(খণ্ড: ১)
আল-বুলদানিয়্যাত লিস সাখাবী
(পৃষ্ঠা: -)
البلدانيات للسخاوي القسم: كتب السنة
الكتاب: البلدانيات
المؤلف: شمس الدين، محمد بن عبد الرحمن السخاوي (ت 902 هـ)
المحقق: حسام بن محمد القطَّان
الناشر: دار العطاء - الرياض
الطبعة: الأولى، 1422 هـ - 2001 م
[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]
عدد الصفحات: 303
تاريخ النشر بالشاملة: 8 ذو الحجة 1431
সাখাওয়ীর আল-বালদানিয়াত বিভাগ: সুন্নাহর কিতাবসমূহ
গ্রন্থ: আল-বালদানিয়াত
লেখক: শামসুদ্দিন, মুহাম্মদ বিন আব্দুর রহমান আস-সাখাওয়ী (মৃত্যু ৯০২ হিজরি)
তাহকীক: হুসাম বিন মুহাম্মদ আল-কাত্তান
প্রকাশক: দারুল আতা - রিয়াদ
সংস্করণ: প্রথম, ১৪২২ হিজরি - ২০০১ খ্রিস্টাব্দ
[গ্রন্থের পৃষ্ঠা নম্বর মূল মুদ্রিত কপির অনুরূপ]
পৃষ্ঠা সংখ্যা: ৩০৩
শামিলাতে প্রকাশের তারিখ: ৮ জুলহজ ১৪৩১
(খণ্ড: ১)
আল-বুলদানিয়্যাত লিস সাখাবী
(পৃষ্ঠা: ٤٣)
الْبَاب الأَوَّلجدةوقدمت للضَّرُورَة وَهِيَ بِضَم الْجِيم وَتَشْديد الدَّال الْمُهْملَة ثُمَّ هَاء بليدَة بشاطئ الْبَحْر عَلَى مرحلَتَيْنِ من مَكَّة بَينهمَا أَرْبَعُونَ ميلًا وَهِيَ مرساتها وفرضتها بل ساحلها الْأَعْظَم ومِنْهَا يركب الْمُسَافِر فِي الْبَحْر إِلَى الْبِلَاد وَأول من جعلهَا ساحلًا عُثْمَان رضي الله عنه بَعْد استشارته النَّاس فِي ذَلِك لما سُئِلَ فِيهِ فِي سنة سِتّ وَعشْرين من الْهِجْرَة وَكَانَ سَاحل مَكَّة قبل ذَلِك الشعيبة ويروى فِي فَضلهَا - مِمَّا لَا يَصح - عَنِ ابْن عمر رضي الله عنهما مَرْفُوعا يَأْتِي عَلَى النَّاس زمَان يكون أفضل الرِّبَاط رِبَاط جدة
প্রথম অধ্যায়জিদ্দাহপ্রয়োজনীয়তার খাতিরে এটি আগে বর্ণিত হয়েছে। শব্দটি জিম বর্ণের পেশ এবং নুকতাহীন দাল বর্ণের তাশদীদ, অতঃপর হা বর্ণের যোগে উচ্চারিত হয়। এটি সমুদ্র উপকূলে অবস্থিত একটি ক্ষুদ্র শহর যা মক্কা থেকে দুই মনজিল দূরত্বে অবস্থিত এবং উভয়ের মধ্যবর্তী দূরত্ব চল্লিশ মাইল। এটি মক্কার জাহাজ ভেড়ার স্থান ও বন্দর, বরং এটিই এর প্রধান উপকূল। এখান থেকেই ভ্রমণকারীরা সমুদ্রপথে বিভিন্ন দেশের উদ্দেশ্যে আরোহণ করে। হিজরি ২৬ সনে এ বিষয়ে যখন তাকে অনুরোধ করা হয়, তখন মানুষের সাথে পরামর্শক্রমে উসমান (রাদিয়াল্লাহু আনহু) একে সর্বপ্রথম বন্দর হিসেবে গ্রহণ করেন। এর আগে শুআইবাহ ছিল মক্কার উপকূল। এর ফজিলত সম্পর্কে ইবনে উমর (রাদিয়াল্লাহু আনহুমা) থেকে মারফু সূত্রে বর্ণিত হয়েছে—যা সহিহ নয়—যে, মানুষের নিকট এমন এক যুগ আসবে যখন জিদ্দার সীমান্ত পাহারা হবে সর্বশ্রেষ্ঠ সীমান্ত পাহারা।
(খণ্ড: ১)
আল-বুলদানিয়্যাত লিস সাখাবী
(পৃষ্ঠা: ٤٤)
وَعَن عَلِي رضي الله عنه رَفعه أَيْضا أَرْبَعَة أَبْوَاب من أَبْوَاب الْجنَّة مفتحة فِي الدُّنْيَا أولهنَّ الْإسْكَنْدَريَّة وعسقلان وقزوين وعبادان وَفضل جدة عَلَى هَؤُلَاءِ كفضل بَيت اللَّه الْحَرَام عَلَى سَائِر الْبيُوت ذكرهمَا ابْن الْجَوْزِيّ فِي الموضوعات وَعَن عَمْرو بْن شُعَيْب عَنْ أَبِيهِ عَنْ جده رَفعه أَيْضا مَكَّةُ رِبَاطٌ وَجَدَّةُ جِهَادٌ أخرجه الفاكهي وَسَنَده ضَعِيف جدا وَهُوَ عِنْده عَنِ ابْن جريج من قَوْله وَقَالَ ابْن جريج عقبه إِنِّي لأرجو أَن يَكُون فضل المرابط بهَا عَلَى غَيرهَا كفضل مَكَّة عَلَى سَائِر الْبلدَانِ وَعِنْده أَيْضا من جِهَة ابْن جريج عَنْ عَطَاء قَالَ إِنَّمَا جدة خزانَة مَكَّة
