(খণ্ড: ১) তারিখুল বিমারিস্তানাত ফিল ইসলাম (পৃষ্ঠা: -)
تاريخ البيمارستانات في الإسلام   (الدكتور أحمد عيسى)

القسم: الطب


الكتاب: تاريخ البيمارستانات في الإسلام

المؤلف: الدُّكْتُور أَحمد عِيسى (ت 1365هـ)

الناشر: دار الرائد العربي، بيروت - لبنان

الطبعة: الثانية، 1401 هـ - 1981 م

عدد الصفحات: 292

[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]

تاريخ النشر بالشاملة: 1 رمضان 1432

ইসলামে হাসপাতালের ইতিহাস   (ডক্টর আহমদ ঈসা)

বিভাগ: চিকিৎসা বিজ্ঞান


গ্রন্থ: ইসলামে হাসপাতালের ইতিহাস

লেখক: ডক্টর আহমদ ঈসা (মৃত্যু ১৩৬৫ হিজরি)

প্রকাশক: দারুর রায়িদ আল-আরাবি, বৈরুত - লেবানন

সংস্করণ: দ্বিতীয়, ১৪০১ হিজরি - ১৯৮১ খ্রিস্টাব্দ

পৃষ্ঠা সংখ্যা: ২৯২

[গ্রন্থের পৃষ্ঠা নম্বর মূল মুদ্রিত কপির অনুরূপ]

শামেলা লাইব্রেরিতে প্রকাশের তারিখ: ১ রমজান ১৪৩২

(খণ্ড: ১) তারিখুল বিমারিস্তানাত ফিল ইসলাম (পৃষ্ঠা: ১)
‌‌الباب الأول في

نشأة البيمارستانات

ونظامها وأطبائها وأرزاقها
প্রথম অধ্যায়: প্রসঙ্গে

বিমারিস্তানসমূহের উৎপত্তি

এগুলোর ব্যবস্থাপনা, চিকিৎসকবৃন্দ এবং বরাদ্দ
(খণ্ড: ১) তারিখুল বিমারিস্তানাত ফিল ইসলাম (পৃষ্ঠা: ৩)
بسم الله الرحمن الرحيم

الحمد لله وصلى الله على سيدنا محمد وعلى أنبيائه أجمعين.

هذه كلمة في تاريخ المستشفيات وهي التي كان يعبر عنها بكلمة بيمارستان في العهد الإسلامي إلى العصر الحاضر أي إلى إنشاء مستشفى أبي زعبل بضاحية القاهرة وهو أول مستشفى أنشئ على النظام الحديث في مصر سنة 1825م.

وهذه البيمارستانات هي إحدى المنشآت والعمائر كالمساجد والتكايا والقباب والمدارس الخ. . التي كان يشيدها الخلفاء والسلاطين والملوك والأمراء وأهل الخير على العموم صدقة وحسبة وخدمة للإنسانية وتخليدا لذكراهم. ولم تكن مهمة هذه البيمارستانات قاصرة على مداواة المرضى، بل كانت في نفس الوقت معاهد علمية ومدارس لتعليم الطب، يتخرج منها المتطببون
পরম করুণাময় অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে।

সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর এবং আমাদের নেতা মুহাম্মাদ ও তাঁর সকল নবীগণের ওপর আল্লাহর রহমত ও শান্তি বর্ষিত হোক।

এটি হাসপাতালের ইতিহাসের ওপর একটি আলোচনা, যা ইসলামি যুগ থেকে বর্তমান সময় পর্যন্ত—অর্থাৎ ১৮২৫ সালে কায়রোর শহরতলিতে আধুনিক পদ্ধতিতে মিশরের প্রথম হাসপাতাল 'আবু জা’বাল' প্রতিষ্ঠিত হওয়া পর্যন্ত—'বিমারেস্তান' শব্দ দ্বারা অভিহিত করা হতো।

এই বিমারেস্তানগুলো ছিল মসজিদ, তাকিয়া, গম্বুজ ও মাদরাসা ইত্যাদির ন্যায় এমন সব স্থাপনা ও স্থাপত্যের অন্তর্ভুক্ত, যা খলিফা, সুলতান, রাজা, আমির এবং সাধারণ নেককার ব্যক্তিরা সদকা হিসেবে, আল্লাহর সন্তুষ্টির নিমিত্তে, মানবতার সেবায় এবং নিজেদের স্মৃতি অমর করে রাখার লক্ষ্যে নির্মাণ করতেন। আর এই বিমারেস্তানগুলোর দায়িত্ব কেবল রোগীদের চিকিৎসার মধ্যেই সীমাবদ্ধ ছিল না, বরং এগুলো একই সাথে বিজ্ঞান কেন্দ্র এবং চিকিৎসাবিদ্যা শিক্ষার বিদ্যালয়ও ছিল, যেখান থেকে চিকিৎসকরা শিক্ষা সমাপন করে বের হতেন।
(খণ্ড: ১) তারিখুল বিমারিস্তানাত ফিল ইসলাম (পৃষ্ঠা: ৪)
والجراحون الجرائحيون والكحالون كما يتخرجون اليوم من مدارس الطب.

 

‌‌تفسير كلمة بيمارستان

البيمارَسْتان بفتح الراء وسكون السين كلمة فارسية مركبة من كلمتين بيمار بمعنى مريض أو عليل أو مصاب وستان بمعنى مكان أو دار فهي إذا دار المرضى ثم اختصرت في الاستعمال فصارت مارستان كما ذكرها الجوهري في صحاحه.

وكانت البيمارستانات من أول عهدها إلى زمن طويل مستشفيات عامة، تعالج فيها جميع الأمراض والعلل من باطنية وجراحية ورمدية وعقلية، إلى أن أصابتها

الكوارث ودار بها الزمن وحل بها البوار وهجرها المرضى فأقفرت إلا من المجانين حيث لا مكان لهم سواها. فصارت كلمة مارستان إذا سمعت لا تنصرف إلا إلى مأوى المجانين.

وقبل الشروع في ذكر البيمارستانات رأينا أن نذكر كلمة في حال الطب عند العرب في مبدإِ نشأتهم في الإسلام؛ ثم نلحقها بالبيمارستانات وترتيبها ونظام المداواة فيها واختيار
এবং শল্যচিকিৎসক ও চক্ষুরোগ বিশেষজ্ঞগণ যেমন বর্তমানে চিকিৎসাবিজ্ঞান মহাবিদ্যালয়গুলো থেকে শিক্ষা সমাপ্ত করেন।

 

‌‌'বিমারিস্তান' শব্দের ব্যাখ্যা

'বিমারিস্তান' (রা বর্ণে ফাতহ এবং সিন বর্ণে সুকুনসহ) একটি ফারসি শব্দ যা দুটি শব্দের সমন্বয়ে গঠিত: 'বিমার' অর্থ অসুস্থ বা রোগী এবং 'স্তান' অর্থ স্থান বা আলয়। সুতরাং এর অর্থ হলো রোগীদের চিকিৎসালয়। পরবর্তীতে ব্যবহারের সুবিধার্থে শব্দটিকে সংক্ষেপ করে 'মারিস্তান' করা হয়েছে, যেমনটি আল-জাওহারি তার 'সিহাহ' গ্রন্থে উল্লেখ করেছেন।

বিমারিস্তানসমূহ তাদের সূচনালগ্ন থেকে দীর্ঘকাল পর্যন্ত সাধারণ হাসপাতাল হিসেবে ব্যবহৃত হতো, যেখানে অভ্যন্তরীণ ব্যাধি, শল্যচিকিৎসা, চক্ষুরোগ এবং মানসিক ব্যাধিসহ সকল প্রকার রোগের চিকিৎসা প্রদান করা হতো। এরপর যখন এগুলোর ওপর

বিপর্যয় নেমে এল, কালের আবর্তনে এগুলোর পতন ঘটল এবং রোগীরা এগুলো ত্যাগ করল, তখন মানসিক ভারসাম্যহীন ব্যক্তিরা ব্যতীত এগুলো জনশূন্য হয়ে পড়ল, যেহেতু তাদের জন্য এটি ছাড়া অন্য কোনো আশ্রয়স্থল ছিল না। ফলে 'মারিستان' শব্দটি শুনলে এখন কেবল উন্মাদাগারের কথাই বোঝা যায়।

বিমারিস্তানসমূহের আলোচনা শুরু করার পূর্বে আমরা ইসলামের সূচনালগ্নে আরবদের চিকিৎসা শাস্ত্রের অবস্থা সম্পর্কে কিছু কথা উল্লেখ করা সমীচীন মনে করছি; এরপর আমরা বিমারিস্তানসমূহ, সেগুলোর বিন্যাস, চিকিৎসা পদ্ধতি এবং নির্বাচনের বিষয়টি এর সাথে ধারাবাহিকভাবে আলোচনা করব।
(খণ্ড: ১) তারিখুল বিমারিস্তানাত ফিল ইসলাম (পৃষ্ঠা: ৫)
الأطباء ومعاملتهم وأزراقهم والرقابة عليهم ثم نذكر الحبوس والهبات والأعيان الموقوفة على البيمارستانات ووظائف الأطباء ورتبهم في الدولة.

-

 

‌‌حالة الطب عند العرب في مبدأ نشأتهم

قال القاضي صاعد بن أحمد الأندلسي في كتابه طبقات الأمم: إن العرب في صدر الإسلام لم تعن بشيء من العلوم إلا بلغتها ومعرفة أحكام شريعتها حاشا علوم الطب فإنها كانت موجودة عند أفراد منهم غير منكورة عند جماهيرهم لحاجة الناس طرّاً إليها.

وقد كان في عهد رسول الله صلى الله عليه وسلم أناس يعلمون الطب ويعلمون به: ذكر ابن الجوزي رحمه الله تعالى في صفوة الصفوة عن هشام بن عروة قال: كان عروة يقول لعائشة رضي الله عنها يا أماه لا أعجب من فقهك، أقول زوجة رسول الله صلى الله عليه وسلم وابنة أبي بكر، ولا أعجب من علمك بالشعر وأيام الناس أقول ابنة أبي بكر وكان من أعلم الناس ولكني أعجب من علمك بالطب. فضربت على منكبه وقالت: أي عروة! إن رسول الله صلى الله عليه وسلم كان في آخر عمره فكانت تقدم عليه
চিকিৎসকগণ, তাদের সাথে আচরণ, তাদের পারিশ্রমিক ও তাদের ওপর তদারকি; এরপর আমরা বর্ণনা করব বিমারেস্তান (হাসপাতাল) সমূহের জন্য উৎসর্গকৃত সম্পদ, দান ও স্থাবর ওয়াকফ এবং রাষ্ট্রে চিকিৎসকদের দায়িত্ব ও পদমর্যাদা সম্পর্কে।

-

 

আরবদের সূচনালগ্নে তাদের মাঝে চিকিৎসা বিজ্ঞানের অবস্থা

কাযী সায়েদ বিন আহমদ আল-আন্দালুসী তাঁর 'তাবাকাতুল উমাম' গ্রন্থে বলেন: ইসলামের প্রাথমিক যুগে আরবরা তাদের ভাষা ও শরীয়তের বিধানাবলির জ্ঞান ব্যতীত অন্য কোনো বিজ্ঞানের প্রতি মনোনিবেশ করেনি, তবে চিকিৎসা বিজ্ঞান এর ব্যতিক্রম ছিল। কেননা এটি তাদের কিছু ব্যক্তির মাঝে বিদ্যমান ছিল এবং সাধারণ মানুষের মাঝেও তা স্বীকৃত ছিল, যেহেতু সর্বস্তরের মানুষের এর প্রয়োজনীয়তা ছিল অনস্বীকার্য।

রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর যুগে এমন কিছু লোক ছিলেন যারা চিকিৎসা বিদ্যা জানতেন এবং তা চর্চা করতেন। ইবনুল জাওযী রহমাতুল্লাহি আলাইহি 'সিফাতুস সাফওয়াহ' গ্রন্থে হিশাম বিন উরওয়াহ থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: উরওয়াহ আয়েশা রাদিয়াল্লাহু আনহাকে বলতেন, "হে আম্মাজান! আপনার ফিকহী জ্ঞান দেখে আমি বিস্মিত হই না, কারণ আমি জানি আপনি আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সহধর্মিণী এবং আবু বকরের কন্যা। কবিতা ও আরবদের ইতিহাস সম্পর্কে আপনার অগাধ জ্ঞান দেখেও আমি বিস্মিত হই না, কারণ আপনি আবু বকরের কন্যা এবং তিনি ছিলেন এ বিষয়ে মানুষের মধ্যে সর্বাধিক জ্ঞানী। কিন্তু আমি আপনার চিকিৎসা বিজ্ঞানের জ্ঞান দেখে বিস্মিত হই।" তখন তিনি (আয়িশা রা.) তাঁর কাঁধে হাত রেখে বললেন: "হে উরওয়াহ! রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর জীবনের শেষ ভাগে অসুস্থ থাকতেন, তখন তাঁর নিকট আসত..."
(খণ্ড: ১) তারিখুল বিমারিস্তানাত ফিল ইসলাম (পৃষ্ঠা: ৬)
وفود العرب من كل وجه فتنعت له الأنعات فكنت أعالجها من ثمَّ. وفي تاريخ الإسلام للذهبي قال عروة بن الزبير:

ما رأيت أعلم بالطب من عائشة فقلت يا خالة: من أين تعلمت الطب؟ قالت: كنت أسمع الناس ينعت بعضهم لبعض فأحفظه. وروى أبو داود رحمه الله تعالى عن سعيد قال: مرضت مرضا فأتاني رسول الله صلى الله عليه وسلم يعودني فوضع يده بين ثدييّ حتى وجدت بردها على فؤادي فقال إنك مفؤود، ائت الحارث بن كلدة أخا ثقيف فإنه يتطبب.

