(খণ্ড: ১) নিহায়াতুর রুতবাহ ফী তলাবিল হিসবাহ - ইবন বাসসাম (পৃষ্ঠা: -)
نهاية الرتبة في طلب الحسبة - ابن بسام   (ابن بسام المحتسب)

القسم: السياسة الشرعية والقضاء


الكتاب: نهاية الرتبة في طلب الحسبة

المؤلف: محمد بن أحمد ابن بسام المحتسب

تحقيق: محمد حسن محمد حسن إسماعيل، أحمد فريد المزيدي

الناشر: دار الكتب العلمية، بيروت - لبنان

الطبعة: الأولى، 1424 هـ - 2003 م

عدد الصفحات: 386

أعده للشاملة: مركز المحتسب http://almohtasb.com

[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]

تاريخ النشر بالشاملة: 28 ربيع الآخر 1439

নিহায়াতুর রুতবাহ ফি তালাবিল হিসবাহ - ইবন বাসসাম   (ইবন বাসসাম আল-মুহতাসিব)

বিভাগ: শারয়ী রাজনীতি এবং বিচারব্যবস্থা


গ্রন্থ: নিহায়াতুর রুতবাহ ফি তালাবিল হিসবাহ

লেখক: মুহাম্মাদ বিন আহমদ ইবন বাসসাম আল-মুহতাসিব

সম্পাদনা: মুহাম্মাদ হাসান মুহাম্মাদ হাসান ইসমাইল، আহমদ ফারিদ আল-মাজিদি

প্রকাশক: দারুল কুতুবিল ইলমিয়্যাহ، বৈরুত - লেবানন

সংস্করণ: প্রথম، ১৪২৪ হিজরি - ২০০৩ খ্রিষ্টাব্দ

পৃষ্ঠা সংখ্যা: ৩৮৬

শামেলা’র জন্য প্রস্তুত করেছে: আল-মুহতাসিব সেন্টার http://almohtasb.com

[গ্রন্থের পৃষ্ঠা নম্বর মুদ্রিত কপির অনুরূপ]

শামেলায় প্রকাশের তারিখ: ২৮ রবিউল আখের ১৪৩৯

(খণ্ড: ১) নিহায়াতুর রুতবাহ ফী তলাবিল হিসবাহ - ইবন বাসসাম (পৃষ্ঠা: -)
نهاية الرتبة في طلب الحسبة

 

تأليف

محمد بن أحمد ابن بسام المحتسب

 

تحقيق

محمد حسن محمد حسن إسماعيل

أحمد فريد المزيدي
নেহায়াতুর রুতবা ফি তলাবিল হিসবাহ

 

রচনায়

মুহাম্মদ বিন আহমদ ইবনে বাসসাম আল-মুহতাসিব

 

সম্পাদনা

মুহাম্মদ হাসান মুহাম্মদ হাসান ইসমাইল

আহমদ ফরিদ আল-মাজিদি
(খণ্ড: ১) নিহায়াতুর রুতবাহ ফী তলাবিল হিসবাহ - ইবন বাসসাম (পৃষ্ঠা: ২৮৪)
بسم الله الرحمن الرحيم

والعاقبة للمتقين، ولا عدوان إلا على الظالمين، وصلى الله على سيدنا محمد وآله وصحبه وسلم تسليمًا كثيرًا.

قال محمد بن بسام المحتسب: أحمد من الحمد له، والنعمة منه، والهداية به، والفضل من عنده، والصلاة على خير خلقه وبه نستعين، قال الله تعالى: {الذين مكناهم في الأرض أقاموا الصلاة وآتوا الزكاة وأمروا بالمعروف ونهوا عن المنكر ولله عاقبة الأمور} [الحج: 41]، فأمر بذلك مع القدرة عليه، والتمكن منه، ومن الأمر بالمعروف أيضًا، تصفح أحوال السوقة في معاملاتهم، واعتبار موازينهم، وغشهم، ومراعاة ما تجري عليه أمورهم.

وقال تبارك وتعالى: {ويل للمطففين الذين إذا اكتالوا على الناس يستوفون وإذا كالوهم أو وزنوهم يُخسرون} [المطففين: 1 - 3]، وقال عز من قائل حكاية عن نبيه شعيب، عليه السلام: {ويا قوم أوفوا المكيال والميزان بالقسط ولا تبخسوا الناس أشياءهم ولا تعثوا في الأرض مفسدين} [هود: 85].

وقد رأيت المؤلفين من المتقدمين سبقوا إلى ذكر كثير مما يحتاج إليه وينتفع به، ولم أجد أحدًا منهم ذكر ما ينبغي ذكره من الغبن، والفحش، والغش، والخيانة بين الناس في المعاملات والمبايعات، والتنبيه على ذلك، والتحذير منه، حتى لا يكون ولا شيء منه بعون الله تعالى، فأحببت أن أؤلف عليه كتابًا فيه على ما تيسر من أنواع ذلك، رجاء لثواب الله، وجعلته أبوابًا، أذكر في كل باب منها ما يقربه ويشاكله، وبالله التوفيق.

* * *
পরম করুণাময় অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে।

শুভ পরিণাম কেবল মুত্তাকীদের জন্য, আর জালিমদের ব্যতীত অন্য কারো প্রতি কোনো শত্রুতা নেই। আমাদের নেতা মুহাম্মদ এবং তাঁর পরিবারবর্গ ও সকল সাহাবীগণের ওপর আল্লাহর রহমত ও অগণিত শান্তি বর্ষিত হোক।

মুহাম্মদ ইবনে বাসসাম আল-মুহতাসিব বলেন: আমি সেই আল্লাহর প্রশংসা করছি যার সকল প্রশংসা প্রাপ্য, সমস্ত নেয়ামত তাঁরই পক্ষ হতে, হিদায়েত তাঁরই মাধ্যমে, আর সকল অনুগ্রহ তাঁরই নিকট হতে। তাঁর সৃষ্টির শ্রেষ্ঠ সত্তার ওপর রহমত বর্ষিত হোক এবং আমরা তাঁরই সাহায্য প্রার্থনা করি। মহান আল্লাহ বলেন: {যাদেরকে আমি জমিনে ক্ষমতা দান করলে তারা সালাত কায়েম করবে, জাকাত প্রদান করবে এবং সৎ কাজের আদেশ দিবে ও অসৎ কাজ (منكر) হতে নিষেধ করবে; আর সকল বিষয়ের পরিণাম আল্লাহরই ইখতিয়ারে।} [আল-হজ: ৪১]। সুতরাং তিনি সামর্থ্য ও সক্ষমতা লাভের সাথে সাথে এই কাজের আদেশ দিয়েছেন। আর সৎ কাজের আদেশের অন্তর্ভুক্ত হলো সাধারণ মানুষের লেনদেনের অবস্থা পর্যবেক্ষণ করা এবং তাদের ওজন ও পরিমাপের মানদণ্ড এবং তাদের প্রতারণা যাচাই করা ও তাদের বিষয়াদি কীভাবে পরিচালিত হচ্ছে তা তদারকি করা।

আল্লাহ তাবারাকা ওয়া তাআলা বলেন: {দুর্ভোগ তাদের জন্য যারা মাপে কম দেয়, যারা লোকদের কাছ থেকে মেপে নেওয়ার সময় পূর্ণমাত্রায় গ্রহণ করে, আর যখন তারা মেপে দেয় বা ওজন করে দেয়, তখন তারা কম দেয়।} [আল-মুতাফফিফিন: ১-৩]। তিনি প্রতাপশালী বক্তা হিসেবে তাঁর নবী শুআইব (আলাইহিস সালাম)-এর উদ্ধৃতি দিয়ে বলেন: {হে আমার কওম! তোমরা ইনসাফের সাথে মাপ ও ওজন পূর্ণ করো এবং মানুষকে তাদের প্রাপ্য বস্তু কম দিও না এবং জমিনে ফাসাদ বা বিপর্যয় সৃষ্টি করে বেড়িয়ো না।} [হুদ: ৮৫]।

আমি পূর্ববর্তী গ্রন্থকারদের দেখেছি যে, তাঁরা প্রয়োজনীয় ও কল্যাণকর বহু বিষয় উল্লেখ করার ক্ষেত্রে অগ্রণী ভূমিকা পালন করেছেন। কিন্তু লেনদেন ও কেনাবেচার ক্ষেত্রে মানুষের মাঝে বিরাজমান ঠকবাজি, অশালীনতা, ধোঁকা ও খিয়ানত বা বিশ্বাসঘাতকতা সম্পর্কে যা বলা প্রয়োজন ছিল এবং সে বিষয়ে সচেতনতা ও সতর্কতা প্রদান—এমনটি কাউকে বিস্তারিত বর্ণনা করতে দেখিনি; যেন আল্লাহর সাহায্যে এর কোনো কিছুই আর অবশিষ্ট না থাকে। তাই আমি এ বিষয়ে একটি গ্রন্থ রচনা করতে মনস্থ করেছি যাতে এসব বিষয়ের বিভিন্ন প্রকারভেদ সহজভাবে ফুটে ওঠে, যা আল্লাহর নিকট সওয়াবের প্রত্যাশায় করা হয়েছে। আমি গ্রন্থটিকে বিভিন্ন অধ্যায়ে বিন্যস্ত করেছি এবং প্রত্যেক অধ্যায়ে তার সাথে প্রাসঙ্গিক ও সাদৃশ্যপূর্ণ বিষয়গুলো উল্লেখ করেছি। আর আল্লাহর তৌফিকেই সকল সাফল্য।

* * *
(খণ্ড: ১) নিহায়াতুর রুতবাহ ফী তলাবিল হিসবাহ - ইবন বাসসাম (পৃষ্ঠা: ২৮৫)
فصول الأبواب

قال الشيخ الإمام الأوحد عبد الرحمن بن نصر بن عبد الله الشيزري: أحمد الله على ما أنعم، وأستعينه فميا ألزم، وأشهد أن لا إله إلا الله وحده لا شريك له العلي الأعظم، وأشهد أن محمدًا عبده ورسوله النبي الأكرم، صلى الله عليه وعلى آله وأصحابه وسلم، وبعد:

فقد سألني من استند لمنصب الحسبة، وقلد النظر في مصالح الرعية، وكشف أحوال السوقة، وأمور المتعيشين، أن أجمع له مختصرًا كافيًا في سلوك منهج الحسبة على الوجه المشروع؛ ليكون عمادًا لسياسته، وقوامًا لرياسته، فأجبته إلى ملتمسه، ذاهبًا إلى الوجازة لا إلى الإطالة، وضمنته طرفًا من الأخبار، وطرزته بحكايات وآثار، نبهت فيه على غش المبيعات، وتدليس أرباب الصناعات، وكشف سرهم المدفون، وهتكت سرهم المصون، راجيًا بذلك الثواب المنعم ليوم الحساب، وذكرت فيه الحرف المشهورة دون غيرها؛ لمسيس الحاجة إليها، وجعلته أبوابًا يحتذي المحتسب على أمثالها، وينسج على منوالها، وسميته: «نهاية الرتبة في طلب الحسبة»، وما توفيقي إلا بالله، عليه توكلت، وإليه أنيب.

الباب الأول: فيما يجب على المحتسب من شروط الحسبة ولزوم مستحباتها.

الباب الثاني: في النظر في الأسواق والطرقات.

الباب الثالث: في الخبازين.

الباب الرابع: في السقائين وغشهم.

الباب الخامس: في السوقة وغشهم.

الباب السادس: في جزاري الضأن والمعز والإبل، والقصابين وغشهم.

الباب السابع: في الشوائين.
অধ্যায়সমূহের পরিচ্ছেদসমূহ

অদ্বিতীয় শায়খ ও ইমাম আবদুর রহমান ইবনে নাসর ইবনে আবদুল্লাহ আশ-শায়জারি বলেছেন: আমি আল্লাহর প্রশংসা করছি তিনি যে নেয়ামত দান করেছেন তার জন্য, এবং তাঁরই সাহায্য প্রার্থনা করছি যা তিনি আবশ্যক করেছেন তাতে। আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, আল্লাহ ব্যতীত কোনো উপাস্য নেই, তিনি একক, তাঁর কোনো শরিক নেই, তিনি সুউচ্চ ও মহান। আমি আরও সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, মুহাম্মদ তাঁর বান্দা ও রাসুল, যিনি অত্যন্ত সম্মানিত নবী। তাঁর ওপর এবং তাঁর পরিবার-পরিজন ও সাহাবীগণের ওপর আল্লাহর রহমত ও শান্তি বর্ষিত হোক। অতঃপর:

যিনি হিসবাহ (জনস্বার্থ ও বাজার তদারকি) পদের দায়িত্বভার গ্রহণ করেছেন, প্রজাসাধারণের কল্যাণ সাধনের ভার লাভ করেছেন এবং সাধারণ মানুষের অবস্থা ও শ্রমজীবীদের বিষয়াবলি উদ্ঘাটনের দায়িত্বপ্রাপ্ত হয়েছেন, তিনি আমার কাছে আবেদন করেছেন যেন আমি তাঁর জন্য শরিয়তসম্মত পদ্ধতিতে হিসবাহ পরিচালনার ক্ষেত্রে একটি পর্যাপ্ত সংক্ষিপ্তসার সংকলন করি; যা তাঁর প্রশাসনিক নীতির ভিত্তি এবং তাঁর নেতৃত্বের স্থায়িত্বের কারণ হবে। আমি তাঁর অনুরোধ গ্রহণ করেছি এবং দীর্ঘায়িত না করে সংক্ষিপ্তকরণের পথ বেছে নিয়েছি। আমি এতে কিছু সংবাদ (أخبار) অন্তর্ভুক্ত করেছি এবং বিভিন্ন কাহিনী ও বর্ণনা (آثار) দ্বারা একে সজ্জিত করেছি। এতে আমি বিক্রয়যোগ্য পণ্যের ভেজাল এবং কারিগরদের কারচুপি (تدليس) সম্পর্কে সতর্ক করেছি, তাদের লুকানো রহস্য এবং সংরক্ষিত গোপনীয়তা উন্মোচন করেছি। এর মাধ্যমে আমি বিচার দিবসে পুরস্কারদাতার নিকট সওয়াবের আশা রাখি। আমি এতে অন্যান্য পেশার তুলনায় প্রসিদ্ধ পেশাগুলোর কথা উল্লেখ করেছি, কারণ সেগুলোর প্রয়োজন অনেক বেশি। আমি একে কয়েকটি অধ্যায়ে বিভক্ত করেছি যেন মুহতাসিব (বাজার তদারককারী) এই দৃষ্টান্তগুলো অনুসরণ করতে পারেন এবং এই পদ্ধতিতেই কাজ আঞ্জাম দিতে পারেন। আমি এর নাম দিয়েছি: «নিহায়াতুর রুতবাহ ফি তলাবিল হিসবাহ», আমার তাওফিক কেবল আল্লাহর পক্ষ থেকেই; আমি তাঁরই ওপর ভরসা করেছি এবং তাঁরই দিকে প্রত্যাবর্তন করছি।

প্রথম অধ্যায়: মুহতাসিবের ওপর হিসবাহর যে সকল শর্তাবলি ও মুস্তাহাব বিষয়সমূহ পালন করা আবশ্যক।

দ্বিতীয় অধ্যায়: বাজার এবং রাস্তাঘাট পর্যবেক্ষণ প্রসঙ্গে।

তৃতীয় অধ্যায়: রুটি প্রস্তুতকারকদের প্রসঙ্গে।

চতুর্থ অধ্যায়: পানি সরবরাহকারী এবং তাদের ভেজাল প্রসঙ্গে।

পঞ্চম অধ্যায়: সাধারণ ব্যবসায়ী এবং তাদের ভেজাল প্রসঙ্গে।

ষষ্ঠ অধ্যায়: ভেড়া, ছাগল ও উটের কসাই এবং তাদের ভেজাল প্রসঙ্গে।

সপ্তম অধ্যায়: যারা গোশত দগ্ধ বা কাবাব করে তাদের প্রসঙ্গে।
(খণ্ড: ১) নিহায়াতুর রুতবাহ ফী তলাবিল হিসবাহ - ইবন বাসসাম (পৃষ্ঠা: ২৮৬)
الباب الثامن: في الهرائسيين.

الباب التاسع: في الزلبانيين.

الباب العاشر: في الرواسين وغشهم.

الباب الحادي عشر: في الطباخين وغشهم.

الباب الثاني عشر: في الحلوانيين وغشهم.

الباب الثالث عشر: في هرايس التمر ومطبوخ العدس.

الباب الرابع عشر: في الباقلانيين، أي الفوالين.

الباب الخامس عشر: في السماكين والسمك.

الباب السادس عشر: في باعة الصير والبوري والملح.

الباب السابع عشر: في قلائي السمك وسمك الطاجن.

الباب الثامن عشر: في صيادي الطيور والعصافير.

الباب التاسع عشر: في الطحانين وغشهم.

الباب العشرون: في الفرانين وصبيانهم.

الباب الحادي والعشرون: في الحطب والحطابين.

الباب الثاني والعشرون: في القصب والقصابين.

الباب الثالث والعشرون: في الجبس والجباسين.

الباب الرابع والعشرون: في الجير والجيارين.

الباب الخامس والعشرون: في الحمامات، وذكر قوامها، ومنافعها، ومضارها، وما يلزم حراسها، والبلانين، والمزينيين، والوقادين، وباعة النورة.

الباب السابع والعشرون: في الكتاتينيين.

الباب الثامن والعشرون: في الحريريين.
অষ্টম পরিচ্ছেদ: হারাইস প্রস্তুতকারকদের বর্ণনায়।

নবম পরিচ্ছেদ: জালাবিয়া প্রস্তুতকারকদের বর্ণনায়।

দশম পরিচ্ছেদ: পশুর মস্তক বিক্রেতা এবং তাদের প্রতারণা প্রসঙ্গে।

একাদশ পরিচ্ছেদ: পাচক এবং তাদের প্রতারণা প্রসঙ্গে।

দ্বাদশ পরিচ্ছেদ: মিষ্টান্ন প্রস্তুতকারক এবং তাদের প্রতারণা প্রসঙ্গে।

ত্রয়োদশ পরিচ্ছেদ: খেজুরের হারাইস এবং রান্না করা ডাল প্রসঙ্গে।

চতুর্দশ পরিচ্ছেদ: বাকলানি অর্থাৎ শিম বা মটর বিক্রেতাদের বর্ণনায়।

পঞ্চদশ পরিচ্ছেদ: মাছ বিক্রেতা এবং মাছ প্রসঙ্গে।

ষোড়শ পরিচ্ছেদ: সির (নোনা মাছ), বুরি এবং লবণ বিক্রেতাদের বর্ণনায়।

সপ্তদশ পরিচ্ছেদ: মাছ ভাজক এবং পাত্রে রান্না করা মাছ প্রসঙ্গে।

অষ্টাদশ পরিচ্ছেদ: পাখি ও চড়ুই শিকারীদের বর্ণনায়।

ঊনবিংশ পরিচ্ছেদ: ময়দা পিষ্টক এবং তাদের প্রতারণা প্রসঙ্গে।

বিংশ পরিচ্ছেদ: রুটি প্রস্তুতকারক এবং তাদের বালক কর্মচারীদের বর্ণনায়।

একবিংশ পরিচ্ছেদ: জ্বালানি কাঠ এবং কাঠুরিয়াদের বর্ণনায়।

দ্বাবিংশ পরিচ্ছেদ: নলখাগড়া এবং কসাইদের বর্ণনায়।

ত্রয়োবিংশ পরিচ্ছেদ: জিপসাম এবং জিপসাম-শ্রমিকদের বর্ণনায়।

চতুর্বিংশ পরিচ্ছেদ: চুন এবং চুন-শ্রমিকদের বর্ণনায়।

পঞ্চবিংশ পরিচ্ছেদ: হাম্মাম (গোসলখানা) প্রসঙ্গে; এবং এর ব্যবস্থাপক, উপকারিতা ও অপকারিতা এবং এর প্রহরী, পরিচারক, নরসুন্দর, চুলা প্রজ্বলনকারী ও লোমনাশক চুন বিক্রেতাদের জন্য যা আবশ্যক তার বর্ণনা।

সপ্তবিংশ পরিচ্ছেদ: কাতান (তিসি বস্ত্র) বিক্রেতাদের বর্ণনায়।

অষ্টবিংশ পরিচ্ছেদ: রেশম বিক্রেতাদের বর্ণনায়।
(খণ্ড: ১) নিহায়াতুর রুতবাহ ফী তলাবিল হিসবাহ - ইবন বাসসাম (পৃষ্ঠা: ২৮৭)
الباب التاسع والعشرون: في القطانين والندافين.

الباب الثلاثون: في القلانسيين وغشهم.

الباب الحادي والثلاثون: في الخياطة والخياطين وغشهم.

الباب الثاني والثلاثون: في سماسرة البز.

الباب الثالث والثلاثون: في البز والبزازين.

الباب الرابع والثلاثون: في الغسالين.

الباب الخامس والثلاثون: في القصارة والقصارين.

الباب السادس والثلاثون: في المطرزين.

الباب السابع والثلاثون: في الرفائين وغشهم.

الباب الثامن والثلاثون: في الصيادلة والعقاقير.

الباب التاسع والثلاثون: في الأشربة والمعاجين وما يضاف إلى ذلك.

الباب الأربعون: في العطر والعطارين.

الباب الحادي والأربعون: في الصيارف.

الباب الثاني والأربعون: في الصاغة والصياغة.

الباب الثالث والأربعون: في الأطباء والفصادين.

الباب الرابع والأربعون: في الكحالين والكحل.

الباب الخامس والأربعون: في المجبرين.

الباب السادس والأربعون: في الجرائحيين.

الباب السابع والأربعين: في البياطرة.

الباب الثامن والأربعون: في صباغي الحرير والغزل.

