(খণ্ড: ১)
যাম্মুল ক্বাযা ওয়া তাক্বাল্লুদুল আহকাম
(পৃষ্ঠা: -)
ذم القضاء وتقلد الأحكام القسم: السياسة الشرعية والقضاء
الكتاب: ذم القضاء وتقلد الأحكام
المؤلف: عبد الرحمن بن أبي بكر، جلال الدين السيوطي (ت 911هـ)
تحقيق ودراسة: مجدي فتحي السيد
الناشر: دار الصحابة للتراث، مصر
الطبعة: الأولى، 1411 هـ - 1991 م
عدد الصفحات: 94
[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]
تاريخ النشر بالشاملة: 9 ذو القعدة 1432
বিচারকার্য ও বিচারকের পদ গ্রহণের নিন্দা বিভাগ: সিয়াসাহ শারইয়্যাহ এবং বিচারব্যবস্থা
গ্রন্থ: বিচারকার্য ও বিচারকের পদ গ্রহণের নিন্দা (যাম্মুল কদা ওয়া তাকাল্লুদুল আহকাম)
লেখক: আবদুর রহমান বিন আবু বকর, জালালুদ্দীন আস-সুয়ূতী (মৃত্যু ৯১১ হিজরি)
সম্পাদনা ও গবেষণা: মাজদী ফাতহী আস-সাঈদ
প্রকাশক: দারুস সাহাবা লিত-তুরাস, মিশর
সংস্করণ: প্রথম, ১৪১১ হিজরি - ১৯৯১ খ্রিস্টাব্দ
পৃষ্ঠা সংখ্যা: ৯৪
[গ্রন্থের পৃষ্ঠা নম্বর মুদ্রিত কপির অনুরূপ]
শামিলা লাইব্রেরিতে প্রকাশের তারিখ: ৯ যুল-কাদাহ ১৪৩২
(খণ্ড: ১)
যাম্মুল ক্বাযা ওয়া তাক্বাল্লুদুল আহকাম
(পৃষ্ঠা: ৭১)
الرسالة الثانية ذم القضاء وتقلد الأحكام
للجلال السيوطي رحمه الله تعالى
দ্বিতীয় পুস্তিকা: বিচারকার্য ও বিচারিক দায়িত্ব গ্রহণের নিন্দা প্রসঙ্গে
আল্লামা জালালুদ্দীন সুয়ূতী (রহিমাহুল্লাহ তায়ালা)
(খণ্ড: ১)
যাম্মুল ক্বাযা ওয়া তাক্বাল্লুদুল আহকাম
(পৃষ্ঠা: ৭৩)
1 - الأحاديث الواردة في تقلد القضاء.
2 - نصيحة الرسول صلى الله عليه وسلم لأبي ذر.
3 - شدة حساب القاضي العدل.
4 - حكم من قضى بجورٍ أو جهل.
5 - أول الأمارة ملامة.
6 - هل القضاة أول من يدعي للحساب.
7 - رجل يحب أن يحشر مع العلماء.
8 - فرار السلف الصالح من القضاء.
9 - أحوال القضاة في بني إسرائيل.
1 - বিচারকের দায়িত্ব গ্রহণ সংক্রান্ত হাদিসসমূহ।
2 - আবু যার (রা.)-এর প্রতি রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর উপদেশ।
3 - ন্যায়পরায়ণ বিচারকের হিসাবের কঠোরতা।
4 - অন্যায়ভাবে বা অজ্ঞতাবশত বিচারকারীর বিধান।
5 - নেতৃত্বের সূচনা হলো তিরস্কার।
6 - বিচারকগণ কি সর্বপ্রথম হিসাবের জন্য আহূত হবেন?
7 - এমন এক ব্যক্তি যে আলেমদের সাথে হাশর হওয়া পছন্দ করে।
8 - সালাফে সালেহীনদের বিচারিক পদ থেকে বিমুখতা।
9 - বনী ইসরাঈলের বিচারকদের অবস্থা।
(খণ্ড: ১)
যাম্মুল ক্বাযা ওয়া তাক্বাল্লুদুল আহকাম
(পৃষ্ঠা: ৭৫)
بسم الله الرحمن الرحيم
وصلى الله على سيدنا محمد وآله وصحبه وسلم والحمد لله وسلام على عباده الذين اصطفي، هذا جزء في الأحاديث الواردة في ذم القضاء وتقلد الأحكام.
الأحاديث الوارد في تقلد القضاء112 - قال ابن أبي شيبة في المصنف: حدثنا ابن نمير عن فضيل بن غزوان، عن محمد الراسبي عن بشير بن عاصم قال: كتب عمر بن الخطاب رضي الله تعالى عنه عهده فقال: لا حاجة لي فيه إني سمعت رسول الله صلى الله عليه وسلم يقول:"إن الولاة يجاء بهم يوم القيامة فيقفون على جسر على شفر جهنم فمن كان مطيعاً تناوله الله بيمينه يُنجيه، ومن عصى الله انخرق به الجسر إلى وادي لجهنم من نار يلتهب التهاباً" (1) فأرسل عمر أبي ذر وسلمان، فقال لأبي ذر: أنت سمعت هذا الحديث من رسول الله صلى الله عليه وسلم؟ قال: نعم والله وبعدَ الوادى وادٍ آخر من نار.
--------------------------------------------
পরম করুণাময় অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে। আমাদের নেতা মুহাম্মদ (সা.), তাঁর পরিবার ও তাঁর সঙ্গীদের ওপর আল্লাহর রহমত ও শান্তি বর্ষিত হোক। সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর জন্য এবং তাঁর মনোনীত বান্দাদের প্রতি সালাম। বিচারকের দায়িত্ব গ্রহণ ও বিচারকার্য পরিচালনার নিন্দা সম্পর্কে বর্ণিত হাদিসসমূহের এটি একটি পুস্তিকা।
বিচারকের দায়িত্ব গ্রহণ সম্পর্কে বর্ণিত হাদিসসমূহ১১২ - ইবনে আবি শায়বা তাঁর 'মুসান্নাফ' গ্রন্থে বলেছেন: ইবনে নুমাইর আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন ফুদাইল ইবনে গাজওয়ান থেকে, তিনি মুহাম্মদ আর-রাসিবী থেকে, তিনি বিশর ইবনে আসিম থেকে বর্ণনা করেন। বিশর (রা.) বলেন: উমর ইবনুল খাত্তাব (রা.) তাঁর নিয়োগপত্র লিখেছিলেন, তখন বিশর (রা.) বললেন: এতে আমার কোনো প্রয়োজন নেই। কারণ আমি রাসূলুল্লাহ (সা.)-কে বলতে শুনেছি: "নিশ্চয়ই শাসকদের কিয়ামতের দিন উপস্থিত করা হবে এবং তাদের জাহান্নামের কিনারায় একটি পুলের ওপর দাঁড় করানো হবে। যদি সে আল্লাহর অনুগত হয়ে থাকে, তবে আল্লাহ তাকে তাঁর ডান হাত দ্বারা রক্ষা করবেন এবং তাকে মুক্তি দান করবেন। আর যে আল্লাহর অবাধ্য হয়েছে, তার জন্য সেই পুলটি বিদীর্ণ হয়ে যাবে এবং সে আগুনের লেলিহান শিখা সম্বলিত জাহান্নামের এক উপত্যকায় গিয়ে পড়বে।" তখন উমর (রা.) আবু যার এবং সালমান (রা.)-কে ডেকে পাঠালেন এবং আবু যার (রা.)-কে জিজ্ঞাসা করলেন: আপনি কি রাসূলুল্লাহ (সা.)-এর নিকট থেকে এই হাদিসটি শুনেছেন? তিনি বললেন: হ্যাঁ, আল্লাহর কসম! এমনকি সেই উপত্যকার পেছনে আগুনের আরও একটি উপত্যকা রয়েছে।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
যাম্মুল ক্বাযা ওয়া তাক্বাল্লুদুল আহকাম
(পৃষ্ঠা: ৭৬)
قال: وسأل سلمان فكره أن يخبره، فقال عمر: من يأخذها بما فيها؟ فقال أبو ذر: من سلت الله أنفه وعينيه أمرغ خده إلى الأرض.
وقال حدثنا وكيع حدثنا أبو الأشهب جعفر بن حيان عن الحسن أن النبي
صلى الله عليه وسلم استعمل رجلاً فقال: يا رسول الله، خِر لي؟ قال: "اجلس" (2).
114 - وحدثنا وكيع حدثنا سفيان عن هارون الخضرمي عن أبي بكر أن عمر بن الخطاب -رضي الله تعالى عنه- استعمل رجلاً فقال: يا أمير المؤمنين أشر علىَّ؟
قال: "اجلس واكتم علىَّ" (3).
115 - وأخرج الطبراني في الكبير عن أبي وائل شقيق بن سلمة أن عمر ابن الخطاب -رضي الله تعالى عنه- استعمل بشر بن عاصم إلى صدقات هوازن فتخلف بشر فلقيه عمر فقال: ما خلفك أما لنا عليك سمع وطاعة؟ قال: بلى
--------------------------------------------
তিনি বললেন: এবং তিনি সালমানকে জিজ্ঞাসা করলেন, তিনি (সালমান) তাকে জানানো অপছন্দ করলেন। তখন উমর বললেন: এতে যা (দায়িত্ব ও জবাবদিহিতা) রয়েছে তা সহ কে এটি গ্রহণ করবে? আবু যার বললেন: যার নাক ও চোখ আল্লাহ ছিন্ন করবেন এবং তার গাল মাটিতে ঘষে দেবেন (সে-ই এটি গ্রহণ করবে)।
এবং তিনি বলেন, ওয়াকি' আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, আবু আল-আশহাব জাফর ইবনে হাইয়ান আল-হাসান থেকে আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন যে, নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) এক ব্যক্তিকে নিয়োগ দিলেন। সে বলল: হে আল্লাহর রাসূল, আমার জন্য যা কল্যাণকর তা নির্বাচন করে দিন? তিনি বললেন: "বসে থাকো" (২)।
১১৪ - এবং ওয়াকি' সুফিয়ান থেকে, তিনি হারুন আল-হাদরামি থেকে, তিনি আবু বকর থেকে আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন যে, উমর ইবনুল খাত্তাব (রাযিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু) এক ব্যক্তিকে নিয়োগ দিলেন। সে বলল: হে আমিরুল মুমিনিন, আমাকে পরামর্শ দিন?