وفي الموطأ عن زيد بن أسلم: أن رجلا في زمان رسول الله صلى الله عليه وسلم أصابه جرح فاحتقن الجرح بالدم وأن الرجل دعا رجلين من بني أنمار فنظر إليهما فزعما أن رسول الله صلى الله عليه وسلم قال: أيكما أطب فقالا: أو في الطب خير يا رسول الله؟ فزعم زيد أن رسول الله قال: أنزل الدواء الذي أنزل الأدواء.

وروى أبو داود رحمه الله تعالى عن جابر رضي الله عنه قال: بعث النبي صلى الله عليه وسلم إلى أبي طبيبا فقطع منه عرقا.
আরব প্রতিনিধিরা সব দিক থেকে আসতেন এবং তাঁর জন্য ওষুধের বর্ণনা দিতেন, তখন আমি তা দ্বারা চিকিৎসা করতাম। ইমাম যাহাবীর 'তারীখুল ইসলাম'-এ বর্ণিত হয়েছে যে, উরওয়া ইবনে যুবাইর বলেন:

আমি আয়েশার চেয়ে চিকিৎসাশাস্ত্রে অধিক পারদর্শী কাউকে দেখিনি। আমি বললাম, হে খালা! আপনি এই চিকিৎসা জ্ঞান কোথায় শিখলেন? তিনি বললেন: আমি মানুষকে একে অপরের কাছে ওষুধের বর্ণনা দিতে শুনতাম এবং তা মুখস্থ করে রাখতাম। ইমাম আবু দাউদ (রাহিমাহুল্লাহ) সা'ঈদ থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমি একবার অসুস্থ হয়ে পড়লাম, তখন আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) আমাকে দেখতে এলেন। তিনি আমার বুকের মাঝখানে তাঁর হাত রাখলেন, এমনকি আমি আমার হৃদয়ে তাঁর হাতের শীতলতা অনুভব করলাম। এরপর তিনি বললেন, তুমি হৃদরোগে আক্রান্ত। তুমি সাকিফ গোত্রের হারিস ইবনে কালদার কাছে যাও, কারণ সে চিকিৎসা করে থাকে।

মুয়াত্তা-তে জায়েদ ইবনে আসলাম থেকে বর্ণিত হয়েছে যে: আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর সময়ে এক ব্যক্তি জখমপ্রাপ্ত হয় এবং ক্ষতস্থানে রক্ত জমে যায়। সেই ব্যক্তি বনু আনমার গোত্রের দু'জন লোককে ডাকল। তারা যখন তাকে দেখল, তখন আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) জিজ্ঞেস করলেন: তোমাদের মধ্যে চিকিৎসায় কে অধিক দক্ষ? তারা বলল, হে আল্লাহর রাসূল! চিকিৎসায় কি কোনো কল্যাণ আছে? জায়েদ বর্ণনা করেন যে, আল্লাহর রাসূল বললেন: যিনি রোগ অবতীর্ণ করেছেন, তিনিই এর প্রতিষেধক অবতীর্ণ করেছেন।

ইমাম আবু দাউদ (রাহিমাহুল্লাহ) জাবির (রাদিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: নবী কারীম (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) উবাইয়ের কাছে একজন চিকিৎসক পাঠালেন, যিনি তাঁর একটি শিরা কেটে (রক্তমোক্ষণ করে) চিকিৎসা করলেন।
(খণ্ড: ১) তারিখুল বিমারিস্তানাত ফিল ইসলাম (পৃষ্ঠা: ৭)
وكان في العرب كثير من المتكببين يخلط بعضهم بين الرُّقى والتطبيب، وبعضهم الآخر كان قد تعلم الطبّ في فارس أو في إحدى البلاد المجاورة لجزيرة العرب ثم رجع إلى موطنه يعاني صفة التطبيب، ومن هؤلاء المتطببين.

الحارث بن كلدة الثقفي تعلم الطب في جند يسابور بلدة من مقاطعة خوزستان أحد أقاليم فارس.

وابنه النَّضر بن الحارث بن كلدة تعلم الطب حيث تعلم أبوه وعبد الملك بن أبجر الكناني كان في أول أمره مقيما بالإسكندرية لأنه كان المتولي التدريس بها بعد الإسكندرانيين.

وابن أبي رمثة التميمي فقد كان جراحا مشهورا.

زينب طبيبة بني أود فقد كانت خبيرة بالعلاج ومداواة العين والجراحات، مشهورة

بين العرب بذلك.

الشمردل بن قباب الكعبي النجراني كان في وفد نجران بن الحارث بن كعب فنزل الشمردل بين يدي النبي صلى الله عليه وسلم فقال:

يا رسول الله بأبي أنت وأمي إني كنت كاهن قومي في الجاهلية وإني كنت أتطبب، فما يحل لي فإني تأتيني الشابة
আরবদের মধ্যে এমন অনেক চিকিৎসক ছিলেন যাঁদের কেউ কেউ ঝাড়ফুঁক ও চিকিৎসাকে গুলিয়ে ফেলতেন। আবার অন্য অনেকে পারস্য বা আরব উপদ্বীপ সংলগ্ন কোনো অঞ্চলে চিকিৎসাশাস্ত্র অধ্যয়ন করে নিজ দেশে ফিরে চিকিৎসা পেশায় নিয়োজিত হয়েছিলেন। এই চিকিৎসকদের মধ্যে ছিলেন:

হারিস বিন কালদাহ আস-সাকাফি; তিনি পারস্যের খুজিস্তান প্রদেশের জুন্দিশাপুর নামক শহরে চিকিৎসাশাস্ত্র শিক্ষা লাভ করেন।

এবং তাঁর পুত্র আন-নাদর বিন হারিস বিন কালদাহ; তিনিও তাঁর পিতার ন্যায় একই স্থানে শিক্ষা গ্রহণ করেছিলেন। আর আব্দুল মালিক বিন আবজার আল-কিনানি; তিনি প্রারম্ভিক জীবনে আলেকজান্দ্রিয়ায় অবস্থান করতেন, কেননা আলেকজান্দ্রীয়দের পরবর্তীকালে সেখানে পাঠদানের দায়িত্বে তিনি নিয়োজিত ছিলেন।

এবং ইবনে আবি রামসাহ আত-তামিমি; তিনি ছিলেন একজন প্রখ্যাত শল্যচিকিৎসক।

বনু আওদ গোত্রের নারী চিকিৎসক যয়নাব; তিনি সাধারণ চিকিৎসা এবং বিশেষ করে চক্ষু চিকিৎসা ও শল্যবিদ্যায় পারদর্শী ছিলেন।

আরবদের মধ্যে তিনি এ কারণেই সুপরিচিত ছিলেন।

শামারদাল বিন কাবাব আল-কা’বি আন-নাজরানি; তিনি নাজরান বিন আল-হারিস বিন কা’ব গোত্রের প্রতিনিধি দলের অন্তর্ভুক্ত ছিলেন। শামারদাল নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সম্মুখে উপস্থিত হয়ে আরজ করলেন:

হে আল্লাহর রাসূল, আমার পিতা-মাতা আপনার জন্য উৎসর্গিত হোক! আমি জাহেলিয়াত যুগে আমার সম্প্রদায়ের গণক ছিলাম এবং আমি চিকিৎসা করতাম। এখন আমার জন্য কোনটি বৈধ? কারণ আমার নিকট যুবতী নারী আসে...
(খণ্ড: ১) তারিখুল বিমারিস্তানাত ফিল ইসলাম (পৃষ্ঠা: ৮)
قال: قصد العرق ومجسة الطعنة إن اضطررت ولا تجعل من دوائك شر ما وعليك بالسنا ولا تدلوا أحدا حتى تعرف داءه. فقبل ركبتيه وقال: والذي بعثك بالحق أنت أعلم بالطب مني.

وضماد بن ثعلبة الأزدي من أزد شنوة، قال ابن عباس:

قدم رجل من أزد شنوة يقال له ضماد مكة معتمرا فسمع كفار قريش يقولون: محمد مجنون. فقال: لو أتيت هذا الرجل فداويته فجاءه فقال: يا محمد إني أداوي من الريح فإن شئت داويتك لعل الله ينفعك فتشهد رسول الله صلى الله عليه وسلم وحمد الله وتكلم بكلمات فأعجب ذلك ضمادا فقال: أعدها عليّ فأعادها عليه فقال: لم أسمع مثل هذا الكلام قط، لقد سمعت كلام الكهنة والسحرة والشعراء فما سمعت مثل هذا قط، لقد بلغ قاموس البحر يعني قعره. فأسلم وشهد شهادة الحق وبايعه على نفسه وعلى قومه.

أم عطية الأنصارية نسبة التي أمرها النبي صلى الله عليه وسلم أن تغسل بنته زينب، لها أحاديث. روى عنها محمد بن سيرين
তিনি বললেন: "যদি তুমি বাধ্য হও, তবে শিরায় রক্তমোক্ষণ (ফাসদ) করো এবং জখম পরীক্ষা করো। তোমার চিকিৎসাকে নিকৃষ্টতম বিষয়ে পরিণত করো না। তোমার জন্য সানা (সনামুখী) আবশ্যক, আর রোগ নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত কাউকে কোনো চিকিৎসার পরামর্শ দিও না।" তখন তিনি তাঁর হাঁটু চুম্বন করলেন এবং বললেন: "যিনি আপনাকে সত্যসহ প্রেরণ করেছেন, তাঁর শপথ! আপনি চিকিৎসাশাস্ত্রে আমার চেয়ে অধিক জ্ঞানী।"

আর যিমাদ বিন সা’লাবাহ আল-আযদি, যিনি আযদি শানুয়াহ গোত্রের অন্তর্ভুক্ত ছিলেন। ইবনে আব্বাস (রাযি.) বর্ণনা করেন:

আযদি শানুয়াহ গোত্রের যিমাদ নামক এক ব্যক্তি উমরাহ পালনের উদ্দেশ্যে মক্কায় আসলেন। তিনি কুরাইশ কাফিরদের বলতে শুনলেন যে, মুহাম্মদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) পাগল। তিনি ভাবলেন: "আমি যদি এই লোকটির কাছে যেতাম, তবে সম্ভবত তাকে সুস্থ করতে পারতাম।" অতঃপর তিনি তাঁর কাছে আসলেন এবং বললেন: "হে মুহাম্মদ! আমি বাত-ব্যথা বা মানসিক আছর (আর-রিহ) এর চিকিৎসা করি। আপনি চাইলে আমি আপনার চিকিৎসা করতে পারি, সম্ভবত আল্লাহ আপনাকে এর দ্বারা উপকৃত করবেন।" তখন রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) আল্লাহর প্রশংসা ও গুণগান সংবলিত কিছু বাক্য পাঠ করলেন। কথাগুলো যিমাদকে অত্যন্ত মুগ্ধ করল এবং তিনি বললেন: "আমার কাছে কথাগুলো পুনরায় বলুন।" তিনি কথাগুলো পুনরায় পাঠ করলেন। যিমাদ বললেন: "আমি কখনো এ জাতীয় কথা শুনিনি। আমি গণক, জাদুকর ও কবিদের কথা শুনেছি, কিন্তু এর মতো কিছু শুনিনি। এটি সমুদ্রের অতল গভীরতাকে স্পর্শ করেছে (অর্থাৎ অত্যন্ত গভীর ও তাৎপর্যপূর্ণ)।" অতঃপর তিনি ইসলাম গ্রহণ করলেন, সত্যের সাক্ষ্য দিলেন এবং নিজের ও তাঁর গোত্রের পক্ষ থেকে আনুগত্যের শপথ (বায়আত) গ্রহণ করলেন।

উম্মে আতিয়্যাহ আল-আনসারীয়া, নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) তাঁকে তাঁর কন্যা যায়নাবের শেষ গোসল করানোর আদেশ দিয়েছিলেন। তাঁর থেকে বর্ণিত বেশ কিছু হাদীস রয়েছে। মুহাম্মাদ ইবনে সীরীন তাঁর থেকে হাদীস বর্ণনা করেছেন।
(খণ্ড: ১) তারিখুল বিমারিস্তানাত ফিল ইসলাম (পৃষ্ঠা: ৯)
وأخته حفصة وأم شراحيل وعلي بن الأحمر وعبد الملك بن عمير وهشام بن حسان عن حفصة بنت سيرين عن أم عطية قالت: غزوت مع النبي صلى الله عليه وسلم سبع غزوات فكنت أصنع لهم طعامهم وأخلفهم في رحالهم وأداوي الجرحى وأقوم على المرضى.