الباب التاسع والأربعون: في الخزارين صناع الشراك.

الباب الخمسون: في الأساكفة وصناع الأخفاف.
ঊনত্রিশতম অধ্যায়: তুলা ব্যবসায়ী ও ধুনকরদের প্রসঙ্গে।

ত্রিশতম অধ্যায়: টুপি প্রস্তুতকারক এবং তাদের প্রতারণা প্রসঙ্গে।

একত্রিশতম অধ্যায়: দর্জিবিদ্যা, দর্জি এবং তাদের প্রতারণা প্রসঙ্গে।

বত্রিশতম অধ্যায়: বস্ত্র দালালদের প্রসঙ্গে।

তেত্রিশতম অধ্যায়: বস্ত্র ও বস্ত্র ব্যবসায়ীদের প্রসঙ্গে।

চৌত্রিশতম অধ্যায়: ধোপাদের প্রসঙ্গে।

পঁয়ত্রিশতম অধ্যায়: ধোলাই কার্য ও ধোলাইকারীদের প্রসঙ্গে।

ছত্রিশতম অধ্যায়: নকশাকারদের প্রসঙ্গে।

সাইত্রিশতম অধ্যায়: তালিদানকারী এবং তাদের প্রতারণা প্রসঙ্গে।

আটত্রিশতম অধ্যায়: ঔষধ বিক্রেতা ও ভেষজ ঔষধ প্রসঙ্গে।

ঊনচল্লিশতম অধ্যায়: পানীয়, মাজন এবং তৎসংশ্লিষ্ট বিষয়াদি প্রসঙ্গে।

চল্লিশতম অধ্যায়: সুগন্ধি ও সুগন্ধি ব্যবসায়ীদের প্রসঙ্গে।

একচল্লিশতম অধ্যায়: মুদ্রা বিনিময়কারীদের প্রসঙ্গে।

বিয়াল্লিশতম অধ্যায়: স্বর্ণকার ও স্বর্ণশিল্প প্রসঙ্গে।

তেতাল্লিশতম অধ্যায়: চিকিৎসক ও রক্তমোক্ষণকারীদের প্রসঙ্গে।

চুয়াল্লিশতম অধ্যায়: চক্ষু চিকিৎসক ও সুরমা প্রসঙ্গে।

পঁয়তাল্লিশতম অধ্যায়: অস্থি-চিকিৎসকদের প্রসঙ্গে।

ছিচল্লিশতম অধ্যায়: শল্যচিকিৎসকদের প্রসঙ্গে।

সাতচল্লিশতম অধ্যায়: পশু চিকিৎসকদের প্রসঙ্গে।

আটচল্লিশতম অধ্যায়: রেশম ও সুতা রঞ্জনকারীদের প্রসঙ্গে।

ঊনপঞ্চাশতম অধ্যায়: পাদুকার ফিতা প্রস্তুতকারকদের প্রসঙ্গে।

পঞ্চাশতম অধ্যায়: মুচি ও মোজা প্রস্তুতকারকদের প্রসঙ্গে।
(খণ্ড: ১) নিহায়াতুর রুতবাহ ফী তলাবিল হিসবাহ - ইবন বাসসাম (পৃষ্ঠা: ২৮৮)
الباب الحادي والخمسون: في عمل الأسفاط.

الباب الثاني والخمسون: في عمل البطط.

الباب الثالث والخمسون: في الحناطين والعلافين.

الباب الرابع والخمسون: في صنعة الشرابات.

الباب الخامس والخمسون: في الحاكة والقزازين.

الباب السادس والخمسون: في الزنهار وغشه.

الباب السابع والخمسون: في الإبزار والإبزاريين.

الباب الثامن والخمسون: في السماسم وبائعيه.

الباب التاسع والخمسون: في الخشب وباعته.

الباب الستون: في الزفاتين.

الباب الحادي والستون: في الحدادين.

الباب الثاني والستون: في المساميريين وغشهم.

الباب الثالث والستون: في النحاسين وسباكي النحاس.

الباب الرابع والستون: في النجارين، والبنائين، والفعلة، والنشارين.

الباب الخامس والستون: في نجاري الضبب.

الباب السادس والستون: في نجاري المراكب.

الباب السابع والستون: في النخاسين باعة العبيد.

الباب الثامن والستون: في النخاسين باعة الدواب.

الباب التاسع والستون: في الطوابين وغشهم.

الباب السبعون: في دلالين العقارات.

الباب الحادي والسبعون: في تقديرات المراكب.

الباب الثاني والسبعون: في باعة الفخار.
একান্নতম পরিচ্ছেদ: ঝুড়ি বা পেটিকা নির্মাণ প্রসঙ্গে।

বায়ান্নতম পরিচ্ছেদ: চামড়ার বোতল বা মশক নির্মাণ প্রসঙ্গে।

তিপ্পান্নতম পরিচ্ছেদ: শস্য বিক্রেতা এবং পশুখাদ্য বিক্রেতাদের বর্ণনায়।

চুয়ান্নতম পরিচ্ছেদ: পানীয় বা শরবত প্রস্তুত প্রণালী প্রসঙ্গে।

পঞ্চান্নতম পরিচ্ছেদ: তাঁতি এবং রেশম কারিগরদের বর্ণনায়।

ছাপ্পান্নতম পরিচ্ছেদ: কোমরবন্ধ এবং এতে কৃত ভেজাল প্রসঙ্গে।

সাতান্নতম পরিচ্ছেদ: মশলাপাতি এবং মশলা বিক্রেতাদের বর্ণনায়।

আটান্নতম পরিচ্ছেদ: তিল এবং তিল বিক্রেতাদের বর্ণনায়।

ঊনষাটতম পরিচ্ছেদ: কাঠ এবং কাঠ বিক্রেতাদের বর্ণনায়।

ষাটতম পরিচ্ছেদ: আলকাতরা বা পিচ প্রস্তুতকারকদের বর্ণনায়।

একষট্টিতম পরিচ্ছেদ: কর্মকারদের বর্ণনায়।

বাষট্টিতম পরিচ্ছেদ: পেরেক প্রস্তুতকারক এবং তাদের কৃত ভেজাল প্রসঙ্গে।

তেষট্টিতম পরিচ্ছেদ: তাম্রকার এবং তামা গলানোর কারিগরদের বর্ণনায়।

চৌষট্টিতম পরিচ্ছেদ: ছুতার, রাজমিস্ত্রি, শ্রমিক এবং করাতীদের বর্ণনায়।

পয়ষট্টিতম পরিচ্ছেদ: দরজার হুড়কো বা খিল প্রস্তুতকারী ছুতারদের বর্ণনায়।

ছেষট্টিতম পরিচ্ছেদ: জলযান বা নৌকা প্রস্তুতকারী ছুতারদের বর্ণনায়।

সাতষট্টিতম পরিচ্ছেদ: দাস বিক্রেতাদের বর্ণনায়।

আটষট্টিতম পরিচ্ছেদ: পশু বিক্রেতাদের বর্ণনায়।

উনসত্তরতম পরিচ্ছেদ: ইট নির্মাতা এবং তাদের কৃত ভেজাল প্রসঙ্গে।

সত্তরতম পরিচ্ছেদ: স্থাবর সম্পত্তির দালালদের বর্ণনায়।

একাত্তরতম পরিচ্ছেদ: জলযানের ধারণক্ষমতা নির্ধারণ প্রসঙ্গে।

বাহাত্তরতম পরিচ্ছেদ: মৃৎপাত্র বিক্রেতাদের বর্ণনায়।
(খণ্ড: ১) নিহায়াতুর রুতবাহ ফী তলাবিল হিসবাহ - ইবন বাসসাম (পৃষ্ঠা: ২৮৯)
الباب الثالث والسبعون: في شعابي البرام.

الباب الرابع والسبعون: في الزجاجين وغشهم.

الباب الخامس والسبعون: في معلمي الصبيان، ومعلمات البنات.

الباب السادس والسبعون: في الدهانين وغشهم.

الباب السابع والسبعون: في المكارية.

الباب الثامن والسبعون: في النحاتين، والمصولين في التراب.

الباب التاسع والسبعون: في كساحي السماد وحمالته.

الباب الثمانون: في الغرابيل ومناخل الشعر.

الباب الحادي والثمانون: في حافري القبور.

الباب الثاني والثمانون: في الوراقين والمبهرجين.

الباب الثالث والثمانون: في من يكتب الرسائل على الطريق والرقاع والدروج.

الباب الرابع والثمانون: في كتاب الشروط.

الباب الخامس والثمانون: في الوكلاء بأبواب القضاة وتدليسهم.

الباب السادس والثمانون: في الميازيب ومضرتها.

الباب السابع والثمانون: في إصلاح الجوامع والمساجد.

الباب الثامن والثمانون: فر قراء القرآن قدام الموتى.

الباب التاسع والثمانون: في غسالي الموتى، نفع الله بهم.

الباب التسعون: في المراصد والمراقب.

الباب الحادي والتسعون: في طباخي الولائم.

الباب الثاني والتسعون: في معرفة الموازين.

الباب الثالث والتسعون: في معرفة المكاييل.

الباب الرابع والتسعون: في معرفة مثاقيل الذهب وصنج الفضة.
তিয়াত্তরতম অধ্যায়: পাথরের পাত্র মেরামতকারীদের বর্ণনায়।

চুয়াত্তরতম অধ্যায়: কাঁচশিল্পী এবং তাদের প্রতারণা প্রসঙ্গে।

পঁচাত্তরতম অধ্যায়: বালকদের শিক্ষক এবং বালিকাদের শিক্ষিকাদের বর্ণনায়।

ছিয়াত্তরতম অধ্যায়: রঙমিস্ত্রি এবং তাদের প্রতারণা প্রসঙ্গে।

সাতাত্তরতম অধ্যায়: পশু বা যান ভাড়া প্রদানকারীদের বর্ণনায়।

আটাত্তরতম অধ্যায়: ভাস্কর এবং যারা ধূলিকণা হতে মূল্যবান বস্তু অনুসন্ধান করে তাদের বর্ণনায়।

ঊনআশিতম অধ্যায়: আবর্জনা পরিষ্কারকারী এবং তার বাহকদের বর্ণনায়।

আশিতম অধ্যায়: চালনি এবং চুলের তৈরি ছাঁকনি প্রসঙ্গে।

একাশিটম অধ্যায়: কবর খননকারীদের বর্ণনায়।

বিরাশিতম অধ্যায়: পাণ্ডুলিপি নকলকারী এবং জালিয়াতি প্রস্তুতকারীদের বর্ণনায়।

তিরাশিতম অধ্যায়: যারা পথের পাশে বসে পত্র, চিরকুট এবং পাণ্ডুলিপি লিখে দেয় তাদের বর্ণনায়।

চুরাশিতম অধ্যায়: চুক্তিনামা লেখকদের বর্ণনায়।

পঁচাশিটম অধ্যায়: বিচারকদের দ্বারে অবস্থানরত প্রতিনিধিগণ এবং তাদের সত্য গোপন বা প্রতারণা (تدليس) প্রসঙ্গে।

ছিয়াশিতম অধ্যায়: পানি নিষ্কাশন নল এবং তাদের ক্ষতিকর প্রভাব প্রসঙ্গে।

সাতাশিতম অধ্যায়: জামে মসজিদ এবং সাধারণ মসজিদসমূহের সংস্কার প্রসঙ্গে।

আটাশিতম অধ্যায়: মৃতব্যক্তির সামনে কুরআন তিলাওয়াতকারীদের বর্ণনায়।

ঊননব্বইতম অধ্যায়: মৃতদেহ গোসল দানকারীদের বর্ণনায়, আল্লাহ তাদের দ্বারা কল্যাণ দান করুন।

নব্বইতম অধ্যায়: পর্যবেক্ষণ কেন্দ্র এবং প্রহরী চৌকি প্রসঙ্গে।

একানব্বইতম অধ্যায়: ওয়ালিমার বাবুর্চিদের বর্ণনায়।

বিরانব্বইতম অধ্যায়: ওজন করার যন্ত্র বা পাল্লা পরিচিতি প্রসঙ্গে।

তিরানব্বইতম অধ্যায়: পরিমাপক পাত্র পরিচিতি প্রসঙ্গে।

চুরানব্বইতম অধ্যায়: স্বর্ণের ওজনের একক এবং রূপার বাটখারা পরিচিতি প্রসঙ্গে।
(খণ্ড: ১) নিহায়াতুর রুতবাহ ফী তলাবিল হিসবাহ - ইবন বাসসাম (পৃষ্ঠা: ২৯০)
الباب الخامس والتسعون: في معرفة الأرطال والقناطير.

الباب السادس والتسعون: في معرفة الأقساط.

الباب السابع والتسعون: في معاصير الزيت وغشهم.

الباب الثامن والتسعون: في التبن والتبانين.

الباب التاسع والتسعون: في القرط والقراطين.

الباب المائة: في الأنماط وصناعتها.

الباب الحادي والمائة: في صناع الأخمرة والحرير والوقايا.

الباب الثاني والمائة: في الحصر العبداني.

الباب الثالث والمائة: في الخيزرانيين.

الباب الرابع والمائة: في اللبود واللبادين.

الباب الخامس والمائة: في الأرجوان وصناعته.

الباب السادس والمائة: في العصار.

الباب السابع والمائة: في الأبارين.

الباب الثامن والمائة: في الحلفاء وعدده ورسومه.

الباب التاسع والمائة: في المحامل وصناعتها.

الباب العاشر والمائة: في الروايا والقرب.

الباب الحادي عشر والمائة: في الدباغين.

الباب الثاني عشر والمائة: في دباغي الكيمخت.

الباب الثالث عشر والمائة: في دباغ جلود البقر.

الباب الرابع عشر والمائة: في أهل الذمة.

الباب الخامس عشر والمائة: يشتمل على تفاصيل وجمل.

الباب السادس عشر والمائة: في ترتيب التعزير.
পঁচানব্বইতম অধ্যায়: রিতল (أرطال) এবং কিনতার (قناطير) পরিমাপের পরিচিতি প্রসঙ্গে।

ছিয়ানব্বইতম অধ্যায়: ক্বিস্ত (أقساط) পরিমাপের পরিচিতি প্রসঙ্গে।

সাতানব্বইতম অধ্যায়: তেলের ঘানি এবং তাতে ভেজাল মিশ্রণ প্রসঙ্গে।

আটানব্বইতম অধ্যায়: খড় এবং খড় বিক্রেতাদের প্রসঙ্গে।

নিরানব্বইতম অধ্যায়: পশু খাদ্য এবং এর বিক্রেতাদের প্রসঙ্গে।

একশতম অধ্যায়: শতরঞ্জি এবং এর নির্মাণ শিল্প প্রসঙ্গে।

একশ একতম অধ্যায়: ওড়না, রেশম এবং সুরক্ষা আবরণের কারিগরদের প্রসঙ্গে।

একশ দুইতম অধ্যায়: আবদানি পাটি প্রসঙ্গে।

একশ তিনতম অধ্যায়: বেত শিল্পীদের প্রসঙ্গে।

একশ চারতম অধ্যায়: পশমী বস্ত্র এবং পশমী বস্ত্র প্রস্তুতকারকদের প্রসঙ্গে।

একশ পাঁচতম অধ্যায়: আরজুওয়ান (রঞ্জিত বস্ত্র) এবং এর নির্মাণ শিল্প প্রসঙ্গে।

একশ ছয়তম অধ্যায়: রস নিষ্কাশনকারীদের প্রসঙ্গে।

একশ সাততম অধ্যায়: সুঁই প্রস্তুতকারকদের প্রসঙ্গে।

একশ আটতম অধ্যায়: হালফা ঘাস, এর সংখ্যা এবং সংশ্লিষ্ট নিয়মাবলী প্রসঙ্গে।

একশ নয়তম অধ্যায়: শিবিকা (পালকি) এবং এর নির্মাণ শিল্প প্রসঙ্গে।

একশ দশতম অধ্যায়: বড় এবং ছোট পানিপাত্র (মশক) প্রসঙ্গে।

একশ এগারোতম অধ্যায়: চর্মকারদের প্রসঙ্গে।

একশ বারোতম অধ্যায়: কিমুখত (বিশেষ প্রক্রিয়াজাত চামড়া) প্রস্তুতকারক চর্মকারদের প্রসঙ্গে।

একশ তেরোতম অধ্যায়: গরুর চামড়া প্রক্রিয়াজাতকারীদের প্রসঙ্গে।

একশ চৌদ্দতম অধ্যায়: জিম্মি (أهل الذمة) নাগরিকদের প্রসঙ্গে।

একশ পনেরোতম অধ্যায়: এটি বিস্তারিত বিবরণ ও সারসংক্ষেপ সম্বলিত।

একশ ষোলোতম অধ্যায়: শাসনমূলক দণ্ড (تعزير) প্রদানের ক্রমবিন্যাস প্রসঙ্গে।
(খণ্ড: ১) নিহায়াতুর রুতবাহ ফী তলাবিল হিসবাহ - ইবন বাসসাম (পৃষ্ঠা: ২৯১)
الباب السابع عشر والمائة: في مجالس الحكام.

الباب الثامن عشر والمائة: في مجالس الأمراء والولاة.

* * *
একশত সতেরোতম অধ্যায়: বিচারকদের মজলিস প্রসঙ্গে।

একশত আঠারোতম অধ্যায়: আমির ও প্রশাসকদের মজলিস প্রসঙ্গে।

* * *
(খণ্ড: ১) নিহায়াতুর রুতবাহ ফী তলাবিল হিসবাহ - ইবন বাসসাম (পৃষ্ঠা: ২৯২)
الباب الأول

فيما يجب على المحتسب من شروط الحسبة ولزوم مستحباتها

اعلم وفقك الله لما كانت الحسبة أمراً بمعروف، ونهياً عن منكر، وإصلاحاً بين الناس، وجب أن يكون المحتسب فقيهاً، عارفاً بأحكام الشريعة؛ ليعلم ما يأمر به وينهى عنه، فإن الحسن ما حسنه الشرع، والقبيح ما قبحه الشرع، ولا مدخل للعقول في معرفة المعروف والمنكر إلا بكتاب الله عز وجل، وسُنة نبيه صلى الله عليه وسلم، ورُب جاهل يستحسن بعقله ما قبحه الشرع، فيرتكب المحظور وهو غير عالم به، ولهذا المعنى كان طلب العلم فريضة على كل مسلم، كما قال النبي صلى الله عليه وسلم.

فأول ما يجب على المحتسب أن يعمل بما يعلم، ولا يكون قوله مخالفاً لفعله، فقد قال الله عز وجل في ذم علماء بني إسرائيل: {أَتَأْمُرُونَ النَّاسَ بِالْبِرِّ وَتَنسَوْنَ أَنفُسَكُمْ} [البقرة: 44]، وروى أنس بن مالك، رضي الله عنه، أن النبي صلى الله عليه وسلم قال: "رأيت ليلة
প্রথম পরিচ্ছেদ

মুহতাসিবের ওপর হিসবাহ (حسبة)-এর যেসকল শর্ত এবং এর মুস্তাহাব (مستحبات) বিষয়সমূহ পালন করা আবশ্যক (واجب) সে সম্পর্কে

আল্লাহ আপনাকে তাওফিক দান করুন, জেনে রাখুন—যেহেতু হিসবাহ (حسبة) হলো সৎকাজের আদেশ (أمر بالمعروف), অসৎকাজে নিষেধ (نهي عن المنكر) এবং মানুষের মধ্যে বিবাদ মিমাংসা করা, তাই মুহতাসিব (محتسب)-কে অবশ্যই শরিয়াহ (شريعة)-এর বিধান সম্পর্কে অবগত একজন ফকিহ (فقيه) হতে হবে; যাতে তিনি যা আদেশ করছেন এবং যা থেকে নিষেধ করছেন সে সম্পর্কে জ্ঞান রাখতে পারেন। কেননা উত্তম তা-ই যা শরিয়াহ (شريعة) উত্তম বলেছে এবং মন্দ তা-ই যা শরিয়াহ (شريعة) মন্দ বলেছে। মহান আল্লাহর কিতাব এবং তাঁর নবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সুন্নাহ (سنة) ব্যতীত সৎকাজ (معروف) ও অসৎকাজ (منكر) চেনার ক্ষেত্রে বিবেকের কোনো প্রবেশাধিকার নেই। অনেক সময় মূর্খ ব্যক্তি নিজ বুদ্ধি খাটিয়ে এমন বিষয়কে ভালো মনে করে যা শরিয়াহ (شريعة) মন্দ বলেছে, ফলে সে অজ্ঞাতসারেই নিষিদ্ধ (محظور) কাজে লিপ্ত হয়। আর এই কারণেই প্রত্যেক মুসলিমের ওপর জ্ঞান অন্বেষণ করা আবশ্যিক (فريضة), যেমনটি নবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এরশাদ করেছেন।

মুহতাসিব (محتسب)-এর ওপর সর্বপ্রথম যা আবশ্যক (واجب) তা হলো তিনি যা জানেন সে অনুযায়ী আমল করা, এবং তাঁর কথা যেন তাঁর কাজের পরিপন্থী না হয়। মহান আল্লাহ বনী ইসরাইলের আলেমদের নিন্দা করে এরশাদ করেছেন: {তোমরা কি মানুষকে সৎকাজের (البر) নির্দেশ দাও এবং নিজেদের কথা ভুলে যাও?} [আল-বাকারা: ৪৪]। আনাস ইবনে মালিক রাযিয়াল্লাহু আনহু বর্ণনা করেছেন (روى) যে, নবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এরশাদ করেছেন: "আমি (মেরাজের) রাতে দেখলাম..."
(খণ্ড: ১) নিহায়াতুর রুতবাহ ফী তলাবিল হিসবাহ - ইবন বাসসাম (পৃষ্ঠা: ২৯৩)
أسرى بي رجالاً تقرض شفاهم بالمقاريض، فقلت: من هؤلاء يا جبريل؟ قال: هؤلاء خطباء أمتك الذين يأمرون الناس بالبر وينسون أنفسهم"، وقال الله عز وجل مخبراً عن شعيب، عليه السلام، لما نهى قومه عن بخس الموازين ونقص المكاييل: {وَمَا أُرِيدُ أَنْ أُخَالِفَكُمْ إِلَى مَا أَنْهَاكُمْ عَنْهُ إِنْ أُرِيدُ إِلَّا الإِصْلاحَ مَا اسْتَطَعْتُ} [هود: 88]، ولا يكون المحتسب كما قال ابن همام السلولي:

(إذا نُصبوا للقول قالوا فأحسنوا … ولكن حسن القول خالفه الفعل)

(وذموا لنا الدنيا وهم يرضعونها … أفاويق حتى ما يدر لها ثعل)

وقال الآخر:

(لا تنه عن خلق وتأتي مثله … عار عليك إذا فعلت عظيم)

ويجب على المحتسب أن يقصد بقوله وفعله وجه الله تعالى، وطلب مرضاته، خالصاً مخلص النية، لا يشوبه في طويته رياء ولا مراء، ويجتنب في رياسته منافسة الخلق، ومفاخرة أبناء الجنس، لينشر الله تعالى عليه رداء القبول، وعلم التوفيق، ويقذف له في القلوب مهابة وجلالة، ومبادرة إلى قبول قوله بالسمع والطاعة، وقد قال النبي صلى الله عليه وسلم: "من أرضى الله بسخط الناس كفاه الله شرهم، ومن أرضى الناس بسخط الله وكله الله إليهم، ومن أحسن فيما بينه وبين الله، أحسن الله فيما بينه وبين الناس، ومن أصلح سريرته أصلح الله علانيته، ومن عمل لآخرته كفاه الله أمر دنياه".
"আমাকে নৈশভ্রমণে (মিরাজ রজনীতে) এমন কিছু লোকের নিকট দিয়ে নিয়ে যাওয়া হলো যাদের ঠোঁট কাঁচি দিয়ে কাটা হচ্ছিল। আমি জিজ্ঞেস করলাম: হে জিবরাঈল! এরা কারা? তিনি বললেন: এরা আপনার উম্মতের সেই খতিবগণ (বক্তা), যারা মানুষকে পুণ্যের আদেশ দেয় কিন্তু নিজেদের কথা ভুলে যায়।" মহান আল্লাহ শোয়াইব (আলাইহিস সালাম) সম্পর্কে সংবাদ দিয়ে বলেছেন, যখন তিনি তাঁর কওমকে ওজনে কম দেওয়া এবং মাপে কারচুপি করা থেকে বারণ করেছিলেন: {আর আমি তোমাদের যা থেকে নিষেধ করছি, তার বিপরীতে গিয়ে আমি নিজে তা করতে চাই না; আমি তো কেবল সাধ্যমতো সংস্কারই করতে চাই} [হুদ: ৮৮]। আর মুহতাসিব (তত্ত্বাবধায়ক) যেন তেমন না হয় যেমনটি ইবনে হুমাম আল-সালুলি বলেছেন:

(যখন তাদের কথা বলার জন্য দাঁড় করানো হয় তখন তারা সুন্দর কথা বলে … কিন্তু সেই সুন্দর কথার বিপরীত হয় তাদের কর্ম)

(তারা আমাদের নিকট দুনিয়ার নিন্দা করে অথচ তারা নিজেরা এর সুযোগ-সুবিধা ভোগ করে … বারবার দোহন করে এমনকি তার ওলান থেকে এক ফোঁটাও অবশিষ্ট রাখে না)

অন্য একজন কবি বলেছেন:

(তুমি অন্যকে কোনো স্বভাব থেকে বারণ করো না যখন তুমি নিজেই তা করছ … তুমি যদি তা করো তবে তা হবে তোমার জন্য এক বিরাট লজ্জা)

মুহতাসিবের জন্য আবশ্যক হলো তার কথা ও কর্মের মাধ্যমে মহান আল্লাহর সন্তুষ্টি ও তাঁর সন্তোষ অন্বেষণ করা, যা হবে একনিষ্ঠ নিয়তের সাথে; তার অন্তরে যেন লোকদেখানো বা বিবাদের সংমিশ্রণ না ঘটে। তিনি তার নেতৃত্বে সৃষ্টির সাথে প্রতিযোগিতা এবং সমসাময়িকদের সাথে অহংকার করা থেকে বিরত থাকবেন, যাতে মহান আল্লাহ তার ওপর কবুলিয়াতের চাদর ও তাওফিকের নিশান ছড়িয়ে দেন এবং মানুষের অন্তরে তার জন্য প্রভাব ও মর্যাদা দান করেন, যাতে তারা শ্রবণ ও আনুগত্যের মাধ্যমে তার কথা গ্রহণে সচেষ্ট হয়। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: "যে ব্যক্তি মানুষের অসন্তুষ্টি সত্ত্বেও আল্লাহকে সন্তুষ্ট করে, আল্লাহ তাকে মানুষের অনিষ্ট থেকে রক্ষার জন্য যথেষ্ট হয়ে যান। আর যে ব্যক্তি আল্লাহর অসন্তুষ্টি সত্ত্বেও মানুষকে সন্তুষ্ট করতে চায়, আল্লাহ তাকে মানুষের ওপরই সোপর্দ করেন। যে ব্যক্তি আল্লাহ ও তার মাঝখানের সম্পর্ক সুন্দর করে, আল্লাহ তার ও মানুষের মাঝখানের সম্পর্ক সুন্দর করে দেন। যে ব্যক্তি তার অভ্যন্তরীণ অবস্থা সংশোধন করে, আল্লাহ তার বাহ্যিক অবস্থা সংশোধন করে দেন। আর যে ব্যক্তি তার আখিরাতের জন্য আমল করে, আল্লাহ তার দুনিয়ার বিষয়ের জন্য যথেষ্ট হয়ে যান।"
(খণ্ড: ১) নিহায়াতুর রুতবাহ ফী তলাবিল হিসবাহ - ইবন বাসসাম (পৃষ্ঠা: ২৯৪)
وذكروا أن طغتكين أتابك سلطان دمشق، طلب له محتسباً، فذكر له رجل من أهل العلم، فأمر بإحضاره، فلما بصر به، قال له: إني وليتك أمر الحسبة على الناس، بالأمر بالمعروف والنهي عن المنكر، فقال: إن كان الأمر كذلك، فقم عن هذه الطراحة، وارفع هذا المسند الذي وراء ظهرك، فإنهما حرير، واخلع هذا الخاتم من إصبعك، فإنه ذهب، فقد قال النبي صلى الله عليه وسلم في الذهب والحرير: "إن هذين حرام على ذكور أمتي، حلٌ لإناثها"، قال: فنهض السلطان عن طراحته، وأمر برفع مسنده، وخلع الخاتم من أصبعه، وقال: قد ضممت إليك النظر في أمور الشرطة، قال: فما رأى الناس محتسباً أهيب منه.

وينبغي للمحتسب أن يكون مواظباً على سنن رسول الله صلى الله عليه وسلم من قص الشارب، ونتف الإبط، وحلق العانة، وتقليم الأظفار، هذا مع القيام على الفرائض والواجبات، فإن ذلك أزيد في توقيره، وأنفى للطعن في دينه. وقد حكى أن رجلاً حضر عند السلطان محمود يطلب الحسبة، فرأى شاربه قد غطى فاه من طوله، وأذياله تسحب على الأرض، فقال له: يا شيخ، اذهب فاحتسب على نفسك، ثم عد واطلب الحسبة على الناس.

وينبغي أن يكون شيمته الرفق في القول، وطلاقة الوجه، وسهولة الأخلاق عند أمره الناس ونهيه، فإن ذلك أبلغ في استمالة القلوب، وحصول المقصود، وقد قال الله تعالى: {وَلَوْ كُنْتَ فَظًّا غَلِيظَ الْقَلْبِ لانْفَضُّوا مِنْ حَوْلِكَ فَاعْفُ عَنْهُمْ} [آل عمران: 159].

وقد حكى أن رجلاً دخل على المأمون، فأمره بمعروف ونهاه عن منكر، وأغلظ على المأمون في القول، فقال له المأمون: يا هذا، إن الله تعالى أمر من هو خير منك أن يلين القول لمن هو شر مني، فقال لموسى وهارون: {فَقُولا لَهُ قَوْلًا لَيِّنًا لَعَلَّهُ يَتَذَكَّرُ أَوْ
বর্ণিত আছে যে, দামেস্কের সুলতান আতাবেগ তুঘতিগিন নিজের জন্য একজন মুহতাসিব (محتسب) খুঁজছিলেন। তখন তাঁর নিকট একজন বিজ্ঞ আলেম ব্যক্তির কথা উল্লেখ করা হলো এবং তিনি তাঁকে উপস্থিত করার নির্দেশ দিলেন। যখন সুলতান তাঁকে দেখলেন, তখন তিনি তাঁকে বললেন: "আমি আপনাকে সৎ কাজের আদেশ (الأمر بالمعروف) এবং অসৎ কাজের নিষেধ (النهي عن المنكر)-এর মাধ্যমে মানুষের ওপর হিসাবা (حسبة) বা তদারকির দায়িত্ব প্রদান করলাম।" তখন সেই ব্যক্তি বললেন: "যদি বিষয়টি এমনই হয়, তবে আপনি এই গদি থেকে উঠে দাঁড়ান এবং আপনার পিঠের পেছনে থাকা এই বালিশটি সরিয়ে ফেলুন; কারণ এ দুটিই রেশমের তৈরি। আর আপনার আঙুল থেকে এই আংটিটি খুলে ফেলুন; কারণ এটি স্বর্ণের। নিশ্চয়ই নবী (সা.) স্বর্ণ ও রেশম সম্পর্কে বলেছেন: 'এই দুটি আমার উম্মতের পুরুষদের জন্য হারাম (حرام) এবং তাদের নারীদের জন্য হালাল (حل)।'" বর্ণনাকারী বলেন, তখন সুলতান তাঁর গদি থেকে উঠে দাঁড়ালেন, বালিশটি সরিয়ে ফেলার নির্দেশ দিলেন এবং আঙুল থেকে আংটিটি খুলে ফেললেন। এরপর তিনি বললেন: "আমি পুলিশ প্রশাসনের বিষয়গুলোও আপনার জিম্মায় ন্যস্ত করলাম।" বর্ণনাকারী বলেন, এরপর মানুষ তাঁর চেয়ে অধিক প্রভাবশালী আর কোনো মুহতাসিব (محتسب) দেখেনি।

একজন মুহতাসিবের (محتسب) উচিত হবে রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর সুন্নাতসমূহ পালনে যত্নবান হওয়া; যেমন গোঁফ ছাঁটা, বগলের চুল উপড়ানো, নাভির নিচের চুল মুণ্ডানো এবং নখ কাটা। এর সাথে সাথে ফরজসমূহ (الفرائض) ও ওয়াজিবসমূহ (الواجبات) যথাযথভাবে পালন করা আবশ্যক; কেননা এটি তাঁর প্রতি মানুষের শ্রদ্ধা বৃদ্ধি করে এবং তাঁর দ্বীনদারি সম্পর্কে সমালোচনার পথ রুদ্ধ করে। বর্ণিত আছে যে, এক ব্যক্তি সুলতান মাহমুদের নিকট উপস্থিত হয়ে মুহতাসিব (محتسب) পদের আবেদন জানাল। সুলতান দেখলেন যে, দীর্ঘ হওয়ার কারণে তার গোঁফ তার মুখ ঢেকে ফেলেছে এবং তার পোশাকের আঁচল মাটির ওপর হেঁচড়ে পড়ছে। তখন সুলতান তাকে বললেন: "হে বৃদ্ধ, আগে গিয়ে নিজের ওপর তদারকি (احتسب) করুন, তারপর ফিরে এসে মানুষের ওপর তদারকির আবেদন করুন।"

মানুষকে আদেশ ও নিষেধ করার সময় মুহতাসিবের চারিত্রিক বৈশিষ্ট্য হওয়া উচিত কথায় নম্রতা, প্রফুল্ল মুখ এবং সুন্দর আচরণ। কারণ এটি মানুষের অন্তর জয় করতে এবং উদ্দেশ্য হাসিলে অধিক কার্যকর। মহান আল্লাহ তায়ালা বলেছেন: {আর যদি তুমি রূঢ় ও কঠোর চিত্ত হতে, তবে তারা তোমার চারপাশ থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে যেত। কাজেই তুমি তাদের ক্ষমা করে দাও} [আলে ইমরান: ১৫৯]।

বর্ণিত আছে যে, এক ব্যক্তি খলিফা মামুনের দরবারে প্রবেশ করে তাকে সৎ কাজের আদেশ এবং অসৎ কাজ থেকে নিষেধ করলেন। তিনি মামুনের সাথে অত্যন্ত কর্কশ ভাষায় কথা বললেন। তখন মামুন তাকে বললেন: "হে ব্যক্তি! নিশ্চয়ই আল্লাহ তায়ালা তোমার চেয়ে উত্তম ব্যক্তিকে এমন একজনের সাথে নরম ভাষায় কথা বলার নির্দেশ দিয়েছিলেন, যে আমার চেয়েও বেশি মন্দ ছিল। তিনি মুসা ও হারুন (আ.)-কে বলেছিলেন: {তোমরা তার সাথে নরম কথা বলো, হয়তো সে উপদেশ গ্রহণ করবে অথবা...
(খণ্ড: ১) নিহায়াতুর রুতবাহ ফী তলাবিল হিসবাহ - ইবন বাসসাম (পৃষ্ঠা: ২৯৫)
يَخْشَى} [طه: 44]، ثم أعرض عنه، ولم يلتفت إليه، ولأن الرجل قد ينال بالرفق ما لا ينال بالتعنيف، كما قال النبي صلى الله عليه وسلم: "إن الله رفيق يحب كل رفيق".

وليكن أيضاً متأنياً، غير مبادر إلى العقوبة، ولا يؤاخذ أحداً بأول ذنب يصدر، ولا يعاقب بأول زلة تبدو؛ لأن العصمة من الناس مفقودة، فيما سوى الأنبياء.

وإذا عثر بمن نقص المكيال، أو بخس الميزان، أو غش بضاعة، بما يأتي وصفه في أبوابه من أنواع الغشوش، استتابه عن معصيته، ووعظه وخوفه، وحذره العقوبة والتعزير، فإن عاد إلى فعله عزره على حسب ما يليق به من التعزير بقدر الجناية، ولا يبلغ به الحد.

ويتخذ له سوطاً، ودرّة، وغلماناً، وأعواناً، فإن ذلك أرعب للقلوب، وأشد خوفاً ويلازم الأسواق والدروب في أوقات الغفلة عنه، ويتخذ له فيها عيوناً يوصلون إليه الأخبار وأحوال السوقة، فقد ذكر أن على بن عيسى الوزير ببغداد وقع إلى محتسب كان في وقت وزارته، ذكروه له بأنه يكثر الجلوس في داره، فكتب له يقول: الحسبة لا تحتمل الحجبة، فطف بالأسواق تدر لك الأرزاق، وإن لزمت دارك صار الأصر كله عليك، والسلام. فإذا فعل المحتسب كذلك، فقد أوفى ما يجب عليه، والذي يجب له أيضاً على سلطانه إدرار الرزق عليه بما يكفيه، وبسط يده، وترك معارضته، وترك الشفاعة عنده في الخاصة والعامة.

ويكون متورعاً عن قبول الهداية من المتعيشين من أرباب الصناعات، فإن ذلك رشوة، قال النبي صلى الله عليه وسلم: "لعن الله الراشي والمرتشي"، والتعفف عن ذلك أصون، ويُلزم أيضاً غلمانه وأعوانه، فإن علم أن أحداً منهم قبل رشوة، أو أخذ هدية، صرفه عنه؛ لتنتفي عنه المطلوب، وتنجلي عنه الشبهات.

ويجب عليه أن يجعل له نائباً على ساحل البحر مكان ترد إليه الغلة ليعلمه ما يرد إليه
ভয় পায়} [ত্বহা: ৪৪], এরপর তিনি তার থেকে বিমুখ হলেন এবং তার প্রতি কোনো ভ্রুক্ষেপ করলেন না। কারণ, মানুষ কঠোরতার মাধ্যমে যা অর্জন করতে পারে না, নম্রতার মাধ্যমে তা অর্জন করতে পারে। যেমনটি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: "নিশ্চয়ই আল্লাহ অত্যন্ত নম্র (رفيق) এবং তিনি সকল নম্র ব্যক্তিকে পছন্দ করেন।"

আবার তাকে অবশ্যই ধৈর্যশীল হতে হবে, শাস্তির ব্যাপারে ত্বরান্বিত হওয়া যাবে না। কারও দ্বারা সংঘটিত প্রথম পাপের জন্যই তাকে পাকড়াও করা যাবে না এবং প্রথম যে বিচ্যুতি প্রকাশ পায় তার জন্যও শাস্তি দেওয়া যাবে না; কারণ নবীগণ ব্যতীত অন্য সকল মানুষের মধ্যে নিষ্পাপত্ব (عصمة) অনুপস্থিত।

যদি তিনি এমন কাউকে পান যে মাপে কম দেয়, ওজনে কারচুপি করে, কিংবা পণ্যে ভেজাল দেয়—যার বর্ণনা সামনে বিভিন্ন অধ্যায়ে আসবে—তবে তিনি তাকে তার অবাধ্যতার জন্য তওবা করাবেন, তাকে উপদেশ দেবেন ও আল্লাহকে ভয় দেখাবেন এবং তাকে শাস্তি ও শাসন (تعزير)-এর ব্যাপারে সতর্ক করবেন। যদি সে পুনরায় সেই কাজে লিপ্ত হয়, তবে অপরাধের মাত্রা অনুযায়ী তাকে উপযুক্ত শাসন (تعزير) করবেন, তবে তা যেন শরয়ি নির্ধারিত দণ্ড (حد) পর্যন্ত না পৌঁছায়।

তিনি নিজের জন্য চাবুক (سوط), দোররা (درّة), ভৃত্য এবং সাহায্যকারী নিযুক্ত করবেন; কারণ এটি মানুষের হৃদয়ে ভীতির উদ্রেক করে এবং অধিক ত্রাস সৃষ্টি করে। তিনি বাজার ও অলিগলিতে এমন সময়েও তদারকি করবেন যখন মানুষ তার ব্যাপারে গাফেল বা অসতর্ক থাকে। সেখানে তিনি তার জন্য তথ্য সরবরাহকারী বা গোয়েন্দা (عيون) নিয়োগ করবেন যারা তার কাছে সাধারণ মানুষের অবস্থা ও সংবাদ পৌঁছে দেবে। বর্ণিত আছে যে, বাগদাদের উজির আলী ইবন ঈসা তার মন্ত্রিত্বকালে একজন মুহতাসিবের (محتسب) কাছে একটি চিরকুট পাঠিয়েছিলেন—যার সম্পর্কে তাকে জানানো হয়েছিল যে সে নিজ গৃহেই বেশি অবস্থান করে। তিনি তাকে লিখেছিলেন: "হিসবাহ (حسبة) বা জনকল্যাণমূলক তদারকির কাজ লোকচক্ষুর আড়ালে সম্ভব নয়; সুতরাং বাজারে ঘুরে বেড়ান, তবেই আপনার রিজিক বৃদ্ধি পাবে। আর যদি আপনি নিজ গৃহেই অবস্থান করেন, তবে সমস্ত দায়ভার আপনার ওপরই বর্তাবে, আস-সালাম।" মুহতাসিব যখন এমনটি করবেন, তখন তিনি তার ওপর অর্পিত দায়িত্ব যথাযথভাবে পালন করলেন। আর তার সুলতানের ওপরও তার জন্য কিছু কর্তব্য রয়েছে, যেমন—তাকে পর্যাপ্ত জীবিকা প্রদান করা, তার কর্তৃত্বকে প্রসারিত করা, তার কাজে বাধা না দেওয়া এবং বিশিষ্ট বা সাধারণ কারো পক্ষেই তার কাছে সুপারিশ (شفاعة) না করা।

তাঁকে পেশাজীবী ও কারিগরদের থেকে উপহার গ্রহণ করার ব্যাপারে অত্যন্ত পরহেজগার (متورع) হতে হবে; কারণ তা হচ্ছে ঘুষ (رشوة)। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: "আল্লাহর লানত ঘুষদাতা এবং ঘুষগ্রহীতার ওপর।" এ থেকে পবিত্র থাকা অধিক সুরক্ষামূলক। তিনি তার ভৃত্য ও সাহায্যকারীদেরও এ ব্যাপারে বাধ্য করবেন। যদি তিনি জানতে পারেন যে তাদের মধ্যে কেউ ঘুষ (رشوة) গ্রহণ করেছে বা উপহার নিয়েছে, তবে তিনি তাকে বরখাস্ত করবেন; যাতে তার ওপর থেকে অভিযোগ অপসারিত হয় এবং সন্দেহসমূহ (شبهات) দূরীভূত হয়।

তার ওপর ওয়াজিব (واجب) হলো সমুদ্র উপকূলে এমন স্থানে একজন প্রতিনিধি (نائব) নিয়োগ করা যেখানে শস্য বা মালামাল আসে, যাতে সে সেখানে কী আসছে সে সম্পর্কে তাকে অবহিত করতে পারে।
(খণ্ড: ১) নিহায়াতুর রুতবাহ ফী তলাবিল হিসবাহ - ইবন বাসসাম (পৃষ্ঠা: ২৯৬)
في كل يوم، ويحتم على مخازن من غلته رسم عبور إلى وقت الحاجة؛ لأن ربما جرى بعد ذلك تفريط في أوجه، وهذا أمر جليل لا ينبغي الغفلة عنه، ولا التفريط فيه. ويلزم المحتسب بعد ذلك أن يفرق الغلة بالتعريف على مقدار ما في البلد، وينظر فيمن عنده من الناس، وذلك مأخوذ من الأحجار التي تطحن في البلد؛ لأن كل حجر فارسي يطحن في كل يوم وليلة ستة أرادب، فإذا جعلناها أقداحاً كانت خمسمائة قدح وستة وسبعين قدحاً، يقيت كل إنسان منها قدح، فهذه الأحجار يعرف بها عدد الناس في كل مدينة بالتقريب.

