(খণ্ড: ১) আল-জিহাদ - ইবনুল মুবারাক (পৃষ্ঠা: -)
الجهاد - ابن المبارك   (ابن المبارك)

القسم: كتب السنة


الكتاب: الجهاد لابن المبارك

المؤلف: أبو عبد الرحمن عبد الله بن المبارك بن واضح الحنظلي، التركي ثم المرْوزي (ت 181هـ)

حققه وقدم له وعلق عليه: د. نزيه حماد

الناشر: الدار التونسية - تونس

تاريخ النشر: 1972م

عدد الصفحات: 185

[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]

تاريخ النشر بالشاملة: 8 ذو الحجة 1431

আল-জিহাদ - ইবনুল মুবারক   (ইবনুল মুবারক)

বিভাগ: সুন্নাহর কিতাবসমূহ


গ্রন্থ: ইবনুল মুবারক রচিত আল-জিহাদ

লেখক: আবু আবদুর রহমান আবদুল্লাহ বিন আল-মুবারক বিন ওয়াদিহ আল-হানজালি, তুর্কি অতপর আল-মারওয়াজি (মৃত্যু ১৮১ হিজরি)

তাহকিক, ভূমিকা ও টীকা প্রদান করেছেন: ড. নাজিহ হাম্মাদ

প্রকাশক: আদ-দার আত-তুনিসিয়া - তিউনিসিয়া

প্রকাশের তারিখ: ১৯৭২ খ্রিষ্টাব্দ

পৃষ্ঠা সংখ্যা: ১৮৫

[গ্রন্থের নম্বরবিন্যাস মূল মুদ্রণের সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ]

শামিলাতে প্রকাশের তারিখ: ৮ জিলহজ ১৪৩১

(খণ্ড: ১) আল-জিহাদ - ইবনুল মুবারাক (পৃষ্ঠা: -)
ـ[الجهاد لابن المبارك]ـ

المؤلف: ابن المبارك

حققه وقدم له وعلق عليه د. نزيه حماد

الناشر: الدار التونسية - تونس

تاريخ النشر: 1972م

عدد الأجزاء: 1

[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع، وهو ضمن خدمة التخريج]
[আল-জিহাদ - ইবনুল মুবারক]