 

‌‌أول من اتخذ البيمارستان في الإسلام

روى مسلم رحمه الله تعالى عن عائشة رضي الله عنها أنها قالت: أصيب سعد بن

معاذ يوم الخندق رماه رجل من قريش أبن العرفة، رمي في الأكحل، فضرب رسول الله صلى الله عليه وسلم خيمة في المسجد يعوده من قريب. وقال ابن إسحاق في السيرة: كان رسول الله صلى الله عليه وسلم قد جعل سعد بن معاذ في خيمة لامرأة من أسلم يقال لها رُفيدة في مسجده، كانت تداوي الجرحى وتحتسب بنفسها على خدمة من كانت به ضبعة من المسلمين وقد كان رسول الله قد قال لقوم حين أصابه السهم بالخندق: اجعلوه في خيمة رُفيدة حتى أعوده من قريب. فيفهم من ذلك أن النبي صلى الله عليه وسلم أول من أمر بالمستشفى
এবং তাঁর বোন হাফসা, উম্মে শুরাহিল, আলী বিন আল-আহমার, আব্দুল মালিক বিন উমাইর এবং হিশাম বিন হাসসান হাফসা বিনতে সিরিন থেকে, তিনি উম্মে আতিয়্যাহ থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমি নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর সাথে সাতটি যুদ্ধে অংশগ্রহণ করেছি। আমি তাঁদের জন্য খাবার তৈরি করতাম, তাঁদের অনুপস্থিতিতে তাঁদের আসবাবপত্রের রক্ষণাবেক্ষণ করতাম, আহতদের চিকিৎসা করতাম এবং অসুস্থদের সেবা-শুশ্রূষা করতাম।

 

‌‌ইসলামে সর্বপ্রথম হাসপাতাল প্রতিষ্ঠাকারী

ইমাম মুসলিম (রাহিমাহুল্লাহু তায়ালা) আয়েশা (রাযি.) থেকে বর্ণনা করেছেন যে তিনি বলেছেন: খন্দকের যুদ্ধের দিন সা'দ বিন

মুআয আহত হয়েছিলেন; কুরাইশ বংশীয় ইবনুল আরাফাহ নামক এক ব্যক্তি তাঁকে তীর নিক্ষেপ করলে তাঁর হাতের মূল ধমনীতে (আকহাল) আঘাত লাগে। তখন রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) মসজিদে একটি তাবু স্থাপন করেন যাতে তিনি তাঁকে নিকট থেকে দেখাশোনা করতে পারেন। ইবনে ইসহাক 'সিরাত' গ্রন্থে বর্ণনা করেছেন: রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) সা'দ বিন মুআযকে তাঁর মসজিদের অভ্যন্তরে আসলাম গোত্রের রুফায়দাহ নাম্নী এক মহিলার তাবুতে রেখেছিলেন। তিনি আহতদের চিকিৎসা করতেন এবং মুসলিমদের মধ্যে যারা বিপদগ্রস্ত হতো তাদের সেবায় নিজেকে উৎসর্গ করেছিলেন। রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) খন্দকের যুদ্ধে তাঁর শরীরে তীর বিদ্ধ হওয়ার সময় লোকদের বলেছিলেন: "তাঁকে রুফায়দাহর তাবুতে রাখো যাতে আমি তাঁকে নিকট থেকে দেখতে পারি।" এ থেকে অনুধাবন করা যায় যে, নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) ছিলেন সর্বপ্রথম ব্যক্তি যিনি হাসপাতালের (চিকিৎসা শিবিরের) নির্দেশ দিয়েছিলেন।
(খণ্ড: ১) তারিখুল বিমারিস্তানাত ফিল ইসলাম (পৃষ্ঠা: ১০)
الحربي المتنقل. وقال تقي الدين المقريزي: أول من بنى البيمارستان في الإسلام ودار المرضى، الوليد بن عبد الملك الخليفة الأموي في سنة 88هـ 706م وجعل في البيمارستان الأطباء وأجرى لهم الأرزاق وأمر بحبس المجدمين لئلا يخرجوا وأجرى عليهم وعلى العميان الأرزاق. وقال محمد بن جرير الطبري في تاريخ الرسل والملوك: كان الوليد بن عبد الملك عند أهل الشام أفضل خلائفهم، بنى المساجد مسجد دمشق ومسجد المدينة، ووضع المنار، وأعطى الناس، وأعطى المجذمين وقال: لا تسألوا الناس وأعطى كل مقعد خادما وكل ضرير قائدا.

 

‌‌أنواع البيمارستانات

كان للبيمارستانات نوعان: ثابت ومحمول

 

‌‌البيمارستان الثابت

فالثابت ما كان بناء ثابتا في جهة من الجهات لا ينتقل منها وهذا النوع من البيمارستانات كان كثير الوجود في كثير من البلدان الإسلامية لا سيما في العواصم الكبرى كالقاهرة وبغداد ومدمشق. . . الخ. ولا يزال أثر بعضها باقيا على مر الدهور إلى الآن كالبيمارستان المنصوري قلاوون الآن بالقاهرة،

والبيمارستان المؤيدي بالقرب من القلعة بالقاهرة أيضا، والبيمارستان
ভ্রাম্যমাণ সমর-চিকিৎসালয়। তাকিউদ্দীন আল-মাকরিজি বলেন: ইসলামে সর্বপ্রথম বিমারিস্তান (হাসপাতাল) ও রোগীদের আবাসস্থল নির্মাণ করেন উমাইয়া খলিফা ওয়ালিদ বিন আব্দুল মালিক ৮৮ হিজরি মোতাবেক ৭০৬ খ্রিস্টাব্দে। তিনি হাসপাতালে চিকিৎসকদের নিযুক্ত করেন এবং তাঁদের জন্য ভাতার ব্যবস্থা করেন। কুষ্ঠরোগীরা যাতে বাইরে আসতে না পারে সেজন্য তিনি তাদের পৃথক করে রাখার নির্দেশ দেন এবং তাদের ও দৃষ্টিহীনদের জন্য বৃত্তির ব্যবস্থা করেন। মুহাম্মাদ ইবনে জারির আত-তাবারী ‘তারিখুর রুসুল ওয়াল মুলুক’-এ উল্লেখ করেছেন: সিরিয়াবাসীদের দৃষ্টিতে ওয়ালিদ বিন আব্দুল মালিক ছিলেন তাঁদের শ্রেষ্ঠ খলিফা। তিনি দামেস্কের মসজিদ ও মদিনার মসজিদ নির্মাণ করেন, মিনারের প্রবর্তন করেন এবং সাধারণ মানুষকে প্রচুর দান করতেন। তিনি কুষ্ঠরোগীদের দান করে বলেন: ‘তোমরা মানুষের কাছে ভিক্ষা করো না’। তিনি প্রত্যেক পঙ্গুর জন্য একজন সেবক এবং প্রত্যেক অন্ধের জন্য একজন পথপ্রদর্শক নিযুক্ত করে দেন।

 

‌বিমারিস্তানের প্রকারভেদ

বিমারিস্তান ছিল দুই প্রকার: স্থায়ী ও ভ্রাম্যমাণ।

 

‌স্থায়ী বিমারিস্তান

স্থায়ী বিমারিস্তান বলতে সেই ভবনকে বোঝাত যা কোনো নির্দিষ্ট স্থানে স্থায়ীভাবে নির্মিত এবং যা স্থানান্তর করা যেত না। এ ধরনের হাসপাতাল অনেক মুসলিম জনপদে বিদ্যমান ছিল, বিশেষ করে কায়রো, বাগদাদ ও দামেস্কের মতো প্রধান প্রধান রাজধানীতে। ইত্যাদি। এগুলোর কয়েকটির নিদর্শন যুগ যুগ ধরে আজও টিকে আছে, যেমন কায়রোর বর্তমান বিমারিস্তান আল-মানসুরি কালাউন,

এবং কায়রোর কেল্লার অদূরে অবস্থিত বিমারিস্তান আল-মুয়াইয়াদি, এবং বিমারিস্তান
(খণ্ড: ১) তারিখুল বিমারিস্তানাত ফিল ইসলাম (পৃষ্ঠা: ১১)
النوري الكبير بدمشق والبيمارستان القيمري بها أيضا، وبيمارستان أرغون بحلب. . . الخ. مما سيأتي ذكره.

 

‌‌البيمارستان المحمول

هو الذي ينقل من مكان إلى مكان بحسب ظروف الأمراض والأوبئة وانتشارها وكذا الحروب، وهو المعبر عنه في العصر الحاضر بكلمات بالفرنسية بالألمانية بالإنجليزية وبالإيطالية.

كان هذا النوع من البيمارستانات معروفا لدى خلفاء الإسلام وملوكهم وسلاطينهم وأطبائهم بل الراجح أن يكونوا هم أول من أنشأه، وهو عبارة عن مستشفى مجهز بجميع ما يلزم للمرضى والمداواة من أدوات وأدوية وأطعمة وأشربة وملابس وأطباء وصيادلة وكل ما يعين على ترفيه الحال على المرضى والعجزة والمزمنين والمسجونين ينقل من بلد إلى أخرى من البلدان الخالية من بيمارستانات ثابتة أو التي يظهر فيها وباء أو مرض معد.

قال ثابت بن سنان بن ثابت بن قرة: إن الوزير علي ابن عيسى بن الجراح في أيام تقلده الدواوين من قبل المقتدر
দামেস্কের আন-নূরী আল-কাবীর, সেখানকার আল-কাইমারী বিমারিস্তান এবং আলেপ্পোর আরগুন বিমারিস্তান... ইত্যাদি, যার বর্ণনা সামনে আসবে।

 

‌‌ভ্রাম্যমাণ বিমারিস্তান

এটি এমন এক বিমারিস্তান যা রোগব্যাধি ও মহামারীর বিস্তার এবং যুদ্ধের প্রেক্ষাপটে এক স্থান থেকে অন্য স্থানে স্থানান্তরিত করা হয়। বর্তমান যুগে একে ফরাসি, জার্মান, ইংরেজি এবং ইতালীয় ভাষায় বিশেষ পরিভাষা দ্বারা প্রকাশ করা হয়।

এই প্রকারের বিমারিস্তানগুলো ইসলামের খলিফা, সম্রাট, সুলতান এবং চিকিৎসকদের নিকট সুপরিচিত ছিল; বরং এটিই প্রবল ধারণা যে, তাঁরাই সর্বপ্রথম এটি উদ্ভাবন করেন। এটি মূলত এমন এক হাসপাতাল যা রোগীদের চিকিৎসা ও সেবার জন্য প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম, ঔষধ, খাদ্য, পানীয়, পোশাক, চিকিৎসক, ঔষধবিদ এবং রোগী, অক্ষম, দীর্ঘমেয়াদী অসুস্থ ও কারাবন্দীদের স্বাচ্ছন্দ্য নিশ্চিতকারী সকল উপকরণে সুসজ্জিত থাকত। এটি এমন সব জনপদে স্থানান্তরিত করা হতো যেখানে স্থায়ী কোনো বিমারিস্তান নেই অথবা যেখানে কোনো মহামারী বা সংক্রামক ব্যাধি প্রকাশ পেত।

সাবিত বিন সিনান বিন সাবিত বিন কুররা বলেন: উজির আলী ইবন ঈসা ইবনুল জাররাহ যখন আল-মুকতাদিরের শাসনামলে প্রশাসনিক বিভাগসমূহের দায়িত্বে নিয়োজিত ছিলেন...
(খণ্ড: ১) তারিখুল বিমারিস্তানাত ফিল ইসলাম (পৃষ্ঠা: ১২)
بالله وتدبير المملكة في أيام وزارة حامد بن أبي العباس وقع إلى والده سنان بن ثابت في سنة كثرت فيها الأمراض جدا، وكان سنان يتقلد البيمارستانات ببغداد وغيرها توقيعا نسخته: فكرت مدَّ الله في عمرك في أمر من في الحبوس وأنهم لا يخلون مع كثرة عددهم وجفاء أماكنهم أن تنالهم الأمراض، وهم معوقون عن التصرف في منافعهم ولقاء من يشاورونه من الأطباء في أمراضهم، فينبغي أكرمك الله أن تفرد لهم أطباء يدخلون إليهم في كل يوم، ويحملون معهم الأدوية والأشربة وما يحتاجون إليه من المزوَّرات، وتتقدم إليهم بأن يدخلوا سائر الحبوس، ويعالجوا من فيها من المرضى، ويريحوا عللهم

فيما يصفونه لهم إن شاء الله تعالى. ففعل سنان ذلك.

ثم وقع إليه توقيعا آخر:

فكرت فيمن بالسواد من أهله وأنه لا يخلو من أن يكون فيه مرضى لا يشرف متطبب عليهم لخلو السواد من الأطباء، فتقدم مدَّ الله في عمرك بإيفاد متطببين وخزانة من الأدوية والأشربة يطوفون السواد، ويقيمون في كل صقع منه مدة
আল্লাহর অনুগ্রহে এবং হামিদ ইবন আবিল আব্বাসের মন্ত্রণালয়ের দিনগুলোতে যখন রাষ্ট্র পরিচালনার ভার ন্যস্ত ছিল, তখন সিনান ইবন সাবিতের প্রতি এক এমন বছরে একটি প্রশাসনিক আদেশ জারি হয় যখন রোগব্যাধির প্রকোপ অত্যন্ত বৃদ্ধি পেয়েছিল। সিনান তখন বাগদাদ ও অন্যান্য অঞ্চলের বিমারিস্তানসমূহের (হাসপাল) দায়িত্বে অধিষ্ঠিত ছিলেন। সেই আদেশের পাঠ ছিল নিম্নরূপ: আল্লাহ আপনার আয়ু দীর্ঘ করুন; আমি কারাগারে আটক ব্যক্তিদের সম্পর্কে চিন্তা করেছি। তাদের বিপুল সংখ্যা এবং কারাকক্ষের অস্বাস্থ্যকর পরিবেশের কারণে তারা ব্যাধিগ্রস্ত হওয়া থেকে সুরক্ষিত নয়। অথচ তারা তাদের নিজেদের কল্যাণার্থে কোনো ব্যবস্থা নিতে এবং তাদের অসুস্থতার বিষয়ে চিকিৎসকদের পরামর্শ গ্রহণ করতে অক্ষম। অতএব, আল্লাহ আপনাকে সম্মানিত করুন; আপনার কর্তব্য হলো তাদের জন্য বিশেষ চিকিৎসক নিযুক্ত করা, যারা প্রতিদিন তাদের পরিদর্শনে যাবে এবং সাথে করে প্রয়োজনীয় ঔষধ, পানীয় ও পথ্য সামগ্রী বহন করবে। আপনি তাদের নির্দেশ প্রদান করুন যেন তারা সকল কারাগারে প্রবেশ করে এবং সেখানকার রোগীদের চিকিৎসা প্রদান করে এবং তাদের কষ্ট লাঘব করে—

