(খণ্ড: ১)
নুজহাতুল আলিব্বা ফী তাবাকাতিল আদাব্বা
(পৃষ্ঠা: -)
نزهة الألباء في طبقات الأدباء (أبو البركات الأنباري)
القسم: التراجم والطبقات
الكتاب:نزهة الألباء في طبقات الأدباء
المؤلف: عبد الرحمن بن محمد بن عبيد الله الأنصاري، أبو البركات، كمال الدين الأنباري (ت 577هـ)
المحقق: إبراهيم السامرائي
الناشر: مكتبة المنار، الزرقاء - الأردن
الطبعة: الثالثة، 1405 هـ - 1985 م
عدد الصفحات: 302
[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]
تاريخ النشر بالشاملة: 8 ذو الحجة 1431
নুযহাতুল আলিববা ফি তাবাকাতিল উদাবা (আবু বারাকাত আল-আনবারি)
বিভাগ: জীবনী ও স্তরসমূহ
গ্রন্থ:নুযহাতুল আলিববা ফি তাবাকাতিল উদাবা
লেখক: আবদুর রহমান ইবনে মুহাম্মদ ইবনে উবাইদুল্লাহ আল-আনসারি, আবু বারাকাত, কামালুদ্দিন আল-আনবারি (মৃত্যু ৫৭৭ হিজরি)
গবেষক: ইবরাহিম আল-সামাররাই
প্রকাশক: মাকতাবাতুল মানার, যারকা - জর্ডান
সংস্করণ: তৃতীয়, ১৪০৫ হিজরি - ১৯৮৫ খ্রিস্টাব্দ
পৃষ্ঠা সংখ্যা: ৩০২
[গ্রন্থের পৃষ্ঠা সংখ্যা মূল মুদ্রণের সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ]
শামিলা লাইব্রেরিতে প্রকাশের তারিখ: ৮ জিলহজ ১৪৩১
(খণ্ড: ১)
নুজহাতুল আলিব্বা ফী তাবাকাতিল আদাব্বা
(পৃষ্ঠা: ١٧)
بسم الله الرحمن الرحيمالحمد لله خالق الإنسان، الذي علمه البيان والصلاة والدائمة على سيدنا محمد نبيه وصفوته من الأكوان، وعلى آله وأصحابه ما أبنّ أبان، وأعرب لسان وأبان.وبعد، فقد ذكرت في هذا الكتاب الموسوم بنزهة الألباء في طبقات الأدباء، معارف أهل هذه الصناعة الأعيان، ومن قاربهم في المعرفة والإتقان، وبينت أحوالهم وأزمانهم على غاية من الكشف والبيان، فالله ينفع به، إنه الكريم المنان. أول من وضع علم العربيةاعلم أيدك الله تعالى بالتوفيق، وأرشدك إلى سواء الطريق، أن أول من وضع علم العربية، وأسس قواعده، وحد حدوده، أمير المؤمنين علي بن أبي طالب رضي الله عنه، وأخذ عنه أبو الأسود ظالم بن عمرو بن سفيان الدؤلي، وهو منسوب إلى الدئل بن بكر بن كنانة. والدئل، على "فُعِل" اسم دُوَيبة، تسمى الرجل بها، قال سيبويه: وليس في كلام العرب اسم على وزن "فُعِل" غيره، وأنشد:
পরম করুণাময় অসীম দয়ালু আল্লাহর নামেসমস্ত প্রশংসা আল্লাহর জন্য, যিনি মানুষের স্রষ্টা, যিনি তাকে ভাব প্রকাশের শিক্ষা দিয়েছেন। এবং অনন্ত সালাত ও সালাম বর্ষিত হোক আমাদের নেতা মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের ওপর, যিনি আল্লাহর নবী এবং সৃষ্টিজগতের মধ্যে তাঁর মনোনীত, এবং তাঁর পরিবার-পরিজন ও সাথীদের ওপর, যতক্ষণ পর্যন্ত কোনো বর্ণনাকারী বর্ণনা করে এবং কোনো জিহ্বা ভাব প্রকাশ ও সুস্পষ্ট বর্ণনা প্রদান করে।অতঃপর, আমি 'নুজহাতুল আলিব্বা ফি তাবাকাতিল উদাবা' নামক এই গ্রন্থে এই শিল্পের প্রথিতযশা ব্যক্তিদের পরিচয় এবং জ্ঞান ও দক্ষতায় যারা তাদের নিকটবর্তী তাদের কথা উল্লেখ করেছি। আমি তাদের অবস্থা ও সময়কাল অত্যন্ত সুস্পষ্টভাবে বর্ণনা করেছি। আল্লাহ এর মাধ্যমে উপকার দান করুন; নিশ্চয়ই তিনি অত্যন্ত দয়ালু ও মহাদানশীল। আরবি ভাষা বিজ্ঞানের প্রথম প্রবর্তকজেনে রাখুন—আল্লাহ তাআলা আপনাকে তাওফিকের মাধ্যমে সাহায্য করুন এবং সঠিক পথের দিশা দিন—আরবি ভাষা বিজ্ঞানের প্রথম প্রবর্তক, এর নিয়মাবলীর ভিত্তি স্থাপনকারী এবং এর সীমানা নির্ধারণকারী হলেন আমিরুল মুমিনিন আলি ইবনে আবি তালিব রাদিয়াল্লাহু আনহু। তাঁর কাছ থেকে এটি শিক্ষা গ্রহণ করেছেন আবুল আসওয়াদ জালিম ইবনে আমর ইবনে সুফিয়ান আদ-দুয়ালি। তিনি দুয়িল ইবনে বকর ইবনে কিনানার বংশোদ্ভূত। আর 'দুয়িল' শব্দটি 'ফুয়িল' ওজনে একটি ক্ষুদ্র প্রাণীর নাম, যার নামে মানুষের নামকরণ করা হতো। সিবওয়াইহি বলেন: আরবদের ভাষায় 'ফুয়িল' ওজনে এই শব্দটি ছাড়া আর কোনো বিশেষ্য নেই। তিনি আবৃত্তি করেছেন:
(খণ্ড: ১)
নুজহাতুল আলিব্বা ফী তাবাকাতিল আদাব্বা
(পৃষ্ঠা: ١٨)
جاءوا بجيش لو قيس معرسه … ما كان إلا كمعرس الدئلوحكى غيره: رُئِم، اسم للسبة، ووعل [لغة] في الوعل. والديل في عبد القيس، والدول في حنيفة.وسبب وضع علي رضي الله عنه لهذا العلم، ما روى أبو الأسود، قال: دخلت على أمير المؤمنين علي بن أبي طالب رضي الله عنه، فوجدت في يده رقعة، فقت: ما هذه يا أمير المؤمنين؟ فقال: إني تأملت كلام الناس فوجدته قد فسد بمخالطة هذه الحمراء -يعني الأعاجم- فأردت أن أضع لهم شيئاً يرجعون إليه، ويعتمدون عليه؛ ثم ألقى إليّ الرقعة، وفيها مكتوب: "الكلام كله اسم، وفعل، وحرف، فالاسم ما أنبأ عن المسمى، والفعل ما أنبئ به، والحرف ما جاء لمعنى"، وقال لي: "انحُ هذا النحو، وأضف إليه ما وقع إليك، واعلم يا أبو الأسود أن الأسماء ثلاثة: ظاهر، ومضمر، واسمٌ لا ظاهر ولا مضمر؛ وإنما يتفاضل الناس يا أبا الأسود فيما ليس بظاهرٍ ولا مضمر" وأراد بذلك الاسم المبهم.قال أبو الأسود: فكان ما وقع إليّ: "إن" وأخواتها ما خلا "لكن". فلما عرضتها على علي رضي الله عنه،
তারা এমন এক সৈন্যবাহিনী নিয়ে এসেছিল যার বিশ্রামস্থল যদি পরিমাপ করা হতো … তবে তা কেবল একটি ছোট শিয়ালের বিশ্রামস্থলের মতোই হতো।অন্যরা বর্ণনা করেছেন: 'রুয়াম' হলো গালি বা অপবাদের নাম, আর 'ওয়াআল' হলো 'ওয়া’ল' শব্দের একটি উপভাষা। আর আদ-দীল হলো আবদ আল-কায়েস বংশের একটি শাখা এবং আদ-দুওয়াল হলো হানিফা বংশের একটি শাখা।আলী (রাযিয়াল্লাহু আনহু) কর্তৃক এই শাস্ত্র সংকলন করার কারণ সম্পর্কে আবুল আসওয়াদ বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: আমি আমিরুল মুমিনীন আলী ইবনে আবি তালিব (রাযিয়াল্লাহু আনহু)-এর নিকট প্রবেশ করলাম এবং তাঁর হাতে একটি চিরকুট দেখতে পেলাম। আমি জিজ্ঞাসা করলাম: হে আমিরুল মুমিনীন, এটি কী? তিনি বললেন: আমি মানুষের কথাবার্তা নিয়ে গভীর চিন্তা করলাম এবং দেখলাম যে অনারবদের সংমিশ্রণে তা বিকৃত হয়ে গেছে। তাই আমি তাদের জন্য এমন কিছু তৈরি করতে চাইলাম যার দিকে তারা প্রত্যাবর্তন করবে এবং যার ওপর তারা নির্ভর করবে। অতঃপর তিনি আমার দিকে চিরকুটটি বাড়িয়ে দিলেন, যাতে লেখা ছিল: "বাক্য মূলত বিশেষ্য (ইসিম), ক্রিয়া (ফে’ল) এবং অব্যয় (হরফ)-এর সমষ্টি। বিশেষ্য তা-ই যা কোনো নাম প্রকাশ করে, ক্রিয়া তা-ই যা দ্বারা সংবাদ প্রদান করা হয় এবং অব্যয় তা-ই যা কোনো অর্থ প্রকাশের জন্য আসে।" তিনি আমাকে বললেন: "তুমি এই পথই (নাহু) অনুসরণ করো এবং এর সাথে তোমার কাছে যা অনুভূত হয় তা যোগ করো। হে আবুল আসওয়াদ, জেনে রেখো যে বিশেষ্য তিন প্রকার: প্রকাশ্য, উহ্য এবং এমন বিশেষ্য যা প্রকাশ্যও নয় আবার উহ্যও নয়। হে আবুল আসওয়াদ, মানুষ মূলত সেই বিষয়েই একে অপরের চেয়ে শ্রেষ্ঠত্ব লাভ করে যা প্রকাশ্য বা উহ্য কোনোটিই নয়।" এর মাধ্যমে তিনি 'ইসমে মুবহাম' (অস্পষ্ট বা নির্দেশক বিশেষ্য) বুঝিয়েছেন।আবুল আসওয়াদ বলেন: আমার সংকলনে যা ছিল তা হলো: "ইন্না" এবং তার সমগোত্রীয় অব্যয়সমূহ, তবে "লাকিন্না" ব্যতীত। যখন আমি তা আলী (রাযিয়াল্লাহু আনহু)-এর নিকট উপস্থাপন করলাম,
(খণ্ড: ১)
নুজহাতুল আলিব্বা ফী তাবাকাতিল আদাব্বা
(পৃষ্ঠা: ١٩)
قال لي: وأين لكنّ؟ فقال: ما حسبتها منها؛ فقال: هي منها فألحقها، ثم قال: ما أحسن هذا النحو الذي نحوت! فلذلك سمي النحو نحواً. أبو الأسود الدؤليوكان أبو الأسود فيمن صحب أمير المؤمنين علي بن أبي طالب رضي الله عنه؛ وكان من المشهورين بصحبته ومحبته ومحبة أهل بيته، وفي ذلك يقول:يقول الأرذلون بنو قُشيْرٍ … طوال الدهر لا تنسى عليا!فقلت لهم: فكيف يكون تركي … من الأعمال ما يحصى علياأحب محمدا حُبّاً شديداً … وعباسا وحمزة والوصيَّافإن يك حبهم رشداً أصبه … وفيهم أسوة إن كان غيّافكم رشداً أصبت وحزت مجداً … تقاصر دونه هام الثرياوكان ينزل البصرة في بني قشير، وكانوا يرجمونه بالليل لمحبته عليّاً رضي الله عنه وأهل بيته؛ فإذا ذكر رجمهم له، قالوا: إن الله يرجمك؛ فيقول لهم: تكذبون، ولو رجمني الله أصابني، ولكنكم ترجمون فلا تصيبون.وروى أن سبب وضع علي رضي الله عنه لهذا العلم أنه سمع أعرابياً يقرأ: "لا يأكُلُه إلا الخاطئين" فوضع النحو.ويروى أيضاً أنه قدم أعرابي في خلافة أمير المؤمنين عمر بن الخطاب رضي الله عنه فقال: من يقرئني شيئاً مما أنزل الله على محمد صلى الله عليه وسلم فأقرأه رجل سورة براءة، فقال:] أن الله بريءٌ من المشركين ورسولِه [بالجر، فقال الأعرابي: أو قد برئ الله من رسوله! إن يكن الله برئ من رسوله فأنا أبرأ منه! فبلغ عمر رضي الله عنه مقالة الأعرابي، فدعاه فقال: يا أعرابي، أتبرأ من رسول الله! فقال: يا أمير المؤمنين، إني قدمت المدينة، ولا علم لي بالقرآن، فسألت من يقرئني، فأقرأني هذا
তিনি আমাকে বললেন: "আর 'লাকিন্না' (কিন্তু) কোথায়?" আমি বললাম: "আমি এটাকে এর অন্তর্ভুক্ত মনে করিনি।" তিনি বললেন: "এটি এর অন্তর্ভুক্ত, সুতরাং একে যুক্ত করো।" তারপর তিনি বললেন: "তুমি যে পথ (নাহব) অবলম্বন করেছ তা কতই না সুন্দর!" আর একারণেই ব্যাকরণকে 'নাহব' (পথ/ধারা) নামকরণ করা হয়েছে। আবু আল-আসওয়াদ আদ-দুওয়ালিআবু আল-আসওয়াদ আমীরুল মুমিনীন আলী ইবনে আবি তালিব (রাযিয়াল্লাহু আনহু)-এর সান্নিধ্যপ্রাপ্তদের অন্তর্ভুক্ত ছিলেন। তিনি আলীর সাহচর্য, তাঁর প্রতি ভালোবাসা এবং তাঁর আহলে বাইতের প্রতি মহব্বতের জন্য প্রসিদ্ধ ছিলেন। এ প্রসঙ্গে তিনি বলেন:বনু কুশাইরের নীচ লোকগুলো বলে … সারা জীবন তুমি আলীকে ভুলবে না!আমি তাদের বললাম: আমার সেই আমলগুলো বর্জন করা কীভাবে সম্ভব … যা আলীর জন্য গণনার অন্তর্ভুক্ত?আমি মুহাম্মদকে প্রচণ্ড ভালোবাসি … এবং আব্বাস, হামযা ও অসিয়তপ্রাপ্তকে (আলীকে)।তাদের প্রতি ভালোবাসা যদি সঠিক পথ হয় তবে আমি তা পেয়েছি … আর যদি তা পথভ্রষ্টতা হয় তবে তাদের মাঝেই রয়েছে অনুসরণীয় আদর্শ।আমি কতই না সুপথ পেয়েছি এবং মর্যাদা লাভ করেছি … যার সামনে সুরাইয়া নক্ষত্রের উচ্চতাও তুচ্ছ।তিনি বসরার বনু কুশাইর গোত্রে অবস্থান করতেন। আলী (রাযিয়াল্লাহু আনহু) ও তাঁর আহলে বাইতের প্রতি ভালোবাসার কারণে তারা রাতের বেলা তাঁকে পাথর নিক্ষেপ করত। যখন তাদের পাথর নিক্ষেপের কথা উল্লেখ করা হতো, তারা বলত: "নিশ্চয়ই আল্লাহ তোমাকে পাথর মারছেন।" তখন তিনি তাদের বলতেন: "তোমরা মিথ্যা বলছ। আল্লাহ যদি আমাকে পাথর মারতেন তবে তা আমার গায়ে লাগত। কিন্তু তোমরাই পাথর মারছ এবং লক্ষ্যভ্রষ্ট হচ্ছ।"বর্ণিত আছে যে, আলী (রাযিয়াল্লাহু আনহু) কর্তৃক এই শাস্ত্র (ব্যাকরণ) প্রবর্তনের কারণ হলো—তিনি এক বেদুইনকে পড়তে শুনেছিলেন: "পাপিষ্ঠরা ছাড়া আর কেউ তা খাবে না" (আয়াতে ব্যাকরণগত ভুল পাঠ করা হয়েছিল), তাই তিনি নাহব বা ব্যাকরণ শাস্ত্র সংকলন করেন।আরও বর্ণিত আছে যে, আমীরুল মুমিনীন উমর ইবনুল খাত্তাব (রাযিয়াল্লাহু আনহু)-এর খিলাফতকালে এক বেদুইন আগমন করল এবং বলল: "কে আমাকে আল্লাহ তাআলা মুহাম্মাদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর ওপর যা নাযিল করেছেন তা থেকে কিছু পড়ে শোনাবে?" তখন এক ব্যক্তি তাকে সূরা বারাআত পড়ে শোনালো। সে ব্যক্তি পড়ল: "আল্লাহ মুশরিকদের প্রতি দায়মুক্ত এবং তাঁর রাসূলের প্রতিও" (জের দিয়ে পড়ার কারণে অর্থ বিকৃত হয়েছিল)। তখন বেদুইন বলল: "আল্লাহ কি তাঁর রাসূল থেকেও দায়মুক্ত হয়ে গেছেন! আল্লাহ যদি তাঁর রাসূল থেকে দায়মুক্ত হন, তবে আমিও তাঁর থেকে দায়মুক্ত!" বেদুইনের এই কথা উমর (রাযিয়াল্লাহু আনহু)-এর কানে পৌঁছালে তিনি তাকে ডেকে পাঠালেন এবং বললেন: "হে বেদুইন! তুমি কি আল্লাহর রাসূল থেকে দায়মুক্ত হচ্ছ?" সে বলল: "হে আমীরুল মুমিনীন! আমি মদিনায় এসেছি অথচ কুরআন সম্পর্কে আমার কোনো জ্ঞান ছিল না। আমি কাউকে আমাকে পড়ে শোনানোর অনুরোধ করলে ওই ব্যক্তি আমাকে এভাবে পড়ে শুনিয়েছে..."
