدم تدوين السماعات، ولهذا رأيت الاستمرار في المقابلة بينهما، وفي (ك) قال: " رواية أبي عبد الله محمد بن محمد بن سرايا بن علي البلدي عنه " أي عن أبي الوقت، فيكون مشاركا لزكريا العلبي في الرواية عن أبي الوقت، وفي (م) قال: " رواية أبي بكر محمد بن مسعود بن بهروز، الطبيب المارستاني، عنه سماعا في شعبان سنةثلاث وخمسين وخمسمائة " أي عن أبي الوقت، فيكون مشاركا لزكريا العلبي وأبي عبد الله محمد بن محمد بن سرايا بن علي البلدي، في الرواية عن أبي الوقت، فنزل السند برواية الشيخة المسندة الأصيلة، ست الملوك فاطمة بنت العدل السعيد، تاج الدين أبي نصر، علي بن علي بن الحسين بن أبي البدر الكاتب عن أبي بكرمحمد بن مسعود سماعا في ذي القعدة من سنة ثلاث وثلاثين وستمائة، وهو الراوي عن أبي الوقت، وعنها رواية الشيخ المسند سراج الدين أبي حفص عمر بن علي بن عمر الفروي المقرئ المحدث عنها بقراءته عليها بباب المراتب شرقي بغداد في رجب سنة سبع وسبعمائة، في أربعة مجالس، رواية الكاتب عبد الرحمن بن محمد بن عبد الرحمن الاسفراييني، تاب الله عليه، عنه إجازة. وفي (و) بدأ بقوله: " هذا مسند الحافظ أبي محمد الدارمي رضي الله عنه " وعقب ذلك إجازة.
وفي (ف) بدأ بفهرس لبعض ما في المسند، وتعليقات عن السيوطي، وفي بداية الباب الأول خطأ.
وفي (ر/أ، ر/ب) قال: " أخبرنا الشيخ، الصالح الثقة، شمس الدين أبو العباس، أحمد بن عبد الله بن عبد الصمد بن عبد الرزاق، السلمي البغدادي، بقراءتي عليه، في ذي الحجة سنة ست وستمائة (ر/أ، سنة ست وستين وستمائة، ر/ب) بدمشق كلأها الله قيل له: " أخبركم الشيخ الثقة الأوحد المعمَّر، أبو الوقت .... " وساق سند الدارمي.
وفي (ع/أ) مثل (ت) في صفحة العنوان، وبدأ في (ع/ب) بالبسملة، باب ما كان عليه الناس
…
পাণ্ডুলিপিসমূহের তুলনানিশ্চয়ই এই পাণ্ডুলিপিগুলোর বর্ণনাকারীগণ আবুল ওয়াক্ত আব্দুল আউয়াল বিন ঈসা আল-সিজজি-এর সূত্রে মিলিত হয়েছেন, যেমনটি পূর্বে ব্যাখ্যা করা হয়েছে। আর এই পাণ্ডুলিপিগুলোর মধ্যে যেটিকে মূল ভিত্তি হিসেবে গ্রহণ করা হয়েছে, সেটি হলো 'রাইসুল কিতাব' পাণ্ডুলিপি। এর তুলনায় (দাল) পাণ্ডুলিপিতে শুরু থেকে ১০২ নম্বর হাদিসের একাংশ পর্যন্ত ঘাটতি রয়েছে, যা 'যে বিষয়ে কিতাব বা সুন্নাহর দলিল নেই সে বিষয়ে উত্তর প্রদানে বিরত থাকা' সংক্রান্ত অধ্যায়ের পরে অবস্থিত। এই ঘাটতিটি (লাম) পাণ্ডুলিপিতেও শুরু থেকে ১০২ নম্বর হাদিসের একাংশ পর্যন্ত বিদ্যমান। এটি নিশ্চিত করে যে (লাম) পাণ্ডুলিপিটি (দাল)-এর একটি শাখা, কারণ (লাম)-এর হস্তলিপি অপেক্ষাকৃত নতুন এবং এতে 'সামা' (শ্রবণ করার বিবরণ) লিপিবদ্ধ নেই। একারণে আমি উভয়ের মধ্যে তুলনা অব্যাহত রাখা সঙ্গত মনে করেছি। (কাফ) পাণ্ডুলিপিতে বলা হয়েছে: "এটি আবুল ওয়াক্ত থেকে আবু আব্দুল্লাহ মুহাম্মদ বিন মুহাম্মদ বিন সারায়া বিন আলী আল-বালাদির বর্ণনা।" অর্থাৎ তিনি আবুল ওয়াক্ত থেকে বর্ণনার ক্ষেত্রে জাকারিয়া আল-উলাবির সাথে