লেখক: ইবনুল মুবারক

সম্পাদনা, ভূমিকা ও টীকা প্রদান করেছেন: ড. নাযিহ হাম্মাদ

প্রকাশক: আদ-দারুত তিউনিসিয়া - তিউনিসিয়া

প্রকাশকাল: ১৯৭২ খ্রিষ্টাব্দ

খণ্ড সংখ্যা: ১

[বইটির নম্বর বিন্যাস মূল মুদ্রণের অনুরূপ এবং এটি তাখরিজ সেবার অন্তর্ভুক্ত]
(খণ্ড: ১) আল-জিহাদ - ইবনুল মুবারাক (পৃষ্ঠা: ٢٧)
1 - أَخْبَرَنَا الشَّيْخُ أَبُو الْحُسَيْنِ مُحَمَّدُ بْنُ أَحْمَدَ بْنِ مُحَمَّدٍ الْآبَنُوسِيُّ الصَّيْرَفِيُّ قِرَاءَةً عَلَيْهِ بِبَغْدَادَ، وَأَنَا حَاضِرٌ أَسْمَعُ فِي جُمَادَى الْأُولَى سَنَةَ خَمْسٍ وَخَمْسِينَ وَأَرْبَعِمِائَةٍ، قَالَ: أَخْبَرَنَا أَبُو إِسْحَاقَ إِبْرَاهِيمُ بْنُ مُحَمَّدِ بْنِ الْفَتْحِ الْجَلِيُّ الْمَصِّيصِيُّ، قَالَ: حَدَّثَنَا أَبُو يُوسُفَ مُحَمَّدُ بْنُ سُفْيَانَ بْنِ مُوسَى الصَّفَّارُ سَنَةَ سِتَّ عَشْرَةَ وَثَلَاثِمِائَةٍ بِالْمِصِّيصَةِ، قَالَ: حَدَّثَنَا سَعِيدُ بْنُ رَحْمَةَ أَبُو عُثْمَانَ، قَالَ: سَمِعْتُ عَبْدَ اللَّهِ بْنَ الْمُبَارَكِ قَالَ: أَخْبَرَنِي الْأَوْزَاعِيُّ قَالَ: حَدَّثَنِي يَحْيَى بْنُ أَبِي كَثِيرٍ قَالَ: حَدَّثَنِي هِلَالُ بْنُ أَبِي مَيْمُونَةَ، أَنَّ عَطَاءَ بْنَ يَسَارٍ حَدَّثَهُ، أَنَّ عَبْدَ اللَّهِ بْنَ سَلَامٍ حَدَّثَهُ، أَوْ قَالَ: حَدَّثَنِي أَبُو سَلَمَةَ بْنُ عَبْدِ الرَّحْمَنِ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ سَلَامٍ قَالَ: «تَذَاكَرْنَا بَيْنَنَا، فَقُلْنَا: أَيُّكُمْ يَأْتِي رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم يَسْأَلُهُ:‌‌ أَيُّ الْأَعْمَالِ أَحَبُّ إِلَى اللَّهِ عز وجل؟ قَالَ: فَهِبْنَا أَنْ يَقُولَ مِنَّا أَحَدٌ. قَالَ: فَأَرْسَلَ إِلَيْنَا رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم رَجُلًا رَجُلًا حَتَّى جَمَعَنَا، فَجَعَلَ يُشِيرُ بَعْضُنَا إِلَى بَعْضٍ، فَقَرَأَ عَلَيْنَا:» {سَبَّحَ لِلَّهِ مَا فِي السَّمَوَاتِ وَمَا فِي الْأَرْضِ وَهُوَ الْعَزِيزُ الْحَكِيمُ يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا لِمَ تَقُولُونَ مَا لَا تَفْعَلُونَ} مِنْ أَوَّلِهَا إِلَى آخِرِهَا " فَتَلَاهَا عَلَيْنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ سَلَامٍ مِنْ أَوَّلِهَا إِلَى آخِرِهَا. قَالَ هِلَالٌ: فَتَلَاهَا عَلَيْنَا عَطَاءُ بْنُ يَسَارٍ مِنْ أَوَّلِهَا إِلَى آخِرِهَا. قَالَ الْأَوْزَاعِيُّ: فَتَلَاهَا عَلَيْنَا يَحْيَى مِنْ أَوَّلِهَا إِلَى آخِرِهَا
১ - আমাদের সংবাদ দিয়েছেন শায়খ আবু আল-হুসাইন মুহাম্মদ ইবন আহমদ ইবন মুহাম্মদ আল-আবানুসি আল-সাইরাফি, বাগদাদে তাঁর নিকট পাঠ করার মাধ্যমে, এমতাবস্থায় আমি উপস্থিত থেকে শ্রবণ করছিলাম চারশত পঞ্চান্ন হিজরি সনের জুমাদাল উলা মাসে। তিনি বলেন: আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবু ইসহাক ইবরাহিম ইবন মুহাম্মদ ইবন আল-ফাতহ আল-জালি আল-মাসসিসি। তিনি বলেন: আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আবু ইউসুফ মুহাম্মদ ইবন সুফিয়ান ইবন মুসা আল-সাফফার তিনশত ষোল হিজরি সনে মাসসিসা নামক স্থানে। তিনি বলেন: আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন সাঈদ ইবন রাহমাহ আবু উসমান। তিনি বলেন: আমি আব্দুল্লাহ ইবনুল মুবারককে বলতে শুনেছি, তিনি বলেন: আমাকে সংবাদ দিয়েছেন আল-আওযায়ি, তিনি বলেন: আমাকে বর্ণনা করেছেন ইয়াহইয়া ইবন আবি কাসির, তিনি বলেন: আমাকে বর্ণনা করেছেন হিলাল ইবন আবি মাইমুনাহ যে, আতা ইবন ইয়াসার তাঁর কাছে বর্ণনা করেছেন যে, আব্দুল্লাহ ইবন সালাম তাঁর কাছে বর্ণনা করেছেন, অথবা তিনি বলেছেন: আবু সালামাহ ইবন আব্দুর রহমান আমার কাছে বর্ণনা করেছেন আব্দুল্লাহ ইবন সালাম থেকে, তিনি বলেন: “আমরা নিজেদের মধ্যে আলোচনা করছিলাম, অতঃপর আমরা বললাম: তোমাদের মধ্যে কে আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের নিকট গিয়ে তাঁকে জিজ্ঞাসা করবে:‌‌ কোন আমল মহান আল্লাহর নিকট সর্বাধিক প্রিয়? তিনি বলেন: তখন আমাদের মধ্য থেকে কেউ এটি বলতে ভয় পাচ্ছিলাম। তিনি বলেন: অতঃপর আল্লাহর রাসূল আমাদের নিকট সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম একজন একজন করে লোক পাঠালেন যতক্ষণ না তিনি আমাদের একত্রিত করলেন। তখন আমরা একে অপরের দিকে ইশারা করতে লাগলাম। অতঃপর তিনি আমাদের নিকট তিলাওয়াত করলেন: {আসমানসমূহে যা কিছু আছে এবং যমীনে যা কিছু আছে সব আল্লাহর পবিত্রতা ঘোষণা করছে, আর তিনি মহাপরাক্রমশালী, প্রজ্ঞাময়। হে মুমিনগণ! তোমরা কেন এমন কথা বলো যা তোমরা করো না?} প্রথম থেকে শেষ পর্যন্ত।” অতঃপর আব্দুল্লাহ ইবন সালাম আমাদের নিকট প্রথম থেকে শেষ পর্যন্ত এটি তিলাওয়াত করলেন। হিলাল বলেন: অতঃপর আতা ইবন ইয়াসার আমাদের নিকট প্রথম থেকে শেষ পর্যন্ত এটি তিলাওয়াত করলেন। আল-আওযায়ি বলেন: অতঃপর ইয়াহইয়া আমাদের নিকট প্রথম থেকে শেষ পর্যন্ত এটি তিলাওয়াত করলেন।
(খণ্ড: ১) আল-জিহাদ - ইবনুল মুবারাক (পৃষ্ঠা: ٢٨)
2 - حَدَّثَنَا أَبُو يُوسُفَ مُحَمَّدُ بْنُ سُفْيَانَ قَالَ: حَدَّثَنَا سَعِيدُ بْنُ رَحْمَةَ، قَالَ: حَدَّثَنَا ابْنُ المُبَارَكِ، عَنْ سُفْيَانَ، عَنْ مُحَمَّدِ بْنِ جُحَادَةَ، عَنْ أَبِي صَالِحٍ قَالَ: «قَالُوا:»‌‌ لَوْ كُنَّا نَعْلَمُ أَيَّ الْأَعْمَالِ أَفْضَلَ أَوْ أَحَبَّ إِلَى اللَّهِ، فَنَزَلَتْ: {يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا هَلْ أَدُلُّكُمْ عَلَى تِجَارَةٍ تُنْجِيكُمْ مِنْ عَذَابٍ أَلِيمٍ تُؤْمِنُونَ بِاللَّهِ وَرَسُولِهِ وَتُجَاهِدُونَ فِي سَبِيلِ اللَّهِ بِأَمْوَالِكُمْ وَأَنْفُسِكُمْ} [الصف: 11] فَكَرِهُوهَا، فَنَزَلَتْ: {يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا لِمَ تَقُولُونَ مَا لَا تَفْعَلُونَ كَبُرَ مَقْتًا عِنْدَ اللَّهِ أَنْ تَقُولُوا مَا لَا تَفْعَلُونَ إِنَّ اللَّهَ يُحِبُّ الَّذِينَ يُقَاتِلُونَ فِي سَبِيلِهِ صَفًّا كَأَنَّهُمْ بُنْيَانٌ مَرْصُوصٌ} [الصف: 2] ".
২ - আমাদের নিকট আবু ইউসুফ মুহাম্মদ ইবনে সুফিয়ান বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমাদের নিকট সাঈদ ইবনে রাহমাহ বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমাদের নিকট ইবনুল মুবারক সুফিয়ান থেকে, তিনি মুহাম্মদ ইবনে জুহাদাহ থেকে, তিনি আবু সালিহ থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: «তারা বলেছিল:»‌‌ ‘যদি আমরা জানতাম কোন আমলটি আল্লাহর নিকট অধিক উত্তম বা অধিক প্রিয়, তখন অবতীর্ণ হলো: {হে মুমিনগণ, আমি কি তোমাদেরকে এমন এক ব্যবসার সন্ধান দেব যা তোমাদেরকে যন্ত্রণাদায়ক শাস্তি থেকে রক্ষা করবে? তোমরা আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের প্রতি ঈমান আনবে এবং আল্লাহর পথে তোমাদের ধন-সম্পদ ও জীবন দিয়ে জিহাদ করবে} [আস-সাফ: ১১]। অতঃপর তারা তা অপছন্দ করল, তখন অবতীর্ণ হলো: {হে মুমিনগণ, তোমরা যা কর না তা কেন বল? তোমরা যা কর না তা বলা আল্লাহর নিকট অত্যন্ত অসন্তোষজনক। নিশ্চয়ই আল্লাহ তাদের ভালোবাসেন যারা তাঁর পথে সারিবদ্ধভাবে যুদ্ধ করে, যেন তারা এক সীসাঢালা সুদৃঢ় প্রাচীর} [আস-সাফ: ২]।"
