(খণ্ড: ১)
মুখতাসারুত তুহফাহ আল-ইসনা আশারিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: -)
مختصر التحفة الاثني عشرية القسم: العقيدة
الكتاب: مختصر التحفة الاثني عشرية
ألّف أصله باللغة الفارسية: علامة الهند شاه عبد العزيز غلام حكيم الدهلوي
نقله من الفارسية إلى العربية: (سنة 1227 هـ) الشيخ الحافظ غلام محمد بن محيي الدين بن عمر الأسلمي
اختصره وهذبه: (سنة 1301 هـ) علامة العراق محمود شكري الألوسي
حققه وعلق حواشيه: محب الدين الخطيب [ت 1389 هـ]
الناشر: المطبعة السلفية، القاهرة
عام النشر: 1373 هـ
عدد الأجزاء: 1
[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]
(تنبيه): بالنسخة الإلكترونية هوامش كثيرة زيادة على هوامش المطبوعة
تاريخ النشر بالشاملة: 1 رمضان 1432
তুহফাতুল ইসনা আশারিয়ার সংক্ষিপ্তসার
বিভাগ: আকিদাহ (বিশ্বাসমালা)
গ্রন্থ: তুহফাতুল ইসনা আশারিয়ার সংক্ষিপ্তসার
মূল গ্রন্থটি ফারসি ভাষায় রচনা করেছেন: হিন্দুস্তানের
প্রখ্যাত আলিম শাহ আব্দুল আজিজ গুলাম হাকিম দেহলভি
ফারসি থেকে আরবিতে রূপান্তর করেছেন:
(১২২৭ হিজরি সনে) শেখ আল-হাফিজ গুলাম মুহাম্মদ বিন
মুহিউদ্দিন বিন উমর আল-আসলামি
সংক্ষেপণ ও পরিমার্জন করেছেন:
(১৩০১ হিজরি সনে) ইরাকের প্রখ্যাত আলিম মাহমুদ শুকরি
আল-আলুসি
সম্পাদনা ও টীকা প্রদান করেছেন: মুহিব্বুদ্দিন আল-খাতিব
[মৃত্যু ১৩৮৯ হিজরি]
প্রকাশক: আল-মাতবাআ আস-সালাফিয়া،
কায়রো
প্রকাশকাল: ১৩৭৩ হিজরি
খণ্ড সংখ্যা: ১
[গ্রন্থের পৃষ্ঠা সংখ্যা মুদ্রিত কপির অনুরূপ]
(সতর্কবার্তা):
ই-বুক সংস্করণে মুদ্রিত কপির তুলনায় অনেক অতিরিক্ত টীকা যুক্ত করা হয়েছে
শামেলায় প্রকাশের তারিখ: ১ রমজান ১৪৩২ হিজরি
(খণ্ড: ١)
মুখতাসারুত তুহফাহ আল-ইসনা আশারিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ১)
مقدمة المختصر السيد محمود شكري الآلوسيالحمد لله الذي ثبّت أركان الدين بأئمة أهل السنة وأعلامهم، وجعل خلفاء نبيه أتباعه في الدنيا ويوم يدعى كل أناس بإمامهم. وسلك بهم مسلك السداد، ومهد لهم طرق الهدى والرشاد. وعصمهم باتباع سنن رسوله عليه الصلاة والسلام من الزيغ والضلال والشبه والأوهام. والصلاة والسلام على سيدنا محمد صاحب الشريعة الغراء، الواضحة البيضاء. وعلى آله أئمة الدين، وصحابته الهادين المهديين.
وبعد فيقول المفتقر إلى الله، الملتجئ إلى ركن فضله وعلاه. خادم العلوم الدينية، في مدينة دار السلام المحمية. محمود شكري ابن السيد عبد الله الحسيني الآلوسي البغدادي، كان الله تعالى له خير معين وأحسن هادي:
إن علماء الشيعة لم يزالوا قائمين على ساق المناظرة، واقفين في ميادين المنافرة والمكابرة. مع كل قليل البضاعة، ممن ينتمى إلى مذاهب أهل السنة والجماعة. لا سيما في الديار العراقية، وما والاها من ممالك الدولة العلية العثمانية. حتى اغتر بشبههم من الجهلة الألوف، وانقاد لزمام دعواهم ممن لم يكن له على معرفة الحق وقوف. فلما رأيت الأمر اتسع خرقه، والشر تعددت طرقه. شمرت عن ساعد الجد والاجتهاد، في الذبّ عن مسلك ذوي الرشاد. ورأيت أن أؤلف في هذا الباب، كتابا مشتملا على فصل الخطاب، به يتميز القشر عن اللبان، ويتبين الخطأ من الصواب.
وقد ألف العالم العلامة والنحرير الفهامة الشيخ غلام محمد أسلمي الهندي، تغمده الله تعالى بغفرانه الأبدى. ترجمة التحفة الاثني عشرية، في الرد على فرق الشيعة الإمامية.
সৈয়দ মাহমুদ শুকরি আল-আলুসি কর্তৃক প্রণীত সংক্ষিপ্ত সারগ্রন্থের
ভূমিকা
সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর জন্য, যিনি আহলে সুন্নাতের ইমাম ও বরেণ্য মনীষীদের মাধ্যমে দ্বীনের স্তম্ভসমূহকে সুদৃঢ়
করেছেন এবং তাঁর নবীর অনুসারীদের ইহকালে তাঁর প্রতিনিধি বানিয়েছেন এবং সেই দিনেও (প্রতিনিধি করবেন) যেদিন প্রতিটি
মানুষকে তাদের ইমামসহ আহ্বান করা হবে। তিনি তাদেরকে সঠিক পথে পরিচালিত করেছেন এবং তাদের জন্য হিদায়াত ও সত্যপথের
পন্থাসমূহকে সুগম করেছেন। আর তাঁর রাসুলের (তাঁর ওপর সালাত ও সালাম বর্ষিত হোক) সুন্নাহ অনুসরণের মাধ্যমে তাদেরকে
বিচ্যুতি, পথভ্রষ্টতা, সংশয় ও কল্পনাপ্রসূত ধারণা থেকে রক্ষা করেছেন। আর দরুদ ও সালাম বর্ষিত হোক আমাদের নেতা মুহাম্মদ
(সা.)-এর ওপর, যিনি সমুজ্জ্বল ও সুস্পষ্ট শরীয়তের অধিকারী। আরও বর্ষিত হোক তাঁর পরিবারবর্গের ওপর যারা দ্বীনের ইমাম,
এবং তাঁর সাহাবীগণের ওপর যারা পথপ্রদর্শক ও সুপথপ্রাপ্ত।
অতঃপর, আল্লাহর মুখাপেক্ষী এবং তাঁর অনুগ্রহ ও সুউচ্চ
মর্যাদার আশ্রয়প্রার্থী, সুরক্ষিত বাগদাদ (দারুস সালাম) নগরীর দ্বীনি ইলমের সেবক, মাহমুদ শুকরি ইবনে আস-সাইয়্যিদ
আব্দুল্লাহ আল-হুসাইনি আল-আলুসি আল-বাগদাদি—আল্লাহ তাআলা তাঁর জন্য সর্বোত্তম সাহায্যকারী ও শ্রেষ্ঠ পথপ্রদর্শক
হোন—বলছেন:
নিশ্চয়ই শিয়া আলেমগণ সর্বদা বিতর্ক ও মুনাজারার (তর্কযুদ্ধ) ওপর ভর করে দাঁড়িয়ে আছেন এবং বিদ্বেষ ও
হঠকারিতার ময়দানে অটল রয়েছেন। তারা আহলে সুন্নাত ওয়াল জামাআতের অন্তর্ভুক্ত সেইসব লোকদের সাথে তর্কে লিপ্ত হয় যাদের
জ্ঞান স্বল্প। বিশেষ করে ইরাক ভূখণ্ডে এবং এর পার্শ্ববর্তী মহান উসমানীয় সালতানাতের রাজ্যসমূহে এটি প্রকট। এমনকি তাদের
ছড়ানো সংশয়ের ফলে হাজার হাজার মূর্খ লোক প্রতারিত হয়েছে এবং সত্য সম্পর্কে যাদের সম্যক জ্ঞান নেই এমন অনেকে তাদের
বিভ্রান্তিকর দাবির অনুগামী হয়েছে। যখন আমি দেখলাম যে বিষয়টি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যাচ্ছে এবং অনিষ্টের পথসমূহ
বহুবিস্তৃত হচ্ছে, তখন আমি সত্যপথের অনুসারীদের পক্ষাবলম্বন ও প্রতিরক্ষার জন্য পূর্ণ উদ্যম ও সচেষ্ট হয়ে কোমর বেঁধে
নেমে পড়লাম। আমি মনস্থ করলাম যে এ বিষয়ে এমন একটি কিতাব সংকলন করব যা চূড়ান্ত ফয়সালা সম্বলিত হবে, যার মাধ্যমে অসার
বিষয় থেকে সারবস্তু পৃথক হবে এবং ভুল থেকে সঠিক বিষয় সুস্পষ্ট হবে।
ইতিপূর্বে বিজ্ঞ আলেম, সুগভীর পণ্ডিত ও
প্রাজ্ঞ মনীষী শাইখ গোলাম মুহাম্মদ আসলামি আল-হিন্দি—আল্লাহ তাআলা তাঁকে তাঁর চিরন্তন ক্ষমা দ্বারা আবৃত করুন—শিয়া
ইমামিয়া সম্প্রদায়ের বিভিন্ন ফিরকার খণ্ডনকল্পে রচিত ‘তুহফায়ে ইতনা আশারিয়া’ নামক গ্রন্থের একটি ভাষান্তর (আরবিতে)
সম্পন্ন করেছিলেন।
(খণ্ড: ١)
মুখতাসারুত তুহফাহ আল-ইসনা আশারিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ২)
(1)فوجدته كتابا انكشفت شبه المناظرين بأنوار دلائله، واندفعت شكوك المعاندين بمسلم براهينه وجلّي مسائله. قد انسد فيه دون الناقد البصير كل باب، وانهد به ركن الباطل والارتياب. فلا يستطيع الخصم أن يفوه ببنت شفة حيث أُلجم بلجام الإلزام. ولا يطيق العنود أن يفتح فمه لما حاك عليه من لثام العجز والإفحام. غير أن مؤلفه عليه الرحمة قد أطنب فيه وأطال، وكرر كثيرا من المسائل والأقوال. بعبارات ليس لها حظ من فصاحة الكلام، ولا نصيب من السلاسة والانسجام. حيث أنه ممن يتكلم بالهندية، ولم يمارس التحاطب باللغة العربية. فحداني التوفيق الإلهي إلى تلخيص ذلك الكتاب، وهداني التأييد الرباني إلى إبراز غواني معانيه بأبهى جلباب. مع ضم ما يؤدي إليه المقام، مما أفاده العلماء الأعلام. بعبارات سهلة موجزة مشتملة ينتفع بها الخاص والعام، ويتلقاها بالقبول ذوو الإنصاف من الأنام.
ولما يسر الله تعالى ما طلبته، وأجابني فيما رجوته ودعوته. سميت الكتاب (المنحة الإلهية، تلخيص ترجمة التحفة الاثني عشرية) وقدمته لأعتاب خليفة الله في أرضه، ونائب رسوله عليه الصلاة والسلام في إحياء سنته وفرضه. الذي راعي رعاياه بجميل رعايته، ودبرهم بصائب تدبيره وواسع درايته. وسلك أحسن المسالك في استقامة أمورهم، وصيانة نفوسهم، وحراسة جمهورهم. وخص من بينهم علماء دولته وصلحاء ملته بحسن ملاحظته وفضل محافظته، تمييزا لهم بالعناية، وتخصيصا بما يجب من الرعاية. ووضعا للأمور في مواضعها، وغصابة مواقعها. ألا وهو أمير المؤمنين، الواجب طاعته على الخلق أجمعين. سلطان البرين وخاقان البحرين، السلطان ابن السلطان السلطان الغازي عبد الحميد خان ابن السلطان الغازي عبد المجيد خان. اللهم أيده بنصرك وانصره لتأبيد ذكرك. واطمس شر سويداء قلوب أعدائه وأعدائك، ودق أعناقهم بسيوف قهرك وسطوتك. اللهم واجعل رايات أنعمه منشورة بأيدي جنوده، واحجبهم بحجب حولك وقوتك من لحظات لمعات أبصار عدوه وحسوده. وصب عليهم ميازيب التوفيق آناء ليلك وأطراف نهارك،
-----------------------------------
(১)
আমি এই কিতাবটিকে এমন এক গ্রন্থ হিসেবে পেলাম যার দলীলসমূহের নূরে তার্কিকদের সংশয়সমূহ দূরীভূত হয়েছে এবং যার
অকাট্য প্রমাণাদি ও সুস্পষ্ট মাসআলাসমূহের মাধ্যমে বিরোধীদের সন্দেহসমূহ অপসারিত হয়েছে। সূক্ষ্মদর্শী সমালোচকদের জন্য
এতে সকল পথ রুদ্ধ হয়ে গেছে এবং এর মাধ্যমে বাতিল ও সন্দেহের ভিত্তি ধসে পড়েছে। ফলে কোনো প্রতিপক্ষ টুঁ শব্দ করার সাহস
পায় না, যেহেতু তাকে যৌক্তিক বাধ্যবাধকতার লাগাম পরিয়ে নিরুত্তর করে দেওয়া হয়েছে। আর কোনো একগুঁয়ে ব্যক্তি তার মুখ
খোলার ক্ষমতা রাখে না, কারণ তার ওপর অক্ষমতা ও লাজওয়াব হওয়ার আবরণ টেনে দেওয়া হয়েছে। তবে এর রচয়িতা—তাঁর ওপর আল্লাহর
রহমত বর্ষিত হোক—এতে অতিবিস্তৃতি ও দীর্ঘসূত্রতা অবলম্বন করেছেন এবং অনেক মাসআলা ও বক্তব্য বারবার পুনরাবৃত্তি করেছেন।
তিনি এমন সব শব্দ চয়ন করেছেন যাতে না ছিল বাগ্মিতার ছোঁয়া, আর না ছিল সাবলীলতা ও প্রাঞ্জলতার কোনো লেশ। কারণ তিনি
ছিলেন এমন ব্যক্তিদের অন্তর্ভুক্ত যারা হিন্দী (উর্দু) ভাষায় কথা বলেন এবং আরবী ভাষায় উচ্চাঙ্গের সাহিত্যিক
আলাপচারিতায় অভ্যস্ত নন। অতঃপর আল্লাহর তাওফীক আমাকে সেই কিতাবটির সারসংক্ষেপ প্রস্তুত করতে উদ্বুদ্ধ করল এবং রব্বানী
সাহায্য আমাকে এর গূঢ় অর্থসমূহকে অত্যন্ত সুন্দর আবরণে সুসজ্জিত করে ফুটিয়ে তুলতে পথ প্রদর্শন করল। সাথে সাথে
প্রাসঙ্গিক এমন বিষয়াদিও সংযোজন করেছি যা প্রথিতযশা ওলামায়ে কেরাম বর্ণনা করেছেন। এটি করা হয়েছে সহজ, সংক্ষিপ্ত ও
পূর্ণাঙ্গ শব্দশৈলীর মাধ্যমে, যা থেকে সাধারণ-অসাধারণ সকলেই উপকৃত হতে পারবে এবং সৃষ্টিজগতের ইনসাফপূর্ণ ব্যক্তিগণ তা
কবুল করে নেবেন।
যখন আল্লাহ তাআলা আমার কাঙ্ক্ষিত বিষয় সহজ করে দিলেন এবং আমার আশা ও দোয়া কবুল করলেন, তখন আমি
এই কিতাবের নাম রাখলাম ‘আল-মিনহাতুল ইলাহিয়্যাহ, তালখিসু তারজামাতিুত তুহফাতিল ইসনা আশারিইয়াহ’ (দ্বাদশ ইমামপন্থী
শিয়াদের খণ্ডনে তুহফা কিতাবের অনুবাদের সারসংক্ষেপ ও খোদায়ী উপহার)। আর আমি এটি পেশ করলাম জমিনে আল্লাহর খলিফা এবং
তাঁর রাসূলের (তাঁর ওপর দরুদ ও সালাম বর্ষিত হোক) সুন্নাত ও ফরযসমূহ পুনরুজ্জীবিত করার ক্ষেত্রে তাঁর প্রতিনিধির
দরবারে। যিনি আপন প্রজাসাধারণকে তাঁর সুচারু তত্ত্বাবধানে আগলে রেখেছেন এবং তাঁর সঠিক পরিকল্পনা ও সুদূরপ্রসারী
প্রজ্ঞার মাধ্যমে তাঁদের পরিচালনা করেছেন। তিনি তাঁদের বিষয়াদির সংশোধনে, জানমালের নিরাপত্তায় এবং জনসমষ্টির প্রহরায়
সর্বোত্তম পথ অবলম্বন করেছেন। বিশেষ করে তাঁর সালতানাতের ওলামায়ে কেরাম ও মিল্লাতের নেককার বান্দাদের প্রতি তাঁর
সুদৃষ্টি ও বিশেষ রক্ষণাবেক্ষণের মাধ্যমে ধন্য করেছেন, যা তাঁদের প্রতি তাঁর বিশেষ যত্ন ও যথাযথ সম্মানের বহিঃপ্রকাশ।
আর এটি হলো প্রতিটি বিষয়কে তার উপযুক্ত স্থানে স্থাপন করার শামিল। জেনে রাখুন, তিনি হলেন আমীরুল মুমিনীন, যাঁর আনুগত্য
সকল সৃষ্টির ওপর ওয়াজিব। দুই ভূখণ্ড ও দুই সমুদ্রের অধিপতি, সুলতান ইবনে সুলতান, সুলতান গাজী আবদুল হামিদ খান বিন
সুলতান গাজী আবদুল মাজীদ খান। হে আল্লাহ! আপনি আপনার সাহায্যের মাধ্যমে তাঁকে শক্তিশালী করুন এবং আপনার স্মরণকে
চিরস্থায়ী করার জন্য তাঁকে বিজয়ী করুন। আপনার কঠোরতা ও প্রতাপের তরবারি দিয়ে তাঁর ও আপনার শত্রুদের হীনবল করে দিন। হে
আল্লাহ! তাঁর নিয়ামতের পতাকাসমূহকে তাঁর সৈন্যদের হাতে সমুন্নত রাখুন এবং আপনার শক্তি ও সামর্থ্যের আবরণে তাঁদেরকে
শত্রু ও হিংসুকদের কুদৃষ্টি থেকে রক্ষা করুন। আর রাত-দিনের সকল প্রহরে তাঁদের ওপর আপনার তাওফীকের রহমতের বারিধারা
বর্ষণ করুন।
-----------------------------------
(খণ্ড: ١)
মুখতাসারুত তুহফাহ আল-ইসনা আশারিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ৩)
فإنهم حماة حرم دينك وحراس أبواب شريعتك وأعظم جنودك وأنصارك. وغرضي من عرض ذلك الكتاب إلى ساحته الرفيعة العتاب، أن يذر إكسير نظره عليه، ليحل محل القبول لديه. فهناك إن شاء الله تعالى يحصل الأمل، وأحظى بما رجوته من قبول العمل وقد رتبته على تسعة أبواب، وإلى الله الزلفى وحسن المآب.
الباب الأول في ذكر فرق الشيعة وبيان أحوالهم وكيفية حدوثهم وتعداد مكائدهماعلم أن الشيعة الذين يدعون مشايعة الأمير كرم الله نعالى وجهه ومتابعته، وحبه الذي افترضه الله تعالى على عباده، أربع فرق:
(فرق الشيعة)
(الشيعة المخلصون)الفرقة الأولى: الشيعة الأولى ويسمون «الشيعة المخلصين» أيضا، وهم عبارة عن الذين كانوا في وقت خلافة الأمير كرم الله وجهه من المهاجرين والأنصار والذين تبعوهم بإحسان، كلهم عرفوا له حقه، وأحلوه من الفضل محله ولم ينتقصوا أحدا من إخوانه أصحاب رسول الله صلى الله عليه وسلم فضلا عن إكفاره وسبّه. بيد أن منهم من قاتل معه على تأويل القرآن كما قاتلوا مع رسول الله صلى الله عليه وسلم على تنزيله، فقد كان معه - رضي الله تعالى عنه - في حرب صفين (1) من أصحاب بيعة الرضوان ثمانمائة صحابي، وقد استشهد منهم تحت رايته هناك ثلاثمائة. ومنهم من تقاعد عن القتال تورعا واحتياطا لشبهة عرضت له، لكنه مع ذلك كان قائما بمحبته وتعظيمه ونشر فضائله، وذلك لا يقصر بكثير عن القتال معه. ومن مشهوري هذا الصنف عبد الله بن عمر رضي الله عنهما. وقد زالت شبهته بعد ذلك فندم غاية الندم على قعوده وتخلفه عن الأمير كرم الله تعالى وجهه، لكن فات ذاك، وتعذر الاستدراك. وحالت المنية، دون الأمنية. وهذا يشبه من وجه ما كان من محمد بن الحنفية - رضي الله تعالى عنه - من التوقف يوم الجمل حتى قال له الأمير كرم الله تعالى وجهه: ويحك أتتوقف وأبوك سابقك؟ (2) ومنهم من غلب عليه القضاء والقدر فوقع منه ما أدى إلى قتاله،
-----------------------------------
কারণ তাঁরা আপনার দ্বীনের পবিত্র সীমানার রক্ষক, আপনার শরীয়তের প্রবেশদ্বারের প্রহরী এবং
আপনার শ্রেষ্ঠ সৈন্য ও সাহায্যকারী। সেই উচ্চ মর্যাদাসম্পন্ন দরবারে এই গ্রন্থটি উপস্থাপনের পেছনে আমার উদ্দেশ্য হলো,
তিনি যেন এর ওপর তাঁর দৃষ্টির পরশপাথর (ইকসির) বুলিয়ে দেন, যাতে এটি তাঁর কাছে কবুলিয়াতের মর্যাদা লাভ করে। সেখানে
ইনশাআল্লাহ আশা পূর্ণ হবে এবং আমি আমলটি কবুল হওয়ার যে প্রত্যাশা করেছিলাম তা লাভে ধন্য হব। আমি গ্রন্থটিকে নয়টি
অধ্যায়ে বিন্যস্ত করেছি; আর আল্লাহর কাছেই রয়েছে নৈকট্য এবং উত্তম প্রত্যাবর্তনস্থল।
প্রথম অধ্যায়: শিয়াদের উপদলসমূহের বর্ণনা, তাঁদের অবস্থা, উৎপত্তির ধরন এবং তাঁদের ষড়যন্ত্রসমূহের
বিবরণ
জেনে রাখুন যে, শিয়া যারা আমীর (আলী - আল্লাহ তাঁর মুখমণ্ডলকে মহিমান্বিত করুন) এর পক্ষাবলম্বন, তাঁর অনুসরণ
এবং তাঁর প্রতি সেই ভালোবাসার দাবি করে যা মহান আল্লাহ তাঁর বান্দাদের ওপর ফরজ করেছেন, তাঁরা মূলত চার দল:
(শিয়ার উপদলসমূহ)
(নিষ্ঠাবান শিয়া)
প্রথম দল: আদি শিয়া, যাঁদেরকে 'নিষ্ঠাবান শিয়া' (আশ-শিয়াউল মুখলিসুন) বলা হয়। তাঁরা হলেন সেই সকল মুহাজির ও
আনসার এবং যারা নিষ্ঠার সাথে তাঁদের অনুসরণ করেছেন, যাঁরা আমীরের (আল্লাহ তাঁর মুখমণ্ডলকে মহিমান্বিত করুন) খিলাফতের
সময়কাল পর্যন্ত জীবিত ছিলেন। তাঁরা সকলেই আলীর যথাযোগ্য মর্যাদা সম্পর্কে অবগত ছিলেন এবং শ্রেষ্ঠত্বের বিচারে তাঁকে
তাঁর প্রাপ্য স্থানে অধিষ্ঠিত করতেন। তাঁরা আল্লাহর রাসুলের (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) সাহাবীদের মধ্য হতে
তাঁর কোনো ভাইয়েরই মানহানি করতেন না, তাঁদের কাফির বলা কিংবা গালমন্দ করার তো প্রশ্নই আসে না। তবে তাঁদের মধ্যে এমন
কিছু লোক ছিলেন যাঁরা কুরআনের ব্যাখ্যার প্রশ্নে তাঁর সাথে থেকে যুদ্ধ করেছেন, ঠিক যেমন তাঁরা রাসুলুল্লাহ
(সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) এর সাথে থেকে ওহী নাযিলের প্রশ্নে যুদ্ধ করেছিলেন। সিফফীনের যুদ্ধে (১) বাইয়াতে
রিদওয়ানে অংশগ্রহণকারী আটশ সাহাবী তাঁর (রাদিয়াল্লাহু আনহু) সাথে ছিলেন এবং সেখানে তাঁর পতাকাতলে তাঁদের মধ্যে তিনশ
জন শাহাদাত বরণ করেন। তাঁদের মধ্যে এমন লোকও ছিলেন যাঁরা পরহেযগারি ও সতর্কতার কারণে এবং নিজের সামনে উদ্ভূত কোনো
সংশয়ের (শুবহা) কারণে যুদ্ধ থেকে বিরত ছিলেন। কিন্তু তা সত্ত্বেও তাঁরা আলীর প্রতি ভালোবাসা ও সম্মান প্রদর্শন এবং
তাঁর শ্রেষ্ঠত্ব প্রচারে সচেষ্ট ছিলেন, যা আলীর পক্ষে যুদ্ধ করার চেয়ে খুব একটা কম ছিল না। এই শ্রেণির বিখ্যাত
ব্যক্তিদের মধ্যে আব্দুল্লাহ ইবনে উমর (রাদিয়াল্লাহু আনহুমা) অন্যতম। পরবর্তীতে তাঁর সংশয় দূর হয়েছিল এবং তিনি আমীরের
(আল্লাহ তাঁর মুখমণ্ডলকে মহিমান্বিত করুন) পক্ষাবলম্বন না করে বসে থাকার জন্য চরম অনুতপ্ত হয়েছিলেন। কিন্তু ততক্ষণে
সময় অতিবাহিত হয়ে গিয়েছিল এবং তা সংশোধন করা সম্ভব ছিল না। আকাঙ্ক্ষা পূরণের পূর্বেই মৃত্যু উপস্থিত হয়েছিল। এটি একদিক
দিয়ে জাবালে জামালের যুদ্ধে মুহাম্মদ ইবনুল হানাফিয়্যাহ (রাদিয়াল্লাহু আনহু) এর দ্বিধাবোধের মতো ছিল, যখন আমীর (আল্লাহ
তাঁর মুখমণ্ডলকে মহিমান্বিত করুন) তাঁকে বলেছিলেন: "দুর্ভোগ তোমার! তুমি কি দ্বিধা করছো অথচ তোমার পিতা তোমার
অগ্রবর্তী?" (২) তাঁদের মধ্যে এমন কেউও ছিলেন যাঁর ওপর তকদির প্রবল হয়েছিল এবং যাঁর থেকে এমন কিছু ঘটেছিল যা শেষ
পর্যন্ত যুদ্ধের দিকে ধাবিত করেছিল।
-----------------------------------
(খণ্ড: ١)
মুখতাসারুত তুহফাহ আল-ইসনা আশারিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ৪)
كطلحة والزبير وأم المؤمنين - رضي الله تعالى عنهم -، فهم - وإن وقع بينهم وبين الأمير ما وقع يوم الجمل - محبون له عارفون له فضله، كما أنه - رضي الله تعالى عنه - في حقهم كذلك، وليس بين ذلك وبين القتال الواقع في البين تنافٍ، لأن القتال لم يكن مقصودا، بل وقع عن غير قصد، لمكر من قتلة عثمان - رضي الله تعالى عنه - الذين كانوا بعشائرهم في عسكر الأمير، إذ غلب على ظنهم من خلوته بطلحة والزبير أنه سيسلمهم إلى أولياء عثمان، فأطاروا من نيران غدرهم شرارا، ومكروا مكرا كبارا، فأوقعوا القتال بين الفريقين، فوقع ما وقع إن شاء وإن أبى أبو الحسنين فكل من الفريقين كان معذورا، وكان أمر الله قدرا مقدورا. وسيأتي تفصيل ذلك كله في باب المطاعن إن شاء الله تعالى (1) قال الجد روَّحَ الله تعالى روحَه في كتاب (نهج السلامة (2)) بعد ذلك الكلام على أن القتال لو فرض أنه كان قصدا فهو بشبهة قوية عند المقاتل أوجبت عليه أن يقاتل. فهو بزعمه من الدين ونصرة المسلمين، وليس من الغي والاستهانة بالأمير في شيء. ومتى كان كذلك فهو لا ينافي المحبة، ولا يدنس رداء الصحبة. وقد صرح بعض العلماء أن شكوى الولد على أبيه لدين له عليه قادر على أدائه ومماطل فيه ليس من العقوق، ولا يخل بما للوالد من واجب الحقوق.