* * *

 

الباب الثاني

في النظر في الأسواق والطرقات

ينبغي أن تكون الأسواق في الارتفاع والاتساع على ما وضعته الروم قديماً، ولا يجوز لأحد من السوقة إخراج مصطبة دكانه عن سمت أركان السقائف إلى الممر الأصلي؛ لأنه عدوان وتضييق على المارة، فيجب على المحتسب إزالته والمنع من فعله، لما في ذلك من إلحاق الضرر بالناس، ويجعل لأهل كل صنعة سوقاً يختص بهم، تعرف صناعتهم، ومن كانت صناعته تحتاج إلى وقود نار، كالخباز، والجردقاني، فالمستحب أن يبعد حوانيتهم عن البرازين والعطارين، لعدم المجانسة بينهم وحصول الأضرار.

وينبغي للمحتسب ويستحب له أن يجعل له على أهل كل صنعة عريفاً من صالح أهلها، خبيراً بصناعتهم، بصيراً بغشوشهم وتدليسهم، مشهوراً بالثقة والأمانة، يكون
প্রতিদিন, এবং তার উৎপাদিত শস্যের ভাণ্ডার থেকে প্রয়োজনের সময় পর্যন্ত একটি নির্দিষ্ট পরিমাণ জমা রাখা অপরিহার্য; কারণ সম্ভবত পরবর্তীতে এর বিভিন্ন দিক থেকে অবহেলা ঘটতে পারে। এটি একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বিষয় যা উপেক্ষা করা বা এতে অবহেলা করা উচিত নয়। এরপর বাজার পরিদর্শক (محتسب)-এর জন্য আবশ্যক হলো শহরে মজুত শস্যের পরিমাণ অনুযায়ী তা বণ্টন করা এবং কার কাছে কতজন মানুষ আছে তা পর্যবেক্ষণ করা। এটি শহরের যাঁতাকলগুলোর সংখ্যা থেকে পরিমাপ করা হয়; কারণ প্রতিটি পারস্য দেশীয় যাঁতা দিনে ও রাতে ছয় 'ইরদাব' শস্য পিষতে পারে। যদি আমরা একে 'কাদাহ' হিসেবে গণনা করি, তবে তা হয় পাঁচশত ছিয়াত্তর কাদাহ। এর প্রতিটি কাদাহ একজন মানুষের একদিনের খোরাক হিসেবে যথেষ্ট। সুতরাং, এই যাঁতাকলগুলোর মাধ্যমে প্রতিটি শহরের জনসংখ্যা আনুমানিকভাবে জানা যায়।

* * *

 

দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ

বাজার এবং রাস্তাঘাট তদারকি প্রসঙ্গে

বাজারের উচ্চতা ও প্রশস্ততা প্রাচীন রোমানদের স্থাপিত মানদণ্ড অনুযায়ী হওয়া উচিত। কোনো বাজারদারের জন্য তার দোকানের সামনের বেদীকে মূল রাস্তা পর্যন্ত বর্ধিত করা জায়েজ নেই; কারণ এটি পথচারীদের প্রতি সীমালঙ্ঘন এবং চলাচলে সংকীর্ণতা সৃষ্টি করে। সুতরাং বাজার পরিদর্শক (محتسب)-এর ওপর এটি অপসারণ করা এবং এ ধরনের কাজ থেকে বিরত রাখা ওয়াজিব, কারণ এতে মানুষের ক্ষতি নিহিত রয়েছে। প্রতিটি পেশার মানুষের জন্য একটি স্বতন্ত্র বাজার নির্দিষ্ট করতে হবে যেন তাদের পেশা সম্পর্কে সম্যক ধারণা পাওয়া যায়। যাদের পেশায় আগুনের প্রয়োজন হয়, যেমন রুটি বিক্রেতা এবং জর্দাকানি বিক্রেতা, তাদের দোকানগুলোকে কাপড় বিক্রেতা ও সুগন্ধি বিক্রেতাদের থেকে দূরে রাখা পছন্দনীয় (مستحب), কারণ তাদের মধ্যে কোনো সাদৃশ্য নেই এবং এর ফলে ক্ষয়ক্ষতির আশঙ্কা থাকে।

বাজার পরিদর্শক (محتسب)-এর জন্য উচিত এবং পছন্দনীয় (مستحب) হলো প্রতিটি পেশার লোকদের জন্য তাদের মধ্য থেকে একজন সৎ প্রধান নিযুক্ত করা, যিনি তাদের পেশা সম্পর্কে অভিজ্ঞ হবেন, তাদের প্রতারণা ও তথ্য গোপন (تدليس) সম্পর্কে সম্যক অবগত থাকবেন এবং নির্ভরযোগ্য (ثقة) ও আমানতদার হিসেবে সুপরিচিত হবেন, তিনি হবেন...
(খণ্ড: ১) নিহায়াতুর রুতবাহ ফী তলাবিল হিসবাহ - ইবন বাসসাম (পৃষ্ঠা: ২৯৭)
مشرفاً على أحوالهم، ويطالعه بأخبارهم، وما جلب إلى سوقهم من المتاجر والبضائع، وما تستقر عليه من الأسعار، وغير ذلك من الأسباب التي يلزم المحتسب معرفتها، لقوله صلى الله عليه وسلم: "استعينوا على كل صنعة بصالح من أهلها".

ولا يجوز للمحتسب أن يسعر البضائع على أهلها، ولا أن يلزمهم بيعها بسعر معلوم، فقد غلا السعر على عهد رسول الله صلى الله عليه وسلم، فقال الناس: يا رسول الله، سعِّر لنا، فقال صلى الله عليه وسلم: "هو القابض والباسط والمسعّر، وإني لأرجو أن ألقى الله وليس أحد يطالبني بمظلمة في نفس ولا في مال".

وإنما إذا رأى المحتسب أحداً قد احتكر الطعام من سائر الأقوات، وهو أن يشتري في وقت الغلاء، ويتربص به ليزداد في ثمنه أكثر منه، ألزمه بيعه إجباراً؛ لأن الاحتكار حرام، والمنع من فعل الحرام واجب، وقد قال النبي صلى الله عليه وسلم: "الجالب مرزوق، والمحتكر ملعون".

ولا يجوز تلقى الركبان، وهو أن تقدُم قافلة فيلتقيهم إنسان خارج البلد، فيخبرهم بكساد ما معهم ليبتاعه منهم رخيصاً، وقد نهى النبي صلى الله عليه وسلم عن ذلك، ونهى عن بيع السلع حتى يهبط بها إلى الأسواق، فإن عثر المحتسب بمن يقصد ذلك، عزره وردعه عن فعله.

وينبغي أن يمنع أحمال الحطب، والحلفاء، وأحمال التبن، وروايا الماء، والرماد، وما أشبه ذلك، من الدخول إلى الأسواق، لما فيه من الضرر بلباس الناس، ويأمر أهل الأسواق بكنسها، وتنظيفها من الأوساخ، وغير ذلك مما يضر بالناس، فإن النبي صلى الله عليه وسلم قال:
তিনি তাদের অবস্থা পর্যবেক্ষণকারী হবেন এবং তাদের খবরাখবর, বাজারে আমদানিকৃত পণ্য ও সামগ্রী, সেগুলোর নির্ধারিত বাজারমূল্য এবং অন্যান্য বিষয় সম্পর্কে অবগত থাকবেন যা একজন মুহতাসিবের জানা আবশ্যক। কেননা রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: "তোমরা প্রতিটি পেশার ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট বিষয়ের সৎ ব্যক্তিদের সাহায্য গ্রহণ করো।"

মুহতাসিবের জন্য ব্যবসায়ীদের পণ্যের মূল্য নির্ধারণ করা বা তাদেরকে নির্দিষ্ট মূল্যে বিক্রয় করতে বাধ্য করা বৈধ নয়। কেননা রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের যুগে দ্রব্যমূল্য বৃদ্ধি পেয়েছিল, তখন লোকজন বলেছিল: "হে আল্লাহর রাসুল! আমাদের জন্য পণ্যের দাম নির্ধারণ করে দিন।" উত্তরে তিনি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন: "নিশ্চয়ই আল্লাহই রিযিক সংকুচিতকারী, প্রশস্তকারী এবং মূল্য নির্ধারণকারী; আর আমি আশা করি যে, আমি আল্লাহর সাথে এমন অবস্থায় সাক্ষাৎ করব যখন জান-মাল সংক্রান্ত কোনো জুলুমের দায়ে কেউ আমার বিরুদ্ধে দাবিদার থাকবে না।"

মুহতাসিব যদি কাউকে নিত্যপ্রয়োজনীয় খাদ্যদ্রব্য গুদামজাত (احتكر) করতে দেখেন—আর তা হলো দুর্মূল্যের সময় পণ্য ক্রয় করে দাম আরও বৃদ্ধি পাওয়ার অপেক্ষায় তা ধরে রাখা—তবে তিনি তাকে তা বিক্রয়ে বাধ্য করবেন। কারণ গুদামজাত করা হারাম (حرام), আর হারাম কাজ প্রতিরোধ করা ওয়াজিব (واجب)। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: "আমদানিকারক রিযিকপ্রাপ্ত এবং গুদামজাতকারী অভিশপ্ত।"

পণ্যবাহী কাফেলার গতিরোধ করা বা শহরের বাইরে গিয়ে তাদের সাথে সাক্ষাৎ করা (تلقى الركبان) বৈধ নয়। আর তা হলো এই যে, কোনো ব্যক্তি পণ্যবাহী কাফেলার সামনে এগিয়ে গিয়ে শহরের বাইরে তাদের সাথে সাক্ষাৎ করে এবং তাদের পণ্যের চাহিদা বাজারে কম বলে জানায়, যাতে সে সস্তায় তা তাদের নিকট থেকে ক্রয় করে নিতে পারে। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এ ব্যাপারে এবং বাজারে পৌঁছানোর আগে পণ্য বিক্রয় করতে নিষেধ করেছেন। মুহতাসিব যদি এমন কাউকে পান যে এই উদ্দেশ্যে কাজ করছে, তবে তিনি তাকে সতর্ক করবেন এবং এ কাজ থেকে বিরত রাখবেন।

লাকড়ি, ঘাস, খড়, পানির বড় মশক, ছাই এবং এই জাতীয় বোঝা বাজারে প্রবেশ করানো বন্ধ করা উচিত; কারণ এতে মানুষের পোশাক-পরিচ্ছদ ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা থাকে। তিনি বাজারবাসীদের তা ঝাড়ু দিতে, ময়লা-আবর্জনা পরিষ্কার করতে এবং মানুষের জন্য ক্ষতিকর বিষয়গুলো দূর করতে নির্দেশ দেবেন। কেননা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন:
(খণ্ড: ১) নিহায়াতুর রুতবাহ ফী তলাবিল হিসবাহ - ইবন বাসসাম (পৃষ্ঠা: ২৯৮)
"لا ضرر ولا إضرار".

وأما الطرقات وأزقة الحارات، فلا يجوز لأحد إخراج جدار داره إلى الممر المعهود، وكذلك كل ما فيه أذية على السالكين، كمجاري الأوساخ الخارجة من الدور في زمن الصيف إلى وسط الطريق، فإنه يكلف بسده في الصيف، ويحفر له في داره حفرة يجمع فيها.

ولا يجوز التطلع إلى الجيران من الأسطحة والنوافذ، ولا أن يجلس الرجال في طرقات النساء من غير حاجة، فمن فعل ذلك عزره المحتسب، سيما إذا رأى رجلاً أجنبياً مع امرأة أجنبية يتحدثان في موضع خلوة، فإنه أكثر للتهمة في حقها، وإذا تكررت خيانة رجل من أهل السوق أدبه، فقد روى أن أمير المؤمنين علي بن أبي طالب، رضي الله عنه، أمر بضرب رجل وجب عليه الحد، فقال له وهو يضربه: قتلتني يا أمير المؤمنين، فقال له: الحق قتلك، قال: فارحمني، قال: لست أرحم بك ممن أوجب عليك الحد. فإن عاد إلى الخيانة أقامه من السوق.

* * *

 

الباب الثالث

في الخبازين

ينبغي أن يعرف عليهم عريفاً ثقة من أهل صناعتهم، ويأمره أن يكتب له جريدة بأسمائهم وعدتهم، ويطالبوا برسومهم في كل يوم، ولا يسامحوا منها بشيء، ومتى سومحوا منها بشيء، كان ذلك سبباً للاضطراب في الأسواق وفساد الأحوال.

ويتفقد ما يغشون به الأخباز من دقيق الجلبان، والفول، فإنهما يسودانه، وكذلك
"ক্ষতি করা যাবে না এবং ক্ষতিগ্রস্ত হওয়াও যাবে না।"

রাস্তাঘাট এবং মহল্লার অলিগলির ক্ষেত্রে, কারোর জন্য তার ঘরের দেয়াল প্রচলিত চলাচলের রাস্তার দিকে বাড়িয়ে তৈরি করা জায়েজ নেই। একইভাবে পথিকদের জন্য কষ্টদায়ক এমন কিছু করাও জায়েজ নেই, যেমন—গ্রীষ্মকালে ঘর থেকে বের হওয়া ময়লা-আবর্জনার নালা রাস্তার মাঝখানে রাখা। গ্রীষ্মকালে তাকে এটি বন্ধ করতে বাধ্য করা হবে এবং ময়লা জমানোর জন্য তার ঘরের ভেতর একটি গর্ত খুঁড়তে হবে।

ছাদ বা জানালা দিয়ে প্রতিবেশীদের দিকে উঁকি দেওয়া জায়েজ নেই। প্রয়োজন ছাড়া পুরুষদের নারীদের যাতায়াতের রাস্তায় বসে থাকাও উচিত নয়। যে ব্যক্তি এমনটি করবে, মুহতাসিব (বাজার পরিদর্শক) তাকে শাসন করবেন; বিশেষ করে যখন তিনি কোনো গায়রে মাহরাম পুরুষকে কোনো গায়রে মাহরাম মহিলার সাথে নির্জনে কথা বলতে দেখবেন, কারণ এতে মহিলার প্রতি অপবাদের সম্ভাবনা বেশি থাকে। যদি বাজারের কোনো ব্যক্তির পক্ষ থেকে বারবার প্রতারণা প্রকাশ পায়, তবে তাকে শাসন করা হবে। বর্ণিত আছে যে, আমিরুল মুমিনিন আলী ইবনে আবি তালিব (রা.) এক ব্যক্তিকে বেত্রাঘাত করার নির্দেশ দিয়েছিলেন যার ওপর নির্ধারিত দণ্ড (حد) ওয়াজিব হয়েছিল। বেত্রাঘাত করার সময় লোকটি বলল, "হে আমিরুল মুমিনিন! আপনি তো আমাকে মেরে ফেলছেন।" তিনি বললেন, "ন্যায়বিচার তোমাকে মারছে।" সে বলল, "আমার ওপর দয়া করুন।" তিনি বললেন, "যিনি তোমার ওপর দণ্ড ওয়াজিব করেছেন, আমি তোমার প্রতি তাঁর চেয়ে বেশি দয়ালু নই।" যদি লোকটি পুনরায় প্রতারণা করে, তবে তাকে বাজার থেকে বের করে দেওয়া হবে।

* * *

 

তৃতীয় অধ্যায়

রুটি প্রস্তুতকারকদের বর্ণনায়

তাদের জন্য তাদের পেশার অন্তর্ভুক্ত একজন নির্ভরযোগ্য (ثقة) সর্দার নিয়োগ করা উচিত। তাকে নির্দেশ দেওয়া হবে যেন সে তাদের নাম ও সংখ্যার একটি তালিকা তৈরি করে এবং প্রতিদিন তাদের কর আদায় করা হয়। এর কোনো অংশে শিথিলতা করা যাবে না। যদি কোনো ক্ষেত্রে শিথিলতা করা হয়, তবে তা বাজারে বিশৃঙ্খলা এবং অবস্থার অবনতির কারণ হবে।

রুটিতে ভেজাল দেওয়ার জন্য খেসারি এবং শিমের আটা ব্যবহার করা হচ্ছে কি না তা তদারকি করতে হবে, কারণ এগুলো রুটিকে কালো করে ফেলে। একইভাবে
(খণ্ড: ১) নিহায়াতুর রুতবাহ ফী তলাবিল হিসবাহ - ইবন বাসসাম (পৃষ্ঠা: ২৯৯)
دقيق الحمص، فإنه يثقله ويفججه، وكذلك دقيق الشعير والسميذ ما يخفى نظرهما على وجهه، وأيضاً في كسره، وإذا لم ينضج الخبز أدب الخباز والفران جميعاً؛ لأن الخباز إذا أمر الفران ائتمر.

ويطالبون بنظافة أوعية الماء وتغطيتها، ونظافة المعاجن، وما يغطى به الخبز، وما يفرش تحته، ولا يعجن عجان بقدميه، ولا بركبتيه، ولا بمرافقه؛ لئلا تنحدر أعراق أبدانهم في العجين، وفي ذلك أيضاً احقار بالطعام، ويكون العجان متلثماً؛ لئلا يبدر من بصاقه أو مخاطه شيء في العجين إذا تكلم أو عطس، ولا يعجن إلا وعليه ملعبة، أو ثوب مقطوع الأكمام، ويشد جبينه بعصابة بيضاء لتمنع عرقه أن يقطر، ويحلق شعر ذراعيه كل قليل، وإذا عجن في النهار، فليكن عنده من ينش عنه الذباب، هذا كله بعد نخل الدقيق بالمنخل الصفيق.

وأما الجرذقانيون، فلا يضع أحد منهم في عجينه شيئاً من النطرون؛ لأنه يورث العطش، ويسهل البطن، ويورث البواسير. وينبغي أن يجعلوا عوضه الكمون الأبيض، وأن لا يحمي أحد منهم تنوره بساس الكتان، ولا بقرمة؛ لأنه يورث النسيان. وكذلك حوانيتهم التي توقد فيها التنانير، تكون سقوفها مرتفعة، وتفتح أبوابها، ويجعل في سقوفها منافس واسعة يخرج منها الدخان، وإذا فرغ من حموه مسحه بخرقة، ثم يسرع في الخبز، ويقرر بيع الخبز بلا غبن ولا حيف على الخباز ولا على الرعية. ويؤمرون أن يلا يخبزوا خبزاً إلى أن يختمر، فإن غير الخمير يثقل في الميزان، ويثقل في المعدة. وكذلك إذا كان قليل الملح، فإنهم يقصدون بذلك ثقله ووزانته.

