(খণ্ড: ১) ফাতহু রাব্বিল বারিয়্যাহ ফী শারহি নাজমিল আজুররুমিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: -)
فتح رب البرية في شرح نظم الآجرومية   (أحمد بن عمر الحازمي)

القسم: النحو والصرف


الكتاب: فتح رب البرية في شرح نظم الآجرومية (نظم الآجرومية لمحمد بن أبَّ القلاوي الشنقيطي)

المؤلف (مؤلف الشرح): أحمد بن عمر بن مساعد الحازمي

الناشر: مكتبة الأسدي، مكة المكرمة

الطبعة: الأولى، 1431 هـ - 2010 م

عدد الصفحات: 649

[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]

تاريخ النشر بالشاملة: 1 رمضان 1432

সৃষ্টিজগতের রবের পক্ষ থেকে বিজয় (ফাতহু রাব্বিল বারিয়্যাহ), নাযমুল আজরুমিয়্যাহ-এর ব্যাখ্যা   (আহমদ ইবনে উমর আল-হাজমি)

বিভাগ: নাহু ও সরফ


কিতাব: সৃষ্টিজগতের রবের পক্ষ থেকে বিজয় (ফাতহু রাব্বিল বারিয়্যাহ), নাযমুল আজরুমিয়্যাহ-এর ব্যাখ্যা (মুহাম্মদ ইবনে আব্বা আল-কালাওয়ী আশ-শিনকীতি প্রণীত নাযমুল আজরুমিয়্যাহ)

লেখক (ব্যাখ্যাকার): আহমদ ইবনে উমর ইবনে মুসা’ইদ আল-হাজমি

প্রকাশক: মাকতাবাতুল আসাদি, মক্কাতুল মুকাররামাহ

সংস্করণ: প্রথম, ১৪৩১ হিজরী - ২০১০ খ্রিস্টাব্দ

পৃষ্ঠা সংখ্যা: ৬৪৯

[বইটির পৃষ্ঠা নম্বর মুদ্রণ কপির সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ]

শামিলা লাইব্রেরিতে প্রকাশের তারিখ: ১ রমজান ১৪৩২

(খণ্ড: ১) ফাতহু রাব্বিল বারিয়্যাহ ফী শারহি নাজমিল আজুররুমিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: -)
فتح رب البرية في شرح نظم الآجرومية

للعلامة

محمد بن أبَّ القلاوي الشنقيطي

 

شرح فضيلة الشيخ

أحمد بن عمر الحازمي
নাযমুল আজরুমিয়্যাহ-এর ব্যাখ্যায় সৃষ্টিজগতের প্রতিপালকের বিজয়

আল্লামা

মুহাম্মাদ বিন আব্বা আল-কালাওয়ী আশ-শানকীতী

 

ফজিলতুশ শায়খের ব্যাখ্যা

আহমাদ বিন উমার আল-হাযিমী
(খণ্ড: ১) ফাতহু রাব্বিল বারিয়্যাহ ফী শারহি নাজমিল আজুররুমিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ২)
بسم الله الرحمن الرحيم

 

إنَّ الحمد لله، نحمده، ونستعينه، ونستغفره، ونعوذ بالله من شرور أنفسنا، ومن سيئات أعمالنا، من يهده الله فلا مضل له، ومن يضلل فلا هادي له، وأشهد أن لا إله إلا الله وحده لا شريك له. وأشهد أن محمدًا عبدُه ورسولُه صلَّى الله وسلَّم عليه وعلى آله وصحبه أجمعين.

أما بعد: فهذا شرحٌ وجيز، وبيانٌ عزيز، لألفاظ نظم الآجرومية، للعلامة محمد بن آبَّ القلاوي التواتي، في علم النحو، يحل عباراتها، ويظهر معانيها، ويكشف أسرارها، ويوضح شواهدها، كان أصله دروسًا ألقيتُها في المسجد، فسُجِّلتْ ثم فُرِّغتْ، فرَغِب الطلبة في مراجعتها، وتنقيحها، فأجبتهم إلى ما رغبوه، فحررت منه ما استطعت، فزدت فيه وحذفت، حتى جاء شرحًا تقَرُّ به عين كل ناظر، يجد فيه بغيته المبتدي، ولا يستغني عن فوائده المنتهي، سميته (فَتْحَ رَبِّ البَرِية بِشَرْحِ نَظْمِ الآجُرُّومِيَّة).

واللهَ أسأل أن يجعل أعمالنا خالصة لوجهه الكريم، وأن يرزقنا العلم النافع والعمل الصالح إنه سميع قريب.
পরম করুণাময় অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে।

 

নিশ্চয়ই সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর জন্য, আমরা তাঁরই প্রশংসা করি, তাঁরই কাছে সাহায্য প্রার্থনা করি এবং তাঁরই নিকট ক্ষমা চাই। আমরা আমাদের নফস বা প্রবৃত্তির অনিষ্টতা এবং আমাদের মন্দ আমলসমূহ হতে আল্লাহর নিকট আশ্রয় প্রার্থনা করি। আল্লাহ যাকে পথপ্রদর্শন করেন তাকে পথভ্রষ্ট করার কেউ নেই, আর যাকে তিনি পথভ্রষ্ট করেন তাকে পথপ্রদর্শন করার কেউ নেই। আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, আল্লাহ ব্যতীত কোনো সত্য উপাস্য নেই, তিনি একক, তাঁর কোনো শরিক নেই। আমি আরও সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, মুহাম্মদ আল্লাহর বান্দা ও তাঁর রাসূল। আল্লাহ তাঁর ওপর, তাঁর পরিবারবর্গ ও সকল সাহাবীর ওপর দরুদ ও সালাম বর্ষণ করুন।

অতঃপর: এটি নাহু শাস্ত্রের পণ্ডিত আল্লামা মুহাম্মদ ইবনে আব্বা আল-কালাউয়ি আত-তুয়াতি রচিত 'নাযমে আজরুমিয়্যাহ'-এর শব্দাবলির একটি সংক্ষিপ্ত ব্যাখ্যা ও মূল্যবান বর্ণনা। এটি এর বাক্যগুলোর জটিলতা নিরসন করে, অর্থসমূহ ফুটিয়ে তোলে, এর রহস্যসমূহ উন্মোচন করে এবং এর উপমা ও প্রমাণাদি স্পষ্ট করে। এটি মূলত মসজিদে প্রদত্ত কিছু দরস (পাঠদান) ছিল, যা রেকর্ড করা হয় এবং পরবর্তীতে লিপিবব্ধ করা হয়। এরপর শিক্ষার্থীরা তা পুনঃনিরীক্ষণ ও পরিমার্জনের আগ্রহ প্রকাশ করলে আমি তাদের সেই আহ্বানে সাড়া দিই। আমি আমার সামর্থ্য অনুযায়ী এটি সম্পাদনা করেছি, এতে কিছু সংযোজন ও বিয়োজন করেছি, অবশেষে এটি এমন এক ব্যাখ্যাগ্রন্থে রূপ নিয়েছে যা প্রতিটি পাঠকের চক্ষুকে শীতল করবে। এতে নতুন শিক্ষার্থী তার কাঙ্ক্ষিত বিষয় খুঁজে পাবে এবং উচ্চতর শিক্ষার্থীও এর উপকারিতা থেকে বিমুখ হতে পারবে না। আমি এর নামকরণ করেছি 'ফাতহু রাব্বিল বারিয়্যাহ বি-শারহি নাযমিল আজরুমিয়্যাহ'।

আমি আল্লাহর নিকট প্রার্থনা করি তিনি যেন আমাদের এই আমলসমূহকে কেবল তাঁর মহান সত্তার সন্তুষ্টির জন্য কবুল করেন এবং আমাদের উপকারী জ্ঞান ও নেক আমল দান করেন। নিশ্চয়ই তিনি শ্রবণকারী ও অতি নিকটবর্তী।
(খণ্ড: ১) ফাতহু রাব্বিল বারিয়্যাহ ফী শারহি নাজমিল আজুররুমিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ৩)
مسألة

لابُدَّ لكل شارع في فن من الفنون أن يتصوره قبل الشروع فيه؛ ليكون على بصيرة فيه؛ وإلا صار كمَن ركب متنَ عمياء، وخبَطَ خبْطَ ناقةٍ عشواء، ويحصل التصور المطلوب بالوقوف على المبادئ العشرة التي جمعها الناظم محمد بن علي الصبان عليه رحمة الله في قوله:

إِنَّ مَبادِئ كُلِّ … فَنٍّ عَشَرَه … الحَدُّ وَالموضُوعُ ثُمَّ الثَّمَرَه

وَنِسْبَةٌ وَفَضْلُهُ وَالوَاضِعْ … وَالاِسْمُ الِاسْتِمْدَادُ حُكْمُ الشَّارِعْ

مَسَائِلٌ والبَعْضُ بِالبَعْضِ اكْتَفَى … وَمَنْ دَرَى الجَمِيعَ حَازَ الشَّرَفَا

فنقول: النحو له معنيان معنىً لغوي، ومعنىً اصطلاحي، وهو من جهة اللفظ مصدرٌ على وزن فَعْلٍ بمعنى اسم المفعول أي المَنْحُوٌّ، من إطلاق المصدر وإرادة اسم المفعول، وهذا مجازٌ مرسلٌ عندهم، والأصل في إطلاق النحو في لغة العرب بمعنى القصد، فسمي هذا العلم نحوًا لأنه مقصود، لأن النحو بمعنى القصد، ويأتي على ستِّ معاني وهي أشهرها:

قَصْدٌ وَمِثْلٌ جِهَةٌ مِقْدَارُ … قَسْمٌ وَبَعْضٌ قَالَهُ الأَخْيَارُ

أما في الاصطلاح: فهو علم بأصول يعرف بها أحوال أواخر الكلم إعرابًا وبناءًا.

موضوع علم النحو: الكلمات العربية من حيث البناء والإعراب.
মাসআলা

যেকোনো বিদ্যায় প্রারম্ভকারীর জন্য তাতে প্রবেশের পূর্বে তার একটি সাধারণ ধারণা লাভ করা জরুরি; যাতে সে প্রজ্ঞার সাথে তাতে অগ্রসর হতে পারে। অন্যথায় সে এমন ব্যক্তির মতো হবে যে অন্ধ সওয়ারিতে আরোহণ করেছে এবং লক্ষ্যহীন উটের মতো এলোমেলো হাতড়াচ্ছে। আর কাঙ্ক্ষিত ধারণাটি সেই দশটি মূলনীতি অবগত হওয়ার মাধ্যমে অর্জিত হয়, যা পদ্যকার মুহাম্মদ বিন আলী আস-সাব্বান (রহমাতুল্লাহি আলাইহি) তাঁর এই বাণীতে একত্রিত করেছেন:

নিশ্চয়ই প্রতিটি … বিদ্যার মূলনীতি দশটি … সংজ্ঞা, আলোচ্য বিষয়, অতঃপর এর ফল।

এর সম্বন্ধ, শ্রেষ্ঠত্ব এবং এর প্রবর্তক … নাম, উৎস এবং শরয়ী বিধান।

এর মাসআলাসমূহ; কেউ কেউ আংশিক আলোচনা করে ক্ষান্ত হয়েছেন … আর যে ব্যক্তি সবকটি জানবে সে সম্মান লাভ করবে।

আমরা বলি: 'নাহু' শব্দের দুটি অর্থ রয়েছে—আভিধানিক অর্থ এবং পারিভাষিক অর্থ। শব্দগত দিক থেকে এটি 'ফাল' এর ওজনে একটি মাসদার বা ক্রিয়ামূল, যা এখানে কর্মবাচক বিশেষ্য বা ইসমে মাফউল অর্থাৎ 'উদ্দিষ্ট' অর্থে ব্যবহৃত হয়েছে। এটি ক্রিয়ামূল ব্যবহারের মাধ্যমে কর্মবাচক বিশেষ্য উদ্দেশ্য করার একটি উদাহরণ, যা অলঙ্কারশাস্ত্রে তাদের নিকট 'মাজাযে মুরসাল' হিসেবে গণ্য। আরবদের ভাষায় 'নাহু' শব্দের মূল অর্থ হলো 'উদ্দেশ্য করা'। এই শাস্ত্রকে 'নাহু' নামকরণ করা হয়েছে কারণ এটি একটি উদ্দিষ্ট বিষয়, কেননা 'নাহু' মানেই হলো উদ্দেশ্য করা। এটি ছয়টি অর্থে ব্যবহৃত হয়, যার মধ্যে সবচেয়ে প্রসিদ্ধগুলো হলো:

উদ্দেশ্য, সদৃশ, দিক, পরিমাণ … প্রকার এবং অংশ—উত্তম ব্যক্তিগণ তা বলেছেন।

আর পরিভাষায়: এটি এমন কিছু মূলনীতির জ্ঞান, যার মাধ্যমে আরবি শব্দের শেষভাগের অবস্থা জানা যায়—ইরাব বা রূপান্তর এবং বিনা বা অপরিবর্তনীয়তার দিক থেকে।

নাহু শাস্ত্রের আলোচ্য বিষয়: আরবি শব্দসমূহ—সেগুলোর রূপান্তর ও অপরিবর্তনীয়তার প্রেক্ষিত থেকে।
(খণ্ড: ১) ফাতহু রাব্বিল বারিয়্যাহ ফী শারহি নাজমিল আজুররুমিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ৪)
ثمرة علم النحو وفائدته: أنه مفتاحٌ لفهم الشريعة، وأما صيانة اللسان عن الخطأ في الكلام فهذه ثمرة فرعية، ولا ينبغي لطالب العلم أن يجعل غايته صيانة اللسان عن الخطأ في الكلام، وإنما يكون هذا تبعًا، والأصل أن يكون علم النحو مفتاحًا للشريعة وينوي طالب العلم ذلك حتى يؤجر، لأن هذا العلم ليس من المقاصد وإنما هو علم آلة، ووسيلة والوسائل لها أحكام المقاصد.

حكمه: فرضُ كفاية، وقيل: فرض عين على من أراد علم التفسير، ونقل السيوطيُّ رحمه الله الإجماعَ على أنه لا يجوز لأحدٍ أن يتكلم في التفسير إلا إذا كان مليًّا باللغة العربية، وليس النحو فحسب، ولذلك من شروط المفسر كما هو مذكور في موضعه أن يكون عالمًا بلغة العرب.

نسبته إلى سائر الفنون: التباين، فهو مخالف لعلم الأصول، ولعلم الحديث، ولسائر العلوم، وقد يشترك مع بعضها.

مسائله: هي أبوابه التي ستذكر فيما بعد في ضمن النظم.

والواضع: هو أبو الأسود الدؤلي، وقيل: علي رضي الله عنه. وقيل: أبو الأسود بأمر علي رضي الله عنه. فنشرع في المقصود وبالله التوفيق، قال الناظم رحمه الله تعالى:

بسم الله الرحمن الرحيم

قَالَ ابْنُ آبَّ وَاسْمُهُ مُحَمَّدُ … اللهَ فِي كُلِّ الأُمُورِ أَحْمَدُ

مُصَلِّيًا عَلَى الرَّسُولِ المُنْتَقَى … وَآلِهِ وَصَحْبِهِ ذَوِي التُّقَى
নাহু শাস্ত্রের ফল ও এর উপকারিতা: এটি শরীয়ত বোঝার চাবিকাঠি। আর কথাবার্তায় ভুল থেকে জিহ্বাকে রক্ষা করা হলো একটি গৌণ ফল। ইলম অন্বেষণকারীর জন্য উচিত নয় যে তিনি কেবল কথা বলায় ভুল সংশোধন করাকেই তাঁর মূল লক্ষ্য নির্ধারণ করবেন; বরং এটি অনুগামী বিষয় হওয়া উচিত। মূল উদ্দেশ্য হওয়া উচিত নাহু শাস্ত্রকে শরীয়ত বোঝার চাবিকাঠি বানানো এবং ইলম অন্বেষণকারী এই নিয়ত করবেন যেন তিনি সওয়াব লাভ করেন। কারণ এই শাস্ত্রটি স্বতন্ত্র লক্ষ্য নয়, বরং এটি একটি মাধ্যম বা উপকরণ সংশ্লিষ্ট বিদ্যা (ইলমে আলা); আর মাধ্যমের বিধানগুলো লক্ষ্যের বিধানের মতোই হয়ে থাকে।

এর বিধান: এটি ফরজে কিফায়া। তবে বলা হয়েছে যে, যারা তাফসির শাস্ত্র অর্জন করতে চায় তাদের জন্য এটি ফরজে আইন। ইমাম সুয়ূতী (রাহিমাহুল্লাহ) এ বিষয়ে ইজমা বা ঐকমত্য বর্ণনা করেছেন যে, আরবি ভাষায় পূর্ণ পারদর্শী না হওয়া পর্যন্ত কারও পক্ষে তাফসির নিয়ে কথা বলা জায়েজ নয়; আর এটি কেবল নাহু শাস্ত্রের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়। এজন্য মুফাসসির হওয়ার শর্তাবলির মধ্যে—যেমনটি তার নিজ স্থানে বর্ণিত হয়েছে—অন্যতম হলো তাকে আরবি ভাষা সম্পর্কে প্রাজ্ঞ হতে হবে।

অন্যান্য শাস্ত্রের সাথে এর সম্পর্ক: এটি স্বতন্ত্র বা বৈসাদৃশ্যপূর্ণ। তাই এটি উসুল শাস্ত্র, হাদিস শাস্ত্র এবং অন্যান্য সকল শাস্ত্র থেকে ভিন্ন, তবে কোনো কোনো ক্ষেত্রে এগুলোর সাথে এর সংশ্লিষ্টতা থাকতে পারে।

এর আলোচ্য বিষয়সমূহ: এগুলো হলো সেই সকল অধ্যায় যা সামনে কাব্যিক ছন্দের মধ্যে উল্লেখ করা হবে।

এর প্রবর্তক: তিনি হলেন আবুল আসওয়াদ আদ-দুয়ালী। আবার বলা হয়: আলী (রাদিয়াল্লাহু আনহু)। আবার এও বলা হয় যে, আলী (রাদিয়াল্লাহু আনহু)-এর নির্দেশে আবুল আসওয়াদ এটি প্রবর্তন করেন। এখন আমরা মূল বিষয়ের দিকে অগ্রসর হচ্ছি এবং আল্লাহর কাছেই তাওফিক কামনা করি। কবি (রাহিমাহুল্লাহ) বলেছেন:

পরম করুণাময় অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে

ইবনে আব্বা—যাঁর নাম মুহাম্মদ—বলেন … আমি সকল বিষয়ে আল্লাহর প্রশংসা করি।

দরুদ পাঠ করছি মনোনীত রাসূলের ওপর … এবং তাঁর পরিবারবর্গ ও তাকওয়াবান সাহাবীগণের ওপর।
(খণ্ড: ১) ফাতহু রাব্বিল বারিয়্যাহ ফী শারহি নাজমিল আজুররুমিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ৫)
وَبَعْدُ فَالقَصْدُ بِذَا المَنْظُومِ … تَسْهِيلُ مَنْثُورِ ابْنِ آجُرُّومِ

لِمَنْ أَرَادَ حِفْظَهُ وَعَسُرَا … عَلَيْهِ أَنْ يَحْفَظَ مَا قَدْ نُثِرَا

واللهَ أَسْتَعِينُ فِي كُلِّ عَمَلْ … إِلَيْهِ قَصْدِي وَعَلَيْهِ المُتَّكَلْ

بدأ الناظم على عادة أهل العلم بما استقر في عرفهم بالبسملة وهي [بِسْمِ اللهِ الرَّحْمَنِ الرَّحِيمِ] وذلك لأمور:

أولاً: اقتداءًا بالكتاب العزيز؛ حيث بدأ ببسم الله الرحمن الرحيم الحمد لله رب العالمين.

ثانيًا: اقتداءًا وتأسيًا بالسنة الفعلية؛ حيث كان النبيُّ صلى الله عليه وسلم إذا كتب كتابًا ما قال: بِسْمِ اللهِ الرَّحْمَنِ الرَّحِيمِ من محمد بن عبد الله إلى هرقل عظيم الروم، كما في صحيح البخاري رحمه الله تعالى.

ثالثًا: التبرك بالبسملة؛ لأنَّ الباء هنا للاستعانة أو للمصاحبة على وجه التبرك، والمعنى بسم الله الرحمن الرحيم حالة كوني مستعينًا وطالبًا التوفيق والإعانة من الله عز وجل على ما جعل البسملة مبدءًا له.

رابعًا: اقتداءًا بالأئمة المصنفين، قال الحافظ ابن حجر- رحمه الله: وقد استقر عمل الأئمة المصنفين على أن يفتتحوا كتبَ العلم بالتسمية وكذا معظم كتب الرسائل.
অতঃপর এই কাব্য রচনার উদ্দেশ্য হলো … ইবনে আজুররুমের গদ্যকে সহজ করা

সেই ব্যক্তির জন্য যে এটি মুখস্থ করতে চায় কিন্তু তার জন্য কঠিন হয়ে পড়েছে … সেই গদ্য মুখস্থ করা যা ইতিপূর্বে রচিত হয়েছে

আমি প্রতিটি কাজে আল্লাহর সাহায্য প্রার্থনা করি … তাঁরই অভিমুখে আমার যাত্রা এবং তাঁর ওপরই আমার নির্ভরতা

রচয়িতা আলেমগণের অনুসৃত প্রথা অনুযায়ী বিসমিল্লাহ [পরম করুণাময় দয়ালু আল্লাহর নামে] দিয়ে শুরু করেছেন, আর তা কয়েকটি কারণে:

প্রথমত: মহান কিতাবের অনুকরণে; যেহেতু তা পরম করুণাময় দয়ালু আল্লাহর নামে, সমস্ত প্রশংসা বিশ্বজগতের প্রতিপালক আল্লাহর জন্য—দিয়ে শুরু হয়েছে।

দ্বিতীয়ত: কর্মগত সুন্নাহর অনুসরণ ও অনুকরণের মাধ্যমে; কেননা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম যখন কোনো পত্র লিখতেন তখন বলতেন: পরম করুণাময় দয়ালু আল্লাহর নামে, মুহাম্মাদ ইবনে আব্দুল্লাহর পক্ষ থেকে রোম সম্রাট হিরাক্লিয়াসের প্রতি, যেমনটি ইমাম বুখারী (আল্লাহ তায়ালা তাঁর প্রতি রহম করুন) তাঁর সহীহ গ্রন্থে উল্লেখ করেছেন।

তৃতীয়ত: বিসমিল্লাহর মাধ্যমে বরকত হাসিল করা; কেননা এখানে 'বা' অক্ষরটি সাহায্য প্রার্থনা বা বরকতের জন্য সাথে রাখা অর্থে ব্যবহৃত হয়েছে। এর মর্মার্থ হলো: যে বিষয়ের প্রারম্ভে বিসমিল্লাহ পাঠ করা হচ্ছে, সেই বিষয়ে মহান আল্লাহর নিকট তাওফিক ও সাহায্য প্রার্থনা করা অবস্থায় আমি পরম করুণাময় দয়ালু আল্লাহর নামে শুরু করছি।

চতুর্থত: লেখক ইমামগণের অনুসরণ করে। হাফেজ ইবনে হাজার (আল্লাহ তাঁর প্রতি রহম করুন) বলেছেন: বিজ্ঞ লেখক ইমামগণের কর্মপদ্ধতি এভাবেই সুপ্রতিষ্ঠিত হয়েছে যে, তারা তাদের ইলমি কিতাবসমূহ এবং অধিকাংশ চিঠিপত্র বিসমিল্লাহর মাধ্যমে শুরু করতেন।
(খণ্ড: ১) ফাতহু রাব্বিল বারিয়্যাহ ফী শারহি নাজমিল আজুররুমিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ৬)
وأما استدلال بعضهم بحديث «كل أمر ذي بال لا يبدأ فيه ببسم الله الرحمن الرحيم فهو أبتر أو أجذم أو أقطع» فهذه الروايات كلها ضعيفة. ومثلها ما جاء في الحمدلة.