এবং আলী (রাযিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণিত, তিনিও এটি মারফূ হিসেবে বর্ণনা করেছেন: জান্নাতের দরজাগুলোর মধ্য হতে চারটি দরজা দুনিয়াতে উন্মুক্ত; সেগুলো হলো আলেকজান্দ্রিয়া, আসকালান, কাজভিন এবং আবাদান। আর এগুলোর ওপর জেদ্দার শ্রেষ্ঠত্ব হলো অন্যান্য সমস্ত গৃহের ওপর আল্লাহর সম্মানিত গৃহের শ্রেষ্ঠত্বের ন্যায়। ইবনুল জাওযী ‘আল-মাওদূআত’ গ্রন্থে এ দুটি উল্লেখ করেছেন। এবং আমর ইবনে শুআইব তাঁর পিতা থেকে এবং তিনি তাঁর দাদা থেকে মারফূ হিসেবে বর্ণনা করেছেন: মক্কা হলো রিবাত এবং জেদ্দা হলো জিহাদ। আল-ফাকিহী এটি বর্ণনা করেছেন এবং এর সনদ অত্যন্ত দুর্বল। আর এটি তাঁর নিকট ইবনে জুরাইজের নিজস্ব উক্তি হিসেবে বর্ণিত। ইবনে জুরাইজ এর পরপরই বলেন, নিশ্চয়ই আমি আশা করি যে, সেখানে অবস্থানরত প্রহরীর শ্রেষ্ঠত্ব অন্যদের ওপর তেমন হবে, যেমন অন্যান্য শহরের ওপর মক্কার শ্রেষ্ঠত্ব। তাঁর নিকট ইবনে জুরাইজের সূত্রে আতা থেকেও বর্ণিত হয়েছে, তিনি বলেন: জেদ্দা মূলত মক্কার ভাণ্ডার স্বরূপ।
(খণ্ড: ১)
আল-বুলদানিয়্যাত লিস সাখাবী
(পৃষ্ঠা: ٤٥)
وَإِنَّمَا يُؤْتِي بِهِ إِلَى مَكَّة وَلَا يخرج بِهِ مِنْهَا وَمن جِهَة ضوء بْن فجر قَالَ كنت جَالِسا مَعَ عباد بْن كثير فِي الْمَسْجِد الْحَرَام فَقُلْتُ الْحَمد لِلَّهِ الَّذِي جعلنَا فِي أفضل الْمجَالِس وَأَشْرَفهَا قَالَ وَأَيْنَ أَنْتَ عَنْ جدة الصَّلَاة فِيهَا سَبْعَة عشر ألف صَلَاة وَالدِّرْهَم فِيهَا مئة ألف وأعمالها بِقدر ذَلِكَ يغْفر للنَّاظِر فِيهَا مد بَصَره قُلْت رَحِمك اللَّه مِمَّا يَلِي الْبَحْر فَقَالَ مِمَّا يَلِي الْبَحْر وَمن جِهَة عُبَيْد اللَّهِ بْن سَعِيد بْن قنديل قَالَ جَاءَنَا فرقد السبخي بجدة فَقَالَ إِنِّي رجل أَقرَأ هَذِه الْكتب وَإِنِّي لأجد فِيمَا أنزل اللَّه عز وجل من كتبه جدة أَوْ جَدِيدَة يَكُون بهَا قَتْلَى وشهداء لَا شَهِيد يَوْمئِذٍ عَلَى ظهر الأَرْض أفضل مِنْهُم وَذكر ابْن جُبَيْر أَنه رأى بهَا أثر سور محدق بهَا وَأَنه كَانَ بهَا مَوضِع فِيهِ قبَّة مشيدة عتيقة يذكر أَنَّهَا منزل حَوَّاء أم الْبشر زوج آدم عليهما السلام فَلَعَلَّهُ
এটি কেবল মক্কায় আনা হয় এবং তা থেকে বের করা হয় না। আর দিউ বিন ফাজর-এর সূত্রে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি মাসজিদুল হারামে আব্বাদ বিন কাসীরের সাথে বসা ছিলাম। আমি বললাম, "সেই আল্লাহর প্রশংসা যিনি আমাদেরকে সর্বোত্তম ও সর্বাধিক সম্মানিত মজলিসে স্থান দিয়েছেন।" তিনি বললেন, "তুমি জেদ্দার ব্যাপারে কোথায় পড়ে আছ? সেখানে এক সালাত সতেরো হাজার সালাতের সমান, সেখানে এক দিরহাম দান এক লক্ষ দিরহামের সমান এবং সেখানকার আমলসমূহ সেই পরিমাণ (মর্যাদাসম্পন্ন)। সেখানে দৃষ্টিপাতকারীর জন্য তার দৃষ্টির সীমা পর্যন্ত ক্ষমা করে দেওয়া হয়।" আমি বললাম, "আল্লাহ আপনার ওপর রহম করুন, সমুদ্রের দিকের কথা বলছেন?" তিনি বললেন, "সমুদ্রের দিকের কথা।" উবাইদুল্লাহ বিন সাঈদ বিন কানদীল-এর সূত্রে বর্ণিত, তিনি বলেন, ফারকাদ আস-সাবখি আমাদের নিকট জেদ্দায় আসলেন এবং বললেন, "আমি এমন এক ব্যক্তি যে কিতাবসমূহ পাঠ করি। নিশ্চয়ই আমি আল্লাহ আযযা ওয়া জাল্লা নাযিলকৃত কিতাবসমূহে জেদ্দা বা জাদিদাহ সম্পর্কে পাই যে, সেখানে এমন নিহত ও শহীদগণ হবেন যাদের চেয়ে শ্রেষ্ঠ শহীদ সেই সময় যমীনের বুকে আর কেউ থাকবে না।" ইবনে জুবায়ের উল্লেখ করেছেন যে, তিনি সেখানে তাকে বেষ্টন করে রাখা একটি প্রাচীরের চিহ্ন দেখেছেন। আরও দেখেছেন যে, সেখানে একটি স্থান ছিল যেখানে একটি সুউচ্চ প্রাচীন গম্বুজ ছিল; উল্লেখ করা হয় যে এটি ছিল আদম (আলাইহিমাস সালাম)-এর স্ত্রী মানবজাতির মাতা হাওয়ার আবাসস্থল। সম্ভবত...