وإن أبى تعصبك هذا قلنا: إن القوم - رضي الله تعالى عنهم - كانوا من قبل ما وقع من الشيعة المخلصين الأبرار، لكن لعدم الإثم وقع منهم ما غسلوه ببرد التوبة وثلج الاستغفار، ويأبى الله تعالى أن يذهب صحابي إلى ربه، قبل أن يغسل بالتوبة والاستغفار دون ذنبه. وبنحو هذا يجاب عن أصحاب صفين، من رؤساء الفرقة الباغية على علي أمير المؤمنين. فالمتلوثة سيوفهم في تلك الفتنة من الصحابة أقل قليل، ولولا عريض
-----------------------------------
যেমন তালহা, যুবাইর এবং উম্মুল মুমিনীন (আল্লাহ তাঁদের প্রতি সন্তুষ্ট হোন)। তাঁরা—যদিও
উটের যুদ্ধের (জঙ্গে জামাল) দিন তাঁদের এবং আমীরের মাঝে অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা ঘটেছিল—আমীরের প্রতি ভালোবাসা পোষণ করতেন
এবং তাঁর মর্যাদা সম্পর্কে সম্যক অবগত ছিলেন। ঠিক তেমনি তিনিও (আল্লাহ তাঁর প্রতি সন্তুষ্ট হোন) তাঁদের ব্যাপারে
অনুরূপ মনোভাব পোষণ করতেন। তাঁদের এই মনোভাব এবং নিজেদের মধ্যকার যুদ্ধের মধ্যে কোনো বিরোধ নেই; কারণ এই যুদ্ধ কোনো
পক্ষ থেকেই উদ্দেশ্যমূলক ছিল না। বরং তা অনিচ্ছাকৃতভাবে ঘটেছিল উসমান (আল্লাহ তাঁর প্রতি সন্তুষ্ট হোন)-এর
হত্যাকারীদের চক্রান্তের কারণে, যারা নিজ নিজ গোত্রসহ আমীরের সৈন্যবাহিনীতে অবস্থান করছিল। যখন তারা প্রবল ধারণা করল
যে, তালহা ও যুবাইরের সাথে আমীরের নির্জন আলাপের উদ্দেশ্য হলো তাদের উসমানের উত্তরসূরিদের হাতে তুলে দেওয়া, তখন তারা
তাদের বিশ্বাসঘাতকতার আগুন থেকে স্ফুলিঙ্গ ছড়াল এবং এক বিশাল চক্রান্ত করল। ফলে তারা দুই দলের মধ্যে যুদ্ধ বাধিয়ে দিল।
অতঃপর যা ঘটার ছিল তা-ই ঘটল, চাই আবুল হাসান (আলী রা.) তা পছন্দ করুন বা না করুন। বস্তুত উভয় পক্ষই ওজরপ্রাপ্ত ছিল, আর
আল্লাহর ফয়সালা ছিল অবধারিত ও সুনিশ্চিত। এ সবকিছুর বিস্তারিত বিবরণ সামনে সমালোচনা বিষয়ক অধ্যায়ে আসবে, ইনশাআল্লাহ
(১)। পিতামহ (আল্লাহ তাঁর আত্মাকে প্রশান্ত করুন) তাঁর ‘নাহজুস সালামাহ’ (২) গ্রন্থে উক্ত আলোচনার পর বলেছেন: যদি ধরে
নেওয়া হয় যে, যুদ্ধটি উদ্দেশ্যমূলক ছিল, তবুও তা ছিল যোদ্ধাদের নিকট এক প্রবল সংশয়ের (শুভাহ) কারণে, যা তাদের যুদ্ধ
করতে বাধ্য করেছিল। তাদের ধারণা অনুযায়ী তা ছিল দ্বীনের স্বার্থে এবং মুসলিমদের সাহায্যের নিমিত্তে, কোনো ভ্রষ্টতা বা
আমীরকে তুচ্ছজ্ঞান করার কোনো বিষয় এতে ছিল না। আর যখন বিষয়টি এমন, তখন তা ভালোবাসার সাথে সাংঘর্ষিক নয় এবং সাহচর্য তথা
সাহাবিয়াতের মর্যাদাকেও কলঙ্কিত করে না। কোনো কোনো আলেম স্পষ্ট বর্ণনা করেছেন যে, কোনো সন্তান যদি তার পাওনা পরিশোধে
সক্ষম কিন্তু গড়িমসি করা পিতার বিরুদ্ধে অভিযোগ করে, তবে তা অবাধ্যতা (উকুক) হিসেবে গণ্য হবে না এবং পিতার প্রাপ্য
অধিকারেও কোনো বিঘ্ন ঘটাবে না।
আর যদি আপনার গোঁড়ামি তা মেনে নিতে অস্বীকার করে, তবে আমরা বলব: এই মহান
ব্যক্তিরা (আল্লাহ তাঁদের প্রতি সন্তুষ্ট হোন) সেই ঘটনার আগে একনিষ্ঠ ও পুণ্যবান অনুসারী ছিলেন। তবে নিষ্পাপ না হওয়ার
কারণে তাঁদের থেকে এমন কিছু ঘটেছিল যা তাঁরা তওবার শীতলতা ও ইস্তিগফারের শুভ্রতা দিয়ে ধুয়ে মুছে ফেলেছিলেন। আর আল্লাহ
তাআলা চান না যে কোনো সাহাবী তাঁর রবের সমীপে উপস্থিত হওয়ার আগে তওবা ও ইস্তিগফারের মাধ্যমে তাঁর ত্রুটি ধুয়ে না
ফেলেন। সিফফিনের যুদ্ধে যারা আমীরুল মুমিনীন আলীর বিরুদ্ধে বিদ্রোহী দলের প্রধান ছিল, তাদের ক্ষেত্রেও অনুরূপ জবাব
দেওয়া হবে। ওই ফিতনায় যে সব সাহাবীর তলোয়ার কলুষিত হয়েছিল, তাঁদের সংখ্যা ছিল অত্যন্ত নগণ্য। আর যদি প্রশস্ত
-----------------------------------
(খণ্ড: ١)
মুখতাসারুত তুহফাহ আল-ইসনা আশারিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ৫)
الصحبة وعميق المحبة لدلع أفعوان القلم لسانه الطويل. فقف عند مقدارك، فما أنت وإن بلغت الثريا إلا دون ثرى نعال أولئك. نعم يلزمك أن تقول: إن الحق فيما وقع كان مع زوج البتول. انتهى ما قال، عليه رحمة المتعال. وهو كلام موجز يغني عن المطولات، ويكفي عن كثير من العبارات.
هذا واعلم أن ظهور هذا اللقب (1) كان عام سبع وثلاثين من الهجرة والله تعالى أعلم.
(الشيعة التفضيلية)الفرقة الثانية الشيعة التفضيلية: وهم عبارة عن الذين يفضلون الأمير كرم الله وجهه على سائر الصحابة من غير إكفار واحد منهم ولا سب ولا بغض، كأبي الأسود الدؤلي الذي اشتهر - وهو الأصح بل الصحيح - أنه واضع النحو بأمر باب مدينة العلم كرم الله تعالى وجهه، وكتلميذه أبي سعيد يحيى بن يعمر أحد قراء البصرة، وكسالم بن أبي حفصة راوي الحديث عن الإمامين الباقر وابنه الصادق - رضي الله تعالى عنهما -، وكعبد الرزاق صاحب المصنف في الحديث، وكأبي يوسف يعقوب بن إسحاق المعروف بابن السكيت صاحب (إصلاح المنطق) في اللغة وكخلق آخرين، ولبعض متأخري الصوفية قدست أسرارهم كالفاضل الجامي كلمات ترشح بالتفضيل، وانسلاكهم في هذا القبيل، وكثير من العلماء يصرفها عن ذلك صيانة لأولئك الأجلة عن أن ينسب إليهم الابتداع (2) والانخزال عن «الشيعة المخلصين» من الأتباع. وقد ظهرت هذه الفرقة بعد الأولى بنحو عامين أو ثلاثة، وصح أن الأمير كرم الله تعالى وجهه أحس أيام خلافته بقوم يفضلونه على الشيخين، فكان ينهى عن ذلك حتى قال «لئن سمعت أحدا يفضلني على الشيخين - رضي
-----------------------------------
সাহচর্য এবং গভীর ভালোবাসার দাবি এই যে, কলমের দংশন তার দীর্ঘ জিহ্বাকে সংবরণ করবে। সুতরাং
আপনি আপনার সীমার মধ্যে অবস্থান করুন; কেননা আপনি সুউচ্চ আসমানে (সুরাইয়া নক্ষত্রে) পৌঁছালেও আপনি সেই মহান ব্যক্তিদের
পদতলের ধূলারও সমতুল্য নন। হ্যাঁ, আপনার জন্য এটি বলা আবশ্যক যে: যা কিছু ঘটেছে তাতে সত্য বাতুলের (ফাতেমা
রাযিয়াল্লাহু আনহা) স্বামীর পক্ষেই ছিল। মহান আল্লাহ তায়ালার রহমত তাঁর ওপর বর্ষিত হোক—তাঁর কথা এখানেই শেষ। এটি এমন
এক সংক্ষিপ্ত বক্তব্য যা দীর্ঘ আলোচনার প্রয়োজন মিটিয়ে দেয় এবং প্রচুর বাক্যব্যয়ের বিপরীতে যথেষ্ট।
এটিও জেনে
রাখুন যে, এই উপাধির (১) আত্মপ্রকাশ হিজরি সাঁইত্রিশ সালে হয়েছিল। আর মহান আল্লাহ তায়ালাই সর্বাধিক অবগত।
(তাফদিলিয়া শিয়া)
দ্বিতীয় দল হলো তাফদিলিয়া শিয়া: তারা মূলত এমন এক জনগোষ্ঠী যারা আমিরুল মুমিনীন (আল্লাহ তাঁর চেহারাকে
মর্যাদাপূর্ণ করুন)-কে অন্য সকল সাহাবায়ে কেরামের ওপর শ্রেষ্ঠত্ব প্রদান করেন, তবে তাঁদের কাউকে কাফের বলেন না এবং
তাঁদের প্রতি কোনো গালিগালাজ বা বিদ্বেষ পোষণ করেন না। যেমন—আবুল আসওয়াদ আদ-দুয়ালী, যার ব্যাপারে প্রসিদ্ধ (এবং এটিই
সবচেয়ে নির্ভুল বা সঠিক মত)—যে তিনি ‘ইলমের নগরীর দ্বার’ (আল্লাহ তায়ালা তাঁর চেহারাকে মর্যাদাপূর্ণ করুন)-এর
নির্দেশে ইলমে নাহু (আরবি ব্যাকরণ) উদ্ভাবন করেছিলেন। তেমনি তাঁর ছাত্র বসরার অন্যতম ক্বারী আবু সাঈদ ইয়াহইয়া ইবনে
ইয়ামুর, ইমাম বাকির ও তাঁর পুত্র সাদিক (আল্লাহ তাঁদের প্রতি সন্তুষ্ট হোন)—এই দুই ইমাম থেকে হাদিস বর্ণনাকারী সালিম
ইবনে আবু হাফসা, হাদিসশাস্ত্রের কিতাব 'আল-মুসান্নাফ'-এর লেখক আব্দুর রাজ্জাক, ভাষাতত্ত্বের কিতাব 'ইসলাহুল মানতিক'-এর
প্রণেতা ইবনে সুকাইত নামে পরিচিত আবু ইউসুফ ইয়াকুব ইবনে ইসহাক এবং আরও অসংখ্য লোক। পরবর্তী যুগের কিছু সুফি (আল্লাহ
তাঁদের গোপন রহস্যগুলো পবিত্র করুন), যেমন ফাজিল জামীর কিছু বাণীতে শ্রেষ্ঠত্ব প্রদানের (তাফদিল) ছাপ পাওয়া যায় এবং
তাঁদের এই মতাদর্শের অনুসারী হওয়ার ইঙ্গিত মিলে। অনেক আলেম এই মহান ব্যক্তিদের সম্মান রক্ষার্থে এবং তাঁদের প্রতি
বিদআত (২) কিংবা অনুসারীদের মধ্যে 'নিষ্ঠাবান শিয়া' হিসেবে গণ্য হওয়ার অপবাদ থেকে বাঁচাতে ঐসব বক্তব্যকে ভিন্নভাবে
ব্যাখ্যা করেছেন। এই দলটি প্রথম দলের প্রায় দুই বা তিন বছর পর আত্মপ্রকাশ করেছিল। এটি প্রমাণিত যে, আমিরুল মুমিনীন
(আল্লাহ তায়ালা তাঁর চেহারাকে মর্যাদাপূর্ণ করুন) তাঁর খেলাফতকালে এমন কিছু লোকের উপস্থিতি অনুভব করেছিলেন যারা তাঁকে
শাইখাইন (আবু বকর ও উমর)-এর ওপর শ্রেষ্ঠত্ব প্রদান করত। তিনি তা থেকে নিষেধ করতেন, এমনকি তিনি বলেছিলেন: "যদি আমি
কাউকে শুনি যে সে আমাকে শাইখাইন (আল্লাহ তাঁদের প্রতি সন্তুষ্ট হোন)-এর ওপর শ্রেষ্ঠত্ব দিচ্ছে..."
-----------------------------------
(খণ্ড: ١)
মুখতাসারুত তুহফাহ আল-ইসনা আশারিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ৬)
الله تعالى عنهما - لأحدنه حد الفرية» (1) وهو على ما في (التحفة) ثمانون جلدة وقيل عشر، والله تعالى أعلم.
(الشيعة السبية)الفرقة الثالثة الشيعة السبّية: ويقال لها «التبرئية» وهم عبارة عن الذين يسبون الصحابة، إلا قليلا منهم كسلمان الفارسي وأبي ذر والمقداد وعمار بن ياسر - رضي الله تعالى عنهم -، وينسبونهم - وحاشاهم - إلى الكفر والنفاق، ويتبرأون منهم، ومنهم من يزعم والعياذ بالله تعالى ارتداد جميع من حضر غدير خم (2) يوم قال عليه الصلاة والسلام «من كنت مولاه فعلي مولاه» الحديث، ولم يف بمقتضاه من بيعة الأمير كرم الله تعالى وجهه بعد وفاته عليه الصلاة والسلام بل بايع غيره. وهذه الفرقة حدثت في عهد الأمير - رضي الله تعالى عنه - بإغراء عبد الله بن سبأ اليهودي الصنعاني (3) كما سيأتي. وليس هو هيان بن بيان، (4) وزعمُ ذلك مكابرة وإنكار للمتواتر. ولما ظهرت أظهر الأمير كرم الله تعالى وجهه البراءة منها، وخطب عدة خطب في قدحها وذمها. وقد روى الإمام المؤيد بالله يحيى بن حمزة الزيدي (5) في آخر كتابه (طوق الحمامة في مباحث الإمامة) (6)
عن سويد بن غفلة أنه قال: مررت بقوم ينتقصون أبا بكر وعمر رضي الله عنهما، فأخبرت عليا كرم الله وجهه وقلت: لولا أنهم يرون أنك تضمر ما أعلنوا ما اجترأوا على ذلك، منهم عبد الله بن سبأ. فقال علي - رضي الله تعالى عنه - «نعوذ بالله، رحمهما الله» (7) ثم نهض وأخذ بيدي وأدخلني المسجد فصعد المنبر ثم قبض على لحيته وهي بيضاء فجعلت دموعه تتحادر عليها، وجعل ينظر للقاع حتى اجتمع الناس، ثم خطب فقال: «ما بال أقوام يذكرون أخوي رسول الله ووزيريه وصاحبيه وسيدي قريش وأبوي المسلمين، وأنا برئ مما يذكرون، وعليه معاقب. صحبا رسول الله صلى الله عليه وسلم بالحب والوفاء والجد في أمر الله، يأمران وينهيان ويغضبان في أمر الله، فقبض وهو عنهما راض، والمسلمون راضون، فما تجاوزا في أمرهما وسيرتهما رأي رسول الله صلى الله عليه وسلم وأمره في حياته وبعد موته، فقبضا على ذلك رحمهما الله،
-----------------------------------
আল্লাহ তাআলা তাঁদের উভয়ের প্রতি সন্তুষ্ট হন—আমি তাকে অবশ্যই মিথ্যারোপের দণ্ড
(হদ্দ-উল-ফিরয়াহ) প্রদান করব।" (১) আর 'তুহফা' গ্রন্থে যা উল্লেখ আছে, তা অনুযায়ী এর দণ্ড আশিটি বেত্রাঘাত, এবং বলা
হয়েছে দশটি। আল্লাহ তাআলাই সম্যক অবগত।
(শিয়া সাবইয়্যাহ)
তৃতীয় দল হলো শিয়া সাবইয়্যাহ: তাদেরকে 'তাবরিইয়্যাহ' (বিচ্ছিন্নতাকামী) ও বলা হয়। তারা মূলত সেই গোষ্ঠী যারা
সাহাবায়ে কিরামকে গালি দেয়, তবে তাঁদের মধ্য থেকে অল্প কয়েকজন ব্যতীত—যেমন সালমান ফারসি, আবু যর, মিকদাদ এবং আম্মার
বিন ইয়াসির (আল্লাহ তাআলা তাঁদের প্রতি সন্তুষ্ট হন)। তারা তাঁদেরকে—আল্লাহ রক্ষা করুন—কুফর ও মুনাফেকির সাথে সম্পৃক্ত
করে এবং তাঁদের থেকে সম্পর্ক ছিন্ন করার ঘোষণা দেয়। তাদের মধ্যে কেউ কেউ এমনও রয়েছে যারা—আল্লাহর কাছে আশ্রয় প্রার্থনা
করছি—গাদীরে খুম (২) নামক স্থানে উপস্থিত সকলের ধর্মত্যাগের (ইরতিদাদ) দাবি করে; যে দিনটিতে রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু
আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছিলেন: "আমি যার বন্ধু ও অভিভাবক, আলীও তার বন্ধু ও অভিভাবক" (আল-হাদিস)। তারা দাবি করে যে,
রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর ওফাতের পর আমিরুল মুমিনীন (আল্লাহ তাঁর চেহারাকে সম্মানিত করুন)-এর
হাতে বায়াত গ্রহণের যে দাবি ছিল, তা তারা পূর্ণ করেনি, বরং অন্যের হাতে বায়াত হয়েছে। এই দলটির উদ্ভব ঘটেছিল আমিরের
(রাদিয়াল্লাহু আনহু) শাসনকালে সানা’র ইহুদি আব্দুল্লাহ বিন সাবার (৩) প্ররোচনায়, যা সামনে বিস্তারিত আসবে। সে কোনো
অজ্ঞাতকুলশীল ব্যক্তি (হায়্যান বিন বায়্যান) (৪) নয়; তাকে অজ্ঞাত মনে করা হঠকারিতা এবং অকাট্য সংবাদের (মুতাওয়াতুর)
অস্বীকার করার শামিল। যখন এই দলটি আত্মপ্রকাশ করল, আমির (আল্লাহ তাঁর চেহারাকে সম্মানিত করুন) তাদের সাথে সম্পর্কহীনতা
প্রকাশ করলেন এবং তাদের কুৎসা ও নিন্দা বর্ণনায় একাধিক ভাষণ প্রদান করলেন। ইমাম মুয়াইয়িদ বিল্লাহ ইয়াহিয়া বিন হামযা
যায়দী (৫) তাঁর কিতাব 'তাওকুল হামামাহ ফি মাবাহিসিল ইমামাহ' (৬)-এর শেষে বর্ণনা করেছেন—
সুয়াইদ বিন গাফালাহ থেকে
বর্ণিত, তিনি বলেন: আমি একদল লোকের পাশ দিয়ে যাচ্ছিলাম যারা আবু বকর ও ওমর (রাদিয়াল্লাহু আনহুমা)-এর কুৎসা রটাচ্ছিল।
আমি আলী (আল্লাহ তাঁর চেহারাকে সম্মানিত করুন)-কে এ সংবাদ দিলাম এবং বললাম: "তারা যদি মনে না করত যে আপনি গোপনে তা-ই
পোষণ করেন যা তারা প্রকাশ্যে বলছে, তবে তারা এমন ধৃষ্টতা দেখাত না। তাদের মধ্যে আব্দুল্লাহ বিন সাবাও ছিল।" তখন আলী
(রাদিয়াল্লাহু আনহু) বললেন: "আমরা আল্লাহর কাছে আশ্রয় চাই, আল্লাহ তাঁদের উভয়ের ওপর রহম করুন।" (৭) এরপর তিনি উঠে
দাঁড়ালেন এবং আমার হাত ধরে আমাকে মসজিদে নিয়ে গেলেন। অতঃপর তিনি মিম্বরে আরোহণ করলেন এবং নিজের শুভ্র দাড়ি মুষ্টিবদ্ধ
করে ধরলেন। তাঁর অশ্রু দাড়ির ওপর গড়িয়ে পড়তে লাগল এবং তিনি মাটির দিকে তাকিয়ে রইলেন যতক্ষণ না মানুষ সমবেত হলো। এরপর
তিনি ভাষণ দিয়ে বললেন: "সেই সব লোকেদের কী হলো যারা রাসূলুল্লাহর দুই ভাই, তাঁর দুই উজির, তাঁর দুই সহচর, কুরাইশদের
দুই সরদার এবং মুসলমানদের দুই পিতার নামে কুৎসা রটায়! তারা যা বলে আমি তা থেকে মুক্ত এবং এর জন্য আমি শাস্তি প্রদান
করব। তাঁরা রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর সাহচর্য গ্রহণ করেছিলেন ভালোবাসা, আনুগত্য ও আল্লাহর
দ্বীনের কাজে ঐকান্তিক প্রচেষ্টার মাধ্যমে। তাঁরা আল্লাহর নির্দেশ অনুযায়ী আদেশ দিতেন, নিষেধ করতেন এবং আল্লাহর
সন্তুষ্টির নিমিত্ত ক্রোধান্বিত হতেন। আল্লাহর রাসূল যখন ইন্তেকাল করেন, তিনি তাঁদের ওপর সন্তুষ্ট ছিলেন এবং
মুসলমানরাও তাঁদের ওপর সন্তুষ্ট ছিল। তাঁরা তাঁদের কর্মকাণ্ড ও জীবনযাত্রায় রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া
সাল্লাম)-এর মতাদর্শ ও নির্দেশের বাইরে যাননি, তাঁর জীবদ্দশায়ও নয় এবং ওফাতের পরেও নয়। তাঁরা এ অবস্থার ওপরই মৃত্যুবরণ
করেছেন, আল্লাহ তাঁদের প্রতি রহম করুন।"
-----------------------------------
(খণ্ড: ١)
মুখতাসারুত তুহফাহ আল-ইসনা আশারিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ৭)
فوالذي فلق الحبة وبرأ النسمة لا يحبهما إلا مؤمن فاضل، ولا يبغضهما إلا شقي مارق. وحبهما قربة، وبغضهما مروق» (1) الخ وفي رواية «لعن الله من أضمر لهما إلا الحسن الجميل». (2) ثم أرسل إلى ابن سبأ فسيره إلى المدائن وقال: لا تساكني في بلدة أبدا. (3) وهذا مما يفت بأعضاد هذه الفرقة أعني الشيعة السبية لا المخلصين. ولما ظهرت ما ارتضى الشيعة المخلصون بلقب «الشيعة» فتركوه تحرزا عن الالتباس، وكراهة للاشتراك الاسمي مع أولئك الأرجاس، ولقبوا أنفسهم بأهل السنة والجماعة. فما وقع في بعض الكتب كتاريخ الواقدي (4) والاستيعاب (5) من أن فلانا كان من الشيعة مثلا لا ينافي ما وقع في غيرها من أنه من رؤساء أهل السنة والجماعة، حيث أن المراد بالشيعة هناك الشيعة الأولى، وكان أهل السنة منهم. وكيف لا وهم يرون فرضية حب أهل البيت، وعليّ كرم الله تعالى وجهه عمادهم، ويروون في ذلك عدة أحاديث منها ما رواه البيهقي وأبو الشيخ والديلمي أن رسول الله قال «لايؤمن أحدكم حتى أكون أحب إليه من نفسه، وتكون عترتي أحب إليه من نفسه» (6) وعن ابن عباس قال: قال رسول الله صلى الله عليه وسلم «أحبوا الله لما يغذوكم به من نعمه، وأحبوني لحب الله، وأحبوا أهل بيتي لحبي» (7) إلى غير ذلك مما لا يكاد يحصى أو يحصر.
وقد نسب للإمام الشافعي - وموضعه من أهل السنة موضع الواسطة من العقد - نظم كثير يشهد بما ذكرناه عن أهل السنة، ويرد به على من أنكر ذلك من جهلة الشيعة، كقوله - رضي الله تعالى عنه -:
يا أهل بيت رسول الله حبكم
… فرض من الله في القرآن أنزله
يكفيكم من عظيم الفخر أنكم
… من لم يصل عليكم لا صلاة له (8)
وقوله:
إن فتشوا قلبي رأوا وسطه
… سطرين قد خُطا بلا كاتب
العلم والتوحيد في جانب
… وحب أهل البيت في جانب (9)
وقوله:
إذا ذكروا عليا أو نبيه
… وجاءوا بالروايات العليه (10)
-----------------------------------
সেই সত্তার শপথ, যিনি শস্যবীজ বিদীর্ণ করেছেন এবং প্রাণ সৃষ্টি করেছেন, কোনো গুণবান মুমিন
ব্যতীত কেউ তাদের ভালোবাসবে না এবং কোনো হতভাগ্য ধর্মত্যাগী ব্যতীত কেউ তাদের ঘৃণা করবে না। তাদের প্রতি ভালোবাসা হলো
আল্লাহর নৈকট্য লাভের মাধ্যম, আর তাদের প্রতি বিদ্বেষ হলো দ্বীন থেকে বিচ্যুতি। (১) ইত্যাদি। অন্য এক বর্ণনায় আছে,
‘আল্লাহর অভিশাপ তার ওপর, যে তাদের প্রতি কল্যাণ ও সৌন্দর্য ছাড়া অন্য কিছু মনে পোষণ করে।’ (২) অতঃপর তিনি ইবনে সাবার
নিকট লোক পাঠালেন এবং তাকে মাদায়েনে নির্বাসিত করলেন এবং বললেন: ‘তুমি কখনোই আমার সাথে একই শহরে বসবাস করবে না।’ (৩)
আর এটি এমন একটি বিষয় যা এই উপদলের মেরুদণ্ড ভেঙে দেয়, অর্থাৎ সাবায়ি শিয়াদের, একনিষ্ঠদের নয়। যখন তারা (সাবায়ি শিয়া)
প্রকাশ পেল, তখন একনিষ্ঠ শিয়ারা ‘শিয়া’ উপাধিতে সন্তুষ্ট ছিলেন না। ফলে বিভ্রান্তি এড়াতে এবং ওইসব অপবিত্র লোকদের সাথে
নামীয় সাদৃশ্য অপছন্দ করে তারা এটি বর্জন করেন এবং নিজেদের ‘আহলুস সুন্নাহ ওয়াল জামাআত’ হিসেবে অভিহিত করেন। সুতরাং
ওয়াকিদির ইতিহাস (৪) এবং আল-ইসতিয়াব (৫)-এর মতো কিছু কিতাবে যা পাওয়া যায় যে, অমুক ব্যক্তি শিয়া ছিলেন—তা অন্য কিতাবে
বর্ণিত এই তথ্যের পরিপন্থী নয় যে তিনি আহলুস সুন্নাহ ওয়াল জামাআতের ইমামদের অন্তর্ভুক্ত ছিলেন। কেননা সেখানে শিয়া বলতে
‘শিয়ায়ে উলা’ (প্রাথমিক স্তরের শিয়া) বোঝানো হয়েছে এবং আহলুস সুন্নাহ তাদেরই অন্তর্ভুক্ত ছিলেন। আর কেনই বা তা হবে না,
যেখানে তারা আহলে বাইতের প্রতি মহব্বত রাখাকে ফরজ মনে করেন এবং আলী (আল্লাহ তাআলা তাঁর চেহারাকে মহিমান্বিত করুন) হলেন
তাঁদের স্তম্ভ। তাঁরা এ বিষয়ে অনেক হাদিস বর্ণনা করেন, যার মধ্যে একটি বায়হাকি, আবুশ শাইখ এবং দাইলামি বর্ণনা করেছেন
যে, রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন: ‘তোমাদের কেউ ততক্ষণ পর্যন্ত মুমিন হতে পারবে না, যতক্ষণ
না আমি তার কাছে তার নিজের জীবনের চেয়েও অধিক প্রিয় হই এবং আমার বংশধর (ইতরাত) তার কাছে তার নিজের জীবনের চেয়েও অধিক
প্রিয় হয়।’ (৬) ইবনে আব্বাস (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন:
‘আল্লাহর নেয়ামতসমূহ দ্বারা তিনি তোমাদের যেভাবে লালন-পালন করেন সে কারণে তোমরা তাঁকে ভালোবাসো, আল্লাহর প্রতি
ভালোবাসার কারণে আমাকে ভালোবাসো এবং আমার প্রতি ভালোবাসার কারণে আমার আহলে বাইতকে ভালোবাসো।’ (৭) এছাড়াও অসংখ্য প্রমাণ
রয়েছে যা গণনা বা সীমাবদ্ধ করা প্রায় অসম্ভব।
ইমাম শাফেয়ি—আহলুস সুন্নাহর মাঝে যাঁর স্থান হলো হারের মধ্যম মণির
মতো—তাঁর প্রতি অনেক পদ্যের সম্বন্ধ করা হয়েছে যা আহলুস সুন্নাহ সম্পর্কে আমাদের উল্লিখিত বক্তব্যের সাক্ষ্য দেয় এবং
জাহেল শিয়াদের মধ্য থেকে যারা তা অস্বীকার করে তাদের জবাব দেয়। যেমন তাঁর উক্তি (আল্লাহ তাআলা তাঁর প্রতি সন্তুষ্ট
হোন):
হে রাসূলুল্লাহর আহলে বাইত! আপনাদের প্রতি ভালোবাসা পোষণ করা
… আল্লাহর পক্ষ
থেকে অবতীর্ণ কুরআনের একটি ফরজ বিধান।
আপনাদের মহান গৌরবের জন্য এটুকুই যথেষ্ট যে,
…
যে ব্যক্তি আপনাদের প্রতি দরুদ পাঠ করে না, তার সালাত হয় না। (৮)
এবং তাঁর উক্তি:
যদি তারা আমার
অন্তর অনুসন্ধান করে, তবে তার মাঝখানে
… লেখক ছাড়াই লিখিত দুটি লাইন দেখতে পাবে:
একদিকে জ্ঞান ও তাওহিদ,
… আর অন্যদিকে আহলে বাইতের প্রতি ভালোবাসা। (৯)
এবং তাঁর
উক্তি:
যখন তারা আলী অথবা তাঁর নবীর কথা স্মরণ করে
… এবং উচ্চমর্যাদাসম্পন্ন
বর্ণনা নিয়ে আসে। (১০)
-----------------------------------
(খণ্ড: ١)
মুখতাসারুত তুহফাহ আল-ইসনা আশারিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ৮)
يقال تجاوزوا يا قوم عنه
… فهذا من حديث الرافضية
برئت إلى المهيمن من أناس
… يرون الرفض حب الفاطمية (1)
وقوله:
يا راكبا قف بالمحصب من منى
… واهتف بساكن خيفها والناهض
سحرا إذا فاض الحجيج إلى منى
… فيضا كما علم الفرات الفائض
إن كان رفضا حب آل محمد
… فليشهد الثقلان أني رافضي (2)
وقوله:
إلام أُلام وحتى متى
… أعاتب في حب هذا الفتى
فهل زوجت غيرَه فاطم
… وفي غيره هل أتى «هل أتى» (3)
إلى غير ذلك مما هو مذكور في كتب الشيعة، صحت نسبته إليه أم لا. وهذا أبو حنيفة - رضي الله تعالى عنه - وهو هو بين أهل السنة كان يفتخر ويقول بأفصح لسان: لولا السنتان لهلك النعمان، يريد السنتين اللتين صحب فيهما لأخذ العلم الإمام جعفر الصادق - رضي الله تعالى عنه -. وقد قال غير واحد أنه أخذ العلم والطريقة من هذا ومن أبيه الإمام محمد الباقر ومن عمه زيد بن علي بن الحسين - رضي الله تعالى عنهم -. وللأعمش وهو أحد مجتهدي أهل السنة سفر كبير في مناقب الأمير كرم الله وجهه. ويكفي في هذا الباب أن معظم طرائق أهل السنة موصولة بأهل البيت، ولا يكاد ينكر هذا الأمر إلا من ينكر الفرق بين الحي والميت. ومن الشبه من يزعم أنه لا يعد محبا لعلي وسائر أهل البيت رضي الله عنهم من أحب الشيخين وأضرابهما من الصحابة الذين لم يبايعوا الأمير كرم الله تعالى وجهه يوم وفاته عليه الصلاة والسلام حيث يزعمون أنهم أعداء الأمير، وينشدون في ذاك قول من قال:
إذا صافى صديقك من تعادي
… فقد عاداك وانقطع الكلام
-----------------------------------
বলা হয়, ‘হে লোকসকল! তার থেকে দূরে থাকো
… কারণ এটি
রাফেজিদের কথা।’
আমি পরাক্রমশালী আল্লাহর কাছে সেই লোকদের থেকে বিমুক্তি ঘোষণা করছি
…
যারা ফাতিমার বংশধরদের প্রতি ভালোবাসাকে রাফেজি মতাদর্শ মনে করে। (১)
তাঁর উক্তি:
ওহে আরোহী!