ইনশাআল্লাহ তাআলা, চিকিৎসকরা তাদের জন্য যে ব্যবস্থার নির্দেশনা দেবেন সেই অনুযায়ী। সিনান সেই নির্দেশ পালন করলেন।

অতঃপর তার নিকট দ্বিতীয় আরেকটি আদেশ পৌঁছাল:

আমি সাওয়াদ অঞ্চলের অধিবাসীদের সম্পর্কে ভেবেছি এবং অনুধাবন করেছি যে, সেখানে অবশ্যই এমন অনেক রোগী রয়েছে যারা চিকিৎসকের অভাবে কোনো চিকিৎসাসেবা লাভ করছে না। সুতরাং, আল্লাহ আপনার জীবন দীর্ঘায়িত করুন; আপনি নির্দেশ প্রদান করুন যেন একদল চিকিৎসক এবং প্রয়োজনীয় ঔষধ ও পানীয়র ভাণ্ডার সাওয়াদ অঞ্চলের উদ্দেশ্যে প্রেরণ করা হয়, যারা পুরো অঞ্চল পরিভ্রমণ করবে এবং প্রতিটি জনপদে নির্দিষ্ট সময় অবস্থান করে চিকিৎসাসেবা প্রদান করবে।
(খণ্ড: ১) তারিখুল বিমারিস্তানাত ফিল ইসলাম (পৃষ্ঠা: ১৩)
ما تدعو الحاجة إلى مقامهم، ويعالجون من فيه ثم ينتقلون إلى غيره. ففعل سنان ذلك وانتهى أصحابه إلى سورا بلدة من بلاد العراق والغالب على أهلها اليهود. فكتب سنان إلى الوزير علي بن عيسى يعرفه ورود كتب أصحابه عليه من السَّواد: بأن أكثر من بسورا وشهر ملك يهود، وأنهم استأذنوا في المقام عليهم وعلاجهم أو الانصراف عنهم إلى غيرهم، وأنه لا يعلم بما يجيبهم به إذ كان لا يعرف رأيه في أهل الذمة، وأعلمه أن الرسم في بيمارستان الحضرة قد جرى للملي والذّميّ.

فوقع الوزير توقيعا نسخته:

فهمت ما كنت به أكرمك الله، وليس بيننا خلاف في أن معالجة أهل الذمة والبهائم صواب، ولكن الذي يجب تقديمه والعمل به معالجة الناس قبل البهائم، والمسلمين قبل أهل الذمة، فإذا فضل عن المسلمين ما لا يحتاجون إليه صرف في الطبقة التي بعدهم، فاعمل أكرمك الله على ذلك واكتب إلى أصحابك به، ووصّ بالتنقل في القرى، والمواضع التي فيها
যতক্ষণ পর্যন্ত সেখানে তাঁদের অবস্থানের প্রয়োজন থাকবে, তাঁরা সেখানকার অধিবাসীদের চিকিৎসা করবেন এবং এরপর অন্য স্থানে গমন করবেন। সিনান সে অনুযায়ী কাজ করলেন এবং তাঁর সহযোগীরা ইরাকের সূরা নামক এক জনপদে পৌঁছালেন, যার অধিকাংশ অধিবাসী ছিল ইহুদি। তখন সিনান উজির আলী ইবনে ঈসার নিকট পত্র লিখে তাঁকে অবহিত করলেন যে, গ্রামীণ অঞ্চলসমূহ (সাওয়াদ) থেকে তাঁর নিকট সহযোগীদের পত্র এসেছে: তাতে উল্লেখ করা হয়েছে যে, সূরা এবং শাহর মালিকের অধিকাংশ অধিবাসী ইহুদি এবং তাঁরা সেখানে অবস্থান করে তাঁদের চিকিৎসা করবেন নাকি তাঁদের ছেড়ে অন্য কোথাও চলে যাবেন, সে বিষয়ে অনুমতি প্রার্থনা করেছেন। তিনি আরও উল্লেখ করেন যে, জিম্মি প্রজাদের বিষয়ে উজিরের সিদ্ধান্ত জানা না থাকায় তিনি তাঁদের কী উত্তর দেবেন তা বুঝতে পারছেন না। একইসাথে তিনি উজিরকে অবহিত করেন যে, রাজধানীর প্রধান হাসপাতালের (বিমারিস্তান) প্রচলিত রীতি অনুযায়ী মুসলিম এবং জিম্মি উভয়কেই চিকিৎসা সেবা প্রদান করা হয়।

উজির একটি নির্দেশনামা প্রদান করেন যার অনুলিপি হলো:

আল্লাহ আপনাকে সম্মানিত করুন, আপনার বক্তব্য আমি বুঝতে পেরেছি। জিম্মি সম্প্রদায় এবং চতুষ্পদ প্রাণীর চিকিৎসা করা যে সংগত কাজ, সে বিষয়ে আমাদের মাঝে কোনো দ্বিমত নেই। তবে যা সর্বাগ্রে করণীয় এবং যা অনুযায়ী আমল করতে হবে তা হলো চতুষ্পদ প্রাণীর পূর্বে মানুষের এবং জিম্মিদের পূর্বে মুসলিমদের চিকিৎসার ব্যবস্থা করা। সুতরাং মুসলিমদের প্রয়োজনের অতিরিক্ত যা অবশিষ্ট থাকবে, তা পরবর্তী স্তরের মানুষের জন্য ব্যয় করা হবে। আল্লাহ আপনাকে সম্মানিত করুন, আপনি এই নীতি অনুযায়ী কাজ করুন এবং আপনার সহযোগীদের এ বিষয়ে লিখে পাঠান। সেই সাথে গ্রাম এবং বিভিন্ন জনপদে যাতায়াত করে চিকিৎসা প্রদানের নির্দেশ দিন যেখানে...
(খণ্ড: ১) তারিখুল বিমারিস্তানাত ফিল ইসলাম (পৃষ্ঠা: ১৪)
الأوباء الكثيرة والأمراض الفاشية، وإن لم يجدوا بذرقة توقفوا عن المسير حتى يصح لهم الطريق ويصلح السبيل فإنهم إن فعلوا هذا وفقوا إن شاء الله تعالى.

ونذكر مثلا من البيمارستانات المتنقلة التي كان يستعملها السلاطين في تنقلاتهم وحروبهم ما ذكره ابن خلكان وابن القفطي قالا: إن أبا الحكم المغربي عبد الله بن المظفر ابن عبد الله المرسي نزيل دمشق، كان طبيب البيمارستان الذي كان يحمله

أربعون حملا، المستصحب في معسكر السلطان محمود السلجوقي حيث خيم. وكان القاضي السديد أبو الوفا يحيى بن سعيد بن يحيى بن المظفر المعروف بابن المرخم الذي صار قاضي القضاة ببغداد في أيام الإمام المقتفي فاصدا وطبيبا في هذا المارستان المحمول المذكور. وكان أبو الحكم يشاركه.

وكانت العادة في دولة المماليك أن يخرج السلطان ومعه
অসংখ্য মহামারী এবং প্রাদুর্ভাবজনিত রোগব্যাধি; আর যদি তারা কোনো রক্ষীবাহিনী বা পথপ্রদর্শক না পেত, তবে পথ নিরাপদ হওয়া এবং চলাচলের উপযোগী হওয়া পর্যন্ত তারা যাত্রা স্থগিত রাখত। তারা যদি এমনটি করত, তবে আল্লাহ তাআলার ইচ্ছায় তারা সফলকাম হতো।

সুলতানগণ তাদের সফর ও যুদ্ধবিগ্রহের সময় যে ভ্রাম্যমাণ হাসপাতালসমূহ ব্যবহার করতেন, তার উদাহরণ হিসেবে ইবনে খাল্লিকান এবং ইবনুল কিফতি যা উল্লেখ করেছেন তা আমরা বর্ণনা করছি। তারা উভয়ে বলেন: দামেস্কের অধিবাসী আবুল হাকাম আল-মাগরিবি আবদুল্লাহ বিন আল-মুজাফফর বিন আবদুল্লাহ আল-মুরসি সেই বিমারিস্তানের (হাসপাতাল) চিকিৎসক ছিলেন, যা বহন করতে প্রয়োজন হতো

চল্লিশটি মালবাহী উট; এটি সেলজুক সুলতান মাহমুদের শিবিরের সাথে সর্বদা থাকত যেখানেই তিনি তাবু গাড়তেন। আল-কাদি আস-সাদিদ আবুল ওয়াফা ইয়াহইয়া বিন সাইদ বিন ইয়াহইয়া বিন আল-মুজাফফর, যিনি ইবনে আল-মুরখিম নামে পরিচিত এবং যিনি ইমাম আল-মুক্তাফির শাসনামলে বাগদাদের প্রধান বিচারপতি হয়েছিলেন, তিনি এই উল্লিখিত ভ্রাম্যমাণ হাসপাতালে রক্তমোক্ষণকারী এবং চিকিৎসক হিসেবে কর্মরত ছিলেন। আবুল হাকাম তার সাথে এই কাজে শরিক ছিলেন।

মামলুক সালতানাতে এই রীতি প্রচলিত ছিল যে, সুলতান যখন অভিযানে বের হতেন তখন তাঁর সাথে থাকত—
(খণ্ড: ১) তারিখুল বিমারিস্তানাত ফিল ইসলাম (পৃষ্ঠা: ১৫)
الأمراء والأعيان إلى القصور التي بنوها خارج المدن ويقيم فيها أياما فيمر الناس في إقامتهم هناك، أوقات لا يمكن وصف ما فيها من المسرات، ولا حصر ما ينفقه فيها من المآكل والهبات والأموال. ويصحب السلطان في السفر ما تدعوا الحاجة إليه حتى يكاد يكون معه مارستان لكثرة من معه من الأطباء وأرباب الكحل والجراح والأشربة والعقاقير وما يجري مجرى ذلك. وكل من عاده طبيب ووصف له ما يناسبه يصرف له من الشرابخاناه أو الدواء خاناه المحمولين في الصحبة. وكان من عادة السلطان الملك الظاهر برقوق التردد على بلدة سرياقوس بركب عظيم وحفل كبير، فيها مستمرا إلى سنة 799هـ مصحوبا بكل ما سبق.

 

‌‌المكفوفون والنساء يتعاطون التطبيب

‌‌النساء اللاتي عانين صناعة الطب

كان تعلم الطب ومعاناة التطبيب مكفولين لأي كان ذكرا أو أنثى مبصرا أو مكفوفا.

كانت زينب طبيبة بني أَوْد من الماهرات في صناعة
আমির ও গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ শহরের বাইরে তাঁদের নির্মিত প্রাসাদগুলোতে যেতেন এবং সেখানে কয়েক দিন অবস্থান করতেন। সেখানে অবস্থানকালীন মানুষ এমন অবর্ণনীয় আনন্দঘন সময় অতিবাহিত করত এবং সেখানে খাদ্যদ্রব্য, উপঢৌকন ও ধন-সম্পদ ব্যয়ের কোনো ইয়ত্তা ছিল না। সুলতান তাঁর সফরে প্রয়োজনীয় সকল সরঞ্জাম সাথে নিতেন, এমনকি তাঁর সাথে থাকা চিকিৎসক, চক্ষু বিশেষজ্ঞ, শল্যচিকিৎসক, ভেষজ পানীয় ও ওষুধপত্রের আধিক্যের কারণে মনে হতো যেন তাঁর সাথে একটি ভ্রাম্যমাণ হাসপাতালই রয়েছে। চিকিৎসক যাকে পরীক্ষা করে উপযুক্ত চিকিৎসার ব্যবস্থা দিতেন, সফরসঙ্গী ভ্রাম্যমাণ পানীয়শালা বা ঔষধালয় থেকে তাকে তা প্রদান করা হতো। সুলতান আল-মালিকুজ জাহির বারকুকের অভ্যাস ছিল এক বিশাল বহর ও জাঁকজমকপূর্ণ অনুষ্ঠানের মাধ্যমে সিরিয়াকুস পল্লীতে যাতায়াত করা; ৭৯৯ হিজরি সাল পর্যন্ত তিনি পূর্বোক্ত সকল অনুষঙ্গসহ এই ধারা অব্যাহত রেখেছিলেন।

 

‌‌দৃষ্টিপ্রতিবন্ধী ও নারীদের চিকিৎসাসেবা প্রদান

‌‌চিকিৎসাবিদ্যায় পারদর্শী নারীগণ

চিকিৎসাবিদ্যা শিক্ষা ও চিকিৎসা পেশা গ্রহণ করা নারী-পুরুষ, দৃষ্টিশক্তি সম্পন্ন বা দৃষ্টিপ্রতিবন্ধী—সবার জন্যই অবারিত ছিল।

বনু আওদ গোত্রের চিকিৎসক জয়নাব এই বিদ্যায় অত্যন্ত পারদর্শীদের অন্তর্ভুক্ত ছিলেন।
(খণ্ড: ১) তারিখুল বিমারিস্তানাত ফিল ইসলাম (পৃষ্ঠা: ১৬)
الكحالة عالمة بصناعة الطب والمداواة ولها خبرة جيدة بمداواة آلام العين والجراحات مشهورة بين العرب بذلك. ذكر أبو الفرج الأصفهاني في كتاب الأغاني: قال رجل من الأعراب: أتيت امرأة من بني أَود لتكحلني من رمد كان أصابني، فكحلتني ثم قالت: أضطجع قليلا حتى

يدور الدواء في عينيك فاضطجعت ثم تمثلت قول الشاعر:

أمخترمي ريب المنون ولم أزر … طبيب بني أود على النأي زينبا

فضحكت ثم قالت: أتدري فيمن قيل هذا الشعر؟ قلت: لا. قالت: فيَّ والله قيل، وأنا زينب التي عناها، وأنا طبيبة بني أود أفتدري من الشاعر؟ قلت: لا. قالت: عمك أبو سماك الأزدي.