[بِسْمِ اللهِ الرَّحْمَنِ الرَّحِيمِ] هنا الناظم رحمه الله بدأ نظمه بالبسملة، وإذا استقر عمل أئمة التصنيف على ابتداء كتبهم بالبسملة فهل المراد بها المنثورات دون المنظومات؟ وهل المنظوم الذي هو الشعر كالمنثور؟ نقول: أما ما كان من المنظومات العلمية التي ضمَّنها أهل العلم مسائل العلم؛ منظومةً على بحر الرجز أو غيره فهذه باتفاق العلماء يستحب البداءة فيها بالتسمية. وما عدا ذلك ففيه قولان لأهل العلم: قولٌ بالمنع. وقولٌ بالجواز. فالأول: روي عن الشعبي أنه قال: أجمعوا أن لا يكتبوا أمام الشعر بسم الله الرحمن الرحيم. وروي عن الزهري أنه قال: مضت السنة أن لا يكتب في الشعر بسم الله الرحمن الرحيم. والثاني: قول جمهور أهل العلم تبعًا لما نقل عن سعيد بن جبير وأبي بكر الخطيب -رحمهما الله- لأن الجواز هو الأصل. فالأصل استحباب البداءة بالبسملة في كل أمر مباح. وما عدا المنظومات العلمية فتأخذ حكمه، فما كان من الشعر محرمًا فالتسمية حرام؛ لذلك أجمعوا على أنه لا يحل لمن شرب مسكرًا أن يقول: بسم الله الرحمن الرحيم. بل يعتبر في بعض المذاهب أنه قد كفر وارتد لأنه مستهزئ بالله. وما كان مكروهًا من الشعر كالغزل ونحوه يكره فيه البداءة بالتسمية، وما عدا ذلك فالأصل أنه مباح والتسمية تكون حينئذٍ مباحةً؛ لأن الأصل بقاء ما
আর কারও কারও এই হাদিস দ্বারা দলিল পেশ করা যে, "যে কোনো গুরুত্বপূর্ণ কাজ যা 'বিসমিল্লাহির রহমানির রহিম' দ্বারা শুরু করা হয় না, তা লেজকাটা বা হাতকাটা বা ছিন্ন", এই বর্ণনাগুলোর সবগুলোই দুর্বল। আর একই হুকুম ঐ বর্ণনার ক্ষেত্রেও যা হামদ (আলহামদুলিল্লাহ) সম্পর্কে এসেছে।

[পরম করুণাময় দয়ালু আল্লাহর নামে] এখানে নাযিম (কবিতা রচয়িতা) -আল্লাহ তাঁর প্রতি রহম করুন- তাঁর কাব্যটি বিসমিল্লাহ দ্বারা শুরু করেছেন। এবং যদি গ্রন্থ রচয়িতা ইমামদের কর্মপন্থা তাঁদের গ্রন্থসমূহ বিসমিল্লাহ দ্বারা শুরু করার ওপর প্রতিষ্ঠিত হয়ে থাকে, তবে এর দ্বারা কি গদ্য উদ্দেশ্য, পদ্য বা কবিতা নয়? এবং পদ্য যা কবিতা, তা কি গদ্যের মতো? আমরা বলি: ইলমি পদ্যসমূহ যাতে ইলমের ধারকগণ ইলমি মাসয়ালাসমূহ অন্তর্ভুক্ত করেছেন; চাই তা রাজায ছন্দে হোক বা অন্য কোনো ছন্দে, এই বিষয়গুলোতে আলেমদের ঐকমত্যে শুরুতে তাসমিয়া (বিসমিল্লাহ) পাঠ করা মুস্তাহাব। আর এ ছাড়া অন্য কবিতাগুলোর ক্ষেত্রে আলেমদের দুটি মত রয়েছে: একটি হলো নিষেধের মত, আর অন্যটি হলো বৈধতার মত। প্রথম মতটি: শা'বি থেকে বর্ণিত হয়েছে যে তিনি বলেন: "তারা এ বিষয়ে একমত হয়েছেন যে তারা কবিতার শুরুতে বিসমিল্লাহির রহমানির রহিম লিখতেন না।" এবং যুহরি থেকে বর্ণিত যে তিনি বলেন: "সুন্নাহ এভাবেই চলে আসছে যে কবিতার শুরুতে বিসমিল্লাহির রহমানির রহিম লেখা হয় না।" আর দ্বিতীয় মতটি হলো জমহুর বা অধিকাংশ আলেমের মত, যা সাঈদ ইবনে জুবায়ের এবং আবু বকর আল-খাতিব -আল্লাহ তাঁদের প্রতি রহম করুন- থেকে বর্ণিত বর্ণনার অনুগামী; কারণ বৈধতাই হলো মূল ভিত্তি। সুতরাং মূল নীতি হলো প্রতিটি বৈধ কাজের শুরুতে বিসমিল্লাহ বলা মুস্তাহাব। আর ইলমি পদ্য ব্যতীত অন্যান্য কবিতার ক্ষেত্রেও এই হুকুম প্রযোজ্য হবে; সুতরাং যে কবিতা হারাম, তাতে তাসমিয়া পাঠ করাও হারাম; এজন্যই তারা এ বিষয়ে ঐকমত্য পোষণ করেছেন যে, যে ব্যক্তি মাদক পান করে তার জন্য বিসমিল্লাহির রহমানির রহিম বলা হালাল নয়। বরং কোনো কোনো মাযহাবে তাকে কাফের এবং মুরতাদ হিসেবে গণ্য করা হয়, কারণ সে আল্লাহর সাথে উপহাসকারী। আর যে কবিতা মাকরুহ, যেমন গজল (প্রণয়গাথা) এবং অনুরূপ বিষয়, সেগুলোর শুরুতে তাসমিয়া পাঠ করা মাকরুহ। আর এগুলো ছাড়া বাকি সবগুলোর ক্ষেত্রে মূল হলো সেগুলো মুবাহ এবং এমতাবস্থায় তাসমিয়া পাঠ করাও মুবাহ হবে; কারণ মূল নীতি হলো কোনো বিষয় যেভাবে আছে সেভাবেই থাকা...
(খণ্ড: ১) ফাতহু রাব্বিল বারিয়্যাহ ফী শারহি নাজমিল আজুররুমিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ৭)
كان على ما كان حتى يأتي دليل ينص على أن البسملة حينئذٍ تكون محرمةً فإذا كان مباحاً فالأصل الاستحباب.

[بِسْمِ اللهِ الرَّحْمَنِ الرَّحِيمِ] نقول: [بِسْمِ اللهِ] هذا جار ومجرور، وعند النحاة أن حرف الجر إذا كان حرفًا أصليًا- كما هنا على الصحيح - فلابد أن يكون متعلِّقًا بمحذوف، وهذا المحذوف نقدره على الأصح فعلاً لا اسماً، وعامًا لا خاصًا، ومؤخرًا لا مقدَّمًا. [بِسْمِ اللهِ] فالباءُ أصليَّةٌ وقيل: زائدة، والأصحُ أنها أصليَّةٌ، فحينئذٍ تحتاج إلى متعلَّقٍ تتعلق به قال بعضهم:

لابُدَّ لِلجَارِّ مِنَ التَّعلُّقِ … بِفِعْلٍ اوْ مَعْنَاهُ نَحْوُ مُرتَقِي

إذًا لابُدَّ للحرف الجار الأصلي أن يتعلق بفعل أو ما فيه رائحة الفعل، إذًا [بِسْمِ اللهِ] جار ومجرور متعلق بفعل على الأصح وليس اسمًا، وهذا الفعل مؤَخَّرٌ لا مُقدَّمٌ، وهذا الفعل خاصٌّ لا عامٌّ. لماذا كان التقدير فعلاً؟ لأن الأصل في العمل للأفعال، وأيضًا ورد التصريح به في الكتاب والسنة فعلاً؛ قال تعالى: {اقْرَأْ بِاسْمِ رَبِّكَ الَّذِي خَلَقَ} (العلق:1) {بِاسْمِ} هذا جار ومجرور متعلق بقوله: {اقْرَأْ} ، و {اقْرَأْ} هذا فعل. وجاء في الحديث: «باسمك ربي وضعت جنبي» «باسمك» جار ومجرور متعلق بقوله: (وضعت). وهذا الفعل المحذوف الأرجح فيه أن نقدره متأخرًا: بسم الله أؤلف، وإنما يقدر متأخرًا لفائدتين:

الأولى: الاهتمام؛ لأنه لا يتقدم على اسم الله تعالى شيء فيؤخر
এটি আগের অবস্থাতেই থাকবে যতক্ষণ না এমন কোনো প্রমাণ আসে যা নির্দেশ করে যে এমতাবস্থায় বিসমিল্লাহ পাঠ করা নিষিদ্ধ; সুতরাং যদি এটি বৈধ হয়, তবে মূলনীতি হলো এটি পছন্দনীয় (মুস্তাহাব)।

[পরম করুণাময় অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে] আমরা বলি: [আল্লাহর নামে] এটি হচ্ছে 'যার' এবং 'মাজরুর'; আর ব্যাকরণবিদদের নিকট নিয়ম হলো, হরফে যার যদি 'আসলি' (মূল) হয়—যেমনটি এখানে সঠিক মতানুসারে হয়েছে—তবে অবশ্যই একে কোনো উহ্য বিষয়ের সাথে সংশ্লিষ্ট হতে হবে। আর এই উহ্য বিষয়টি অধিকতর সঠিক মতানুসারে একটি ক্রিয়া, বিশেষ্য নয়; এবং এটি বিশেষ, সাধারণ নয়; এবং এটি শেষে অবস্থিত, শুরুতে নয়। [আল্লাহর নামে] এখানে 'বা' অক্ষরটি মূল (আসলি); বলা হয়ে থাকে এটি অতিরিক্ত (যায়েদাহ), তবে অধিকতর সঠিক মত হলো এটি মূল। এমতাবস্থায় এর জন্য এমন একটি সংশ্লিষ্ট বিষয় প্রয়োজন যার সাথে এটি যুক্ত হবে। কেউ কেউ বলেছেন:

অব্যয় (যার)-এর জন্য অবশ্যই সংশ্লিষ্টতা প্রয়োজন … কোনো ক্রিয়া অথবা ক্রিয়ার অর্থ প্রদানকারী শব্দের সাথে, যেমন ‘মুরতাক্বী’ (আরোহণকারী)।

সুতরাং মূল হরফে যার-এর জন্য কোনো ক্রিয়া অথবা এমন কিছুর সাথে সংশ্লিষ্ট হওয়া আবশ্যক যাতে ক্রিয়ার বৈশিষ্ট্য বিদ্যমান। অতএব, [আল্লাহর নামে] এই যার-মাজরুর সঠিক মতানুসারে একটি ক্রিয়ার সাথে সংশ্লিষ্ট, কোনো বিশেষ্যের সাথে নয়। আর এই ক্রিয়াটি শেষে অবস্থিত, শুরুতে নয়; এবং এই ক্রিয়াটি বিশেষ, সাধারণ নয়। কেন উহ্য বিষয়টি ক্রিয়া হিসেবে ধরা হলো? কারণ আমল বা ক্রিয়াশীল হওয়ার ক্ষেত্রে মূল ভিত্তি হলো ক্রিয়া, এবং কুরআন ও সুন্নাহতেও এটি সরাসরি ক্রিয়া হিসেবেই স্পষ্টভাবে বর্ণিত হয়েছে। মহান আল্লাহ বলেন: {পাঠ করুন আপনার পালনকর্তার নামে যিনি সৃষ্টি করেছেন} (আল-আলাক্ব: ১)। এখানে {নামে} হলো যার-মাজরুর যা {পাঠ করুন} শব্দের সাথে সংশ্লিষ্ট, আর {পাঠ করুন} শব্দটি একটি ক্রিয়া। হাদীসেও এসেছে: «আপনার নামে হে আমার প্রতিপালক, আমি আমার পার্শ্বদেশ শায়িত করলাম»। এখানে «আপনার নামে» হলো যার-মাজরুর যা «আমি শায়িত করলাম» কথাটির সাথে সংশ্লিষ্ট। এই উহ্য ক্রিয়াটির ক্ষেত্রে অধিকতর শক্তিশালী মত হলো সেটিকে শেষে ধরা; যেমন: 'আল্লাহর নামে আমি সংকলন করছি'। এটি শেষে ধরার পেছনে দুটি উপকারিতা রয়েছে:

প্রথমটি হলো: গুরুত্ব প্রদান; যেহেতু মহান আল্লাহর নামের অগ্রভাগে কোনো কিছুকে স্থান দেওয়া যায় না, তাই সেটিকে শেষে রাখা হয়।
(খণ্ড: ১) ফাতহু রাব্বিল বারিয়্যাহ ফী শারহি নাজমিল আজুররুমিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ৮)
لذلك، أما إذا قلت: أؤلف بسم الله فقد قدمت على لفظ الجلالة غيره، فحينئذٍ كان فيه فائدة الاهتمام، وأما تقديمه في سورة {اقْرَأْ بِاسْمِ رَبِّكَ} فقد أجاب أهل البيان بأنَّ المقصود هنا هو القراءة، قال السيوطي في عقود الجمان:

وَقَدْ يُفِيدُ فِي الجَمِيعِ الاِهْتِمَامْ … بِهِ وَمِنْ ثَمَّ الصَّوَابُ فِي المقَامْ

تَقْدِيرُ مَا عُلِّقَ بِاسْمِ اللهِ بِهْ … مُؤَخَّرًا فَإِنْ يَرِدْ بِسَبَبِهْ

تَقْدِيمُهُ فِي سُورَةِ اقْرَا فَهُنَا … كَانَ القِرَاءَةُ الأَهَمَّ … المُعْتَنَى

إذًا قُدِّم في قوله {اقْرَأْ بِاسْمِ رَبِّكَ} لأن القراءة هي الأهم المعتنى به في هذا المقام.

الفائدة الثانية: إفادة القصر والحصر، وهو إثباتُ الحكم في المذكور ونفيه عمَّا عداه، أي بسم الله أؤلف، إذًا قُدِّم ما حقه التأخير فأفاد القصر، يعني بسم الله لا باسم غيره.

ويُقدر الفعل خاصًّا يعني يقول عند التقدير: بسم الله أؤلف إذا أراد التأليف. بسم الله أشرب إذا أراد الشرب وهكذا. ولا يقدره: بسم الله أبدأ؛ لأنه عام فلا يُفهم من المقدَّر هنا فعلٌ وحدثٌ خاصٌّ قالوا: لأنَّ دلالةَ الحال أدلُّ على المقدر؛ لأنه ينوي في نفسه ما جَعل البسملةَ مبدءًا له، وهو الفعل الخاص الذي تلبس به.

[بِسْمِ اللهِ] اسم مضاف، ولفظ الجلالة (الله) مضاف إليه. وهنا الإضافة من إضافة الاسم إلى المسمَّى فتفيد حينئذٍ العموم. [بِسْمِ
তাই, আপনি যদি বলেন: ‘আমি আল্লাহর নামে রচনা করছি’ তবে আপনি আল্লাহর নামের (লফযুল জালালাহ) ওপর অন্য কিছুকে প্রাধান্য দিলেন; সেক্ষেত্রে এতে গুরুত্ব প্রদানের উপকারিতা থাকত। তবে ‘পাঠ করো তোমার রবের নামে’ সূরায় একে আগে আনার কারণ সম্পর্কে অলঙ্কারশাস্ত্রবিদগণ উত্তর দিয়েছেন যে, এখানে মূল উদ্দেশ্য হলো পাঠ করা। সুয়ূতী ‘উকূদুল জুমান’-এ বলেছেন:

এটি সকল ক্ষেত্রে গুরুত্বের অর্থ প্রকাশ করে … আর সেই কারণে এই স্থানে সঠিক নিয়ম হলো

আল্লাহর নামের সাথে যা সংশ্লিষ্ট তা … শেষে উহ্য রাখা; তবে যদি কোনো কারণে

‘ইকরা’ সূরায় তা আগে আনা হয়, তবে এখানে … পাঠ করাই ছিল অধিক গুরুত্বপূর্ণ ও উদ্দেশ্য।

সুতরাং ‘পাঠ করো তোমার রবের নামে’ বাণীতে একে আগে আনা হয়েছে কারণ এই স্থানে পাঠ করাই হলো সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ এবং বিশেষ উদ্দেশ্য।

দ্বিতীয় উপকারিতা: নির্দিষ্টকরণ ও সীমাবদ্ধকরণের অর্থ প্রদান করা, যা হলো উল্লিখিত বিষয়ের জন্য বিধান সাব্যস্ত করা এবং তা ব্যতীত অন্য সব কিছু থেকে তা নাকচ করা; অর্থাৎ ‘আল্লাহর নামেই আমি রচনা করছি’। এখানে যার স্থান পরে ছিল তাকে আগে আনা হয়েছে, ফলে তা নির্দিষ্টকরণের অর্থ দিচ্ছে। অর্থাৎ আল্লাহর নামেই, অন্য কারো নামে নয়।

আর উহ্য ক্রিয়াটিকে বিশেষ হিসেবে ধরা হয়। অর্থাৎ অনুমান করার সময় সে বলবে: রচনার ইচ্ছা করলে ‘আল্লাহর নামে আমি রচনা করছি’। পান করার ইচ্ছা করলে ‘আল্লাহর নামে আমি পান করছি’, এভাবেই চলবে। সে ‘আল্লাহর নামে আমি শুরু করছি’ এভাবে উহ্য ধরবে না; কারণ এটি সাধারণ, তাই এখান থেকে কোনো বিশেষ কাজ বা ঘটনা বোঝা যায় না। তাঁরা বলেন: কারণ পরিস্থিতির দাবিই উহ্য বিষয়টিকে অধিক স্পষ্টভাবে বুঝিয়ে দেয়; কেননা সে নিজের মনে সেই কাজেরই নিয়ত করে যার শুরুতে সে বিসমিল্লাহ বলছে, আর সেটি হলো সেই বিশেষ কাজ যা সে করতে যাচ্ছে।

[বিসমিল্লাহ] এখানে ‘ইসম’ হলো মুদাফ (সম্বন্ধপদ) এবং লফযুল জালালাহ (আল্লাহ) হলো মুদাফ ইলাইহি (সম্বন্ধীপদ)। আর এখানকার সম্বন্ধটি হলো নামকে নামধারী সত্তার দিকে সম্বন্ধযুক্ত করা, ফলে তা ব্যাপকতার অর্থ প্রকাশ করে। [বিসমি
(খণ্ড: ১) ফাতহু রাব্বিল বারিয়্যাহ ফী শারহি নাজমিল আজুররুমিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ৯)
اللهِ] أي بكل اسمٍ هو لله، سمى به نفسه، أو أنزله في كتابه، أو علمه أحدًا من خلقه، أو استأثر به في علم الغيب عنده.

[اللهِ] عند كثير من أهل العلم أنه هو الاسم الأعظم، والأصح أنه مشتق، وأصله الإله، حذفت الهمزة تخفيفًا، واجتمع عندنا حرفان مثلان، وهما اللامان، الأولى ساكنة، والثانية متحركة؛ فوجب الإدغام فقيل: الله، ثم فُخِّمتِ اللام بعد الفتح والضم تعظيمًا لله عز وجل فقيل: الله قال ابن الجزري:

وَفَخِّمِ الَّلَامَ مِنِ اسْمِ اللهِ … عَنْ فَتحٍْ اوْ ضَمٍّ كَعَبْدُ اللهِ

[عَن فتحٍ او ضمٍّ] أي بعد فتح او ضمٍّ كما في قوله تعالى: {لَتَرْكَبُنَّ طَبَقاً عَنْ طَبَقٍ} (الانشقاق:19) أي طبقًا بعد طبق. بعد فتح نحو: رأيت عبدَ الله، وبعد ضمٍّ نحو: جاء عبدُ الله. أما بعد الكسر فترقق اللام وهذا مذهب الجمهور أنَّ اللام تفخم بعد الضم والفتح، وترقق بعد الكسر. وقيل: ترقق مطلقًا. وقيل: تفخم مطلقًا.