(খণ্ড: ১)
আল-বুলদানিয়্যাত লিস সাখাবী
(পৃষ্ঠা: ٤٦)
الْمَكَان الَّذِي يُقَال لَهُ الْآن قبر حَوَّاء وَقَدْ قَالَ ابْن عَبَّاس رضي الله عنهما كَمَا عِنْدَ الفاكهي إِن قبرها بجدة وَمِمَّا ذكره ابْن جريج أَن بهَا مسجدين ينسبان لعمر بْن الْخَطَّاب رضي الله عنه يُقَال لأَحَدهمَا مَسْجِد الأبنوس لساريتين فِيهِ من خشب الأبنوس وَهُوَ مَعْرُوف إِلَى الْآن وَأَمَّا الآخر فَيمكن أَن يَكُون هُوَ الْمَسْجِد الَّذِي تُقَام فِيهِ الْجُمُعَة بهَا وَهُوَ من عمَارَة المظفر صَاحب الْيمن فِيمَا قيل وَهِيَ من الْبِلَاد الَّتِي سمع بهَا الطَّبَرَانِي عَلَى بَعْض شُيُوخه وَأَبُو حَيَّان عَلَى أَحْمَد بْن مُحَمَّد بْن الْحَسَن الحراز الزبيدِيّ وَكَذَا شَيخنَا وإليها ينْسب جَمَاعَة مِنْهُم أَحْمَد بْن سَعِيد بْن فرقد وَجَابِر بْن مَرْزُوق أَبُو عَبْد الرَّحْمَنِ وَحَفْص بْن عُمَر بْن عَبْد اللَّهِ وَعبد الْملك بْن إِبْرَاهِيمَ وَعلي بْن مُحَمَّد الْقطَّان شيخ لأبي مُحَمَّد الْأَكْفَانِيِّ وَفِي الصَّحَابَة رضي الله عنهم من ينتسب الجدي - بِفَتْح الْجِيم - لكَون بَعْض أجداده من اسْمه الْجد وَكَذَا فِي الألقاب الجدي بِضَم الْجِيم وَفتح الْمُهْملَة وتثقيل الْيَاء لسَعِيد بْن عَبدُوس الأندلسي بَل وَفِي الْأَسْمَاء عدَّة كَذَلِك وَالله الْمُوفق
1 - أَخْبَرَنِي الإِمَامُ أَبُو الْحَسَنِ عَلِيُّ بْنُ إِبْرَاهِيمَ بْنِ عَلِيٍ الْيَمَانِيُّ ثُمَّ الْمَكِّيُّ الشَّافِعِيُّ بِقَرَاءَتِي عَلَيْهِ بِمَنْزِلِ الْخَوَاجَا جَمَالِ الدِّينِ الدَّقُوقِيُّ مِنْ بَنْدَرِ جَدَّةَ - حَرَسَهُ اللَّهُ - وَهُوَ أَوَّلُ حَدِيثٍ قَرَأْتُهُ عَلَيْهِ - قُلْتُ لَهُ قَرَأْتُ عَلَى الإِمَامِ
যে স্থানটিকে বর্তমানে হাওয়া (আলাইহিস সালাম)-এর কবর বলা হয়, আল-ফাকিহির বর্ণনা অনুযায়ী ইবনে আব্বাস (রাদিয়াল্লাহু আনহুমা) বলেছেন যে, তাঁর কবর জেদ্দায় অবস্থিত। ইবনে জুরাইজ উল্লেখ করেছেন যে সেখানে উমর ইবনুল খাত্তাব (রাদিয়াল্লাহু আনহু)-এর সাথে সম্পৃক্ত দুটি মসজিদ রয়েছে। এর একটিকে 'মসজিদুল অবনূস' বলা হয় কারণ সেখানে আবলুস কাঠের দুটি স্তম্ভ রয়েছে এবং এটি আজ পর্যন্ত সুপরিচিত। আর অন্যটি সম্ভবত সেই মসজিদ যেখানে জুমুআর নামাজ অনুষ্ঠিত হয় এবং জনশ্রুতি অনুযায়ী এটি ইয়ামানের অধিপতি আল-মুজাফফরের নির্মিত। এটি সেই সব জনপদের অন্তর্ভুক্ত যেখানে তাবারানি তাঁর জনৈক শিক্ষকের নিকট থেকে এবং আবু হাইয়ান আহমদ বিন মুহাম্মদ বিন আল-হাসান আল-হাররাজ আজ-জাবিদির নিকট থেকে হাদিস শ্রবণ করেছেন, আর আমাদের শাইখও তদ্রূপ করেছেন। একদল ব্যক্তি এই শহরের দিকে নিসবত রাখেন (জেদ্দী হিসেবে পরিচিত), যাদের মধ্যে রয়েছেন আহমদ বিন সাঈদ বিন ফারকাদ, জাবির বিন মারজুক আবু আবদুর রহমান, হাফস বিন উমর বিন আব্দুল্লাহ, আব্দুল মালিক বিন ইবরাহিম এবং আলী বিন মুহাম্মদ আল-কাত্তান, যিনি আবু মুহাম্মদ আল-আকফানির উস্তাদ ছিলেন। সাহাবায়ে কেরাম (রাদিয়াল্লাহু আনহুম)-এর মাঝে এমন ব্যক্তি রয়েছেন যিনি 'আল-জাদদি' (জীম বর্ণে জবর সহকারে) হিসেবে পরিচিত, কারণ তাঁর কোনো এক পূর্বপুরুষের নাম ছিল 'জাদ'। একইভাবে উপাধির ক্ষেত্রে 'আল-জুদদি' (জীম বর্ণে পেশ, দাল বর্ণে জবর এবং ইয়া বর্ণে তাশদীদ সহকারে) সাইদ বিন আবদুস আল-আন্দালুসির জন্য ব্যবহৃত হয়; বরং নামের ক্ষেত্রেও অনুরূপ অনেক উদাহরণ রয়েছে। আর আল্লাহই তাওফিকদাতা।
১ - ইমাম আবুল হাসান আলী বিন ইবরাহিম বিন আলী আল-ইয়ামানি অতঃপর আল-মাক্কি আশ-শাফিঈ আমাকে সংবাদ দিয়েছেন—জেদ্দা বন্দরের খাজা জামালুদ্দিন আদ-দাকুকির বাসভবনে তাঁর নিকট আমার পাঠের মাধ্যমে, আল্লাহ শহরটিকে রক্ষা করুন—আর এটিই তাঁর নিকট আমার পাঠকৃত প্রথম হাদিস। আমি তাঁকে বললাম: আমি ইমামের নিকট পাঠ করেছি...