ورُفيدة الأسلمية اتخذت خيمة في مسجد النبي صلى الله عليه وسلم وكانت تداوي الجرحى. وكانت أخت الحفيد أبي بكر أبن زُهر وبنتها عالمتين بصناعة الطب ولها خبرة جيدة فيما يتعلق بمداواة النساء وكانتا تدخلان المنصور أبي يوسف يعقوب بن يوسف بن عبد المؤمن ولا يقبل للمنصور وأهله ولدا إلا أخت الحفيد أو بنتها لما توفيت أمها.
চক্ষু-চিকিৎসক নারী চিকিৎসা ও ঔষধপ্রয়োগ বিদ্যায় পারদর্শী ছিলেন; চোখের পীড়া ও অস্ত্রোপচারে তাঁর বিশেষ দক্ষতা ছিল এবং এ কারণে তিনি আরবদের মাঝে সুপরিচিত ছিলেন। আবু আল-ফারাজ আল-ইসফাহানি ‘কিতাব আল-আগানি’-তে উল্লেখ করেছেন: জনৈক মরুবাসী আরব বলেন, আমি বনু আউদ গোত্রের এক মহিলার কাছে গেলাম যেন তিনি আমার চোখের প্রদাহের চিকিৎসা করেন। তিনি আমার চোখে ঔষধ প্রয়োগ করলেন এবং বললেন: ‘অল্প সময় শুয়ে থাকুন যাতে

ঔষধটি আপনার চোখের ভেতরে ছড়িয়ে পড়ে।’ আমি শুয়ে পড়লাম এবং কবির এই পঙ্ক্তিটি আবৃত্তি করলাম:

“কালচক্রের নির্মম পরিহাস কি আমাকে সংহার করবে, অথচ আমি সাক্ষাৎ পাইনি … সুদূর বনু আউদ গোত্রের চিকিৎসক যয়নাবের!”

শুনে তিনি হেসে উঠলেন এবং বললেন: ‘আপনি কি জানেন এই কবিতা কার উদ্দেশ্যে রচিত?’ আমি বললাম, ‘না’। তিনি বললেন: ‘আল্লাহর কসম, এটি আমার উদ্দেশ্যেই বলা হয়েছে; আমিই সেই যয়নাব যাকে তিনি বুঝিয়েছেন এবং আমিই বনু আউদের সেই চিকিৎসক। আপনি কি জানেন এই কবি কে?’ আমি বললাম, ‘না’। তিনি বললেন: ‘তিনি আপনার চাচা আবু সিমাক আল-আযদি।’

আর রুফাইদা আল-আসলামিয়া আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর মসজিদে একটি তাবু স্থাপন করেছিলেন এবং সেখানে আহতদের চিকিৎসা করতেন। আল-হাফিদ আবু বকর ইবনে জুহরের বোন এবং তাঁর কন্যা চিকিৎসা বিজ্ঞানে সুপণ্ডিত ছিলেন এবং নারীদের রোগ নিরাময়ে তাঁদের বিশেষ অভিজ্ঞতা ছিল। তাঁরা দুজনেই আল-মানসুর আবু ইউসুফ ইয়াকুব ইবনে ইউসুফ ইবনে আবদ আল-মুমিনের দরবারে প্রবেশাধিকার রাখতেন। আল-মানসুর ও তাঁর পরিবারের কোনো নবজাতকের সেবা বা প্রসবকালীন দায়িত্বের জন্য আল-হাফিদের বোন অথবা তাঁর মৃত্যুর পর তাঁর কন্যা ব্যতীত অন্য কাউকে গ্রহণ করা হতো না।
(খণ্ড: ১) তারিখুল বিমারিস্তানাত ফিল ইসলাম (পৃষ্ঠা: ১৭)
وكانت أم الحسن بنت القاضي أحمد بن عبد الله بن عبد المنعم أبي جعفر الطنجالي من أهل لوشة بلدة بالأندلس تجود القرآن وتشارك في فنون من الطب وأفراد مسائل الطب وتنظم الشعر.

 

‌‌الأطباء المكفوفون

كان أبو الحسن علي بن إبراهيم بن بكس طبيبا مكفوفا وكان فاضلا عاملا بصناعة الطب متقنا لها غاية الإتقان وكان يدرس الطب في البيمارستان العضدي ويفيد الطالبين وكان إذا أراد معرفة سجنات الوجود وحال بول المرضى حول على من يكون معه من تلاميذه في وصفه ذلك.

وأبو الحسن بن مكين البغدادي الضرير قاد الحكمة بزمامها وكان مكفوفا يقوده تلميذه إلى ديار المرضى وكان أبو الخير يهجنه في كتاب امتحان الأطباء وقال: من قاد أعمى شهرا يعني ذلك الطبيب تطبب وعالج وأهلك الناس.
আন্দালুসের লুইশা শহরের অধিবাসী কাজী আহমদ ইবনে আব্দুল্লাহ ইবনে আব্দুল মুনইম আবু জাফর আত-তানজালীর কন্যা উম্মুল হাসান কুরআনের তিলাওয়াতে অত্যন্ত দক্ষ ছিলেন এবং চিকিৎসাবিজ্ঞানের নানাবিধ শাখা ও এর বিশেষ সমস্যাবলিতে অংশগ্রহণ করতেন, পাশাপাশি তিনি কবিতা রচনা করতেন।

 

‌‌দৃষ্টিহীন চিকিৎসকগণ

আবুল হাসান আলী ইবনে ইবরাহিম ইবনে বাকস ছিলেন একজন দৃষ্টিহীন চিকিৎসক; তিনি অত্যন্ত বিদগ্ধ এবং চিকিৎসাবিদ্যায় চরম নিপুণতা ও দক্ষতার অধিকারী ছিলেন। তিনি আদুদি হাসপাতালে চিকিৎসাবিদ্যা শিক্ষা দিতেন এবং শিক্ষার্থীদের উপকৃত করতেন। যখন তিনি রোগীদের শারীরিক অবয়ব ও প্রস্রাবের অবস্থা সম্পর্কে জানতে চাইতেন, তখন তাঁর সাথে থাকা ছাত্রদের কাছ থেকে সেগুলোর বর্ণনা গ্রহণ করতেন।

আর আবুল হাসান বিন মাকীন আল-বাগদাদী আদ-দারী প্রজ্ঞার লাগাম নিজের নিয়ন্ত্রণে রেখেছিলেন। তিনি দৃষ্টিহীন ছিলেন এবং তাঁর ছাত্র তাঁকে রোগীদের গৃহে নিয়ে যেত। আবুল খায়ের তাঁর 'ইমতিহানুল আতিব্বা' (চিকিৎসকদের পরীক্ষা) গ্রন্থে তাঁকে হেয় করতেন এবং বলতেন: "যে ব্যক্তি কোনো অন্ধকে—অর্থাৎ সেই চিকিৎসককে—এক মাস পথ দেখায়, সে নিজেই চিকিৎসা করতে শুরু করে এবং মানুষকে ধ্বংস করে ফেলে।"
(খণ্ড: ১) তারিখুল বিমারিস্তানাত ফিল ইসলাম (পৃষ্ঠা: ১৮)
وأبو عبد الله محمد بن سليمان بن الحناط المكفوف الشاعر الضرير القرطبي كان

أوسع الناس علما بعلوم الجاهلية والإسلام بصيرا بالآثار العلوية حادقا بالطب والفلسفة ماهرا في العربية والآداب الإسلامية ولد أعشى ضعيف البصر متوقد الخاطر فقراء كثيرا في حال عشاه ثم طفئ نور عينه بالكلية فأزداد براعة، ونظر في الطب بعد ذلك فأنجح علاجا. وكان أبنه يصف له مياه الناس اليتفتين عنده فيهتدي منها إلى ما يهتدي إليه البصير ولا يخطيْ الصواب في فتواه لسرعة الاستنباط، وتطبب عنده الأعيان والملوك فاعترفوا له بمنافع جسيمة.

 

‌‌التقسيم الفني لنظام البيمارستان

لم تكن البيمارستانات لسير اتفاقا بغير نظام ولا ترتيب، بل كانت على نظام تام وترتيب محمود تسير أعمالهما على وتيرة منتظمة.

وكانت البيمارستانات منقسمة إلى قسمين منفصلين بعضها عن بعض، للمذكور وقسم للإناث وكل قسم مجهز بما يحتاجه من آلة وعدة وخدم وفراشين من الرجال والنساء وقوام ومشرفين.
এবং আবু আব্দুল্লাহ মুহাম্মদ বিন সুলাইমান বিন আল-হান্নাত আল-মাকফুফ ছিলেন একজন অন্ধ কর্ডোবান কবি। জাহেলি ও ইসলামি জ্ঞান-বিজ্ঞানে তিনি ছিলেন

সমসাময়িকদের মধ্যে সর্বাধিক জ্ঞানী। মহাজাগতিক নিদর্শনাবলি পর্যবেক্ষণে তিনি প্রজ্ঞাবান এবং চিকিৎসা ও দর্শনে অত্যন্ত সুনিপুণ ছিলেন; তদুপরি আরবি ভাষা ও ইসলামি সাহিত্যে তাঁর অসাধারণ দক্ষতা ছিল। তিনি ক্ষীণ দৃষ্টিশক্তি নিয়ে জন্মগ্রহণ করেন, তবে তাঁর মেধা ছিল অত্যন্ত প্রখর। তিনি এই অবস্থাতেই প্রচুর পড়াশোনা করেন, অতঃপর যখন তাঁর দৃষ্টিশক্তি সম্পূর্ণ বিলুপ্ত হয়, তখন তাঁর বুদ্ধিবৃত্তিক উৎকর্ষ আরও বৃদ্ধি পায়। এরপর তিনি চিকিৎসাবিদ্যা চর্চা শুরু করেন এবং তাঁর চিকিৎসা পদ্ধতি অত্যন্ত কার্যকর প্রমাণিত হয়। তাঁর কাছে চিকিৎসা প্রত্যাশীদের মূত্র পরীক্ষা করার সময় তাঁর পুত্র সেই তরলের অবস্থা বর্ণনা করতেন; আর তিনি সেই বর্ণনার ওপর ভিত্তি করেই এমন নির্ভুল সিদ্ধান্তে উপনীত হতেন, যা একজন দৃষ্টিশক্তিসম্পন্ন ব্যক্তিও করতে পারত। তাঁর ক্ষিপ্র উদ্ভাবনী ক্ষমতার কারণে তাঁর রোগ নির্ণয়ে কোনো ভুল হতো না। বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ ও রাজন্যবর্গ তাঁর কাছে চিকিৎসা গ্রহণ করতেন এবং তাঁরা তাঁর চিকিৎসার প্রভূত উপকারের কথা স্বীকার করতেন।

 

‌‌বিমারিস্তান (হাসপাতাল) ব্যবস্থার পদ্ধতিগত বিভাজন

বিমারিস্তানসমূহ কোনো প্রকার বিশৃঙ্খলা বা সুনির্দিষ্ট নিয়ম ছাড়া চলত না, বরং সেগুলো একটি পূর্ণাঙ্গ ব্যবস্থা ও প্রশংসনীয় শৃঙ্খলার ওপর প্রতিষ্ঠিত ছিল এবং তাদের কার্যাবলি একটি সুশৃঙ্খল ধারা বজায় রেখে সম্পন্ন হতো।

বিমারিস্তানগুলো পরস্পর থেকে সম্পূর্ণ বিচ্ছিন্ন দুটি অংশে বিভক্ত ছিল—একটি পুরুষের জন্য এবং অপরটি নারীর জন্য। প্রতিটি অংশই প্রয়োজনীয় যন্ত্রপাতি, সরঞ্জাম, সেবক, বিছানা প্রস্তুতকারী (পুরুষ ও নারী কর্মী), তত্ত্বাবধায়ক এবং পরিদর্শকদের দ্বারা সুসজ্জিত ছিল।
(খণ্ড: ১) তারিখুল বিমারিস্তানাত ফিল ইসলাম (পৃষ্ঠা: ১৯)
وفي كل قسم من هذين القسمين عدة قاعات لمختلف الأمراض: فقاعة للأمراض الباطنة، وقاعة للجراحة، وقاعة للكحالة، وقاعة للتجبير. وكانت قاعة الأمراض الباطنة منقسمة إلى أقسام أخرى: قسم للمحمومين وهم المصابون بالحمى، وقسم للممرورين وهو لمن بهم المرض المسمى مانيا وهو الجنون السبعي، وقسم للمبرودين أي المتخومين، ولمن به إسهال قاعة. . الخ. وكانت قاعات البمارستان فسيحة حسنة البناء وكان الماء فيها جاريا. وللبيمارستان صيدلية تسمى شرابخاناه ولها رئيس يسمى شيخ صيدليي البيمارستان. وللبيمارستان رئيس يسمى ساعور البيمارستان. ولكل قسم
এই উভয় বিভাগের প্রতিটিতে বিভিন্ন ব্যাধির জন্য একাধিক কক্ষ নির্দিষ্ট ছিল: অভ্যন্তরীণ ব্যাধির জন্য একটি কক্ষ, শল্যচিকিৎসার জন্য একটি কক্ষ, চক্ষুচিকিৎসার জন্য একটি কক্ষ এবং অস্থিচিকিৎসার জন্য একটি কক্ষ। অভ্যন্তরীণ ব্যাধির কক্ষটি পুনরায় কয়েকটি উপবিভাগে বিভক্ত ছিল: জ্বরগ্রস্ত রোগীদের (যাঁরা জ্বরে আক্রান্ত) জন্য একটি বিভাগ, পিত্তাধিক্যজনিত রোগীদের জন্য একটি বিভাগ—যাঁরা 'ম্যানিয়া' বা হিংস্র উন্মাদনা নামক ব্যাধিতে আক্রান্ত ছিলেন, এবং অজীর্ণ বা শৈত্যজনিত রোগে আক্রান্তদের জন্য একটি বিভাগ। এছাড়া উদরাময় রোগীদের জন্য একটি কক্ষ ছিল... ইত্যাদি। হাসপাতালের কক্ষগুলো ছিল প্রশস্ত ও সুনির্মিত এবং সেখানে প্রবাহমান পানির ব্যবস্থা ছিল। হাসপাতালের একটি নিজস্ব ঔষধালয় ছিল যাকে 'শারাবখানা' বলা হতো এবং এর একজন প্রধান কর্মকর্তা থাকতেন যাকে 'হাসপাতালের প্রধান ঔষধপ্রস্তুতকারক' বলা হতো। হাসপাতালের একজন প্রধান পরিচালক থাকতেন যাকে হাসপাতালের 'সাউর' বলা হতো। এবং প্রতিটি বিভাগের জন্য...
(খণ্ড: ১) তারিখুল বিমারিস্তানাত ফিল ইসলাম (পৃষ্ঠা: ২০)
من أقسامه رئيس. فكان فيه رئيس للأمراض الباطنة، ورئيس للجرائحية والمجبرين، ورئيس للكحالين. وللبيمارستان الفراشون من الرجال والنساء والمشارفون والقوام للخدمة أيضا ولهم المعاليم الوافية والجامكية

الوافرة.