তিনি বললেন: "বসে থাকো এবং আমার এই কথা গোপন রাখো" (৩)।
১১৫ - আত-তাবারানি আল-কবির-এ আবু ওয়াইল শাকিক ইবনে সালামাহ থেকে বর্ণনা করেছেন যে, উমর ইবনুল খাত্তাব (রাযিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু) বিশর বিন আসিমকে হাওয়াজিন গোত্রের সদকা আদায়ের জন্য নিয়োগ দিলেন। কিন্তু বিশর পেছনে রয়ে গেলেন। উমরের সাথে তার দেখা হলে তিনি বললেন: তোমাকে কিসে আটকে রাখল? আমাদের প্রতি তোমার কি শোনা ও আনুগত্যের দায় নেই? সে বলল: অবশ্যই
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
যাম্মুল ক্বাযা ওয়া তাক্বাল্লুদুল আহকাম
(পৃষ্ঠা: ৭৭)
ولكن سمعت رسول الله صلى الله عليه وسلم يقول: "من ولى شيئاً من أمور المسلمين أتي به يوم القيامة حتى يقف على جسر جهنم فإن كان محسناً نجى وإن كان مسيئاً انخرق به الجسر فهوى به سبعين خريف" (4).
قال: فخرج عمر كئيباً حزيناً فلقيه أبو ذر فقال: ما لي أراك كئيباً حزيناً وقد سمعت بشر بن عاصم يقول من ولى شيئاً من أمور المسلمين جيء به حتى يقف على جسر جهنم فإن كان محسناً نجى وإن كان مسيئاً انخرق به الجسر يهوي فيه سبعين خريفاً.
قال أبو ذر: أما سمعت من رسول الله صلى الله عليه وسلم؟ قال: لا. قال: أشهد أني سمعت رسول الله صلى الله عليه وسلم يقول:
من ولى أحداً من الناس أتي به يوم القيامة حتى يقف على جسر جهنم فإن كان محسناً نجى وإن كان مسيئاً انخرق به الجسر يهوي فيه سبعين خريفاً وهي سوداء مظلمة".
فأي الحديثين أوجع قلبك؟
قال: كلاهما أوجع قلبي فمن يأخذها بما فيها؟
قال أبو ذر: من سلت أنفه (5) وألصق خده بالأرض.
116 - وأخرج الحاكم عن أبي هريرة قال: سمعت رسول الله صلى الله عليه وسلم يقول: "ليوشك رجل أن يتمنى أنه خر الثريا ولم يل أمر الناس شيئاً" (6).
--------------------------------------------
কিন্তু আমি রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-কে বলতে শুনেছি: "যে ব্যক্তি মুসলিমদের কোনো বিষয়ের দায়িত্বভার গ্রহণ করবে, কিয়ামতের দিন তাকে এমনভাবে উপস্থিত করা হবে যে সে জাহান্নামের পুলের ওপর দাঁড়াবে। যদি সে নেককার হয় তবে মুক্তি পাবে, আর যদি সে পাপাচারী হয় তবে পুলটি তার নিচে বিদীর্ণ হয়ে যাবে এবং সে তাতে সত্তর বছর পর্যন্ত গভীরে পতিত হতে থাকবে।" (৪)
বর্ণনাকারী বলেন: অতঃপর উমর (রা.) অত্যন্ত বিষণ্ণ ও চিন্তিত অবস্থায় বেরিয়ে এলেন। পথে আবু যর (রা.)-এর সাথে তাঁর সাক্ষাৎ হলে তিনি বললেন: "কী ব্যাপার, আমি আপনাকে বিষণ্ণ ও চিন্তিত দেখছি কেন? অথচ আমি বিশর ইবনে আসিমকে বলতে শুনেছি যে, যে ব্যক্তি মুসলিমদের কোনো বিষয়ের দায়িত্ব গ্রহণ করবে তাকে উপস্থিত করা হবে এবং জাহান্নামের পুলের ওপর দাঁড় করানো হবে। যদি সে নেককার হয় তবে নাজাত পাবে, আর যদি সে পাপাচারী হয় তবে পুলটি তার নিচে বিদীর্ণ হবে এবং সে তাতে সত্তর বছর পর্যন্ত পতিত হতে থাকবে।"
আবু যর (রা.) বললেন: "আপনি কি এটি সরাসরি রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর নিকট থেকে শোনেননি?" তিনি বললেন: "না।" আবু যর (রা.) বললেন: "আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, আমি রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-কে বলতে শুনেছি:
যে ব্যক্তি মানুষের কোনো বিষয়ের দায়িত্ব গ্রহণ করবে, কিয়ামতের দিন তাকে আনা হবে এবং জাহান্নামের পুলের ওপর দাঁড় করানো হবে। যদি সে নেককার হয় তবে নাজাত পাবে, আর যদি সে পাপাচারী হয় তবে পুলটি তার নিচে বিদীর্ণ হয়ে যাবে এবং সে তাতে সত্তর বছর পর্যন্ত পতিত হতে থাকবে, আর তা (জাহান্নাম) হবে কুচকুচে কালো ও অন্ধকার।"
অতঃপর আবু যর (রা.) জিজ্ঞাসা করলেন: "এই দুই হাদিসের মধ্যে কোনটি আপনার অন্তরকে অধিক ব্যথিত করেছে?"
তিনি বললেন: "উভয়টিই আমার অন্তরকে ব্যথিত করেছে। তবে কে আছে যে এর যাবতীয় দায়-দায়িত্বসহ এই পদ গ্রহণ করবে?"
আবু যর (রা.) বললেন: "সেই ব্যক্তি, যার নাক কর্তিত (৫) এবং যে তার গালকে মাটির সাথে মিশিয়ে দিয়েছে (অর্থাৎ বিনয়ী ও ধৈর্যশীল)।"
১১৬ - এবং হাকেম আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমি রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-কে বলতে শুনেছি: "অচিরেই এমন সময় আসবে যখন মানুষ আকাঙ্ক্ষা করবে যে সে যদি সুরাইয়া নক্ষত্র থেকে নিচে ছিটকে পড়ত তবু মানুষের কোনো বিষয়ের দায়িত্ব গ্রহণ না করত।" (৬)।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
যাম্মুল ক্বাযা ওয়া তাক্বাল্লুদুল আহকাম
(পৃষ্ঠা: ৭৮)
117 - وأخرج أحمد وأبو يعلى والبزار عن أبي هريرة قال قال رسول الله صلى الله عليه وسلم: "ويل للأمراء، ويل للعرفاء، ويل للأمناء، ليتمنين أقوام يوم القيامة أن ذوائبهم كانت معلقة بالثريا يتذبذبون بين السماء والأرض وأنهم لم يلوا عملاً" (7).
--------------------------------------------
117 - আহমদ, আবু ইয়ালা এবং আল-বাজ্জার আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন: "ধ্বংস আমীরদের জন্য, ধ্বংস প্রশাসনিক কর্মকর্তাদের (عرفاء) জন্য, ধ্বংস আমানতদারদের জন্য। কিয়ামতের দিন কিছু সম্প্রদায় অবশ্যই কামনা করবে যে, যদি তাদের মাথার চুলের ঝুঁটি সুরাইয়া নক্ষত্রের সাথে ঝুলন্ত থাকত এবং তারা আসমান ও জমিনের মাঝে দুলতে থাকত, তবুও যেন তারা কোনো প্রশাসনিক দায়িত্ব (عملاً) গ্রহণ না করত।" (৭)।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
যাম্মুল ক্বাযা ওয়া তাক্বাল্লুদুল আহকাম
(পৃষ্ঠা: ৭৯)
نصيحة الرسول صلى الله عليه وسلم لأبي ذر118 - وأخرج أحمد والحاكم عن أبي ذر قال: قال رسول الله صلى الله عليه وسلم: "يا أبا ذر إني أراك ضعيفاً، فلا تأمرن على اثنين، ولا تولين على مال يتيم" (8).
119 - وأخرج الأربعة والحاكم والبيهقي عن أبي هريرة قال: قال رسوال الله صلى الله عليه وسلم: "مَنْ جُعِلَ قَاضياً فكأنما ذُبحَ (9) بِغيرِ سِكِّينٍ" (10).
--------------------------------------------
আবু যার-এর প্রতি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর উপদেশ১১৮ - ইমাম আহমাদ ও হাকেম আবু যার থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: "হে আবু যার, আমি তোমাকে দুর্বল (ضعيف) দেখছি। সুতরাং তুমি কখনো দুই ব্যক্তির নেতা হয়ো না এবং কোনো এতিমের মালের অভিভাবকত্ব গ্রহণ করো না" (৮)।
১১৯ - সুনান চতুষ্টয়ের সংকলকগণ, হাকেম ও বায়হাকী আবু হুরায়রা থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: "যাকে বিচারক নিযুক্ত করা হলো, তাকে যেন ছুরি ছাড়াই জবাই করা হলো" (৯) (১০)।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
যাম্মুল ক্বাযা ওয়া তাক্বাল্লুদুল আহকাম
(পৃষ্ঠা: ৮০)
120 - وأخرج الحاكم عن أبي ذر قال لرسول الله صلى الله عليه وسلم: أمرني قال: "إنك ضعيف وإنها أمانة (11)، وإنها يوم القيامة خزي وندامة" (12).
شدة حساب القاضي العدل121 - وأخرج أحمد والطبراني في الأوسط والبيهقي بسندٍ جيد عن عائشة سمعت رسول الله صلى الله عليه وسلم يقول:
"يؤتى بالقاضي العدل يوم القيامة فيلقى من شدة الحساب، ما يتمنى أن لم يقض بين اثنين في تمرة فقط" (13).