وينبغي أن يرشوا على وجهه الأبازير الطيبة مثل الكمون الأبيض والأسود، والشونيز، والقرطم، وما أشبه ذلك، وكذلك في العجين، والمصطكي، وعرق الكافور، والشيبة، ويعتبر سعر الأقات ونقصانه، ويفتش على لوح الخبازين أوزانها على أطرافها، وإذا عرض حركة على الخبز أمرهم بعمل وظائفهم كلها خبزاً.
ছোলার আটা; কারণ এটি রুটিকে ভারী ও অপাচ্য করে তোলে। একইভাবে যবের আটা এবং সুজি, যা রুটির উপরিভাগে বা তা ছিঁড়লে সহজে পরিলক্ষিত হয় না। আর যদি রুটি ঠিকমতো সেঁকা না হয়, তবে আটা প্রস্তুতকারক ও রুটি প্রস্তুতকারক উভয়কেই শাস্তি প্রদান করতে হবে; কারণ আটা প্রস্তুতকারীর নির্দেশেই রুটি প্রস্তুতকারক কাজ সম্পন্ন করে থাকে।

এবং তারা (তদারককারীগণ) পানির পাত্রের পরিচ্ছন্নতা ও তা ঢেকে রাখা, খামির মাখার পাত্র, রুটি ঢাকার কাপড় এবং যার ওপর রুটি রাখা হয় তার পরিচ্ছন্নতা নিশ্চিত করার দাবি জানাবেন। কোনো খামির প্রস্তুতকারী যেন তার পা, হাঁটু বা কনুই দিয়ে খামির না মাখে; যাতে তাদের শরীরের ঘাম খামিরে না পড়ে, আর এটি খাদ্যের প্রতি অবমাননাও বটে। খামির প্রস্তুতকারীকে মুখাবরণ পরিহিত থাকতে হবে; যাতে কথা বলা বা হাঁচি দেওয়ার সময় তার লালা বা শ্লেষ্মা খামিরে না পড়ে। সে অবশ্যই বিশেষ কর্ম-পোশাক অথবা আস্তিনকাটা জামা পরিধান করে খামির মাখবে এবং কপালে একটি সাদা পট্টি বাঁধবে যাতে ঘাম চুইয়ে না পড়ে। সে নিয়মিত তার দুই হাতের পশম পরিষ্কার করবে। যদি সে দিনের বেলা খামির মাখে, তবে তার নিকট মাছি তাড়ানোর জন্য কেউ নিয়োজিত থাকবে। এই সবকিছুই হতে হবে ঘন চালনি দিয়ে আটা চালার পর।

আর জুরদাকানি (এক প্রকার বিশেষ রুটি) প্রস্তুতকারকদের ক্ষেত্রে নিয়ম হলো, তাদের কেউ যেন খামিরে নেট্রন (সোডিয়াম কার্বনেট জাতীয় দ্রব্য) না মেশায়; কারণ এটি পিপাসা উদ্রেক করে, উদরাময় ঘটায় এবং অর্শ রোগের সৃষ্টি করে। এর পরিবর্তে তাদের সাদা জিরা ব্যবহার করা উচিত। তাদের কেউ যেন তন্দুর উত্তপ্ত করতে তিসির ডাঁটা বা কাঠের গুঁড়ো ব্যবহার না করে; কারণ তা বিস্মৃতি ঘটায়। একইভাবে তাদের দোকানগুলো যেখানে তন্দুর জ্বালানো হয়, সেগুলোর ছাদ হবে উঁচু এবং দরজাগুলো খোলা থাকবে। ধোঁয়া বের হওয়ার জন্য ছাদে প্রশস্ত ঘুলঘুলি রাখতে হবে। তন্দুর উত্তপ্ত করা শেষ হলে তা ন্যাকড়া দিয়ে মুছে দ্রুত রুটি সেঁকতে হবে। রুটির মূল্য এমনভাবে নির্ধারণ করতে হবে যাতে রুটি প্রস্তুতকারক বা সাধারণ জনগণ—কারও প্রতিই প্রবঞ্চনা বা অবিচার না হয়। তাদের নির্দেশ দিতে হবে যেন তারা পুরোপুরি খামির হওয়ার আগে রুটি না সেঁকে; কারণ খামিরবিহীন রুটি পাল্লায় ভারী হয় এবং পাকস্থলীর জন্য গুরুপাক হয়। একইভাবে লবণের পরিমাণ কম হলেও তারা এর মাধ্যমে ওজন ও ভার বাড়ানোরই উদ্দেশ্য পোষণ করে থাকে।

রুটির উপরিভাগে সুগন্ধি মশলা যেমন সাদা ও কালো জিরা, কালোজিরা, কুসুম ফুল এবং এই জাতীয় দ্রব্য ছিটিয়ে দেওয়া উচিত। একইভাবে খামিরের মধ্যে মাস্টিক, কর্পূরের নির্যাস এবং ওক মস (এক প্রকার সুগন্ধি শৈবাল) ব্যবহার করা যেতে পারে। আটার বাজারদর ও তার হ্রাস-বৃদ্ধি পর্যবেক্ষণ করতে হবে এবং রুটি প্রস্তুতকারকদের তক্তায় তাদের বাটখারাগুলোর ওজন সঠিক আছে কি না তা পরীক্ষা করতে হবে। যদি রুটির বাজারে কোনো অস্থিরতা দেখা দেয়, তবে তাদের ওপর অর্পিত সমস্ত আটা দিয়ে রুটি তৈরির নির্দেশ দিতে হবে।
(খণ্ড: ১) নিহায়াতুর রুতবাহ ফী তলাবিল হিসবাহ - ইবন বাসসাম (পৃষ্ঠা: ৩০০)
وبعد، فاعلم وفقك الله أن الحملة الدقيق الحواري ثلاثمائة رطل بالقلعى، وكذلك الخشكار، فإذا أردت معرفة مؤونة كل واحد منهم ووقوع خبزهم بالرطل القلعى أيضاً، فوجدت قمح الحملة الحواري مدخلها عشر ويبات ونصف قمحاً غلتا يصبح في سبعة ونصف، وطحينها ستة دراهم، ويلحقها في العجين والخبيز أربعة دراهم، ومن الخمير عشرون رطلاً، وخبزها ثلاثمائة وثمانون رطلاً بالقلعى، وعيار الحملة الخشكار من القمح نظير الحواري، وطحنها ثلاثة ونصف، ويلحقها أيضاً في العجين والخبيز أربعة دراهم، ومن الخمير عشرون رطلاً، ووقوع خبزها عليها في محاسبة الخبازين إذا احتيج إلى ذلك يوماً، وبالله التوفيق.

* * *

 

الباب الرابع

في السقائين وغشهم

ينبغي أن يعرف عليهم عريفاً، ويعرفه أنه لما كانت الأمواج تجيب الأوساخ والأقذار إلى الشطوط، وجب أن يكون السقاؤون يدخلون في الماء إلى أن يبعدوا عن الأوساخ، وألا يستقوا من مكان يكون قريباً من سقاية، ولا مستحم، ولا مجراة حمام، ومن اتخذ منهم رواية جديدة، فلينقل بها الماء إلى الطين أياماً، فإن ماءها يكون متغير الطعم
অতঃপর, আল্লাহ আপনাকে তাওফিক দান করুন, জেনে রাখুন যে, এক ‘হামলা’ (বোঝা) উন্নতমানের সাদা আটা তিনশত ক্বালা’য়ী রতল হয়ে থাকে। মোটা আটার ক্ষেত্রেও একই হিসাব। আপনি যদি এগুলোর প্রত্যেকটির ব্যয়ভার এবং ক্বালা’য়ী রতল হিসেবে এগুলোর রুটির উৎপাদন সম্পর্কে জানতে চান, তবে দেখা যায় যে, এক হামলা সাদা আটার জন্য সাড়ে দশ অয়বাহ কাঁচা গম প্রয়োজন হয়, যা পরিশেষে সাড়ে সাত অয়বাহ-তে রূপান্তরিত হয়। এর পিষাই খরচ ছয় দিরহাম এবং খামির ও সেঁকার কাজে চার দিরহাম ব্যয় হয়। এতে বিশ রতল খামির যোগ করা হয় এবং এর রুটির ওজন ক্বালা’য়ী হিসেবে তিনশত আশি রতল হয়। মোটা আটার এক হামলার গমের মান সাদা আটার অনুরূপই। তবে এর পিষাই খরচ সাড়ে তিন দিরহাম এবং খামির ও সেঁকার কাজেও চার দিরহাম যুক্ত হয়। এতেও বিশ রতল খামির মেশানো হয়। কখনো প্রয়োজন পড়লে রুটি প্রস্তুতকারকদের হিসাব-নিকাশের ক্ষেত্রে রুটির এই উৎপাদন হার বিবেচনা করা হবে। আর আল্লাহর সাহায্যেই সফলতা অর্জিত হয়।

* * *

 

চতুর্থ অধ্যায়

পানি সরবরাহকারী এবং তাদের প্রতারণা প্রসঙ্গে

উচিত হলো তাদের ওপর একজন তদারককারী নিয়োগ করা। তিনি তাদের অবগত করবেন যে, যেহেতু ঢেউ তীরের দিকে ময়লা-আবর্জনা ও অপবিত্রতা নিয়ে আসে, তাই পানি সরবরাহকারীদের উচিত পানির গভীরে প্রবেশ করা যেন তারা অপবিত্রতা থেকে দূরে থাকতে পারে। তারা যেন এমন কোনো স্থান থেকে পানি সংগ্রহ না করে যা পানি পানের স্থান, গোসলখানা কিংবা হাম্মামের নর্দমার নিকটবর্তী হয়। তাদের মধ্যে কেউ যদি নতুন পানির মশক গ্রহণ করে, তবে সে যেন কয়েকদিন তা দিয়ে কাদার কাজে পানি বহন করে; কারণ সেটির পানির স্বাদ পরিবর্তিত থাকে।
(খণ্ড: ১) নিহায়াতুর রুতবাহ ফী তলাবিল হিসবাহ - ইবন বাসসাম (পৃষ্ঠা: ৩০১)
والرائحة من أثر الدباغ، فإذا زال التغير، أذن له المحتسب في بيع مائها.

وينبغي أن يكون في أوساطهم التبانين؛ ليستروا عوراتهم. وسقاة الماء بالكيزان أصحاب القرب، يؤمرون بنظافة أزيارهم، وصيانتهم بالأغطية، وتغطية قربهم التي يسقون منها في الأسواق بالميازر، ويمنعهم أن يسقوا بكيزانهم المجذم، والأبرص، وأصحاب العاهات والأمراض الظاهرة، وجلاء الكيزان النحاس كل ليلة، وتطييب شبابيكها بشمع المسك واللادن الطيب العنبري، وافتقاد الخوابى بالبخور، والغسل كل ثلاثة أيام.

* * *

 

الباب الخامس

في السوقة وغشهم

ينبغي أن يعرف عليهم عريفاً ثقة، ويأمر أحدهم أن لا يقدم فرشه خارجاً عن مصطبته بشيء، وأن يجعل فراش أكبرهم إلى داخل حانوته، وإذا أجلس البياع على ميزانه صبياً دون البلوغ، اشترط على معلمه أنه إذا بخس كانت العقوبة واقعة به دون صبيه، وبعد الشرط، فلا يمنع الصبي التعيش.

ويعبر موازينهم، وصنجهم، وأقداحهم، ويمنعوا من أن يكون في حوانيتهم دستان من الصنج، والأرطال حديد لا يكون في شيء منها حلقة أصلاً، ويختم بالخواتم الرصاص، ويكتب عليها المحتسب، ويرسم الختم بخطه، ويفتقد كل قليل، وربما جلدوا على اللفت وزنوا به في جملة الأرطال، وينبغي إذا شرع في الوزن أن يسكن الميزان، ويضع فيها البضاعة، ولا يهمز حافة الكفة بإبهامه، فإن ذلك بخس وتدليس.

ولا يكون في ميزانهم الفضة صنجة ثلاثة دراهم، ولا في ميزان الأرطال ثلث رطل؛ لأن الثلث يشابه النصف رطل، وكذلك صنجة الثلاثة تشابه الدرهمين، ويعتبر حبات القمح التي في موازينهم، فقد تنقع ويدس في أجسامها ما يزيد في ثقلها من أطراف الأبر وغيرها. وتكون كفات موازين الذهب والفضة خفافاً، ومساميرها فولاذاً. وتكون موازينهم الفضة من بين أيديهم حتى يشرف عليها من يزن أو يوذن له.
এবং পানির এই গন্ধ চামড়া প্রক্রিয়াজাতকরণের (দাবাগাত) প্রভাবে হয়ে থাকে; সুতরাং যখন এই পরিবর্তন দূর হয়ে যাবে, তখন বাজার পরিদর্শক (মুহতাসিব) তাকে সেই পানি বিক্রির অনুমতি দেবেন।

তাদের (শ্রমিকদের) উচিত হবে নিম্নাংশ আবৃতকারী ছোট পাজামা (তাব্বান) পরিধান করা; যাতে তারা তাদের সতর ঢেকে রাখতে পারে। আর মশক বহনকারী পেয়ালাধারী পানি বিক্রেতাদের নির্দেশ দিতে হবে যেন তারা তাদের পানির বড় পাত্রগুলো (জিরার) পরিষ্কার রাখে, ঢাকনা দিয়ে সেগুলো সংরক্ষিত রাখে এবং বাজারে যে মশক থেকে তারা পানি পান করায় সেগুলো কাপড়ের আবরণ (মিয়জার) দিয়ে ঢেকে রাখে। কুষ্ঠরোগী, ধবলরোগী এবং প্রকাশ্য খুঁত বা রোগে আক্রান্ত ব্যক্তিদের যেন তারা তাদের পেয়ালা থেকে পানি পান না করায়—সে বিষয়ে তাদের নিষেধ করতে হবে। তামার পেয়ালাগুলো প্রতি রাতে মাজা-ঘষা করে পরিষ্কার করতে হবে, সেগুলোর মুখগুলো কস্তুরিমিশ্রিত মোম এবং সুগন্ধি ল্যাডানাম বা আম্বর দ্বারা সুবাসিত করতে হবে, মাটির বড় পাত্রগুলো (খাওয়াবি) ধূপ দিয়ে সুগন্ধিত করতে হবে এবং প্রতি তিন দিন অন্তর সেগুলো ধৌত করতে হবে।

* * *

 

পঞ্চম অধ্যায়

বাজারজাতকারী এবং তাদের প্রতারণা প্রসঙ্গে

উচিত হবে তাদের তদারকির জন্য একজন নির্ভরযোগ্য (ثقة) পরিদর্শক বা সর্দার (আরিফ) নিযুক্ত করা। তিনি তাদের নির্দেশ দেবেন যেন কেউ তাদের দোকানের মাচা বা বেঞ্চের বাইরে মালামাল না রাখে এবং সবচেয়ে বড় গালিচাটি যেন দোকানের ভেতরের দিকে রাখা হয়। যদি কোনো বিক্রেতা তার তুলাদণ্ডের কাছে কোনো অপ্রাপ্তবয়স্ক বালককে বসায়, তবে তার নিয়োগকর্তার ওপর এই শর্তারোপ করতে হবে যে, যদি ওজনে কম দেওয়া হয় তবে শাস্তি সেই বালকের পরিবর্তে নিয়োগকর্তার ওপর বর্তাবে। এই শর্ত পালনের পর বালকটিকে উপার্জনে বাধা দেওয়া হবে না।

তাদের তুলাদণ্ড, বাটখারা এবং পরিমাপক পাত্রগুলো পরীক্ষা করতে হবে। তাদের দোকানে যেন দুই ধরনের বাটখারা না থাকে সে বিষয়ে নিষেধ করতে হবে। লোহার ওজনে (রাতল) যেন কোনোভাবেই কোনো কড়া বা আংটা না থাকে। সিসার সিলমোহর দিয়ে সেগুলো সিল করতে হবে এবং বাজার পরিদর্শক (মুহতাসিব) তাতে নিজের স্বাক্ষরে চিহ্ন এঁকে দেবেন। মাঝে মাঝেই এগুলো তদারকি করতে হবে। ওজনে কারচুপি করার জন্য তারা হয়তো বাটখারা মোচড় দেয়; তাই নিয়ম হলো যখন ওজন শুরু করা হবে তখন তুলাদণ্ড স্থির হওয়া পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হবে এবং তারপর পণ্য রাখতে হবে। পাল্লার কিনারায় বৃদ্ধাঙ্গুলি দিয়ে চাপ দেওয়া যাবে না, কারণ তা ওজনে কম দেওয়া এবং প্রতারণা (تدليس) হিসেবে গণ্য।

রূপা মাপার পাল্লায় যেন তিন দিরহামের কোনো বাটখারা না থাকে এবং ওজনের পরিমাপে (রাতল) যেন এক-তৃতীয়াংশ রাতলের বাটখারা না থাকে; কারণ এক-তৃতীয়াংশ দেখতে আধা রাতলের মতো এবং তিন দিরহামের বাটখারা দেখতে দুই দিরহামের মতো মনে হয়। তাদের তুলাদণ্ডে ব্যবহৃত গমের দানাগুলোও পরীক্ষা করতে হবে, কারণ অনেক সময় সেগুলো ভিজিয়ে রাখা হয় অথবা সুঁইয়ের ডগা বা অন্য কিছু ঢুকিয়ে ওজনে ভারী করা হয়। সোনা ও রূপা মাপার পাল্লা হালকা হতে হবে এবং এর পেরেকগুলো হবে ইস্পাতের। তাদের রূপা মাপার তুলাদণ্ডগুলো তাদের সামনে থাকতে হবে যাতে যে ব্যক্তি ওজন করছে বা যাকে ওজন করার অনুমতি দেওয়া হয়েছে সে তা স্পষ্টভাবে পর্যবেক্ষণ করতে পারে।
(খণ্ড: ১) নিহায়াতুর রুতবাহ ফী তলাবিল হিসবাহ - ইবন বাসসাম (পৃষ্ঠা: ৩০২)
ويأمرهم أن يجعلوا ما يبيعون به من الدراهم في بطون موازينهم، ولا يتركوها في جملة ما في أيديهم من الصنج، بحيث ألا يكون فوق فراخ موازينهم إلا الصنج لا يغر. ولا ينقد أحد دراهم الناس وبين يديه جوز، أو لوز، ولا شيء من المكسرات، فربما يسقط فيها من دراهم الناس عند النقد، ويجمعها إذا انصرفوا. ويكون سائر ما يكتالون به مختوماً بالرصاص، ومنقوشاً في طرفها اسم الإمام؛ لئلا يبردوا رءوس المكاييل بعد العيار فتنقص. ويكون سائر ما يكال به سعة أسفله أو قريب منه، ويفتقدها بعد ذلك كل قليل؛ لئلا يصب فيها ما ينقصها مثل الجبس وغيره.

وربما حشيت أواقي الزيت التي يطوفون بها البيعة، والمكاييل، بالقير في أسفلها، ويقلعها إذا خاف. ويلزمون أن تكون موازين الأرطال متعرضة في قوس الدكان ليشاهد الزبون ما يحمل له من الأرطال عند الوزن والمأكولات. ويمنعهم أن لا يجعلوا في كفة الميزان خيطاً من حلفاء، فإنه يمنعها النزول، ويجنبها بسرعة الرجحان. ولا يكون لشيء من الأوزان خطافاً، فإن الغرض منه أن يعلق في الكفة القدامية، فتكون الخيانة بمقدار وزنه، وتكون جميع موازينهم وأوعيتهم التي لأطعمة الناس نظيفة مصونة بالأغطية والشد عليها.

ويمنعوا أن يسقوا الجبن السناري بالزيت الطيب، ولا بالشيرج؛ لأنه تدليس. وربما فجوه بأفواههم، فيكون ذلك ضرراً لمن يأكله. ولا يغسلوا الجبن الحيسى في مطاهر الحمامات. ويمنع من يرطب التمر بالماء، ومن يرش الماء الممزوج بعسل القصب على الرطب. وكذلك باعة الزيت يمنعون من فجه بالماء، وينهاهم عن بيع ما دون من البطيخ، والقثاء، والتين، والرطب، وما قد تناهى نضجه حتى يهرأ قشره من جميع ذلك. وتكون ملاعق بيع الصابون من خشب، فإن صدأ ملاعق الحديد يبقى في الصابون، فإن طبوعها محرقة لما يتعلق منه في الملابس.

ويعتبر عليهم الزيوت في زمن نفاقها، فإن الزيوت تغش بزيت القرطم في زمنه، إلا أن له دخاناً عظيماً في النار، وهو يخلط أيضاً في الشيرج لوقته، وكذلك زيت الخس، وهو يعرف بخفته في الوزن، ورقته في الوعاء، وشمه إذا مسح به على ظهر اليد. وقد يخلط الشيرج بالزيت للإنفاق إذا غلا سعره، وجسم الشيرج أخف من جسم الزيت، فلا يمكنهم من ذلك، فإنه غش وتدليس.

وإذا غشوا الخل بالماء، انحبس فيه خشيشة من الراس، فإنها تشرب الماء وتقبله دون

তিনি তাদের নির্দেশ দেবেন যেন তারা কেনাবেচায় ব্যবহৃত দিরহামসমূহ তাদের তুলাদণ্ডের পাল্লার অভ্যন্তরে রাখে এবং তাদের কাছে থাকা বাটখারাগুলোর সাথে সেগুলো না মিশিয়ে ফেলে, যাতে তাদের পাল্লার উপরের অংশে বাটখারা ছাড়া অন্য কিছু না থাকে এবং এতে কেউ প্রতারিত না হয়। দিরহাম পরীক্ষা বা যাচাই করার সময় কারো সামনে যেন আখ, বাদাম বা এজাতীয় কোনো খোসাযুক্ত খাবার না থাকে; কারণ দিরহাম যাচাইয়ের সময় কখনো কখনো তা সেসবের মধ্যে পড়ে যেতে পারে এবং লোকজন চলে যাওয়ার পর সে সেগুলো কুড়িয়ে নিতে পারে। তারা যা কিছু দিয়ে পরিমাপ করবে তার সবকিছু সিসা দ্বারা সিলমোহরকৃত হতে হবে এবং এর এক প্রান্তে ইমামের নাম খোদাই করা থাকতে হবে; যাতে তারা মাপকাঠি নির্ধারণের পর সেগুলোর উপরিভাগ ঘষে কমিয়ে ফেলতে না পারে। পরিমাপের পাত্রগুলোর নিচের দিক এবং উপরের দিক যেন সমান প্রশস্ত বা কাছাকাছি হয়। এরপর তিনি নিয়মিত বিরতিতে সেগুলো পরীক্ষা করবেন, যাতে সেগুলোর ভেতরে জিপসাম বা অন্য কিছু লেপে দিয়ে পরিমাণ কমিয়ে রাখা না হয়।

কখনো কখনো তৈল বিক্রয়কারীরা বাজারে ঘুরে ঘুরে যে তেলের পাত্র এবং পরিমাপকগুলো নিয়ে ঘোরে, সেগুলোর নিচে আলকাতরা বা পিচ দিয়ে পূর্ণ করে রাখা হয়; তিনি সন্দেহ পোষণ করলে তা উপড়ে ফেলবেন। ওজনের জন্য ব্যবহৃত পাল্লাগুলো দোকানের সম্মুখভাগে ঝুলিয়ে রাখা বাধ্যতামূলক করা হবে, যাতে ক্রেতা ওজন করার সময় এবং খাদ্যদ্রব্য গ্রহণের সময় বাটখারাগুলো স্পষ্ট দেখতে পায়। তিনি তাদের নিষেধ করবেন যেন তারা তুলাদণ্ডের পাল্লায় কোনো ঘাস বা শণ জাতীয় সুতো না লাগায়, কারণ এটি পাল্লা নিচে নামতে বাধা দেয় এবং দ্রুত এক দিকে ঝুঁকে পড়া ঠেকায়। ওজনের কোনো যন্ত্রে কোনো হুক বা আঁকশি থাকবে না, কারণ এর উদ্দেশ্য হলো সামনের পাল্লায় তা আটকে দেওয়া, যার ফলে ওই হুকের ওজন পরিমাণ খিয়ানত বা কারচুপি করা সম্ভব হয়। তাদের সমস্ত তুলাদণ্ড এবং মানুষের খাবারের পাত্রগুলো পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন থাকতে হবে এবং ঢাকনা ও বন্ধনী দিয়ে সুরক্ষিত রাখতে হবে।

তাদের নিষেধ করা হবে যেন তারা সিননারি পনিরকে উত্তম তেল বা তিল তেলের সাথে না মেশায়; কারণ এটি একটি প্রতারণা (تدليس)। কখনো কখনো তারা মুখে ফু দিয়ে এগুলোকে ফোলাতে চায়, যা ভক্ষণকারীর জন্য ক্ষতিকর হতে পারে। তারা যেন গোসলখানার পরিচ্ছন্নতার স্থানে হাইসি পনির না ধুয়ে নেয়। যে ব্যক্তি পানি দিয়ে খেজুর ভেজায় এবং যে ব্যক্তি আখের গুড় মিশ্রিত পানি পাকা খেজুরের ওপর ছিটিয়ে দেয়, তাকেও বাধা প্রদান করা হবে। একইভাবে তেল বিক্রেতাদেরও পানিতে তেল মেশানো থেকে বিরত রাখা হবে। তিনি তাদের অত্যন্ত নিম্নমানের তরমুজ, শসা, ডুমুর ও পাকা খেজুর বিক্রি করতে নিষেধ করবেন, বিশেষ করে যেগুলো এত বেশি পেকে গেছে যে সবকিছুর খোসা ফেটে নষ্ট হওয়ার উপক্রম হয়েছে। সাবান বিক্রির চামচগুলো কাঠের হতে হবে, কারণ লোহার চামচের মরিচা সাবানে লেগে থাকে এবং এর ধাতব গুণাবলী কাপড়ের ক্ষতি করতে পারে।

তেল যখন বাজারে খুব বেশি চলে তখন তিনি সেগুলো পরীক্ষা করবেন, কারণ এ সময়ে তেলের সাথে কুসুম ফুলের বীজের তেল মেশানো হয়ে থাকে। তবে আগুনে দিলে এটি থেকে প্রচুর ধোঁয়া নির্গত হয়। কখনো কখনো এটি তিল তেলের সাথেও তাৎক্ষণিকভাবে মেশানো হয়। একইভাবে লেটুস বীজের তেলও মেশানো হয়, যা ওজনে হালকা হওয়া, পাত্রে পাতলা থাকা এবং হাতের তালুতে ঘষে ঘ্রাণ নেওয়ার মাধ্যমে শনাক্ত করা যায়। অনেক সময় তেলের দাম বেড়ে গেলে বিক্রির উদ্দেশ্যে তিল তেলের সাথে সাধারণ তেল মেশানো হয়; যেহেতু তিল তেলের ঘনত্ব সাধারণ তেলের চেয়ে হালকা, তাই তাদের এটি করতে দেওয়া হবে না। কারণ এটি ভেজাল (غش) এবং প্রতারণা (تدليس)।

যদি তারা সিরকার সাথে পানি মিশিয়ে ভেজাল করে, তবে এর মধ্যে একটি ছোট খড়কুটো ডুবে থাকবে, কারণ এটি পানি শোষণ করে নেয় এবং তা গ্রহণ করে কিন্তু...