 

‌‌خزانة الشراب

هي الصيدلية في البيمارستان قال أبو العباس القلقشندي: هذه الخزانة هي المعبر عنها في زماننا أي زمن القلقشندي المتوفى سنة 821هـ - 1418م بالشرابخاناه وهي الحواصل المعبر عنها بالبيوت، ذلك أنهم يضيفون كل واحد منها إلى لفظ خاناه كالشراب خاناه والطشت خاناه والطبل خاناه ونحوها وخاناه لفظ فارسي معناه البيت فتأويلها بيت الشراب الخ. إلا أنهم يؤخرون المضاف عن المضاف إليه على عادة الفرس في ذلك. وكان فيها من أنواع الأشربة والمعاجين النفيسة والمربيات الفاخرة وأصناف الأدوية والعطريات الفائقة التي ر توجد إلا فيها. وفيها من الآلات النفيسة والآنية الصيني من الزبادي والبراني والأزبار ما لا يقدر عليه غير الملوك. وقد كان لكل مارستان خزانة
এর প্রতিটি বিভাগের একজন করে প্রধান ছিলেন। এতে ছিল অভ্যন্তরীণ রোগসমূহের জন্য একজন প্রধান, শল্যচিকিৎসক ও অস্থি-বিশেষজ্ঞদের জন্য একজন প্রধান এবং চক্ষু-বিশেষজ্ঞদের জন্য একজন প্রধান। এছাড়া হাসপাতালের জন্য পুরুষ ও মহিলা পরিচ্ছন্নতাকর্মী, পরিদর্শক এবং সেবা-শুশ্রূষার জন্য দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মচারীগণ ছিলেন। তাদের জন্য পর্যাপ্ত ভাতা ও প্রচুর মাসিক বেতন বরাদ্দ ছিল।

 

‌‌পানীয় ভাণ্ডার

এটি হলো হাসপাতালের ফার্মাসি বা ঔষধালয়। আবু আব্বাস আল-কালকাশান্দি বলেন: এই ভাণ্ডারটিই আমাদের যুগে অর্থাৎ ৮২১ হিজরি - ১৪১৮ খ্রিস্টাব্দে মৃত্যুবরণকারী আল-কালকাশান্দির সময়ে 'শারাবখানা' হিসেবে পরিচিত ছিল। এগুলো হলো সেই মজুদাগার যেগুলোকে 'ঘর' হিসেবে অভিহিত করা হয়; কারণ তারা এগুলোর প্রত্যেকটির নামের সাথে 'খানা' শব্দটি যুক্ত করে, যেমন: শারাব খানা, তাশত খানা, তবল খানা ইত্যাদি। 'খানা' একটি ফারসি শব্দ যার অর্থ হলো ঘর, তাই এর ব্যাখ্যা হলো পানীয় ঘর ইত্যাদি। তবে তারা ফারসি রীতি অনুযায়ী সম্বন্ধ পদকে সম্বন্ধী পদের পরে ব্যবহার করে। এতে বিভিন্ন ধরণের মূল্যবান পানীয়, দামী ভেষজ মণ্ড, উৎকৃষ্ট মোরব্বা এবং শ্রেষ্ঠ মানের ঔষধ ও সুগন্ধি থাকতো যা অন্য কোথাও পাওয়া যেত না। এতে অত্যন্ত মূল্যবান যন্ত্রপাতি এবং চীনা মাটির তৈজসপত্র যেমন- বড় বাটি, বয়াম ও পাত্র ছিল যা রাজা-বাদশাহ ছাড়া অন্য কারো পক্ষে সংগ্রহ করা সম্ভব ছিল না। প্রতিটি হাসপাতালের জন্যই এমন একটি ভাণ্ডার নির্ধারিত ছিল।
(খণ্ড: ১) তারিখুল বিমারিস্তানাত ফিল ইসলাম (পৃষ্ঠা: ২১)
للشراب كاملة كما في وقفية المارستان المنصوري قلاوون وغيره ولكل شراب خاناه مهتار يعرف يمهتار الشرابخاناه ومهتر بالفارسية بمعنى رئيس متسلم لحواصلها له مكانة عالية وتحت يده غلمان عنده برسم الخدمة يطلق على كل واحد منهم شراب دار.

وفي الشرابخاناه الخاصة بالسلطان وظيفة الشادّ بها تكون لأمير من أكابر أمراء المئين الخاصكية المؤتمنين ولها مهتار يعرف بمهتار الشرابخاناه متسلم لحواصلها.

ووظيفة الشادّ موضوعها التحدث في أمر الشرابخاناه السلطانية وما عمل إليها من السكر والمشروب والفواكه وغير ذلك وتارة يكون مقدما وتارة يكون طبلخاناه.
পানীয়ের পূর্ণ বিবরণ আল-মারিস্তান আল-মানসুরি কালাউন ও অন্যান্যদের ওয়াকফনামায় বর্ণিত হয়েছে। প্রতিটি শারাবখানাহ (পানীয়শালা)-র জন্য একজন মেহতার নিযুক্ত থাকতেন, যিনি 'শারাবখানাহর মেহতার' নামে পরিচিত ছিলেন। ফার্সি ভাষায় 'মেহতার' শব্দের অর্থ হলো প্রধান বা আধিকারিক, যিনি এর রসদপত্রের দায়িত্বপ্রাপ্ত থাকেন। তিনি উচ্চ মর্যাদার অধিকারী ছিলেন এবং তার অধীনে সেবার উদ্দেশ্যে নিয়োজিত একদল ভৃত্য থাকত, যাদের প্রত্যেককে 'শারাব-দার' বলা হতো।

সুলতানের ব্যক্তিগত শারাবখানাহতে 'শাদ্দ' (তত্ত্বাবধায়ক) পদটি উচ্চপদস্থ আমীরদের মধ্য থেকে বিশ্বস্ত 'খাসসাকি' শতপতি আমীরদের প্রদান করা হতো। সেখানেও একজন মেহতার থাকতেন, যিনি 'শারাবখানাহর মেহতার' হিসেবে পরিচিত এবং এর যাবতীয় সামগ্রী গ্রহণের দায়িত্বে নিয়োজিত ছিলেন।

'শাদ্দ' পদের মূল দায়িত্ব হলো সুলতানি শারাবখানাহর যাবতীয় বিষয়াদি তদারকি করা এবং সেখানে চিনি, পানীয়, ফলমূল ও অন্যান্য যা কিছু সরবরাহ করা হয় তার তদারকি করা। এই পদের অধিকারী কখনো 'মুকাদ্দাম' পদমর্যাদার হতেন, আবার কখনো 'তাবলখানাহ' পদমর্যাদার আমীর হতেন।
(খণ্ড: ১) তারিখুল বিমারিস্তানাত ফিল ইসলাম (পৃষ্ঠা: ২২)
‌‌نظر البيمارستان ورتب أطبائه

كان للبيمارستان ناظر ينظر أو يشرف على إدارته وكان النظر عليه معدودا من الوظائف الديوانية العظيمة قال أبو العباس أحمد القلقشندي:

من الوظائف الديوانية نظر البيمارستان وقد صار النظر عليه معدوقا بالنائب نائب السلطان يفوض التحدث فيه إلى من يختاره من أرباب الأقلام. وقال عند الكلام عن نائب السلطنة: ومعه أي نائب السلطان يكون نظر البيمارستان الكبير النوري الذي بدمشق كما يكون نظر البيمارستان المنصوري قلاوون بالقاهرة مع أتابك العساكر وقال عن
বিমারিস্তানের তদারকি এবং এর চিকিৎসকদের পদমর্যাদা

বিমারিস্তানের জন্য একজন তত্ত্বাবধায়ক (নাজির) থাকতেন যিনি এর ব্যবস্থাপনা দেখাশোনা বা তদারকি করতেন। এর তত্ত্বাবধানের দায়িত্বটি মহান দেওয়ানি পদগুলোর অন্তর্ভুক্ত ছিল। আবু আল-আব্বাস আহমদ আল-কালকাশান্দি বলেছেন:

দেওয়ানি পদগুলোর একটি হলো বিমারিস্তানের তদারকি। বর্তমানে এর তদারকির দায়িত্ব নায়েবে সুলতানের (সুলতানের প্রতিনিধি) ওপর অর্পিত হয়েছে; তিনি এর পরিচালনার দায়িত্ব তাঁর পছন্দমতো প্রশাসনিক কর্মকর্তাদের (আরবাব আল-আকলাম) ওপর ন্যস্ত করেন। তিনি সালতানাতের প্রতিনিধি (নায়েবে সালতানাত) সম্পর্কে আলোচনার সময় বলেন: দামেস্কের বৃহৎ নূরী বিমারিস্তানের তদারকি নায়েবে সুলতানের অধীনে থাকে, যেমনটি কায়রোর মানসুরি কালাউন বিমারিস্তানের তদারকি আতাবেক আল-আসাকিরের (সেনাপ্রধান) অধীনে থাকে। এবং তিনি আরও বলেন—
(খণ্ড: ১) তারিখুল বিমারিস্তানাত ফিল ইসলাম (পৃষ্ঠা: ২৩)
الوظائف الكبيرة بالقاهرة: إن منها صحابة ديوان البيمارستان وموضوعها التحدث في كل ما يتحدث به ناظر البيمارستان. وقال عن وظيفة نظر البيمارستان والمراد البيمارستان النوري: هي من أجل الوظائف وأعلاها وعادة النظر فيه من أصحاب السيوف لأكبر الأمراء بالديار المصرية وذكر ابن إياس: إن نظر البيمارستان كان من أهم وظائف الدولة يتولاه الأتابكي ويذهب إليه في حفلة حافلة وقال في حوادث سنة 901هـ ومستهلها يوم الأحد: في هذا اليوم خلع على الأتابكي تمراز وقرره في نظر البيمارستان المنصوري فتوجه هناك في موكب حافل وذلك كان في سلطنة الملك الأشرف أبي النصر قايتباي المحمودي في عصر الخليفة المتوكل على الله العباسي. وقال خليل بن أبيك الظاهري
কায়রোর উচ্চপদস্থ পদসমূহ: এর মধ্যে অন্যতম হলো বিমারিস্তান দেওয়ানের ‘সাহাবা’ (সহকারী পরিচালক) পদ এবং এর কাজ হলো বিমারিস্তানের নাজির (তত্ত্বাবধায়ক) যেসব বিষয়ে তদারকি করেন সেগুলোতে অংশগ্রহণ করা। বিমারিস্তানের তত্ত্বাবধানের পদ (এখানে নূরী বিমারিস্তান উদ্দেশ্য) সম্পর্কে তিনি বলেন: এটি অন্যতম শ্রেষ্ঠ ও উচ্চমর্যাদাসম্পন্ন পদ এবং সচরাচর মিশরীয় ভূখণ্ডের বড় বড় আমীর তথা সমরকুশলী কর্মকর্তাদের মধ্য থেকেই এর তত্ত্বাবধায়ক নিযুক্ত করা হতো। ইবনে ইয়াস উল্লেখ করেছেন: বিমারিস্তানের তত্ত্বাবধান ছিল রাষ্ট্রের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ পদ, যা ‘আতাবেকি’ (প্রধান সেনাপতি) পরিচালনা করতেন এবং তিনি এক আড়ম্বরপূর্ণ অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে সেখানে যেতেন। ৯০১ হিজরির ঘটনাবলি এবং রবিবারের সূচনা সম্পর্কে তিনি বলেন: এই দিনে আতাবেকি তিমরাজকে রাজকীয় সম্মানের পোশাক প্রদান করা হয় এবং তাকে মানসূরী বিমারিস্তানের তত্ত্বাবধায়ক হিসেবে নিযুক্ত করা হয়; অতঃপর তিনি এক বিশাল শোভাযাত্রা সহকারে সেখানে গমন করেন। এটি ছিল আব্বাসীয় খলিফা মুতাওয়াক্কিল আলাল্লাহর যুগে সুলতান আল-আশরাফ আবু নাসের কাইতবেই আল-মাহমুদীর শাসনামলে। খলিল বিন আইবাক আল-জাহিরি বলেছেন—
(খণ্ড: ১) তারিখুল বিমারিস্তানাত ফিল ইসলাম (পৃষ্ঠা: ২৪)
إن للبيمارستان شادا وظيفته من وظائف الدولة تقضي لمن يستقر فيها إمرة عشرين حاجبا. وقال أبو العباس القلقشندي من الوظائف بدمشق وظائف أرباب الصناعات منها رياسة الطب ورياسة الكحالة ورياسة الجرائحية وكلها على نحو ما هو موجود في الديار المصرية وولاية كل منها بتوقيع كريم من النائب.