মিনার মুহাসসাব প্রান্তরে থামো
… এবং মিনার খায়েফ উপত্যকার অধিবাসী ও প্রস্থানকারীদের
উচ্চৈঃস্বরে সম্বোধন করো—
শেষ রাতে যখন হাজিগণ মিনার দিকে প্লাবনের মতো প্রবাহিত হয়
…
যেমন প্রবাহমান ফোরাত নদী প্লাবিত হতে জানে।
যদি মুহাম্মাদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর
বংশধরদের ভালোবাসা ‘রাফেজি’ হওয়া হয়
… তবে জিন ও মানুষ (উভয় জগত) সাক্ষী থাকুক যে, আমি
একজন রাফেজি। (২)
তাঁর উক্তি:
আর কতকাল আমাকে তিরস্কার করা হবে এবং কতক্ষণ
…
এই যুবকের ভালোবাসার কারণে আমাকে ভর্ৎসনা করা হবে?
ফাতিমাকে কি তিনি ছাড়া অন্য কারো সাথে বিয়ে দেওয়া হয়েছিল?
… আর অন্য কারো শানে কি ‘হাল আতা’ (সুরা দাহর) অবতীর্ণ হয়েছিল? (৩)
এছাড়া আরও অনেক
কিছু শিয়াদের কিতাবসমূহে বর্ণিত রয়েছে, যা তাঁর দিকে নিসবত করা সঠিক হোক বা না হোক। আর এই যে আবু হানিফা
(রাদিয়াল্লাহু তাআলা আনহু)—যিনি আহলে সুন্নাতের মাঝে এক অনন্য ব্যক্তিত্ব—তিনি গর্ব করে অত্যন্ত প্রাঞ্জল ভাষায় বলতেন:
‘যদি সেই দুই বছর না হতো, তবে নুমান ধ্বংস হয়ে যেত।’ এর দ্বারা তিনি সেই দুই বছরকে বুঝিয়েছেন, যখন তিনি ইলম অর্জনের
জন্য ইমাম জাফর সাদিক (রাদিয়াল্লাহু তাআলা আনহু)-এর সান্নিধ্য লাভ করেছিলেন। অনেকেই বলেছেন যে, তিনি ইলম এবং
আধ্যাত্মিক পথ (তরিকত) শিক্ষা লাভ করেছেন তাঁর থেকে, তাঁর পিতা ইমাম মুহাম্মদ বাকির থেকে এবং তাঁর চাচা যায়েদ বিন আলী
বিন হোসাইন (রাদিয়াল্লাহু তাআলা আনহুম) থেকে। আহলে সুন্নাতের অন্যতম মুজতাহিদ ইমাম আমাশ-এর ‘আমির’ (আলী রাদিয়াল্লাহু
আনহু)-এর মহিমা সম্পর্কে একটি বিশাল গ্রন্থ রয়েছে। এ বিষয়ে এতটুকুই যথেষ্ট যে, আহলে সুন্নাতের অধিকাংশ আধ্যাত্মিক ধারা
(তরিকত) আহলে বাইতের সাথেই সংযুক্ত। জীবিত ও মৃতের মধ্যকার পার্থক্য যে অস্বীকার করে, সে ছাড়া আর কেউ এই বিষয়টি
অস্বীকার করতে পারে না। একটি সংশয় হলো এই যে, কেউ কেউ দাবি করে—যে ব্যক্তি শায়খাইন (আবু বকর ও উমর) এবং তাঁদের
সমগোত্রীয় সাহাবায়ে কেরামকে ভালোবাসেন, যারা নবী কারিম (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর ওফাতের দিন আলীর হাতে
বায়আত গ্রহণ করেননি, তিনি আলী ও অন্যান্য আহলে বাইতের (রাদিয়াল্লাহু আনহুম) প্রেমিক হিসেবে গণ্য হবেন না। তারা দাবি
করে যে তাঁরা আমিরের (আলী রাদিয়াল্লাহু আনহু) শত্রু ছিলেন এবং এ প্রসঙ্গে তারা জনৈক কবির এই পঙ্ক্তিটি আবৃত্তি করে:
যখন তোমার বন্ধু তোমার শত্রুর সাথে মৈত্রী করে
… তখন সে তোমার শত্রু হয়ে যায় এবং
সেখানে সমস্ত কথা শেষ হয়ে যায়।
-----------------------------------
(খণ্ড: ١)
মুখতাসারুত তুহফাহ আল-ইসনা আশারিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ৯)
وقوله:
صديق صديقي داخل في صداقتي
… عدو صديقي ليس لي بصديق
ولا يخفى كذب مبناه، ويشير إلى كذبه الخبر الذي قدمناه عن يحيى بن حمزة المؤيد بالله وكذا غيره من الأخبار، التي ملئت منها بطون الأسفار. ورحم الله تعالى امرءا أنصف وعرف الحق فاعترف.
(الشيعة الغلاة)الفرقة الرابعة الشيعة الغلاة: وهم عبارة عن القائلين بألوهية الأمير كرم الله تعالى وجهه، ونحو ذلك من الهذيان. قال الجد روَّح الله روحَه: وعندي أن ابن أبي الحديد (1) في بعض عباراته - وكان يتلون تلون الحرباء - كان من هذه الفرقة، وكم له في قصائد السبع الشهيرة من هذيان، كقوله يمدح الأمير كرم الله تعالى وجهه:
ألا إنما الإسلام لولا حسامه
… كعفطة عنز أو قلامة ظافر (2)
وقوله:
يجل عن الأعراض والأين والمتى
… ويكبر عن تشبيهه بالعناصر (3)
إلى غير ذلك. وأول حدوثهم قيل في عهد الأمير بإغواء ابن سبأ أيضا، وقد قتل كرم الله تعالى وجهه من صح عنده أنه يقول بألوهيته، فلم ينحسم بذلك عرق ضلالتهم ولم ينصرم حبل جهالتهم، بل استمر الفساد، وقوي العناد {ومن يضلل الله فما له من هاد} وهذه الفرقة على قلتها بالنسبة إلى الفرق الأخرى انقسمت على ما في (التحفة) إلى أربع وعشرين فرقة:
-----------------------------------
এবং তাঁর উক্তি:
আমার বন্ধুর বন্ধু আমার বন্ধুত্বের অন্তর্ভুক্ত
… আমার বন্ধুর শত্রু আমার বন্ধু নয়
এর ভিত্তির অসারতা গোপন নয়; আর আমরা ইতিপূর্বে
ইয়াহইয়া ইবনে হামজাহ আল-মুয়াইয়িদ বিল্লাহ থেকে যে বর্ণনা পেশ করেছি এবং অন্যান্য বর্ণনা যা কিতাবসমূহের পাতায় পাতায়
বিদ্যমান, তা এর মিথ্যার প্রতিই ইঙ্গিত করে। মহান আল্লাহ সেই ব্যক্তির ওপর রহম করুন যিনি ইনসাফ করেছেন এবং সত্য জেনে
তা স্বীকার করেছেন।
(চরমপন্থী শিয়া সম্প্রদায়)
চতুর্থ দল হলো চরমপন্থী শিয়া (শিয়া আল-গুলাত): এরা হলো তারা যারা আমীর (আলী), আল্লাহ তাঁর চেহারাকে মহিমান্বিত
করুন, তাঁর প্রভুত্ব বা ইলাহ হওয়ার দাবি করে এবং অনুরূপ প্রলাপ বকে থাকে। দাদা (আল্লাহ তাঁর আত্মাকে শান্তিতে রাখুন)
বলেছেন: আমার মতে, ইবনে আবিল হাদিদ (১) তাঁর কিছু বক্তব্যে—আর তিনি গিরগিটির মতো রঙ বদলাতেন—এই দলের অন্তর্ভুক্ত
ছিলেন। তাঁর বিখ্যাত সাতটি কাসিদায় কতই না প্রলাপ রয়েছে! যেমন আমীরের প্রশংসা করতে গিয়ে তাঁর উক্তি:
সাবধান! যদি
তাঁর তলোয়ার না থাকত, তবে ইসলাম হতো
… একটি ছাগলের হাঁচি অথবা নখের অগ্রভাগের মতো তুচ্ছ
(২)
এবং তাঁর উক্তি:
তিনি (আলী) গুণাবলী, স্থান এবং কালের ঊর্ধ্বে
… আর
তাঁকে জড়বস্তুর সাথে তুলনা করার চেয়েও তিনি মহান (৩)
এ জাতীয় আরও অনেক কিছু রয়েছে। তাদের উৎপত্তি সম্পর্কে বলা
হয় যে, এটি আমীরের যুগেই ইবনে সাবার প্ররোচনায় শুরু হয়েছিল। আমীর (আলী) এমন ব্যক্তিদের হত্যা করেছিলেন যাদের ব্যাপারে
তাঁর কাছে প্রমাণিত হয়েছিল যে তারা তাঁর প্রভুত্বের দাবি করছে। কিন্তু এতে তাদের গোমরাহির মূল উপড়ে যায়নি এবং তাদের
মূর্খতার রশিও ছিঁড়ে যায়নি; বরং ফাসাদ অব্যাহত ছিল এবং একগুঁয়েমি বৃদ্ধি পেয়েছিল। "আর আল্লাহ যাকে পথভ্রষ্ট করেন, তার
জন্য কোনো পথপ্রদর্শক নেই।" অন্য দলগুলোর তুলনায় সংখ্যায় নগণ্য হওয়া সত্ত্বেও, এই দলটি 'তুহফা' গ্রন্থ অনুযায়ী
চব্বিশটি উপদলে বিভক্ত হয়েছে:
-----------------------------------
(খণ্ড: ١)
মুখতাসারুত তুহফাহ আল-ইসনা আশারিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ১০)
(فرق الشيعة الغلاة)
(السبئية)الأولى السبئية: أصحاب عبد الله بن سبأ الذين قالوا: إن عليا هو الإله ولما استشهد الأمير كرم الله تعالى وجهه زعم ابن سبأ أنه لم يمت وأن ابن ملجم (1) إنما قتل شيطانا تصور بصورة عليّ، وأنه مختف في السحاب وأن الرعد صوته، والبرق سوطه، وأنه ينزل إلى الأرض بعد هذا ويملأها عدلا وينتقم من أعدائه. ولهذا أن هذه الفرقة إذا سمعت صوت الرعد قالوا «عليك السلام أيها الأمير». (2) ولا يخفى أن الأمير لو كان كما زعموا لكان مقتدرا على إهلاك أعدائه بصوت شديد من الرعد وإلقاء الصواعق، فلأي شيء هذا الانتظار، مع وجود الاستطاعة والاقتدار؟ (3)
(المفضلية)الثانية المفضلية: أصحاب المفضل الصيرفي وقد زادوا على السبئية بقولهم إن نسبة الأمير لله تعالى كنسبة المسيح، فمثله كمثله، فقد وافقوا النصارى في قولهم باتحاد اللاهوت بالناسوت، (4) وفي زعمهم أن النبوة والرسالة لا تنقطع أبدا، فمن اتحد به اللاهوت فهو نبي، فإن دعا الناس إلى الهدى فهو رسول. ولذا ترى أن كثيرا منهم ادعى النبوة والرسالة. (5)
(السريغية)الثالثة السريغية: أصحاب السريغ بفتح السين وكسر الراء المهملتين وفي آخره معجمة. ومذهبهم كمذهب المفضلية، إلا أنهم حصروا حلول اللاهوت في الناسوت في خمسة، وهم النبي والعباس وعلي وجعفر وعقيل.
(البزيعية)الرابعة البزيعية: أصحاب بزيع بن يونس (6) الذي قال بألوهية جعفر الصادق وأنه ظهر في شخص (7) وإلا فهو في الحقيقة منزه عنه، وقالوا: إن الأئمة الآخرين لم يكونوا آلهة ولكن أوحي إليهم، وأثبتوا لهم المعراج. (8)
(السبئية)
الخامسة الكاملية: أصحاب أبي كامل، وهم يقولون إن الأرواح تتناسخ وتنتقل من بدن إلى بدن بعد خراب البدن الأول، وأن روح الله تعالى كانت في آدم ثم في شيث ثم صارت إلى الأنبياء. وهؤلاء القوم يكفرون جميع الصحابة بتركهم البيعة لعلي، ويكفرون عليا أيضا بتركه طلب حقه. (9)
(المغيرية)السادسة المغيرية: أصحاب المغيرة بن سعد العجلي، (10) زعموا أن الله تعالى جسم،
-----------------------------------
(চরমপন্থী শিয়া উপদলসমূহ)
(সাবায়িয়া)
প্রথমত সাবায়িয়া: এরা আব্দুল্লাহ বিন সাবার অনুসারী যারা বলেছিল যে, আলী হলেন ইলাহ (ঈশ্বর)। যখন আমির (আলী)
—আল্লাহ তাঁর মুখমণ্ডলকে মহিমান্বিত করুন— শাহাদাত বরণ করলেন, তখন ইবনে সাবা দাবি করল যে তিনি মারা যাননি, বরং ইবনে
মুলজিম (১) আলীর রূপ ধারণকারী এক শয়তানকে হত্যা করেছে। আর তিনি মেঘমালার মধ্যে লুক্কায়িত আছেন, মেঘের গর্জন হলো তাঁর
কণ্ঠস্বর এবং বিদ্যুৎ হলো তাঁর চাবুক। তিনি এর পরে পৃথিবীতে নেমে আসবেন এবং এটিকে ন্যায়বিচারে পূর্ণ করবেন এবং তাঁর
শত্রুদের কাছ থেকে প্রতিশোধ নেবেন। এই কারণেই যখনই এই দলটি মেঘের গর্জন শোনে, তারা বলে: "হে আমির! আপনার ওপর শান্তি
বর্ষিত হোক।" (২) এটি স্পষ্ট যে, আমির যদি তাদের দাবি অনুযায়ী হতেন, তবে তিনি মেঘের বিকট গর্জন এবং বজ্রপাত ঘটিয়ে তাঁর
শত্রুদের ধ্বংস করতে সক্ষম হতেন। তবে সক্ষমতা ও ক্ষমতা থাকা সত্ত্বেও কেন এই অপেক্ষা? (৩)
(মুফাদদালিয়্যাহ)
দ্বিতীয়ত মুফাদদালিয়্যাহ: এরা মুফাদদাল আস-সাইরাফীর অনুসারী। তারা সাবায়িয়াদের চেয়ে এক ধাপ এগিয়ে এই কথা
বলেছিল যে, মহান আল্লাহর সাথে আমিরের সম্পর্ক মসীহ (ঈসা)-এর সম্পর্কের মতো; সুতরাং তাঁর উদাহরণও তাঁরই মতো। এর মাধ্যমে
তারা নাসারাদের (খ্রিস্টানদের) লাহুত (ঐশ্বরিক সত্তা) এবং নাসুত (মানবীয় সত্তা)-এর মিলনের মতবাদের সাথে একমত পোষণ
করেছে। (৪) তাদের দাবি অনুযায়ী, নবুওয়াত ও রিসালাত কখনও শেষ হয় না। তাই যার মধ্যে লাহুত (ঐশ্বরিক সত্তা) প্রবিষ্ট হয়,
সে-ই নবী; আর যদি সে মানুষকে হেদায়েতের দিকে আহ্বান করে তবে সে রাসূল। এই কারণেই দেখা যায় যে, তাদের মধ্যে অনেকেই
নবুওয়াত ও রিসালাতের দাবি করেছে। (৫)
(সারীগিয়্যাহ)
তৃতীয়ত সারীগিয়্যাহ: এরা সারীগের অনুসারী। তাদের মতবাদ মুফাদদালিয়্যাহদের মতোই, তবে তারা লাহুতের নাসুতে
প্রবিষ্ট হওয়াকে পাঁচজনের মধ্যে সীমাবদ্ধ করেছে: তাঁরা হলেন নবী (সা.), আব্বাস, আলী, জাফর এবং আকীল।
(বাজিয়িয়্যাহ)
চতুর্থত বাজিয়িয়্যাহ: এরা বাজী বিন ইউনুসের (৬) অনুসারী, যে জাফর আস-সাদিকের উলুহিয়্যাত (ঈশ্বরত্ব) দাবি
করেছিল এবং বলেছিল যে তিনি এক ব্যক্তিরূপে আবির্ভূত হয়েছেন (৭), অন্যথায় বাস্তবে তিনি এর (দৃশ্যমানতার) ঊর্ধ্বে।
তারা আরও বলেছিল যে, অন্যান্য ইমামগণ ইলাহ (ঈশ্বর) ছিলেন না, তবে তাঁদের কাছে ওহী আসত। তারা তাঁদের মিরাজ সংঘটিত হওয়ার
বিষয়টিও সাব্যস্ত করত। (৮)
(কামিলিয়্যাহ)
পঞ্চমত কামিলিয়্যাহ: এরা আবু কামিলের অনুসারী।
তারা বলে যে, আত্মার পুনর্জন্ম (তানাসুখ) ঘটে এবং প্রথম দেহ ধ্বংস হওয়ার পর আত্মা এক দেহ থেকে অন্য দেহে স্থানান্তরিত
হয়। তারা মনে করে যে, মহান আল্লাহর রূহ প্রথমে আদমের মধ্যে ছিল, এরপর শীসের মধ্যে এবং পরবর্তীতে তা নবীদের মধ্যে
স্থানান্তরিত হয়েছে। এই দলটি আলীর কাছে বায়াত গ্রহণ না করার কারণে সকল সাহাবীকে কাফের মনে করে, আবার নিজের অধিকার দাবি
না করার কারণে তারা আলী (রা.)-কেও কাফের বলে গণ্য করে। (৯)
(মুগিরিয়্যাহ)
ষষ্ঠত মুগিরিয়্যাহ: এরা মুগীরা বিন সাদ আল-ইজলীর (১০) অনুসারী। তারা দাবি করত যে মহান আল্লাহ দেহধারী (জিসম),
-----------------------------------
(খণ্ড: ١)
মুখতাসারুত তুহফাহ আল-ইসনা আশারিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ১১)
وأن صورته صورة رجل من نور وعلى رأسه تاج من نور وله قلب تنبع منه الحكمة، وأنه لما أراد خلق العالم تكلم بالاسم الأعظم فطار ووقع تاجا على رأسه، ثم إنه كتب على كتفه أعمال الدنيا، فغضب من المعاصي حتى عرق فاجتمع من عرقه بحران أحدهما ملح مظلم والثاني عذب نير، ثم اطلع في البحر النير فأبصر ظله فانتزع بعض ظله وخلق منه الشمس والقمر وأفنى باقي ظله وقال: لا ينبغي أن يكون معي إله غيري. ثم إنه خلق الخلق كله من البحرين: الكفر من البحر المظلم، والإيمان من البحر النير، ثم أرسل إلى الناس محمدا وهم ضلال، ثم عرض الأمانة على السموات والأرض والجبال وهي أن يمنعن عليا من الإمامة فأبين ذلك، (1) ثم عرضها على الناس فأمر عمر بن الخطاب أبا بكر أن يتحمل منعه من ذلك، وضمن له أن يعينه على الغدر به، بشرط أن يجعل الخلافة له من بعده فقبل منه، وأقدما على المنع متظاهرين عليه. وقوله تعالى {فحملها الإنسان إنه كان ظلوما جهولا} يعني أبا بكر. (2) وزعم هؤلاء أن قوله تعالى {كمثل الشيطان إذ قال للإنسان اكفر، فلما كفر قال إني برئ منك} نزلت في حق عمر وأبي بكر، وهؤلاء يزعمون أن الإمام المنتظر محمد بن عبد الله بن الحسن بن الحسن بن علي بن أبي طالب، (3) وأنه حي لم يمت، وهو مقيم في جبال حاجر إلى أن يؤمر بخروجه. ومنهم من يقول إن الإمام المنتظر هو المغيرة، كذا في «أبكار الأفكار» لسيف الدين الآمدي. (4) ولم يكن هذا التفصيل في الأصل. (5)
(الجناحية)السابعة الجناحية: أصحاب عبد الله بن معاوية بن عبد الله بن جعفر ذي الجناحين، (6) يزعمون أن الرواح تتناسخ، وأن روح الإله تعالى كانت في آدم ثم في شيث، ثم صارت إلى الأنبياء والأئمة، حتى انتهت إلى عليّ وأولاده الثلاثة من بعده ن ثم صارت إلى عبد الله بن معاوية بن عبد الله بن جعفر وأنه حي لم يمت وأنه يجبل من جبال أصبهان، وكفروا بالقيامة واستحلوا المحرمات من الخمر والميتة وغيرها. (7)
(البيانية)الثامنة البيانية: أصحاب بيان بن سمعان التميمي، (8) زعموا أن الإله تعالى على صورة إنسان، وأنه يهلك كله إلا وجهه لقوله {كل شيء هالك إلا وجهه} وأن روح
-----------------------------------
আর তাঁর আকৃতি হলো নূর বা আলোর তৈরি মানুষের মতো, তাঁর মাথায় রয়েছে নূরের মুকুট এবং তাঁর
একটি হৃদয় রয়েছে যেখান থেকে হিকমত (প্রজ্ঞা) উৎসারিত হয়। তিনি যখন জগত সৃষ্টির ইচ্ছা করলেন, তখন ইসমে আজম (মহান নাম)
উচ্চারণ করলেন, ফলে তা উড়ে গিয়ে তাঁর মাথায় মুকুট হিসেবে স্থাপিত হলো। অতঃপর তিনি তাঁর কাঁধে দুনিয়ার কর্মসমূহ লিখলেন।
এরপর তিনি নাফরমানি বা পাপের কারণে রাগান্বিত হলেন এবং এতে তিনি ঘর্মাক্ত হলেন। তাঁর ঘাম থেকে দুটি সমুদ্রের সৃষ্টি
হলো, যার একটি লবণাক্ত ও অন্ধকারাচ্ছন্ন এবং অপরটি সুপেয় ও নূরময়। এরপর তিনি নূরময় সমুদ্রের দিকে দৃষ্টিপাত করলেন এবং
সেখানে নিজের ছায়া দেখতে পেলেন। তখন তিনি তাঁর ছায়ার কিয়দাংশ টেনে নিয়ে তা থেকে সূর্য ও চন্দ্র সৃষ্টি করলেন এবং ছায়ার
অবশিষ্টাংশ বিলীন করে দিলেন। আর তিনি বললেন: আমার সাথে অন্য কোনো ইলাহ (উপাস্য) থাকা শোভনীয় নয়। এরপর তিনি সমগ্র
সৃষ্টিজগতকে ওই দুই সমুদ্র থেকে সৃষ্টি করলেন: অন্ধকার সমুদ্র থেকে কুফর (অবিশ্বাস) এবং নূরময় সমুদ্র থেকে ঈমান
(বিশ্বাস)। অতঃপর তিনি মানুষের নিকট মুহাম্মদ (সা.)-কে প্রেরণ করলেন যখন তারা ছিল পথভ্রষ্ট। এরপর তিনি আসমান, জমিন ও
পাহাড়ের নিকট আমানত পেশ করলেন, যা ছিল আলীকে ইমামত থেকে বাধা প্রদান করা; কিন্তু তারা তা অস্বীকার করল। (১) অতঃপর তিনি
তা মানুষের নিকট পেশ করলেন। তখন উমর ইবনুল খাত্তাব আবু বকরকে নির্দেশ দিলেন যেন তিনি তাঁকে (আলীকে) তা থেকে বাধা
দেওয়ার দায়িত্ব গ্রহণ করেন এবং এর বিনিময়ে তিনি তাঁর সাথে বিশ্বাসভাতকতা করার ক্ষেত্রে সহযোগিতার নিশ্চয়তা দিলেন, এই
শর্তে যে, তাঁর (আবু বকরের) পর খিলাফত যেন তাঁর (উমরের) জন্য নির্ধারিত হয়। ফলে তিনি তা কবুল করে নিলেন এবং উভয়ে মিলে
তাঁর (আলীর) বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়ে তাঁকে বাধা প্রদানে অগ্রসর হলেন। আর মহান আল্লাহর বাণী: {মানুষ তা বহন করল, নিশ্চয়
সে ছিল অতিশয় জালেম ও জাহেল} এখানে মানুষ বলতে আবু বকরকে বোঝানো হয়েছে। (২) এরা আরও ধারণা করে যে, মহান আল্লাহর বাণী:
{শয়তানের ন্যায়, যখন সে মানুষকে বলে যে কুফরি করো, অতঃপর যখন সে কুফরি করে তখন সে বলে যে নিশ্চয় আমি তোমার থেকে
মুক্ত}—এই আয়াত উমর ও আবু বকরের শানে নাযিল হয়েছে। তারা আরও দাবি করে যে, প্রতীক্ষিত ইমাম হলেন মুহাম্মদ বিন আবদুল্লাহ
বিন হাসান বিন হাসান বিন আলী বিন আবি তালিব, (৩) এবং তিনি জীবিত আছেন, মৃত্যুবরণ করেননি। তিনি হাজের নামক পাহাড়ে
অবস্থান করছেন যতক্ষণ না তাঁর আত্মপ্রকাশের নির্দেশ দেওয়া হয়। তাদের কেউ কেউ বলে যে, প্রতীক্ষিত ইমাম হলেন মুগীরা।
সাইফউদ্দীন আমেদীর ‘আবকারুল আফকার’ গ্রন্থে অনুরূপ বর্ণিত হয়েছে। (৪) মূলে এই বিস্তারিত বর্ণনা ছিল না। (৫)
(জানাহিয়্যাহ)
সপ্তম হলো জানাহিয়্যাহ: এরা হলো যুল-জানাহাইন আবদুল্লাহ বিন মুয়াবিয়া বিন আবদুল্লাহ বিন জাফর-এর অনুসারী। (৬)
তারা ধারণা করে যে, আত্মার পুনর্জন্ম (তানাসুখ) ঘটে এবং মহান মাবুদের রূহ (আত্মা) প্রথমে আদমের মধ্যে ছিল, এরপর শীসের
মধ্যে, অতঃপর তা ধারাবাহিকভাবে নবী ও ইমামদের মাঝে স্থানান্তরিত হয়ে আলী ও তাঁর পরবর্তী তিন সন্তানের কাছে পৌঁছায়।
এরপর তা আবদুল্লাহ বিন মুয়াবিয়া বিন আবদুল্লাহ বিন জাফর-এর মধ্যে স্থিতি লাভ করে। তাদের মতে তিনি জীবিত আছেন, মারা
যাননি এবং তিনি ইসফাহানের কোনো এক পাহাড়ে অবস্থান করছেন। তারা কিয়ামতকে অস্বীকার করে এবং মদ, মৃত জন্তু ও অন্যান্য
হারাম বিষয়কে হালাল মনে করে। (৭)
(বায়ানিয়্যাহ)
অষ্টম হলো বায়ানিয়্যাহ: এরা বায়ান বিন সামআন আত-তামিমীর অনুসারী। (৮) তারা ধারণা করে যে, মহান ইলাহ (উপাস্য)
মানুষের আকৃতিতে বিরাজমান এবং তাঁর চেহারা ব্যতীত তাঁর সবকিছুই ধ্বংস হয়ে যাবে। কেননা আল্লাহ বলেছেন: {তাঁর চেহারা
ব্যতীত সবকিছুই ধ্বংসশীল}। আর রূহ...