(খণ্ড: ১)
আল-বুলদানিয়্যাত লিস সাখাবী
(পৃষ্ঠা: ٤٧)
الزَّيْنِيِّ أَبِي بَكْرِ بْنِ الْحُسَيْنِ الْمَرَاغِيِّ بِالرَّوْضَةِ الشَّرِيفَةِ مِنْ طِيبَةَ - وَهُوَ أَوَّلُ حَدِيثٍ قَرَأْتُهُ عَلَيْهِ - فَأَقَرَّ بِهِ (ح)
وَأَنْبَأَنِي عَالِيًا الْخَطِيبُ أَبُو عَبْدِ اللَّهِ مُحَمَّدُ بْنُ أَحْمَدَ الْخَلِيلِيُّ وَهُوَ أَوَّلُ حَدِيثٍ رَوَيْتُهُ عَنْهُ قَالا حَدَّثَنَا الصَّدْرُ أَبُو الْفَتْحِ مُحَمَّدُ بْنُ مُحَمَّدِ بْنِ إِبْرَاهِيمَ الْمَيْدُومِيُّ قَالَ الأَوَّلُ وَهُوَ أَوَّلُ حَدِيثٍ سَمِعْتُهُ مِنْهُ وَقَالَ شَيْخِي وَهُوَ أَوَّلُ حَدِيثٍ حَضَرْتُهُ عَنْدَهُ قَالَ ثَنَا النَّجِيبُ أَبُو الْفَرَجِ عَبْدُ اللَّطِيفِ بْنُ عَبْدِ الْمُنْعِمِ الْحَرَّانِيُّ وَهُوَ أَوَّلُ حَدِيثٍ سَمِعْتُهُ مِنْهُ قَالَ ثَنَا الْحَافِظُ أَبُو الْفَرَجِ عَبْدُ الرَّحْمَن بن عَليّ ابْن الْجَوْزِيُّ وَهُوَ أَوَّلُ حَدِيثٍ سَمِعْتُهُ مِنْهُ قَالَ ثَنَا أَبُو سَعْدٍ إِسْمَاعِيلُ بْنُ أَبِي صَالِحٍ أَحْمَدَ بْنِ عَبْدِ الْمَلِكِ النَّيْسَابُورِيِّ وَهُوَ أَوَّلُ حَدِيثٍ سَمِعْتُهُ مِنْهُ قَالَ ثَنَا وَالِدِي أَبُو صَالِحٍ الْمُؤَذِّنُ وَهُوَ أَوَّلُ حَدِيثٍ سَمِعْتُهُ مِنْهُ قَالَ ثَنَا أَبُو طَاهِرٍ مُحَمَّدُ بْنُ مُحَمَّدِ بْنِ مَحْمِشٍ الزِّيَادِيُّ وَهُوَ أَوَّلُ حَدِيثٍ سَمِعْتُهُ مِنْهُ قَالَ ثَنَا أَبُو حَامِدٍ أَحْمَدُ بْنُ مُحَمَّدِ بْنِ يَحْيَى بْنِ بِلالٍ الْبَزَّازُ وَهُوَ أَوَّلُ حَدِيثٍ سَمِعْتُهُ مِنْهُ قَالَ ثَنَا عَبْدُ الرَّحْمَنِ بْنُ بِشْرِ بْنِ الْحَكْمِ وَهُوَ أَوَّلُ حَدِيثٍ سَمِعْتُهُ مِنْهُ قَالَ ثَنَا سُفْيَانُ بْنُ عُيَيْنَةَ وَهُوَ أَوَّلُ حَدِيثٍ سَمِعْتُهُ مِنْ سُفْيَانَ عَنْ عَمْرِو بْنِ دِينَارٍ عَنْ أَبِي قَابُوسَ مَوْلَى عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عَمْرِو بْنِ الْعَاصِ عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عَمْرٍو رضي الله عنهما أَنَّ رَسُولَ اللَّهَ {صلى الله عليه وسلم} قَالَ الرَّاحِمُونَ يَرْحَمُهُمُ الرَّحْمَنُ تبارك وتعالى ارْحَمُوا مَنْ فِي الأَرْضِ يَرْحَمُكُمْ مَنْ فِي السَّمَاءِ هَذَا حَدِيث حَسَنٌ بَلْ صَحَّحَهُ غَيْرُ وَاحِدٍ
যাইনি আবু বকর বিন আল-হুসাইন আল-মারাগি মদিনার রওজা শরিফে—এটিই প্রথম হাদিস যা আমি তাঁর নিকট পাঠ করেছি—তিনি এটি স্বীকার করেছেন (হ)।
এবং খতিব আবু আব্দুল্লাহ মুহাম্মাদ বিন আহমাদ আল-খালিলাতি আমাকে উচ্চতর সনদে সংবাদ দিয়েছেন, এটিই প্রথম হাদিস যা আমি তাঁর সূত্রে বর্ণনা করেছি। তাঁরা উভয়েই বলেছেন, আমাদের নিকট হাদিস বর্ণনা করেছেন আস-সাদর আবু আল-ফাতহ মুহাম্মাদ বিন মুহাম্মাদ বিন ইবরাহিম আল-মাইদুমি। প্রথমজন (আল-মারাগি) বলেন: এটিই প্রথম হাদিস যা আমি তাঁর নিকট শুনেছি। এবং আমার শায়খ (আল-খালিলাতি) বলেন: এটিই প্রথম হাদিস যা শোনার জন্য আমি তাঁর নিকট উপস্থিত হয়েছিলাম। তিনি (আল-মাইদুমি) বলেন, আমাদের নিকট হাদিস বর্ণনা করেছেন আন-নাজিব আবু আল-ফারাজ আব্দুল লতিফ বিন আব্দুল মুনয়িম আল-হাররানি, এটিই প্রথম হাদিস যা আমি তাঁর নিকট শুনেছি। তিনি বলেন, আমাদের নিকট হাদিস বর্ণনা করেছেন হাফেজ আবু আল-ফারাজ আব্দুর রহমান বিন আলি ইবনুল জাওজি, এটিই প্রথম হাদিস যা আমি তাঁর নিকট শুনেছি। তিনি বলেন, আমাদের নিকট হাদিস বর্ণনা করেছেন আবু সাদ ইসমাইল বিন