--------------------------------------------
১২০ - আল-হাকিম আবু যার (রা.) হতে বর্ণনা করেছেন, তিনি রাসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-কে বললেন: আমাকে কোনো দায়িত্ব প্রদান করুন। তিনি বললেন: "নিশ্চয়ই তুমি দুর্বল (ضعيف) এবং এটি একটি আমানত, আর কিয়ামতের দিন এটি হবে লাঞ্ছনা ও অনুশোচনার কারণ।"
ন্যায়পরায়ণ বিচারকের হিসাবের কঠোরতা১২১ - আহমদ, আল-আওসাত গ্রন্থে তাবারানি এবং বায়হাকি একটি উত্তম (جيد) সনদে (سند) আয়েশা (রা.) হতে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন, আমি রাসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-কে বলতে শুনেছি:
"কিয়ামতের দিন ন্যায়পরায়ণ বিচারককে উপস্থিত করা হবে, অতঃপর তিনি হিসাবের এমন কঠোরতার সম্মুখীন হবেন যে, তিনি আকাঙ্ক্ষা করবেন যদি তিনি দুই ব্যক্তির মধ্যে কেবল একটি খেজুরের বিষয়েও বিচার না করতেন!"
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
যাম্মুল ক্বাযা ওয়া তাক্বাল্লুদুল আহকাম
(পৃষ্ঠা: ৮১)
122 - وأخرج ابن ماجه والبزار عن ابن مسعود يرفعه قال: "يؤتى بالقاضي يوم القيامة فيوقف على شفير جهنم فإن أمر به وقع يهوي سبعين خريفاً فيها" (14).
ولفظ ابن ماجه "أربعين خريفاً" (15).
123 - وأخرج البيهقي في شعب الإيمان عن ابن مسعود قال: قال رسول الله صلى الله عليه وسلم: "ما من حاكم يحكم بين الناس إلا حشر وملك يقفاه حتى يقفه على جهنم ثم يرفع رأسه إلى الله فإن قيل له ألقه ألقاه كي يهوي أربعين خريفاً" (16).
حكم من قضى بجور أو جهل124 - وأخرج أبو يعلى والبزار والطبراني بسند رجاله ثقات عن عبد الله بن وهب أن عثمان قال لابن عمر: اذهب قاضياً قال: أو تعفيني
--------------------------------------------
122 - ইবনে মাজাহ ও আল-বাজ্জার ইবনে মাসউদ (রা.) থেকে বর্ণনা করেছেন, যা তিনি মারফু (يرفعه) হিসেবে বর্ণনা করেছেন: "কিয়ামত দিবসে বিচারককে উপস্থিত করা হবে এবং জাহান্নামের কিনারে দাঁড় করানো হবে। অতঃপর যদি তার ব্যাপারে (নিক্ষেপের) নির্দেশ দেওয়া হয়, তবে সে তাতে পড়ে যাবে এবং সেখানে সত্তর বছর পর্যন্ত নিচে পতিত হতে থাকবে" (১৪)।
ইবনে মাজাহ-র শব্দাবলি হলো "চল্লিশ বছর" (১৫)।
123 - আল-বাইহাকি শুআবুল ঈমান-এ ইবনে মাসউদ (রা.) থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন: "এমন কোনো বিচারক নেই যে মানুষের মাঝে বিচার করে, যাকে হাশরের ময়দানে উপস্থিত করা হবে না এবং একজন ফেরেশতা তার ঘাড় ধরে থাকবে যতক্ষণ না তাকে জাহান্নামের ওপর দাঁড় করানো হবে। অতঃপর সেই ফেরেশতা আল্লাহর দিকে মাথা তুলবেন। যদি তাকে বলা হয় ‘তাকে নিক্ষেপ করো’, তবে তিনি তাকে নিক্ষেপ করবেন যেন সে চল্লিশ বছর পর্যন্ত নিচে পতিত হতে থাকে" (১৬)।
অন্যায়ভাবে বা অজ্ঞতাবশত ফয়সালাকারীর বিধান124 - আবু ইয়ালা, আল-বাজ্জার এবং আত-তাবারানি এমন এক সনদে বর্ণনা করেছেন যার বর্ণনাকারীগণ নির্ভরযোগ্য (ثقات), আবদুল্লাহ ইবনে ওয়াহাব থেকে বর্ণিত যে, উসমান (রা.) ইবনে উমর (রা.)-কে বললেন: বিচারক হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করুন। তিনি বললেন: আপনি কি আমাকে অব্যাহতি দেবেন?
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
যাম্মুল ক্বাযা ওয়া তাক্বাল্লুদুল আহকাম
(পৃষ্ঠা: ৮২)
قال: عزمت عليك إلا ذهبت فقضيت؟ قال: لا تعجل قال: سمعت رسول الله صلى الله عليه وسلم يقول: "من عاذ بالله فقد عاذ بمعاذٍ" (17).
فإن أعوذ بالله أن أكون قاضياً، قال وما منعك وقد كان أبوك يقضي؟ قال: لأني سمعت رسول الله صلى الله عليه وسلم يقول: "من كان قاضياً فقضى بجورٍ كان من أهل النار، ومن كان قاضياً فقضى بجهل كان من أهل النار، ومن كان قاضياً عالماً قضى بحق أو بعدلٍ سأل أن ينقلب كفافاً" (18).
125 - وأخرج الطبراني عن نافع قال: لما قتل عثمان جاء عليٌّ إلى ابن عمر فقال: إنك محبوب في الناس فسر إلى الشام.
فقال ابن عمر: بقرابتي وصحبتي لرسول الله صلى الله عليه وسلم، وللرحم الذي بيننا إلا أعفيتني. فلم يعاوده (19).
--------------------------------------------
তিনি বললেন: আমি আপনাকে দৃঢ়ভাবে বলছি, আপনি কি যাবেন এবং বিচারকার্য সম্পাদন করবেন? তিনি বললেন: তাড়াহুড়ো করবেন না। তিনি বললেন: আমি আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে বলতে শুনেছি: "যে ব্যক্তি আল্লাহর নিকট আশ্রয় চাইল, সে এক মহান আশ্রয়স্থল খুঁজে পেল।" (১৭)।
নিশ্চয়ই আমি বিচারক হওয়া থেকে আল্লাহর নিকট আশ্রয় চাচ্ছি। তিনি বললেন: আপনাকে কিসে বাধা দিচ্ছে, অথচ আপনার পিতাও তো বিচারকার্য পরিচালনা করতেন? তিনি বললেন: কারণ আমি আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে বলতে শুনেছি: "যে ব্যক্তি বিচারক হলো এবং অন্যায়ভাবে বিচার করল, সে জাহান্নামীদের অন্তর্ভুক্ত হবে। আর যে ব্যক্তি বিচারক হলো এবং অজ্ঞতাবশত বিচার করল, সেও জাহান্নামীদের অন্তর্ভুক্ত হবে। আর যে বিচারক জ্ঞানী হওয়া সত্ত্বেও সত্য ও ন্যায়ের সাথে বিচার করল, সে প্রার্থনা করল যেন সে (হিসাব-নিকাশে) সমান সমান হয়ে ফিরে আসতে পারে।" (১৮)।
১২৫ - আর তাবারানি নাফে থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: যখন উসমান (রা.) নিহত হলেন, তখন আলী (রা.) ইবনে উমরের নিকট আসলেন এবং বললেন: আপনি জনগণের নিকট অত্যন্ত প্রিয়, সুতরাং আপনি সিরিয়ার দিকে গমন করুন।
তখন ইবনে উমর বললেন: আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সাথে আমার আত্মীয়তা ও সাহচর্যের কসম এবং আমাদের মধ্যকার আত্মীয়তার সম্পর্কের দোহাই দিয়ে বলছি যে, আপনি যদি আমাকে অব্যাহতি দিতেন। এরপর তিনি (আলী রা.) আর তাঁকে পুনরায় অনুরোধ করেননি (১৯)।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
যাম্মুল ক্বাযা ওয়া তাক্বাল্লুদুল আহকাম
(পৃষ্ঠা: ৮৩)
126 - وأخرج أحمد والطبراني بسندٍ حسنٍ عن حَيَّان الصدائي قال: قال رسول الله صلى الله عليه وسلم: "لا خير في الإِمارة لمسلم" (20).
127 - وأخرج أبو يعلى والطبراني في الأوسط عن عائشة سمعت النبي صلى الله عليه وسلم يقول: "ويل للأمراء، ويل للعرفاء ويل للأمناء، ليأتين يومٌ علي أحدهم ودَّ أنه يعلق بالنجم، وأنه لم يل عملاً" (21).
أول الأمارة ملامة128 - وأخرج الطبراني عن معاوية بن أبي سفيان سمعت النبي صلى الله عليه وسلم يذكر الإِمارة فقال: "أول الأمارة ملامة، وثانيها ندامة، وثالثها عذاب يوم القيامة إلا من رحم وعدل".
قال: هكذا وهكذا مثله بيده بالمال ثم سكت ثم قال: "كيف بالعدل مع ذوي القربى؟! " (22).
129 - وأخرج أيضاً من حديث عوف بن مالك (23) وأبي هريرة (24).