-----------------------------------
(খণ্ড: ١)
মুখতাসারুত তুহফাহ আল-ইসনা আশারিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ১২)
الإله تعالى حلت في علي ثم بعده في ابنه محمد بن الحنفية ثم بعده في ابنه أبي هاشم ثم بعده في بيان. (1)
(المنصورية)التاسعة المنصورية: أصحاب أبي منصور العجلي، وهؤلاء يقولون: إن الرسالة لاتنقطع أبدا، والعلم قديم، وأحكام الشريعة كلها مخترعات العلماء والفقهاء، ولا جنة ولا نار، وأن أبا منصور هو الإمام بعد الإمام الباقر - رضي الله تعالى عنه -. (2)
(الغمامية)العاشرة الغمامية: ويقال لها «الربيعية» أيضا، وهم يعتقدون أن صانع العالم ينزل إلى الأرض في فصل الربيع في حجاب السحاب، ويطوف حول الدنيا ثم يصعد إلى السماء، فالأزهار والرياحين والأثمار ونحو ذلك مما يظهر في الربيع بسبب ذلك النزول. (3)
(الأموية)الحادية عشرة الأموية: (4) وهم يقولون: إن الأمير كان شريكا للنبي عليه الصلاة والسلام في نبوته ورسالته. (5)
(التفويضية)الثانية عشر التفويضية: وهم يقولون: إن الله تعالى خلق محمدا وفوض غليه خلق الدنيا، وأنه الخلاق لها بما فيها. ومنهم من قال مثل هذه المقالة في علي كرم الله وجهه ومنهم من قال باشتركهما في ذلك. (6)
(الخطابية)الثالثة عشر الخطابية: أصحاب أبي الخطاب الأسدي، (7) زعموا أن الأئمة أنبياء، وأن أبا الخطاب كان نبيا، وأن الأنبياء فرضوا على الناس طاعته. ثم زادوا وزعموا أن الأئمة آلهة، وأن أبناء الحسن والحسين أبناء الله وأحباؤه، وأن جعفرا إله، وأن أبا الخطاب أفضل منه ومن علي بن أبي طالب، ويستحلون شهادة الزور لموافقيهم على مخالفيهم. ثم افترق هؤلاء بعد قتل أبي الخطاب، فمنهم من قال: الإمام بعد أبي الخطاب معمر، وعبدوه كما عبدوا أبا الخطاب، وزعموا أن الجنة هي ما ينالهم من خير في الدنيا ونعيم فيها، وأن
-----------------------------------
আল্লাহ তাআলা আলীর মাঝে প্রবিষ্ট হয়েছেন, অতঃপর তাঁর পরে তাঁর পুত্র মুহাম্মদ ইবনুল
হানাফিয়ার মাঝে, অতঃপর তাঁর পরে তাঁর পুত্র আবু হাশিমের মাঝে, তারপর বয়ানের মাঝে। (১)
(মানসুরিয়া)
নবম দল হলো মানসুরিয়া: এরা আবু মনসুর আল-ইজলীর অনুসারী। তারা বলে যে, রিসালাত (নবুয়ত) কখনো শেষ হয় না, জ্ঞান
চিরন্তন এবং শরীয়তের বিধানসমূহ সম্পূর্ণরূপে আলেম ও ফকীহদের উদ্ভাবিত বিষয়। তারা জান্নাত ও জাহান্নামকে অস্বীকার করে
এবং দাবি করে যে, ইমাম বাকির (আল্লাহ তাঁর ওপর সন্তুষ্ট হোন)-এর পরে আবু মনসুরই হলেন ইমাম। (২)
(গামামিয়া)
দশম দল হলো গামামিয়া: এদেরকে ‘রবিয়্যাহ’ও বলা হয়। তারা বিশ্বাস করে যে, জগতের স্রষ্টা বসন্তকালে মেঘের আড়ালে
পৃথিবীতে অবতরণ করেন, সারা পৃথিবী পরিভ্রমণ করেন এবং এরপর আকাশে আরোহণ করেন। বসন্তকালে যেসব ফুল, সুগন্ধি লতাগুল্ম এবং
ফলমূল ইত্যাদি প্রকাশিত হয়, তা এই অবতরণের কারণেই হয়ে থাকে। (৩)
(উমাইয়্যা)
একাদশ দল উমাইয়্যা: (৪) তারা বলে যে, আমীর (আলী) তাঁর নবুয়ত ও রিসালাতের ক্ষেত্রে নবী (তাঁর ওপর শান্তি ও রহমত
বর্ষিত হোক)-এর অংশীদার ছিলেন। (৫)
(তাফওয়ীদিয়্যাহ)
দ্বাদশ দল তাফওয়ীদিয়্যাহ: তারা বলে যে, আল্লাহ তাআলা মুহাম্মদকে সৃষ্টি করেছেন এবং তাঁর নিকট দুনিয়া সৃষ্টির
দায়িত্ব অর্পণ (তাফওয়ীদ) করেছেন; তিনিই দুনিয়া ও এর মধ্যস্থিত সবকিছুর স্রষ্টা। তাদের মধ্যে কেউ কেউ আলী (আল্লাহ তাঁর
মুখমণ্ডলকে সম্মানিত করুন)-এর ব্যাপারেও একই কথা বলেছে, আবার কেউ কেউ এ কাজে উভয়ের অংশীদারিত্বের কথা বলেছে। (৬)
(খাত্তাবিয়া)
ত্রয়োদশ দল খাত্তাবিয়া: এরা আবু আল-খাত্তাব আল-আসাদীর অনুসারী, (৭) তারা দাবি করত যে ইমামগণ হলেন নবী এবং আবু
আল-খাত্তাব একজন নবী ছিলেন, আর নবীরা মানুষের ওপর তাঁর আনুগত্য ফরজ করেছেন। এরপর তারা আরও বাড়াবাড়ি করে দাবি করল যে,
ইমামগণ হলেন ইলাহ (উপাস্য) এবং হাসান ও হুসাইনের বংশধররা আল্লাহর সন্তান ও তাঁর প্রিয়পাত্র। তারা মনে করত জাফর
(আস-সাদিক) একজন ইলাহ এবং আবু আল-খাত্তাব তাঁর চেয়ে এবং আলী ইবনে আবি তালিবের চেয়েও শ্রেষ্ঠ। তারা তাদের বিরোধীদের
বিরুদ্ধে নিজেদের পক্ষের লোকদের মিথ্যা সাক্ষ্য প্রদানকে বৈধ মনে করে। আবু আল-খাত্তাব নিহত হওয়ার পর তারা বিভিন্ন
উপদলে বিভক্ত হয়ে যায়; তাদের মধ্যে কেউ কেউ বলে যে, আবু আল-খাত্তাবের পর মুয়াম্মার হলেন ইমাম। তারা তাঁর ইবাদত করত
যেমন তারা আবু আল-খাত্তাবের ইবাদত করত। তারা দাবি করত যে, জান্নাত হলো দুনিয়াতে তারা যেসব কল্যাণ ও নেয়ামত ভোগ করে
তাই, আর...
-----------------------------------
(খণ্ড: ١)
মুখতাসারুত তুহফাহ আল-ইসনা আশারিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ১৩)
النار ما يصيبهم فيها من المشاق والهدم، واستباحوا المحرمات وترك الفرائض. ومنهم من قال: الإمام بعد أبي الخطاب بزيع، وأن كل مؤمن يوحى إليه، تمسكا بقوله تعالى: {وما كان لنفس أن تموت إلا بإذن الله} أي يوحى من الله. وزعموا أن فيهم خيرا من جبرائيل، وميكائيل، وأنهم لا يموتون، وأن الواحد منهم إذا بلغ النهاية ارتفع إلى الملكوت. ومنهم من قال: الإمام بعد أبي الخطاب عمر بن بيان العجلي، إلا أنهم يموتون. كذا في (أبكار الأفكار). (1)
(المعمرية)الرابعة عشرة المعمرية: أصحاب المعمر، القائلون بنبوة الإمام جعفر الصادق، وأن أبا الخطاب بعده نبي، وأن أحكام الشرع مفوضة إلى المعمر، وأن المعمر آخر الأنبياء، وقد أسقط الأحكام ورفع التكاليف. وهم قسم من الخطابية. (2)
(الغرابية)الخامسة عشر الغرابية: وهم القائلون إن عليا كان أشبه بمحمد من الغراب بالغراب والذباب بالذباب، وأن الله تعالى بعث جبرائيل إلى علي فغلط وأدى الرسالة إلى محمد لمتشابهته به، (3) ولذلك يعنون صاحب الريش أي جبرائيل، وقد قال شاعرهم «غلط الأمين فجازها عن حيدر». (4)
(الذبابية)السادسة عشرة الذبابية: وهم قسم من الغرابية إلا أنهم زادوا عليهم بقولهم بنبوة محمد وأنه أشبه بالإله من الذباب بالذباب. قاتلهم الله تعالى. (5)
(الذمية)السابعة عشر الذمية: وإنما لقبوا ذلك لأنهم يرون ذم محمد صلى الله عليه وسلم، ويزعمون أن عليا إله، وأنه بعث محمدا ليدعو إليه فادعى الأمر لنفسه. ومنهم من قال بإلهية محمد وعلي إلا أن منهم من يقدم عليا في أحكام الإلهية، ومنهم من يقدم محمدا، ومنهم من قال بإلهية خمسة أشخاص وهم أصحاب العبا (محمد وعلي وفاطمة والحسن والحسين) وأن خمستهم شيء واحد، وأن الروح حالة فيهم بالسوية، ولا فضل لواحد على لآخر، ولم يسموا فاطمة بالتأنيث بل «فاطم» (6) ولذلك قال شاعرهم:
توليت بعد الله في الدين خمسة
… نبيا وسبطيه وشيخا وفاطما (7)
-----------------------------------
জাহান্নামের আগুন সম্পর্কে তারা মনে করে যে, এটি তাদের ওপর আপতিত কষ্ট ও ধ্বংসের নাম; আর
তারা নিষিদ্ধ বিষয়সমূহকে বৈধ করে নিয়েছে এবং ফরয বিধানসমূহ বর্জন করেছে। তাদের কেউ কেউ বলেছে: আবু খাত্তাবের পর বযী
হলেন ইমাম, এবং প্রত্যেক মুমিনের কাছেই ওহী অবতীর্ণ হয়। তারা মহান আল্লাহর এই বাণীর ওপর ভিত্তি করে এ দাবি করে: "আর
আল্লাহর অনুমতি (ওহী) ছাড়া কারোর পক্ষে মৃত্যু আসা সম্ভব নয়", অর্থাৎ আল্লাহর পক্ষ থেকে ওহী আসে। তারা আরও দাবি করে
যে, তাদের মধ্যে জিবরাঈল ও মিকাঈলের চেয়েও উত্তম ব্যক্তি রয়েছে, তারা কখনও মারা যায় না এবং তাদের মধ্যে কেউ যখন শেষ
সীমায় পৌঁছে যায়, তখন সে উচ্চতর জগতে (মালাকুত) আরোহণ করে। তাদের কেউ কেউ বলেছে: আবু খাত্তাবের পর ইমাম হলেন উমর ইবনে
বায়ান আল-ইজলি, তবে তারা মৃত্যুবরণ করবে। এটি 'আবকারুল আফকার' গ্রন্থে এভাবে বর্ণিত হয়েছে। (১)
(মা'মারিয়্যাহ)
চতুর্দশ দল হলো মা'মারিয়্যাহ: তারা মা'মারের অনুসারী। তারা ইমাম জাফর আস-সাদিকের নবুওয়তের প্রবক্তা এবং মনে করে
যে তার পরে আবু খাত্তাব একজন নবী। এছাড়া তারা বিশ্বাস করে যে, শরয়ি বিধানাবলি মা'মারের ওপর অর্পণ করা হয়েছে এবং
মা'মারই হলেন শেষ নবী। তিনি শরয়ি বিধান ও ধর্মীয় বাধ্যবাধকতা রহিত করে দিয়েছেন। তারা খাত্তাবিয়্যাহ সম্প্রদায়ের একটি
উপদল। (২)
(গুরাবিয়্যাহ)
পঞ্চদশ দল হলো গুরাবিয়্যাহ: তারা দাবি করে যে, আলী (রা.) দেখতে মুহাম্মাদ (সা.)-এর সাথে কাকের সাথে কাকের এবং
মাছির সাথে মাছির সাদৃশ্যের চেয়েও বেশি সাদৃশ্যপূর্ণ ছিলেন। মহান আল্লাহ জিবরাঈলকে আলীর কাছে প্রেরণ করেছিলেন, কিন্তু
তিনি ভুলবশত মুহাম্মাদের সাথে সাদৃশ্য থাকায় তাঁর কাছে রিসালাত পৌঁছে দেন। (৩) এ কারণে তারা জিবরাঈলকে (পাখাওয়ালা
বলে) গালি দেয়। তাদের কবি বলেছেন: "আমানতদার (জিবরাঈল) ভুল করেছেন এবং হায়দারের (আলীর) দিক থেকে তা পাশ কাটিয়ে চলে
গেছেন।" (৪)
(যুবাবিয়্যাহ)
ষোড়শ দল হলো যুবাবিয়্যাহ: তারা গুরাবিয়্যাহদেরই একটি অংশ, তবে তারা এ কথা বৃদ্ধি করে বলে যে, মুহাম্মাদ
(সা.)-এর নবুওয়ত সত্য এবং তিনি মাছি যেমন মাছির সাথে সদৃশ, তার চেয়েও বেশি আল্লাহর সাথে সদৃশ ছিলেন। মহান আল্লাহ তাদের
ধ্বংস করুন। (৫)
(যাম্মিয়্যাহ)
সপ্তদশ দল হলো যাম্মিয়্যাহ: তাদের এই নামকরণ করা হয়েছে কারণ তারা মুহাম্মাদ (সা.)-এর নিন্দা (যম্ম) করা বৈধ মনে
করে। তারা দাবি করে যে, আলী (রা.) উপাস্য (ইলাহ), এবং তিনি মুহাম্মাদকে তাঁর দিকে আহ্বান করার জন্য পাঠিয়েছিলেন,
কিন্তু মুহাম্মাদ সেই বিষয়টি নিজের দিকে দাবি করে বসেন। তাদের কেউ কেউ মুহাম্মাদ ও আলী উভয়ের উপাস্য হওয়ার কথা বলে,
তবে তাদের একদল খোদায়ি বিধানে আলীকে প্রাধান্য দেয়, আবার একদল মুহাম্মাদকে প্রাধান্য দেয়। তাদের মধ্যে এমন লোকও আছে
যারা পাঁচ ব্যক্তিকে উপাস্য (ইলাহ) বলে মনে করে, যারা হলেন চাদরের অধিবাসী (আহলে কিসা) - মুহাম্মাদ, আলী, ফাতিমা,
হাসান ও হুসাইন। তারা মনে করে এই পাঁচজন মূলত এক এবং একই আত্মা তাদের সবার মধ্যে সমানভাবে বিরাজমান, একজনের ওপর
অন্যজনের কোনো শ্রেষ্ঠত্ব নেই। তারা ফাতিমাকে স্ত্রীলিঙ্গ হিসেবে উল্লেখ না করে 'ফাতিম' বলে ডাকে। (৬) এ কারণে তাদের
কবি বলেছেন:
আল্লাহর পরে আমি দ্বীনের ক্ষেত্রে পাঁচজন ব্যক্তিকে অভিভাবক মেনেছি
…
একজন নবী, তাঁর দুই দৌহিত্র, একজন প্রবীণ (আলী) এবং ফাতিম। (৭)
-----------------------------------
(খণ্ড: ١)
মুখতাসারুত তুহফাহ আল-ইসনা আশারিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ১৪)
(الاثنينية)الثامنة عشرة الاثنينية: وهم فرقة من الذمية الذين يعتقدون إلهية محمد صلى الله عليه وسلم بالتفصيل السابق. (1)
(الخمسية)التاسعة عشر الخمسية: وهم أيضا فرقة من الذمية الذين يعتقدون إلهية خمسة أشخاص على ما سبق، وقد تبعنا في هذا العد صاحب الأصل، وإلا فغيره لم يذكر هاتين الفرقتين بالاستقلال. (2)
(النصيرية)العشرون النصيرية: (3) القائلون بحلول الإله في عليّ وأولاده، ولكن يخصون الحلول بالأئمة، وقد يطلقون لفظ الإله على الأمير مجازا من باب إطلاق اسم الحال على المحل. (4)
(الإسحاقية)الحادية والعشرون الإسحاقية: وهم يقولون: لم تخل الأرض ولا تخلو عن نبي وأن الباري حل في عليّ. ووقع الاختلاف بينهم في من حل الإله بعد عليّ. (5)
(العلبائية)الثانية والعشرون العلبائية: أصحاب علباء بن اروع الأسدي، وقيل الأوسي، وهم قائلون بألوهية الأمير وأنه أفضل من محمد وأن محمد بايع عليا. (6)
(الرزامية)الثالثة والعشرون الرزامية: وهم الذين ساقوا الإمامة إلى محمد بن الحنفية، ثم إلى ابنه، (7) ثم إلى علي بن عبد الله بن العباس، (8) ثم ساقوها في ولده إلى (9) المنصور، ثم ادعوا حلول الإله تعالى في أبي مسلم وأنه لم يقتل، واستحلوا المحارم، ومنهم من ادعى الإلهية في المقنع. (10)
(المقنعية)الرابعة والعشرون المقنعية: أصحاب المقنع (11) الذين يعتقدون أن المقنع إله بعد الإمام الحسين - رضي الله تعالى عنه -، (12) تعالى الله عن ذلك علوا كبيرا، وسيعلم الذين ظلموا أي منقلب ينقلبون.
-----------------------------------
(ইসনাইনিইয়াহ)
আঠারোতম হলো ইসনাইনিইয়াহ: তারা যম্মিয়্যাহ (নিন্দিত) সম্প্রদায়ের একটি দল, যারা ইতিপূর্বে বর্ণিত বিস্তারিত
বিবরণ অনুযায়ী মুহাম্মাদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর খোদায়িত্ব বা উপাস্যত্বে বিশ্বাস করে। (১)
(খুমসিইয়াহ)
উনিশতম হলো খুমসিইয়াহ: তারাও যম্মিয়্যাহ সম্প্রদায়ের একটি দল যারা পূর্বে বর্ণিত বিবরণ অনুযায়ী পাঁচজন
ব্যক্তির খোদায়িত্বে বিশ্বাস করে। এই গণনার ক্ষেত্রে আমি মূল গ্রন্থের লেখককে অনুসরণ করেছি; অন্যথায়, তিনি ব্যতীত
অন্য কেউ এই দুটি দলকে স্বতন্ত্রভাবে উল্লেখ করেননি। (২)
(নুসাইরিইয়াহ)
বিশতম হলো নুসাইরিইয়াহ: (৩) যারা আলী এবং তাঁর সন্তানদের মধ্যে স্রষ্টার অনুপ্রবেশ (হুলুল) হওয়ার কথা বলে। তবে
তারা এই অনুপ্রবেশকে কেবল ইমামদের জন্য নির্দিষ্ট করে। কখনও কখনও তারা রূপক অর্থে আমীর (আলী)-এর ক্ষেত্রে 'ইলাহ'
(উপাস্য) শব্দটি ব্যবহার করে, যা আধারের নাম আধেয়তে প্রয়োগ করার মতো। (৪)
(ইসহাকিইয়াহ)
একুশতম হলো ইসহাকিইয়াহ: তারা বলে যে, পৃথিবী কখনও নবীশূন্য ছিল না এবং হবেও না, আর স্রষ্টা আলীর মধ্যে
অনুপ্রবেশ করেছেন। আলীর পর স্রষ্টা কার মধ্যে অনুপ্রবেশ করেছেন—তা নিয়ে তাদের মধ্যে মতপার্থক্য তৈরি হয়েছে। (৫)
(ইলবাউইয়াহ)
বাইশতম হলো ইলবাউইয়াহ: তারা ইলবা ইবনে আরওয়া আল-আসাদী (মতান্তরে আল-আওসী)-এর অনুসারী। তারা আমীর (আলী)-এর
খোদায়িত্বে বিশ্বাসী এবং মনে করে যে তিনি মুহাম্মাদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) অপেক্ষা শ্রেষ্ঠ এবং মুহাম্মাদ
(সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) আলীর নিকট আনুগত্যের শপথ করেছিলেন। (৬)
(রিজামিইয়াহ)
তেইশতম হলো রিজামিইয়াহ: তারা সেই দল যারা ইমামতকে মুহাম্মাদ ইবনুল হানাফিয়্যাহর দিকে নিয়ে যায়, তারপর তাঁর
পুত্রের দিকে, (৭) তারপর আলী ইবনে আব্দুল্লাহ ইবনে আব্বাসের দিকে, (৮) তারপর তাঁর সন্তানদের ধারা বেয়ে (৯) মানসুর
পর্যন্ত নিয়ে যায়। এরপর তারা আবু মুসলিমের মধ্যে মহান স্রষ্টার অনুপ্রবেশের দাবি করে এবং বিশ্বাস করে যে তাকে হত্যা
করা হয়নি। তারা নিষিদ্ধ বিষয়গুলোকে বৈধ করে নেয় এবং তাদের মধ্যে কেউ কেউ আল-মুকান্নার খোদায়িত্বের দাবি করে। (১০)
(মুকান্নায়িয়াহ)
চব্বিশতম হলো মুকান্নায়িয়াহ: তারা আল-মুকান্নার (১১) অনুসারী, যারা বিশ্বাস করে যে ইমাম হোসাইন
(রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু)-এর পরে আল-মুকান্নাই উপাস্য (১২)—আল্লাহ তায়ালা তাদের এই অপবাদ থেকে অনেক ঊর্ধ্বে। আর যারা
জুলুম করেছে তারা শীঘ্রই জানতে পারবে তাদের গন্তব্যস্থল কোথায়।
-----------------------------------
(খণ্ড: ١)
মুখতাসারুত তুহফাহ আল-ইসনা আশারিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ১৫)
(فرق الشيعة الإمامية)ثم اعلم أن أكثر الفرق الأربع الشيعة السبية، فقد انتشرت في جميع الربع المعمور، فلا تكاد ترى بلدا إلا وهو بها مغمور، والإمامية فرقة منها، وهي أيضا فرقة كبيرة وطائفة كثيرة، وقد انقسمت إلى تسع وثلاثين فرقة.
(الحسنية)الأولى الحسنية يقولون: إن الحسن المجتبى هو الإمام بعد أبيه علي المرتضى، والإمام من بعده الحسن المثنى بوصية له، ثم ابنه عبد الله، ثم ابنه محمد الملقب بالنفس الزكية، (1) ثم أخوه إبراهيم بن عبد الله، (2) وهذان خرجا في عهد المنصور الدوانيقي (3) ودعوا الناس إلى متابعتهما فتبعهما خلق كثير. واستشهدوا بعد حرب شديد على يد بعض أمراء الدوانقي رحمة الله عليهما. وقد ظهرت هذه الفرقة ستة مائة وخمس وتسعين.
(النفسية)الثانية النفسية: وهي طائفة من الحسنية يقولون إن النفس الزكية لم يقتل بل غاب واختفى وسيظهر بعد. (4)
(الحكمية)الثالثة الحكمية: ويقال لها (الهشامية) أيضا، وهم أصحاب هشام بن الحكم (5) يقولون بإمامة الحسين بعد أخيه الحسن، ثم بإمامة أولاده على الترتيب المشهور إلى الصادق، وقد ظهرت سنة مائة وتسع. (6)
(السالمية)الرابعة السالمية: ويقال لها أيضا «الجواليقية» وهم أصحاب هشام بن سالم الجواليقي (7) وهم في الإمامية كالحكمية، وفي الاعتقاد مختلفون: فالحكمية يقولون: إن الله عزوجل جسم طويل عريض عميق متساوى الأبعاد غير مصور بالصور المتعارفة، وهم يقولون جسم مصور بصورة الانسان، تعالى الله عما يقولون علوا كبيرا. وقد ظهرت سنة مائة وثلاث عشرة. (8)
(الشيطانية)الخامسة الشيطانية: ويقال لها «النعمانية» أيضا أصحاب محمد بن نعمان الصيرفي
-----------------------------------
(শিয়া ইমামিয়া ফিরকাসমূহ)
অতঃপর জেনে রাখুন যে, শিয়াদের চারটি প্রধান দলের অধিকাংশ সাবায়ি (সাবািয়ী) দল থেকে উদ্ভূত। এটি পৃথিবীর
চারভাগের প্রায় সর্বত্র ছড়িয়ে পড়েছে এবং আপনি এমন কোনো দেশ খুঁজে পাবেন না যা এদের দ্বারা সয়লাব হয়নি। ইমামিয়া হলো
শিয়াদের একটি উপদল, যা অত্যন্ত বড় ও বিশাল এক গোষ্ঠী। এটি ঊনচল্লিশটি উপদলে বিভক্ত হয়েছে।
(হাসানিয়া)
প্রথমটি হলো হাসানিয়া। তারা বলে: হাসান আল-মুজতবা তাঁর পিতা আলী আল-মুরতাদার পরে ইমাম ছিলেন। তাঁর পরবর্তী
ইমাম হলেন হাসান আল-মুসান্না (অসিয়ত অনুযায়ী), তারপর তাঁর পুত্র আবদুল্লাহ, তারপর তাঁর পুত্র মুহাম্মদ (যিনি নাফসে
জাকিয়াহ উপাধিতে ভূষিত)। (১) এরপর তাঁর ভাই ইব্রাহিম ইবনে আবদুল্লাহ। (২) এই দুইজন মনসুর দাওয়ানিগির (৩) শাসনামলে
বিদ্রোহ করেছিলেন এবং মানুষকে তাঁদের আনুগত্য করার আহ্বান জানিয়েছিলেন, ফলে বিপুল সংখ্যক লোক তাঁদের অনুসরণ করে।
দাওয়ানিগির জনৈক আমিরের হাতে এক রক্তক্ষয়ী যুদ্ধের পর তাঁরা শাহাদাতবরণ করেন (আল্লাহ তাঁদের উপর রহমত বর্ষণ করুন)। এই
ফিরকাটি ৬৬৫ হিজরি সালে আত্মপ্রকাশ করে।
(নাফসিয়া)
দ্বিতীয়টি হলো নাফসিয়া: এরা হাসানিয়াদেরই একটি উপদল। তারা বলে যে, নাফসে জাকিয়াহ নিহত হননি, বরং তিনি
আত্মগোপন করেছেন এবং অচিরেই পুনরায় আবির্ভূত হবেন। (৪)
(হাকামিয়া)
তৃতীয়টি হলো হাকামিয়া: একে হিশামিয়াও বলা হয়। তারা হিশাম ইবনুল হাকামের (৫) অনুসারী। তারা তাঁর ভাই হাসানের
পর হোসাইনের ইমামত এবং এরপর সুপরিচিত ধারা অনুযায়ী আস-সাদিক পর্যন্ত ইমামতের কথা বলে। এই ফিরকাটি ১০৯ হিজরি সালে
আবির্ভূত হয়। (৬)
(সালামিয়া)
চতুর্থটি হলো সালামিয়া: একে জাওয়ালিকিয়াও বলা হয়। তারা হিশাম ইবনে সালিম আল-জাওয়ালিকির (৭) অনুসারী।
ইমামতের বিষয়ে তারা হাকামিয়াদের মতই বিশ্বাস পোষণ করে, তবে আকিদার ক্ষেত্রে তারা ভিন্নমত পোষণ করে। হাকামিয়ারা বলে
যে, আল্লাহ তাআলা সুদীর্ঘ, প্রশস্ত এবং গভীর এক দেহসম্পন্ন (জিসম) এবং তাঁর সকল মাত্রা সমান, তবে সাধারণ কোনো আকৃতিতে
তিনি রূপায়িত নন। অন্যদিকে সালামিয়ারা বলে যে, তিনি মানুষের আকৃতির মতো দেহবিশিষ্ট (আল্লাহ তাদের বক্তব্য থেকে বহু
ঊর্ধ্বে)। এই দলটি ১১৩ হিজরি সালে আত্মপ্রকাশ করে। (৮)
(শয়তানিয়া)
পঞ্চমটি হলো শয়তানিয়া: একে নুমানিয়াও বলা হয়। এরা মুহাম্মদ ইবনে নুমান আস-সাইরাফির অনুসারী।
-----------------------------------
(খণ্ড: ١)
মুখতাসারুত তুহফাহ আল-ইসনা আশারিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ১৬)
الملقب بشيطان الطاق، (1) وهم يقولون بالإمامة على الترتيب المشهور إلى موسى الكاظم (2) وبالتجسيم كالسالمية. وقد ظهرت سنة مائة وثلاث عشرة أيضا. (3)
(الزرارية)السادسة الزرارية: أصحاب زرارة بن أعين الكوفي. وهم في الإمامية كالحكمية وخالفوهم في زعمهم أن صفاته تعالى حادثة لم تكن في الأزل وقد ظهرت سنة مائة وخمس وأربعين.