আবি সালিহ আহমাদ বিন আব্দুল মালিক আন-নিশাপুরি, এটিই প্রথম হাদিস যা আমি তাঁর নিকট শুনেছি। তিনি বলেন, আমাদের নিকট হাদিস বর্ণনা করেছেন আমার পিতা আবু সালিহ আল-মুয়াজ্জিন, এটিই প্রথম হাদিস যা আমি তাঁর নিকট শুনেছি। তিনি বলেন, আমাদের নিকট হাদিস বর্ণনা করেছেন আবু তাহির মুহাম্মাদ বিন মুহাম্মাদ বিন মাহমিশ আজ-জিয়াদি, এটিই প্রথম হাদিস যা আমি তাঁর নিকট শুনেছি। তিনি বলেন, আমাদের নিকট হাদিস বর্ণনা করেছেন আবু হামিদ আহমাদ বিন মুহাম্মাদ বিন ইয়াহইয়া বিন বিলাল আল-বাজ্জাজ, এটিই প্রথম হাদিস যা আমি তাঁর নিকট শুনেছি। তিনি বলেন, আমাদের নিকট হাদিস বর্ণনা করেছেন আব্দুর রহমান বিন বিশর বিন আল-হাকাম, এটিই প্রথম হাদিস যা আমি তাঁর নিকট শুনেছি। তিনি বলেন, আমাদের নিকট হাদিস বর্ণনা করেছেন সুফিয়ান বিন উইয়াইনাহ, এটিই প্রথম হাদিস যা আমি সুফিয়ানের নিকট শুনেছি; তিনি আমর বিন দিনার থেকে, তিনি আব্দুল্লাহ বিন আমর বিন আল-আসের মুক্তদাস আবু কাবুস থেকে, তিনি আব্দুল্লাহ বিন আমর (রাদিয়াল্লাহু আনহুমা) থেকে বর্ণনা করেছেন যে, আল্লাহর রাসুল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন: "দয়াশীলদের ওপর পরম দয়াময় (রহমান) বরকতময় ও সুউচ্চ আল্লাহ দয়া করেন। তোমরা জমিনে যারা আছে তাদের প্রতি দয়া করো, তাহলে আকাশে যিনি আছেন তিনি তোমাদের প্রতি দয়া করবেন।" এটি একটি হাসান হাদিস, বরং একাধিক মুহাদ্দিস একে সহিহ বলেছেন।
(খণ্ড: ১)
আল-বুলদানিয়্যাত লিস সাখাবী
(পৃষ্ঠা: ٤٨)
رَوَاهُ الإِمَامُ أَحْمَدُ وَالْحُمَيْدِيُّ فِي مُسْنَدَيْهِمَا عَنِ ابْنِ عُيَيْنَةَ وَالْبُخَارِيِّ فِي الأَدَبِ الْمُفْرَدِ وَغَيْرِهِ مِنْ تَصَانِيفِهِ عَنْ عَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ بِشْرِ بْنِ الْحَكَمِ وَالْبَيْهَقِيِّ فِي السُّنَنِ وَغَيْرِهَا مِنْ تَصَانِيفِهِ عَنْ أَبِي طَاهِرِ بْنِ مَحْمَشٍ فَوَافَقْنَاهُمْ فِي شُيُوخِهِمْ بِعُلُوٍّ وَرَوَاهُ أَبُو دَاوُود فِي الأَدَبِ مِنْ سُنَنِهِ عَنْ أَبِي بَكْرِ بْنِ أَبِي شَيْبَةَ ومسدد وَالتِّرْمِذِيّ فِي الْبر من جَامعه أتم من هَذَا عَنْ الْعَدَنِيِّ ثَلاثَتِهِمْ عَنِ ابْنِ عُيَيْنَةَ فَوَقَعَ لَنَا بَدَلا لَهُمَا عَاليًا وَقَالَ التِّرْمِذِيُّ إِنَّهُ حَسَنٌ صَحِيحٌ
এটি ইমাম আহমাদ ও আল-হুমাইদী তাঁদের মুসনাদদ্বয়ে ইবনে উয়াইনাহ থেকে বর্ণনা করেছেন। ইমাম বুখারী তাঁর ‘আল-আদাবুল মুফরাদ’ ও তাঁর অন্যান্য সংকলনে আব্দুর রহমান বিন বিশর বিন আল-হাকাম থেকে এটি বর্ণনা করেছেন। ইমাম বায়হাকী তাঁর ‘আস-সুনান’ ও তাঁর অন্যান্য সংকলনে আবু তাহির বিন মাহমাশ থেকে বর্ণনা করেছেন, ফলে আমরা উচ্চতর সনদে তাঁদের শাইখদের সাথে মিলিত হয়েছি। ইমাম আবু দাউদ তাঁর ‘সুনান’-এর আদাব অধ্যায়ে এটি আবু বকর বিন আবি শায়বাহ ও মুসাদ্দাদ থেকে এবং ইমাম তিরমিযী তাঁর ‘জামে’-এর সদ্ব্যবহার (আল-বিরর) অধ্যায়ে আল-আদানী থেকে এটি বর্তমান বর্ণনার চেয়ে আরও পূর্ণাঙ্গভাবে বর্ণনা করেছেন। তাঁরা তিনজনই ইবনে উয়াইনাহ থেকে এটি বর্ণনা করেছেন; ফলে এটি আমাদের নিকট তাঁদের বর্ণনার একটি উচ্চতর ‘বাদাল’ (বিকল্প সনদ) হিসেবে সাব্যস্ত হয়েছে। ইমাম তিরমিযী বলেছেন, এটি হাসান সহীহ।
(খণ্ড: ১)
আল-বুলদানিয়্যাত লিস সাখাবী
(পৃষ্ঠা: ٤٩)