অংশীদার। (মীম) পাণ্ডুলিপিতে বলা হয়েছে: "এটি আবুল ওয়াক্ত থেকে ৫৫৩ হিজরির শাবান মাসে শ্রবণের মাধ্যমে মারিস্তান হাসপাতালের চিকিৎসক আবু বকর মুহাম্মদ বিন মাসউদ বিন বাহরুজের বর্ণনা।" অর্থাৎ তিনি আবুল ওয়াক্ত থেকে বর্ণনার ক্ষেত্রে জাকারিয়া আল-উলাবি এবং আবু আব্দুল্লাহ মুহাম্মদ বিন মুহাম্মদ বিন সারায়া বিন আলী আল-বালাদির অংশীদার। অতঃপর সনদটি উচ্চপর্যায় থেকে নিচে নেমেছে নির্ভরযোগ্য ও মূল বর্ণনাকারী শায়খা সিততুল মুলুক ফাতিমা বিনত আদল সাঈদ তাজউদ্দীন আবু নাসর আলী বিন আলী বিন হুসাইন বিন আবুল বদর আল-কাতিবের বর্ণনার মাধ্যমে, যিনি ৬৩৩ হিজরির জিলকদ মাসে আবু বকর মুহাম্মদ বিন মাসউদের কাছ থেকে শ্রবণের মাধ্যমে বর্ণনা করেছেন এবং তিনি ছিলেন আবুল ওয়াক্তের বর্ণনাকারী। তাঁর থেকে বর্ণনা করেছেন শায়খ মুসনিদ সিরাজুদ্দীন আবু হাফস উমর বিন আলী বিন উমর আল-ফারুয়ি আল-মুকরি আল-মুহাদ্দিস; যিনি ৭০৭ হিজরির রজব মাসে বাগদাদের পূর্বাঞ্চলে 'বাবুল মারাতিব'-এ তাঁর নিকট পাঠের মাধ্যমে চারটি মজলিসে এটি সম্পন্ন করেছেন। এটি লেখক আব্দুর রহমান বিন মুহাম্মদ বিন আব্দুর রহমান আল-ইসফারাইনির বর্ণনা—আল্লাহ তাঁর তাওবা কবুল করুন—যা তিনি তাঁর থেকে ইজাজতসূত্রে প্রাপ্ত হয়েছেন। আর (ওয়াও) পাণ্ডুলিপিতে শুরুতে বলা হয়েছে: "এটি হাফেজ আবু মুহাম্মদ আল-দারেমী (আল্লাহ তাঁর প্রতি সন্তুষ্ট হোন)-এর মুসনাদ" এবং এর পরপরই ইজাজত বা অনুমতির উল্লেখ রয়েছে।
এবং (ফা) পাণ্ডুলিপিতে মুসনাদে বিদ্যমান কিছু বিষয়ের সূচিপত্র এবং সুয়ূতী থেকে গৃহীত কিছু টীকা দিয়ে শুরু হয়েছে, আর প্রথম অধ্যায়ের শুরুতে ভুল রয়েছে।
এবং (রা/আলিফ, রা/বা) পাণ্ডুলিপিতে বলা হয়েছে: "আমাদের সংবাদ দিয়েছেন শায়খ, সৎ ও নির্ভরযোগ্য, শামসুদ্দীন আবুল আব্বাস আহমদ বিন আব্দুল্লাহ বিন আব্দুস সামাদ বিন আব্দুর রাজ্জাক আল-সুলামি আল-বাগদাদি; দামেস্কে—আল্লাহ শহরটিকে হেফাজত করুন—৬০৬ হিজরির জিলহজ মাসে (রা/আলিফ-এ ৬৬৬ হিজরি, রা/বা) তাঁর নিকট আমার পাঠের মাধ্যমে। তাঁকে বলা হয়েছিল: 'আপনাকে কি সংবাদ দিয়েছেন অদ্বিতীয় ও দীর্ঘজীবী নির্ভরযোগ্য শায়খ আবুল ওয়াক্ত...?'" অতঃপর তিনি দারেমীর সনদটি বর্ণনা করেছেন।
এবং (আইন/আলিফ) পাণ্ডুলিপিটি শিরোনাম পৃষ্ঠার ক্ষেত্রে (তা)-এর মতো, আর (আইন/বা) বিসমিল্লাহ দিয়ে শুরু হয়েছে, এরপর: 'মানুষ যে অবস্থায় ছিল' সংক্রান্ত অধ্যায়
…
(খণ্ড: ১)
মুসনাদুদ দারেমী - তা. আয-যাহরানী
(পৃষ্ঠা: ২৭)
وما كان من سقط أوفروقات في هذه الأصول الخطية فقد بينته في موضعه أثناء التحقيق، فإذا كان الأمر متعلقا بكلمة واحدة فإني أضع على آخرها رقم التعليق، دون حصرها بين هلالين، وما زاد عن الكلمة أجعله بين علامتي تنصيص هكذا "
… " وإذا كان سقطا أكبر فبين معقوفين هكذا [ .... ] وما كان من دعاء نحو:
رضي الله عنهما، صلى الله عليه وسلم، كَرَّمَ اللهُ وَجْهَهُ، رضي الله عنه، رِضْوَانُ اللهِ عَلَيْهِ، حَدَّثَنَا، رضي الله عنها، عز وجل، أَنْبَأَ.
