(খণ্ড: ১) আসরারুত তিকরারি ফিল কুরআন = আল-বুরহান ফী তাওজীহি মুতাশাবিহিল কুরআন (পৃষ্ঠা: -)
أسرار التكرار في القرآن = البرهان في توجيه متشابه القرآن   (أبو القاسم الكرماني)

القسم: علوم القرآن وأصول التفسير


الكتاب: أسرار التكرار في القرآن المسمى البرهان في توجيه متشابه القرآن لما فيه من الحجة والبيان

المؤلف: محمود بن حمزة بن نصر، أبو القاسم برهان الدين الكرماني، ويعرف بتاج القراء (ت نحو 505 هـ)

المحقق: عبد القادر أحمد عطا [ت 1403 هـ]

مراجعة وتعليق: أحمد عبد التواب عوض

دار النشر: دار الفضيلة

عدد الصفحات: 258

[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]

تاريخ النشر بالشاملة: 8 ذو الحجة 1431

কোরআনের পুনরাবৃত্তির রহস্য = কোরআনের অস্পষ্ট বা রূপক (متشابه) আয়াতসমূহের নির্দেশনায় অকাট্য প্রমাণ   (আবু আল-কাসিম আল-কিরমানি)

বিভাগ: কোরআনের জ্ঞান ও তাফসিরের মূলনীতি


কিতাব: আসরারুত তিকরার ফিল কুরআন, যার নামকরণ করা হয়েছে ‘আল-বুরহান ফি তাওজিহি মুতাশাবিহিল কুরআন লিমা ফিহি মিনাল হুজ্জাতি ওয়াল বায়ান’ (কোরআনের পুনরাবৃত্তির রহস্য তথা কোরআনের অস্পষ্ট বা রূপক (متشابه) আয়াতসমূহের নির্দেশনায় অকাট্য প্রমাণ, যাতে রয়েছে দলিল বা প্রমাণ (حجة) ও বর্ণনা)

লেখক: মাহমুদ বিন হামজাহ বিন নাসর, আবু আল-কাসিম বুরহানউদ্দিন আল-কিরমানি, যিনি তাজুল কুররা নামে পরিচিত (মৃত্যু আনুমানিক ৫০৫ হিজরি)

গবেষক ও সম্পাদক (محقق): আব্দুল কাদির আহমদ আতা [মৃত্যু ১৪০৩ হিজরি]

পর্যালোচনা ও টীকা: আহমদ আব্দুল তাওয়াব আওয়াদ

প্রকাশনী: দারুল ফাদিলাহ

পৃষ্ঠা সংখ্যা: ২৫৮

[কিতাবের পৃষ্ঠা সংখ্যা মূল মুদ্রণ কপির অনুরূপ]

শামেলা-তে প্রকাশের তারিখ: ৮ জিলহজ ১৪৩১

(খণ্ড: ১) আসরারুত তিকরারি ফিল কুরআন = আল-বুরহান ফী তাওজীহি মুতাশাবিহিল কুরআন (পৃষ্ঠা: ৬৩)
‌‌بِسم الله الرَّحْمَن الرَّحِيم وَبِه ثقتي

قَالَ الشَّيْخ الإِمَام الْعَالم الْعَلامَة تَاج الْقُرَّاء أَبُو الْقَاسِم مَحْمُود بن حَمْزَة ابْن نصر الْكرْمَانِي رضي الله عنه ورحمه الْحَمد لله الَّذِي أنزل الْفرْقَان على مُحَمَّد ليَكُون للْعَالمين نذيرا معجزا للإنس وَالْجِنّ وَلَو كَانَ بَعضهم لبَعض ظهيرا نحمده على تفضله علينا بكتابه فضلا كَبِيرا وَمن يُؤْت الْحِكْمَة فقد أُوتى خيرا كثيرا

وَنُصَلِّي ونسلم على الْمَبْعُوث بشيرا وَنَذِيرا وداعيا إِلَى الله بِإِذْنِهِ وسراجا منيرا صَلَاة دائمة تتصل وَلَا تَنْقَطِع بكرَة وهجيرا وَبعد

فَإِن هَذَا كتاب أذكر فِيهِ الْآيَات المتشابهات الَّتِي تَكَرَّرت فِي الْقُرْآن وألفاظها متفقة وَلَكِن وَقع فِي بَعْضهَا زِيَادَة أَو نُقْصَان أَو تَقْدِيم أَو تَأْخِير أَو إِبْدَال حرف مَكَان حرف أَو غير ذَلِك مِمَّا يُوجب اخْتِلَافا بَين

الْآيَتَيْنِ أَو الْآيَات الَّتِي تَكَرَّرت من غير زِيَادَة وَلَا نُقْصَان وَأبين مَا
পরম করুণাময় দয়ালু আল্লাহর নামে এবং তাঁর ওপরই আমার নির্ভরযোগ্যতা (ثقة)

শায়খ, ইমাম, বিজ্ঞ আলেম, প্রাজ্ঞ পণ্ডিত তাজুল কুররা আবু আল-কাসিম মাহমুদ ইবনে হামজা ইবনে নাসর আল-কিরমানি (আল্লাহ তাঁর ওপর সন্তুষ্ট হোন এবং তাঁর প্রতি রহম করুন) বলেছেন: সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর জন্য, যিনি মুহাম্মাদের ওপর ফুরকান অবতীর্ণ করেছেন যেন তা বিশ্বজগতের জন্য সতর্ককারী হয়; যা মানুষ ও জিনের জন্য এক মুজিজা (معجز), যদিও তারা একে অপরের সাহায্যকারী হয়। আমরা তাঁর প্রশংসা করি তাঁর কিতাবের মাধ্যমে আমাদের ওপর মহা অনুগ্রহ করার জন্য; আর যাকে হিকমত (حكمة) দান করা হয়েছে, তাকে নিশ্চয়ই প্রভূত কল্যাণ দান করা হয়েছে।

আমরা দরুদ ও সালাম পাঠাই তাঁর ওপর, যাঁকে সুসংবাদদাতা, সতর্ককারী, আল্লাহর অনুমতিক্রমে তাঁর দিকে আহ্বানকারী এবং উজ্জ্বল প্রদীপ হিসেবে প্রেরণ করা হয়েছে; এমন চিরস্থায়ী দরুদ যা সকাল ও দ্বিপ্রহরে নিরবচ্ছিন্নভাবে বর্ষিত হতে থাকে। অতঃপর:

এটি এমন একটি কিতাব যেখানে আমি সেই সব সাদৃশ্যপূর্ণ (متشابهات) আয়াতসমূহ উল্লেখ করব যা কুরআনে বারবার এসেছে এবং যেগুলোর শব্দাবলি অভিন্ন, কিন্তু সেগুলোর কোনোটিতে বৃদ্ধি (زيادة) বা হ্রাস (نقصان), অথবা আগে আনা (تقديم) বা পরে নেওয়া (تأخير), অথবা এক বর্ণের পরিবর্তে অন্য বর্ণের পরিবর্তন (إبدال) বা এমন কিছু ঘটেছে যা দুই আয়াতের মধ্যে পার্থক্য সৃষ্টি করে...

অথবা সেই সব আয়াত যা কোনো বৃদ্ধি (زيادة) বা হ্রাস (نقصان) ছাড়াই বারবার এসেছে। এবং আমি স্পষ্ট করব যা...
(খণ্ড: ১) আসরারুত তিকরারি ফিল কুরআন = আল-বুরহান ফী তাওজীহি মুতাশাবিহিল কুরআন (পৃষ্ঠা: ৬৪)
السَّبَب فِي تكرارها والفائدة فِي إِعَادَتهَا وَمَا الْمُوجب للزِّيَادَة وَالنُّقْصَان والتقديم وَالتَّأْخِير والإبدال وَمَا الْحِكْمَة فِي تَخْصِيص الْآيَة بذلك دون الْآيَة الْأُخْرَى وَهل كَانَ يصلح مَا فِي هَذِه السُّورَة مَكَان مَا فِي السُّورَة الَّتِي تشاكلها أم لَا ليجري ذَلِك مجْرى عَلَامَات تزيل إشكالها وتمتاز بهَا عَن أشكالها من غير أَن أشتغل بتفسيرها وتأويلها فَإِنِّي بِحَمْد الله قد بيّنت ذَلِك كُله بشرائطه فِي كتاب لباب التَّفْسِير وعجائب التَّأْوِيل مُشْتَمِلًا على أَكثر مَا نَحن بصدده وَلَكِنِّي أفردت هَذَا الْكتاب لبَيَان الْمُتَشَابه فَإِن الْأَئِمَّة رَحِمهم الله تَعَالَى قد شرعوا فِي تصنيفه واقتصروا على ذكر الْآيَة ونظيرتها وَلم يشتغلوا بِذكر وجوهها وعللها وَالْفرق بَين الْآيَة وَمثلهَا وَهُوَ الْمُشكل الَّذِي لَا يقوم بأعبائه إِلَّا من وَفقه الله لأدائه

وَقد قَالَ أَبُو مُسلم فِي تَفْسِيره عَن أبي عبد الله الْخَطِيب فِي تَفْسِيره كَلِمَات معدودات مِنْهَا وَأَنا أحكي لَك كَلَامه فِيهَا إِذا بلغت إِلَيْهَا مستعينا بِاللَّه ومتوكلا عَلَيْهِ وَسميت هَذَا الْكتاب الْبُرْهَان فِي متشابه الْقُرْآن لما فِيهِ من الْحجَّة وَالْبَيَان وَبِاللَّهِ وَعَلِيهِ التكلان
এগুলোর পুনরাবৃত্তির কারণ, পুনরায় উল্লেখ করার উপকারিতা এবং শব্দ বৃদ্ধি ও হ্রাস, আগে আনা ও পরে নেওয়া এবং শব্দ পরিবর্তনের হেতু কী, এবং কোনো বিশেষ আয়াতকে অন্য আয়াতের পরিবর্তে নির্দিষ্ট করার প্রজ্ঞা কী এবং এই সূরায় যা আছে তা এর সদৃশ অন্য সূরার স্থানে উপযুক্ত হতো কি না—তা আমি বর্ণনা করতে চাই। যাতে তা এমন আলামত হিসেবে কাজ করে যা এর অস্পষ্টতা দূর করবে এবং একে তার সদৃশ বিষয়গুলো থেকে পৃথক করবে; তবে আমি এর ব্যাখ্যা ও বিশ্লেষণের গভীরে লিপ্ত হইনি। কেননা আমি আল্লাহর প্রশংসায় সেই সমস্ত বিষয় তার যথাযথ শর্তাবলি সহ 'লুবাবুত তাফসির ওয়া আজায়িবুত তাবিল' কিতাবে বর্ণনা করেছি, যা আমাদের বর্তমান আলোচ্য বিষয়ের অধিকাংশকে অন্তর্ভুক্ত করে। কিন্তু আমি এই কিতাবটি কেবল সদৃশ (متشابه) বিষয়াবলির বর্ণনার জন্য স্বতন্ত্র করেছি। কারণ পূর্ববর্তী ইমামগণ (রহিমাহুল্লাহ) এর সংকলন শুরু করলেও তারা কেবল আয়াত এবং তার সদৃশ আয়াতের উল্লেখের মধ্যেই সীমাবদ্ধ ছিলেন। তারা এর নানাবিধ দিক, নিগূঢ় কারণসমূহ (علل) এবং একটি আয়াত ও তার সদৃশ আয়াতের মধ্যকার পার্থক্য বর্ণনায় মনোনিবেশ করেননি। আর এটি এমন এক জটিল (مشكل) বিষয়, যার গুরুভার কেবল তিনিই বহন করতে পারেন যাকে আল্লাহ তা পালনের তাওফিক দান করেছেন।

আবু মুসলিম তার তাফসিরে এবং আবু আব্দুল্লাহ আল-খতিব তার তাফসিরে এ বিষয়ে সীমিত কিছু কথা বলেছেন। আমি আল্লাহর সাহায্য চেয়ে ও তাঁর ওপর ভরসা করে যখন সেই পর্যায়ে পৌঁছাব, তখন আপনার কাছে তাদের বক্তব্য উদ্ধৃত করব। আমি এই কিতাবটির নাম দিয়েছি 'আল-বুরহান ফি মুতাশাবিহিল কুরআন', কারণ এতে রয়েছে অকাট্য প্রমাণ ও সুস্পষ্ট বর্ণনা। আর আল্লাহর কাছেই সাহায্য প্রার্থনা করি এবং তাঁর ওপরই পূর্ণ ভরসা।
(খণ্ড: ১) আসরারুত তিকরারি ফিল কুরআন = আল-বুরহান ফী তাওজীহি মুতাশাবিহিল কুরআন (পৃষ্ঠা: ৬৫)
‌‌سُورَة الْفَاتِحَة

1 - أول المتشابهات قَوْله {الرَّحْمَن الرَّحِيم مَالك} فِيمَن جعل {بِسم الله الرَّحْمَن الرَّحِيم} آيَة من الْفَاتِحَة وَفِي تكراره قَولَانِ قَالَ عَليّ بن عِيسَى إِنَّمَا كرر للتوكيد وَأنْشد قَول الشَّاعِر

… هلا سَأَلت جموع كِنْدَة يَوْم ولوا أَيْن أَيّنَا …

وَقَالَ قَاسم بن حبيب إِنَّمَا كرر لِأَن الْمَعْنى وَجب الْحَمد لله لِأَنَّهُ الرَّحْمَن الرَّحِيم قلت إِنَّمَا كرر لِأَن الرَّحْمَة هِيَ الإنعام على الْمُحْتَاج وَذكر فِي الْآيَة الأولى الْمُنعم وَلم يذكر الْمُنعم عَلَيْهِم فَأَعَادَهَا مَعَ ذكرهم وَقَالَ {رب الْعَالمين الرَّحْمَن} لَهُم جَمِيعًا ينعم عَلَيْهِم ويرزقهم {الرَّحِيم} بِالْمُؤْمِنِينَ خَاصَّة يَوْم الدّين ينعم عَلَيْهِم وَيغْفر لَهُم

2 - قَوْله تَعَالَى {إياك نعْبد وَإِيَّاك نستعين} كرر {إياك} وَقدمه وَلم يقْتَصر على ذكره مرّة كَمَا اقْتصر على ذكر أحد المفعولين فِي آيَات كَثِيرَة مِنْهَا {مَا وَدعك رَبك وَمَا قلى} أَي مَا قلاك وَكَذَلِكَ الْآيَات الَّتِي بعْدهَا مَعْنَاهَا فآواك فهداك فأغناك لِأَن فِي التَّقْدِيم فَائِدَة وَهِي قطع الِاشْتِرَاك وَلَو حذف لم يدل على
সুরা আল-ফাতিহা

১ - প্রথম সাদৃশ্যপূর্ণ (متشابهات) বিষয়টি হলো আল্লাহ তাআলার বাণী {আর-রহমান আর-রাহিম, মালিক...}, যা তাদের অভিমত যারা {বিসমিল্লাহির রহমানির রাহিম}-কে সুরা ফাতিহার একটি আয়াত (آية) হিসেবে গণ্য করেন। এর পুনরাবৃত্তির বিষয়ে দুটি মত রয়েছে। আলী ইবনে ঈসা বলেন, এটি কেবল গুরুত্বারোপের (توكيد) জন্য পুনরাবৃত্তি করা হয়েছে এবং তিনি কবির পঙক্তি আবৃত্তি করেন:

… কেন তুমি কিনদাহ গোত্রের বাহিনীকে জিজ্ঞেস করলে না যে দিন তারা পিছু হটেছিল, কোথায়, আমাদের মধ্যে কে (অটল ছিল)? …

কাসেম ইবনে হাবিব বলেন, এটি পুনরাবৃত্তি করা হয়েছে কারণ এর অর্থ হলো—সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর প্রাপ্য, যেহেতু তিনি রহমান ও রাহিম। আমি বলি, এটি পুনরায় উল্লেখ করা হয়েছে কারণ রহমত হলো অভাবগ্রস্তের প্রতি অনুগ্রহ করা। প্রথম আয়াতে অনুগ্রহকারীর কথা তো উল্লেখ করা হয়েছে কিন্তু যাদের প্রতি অনুগ্রহ করা হয়েছে তাদের উল্লেখ করা হয়নি, তাই তাদের উল্লেখসহ তা পুনরায় বর্ণনা করা হয়েছে। তিনি বলেছেন {রব্বুল আলামীন আর-রহমান}, যা তাদের সকলের জন্য, তিনি তাদের প্রতি অনুগ্রহ করেন এবং জীবিকা দান করেন; আর {আর-রাহিম} বিশেষভাবে মুমিনদের জন্য বিচার দিবসে, তিনি তাদের প্রতি অনুগ্রহ করবেন এবং তাদের ক্ষমা করবেন।

২ - মহান আল্লাহর বাণী {আমরা কেবল তোমারই ইবাদত করি এবং কেবল তোমারই সাহায্য চাই}। এখানে {ইয়্যাকা} শব্দটি পুনরাবৃত্তি করা হয়েছে এবং তাকে আগে আনা হয়েছে; একে কেবল একবার উল্লেখ করার ওপর সীমাবদ্ধ রাখা হয়নি, যেমনটি অনেক আয়াতে দুটি কর্মপদের (مفعول) কোনো একটির উল্লেখের ক্ষেত্রে সীমাবদ্ধ রাখা হয়েছে। যেমন: {আপনার পালনকর্তা আপনাকে ত্যাগ করেননি এবং আপনার প্রতি বিরূপ হননি}, অর্থাৎ 'আপনার প্রতি বিরূপ হননি'। একইভাবে পরবর্তী আয়াতগুলোর অর্থ হলো: 'তিনি আপনাকে আশ্রয় দিয়েছেন', 'পথপ্রদর্শন করেছেন' ও 'অভাবমুক্ত করেছেন'। কেননা শব্দ আগে নিয়ে আসার মধ্যে একটি উপকারিতা রয়েছে, আর তা হলো অংশীদারিত্ব (اشتراك) নাকচ করা; যদি এটি বিলুপ্ত করা হতো, তবে তা এমন অর্থ নির্দেশ করত না।
(খণ্ড: ১) আসরারুত তিকরারি ফিল কুরআন = আল-বুরহান ফী তাওজীহি মুতাশাবিহিল কুরআন (পৃষ্ঠা: ৬৬)
التَّقْدِيم لِأَنَّك لَو قلت إياك نعْبد ونستعين لم يظْهر أَن التَّقْدِير إياك نعْبد وَإِيَّاك نستعين أم إياك نعْبد ونستعينك فكرر

3 - قَوْله تَعَالَى {صِرَاط الَّذين أَنْعَمت عَلَيْهِم} كرر {الصِّرَاط} لعِلَّة تقرب مِمَّا ذكرت فِي {الرَّحْمَن الرَّحِيم} وَذَلِكَ أَن الصِّرَاط هُوَ الْمَكَان

المهيأ للسلوك فَذكر فِي الأول الْمَكَان وَلم يذكر السالكين فَأَعَادَهُ مَعَ ذكرهم فَقَالَ {صِرَاط الَّذين أَنْعَمت عَلَيْهِم} أَي الَّذِي يسلكه النَّبِيُّونَ والمؤمنون وَلِهَذَا كرر أَيْضا فِي قَوْله {إِلَى صِرَاط مُسْتَقِيم} {صِرَاط الله} لِأَنَّهُ ذكر الْمَكَان المهيأ وَلم يذكر المهيئ فَأَعَادَهُ مَعَ ذكره فَقَالَ {صِرَاط الله} أَي الَّذِي هيأه للسالكين

4 - قَوْله {عَلَيْهِم} لَيْسَ بتكرار لِأَن كل وَاحِد مِنْهُمَا مُتَّصِل بِفعل غير الآخر وَهُوَ الإنعام وَالْغَضَب وكل وَاحِد مِنْهُمَا يَقْتَضِيهِ اللَّفْظ وَمَا كَانَ هَذَا سَبيله فَلَيْسَ بتكرار وَلَا من الْمُتَشَابه

 

‌‌سُورَة الْبَقَرَة

5 - قَوْله تَعَالَى {الم} هَذِه الْآيَة تَتَكَرَّر فِي أَوَائِل سِتّ سور فَهِيَ من الْمُتَشَابه لفظا وَذهب جمَاعَة من الْمُفَسّرين إِلَى أَن قَوْله {وَأخر متشابهات} هِيَ هَذِه الْحُرُوف الْوَاقِعَة فِي أَوَائِل السُّور فَهِيَ أَيْضا من الْمُتَشَابه لفظا وَمعنى والموجب لذكره أول الْبَقَرَة من
অগ্রবর্তী করার কারণ হলো, যদি আপনি বলতেন 'ইয়্যাকা নাবুদু ওয়া নাস্তাইন' তবে এটি স্পষ্ট হতো না যে অনুমিত বিষয়টি কি 'ইয়্যাকা নাবুদু ওয়া ইয়্যাকা নাস্তাইন' নাকি 'ইয়্যাকা নাবুদু ওয়া নাস্তাইনুক'। তাই এটি পুনরাবৃত্তি করা হয়েছে।