إذًا [الله] مشتق من الإله بمعنى أنه يدل على ذاتٍ متصفةٍ بصفةٍ وهي الإلهية. لأن أصله الإله -كما ذكرنا- فهو فِعَال بمعنى مفعول أي المألوه محبةً وتعظيمًا. لذلك ذُكر عن ابن عباس رضي الله تعالى عنهما أنه قال: (الله ذو الألوهية والعبودية على خلقه أجمعين) لأن ألِه يألَه إلهةً وألوهةً وألوهيَّة يأتي بمعنى عبد عبادة والألوهية هي العبادة، قال رؤبة:

لِلهِ دَرُّ الغَانِيَاتِ المُدَّهِ … سَبَّحْنَ وَاسْتَرْجَعْنَ مِنْ تألُّهِي
[আল্লাহর] অর্থাৎ আল্লাহর প্রতিটি নামের মাধ্যমে, যা দ্বারা তিনি নিজেকে নামকরণ করেছেন, অথবা যা তিনি তাঁর কিতাবে অবতীর্ণ করেছেন, অথবা যা তিনি তাঁর সৃষ্টির কাউকে শিক্ষা দিয়েছেন, অথবা যা তিনি নিজের কাছে গায়েবের জ্ঞানে সংরক্ষিত রেখেছেন।

[আল্লাহ] অনেক ইলম অন্বেষীর মতে এটিই হলো ‘ইসমে আজম’ (সর্বশ্রেষ্ঠ নাম)। আর বিশুদ্ধ মত হলো এটি একটি ব্যুৎপন্ন শব্দ, এর মূল হলো ‘আল-ইলাহ’। সহজ করার জন্য হামযা বিলুপ্ত করা হয়েছে, যার ফলে দুটি সমজাতীয় বর্ণ একত্রিত হয়েছে—আর তা হলো দুটি ‘লাম’। প্রথমটি সাকিন এবং দ্বিতীয়টি হরকতযুক্ত; ফলে ইদগাম (দুটি বর্ণকে মিলিয়ে পড়া) করা ওয়াজিব হয়ে পড়ে এবং ‘আল্লাহ’ শব্দটি গঠিত হয়। অতঃপর আল্লাহ আযযা ওয়া জাল্লার মহিমা প্রকাশের উদ্দেশ্যে ফাতহা (যবর) ও দম্মার (পেশ) পরে ‘লাম’ অক্ষরটিকে মোটা করে পড়া হয়, ফলে উচ্চারিত হয় ‘আল্লাহ’। ইবনুল জাযারী বলেন:

আর ‘আল্লাহ’ নামের ‘লাম’ অক্ষরটিকে মোটা করে পড়ো … যবর কিংবা পেশের পর থেকে, যেমন ‘আবদুল্লাহ’ শব্দে।

[যবর কিংবা পেশের পর থেকে] অর্থাৎ যবর বা পেশের পরে, যেমনটি মহান আল্লাহর বাণীতে রয়েছে: {অবশ্যই তোমরা এক স্তর থেকে অন্য স্তরে আরোহণ করবে} (আল-ইনশিক্বাক্ব: ১৯), অর্থাৎ এক স্তরের পর অন্য স্তর। যবরের পরে যেমন: ‘আমি আল্লাহর বান্দাকে দেখেছি’ (আবদাল্লাহ), আর পেশের পরে যেমন: ‘আল্লাহর বান্দা এসেছে’ (আবদুল্লাহ)। তবে কাসরা (যের)-এর পরে ‘লাম’ পাতলা করে পড়তে হয়। জমহুর উলামায়ে কেরামের মাযহাব হলো, পেশ ও যবরের পরে ‘লাম’ মোটা হবে এবং যেরের পরে পাতলা হবে। কেউ কেউ বলেছেন: সর্বাবস্থায় পাতলা হবে। আবার কেউ বলেছেন: সর্বাবস্থায় মোটা হবে।

সুতরাং [আল্লাহ] শব্দটি ‘ইলাহ’ থেকে ব্যুৎপন্ন, যার অর্থ হলো এটি এমন এক সত্তাকে নির্দেশ করে যিনি একটি গুণে গুণান্বিত, আর তা হলো ‘উলুহিয়াত’ (উপাস্যতা)। কারণ এর মূল হলো ‘আল-ইলাহ’—যেমনটি আমরা উল্লেখ করেছি—এটি ‘ফি’আল’ ওজনে ‘মাফ’উল’-এর অর্থ প্রদান করে, অর্থাৎ ভালোবাসা ও সম্মানের সাথে যাঁর ইবাদত করা হয়। এই কারণেই ইবনে আব্বাস রাদিয়াল্লাহু আনহুমা থেকে বর্ণিত হয়েছে যে, তিনি বলেছেন: (আল্লাহ হলেন সমস্ত সৃষ্টির উপর উলুহিয়াত ও দাসত্বের অধিকারী)। কারণ ‘আলিহা-ইয়া’লাহু’ ক্রিয়ামূলটি ইবাদত করা অর্থে ব্যবহৃত হয় এবং ‘উলুহিয়াত’ অর্থ হলো ইবাদত। রু’বাহ বলেন:

আল্লাহর জন্যই সেই রূপবতী রমণীদের প্রশংসা যারা আমাকে তিরস্কার করে … তারা তাসবীহ পাঠ করেছে এবং আমার ইবাদতপরায়ণতা দেখে ‘ইন্নালিল্লাহ’ পাঠ করেছে।
(খণ্ড: ১) ফাতহু রাব্বিল বারিয়্যাহ ফী শারহি নাজমিল আজুররুমিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ১০)
[الرَّحْمَنِ الرَّحِيمِ] اسمان مشتقان من الرحمة على وجه المبالغة؛ إلا أنَّ الرحمن أشدُّ مبالغةً من الرحيم، لأنه على وزن فعلان يدل على الامتلاء كغضبان وعطشان. وهو أيضًا أكثرُ حروفًا من الرحيم. وزيادة المبنى تدل على زيادة المعنى غالبًا.

[الرَّحْمَن] عامٌّ من جهة المعنى، خاصٌّ من جهة اللفظ، من جهة المعنى = الرحمة عامة تشمل الكفار والمسلمين والبهائم ونحوها. ومن جهة اللفظ = خاصٌّ لا يطلق إلا على الله عز وجل. وأما إطلاق أهل اليمامة ذلك على مسيلمة الكذاب فهو من باب تعنتهم وكفرهم قال قائلهم:

سَمَوْتَ بِالمَجْدِ يَابنَ الأَكْرمَينِ أَبًا … وَأَنْتَ غَيْثُ الوَرَى لَا زِلْتَ رَحْمَانَا

وقد ردَّه بعضُ الأدباء بقوله:

خُصِّصْتَ بالمقْتِ يَابْنَ الأَخْبَثَينِ أَبًا … وَأَنْتَ شَرُّ الوَرَى لَا زِلْتَ شَيطَانًا

[الرَّحِيم] خاصٌّ من جهة المعنى، عامٌّ من جهة اللفظ. من جهة المعنى = خاص بالمؤمنين قال تعالى: {وَكَانَ بِالْمُؤْمِنِينَ رَحِيماً} (الأحزاب:43) أي لا بغيرهم؛ لأنَّ تقديم ما حقه التأخير يفيد الاختصاص، والأصل وكان رحيمًا بالمؤمنين، {بِالْمُؤْمِنِينَ} جار ومجرور متعلق بقوله رحيمًا، فقُدِّم ما حقه التأخير عن عامله وهو المعمول فأفاد القصر أي بالمؤمنين لا بغيرهم. ومن جهة اللفظ = عامٌّ يصح أن يطلق على غير الله تعالى تقول: جاء زيد الرحيم. ومنه قوله تعالى: {لَقَدْ جَاءَكُمْ رَسُولٌ مِنْ
[পরম করুণাময়, অতি দয়ালু] শব্দ দুটি আধিক্য প্রকাশের উদ্দেশ্যে ‘রহমত’ বা দয়া থেকে উদ্ভূত; তবে ‘রাহমান’ শব্দটি ‘রাহিম’ অপেক্ষা অধিকতর আধিক্যবোধক। কারণ এটি ‘ফালান’ ছন্দে গঠিত যা পরিপূর্ণতা বা ভরপুর অবস্থা নির্দেশ করে, যেমন—ক্রোধে উন্মত্ত (গদবান) ও পিপাসার্ত (আতশান)। এছাড়া ‘রাহমান’ শব্দটিতে ‘রাহিম’ অপেক্ষা বর্ণ সংখ্যাও অধিক। আর সাধারণত শব্দের গঠন বৃদ্ধি পাওয়া অর্থের আধিক্য ঘটারই প্রমাণ দেয়।

[আর-রাহমান] অর্থের দিক থেকে সাধারণ, কিন্তু শব্দের প্রয়োগের দিক থেকে বিশেষ। অর্থের দিক থেকে সাধারণ হওয়ার অর্থ হলো—এই দয়া বা রহমত কাফের, মুসলিম, চতুষ্পদ জন্তু ও এ জাতীয় সকলের জন্যই ব্যাপক। আর শব্দের প্রয়োগের দিক থেকে বিশেষ হওয়ার অর্থ হলো—এটি কেবল আল্লাহ তায়ালা ছাড়া অন্য কারো ক্ষেত্রে ব্যবহার করা হয় না। তবে ইয়ামামার অধিবাসীরা ভণ্ড মুসাইলিমাকে যে এই নামে অভিহিত করেছিল, তা ছিল তাদের হঠকারিতা ও কুফরির বহিঃপ্রকাশ। তাদের কবি বলেছিল:

হে শ্রেষ্ঠ পিতৃপুরুষের সন্তান! আপনি মহিমায় অনন্য উচ্চতায় আসীন … আপনি সৃষ্টির জন্য বারিবর্ষণ স্বরূপ, আপনি আমাদের জন্য সর্বদা ‘রাহমান’ হয়ে থাকুন।

জনৈক সাহিত্যিক এর প্রতিবাদে বলেছেন:

হে নিকৃষ্ট পিতৃপুরুষের সন্তান! আপনি কেবল ঘৃণার জন্যই নির্দিষ্ট … আপনি সৃষ্টির নিকৃষ্টতম জীব, আপনি আমাদের জন্য সর্বদা শয়তান হয়ে থাকুন।

[আর-রাহিম] অর্থের দিক থেকে বিশেষ, কিন্তু শব্দের প্রয়োগের দিক থেকে সাধারণ। অর্থের দিক থেকে বিশেষ হওয়ার অর্থ হলো—এটি মুমিনদের জন্য নির্দিষ্ট। মহান আল্লাহ বলেন: {আর তিনি মুমিনদের প্রতি পরম দয়ালু} (আল-আহজাব: ৪৩), অর্থাৎ অন্যদের জন্য নয়; কারণ যা পরে আসার কথা ছিল তাকে আগে নিয়ে আসা হলে তা বিশেষত্ব (ইখতিসাস) প্রকাশ করে। মূল বাক্যটি ছিল ‘ওয়াকানা রহিমাম বিল-মুমিনীন’। এখানে ‘মুমিনদের প্রতি’ অংশটি শব্দ সংশ্লিষ্ট হওয়ার কারণে পরে বসার কথা ছিল, কিন্তু সংশ্লিষ্ট পদটিকে আগে নিয়ে আসায় তা ‘কাসর’ বা সীমাবদ্ধতা প্রকাশ করছে। অর্থাৎ এই দয়া কেবল মুমিনদের জন্যই, অন্যদের জন্য নয়। আর শব্দের প্রয়োগের দিক থেকে সাধারণ হওয়ার অর্থ হলো—এটি আল্লাহ ছাড়া অন্য কারো ক্ষেত্রেও প্রয়োগ করা সঠিক। যেমন আপনি বলেন: দয়ালু জায়েদ এসেছে। অনুরূপ মহান আল্লাহর বাণী: {নিশ্চয়ই তোমাদের নিকট একজন রাসূল এসেছেন...}
(খণ্ড: ১) ফাতহু রাব্বিল বারিয়্যাহ ফী শারহি নাজমিল আজুররুমিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ১১)
أَنْفُسِكُمْ عَزِيزٌ عَلَيْهِ مَا عَنِتُّمْ حَرِيصٌ عَلَيْكُمْ بِالْمُؤْمِنِينَ رَؤُوفٌ رَحِيمٌ} (التوبة:128). هذا كلام مختصر يتعلق بالبسملة من جهة المعنى.

وأما من جهة الإعراب فنقول: [بِسْمِ اللهِ] جار ومجرور متعلق بمحذوف، فعل مؤخر خاص مناسب للمقام، تقديره بسم الله الرحمن الرحيم أُؤلف أو أنظمُ. [بِسْمِ] اسم مجرور بالباء، وهو مضاف، ولفظ الجلالة مضاف إليه مجرور وعلامة جره الكسرة الظاهرة على آخره. [الرَّحْمَنِ الرَّحِيمِ] بالكسر فيهما [الرَّحْمَنِ] صفةٌ أولى، و [الرَّحِيمِ] صفةٌ ثانية صفة بعد صفة، والجر فيهما سنة متبعة.

قال الناظم: [قَالَ ابْنُ آبَّ وَاسْمُهُ مُحَمَّدُ] قوله: [قَالَ] هذا فعل ماضٍ، والناظم قد سمَّى نفسه وقد أتى بجملة الحكاية، ومقتضى الظاهر أنَّ كونه حكاية عن نفسه يقتضي أن يقول: قلت لا قال، لكن أراد أن يذكر اسمه؛ لأنَّ الكتاب إذا كان مؤلفُه معلومَ الاسم ترغب النفس فيه أكثر، ففيه ترغيب للكتاب بتعيين مؤلفه ليكون أدعى لقبوله والاجتهاد في تحصيله فيثاب مؤلفه. ومدح الكتاب وذكر الاسم ليس من الأمور المعابة عند أهل التصنيف، وإنما فيه إظهار للنعمة التي أنعم الله بها عليه، وأيضًا المجهول مرغوب عنه، والناظم ناقلٌ فإذا سمَّى نفسه عرَفَ طالبُ العلم جلالةَ مَن نقل العلم فيُقبِل على ما نقل بقلبه وجوارحه فيحصل له النفع في أقرب مدَّة. وأيضًا من جهة أخرى أنَّ المقرر عند أهل التصنيف أنَّ ثَمَّ
{তোমাদের মধ্য থেকেই; তোমাদের যা কষ্ট দেয় তা তাঁর নিকট অত্যন্ত বেদনাদায়ক, তিনি তোমাদের অতিশয় কল্যাণকামী, মুমিনদের প্রতি তিনি অত্যন্ত স্নেহশীল ও দয়ালু} (আত-তাওবা: ১২৮)। এটি অর্থগত দিক থেকে বিস্মিল্লাহ্ সংক্রান্ত একটি সংক্ষিপ্ত আলোচনা।

আর ব্যাকরণগত বিশ্লেষণের (ই’রাব) দিক থেকে আমরা বলব: [বিসমিল্লাহ্] হলো জার ও মাজরুর যা একটি উহ্য বিষয়ের সাথে সংশ্লিষ্ট। সেটি হলো একটি পরবর্তী বিশেষ ক্রিয়া যা প্রেক্ষাপটের সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ, এর আনুমানিক রূপ হলো: পরম করুণাময় অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে আমি রচনা করছি বা পদ্য লিখছি। [বিসম] হলো ‘বা’ অক্ষরের কারণে মাজরুর ইসিম, এবং এটি মুদাফ (সম্বন্ধ পদ)। আর মহান আল্লাহ শব্দটি হলো মুদাফ ইলাইহি (যার সাথে সম্বন্ধ করা হয়েছে) যা মাজরুর, এবং এর মাজরুর হওয়ার চিহ্ন হলো এর শেষাক্ষরে প্রকাশ্য কাসরা (জের)। [আর-রাহমানির রাহীম] উভয়টিতেই কাসরা (জের) হবে। [আর-রাহমান] হলো প্রথম সিফাত বা বিশেষণ, আর [আর-রাহীম] হলো দ্বিতীয় সিফাত বা বিশেষণ—অর্থাৎ বিশেষণের পর বিশেষণ। আর উভয়টিতে মাজরুর হওয়া একটি অনুসৃত রীতি।

নাযিম (কাব্যের রচয়িতা) বলেন: [ইবনে আব্বা বলেছেন এবং তাঁর নাম মুহাম্মদ]। তাঁর উক্তি: [বলেছেন] এটি একটি অতীতকালীন ক্রিয়া। নাযিম এখানে নিজের নাম উল্লেখ করেছেন এবং বর্ণনাভঙ্গিতে বাক্যটি নিয়ে এসেছেন। বাহ্যত নিজের পক্ষ থেকে বর্ণনা করার ক্ষেত্রে ‘আমি বলেছি’ বলা প্রয়োজন ছিল, ‘তিনি বলেছেন’ নয়; কিন্তু তিনি নিজের নাম উল্লেখ করতে চেয়েছেন। কারণ কোনো কিতাবের লেখকের নাম জানা থাকলে মানুষের মনে সেটির প্রতি আগ্রহ বেশি সৃষ্টি হয়। এতে লেখকের নাম নির্দিষ্ট করার মাধ্যমে কিতাবটির প্রতি আগ্রহ তৈরি করা হয়েছে, যাতে এটি গ্রহণ করার এবং তা অর্জনে সচেষ্ট হওয়ার অধিক দাবি রাখে, ফলে এর লেখক সওয়াব প্রাপ্ত হন। কিতাবের প্রশংসা করা এবং নিজের নাম উল্লেখ করা গ্রন্থকারদের নিকট কোনো নিন্দনীয় বিষয় নয়। বরং এতে আল্লাহর পক্ষ থেকে প্রাপ্ত সেই নিয়ামতের বহিঃপ্রকাশ ঘটে যা তিনি তাঁকে দান করেছেন। এছাড়া অজ্ঞাত বিষয় থেকে মানুষ বিমুখ থাকে। নাযিম হলেন একজন বর্ণনাকারী; তাই যখন তিনি নিজের নাম উল্লেখ করেন, তখন তালিবে ইলম (জ্ঞানান্বেষী) জানতে পারেন যে কে এই ইলম বর্ণনা করছেন, ফলে সে পূর্ণ একাগ্রতা ও আন্তরিকতার সাথে তা গ্রহণে সপ্রবৃত্ত হয় এবং অতি দ্রুত উপকৃত হতে পারে। তাছাড়া অন্য একটি দিক থেকে গ্রন্থকারদের নিকট স্বীকৃত নিয়ম হলো যে...
(খণ্ড: ১) ফাতহু রাব্বিল বারিয়্যাহ ফী শারহি নাজমিল আজুররুমিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ১২)
أمورًا في مقدمات الكتب لا بُدَّ من ذكرها، وهي ثمانية، أربعة واجبة وجوبًا صناعيًا، وأربعة مستحبة استحبابًا صناعيًا. فالأربعة الواجبة هي البسملة، والحمدلة، والصلاة والسلام على النبيِّ صلى الله عليه وسلم، والتشهد. والأربعة المستحبة هي تسمية نفسه، وقد أتى به الناظم كما ذكرنا، وتسمية كتابه، وأما بعد، وبراعة الاستهلال.

قوله: [قَالَ] فعلٌ ماضٍ لفظًا مُستقبَلٌ معنى. إذًا لِمَ عدل عن الفعل المضارع وأتى بالفعل الماضي؟ نقول: التعبير بالفعل الماضي مرادًا به الاستقبال خروج عن مقتضى الظاهر فلابد فيه من نكتة وفائدة، قال السيوطي في عقود الجمان مبينا تلك النكتة:

وَمِنهُ مَاضٍ عَن مُضَارعٍ وُضِعْ … لِكَونِهِ مُحَقَّقًا نَحو فَزِعْ

[ابْنُ آبَّ] هذا اسم أبيه، ولعلَّه كنيةٌ؛ لأنَّ الكنية ما صُدِّرَ بأبٍ أو أُمٍّ وعلى الأصح أو ابن أو بنت. وأراد أن يُبيِّنَ اسمَه فقال: [وَاسْمُهُ مُحَمَّدُ] وهذا لضيق النظم، وإلا لو قال: محمدُ مباشرةً لأَدَّى المراد، واسمه مبتدأ، محمد خبر. وهو محمد بن آبَّ القلاوي التواتي، القلاوي الأصل من قبيلة الأقلال الشنقيطية، ومولده ومسكنه في مدينة أتوات المغربية توفي سنة ألف ومائة وستين (1160هـ) هذا هو الصواب والمشهور عند المتأخرين، ولذلك غُلِّط من شرح هذا النظم ونسبه لعبيد ربه، ولذلك نقول هذه المنظومة منسوبة لمحمد بن آبَّ لذلك الصواب في الشطر الأول أن يقال (قال بن آبَّ واسمه محمد) ولا نقول: (قال عبيد ربه محمد).
কিতাবের ভূমিকার ক্ষেত্রে কিছু বিষয় অবশ্যই উল্লেখ করতে হয়, আর তা হলো আটটি। এর মধ্যে চারটি পারিভাষিক দিক থেকে ওয়াজিব (আবশ্যক) এবং চারটি পারিভাষিক দিক থেকে মুস্তাহাব (পছন্দনীয়)। ওয়াজিব চারটি হলো: বিসমিল্লাহ, হামদ (আল্লাহর প্রশংসা), নবীর (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) ওপর দরুদ ও সালাম এবং তাশাহহুদ। আর মুস্তাহাব চারটি হলো: নিজের নাম উল্লেখ করা (যা নাযিম বা রচয়িতা উল্লেখ করেছেন যেমনটি আমরা বলেছি), তার কিতাবের নামকরণ করা, 'আম্মা বা'দু' (অতঃপর) বলা এবং বারায়াতুল ইস্তিহলাল (বিষয়বস্তুর সাথে মিল রেখে সুন্দর প্রারম্ভিকা)।

তার উক্তি: [তিনি বলেছেন] শব্দটি উচ্চারণের দিক থেকে অতীতকালীন ক্রিয়া হলেও অর্থের দিক থেকে ভবিষ্যৎকালীন। তাহলে তিনি কেন বর্তমান বা ভবিষ্যৎকালীন ক্রিয়া বাদ দিয়ে অতীতকালীন ক্রিয়া ব্যবহার করলেন? আমরা বলব: ভবিষ্যৎকালীন অর্থ বুঝানোর জন্য অতীতকালীন ক্রিয়ার ব্যবহার স্বাভাবিক নিয়মের পরিপন্থী, তাই এতে অবশ্যই কোনো সূক্ষ্ম রহস্য ও উপকারিতা রয়েছে। ইমাম সুয়ূতী 'উকূদুল জুমান' গ্রন্থে সেই রহস্য বর্ণনা করে বলেছেন:

আর এরই অন্তর্ভুক্ত হলো বর্তমান বা ভবিষ্যৎকালীন ক্রিয়ার স্থলে অতীতকালীন ক্রিয়ার ব্যবহার … কারণ তা ঘটা নিশ্চিত, যেমন 'আতঙ্কিত হওয়া' শব্দের ব্যবহার।

[ইবনে আব্বা] এটি তার পিতার নাম, আর সম্ভবত এটি একটি কুনিয়াত (উপনাম); কারণ কুনিয়াত হলো যা 'পিতা' বা 'মাতা' এবং সঠিক মতানুযায়ী 'পুত্র' বা 'কন্যা' শব্দ দিয়ে শুরু হয়। তিনি নিজের নাম স্পষ্ট করতে চেয়েছেন, তাই বলেছেন: [এবং তার নাম মুহাম্মদ]। কাব্যের ছন্দের সীমাবদ্ধতার কারণে তিনি এমনটি করেছেন, অন্যথায় সরাসরি 'মুহাম্মদ' বললেও উদ্দেশ্য হাসিল হতো। এখানে 'তার নাম' হলো মুবতাদা (উদ্দেশ্য) এবং 'মুহাম্মদ' হলো খবর (বিধেয়)। তিনি হলেন মুহাম্মদ বিন আব্বা আল-কালাউয়ি আত-তুওয়াতি। 'কালাউয়ি'র মূল হলো শিনক্বিতের 'আকলাল' গোত্র। তার জন্ম ও বাসস্থান মরক্কোর তুওয়াত শহরে। তিনি ১১৬০ হিজরি সনে ইন্তেকাল করেন। পরবর্তী আলেমদের নিকট এটিই সঠিক ও প্রসিদ্ধ মত। এই কারণে যারা এই কাব্যগ্রন্থের ব্যাখ্যা করেছেন এবং একে উবাইদ রাব্বিহি-এর দিকে সম্পর্কিত করেছেন, তাদের ভুল হিসেবে গণ্য করা হয়েছে। তাই আমরা বলি, এই কাব্যটি মুহাম্মদ বিন আব্বার প্রতি নিসবতকৃত। এ কারণেই প্রথম চরণের সঠিক পাঠ হবে— (ইবনে আব্বা বলেছেন যার নাম মুহাম্মদ), আমরা এটি বলব না— (তার রবের ক্ষুদ্র গোলাম মুহাম্মদ বলেছেন)।
(খণ্ড: ১) ফাতহু রাব্বিল বারিয়্যাহ ফী শারহি নাজমিল আজুররুমিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ১৩)
[اللهَ فِي كُلِّ الأُمُورِ أَحْمَدُ] أي قال: أحمد الله في كل الأمور، وجملة أحمد الله في محل نصب مقول القول. وأتى بالحمدلة بعد البسملة لأمور:

أوَّلاً: اقتداءًا بالكتاب العزيز حيث ثنَّى بالحمد بعد البسملة فقال: {بِسْمِ اللَّهِ الرَّحْمَنِ الرَّحِيمِ الْحَمْدُ لِلَّهِ رَبِّ الْعَالَمِينَ} (الفاتحة:1 - 2)

ثانيًا: تأسيًا بالنبيِّ صلى الله عليه وسلم بسنته الفعلية حيث كان يفتتح خُطَبه في خِطبة النكاح ونحوها بإنَّ الحمد لله نحمده.

