(খণ্ড: ১) ইজলাউল হাকীকাহ ফী সীরাতি আইশাহ আস-সিদ্দীকাহ (পৃষ্ঠা: -)
إجلاء الحقيقة في سيرة عائشة الصديقة   (ياسين الخليفة الطيب المحجوب)

القسم: العقيدة


الكتاب: إجلاء الحقيقة في سيرة عائشة الصِّدِّيقة

المؤلف: ياسين الخليفة الطيب المحجوب

الناشر: مؤسسة الدرر السنية - المملكة العربية السعودية - الظهران

الطبعة: الأولى، 1432هـ - 2011م

عدد الصفحات: 264

أعده للشاملة: مؤلف الكتاب

[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]

تاريخ النشر بالشاملة: 27 رمضان 1432

সিদ্দিকা আয়েশার জীবনীতে সত্যের উন্মোচন   (ইয়াসিন আল-খলিফা আত-তয়্যিব আল-মাহজুব)

বিভাগ: আকিদাহ


বই: সিদ্দিকা আয়েশার জীবনীতে সত্যের উন্মোচন

লেখক: ইয়াসিন আল-খলিফা আত-তয়্যিব আল-মাহজুব

প্রকাশক: আদ-দুরার আস-সুন্নিইয়াহ ফাউন্ডেশন - সৌদি আরব রাজ্য - দাহরান

সংস্করণ: প্রথম، ১৪৩২ হিজরি - ২০১১ খ্রিস্টাব্দ

পৃষ্ঠা সংখ্যা: ২৬৪

শামেলা সংস্করণের জন্য প্রস্তুত করেছেন: বইটির লেখক

[বইয়ের পৃষ্ঠা নম্বর মুদ্রিত সংস্করণের অনুরূপ]

শামেলায় প্রকাশের তারিখ: ২৭ রমজান ১৪৩২

(খণ্ড: ১) ইজলাউল হাকীকাহ ফী সীরাতি আইশাহ আস-সিদ্দীকাহ (পৃষ্ঠা: ৫)
‌‌الْمُقَدِّمَةُ

الْحَمْدُ لِلَّهِ نَاصِرِ أَوْلِيَائِهِ الصَّادِقِينَ، ومُذِلِّ أَعْدَائِهِ الْكَاذِبِينَ، والصَّلاةُ والسَّلامُ عَلَى نَبِيِّنَا مُحَمدٍ الصَّادِقِ الأَمِينِ، وعَلَى إِخوانِهِ مِنَ الأَنْبِيَاءِ وَالْمُرْسَلِينَ، وأَصْحَابِهِ الْغُرِّ المَيَامِينَ، وَأَزْوَاجِهِ أُمَّهَاتِ الْمُؤْمِنِينَ، وَالتَّابِعِينَ لَهُمْ بِإِحْسَانٍ إلَى يَوْمِ الدِّينِ.

أَمَّا بَعْدُ:

فإِنَّ إِشَاعَةَ مَنَاقِبِ أُمَّهَاتِ المؤمنين، وبيانَ فضْلِهن، والذَّبَ عَنْ عِرضِهِنَّ، مِن أَهَمِّ الْمُهِمَّاتِ، وَمِن أَوْجَبِ الْوَاجِبَاتِ، كَيْفَ لَا وهنَّ زَوْجَاتُ النَّبِيِّ الكريم صلى الله عليه وسلم، وهنّ أُمهاتنا بنص القرآن: {النَّبِيّ أَوْلَى بِالْمُؤْمِنِينَ مِنْ أَنْفُسِهِمْ وَأَزْوَاجُهُ أُمَّهَاتُهُمْ} (1).

ومن المَعْلومِ أَنَّ الأمَّهات لهن علينا حقوقٌ عظيمة، وواجباتٌ جسيمةٌ، فَبِرَّهُنَّ يُدْخِل الجنة، وعقوقهن يُدْخِل النار، وكان من أدنى البر أن نذكر فضائلهن، ونذب عن عرضهن.

وفي هذا البحث أتناولُ سيرةَ إحدى أمهاتنا: أُمِّ المؤمنين، وحبيبةِ رسولِ ربِّ العالمين، الصديقة بنت الصديق، الطاهرة العفيفة، المبرأة من فوق سبع سماوات: عَائِشَة رضي الله عنها وأرضاها.

لا يُذكرُ الطُّهرُ إلا قيلَ عَائِشَة … رمزٌ لهُ وهوَ نورٌ في مُحيّاها

نُجِلُّها نُطرِبُ الدنيا بِرَوعتها … إذا انبرى بكلامِ السوءِ أشقاها

نُرتِّلُ الوحيَ صفوًا عن طهارتِها … ولا نُبالي بصوتٍ خاسئٍ تاها

صدِّيقةٌ وابنةُ الصدِّيقِ ليس لها … من مُشبِهٍ في الصَّبايا في مزاياها (2)

--------------------------------------------

(1) سورة الأحزاب، الآية:6.

(2) لم أقف على قائل هذه الأبيات بعد البحث.=
মুকাদ্দিমাহ (ভূমিকা)

সকল প্রশংসা আল্লাহর জন্য, যিনি তাঁর সত্যবাদী বন্ধুদের সাহায্যকারী এবং তাঁর মিথ্যাবাদী শত্রুদের লাঞ্ছনাকারী। সালাত ও সালাম বর্ষিত হোক আমাদের নবী মুহাম্মাদ (সা.)-এর ওপর, যিনি সত্যবাদী ও আমানতদার, এবং তাঁর নবী ও রাসূল ভাইদের ওপর, তাঁর উজ্জ্বল ও বরকতময় সাহাবীবৃন্দের ওপর, তাঁর পবিত্র স্ত্রীগণের ওপর—যাঁরা মুমিনদের মাতা—এবং কিয়ামত পর্যন্ত যারা নিষ্ঠার সাথে তাঁদের অনুসরণ করবে তাদের ওপর।

অতঃপর:

মুমিনদের মাতাগণের গুণাবলি প্রচার করা, তাঁদের শ্রেষ্ঠত্ব বর্ণনা করা এবং তাঁদের সম্মান রক্ষা করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বিষয় এবং অত্যাবশ্যকীয় কর্তব্যসমূহের অন্তর্ভুক্ত। কেনই বা হবে না, অথচ তাঁরা তো মহিমান্বিত নবী (সা.)-এর সহধর্মিণী এবং কুরআনের অকাট্য দলিলে তাঁরা আমাদের মাতা: "নবী মুমিনদের নিকট তাদের নিজেদের অপেক্ষা অধিক ঘনিষ্ঠ এবং তাঁর স্ত্রীগণ তাদের মাতা।" (১)

এটা সুবিদিত যে, আমাদের ওপর মায়েদের মহান অধিকার ও গুরুতর কর্তব্য রয়েছে। তাঁদের প্রতি সদাচার জান্নাতে নিয়ে যায় এবং তাঁদের অবাধ্যতা জাহান্নামে প্রবেশ করায়। তাঁদের প্রতি সদাচারের সর্বনিম্ন স্তর হলো আমরা তাঁদের শ্রেষ্ঠত্বের কথা স্মরণ করব এবং তাঁদের সম্মানের প্রতিরক্ষা করব।

এই গবেষণাপত্রে আমি আমাদের অন্যতম মাতা: উম্মুল মুমিনীন, বিশ্বজগতের প্রতিপালকের রাসূলের প্রিয়তমা, সিদ্দীক তনয়া সিদ্দীকা, পবিত্রা ও সতী-সাধ্বী, যাঁকে সাত আসমানের ওপর থেকে নির্দোষ ঘোষণা করা হয়েছে, সেই আয়েশা (রাদিয়াল্লাহু আনহা)-এর জীবনী আলোচনা করব। আল্লাহ তাঁর প্রতি সন্তুষ্ট হোন এবং তাঁকেও সন্তুষ্ট করুন।

পবিত্রতার আলোচনা হলেই কেবল আয়েশার কথা বলা হয় … তিনি পবিত্রতার প্রতীক এবং তাঁর অবয়বে এক নূর বিদ্যমান।

আমরা তাঁকে সম্মান করি এবং তাঁর মহিমায় বিশ্বকে মুগ্ধ করি … যখনই কোনো হতভাগ্য কুবাক্য নিয়ে তাঁকে আক্রমণ করতে উদ্যত হয়।

আমরা তাঁর পবিত্রতা সম্পর্কে বিশুদ্ধচিত্তে ওহী তিলাওয়াত করি … আর কোনো ভ্রষ্ট ও ধিক্কৃত কণ্ঠের পরোয়া করি না।

তিনি সিদ্দীকা এবং সিদ্দীকের কন্যা, তাঁর গুণাবলিতে … তরুণীদের মাঝে তাঁর কোনো উপমা নেই। (২)

--------------------------------------------

(১) সূরা আল-আহযাব, আয়াত: ৬।

(২) অনুসন্ধানের পর এই পংক্তিগুলোর রচয়িতার পরিচয় আমি জানতে পারিনি।=
(খণ্ড: ১) ইজলাউল হাকীকাহ ফী সীরাতি আইশাহ আস-সিদ্দীকাহ (পৃষ্ঠা: ৬)
كنتُ مهتمًا بسيرة زوجات رسول الله صلى الله عليه وسلم، وبسيرة عَائِشَة رضي الله عنها على وجه الخصوص، ولكن بعد حادثة الإفك الحديثة الخبيثة، بدأت أقرأ عن كثب وبتأنٍ ورعايةٍ في فضائل عَائِشَة رضي الله عنها، وَطَفِقْتُ أبحث عن كل ما يختص بسيرتها ومناقبها وخصائصها، ومن ثم الرد على الشُّبُهَات المثارة حولها، حتى وقفتُ على (مسابقة أمنا عَائِشَة ملكة العفاف) التي قامت بها مؤسسة الدرر السنية، فعزمتُ على المشاركة فيها رغم كثرة الانشغالات، وتجدد الصوارف، والله المستعان، وقد سميتُ البحث: (إجلاء الحقيقة في سيرة عائشة الصديقة).

وقد عملت في هذا البحث بما وسعه الجهد، وسمح به الوقت، وتوصَّل إليه الفهم المتواضع، ولا أدعي فيه الكمال فهو كغيره من جهد البشر فيه الصوابُ والخطأُ، والزيادةُ والنقصانُ، فحسبي أنَّي اجتهدتُ، فما كان فيه من صوابٍ فمن الله وحده، وما كان فيه من خطأ فمن نفسي والشيطان، والله ورسوله منه بريئان.
আমি আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের পত্নীগণের জীবনী এবং বিশেষভাবে আয়েশা রাদিয়াল্লাহু আনহার জীবনীর প্রতি আগ্রহী ছিলাম। কিন্তু সাম্প্রতিক জঘন্য ইফক (মিথ্যা অপবাদ) এর ঘটনার পর, আমি আয়েশা রাদিয়াল্লাহু আনহার শ্রেষ্ঠত্ব সম্পর্কে নিবিড়ভাবে, ধীরস্থিরভাবে এবং অত্যন্ত যত্নসহকারে পড়তে শুরু করি। আমি তাঁর জীবনী, উচ্চমর্যাদা ও বিশেষ গুণাবলি সংক্রান্ত সব কিছু অনুসন্ধান করতে আরম্ভ করি এবং তাঁর সম্পর্কে উত্থাপিত সংশয়গুলোর নিরসনকল্পে কাজ শুরু করি। পরিশেষে আমি আদ-দোরার আস-সুন্নিয়াহ ফাউন্ডেশন কর্তৃক আয়োজিত ‘আমাদের মাতা আয়েশা: পবিত্রতার রাণী’ শীর্ষক প্রতিযোগিতার ব্যাপারে জানতে পারি। তাই আমি ব্যস্ততার আধিক্য এবং নানাবিধ প্রতিকূলতা সত্ত্বেও এতে অংশগ্রহণের সংকল্প করি; আর আল্লাহর কাছেই সাহায্য প্রার্থনা করি। আমি এই গবেষণাপত্রটির নামকরণ করেছি: ‘ইজলাউল হাকীকাহ ফী সীরাতি আয়েশা আস-সিদ্দীকা’ (সিদ্দীকা আয়েশার জীবনীতে সত্যের উন্মোচন)।

আমি এই গবেষণায় আমার সাধ্যমতো প্রচেষ্টা ব্যয় করেছি এবং যতটুকু সময় ও আমার বিনম্র উপলব্ধি সুযোগ দিয়েছে তা কাজে লাগিয়েছি। আমি এতে পূর্ণতার দাবি করি না; কেননা এটি মানুষের অন্যান্য প্রচেষ্টার মতোই যাতে সঠিক ও ভুল এবং আধিক্য ও ঘাটতি থাকা স্বাভাবিক। আমার জন্য এতটুকুই যথেষ্ট যে আমি চেষ্টা করেছি। এতে যা কিছু সঠিক রয়েছে তা কেবল আল্লাহর পক্ষ থেকে, আর যা কিছু ভুল হয়েছে তা আমার নিজের এবং শয়তানের পক্ষ থেকে; আল্লাহ ও তাঁর রাসূল তা থেকে দায়মুক্ত।
(খণ্ড: ১) ইজলাউল হাকীকাহ ফী সীরাতি আইশাহ আস-সিদ্দীকাহ (পৃষ্ঠা: ৭)
‌‌خطة البحث

قد التزمتُ في كتابة هذا البحث بالخطة الموضوعة في المسابقة مع بعض التعديل، وكانت في مقدمة، وستة فصول، وخاتمة، وفهارس، على النحو التالي:

المقدمة، وتشتمل على ما يلي:

o أهمية الموضوع.

o دوافع الكتابة في الموضوع.

o خطة البحث.

o منهج البحث.

o كلمة شكر.

الفصل الأول: حياة أُمِّ المؤمنين عَائِشَة رضي الله عنها، وفيه ستة مباحث:

المبحث الأول: اسمها ونسبها.

المبحث الثاني: مولدها ونشأتها.

المبحث الثالث: زواجها من النَّبِيّ صلى الله عليه وسلم.

المبحث الرابع: منزلتها عند النَّبِيّ صلى الله عليه وسلم.

المبحث الخامس: منزلتها عند المؤمنين.

المبحث السادس: وفاتها رضي الله عنها.

الفصل الثاني: فضائل ومناقب أُمِّ المؤمنين عَائِشَة رضي الله عنها، وفيه أربعة مباحث:

المبحث الأول: صفاتها الخِلْقِيَّة والخُلُقِيَّة، وفيه مطلبان:

المطلب الأول: صفاتها الخِلْقِيَّة.

المطلب الثاني: صفاتها الخُلُقِيَّة.
গবেষণার পরিকল্পনা

এই গবেষণাটি লেখার ক্ষেত্রে আমি কিছু পরিবর্তনসহ প্রতিযোগিতার নির্ধারিত পরিকল্পনাটি অনুসরণ করেছি। এটি একটি ভূমিকা, ছয়টি অধ্যায়, একটি উপসংহার এবং নির্ঘণ্টের সমন্বয়ে গঠিত হয়েছে, যা নিম্নরূপ:

ভূমিকা, এটি নিম্নলিখিত বিষয়গুলো নিয়ে গঠিত:

o বিষয়ের গুরুত্ব।

o বিষয়টি নিয়ে লেখার কারণসমূহ।

o গবেষণার পরিকল্পনা।

o গবেষণার পদ্ধতি।

o কৃতজ্ঞতা প্রকাশ।

প্রথম অধ্যায়: মুমিনজননী আয়েশা রাদিয়াল্লাহু আনহার জীবন, এতে ছয়টি পরিচ্ছেদ রয়েছে:

প্রথম পরিচ্ছেদ: তাঁর নাম ও বংশপরিচয়।

দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ: তাঁর জন্ম ও বেড়ে ওঠা।

তৃতীয় পরিচ্ছেদ: নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সাথে তাঁর বিবাহ।

চতুর্থ পরিচ্ছেদ: নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের নিকট তাঁর মর্যাদা।

পঞ্চম পরিচ্ছেদ: মুমিনদের নিকট তাঁর মর্যাদা।

ষষ্ঠ পরিচ্ছেদ: তাঁর মৃত্যু (রাদিয়াল্লাহু আনহা)।

দ্বিতীয় অধ্যায়: মুমিনজননী আয়েশা রাদিয়াল্লাহু আনহার শ্রেষ্ঠত্ব ও গুণাবলি, এতে চারটি পরিচ্ছেদ রয়েছে:

প্রথম পরিচ্ছেদ: তাঁর শারীরিক ও চারিত্রিক বৈশিষ্ট্য, এতে দুটি অনুচ্ছেদ রয়েছে:

প্রথম অনুচ্ছেদ: তাঁর শারীরিক বৈশিষ্ট্য।

দ্বিতীয় অনুচ্ছেদ: তাঁর চারিত্রিক বৈশিষ্ট্য।
(খণ্ড: ১) ইজলাউল হাকীকাহ ফী সীরাতি আইশাহ আস-সিদ্দীকাহ (পৃষ্ঠা: ৮)
المبحث الثاني: مكانتها العلمِيَّة، وفيه ستة مطالب:

المطلب الأول: أقوال العلماء في مكانتها العلمِيَّة.

المطلب الثاني: علمها بالقرآن وعلومه.

المطلب الثالث: علمها بالسُّنَّة النَّبوِيَّة.

المطلب الرابع: علمها بالفقه والفتوى.

المطلب الخامس: علمها بِاللُّغَةِ والشِّعْر.

المطلب السادس: علمها بِالطِّبِّ والتَّدَاوِي.

المبحث الثالث: الفضائل العامة التي شاركتْ فيها أمَّهات المؤمنين.

المبحث الرابع: الفضائل التي انفردتْ بِهَا رضي الله عنها.

الفصل الثالث: العلاقة الحسنة بين أُمِّ المؤمنين عَائِشَة وآل البيت، وفيه ثلاثة مباحث:

المبحث الأول: العلاقة الحسنة بين عَائِشَة وعلي رضي الله عنهما.

المبحث الثاني: العلاقة الحسنة بين عَائِشَة وفاطمة رضي الله عنهما.

المبحث الثالث: العلاقة الحسنة بين عَائِشَة وذُرِّيَّة عليِّ وبقية آل البيت.

الفصل الرابع: أباطِيل وشُبُهَات حول أُمِّ المؤمنين عَائِشَة رضي الله عنها والرَّد عليها، وفيه مبحثان:

المبحث الأول: الافتراءات والأباطيل المكذوبة على عَائِشَة رضي الله عنها، وفيه سبعة مطالب:

المطلب الأول: أقوال أهل العلم في كذب الرَّافِضَة.

المطلب الثاني: قول الرَّافِضَة: إنَّ عَائِشَة سَقَتْ النَّبِيّ صلى الله عليه وسلم السُّمَّ.

المطلب الثالث: قولهم إِنَّ عَائِشَة اتَّهمتْ مارية القبطية بالزِّنا فنزلت فيها
দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ: তাঁর ইলমি মর্যাদা, এবং এতে ছয়টি অনুচ্ছেদ রয়েছে:

প্রথম অনুচ্ছেদ: তাঁর ইলমি মর্যাদা সম্পর্কে আলেমদের উক্তি।

দ্বিতীয় অনুচ্ছেদ: কুরআন ও কুরআনের উলুম (জ্ঞান) বিষয়ে তাঁর প্রজ্ঞা।

তৃতীয় অনুচ্ছেদ: সুন্নাহ নববী সম্পর্কে তাঁর জ্ঞান।

চতুর্থ অনুচ্ছেদ: ফিকহ ও ফতোয়া বিষয়ে তাঁর জ্ঞান।

পঞ্চম অনুচ্ছেদ: ভাষা ও কবিতা বিষয়ে তাঁর জ্ঞান।

ষষ্ঠ অনুচ্ছেদ: চিকিৎসাবিদ্যা ও চিকিৎসাপদ্ধতি বিষয়ে তাঁর জ্ঞান।

তৃতীয় পরিচ্ছেদ: সাধারণ ফযিলতসমূহ যাতে উম্মাহাতুল মুমিনীনগণ অংশীদার ছিলেন।

চতুর্থ পরিচ্ছেদ: ঐ সকল ফযিলত যা কেবল তাঁর (রাযিয়াল্লাহু আনহা) জন্য নির্দিষ্ট।

তৃতীয় অধ্যায়: উম্মুল মুমিনীন আয়েশা ও আহলে বাইতের মধ্যকার সুসম্পর্ক, এবং এতে তিনটি পরিচ্ছেদ রয়েছে:

প্রথম পরিচ্ছেদ: আয়েশা ও আলী (রাযিয়াল্লাহু আনহুমা)-এর মধ্যকার সুসম্পর্ক।

দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ: আয়েশা ও ফাতিমা (রাযিয়াল্লাহু আনহুমা)-এর মধ্যকার সুসম্পর্ক।

তৃতীয় পরিচ্ছেদ: আয়েশা এবং আলীর বংশধর ও অবশিষ্ট আহলে বাইতের মধ্যকার সুসম্পর্ক।

চতুর্থ অধ্যায়: উম্মুল মুমিনীন আয়েশা (রাযিয়াল্লাহু আনহা) সম্পর্কে বাতিল অপবাদ ও সংশয় এবং তার খণ্ডন, এতে দুটি পরিচ্ছেদ রয়েছে:

প্রথম পরিচ্ছেদ: আয়েশা (রাযিয়াল্লাহু আনহা)-এর প্রতি আরোপিত মিথ্যা অপবাদ ও বাতিল কথাবার্তা, এবং এতে সাতটি অনুচ্ছেদ রয়েছে:

প্রথম অনুচ্ছেদ: রাফেযীদের মিথ্যার বিষয়ে বিজ্ঞ আলেমদের উক্তি।

দ্বিতীয় অনুচ্ছেদ: রাফেযীদের বক্তব্য: আয়েশা নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-কে বিষ পান করিয়েছেন।

তৃতীয় অনুচ্ছেদ: তাদের দাবি যে, আয়েশা মারিয়া কিবতিয়াকে ব্যভিচারের অপবাদ দিয়েছিলেন, ফলে তাঁর বিষয়ে অবতীর্ণ হয়েছিল...
(খণ্ড: ১) ইজলাউল হাকীকাহ ফী সীরাতি আইশাহ আস-সিদ্দীকাহ (পৃষ্ঠা: ৯)
آية الإفك.