৩ - মহান আল্লাহর বাণী {সিরাতাল্লাযিনা আনআমতা আলাইহিম}; এখানে 'সিরাত' শব্দটি এমন এক কারণে পুনরাবৃত্তি করা হয়েছে যা আমি 'আর-রাহমানির রাহিম'-এর আলোচনায় যা উল্লেখ করেছি তার কাছাকাছি। আর তা হলো, 'সিরাত' হলো এমন একটি স্থান

যা চলার জন্য প্রস্তুতকৃত। সুতরাং প্রথমবার কেবল স্থানটি উল্লেখ করা হয়েছে কিন্তু পথচারীদের কথা উল্লেখ করা হয়নি, অতঃপর তাদের উল্লেখসহ এটি পুনরায় ব্যক্ত করা হয়েছে। তাই তিনি বলেছেন: {সিরাতাল্লাযিনা আনআমতা আলাইহিম} অর্থাৎ যে পথে নবীগণ ও মুমিনগণ বিচরণ করেন। এই কারণেই তাঁর বাণী {ইলা সিরাতিম মুস্তাকিম} ও {সিরাতিল্লাহ}-এর ক্ষেত্রেও পুনরাবৃত্তি হয়েছে। কারণ সেখানে প্রস্তুতকৃত স্থানের কথা উল্লেখ করা হয়েছে কিন্তু প্রস্তুতকারীর কথা উল্লেখ করা হয়নি, তাই তাঁর কথা উল্লেখসহ পুনরায় তা বলা হয়েছে: {সিরাতিল্লাহ} অর্থাৎ যে পথটি তিনি পথচারীদের জন্য প্রস্তুত করেছেন।

৪ - তাঁর বাণী {আলাইহিম} কোনো পুনরাবৃত্তি নয়, কারণ এর প্রতিটি ভিন্ন ভিন্ন ক্রিয়ার সাথে সংশ্লিষ্ট; একটি হলো অনুগ্রহ এবং অপরটি হলো ক্রোধ। আর এই শব্দদ্বয়ের প্রতিটিই ভাষাগতভাবে তা দাবি করে। যার প্রকৃতি এমন হয়, তা পুনরাবৃত্তি হিসেবে গণ্য নয় এবং তা অস্পষ্ট (متشابه) বিষয়ের অন্তর্ভুক্তও নয়।

 

‌‌সূরা আল-বাকারা

৫ - মহান আল্লাহর বাণী {আলিফ লাম মিম}—এই আয়াতটি ছয়টি সূরার শুরুতে পুনরাবৃত্ত হয়েছে, তাই এটি শাব্দিকভাবে অস্পষ্ট (متشابه) বিষয়ের অন্তর্ভুক্ত। একদল মুফাসসিরের অভিমত হলো, {ওয়া উখারু মুতাশাবিহাত} আয়াতে উল্লিখিত 'মুতাশাবিহাত' বলতে সূরার শুরুতে আগত এই অক্ষরসমূহকেই বোঝানো হয়েছে। সুতরাং এটি শব্দ ও অর্থ উভয় দিক থেকেই অস্পষ্ট (متشابه) বিষয়ের অন্তর্ভুক্ত। আর সূরার শুরুতে এটি উল্লেখ করার কারণ হলো...
(খণ্ড: ১) আসরারুত তিকরারি ফিল কুরআন = আল-বুরহান ফী তাওজীহি মুতাশাবিহিল কুরআন (পৃষ্ঠা: ৬৭)
الْقسم وَغَيره هُوَ بِعَيْنِه الْمُوجب لذكره فِي أَوَائِل سَائِر السُّور المبدوءة بِهِ وَزَاد فِي الْأَعْرَاف صادا لما جَاءَ بعده {فَلَا يكن فِي صدرك حرج مِنْهُ} وَلِهَذَا قَالَ بعض الْمُفَسّرين معنى

{المص} ألم نشرح لَك صدرك وَقيل مَعْنَاهُ المصور وَزَاد فِي الرَّعْد رَاء لقَوْله بعده {الله الَّذِي رفع السَّمَاوَات}

6 - قَوْله {سَوَاء عَلَيْهِم} وَفِي يس {وَسَوَاء} بِزِيَادَة وَاو لِأَن مَا فِي الْبَقَرَة جملَة هِيَ خبر عَن اسْم إِن وَمَا فِي يس جملَة عطفت بِالْوَاو على جملَة

7 - قَوْله {آمنا بِاللَّه وباليوم الآخر} لَيْسَ فِي الْقُرْآن غَيره تكْرَار الْعَامِل مَعَ حرف الْعَطف لَا يكون إِلَّا للتَّأْكِيد وَهَذِه حِكَايَة كَلَام الْمُنَافِقين وهم أكدوا كَلَامهم نفيا للريبة وإبعادا للتُّهمَةِ فَكَانُوا فِي ذَلِك كَمَا قيل يكَاد الْمُرِيب يَقُول خذوني فنفى الله الْإِيمَان عَنْهُم بأوكد الْأَلْفَاظ فَقَالَ {وَمَا هم بمؤمنين} وَيكثر ذَلِك مَعَ النَّفْي وَقد جَاءَ فِي الْقُرْآن فِي موضِعين فِي النِّسَاء {وَلَا يُؤمنُونَ بِاللَّه وَلَا بِالْيَوْمِ الآخر} وَفِي التَّوْبَة {قَاتلُوا الَّذين لَا يُؤمنُونَ بِاللَّه وَلَا بِالْيَوْمِ الآخر}

8 - قَوْله {يَا أَيهَا النَّاس اعبدوا ربكُم} لَيْسَ فِي الْقُرْآن غَيره لَيْسَ لِأَن الْعِبَادَة فِي الْآيَة التَّوْحِيد
শপথ (قسم) ও অন্যান্য বিষয়ই হলো সেই সুনির্দিষ্ট কারণ (الموجب) যার ফলে এই অক্ষরগুলো সে সমস্ত সূরার শুরুতে উল্লেখ করা হয়েছে যা এগুলো দিয়ে শুরু হয়েছে। সূরা আল-আ’রাফে 'সোয়াদ' (ص) বৃদ্ধি করা হয়েছে যা এরপর এসেছে {সুতরাং তোমার মনে যেন এ নিয়ে কোনো সংকীর্ণতা না থাকে}। এই কারণেই কোনো কোনো ব্যাখ্যাকার (مفسر) বলেছেন এর অর্থ হলো

{আলিফ-লাম-মীম-সোয়াদ} {আমরা কি তোমার বক্ষ প্রশস্ত করে দেইনি?}। আবার কারো মতে এর অর্থ চিত্রদানকারী (المصور)। সূরা আর-রা'দে 'রা' (ر) বৃদ্ধি করা হয়েছে কারণ এরপর বলা হয়েছে {আল্লাহ যিনি আকাশমন্ডলীকে উন্নত করেছেন}

৬ - মহান আল্লাহর বাণী {তাদের জন্য সমান}, কিন্তু সূরা ইয়াসিনে 'ওয়াও' (و) বৃদ্ধি করে {এবং সমান} বলা হয়েছে। এর কারণ হলো, সূরা আল-বাকারায় যা রয়েছে তা একটি বাক্য যা 'ইন্না' (إن)-এর ইসিম (اسم)-এর সংবাদ (خبر) হিসেবে এসেছে। আর সূরা ইয়াসিনের বাক্যটি 'ওয়াও' (و) দ্বারা অন্য একটি বাক্যের সাথে অন্বিত (عطفت) হয়েছে।

৭ - মহান আল্লাহর বাণী {আমরা আল্লাহর প্রতি এবং পরকালের প্রতি ঈমান এনেছি}, পবিত্র কুরআনে এটি ছাড়া অন্য কোথাও সংযোজক অব্যয়ের সাথে আমেল (عامل) বা প্রভাবক শব্দের পুনরাবৃত্তি ঘটেনি। এটি কেবল গুরুত্ব প্রদানের (تأكيد) জন্যই হয়ে থাকে। এটি মুনাফিকদের কথার উদ্ধৃতি (حكاية); তারা সন্দেহ নিরসন এবং অভিযোগ দূর করার জন্য তাদের কথাকে জোরালো (أكدوا) করেছিল। এক্ষেত্রে তাদের অবস্থা ছিল যেমনটি বলা হয়: "সন্দেহভাজন ব্যক্তি নিজেই যেন নিজেকে ধরিয়ে দিতে চায়।" অতঃপর আল্লাহ অত্যন্ত জোরালো শব্দের মাধ্যমে তাদের থেকে ঈমান নাকচ (نفي) করে দিয়েছেন এবং বলেছেন {তারা মুমিন নয়}। নেতিবাচক (نفي) বাক্যের ক্ষেত্রে এর ব্যবহার প্রচুর। পবিত্র কুরআনের দুটি স্থানে এটি এসেছে; সূরা আন-নিসায়: {এবং তারা আল্লাহ ও পরকালের প্রতি বিশ্বাস স্থাপন করে না} এবং সূরা আত-তাওবায়: {তোমরা যুদ্ধ করো তাদের বিরুদ্ধে যারা আল্লাহ ও পরকালের প্রতি ঈমান আনে না}।

৮ - মহান আল্লাহর বাণী {হে মানবজাতি! তোমরা তোমাদের রবের ইবাদত করো}, কুরআনে এটি ব্যতীত অন্য কোনো স্থানে এরূপ নেই। কারণ এই আয়াতে ইবাদত (العبادة) বলতে তাওহীদ (التوحيد) বা একত্ববাদকে বোঝানো হয়েছে।
(খণ্ড: ১) আসরারুত তিকরারি ফিল কুরআন = আল-বুরহান ফী তাওজীহি মুতাশাবিহিল কুরআন (পৃষ্ঠা: ৬৮)
والتوحيد أول مَا يلْزم العَبْد من المعارف فَكَانَ هَذَا أول خطاب خَاطب الله بِهِ النَّاس فِي الْقُرْآن فخاطبهم بِمَا ألزمهم أَولا ثمَّ ذكر سَائِر المعارف وَبنى عَلَيْهَا الْعِبَادَات فِيمَا بعْدهَا من السُّور والآيات

فَإِن قيل سُورَة الْبَقَرَة لَيست من أول الْقُرْآن نزولا فَلَا يحسن فِيهَا مَا ذكرت

قلت أول الْقُرْآن سُورَة الْفَاتِحَة ثمَّ الْبَقَرَة ثمَّ آل عمرَان على هَذَا التَّرْتِيب إِلَى سُورَة النَّاس وَهَكَذَا هُوَ عِنْد الله فِي اللَّوْح الْمَحْفُوظ وَهُوَ على هَذَا التَّرْتِيب كَانَ يعرضه عليه الصلاة والسلام على جِبْرِيل عليه السلام كل سنة

أَي مَا كَانَ يجْتَمع عِنْده مِنْهُ وَعرضه عليه الصلاة والسلام فِي السّنة الَّتِي توفى فِيهَا مرَّتَيْنِ وَكَانَ آخر الْآيَات نزولا {وَاتَّقوا يَوْمًا ترجعون فِيهِ إِلَى الله} فَأمره جِبْرِيل أَن يَضَعهَا بَين آيتي الرِّبَا وَالدّين

وَذهب جمَاعَة من الْمُفَسّرين إِلَى أَن قَوْله فِي هود {فَأتوا بِعشر سور مثله} مَعْنَاهُ مثل الْبَقَرَة إِلَى هود وَهِي الْعَاشِرَة وَمَعْلُوم أَن سُورَة هود مَكِّيَّة وَأَن الْبَقَرَة وَآل عمرَان وَالنِّسَاء والمائدة والأنفال وَالتَّوْبَة مدنيات نَزَلْنَ بعْدهَا
তাওহীদ হলো জ্ঞানসমূহের মধ্যে প্রথম বিষয় যা অর্জন করা বান্দার জন্য আবশ্যক। তাই এটিই ছিল কুরআনে মানুষের প্রতি আল্লাহর প্রথম সম্বোধন। তিনি প্রথমে তাঁদেরকে সেই বিষয়টির মাধ্যমেই সম্বোধন করেছেন যা তাঁদের ওপর সর্বপ্রথম আবশ্যক করা হয়েছে। অতঃপর তিনি অন্যান্য জ্ঞানের কথা উল্লেখ করেছেন এবং পরবর্তী সূরা ও আয়াতসমূহে সেগুলোর ওপর ভিত্তি করে ইবাদতের বিধানসমূহ গঠন করেছেন।

যদি বলা হয় যে, অবতীর্ণ হওয়ার ক্রমানুসারে (نزولا) সূরা আল-বাকারা কুরআনের শুরুর দিকের নয়, সুতরাং সেখানে আপনি যা উল্লেখ করেছেন তা সঙ্গতিপূর্ণ নয়।

আমি বলব, কুরআনের শুরু হলো সূরা আল-ফাতিহা, অতঃপর আল-বাকারা, তারপর আল-ইমরান—এভাবে সূরা আন-নাস পর্যন্ত এই ধারাবাহিকতায়। আল্লাহর নিকট লাওহে মাহফুজেও এটি এভাবেই রয়েছে। এই বিন্যাসেই রাসুলুল্লাহ (সালাত ও সালাম তাঁর ওপর বর্ষিত হোক) প্রতি বছর জিবরাঈল (আলাইহিস সালাম)-এর কাছে তা পেশ করতেন।

অর্থাৎ কুরআনের যা কিছু তাঁর কাছে সংগৃহীত ছিল তা তিনি পেশ করতেন। যে বছর তিনি ইন্তেকাল করেন, সে বছর তিনি তা দু’বার পেশ করেছিলেন। অবতীর্ণ হওয়ার ক্রমানুসারে (نزولا) সর্বশেষ আয়াত ছিল: “আর তোমরা সেই দিনকে ভয় করো, যে দিন তোমাদেরকে আল্লাহর দিকে ফিরিয়ে নেওয়া হবে।” জিবরাঈল (আলাইহিস সালাম) তাঁকে এই আয়াতটি রিবা ও দায়ন সংক্রান্ত আয়াত দুটির মাঝখানে স্থাপন করার নির্দেশ দিয়েছিলেন।

মুফাসসিরগণের (المفسرين) একটি দল এই অভিমত ব্যক্ত করেছেন যে, সূরা হুদে আল্লাহর বাণী—“তবে তোমরা এর অনুরূপ দশটি সূরা নিয়ে এসো”—এর অর্থ হলো আল-বাকারা থেকে হুদ পর্যন্ত সূরাসমূহ, যেখানে সূরা হুদ হলো দশম সূরা। এটি সর্বজনবিদিত যে, সূরা হুদ মক্কী (مكية) এবং আল-বাকারা, আল-ইমরান, আন-নিসা, আল-মায়িদাহ, আল-আনফাল ও আত-তাওবাহ হলো মাদানী (مدنيات) সূরাসমূহ, যা এর পরে অবতীর্ণ হয়েছে।
(খণ্ড: ১) আসরারুত তিকরারি ফিল কুরআন = আল-বুরহান ফী তাওজীহি মুতাশাবিহিল কুরআন (পৃষ্ঠা: ৬৯)
وَفسّر بَعضهم قَوْله {ورتل الْقُرْآن ترتيلا} : 4 أَي اقرأه على هَذَا التَّرْتِيب من غير تَقْدِيم وَتَأْخِير وَجَاء النكير على من قَرَأَهُ معكوسا

وَلَو حلف إِنْسَان أَن يقْرَأ الْقُرْآن على التَّرْتِيب لم يلْزمه إِلَّا على هَذَا التَّرْتِيب وَلَو نزل جملَة كَمَا اقترحوا عَلَيْهِ بقَوْلهمْ {لَوْلَا نزل عَلَيْهِ الْقُرْآن جملَة وَاحِدَة} : 32 لنزل على هَذَا التَّرْتِيب وَإِنَّمَا تَفَرَّقت سوره وآياته نزولا لحَاجَة النَّاس حَالَة بعد حَالَة وَلِأَن فِيهِ النَّاسِخ والمنسوخ وَلم يَكُونَا ليجتمعا نزولا

وأبلغ الحكم فِي تفرقه مَا قَالَه سُبْحَانَهُ {وقرآنا فرقناه لتقرأه على النَّاس على مكث} وَهَذَا أصل تنبني عَلَيْهِ مسَائِل وَالله أعلم

9 - قَوْله تَعَالَى {فَأتوا بِسُورَة من مثله} بِزِيَادَة {من} فِي هَذِه السُّورَة وَفِي غَيرهَا {بِسُورَة مثله} لِأَن {من} تدل على التَّبْعِيض وَلما كَانَت هَذِه السُّورَة سَنَام الْقُرْآن وأوله بعد الْفَاتِحَة حسن دُخُول {من} فِيهَا ليعلم أَن التحدي وَاقع على جَمِيع سور الْقُرْآن من أَوله إِلَى آخِره وَغَيرهَا من السُّور لَو دَخلهَا من لَكَانَ التحدي وَاقعا على بعض السُّور دون بعض وَلم يكن ذَلِك بالسهل وَالْهَاء فِي قَوْله {من مثله} تعود إِلَى {مَا} وَهُوَ الْقُرْآن وَذهب بَعضهم إِلَى أَنه يعود على مُحَمَّد عليه السلام أَي
কেউ কেউ আল্লাহ তাআলার বাণী {আর আপনি কুরআন তিলাওয়াত করুন ধীরস্থিরভাবে} : ৪-এর ব্যাখ্যায় বলেছেন: অর্থাৎ একে এই ক্রমবিন্যাস অনুযায়ী পাঠ করুন, কোনো অংশ আগে বা পরে না করে। আর যে ব্যক্তি একে উল্টোভাবে পাঠ করবে, তার প্রতি কঠোর আপত্তি জানানো হয়েছে।

যদি কোনো ব্যক্তি শপথ করে যে সে কুরআনকে যথাযথ ক্রমবিন্যাস অনুযায়ী পাঠ করবে, তবে এই (বর্তমান) ক্রম ব্যতীত অন্য কোনো ক্রমে পাঠ করা তার জন্য আবশ্যক হবে না। আর যদি কুরআন একবারে নাযিল হতো—যেমনটি তারা তাদের এই বক্তব্যের মাধ্যমে প্রস্তাব করেছিল যে: {কেন তার ওপর কুরআন একবারে নাযিল হলো না?} : ৩২—তবে তা এই ক্রমবিন্যাস অনুসারেই অবতীর্ণ হতো। মূলত এর সূরা ও আয়াতসমূহ অবতীর্ণ হওয়ার ক্ষেত্রে পৃথক করা হয়েছে মানুষের প্রয়োজনের খাতিরে যা সময়ে সময়ে উদ্ভূত হয়েছে, এবং যেহেতু এতে রহিতকারী (ناسخ) ও রহিত (منسوخ) বিষয় বিদ্যমান রয়েছে, অথচ অবতীর্ণ হওয়ার সময় এই দুইয়ের একত্র হওয়া সম্ভব ছিল না।

এর পৃথকভাবে অবতীর্ণ হওয়ার হিকমত বা প্রজ্ঞার বিষয়ে সর্বাধিক বলিষ্ঠ কথা হলো তা-ই যা মহান আল্লাহ বলেছেন: {আর আমি কুরআনকে ভাগে ভাগে অবতীর্ণ করেছি যাতে আপনি তা মানুষের নিকট পাঠ করেন বিরতি দিয়ে দিয়ে}। এটি একটি মূলনীতি (أصل) যার ওপর ভিত্তি করে নানাবিধ মাসয়ালা গড়ে ওঠে। আল্লাহই সর্বজ্ঞ।

৯ - মহান আল্লাহর বাণী {তবে তোমরা এর অনুরূপ একটি সূরা নিয়ে আসো}; এই সূরায় ‘মিন’ (من) শব্দের আধিক্য রয়েছে, যেখানে অন্য স্থানে রয়েছে {এর অনুরূপ একটি সূরা}। কারণ ‘মিন’ শব্দটি আংশিকতা (تبعيض) প্রকাশ করে। যেহেতু এই সূরাটি কুরআনের চূড়াস্বরূপ এবং ফাতিহার পর প্রথম দিকে অবস্থিত, তাই এতে ‘মিন’-এর ব্যবহার যথাযথ হয়েছে যাতে এটি জানা যায় যে, এই চ্যালেঞ্জ কুরআনের শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত সকল সূরার ক্ষেত্রেই প্রযোজ্য। অন্য সূরাগুলোতে যদি ‘মিন’ যুক্ত হতো, তবে চ্যালেঞ্জটি কেবল কিছু সূরার ওপর কার্যকর হতো এবং অন্যগুলোর ওপর হতো না, যা সহজ হতো না। আর ‘মিন মিসলিহি’ (من مثله) বাক্যে বিদ্যমান ‘হা’ সর্বনামটি ‘মা’ তথা কুরআনের দিকে ফিরেছে। তবে কেউ কেউ মনে করেন যে, এটি মুহাম্মাদ (عليه السلام)-এর দিকে ফিরেছে, অর্থাৎ—
(খণ্ড: ১) আসরারুত তিকরারি ফিল কুরআন = আল-বুরহান ফী তাওজীহি মুতাশাবিহিল কুরআন (পৃষ্ঠা: ৭০)
فَأتوا بِسُورَة من إِنْسَان