قُلْت وَهُوَ مِمَّا انْفَرد بِهِ ابْن عُيَيْنَة فَمن فَوْقه أَعنِي بِتَمَامِهِ وَإِلَّا فَقَدْ روى بعضه حبَان - بِكَسْر الْمُهْملَة ثُمَّ مُوَحدَة - ابْن زَيْد الشرعبي - بِالْمُعْجَمَةِ وَالْمُوَحَّدَة - وَيُقَال إِنَّه صَحَابِيّ عَنْ عَبْد اللَّهِ بْنِ عَمْرِو بْنِ الْعَاصِ قَالَ سَمِعْتُ رَسُولَ اللَّهِ {صلى الله عليه وسلم} يَقُول ارحموا ترحموا واغفروا يغْفر لكم أخرجه أَحْمَد وَعبد وَغَيرهمَا وَسَنَده جيد وَعَن ابْن عُيَيْنَة اشْتهر فَرَوَاهُ عَنْهُ جَمَاعَة انْفَرد بتسلسله من بَينهم عَبْد الرَّحْمَنِ بْن بشر بْن الحكم وَمن سلسله عَنْ أحد مِمَّن فَوْقَ سُفْيَان - فضلا عَنْ جَمِيعهم - فَهُوَ إِمَّا مُخطئ أَوْ كَذَّاب وَهُوَ من أصح المسلسلات إِسْنَادًا وَإِنَّمَا اقتصرت فِي الْكَلام عَلَيْهِ اكْتِفَاء بِمَا يسره اللَّه تَعَالَى فِي أول المتباينات مِمَّا لَا مزِيد عَلَيْهِ
আমি বলছি, এটি এমন বিষয় যা ইবনে উইয়াইনা এবং তাঁর ঊর্ধ্বস্থ বর্ণনাকারীগণ পূর্ণাঙ্গভাবে বর্ণনায় একক বৈশিষ্ট্য বজায় রেখেছেন। অন্যথায়, এর কিছু অংশ হিব্বান—নুক্তাহীন বর্ণের (হা) নিচে কাসরা এবং এরপর এক নুক্তাওয়ালা বর্ণ (বা) সহকারে—ইবনে যাইদ আশ-শুরা’বি—নুক্তাওয়ালা বর্ণ (শীন) এবং এক নুক্তাওয়ালা বর্ণ (বা) সহকারে—বর্ণনা করেছেন; এবং বলা হয় যে তিনি একজন সাহাবী। তিনি আবদুল্লাহ ইবনে আমর ইবনুল আস থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেছেন: আমি আল্লাহর রাসূলকে (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলতে শুনেছি, তিনি বলছেন: "তোমরা দয়া করো, তোমাদের প্রতি দয়া করা হবে এবং তোমরা ক্ষমা করো, তোমাদের ক্ষমা করা হবে।" এটি আহমাদ, আবদ এবং অন্যরা সংকলন করেছেন এবং এর সনদ উত্তম। আর ইবনে উইয়াইনা থেকে এটি প্রসিদ্ধি লাভ করেছে, ফলে তাঁর থেকে একদল বর্ণনাকারী এটি বর্ণনা করেছেন। তাঁদের মধ্যে আবদুর রহমান ইবনে বিশর ইবনুল হাকাম এর ধারাবাহিক বর্ণনায় (তাসালসুল) একক বৈশিষ্ট্য অর্জন করেছেন। সুতরাং সুফিয়ানের ঊর্ধ্বস্থ কোনো বর্ণনাকারীর পক্ষ থেকে—সকলের কথা তো বহুদূর—যে ব্যক্তি একে ধারাবাহিক হিসেবে বর্ণনা করবে, সে হয় ভুলকারী অথবা মিথ্যাবাদী। আর সনদের দিক থেকে এটি অন্যতম বিশুদ্ধতম মুসালসাল হাদীস। আমি এর আলোচনায় সংক্ষিপ্ততা অবলম্বন করেছি আল্লাহ তাআলা 'আল-মুতাবায়িনাত' এর শুরুতে যা সহজ করে দিয়েছেন তার ওপর নির্ভর করে, যার ওপর অধিক কিছু বাড়ানোর প্রয়োজন নেই।
(খণ্ড: ১)
আল-বুলদানিয়্যাত লিস সাখাবী
(পৃষ্ঠা: ٥٠)
وَالْعَادَة جَارِيَة فِي الِابْتِدَاء بِهِ قصدا لاستمرار التسلسل فِيهِ كَمَا أَنه اسْتحبَّ الِابْتِدَاء بحَدِيث الْأَعْمَال بِالنِّيَّاتِ لعظم موقعه وشرفه وأنشدكم مَا أنشدنيه شَيخنَا أَبُو الْحَسَنِ الْمَذْكُور لفظا من نظمه أَلا لَيْت شعري هَل أرى قبَّة بهَا
حبيب لرب الْعَالمين رَسُول
مُحَمَّد الْمُخْتَار من نسل هَاشم
وَهل لي إِلَى تِلْكَ الديار وُصُول
ধারাবাহিকতা বজায় রাখার উদ্দেশ্যে এটি দ্বারা সূচনা করার রীতি প্রচলিত রয়েছে, যেমনটি এর সুমহান মর্যাদা ও শ্রেষ্ঠত্বের কারণে ‘নিয়ত অনুযায়ী আমল’ সংক্রান্ত হাদিসটি দ্বারা সূচনা করা মুস্তাহাব গণ্য করা হয়েছে। আর আমাদের উল্লিখিত শায়খ আবুল হাসান তাঁর স্বরচিত যে কবিতাটি আমাকে মৌখিকভাবে পাঠ করে শুনিয়েছেন, আমি আপনাদের সামনে তা আবৃত্তি করছি: আহা! আমি যদি জানতাম, আমি কি এমন কোনো গম্বুজ দেখতে পাব যাতে রয়েছেন—
জগৎসমূহের প্রতিপালকের প্রিয়তম রসূল;
হাশেম বংশের মনোনীত মুহাম্মাদ;
আর সেই জনপদে পৌঁছানোর কি কোনো সুযোগ আমার হবে?