(البدائية، المفوضة، اليونسية)السابعة والثامنة والتاسعة البدائية، والمفوضة، واليونسية: أصحاب يونس بن عبد الرحمن القمي، (4) وكلهم متفقون على إمامة الأئمة الستة بالترتيب المشهور وزعمت اليونسية منهم أن الله سبحانه على العرش بالمعنى المعروف تحمله الملائكة. (5) والبدائية أن الله سبحانه قد يريد بعض الأشياء ثم يبدو له ويندم لكونه خلاف المصلحة، وحملت خلافة الثلاثة ومدحهم في الآيات على ذلك. (6) والمفوضة منهم من يزعم أن الله تعالى فوّض خلق الدنيا إلى محمد عليه الصلاة والسلام، ومنهم من يقول: إلى علي كرم الله تعالى وجهه. ومنهم من يقول إلى كليهما. (7) وقد ظهرت البدائية والمفوضة سنة ظهور الزرارية.
(الباقرية)العاشر الباقرية: يقول إن الإمام محمد الباقر لم يمت وهو المنتظر. (8)
(الحاصرية)الحادية عشرة الحاصرية: (9) يقولون: إن الإمام بعد محمد الباقر ابنه زكريا، وهو مختف في جبل الحاصر (10) لا يخرج حتى يؤذن له. (11)
(الناووسية)الثانية عشر الناووسية: أصحاب عبد الله بن ناووس البصري، يقولون: إن الإمام جعفر الصادق حي غائب وهو المهدي المنتظر. (12)
-----------------------------------
শায়তানে তাক (শাইতানুত তাক) উপাধিতে ভূষিত, (১) এবং তারা মুসা আল-কাজিম (২) পর্যন্ত
প্রসিদ্ধ ক্রম অনুসারে ইমামতে বিশ্বাসী এবং সালমিয়াদের মতো দেহবাদে (তাজসিম) বিশ্বাসী। এই মতবাদটি একশত তেরো হিজরি
সনে আবির্ভূত হয়। (৩)
(যুরারিয়া)
ষষ্ঠ সম্প্রদায় হলো যুরারিয়া: এরা যুরারা ইবনে আয়ান আল-কুফির অনুসারী। তারা ইমামিয়াদের মধ্যে হাকামিয়াদের
মতো, তবে তারা তাদের থেকে ভিন্নমত পোষণ করে এই দাবিতে যে, মহান আল্লাহর গুণাবলি নবোদ্ভূত (হাদিস), যা অনাদিকাল থেকে
বিদ্যমান ছিল না। এই মতবাদটি একশত পঁয়তাল্লিশ হিজরি সনে প্রকাশ পায়।
(বাদাইয়া, মুফাওয়িযা, ইউনুসিয়া)
সপ্তম, অষ্টম ও নবম হলো বাদাইয়া, মুফাওয়িযা এবং ইউনুসিয়া: এরা ইউনুস ইবনে আবদুর রহমান আল-কুম্মির অনুসারী।
(৪) তারা সকলেই প্রসিদ্ধ ক্রমানুসারে ছয় ইমামের ইমামতের বিষয়ে একমত। তাদের মধ্য থেকে ইউনুসিয়াদের দাবি হলো, মহান
আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তায়ালা প্রচলিত অর্থেই আরশের ওপর আসীন এবং ফেরেশতারা তা বহন করে। (৫) আর বাদাইয়াদের দাবি হলো,
আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তায়ালা কখনো কোনো কিছু করার ইচ্ছা করেন, অতঃপর তাঁর কাছে নতুন কিছু প্রকাশিত হয় (বাদা) এবং
পূর্বের ইচ্ছাটি জনকল্যাণের পরিপন্থী হওয়ার কারণে তিনি অনুতপ্ত হন; তারা তিন খলিফার খেলাফত এবং আয়াতে বর্ণিত তাদের
প্রশংসাগুলোকে এই নীতির ওপর প্রয়োগ করে। (৬) মুফাওয়িযাদের একটি অংশ দাবি করে যে, আল্লাহ তায়ালা পৃথিবী সৃষ্টির
দায়িত্ব মুহাম্মাদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর ওপর সোপর্দ (তাফউইদ) করেছেন। আবার কেউ বলে আলীর
(কাররামাল্লাহু ওয়াজহাহু) ওপর, আর কেউ বলে উভয়ের ওপর। (৭) বাদাইয়া ও মুফাওয়িযা সম্প্রদায় যুরারিয়াদের সমসাময়িক
কালে আবির্ভূত হয়েছে।
(বাকিরিয়া)
দশম হলো বাকিরিয়া: এরা বলে যে ইমাম মুহাম্মদ আল-বাকির ইন্তেকাল করেননি এবং তিনিই প্রতীক্ষিত ইমাম। (৮)
(হাসিরিয়া)
একাদশ হলো হাসিরিয়া: (৯) তারা বলে যে মুহাম্মদ আল-বাকিরের পর ইমাম হলেন তাঁর পুত্র জাকারিয়া, এবং তিনি হাসির
নামক পাহাড়ে (১০) আত্মগোপন করে আছেন; অনুমতি না পাওয়া পর্যন্ত তিনি সেখান থেকে বের হবেন না। (১১)
(নাউসিয়া)
দ্বাদশ হলো নাউসিয়া: এরা আবদুল্লাহ ইবনে নাউস আল-বসরির অনুসারী। তারা বলে যে ইমাম জাফর আস-সাদিক জীবিত ও
অদৃশ্য অবস্থায় আছেন এবং তিনিই প্রতীক্ষিত মাহদি। (১২)
-----------------------------------
(খণ্ড: ١)
মুখতাসারুত তুহফাহ আল-ইসনা আশারিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ১৭)
(العمارية)الثالثة عشر العمارية: أصحاب عمار يقولون: إن الصادق قد مات والإمام بعده ابنه محمد، وقد ظهرت سنة مائة وخمس وأربعين. (1)
(المباركية)الرابعة عشر المباركية: من الإسماعيلية أصحاب المبارك، يعتقدون أن الإمام بن جعفر ابنه الأكبر إسماعيل ثم ابنه محمد وهو خاتم الأئمة والمهدي المنتظر. (2)
(الباطنية)الخامسة عشر الباطنية: من الإسماعيلية أيضا يرسلون الإمامة بعد إسماعيل من جعفر في أولاده بنص السابق على اللاحق، ويزعمون وجوب العمل بباطن الكتاب دون ظاهره. (3)
(القرامطة)السادسة عشرة القرامطة: من الإسماعيلية أيضا وهم أصحاب قرمط، وهو المبارك في قول، (4) وقال بعض العلماء اسم رجل آخر من أهل سواد الكوفة اخترع ما عليه القرامطة، وقيل هو اسم أبيه، وأما المخترع نفسه فاسمه حمدان، وكان ظهوره سنة سبعين ومائتين. وقيل إن قرمط اسم لقرية من قرى واسط منها حمدان المخترع، وهو قرمطي وأتباعه قرامطة، وكان ظهوره فيها، وقيل غير ذلك. ومذهبهم أن إسماعيل بن جعفر خاتم الأئمة وهو حي لا يموت، ويقولون بإباحة المحرمات. (5)
(الشمطية)السابعة عشرة الشمطية: أصحاب يحيى بن أبي الشمط (6) يزعمون أن الإمامة تعلقت بعد الصادق بكل من أبنائه الخمسة بهذا الترتيب: إسماعيل ثم محمد ثم موسى الكاظم ثم عبد الله الأفطح ثم إسحاق. (7)
(الميمونية)الثامنة عشرة الميمونية: أصحاب عبد الله بن ميمون القداح الأهوازي، (8) وهم قائلون بإمامة إسماعيل، ويزعمون أن العمل بظواهر الكتاب والسنة حرام، ويجحدون المعاد. (9)
(الخلفية)التاسعة عشرة الخلفية: أصحاب خلف، وهم قائلون بإمامة إسماعيل ونفى المعاد كالميمونية، إلا أنهم يقولون: كل ما في الكتاب والسنة من الصلاة والزكاة ونحوها محمول على المعنى اللغوي لا غير. (10)
(البرقعية)العشرون البرقعية: أصحاب محمد بن علي البرقعي، (11) وهم في الإمامة كمن سمعت
-----------------------------------
(আল-আম্মারিয়্যা)
ত্রয়োদশ উপদল আল-আম্মারিয়্যা: তারা আম্মারের অনুসারী, যারা বলে: নিশ্চয়ই জাফর আস-সাদিক ইন্তেকাল করেছেন এবং
তাঁর পরবর্তী ইমাম হলেন তাঁর পুত্র মুহাম্মাদ। এই মতবাদটি একশত পঁয়তাল্লিশ হিজরি সালে আত্মপ্রকাশ করে। (১)
(আল-মুবারাকিয়্যা)
চতুর্দশ উপদল আল-মুবারাকিয়্যা: তারা ইসমাইলি সম্প্রদায়ের অন্তর্ভুক্ত আল-মুবারাকের অনুসারী। তারা বিশ্বাস করে
যে, ইমাম জাফর আস-সাদিকের পরবর্তী ইমাম হলেন তাঁর জ্যেষ্ঠ পুত্র ইসমাইল এবং অতঃপর ইসমাইলের পুত্র মুহাম্মাদ; তিনি হলেন
ইমামদের সমাপ্তি এবং প্রতীক্ষিত মাহদি। (২)
(আল-বাতিনিয়্যা)
পঞ্চদশ উপদল আল-বাতিনিয়্যা: এরাও ইসমাইলিদের অন্তর্ভুক্ত। তারা জাফর আস-সাদিকের পুত্র ইসমাইলের পর ইমামতকে তার
সন্তানদের মধ্যে পূর্ববর্তী ইমাম কর্তৃক পরবর্তী ইমামের ওপর অর্পিত নির্দেশের (নস) মাধ্যমে ধারাবাহিকভাবে পরিচালনা
করে। তারা দাবি করে যে, কিতাবের (কুরআনের) বাহ্যিক অর্থের পরিবর্তে কেবল অন্তর্নিহিত রহস্যময় বা বাতিনি অর্থ অনুযায়ী
আমল করা ওয়াজিব। (৩)
(আল-কারামিতা)
ষোড়শ উপদল আল-কারামিতা: এরাও ইসমাইলিদের অন্তর্ভুক্ত এবং তারা কিরমিতের অনুসারী। একটি মতানুসারে, এই কিরমিতই
হলেন আল-মুবারাক। (৪) আবার কোনো কোনো আলেম বলেছেন যে, তিনি কুফার ‘সাওয়াদ’ অঞ্চলের অন্য এক ব্যক্তি যিনি কারামিতা
মতবাদের উদ্ভাবন করেছিলেন। কেউ কেউ বলেন এটি তার পিতার নাম, আর উদ্ভাবক ব্যক্তির নিজের নাম ছিল হামদান; তার আবির্ভাব
হয়েছিল দুইশত সত্তর হিজরি সালে। আরও বলা হয় যে, ‘কিরমিত’ হলো ওয়াসিত অঞ্চলের একটি গ্রামের নাম যেখানকার অধিবাসী
ছিলেন উদ্ভাবক হামদান; তিনি ছিলেন কিরমিতি এবং তার অনুসারীরা হলো কারামিতা। সেখানেই তার আবির্ভাব ঘটে। এ বিষয়ে অন্য
মতও রয়েছে। তাদের মাযহাব হলো, ইসমাইল ইবনে জাফর হলেন ইমামদের সমাপ্তি এবং তিনি জীবিত, কখনো মৃত্যুবরণ করবেন না। তারা
নিষিদ্ধ বিষয়সমূহকে বৈধ (ইবাহাতুল মুহররামাত) মনে করে। (৫)
(আশ-শামতিয়্যা)
সপ্তদশ উপদল আশ-শামতিয়্যা: তারা ইয়াহইয়া ইবনে আবি আশ-শামতের (৬) অনুসারী। তারা দাবি করে যে, জাফর আস-সাদিকের
পরে ইমামত তাঁর পাঁচ পুত্রের সাথে ক্রমান্বয়ে এভাবে সম্পৃক্ত: ইসমাইল, অতঃপর মুহাম্মাদ, অতঃপর মুসা আল-কাজিম, অতঃপর
আব্দুল্লাহ আল-আফতাহ এবং পরিশেষে ইসহাক। (৭)
(আল-মাইমুনিয়্যা)
অষ্টাদশ উপদল আল-মাইমুনিয়্যা: তারা আব্দুল্লাহ ইবনে মাইমুন আল-কাদ্দাহ আল-আহওয়াজির (৮) অনুসারী। তারা
ইসমাইলের ইমমতে বিশ্বাসী। তারা দাবি করে যে, কিতাব ও সুন্নাহর বাহ্যিক অর্থ অনুযায়ী আমল করা হারাম এবং তারা পরকাল বা
পুনরুত্থানকে (মা’আদ) অস্বীকার করে। (৯)
(আল-খালাফিয়্যা)
ঊনবিংশ উপদল আল-খালাফিয়্যা: তারা খালাফের অনুসারী। তারা ইসমাইলের ইমমতের প্রবক্তা এবং মাইমুনিয়্যাদের মতো
পুনরুত্থানকে অস্বীকারকারী। তবে তারা বলে যে, কিতাব ও সুন্নাহতে সালাত, জাকাত এবং এ জাতীয় যা কিছু বর্ণিত হয়েছে তা
কেবল আভিধানিক অর্থেই প্রযোজ্য, অন্য কিছু নয়। (১০)
(আল-বুরকুইয়্যা)
বিংশ উপদল আল-বুরকুইয়্যা: তারা মুহাম্মাদ ইবনে আলী আল-বুরকুইর (১১) অনুসারী। ইমমতের বিষয়ে তারা আপনার শোনা
পূর্ববর্তী মতবাদগুলোর মতোই মত পোষণ করে।
-----------------------------------
(খণ্ড: ١)
মুখতাসারুত তুহফাহ আল-ইসনা আশারিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ১৮)
آنفا، وينكرون أيضا المعاد، ويؤولون النصوص بما تهوى أنفسهم، وينكرون نبوة بعض الأنبياء، ويوجبون لعنهم والعياذ بالله تعالى. (1)
(الجنابية)الحادية والعشرون الجنابية: أتباع أبي طاهر الجنابي، وهم كالقرامطة في الإمامة، وينكرون المعاد والأحكام بأسرها، ويوجبون قتل من يعمل بها ولذا قتلوا الحجاج، وقلعوا الحجر الأسود، (2) وعدهم غير واحد فرقة من القرامطة، كما أنهم عدوا القرامطة فرقة من الإسماعيلية. (3)
(السبعية)الثانية والعشرون السبعية: وهم أيضا من الإسماعيلية، يقولون: إن الأنبياء الناطقين بالشرائع سبعة: آدم وأولو العزم الخمسة والمهدي، وأن بين كل رسولين سبعة رجال آخرين يقيمون الشريعة السابقة إلى حدوث اللاحقة، وإسماعيل بن جعفر كان أحد هؤلاء السبعة، وهم المقيمون للشريعة بين محمد صلى الله عليه وسلم والمهدي المنتظر وهو آخر الرسول بزعمهم. وزعموا أنه لا يخلو الزمان عن واحد من أولئك الرجال. (4)
(المهدوية)الثالثة والعشرون المهدوية: زعموا أن الإمامة بعد إسماعيل لابنه محمد الوصي، (5) ثم لابنه أحمد الوفي، (6) ثم لابنه محمد التقي، وفي بعض الكتب: قاسم التقي، (7) ثم لابنه عبيد الله (8) الرضي، (9) ثم لابنه أبي القاسم عبد الله، (10)
ثم لابنه محمد الذي لقب نفسه بالمهدي، (11) وقد
-----------------------------------
পূর্বেই উল্লেখ করা হয়েছে, এবং তারা পুনরুত্থানকেও অস্বীকার করে, নিজেদের খেয়ালখুশি মতো
মূল পাঠসমূহ (নصوص) ব্যাখ্যা করে, কিছু নবীর নবুওয়াত অস্বীকার করে এবং তাঁদের অভিশাপ দেওয়া আবশ্যক মনে
করে—নাউযুবিল্লাহ। (১)
(জানাবিয়্যাহ)
একুশতম ফেরকা হলো জানাবিয়্যাহ: এরা আবু তাহের আল-জানাবীর অনুসারী। ইমামতের বিষয়ে এরা কারামিতাহদের মতো। তারা
পুনরুত্থান এবং শরীয়তের সমস্ত বিধান অস্বীকার করে। যারা এসব বিধান পালন করে তাদের হত্যা করা তারা ওয়াজিব মনে করে।
একারণেই তারা হাজীদের হত্যা করেছিল এবং হাজরে আসওয়াদ উপড়ে ফেলেছিল। (২) একাধিক পণ্ডিত তাদের কারামিতাহদের একটি উপদল
হিসেবে গণ্য করেছেন, যেমনটি কারামিতাহদের ইসমাইলিয়াদের একটি উপদল হিসেবে গণ্য করা হয়। (৩)
(সাবয়িয়্যাহ)
বাইশতম ফেরকা হলো সাবয়িয়্যাহ: তারাও ইসমাইলিয়াদের অন্তর্ভুক্ত। তারা বলে: শরীয়ত ঘোষণাকারী নবী হলেন সাতজন:
আদম, উলুল আযম পাঁচজন এবং মাহদী। প্রতি দুইজন রাসূলের মাঝে অন্য সাতজন ব্যক্তি থাকেন যারা পরবর্তী রাসূলের আগমনের
পূর্ব পর্যন্ত পূর্ববর্তী শরীয়ত প্রতিষ্ঠা করে রাখেন। ইসমাইল ইবনে জাফর ছিলেন এই সাতজনের একজন। তাদের দাবি অনুযায়ী,
মুহাম্মদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) এবং প্রতীক্ষিত মাহদীর—যিনি তাদের মতে শেষ রাসূল—মধ্যবর্তী সময়ে তারা
শরীয়ত প্রতিষ্ঠাকারী হিসেবে কাজ করেন। তারা দাবি করে যে, পৃথিবী কখনোই এই ধরনের ব্যক্তিদের থেকে শূন্য থাকে না। (৪)
(মাহদাবিয়্যাহ)
তেইশতম ফেরকা হলো মাহদাবিয়্যাহ: তারা দাবি করে যে, ইসমাইলের পর ইমামত তার পুত্র মুহাম্মদ আল-ওয়াসীর জন্য
নির্ধারিত, (৫) এরপর তার পুত্র আহমদ আল-ওয়াফী, (৬) এরপর তার পুত্র মুহাম্মদ আত-তাকী—কোনো কোনো কিতাবে কাসেম আত-তাকী
নাম এসেছে—(৭) তারপর তার পুত্র উবায়দুল্লাহ (৮) আর-রাযী, (৯) তারপর তার পুত্র আবু কাসিম আবদুল্লাহর জন্য, (১০)
এরপর তার পুত্র মুহাম্মদের জন্য, যিনি নিজেকে মাহদী উপাধিতে ভূষিত করেছিলেন, (১১) এবং
-----------------------------------
(খণ্ড: ١)
মুখতাসারুত তুহফাহ আল-ইসনা আশারিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ১৯)
صار واليا بالمغرب، واستولى على بلاد إفريقية، وملك بنوه مصر وما حولها. ثم لابنه أحمد (1) القائم بأمر الله، ثم لابنه إسماعيل المنصور بقوة الله، (2) ثم لابنه معد المعز لدين الله، (3) ثم لابنه المنصور نزار العزيز بالله، (4) ثم لابنه أبي علي الحاكم بأمر الله، (5) ثم لأبي الحسن الظاهر بدين الله، (6)
ثم لمعد المستنصر بالله، (7) وذلك بنص الآباء بترتيب الولادة. وهذا الترتيب إلى هنا مجمع عليه عندهم.
واختلفوا بعد المنتصر لما أنه نص أولا على إمامة ابنه (8) نزار، وثانيا على إمامة ابنه أبي القاسم المستعلي بالله، (9) فبعضهم تمسك بالنص الثاني وقال إنه ناسخ للأول، فقال بإمامة المستعلي فسموا المهدوية (المستعلية) (10) ثم بإمامة ابنه المنصور الآمر بأحكام الله، (11) ثم بإمامة أخي المنصور هذا عبد المجيد الحافظ لدين الله، (12) ثم بإمامة ابنه أبي المنصور محمد الظافر بأمر الله، (13) ثم بإمامة ابنه أبي القاسم الفائز بنصر الله، (14) ثم بإمامة ابنه محمد العاضد لدين الله، (15)
وقد خرج على هذا أمراء الشام واستولوا عليه فسجنوه حتى مات وما بقي بعده أحد من أولاد المهدي داعيا للإمامة.
وبعضهم تمسك بالنص الأول وألغى الثاني فقال بإمامة نزار ويقال للقائلين بذلك «النزارية» وقد يقال لهم «الصباحية» و «الحميرية» نسبة للحسن ابن صباح الحميري (16) حيث قام بالدعوة لطفل سماه الهادي زاعما أنه ابن نزار، (17) فهو الإمام عندهم بعد أبيه، ثم ابنه الحسن، (18) وزعم هذا أنه يجوز للإمام أن يفعل ما شاء، وأن يسقط التكاليف الشرعية. وقد قال لأصحابه: إنه أوحي إلي أن أسقط عنكم التكاليف الشرعية، وأبيح لكم المحرمات، بشرط أن لا تنازعوا بينكم ولا تعصوا إمامكم. ثم ابنه محمد، (19) وكان متخلقا بأخلاق أبيه، وكذا ابنه علاء الدين محمد. (20)
وأما ابنه جلال الدين حسن ابن محمد بن الحسن (21) فقد كان متصلبا في الإسلام منكرا مذهب آبائه حسن الأخلاق آمرا بالمعروف ناهيا عن المنكر. وأما ابنه علاء الدين (22) فقد صار ملحدا بعد أبيه الحسن، وكذا ابنه ركن الدين. (23) وقد ظهر في زمن هذا جنكيزخان (24) فخرب مملكته وكان إذ ذاك بالري (25) وتحصن في قلعة ألموت (26) من قلاع طبرستان، (27) ولم يتم له ذلك، بل كان آخر أمره من أتباع
-----------------------------------
তিনি মাগরিবে (মরক্কো ও পার্শ্ববর্তী অঞ্চল) শাসক নিযুক্ত হন এবং ইফ্রিকিয়া (তিউনিসিয়া ও
আশপাশের এলাকা) অঞ্চল দখল করেন। অতঃপর তাঁর সন্তানগণ মিসর ও তার আশপাশের এলাকা শাসন করেন। এরপর তাঁর পুত্র আহমদ (১)
আল-কায়িম বি-আমরিল্লাহর কাছে (শাসনক্ষমতা যায়), এরপর তাঁর পুত্র ইসমাইল আল-মনসুর বিকুওয়াতিল্লাহর (২) কাছে, এরপর
তাঁর পুত্র মা'আদ আল-মুইয লি-দীনিল্লাহর (৩) কাছে, এরপর তাঁর পুত্র মনসুর নিযার আল-আজিজ বিল্লাহর (৪) কাছে, এরপর তাঁর
পুত্র আবু আলী আল-হাকিম বি-আমরিল্লাহর (৫) কাছে, এরপর আবু হাসান আজ-জাহির বি-দীনিল্লাহর (৬) কাছে।
অতঃপর মা'আদ
আল-মুস্তানসির বিল্লাহর (৭) কাছে। আর এটি সম্পন্ন হয় জন্মক্রম অনুসারে পূর্বসূরিদের মনোনীত করার (নাস) মাধ্যমে। এই
পর্যায় পর্যন্ত এই ক্রমধারা তাদের নিকট সর্বসম্মত।
মুস্তানসিরের পরে তারা মতবিরোধে লিপ্ত হয়। কারণ তিনি প্রথমে
তাঁর পুত্র (৮) নিযারের ইমামতের স্বপক্ষে নির্দেশ দিয়েছিলেন এবং পরবর্তীতে তাঁর পুত্র আবু কাসিম আল-মুসতালি বিল্লাহর
(৯) ইমামতের নির্দেশ দেন। ফলে তাদের একাংশ দ্বিতীয় নির্দেশটি আঁকড়ে ধরে এবং বলে যে এটি প্রথম নির্দেশটিকে রহিত করে
দিয়েছে। তারা মুস্তালির ইমামতের কথা বলে এবং তাদেরকে মাহদাবিয়া (মুস্তআলিয়া) (১০) নামে অভিহিত করা হয়। এরপর তাঁর
পুত্র মনসুর আল-আমির বি-আহকামিল্লাহর (১১) ইমামত, এরপর এই মনসুরের ভাই আবদুল মাজিদ আল-হাফিজ লি-দীনিল্লাহর (১২) ইমামত,
এরপর তাঁর পুত্র আবু মনসুর মুহাম্মদ আজ-জাফির বি-আমরিল্লাহর (১৩) ইমামত, এরপর তাঁর পুত্র আবু কাসিম আল-ফায়িজ
বি-নাসরিল্লাহর (১৪) ইমামত, এরপর তাঁর পুত্র মুহাম্মদ আল-আদিদ লি-দীনিল্লাহর (১৫) ইমামত স্বীকৃত হয়।
সিরিয়ার
আমিরগণ তাঁর বিরুদ্ধে বিদ্রোহ করেন এবং ক্ষমতা দখল করেন। তাঁরা তাকে বন্দি করেন এবং সেখানেই তাঁর মৃত্যু হয়। এরপর
মাহদির বংশধরদের মধ্য থেকে ইমামতের দাওয়াত দেওয়ার মতো কেউ আর অবশিষ্ট থাকেনি।
অন্য একাংশ প্রথম নির্দেশটি আঁকড়ে
ধরে এবং দ্বিতীয়টিকে বাতিল গণ্য করে নিযারের ইমামতের প্রবক্তা হয়। এদেরকে 'নিযারিয়া' বলা হয়। আবার হাসান ইবনে সাবাহ
আল-হিমইয়ারির (১৬) দিকে নিসবত করে তাদেরকে 'সাবাহিয়া' ও 'হিমইয়ারিয়া'ও বলা হয়। হাসান ইবনে সাবাহ আল-হাদি নামক এক
শিশুর ইমামতের দাওয়াত প্রচার করেন এবং দাবি করেন যে সে নিযারের পুত্র (১৭)। তাদের মতে পিতার পর হাদিই ইমাম। এরপর তাঁর
পুত্র হাসান (১৮)। এই হাসান দাবি করেন যে, ইমামের জন্য যা খুশি তা করার অধিকার রয়েছে এবং তিনি শরীয়তের বিধানসমূহ রহিত
করে দিতে পারেন। তিনি তাঁর অনুসারীদের বলেছিলেন: 'আমার প্রতি প্রত্যাদেশ করা হয়েছে যে, আমি তোমাদের ওপর থেকে শরীয়তের
বাধ্যবাধকতাগুলো তুলে নিই এবং তোমাদের জন্য হারাম বিষয়সমূহ হালাল করে দিই, এই শর্তে যে তোমরা নিজেদের মধ্যে বিবাদ করবে
না এবং ইমামের অবাধ্য হবে না।' এরপর তাঁর পুত্র মুহাম্মদ (১৯)। তিনি তাঁর পিতার স্বভাব ও আচরণের অনুসারী ছিলেন। তাঁর
পুত্র আলাউদ্দিন মুহাম্মদও (২০) তদ্রূপ ছিলেন।
তবে তাঁর পুত্র জালালুদ্দিন হাসান ইবনে মুহাম্মদ ইবনে হাসান (২১)
ইসলামের ব্যাপারে অত্যন্ত দৃঢ় ছিলেন এবং তাঁর পিতৃপুরুষদের ভ্রান্ত মতবাদ প্রত্যাখ্যানকারী ছিলেন। তিনি সৎ চরিত্রের
অধিকারী ছিলেন এবং নেক কাজের আদেশ ও মন্দ কাজে বাধা দিতেন। কিন্তু তাঁর পুত্র আলাউদ্দিন (২২) তাঁর পিতা হাসানের পর
নাস্তিক (মুলহিদ) হয়ে যান। তাঁর পুত্র রুকনুদ্দিনও (২৩) একই পথের অনুসারী ছিলেন। তাঁর সময়েই চেঙ্গিস খানের (২৪) উত্থান
ঘটে এবং তিনি তাঁর রাজ্য ধ্বংস করেন। সে সময় তিনি রয় (২৫) অঞ্চলে ছিলেন এবং তাবারিস্তানের (২৭) অন্যতম দুর্গ আলমুত
দুর্গে (২৬) আশ্রয় গ্রহণ করেন। কিন্তু তাতেও তাঁর রক্ষা হয়নি। বরং তাঁর শেষ পরিণতি ছিল অনুসারীদের কাতারে...