مثله وَقيل يعود إِلَى الأنداد وَهُوَ ضَعِيف لِأَن الأنداد جمَاعَة وَالْهَاء للفرد وَقيل مثله التَّوْرَاة وَالْهَاء تعود إِلَى الْقُرْآن وَالْمعْنَى فأتو بِسُورَة من التَّوْرَاة الَّتِي هِيَ مثل الْقُرْآن ليعلموا وفاقهما {وَهُوَ} خطاب للْيَهُود

10 - قَوْله {فسجدوا إِلَّا إِبْلِيس أَبى واستكبر} ذكر هَذِه الْخلال فِي هَذِه السُّورَة جملَة ثمَّ ذكرهَا فِي سَائِر السُّور مفصلا فَقَالَ فِي الْأَعْرَاف {إِلَّا إِبْلِيس لم يكن من الساجدين} وَفِي الْحجر {إِلَّا إِبْلِيس أَبى أَن يكون مَعَ الساجدين} وَفِي سُبْحَانَ {إِلَّا إِبْلِيس قَالَ أأسجد لمن خلقت طينا} وَفِي الْكَهْف {إِلَّا إِبْلِيس كَانَ من الْجِنّ} وَفِي طه {إِلَّا إِبْلِيس أَبى} وَفِي ص {إِلَّا إِبْلِيس استكبر وَكَانَ من الْكَافرين}

11 - قَوْله {اسكن أَنْت وزوجك الْجنَّة وكلا} بِالْوَاو وَفِي الْأَعْرَاف {فكلا} بِالْفَاءِ {اسكن} فِي الْآيَتَيْنِ لَيْسَ بِأَمْر بِالسُّكُونِ الَّذِي هُوَ ضد الْحَرَكَة وَإِنَّمَا الَّذِي فِي الْبَقَرَة من السّكُون الَّذِي مَعْنَاهُ الْإِقَامَة وَذَلِكَ يَسْتَدْعِي زَمَانا ممتدا فَلم يصلح إِلَّا بِالْوَاو لِأَن الْمَعْنى اجْمَعْ بَين الْإِقَامَة فِيهَا وَالْأكل من ثمارها وَلَو كَانَ الْفَاء مَكَان الْوَاو لوَجَبَ تَأْخِير

الْأكل إِلَى الْفَرَاغ من الْإِقَامَة لِأَن الْفَاء للتعقيب وَالتَّرْتِيب وَالَّذِي فِي الْأَعْرَاف من السُّكْنَى الَّذِي مَعْنَاهَا اتِّخَاذ الْموضع مسكنا لِأَن الله تَعَالَى أخرج إِبْلِيس من الْجنَّة بقوله {
তাই তোমরা তাঁর মতো একজন মানুষের পক্ষ থেকে একটি সূরা নিয়ে আসো।

বলা হয়েছে যে, (সর্বনামটি) উপাস্যদের দিকে ফিরেছে, তবে এটি দুর্বল (ضعيف); কারণ উপাস্যগণ বহুবচন এবং 'হা' সর্বনামটি একবচনের জন্য ব্যবহৃত হয়। আবার বলা হয়েছে যে, এর সদৃশ হলো তাওরাত এবং 'হা' সর্বনামটি কুরআনের দিকে ফিরেছে। এর অর্থ হলো: তোমরা তাওরাত থেকে একটি সূরা নিয়ে আসো যা কুরআনের মতো, যাতে তারা উভয়ের মধ্যকার সামঞ্জস্য সম্পর্কে জানতে পারে। আর এটি ইয়াহুদিদের প্রতি সম্বোধন।

১০ - তাঁর বাণী {অতঃপর তারা সিজদা করল ইবলিস ছাড়া, সে অস্বীকার করল ও অহংকার করল}; এই গুণাবলি এই সূরায় সংক্ষেপে উল্লেখ করা হয়েছে, অতঃপর অন্যান্য সূরায় তা বিস্তারিতভাবে বর্ণিত হয়েছে। যেমন সূরা আল-আরাফে বলা হয়েছে {ইবলিস ছাড়া, সে সিজদাকারীদের অন্তর্ভুক্ত ছিল না}, সূরা আল-হিজরে {ইবলিস ছাড়া, সে সিজদাকারীদের সাথে থাকতে অস্বীকার করল}, সূরা সুবহানে (আল-ইসরা) {ইবলিস ছাড়া, সে বলল: আমি কি তাকে সিজদা করব যাকে আপনি মাটি দিয়ে সৃষ্টি করেছেন?}, সূরা আল-কাহফে {ইবলিস ছাড়া, সে ছিল জিনদের অন্তর্ভুক্ত}, সূরা তোয়াহাতে {ইবলিস ছাড়া, সে অস্বীকার করল}, এবং সূরা ছোয়াদে {ইবলিস ছাড়া, সে অহংকার করল এবং কাফিরদের অন্তর্ভুক্ত হলো}।

১১ - তাঁর বাণী {তুমি ও তোমার স্ত্রী জান্নাতে বসবাস করো এবং তোমরা আহার করো} এখানে 'ওয়াও' যোগে এসেছে, কিন্তু সূরা আল-আরাফে {অতঃপর আহার করো} এখানে 'ফা' যোগে এসেছে। উভয় আয়াতের 'বসবাস করো' শব্দটি সেই স্থিরতা অর্থে নয় যা নড়াচড়ার বিপরীত; বরং সূরা আল-বাকারায় এর দ্বারা এমন অবস্থান করা বোঝানো হয়েছে যা দীর্ঘ সময়ের দাবি রাখে। তাই এখানে 'ওয়াও' ব্যতীত অন্য কিছু উপযুক্ত নয়, কারণ এর অর্থ হলো সেখানে অবস্থান করা এবং এর ফলমূল আহার করার বিষয়টিকে একত্রিত করা। যদি 'ওয়াও'-এর স্থলে 'ফা' হতো, তবে অবস্থান শেষ করার পর আহার করা আবশ্যক হতো, কারণ 'ফা' অনুগামিতা ও ধারাবাহিকতা বোঝাতে ব্যবহৃত হয়। আর সূরা আল-আরাফে 'বসবাস করা' বলতে কোনো স্থানকে আবাস হিসেবে গ্রহণ করা বোঝানো হয়েছে, কারণ আল্লাহ তাআলা ইবলিসকে জান্নাত থেকে এই বলে বের করে দিয়েছিলেন যে {

(খণ্ড: ১) আসরারুত তিকরারি ফিল কুরআন = আল-বুরহান ফী তাওজীহি মুতাশাবিহিল কুরআন (পৃষ্ঠা: ৭১)
اخْرُج مِنْهَا مذؤوما} وخاطب آدم فَقَالَ {يَا آدم اسكن أَنْت وزوجك الْجنَّة} أَي اتخذاها لأنفسكما مسكنا {فكلا من حَيْثُ شئتما} فَكَانَت الْفَاء أولى لِأَن اتِّخَاذ الْمسكن لَا يَسْتَدْعِي زَمَانا ممتدا وَلَا يُمكن الْجمع بَين الاتخاذ وَالْأكل فِيهِ بل يَقع الْأكل عَقِيبه

وَزَاد فِي الْبَقَرَة {رغدا} لما زَاد فِي الْخَبَر تَعْظِيمًا بقوله {وَقُلْنَا} بِخِلَاف سُورَة الْأَعْرَاف فَإِن فِيهَا (قَالَ) والخطيب ذهب إِلَى أَن مَا فِي الْأَعْرَاف

12 - قَوْله {اهبطوا مِنْهَا} كرر الْأَمر بالهبوط لِأَن الأول من الْجنَّة وَالثَّانِي من السَّمَاء

13 - قَوْله {فَمن تبع} وَفِي طه {فَمن اتبع} تبع وَاتبع بِمَعْنى وَإِنَّمَا اخْتَار فِي طه {اتبع} مُوَافقَة لقَوْله تَعَالَى {يتبعُون الدَّاعِي}

14 - قَوْله {وَلَا يقبل مِنْهَا شَفَاعَة وَلَا يُؤْخَذ مِنْهَا عدل} قدم الشَّفَاعَة فِي هَذِه الْآيَة وَأخر الْعدْل وَقدم الْعدْل فِي الْآيَة الْأُخْرَى من هَذِه السُّورَة وَأخر الشَّفَاعَة وَإِنَّمَا قدم الشَّفَاعَة قطعا
"...সেখান থেকে নিন্দিত হয়ে বের হয়ে যাও।" এবং তিনি আদমকে সম্বোধন করে বললেন, "হে আদম! তুমি ও তোমার স্ত্রী জান্নাতে বসবাস করো।" অর্থাৎ, তোমরা উভয় একে নিজেদের জন্য বাসস্থান হিসেবে গ্রহণ করো। "অতঃপর যেখান থেকে ইচ্ছা আহার করো।" এখানে 'ফা' (ف) অব্যয়টি ব্যবহার করা অধিক যুক্তিযুক্ত হয়েছে, কারণ বাসস্থান গ্রহণ করার বিষয়টি দীর্ঘ সময়ের দাবি রাখে না এবং বাসস্থান গ্রহণ ও সেখানে আহার করাকে একই সময়ে একত্রিত করা সম্ভব নয়, বরং আহার করা বাসস্থান গ্রহণের ঠিক পরেই ঘটে থাকে।

সুরা আল-বাকারায় 'সাচ্ছন্দে' (رغدا) শব্দটি বৃদ্ধি করা হয়েছে, কারণ সেখানে বর্ণনায় সম্মান প্রদর্শনের জন্য 'আমরা বলেছি' (وَقُلْنَا) বলে অতিরিক্ত শব্দ আনা হয়েছে। এটি সুরা আল-আ'রাফের বিপরীত, কারণ সেখানে রয়েছে 'তিনি বললেন' (قَالَ)। আর খতিব মনে করেন যে, আল-আ'রাফে যা বর্ণিত হয়েছে...

12 - তাঁর বাণী: "তোমরা এখান থেকে নেমে যাও।" এখানে নামার আদেশটি পুনরাবৃত্তি করা হয়েছে, কারণ প্রথম আদেশটি ছিল জান্নাত থেকে এবং দ্বিতীয়টি ছিল আকাশ থেকে।

13 - তাঁর বাণী: "অতঃপর যে অনুসরণ করবে (تبع)..." এবং সুরা ত্বহা-তে আছে "অতঃপর যে অনুসরণ করবে (اتبع)..."। এখানে 'তাবা'আ' (تبع) এবং 'ইত্তাবা'আ' (اتبع) একই অর্থবোধক। তবে সুরা ত্বহা-তে 'ইত্তাবা'আ' (اتبع) নির্বাচন করা হয়েছে আল্লাহর এই বাণীর সাথে সামঞ্জস্য রাখার জন্য: "তারা আহ্বানকারীর অনুসরণ করবে।"

14 - তাঁর বাণী: "আর তার পক্ষ থেকে কোনো সুপারিশ গ্রহণ করা হবে না এবং কোনো বিনিময় (عدل) নেওয়া হবে না।" এই আয়াতে সুপারিশকে (شفاعة) আগে আনা হয়েছে এবং বিনিময়কে (عدل) পরে রাখা হয়েছে। আবার এই সুরারই অন্য আয়াতে বিনিময়কে আগে এবং সুপারিশকে পরে আনা হয়েছে। এখানে সুপারিশকে নিশ্চিতভাবে (قطعا) আগে আনা হয়েছে...
(খণ্ড: ১) আসরারুত তিকরারি ফিল কুরআন = আল-বুরহান ফী তাওজীহি মুতাশাবিহিল কুরআন (পৃষ্ঠা: ৭২)
لطمع من زعم أَن آبَاءَهُم تشفع لَهُم وَأَن الْأَصْنَام شفعاؤهم عِنْد الله وأخرها فِي الْآيَة الْأُخْرَى لِأَن التَّقْدِير فِي الْآيَتَيْنِ مَعًا لَا يقبل مِنْهَا شَفَاعَة فتنفعها تِلْكَ الشَّفَاعَة لِأَن النَّفْع بعد الْقبُول وَقدم الْعدْل فِي الْآيَة الْأُخْرَى ليَكُون لفظ الْقبُول مقدما فِيهَا

15 - قَوْله {يذبحون} بِغَيْر وَاو هُنَا على الْبَدَل من {يسومونكم} وَفِي الْأَعْرَاف {يقتلُون} وَفِي إِبْرَاهِيم {ويذبحون} بِالْوَاو لِأَن مَا فِي هَذِه السُّورَة والأعراف من كَلَام الله تَعَالَى فَلم يرد تعداد المحن عَلَيْهِم وَالَّذِي فِي إِبْرَاهِيم من كَلَام مُوسَى فعدد المحن عَلَيْهِم وَكَانَ مَأْمُورا بذلك فِي قَوْله {وَذكرهمْ بأيام الله}

16 - قَوْله {وَلَكِن كَانُوا أنفسهم يظْلمُونَ} هَهُنَا وَفِي الْأَعْرَاف 160 وَقَالَ فِي آل عمرَان {وَلَكِن أنفسهم يظْلمُونَ}

لِأَن مَا فِي السورتين إِخْبَار عَن قوم مَاتُوا وانقرضوا وَمَا فِي آل عمرَان مثل

17 - قَوْله {وَإِذ قُلْنَا ادخُلُوا هَذِه الْقرْيَة فَكُلُوا} بِالْفَاءِ وَفِي الْأَعْرَاف 161 بِالْوَاو لِأَن الدُّخُول سريع الِانْقِضَاء فيتبعه الْأكل وَفِي الْأَعْرَاف {وَإِذ قيل لَهُم اسكنوا}
যারা ধারণা করেছিল যে তাদের পূর্বপুরুষগণ তাদের জন্য সুপারিশ করবে এবং প্রতিমাগুলো আল্লাহর নিকট তাদের সুপারিশকারী হবে, তাদের সেই লালসা খণ্ডনের জন্য। অন্য আয়াতে একে পরে আনা হয়েছে, কারণ উভয় আয়াতের সমন্বয় করলে মূল তাৎপর্য দাঁড়ায় যে, তাদের পক্ষ থেকে কোনো সুপারিশ গ্রহণ করা হবে না, ফলে সেই সুপারিশ তাদের কোনো উপকারে আসবে না; কেননা উপকার মূলত গ্রহণের পরেই হয়ে থাকে। আর অন্য আয়াতে ন্যায়বিচার বা মুক্তিপণকে আগে আনা হয়েছে যাতে করে সেখানে 'গ্রহণ' শব্দটিকে অগ্রাধিকার প্রদান করা যায়।

১৫ - তাঁর বাণী {যবাই করে} এখানে 'ওয়াও' (এবং) ব্যতীত এসেছে, যা {তারা তোমাদেরকে যাতনা দিত} শব্দটির বদল বা স্থলাভিষিক্ত হিসেবে ব্যবহৃত। সূরা আল-আরাফে এসেছে {তারা হত্যা করত} এবং সূরা ইবরাহিমে {এবং তারা যবাই করত} এখানে 'ওয়াও' সহ এসেছে। কারণ এই সূরা এবং আল-আরাফে যা বর্ণিত হয়েছে তা মহান আল্লাহর বাণী, তাই তিনি তাদের ওপর আপতিত বিপদসমূহের বিস্তারিত সংখ্যা গণনা করতে চাননি। পক্ষান্তরে সূরা ইবরাহিমে যা আছে তা মুসা (আলাইহিস সালাম)-এর কথা, তাই তিনি তাদের ওপর আপতিত বিপদসমূহের বিস্তারিত বর্ণনা দিয়েছেন। আর তাঁকে এর নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল তাঁর এই বাণীর মাধ্যমে: {এবং তাদেরকে আল্লাহর দিনসমূহ স্মরণ করিয়ে দাও}।

১৬ - তাঁর বাণী {বরং তারা নিজেদের ওপরই জুলুম করত} এখানে এবং সূরা আল-আরাফের ১৬০ নম্বর আয়াতে এসেছে। অথচ সূরা আলে ইমরানে তিনি বলেছেন {বরং তারা নিজেদের ওপর জুলুম করে}। কারণ এই দুই সূরায় যা বর্ণিত হয়েছে তা এমন এক সম্প্রদায়ের সংবাদ যারা মৃত্যুবরণ করেছে এবং বিলুপ্ত হয়ে গেছে, আর সূরা আলে ইমরানে যা বর্ণিত হয়েছে তা একটি দৃষ্টান্ত।

১৭ - তাঁর বাণী {আর যখন আমি বললাম: তোমরা এই জনপদে প্রবেশ করো অতঃপর আহার করো} এখানে 'ফা' যোগে এসেছে, আর সূরা আল-আরাফের ১৬১ নম্বর আয়াতে 'ওয়াও' যোগে এসেছে। কারণ প্রবেশ করার বিষয়টি দ্রুত সমাপ্ত হয়ে যায়, ফলে আহার করা তার অনুগামী হয়। আর সূরা আল-আরাফে এসেছে {আর যখন তাদের বলা হলো: তোমরা বসবাস করো}।
(খণ্ড: ১) আসরারুত তিকরারি ফিল কুরআন = আল-বুরহান ফী তাওজীহি মুতাশাবিহিল কুরআন (পৃষ্ঠা: ৭৩)
الْمَعْنى أقِيمُوا فِيهَا وَذَلِكَ ممتد فَذكر بِالْوَاو أَي اجْمَعُوا بَين الْأكل والسكون وَزَاد فِي الْبَقَرَة {رغدا} لِأَنَّهُ سُبْحَانَهُ أسْندهُ إِلَى ذَاته بِلَفْظ التَّعْظِيم وَهُوَ قَوْله {وَإِذ قُلْنَا} خلاف مَا فِي الْأَعْرَاف فَإِن فِيهِ {وَإِذ قيل}

وَقدم {وادخلوا الْبَاب سجدا} على قَوْله {وَقُولُوا حطة} فِي هَذِه السُّورَة وأخرها فِي الْأَعْرَاف لِأَن السَّابِق فِي هَذِه السُّورَة {ادخُلُوا} فَبين كَيْفيَّة الدُّخُول وَفِي هَذِه السُّورَة {خطاياكم} بِالْإِجْمَاع وَفِي الْأَعْرَاف

{خطيئاتكم} مُخْتَلف لِأَن خَطَايَا صِيغَة الْجمع الْكثير ومغفرتها أليق فِي الْآيَة بِإِسْنَاد الْفِعْل إِلَى نَفسه سُبْحَانَهُ

وَفِي هَذِه السُّورَة {وسنزيد} وَفِي الْأَعْرَاف {سنزيد} بِغَيْر وَاو لِأَن اتصالها فِي هَذِه السُّورَة أَشد لِاتِّفَاق اللَّفْظَيْنِ وَاخْتلفَا فِي الْإِعْرَاب لِأَن اللَّائِق {سنزيد} مَحْذُوف الْوَاو ليَكُون استئنافا لكَلَام
এর অর্থ হলো তোমরা সেখানে অবস্থান করো এবং তা দীর্ঘস্থায়ী। তাই ‘ওয়াও’ (এবং) সহযোগে উল্লেখ করা হয়েছে, অর্থাৎ তোমরা আহার এবং অবস্থানের সমন্বয় করো। সুরা আল-বাকারাহ-তে ‘রগদান’ (স্বাচ্ছন্দ্যে) শব্দটি অতিরিক্ত যুক্ত হয়েছে, কারণ মহান আল্লাহ সেখানে মহিমান্বিত শব্দযোগে বিষয়টিকে স্বীয় সত্তার প্রতি সম্বন্ধ করেছেন। আর তা হলো তাঁর বাণী: “আর যখন আমরা বললাম”; যা সুরা আল-আ’রাফ-এর বিপরীত, কেননা সেখানে রয়েছে: “আর যখন বলা হলো”।

এই সুরায় (আল-বাকারাহ) “আর তোমরা সিজদাবনত অবস্থায় দরজায় প্রবেশ করো” বাক্যটিকে “তোমরা বলো—ক্ষমা চাই” বাক্যের আগে আনা হয়েছে এবং সুরা আল-আ’রাফে তা পরে রাখা হয়েছে। কারণ এই সুরায় পূর্ববর্তী নির্দেশটি ছিল “প্রবেশ করো”, তাই এখানে প্রবেশের ধরনটি আগে স্পষ্ট করা হয়েছে। এই সুরায় সর্বসম্মত (إجماع) ভাবে “খাতায়াকুম” শব্দটি ব্যবহৃত হয়েছে, কিন্তু সুরা আল-আ’রাফে “খাতিআতিকুম” শব্দটির ব্যাপারে ভিন্নতা রয়েছে।

কেননা “খাতায়া” হলো আধিক্যবোধক বহুবচনের রূপ (صيغة الجمع الكثير), আর যে আয়াতে আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআলা ক্রিয়ার সম্বন্ধ (إسناد الفعل) নিজের দিকে করেছেন, সেখানে এই আধিক্যবোধক শব্দটিই অধিকতর সামঞ্জস্যপূর্ণ।