(খণ্ড: ১)
আল-বুলদানিয়্যাত লিস সাখাবী
(পৃষ্ঠা: ٥١)
الْبَلَد الثَّانِي مَكَّةوَهِيَ بَلْدَة شريفة متسعة فضائلها متنوعة فِي بطن وَاد لعظم بركته يتسارع إِلَيْهِ الْعِبَاد محدق بهَا جبال هِيَ لَهَا كالسور العال وفيهَا بَيْت اللَّه الْحَرَام الَّذِي تحط بِهِ عَنْ قاصده الأوزار والآثام ويأمن من المخاوف دَاخله ولاترد مسَائِله ووسائله وَهُوَ قبْلَة الْمُسْلِمِينَ أَحيَاء وأمواتًا ونحلة الملبين جمعا وأشتاتًا وَقَدْ قَرَأت الْحَدِيث فِيهِ وَفِي الْحجر ومقام سيدنَا إِبْرَاهِيم الْوَجِيه وبمقام الْحَنَفِيَّة المكرم وعَلى شَفير زَمْزَم الْمُعظم وبسقاية سيدنَا الْعَبَّاس وعَلى جبل أَبِي قبيس بِدُونِ إلباس وبالمكان الْمَأْثُور لمولد الْمُصْطَفى وَغَيرهَا من الْأَمَاكِن الزَّائِدَة فخرًا وشرفًا يسر اللَّه إِلَى الْعود إِلَيْهَا سَبِيلا وَنشر عَلَى أَهلهَا ظلا ظليلًا
2 - أَخْبَرَنِي الإِمَامُ الثَّقِة أَبُو الْفَتْحِ مُحَمَّدُ بْنُ أَبِي بَكْرِ بْنِ الْحُسَيْنِ الْمَدَنِيُّ الشَّهِيرُ بِالْمَرَاغِيُّ فِيمَا قَرَأْتُ عَلَيْهِ بِالْمَسْجِدِ الْحَرَامِ تِجَاهَ الْكَعْبَةِ زَادَهَا اللَّهُ تَعَالَى شَرَفًا وَتَعْظِيمًا وَأَبُو الْفَتْحِ مُحَمَّدُ بْنُ عُمَرَ الْقَاهِرِيُّ - إِذْنًا - كِلاهُمَا عَنِ الإِمَامِ الْحَافِظِ الْبَهَاءِ أَبِي مُحَمَّدٍ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ مُحَمَّدِ بْنِ أَبِي بَكْرِ بْنِ خَلِيلٍ قَالَ الثَّانِي سَمَاعًا أَنا أَبُو مُحَمَّدٍ بِيبَرْسُ الْعُدَيْمِيُّ بِقَرَاءَتِي أَنا أَبُو إِسْحَاقَ إِبْرَاهِيمُ بْنُ عُثْمَانَ الْكَاشْغَرِيُّ أَنا الشَّيْخَانِ أَبُو الْفَتْحِ مُحَمَّدُ بْنُ عَبْدِ الْبَاقِي ابْن الْبَطِيُّ وَأَبُو الْحَسَنِ عَلِيُّ بْنُ عَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ تَاجِ الْقُرَّاءِ قَالا أَنا
দ্বিতীয় শহর: মক্কাএটি একটি সুমহান ও সুপ্রশস্ত শহর, যার শ্রেষ্ঠত্ব ও ফযীলত নানাবিধ। এটি এমন এক উপত্যকার গর্ভে অবস্থিত যার অফুরন্ত বরকতের আকর্ষণে আল্লাহর বান্দারা এর দিকে দ্রুত ধাবিত হয়। পাহাড়গুলো একে এমনভাবে পরিবেষ্টন করে আছে যেন তা এই শহরের জন্য এক সুউচ্চ প্রাচীর। সেখানে আল্লাহর পবিত্র ঘর (বায়তুল্লাহ আল-হারাম) অবস্থিত, যার উদ্দেশ্যে গমনকারীর পাপ ও অপরাধসমূহ মোচন হয়ে যায়। এর অভ্যন্তরে প্রবেশকারী সকল প্রকার ভয়ভীতি থেকে নিরাপদ থাকে এবং সেখানে কোনো প্রার্থনা বা মাধ্যমই প্রত্যাখ্যাত হয় না। এটি জীবিত ও মৃত সকল মুসলিমের কিবলা এবং সমবেত কিংবা বিক্ষিপ্ত সকল তালবিয়াহ পাঠকারীর গন্তব্যস্থল। আমি সেখানে, হিজর (হাতিম) এবং আমাদের সম্মানিত নেতা ইবরাহীমের মাকামে হাদিস পাঠ করেছি। এছাড়া সম্মানিত হানাফী মাকামে, মহিমান্বিত যমযম কূপের পাড়ে, আমাদের নেতা আব্বাসের পানি পান করানোর স্থানে এবং জাবালে আবু কুবাইসে কোনো প্রকার সংশয় ছাড়াই হাদিস পাঠ করেছি। আরও পাঠ করেছি মুস্তফা (সা.)-এর পবিত্র জন্মস্থান হিসেবে পরিচিত স্থানে ও অন্যান্য মহিমান্বিত ও সম্মানিত স্থানে। আল্লাহ যেন সেখানে পুনরায় ফিরে যাওয়ার পথ সহজ করে দেন এবং এর অধিবাসীদের ওপর সুশীতল ছায়া বিস্তার করেন।
২ - আমাকে নির্ভরযোগ্য ইমাম আবুল ফাতহ মুহাম্মদ ইবনে আবু বকর ইবনুল হুসাইন আল-মাদানি, যিনি আল-মারাগি নামে পরিচিত, সংবাদ দিয়েছেন সেই পাঠের মাধ্যমে যা আমি মসজিদুল হারামে কাবার সম্মুখে তাঁর নিকট করেছি—আল্লাহ তাআলা কাবার সম্মান ও মর্যাদা আরও বৃদ্ধি করুন। এবং আবুল ফাতহ মুহাম্মদ ইবনে উমর আল-কাহিরি—অনুমতির মাধ্যমে—তারা উভয়ই হাফেজ ইমাম বাহাউদ্দিন আবু মুহাম্মদ আবদুল্লাহ ইবনে মুহাম্মদ ইবনে আবু বকর ইবনে খলিল থেকে বর্ণনা করেছেন। দ্বিতীয় জন শ্রবণের মাধ্যমে বলেছেন যে, আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আবু মুহাম্মদ বাইবারস আল-উদাইমি, আমার পাঠের মাধ্যমে তিনি বলেছেন, আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আবু ইসহাক ইবরাহিম ইবনে উসমান আল-কাশগারি। তিনি বলেছেন, আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন দুই শায়খ—আবুল ফাতহ মুহাম্মদ ইবনে আব্দুল বাকি ইবনুল বাত্তি এবং আবুল হাসান আলী ইবনে আব্দুর রহমান ইবনে তাজুল কুররা। তাঁরা উভয়েই বলেছেন, আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন...