وألقاب أرباب الوظائف من أهل الصناعات هي:

1. رئيس الأطباء وهو الذي يحكم على طائفة الأطباء ويأذن لهم في التطبيب ونحو ذلك.

2. رئيس الكحالين وحكمه في الكلام على طائفة الكحالة حكم رئيس الأطباء في طائفة الأطباء.

3. رئيس الجرائحية وحكمه في الكلام على طائفة الجرائحية والمجبرين كالرئيس المتقدم.

وكانت أعظم الوظائف الصناعية في الدولة الفاطمية بمصر وظائف الأطباء فكانت ألقاب أرباب الصناعات الرئيسية كرياسة الطب من الدرجة الأولى درجة المجلس أو إمرة المجلس وموضوعها التحدث
হাসপাতালের জন্য একজন তত্ত্বাবধায়ক নিযুক্ত থাকতেন, যাঁর পদটি ছিল রাষ্ট্রীয় পদমর্যাদার অন্তর্ভুক্ত। এই পদে যিনি অধিষ্ঠিত হতেন, তাঁর অধীনে বিশজন রক্ষীর সেনাপতিত্ব নির্ধারিত ছিল। আবু আল-আব্বাস আল-কালকাশান্দি বলেছেন যে, দামেস্কের প্রশাসনিক পদগুলোর মধ্যে বিভিন্ন পেশাজীবী প্রধানদের পদ ছিল, যেমন চিকিৎসাবিদ্যা প্রধান, চক্ষুচিকিৎসা প্রধান এবং অস্ত্রোপচার প্রধান; এই পদগুলো সবই মিশরের প্রচলিত ব্যবস্থার অনুরূপ ছিল এবং এই প্রতিটি পদের নিয়োগ নায়েবের উচ্চপর্যায়ের স্বাক্ষরের মাধ্যমে কার্যকর হতো।

পেশাজীবী প্রধানদের পদবিসমূহ ছিল নিম্নরূপ:

১. প্রধান চিকিৎসক: তিনি চিকিৎসক সম্প্রদায়ের ওপর কর্তৃত্ব পরিচালনা করতেন এবং তাঁদের চিকিৎসা পেশা পরিচালনা ও সংশ্লিষ্ট বিষয়ে অনুমতি প্রদান করতেন।

২. প্রধান চক্ষুচিকিৎসক: চক্ষুচিকিৎসক সম্প্রদায়ের বিষয়ে তাঁর সিদ্ধান্ত ও কর্তৃত্ব প্রদানের ক্ষমতা ছিল প্রধান চিকিৎসকের ক্ষমতার অনুরূপ।

৩. প্রধান শল্যবিদ: শল্যবিদ এবং হাড় জোড়া দেওয়া বিশেষজ্ঞদের বিষয়ে তাঁর কর্তৃত্ব পূর্বোক্ত প্রধানদের মতোই ছিল।

মিশরের ফাতিমিয় শাসনামলে পেশাগত পদগুলোর মধ্যে চিকিৎসকদের পদটি ছিল সর্বাধিক মর্যাদাপূর্ণ। প্রধান পেশাজীবী পদগুলোর পদবি, যেমন চিকিৎসাবিদ্যা প্রধানের পদটি ছিল প্রথম শ্রেণির অন্তর্ভুক্ত, যা 'মজলিস' বা 'ইমরাতুল মজলিস' পর্যায়ের ছিল এবং এর দায়িত্ব ছিল তদারকি ও আলোচনা করা।
(খণ্ড: ১) তারিখুল বিমারিস্তানাত ফিল ইসলাম (পৃষ্ঠা: ২৫)
على الأطباء والكحالين ومن شاكلهم ولا يكون إلا واحدا وفي المرتبة الأولى مرتبة المجلس العالي.

وكان من الوظائف الصناعية العظيمة وظيفة الطبيب الخاص وهو الطبيب الخاص بالخليفة يجلس على باب دار الخلافة كل يوم ويجلس على الدكك التي بالقاعة المعروفة بقاعة الذهب بالقصر، دونه أربعة أطباء أو ثلاثة فيخرج الأستاذون الخدم والطواشية فيستدعون منهم من يجدونه للدخول على المرضى بالقصر لجهات الأقارب والخواص، فيكتب لهم رقاعا على خزانة الشراب فيأخذون ما فيها وتبقى الرقاع عند مباشرتها شاهدا لهم ولكل منهم الجاري والراتب على قدره.

 

‌‌التوقيع بنظر البيمارستان

التواقيع بنظر البيمارستان هي المراسيم بتعيينهم في وظائفهم وسنأتي هنا ببعض صور من تلك التواقيع. وهم أي النظار من الدرجة الأولى: درجة المجلس.
চিকিৎসক, চক্ষুরোগ বিশেষজ্ঞ এবং তাদের সমপর্যায়ের ব্যক্তিদের ওপর (একজন প্রধান নিযুক্ত হতেন); তিনি হতেন একজন মাত্র এবং প্রথম স্তরের অর্থাৎ উচ্চ পরিষদের পদমর্যাদার অধিকারী।

মহান পেশাগত দায়িত্বসমূহের মধ্যে অন্যতম ছিল 'ব্যক্তিগত চিকিৎসক' পদটি। তিনি ছিলেন খলিফার একান্ত চিকিৎসক, যিনি প্রতিদিন খিলাফত প্রাসাদের প্রবেশদ্বারে এবং প্রাসাদের 'স্বর্ণকক্ষ' নামে পরিচিত হলের উঁচু আসনে উপবেশন করতেন। তাঁর অধীনে তিন বা চারজন চিকিৎসক থাকতেন। অতঃপর প্রাসাদের ভৃত্য ও পরিচারকগণ বের হয়ে আসতেন এবং খলিফার আত্মীয়স্বজন ও বিশেষ ব্যক্তিদের মধ্যে যারা অসুস্থ থাকতেন, তাদের চিকিৎসার জন্য চিকিৎসকদের তলব করতেন। অতঃপর চিকিৎসক ওষুধি ভাণ্ডারের জন্য ব্যবস্থাপত্র লিখে দিতেন এবং তারা সেখান থেকে প্রয়োজনীয় ওষুধ সংগ্রহ করত। সেই ব্যবস্থাপত্রগুলো সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের কাছে প্রমাণ হিসেবে সংরক্ষিত থাকত এবং প্রত্যেকের পদমর্যাদা অনুযায়ী নির্ধারিত ভাতা ও বেতন বরাদ্দ ছিল।

 

হাসপাতাল তত্ত্বাবধানের নিয়োগপত্র

হাসপাতাল তত্ত্বাবধানের নিয়োগপত্র বা 'তাওকি' হলো তাদের পদে নিয়োগ প্রদানের রাজকীয় ফরমান। আমরা এখানে সেই নিয়োগপত্রগুলোর কিছু নমুনা উপস্থাপন করব। তাঁরা অর্থাৎ তত্ত্বাবধায়কগণ ছিলেন প্রথম স্তরের অর্থাৎ 'মজলিস' পদমর্যাদার অন্তর্ভুক্ত।
(খণ্ড: ১) তারিখুল বিমারিস্তানাত ফিল ইসলাম (পৃষ্ঠা: ২৬)
‌‌نسخة توقيع لمن كان في المرتبة الأولى مرتبة

‌‌المجلس العالي

المجلس العالي القضائي العالي الفاضلي الكاملي الأوحدي فلان. . . . جمال الإسلام والمسلمين سيد الرؤساء في العالمين أوحد الفضلاء والمقربين خاصة الملوك والسلاطين.

وهذه صورة أخرى لما يكتب به من المراسيم لناظر البيمارستان لصاحب سيف كتب: توقيع شريف أن يفوض إلى المقر الكريم أو الجناب الكريم أو العالي على قدر رتبته الأميري الكبيري الفلاني فلان الناصري مثلا أعز الله أنصاره أو نصرته أو ضاعف الله نعمته بحسب ما يليق به نظر البيمارستان المعمور المنصوري على أجمل العوائد وأكمل القواعد بما لذلك من المعلوم الشاهد به الديوان المعمور على ما شرح فيه.

وهذه نسخة توقيع بنظر البيمارستان العتيق الناصري الذي رتبه السلطان صلاح الدين يوسف بن أيوب في بعض قاعات قصر الفاطميين وهي:

رسم بالأمر الشريف لا زالت أيامه تفيد علاء، وتستخدم أكفاء؛ وتضفي ملابس النعماء، على كل عليّ فتكسوه بهجة وبهاء
প্রথম স্তরের মর্যাদাপ্রাপ্ত ব্যক্তির জন্য স্বাক্ষরের অনুলিপি

‌উচ্চ পরিষদ

উচ্চতর বিচার বিভাগীয় উচ্চ পরিষদ, অতিশয় গুণী, পূর্ণাঙ্গ ও অদ্বিতীয় ব্যক্তিত্ব অমুক... ইসলাম ও মুসলিম উম্মাহর সৌন্দর্য, বিশ্ববাসীর মাঝে নেতৃবৃন্দের নেতা, শ্রেষ্ঠ ও নৈকট্যভাজনদের মাঝে অদ্বিতীয় এবং রাজা ও সুলতানদের বিশেষ আস্থাভাজন।

হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়কের জন্য ফরমান হিসেবে যা লেখা হয়, এটি তার অন্য একটি অনুলিপি। যদি তিনি তরবারিধারী (সামরিক পদমর্যাদার) হন, তবে লেখা হবে: মহান রাজকীয় স্বাক্ষর যে, অমুক নাসিরী বংশীয় সম্মানিত আল-মুক্কার অথবা আল-জানাব আল-কারীম অথবা আল-আলিকে—যিনি তাঁর পদমর্যাদা অনুযায়ী উচ্চপদস্থ আমির—আল্লাহ তাঁর সমর্থকদের শক্তিশালী করুন অথবা তাঁর বিজয় ত্বরান্বিত করুন কিংবা তাঁর ওপর তাঁর নেয়ামত দ্বিগুণ করুন, তাঁকে আবাদকৃত মানসূরী হাসপাতালের তত্ত্বাবধানের দায়িত্ব অর্পণ করা হলো। এই দায়িত্ব সুন্দরতম রীতিনীতি ও পূর্ণাঙ্গ নিয়মাবলী অনুযায়ী পালিত হবে এবং আবাদকৃত দেওয়ান বা সরকারি দপ্তরে এর জন্য নির্ধারিত ও ব্যাখ্যায়িত ভাতা বা সুযোগ-সুবিধার সাক্ষ্য অনুযায়ী তিনি তা লাভ করবেন।

সুলতান সালাহউদ্দীন ইউসুফ ইবনে আইয়ুব ফাতিমীয় প্রাসাদের কোনো এক কক্ষে যে প্রাচীন নাসিরী হাসপাতালটি প্রতিষ্ঠা করেছিলেন, তার তত্ত্বাবধানের জন্য স্বাক্ষরিত ডিক্রির অনুলিপি এটি। তা হলো:

মহান রাজকীয় আদেশের মাধ্যমে লিপিবদ্ধ করা হলো—যার প্রভাব সর্বদা শ্রেষ্ঠত্ব বৃদ্ধি করুক, যোগ্য ব্যক্তিদের কাজে নিয়োজিত করুক এবং প্রত্যেক উচ্চপদস্থ ব্যক্তিকে অনুগ্রহের পোশাকে ভূষিত করে তাকে প্রফুল্লতা ও মহিমায় সজ্জিত করুক।
(খণ্ড: ১) তারিখুল বিমারিস্তানাত ফিল ইসলাম (পৃষ্ঠা: ২৭)
أن يستقر فلان في نظر البيمارستان الصلاحي بالقاهرة المحروسة بالمعلوم الشاهد به الديوان المعمرر إلى آخر وقت لكفاءته التي اشتهر ذكرها، وأمانته التي صدق خَبَرَها خُبْرُها، ونزاهته التي أضحى بها على النفس فغدا بكل ثناء ملياًّ، ورياسته أحلت قدره أسمى رتبة فلا غرو أن يكون علياًّ، فليباشر البيمارستان المذكور مباشرة يظهر بها انتفاعه، وتتميز بها أوضاعه، ويضحى عامر الأرجاء والنواحي، ويقول لسان حاله عند حسن نظره وجميل تصرفه: الآن كما بدا صلاحي، وليجعل همته مصروفة إلى ضبط مقبوضه ومصروفه، ويظهر نهضته المعروفة بتشعير ريعه، حتى يتضاعف مداد معروفه، ويلاحظ أحوال من فيه، ملاحظة تذهب عنهم الياس، ويراعي مصالح حاله في تنميته وتركيبته حتى لا يزال منه شراب مختلف ألوانه فيه شفاء للناس، وليتناول المعلوم الشاهد به الديوان المعمور من استقبال تاريخه بعد الخط الشريف أعلاه.