এই সুরায় “ওয়া-সানাজিঁদু” এবং সুরা আল-আ’রাফে ‘ওয়াও’ ব্যতিরেকে “সানাজিঁদু” শব্দ এসেছে। কারণ এই সুরায় শব্দদ্বয়ের ঐক্যের কারণে সংযোগটি অত্যন্ত নিবিড়। আর শব্দ দুটি ব্যাকরণিক রূপান্তর (إعراب) এর ক্ষেত্রে ভিন্ন হয়েছে, কেননা “সানাজিঁদু” থেকে ‘ওয়াও’ বিলুপ্ত হওয়াই অধিক সংগত যাতে তা নতুন প্রারম্ভিক বাক্য (استئناف) হিসেবে বিবেচিত হয়।
(খণ্ড: ১) আসরারুত তিকরারি ফিল কুরআন = আল-বুরহান ফী তাওজীহি মুতাশাবিহিল কুরআন (পৃষ্ঠা: ৭৪)
وَفِي هَذِه السُّورَة {فبدل الَّذين ظلمُوا قولا} وَفِي الْأَعْرَاف 62 {ظلمُوا مِنْهُم} لِأَن فِي الْأَعْرَاف {وَمن قوم مُوسَى} وَلقَوْله {مِنْهُم الصالحون وَمِنْهُم دون ذَلِك} وَفِي هَذِه السُّورَة {فأنزلنا على الَّذين ظلمُوا} وَفِي الْأَعْرَاف {فَأَرْسَلنَا} لِأَن لفظ الرَّسُول والرسالة كثرت فِي الْأَعْرَاف فجَاء ذَلِك وفقا لما قبله وَلَيْسَ كَذَلِك فِي سُورَة الْبَقَرَة

18 - قَوْله {فانفجرت} وَفِي الْأَعْرَاف {فانبجست} لِأَن الانفجار انصباب المَاء بِكَثْرَة والانبجاس ظُهُور المَاء وَكَانَ فِي هَذِه السُّورَة {كلوا وَاشْرَبُوا} فَذكر بِلَفْظ بليغ وَفِي الْأَعْرَاف {كلوا من طَيّبَات مَا رزقناكم} وَلَيْسَ فِيهِ وَاشْرَبُوا فَلم يُبَالغ فِيهِ

19 - قَوْله {وَيقْتلُونَ النَّبِيين بِغَيْر الْحق} فِي هَذِه السُّورَة وَفِي آل عمرَان {وَيقْتلُونَ النَّبِيين بِغَيْر حق} وفيهَا وَفِي النِّسَاء {وقتلهم الْأَنْبِيَاء بِغَيْر حق} لِأَن مَا فِي الْبَقَرَة إِشَارَة إِلَى الْحق الَّذِي أذن الله أَن تقتل النَّفس بِهِ وَهُوَ قَوْله {وَلَا تقتلُوا النَّفس الَّتِي حرم الله إِلَّا بِالْحَقِّ} فَكَانَ الأولى أَن يذكر
এই সূরাতে রয়েছে {অতঃপর জালিমরা কথা বদলে দিল}, আর সূরা আল-আরাফ-এ (১৬২ নং আয়াত) রয়েছে {তাদের মধ্য থেকে যারা জুলুম করেছিল}। কারণ সূরা আল-আরাফ-এ বর্ণিত হয়েছে {আর মুসার কওমের মধ্য থেকে...} এবং আল্লাহ তাআলার এই বাণীর কারণে {তাদের মধ্যে কিছু রয়েছে সৎকর্মশীল এবং কিছু তার ব্যতিক্রম}। আর এই সূরাতে রয়েছে {অতঃপর আমি জালিমদের উপর আজাব অবতীর্ণ করলাম}, আর সূরা আল-আরাফ-এ রয়েছে {অতঃপর আমি প্রেরণ করলাম}। কারণ 'রাসূল' এবং 'রিসালাত' শব্দের প্রয়োগ সূরা আল-আরাফ-এ অধিক, তাই এটি পূর্ববর্তী প্রসঙ্গের সাথে সংগতিপূর্ণ হয়েছে, যা সূরা আল-বাকারাহ-তে নেই।

18 - আল্লাহ তাআলার বাণী {অতঃপর তা হতে বারোটি ঝরনা প্রবাহিত হলো}, আর সূরা আল-আরাফ-এ রয়েছে {অতঃপর তা হতে উথলে উঠল}; কারণ 'ইনফিজার' (প্রবাহ) বলতে পানির প্রবল নির্গমন বোঝায়, আর 'ইনবিজাস' (উথলে ওঠা) হলো পানির প্রকাশ পাওয়া। যেহেতু এই সূরাতে {তোমরা আহার করো ও পান করো} বাক্যটি আছে, তাই এখানে অলঙ্কারপূর্ণ শব্দ ব্যবহৃত হয়েছে। পক্ষান্তরে সূরা আল-আরাফ-এ রয়েছে {আমি তোমাদের যে রিজিক দিয়েছি তা থেকে পবিত্র বস্তুসমূহ আহার করো}, সেখানে 'পান করো' অংশটি নেই, তাই সেখানে শব্দের প্রাবল্য ব্যবহৃত হয়নি।

19 - আল্লাহ তাআলার বাণী {এবং তারা নবীদের অন্যায়ভাবে হত্যা করত} এই সূরাতে রয়েছে, আর সূরা আল-ইমরানে রয়েছে {এবং তারা নবীদের অন্যায়ভাবে হত্যা করত}। সেখানে এবং সূরা আন-নিসাতেও রয়েছে {এবং অন্যায়ভাবে তাদের নবীদের হত্যা করা}; কারণ সূরা আল-বাকারাহ-তে যা বর্ণিত হয়েছে তা সেই হকের (ন্যায়সঙ্গত কারণ) দিকে ইঙ্গিত করে যার মাধ্যমে আল্লাহ কোনো প্রাণ হত্যার অনুমতি দিয়েছেন, আর তা হলো তাঁর বাণী: {আল্লাহ যে প্রাণকে হারাম করেছেন তাকে তোমরা হত্যা করো না, তবে ন্যায়সঙ্গতভাবে ব্যতীত}। তাই এখানে বিষয়টি এভাবেই উল্লেখ করা অধিক সঙ্গত ছিল।
(খণ্ড: ১) আসরারুত তিকরারি ফিল কুরআন = আল-বুরহান ফী তাওজীহি মুতাশাবিহিল কুরআন (পৃষ্ঠা: ৭৫)
مُعَرفا لِأَنَّهُ من الله تَعَالَى وَمَا فِي آل عمرَان وَالنِّسَاء نكرَة أَي بِغَيْر حق فِي معتقدهم

وَدينهمْ فَكَانَ هَذَا بالتنكير أولى وَجمع النَّبِيين جمع السَّلامَة فِي الْبَقَرَة لموافقة مَا بعده من جمعى السَّلامَة وَهُوَ {النَّبِيين} {الصابئين} وَكَذَلِكَ فِي آل عمرَان {إِن الَّذين} وناصرين ومعرضون بِخِلَاف الْأَنْبِيَاء فِي السورتين

20 - قَوْله {إِن الَّذين آمنُوا وَالَّذين هادوا وَالنَّصَارَى وَالصَّابِئِينَ} وَقَالَ فِي الْحَج {وَالصَّابِئِينَ وَالنَّصَارَى} وَقَالَ فِي الْمَائِدَة {والصابئون وَالنَّصَارَى} لِأَن النَّصَارَى مقدمون على الصابئين فِي الرُّتْبَة لأَنهم أهل كتاب فَقَدمهُمْ فِي الْبَقَرَة والصابئون مقدمون على النَّصَارَى فِي الزَّمَان لأَنهم كَانُوا قبلهم فَقَدمهُمْ فِي الْحَج وداعى فِي الْمَائِدَة بَين المعنين وَقَدَّمَهُمْ فِي اللَّفْظ وأخرهم فِي التَّقْدِير لِأَن تَقْدِيره والصابئون فِي كَذَلِك

قَالَ الشَّاعِر

فَإِن يَك أَمْسَى بِالْمَدِينَةِ رَحْله … فَإِنِّي وقيار بهَا لغريب
(এটি) নির্দিষ্ট (معرفة) কারণ এটি মহান আল্লাহ তাআলার পক্ষ থেকে। আর সূরা আলে ইমরান ও সূরা আন-নিসায় যা আছে তা অনির্দিষ্ট (نكرة), অর্থাৎ তাদের বিশ্বাস ও ধর্মের ক্ষেত্রে অন্যায়ভাবে। তাই এখানে অনির্দিষ্টকরণ (تنكير) অধিক সমীচীন ছিল। সূরা আল-বাকারাহ-তে ‘নাবিয়্যিন’ শব্দটি সুস্থ বহুবচন (جمع السلامة) হিসেবে আনা হয়েছে এর পরবর্তী দুটি সুস্থ বহুবচন (جمع السلامة) তথা {নাবিয়্যিন} ও {সাবিইন}-এর সাথে সংগতি রক্ষার জন্য। অনুরূপভাবে সূরা আলে ইমরানে {নিশ্চয়ই যারা}, ‘সাহায্যকারীগণ’ এবং ‘বিমুখকারীগণ’ শব্দগুলো এসেছে, যা এই দুই সূরার ‘আম্বিয়া’ শব্দের বিপরীত।

২০ - মহান আল্লাহর বাণী {নিশ্চয়ই যারা ঈমান এনেছে, যারা ইহুদি হয়েছে, নাসারা এবং সাবিইন}। সূরা আল-হাজ্জে তিনি বলেছেন {সাবিইন ও নাসারা} এবং সূরা আল-মায়িদাহ-তে বলেছেন {সাবিউন ও নাসারা}। কারণ পদমর্যাদায় নাসারাগণ সাবিইনদের চেয়ে অগ্রগামী, যেহেতু তারা আসমানি কিতাবের অনুসারী; তাই সূরা আল-বাকারাহ-তে তাদের আগে উল্লেখ করা হয়েছে। আর সময়ের বিচারে সাবিইনগণ নাসারাদের চেয়ে অগ্রগামী, কারণ তারা তাদের পূর্বে ছিল; তাই সূরা আল-হাজ্জে তাদের আগে উল্লেখ করা হয়েছে। আর সূরা আল-মায়িদাহ-তে উভয় অর্থকে সমন্বয় করা হয়েছে; তাই শব্দগতভাবে তাদের আগে আনা হয়েছে কিন্তু ব্যাকরণিক কাঠামোর (تقدير) বিচারে পরে রাখা হয়েছে, কেননা এর প্রচ্ছন্ন রূপ হলো ‘আর সাবিউনগণও তদ্রূপ’।

কবি বলেছেন:

যদি তার বাহন মদিনায় সন্ধ্যা অতিবাহিত করে... তবে আমি এবং কাইয়ার সেখানে অপরিচিত।
(খণ্ড: ১) আসরারুত তিকরারি ফিল কুরআন = আল-বুরহান ফী তাওজীহি মুতাশাবিহিল কুরআন (পৃষ্ঠা: ৭৬)
أَرَادَ إِنِّي لغريب وقيار كَذَلِك فَتَأمل فِيهَا وَفِي أَمْثَالهَا يظْهر لَك إعجاز الْقُرْآن

21 - قَوْله {أَيَّامًا مَعْدُودَة} وَفِي آل عمرَان {أَيَّامًا معدودات} لِأَن الأَصْل فِي الْجمع إِذا كَانَ واحده مذكرا أَن يقْتَصر فِي الْوَصْف على التَّأْنِيث نَحْو قَوْله {سرر مَرْفُوعَة وأكواب مَوْضُوعَة ونمارق مصفوفة وزرابي مبثوثة} : 13 16 وَقد يَأْتِي سرر مرفوعات على تَقْدِير ثَلَاث سرر مَرْفُوعَة وتسع سرر مرفوعات إِلَّا أَنه لَيْسَ بِالْأَصْلِ فجَاء فِي الْبَقَرَة على الأَصْل وَفِي آل عمرَان على الْفَرْع وَقَوله {فِي أَيَّام معدودات} أَي فِي سَاعَات أَيَّام معدودات وَكَذَلِكَ {فِي أَيَّام مَعْلُومَات}

22 - قَوْله {فتمنوا الْمَوْت إِن كُنْتُم صَادِقين} {وَلنْ يَتَمَنَّوْهُ} وَفِي الْجُمُعَة {وَلَا يتمنونه} لِأَن دَعوَاهُم فِي هَذِه السُّورَة بَالِغَة قَاطِعَة وَهِي كَون الْجنَّة {لَهُم} بِصفة الخلوص فَبَالغ فِي الرَّد عَلَيْهِم بلن وَهُوَ أبلغ أَلْفَاظ النَّفْي ودعواهم فِي الْجُمُعَة قَاصِرَة مترددة وَهِي زعمهم

أَنهم أَوْلِيَاء الله فاقتصر على {لَا}

23 - قَوْله {بل أَكْثَرهم لَا يُؤمنُونَ} وَفِي غَيرهَا {لَا يعْقلُونَ} {لَا يعلمُونَ} لأَنهم بَين نَاقض عهد وجاحد حق إِلَّا الْقَلِيل مِنْهُم عبد الله بن سَلام وَأَصْحَابه وَلم يَأْتِ هَذَانِ المعنيان مَعًا فِي غير هَذِه السُّورَة
তিনি বুঝাতে চেয়েছেন যে, আমি এবং কিইয়ার একইভাবে অপরিচিত; সুতরাং এতে এবং এর সমরূপ উদাহরণগুলোতে চিন্তা করুন, তাহলে আপনার কাছে কুরআনের অলৌকিকত্ব স্পষ্ট হবে।

21 - আল্লাহর বাণী {গণনাযোগ্য কয়েক দিন} এবং সূরা আলে ইমরানে রয়েছে {গণনাযোগ্য কয়েক দিন}; কারণ মূল নিয়ম হলো—বহুবচনের একবচন যদি পুংলিঙ্গ হয়, তবে বর্ণনার ক্ষেত্রে স্ত্রীলিঙ্গ একবচনের রূপ গ্রহণ করা। যেমন আল্লাহর বাণী: {উন্নত আসনসমূহ, প্রস্তুত রাখা পানপাত্রসমূহ, সারিবদ্ধ বালিশসমূহ এবং বিছানো গালিচাসমূহ} : ১৩-১৬। তবে কখনও 'সুরুরাম মারফুয়াত' (উন্নত আসনসমূহ) আসতে পারে—তিনটি আসন বুঝাতে 'মারফুয়াহ' এবং নয়টি আসন বুঝাতে 'মারফুয়াত' ব্যবহারের ধারণার ভিত্তিতে, তবে এটি মূল নিয়ম নয়। সুতরাং সূরা বাকারায় এটি মূল নিয়ম অনুযায়ী এসেছে এবং সূরা আলে ইমরানে তা ব্যতিক্রম হিসেবে এসেছে। আর আল্লাহর বাণী {গণনাযোগ্য দিনসমূহে} এর অর্থ হলো গণনাযোগ্য দিনসমূহের মুহূর্তগুলোতে। একইভাবে {নির্ধারিত দিনসমূহে} এর ক্ষেত্রেও একই ব্যাখ্যা প্রযোজ্য।

22 - আল্লাহর বাণী {তোমরা যদি সত্যবাদী হও তবে মৃত্যু কামনা করো} এবং {তারা কখনোই তা কামনা করবে না}, অথচ সূরা জুমুআহ-তে রয়েছে {তারা তা কামনা করে না}; কারণ এই সূরায় তাদের দাবি অত্যন্ত জোরালো ও সুনিশ্চিত ছিল, আর তা হলো জান্নাত কেবল 'তাদেরই জন্য' নির্দিষ্ট হওয়া। তাই 'লান' ব্যবহারের মাধ্যমে তাদের দাবির জোরালো প্রতিবাদ করা হয়েছে, যা না-বোধক শব্দগুলোর মধ্যে সর্বাধিক জোরালো। পক্ষান্তরে সূরা জুমুআহ-তে তাদের দাবি ছিল সীমিত ও দ্বিধাগ্রস্ত, যা ছিল তাদের এই ধারণা যে

তারা আল্লাহর বন্ধু; তাই সেখানে {না} ব্যবহারের ওপর সীমাবদ্ধ থাকা হয়েছে।

23 - আল্লাহর বাণী {বরং তাদের অধিকাংশই বিশ্বাস করে না}, অথচ অন্যান্য স্থানে রয়েছে {তারা বোঝে না} অথবা {তারা জানে না}; কারণ তারা ছিল অঙ্গীকার ভঙ্গকারী এবং সত্যকে অস্বীকারকারী, কেবল তাদের মধ্য থেকে অল্প সংখ্যক ব্যতীত—যেমন আবদুল্লাহ ইবনে সালাম ও তাঁর সঙ্গীগণ। আর এই দুটি বিষয় এই সূরা ব্যতীত অন্য কোথাও একত্রে আসেনি।
(খণ্ড: ১) আসরারুত তিকরারি ফিল কুরআন = আল-বুরহান ফী তাওজীহি মুতাশাবিহিল কুরআন (পৃষ্ঠা: ৭৭)
24 - قَوْله {وَلَئِن اتبعت أهواءهم بعد الَّذِي جَاءَك من الْعلم} وفيهَا أَيْضا {من بعد مَا جَاءَك من الْعلم} فَجعل مَكَان قَول {الَّذِي} {مَا} وَزَاد فِي أَوله {من} لِأَن الْعلم فِي الْآيَة الأولى علم بالكمال وَلَيْسَ وَرَاءه علم لِأَن مَعْنَاهُ بعد الَّذِي جَاءَك من الْعلم بِاللَّه وَصِفَاته وَبِأَن الْهدى هدى الله وَمَعْنَاهُ بِأَن دين الله الْإِسْلَام وَأَن الْقُرْآن كَلَام الله فَكَانَ لفظ {الَّذِي} أليق بِهِ من لفظ {مَا} لِأَنَّهُ فِي التَّعْرِيف أبلغ وَفِي الْوَصْف أقعد لِأَن {الَّذِي} تعرفه صلته فَلَا يتنكر قطّ وتتقدمه أَسمَاء الْإِشَارَة نَحْو قَوْله {أم من هَذَا الَّذِي هُوَ جند لكم} {أم من هَذَا الَّذِي يرزقكم} فيكتنف {الَّذِي} بيانان هما الْإِشَارَة قبلهَا والصلة بعْدهَا وَيلْزمهُ الْألف وَاللَّام ويثنى وَيجمع وَلَيْسَ لما شَيْء من ذَلِك لِأَنَّهُ يتنكر مرّة ويتعرف أُخْرَى وَلَا يَقع وَصفا

لأسماء الْإِشَارَة وَلَا تدخله الْألف وَاللَّام وَلَا يثنى وَلَا يجمع

وَخص الثَّانِي {بِمَا} لِأَن الْمَعْنى من بعد مَا جَاءَك من الْعلم بِأَن قبْلَة الله هِيَ الْكَعْبَة وَذَلِكَ قَلِيل من كثير من الْعلم وزيدت مَعَه {من} الَّتِي لابتداء الْغَايَة لِأَن تَقْدِيره من الْوَقْت الَّذِي جَاءَك فِيهِ الْعلم بالقبلة لِأَن الْقبْلَة الأولى نسخت بِهَذِهِ الْآيَة وَلَيْسَت الأولى مُؤَقَّتَة بِوَقْت

وَقَالَ فِي سُورَة الرَّعْد {بعد مَا جَاءَك} فَعبر بِلَفْظ {مَا} وَلم يزدْ {من} لِأَن الْعلم هُنَا هُوَ الحكم الْعَرَبِيّ أَي
২৪ - মহান আল্লাহর বাণী {আর তোমার নিকট জ্ঞান আসার পর যদি তুমি তাদের খেয়াল-খুশির অনুসরণ করো} এবং এতে আরও রয়েছে {তোমার নিকট জ্ঞান আসার পর থেকে}। এখানে 'আল-লাযি' শব্দের স্থলে 'মা' শব্দ বসানো হয়েছে এবং এর শুরুতে 'মিন' বৃদ্ধি করা হয়েছে। কারণ প্রথম আয়াতে বর্ণিত জ্ঞান হলো পূর্ণাঙ্গ জ্ঞান, যার ঊর্ধ্বে আর কোনো জ্ঞান নেই; কেননা এর অর্থ হলো—আল্লাহ ও তাঁর গুণাবলি সম্পর্কে তোমার কাছে যে জ্ঞান এসেছে তার পরবর্তী সময়, এবং এই জ্ঞান যে হিদায়াত কেবল আল্লাহরই হিদায়াত, আল্লাহর দ্বীন হলো ইসলাম এবং কুরআন আল্লাহর বাণী। তাই এখানে 'মা' শব্দের চেয়ে 'আল-লাযি' শব্দ অধিক উপযোগী। কারণ নির্দিষ্টকরণের ক্ষেত্রে এটি অধিকতর বলিষ্ঠ এবং বিশেষণের ক্ষেত্রে অধিকতর সুপ্রতিষ্ঠিত। কেননা 'আল-লাযি'-কে তার পরবর্তী বাক্য বা সিলাহ সুনির্দিষ্ট করে দেয়, তাই এটি কখনোই অনির্দিষ্ট হয় না। এর পূর্বে নির্দেশক বিশেষ্য ব্যবহৃত হয়, যেমন মহান আল্লাহর বাণী: {অথবা সে কে, যে তোমাদের জন্য বাহিনী হবে...}, {অথবা সে কে, যে তোমাদের রিযিক দান করবে...}। ফলে 'আল-লাযি' দুটি বর্ণনার পরিবেষ্টনে থাকে—পূর্বের ইশারা এবং পরের সিলাহ। এর সাথে আলিফ ও লাম থাকা অপরিহার্য এবং এর দ্বিবচন ও বহুবচন রূপ রয়েছে। কিন্তু 'মা' শব্দের ক্ষেত্রে এমনটি নয়, কারণ এটি কখনো অনির্দিষ্ট হয় আবার কখনো নির্দিষ্ট হয় এবং এটি নির্দেশক বিশেষ্যের বিশেষণ হিসেবে ব্যবহৃত হয় না।