فأبقيه طلبا للثواب، وأطلب من الله العون في كل حال، وأسأله تمام كل عمل على الوجه يرضية، ولا أزعم الكمال فأنا كغيري من البشر يلحقني السهو والملل، ولا حول ولا قوة إلا بالله.
এই পাণ্ডুলিপি মূলগুলোতে কোনো বাদ পড়া অংশ বা পাঠভেদ থাকলে আমি তাহকিকের সময় তা নিজ নিজ স্থানে স্পষ্ট করেছি। যদি বিষয়টি কেবল একটি শব্দের সাথে সংশ্লিষ্ট হয়, তবে আমি তার শেষে টীকা নম্বর যোগ করেছি, কোনো বন্ধনী ব্যবহার না করেই। আর যদি শব্দের সংখ্যা বেশি হয়, তবে আমি তা উদ্ধৃতি চিহ্নের মধ্যে রেখেছি এভাবে "
… "। আর যদি বাদ পড়া অংশটি আরও বড় হয়, তবে আমি তা তৃতীয় বন্ধনীর মধ্যে রেখেছি এভাবে [ .... ]। আর দুআর ক্ষেত্রে যেমন:
আল্লাহ তাঁদের উভয়ের প্রতি সন্তুষ্ট হন, আল্লাহর দরুদ ও সালাম তাঁর ওপর বর্ষিত হোক, আল্লাহ তাঁর মুখমণ্ডলকে মহিমান্বিত করুন, আল্লাহ তাঁর প্রতি সন্তুষ্ট হন, আল্লাহর সন্তুষ্টি তাঁর ওপর বর্ষিত হোক, তিনি আমাদের হাদীস শুনিয়েছেন, আল্লাহ তাঁর প্রতি সন্তুষ্ট হন, তিনি মহাপরাক্রমশালী ও মহান, তিনি অবহিত করেছেন।
সওয়াবের আশায় আমি এগুলোকে বহাল রেখেছি। আমি সর্বাবস্থায় আল্লাহর সাহায্য কামনা করি এবং তাঁর কাছে প্রতিটি কাজ এমনভাবে সম্পন্ন করার তাওফিক চাই যা তাঁকে সন্তুষ্ট করে। আমি পূর্ণতার দাবি করি না, কেননা আমি অন্য সব মানুষের মতোই ভুল এবং ক্লান্তির ঊর্ধ্বে নই। আর আল্লাহর সাহায্য ছাড়া কোনো শক্তি বা সামর্থ্য নেই।
(খণ্ড: ১)
মুসনাদুদ দারেমী - তা. আয-যাহরানী
(পৃষ্ঠা: ২৮)
نماذج المخطوطاتمرتبة حسب التأريخ باختصار المعلومات عن كل مخطوطة.
1 - نسخة رئيس الكتاب سنة أربع وثلاثين وستمائة هـ، رمزها (ت).
2 - نسخة دار الكتب المصرية ليلة الثاني والعشرين من شهر ربيع الآخر سنة 735 هـ، رمزها (د).
3 - نسخة ليدن، 22 ربيع الآخر سنة 735 هـ، رمزها (ل).