--------------------------------------------
126 - আহমদ এবং তাবারানি একটি হাসান (حسن) সনদে (سند) হাইয়ান আস-সাদায়ি থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: "কোনো মুসলিমের জন্য শাসনকর্তৃত্বের মধ্যে কোনো কল্যাণ নেই" (২০)।
127 - আবু ইয়ালা এবং তাবারানি 'আল-আওসাত' গ্রন্থে আয়িশা (রা.) থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে বলতে শুনেছি: "দুর্ভোগ আমিরদের (নেতৃবর্গ) জন্য, দুর্ভোগ কর্মকর্তাদের জন্য এবং দুর্ভোগ আমানতদারদের জন্য। তাদের একজনের ওপর অবশ্যই এমন এক দিন আসবে যখন সে আকাঙ্ক্ষা করবে যে যদি সে কোনো নক্ষত্রের সাথে ঝুলে থাকত এবং কখনো কোনো দায়িত্ব পালন না করত" (২১)।
নেতৃত্বের সূচনা হলো তিরস্কার128 - তাবারানি মুয়াবিয়া ইবনে আবি সুফিয়ান (রা.) থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে নেতৃত্বের কথা উল্লেখ করতে শুনেছি, তখন তিনি বললেন: "নেতৃত্বের প্রথম ধাপ হলো তিরস্কার, দ্বিতীয় ধাপ হলো অনুশোচনা এবং তৃতীয় ধাপ হলো কিয়ামতের দিন আজাব; তবে সে ব্যতীত, যার প্রতি দয়া করা হয়েছে এবং যে ন্যায়বিচার করেছে।"
তিনি বলেন: এরপর তিনি তাঁর হাত দিয়ে সম্পদের অনুরূপ এভাবে এবং এভাবে ইশারা করলেন, তারপর তিনি নীরব হলেন এবং বললেন: "নিকটাত্মীয়দের ক্ষেত্রে ন্যায়বিচার নিশ্চিত করা কতই না কঠিন!" (২২)।
129 - তিনি আওফ বিন মালিক (২৩) এবং আবু হুরায়রা (২৪)-এর হাদিস থেকেও অনুরূপ বর্ণনা করেছেন।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
যাম্মুল ক্বাযা ওয়া তাক্বাল্লুদুল আহকাম
(পৃষ্ঠা: ৮৪)
- وأخرج عن عصمة أن رسول الله صلى الله عليه وسلم استعمل رجلاً على الصدقة فقال يا رسول الله اخترلي؟ فقال: "اجلس في بيتك" (25).
130 - وأخرج أحمد بن أبي أمامة عن النبي صلى الله عليه وسلم قال: "ما من رجل يلي عشرة فما فوق ذلك إلا أتى الله مغلولاً يوم القيامة يده إلى عنقه يفكه بره أو يوبقه إثمه" (26).
--------------------------------------------
আসমা (রা.) থেকে বর্ণিত যে, রাসূলুল্লাহ (সা.) এক ব্যক্তিকে সদকা আদায়ের কাজে নিযুক্ত করলেন। সেই ব্যক্তি বললেন, ‘হে আল্লাহর রাসূল! আপনি আমার জন্য (একটি পথ) পছন্দ করে দিন।’ তিনি বললেন, “তুমি তোমার ঘরেই বসে থাকো।” (২৫)।
১৩০ - ইমাম আহমদ আবু উমামা (রা.) সূত্রে নবী (সা.) থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেছেন: “এমন কোনো ব্যক্তি নেই, যে দশ বা ততোধিক ব্যক্তির নেতৃত্বের দায়িত্ব পালন করে, আর কিয়ামতের দিন আল্লাহর কাছে শিকলবদ্ধ অবস্থায় উপস্থিত না হয়—তার হাত থাকবে তার ঘাড়ে। হয় তার পুণ্য তাকে মুক্ত করে দেবে, নতুবা তার গুনাহ তাকে ধ্বংস করে দেবে।” (২৬)।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
যাম্মুল ক্বাযা ওয়া তাক্বাল্লুদুল আহকাম
(পৃষ্ঠা: ৮৫)
131 - وأخرج أحمد مثله من حديث عباده بن الصامت وسعد بن عباده بلفظ "إلا يؤتى به يوم القيامة مغلولاً لا يفكه من ذلك الغل إلا الله" (27).
132 - وأخرجه الطبراني في الأوسط من حديث ثوبان (28).
133 - وأخرج الطبراني في الأوسط عن بريدة قال: قال النبي صلى الله عليه وسلم: "ما من أمير عشرة إلا أتى الله يوم القيامة مغلولة يداه إلى عنقه فإن كان محسناً فك عنه، وإن كان مسيئاً زيد غلاً إلى غله" (29).
134 - وأخرج البزار من حديث أبي هريرة مثله (30).
135 - وأخرج الطبراني بسندٍ رجاله ثقات عن ابن عباس يرفعه: "ما من رجل ولى عشرة إلا أتى الله يوم القيامة يده مغلولة إلى عنقه حتى يقضي
بينه وبينهم" (31).
--------------------------------------------
131 - এবং আহমাদ উবাদাহ ইবনুস সামিত এবং সা'দ ইবনু উবাদাহ থেকে অনুরূপ বর্ণনা করেছেন এই শব্দে যে, "কিয়ামতের দিন তাকে শৃঙ্খলিত অবস্থায় আনা হবে এবং আল্লাহ ছাড়া আর কেউ তাকে সেই শৃঙ্খল থেকে মুক্ত করবেন না" (২৭)।
132 - তাবারানি আল-আওসাতে সাওবান থেকে এটি বর্ণনা করেছেন (২৮)।
133 - তাবারানি আল-আওসাতে বুরাইদাহ থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: "দশজন ব্যক্তির কোনো আমীর যদি থাকে, তবে সে কিয়ামতের দিন আল্লাহর সামনে এমন অবস্থায় আসবে যে তার হাত দুটি ঘাড়ের সাথে শৃঙ্খলিত থাকবে। যদি সে সৎকর্মপরায়ণ হয় তবে তাকে মুক্ত করা হবে, আর যদি সে অসদাচারী হয় তবে তার শৃঙ্খলের ওপর আরও শৃঙ্খল বাড়িয়ে দেওয়া হবে" (২৯)।
134 - বাজ্জার আবু হুরায়রা থেকে অনুরূপ হাদিস বর্ণনা করেছেন (৩০)।
135 - তাবারানি এমন একটি সনদ (إسناد)-এর মাধ্যমে বর্ণনা করেছেন যার বর্ণনাকারীগণ নির্ভরযোগ্য (ثقات), ইবনু আব্বাস থেকে মারফু (يرفعه) সূত্রে: "যে ব্যক্তি দশজন লোকের দায়িত্ব গ্রহণ করেছে, সে কিয়ামতের দিন আল্লাহর সামনে এমন অবস্থায় আসবে যে তার হাত ঘাড়ের সাথে শৃঙ্খলিত থাকবে, যতক্ষণ না তার ও তাদের মাঝে ফয়সালা করা হয়" (৩১)।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
যাম্মুল ক্বাযা ওয়া তাক্বাল্লুদুল আহকাম
(পৃষ্ঠা: ৮৬)
136 - وأخرج في الأوسط عنه، قال: قال النبي صلى الله عليه وسلم: "من ولى عشرة فحكم بينهم بما أحبوا، أو كرهوا جيء به يوم القيامة مغلولة يداه إلى عنقه؛ فإن كان حكم بما أنزل الله لم يجر في حكمه ولم يرتش أطلقت يمينه" (32).
137 - وأخرج في الأوسط أيضاً عن أبي الدرداء سمعت النبي صلى الله عليه وسلم يقول: "من ولي ثلاثة إلا لقى الله مغلولة يمينه فكه عدله أو غله جوره" (33).
138 - وأخرج تمام في فوائد وابن عساكر في تاريخه عن أبي هريرة قال: قال النبي صلى الله عليه وسلم: "عج (34) حجر إلى الله تعالى فقال: إلهي وسيدي
عبدتك كذا وكذا، وكذا، ثم جعلتني في أس كنيف؟ قال: أو ما ترضى أن عدلت بك عن مجالس القضاة" (35).
--------------------------------------------
১৩৬ - তিনি আল-আওসাত গ্রন্থে তাঁর থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: "যে ব্যক্তি দশজন লোকের দায়িত্ব গ্রহণ করে, অতঃপর তাদের মাঝে তাদের পছন্দ বা অপছন্দ অনুযায়ী ফয়সালা করে, কিয়ামতের দিন তাকে এমন অবস্থায় আনা হবে যে তার উভয় হাত তার ঘাড়ের সাথে শিকলবদ্ধ থাকবে। অতঃপর সে যদি আল্লাহর নাযিলকৃত বিধান অনুযায়ী ফয়সালা করে থাকে এবং তার বিচারে কোনো অন্যায় না করে থাকে আর ঘুষ গ্রহণ না করে থাকে, তবে তার ডান হাত মুক্ত করে দেওয়া হবে" (৩২)।
১৩৭ - তিনি আল-আওসাত গ্রন্থে আবু দারদা থেকেও বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন, আমি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে বলতে শুনেছি: "যে ব্যক্তি তিনজনের দায়িত্ব গ্রহণ করবে, সে আল্লাহর সাথে এমন অবস্থায় সাক্ষাৎ করবে যে তার ডান হাত শিকলবদ্ধ থাকবে; হয় তার ন্যায়বিচার তাকে মুক্ত করবে, নতুবা তার অন্যায় তাকে বন্দি করে রাখবে" (৩৩)।
১৩৮ - তাম্মাম তাঁর ফাওয়াইদ গ্রন্থে এবং ইবনে আসাকির তাঁর তারিখ গ্রন্থে আবু হুরায়রা থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: "একটি পাথর মহান আল্লাহর দরবারে উচ্চস্বরে আর্তনাদ (৩৪) করে বলল: হে আমার ইলাহ ও প্রতিপালক, আমি আপনার ইবাদত করেছি এত এত দিন, অথচ শেষ পর্যন্ত আপনি আমাকে পায়খানার ভিত্তির নিচে স্থাপন করলেন? তিনি (আল্লাহ) বললেন: তুমি কি এতে সন্তুষ্ট নও যে, আমি তোমাকে বিচারকদের মজলিস থেকে সরিয়ে দিয়েছি?" (৩৫)।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
যাম্মুল ক্বাযা ওয়া তাক্বাল্লুদুল আহকাম
(পৃষ্ঠা: ৮৭)
هل القضاة أول من يدعى للحساب؟
139 - وأخرج الدينوري في المجالسة عن محمد بن رافع قال: "بلغني أن أول من يدعى للحساب يوم القيامة القضاة" (36).
140 - وأخرج ابن عساكر عن مكحول قال: "لو خُيرت بين القضاء وبين ضرب عنقي لاخترت ضرب عنقي" (37).
141 - وأخرج أبو نعيم في الحلية عن طريق عبد الرزاق عن أبيه قال قلت لوهب بن منبه نرى الرؤيا فتخبرنا بها فلا تلبث أن نراها؟! قال: ذهب ذاك عني منذ وليت القضاء.
قال عبد الرازق: حديث به عن معمر فقال: "والحسن بعد ما ولى القضاء لم يجدوا فهمه" (38).
--------------------------------------------
বিচারকগণ কি সর্বপ্রথম হিসাবের জন্য আমন্ত্রিত হবেন?
139 - আদ-দিনাওয়ারী 'আল-মুজালাসাত' গ্রন্থে মুহাম্মাদ ইবনে রাফি থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেছেন: "আমার কাছে সংবাদ পৌঁছেছে যে, কিয়ামতের দিন সর্বপ্রথম যাদেরকে হিসাবের জন্য ডাকা হবে, তারা হলো বিচারকগণ" (36)।
140 - ইবনে আসাকির মাকহুল থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেছেন: "যদি আমাকে বিচারকের দায়িত্ব পালন এবং আমার শিরচ্ছেদের মধ্যে কোনো একটি বেছে নিতে বলা হতো, তবে আমি শিরচ্ছেদকেই বেছে নিতাম" (37)।
141 - আবু নুয়াইম 'হিলইয়াতুল আউলিয়া' গ্রন্থে আব্দুর রাজ্জাকের সূত্রে তাঁর পিতা থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমি ওয়াহাব ইবনে মুনাব্বিহকে বললাম, "আমরা স্বপ্ন দেখি এবং আপনাকে তা জানাই, তারপর শীঘ্রই আমরা তা বাস্তবায়িত হতে দেখি?! তিনি বললেন: যখন থেকে আমি বিচারকের দায়িত্বভার গ্রহণ করেছি, তখন থেকে আমার মধ্য থেকে এই (আধ্যাত্মিক অন্তর্দৃষ্টির) বিষয়টি চলে গেছে।"
আব্দুর রাজ্জাক বলেন: তিনি এটি মা'মার থেকে হাদিস হিসেবে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেছেন: "হাসান (বাসরি) যখন বিচারকের দায়িত্ব গ্রহণ করেন, তখন তারা আর তাঁর মাঝে সেই প্রজ্ঞা খুঁজে পায়নি" (38)।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
যাম্মুল ক্বাযা ওয়া তাক্বাল্লুদুল আহকাম
(পৃষ্ঠা: ৮৮)
رجل يحب أن يحشر مع العلماء142 - وأخرج ابن عساكر عن أبي زُرعة الثقفي قال: "عرض يحيى ابن خالد القضاء على عبد الله بن وهب المصري فكتب إليه: إني لم أكتب العلم أريد أن أحشر في زمرة القضاة، ولكني كتبت العلم أريد أن أحشر به في زمرة العلماء" (39).
143 - وقال صاحب المغرب: ذكر في المسهب أن الأمر عبد الرحمن استدعى عبد الملك بن حبيب للقضاء، وقد أعياه أمر القضاء فاستعفى وكتب إليه:
خليفة الله أقلني فما
… أصلح والرحمن للحكم
إما غشوم أو ضعيف فما
… ننقمك في الحالين من أمم
وأنت مأخوذ بذنبي وما
… غيري بنفسي مشبه علمي
فاستحسن الخليفة ذلك وقال:
هكذا يكون الناس، لا قوم تضرب وجوه لهم ضرب غرائب الإبل عن الخطط، وهم يتهافتون عليها تهافت الفراس" (40).
--------------------------------------------
এক ব্যক্তি যিনি আলেমদের সাথে পুনরুত্থিত হতে পছন্দ করেন১৪২ - ইবনে আসাকির আবু জুরআহ আস-সাকাফী থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: "ইয়াহইয়া ইবনে খালিদ আবদুল্লাহ ইবনে ওয়াহাব আল-মিসরিকে বিচারকের পদের প্রস্তাব প্রদান করেন। তখন তিনি তাকে লিখে পাঠালেন: আমি এই উদ্দেশ্যে ইলম অর্জন করিনি যে আমাকে বিচারকদের দলের অন্তর্ভুক্ত করে পুনরুত্থিত করা হবে, বরং আমি এই উদ্দেশ্যে ইলম অর্জন করেছি যাতে আমাকে আলেমদের দলের অন্তর্ভুক্ত করে ইলমসহ পুনরুত্থিত করা হয়" (৩৯)।
১৪৩ - 'আল-মাগরিব' গ্রন্থের লেখক বলেন: 'আল-মুসহিব' গ্রন্থে উল্লেখ করা হয়েছে যে, আমির আবদুর রহমান আব্দুল মালিক ইবনে হাবিবকে বিচারকের পদের জন্য তলব করেছিলেন। বিচারকার্যের বিষয়টি তাকে ক্লান্ত ও ব্যতিব্যস্ত করে তুললে তিনি অব্যাহতি চাইলেন এবং তাকে লিখে পাঠালেন:
হে আল্লাহর খলিফা! আমাকে অব্যাহতি দিন, কেননা দয়াময় আল্লাহর কসম! আমি বিচারের জন্য উপযুক্ত নই
হয় আমি অত্যাচারী হব, নয়তো দুর্বল (ضعيف); আর এই উভয় অবস্থাতেই আমি আপনার জনগণের জন্য কোনো অনিষ্ট বয়ে আনতে চাই না
আপনি আমার পাপের জন্য পাকড়াও হবেন, অথচ আমার নিজের অবস্থা সম্পর্কে আমার চেয়ে বেশি আর কেউ জ্ঞাত নয়
খলিফা এটি পছন্দ করলেন এবং বললেন:
"মানুষ এমনই হওয়া উচিত। তাদের মতো হওয়া উচিত নয় যাদের বিচরণক্ষেত্র থেকে পথভ্রষ্ট উটের মতো তাড়িয়ে দেওয়া হয়, অথচ তারা পদের মোহে পতঙ্গের মতো ঝাঁপিয়ে পড়ে" (৪০)।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
যাম্মুল ক্বাযা ওয়া তাক্বাল্লুদুল আহকাম
(পৃষ্ঠা: ৮৯)
فرار السلف الصالح من القضاء144 - وقال الدينوري في المجالسة: حدثنا أحمد بن عيسى وعلي بن عبد العزيز عن أبي عبيد القاسم بن سلام حدثنا إسماعيل بن إبراهيم عن أيوب السختياني قال:
لما مات عبد الرحمن بن أذينة، ذكر أبو قلابة للقضاء فهرب حتى أتى اليمامة. قال أيوب: فلقيته بعد ذلك فقال: ما وجدت مثل القاضي العالم إلا مثل رجل وقع في بحر فما سعى أن يسبح حتى يغرق (41).
145 - أخرجه ابن سعد في الطبقات (42).
146 - وفي كتاب عقلاء المجانين بسنده عن محمد بن يحيى البصري قال: دعا المنصور أبا حنيفة والثوري ومِسْعراً وشريكاً ليوليهم القضاء، فقال أبو حنيفة: أتحامق فيكم تحميقاً، أما أنا فأحتال فأخلص.
وأما مسعر فيتجاني فيخلص، وأما سفيان فيهرب.
وأما شريك فيقع، فلما دخلوا عليه، قال أبو حنيفة: أنا رجل مولى، ولست من العرب، ولا تكاد العرب ترضى بأن أكون عليهم مولى، ومع ذلك
--------------------------------------------
সালাফ আস-সালেহিন বা নেককার পূর্বসূরিদের বিচারকের পদ থেকে পলায়ন১৪৪ - আদ-দিনাওরি 'আল-মুজালাসাহ' গ্রন্থে বলেছেন: আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আহমদ ইবনে ঈসা এবং আলী ইবনে আব্দুল আজিজ, আবু উবাইদ আল-কাসিম ইবনে সাল্লাম থেকে, তিনি বর্ণনা করেছেন ইসমাইল ইবনে ইব্রাহিম থেকে, তিনি আইয়ুব আল-সাখতিয়ানি থেকে, তিনি বলেন:
যখন আব্দুর রহমান ইবনে উযাইনাহ মৃত্যুবরণ করেন, তখন আবু কিলাবার নাম বিচারকের (কাজীর) পদের জন্য আলোচিত হয়, ফলে তিনি ইয়ামামায় পালিয়ে যান। আইয়ুব বলেন: এরপর তার সাথে আমার দেখা হলে তিনি বলেন: আমি একজন জ্ঞানী বিচারকের দৃষ্টান্ত এমন একজন ব্যক্তির মতো ছাড়া আর কিছুই পাইনি যে সমুদ্রে পতিত হয়েছে, এরপর সে সাঁতার কাটার চেষ্টা করতে করতে একপর্যায়ে ডুবে যায় (৪১)।
১৪৫ - এটি ইবনে সাদ 'আত-তাবাকাত' (৪২) গ্রন্থে বর্ণনা করেছেন।
১৪৬ - এবং 'উকালাউল মাজানিন' গ্রন্থে মুহাম্মাদ ইবনে ইয়াহইয়া আল-বাসরি থেকে তার সনদে বর্ণিত হয়েছে, তিনি বলেন: (খলিফা) আল-মানসুর আবু হানিফা, আস-সাওরি, মিসআর এবং শারিককে বিচারকের পদে নিয়োগ দেওয়ার জন্য ডেকে পাঠান। তখন আবু হানিফা বললেন: আমি আপনাদের কাছে নিজেকে নির্বোধ হিসেবে প্রকাশ করব; আমি তো কোনো না কোনো কৌশলে মুক্তি পেয়ে যাব।
আর মিসআর পাগলামি ভান করবে এবং মুক্তি পাবে, আর সুফিয়ান পালিয়ে যাবে।
আর শারিক এই কাজে জড়িয়ে পড়বে। যখন তারা তার (মানসুরের) কাছে প্রবেশ করলেন, তখন আবু হানিফা বললেন: আমি একজন মাওলা (অনারব বংশোদ্ভূত), আমি আরবদের অন্তর্ভুক্ত নই, আর আরবরা তাদের ওপর আমার মতো একজন মাওলার কর্তৃত্ব মেনে নিতে রাজি হবে না, তাছাড়া...
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
যাম্মুল ক্বাযা ওয়া তাক্বাল্লুদুল আহকাম
(পৃষ্ঠা: ৯০)
فإني لا أصلح لهذا الأمر، فإن كنت صادقاً في قولي فلا أصلح له، وإن كنت كاذباً فلا يجوز لك أن تولى كاذباً دماء المسلمين وفروجهم.
وأما سفيان فأدركه المشخص في طريقه فذهب لحاجته، وانصرف ينتظر فراغه، فبصر سفيان بسفينةٍ فقال للملاح: إن مكنتني من سفينتك، وإلا أذبح بغير سكين تأول قول رسول الله صلى الله عليه وسلم: "من جعل قاضيا فقد ذبح بغير سكين" (43).
فأخفاه الملاح تحت السارية (44).
وأما مسعر فدخل على المنصور فقال له: هات يدك كيف أنت، وأولادك، ودوابك؟ فقال: أخرجوه فإنه مجنون.
وأما شريك فقال له المنصور: تقلد القضاء. قال: أنا رجل خفيف الدماغ. قال: تقلد وعليك العصيد والنبيذ الشديد حتى يرجح عقلك فتقلد، ْفهجره الثوري، وقال: أمكنك الهرب فلم تهرب (45).
147 - وفيه أيضاً بسنده عن يونس بن عبد الأعلى الصدفي قال: كتب الخليفة إلى عبد الله بن وهب في قضاء مصر، فتجنن نفسه، ولزم بيته، فأطلع عليه راشد بن سعيد، وهو يتوضأ في صحن داره فقال: أبا محمد، ألا تخرج بين الناس فتحكم بينهم بكتاب الله وسنة رسوله، وقد جننت نفسك، ولزمت نفسك بيتك، فرفع إليه رأسه، وقال: إلى هنا انتهي عقلك أما علمت أن العلماء يحشرون مع الأنبياء والمرسلين، والقضاة يحشرون مع السلاطين" (46).
--------------------------------------------
আমি এই পদের জন্য উপযুক্ত নই; যদি আমি আমার কথায় সত্যবাদী (صادق) হই, তবে আমি এর জন্য উপযুক্ত নই, আর যদি আমি মিথ্যাবাদী (كاذب) হই, তবে কোনো মিথ্যাবাদীর হাতে মুসলিমদের রক্ত ও ইজ্জতের দায়িত্ব অর্পণ করা আপনার জন্য বৈধ নয়।
আর সুফিয়ানের ক্ষেত্রে বিষয়টি হলো, পথে সরকারি পেয়াদা তাকে ধরে ফেলল। এরপর সে শৌচকার্যের জন্য গেল এবং পেয়াদা তার অবসর হওয়ার অপেক্ষায় সরে দাঁড়াল। তখন সুফিয়ান একটি নৌকা দেখতে পেলেন এবং মাঝিকে বললেন: "যদি তুমি আমাকে তোমার নৌকায় স্থান দাও, অন্যথায় আমাকে ছুরি ছাড়াই জবাই করা হবে।" তিনি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর বাণীর ব্যাখ্যা (تأويل) করছিলেন: "যাকে বিচারক (قاضي) নিযুক্ত করা হলো, তাকে যেন ছুরি ছাড়াই জবাই করা হলো" (৪৩)।
মাঝি তাকে মাস্তুলের (৪৪) নিচে লুকিয়ে রাখল।
আর মিসআরের ব্যাপারটি হলো, তিনি মনসুরের দরবারে প্রবেশ করলেন এবং তাকে বললেন: "আপনার হাত দিন; আপনি কেমন আছেন? আপনার সন্তানাদি ও গবাদি পশুরা কেমন আছে?" তখন মনসুর বললেন: "তাকে বের করে দাও, সে পাগল (مجنون)।"
আর শারীিকের ব্যাপারে কথা হলো, মনসুর তাকে বললেন: "বিচারপতির পদ গ্রহণ করো।" তিনি বললেন: "আমি তো মস্তিষ্কহীন এক ব্যক্তি।" মনসুর বললেন: "তুমি পদটি গ্রহণ করো, আর তুমি পরিপুষ্ট খাবার ও কড়া পানীয় গ্রহণ করবে যাতে তোমার বুদ্ধি পরিপক্ক হয়।" অবশেষে তিনি পদটি গ্রহণ করলেন। ফলে আস-সাওরী তার সাথে সম্পর্ক ছিন্ন করলেন এবং বললেন: "পলায়ন করা তোমার পক্ষে সম্ভব ছিল, অথচ তুমি পালালে না" (৪৫)।
১৪৭ - এতে আরও তার সনদ (سند) সহকারে ইউনুস বিন আব্দুল আ'লা আস-সাদাফী থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: খলিফা আব্দুল্লাহ বিন ওয়াহাবকে মিশরের বিচারপতির দায়িত্ব পালনের জন্য পত্র লিখলেন। তখন তিনি নিজেকে পাগল (مجنون) হিসেবে প্রকাশ করলেন এবং ঘরে নিজেকে আবদ্ধ রাখলেন। রাশেদ বিন সাঈদ তার সাথে দেখা করলেন যখন তিনি বাড়ির উঠানে অজু করছিলেন। তিনি বললেন: "হে আবু মুহাম্মদ! আপনি কেন মানুষের মাঝে বের হয়ে আল্লাহর কিতাব ও তাঁর রাসূলের সুন্নাহ অনুযায়ী বিচারকার্য পরিচালনা করছেন না? অথচ আপনি নিজেকে পাগল সাজিয়ে ঘরে আবদ্ধ করে রেখেছেন।" তখন তিনি তার দিকে মাথা তুললেন এবং বললেন: "তোমার বুদ্ধি কি এই পর্যন্তই? তুমি কি জানো না যে, আলেমগণ (علماء) নবী ও রাসূলগণের সাথে পুনরুত্থিত হবেন, আর বিচারকগণ (قضاة) সুলতানদের সাথে পুনরুত্থিত হবেন?" (৪৬)।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
যাম্মুল ক্বাযা ওয়া তাক্বাল্লুদুল আহকাম
(পৃষ্ঠা: ৯১)
148 - وفيه أيضاً بسنده إلى أبي معشر
أن رجلاً آلى بيمين أن لا يتزوج حتى يستشير مائة نفس، فلما قاسى من بلاء النساء فاستشار تسعاً وتسعين نفساً، فبقى واحد فخرج على أن يسأل أول من يطرأ عليه، فرأى مجنوناً قد اتخذ قلادة من عظم، وسود وجهه، وركب قصبة، وأخذ رمحه، فسلم عليه وقال: مسألة؟ قال: اسأل ما يعنيك، وإياك وما لا يعنيك، واحذر رمحة هذا الفرس قال: فقلت: مجنون والله، ثم قلت: إني رجل لقيت من النساء بلاء، وآليت أن لا أتزوج حتى أستشير مائة نفس، وأنت تمام المائة، فقال: أعلم أن النساء ثلائة واحدة لك، وواحدة عليك، وواحدة لا لك ولا عليك، فأما التي لك فشابة طرية لم تمس الرجال فهي لك لا عليك، إن رأت خيراً حمدت، وإن رأت شراً، قالت: كل الرجال كذا.
وأما التي عليك ولا لك، فامرأة لها ولد من غيرك، فهي التي تسلخ الزوج وتجمع لولدها.
وأما التي لا لك ولا عليك، فامرأة تزوجت زوجاً قبلك إن رأت خيراً قالت هكذا يجب، وإن رأت شراً حَنَّتْ لزوجها الأول، قال: فقلت: نشدتك الله ما الذي غير من أمرك ما أرى؟ قال: ألم أشترط عليك أن لا تسأل عما لا يعنيك؟! فأقسمت عليه، فقال: إني طلبت للقضاء فاخترت ما ترى على القضاء (47).
--------------------------------------------
১৪৮ - এবং এতে আবু মা'শার পর্যন্ত তাঁর সনদ (سنده) সহ বর্ণিত হয়েছে যে,
এক ব্যক্তি কসম করেছিলেন যে, তিনি একশত জন লোকের পরামর্শ গ্রহণ না করা পর্যন্ত বিবাহ করবেন না। যেহেতু তিনি নারীদের পক্ষ থেকে কঠিন পরীক্ষার সম্মুখীন হয়েছিলেন, তাই তিনি নিরানব্বই জনের নিকট পরামর্শ চাইলেন। বাকি রইল একজন, তাই তিনি এই উদ্দেশ্যে বের হলেন যে প্রথম যাঁর সাথে তাঁর সাক্ষাৎ হবে তাকেই তিনি জিজ্ঞেস করবেন। অতঃপর তিনি এক উন্মাদকে দেখলেন, যে হাড়ের তৈরি একটি মালা পরিধান করেছে, নিজের চেহারা কালো করেছে, একটি নলখাগড়ার ওপর সওয়ার হয়েছে এবং একটি বর্শা হাতে নিয়েছে। তিনি তাকে সালাম দিয়ে বললেন: একটি প্রশ্ন ছিল? সে বলল: তোমার প্রয়োজনীয় বিষয়ে প্রশ্ন করো এবং যা তোমার জন্য অনর্থক তা থেকে বিরত থাকো, আর এই ঘোড়ার পদাঘাত থেকে সতর্ক থেকো। বর্ণনাকারী বলেন, আমি (মনে মনে) বললাম: আল্লাহর কসম, এতো এক পাগল! অতঃপর আমি বললাম: আমি এমন এক ব্যক্তি যে নারীদের পক্ষ থেকে কষ্টের সম্মুখীন হয়েছি, আর আমি কসম করেছি যে একশত জনের পরামর্শ না নিয়ে বিবাহ করব না। আপনিই সেই একশত জনের পূর্ণকারী। তখন সে বলল: জেনে রাখো, নারী তিন প্রকারের—এক প্রকার তোমার অনুকূলে, এক প্রকার তোমার প্রতিকূলে এবং এক প্রকার না তোমার অনুকূলে না তোমার প্রতিকূলে। যে তোমার অনুকূলে, সে হলো এমন এক যুবতী ও কুমারী যাকে কোনো পুরুষ স্পর্শ করেনি; সে তোমার জন্যই, তোমার বিপক্ষে নয়। সে যদি ভালো কিছু দেখে তবে প্রশংসা করে, আর যদি মন্দ দেখে তবে বলে: সকল পুরুষই এমন।
আর যে তোমার প্রতিকূলে কিন্তু অনুকূলে নয়, সে হলো এমন এক নারী যার অন্য স্বামীর সন্তান রয়েছে; সে তার স্বামীকে নিঃস্ব করে দেয় এবং নিজ সন্তানের জন্য সম্পদ পুঞ্জীভূত করে।
আর যে না তোমার অনুকূলে না তোমার প্রতিকূলে, সে হলো এমন নারী যে ইতিপূর্বে বিবাহিতা ছিল। সে যদি ভালো কিছু দেখে তবে বলে যে এমনই হওয়া উচিত, আর যদি মন্দ দেখে তবে তার প্রথম স্বামীর জন্য ব্যাকুল হয়ে পড়ে। বর্ণনাকারী বলেন, আমি বললাম: আমি আল্লাহর দোহাই দিয়ে আপনাকে জিজ্ঞেস করছি, আপনার অবস্থা কেন এমন হলো যা আমি দেখছি? সে বলল: আমি কি তোমার নিকট শর্ত করিনি যে যা তোমার জন্য অনর্থক তা নিয়ে প্রশ্ন করবে না?! আমি পুনরায় কসম দিয়ে জিজ্ঞেস করলে সে বলল: আমাকে বিচারকের পদের (قضاء) জন্য তলব করা হয়েছিল, তাই আমি বিচারকার্যের (القضاء) পরিবর্তে এই অবস্থাকেই বেছে নিয়েছি (৪৭)।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
যাম্মুল ক্বাযা ওয়া তাক্বাল্লুদুল আহকাম
(পৃষ্ঠা: ৯২)
أحوال القضاة في بني إسرائيل149 - وأخرج عبد بن الحكم في فتوح مصر عن عبد الرحمن بن زيد ابن أسلم قال:
"كانت القضاة في زمن بني إسرائيل إذا كان لا يأخذه في الله لومة لائم لم يسلط على جسده البلاء، ولا دابة تأكل ثيابه قد يبست عليه لا تبلى، وكان عائد منهم على ذلك، وكانوا في ذلك الزمان يجعل بعضهم على البعض في البيوت، وبعضهم في الصناديق، فآتاه أخ له فقال: ادع به أصلى عليه، فآتاه به فإذا بدابة خرقت الكفن حتى خرجت من أذنه، فأحزنه ذلك، فلما نام لقته روح صاحبه فقالت: يا أخى، رأيت حزنك على الدابة التي خرجت من أذني، تحمد الله لشيء تكرهه، جلس إلىَّ رجلان أحدهما لي فيه هوى، والآخر لا هوى فيه فكان أصغى إليَّ ذى الهوى، ولم يكن أصغى إلى الآخر (48).
150 - وقال القاضي أبو جعفر أحمد بن إسحاق البهلول، أورده ابن النجار في تاريخه.
تركت القضاء لأهل القضاء
… وأقبلت أسعى (49) إلى الآخرهْ
فإن يك فخراً جليل الثَّنَا
… فقد نِلْتُ منه يدًا فاخِرَهْ
وإن يك وزرًا فأبعد به
… ولا خير في نعمة (50) وازره (51)
--------------------------------------------
বনী ইসরাঈলের বিচারপতিদের অবস্থা১৪৯ - আবদ বিন আল-হাকাম 'ফুতুহ মিসর' গ্রন্থে আবদুর রহমান বিন যায়েদ বিন আসলাম থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন:
"বনী ইসরাঈলের যুগে বিচারপতিগণ যখন আল্লাহর পথে কোনো নিন্দুকের নিন্দাকে ভয় করতেন না, তখন তাদের দেহের ওপর কোনো মুসিবত চাপিয়ে দেওয়া হতো না, আর কোনো কীটপতঙ্গ তাদের পরিহিত কাপড় ভক্ষণ করত না; সেই কাপড় তাদের দেহে শুকিয়ে থাকত কিন্তু জীর্ণ হতো না। তাদের মধ্যে কেউ কেউ এ অবস্থার ওপরই মৃত্যুবরণ করতেন। সেই আমলে তাদের কাউকে কাউকে ঘরের ভেতর রাখা হতো, আবার কাউকে সিন্দুকে রাখা হতো। এক ব্যক্তি তার (মৃত) ভাইয়ের কাছে এসে বলল: তাকে বের করো যাতে আমি তার জানাজা পড়তে পারি। সে তাকে বের করে আনলে দেখা গেল একটি কীটপতঙ্গ কাফন ছিদ্র করে তার কান দিয়ে বের হচ্ছে। এতে সে ব্যথিত হলো। এরপর সে যখন ঘুমাল, তার সাথীর রূহ তার সাথে সাক্ষাৎ করে বলল: হে আমার ভাই, তুমি আমার কান দিয়ে নির্গত কীটপতঙ্গ দেখে ব্যথিত হয়েছ? তুমি আল্লাহর প্রশংসা করো এমন বিষয়ের ওপর যা তুমি অপছন্দ করছ; আমার কাছে দুজন লোক (বিচারের জন্য) বসল, যাদের একজনের প্রতি আমার ব্যক্তিগত ঝোঁক ছিল এবং অন্যজনের প্রতি কোনো ঝোঁক ছিল না, ফলে আমি সেই ঝোঁক থাকা ব্যক্তির দিকে বেশি মনোযোগ দিয়েছিলাম আর অপরজনের প্রতি তেমন মনোযোগ দিইনি (৪৮)।
১৫০ - এবং কাজী আবু জাফর আহমদ বিন ইসহাক আল-বাহলুল বলেন, যা ইবনুল নাজ্জার তাঁর ইতিহাসে উল্লেখ করেছেন।
আমি বিচারকের পদ বিচারকদের জন্য ছেড়ে দিয়েছি
… এবং পরকালের দিকে ধাবিত (৪৯) হয়েছি
যদি এটি মহান প্রশংসার গর্বের বিষয় হয়ে থাকে
… তবে আমি তা থেকে এক সম্মানজনক অংশ লাভ করেছি
আর যদি এটি পাপের বোঝা হয়ে থাকে, তবে তা থেকে দূরে থাকাই শ্রেয়
… আর পাপের বোঝা (৫১) বহনকারী নেয়ামতের (৫০) মধ্যে কোনো কল্যাণ নেই
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
যাম্মুল ক্বাযা ওয়া তাক্বাল্লুদুল আহকাম
(পৃষ্ঠা: ৯৩)
151 - ابن دريد في أماليه: أنبأنا السكن بن سعيد عن أبيه عن ابن الكلبي قال: بلغني أن علياً (رضي الله تعالى عنه قال: أبغض خلق الله عز وجل رجل قمش علماً. عمى عما في غيب الهداية، سماه أشباهه من الناس عالماً، ولم يع في العلماء يومًا سالماً، جد فاستكثر، قليل منه خير مما كثر، حتى إذا ارتوى من آجن، واكتنز من غير طائل قعد بين الناس قاضياً، فهو من قطع الشبهات في مثل غزل العنكبوت، لا يعلم إذا أخطأ، لأنه لا يعلم أخطأ أم أصاب، خباط عشوات، ركاب جهالات، لا يعتذر مما يعلم فيسلم، لا يقضى في العلم بضرس قاطع، يذرو الرواية ذرو الريح الهشيم، تبكي منه الدماء، وتصرخ منه المراريت، ويستحل بقضائه الفروج الحرام، لا يلي أضداد ما ورد عليه، ولا أهل لما فرط له) (52).
152 - مجموع للقاضي أبي الحسين أحمد بن أبي حسن علي بن الرشيد ابن الزبير قال: كان أبو هارون يونس بن عبد الأعلى ممن يتبرك به، فقال له القاضي بكار: يا أبا هارون من أين المعيشة؟ قال: من وقف وقفه أبي، قال له بكار: فيكفيك؟ قال: تكفيت به، وقد سأل القاضي وأسأله؟ قال: سل، ركب القاضي دين البصرة حتى تولى بسببه القاضي قال: لا قال افرزق القاضي ولداً أحوجه أتى ذلك؟ قال: ما نكحت قط قال له: أفعيالك كثرة؟ قال: لا، قال: فأجبره السلطان وعرض عليه العذاب، وخوفه حتى ولى؟ قال: لا قال: أفضربت آباط الإبل من البصرة إلى مصر لغير حاجة، ولا ضرورة فيه عليّ لا دخلت إليك أبداً ثم انفرد عنه، ولم يعد إليه (53).