المطلب الرابع: قولهم: إِنَّ عَائِشَة رضي الله عنهاانتْ تبغض عثمان وتقول: "اقتلوا نعثلاً فقد كفر".

المطلب الخامس: قولهم: إِنَّ عَائِشَة مَنَعتْ من دَفْنِ الحسن بن علي عند جَدِّه.

المطلب السادس: قولهم: إِنَّ عَائِشَة رضي الله عنهاانتْ تَكْذِبُ على رسول الله صلى الله عليه وسلم.

المطلب السابع: قولهم: إِنَّ عَائِشَة أغْضَبَتْ فاطمة حتى أبْكَتْها.

المبحث الثاني: الشُّبُهَات المثارة حول أُمِّ المؤمنين عَائِشَة رضي الله عنها، وفيه سبعة مطالب:

المطلب الأول: التَّحْذِير من الْوُقُوعِ في شِبَاك الشُّبُهَات.

المطلب الثاني: قول الرَّافِضَة: إِنَّ عَائِشَة خَرَجَتْ لقتالِ علي رضي الله عنهما.

المطلب الثالث: قولهم: إِنَّ عَائِشَة رضي الله عنهاانتْ تُبْغِضُ عليًا رضي الله عنهما.

المطلب الرابع: قولهم: إِنَّ الفِتْنَة خَرجتْ من بيت عَائِشَة.

المطلب الخامس: قولهم: إِنَّ عَائِشَة رضي الله عنهاانت لا تحتجب من الرِّجال.

المطلب السادس: قولهم: إِنَّ عَائِشَة رضي الله عنهاانت تُزيِّن الجواري وتطوف بهنّ.

المطلب السابع: قولهم: إنَّ عَائِشَة رضي الله عنهاانتْ تُسِيءُ إلى النَّبِيّ صلى الله عليه وسلم.

الفصل الخامس: الفوائد والآثار الإيجابية لحادثة الإفك القديمة والحديثة، وفيه مبحثان:

المبحث الأول: الفوائد والآثار الإيجابيَّة لحادثة الإفك القديمة.

المبحث الثاني: الفوائد والآثار الإيجابيَّة لحادثة الإفك الحديثة.
ইফ্‌ক-এর আয়াত।

চতুর্থ পরিচ্ছেদ: তাদের দাবি: আয়েশা (রা.) উসমান (রা.)-কে ঘৃণা করতেন এবং বলতেন: "তোমরা না’ছালকে হত্যা করো, কারণ সে কুফরি করেছে।"

পঞ্চম পরিচ্ছেদ: তাদের দাবি: আয়েশা (রা.) হাসান ইবনে আলীকে তাঁর দাদার (কবরের) পাশে দাফন করতে বাধা দিয়েছিলেন।

ষষ্ঠ পরিচ্ছেদ: তাদের দাবি: আয়েশা (রা.) রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর ওপর মিথ্যা আরোপ করতেন।

সপ্তম পরিচ্ছেদ: তাদের দাবি: আয়েশা (রা.) ফাতেমাকে রাগান্বিত করেছিলেন এমনকি তাঁকে কাঁদিয়েছিলেন।

দ্বিতীয় অনুচ্ছেদ: উম্মুল মুমিনীন আয়েশা (রা.)-কে নিয়ে উত্থাপিত সংশয়সমূহ, এবং এতে সাতটি পরিচ্ছেদ রয়েছে:

প্রথম পরিচ্ছেদ: সংশয়ের জালে নিপতিত হওয়া থেকে সতর্কতা।

দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ: রাফেযীদের দাবি: আয়েশা (রা.) আলী (রা.)-এর সাথে যুদ্ধ করার উদ্দেশ্যে বের হয়েছিলেন।

তৃতীয় পরিচ্ছেদ: তাদের দাবি: আয়েশা (রা.) আলী (রা.)-কে ঘৃণা করতেন।

চতুর্থ পরিচ্ছেদ: তাদের দাবি: ফিতনা আয়েশার ঘর থেকে উৎপন্ন হয়েছিল।

পঞ্চম পরিচ্ছেদ: তাদের দাবি: আয়েশা (রা.) পুরুষদের সামনে পর্দা করতেন না।

ষষ্ঠ পরিচ্ছেদ: তাদের দাবি: আয়েশা (রা.) দাসীদের সাজাতেন এবং তাদের নিয়ে জনসম্মুখে বের হতেন।

সপ্তম পরিচ্ছেদ: তাদের দাবি: আয়েশা (রা.) নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর সাথে অশোভন আচরণ করতেন।

পঞ্চম অধ্যায়: প্রাচীন ও আধুনিক ইফ্‌ক (অপবাদ) ঘটনার শিক্ষা ও ইতিবাচক প্রভাবসমূহ, এবং এতে দুটি অনুচ্ছেদ রয়েছে:

প্রথম অনুচ্ছেদ: প্রাচীন ইফ্‌ক ঘটনার শিক্ষা ও ইতিবাচক প্রভাবসমূহ।

দ্বিতীয় অনুচ্ছেদ: আধুনিক ইফ্‌ক ঘটনার শিক্ষা ও ইতিবাচক প্রভাবসমূহ।
(খণ্ড: ১) ইজলাউল হাকীকাহ ফী সীরাতি আইশাহ আস-সিদ্দীকাহ (পৃষ্ঠা: ১০)
الفصل السادس: حكم من سَبَّ أُمّ المؤمنين عَائِشَة رضي الله عنها، وفيه مبحثان:

المبحث الأول: حكم من سبَّ أُمّ المؤمنين عَائِشَة بما برَّأها الله منه.

المبحث الثاني: حكم من سبَّ أُمّ المؤمنين عَائِشَة بغير ما برَّأها الله منه.

الخَاتِمة، وفيها أهمُّ النتائج والتوصيات.

الفهارس، وتَشْمِلُ:

فهرس المصادر والمراجع.

فهرس الموضوعات.
ষষ্ঠ অধ্যায়: উম্মুল মুমিনীন আয়েশা রাদিয়াল্লাহু আনহাকে গালি প্রদানকারীর বিধান; এতে দুটি অনুচ্ছেদ রয়েছে:

প্রথম অনুচ্ছেদ: আল্লাহ তাআলা উম্মুল মুমিনীন আয়েশাকে যা থেকে নির্দোষ ঘোষণা করেছেন, সে বিষয়ে তাকে গালি প্রদানকারীর বিধান।

দ্বিতীয় অনুচ্ছেদ: আল্লাহ তাআলা উম্মুল মুমিনীন আয়েশাকে যা থেকে নির্দোষ ঘোষণা করেছেন তা ব্যতীত অন্য বিষয়ে তাকে গালি প্রদানকারীর বিধান।

উপসংহার: এতে রয়েছে প্রধান ফলাফল ও সুপারিশসমূহ।

নির্ঘণ্টসমূহ, যা অন্তর্ভুক্ত করে:

উৎস ও তথ্যসূত্রের নির্ঘণ্ট।

বিষয়সূচি।
(খণ্ড: ১) ইজলাউল হাকীকাহ ফী সীরাতি আইশাহ আস-সিদ্দীকাহ (পৃষ্ঠা: ১১)
‌‌منهج البحث

المنهج الذي اتبعته في هذا البحث يتلخص في الآتي:

أولاً: جعلتُ الآيات بين قوسين مُزهرين، هكذا: { … }، وذكرتُ اسمَ السورة ورقم الآية في الهامش.

ثانيًا: خرَّجتُ الأحاديث والآثارَ من مصادِرها الأصلية، وجعلتُها بين قوسين (هلاليين مزدوجين)، هكذا: « … » فإن كان الحديث أو الأثر في الصحيحين اكتفيتُ بهما - إلاّ إذا كانت هناك زيادة في غيرهما - وإن كان في غيرهما خرجته من كتب السنن الأربعة، وإن لم يكن فيها خرجته من باقي الكتب التسعة، وإلا بما في كتب السُّنة الأخرى، وذلك بذكر اسم الكتاب، ثم الباب، ثم الجزء والصفحة، ثم رقم الحديث، وأما ما عدا الصحيحين والسنن، فاكتفي بالجزء والصفحة ورقم الحديث إن وجد.

ثالثًا: حكمتُ على الأحاديث والآثار وبيَّنتُ درجتها، معتمدًا على أقوال العلماء في ذلك، وإن لم أجد اجتهدتُ في الحكم على الحديث، بعد النظر في إسناده، ومتنه، حسبما تقتضيه قواعد الصنعة الحديثية.

رابعًا: ضبطتُ الأحاديث بالشكل ضبطًا كاملاً، حتى يتيسر فهم ألفاظ الحديث.

خامسًا: ضبطتُ بالشَّكل ما يحتاج إلى ضبط مما تُشْكِلُ قراءته، ويَلْتَبِسُ نطقه.

سادسًا: وثَّقتُ النقولات والأقوال وجعلتُها بين قوسين صغيرين، هكذا: " … "، وإذا حذفت شيئًا من النص المنقول وضعتُ مكانه نقطًا هكذا: … ، وذكرت في الحاشية اسم الكتاب والجزء والصفحة.
গবেষণার পদ্ধতি

এই গবেষণায় আমি যে পদ্ধতি অনুসরণ করেছি তা সংক্ষেপে নিম্নরূপ:

প্রথমত: আমি আয়াতগুলোকে ফ্লোরাল ব্র্যাকেটের মধ্যে রেখেছি, এভাবে: { … }, এবং পাদটিকায় সূরার নাম ও আয়াত নম্বর উল্লেখ করেছি।

দ্বিতীয়ত: আমি হাদীস এবং আছারসমূহ (সাহাবী ও তাবেয়ীদের বর্ণনা) তাদের মূল উৎস থেকে উদ্ধৃত করেছি এবং সেগুলোকে জোড়া বন্ধনীর মধ্যে রেখেছি, এভাবে: « … »। যদি হাদীস বা আছারটি সহীহায়নে (বুখারী ও মুসলিম) থাকে তবে আমি কেবল সেগুলোর উদ্ধৃতি দিয়েই ক্ষান্ত হয়েছি—যদি না অন্য কোনো গ্রন্থে অতিরিক্ত কোনো অংশ থাকে। আর যদি তা সহীহায়নে না থাকে তবে আমি তা চার সুনান গ্রন্থ থেকে বের করেছি। যদি সেখানেও না থাকে তবে বাকি নয়টি কুতুব (কুতুবে তিসআহ) থেকে তা বের করেছি, অন্যথায় সুন্নাহর অন্যান্য গ্রন্থ থেকে। এটি গ্রন্থের নাম, এরপর অধ্যায়, এরপর খণ্ড ও পৃষ্ঠা এবং হাদীস নম্বর উল্লেখ করার মাধ্যমে সম্পন্ন করেছি। আর সহীহায়ন ও সুনান গ্রন্থসমূহ ব্যতীত অন্যান্য গ্রন্থের ক্ষেত্রে কেবল খণ্ড, পৃষ্ঠা এবং হাদীস নম্বর (যদি থাকে) উল্লেখ করাই যথেষ্ট মনে করেছি।

তৃতীয়ত: আমি হাদীস ও আছারসমূহের হুকুম বা মান বর্ণনা করেছি এবং সেগুলোর স্তর স্পষ্ট করেছি। এক্ষেত্রে এ বিষয়ে আলেমদের বক্তব্যের ওপর নির্ভর করেছি। আর যদি আলেমদের কোনো বক্তব্য না পাই তবে হাদীস শাস্ত্রের নিয়ম অনুযায়ী তার সনদ ও মতন পর্যালোচনার পর হাদীসটির মান নির্ধারণে গবেষণা করেছি।

চতুর্থত: হাদীসসমূহকে পূর্ণাঙ্গভাবে হরকত (যের-যবর) দিয়ে বিন্যস্ত করেছি, যাতে হাদীসের শব্দসমূহ বোঝা সহজ হয়।

পঞ্চমত: যে শব্দগুলো পড়তে কষ্টসাধ্য হতে পারে এবং যেগুলোর উচ্চারণ বিভ্রান্তিকর হওয়ার সম্ভাবনা আছে, সেগুলোতে হরকত প্রদান করেছি।

ষষ্ঠত: আমি উদ্ধৃতি ও উক্তিগুলোকে মূল উৎসের সাথে মিলিয়ে সত্যায়ন করেছি এবং সেগুলোকে ছোট উদ্ধৃতি চিহ্নের মধ্যে রেখেছি, এভাবে: " … "। যখন উদ্ধৃত পাঠ্য থেকে কোনো কিছু বাদ দিয়েছি, তখন তার স্থলে ডট চিহ্ন বসিয়েছি এভাবে: … , এবং পাদটিকায় গ্রন্থের নাম, খণ্ড ও পৃষ্ঠা উল্লেখ করেছি।
(খণ্ড: ১) ইজলাউল হাকীকাহ ফী সীরাতি আইশাহ আস-সিদ্দীকাহ (পৃষ্ঠা: ১২)
سابعًا: قمتُ بوضع علامات الترقيم وفصل الجمل عن بعضها بما يبين المراد منها.

ثامنًا: ترجمتُ للأعلام الواردة أسماؤهم في البحث عند أول ورودها، باختصار بحيث تتضمن: نسبه ومذهبه، وبعض مؤلفاته ووفاته.

تاسعًا: شرحت الكلمات الغريبة والغامضة من كتب اللغة وغريب الحديث وغيرها.
সপ্তম: আমি বিরামচিহ্ন স্থাপন করেছি এবং বাক্যগুলোকে একে অপর থেকে পৃথক করেছি যাতে সেগুলোর উদ্দেশ্য স্পষ্ট হয়।

অষ্টম: গবেষণায় উল্লেখিত ব্যক্তিবর্গের প্রথমবার উল্লেখের সময় আমি তাদের সংক্ষিপ্ত জীবনী প্রদান করেছি, যার মধ্যে রয়েছে: তাদের বংশ পরিচয়, মাযহাব, কিছু গ্রন্থ এবং মৃত্যু সাল।

নবম: আমি অভিধান এবং 'গারীবুল হাদীস' বিষয়ক গ্রন্থসমূহ ও অন্যান্য উৎস থেকে কঠিন ও অস্পষ্ট শব্দাবলির ব্যাখ্যা করেছি।
(খণ্ড: ১) ইজলাউল হাকীকাহ ফী সীরাতি আইশাহ আস-সিদ্দীকাহ (পৃষ্ঠা: ১৩)
‌‌كلمة شكر

ختامًا: الشكر أولاً وآخرًا لله تعالى، فبفضله تيسَّر لي إتمام هذا البحث المتواضع، فلولا توفيقه وإعانته لما تشرفتُ بالكتابة في سيرة إحدى أمهات المؤمنين، اللائي نتعبد الله ونتقرب إليه بحبهن.

ثم الشكر كل الشكر لمؤسسة الدرر السَّنِيَّة على تبنِّيها لمثل هذه الأعمال العلميَّة، التي شجَّعتْ فيها عددًا كبيرًا من المسلمين على الإطلاع والبحث والكتابة في موضوع مهم، يُعَدُّ أصلاً من أصول أهل السنة والجماعة، فجزاهم الله عَنَّا وعن الإسلام خير الجزاء.

والشكر أيضًا لأخي وشقيقي أبي سهل طه الزَيَّاتِي، على مساعدته لي في هذا البحث خصوصًا فصل الشُّبُهَات والافتراءات، فجزاه الله خيرًا.

وشكري الخاص للوالدة العزيزة - حفظها الله وأطال عمرها في طاعته - فإنها بذلت الغالي والنفيس من أجل تربيتي وتعليمي.

كما لا أنسى بالشكر زَوْجَتِي أم العباس على تَحَمُّلِها وصبرها على انشغالي بالبحث.

وصلى الله وسلم على نبينا محمد وعلى آله وصحبه أجمعين

 

وكتبه

ياسين الخليفة الطيب المحجوب

القصيم - بريدة

al_khaleefa@hotmail.com
কৃতজ্ঞতা প্রকাশ

পরিশেষে: সর্বাগ্রে এবং সবশেষে সকল শুকরিয়া মহান আল্লাহর জন্য, যাঁর অনুগ্রহে এই বিনম্র গবেষণাটি সম্পন্ন করা আমার জন্য সহজ হয়েছে। তাঁর তৌফিক ও সাহায্য না থাকলে উম্মুল মুমিনীনদের মধ্য থেকে একজনের জীবনী নিয়ে লেখার সৌভাগ্য আমার হতো না, যাঁদের প্রতি ভালোবাসা পোষণের মাধ্যমে আমরা আল্লাহর ইবাদত করি এবং তাঁর নৈকট্য লাভ করি।

অতঃপর 'আদ-দুরার আস-সানিয়্যাহ' ফাউন্ডেশনকে জানাই আন্তরিক ধন্যবাদ এমন জ্ঞানতাত্ত্বিক কাজসমূহ পৃষ্ঠপোষকতা করার জন্য, যার মাধ্যমে তারা বিপুল সংখ্যক মুসলিমকে একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে অধ্যয়ন, গবেষণা ও লিখতে উৎসাহিত করেছে, যা আহলুস সুন্নাহ ওয়াল জামাআতের অন্যতম মূলনীতি হিসেবে বিবেচিত। আল্লাহ আমাদের পক্ষ থেকে এবং ইসলামের পক্ষ থেকে তাদেরকে সর্বোত্তম প্রতিদান দান করুন।

আরও শুকরিয়া জানাই আমার সহোদর ভাই আবু সাহল ত্বহা আল-যাইয়্যাতিকে, এই গবেষণায় বিশেষ করে সংশয় ও অপবাদ নিরসন অধ্যায়ে আমাকে সহযোগিতা করার জন্য; আল্লাহ তাঁকে উত্তম প্রতিদান দিন।

আমার বিশেষ কৃতজ্ঞতা প্রিয় মায়ের প্রতি—আল্লাহ তাঁকে হিফাজত করুন এবং তাঁর আনুগত্যের ওপর তাঁর হায়াত দীর্ঘ করুন—কেননা তিনি আমার লালন-পালন ও সুশিক্ষার জন্য নিজের সর্বস্ব বিলিয়ে দিয়েছেন।

গবেষণার কাজে আমার ব্যস্ততা সত্ত্বেও ধৈর্য ও সহনশীলতা প্রদর্শন করার জন্য আমি আমার স্ত্রী উম্মুল আব্বাসের প্রতিও কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করছি।

আমাদের নবী মুহাম্মাদ এবং তাঁর পরিবারবর্গ ও সকল সাহাবীর ওপর আল্লাহর রহমত ও শান্তি বর্ষিত হোক।

 

লিখক

ইয়াসিন আল-খলিফা আত-তৈয়িব আল-মাহজুব

কাসিম - বুরাইদাহ

al_khaleefa@hotmail.com
(খণ্ড: ১) ইজলাউল হাকীকাহ ফী সীরাতি আইশাহ আস-সিদ্দীকাহ (পৃষ্ঠা: ১৫)
‌‌الفصل الأول

حياة أُمِّ المؤمنين عَائِشَة رضي الله عنها:

وفيه ستة مباحث:

المبحث الأول: اسمها ونسبها.

المبحث الثاني: مولدها ونشأتها.

المبحث الثالث: زواجها من النَّبِيّ صلى الله عليه وسلم.

المبحث الرابع: منزلتها عند النَّبِيّ صلى الله عليه وسلم.

المبحث الخامس: منزلتها عند المؤمنين.

المبحث السادس: وفاتها رضي الله عنها.
প্রথম পরিচ্ছেদ

মুমিন জননী আয়িশা (রাদিয়াল্লাহু আনহা)-এর জীবনী:

এতে ছয়টি আলোচ্য বিষয় রয়েছে:

প্রথম আলোচ্য বিষয়: তাঁর নাম ও বংশপরিচয়।

দ্বিতীয় আলোচ্য বিষয়: তাঁর জন্ম ও বেড়ে ওঠা।

তৃতীয় আলোচ্য বিষয়: নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর সাথে তাঁর বিবাহ।

চতুর্থ আলোচ্য বিষয়: নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর নিকট তাঁর মর্যাদা।

পঞ্চম আলোচ্য বিষয়: মুমিনদের নিকট তাঁর মর্যাদা।

ষষ্ঠ আলোচ্য বিষয়: তাঁর মৃত্যু (রাদিয়াল্লাহু আনহা)।
(খণ্ড: ১) ইজলাউল হাকীকাহ ফী সীরাতি আইশাহ আস-সিদ্দীকাহ (পৃষ্ঠা: ১৭)
‌‌المبحث الأول

اسمها ونسبها

هي أمُّ المؤمنين عَائِشَة، بنتُ الإمام الأكبر، خليفة رسول الله صلى الله عليه وسلم أبي بكر الصديق، (عبدِ الله) بنِ أبي قحافة (عثمانَ) بنِ عامرِ بنِ عمروِ بنِ كعبِ بنِ سعدِ بنِ تَيْمِ بنِ مُرَّةَ بنِ كعبِ بنِ لؤي بن فهر بن مالك بن كنانة، أمُّ عبد الله، القرشيةُ، التَّيْمِيَّةُ، المَكِّيَّةُ، ثم المَدَنِيَّةُ، زوجةُ النَّبِيّ صلى الله عليه وسلم (1).