(খণ্ড: ১) নিহায়াতুর রুতবাহ ফী তলাবিল হিসবাহ - ইবন বাসসাম (পৃষ্ঠা: ৩০৩)
الخل، ومن معرفته أيضاً إذا صب الخل الحالص على الأرض نش، وإذا كان معيوباً لم ينش، ومن معرفته أيضاً خذ خوصة أطليها بدهن أو بزيت، ثم اغمسها في الخل، فإن خرجت وعليها الخل، ففيه الماء، وإن خرجت ملساء ليس عليها شيء، فليس فيه ماء.

وكذلك اللبن الحليب إذا كان فيه الماء اغمس فيه شعرة، فإنه لم يطلع منه عليها شيء، وإذا كان خالياً من الماء طلع اللبن عليها مكللاً، وكذلك إذا غمست فيه الريش، فإنه يشرب الماء دون اللبن فتمصه، فيخرج في فيك، وإذا كان بلا ماء، فإنك تمصها ما يخرج منها شيء، ومن معرفته أيضاً إذا قطر منه على خرقة سال كالدهن وجرى، وإذا لم يكن فيه ماء وقف، وسبيله أن لا يبيعه إلا الغنامة من ضروع الغنم إلى المشترى، وبيعه اللبن الحامض يعتقون عندهم المش الحامض، ثم يخلطونه بالطري، وهو أحد السمائم، ثم يبيعونه حامضاً، فيمنعون من ذلك، ويحلفون عليه، وتفتش دكاكينهم، ويلزمون بأن يكون بيعهم وشراؤهم بالقسط الجروى، وهو أربعة أرطال ونصف.

ويمنعون من عمل المريء المطبوخ وبيعه، فإن الفلاسفة يذكرون أنه يورث الجذام، ويعتبر عليهم غش المري الشعير الذي يعملون به من رُب الخروب، أو من عسل القصب، والملح، والكامون الأسود، والكاراويا، والشمار، ويبيعونه، فهو يبين في اليد من قلة ذكائه، وإنه يفسد ما يعمل به من الطعام، ويفسد طعمه ورائحته. ويمنعهم أن يدهنوا النبيدة البائتة بالزيت، وتباع في هيئة الطرية، فإن هذا تدليس. ويعتبر عليهم الكوامخ، والملوحات، والمخللات، فإنها كثيرة التغيير والاستحالة، فيخزنونها ويستحلون بيعها، فما وجد في شيء منها عتيق أو تغيير، رمى على المزابل.

ويفتقد أوعيتهم التي عندهم من الأوساخ، والتهاون بتركها مكشوفة، ولا يمكنون من ذلك، والسبب في فساد الكوامخ وحموضها وكرخها والدود المتولد فيها، أن تكون في الأصل قليلة الملح، والعلف بالعطائر، فتحمض، وربما خلطوه بغيره ففسد الكل، ويتولد فيه الدود، فيراعى ذلك بالعطر والذوق.

والبصل المخلل إذا طلع عليه الكرخ، وكان محبسه يابساً، يأمرهم بتنظيفه من قشره، ويلقى عليه الخل، فإنه ينصلح ويثبت، وإن كان جسمه ليناً، وفيه خمج، فينبغي أن يرمي. وإن تغير اللفت المخلل ولان جسمه، فيجب أن يرمي على المزابل. وكذلك
সিরকা; এটি চেনার একটি উপায় হলো, বিশুদ্ধ সিরকা যখন মাটিতে ঢালা হয় তখন তা বুদবুদ সৃষ্টি করে, আর যদি তাতে কোনো ত্রুটি থাকে তবে তা বুদবুদ সৃষ্টি করে না। এটি চেনার আরও একটি উপায় হলো, একটি খেজুরের শলাকা নিয়ে তাতে তেল মাখুন, তারপর তা সিরকার মধ্যে ডুবিয়ে দিন। যদি বের করার পর তাতে সিরকা লেগে থাকে, তবে বুঝবেন তাতে পানি মেশানো আছে। আর যদি তা মসৃণভাবে বের হয়ে আসে এবং তাতে কিছুই লেগে না থাকে, তবে তাতে কোনো পানি নেই।

একইভাবে কাঁচা দুধের ক্ষেত্রে, যদি তাতে পানি মেশানো থাকে তবে তাতে একটি চুল ডুবিয়ে দিন; দেখা যাবে চুল থেকে দুধের কিছুই বের হচ্ছে না। আর যদি তা পানিমুক্ত হয় তবে চুলে দুধের আবরণ লেগে থাকবে। অনুরূপভাবে যদি তাতে কোনো পালক ডুবানো হয়, তবে তা দুধের বদলে পানি শুষে নেবে, এরপর আপনি তা চুষলে আপনার মুখে পানি আসবে। আর যদি পানি না থাকে এবং আপনি তা চুষেন, তবে পালক থেকে কিছুই বের হবে না। এটি চেনার আরেকটি উপায় হলো, এক ফোঁটা দুধ যদি কাপড়ের উপর ফেলা হয় এবং তা তেলের মতো গড়িয়ে পড়ে, তবে তাতে পানি আছে। আর যদি তাতে পানি না থাকে তবে তা এক জায়গায় স্থির হয়ে থাকবে। নিয়ম হলো যে, পালের মালিক সরাসরি পশুর ওলান থেকে ক্রেতার কাছে বিক্রি করা ছাড়া অন্য কোনোভাবে দুধ বিক্রি করবে না। টক দুধ বা ঘোলের ক্ষেত্রে তারা পুরনো টক মাঠা রেখে দেয় এবং পরে তা তাজা দুধের সাথে মিশিয়ে দেয়—এটি এক প্রকার ক্ষতিকর ভেজাল। তারা এটি টক অবস্থায় বিক্রি করে; তাই তাদের এ থেকে নিষেধ করতে হবে এবং এ বিষয়ে শপথ গ্রহণ করাতে হবে। তাদের দোকানসমূহ তল্লাশি করতে হবে এবং তাদের বাধ্য করতে হবে যাতে তারা ‘কিসত আল-জারওয়ি’ (এক প্রকার মানদণ্ড) অনুযায়ী বেচাকেনা করে, যার ওজন হলো সাড়ে চার রতল।

তাদের রান্না করা মুরি (এক প্রকার চাটনি) তৈরি ও বিক্রি থেকে নিষেধ করতে হবে। কারণ দার্শনিকগণ উল্লেখ করেছেন যে, এটি কুষ্ঠরোগ সৃষ্টি করে। বার্লি দিয়ে তৈরি মুরিতে তারা যে খোরমার ক্বাথ বা আখের গুড়, লবণ, কালো জিরা, শাহী জিরা ও মৌরি দিয়ে ভেজাল দেয়, তা পরীক্ষা করতে হবে। তারা এটি বিক্রি করে, কিন্তু তা হাতের স্পর্শে তার গুণাগুণের অভাব প্রকাশ পায় এবং এটি যে খাবারে ব্যবহার করা হয় তা নষ্ট করে দেয়, তার স্বাদ ও ঘ্রাণও নষ্ট করে ফেলে। তাদের বাসি পানীয়তে তেল মেখে তাজা হিসেবে বিক্রি করতে নিষেধ করতে হবে, কারণ এটি হলো প্রতারণা বা দোষ গোপন (تدليس)। তাদের চাটনি, লবণাক্ত খাবার ও আচারসমূহ পরীক্ষা করতে হবে, কারণ এগুলোতে দ্রুত পরিবর্তন ও পচন ঘটে। তারা এগুলো গুদামজাত করে এবং বিক্রি করা বৈধ মনে করে। এগুলোর মধ্যে যদি কোনোটি পুরনো বা পরিবর্তিত হয়ে যাওয়া পাওয়া যায়, তবে তা আবর্জনার স্তূপে ফেলে দিতে হবে।

তাদের পাত্রগুলো ময়লামুক্ত কি না এবং সেগুলো খোলা রেখে অবহেলা করা হচ্ছে কি না তা তদারকি করতে হবে। তাদের এমনটি করতে দেওয়া যাবে না। চাটনি নষ্ট হওয়া, টক হয়ে যাওয়া, দুর্গন্ধযুক্ত হওয়া এবং তাতে পোকা জন্মানোর কারণ হলো মূলত লবণের স্বল্পতা এবং মশলার প্রভাব, যার ফলে তা টক হয়ে যায়। অনেক সময় তারা এতে অন্য কিছু মিশিয়ে দেয় ফলে সবটুকুই নষ্ট হয়ে যায় এবং পোকা জন্মে। তাই ঘ্রাণ ও স্বাদের মাধ্যমে এটি পর্যবেক্ষণ করতে হবে।

আচার করা পেঁয়াজ যদি দুর্গন্ধযুক্ত হয়ে যায় কিন্তু তার গঠন শক্ত থাকে, তবে তা পরিষ্কার করার এবং খোসা ছাড়িয়ে তাতে নতুন করে সিরকা দেওয়ার নির্দেশ দিতে হবে; এতে তা ঠিক হয়ে যাবে ও সংরক্ষিত থাকবে। কিন্তু যদি তার দেহ নরম হয়ে যায় এবং পচন ধরে, তবে তা ফেলে দেওয়া উচিত। যদি শালগমের আচার পরিবর্তিত হয়ে যায় এবং তা নরম হয়ে যায়, তবে তাও আবর্জনার স্তূপে ফেলে দেওয়া আবশ্যক। একইভাবে...
(খণ্ড: ১) নিহায়াতুর রুতবাহ ফী তলাবিল হিসবাহ - ইবন বাসসাম (পৃষ্ঠা: ৩০৪)
الكشك قد يعمل من القمح العتيق، ويسقى بماء الخمير، والمش، ويترك حتى يختمر ويحمض، فيعتبر هذا عليهم بالذوق والنظر والرائحة.

والبقالون يلزمون بيع جميع ما يبيعون من البقول بشداته التي يشترونه بها، ولا يحلوا حزمة يعملونها اثنتين، ولا شرش كبير يفرقونه حزماً صغاراً، ويبيعوا جميع البقول مغسولة منقية من الحشيش والطاقات المصغرة. ويأمرهم بقطع سعد أصول الخس. والفجل لا يباع إلا مغسولاً. وإذا بات عندهم شيء في دكاكينهم من الخضروات، فلا يخلطوه من طري يومه، ويمنعون من ذلك، فإن ذلك غش وتدليس. وينهاهم أيضاً عن غسل البصل والثوم الطري الأخضر، فإنه يزيده نتونة وزفرة، ويتفقد عليهم أرطالهم وموازينهم، ومن خالف هذا أدب.

* * *

 

الباب السادس

في جزاري الضأن، والمعز، والإبل، والقصابين وغشهم

ينبغي أن يعرف عليهم عريفاً، ثقة من أهل معيشتهم، ثم بعد ذلك يستحب أن يكون الجزار مسلماً، بالغاً، عاقلاً، يذكر اسم الله على كل ذبيحة، وأن يستقبل
কুশ্‌ক সম্ভবত পুরনো গম দ্বারা তৈরি করা হয় এবং এটি খামিরের পানি ও টক দইয়ের পানির সাহায্যে ভেজানো হয়। এরপর গেঁজিয়ে টক হওয়া পর্যন্ত এটি রেখে দেওয়া হয়। স্বাদ, দর্শন এবং ঘ্রাণের মাধ্যমে এর মান যাচাই করা হবে।

মুদিদের জন্য আবশ্যক হলো তারা যে সকল শাক-সবজি যে সকল আঁটির মাধ্যমে ক্রয় করে, সেভাবেই তা বিক্রি করবে। তারা একটি আঁটি খুলে তা দিয়ে দুটি আঁটি তৈরি করতে পারবে না, কিংবা বড় কোনো শিকড়যুক্ত গুচ্ছকে ছোট ছোট আঁটিতে বিভক্ত করতে পারবে না। তারা সমস্ত শাক-সবজি ঘাস ও অপদ্রব্য থেকে মুক্ত করে ধৌত অবস্থায় বিক্রি করবে। তাদেরকে লেটুসের গোড়ার অংশ কেটে ফেলার নির্দেশ প্রদান করা হবে। মূলা ধৌত করা ব্যতীত বিক্রি করা যাবে না। যদি তাদের দোকানে আগের দিনের কোনো বাসি শাক-সবজি থেকে থাকে, তবে তারা যেন তা দিনের তাজা শাক-সবজির সাথে না মেশায়; তাদের তা করতে নিষেধ করা হবে। কারণ এটি এক প্রকার প্রতারণা (غش) এবং জালিয়াতি (تدليس)। তাদের কাঁচা সবুজ পেঁয়াজ ও রসুন ধুতেও নিষেধ করা হবে, কারণ এটি এর দুর্গন্ধ বৃদ্ধি করে। তাদের ওজন ও পরিমাপের যন্ত্রসমূহ তদারকি করা হবে এবং যে কেউ এর বিরুদ্ধাচরণ করবে তাকে শাস্তি দেওয়া হবে।

* * *

 

ষষ্ঠ অধ্যায়

ভেড়া, ছাগল ও উটের কসাই এবং মাংস বিক্রেতাদের বিবরণ ও তাদের জালিয়াতি প্রসঙ্গে

উচিত হলো তাদের জন্য এমন একজন প্রধান ব্যক্তি নির্ধারণ করা, যিনি তাদের পেশাজীবীদের মধ্যে একজন নির্ভরযোগ্য (ثقة) ব্যক্তি হবেন। অতঃপর কসাই মুসলিম, প্রাপ্তবয়স্ক ও বুদ্ধিমান হওয়া মুস্তাহাব, যে প্রতিটি জবেহকৃত পশুর ওপর আল্লাহর নাম স্মরণ করবে এবং কিবলামুখী হবে...
(খণ্ড: ১) নিহায়াতুর রুতবাহ ফী তলাবিল হিসবাহ - ইবন বাসসাম (পৃষ্ঠা: ৩০৫)
القبلة، وأن ينحر الإبل معقولة من قيام، والبقر، والغنم مضجعة على الجانب الأيسر؛ لأن ذلك وردت به السنة عن النبي صلى الله عليه وسلم. ويأمرهم أيضاً أن لا يجروا الشاة برجلها جراً عنيفاً، وأن لا يذبحوا بسكين كالة، فإن في ذلك تعذيباً للحيوان، وقد نهى رسول الله صلى الله عليه وسلم عن تعذيب الحيوان.

ويلزمه في الذبح أن يقطع الودجين، والمريء، والحلقوم، ولا يشرع في السلخ بعد الذبح حتى تبرد الشاة ويخرج منها الروح؛ لأن ع مر بن الخطاب، رضي الله عنه، أمر
কিবলামুখী করা, এবং উটকে পা বাঁধা অবস্থায় দাঁড়িয়ে থাকা অবস্থায় 'নাহর' করা এবং গরু ও বকরিকে বাম পার্শ্বে শুইয়ে যবেহ করা; কারণ নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে সুন্নাহ (السنة) অনুযায়ী এভাবেই বর্ণিত হয়েছে। তিনি তাদেরকে আরও নির্দেশ দেবেন যেন তারা বকরিকে তার পা ধরে নিষ্ঠুরভাবে টেনে না হিঁচড়ায় এবং ভোঁতা ছুরি দিয়ে যেন যবেহ না করে, কেননা এতে প্রাণীকে কষ্ট দেওয়া হয়; আর রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম প্রাণীকে কষ্ট দিতে নিষেধ করেছেন।

যবেহ করার ক্ষেত্রে তার জন্য দুই পার্শ্বের রক্তনালী, খাদ্যনালী এবং শ্বাসনালী কাটা আবশ্যক। যবেহ করার পর বকরি নিস্তেজ হওয়া এবং তা থেকে প্রাণ বের হওয়া পর্যন্ত চামড়া ছাড়ানো শুরু করা বিধেয় নয়; কারণ উমর ইবনুল খাত্তাব রাদিয়াল্লাহু আনহু নির্দেশ দিয়েছেন
(খণ্ড: ১) নিহায়াতুর রুতবাহ ফী তলাবিল হিসবাহ - ইবন বাসসাম (পৃষ্ঠা: ৩০৬)
منادياً ينادي في المدينة: لا تسلخ شاة مذبوحة حتى تبرد. وتجوز الذكاة بكل شيء، إلا السن والظفر، فإن رسول الله صلى الله عليه وسلم نهى عن الذكاة بهما. ويمنعهم أيضاً ألا يذبحوا جملاً يكون مقرح الجسم إلى أن يبرأ جميع ما فيه من القروح، وقد كان لأمير المؤمنين الحاكم بأمر الله في سجل مجلد في ديوان الإنشاء، بأن لا يذبح من البقر المخلوج الورك، والأعور، والأعمى، والمقلوع السن، والمريش العنق، والمجنون، والجرب، وكل مشقوق الحافر، والمقطوع، والمكوي، وكل شيء كانت عيوبه ظاهرة، والصحيح الرقاد، والمعلوفة إذا كان بها شيء من هذه العيوب المذكورة، فينهاهم المحتسب عن ذلك جميعه.

وينهاهم أن لا ينفخوا شاة بعد السلخ، فإن نكهة ابن آدم تغير اللحم وتزفره، ومنهم من يشق اللحم من الصفاقين، وينفخ فيه الماء، ولهم أيضاً أماكن يعرفونها في اللحم ينفخون فيها الماء، فيجب مراعاتها في ذلك، ومنهم من يشهر في الأسواق البقر السمان، ثم يذبح غيرها، وهذا تدليس.

وأما القصابون، فيمنعهم من إخراج توالي اللحم عن حد مصاطبه، بل تكون متمكنة في الدخول عند المصطبة الركنين، فلا يلاصقهم ثياب الناس فيضرون بها، ويأمرهم أن يفردوا لحوم المعز من لحوم الضأن، وأن لا يخلطوا بعضها ببعض، وينقطوا لحوم المعز بالزعفران؛ ليتميز من غيره، وتكون أذناب المعز معلقة على لحومها إلى آخر البيع، ولحم المعز يعرف برقة لحمه وعظمه، وبياض شحمه.

ويأمرهم بأن لا يلصقوا على سائر اللحوم شيئاً من القزدير، فإن الحكماء قد ذكروا بأنه يسممه، ولا يخلطوا اللحم السمين بالهزيل، بل يباع كل واحد منهما على حدته، ويمنعهم أيضاً أن لا يخلطوا شحم المعز بشحم الضأن، وعلامة شحم المعز صفو لونه وبياضه، وشحم الضأن تعلوه الصفرة، وكذلك بطون المعز لا تختلط ببطون الضأن، وكذلك الإليات تباع مفردة لا يخالطها جلد ولا لحم.

وإذا فرغ من البيع وأراد الانصراف، أخذ ملحاً مسحوقاً ونثره على القرمة؛ لئلا
মদিনায় একজন ঘোষক ঘোষণা করতেন: জবাইকৃত বকরি বা ভেড়া সম্পূর্ণ শীতল না হওয়া পর্যন্ত তার চামড়া ছাড়ানো যাবে না। দাঁত ও নখ ব্যতীত যেকোনো বস্তু দিয়ে জবেহ করা বৈধ, কারণ রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এ দুটি বস্তু দ্বারা জবেহ করতে নিষেধ করেছেন। তিনি তাদের এই নির্দেশও দিতেন যে, তারা যেন এমন কোনো উট জবেহ না করে যার শরীরে ক্ষত রয়েছে, যতক্ষণ না তার শরীরের সমস্ত ক্ষত নিরাময় হয়। আমিরুল মুমিনীন আল-হাকিম বি-আমরিল্লাহর পক্ষ থেকে ‘দিওয়ানুল ইনশা’র একটি দাপ্তরিক নথিতে এই নির্দেশ ছিল যে, এমন কোনো গরু জবেহ করা যাবে না যার নিতম্বের হাড় বিচ্যুত, যে একচোখা, অন্ধ, দাঁত উপড়ানো, ঘাড় বক্র বা দুর্বল, উন্মাদ, চর্মরোগে আক্রান্ত, খুর দ্বিখণ্ডিত, অঙ্গহানি হওয়া, অগ্নিদগ্ধ বা দাগ দেওয়া পশু এবং যার ত্রুটিসমূহ প্রকাশ্য। এছাড়া শুয়ে থাকে এমন সুস্থ পশু এবং মোটাতাজাকরণ করা পশু যদি উল্লিখিত ত্রুটিসমূহের কোনোটিতে আক্রান্ত হয়, তবে বাজার পরিদর্শক (المحتسب) তাদের এ সকল কাজ থেকে বিরত রাখবেন।

তিনি তাদের পশুর চামড়া ছাড়ানোর পর ফু দিয়ে ফোলাতে নিষেধ করতেন; কারণ মানুষের মুখনিঃসৃত বাতাস মাংসের গুণাগুণ পরিবর্তন করে দেয় এবং এতে দুর্গন্ধ সৃষ্টি হয়। কসাইদের মধ্যে কেউ কেউ মাংসের পর্দার মাঝখানে ছিদ্র করে তাতে পানি ঢুকিয়ে ফুলিয়ে দেয়। মাংসের মধ্যে তাদের এমন কিছু বিশেষ স্থান জানা আছে যেখানে তারা পানি প্রবেশ করায়, তাই এ বিষয়ে সজাগ থাকা আবশ্যক। আবার তাদের মধ্যে কেউ কেউ বাজারে মোটাতাজা গরু প্রদর্শন করে কিন্তু পরবর্তীতে অন্য পশু জবেহ করে; আর এটি হলো প্রতারণা (تدليس)।

আর কসাইদের ক্ষেত্রে নির্দেশ হলো, তারা যেন দোকানের প্ল্যাটফর্মের সীমানার বাইরে মাংস বের করে না রাখে, বরং তা যেন দোকানের দুই কোণের সীমানার ভেতরে থাকে, যাতে পথচারীদের পোশাক মাংসের সংস্পর্শে না আসে এবং তারা ক্ষতিগ্রস্ত না হয়। তিনি তাদের নির্দেশ দিতেন যেন তারা ছাগলের মাংস ও ভেড়ার মাংস পৃথক রাখে এবং একটির সাথে অন্যটি মিশ্রিত না করে। ছাগলের মাংসে জাফরান দিয়ে চিহ্নিত করতে হবে যাতে তা অন্য মাংস থেকে আলাদা করা যায়। বিক্রয় শেষ না হওয়া পর্যন্ত ছাগলের লেজ মাংসের সাথে ঝোলানো থাকতে হবে। ছাগলের মাংস চেনার উপায় হলো এর মাংস ও হাড়ের সূক্ষ্মতা এবং চর্বির শুভ্রতা।

তিনি তাদের নির্দেশ দিতেন যেন তারা মাংসের ওপর রাং বা টিনের কোনো প্রলেপ না লাগায়, কারণ চিকিৎসাবিদগণ উল্লেখ করেছেন যে এটি মাংসকে বিষাক্ত করে ফেলে। তারা যেন চর্বিযুক্ত মাংসের সাথে জীর্ণ বা চর্বিহীন মাংস না মেশায়, বরং প্রতিটি আলাদাভাবে বিক্রি করতে হবে। তিনি তাদের ছাগলের চর্বির সাথে ভেড়ার চর্বি মেশাতেও নিষেধ করতেন। ছাগলের চর্বির লক্ষণ হলো এর স্বচ্ছ বর্ণ ও শুভ্রতা, আর ভেড়ার চর্বির ওপর হলদেটে ভাব থাকে। একইভাবে ছাগলের ভুঁড়ি যেন ভেড়ার ভুঁড়ির সাথে মিশ্রিত না হয়। তদ্রূপ পশুর লেজের চর্বি পৃথকভাবে বিক্রি করতে হবে এবং এর সাথে চামড়া বা মাংস মিশ্রিত করা যাবে না।

যখন তিনি বিক্রয় শেষ করে প্রস্থানের ইচ্ছা করতেন, তখন চূর্ণ লবণ নিয়ে মাংস কাটার কাঠের ওপর ছিটিয়ে দিতেন যাতে...
(খণ্ড: ১) নিহায়াতুর রুতবাহ ফী তলাবিল হিসবাহ - ইবন বাসসাম (পৃষ্ঠা: ৩০৭)
تلحسها الكلاب، أو يدب عليها شيء من الهوام، فإذا لم يجد ملحاً، وإلا الأشنان. والمصلحة أن لا يشارك بعضهم بعضاً؛ لئلا يتفقون على واحد. ويمنعهم أيضاً من بيع اللحم بالحيوان؛ وهو أن يشتري الشاة بأرطال لحم معلومة، ويدفع إليه كل يوم ما يتفقان عليه من اللحم، فإن النبي صلى الله عليه وسلم نهى عن ذلك.

* * *

 

الباب السابع

في الشوائين

ينبغي أن يعرف عليهم عريفاً ثقة، ويأمرهم أن لا يلطخوا الخروف والجدي بشيء من العسل ولا غيره من الحلاوات، فإنه ينفخ جسم البهيمة، كما يدخل النار من غير نضج. ومن علامة نضجه أن ينقص الربع، فينبغي أن يزن الشواء قل إنزاله إلى التنور، وبعد طلوعه منه، ومن علامة نضجه أيضاً أن يجذب كتفه، فإن جاء بسرعة، فهو المراد منه، وإلا ألزم بإعادته إلى النار، ومن علامته أيضاً أن يشق الورك، فإنه يوجد فيه عرق من الدم باقياً فيه.

وتكون خرافهم مقطوعة الملحات من أصلها، وكذلك الأعضاء، وإلا قطعوها بعد الوزن، وإذا عرف أوزانها نقصه من الوزن بعد شيه، ويفتقد ما يبقى عندهم منه بلا بيع في ليالي الصيف، فإنه كثيراً ما يتغير، فيرضونه مع الليمون المالح ويبيعونه، فيخفى رائحته وطعمه على مشتريه. وربما كسدت الرءوس على الرواسين، فتبتاعها منهم الشوائون، ويبروا لحمها على قرمهم قليلاً بعد قليل، ويبيعونه في جملة الشواء بسعره، فيراعى ذلك عليهم أشد مراعاة.

ويأمرهم أن لا يحموا تنانيرهم بساس الكتان أصلاً، ويفتش دكاكينهم كل وقت على الملاحي التي يسرقونها من ذبائح الناس، وكذلك شحوم الخراف وعصبانها، ويحتاط على جميع ذلك إلى أن ينزلوا الشواء إلى التنور، فإذا نزل طين عليه بطين كثيف نظيف، وكذلك رمانة الكتف التي تكون تحت الكتف، فإنهم يسرقونها، ويباشر أيضاً ما يسرقونه من السميذ، والأرز، واللبن.
কুকুর যাতে তা চাটতে না পারে অথবা কোনো কীটপতঙ্গ যাতে তার ওপর বিচরণ করতে না পারে। যদি লবণ না পাওয়া যায়, তবে ওশনান (পরিষ্কারক উদ্ভিদ) ব্যবহার করবে। জনস্বার্থে তারা যেন একে অপরের সাথে অংশীদার না হয়, যাতে তারা কোনো একজনের ওপর একচেটিয়া নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করতে না পারে। তিনি (মুহতাসিব) তাদেরকে পশুর বিনিময়ে গোশত বিক্রি করতেও নিষেধ করবেন; আর তা হলো এই যে, কেউ নির্দিষ্ট পরিমাণ ওজনের গোশতের বিনিময়ে একটি ভেড়া ক্রয় করবে এবং প্রতিদিন উভয়ের সম্মতিক্রমে নির্দিষ্ট পরিমাণ গোশত তাকে প্রদান করবে। কেননা নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) তা করতে নিষেধ করেছেন।

* * *

 

সপ্তম অধ্যায়

কাবাব প্রস্তুতকারকদের বর্ণনায়

তাদের ওপর একজন নির্ভরযোগ্য (ثقة) পরিদর্শক নিযুক্ত করা উচিত। তিনি তাদেরকে আদেশ দেবেন যেন তারা ভেড়া বা ছাগলছানাকে মধু বা অন্য কোনো মিষ্টি জাতীয় দ্রব্য দিয়ে লেপন না করে; কারণ এতে পশুর দেহ ফুলে ওঠে এবং সুসিদ্ধ হওয়ার আগেই তাতে আগুনের প্রভাব পড়ে। তা সুসিদ্ধ হওয়ার একটি লক্ষণ হলো এর ওজন এক-চতুর্থাংশ কমে যাওয়া। তাই তন্দুরে দেওয়ার আগে এবং তা থেকে বের করার পর কাবাব ওজন করা উচিত। সুসিদ্ধ হওয়ার আরেকটি লক্ষণ হলো এর কাঁধ ধরে টান দেওয়া; যদি তা দ্রুত আলাদা হয়ে আসে, তবেই তা কাঙ্ক্ষিত পর্যায়ে পৌঁছেছে। অন্যথায় তা পুনরায় আগুনে দিতে বাধ্য করতে হবে। এর আরেকটি লক্ষণ হলো উরু চিরে দেখা; কেননা (অসিদ্ধ হলে) তাতে রক্তের শিরা অবশিষ্ট থেকে যায়।

তাদের ভেড়াগুলোর নিতম্বের চর্বি এবং অঙ্গ-প্রত্যঙ্গগুলো গোড়া থেকে কেটে আলাদা রাখা উচিত, অন্যথায় ওজনের পর তারা তা কেটে ফেলবে। যখন এর ওজন জানা যাবে, তখন তা ঝলসানোর পর মোট ওজন থেকে সেই অংশটি বিয়োগ করবে। গ্রীষ্মের রাতে তাদের কাছে অবিক্রিত থেকে যাওয়া গোশত তদারকি করতে হবে; কারণ তা প্রায়শই নষ্ট হয়ে যায়। এরপর তারা লবণে জারিত লেবু দিয়ে তা সংশোধন করে বিক্রি করে দেয়, ফলে ক্রেতার কাছে এর দুর্গন্ধ ও স্বাদ গোপন থেকে যায়। অনেক সময় মাথা বিক্রেতাদের কাছে মাথাগুলো অবিক্রিত থেকে যায়, তখন কাবাব প্রস্তুতকারকরা তাদের থেকে সেগুলো কিনে নেয় এবং অল্প অল্প করে তার মাংস ছাড়িয়ে তাদের তক্তার ওপর রাখে এবং তা সাধারণ কাবাবের সাথে একই মূল্যে বিক্রি করে দেয়। সুতরাং তাদের ওপর এ বিষয়ে কঠোর নজরদারি রাখতে হবে।

তিনি তাদেরকে আদেশ দেবেন যেন তারা কোনোভাবেই শণ বা তিসির অবশিষ্টাংশ দিয়ে তন্দুর উত্তপ্ত না করে। তিনি সর্বদা তাদের দোকানে তল্লাশি চালাবেন যেন তারা মানুষের জবাইকৃত পশুর কাঁধের গোশত চুরি করতে না পারে। অনুরূপভাবে ভেড়ার চর্বি এবং অন্ত্রের ক্ষেত্রেও একই সতর্কতা অবলম্বন করতে হবে যতক্ষণ না তারা কাবাব তন্দুরে দিচ্ছে। যখন তন্দুরে দেওয়া হবে, তখন তা পরিষ্কার ও ঘন কাদা দিয়ে লেপে দিতে হবে। একইভাবে কাঁধের নিচের হাড়ের সংযোগস্থল তারা চুরি করে থাকে; এছাড়া তারা যে সুজি, চাল এবং দুধ চুরি করে থাকে সে বিষয়েও সরাসরি তদারকি করতে হবে।
(খণ্ড: ১) নিহায়াতুর রুতবাহ ফী তলাবিল হিসবাহ - ইবন বাসসাম (পৃষ্ঠা: ৩০৮)
ويأمرهم أن لا يؤخروا أشوية الناس عنهم في أوقاتها، فما كان من الشوائين الذين يتعيشون يدفع إليهم شواءهم ضحوة نهار، وأكثر الناس الظهر، ولمن كان صائماً عند المغرب، وكذلك أرباب المآتم، ومن اختار التأخير إلى آخر النهار؛ وإن أخر عن الناس أطعمتهم في هذه الأوقات المحدودة، فقد أضر بهم، واستحق عند ذلك الأدب بعد الإعذار إليه. ويمنع الشوائين من بيع الجدابة التي يعملونها من الماء الذي يقطر من الخراف مع يسير من شحومها ودمائها؛ لأنه تدليس، فينهوا عن ذلك، فمن عاد أدب وأشهر.

ويفتقد الطين الذين يطينوا به التنور، وربما عجنوه في أرض دكاكينهم، فإن الجيف تؤذي رائحته، وربما يسقط عنه عند فتح التنور، فيأمرهم بعجنه في قصرية نظيفة، ويفتقد إزياهم لتكون مصونة نظيفة.

* * *

 

الباب الثامن

في الهرائسيين

ينبغي أن يعرف عليهم عريفاً ثقة من أهل صناعتهم، بصيراً بها، ويطالبهم بنظافة قدورهم وجميع آلاتهم بالغسل بكرة كل يوم بالأشنان، والماء الحار، وعيار الهرايس لكل قدح من القمح رطل واحد بالجروى من لحم البقر الطيب السمين، ومن لحوم الضأن لكل قدح ثماني أواق بالجروى. ويراعى العريف نظافة اللحم كل يوم بنفسه من الغدد، والعروق، والجلود، وينتفع في الماء والملح وقتاً طويلاً حتى يحمر الماء، ويلقى في القدور بحضرة العريف، ويختم عليها، فقد يضاف إلى الهرايس من الحيوان الذي ما له قيمة ويلقى في القدور، فإذا كان آخر الليل يشيل منها إلى دار من يُعينُه على فساد أطعمة الناس، فيجب أن لا يفرط في الختم، ولا يفتحها إلا العريف بعد وقوفه على صحة الختم، ويقطر من دهنها على بلاطة نقطاً، أو يغمس فيه ريشة، فإن كان فيه زيت أو شيرج، فإنه لا يجمد، وإن كان شحماً نقياً خالصاً عرف بجموده. ولا يمكنهم من العمل بلحوم البقر المعدة عندهم للمصلوقة، فربما عازهم اللحم الطري، فيكون ذلك عندهم، فلا يمكنون من ذلك، ولا من العمل باللحوم البائتة التي تغيرت رائحتها، ولا بلحوم
তিনি তাদেরকে আদেশ দেবেন যেন তারা মানুষের ঝলসানো মাংস তাদের জন্য নির্ধারিত সময়ে দিতে বিলম্ব না করে। যারা পেশাদার মাংস বিক্রেতা, তাদের ঝলসানো মাংস দিনের শুরুর ভাগে প্রদান করতে হবে, অধিকাংশ মানুষের জন্য যোহরের সময় এবং যারা রোজা রাখেন তাদের জন্য মাগরিবের সময়। একইভাবে শোকাতুর পরিবারের লোক এবং যারা দিনের শেষ ভাগে খেতে পছন্দ করেন তাদের জন্যও একই নিয়ম। যদি এই নির্দিষ্ট সময়গুলোর পর খাবার দিতে দেরি করা হয়, তবে তা মানুষের ক্ষতি করবে এবং এ ব্যাপারে সতর্ক করার পর সে শাস্তির যোগ্য হবে। তিনি মাংস বিক্রেতাদের 'জাদাবাহ' বিক্রি করতে নিষেধ করবেন, যা ভেড়ার ঝলসানো মাংস থেকে সামান্য চর্বি ও রক্তের সাথে চুইয়ে পড়া পানি দিয়ে তৈরি করা হয়; কারণ এটি একটি প্রতারণা (تدليس)। তাই তাদের এটি করতে নিষেধ করতে হবে, এরপরও যদি কেউ পুনরায় এমনটি করে তবে তাকে শাস্তি প্রদান ও জনসমক্ষে প্রকাশ করে দিতে হবে।

তিনি তন্দুরে প্রলেপ দেওয়ার জন্য ব্যবহৃত মাটির তদারকি করবেন; অনেক সময় তারা তাদের দোকানের মেঝেতে এই মাটি মেখে থাকে, যার ফলে মৃত প্রাণীর অবশিষ্টাংশের দুর্গন্ধে তা দূষিত হয় এবং তন্দুর খোলার সময় তা খাবারের ওপর পড়তে পারে। তাই তিনি তাদের একটি পরিচ্ছন্ন পাত্রে মাটি মাখার নির্দেশ দেবেন। এছাড়া তিনি তাদের পোশাকের তদারকি করবেন যাতে সেগুলো সংরক্ষিত ও পরিচ্ছন্ন থাকে।

* * *

 

অষ্টম পরিচ্ছেদ

হারিসা প্রস্তুতকারকদের প্রসঙ্গে

তাদের ওপর তাদেরই পেশার অন্তর্ভুক্ত একজন নির্ভরযোগ্য (ثقة) ও এ কাজে অভিজ্ঞ পরিদর্শক নিয়োগ করা উচিত। তিনি তাদের কড়াই ও যাবতীয় সরঞ্জাম প্রতিদিন সকালে উশনান ও গরম পানি দিয়ে ধোয়ার মাধ্যমে পরিচ্ছন্ন রাখার নির্দেশ দেবেন। হারিসার মানদণ্ড হবে: প্রতি কদহ গমের সাথে এক রাটল উত্তম ও চর্বিযুক্ত গরুর মাংস, আর ভেড়ার মাংস হলে প্রতি কদহ গমের সাথে আট আউকিয়া মাংস হতে হবে। পরিদর্শক প্রতিদিন নিজ তত্ত্বাবধানে মাংসের পরিচ্ছন্নতা নিশ্চিত করবেন যেন তাতে কোনো গ্রন্থি, রগ বা চামড়া না থাকে। মাংসকে দীর্ঘক্ষণ লবণ-পানিতে ভিজিয়ে রাখতে হবে যতক্ষণ না পানি লালচে হয়ে যায়। এরপর পরিদর্শকের উপস্থিতিতে তা কড়াইয়ে ঢালতে হবে এবং কড়াইয়ে মোহর মেরে দিতে হবে। কারণ অনেক সময় হারিসায় মূল্যহীন প্রাণীর মাংস মিশিয়ে দেওয়া হয় এবং রাতের শেষ ভাগে কেউ হয়তো তা সরিয়ে নিয়ে মানুষের খাবার নষ্ট করার অছিলা তৈরি করতে পারে, তাই মোহর মারার বিষয়ে শিথিলতা করা যাবে না। মোহর বা সিল সঠিক আছে কি না তা নিশ্চিত হওয়ার পরই কেবল পরিদর্শক তা খুলবেন। তিনি হারিসার তেল থেকে কয়েক ফোঁটা পাথরের ওপর ফেলবেন অথবা তাতে একটি পালক ডুবিয়ে দেখবেন; যদি তাতে জয়তুনের তেল বা তিলের তেল থাকে তবে তা জমবে না, আর যদি তা বিশুদ্ধ চর্বি হয় তবে জমে যাওয়ার মাধ্যমে তা চেনা যাবে। তিনি তাদেরকে সেদ্ধ করার জন্য সংরক্ষিত গরুর মাংস দিয়ে হারিসা তৈরি করতে দেবেন না; কারণ কখনো কখনো তাদের কাছে তাজা মাংসের অভাব দেখা দিলে তারা সেগুলো ব্যবহার করতে পারে। তাই তাদের এমন বাসি মাংস ব্যবহারের সুযোগ দেওয়া যাবে না যার গন্ধ পরিবর্তিত হয়ে গেছে, এবং সে মাংসও নয়...
(খণ্ড: ১) নিহায়াতুর রুতবাহ ফী তলাবিল হিসবাহ - ইবন বাসসাম (পৃষ্ঠা: ৩০৯)
الوقايع التي تغيرت رائحتها، ويفتقد قدور الشحوم المسلية؛ لأنها ربما دارت، وكذلك قدور الزبد التي عند الباعة، فينبغي أن تراعى.

* * *

 

الباب التاسع

في الزلبانيين

ينبغي أن يطالبوا بنظافة آلاتهم كلها، وتغيير مقاليهم، فإنهم ربما أخذوا عظام البقر والجمال وغيرها يسلقونها، ويأخذون ما صفا من دهنها، وكذلك دهن الرءوس، ويخلطونه بالزيت، ويقلون به الزلابية، فإذا أردت معرفة ذلك، اغمس فيه ريشة، أو قطر منه شيئاً على بلاطة، أو على قليل من الماء، فإن كان فيه دهن جمد على الماء، وإن كان زيتاً خالصاً لم يجمد.

[وربما بقي في قدورهم شيء من الهريسة، فيخلطونه فيما يعمل من الغد، فيعتبر عليهم ذلك، وربما باعوا ما يفضل منهم لمن يخلطه في الكشك السوقي، فيراعى ذلك بشق النقانق قبل قليها، فإنه لا يخفى].