-----------------------------------
(খণ্ড: ١)
মুখতাসারুত তুহফাহ আল-ইসনা আশারিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ২০)
جنكيزخان، وقد انطلق معه جين عاد إلى وطنه فمات في الطريق، ثم خرج ابنه الملقب نفسه بجديد الدولة، فلما سمع به ملوك التاتار فرقوا جمعه فاختفى في قرى طبرستان حتى مات، فلم يبق من أولاده أحد مدعيا الإمامة. (1) وهذه الفرقة هي الرابعة والعشرون وكان ظهور المهدوية الجامعة للفرقتين سنة مائتين وتسع وتسعين. (2)
(الأفطحية)الخامسة والعشرون الأفطحية: ويقال لها العمارية أيضا لأنهم كانوا أصحاب عبد الله بن عمار وهم قائلون بإمامة عبد الله الأفطح أي عريض الرجلين ابن جعفر الصادق شقيق إسماعيل معتقدين موته ورجعته إذ لم يترك ولدا حتى ترسل سلسلة الإمامة في نسله. (3)
(المفضلية)السادسة والعشرون المفضلية: أصحاب مفضل بن عمرو ويقال لهم القطعية أيضا لأنهم قاطعون بإمامة موسى الكاظم، قاطعون بموته. (4)
(الممطورية)السابعة والعشرون الممطورية: وهم قائلون بإمامة موسى معتقدون أنه حي وأنه المهدي الموعود، متمسكين يقول الأمير كرم الله نعالى وجهه: سابعهم قائمهم سَمِيُّ صاحب التوراة. وقيل لهم: «ممطورية» لقول يونس بن عبد الرحمن رئيس القطعية لهم اثناء مناظرة وقعت بينهما «أنتم أهون عندنا من الكلاب الممطورة» أي المبلولة بالمطر. (5)
(الموسوية)الثامنة والعشرون الموسوية: يقطعون بإمامة موسى، ويترددون في موته وحياته ولذا لا يرسلون سلسلة الإمامة بعده في أولاده. (6)
(الرجعية)التاسعة والعشرون الرجعية: وهم قائلون بإمامة موسى أيضا لكنهم يقولون بموته ورجعته. وهذه الفرق الثلاث يقال لها «الواقفية» أيضا لوقفهم الإمامة على موسى الكاظم وعدم إرسالها في أولاده.
(الإسحاقية)الثلاثون الإسحاقية: يعتقدون بإمامة إسحاق بن جعفر، (7) وكان في العلم والتقوى على جانب عظيم، وقد روى عنه ثقات المحدثين من أهل السنة ك سفيان بن عيينة وغيره. (8)
-----------------------------------
চঙ্গিজ খান, যার সাথে জীন (جين) বের হয়েছিলেন এবং স্বদেশে ফেরার পথে মারা যান। এরপর তার
পুত্র বের হলেন, যিনি নিজেকে 'জাদিদ আদ-দাওলা' (রাষ্ট্রের নবসূচনা) উপাধিতে ভূষিত করেছিলেন। যখন তাতার রাজারা তার
সম্পর্কে জানতে পারলেন, তারা তার বাহিনীকে ছত্রভঙ্গ করে দিলেন। ফলে তিনি তাবারিস্তানের গ্রামগুলোতে আত্মগোপন করেন এবং
সেখানেই মৃত্যুবরণ করেন। এরপর তার সন্তানদের মধ্যে ইমামতের দাবিদার আর কেউ অবশিষ্ট রইল না। (১) এটি চব্বিশতম ফেরকা। আর
দুই ফেরকার সমন্বয়ে গঠিত মাহদাবিয়্যা মতবাদের আবির্ভাব হয়েছিল দুইশত নিরানব্বই হিজরীতে। (২)
(আফতাহিয়্যা)
পঁচিশতম হলো আফতাহিয়্যা: তাদের 'আম্মারিয়্যা'ও বলা হয়, কারণ তারা ছিল আবদুল্লাহ ইবনে আম্মারের অনুসারী। তারা
জাফর আস-সাদিকের পুত্র এবং ইসমাইলের সহোদর আবদুল্লাহ আল-আফতাহ (যার পা দুটি প্রশস্ত ছিল)-এর ইমামতে বিশ্বাসী। তারা তার
মৃত্যু ও পুনরায় প্রত্যাবর্তনে (রাজ'আত) বিশ্বাসী, কারণ তিনি কোনো সন্তান রেখে যাননি যাতে তার বংশের মাধ্যমে ইমামতের
ধারা বজায় থাকে। (৩)
(মুফাদ্দালিয়্যা)
ছাব্বিশতম হলো মুফাদ্দালিয়্যা: তারা মুফাদ্দাল ইবনে আমরের অনুসারী। তাদের 'কাতইয়্যা'ও বলা হয়, কারণ তারা মুসা
আল-কাজিমের ইমামত ও তার মৃত্যুর ব্যাপারে সুনিশ্চিত (কাতয়ী)। (৪)
(মামতুরিয়্যা)
সাতাশতম হলো মামতুরিয়্যা: তারা মুসার ইমামতে বিশ্বাসী এবং মনে করে যে তিনি জীবিত ও প্রতিশ্রুত মাহদী। তারা
আমীরুল মুমিনীন (আল্লাহ তাঁর চেহারাকে মর্যাদাবান করুন)-এর এই বাণীর ওপর নির্ভর করে: "তাদের সপ্তম ব্যক্তিই তাদের
কায়েম (উত্থানকারী), যার নাম হবে তাওরাতের অধিকারীর (মুসা আ.) নামের অনুরূপ।" কাতইয়্যা ফেরকার প্রধান ইউনুস ইবনে
আবদুর রহমানের সাথে এক বিতর্কের সময় তিনি তাদের বলেছিলেন: "তোমরা আমাদের কাছে বৃষ্টিতে ভেজা কুকুরের (আল-কিলাব
আল-মামতুরাহ) চেয়েও অধম।" একারণেই তাদের 'মামতুরিয়্যা' বলা হয়। (৫)
(মুসাবিয়্যা)
আঠাশতম হলো মুসাবিয়্যা: তারা মুসার ইমামতের ব্যাপারে নিশ্চিত, তবে তার মৃত্যু বা জীবনের ব্যাপারে তারা
দ্বিধান্বিত। একারণে তারা তার পর তার সন্তানদের মধ্যে ইমামতের ধারা চালিত করে না। (৬)
(রাজইয়্যা)
ঊনত্রিশতম হলো রাজইয়্যা: তারা মুসার ইমামতে বিশ্বাসী, তবে তারা মনে করে তিনি মৃত্যুবরণ করেছেন এবং পুনরায় ফিরে
আসবেন। এই তিনটি ফেরকাকে 'ওয়াকিফিয়্যা'ও বলা হয়, কারণ তারা মুসা আল-কাজিমের ওপর ইমামতকে স্থগিত রেখেছে এবং তার
সন্তানদের কাছে তা পৌঁছায়নি।
(ইসহাকিয়্যা)
ত্রিশতম হলো ইসহাকিয়্যা: তারা ইসহাক ইবনে জাফরের ইমামতে বিশ্বাসী। (৭) তিনি জ্ঞান ও খোদাভীতিতে উচ্চ মর্যাদার
অধিকারী ছিলেন। আহলে সুন্নাতের নির্ভরযোগ্য মুহাদ্দিসগণ যেমন সুফিয়ান ইবনে উয়ায়না ও অন্যান্যরা তাঁর থেকে হাদিস
বর্ণনা করেছেন। (৮)
-----------------------------------
(খণ্ড: ١)
মুখতাসারুত তুহফাহ আল-ইসনা আশারিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ২১)
(الأحمدية)الحادية والثلاثون الأحمدية: يقولون بإمامة أحمد بن موسى الكاظم (1) بعد وفاة أبيه. (2)
(الاثنا عشرية)الثانية والثلاثون الاثنا عشرية: وهذه في المتبادرة عند الإطلاق من لفظ الإمامية. وهم قائلون بإمامة علي الرضا (3) بعد أبيه موسى الكاظم، ثم بإمامة ابنه محمد التقي المعروف بالجواد، (4) ثم بإمامة ابنه علي النقي المعروف بالهادي، (5) ثم بإمامة ابنه الحسن العسكري، (6) ثم بإمامة ابنه محمد المهدي، (7) معتقدين أنه المهدي المنتظر، ولم يختلفوا في ترتيب الإمامة على هذا الوجه. نعم اختلفوا في وقت غيبة المهدي وعامها وسنه يوم غاب، بل قال بعضهم بموته وأنه سيرجع إلى الدنيا إذ عم الجور وفشا، والعياذ بالله تعالى من الحور بعد الكور. (8)
وقد ظهرت هذه الفرقة سنة مائتين وخمس وخمسين، وهي قائلة بالبداء (9) ولذا تراها تنادي بأعلى صوت عند زيارة روضة موسى الكاظم: (10) أنت الذي بدا الله فيه، يعنون ما كان بزعمهم من نصب أخيه إسماعيل إماما بعد أبيه وموته من قبل أن ينال الإمامة ونصب أبيه إياه إماما، وكأنهم تبعوا في ذلك البداية وأنهم قالوا بالبداء بمعنى، وقالت البدائية به بمعنى آخر.
(الجعفرية)الثالثة والثلاثون الجعفرية: يرتبون الإمامة نحو ترتيب الاثني عشرية، بيد أنهم يقولون: إن الإمام بعد الحسن العسكري أخوه جعفر، هـ (11) وقد اتفقوا على ذلك، واختلفوا في أنه هل ولد ولد للعسكري اسمه محمد أم لا، فقال بعضهم بأنه لم يولد له، وقال آخرون ولد وعاش بعد أبيه لكنه مات صغيرا أو قتله سرا من كان في زمانه من خلفاء بني العباس، وقد علم بذلك عمه جعفر فادعى إرثه فلقبه الاثنا عشرية بالكذاب. (12)
هذا ولعل ما سمعت من اختلاف بعض الفرق يجعل كل طائفة من المختلفين فرقة، وبذلك تتم فرق الإمامية تسعا وثلاثين، فليراجع وليتأمل.
-----------------------------------
(আহমাদিয়া)
একত্রিশতম হলো আহমাদিয়া: তারা তাদের পিতার মৃত্যুর পর আহমাদ ইবনে মুসা আল-কাজিম (১)-এর ইমামতিতে বিশ্বাস করে।
(২)
(ইছনা আশারিয়া/দ্বাদশী)
বত্রিশতম হলো ইছনা আশারিয়া: 'ইমামিয়া' শব্দটি সাধারণভাবে উচ্চারণ করলে এই দলটিকেই বোঝানো হয়। তারা তাদের
পিতা মুসা আল-কাজিমের পর আলী আর-রিদা (৩)-এর ইমামতিতে বিশ্বাসী, অতঃপর তার পুত্র মুহাম্মদ আত-তাকি—যিনি আল-জাওয়াদ (৪)
নামে পরিচিত—এর ইমামতিতে, তারপর তার পুত্র আলী আন-নাকি—যিনি আল-হাদি (৫) নামে পরিচিত—এর ইমামতিতে, এরপর তার পুত্র
হাসান আল-আসকারি (৬)-এর ইমামতিতে এবং তারপর তার পুত্র মুহাম্মদ আল-মাহদি (৭)-এর ইমামতিতে বিশ্বাস করে। তারা বিশ্বাস
করে যে, তিনিই হলেন 'মাহদি আল-মুনতাজার' (প্রতীক্ষিত মাহদি)। ইমামতির এই ক্রমবিন্যাসের ক্ষেত্রে তাদের মধ্যে কোনো
মতভেদ নেই। তবে মাহদির আত্মগোপনের (গায়বাত) সময়, বছর এবং আত্মগোপনকালে তার বয়স নিয়ে তারা মতভেদ করেছে। এমনকি তাদের
কেউ কেউ তার মৃত্যুর কথা বলেছে এবং এ-ও দাবি করেছে যে, যখন জুলুম ও অবিচার ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়বে, তখন তিনি পুনরায়
পৃথিবীতে ফিরে আসবেন। সুস্থ বিশ্বাসের পর পথভ্রষ্টতা থেকে আমরা আল্লাহর নিকট আশ্রয় প্রার্থনা করছি। (৮)
এই দলটি
২৫৫ হিজরি সনে আবির্ভূত হয়। তারা 'বাদা' (৯) (ঐশ্বরিক ইচ্ছা পরিবর্তন) মতবাদে বিশ্বাসী। এ কারণেই মুসা আল-কাজিমের
রওজা (১০) জিয়ারতের সময় তাদের উচ্চস্বরে বলতে দেখা যায়: "আপনিই তিনি যার ব্যাপারে আল্লাহর 'বাদা' ঘটেছে।" তাদের
উদ্দেশ্য হলো—তাদের ধারণা অনুযায়ী তার পিতা কর্তৃক তার ভাই ইসমাইলকে পরবর্তী ইমাম হিসেবে নিযুক্ত করার বিষয়টি এবং
ইমামতি লাভের আগেই তার মৃত্যু ঘটায় তার পিতার পক্ষ থেকে তাকে (মুসা কাজিমকে) ইমাম হিসেবে নিযুক্ত করা। মনে হয় তারা
এক্ষেত্রে 'বাদায়িয়া' মতবাদের অনুসারী হয়েছে, তবে তারা 'বাদা' শব্দটিকে এক অর্থে ব্যবহার করে এবং 'বাদায়িয়া'
সম্প্রদায় অন্য অর্থে।
(জাফরিয়া)
তেত্রিশতম হলো জাফরিয়া: তারা ইমামতির ক্রমধারা ইছনা আশারিয়াদের মতোই সাজায়, তবে তারা বলে যে হাসান
আল-আসকারির পর ইমাম হলেন তার ভাই জাফর (১১)। তারা এ বিষয়ে একমত হয়েছে, কিন্তু আসকারির মুহাম্মদ নামে কোনো সন্তান
জন্মেছিল কি না—তা নিয়ে তারা মতভেদ করেছে। তাদের কেউ কেউ বলেছে তার কোনো সন্তান জন্মায়নি। অন্যরা বলেছে যে সন্তান
জন্মেছিল এবং পিতার মৃত্যুর পর বেঁচে ছিল, কিন্তু শৈশবেই মারা গেছে অথবা তৎকালীন আব্বাসীয় খলিফাদের কেউ তাকে গোপনে
হত্যা করেছে। তার চাচা জাফর এ বিষয়ে জানতেন এবং তিনি তার উত্তরাধিকার দাবি করেছিলেন, একারণে ইছনা আশারিয়ারা তাকে
'কাজ্জাব' (মিথ্যাবাদী) উপাধি দিয়েছে। (১২)
এই যে বিভিন্ন উপদলের মাঝে মতভেদ দেখলেন, সম্ভবত তা থেকে প্রতিটি
মতভেদকারী পক্ষকে এক একটি স্বতন্ত্র দল গণ্য করলে ইমামিয়াদের মোট দলের সংখ্যা উনচল্লিশে পৌঁছায়। বিষয়টি পর্যালোচনা
ও গভীরভাবে চিন্তা করা প্রয়োজন।
-----------------------------------
(খণ্ড: ١)
মুখতাসারুত তুহফাহ আল-ইসনা আশারিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ২২)
قال الجد (1) روَّح الله روحَه في كتابه (نهج السلامة) بعد عدِّه فرق الإمامية: ثم اعلم أن الاثني عشرية المعروفين اليوم على علاتهم في الاعتقادات أهون شرا بكثير من كثير من فرق الإمامية وسائر الشيعة، فهم في معظم الاعتقاديات متطفلون على المعتزلة (2) وقول الخواجة نصير الدين الطوسي (3) المتكلم - على ما نقله عنه تلميذه ابن المطهر الحلي (4) - أنهم مخالفون لجميع الفرق في ذلك مما يتعجب منه المطلع على اعتقاداتهم، وأعجب من ذلك جعله تلك المخالفة دليلا على أنهم الفرقة الناجية.
(الشيخية أو الأحمدية)ثم قال العلامة الجد عليه الرحمة: قد ظهرت في هذه الأعصار من الاثني عشرية طائفة يقال لهم الشيخية، وقد يقال لهم «الأحمدية»، وهم أصحاب الشيخ أحمد الأحسائي، ترشح كلماتهم بأنهم يعتقدون في الأمير كرم الله تعالى وجهه نحو ما يعتقد الفلاسفة في العقل الأول، بل أدهى وأمر. (5)
(الرشتية الكشفية)وطائفة أخرى يقال له الرشتية، وكثيرا ما يقال لها «الكشفية»، وهو لقب لقبهم به بعض وزراء الزوراء (6) أعلى الله تعالى درجته في أعلى عليين، وهم أصحاب السيد كاظم الحسيني الرشتي، (7) وهو تلميذ الأحسائي وخريجه، لكن خالفه في بعض المسائل، وكلماته ترشح بما هو أدهى وأمر مما ترشح به كلمات شيخه، حتى إن الاثنى عشرية يعدونه من الغلاة، وهو يبرأ مما تشعر به ظواهر كلماته. قال عليه الرحمة: وقد عاشرته كثيرا فلم أدرك فيه ما يقول فيه مكفروه من علماء الاثني عشرية. نعم عنده على التحقيق غير ما عندهم في الأئمة وغيرهم مما يتعلق بالمبدأ والمعاد. ولقد وجدت أكثر ما يقرره ويحرره مما لا برهان له سوى سراب شُبه يحسبه الظمآن ماء، ولا أظن أن مخالفاته لشيخه تجعله وأصحابه القائلين بقوله فرقة غير الشيخية.
-----------------------------------
পিতামহ (১)—আল্লাহ তাঁর আত্মাকে শান্তি দান করুন—তাঁর 'নাহজুস সালামাহ' (নিরাপত্তার পথ) গ্রন্থে ইমামিয়াদের দলগুলো
গণনার পর বলেছেন: "অতঃপর জেনে রাখুন যে, বর্তমানে পরিচিত ইসনা আশারিয়্যাহ (বারো ইমামপন্থী) সম্প্রদায় তাদের
বিশ্বাসের ত্রুটি সত্ত্বেও অন্যান্য অনেক ইমামিয়া ও শিয়া দলগুলোর তুলনায় অনেক কম ক্ষতিকর। মৌলিক বিশ্বাসের
অধিকাংশ ক্ষেত্রে তারা মুতাজিলাদের (২) উপর নির্ভরশীল। মুতাকাল্লিম খাজা নাসিরুদ্দীন তুসী (৩)—তাঁর ছাত্র ইবনুল
মুতাহহার আল-হিল্লি (৪) তাঁর থেকে যা বর্ণনা করেছেন সেই অনুযায়ী—দাবি করেছেন যে, এ সকল বিষয়ে তারা সকল দলের থেকে
ভিন্নতর; যা তাদের বিশ্বাস সম্পর্কে অবগত যে কারো জন্য বিস্ময়কর। আর এর চেয়েও বিস্ময়কর হলো, তিনি সেই ভিন্নতাকেই
তাদের 'নাজাতপ্রাপ্ত দল' (ফিরকায়ে নাজিয়া) হওয়ার দলিল হিসেবে উপস্থাপন করেছেন।"
(শাইখিয়া বা আহমাদিয়া)
অতঃপর আল্লামা পিতামহ (তাঁর ওপর রহমত বর্ষিত হোক) বলেছেন: "সাম্প্রতিককালে ইসনা আশারিয়্যাহদের মধ্য থেকে একটি গোষ্ঠীর
আবির্ভাব ঘটেছে যাদের 'শাইখিয়া' বলা হয়, আবার কখনো তাদের 'আহমাদিয়া'ও বলা হয়। তারা শাইখ আহমদ আল-আহসাঈ-এর অনুসারী।
তাদের বক্তব্য থেকে এটিই প্রতীয়মান হয় যে, তারা আমিরুল মুমিনীন (আলী)—আল্লাহ তাঁর চেহারাকে সম্মানিত করুন—সম্পর্কে
তেমন বিশ্বাস পোষণ করে যেমনটি দার্শনিকরা 'প্রথম বুদ্ধি' (আল-আকলুল আউয়াল) সম্পর্কে পোষণ করে, বরং এটি তার চেয়েও
ভয়াবহ ও তিক্ত।" (৫)
(রাশতীয়াহ কাশফীয়াহ)
"এবং অন্য একটি গোষ্ঠীকে 'রাশতীয়াহ' বলা হয়, যাদের প্রায়শই 'কাশফীয়াহ' নামেও অভিহিত করা হয়। এটি একটি উপাধি যা
জাওরার (বাগদাদ) (৬) জনৈক উজির তাঁদের দিয়েছিলেন—আল্লাহ তাআলা তাঁর মর্যাদা ইল্লিয়্যিনে সমুন্নত করুন। তারা হলেন
সাইয়্যিদ কাজিম আল-হুসাইনি আল-রাশতি-এর (৭) অনুসারী। তিনি আল-আহসাঈ-এর ছাত্র ও দীক্ষাপ্রাপ্ত, কিন্তু কিছু মাসআলায়
তাঁর সাথে মতবিরোধ করেছেন। তাঁর বক্তব্যসমূহ তাঁর শিক্ষকের বক্তব্যের চেয়েও বেশি ভয়াবহ ও তিক্ত বিষয়ের ইঙ্গিত দেয়।
এমনকি ইসনা আশারিয়্যাহরা তাকে চরমপন্থীদের (গুলাত) অন্তর্ভুক্ত বলে গণ্য করে, যদিও তিনি তাঁর বক্তব্যের বাহ্যিক অর্থ
থেকে নিজেকে মুক্ত দাবি করেন।" তিনি (পিতামহ) আরও বলেছেন: "আমি তাঁর সাথে দীর্ঘ সময় অতিবাহিত করেছি, কিন্তু তাঁর মধ্যে
তেমন কিছু খুঁজে পাইনি যা ইসনা আশারিয়্যাহ উলামাদের মধ্যে যারা তাকে কাফের বলেন তারা দাবি করেন। তবে হ্যাঁ, সূক্ষ্ম
বিচারে ইমামগণ এবং সৃষ্টিতত্ত্ব ও পরকাল সংক্রান্ত বিষয়ে তাঁর ধারণা তাদের থেকে ভিন্ন। আমি তাঁর অধিকাংশ সিদ্ধান্ত ও
লেখনীতে এমন কিছু পেয়েছি যার কোনো দলিল নেই, বরং তা ছিল ভ্রান্ত ধারণার এক মরীচিকা যা তৃষ্ণার্ত ব্যক্তি পানি মনে করে
ভুল করে। আমার মনে হয় না যে, তাঁর শিক্ষকের সাথে তাঁর মতবিরোধগুলো তাঁকে এবং তাঁর অনুসারীদের শাইখিয়া থেকে পৃথক কোনো
দল হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করে।"
-----------------------------------
(খণ্ড: ١)
মুখতাসারুত তুহফাহ আল-ইসনা আশারিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ২৩)
(البابية)ثم قال عليه الرحمة: وقد ظهرت أيضا طائفة أخرى يقال لها البابية، (1) وهم أصحاب ميرزا علي محمد الملقب بالباب، والباب واحد الأبواب، وهم أحد الأقسام السبعة لمن لا بد منه في بناء المذهب: الأول (الإمام) الذي يصل إليه علم الغيب بلا واسطة، والثاني (الحجة) الذي يقرر علم الإمام على وفق مذاق المخاطبين وقدر عقولهم وفهومهم بالبرهان والخطابة، الثالث (ذو المصة) الذي يمتص العلم من ثدي الحجة، الرابع الأبواب ويقال لهم الدعاة ولهم مراتب، وأكبرهم من يرفع درجات المؤمنين عند الإمام والحجة، وهذا الأكبر هو رابع السبعة، الخامس (الداعي المأذون) الذي يأخذ العهود والمواثيق من الناس ويفتح للطالب باب العلم والمعرفة، السادس (المكلَّب) الذي شأنه البحث والاحتجاج والترغيب في صحبة الداعي وليس له الإذن بالدعوة، وسمي بذلك على التشبيه بالكلب المعلََّم. السابع (المؤمن المتبع) الذي يؤمن بالإمام بمساعي المكلَّب والداعي.
ثم قال عليه الرحمة: وقد أظهر هذا الباب شنائع كثيرة، منها زعمه ارتفاع فرضية الصلوات الخمس، وأنه سترفع فرضية الحج، وأنه يوحى إليه. وألف كتابا زعم أنه تفسير سورة يوسف، مع أنه ليس فيه تفسير شيء من آياتها، وقد حشاه هذيانات، وحرّف فيه آيات، وزعم التحدي به، وذكر فيه أنه تحرم كتابته بالحبر الأسود المعروف، وأنه يحرم مسه لغير متظهر، إلى أمور أخرى شنيعة ينكرها عليه سائر الشيعة. وقد أرسل بعض دعاته بكتابه إلى قصبة كربلاء فزمر فيها بنغم شنائع تؤد أذن المؤمن من لو كانت عنها صماء، فرقص على زمره في المقام الحسيني جملة من جهلة شيعة العراق، وصبا إليه غير واحد من ذوي الشقاء والشقاق.