ثالثًا:: اقتداءًا بالأئمة المصنفين في افتتاح الكتب كما قيل في البسملة. ولذلك القاعدة العامة -كما ذكر أهل العلم- أنَّه يُستحب البَداءةُ بالحمد لله في كل أمر مهم قالوا: يستحب البداءة بالحمدلة لكلِّ مصنِّفٍ، ودَارسٍ، ومُدرسٍ، ومتعلِّمٍ، ومُعلِّمٍ، ومزوِّجٍ، وخاطبٍ، وخطيبٍ، وبين يدي سائر الأمور المهمة. وأما حديث «كل أمر ذي بال لا يبدأ فيه بالحمد لله .. » فهو ضعيف أيضًا، فلا يحتج به.

قال الناظم: [أَحْمَدُ] عبَّر بالجملة الفعلية. والأصل أن يأتي بالجملة الاسمية؛ لأنها تدل على الدوام والثبوت؛ إلا أنَّه عَدَل عنها إلى الجملة الفعلية؛ لأنها تدل على التجدد والحدوث؛ لأنَّ التجددَ والحدوثَ مُقابَلٌ بما عُلِّقَ به الحمد وهو الأمور. أحمد الله في كل [الأُمُورِ] جمع أمرٍ، والمراد به الشأن، والحال، يعني في كل شؤوني
[আমি সকল বিষয়ে আল্লাহর প্রশংসা করছি] অর্থাৎ তিনি বললেন: আমি সকল বিষয়ে আল্লাহর প্রশংসা করি। আর "আমি আল্লাহর প্রশংসা করি" বাক্যটি উক্তি হিসেবে নসবের স্থলাভিষিক্ত হয়েছে। তিনি বিসমিল্লাহর পরে কয়েকটি কারণে প্রশংসা (হামদ) নিয়ে এসেছেন:

প্রথমত: মহাগ্রন্থের অনুসরণে, যেখানে বিসমিল্লাহর পরেই দ্বিতীয়ত প্রশংসা উল্লেখ করা হয়েছে। আল্লাহ তাআলা বলেছেন: "পরম করুণাময় অতি দয়ালু আল্লাহর নামে। সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর জন্য, যিনি সকল জগতের প্রতিপালক।" (আল-ফাতিহা: ১-২)

দ্বিতীয়ত: নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর কর্মগত সুন্নাহর অনুসরণে, কারণ তিনি বিবাহের খুতবা ও এই জাতীয় ভাষণের শুরুতে "নিশ্চয়ই সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর জন্য, আমরা তাঁরই প্রশংসা করি" বাক্য দ্বারা শুরু করতেন।

তৃতীয়ত: গ্রন্থ রচনার প্রারম্ভে ইমামগণের অনুসরণে, যেমনটি বিসমিল্লাহর ক্ষেত্রে বলা হয়েছে। আর এই কারণেই সাধারণ নিয়ম হলো—যেমনটি আলেমগণ উল্লেখ করেছেন—যেকোনো গুরুত্বপূর্ণ কাজ আল্লাহর প্রশংসা দ্বারা শুরু করা মুস্তাহাব। তাঁরা বলেছেন: প্রত্যেক লেখক, পাঠক, শিক্ষক, শিক্ষার্থী, জ্ঞান দানকারী, বিবাহ সম্পাদনকারী, বিবাহের প্রস্তাবকারী, খতীব এবং যাবতীয় গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ের শুরুতে আল্লাহর প্রশংসা করা মুস্তাহাব। আর "যেকোনো গুরুত্বপূর্ণ কাজ যা আল্লাহর প্রশংসা দ্বারা শুরু করা হয় না..." হাদীসটি দুর্বল, তাই এটি দ্বারা দলিল পেশ করা যাবে না।

নাজেম (ছন্দকার) বলেছেন: [আমি প্রশংসা করছি]—এখানে তিনি ক্রিয়াবাচক বাক্য ব্যবহার করেছেন। মূলত বিশেষ্যবাচক বাক্য ব্যবহার করাই ছিল মূল নিয়ম; কারণ তা স্থায়িত্ব ও দৃঢ়তা বুঝায়। তবে তিনি তা পরিবর্তন করে ক্রিয়াবাচক বাক্য ব্যবহার করেছেন কারণ এটি নবায়ন ও নতুনত্বের অর্থ প্রদান করে। কেননা নবায়ন ও নতুনত্ব সেই বিষয়ের সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ যার সাথে প্রশংসাকে সম্পৃক্ত করা হয়েছে, আর তা হলো 'কার্যাবলী'। আমি সকল [কার্যাবলীর] মধ্যে আল্লাহর প্রশংসা করি। এখানে 'কার্যাবলী' শব্দটি 'বিষয়' শব্দের বহুবচন, আর এর দ্বারা উদ্দেশ্য হলো অবস্থা বা পরিস্থিতি, অর্থাৎ আমার যাবতীয় অবস্থায়।
(খণ্ড: ১) ফাতহু রাব্বিল বারিয়্যাহ ফী শারহি নাজমিল আজুররুমিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ১৪)
أحمد الله، فحينئذٍ كان متعلَّقُ الحمدِ شأنَ العبدِ. وشأنُ العبدِ متقلِّبٌ، فقد يكون في سرَّاء، وقد يكون في ضرَّاء. وفي الحديث: «عجبًا لأمر المؤمن إنَّ أمرَه كلَّه خير، وليس ذلك لأحد إلا للمؤمن إن أصابته سرَّاءُ شكر فكان خيرًا له وإن أصابته ضرَّاءُ صبر فكان خيرًا له» إذًا حالُه متقلِّبٌ بين الحالين؛ فحينئذٍ يُحمَد الرَّبُ جلَّ وعَلا على السَّراءِ والضَّراءِ، وهذا أمرٌ حادثٌ ومتجدِّدٌ، يوجد بعد أن لم يكن شيئًا فشيئًا، فحينئذٍ ناسب أن يأتي بالجملة الفعلية الدالة على التجدد والحدوث، كُلَّما وُجدتِ النِّعمةُ سواء كانت سرَّاءَ فشكرَ، أو ضرَّاءَ فصبرَ وُجِدَ الحمدُ، بخلاف الجملة الاسمية فإنها تدل على الثبوت والدوام. [اللهَ] منصوبٌ على التَّعظيمِ، مفعولٌ به مُقدَّم. [أَحْمَدُ] فعل مضارع متأخر، إذًا قدَّمَ ما حقُّه التأخير، والقاعدة العامة = أنَّ تقديمَ ما حقُّه التأخيرُ يُفيد الحصر والقصر، وهو إثباتُ الحكمِ في المذكور ونفيُه عمَّا عَداه. وإثباتُ الحكمِ هنا هو الحمد، للمذكور وهو الربُّ جَلَّ وعَلا ونفيُه عمَّا عدا الله سبحانه. إذًا لا يَستحق الحمدَ الكاملَ إلا اللهُ عز وجل كأنَّه قال أحمدُ اللهَ لا غيرَه. ومثله قوله: {إِيَّاكَ نَعْبُدُ} (الفاتحة: من الآية5) أي نعبدُ اللهَ لا غيرَه. [اللهَ فِي كُلِّ الأُمُورِ أَحْمَدُ] في كُلِّ الأمورِ مُتعلِّقٌ بقوله: أحمد. [أَحْمَدُ] مُشتَقٌ من الحمد، وهو كما قال شيخ الإسلام ابن تيمية-رحمه الله: ذِكرُ محاسنِ المحمودِ معَ حُبِّه وتعظيمهِ وإِجلالهِ. سواءٌ كانت هذه المحاسنُ صفاتٍ لازمةً أوصفاتٍ متعديةً. فيُحمدُ الرَّبُ جَلَّ وعَلا على كُلِّ صفةٍ اتَّصفَ بها سواءٌ كانت صفةً ذاتيةً أم فعليةً. ثُمَّ بعد

আমি আল্লাহর প্রশংসা করি; এমতাবস্থায় প্রশংসার সংশ্লিষ্ট বিষয়টি বান্দার অবস্থার সাথে যুক্ত হয়। আর বান্দার অবস্থা পরিবর্তনশীল; কখনও সে সুখে থাকে, আবার কখনও সে দুঃখে থাকে। হাদিসে এসেছে: «মুমিনের বিষয়াদি আশ্চর্যজনক, নিশ্চয়ই তার সকল বিষয়ই কল্যাণকর। আর এটি মুমিন ব্যতীত অন্য কারো জন্য নয়। যদি সে সচ্ছলতা লাভ করে তবে শুকরিয়া আদায় করে, আর তা তার জন্য কল্যাণকর হয়। আর যদি সে বিপদের সম্মুখীন হয় তবে সবর করে, আর তাও তার জন্য কল্যাণকর হয়।» সুতরাং তার অবস্থা এই দুই অবস্থার মধ্যে পরিবর্তনশীল। এমতাবস্থায় মহান রবের প্রশংসা করা হয় সুখ ও দুঃখ উভয় অবস্থায়। আর এটি এমন এক বিষয় যা নতুনভাবে ঘটে এবং সময়ের সাথে সাথে নবায়িত হয়; যা পূর্বে না থাকার পর ধীরে ধীরে অস্তিত্ব লাভ করে। এমতাবস্থায় এখানে ক্রিয়াবাচক বাক্য (জুমলা ফে'লিয়া) ব্যবহার করাই অধিক সামঞ্জস্যপূর্ণ যা নবায়ন ও নতুন করে ঘটার অর্থ প্রদান করে। যখনই কোনো নেয়ামত পাওয়া যায়—তা সুখের হোক যার জন্য সে শুকরিয়া জানায়, অথবা দুঃখের হোক যার জন্য সে সবর করে—তখনই প্রশংসা পাওয়া যায়। এটি বিশেষ্যবাচক বাক্যের (জুমলা ইসমিয়া) বিপরীত, কারণ তা স্থায়িত্ব ও নিরবচ্ছিন্নতা বুঝায়। [আল্লাহ] শব্দটি মহান সত্তার সম্মানার্থে মানসুব (জবরযুক্ত) হয়েছে এবং এটি একটি অগ্রবর্তী কর্মপদ। [আহমাদু] হলো একটি উত্তরবর্তী বর্তমানকালীন ক্রিয়া। সুতরাং এখানে নিয়ম অনুযায়ী যা পরে আসার কথা ছিল তাকে আগে আনা হয়েছে। সাধারণ নিয়ম হলো: যা পরে আসার কথা ছিল তাকে আগে আনা সীমাবদ্ধতা ও একচ্ছত্রতা (হাসর ও কাসর) প্রকাশ করে। আর তা হলো উল্লেখিত বিষয়ের ক্ষেত্রে বিধানটিকে সাব্যস্ত করা এবং তা ব্যতীত অন্য সব কিছু থেকে তা নাকচ করা। এখানে বিধান সাব্যস্ত করার অর্থ হলো প্রশংসা, যা কেবল উল্লেখিত সত্তার জন্য অর্থাৎ মহান রবের জন্য; আর আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তা'য়ালা ব্যতীত অন্য সবার থেকে তা নাকচ করা। সুতরাং একমাত্র আল্লাহ আজ্জা ওয়া জাল্লা ব্যতীত আর কেউ পরিপূর্ণ প্রশংসার যোগ্য নয়; বিষয়টি যেন এমন—আমি আল্লাহরই প্রশংসা করি, অন্য কারো নয়। এরই সদৃশ হলো মহান আল্লাহর বাণী: {আমরা কেবল আপনারই ইবাদত করি} (আল-ফাতিহা: ৫ এর অংশ) অর্থাৎ আমরা আল্লাহ ব্যতীত অন্য কারো ইবাদত করি না। [সকল বিষয়ে আমি আল্লাহর প্রশংসা করি] এখানে 'সকল বিষয়ে' অংশটি 'আহমাদু' (আমি প্রশংসা করি) এর সাথে সংশ্লিষ্ট। [আহমাদু] শব্দটি 'হামদ' (প্রশংসা) থেকে উদ্ভূত। আর শায়খুল ইসলাম ইবনে তাইমিয়্যাহ (রহিমাহুল্লাহ) যেমনটি বলেছেন: প্রশংসিত সত্তার শ্রেষ্ঠত্বসমূহ তাঁর প্রতি ভালোবাসা, মহত্ত্ব এবং মর্যাদার সাথে উল্লেখ করা। এই শ্রেষ্ঠত্বসমূহ চাই তা সত্তাগত গুণাবলি হোক কিংবা কর্মগত গুণাবলি হোক। সুতরাং মহান রব যেসকল গুণে গুণান্বিত, তার প্রত্যেকটির জন্যই তাঁর প্রশংসা করা হয়—তা সত্তাগত গুণ হোক কিংবা কর্মগত গুণ হোক। এরপর...

(খণ্ড: ১) ফাতহু রাব্বিল বারিয়্যাহ ফী শারহি নাজমিল আজুররুমিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ১৫)
الحمدلة والثناء على الله بما هو أهله عقبه بالصلاة على الرسول صلى الله عليه وسلم إظهارًا لعظمة قدره، وأداءًا لبعض حقوقه الواجبة، وامتثالا لقوله تعالى: {أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا صَلُّوا عَلَيْهِ وَسَلِّمُوا تَسْلِيماً} (الأحزاب: من الآية56)) فقال: [مُصَلِّيًا] بالنَّصبِ، حالٌ مِن فاعلِ [أَحْمَدُ] أي أحمدُ اللهَ في كُلِّ الأمورِ حالةَ كوني مُصليًا على الرسول. فهي حالٌ مقارِنةٌ مِن فاعلِ أحمدُ المستتر، ومقارَنةُ كُلِّ شيءٍ بِحَسَبه، فَمُقارَنةُ لفظٍ معَ لفظٍ وقوعُه عَقِبَهُ مباشرةً، لا حَال منوية؛ بمعني أحمدُ اللهَ حالةَ كوني ناويًا في قلبي بعدَ الحمدِ أن أصلي، لأنَّ نية الصلاة ليست بصلاة. [مُصَلِّيًا] اسم فاعل مِن صلَّى الرُّباعِيِّ، أي طَالبًا من اللهِ صلاتَه على الرسول.

والصلاة من الله على الرسول -كما قال ابن القيم- ثناؤُه على عبدِه في الملأ الأعلى، وصلاةُ الملائكةِ عليه ثناؤُهم عليه، وصلاةُ الآدَميينَ سؤالهُم اللهَ أن يُثني عليه ويزيدَه تشريفًا، وتكريمًا. [عَلَى الرَّسُولِ] جار ومجرور متعلِّقٌ بقوله: مصليًا، يعني أينَ مَحَلُّ الصلاةِ؟ قال: على الرسول. وهنا أتى بالصلاة ولم يذكر السلام أي أفرد الصلاة عن السلام بناءًا على أنه لا كراهة وهو الصحيح وإن كان الأفضل والأكمل الجمع بينهما للآية. و [الرَّسُول] فَعُولٌ مِنَ الرِّسَالةِ. معناه في اللغة: الذي يُتَابِعُ أخبار الذي بعثه، أخذًا من قولهم: جاءتِ الإبِلُ رَسْلاً أي مُتَتَابِعَةً. وأمَّا في الشَّرعِ فالمشهورُ عندَ الجمهورِ: أنَّه إنسان ذكر حر أُوحِيَ إليه بشرع وأُمِرَ بتبليغه، فإن لم يُؤمر فهو نبيٌّ، فكلُّ رَسولٍ نبيٌّ ولا عكس. قال-رحمه الله: [عَلَى الرَّسُولِ] ولم يقُل على النَّبيِّ، لأنهم أجمعوا على أنَّ الرَّسُولَ- الذَّاتَ
আল্লাহর যথাযোগ্য প্রশংসা ও স্তুতির পর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের ওপর দরুদ পাঠ করা হয়েছে তাঁর মর্যাদার মাহাত্ম্য প্রকাশ করার জন্য, তাঁর প্রতি ওয়াজিব বা আবশ্যকীয় কিছু হক আদায়ের উদ্দেশ্যে এবং মহান আল্লাহর বাণীর আনুগত্য স্বরূপ: "হে ঈমানদারগণ! তোমরা তাঁর ওপর দরুদ পড়ো এবং যথাযথভাবে সালাম জানাও।" (আল-আহজাব: ৫৬ নং আয়াতের অংশ)। এরপর তিনি বলেছেন: [দরুদ পাঠরত অবস্থায়], এটি 'নসব' অবস্থায় আছে, যা [আমি প্রশংসা করছি] ক্রিয়ার কর্তার ‘হাল’ বা অবস্থা প্রকাশ করছে। অর্থাৎ, আমি রাসূলের ওপর দরুদ পাঠরত অবস্থায় সকল বিষয়ে আল্লাহর প্রশংসা করছি। এটি ‘আহমাদু’ (আমি প্রশংসা করছি) এর উহ্য কর্তার একটি সহবর্তী অবস্থা। আর প্রতিটি বিষয়ের সহাবস্থান তার নিজ নিজ ধরন অনুযায়ী হয়। সুতরাং একটি শব্দের সাথে আরেকটি শব্দের সহাবস্থান হলো একটির পরপরই অপরটির সরাসরি আসা; এটি কেবল মনের কোনো নিয়ত নয়। এর অর্থ এমন নয় যে, আল্লাহর প্রশংসা করার পর আমি মনে মনে দরুদ পড়ার নিয়ত করছি এমন অবস্থায় আল্লাহর প্রশংসা করছি; কারণ দরুদের নিয়ত করা সরাসরি দরুদ পাঠ নয়। [দরুদ পাঠরত অবস্থায়] শব্দটি চার অক্ষরবিশিষ্ট ক্রিয়া থেকে আগত কর্তৃবাচক বিশেষ্য, যার অর্থ হলো আল্লাহর নিকট রাসূলের ওপর তাঁর রহমত বর্ষণের প্রার্থনা করা।

আল্লাহর পক্ষ থেকে রাসূলের ওপর দরুদ হলো—যেমনটি ইবনুল কায়্যিম বলেছেন—উচ্চ পরিষদে (ফেরেশতাদের মাঝে) তাঁর বান্দার প্রশংসা করা। ফেরেশতাদের পক্ষ থেকে দরুদ হলো তাঁর প্রশংসা করা। আর মানুষের পক্ষ থেকে দরুদ হলো আল্লাহর কাছে এই প্রার্থনা করা যেন তিনি তাঁর প্রশংসা করেন এবং তাঁর সম্মান ও মর্যাদা বৃদ্ধি করেন। [রাসূলের ওপর] এটি একটি সকর্মক সম্বন্ধ যা 'দরুদ পাঠরত অবস্থায়' শব্দের সাথে সংশ্লিষ্ট। অর্থাৎ দরুদ পাঠের ক্ষেত্র কোনটি? তিনি বললেন: রাসূলের ওপর। এখানে তিনি কেবল সালাত বা দরুদ উল্লেখ করেছেন এবং সালামের কথা উল্লেখ করেননি। অর্থাৎ তিনি সালাম ব্যতিরেকে কেবল দরুদকে এককভাবে উল্লেখ করেছেন এই ভিত্তির ওপর যে, এতে কোনো অপছন্দনীয়তা নেই এবং এটিই সঠিক মত; যদিও আয়াতের দাবি অনুযায়ী দরুদ ও সালাম উভয়কে একত্রে পাঠ করাই উত্তম ও পরিপূর্ণ। আর [রাসূল] শব্দটি 'রিসালাত' থেকে আগত। আভিধানিক অর্থে এর অর্থ হলো: এমন ব্যক্তি যিনি তাকে প্রেরণকারীর সংবাদ বা বার্তার অনুসরণ করেন। এটি আরবদের এই কথা থেকে নেওয়া হয়েছে: "উটগুলো ধারাবাহিকভাবে এসেছে।" আর শরিয়তের পরিভাষায় জমহুর বা সংখ্যাগরিষ্ঠ আলিমদের নিকট প্রসিদ্ধ সংজ্ঞা হলো: তিনি এমন একজন স্বাধীন মানব পুরুষ, যার নিকট শরিয়ত অবতীর্ণ করা হয়েছে এবং তা প্রচার করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। আর যদি প্রচারের নির্দেশ না দেওয়া হয় তবে তিনি নবী। সুতরাং প্রত্যেক রাসূলই নবী, কিন্তু প্রত্যেক নবী রাসূল নন। তিনি (আল্লাহ তাঁর ওপর রহম করুন) বলেছেন: [রাসূলের ওপর], তিনি 'নবীর ওপর' বলেননি। কারণ আলিমগণ এই বিষয়ে একমত হয়েছেন যে, রাসূলের সত্তা-
(খণ্ড: ১) ফাতহু রাব্বিল বারিয়্যাহ ফী শারহি নাজমিল আজুররুমিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ১৬)
التي نزلتْ عليها الرسالةُ- أَشرَفُ مِنَ النَّبيِّ. واختلفوا في أيِّهما أفضلُ = الرِّسالةُ أم النُّبوةُ؟ فالجمهورُ على أنَّ الرِّسالةَ أفضَل؛ لذلك قال: [عَلَى الرَّسُولِ] ولَم يقُل على النَّبيِّ، لشرف الرسالة على النُّبوة. [عَلَى الرَّسُولِ] هو محمَّدُ بنُ عبد اللهِ صلى الله عليه وسلم. وإذا أُطْلِقَ الرَّسولُ وكان النَّاطِقُ من أُمَّةِ محمَّدٍ صلى الله عليه وسلم انصرفَ إليهِ لأنَّهُ صار عَلَمًا بالغلبََة. لذلك هو مُحَلَّى بِأَل كما قال ابن مالك-رحمه الله:

وَقَدْ يَصيرُ عَلَمًا بِالغَلَبَهْ … مُضَافٌ او مَصْحُوبُ أَلْ كَالْعَقَبَهْ

و [الرَّسُول] أَي إِلى النَّاسِ كَافَّةً قال تعالى: {قُلْ يَا أَيُّهَا النَّاسُ إِنِّي رَسُولُ اللَّهِ إِلَيْكُمْ جَمِيعاً} (الأعراف:158) إذًا حَذَفَ المتَعَلِّقَ للدلالة على عُمُومِ رسالته. [المُنْتَقَى] اسم مفعول انتُقِي- المبني للمجهول-[وَآلِهِ] عطفٌ على الرَّسُولِ، أَي مُصليًا على الرسول ومصليًا على آله. وأَضافهُ إلى الضَّميرِ لأَنَّ الصحيحَ جوازُ إضافته إلى الضَّميرِ خلافًا للكِسائي وغيره. [وَآلِهِ] أَصلُ آلٍ أَوَلٌ كَجَمَلٍ تحرَّكتِ الواوُ وانفتحَ ما قبلها فقُلِبَتْ ألفًا، وهذا اختاره شيخ الإسلام ابن تيمية وهو مذهب الكِسَائي. وذهب سيبويهِ إلى أَنَّ أصل آلٍ أَهْلٌ قُلِبَت الهاءُ همزةً ثم قُلِبَت الهمزةُ أَلِفًا فصار آل وغَلَّطَهُ شَيخُ الإسلامِ ابنُ تيمية رحمه الله[وَآلِهِ] الأصح أن يُفَسَّرَ بأتباعه على دينه. وقيل: أقاربُهُ المؤمنون. وقوله: [مُصَلِّيًا عَلَى الرَّسُولِ المُنْتَقَى وَآلِهِ] أَي ومُصليًا على آله وهم أتباعُهُ على دينه. ودليل الصلاة على الآلِ قوله صلى الله عليه وسلم: «قولوا
যাঁর ওপর রিসালাত অবতীর্ণ হয়েছে—তিনি নবীর চেয়ে শ্রেষ্ঠ। তারা মতভেদ করেছেন যে, কোনটি অধিক শ্রেষ্ঠ—রিসালাত নাকি নবুওয়াত? জমহুর বা অধিকাংশ আলেমের অভিমত হলো রিসালাত অধিক শ্রেষ্ঠ; এ কারণেই তিনি বলেছেন: [রাসূলের ওপর] এবং 'নবীর ওপর' বলেননি, নবুওয়াতের ওপর রিসালাতের শ্রেষ্ঠত্বের কারণে। [রাসূলের ওপর] তিনি হলেন মুহাম্মাদ ইবনে আব্দুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম। যখন সাধারণভাবে 'রাসূল' শব্দটির প্রয়োগ করা হয় এবং বক্তা মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের উম্মতের কেউ হন, তখন সেটি তাঁর দিকেই নির্দেশ করে, কারণ এটি ব্যবহারের আধিক্যের কারণে তাঁর বিশেষ সংজ্ঞাবাচক নাম হয়ে গিয়েছে। একারণেই এটি 'আলিফ-লাম' দ্বারা সুশোভিত, যেমন ইবনে মালিক রহ. বলেছেন:

কখনো ব্যবহারের আধিক্যের কারণে সংজ্ঞাবাচক নাম হয়ে যায়... সেটি মুদাফ বা সম্বন্ধিত শব্দ কিংবা আলিফ-লাম যুক্ত শব্দ হতে পারে, যেমন 'আল-আকাবাহ'।

এবং [রাসূল] অর্থাৎ সমগ্র মানবজাতির প্রতি। আল্লাহ তাআলা বলেন: {বলুন, হে মানুষ! নিশ্চয়ই আমি তোমাদের সকলের প্রতি আল্লাহর রাসূল} (আরাফ: ১৫৮)। সুতরাং এখানে তাঁর রিসালাতের ব্যাপকতা বুঝানোর জন্য সংশ্লিষ্ট শব্দটিকে উহ্য রাখা হয়েছে। [আল-মুনতাকা] এটি 'ইনতুকিয়া' (মনোনীত হওয়া) ক্রিয়ামূল হতে ইসমে মাফউল—যা কর্মবাচ্যের রূপ। [এবং তাঁর বংশধর ও অনুসারীদের ওপর] এটি 'রাসূল' শব্দের ওপর সংযুক্ত, অর্থাৎ রাসূলের ওপর দরুদ পাঠরত অবস্থায় এবং তাঁর বংশধর ও অনুসারীদের ওপর দরুদ পাঠরত অবস্থায়। আর তিনি একে সর্বনামের সাথে সম্বন্ধিত করেছেন, কারণ বিশুদ্ধ মত অনুযায়ী একে সর্বনামের সাথে সম্বন্ধিত করা বৈধ, যদিও কিসায়ী এবং অন্যান্যরা এর বিরোধিতা করেছেন। [তাঁর বংশধর ও অনুসারীদের] 'আল' শব্দের মূল হলো 'আওয়াল', যেমন 'জামাল' শব্দ; এখানে 'ওয়াও' বর্ণটি হরকতযুক্ত হয়েছে এবং তার পূর্বের বর্ণটি জবরযুক্ত হওয়ায় 'ওয়াও' আলিফে রূপান্তরিত হয়েছে। শাইখুল ইসলাম ইবনে তাইমিয়্যাহ এটিকেই পছন্দ করেছেন এবং এটি কিসায়ীর মাযহাব। অন্যদিকে সিবওয়াইহ-এর অভিমত হলো যে, 'আল' শব্দের মূল হলো 'আহল'; এখানে 'হা' বর্ণটি হামজায় রূপান্তরিত হয়েছে এবং পরবর্তীতে সেই হামজা আলিফে রূপান্তরিত হয়ে 'আল' হয়েছে। শাইখুল ইসলাম ইবনে তাইমিয়্যাহ রহ. একে ভুল আখ্যা দিয়েছেন। [এবং তাঁর বংশধর ও অনুসারীদের ওপর] এর অধিকতর সঠিক ব্যাখ্যা হলো—তাঁর দ্বীনের ওপর তাঁর অনুসারীগণ। কেউ কেউ বলেছেন: তাঁর মুমিন আত্মীয়-স্বজন। আর তাঁর উক্তি: [মনোনীত রাসূল এবং তাঁর বংশধর ও অনুসারীদের ওপর দরুদ পাঠরত অবস্থায়] অর্থাৎ তাঁর বংশধর ও অনুসারীদের ওপর দরুদ পাঠরত অবস্থায়, আর তারা হলেন তাঁর দ্বীনের ওপর তাঁর অনুসারীগণ। বংশধর ও অনুসারীদের ওপর দরুদ পাঠ করার দলিল হলো রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের বাণী: "তোমরা বলো...
(খণ্ড: ১) ফাতহু রাব্বিল বারিয়্যাহ ফী শারহি নাজমিল আজুররুমিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ১৭)
اللَّهُمَّ صَلِّ عَلَى مُحَمَّدٍ وَعَلَى آلِ مُحَمَّدٍ».إذًا الصلاة على الآلِ مأمورٌ بها. [وَصَحْبِهِ] اسم جمع لصاحب كرَكْبٍ وراكب. والمراد بهم صحابة النبي صلى الله عليه وسلم، ولذلك إذا قيل: الصحابة صار علمًا بالغلبة على من اجتمع بالنبي صلى الله عليه وسلم مُؤمنًا به ومات على ذلك ولو تخلَّلت رِدَّةٌ في الأصح. كما قال ابن حجر-رحمه الله ولكن الصلاة على الصحب لم يأت فيها نصٌّ، وإنما أجمع العلماء على إلحاقهم بالآل؛ لما للصحابة من فضل عظيم في نقل الشريعة ونحو ذلك ألحقهم أهل العلم بالآل تبعا لا استقلالا. وعطف الصحب على الآل من عطف الخاص على العام إذا فسرنا الآل بأتباعه على دينه. وإذا فسر بأقاربه المؤمنين يكون من عطف العام على الخاص. وكلاهما جائز؛ إلا أَنَّ عطف الخاص على العَامِّ جائز باتفاق. وعطفُ العَامِّ على الخَاصِّ جائز على الأصح. قال في عُقُودِ الجُمَانِ:

وَذِكْرُ خَاصٍ بَعْدَ ذِي عُمُومِ … مُنَبِّهًا بِفَضْلِهِ المحتُومِ

كَعَطْفِ جِبْرِيلَ وَمِيكَالَ عَلَى … مَلَائِكٍ قُلْتُ وَعَكْسُهُ جَلَا

[ذَوِي التُّقَى] صفة لصحبه مجرور وجرُّه الياء المحذوفة للتخلص من التقاء الساكنين لأنه ملحق بجمع المذكر السالم، وهو جَمْعُ ذُو بِمَعْنَى صَاحِبٍ [ذَوِي التُّقَى] أَي أصحاب التُّقَى. يقال اتَّقَى يَتَّقِي، وتَقَى يَتْقِي كَقَضَى يَقْضِي. والتُّقَى والتَّقْوَى بمعنى واحد وهي فِعْلُ المأْمُوراتِ واجتنابُ المنهيَّاتِ.
হে আল্লাহ! মুহাম্মদ এবং মুহাম্মদের পরিবারের ওপর রহমত বর্ষণ করুন। সুতরাং, পরিবারের ওপর রহমত কামনার দরুদ পাঠ করা আদিষ্ট। [এবং তাঁর সঙ্গীগণ] এটি ‘সাহেব’ (সঙ্গী) শব্দের সমষ্টিবাচক বিশেষ্য, যেমন আরোহী দলের জন্য ‘রাকব’ এবং আরোহীর জন্য ‘রাকিব’ শব্দ ব্যবহৃত হয়। আর এর দ্বারা উদ্দেশ্য হলো নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সাহাবীগণ। এ কারণেই যখন 'সাহাবীগণ' বলা হয়, তখন পারিভাষিকভাবে এটি তাদের জন্য নির্ধারিত হয়ে যায় যারা মুমিন অবস্থায় নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সাথে সাক্ষাৎ করেছেন এবং সেই ঈমানের ওপর মৃত্যুবরণ করেছেন, যদিও বিশুদ্ধ মতানুসারে মাঝে ধর্মত্যাগ (মুরতাদ হওয়া) ঘটে থাকলেও। যেমনটি ইবনে হাজার (রহিমাহুল্লাহ) বলেছেন। তবে সাহাবীগণের ওপর দরুদ পাঠের বিষয়ে কোনো সুনির্দিষ্ট পাঠ (নাস) আসেনি। বরং আলেমগণ তাঁদেরকে পরিবারের (আল) অন্তর্ভুক্ত করার ব্যাপারে একমত হয়েছেন; শরীয়ত বর্ণনা এবং এই জাতীয় অন্যান্য ক্ষেত্রে সাহাবীগণের সুমহান মর্যাদার কারণে আলেমগণ তাঁদেরকে অনুগামী হিসেবে পরিবারের সাথে অন্তর্ভুক্ত করেছেন, স্বতন্ত্রভাবে নয়। আর পরিবারের পরে সাহাবীগণের উল্লেখ করা হলো ‘ব্যাপক’ পদের পর ‘বিশেষ’ পদের সংযোজন (আতফ), যদি আমরা 'পরিবার' বলতে তাঁর দ্বীনের অনুসারীদের উদ্দেশ্য করি। আর যদি এর দ্বারা তাঁর মুমিন আত্মীয়দের বোঝানো হয়, তবে এটি 'বিশেষ' পদের পর ‘ব্যাপক’ পদের সংযোজন হবে। আর উভয়টিই জায়েজ; তবে ব্যাপকের ওপর বিশেষের সংযোজন সর্বসম্মতিক্রমে জায়েজ। আর বিশেষের ওপর ব্যাপকের সংযোজন বিশুদ্ধ মতানুসারে জায়েজ। 'উকুদুল জুমান' গ্রন্থে বলা হয়েছে:

আর ব্যাপকের পরে বিশেষের উল্লেখ … তার অকাট্য মর্যাদা সম্পর্কে সতর্ক করার জন্য।

যেমন ফেরেশতাদের উল্লেখের পর জিবরাঈল ও মিকাইলের উল্লেখ … আমি বলছি এর বিপরীতটিও স্পষ্ট।

[তাকওয়াসম্পন্নগণ] এটি তাঁর সঙ্গীগণের বিশেষণ হিসেবে মাজরুর হয়েছে। আর এর মাজরুর হওয়ার চিহ্ন হলো ‘ইয়া’, যা দুই সাকিনের মিলন এড়াতে বিলুপ্ত হয়েছে; কারণ এটি ‘জাম‘ মুযাক্কার সালেম’-এর অন্তর্ভুক্ত। এটি ‘সাহেব’ (অধিকারী) অর্থে ‘যু’ শব্দের বহুবচন। [তাকওয়াসম্পন্নগণ] অর্থাৎ তাকওয়ার অধিকারীগণ। ক্রিয়া হিসেবে বলা হয় ‘ইত্তাকা-ইয়াত্তাকি’ এবং ‘তাকা-ইয়াতকি’ যেমন ‘কাদা-ইয়াকদি’। ‘তুকা’ এবং ‘তাকওয়া’ একই অর্থবোধক, আর তা হলো আদেশসমূহ পালন করা এবং নিষেধসমূহ বর্জন করা।
(খণ্ড: ১) ফাতহু রাব্বিল বারিয়্যাহ ফী শারহি নাজমিল আজুররুমিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ১৮)
وَبَعْدُ فَالقَصْدُ بِذَا المَنْظُومِ … تَسْهِيلُ مَنْثُورِ ابْنِ آجُرُّومِ

[وَبَعْدُ] كلمة يُؤتَى بها للانتقال من أُسلوبٍ إلى أُسلُوبٍ آخر. وهي سُنَّةٌ؛ إلا أنها مُقيدة بلفظ أَمَّا بَعْدُ، لأنها هي الواردة والمسموعة. [وَبَعْدُ] الواو نائبة عن أَمَّا النَّائبةِ عنْ مهما. وأصلُ التَّرْكيبِ مَهْمَا يَكُنْ مِنْ شَيءٍ. فأَمَّا حرف باتفاق ومَهْمَا اسم على الأصح.

[وَبَعْدُ] أَي وبَعْدَ الحمدلةِ والبسملةِ فأَقول القَصْدُ .. ويجب وقوع الفاء في جواب أَمَّا قال ابن مالك:

أَمَّا كَمَهْمَا يَكُ مِنْ شَيءٍ وَفَا … لِتِلوِ تِلوِهَا وُجَوبًا أُلِفَا

[وَبَعْدُ] من ظروف الغاية وهو ظرف مبهم لا يُفهَمُ معناه إلا بإضافته إلى غيره، وهو مبنيٌّ على الضَّمِّ لحذف المضاف إليه ونِيَّةِ معناه. [فَالقَصْدُ] الفاء واقعة في جواب الشَّرطِ. وهو مبتدأ. و [بِذَا المَنْظُومِ] [بِذَا] جارٌّ ومجرورٌ مُتَعَلِّقٌ بقوله: القَصْدُ. و [المَنْظُومِ] عطف بيانٍ أو بدل. و [تَسْهِيلُ] خبرُ المبتدأ0 [فَالقَصْدُ] القَصْدُ مصدرٌ بمعنى المفعولِ أي فالمَقْصُودُ والمُرَادُ؛ لأنَّ القَصْدَ في اللغة: إِتْيَانُ الشَّيءِ، وبابُه ضَرَبَ. يقال: قَصَدَهُ، وقَصَدَ لَهُ، وقَصَدَ إِليهِ كله بمعنى واحد. [بِذَا المَنْظُومِ] [بِذَا] اسمُ إشارةٍ لمفردٍ مذَكَّرٍ، إشارةً إلى المترَتِبِ الحاضرِ في الذهن تَنْزِيلاً للمعدوم مَنْزِلةَ الموجودِ؛ إنْ كانت المقدِّمةُ متقدِّمةً على التَّصنيف وإلا فهي على بابها لأَنَّ الأصلَ في اسم الإشارة أَنْ يكون لأَمْرٍ مَحْسُوسٍ. [بِذَا المَنْظُومِ] أَي الكِتَابِ أَنَّه
অতঃপর, এই পদ্যের উদ্দেশ্য হলো … ইবনে আজুররুমের গদ্যকে সহজ করা।

[অতঃপর] শব্দটি এক শৈলী থেকে অন্য শৈলীতে উত্তরণের জন্য ব্যবহৃত হয়। এটি একটি সুন্নাত; তবে এটি ‘আম্মা বা’দু’ শব্দের সাথে সীমাবদ্ধ, কারণ এটিই (হাদীসে) বর্ণিত ও শ্রুত। [অতঃপর] এখানে ‘ওয়া’ বর্ণটি ‘আম্মা’ এর স্থলাভিষিক্ত, যা আবার ‘মাহমা’ এর স্থলাভিষিক্ত। বাক্যটির মূল রূপ হলো ‘যাই কিছু হোক না কেন’ (মাহমা ইয়াকুন মিন শাই’ইন)। ‘আম্মা’ সর্বসম্মতিক্রমে একটি অব্যয় এবং ‘মাহমা’ বিশুদ্ধতম মতানুসারে একটি বিশেষ্য।

[অতঃপর] অর্থাৎ আল্লাহর প্রশংসা ও বাসমালাহ পাঠের পর আমি বলছি যে, উদ্দেশ্য... এবং ‘আম্মা’ এর জবাবে ‘ফা’ বর্ণটি আসা বাধ্যতামূলক। ইবনে মালিক বলেছেন:

‘আম্মা’ হলো ‘মাহমা ইয়াকু মিন শাই’ইন’ এর মতো, এবং এর পরবর্তী শব্দের পরের শব্দে ‘ফা’ … থাকা বাধ্যতামূলকভাবে সুপরিচিত।

[অতঃপর] এটি প্রান্তিক ক্রিয়াবিশেষণের (জুরুফ আল-গায়াহ) অন্তর্ভুক্ত এবং এটি একটি অস্পষ্ট ক্রিয়াবিশেষণ যা অন্য কিছুর সাথে সম্বন্ধযুক্ত করা ছাড়া এর অর্থ বোঝা যায় না। এটি ‘দম্মা’র ওপর ভিত্তি করে গঠিত (মাবনি), কারণ এর সম্বন্ধ পদ (মুদাফ ইলাইহি) বিলুপ্ত করা হয়েছে এবং এর অর্থ মনে মনে সংকল্প করা হয়েছে। [অতঃপর উদ্দেশ্য] এখানে ‘ফা’ বর্ণটি শর্তের জবাবে এসেছে। এটি উদ্দেশ্য (মুবতাদা)। এবং [এই পদ্যের দ্বারা] এখানে ‘বিজা’ হলো অব্যয় ও তার অনুগামী শব্দ (জার ও মাজরুর) যা ‘উদ্দেশ্য’ শব্দের সাথে সংশ্লিষ্ট। এবং ‘পদ্য’ শব্দটি ব্যাখ্যামূলক অনুগামী (আত্বফে বায়ান) বা বিকল্প (বদল)। আর ‘সহজ করা’ হলো মুবতাদার সংবাদ (খবর)। [উদ্দেশ্য] এখানে ‘উদ্দেশ্য’ শব্দটি কর্মবাচক বিশেষ্যের (মাফ’উল) অর্থে ব্যবহৃত ক্রিয়ামূল (মাসদার), অর্থাৎ যা অভীষ্ট বা উদ্দেশ্য করা হয়েছে; কারণ আভিধানিক অর্থে ‘কাসদ’ হলো কোনো কিছুর দিকে ধাবিত হওয়া এবং এর ব্যাকরণিক রূপ ‘দরাবা’ অধ্যায় থেকে এসেছে। বলা হয়ে থাকে: ‘কাসাদাহু’, ‘কাসাদা লাহু’ এবং ‘কাসাদা ইলাইহি’—সবগুলোই একই অর্থ প্রকাশ করে। [এই পদ্যের দ্বারা] এখানে ‘বিজা’ হলো একবচন পুংলিঙ্গ নির্দেশক শব্দ (ইশারা), যা মনে উপস্থিত বিন্যাসকে নির্দেশ করছে। এটি অনুপস্থিতকে উপস্থিত হিসেবে গণ্য করার নামান্তর; যদি ভূমিকাটি রচনার আগে লেখা হয়ে থাকে। অন্যথায় এটি তার স্বাভাবিক অর্থেই থাকবে কারণ নির্দেশক শব্দের মূল হলো কোনো ইন্দ্রিয়গ্রাহ্য বস্তুর ক্ষেত্রে ব্যবহৃত হওয়া। [এই পদ্যের দ্বারা] অর্থাৎ এই কিতাবটি যে...
(খণ্ড: ১) ফাতহু রাব্বিল বারিয়্যাহ ফী শারহি নাজমিল আজুররুমিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ১৯)
مَنْظُومٌ، والنظم التأليف وهو ضم شيء إلى شيء آخر، والمراد به الكلام الموزون قصدًا، على بحر الرجز ضرب من الشعر وزنه مستفعلن ستُّ مرات، سمي بذلك لتقارب أجزائه وقلة حروفه، والقصيدة منه أرجوزة. [تَسْهِيلُ] مصدرُ سَهَّلَ يُسَهِّلُ تَسْهِيلاً ضِدُّ التَّعْسِيرِ وهو التَّيسِيرُ. [مَنْثُورِ] اسم مفعولٍ من نَثَرَ وهو ما يُقابل الشِّعْرَ. مَنْثُورِ أبي عبدِ اللهِ مُحَمَّدِ بنِِ مُحَمَّدِ بنِ دَاوُدَ الصِّنْهَاجِيِّ المعروفِ بـ[ابْنِ آجُرُّومِ] بضمِّ الجيم والرَّاء. قيل المرادُ به بلغة البَرْبَرِ: الفقيرُ الصُّوفِيُّ. [لِمَنْ أَرَادَ حِفْظَهُ] هذا تعليلٌ لقوله: [تَسْهِيلُ مَنْثُورِ ابْنِ آجُرُّومِ] وهو جارٌّ ومجرورٌ مُتَعَلِّقٌ بقوله تَسْهِيلُ لأنَّه مصدر. [لِمَنْ أَرَادَ حِفْظَهُ] يعني حِفْظَ المَنْثُورِ لِأنَّه لا عِلْمَ إِلَّا بِحِفْظٍ. لكن لما صَعُبَ وعَسُرَ أراد أَن يُسهِّله [لِمَنْ أَرَادَ حِفْظَهُ] أَي استِظْهَارَهُ عن ظهْرِ قَلْبٍ [وَعَسُرَا] الألف للإطلاق، وعَسُرَ من باب فَعُلَ ضِدُّ اليُسْرِ. [وَعَسُرَا عَلَيْهِ] أَي شق على الطالب الذي يريد حِفْظَ مَتْنِ ابنِ آجُرُّومِ [عَسُرَا عَلَيْهِ أَنْ يَحْفَظَ مَا قَدْ نُثِرَا] الألف للإطلاق و [مَا] اسم موصول بمعنى الذي و [أَنْ يَحْفَظَ] [أَنْ] مصدرية و [يَحْفَظَ] فعل مضارع منصوب بأَنْ، وأَنْ وما دخلت عليه في تأْويل مصدرٍ فاعلٍ لعَسُرَ فعْلٌ ماضٍ، والتقدير وعَسُرَ عليه حِفْظُ المَنْثُورِ.