(খণ্ড: ১) আল-জিহাদ - ইবনুল মুবারাক (পৃষ্ঠা: ٢٩)
3 - حَدَّثَنَا أَبُو يُوسُفَ مُحَمَّدُ قَالَ: حَدَّثَنَا سَعِيدُ بْنُ رَحْمَةَ، قَالَ: سَمِعْتُ عَبْدُ اللهِ بْنُ المُبَارَكِ، عَنِ ابْنِ جُرَيْجٍ، عَنْ مُجَاهِدٍ قَالَ: ‌‌«نَزَلَ قَوْلُهُ: {لِمَ تَقُولُونَ مَا لَا تَفْعَلُونَ} [الصف: 2] إِلَى قَوْلِهِ: {صَفًّا كَأَنَّهُمْ بُنْيَانٌ مَرْصُوصٌ} [الصف: 4] فِي نَفَرٍ مِنَ الْأَنْصَارِ مِنْهُمْ عَبْدُ اللَّهِ بْنُ رَوَاحَةَ، قَالُوا فِي مَجْلِسٍ: لَوْ نَعْلَمُ أَيَّ الْأَعْمَالِ أَحَبَّ إِلَى اللَّهِ لَعَمِلْنَا بِهِ حَتَّى نَمُوتَ. فَلَمَّا نَزَلَ فِيهِمْ ، فَقَالَ ابْنُ رَوَاحَةَ: لَا أَزَالُ حَبِيسًا فِي سَبِيلِ اللَّهِ حَتَّى أَمُوتَ. فَقُتِلَ شَهِيدًا»
৩ - আমাদের নিকট আবু ইউসুফ মুহাম্মদ বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেছেন: আমাদের নিকট সাঈদ ইবনে রাহমাহ বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেছেন: আমি আবদুল্লাহ ইবনুল মুবারককে বলতে শুনেছি, তিনি ইবনে জুরাইজ থেকে, আর তিনি মুজাহিদ থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: «মহান আল্লাহর বাণী: {তোমরা যা করো না, তা কেন বলো?} [আস-সাফ: ২] থেকে তাঁর এই বাণী পর্যন্ত: {সারিবদ্ধভাবে, যেন তারা একটি সীসাঢালা প্রাচীর} [আস-সাফ: ৪] অবতীর্ণ হয়েছে» আনসারদের একদল লোক সম্পর্কে, যাদের মধ্যে আবদুল্লাহ ইবনে রাওয়াহা ছিলেন। তারা এক মজলিসে বলেছিলেন: "যদি আমরা জানতাম কোন আমল আল্লাহর নিকট সবচেয়ে প্রিয়, তবে আমরা মৃত্যু পর্যন্ত সেই আমলই করতাম।" অতঃপর যখন তাদের সম্পর্কে এই আয়াতগুলো অবতীর্ণ হলো, তখন ইবনে রাওয়াহা বললেন: "আমি মৃত্যু পর্যন্ত আল্লাহর পথে নিজেকে আবদ্ধ রাখব।" অতঃপর তিনি শহীদ হিসেবে নিহত হলেন।
(খণ্ড: ১) আল-জিহাদ - ইবনুল মুবারাক (পৃষ্ঠা: ٢٩)
4 - حَدَّثَنَا أَبُو يُوسُفَ مُحَمَّدُ قَالَ: حَدَّثَنَا سَعِيدُ بْنُ رَحْمَةَ، قَالَ: سَمِعْتُ ابْنُ المُبَارَكِ، عَنْ مُحَمَّدِ بْنِ يَسَارٍ، عَنْ قَتَادَةَ أَنَّهُ تَلَا هَذِهِ الْآيَةَ: « ‌‌{إِنَّ اللَّهَ اشْتَرَى مِنَ الْمُؤْمِنِينَ أَنْفُسَهُمْ وَأَمْوَالَهُمْ بِأَنَّ لَهُمُ الْجَنَّةَ} [التوبة: 111] فَقَالَ: ثَامَنَهُمُ اللَّهُ فَأَغْلَى لَهُمْ»
৪ - আবু ইউসুফ মুহাম্মদ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: সাঈদ ইবনে রাহমাহ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমি ইবনুল মুবারক থেকে শুনেছি, তিনি মুহাম্মদ ইবনে ইয়াসার থেকে, তিনি কাতাদাহ থেকে বর্ণনা করেন যে, তিনি এই আয়াতটি তিলাওয়াত করলেন: « {নিশ্চয়ই আল্লাহ মুমিনদের থেকে তাদের জান ও মাল ক্রয় করে নিয়েছেন এই বিনিময়ে যে, তাদের জন্য রয়েছে জান্নাত।} [আত-তাওবাহ: ১১১] অতঃপর তিনি বললেন: আল্লাহ তাদের জন্য মূল্য নির্ধারণ করেছেন এবং তাদের জন্য তা বাড়িয়ে দিয়েছেন।»
(খণ্ড: ১) আল-জিহাদ - ইবনুল মুবারাক (পৃষ্ঠা: ٣٠)
5 - حَدَّثَنَا أَبُو يُوسُفَ مُحَمَّدُ قَالَ: حَدَّثَنَا سَعِيدُ بْنُ رَحْمَةَ، قَالَ: سَمِعْتُ عَبْدُ اللهِ بْنُ المُبَارَكِ، عَنْ سَعِيدِ بْنِ عَبْدِ الْعَزِيزِ قَالَ: حَدَّثَنِي رَبِيعَةُ بْنُ يَزِيدَ أَوِ ابْنُ حَلْبَسٍ أَنَّ أَبَا الدَّرْدَاءِ قَالَ: ‌‌«عَمَلٌ صَالِحٌ قَبْلَ الْغَزْوِ، فَإِنَّكُمْ إِنَّمَا تُقَاتِلُونَ بِأَعْمَالِكُمْ»
৫ - আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আবু ইউসুফ মুহাম্মদ, তিনি বলেন: আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন সাঈদ ইবনে রাহমাহ, তিনি বলেন: আমি আবদুল্লাহ ইবনুল মুবারক থেকে শুনেছি, তিনি সাঈদ ইবনে আবদুল আজিজ থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমাকে রাবিয়াহ ইবনে ইয়াজিদ অথবা ইবনে হালবাস বর্ণনা করেছেন যে, আবু দারদা বলেছেন: «যুদ্ধের পূর্বে নেক আমল করো, কারণ তোমরা তো কেবল তোমাদের আমলসমূহের সাহায্যেই যুদ্ধ করো»
(খণ্ড: ১) আল-জিহাদ - ইবনুল মুবারাক (পৃষ্ঠা: ٣٠)
6 - حَدَّثَنَا مُحَمَّدٌ قَالَ: حَدَّثَنَا سَعِيدُ بْنُ رَحْمَةَ، قَالَ: سَمِعْتُ ابْنُ المُبَارَكِ، عَنْ مَعْمَرٍ، وَيُونُسَ، عَنِ ابْنِ شِهَابٍ قَالَ: قَالَ أَبُو الدَّرْدَاءِ: ‌‌«الْقَتْلُ فِي سَبِيلِ اللَّهِ يَغْسِلُ الدَّرَنَ، وَالْقَتْلُ قَتْلَانِ كَفَّارَةٌ وَدَرَجَةٌ»
৬ - মুহাম্মাদ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: সাঈদ ইবন রাহমাহ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমি ইবনুল মুবারাক থেকে শুনেছি, তিনি মা'মার ও ইউনুস থেকে, তাঁরা ইবনু শিহাব থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আবু দারদা (রা.) বলেছেন: «আল্লাহর পথে শাহাদাত বরণ করা কলুষতা ধুয়ে ফেলে; আর শাহাদাত দুই প্রকার: পাপের কাফফারা ও উচ্চ মর্যাদা।»
(খণ্ড: ১) আল-জিহাদ - ইবনুল মুবারাক (পৃষ্ঠা: ٣٠)
7 - حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ سُفْيَانَ قَالَ: حَدَّثَنَا سَعِيدُ بْنُ رَحْمَةَ، قَالَ: سَمِعْتُ ابْنُ المُبَارَكِ، عَنْ صَفْوَانَ بْنِ عَمْرٍو، أَنَّ أَبَا الْمُثَنَّى الْأَمْلُوكِيَّ، حَدَّثَهُ أَنَّهُ سَمِعَ عُتْبَةَ بْنَ عَبْدٍ السُّلَمِيَّ وَكَانَ مِنْ أَصْحَابِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم قَالَ: ‌‌«الْقَتْلَى ثَلَاثَةُ رِجَالٍ: رَجُلٌ مُؤْمِنٌ جَاهَدَ بِنَفْسِهِ وَمَالِهِ فِي سَبِيلِ اللَّهِ، حَتَّى إِذَا لَقِيَ الْعَدُوَّ قَاتَلَهُمْ حَتَّى يُقْتَلَ، ذَلِكَ الشَّهِيدُ الْمُمْتَحَنُ فِي خَيْمَةِ اللَّهِ تَحْتَ عَرْشِهِ، لَا يَفْضُلُهُ النَّبِيُّونَ إِلَّا بِدَرَجَةِ النُّبُوَّةِ، وَرَجُلٌ مُؤْمِنٌ قَرَفَ عَلَى نَفْسِهِ مِنَ الذُّنُوبِ وَالْخَطَايَا جَاهَدَ بِنَفْسِهِ وَمَالِهِ فِي سَبِيلِ اللَّهِ، حَتَّى إِذَا لَقِيَ الْعَدُوَّ قَاتَلَ حَتَّى يُقْتَلَ، فَتِلْكَ مَصْمَصَةٌ مَحَتْ ذُنُوبَهُ وَخَطَايَاهُ، إِنَّ السَّيْفَ مَحَّاءٌ لِلْخَطَايَا، وَأُدْخِلَ مِنْ أَيِّ أَبْوَابِ الْجَنَّةِ شَاءَ، فَإِنَّ لَهَا ثَمَانِيَةَ أَبْوَابٍ، وَلِجَهَنَّمَ سَبْعَةُ أَبْوَابٍ، وَبَعْضُهَا أَسْفَلُ مِنْ بَعْضِ، وَرَجُلٌ مُنَافِقٌ جَاهَدَ بِنَفْسِهِ وَمَالِهِ فِي سَبِيلِ اللَّهِ، حَتَّى إِذَا لَقِيَ الْعَدُوَّ قَاتَلَ حَتَّى يُقْتَلَ، فَذَلِكَ فِي النَّارِ. إِنَّ السَّيْفَ لَا يَمْحُو النِّفَاقَ»