নির্দেশক বিশেষ্যের জন্য এটি ব্যবহৃত হয় না, এর সাথে আলিফ ও লাম যুক্ত হয় না এবং এর দ্বিবচন বা বহুবচন রূপও হয় না।

দ্বিতীয় আয়াতটিকে 'মা' শব্দ দ্বারা বিশিষ্ট করা হয়েছে কারণ এর অর্থ হলো—আল্লাহর কিবলা যে কাবা, সেই সম্পর্কিত জ্ঞান আসার পরবর্তী সময়। আর তা হলো সামগ্রিক জ্ঞানের একটি ক্ষুদ্র অংশ মাত্র। আর এর সাথে প্রারম্ভিক সীমা নির্দেশক 'মিন' যোগ করা হয়েছে, কারণ এর মর্মার্থ হলো—যে সময় থেকে তোমার নিকট কিবলা সংক্রান্ত জ্ঞান এসেছে। কেননা পূর্ববর্তী কিবলা এই আয়াতের মাধ্যমে রহিত (منسوخ) করা হয়েছে, আর পূর্বেরটি কোনো নির্দিষ্ট সময়ের সাথে সীমাবদ্ধ ছিল না।

এবং তিনি সূরা আর-রা'দে বলেছেন {তোমার নিকট আসার পর}, সেখানে তিনি 'মা' শব্দ দ্বারা ব্যক্ত করেছেন এবং 'মিন' বৃদ্ধি করেননি। কারণ এখানে জ্ঞান হলো আরবি বিধান তথা-
(খণ্ড: ১) আসরারুত তিকরারি ফিল কুরআন = আল-বুরহান ফী তাওজীহি মুতাশাবিহিল কুরআন (পৃষ্ঠা: ৭৮)
الْقُرْآن فَكَانَ بَعْضًا من الأول وَلم يزدْ فِيهِ {من} لِأَنَّهُ غير مُؤَقّت وَقَرِيب من معنى الْقبْلَة مَا فِي آل عمرَان {من بعد مَا جَاءَك من الْعلم} فَهَذَا جَاءَ بِلَفْظ {مَا} وزيدت فِيهِ {من}

25 - قَوْله {وَاتَّقوا يَوْمًا لَا تجزي نفس عَن نفس شَيْئا} هَذِه الْآيَة وَالَّتِي قبلهَا متكررتان وَإِنَّمَا كررت لِأَن كل وَاحِدَة مِنْهُمَا صادفت مَعْصِيّة تَقْتَضِي تَنْبِيها ووعظا لِأَن كل وَاحِدَة وَقعت فِي غير

وَقت الْأُخْرَى وَالْمَعْصِيَة الأول {أتأمرون النَّاس بِالْبرِّ وتنسون أَنفسكُم} وَالثَّانيَِة {وَلنْ ترْضى عَنْك الْيَهُود وَلَا النَّصَارَى حَتَّى تتبع ملتهم}

26 - قَوْله {رب اجْعَل هَذَا بَلَدا آمنا} وَفِي إِبْرَاهِيم {هَذَا الْبَلَد آمنا} لِأَن {هَذَا} هُنَا إِشَارَة إِلَى الْمَذْكُور فِي قَوْله {بواد غير ذِي زرع} قبل بِنَاء الْكَعْبَة وَفِي إِبْرَاهِيم إِشَارَة إِلَى الْبَلَد بعد الْكَعْبَة فَيكون {بَلَدا} فِي هَذِه السُّورَة الْمَفْعُول الثَّانِي و {آمنا} صفته {وَهَذَا الْبَلَد} فِي إِبْرَاهِيم الْمَفْعُول الأول و {آمنا} الْمَفْعُول الثَّانِي
কুরআন, এটি প্রথমাংশের অংশ বিশেষ ছিল এবং এতে 'মিন' (من) বৃদ্ধি করা হয়নি কারণ এটি সময়বদ্ধ নয়। কিবলার অর্থের কাছাকাছি বিষয় হলো যা সূরা আল ইমরানে রয়েছে {তোমার নিকট জ্ঞান আসার পর}, এটি 'মা' (ما) শব্দযোগে এসেছে এবং এতে 'মিন' (من) বৃদ্ধি করা হয়েছে।

25 - মহান আল্লাহর বাণী {তোমরা সেই দিনকে ভয় করো, যেদিন কোনো সত্তা অন্য কোনো সত্তার উপকারে আসবে না}। এই আয়াত এবং এর পূর্ববর্তী আয়াতটি পুনরাবৃত্ত হয়েছে। এগুলো পুনরাবৃত্ত হওয়ার কারণ হলো, এদের প্রত্যেকটি এমন একটি অবাধ্যতার প্রেক্ষাপটে এসেছে যা সতর্কতা ও উপদেশের দাবি রাখে; যেহেতু এদের প্রতিটি ভিন্ন ভিন্ন সময়ে সংঘটিত হয়েছে। প্রথম অবাধ্যতাটি হলো: {তোমরা কি মানুষকে সৎকাজের নির্দেশ দাও এবং নিজেদের কথা ভুলে যাও?} আর দ্বিতীয়টি হলো: {ইহুদি ও নাসারারা কখনোই তোমার প্রতি সন্তুষ্ট হবে না, যতক্ষণ না তুমি তাদের ধর্মাদর্শ অনুসরণ করো।}

26 - মহান আল্লাহর বাণী {হে আমার পালনকর্তা, একে একটি নিরাপদ শহর বানান}। পক্ষান্তরে সূরা ইবরাহিমে রয়েছে {এই শহরকে নিরাপদ বানান}। কারণ এখানে 'এই' (هذا) শব্দটি কাবা নির্মাণের পূর্বে বর্ণিত {চাষাবাদহীন এক উপত্যকায়} এর প্রতি ইঙ্গিত করছে। আর সূরা ইবরাহিমে এটি কাবা নির্মাণের পরবর্তী শহরের প্রতি ইঙ্গিত। ফলে এই সূরায় 'শহর' (بلدا) শব্দটি দ্বিতীয় কর্ম (المفعول الثاني) এবং 'নিরাপদ' (آمنا) তার বিশেষণ (صفة)। আর সূরা ইবরাহিমে 'এই শহর' (هذا البلد) হলো প্রথম কর্ম (المفعول الأول) এবং 'নিরাপদ' (آمنا) হলো দ্বিতীয় কর্ম (المفعول الثاني)।
(খণ্ড: ১) আসরারুত তিকরারি ফিল কুরআন = আল-বুরহান ফী তাওজীহি মুতাশাবিহিল কুরআন (পৃষ্ঠা: ৭৯)
وَقيل لِأَن النكرَة إِذا تَكَرَّرت صَارَت معرفَة وَقيل تَقْدِيره فِي الْبَقَرَة البلدا بَلَدا آمنا فَحذف اكْتِفَاء بِالْإِشَارَةِ فَتكون الْآيَتَانِ سَوَاء

27 - قَوْله {وَمَا أنزل إِلَيْنَا} فِي هَذِه السُّورَة وَفِي آل عمرَان {علينا} لِأَن {إِلَى} للانتهاء إِلَى الشَّيْء من أَي جِهَة كَانَت والكتب منتهية

إِلَى الْأَنْبِيَاء وَإِلَى أممهم جَمِيعًا وَالْخطاب فِي هَذِه السُّورَة لهَذِهِ الْأمة لقَوْله تَعَالَى {قُولُوا} فَلم يَصح إِلَى {إِلَى} و {على} مُخْتَصّ بِجَانِب الفوق وَهُوَ مُخْتَصّ بالأنبياء لِأَن الْكتب منزلَة عَلَيْهِم لَا شركَة للْأمة فِيهَا وَفِي آل عمرَان {قل} وَهُوَ مُخْتَصّ بِالنَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم دون أمته فَكَانَ الَّذِي يَلِيق بِهِ {على} وَزَاد فِي هَذِه السُّورَة {وَمَا أُوتِيَ} وَحذف من آل عمرَان لِأَن فِي آل عمرَان قد تقدم ذكر الْأَنْبِيَاء حَيْثُ قَالَ {وَإِذ أَخذ الله مِيثَاق النَّبِيين لما آتيتكم من كتاب وَحِكْمَة}

28 - قَوْله {وَمن حَيْثُ خرجت} هَذِه الْآيَة مكررة ثَلَاث مَرَّات قيل إِن الأولى لنسخ الْقبْلَة وَالثَّانيَِة للسبب وَهُوَ قَوْله {وَإنَّهُ للحق من رَبك} وَالثَّالِثَة لِلْعِلَّةِ وَهُوَ قَوْله {لِئَلَّا يكون للنَّاس عَلَيْكُم حجَّة} وَقيل الأولى فِي مَسْجِد الْمَدِينَة وَالثَّانيَِة خَارج الْمَسْجِد وَالثَّالِثَة خَارج الْبَلَد
এবং বলা হয়েছে যে, অনির্দিষ্ট (نكرة) শব্দ যখন পুনরাবৃত্ত হয়, তখন তা নির্দিষ্ট (معرفة) শব্দে পরিণত হয়। আরও বলা হয়েছে যে, সূরা বাকারায় এর প্রাক্কলিত রূপ ছিল ‘শহরটি, একটি নিরাপদ শহর’; কিন্তু ইশারার মাধ্যমে ইঙ্গিত করাই যথেষ্ট হওয়ায় তা উহ্য রাখা হয়েছে, ফলে উভয় আয়াত সমার্থবোধক হয়েছে।

২৭ - মহান আল্লাহর বাণী {যা আমাদের প্রতি অবতীর্ণ করা হয়েছে} এই সূরায় এসেছে এবং সূরা আল ইমরানে {আমাদের ওপর} এসেছে। কারণ ‘প্রতি’ (إلى) অব্যয়টি যেকোনো দিক থেকে কোনো বিষয়ের পরিসমাপ্তি বুঝাতে ব্যবহৃত হয়, আর কিতাবসমূহ নবীগণের নিকট এবং তাঁদের সকল উম্মতের নিকট এসে সমাপ্ত হয়েছে।

এই সূরায় (সূরা বাকারায়) সম্বোধন করা হয়েছে এই উম্মতকে, কারণ মহান আল্লাহ বলেছেন {তোমরা বলো}। তাই এখানে ‘প্রতি’ (إلى) অব্যয়টির ব্যবহারই সঠিক হয়েছে। আর ‘ওপর’ (على) শব্দটি উচ্চতার সাথে সংশ্লিষ্ট এবং এটি নবীগণের সাথে নির্দিষ্ট (مختص), কারণ কিতাবসমূহ তাঁদের ওপর অবতীর্ণ করা হয়েছে যেখানে উম্মতের সরাসরি কোনো অংশীদারিত্ব নেই। অন্যদিকে সূরা আল ইমরানে {তুমি বলো} বলা হয়েছে, যা উম্মতকে বাদ দিয়ে কেবল নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সাথে নির্দিষ্ট। ফলে তাঁর ক্ষেত্রে ‘ওপর’ (على) অব্যয়টির ব্যবহারই অধিকতর উপযোগী ছিল। আর এই সূরায় {এবং যা প্রদান করা হয়েছে} অংশটি বৃদ্ধি করা হয়েছে এবং সূরা আল ইমরান থেকে তা বাদ দেওয়া হয়েছে; কারণ সূরা আল ইমরানে আগেই নবীগণের কথা আলোচিত হয়েছে, যেখানে তিনি বলেছেন {আর আল্লাহ যখন নবীগণের নিকট থেকে অঙ্গীকার গ্রহণ করলেন যে, আমি তোমাদের কিতাব ও হিকমত যা কিছু দান করেছি}।

২৮ - মহান আল্লাহর বাণী {আর তুমি যেখান থেকেই বের হও}; এই আয়াতটি তিনবার পুনরাবৃত্তি করা হয়েছে। বলা হয়ে থাকে যে, প্রথমটি কিবলা রহিতকরণ (نسخ) এর জন্য, দ্বিতীয়টি কারণ (سبب) বর্ণনার জন্য—আর তা হলো মহান আল্লাহর বাণী {আর নিশ্চয়ই তা তোমার রবের পক্ষ থেকে ধ্রুব সত্য}, এবং তৃতীয়টি হেতু (علة) দর্শানোর জন্য—আর তা হলো মহান আল্লাহর বাণী {যাতে তোমাদের বিরুদ্ধে মানুষের কোনো বিতর্ক করার সুযোগ না থাকে}। আরও বলা হয়েছে যে, প্রথমটি মদিনার মসজিদে, দ্বিতীয়টি মসজিদের বাইরে এবং তৃতীয়টি শহরের বাইরে নাযিল হয়েছিল।
(খণ্ড: ১) আসরারুত তিকরারি ফিল কুরআন = আল-বুরহান ফী তাওজীহি মুতাশাবিহিল কুরআন (পৃষ্ঠা: ৮০)
وَقيل فِي الْآيَات خروجان خُرُوج إِلَى مَكَان ترى فِيهِ الْقبْلَة وَخُرُوج إِلَى مَكَان لَا ترى أَي الحالتان فِيهِ سَوَاء

قلت إِنَّمَا كرر لِأَن المُرَاد بذلك الْحَال وَالْمَكَان وَالزَّمَان وَقلت فِي الْآيَة الأولى {وَمن حَيْثُ خرجت} وَلَيْسَ فِيهَا {وَحَيْثُ مَا كُنْتُم} فَجمع فِي الْآيَة الثَّالِثَة بَين قَوْله {حَيْثُ خرجت} {وَحَيْثُ مَا كُنْتُم} ليعلم أَن للنَّبِي وَالْمُؤمنِينَ فِي ذَلِك سَوَاء

29 - قَوْله {إِلَّا الَّذين تَابُوا وَأَصْلحُوا وبينوا} لَيْسَ فِي هَذِه {من بعد ذَلِك} وَفِي غَيرهَا {من بعد ذَلِك} لِأَن قبله هُنَا {من بعد مَا بَيناهُ} فَلَو أعَاد الْتبس

30 - قَوْله {لآيَات لقوم يعْقلُونَ} خص الْعقل بِالذكر لِأَن بِهِ يتَوَصَّل إِلَى معرفَة الْآيَات وَمثله فِي الرَّعْد 4 والنحل 12 والنور 61 وَالروم 24

31 - قَوْله {مَا ألفينا عَلَيْهِ آبَاءَنَا} فِي هَذِه السُّورَة وَفِي الْمَائِدَة 4 7 ولقمان 21 {مَا وجدنَا} لِأَن ألفيت يتَعَدَّى إِلَى مفعولين تَقول ألفيت زيدا قَائِما وألفيت عمرا على كَذَا وَوجدت يتَعَدَّى مرّة إِلَى مفعول وَاحِد تَقول وجدت الضَّالة وَمرَّة إِلَى مفعولين تَقول وجدت زيدا جَالِسا فَهُوَ مُشْتَرك فَكَانَ الْموضع الأول بِاللَّفْظِ الْأَخَص

أولى لِأَن غَيره إِذا وَقع موقعه فِي الثَّانِي وَالثَّالِث علم أَنه بِمَعْنَاهُ
আয়াতগুলোতে দুই ধরনের বের হওয়ার কথা বলা হয়েছে: এমন এক স্থানে বের হওয়া যেখানে কিবলা দেখা যায়, এবং এমন এক স্থানে বের হওয়া যেখানে কিবলা দেখা যায় না; অর্থাৎ উভয় অবস্থাই এতে সমান।

আমি বলছি, এটি পুনরাবৃত্তি করা হয়েছে কারণ এর দ্বারা অবস্থা, স্থান এবং কাল উদ্দেশ্য। প্রথম আয়াতে বলা হয়েছে {আর যেখান থেকেই আপনি বের হোন}, কিন্তু তাতে {এবং যেখানেই তোমরা থাকো} কথাটি নেই। তাই তৃতীয় আয়াতে {যেখানে আপনি বের হোন} এবং {যেখানেই তোমরা থাকো}-এর মধ্যে সমন্বয় করা হয়েছে যাতে প্রতীয়মান হয় যে, নবী এবং মুমিনগণ এ বিষয়ে সমান।

29 - মহান আল্লাহর বাণী {তবে যারা তাওবা করেছে, সংশোধন করেছে এবং স্পষ্টভাবে বর্ণনা করেছে}। এই আয়াতে {তার পর} কথাটি নেই, অথচ অন্যান্য স্থানে {তার পর} রয়েছে। কারণ এখানে এর আগে {আমি তা স্পষ্টভাবে বর্ণনা করার পর} কথাটি বিদ্যমান, তাই পুনরায় উল্লেখ করলে অস্পষ্টতা (التباس) সৃষ্টি হওয়ার সম্ভাবনা থাকত।

30 - মহান আল্লাহর বাণী {বোধশক্তিসম্পন্ন সম্প্রদায়ের জন্য বহু নিদর্শন রয়েছে}। এখানে বিশেষভাবে 'বুদ্ধিবৃত্তি' (العقل)-এর কথা উল্লেখ করা হয়েছে কারণ এরই মাধ্যমে নিদর্শনাদি সম্পর্কে জ্ঞান লাভ করা সম্ভব। অনুরূপ বর্ণনা সূরা আর-রাদ ৪, আন-নাহল ১২, আন-নূর ৬১ এবং আর-রূম ২৪-এ রয়েছে।

31 - মহান আল্লাহর বাণী {আমরা আমাদের পিতৃপুরুষদের যাতে পেয়েছি (ألفينا)}। এই সূরায় এই শব্দ ব্যবহৃত হয়েছে, কিন্তু সূরা আল-মায়িদাহ ১০৪ এবং সূরা লুকমান ২১-এ {আমরা যা পেয়েছি (وجدنا)} ব্যবহৃত হয়েছে। কারণ 'আলফাইতু' (ألفيت) ক্রিয়াটি দুটি কর্মপদ (مفعول) গ্রহণ করে। আপনি বলতে পারেন, 'আমি জায়েদকে দণ্ডায়মান পেয়েছি' এবং 'আমি আমরকে এই অবস্থায় পেয়েছি'। অন্যদিকে 'ওয়াজাত্তু' (وجدت) কখনো একটি কর্মপদ (مفعول) গ্রহণ করে, যেমন: 'আমি হারানো বস্তু খুঁজে পেয়েছি', আবার কখনো দুটি কর্মপদ (مفعول) গ্রহণ করে, যেমন: 'আমি জায়েদকে উপবিষ্ট পেয়েছি'। সুতরাং এটি সাধারণ অর্থেও ব্যবহৃত হয়। তাই প্রথম স্থানে অপেক্ষাকৃত সুনির্দিষ্ট (الأخص) শব্দটির ব্যবহারই অধিকতর সমীচীন (أولى)। কারণ দ্বিতীয় ও তৃতীয় স্থানে যখন অন্য শব্দটি এর স্থলাভিষিক্ত হয়, তখন বোঝা যায় যে তা একই অর্থে ব্যবহৃত হয়েছে।
(খণ্ড: ১) আসরারুত তিকরারি ফিল কুরআন = আল-বুরহান ফী তাওজীহি মুতাশাবিহিল কুরআন (পৃষ্ঠা: ৮১)
32 - قَوْله {أَو لَو كَانَ آباؤهم لَا يعلمُونَ شَيْئا} وَفِي الْمَائِدَة {لَا يعلمُونَ} لِأَن الْعلم أبلغ دَرَجَة من الْعقل وَلِهَذَا جَازَ وصف الله بِهِ وَلم يجز وَصفه بِالْعقلِ فَكَانَت دَعوَاهُم فِي الْمَائِدَة أبلغ لقَولهم {حَسبنَا مَا وجدنَا عَلَيْهِ آبَاءَنَا} فَادعوا النِّهَايَة بِلَفْظ {حَسبنَا} فنفى ذَلِك بِالْعلمِ وَهُوَ النِّهَايَة وَقَالَ فِي الْبَقَرَة {بل نتبع مَا ألفينا عَلَيْهِ آبَاءَنَا} وَلم تكن النِّهَايَة فنفى بِمَا هُوَ دون الْعلم لتَكون كل دَعْوَى منفية بِمَا يلائمها وَالله أعلم

33 - قَوْله {وَمَا أهل بِهِ لغير الله} قدم {بِهِ} فِي هَذِه السُّورَة وأخرها فِي الْمَائِدَة 3 والأنعام 145 والنحل 115 لِأَن تَقْدِيم الْبَاء الأَصْل فَإِنَّهَا تجْرِي مجْرى الْهمزَة وَالتَّشْدِيد فِي التَّعَدِّي فَكَانَت كحرف من الْفِعْل فَكَانَ الْموضع الأول أولى بِمَا هُوَ الأَصْل ليعلم مَا يَقْتَضِيهِ اللَّفْظ ثمَّ قدم فِيمَا سواهَا مَا هُوَ المستنكر وَهُوَ الذّبْح لغير

الله وَتَقْدِيم مَا هُوَ الْغَرَض أولى وَلِهَذَا جَازَ تَقْدِيم الْمَفْعُول على الْفَاعِل وَالْحَال على ذِي الْحَال والظرف على الْعَامِل فِيهِ إِذا كَانَ ذَلِك أَكثر للغرض فِي الْإِخْبَار

34 - قَوْله فِي هَذِه السُّورَة {فَلَا إِثْم عَلَيْهِ} وَفِي السُّور الثَّلَاث بحذفها لِأَنَّهُ لما قَالَ فِي الْموضع الأول {فَلَا إِثْم عَلَيْهِ} صَرِيحًا كَانَ نفي الْإِثْم فِي غَيره تضمينا لِأَن قَوْله {
32 - তাঁর বাণী {অথবা যদিও তাদের পিতৃপুরুষরা কিছুই জানত না} এবং সূরা আল-মায়িদায় রয়েছে {তারা জানত না}; কারণ ‘ইলম’ বা জ্ঞান হচ্ছে বুদ্ধির চেয়ে উচ্চতর স্তর। আর এ কারণেই আল্লাহ তাআলাকে জ্ঞান দ্বারা গুণান্বিত করা বৈধ হলেও বুদ্ধি দ্বারা গুণান্বিত করা বৈধ নয়। সূরা আল-মায়িদায় তাদের দাবি ছিল অধিকতর জোরালো, যেহেতু তাদের উক্তি ছিল {আমাদের জন্য তাই যথেষ্ট যা আমরা আমাদের পিতৃপুরুষদের নিকট পেয়েছি}। সুতরাং তারা ‘যথেষ্ট’ শব্দ দ্বারা চরম সীমা দাবি করেছিল, তাই সেটিকে ‘জ্ঞান’ (যা চরম সীমা) দ্বারা নাকচ করা হয়েছে। অন্যদিকে সূরা আল-বাকারায় তিনি বলেছেন {বরং আমরা অনুসরণ করব যা আমরা আমাদের পিতৃপুরুষদের নিকট পেয়েছি}, যা চরম সীমা ছিল না; তাই তিনি সেটিকে জ্ঞানের চেয়ে নিম্নতর কিছু দ্বারা নাকচ করেছেন, যাতে প্রতিটি দাবি তার সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ শব্দ দ্বারা নাকচ হয়। আল্লাহ-ই ভালো জানেন।

33 - তাঁর বাণী {এবং যা আল্লাহর পরিবর্তে অন্য কারও নামে উৎসর্গ করা হয়েছে}; এই সূরায় ‘বিহি’ (তা) শব্দটিকে আগে আনা হয়েছে এবং সূরা আল-মায়িদা ৩, আল-আনআম ১৪৫ ও আন-নাহল ১১৫-এ একে পরে আনা হয়েছে। কারণ ‘বা’ হরফটি আগে আনা ব্যাকরণগত মূল নীতি, যেহেতু এটি কর্মবাচকতায় হামযাহ ও তাশদীদের মতো কাজ করে এবং ক্রিয়ার একটি অংশের মতো গণ্য হয়। ফলে প্রথম স্থানটি মূল নীতির জন্য অধিকতর উপযুক্ত ছিল যাতে শব্দের দাবি কী তা জানা যায়। এরপর অন্যান্য স্থানে যা গর্হিত (مستنكر) তা আগে আনা হয়েছে, আর তা হলো ‘আল্লাহ ব্যতীত অন্যের নামে জবাই করা’; আর যা মূল উদ্দেশ্য তা আগে আনাই শ্রেয়। এই কারণেই কর্মকে কর্তার আগে, অবস্থাকে অবস্থা-অধিকারীর আগে এবং ক্রিয়াবিশেষণকে তার ক্রিয়ার আগে আনা বৈধ হয়, যখন সংবাদ প্রদানের ক্ষেত্রে সেটি উদ্দেশ্যের জন্য অধিকতর সহায়ক হয়।

34 - এই সূরায় তাঁর বাণী {তবে তার কোনো পাপ নেই}, আর অন্য তিনটি সূরায় এটি উহ্য রাখা হয়েছে। কারণ যখন প্রথম স্থানে স্পষ্টভাবে {তবে তার কোনো পাপ নেই} বলা হয়েছে, তখন অন্যগুলোতে পাপের অস্বীকৃতি অন্তর্নিহিতভাবে সাব্যস্ত হয়েছে। কারণ তাঁর বাণী {
(খণ্ড: ১) আসরারুত তিকরারি ফিল কুরআন = আল-বুরহান ফী তাওজীহি মুতাশাবিহিল কুরআন (পৃষ্ঠা: ৮২)
غَفُور رَحِيم} يدل على أَنه لَا إِثْم عَلَيْهِ

35 - قَوْله {إِن الله غَفُور رَحِيم} فِي هَذِه السُّورَة خلاف سُورَة الْأَنْعَام فَإِن فِيهَا {فَإِن رَبك غَفُور رَحِيم} لِأَن لفظ الرب تكَرر فِي الْأَنْعَام مَرَّات وَلِأَن فِي الْأَنْعَام قَوْله {وَهُوَ الَّذِي أنشأ جنَّات معروشات} الْآيَة وفيهَا ذكر الْحُبُوب وَالثِّمَار وأتبعها بِذكر الْحَيَوَان من الضَّأْن والمعز وَالْإِبِل وَبهَا تربية الْأَجْسَام فَكَانَ ذكر الرب فِيهَا أليق

36 - قَوْله {إِن الَّذين يكتمون مَا أنزل الله من الْكتاب ويشترون بِهِ ثمنا قَلِيلا أُولَئِكَ مَا يَأْكُلُون فِي بطونهم إِلَّا النَّار وَلَا يكلمهم الله يَوْم الْقِيَامَة وَلَا يزكيهم وَلَهُم عَذَاب أَلِيم} الْآيَة فِي السُّورَة على هَذَا النسق وَفِي آل عمرَان {أُولَئِكَ لَا خلاق لَهُم فِي الْآخِرَة وَلَا يكلمهم الله وَلَا ينظر إِلَيْهِم يَوْم الْقِيَامَة وَلَا يزكيهم وَلَهُم عَذَاب أَلِيم} لِأَن الْمُنكر فِي هَذِه السُّورَة أَكثر فالمتوعد فِيهَا أَكثر وَإِن شِئْت قلت زَاد فِي آل عمرَان {وَلَا ينظر إِلَيْهِم}
ক্ষমাশীল পরম দয়ালু} এটি নির্দেশ করে যে, তার ওপর কোনো গুনাহ নেই।

35 - এই সূরায় মহান আল্লাহর বাণী {নিশ্চয়ই আল্লাহ ক্ষমাশীল পরম দয়ালু} সূরা আল-আনআম-এর বিপরীত, কেননা সেখানে রয়েছে {নিশ্চয়ই আপনার প্রতিপালক ক্ষমাশীল পরম দয়ালু}। কারণ, সূরা আল-আনআম-এ 'প্রতিপালক' (রব) শব্দটি একাধিকবার পুনরাবৃত্তি হয়েছে এবং সেখানে আল্লাহর বাণী: {তিনিই সেই সত্তা যিনি লতা ও বৃক্ষ উদ্যানসমূহ সৃষ্টি করেছেন}—এই আয়াতটি রয়েছে, যেখানে শস্য ও ফলের কথা উল্লেখ করা হয়েছে এবং এরপর ভেড়া, ছাগল ও উটের ন্যায় পশুর উল্লেখ করা হয়েছে, যার মাধ্যমে শরীর প্রতিপালিত হয়; ফলে সেখানে 'প্রতিপালক' শব্দের উল্লেখই অধিকতর সামঞ্জস্যপূর্ণ।

36 - মহান আল্লাহর বাণী {নিশ্চয়ই যারা আল্লাহর অবতীর্ণ কিতাব গোপন করে এবং তার বিনিময়ে তুচ্ছ মূল্য গ্রহণ করে, তারা নিজেদের পেটে আগুন ছাড়া আর কিছুই খাচ্ছে না। কিয়ামতের দিন আল্লাহ তাদের সঙ্গে কথা বলবেন না এবং তাদের পবিত্রও করবেন না; আর তাদের জন্য রয়েছে যন্ত্রণাদায়ক শাস্তি}—এই সূরায় আয়াতটি এই বিন্যাসে রয়েছে। অন্যদিকে সূরা আল-ইমরানে রয়েছে: {পরকালে তাদের কোনো অংশ নেই, আর কিয়ামতের দিন আল্লাহ তাদের সঙ্গে কথা বলবেন না, তাদের দিকে তাকাবেন না এবং তাদের পবিত্রও করবেন না; আর তাদের জন্য রয়েছে যন্ত্রণাদায়ক শাস্তি}। এর কারণ হলো, এই সূরায় অস্বীকৃত (منكر) বিষয়ের মাত্রা অধিক, ফলে এতে শাস্তির ধমকও বেশি। আর আপনি চাইলে বলতে পারেন যে, সূরা আল-ইমরানে {এবং তাদের দিকে তাকাবেন না} অংশটি বৃদ্ধি করা হয়েছে।
(খণ্ড: ১) আসরারুত তিকরারি ফিল কুরআন = আল-বুরহান ফী তাওজীহি মুতাশাবিহিল কুরআন (পৃষ্ঠা: ৮৩)
فِي مُقَابلَة {مَا يَأْكُلُون فِي بطونهم إِلَّا النَّار}

37 - قَوْله فِي آيَة الْوَصِيَّة {إِن الله سميع عليم} خص السّمع بِالذكر لما فِي الْآيَة من قَوْله {فَمن بدله بعد مَا سَمعه} ليَكُون مطابقا وَقَالَ فِي الْآيَة الْأُخْرَى بعْدهَا {إِن الله غَفُور رَحِيم} لقَوْله قبله {فَلَا إِثْم عَلَيْهِ} فَهُوَ مُطَابق معنى لَهُ

38 - قَوْله {فَمن كَانَ مِنْكُم مَرِيضا أَو على سفر} قيد بقوله {مِنْكُم} وَكَذَلِكَ {فَمن كَانَ مِنْكُم مَرِيضا أَو بِهِ أَذَى من رَأسه}

وَلم يُقيد فِي قَوْله {وَمن كَانَ مَرِيضا أَو على سفر} اكْتِفَاء بقوله {فَمن شهد مِنْكُم الشَّهْر فليصمه} لاتصاله بِهِ

39 - قَوْله {تِلْكَ حُدُود الله فَلَا تقربوها} وَقَالَ بعده {تِلْكَ حُدُود الله فَلَا تعتدوها} لِأَن الْحَد الأول نهى وَهُوَ قَوْله {وَلَا تباشروهن وَأَنْتُم عاكفون فِي الْمَسَاجِد} وَمَا كَانَ من الْحُدُود نهيا أَمر بترك المقاربة وَالْحَد الثَّانِي أَمر وَهُوَ بَيَان عدد الطَّلَاق بِخِلَاف مَا كَانَ عَلَيْهِ الْعَرَب من الْمُرَاجَعَة بعد الطَّلَاق من غير عدد وَمَا كَانَ أمرا أَمر بترك الْمُجَاوزَة وَهُوَ الاعتداء

40 - قَوْله {يَسْأَلُونَك عَن الْأَهِلّة} جَمِيع مَا جَاءَ
{তারা তাদের পেটে আগুন ছাড়া আর কিছুই ভক্ষণ করছে না}-এর বিপরীতে

৩৭ - অসিয়তের আয়াতের ক্ষেত্রে মহান আল্লাহর বাণী {নিশ্চয়ই আল্লাহ সর্বশ্রোতা, সর্বজ্ঞ}-তে ‘শ্রবণ’ গুণটিকে বিশেষভাবে উল্লেখ করা হয়েছে, কারণ আয়াতের পূর্ববর্তী অংশে {সুতরাং যে ব্যক্তি শোনার পর তা পরিবর্তন করল} কথাটি রয়েছে, যাতে করে তা সংগতিপূর্ণ হয়। আর এর পরবর্তী অন্য আয়াতে তিনি বলেছেন {নিশ্চয়ই আল্লাহ অতিশয় ক্ষমাশীল, পরম দয়ালু}, যেহেতু এর আগে {তার ওপর কোনো গুনাহ নেই} কথাটি রয়েছে। সুতরাং এটি অর্থের দিক থেকে তার সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ।

৩৮ - মহান আল্লাহর বাণী {সুতরাং তোমাদের মধ্যে যে ব্যক্তি অসুস্থ থাকে অথবা সফরে থাকে}-কে {তোমাদের মধ্য থেকে} কথাটি দ্বারা শর্তযুক্ত (مقيد) করা হয়েছে। অনুরূপভাবে {সুতরাং তোমাদের মধ্যে যে অসুস্থ থাকে অথবা যার মাথায় কোনো কষ্ট থাকে}-এর ক্ষেত্রেও তা-ই।

কিন্তু মহান আল্লাহর বাণী {আর যে ব্যক্তি অসুস্থ থাকে অথবা সফরে থাকে}-এ শর্তযুক্ত (مقيد) করা হয়নি, কারণ এর সাথে সংযুক্ত {সুতরাং তোমাদের মধ্যে যে এই মাসটি পায়, সে যেন তাতে রোজা রাখে} কথাটি থাকাই যথেষ্ট ছিল।

৩৯ - মহান আল্লাহর বাণী {এগুলো আল্লাহর সীমারেখা, সুতরাং তোমরা এগুলোর নিকটবর্তী হয়ো না} এবং এর পরে তিনি বলেছেন {এগুলো আল্লাহর সীমারেখা, সুতরাং তোমরা তা অতিক্রম করো না}। কারণ প্রথম সীমারেখাটি হলো নিষেধাজ্ঞা (نهي), আর তা হলো তাঁর বাণী {আর তোমরা মসজিদে ইতিকাফরত অবস্থায় তাদের সাথে সহবাস করো না}। আর সীমারেখাসমূহের মধ্যে যা কিছু নিষেধাজ্ঞা (نهي) হিসেবে আসে, সেখানে সেটির নিকটবর্তী না হওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়। আর দ্বিতীয় সীমারেখাটি হলো আদেশ (أمر), যা তালাকের সংখ্যার বর্ণনা; যা আরবদের সেই রীতির বিপরীত ছিল যেখানে তারা কোনো নির্দিষ্ট সংখ্যা ছাড়াই তালাকের পর স্ত্রীকে ফিরিয়ে নিত। আর যা আদেশ (أمر) হিসেবে আসে, সেখানে সীমা অতিক্রম বা সীমালঙ্ঘন না করার নির্দেশ দেওয়া হয়।

৪০ - মহান আল্লাহর বাণী {তারা আপনাকে নতুন চাঁদসমূহ সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করে}—এই বিষয়ে যা কিছু বর্ণিত হয়েছে...
(খণ্ড: ১) আসরারুত তিকরারি ফিল কুরআন = আল-বুরহান ফী তাওজীহি মুতাশাবিহিল কুরআন (পৃষ্ঠা: ৮৪)
فِي الْقُرْآن من السُّؤَال وَقع عقبه الْجَواب بِغَيْر الْفَاء إِلَّا فِي قَوْله {ويسألونك عَن الْجبَال فَقل ينسفها رَبِّي} فَإِنَّهُ أُجِيب بِالْفَاءِ لِأَن الْأَجْوِبَة فِي الْجَمِيع كَانَت بعد السُّؤَال وَفِي طه قبل وُقُوع السُّؤَال فَكَأَنَّهُ قيل إِن سُئِلت عَن الْجبَال فَقل ينسفها رَبِّي

41 - قَوْله {وَيكون الدّين لله} فِي هَذِه السُّورَة وَفِي الْأَنْفَال {وَيكون الدّين كُله لله} لِأَن الْقِتَال فِي هَذِه السُّورَة مَعَ أهل مَكَّة وَفِي الْأَنْفَال مَعَ جَمِيع الْكفَّار فقيده بقوله {كُله}

42 - قَوْله {أم حسبتم أَن تدْخلُوا الْجنَّة وَلما يأتكم مثل الَّذين خلوا من قبلكُمْ} وَقَالَ فِي آل عمرَان {أم حسبتم أَن تدْخلُوا الْجنَّة وَلما يعلم الله الَّذين جاهدوا مِنْكُم وَيعلم الصابرين}

وَقَالَ فِي التَّوْبَة {أم حسبتم أَن تتركوا وَلما يعلم الله الَّذين جاهدوا مِنْكُم} الْآيَة الْخَطِيب أطنب فِي هَذِه الْآيَات ومحصول كَلَامه أَن الأول للنَّبِي وَالْمُؤمنِينَ وَالثَّانِي للْمُؤْمِنين وَالثَّالِث للمخاطبين جَمِيعًا

43 - قَوْله {لَعَلَّكُمْ تتفكرون فِي الدُّنْيَا وَالْآخِرَة} وَفِي آخر السُّورَة {لَعَلَّكُمْ تتفكرون} وَمثله فِي الْأَنْعَام لِأَنَّهُ لما بَين فِي الأول مفعول التفكر وَهُوَ قَوْله {فِي الدُّنْيَا وَالْآخِرَة} حذفه مِمَّا بعده للْعلم بِهِ وَقيل فِي مُتَعَلقَة بقوله {يبين الله لكم الْآيَات لَعَلَّكُمْ تتفكرون}

44 -
কুরআনের যেখানেই প্রশ্ন করা হয়েছে, সেগুলোর উত্তর ‘ফা’ ব্যতিরেকে এসেছে; কেবল মহান আল্লাহর এই বাণী ব্যতিরেকে: {তারা আপনাকে পাহাড়সমূহ সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করে, তবে বলুন, আমার রব সেগুলোকে ধুলিসাৎ করে উড়িয়ে দেবেন}। কেননা এখানে উত্তরটি ‘ফা’ যোগে দেওয়া হয়েছে। এর কারণ হলো, অন্য সব ক্ষেত্রে উত্তরগুলো ছিল প্রশ্ন করার পর, কিন্তু সূরা ত্বহা-তে তা প্রশ্ন করার আগেই এসেছে। যেন বিষয়টি এমন ছিল যে, যদি আপনাকে পাহাড় সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করা হয়, তবে আপনি বলুন, আমার রব সেগুলোকে ধুলিসাৎ করে দেবেন।

41 - মহান আল্লাহর বাণী {এবং দ্বীন আল্লাহর জন্য হয়ে যায়} এই সূরাতে রয়েছে, আর সূরা আনফালে রয়েছে {এবং দ্বীন যেন পুরোপুরি আল্লাহর জন্য হয়ে যায়}। কারণ এই সূরায় যুদ্ধ ছিল মক্কাবাসীদের বিরুদ্ধে, পক্ষান্তরে সূরা আনফালে যুদ্ধ ছিল সকল কাফেরদের বিরুদ্ধে। তাই সেখানে {পুরোপুরি} শব্দের মাধ্যমে বিষয়টিকে সীমাবদ্ধ করা হয়েছে।

42 - মহান আল্লাহর বাণী {অথবা তোমরা কি ভেবেছ যে তোমরা জান্নাতে প্রবেশ করবে, অথচ এখনো তোমাদের কাছে তোমাদের পূর্ববর্তীদের মতো অবস্থা আসেনি?} এবং সূরা আল-ইমরানে বলেছেন {অথবা তোমরা কি মনে করেছ যে তোমরা জান্নাতে প্রবেশ করবে, অথচ এখনো আল্লাহ তোমাদের মধ্যে কারা জিহাদ করেছে তা প্রকাশ করেননি এবং ধৈর্যশীলদেরও প্রকাশ করেননি?}

এবং সূরা তাওবায় বলেছেন {তোমরা কি মনে করেছ যে তোমাদের ছেড়ে দেওয়া হবে, অথচ এখনো আল্লাহ তোমাদের মধ্যে কারা জিহাদ করেছে তা প্রকাশ করেননি?}—আয়াতটি। আল-খতিব এই আয়াতগুলোর দীর্ঘ ব্যাখ্যা দিয়েছেন। তাঁর আলোচনার সারসংক্ষেপ হলো—প্রথমটি নবী ও মুমিনদের উদ্দেশ্যে, দ্বিতীয়টি মুমিনদের উদ্দেশ্যে এবং তৃতীয়টি সকল সম্বোধিত ব্যক্তির উদ্দেশ্যে।

43 - মহান আল্লাহর বাণী {যাতে তোমরা দুনিয়া ও আখিরাত সম্পর্কে চিন্তা-ভাবনা করো} এবং সূরার শেষে রয়েছে {যাতে তোমরা চিন্তা-ভাবনা করো}। সূরা আন'আমেও অনুরূপ রয়েছে। কারণ প্রথম স্থানে যখন চিন্তার বিষয়বস্তু তথা {দুনিয়া ও আখিরাত সম্পর্কে} বর্ণনা করা হয়েছে, তখন পরবর্তীগুলোতে তা জানা থাকার কারণে উহ্য রাখা হয়েছে। আবার বলা হয়েছে যে, এটি মহান আল্লাহর বাণী {আল্লাহ তোমাদের জন্য আয়াতসমূহ স্পষ্ট করে বর্ণনা করেন যাতে তোমরা চিন্তা-ভাবনা করো}-এর সাথে সংশ্লিষ্ট।

44 -
(খণ্ড: ১) আসরারুত তিকরারি ফিল কুরআন = আল-বুরহান ফী তাওজীহি মুতাশাবিহিল কুরআন (পৃষ্ঠা: ৮৫)
قَوْله {وَلَا تنْكِحُوا المشركات} بِفَتْح التَّاء وَالثَّانِي بضَمهَا لِأَن الأول من نكحت وَالثَّانِي من أنكحت وَهُوَ يتَعَدَّى إِلَى مفعولين وَالْمَفْعُول الأول فِي الْآيَة الْمُشْركين وَالثَّانِي مَحْذُوف وَهُوَ الْمُؤْمِنَات أَي لَا تنْكِحُوا الْمُشْركين النِّسَاء الْمُؤْمِنَات حَتَّى يُؤمنُوا

45 - قَوْله {وَلَا تمسكوهن} أَجمعُوا على تخفيفه إِلَّا شاذا وَمَا فِي عير هَذِه السُّورَة قرئَ بِالْوَجْهَيْنِ لِأَن قبله {فأمسكوهن} وَقبل ذَلِك {فإمساك} فَاقْتضى ذَلِك التَّخْفِيف

46 - قَوْله {ذَلِك يوعظ بِهِ من كَانَ مِنْكُم} وَفِي الطَّلَاق {ذَلِكُم يوعظ بِهِ من كَانَ يُؤمن} الْكَاف فِي ذَلِك لمُجَرّد الْخطاب لَا مَحل لَهُ من الْإِعْرَاب فَجَاز الِاخْتِصَار على التَّوْحِيد وَجَاز إجراؤه على عدد المخاطبين وَمثله {عَفَوْنَا عَنْكُم من بعد ذَلِك} وَقيل حَيْثُ جَاءَ موحدا فالخطاب للنَّبِي صلى الله عليه وسلم وَخص بِالتَّوْحِيدِ فِي هَذِه السُّورَة لقَوْله {من كَانَ مِنْكُم} وَجمع فِي الطَّلَاق لما لم يكن بعده {مِنْكُم}

47 - قَوْله {فَلَا جنَاح عَلَيْكُم فِيمَا فعلن فِي أَنْفسهنَّ
তাঁর বাণী {তোমরা মুশরিক নারীদের বিবাহ করো না} এখানে প্রথম ক্ষেত্রে 'তা' বর্ণে ফাতহা এবং দ্বিতীয় ক্ষেত্রে দম্মাহ যোগে পঠিত হবে; কারণ প্রথমটি 'নাকাহাত' এবং দ্বিতীয়টি 'আনকাহাত' ক্রিয়ামূল থেকে আগত। এটি দুটি কর্মপদের দিকে ধাবিত হয়। আয়াতে প্রথম কর্মপদ হলো মুশরিক পুরুষরা এবং দ্বিতীয়টি উহ্য রয়েছে, যা হলো মুমিন নারীগণ। অর্থাৎ, তোমরা মুমিন নারীদের মুশরিক পুরুষদের সাথে বিবাহ দিও না যতক্ষণ না তারা ঈমান আনে।

45 - তাঁর বাণী {আর তোমরা তাদের আটকে রেখো না} বিচ্যুত (شاذ) পাঠরীতি ব্যতীত সকলেই একে তাশদিদবিহীন পড়ার ব্যাপারে একমত হয়েছেন। এই সূরা ব্যতীত অন্য জায়গায় এটি উভয় পদ্ধতিতেই পঠিত হয়েছে। কারণ এর পূর্বে {অতঃপর তাদের আটকে রাখো} এবং তারও পূর্বে {আটকে রাখা} শব্দদ্বয় এসেছে, যা একে তাশদিদবিহীন পড়ার দাবি রাখে।

46 - তাঁর বাণী {তোমাদের মধ্যে যে (আল্লাহ ও পরকালে বিশ্বাস রাখে) তাকে এর মাধ্যমে উপদেশ দেওয়া হচ্ছে} এবং সূরা তলাকে এসেছে {যে ব্যক্তি ঈমান রাখে তাকে এর দ্বারা উপদেশ দেওয়া হচ্ছে}। ‘যালিকা’ শব্দের ‘কাফ’ বর্ণটি কেবল সম্বোধনের জন্য ব্যবহৃত হয়েছে, ব্যাকরণগতভাবে এর কোনো অবস্থান নেই। তাই একে একবচন হিসেবে ব্যবহার করাও বৈধ, আবার সম্বোধনকৃত ব্যক্তিদের সংখ্যা অনুযায়ী প্রয়োগ করাও বৈধ। এর সদৃশ হলো {এরপর আমি তোমাদের ক্ষমা করেছি}। বলা হয়ে থাকে যে, যেখানেই এটি একবচন হিসেবে এসেছে, সেখানে সম্বোধন নবী (সা.)-এর প্রতি করা হয়েছে। এই সূরায় একে একবচন হিসেবে নির্দিষ্ট করার কারণ হলো এরপর {তোমাদের মধ্যে} কথাটি বিদ্যমান থাকা। আর সূরা তলাকে বহুবচন করা হয়েছে কারণ সেখানে পরবর্তীতে {তোমাদের মধ্যে} কথাটি নেই।

47 - তাঁর বাণী {অতঃপর তারা নিজেদের ব্যাপারে বিধিসম্মতভাবে যা করে তাতে তোমাদের কোনো গুনাহ নেই}
(খণ্ড: ১) আসরারুত তিকরারি ফিল কুরআন = আল-বুরহান ফী তাওজীহি মুতাশাবিহিল কুরআন (পৃষ্ঠা: ৮৬)
بِالْمَعْرُوفِ} وَقَالَ فِي الْآيَة الْأُخْرَى من مَعْرُوف 240 لِأَن تَقْدِير الأول فِيمَا فعلن بِأَمْر الله وَهُوَ الْمَعْرُوف وَالثَّانِي فِيمَا فعلن فِي أَنْفسهنَّ فعلا من أفعالهن مَعْرُوفا أَي جَازَ فعله شرعا قَالَ أَبُو مُسلم حاكيا عَن الْخَطِيب إِنَّمَا جَاءَ

الْمَعْرُوف الأول معرف اللَّفْظ لِأَن الْمَعْنى بِالْوَجْهِ الْمَعْرُوف من الشَّرْع لَهُنَّ وَهُوَ الْوَجْه الَّذِي دلّ الله عَلَيْهِ وأبانه وَالثَّانِي كَانَ وَجها من الْوُجُوه الَّتِي لَهُنَّ أَن يأتينه فَأخْرج مخرج النكرَة لذَلِك

قلت النكرَة إِذا تَكَرَّرت صَارَت معرفَة فَإِن قيل كَيفَ يَصح مَا قلت وَالْأول معرفَة وَالثَّانِي نكرَة وَمَا ذهبت إِلَيْهِ يَقْتَضِي ضد هَذَا بِدَلِيل قَوْله تَعَالَى {كَمَا أرسلنَا إِلَى فِرْعَوْن رَسُولا} {فعصى فِرْعَوْن الرَّسُول} فَالْجَوَاب أَن هَذِه الْآيَة بِإِجْمَاع من الْمُفَسّرين مُقَدّمَة على تِلْكَ الْآيَة فِي النُّزُول وَإِن وَقعت مُتَأَخِّرَة فِي التِّلَاوَة وَلِهَذَا نَظِير فِي الْقُرْآن فِي مَوضِع آخر أَو موضِعين وَقد سبق بَيَانه وَأَجْمعُوا أَيْضا على أَن هَذِه الْآيَة مَنْسُوخَة بِتِلْكَ الْآيَة والمنسوخ سَابق على النَّاسِخ ضَرُورَة فصح مَا ذكرت أَن قَوْله
{যথাবিধি (بالمعروف)} এবং তিনি অন্য আয়াতে বলেছেন {বিধিসম্মতভাবে (من معروف)} [বাকারা: ২৪০], কারণ প্রথমটির মর্মার্থ হলো আল্লাহর নির্দেশে তারা যা করেছে এবং তা-ই হলো বিধিসম্মত (المعروف)। আর দ্বিতীয়টি হলো তারা নিজেদের ব্যাপারে যা করেছে এমন কাজ যা বিধিসম্মত (معروفا), অর্থাৎ শরয়িভাবে যার অনুমতি রয়েছে। আবু মুসলিম খতিব থেকে বর্ণনা করে বলেছেন যে, এসেছে...

প্রথম 'আল-মা’রুফ' (المعروف) শব্দটি নির্দিষ্টবাচক (معرف) শব্দে এসেছে কারণ এর অর্থ হলো তাদের জন্য শরিয়ত নির্দেশিত সুনির্দিষ্ট পদ্ধতি, এবং এটিই সেই পথ যা আল্লাহ নির্দেশ করেছেন ও স্পষ্ট করেছেন। আর দ্বিতীয়টি ছিল তাদের জন্য অনুমোদিত বিভিন্ন পদ্ধতির মধ্যে একটি পদ্ধতি, তাই সেটিকে অনির্দিষ্টবাচক (النكرة) হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।

আমি বলি, অনির্দিষ্টবাচক (النكرة) শব্দ যখন পুনরাবৃত্তি হয় তখন তা নির্দিষ্টবাচক (معرفة) হয়ে যায়। যদি বলা হয়, আপনি যা বলেছেন তা কীভাবে সঠিক হয় যেখানে প্রথমটি নির্দিষ্টবাচক (معرفة) এবং দ্বিতীয়টি অনির্দিষ্টবাচক (نكرة)? আর আপনার অভিমত তো এর বিপরীত দাবি করে, যার প্রমাণ আল্লাহর বাণী: {যেমন আমি ফিরআউনের কাছে একজন রাসূল (رسولا) পাঠিয়েছিলাম} {অতঃপর ফিরআউন সেই রাসূলকে (الرسول) অমান্য করল}। এর উত্তর হলো, মুফাসসিরগণের সর্বসম্মত মতে (إجماع) এই আয়াতটি অবতীর্ণ হওয়ার (النُّزُول) দিক থেকে ঐ আয়াতের পূর্ববর্তী, যদিও তিলাওয়াতের ক্রমে তা পরে এসেছে। কুরআনের অন্য এক বা একাধিক স্থানে এর অনুরূপ দৃষ্টান্ত রয়েছে এবং তা ইতোপূর্বে বর্ণিত হয়েছে। তাঁরা এ ব্যাপারেও ঐক্যমত (أجمعوا) পোষণ করেছেন যে, এই আয়াতটি ঐ আয়াত দ্বারা রহিত (منسوخة) হয়েছে; আর রহিত (المنسوخ) আয়াতটি রহিতকারী (الناسخ) আয়াতের আগে হওয়াই আবশ্যক। সুতরাং আমি যা উল্লেখ করেছি তা সঠিক সাব্যস্ত হলো যে, তাঁর বাণী...
(খণ্ড: ১) আসরারুত তিকরারি ফিল কুরআন = আল-বুরহান ফী তাওজীহি মুতাশাবিহিল কুরআন (পৃষ্ঠা: ৮৭)
بِالْمَعْرُوفِ هُوَ مَا ذكر فِي قَوْله من مَعْرُوف فَتَأمل فِيهِ فَإِن هَذَا دَلِيل على إعجاز الْقُرْآن

48 - قَوْله {وَلَو شَاءَ الله مَا اقْتَتَلُوا} كرر هُنَا تَأْكِيدًا وَقيل لَيْسَ بتكرار لِأَن الأول للْجَمَاعَة وَالثَّانِي للْمُؤْمِنين وَقيل كرر تَكْذِيبًا لمن زعم أَن ذَلِك لم يكن بِمَشِيئَة الله تَعَالَى

49 - قَوْله {وَيكفر عَنْكُم من سَيِّئَاتكُمْ} فِي هَذِه السُّورَة بِزِيَادَة {من} مُوَافقَة لما بعْدهَا لِأَن بعْدهَا ثَلَاث آيَات فِيهَا {من} على التوالي وَهِي قَوْله {وَمَا تنفقوا من خير} ثَلَاث مَرَّات

50 - قَوْله {فَيغْفر لمن يَشَاء ويعذب من يَشَاء} {يغْفر} مقدم فِي هَذِه السُّورَة وَغَيرهَا إِلَّا فِي الْمَائِدَة فَإِن فِيهَا {يعذب من يَشَاء وَيغْفر} لِأَنَّهَا نزلت بعْدهَا فِي حق السَّارِق والسارقة وعذابهما يَقع فِي الدُّنْيَا

فَقدم لفظ الْعَذَاب وَفِي غَيرهَا
'ন্যায়সংগতভাবে' বলতে তাঁর বাণী 'ন্যায়সংগত কোনো বিষয় হতে' যা উল্লেখ করা হয়েছে তাকেই নির্দেশ করা হয়েছে; সুতরাং বিষয়টি নিয়ে চিন্তা করুন, কারণ এটি কুরআনের অলৌকিকত্বের একটি প্রমাণ।

48 - মহান আল্লাহর বাণী "আর যদি আল্লাহ ইচ্ছা করতেন তবে তারা লড়াই করত না" - এখানে তাকিদ বা গুরুত্ব প্রদানের জন্য বিষয়টি পুনরাবৃত্তি করা হয়েছে। মতান্তরে এটি পুনরাবৃত্তি নয়, কারণ প্রথমটি সাধারণ মানুষের জন্য এবং দ্বিতীয়টি মুমিনদের জন্য। আবার কেউ কেউ বলেছেন যে, যারা মনে করে যে এটি আল্লাহর ইচ্ছায় ঘটেনি, তাদের মিথ্যা প্রতিপন্ন করার জন্য এটি পুনরায় উল্লেখ করা হয়েছে।

49 - তাঁর বাণী "এবং তিনি তোমাদের থেকে তোমাদের কিছু পাপ মোচন করবেন" - এই সূরাতে 'মিন' অব্যয়টি অতিরিক্ত হিসেবে এসেছে পরবর্তী আয়াতাংশের সাথে সামঞ্জস্য বজায় রাখার জন্য। কেননা এর পরে ধারাবাহিকভাবে তিনটি আয়াতে 'মিন' শব্দটির প্রয়োগ রয়েছে, আর তা হলো তাঁর বাণী "এবং তোমরা যা কিছু কল্যাণ ব্যয় করো" - যা তিনবার এসেছে।

50 - তাঁর বাণী "অতঃপর তিনি যাকে ইচ্ছা ক্ষমা করবেন এবং যাকে ইচ্ছা শাস্তি দেবেন" - এই সূরা এবং অন্যান্য সব স্থানে 'ক্ষমা' শব্দটিকে আগে আনা হয়েছে, কেবল সূরা আল-মায়িদাহ ব্যতীত। কারণ সেখানে রয়েছে "তিনি যাকে ইচ্ছা শাস্তি দেবেন এবং ক্ষমা করবেন"; কেননা এই আয়াতটি চোর ও চোরনী সম্পর্কে অবতীর্ণ হয়েছে এবং তাদের শাস্তি এই দুনিয়াতেই কার্যকর হয়।

তাই এখানে শাস্তির শব্দটিকে আগে আনা হয়েছে এবং অন্যান্য স্থানে (ক্ষমার শব্দটিকে আগে আনা হয়েছে)।
(খণ্ড: ১) আসরারুত তিকরারি ফিল কুরআন = আল-বুরহান ফী তাওজীহি মুতাশাবিহিল কুরআন (পৃষ্ঠা: ৮৮)
قدم لفظ الْمَغْفِرَة رَحْمَة مِنْهُ تَعَالَى وترغيبا للعباد فِي المسارعة إِلَى مُوجبَات الْمَغْفِرَة جعلنَا الله تَعَالَى مِنْهُم يمنه وَكَرمه

 

‌‌سُورَة آل عمرَان

51 - قَوْله تَعَالَى {إِنَّك جَامع النَّاس ليَوْم لَا ريب فِيهِ إِن الله لَا يخلف الميعاد} أَو السُّورَة وَفِي آخرهَا {إِنَّك لَا تخلف الميعاد} فَعدل من الْخطاب إِلَى لفظ الْغَيْبَة فِي أول السُّورَة وَاسْتمرّ على الْخطاب فِي آخرهَا لِأَن مَا فِي أول السُّورَة لَا يتَّصل بالْكلَام الأول كاتصال مَا فِي آخرهَا فَإِن اتِّصَال قَوْله تَعَالَى {إِن الله لَا يخلف الميعاد} بقوله {إِنَّك جَامع النَّاس ليَوْم لَا ريب فِيهِ} معنوي واتصال قَوْله {إِنَّك لَا تخلف الميعاد} بقوله {رَبنَا وآتنا مَا وعدتنا} لَفْظِي ومعنوي جَمِيعًا لتقدم لفظ الْوَعْد وَيجوز أَن يكون الأول استئنافا وَالْآخر من تَمام الْكَلَام

52 - قَوْله {كدأب آل فِرْعَوْن وَالَّذين من قبلهم كذبُوا بِآيَاتِنَا فَأَخذهُم الله} كَانَ الْقيَاس فأخذناهم لَكِن لما عدل فِي الْآيَة الأولى إِلَى قَوْله {إِن الله لَا يخلف الميعاد} عدل فِي هَذِه الْآيَة أَيْضا لتَكون الْآيَات على مَنْهَج وَاحِد

53 - قَوْله {شهد الله أَنه لَا إِلَه إِلَّا هُوَ} ثمَّ كرر فِي هَذِه

الْآيَة فَقَالَ {لَا إِلَه إِلَّا هُوَ} لِأَن الأول جرى مجْرى الشَّهَادَة وَأَعَادَهُ ليجري الثَّانِي مجْرى الحكم بِصِحَّة مَا شهد بِهِ الشُّهُود
মহান আল্লাহর পক্ষ থেকে করুণাস্বরূপ এবং বান্দাদেরকে ক্ষমার কারণসমূহের প্রতি দ্রুত ধাবিত হতে উদ্বুদ্ধ করার জন্য এখানে 'ক্ষমা' শব্দটিকে অগ্রাধিকার দেওয়া হয়েছে। আল্লাহ তাআলা তাঁর অনুগ্রহ ও বদান্যতায় আমাদের তাঁদের অন্তর্ভুক্ত করুন।

 

‌‌সূরা আল ইমরান

51 - মহান আল্লাহর বাণী {নিশ্চয়ই আপনি মানুষকে এমন এক দিনে একত্রিত করবেন যাতে কোনো সন্দেহ নেই; নিশ্চয়ই আল্লাহ প্রতিশ্রুতি ভঙ্গ করেন না} সূরার প্রারম্ভে এবং সূরার শেষে রয়েছে {নিশ্চয়ই আপনি প্রতিশ্রুতি ভঙ্গ করেন না}। সূরার প্রারম্ভে সম্বোধন (خطاب) থেকে পরোক্ষ (غيبة) রীতির দিকে পরিবর্তন করা হয়েছে এবং সূরার শেষে সম্বোধন বজায় রাখা হয়েছে; কারণ সূরার প্রারম্ভে যা আছে তা সূরার শেষের মতো পূর্ববর্তী বাক্যের সাথে ওতপ্রোতভাবে যুক্ত নয়। মহান আল্লাহর বাণী {নিশ্চয়ই আল্লাহ প্রতিশ্রুতি ভঙ্গ করেন না}-এর সাথে {নিশ্চয়ই আপনি মানুষকে এমন এক দিনে একত্রিত করবেন যাতে কোনো সন্দেহ নেই} এই অংশের সংযোগটি হলো অর্থগত (معنوي), আর {নিশ্চয়ই আপনি প্রতিশ্রুতি ভঙ্গ করেন না} এর সাথে {হে আমাদের রব! আমাদের তা দান করুন যার প্রতিশ্রুতি আপনি আমাদের দিয়েছেন} এই অংশের সংযোগটি শব্দগত (لفظي) ও অর্থগত (معنوي) উভয়ই, কারণ 'ওয়াদা' বা প্রতিশ্রুতির কথাটি আগেই উল্লিখিত হয়েছে। এটিও সম্ভব যে, প্রথম অংশটি একটি নতুন বাক্য (استئناف) এবং শেষের অংশটি বাক্যের পূর্ণতা।

52 - মহান আল্লাহর বাণী {ফেরাউনের বংশধর ও তাদের পূর্ববর্তীদের অভ্যাসের ন্যায়, তারা আমাদের নিদর্শনসমূহকে অস্বীকার করেছিল, অতঃপর আল্লাহ তাদের পাকড়াও করলেন}। ভাষাগত নিয়ম অনুযায়ী (قياس) এখানে 'অতঃপর আমরা তাদের পাকড়াও করলাম' হওয়ার কথা ছিল, কিন্তু যেহেতু প্রথম আয়াতে {নিশ্চয়ই আল্লাহ প্রতিশ্রুতি ভঙ্গ করেন না} বাণীতে পরোক্ষ রীতি গ্রহণ করা হয়েছে, তাই এই আয়াতেও সেই রীতি বজায় রাখা হয়েছে যাতে আয়াতসমূহ একই পদ্ধতিতে সংগতিপূর্ণ থাকে।

53 - মহান আল্লাহর বাণী {আল্লাহ সাক্ষ্য দিয়েছেন যে, তিনি ব্যতীত কোনো উপাস্য নেই}, এরপর এই আয়াতেই পুনরাবৃত্তি করে বলা হয়েছে {তিনি ব্যতীত কোনো উপাস্য নেই}। এর কারণ হলো প্রথমটি সাক্ষ্য (شهادة) প্রদানের অর্থে এসেছে, আর দ্বিতীয়টি পুনরায় আনা হয়েছে যাতে তা সাক্ষীদের সাক্ষ্যকৃত বিষয়ের সত্যতার চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত (حكم) হিসেবে গণ্য হয়।
(খণ্ড: ১) আসরারুত তিকরারি ফিল কুরআন = আল-বুরহান ফী তাওজীহি মুতাশাবিহিল কুরআন (পৃষ্ঠা: ৮৯)
54 - قَوْله {ويحذركم الله نَفسه} كَرَّرَه مرَّتَيْنِ لِأَنَّهُ وَعِيد عطف عَلَيْهِ وَعِيد آخر فِي الْآيَة الأولى فَإِن قَوْله {وَإِلَى الله الْمصير} مَعْنَاهُ مصيركم إِلَى الله وَالْعَذَاب معد لَدَيْهِ فاستدركه فِي الْآيَة الثَّانِيَة بوعد وَهُوَ قَوْله تَعَالَى {وَالله رؤوف بالعباد} والرأفة أَشد من الرَّحْمَة وَقيل من رأفته تحذيره

55 - قَوْله {قَالَ رب أَنى يكون لي غُلَام وَقد بَلغنِي الْكبر وامرأتي عَاقِر} قدم فِي هَذِه السُّورَة ذكر الْكبر وَأخر ذكر الْمَرْأَة وَقَالَ فِي سُورَة مَرْيَم {وَكَانَت امْرَأَتي عاقرا وَقد بلغت من الْكبر عتيا} فَقدم ذكر الْمَرْأَة لِأَن فِي مَرْيَم قد تقدم ذكر الْكبر فِي قَوْله {وَهن الْعظم مني} وَتَأَخر ذكر الْمَرْأَة فِي قَوْله {وَإِنِّي خفت الموَالِي من ورائي وَكَانَت امْرَأَتي عاقرا} ثمَّ أعَاد ذكرهَا فَأخر ذكر الْكبر ليُوَافق {عتيا} مَا بعده من الْآيَات وَهِي {سويا} و {عشيا} و {صَبيا}

56 - قَوْله {قَالَت رب أَنى يكون لي ولد} وَفِي مَرْيَم {قَالَ رب أَنى يكون لي غُلَام} لِأَن فِي هَذِه السُّورَة تقدم ذكر الْمَسِيح وَهُوَ وَلَدهَا وَفِي مَرْيَم تقدم ذكر الْغُلَام حَيْثُ قَالَ {لأهب لَك غُلَاما زكيا}

57 - قَوْله {فأنفخ فِيهِ} وَفِي الْمَائِدَة {فتنفخ فِيهَا} قيل الضَّمِير فِي هَذِه السُّورَة يعود إِلَى الطير وَقيل
54 - তাঁর বাণী {আর আল্লাহ তোমাদেরকে তাঁর নিজের ব্যাপারে সতর্ক করছেন} - এটি দুইবার পুনরাবৃত্তি করা হয়েছে কারণ এটি একটি সতর্কবাণী (وعيد), যার সাথে প্রথম আয়াতে অন্য একটি সতর্কবাণী যুক্ত হয়েছে। কেননা তাঁর বাণী {আর আল্লাহর দিকেই প্রত্যাবর্তন} এর অর্থ হলো তোমাদের প্রত্যাবর্তন আল্লাহর দিকে এবং শাস্তি তাঁর নিকট প্রস্তুত রয়েছে। তাই দ্বিতীয় আয়াতে একটি প্রতিশ্রুতি (وعد) দ্বারা তার সামঞ্জস্য বিধান করা হয়েছে এবং তা হলো মহান আল্লাহর বাণী {আর আল্লাহ বান্দাদের প্রতি অত্যন্ত মমতাময়}। আর মমতা (رأفة) হলো দয়া (رحمة) অপেক্ষা অধিকতর গভীর। বলা হয়ে থাকে যে, তাঁর মমতারই বহিঃপ্রকাশ হলো তাঁর এই সতর্কীকরণ।

55 - তাঁর বাণী {তিনি বললেন, হে আমার রব! আমার কিভাবে পুত্র সন্তান হবে যখন আমার বার্ধক্য এসে গেছে এবং আমার স্ত্রী বন্ধ্যা?} - এই সূরায় বার্ধক্যের কথা আগে উল্লেখ করা হয়েছে এবং স্ত্রীর কথা পরে রাখা হয়েছে। পক্ষান্তরে সূরা মারয়ামে বলা হয়েছে {আর আমার স্ত্রী ছিল বন্ধ্যা এবং আমি বার্ধক্যের চরম সীমায় পৌঁছেছি}। সেখানে স্ত্রীর কথা আগে আনা হয়েছে, কারণ সূরা মারয়ামে ইতোপূর্বে {আমার অস্থি দুর্বল হয়ে গেছে} বলে বার্ধক্যের উল্লেখ করা হয়েছিল। আর স্ত্রীর উল্লেখ পরে এসেছিল তাঁর এই বাণীতে {আর আমি আমার পর আমার উত্তরসূরিদের ব্যাপারে আশঙ্কা করছি এবং আমার স্ত্রী ছিল বন্ধ্যা}। অতঃপর পুনরায় স্ত্রীর উল্লেখ করার সময় বার্ধক্যের উল্লেখকে পরে রাখা হয়েছে যাতে 'বার্ধক্যের চরম সীমা' (عتيا) শব্দটি পরবর্তী আয়াতসমূহের অন্ত্যমিলের সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ হয়, যা হলো 'সুস্থ-সবল' (سويا), 'সন্ধ্যাবেলা' (عشيا) এবং 'শৈশব' (صبيا)।

56 - তাঁর বাণী {তিনি বললেন, হে আমার রব! আমার কিভাবে সন্তান হবে?} অথচ সূরা মারয়ামে রয়েছে {তিনি বললেন, হে আমার রব! আমার কিভাবে পুত্র সন্তান হবে?}। কারণ এই সূরায় ইতোপূর্বে মাসীহ এর উল্লেখ এসেছে যিনি তাঁর সন্তান; আর সূরা মারয়ামে ইতোপূর্বে পুত্র সন্তানের (غلام) কথা উল্লেখ করা হয়েছে যেখানে তিনি বলেছিলেন {যাতে আমি তোমাকে এক পবিত্র পুত্র সন্তান দান করতে পারি}।

57 - তাঁর বাণী {অতঃপর আমি তাতে ফুঁ দেবো} এবং সূরা মায়িদাহ-তে রয়েছে {অতঃপর তুমি তাতে ফুঁ দেবে}। বলা হয়ে থাকে যে, এই সূরার সর্বনাম (الضمير) পাখির (الطير) দিকে প্রত্যাবর্তন করেছে, আবার বলা হয়ে থাকে যে...
(খণ্ড: ১) আসরারুত তিকরারি ফিল কুরআন = আল-বুরহান ফী তাওজীহি মুতাশাবিহিল কুরআন (পৃষ্ঠা: ৯০)
إِلَى الطين وَقيل إِلَى المهيأ وَقيل إِلَى الْكَاف فَإِنَّهُ فِي معنى مثل وَفِي الْمَائِدَة يعود إِلَى الْهَيْئَة وَهَذَا جَوَاب التَّذْكِير والتأنيث لَا جَوَاب التَّخْصِيص وَإِنَّمَا الْكَلَام وَقع فِي التَّخْصِيص وَهل يجوز أَن يكون كل وَاحِد مِنْهُمَا مَكَان الآخر أم لَا فَالْجَوَاب أَن يُقَال فِي هَذِه السُّورَة إِخْبَار قبل الْفِعْل فوحده وَفِي الْمَائِدَة خطاب من الله تَعَالَى لَهُ يَوْم الْقِيَامَة وَقد تقدم من عِيسَى عليه السلام الْفِعْل مَرَّات وَالطير صَالح للْوَاحِد وَصَالح للْجَمِيع

58 - قَوْله {بِإِذن الله} ذكر فِي هَذِه الْآيَة مرَّتَيْنِ وَقَالَ فِي الْمَائِدَة {بإذني} أَربع مَرَّات لِأَن مَا فِي هَذِه السُّورَة كَلَام عِيسَى فَمَا يتَصَوَّر أَن يكون من فعل الْبشر أَضَافَهُ إِلَى نَفسه وَهُوَ الْخلق الَّذِي مَعْنَاهُ التَّقْدِير والنفخ الَّذِي هُوَ إِخْرَاج الرّيح من الْفَم وَمَا يتَصَوَّر إِضَافَته إِلَى الله تَعَالَى أَضَافَهُ إِلَيْهِ وَهُوَ قَوْله {فَيكون طيرا بِإِذن الله وأبرئ الأكمه والأبرص} بِمَا يكون فِي طوق الْبشر فَإِن الأكمة عِنْد بعض الْمُفَسّرين الْأَعْمَش وَعند بَعضهم الْأَعْشَى وَعند بَعضهم الَّذِي يُولد

أعمى وإحياء الْمَوْتَى من فعل الله فأضافه إِلَيْهِ

وَمَا فِي الْمَائِدَة من كَلَام الله سبحانه وتعالى فأضاف جَمِيع ذَلِك إِلَى صنعه إِظْهَارًا لعجز الْبشر وَلِأَن فعل العَبْد مَخْلُوق لله تَعَالَى

وَقيل {بِإِذن الله} يعود إِلَى الْأَفْعَال الثَّلَاثَة وَكَذَلِكَ
কাদার (الطين) দিকে, আবার বলা হয়েছে প্রস্তুতকৃত রূপের (المهيأ) দিকে, আবার বলা হয়েছে ‘কাফ’ (الكاف) অক্ষরের দিকে, কেননা এটি ‘সদৃশ’ (مثل) অর্থে ব্যবহৃত হয়েছে। আর সূরা আল-মায়েদাহর ক্ষেত্রে এটি আকৃতি বা কাঠামোর (الهيئة) দিকে ফিরেছে। এটি পুংলিঙ্গ (التذكير) ও স্ত্রীলিঙ্গ (التأنيث) সংক্রান্ত উত্তর, সুনির্দিষ্টকরণের (التخصيص) উত্তর নয়। মূলত আলোচনাটি সুনির্দিষ্টকরণ বিষয়েই আবর্তিত হয়েছে। তাদের একটির পরিবর্তে অন্যটির ব্যবহার বৈধ কি না—এর উত্তরে বলা যায় যে, এই সূরায় কাজের পূর্বের সংবাদ প্রদান করা হয়েছে, তাই একে একবচন করা হয়েছে। আর সূরা আল-মায়েদাহতে কিয়ামতের দিন আল্লাহ তাআলার পক্ষ থেকে তাঁর প্রতি সম্বোধন করা হয়েছে; অথচ ইতিপূর্বে ঈসা আলাইহিস সালাম থেকে কাজগুলো বহুবার সম্পাদিত হয়েছে। আর ‘পাখি’ (الطير) শব্দটি একবচন (الواحد) ও বহুবচন (الجميع) উভয় ক্ষেত্রেই ব্যবহারের উপযোগী।

৫৮ - তাঁর বাণী {আল্লাহর অনুমতিক্রমে (بإذن الله)}, এই আয়াতে দুইবার উল্লিখিত হয়েছে। আর সূরা আল-মায়েদাহতে {আমার অনুমতিক্রমে (بإذني)} কথাটি চারবার এসেছে। কারণ এই সূরার বক্তব্য হলো ঈসা (আলাইহিস সালাম)-এর কথা। মানুষের কাজ হিসেবে যা কল্পনা করা যায়, তিনি তা নিজের দিকে সম্বন্ধ করেছেন। আর তা হলো আকৃতি দান করা (الخلق), যার অর্থ হলো নির্ধারণ বা রূপরেখা তৈরি করা (التقدير), এবং ফুঁ দেওয়া (النفخ), যা হলো মুখ থেকে বাতাস বের করা। আর যা আল্লাহর দিকে সম্বন্ধ করা কল্পনাযোগ্য, তা তিনি আল্লাহর দিকেই সম্বন্ধ করেছেন। আর তা হলো তাঁর বাণী: {ফলে তা আল্লাহর অনুমতিক্রমে (بإذن الله) পাখি হয়ে যেত এবং আমি জন্মান্ধ ও কুষ্ঠরোগীকে নিরাময় করতাম}। যা মানুষের সাধ্যায়ত্ত বিষয়ের অন্তর্ভুক্ত, কারণ কোনো কোনো মুফাসসিরের (المفسرين) মতে ‘অন্ধ’ (الأكمة) হলো ‘ঝাপসা দৃষ্টিসম্পন্ন’ (الأعمش), কারো মতে ‘রাতকানা’ (الأعشى), আবার কারো মতে যিনি জন্মগ্রহণ করেন

অন্ধ (أعمى) হিসেবে। আর মৃতকে জীবিত করা (إحياء الموتى) আল্লাহ তাআলার কাজ, তাই তিনি তা তাঁর দিকে সম্বন্ধ করেছেন।

আর সূরা আল-মায়েদাহতে যা বর্ণিত হয়েছে তা মহান আল্লাহর কালাম, তাই তিনি এই সমস্ত বিষয়কে তাঁর স্বীয় কর্মের (صنعه) দিকে সম্বন্ধ করেছেন মানুষের অক্ষমতা (عجز) প্রকাশের জন্য এবং এজন্য যে বান্দার কাজও মূলত আল্লাহরই সৃষ্টি (مخلوق)।

বলা হয়েছে যে, {আল্লাহর অনুমতিক্রমে (بإذن الله)} বাক্যটি তিনটি কাজের দিকেই প্রত্যাবর্তন করে এবং একইভাবে...
(খণ্ড: ১) আসরারুত তিকরারি ফিল কুরআন = আল-বুরহান ফী তাওজীহি মুতাশাবিহিল কুরআন (পৃষ্ঠা: ৯১)
الثَّانِي يعود إِلَى الثَّلَاثَة الْأُخْرَى

59 - قَوْله {إِن الله رَبِّي وربكم} وَكَذَلِكَ فِي مَرْيَم {رَبِّي وربكم} وَفِي الزخرف فِي هَذِه الْقِصَّة {إِن الله هُوَ رَبِّي وربكم} بِزِيَادَة هُوَ

قَالَ الشَّيْخ إِذا قلت زيد هُوَ قَائِم فَيحْتَمل أَن يكون تَقْدِيره وَعمر قَائِم فَإِذا قلت زيد هُوَ الْقَائِم خصصت الْقيام بِهِ فَهُوَ كَذَلِك فِي الْآيَة وَهَذَا مِثَاله لِأَن هُوَ يذكر فِي مثل هَذِه الْمَوَاضِع إعلاما أَن الْمُبْتَدَأ مَقْصُور على هَذَا الْخَبَر وَهَذَا الْخَبَر مَقْصُور عَلَيْهِ دون غَيره

وَالَّذِي فِي آل عمرَان وَقع بعد عشر آيَات من قصَّتهَا وَلَيْسَ كَذَلِك مَا فِي الزخرف فَإِنَّهُ ابْتِدَاء كَلَام مِنْهُ فَحسن التَّأْكِيد بقوله هُوَ ليصير الْمُبْتَدَأ مَقْصُورا على الْخَبَر الْمَذْكُور فِي الْآيَة وَهُوَ إِثْبَات الربوبية وَنفى الْأُبُوَّة تَعَالَى الله عَن ذَلِك علوا كَبِيرا

60 - قَوْله {بِأَنا مُسلمُونَ} فِي هَذِه السُّورَة وَفِي الْمَائِدَة {بأننا} لِأَن مَا فِي الْمَائِدَة أول كَلَام الحواريين فجَاء على الأَصْل وَمَا فِي هَذِه السُّورَة تكْرَار لكلامهم فَجَاز فِيهِ التَّخْفِيف لِأَن التَّخْفِيف فرع والتكرار فرع وَالْفرع بالفرع أولى

61 - قَوْله {الْحق من رَبك فَلَا تكن} فِي هَذِه السُّورَة وَفِي الْبَقَرَة {فَلَا تكونن} لِأَن مَا فِي هَذِه السُّورَة جَاءَ على الأَصْل وَلم يكن فِيهَا مَا أوجب إِدْخَال نون التوكيد فِي الْكَلِمَة بِخِلَاف سُورَة الْبَقَرَة فَإِن فِيهَا فِي أول الْقِصَّة {فلنولينك قبْلَة ترضاها} بنُون التوكيد فَأوجب الازدواج إِدْخَال النُّون فِي الْكَلِمَة فَيصير
দ্বিতীয়টি অন্য তিনটির দিকে ফিরে যায়।

৫৯ - তাঁর বাণী {নিশ্চয়ই আল্লাহ আমার রব এবং তোমাদের রব}; আর অনুরূপভাবে মারইয়াম সূরায় {আমার রব এবং তোমাদের রব}, এবং যুখরুফ সূরায় এই বর্ণনায় {নিশ্চয়ই আল্লাহ তিনিই আমার রব এবং তোমাদের রব} ‘তিনি’ শব্দটির বৃদ্ধিসহ।

শায়খ বলেন, আপনি যখন বলেন "যায়েদ সে দণ্ডায়মান", তখন সম্ভাবনা থাকে যে এর প্রচ্ছন্ন অর্থ হলো "আর আমরও দণ্ডায়মান"। কিন্তু যখন আপনি বলেন "যায়েদই দণ্ডায়মান", তখন আপনি দণ্ডায়মান হওয়াকে কেবল তার সাথেই সুনির্দিষ্ট করলেন। আয়াতের বিষয়টিও ঠিক তেমন। এটি তার উদাহরণ, কারণ এ জাতীয় স্থানে ‘তিনি’ শব্দটির উল্লেখ করা হয় এটা বুঝাতে যে, মুক্তাদা (উদ্দেশ্য) কেবল এই খবরের (বিধেয়) মধ্যেই সীমাবদ্ধ এবং এই খবরটিও কেবল তার সাথেই সীমাবদ্ধ, অন্য কারও জন্য নয়।

আর আল-ইমরান সূরায় যা এসেছে তা তাঁর কাহিনীর দশটি আয়াতের পরে অবস্থিত। কিন্তু যুখরুফ সূরার বিষয়টি তেমন নয়; কারণ তা তাঁর বক্তব্যের প্রারম্ভ। তাই সেখানে তাকিদ বা গুরুত্ব প্রদানের জন্য ‘তিনি’ শব্দটির ব্যবহার উত্তম হয়েছে যাতে মুক্তাদা উল্লিখিত খবরের মধ্যে সীমাবদ্ধ হয়। আর তা হলো রুবুবিয়্যাত (প্রভুত্ব) সাব্যস্ত করা এবং পিতৃত্বকে অস্বীকার করা; আল্লাহ তাআলা তা থেকে অত্যন্ত উর্ধ্বে।

৬০ - তাঁর বাণী {যে আমরা মুসলিম} এই সূরায়, এবং মায়েদা সূরায় {যে নিশ্চয়ই আমরা}। কারণ মায়েদা সূরায় যা আছে তা হাওয়ারিগণের প্রাথমিক কথা, তাই তা মূল (أصل) রীতি অনুযায়ী এসেছে। আর এই সূরায় যা আছে তা তাদের কথার পুনরাবৃত্তি, তাই এখানে লঘু করা (تخفيف) বৈধ হয়েছে। কারণ লঘু করা (تخفيف) একটি শাখা (فرع) এবং পুনরাবৃত্তিও একটি শাখা (فرع); আর শাখার সাথে শাখার মিল থাকাই অধিক সঙ্গত।

৬১ - তাঁর বাণী {সত্য তোমার রবের পক্ষ থেকে, সুতরাং তুমি হয়ো না} এই সূরায়, এবং বাকারা সূরায় {সুতরাং তুমি অবশ্যই হয়ো না}। কারণ এই সূরায় যা এসেছে তা মূল (أصل) নিয়ম অনুযায়ী এবং সেখানে তাকিদযুক্ত নুন (نون التوكيد) যুক্ত করার মতো কোনো কারণ নেই। পক্ষান্তরে বাকারা সূরার বিষয়টি ভিন্ন; কারণ সেখানে কাহিনীর শুরুতে {অবশ্যই আমি তোমাকে সেই কিবলার দিকে ফিরিয়ে দেব যা তুমি পছন্দ করো} তাকিদযুক্ত নুন (نون التوكيد) সহকারে এসেছে। ফলে পারস্পরিক সামঞ্জস্য (ازدواج) বজায় রাখা শব্দটিতে নুন যুক্ত করাকে আবশ্যক করেছে, ফলে তা হয়েছে...