واللهَ أَسْتَعِينُ فِي كُلِّ عَمَلْ … إِلَيْهِ قَصْدِي وَعَلَيْهِ المُتَّكَلْ

[واللهَ] جلَّ وعلا [أَسْتَعِينُ] السين للطلب يعني أطلُبُ العون من اللهِ وحْدَهُ لا من غيره، ولذا قدَّم المفعول به لإفادةِ القَصْرِ
ছন্দোবদ্ধ (মানজুম)। 'নাজম' অর্থ হলো রচনা বা সংকলন করা, অর্থাৎ এক বস্তুকে অন্য বস্তুর সাথে সংযুক্ত করা। এর দ্বারা উদ্দেশ্য হলো ইচ্ছাকৃতভাবে ছন্দোবদ্ধ করা বাক্য, যা 'রাজাজ' ছন্দে রচিত। এটি কবিতার একটি প্রকার যার ওজন 'মুস্তাফ-ইলুন' ছয়বার। এর অংশগুলোর ঘনিষ্ঠতা এবং অক্ষর সংখ্যা কম হওয়ার কারণে একে এই নামে অভিহিত করা হয়েছে। এর মাধ্যমে রচিত কবিতাকে 'আরজুযাহ' বলা হয়। [সহজীকরণ] এটি 'সাহহালা-ইউসাহহিলু' এর মাসদার (ক্রিয়ামূল), যা কঠিন করার বিপরীত; অর্থাৎ সহজ করা। [গদ্য] এটি 'নাশারা' থেকে ইসম মাফউল, যা কবিতার বিপরীত। আবু আবদুল্লাহ মুহাম্মদ ইবনে মুহাম্মদ ইবনে দাউদ আস-সিনহাজীর গদ্য, যিনি 'ইবনে আজুররুম' (জীম ও রা বর্ণে পেশ যোগে) নামে পরিচিত। বলা হয়ে থাকে যে, বারবারী ভাষায় এর অর্থ হলো: দরিদ্র সুফি। [যে এটি মুখস্থ করতে চায় তার জন্য] এটি তাঁর বক্তব্য 'ইবনে আজুররুমের গদ্যের সহজীকরণ'-এর কারণ নির্দেশক। এটি একটি জার ও মাজরুর যা 'তাসহিল' শব্দের সাথে সংশ্লিষ্ট, কারণ এটি একটি মাসদার। [যে এটি মুখস্থ করতে চায় তার জন্য] অর্থাৎ গদ্যটি মুখস্থ করা; কেননা মুখস্থ করা ব্যতীত কোনো জ্ঞান নেই। কিন্তু যখন এটি কঠিন ও দুষ্কর হয়ে গেল, তখন তিনি তা সহজ করতে চাইলেন [যে এটি মুখস্থ করতে চায় তার জন্য] অর্থাৎ অন্তরের অন্তঃস্থল থেকে এটি মুখস্থ করার জন্য। [এবং তা কঠিন হয়েছে] এখানে আলিফটি ছন্দের মিলের জন্য এসেছে। 'আসুরা' শব্দটি 'ফাউলা' পরিচ্ছেদ থেকে এসেছে, যা সহজ হওয়ার বিপরীত। [এবং তা তার জন্য কঠিন হয়েছে] অর্থাৎ সেই শিক্ষার্থীর জন্য কষ্টসাধ্য হয়েছে যে ইবনে আজুররুমের মূল পাঠ মুখস্থ করতে চায়। [যা গদ্যাকারে রয়েছে তা মুখস্থ করা তার জন্য কঠিন হয়েছে] এখানে আলিফটি ছন্দের মিলের জন্য। 'মা' হলো ইসম মাউসুল এবং 'আন ইয়াহফাযা' এর মধ্যে 'আন' মাসদারিয়া এবং ' ইয়াহফাযা' হলো 'আন' দ্বারা মানসুব মুজারে ক্রিয়া। 'আন' এবং এর পরবর্তী অংশ মাসদারের ব্যাখ্যায় এসে 'আসুরা' নামক মাযী ক্রিয়ার ফায়েল হয়েছে। এর সারকথা হলো: গদ্যটি মুখস্থ করা তার জন্য কঠিন হয়েছে।

এবং আমি প্রত্যেক কাজে আল্লাহর নিকটই সাহায্য প্রার্থনা করছি … তাঁরই দিকে আমার লক্ষ্য এবং তাঁর ওপরই পূর্ণ ভরসা।

[আল্লাহর নিকট] তিনি মহামহিম ও সুউচ্চ। [আমি সাহায্য প্রার্থনা করছি] এখানে 'সীন' অক্ষরটি প্রার্থনার অর্থে এসেছে, অর্থাৎ আমি একমাত্র আল্লাহর নিকটই সাহায্য চাচ্ছি, অন্য কারো কাছে নয়। এই কারণেই কর্মপদকে (মাফউল) আগে আনা হয়েছে সীমাবদ্ধতা (একমাত্র) বোঝানোর জন্য।
(খণ্ড: ১) ফাতহু রাব্বিল বারিয়্যাহ ফী শারহি নাজমিল আজুররুমিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ২০)
والحَصْرِ أَي أستعين اللهَ لا غيره. و [أَسْتَعِينُ] أصلها أَسٍتَعْوِنُ [فِي كُلِّ عَمَلْ] أَي في عملي كلِّه، من إضافةِ الصِّفةِ إلى الموصوفِ. سواءٌ كان ظاهرًا أو باطنًا. [إِلَيْهِ قَصْدِي] أَي قَصْدِي إِلَيهِ وقَصَدَ قَصْدَه نحا نحوه. قدَّم الجارَّ والمجرورَ لإفادةِ القَصْرِ والحَصْرِ أَي إليه لا إلى غيره. [قَصْدِي] مبتدأٌ مُؤخَّرٌ مرفوع، ورَفْعه ضمة مقدّرة على آخره- الذي هو الدَّال - منع من ظهورها اشتغال المحلِّ بحركة المناسبة. و [إِلَيْهِ] خبر مقدَّم. [وَعَلَيْهِ] جلَّ وعلا [المُتَّكَلْ] اتكل على فلان في أمره إذا اعتمده، مبتدأ مؤخَّر مرفوع، ورفعه ضمَّة مقدَّرة على آخره منع من ظهورها اشتغال المحلِّ بسكون الوَقْف. [وَعَلَيْهِ] خبر مقدَّم.

এবং সীমাবদ্ধকরণ; অর্থাৎ আমি আল্লাহ ছাড়া আর কারো সাহায্য প্রার্থনা করি না। আর [আমি সাহায্য প্রার্থনা করি] শব্দটির মূল রূপ হলো আসতা'উইন। [প্রত্যেক কাজে] অর্থাৎ আমার সকল কাজে; এটি গুণবাচক শব্দকে গুণান্বিত শব্দের (সিফাতকে মাউসুফের) দিকে সম্বন্ধ করার অন্তর্ভুক্ত। চাই তা প্রকাশ্য হোক বা অপ্রকাশ্য। [তাঁরই প্রতি আমার সংকল্প] অর্থাৎ আমার সংকল্প কেবল তাঁরই অভিমুখী; আর কারো অভিমুখী হওয়া মানে তাঁর দিকেই অগ্রসর হওয়া। সীমাবদ্ধতা ও একান্ততা বুঝাতে এখানে 'যার-মাজরুর'-কে আগে আনা হয়েছে; অর্থাৎ একমাত্র তাঁরই প্রতি, অন্য কারো প্রতি নয়। [আমার সংকল্প] শব্দটি পরবর্তী উদ্দেশ্য (মুবতাদায়ে মুয়াখখার) হিসেবে রফ' বা পেশযুক্ত অবস্থায় আছে। এর শেষে—যা হলো 'দাল' বর্ণ—একটি উহ্য পেশ রয়েছে, যা সংগতিপূর্ণ হরকতের ব্যস্ততার কারণে দৃশ্যমান হতে পারেনি। আর [তাঁর প্রতি] হলো পূর্ববর্তী বিধেয় (খবরে মুকাদ্দাম)। [এবং তাঁরই উপর] যিনি মহান ও সুউচ্চ, [ভরসা করা হয়]। কেউ যখন কোনো বিষয়ে অন্য কারো ওপর নির্ভর করে, তখন বলা হয় সে তার ওপর ভরসা করেছে। এটিও পরবর্তী উদ্দেশ্য (মুবতাদায়ে মুয়াখখার) হিসেবে রফ' যুক্ত এবং এর শেষে একটি উহ্য পেশ রয়েছে যা বিরাম চিহ্নের (ওয়াকফ) কারণে সৃষ্ট সুকুনের ব্যস্ততার জন্য প্রকাশিত হতে পারেনি। আর [তাঁর উপর] হলো পূর্ববর্তী বিধেয় (খবরে মুকাদ্দাম)।

(খণ্ড: ১) ফাতহু রাব্বিল বারিয়্যাহ ফী শারহি নাজমিল আজুররুমিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ২১)
‌‌بَابُ الكَلَامِ

إِنَّ الكَلَامَ عِنْدَنَا فَلْتَسْتَمِعْ … لَفْظٌ مُرَكَّبٌ مُفِيدٌ قَدْ وُضِعْ

أَقْسَامُهُ الَّتِي عَلَيْهَا يُبْنَى … اِسْمٌ وَفِعْلٌ ثُمَّ حَرْفُ مَعْنَى

فَالاِسْمُ بِالخَفْضِ وَبِالتَّنْوِينِ أَوْ … دُخُولِ أَلْ يُعْرَفُ فَاقْفُ مَا قَفَوا

قال: [بَابُ الكَلَامِ] بدأَ به الناظم لأَنَّه هو المقصودُ بالذَّات، وأيضًا لأَنَّه الذي يقع به التَّفاهم والتَّخاطب بين النَّاس. وبعض النحاة يبدأُ بحدِّ الكلمة، وهذا نظر إلى أحد أمرين: إمَّا لكون موضوع علْمِ النَّحو هو الكلماتُ العربيَّةُ من حيث الإعرابُ والبناءُ؛ فحينئذٍ بدأَ بما يُنَاسِبُ موضوع عِلْمِ النَّحو. وإمَّا لكون الكلامِ مُرَكَّباً من كلماتٍ فهو كُلٌّ مُرَكَّبٌ من أجزاءٍ والكلمةُ جُزْؤُهُ، ومعرفةُ الجزءِ مُقَدَّمَةٌ على معرفةِ الكُلِّ طَبْعًا فقُدِّمَ تعريفُ الكلمةِ على تعريف الكلام وَضْعًا لِيُوَاِفَق الوَضْعُ الطَّبْعَ. قال رحمه الله: [بَابُ الكَلَامِ] هذه ترجمةٌ مُؤلَّفة من كلمتَينِ: (بَابُ) و (الكَلَامِ) وهما مُرَكَّبٌ إضافي. الكلمة الثانية منهما مجرورةٌ أبدًا؛ لأنَّها مضاف إليه، وكُلُّ مضافٍ إليه فهو مجرورٌ والعاملُ فيه هو المضافُ على الصَّحيح. وأمَّا الكلمة الأُولى وهي المضافُ فلا تَلْزَمُ حالةً واحدةً، وإنَّما تختلِفُ أحكامُها من رَفْعٍ ونَصْبٍ وجَرٍٍّ باختلاف العواملِ الدَّاخلةِ عليها، فحينئذٍ قد يكون المضافُ مرفوعًا إذَا دخل عليه عاملٌ يقتضِي الرفْعَ نحو: جاء غلامُ زَيدٍ. وقد يكون المضاف منصوبًا إِذَا دخلَ عليه
কালাম (বাক্য) পরিচ্ছেদ

নিশ্চয়ই আমাদের নিকট কালাম হলো—অতএব তুমি মনোযোগ দিয়ে শ্রবণ করো—এমন শব্দ যা সুসংবদ্ধ, অর্থবোধক এবং (আরবি ভাষায়) প্রণীত।

এর প্রকারভেদ যেগুলোর ওপর এটি গড়ে ওঠে তা হলো—ইসম (বিশেষ্য), ফেল (ক্রিয়া) এবং এরপর অর্থবোধক হরফ (অব্যয়)।

অতএব ইসম-কে জার (নিচে ঝোঁক), তানভীন অথবা আলিফ-লাম যুক্ত হওয়ার মাধ্যমে চেনা যায়; সুতরাং তারা (পূর্বসূরিরা) যে পথের অনুসারী ছিলেন তুমিও তার অনুসরণ করো।

তিনি বলেছেন: [কালাম পরিচ্ছেদ] নাযিম (কবিতার রচয়িতা) এটি দিয়ে শুরু করেছেন কারণ এটিই মূলত উদ্দেশ্য, এবং এজন্যও যে, মানুষের মধ্যে পারস্পরিক বুঝাপড়া ও কথোপকথন এর মাধ্যমেই সম্পন্ন হয়। কোনো কোনো ব্যাকরণবিদ কালিমার (শব্দের) সংজ্ঞা দিয়ে শুরু করেন। এটি দুটি বিষয়ের যেকোনো একটির প্রতি লক্ষ রেখে করা হয়: হয় নাহু শাস্ত্রের আলোচ্য বিষয় যেহেতু ই’রাব (শব্দের শেষ অবস্থার পরিবর্তন) ও বিনার (অপরিবর্তনীয়তা) দিক থেকে আরবি শব্দাবলি, তাই তিনি নাহু শাস্ত্রের বিষয়ের সাথে যা সামঞ্জস্যপূর্ণ তা দিয়ে শুরু করেছেন। অথবা যেহেতু কালাম (বাক্য) শব্দ দ্বারা গঠিত, তাই এটি অংশসমূহ দ্বারা গঠিত একটি পূর্ণাঙ্গ রূপ এবং কালিমা (শব্দ) হলো তার অংশ। আর স্বভাবগতভাবেই অংশের জ্ঞান লাভ করা পূর্ণাঙ্গ বিষয়ের জ্ঞান লাভের আগে হয়ে থাকে, তাই বিন্যাসের ক্ষেত্রে কালিমার সংজ্ঞাকে কালামের সংজ্ঞার আগে আনা হয়েছে যাতে সংস্থাপনটি স্বভাবজাত ধারার অনুকূলে হয়। তিনি (রহিমাহুল্লাহ) বলেছেন: [কালাম পরিচ্ছেদ] এটি দুটি শব্দ দ্বারা গঠিত একটি শিরোনাম: 'বাবু' এবং 'আল-কালামি', যা একটি সম্বন্ধযুক্ত পদ (মুরাক্কাবে ইযাফি)। এদের মধ্যে দ্বিতীয় শব্দটি সর্বদা মাজরুর (জের যুক্ত) হয়; কারণ সেটি মুদাফ ইলাইহি, আর প্রতিটি মুদাফ ইলাইহি-ই মাজরুর হয় এবং বিশুদ্ধ মতানুযায়ী মুদাফ-ই তাতে আমল করে। আর প্রথম শব্দটি যা মুদাফ, তা কোনো একটি নির্দিষ্ট অবস্থায় স্থির থাকে না, বরং এর ওপর আপতিত বিভিন্ন আমেলের (প্রভাবক) কারণে রাফা (পেশ), নাসব (যবর) ও জার (জের) অনুযায়ী এর বিধান ভিন্ন ভিন্ন হয়। এমতাবস্থায় মুদাফটি মারফু (পেশযুক্ত) হতে পারে যখন তাতে এমন কোনো আমেল প্রবেশ করে যা রাফাকে দাবি করে, যেমন: 'যাআ গুলামু যায়দিন' (যায়দ এর দাস এসেছে)। আবার মুদাফটি মানসুব হতে পারে যখন তাতে প্রবেশ করে...
(খণ্ড: ১) ফাতহু রাব্বিল বারিয়্যাহ ফী শারহি নাজমিল আজুররুমিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ২২)
عاملٌ يقتضِي نصْبَه نحو: رَأَيتُ غلامَ زَيدٍ. وقد يكون المضافُ مجرورًا إِذَا دخل عليه عاملٌ يقتضِي الجرَّ نحو: مَرَرْتُ بغلامِ زَيدٍ.

وهنا يرد إشكال وهو أنَّ بابُ الكلام مركبٌ إضافيٌّ، والمركب الإضافي كالكلمة الواحدة، ومعلوم أن الكلام لابد أن يكون مركبا من مسند ومسند إليه. وما عدا ذلك لا يصح أن يكون كلامًا. وإذا أفاد المركب الإضافي لوحده دون أن يلفظ بمسند أو مسند إليه كما هو في باب الكلام نقول: لابد من التقدير، فالتقدير في مثل هذا التركيب واجب؛ لأنه كلمة واحدة أو في قوة الكلمة الواحدة، ويشترط في الكلام الاصطلاحي أن يكون مؤلفًا من كلمتين فأكثر، والتلفظ بالكلمتين هو الأصل، وقد تحذف إحدى الكلمتين للعلم بها. [بَابُ الكَلَامِ] حصلت الفائدة الكلامية بهذا التركيب. وإذا حصلت الفائدة الكلامية نقطع بكون الملفوظ به مركبًا لأن الفائدة التامة تستلزم التركيب، فعلمنا أن ثَمَّ مقدرًا لابد من تقديره فحينئذٍ نقول في مثل هذه التراكيب: الحذف جائز والتقدير واجب. وعلى هذا فنقول: يجوز في (باب) ثلاثة أوجه: الرفع، والنصب، والجر. فأما الرفع- وهو الأرجح مطلقًا- ففيه وجهان: إما أن يكون باب خبرَ مبتدأ محذوف تقديره: هذا باب الكلام، هذا: مبتدأ وباب: خبر وهو مضاف والكلام مضافٌ إليه. وإما أن يكون العكس، وهو كون باب مبتدأ خبره محذوف تقديره: باب الكلام هذا موضعه، باب مبتدأ أول، وهو مضاف والكلام مضاف إليه، وهذا موضعه، مبتدأ ثانٍ وخبره، والجملة من المبتدأ الثاني وخبره في محل
এমন একটি আমেল যা একে নসব প্রদানের দাবি রাখে, যেমন: আমি যায়দ-এর গোলামকে দেখেছি। আবার মুদাফ মাজরুর হতে পারে যখন তাতে এমন আমেল প্রবেশ করে যা যার প্রদান করা আবশ্যক করে, যেমন: আমি যায়দ-এর গোলামের পাশ দিয়ে অতিক্রম করেছি।

এখানে একটি সংশয় উত্থাপিত হয়, আর তা হলো 'কথোপকথনের অধ্যায়' (বাবুল কালাম) একটি ইযাফি যৌগিক শব্দ, আর ইযাফি যৌগিক শব্দ একটি শব্দের ন্যায়। এটি সুপরিচিত যে, কালাম (বাক্য) হওয়ার জন্য অবশ্যই মুসনাদ (বিধেয়) এবং মুসনাদ ইলাইহি (উদ্দেশ্য) দ্বারা গঠিত হতে হবে। এটি ছাড়া অন্য কিছু কালাম হওয়া সঠিক নয়। আর যদি ইযাফি যৌগিক গঠনটি মুসনাদ বা মুসনাদ ইলাইহি উচ্চারণ না করেই একাকী পূর্ণ অর্থ প্রদান করে, যেমনটি 'কথোপকথনের অধ্যায়' শিরোনামের ক্ষেত্রে হয়েছে, তবে আমরা বলব: এখানে অবশ্যই উহ্য বা তাকদির মানতে হবে। সুতরাং এই জাতীয় বাক্যগঠনে উহ্য মানা ওয়াজিব; কারণ এটি একটি শব্দ অথবা একটি শব্দের শক্তিসম্পন্ন। পারিভাষিক কালাম হওয়ার জন্য শর্ত হলো তা দুই বা ততোধিক শব্দের সমন্বয়ে গঠিত হতে হবে। মূল নিয়ম হলো দুটি শব্দই উচ্চারণ করা, তবে পরিচিত হওয়ার কারণে কখনো কখনো একটি শব্দ বিলুপ্ত করা হয়। [কথোপকথনের অধ্যায়] এই বাক্যগঠনের মাধ্যমে কালামগত পূর্ণ অর্থ অর্জিত হয়েছে। আর যখন কালামগত পূর্ণ অর্থ অর্জিত হয়, তখন আমরা নিশ্চিতভাবে বলতে পারি যে যা উচ্চারিত হয়েছে তা একটি যৌগিক গঠন, কারণ পূর্ণ অর্থ প্রদানের জন্য যৌগিক গঠন অপরিহার্য। সুতরাং আমরা জানতে পারলাম যে সেখানে অবশ্যই একটি উহ্য বিষয় রয়েছে যা মানা আবশ্যক। এমতাবস্থায় আমরা এই জাতীয় বাক্যগঠনের ক্ষেত্রে বলি: বিলুপ্তি বৈধ এবং উহ্য মানা ওয়াজিব। এর ওপর ভিত্তি করে আমরা বলি: 'অধ্যায়' (বাব) শব্দটিতে তিনটি অবস্থা বৈধ: রাফ' (পেশ), নসব (জবর) এবং যার (জের)। রাফ' বা পেশ পড়ার ক্ষেত্রে—যা সর্বাবস্থায় অধিক অগ্রগণ্য—দুটি পদ্ধতি রয়েছে: হয় 'অধ্যায়' শব্দটি একটি উহ্য মুবতাদার খবর হবে, যার উহ্য রূপ হলো: এটি কালামের অধ্যায়; এখানে 'এটি' হলো মুবতাদা এবং 'অধ্যায়' হলো খবর, আর তা মুদাফ এবং 'কালাম' হলো মুদাফ ইলাইহি। অথবা এর বিপরীত হওয়া, অর্থাৎ 'অধ্যায়' শব্দটি হবে মুবতাদা যার খবর উহ্য রয়েছে; যার উহ্য রূপ হলো: কালামের অধ্যায়—এটি তার স্থান; এখানে 'অধ্যায়' হলো প্রথম মুবতাদা এবং তা মুদাফ, আর 'কালাম' হলো মুদাফ ইলাইহি। আর 'এটি তার স্থান' অংশটি হলো দ্বিতীয় মুবতাদা ও তার খবর। এই দ্বিতীয় মুবতাদা ও খবর মিলে গঠিত বাক্যটি স্থলাভিষিক্ত হবে...
(খণ্ড: ১) ফাতহু রাব্বিল বারিয়্যাহ ফী শারহি নাজমিল আজুররুমিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ২৩)
رفع خبر المبتدأ الأول. وأيهما أولى؟ نقول: الأولى أن يجعل خبرًا لمبتدأ محذوف؛ لأن المبتدأ محكوم عليه، والخبر محكوم به، والأصل فيه الجهل به، وما كان مجهولاً فالأصل فيه عدم جواز حذفه إلا إذا علم. ويجوز النصب بابَ الكلام أي أقرأ بابَ الكلام فهو مفعول به لفعل محذوف جوازا. ويجوز فيه الجر على مذهب الكوفيين أي انظر في بابِ الكلام فحذف حرف الجر وبقي عمله. وهو شاذ عند البصريين.