كُنْيَتهَا: أمُّ عبد الله، كناها بها النَّبِيّ صلى الله عليه وسلم، وذلك عندما طلبت منه أن يكون لها كنية، فكناها بابن أختها أسماء، تطييبًا لخاطرها، فعن عروة عن عَائِشَة رضي الله عنها أنها قالت: «يَا رَسُولَ اللَّهِ، كُلُّ صَوَاحِبِي لَهُنَّ كُنًى، قَالَ: "فَاكْتَنِي بِابْنِكِ عَبْدِ اللهِ بْنِ الزُّبَيْرِ" - يعني ابن اختها -، فَكَانَتْ تُدْعَى بِأُمِّ عَبْدِ اللهِ حَتَّى مَاتَتْ» (2).

وأبوها: عبد الله بن أبي قُحَافَة: عثمان بنِ عامرِ بنِ عمروِ بنِ كعبِ، القُرَشِيّ، التَّيمِيّ، أبو بكر الصديق، أول من آمن برسول الله صلى الله عليه وسلم من الرجال، وأول الخلفاء الراشدين، ولد بمكة، ونشأ بها، وكان أحد أعاظم العرب، وسيداً من سادات قريش، ومن كبار أغْنِيائِهم، عالماً بأنساب القبائل وأخبارها وسياستها، وكان موصوفاً بالحلم والرأفة، خطيباً لسناً، وشجاعاً بطلاً.

--------------------------------------------

(1) ينظر: الطبقات الكبرى 8/ 58، وأسد الغابة 7/ 205، وسير أعلام النبلاء 2/ 135.

(2) أخرجه أبو داود في سننه، كتاب الأدب، باب في المرأة تكنى 4/ 293، رقم (4970)، وابن ماجه في سننه، كتاب الأدب، باب الرجل يكنى قبل أن يولد له 2/ 1231، رقم (3739)، وأحمد 43/ 291، رقم (26242)، وقال ابن حجر في التلخيص 4/ 365: "سنده صحيح".
প্রথম পরিচ্ছেদ

তাঁর নাম ও বংশপরিচয়

তিনি হলেন মুমিন জননী আয়েশা, মহান ইমাম, আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের খলিফা আবু বকর সিদ্দীক (আবদুল্লাহ) বিন আবু কুহাফা (উসমান) বিন আমির বিন আমর বিন কাব বিন সাদ বিন তায়ম বিন মুররা বিন কাব বিন লুআই বিন ফিহর বিন মালিক বিন কিনানার কন্যা; তিনি উম্মে আবদুল্লাহ, কুরাইশী, তায়মি, মক্কী ও পরবর্তীতে মাদানী, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের স্ত্রী (১)।

তাঁর উপনাম (কুনিয়াত): উম্মে আবদুল্লাহ। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁকে এই উপনামে ভূষিত করেন। এটি তখন হয়েছিল যখন তিনি তাঁর কাছে একটি উপনাম রাখার আবেদন করেছিলেন; তখন নবীজি তাঁর মনস্তুষ্টির জন্য তাঁর বোন আসমার পুত্র আবদুল্লাহর নামে তাঁর উপনাম রাখেন। উরওয়াহ আয়েশা রাদিয়াল্লাহু আনহা থেকে বর্ণনা করেন যে, তিনি বলেছিলেন: «হে আল্লাহর রাসূল, আমার সকল সঙ্গিনীদের উপনাম রয়েছে। তিনি বললেন: "তোমার বোন আসমার পুত্র আবদুল্লাহ বিন জুবায়েরের নামে তোমার উপনাম রাখো।" অর্থাৎ তাঁর বোনের ছেলে। এরপর থেকে আমৃত্যু তাঁকে উম্মে আবদুল্লাহ বলে ডাকা হতো» (২)।

তাঁর পিতা: আবদুল্লাহ বিন আবু কুহাফা (উসমান) বিন আমির বিন আমর বিন কাব, কুরাইশী, তায়মি, আবু বকর সিদ্দীক। তিনি পুরুষদের মধ্যে আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের প্রতি প্রথম ঈমান আনয়নকারী এবং খুলাফায়ে রাশিদীনের প্রথম খলিফা। তিনি মক্কায় জন্মগ্রহণ করেন এবং সেখানেই বেড়ে ওঠেন। তিনি আরবদের অন্যতম শ্রেষ্ঠ ব্যক্তিত্ব এবং কুরাইশদের একজন সরদার ও অন্যতম বড় ধনাঢ্য ব্যক্তি ছিলেন। তিনি গোত্রগুলোর বংশলতিকা, ইতিহাস ও রাজনীতি সম্পর্কে গভীর জ্ঞানের অধিকারী ছিলেন। তিনি সহনশীলতা ও দয়ার গুনে গুণান্বিত, সুবক্তা ও সাহসী বীর হিসেবে সুপরিচিত ছিলেন।

--------------------------------------------

(১) দেখুন: আত-তাবাকাতুল কুবরা ৮/৫৮, আসাদুল গাবাহ ৭/২০৫, সিয়ারু আলামিন নুবালা ২/১৩৫।

(২) আবু দাউদ তাঁর সুনান গ্রন্থে বর্ণনা করেছেন, কিতাবুল আদাব, পরিচ্ছেদ: নারীদের উপনাম রাখা সম্পর্কে ৪/২৯৩, হাদিস নং (৪৯৭০); ইবনে মাজাহ তাঁর সুনান গ্রন্থে, কিতাবুল আদাব, পরিচ্ছেদ: সন্তান জন্মের পূর্বে উপনাম গ্রহণ ২/১২৩১, হাদিস নং (৩৭৩৯); আহমদ ৪৩/২৯১, হাদিস নং (২৬২৪২); ইবনে হাজার আত-তালখীস গ্রন্থে (৪/৩৬৫) বলেছেন: "এর সনদ সহীহ"।
(খণ্ড: ১) ইজলাউল হাকীকাহ ফী সীরাতি আইশাহ আস-সিদ্দীকাহ (পৃষ্ঠা: ১৮)
وكانت له في عصر النبوة مواقف كبيرة، فشهد الحروب، واحتمل الشدائد، وبذل الأموال، بل ودخل مع النبي صلى الله عليه وسلم الغار، كما في قوله تعالى: {ثَانِيَ اثْنَيْنِ إِذْ هُمَا فِي الْغَارِ إِذْ يَقُولُ لِصَاحِبِهِ لا تَحْزَنْ إِنَّ اللَّهَ مَعَنَا} (1)، وقد ووردت في فضل أبي بكر رضي الله عنه أحاديث كثيرة، منها قوله صلى الله عليه وسلم: «لَوْ كُنْتُ مُتَّخِذًا خَلِيلا غَيْرَ رَبِّي لاتَّخَذْتُ أَبَا بَكْرٍ وَلَكِنْ أُخُوَّةُ الإِسْلامِ وَمَوَدَّتُهُ» (2).

بُويع رضي الله عنه بالخلافة بعد وفاة النبي صلى الله عليه وسلم، وكانت مدة خلافته سنتين وثلاثة أشهر ونصف شهر، وتوفي بالمدينة سنة ثلاث عشرة للهجرة، وعمره ثلاثٌ وستون سنة (3).

وأمُّ عائشة: أمُّ رُوْمان، - قيل: اسمها زينب، وقيل: دعد - بنتُ عامرِ بنِ عُوَيْمِرِ بنِ عبدِ شمس ابن عَتَّابِ بن أُذَيْنَةَ بن سُبَيْعِ بن دُهْمَانَ بن حارث بن غَنْمِ بن مالك بن كِنَانَةَ (4)، وقد تزوجها أبو بكر الصديق رضي الله عنه في الجاهلية بعد أن توفى زوجها عبد الله بن الحارث الأَزْدِيّ، وقد أسلمت أم رومان في مكة، وكانت من أوائل المسلمات، وبايعت النَّبِيّ صلى الله عليه وسلم، وهاجرت مع أهل النَّبِيّ صلى الله عليه وسلم، وآل أبي بكر رضي الله عنه (5).

"ويلتقي نسب عَائِشَة رضي الله عنها مع النَّبِيّ صلى الله عليه وسلم من جهة الأب في الجد السابع

--------------------------------------------

(1) سورة التوبة، الآية:40.

(2) أخرجه البخاري في صحيحه، كتاب المناقب، باب قول النبي صلى الله عليه وسلم: "سدوا الأبواب، إلا باب أبي بكر" 5/ 4 رقم (3654)، ومسلم في صحيحه، كتاب فضائل الصحابة رضي الله عنهم، باب من فضائل أبي بكر الصديق رضي الله عنه 4/ 1854، رقم (2382) من حديث أبي سعيد الخدري رضي الله عنه.

(3) ينظر في ترجمته: الطبقات الكبرى 3/ 125، والتاريخ الكبير 5/ 1، والاستيعاب في معرفة الأصحاب 4/ 1614.

(4) ينظر: الطبقات الكبرى 8/ 216، وتاريخ الطبري 3/ 426، والاستيعاب 4/ 1935، وأسد الغابة 7/ 320.

(5) ينظر: الطبقات الكبرى 8/ 216، والمنتظم في تاريخ الملوك والأمم 3/ 291.
নবুওয়াতের যুগে তাঁর অনেক মহান ভূমিকা ছিল। তিনি বিভিন্ন যুদ্ধে অংশ নিয়েছেন, অনেক দুঃখ-কষ্ট সহ্য করেছেন, অকাতরে সম্পদ ব্যয় করেছেন, এমনকি তিনি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সাথে গুহায় প্রবেশ করেছিলেন, যেমনটি মহান আল্লাহর বাণীতে এসেছে: "তিনি ছিলেন দুজনের দ্বিতীয়জন যখন তারা গুহার মধ্যে ছিলেন, যখন তিনি তাঁর সঙ্গীকে বলছিলেন, তুমি চিন্তিত হয়ো না, নিশ্চয় আল্লাহ আমাদের সাথে আছেন" (১)। আবু বকর রাদিয়াল্লাহু আনহুর ফযীলত সম্পর্কে অনেক হাদীস বর্ণিত হয়েছে, যার মধ্যে রয়েছে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর এই বাণী: "আমি যদি আমার প্রতিপালক ছাড়া অন্য কাউকে অন্তরঙ্গ বন্ধু হিসেবে গ্রহণ করতাম, তবে অবশ্যই আবু বকরকে গ্রহণ করতাম; কিন্তু আমাদের মাঝে ইসলামের ভ্রাতৃত্ব ও সৌহার্দ্য বিদ্যমান" (২)।

নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর ইন্তেকালের পর তাঁকে খিলাফতের বায়আত প্রদান করা হয়। তাঁর খিলাফতের সময়কাল ছিল দুই বছর তিন মাস পনের দিন। তিনি তেরো হিজরি সনে মদিনায় ইন্তেকাল করেন এবং সে সময় তাঁর বয়স হয়েছিল তেষট্টি বছর (৩)।

আর আয়েশার মাতা হলেন: উম্মে রুমান।—বলা হয় তাঁর নাম ছিল যয়নব, আবার কেউ বলেন দাদ—তিনি আমের ইবনে উওয়াইমির ইবনে আবদে শামস ইবনে আত্তাব ইবনে উযাইনা ইবনে সুবাই ইবনে দুহমান ইবনে হারিস ইবনে গানম ইবনে মালিক ইবনে কিনানার কন্যা (৪)। তাঁর স্বামী আবদুল্লাহ ইবনে হারিস আল-আযদি-এর মৃত্যুর পর জাহিলিয়াত যুগে আবু বকর সিদ্দীক রাদিয়াল্লাহু আনহু তাঁকে বিবাহ করেন। উম্মে রুমান মক্কায় ইসলাম গ্রহণ করেন এবং তিনি প্রথম যুগের মুসলিমদের অন্তর্ভুক্ত ছিলেন। তিনি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর নিকট বায়আত গ্রহণ করেন এবং নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর পরিবার ও আবু বকর রাদিয়াল্লাহু আনহুর পরিবারের সাথে হিজরত করেন (৫)।

আয়েশা রাদিয়াল্লাহু আনহার বংশধারা পিতার দিক থেকে সপ্তম পূর্বপুরুষে গিয়ে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর বংশধারার সাথে মিলিত হয়।

--------------------------------------------

(১) সূরা আত-তাওবা, আয়াত: ৪০।

(২) বুখারী তাঁর সহীহ গ্রন্থে এটি বর্ণনা করেছেন, কিতাবুল মানাকিব, অধ্যায়: নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর বাণী: "আবু বকরের দরজা ছাড়া সব দরজা বন্ধ করে দাও" ৫/৪, নম্বর (৩৬৫৪); এবং মুসলিম তাঁর সহীহ গ্রন্থে, কিতাব ফাযায়েলুস সাহাবা রাদিয়াল্লাহু আনহুম, অধ্যায়: আবু বকর সিদ্দীক রাদিয়াল্লাহু আনহুর ফযীলতসমূহ ৪/১৮৫৪, নম্বর (২৩৮২), আবু সাঈদ খুদরী রাদিয়াল্লাহু আনহুর বর্ণিত হাদীস থেকে।

(৩) তাঁর জীবনীর জন্য দেখুন: আত-তাবাকাতুল কুবরা ৩/১২৫, আত-তারীখুল কবীর ৫/১, আল-ইসতিয়াব ফী মারিফাতিল আসহাব ৪/১৬১৪।

(৪) দেখুন: আত-তাবাকাতুল কুবরা ৮/২১৬, তারীখুত তাবারী ৩/৪২৬, আল-ইসতিয়াব ৪/১৯৩৫, উসদুল গাবাহ ৭/৩২০।

(৫) দেখুন: আত-তাবাকাতুল কুবরা ৮/২১৬, আল-মুনতাযাম ফী তারীখিল মুলুক ওয়াল উমাম ৩/২৯১।
(খণ্ড: ১) ইজলাউল হাকীকাহ ফী সীরাতি আইশাহ আস-সিদ্দীকাহ (পৃষ্ঠা: ১৯)
(مرة بن كعب) (1)، ومن جهة الأم في الجد الحادي عشر أو الثاني عشر" (2).

"وأسرة السيدة عَائِشَة رضي الله عنها تنحدر من قبيلة (تيم) العربية، والتي عُرف عنها الكرم والشجاعة والنجدة، ونصرة المظلوم، وإعانة الضعيف، وقد عُهِدَ إلى أبي بكر الصديق باعتباره أحد سادتهم، بأمر تسوية الدم وأداء المغارم والديات" (3).

--------------------------------------------

(1) ينظر: المعارف لابن قتيبة 1/ 167، وتاريخ الخلفاء للسيوطي ص (26)، وتاريخ الخلفاء الراشدين لطقوش ص (13).

(2) ينظر: سيرة السيدة عَائِشَة أُمّ المؤمنين ك لسليمان الندوي ص (38).

(3) السيدة عَائِشَة وتوثيقها للسنة، لجيهان رفعت فوزي ص (12).
(মুররাহ বিন কাব) (১), এবং মাতার দিক থেকে একাদশ বা দ্বাদশতম পিতামহের ক্ষেত্রে" (২)।

"সায়্যিদা আয়িশা (রাযিয়াল্লাহু আনহা)-এর পরিবার আরবীয় (তায়িম) গোত্র থেকে উদ্ভূত, যারা তাদের উদারতা, বীরত্ব, আর্তসেবা, মজলুমের সাহায্য এবং দুর্বলের সহায়তার জন্য পরিচিত ছিল। আবু বকর আল-সিদ্দিককে তাঁদের অন্যতম নেতা হিসেবে রক্তের বিবাদ মীমাংসা এবং জরিমানা ও রক্তপণ আদায়ের দায়িত্ব অর্পণ করা হয়েছিল" (৩)।

--------------------------------------------

(১) দ্রষ্টব্য: ইবন কুতায়বা রচিত আল-মা'আরিফ ১/১৬৭, সুয়ূতী রচিত তারিখুল খুলাফা পৃষ্ঠা (২৬) এবং তাক্কুশ রচিত তারিখুল খুলাফা আল-রাশিদিন পৃষ্ঠা (১৩)।

(২) দ্রষ্টব্য: সুলাইমান নদভী রচিত সীরাতে সায়্যিদা আয়িশা উম্মুল মুমিনীন পৃষ্ঠা (৩৮)।

(৩) জিহান রিফাত ফাওজি রচিত আস-সায়্যিদা আয়িশা ওয়া তাওসিকুহা লিস-সুন্নাহ পৃষ্ঠা (১২)।
(খণ্ড: ১) ইজলাউল হাকীকাহ ফী সীরাতি আইশাহ আস-সিদ্দীকাহ (পৃষ্ঠা: ২১)
‌‌المبحث الثاني

مولدها ونشأتها

وُلِدَتْ أُمّ المؤمنين عَائِشَة رضي الله عنها بمكة، بعد البعثة بأربع سنين أو خمس (1) تقريبًا (2)، فخرجت إلى الدنيا فوجدت نفسها بين أبوين كريمين مؤمنين، في بيت يدين بدين الإسلام، بل وجدت نفسها ابنة خير الناس بعد رسول الله صلى الله عليه وسلم، فوالدها أبو بكر الصديق رضي الله عنه أوَّل من أسلم من الرجال، وبإسلامه أسلمت زوجته أم رومان وابنتاه أسماء وعَائِشَة رضي الله عنهن، وبذلك تعد عَائِشَة رضي الله عنها من أوائل المسلمات.

وكان أبواها - مع إسلامهما المتين - لهما علاقات حميمة، وصِلات وثيقة برسول الله صلى الله عليه وسلم، كما حكت ذلك بنفسها رضي الله عنها، فعن عروة بن الزبير أن عَائِشَة زوج رسول الله صلى الله عليه وسلم قالت: «لَمْ أَعْقِلْ أَبَوَيَّ إِلا وَهُمَا يَدِينَانِ الدِّينَ، وَلَمْ يَمُرَّ عَلَيْنَا يَوْمٌ إِلا يَأْتِينَا فِيهِ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم طَرَفَيْ النَّهَارِ بُكْرَةً وَعَشِيَّةً» (3).

"وكانت لأسرة أبي بكر الصديق مكانة كبيرة قبل الإسلام، فهي من أكرم الأسر العربية وأعرقها، وبعد الإسلام تعد أسرة أبي بكر الصديق من السابقين إليه،

--------------------------------------------

(1) ينظر: الإصابة في تمييز الصحابة 8/ 16.

(2) رجَّح سليمان الندوي أن ولادتها في السنة التاسعة قبل الهجرة، فقال: "أصح تاريخ لولادتها هو شهر شوال قبل الهجرة، الموافق يوليو (تموز) عام 614م، وهو نهاية السنة الخامسة من البعثة".

ينظر: سيرة السيدة عَائِشَة أُمّ المؤمنين ك ص (40).

(3) أخرجه البخاري في صحيحه، كتاب المساجد، باب المسجد يكون في الطريق من غير ضرر بالناس، 1/ 102، رقم (476).
দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ

তাঁর জন্ম ও বেড়ে ওঠা

উম্মুল মুমিনীন আয়িশা রাদিয়াল্লাহু আনহা নবুওয়াতের প্রায় চার অথবা পাঁচ বছর পর (১) মক্কায় জন্মগ্রহণ করেন (২)। তিনি পৃথিবীতে এসে নিজেকে এমন দুজন সম্মানিত মুমিন পিতা-মাতার মাঝে পেলেন, যারা ইসলামের অনুসারী একটি পরিবারে বসবাস করতেন। বরং তিনি নিজেকে আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের পর সর্বশ্রেষ্ঠ মানুষের কন্যা হিসেবে পেলেন। তাঁর পিতা আবু বকর সিদ্দিক রাদিয়াল্লাহু আনহু পুরুষদের মধ্যে সর্বপ্রথম ইসলাম গ্রহণ করেন। তাঁর ইসলাম গ্রহণের ফলে তাঁর স্ত্রী উম্মে রুমান এবং তাঁর দুই কন্যা আসমা ও আয়িশা রাদিয়াল্লাহু আনহুন্নাহ ইসলাম গ্রহণ করেন। এর মাধ্যমে আয়িশা রাদিয়াল্লাহু আনহা প্রথম দিককার মুসলিমদের অন্তর্ভুক্ত হন।

তাঁর পিতা-মাতা তাঁদের সুদৃঢ় ঈমানের পাশাপাশি আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সাথে অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ ও গভীর সম্পর্ক রাখতেন, যেমনটি তিনি নিজে বর্ণনা করেছেন। উরওয়াহ ইবনুল জুবাইর থেকে বর্ণিত যে, আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের স্ত্রী আয়িশা রাদিয়াল্লাহু আনহা বলেন: «আমি যখন থেকে আমার পিতা-মাতাকে বুঝতে শিখেছি, তখন থেকেই তাঁদেরকে দ্বীনের অনুসারী হিসেবে পেয়েছি। আমাদের উপর এমন কোনো দিন অতিবাহিত হয়নি, যেদিন আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সকাল ও সন্ধ্যায় দিনের দুই প্রান্তে আমাদের নিকট আসতেন না» (৩)।

আবু বকর সিদ্দিকের পরিবারের ইসলাম-পূর্ব যুগেও ব্যাপক মর্যাদা ছিল, কারণ এটি ছিল অন্যতম সম্মানিত ও প্রাচীন আরব পরিবার। আর ইসলামের পর আবু বকর সিদ্দিকের পরিবার ইসলামের পথে অগ্রগামীদের অন্তর্ভুক্ত হয়।

--------------------------------------------

(১) দ্রষ্টব্য: আল-ইসাবাহ ফি তাময়িযিস সাহাবাহ, ৮/১৬।

(২) সুলাইমান নদভী তাঁর জন্ম হিজরতের নয় বছর পূর্বে হওয়াকে প্রাধান্য দিয়ে বলেন: "তাঁর জন্মের সবচেয়ে সঠিক তারিখ হলো হিজরতের পূর্ববর্তী শাওয়াল মাস, যা ৬১৪ খ্রিস্টাব্দের জুলাই মাসের সমকালীন, এবং এটি নবুওয়াতের পঞ্চম বছরের সমাপ্তিকাল।"

দ্রষ্টব্য: সিরাত আস-সাইয়্যিদাহ আয়িশা উম্মুল মুমিনীন, পৃষ্ঠা: ৪০।

(৩) বুখারী তাঁর সহীহ গ্রন্থে এটি বর্ণনা করেছেন, মসজিদ অধ্যায়, মানুষের ক্ষতি না করে রাস্তায় মসজিদ নির্মাণ পরিচ্ছেদ, ১/১০২, হাদীস নং (৪৭৬)।
(খণ্ড: ১) ইজলাউল হাকীকাহ ফী সীরাতি আইশাহ আস-সিদ্দীকাহ (পৃষ্ঠা: ২২)
وقد ورثت أُمّ المؤمنين عَائِشَة رضي الله عنها الكثير من عناصر الفخار التي تميزت بها قبيلتها، كما أنها ولدت ونشأت في بيت عامر بالإسلام والإيمان - كما سبق - مما كان له الأثر الكبير والطيب عليها" (1).

وقد أرضعتْ عَائِشَة رضي الله عنها زوجةُ أبي القعيس (2)، (3)، فعن عائشة رضي الله عنها، قالت: «اسْتَأْذَنَ عَلَيَّ أَفْلَحُ أَخُو أَبِي القُعَيْسِ بَعْدَمَا أُنْزِلَ الحِجَابُ، فَقُلْتُ: لَا آذَنُ لَهُ حَتَّى أَسْتَأْذِنَ فِيهِ النَّبِيّ صلى الله عليه وسلم، فَإِنَّ أَخَاهُ أَبَا القُعَيْسِ لَيْسَ هُوَ أَرْضَعَنِي، وَلَكِنْ أَرْضَعَتْنِي امْرَأَةُ أَبِي القُعَيْسِ، فَدَخَلَ عَلَيَّ النَّبِيّ صلى الله عليه وسلم، فَقُلْتُ لَهُ: يَا رَسُولَ اللَّهِ إِنَّ أَفْلَحَ أَخَا أَبِي القُعَيْسِ اسْتَأْذَنَ فَأَبَيْتُ أَنْ آذَنَ لَهُ حَتَّى أَسْتَأْذِنَكَ، فَقَالَ النَّبِيّ صلى الله عليه وسلم: "وَمَا مَنَعَكِ أَنْ تَأْذَنِي عَمُّكِ؟ "، قُلْتُ: يَا رَسُولَ اللَّهِ إِنَّ الرَّجُلَ لَيْسَ هُوَ أَرْضَعَنِي، وَلَكِنْ أَرْضَعَتْنِي امْرَأَةُ أَبِي القُعَيْسِ، فَقَالَ: "ائْذَنِي لَهُ فَإِنَّهُ عَمُّكِ تَرِبَتْ يَمِينُكِ"» (4).

فنشأت رضي الله عنها في أحضان هذه الأسرة المباركة، وترعرعت في بيت الصدق والإيمان، وعاشت منذ نعومة أظفارها في ظل تعاليم الدين الإسلامي الحنيف،

--------------------------------------------

(1) السيدة عَائِشَة وتوثيقها للسنة، لجيهان رفعت فوزي ص (12) بتصرف.

(2) ينظر في قصة إرضاع عَائِشَة: أسد الغابة 5/ 407.

(3) أبو القُعَيْسِ: اختلف في اسمه، فقيل اسمه: وائل، وقيل: الجعد، قال أبو نعيم في معرفة الصحابة 5/ 2714: "وائل بن أبي القُعَيْسِ أخو أفلح، له ذكر في حديث عَائِشَة، ذكره بعض المتأخرين، ولا أعلم له صحبة ولا إسلامًا".

ينظر في ترجمته: معرفة الصحابة 5/ 2714، والاستيعاب 1/ 102، وأسد الغابة 5/ 407.

(4) أخرجه البخاري في صحيحه، كتاب تفسير القرآن، باب قوله: {إِنْ تُبْدُوا شَيْئًا أَوْ تُخْفُوهُ فَإِنَّ اللَّهَ كَانَ بِكُلِّ شَيْءٍ عَلِيمًا} الآية 6/ 120، رقم (4796) ومسلم في صحيحه، كتاب الحج، باب تحريم الرضاعة من ماء الفحل 2/ 1069، رقم (1445).
উম্মুল মুমিনীন আয়েশা (রাদিয়াল্লাহু আনহা) তাঁর গোত্রের বৈশিষ্ট্যমণ্ডিত বহু গৌরবময় গুণাবলি উত্তরাধিকারসূত্রে লাভ করেছিলেন। তাছাড়া তিনি ইসলাম ও ঈমানে পরিপূর্ণ এক ঘরে জন্মগ্রহণ করেছেন এবং বেড়ে উঠেছেন—যেমনটি ইতিপূর্বে আলোচিত হয়েছে—যা তাঁর ওপর অত্যন্ত গভীর ও উত্তম প্রভাব ফেলেছিল। (১)

আর আবু আল-কুয়াইস-এর স্ত্রী আয়েশা (রাদিয়াল্লাহু আনহা)-কে দুধ পান করিয়েছিলেন (২), (৩)। আয়েশা (রাদিয়াল্লাহু আনহা) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: «পর্দার বিধান অবতীর্ণ হওয়ার পর আবু আল-কুয়াইসের ভাই আফলাহ আমার নিকট আসার অনুমতি চাইলেন। আমি বললাম: আমি তাঁকে অনুমতি দেব না যতক্ষণ না আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর নিকট এ ব্যাপারে অনুমতি গ্রহণ করি। কারণ তাঁর ভাই আবু আল-কুয়াইস আমাকে দুধ পান করাননি, বরং আবু আল-কুয়াইসের স্ত্রী আমাকে দুধ পান করিয়েছেন। অতঃপর নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) আমার নিকট প্রবেশ করলে আমি তাঁকে বললাম: হে আল্লাহর রাসূল! আবু আল-কুয়াইসের ভাই আফলাহ অনুমতি চেয়েছিলেন, কিন্তু আমি আপনার অনুমতি না নেওয়া পর্যন্ত তাকে অনুমতি দিতে অস্বীকার করেছি। তখন নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বললেন: "তোমার চাচাকে অনুমতি দিতে তোমাকে কিসে বাধা দিল?" আমি বললাম: হে আল্লাহর রাসূল! ওই ব্যক্তি তো আমাকে দুধ পান করাননি, বরং আবু আল-কুয়াইসের স্ত্রী আমাকে দুধ পান করিয়েছেন। তিনি বললেন: "তাকে অনুমতি দাও, কেননা সে তোমার চাচা, তোমার ডান হাত ধুলোধূসরিত হোক।"» (৪)।

সুতরাং তিনি (রাদিয়াল্লাহু আনহা) এই বরকতময় পরিবারের কোলে লালিত-পালিত হন এবং সত্য ও ঈমানের ঘরে বেড়ে ওঠেন। শৈশব থেকেই তিনি একনিষ্ঠ ইসলাম ধর্মের শিক্ষার ছায়াতলে জীবন অতিবাহিত করেন।

--------------------------------------------

(১) আস-সায়্যিদা আয়েশা ওয়া তাওসিকুহা লিস-সুন্নাহ, জিহান রিফাত ফাওজি, পৃষ্ঠা ১২, পরিমার্জিত।

(২) আয়েশার দুগ্ধপানের ঘটনা সম্পর্কে দেখুন: উসদুল গাবাহ ৫/৪০৭।

(৩) আবু আল-কুয়াইস: তাঁর নাম নিয়ে মতভেদ রয়েছে; বলা হয়েছে তাঁর নাম ওয়ায়েল, আবার বলা হয়েছে আল-জাদ। আবু নুআইম 'মা'রিফাতুস সাহাবাহ' (৫/২৭১৪) গ্রন্থে বলেন: "ওয়ায়েল ইবনে আবি আল-কুয়াইস হলেন আফলাহর ভাই, আয়েশার হাদীসে তাঁর উল্লেখ রয়েছে। পরবর্তীকালের কেউ কেউ তাঁর কথা উল্লেখ করেছেন, তবে আমি তাঁর সাহচর্য বা ইসলাম গ্রহণের কথা জানি না।"

তাঁর জীবনী সম্পর্কে দেখুন: মা'রিফাতুস সাহাবাহ ৫/২৭১৪, আল-ইস্তিআব ১/১০২, এবং উসদুল গাবাহ ৫/৪০৭।

(৪) বুখারী তাঁর সহীহ গ্রন্থে এটি বর্ণনা করেছেন, কিতাবুত তাফসীর, অধ্যায়: মহান আল্লাহর বাণী: {তোমরা কোনো কিছু প্রকাশ করো বা গোপন করো, নিশ্চয় আল্লাহ সর্ববিষয়ে সর্বজ্ঞ} আয়াত নং ৬/১২০, হাদীস নং (৪৭৯৬); এবং মুসলিম তাঁর সহীহ গ্রন্থে, কিতাবুল হজ, অধ্যায়: বীর্যের কারণে দুগ্ধপানের মাধ্যমে হারাম হওয়া ২/১০৬৯, হাদীস নং (১৪৪৫)।
(খণ্ড: ১) ইজলাউল হাকীকাহ ফী সীরাতি আইশাহ আস-সিদ্দীকাহ (পৃষ্ঠা: ২৩)
وشهدت في طفولتها أشد المراحل التي مرت بها دعوة الإسلام وما لاقاه المسلمون من الأذى والاضطهاد.

فلما هاجر رسول الله صلى الله عليه وسلم مع صاحبه ورفيقه أبي بكر الصديق إلى المدينة تركا أهليهما بمكة، ولما استقر بهما الحال هناك أرسل النَّبِيّ صلى الله عليه وسلم من يحضر أهله وأهل أبي بكر، وقد تعرضت الأسرتان في طريق الهجرة لأخطار عديدة ومصاعب كثيرة، ومن ذلك ما روته عَائِشَة رضي الله عنها قالت: «قَدِمْنَا مُهَاجِرِينَ فَسَلَكْنَا فِي ثَنِيَّةٍ (1) صَعْبَةٍ، فَنَفَرَ بِي جَمَلٌ كُنْتُ عَلَيْهِ قَوِيًّا مُنْكَرًا، فَوَاللَّهِ مَا أَنْسَى قَوْلَ أُمِّي: يَا عَرِيسَةُ، فَرَكِبْتُ فِي رَأْسِهِ، فَسَمِعْتُ قَائِلاً، يَقُولُ: وَاللَّهِ مَا أَرَاهُ أُلْقِيَ خِطَامُهُ (2)، فَأَلْقَيْتُهُ، فَقَامَ يَسْتَدِيرُ، كَأَنَّمَا إِنْسَانٌ قَائِمٌ تَحْتَهُ يُمْسِكُهُ» (3).

--------------------------------------------

(1) الثَّنِيّة: الطريق في الجبل. ينظر: مشارق الأنوار 1/ 132، والنهاية في غريب الحديث والأثر 1/ 226.

(2) الْخِطَام: هو الحبل الذي يُجعل في أنف البعير، حتى يُقاد به. ينظر: كتاب العين 4/ 226، والفائق في غريب الحديث 1/ 382.

(3) أخرجه ابن أبي عاصم في الآحاد والمثاني 5/ 211، رقم (3038)، والطبراني في المعجم الكبير 23/ 183، رقم (296)، وقال الهيثمي في مجمع الزوائد 9/ 366: "إسناده حسن".
তিনি তাঁর শৈশবে ইসলামের দাওয়াত যে কঠিনতম পর্যায়গুলোর মধ্য দিয়ে অতিক্রম করেছিল এবং মুসলিমরা যে কষ্ট ও নিপীড়নের সম্মুখীন হয়েছিল, তার সাক্ষী ছিলেন।

অতঃপর যখন আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর সাথী ও সহচর আবু বকর সিদ্দিকের সাথে মদিনায় হিজরত করলেন, তখন তাঁরা তাঁদের পরিবারবর্গকে মক্কায় রেখে গেলেন। যখন সেখানে তাঁদের অবস্থা স্থিতিশীল হলো, তখন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর নিজ পরিবার ও আবু বকরের পরিবারকে নিয়ে আসার জন্য লোক পাঠালেন। হিজরতের পথে উভয় পরিবার বহু বিপদ ও অনেক কষ্টের সম্মুখীন হয়েছিল। এর মধ্যে একটি ঘটনা আয়েশা রাদিয়াল্লাহু আনহা বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: «আমরা হিজরতকারী হিসেবে রওনা হলাম এবং একটি দুর্গম পাহাড়ী পথ (১) অতিক্রম করছিলাম। এমতাবস্থায় আমি যে উটের পিঠে ছিলাম সেটি অবাধ্য হয়ে লাফিয়ে উঠল। আল্লাহর কসম! আমি আমার মায়ের সেই কথা ভুলতে পারি না: 'হে ছোট কনে!' আমি তখন উটের কুঁজের ওপর চড়ে বসেছিলাম। এরপর আমি কাউকে বলতে শুনলাম: 'আল্লাহর কসম! আমি তো দেখছি না যে এর লাগাম (২) ছেড়ে দেওয়া হয়েছে।' তখন আমি লাগাম ছেড়ে দিলাম। ফলে উটটি ঘুরতে শুরু করল, যেন কোনো মানুষ তার নিচে দাঁড়িয়ে তাকে ধরে রেখেছে» (৩)।

--------------------------------------------

(১) আস-সানিয়্যাহ: পাহাড়ের পথ। দেখুন: মাশারিকুল আনওয়ার ১/১৩২, এবং আন-নিহায়াহ ফি গারিবিল হাদিসি ওয়াল আসার ১/২২৬।

(২) আল-খিতাম: এটি সেই রশি যা উটের নাকে পরানো হয় যাতে তাকে পরিচালিত করা যায়। দেখুন: কিতাবুল আইন ৪/২২৬, এবং আল-ফাইক ফি গারিবিল হাদিস ১/৩৮২।

(৩) এটি ইবনে আবি আসিম আল-আহাদ ওয়াল মাসানি গ্রন্থে ৫/২১১, নং (৩০৩৮) বর্ণনা করেছেন; এবং তাবারানি আল-মু'জামুল কবির গ্রন্থে ২৩/১৮৩, নং (২৯৬) বর্ণনা করেছেন। হাইসামি মাজমাউয যাওয়াইদ গ্রন্থে ৯/৩৬৬-এ বলেছেন: "এর সনদ হাসান।"
(খণ্ড: ১) ইজলাউল হাকীকাহ ফী সীরাতি আইশাহ আস-সিদ্দীকাহ (পৃষ্ঠা: ২৫)
‌‌المبحث الثالث

زواجها من النَّبِيّ صلى الله عليه وسلم

تزوج النَّبِيّ صلى الله عليه وسلم عَائِشَة رضي الله عنها قبل الهجرة ببضعة عشر شهرًا في شهر شوّال، وهي ابنة ست سنوات، ودخل بها في شوّال من السنة الثانية للهجرة وهي بنت تسع سنوات، فعنها رضي الله عنها قالت: «تَزَوَّجَنِي رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم لِسِتِّ سِنِينَ، وَبَنَي بِي وَأَنَا بِنْتُ تِسْعِ سِنِينَ» (1).

وقد رأى النَّبِيّ صلى الله عليه وسلم عَائِشَة رضي الله عنها في المنام قبل زواجه بها، ففي الحديث عنها رضي الله عنها قالت: قال رسول الله صلى الله عليه وسلم: «أُرِيتُكِ فِي الْمَنَامِ ثَلاثَ لَيَالٍ، جَاءَنِي بِكِ الْمَلَكُ فِي سَرَقَةٍ مِنْ حَرِيرٍ (2)، فَيَقُولُ: هَذِهِ امْرَأَتُكَ، فَأَكْشِفُ عَنْ وَجْهِكِ، فَإِذَا أَنْتِ هِيَ، فَأَقُولُ: إِنْ يَكُ هَذَا مِنْ عِنْدِ اللَّهِ يُمْضِهِ» (3).

ثم بعد هذه الرؤيا المباركة جاءت مرحلة الخطوبة، ولقد ذكرت عَائِشَة رضي الله عنها قصة خِطبة النَّبِيّ صلى الله عليه وسلم لها بتفاصيلها الدقيقة؛ وذلك لأنها تمثل عندها ذكريات طيبة

--------------------------------------------

(1) أخرجه البخاري، في صحيحه، كتاب فضائل الصحابة، باب تزويج النَّبِيّ صلى الله عليه وسلم عَائِشَة وقدومها المدينة وبنائه بها، 5/ 55، رقم (3894)، ومسلم في صحيحه، كتاب النكاح، باب تزويج الأب البكر الصغيرة 2/ 1038، رقم (1422).

(2) أي: في قطعة من جَيِّد الحرير، وجمعها سَرَقٌ. ينظر: النهاية في غريب الحديث والأثر 2/ 362، ولسان العرب 10/ 157.

(3) أخرجه البخاري في صحيحه، كتاب فضائل الصحابة، باب تزويج النَّبِيّ صلى الله عليه وسلم عَائِشَة وقدومها المدينة وبنائه بها، 5/ 56، رقم (3895)، وفي الموضع السابق، باب النظر إلى المرأة قبل التزويج 7/ 14، رقم (5125)، ومسلم في صحيحه، كتاب فضائل الصحابة، باب في فضل عَائِشَة رضي الله تعالى عنها، 4/ 1889، رقم (2438).
তৃতীয় পরিচ্ছেদ

নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সাথে তাঁর বিবাহ

নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হিজরতের দশাধিক মাস আগে শাওয়াল মাসে আয়িশা রাদিয়াল্লাহু আনহাকে বিয়ে করেন, তখন তাঁর বয়স ছিল ছয় বছর। এবং হিজরতের দ্বিতীয় বর্ষের শাওয়াল মাসে তিনি তাঁর সাথে দাম্পত্য জীবন শুরু করেন, তখন তাঁর বয়স ছিল নয় বছর। তাঁর থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: "রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাকে ছয় বছর বয়সে বিয়ে করেন এবং নয় বছর বয়সে আমার সাথে দাম্পত্য জীবন শুরু করেন" (১)।

নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বিয়ের আগে স্বপ্নে আয়িশা রাদিয়াল্লাহু আনহাকে দেখেছিলেন। তাঁর থেকে বর্ণিত হাদিসে তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: "তোমাকে স্বপ্নে তিন রাত দেখানো হয়েছে; ফেরেশতা তোমাকে এক টুকরো রেশমি কাপড়ে (২) করে নিয়ে আসলেন। তিনি বলছিলেন: 'ইনি আপনার স্ত্রী।' আমি তোমার চেহারা থেকে পর্দা সরিয়ে দেখলাম যে তুমিই সেই। তখন আমি বললাম: 'যদি এটি আল্লাহর পক্ষ থেকে হয়ে থাকে তবে তিনি তা কার্যকর করবেন'" (৩)।

এই বরকতময় স্বপ্নের পর বিয়ের প্রস্তাবের পর্ব আসে। আয়িশা রাদিয়াল্লাহু আনহা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের পক্ষ থেকে তাঁকে বিয়ের প্রস্তাব দেওয়ার কাহিনী অত্যন্ত সূক্ষ্ম বিস্তারিত বিবরণে বর্ণনা করেছেন; কারণ এটি তাঁর কাছে অতি উত্তম স্মৃতি বহন করে।

--------------------------------------------

(১) বুখারি তাঁর সহিহ গ্রন্থে বর্ণনা করেছেন, সাহাবীদের মর্যাদা অধ্যায়, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের আয়িশার সাথে বিবাহ এবং তাঁর মদিনায় আগমন ও দাম্পত্য জীবন শুরু পরিচ্ছেদ, ৫/৫৫, হাদিস নং (৩৮৯৪); এবং মুসলিম তাঁর সহিহ গ্রন্থে, বিবাহ অধ্যায়, পিতার কুমারী ছোট কন্যাকে বিয়ে দেওয়া পরিচ্ছেদ, ২/১০৩৮, হাদিস নং (১৪২২)।

(২) অর্থাৎ: উন্নত মানের রেশমি কাপড়ের টুকরোয়, এর বহুবচন হলো 'সারাাক'। দেখুন: আন-নিহায়া ফি গারিবিল হাদিস ওয়াল আসার, ২/৩৬২ এবং লিসানুল আরব, ১০/১৫৭।

(৩) বুখারি তাঁর সহিহ গ্রন্থে বর্ণনা করেছেন, সাহাবীদের মর্যাদা অধ্যায়, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের আয়িশার সাথে বিবাহ এবং তাঁর মদিনায় আগমন ও দাম্পত্য জীবন শুরু পরিচ্ছেদ, ৫/৫৬, হাদিস নং (৩৮৯৫); এবং পূর্ববর্তী স্থানে, বিয়ের আগে পাত্রী দেখা পরিচ্ছেদ, ৭/১৪, হাদিস নং (৫১২৫); এবং মুসলিম তাঁর সহিহ গ্রন্থে, সাহাবীদের মর্যাদা অধ্যায়, আয়িশা রাদিয়াল্লাহু আনহার মর্যাদা পরিচ্ছেদ, ৪/১৮৮৯, হাদিস নং (২৪৩৮)।
(খণ্ড: ১) ইজলাউল হাকীকাহ ফী সীরাতি আইশাহ আস-সিদ্দীকাহ (পৃষ্ঠা: ২৬)
لا تنسى، فقالت رضي الله عنها: «لَمَّا تُوُفِّيَتْ خَدِيجَة، قَالَتْ خَوْلَةُ بِنْتُ حَكِيمِ بْنِ أُمَيَّةَ بْنِ الأَوْقَصِ - امْرَأَةُ عُثْمَانَ بْنِ مَظْعُونٍ رضي الله عنهما وَذَلِكَ بِمَكَّةَ -: أَيْ رَسُولَ اللهِ، أَلا تَتَزَوَّجُ؟ قَالَ: "وَمَنْ؟ " قَالَتْ: إِنْ شِئْتَ بِكْرًا، وَإِنْ شِئْتَ ثَيِّبًا، قَالَ: "فَمَنِ الْبِكْرُ؟ " قَالَتْ: بِنْتُ أَحَبِّ خَلْقِ اللهِ إِلَيْكَ عَائِشَة بِنْتُ أَبِي بَكْرٍ رضي الله عنه، قَالَ: "وَمَنِ الثَّيِّبُ؟ " قَالَتْ: سَوْدَةُ بِنْتُ زَمْعَةَ بْنِ قَيْسٍ آمَنَتْ بِكَ، وَاتَّبَعَتْكَ عَلَى مَا أَنْتَ عَلَيْهِ قَالَ: فَاذْهَبِي فَاذْكُرِيهِمَا عَلَيَّ قَالَتْ: فَجَاءَتْ فَدَخَلَتْ بَيْتَ أَبِي بَكْرٍ رضي الله عنه فَوَجَدَتْ أُمَّ رُومَانَ أُمَّ عَائِشَة قَالَتْ: أَيْ أُمَّ رُومَانَ، مَاذَا أَدْخَلَ اللَّهُ عز وجل عَلَيْكُمْ مِنَ الْخَيْرِ وَالْبَرَكَةِ؟ قَالَتْ: وَمَا ذَاكَ؟ قَالَتْ: أَرْسَلَنِي رَسُولُ اللهِ صلى الله عليه وسلم أَخْطُبُ عَلَيْهِ عَائِشَة قَالَتْ: وَدِدْتُ (1)، انْتَظِرِي أَبَا بَكْرٍ رضي الله عنه فَإِنَّهُ آتٍ، فَجَاءَ أَبُو بَكْرٍ رضي الله عنه، فَقَالَتْ: يَا أَبَا بَكْرٍ، مَاذَا أَدْخَلَ اللَّهُ عز وجل عَلَيْكُمْ مِنَ الْخَيْرِ وَالْبَرَكَةِ، أَرْسَلَنِي رَسُولُ اللهِ صلى الله عليه وسلم أَخْطُبُ عَلَيْهِ عَائِشَة رضي الله عنها قَالَ: وَهَلْ تَصْلُحُ لَهُ؟ إِنَّمَا هِيَ ابْنَةُ أَخِيهِ، فَرَجَعْتُ إِلَى رَسُولِ اللهِ صلى الله عليه وسلم فَذَكَرْتُ لَهُ، فَقَالَ: ارْجِعِي إِلَيْهِ فَقُولِي لَهُ: أَنْتَ أَخِي فِي الإِسْلامِ، وَأَنَا أَخُوكَ وَابْنَتُكَ تَصْلُحُ لِي، فَأَتَتْ أَبَا بَكْرٍ رضي الله عنه، فَقَالَ لِخَوْلَةَ: ادْعِي لِي رَسُولَ اللهِ صلى الله عليه وسلم، فَجَاءَهُ فَأَنْكَحَهُ، وَهِيَ يَوْمَئِذٍ ابْنَةُ سِتِّ سِنِينَ» (2).

وتقصُّ أيضًا عَائِشَة رضي الله عنها كيف كان وصول الخبر إليها وكيف كانت مراسم

--------------------------------------------

(1) أي: تمنَّيْت وأحْبَبتُ ذلك. ينظر: الصحاح 2/ 549، ولسان العرب 3/ 454.

(2) أخرجه ابن أبي عاصم في الآحاد والمثاني 5/ 182، رقم (3006) و5/ 229، رقم (3061)، والطبري في تاريخه 3/ 162 - 163، والطبراني في المعجم الكبير 23/ 23، رقم (57) و24/ 30، رقم (80)، وابن الأثير في "أسد الغابة" 7/ 205، والبيهقيُّ في السنن الكبرى 7/ 129، رقم (13526)، وفي "دلائل النبوة"2/ 411 - 412. وقال الهيثمي في مجمع الزوائد 9/ 362: "رواه الطبراني ورجاله رجال الصحيح غير محمد بن عمرو بن علقمة وهو حسن الحديث".
তিনি ভুলেননি, তাই তিনি (রা.) বললেন: “যখন খাদিজা (রা.) ইন্তেকাল করলেন, তখন খাওলা বিনতে হাকিম ইবনে উমাইয়া ইবনে আওকাস —যিনি উসমান ইবনে মাজউন (রা.)-এর স্ত্রী ছিলেন এবং এটি মক্কার ঘটনা— বললেন: হে আল্লাহর রাসূল, আপনি কি বিবাহ করবেন না? তিনি বললেন: ‘কাকে?’ তিনি বললেন: ‘আপনি চাইলে কুমারী, আর চাইলে অকুমারী (বিধবা/তালাকপ্রাপ্তা)।’ তিনি বললেন: ‘কুমারী কে?’ তিনি বললেন: ‘আল্লাহর সৃষ্টির মধ্যে আপনার নিকট সবচেয়ে প্রিয় ব্যক্তির কন্যা —আবু বকর (রা.)-এর কন্যা আয়েশা।’ তিনি বললেন: ‘আর অকুমারী কে?’ তিনি বললেন: ‘সাওদাহ বিনতে জামআহ ইবনে কায়স। তিনি আপনার ওপর ঈমান এনেছেন এবং আপনি যে আদর্শের ওপর আছেন তাতে আপনার অনুসরণ করেছেন।’ তিনি বললেন: ‘তাহলে যাও এবং আমার পক্ষ থেকে তাদের নিকট প্রস্তাব পেশ করো।’ তিনি (খাওলা) বললেন: অতঃপর তিনি এসে আবু বকর (রা.)-এর ঘরে প্রবেশ করলেন এবং আয়েশার মা উম্মে রুমানকে পেলেন। তিনি বললেন: ‘হে উম্মে রুমান, আল্লাহ আজ্জা ওয়াজাল্লা তোমাদের জন্য কতই না কল্যাণ ও বরকত নিয়ে এসেছেন!’ তিনি (উম্মে রুমান) বললেন: ‘তা কী?’ তিনি বললেন: ‘রাসূলুল্লাহ (সা.) আমাকে পাঠিয়েছেন তাঁর জন্য আয়েশার বিয়ের প্রস্তাব দিতে।’ তিনি বললেন: ‘আমি এটাই কামনা করছিলাম (১), আবু বকর (রা.)-এর জন্য অপেক্ষা করো, তিনি আসছেন।’ অতঃপর আবু বকর (রা.) আসলেন, তখন তিনি (খাওলা) বললেন: ‘হে আবু বকর, আল্লাহ আজ্জা ওয়াজাল্লা আপনাদের জন্য কতই না কল্যাণ ও বরকত নিয়ে এসেছেন! রাসূলুল্লাহ (সা.) আমাকে পাঠিয়েছেন তাঁর জন্য আয়েশা (রা.)-এর বিয়ের প্রস্তাব দিতে।’ তিনি বললেন: ‘সে কি তাঁর জন্য বৈধ হবে? সে তো তাঁর ভাইয়ের মেয়ে।’ তখন আমি রাসূলুল্লাহ (সা.)-এর নিকট ফিরে আসলাম এবং তাঁকে তা জানালাম। তিনি বললেন: ‘তার কাছে ফিরে যাও এবং তাকে বলো: তুমি ইসলামে আমার ভাই, আর আমি তোমার ভাই। আর তোমার মেয়ে আমার জন্য বৈধ।’ অতঃপর তিনি আবু বকর (রা.)-এর নিকট আসলেন। তিনি (আবু বকর) খাওলাকে বললেন: ‘আমার নিকট রাসূলুল্লাহ (সা.)-কে ডেকে আনো।’ অতঃপর তিনি তাঁর নিকট আসলেন এবং তিনি তাঁকে বিবাহ করিয়ে দিলেন। সেদিন তিনি (আয়েশা) ছয় বছর বয়সের কন্যা ছিলেন।” (২)।

এবং আয়েশা (রা.) আরও বর্ণনা করেন যে, কীভাবে তাঁর কাছে সংবাদটি পৌঁছেছিল এবং কীভাবে আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন হয়েছিল...

--------------------------------------------

(১) অর্থাৎ: আমি এটিই কামনা করেছি এবং ভালোবেসেছি। দ্রষ্টব্য: আস-সিহাহ ২/ ৫৪৯, এবং লিসানুল আরব ৩/ ৪৫৪।

(২) ইবনে আবি আসিম এটি আল-আহাদ ওয়াল মাসানি ৫/ ১৮২, নম্বর (৩০০৬) এবং ৫/ ২২৯, নম্বর (৩০৬১) এ বর্ণনা করেছেন; তাবারী তাঁর তারিখে ৩/ ১৬২ - ১৬৩; তাবারানি আল-মু'জামুল কাবির ২৩/ ২৩, নম্বর (৫৭) এবং ২৪/ ৩০, নম্বর (৮০); ইবনুল আসির 'উসুদুল গাবাহ' ৭/ ২০৫; বায়হাকি আস-সুনানুল কুবরা ৭/ ১২৯, নম্বর (১৩৫২৬) এবং 'দালাইলুন নবুওয়াহ' ২/ ৪১১ - ৪১২ তে বর্ণনা করেছেন। হাইসামি মাজমাউয যাওয়াইদ ৯/ ৩৬২ তে বলেছেন: "তাবারানি এটি বর্ণনা করেছেন এবং এর বর্ণনাকারীগণ সহীহ-এর বর্ণনাকারী, মুহাম্মদ বিন আমর বিন আলকামা ব্যতীত, আর তিনি হাসান হাদিসের বর্ণনাকারী।"
(খণ্ড: ১) ইজলাউল হাকীকাহ ফী সীরাতি আইশাহ আস-সিদ্দীকাহ (পৃষ্ঠা: ২৭)
الزفاف، حيث قالت: «فَأَتَتْنِي أُمُّ رُومَانَ وَأَنَا عَلَى أُرْجُوحَةٍ (1) وَمَعِي صَوَاحِبِي، فَصَرَخَتْ بِي فَأَتَيْتُهَا وَمَا أَدْرِى مَا تُرِيدُ بِي، فَأَخَذَتْ بِيَدِي فَأَوْقَفَتْنِي عَلَى الْبَابِ، فَقُلْتُ: هَهْ هَهْ (2)، حَتَّى ذَهَبَ نَفَسِي فَأَدْخَلَتْنِي بَيْتًا، فَإِذَا نِسْوَةٌ مِنَ الأَنْصَارِ، فَقُلْنَ: عَلَى الْخَيْرِ وَالْبَرَكَةِ وَعَلَى خَيْرِ طَائِرٍ (3)، فَأَسْلَمَتْنِي إِلَيْهِنَّ فَغَسَلْنَ رَأْسِي وَأَصْلَحْنَنِي فَلَمْ يَرُعْنِي (4) إِلَاّ وَرَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم ضُحًى فَأَسْلَمْنَنِي إِلَيْهِ» (5).

وتروي عَائِشَة رضي الله عنها استعدادها للزفاف وتجهيز أمها لها، فتقول: «كَانَتْ أُمِّي تُعَالِجُنِي لِلسُّمْنَةِ، تُرِيدُ أَنْ تُدْخِلَنِي عَلَى رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم، فَمَا اسْتَقَامَ لَهَا ذَلِكَ حَتَّى أَكَلْتُ الْقِثَّاءَ (6) بِالرُّطَبِ فَسَمِنْتُ كَأَحْسَنِ سِمْنَةٍ» (7).

--------------------------------------------

(1) الأُرْجُوحَةِ: حَبل يعلق طرفاه من جانبين يمِيل براكبه من نَاحيَة إِلَى نَاحيَة. ينظر: الصحاح 1/ 364، ومشارق الأنوار 1/ 282.

(2) في قولها: (هه هه) قولان: أحدهما: أنه حكاية تتابع النفس، والثاني: حكاية شدة البكاء، وهي كلمة يقولها المبهور حتى يتراجع إلى حال سكونه. ينظر: مشارق الأنوار 2/ 272، وغريب الحديث لابن الجوزي 2/ 506، وشرح النووي على مسلم 9/ 207.

(3) عَلَى خَيْرِ طَائِرٍ: أي: تقدمين على أسعد حظ، دُعَاء بالسعادة وأصل اسْتِعْمَالهَا من تفاؤل الْعَرَب بالطير وَقد يكون المُرَاد بالطائر هُنَا الْقسم والنصيب أَيْضًا. ينظر: مشارق الأنوار 1/ 324، وشرح السيوطي على مسلم 4/ 27، وفتح الباري 7/ 224.

(4) لَمْ يَرُعْنِي: من الروع: الفزع والمفاجأة، والمعنى: لم يفاجئني وَلم يفزعني. ينظر: مشارق الأنوار 1/ 302، والنهاية في غريب الحديث والأثر 2/ 277.

(5) أخرجه مسلم في صحيحه، كتاب النكاح، باب تزويج الأب البكر الصغيرة، 2/ 1038، رقم (1422).

(6) القِثَّاء: الخيار، وقيل: شبيه بالخيار. ينظر: تهذيب اللغة 9/ 205، والصحاح 1/ 64، ولسان العرب 15/ 171.

(7) أخرجه أبو داود في سننه، كتاب الطب، باب في السمنة 2/ 408، رقم (3903)، وابن ماجه في سننه، كتاب الأطعمة، باب اقثاء والرطب يجمعان 2/ 1104، رقم (3324)، وقال الألباني في =
বিবাহ অনুষ্ঠান সম্পর্কে তিনি বলেন: «উম্মে রুমান আমার কাছে আসলেন যখন আমি একটি দোলনায় (১) আমার সখীদের সাথে খেলছিলাম। তিনি আমাকে উচ্চস্বরে ডাক দিলেন, তাই আমি তাঁর কাছে আসলাম অথচ আমি জানতাম না তিনি আমার সাথে কী করতে চান। তিনি আমার হাত ধরলেন এবং আমাকে দরজার কাছে দাঁড় করালেন। তখন আমি 'হা-হা' (২) করছিলাম (জোরে জোরে নিশ্বাস নিচ্ছিলাম) যতক্ষণ না আমার নিশ্বাস স্থির হলো। এরপর তিনি আমাকে একটি ঘরে নিয়ে গেলেন। সেখানে আনসারদের কিছু নারী উপস্থিত ছিলেন। তাঁরা বললেন: 'কল্যাণ ও বরকতের সাথে এবং সর্বোত্তম ভাগ্যের (৩) সাথে তোমার আগমন হোক।' অতঃপর মা আমাকে তাঁদের কাছে সোপর্দ করলেন। তাঁরা আমার মাথা ধুইয়ে দিলেন এবং আমাকে সুসজ্জিত করলেন। সকাল বেলা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের হঠাৎ উপস্থিতি (৪) ব্যতীত অন্য কিছুই আমাকে চমকে দেয়নি। তখন তাঁরা আমাকে তাঁর কাছে সমর্পণ করলেন» (৫)।

আয়েশা রাদিয়াল্লাহু আনহা তাঁর বিবাহের প্রস্তুতি এবং তাঁর মায়ের তাঁকে তৈরি করার কথা বর্ণনা করে বলেন: «আমার মা আমাকে স্থূলকায় (স্বাস্থ্যবতী) করার জন্য চিকিৎসা দিচ্ছিলেন, তিনি চেয়েছিলেন আমাকে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের কাছে পাঠাতে। কিন্তু আমি যখন পাকা খেজুরের সাথে শসা (৬) খেলাম, তখন ব্যতীত অন্য কিছুতে তাঁর সেই প্রচেষ্টা সফল হয়নি। এরপর আমি চমৎকারভাবে স্বাস্থ্যবতী হলাম» (৭)।

--------------------------------------------

(১) দোলনা: এমন একটি রশি যার দুই প্রান্ত দুই পাশে ঝুলানো থাকে এবং এটি এর আরোহীকে এক দিক থেকে অন্য দিকে দোলায়। দেখুন: আস-সিহাহ ১/ ৩৬৪, এবং মাশারিকুল আনোয়ার ১/ ২৮২।

(২) তাঁর উক্তি: (হা-হা) সম্পর্কে দুটি মত রয়েছে: একটি হলো এটি ঘন ঘন নিশ্বাস ত্যাগের বর্ণনা, আর দ্বিতীয়টি হলো এটি তীব্র কান্নার বর্ণনা। এটি এমন একটি শব্দ যা হাপিয়ে যাওয়া ব্যক্তি বলে থাকে যতক্ষণ না সে স্বাভাবিক স্থির অবস্থায় ফিরে আসে। দেখুন: মাশারিকুল আনোয়ার ২/ ২৭২, গারিবুল হাদিস (ইবনুল জাওজি) ২/ ৫০৬, এবং শারহুন নববী আলা মুসলিম ৯/ ২০৭।

(৩) সর্বোত্তম ভাগ্যের সাথে: অর্থাৎ, আপনি অত্যন্ত সৌভাগ্যময় নসিবের দিকে অগ্রসর হচ্ছেন। এটি সুখ ও সৌভাগ্যের জন্য একটি দোয়া। এর ব্যবহারের মূল ভিত্তি হলো পাখিকে কেন্দ্র করে আরবদের শুভ লক্ষণ গ্রহণ করা। এখানে 'তাঈর' (পাখি) দ্বারা অংশ বা ভাগ্যও উদ্দেশ্য হতে পারে। দেখুন: মাশারিকুল আনোয়ার ১/ ৩২৪, শারহুস সুয়ূতি আলা মুসলিম ৪/ ২৭, এবং ফাতহুল বারি ৭/ ২২৪।

(৪) আমাকে চমকে দেয়নি: এটি 'রউ' শব্দ থেকে এসেছে যার অর্থ আতঙ্ক ও অতর্কিত কিছু ঘটা। এর অর্থ হলো: আমাকে বিস্মিত করেনি এবং আমাকে আতঙ্কিত করেনি। দেখুন: মাশারিকুল আনোয়ার ১/ ৩০২, এবং আন-নিহায়া ফি গারিবিল হাদিস ওয়াল আসার ২/ ২৭৭।

(৫) এটি মুসলিম তাঁর সহিহ গ্রন্থে বর্ণনা করেছেন, বিবাহ অধ্যায়, অনুচ্ছেদ: পিতার কুমারী ছোট মেয়েকে বিবাহ দেওয়া, ২/ ১০৩৮, নম্বর (১৪২২)।

(৬) আল-কিসসা: শসা, আর বলা হয়েছে: এটি শসার মতো দেখতে একটি ফল। দেখুন: তাহজিবুল লুগাহ ৯/ ২০৫, আস-সিহাহ ১/ ৬৪, এবং লিসানুল আরব ১৫/ ১৭১।

(৭) এটি আবু দাউদ তাঁর সুনানে বর্ণনা করেছেন, চিকিৎসা অধ্যায়, অনুচ্ছেদ: স্থূলতা বা স্বাস্থ্য বৃদ্ধি প্রসঙ্গে ২/ ৪০৮, নম্বর (৩৯০৩), এবং ইবনে মাজাহ তাঁর সুনানে বর্ণনা করেছেন, খাদ্য অধ্যায়, অনুচ্ছেদ: শসা ও পাকা খেজুর একত্রে আহার করা ২/ ১১০৪, নম্বর (৩৩২৪), এবং আলবানি বলেছেন =
(খণ্ড: ১) ইজলাউল হাকীকাহ ফী সীরাতি আইশাহ আস-সিদ্দীকাহ (পৃষ্ঠা: ২৮)
وأما في ليلية الزفاف نفسها فتولى تجهيزها أسماء بنت يزيد (1) وصاحباتها، تقول أسماء رضي الله عنها: «إِنِّي قَيَّنْتُ (2) عَائِشَة لِرَسُولِ اللهِ صلى الله عليه وسلم ثُمَّ جِئْتُهُ، فَدَعَوْتُهُ لِجِلْوَتِهَا (3)، فَجَاءَ، فَجَلَسَ إِلَى جَنْبِهَا، فَأُتِيَ بِعُسِّ (4) لَبَنٍ، فَشَرِبَ ثُمَّ نَاوَلَهَا النَّبِيّ صلى الله عليه وسلم، فَخَفَضَتْ رَأْسَهَا وَاسْتَحْيَتْ. قَالَتْ أَسْمَاءُ: فَانْتَهَرْتُهَا وَقُلْتُ لَهَا: خُذِي مِنْ يَدِ النَّبِيّ صلى الله عليه وسلم قَالَتْ: فَأَخَذَتْ، فَشَرِبَتْ شَيْئًا، ثُمَّ قَالَ لَهَا النَّبِيّ صلى الله عليه وسلم: "أَعْطِي تِرْبَكِ" (5) قَالَتْ أَسْمَاءُ: فَقُلْتُ: يَا رَسُولَ اللهِ، بَلْ خُذْهُ، فَاشْرَبْ مِنْهُ، ثُمَّ نَاوِلْنِيهِ مِنْ يَدِكَ، فَأَخَذَهُ، فَشَرِبَ مِنْهُ، ثُمَّ نَاوَلَنِيهِ، قَالَتْ: فَجَلَسْتُ، ثُمَّ وَضَعْتُهُ عَلَى رُكْبَتِي، ثُمَّ طَفِقْتُ أُدِيرُهُ، وَأَتْبَعُهُ بِشَفَتَيَّ لأصِيبَ مِنْهُ مَشْرَبَ النَّبِيّ صلى الله عليه وسلم» (6).

--------------------------------------------

= السلسلة الصحيحة 1/ 84: "إسناده صحيح".

(1) هي: أسماء بنت يزيد بن السكن بن رافع بن امرئ القيس بن عبد الأشهل الأَنْصارِيّة الأشهلية أم سلمة، ويُقال: أم عامر. صحابية بايعت رَسُول اللَّهِ صلى الله عليه وسلم، وروت عنه أحاديث صالحة، وشهدت اليرموك وقتلت يومئذٍ تسعة من الروم بعمود خبائها.

ينظر في ترجمتها: معرفة الصحابة 6/ 3258، والاستيعاب 4/ 1787، وسير أعلام النبلاء 2/ 296.

(2) أَي زَيّنْتُ، من التَّقْيين وهو: التَّزيين. ينظر: النهاية في غريب الحديث والأثر 4/ 135.

(3) أي: للنظر إليها مجلوة مكشوفة. ينظر: جمهرة اللغة 1/ 493، والصحاح 6/ 2304، ولسان العرب 14/ 151.

(4) العُسّ: القدح الكبير، وجمعه: عساس وأعساس. ينظر: تهذيب اللغة 1/ 63، والنهاية في غريب الحديث والأثر 3/ 236.

(5) أي: صاحباتك، والترب: الأقران، وهم الذين يكونون في سنٍّ واحدة. ينظر: الصحاح 1/ 91، وتهذيب اللغة 14/ 195.

(6) أخرجه أحمد في مسنده 45/ 570، رقم (27591)، والحميدي في مسنده 1/ 359، رقم (371)، والطبراني في المعجم الكبير 24/ 171، رقم (434)، و24/ 172، رقم (435)، وابن بشران في أماليه ص (376)، رقم (861)، والحديث حسنه الألباني في آداب الزفاف ص (91).
আর বাসর রাতের ব্যাপারে বলা হয়েছে যে, আসমা বিনতে ইয়াজিদ (১) ও তাঁর বান্ধবীরা তাঁকে সাজানোর দায়িত্ব নিয়েছিলেন। আসমা (রাদিয়াল্লাহু আনহা) বলেন: «আমি আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের জন্য আয়েশাকে সুসজ্জিত করেছি (২), এরপর তাঁর কাছে এসে তাঁকে তাঁর কাছে (আয়েশার কাছে) যাওয়ার জন্য ডাকলাম (৩)। তিনি আসলেন এবং তাঁর পাশে বসলেন। অতঃপর একটি বড় পাত্রে (৪) দুধ আনা হলো। তিনি তা থেকে পান করলেন এবং এরপর নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তা তাঁকে (আয়েশাকে) দিলেন, কিন্তু তিনি মাথা নিচু করলেন এবং লজ্জা পেলেন। আসমা বলেন: আমি তাঁকে ধমক দিয়ে বললাম: নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের হাত থেকে তা নাও। তিনি বলেন: তখন তিনি তা গ্রহণ করলেন এবং সামান্য পান করলেন। অতঃপর নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁকে বললেন: "তোমার সমবয়সী সঙ্গিনীদের দাও" (৫)। আসমা বলেন: আমি বললাম: হে আল্লাহর রাসূল, বরং আপনি এটি নিন এবং পান করুন, এরপর আপনার হাত থেকে আমাকে এটি দিন। তিনি তা গ্রহণ করলেন, পান করলেন এবং এরপর আমাকে দিলেন। আসমা বলেন: আমি বসলাম এবং এটি আমার হাঁটুতে রাখলাম, এরপর আমি পাত্রটি ঘুরাতে শুরু করলাম এবং আমার ঠোঁট দিয়ে সেই স্থানটি খুঁজতে লাগলাম যেখানে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের ঠোঁট লেগেছিল যাতে আমি তাঁর পানের স্থানটি থেকে বরকত লাভ করতে পারি» (৬)।

--------------------------------------------

= আস-সিলসিলাত আস-সহিহাহ ১/৮৪: "এর সনদ সহিহ"।

(১) তিনি হলেন: আসমা বিনতে ইয়াজিদ বিন আল-সাকান বিন রাফে বিন ইমরুল কায়েস বিন আবদিল আশহাল আল-আনসারিয়া আল-আশহালিয়া উম্মে সালামা, আর তাঁকে উম্মে আমিরও বলা হয়। তিনি একজন নারী সাহাবী ছিলেন যিনি আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের কাছে বায়াত গ্রহণ করেছিলেন এবং তাঁর থেকে অনেক নির্ভরযোগ্য হাদিস বর্ণনা করেছেন। তিনি ইয়ারমুকের যুদ্ধে অংশগ্রহণ করেছিলেন এবং সেই দিন তিনি তাঁর তাঁবুর খুঁটি দিয়ে নয়জন রোমানকে হত্যা করেছিলেন।

তাঁর জীবনী জানার জন্য দেখুন: মারেফাতুস সাহাবা ৬/৩২৫৮, আল-ইস্তিয়াব ৪/১৭৮৭, এবং সিয়ারু আলামিন নুবালা ২/২৯৬।

(২) অর্থাৎ আমি সুসজ্জিত করেছি। এটি 'আল-তাকয়ীন' থেকে এসেছে যার অর্থ: সুসজ্জিত করা। দেখুন: আন-নিহায়াহ ফি গারিবিল হাদিস ওয়াল আসার ৪/১৩৫।

(৩) অর্থাৎ তাঁকে সুসজ্জিত ও প্রকাশিত অবস্থায় দেখার জন্য। দেখুন: জামহারাতুল লুগাহ ১/৪৯৩, আস-সিহাহ ৬/২৩০৪, এবং লিসানুল আরব ১৪/১৫১।

(৪) আল-উসস: বড় পেয়ালা বা পাত্র, এর বহুবচন হলো: 'আসাস' ও 'আসাস'। দেখুন: তাহযিবুল লুগাহ ১/৬৩, এবং আন-নিহায়াহ ফি গারিবিল হাদিস ওয়াল আসার ৩/২৩৬।

(৫) অর্থাৎ তোমার বান্ধবীদের। 'তিরব' অর্থ সমবয়সী, যারা একই বয়সের হয়। দেখুন: আস-সিহাহ ১/৯১, এবং তাহযিবুল লুগাহ ১৪/১৯৫।

(৬) আহমদ তাঁর মুসনাদে বর্ণনা করেছেন ৪৫/৫৭০, হাদিস নং (২৭৫৯১); আল-হুমাইদি তাঁর মুসনাদে ১/৩৫৯, হাদিস নং (৩৭১); আত-তাবারানি আল-মুজাম আল-কাবিরে ২৪/১৭১, হাদিস নং (৪৩৪) এবং ২৪/১৭২, হাদিস নং (৪৩৫); এবং ইবনে বিশরান তাঁর আমালিতে পৃ. ৩৭৬, হাদিস নং (৮৬১)। আলবানী আদাবুজ জিফাফ পৃ. ৯১-এ হাদিসটিকে হাসান বলেছেন।
(খণ্ড: ১) ইজলাউল হাকীকাহ ফী সীরাতি আইশাহ আস-সিদ্দীকাহ (পৃষ্ঠা: ২৯)
وقد أقامت عَائِشَة رضي الله عنها في صحبة النَّبِيّ صلى الله عليه وسلم ثمانية أعوام وخمسة أشهر (1)، وتوفى صلى الله عليه وسلم وهي ابنة ثماني عشرة سنة، فعنها رضي الله عنها: «أَنَّ النَّبِيّ صلى الله عليه وسلم تَزَوَّجَهَا وَهِيَ بِنْتُ سِتِّ سِنِينَ، وَأُدْخِلَتْ عَلَيْهِ وَهِيَ بِنْتُ تِسْعٍ، وَمَكَثَتْ عِنْدَهُ تِسْعًا»، وفي رواية: «وَمَاتَ عَنْهَا وَهِيَ بِنْتُ ثَمَانَ عَشْرَةَ» (2).

--------------------------------------------

(1) الإجابة لإيراد ما استدركته عَائِشَة على الصحابة ص (11)، زواج السيدة عَائِشَة ومشروعية الزواج المبكر ص (39).

(2) أخرجه البخاري في صحيحه، كتاب النكاح، باب إنكاح الرجل ولده الصغار 7/ 17، رقم (5133)، ومسلم في صحيحه، كتاب الحج، باب تزويج الأب البكر الصغيرة 2/ 1039، رقم (1422).
আয়েশা (রাদিয়াল্লাহু আনহা) নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর সাহচর্যে আট বছর পাঁচ মাস অতিবাহিত করেছিলেন (১), এবং নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) ইন্তেকাল করেন যখন তাঁর বয়স ছিল আঠারো বছর। তাঁর পক্ষ থেকে বর্ণিত (রাদিয়াল্লাহু আনহা): «নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) তাঁকে বিয়ে করেন যখন তাঁর বয়স ছিল ছয় বছর, আর তাঁর ঘরে তুলে দেওয়া হয় যখন তাঁর বয়স ছিল নয় বছর, এবং তিনি তাঁর নিকট নয় বছর অবস্থান করেন», এবং এক বর্ণনায় রয়েছে: «আর নবী তাঁর থেকে বিদায় নেন (ইন্তেকাল করেন) যখন তাঁর বয়স ছিল আঠারো বছর» (২)।

--------------------------------------------

(১) আল-ইজাবাহ লি-ইরাদি মা ইস্তাদরাকাতহু আয়েশা আলাস সাহাবাহ, পৃষ্ঠা (১১); জাওয়াজুস সায়্যিদাহ আয়েশা ওয়া মাশরুয়িয়াতুয যাওয়াজিল মুবাক্কির, পৃষ্ঠা (৩৯)।

(২) ইমাম বুখারি এটি তাঁর সহিহ গ্রন্থে বর্ণনা করেছেন, বিবাহ অধ্যায়, পরিচ্ছেদ: ব্যক্তির তার ছোট সন্তানদের বিবাহ দান, ৭/ ১৭, নম্বর (৫১৩৩); এবং ইমাম মুসলিম তাঁর সহিহ গ্রন্থে, হজ অধ্যায়, পরিচ্ছেদ: পিতার কুমারী নাবালিকাকে বিবাহ দান, ২/ ১০৩৯, নম্বর (১৪২২)।
(খণ্ড: ১) ইজলাউল হাকীকাহ ফী সীরাতি আইশাহ আস-সিদ্দীকাহ (পৃষ্ঠা: ৩১)
‌‌المبحث الرابع

منزلتها عند النَّبِيّ صلى الله عليه وسلم

كان لعَائِشَة رضي الله عنها مكانة خاصة في قلب النَّبِيّ صلى الله عليه وسلم؛ وذلك لأنها كانت ابنة صاحبه الأكبر أبي بكر الصديق، وكانت أيضًا أحب زوجاته إليه.

وقد حبَّ النَّبِيّ صلى الله عليه وسلم عَائِشَة رضي الله عنها منذ صغرها، فعن حبيب مولى عروة (1) قال: كان رسول الله صلى الله عليه وسلم يختلف إلى بيت أبي بكر ويقول: «يَا أُمَّ رُومَانَ، اسْتَوْصِي بِعَائِشَةَ خَيْرًا وَاحْفَظِينِي فِيهَا» (2).

وقد كان صلى الله عليه وسلم يُظهر حبه لعَائِشَة رضي الله عنها، ولا يخفيه، حتى إن عمرو بن العاص رضي الله عنه، سأله فقال: «أَيُّ النَّاسِ أَحَبُّ إِلَيْكَ؟ قَالَ: "عَائِشَة"، قَالَ: مِنَ الرِّجَالِ؟ قَالَ: "أَبُوهَا"» (3).

هذا الحديث فيه منقبة ظاهرة لأُمّ المؤمنين عَائِشَة رضي الله عنها وهي أنها كانت أحبُّ أزواج النَّبِيّ صلى الله عليه وسلم إليه.

--------------------------------------------

(1) هو: حبيب مولى عروة بن الزبير بن العوام، الأسدي، قال ابن سعد: "كان قليل الحديث"، مات في آخر سلطان بني أمية.

ينظر في ترجمته: الطبقات الكبرى 5/ 412، والثقات لابن حبان 6/ 180، ومغاني الأخيار 3/ 511.

(2) أخرجه ابن سعد في الطبقات الكبرى 8/ 62، والحاكم في المستدرك 4/ 5، رقم (6716)، وهو حديث مرسل، إذ إن حبيبًا من التابعين، وذكرتُ الحديث استئناسًا.

(3) أخرجه البخاري في صحيحه، كتاب المناقب، باب قول النَّبِيّ صلى الله عليه وسلم: "لو كنت متخذا خليلا" 5/ 5، رقم (3662)، ومسلم في صحيحه، كتاب فضائل الصحابة، باب من فضائل أبي بكر الصديق رضي الله عنه 4/ 1856، رقم (2384).
চতুর্থ পরিচ্ছেদ

নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের নিকট তাঁর মর্যাদা

নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের হৃদয়ে আয়েশা রাযিয়াল্লাহু আনহার একটি বিশেষ স্থান ছিল; কারণ তিনি ছিলেন তাঁর মহান সঙ্গী আবু বকর সিদ্দিকের কন্যা এবং তিনি তাঁর নিকট তাঁর স্ত্রীদের মধ্যে সবচেয়ে প্রিয় ছিলেন।

নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম শৈশব থেকেই আয়েশা রাযিয়াল্লাহু আনহাকে ভালোবাসতেন। উরওয়ার মুক্তদাস হাবীব (১) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আবু বকরের ঘরে যাতায়াত করতেন এবং বলতেন: "হে উম্মে রুমান! আয়েশার সাথে সদাচরণ করো এবং আমার খাতিরে তাকে আগলে রেখো।" (২)।

নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আয়েশা রাযিয়াল্লাহু আনহার প্রতি তাঁর ভালোবাসা প্রকাশ করতেন এবং তা গোপন করতেন না, এমনকি আমর ইবনুল আস রাযিয়াল্লাহু আনহু তাঁকে জিজ্ঞেস করেছিলেন: "মানুষের মধ্যে আপনার কাছে সবচেয়ে প্রিয় কে?" তিনি বললেন: "আয়েশা"। তিনি বললেন: "পুরুষদের মধ্যে?" তিনি বললেন: "তার পিতা।" (৩)।

এই হাদিসে উম্মুল মুমিনীন আয়েশা রাযিয়াল্লাহু আনহার একটি স্পষ্ট মর্যাদা বর্ণিত হয়েছে, আর তা হলো তিনি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের নিকট তাঁর স্ত্রীদের মধ্যে সবচেয়ে প্রিয় ছিলেন।

--------------------------------------------

(১) তিনি হলেন: হাবীব, উরওয়া ইবনুল জুবাইর ইবনুল আওয়াম আল-আসাদীর মুক্তদাস। ইবনে সাদ বলেন: "তিনি অল্প সংখ্যক হাদিস বর্ণনা করেছেন", তিনি উমাইয়া রাজবংশের শাসনের শেষ দিকে মৃত্যুবরণ করেন।

তাঁর জীবনীর জন্য দেখুন: আত-তাবাকাতুল কুবরা ৫/৪১২, আস-সিকাত লি-ইবনে হিব্বান ৬/১৮০, এবং মাগানিল আখইয়ার ৩/৫১১।

(২) এটি ইবনে সাদ আত-তাবাকাতুল কুবরা ৮/৬২ গ্রন্থে এবং হাকেম আল-মুস্তাদরাক ৪/৫, নম্বর (৬৭১৬) গ্রন্থে বর্ণনা করেছেন। এটি একটি মুরসাল হাদিস, যেহেতু হাবীব একজন তাবেয়ী; আমি হাদিসটি আনুষঙ্গিক প্রমাণ হিসেবে উল্লেখ করেছি।

(৩) এটি বুখারী তাঁর সহীহ গ্রন্থে, মানাকিব (মর্যাদা) অধ্যায়, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের বাণী: "যদি আমি কাউকে অন্তরঙ্গ বন্ধু হিসেবে গ্রহণ করতাম" পরিচ্ছেদ, ৫/৫, নম্বর (৩৬৬২); এবং মুসলিম তাঁর সহীহ গ্রন্থে, সাহাবায়ে কেরামের ফজিলত অধ্যায়, আবু বকর সিদ্দিক রাযিয়াল্লাহু আনহুর ফজিলত পরিচ্ছেদ, ৪/১৮৫৬, নম্বর (২৩৮৪)-এ বর্ণনা করেছেন।
(খণ্ড: ১) ইজলাউল হাকীকাহ ফী সীরাতি আইশাহ আস-সিদ্দীকাহ (পৃষ্ঠা: ৩২)
وقد علم جميع الناس حبَّ النَّبِيّ صلى الله عليه وسلم لعَائِشَة حتى ثارت غيرة زوجاته، فعنها رضي الله عنها: أن نساء رسول الله صلى الله عليه وسلم كن حزبين، فحزب فيه عَائِشَة وحفصة وصفية وسودة، والحزب الآخر أم سلمة وسائر نساء رسول الله صلى الله عليه وسلم، وكان المسلمون قد علموا حب رسول الله صلى الله عليه وسلم لعَائِشَة، فإذا كانت عند أحدهم هدية يريد أن يهديها إلى رسول الله صلى الله عليه وسلم، أَخَّرَهَا حتى إذا كان رسول الله صلى الله عليه وسلم في بيت عَائِشَة، بعث صاحب الهدية بها إلى رسول الله صلى الله عليه وسلم في بيت عَائِشَة، فكلم حزب أم سلمة فقلن لها: كلمي رسول الله صلى الله عليه وسلم يكلم الناس، فيقول: من أراد أن يهدي إلى رسول الله صلى الله عليه وسلم هدية، فليهده إليه حيث كان من بيوت نسائه، فكلمته أم سلمة بما قلن، فلم يقل لها شيئاً، فسألنها، فقالت: ما قال لي شيئاً، فقلن لها، فكلميه قالت: فكلمته حين دار إليها أيضًا، فلم يقل لها شيئا، فسألنها، فقالت: ما قال لي شيئاً، فقلن لها: كلميه حتى يكلمك، فدار إليها فكلمته، فقال لها: «لَا تُؤْذِينِي فِي عَائِشَة فَإِنَّ الوَحْيَ لَمْ يَأْتِنِي وَأَنَا فِي ثَوْبِ امْرَأَةٍ، إِلا عَائِشَة»، قالت: فقالت: أتوب إلى الله من أذاك يا رسول الله، ثم إنهن دَعَوْنَ فاطمة بنت رسول الله صلى الله عليه وسلم، فأرسلت إلى رسول الله صلى الله عليه وسلم تقول: إن نساءك ينشدنك الله العدل في بنت أبي بكر، فكلمته فقال: «يَا بُنَيَّة أَلَا تُحِبِّينَ مَا أُحِبُّ؟»، قالت: بلى، فرجعت إليهن، فأخبرتهن، فقلن: ارجعي إليه، فأبت أن ترجع، فأرسلن زينب بنت جحش، فأتته، فأغلظت، وقالت: إن نساءك ينشدنك الله العدل في بنت ابن أبي قحافة، فرفعت صوتها حتى تناولت عَائِشَة وهي قاعدة فسبتها، حتى إن رسول الله صلى الله عليه وسلم لينظر إلى عَائِشَة، هل تكلم، قال: فتكلمت عَائِشَة ترد على زينب حتى أسكتتها،
সমস্ত মানুষ নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের আয়েশার প্রতি ভালোবাসার কথা জানতেন, যার ফলে তাঁর স্ত্রীদের মধ্যে ঈর্ষা জেগে উঠেছিল। আয়েশা রাদিয়াল্লাহু আনহা হতে বর্ণিত: আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের স্ত্রীগণ দুই দলে বিভক্ত ছিলেন। এক দলে ছিলেন আয়েশা, হাফসা, সাফিয়া এবং সাওদা; আর অন্য দলে ছিলেন উম্মে সালামা এবং আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের অবশিষ্ট স্ত্রীগণ। মুসলিমগণ আয়েশার প্রতি আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের ভালোবাসার কথা জানতেন; তাই যখন কারো নিকট এমন কোনো উপহার থাকত যা তিনি আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে প্রদান করতে চাইতেন, তিনি তা বিলম্ব করতেন যতক্ষণ না আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আয়েশার ঘরে অবস্থান করতেন। এরপর উপহারদাতা সেই উপহারটি আয়েশার ঘরেই আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের নিকট প্রেরণ করতেন। তখন উম্মে সালামার দল উম্মে সালামাকে বললেন: আপনি আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সাথে কথা বলুন যেন তিনি লোকদের বলে দেন—যে ব্যক্তি আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে কোনো উপহার দিতে চায়, সে যেন তাঁর স্ত্রীদের ঘরসমূহের যেখানেই তিনি থাকুন না কেন, সেখানেই তা প্রদান করে। উম্মে সালামা তাদের কথানুযায়ী তাঁর সাথে কথা বললেন, কিন্তু তিনি তাঁকে কিছুই বললেন না। তারা উম্মে সালামাকে জিজ্ঞাসা করলে তিনি বললেন: তিনি আমাকে কিছুই বলেননি। তারা তাঁকে পুনরায় বললেন: আপনি আবারও তাঁর সাথে কথা বলুন। তিনি বলেন: যখন তাঁর পাল আসলো তখন তিনি আবারও কথা বললেন, কিন্তু এবারও তিনি তাঁকে কিছুই বললেন না। তারা পুনরায় তাঁকে জিজ্ঞাসা করলে তিনি বললেন: তিনি আমাকে কোনো উত্তর দেননি। তখন তারা তাঁকে বললেন: আপনি তাঁর সাথে কথা বলতে থাকুন যতক্ষণ না তিনি আপনাকে উত্তর দেন। এরপর তাঁর পালের সময় যখন তিনি এলেন, তিনি তাঁর সাথে কথা বললেন। তখন আল্লাহর রাসূল তাঁকে বললেন: «আয়েশার ব্যাপারে আমাকে কষ্ট দিও না; কারণ আয়েশা ব্যতীত তোমাদের অন্য কোনো স্ত্রীর চাদরের নিচে থাকা অবস্থায় আমার নিকট ওহী অবতীর্ণ হয়নি»। উম্মে সালামা বললেন: হে আল্লাহর রাসূল, আপনাকে কষ্ট প্রদান করা হতে আমি আল্লাহর নিকট তওবা করছি। এরপর তারা আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের কন্যা ফাতিমাকে ডাকলেন এবং তাঁকে আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের নিকট এই কথা বলে পাঠালেন যে: আপনার স্ত্রীগণ আবু বকরের কন্যার ব্যাপারে আল্লাহর দোহাই দিয়ে আপনার নিকট ইনসাফ প্রার্থনা করছেন। তিনি তাঁর সাথে কথা বললে নবীজি বললেন: «হে আমার প্রিয় কন্যা, আমি যাকে ভালোবাসি তুমি কি তাকে ভালোবাসো না?» তিনি বললেন: হ্যাঁ, ভালোবাসি। এরপর তিনি তাদের নিকট ফিরে গিয়ে বিষয়টি অবগত করলেন। তারা পুনরায় তাঁকে যেতে বললে তিনি যেতে অস্বীকার করলেন। অতঃপর তারা জয়নাব বিনতে জাহশকে পাঠালেন। তিনি এসে কঠোরতা প্রদর্শন করলেন এবং বললেন: আপনার স্ত্রীগণ আবু কুহাফার পুত্রের কন্যার ব্যাপারে আল্লাহর দোহাই দিয়ে আপনার নিকট ইনসাফ দাবি করছেন। এরপর তিনি উচ্চস্বরে কথা বলতে লাগলেন এবং সেখানে উপবিষ্ট আয়েশাকে আক্রমণ করে গালি দিলেন। এমনকি আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আয়েশার দিকে তাকিয়ে দেখছিলেন যে তিনি কোনো উত্তর দেন কি না। বর্ণনাকারী বলেন: অতঃপর আয়েশা কথা বললেন এবং জয়নাবকে এমনভাবে উত্তর দিলেন যে শেষ পর্যন্ত তাঁকে স্তব্ধ করে দিলেন।
(খণ্ড: ১) ইজলাউল হাকীকাহ ফী সীরাতি আইশাহ আস-সিদ্দীকাহ (পৃষ্ঠা: ৩৩)
قالت: فنظر النَّبِيّ صلى الله عليه وسلم إلى عَائِشَة، وقال: «إِنَّهَا بِنْتُ أَبِي بَكْرٍ» (1).

وكان صلى الله عليه وسلم يفسح لها المجال للعب، ولم يحرمها من هذه المتعة، بل إنه كان يفرح بلعبها ويضحك حتى تُرَى نواجِذه، فعنها رضي الله عنها قالت: «كُنْتُ أَلْعَبُ بِالْبَنَاتِ عِنْدَ النَّبِيّ صلى الله عليه وسلم، وَكَانَ لِي صَوَاحِبُ يَلْعَبْنَ مَعِي، "فَكَانَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم إِذَا دَخَلَ يَتَقَمَّعْنَ (2) مِنْهُ، فَيُسَرِّبُهُنَّ (3) إِلَيَّ فَيَلْعَبْنَ مَعِي"» (4).

وكان صلى الله عليه وسلم دائمًا يحب أن يدخل الفرح والبهجة على قلبها، فيحملها على عاتقه لتشاهد الحبشة وهم يلعبون، فعنها قالت: «وَاللهِ لَقَدْ رَأَيْتُ رَسُولَ اللهِ صلى الله عليه وسلم يَقُومُ عَلَى بَابِ حُجْرَتِي، وَالْحَبَشَةُ يَلْعَبُونَ بِحِرَابِهِمْ، فِي مَسْجِدِ رَسُولِ اللهِ صلى الله عليه وسلم، يَسْتُرُنِي بِرِدَائِهِ، لِكَيْ أَنْظُرَ إِلَى لَعِبِهِمْ، ثُمَّ يَقُومُ مِنْ أَجْلِي، حَتَّى أَكُونَ أَنَا الَّتِي أَنْصَرِفُ» (5).

--------------------------------------------

(1) أخرجه البخاري في صحيحه، كتاب الهبة وفضلها والتحريض عليها، باب من أهدى إلى صاحبه وتحرى بعض نسائه دون بعض 3/ 156، رقم (2581)، ومسلم في صحيحه، كتاب فضائل الصحابة، باب في فضل عَائِشَة رضي الله تعالى عنها 4/ 1891، رقم (2442).

(2) أي: يَتَغَيَّبْنَ منه ويدخلن من وراء السِّتْرِ. ينظر: غريب الحديث لأبي عبيد 4/ 315، وفتح الباري 10/ 527.

(3) أَي: يرسلهن وَاحِدَة بعد أخري. ينظر: النهاية في غريب الحديث والأثر 2/ 356، وفتح الباري 1/ 131.

(4) أخرجه البخاري في صحيحه، كتاب الأدب، باب الانبساط إلى الناس 8/ 31، رقم (6130)، ومسلم في صحيحه، كتاب فضائل الصحابة، باب في فضل عَائِشَة رضي الله تعالى عنها 4/ 1890، رقم (2440).

(5) أخرجه البخاري في صحيحه، كتاب الصلاة، باب أصحاب الحراب في المسجد 1/ 98، رقم (454)، ومسلم في صحيحه، كتاب صلاة العدين، باب الرخصة في اللعب الذي لا معصية فيه في =
তিনি বলেন: অত:পর নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আয়েশার দিকে তাকালেন এবং বললেন: «তিনি তো আবু বকরের কন্যা» (১)।

তিনি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাকে খেলার সুযোগ করে দিতেন এবং তাকে এই আনন্দ থেকে বঞ্চিত করতেন না, বরং তিনি তাঁর খেলায় আনন্দিত হতেন এবং হাসতেন এমনকি তাঁর মাড়ির দাঁত দেখা যেত। আয়েশা (রাদিয়াল্লাহু আনহা) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: «আমি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের নিকটে পুতুল নিয়ে খেলতাম এবং আমার বান্ধবীরাও আমার সাথে খেলত। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যখন ঘরে প্রবেশ করতেন, তখন তারা তাঁর ভয়ে আত্মগোপন করত (২), তখন তিনি তাদের আমার কাছে পাঠিয়ে দিতেন (৩) এবং তারা আমার সাথে খেলত» (৪)।

তিনি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সর্বদা তাঁর হৃদয়ে আনন্দ ও উল্লাস প্রবেশ করাতে ভালোবাসতেন। তাই তিনি তাঁকে নিজের কাঁধে বহন করতেন যাতে তিনি আবিসিনীয়দের খেলা দেখতে পারেন। আয়েশা (রাদিয়াল্লাহু আনহা) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: «আল্লাহর কসম, আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে আমার কক্ষের দরজায় দাঁড়িয়ে থাকতে দেখেছি যখন আবিসিনীয়রা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের মসজিদে তাদের বর্শা নিয়ে খেলছিল। তিনি আমাকে তাঁর চাদর দিয়ে আড়াল করে রাখতেন যাতে আমি তাদের খেলা দেখতে পারি, তারপর তিনি আমার জন্য দাঁড়িয়ে থাকতেন যতক্ষণ না আমি নিজেই ফিরে যেতাম» (৫)।

--------------------------------------------

(১) বুখারি তাঁর সহিহ গ্রন্থে এটি বর্ণনা করেছেন, ‘হাদিয়া এবং এর ফজিলত ও এর প্রতি উৎসাহ প্রদান’ অধ্যায়, অনুচ্ছেদ: ‘যে ব্যক্তি তার সঙ্গীকে হাদিয়া দেয় এবং তার স্ত্রীদের মধ্যে একজনের পালার দিনটি অন্বেষণ করে’ ৩/ ১৫৬, নম্বর (২৫৮১); এবং মুসলিম তাঁর সহিহ গ্রন্থে, ‘সাহাবিগণের ফজিলত’ অধ্যায়, ‘আয়েশা (রাদিয়াল্লাহু আনহা)-এর ফজিলত’ অনুচ্ছেদ ৪/ ১৮৯১, নম্বর (২৪৪২)।

(২) অর্থাৎ: তারা তাঁর থেকে আত্মগোপন করত এবং পর্দার আড়ালে চলে যেত। দেখুন: আবু উবাইদকৃত ‘গারিবুল হাদিস’ ৪/ ৩১৫, এবং ‘ফাতহুল বারি’ ১০/ ৫২৭।

(৩) অর্থাৎ: তিনি তাদের একের পর এক পাঠাতেন। দেখুন: ‘আন-নিহায়াহ ফি গারিবিল হাদিস ওয়াল আসার’ ২/ ৩৫৬, এবং ‘ফাতহুল বারি’ ১/ ১৩১।

(৪) বুখারি তাঁর সহিহ গ্রন্থে এটি বর্ণনা করেছেন, ‘আদব’ অধ্যায়, ‘মানুষের সাথে হাসিমুখে মেলামেশা’ অনুচ্ছেদ ৮/ ৩১, নম্বর (৬১৩০); এবং মুসলিম তাঁর সহিহ গ্রন্থে, ‘সাহাবিগণের ফজিলত’ অধ্যায়, ‘আয়েশা (রাদিয়াল্লাহু আনহা)-এর ফজিলত’ অনুচ্ছেদ ৪/ ১৮৯০, নম্বর (২৪৪০)।

(৫) বুখারি তাঁর সহিহ গ্রন্থে এটি বর্ণনা করেছেন, ‘সালাত’ অধ্যায়, ‘মসজিদে বর্শা চালনাকারীদের অনুচ্ছেদ’ ১/ ৯৮, নম্বর (৪৫৪); এবং মুসলিম তাঁর সহিহ গ্রন্থে, ‘দুই ঈদের সালাত’ অধ্যায়, ‘যে খেলায় পাপাচার নেই তার অনুমতির অনুচ্ছেদ’...
(খণ্ড: ১) ইজলাউল হাকীকাহ ফী সীরাতি আইশাহ আস-সিদ্দীকাহ (পৃষ্ঠা: ৩৪)
وكان صلى الله عليه وسلم من شدة حبه لها ينزل إلى رغباتها ويشاركها في لعبها، فعنها رضي الله عنها: «أَنَّهَا كَانَتْ مَعَ النَّبِيّ صلى الله عليه وسلم فِي سَفَرٍ، قَالَتْ: فَسَابَقْتُهُ فَسَبَقْتُهُ عَلَى رِجْلَيَّ، فَلَمَّا حَمَلْتُ اللَّحْمَ (1) سَابَقْتُهُ فَسَبَقَنِي فَقَالَ: "هَذِهِ بِتِلْكَ السَّبْقَةِ"» (2).

وكان النَّبِيّ صلى الله عليه وسلم إذا افتقدها قال: «وَاعَرُوْسَاهُ» (3).

وقد وجعت يومًا فقالت: "وارأساه" فقال النَّبِيّ صلى الله عليه وسلم: «بَلْ أَنَا وَارَأْسَاهُ» (4)، قال بدر الدين الزركشي (5) رحمه الله: "فيه إشارة للغاية في الموافقة حتى تألم بألمها فكأنه

--------------------------------------------

= أيام العيد 2/ 609، رقم (892).

(1) أَي: سَمِنْتُ وبَدنْتُ. ينظر: تهذيب اللغة 14/ 102، ولسان العرب 13/ 48.

(2) أخرجه أبو داود في سننه، كتاب الجهاد، باب في السبق على الرجل 3/ 29، رقم (2578)، والنسائي في الكبرى، كتاب عشرة النساء، باب مسابقة الرجل زوجته 8/ 177، رقم (8893)، و8/ 178، رقم (8895)، وابن ماجه في سننه، كتاب النكاح، باب حسن معاشرة النساء 1/ 636، رقم (1979)، وأحمد 40/ 144، رقم (24118)، وابن حبان في صحيحه 10/ 545، رقم (4691)، والطبراني في المعجم الكبير 23/ 47، رقم (125)، والحديث صححه العراقي في تخريج الإحياء ص (482)، وابن الملقن في البدر المنير 9/ 424، والألباني في إرواء الغليل 5/ 327، رقم (1502).

(3) أخرجه أحمد 43/ 216، رقم (26112) من حديث عَائِشَة رضي الله عنها، قال الهيثمي في مجمع الزوائد 9/ 228: "رواه أحمد، وفيه أبو شداد ولم أعرفه، وبقية رجاله رجال الصحيح"، والحديث ضعفه محققو المسند 43/ 216 (طبعة الرسالة).

(4) أخرجه البخاري في صحيحه، كتاب الأحكام، باب الاستخلاف 9/ 80، رقم (7217) من حديث عَائِشَة رضي الله عنها.

(5) هو: محمد بن بهادر بن عبد الله، بدر الدين، الزركشي، فقيه شافعي أصولي، تركي الأصل، مصري المولد والوفاة، له تصانيف كثيرة في عدة فنون، من تصانيفه: (البحر المحيط)، و (إعلام الساجد بأحكام المساجد)؛ مات سنة (794هـ).
রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর প্রতি অত্যধিক ভালোবাসার কারণে তাঁর ইচ্ছা পূরণ করতেন এবং তাঁর খেলাধুলায় অংশগ্রহণ করতেন। তাঁর (আয়েশা রাদিয়াল্লাহু আনহা) থেকে বর্ণিত: তিনি এক সফরে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সাথে ছিলেন। তিনি বলেন: আমি তাঁর সাথে দৌড় প্রতিযোগিতা করলাম এবং আমি আমার পায়ে হেঁটে তাঁর আগে চলে গেলাম। পরবর্তীতে যখন আমার শরীরে মাংস বৃদ্ধি পেল (১), আমি পুনরায় তাঁর সাথে দৌড় প্রতিযোগিতা করলাম এবং তিনি আমার আগে চলে গেলেন। তখন তিনি বললেন: "এই জয় সেই জয়ের বদলে।" (২)।

নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যখন তাঁকে কাছে পেতেন না তখন বলতেন: "হায় আমার নববধু!" (৩)।

একদা তিনি (আয়েশা) ব্যথিত হয়ে বললেন: "হায়, আমার মাথা (ব্যথা করছে)!" তখন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন: "বরং আমিই বলছি, হায় আমার মাথা!" (৪)। বদরুদ্দিন যারকাশি (৫) রহমাতুল্লাহি আলাইহি বলেন: "এতে (তাদের দুজনের মধ্যকার) একাত্মতার চূড়ান্ত ইঙ্গিত রয়েছে, এমনকি তিনি তাঁর ব্যথায় ব্যথিত হতেন, যেন তিনি..."

--------------------------------------------

= ঈদের দিনসমূহ ২/৬০৯, নম্বর (৮৯২)।

(১) অর্থাৎ: আমি মোটা ও স্থূলকায় হয়েছিলাম। দ্রষ্টব্য: তাহযীবুল লুগাহ ১৪/১০২, এবং লিসানুল আরব ১৩/৪৮।

(২) আবু দাউদ তাঁর সুনানে বর্ণনা করেছেন, কিতাবুল জিহাদ, পায়ে হেঁটে প্রতিযোগিতার পরিচ্ছেদ ৩/২৯, নম্বর (২৫৭৮); নাসাঈ আল-কুবরা গ্রন্থে, কিতাবু আশরাতিল নিসা, স্ত্রীর সাথে স্বামীর দৌড় প্রতিযোগিতা পরিচ্ছেদ ৮/১৭৭, নম্বর (৮৮৯৩), এবং ৮/১৭৮, নম্বর (৮৮৯৫); ইবনে মাজাহ তাঁর সুনানে, কিতাবুন নিকাহ, নারীদের সাথে উত্তম আচরণের পরিচ্ছেদ ১/৬৩৬, নম্বর (১৯৭৯); আহমদ ৪০/১৪৪, নম্বর (২৪১১৮); ইবনে হিব্বান তাঁর সহিহ গ্রন্থে ১০/৫৪৫, নম্বর (৪৬৯১); তাবারানি আল-মু'জামুল কবির গ্রন্থে ২৩/৪৭, নম্বর (১২৫)। হাদিসটি আল-ইরাকি তাখরিজুল ইহয়া গ্রন্থে (পৃ. ৪৮২), ইবনুল মুলাক্কিন আল-বদরুল মুনীর গ্রন্থে ৯/৪২৪ এবং আলবানী ইরওয়াউল গালীল গ্রন্থে ৫/৩২৭, নম্বর (১৫০২) সহিহ বলেছেন।

(৩) আহমদ এটি বর্ণনা করেছেন ৪৩/২১৬, নম্বর (২৬১১২) আয়েশা রাদিয়াল্লাহু আনহা-এর হাদিস থেকে। হাইসামি মাজমাউয যাওয়াইদ গ্রন্থে (৯/২২৮) বলেছেন: "আহমদ এটি বর্ণনা করেছেন এবং এতে আবু শাদ্দাদ রয়েছেন যাকে আমি চিনি না, বাকি বর্ণনাকারীগণ সহিহ-এর বর্ণনাকারী।" মুসনাদ আহমদের মুহাক্কিকগণ হাদিসটিকে দুর্বল বলেছেন ৪৩/২১৬ (রিসালাহ সংস্করণ)।

(৪) বুখারী তাঁর সহিহ গ্রন্থে বর্ণনা করেছেন, কিতাবুল আহকাম, স্থলাভিষিক্ত করা পরিচ্ছেদ ৯/৮০, নম্বর (৭২১৭) আয়েশা রাদিয়াল্লাহু আনহা-এর হাদিস থেকে।

(৫) তিনি হলেন: মুহাম্মদ বিন বাহাদুর বিন আব্দুল্লাহ, বদরুদ্দিন যারকাশি; একজন শাফেয়ী ফকিহ ও উসূলবিদ। বংশসূত্রে তুর্কি, জন্ম ও মৃত্যু মিশরে। বিভিন্ন শাস্ত্রে তাঁর অনেক রচনা রয়েছে। তাঁর রচনাবলির মধ্যে রয়েছে: (আল-বাহরুল মুহিত) এবং (ইলামুস সাজিদ বি-আহকামিল মাসাজিদ); তিনি ৭৯৪ হিজরিতে মৃত্যুবরণ করেন।
(খণ্ড: ১) ইজলাউল হাকীকাহ ফী সীরাতি আইশাহ আস-সিদ্দীকাহ (পৃষ্ঠা: ৩৫)
أخبرها بصدق محبته حتى واساها في الألم" (1).

وكان صلى الله عليه وسلم متمسكًا بحبها حتى فارق الدنيا، ويدل على ذلك اختياره صلى الله عليه وسلم أن يمرض في بيتها، ووفاته بين سحرها ونحرها، ودفنه في بيتها.

--------------------------------------------

= ينظر في ترجمته: طبقات الشافعية لابن قاضى شهبة 3/ 167، والدرر الكامنة 5/ 133، وشذرات الذهب 6/ 335.

(1) الإجابة لإيراد ما استدركته عَائِشَة على الصحابة ص (53).
তিনি তাঁকে তাঁর ভালোবাসার সত্যতা সম্পর্কে অবহিত করেছিলেন, এমনকি ব্যথার সময়ও তাঁকে সান্ত্বনা দিয়েছিলেন" (১)।

রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) ইহকাল ত্যাগ করা পর্যন্ত তাঁর ভালোবাসায় অবিচল ছিলেন; এর প্রমাণ হলো তাঁর ঘরেই অসুস্থকালীন সময় অতিবাহিত করার বিষয়টি নির্বাচন করা, তাঁর বুক ও কণ্ঠনালীর মাঝখানে ইন্তেকাল করা এবং তাঁর ঘরেই সমাহিত হওয়া।

--------------------------------------------

= তাঁর জীবনী সম্পর্কে দেখুন: ইবনে কাযী শুহবাহ রচিত 'তাবাকাতুশ শাফিইয়্যাহ' ৩/১৬৭, 'আদ-দুরারুল কামিনাহ' ৫/১৩৩ এবং 'শাযারাতুয যাহাব' ৬/৩৩৫।

(১) 'আল-ইজাবাহ লি-ইরাদি মা ইস্তাদরাকাতহু আয়িশাতু আলাস সাহাবাহ', পৃষ্ঠা (৫৩)।
(খণ্ড: ১) ইজলাউল হাকীকাহ ফী সীরাতি আইশাহ আস-সিদ্দীকাহ (পৃষ্ঠা: ৩৭)
‌‌المبحث الخامس

منزلتها عند المؤمنين

أُمّ المؤمنين عَائِشَة رضي الله عنها لها مكانة عالية في قلوب المؤمنين، من لَدُن الصحابة والتابعين إلى عصرنا هذا، ففي عهد النَّبِيّ صلى الله عليه وسلم، كان المسلمون إذا كانت عند أحدهم هدية يريد أن يهديها إلى رسول الله صلى الله عليه وسلم، أخرها حتى إذا كان رسول الله صلى الله عليه وسلم في بيت عَائِشَة، بعث صاحب الهدية بها إلى رسول الله صلى الله عليه وسلم في بيت عَائِشَة رضي الله عنها (1).