(খণ্ড: ১)
নুজহাতুল আলিব্বা ফী তাবাকাতিল আদাব্বা
(পৃষ্ঠা: ٢٠)
سورة براءة، فقال:] أن الله بريءٌ من المشركين ورسولِه [، فقلت: أو قد برئ الله تعالى من رسوله! إن يكن برئ من رسوله، فأنا أبرأ منه. فقال له عمر رضي الله عنه: ليس هكذا يا أعرابي، فقال: كيف هي يا أمير المؤمنين؟ فقال:] أن الله بريءٌ من المشركين ورسولُهُ [فقال الأعرابي: وأنا والله أبرأ ممن برئ الله ورسوله منه. فأمر عمر رضي الله عنه ألا يقرئ القرآن إلا عالمٌ باللغة، وأمر أبا الأسود أن يضع النحو.وقال أبو عبيدة معمر بن المثنى وغيره: أخذ أبو الأسود النحو عن علي بن أبي طالب رضي الله عنه.وروى أيضاً أن زياد بن أبيه بعث إلى أبي الأسود، وقال له: يا أبا الأسود، إن هذه الحمراء قد كثرت وأفسدت من ألسن العرب، فلو وضعت شيئاً يصلح به الناس كلامهم، ويعرب كتاب الله تعالى! فأبى أبا الأسود، وكره إجابة زياد إلى ما سأل، فوجه زياد رجلاً وقال له: اقعد على طريق أبي الأسود؛ فإذا مر بك فاقرأ شيئاً من القرآن، وتعمّد اللحن فيه. فقعد الرجل على طريق أبي الأسود، فلما مر به رفع صوته فقرأ:] أن الله بريء من المشركين ورسوله [بالجر، فاستعظم أبو الأسود ذلك، وقال: عز وجه الله أن يبرأ من رسوله! ورجع من حاله، إلى زياد، وقال: يا هذا، قد أجبتك إلى ما سألت، ورأيت أن أبدأ بإعراب القرآن، فابعث إليَّ ثلاثين رجلاً؛ فأحضرهم زياد، فاختار منهم أبو الأسود عشرة، ثم لم يزل يختارهم حتى اختار منهم رجلاً من عبد القيس، فقال: خذ المصحف وصبغاً يخالف لون المداد، فإذا فتحت شفتيَّ فانقط واحدة فوق الحرف، وإذا ضممتهما فاجعل النقطة إلى جانب الخرف، وإذا كسرتهما فاجعل النقطة في أسفله، فإن أتبعت شيئاً من هذه الحركات غنَّةً فانقط نقطتين.فابتدأ بالمصحف حتى أتى على آخره، ثم وضع المختصر المنسوب إليه بعد ذلك.
সূরা বারাআহ, তখন তিনি বললেন: [নিশ্চয়ই আল্লাহ মুশরিকদের থেকে দায়মুক্ত এবং তাঁর রাসুলের থেকেও]। আমি বললাম: আল্লাহ তাআলা কি তাঁর রাসুলের থেকে দায়মুক্ত হয়ে গেছেন! তিনি যদি তাঁর রাসুলের থেকে দায়মুক্ত হয়ে থাকেন, তবে আমিও তাঁর থেকে দায়মুক্ত। তখন উমর রাদিয়াল্লাহু আনহু তাকে বললেন: হে গ্রাম্য ব্যক্তি, বিষয়টি এমন নয়। সে বলল: হে আমিরুল মুমিনিন, তবে এটি কেমন? তিনি বললেন: [নিশ্চয়ই আল্লাহ মুশরিকদের থেকে দায়মুক্ত এবং তাঁর রাসুলও]। তখন সেই গ্রাম্য ব্যক্তি বলল: আল্লাহর কসম, আল্লাহ ও তাঁর রাসুল যার থেকে দায়মুক্ত, আমিও তার থেকে দায়মুক্ত। এরপর উমর রাদিয়াল্লাহু আনহু নির্দেশ দিলেন যে, ভাষাবিদ ছাড়া অন্য কেউ যেন কুরআন না পড়ায় এবং তিনি আবুল আসওয়াদকে ব্যাকরণ শাস্ত্র সংকলনের নির্দেশ দিলেন।আবু উবাইদাহ মা'মার বিন মুসান্না ও অন্যান্যরা বলেন: আবুল আসওয়াদ আলি বিন আবি তালিব রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে ব্যাকরণ শিক্ষা লাভ করেছেন।আরও বর্ণিত আছে যে, যিয়াদ বিন আবিহি আবুল আসওয়াদের কাছে লোক পাঠালেন এবং তাঁকে বললেন: হে আবুল আসওয়াদ, এই অনারবদের সংখ্যা বৃদ্ধি পেয়েছে এবং তারা আরবদের ভাষায় বিকৃতি ঘটাচ্ছে। আপনি যদি এমন কিছু তৈরি করতেন যার দ্বারা মানুষ তাদের কথা সংশোধন করতে পারত এবং আল্লাহর কিতাবকে ব্যাকরণগতভাবে শুদ্ধ করতে পারত! আবুল আসওয়াদ এতে অসম্মতি জানালেন এবং যিয়াদের অনুরোধ রক্ষা করতে অপছন্দ করলেন। তখন যিয়াদ একজন লোককে পাঠিয়ে বললেন: তুমি আবুল আসওয়াদের পথে বসে থাকো; যখন তিনি তোমার পাশ দিয়ে যাবেন তখন কুরআনের কিছু অংশ পাঠ করবে এবং ইচ্ছাকৃতভাবে তাতে ব্যাকরণগত ভুল করবে। সেই ব্যক্তি আবুল আসওয়াদের পথে বসে রইল এবং যখন তিনি পাশ দিয়ে যাচ্ছিলেন, তখন সে উচ্চস্বরে পাঠ করল: [নিশ্চয়ই আল্লাহ মুশরিকদের থেকে দায়মুক্ত এবং তাঁর রাসুলের থেকেও] (শব্দটি জের দিয়ে পাঠ করে)। আবুল আসওয়াদ বিষয়টি অত্যন্ত গুরুতর মনে করলেন এবং বললেন: আল্লাহর চেহারা মহান, তিনি তাঁর রাসুলের থেকে দায়মুক্ত হওয়া থেকে পবিত্র! তিনি তৎক্ষণাৎ যিয়াদের কাছে ফিরে গেলেন এবং বললেন: হে ব্যক্তি, আপনি যা চেয়েছিলেন আমি তাতে রাজি হয়েছি। আমি সিদ্ধান্ত নিয়েছি যে কুরআনের ব্যাকরণগত বিশ্লেষণ (ইরাব) দিয়ে শুরু করব। আপনি আমার কাছে ত্রিশজন লোক পাঠান। যিয়াদ তাদের উপস্থিত করলেন, আবুল আসওয়াদ তাদের মধ্য থেকে দশজনকে বেছে নিলেন, এরপর বাছাই করতে করতে তিনি আব্দুল কায়েস গোত্রের একজনকে নির্বাচন করলেন। এরপর তিনি বললেন: তুমি মাসহাফ গ্রহণ করো এবং মূল কালির রঙের চেয়ে ভিন্ন একটি রঙ নাও। আমি যখন আমার ঠোঁট দু’টি খুলব, তখন তুমি বর্ণের উপরে একটি ফোঁটা দেবে; যখন আমি ঠোঁট দু’টি একত্রিত করব, তখন তুমি বর্ণের পাশে একটি ফোঁটা দেবে; আর যখন আমি ঠোঁট দু’টি নিচে নামাব, তখন তুমি বর্ণের নিচে একটি ফোঁটা দেবে। যদি এই স্বরচিহ্নগুলোর কোনোটির সাথে আমি গুন্নাহ যুক্ত করি, তবে তুমি দু’টি ফোঁটা দেবে।এরপর তিনি মাসহাফ নিয়ে শুরু করলেন এবং এর শেষ পর্যন্ত সম্পন্ন করলেন। তারপর তিনি তাঁর নামে পরিচিত সেই সংক্ষিপ্ত ব্যাকরণ গ্রন্থটি রচনা করেন।
(খণ্ড: ১)
নুজহাতুল আলিব্বা ফী তাবাকাতিল আদাব্বা
(পৃষ্ঠা: ٢١)
وروى عاصم قال: جاء أبو الأسود الدؤلي إلى زياد وهو أمير بالبصرة؛ فقال: إني أرى العرب قد خالطت هذه الأعاجم، وفسدت ألسنتها، أفتأذن لي أن أضع للعرب ما يعرفون به كلامهم؟ فقال له زياد: لا تفعل، قال: فجاء رجل إلى زياد، فقال: أصلح الله الأمير! "تُوفِّي أبانا وترك بنوناً"، فقال له زياد: "تُوُفِّيَ أبانا وترك بنونا! "، ادع لي أبا الأسود؛ فلما جاءه قال له: ضع للناس ما كنت نهيتك عنه؛ ففعل.ويروى أيضاً، أن أبا الأسود الدؤلي قالت له ابنته: ما أحسنُ السماءِ! فقال لها: نجومها، فقالت: إني لم أرد هذا، وإنما تعجبت من حسنها؛ فقال لها: إذن فقولي: ما أحسنَ السماءَ! فحينئذ وضع النحو؛ وأول ما رسم منه باب التعجب.وحكى أبو حاتم السجستاني، قال: ولد أبو الأسود في الجاهلية، وأخذ النحو عن علي بن أبي طالب رضي الله عنه.وروى أبو سلمة موسى بن إسماعيل، عن أبيه، قال: كان أبو الأسود أول من وضع النحو بالبصرة.وزعم قوم أن أول من وضع النحو عبد الرحمن بن هرمز الأعرج.وزعم آخرون أو أول من وضع النحو نصر بن عاصم.فأما زعم من زعم أن أول من وضع النحو عبد الرحمن بن هرمز الأعرج ونصر بن عاصم فليس بصحيح؛ لأن عبد الرحمن بن هرمز، أخذ النحو عن أبي الأسود، وكذلك أيضاً نصر بن عاصم أخذه عن أبي الأسود، ويقال عن ميمون الأقرن.والصحيح أن أول من وضع النحو علي بن أبي طالب رضي الله عنه؛ لأن الروايات كلها تسند إلى أبي الأسود، وأبو الأسود يسند إلى علي بن أبي طالب رضي الله عنه؛ فإن رويَ
আসিম বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেছেন: আবুল আসওয়াদ আদ-দুয়ালি বসরার আমীর যিয়াদের নিকট এলেন এবং বললেন: আমি লক্ষ্য করছি যে আরবরা অনারবদের সাথে মেলামেশা করছে এবং তাদের ভাষায় বিকৃতি দেখা দিচ্ছে। আপনি কি আমাকে আরবদের জন্য এমন কিছু প্রণয়নের অনুমতি দেবেন যার দ্বারা তারা তাদের ভাষাকে সঠিকভাবে চিনতে পারবে? যিয়াদ তাকে বললেন: আপনি তা করবেন না। বর্ণনাকারী বলেন: এরপর এক ব্যক্তি যিয়াদের নিকট এসে বলল: হে আমীর, আল্লাহ আপনার কল্যাণ করুন! “আমাদের পিতা ইন্তেকাল করেছেন এবং সন্তানদের রেখে গেছেন।” (সে ব্যাকরণগত ভুল শব্দ প্রয়োগ করল)। তখন যিয়াদ সেই ভুল উচ্চারণের পুনরাবৃত্তি করে বিস্ময় প্রকাশ করলেন এবং বললেন: আবুল আসওয়াদকে আমার কাছে ডাকো। যখন তিনি এলেন, যিয়াদ তাকে বললেন: আমি আপনাকে যা করতে নিষেধ করেছিলাম, এখন মানুষের জন্য তাই প্রণয়ন করুন। অতঃপর তিনি তা করলেন।আরও বর্ণিত আছে যে, আবুল আসওয়াদ আদ-দুয়ালির কন্যা তাকে জিজ্ঞেস করেছিলেন: আকাশের সবচেয়ে সুন্দর বিষয় কী? তিনি উত্তর দিলেন: এর নক্ষত্রসমূহ। কন্যাটি বলল: আমি তো এটি জানতে চাইনি, বরং আমি এর সৌন্দর্যে বিস্ময় প্রকাশ করছি। তখন তিনি তাকে বললেন: তাহলে বলো, আকাশ কতই না সুন্দর! সেই সময়েই তিনি নাহু (ব্যাকরণ) শাস্ত্রের ভিত্তি স্থাপন করেন এবং সর্বপ্রথম তিনি বিস্ময়সূচক অধ্যায় রচনা করেন।আবু হাতিম আস-সিজিস্তানি বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আবুল আসওয়াদ জাহেলি যুগে জন্মগ্রহণ করেন এবং তিনি আলী ইবনে আবি তালিব (রাযিয়াল্লাহু আনহু) থেকে ব্যাকরণ শিক্ষা গ্রহণ করেন।আবু সালামাহ মূসা ইবনে ইসমাঈল তার পিতার সূত্রে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আবুল আসওয়াদই ছিলেন বসরায় নাহু শাস্ত্রের প্রথম প্রবর্তক।একদল লোক মনে করেন যে, সর্বপ্রথম নাহু শাস্ত্রের সূচনা করেছিলেন আব্দুর রহমান ইবনে হুরমুয আল-আ'রাজ।অন্যরা দাবি করেন যে, প্রথম ব্যাকরণ শাস্ত্র প্রবর্তনকারী ছিলেন নাসর ইবনে আসিম।তবে যারা মনে করেন যে আব্দুর রহমান ইবনে হুরমুয আল-আ'রাজ এবং নাসর ইবনে আসিম ব্যাকরণ শাস্ত্রের প্রথম উদ্ভাবক, তাদের সেই দাবি সঠিক নয়। কারণ আব্দুর রহমান ইবনে হুরমুয আবুল আসওয়াদ থেকেই ব্যাকরণ শিখেছিলেন এবং একইভাবে নাসর ইবনে আসিমও আবুল আসওয়াদ থেকে অথবা মতান্তরে মাইমুন আল-আকরান থেকে তা শিখেছিলেন।সঠিক মত হলো, আলী ইবনে আবি তালিব (রাযিয়াল্লাহু আনহু) হলেন সর্বপ্রথম নাহু শাস্ত্রের প্রবর্তক; কেননা সকল বর্ণনা আবুল আসওয়াদের দিকেই পর্যবসিত হয় এবং আবুল আসওয়াদ স্বয়ং তা আলী ইবনে আবি তালিব (রাযিয়াল্লাহু আনহু)-এর দিকেই সম্বন্ধযুক্ত করেন। যদি বর্ণনা করা হয়—
(খণ্ড: ১)
নুজহাতুল আলিব্বা ফী তাবাকাতিল আদাব্বা
(পৃষ্ঠা: ٢٢)
عن أبي الأسود أنه سئل فقيل له: من أين لك هذا النحو؟ فقال: لفقت حدوده من علي بن أبي طالب رضي الله عنه.ويحكى عن يحيى بن معين رضي الله عنه أنه قال: مات أبو الأسود الدؤلي رضي الله عنه في الطاعون الجارف سنة تسع وستين. قال يحيى: ويقال: إنه مات قبل الطاعون؛ وذلك في خلافة أبي خبيب عبد الله بن الزبير.وأخذ عن أبي الأسود الدؤلي عنبسة الفيل، وميمون الأقرن، ونصر بن عاصم، وعبد الرحمن بن هرمز، ويحية بن يعمر. عنبسة الفيلفأما عنبسة الفيل، فهو عنبسة بن معدان، وكان معدان رجلاً من أهل ميسان، قدم وأقام بها، وكان يقال له: معدان الفيل.وسبب ذلك أن عبد الله بن عامر كان له فيل بالبصرة، وقد استكثر النفقة عليه، فأتاه معدان، فتقبل بنفقته، وفضل في كل
আবু আল-আসওয়াদ থেকে বর্ণিত যে, তাঁকে জিজ্ঞাসা করা হলো: আপনি এই ব্যাকরণ কোথায় পেলেন? তিনি বললেন: আমি এর মূলনীতিসমূহ আলি ইবনে আবি তালিব (রাযিয়াল্লাহু আনহু) থেকে সংকলন করেছি।ইয়াহইয়া ইবনে মাঈন (রাযিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণিত আছে যে, তিনি বলেছেন: আবু আল-আসওয়াদ আদ-দুয়ালি (রাযিয়াল্লাহু আনহু) ঊনসত্তর হিজরি সালে সর্বগ্রাসী মহামারি 'তাউন আল-জারিফ'-এ মৃত্যুবরণ করেন। ইয়াহইয়া বলেন: আবার বলা হয় যে, তিনি মহামারির পূর্বেই মৃত্যুবরণ করেছেন; আর তা ছিল আবু খুবাইব আবদুল্লাহ ইবনে আল-যুবাইরের খিলাফতকালে।এবং আবু আল-আসওয়াদ আদ-দুয়ালি থেকে (শিক্ষা) গ্রহণ করেছেন: আনবাসা আল-ফিল, মাইমুন আল-আকরান, নাসর ইবনে আসিম, আবদুর রহমান ইবনে হুরমুজ এবং ইয়াহইয়া ইবনে ইয়ামার। আনবাসা আল-ফিলআর আনবাসা আল-ফিলের ব্যাপারে বলতে গেলে, তিনি হলেন আনবাসা ইবনে মা'দান; আর মা'দান ছিলেন মায়সানের অধিবাসী এক ব্যক্তি, তিনি এখানে আগমন করে বসবাস শুরু করেন এবং তাঁকে 'মা'দান আল-ফিল' বলা হতো।এর কারণ ছিল এই যে, বসরায় আবদুল্লাহ ইবনে আমিরের একটি হাতি ছিল এবং তিনি এর জন্য ব্যয়ভার অত্যধিক মনে করছিলেন। এমতাবস্থায় মা'দান তাঁর নিকট আসলেন এবং এর ব্যয়ের দায়িত্ব গ্রহণ করলেন, আর তিনি প্রত্যেক ক্ষেত্রে অতিরিক্ত...
(খণ্ড: ১)
নুজহাতুল আলিব্বা ফী তাবাকাতিল আদাব্বা
(পৃষ্ঠা: ٢٣)
شهر، فكان يدعى معدان الفيل، فنشأ له عنبسة، فتعلم النحو على أبي الأسود، وروى الشعر، وانتسب إلى مهرة ابن حيدان، وروى لجرير شعراً، فبلغ ذلك الفرزدق، فقال يهجوه:لقد كان في معدان والفيل زاجرٌ … لعنبسة الراوي علي القصائداويروى أن بعض عمال البصرة سأل عنبسة عن هذا البيت وعن الفيل، فقال عنبسة: لم يقل: "الفيل"، وإنما قال: "اللؤم"، فقال لعنبسة: إن أمراً تفر منه إلى "اللؤم" لأمر عظيم!.ويروى عن أبي عبيدة معمر بن المثنى أنه قال: اختلف الناس إلى أبي الأسود الدؤلي يتعلمون منه العربية، فكان أبرع أصحابه عنبسة بن معدان المهري، واختلف الناس إلى عنبسة، فكان أبرع أصحابه ميمون الأقرع.وروي أيضاً عن أبي عبيدة أنه قال: أول من وضع النحو أبو الأسود الدؤلي، ثم ميمون الأقرن، ثم عنبسة الفيل، ثم عبد الله بن أبي إسحاق، ثم عيسى بن عمر. ففي هذه الرواية ميمون الأقرن قبل عنبسة، وفي تلك الرواية عنبسة قبل ميمون. نصر الليثيوأما نصر بن عاصم الليثي، فإنه كان فقيهاً عالماً بالعربية، فصيحاً، قال عمرو بن دينار: اجتمعت أنا والزهري، ونصر بن عاصم، فتكلم نصر، فقال
বিখ্যাত ছিলেন, তাকে মা'দান আল-ফিল ডাকা হতো। তার বংশধর হিসেবে আম্বাসা জন্মগ্রহণ করেন। তিনি আবুল আসওয়াদ আদ-দুয়ালীর কাছে নাহু (ব্যকরণ) শিক্ষা করেন এবং কবিতা বর্ণনা করতেন। তিনি মাহরা ইবনে হায়দান গোত্রের সাথে নিজের বংশীয় পরিচয় সম্পৃক্ত করেন এবং জারীরের কবিতা বর্ণনা করতেন। এ সংবাদ ফারাযদাকের কাছে পৌঁছালে তিনি তাকে বিদ্রুপ করে বললেন:মা'দান এবং হাতির মাঝে আম্বাসার জন্য অবশ্যই সতর্কবার্তা ছিল … যে আম্বাসা আমার বিরুদ্ধে কাসিদাসমূহ বর্ণনা করে থাকে।বর্ণিত আছে যে, বসরার জনৈক কর্মকর্তা আম্বাসাকে এই পংক্তি এবং 'হাতি' শব্দ সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করলেন। তখন আম্বাসা বললেন: তিনি 'হাতি' বলেননি, বরং তিনি 'নীচতা' বলেছিলেন। তখন আম্বাসাকে বলা হলো: নিশ্চয়ই আপনি এমন এক বিষয় থেকে পলায়ন করছেন যা আপনাকে 'নীচতা'র দিকে নিয়ে যাচ্ছে, এটি অতি গুরুতর বিষয়!আবু উবাইদাহ মুয়াম্মার ইবনে মুসান্না থেকে বর্ণিত আছে যে তিনি বলেন: মানুষ আবুল আসওয়াদ আদ-দুয়ালীর কাছে আরবি ভাষা শিখতে আসত। তাঁর সঙ্গীদের মধ্যে আম্বাসা ইবনে মা'দান আল-মাহরি ছিলেন সবচেয়ে দক্ষ। এরপর মানুষ আম্বাসার কাছে আসতে শুরু করল এবং তার ছাত্রদের মধ্যে মাইমুন আল-আকরা ছিলেন সবচেয়ে দক্ষ।আবু উবাইদাহ থেকে আরও বর্ণিত আছে যে তিনি বলেন: প্রথম যিনি নাহু শাস্ত্রের সূচনা করেন তিনি হলেন আবুল আসওয়াদ আদ-দুয়ালী, এরপর মাইমুন আল-আকরান, এরপর আম্বাসা আল-ফিল, এরপর আবদুল্লাহ ইবনে আবি ইসহাক এবং সবশেষে ঈসা ইবনে উমর। এই বর্ণনায় মাইমুন আল-আকরান আম্বাসার আগে উল্লিখিত হয়েছেন, আর পূর্ববর্তী বর্ণনায় আম্বাসা মাইমুনের আগে ছিলেন। নাসর আল-লায়সীআর নাসর ইবনে আসিম আল-লায়সী সম্পর্কে বলা হয় যে, তিনি ফকিহ এবং আরবি ভাষায় বিজ্ঞ ও সাবলীল বক্তা ছিলেন। আমর ইবনে দিনার বলেন: আমি, যুহরী এবং নাসর ইবনে আসিম একত্রে মিলিত হলাম, তখন নাসর কথা বললেন এবং বললেন:
(খণ্ড: ১)
নুজহাতুল আলিব্বা ফী তাবাকাতিল আদাব্বা
(পৃষ্ঠা: ٢٤)
الزهري: إنه ليفلق العربية تفليقاً. قال المدائني: وكان يرى الخوارج؛ ثم تركهم ورجع عنه، وقال في ذلك:فارقت نجدة والذين تزرقوا … وابن الزبير وشيعة الكذابوهوى النجارين قد فارقته … وعطية المتجبر المرتابوقرأن القرآن أيضاً على أبي الأسود، وقرأ أبو الأسود على علي رضي الله عنه، فكان أستاذه في القراءة والنحو. مات سنة تسع وثمانين في أيام الوليد بن عبد الملك.ويقال: إنه مات بالبصرة لسنة تسعين في أيام الوليد أيضاً. أبو داود الأعرجوأما الأعرج؛ فهو أبو داود عبد الرحمن بن هرمز الأعرج، وكان مولى لمحمد بن ربيعة بن الحارث بن المطلب.وكان أحد القراء، عالماً بالعربية، وأعلم الناس بأنساب العرب، وخرج إلى الإسكندرية، وأقام بها إلى أن مات سنة سبع عشرة ومائة في أيام هشام بن عبد الملك. يحيى بن يعمروأما يحيى بن يعمر العدواني؛ فيكنى أبا سليمان، وهو رجل من عدوان بن
যুহরী বলেন: তিনি আরবি ভাষাকে নিপুণভাবে বিশ্লিষ্ট করতেন। মাদায়িনী বলেন: তিনি খারিজিদের মতাদর্শী ছিলেন; অতঃপর তিনি তাদের ত্যাগ করেন এবং তা থেকে ফিরে আসেন, আর এই প্রসঙ্গে তিনি বলেন:আমি নাজদাহ ও যারা আজারিদ (নীলচক্ষুধারী) হয়েছে তাদের ত্যাগ করেছি … এবং ইবনে আল-যুবাইর ও সেই চরম মিথ্যুকের দলকেও।আর নাজ্জারিদের প্রতি অনুরাগও আমি বর্জন করেছি … এবং অহংকারী ও সংশয়ী আতিয়্যাহকেও।তিনি আবু আল-আসওয়াদের নিকটও কুরআন পাঠ করেন, আর আবু আল-আসওয়াদ পাঠ করেন আলী (রাযিয়াল্লাহু আনহু)-এর নিকট; ফলে তিনি কিরাআত ও নাহু শাস্ত্রে তাঁর উস্তাদ ছিলেন। তিনি উননব্বই হিজরি সনে আল-ওয়ালিদ বিন আবদুল মালিকের রাজত্বকালে মৃত্যুবরণ করেন।বলা হয়ে থাকে: তিনি বসরায় নব্বই হিজরি সনে আল-ওয়ালিদ এর শাসনামলেই ইন্তেকাল করেন। আবু দাউদ আল-আরাজআর আল-আরাজ হলেন আবু দাউদ আবদুর রহমান বিন হুরমুজ আল-আরাজ, তিনি মুহাম্মদ বিন রাবিয়াহ বিন আল-হারিস বিন আল-মুত্তালিবের মাওলা ছিলেন।তিনি অন্যতম একজন ক্বারী ও আরবি ভাষায় বিজ্ঞ ছিলেন এবং আরবদের বংশলতিকা সম্পর্কে মানুষের মধ্যে সবচেয়ে বেশি জানতেন। তিনি আলেকজান্দ্রিয়ায় চলে যান এবং সেখানে হিশাম বিন আবদুল মালিকের রাজত্বকালে ১১৭ হিজরি সনে মৃত্যু পর্যন্ত অবস্থান করেন। ইয়াহইয়া বিন ইয়ামুরআর ইয়াহইয়া বিন ইয়ামুর আল-আদওয়ানী; তাঁর উপনাম ছিল আবু সুলায়মান, এবং তিনি আদওয়ান বিন-এর বংশের এক ব্যক্তি ছিলেন।
(খণ্ড: ১)
নুজহাতুল আলিব্বা ফী তাবাকাতিল আদাব্বা
(পৃষ্ঠা: ٢٥)
قيس بن غيلان بن مضر، وكان عالماً بالعربية والحديث، ولقي عبد الله بن عمر وعبد الله بن عباس وغيرهما من الصحابة.وروى عنه قتادة، وكان من الفصحاء، وكان قد ولاه يزيد بن المهلب القضاء بخراسان، فقال له يوماً: هل تشرب النبيذ؟ فقال: ما أدعه في صباحي ومسائي، فقال له: أنت ونبيذك؛ وعزله عن القضاء.ويروى أن الحجاج بن يوسف قال له: أتجدني ألحن؟ فقال: الأمير أفصح من ذلك، فقال: عزمت عليك لتخبرني! فقال: يحيى: نعم! فقال له: في أي شيء؟ فقال: في كتاب الله تعالى؛ فقال: ذلك أشنع؛ ففي أي شيء من كتاب الله تعالى؟ قال: قرأت] قل إن كان آباؤكم وأبناؤكم وإخوانكم وأزواجكم وعشيرتكم وأموال اقترفتموها وتجارة تخشون كسادها ومساكن ترضونها أحب إليكم [فرفعت "أحبُّ" وهو منصوب، فقال له الحجاج: طول لحيتك أوقعك - وكان طويل اللحية - فقال له رجل ممن حضر: أيها الأمير، حدثني كعب الأحبار أنه مكتوب في بعض الكتب أن اللحية مخرجها من الدماغ، فمن تفرط لحيته في طولها يخف دماغه، ومن خف دماغه قل عقله، ومن قل عقله كان أحمق، والأحمق لا يسمع عنه؛ فقال الحجاج [ليحيى] : لا تساكني ببلد أنا فيه؛ ونفاه إلى خراسان وبها يزيد بن المهلب؛ فكان عنده.قال محمد بن سلام: أخبرني أبي أن يزيد بن المهلب، كتب إلى الحجاج: إنا لقينا العدو، ففعلنا وفعلنا، واضطررناه إلى عرعرة الجبل؛ فقال الحجاج: ما لابن
কায়েস বিন গায়লান বিন মুদার। তিনি আরবি ভাষা ও হাদিস শাস্ত্রে বিজ্ঞ পণ্ডিত ছিলেন এবং আবদুল্লাহ ইবনে উমর, আবদুল্লাহ ইবনে আব্বাস ও অন্যান্য সাহাবায়ে কেরামের সাথে সাক্ষাৎ করেছিলেন।কাতাদাহ তাঁর থেকে বর্ণনা করেছেন। তিনি অত্যন্ত প্রাঞ্জলভাষী ছিলেন। ইয়াজিদ বিন আল-মুহাল্লাব তাঁকে খোরাসানের বিচারকের (কাজী) দায়িত্ব প্রদান করেছিলেন। একদিন তিনি তাঁকে জিজ্ঞেস করলেন: "আপনি কি নাবিয (এক প্রকার পানীয়) পান করেন?" তিনি উত্তর দিলেন: "আমি সকাল ও সন্ধ্যায় তা পান করা ছাড়ি না।" তখন তিনি তাঁকে বললেন: "আপনি এবং আপনার নাবিয দূরে থাকুন;" অতঃপর তাঁকে বিচারকের পদ থেকে বরখাস্ত করলেন।বর্ণিত আছে যে, হাজ্জাজ বিন ইউসুফ তাঁকে জিজ্ঞেস করেছিলেন: "আপনি কি আমার কথায় ভাষাগত ভুল (লাহন) খুঁজে পান?" তিনি উত্তরে বললেন: "আমির তার চেয়েও অনেক বেশি প্রাঞ্জলভাষী।" তখন তিনি বললেন: "আমি আপনাকে কসম দিয়ে বলছি, আপনি আমাকে অবশ্যই জানাবেন!" তখন ইয়াহইয়া বললেন: "হ্যাঁ।" তিনি জিজ্ঞেস করলেন: "কোন ক্ষেত্রে?" তিনি বললেন: "আল্লাহ তাআলার কিতাবের ক্ষেত্রে।" তিনি বললেন: "এটি তো আরও জঘন্য বিষয়! আল্লাহ তাআলার কিতাবের কোথায় ভুল পেয়েছেন?" তিনি বললেন: "আপনি পাঠ করেছেন— {বলুন, যদি তোমাদের পিতা, তোমাদের সন্তান, তোমাদের ভাই, তোমাদের স্ত্রী, তোমাদের গোষ্ঠী, সেই সম্পদ যা তোমরা অর্জন করেছ এবং সেই ব্যবসা যার মন্দা হওয়ার তোমরা আশঙ্কা করো এবং সেই বাসস্থান যা তোমরা পছন্দ করো, তোমাদের নিকট অধিক প্রিয় হয়...}—এখানে আপনি 'আহাব্বা' শব্দটিকে পেশ যোগে 'আহাব্বু' পড়েছেন, অথচ তা নসব (যবর) হওয়ার কথা ছিল।" তখন হাজ্জাজ তাঁকে বললেন: "আপনার দীর্ঘ দাড়িই আপনাকে এই বিপদে ফেলেছে"—আর তিনি দীর্ঘ দাড়ি বিশিষ্ট ছিলেন—তখন উপস্থিত ব্যক্তিদের মধ্য থেকে এক ব্যক্তি বললেন: "হে আমির! কাব আল-আহবার আমাকে জানিয়েছেন যে, কিছু কিতাবে লিখিত আছে—দাড়ির উৎপত্তিস্থল হলো মস্তিষ্ক; সুতরাং যার দাড়ি অতিরিক্ত দীর্ঘ হয়, তার মস্তিষ্ক হালকা হয়ে যায়। আর যার মস্তিষ্ক হালকা হয়, তার বুদ্ধি কমে যায়। আর যার বুদ্ধি কমে যায়, সে নির্বোধ হয়ে পড়ে; আর নির্বোধের কথা আমলে নেওয়া হয় না।" তখন হাজ্জাজ [ইয়াহইয়াকে] বললেন: "আমি যে শহরে বাস করি, সেখানে আপনি আমার সাথে থাকবেন না।" অতঃপর তিনি তাঁকে খোরাসানে নির্বাসিত করলেন এবং সেখানে ইয়াজিদ বিন আল-মুহাল্লাব ছিলেন; তিনি তাঁর নিকট অবস্থান করতে লাগলেন।মুহাম্মদ বিন সাল্লাম বলেন: আমার পিতা আমাকে জানিয়েছেন যে, ইয়াজিদ বিন আল-মুহাল্লাব হাজ্জাজের কাছে লিখে পাঠালেন: "আমরা শত্রুর মুখোমুখি হয়েছিলাম, অতঃপর আমরা এই এই করলাম এবং তাদের পাহাড়ের চূড়ায় আশ্রয় নিতে বাধ্য করলাম।" তখন হাজ্জাজ বললেন: "এই পুত্রের কী হলো..."
(খণ্ড: ১)
নুজহাতুল আলিব্বা ফী তাবাকাতিল আদাব্বা
(পৃষ্ঠা: ٢٦)
المهلب وهذا الكلام! فقيل له: إن يحيى بن يعمر عنده، فقال: ذاك إذن! وكان يستعمل الغريب من كلامه، فمن ذلك أنه قال لرجل خاصمته امرأته: أأن سألتك ثمن شكرها وسرك، أنشأت تمطلها وتضهلها!.الشكر والسر: النكاح. ويروى: "وشبرك" والشبر: العطاء. وخاصم رجل رجلاً في غلام، فقال: باعني غلاماً أبّاقاً، فقال له يحيى: ألا قلت: أبوقاً! ومات يحيى بن يعمر بخراسان سنة تسع وعشرين ومائة، في أيام مروان بن محمد. ابن أبي إسحاق الحضرميوأما ابن أبي إسحاق، فهو أبو بحر عبد الله بن أبي إسحاق الحضرمي. وكان قيماً بالعربية والقراءة، إماماً فيهما؛ وكان شديد التجريد للقياس. ويقال: إنه كان أشد تجريداً للقياس من أبي عمرو بن العلاء، وكان أبو عمرو بن العلاء أوسع علماً بكلام العرب ولغاتها وغريبها.ويروى أن بلال بن أبي بردة جمع بينهما، قال يونس: قال أبو عمرو: فغلبني ابن أبي إسحاق يومئذ بالهمز،
মুহাল্লাব [বিস্মিত হয়ে] বললেন, "এই কথা!" তাঁকে বলা হলো, "ইয়াহইয়া ইবনে ইয়ামুর তাঁর কাছে আছেন।" তিনি বললেন, "তবে তো তাই হবে!" তিনি তাঁর কথাবার্তায় অপ্রচলিত ও বিরল শব্দ ব্যবহার করতেন। এর একটি উদাহরণ হলো, তিনি এক ব্যক্তিকে বলেছিলেন যার স্ত্রী তার সাথে বিবাদ করছিল: "সে যখন তোমার কাছে তার ‘শুকর’ ও ‘সির’-এর বিনিময় চাইল, তখন কি তুমি তার পাওনা দিতে টালবাহানা করতে এবং তা কমিয়ে দিতে শুরু করলে!"‘শুকর’ ও ‘সির’ এর অর্থ হলো নিকাহ। এটি ‘ওয়া শাবরাকা’ হিসেবেও বর্ণিত হয়েছে; ‘শাবার’ শব্দের অর্থ হলো দান। এক ব্যক্তি অপর এক ব্যক্তির সাথে একজন দাসের বিষয়ে বিবাদ করছিল, সে বলল: "সে আমার কাছে একজন ‘আববাক’ (পলায়নকারী) গোলাম বিক্রি করেছে।" তখন ইয়াহইয়া তাকে বললেন: "তুমি ‘আবুকা’ কেন বললে না!" ইয়াহইয়া ইবনে ইয়ামুর ১২৯ হিজরিতে মারওয়ান ইবনে মুহাম্মাদের শাসনামলে খোরাসানে মৃত্যুবরণ করেন। ইবনে আবি ইসহাক আল-হাদরামিআর ইবনে আবি ইসহাক হলেন আবু বাহর আবদুল্লাহ ইবনে আবি ইসহাক আল-হাদরামি। তিনি আরবি ভাষা ও কিরাআত শাস্ত্রে পারদর্শী এবং এ উভয় বিষয়েই ইমাম ছিলেন। তিনি ভাষাগত কিয়াস (ব্যাকরণিক নিয়ম) অনুসরণের ক্ষেত্রে অত্যন্ত কঠোর ছিলেন। বলা হয় যে, তিনি কিয়াস প্রয়োগের ক্ষেত্রে আবু আমর ইবনুল আলার চেয়েও অধিক কঠোর ছিলেন। অথচ আবু আমর ইবনুল আলা আরবদের ভাষা, উপভাষা এবং অপ্রচলিত শব্দাবলি সম্পর্কে অধিকতর জ্ঞানের অধিকারী ছিলেন।বর্ণিত আছে যে, বিলাল ইবনে আবি বুরদা তাঁদের উভয়কে একত্রিত করেছিলেন। ইউনুস বলেন: আবু আমর বলেছেন, "সেদিন ইবনে আবি ইসহাক হামযা সংক্রান্ত বিষয়ে আমাকে পরাজিত করেছিলেন।"
(খণ্ড: ১)
নুজহাতুল আলিব্বা ফী তাবাকাতিল আদাব্বা
(পৃষ্ঠা: ٢٧)
فنظرت فيه بعد ذلك. ويقال إنه أول من علل النحو.وقال محمد بن سلام: سمعت رجلاً يسأل يونس عن عبد الله بن أبي إسحاق وعلمه، فقال: هو والبحر سواء، أي هو الغاية.وقال يونس: كان أبو عمرو أشد الناس تسليماً للعرب، وكان عبد الله بن أبي إسحاق وعيسى بن عمر يطعنان على العرب، وكان موالي ابن أبي إسحاق الحضرمي موالياً، وهم بني عبد شمس بن عبد مناف، وكان يردّ كثيراً على الفرزدق ويتكلم في شعره، فقال فيه الفرزدق:فلو كان عبد الله مولى هجوته … ولكن عبد الله مولى موالياًفقال له ابن أبي إسحاق: ولقد لحنت أيضاً في قولك: "مولى مواليا" وكان ينبغي أن تقول: "مولى موال" والحليف عند العرب مولى، ومنه قول الأخطل:أتشتم قوماً أثبتوكم بنهشل … ولولاهم كنتم لعكلٍ موالياوروى أبو عمرو أن ابن أبي إسحاق سمع الفرزدق ينشد:وعض زمان يا بن مروان لم يدع … من المال إلا مسحتا أو مجلفُ
এরপর আমি তাতে দৃষ্টিপাত করলাম। বলা হয় যে, তিনিই প্রথম ব্যক্তি যিনি নাহু শাস্ত্রের কারণসমূহ বর্ণনা করেছেন।মুহাম্মদ ইবনে সাল্লাম বলেন: আমি এক ব্যক্তিকে ইউনুসকে আবদুল্লাহ ইবনে আবি ইসহাক এবং তার ইলম সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করতে শুনেছি, তিনি বললেন: তিনি এবং সমুদ্র সমান, অর্থাৎ তিনি হলেন জ্ঞানের চূড়ান্ত সীমা।ইউনুস বলেন: আবু আমর ছিলেন আরবদের (বিশুদ্ধ ভাষার) সামনে সর্বাধিক আত্মসমর্পণকারী, আর আবদুল্লাহ ইবনে আবি ইসহাক এবং ঈসা ইবনে ওমর আরবদের ভাষাগত সমালোচনা করতেন। ইবনে আবি ইসহাক আল-হাদরামীর মিত্ররা ছিলেন মাওয়ালি, এবং তারা ছিলেন বনু আবদ শামস ইবনে আবদ মানাফ গোত্রের। তিনি ফারাযদাকের কবিতার অনেক প্রতিবাদ করতেন এবং তার কবিতা নিয়ে সমালোচনা করতেন, ফলে ফারাযদাক তাকে নিয়ে বললেন:যদি আবদুল্লাহ কোনো মাওলা হতেন তবে আমি তার নিন্দা করতাম … কিন্তু আবদুল্লাহ তো মাওয়ালিদেরও মাওলা।তখন ইবনে আবি ইসহাক তাকে বললেন: তুমি তোমার "মাওলা মাওয়ালিয়া" কথাটিতেও ব্যাকরণগত ভুল করেছ, যেখানে তোমার বলা উচিত ছিল "মাওলা মাওয়ালিন"। আর আরবদের নিকট মিত্রকেও মাওলা বলা হয়, যেমনটি আল-আখতালের উক্তিতে রয়েছে:তুমি কি এমন এক কওমকে গালি দিচ্ছ যারা নাহশালের মাধ্যমে তোমাদের প্রতিষ্ঠিত করেছে … যদি তারা না থাকত তবে তোমরা উক্ল গোত্রের মাওয়ালি হয়ে থাকতে।আবু আমর বর্ণনা করেছেন যে, ইবনে আবি ইসহাক ফারাযদাককে আবৃত্তি করতে শুনলেন:হে ইবনে মারওয়ান, সময়ের কঠোরতা কিছুই বাকি রাখেনি … সম্পদের মধ্য হতে কেবল সমূলে বিনষ্ট অথবা ধ্বংসপ্রাপ্ত অংশ ছাড়া।
(খণ্ড: ১)
নুজহাতুল আলিব্বা ফী তাবাকাতিল আদাব্বা
(পৃষ্ঠা: ٢٨)
فقال له ابن أبي إسحاق: على أي شيء ترفع "أو مجلف"؟ فقال: على ما يسوءك وينوءك؛ قال أبو عمرو: فقلت للفرزدق: أصبت! وهو جائز على المعنى، أي لم يبق سواه.وقرأ عبد الله بن أبي إسحاق الحضرمي على يحيى بن يعمر؛ وقرأ أيضاً هووأبو عمرو بن العلاء على نصر بن عاصم، وكانا رفيقين.وكان هو وأبو عمرو وعيسى بن عمر في وقت واحد، وتوفيَ قبلهما بالبصرة سنة سبع عشرة ومائة في أيام هشام بن عبد الملك. عيسى بن عمر الثقفيوأما عيسى بن عمر الثقفي، فكنيته أبو سليمان - ويقال: أبو عمر - وكان ثقة عالماً بالعربية والنحو والقراءة، وقراءته مشهورة.وكان فصيحاً يتقعر في كلامه، ويعدل عن سهل الألفاظ إلى الوحشي والغريب؛ فمن ذلك أنه لما ضربه يوسف بن عمر بن هبيرة في سبب ثياب استودعها؛ قال: إن كانت إلا أثياباً في أسيفاط، قبضها عشاروك. وذلك أن بعض أصحاب خالد بن عبد الله القسري أودعه وديعة، فلما نزع خالد بن عبد الله عن إمارته بالعراق، وتقلد مكانه يوسف بن عمر، كتب إلى واليه بالبصرة أن يحمل إليه عيسى بن عمر مقيداً، فدعا به وبالحداد، وأمره بتقييده، وقال: لا بأس عليك، إنما أراد
ইবনে আবি ইসহাক তাকে বললেন: "আপনি কোন ভিত্তিতে 'আও মুজলিফুন' শব্দটিকে রফ' (পেশ) প্রদান করছেন?" তিনি উত্তর দিলেন: "এমন কিছুর ভিত্তিতে যা তোমাকে কষ্ট দেয় এবং ভারাক্রান্ত করে।" আবু আমর বলেন: "আমি ফারাযদাককে বললাম: 'আপনি ঠিক বলেছেন! এবং অর্থের বিচারে এটি বৈধ, অর্থাৎ তাকে ছাড়া আর কেউ অবশিষ্ট নেই।'"আবদুল্লাহ ইবনে আবি ইসহাক আল-হাদরামি ইয়াহইয়া ইবনে ইয়ামুরের নিকট কিরাত পাঠ করেছেন; এবং তিনিও পাঠ করেছেনও আবু আমর ইবনুল আলা নাসর ইবনে আসিমের নিকট, এবং তারা উভয়ই সহপাঠী ছিলেন।তিনি, আবু আমর এবং ঈসা ইবনে উমর একই সময়ের লোক ছিলেন এবং হিশাম ইবনে আবদুল মালিকের শাসনামলে ১১৭ হিজরি সনে বসরায় তাদের পূর্বেই তিনি মৃত্যুবরণ করেন। ঈসা ইবনে উমর আস-সাকাফিআর ঈসা ইবনে উমর আস-সাকাফির কথা বলতে গেলে, তার উপনাম (কুনিয়াত) ছিল আবু সুলাইমান—এবং বলা হয়: আবু উমর—তিনি আরবি ভাষা, নাহু (ব্যাকরণ) এবং কিরাতশাস্ত্রে একজন নির্ভরযোগ্য আলেম ছিলেন এবং তার কিরাত প্রসিদ্ধ।তিনি অত্যন্ত বাগ্মী ছিলেন এবং কথাবার্তায় পাণ্ডিত্যপূর্ণ ও গূঢ় শব্দ ব্যবহার করতেন। তিনি সহজ শব্দ পরিহার করে অপ্রচলিত ও বিরল শব্দের দিকে ঝুঁকে যেতেন। এর একটি উদাহরণ হলো, যখন ইউসুফ ইবনে উমর ইবনে হুবায়রা আমানত হিসেবে রাখা কিছু কাপড়ের কারণে তাকে প্রহার করেন, তখন তিনি বলেছিলেন: "সেগুলো তো কেবল ছোট সিন্দুকসমূহের মধ্যে রক্ষিত কিছু ক্ষুদ্র বস্ত্র ছিল, যা তোমার কর আদায়কারীরা হস্তগত করেছে।" আর ঘটনাটি ছিল এই যে, খালিদ ইবনে আবদুল্লাহ আল-কাসরির কোনো এক সাথী তার নিকট একটি আমানত রেখেছিলেন। যখন খালিদ ইবনে আবদুল্লাহ ইরাকের শাসনভার থেকে অপসারিত হন এবং তার স্থলাভিষিক্ত হন ইউসুফ ইবনে উমর, তখন তিনি বসরার গভর্নরের নিকট এই মর্মে পত্র লেখেন যেন ঈসা ইবনে উমরকে শৃঙ্খলিত অবস্থায় তার কাছে পাঠানো হয়। অতঃপর গভর্নর তাকে এবং একজন কর্মকারকে ডেকে পাঠালেন এবং তাকে শৃঙ্খলাবদ্ধ করার নির্দেশ দিলেন। এরপর তিনি বললেন: "আপনার কোনো ভয় নেই, তিনি কেবল চেয়েছিলেন"
(খণ্ড: ১)
নুজহাতুল আলিব্বা ফী তাবাকাতিল আদাব্বা
(পৃষ্ঠা: ٢٩)
الأمير أن يؤدب ولده، قال: فما بال القيد إذن! فبقيت مثلاً بالبصرة، فلما أتى به يوسف بن عمر، سأله عن الوديعة فأنكرها، فأمر به فضرب بالسياط، فلما أخذه السوط جذع، فقال: أيها الأمير، والله إنما كانت أثياباً في أسيفاط، قبضها عشاروك؛ فرفع السوط عنه، وكل به حتى أخذ الوديعة منه.وقال علي بن محمد بن سليمان: رأيت عيسى بن عمر طول دهره يحمل في كمه خرقة يحمل فيها سكر العشر والأجاص اليابس، وريما رأيته واقفاً عندي أو سائراً، أو عند ولاة أهل البصرة، فتصيبه نهكة على فؤاده، فيخفق عليه حتى يكاد يغلب، فيستغيث بإجاصة وسكرة يلقيهما في فمه، ثم يمتصهما فإذا ازدرد من ذلك شيئاً سكن عليه؛ فسألته عن ذلك، فقال: أصابني هذا من الضرب الذي ضربني يوسف بن عمر، فعالجته بكل شيء، فلم أجد له أصلح من هذا.وصنف كتابين في النحو، يسمى أحدهما الجامع، والآخر الإكمال. وفيهما يقول الخليل بن أحمد - وكان الخليل قد أخذ عنه:ذهب النحو جميعاً كله … غير ما أحدث عيسى بن عمر
আমীর তার সন্তানকে আদব শিক্ষা দেবেন; তিনি বললেন: তাহলে শেকলের প্রয়োজনীয়তা কী! বিষয়টি বসরায় প্রবাদে পরিণত হলো। যখন ইউসুফ বিন উমর তাকে উপস্থিত করলেন, তখন তিনি গচ্ছিত আমানত সম্পর্কে তাকে জিজ্ঞেস করলেন কিন্তু তিনি তা অস্বীকার করলেন। অতঃপর তিনি তাকে চাবুকপেটা করার নির্দেশ দিলেন। যখন চাবুকের আঘাত তার শরীরে পড়ল, তখন তিনি অস্থির হয়ে পড়লেন এবং বললেন: হে আমীর! আল্লাহর কসম, ওগুলো ছিল স্রেফ কিছু ছোট ঝুড়িতে রাখা কাপড়, যা আপনার কর সংগ্রাহকরা ক্রোক করেছিল। তখন তিনি চাবুক উঠিয়ে নিলেন এবং তাকে নজরবন্দি করে রাখলেন যতক্ষণ না তার থেকে আমানত আদায় করলেন।আলী বিন মুহাম্মদ বিন সুলাইমান বলেন: আমি ঈসা বিন উমরকে সারাজীবন তার জামার হাতার ভেতর একটি কাপড়ের টুকরো বহন করতে দেখেছি, যাতে তিনি চিনি এবং শুকনো আলু বোখারা রাখতেন। কখনও আমি তাকে আমার কাছে দাঁড়ানো অবস্থায় অথবা হাঁটা অবস্থায় অথবা বসরার শাসকদের কাছে দেখতাম যে, হঠাৎ তার হৃদযন্ত্রে একপ্রকার দুর্বলতা ও খিঁচুনি দেখা দিত, যার ফলে তিনি প্রায় নিস্তেজ হয়ে পড়তেন। তখন তিনি একটি আলু বোখারা ও চিনির টুকরো মুখে দিয়ে সেটির সাহায্য নিতেন এবং তা চুষতেন। যখন তিনি তার কিছু অংশ গলাধকরণ করতেন, তখন তিনি শান্ত হতেন। আমি তাকে এ বিষয়ে জিজ্ঞেস করলে তিনি বললেন: ইউসুফ বিন উমর আমাকে যে প্রহার করেছিলেন, তার ফলেই আমার এই অবস্থা হয়েছে। আমি সব কিছু দিয়ে এর চিকিৎসা করেছি, কিন্তু এর চেয়ে ফলপ্রসূ আর কিছু পাইনি।তিনি ব্যাকরণ শাস্ত্রের ওপর দুটি কিতাব রচনা করেছেন, যার একটির নাম ‘আল-জামে’ এবং অন্যটি ‘আল-ইকমাল’। এই দুই কিতাব সম্পর্কে খলিল বিন আহমদ—যিনি তার নিকট থেকে শিক্ষা লাভ করেছিলেন—বলেন:ব্যাকরণের সবটুকু জ্ঞানই বিলীন হয়ে গেছে … কেবল তা ব্যতীত যা ঈসা বিন উমর প্রবর্তন করেছেন।
(খণ্ড: ১)
নুজহাতুল আলিব্বা ফী তাবাকাতিল আদাব্বা
(পৃষ্ঠা: ٣٠)
ذاك إكمال وهذا جامعٌ … فهما للناس شمس وقمروهذان الكتابان لم نرهما ولم نرَ أحداً رآهما.وقال يحيى بن المبارك اليزيدي:يا طالب النحو ألا فابكه … بعد أبي عمرو وحمادوابن أبي إسحاق في علمه … والزبن في المشهد والناديعيسى وأشباهٌ لعيسى وهل … يأتي لهم دهر بأندادويونس النحوي لا تنسه … ولا خليلا حية الواديوتوفي سنة تسع وأربعين ومائة.ويشهد لهذا ما روي عن الأصمعي أنه قال: توفي عيسى بن عمر قبل أبي عمرو بهمس سنين، وكان ذلك في خلافة أبي جعفر المنصور، وكان أبو عمرو قد توفي سنة أربع وخمسين ومائة، على ما سنذكره إن شاء الله تعالى. أبو عمرو بن العلاءوأما أبو عمرو بن العلاء، فهو العلم المشهور في علم القراءة واللغة والعربية،
সেটি পূর্ণতা আর এটি সংকলন … মানুষের কাছে তারা যেন সূর্য ও চন্দ্র।আর এই বই দুটি আমরা দেখিনি এবং এমন কাউকে দেখিনি যিনি এগুলো দেখেছেন।ইয়াহইয়া ইবনে আল-মুবারক আল-ইয়াযিদি বলেছেন:হে নাহু অন্বেষণকারী, তুমি এর জন্য আক্ষেপ করো … আবু আমর এবং হাম্মাদের পরে।এবং ইবনে আবি ইসহাক তাঁর জ্ঞানে … এবং মজলিস ও সভায় আয-যুবন।ঈসা এবং ঈসার মতো যারা, কাল কি … তাদের জন্য কোনো সমকক্ষ নিয়ে আসতে পারবে?নাহুবিদ ইউনুসকে তুমি ভুলে যেয়ো না … আর খলীলকেও নয়, যিনি ছিলেন উপত্যকার প্রখর ব্যক্তিত্ব।তিনি একশ উনপঞ্চাশ হিজরি সনে ইন্তেকাল করেন।আসমায়ী থেকে যা বর্ণিত হয়েছে তা এর সাক্ষ্য দেয়, তিনি বলেন: ঈসা ইবনে উমর আবু আমরের পাঁচ বছর আগে ইন্তেকাল করেন, আর এটি ছিল আবু জাফর আল-মনসুরের খিলাফতকালে। আর আবু আমর একশ চুয়ান্ন হিজরি সনে ইন্তেকাল করেন, যেমনটি আমরা অচিরেই উল্লেখ করব ইনশাআল্লাহ তায়ালা। আবু আমর ইবনে আল-আলাআর আবু আমর ইবনে আল-আলা-এর কথা বলতে গেলে, তিনি কিরাত, ভাষা এবং আরবি শাস্ত্রের এক সুপ্রসিদ্ধ ব্যক্তিত্ব,
(খণ্ড: ১)
নুজহাতুল আলিব্বা ফী তাবাকাতিল আদাব্বা
(পৃষ্ঠা: ٣١)
وكان من الشأن بمكان. واسمه زبان؛ ويروى أن الفرزدق جاء معتذراً إليه من أجل هجو بلغه عنه، فقال له أبو عمرو:هجوت زبان ثم جئت معتذراً … من هجو زبان، لم تهجو ولم تدعْفهذا يدل على أن اسمه زبان؛ واختلفوا في اسمه اختلافاً كثيراً، ومنهم من قال: اسمه كنيته.
তিনি বিশেষ মর্যাদার অধিকারী ছিলেন। আর তাঁর নাম ছিল যাব্বান; বর্ণিত আছে যে, আল-ফারাজদাক তাঁর সম্পর্কে একটি ব্যঙ্গ কবিতা (হিজা) তাঁর কানে পৌঁছানোর পর তাঁর কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করতে এসেছিলেন। তখন আবু আমর তাঁকে বললেন:তুমি যাব্বানকে বিদ্রূপ করেছ, অতঃপর ক্ষমা প্রার্থনা করতে এসেছ … যাব্বানকে বিদ্রূপ করার বিষয়ে; তুমি না বিদ্রূপ সম্পন্ন করেছ, না তা বর্জন করেছ।এটি একথার প্রমাণ দেয় যে তাঁর নাম ছিল যাব্বান; আর তাঁর নাম নিয়ে আলেমদের মাঝে বিস্তর মতভেদ রয়েছে; তাঁদের মধ্যে কেউ কেউ বলেছেন: তাঁর উপনামই (কুনিয়াত) তাঁর নাম।
(খণ্ড: ১)
নুজহাতুল আলিব্বা ফী তাবাকাতিল আদাব্বা
(পৃষ্ঠা: ٣٢)
أخذ النحو عن نصر بن عاصم الليثي، وأخذ عنه يونس بن حبيب البصري، والخليل بن أحمد، وأبو محمد يحيى بن المبارك اليزيدي وكان يونس بن حبيب يقول: لو كان أحد ينبغي أو يؤخذ بقوله كله في شيء، كان ينبغي أن يؤخذ بقول أبي عمرو بن العلاء كله في العربية، ولكن ليس من أحد إلا وأنت آخذ من قوله وتارك.وروى الأصمعي عن الخليل بن أحمد، عن أبي عمرو بن العلاء، أنه قال: أكثر من تزندق بالعراق لجهلهم بالعربية.وحكى الأصمعي قال: غدوت ذات يوم إلى زيارة صديق لي، فلقيني أبو عمرو بن العلاء، فقال: إلى أين يا أصمعي؟ قلت: إلى صديق لي، فقال: إن كان لفائدة، أو لمائدة، أو لعائدة، وإلا فلا.وروي أنه سئل عن قوله تعالى:] فعززنا بثالث [، فقال: المعنى شددنا، وأنشد:أجد إذا ضمرت تعزز لحمها … وإذا تشد بنعسها لا تنبستعزز، أي اشتد، ولا تنبس؛ أي لا تصوت.ويروى عن أبي عمرو، قال: كنت هارباً من الحجاج بن يوسف، وكان يشتبه
তিনি নাসর ইবনে আসিম আল-লাইসির নিকট থেকে নাহু (ব্যাকরণ) শিক্ষা করেন এবং তাঁর নিকট থেকে ইউনুস ইবনে হাবিব আল-বাসরি, খলিল ইবনে আহমদ ও আবু মুহাম্মদ ইয়াহইয়া ইবনে আল-মুবারক আল-ইয়াজিদি শিক্ষা গ্রহণ করেন। ইউনুস ইবনে হাবিব বলতেন: যদি এমন কেউ থাকতেন যাঁর সকল কথা কোনো বিষয়ে গ্রহণ করা সমীচীন হতো, তবে আরবি ভাষার ক্ষেত্রে আবু আমর ইবনুল আলার সকল কথা গ্রহণ করা আবশ্যক হতো; কিন্তু এমন কেউ নেই যাঁর কথা থেকে কিছু গ্রহণ করা হয় না এবং কিছু বর্জন করা হয় না।আসমায়ি খলিল ইবনে আহমদ থেকে এবং তিনি আবু আমর ইবনুল আলা থেকে বর্ণনা করেছেন যে, তিনি বলেন: ইরাকে অধিকাংশ লোক আরবি ভাষায় তাদের অজ্ঞতার কারণেই যিনদিক (ধর্মত্যাগী) হয়েছে।আসমায়ি বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: একদিন ভোরে আমি আমার এক বন্ধুর সাথে দেখা করতে যাচ্ছিলাম, পথে আবু আমর ইবনুল আলার সাথে আমার দেখা হলো। তিনি জিজ্ঞেস করলেন: হে আসমায়ি, কোথায় যাচ্ছ? আমি বললাম: আমার এক বন্ধুর কাছে। তিনি বললেন: যদি তা কোনো জ্ঞানার্জনের জন্য হয়, অথবা আহারের জন্য হয়, কিংবা কোনো অসুস্থ ব্যক্তির সেবা-শুশ্রূষার জন্য হয়, তবেই যাও; অন্যথায় নয়।বর্ণিত আছে যে, তাঁকে মহান আল্লাহর বাণী: [অতঃপর আমরা তৃতীয় একজনের মাধ্যমে শক্তিশালী করলাম] সম্পর্কে জিজ্ঞেস করা হলে তিনি বলেন: এর অর্থ হলো আমরা সুদৃঢ় করেছি। অতঃপর তিনি কাব্য আবৃত্তি করেন:যখন সে কৃশ হয় তখন তার গোশত শক্ত হয়ে যায় … আর যখন তাকে তার উটের রশি দিয়ে শক্ত করে বাঁধা হয় তখন সে কোনো শব্দ করে না‘তাআজ্জাযা’ অর্থাৎ শক্ত হওয়া, আর ‘লা তানবিসু’ অর্থাৎ শব্দ না করা।আবু আমর থেকে বর্ণিত আছে, তিনি বলেন: আমি হাজ্জাজ ইবনে ইউসুফ থেকে পালিয়ে বেড়াচ্ছিলাম এবং বিষয়টি অস্পষ্ট ছিল...
(খণ্ড: ১)
নুজহাতুল আলিব্বা ফী তাবাকাতিল আদাব্বা
(পৃষ্ঠা: ٣٣)
على "فرجة" هل هي بالفتح أو بالضم؟ فسمعت قائلاً يقول:ربما تجزع النفوس من الأمر … له فَرجة كحل العقالبفتح الفاء من "فَرجة"، ثم قال: ألا إنه قد مات الحجاج؛ قال: فما كنت أدري بأيهما كنت أشد فرحاً، بقوله: "َرجة"، أو بقوله مات الحجاج! ويروى أن أبا عمرو سأل أبا خيرة عن قولهم: "استأصل الله عرقاتهم"، فنصب أبو خيرة التاء من "عرقاتهم" فقال له أبو عمرو: هيهات يا أبا خيرة! لأن جلدك! وذلك أن أبا عمرو استضعف النصب، لأنه كان قد سمعها [منه] بالجر، وكان أبو عمرو بعد ذلك يرويها بالنصب والجر.وكان أبو عمرو يقول: إنما نحن بالإضافة إلى من كان قبلنا كبقل في أصول رقل، أي نخل طوال؛ وهذا يدل على كماله في فضله، قال الشاعر:وما عبر الإنسان عن فضل نفسه … بمثل اعتقاد الفضل في كل فاضلوإن أخس النقص أن يرمي الفتى … قذى العين عنه بانتقاص الأفاضل
'ফারজাহ' শব্দের 'ফা' বর্ণের ওপর কি জবর (ফাতহা) হবে নাকি পেশ (দাম্মা)? তখন আমি একজনকে বলতে শুনলাম:হয়তো কোনো বিষয়ে প্রাণসমূহ আতঙ্কিত হয়ে পড়ে … অথচ সেটির মুক্তি উটের পায়ের বাঁধন খুলে যাওয়ার মতোই আকস্মিক।'ফারজাহ' শব্দের 'ফা' বর্ণের ওপর জবর দিয়ে পড়ার পর তিনি বললেন: শুনে রাখো, হাজ্জাজ মারা গেছে। আবু আমর বললেন: আমি বুঝতে পারছিলাম না যে আমি কোন সংবাদটিতে অধিক আনন্দিত হয়েছিলাম—তার 'ফারজাহ' বলাতে, নাকি হাজ্জাজ মারা যাওয়ার সংবাদ দেওয়াতে! বর্ণিত আছে যে, আবু আমর আবু খাইরাহ-কে তাদের প্রবাদ "আল্লাহ তাদের মূলোৎপাটন করুন" (ইস্তা'সালাল্লাহু উরুকাতাহুম) সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করেছিলেন। তখন আবু খাইরাহ 'উরুকাতাহুম' শব্দের 'তা' বর্ণের ওপর নসব (জবর) প্রদান করলেন। আবু আমর তাকে বললেন: অসম্ভব হে আবু খাইরাহ! তোমার চামড়া নরম হয়ে গেছে (বার্ধক্য এসেছে)! আসলে আবু আমর নসব (জবর) দেওয়াকে দুর্বল মনে করেছিলেন, কারণ তিনি ইতিপূর্বে এটি তার নিকট থেকে জার (জের) সহযোগে শুনেছিলেন। পরবর্তীতে আবু আমর এটি নসব এবং জার উভয়ভাবেই বর্ণনা করতেন।আবু আমর বলতেন: আমাদের পূর্ববর্তীদের তুলনায় আমরা হচ্ছি দীর্ঘাকার খেজুর গাছের পাদদেশে জন্মানো ছোট শাকসবজির মতো; অর্থাৎ সুদীর্ঘ খেজুর গাছ। এটি তার মর্যাদার পূর্ণতার প্রমাণ দেয়। কবি বলেছেন:মানুষ নিজের শ্রেষ্ঠত্ব অন্য কোনোভাবে প্রকাশ করতে পারে না … প্রতিটি গুণী ব্যক্তির গুণাবলি স্বীকার করার মতো।আর সবচাইতে নিকৃষ্ট ত্রুটি হলো যখন কোনো ব্যক্তি … গুণী ব্যক্তিদের অবমাননার মাধ্যমে নিজের চোখের কলঙ্ক দূর করতে চায়।
(খণ্ড: ১)
নুজহাতুল আলিব্বা ফী তাবাকাতিল আদাব্বা
(পৃষ্ঠা: ٣٤)
وحكى يونس بن حبيب البصري، عن أبي عمرو أنه قال: ما انتهى إليكم مما قالت العرب إلا أقله، ولو جاءكم وافراً لجاءكم علم وشعر كثير.وقال إبراهيم الحربي: كان أهل العربية كلهم أصحاب أهواء؛ إلا أربعة فإنهم أصحاب سنة: أبو عمرو بن العلاء، والخليل بن أحمد، ويونس بن حبيب البصري، والأصمعي.ومما روي عن أبي عمرو لشيخ من نجد:فاستقدرِ الله خيراً وارضين به … فبينما العسر إذ دارت مياسروبينما المرء في الأحياء مغتبطٌ … إذ صار في الرمس تعفوه الأعاصيريبكي غريب عليه ليس يعرفه … وذو قرابته في الحيِّ مسرورحتى كأن لم يكن إلا تذكره … والدهر أيتما حال دهاريروهذه الأبيات لعثمان بن لبيد العذري.روى هشام بن الكلبي، قال: عاش عبيد بن شرية الجرهمي ثلثمائة
ইউনুস বিন হাবিব আল-বসরি আবু আমর থেকে বর্ণনা করেছেন যে, তিনি বলেছেন: "আরবদের বক্তব্যের যা কিছু তোমাদের কাছে পৌঁছেছে তা অতি সামান্যই। যদি তা পূর্ণরূপে তোমাদের কাছে পৌঁছাত, তবে তোমরা প্রচুর জ্ঞান এবং অনেক কবিতা লাভ করতে।"ইবরাহিম আল-হারবি বলেছেন: "আরবি ভাষা ও সাহিত্যের পণ্ডিতদের প্রায় সকলেই ছিলেন প্রবৃত্তিপূজারি; তবে চারজন ব্যতীত, কেননা তাঁরা ছিলেন সুন্নাহর অনুসারী: আবু আমর বিন আল-আলা, আল-খালিল বিন আহমদ, ইউনুস বিন হাবিব আল-বসরি এবং আল-আসমাঈ।"আবু আমর থেকে নজদের জনৈক শায়খের যে পঙক্তিগুলো বর্ণিত হয়েছে:আল্লাহর নিকট কল্যাণের ফয়সালা প্রার্থনা করো এবং তাতে সন্তুষ্ট থাকো … কেননা যখন কঠিন অবস্থা বিরাজমান থাকে, তখনই স্বাচ্ছন্দ্য আবর্তিত হয়।যখন কোনো ব্যক্তি জীবিতদের মাঝে অত্যন্ত সুখী ও ঈর্ষণীয় অবস্থায় থাকে … তখনই সে কবরের বাসিন্দা হয়ে যায় এবং ঘূর্ণিঝড় তার চিহ্ন মুছে দেয়।তার জন্য এমন এক অচেনা পথিক কাঁদে যে তাকে চেনেও না … অথচ জনপদে তার নিকটাত্মীয়রা আনন্দ-উৎসবে মগ্ন থাকে।এমনকি অবস্থা এমন হয় যেন তাকে কেবল স্মরণই করা যায় … আর মহাকাল তো সকল অবস্থাতেই পরিবর্তনশীল ও বিপর্যয়পূর্ণ।এই কবিতাগুলো উসমান বিন লাবিদ আল-উজরির।হিশাম বিন আল-কালবি বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেছেন: ওবাইদ বিন শারিয়া আল-জুরহুমি তিনশ বছর জীবিত ছিলেন।
(খণ্ড: ১)
নুজহাতুল আলিব্বা ফী তাবাকাতিল আদাব্বা
(পৃষ্ঠা: ٣٥)
سنة، وأدرك الإسلام فأسلم، ودخل على معاوية بالشام وهو خليفة، فقال له: حدثني بأعجب ما رأيت، فقال: مررت ذات يوم بقوم يدفنون ميتاً لهم، فلما انتهيت إليهم اغرورقت عيناي بالدموع، فتمثلت بقول الشاعر:يا قلب إنك من أسماء مغرور … فاذكر وهل ينفعنك اليوم تذكيرقد بحت بالحب ما تخفيه من أحدٍ … حتى جرت لك أطلاقاً محاضيرفلست تدري وما تدري أعاجلها … أدنى لرشدك أم ما فيه تأخيرفاستقدر الله خيراً به وارضينَّ به … فبينما العسر إذ دارت مياسيرالأبيات إلى قوله:يبكي غريب عليه ليس يعرفه … وذو قرابته في الحي مسرورقال: فقال لي رجل: أتعرف من قال هذا الشعر؟ قلت: لا، قال: إن قائله هذا الذي دفناه الساعة، وأنت الغريب الذي يبكي عليه ولست تعرفه، وهذا الذي خرج من قبره أمس الناس رحماً به، وأسرهم بموته. فقال له معاوية: لقد رأيت عجباً، فمن الميت؟ فقال: عثمان بن لبيد العذري.وحكى الأصمعي قال: أنشدنا أبو عمرو:فما جبنوا أنا نشد عليهم … ولكن رأوا ناراً تحش وتسفعُقال: فذكرت ذلك لشعبة، فقال: ويلك! إنما هو "تحسَّ وتسفع" أي تحرق وتسوَّد.قال الأصمعي: وقد أصاب أبو عمرو، لأن معنى "تحشُّ" توقد، وقد أصاب شعبة أيضاً، ولم أرَ أعلم بالشعر من شعبة.وروى الأصمعي، عن أبي عمرو بن العلاء، قال: سمعت أعرابياً يقول: فلان لغوب، جاءته كتابي فاختصرها، قال: فقلت له [أتقول] : جاءته كتابي! فقال: أليس بصحيفة! فحمله على المعنى.وقد جاء ذلك كثيراً في كلامهم. واللغوب: الأحمق، وله أسماء كثيرة ذكرناها مستوفاة في كتابنا الموسوم في أسماء المائق.وتوفي أبو عمرو بن العلاء سنة أربع وخمسين ومائة في خلافة المنصور. أبو معاوية النحويوأما أبو معاوية شيبان بن عبد الرحمن التميمي النحوي؛ فإنه كان مولى لبني تميم، وكان يعلم أولاد داود بن علي بن عبد الله بن عباس، وكان قارئاً محدثاً نحويّاً، من مقدمي النحويين. سكن الكوفة زماناً، وانتقل عنها إلى بغداد.حدث عن الحسن البصري، ويحيى بن أبي كثير، وحدث عنه عبد الرحمن بن مهدي وغيره.وقال [أبو أحمد بن الحسن بن] عبد الله بن سعيد العسكري: إن شيبان
...বছর, তিনি ইসলাম লাভ করেন এবং ইসলাম গ্রহণ করেন। তিনি সিরিয়ায় মুয়াবিয়া (রা.)-এর নিকট প্রবেশ করেন যখন তিনি খলিফা ছিলেন। তিনি তাকে বললেন: "আপনি যা দেখেছেন তার মধ্যে সবচেয়ে বিস্ময়কর ঘটনাটি আমাকে বলুন।" তিনি বললেন: "একদিন আমি এক কওমের পাশ দিয়ে যাচ্ছিলাম যারা তাদের এক মৃত ব্যক্তিকে দাফন করছিল। আমি যখন তাদের নিকট পৌঁছালাম, তখন আমার চোখ অশ্রুসিক্ত হয়ে গেল। তখন আমি কবির এই কবিতাটি আবৃত্তি করলাম: হে হৃদয়, তুমি আসমার দ্বারা প্রবঞ্চিত … তবে স্মরণ করো, আজ কি তোমার এই স্মরণ কোনো উপকারে আসবে?তুমি যে প্রেম গোপন করছিলে তা প্রকাশ করে দিয়েছ … এমনকি তা দ্রুতবেগে প্রবাহিত হয়েছে।তুমি জানো না, আর তুমি জানো না কোনটি দ্রুততর হবে … তোমার সঠিক পথের নিকটবর্তী নাকি যাতে বিলম্ব রয়েছে?আল্লাহর নিকট কল্যাণের প্রার্থনা করো এবং তাতে সন্তুষ্ট থাকো … কারণ কষ্টের মাঝেই সুখ আবর্তিত হয়।কবিতার পঙক্তিগুলো নিম্নোক্ত চরণে পৌঁছা পর্যন্ত:এক অপরিচিত ব্যক্তি তার জন্য কাঁদছে যাকে সে চিনে না … অথচ গোত্রের আত্মীয়-স্বজনরা আনন্দিত।তিনি বললেন: তখন এক ব্যক্তি আমাকে জিজ্ঞেস করল, "আপনি কি জানেন এই কবিতাটি কে বলেছে?" আমি বললাম, "না।" সে বলল, "এর রচয়িতা তো সেই ব্যক্তি যাকে আমরা এইমাত্র দাফন করলাম। আর আপনিই সেই অপরিচিত ব্যক্তি যে তার জন্য কাঁদছেন অথচ তাকে চেনেন না। আর যে ব্যক্তি এইমাত্র তার কবর থেকে বের হয়ে এল, সে-ই ছিল তার নিকটতম আত্মীয় এবং তার মৃত্যুতে সবচেয়ে বেশি আনন্দিত।" মুয়াবিয়া তাকে বললেন, "আপনি তো এক বিস্ময়কর বিষয় দেখেছেন! মৃত ব্যক্তিটি কে ছিলেন?" তিনি বললেন, "উসমান ইবনে লাবিদ আল-উজরি।"আসমায়ি বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আবু আমর আমাদের নিকট আবৃত্তি করেছেন:তারা ভীরু ছিল না যে আমরা তাদের ওপর আক্রমণ করব … কিন্তু তারা এমন আগুন দেখেছিল যা প্রজ্বলিত হয় এবং ঝলসে দেয়।তিনি বলেন: আমি শু’বার নিকট তা উল্লেখ করলাম। তিনি বললেন: "তোমার মরণ হোক! শব্দটি হবে 'তাহাস্সু' (পুড়িয়ে মারা) এবং 'তাসফাউ' অর্থাৎ যা পুড়িয়ে কালো করে দেয়।"আসমায়ি বলেন: আবু আমর সঠিক বলেছেন, কারণ 'তাহুশশু' শব্দের অর্থ হলো প্রজ্বলিত করা। আবার শু’বাও সঠিক বলেছেন। আমি শু’বার চেয়ে কবিতা সম্পর্কে অধিক জ্ঞানী কাউকে দেখিনি।আসমায়ি আবু আমর ইবনুল আলা থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: আমি এক বেদুইনকে বলতে শুনেছি: "অমুক ব্যক্তি নির্বোধ, তার নিকট আমার কিতাব (চিঠি) পৌঁছেছে এবং সে তা সংক্ষেপ করেছে।" তিনি বলেন: আমি তাকে বললাম, "আপনি কি বলছেন: 'আমার কিতাব পৌঁছেছে' (স্ত্রীলিঙ্গ ক্রিয়া যোগে)!" সে বলল, "তা কি একটি সহিফা (পত্র) নয়?" ফলে সে একে অর্থের ওপর ভিত্তি করে প্রয়োগ করেছে।তাদের কথোপকথনে এমন প্রয়োগ অনেক রয়েছে। 'লুগুব' অর্থ হলো নির্বোধ, এর অনেকগুলো নাম রয়েছে যা আমরা আমাদের 'আসমাউল মাইক' নামক গ্রন্থে বিস্তারিতভাবে উল্লেখ করেছি।আবু আমর ইবনুল আলা মনসুরের খেলাফতকালে একশত চুয়ান্ন হিজরি সনে মৃত্যুবরণ করেন। আবু মুয়াবিয়া আন-নাহবিআর আবু মুয়াবিয়া শাইবান ইবনে আব্দুর রহমান আত-তামিমি আন-নাহবি; তিনি ছিলেন বনু তামিমের আযাদকৃত দাস। তিনি দাউদ ইবনে আলি ইবনে আব্দুল্লাহ ইবনে আব্বাসের সন্তানদের শিক্ষা দিতেন। তিনি ছিলেন একজন ক্বারি, মুহাদ্দিস এবং ব্যাকরণবিদ, এবং প্রধান ব্যাকরণবিদদের অন্যতম। তিনি দীর্ঘকাল কুফায় বসবাস করেন এবং সেখান থেকে বাগদাদে স্থানান্তরিত হন।তিনি হাসান বসরি এবং ইয়াহইয়া ইবনে আবি কাসির থেকে বর্ণনা করেছেন এবং তার থেকে আব্দুর রহমান ইবনে মাহদি ও অন্যান্যরা বর্ণনা করেছেন।আবু আহমদ ইবনুল হাসান ইবনে আব্দুল্লাহ ইবনে সাঈদ আল-আসকারি বলেন: শাইবান...
(খণ্ড: ১)
নুজহাতুল আলিব্বা ফী তাবাকাতিল আদাব্বা
(পৃষ্ঠা: ٣٦)
النحوي نسبة إلى بطن يقال لهم نحو بن شمس - بضم الشين - من بطن من الأزد.وذكر أبو الحسين بن المنادي أن المنسوب إلى القبيلة هو يزيد النحوي، لا شيبان. قال أبو بكر عبد الله بن سليمان بن الأشعث: يزيد النحوي، هو يزيد ابن أبي سعيد، وهو من بطن من الأزد، يقال لهم بنو نحو؛ ليسوا من نحو العربية، ولم يرو أحدٌ منهم الحديث إلا رجلان؛ أحدهما يزيد هذا، وسائر من يقال له النحوي، فمن نحو العربية؛ شيبان بن عبد الرحمن النحوي،وهارون بن موسى النحوي، وأبو زيد النحوي.وسئل الإمام أحمد بن حنبل عن شيبان النحوي وعن هشام الدستوائي وعن حرب بن شداد، فقال: شيبان أرفع عندي، شيبان صاحب كتاب صحيح، قد روى شيبان عن الناس، فحديثه صحيح.
'আন-নাহবি' নিসবতটি আযদ গোত্রের একটি শাখা 'নাহব বিন শামস' - 'শীন' বর্ণে পেশসহ - এর প্রতি সম্পৃক্ত।আবু আল-হুসাইন ইবনুল মুনাদী উল্লেখ করেছেন যে, উক্ত গোত্রের প্রতি সম্পৃক্ত ব্যক্তি হলেন ইয়াযীদ আন-নাহবি, শায়বান নন। আবু বকর আব্দুল্লাহ বিন সুলাইমান বিন আল-আশআস বলেন: ইয়াযীদ আন-নাহবি হলেন ইয়াযীদ ইবনে আবি সাঈদ, এবং তিনি আযদ গোত্রের একটি শাখাভুক্ত যাদেরকে 'বনু নাহব' বলা হয়; তারা আরবি ব্যাকরণের (নাহব) সাথে সংশ্লিষ্ট নন। তাদের মধ্য থেকে মাত্র দুইজন ব্যক্তি ব্যতীত আর কেউ হাদিস বর্ণনা করেননি; তাদের একজন হলেন এই ইয়াযীদ। আর বাদবাকি যাদেরকে 'আন-নাহবি' বলা হয় তারা মূলত আরবি ব্যাকরণের সাথে সংশ্লিষ্ট; যেমন শায়বান বিন আব্দুর রহমান আন-নাহবি,এবং হারুন বিন মুসা আন-নাহবি ও আবু যায়িদ আন-নাহবি।ইমাম আহমাদ বিন হাম্বলকে শায়বান আন-নাহবি, হিশাম আদ-দাস্তুওয়ায়ী এবং হারব বিন শাদ্দাদ সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করা হলে তিনি বলেন: শায়বান আমার নিকট অধিক মর্যাদাবান, শায়বান একটি সহীহ কিতাবের অধিকারী, শায়বান মানুষের নিকট থেকে বর্ণনা করেছেন, তাই তার হাদিস সহীহ।
(খণ্ড: ১)
নুজহাতুল আলিব্বা ফী তাবাকাতিল আদাব্বা
(পৃষ্ঠা: ٣٧)
وسئل يحيى بن معين عن شيبان: ما حاله والأعمش؟ فقال: ثقةٌ في كل شيء، وكان يحيى بن معين يوثقه، ويزعم أنه بصري انتقل إلى الكوفة.وقال ابن عمار: أبو معاوية النحوي؛ هو بصري ثقة.وتوفي ببغداد سنة أربع وستين ومائة في خلافة المهدي، ودفن في مقبرة الخيزران. وقال محمد بن سعد: دفن في مقابر قريش.وقيل: توفي سنة سبعين ومائة في خلافة الهادي. هارون بن موسىوأما أبو عبد الله هارون بن موسى - وقيل أبو موسى- القارئ النحوي الأعور؛ - فإنه كان من أهل البصرة، وكان عالماً بالنحو، وسمع الحديث عن طاوس اليماني، وثابت البناني، وحميد الطويل؛ وروى عنه علي بن الجعد وغيره.
ইয়াহইয়া ইবনে মাঈনকে শায়বান সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করা হয়েছিল: আমাশের সাথে তাঁর অবস্থা কেমন? তিনি বললেন: তিনি সব বিষয়েই নির্ভরযোগ্য। ইয়াহইয়া ইবনে মাঈন তাঁকে নির্ভরযোগ্য বলতেন এবং মনে করতেন যে তিনি একজন বসরাবাসী যিনি কুফায় স্থানান্তরিত হয়েছিলেন।ইবনে আম্মার বলেন: আবু মুআবিয়া ব্যাকরণবিদ; তিনি একজন নির্ভরযোগ্য বসরাবাসী।তিনি আল-মাহদীর খিলাফতকালে একশত চৌষট্টি হিজরি সালে বাগদাদে ইন্তেকাল করেন এবং খাইজুরান গোরস্তানে সমাহিত হন। মুহাম্মদ ইবনে সাদ বলেন: তাঁকে কুরাইশদের গোরস্তানে দাফন করা হয়েছে।বলা হয় যে, তিনি আল-হাদীর খিলাফতকালে একশত সত্তর হিজরি সালে ইন্তেকাল করেন। হারুন ইবনে মুসাআর আবু আব্দুল্লাহ হারুন ইবনে মুসা—যাঁকে আবু মুসাও বলা হয়—একচক্ষুবিশিষ্ট ক্বারি ও ব্যাকরণবিদ; তিনি বসরার অধিবাসী ছিলেন। তিনি ব্যাকরণ শাস্ত্রে পণ্ডিত ছিলেন এবং তাউস আল-ইয়ামানি, সাবিত আল-বুনানি ও হুমাইদ আত-তবিল থেকে হাদিস শ্রবণ করেছেন; তাঁর থেকে আলী ইবনুল জাদ ও অন্যান্যরা বর্ণনা করেছেন।
(খণ্ড: ১)
নুজহাতুল আলিব্বা ফী তাবাকাতিল আদাব্বা
(পৃষ্ঠা: ٣٨)
وقال عبد الله بن سليمان الأشعث: سمعت أبي يقول: كان هارون الأعور يهودياً فأسلم، وحسن إسلامه، وحفظ القرآن وضبطه، وضبط النحو.وناظره إنسان يوماً في مسألة، فغلبه هارون، فلم يدرِ المغلوب ما يقول، فقال له: أنت كنت يهودياً فأسلمت، فقال له هارون: فبئس ما صنعت! قال: فغلبه في هذا أيضاً.قال أبو حاتم السجستاني: سألت الأصمعي عن هارون بن موسى النحوي، فقال: كان ثقة مأموناً. الشرقي بن القطاميوأما الشرقي بن القطاني، فكان وافر الأدب، عالماً بالنسب. أقدمه أبو جعفر المنصور بغداد ليعلم ولده المهدي الأدب، والشرقي لقب له؛ واسمه الوليد، والقطامي لقب لوالده، واسمه الحصين.ويحكى عن الشرقي بن القطامي أنه قال: دخلت على المنصور، فقال: يا شرقي، علام يؤتى المرء؟ فقلت: أصلح الله تعالى الخليفة! على معروف قد سلف، أو مثله مؤتنف، أو قديم شرف، أو علم مطرف.قال إبراهيم الحربي: الشرقي بن القطامي كوفي قد تكلم فيه، وكان صاحب سحر.
আব্দুল্লাহ বিন সুলাইমান আল-আশ’আস বলেন: আমি আমার পিতাকে বলতে শুনেছি: হারুন আল-আওয়ার ইহুদি ছিলেন, অতঃপর তিনি ইসলাম গ্রহণ করেন এবং তাঁর ইসলাম গ্রহণ সুন্দর হয়েছিল। তিনি কুরআন মুখস্থ করেছিলেন এবং তা আয়ত্ত করেছিলেন, আর তিনি নাহু (ব্যাকরণ) শাস্ত্রও আয়ত্ত করেছিলেন।একদিন এক ব্যক্তি একটি বিষয়ে তাঁর সাথে বিতর্ক করল, তখন হারুন তার ওপর জয়ী হলেন। পরাজিত ব্যক্তিটি কী বলবে তা বুঝতে না পেরে তাঁকে বলল: আপনি তো ইহুদি ছিলেন, তারপর ইসলাম গ্রহণ করেছেন। হারুন তাকে বললেন: (মুসলিম হয়ে) আমি কতই না মন্দ কাজ করেছি! বর্ণনাকারী বলেন: হারুন এই কথাতেও তার ওপর জয়লাভ করলেন।আবু হাতিম আস-সিজিস্তানি বলেন: আমি আসমায়িকে হারুন বিন মুসা আন-নাহবি সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করেছিলাম, তিনি বললেন: তিনি নির্ভরযোগ্য ও বিশ্বস্ত ছিলেন। আশ-শারকি বিন আল-কাতামিআর আশ-শারকি বিন আল-কাতানির কথা বলতে গেলে, তিনি ছিলেন অগাধ আদব বা সাহিত্যের অধিকারী এবং বংশবিদ্যার পণ্ডিত। আবু জাফর আল-মানসুর তাঁকে বাগদাদে নিয়ে এসেছিলেন তাঁর পুত্র আল-মাহদিকে আদব শিক্ষা দেওয়ার জন্য। আশ-শারকি ছিল তাঁর লকব (উপাধি); তাঁর নাম ছিল আল-ওয়ালিদ। আর আল-কাতামি ছিল তাঁর পিতার উপাধি, যাঁর নাম ছিল আল-হুসাইন।আশ-শারকি বিন আল-কাতামি থেকে বর্ণিত আছে যে তিনি বলেছেন: আমি আল-মানসুরের কাছে প্রবেশ করলাম, তিনি বললেন: হে শারকি, কোন গুণের কারণে একজন ব্যক্তিকে (মানুষের কাছে) সমাদৃত করা হয়? আমি বললাম: আল্লাহ তাআলা খলিফাকে সংশোধন করুন! পূর্বের কোনো পরিচিত ভালো কাজ, অথবা বর্তমানে শুরু করা অনুরূপ কাজ, অথবা প্রাচীন বংশীয় মর্যাদা, অথবা নতুন অর্জিত কোনো ইলম।ইবরাহিম আল-হারবি বলেন: আশ-শারকি বিন আল-কাতামি ছিলেন একজন কুফাবাসী ব্যক্তি, যাঁকে নিয়ে সমালোচনা করা হয়েছে এবং তিনি জাদুকর ছিলেন।
(খণ্ড: ১)
নুজহাতুল আলিব্বা ফী তাবাকাতিল আদাব্বা
(পৃষ্ঠা: ٣٩)
وقال زكرياء بن يحيى الساجي: الشرقي بن القطامي ضعيف، حدث عنه شعبة حديثاً واحداً، وليس بقائم. قال يزيد بن هارون: حدثنا شعبة عن الشرقي ابن القطامي حديث عمر بن الخطاب أنه كان يبيت من وراء العقبة. فقال شعبة: حماري وردائي صدقة، إن لم يكن الشرقي كذب على عمر. قال: فقلت له: لم تروي عنه!. حمَّاد الراويةوأما حماد الراوية، فإنه كان من أهل الكوفة، مشهوراً برواية الأشعار والأخبار، وهو الذي جمع السبع الطوال، هكذا ذكره أبو جعفر أحمد بن محمد النحاس، ولم يثبت ما ذكره الناس من أنها كانت معلقة على الكعبة.ويحكى أن حماداً الراوية قال: كنت منقطعاً إلى يزيد بن عبد الملك، وكان أخوه هشام يجفوني [لذلك دون سائر أهله من بني أمية، في أيام يزيد] ، فلما مات يزيد، وأفضت الخلافة إلى هشام خفته، فمكثت في بيتي سنة لا أخرج إلا إلى من أثق به من إخواني سراً. فلما لم أسمع أحداً يذكرني أمنتُ فخرجت، وصليت الجمعة في الرصافة، ثم جلست عند باب الفيل، فإذا شرطيان قد وقفا علي، فقالا: يا حماد، أجب الأمير يوسف بن عمر، فقلت في نفسي: هذا الذي قد كنت أخافه؛ ثم قلت للشرطيين: هل لكما أن تدعاني حتى آتِيَ أهلي، فأودعهم وداع من لا يرجع إليهم أبداً، ثم أصير معكما! فقالا: ما إلى هذا سبيلٍ؛ فاستسلمت في أيديهم،
যাকারিয়া বিন ইয়াহইয়া আস-সাজি বলেছেন: আশ-শারকি বিন আল-কাতামি দুর্বল, শু’বা তার থেকে একটি হাদিস বর্ণনা করেছেন, তবে তা সুদৃঢ় নয়। ইয়াজিদ বিন হারুন বলেছেন: শু’বা আমাদের নিকট আশ-শারকি ইবনুল কাতামির সূত্রে উমর ইবনুল খাত্তাব-এর একটি হাদিস বর্ণনা করেছেন যে, তিনি আকাবার পেছন দিকে রাত যাপন করতেন। তখন শু’বা বললেন: যদি আশ-শারকি উমর-এর নামে মিথ্যা বলে থাকে, তবে আমার গাধা ও চাদর সদকা হিসেবে গণ্য হবে। বর্ণনাকারী বললেন: আমি তাকে বললাম: তবে কেন আপনি তার থেকে বর্ণনা করলেন! হাম্মাদ আর-রাবিয়াআর হাম্মাদ আর-রাবিয়া প্রসঙ্গে কথা হলো, তিনি কুফাবাসী ছিলেন এবং কবিতা ও ইতিহাস বর্ণনার জন্য প্রসিদ্ধ ছিলেন। তিনিই 'সাবআ তুওয়াল' (সাতটি দীর্ঘ কবিতা) সংকলন করেছিলেন; আবু জাফর আহমদ বিন মুহাম্মদ আন-নাহহাস এভাবেই এটি উল্লেখ করেছেন। তবে লোকেরা যা বলে থাকে যে সেগুলো কাবার উপর ঝুলানো ছিল, তা প্রমাণিত নয়।বর্ণিত আছে যে, হাম্মাদ আর-রাবিয়া বলেছেন: আমি ইয়াজিদ বিন আব্দুল মালিকের একান্ত অনুসারী ছিলাম। তার ভাই হিশাম ইয়াজিদের শাসনামলে বনূ উমাইয়্যার অন্য সবার তুলনায় আমার প্রতি রুক্ষ আচরণ করতেন। যখন ইয়াজিদ মারা গেলেন এবং খিলাফত হিশামের নিকট হস্তান্তরিত হলো, তখন আমি তাকে ভয় পেতে শুরু করলাম। ফলে আমি এক বছর কাল আমার বাড়িতেই অবস্থান করলাম এবং আমার বিশ্বস্ত ভাইদের কাছে গোপনে যাওয়া ছাড়া বের হতাম না। যখন দেখলাম কেউ আমাকে নিয়ে কোনো আলোচনা করছে না, তখন আমি নিরাপদ বোধ করে বাইরে বের হলাম এবং রুসাফায় জুমার সালাত আদায় করলাম। এরপর আমি 'বাবুল ফীল'-এর (হাতির দরজা) কাছে বসলাম, তখন হঠাৎ দুজন প্রহরী আমার সামনে এসে দাঁড়ালো। তারা বলল: হে হাম্মাদ, আমীর ইউসুফ বিন উমরের ডাকে সাড়া দাও। আমি মনে মনে বললাম: এটিই ছিল সেই বিপদ যা আমি আশঙ্কা করছিলাম। এরপর আমি প্রহরীদের বললাম: তোমরা কি আমাকে আমার পরিবারের কাছে যেতে দেবে যাতে আমি তাদের থেকে চিরবিদায় নিয়ে আসতে পারি, এরপর আমি তোমাদের সাথে যাব? তারা বলল: এর কোনো সুযোগ নেই। তখন আমি নিজেকে তাদের হাতে সঁপে দিলাম।
(খণ্ড: ১)
নুজহাতুল আলিব্বা ফী তাবাকাতিল আদাব্বা
(পৃষ্ঠা: ٤٠)
وصرت إلى يوسف بن عمر، فسلمت عليه، فرد علي السلام، ورمى إلي كتاباً فيه: بسم الله الرحمن الرحيم، من عبد الله هشام أمير المؤمنين إلى يوسف بن عمر؛ أما بعد؛ فإذا قرأت كتابي هذا فابعث إلى حماد الراوية من يأتيك به، وادفع إليه خمسمائة دينار وجملاً مهريّاً يسير عليه اثنتي عشرة ليلة إلى دمشق.فأخذت الدنانير، ونظرت فإذا حمل مرحول، فجعلت رجلي في الغرز، وسرت اثنتي عشرة ليلة، حتى وافيت دمشق، ونزلت على باب هشام، فاستأذنت فأذن لي، فدخلت عليه في دار قوراء، مفروشة بالرخام، وبين كل رخامتين قضيب ذهب، وهشام جالس على طنفسة حمراء، وعليه ثياب حمر من الخز، وقد تضمخ بالمسك والعنبر، فسلمت عليه، فرد علي السلام، واستدناني فدنوت منه حتى قبلت رجله؛ فإذا جاريتان لم أرَ مثلهما قط، في أذنيْ كل واحدة منهما حلقتان فيهما لؤلؤتان تتوقدان، فقال لي: كيف أنت يا حماد؟ وكيف حالك؟ فقلتُ: بخير يا أمير المؤمنين، قال: أتدري فيم بعثت إليك؟ قلت: لا، قال: بعثت إليك لبيت خطر ببالي، لم أدر من قائله؟ قلت: ما هو؟ قال:ودعوا بالصبوح يوماً فجاءت … قينةٌ في يمينها إبريقفقلت: يقوله عدي بن زيد، في قصيدة له، قال: أنشدينها، فأنشدته:
আমি ইউসুফ ইবনে উমরের নিকট গেলাম এবং তাঁকে সালাম দিলাম। তিনি সালামের উত্তর দিলেন এবং আমার দিকে একটি পত্র ছুড়ে দিলেন যাতে লেখা ছিল: পরম করুণাময় অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে। আল্লাহর বান্দা আমিরুল মুমিনীন হিশামের পক্ষ থেকে ইউসুফ ইবনে উমরের প্রতি; অতঃপর, যখন তুমি আমার এই পত্র পাঠ করবে, তখন হাম্মাদ আর-রাবিয়াকে নিয়ে আসার জন্য লোক পাঠাও, তাঁকে পাঁচশত দিনার এবং একটি উন্নত জাতের মেহরি উট প্রদান করো, যাতে সে বারো রাতে দামেস্কে পৌঁছাতে পারে।আমি দিনারগুলো গ্রহণ করলাম এবং দেখলাম একটি সজ্জিত উট প্রস্তুত। আমি রেকাবে পা রাখলাম এবং বারো রাত পথ চলে দামেস্কে পৌঁছালাম। আমি হিশামের দ্বারে অবতরণ করলাম এবং প্রবেশের অনুমতি চাইলাম। আমাকে অনুমতি দেওয়া হলো। আমি একটি প্রশস্ত প্রাসাদে প্রবেশ করলাম যা মার্বেল পাথর দিয়ে বাঁধানো ছিল এবং প্রতি দুটি মার্বেলের মাঝে একটি করে সোনার দণ্ড ছিল। হিশাম একটি লাল গালিচার ওপর বসে ছিলেন, তাঁর পরনে ছিল রেশমের লাল পোশাক এবং তিনি কস্তুরী ও আম্বরের সুগন্ধিতে সুবাসিত ছিলেন। আমি তাঁকে সালাম দিলাম, তিনি সালামের উত্তর দিলেন এবং আমাকে কাছে ডাকলেন। আমি তাঁর নিকটবর্তী হলাম এমনকি তাঁর পা চুম্বন করলাম। সেখানে এমন দুজন দাসী ছিল যাদের মতো আমি কখনো দেখিনি; তাদের প্রত্যেকের কানে দুটি করে দুল ছিল যাতে দুটি উজ্জ্বল মুক্তো জ্বলজ্বল করছিল। তিনি আমাকে বললেন: হে হাম্মাদ, তুমি কেমন আছো? তোমার অবস্থা কী? আমি বললাম: হে আমিরুল মুমিনীন, ভালো আছি। তিনি বললেন: তুমি কি জানো কেন আমি তোমাকে ডেকে পাঠিয়েছি? আমি বললাম: না। তিনি বললেন: আমি তোমাকে ডেকেছি আমার মনে পড়া একটি পঙ্ক্তির জন্য, যার রচয়িতা কে তা আমি জানি না। আমি বললাম: সেটি কী? তিনি বললেন:একদিন তারা সকালের পানীয় প্রার্থনা করল, তখন এলো … এক গায়িকা যার ডান হাতে ছিল একটি পানপাত্রআমি বললাম: এটি আদি বিন যায়েদ তাঁর একটি কবিতায় বলেছেন। তিনি বললেন: সেটি আমাকে আবৃত্তি করে শোনাও। তখন আমি তাঁকে তা আবৃত্তি করে শোনালাম:
(খণ্ড: ১)
নুজহাতুল আলিব্বা ফী তাবাকাতিল আদাব্বা
(পৃষ্ঠা: ٤١)
بكر العاذلون في وضح الصبح … يقولون لي أما تستفيق!ويلومون فيك يا ابنة عبد الله … والقلب عندكم موثوقلست أدري إذ أكثروا العذل فيها … أعدُوٌّ يلومني أم صديققال: فانتهيت إلى قوله:ودعوا بالصبوح يوماً فجاءت … قينة في يمينها إبريققدمته على عقار كعين الد … يك صفي سلافها الراووقمرة قبل مزجها، فإذا ما … مزجت لذ طعمها من يذوقوطفا فوقها فقاقيع كاليا … قوت يزينها التصفيقثم كان المزاج ماء سحاب … لا صرًى آجنٌ ولا مطروققال: فطرب، وقال لي: أحسنت والله يا حماد؛ يا جارية اسقيه، فسقتني شربة ذهبت بثلث عقلي. فقال: أعده فأعدته، فاستخفه الطرب حتى نزل عن فرشه، ثم قال للجارية الأخرى: اسقيه، فسقتني [شربة] فذهب ثلث آخر من عقلي، [فقلت: إن سقتني الثالث افتضحت] ، ثم قال: سل حاجتك، فقلت: كائنةً ما كانت! قال: نعم، قلت: إحدى هاتين الجاريتين، قال: هما جميعاً لك بما عليهما وما لهما. ثم قال للأولى: اسقيه، فسقتني شربة سقطت منها فلم أعقلْ حتى أصبحت والجاريتان عند رأسي، وإذا عشرة من الخدم مع كل واحد منهم بدرة، فقال أحدهم: إن أمير
প্রভাতের উজ্জ্বল আলোয় নিন্দুকেরা ভোরে এসে হাজির হলো … তারা আমাকে বলছে, তুমি কি সচেতন হবে না!হে আবদুল্লাহর কন্যা, তারা তোমার ব্যাপারে আমাকে ভর্ৎসনা করছে … অথচ আমার হৃদয় তোমাদের কাছেই বন্দি।যখন তারা তাকে নিয়ে নিন্দার মাত্রা বাড়িয়ে দিল, তখন আমি জানি না … যে আমাকে তিরস্কার করছে সে শত্রু নাকি বন্ধু।তিনি বললেন: এরপর আমি তাঁর এই পঙক্তিতে পৌঁছলাম:একদিন তারা প্রভাতী পানীয়ের জন্য ডাক দিল, তখন এক গায়িকা এলো … যার ডান হাতে ছিল একটি পানপাত্র।সে তা পেশ করল এমন মদের ওপর যা মোরগের চোখের মতো স্বচ্ছ … যার নির্যাসকে ছাঁকুনি পরিষ্কার করে দিয়েছে।মিশ্রণের আগে তা ছিল তিক্ত, কিন্তু যখন … তা মিশ্রিত হলো, তখন স্বাদ গ্রহণকারীর কাছে তার স্বাদ অত্যন্ত উপাদেয় হলো।আর তার ওপর ইয়াকুত পাথরের মতো বুদবুদ ভেসে উঠল … যা করতালি দ্বারা সুশোভিত হচ্ছিল।তারপর তার মিশ্রণ ছিল মেঘের পানি … যা পচা বা দুর্গন্ধযুক্ত নয় এবং কর্দমাক্তও নয়।তিনি বললেন: এতে তিনি উল্লসিত হলেন এবং আমাকে বললেন: আল্লাহর কসম, হে হাম্মাদ! তুমি চমৎকার বলেছ। হে দাসী, তাকে পান করাও। তখন সে আমাকে এমন এক চুমুক পান করালো যা আমার বিবেকের এক-তৃতীয়াংশ হরণ করে নিল। এরপর তিনি বললেন: পুনরায় বলো। আমি তা পুনরায় আবৃত্তি করলাম। এতে উল্লাস তাকে এতটাই বিমোহিত করল যে তিনি তাঁর আসন থেকে নিচে নেমে এলেন। এরপর তিনি অন্য দাসীকে বললেন: তাকে পান করাও। সে আমাকে [এক চুমুক] পান করালো এবং আমার বিবেকের আরও এক-তৃতীয়াংশ চলে গেল। [আমি মনে মনে বললাম: সে যদি আমাকে তৃতীয়বার পান করায় তবে আমি অপদস্থ হব।] এরপর তিনি বললেন: তোমার যা প্রয়োজন তা চাও। আমি বললাম: যা-ই হোক না কেন! তিনি বললেন: হ্যাঁ। আমি বললাম: এই দুই দাসীর একজনকে। তিনি বললেন: তারা দুজনেই তোমার, তাদের পরিহিত পোশাক ও যা কিছু তাদের মালিকানায় আছে সবসহ। এরপর তিনি প্রথমজনকে বললেন: তাকে পান করাও। তখন সে আমাকে এমন এক চুমুক পান করালো যে আমি পড়ে গেলাম এবং সকাল না হওয়া পর্যন্ত আমার আর জ্ঞান ছিল না। সকালে আমি নিজেকে এই অবস্থায় পেলাম যে দাসী দুজন আমার শিয়রে বসে আছে। আর সেখানে দশজন ভৃত্য ছিল, যাদের প্রত্যেকের কাছে একটি করে মুদ্রার থলি ছিল। তাদের একজন বলল: নিশ্চয়ই আমির-
(খণ্ড: ১)
নুজহাতুল আলিব্বা ফী তাবাকাতিল আদাব্বা
(পৃষ্ঠা: ٤٢)
المؤمنين يقرأ عليك السلام ويقول لك: خذ هذه فانتفع بها في سفرك، فأخذتها والجاريتين، وعاودت أهلي. والله أعلم. حماد بن سلمةوأما حماد بن سلمة، فإنه كان من متقدمي النحويين، وأخذ عنه يونس بن حبيب البصري.ويروي أن [ابن] سلاّم، قال: قلت ليونس بن حبيب: أيما أسن؟ أنت أو حماد؟ قال: هو أسن مني، ومنه تعلمت العربية.وعن علي بن الزراع قال: سمعت حماد بن سلمة يقول: "من لحن في حديثي، فقد كذب عليّ".وروى نصر بن علي بن سيبويه كان يستملي على حماد، فقال حماد يوماً: قال رسول الله صلى الله عليه وسلم: "ليس أحد من أصحابي إلا من لو شئت لأخذت عنه ليس أبا الدرداء"، فقال سيبويه: "ليس أبو الدرداء"، فقال له حماد: لحنت [يا سيبويه] ، "ليس أبا الدرداء"، فقال سيبويه: لا جرم! لأطلبن علماً لا يلحنني معه أحد، فطلب النحو، ولزم الخليل.
মুমিনদের আমীর আপনাকে সালাম জানিয়েছেন এবং আপনাকে বলছেন: এটি গ্রহণ করুন এবং আপনার সফরে এর দ্বারা উপকৃত হন। ফলে আমি সেটি ও দাসী দুজনকে গ্রহণ করলাম এবং আমার পরিবারের কাছে ফিরে এলাম। আর আল্লাহই সর্বজ্ঞ। হাম্মাদ বিন সালামাহআর হাম্মাদ বিন সালামাহর বিষয় এই যে, তিনি প্রাচীন ব্যাকরণবিদদের অন্তর্ভুক্ত ছিলেন এবং ইউনুস বিন হাবীব আল-বসরি তাঁর থেকে শিক্ষা গ্রহণ করেছেন।বর্ণিত আছে যে, [ইবনে] সাল্লাম বলেছেন: আমি ইউনুস বিন হাবীবকে জিজ্ঞেস করলাম: আপনাদের মধ্যে বয়সে বড় কে? আপনি না হাম্মাদ? তিনি বললেন: তিনি আমার চেয়ে বয়সে বড় এবং তাঁর কাছ থেকেই আমি আরবি ভাষা শিখেছি।আলী বিন আয-যুররা থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: আমি হাম্মাদ বিন সালামাহকে বলতে শুনেছি: "যে ব্যক্তি আমার বর্ণিত হাদিসে ব্যাকরণগত ভুল করে, সে যেন আমার প্রতি মিথ্যারোপ করল।"নাসর বিন আলী বর্ণনা করেছেন যে, সিবওয়াইহি হাম্মাদের কাছে শ্রুতলিপি গ্রহণ করতেন। একদিন হাম্মাদ বললেন: রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: "আমার সাহাবীদের মধ্যে এমন কেউ নেই যার থেকে চাইলে (কোনো ভুল) ধরা যেত না, আবু আদ-দারদা ব্যতীত", সিবওয়াইহি বললেন: "লাইসা আবু আদ-দারদা"। হাম্মাদ তাকে বললেন: তুমি ভুল করেছ [হে সিবওয়াইহি], হবে "লাইসা আবা আদ-দারদা"। সিবওয়াইহি বললেন: অবশ্যই! আমি এমন এক জ্ঞান অন্বেষণ করব যাতে কেউ আমাকে ভুল ধরতে না পারে। অতঃপর তিনি ব্যাকরণ শাস্ত্র অন্বেষণ করলেন এবং খলীলের সান্নিধ্য গ্রহণ করলেন।
(খণ্ড: ১)
নুজহাতুল আলিব্বা ফী তাবাকাতিল আদাব্বা
(পৃষ্ঠা: ٤٣)
وقال أبو عمر الجرمي: ما رأيت فقيهاً أفصح من عبد الوارث، وكان حماد بن سلمة أفصح منه.وحكى أبو العباس أحمد بن يحيى ثعلب عن محمد بن سلاّم، في ترتيب النحويين من البصريين: وحماد - يعني حماد بن سلمة - كان يونس بن حبيب يفضله.وحكى أبو الحسن الأخفش عن يونس بن حبيب، أن حدثه أن حماداً ناسا من العرب يقولون في النسب إلى شيَة "شِيوَيّ"، والوجه فيه غير ذلك؛ وهؤلاء كأنهم قلبوا موضع الفاء، فوضعوه في موضع اللام، وسيبويه يذهب إلى أن النسب إلى شية "شيَويّ"، وأبو الحسن الأخفش يذهب إلى أن النسب إلى شية "وشييّ".وإليه أشار اليزيدي في قوله:يا طالب النحو ألا فابكه … بعد أبي عمرو وحمادولا يريد حماداً الراوية؛ لأنه لا يعرف لحماد شيء في النحو؛ إنما كان مشهوراً برواية الأشعار والأخبار، وكان من أهل الكوفة، واليزيدي إنما قصد تفضيل نحويي البصرة على نحويي الكوفة.وذكر حنبل بن إسحاق في كتابه
আবু উমর আল-জারমি বলেন: আমি আব্দুল ওয়ারিস অপেক্ষা অধিক বিশুদ্ধভাষী কোনো ফকিহ দেখিনি, আর হাম্মাদ ইবনে সালামাহ তাঁর চেয়েও অধিক বিশুদ্ধভাষী ছিলেন।আবু আল-আব্বাস আহমদ ইবনে ইয়াহইয়া ছালাব মুহাম্মদ ইবনে সাল্লামের সূত্রে বসরার ব্যাকরণবিদদের স্তরবিন্যাস সম্পর্কে বর্ণনা করেন: হাম্মাদ—অর্থাৎ হাম্মাদ ইবনে সালামাহ—ইউনুস ইবনে হাবিব তাঁকে অন্যদের ওপর প্রাধান্য দিতেন।আবু আল-হাসান আল-আখফাশ ইউনুস ইবনে হাবিব থেকে বর্ণনা করেছেন যে, হাম্মাদ তাকে বলেছেন যে আরবের কিছু লোক ‘শিয়াহ’ শব্দের সম্বন্ধসূচক রূপে (নিসবাহ) ‘শিউয়ি’ বলে থাকে, যদিও এর সঠিক রূপ অন্য কিছু; তারা যেন ফা-অক্ষরের স্থান পরিবর্তন করে তা লাম-অক্ষরের স্থানে বসিয়েছে। সিবওয়াইহ-এর অভিমত হলো ‘শিয়াহ’-এর সম্বন্ধসূচক রূপ হলো ‘শিউয়ি’, আর আবু আল-হাসান আল-আখফাশের অভিমত হলো ‘শিয়াহ’-এর সম্বন্ধসূচক রূপ হলো ‘ওয়াশিয়ি’।আর আল-ইয়াজিদি তাঁর এই উক্তিতে সেদিকেই ইঙ্গিত করেছেন:হে ব্যাকরণ অন্বেষী, সাবধান! তুমি রোদন করো … আবু আমর এবং হাম্মাদের পরেআর তিনি এখানে বর্ণনাকারী হাম্মাদকে বোঝাননি; কারণ ব্যাকরণশাস্ত্রে হাম্মাদের তেমন কোনো পরিচিতি ছিল না; তিনি মূলত কবিতা ও সংবাদ বর্ণনার জন্য প্রসিদ্ধ ছিলেন এবং তিনি কুফার অধিবাসী ছিলেন। আল-ইয়াজিদি মূলত কুফার ব্যাকরণবিদদের ওপর বসরার ব্যাকরণবিদদের শ্রেষ্ঠত্ব প্রকাশ করতে চেয়েছিলেন।আর হাম্বল ইবনে ইসহাক তাঁর কিতাবে উল্লেখ করেছেন
(খণ্ড: ১)
নুজহাতুল আলিব্বা ফী তাবাকাতিল আদাব্বা
(পৃষ্ঠা: ٤٤)
عن الإمام أحمد بن حنبل، أن حماد بن سلمة مات في ذي الحجة سنة سبع وستين ومائة، وتوفي في خلافة المهدي ابن المنصور. أبو الخطاب الأخفشوأما أبو الخطاب الأخفش؛ فكان من أكابر علماء العربية ومتقدميها؛ وأخذ عنه أبو عبيدة معمر بن المثنى. قال أبو عبيدة: سألت أبا الخطاب الأخفش: هل تجمع اليد الجارحة على "أيادي"؟ فقال: نعم، ثم سألت أبا عمرو بن العلاء، فأنكر ذلك، فقلت لأبي الخطاب: إن أبا عمرو قد أنكر ما أثبتَّه، فقال: أو ما سمع قول عدي:سادها ما تأملت في أيادي … نا وإشناقها إلى الأعناقثم قال: هي في علم الشيخ؛ لكنه قد أنسيه.وهو كما قال أبو الخطاب، قال الشاعر:فمن ليد تطاولها الأياديوإن الأغلب أن يراد بها النعمة.
ইমাম আহমদ বিন হাম্বল থেকে বর্ণিত যে, হাম্মাদ বিন সালামাহ একশত সাতষট্টি হিজরীর জিলহজ মাসে ইন্তেকাল করেছেন; তিনি মাহদী ইবনুল মানসুরের খিলাফতকালে মৃত্যুবরণ করেন। আবু আল-খাত্তাব আল-আখফাশআর আবু আল-খাত্তাব আল-আখফাশের ক্ষেত্রে বলা যায়, তিনি ছিলেন আরবি ভাষার অন্যতম শ্রেষ্ঠ ও অগ্রগণ্য পণ্ডিত; আবু উবাইদাহ মা’মার ইবনুল মুসান্না তাঁর নিকট থেকে শিক্ষা গ্রহণ করেছেন। আবু উবাইদাহ বলেন: আমি আবু আল-খাত্তাব আল-আখফাশকে জিজ্ঞাসা করলাম: অঙ্গ হিসেবে 'হাত'-এর বহুবচন কি 'আইয়াদী' হয়? তিনি বললেন: হ্যাঁ। এরপর আমি আবু আমর বিন আল-আলা-কে জিজ্ঞাসা করলে তিনি তা অস্বীকার করেন। তখন আমি আবু আল-খাত্তাবকে বললাম: আপনি যা সাব্যস্ত করেছেন আবু আমর তা অস্বীকার করেছেন। তিনি বললেন: তিনি কি আদীর এই উক্তিটি শুনেননি:আমাদের হাতসমূহের দিকে তাকিয়ে তিনি নেতৃত্ব দিলেন … এবং সেগুলোকে ঘাড় পর্যন্ত টেনে নিলেনঅতঃপর তিনি বললেন: এটি শাইখের জ্ঞানের মধ্যেই ছিল, কিন্তু তিনি তা ভুলে গেছেন।আবু আল-খাত্তাব যেমনটি বলেছেন বিষয়টি তেমনই, জনৈক কবি বলেছেন:এমন হাতের জন্য কে আছে যাকে অন্যান্য হাতসমূহ ছাড়িয়ে যায়তবে অধিকাংশ ক্ষেত্রে এটি দ্বারা অনুগ্রহ বা নেয়ামত উদ্দেশ্য নেওয়া হয়।
(খণ্ড: ১)
নুজহাতুল আলিব্বা ফী তাবাকাতিল আদাব্বা
(পৃষ্ঠা: ٤٥)
الخليل بن أحمدوأما الخليل بن أحمد، فهو أبو عبد الرحمن بن أحمد البصري الفرهودي الأزدي، سيد أهل الأدب قاطبة في علمه وزهده، والغاية في تصحيح القياس واستخراج مسائل النحو وتعليله. وكان من تلاميذ أبي عمرو بن العلاء.وأخذ عنه سيبويه؛ وعامة الحكاية في كتاب سيبويه عن الخليل؛ فكلما قال سيبويه: سألته، أو قال: [قال] من غير أن يذكر قائله؛ فهو الخليل بن أحمد.وأخذ عنه أيضاً النضر بن شميل وأبو فيد مؤرج السدوسي وعلي بن نصر الجهضمي وغيرهم.وهو أول من استخرج علم العروض، وضبط اللغة، وأملى كتاب العين على الليث بن المظفر.وكان أول من حصر أشعار العرب. وكان يقول البيتين والثلاثة ونحوها في الآداب؛ مثل ما روى عنه أنه كان يقطّع العروض، فدخل عليه ولده في تلك الحالة، فخرج إلى الناس وقال: إن أبي قد جُنَّ، فدخل الناس عليه فرأوه يقطّع العروض، فأخبروه بما قال ابنه، فقال له:لو كنت تعلم ما أقول عذرتني … أو كنت تعلم ما تقول عذلتكا
খলীল ইবন আহমাদআর খলীল ইবন আহমাদ হলেন আবু আবদুর রহমান বিন আহমাদ আল-বাসরী আল-ফারহুদী আল-আযদী। তিনি তাঁর ইলম ও দুনিয়াবিমুখতার ক্ষেত্রে সমগ্র সাহিত্যিক সমাজের নেতা ছিলেন এবং ভাষাগত কিয়াস (যৌক্তিক অনুমান) শুদ্ধিকরণ এবং নাহু (ব্যাকরণ) এর মাসআলাসমূহ আহরণ ও তার কারণ ব্যাখ্যার ক্ষেত্রে ছিলেন চূড়ান্ত পারদর্শী। তিনি আবু আমর ইবন আল-আলার ছাত্রদের অন্তর্ভুক্ত ছিলেন।সিবওয়াইহি তাঁর নিকট থেকে ইলম অর্জন করেছেন; আর সিবওয়াইহির কিতাবের অধিকাংশ বর্ণনা খলীল থেকেই বর্ণিত। সুতরাং সিবওয়াইহি যখনই বলেন: "আমি তাঁকে জিজ্ঞেস করেছি", অথবা বক্তার নাম উল্লেখ না করে বলেন: "[তিনি] বলেছেন"; তখন তিনি খলীল ইবন আহমাদকেই উদ্দেশ্য করেন।তাঁর নিকট থেকে আরও ইলম অর্জন করেছেন নযর ইবন শুমাইল, আবু ফায়দ মুয়াররিজ আস-সাদুসী, আলী ইবন নাসর আল-জাহদামী এবং আরও অনেকে।তিনিই সর্বপ্রথম ইলমুল আরূয (ছন্দতত্ত্ব) উদ্ভাবন করেন, ভাষাকে সুশৃঙ্খল করেন এবং লাইস ইবনুল মুযাফফরের কাছে 'কিতাবুল আইন' শ্রুতিলিপি হিসেবে প্রদান করেন।তিনিই প্রথম ব্যক্তি যিনি আরবদের কাব্যসমূহ সীমাবদ্ধ বা সংকলন করেন। তিনি আদব বা শিষ্টাচার বিষয়ে দুই-তিনটি পঙ্ক্তি বা অনুরূপ কবিতা বলতেন; যেমন তাঁর সম্পর্কে বর্ণিত হয়েছে যে, তিনি একবার ছন্দের মাত্রা বিশ্লেষণ করছিলেন, এমন সময় তাঁর পুত্র তাঁর কাছে প্রবেশ করল। এরপর সে বাইরে মানুষের কাছে গিয়ে বলল: "আমার পিতা পাগল হয়ে গেছেন।" তখন লোকেরা তাঁর নিকট প্রবেশ করে তাঁকে ছন্দ বিশ্লেষণ করতে দেখল। তারা তাঁর পুত্রের বলা কথাটি তাঁকে জানালে তিনি পুত্রকে উদ্দেশ্য করে বললেন:যদি তুমি জানতে আমি যা বলছি তবে তুমি আমাকে ওজর দিতে (ক্ষমা করতে) … অথবা তুমি যা বলছ তা যদি তুমি জানতে তবে আমি তোমাকে তিরস্কার করতাম।