৭ - মুহাম্মাদ ইবনে সুফিয়ান আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: সাঈদ ইবনে রাহমাহ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমি ইবনুল মুবারক থেকে শুনেছি সাফওয়ান ইবনে আমরের সূত্রে যে, আবুল মুসান্না আল-আমলুকি তাকে বর্ণনা করেছেন যে, তিনি উতবাহ ইবনে আবদ আস-সুলামী (যিনি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সাহাবীদের অন্তর্ভুক্ত ছিলেন) থেকে শুনেছেন যে, আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: ‌‌«নিহত ব্যক্তিরা তিন প্রকারের লোক: একজন মুমিন ব্যক্তি যে আল্লাহর পথে নিজের জান ও মাল দিয়ে জিহাদ করেছে, এমনকি যখন সে শত্রুর মুখোমুখি হয়েছে তখন সে তাদের সাথে লড়াই করেছে যতক্ষণ না সে নিহত হয়েছে। সেই হলো পরীক্ষিত শহীদ, আল্লাহর তাঁবুতে তাঁর আরশের নিচে, নবীগণ নবুওয়াতের মর্যাদা ব্যতীত তার চেয়ে শ্রেষ্ঠ নন। এবং এমন একজন মুমিন ব্যক্তি যে নিজের উপর পাপাচার ও ত্রুটি করেছে কিন্তু আল্লাহর পথে নিজের জান ও মাল দিয়ে জিহাদ করেছে, এমনকি যখন সে শত্রুর মুখোমুখি হয়েছে তখন সে লড়াই করেছে যতক্ষণ না সে নিহত হয়েছে। এটি হলো একটি ধৌতকরণ যা তার গুনাহ ও ভুলগুলোকে মুছে দিয়েছে; নিশ্চয়ই তলোয়ার ভুলত্রুটি মোচনকারী। তাকে জান্নাতের যে কোনো দরজা দিয়ে ইচ্ছা প্রবেশ করানো হবে; কেননা জান্নাতের আটটি দরজা রয়েছে এবং জাহান্নামের সাতটি দরজা রয়েছে যার একটি অন্যটির নিচে। আর একজন মুনাফিক ব্যক্তি যে আল্লাহর পথে নিজের জান ও মাল দিয়ে জিহাদ করেছে, এমনকি যখন সে শত্রুর মুখোমুখি হয়েছে তখন সে লড়াই করেছে যতক্ষণ না সে নিহত হয়েছে; সে জাহান্নামে যাবে। নিশ্চয়ই তলোয়ার নিফাক বা কপটতা মোচন করে না।’»
(খণ্ড: ১) আল-জিহাদ - ইবনুল মুবারাক (পৃষ্ঠা: ٣١)
8 - حَدَّثَنَا مُحَمَّدٌ قَالَ: حَدَّثَنَا سَعِيدُ بْنُ رَحْمَةَ، قَالَ: سَمِعْتُ ابْنُ المُبَارَكِ، عَنْ عَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ يَزِيدَ بْنِ جَابِرٍ، عَنِ الْحَارِثِ بْنِ يَمْجُدَ، حَدَّثَهُ عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عُمَرَ قَالَ: ‌‌«النَّاسُ فِي الْغَزْوِ جُزْءَانِ: فَجُزْءٌ خَرَجُوا يُكْثِرُونَ ذِكْرَ اللَّهِ وَالتَّذْكِيرَ بِهِ، وَيَجْتَنِبُونَ الْفَسَادَ فِي الْمَسِيرِ، وَيُوَاسُونَ الصَّاحِبَ، وَيُنْفِقُونَ كَرَائِمَ أَمْوَالِهِمْ، فَهُمْ أَشَدُّ اغْتِبَاطًا بِمَا أَنْفَقُوا مِنْ أَمْوَالِهِمْ مِنْهُمْ بِمَا اسْتَفَادُوا مِنْ دُنْيَاهُمْ، وَإِذَا كَانُوا فِي مَوَاطِنِ الْقَتْلِ، اسْتَحْيُوا مِنَ اللَّهِ فِي تِلْكَ الْمَوَاطِنِ أَنْ يَطَّلِعَ عَلَى رِيبَةٍ فِي قُلُوبِهِمْ، أَوْ خِذْلَانٍ لِلْمُسْلِمِينَ، فَإِذَا قَدَرُوا عَلَى الْغُلُولِ طَهَّرُوا مِنْهُ قُلُوبَهُمْ، وَأَعْمَالَهُمْ. فَلَمْ يَسْتَطِعِ الشَّيْطَانُ أَنْ يَفْتِنَهُمْ، وَلَا يُكَلِّمَ قُلُوبَهُمْ، فَبِهِمْ يُعِزُّ اللَّهُ دِينَهُ، وَيَكْبِتُ عَدُوَّهُ. وَأَمَّا الْجُزْءُ الْآخَرُ، فَخَرَجُوا، فَلَمْ يُكْثِرُوا ذِكْرَ اللَّهِ، وَلَا التَّذْكِيرَ بِهِ، وَلَمْ يَجْتَنِبُوا الْفَسَادَ، وَلَمْ يُوَاسُوا الصَّاحِبَ، وَلَمْ يُنْفِقُوا أَمْوَالَهُمْ إِلَّا وَهُمْ كَارِهُونَ، وَمَا أَنْفَقُوا مِنْ أَمْوَالِهِمْ رَأَوْهُ مَغْرَمًا، وَحَزَّنَهُمْ بِهِ الشَّيْطَانُ فَإِذَا كَانُوا عِنْدَ مَوَاطِنِ الْقِتَالِ كَانُوا مَعَ الْآخِرِ الْآخِرِ، وَالْخَاذِلِ الْخَاذِلِ، وَاعْتَصَمُوا بِرُءُوسِ الْجَبَلِ، يَنْظُرُونَ مَا يَصْنَعُ النَّاسُ، فَإِذَا فَتَحَ اللَّهُ لِلْمُسْلِمِينَ، كَانُوا أَشَدَّهُمْ تَخَاطُبًا بِالْكَذِبِ، فَإِذَا قَدَرُوا عَلَى الْغُلُولِ اجْتَرَأُوا فِيهِ عَلَى اللَّهِ، وَحَدَّثَهُمُ الشَّيْطَانُ أَنَّهَا غَنِيمَةٌ، إِنْ أَصَابَهُمْ رَخَاءٌ بَطَرُوا، وَإنْ أَصَابَهُمْ حَبْسٌ فَتَنَهُمُ الشَّيْطَانُ بِالْعَرَضِ، فَلَيْسَ لَهُمْ مِنْ أَجْرِ الْمُؤْمِنِينَ شَيْءٌ، غَيْرُ أَنَّ أَجْسَادَهُمْ مَعَ أَجْسَادِهِمْ، وَمَسِيرَهُمْ مَعَ مَسِيرِهِمْ، دُنْيَاهُمْ وَأَعْمَالُهُمْ شَتَّى، حَتَّى يَجْمَعَهُمُ اللَّهُ يَوْمَ الْقِيَامَةِ، ثُمَّ يُفَرَّقُ بَيْنَهُمْ»
৮ - মুহাম্মদ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: সাঈদ ইবনে রাহমাহ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমি ইবনুল মুবারক থেকে শুনেছি, তিনি আবদুর রহমান ইবনে ইয়াজিদ ইবনে জাবির থেকে, তিনি আল-হারিস ইবনে ইয়ামজুদ থেকে, তিনি আবদুল্লাহ ইবনে উমর (রা.) থেকে বর্ণনা করেছেন যে তিনি বলেছেন: «যুদ্ধে অংশগ্রহণকারী মানুষ দুই প্রকার: এক প্রকারের লোক যারা বের হয় আল্লাহকে প্রচুর পরিমাণে স্মরণ করতে ও তাঁর কথা স্মরণ করিয়ে দিতে এবং তারা যাত্রাপথে ফাসাদ বর্জন করে চলে, সঙ্গীদের প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে এবং তাদের উত্তম সম্পদ ব্যয় করে। তারা তাদের ব্যয়কৃত সম্পদের জন্য ঐ সম্পদের চেয়েও অধিক আনন্দিত হয় যা তারা দুনিয়া থেকে অর্জন করেছে। আর যখন তারা যুদ্ধের ময়দানে উপস্থিত হয়, তখন তারা আল্লাহর নিকট এই লজ্জাবোধ করে যে, পাছে তিনি তাদের অন্তরে কোনো সংশয় অথবা মুসলিমদের প্রতি কোনো হীনতা বা অসহযোগিতা দেখতে পান। আর যখন তারা গণিমতের সম্পদ আত্মসাৎ করার সামর্থ্য রাখে, তখন তারা তা থেকে নিজেদের অন্তর ও আমলসমূহকে পবিত্র রাখে। ফলে শয়তান তাদের প্ররোচিত করতে পারে না এবং তাদের অন্তরে কোনো স্থান পায় না। আল্লাহ তাদের মাধ্যমেই তাঁর দ্বীনকে সম্মানিত করেন এবং তাঁর শত্রুকে অপদস্থ করেন। আর অন্য দলটি হলো তারা যারা বের হয় কিন্তু আল্লাহকে অধিক স্মরণ করে না এবং তাঁর কথা স্মরণ করিয়ে দেয় না। তারা ফাসাদ বর্জন করে না, সঙ্গীদের প্রতি সহানুভূতি প্রদর্শন করে না এবং অনিচ্ছা সত্ত্বেও ছাড়া সম্পদ ব্যয় করে না। তারা যা ব্যয় করে তাকে দণ্ড বা লোকসান মনে করে এবং শয়তান তা নিয়ে তাদের দুশ্চিন্তায় ফেলে দেয়। আর যখন তারা যুদ্ধের ময়দানে উপস্থিত হয়, তখন তারা একেবারে পেছনের সারিতে থাকে এবং পলায়নকারীদের অন্তর্ভুক্ত হয়। তারা পাহাড়ের চূড়ায় আশ্রয় নিয়ে দেখতে থাকে মানুষ কী করছে। অতঃপর যখন আল্লাহ মুসলিমদের বিজয় দান করেন, তখন তারা মিথ্যা কথা বলতে সবচেয়ে পটু হয়। আর যখন তারা আত্মসাৎ করার সুযোগ পায়, তখন তারা আল্লাহর অবাধ্য হয়ে তাতে ঝাঁপিয়ে পড়ে এবং শয়তান তাদের প্ররোচনা দেয় যে এটি নিছক গণিমত। যদি তারা সচ্ছলতা লাভ করে তবে দাম্ভিকতা প্রকাশ করে, আর যদি কোনো সংকটে পড়ে তবে শয়তান তাদের পার্থিব ভোগবিলাসের মোহে ফেলে দেয়। মুমিনদের সওয়াবের কোনো অংশই তাদের জন্য নেই, শুধু তাদের শরীরগুলো মুমিনদের শরীরের সাথে এবং তাদের যাত্রা মুমিনদের যাত্রার সাথে হয়ে থাকে। তাদের দুনিয়া এবং তাদের আমল ভিন্ন ভিন্ন, যতক্ষণ না আল্লাহ কিয়ামতের দিন তাদের একত্রিত করবেন, অতঃপর তাদের মধ্যে চিরস্থায়ী বিচ্ছেদ ঘটাবেন।»
(খণ্ড: ১) আল-জিহাদ - ইবনুল মুবারাক (পৃষ্ঠা: ٣٢)
9 - حَدَّثَنَا مُحَمَّدٌ قَالَ: حَدَّثَنَا سَعِيدُ بْنُ رَحْمَةَ، قَالَ: سَمِعْتُ ابْنُ المُبَارَكِ، عَنْ شُعْبَةَ، عَنِ السُّدِّيِّ، عَنْ مُرَّةَ قَالَ: «ذَكَرُوا عِنْدَ عَبْدِ اللَّهِ قَوْمًا قُتِلُوا فِي سَبِيلِ اللَّهِ، فَقَالَ: إِنَّهُ لَيْسَ عَلَى مَا تَذْهَبُونَ وَتَرَوْنَ أَنَّهُ‌‌ إِذَا الْتَقَى الزَّحْفَانِ نَزَلَتِ الْمَلَائِكَةُ، فَتَكْتُبُ النَّاسَ عَلَى مَنَازِلِهِمْ، فُلَانٌ يُقَاتِلُ لِلدُّنْيَا، وَفُلَانٌ يُقَاتِلُ لِلْمُلْكِ، وَفُلَانٌ يُقَاتِلُ لِلذِّكْرِ، وَنَحْوُ هَذَا، وَفُلَانٌ يُقَاتِلُ يُرِيدُ وَجْهَ اللَّهِ، فَمَنْ قُتِلَ يُرِيدُ وَجْهَ اللَّهِ فَذَلِكَ فِي الْجَنَّةِ»