সুরক্ষিত কায়রোর সালাহিয়্যাহ হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক পদে যেন অমুক ব্যক্তিকে সেই পারিশ্রমিকে স্থায়ী করা হয়, যা সুপ্রতিষ্ঠিত দপ্তর কর্তৃক শেষ সময় পর্যন্ত নির্ধারিত রয়েছে। এটি তার সেই যোগ্যতার কারণে যার সুখ্যাতি সর্বত্র ছড়িয়ে পড়েছে, তার সেই বিশ্বস্ততার কারণে যার সত্যতা অভিজ্ঞতার কষ্টিপাথরে প্রমাণিত হয়েছে, এবং তার সেই চারিত্রিক শুভ্রতার কারণে যার মাধ্যমে তিনি নিজের প্রবৃত্তিকে জয় করেছেন এবং অগণিত প্রশংসার যোগ্য হয়েছেন। তার প্রশাসনিক দক্ষতা তার মর্যাদাকে সর্বোচ্চ শিখরে পৌঁছে দিয়েছে, তাই তার এই উচ্চাসনে আসীন হওয়া মোটেই বিস্ময়কর নয়। অতএব, তিনি উক্ত হাসপাতালের দায়িত্ব এমনভাবে পালন করবেন যাতে এর উপযোগিতা স্পষ্টভাবে প্রকাশ পায় এবং এর সার্বিক অবস্থার উন্নতি পরিলক্ষিত হয়। এর প্রতিটি প্রাঙ্গণ ও দিক যেন আবাদ ও প্রাণবন্ত হয়ে ওঠে এবং তার সুদক্ষ তত্ত্বাবধান ও সুন্দর ব্যবস্থাপনায় হাসপাতালের বর্তমান অবস্থা যেন বলে ওঠে: "এখন আমার যথার্থ সংস্কার প্রকাশিত হলো।" তিনি যেন তার যাবতীয় মনোযোগ আয় ও ব্যয়ের নিখুঁত হিসাব সংরক্ষণের দিকে নিবদ্ধ করেন এবং এর রাজস্ব বৃদ্ধিতে তার সুপরিচিত কর্মতৎপরতা প্রদর্শন করেন, যাতে তার জনহিতকর কাজের পরিধি উত্তরোত্তর বৃদ্ধি পায়। তিনি যেন সেখানে চিকিৎসাধীন ব্যক্তিদের অবস্থার প্রতি এমনভাবে দৃষ্টি রাখেন যা তাদের মন থেকে হতাশা দূর করে দেয়। তিনি হাসপাতালের উন্নয়ন ও ওষুধের গুণগত মান রক্ষায় এর স্বার্থসমূহ এমনভাবে পর্যবেক্ষণ করবেন, যাতে সেখান থেকে সর্বদা ‘এমন পানীয় নির্গত হয় যার রঙ নানাবিধ এবং যাতে রয়েছে মানুষের জন্য আরোগ্য’। তিনি যেন উপরের রাজকীয় স্বাক্ষরের তারিখ হতে সুপ্রতিষ্ঠিত দপ্তরে নথিভুক্ত নির্ধারিত পারিশ্রমিক গ্রহণ করেন।

(খণ্ড: ১) তারিখুল বিমারিস্তানাত ফিল ইসলাম (পৃষ্ঠা: ২৮)
‌‌أرزاق الأطباء

‌‌في البيمارستان وفي الخدمة الخاصة.

كان للأطباء على وجه العموم من لدن الخلفاء والملوك والأمراء، الإحسان الكبير والأفضال الغزيرة، والجامكية الوافرة والصلات المتواترة، وكانت تطلق للأطباء مع الجامكية الجراية وعلوفة للدابة التي يركبونها.

أما المرتبات الشهرية فكانت كما يأتي:

أطباء الخاص أي المنقطعون للخليفة أو السلطان وكانا اثنين لكل منهما في الشهر خمسون دينارا ولمن دونهما من الأطباء وهم نحو ثلاثة أو أربعة، المقيمين بالقصر لكل واحد منهم عشرة دنانير ولكل طبيب بالمارستان ما يقوم بكفايته.

فكان للأطباء بالمارستان على العموم جامكية خمسة عشر دينارا وكان لبعضهم رزقان أي ثلاثون دينارا في كل شهر لعملين مختلفين كرضي الدين الرحبي، فقد أطلق له صلاح الدين يوسف بن أيوب في
চিকিৎসকদের বেতন-ভাতা

‌বিমারিস্তান এবং বিশেষ সেবাকার্যে.

খলিফা, সম্রাট ও আমিরদের পক্ষ থেকে চিকিৎসকরা সাধারণত ব্যাপক অনুগ্রহ, অঢেল বদান্যতা, পর্যাপ্ত মাসিক বেতন এবং নিয়মিত পারিতোষিক লাভ করতেন। চিকিৎসকদের বেতনের পাশাপাশি তাঁদের জন্য খাদ্য বরাদ্দ এবং তাঁদের ব্যবহৃত সওয়ারি পশুর জন্য দানাপানিও প্রদান করা হতো।

মাসিক বেতনের বিবরণ ছিল নিম্নরূপ:

বিশেষ চিকিৎসক—অর্থাৎ যারা কেবল খলিফা বা সুলতানের সেবায় নিয়োজিত ছিলেন—তাঁরা ছিলেন দুইজন; তাঁদের প্রত্যেকের মাসিক বেতন ছিল পঞ্চাশ দিনার। তাঁদের নিম্নস্তরের চিকিৎসকরা—যাঁদের সংখ্যা ছিল প্রায় তিন বা চারজন এবং যাঁরা রাজপ্রাসাদে অবস্থান করতেন—তাঁদের প্রত্যেকের বেতন ছিল দশ দিনার। আর বিমারিস্তানে নিয়োজিত প্রত্যেক চিকিৎসকের জন্য তাঁর প্রয়োজন পূরণে সক্ষম পর্যাপ্ত ভাতা বরাদ্দ ছিল।

সাধারণত বিমারিস্তানের চিকিৎসকদের মাসিক বেতন ছিল পনের দিনার। তবে তাঁদের কারো কারো জন্য ভিন্ন ভিন্ন দুটি দায়িত্ব পালনের বিনিময়ে দ্বিগুণ ভাতা বা মাসিক ত্রিশ দিনার নির্ধারিত ছিল, যেমনটি ছিল রাজি উদ্দিন আল-রাহাবি-র ক্ষেত্রে; তাঁর জন্য সালাহউদ্দিন ইউসুফ ইবনে আইয়ুব নির্ধারণ করেছিলেন...
(খণ্ড: ১) তারিখুল বিমারিস্তানাত ফিল ইসলাম (পৃষ্ঠা: ২৯)
كل شهر ثلاثين دينارا ويكون ملازما للقلعة والبيمارستان، وبعد وفاة صلاح الدين أطلق له الملك المعظم عيسى بن الملك العادل خمسة عشر دينارا ويكون مترددا إلى البيمارستان.

وكان لبعضهم كجبرائيل الكحال ألف درهم في كل شهر. وكان لماسويه جامكية من الفضل في كل شهر ستماية درهم وعلوفة دابته، ثم تزيد إلى ألفي درهم ومعونة في السنة عشرة آلف درهم وعلوفة ونزل. وممن كان يأخذ رزقين جبريل بن عبد الله بن بختيشوع، فكان يأخذ برسم الخاص ثلاثمائة درهم شجاعية وبرسم البيمارستان ثلاثمائة درهم شجاعية سوى الجراية. وكان لعز الدين بن السويدي جامكية في أربع جهات في البيمارستان النوري وفي بيمارستان باب البريد في دمشق وللتردد على قلعة دمشق ولتدريسه في مدرسة الدخوارية.

وكان من أطباء الأمير سيف الدولة بن حمدان من يأخذ رزقين
প্রতি মাসে ত্রিশ দিনার নির্ধারিত ছিল এবং তিনি দুর্গ ও বিমারিস্তানে (হাসপাতালে) নিয়োজিত থাকতেন। সালাহউদ্দীনের ইন্তেকালের পর আল-মালিক আল-মুয়াযযাম ঈসা ইবনুল মালিক আল-আদিল তার জন্য পনেরো দিনার মঞ্জুর করেন এবং তিনি বিমারিস্তানে নিয়মিত যাতায়াত করতেন।

তাদের কারও কারও জন্য, যেমন চক্ষুচিকিৎসক জিবরাঈল, প্রতি মাসে এক হাজার দিরহাম বরাদ্দ ছিল। মাসাওয়াইহ-এর জন্য আল-ফাদল থেকে প্রতি মাসে ছয়শ দিরহাম বেতন ও তার পশুর জন্য পশুখাদ্য নির্ধারিত ছিল, যা পরবর্তীতে বৃদ্ধি পেয়ে দুই হাজার দিরহামে পৌঁছায় এবং সাথে বার্ষিক দশ হাজার দিরহাম সহায়তা, পশুখাদ্য ও আবাসন সুবিধা প্রদান করা হতো। যারা দ্বৈত ভাতা গ্রহণ করতেন তাদের অন্যতম ছিলেন জিবরাঈল ইবনে আবদুল্লাহ ইবনে বখতিশু; তিনি বিশেষ দায়িত্ব পালনের নিমিত্তে তিনশ ‘শুজাঈয়াহ’ দিরহাম এবং বিমারিস্তানের দায়িত্ব বাবদ তিনশ ‘শুজাঈয়াহ’ দিরহাম গ্রহণ করতেন, যা ছিল প্রাত্যহিক বরাদ্দের অতিরিক্ত। ইযযুদ্দীন ইবনুল সুওয়াইদী চারটি ভিন্ন উৎস থেকে বেতন পেতেন: নূরী বিমারিস্তান, দামেস্কের বাবুল বারীদ বিমারিস্তান, দামেস্ক দুর্গে চিকিৎসাসেবা প্রদান এবং দাখওয়ারিয়াহ মাদ্রাসায় অধ্যাপনা।

আমীর সাইফুদ দৌলা ইবনে হামদানের চিকিৎসকদের মধ্যে এমন ব্যক্তিও ছিলেন যিনি দ্বৈত ভাতা গ্রহণ করতেন।
(খণ্ড: ১) তারিখুল বিমারিস্তানাত ফিল ইসলাম (পৃষ্ঠা: ৩০)
لتعاطيه علمين،

ومن يأخذ ثلاثة أرزاق لتعاطيه ثلاثة علوم وكان في جملتهم عيسى النفيس الطبيب فكان يأخذ ثلاثة أرزاق: رزقا للنقل من السرياني إلى العربي، ورزقين آخرين بسبب علمين آخرين.

ولم يكن حسن موقع الأطباء لدى الخلفاء والملوك وإطلاق الجامكية الوافرة لهم بمانع من أن يشتغل بعضهم في البيمارستان احتسابا، فقد كان كمال الدين الحمصي يتردد على البيمارستان الكبير النوري يعالج المرضى فيه احتسابا.

وقد بلغ بعض الأطباء من حسن الحال ورغد العيش إلى درجة عظيمة، فقد بلغ بختيشوع في زمان الخليفة المتوكل في الجلالة والرفق ةعظم المنزلة وحسن الحال وكثرة المال وكمال المروءة ومباراة الخليفة في اللباس والزي والطيب والفرش والضيافات والتفسح في النفقات مبلغا يفوق حد الوصف.

 

‌‌كراء عملية جراحية

من المستملح أن يعرف أهل زماننا الحاضر مقدار ما كان يتناوله الطبيب في ذلك العصر السالف أجرا لعملية أجريت لمريض قال سليمان بن حسان: حدثني أحمد بن يونس الحراني قال:
দুইটি শাস্ত্রে পারদর্শিতার কারণে;

এবং এমন ব্যক্তিও ছিলেন যিনি তিনটি শাস্ত্রে পারদর্শিতার জন্য তিনটি ভাতা লাভ করতেন। তাদের মধ্যে চিকিৎসক ঈসা আল-নাফিস অন্তর্ভুক্ত ছিলেন; তিনি তিনটি ভাতা গ্রহণ করতেন: একটি সিরীয় ভাষা থেকে আরবিতে অনুবাদের জন্য এবং অপর দুটি অন্য দুটি শাস্ত্রের জন্য।

খলিফা ও সুলতানদের নিকট চিকিৎসকদের উচ্চ মর্যাদা এবং তাদের জন্য বিপুল বেতন বরাদ্দ থাকা সত্ত্বেও তাদের কেউ কেউ সওয়াবের আশায় হাসপাতালে কাজ করতে কুণ্ঠিত হতেন না। যেমন কামালুদ্দিন আল-হিমসি সওয়াবের আশায় বড় নূরি হাসপাতালে নিয়মিত যাতায়াত করতেন এবং সেখানে রোগীদের চিকিৎসা সেবা প্রদান করতেন।

কোনো কোনো চিকিৎসক সচ্ছলতা ও বিলাসিতার এমন উচ্চ পর্যায়ে পৌঁছেছিলেন যে, খলিফা মুতাওয়াক্কিলের যুগে বখতিশু শৌর্য-বীর্য, স্বাচ্ছন্দ্য, উচ্চ মর্যাদা, সচ্ছলতা, প্রচুর অর্থ-সম্পদ, পূর্ণ আভিজাত্য এবং পোশাক-পরিচ্ছদ, বেশভূষা, সুগন্ধি, আসবাবপত্র, আতিথেয়তা ও ব্যয়ের ক্ষেত্রে খলিফার সাথে প্রতিযোগিতার এমন স্তরে পৌঁছেছিলেন যা বর্ণনাতীত।

 

একটি অস্ত্রোপচারের পারিশ্রমিক

বর্তমান যুগের মানুষের জন্য এটি জানা বেশ কৌতূহলোদ্দীপক হবে যে, অতীতকালে একজন চিকিৎসক কোনো রোগীর অস্ত্রোপচারের পারিশ্রমিক হিসেবে কী পরিমাণ অর্থ গ্রহণ করতেন। সুলাইমান বিন হাসান বলেন: আহমাদ বিন ইউনুস আল-হাররানি আমার নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: