(খণ্ড: ১)
আল-ইসলাম ওয়াল লিবেরালিয়্যাহ নাকীযানি লা ইয়াজতামিআন
(পৃষ্ঠা: -)
الإسلام والليبرالية نقيضان لا يجتمعان (شحاتة صقر)
القسم: كتب عامة
الكتاب: الإسلام والليبرالية نقيضان لا يجتمعان
المؤلف: شحاتة محمد صقر
الناشر: دار الخلفاء الراشدين، دار الفتح الإسلامي
عدد الصفحات: 96
[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]
تاريخ النشر بالشاملة: 1 رمضان 1432
ইসলাম ও উদারবাদ দুটি পরস্পর বিরোধী বিষয় যা একত্রিত হয় না (শেহাতা সাকর)
বিভাগ: সাধারণ গ্রন্থাবলি
গ্রন্থ: ইসলাম ও উদারবাদ দুটি পরস্পর বিরোধী বিষয় যা একত্রিত হয় না
লেখক: শেহাতা মুহাম্মদ সাকর
প্রকাশক: দারুল খুলাফাউর রাশিদিন, দারুল ফাতহ আল-ইসলামি
পৃষ্ঠা সংখ্যা: ৯৬
[গ্রন্থের পৃষ্ঠা নম্বর মুদ্রণ কপির অনুরূপ]
শামেলা গ্রন্থাগারে প্রকাশের তারিখ: ১ রমজান ১৪৩২
(খণ্ড: ১)
আল-ইসলাম ওয়াল লিবেরালিয়্যাহ নাকীযানি লা ইয়াজতামিআন
(পৃষ্ঠা: -)
الإسلام والليبرالية نقيضان لا يجتمعانجمع وترتيبشحاتة صقردار الخلفاء الراشدين، دار الفتح الإسلامي
ইসলাম এবং লিবারেলিজম হলো পরস্পরবিরোধী দুইটি সত্তা যা একত্রিত হয় নাসংকলন ও বিন্যাসশহাতা সাকারদারুল খুলাফাউর রাশিদিন, দারুল ফাতহ আল-ইসলামি
(খণ্ড: ১)
আল-ইসলাম ওয়াল লিবেরালিয়্যাহ নাকীযানি লা ইয়াজতামিআন
(পৃষ্ঠা: ২)
حقوق الطبع محفوظة رقم الإيداع:دار الخلفاء الراشدين، دار الفتح الإسلاميالإسكندرية ـ 3 ش عمر ــ أبو سليمان … الإسكندرية ــ مصطفي كاملأمام مسجد الخلفاء الراشدين … بجوار مسجد الفتح الإسلامي0120152908/ 0105013151 … 0102771060/ 0106714768
সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত নিবন্ধন নম্বর:দারুল খুলাফাউর রাশিদিন, দারুল ফাতহ আল-ইসলামিআলেকজান্দ্রিয়া — ৩ ওমর সড়ক — আবু সুলাইমান … আলেকজান্দ্রিয়া — মোস্তফা কামেলখুলাফাউর রাশিদিন মসজিদের সামনে … আল-ফাতহ আল-ইসলামি মসজিদের পাশে০১২০১৫২৯০৮/ ০১০৫০১৩১৫১ … ০১০২৭৭১০৬০/ ০১০৬৭১৪৭৬৮
(খণ্ড: ১)
আল-ইসলাম ওয়াল লিবেরালিয়্যাহ নাকীযানি লা ইয়াজতামিআন
(পৃষ্ঠা: ৩)
قال تعالى: {فَلَا وَرَبِّكَ لَا يُؤْمِنُونَ حَتَّى يُحَكِّمُوكَ فِيمَا شَجَرَ بَيْنَهُمْ ثُمَّ لَا يَجِدُوا فِي أَنْفُسِهِمْ حَرَجًا مِمَّا قَضَيْتَ وَيُسَلِّمُوا تَسْلِيمًا (65)} (النساء:65).قال تعالى: {أَلَمْ تَرَ إِلَى الَّذِينَ يَزْعُمُونَ أَنَّهُمْ آمَنُوا بِمَا أُنْزِلَ إِلَيْكَ وَمَا أُنْزِلَ مِنْ قَبْلِكَ يُرِيدُونَ أَنْ يَتَحَاكَمُوا إِلَى الطَّاغُوتِ وَقَدْ أُمِرُوا أَنْ يَكْفُرُوا بِهِ وَيُرِيدُ الشَّيْطَانُ أَنْ يُضِلَّهُمْ ضَلَالًا بَعِيدًا (60) وَإِذَا قِيلَ لَهُمْ تَعَالَوْا إِلَى مَا أَنْزَلَ اللَّهُ وَإِلَى الرَّسُولِ رَأَيْتَ الْمُنَافِقِينَ يَصُدُّونَ عَنْكَ صُدُودًا (61)} (النساء: 61).قال تعالى: {وَمَنْ يَعْشُ عَنْ ذِكْرِ الرَّحْمَنِ نُقَيِّضْ لَهُ شَيْطَانًا فَهُوَ لَهُ قَرِينٌ (36) وَإِنَّهُمْ لَيَصُدُّونَهُمْ عَنِ السَّبِيلِ وَيَحْسَبُونَ أَنَّهُمْ مُهْتَدُونَ (37)} (الزخرف: 36 - 37).قال تعالى: {إِنَّ الَّذِينَ كَفَرُوا يُنْفِقُونَ أَمْوَالَهُمْ لِيَصُدُّوا عَنْ سَبِيلِ اللَّهِ فَسَيُنْفِقُونَهَا ثُمَّ تَكُونُ عَلَيْهِمْ حَسْرَةً ثُمَّ يُغْلَبُونَ وَالَّذِينَ كَفَرُوا إِلَى جَهَنَّمَ يُحْشَرُونَ (36)} (الأنفال: 36).
মহান আল্লাহ বলেন: {সুতরাং না, তোমার রবের শপথ, তারা মুমিন হতে পারবে না যতক্ষণ না তারা তাদের পারস্পরিক বিবাদের বিষয়ে তোমাকে বিচারক মনোনীত করে, অতঃপর তুমি যা ফয়সালা করো সে সম্পর্কে তাদের মনে কোনো সংকোচ না থাকে এবং তারা তা পূর্ণরূপে মেনে নেয়।} (নিসা: ৬৫)।মহান আল্লাহ বলেন: {তুমি কি তাদের প্রতি লক্ষ্য করোনি যারা দাবি করে যে, তারা তোমার প্রতি যা অবতীর্ণ হয়েছে এবং তোমার পূর্বে যা অবতীর্ণ হয়েছে তার ওপর ঈমান এনেছে? অথচ তারা তাগুতের নিকট বিচার নিয়ে যেতে চায়, যদিও তাদেরকে তা প্রত্যাখ্যান করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। আর শয়তান তাদেরকে সুদূরপ্রসারী বিভ্রান্তিতে ফেলতে চায়। আর যখন তাদের বলা হয়, আল্লাহ যা অবতীর্ণ করেছেন তার দিকে এবং রাসুলের দিকে এসো, তখন তুমি মুনাফিকদের দেখবে তোমার নিকট থেকে সম্পূর্ণরূপে মুখ ফিরিয়ে নিতে।} (নিসা: ৬০-৬১)।মহান আল্লাহ বলেন: {যে ব্যক্তি পরম দয়াময় আল্লাহর জিকির থেকে বিমুখ হয়, আমি তার জন্য এক শয়তানকে নিয়োজিত করি, ফলে সে হয় তার সহচর। আর এই শয়তানগুলোই তাদেরকে সরল পথ থেকে বাধা দান করে, অথচ তারা মনে করে যে তারা সুপথপ্রাপ্ত।} (যুখরুফ: ৩৬-৩৭)।মহান আল্লাহ বলেন: {নিশ্চয় যারা কুফরি করেছে তারা আল্লাহর পথ থেকে বাধা দেওয়ার জন্য তাদের ধন-সম্পদ ব্যয় করে। অচিরেই তারা তা ব্যয় করবে, অতঃপর তা তাদের জন্য আফসোসের কারণ হবে, তারপর তারা পরাজিত হবে। আর যারা কুফরি করেছে তাদেরকে জাহান্নামের দিকে একত্রিত করা হবে।} (আনফাল: ৩৬)।
(খণ্ড: ১)
আল-ইসলাম ওয়াল লিবেরালিয়্যাহ নাকীযানি লা ইয়াজতামিআন
(পৃষ্ঠা: ৪)
سؤالان يوضحانالفرق بين الإسلام والليبراليةالسؤال … الإسلام … الليبراليةمَن له حق التحليل والتحريم؟ مَن له الحق أن يقول: هذا حلال وهذا حرام؟ … اللهُ سبحانه وتعالى خالقُ البشر الذي خلقهم ويعلم ما فيه مصلحتهم. … على النطاق الفردي كل شخص حُرٌ يفعل ما يشاء، أما على نطاق المجتمع فما رآه أغلبية الشعب حلالًا فهو حلال وما رأوه حرامًا فهو حرام.ما حكم الزنا، والشذوذ الجنسي، والربا وشرب الخمر؟ … من كبائر الذنوب ومن اعتقد أن أيًا منها حلال فهو كافر. … على نطاق الفرد حرية شخصية، أما بالنسبة للمجتمع فهو حسب رأي أغلبية الشعب.
ইসলাম ও লিবারেলিজমের (উদারতাবাদ) মধ্যবর্তী পার্থক্য স্পষ্টকারী দুটি প্রশ্নপ্রশ্ন … ইসলাম … লিবারেলিজমবৈধকরণ ও নিষিদ্ধকরণের অধিকার কার? কার এই অধিকার আছে যে সে বলবে: এটি হালাল (حلال) এবং এটি হারাম (حرام)? … আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআলা মানুষের স্রষ্টা, যিনি তাদের সৃষ্টি করেছেন এবং তিনি জানেন কিসে তাদের কল্যাণ নিহিত রয়েছে। … ব্যক্তিগত পরিসরে প্রত্যেক ব্যক্তি স্বাধীন, সে যা ইচ্ছা তা-ই করতে পারে; তবে সামাজিক পরিসরে জনগণের সংখ্যাগরিষ্ঠ অংশ যা হালাল (حلال) মনে করে তা-ই হালাল (حلال), আর তারা যা হারাম (حرام) মনে করে তা-ই হারাম (حرام)।ব্যভিচার (زنا), সমকামিতা, সুদ (ربا) এবং মদ্যপানের বিধান কী? … এগুলো কবিরা গুনাহের (كبائر الذنوب) অন্তর্ভুক্ত এবং যে ব্যক্তি বিশ্বাস করে যে এর যেকোনোটি হালাল (حلال), সে কাফির (كافر)। … ব্যক্তিগত ক্ষেত্রে এটি ব্যক্তিগত স্বাধীনতা, আর সমাজের ক্ষেত্রে এটি জনগণের সংখ্যাগরিষ্ঠ মতামতের ওপর নির্ভরশীল।
(খণ্ড: ১)
আল-ইসলাম ওয়াল লিবেরালিয়্যাহ নাকীযানি লা ইয়াজতামিআন
(পৃষ্ঠা: ৫)
مقدمةإِنَّ الْحَمْدَ لِلهِ نَحْمَدُهُ وَنَسْتَعِينُهُ وَنَسْتَغْفِرُهُ، وَنَعُوذُ بِاللهِ مِنْ شُرُورِ أَنْفُسِنَا وَمِنْ سَيِّئَاتِ أَعْمَالِنَا، مَنْ يَهْدِهِ اللهُ فَلَا مُضِلَّ لَهُ، وَمَنْ يُضْلِلْ فَلَا هَادِىَ لَهُ، وَأَشْهَدُ أَنْ لَا إِلَهَ إِلَاّ اللهُ وَحْدَهُ لَا شَرِيكَ لَهُ، وَأَشْهَدُ أَنَّ مُحَمَّدًا عَبْدُهُ وَرَسُولُهُ.{يَاأَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا اتَّقُوا اللَّهَ حَقَّ تُقَاتِهِ وَلَا تَمُوتُنَّ إِلَّا وَأَنْتُمْ مُسْلِمُونَ (102)} (آل عمران:102).{يَاأَيُّهَا النَّاسُ اتَّقُوا رَبَّكُمُ الَّذِي خَلَقَكُمْ مِنْ نَفْسٍ وَاحِدَةٍ وَخَلَقَ مِنْهَا زَوْجَهَا وَبَثَّ مِنْهُمَا رِجَالًا كَثِيرًا وَنِسَاءً وَاتَّقُوا اللَّهَ الَّذِي تَسَاءَلُونَ بِهِ وَالْأَرْحَامَ إِنَّ اللَّهَ كَانَ عَلَيْكُمْ رَقِيبًا (1)} (النساء:1).{يَاأَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا اتَّقُوا اللَّهَ وَقُولُوا قَوْلًا سَدِيدًا (70)}. (الأحزاب:70).أَمَّا بَعْدُ، فَإِنَّ خَيْرَ الْحَدِيثِ كِتَابُ اللهِ، وَخَيْرَ الْهَدْيِ هَدْيُ مُحَمَّدٍ صلى الله عليه وآله وسلم، وَشَرَّ الأُمُورِ مُحْدَثَاتُهَا، وَكُلَّ مُحْدَثَةٍ بِدْعَةٌ،
ভূমিকানিশ্চয়ই সকল প্রশংসা আল্লাহর জন্য, আমরা তাঁর প্রশংসা করি, তাঁর নিকট সাহায্য প্রার্থনা করি এবং তাঁর নিকট ক্ষমা প্রার্থনা করি। আমরা আমাদের নফসের অনিষ্টতা এবং আমাদের মন্দ আমলসমূহ থেকে আল্লাহর আশ্রয় চাচ্ছি। আল্লাহ যাকে হিদায়াত দান করেন তাকে পথভ্রষ্ট করার কেউ নেই, আর যাকে তিনি পথভ্রষ্ট করেন তাকে পথপ্রদর্শন করার কেউ নেই। আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, আল্লাহ ছাড়া কোনো সত্য ইলাহ নেই, তিনি একক, তাঁর কোনো শরিক নেই। আমি আরও সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, মুহাম্মাদ আল্লাহর বান্দা ও তাঁর রাসূল।{হে মুমিনগণ! তোমরা আল্লাহকে যথাযথভাবে ভয় করো এবং মুসলিম না হয়ে মৃত্যুবরণ করো না।} (আলে ইমরান: ১০২)।{হে মানবকুল! তোমরা তোমাদের সেই প্রতিপালককে ভয় করো, যিনি তোমাদেরকে এক ব্যক্তি থেকে সৃষ্টি করেছেন এবং তা থেকে তার জোড়া সৃষ্টি করেছেন এবং তাঁদের উভয় থেকে বহু নর-নারী ছড়িয়ে দিয়েছেন। আর তোমরা আল্লাহকে ভয় করো, যাঁর নামে তোমরা একে অপরের নিকট যাঞ্চা করো এবং আত্মীয়তার বন্ধন ছিন্ন করা হতে সতর্ক থাকো। নিশ্চয় আল্লাহ তোমাদের উপর তীক্ষ্ণ দৃষ্টি রাখেন।} (আন-নিসা: ১)।{হে মুমিনগণ! তোমরা আল্লাহকে ভয় করো এবং সঠিক কথা বলো।} (আল-আহযাব: ৭০)।অতঃপর, নিশ্চয়ই সর্বোত্তম হাদিস হলো আল্লাহর কিতাব এবং সর্বোত্তম পথনির্দেশনা হলো মুহাম্মাদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়া সাল্লাম)-এর পথনির্দেশনা। আর নিকৃষ্টতম বিষয় হলো (দ্বীনের মধ্যে) নব-উদ্ভাবিত বিষয়সমূহ এবং প্রতিটি নব-উদ্ভাবিত বিষয়ই হলো বিদআত (بدعة),
(খণ্ড: ১)
আল-ইসলাম ওয়াল লিবেরালিয়্যাহ নাকীযানি লা ইয়াজতামিআন
(পৃষ্ঠা: ৬)
وَكُلَّ بِدْعَةٍ ضَلَالَةٌ، وَكُلَّ ضَلَالَةٍ فِى النَّارِ.عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ رضي الله عنه قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللهِ صلى الله عليه وآله وسلم: «سَيَأْتِي عَلَى النَّاسِ سَنَوَاتٌ خَدَّاعَاتُ، يُصَدَّقُ فِيهَا الْكَاذِبُ، وَيُكَذَّبُ فِيهَا الصَّادِقُ، وَيُؤْتَمَنُ فِيهَا الْخَائِنُ، وَيُخَوَّنُ فِيهَا الْأَمِينُ، وَيَنْطِقُ فِيهَا الرُّوَيْبِضَةُ»، قِيلَ: «وَمَا الرُّوَيْبِضَةُ؟» قَالَ: «الرَّجُلُ التَّافِهُ فِي أَمْرِ الْعَامَّةِ». (رواه ابن ماجه، وصححه الألباني).وفي رواية: «السَّفِيهُ يَتَكَلَّمُ فِي أَمْرِ الْعَامَّةِ».(رواه الإمام أحمد في المسند، وحسنه الأرنؤوط).وفي رواية: «الْفُوَيْسِقُ يَتَكَلَّمُ فِي أَمْرِ الْعَامَّةِ» (رواه الإمام أحمد في المسند، وحسنه الأرنؤوط).(سَنَوَاتٌ) جَمْعُ سَنَةٍ، (خَدَّاعَاتُ) الخداع المكر والحيلة، وإضافة الخداعات إلى السنوات مجازية. والمراد أهل السنوات.(الرُّوَيْبِضَةُ) تضغير رابضة. وهو العاجز الذي ربض
এবং প্রত্যেক নব-আবিষ্কৃত বিষয়ই ভ্রষ্টতা, আর প্রত্যেক ভ্রষ্টতাই জাহান্নামে।আবু হুরায়রা (রাযিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন: "মানুষের নিকট অচিরেই এমন কতগুলো প্রতারণাপূর্ণ বছর আসবে, যখন মিথ্যাবাদীকে সত্যবাদী বলা হবে এবং সত্যবাদীকে মিথ্যাবাদী বলা হবে। বিশ্বাসঘাতককে বিশ্বাস করা হবে এবং আমানতদারকে বিশ্বাসঘাতক সাব্যস্ত করা হবে। আর তখন 'রুওয়াইবিদ্বাহ' কথা বলবে।" জিজ্ঞেস করা হলো: "'রুওয়াইবিদ্বাহ' কী?" তিনি বললেন: "সামান্য ও তুচ্ছ ব্যক্তি যে জনগণের গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে কথা বলবে।" (ইবনে মাজাহ এটি বর্ণনা করেছেন এবং আলবানী একে সহিহ সাব্যস্ত করেছেন (صححه))।অন্য একটি বর্ণনায় (رواية) আছে: "নির্বোধ ব্যক্তি যে জনগণের গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে কথা বলবে।"(ইমাম আহমাদ এটি মুসনাদে বর্ণনা করেছেন এবং আরনাউত একে হাসান সাব্যস্ত করেছেন (حسنه))।অন্য একটি বর্ণনায় (رواية) আছে: "পাপিষ্ঠ ব্যক্তি যে জনগণের গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে কথা বলবে" (ইমাম আহমাদ এটি মুসনাদে বর্ণনা করেছেন এবং আরনাউত একে হাসান সাব্যস্ত করেছেন (حسنه))।(সানাওয়াত) শব্দটি 'সানাহ' (বছর) এর বহুবচন। (খাদদা'আত) অর্থ হলো প্রতারণা, চাতুর্য ও কৌশল। বছরগুলোর সাথে প্রতারণার বিশেষণ যুক্ত করাটি রূপক। এর দ্বারা মূলত ওই বছরগুলোর অধিবাসীদের বোঝানো হয়েছে।(আর-রুওয়াইবিদ্বাহ) শব্দটি 'রাবিদ্বাহ' এর ক্ষুদ্রার্থবোধক রূপ। সে হলো সেই অক্ষম ব্যক্তি যে নিস্তেজ হয়ে পড়ে থাকে।
(খণ্ড: ১)
আল-ইসলাম ওয়াল লিবেরালিয়্যাহ নাকীযানি লা ইয়াজতামিআন
(পৃষ্ঠা: ৭)
عن معالي الأمور وقعد عن طلبها، وَالتَّافِهُ الْحَقِيرُ الْيَسِيرُ، أَيْ: قَلِيلُ الْعِلْمِ» (1).ونحن في زمن اختلطت فيه بعض المفاهيم على كثير من الناس فانخدعوا بأبواق الإعلام العلماني المعادي لكل ما هو إسلامي، وصار - عند هؤلاء المخدوعين – بعض الحقِّ باطلًا وبعض الباطلِ حقًّا، متأثرين بالمتعالمين وأدعياء الثقافة وأعداء الإسلام الذين يحاولون جاهدين تشويه منهج الإسلام العظيم عن طريق تشويه الدعاة إليه، وإثارة الشبهات حوله.ومن المفاهيم التي التبسَتْ على الناس مفهوم (الليبرالية) التي ظن بعض الناس أنها تعني الحرية التي كانوا منها محرومين، وكانوا إليها تواقين، ولم يدركوا معناها الحقيقي الذي يخالف أصول الإسلام، والذي يجعلها دينًا عند أهلها،
--------------------------------------------
(1) بتصرف من حاشية السندي على سنن ابن ماجه، ومن تعليق محمد فؤاد عبد الباقي عليها.
...উচ্চতর বিষয়সমূহ অন্বেষণ করা থেকে বিরত হয়েছে; সে হলো তুচ্ছ, নগণ্য ও অকিঞ্চিৎকর ব্যক্তি, অর্থাৎ: স্বল্প ইলমসম্পন্ন (قليل العلم) ব্যক্তি।" (১)।আমরা এমন এক যুগে বাস করছি যেখানে বহু মানুষের নিকট কতিপয় ধারণা অস্পষ্ট হয়ে পড়েছে, ফলে তারা ইসলাম-বিদ্বেষী ধর্মনিরপেক্ষ প্রচারমাধ্যমের ডামাডোলে প্রতারিত হয়েছে। এই প্রতারিত ব্যক্তিদের নিকট কিছু সত্য মিথ্যায় এবং কিছু মিথ্যা সত্যে পরিণত হয়েছে। তারা মূলত সেইসব ছদ্ম-বিদ্বান (المتعالمين), সংস্কৃতির দাবিদার এবং ইসলামের শত্রুদের দ্বারা প্রভাবিত হয়েছে, যারা ইসলামের দাঈদের চরিত্রহনন এবং ইসলাম সম্পর্কে সংশয় সৃষ্টির মাধ্যমে মহান ইসলামের আদর্শকে বিকৃত করার আপ্রাণ চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে।মানুষের নিকট সংশয়যুক্ত হয়ে পড়া ধারণাগুলোর অন্যতম হলো 'উদারতাবাদ', যা সম্পর্কে কিছু লোক ধারণা করেছে যে এটি কেবল সেই স্বাধীনতা যা থেকে তারা বঞ্চিত ছিল এবং যার প্রতি তারা লালায়িত ছিল। তারা এর প্রকৃত অর্থ অনুধাবন করতে পারেনি, যা ইসলামের মূলনীতির (أصول الإسلام) পরিপন্থী এবং যা এর অনুসারীদের নিকট একটি স্বতন্ত্র দ্বীন বা ধর্ম হিসেবে গণ্য হয়।
--------------------------------------------
(১) সুনান ইবনে মাজাহ-এর ওপর আস-সিনদীর হাশিয়া এবং মুহাম্মদ ফুয়াদ আব্দুল বাকির টীকা হতে পরিমার্জিত।
(খণ্ড: ১)
আল-ইসলাম ওয়াল লিবেরালিয়্যাহ নাকীযানি লা ইয়াজতামিআন
(পৃষ্ঠা: ৮)
كما سيرى القارئ الكريم في صفحات هذا الكُتَيّب.وقد كَثُر في الآوِنِة الأَخيرةِ تَرديدُ كَلِمِةِ (اللِيبراليِّةِ) عَلى أَلسنِةِ النِّاس، وَعَلى صَفحاتِ الصُّحُفِ اليَوميِّة وَغَيرِها مِنَ وَسائِل الإعلام، بَعدَ أَن نَشَأَت في بلاد المسلمين أَحزابٌ تَنتَسِبُ إِلى هذِهِ العَقيدةِ الضالَّة، وَغَدَت تَدعُو إِلى مَبادِئِها الهَدَّامةِ، مِثل:? الدعوة إلى تَرْك الاحتكام إلى الشريعة الإلهيِّة بدعوى اللحاق بركب المستقبل.? وإلى السماح بنشر الدعوة إلى الكفر والإلحاد، بدعوى التسامح والانفتاح على الثقافات الأُخرى واحترام حريِّة الرأي والنشر والتعبير.? وإلى الهبوط من سموِّ الأخلاق الإسلامية، إلى حضيضِ الرذائل البهيميِّة، تحت شعار الحريّة الشخصيّة.? وإلى محاربة الفضيلة وحجاب المرأة والعفاف والشيم الكريمة.
সম্মানিত পাঠক এই ক্ষুদ্র পুস্তিকার পাতাগুলোতে যেমনটি দেখতে পাবেন।সম্প্রতি মানুষের মুখে মুখে, দৈনিক সংবাদপত্রের পাতায় এবং অন্যান্য প্রচারমাধ্যমে 'উদারতাবাদ' শব্দটির ব্যবহারের ব্যাপকতা লক্ষ্য করা যাচ্ছে; বিশেষ করে মুসলিম দেশগুলোতে এই পথভ্রষ্ট আকিদার অনুসারী বিভিন্ন দল সৃষ্টি হওয়ার পর। তারা এখন তাদের এই ধ্বংসাত্মক মূলনীতিগুলোর দিকে আহ্বান জানাচ্ছে, যেমন:? ভবিষ্যতের অগ্রযাত্রায় শামিল হওয়ার অজুহাতে খোদায়ী শরিয়তের শাসন পরিত্যাগ করার আহ্বান।? সহনশীলতা, অন্য সংস্কৃতির প্রতি উদারতা এবং মতপ্রকাশ ও প্রকাশনার স্বাধীনতার দোহাই দিয়ে কুফর ও নাস্তিকতা প্রচারের সুযোগ করে দেওয়া।? ব্যক্তিগত স্বাধীনতার স্লোগানের আড়ালে উন্নত ইসলামী নৈতিকতা থেকে পশুসুলভ পাপাচারের অতল গহ্বরে পতন।? সচ্চরিত্রতা, নারীর হিজাব, পবিত্রতা এবং মহৎ গুণাবলির বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণা।
(খণ্ড: ১)
আল-ইসলাম ওয়াল লিবেরালিয়্যাহ নাকীযানি লা ইয়াজতামিআন
(পৃষ্ঠা: ৯)
وغدت هذه الأحزاب تحضُّ الناس على اعتناق هذه العقيدة التي تُدْعَى (الليبراليَّة)، وما هي سوى تخاريف شيطانيَّة، ابتدعها فلاسفة من أوربا، حقيقةُ أمرِهم أنهم زنادقة لا يؤمنون برب معبود، ولا بيومٍ مشهود، ولا يدينون بشريعة إلهيّة يلتزمونها، ولا برسول يطاع ويُتَّبَع، وإنما غاية مرامهم، تزيين المنكرات، واتباع الشهوات، والكفر بخالق الأرض والسموات.وأما هذه الأحزاب الضاَّلة فغاية مقصدها هدم الشريعة الإسلاميَّة وإلغاؤها بالكليَّة، أو عزلها من الحياة، وحصرها في المسجد والعبادات الشخصيَّة.وهدف هذه الأحزاب هو إلحاق الأمة الإسلاميِّة، بمناهج الغرب المتهتِّك الضالِّ الملحد الكافر، وطمس معالم الأخلاق الإسلاميِّة، وصدّ الناس عن التمسُّك بتعاليم الكتاب العزيز، والسنة النبويِّة الشريفة، بدعوى اللّحاق بركب الحضارة المعاصرة، كأنَّ الحضارة لا تكون إلا بالكفر والإلحاد، أو التهتك والانحلال والفساد.
আর এই দলগুলো মানুষকে ‘লিবারেলিজম’ (উদারতাবাদ) নামক এই মতবাদ গ্রহণ করার জন্য প্ররোচিত করতে শুরু করেছে, যা শয়তানি কল্পনাপ্রসূত প্রলাপ ছাড়া আর কিছুই নয়। ইউরোপের কিছু দার্শনিক এটি উদ্ভাবন করেছেন, যাদের প্রকৃত অবস্থা হলো তারা ধর্মত্যাগী (زنديق), তারা কোনো উপাস্য রবে বিশ্বাস করে না, কোনো সাক্ষ্য প্রদানের দিনে বিশ্বাস করে না, তারা কোনো ঐশী শরিয়ত মেনে চলে না এবং কোনো আনুগত্যযোগ্য ও অনুসরণযোগ্য রাসুলের অনুসরণ করে না। বরং তাদের চূড়ান্ত লক্ষ্য হলো গর্হিত বিষয়সমূহকে (منكر) সুশোভিত করা, প্রবৃত্তির অনুসরণ করা এবং আসমান ও জমিনের স্রষ্টাকে অস্বীকার করা।আর এই পথভ্রষ্ট (ضال) দলগুলোর মূল লক্ষ্য হলো ইসলামি শরিয়তকে সমূলে বিনাশ করা এবং একে সম্পূর্ণরূপে বাতিল করা, অথবা একে জীবন থেকে বিচ্ছিন্ন করে কেবল মসজিদ এবং ব্যক্তিগত ইবাদত-বন্দেগির মধ্যে সীমাবদ্ধ করে রাখা।এই দলগুলোর লক্ষ্য হলো মুসলিম উম্মাহকে নির্লজ্জ, পথভ্রষ্ট (ضال), নাস্তিক ও কাফির পাশ্চাত্যের আদর্শের অনুসারী করা এবং ইসলামি নৈতিকতার বৈশিষ্ট্যসমূহকে বিলীন করে দেওয়া। তারা সমসাময়িক সভ্যতার মিছিলে শামিল হওয়ার অজুহাতে মানুষকে মহাগ্রন্থ আল-কুরআন এবং পবিত্র নববী সুন্নাহর শিক্ষাসমূহ আঁকড়ে ধরা থেকে নিবৃত্ত করতে চায়; যেন সভ্যতা কেবল কুফরি ও নাস্তিকতা অথবা নির্লজ্জতা, অবক্ষয় এবং পাপাচারের মাধ্যমেই সম্ভব।
(খণ্ড: ১)
আল-ইসলাম ওয়াল লিবেরালিয়্যাহ নাকীযানি লা ইয়াজতামিআন
(পৃষ্ঠা: ১০)
ومن هنا كانت هذه الرسالة لكي تستبين سبيلُ المجرمين، وليأخذ المؤمنون حِذْرَهُم كما أمرهم الله سبحانه وتعالى، وليأخذوا على أيدي المفسدين فيهم، وليحذّروا من أتباع هذه الأحزاب، وليمنعوا رموز هذه الأحزاب ما استطاعوا من الوصول إلى المواقع التي تمكنهم من تطبيق أفكار أحزابهم الخبيثة على المسلمين.وأسأل الله عز وجل أن ينفعني والمسلمين بهذه الورقات وأن يرزقنا الإخلاص في السر والعلن، وصلى الله وسلم وبارك على عبده ونبيه ـ سيدنا محمد ـ وعلى آله وصحبه ومن اهتدى بهديه إلى يوم الدين.شحاتة محمد صقرsaqrmhm@gawab.comsaqrmhma@yahoo.comت: 0110967466
এ কারণেই এই পুস্তিকাটি রচিত হয়েছে যাতে অপরাধীদের পথ সুস্পষ্ট হয়ে যায় এবং মুমিনগণ মহান আল্লাহর নির্দেশানুযায়ী সতর্কতা অবলম্বন করতে পারেন। তারা যেন তাদের মধ্যকার বিপর্যয় সৃষ্টিকারীদের প্রতিহত করেন এবং এই সকল দলের অনুসারীদের ব্যাপারে সতর্ক করেন; আর এই দলগুলোর হোতাদের যথাসম্ভব এমন কোনো অবস্থানে পৌঁছানো থেকে বিরত রাখেন যা তাদের এই অশুভ দলীয় চিন্তাধারা মুসলিমদের ওপর প্রয়োগ করতে সক্ষম করে তোলে।আমি মহান আল্লাহর নিকট প্রার্থনা করি, তিনি যেন এই নিবন্ধের মাধ্যমে আমাকে ও মুসলিমদের উপকৃত করেন এবং আমাদের গোপনে ও প্রকাশ্যে একনিষ্ঠতা নসিব করেন। আল্লাহর রহমত, শান্তি ও বরকত বর্ষিত হোক তাঁর বান্দা ও নবী—আমাদের নেতা মুহাম্মাদ—এবং তাঁর পরিবার-পরিজন, সাহাবীগণ ও বিচার দিবস পর্যন্ত যারা তাঁর হেদায়াতের অনুসরণ করবে তাদের সকলের ওপর।শেহাতা মুহাম্মাদ সাকরsaqrmhm@gawab.comsaqrmhma@yahoo.comফোন: ০১১০৯৬৭৪৬৬
(খণ্ড: ১)
আল-ইসলাম ওয়াল লিবেরালিয়্যাহ নাকীযানি লা ইয়াজতামিআন
(পৃষ্ঠা: ১১)
ما هي الليبرالية؟بيان معنى العَلَمانيّة التي هي أصل الليبراليّة:العَلَمانيّة تُعْرَفُ في أوربا - وهي البلاد التي نشأت فيها - بـ: «ألاّ يكون الإنسان مُلزَمًا بتنظيم أفكاره وأعماله وفق معايير مفروضة على أنها شريعة أو إرادة إلهيِّة»، ويطلق على هذا الفكر في اللغة الانجليزية التي هي لغته الأصلية SECULARISM، وهي تعني (اللَاّدينية)، غير أنها اشتهرت باسم (العَلَمانيّة)، ولعلَّ ذلك كان مقصودًا بغيةَ إلباسها لبوسًا يجعلها مقبولة بين المسلمين.وفي قاموس (أكسفورد) عُرِّفَتْ بما يلي: «العلمانيَّة مفهوم يرى ضرورة أن تقوم الأخلاق والتعليم على أساس غير ديني».
উদারবাদ (লিবারেলিজম) কী?ধর্মনিরপেক্ষতাবাদ (العَلَمانيّة)-এর অর্থ বর্ণনা, যা উদারবাদের মূল ভিত্তি:ইউরোপে—যেখানে এই মতবাদের উৎপত্তি—ধর্মনিরপেক্ষতাবাদ (العَلَمانيّة) এভাবে পরিচিত যে: «মানুষ তার চিন্তা ও কর্মকে এমন কোনো মানদণ্ড অনুযায়ী পরিচালিত করতে বাধ্য নয়, যা শরিয়ত (شريعة) বা খোদায়ী ইচ্ছা (إرادة إلهيِّة) হিসেবে তার ওপর আরোপ করা হয়েছে।» এই চিন্তাধারাকে তার মূল ভাষা ইংরেজিতে SECULARISM বলা হয়, যার অর্থ হলো ধর্মহীনতা (اللَاّدينية)। তবে এটি ধর্মনিরপেক্ষতাবাদ (العَلَمانيّة) নামেই প্রসিদ্ধি লাভ করেছে; সম্ভবত মুসলমানদের মাঝে একে গ্রহণযোগ্য করে তোলার উদ্দেশ্যেই একে এমন রূপ দেওয়া হয়েছে।অক্সফোর্ড ডিকশনারিতে একে এভাবে সংজ্ঞায়িত করা হয়েছে: «ধর্মনিরপেক্ষতাবাদ (العَلَمانيّة) হলো এমন একটি ধারণা যা নৈতিকতা ও শিক্ষাকে অ-ধর্মীয় ভিত্তির ওপর প্রতিষ্ঠিত করা আবশ্যক মনে করে।»
(খণ্ড: ১)
আল-ইসলাম ওয়াল লিবেরালিয়্যাহ নাকীযানি লা ইয়াজতামিআন
(পৃষ্ঠা: ১২)
الأركان التي تقوم عليها العَلَمانية:العلمانية تقوم على ثلاثة أركان هي:الركن الأول: قَصْر الاهتمام الإنساني على الدنيا فقط، وتأخير منزلة الدين في الحياة، ليكون من ممارسات الإنسان الشخصيَّة، فلا يتدخل في الحياة العامة.الركن الثاني: فَصْل العلم والأخلاق والفكر والثقافة عن الالتزام بتعاليم الدين، أيِّ دين كان.الركن الثالث: إقامة دولة ذات مؤسسات سياسية على أساس غير ديني.
ধর্মনিরপেক্ষতা যে স্তম্ভগুলোর ওপর প্রতিষ্ঠিত:ধর্মনিরপেক্ষতা তিনটি স্তম্ভের ওপর প্রতিষ্ঠিত, সেগুলো হলো:প্রথম স্তম্ভ: মানুষের যাবতীয় আগ্রহ ও মনোযোগকে কেবল ইহজাগতিক বিষয়ের মধ্যে সীমাবদ্ধ রাখা এবং জীবনে ধর্মের মর্যাদাকে গৌণ করা, যাতে ধর্ম কেবল মানুষের ব্যক্তিগত চর্চার বিষয়ে পরিণত হয় এবং জনজীবনে কোনো হস্তক্ষেপ না করে।দ্বিতীয় স্তম্ভ: বিজ্ঞান, নীতি-নৈতিকতা, চিন্তা ও সংস্কৃতিকে ধর্মীয় শিক্ষার অনুসরণ থেকে বিচ্ছিন্ন করা—তা যে ধর্মই হোক না কেন।তৃতীয় স্তম্ভ: অ-ধর্মীয় ভিত্তির ওপর রাজনৈতিক প্রতিষ্ঠান সংবলিত রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা করা।
(খণ্ড: ১)
আল-ইসলাম ওয়াল লিবেরালিয়্যাহ নাকীযানি লা ইয়াজতামিআন
(পৃষ্ঠা: ১৩)
ينقسم الناس بالنسبة إلى موقفهم من أحكام الشريعة الإسلامية الى أربعة أقسام:القسم الأوّل:يقبلونها ويعتقدون أنها كلها حق، كما قال تعالى: {يَقُولُونَ آمَنَّا بِهِ كُلٌّ مِنْ عِنْدِ رَبِّنَا} (آل عمران: 3)، ويعملون بها قدر استطاعتهم، وهم مع ذلك إن عَصَوا وخالفوا ما أمر الله سبحانه وتعالى به، استغفروا وتابوا، كما قال تعالى: {وَالَّذِينَ إِذَا فَعَلُوا فَاحِشَةً أَوْ ظَلَمُوا أَنْفُسَهُمْ ذَكَرُوا اللَّهَ فَاسْتَغْفَرُوا لِذُنُوبِهِمْ وَمَنْ يَغْفِرُ الذُّنُوبَ إِلَّا اللَّهُ وَلَمْ يُصِرُّوا عَلَى مَا فَعَلُوا وَهُمْ يَعْلَمُونَ (135)} (آل عمران: 135)، فهؤلاء هم المسلمون المؤمنون المستقيمون على طاعة الله سبحانه وتعالى، ومنهم المقتصد الذي يأتي بالواجبات وينتهي عن المحرمات، ومنهم السابق بالخيرات الذي يزيد في الطاعات والحسنات من النوافل والمستحبات.
ইসলামি শরিয়তের বিধানাবলির প্রতি অবস্থানের ভিত্তিতে মানুষ চার ভাগে বিভক্ত:প্রথম বিভাগ:তারা এগুলো গ্রহণ করে এবং বিশ্বাস করে যে এ সবটুকুই সত্য, যেমন আল্লাহ তাআলা বলেছেন: {তারা বলে: আমরা এতে ঈমান এনেছি, এ সবকিছুই আমাদের রবের পক্ষ থেকে} (আল-ইমরান: ৩); এবং তারা তাদের সামর্থ্য অনুযায়ী সেগুলো আমল করে। এর পাশাপাশি তারা যদি পাপে লিপ্ত হয় এবং আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআলার নির্দেশের বিরোধিতা করে, তবে তারা ক্ষমা প্রার্থনা করে ও তাওবা করে, যেমনটি আল্লাহ তাআলা বলেছেন: {আর যারা কোনো অশ্লীল কাজ করলে অথবা নিজেদের প্রতি জুলুম করলে আল্লাহকে স্মরণ করে এবং তাদের পাপের জন্য ক্ষমা প্রার্থনা করে। আর আল্লাহ ছাড়া কে পাপ ক্ষমা করবে? এবং তারা যা করেছে তাতে জেনে-শুনে অটল থাকে না (১৩৫)} (আল-ইমরান: ১৩৫)। এরাই হলো সেই সব মুসলিম ও মুমিন যারা আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআলার আনুগত্যের ওপর অবিচল। তাদের মধ্যে কেউ হলো মধ্যপন্থী (مقتصد), যে ওয়াজিব (واجبات) পালন করে এবং হারাম (محرمات) থেকে বিরত থাকে। আবার তাদের মধ্যে কেউ হলো কল্যাণের কাজে অগ্রগামী (سابق بالخيرات), যে নফল (نوافل) ও মুস্তাহাব (مستحبات) পালনের মাধ্যমে আনুগত্য ও নেক আমল বৃদ্ধি করে।
(খণ্ড: ১)
আল-ইসলাম ওয়াল লিবেরালিয়্যাহ নাকীযানি লা ইয়াজতামিআন
(পৃষ্ঠা: ১৪)
القسم الثاني:وهم الذين يقبلون جميع أحكام الله سبحانه وتعالى وما جاء به الرسول صلى الله عليه وآله وسلم، ويعتقدون أنها كلها حق من عند الله سبحانه وتعالى، ولا يعترضون على شيء منها، ولا يقولون نؤمن ببعض ونرفض بعضًا بعقولنا وأهوائنا، ولكنهم مع ذلك تغلبهم الشهوات فيقعون في الذنوب والمعاصي والآثام وهم يعلمون أنَّ ما فعلوه مخالف لأحكام الله سبحانه وتعالى، ويقِرُّون بأنهم عاصون مذنبون، ولكنَّهم يسوِّفون التوبة ويؤخِّرونها بتزيين الشيطان وطول الأمل.فهؤلاء عُصاةٌ قد ظلموا أنفسهم، لكنَّهم مسلمون لأنَّهم يؤمنون بالدين كلِّه، ولا يرفضون شيئًا منه، لا ظاهرًا ولا باطنًا، غير أنهم ناقصو الإيمان، وحكمهم أنَّ أمْرَهم إلى الله سبحانه وتعالى إن ماتوا على المعاصي ولم يتوبوا منها قبل الموت، فيحكم الله فيهم يوم القيامة، إن شاء غفر لهم، وإن شاء عذبهم، وإن عذبَّهم فمآلهم بعد العذاب إلى الجنَّة ماداموا موحِّدين من أهل الصلاة، ما لم تهوي بهم كبائر الذنوب إلى
দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ:তারা হলো ঐ সকল ব্যক্তি যারা আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআলার সমস্ত বিধান এবং রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়াসাল্লাম যা কিছু নিয়ে এসেছেন তার সবটুকুই গ্রহণ করে। তারা বিশ্বাস করে যে, এসবই আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআলার পক্ষ থেকে আগত সত্য এবং তারা এর কোনো বিষয়েই আপত্তি পোষণ করে না। তারা নিজেদের বুদ্ধি কিংবা প্রবৃত্তির বশবর্তী হয়ে এ কথা বলে না যে—আমরা কিছু অংশের ওপর বিশ্বাস স্থাপন করব আর কিছু অংশ প্রত্যাখ্যান করব। তবে তা সত্ত্বেও প্রবৃত্তি তাদের ওপর বিজয়ী হয়, ফলে তারা বিভিন্ন গুনাহ, নাফরমানি ও পাপাচারে লিপ্ত হয়ে পড়ে; অথচ তারা জানে যে তাদের এসব কাজ আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআলার বিধানের পরিপন্থী। তারা স্বীকার করে যে তারা নাফরমান ও অপরাধী; কিন্তু শয়তানের প্ররোচনা ও দীর্ঘ আশায় মত্ত হয়ে তারা তওবা করতে গড়িমসি ও বিলম্ব করে।এরা হলো পাপাচারী যারা নিজেদের ওপর জুলুম করেছে, তবে তারা মুসলিম; কেননা তারা পূর্ণ দ্বীনের ওপর ঈমান রাখে এবং এর কোনো কিছুকেই প্রকাশ্য বা অপ্রকাশ্যভাবে প্রত্যাখ্যান করে না। তবে তারা ত্রুটিপূর্ণ ঈমানদার। তাদের বিধান হলো—তাদের বিষয়টি আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআলার ইচ্ছাধীন; যদি তারা তওবা না করে পাপাবস্থায় মৃত্যুবরণ করে, তবে কিয়ামতের দিন আল্লাহ তাদের ব্যাপারে ফয়সালা করবেন। তিনি চাইলে তাদের ক্ষমা করে দেবেন, আর চাইলে শাস্তি প্রদান করবেন। আর যদি তিনি তাদের শাস্তি দেনও, তবুও পরিশেষে তাদের গন্তব্য হবে জান্নাত; যতক্ষণ তারা সালাত আদায়কারী একত্ববাদী হিসেবে অবশিষ্ট থাকবে, যতক্ষণ না কবিরা গুনাহসমূহ তাদের অতলে তলিয়ে দেয়...
(খণ্ড: ১)
আল-ইসলাম ওয়াল লিবেরালিয়্যাহ নাকীযানি লা ইয়াজতামিআন
(পৃষ্ঠা: ১৫)
حضيض الشرك والكفر قبل الموت، لأن الكبائر ـ كما قال العلماء ـ هي دهليز الكفر، وأهل الكبائر على خطر عظيم، ومن ذلك أن يُرانَ على قلوبهم مع كثرة الذنوب، فيسهل عليهم الكفر بالله سبحانه وتعالى، فيصيرون إليه قبل الموت، خذلانًا من الله سبحانه وتعالى، عياذا بالله من سوء الخاتمة.القسم الثالث:وهم الذين يرفضون أحكام الله سبحانه وتعالى كلها، ويعتقدون أن الأديان ليست سوى اجتهادات بشريِّة لمصلحين اجتماعيين أو مفكرين سياسيين، ولا يوجد وحي من الله سبحانه وتعالى مُنَزَّلٌ على الرسل عليهم السلام، وقد يعتقد بعض هؤلاء أن الله سبحانه وتعالى خلق الكون والإنسان، ولكنَّه تركه ليهدي نفسه بنفسه، لأنَّه ركَّب فيه العقل وتركه ينير للإنسان طريق الهداية، وهؤلاء هم الكفّار الذين لا يؤمنون بما أنزل الله سبحانه وتعالى.القسم الرابع:وهم الذين يؤمنون ببعض الكتاب ويكفرون ببعض، ويجعلون الدين أجزاء بحسب أهوائهم، ويقولون نؤمن بما
মৃত্যুর পূর্বে শিরক ও কুফরের অতল গহ্বর; কেননা উলামায়ে কেরাম বলেছেন—মহাপাপসমূহ (الكبائر) হলো কুফরের প্রবেশপথ। আর মহাপাপে (الكبائر) লিপ্ত ব্যক্তিগণ চরম ঝুঁকির সম্মুখীন। এর একটি কারণ হলো, গুনাহের আধিক্যের ফলে তাদের অন্তরে মরিচা পড়ে যায়, যা তাদের জন্য মহান আল্লাহর সাথে কুফরি করাকে সহজ করে দেয়। ফলশ্রুতিতে আল্লাহর পক্ষ থেকে লাঞ্ছনার (خذلانًا) শিকার হয়ে তারা মৃত্যুর পূর্বেই কুফরিতে লিপ্ত হয়। মন্দ সমাপ্তি (سوء الخاتمة) থেকে আমরা আল্লাহর নিকট আশ্রয় প্রার্থনা করছি।তৃতীয় প্রকার:তারা হলো ঐ সব লোক যারা মহান আল্লাহর সমস্ত বিধান প্রত্যাখ্যান করে এবং বিশ্বাস করে যে, ধর্মসমূহ সমাজ সংস্কারক বা রাজনৈতিক চিন্তাবিদদের মানবীয় গবেষণালব্ধ সিদ্ধান্ত (اجتهادات) ছাড়া আর কিছুই নয়। তাদের মতে, রাসুলদের (عليهم السلام) ওপর অবতীর্ণ আল্লাহর পক্ষ থেকে কোনো ওহি (وحي) নেই। এদের কেউ কেউ এমনও বিশ্বাস করে যে, মহান আল্লাহ মহাবিশ্ব ও মানুষ সৃষ্টি করেছেন ঠিকই, কিন্তু মানুষকে নিজের পথ নিজে খুঁজে নেওয়ার জন্য ছেড়ে দিয়েছেন; কারণ তিনি মানুষের মধ্যে বিবেক বা বুদ্ধি স্থাপন করেছেন এবং মানুষের হেদায়েতের (الهداية) পথ আলোকিত করার জন্য তাকেই যথেষ্ট মনে করেছেন। এরাই সেই কাফের (الكفار) যারা আল্লাহর অবতীর্ণ বিধানের ওপর ঈমান আনে না।চতুর্থ প্রকার:তারা হলো ঐ সকল ব্যক্তি যারা কিতাবের কিছু অংশের ওপর ঈমান আনে আর কিছু অংশকে অস্বীকার করে। তারা নিজেদের প্রবৃত্তির খেয়াল-খুশি অনুযায়ী দ্বীনকে খণ্ড-বিখণ্ড করে ফেলে এবং বলে যে, আমরা তাতে বিশ্বাস করি যা...
(খণ্ড: ১)
আল-ইসলাম ওয়াল লিবেরালিয়্যাহ নাকীযানি লা ইয়াজতামিআন
(পৃষ্ঠা: ১৬)
يوافق أهواءنا منه، ونرفض ما سواه، أو نَعْرِضُ ذلك على التصويت حسب عدد الأصوات.فما قبله أكثر الناس بناءً على قناعاتهم العقليِّة التزمناه وجعلناه قانونًا حاكمًا على العباد لاحاكم سواه، وعاقَبْنَا مَن يخالفه، وما رفضه التصويت والعقل تركناه وأهملناه، ولا يهمُّنا أن الله سبحانه وتعالى أنزله وفرضه، فالعقل والتصويت هما الحاكمان على الدين، وهما الإله المعبود لديهم، وهما المنهج الهادي، بدل كتاب الله سبحانه وتعالى وسنَّة رسوله صلى الله عليه وآله وسلم.ولا ريب أن التشريعات المناقضة لشريعة الله سبحانه وتعالى، ليست سوى أنداد تضل عن شريعة الله التي هي سبيله وصراطه المستقيم الذي وضعه نورًا وهدى للناس، ويصدق على تلك التشريعات المناقضة لشريعة الله قوله تعالى: {وَجَعَلُوا لِلَّهِ أَنْدَادًا لِيُضِلُّوا عَنْ سَبِيلِهِ قُلْ تَمَتَّعُوا فَإِنَّ مَصِيرَكُمْ إِلَى النَّارِ (30)} (إبراهيم: 29).
যা আমাদের খেয়ালখুশির অনুকূল হয় তা গ্রহণ করি এবং যা এর পরিপন্থী তা প্রত্যাখ্যান করি, অথবা অধিক সংখ্যক ভোটের ভিত্তিতে তা মতামতের জন্য পেশ করি।অতঃপর অধিকাংশ মানুষ তাদের যুক্তিনির্ভর বিশ্বাসের ওপর ভিত্তি করে যা গ্রহণ করে, আমরা তা-ই মেনে চলি এবং সেটিকে আল্লাহর বান্দাদের ওপর এমন এক শাসক আইন হিসেবে সাব্যস্ত করি যার ঊর্ধ্বে কোনো বিচারক নেই, আর যে ব্যক্তি এর বিরোধিতা করে আমরা তাকে শাস্তি প্রদান করি। আর ভোট ও যুক্তি যা প্রত্যাখ্যান করে আমরা তা বর্জন করি ও অবজ্ঞা করি; মহান আল্লাহ তা অবতীর্ণ করেছেন ও ফরজ করেছেন কি না তা আমাদের নিকট কোনো গুরুত্ব বহন করে না। ফলে যুক্তি ও ভোটই হলো দ্বীনের ওপর চূড়ান্ত ফয়সালাকারী, আর তাদের নিকট এগুলোই হলো উপাস্য ইলাহ এবং এগুলোই হলো আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআলার কিতাব ও তাঁর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়া সাল্লাম-এর সুন্নাহর (سنة) পরিবর্তে পথপ্রদর্শক মানহাজ (منهج)।আর এতে কোনো সন্দেহ নেই যে, আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআলার শরীয়াহর (شريعة) পরিপন্থী আইনকানুনগুলো মহান আল্লাহর সমকক্ষ (أنداد) ব্যতীত আর কিছুই নয়, যা আল্লাহর শরীয়াহ থেকে বিচ্যুত করে দেয়—যা কি না মানুষের জন্য নূর ও হেদায়েত স্বরূপ তাঁর নির্ধারিত সঠিক পথ (صراط مستقيم)। আল্লাহর শরীয়াহর সাথে সাংঘর্ষিক সেই আইনগুলোর ক্ষেত্রে মহান আল্লাহর এই বাণী সত্য হয়: {এবং তারা আল্লাহর জন্য সমকক্ষ (أنداد) স্থির করল যাতে তারা তাঁর পথ হতে বিভ্রান্ত করতে পারে। বলুন, তোমরা ভোগ করে নাও, তোমাদের গন্তব্যস্থল তো হবে আগুনের দিকে (জাহান্নাম)।} (ইবরাহীম: ৩০)।
(খণ্ড: ১)
আল-ইসলাম ওয়াল লিবেরালিয়্যাহ নাকীযানি লা ইয়াজতামিআন
(পৃষ্ঠা: ১৭)
حكم مَن يؤمنون ببعض الدين ويكفرون ببعض:قال تعالى: {أَفَتُؤْمِنُونَ بِبَعْضِ الْكِتَابِ وَتَكْفُرُونَ بِبَعْضٍ فَمَا جَزَاءُ مَنْ يَفْعَلُ ذَلِكَ مِنْكُمْ إِلَّا خِزْيٌ فِي الْحَيَاةِ الدُّنْيَا وَيَوْمَ الْقِيَامَةِ يُرَدُّونَ إِلَى أَشَدِّ الْعَذَابِ وَمَا اللَّهُ بِغَافِلٍ عَمَّا تَعْمَلُونَ (85)} (البقرة:85).من المعلوم أن الدين كلُّ، لا يقبل أن يتجزأ من جهة القبول به والإذعان له، وأن من رفض حكمًا من أحكام الله سبحانه وتعالى، وكفر به واعتقد أنه لا يصلح لهذا الزمان، وأن تطبيقه يجب أن يُعرضَ على العقل، أو على التصويت، فإن وافق ذلك أحكام الله سبحانه وتعالى كان بها ونعمت، وإن لم يوافق أحكام الله سبحانه وتعالى تركنا ما أنزل الله سبحانه وتعالى وراء ظهورنا، واتبعنا عقولنا ونتيجة التصويت، من زعم ذلك فهو كافر مشرك بالله تعالى.وتطبيق شرع الله واجب بإجماع المسلمين، وهو امتثال أمره في كتابه: {وَأَنِ احْكُمْ بَيْنَهُمْ بِمَا أَنْزَلَ اللَّهُ} (المائدة:49)،
দ্বীনের আংশিক বিশ্বাস করা এবং আংশিক অস্বীকার করার বিধান (حكم):মহান আল্লাহ বলেন: "তবে কি তোমরা কিতাবের কিছু অংশে বিশ্বাস করো আর কিছু অংশকে অস্বীকার করো? তোমাদের মধ্যে যারা এরূপ করে, পার্থিব জীবনে তাদের একমাত্র প্রতিফল হলো লাঞ্ছনা এবং কিয়ামতের দিন তাদেরকে কঠোরতম শাস্তির দিকে ফিরিয়ে নেওয়া হবে। আর তোমরা যা করো, আল্লাহ সে সম্পর্কে গাফেল নন।" (আল-বাকারা: ৮৫)।এটি সর্বজনবিদিত যে, দ্বীন একটি অখণ্ড সত্তা; এটি গ্রহণ ও আনুগত্যের ক্ষেত্রে খণ্ডনযোগ্য নয়। কেউ যদি মহান আল্লাহর বিধানসমূহের (أحكام) মধ্য হতে কোনো একটি বিধান (حكم) প্রত্যাখ্যান করে, তা অস্বীকার (كفر) করে এবং বিশ্বাস করে যে এটি বর্তমান সময়ের জন্য উপযোগী নয়, কিংবা মনে করে যে এর প্রয়োগ মানবীয় বুদ্ধি বা ভোটের ওপর নির্ভরশীল হওয়া উচিত—যাতে করে যদি তা আল্লাহর বিধানের (أحكام) অনুকূলে হয় তবে তা গ্রহণ করা হবে, আর যদি আল্লাহর বিধানের (أحكام) অনুকূলে না হয় তবে আল্লাহর অবতীর্ণ বিধানকে (أحكام) উপেক্ষা করে নিজেদের বুদ্ধি ও ভোটের ফলাফল অনুসরণ করা হবে—তবে যে ব্যক্তি এরূপ দাবি করবে সে মহান আল্লাহর সাথে কুফরি পোষণকারী কাফির (كافر) ও মুশরিক (مشرك)।আর আল্লাহর শরিয়ত (شريعة) বাস্তবায়ন করা মুসলিমদের ঐক্যমত্যের (إجماع) ভিত্তিতে আবশ্যক (واجب), যা তাঁর কিতাবে বর্ণিত এই নির্দেশেরই প্রতিফলন: "আর আপনি তাদের মধ্যে আল্লাহ যা অবতীর্ণ করেছেন সেই অনুযায়ী ফয়সালা করুন।" (আল-মায়েদাহ: ৪৯)।
(খণ্ড: ১)
আল-ইসলাম ওয়াল লিবেরালিয়্যাহ নাকীযানি লা ইয়াজতামিআন
(পৃষ্ঠা: ১৮)
وهو وصف كل مؤمن، قال تعالى: {إِنَّمَا كَانَ قَوْلَ الْمُؤْمِنِينَ إِذَا دُعُوا إِلَى اللَّهِ وَرَسُولِهِ لِيَحْكُمَ بَيْنَهُمْ أَنْ يَقُولُوا سَمِعْنَا وَأَطَعْنَا وَأُولَئِكَ هُمُ الْمُفْلِحُونَ (51)} (النور:51).وتَرْك تطبيق شرع الله مِن علامات النفاق الظاهرة؛ قال تعالى: {وَإِذَا قِيلَ لَهُمْ تَعَالَوْا إِلَى مَا أَنْزَلَ اللَّهُ وَإِلَى الرَّسُولِ رَأَيْتَ الْمُنَافِقِينَ يَصُدُّونَ عَنْكَ صُدُودًا} (النساء:61).قال الشيخ محمد متولي الشعراوي رحمه الله: «إياك أن تَرُدَّ الأمرَ على الله سبحانه وتعالى لا تَقُل إن هذه الشريعة لم تَعُدْ تناسب العصر الحديث، فإنك بذلك تكون قد كفرت، والعياذ بالله» (1).وإذا كان إبليس قد كفر ولعنه الله لاعتراضه على أمر واحد من أوامر الله – وهو الأمر بالسجود لآدم عليه السلام – فما
--------------------------------------------
(1) تفسير الشعراوي، عند تفسير قوله تعالى: {فَتَلَقَّى آدَمُ مِنْ رَبِّهِ كَلِمَاتٍ فَتَابَ عَلَيْهِ إِنَّهُ هُوَ التَّوَّابُ الرَّحِيمُ (37)} (سورة البقرة:37).
এটি প্রতিটি মুমিনের বৈশিষ্ট্য। মহান আল্লাহ বলেন: {মুমিনদের কথা তো এই যে, যখন তাদের মধ্যে বিচার-ফয়সালা করার জন্য আল্লাহ ও তাঁর রাসুলের দিকে ডাকা হয়, তখন তারা বলে: ‘আমরা শুনলাম এবং আনুগত্য করলাম’; আর তারাই সফলকাম। (৫১)} (আন-নূর: ৫১)।আর আল্লাহর শরিয়ত বাস্তবায়ন বর্জন করা প্রকাশ্য কপটতার (النفاق) অন্যতম নিদর্শন; মহান আল্লাহ বলেন: {আর যখন তাদেরকে বলা হয়, ‘আল্লাহ যা অবতীর্ণ করেছেন তার দিকে এবং রাসুলের দিকে এসো’, তখন তুমি মুনাফিকদের দেখবে তোমার কাছ থেকে পুরোপুরি মুখ ফিরিয়ে নিচ্ছে।} (আন-নিসা: ৬১)।শায়খ মুহাম্মদ মুতাওয়াল্লি আশ-শা'রাবি (রাহিমাহুল্লাহ) বলেছেন: «সাবধান! আল্লাহর কোনো নির্দেশকে কখনও প্রত্যাখ্যান করো না। এ কথা বলো না যে, এই শরিয়ত বর্তমান যুগের সঙ্গে আর সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়; কারণ এর দ্বারা তুমি কুফরিতে (كفر) লিপ্ত হবে—আল্লাহর কাছে এ থেকে আশ্রয় প্রার্থনা করছি।» (১)।আর ইবলিস যদি আল্লাহর একটি মাত্র আদেশের বিরোধিতা করার কারণে কুফরি (كفر) করে থাকে এবং আল্লাহ তাকে অভিশাপ দিয়ে থাকেন—যা ছিল আদম (আলাইহিস সালাম)-কে সেজদা করার আদেশ—তবে...
--------------------------------------------
(১) তাফসির আশ-শা'রাবি, মহান আল্লাহর এই বাণীর ব্যাখ্যায়: {অতঃপর আদম তাঁর পালনকর্তার পক্ষ থেকে কিছু বাণী প্রাপ্ত হলেন, ফলে আল্লাহ তাঁর তাওবা কবুল করলেন; নিশ্চয়ই তিনি তাওবা কবুলকারী, পরম দয়ালু (৩৭)} (সুরা আল-বাকারা: ৩৭)।
(খণ্ড: ১)
আল-ইসলাম ওয়াল লিবেরালিয়্যাহ নাকীযানি লা ইয়াজতামিআন
(পৃষ্ঠা: ১৯)
بالك بمن يرفضون الكثير من أوامر الله ونواهيه بحجة أنها لا تناسب العصر الحديث.وكأنهم يتهمون الله عز وجل بأنه لا يعلم ما يصلح الإنسان، قال تعالى: {أَلَا يَعْلَمُ مَنْ خَلَقَ وَهُوَ اللَّطِيفُ الْخَبِيرُ} (الملك: 14). وفيما يلي بعض الآيات القرآنية الدالة على وجوب التحاكم إلى شريعة الله وكُفْر مَن لم يعتقد وجوب التحاكم إليها في كل صغير وكبير، وكفر مَن آمن ببعض أحكام الله سبحانه وتعالى دون بعض:1 - قال تعالى: {إِنِ الْحُكْمُ إِلَّا لِلَّهِ أَمَرَ أَلَّا تَعْبُدُوا إِلَّا إِيَّاهُ ذَلِكَ الدِّينُ الْقَيِّمُ وَلَكِنَّ أَكْثَرَ النَّاسِ لَا يَعْلَمُونَ} (يوسف: 40).2 - قال تعالى: {أَمْ لَهُمْ شُرَكَاءُ شَرَعُوا لَهُمْ مِنَ الدِّينِ مَا لَمْ يَأْذَنْ بِهِ اللَّهُ} (الشورى: 21)، والذي يشرع من دون الله يزعم أنه شريك لله سبحانه وتعالى في الأمر والنهي والتحليل والتحريم.
তাহলে তাদের অবস্থা কী হবে যারা আধুনিক যুগের সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়—এই অজুহাতে আল্লাহর বহু আদেশ ও নিষেধ প্রত্যাখ্যান করে?তারা যেন মহান আল্লাহকে এই অপবাদ দিচ্ছে যে, মানুষের জন্য কোনটি কল্যাণকর তা তিনি জানেন না। মহান আল্লাহ বলেন: "যিনি সৃষ্টি করেছেন, তিনি কি জানেন না? অথচ তিনি অতি সূক্ষ্মদর্শী, সম্যক পরিজ্ঞাত।" (আল-মুলক: ১৪)। নিম্নে এমন কিছু কুরআনি আয়াত উল্লেখ করা হলো যা আল্লাহর শরিয়াহর নিকট বিচারপ্রার্থনা করার আবশ্যকতা এবং ছোট-বড় সকল ক্ষেত্রে যারা তা আবশ্যক মনে করে না তাদের কুফরি এবং আল্লাহর কিছু বিধানের প্রতি ঈমান এনে অন্যগুলো অস্বীকার করার কুফরি নির্দেশ করে:১ - মহান আল্লাহ বলেন: "বিধান দেওয়ার অধিকার কেবল আল্লাহরই। তিনি নির্দেশ দিয়েছেন যে, তোমরা তাঁকে ছাড়া অন্য কারও ইবাদত করবে না। এটাই সঠিক ও সুপ্রতিষ্ঠিত দ্বীন, কিন্তু অধিকাংশ মানুষ তা জানে না।" (ইউসুফ: ৪০)।২ - মহান আল্লাহ বলেন: "তাদের কি এমন কিছু শরিক আছে যারা তাদের জন্য দ্বীনের এমন বিধান প্রবর্তন করেছে যার অনুমতি আল্লাহ দেননি?" (আশ-শূরা: ২১)। আর যে ব্যক্তি আল্লাহকে বাদ দিয়ে বিধান প্রবর্তন করে, সে মূলত আদেশ, নিষেধ এবং কোনো কিছুকে বৈধ ও অবৈধ করার ক্ষেত্রে মহান আল্লাহর শরিক হওয়ার দাবি করে।
(খণ্ড: ১)
আল-ইসলাম ওয়াল লিবেরালিয়্যাহ নাকীযানি লা ইয়াজতামিআন
(পৃষ্ঠা: ২০)
3 - قال تعالى: {فَلَا وَرَبِّكَ لَا يُؤْمِنُونَ حَتَّى يُحَكِّمُوكَ فِيمَا شَجَرَ بَيْنَهُمْ ثُمَّ لَا يَجِدُوا فِي أَنْفُسِهِمْ حَرَجًا مِمَّا قَضَيْتَ وَيُسَلِّمُوا تَسْلِيمًا (65)} (النساء:65).4 - قال تعالى: {وَمَنْ لَمْ يَحْكُمْ بِمَا أَنْزَلَ اللَّهُ فَأُولَئِكَ هُمُ الْكَافِرُونَ} (المائدة: 44). 5 - قال تعالى: {أَلَمْ تَرَ إِلَى الَّذِينَ يَزْعُمُونَ أَنَّهُمْ آمَنُوا بِمَا أُنْزِلَ إِلَيْكَ وَمَا أُنْزِلَ مِنْ قَبْلِكَ يُرِيدُونَ أَنْ يَتَحَاكَمُوا إِلَى الطَّاغُوتِ وَقَدْ أُمِرُوا أَنْ يَكْفُرُوا بِهِ وَيُرِيدُ الشَّيْطَانُ أَنْ يُضِلَّهُمْ ضَلَالًا بَعِيدًا} (النساء: 60 - 61).6 - قال تعالى: {وَأَنْزَلْنَا إِلَيْكَ الْكِتَابَ بِالْحَقِّ مُصَدِّقًا لِمَا بَيْنَ يَدَيْهِ مِنَ الْكِتَابِ وَمُهَيْمِنًا عَلَيْهِ فَاحْكُمْ بَيْنَهُمْ بِمَا أَنْزَلَ اللَّهُ وَلَا تَتَّبِعْ أَهْوَاءَهُمْ عَمَّا جَاءَكَ مِنَ الْحَقِّ لِكُلٍّ جَعَلْنَا مِنْكُمْ شِرْعَةً وَمِنْهَاجًا وَلَوْ شَاءَ اللَّهُ لَجَعَلَكُمْ أُمَّةً وَاحِدَةً وَلَكِنْ لِيَبْلُوَكُمْ فِي مَا آتَاكُمْ فَاسْتَبِقُوا الْخَيْرَاتِ إِلَى اللَّهِ مَرْجِعُكُمْ جَمِيعًا فَيُنَبِّئُكُمْ بِمَا كُنْتُمْ فِيهِ تَخْتَلِفُونَ (48) وَأَنِ احْكُمْ بَيْنَهُمْ بِمَا
৩ - আল্লাহ তাআলা বলেন: {অতএব আপনার রবের শপথ, তারা মুমিন হতে পারবে না যতক্ষণ না তারা তাদের পারস্পরিক বিবাদের বিষয়ে আপনাকে বিচারক নিযুক্ত করে, তারপর আপনি যে ফয়সালা প্রদান করেন সে সম্পর্কে তাদের অন্তরে কোনো প্রকার সংকীর্ণতা বোধ না করে এবং তারা তা পূর্ণরূপে মেনে নেয়।} (আন-নিসা: ৬৫)।৪ - আল্লাহ তাআলা বলেন: {আর যারা আল্লাহ যা অবতীর্ণ করেছেন তদনুসারে বিচার করে না, তারাই কাফির।} (আল-মায়িদাহ: ৪৪)। ৫ - আল্লাহ তাআলা বলেন: {আপনি কি তাদের দেখেননি যারা দাবি করে যে, আপনার প্রতি যা অবতীর্ণ হয়েছে এবং আপনার পূর্বে যা অবতীর্ণ হয়েছে তাতে তারা ঈমান এনেছে? অথচ তারা তাগুতের কাছে বিচার নিয়ে যেতে চায়, যদিও তাদেরকে তা অস্বীকার করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল। আর শয়তান তাদের ঘোর বিভ্রান্তিতে লিপ্ত করতে চায়।} (আন-নিসা: ৬০ - ৬১)।৬ - আল্লাহ তাআলা বলেন: {আর আমি আপনার প্রতি সত্যসহ কিতাব অবতীর্ণ করেছি, যা তার পূর্ববর্তী কিতাবসমূহের সত্যতা প্রতিপন্নকারী এবং সেগুলোর সংরক্ষক। অতএব আল্লাহ যা অবতীর্ণ করেছেন তদনুসারে তাদের মধ্যে বিচার করুন এবং আপনার কাছে আসা সত্য ত্যাগ করে তাদের খেয়াল-খুশির অনুসরণ করবেন না। আমি তোমাদের প্রত্যেকের জন্য একটি শরিয়ত ও পথ নির্ধারণ করে দিয়েছি। আর যদি আল্লাহ চাইতেন তবে তোমাদের সকলকে এক উম্মত করে দিতেন, কিন্তু তিনি তোমাদের যা দিয়েছেন তার মাধ্যমে তোমাদের পরীক্ষা করতে চান। অতএব তোমরা সৎকাজে প্রতিযোগিতা করো। আল্লাহর দিকেই তোমাদের সকলের প্রত্যাবর্তন। অতঃপর তোমরা যে বিষয়ে মতভেদ করতে, তিনি সে সম্পর্কে তোমাদের অবহিত করবেন। (৪৮) আর আল্লাহ যা অবতীর্ণ করেছেন তদনুসারে তাদের মধ্যে বিচার করুন এবং...}
(খণ্ড: ১)
আল-ইসলাম ওয়াল লিবেরালিয়্যাহ নাকীযানি লা ইয়াজতামিআন
(পৃষ্ঠা: ২১)
أَنْزَلَ اللَّهُ وَلَا تَتَّبِعْ أَهْوَاءَهُمْ وَاحْذَرْهُمْ أَنْ يَفْتِنُوكَ عَنْ بَعْضِ مَا أَنْزَلَ اللَّهُ إِلَيْكَ فَإِنْ تَوَلَّوْا فَاعْلَمْ أَنَّمَا يُرِيدُ اللَّهُ أَنْ يُصِيبَهُمْ بِبَعْضِ ذُنُوبِهِمْ وَإِنَّ كَثِيرًا مِنَ النَّاسِ لَفَاسِقُونَ (49) أَفَحُكْمَ الْجَاهِلِيَّةِ يَبْغُونَ وَمَنْ أَحْسَنُ مِنَ اللَّهِ حُكْمًا لِقَوْمٍ يُوقِنُونَ (50)} (المائدة:48 - 50).7 - قال تعالى: {يَاأَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا أَطِيعُوا اللَّهَ وَأَطِيعُوا الرَّسُولَ وَأُولِي الْأَمْرِ مِنْكُمْ فَإِنْ تَنَازَعْتُمْ فِي شَيْءٍ فَرُدُّوهُ إِلَى اللَّهِ وَالرَّسُولِ إِنْ كُنْتُمْ تُؤْمِنُونَ بِاللَّهِ وَالْيَوْمِ الْآخِرِ ذَلِكَ خَيْرٌ وَأَحْسَنُ تَأْوِيلًا (59)} (النساء:59).8 - قال تعالى: {أَلَمْ تَرَ إِلَى الَّذِينَ أُوتُوا نَصِيبًا مِنَ الْكِتَابِ يُؤْمِنُونَ بِالْجِبْتِ وَالطَّاغُوتِ وَيَقُولُونَ لِلَّذِينَ كَفَرُوا هَؤُلَاءِ أَهْدَى مِنَ الَّذِينَ آمَنُوا سَبِيلًا (51)} (النساء:51).ومن اعتقد أنّ المناهج الشيوعية أو العلمانيَّة أو الليبراليَّة أو غيرها أهدى مما أنزل الله سبحانه وتعالى فقد كفر بالله عز وجل لأنه بذلك يكون قد أعرض عن أحكام الله سبحانه وتعالى.
আল্লাহ যা অবতীর্ণ করেছেন (তদনুযায়ী তাদের মাঝে বিচার করো) এবং তাদের প্রবৃত্তির অনুসরণ করো না আর তাদের থেকে সতর্ক থাকো যেন আল্লাহ তোমার প্রতি যা অবতীর্ণ করেছেন তার কিছু অংশ থেকে তারা তোমাকে বিচ্যুত করতে না পারে। অতঃপর যদি তারা মুখ ফিরিয়ে নেয়, তবে জেনে রেখো যে আল্লাহ কেবল তাদের কিছু পাপের কারণে তাদের শাস্তি দিতে চান। আর নিশ্চয়ই মানুষের মধ্যে অনেকেই পাপাচারী (৪৯) তবে কি তারা জাহেলিয়ার বিচার ব্যবস্থা কামনা করে? আর নিশ্চিত বিশ্বাসী সম্প্রদায়ের জন্য বিচারকার্যে আল্লাহর চেয়ে শ্রেষ্ঠ আর কে হতে পারে? (৫০) (আল-মায়েদাহ: ৪৮ - ৫০)।৭ - মহান আল্লাহ বলেন: {হে মুমিনগণ! তোমরা আল্লাহর আনুগত্য করো এবং রাসূলের আনুগত্য করো আর তোমাদের মধ্যকার উলিল আমরের (কর্তৃত্বশীলদের)। অতঃপর যদি তোমরা কোনো বিষয়ে বিবাদে লিপ্ত হও, তবে তা আল্লাহ ও রাসূলের দিকে ফিরিয়ে দাও—যদি তোমরা আল্লাহ ও শেষ দিবসের প্রতি ঈমান রাখো। এটিই কল্যাণকর এবং পরিণামে উৎকৃষ্টতর। (৫৯)} (আন-নিসা: ৫৯)।৮ - মহান আল্লাহ বলেন: {তুমি কি তাদের দেখনি যাদের কিতাবের এক অংশ দেওয়া হয়েছে? তারা জিবত (মূর্তি ও জাদু) ও তাগুতের প্রতি বিশ্বাস স্থাপন করে এবং কাফিরদের সম্পর্কে বলে যে, এরা মুমিনদের তুলনায় অধিক সঠিক পথে পরিচালিত। (৫১)} (আন-নিসা: ৫১)।আর যে ব্যক্তি বিশ্বাস করে যে সাম্যবাদী, ধর্মনিরপেক্ষ বা উদারতাবাদী অথবা অন্য কোনো মতাদর্শ আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআলা যা অবতীর্ণ করেছেন তার চেয়ে অধিক সঠিক পথপ্রদর্শক, তবে সে আল্লাহ আযযা ওয়া জাল্লা-র সাথে কুফরি করল। কারণ এর মাধ্যমে সে আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআলার বিধানসমূহ থেকে বিমুখ হয়েছে।
(খণ্ড: ১)
আল-ইসলাম ওয়াল লিবেরালিয়্যাহ নাকীযানি লা ইয়াজতামিআন
(পৃষ্ঠা: ২২)
9 - قال تعالى: {يَاأَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا ادْخُلُوا فِي السِّلْمِ كَافَّةً وَلَا تَتَّبِعُوا خُطُوَاتِ الشَّيْطَانِ إِنَّهُ لَكُمْ عَدُوٌّ مُبِينٌ (208)} (البقرة: 208).ومعنى السِّلم في هذه الآية هو الإسلام، أي ادخُلُوا في جميع الإسلام، وآمنوا بجميع أحكامه، لا كالذين يؤمنون ببعض، ويكفرون ببعض.10 - قال تعالى: {ثُمَّ جَعَلْنَاكَ عَلَى شَرِيعَةٍ مِنَ الْأَمْرِ فَاتَّبِعْهَا وَلَا تَتَّبِعْ أَهْوَاءَ الَّذِينَ لَا يَعْلَمُونَ (18) إِنَّهُمْ لَنْ يُغْنُوا عَنْكَ مِنَ اللَّهِ شَيْئًا وَإِنَّ الظَّالِمِينَ بَعْضُهُمْ أَوْلِيَاءُ بَعْضٍ وَاللَّهُ وَلِيُّ الْمُتَّقِينَ (19) هَذَا بَصَائِرُ لِلنَّاسِ وَهُدًى وَرَحْمَةٌ لِقَوْمٍ يُوقِنُونَ (20)} (الجاثية: 18 - 20).وقد أمر الله سبحانه وتعالى نبيّه الكريم في هذه الآية الكريمة أن يستقيم على الشريعة، ونهاه أن يتبع أهواء الجاهلين، وبَيَّنَ أنه أنزل هذا القرآن المشتمل على الشريعة التامة، فهي البصائر والهدى والرحمة، وغيرها الضلال والحيرة والجهل.
9 - মহান আল্লাহ তাআলা বলেন: {হে মুমিনগণ! তোমরা পরিপূর্ণভাবে ইসলামে প্রবেশ করো এবং শয়তানের পদাঙ্ক অনুসরণ করো না। নিশ্চয় সে তোমাদের প্রকাশ্য শত্রু (২০৮)} (আল-বাকারা: ২০৮)।এই আয়াতে 'সিলম' এর অর্থ হলো ইসলাম। অর্থাৎ তোমরা ইসলামের সকল বিধানে প্রবেশ করো এবং এর সমস্ত বিধানের প্রতি ঈমান আনো; তাদের মতো হয়ো না যারা কিছু অংশের প্রতি ঈমান আনে এবং কিছু অংশকে অস্বীকার করে।10 - মহান আল্লাহ তাআলা বলেন: {অতঃপর আমি আপনাকে দ্বীনের এক বিশেষ শরীয়তের ওপর প্রতিষ্ঠিত করেছি, সুতরাং আপনি তা অনুসরণ করুন এবং যারা জানে না তাদের খেয়ালখুশির অনুসরণ করবেন না (১৮)। আল্লাহর পক্ষ থেকে আসা কোনো কিছুর মোকাবেলায় তারা আপনার বিন্দুমাত্র উপকারে আসবে না; আর নিশ্চয়ই জালেমরা একে অপরের বন্ধু, আর আল্লাহ মুত্তাকীদের বন্ধু (১৯)। এটি মানুষের জন্য সুস্পষ্ট জ্ঞানালোক এবং নিশ্চিত বিশ্বাসী সম্প্রদায়ের জন্য হিদায়াত ও রহমত (২০)} (আল-জাছিয়াহ: ১৮-২০)।আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআলা এই মহিমান্বিত আয়াতে তাঁর সম্মানিত নবীকে শরীয়তের ওপর অবিচল থাকার নির্দেশ দিয়েছেন এবং মূর্খদের প্রবৃত্তির অনুসরণ করতে নিষেধ করেছেন। তিনি আরও স্পষ্ট করেছেন যে, তিনি এই কুরআন অবতীর্ণ করেছেন যা পূর্ণাঙ্গ শরীয়ত সম্বলিত; আর এটিই হলো জ্ঞানালোক, হিদায়াত ও রহমত, আর এটি ছাড়া অন্য যা কিছু আছে তা কেবল পথভ্রষ্টতা, বিভ্রান্তি এবং মূর্খতা।
(খণ্ড: ১)
আল-ইসলাম ওয়াল লিবেরালিয়্যাহ নাকীযানি লা ইয়াজতামিআন
(পৃষ্ঠা: ২৩)
معنى الليبرالية:الليبرالية فكرةٌ ليست من صنع عَقلٍ بشري واحد، ولا وليدةَ بيئةٍ ثقَافيةٍ أو ظروفٍ زمَنيةٍ واحدة، فقد تعددت تعريفاتها بعد أن استقرت فلسفةً فكرية غربية وضعية، تنزع إلى المادية والفردية والتحرر من كل قيدٍ أو ثابت، إلا ثابت واحد وهو عدم الثَّبات؛ فكل شيء في المذهب الليبرالي متغير، وقابل للجدل والأخذ والرد.والليبرالية هي - في الأصل - مصطلحٌ أجنبيٌّ مُعرَّب، مأخوذ من ( Liberalism) في الإنجليزية، و ( Liberalisme) في الفرنسية، وهي تعني: (التحررية)، ويعود اشتقاقها إلى ( Liberty) في الإنجليزية، و ( Liberte) في الفرنسية، ومعناها الحرية.ولم يتفق صنَّاع الليبرالية والمنظِّرين لها على تعريفٍ يُحدد معناها بوضُوح، لكنهم اتفقوا على وصفها بـ «الحرية المطلقة».
উদারতাবাদের (লিবারেলিজম) অর্থ:উদারতাবাদ (লিবারেলিজম) এমন একটি ধারণা যা কোনো একক মানবীয় চিন্তার ফসল নয় এবং এটি কোনো নির্দিষ্ট সাংস্কৃতিক পরিবেশ কিংবা সময়ের পরিস্থিতির ফলশ্রুতিতেও জন্ম নেয়নি। এটি একটি পশ্চিমা মানবরচিত বুদ্ধিবৃত্তিক দর্শন হিসেবে সুপ্রতিষ্ঠিত হওয়ার পর এর সংজ্ঞায় বহুত্ব এসেছে; যা বস্তুবাদ, ব্যক্তিস্বাতন্ত্র্যবাদ এবং সকল প্রকার সীমাবদ্ধতা বা ধ্রুব সত্য থেকে মুক্তির দিকে ধাবিত হয়—তবে একটি মাত্র ধ্রুব সত্য ব্যতীত, আর তা হলো অস্থিরতা। কেননা উদারতাবাদী মতবাদে সবকিছুই পরিবর্তনশীল এবং তা বিতর্ক, গ্রহণ ও বর্জনের অবকাশ রাখে।উদারতাবাদ মূলত একটি আরবীকৃত বিদেশি পরিভাষা, যা ইংরেজি (Liberalism) এবং ফরাসি (Liberalisme) থেকে গৃহীত হয়েছে। এর অর্থ হলো: (স্বাধীনতাবাদ), আর এর ব্যুৎপত্তি ইংরেজি (Liberty) এবং ফরাসি (Liberte) শব্দ থেকে এসেছে, যার অর্থ স্বাধীনতা।উদারতাবাদের প্রবর্তক এবং তাত্ত্বিকগণ এমন কোনো সুনির্দিষ্ট সংজ্ঞার ওপর একমত হতে পারেননি যা স্পষ্টভাবে এর অর্থ নির্ধারণ করে, তবে তারা একে ‘নিরঙ্কুশ স্বাধীনতা’ হিসেবে অভিহিত করার বিষয়ে একমত হয়েছেন।
(খণ্ড: ১)
আল-ইসলাম ওয়াল লিবেরালিয়্যাহ নাকীযানি লা ইয়াজতামিআন
(পৃষ্ঠা: ২৪)
والليبرالية:مذهب رأسمالي ينادي بالحرية المطلقة في الميدانين الاقتصادي والسياسي، ولها تعريفات مرتكزها: الاستقلالية؛ ومعناها: التحرر التام من كل أنواع الإكراه الخارجي: دولة، جماعة، فردًا؛ ثم التصرف وفق ما يُمْليه قانون النفس ورغباتها، والانطلاقة والانفلات نحو الحريات بكل صورها: مادية، سياسية، نفسية، ميتافيزيقية (عَقَدِيّة).والليبرالية هي وجه آخر من وجوه العلَمانية، وهي تعني في الأصل الحرية، غير أن معتنقيها يقصدون بها أن يكون الإنسان حرًا في أن يفعل ما يشاء ويقول ما يشاء ويعتقد ما يشاء ويحكم بما يشاء.المصطلحات التي أطلقها الليبراليون على أنفسهم أو أطلِقَت عليهم من غيرهم:1 - الليبرالية: تدعو إلى الحرية المطلقة وعبادة الفرد نفسه وهواه وشهوته وقد عبر عنها منظروها في الحضارة الغربية سواء في فرنسا أو في بريطانيا بأنها التفلت المطلق وهي
উদারবাদ:এটি একটি পুঁজিবাদী মতবাদ যা অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক ক্ষেত্রে নিরঙ্কুশ স্বাধীনতার আহ্বান জানায়। এর এমন অনেক সংজ্ঞা রয়েছে যার মূলভিত্তি হলো: স্বায়ত্তশাসন; আর এর অর্থ হলো: রাষ্ট্র, গোষ্ঠী বা ব্যক্তি—সকল প্রকার বাহ্যিক জবরদস্তি থেকে পূর্ণ মুক্তি; অতঃপর নিজের প্রবৃত্তি ও চাহিদার আইন অনুযায়ী আচরণ করা এবং বস্তুগত, রাজনৈতিক, মনস্তাত্ত্বিক ও অতিপ্রাকৃত (বিশ্বাসগত) সকল প্রকার স্বাধীনতার দিকে ধাবিত হওয়া ও বাঁধনমুক্ত হওয়া।উদারবাদ হলো ধর্মনিরপেক্ষতাবাদের একটি ভিন্ন রূপ। এর আভিধানিক অর্থ মূলত স্বাধীনতা, তবে এর অনুসারীরা এর দ্বারা উদ্দেশ্য নেয় যে, মানুষ যা ইচ্ছা করতে, যা ইচ্ছা বলতে, যা ইচ্ছা বিশ্বাস করতে এবং যা ইচ্ছা সে অনুযায়ী ফয়সালা করতে স্বাধীন থাকবে।উদারবাদীরা নিজেদের জন্য যে সকল পরিভাষা ব্যবহার করেছে অথবা অন্যদের পক্ষ থেকে তাদের ওপর যে সকল পরিভাষা প্রয়োগ করা হয়েছে:১ - উদারবাদ: এটি নিরঙ্কুশ স্বাধীনতা এবং ব্যক্তি কর্তৃক তার নিজ নফস, খেয়াল-খুশি ও প্রবৃত্তির পূজার আহ্বান জানায়। পশ্চিমা সভ্যতার তাত্ত্বিকগণ, চাই তারা ফ্রান্সের হোক কিংবা ব্রিটেনের, একে নিরঙ্কুশ বাঁধনহীনতা হিসেবে ব্যক্ত করেছেন। আর এটি হলো
(খণ্ড: ১)
আল-ইসলাম ওয়াল লিবেরালিয়্যাহ নাকীযানি লা ইয়াজতামিআন
(পৃষ্ঠা: ২৫)
أيضا تدعو إلى الحرية المطلقة التي لا تعترف بدين ولا نص مقدس ولا عادات ولا تقاليد ولا أي أمر يعيق الحرية الفردية.2 - العصرانية: إشارة لتطويعهم نصوص الشريعة وأحكامها لتتوافق مع مستجدات العصر دون اعتبار لقداسة النص والمرجعية الشرعية وهي الكتاب والسنة.3 - العقلانية: إشارة إلى تقديمهم وتقديسهم للعقل أو أنهم أهل عقل وحكمة ومَن عداهم ليس لديه اهتمام بالعقل، وتعاملوا مع العقل بالطريقة المنحرفة التي تعامل بها أهل البدعة عموما والمعتزلة على وجه الخصوص.4 - التنوير: ظهر مصطلح التنوير في القرنين السادس عشر والسابع عشر في أوروبا تعبيرا عن الفكر الليبرالي البورجوازي ذي النزعة الإنسانية العقلية والعلمية والتجريبية ويتضمن هذا الفكر نزعة مادية واضحة بعد إقصاء اللاهوت وذلك بإحلال الطبيعة والعقل بدلا من الفكر الغيبي في تفسير ظواهر العالم ووضع قوانينه.
এছাড়াও এটি এমন এক নিরঙ্কুশ স্বাধীনতার আহ্বান জানায় যা কোনো ধর্ম, পবিত্র পাঠ (نص), প্রথা, ঐতিহ্য অথবা ব্যক্তিগত স্বাধীনতাকে বাধাগ্রস্ত করে এমন কোনো বিষয়কেই তোয়াক্কা করে না।২ - আধুনিকতাবাদ (العصرانية): এটি শরিয়তের বিভিন্ন পাঠ (نصوص) ও তার বিধানসমূহকে (أحكام) যুগের আধুনিক চাহিদার সাথে খাপ খাওয়ানোর প্রচেষ্টাকে নির্দেশ করে, যেখানে মূল পাঠের (نص) পবিত্রতা এবং শরিয়তসম্মত প্রামাণিক উৎস তথা কিতাব ও সুন্নাহর (السنة) গুরুত্বকে বিবেচনা করা হয় না।৩ - যুক্তিবাদ (العقلانية): এটি বিবেক-বুদ্ধিকে (العقل) সবকিছুর ঊর্ধ্বে স্থান দেওয়া ও সেটিকে অতিমূল্যায়ন করার প্রতি ইঙ্গিত করে; অথবা এটি এমন একটি ধারণা যে কেবল তারাই বিবেক ও প্রজ্ঞার অধিকারী এবং তারা ছাড়া অন্যদের বুদ্ধিবৃত্তিক কোনো গুরুত্ব নেই। তারা বিবেকের ক্ষেত্রে সেই বিচ্যুত পন্থা অবলম্বন করেছে যা সাধারণত বিদআতপন্থীগণ (أهل البدعة) এবং বিশেষভাবে মুতাজিলাগণ (المعتزلة) অনুসরণ করত।৪ - আলোকায়ন (التنوير): ষোড়শ ও সপ্তদশ শতাব্দীতে ইউরোপে উদারপন্থী বুর্জোয়া চিন্তাধারার বহিঃপ্রকাশ হিসেবে এই পরিভাষাটির উৎপত্তি ঘটে, যা মানবতাবাদী, বুদ্ধিবৃত্তিক, বৈজ্ঞানিক ও অভিজ্ঞতাবাদী দর্শনের ওপর ভিত্তি করে গড়ে উঠেছিল। এই চিন্তাধারাটি ধর্মতত্ত্বকে বর্জন করার পর একটি স্পষ্ট বস্তুবাদী ঝোঁক প্রদর্শন করে, যেখানে মহাবিশ্বের ব্যাখ্যা ও আইন প্রণয়নের ক্ষেত্রে অদৃশ্য জগতের চিন্তার পরিবর্তে প্রকৃতি ও বিবেক-বুদ্ধিকে (العقل) স্থলাভিষিক্ত করা হয়।
(খণ্ড: ১)
আল-ইসলাম ওয়াল লিবেরালিয়্যাহ নাকীযানি লা ইয়াজতামিআন
(পৃষ্ঠা: ২৬)
5 - الفكر التجديدي: وليس المقصود المتبادر من اصطلاح التجديد وهو إحياء ما اندرس من معالم الإسلام وأصوله، بل يعنون به تغيير أصول الإسلام فالمتمعن في كتب هذا التوجه يرى أنهم يدخلون في التجديد الابتداع في تغيير الإسلام وتغيير أصوله بما يتوافق مع الأهواء ويساير الواقع وتوجهات الأعداء ليقبلوا بهم. مبدأ الليبرالية:الإنسان عند الليبراليين إلهُ نفسه، وعابد هواه، غير محكوم بشريعة من الله سبحانه وتعالى الذي قال: {قُلْ إِنَّ صَلَاتِي وَنُسُكِي وَمَحْيَايَ وَمَمَاتِي لِلَّهِ رَبِّ الْعَالَمِينَ (162) لَا شَرِيكَ لَهُ وَبِذَلِكَ أُمِرْتُ وَأَنَا أَوَّلُ الْمُسْلِمِينَ (163)} (الأنعام: 162 - 163).ولهذا فإن الليبرالية لا تعطيك إجابات حاسمة على الأسئلة التالية مثلًا: الشريعة الإسلامية حقٌّ أم لا؟ وهل الربا حرام أم حلال؟ وهل القمار حرام أم حلال؟ وهل نسمح بالخمر أم نمنعها؟ وهل للمرأة أن تتبرج أم عليها أن تتحجب؟ وهل تساوي الرجل في كل شيء أم تختلف معه في
৫ - সংস্কারবাদী চিন্তা: এখানে সংস্কার (تجديد) পরিভাষাটি দ্বারা সচরাচর যা বোঝা যায়—অর্থাৎ ইসলামের বিলুপ্তপ্রায় নিদর্শন ও মূলনীতিসমূহের (أصول) পুনর্জাগরণ (إحياء)—তা উদ্দেশ্য নয়; বরং তারা এর মাধ্যমে ইসলামের মূলনীতিসমূহের (أصول) পরিবর্তনকে উদ্দেশ্য করে থাকে। সুতরাং এই চিন্তাধারার কিতাবসমূহ গভীরভাবে পর্যবেক্ষণকারী দেখতে পান যে, তারা সংস্কারের মধ্যে ইসলামের রূপান্তর এবং এর মূলনীতিসমূহের (أصول) পরিবর্তনের ক্ষেত্রে এমন সব অভিনব উদ্ভাবন (ابتداع) অনুপ্রবেশ করায়, যা প্রবৃত্তির অনুকূল এবং যা বাস্তবতা ও শত্রুদের গতিপ্রকৃতির সাথে তাল মিলিয়ে চলে, যাতে তারা (শত্রুরা) তাদের গ্রহণ করে নেয়। উদারতাবাদের (লিবারেলিজম) মূলনীতি:উদারতাবাদীদের নিকট মানুষ নিজেই নিজের উপাস্য এবং সে তার প্রবৃত্তির পূজারী; সে মহান আল্লাহর শরিয়ত (شريعة) দ্বারা শাসিত নয়। অথচ আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআলা বলেছেন: {বলুন, নিশ্চয়ই আমার নামাজ, আমার ইবাদত, আমার জীবন ও আমার মরণ বিশ্বজাহানের প্রতিপালক আল্লাহরই জন্য। (১৬২) তাঁর কোনো শরিক নেই এবং আমি এরই জন্য আদিষ্ট হয়েছি আর আমিই প্রথম মুসলিম (১৬৩)} (আন-আম: ১৬২ - ১৬৩)।এ কারণেই উদারতাবাদ আপনাকে নিচের প্রশ্নগুলোর কোনো চূড়ান্ত উত্তর দেয় না; যেমন: ইসলামি শরিয়ত (شريعة) সত্য কি না? সুদ (ربا) হারাম (حرام) নাকি হালাল (حلال)? জুয়া কি হারাম (حرام) নাকি হালাল (حلال)? আমরা কি মদ (خمر) পানের অনুমতি দেব নাকি তা নিষিদ্ধ করব? নারী কি সৌন্দর্য প্রদর্শন (تبرج) করবে নাকি সে পর্দা (حجاب) অবলম্বন করবে? সে কি সব বিষয়ে পুরুষের সমান হবে নাকি তার থেকে ভিন্নতর হবে...
(খণ্ড: ১)
আল-ইসলাম ওয়াল লিবেরালিয়্যাহ নাকীযানি লা ইয়াজতামিআন
(পৃষ্ঠা: ২৭)
بعض الأمور؟ وهل الزنا جريمة أم أنه علاقة شخصية وإشباع لغريزة طبيعية إذا وقعت برضا الطرفين؟وهل الشذوذ الجنسي حق أم باطل؟ وهل نسمح بحرية نشر أي شيء أم نمنع نشر الإلحاد والإباحية؟ وهل نسمح بالبرامج الجنسية في قنوات الإعلام أم نمنعها؟وهل القرآن حق أم يشتمل على حق وباطل، أم كله باطل، أم كله من تأليف محمد صلى الله عليه وآله وسلم ولا يصلح لهذا الزمان؟ وهل سنة الرسول صلى الله عليه وآله وسلم وحي من الله سبحانه وتعالى فيحب أتباعه فيما يأمر به، أم مشكوك فيها؟ وهل الرسول صلى الله عليه وآله وسلم رسول من الله سبحانه وتعالى أم مصلح اجتماعي؟وما هي القيم التي تحكم المجتمع؟ هل هي تعاليم الإسلام أم الحرية المطلقة من كل قيد، أم حرية مقيدة بقيود من ثقافات غربية أو شرقية؟ وما هو نظام العقوبات الذي يكفل الأمن في المجتمع، هل الحدود الشرعية أم القوانين الجنائية الوضعية؟
কিছু বিষয়? ব্যভিচার কি একটি অপরাধ, নাকি এটি কেবল একটি ব্যক্তিগত সম্পর্ক এবং প্রাকৃতিক প্রবৃত্তির পরিতৃপ্তি—যদি তা উভয় পক্ষের সম্মতিতে সংঘটিত হয়?আর যৌন বিকৃতি কি ন্যায় নাকি অন্যায়? আমরা কি যেকোনো কিছু প্রচারের স্বাধীনতা দেব, নাকি নাস্তিকতা ও অশ্লীলতা প্রচার নিষিদ্ধ করব? আমরা কি গণমাধ্যমগুলোতে যৌনতামূলক অনুষ্ঠানের অনুমতি দেব নাকি তা বন্ধ রাখব?আর কুরআন কি সত্য, নাকি এটি সত্য ও মিথ্যার সংমিশ্রণ, নাকি এর পুরোটাই মিথ্যা, নাকি এর পুরোটাই মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়া সাল্লামের স্বরচিত যা বর্তমান সময়ের জন্য অনুপযোগী? আর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়া সাল্লামের সুন্নাহ (سنة) কি আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআলার পক্ষ থেকে আসা ওহি (وحي), ফলে তাঁর নির্দেশিত বিষয়ে তাঁর অনুসরণ করা আবশ্যক, নাকি তা সন্দেহযুক্ত (مشكوك فيها)? রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়া সাল্লাম কি আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআলার প্রেরিত রাসূল, নাকি কেবল একজন সমাজ সংস্কারক?সমাজকে নিয়ন্ত্রণকারী মূল্যবোধগুলো কী? তা কি ইসলামের শিক্ষা, নাকি সকল শৃঙ্খলমুক্ত নিরঙ্কুশ স্বাধীনতা, নাকি প্রাচ্য অথবা পাশ্চাত্য সংস্কৃতির বেড়াজালে আবদ্ধ কোনো স্বাধীনতা? সমাজে নিরাপত্তা নিশ্চিতকারী দণ্ডবিধিই বা কী হবে—শরয়ি দণ্ডবিধি (الحدود الشرعية) নাকি মানবরচিত ফৌজদারি আইন?
(খণ্ড: ১)
আল-ইসলাম ওয়াল লিবেরালিয়্যাহ নাকীযানি লা ইয়াজতামিআন
(পৃষ্ঠা: ২৮)
الليبرالية ليس عندها جواب تعطيه للناس على هذه الأسئلة، ومبدؤها العام هو: دَعُوا الناسَ كلٌّ إلهٌ لنفسه وعابد لهواه، فهم أحرار في الإجابة على هذه الأسئلة كما يشتهون ويشاءون، وأما ما يجب أن يسود المجتمع من القوانين والأحكام، فليس هناك سبيل إلا التصويت الديمقراطي، وبه وحده تُعْرَف القوانين التي تحكم الحياة العامة، وهو شريعة الناس لا شريعةَ لهم سواها.ولا يقيمُ الليبراليّون أيَّ وزنٍ لشريعة الله سبحانه وتعالى، إذا ناقض التصويتُ الديمقراطي أحكامَها المُحْكَمَة المنزلة من الله سبحانه وتعالى، ولا يبالون أن يضربوا بأحكامها عرض الحائط، حتى لو كان الحكم النهائي الناتج من التصويت هو عدم تجريم الزنا، أو عدم تجريم شرب الخمر، أو كان تحليلًا للربا، أو كان السماح بتبرج النساء، أو التعري والشذوذ الجنسي، أو نشر الإلحاد تحت ذريعة حرية الرأي.وكل شيء في المذهب الليبرالي متغير، وقابل للجدل والأخذ والرد حتى أحكام القرآن المحكمة القطعية.
উদারতাবাদের নিকট এই প্রশ্নগুলোর কোনো উত্তর নেই যা তারা মানুষকে প্রদান করবে। তাদের সাধারণ মূলনীতি হলো: মানুষকে ছেড়ে দাও যাতে প্রত্যেকেই নিজের জন্য ইলাহ এবং স্বীয় প্রবৃত্তির উপাসক হতে পারে। তারা এই প্রশ্নগুলোর উত্তর দেওয়ার ক্ষেত্রে নিজেদের ইচ্ছা ও আকাঙ্ক্ষা অনুযায়ী স্বাধীন। আর সমাজে যে সকল আইন ও বিধানের কর্তৃত্ব বজায় থাকা আবশ্যক, সে ক্ষেত্রে গণতান্ত্রিক ভোট ছাড়া আর কোনো পথ নেই। কেবল এর মাধ্যমেই জনজীবন পরিচালনাকারী আইনসমূহ নিরূপিত হয়; আর এটিই হলো মানুষের প্রণীত বিধান, এছাড়া তাদের অন্য কোনো বিধান নেই।উদারতাবাদীরা মহান আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তায়ালার শরিয়তকে বিন্দুমাত্র গুরুত্ব প্রদান করে না, যদি গণতান্ত্রিক ভোট আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তায়ালার পক্ষ থেকে অবতীর্ণ অকাট্য (محكمة) বিধানাবলির পরিপন্থী হয়। তারা আল্লাহর বিধানসমূহকে প্রত্যাখ্যান করতে বিন্দুমাত্র কুণ্ঠাবোধ করে না, এমনকি যদি ভোটের মাধ্যমে প্রাপ্ত চূড়ান্ত সিদ্ধান্তটি ব্যভিচারকে অপরাধমুক্ত করা, অথবা মদ্যপানকে অপরাধমুক্ত করা হয়, কিংবা সুদের বৈধতা দান, অথবা নারীদের বেপর্দা চলাফেরার সুযোগ প্রদান, কিংবা উলঙ্গপনা ও সমকামিতার অনুমতি দান হয়, অথবা মতপ্রকাশের স্বাধীনতার দোহাই দিয়ে নাস্তিক্যবাদ প্রচার করা হয়।উদারতাবাদী মতবাদে প্রতিটি বিষয়ই পরিবর্তনশীল এবং বিতর্ক ও গ্রহণ-বর্জনের যোগ্য; এমনকি পবিত্র কুরআনের অকাট্য (محكمة) ও সুনিশ্চিত (قطعية) বিধানাবলিও এর অন্তর্ভুক্ত।
(খণ্ড: ১)
আল-ইসলাম ওয়াল লিবেরালিয়্যাহ নাকীযানি লা ইয়াজতামিআন
(পৃষ্ঠা: ২৯)
فإذن إلهُ الليبراليِّة الحاكم على كل شيء بالصواب أو الخطأ هو حرية الإنسان وهواه وعقله وفكره، وحُكْمُ الأغلبيِّة من الأصوات هو القول الفصل في كل شئون حياة الناس العامة، سواء عندهم عارض الشريعة الإلهيّة أو وافقها، وليس لأحد أن يتقدَّم بين يدي هذا الحكم بشيء، ولا يعقب عليه إلا بمثله فقط.وهي عندما تزعم أنه لا يوجد حق مطلق إلا الحرية والتغير؛ فإنها تكفر بثوابت القرآن والسنة وبأحكام الشريعة المحكمة التي أنزلها الله سبحانه وتعالى لتكون نبراسًا لهداية الناس إلى يوم القيامة، وما الشريعة إلا الحق المبين الراسخ الذي لا يتغيَّر ولا يتبدَّل مهما تغيَّر الزمان والمكان، كما قال سبحانه وتعالى: {فَذَلِكُمُ اللَّهُ رَبُّكُمُ الْحَقُّ فَمَاذَا بَعْدَ الْحَقِّ إِلَّا الضَّلَالُ فَأَنَّى تُصْرَفُونَ (32)}) يونس: 32).والليبرالية عندما تُسَوّي بين الإسلام - دين الله الحق - وغيره من الأهواء الباطلة، وعندما تسوي بين المؤمنين بالله سبحانه وتعالى المتبعين لدينه والكافرين به فهي بذلك تشرع شريعة
সুতরাং উদারতাবাদের (লিবারেলিজম) উপাস্য, যা সত্য কিংবা মিথ্যার নিরিখে সবকিছুর ওপর শাসন চালায়, তা হলো মানুষের স্বাধীনতা, প্রবৃত্তি, বুদ্ধি ও চিন্তা। আর জনমতের সংখ্যাধিক্যই মানুষের জনজীবনের সকল ক্ষেত্রে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত বলে গণ্য হয়; তা তাদের নিকট ঐশী শরয়ি আইনের পরিপন্থী হোক কিংবা অনুকূল। এই সিদ্ধান্তের সামনে কোনো কিছুকে অগ্রাধিকার দেওয়ার অধিকার কারো নেই এবং অনুরূপ কোনো সিদ্ধান্ত ব্যতীত এর ওপর কোনো পাল্টা রায় প্রদান করা যায় না।তারা যখন দাবি করে যে স্বাধীনতা ও পরিবর্তনশীলতা ছাড়া কোনো পরম সত্য নেই, তখন তারা মূলত কুরআন ও সুন্নাহর সুপ্রতিষ্ঠিত (ثوابت) নীতিমালা এবং শরয়ি আইনের অকাট্য (محكمة) বিধানসমূহকে অস্বীকার করে, যা আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তা'আলা কিয়ামত পর্যন্ত মানুষের হিদায়াতের আলোকবর্তিকা হিসেবে নাজিল করেছেন। মূলত শরয়ি আইন হলো সেই সুস্পষ্ট ও সুদৃঢ় সত্য, যা স্থান ও কালের পরিবর্তনে কখনোই পরিবর্তিত বা রূপান্তরিত হয়না। যেমনটি মহান আল্লাহ ইরশাদ করেছেন: “অতএব, এই আল্লাহই তোমাদের প্রকৃত পালনকর্তা; সত্যের পর বিভ্রান্তি ছাড়া আর কী থাকে? সুতরাং তোমাদের কোথায় ফিরিয়ে নেওয়া হচ্ছে?” (সূরা ইউনুস: ৩২)।আর লিবারেলিজম যখন ইসলাম—যা আল্লাহর মনোনীত সত্য দ্বীন—এবং অন্যান্য বাতিল প্রবৃত্তির মাঝে সমতা বিধান করে এবং যখন মহান আল্লাহর প্রতি ঈমানদার ও তাঁর দ্বীনের অনুসারীদের সাথে কাফিরদের সমান গণ্য করে, তখন সে এর মাধ্যমে এমন এক বিধান প্রবর্তন করে—