فلما سمعت عرضت ذلك لوزير الزوراء، فانتهض لإطفاء تلك الثائرة بهمته الشمّاء، وعَقدَ لحل ما عُقِدَ من المحنة مجلسا عظيما فيه علماء الاثني عشرية وعلماء أهل السنة، فكنت أنا والحمد لله تعالى المباحث ذلك الداعي إلى مهاوي الحَيْن، فلم يتفرق ذلك الجمع حتى أجمع على كفر تلك الفرقة علماء الفرقتين، فكتبوا بذلك محضرا للدولة العلية العثمانية، فبعد أيام حضر الأمر بنفي ذلك الداعي إلى
-----------------------------------
(বাবিয়্যাহ)
এরপর তিনি (তাঁর ওপর আল্লাহর রহমত বর্ষিত হোক) বললেন: আরও একটি দলের উদ্ভব হয়েছে যাদের 'বাবিয়্যাহ' বলা হয়,
(১) তারা হলো মির্জা আলী মুহাম্মাদের অনুসারী, যার উপাধি ছিল 'আল-বাব' (Bab)। 'বাব' হলো 'আবওয়াব' (Abwab - দ্বারসমূহ)
এর একবচন। এই মতবাদের কাঠামোতে যারা অপরিহার্য, তাদের সাতটি স্তরের মধ্যে তারা একটি স্তর: প্রথমটি হলো (ইমাম), যার
নিকট কোনো মাধ্যম ছাড়াই অদৃশ্যের জ্ঞান (ইলমে গায়েব) পৌঁছে। দ্বিতীয়টি হলো (হুজ্জাহ - প্রমাণ), যিনি ইমামের জ্ঞানকে
শ্রোতাদের রুচি, বুদ্ধিবৃত্তিক সক্ষমতা এবং অনুধাবন শক্তি অনুযায়ী অকাট্য যুক্তি ও বক্তৃতার মাধ্যমে সুপ্রতিষ্ঠিত
করেন। তৃতীয়টি হলো (জুয়ুল মাসসাহ), যিনি হুজ্জাহর স্তন থেকে জ্ঞান আহরণ করেন। চতুর্থটি হলো 'আবওয়াব' (দ্বারসমূহ),
যাদেরকে 'দাঈ' বা প্রচারকও বলা হয় এবং তাদের বিভিন্ন স্তর রয়েছে। তাদের মধ্যে শ্রেষ্ঠ তিনি, যিনি ইমাম ও হুজ্জাহর
নিকট মুমিনদের মর্যাদা উন্নীত করেন; এই শ্রেষ্ঠ ব্যক্তিটিই এই সাত স্তরের মধ্যে চতুর্থ। পঞ্চমটি হলো (দাঈয়ে মা'জুন -
অনুমতিপ্রাপ্ত প্রচারক), যিনি মানুষের নিকট থেকে অঙ্গীকার ও প্রতিশ্রুতি গ্রহণ করেন এবং জ্ঞানপিপাসুর জন্য জ্ঞান ও
প্রজ্ঞার দ্বার উন্মোচন করেন। ষষ্ঠটি হলো (মুকাল্লাব), যার কাজ হলো গবেষণা, বিতর্ক এবং প্রচারকের সাহচর্যে আসতে
মানুষকে উৎসাহিত করা, তবে তার প্রচারের অনুমতি নেই; প্রশিক্ষিত শিকারি কুকুরের সাথে সাদৃশ্য রেখে তাকে এই নামে অভিহিত
করা হয়েছে। সপ্তমটি হলো (মুমিনে মুত্তাবি - অনুসারী বিশ্বাসী), যে মুকাল্লাব এবং প্রচারকের প্রচেষ্টায় ইমামের প্রতি
বিশ্বাস স্থাপন করে।
এরপর তিনি (তাঁর ওপর আল্লাহর রহমত বর্ষিত হোক) বললেন: এই 'বাব' অনেক জঘন্য বিষয় প্রকাশ
করেছে। তার মধ্যে রয়েছে তার এই দাবি যে, পাঁচ ওয়াক্ত নামাজের বাধ্যবাধকতা উঠে গেছে, অচিরেই হজের বাধ্যবাধকতাও তুলে
নেওয়া হবে এবং তার নিকট ওহী অবতীর্ণ হয়। সে একটি কিতাব রচনা করেছে এবং দাবি করেছে যে এটি সূরা ইউসুফের তাফসীর, যদিও
এতে সেই সূরার আয়াতসমূহের কোনো ব্যাখ্যা নেই। বরং সেটিকে সে প্রলাপ দিয়ে পূর্ণ করেছে এবং তাতে আয়াতসমূহ বিকৃত
করেছে; সে এটিকে একটি মোজেজা বা চ্যালেঞ্জ হিসেবে দাবি করেছে। সে এতে উল্লেখ করেছে যে, প্রচলিত কালো কালিতে এটি লেখা
হারাম এবং পবিত্রতা অর্জন করা ব্যতীত এটি স্পর্শ করা নিষিদ্ধ। এর পাশাপাশি আরও অনেক জঘন্য বিষয় রয়েছে যা অন্য সমস্ত
শিয়াগণও অস্বীকার করে। সে তার জনৈক প্রচারককে তার কিতাবসহ কারবালা জনপদে পাঠায়। সেখানে সে এমন জঘন্য সুরে প্রচার
চালায় যা কোনো মুমিনের কানে প্রবেশ করলে তা বধির হয়ে যাওয়াই শ্রেয় ছিল। মাকামে হুসাইনীতে ইরাকের একদল মূর্খ শিয়া
তার সেই সুরে নেচে ওঠে এবং অনেক দুর্ভাগা ও বিবাদপ্রিয় লোক তার প্রতি আকৃষ্ট হয়।
যখন আমি এ খবর শুনলাম, তখন
বাগদাদের উজিরের নিকট বিষয়টি উপস্থাপন করলাম। তিনি তাঁর সুউচ্চ সংকল্প নিয়ে এই ফিতনা দমনে সচেষ্ট হলেন। এই মহাবিপদ
নিরসনে তিনি একটি বিশাল সভার আয়োজন করলেন যেখানে ইসনা আশারিয়া (বারো ইমামপন্থী) এবং আহলে সুন্নাতের উলামায়ে কেরাম
উপস্থিত ছিলেন। আল্লাহর অশেষ প্রশংসা যে, আমিই ছিলাম সেই প্রচারকের বিভ্রান্তির বিরুদ্ধে বিতর্ককারী। সেই সভা শেষ
হওয়ার আগেই উভয় পক্ষের উলামায়ে কেরাম এই গোষ্ঠীর কুফরির ব্যাপারে একমত হলেন। এরপর তারা এ বিষয়ে মহান উসমানীয়
সালতানাতের জন্য একটি কার্যবিবরণী লিখে পাঠালেন। কয়েক দিন পর সেই প্রচারককে নির্বাসনের নির্দেশ এলো...
-----------------------------------
(খণ্ড: ١)
মুখতাসারুত তুহফাহ আল-ইসনা আশারিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ২৪)
الديار الرومية (1)، فنفي وأثبت محبوسا في تكرلي طاغ، وأرغم بموته هناك أنف كل طاغ.
وأما الباب ففتح باب البغي والخروج على شاه إيران، وأمر بعض مردته بقتله غيلة ليتم له ما أضمره من الإضلال والعدوان، فلم يتيسر له ما أراد، وقتل في تبريز مع جملة من أتباعه ذوي الفساد، ولم يزل الشاه يتتبع قتل أتباع الباب بعد تعذيبهم بأنواع العذاب، والعجب أنهم يرون العذاب عذبا، فترى أحدهم يضحك والعذاب يصب على رأسه صبا.
(القرتية)وقال عليه الرحمة أيضا: وطائفة أخرى يقال لها القرتية: أصحاب امرأة اسمها هند، وكنيتها أم سلمة، ولقبها قرة العين، لقبها بذلك السيد كاظم الرشتي في مراسلاته لها إذ كانت من أصحابه، وهي ممن قلدت الباب بعد موت الرشتي، ثم خالفته في عدة أشياء منها التكاليف، فقيل أنها كانت تقول بحل الفروج ورفع التكاليف بالكلية، وأنا لم أحس منها بشيء من ذلك مع أنها حبست في بيتي نحو شهرين، وكم بحث جرى بيني وبينها رفعت فيه التقية من البين.
والذي تحقق عندي أن البابية والقرتية طائفة واحدة، يعتقدون في الأئمة نحو اعتقاد الكشفية فيهم، ويزعمون انتهاء زمن التكليف بالصلوات الخمس، وأن الوحي غير منقطع فقد يوحى للكامل لكن لا وحي تشريع، بل وحي تعليم لما شرع قبل ولنحو ذلك، وهو رأي لبعض المتصوفة.
وأخبرني بعض من خالطهم أنهم يوجبون على من نظر أجنبية من غير قصد التصدق بمثقال من الذهب، وعلى من نظرها بقصد التصدق بمثقالين منه، وأن منهم من يحيي الليل بكاءً وتضرعا، وأنهم يخالفون الاثني عشرية في كثير من الفروع، وأنا حققت أن الاثني عشرية يكفرونهم ويبرؤن منهم، ثم إني أرى أنهم شرارة من نيران الكشفية والأحسائية، وأعظم أسباب ضلالتهم النظر في كلام الرشتي وشيخه الأحسائي مع عدم فهم مقاصدهما منه، وحمله على ما هو بعيد عن الدين المحمدي بمراحل، ولذا أكفرهم أصحاب هذين الرجلين أيضا على ما سمعته بأذني من كبارهم.
وقد قتلت هذه المرأة أيضا بعد أن بغت وخرجت على الشاه ناصر الدين في
-----------------------------------
রোমীয় ভূখণ্ডে (১), অতঃপর তাকে নির্বাসিত করা হয় এবং তিকরলি দাগ নামক স্থানে কারারুদ্ধ
করে রাখা হয়। সেখানে তার মৃত্যুর মাধ্যমে প্রতিটি দাম্ভিকের অহংকার চূর্ণ করা হয়।
আর বাবের (আন্দোলনের
প্রবক্তা) কথা বলতে গেলে, সে ইরানের শাহের বিরুদ্ধে বিদ্রোহ ও অবাধ্যতার দ্বার উন্মোচন করেছিল। সে তার পথভ্রষ্টতা ও
শত্রুতার হীন উদ্দেশ্য চরিতার্থ করার জন্য তার অনুসারীদের মধ্য থেকে কতিপয় অবাধ্য ব্যক্তিকে গুপ্তহত্যার নির্দেশ
দিয়েছিল। কিন্তু তার কাঙ্ক্ষিত লক্ষ্য অর্জিত হয়নি এবং তাবরিজে তার একদল ফাসাদ সৃষ্টিকারী অনুসারীসহ তাকে হত্যা করা
হয়। শাহ অব্যাহতভাবে বাবের অনুসারীদের খুঁজে বের করে নানা প্রকার শাস্তি দেওয়ার পর হত্যা করতে থাকেন। আশ্চর্যের বিষয়
হলো যে, তারা সেই আযাবকেও মিষ্ট মনে করত; দেখা যেত তাদের কাউকে শাস্তি দেওয়া হচ্ছে আর সে অঝোর ধারায় শাস্তি বর্ষণের
মাঝেও হাসছে।
(কুররাতিয়্যা)
রহমতুল্লাহি আলাইহি আরও বলেন: অন্য একটি দল রয়েছে যাদেরকে 'কুররাতিয়্যা' বলা হয়। তারা এক নারীর অনুসারী যার নাম
ছিল হিন্দ, উপনাম উম্মে সালামা এবং উপাধি ছিল 'কুররাত আল-আইন'। সাইয়্যিদ কাযিম রশতি তার কাছে পাঠানো পত্রাবলিতে তাকে
এই উপাধিতে ভূষিত করেছিলেন, কারণ সে তার অনুসারীদের অন্তর্ভুক্ত ছিল। রশতির মৃত্যুর পর সে বাবের অনুসরণ শুরু করে।
পরবর্তীতে সে বেশ কিছু বিষয়ে বাবের বিরোধিতা করে, যার মধ্যে শরয়ি বিধিবিধানও (তাকলিফ) অন্তর্ভুক্ত। বলা হয়ে থাকে যে,
সে যৌনাঙ্গ হালাল করা (অবাধ মেলামেশা) এবং শরয়ি বিধিবিধান সম্পূর্ণভাবে তুলে দেওয়ার প্রবক্তা ছিল। যদিও সে প্রায় দুই
মাস আমার ঘরে বন্দি অবস্থায় ছিল, কিন্তু আমি তার মাঝে এমন কিছুর আভাস পাইনি। আমাদের মধ্যে অনেক বিতর্ক হয়েছে যেখানে সে
তাক্বিয়া (প্রকৃত বিশ্বাস গোপন করা) ত্যাগ করে কথা বলেছিল।
আমার নিকট যা সুনিশ্চিত হয়েছে তা হলো, বাবীয়্যা ও
কুররাতিয়্যা একই গোষ্ঠী। ইমামদের ব্যাপারে তাদের বিশ্বাস কাশফিয়্যাদের বিশ্বাসের অনুরূপ। তারা দাবি করে যে, পাঁচ
ওয়াক্ত সালাতের বাধ্যবাধকতার সময় শেষ হয়ে গেছে এবং ওহী (প্রত্যাদেশ) বন্ধ হয়নি; বরং পূর্ণাঙ্গ মানবের (কামিল) নিকট ওহী
আসতে পারে। তবে তা নতুন কোনো শরয়ি বিধিবিধানের ওহী নয়, বরং পূর্ববর্তী শরয়ি বিধানের শিক্ষাদান বা অনুরূপ বিষয়ের ওহী।
এটি কোনো কোনো সুফিপন্থীরও অভিমত।
তাদের সাথে মেলামেশা করেছেন এমন জনৈক ব্যক্তি আমাকে জানিয়েছেন যে, তারা
অনিচ্ছাকৃতভাবে কোনো পরনারীর দিকে তাকালে এক মিসকাল স্বর্ণ সদকা করা এবং ইচ্ছাকৃতভাবে তাকালে দুই মিসকাল স্বর্ণ সদকা
করা আবশ্যক মনে করে। তাদের মধ্যে এমন লোকও আছে যারা কান্নাকাটি ও রোনাজারির মাধ্যমে রাত জাগরণ করে। তারা ফিকহী
শাখা-প্রশাখায় ইসনা আশারিয়াদের (বারো ইমামপন্থী শিয়া) থেকে অনেক ক্ষেত্রে ভিন্নমত পোষণ করে। আমি নিশ্চিত হয়েছি যে,
ইসনা আশারিয়াগণ তাদেরকে কাফির মনে করে এবং তাদের থেকে সম্পর্ক ছিন্ন করার ঘোষণা দেয়। আমার দৃষ্টিতে তারা কাশফিয়্যা ও
আহসাউইয়্যাদের আগুনের একটি স্ফুলিঙ্গ। তাদের পথভ্রষ্ট হওয়ার প্রধান কারণ হলো রশতি এবং তার উস্তাদ আহসাউয়ীর কিতাবসমূহ
তাদের উদ্দেশ্য না বুঝে অধ্যয়ন করা এবং সেগুলোকে মুহাম্মদী দ্বীন (ইসলাম) থেকে যোজন যোজন দূরের অর্থে ব্যাখ্যা করা। এ
কারণেই এই দুই ব্যক্তির অনুসারীরাও তাদেরকে কাফির বলে গণ্য করে, যা আমি তাদের বিশিষ্ট ব্যক্তিদের কাছ থেকে সশরীরে
শুনেছি।
শাহ নাসিরুদ্দীনের বিরুদ্ধে বিদ্রোহ ও অবাধ্য হওয়ার পর এই নারীকেও হত্যা করা হয়।
-----------------------------------
(খণ্ড: ١)
মুখতাসারুত তুহফাহ আল-ইসনা আশারিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ২৫)
طهران، (1) وتتبع أصحابها بالقتل، فقتلوا إلا قليلا منهم تحصن بالتقية، والانسلاك ظاهرا في سلك الاثني عشرية، وفي قرى العراق بقية يسيرة منهم، وكم من شنيعة تروى عنهم؟ ثم إنه لا يبعد أن تظهر فرق أخرى من الإمامية بعد، نسأل الله تعالى العافية في الدين والدنيا والآخرة.
انتهى كلامه الشريف ولفظه الظريف، وهذا التفصيل مما لا تجده في كتاب، ولا تراه في باب من الأبواب، فتوجه بهمه إليه، وأقبل بجميع شراشرك (2) عليه.
مكائد الرافضةوإذ فرغنا من عد الفرق فقد آن أن نشرع في ذكر شيء من مكائدهم، التي توصلوا بها إلى ترويج مذهبهم الباطل وإضلال العباد، وهي كثيرة جدا لا تدري اليهود بعشرها، وهذا الكتاب يضيق عن حصرها:
الأولىفمن مكائدهم أنهم يقولون: إن أهل السنة يخالفون القرآن المجيد، فإنهم يغسلون الأرجل بدل المسح، والكتاب يدل ظاهرا على المسح. (3)
والجواب أن آية الوضوء تواترت إلينا كسائر القرآن بالقراءات السبع المتواترة، تواتر القراءتين منها ثابت بإجماع الفريقين، بل بإجماع المسلمين وهما قراءتا النصب والجر في الأرجل، وقد ثبت في أصول الفريقين أن القراءتين إذا تعارضتا في آية واحدة فهما في حكم الآيتين، وأن الجمع بين الدليلين أولى من إلغاء أحدهما، وههنا كذلك إذ يمكن الجمع بينهما حسب قواعدنا بوجهين:
الأول: بحمل المسح على الغسل، قال أبو زيد الأنصاري وغيره من أئمة اللغة: إن المسح في كلام العرب قد يكون بمعنى الغسل، يقال للرجل إذا توضأ: تمسح، ومسح الله ما بك أي أزال عنك المرض، (4) فإن قال الشيعة: يلزم من ذلك الجمع بين الحقيقة والمجاز وهو ممتنع، (5) قلنا لا يلزم ذلك، فإنا نقدر لفظ امسحوا قبل أرجلكم أيضا، وإذا تعدد اللفظ فلا بأس بتعدد المعنى، فالمسح الذي يتعلق بالرؤوس حقيقي، والمتعلق بالأرجل مجازي.
الثاني: إن الجر بالجوار، وهو في التنزيل كثير الوقوع، فتأول قراءة الجر إلى قراءة النصب، وجوز سيبويه والأخفش وأبو البقاء (6) وسائر المحققين من النحاة جر الجوار في النعت والعطف، أما النعت فكقوله تعالى: {عَذَابَ يَوْمٍ أَلِيم ٍ} فقد جر (أليم) بمجاورة (يوم) مع أنه نعت
-----------------------------------
তেহরান, (১) এবং তার অনুসারীদের হত্যার উদ্দেশ্যে অনুসরণ করা হয়েছিল, ফলে তাদের মধ্যে অল্প
সংখ্যক ছাড়া বাকি সবাই নিহত হয়েছিল, যারা তাকিয়ার (আত্নরক্ষামূলক গোপনীয়তা) মাধ্যমে এবং বাহ্যিকভাবে ইসনা আশারিয়া
(বারো ইমামপন্থী) সম্প্রদায়ের অন্তর্ভুক্ত হয়ে আত্মরক্ষা করেছিল। ইরাকের গ্রামগুলোতে তাদের সামান্য কিছু অবশিষ্ট
রয়েছে। তাদের সম্পর্কে কতই না জঘন্য কাহিনী বর্ণিত আছে? অধিকন্তু, ভবিষ্যতে ইমামিয়াদের মধ্য থেকে আরও নতুন উপদলের
উদ্ভব হওয়া অসম্ভব নয়। আমরা দ্বীন, দুনিয়া এবং আখিরাতে মহান আল্লাহর কাছে নিরাপত্তা প্রার্থনা করছি।
তাঁর
(লেখকের) সম্মানজনক বক্তব্য এবং চমৎকার বাচনভঙ্গি এখানেই শেষ হলো। এটি এমন এক বিস্তারিত আলোচনা যা আপনি অন্য কোনো
কিতাবে পাবেন না এবং অন্য কোনো অধ্যায়েও দেখতে পাবেন না। তাই আপনার পূর্ণ মনোযোগ এর প্রতি নিবদ্ধ করুন এবং আপনার সমগ্র
সত্তা (২) দিয়ে এটি গ্রহণ করুন।
রাফেজীদের ষড়যন্ত্রসমূহ
যেহেতু আমরা দলসমূহের গণনা শেষ করেছি, তাই এখন তাদের কিছু ষড়যন্ত্র নিয়ে আলোচনা শুরু করার সময় এসেছে, যার
মাধ্যমে তারা তাদের বাতিল মতবাদ প্রচার করে এবং আল্লাহর বান্দাদের বিভ্রান্ত করে। এই ষড়যন্ত্রগুলো সংখ্যায় এতই বেশি যে
ইহুদীরা এর দশ ভাগের এক ভাগ সম্পর্কেও অবগত নয়, আর এই কিতাব তা পুরোপুরি আয়ত্ত করার জন্য যথেষ্ট নয়।
প্রথম ষড়যন্ত্র
তাদের অন্যতম ষড়যন্ত্র হলো তারা বলে: আহলে সুন্নাত পবিত্র কুরআনের বিরোধিতা করে। কেননা তারা পা মাসাহ
(হালকাভাবে মোছা) করার পরিবর্তে ধৌত করে, অথচ কুরআন বাহ্যিকভাবে মাসাহ করারই নির্দেশ দেয়। (৩)
এর উত্তর হলো,
ওযুর আয়াতটি কুরআনের অন্যান্য আয়াতের মতোই সাতটি মুতাওয়াতির (সর্বজনস্বীকৃত ও নিরবচ্ছিন্ন) কিরাআতের মাধ্যমে আমাদের
কাছে পৌঁছেছে। এর মধ্যে দুটি কিরাআতের নিরবচ্ছিন্নতা উভয় পক্ষের ঐকমত্যে সাব্যস্ত হয়েছে, বরং সকল মুসলিমের ঐকমত্যে এটি
প্রতিষ্ঠিত। আর তা হলো পা ধোয়া বা 'আরজুলা' শব্দটিতে জবর (নসব) এবং যের (জর) উভয় পড়ার পদ্ধতি। উভয় পক্ষের উসূল বা
মূলনীতিতে এটি প্রমাণিত যে, যদি একই আয়াতে দুটি ভিন্ন কিরাআত পরস্পর বিরোধী মনে হয়, তবে সেগুলো দুটি পৃথক আয়াতের বিধান
রাখে। আর দুটি দলিলের মধ্যে সামঞ্জস্য বিধান করা একটিকে বাতিল করার চেয়ে উত্তম। এখানেও বিষয়টি তদ্রূপ, কারণ আমাদের
নিয়ম অনুযায়ী দুইভাবে এর সামঞ্জস্য করা সম্ভব:
প্রথমত: মাসাহ শব্দটিকে ধোয়ার অর্থে গ্রহণ করা। ভাষাবিদ আবু যায়েদ
আল-আনসারী এবং অন্যান্য ইমামগণ বলেছেন: আরবদের কথাবার্তায় 'মাসাহ' শব্দটি অনেক সময় 'ধোয়া' বা 'গোসল' অর্থে ব্যবহৃত হয়।
যেমন কোনো ব্যক্তি ওযু করলে বলা হয়: সে 'তামাসসাহা' (মাসাহ করেছে)। আবার বলা হয়: 'আল্লাহ তোমার কষ্ট মাসাহ করে দিন'
অর্থাৎ দূর করে দিন। (৪) যদি শিয়ারা বলে: এর ফলে একই শব্দে হাকিকত (প্রকৃত অর্থ) এবং মাজায (রূপক অর্থ) এর সমাবেশ ঘটে,
যা অসম্ভব। (৫) আমরা বলব, এটি অপরিহার্য নয়। কারণ আমরা 'তোমাদের পাগুলো' শব্দের আগেও 'মাসাহ করো' শব্দটি উহ্য ধরব। আর
যখন শব্দ একাধিক হয়, তখন অর্থের একাধিক্য হতে কোনো বাধা নেই। অতএব মাথার সাথে সংশ্লিষ্ট মাসাহ হলো প্রকৃত মাসাহ, আর
পায়ের সাথে সংশ্লিষ্ট মাসাহ হলো রূপক (অর্থাৎ ধৌত করা)।
দ্বিতীয়ত: এখানে 'যের' হওয়াটি হয়েছে 'জার বিল জিওয়ার'
(পাশ্ববর্তী শব্দের প্রভাবে যের হওয়া) এর কারণে, যা পবিত্র কুরআনে অনেক ক্ষেত্রে ঘটেছে। সুতরাং যেরের কিরাআতটিকে জবরের
কিরাআতের অর্থে ব্যাখ্যা করা হবে। সিবওয়াইহ, আখফাশ, আবু আল-বাকা (৬) এবং অন্যান্য বিশেষজ্ঞ ব্যাকরণবিদগণ বিশেষণ এবং
অব্যয়-যুক্ত পদের ক্ষেত্রে প্রতিবেশের প্রভাবে যের হওয়াকে বৈধ বলেছেন। বিশেষণের ক্ষেত্রে যেমন মহান আল্লাহর বাণী:
{ব্যথা দায়ক দিবসের আযাব} এখানে 'আলিমিন' (ব্যথা দায়ক) শব্দটি 'ইয়াওমিন' (দিবস) শব্দের প্রতিবেশী হওয়ার কারণে যের
হয়েছে, যদিও এটি মূলত 'আযাব' শব্দের বিশেষণ।
-----------------------------------
(খণ্ড: ١)
মুখতাসারুত তুহফাহ আল-ইসনা আশারিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ২৬)
للعذاب. (1) وأما العطف فكقوله تعالى: {وَحُورٍ عِينٍ كَأَمْثَالِ اللُّؤْلُؤ الْمَكْنُونِ} على قراءة حمزة والكسائي، فإنه مجرور بمجاورة: {بِأَكْوَابٍ وَأَبَارِيقَ} مع أنه معطوف على: {ولدَانٌ مُخَلَّدُونَ}. (2) وقد وقع هذا الجر في كلام العرب العرباء أيضا، فمن ذلك قول النابغة: (3)
لم يَبقَ غير أسير (4) غَيرِ مُنْفَلِتٍ
… ومُوثَق في حِبالِ القِدّ مَكبولِ
بجر (موثق) و (مكبول) بجوار (منفلت) مع أنهما معطوفان على أسير، فلا يلتفت إلى إنكار الزجاج وقوع جر الجوار في المعطوف. (5)
وقد ذكر الشيعة في الجمع بين القراءتين وجهين أيضا: الأول أن تعطف قراءة النصب على محل رؤوسكم لا على المنصوب السابق لاستلزامه الفصل بين المعطوف والمعطوف عليه بجملة أجنبية، فحينئذ حكم الأرجل حكم الرؤوس المعطوف عليه في المسح، الثاني أن الوارد فيه بمعنى مع، كقولهم «استوى الماء والخشبة». (6)
هذا وفي كلا الوجهين نظر من وجوه: أما الأول فلأن العطف على المحل خلاف الظاهر بإجماع الفريقين، وإن استدلوا على خلاف الظاهر بقراءة الجر فقد سبق وجه رجوعها إلى قراءة النصب، على أنها لا تدل على مدعاهم لوجود احتمال جر الجوار، وأما ثانيا فلأن استلزام الفصل بجملة أجنبية إنما يخل إذا لم تكن جملة {وَامْسَحُوا بِرُءُوسِكُمْ} لها تعلق بما قبلها. وأما إذا قلنا إن المعنى وامسحوا بعد الغسل (برءوسكم)، فلا فصل كما هو مذهب أكثر أهل السنة من جواز المسح ببقية الغسل، ومع ذلك فلم يذهب أحد من أئمة العربية إلى امتناع الفصل بين الجملتين المتعاطفين، بل نقل أبو البقاء إجماع النحاة على جوازه. نعم توسيط الأجنبي في كلام البلغاء لا بد أن يكون لنكتة، وفائدة النكتة ههنا التنبيه على أنه لا ينبغي أن يقتصد في صب الماء على الأرجل وتغسل غسلا يقرب من المسح، وتخصيصها بالتنبيه لكونها مظنة للإسراف، وللإيماء إلى وجوب الترتيب. وأما ثالثا فلأنه لو عطف (وأرجلكم) على محل (برءوسكم)، جاز لنا أن نفهم منه معنى الغسل؛ لأن من القواعد المقررة في العربية أنه إذا اجتمع فعلان متقاربان بحسب المعنى جاز حذف أحدهما وعطف متعلق المحذوف على متعلق المذكور، ومن ذلك قول لبيد بن ربيعة العامري:
-----------------------------------
শাস্তির জন্য। (১) আর সমন্ধসূচক অব্যয় ব্যবহারের উদাহরণ মহান আল্লাহর বাণী: {সুনয়না হুরগণ,
যেন তারা সুরক্ষিত মুক্তো} - হামজা ও কিসাঈর কিরাত অনুযায়ী। এখানে এটি 'পার্শ্ববর্তী শব্দের কারণে জের' (জর
বিল-মুজাওয়ারা) হয়েছে {পেয়ালা ও জগসমূহ}-এর নৈকট্যের কারণে, যদিও এটি {চিরস্থায়ী কিশোরগণ}-এর ওপর সমন্ধযুক্ত (আতফ)।
(২) খাঁটি আরবদের কথাতেও এ ধরনের জেরের প্রয়োগ ঘটেছে। তার একটি উদাহরণ হলো নাবিগার উক্তি: (৩)
বন্দি ছাড়া আর কেউ
অবশিষ্ট নেই (৪) যে মুক্ত হতে পারেনি … এবং চর্মরজ্জুতে দৃঢ়ভাবে আবদ্ধ কয়েদি।
এখানে 'মানফালিত' (منفلت) শব্দের
নৈকট্যের কারণে 'মুওয়াসসাক' (موثق) ও 'মাকবুল' (مكبول) শব্দ দুটিতে জের হয়েছে, যদিও তারা 'আসীর' (أسير) শব্দের সাথে
সমন্ধযুক্ত (মা'তুফ)। অতএব, সমন্ধের ক্ষেত্রে নৈকট্যজনিত জের হওয়াকে আয-যাজ্জাজ যে অস্বীকার করেছেন, তার প্রতি
ভ্রুক্ষেপ করা হবে না। (৫)
শিয়াগণ উভয় কিরাতের মধ্যে সামঞ্জস্য বিধানের ক্ষেত্রে আরও দুটি দিক উল্লেখ করেছেন:
প্রথমত, নসবের কিরাতটি (যবরযুক্ত পাঠ) 'তোমাদের মস্তকসমূহ'-এর পদের অবস্থানের (মাহাল্ল) ওপর সমন্ধযুক্ত হবে,
পূর্ববর্তী মানসুব শব্দের ওপর নয়; কারণ তাতে সমন্ধযুক্ত শব্দ (মা'তুফ) ও যার সাথে সমন্ধ করা হয়েছে (মা'তুফ আলাইহি)-এর
মাঝে একটি বিজাতীয় বাক্য দ্বারা বিচ্ছেদ ঘটে। এমতাবস্থায় পা ধোয়ার বিধানটি মাসেহ করার ক্ষেত্রে 'মা'তুফ আলাইহি' তথা
মস্তকের বিধানের অন্তর্ভুক্ত হবে। দ্বিতীয়ত, এখানে যে 'ওয়াও' এসেছে তা 'সাথিত্ব' (মা'আ) অর্থে ব্যবহৃত হয়েছে, যেমন
তাদের কথা: "পানি ও কাঠ সমান হয়েছে"। (৬)
তবে উভয় মতেরই বিভিন্ন দিক থেকে পর্যালোচনার অবকাশ রয়েছে: প্রথমত, পদের
অবস্থানের (মাহাল্ল) ওপর সমন্ধযুক্ত করা উভয় পক্ষের ঐকমত্য অনুযায়ী প্রকাশ্য অর্থের পরিপন্থী। যদিও তারা এই প্রকাশ্য
অর্থের বিপরীতে জেরের কিরাতের মাধ্যমে দলিল পেশ করেন, কিন্তু তা নসবের কিরাতের দিকে প্রত্যাবর্তনের বিষয়টি আগেই বর্ণিত
হয়েছে। তদুপরি, নৈকট্যজনিত জেরের সম্ভাবনা থাকায় এটি তাদের দাবির সপক্ষে প্রমাণ হয় না। দ্বিতীয়ত, বিজাতীয় বাক্য
দ্বারা বিচ্ছেদ ঘটা তখনই ত্রুটিপূর্ণ হয় যখন 'তোমাদের মস্তক মাসেহ করো' বাক্যটির পূর্ববর্তী অংশের সাথে কোনো সম্পর্ক
না থাকে। কিন্তু আমরা যদি বলি এর অর্থ হলো ধোয়ার পর (তোমাদের মস্তক) মাসেহ করো, তবে এখানে কোনো বিচ্ছেদ নেই; যেমনটি
অধিকাংশ আহলুস সুন্নাহর মাযহাব যে, ধোয়ার অবশিষ্ট পানি দিয়ে মাসেহ করা জায়েজ। তা সত্ত্বেও আরবি ভাষার কোনো ইমামই দুটি
সমন্ধযুক্ত বাক্যের মাঝে বিচ্ছেদকে অসম্ভব বলেননি; বরং আবু আল-বাকা বিচ্ছেদ জায়েজ হওয়ার ব্যাপারে বৈয়াকরণদের ঐকমত্য
বর্ণনা করেছেন। হ্যাঁ, অলঙ্কারবিদদের বক্তব্যে বিজাতীয় শব্দের মধ্যস্থতা অবশ্যই কোনো সূক্ষ্ম রহস্যের (নুকতাহ) কারণে
হয়ে থাকে। আর এখানে সেই রহস্যের উপকারিতা হলো এই বিষয়ে সতর্ক করা যে, পায়ের ওপর পানি ঢালার ক্ষেত্রে মিতব্যয়ী হওয়া
উচিত নয় এবং এমনভাবে ধুতে হবে যা মাসেহ করার কাছাকাছি হয়। আর পা-কে সতর্ক করার জন্য নির্দিষ্ট করার কারণ হলো এখানে
অপচয়ের আশঙ্কা থাকে এবং তারতিব (ধারাবাহিকতা) ওয়াজিব হওয়ার দিকে ইঙ্গিত করা। তৃতীয়ত, যদি 'তোমাদের পা'-কে 'তোমাদের
মস্তক'-এর পদের অবস্থানের (মাহাল্ল) ওপর সমন্ধযুক্ত করা হয়, তবে তার দ্বারা 'ধোয়া' (গুসল) অর্থ গ্রহণ করা আমাদের জন্য
বৈধ হবে; কারণ আরবি ভাষার সুপ্রতিষ্ঠিত নিয়ম হলো, যখন অর্থগতভাবে কাছাকাছি দুটি ক্রিয়া একত্রিত হয়, তখন একটিকে বিলুপ্ত
করা এবং বিলুপ্ত ক্রিয়ার সংশ্লিষ্ট শব্দকে উল্লিখিত ক্রিয়ার সংশ্লিষ্ট শব্দের ওপর সমন্ধযুক্ত করা জায়েজ। এর উদাহরণ হলো
লাবীদ ইবনে রাবিআ আল-আমিরীর উক্তি:
-----------------------------------
(খণ্ড: ١)
মুখতাসারুত তুহফাহ আল-ইসনা আশারিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ২৭)
فَعَلا فُرُوعُ الأيْهُقَانِ وَأطْفَلَتْ
… بالجَلهَتين ظِبَاؤهَا ونَعَامُهَا
أي وباضت نعامها، فإن النعام لا تلد بل تبيض، إذ هي من الطيور وهي لا تلد إلا الخفاش.