৯ - আমাদের নিকট মুহাম্মাদ বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: সাঈদ ইবনে রাহমাহ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমি ইবনুল মুবারাক থেকে শুনেছি, তিনি শু'বাহ থেকে, তিনি সুদ্দী থেকে এবং তিনি মুররাহ থেকে বর্ণনা করেন যে, তিনি বলেন: «আব্দুল্লাহর নিকট এমন একদল লোক সম্পর্কে আলোচনা করা হলো যারা আল্লাহর পথে নিহত হয়েছে। তখন তিনি বললেন: "নিশ্চয়ই বিষয়টি তেমন নয় যেমনটি তোমরা মনে করো এবং ধারণা করো যে, যখন দুই বাহিনী মুখোমুখি হয়, তখন ফেরেশতাগণ অবতরণ করেন এবং মানুষকে তাদের নিজ নিজ অবস্থান অনুযায়ী লিপিবদ্ধ করেন। অমুক ব্যক্তি দুনিয়ার জন্য যুদ্ধ করছে, অমুক ব্যক্তি যুদ্ধ করছে রাজত্ব লাভের জন্য, অমুক ব্যক্তি যুদ্ধ করছে সুখ্যাতির জন্য এবং এই জাতীয় অন্য উদ্দেশ্যে। আর অমুক ব্যক্তি যুদ্ধ করছে আল্লাহর চেহারার প্রত্যাশায়। সুতরাং যে ব্যক্তি আল্লাহর চেহারার প্রত্যাশায় নিহত হয়, সেই জান্নাতি।"»
(খণ্ড: ১) আল-জিহাদ - ইবনুল মুবারাক (পৃষ্ঠা: ٣٣)
10 - حَدَّثَنَا مُحَمَّدٌ قَالَ: حَدَّثَنَا سَعِيدُ بْنُ رَحْمَةَ، قَالَ: سَمِعْتُ ابْنُ المُبَارَكِ، عَنْ مَعْمَرٍ، عَنِ الزُّهْرِيِّ، أَنَّ عُمَرَ بْنَ الْخَطَّابِ خَرَجَ عَلَى مَجْلِسٍ فِي مَسْجِدِ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم، وَهُمْ يَتَذَاكَرُونَ سَرِيَّةً هَلَكَتْ فِي سَبِيلِ اللَّهِ، فَيَقُولُ بَعْضُهُمْ: هُمْ عُمَّالُ اللَّهِ، هَلَكُوا فِي سَبِيلِهِ، فَقَدْ وَجَبَ أَوْ وَقَعَ أَجْرُهُمْ عَلَى اللَّهِ، وَيَقُولُ قَائِلٌ: اللَّهُ أَعْلَمُ بِهِمْ، لَهُمْ مَا احْتَسَبُوا. فَلَمَّا رَآهُمْ عُمَرُ قَالَ لَهُمْ: مَا كُنْتُمْ تَتَحَدَّثُونَ؟ قَالُوا: كُنَّا نَتَحَدَّثُ فِي هَذِهِ السَّرِيَّةِ، فَيَقُولُ قَائِلٌ كَذَا، وَيَقُولُ قَائِلٌ كَذَا، فَقَالَ عُمَرُ: وَاللَّهِ إِنَّ‌‌ مِنَ النَّاسِ نَاسًا يُقَاتِلُونَ ابْتِغَاءَ الدُّنْيَا، وَإِنَّ مِنَ النَّاسِ نَاسًا يُقَاتِلُونَ رِيَاءً وَسُمْعَةً، وَإِنَّ مِنَ النَّاسِ نَاسًا يُقَاتِلُونَ إِنْ دَهَمَهُمُ الْقِتَالُ، وَلَا يَسْتَطِيعُونَ إِلَّا إِيَّاهُ، وَإِنَّ مِنَ النَّاسِ نَاسًا يُقَاتِلُونَ ابْتِغَاءَ وَجْهِ اللَّهِ، أُولَئِكَ الشُّهَدَاءُ، وَكُلُّ امْرِئٍ مِنْهُمْ يُبْعَثُ عَلَى الَّذِي يَمُوتُ عَلَيْهِ، وَإِنَّهَا وَاللَّهِ مَا تَدْرِي نَفْسٌ مَا هُوَ مَفْعُولٌ بِهَا، لَيْسَ هَذَا الرَّجُلُ الَّذِي قَدْ تَبَيَّنَ لَنَا أَنَّهُ قَدْ غُفِرَ لَهُ مَا تَقَدَّمَ مِنْ ذَنْبِهِ وَمَا تَأَخَّرَ "
10 - আমাদের কাছে মুহাম্মাদ বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমাদের কাছে সাঈদ ইবনু রাহমাহ বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমি ইবনুল মুবারক থেকে শুনেছি, তিনি মা’মার থেকে, তিনি যুহরী থেকে বর্ণনা করেন যে, উমর ইবনুল খাত্তাব রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর মসজিদে একটি মজলিসের পাশ দিয়ে যাচ্ছিলেন; এমতাবস্থায় তারা আল্লাহর রাস্তায় প্রাণ হারানো (শহীদ হওয়া) একটি সেনাদল সম্পর্কে আলোচনা করছিলেন। তাদের কেউ বলছিলেন: তারা আল্লাহর কর্মী ছিল, তারা তাঁর রাস্তায় প্রাণ হারিয়েছে, সুতরাং আল্লাহর পক্ষ থেকে তাদের পুরস্কার অবধারিত বা সাব্যস্ত হয়ে গেছে। আবার কেউ বলছিলেন: আল্লাহই তাদের সম্পর্কে ভালো জানেন, তারা যা প্রত্যাশা করেছিল তা-ই তারা পাবে। উমর যখন তাদের দেখলেন, তখন বললেন: তোমরা কী বিষয়ে আলোচনা করছিলে? তারা বলল: আমরা এই সেনাদল সম্পর্কে আলোচনা করছিলাম; কেউ এমন কথা বলছিল, আর কেউ তেমন কথা বলছিল। তখন উমর বললেন: আল্লাহর কসম, নিশ্চয়ই মানুষের মধ্যে এমন কিছু লোক আছে যারা দুনিয়া লাভের উদ্দেশ্যে লড়াই করে, আর মানুষের মধ্যে এমন কিছু লোক আছে যারা লোকদেখানো ও সুখ্যাতির জন্য লড়াই করে, আর মানুষের মধ্যে এমন কিছু লোক আছে যারা লড়াই করে যখন যুদ্ধ তাদের ওপর আপতিত হয় এবং তারা লড়াই করা ছাড়া আর কোনো উপায় পায় না। আর মানুষের মধ্যে এমন কিছু লোক আছে যারা আল্লাহর চেহারা লাভের উদ্দেশ্যে লড়াই করে; তারাই হলো শহীদ। তাদের প্রত্যেক ব্যক্তিকে সেই অবস্থার ওপর পুনরুত্থিত করা হবে যার ওপর সে মৃত্যুবরণ করেছে। আল্লাহর কসম, কোনো আত্মা জানে না তার সাথে কী করা হবে, কেবল এই ব্যক্তি (রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) ব্যতীত যার ব্যাপারে আমাদের কাছে সুস্পষ্ট হয়েছে যে, তাঁর পূর্বের ও পরের সমস্ত গুনাহ ক্ষমা করে দেওয়া হয়েছে।
(খণ্ড: ১) আল-জিহাদ - ইবনুল মুবারাক (পৃষ্ঠা: ٣٣)
11 - حَدَّثَنَا مُحَمَّدٌ قَالَ: حَدَّثَنَا سَعِيدُ بْنُ رَحْمَةَ، قَالَ: سَمِعْتُ ابْنُ المُبَارَكِ، عَنْ مَعْمَرٍ، عَنِ الزُّهْرِيِّ قَالَ: أَخْبَرَنِي سَعِيدُ بْنُ الْمُسَيِّبِ، أَنَّ أَبَا هُرَيْرَةَ قَالَ: سَمِعْتُ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم يَقُولُ: «إِنَّ‌‌ مَثَلَ الْمُجَاهِدِ فِي سَبِيلِ اللَّهِ - وَاللَّهُ أَعْلَمُ بِمَنْ يُجَاهِدُ فِي سَبِيلِهِ - كَمَثَلِ الْقَائِمِ الصَّائِمِ الْخَاشِعِ الرَّاكِعِ السَّاجِدِ»
১১ - মুহাম্মদ আমাদের নিকট হাদীস বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: সাঈদ ইবনে রাহমাহ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমি ইবনুল মুবারক থেকে শুনেছি, তিনি মা'মার থেকে, তিনি যুহরী থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: সাঈদ ইবনুল মুসাইয়্যিব আমাকে সংবাদ দিয়েছেন যে, আবু হুরায়রা (রা.) বলেছেন: আমি আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে বলতে শুনেছি: «নিশ্চয়‌‌ আল্লাহর পথে জিহাদকারীর উদাহরণ—আর আল্লাহই ভালো জানেন কে তাঁর পথে জিহাদ করে—সেই ব্যক্তির ন্যায় যে (সালাতে) দণ্ডায়মান, সিয়াম পালনকারী ও বিনীত রুকুকারী ও সিজদাকারী।»
(খণ্ড: ১) আল-জিহাদ - ইবনুল মুবারাক (পৃষ্ঠা: ٣٤)
12 - حَدَّثَنَا مُحَمَّدٌ قَالَ: حَدَّثَنَا سَعِيدُ بْنُ رَحْمَةَ، قَالَ: سَمِعْتُ ابْنُ المُبَارَكِ، عَنْ مَعْمَرٍ، عَنْ عَبْدِ الْكَرِيمِ الْجَزَرِيِّ، عَنْ طَاوُسٍ قَالَ: «قَالَ رَجُلٌ لِرَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم:‌‌ إِنِّي أَقِفُ الْمَوَاقِفَ أُرِيدُ وَجْهَ اللَّهِ، وَأُحِبُّ أَنْ يُرَى مَوْطِنِي، فَلَمْ يَرُدَّ عَلَيْهِ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ شَيْئًا حَتَّى نَزَلَتْ هَذِهِ الْآيَةُ: {فَمَنْ كَانَ يَرْجُو لِقَاءَ رَبِّهِ فَلْيَعْمَلْ عَمَلًا صَالِحًا وَلَا يُشْرِكْ بِعِبَادَةِ رَبِّهِ أَحَدًا} [الكهف: 110] »
১২ - আমাদের নিকট মুহাম্মদ বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমাদের নিকট সাঈদ ইবনে রাহমাহ বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমি ইবনুল মুবারক থেকে শুনেছি, তিনি মা’মার থেকে, তিনি আব্দুল কারীম আল-জাজারী থেকে, তিনি তাউস থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: «এক ব্যক্তি আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে বললেন: "আমি এমন সব অবস্থানে দাঁড়াই যেখানে আমি আল্লাহর চেহারা কামনা করি এবং আমি ভালোবাসি যে আমার অবস্থান দেখা হোক।" তখন আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাকে কোনো জবাব দিলেন না, যতক্ষণ না এই আয়াতটি অবতীর্ণ হলো: {কাজেই যে তার রবের সাক্ষাৎ কামনা করে, সে যেন সৎকাজ করে এবং তার রবের ইবাদতে কাউকে শরিক না করে} [আল-কাহাফ: ১১০] »