[بَابُ الكَلَامِ] البابُ في اللغة: المدخل للشيء وقيل: فرجة في ساتر يتوصل بها من داخل إلى خارج وعكسه. وهو حقيقة في الأجسام مجاز في المعاني. وأما في الاصطلاح فهو: ألفاظ مخصوصة دالة على معانٍ مخصوصة. وبَابُ الألف فيه منقلبة عن واو- الألف إذا كانت في ثلاثي لا تكون زائدة البتة. وإنما تكون منقلبة عن أصل نحو: قَوَلَ تحركت الواو وانفتح ما قبلها فقلبت الواو ألفًا. وباع أصله بَيَعَ، تحركت الياء وانفتح ما قبلها فقلبت الياء ألفًا- وباب ثلاثي إذًا الألف هذه لا تكون أصلاً بذاتها، وإنما هي منقلبة عن واو بدليل تصغيره على بويبٌ، وجمعه على أبواب قياسًا وعلى أبوبة وبيبان سماعًا؛ لأن القاعدة عند الصرفيين: أن التصغير والجمع يردان الأشياء إلى أصولها. [بَابُ الكَلَامِ] بفتح الكاف. وهي مثلثة، ويقال: كُلام، وكِلام، لكن المعنى يختلف فالكُلام بالضم-وهو مفرد- اسم للأرض الصعبة الغليظة، يقال: هذه أرضٌ كُلامٌ. وبالكسر -وهو جمع-، كِلام جمعُ كَلْمٍ من باب نصر والمراد
এটি প্রথম মুবতাদার খবর হিসেবে পেশ বিশিষ্ট। আর কোনটি অধিক উত্তম? আমরা বলি: একটি উহ্য মুবতাদার খবর হিসেবে গণ্য করাই অধিক উত্তম; কারণ মুবতাদা হলো যার সম্পর্কে কোনো বিধান দেওয়া হয়, আর খবর হলো সেই বিধান, আর মূল নিয়ম হলো খবর সম্পর্কে অজানা থাকা, আর যা অজানা থাকে তা সুস্পষ্ট না হওয়া পর্যন্ত উহ্য রাখা বৈধ না হওয়া-ই মূল নীতি। আর 'কথার অধ্যায়' শব্দগুচ্ছে নসব বা জবর পাঠ করাও জায়েজ, অর্থাৎ 'আমি কথার অধ্যায়টি পাঠ করছি', এমতাবস্থায় এটি একটি উহ্য ক্রিয়ার কর্ম বা মাফউল বিহি হবে। আর কুফাবাসীদের মাযহাব অনুযায়ী এতে যের প্রদানও জায়েজ, যার অর্থ হলো 'কথার অধ্যায়ে দৃষ্টি দাও', এখানে অব্যয় বা হরফে জর বিলুপ্ত হয়েছে কিন্তু তার আমল রয়ে গেছে। আর বসরবাসীদের নিকট এটি একটি বিরল প্রয়োগ।

[কথার অধ্যায়] আভিধানিক অর্থে 'বাব' বা অধ্যায় হলো: কোনো কিছুতে প্রবেশের পথ; আবার বলা হয়েছে: কোনো আবরণের মাঝে এমন ছিদ্র যা দিয়ে ভেতর থেকে বাইরে এবং বাইরে থেকে ভেতরে যাতায়াত করা যায়। এটি দৃশ্যমান বস্তুর ক্ষেত্রে প্রকৃত অর্থে এবং অর্থগত বিষয়ের ক্ষেত্রে রূপক অর্থে ব্যবহৃত হয়। আর পারিভাষিক অর্থে তা হলো: বিশেষ কিছু শব্দ যা বিশেষ কিছু অর্থের ওপর প্রমাণ বহন করে। আর 'বাব' শব্দের আলিফটি 'ওয়াও' থেকে পরিবর্তিত হয়ে এসেছে— কোনো তিন অক্ষরবিশিষ্ট শব্দে আলিফ কখনোই অতিরিক্ত হয় না। বরং তা কোনো মূল অক্ষর থেকে পরিবর্তিত হয়ে আসে, যেমন: 'কাওয়ালা', এখানে 'ওয়াও' হরকাহযুক্ত হয়েছে এবং তার পূর্বের অক্ষর জবরযুক্ত হয়েছে, তাই 'ওয়াও' টি আলিফে রূপান্তরিত হয়েছে। আর 'বাআ' এর মূল হলো 'বাইয়াআ', এখানে 'ইয়া' হরকাহযুক্ত হয়েছে এবং তার পূর্বের অক্ষর জবরযুক্ত হয়েছে, তাই 'ইয়া' টি আলিফে রূপান্তরিত হয়েছে— আর 'বাব' শব্দটি তিন অক্ষরবিশিষ্ট, সুতরাং এই আলিফটি স্বয়ং মূল সত্তাগত নয়, বরং এটি 'ওয়াও' থেকে পরিবর্তিত হয়েছে; এর প্রমাণ হলো এর ক্ষুদ্রার্থবোধক শব্দ হলো 'বুওয়াইবুন', আর এর নিয়মিত বহুবচন হলো 'আবোয়াব' এবং শ্রুতিগত অনিয়মিত বহুবচন হলো 'আবোয়াবাতুন' ও 'বিবানুন'; কারণ রূপতত্ত্ববিদদের নিকট নিয়ম হলো: ক্ষুদ্রার্থবোধক শব্দ এবং বহুবচন শব্দগুলোকে তাদের মূলে ফিরিয়ে নিয়ে যায়। [কথার অধ্যায়] এখানে কাফ অক্ষরে জবর হবে। এটি ত্রি-স্বরবিশিষ্ট, একে 'কুলাম' এবং 'কিলাম'ও বলা হয়, তবে এগুলোর অর্থ ভিন্ন ভিন্ন। পেশসহ 'কুলাম'—যা একবচন—শক্ত ও কর্কশ ভূমির নাম; বলা হয়: এটি একটি কর্কশ ভূমি। আর যেরসহ 'কিলাম'—যা বহুবচন—এটি 'নাসারা' অধ্যায় হতে আগত 'কালমুন' শব্দের বহুবচন এবং এখানে উদ্দেশ্য হলো...
(খণ্ড: ১) ফাতহু রাব্বিল বারিয়্যাহ ফী শারহি নাজমিল আজুররুমিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ২৪)
به الجراحات، يقال: فلان به كِلامٌ أو قلبي به كِلامٌ يعني جراحات. ولذلك ذكر ابن يعيش في شرح المفصل أن الكلام سمي كلامًا لأنه يجرح القلب.

جِرَاحَاتُ السِّنَانِ لهَا الِتئَامُ … وَلا يَلْتَامُ مَا جَرَحَ اللِّسَانُ

[الكَلَامِ] المشهور أنه اسم مصدر لكلَّم؛ لأن كلَّم يُكلِّم مصدره التكليم، فإذًا هو اسم مصدر. وقيل: هو مصدر سماعي. الكلام لغةً: القول وما كان مكتفيًا بنفسه. والقول: هو اللفظ الدال على معنى كرجل وفرس وزيد. واللفظ قسمان: مهمل ومستعمل، فاللفظ المستعمل هو القول. فهو أخص مطلقًا من اللفظ، لأن اللفظ جنس تحته قسمان: مهملٌ، وهو الذي لم تضعه العرب قالوا: كديز مقلوب زيد، ورفعج مقلوب جعفر، فهو مهمل من الإهمال وهو الترك أي متروك. فالقول خاصٌ بالمستعمل أو بالموضوع. وهذا قد وضعته العرب، وما لم تضعه يسمى لفظًا ولا يسمى قولاً. وما كان مكتفيًا بنفسه وما: اسم موصول بمعنى الذي يصدق على شيء أَيْ شيء اكتفى بنفسه في الدلالة على ما يدل عليه القول. فكل ما أفاد فائدة للناظر أو للقارئ دون ضميمة قولٍ إليها نقول: هذا أفاد فائدةً واكتفى بنفسه دون لفظ. وهذه خمسة أشياء -التي تفيد بنفسها دون لفظ-: الكتابة والإشارة والعقد والنصب ولسان الحال. فلو كُتب (زيدٌ قائم) فقرأت دون أن تتكلم. هل أفادك فائدة أو لا؟ لا شك أنه أفادك فائدةً. هل هو كلام أو لا؟ نقول: ليس بكلام، ولذلك تقرأ المجلد من أوله إلى آخره فتستفيد منه علمًا
এতে রয়েছে ক্ষতসমূহ। বলা হয়: অমুকের শরীরে ক্ষত রয়েছে অথবা আমার হৃদয়ে ক্ষত রয়েছে, অর্থাৎ জখমসমূহ। এজন্যই ইবনে ইয়াইশ 'শরহুল মুফাসসাল'-এ উল্লেখ করেছেন যে, 'কালাম' (কথা)-কে কালাম নামকরণ করা হয়েছে কারণ তা হৃদয়ে ক্ষত সৃষ্টি করে।

বর্শার ফলার জখম শুকিয়ে যায় … কিন্তু জিহ্বার করা জখম কখনো শুকায় না।

[কালাম] প্রসিদ্ধ মত হলো, এটি 'কাল্লামা' ক্রিয়ার ইসম মাসদার; কারণ 'কাল্লামা-ইউকাল্লিমু' এর মাসদার হলো 'তাকলিম', সুতরাং এটি একটি ইসম মাসদার। কেউ কেউ বলেছেন: এটি একটি মাসদারে সামাঈ। শাব্দিক অর্থে কালাম হলো: কথা এবং যা স্বয়ংসম্পূর্ণ। আর 'কাওল' (কথা) হলো: এমন শব্দ যা কোনো অর্থের ওপর প্রমাণ পেশ করে, যেমন: মানুষ, ঘোড়া এবং জায়েদ। আর লফজ (শব্দ) দুই প্রকার: মুহমাল (অব্যব্যহৃত) এবং মুসতামাল (ব্যবহৃত)। ব্যবহৃত লফজই হলো 'কাওল'। সুতরাং এটি লফজের চেয়ে পূর্ণাঙ্গরূপে বিশেষ, কারণ লফজ হলো একটি সাধারণ শ্রেণি যার অধীনে দুটি বিভাগ রয়েছে: মুহমাল, যা আরবরা তৈরি করেনি; যেমন তারা বলে 'দাইজ' যা 'জায়েদ' শব্দের উল্টো এবং 'রাফআজি' যা 'জাফর' শব্দের উল্টো। এটি 'ইহমাল' থেকে এসেছে যার অর্থ হলো পরিত্যক্ত। সুতরাং 'কাওল' ব্যবহৃত বা নির্ধারিত শব্দের সাথে নির্দিষ্ট। আর এটি আরবরা তৈরি করেছে। আর যা তারা তৈরি করেনি, তাকে লফজ বলা হয় কিন্তু কাওল বলা হয় না। আর যা স্বয়ংসম্পূর্ণ; এখানে 'যা' হলো এমন কিছুকে বোঝায় যা কোনো বিষয়ের ওপর প্রমাণ পেশ করার ক্ষেত্রে কথা ছাড়াই স্বয়ংসম্পূর্ণ। সুতরাং যা কিছু কোনো কথা যুক্ত করা ছাড়াই দর্শক বা পাঠকের জন্য কোনো অর্থ প্রদান করে, আমরা বলি: এটি অর্থ প্রদান করেছে এবং শব্দ ছাড়াই স্বয়ংসম্পূর্ণ হয়েছে। আর শব্দ ছাড়াই যা নিজে নিজে অর্থ প্রদান করে এমন বিষয় পাঁচটি: লেখা, ইশারা, গণনা, চিহ্ন এবং অবস্থার বর্ণনা। যদি লেখা হয় (জায়েদ দণ্ডায়মান) এবং আপনি কথা না বলেই তা পড়েন, তবে কি এটি আপনাকে কোনো অর্থ প্রদান করল কি না? নিঃসন্দেহে এটি আপনাকে অর্থ প্রদান করেছে। এটি কি কালাম নাকি নয়? আমরা বলব: এটি কালাম নয়, এ কারণেই আপনি একটি বড় গ্রন্থ শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত পড়েন এবং তা থেকে জ্ঞান অর্জন করেন।
(খণ্ড: ১) ফাতহু রাব্বিল বারিয়্যাহ ফী শারহি নাজমিল আজুররুমিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ২৫)
فالكتاب قد أفادك لكنها دون لفظٍ. والإشارة، لوأشار لصاحبه آمرًا له بالجلوس - أشار بيده من علو إلى سفل- فالإشارة أفادت معنى للناظر إليها دون ضميمة لفظ إليها. والعقد قالوا: هذه طريقة عند العرب كانوا يعقدون الأصابع للدلالة على عدد معين، فإذا عقدت الأصابع بهيئة معينة أفادت الناظر لكن أفادته دون ضميمة لفظ. والنصب وهو جمع نصبة ما ينصب للدلالة على شيء كأعلام الأرض فلو دخل إنسانٌ مسجدًا ما، يريد أن يعرف أين القبلة فنظر إلى المحراب، فعرف اتجاه القبلة، فالمحراب أفاده فائدة وهي كون القبلة في هذا الاتجاه دون أن يتكلم أو يضم إلى ذلك لفظًا. ولسان الحال كأن ترى الرجل ووجهه فيه نوع يأس وحزن تعرف أنه حزين أو تراه سرير وقرير العين فتقول: هذا فرح، ما الذي دلك على أن هذا حزين وهذا فرح؟ تقول: بلسان حاله ومثله المسكين. فنقول هذه الأمور الخمسة اكتفت بنفسها في الدلالة على المعنى دون ضميمة لفظٍ إليها. فحينئذٍ تأخذ قاعدة عامة: كل ما دل على معنى لا يشترط فيه أن يكون لفظًا بل قد تؤخذ المعاني من الألفاظ ومن غيرها كالدوال الأربع التي ذكرناها. هذا هو حد الكلام في اللغة: القول وما كان مكتفيًا بنفسه، وأما الكلام عند النحاة فهو أخص مطلقًا من الكلام عند أهل اللغة قال رحمه الله:

إِنَّ الكَلَامَ عِنْدَنَا فَلْتَسْتَمِعْ … لَفْظٌ مُرَكَّبٌ مُفِيدٌ قَدْ وُضِعْ
সুতরাং লিখন আপনাকে উপকৃত করেছে তবে তা কোনো উচ্চারিত শব্দ ছাড়াই। আর ইশারা, যদি কেউ তার সঙ্গীকে বসার নির্দেশ দিয়ে ইশারা করে—সে তার হাত দিয়ে উপর থেকে নিচে ইশারা করল—তবে এই ইশারা কোনো উচ্চারিত শব্দের সংযোগ ছাড়াই প্রত্যক্ষকারীর কাছে অর্থ প্রকাশ করল। আর আঙ্গুলে গণনা: তারা বলেছেন এটি আরবদের নিকট একটি পদ্ধতি ছিল, তারা নির্দিষ্ট সংখ্যা বোঝাতে আঙ্গুলগুলো ভাঁজ করত। সুতরাং যখন আঙ্গুলগুলো নির্দিষ্ট ভঙ্গিতে ভাঁজ করা হয়, তখন তা কোনো উচ্চারিত শব্দের সংযোগ ছাড়াই প্রত্যক্ষকারীকে অর্থ প্রদান করে। আর সংকেত চিহ্ন হলো ‘নাসবাহ’ এর বহুবচন, যা কোনো কিছু নির্দেশ করার জন্য স্থাপন করা হয় যেমন ভূমির সীমানা চিহ্ন। যদি কোনো ব্যক্তি কোনো মসজিদে প্রবেশ করে এবং কিবলা কোথায় তা জানতে চায়, অতঃপর সে মেহরাবের দিকে তাকায় এবং কিবলার দিক চিনে ফেলে, তবে মেহরাব তাকে একটি অর্থ প্রদান করল, আর তা হলো কোনো কথা বলা বা শব্দ যুক্ত করা ছাড়াই কিবলা এই অভিমুখে হওয়া। আর অবস্থার ভাষা হলো যেমন আপনি কোনো ব্যক্তিকে দেখলেন এবং তার চেহারায় এক ধরণের হতাশা ও বিষণ্ণতা রয়েছে, তখন আপনি বুঝতে পারেন যে সে দুঃখিত; অথবা তাকে প্রফুল্ল ও উজ্জ্বল নেত্রবিশিষ্ট দেখলেন তখন আপনি বলেন: এ ব্যক্তি আনন্দিত। কিসে আপনাকে পথ দেখাল যে এ ব্যক্তি দুঃখিত আর ও ব্যক্তি আনন্দিত? আপনি বলবেন: তার অবস্থার ভাষার মাধ্যমে; মিসকীনের বিষয়টিও তদ্রূপ। সুতরাং আমরা বলি যে, এই পাঁচটি বিষয় কোনো উচ্চারিত শব্দের সংযোগ ছাড়াই অর্থ প্রকাশের ক্ষেত্রে স্বয়ংসম্পূর্ণ। ফলে তখন আপনি একটি সাধারণ নিয়ম গ্রহণ করবেন: যা কিছু কোনো অর্থের ওপর নির্দেশনা দেয়, তাতে উচ্চারিত শব্দ হওয়া শর্ত নয়, বরং অর্থসমূহ শব্দ থেকে এবং শব্দ ছাড়াও গৃহীত হতে পারে যেমন আমাদের উল্লিখিত চারটি নির্দেশক। এটিই হলো আভিধানিক দিক থেকে কালামের সংজ্ঞা: উক্তি এবং যা স্বয়ংসম্পূর্ণ। আর নাহুবিদদের নিকট কালাম হলো আভিধানিক কালাম অপেক্ষা অধিকতর সুনির্দিষ্ট। তিনি (রহিমাহুল্লাহ) বলেছেন:

নিশ্চয়ই আমাদের নিকট কালাম—অতঃপর শ্রবণ করুন … হলো এমন উচ্চারিত শব্দ যা যৌগিক, অর্থবহ এবং আরবী পদ্ধতিতে গঠিত।
(খণ্ড: ১) ফাতহু রাব্বিল বারিয়্যাহ ফী শারহি নাজমিল আজুররুমিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ২৬)
[إِنَّ الكَلَامَ عِنْدَنَا] معاشرالنحاة [عِنْدَ] مثلَّث العين عِنْدَ وعَنْدَ وعُنْدَ، والكسر أشهر. والأصل أنها ظرف زمان أو مكان، لكن في مثل هذا التركيب عند ليست بظرف زمان ولا مكان، لأنه يتكلم بلسان النحاة ولذلك قال: [عِنْدَنَا] يعني معاشر النحاة؛ لأن الكلام يختلف باختلاف الفنون، فالكلام له معنى عند الأصوليين، وله معنى عند المتكلمين، وله معنى عند المناطقة، وله معنى عند الفقهاء، كل فن إذا أطلق الكلام عندهم انصرف إلى ما اصطلح عليه بينهم، وليس المراد به الذي اصطلح عليه النحاة. ولذلك يقال الاصطلاح، والكلام في الاصطلاح: بمعنى الحقيقة العرفية التي تكون عند أرباب ذلك الفن، ولذلك نقول: كلمة الاصطلاح تتكرر معنا كثيرًا في سائر الفنون ولابد أن يضبطها طالب العلم ويعرف ما المراد بهذه الكلمة إذا أطلقها النحاة أو الفقهاء أو غيرهم لذلك نقول الاصطلاح أصله: اصتلح قلبت الفاء طاءًا لأنه من باب افتعل كما هو معلوم عند الصرفيين، والاصطلاح في اللغة الاتفاق يقال: اصطلح زيدٌ وعمرٌو إذا اتفقا. والاصطلاح في الاصطلاح يعني عند أرباب الحقائق العرفية: اتفاق طائفة مخصوصة على أمر مخصوص بينهم متى أُطلق انصرف إليه. اتفاق طائفة مخصوصة سواءٌ كانوا نحاة أو أصوليين أو مناطقة أو مهندسين أو أطباء قل ما شئت، اتفاق طائفة مخصوصة على أمر مخصوص بينهم متى أطلق انصرف إليه، فمثلاً الفاعل عند النحاة له معنى خاص بهم، إذا أطلق لفظ الفاعل انصرف إلى المعنى الخاص الذي هو عند النحاة
[নিশ্চয়ই আমাদের নিকট কথা] অর্থাৎ বৈয়াকরণদের নিকট; ['ইন্দা] শব্দটির 'আইন' অক্ষরটি তিন হরকত (যের, যবর, পেশ) বিশিষ্ট হতে পারে, যথা: ইন্দা, আন্ডা এবং উন্দা, তবে কাসরা বা জের বিশিষ্ট হওয়াটাই সবচেয়ে প্রসিদ্ধ। মূলত এটি সময় বা স্থানের আধার বা অব্যয় (জরফ), কিন্তু এই ধরণের বাক্যে 'ইন্দা' সময় বা স্থানের অব্যয় হিসেবে ব্যবহৃত হয়নি। কেননা তিনি বৈয়াকরণদের পক্ষ থেকে কথা বলছেন, একারণেই তিনি বলেছেন: [আমাদের নিকট] অর্থাৎ বৈয়াকরণদের সম্প্রদায়ের নিকট; কারণ শাস্ত্রভেদে কথার (কালামের) সংজ্ঞা ভিন্ন ভিন্ন হয়। উসূলবিদদের নিকট 'কালাম'-এর এক অর্থ রয়েছে, কালাম শাস্ত্রবিদদের নিকট এর এক অর্থ রয়েছে, যুক্তিবিদদের নিকট এক অর্থ রয়েছে এবং ফকীহদের নিকট এক অর্থ রয়েছে। প্রতিটি শাস্ত্রের পরিভাষায় যখন 'কালাম' শব্দটি নিঃশর্তভাবে ব্যবহৃত হয়, তখন তা তাদের নির্ধারিত পারিভাষিক অর্থের দিকেই ধাবিত হয়, এর দ্বারা বৈয়াকরণদের নির্ধারিত পারিভাষিক অর্থ উদ্দেশ্য হয় না। একারণেই একে পারিভাষিক সংজ্ঞা (ইস্তিলাহ) বলা হয়। পারিভাষিক অর্থে 'কালাম' হলো: সেই শাস্ত্রের পণ্ডিতদের নিকট প্রচলিত বাস্তব অর্থ। তাই আমরা বলি: 'ইস্তিলাহ' (পরিভাষা) শব্দটি বিভিন্ন শাস্ত্রে আমাদের সামনে বারবার আসবে, তাই ইলম অন্বেষণকারীর উচিত এটি আয়ত্ত করা এবং বৈয়াকরণ বা ফকীহ বা অন্য কেউ যখন এই শব্দটি নিঃশর্তভাবে ব্যবহার করবেন, তখন এর দ্বারা কী উদ্দেশ্য তা অনুধাবন করা। একারণে আমরা বলি, 'ইস্তিলাহ' (পরিভাষা) শব্দটির মূল রূপ ছিল: 'ইস্তালাহা', যেখানে 'তা' অক্ষরটি 'ত্ব' দ্বারা পরিবর্তিত হয়েছে, কারণ এটি 'ইফতিআল' বাব থেকে এসেছে, যেমনটি সারফ শাস্ত্রবিদদের (রূপতত্ত্ববিদদের) নিকট সুপরিচিত। আভিধানিক অর্থে 'ইস্তিলাহ' হলো ঐক্যবদ্ধ হওয়া বা একমত হওয়া; যেমন বলা হয়: যায়েদ ও আমর আপস বা ঐক্যবদ্ধ হয়েছে, যখন তারা একে অপরের সাথে একমত হয়। আর পারিভাষিক সংজ্ঞার পরিভাষায়—অর্থাৎ পারিভাষিক অর্থের পণ্ডিতদের নিকট—এর অর্থ হলো: কোনো একটি নির্দিষ্ট গোষ্ঠীর কোনো একটি নির্দিষ্ট বিষয়ে একমত হওয়া, যাতে করে শব্দটি নিঃশর্তভাবে উচ্চারণ করা হলে সেই নির্দিষ্ট অর্থটিই বুঝে আসে। সেই নির্দিষ্ট গোষ্ঠী বৈয়াকরণ হোক বা উসূলবিদ হোক বা যুক্তিবিদ হোক বা প্রকৌশলী হোক বা চিকিৎসক হোক—আপনি যা-ই বলুন না কেন—কোনো নির্দিষ্ট গোষ্ঠীর কোনো নির্দিষ্ট বিষয়ে একমত হওয়া, যা নিঃশর্তভাবে উল্লেখ করলে সেই অর্থের দিকেই ধাবিত হয়। উদাহরণস্বরূপ, বৈয়াকরণদের নিকট 'ফায়েল' (কর্তা) শব্দের একটি বিশেষ অর্থ রয়েছে। যখন 'ফায়েল' শব্দটি নিঃশর্তভাবে উচ্চারণ করা হয়, তখন তা বৈয়াকরণদের নিকট প্রচলিত সেই বিশেষ অর্থের দিকেই ধাবিত হয়।
(খণ্ড: ১) ফাতহু রাব্বিল বারিয়্যাহ ফী শারহি নাজমিল আজুররুমিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ২৭)
ولا ينصرف إلى الفاعل الذي هو عند أهل اللغة فإذا قال النحوي: هذا فاعل فليس المراد به من أحدث الفعل، بل المراد به الاسم المرفوع المذكور بعد الفعل. [عِنْدَنَا] لأنه يتكلم عن نفسه وعن غيره وهذا هو الأظهر. أو أنها دالة على التعظيم، ولذلك ذُكر في قول ابن مالك رحمه الله: (كلامنا) أن ابن مالك رحمه الله بلغ درجة الاجتهاد فعبر عن نفسه بـ (نَا) الدالة على التعظيم. هنا قال [إِنَّ الكَلَامَ عِنْدَنَا] في مثل هذا التركيب نفسر عند بمعنى حُكم كأنه قال: [إِنَّ الكَلَامَ عِنْدَنَا] أي في حكمنا معاشر النحاة، لأنه لا يمكن حمل عند هنا على الظرفية الزمانية ولا المكانية. ولذلك يقال: زيد عندي أفضل من عمرو. يعني في حكمي وليست الظرفية هنا مرادة لا الزمانية ولا المكانية، يقال: عندي كذا، فيقال: ولك عندٌ استُعمل غير ظرف، ويراد به القلب والمعقول. قوله: [فَلْتَسْتَمِعْ] الفاء عاطفة، وتستمع فعل مضارع مقرون بلام الأمر، وهو مجزوم بها، والجملة لا محل لها من الإعراب معترضة. [إِنَّ] حرف توكيد ونصب و [الكَلَامَ] اسم إن، وخبرها [لَفْظٌ] أي إن الكلام لفظٌ عندنا أي في حكمنا [فَلْتَسْتَمِعْ] له، ذكر هنا أن تعريف الكلام عند النحاة لابد أن يكون مشتملاً على أربعة أركان:

الأول: أن يكون لفظًا. الثاني: أن يكون مركبًا. الثالث: أن يكون مفيدًا. الرابع: أن يكون موضوعًا بالوضع العربي.

الركن الأول: لابد أن يكون لفظًا أي ملفوظًا به، فإذا لم يكن لفظًا لا يكون كلامًا نحويًا فقوله: لفظٌ أخرج خمسة أشياء: وهي
এবং এটি সেই কর্তার (ফায়েল) দিকে ধাবিত হয় না যা ভাষাবিদদের নিকট প্রচলিত। সুতরাং যখন কোনো ব্যাকরণবিদ বলেন: এটি ফায়েল, তখন এর দ্বারা এমন কেউ উদ্দেশ্য নয় যে কাজটি সম্পাদন করেছে, বরং এর দ্বারা সেই মারফু বিশেষ্যটি উদ্দেশ্য যা ক্রিয়ার পরে উল্লিখিত হয়। [আমাদের নিকট] কারণ তিনি নিজের সম্পর্কে এবং অন্যদের সম্পর্কে কথা বলছেন, আর এটিই অধিক স্পষ্ট মত। অথবা এটি সম্মান প্রদর্শনের নির্দেশক, আর এ কারণেই ইবনে মালিক (রহিমাহুল্লাহ)-এর উক্তি: (আমাদের কালাম) সম্পর্কে উল্লেখ করা হয়েছে যে, ইবনে মালিক (রহিমাহুল্লাহ) ইজতিহাদের স্তরে পৌঁছেছিলেন, তাই তিনি সম্মানসূচক (না) শব্দ ব্যবহারের মাধ্যমে নিজেকে প্রকাশ করেছেন। এখানে তিনি বলেছেন [নিশ্চয়ই আমাদের নিকট কালাম], এই জাতীয় বাক্য গঠনে আমরা 'নিকট' (ইন্দা) শব্দটিকে 'বিধান' বা 'বিচার' অর্থে ব্যাখ্যা করি। যেন তিনি বলেছেন: [নিশ্চয়ই আমাদের নিকট কালাম] অর্থাৎ আমরা ব্যাকরণবিদদের বিচারে। কারণ এখানে 'নিকট' শব্দটিকে সময়ের বা স্থানের আধার হিসেবে গ্রহণ করা সম্ভব নয়। এ কারণেই বলা হয়: যায়েদ আমার নিকট আমরের চেয়ে উত্তম। অর্থাৎ আমার বিচারে; এখানে স্থান বা কালগত কোনো আধার উদ্দেশ্য নয়। বলা হয়: আমার নিকট এমনটি রয়েছে, তখন বলা হয়: তোমার নিকট একটি 'বিবেচনা' রয়েছে যা আধার হিসেবে ব্যবহৃত হয়নি, বরং এর দ্বারা অন্তর ও বুদ্ধিগ্রাহ্য বিষয় উদ্দেশ্য নেওয়া হয়। তাঁর উক্তি: [অতএব তুমি শ্রবণ করো], এখানে 'ফা' হলো সংযোজক অব্যয়, এবং 'তস্তামি' হলো নির্দেশসূচক লাম যুক্ত বর্তমান/ভবিষ্যৎকালীন ক্রিয়া, যা ঐ লামের কারণে মাজযূম হয়েছে। আর এই বাক্যটির কোনো ইরাবগত স্থান নেই, এটি একটি মধ্যবর্তী বাক্য। [ইন্না] হলো নিশ্চয়তাবোধক ও নসব প্রদানকারী অব্যয় এবং [আল-কালাম] হলো ইন্না-এর ইসিম, আর এর খবর হলো [লাফয]। অর্থাৎ নিশ্চয়ই কালাম আমাদের নিকট অর্থাৎ আমাদের বিচারে একটি উচ্চারিত শব্দ [অতএব তুমি শ্রবণ করো] তা। তিনি এখানে উল্লেখ করেছেন যে, ব্যাকরণবিদদের নিকট কালামের সংজ্ঞায় অবশ্যই চারটি স্তম্ভ অন্তর্ভুক্ত থাকতে হবে:

প্রথম: শব্দ হতে হবে। দ্বিতীয়: যৌগিক হতে হবে। তৃতীয়: অর্থপূর্ণ হতে হবে। চতুর্থ: আরবি নিয়মে গঠিত হতে হবে।

প্রথম স্তম্ভ: অবশ্যই শব্দ হতে হবে অর্থাৎ মুখ দিয়ে উচ্চারিত হতে হবে। সুতরাং যদি তা উচ্চারিত শব্দ না হয়, তবে সেটি ব্যাকরণগত কালাম হবে না। অতএব তাঁর উক্তি: 'শব্দ' পাঁচটি বিষয়কে বর্জন করেছে, আর সেগুলো হলো:
(খণ্ড: ১) ফাতহু রাব্বিল বারিয়্যাহ ফী শারহি নাজমিল আজুররুমিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ২৮)
الكتابة والإشارة والعقد والنصب ولسان الحال. هذه لا تسمى كلامًا عند النحاة لفقد الركن الأول وهو كونها ليست بلفظٍ. ولا يسمى الكلام كلامًا عند النحاة إلا إذا كان ملفوظًا به فالمقروء الذي تقرأه لا يسمى كلامًا عند النحاة وإن أفاد فائدة تامة.

الركن الثاني: كونه مركبًا يعني مركبًا من كلمتين فأكثر حقيقة أو حكمًا. فنحو: زيد قائم وقام زيد، مركب من كلمتين. ونحو: {قَدْ أَفْلَحَ الْمُؤْمِنُونَ} (المؤمنون:1) و {إِنَّ اللَّهَ كَانَ غَفُوراً رَحِيماً} (النساء:23) مركب من أكثر من كلمتين. وقولهم: حقيقة أو حكمًا، حقيقة بأن يلفظ بالكلمتين معًا كأن تقول: زيد قائمٌ. تلفظت بالكلمتين معًا. وحكما بأن تلفظ بإحدى الكلمتين دون الأخرى نحو: كيف زيدٌ؟ تقول: مريضٌ؟ فمريضٌ خبر لمبتدأ محذوف. فلم يُلفظ بالكلمتين، مع كونه مركبًا والملفوظ به كلمة واحدة، وقد دلت على المحذوف. فإذا لم يكن مركبًا انتفى التركيب فلا يسمى كلامًا، نحو: غلام زيدٍ، أو زيد، أوقام.

الركن الثالث: أن يكون مفيدًا. والمقصود بالإفادة هنا أن يحسن السكوت عليه من المتكلم بحيث لا يصير السامع منتظرا لشيءٍ آخر. لو قال له: قد قام زيدٌ حصلت الفائدة التامة، فيحسن السكوت عليه من المتكلم لوجود التركيب الإسنادي، لكن لو قال: إن قام زيدٌ … لم تحصل الفائدة التامة، فحينئذٍ لا يسمى كلامًا لأن السامع صار منتظرًا لشيء آخر، فلم تحصل الفائدة التامة فإذا لم
লিখন, ইশারা, গাণিতিক হিসাব, সংকেত এবং অবস্থার ভাষা। ব্যাকরণবিদদের নিকট এগুলোকে 'কালাম' বা বাক্য বলা হয় না, কারণ এখানে প্রথম রুকন বা শর্তটি অনুপস্থিত, আর তা হলো এগুলো উচ্চারিত শব্দ নয়। ব্যাকরণবিদদের নিকট কালাম ততক্ষণ পর্যন্ত কালাম হিসেবে গণ্য হয় না যতক্ষণ না তা উচ্চারিত হয়। সুতরাং আপনি যা পাঠ করেন তা ব্যাকরণবিদদের নিকট কালাম নয়, যদিও তা পূর্ণ অর্থ প্রদান করে।

দ্বিতীয় রুকন: তা হতে হবে যৌগিক, অর্থাৎ বাস্তবত বা বিধানগতভাবে দুই বা ততোধিক শব্দের সমষ্টি হতে হবে। যেমন: 'জায়েদ দণ্ডায়মান' এবং 'জায়েদ দাঁড়িয়েছে'—এগুলো দুটি শব্দের সমষ্টি। আবার যেমন: {মুমিনগণ অবশ্যই সফলকাম হয়েছে} (আল-মুমিনুন: ১) এবং {নিশ্চয়ই আল্লাহ ক্ষমাশীল, পরম দয়ালু} (আন-নিসা: ২৩)—এগুলো দুইয়ের অধিক শব্দের সমষ্টি। আর তাদের বক্তব্য 'বাস্তবত বা বিধানগতভাবে'—এর মধ্যে বাস্তবত বলতে বোঝায় দুটি শব্দই একসাথে উচ্চারণ করা, যেমন আপনি বললেন: জায়েদ দণ্ডায়মান। এখানে আপনি দুটি শব্দই একসাথে উচ্চারণ করেছেন। আর বিধানগত বলতে বোঝায় দুটি শব্দের মধ্যে একটি উচ্চারণ করা এবং অন্যটি না করা। যেমন: জায়েদ কেমন আছে? উত্তরে বললেন: অসুস্থ। এখানে 'অসুস্থ' শব্দটি একটি উহ্য উদ্দেশ্যের (মুবতাদা) খবর। সুতরাং এখানে দুটি শব্দ উচ্চারিত হয়নি, যদিও এটি একটি যৌগিক বাক্য এবং উচ্চারিত শব্দটি উহ্য অংশটির প্রতি ইঙ্গিত করছে। অতএব, যদি তা যৌগিক না হয় তবে বাক্যগঠন অনুপস্থিত থাকে এবং তাকে কালাম বলা হয় না, যেমন: জায়েদের গোলাম, অথবা জায়েদ, অথবা দাঁড়িয়েছে।

তৃতীয় রুকন: তা হতে হবে অর্থবহ। এখানে অর্থবহ হওয়ার উদ্দেশ্য হলো বক্তার জন্য এমনভাবে কথা শেষ করা সমীচীন হওয়া যাতে শ্রোতা অন্য কিছুর জন্য অপেক্ষা না করে। যদি তাকে বলা হয়: জায়েদ দাঁড়িয়েছে, তবে পূর্ণ অর্থ অর্জিত হলো। ফলে এখানে অন্বয়গত গঠনের উপস্থিতির কারণে বক্তার নীরব হওয়া সঠিক। কিন্তু যদি সে বলে: যদি জায়েদ দাঁড়ায় … তবে পূর্ণ অর্থ অর্জিত হলো না। এমতাবস্থায় একে কালাম বলা হবে না, কারণ শ্রোতা অন্য কিছুর অপেক্ষায় রয়ে গেছে এবং পূর্ণ অর্থ অর্জিত হয়নি। সুতরাং যদি...
(খণ্ড: ১) ফাতহু রাব্বিল বারিয়্যাহ ফী শারহি নাজমিল আজুররুমিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ২৯)
تحصل حينئذٍ انتفى حد الكلام فلا يصير كلامًا في عرف النحاة.

الركن الرابع: وهو ما أشار إليه بقوله: [قَدْ وُضِعْ] وهنا اختُلف في تفسير الوضع هل المراد به القصد أو الوضع العربي؟ الأصح أن المراد به الوضع العربي. وهو جعل اللفظ دليلاً على المعنى- هذا في المفردات- فأخرج كل لفظٍ ليس بعربي كلغة البربر والإنجليز والفرنسي ونحوها فهذه لا تسمى كلامًا في اصطلاح النحاة مع كونها لفظًا مركبًا مفيدًا ولكنها ليست موضوعةً بالوضع العربي. ودخل بهذا القيد كلام النائم والناسي والساهي والمجنون ومن جرى على لسانه ما لا يقصده لأنهم تكلموا بكلامٍ عربي. إذا تلفظ النائم فأتى بكلام مركب من جملة اسمية أو جملة فعلية. نقول: هو لفظٌ مركب مفيدٌ وموضوع بالوضع العربي لكنه ليس مقصودًا لأنه نائم مرفوع عنه التكليف فحينئذٍ نحكم على كلامه بأنه توفرت فيه القيود الأربعة التي وضعها النحاة. أما من فسر الوضع بالقصد قال: كلام النائم والساهي ونحوه لا يسمى كلامًا لاشتراط القصد في الكلام فلابد أن يكون مقصودًا من جهة المتكلم أي إرادة المتكلم إفادة السامع، لابد أن ينوي في قلبه أنه أراد إفادة السامع. والنائم إذا قام فتكلم لم يرد إفادة السامع، فمن فسر الوضع بأنه القصد أخرج كلام النائم والمجنون والساهي ومن جرى على لسانه ما لا يقصده، ودخل معه كلام البربر والتكرور والفرنسي والإنجليزي ونحوه فيسمى كلامًا في اصطلاح النحاة ولو لم يكن موضوعًا بالوضع العربي، لكن الأصح أنه يفسر بالوضع العربي. هذه قيودٌ
এমতাবস্থায় অর্জিত হয় যে, কথার সংজ্ঞাটি বিলুপ্ত হয়ে যায়, ফলে ব্যাকরণবিদদের পরিভাষায় তা আর কথা হিসেবে গণ্য হয় না।

চতুর্থ স্তম্ভ: আর তা হলো যা তিনি তার এই বাণীর মাধ্যমে ইঙ্গিত করেছেন: [যাকে স্থাপন করা হয়েছে]। আর এখানে 'ওয়াদ' (স্থাপন) এর ব্যাখ্যার ক্ষেত্রে মতভেদ করা হয়েছে যে, এর দ্বারা কি উদ্দেশ্য বা ইচ্ছা বুঝানো হয়েছে নাকি আরবি ভাষারীতি? অধিকতর সঠিক মত হলো, এর দ্বারা আরবি ভাষারীতি উদ্দেশ্য। আর তা হলো শব্দকে অর্থের নির্দেশক হিসেবে নির্ধারণ করা—এটি একক শব্দের ক্ষেত্রে—ফলে এমন প্রতিটি শব্দ বর্জিত হলো যা আরবি নয়, যেমন বারবার, ইংরেজি, ফরাসি ইত্যাদি ভাষা। এগুলো ব্যাকরণবিদদের পরিভাষায় 'কালাম' বা কথা হিসেবে অভিহিত হবে না, যদিও তা শব্দসমষ্টি ও অর্থবোধক হয়, কিন্তু সেগুলো আরবি ভাষারীতি অনুযায়ী স্থাপিত নয়। আর এই শর্তের মাধ্যমে ঘুমন্ত ব্যক্তি, বিস্মৃত ব্যক্তি, অন্যমনস্ক ব্যক্তি, উন্মাদ ব্যক্তি এবং যার জিহ্বায় অনিচ্ছাকৃতভাবে কোনো কথা চলে আসে—তাদের কথা অন্তর্ভুক্ত হয়ে যায়; কারণ তারা আরবি ভাষাতেই কথা বলেছে। যদি কোনো ঘুমন্ত ব্যক্তি মুখ দিয়ে এমন কোনো বাক্য উচ্চারণ করে যা বিশেষ্যমূলক বাক্য বা ক্রিয়াভিত্তিক বাক্য দ্বারা গঠিত হয়, তবে আমরা বলব: এটি একটি শব্দসমষ্টি, অর্থবোধক এবং আরবি ভাষারীতি অনুযায়ী স্থাপিত, কিন্তু এটি উদ্দেশ্যমূলক নয়। কারণ সে ঘুমন্ত এবং তার ওপর থেকে শরয়ি দায়িত্ব তুলে নেওয়া হয়েছে। এমতাবস্থায় আমরা তার কথার ওপর এই ফয়সালা করব যে, এতে ব্যাকরণবিদদের নির্ধারিত চারটি শর্তই পূর্ণ হয়েছে। পক্ষান্তরে যারা 'ওয়াদ' এর ব্যাখ্যা 'উদ্দেশ্য' দ্বারা করেছেন, তারা বলেছেন: ঘুমন্ত, অন্যমনস্ক এবং এই জাতীয় ব্যক্তিদের কথাকে কথা বলা হবে না; কারণ কথায় উদ্দেশ্য থাকা অপরিহার্য। অর্থাৎ বক্তার পক্ষ থেকে তা উদ্দেশ্যমূলক হতে হবে, যার অর্থ হলো শ্রোতাকে কোনো কিছু অবগত করার ব্যাপারে বক্তার ইচ্ছা থাকা; তাকে অন্তরে এই নিয়ত করতে হবে যে সে শ্রোতাকে কোনো কিছু জানাতে চায়। আর ঘুমন্ত ব্যক্তি যখন কথা বলে, তখন সে শ্রোতাকে কোনো কিছু অবগত করার ইচ্ছা করে না। সুতরাং যারা 'ওয়াদ' কে 'উদ্দেশ্য' হিসেবে ব্যাখ্যা করেছেন, তারা ঘুমন্ত, উন্মাদ, অন্যমনস্ক এবং যার জিহ্বায় অনিচ্ছাকৃত কথা চলে আসে—তাদের কথাকে সংজ্ঞার বাইরে রেখেছেন। তবে এর ফলে বারবার, তাকরুর, ফরাসি, ইংরেজি ইত্যাদি ভাষা এর অন্তর্ভুক্ত হয়ে যায় এবং ব্যাকরণবিদদের পরিভাষায় এগুলোকে কথা বলা হবে, যদিও তা আরবি ভাষারীতি অনুযায়ী না হয়। কিন্তু অধিকতর সঠিক মত হলো, একে আরবি ভাষারীতি দ্বারাই ব্যাখ্যা করা হবে। এগুলোই হলো শর্তসমূহ।