ومنه قول الآخر: (1)
إذا ما الغانيات برزن يوما وزَجِّجْنَ الْحَوَاجِبَ والْعُيُونا
أي وكحلن العيون. ومنه قول الآخر: (2)
تَراهُ كأنَّ اللهَ يَجدَعُ أنفَه
… وعَينَيهِ إِنْ مولاهُ ثابَ له وَفْرُ
ومنه قول الأعرابي: علفتها تبنا وماء باردا، أي وسقيتها. (3)
وأما رابعا: فلأن حمل الواو على معنى مع بدون قرينة لا يجوز، ولا قرينة ههنا، بل القرينة على خلافه لما تبين من وجوه التطبيق.
هذا ولما حصل الجمع بين الفريقين ولزم الترجيح رجع المحققون إلى سنة خير الورى صلى الله عليه وسلم إذ هي المبينة لمعاني القرآن المجيد، وهذه واقعة جلية فقد كان عليه الصلاة والسلام يتوضأ في اليوم والليلة خمس مرات على رؤوس الأشهاد لأجل التعليم، ولم يروِ أحد - ولو بطريق الآحاد - أنه عليه الصلاة والسلام مسح الرجلين، وقد روى الجميع غسلها بروايات متواترة، وقد اعترف بذلك الشيعة إلا أنهم يقولون قد روي لنا المسح عن الأئمة، وما روى أهل السنة الغسل عن أولئك محمول على التقية. هذا مع أن روايات غسل الرجلين عن الأئمة ثابتة في كتب الإمامية الصحيحة المعتبرة بحيث لا مجال للتقية فيها، فرواية الغسل متفق عليها ورواية المسح مختلف فيها عند الشيعة مع قطع النظر عن أهل السنة، فإن بعضهم قد روى تلك الرواية وبعضهم لم يروها، وفعله عليه الصلاة والسلام سالم عن المعارض عند الفريقين؛ لأنه لم يروِ أحد المسح عنه عليه الصلاة والسلام، وظاهر أن فهم معاني القرآن كما هو مراد الله تعالى لم يكن لغير الرسول صلى الله عليه وسلم ففهمنا حينئذ مطابق لفهمه عليه الصلاة والسلام.
ولنذكر ما روي في كتبهم من روايات غسل الرجلين التي لم يصل أحد منهم للطعن فيها:
فقد روى العياشي عن علي بن أبي حمزة قال: «سألت أبا إبراهيم (4) عن القدمين، فقال
-----------------------------------
আইহুকান উদ্ভিদের শাখাগুলো উপরে উঠল এবং উপত্যকার দুই পাশে হরিণগুলো শাবক প্রসব করল আর
উটপাখিগুলো (ডিম পাড়ল)।
অর্থাৎ, এর উটপাখিগুলো ডিম পেড়েছে। কেননা উটপাখি সন্তান প্রসব করে না বরং ডিম পাড়ে; কারণ
এটি পাখিকুলের অন্তর্ভুক্ত, আর বাদুড় ছাড়া অন্য কোনো পাখি সরাসরি সন্তান প্রসব করে না।
অনুরূপভাবে অন্য এক কবির
উক্তি: (১)
যখন সুন্দরী রমণীরা কোনো একদিন বের হয় এবং তাদের ভ্রু যুগলকে চিকন করে ও চোখগুলোকে (সুরমা দেয়)।
অর্থাৎ, চোখগুলোতে সুরমা লাগায়। অনুরূপভাবে অন্য এক কবির উক্তি: (২)
তুমি তাকে এমন দেখবে যেন আল্লাহ তার নাক
কেটে দিচ্ছেন এবং তার চোখকে (উপড়ে ফেলছেন), যদি তার অভিভাবকের কাছে অঢেল সম্পদ ফিরে আসে।
আর এ জাতীয়ই হলো এক
গ্রাম্য আরবের উক্তি: আমি তাকে খড় খাইয়েছি এবং ঠান্ডা পানি (পান করিয়েছি), অর্থাৎ আমি তাকে পানি পান করিয়েছি। (৩)
চতুর্থত: কোনো প্রাসঙ্গিক প্রমাণ (কারিনা) ছাড়া 'ওয়াও' (এবং) অব্যয়কে 'সাথে' (মাআ) অর্থে গ্রহণ করা জায়েজ নয়। আর
এখানে তেমন কোনো প্রমাণ নেই, বরং প্রয়োগের পদ্ধতিগুলো থেকে যা স্পষ্ট হয়েছে তা এর বিপরীত প্রমাণ দেয়।
এমতাবস্থায়
যখন উভয় পক্ষের মতামতের সমাবেশ ঘটল এবং কোনো একটিকে প্রাধান্য দেওয়া আবশ্যক হয়ে পড়ল, তখন গবেষকগণ সৃষ্টির সেরা মানব
রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর সুন্নাহর দিকে প্রত্যাবর্তন করলেন। কেননা সুন্নাহই পবিত্র কুরআনের
মর্মার্থসমূহ ব্যাখ্যা করে। এটি একটি সুস্পষ্ট বিষয় যে, তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) শিক্ষা দেওয়ার
উদ্দেশ্যে সকলের সামনে দিন ও রাতে পাঁচবার ওজু করতেন। অথচ একজনও বর্ণনা করেননি—এমনকি একক বর্ণনার (আহাদ) মাধ্যমেও
নয়—যে তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) পা মাসেহ করেছেন। বরং সকলেই মুতাওয়াতির (নিরবচ্ছিন্ন) বর্ণনার মাধ্যমে
পা ধোয়ার কথা বর্ণনা করেছেন। শিয়ারাও এ বিষয়টি স্বীকার করেছে, তবে তারা বলে যে আমাদের নিকট ইমামদের পক্ষ থেকে মাসেহ
করার বর্ণনা এসেছে, আর আহলে সুন্নাত ইমামদের থেকে ধোয়ার যে বর্ণনা দেয় তা 'তাকিয়া' (কৌশলী সতর্কতা) হিসেবে গণ্য। অথচ
ইমামিয়াদের নির্ভরযোগ্য ও সহীহ কিতাবসমূহে ইমামদের থেকে পা ধোয়ার বর্ণনা এমনভাবে সাব্যস্ত আছে যে সেখানে তাকিয়ার কোনো
সুযোগ নেই। সুতরাং পা ধোয়ার বর্ণনাটি সর্বসম্মত, আর মাসেহ করার বিষয়টি শিয়াদের নিকটও মতপার্থক্যপূর্ণ, আহলে সুন্নাতের
কথা না হয় বাদই দিলাম। কারণ তাদের কেউ কেউ সেটি বর্ণনা করেছেন আবার কেউ কেউ করেননি। আর রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু
আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর আমল উভয় পক্ষের নিকটই বিরোধিতামুক্ত; কারণ কেউ তাঁর থেকে মাসেহ করার কথা বর্ণনা করেনি। এটি
স্পষ্ট যে, আল্লাহর উদ্দেশ্য অনুযায়ী কুরআনের মর্মার্থ বোঝা রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) ব্যতীত
অন্য কারো পক্ষে সম্ভব নয়। সুতরাং আমাদের উপলব্ধি তখন তাঁর (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) উপলব্ধির সাথে
সামঞ্জস্যপূর্ণ হবে।
এখন আমরা তাদের কিতাবসমূহ থেকে পা ধোয়া সম্পর্কিত সেই বর্ণনাগুলো উল্লেখ করব যেগুলোর ওপর
তাদের কেউ আপত্তি করার সাহস পায়নি:
আল-আইয়াশি আলী ইবনে আবি হামজাহ থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: «আমি আবু
ইব্রাহিমকে (৪) দুই পা সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করলাম, তখন তিনি বললেন
-----------------------------------
(খণ্ড: ١)
মুখতাসারুত তুহফাহ আল-ইসনা আশারিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ২৮)
تغسل غسلا». (1)
وروى محمد بن نعمان (2) عن أبي بصير (3) عن أبي عبد الله عليه السلام: «إذا نسيت مسح رأسك حتى تغسل رجليك فامسح رأسك حتى تغسل رجليك، فامسح رأسك ثم اغسل رجليك»، (4) وهذا الحديث أيضا رواه الكليني وأبو جعفر الطوسي بأسانيد صحيحة، ولا يمكن حملها على التقية، إذ المخاطب شيعي خاص.
وروى محمد بن الحسن الصفار (5) عن زيد بن علي عن أبيه عن جده أمير المؤمنين قال: «جلست أتوضأ فأقبل رسول الله صلى الله عليه وسلم فلما غسلت قدمي قال: يا علي خلل بين الأصابع» (6) إلى غير ذلك من الأخبار الثابتة في كتبهم الصحيحة. (7)
وأما ما روي عن عباد بن تميم عن عمه بروايات ضعيفة أنه توضأ ومسح على قدميه فهو شاذ منكر لتفرده ومخالفته للجمهور. (8) وما روي عن أمير المؤمنين أنه مسح وجهه بيديه ومسح على رأسه ورجليه وشرب فضل طهوره قائما وقال، وقال: «إن الناس تزعم أن الشرب قائما لا يجوز وقد رأيت رسول الله صلى الله عليه وسلم صنع ما صنعت فهذا وضوء من لم يُحْدِث»، (9) فلا يجدي للشيعة نفعا ولا يكون لهم به تمسك، لأن الكلام في الوضوء من الحدث لا في مجرد التنظيف بمسح الأطراف.
وبعض الشيعة ادعوا أن المسح مذهب لجمع من الصحابة مثل عبد الله بن عباس وأبي ذر وأنس بن مالك، وهذا كذب مفترى عليهم، فإنه لم يروِ عن أحد منهم بطريق صحيح أنه جوّز المسح إلا عن ابن عباس فإنه قال: «لم نجد في كتاب الله إلا المسح ولكنهم أبوا إلا الغسل»، (10) يعني ظاهر الكتاب يوجب المسح على قراءة الجر التي كانت قراءته، ولكن الرسول صلى الله عليه وسلم وأصحابه لم يعملوا إلا الغسل، فقوله هذا دليل صريح على أن قراءة الجر مؤولة متروكة الظاهر بعمل رسول الله صلى الله عليه وسلم والصحابة - رضي الله تعالى عنهم -، وهكذا كل ما يروونه في هذه المسألة عن أحد أئمة السنة فهو إفك وزور، فقد تبين أن هذا الكيد صار في نحرهم ودل بمخالفتهم النصوص القولية على كفرهم، {وَكَفَى اللهُ المؤْمِنِيَن الْقِتَالَ}، والحمد لله على كل حال، سوى الكفر والضلال.
الثانيةومن مكائدهم أنهم يقولون: إن أهل السنة يشرعون أحكاما من عند أنفسهم، كما جعلوا القياس دليلا شرعيا ويثبتون كثيرا من الأحكام به،
والجواب أن هذا الطعن يعود حينئذ على أهل البيت، فإن الزيدية وأهل السنة يرون القياس عن الأئمة، وقد قال
-----------------------------------
ধৌত করা হবে।» (১)
মুহাম্মদ বিন নুমান (২) আবু বাসিরের (৩) সূত্রে আবু আবদুল্লাহ
(আলাইহিস সালাম) থেকে বর্ণনা করেছেন: «যদি তুমি তোমার পা ধোয়া পর্যন্ত মাথা মসেহ করতে ভুলে যাও, তবে তোমার মাথা মসেহ
করো এবং তারপর পা ধৌত করো», (৪) এই হাদিসটি আল-কুলাইনি এবং আবু জাফর আত-তুসিও সহীহ সনদে বর্ণনা করেছেন। এটি তাকিয়ার
(সতর্কতামূলক আত্মগোপন) ওপর চাপিয়ে দেওয়া সম্ভব নয়, কারণ যাকে সম্বোধন করা হয়েছে তিনি একজন বিশিষ্ট শিয়া ছিলেন।
মুহাম্মদ বিন আল-হাসান আস-সাফফার (৫) যায়েদ বিন আলী থেকে, তিনি তাঁর পিতা থেকে, তিনি তাঁর দাদা আমিরুল মুমিনীন
থেকে বর্ণনা করেন যে তিনি বলেন: «আমি ওজু করতে বসেছিলাম, তখন রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) এগিয়ে
এলেন। আমি যখন আমার পা ধৌত করলাম, তখন তিনি বললেন: হে আলী, আঙুলের ফাঁকে খিলাল করো» (৬) এটি এবং তাদের সহীহ কিতাবসমূহে
সাব্যস্ত অন্যান্য বর্ণনা। (৭)
আর আব্বাদ বিন তামীম কর্তৃক তার চাচার সূত্রে দুর্বল বর্ণনায় যা বর্ণিত হয়েছে
যে, তিনি ওজু করেছেন এবং পায়ের ওপর মসেহ করেছেন, তা শায (বিরল) ও মুনকার (পরিত্যক্ত), কারণ এটি একক বর্ণনা এবং জমহুর
(সংখ্যাগরিষ্ঠ) আলিমদের পরিপন্থী। (৮) আর আমিরুল মুমিনীন থেকে যা বর্ণিত হয়েছে যে, তিনি হাত দিয়ে তাঁর মুখ মসেহ
করেছেন এবং মাথা ও পা মসেহ করেছেন এবং ওজুর অবশিষ্ট পানি দাঁড়িয়ে পান করেছেন এবং বলেছেন: «লোকেরা ধারণা করে যে
দাঁড়িয়ে পানি পান করা জায়েজ নয়, অথচ আমি রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-কে তা-ই করতে দেখেছি যা
আমি করলাম। এটি ওই ব্যক্তির ওজু যার পবিত্রতা নষ্ট হয়নি (অর্থাৎ সে ওজু অবস্থাতেই ছিল)», (৯) এটি শিয়াদের জন্য কোনো
উপকারে আসবে না এবং তারা এর মাধ্যমে কোনো প্রমাণ পেশ করতে পারবে না। কারণ আলোচনার বিষয় হলো অপবিত্রতা (হাদাস) থেকে
ওজু করা, শুধু অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ মসেহ করে পরিষ্কার করা নয়।
কিছু শিয়া দাবি করে যে, মসেহ করা আব্দুল্লাহ ইবনে
আব্বাস, আবু যার এবং আনাস বিন মালিকের মতো একদল সাহাবীর মাজহাব (মতাদর্শ)। এটি তাদের ওপর একটি বানোয়াট মিথ্যা। কেননা
সহীহ উপায়ে তাদের কারো থেকে মসেহ জায়েজ হওয়ার কথা বর্ণিত হয়নি, কেবল ইবনে আব্বাস থেকে বর্ণিত হয়েছে যে তিনি
বলেছিলেন: «আমরা আল্লাহর কিতাবে মসেহ ছাড়া আর কিছু পাই না, কিন্তু তারা ধৌত করা ছাড়া সবকিছু অস্বীকার করেছে», (১০)
অর্থাৎ কিতাবের প্রকাশ্য অর্থ 'জার' (জের) কিরাত অনুযায়ী মসেহ করা ওয়াজিব করে, যা ছিল তাঁর কিরাত। কিন্তু
রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) এবং তাঁর সাহাবীগণ ধৌত করা ছাড়া অন্য কিছু আমল করেননি। সুতরাং তাঁর এই
কথাটি একটি স্পষ্ট দলিল যে, 'জার' কিরাতটির প্রকাশ্য অর্থ রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) এবং
সাহাবীগণের (রাদিয়াল্লাহু আনহুম) আমলের মাধ্যমে ব্যাখ্যাকৃত ও পরিত্যক্ত হয়েছে। একইভাবে এই মাসআলায় তারা সুন্নী
ইমামদের থেকে যা কিছু বর্ণনা করে, তা সবই মিথ্যা ও বানোয়াট। সুতরাং এটি স্পষ্ট হলো যে এই চক্রান্ত তাদের নিজেদের
ঘাড়েই ফিরে এসেছে এবং তাদের বক্তব্যগত নসের (অকাট্য বর্ণনা) বিরোধিতা তাদের কুফরির প্রমাণ দিয়েছে। {আর মুমিনদের
যুদ্ধের জন্য আল্লাহই যথেষ্ট}, আর সব অবস্থায় আল্লাহর প্রশংসা, কেবল কুফরি ও গোমরাহি (পথভ্রষ্টতা) ছাড়া।
দ্বিতীয় [বিষয়]
তাদের একটি চক্রান্ত হলো তারা বলে: আহলে সুন্নাত নিজেদের পক্ষ থেকে বিধান প্রণয়ন করে, যেমন তারা কিয়াসকে
(যৌক্তিক অনুমান) শরয়ী দলিল হিসেবে গ্রহণ করেছে এবং এর মাধ্যমে অনেক বিধান সাব্যস্ত করে।
উত্তর হলো, এই অভিযোগ
তখন আহলে বায়তের ওপরই বর্তায়, কারণ যায়দিয়া এবং আহলে সুন্নাত ইমামদের থেকে কিয়াস বর্ণনা করেন। এবং বলা হয়েছে যে—
-----------------------------------
(খণ্ড: ١)
মুখতাসারুত তুহফাহ আল-ইসনা আশারিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ২৯)
أبو نصر هبة الله بن الحسين أحد علماء الإمامية بحجية القياس، وتبعه على ذلك جماعة منهم، وقد ثبت ذلك في كتبهم أيضا بطرق صحيحة.
فمن ذلك ما روى أبو جعفر الطوسي في (التهذيب) عن أبي جعفر محمد بن علي الباقر قال: «جمع عمر بن الخطاب أصحاب النبي صلى الله عليه وسلم فقال: ما تقولون في رجل يأتي أهله ولا ينزل؟ فقالت الأنصار: الماء من الماء، وقال المهاجرون: إذا التقى الختانان فقد وجب الغسل، فقال عمر لعلي رضي الله عنهما: ما تقول يا أبا الحسن؟ فقال: توجبون عليه الجلد ولا توجبون عليه صاعا من الماء؟» (1) فقاس - رضي الله تعالى عنه - ههنا الغسل على الحد بالصراحة. وأجاب بعض علماء الشيعة عن هذا القياس بأن ما قال الأمير ليس بقياس، بل هو استدلال بالأولوية، يقابله في عرف الحنفية (دلالة النص) كدلالة {فَلا تَقُلْ لَهُمَا أُفٍّ} على حرمة الشتم والضرب، وهما سواء في مهمة المجتهد وغيره، وحاصل هذا التقرير أن تأثير المجامعة بلا إنزال لما ثبت في أقوى المشقتين وهو الحد كان ثبوته في أضعفهما وهو الغسل بالطريق الأولى.
وفيه خبط ظاهر لأن المساحقة موجبة للتعزير عند أهل السنة وللحد عند الإمامية، ولا توجب الغسل بالإجماع، وكذا اللواطة إن كانت بطريق الإيلاج فهي موجبة للحد عند بعض أهل السنة والإمامية وموجبة للتعزير عند غيرهم، ولا غسل على مرتكبها عند الإمامية، (2) وكذا المباشرة الفاحشة مع الأجنبية توجب التعزير ولا توجب الغسل بالاتفاق، فلم يثبت تأثير هذه الأمور في الغسل بدلالة النص أصلا فضلا عن الطريق الأولى كما ترى.
وشارح (مبادئ الأصول) (3) مع تشيعه وفرط عناده لأنه ابن المطهر الحلي (4) اعترف بان القياس كان جاريا في زمن الصحابة، وسيجيء إن شاء الله تعالى ذكر إجازة الأئمة كالباقر والصادق وزيد الشهيد أبا حنيفة بالقياس، وأما دلائل تجويز القياس وإبطال قول منكريه فمذكورة في كتب أصول أهل السنة فارجع إليها إن أردت. (5)
الثالثةومن مكائدهم أنهم يقولون: إن مذهب الاثني عشرية حق لأنهم أقل من أهل السنة وأذل منهم قال تعالى: {وَقَلِيلٌ مَا هُمْ} و {وَقَلِيلٌ مِنْ عِبَادِي الشَّكُورُ}. (6)
-----------------------------------
আবু নাসর হিবাতুল্লাহ ইবনুল হুসাইন ইমামিয়া পণ্ডিতদের মধ্যে এমন একজন ছিলেন যিনি কিয়াসের
(কিয়াস) প্রামাণিকতায় বিশ্বাসী ছিলেন এবং তাদের একটি দল তাকে এ বিষয়ে অনুসরণ করেছিল। এটি তাদের কিতাবসমূহে সহিহ সনদেও
প্রমাণিত হয়েছে।
এর মধ্যে একটি বর্ণনা হলো যা আবু জাফর আত-তুসি 'আত-তাহজিব' গ্রন্থে আবু জাফর মুহাম্মদ ইবনে আলী
আল-বাকির থেকে বর্ণনা করেছেন। তিনি বলেন: উমর ইবনুল খাত্তাব নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর সাহাবীদের একত্র
করে বললেন, "আপনারা সেই ব্যক্তি সম্পর্কে কী বলেন যে তার স্ত্রীর সাথে মিলিত হয় কিন্তু বীর্যপাত ঘটায় না?" আনসারগণ
বললেন, "পানি (গোসল) কেবল পানির (বীর্যপাত) কারণেই।" আর মুহাজিরগণ বললেন, "যখন দুটি খাতনা স্থান মিলিত হয়, তখন গোসল
ওয়াজিব হয়ে যায়।" তখন উমর আলীকে (রাদিয়াল্লাহু আনহুমা) জিজ্ঞেস করলেন, "হে আবুল হাসান, আপনি কী বলেন?" তিনি বললেন,
"আপনারা কি তার ওপর হদ বা দোররা (শারীরিক শাস্তি) ওয়াজিব করছেন অথচ এক সা’ পরিমাণ পানি (গোসল) ওয়াজিব করছেন না?" (১)
সুতরাং তিনি (রাদিয়াল্লাহু আনহু) এখানে স্পষ্টভাবে গোসলকে হদ বা শাস্তির ওপর কিয়াস (কিয়াস) করেছেন। শিয়া আলেমদের কেউ
কেউ এই কিয়াসের উত্তরে বলেছেন যে, আমীর (আলী) যা বলেছেন তা কিয়াস নয়, বরং এটি হলো শ্রেষ্ঠত্বের ভিত্তিতে প্রমাণ
উপস্থাপন (ইস্তিদলাল বিল আউলাউইয়াহ)। হানাফি পরিভাষায় এর সমার্থক হলো দাল্লালাতুন নাস (দাল্লালাতুন নাস), যেমন "তাদের
প্রতি উফ শব্দটি বলো না" আয়াতের মাধ্যমে গালি দেওয়া বা মারধর হারাম হওয়া প্রমাণিত হয়। মুজতাহিদ এবং অন্যদের নিকট এ উভয়
বিষয়ই সমান। এই ব্যাখ্যার সারসংক্ষেপ হলো, বীর্যপাতহীন যৌন মিলনের প্রভাব যখন কঠোরতম শাস্তির (হদ) ক্ষেত্রে প্রমাণিত,
তখন সহজতর বিষয় অর্থাৎ গোসলের ক্ষেত্রে তা অগ্রাধিকার (আউলা) ভিত্তিতে প্রমাণিত হবে।
এতে স্পষ্ট বিভ্রান্তি
রয়েছে। কারণ নারীদের সমকামিতা (মুসাহাকাহ) আহলুস সুন্নাহর নিকট তা’জির (লঘু শাস্তি) এবং ইমামিয়াদের নিকট হদ (কঠোর
শাস্তি) সাব্যস্ত করে, অথচ সর্বসম্মতভাবে এটি গোসল ওয়াজিব করে না। একইভাবে পুংমৈথুন (লিওয়াতাহ) যদি প্রবেশের মাধ্যমে
হয়, তবে তা আহলুস সুন্নাহর কারো কারো নিকট এবং ইমামিয়াদের নিকট হদ ওয়াজিব করে এবং অন্যদের নিকট তা’জির ওয়াজিব করে, অথচ
ইমামিয়াদের নিকট এরকারীর ওপর গোসল নেই। (২) অনুরূপভাবে পরনারীর সাথে অশোভন আচরণ বা স্পর্শ (মুবাশারাহ ফাহিশাহ)
সর্বসম্মতিক্রমে তা’জির ওয়াজিব করে কিন্তু গোসল ওয়াজিব করে না। সুতরাং আপনি দেখতে পাচ্ছেন যে, দাল্লালাতুন নাস তো
দূরের কথা, অগ্রাধিকার ভিত্তিতেও গোসলের ক্ষেত্রে এসব বিষয়ের কোনো প্রভাব আদৌ প্রমাণিত নয়।
'মাবাদিউল উসুল'-এর
ব্যাখ্যাকার (৩) কট্টর শিয়া এবং প্রচণ্ড একগুঁয়ে হওয়া সত্ত্বেও—যেহেতু তিনি ইবনে মুতাহার আল-হিল্লির পুত্র
(৪)—স্বীকার করেছেন যে সাহাবীদের যুগে কিয়াস প্রচলিত ছিল। ইনশাআল্লাহ অচিরেই ইমাম বাকির, সাদিক এবং শহীদ যাইদ কর্তৃক
আবু হানিফাকে কিয়াসের অনুমতি প্রদানের বিষয়টি উল্লেখ করা হবে। আর কিয়াস জায়েজ হওয়ার দলিল এবং এর অস্বীকারকারীদের মত
খণ্ডন আহলুস সুন্নাহর উসুল বিষয়ক কিতাবসমূহে বর্ণিত হয়েছে; আপনি চাইলে সেখানে দেখে নিতে পারেন। (৫)
তৃতীয়
তাদের একটি কৌশল হলো তারা বলে: ইসনা আশারিয়া মাযহাবই সত্য, কারণ তারা আহলুস সুন্নাহর তুলনায় সংখ্যায় কম এবং
দুর্বল। আল্লাহ তাআলা বলেছেন: "এবং তারা সংখ্যায় অতি নগণ্য" এবং "আমার বান্দাদের মধ্যে অল্প সংখ্যকই শোকরগুজার।" (৬)
-----------------------------------