(খণ্ড: ১) আল-জিহাদ - ইবনুল মুবারাক (পৃষ্ঠা: ٣٤)
13 - حَدَّثَنَا مُحَمَّدٌ قَالَ: حَدَّثَنَا سَعِيدُ بْنُ رَحْمَةَ، قَالَ: سَمِعْتُ ابْنُ المُبَارَكِ، عَنْ مُحَمَّدِ بْنِ عَجْلَانَ، عَنْ زَيْدٍ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم قَالَ: ‌‌«مَثَلُ الْمُجَاهِدِ فِي سَبِيلِ اللَّهِ كَالصَّائِمِ الْقَائِمِ بِآيَاتِ اللَّهِ آنَاءَ اللَّيْلِ وَآنَاءَ النَّهَارِ، مِثْلُ هَذِهِ الْأُسْطُوَانَةِ»
১৩ - আমাদের নিকট মুহাম্মাদ বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমাদের নিকট সাঈদ ইবনে রাহমাহ বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমি ইবনুল মুবারককে বলতে শুনেছি, তিনি মুহাম্মাদ ইবনে আজলান থেকে, তিনি যায়দ থেকে, তিনি আবু হুরাইরা থেকে, তিনি নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: «আল্লাহর পথে জিহাদকারীর দৃষ্টান্ত হলো সেই সিয়াম পালনকারী ও আল্লাহর আয়াতসমূহ তিলাওয়াতের মাধ্যমে রাত ও দিনের বিভিন্ন প্রহরে সালাতে দণ্ডায়মান ব্যক্তির ন্যায়; এই স্তম্ভের ন্যায়।»
(খণ্ড: ১) আল-জিহাদ - ইবনুল মুবারাক (পৃষ্ঠা: ٣٤)
14 - حَدَّثَنَا مُحَمَّدٌ قَالَ: حَدَّثَنَا سَعِيدُ بْنُ رَحْمَةَ، قَالَ: سَمِعْتُ ابْنُ المُبَارَكِ، عَنِ الرَّبِيعِ بْنِ صُبَيْحٍ، عَنِ الْحَسَنِ أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم بَعَثَ جَيْشًا فِيهِمْ عَبْدُ اللَّهِ بْنُ رَوَاحَةَ، فَغَدَا الْجَيْشُ، وَأَقَامَ عَبْدُ اللَّهِ بْنُ رَوَاحَةَ لِيَشْهَدَ الصَّلَاةَ مَعَ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم، فَلَمَّا قَضَى النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم صَلَاتَهُ قَالَ: «يَا ابْنَ رَوَاحَةَ، أَلَمْ تَكُنْ فِي الْجَيْشِ» ؟ قَالَ: بَلَى يَا رَسُولَ اللَّهِ، وَلَكِنِّي أَحْبَبْتُ أَنْ أَشْهَدَ الصَّلَاةَ مَعَكَ، وَقَدْ عَلِمْتُ مَنْزِلَهُمْ فَأَرُوحُ وَأُدْرِكُهُمْ قَالَ: «وَالَّذِي نَفْسِي فِي يَدِهِ‌‌ لَوْ أَنْفَقَتَ مَا فِي الْأَرْضِ مَا أَدْرَكْتَ فَضْلَ غَدْوَتِهِمْ»
১৪ - আমাদের নিকট মুহাম্মদ বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমাদের নিকট সাঈদ ইবনে রাহমাহ বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমি ইবনুল মুবারক থেকে শুনেছি, তিনি রাবী ইবনে সাবিহ থেকে, তিনি হাসান (বসরী) থেকে বর্ণনা করেন যে, আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) এক সৈন্যদল প্রেরণ করেন যাতে আবদুল্লাহ ইবনে রাওয়াহাও ছিলেন। অতঃপর সৈন্যদলটি সকালে রওয়ানা হলো, কিন্তু আবদুল্লাহ ইবনে রাওয়াহা আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর সাথে সালাতে শরিক হওয়ার জন্য থেকে গেলেন। যখন নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) তাঁর সালাত শেষ করলেন, তিনি বললেন: «হে ইবনে রাওয়াহা, তুমি কি সৈন্যদলের সাথে ছিলে না?» তিনি বললেন: অবশ্যই হে আল্লাহর রাসূল, কিন্তু আমি আপনার সাথে সালাতে শরিক হওয়া পছন্দ করেছি। আমি তাদের গন্তব্যস্থল জানি, তাই আমি রওয়ানা হয়ে তাদের ধরে ফেলব। তিনি বললেন: «সেই সত্তার শপথ যাঁর হাতে আমার প্রাণ রয়েছে‌‌ তুমি যদি পৃথিবীতে যা কিছু আছে তার সবটুকুও ব্যয় করতে, তবুও তুমি তাদের সেই সকালবেলায় রওয়ানা হওয়ার ফজিলত অর্জন করতে পারতে না।»
(খণ্ড: ১) আল-জিহাদ - ইবনুল মুবারাক (পৃষ্ঠা: ٣٥)
15 - حَدَّثَنَا مُحَمَّدٌ قَالَ: حَدَّثَنَا سَعِيدُ بْنُ رَحْمَةَ، قَالَ: سَمِعْتُ ابْنُ المُبَارَكِ، عَنِ الْقَاسِمِ بْنِ الْفَضْلِ، عَنْ مُعَاوِيَةَ بْنِ قُرَّةَ قَالَ: «كَانَ يُقَالُ‌‌ لِكُلِّ أُمَّةٍ رَهْبَانِيَّةٌ، وَرَهْبَانِيَّةُ هَذِهِ الْأُمَّةِ الْجِهَادُ فِي سَبِيلِ اللَّهِ»
১৫ - মুহাম্মাদ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: সাঈদ ইবনে রাহমাহ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমি ইবনুল মুবারাক থেকে শুনেছি, আল-কাসিম ইবনুল ফাদল থেকে বর্ণিত, মুয়াবিয়া ইবনে কুররাহ থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: “বলা হতো: ‘প্রত্যেক উম্মতের জন্য বৈরাগ্যবাদ রয়েছে, আর এই উম্মতের বৈরাগ্যবাদ হলো আল্লাহর পথে জিহাদ।’”
(খণ্ড: ১) আল-জিহাদ - ইবনুল মুবারাক (পৃষ্ঠা: ٣٥)
16 - حَدَّثَنَا مُحَمَّدٌ قَالَ: حَدَّثَنَا ابْنُ رَحْمَةَ، قَالَ: سَمِعْتُ ابْنُ المُبَارَكِ، عَنْ سُفْيَانَ، عَنْ زَيْدٍ الْعَمِّيِّ، عَنْ أَبِي إِيَاسٍ، عَنْ أَنَسِ بْنِ مَالِكٍ، عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم قَالَ: «إِنَّ‌‌ لِكُلِّ أُمَّةٍ رَهْبَانِيَّةً، وَرَهْبَانِيَّةُ هَذِهِ الْأُمَّةِ الْجِهَادُ فِي سَبِيلِ اللَّهِ»
১৬ - মুহাম্মাদ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: ইবনে রাহমাহ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমি ইবনুল মুবারককে বলতে শুনেছি, তিনি সুফিয়ান থেকে, তিনি যায়েদ আল-আম্মী থেকে, তিনি আবু ইয়াস থেকে, তিনি আনাস ইবনে মালিক থেকে এবং তিনি নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেছেন: «নিশ্চয়ই প্রত্যেক উম্মতের জন্য বৈরাগ্যবাদ রয়েছে, আর এই উম্মতের বৈরাগ্যবাদ হলো আল্লাহর পথে জিহাদ।»
(খণ্ড: ১) আল-জিহাদ - ইবনুল মুবারাক (পৃষ্ঠা: ٣٦)
17 - أَخْبَرَنَا مُحَمَّدٌ قَالَ: حَدَّثَنَا ابْنُ رَحْمَةَ، قَالَ: سَمِعْتُ ابْنُ المُبَارَكِ، عَنِ ابْنِ لَهِيعَةَ قَالَ: أَخْبَرَنِي عُمَارَةُ بْنُ غَزِيَّةَ أَنَّ السِّيَاحَةَ، ذُكِرَتْ عِنْدَ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم، فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم: ‌‌«أَبْدَلْنَا اللَّهُ بِذَلِكَ الْجِهَادَ فِي سَبِيلِ اللَّهِ، وَالتَّكْبِيرَ عَلَى كُلِّ شَرَفٍ»
১৭ - মুহাম্মাদ আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, তিনি বলেছেন: ইবনু রাহমাহ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেছেন: আমি ইবনুল মুবারাক থেকে শুনেছি, তিনি ইবনু লাহিয়াহ থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: উমারাহ ইবনু গাযিয়্যাহ আমাকে সংবাদ দিয়েছেন যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর নিকট সন্ন্যাসবাদ বা বিবাগী হয়ে ঘুরে বেড়ানো সম্পর্কে আলোচনা করা হলো, তখন আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বললেন: «আল্লাহ আমাদেরকে এর পরিবর্তে আল্লাহর পথে জিহাদ এবং প্রত্যেক উচ্চ ভূমিতে তাকবীর পাঠ করার বিধান দান করেছেন»
(খণ্ড: ১) আল-জিহাদ - ইবনুল মুবারাক (পৃষ্ঠা: ٣٦)
18 - حَدَّثَنَا مُحَمَّدٌ قَالَ: حَدَّثَنَا ابْنُ رَحْمَةَ، قَالَ: سَمِعْتُ ابْنُ المُبَارَكِ، عَنِ الضَّحَّاكِ بْنِ عُثْمَانَ قَالَ: حَدَّثَنِي الْحَكَمُ بْنُ مِينَا قَالَ: سَمِعْتُ أَبَا هُرَيْرَةَ يَقُولُ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم: ‌‌«رَوْحَةٌ فِي سَبِيلِ اللَّهِ أَوْ غُدْوَةٌ خَيْرٌ مِنَ الدُّنْيَا وَمَا فِيهَا، أَوْ مَا عَلَيْهَا»