وها هو ابن عباس رضي الله عنه عندما زارها في مرضها الذي ماتت فيه، قال لها: «أَنْتِ بِخَيْرٍ إِنْ شَاءَ اللَّهُ، زَوْجَةُ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم، وَلَمْ يَنْكِحْ بِكْرًا غَيْرَكِ، وَنَزَلَ عُذْرُكِ مِنَ السَّمَاءِ» (2).

وها هي سودة رضي الله عنها وهبت يومها لعائشة خاصة، فعن عَائِشَة رضي الله عنها: «مَا رَأَيْتُ امْرَأَةً أَحَبَّ إِلَيَّ أَنْ أَكُونَ فِي مِسْلاخِهَا (3) مِنْ سَوْدَةَ بِنْتِ زَمْعَةَ، مِنِ امْرَأَةٍ فِيهَا حِدَّةٌ (4)، قَالَتْ: فَلَمَّا كَبِرَتْ، جَعَلَتْ يَوْمَهَا مِنْ رَسُولِ اللهِ صلى الله عليه وسلم لعَائِشَة،

--------------------------------------------

(1) سبق تخريجه.

(2) أخرجه البخاري في صحيحه، كتاب تفسير القرآن، باب {وَلَوْلَا إِذْ سَمِعْتُمُوهُ قُلْتُمْ مَا يَكُونُ لَنَا أَنْ نَتَكَلَّمَ بِهَذَا سُبْحَانَكَ هَذَا بُهْتَانٌ عَظِيمٌ} 6/ 106، رقم (4753).

(3) المِسْلاخ: الجلد، والمعنى: أنها تمنت أن تكون مثل هيئتها وطريقتها. ينظر: النهاية في غريب الحديث والأثر 2/ 389، وتاج العروس 7/ 272.

(4) قال القَاضِي عياض: " (من) هُنَا للْبَيَان واستفتاح الْكَلام، وَلم ترد عَائِشَة عيب سَوْدَة بذلك بل وصفتها بِقُوَّة النَّفس وجودة القريحة". إكمال المعلم 4/ 664، وينظر: شرح النووي على مسلم 10/ 48، وشرح السيوطي على مسلم 4/ 70.
পঞ্চম পরিচ্ছেদ

মুমিনদের নিকট তাঁর মর্যাদা

উম্মুল মুমিনীন আয়েশা (রাযিয়াল্লাহু আনহা) সাহাবী ও তাবিঈদের যুগ থেকে শুরু করে আমাদের এই সময় পর্যন্ত মুমিনদের অন্তরে এক উচ্চ মর্যাদাপূর্ণ স্থানের অধিকারী। নাবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর যুগে, মুসলমানদের কারো কাছে যদি রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-কে উপহার দেওয়ার মতো কোনো হাদিয়া থাকত, তবে তিনি তা বিলম্ব করতেন; যতক্ষণ না রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) আয়েশার ঘরে যেতেন। তখন উপহারদাতা সেই হাদিয়া রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর নিকট আয়েশা (রাযিয়াল্লাহু আনহা)-এর ঘরে পাঠিয়ে দিতেন (১)।

আর এই যে ইবনে আব্বাস (রাযিয়াল্লাহু আনহু), যখন তিনি তাঁর সেই অসুস্থতার সময় তাঁকে দেখতে যান যাতে তিনি ইন্তেকাল করেছিলেন, তখন তিনি তাঁকে বলেছিলেন: «আপনি কল্যাণের ওপর আছেন ইনশাআল্লাহ; আপনি রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর সহধর্মিণী, আর তিনি আপনি ব্যতীত অন্য কোনো কুমারী নারীকে বিবাহ করেননি এবং আসমান থেকে আপনার নির্দোষিতার ঘোষণা অবতীর্ণ হয়েছে» (২)।

আবার এই যে সাওদা (রাযিয়াল্লাহু আনহা), তিনি বিশেষভাবে তাঁর নির্ধারিত দিনটি আয়েশাকে দান করেছিলেন। আয়েশা (রাযিয়াল্লাহু আনহা) থেকে বর্ণিত: «আমি সাওদা বিনতে জামআ ব্যতীত এমন কোনো নারীকে দেখিনি যার প্রতিচ্ছবি (৩) হওয়া আমার নিকট অধিক পছন্দনীয় ছিল; তিনি ছিলেন তেজস্বিনী (৪) এক নারী। তিনি (আয়েশা) বলেন: অতঃপর যখন তিনি বার্ধক্যে উপনীত হলেন, তখন তিনি রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর সান্নিধ্যে থাকার জন্য নির্ধারিত নিজ দিনটি আয়েশার জন্য নির্দিষ্ট করে দিলেন,»

--------------------------------------------

(১) এর উৎস নির্দেশ পূর্বে অতিক্রান্ত হয়েছে।

(২) বুখারী তাঁর সহীহ গ্রন্থে এটি বর্ণনা করেছেন, কুরআন তাফসীর অধ্যায়, অনুচ্ছেদ: {যখন তোমরা তা শুনলে তখন কেন বললে না যে, এ বিষয়ে কথা বলা আমাদের সাজে না। তুমিই পবিত্র হে মহান রব! এ তো এক গুরুতর অপবাদ।} ৬/ ১০৬, নম্বর (৪৭৫৩)।

(৩) আল-মিসলাখ: এর শাব্দিক অর্থ চামড়া। এর উদ্দেশ্য হলো: তিনি তাঁর অবয়ব ও রীতিনীতির মতো হওয়ার আকাঙ্ক্ষা পোষণ করতেন। দ্রষ্টব্য: আন-নিহায়া ফী গারীবিল হাদীস ওয়াল আসার ২/ ৩৮৯, এবং তাজুল আরূস ৭/ ২৭২।

(৪) কাযী আয়ায বলেন: "এখানে 'মিন' (من) শব্দটি বর্ণনার জন্য এবং কথা শুরু করার জন্য এসেছে। আয়েশা এর মাধ্যমে সাওদার কোনো দোষ বুঝাতে চাননি, বরং তিনি তাঁকে মানসিক দৃঢ়তা ও মেধার উৎকর্ষতার গুণে ভূষিত করেছেন।" ইকমালুল মুআল্লিম ৪/ ৬৬৪, আরও দ্রষ্টব্য: মুসলিমের ওপর ইমাম নববীর শারহ ১০/ ৪৮, এবং মুসলিমের ওপর সুয়ূতী-র শারহ ৪/ ৭০।
(খণ্ড: ১) ইজলাউল হাকীকাহ ফী সীরাতি আইশাহ আস-সিদ্দীকাহ (পৃষ্ঠা: ৩৮)
قَالَتْ: يَا رَسُولَ اللهِ، قَدْ جَعَلْتُ يَوْمِي مِنْكَ لعَائِشَة، فَكَانَ رَسُولُ اللهِ صلى الله عليه وسلم، يَقْسِمُ لعَائِشَة يَوْمَيْنِ، يَوْمَهَا وَيَوْمَ سَوْدَةَ» (1).

وحتى الذين خاضوا في الإفك من الصحابة رضي الله عنهم، من غير قصد منهم، قد تابوا، وأحبوا عَائِشَة رضي الله عنها، بل دافعوا عنها أشد دفاع، ومن هؤلاء حسان بن ثابت رضي الله عنه، أنشد فيها شعرًا فقال:

رَأَيْتُكِ وَلْيَغْفِرْ لَكِ اللَّهُ حُرَّةً … مِنَ الْمُحْصَنَاتِ غَيْرَ ذَاتِ غَوَائِلِ

حَصَانٌ رَزَانٌ مَا تُزَنُّ بِرِيبَةٍ … وَتُصْبِحُ غَرْثَى مِنْ لُحُومِ الْغَوَافِلِ

عَقِيلَةُ حَيٍّ مِنْ لُؤَيِّ بْنِ غَالِبٍ … كِرَامِ الْمَسَاعِي مَجْدُهُمْ غَيْرُ زَائِلِ

مُهَذَّبَةٌ قَدْ طَيَّبَ اللَّهُ خِيمَهَا … وَطَهَّرَهَا مِنْ كُلِّ سُوءٍ وَبَاطِلِ

فَإِنْ كُنْتُ قَدْ قُلْتُ الَّذِي قَدْ زَعَمْتُمُ … فَلا رَفَعَتْ سَوْطِي إِلَيَّ أَنَامِلِي

وَكَيْفَ وَوُدِّي مَا حَيِيتُ وَنُصْرَتِي … لآلِ رَسُولِ اللَّهِ زَيْنِ الْمَحَافِلِ

لَهُ رَتَبٌ عَالٍ عَلَى النَّاسِ كُلِّهِمْ … تَقَاصَرُ عَنْهُ سَوْرَةُ الْمُتَطَاوِلِ

فَإِنَّ الَّذِي قَدْ قِيلَ لَيْسَ بِلائِطٍ … وَلَكِنَّهُ قَوْلُ امْرِئٍ بِيَ مَاحِلِ (2)

--------------------------------------------

(1) أخرجه البخاري في صحيحه، كتاب النكاح، باب المرأة تهب يومها من زوجها لضرتها، وكيف يقسم ذلك 7/ 33، رقم (5212)، ومسلم في صحيحه، كتاب الحج، باب جواز هبتها نوبتها لضرتها 2/ 1085، رقم (1463).

(2) أخرج هذه القصة البخاري في صحيحه، كتاب المغازي، باب حديث الإفك 5/ 121، رقم (4146)، ومسلم في صحيحه، كتاب فضائل الصحابة، باب فضائل حسان بن ثابت رضي الله عنه 4/ 1934، رقم (2488)، ولم يذكرا هذه الأبيات بطولها غير مطلعها، ووجدتها كاملة في: الاستيعاب 4/ 1883، والبداية والنهاية 6/ 203، وسمط النجوم العوالي 2/ 178.
তিনি বললেন: “হে আল্লাহর রাসুল, আমি আপনার নিকট থেকে আমার (বরাদ্দকৃত) দিনটি আয়েশার জন্য প্রদান করলাম।” ফলে আল্লাহর রাসুল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) আয়েশার জন্য দুই দিন—তাঁর নিজ দিন এবং সাওদাহর দিন—বরাদ্দ করতেন (১)।

এমনকি সাহাবীদের (রাদিয়াল্লাহু আনহুম) মধ্য থেকে যারা কোনো উদ্দেশ্য ছাড়াই অনিচ্ছাকৃতভাবে ইফকের (অপবাদের) ঘটনায় লিপ্ত হয়ে পড়েছিলেন, তাঁরাও তওবা করেছিলেন এবং আয়েশা (রাদিয়াল্লাহু আনহা)-কে ভালোবেসেছিলেন, বরং তাঁর পক্ষে কঠোর প্রতিরক্ষা করেছিলেন। তাঁদের মধ্যে হাসসান ইবনে সাবিত (রাদিয়াল্লাহু আনহু) অন্যতম, যিনি তাঁর শানে কবিতা আবৃত্তি করে বলেছিলেন:

আমি আপনাকে দেখেছি—আল্লাহ আপনাকে ক্ষমা করুন—একজন স্বাধীন নারী হিসেবে … যিনি সতী-সাধ্বী এবং সকল অনিষ্ট থেকে মুক্ত।

সতী-সাধ্বী ও ধীরস্থির, তাঁর চরিত্রে কোনো সন্দেহের অবকাশ নেই … এবং তিনি অসতর্ক নারীদের গীবত (মাংস ভক্ষণ) থেকে বিরত হয়েই ভোরে উপনীত হন।

তিনি লুআই ইবনে গালিব বংশের এক মহীয়সী নারী … যাদের প্রচেষ্টা অত্যন্ত সম্মানিত এবং যাদের মর্যাদা চিরস্থায়ী।

সুসংস্কৃত, আল্লাহ তাঁর স্বভাবকে পবিত্র করেছেন … এবং তাঁকে সকল মন্দ ও অসারতা থেকে পরিচ্ছন্ন রেখেছেন।

যদি আমি তা বলে থাকি যা তোমরা দাবি করছো … তবে আমার আঙুলগুলো যেন আর কখনও আমার চাবুক বহন না করে।

আর তা কীভাবে সম্ভব, অথচ যতক্ষণ আমি জীবিত আছি ততক্ষণ আমার ভালোবাসা ও সহযোগিতা … আল্লাহর রাসুলের পরিবারের জন্য নিবেদিত, যারা সকল মজলিসের শোভাবর্ধনকারী।

সমস্ত মানুষের ওপর তাঁদের এমন এক উচ্চ মর্যাদা রয়েছে … যা স্পর্শ করতে যেকোনো দাম্ভিক ব্যক্তিই অসমর্থ।

নিশ্চয়ই যা বলা হয়েছে তা আমার সাথে সংশ্লিষ্ট নয় … বরং এটি এক চক্রান্তকারী ব্যক্তির কুৎসা (২)

--------------------------------------------

(১) বুখারী তাঁর সহীহ গ্রন্থে এটি বর্ণনা করেছেন, বিবাহ অধ্যায়, অনুচ্ছেদ: স্ত্রী কর্তৃক তার দিনটি স্বামীর নিকট হতে সতীনের অনুকূলে দান করা এবং তা কীভাবে বণ্টন করা হবে, ৭/৩৩, নম্বর (৫২১২); এবং মুসলিম তাঁর সহীহ গ্রন্থে, হজ অধ্যায়, অনুচ্ছেদ: সতীনকে নিজ পালা দান করা বৈধ হওয়া প্রসঙ্গে, ২/১০৮৫, নম্বর (১৪৬৩)।

(২) বুখারী এই ঘটনাটি তাঁর সহীহ গ্রন্থে বর্ণনা করেছেন, মাগাযী অধ্যায়, ইফকের ঘটনার অনুচ্ছেদ, ৫/১২১, নম্বর (৪১৪৬); এবং মুসলিম তাঁর সহীহ গ্রন্থে, সাহাবীদের মর্যাদা অধ্যায়, হাসসান ইবনে সাবিত (রাদিয়াল্লাহু আনহু)-এর মর্যাদা অনুচ্ছেদ, ৪/১৯৩৪, নম্বর (২৪٨٨)। তাঁরা কবিতার মطلع বা শুরু ছাড়া পূর্ণাঙ্গ শ্লোকগুলো উল্লেখ করেননি; তবে আমি তা পূর্ণাঙ্গভাবে পেয়েছি: আল-ইসতিআব ৪/১৮৮৩, আল-বিদায়া ওয়ান নিহায়া ৬/২০৩ এবং সিমতুুন নুজূমিল আওয়ালি ২/১৭৮ গ্রন্থে।
(খণ্ড: ১) ইজলাউল হাকীকাহ ফী সীরাতি আইশাহ আস-সিদ্দীকাহ (পৃষ্ঠা: ৩৯)
وكذلك التابعين كانوا يجلون عَائِشَة رضي الله عنها، فكان مسروق إذا حدث عنها قال: "حدثتني الصديقة بنت الصديق، حبيبة رسول الله المبرأة من فوق سبع سماوات" (1).

وأكبر دليل على حب المؤمنين لعَائِشَة رضي الله عنها سلفًا وخلفًا، ما ألَّفَه العلماء في شأنها، فقلَّما تركوا شيئًا يتعلق بها إلاّ أفردوا فيه مصنفًا، فذكروا مناقبها ونشروا فضائلها، وردوا على أباطيل من طعن فيها، نثرًا وشعرًا.

وهذه قصيدة بلسانها نظمها أبو عمران موسى بن محمد بن عبد الله الواعظ الأندلسي (2) رحمه الله فقال:

ما شَانُ أُمِّ المُؤْمِنِينَ وَشَانِي … هُدِيَ المُحِبُّ لها وضَلَّ الشَّانِي

إِنِّي أَقُولُ مُبَيِّنًا عَنْ فَضْلِها … ومُتَرْجِمًا عَنْ قَوْلِها بِلِسَانِي

يا مُبْغِضِي لا تَأْتِ قَبْرَ مُحَمَّدٍ … فالبَيْتُ بَيْتِي والمَكانُ مَكانِي

إِنِّي خُصِصْتُ على نِساءِ مُحَمَّدٍ … بِصِفاتِ بِرٍّ تَحْتَهُنَّ مَعانِي

وَسَبَقْتُهُنَّ إلى الفَضَائِلِ كُلِّها … فالسَّبْقُ سَبْقِي والعِنَانُ عِنَانِي

مَرِضَ النَّبِيّ وماتَ بينَ تَرَائِبِي … فالْيَوْمُ يَوْمِي والزَّمانُ زَمانِي

--------------------------------------------

(1) ينظر: الطبقات الكبرى 8/ 53، وحلية الأولياء 2/ 44، وأسد الغابة 7/ 186.

(2) هو: موسى بن محمد بن عبد الله بن بهيج، المغربي، الأندلسي، الواعظ، الفقيه، العالم، من أهل المرية، نزل مصر، يكنى أبا عمران، كان من أهل العلم والأدب، وله في الزهد وغيره أشعار حُملت عنه، مات بعد سنة (496هـ).

ينظر في ترجمته: نفح الطيب 2/ 221، وفهرسة ابن خير الإشبيلي ص (370).
অনুরূপভাবে তাবিঈগণও আয়েশা (রাযিয়াল্লাহু আনহা)-কে অত্যন্ত সম্মান করতেন। মাসরূক যখন তাঁর পক্ষ থেকে বর্ণনা করতেন তখন বলতেন: "আমার নিকট বর্ণনা করেছেন সিদ্দীকের কন্যা সিদ্দীকা, আল্লাহর রাসূলের প্রিয়তমা, যাকে সাত আসমানের ওপর থেকে পবিত্র ঘোষণা করা হয়েছে" (১)।

আয়েশা (রাযিয়াল্লাহু আনহা)-র প্রতি পূর্ববর্তী এবং পরবর্তী যুগের মুমিনদের ভালোবাসার সবচেয়ে বড় প্রমাণ হলো তাঁর শানে আলেমদের রচিত গ্রন্থসমূহ। তাঁর সাথে সংশ্লিষ্ট এমন খুব কম বিষয়ই তাঁরা বাকি রেখেছেন যাতে তাঁরা স্বতন্ত্র কোনো গ্রন্থ রচনা করেননি। তাঁরা তাঁর মাহাত্ম্য উল্লেখ করেছেন, তাঁর গুণাবলী প্রচার করেছেন এবং গদ্য ও পদ্যের মাধ্যমে তাঁর সমালোচনাকারীদের অসারতা খণ্ডন করেছেন।

আর এটি তাঁর যবানিতে রচিত একটি কবিতা, যা আবু ইমরান মূসা বিন মুহাম্মদ বিন আব্দুল্লাহ আল-ওয়াইয আল-আন্দালুসী (২) (রাহিমাহুল্লাহ) রচনা করেছেন। তিনি বলেন:

উম্মুল মুমিনীনের মর্যাদা আর আমার অবস্থা কী! … তাঁর প্রেমিক হেদায়েত প্রাপ্ত হয়েছে এবং তাঁর বিদ্বেষী হয়েছে পথভ্রষ্ট।

আমি তাঁর শ্রেষ্ঠত্ব স্পষ্টভাবে ব্যক্ত করছি … এবং আমার ভাষায় তাঁর পক্ষ থেকে তর্জমান হিসেবে কথা বলছি।

হে আমার প্রতি বিদ্বেষ পোষণকারী! তুমি মুহাম্মাদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর কবরের কাছে এসো না … কারণ এই ঘরটি আমার ঘর এবং এই স্থানটি আমারই স্থান।

মুহাম্মাদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর অন্যান্য স্ত্রীদের মাঝে আমি বিশেষত্ব লাভ করেছি … এমন সব পুণ্যময় গুণের মাধ্যমে যার গভীরে গূঢ় তাৎপর্য নিহিত রয়েছে।

আমি সকল প্রকার শ্রেষ্ঠত্বে তাঁদের ছাড়িয়ে গিয়েছি … সুতরাং এই অগ্রগামিতা আমারই এবং এর নিয়ন্ত্রণও আমার হাতে।

নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) অসুস্থ হয়েছিলেন এবং আমার কোলেই ইন্তেকাল করেছিলেন … সুতরাং দিনটি আমারই দিন এবং সময়টি আমারই সময়।

--------------------------------------------

(১) দেখুন: আত-তাবাকাতুল কুবরা ৮/৫৩, হিলয়াতুল আউলিয়া ২/৪৪ এবং আসাদুল গাবাহ ৭/১৮৬।

(২) তিনি হলেন: মূসা বিন মুহাম্মদ বিন আব্দুল্লাহ বিন বাহীজ, আল-মাগরিবি, আল-আন্দালুসী, ওয়ায়েজ, ফকিহ ও আলেম। তিনি আল-মারিয়া অঞ্চলের অধিবাসী ছিলেন এবং মিশরে এসে বসবাস শুরু করেন। তাঁর উপনাম ছিল আবু ইমরান। তিনি জ্ঞান ও সাহিত্যের অধিকারী ছিলেন এবং যুহদ (পরহেযগারিতা) ও অন্যান্য বিষয়ে তাঁর কিছু কবিতা বর্ণিত আছে। তিনি ৪৯৬ হিজরীর পরে মৃত্যুবরণ করেন।

তাঁর জীবনী দেখুন: নাফহুত তীব ২/২২১ এবং ফিহরাসাত ইবনে খাইর আল-ইশবীলি পৃ. ৩৭০।