وينبغي أن يكون مقلى الزلابية من النحاس الأحمر الطيب، ويأمرهم بغسله كل يوم قبل أن يقلوا فيه، وهو أن يحرق فيه النخالة، ثم يدلكه بورق الصلق إذا برد، ثم يعاد إلى النار، ويجعل فيه قليل عسل، ثم يوقد حتى يحترق العسل، ثم يجلى بعد ذلك بالخزف، ثم يغسل ويستعمل، فإنه ينقى من وسخه وزنجاره.

ويكون ثلث دقيق الزلابية ناعماً وثلثه سميذاً؛ لأنه إذا أكثر فيه السميذ، زادت الزلابية بياضاً وخفة في الوزن ونضجاً، غير أن السميذ يشرب الزيت أكثر من الناعم، فلهذا يكرهونه.

وأجود ما قليت به الشيرج، فإن لم يكن، فالزيت الصافي، ولا يشرع في قليها حتى يختمر عجينها، وعلامة اختمارها أن تطفوا على وجه الزيت، والفطير منها يركد أيضاً في أسفل المقلى، والخمير أيضاً يبقى مجوفاً مثل الأنابيب، والفطير تكون مرصوصة وليس فيها تجويف، ولا يجعل في عجينها ملح؛ لأنها تؤكل بالحلاوة، فتقيء النفس إذا كانت بالملح.
সেই বস্তুসমূহ যেগুলোর ঘ্রাণ বিকৃত হয়ে গেছে এবং গলানো চর্বির পাত্রসমূহ তদারকি করা প্রয়োজন; কারণ সেগুলো সম্ভবত বাসি বা নষ্ট হয়ে গিয়ে থাকতে পারে। একইভাবে বিক্রেতাদের নিকট রক্ষিত মাখনের পাত্রগুলোও দেখাশোনা করা উচিত।

* * *

 

নবম অধ্যায়

জিলাপি প্রস্তুতকারকদের বর্ণনায়

তাদের সকল সরঞ্জাম পরিচ্ছন্ন রাখার এবং তাদের কড়াইগুলো পরিবর্তন করার নির্দেশ দেওয়া উচিত। কারণ তারা অনেক সময় গরু, উট ও অন্যান্য প্রাণীর হাড় সিদ্ধ করে তা থেকে প্রাপ্ত স্বচ্ছ চর্বি এবং একইভাবে পশুর মাথার চর্বি সংগ্রহ করে তেলের সাথে মিশ্রিত করে জিলাপি ভাজে। তুমি যদি এটি পরীক্ষা করতে চাও, তবে তাতে একটি পালক ডুবাও অথবা পাথরের ওপর কিংবা সামান্য পানির ওপর তার কিছু অংশ ফেলো। যদি তাতে চর্বি মিশ্রিত থাকে তবে তা পানির ওপর জমে যাবে, আর যদি তা বিশুদ্ধ তেল হয় তবে জমবে না।

[কখনও কখনও তাদের পাত্রে পূর্বের ‘হরিসা’র অবশিষ্টাংশ থেকে যায়, যা তারা পরবর্তী দিনের তৈরিকৃত জিনিসের সাথে মিশিয়ে দেয়। এ ব্যাপারে তাদের সতর্ক করতে হবে। আবার কখনও তারা তাদের অবশিষ্ট অংশগুলো এমন লোকদের কাছে বিক্রি করে যারা তা বাজারের ‘কিশকে’র সাথে মিশ্রিত করে। তাই ‘নোকানিক’ ভাজার আগে তা চিরে পরীক্ষা করা উচিত, কারণ এটি তখন গোপন থাকে না]।

জিলাপি ভাজার কড়াইটি উৎকৃষ্ট লাল তামা দ্বারা নির্মিত হওয়া উচিত। প্রতিদিন ভাজার পূর্বে তা ধৌত করার নির্দেশ দিতে হবে। এর পদ্ধতি হলো—তাতে তুষ জ্বালিয়ে পোড়ানো হবে, এরপর তা শীতল হলে পালং শাকের পাতা দিয়ে ঘর্ষণ করতে হবে। পুনরায় তা আগুনের ওপর রেখে সামান্য মধু প্রদান করতে হবে এবং মধু দগ্ধ হওয়া পর্যন্ত তাপ দিতে হবে। এরপর তা মাটির পাত্রের টুকরো দিয়ে মেজে পরিষ্কার করে ধৌত করত ব্যবহার করতে হবে; কেননা এটি কড়াইয়ের ময়লা ও মরিচা দূর করে দেয়।

জিলাপির ময়দার এক-তৃতীয়াংশ মিহি আটা এবং এক-তৃতীয়াংশ সুজি হওয়া বাঞ্ছনীয়। কারণ সুজির পরিমাণ অধিক হলে জিলাপি অধিক শুভ্র, ওজনে হালকা এবং সুসিদ্ধ হয়। তবে সুজি মিহি আটার তুলনায় অধিক তেল শোষণ করে, বিধায় তারা এটি অপছন্দ করে।

জিলাপি ভাজার জন্য তিলের তেল সর্বোত্তম, অন্যথায় স্বচ্ছ তেল ব্যবহার করতে হবে। জিলাপির খামির যতক্ষণ খামিরযুক্ত (خمير) না হয় ততক্ষণ তা ভাজা শুরু করা সমীচীন নয়। এর খামিরযুক্ত (خمير) হওয়ার লক্ষণ হলো তা তেলের উপরিভাগে ভেসে উঠবে। পক্ষান্তরে খামিরহীন (فطير) অংশ কড়াইয়ের তলদেশে স্থাণু হয়ে থাকে। এছাড়া খামিরযুক্ত (خمير) জিলাপি নলের ন্যায় মধ্যখানে ফাঁপা হয়, আর খামিরহীন (فطير) জিলাপি নিরেট হয় এবং তাতে কোনো ছিদ্র থাকে না। এর খামিরে লবণ মিশ্রিত করা যাবে না; কারণ জিলাপি মিষ্টান্ন হিসেবে ভক্ষণ করা হয়, তাই লবণযুক্ত হলে তা খাওয়ার পর বমিভাব সৃষ্টি করতে পারে।
(খণ্ড: ১) নিহায়াতুর রুতবাহ ফী তলাবিল হিসবাহ - ইবন বাসসাম (পৃষ্ঠা: ৩১০)
وأما سواد الزلابية، فقد يكون من وسخ المقلاة، أو تكون مقلوة بالزيت المعاد، وهو الذي يقلى به، أو تكون فطيراً، وربما جازت عليها الناس لسوء الصناعة، فيعتبر المحتسب عليهم جميع ذلك، وينبغي أن تُصنع سلالاماً صغاراً لطافاً، ومتى حمض عجينها جعله خميراً.

* * *

 

الباب العاشر

في الرواسين وغشهم

ينبغي أن يعرف عليهم ثقة عارفاً بمعيشتهم، فيأمرهم أنهم إذا سلقوا الرءوس والأكارع يسمطونها بعد ذلك، حتى لا يبقى عليها شيء من الشعر، ويدقوا الرءوس على مقادمها؛ ليقع ما فيها من سائر الأوساخ والدود المتولد فيها، وتسوك تسويكاً نظيفاً، ويجعل في أفواهها شيئاً من الدارصيني والكرفس، ولا يخلطوا رؤوس الضأن برؤوس المعز، وعلامة رؤوس الضأن تحت كل عين ثقب يسمونه ماقا، وليس تحت عيون المعز. وربما كسدت عندهم، فيخلطونها بما يبعيونه من غد، وعلامة ذلك أن تُسل العظم الرقيق الذي في أصل المبلغ، وهو المسمى بالشوكة، وتشمه، فإن كان متغيراً، تعلم أنه بائت.

ويجب أن تكون أوعيتهم نظافاً مغطاة. ومنهم من يشتري دهن الأبدان القاطر من الشواء، ويخلطه بدهن الأكارع، ويسقى به الثريد، فيعتبر المحتسب عليهم ذلك، وأن لا يخرجوا الرءوس من الغمة إلى أن ينتهي نضجها، ويكون عنده الملح والدارصيني مسحوقاً ينثره عليها بعد البيع.

* * *

 

الباب الحادي عشر

في الطباخين وغشهم

ينبغي أن يعرف عليهم ثقة بصيراً عارفاً بمعيشتهم، ويطالبهم بنظافة آلاتهم كلها، وغسلها كل يوم بالماء الحار والأشنان، وأن لا يطبخوا بلحوم المعز، ولا بلحوم الجمال؛ لئلا يأكل من العليل فيزيد في علته، أو ناقه من مرض، فتكون سبباً لنكسته.

وينهوا عن حشو النقانق بكبود الجمال وكبود البقر، ولا بلحوم المعز، ولا بكبودها،
আর জেলাপির কালো রঙের কারণ কড়াইয়ের ময়লা হতে পারে, অথবা পুনরায় ব্যবহৃত তেল (যা দিয়ে আগে ভাজা হয়েছে) দিয়ে ভাজার কারণে হতে পারে, কিংবা এটি খামিরহীন হওয়ার কারণে হতে পারে। নিম্নমানের প্রস্তুতির কারণে মানুষজন হয়তো এটি গ্রহণ করে নেয়, তাই বাজার পরিদর্শক এ সব বিষয়ে তদারকি করবেন। জেলাপিগুলো ছোট ও সুন্দর বলয় সদৃশ করে তৈরি করা উচিত। আর যখন এর কাই টক হয়ে যাবে, তখন তাকে খামির হিসেবে ব্যবহার করবে।

* * *

 

দশম পরিচ্ছেদ

মাথা বিক্রেতা এবং তাদের প্রতারণা প্রসঙ্গে

তাদের কার্যাবলি পর্যবেক্ষণের জন্য এমন একজন নির্ভরযোগ্য (ثقة) ব্যক্তিকে নিযুক্ত করা উচিত যে তাদের পেশা সম্পর্কে বিজ্ঞ। তিনি তাদের নির্দেশ দেবেন যে, তারা যখন মাথার মগজ ও পা সেদ্ধ করবে, তখন যেন এরপর সেগুলো ভালোভাবে পরিষ্কার করে, যাতে তাতে কোনো লোম বা চুল অবশিষ্ট না থাকে। তারা যেন মাথার সম্মুখভাগে আঘাত করে; যাতে ভেতরে থাকা সব ময়লা এবং জন্মানো পোকা বের হয়ে যায়। সেগুলো সুন্দরভাবে মাজতে হবে এবং সেগুলোর মুখে কিছুটা দারুচিনি ও সেলারি দিতে হবে। তারা যেন ভেড়ার মাথার সাথে ছাগলের মাথা না মেশায়। ভেড়ার মাথার বৈশিষ্ট্য হলো প্রতিটি চোখের নিচে একটি ছিদ্র থাকে যাকে তারা 'মাক' বলে, যা ছাগলের চোখের নিচে থাকে না। কখনো কখনো তাদের কাছে পণ্য অবিক্রিত থেকে যায়, ফলে তারা তা পরের দিনের বিক্রয়যোগ্য পণ্যের সাথে মিশিয়ে দেয়। এর চিহ্ন হলো—তালের গোড়ায় থাকা পাতলা হাড়টি, যাকে 'শওকা' বলা হয়, তা টেনে বের করে ঘ্রাণ নেওয়া। যদি তার গন্ধ পরিবর্তিত হয়ে যায়, তবে বোঝা যাবে এটি বাসি।

তাদের পাত্রগুলো পরিচ্ছন্ন ও ঢাকা থাকা আবশ্যক। তাদের মধ্যে কেউ কেউ কাবাব থেকে ঝরে পড়া চর্বি কিনে পায়ের চর্বির সাথে মিশিয়ে দেয় এবং তা দিয়ে সুরিদ ভেজায়। বাজার পরিদর্শক তাদের এই বিষয়টি তদারকি করবেন। মাথাগুলো যেন পুরোপুরি সেদ্ধ না হওয়া পর্যন্ত পাত্রের আবরণ থেকে বের না করা হয়। আর বিক্রেতার কাছে দারুচিনি ও লবণের গুঁড়ো থাকতে হবে, যা বিক্রির পর সেগুলোর ওপর ছিটিয়ে দেবে।

* * *

 

একাদশ পরিচ্ছেদ

বাবুর্চি এবং তাদের প্রতারণা প্রসঙ্গে

তাদের কার্যাবলি তদারকির জন্য এমন একজন নির্ভরযোগ্য (ثقة) ও দূরদৃষ্টিসম্পন্ন ব্যক্তিকে নিযুক্ত করা উচিত যে তাদের পেশা সম্পর্কে সম্যক অবগত। তিনি তাদের সকল তৈজসপত্র পরিচ্ছন্ন রাখার এবং প্রতিদিন গরম পানি ও ক্ষার (উশনান) দিয়ে ধোয়ার নির্দেশ দেবেন। তারা যেন ছাগলের মাংস বা উটের মাংস দিয়ে রান্না না করে; যাতে কোনো অসুস্থ ব্যক্তি তা খেয়ে তার অসুস্থতা বেড়ে না যায়, কিংবা রোগমুক্ত হওয়ার পথে থাকা কোনো ব্যক্তি পুনরায় রোগে আক্রান্ত না হয়।

সসেজ তৈরিতে উটের কলিজা, গরুর কলিজা, ছাগলের মাংস বা ছাগলের কলিজা ব্যবহার করতে তাদের নিষেধ করা হবে।
(খণ্ড: ১) নিহায়াতুর রুতবাহ ফী তলাবিল হিসবাহ - ইবন বাসসাম (পৃষ্ঠা: ৩১১)
وإنهم أيضاً يجعلون من كل خمسة أرطال من البقر، رطلين من بياض البصل، ورطل دهن، ورطلين ماء، بعد دقها، فينبغي أن يعتبر عليهم ذلك بالشق عنها قبل أن تقلى، فإنه إذا قلاه نخسه في المقلى بالسفود ليفجره حتى يستر عيوبه ويسيل ما فيها من الغش، وكذلك غش السنبوسك يبين قبل قليله وبعد قليله، فإنه يغش بالباقلاء المقشر المنبت، وبيان البصل، فإذا فتحته رأيته عديم اللحم، وهو ما ذكرناه، فاعلم أنه مغشوش، وقد يعمل فيه من لحوم الأسماك المشوية والتوابل.

وإن طبخوا المعز، فعلامته في القدور سواده، وزهومته، ورقة سائر عظامه. ويمنعون من غش المضيرة بالدقيق لتعقد ويزيد في وزنها، وقد تعقد أيضاً بدقيق الأرز. ويتفقد عليهم كثرة الأدهان في قدورهم. ويغشوا أيضاً البهطة بالقلقاس، وقد يغشون به الهريسة أيضاً، وقد يغشون أيضاً الهرايس بالكروش المسلوقة المبشورة، ويسترون عيوبها بالشحوم. ويعتبر عليهم أيضاً العصبان، فإنهم يبيعونها الجزارون.

وينبغي أن يعتبر غسلهم بالشق، ويمنعوا أن تنقع في الماء قبل بيعها، ويؤمروا بنظافته، وحشوه بلحوم الخواصر، وقناقه بالنعنع، واليسير من السداب، ويحلفوا بالله العظيم أنهم إذا عملوا عصباناً من بطون المعز وباعوه، أن يعلموا الزبون بذلك، ويراعيه العريف أيضاً.

وقد وجدت في الرسالة التي تعرف بكيمياء الطبيخ، التي ألفها يعقوب بن إسحاق الكندي إلى المعتضد ألواناً تطبخ من غير لحم، وقلايا كبود من غير كبود، ومخ من غير مخ، ونقانق من غير لحم، وعجة من غير بيض، وجوذاب من غير جبن ولا أرز، وحلاوة من غير عسل ولا سكر، وألواناً كثيرة من غير عناصرها يطول شرحها، وليس يهتدي إلى دقة صناعتها، وخشيت من تدليس المتعيشين في الأسواق، فأمسكت عن صفتها خوفاً من التنبيه على عملها، رجاءً لثواب الله تعالى.

* * *

 

الباب الثاني عشر

في الحلوانيين وغشهم

ينبغي أن يعرف عليهم عريفاً ثقة؛ لأن غش هذه الصنعة كثير جداً، فمن ذلك أن العسل النحل إذا كان نافقاً غالياً، غشوه برب العنب، وهو يعرف إذا جعل على النار،
তারা আরও করে যে, প্রতি পাঁচ রতল গরুর মাংসের সাথে দুই রতল পিঁয়াজের সাদা অংশ, এক রতল চর্বি এবং দুই রতল পানি পিষবার পর মিশিয়ে দেয়। তাই ভাজার আগে সেগুলো চিরে পরীক্ষা করা উচিত। কেননা যখন সে এগুলো ভাজে, তখন কড়াইয়ে শিক দিয়ে খুঁচিয়ে দেয় যাতে সেগুলোর ছিদ্র দিয়ে ভেতরের ভেজাল বেরিয়ে আসে এবং এর মাধ্যমে সে তার ত্রুটিগুলো গোপন করে। একইভাবে সিংগাড়ার ভেজালও ভাজার আগে এবং পরে স্পষ্ট হয়ে যায়; কেননা এতে খোসা ছাড়ানো অংকুরিত শিম এবং পিঁয়াজের সাদা অংশ দিয়ে ভেজাল মেশানো হয়। আপনি যখন এটি খুলবেন, তখন দেখবেন এতে কোনো মাংস নেই—যা আমরা আগেই উল্লেখ করেছি। সুতরাং জেনে রাখুন যে এটি ভেজাল মিশ্রিত। কখনও কখনও এতে মাছের কাবাব এবং মশলাও ব্যবহার করা হয়।

যদি তারা বকরির মাংস রান্না করে, তবে হাঁড়িতে এর চিহ্ন হলো এর কালো রঙ, আঁশটে গন্ধ এবং এর হাড়ের পাতলা হওয়া। মাদিরা (এক প্রকার দইয়ের তরকারি) যেন আটা দিয়ে ঘন না করা হয় এবং ওজন বাড়ানোর জন্য তাতে যেন ভেজাল না মেশানো হয়, সে বিষয়ে তাদের নিষেধ করতে হবে। কখনও কখনও চালের আটা দিয়েও এটি ঘন করা হয়। তাদের হাঁড়িতে চর্বির আধিক্য আছে কি না তাও তদারকি করতে হবে। তারা বাহতা-তেও কচু দিয়ে ভেজাল দেয়, আবার কখনও কখনও হারিসাতেও এটি মেশায়। তারা সেদ্ধ করা ও কুচি করা ভুঁড়ি দিয়েও হারিসাতে ভেজাল দেয় এবং চর্বি দিয়ে এর ত্রুটিগুলো ঢেকে রাখে। ওসবান (সসেজ জাতীয় খাবার) এর ক্ষেত্রেও তাদের তদারকি করতে হবে, কারণ কসাইরা এগুলো বিক্রি করে থাকে।

সেগুলো চিরে ধোয়া হচ্ছে কি না তা পরীক্ষা করা উচিত এবং বিক্রির আগে পানিতে ভিজিয়ে রাখতে নিষেধ করতে হবে। তাদের নির্দেশ দিতে হবে যেন তারা পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখে, পাজরের মাংস দিয়ে এটি ভর্তি করে এবং পুদিনা ও সামান্য সুদাব (এক প্রকার ওষধি গাছ) ব্যবহার করে। তাদের আল্লাহর নামে মহান কসম করানো উচিত যে, তারা যদি ছাগলের ভুঁড়ি দিয়ে ওসবান তৈরি করে বিক্রি করে, তবে যেন ক্রেতাকে তা জানিয়ে দেয়। পরিদর্শককেও (আরিফ) এ বিষয়ে লক্ষ্য রাখতে হবে।

ইয়াকুব ইবনে ইসহাক আল-কিন্দি মুতাদিদ-এর উদ্দেশ্যে 'কিমিয়া আত-তাবিখ' (রন্ধন রসায়ন) নামে যে রিসালা রচনা করেছেন, তাতে আমি মাংস ছাড়াই রান্না করা বিভিন্ন পদের বর্ণনা পেয়েছি; যেমন কলিজা ছাড়াই কলিজা ভাজা, মগজ ছাড়াই মগজ, মাংস ছাড়াই সসেজ, ডিম ছাড়াই অমলেট, পনির বা চাল ছাড়াই জুজাব এবং মধু বা চিনি ছাড়াই হালুয়া। মূল উপাদান ছাড়াই এমন অনেক পদের বর্ণনা সেখানে আছে যা ব্যাখ্যা করতে দীর্ঘ সময়ের প্রয়োজন এবং এর সূক্ষ্ম কারুকার্য আয়ত্ত করা সহজ নয়। আমি বাজারে জীবিকা নির্বাহকারীদের প্রতারণা (تدليس) করার আশঙ্কায় এবং আল্লাহর নিকট সওয়াবের প্রত্যাশায় সেগুলোর প্রস্তুতপ্রণালী বর্ণনা করা থেকে বিরত থাকলাম। এ কাজ আমি করেছি যাতে কেউ এগুলো শিখে অসদুপায় অবলম্বন না করে।

* * *

 

দ্বাদশ অধ্যায়

মিষ্টান্ন প্রস্তুতকারক এবং তাদের ভেজাল প্রসঙ্গে

তাদের তদারকির জন্য একজন নির্ভরযোগ্য (ثقة) পরিদর্শক নিযুক্ত করা উচিত; কারণ এই পেশায় ভেজালের পরিমাণ অত্যন্ত বেশি। যেমন—মধু যখন দুষ্প্রাপ্য ও মহার্ঘ হয়, তখন তারা আঙ্গুরের রস দিয়ে এতে ভেজাল মেশায়; এটি আগুনে দিলে চেনা যায়,