 

⦗ص: 37⦘

19 - حَدَّثَنَا مُحَمَّدٌ قَالَ: حَدَّثَنَا ابْنُ رَحْمَةَ، قَالَ: سَمِعْتُ ابْنُ المُبَارَكِ، عَنِ الْمُبَارَكِ بْنِ فَضَالَةَ، عَنِ الْحَسَنِ، عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم نَحْوَهُ
১৮ - মুহাম্মাদ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: ইবনে রাহমাহ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমি ইবনুল মুবারক থেকে শুনেছি, তিনি আদ-দাহহাক বিন উসমান থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আল-হাকাম বিন মিনা আমাকে হাদীস শুনিয়েছেন, তিনি বলেন: আমি আবু হুরায়রাকে বলতে শুনেছি, তিনি বলেন: আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন: «আল্লাহর পথে এক সন্ধ্যা অথবা এক সকাল অতিবাহিত করা দুনিয়া এবং এর মধ্যে যা কিছু আছে, অথবা এর উপরে যা কিছু আছে তার চেয়ে উত্তম।»

 

⦗পৃষ্ঠা: ৩৭⦘

১৯ - মুহাম্মাদ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: ইবনে রাহমাহ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমি ইবনুল মুবারক থেকে শুনেছি, তিনি আল-মুবারক বিন ফাদ্বালাহ থেকে, তিনি আল-হাসান থেকে, তিনি নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) থেকে অনুরূপ বর্ণনা করেছেন।
(খণ্ড: ১) আল-জিহাদ - ইবনুল মুবারাক (পৃষ্ঠা: ٣٧)
20 - حَدَّثَنَا مُحَمَّدٌ قَالَ: حَدَّثَنَا ابْنُ رَحْمَةَ، قَالَ: سَمِعْتُ ابْنُ المُبَارَكِ، عَنِ ابْنِ عَوْنٍ، عَنْ هِلَالِ بْنِ أَبِي زَيْنَبَ، عَنْ شَهْرِ بْنِ حَوْشَبٍ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ قَالَ: «ذُكِرَ الشُّهَدَاءُ عِنْدَ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم فَقَالَ:»‌‌ لَا تَجِفُّ الْأَرْضُ مِنْ دَمِهِ حَتَّى تَبْتَدِرَهُ زَوْجَتَاهُ كَأَنَّهُمَا ظِئْرَانِ أَضَلَّتَا فَصِيلَهُمَا فِي بَرَاحٍ مِنَ الْأَرْضِ بَيْدَاءَ، وَفِي يَدِ كُلِّ وَاحِدَةٍ مِنْهُمَا حُلَّةٌ خَيْرٌ مِنَ الدُّنْيَا وَمَا فِيهَا "
২০ - মুহাম্মদ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: ইবনে রহমাহ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমি ইবনুল মুবারক থেকে শুনেছি, তিনি ইবনে আউন থেকে, তিনি হেলাল বিন আবি জয়নাব থেকে, তিনি শাহর বিন হাওশাব থেকে, তিনি আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণনা করেন যে, তিনি বলেছেন: নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর নিকট শহীদদের কথা আলোচনা করা হলে তিনি বললেন: «শহীদের রক্ত দ্বারা মাটি শুকানোর পূর্বেই তার (জান্নাতী) দুই স্ত্রী তার দিকে এমনভাবে দ্রুত ধাবিত হয়, যেন তারা এমন দুটি স্তন্যদাত্রী উটনী যারা এক উন্মুক্ত বিস্তীর্ণ মরুপ্রান্তরে তাদের শাবককে হারিয়ে ফেলেছে। আর তাদের প্রত্যেকের হাতে এমন একটি পোশাক থাকবে যা দুনিয়া ও তার মধ্যস্থিত সকল কিছুর চেয়েও উত্তম।"
(খণ্ড: ১) আল-জিহাদ - ইবনুল মুবারাক (পৃষ্ঠা: ٣٧)
21 - حَدَّثَنَا مُحَمَّدٌ قَالَ: حَدَّثَنَا ابْنُ رَحْمَةَ، قَالَ: سَمِعْتُ ابْنُ المُبَارَكِ، عَنْ سُفْيَانَ بْنِ عُيَيْنَةَ، عَنِ ابْنِ أَبِي نَجِيحٍ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عُبَيْدِ بْنِ عُمَيْرٍ اللَّيْثِيِّ قَالَ: ‌‌«إِذَا الْتَقَى الصَّفَّانِ أَهْبَطَ اللَّهُ الْحُورَ الْعِينَ إِلَى السَّمَاءِ الدُّنْيَا، فَإِذَا رَأَيْنَ الرَّجُلَ يَرْضَيْنَ مَقْدَمَهُ، قُلْنَ: اللَّهُمَّ ثَبِّتْهُ. فَإِنْ نَكَصَ احْتَجَبْنَ مِنْهُ، وَإِنْ هُوَ قُتِلَ نَزَلْنَ إِلَيْهِ، فَمَسَحَنَ عَنْ وَجْهِهِ التُّرَابَ، وَقُلْنَ: اللَّهُمَّ عَفِّرْ مَنْ عَفَّرَهُ، وَتَرِّبْ مَنْ تَرَّبَهُ»
২১ - মুহাম্মদ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেছেন: ইবনে রাহমাহ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেছেন: আমি ইবনুল মুবারককে সুফিয়ান ইবনে উইয়াইনাহ থেকে, তিনি ইবনে আবি নাজিহ থেকে এবং তিনি আবদুল্লাহ ইবনে উবাইদ ইবনে উমাইর আল-লাইসি থেকে বর্ণনা করতে শুনেছি, তিনি বলেছেন: «যখন (রণক্ষেত্রে) দুটি সারি পরস্পর মুখোমুখি হয়, তখন আল্লাহ ডাগর চোখের হুরদের দুনিয়ার আসমানে নামিয়ে আনেন। অতঃপর তারা যখন কোনো ব্যক্তিকে দেখে এবং তার অগ্রযাত্রায় সন্তুষ্ট হয়, তখন তারা বলে: হে আল্লাহ! তাকে অবিচল রাখুন। কিন্তু সে যদি পিছু হটে, তবে তারা তার থেকে পর্দার আড়ালে চলে যায়। আর সে যদি নিহত হয়, তবে তারা তার কাছে নেমে আসে এবং তার চেহারা থেকে ধুলোবালি মুছে দেয় ও বলে: হে আল্লাহ! যে তাকে ধুলোমলিন করেছে আপনি তাকে ধুলোমলিন করুন, আর যে তাকে ধুলোয় ধূসরিত করেছে আপনি তাকে ধুলোয় ধূসরিত করুন।»
(খণ্ড: ১) আল-জিহাদ - ইবনুল মুবারাক (পৃষ্ঠা: ٣٨)
22 - حَدَّثَنَا مُحَمَّدٌ قَالَ: حَدَّثَنَا ابْنُ رَحْمَةَ، قَالَ: سَمِعْتُ ابْنُ المُبَارَكِ، عَنْ زَائِدَةَ بْنِ قُدَامَةَ، عَنْ مَنْصُورٍ، عَنْ مُجَاهِدٍ قَالَ: «كَانَ يَزِيدُ بْنُ شَجَرَةَ مِمَّا يُذَكِّرُنَا فَيَبْكِي، وَيُصَدِّقُ بُكَاءَهُ بِفِعْلِهِ، وَيَقُولُ: يَا أَيُّهَا النَّاسُ‌‌ اذْكُرُوا نِعْمَةَ اللَّهِ عَلَيْكُمْ، مَا أَحْسَنَ أَثَرَ نِعْمَةِ اللَّهِ عَلَيْكُمْ فَلَوْ تَرَوْنَ مَا أَرَى مِنْ بَيْنِ أَصْفَرَ وَأَحْمَرَ وَأَبْيَضَ وَأَسْوَدَ، وَفِي الرِّحَالِ مَا فِيهَا، إِنَّ الصَّلَاةَ إِذَا أُقِيمَتْ، فُتِحَتْ أَبْوَابُ السَّمَاءِ، وَأَبْوَابُ الْجَنَّةِ، وَأَبْوَابُ النَّارِ، فَإِذَا الْتَقَى الصَّفَّانِ، فُتِحَتْ أَبْوَابُ السَّمَاءِ، وَأَبْوَابُ الْجَنَّةِ، وَأَبْوَابُ النَّارِ، وَزُيِّنَ الْحُورُ الْعِينُ، فَاطَّلَعْنَ، فَإِذَا أَقْبَلَ الرَّجُلُ بِوَجْهِهِ، قُلْنَ: اللَّهُمَّ ثَبِّتْهُ، اللَّهُمَّ أَعِنْهُ. فَإِذَا أَدْبَرَ احْتَجَبْنَ مِنْهُ، وَقُلْنَ: اللَّهُمَّ اغْفِرْ لَهُ. فَانْهَكُوا وُجُوهَ الْقَوْمِ، فِدَاكُمْ أَبِي وَأُمِّي، وَلَا تُخْزُوا الْحُورَ الْعِينَ، فَإِذَا قُتِلَ، كَانَتْ أَوَّلُ نَفْحَةٍ مِنْ دَمِهِ تَحُطُّ عَنْهُ خَطَايَاهُ كَمَا يَحُطُّ الْوَرَقُ مِنْ غُصْنِ الشَّجَرَةِ، وَتَنْزِلُ إِلَيْهِ اثْنَتَانِ فَتَمْسَحَانِ عَنْ وَجْهِهِ، وَقُلْنَ: قَدْ أَنَّى لَكَ. وَقَالَ لَهُمَا: قَدْ أَنَّى لَكُمَا. ثُمَّ كُسِيَ مِائَةَ حُلَّةٍ، لَوْ جَعَلَهَا بَيْنَ أُصْبُعَيْهِ لَوَسِعَتْ، لَيْسَ مِنْ نَسْجِ بَنِي آدَمَ، وَلَكِنْ مِنْ نَبْتِ الْجَنَّةِ»
২২ - মুহাম্মদ আমাদের বলেছেন, তিনি বলেছেন: ইবনে রাহমাহ আমাদের বলেছেন, তিনি বলেছেন: আমি ইবনুল মুবারাককে বলতে শুনেছি, তিনি যায়েদাহ ইবনে কুদামা থেকে, তিনি মানসুর থেকে, তিনি মুজাহিদ থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: «ইয়াযিদ ইবনে শাজারা আমাদের যখন নসিহত করতেন তখন কাঁদতেন, এবং তিনি তাঁর আমল দ্বারা তাঁর ক্রন্দনকে সত্য বলে প্রমাণ করতেন। তিনি বলতেন: হে লোকসকল! তোমাদের প্রতি আল্লাহর নেয়ামত স্মরণ করো। তোমাদের ওপর আল্লাহর নেয়ামতের প্রভাব কতই না সুন্দর! আমি যা দেখছি তোমরা যদি তা দেখতে পেতে— হলুদ, লাল, সাদা ও কালোর মধ্য হতে, আর হাওদাগুলোর মাঝে যা কিছু রয়েছে। নিশ্চয়ই যখন সালাত কায়েম করা হয়, তখন আকাশের দরজাসমূহ, জান্নাতের দরজাসমূহ এবং জাহান্নামের দরজাসমূহ উন্মুক্ত করে দেওয়া হয়। আর যখন (রণক্ষেত্রে) দুই কাতার মুখোমুখি হয়, তখন আকাশের দরজাসমূহ, জান্নাতের দরজাসমূহ এবং জাহান্নামের দরজাসমূহ উন্মুক্ত করে দেওয়া হয় এবং আয়তলোচনা হুরগণকে সুসজ্জিত করা হয়। তারা উঁকি দিয়ে দেখে; অতঃপর যখন কোনো ব্যক্তি সম্মুখপানে অগ্রসর হয়, তখন তারা বলে: ‘হে আল্লাহ, তাকে অবিচল রাখুন; হে আল্লাহ, তাকে সাহায্য করুন।’ আর যখন সে পৃষ্ঠপ্রদর্শন করে, তখন তারা তার থেকে নিজেদের আবৃত করে নেয় এবং বলে: ‘হে আল্লাহ, তাকে ক্ষমা করুন।’ সুতরাং তোমরা সেই সম্প্রদায়ের মুখমণ্ডলসমূহকে পর্যুদস্ত করো, তোমাদের জন্য আমার পিতা ও মাতা উৎসর্গিত হোক। আর তোমরা আয়তলোচনা হুরগণকে লজ্জিত করো না। অতঃপর সে যখন নিহত হয়, তখন তার রক্তের প্রথম ধারাটিই তার থেকে তার পাপসমূহকে ঝরিয়ে দেয়, যেমনিভাবে বৃক্ষশাখা থেকে পাতা ঝরে পড়ে। আর তার কাছে দু’জন হুর নেমে আসে এবং তারা তার মুখমণ্ডল মুছে দেয় ও বলে: ‘তোমার সময় হয়েছে।’ সেও তাদের বলে: ‘তোমাদেরও সময় হয়েছে।’ এরপর তাকে একশ জোড়া পোশাক পরানো হয়, যা সে তার দুই আঙুলের মাঝে রাখলেও সংকুলান হয়ে যাবে। এগুলো বনী আদমের বুননকৃত নয়, বরং জান্নাতের উদ্ভিদ থেকে উৎপন্ন।»
(খণ্ড: ১) আল-জিহাদ - ইবনুল মুবারাক (পৃষ্ঠা: ٣٩)
23 - حَدَّثَنَا مُحَمَّدٌ قَالَ: حَدَّثَنَا ابْنُ رَحْمَةَ، قَالَ: سَمِعْتُ ابْنُ المُبَارَكِ، عَنْ حُمَيْدٍ الطَّوِيلِ، عَنْ أَنَسِ بْنِ مَالِكٍ قَالَ: ‌‌«غَدْوَةٌ فِي سَبِيلِ اللَّهِ أَوْ رَوْحَةٌ خَيْرٌ مِنَ الدُّنْيَا وَمَا فِيهَا، وَلَقَابُ قَوْسٍ أَوْ قِيدُ أَحَدِكُمْ فِي الْجَنَّةِ خَيْرٌ مِنَ الدُّنْيَا وَمَا فِيهَا، وَلَوْ أَنَّ امْرَأَةً مِنْ نِسَاءِ أَهْلِ الْجَنَّةِ اطَّلَعَتْ إِلَى الْأَرْضِ لَأَضَاءَتْ مَا بَيْنَهُمَا، وَلَمَلَأَتِ الْأَرْضَ طِيبًا، وَلَنَصِيفُهَا خَيْرٌ مِنَ الدُّنْيَا وَمَا فِيهَا»