--------------------------------------------
151 - ইবনে দুরেদ তাঁর 'আমালি' গ্রন্থে বর্ণনা করেছেন: আস-সাকান ইবনে সাঈদ তাঁর পিতার সূত্রে এবং তিনি ইবনুল কালবি থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: আমার কাছে সংবাদ পৌঁছেছে যে, আলী (রাযিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু) বলেছেন: আল্লাহর সৃষ্টির মধ্যে সবচেয়ে ঘৃণ্য ব্যক্তি হলো সেই লোক, যে ভুল পথে ইলম সংগ্রহ করেছে। সে হিদায়াতের গূঢ় রহস্যগুলো সম্পর্কে অন্ধ, তার মতো মানুষেরা তাকে ‘আলেম’ বলে ডাকে, অথচ সে কোনোদিন আলেমদের সান্নিধ্যে নিরাপদ থাকেনি। সে ইলম অন্বেষণে সচেষ্ট হয়েছে এবং তা প্রচুর পরিমাণে সংগ্রহ করেছে, অথচ এর সামান্য পরিমাণ ইলমই তার এই আধিক্যের চেয়ে উত্তম ছিল। এমনকি সে যখন পঙ্কিল পানি পান করে পরিতৃপ্ত হলো এবং অসার ও নিরর্থক বিষয় আহরণ করল, তখন সে মানুষের মধ্যে বিচারক হিসেবে আসীন হলো। সে মাকড়সার জালের মতো নড়বড়ে বিষয়ের মাধ্যমে সংশয় নিরসন করতে চায়; সে জানে না যে কখন সে ভুল করছে, কারণ সে জানেই না কোনটি ভুল আর কোনটি সঠিক। সে অন্ধকারে হাতড়ানো পথিকের মতো এবং মূর্খতায় মত্ত এক সওয়ার। সে যা জানে না সে বিষয়ে কোনো ওজর পেশ করে না যাতে সে নিরাপদ থাকতে পারে। সে ইলমের বিষয়ে কোনো অকাট্য দলীলের মাধ্যমে বিচার করে না। সে বর্ণনাগুলোকে বাতাসের বেগে শুকনো ঘাস ওড়ার মতো উড়িয়ে দেয়। তার বিচারের কারণে রক্ত ঝরে এবং আর্তনাদ উচ্চকিত হয়; তার বিচারের মাধ্যমে নিষিদ্ধ যৌনাঙ্গ হালাল করা হয়। তার কাছে আগত দলীলের বিপরীতগুলোর সমাধান দেওয়ার যোগ্যতা তার নেই এবং সে তার ওপর অর্পিত দায়িত্বের উপযুক্তও নয়।
152 - কাযী আবুল হুসাইন আহমদ ইবনে আবি হাসান আলী ইবনুর রশীদ ইবনুয যুবাইরের একটি সংকলনে বর্ণিত হয়েছে, তিনি বলেন: আবু হারুন ইউনুস ইবনে আবদিল আলা এমন একজন ব্যক্তি ছিলেন যার মাধ্যমে বরকত কামনা করা হতো। কাযী বাক্কার তাকে জিজ্ঞেস করলেন: হে আবু হারুন! আপনার জীবিকা নির্বাহ হয় কীভাবে? তিনি বললেন: আমার পিতা যে ওয়াকফ রেখে গেছেন তা থেকে। বাক্কার তাকে বললেন: তা কি আপনার জন্য যথেষ্ট? তিনি বললেন: আমি তাতেই তুষ্ট। তবে কাযী প্রশ্ন করেছেন, আমিও কি তাঁকে একটি প্রশ্ন করতে পারি? তিনি বললেন: করুন। তিনি বললেন: কাযী কি বসরার ঋণে জর্জরিত হয়েছিলেন যার কারণে তিনি বিচারকের পদ গ্রহণ করতে বাধ্য হয়েছেন? তিনি বললেন: না। তিনি বললেন: তবে কি কাযীর এমন কোনো সন্তান জন্ম নিয়েছিল যার কারণে অভাব তাকে এই পদে আসতে বাধ্য করেছে? তিনি বললেন: আমি কখনোই বিবাহ করিনি। তিনি তাকে বললেন: তবে কি আপনার পরিবার-পরিজন অনেক বেশি? তিনি বললেন: না। তিনি বললেন: তবে কি সুলতান তাকে বাধ্য করেছেন এবং তাকে শাস্তির সম্মুখীন করার ভয় দেখিয়েছেন যতক্ষণ না তিনি এই পদ গ্রহণ করেছেন? তিনি বললেন: না। তিনি বললেন: তবে কি আপনি বসরার পথ থেকে মিসর পর্যন্ত উটের পিঠে চড়ে বিনা প্রয়োজনে এবং কোনো জরুরি অবস্থা ছাড়াই ভ্রমণ করেছিলেন যাতে আমার দায়বদ্ধতা থাকে? আমি কখনোই আপনার নিকট আসতাম না। অতঃপর তিনি সেখান থেকে প্রস্থান করলেন এবং আর কখনো তার নিকট ফিরে আসেননি।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
যাম্মুল ক্বাযা ওয়া তাক্বাল্লুদুল আহকাম
(পৃষ্ঠা: ৯৪)
153 - وأخرج ابن سعد عن يحيى بن سعيد قال:
استعمل أبو الدرداء على القضاء فأصبح يُهَنّئُونَه فقال: أتهَنّئُوني بالقضاء، وقد جعلت على رأسي مهواةٍ مَذَلّتُها أسرع من عدن أبْيَنَ، ولو علم الناس ما في القضاء لأخذوه بالدّلول رغبة عنه وكراهية له، ولو يعلم الناس ما في الأذان لأخذوه بالدول رغبة وحرصاً عليه" (54).
154 - وأخرج ابن النجار في تاريخه عن يحيى بن معين قال: لما رجع الرشيد من الحج نزل الكوفة فدعا وكيع بن الجراح وعبد الله بن إدريس، وحفص بن غياث فلما دخلوا عليه أجلس وكيعاً عن يمينه، وعبد الله عن يساره، وحفصاً بين يديه، ثم أقبل على وكيع فقال له: تلي القضاء؟ فقال: يا أمير المؤمنين أنا رجل صاحب حديث، وآثار، ولا علم لي بالقضاء. فقال لعبد الله: تلي القضاء؟ فقال: يا أمير المؤمنين أنا مولى، والمولى لا يصلح أن يكون قاضياً، فأقبل على حفص بن غياث فقال له: تلي القضاء، وإلا ضربتكم بالسياط، فأمسك حفص فأخذ بيده فأدخل خزانة الكسوة، فألبس السواد وسيف بحمائل، قال: وكانت القضاة إذ ذاك تلبس له هارون الرشيدي، أمضى حداك ورب الكعبة، فلما خرج إلى الباب، وركب وكان بهلول بالباب فغذا بين يديه، وهو يقول: من أراد أن ينظر إلى عروس في دنيا، بطال في آخرته، فلينظر إلى حفص فبكى حتى دخل المسجد (55).
تم الجزء المبارك بحمد الله وعونه وحسن توفيقه على يد كاتبه العبد الفقير كثير الذنوب والخطايا محمد بن أبي القاسم الرجي الطهطاوي عام ستة وخمسين وألف عفا الله عنهما أمين.
--------------------------------------------
153 - ইবনে সাদ ইয়াহইয়া ইবনে সাঈদ থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন:
আবুদ দারদাকে বিচারক হিসেবে নিযুক্ত করা হলো। তখন লোকেরা তাকে অভিনন্দন জানাতে শুরু করল। তিনি বললেন: "তোমরা কি বিচারক হওয়ার জন্য আমাকে অভিনন্দন জানাচ্ছ? অথচ আমাকে এমন এক গর্তের কিনারায় দাঁড় করানো হয়েছে যার লাঞ্ছনা আদন আবইয়ানের গতির চেয়েও দ্রুততর। যদি মানুষ বিচারকার্যের পরিণাম সম্পর্কে জানত, তবে তারা অনীহা ও অপছন্দের কারণে কেবল লটারির মাধ্যমেই তা গ্রহণ করত। আর যদি মানুষ আজানের সওয়াব সম্পর্কে জানত, তবে তারা এর প্রতি গভীর আগ্রহ ও আকুলতার কারণে লটারির মাধ্যমেই তা গ্রহণ করত" (৫৪)।
154 - ইবনুন নাজ্জার তার ইতিহাসে ইয়াহইয়া ইবনে মাঈন থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: যখন আল-রশীদ হজ থেকে ফিরে কুফায় অবতরণ করলেন, তখন তিনি ওয়াকী ইবনুল জাররাহ, আবদুল্লাহ ইবনে ইদরিস এবং হাফস ইবনে গিয়াসকে ডেকে পাঠালেন। তারা যখন তার কাছে প্রবেশ করলেন, তিনি ওয়াকীকে তার ডান পাশে, আবদুল্লাহকে তার বাম পাশে এবং হাফসকে তার সামনে বসালেন। এরপর তিনি ওয়াকীর দিকে ফিরে বললেন: "আপনি কি বিচারকের দায়িত্ব গ্রহণ করবেন?" তিনি বললেন: "হে আমিরুল মুমিনীন, আমি হাদিস ও আছার (آثار) সংকলনকারী একজন মানুষ, বিচারকার্য সম্পর্কে আমার কোনো জ্ঞান নেই।" এরপর তিনি আবদুল্লাহকে বললেন: "আপনি কি বিচারকের দায়িত্ব গ্রহণ করবেন?" তিনি বললেন: "হে আমিরুল মুমিনীন, আমি একজন মুক্তদাস (مولى), আর একজন মুক্তদাসের (مولى) জন্য বিচারক হওয়া সমীচীন নয়।" তখন তিনি হাফস ইবনে গিয়াসের দিকে ফিরে বললেন: "আপনি বিচারকের দায়িত্ব গ্রহণ করবেন, অন্যথায় আমি আপনাদের বেত্রাঘাত করব।" হাফস চুপ থাকলেন। তখন হারুন রশীদ তার হাত ধরে তাকে রাজকীয় পোশাকের ভাণ্ডারে নিয়ে গেলেন এবং তাকে কালো পোশাক ও ঝোলানো তরবারি পরিধান করালেন। বর্ণনাকারী বলেন: তৎকালীন বিচারকরা হারুন রশীদের সেই পোশাকই পরিধান করতেন। হারুন বললেন: "কাবার রবের কসম, আপনি আপনার বিচারিক আদেশ কার্যকর করুন।" যখন তিনি দরজার বাইরে বেরিয়ে সওয়ার হলেন, তখন বাহলুল দরজায় ছিলেন। তিনি হাফসের সামনে দৌড়াতে দৌড়াতে বলছিলেন: "যে ব্যক্তি দুনিয়ার কনে অথচ আখিরাতে দেউলিয়া কাউকে দেখতে চায়, সে যেন হাফসের দিকে তাকায়।" হাফস কাঁদতে থাকলেন এমনকি তিনি মসজিদে প্রবেশ করলেন (৫৫)।
আল্লাহর প্রশংসা, সাহায্য ও উত্তম তাওফীকের মাধ্যমে এই বরকতময় অংশটি সমাপ্ত হলো এর লেখক, গুনাহগার ও পাপিষ্ঠ বান্দা মুহাম্মদ ইবনে আবিল কাসিম আল-রাজি আল-তহতাবি-এর হাতে, এক হাজার ছাপ্পান্ন হিজরি সনে। আল্লাহ তাদের উভয়কে ক্ষমা করুন। আমিন।
--------------------------------------------