4 - نسخة كوبر يلي، رمزها (ك) نص على عدد الأحاديث (3550 حديثا) والأبواب (1480) بابا، وعليها سماعات من تأريخ 553 هـ إلى سنة 832 هـ وقد قيد عليها في مواضع القراءة على: محمد بن الحسن بن محمد الفاقوسي (1).
5 - نسخة مراد ملا، بعد صلاة العصر من يوم الاثنين 11 ربيع الأول سنة 789 هـ، رابع شعبان سنة 833 هـ، رمزها (م).
6 - نسخة ولي الدين، يوم الأحد 13 محرم سنة 906 هـ، رمزها (و) خالية من التعليق.
7 - نسخة فيض الله يوم الخميس 1 رجب سنة 1105 هـ، رمزها (ف) خالية من أي تعليق.
8 - نسخة الرباط بدون تأريخ، رمزها (ر/أ).
9 - نسخة الرباط بدون تأريخ، رمزها (ر/ب) وفيها نقص من آخرها.
10 - نسخة مكتبة الملك عبد العزيز، رمزها (ع/أ) خالية من أي تعليق.
11 - نسخة مكتبة الملك عبد العزيز، رمزها (ع/ب) خالية من أي تعليق.
--------------------------------------------
পাণ্ডুলিপির নমুনাপ্রতিটি পাণ্ডুলিপি সম্পর্কে সংক্ষিপ্ত তথ্যসহ তারিখ অনুযায়ী ক্রমানুসারে বিন্যস্ত।
১ - রাইসুল কুতুব পাণ্ডুলিপি, ৬৩৪ হিজরী, এর সংকেত (ত)।
২ - মিশরীয় দারুল কুতুব পাণ্ডুলিপি, ৭৩৫ হিজরীর ২২শে রবিউস সানি রাত, এর সংকেত (দ)।
৩ - লাইডেন পাণ্ডুলিপি, ৭৩৫ হিজরীর ২২শে রবিউস সানি, এর সংকেত (ল)।
৪ - কোপ্রুলু পাণ্ডুলিপি, এর সংকেত (ক)। এতে হাদিস সংখ্যা (৩৫৫০টি হাদিস) এবং অধ্যায় সংখ্যা (১৪৮০টি) স্পষ্টভাবে উল্লেখ রয়েছে। এতে ৫৫৩ হিজরী থেকে ৮৩২ হিজরী পর্যন্ত পাঠ শ্রবণের (সামা’আত) টীকা রয়েছে এবং বেশ কিছু স্থানে মুহাম্মাদ বিন হাসান বিন মুহাম্মাদ আল-ফাকুসী (১)-এর নিকট পাঠ করার নোট রয়েছে।
৫ - মুরাদ মোল্লা পাণ্ডুলিপি, ৭৮৯ হিজরীর ১১ই রবিউল আউয়াল সোমবার আসরের নামাজের পর এবং ৮৩৩ হিজরীর ৪ঠা শাবান, এর সংকেত (ম)।
৬ - ওয়ালিউদ্দীন পাণ্ডুলিপি, ৯০৬ হিজরীর ১৩ই মহররম রবিবার, এর সংকেত (ও), এটি কোনো টীকা ছাড়াই।
৭ - ফয়জুল্লাহ পাণ্ডুলিপি, ১১০৫ হিজরীর ১লা রজব বৃহস্পতিবার, এর সংকেত (ফ), এটি যে কোনো প্রকার টীকা থেকে মুক্ত।
৮ - রাবাত পাণ্ডুলিপি, তারিখ বিহীন, এর সংকেত (র/অ)।
৯ - রাবাত পাণ্ডুলিপি, তারিখ বিহীন, এর সংকেত (র/ব), এর শেষ অংশে কিছু অসম্পূর্ণতা রয়েছে।
১০ - বাদশাহ আব্দুল আজিজ লাইব্রেরি পাণ্ডুলিপি, এর সংকেত (আ/অ), এটি কোনো টীকা ছাড়াই।
১১ - বাদশাহ আব্দুল আজিজ লাইব্রেরি পাণ্ডুলিপি, এর সংকেত (আ/ব), এটি কোনো টীকা ছাড়াই।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
মুসনাদুদ দারেমী - তা. আয-যাহরানী
(পৃষ্ঠা: ২৯)
[صورة]
[চিত্র]