২৩ - মুহাম্মাদ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: ইবনু রাহমাহ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমি ইবনুল মুবারককে বলতে শুনেছি, তিনি হুমাইদ আত-তবিল থেকে, তিনি আনাস ইবনু মালিক (রাযিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: «আল্লাহর পথে এক সকাল অথবা এক সন্ধ্যা অতিবাহিত করা দুনিয়া এবং এর মধ্যে যা কিছু আছে তার চেয়ে উত্তম। আর জান্নাতে তোমাদের কারো এক ধনুক পরিমাণ জায়গা অথবা একটি চাবুক রাখার স্থান দুনিয়া এবং এর মধ্যে যা কিছু আছে তার চেয়ে উত্তম। আর যদি জান্নাতী নারীদের কোনো একজন নারী পৃথিবীর দিকে উঁকি দিত, তবে সে আসমান ও যমীনের মধ্যবর্তী স্থানকে আলোকিত করে দিত এবং তা সুগন্ধে আমোদিত করে দিত। আর তার মাথার ওড়না দুনিয়া এবং এর মধ্যে যা কিছু আছে তার চেয়ে উত্তম।»
(খণ্ড: ১) আল-জিহাদ - ইবনুল মুবারাক (পৃষ্ঠা: ٤٠)
24 - حَدَّثَنَا مُحَمَّدٌ قَالَ: حَدَّثَنَا ابْنُ رَحْمَةَ، قَالَ: سَمِعْتُ ابْنُ المُبَارَكِ، عَنِ الْأَوْزَاعِيِّ قَالَ: حَدَّثَنِي حَسَّانُ بْنُ عَطِيَّةَ، أَنَّ سَعِيدَ بْنَ عَامِرٍ قَالَ: ‌‌«لَوْ أَنَّ خَيْرَةً مِنْ خَيْرَاتٍ حِسَانٍ اطَّلَعَتْ مِنَ السَّمَاءِ لَأَضَاءَتْ لَهَا الْأَرْضُ، وَلَقَهَرَ ضَوْءُ وَجْهِهَا الشَّمْسَ وَالْقَمَرَ، وَلَنَصِيفٌ تُكْسَاهُ خَيْرٌ مِنَ الدُّنْيَا وَمَا فِيهَا. وَقَالَ لِامْرَأَتِهِ: وَلَأَنْتِ أَحَقُّ أَنْ أَدَعَكِ لَهُنَّ مِنْ أَنْ أَدَعَهُنَّ لَكِ»
২৪ - মুহাম্মাদ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: ইবনে রাহমাহ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমি ইবনুল মুবারাককে আল-আওযাঈ থেকে বর্ণনা করতে শুনেছি, তিনি বলেন: হাসসান ইবনে আতিয়্যাহ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন যে, সাঈদ ইবনে আমির বলেছেন: «যদি জান্নাতের শ্রেষ্ঠ রূপবতী নারীদের মধ্য হতে কোনো একজন আকাশ থেকে উঁকি দিত, তবে তার কারণে যমীন আলোকিত হয়ে যেত এবং তার চেহারার জ্যোতি সূর্য ও চন্দ্রকে ম্লান করে দিত, আর তাকে পরিধান করানো একটি ওড়না দুনিয়া ও তার মধ্যে যা কিছু আছে তার চেয়েও উত্তম। আর তিনি তাঁর স্ত্রীকে বললেন: তাদের খাতিরে তোমাকে ত্যাগ করা আমার জন্য অধিক সঙ্গত, তোমার খাতিরে তাদেরকে ত্যাগ করার চেয়ে।»
(খণ্ড: ১) আল-জিহাদ - ইবনুল মুবারাক (পৃষ্ঠা: ٤٠)
25 - حَدَّثَنَا مُحَمَّدٌ قَالَ: حَدَّثَنَا ابْنُ رَحْمَةَ، قَالَ: سَمِعْتُ ابْنُ المُبَارَكِ، عَنِ الْأَوْزَاعِيِّ قَالَ: حَدَّثَنِي الْمُطَّلِبُ بْنُ حَنْطَبٍ قَالَ: «إِنَّ‌‌ لِلشَّهِيدِ غُرْفَةٌ كَمَا بَيْنَ صَنْعَاءَ وَالْجَابِيَةِ، أَعْلَاهَا الدُّرُّ وَالْيَاقُوتُ، وَجَوْفُهَا الْمِسْكُ وَالْكَافُورُ قَالَ: فَتَدْخُلُ عَلَيْهِ الْمَلَائِكَةُ بِهَدِيَّةٍ مِنْ رَبِّهِ تبارك وتعالى، فَمَا تَخْرُجُ حَتَّى يَدْخُلُ عَلَيْهِ مَلَائِكَةٌ آخَرُونَ مِنْ بَابٍ آخَرَ بِهَدِيَّةٍ مِنْ رَبِّهِمْ»
২৫ - মুহাম্মাদ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: ইবনে রাহমাহ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমি ইবনুল মুবারক থেকে শুনেছি, তিনি আওযাঈ থেকে, তিনি বলেন: মুত্তালিব ইবনে হানতাব আমার নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: «নিশ্চয়ই‌‌ শহীদের জন্য এমন একটি কক্ষ রয়েছে যা সানআ ও জাবিয়ার মধ্যবর্তী দূরত্বের ন্যায়, যার উপরিভাগ মুক্তা ও ইয়াকুত পাথরের এবং যার অভ্যন্তরভাগ মিশক ও কর্পূরের। তিনি বলেন: অতঃপর ফেরেশতাগণ তাঁর বরকতময় ও সুউচ্চ রবের পক্ষ থেকে উপহার নিয়ে তাঁর নিকট প্রবেশ করবেন। তাঁরা বের হতে না হতেই অন্য একদল ফেরেশতা অপর একটি দরজা দিয়ে তাঁদের রবের পক্ষ থেকে উপহার নিয়ে তাঁর নিকট প্রবেশ করবেন।»
(খণ্ড: ১) আল-জিহাদ - ইবনুল মুবারাক (পৃষ্ঠা: ٤١)
26 - حَدَّثَنَا مُحَمَّدٌ قَالَ: حَدَّثَنَا ابْنُ رَحْمَةَ، قَالَ: سَمِعْتُ ابْنُ المُبَارَكِ، عَنْ حُمَيْدٍ الطَّوِيلِ، عَنْ أَنَسِ بْنِ مَالِكٍ قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم: ‌‌«مَا مِنْ نَفْسٍ تَمُوتُ لَهَا عِنْدَ اللَّهِ خَيْرٌ يَسُرُّهَا أَنْ تَرْجِعَ إِلَى الدُّنْيَا، وَلَهَا الدُّنْيَا وَمَا فِيهَا إِلَّا الشَّهِيدُ؛ لِمَا يَرَى مِنْ فَضْلِ الشَّهَادَةِ، فَيَتَمَنَّى أَنْ يَرْجِعَ فَيُقْتَلَ مَرَّةً أُخْرَى»
২৬ - মুহাম্মাদ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: ইবনে রাহমাহ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমি ইবনুল মুবারককে হুমাইদ আত-তবিল থেকে, তিনি আনাস ইবনে মালিক (রা.) থেকে বর্ণনা করতে শুনেছি, তিনি বলেন: আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: “আল্লাহর নিকট কল্যাণ রয়েছে এমন কোনো ব্যক্তি মৃত্যুবরণ করার পর পুনরায় দুনিয়ায় ফিরে যাওয়া তাকে আনন্দিত করবে না—যদিও তাকে পুরো দুনিয়া ও এর মধ্যকার সবকিছু দিয়ে দেওয়া হয়—একমাত্র শহীদ ব্যতীত; কেননা সে শাহাদাতের যে মর্যাদা প্রত্যক্ষ করে, তার কারণে সে পুনরায় দুনিয়ায় ফিরে গিয়ে আবারও নিহত হওয়ার আকাঙ্ক্ষা পোষণ করে।”
(খণ্ড: ১) আল-জিহাদ - ইবনুল মুবারাক (পৃষ্ঠা: ٤١)
27 - حَدَّثَنَا مُحَمَّدٌ قَالَ: حَدَّثَنَا ابْنُ رَحْمَةَ، قَالَ: سَمِعْتُ ابْنُ المُبَارَكِ، عَنْ يَحْيَى بْنِ سَعِيدٍ الْأَنْصَارِيِّ قَالَ: حَدَّثَنَا أَبُو صَالِحٍ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم: ‌‌«لَوْلَا أَنْ أَشُقَّ عَلَى أُمَّتِي أَوْ قَالَ عَلَى النَّاسِ لَأَحْبَبْتُ أَنْ لَا أَتَخَلَّفَ عَنْ سَرِيَّةٍ تَخْرُجُ فِي سَبِيلِ اللَّهِ، وَلَكِنْ لَا أَجِدُ مَا أَحْمِلُهُمْ عَلَيْهِ، وَلَا يَجِدُونَ مَا يُتَحَمَّلُونَ عَلَيْهِ، وَلَشَقَّ عَلَيْهِمْ أَنْ يَتَخَلَّفُوا بَعْدِي» ، أَوْ نَحْوَهُ. وَلَوَدِدْتُ أَنِّي أُقَاتِلُ فِي سَبِيلِ اللَّهِ فَأُقْتَلَ، ثُمَّ أَحْيَا ثُمَّ أُقْتَلَ، ثُمَّ أَحْيَا ثُمَّ أُقْتَلَ "
২৭ - মুহাম্মদ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: ইবনে রাহমাহ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমি ইবনুল মুবারাক থেকে শুনেছি, তিনি ইয়াহইয়া ইবনে সাঈদ আল-আনসারী থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: আবু সালিহ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি আবু হুরায়রা থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: «যদি আমার উম্মতের ওপর—অথবা তিনি বলেছেন মানুষের ওপর—কষ্টকর হবে বলে মনে না করতাম, তবে আল্লাহর পথে বের হওয়া কোনো সেনাদল থেকে পেছনে থেকে যাওয়া আমি পছন্দ করতাম না। কিন্তু আমি তাদের বহন করার মতো কোনো বাহন খুঁজে পাচ্ছি না এবং তারাও এমন কিছু পাচ্ছে না যাতে তারা আরোহণ করতে পারে, আর আমার পরে তাদের পেছনে থেকে যাওয়া তাদের জন্য কষ্টকর হবে», অথবা অনুরূপ কিছু। এবং আমি অবশ্যই আকাঙ্ক্ষা করি যে, আমি আল্লাহর পথে যুদ্ধ করি ও নিহত হই, অতঃপর পুনরায় জীবিত হই ও নিহত হই, অতঃপর পুনরায় জীবিত হই ও নিহত হই।
(খণ্ড: ১) আল-জিহাদ - ইবনুল মুবারাক (পৃষ্ঠা: ٤٢)
28 - حَدَّثَنَا مُحَمَّدٌ قَالَ: حَدَّثَنَا ابْنُ رَحْمَةَ، قَالَ: حَدَّثَنَا ابْنُ المُبَارَكِ، عَنْ شُعْبَةَ، عَنْ قَتَادَةَ قَالَ: سَمِعْتُ أَنَسَ بْنَ مَالِكٍ يُحَدِّثُ عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم قَالَ: ‌‌«مَا مِنْ أَحَدٍ يَدْخُلُ الْجَنَّةَ يُحِبُّ أَنْ يَرْجِعَ إِلَى الدُّنْيَا وَأنَّ لَهُ مَا عَلَى الْأَرْضِ مِنْ شَيْءٍ إِلَّا الشَّهِيدُ، فَإِنَّهُ يَتَمَنَّى أَنْ يَرْجِعَ فَيُقْتَلَ عَشْرَ مَرَّاتٍ»
28 - আমাদের নিকট মুহাম্মদ বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমাদের নিকট ইবনে রাহমাহ বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমাদের নিকট ইবনুল মুবারক বর্ণনা করেছেন শু'বাহ থেকে, তিনি কাতাদাহ থেকে, তিনি বলেন: আমি আনাস ইবনে মালিককে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম থেকে বর্ণনা করতে শুনেছি, তিনি বলেছেন: «জান্নাতে প্রবেশকারী এমন কেউ নেই যে দুনিয়াতে ফিরে আসতে পছন্দ করবে—যদিও পৃথিবীর সব কিছু তার হয়ে যায়—শহীদ ব্যতীত। কেননা সে কামনা করবে যেন সে দুনিয়াতে ফিরে যায় এবং দশবার নিহত হয়»
(খণ্ড: ১) আল-জিহাদ - ইবনুল মুবারাক (পৃষ্ঠা: ٤٢)
29 - حَدَّثَنَا مُحَمَّدٌ قَالَ: حَدَّثَنَا ابْنُ رَحْمَةَ، قَالَ: سَمِعْتُ ابْنُ المُبَارَكِ، عَنْ زَائِدَةَ بْنِ قُدَامَةَ، عَنْ سِمَاكِ بْنِ حَرْبٍ، عَنِ النُّعْمَانِ بْنِ بَشِيرٍ قَالَ: ‌‌«مَثَلُ الْمُجَاهِدِ فِي سَبِيلِ اللَّهِ مَثَلُ رَجُلٍ يَصُومُ النَّهَارَ وَيَقُومُ اللَّيْلَ حَتَّى يَرْجِعَ مَتَى مَا رَجِعَ»
২৯ - মুহাম্মাদ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: ইবনে রাহমাহ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমি ইবনুল মুবারাক থেকে শুনেছি, তিনি যায়িদাহ বিন কুদামাহ থেকে, তিনি সিমাক বিন হারব থেকে, তিনি নু’মান বিন বাশির থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: «আল্লাহর পথে জিহাদকারীর উদাহরণ সেই ব্যক্তির ন্যায়, যে দিনে রোজা রাখে এবং রাতে সালাতে দাঁড়িয়ে থাকে, যতক্ষণ না সে ফিরে আসে; যখনই সে ফিরে আসুক না কেন»