(খণ্ড: ১)
আল-বুলদানিয়্যাত লিস সাখাবী
(পৃষ্ঠা: ٥٢)
أَبُو عَبْدِ اللَّهِ مَالِكُ بْنُ أَحْمَدَ الْبَانَيَاسِيُّ أَنا أَبُو الْحَسَنِ أَحْمَدُ بْنُ مُحَمَّدِ بْنِ الصَّلْتِ ثَنَا أَبُو إِسْحَاقَ إِبْرَاهِيمُ بْنُ عَبْدِ الصَّمَدِ الْهَاشِمِيُّ إِمْلاءً ثَنَا أَبُو الْوَلِيدِ مُحَمَّدُ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ الأَزْرَقِيُّ هُوَ الإِمَامُ مُؤَرِّخُ أَخْبَارِ مَكَّةَ حَدَّثَنِي جَدِّي هُوَ أَحْمَدُ بْنُ مُحَمَّدِ بْنِ الْوَلِيدِ أَحَدُ شُيُوخِ الْبُخَارِيِّ وَأَوْصِيَاءُ الشَّافِعِيِّ ثَنَا سُفْيَانُ - هُوَ ابْنُ عُيَيْنَةَ - عَنْ أَبِي الزُّبَيْرِ عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ بَابَاهِ عَنْ جُبَيْرِ بْنِ مُطْعِمٍ رضي الله عنه قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّه {صلى الله عليه وسلم} يَا بَنِي عَبْدِ مِنَافٍ إِنْ وُلِّيتُمْ مِنْ هَذَا الأَمْرِ شَيْئًا فَلا تَمْنَعُوا أَحَدًا طَافَ بِهَذَا الْبَيْتِ فَصَلَّى أَيَّ سَاعَةٍ شَاءَ مِنْ لَيْلٍ أَوْ نَهَارٍ هَذَا حَدِيثٌ حَسَنٌ أخرجه أَبُو دَاوُود فِي سُنَنِهِ عَنْ أَبِي الطَّاهِرِ بْنِ السَّرْحِ وَالْفَضْلِ بْنِ يَعْقُوبَ وَالتِّرْمِذِيُّ فِي جَامِعِهِ وَابْنُ خُزَيْمَةَ فِي صَحِيحِهِ عَنْ عَلِي بْنِ خَشْرَمٍ زَادَ التِّرْمِذِيُّ وَعَنْ أَبِي عَمَّارٍ الْحُسَيْنِ بْنِ حُرَيْثٍ وَزَادَ ابْنُ خُزَيْمَةَ وَعَنْ أَحْمَدَ بْنِ مَنِيعٍ وَعَبْدِ الْجَبَّارِ بْنِ الْعَلاءِ وَالنَّسَائِيُّ فِي سُنَنِهِ عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ مُحَمَّدِ بْنِ عَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ الْمِسْوَرِ بْنِ مَخْرَمَةَ الزُّهْرِيِّ وَمُحَمَّدِ بْنِ مَنْصُورٍ وَالدَّارِمِيُّ فِي مُسْنَدِهِ عَنْ عَمْرِو بْنِ عَوْنٍ وَابْنُ مَاجَهْ فِي سُنَنِهِ عَنْ يَحْيَي بْنِ حَكِيمٍ
আবু আব্দুল্লাহ মালিক ইবনে আহমদ আল-বানিয়াসী আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, আবু আল-হাসান আহমদ ইবনে মুহাম্মদ ইবনে আস-সালত আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, আবু ইসহাক ইব্রাহিম ইবনে আব্দুল সামাদ আল-হাশিমী আমাদের ইমলা (শ্রুতিলিপি) প্রদান করেছেন, আবু আল-ওয়ালিদ মুহাম্মদ ইবনে আব্দুল্লাহ আল-আযরাকী আমাদের হাদীস শুনিয়েছেন—যিনি মক্কার ইতিহাসের ইমাম ও ঐতিহাসিক—তিনি বলেন, আমার দাদা আহমদ ইবনে মুহাম্মদ ইবনে আল-ওয়ালিদ আমাকে হাদীস শুনিয়েছেন—যিনি ইমাম বুখারীর অন্যতম শিক্ষক এবং ইমাম শাফেয়ীর অসি (অছিয়ত বাস্তবায়নকারী) ছিলেন—তিনি সুফিয়ান ইবনে উয়ায়নাহ থেকে, তিনি আবু আল-যুবায়ের থেকে, তিনি আব্দুল্লাহ ইবনে বাবাহ থেকে, তিনি যুবায়ের ইবনে মুতইম (রাদিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন, "হে বনী আবদে মানাফ! তোমরা যদি এই বিষয়ের (কাবা শরীফের ব্যবস্থাপনার) কোনো দায়িত্ব লাভ করো, তবে দিন বা রাতের যে কোনো সময়ে এই ঘর তাওয়াফকারী বা নামাজ আদায়কারী কাউকে তোমরা বাধা দিও না।"
(খণ্ড: ১)
আল-বুলদানিয়্যাত লিস সাখাবী
(পৃষ্ঠা: ٥٣)
وَالطَّحَاوِيُّ فِي شَرْحِ مَعَانِي الآثَارِ لَهُ عَنْ يُونُسَ بْنِ عَبْدِ الأَعْلَى وَأَبُو يَعْلَى فِي مُسْنَدِهِ عَنْ أَبِي خَيْثَمَةَ زُهَيْرِ بْنِ حَرْبٍ كُلُّهُمْ - وَهُمْ اثْنَا عَشَرَ - عَنِ ابْنِ عُيَيْنَةَ فَوَقَعَ لَنَا بَدَلا لَهُمْ عَاليًا وَقَالَ التِّرْمِذِيُّ إِنَّهُ حَسَنٌ صَحِيحٌ وَصَححهُ آخَرُونَ مِنْهُم الْحَاكِم وَقَالَ إِنَّه عَلَى شَرط مُسْلِم يَعْنِي دون الْبُخَارِي لِأَنَّهُ إِنَّمَا أخرج لأبي الزُّبَيْر مَقْرُونا نعم الظَّاهِر أَنه أَشَارَ إِلَى هَذَا الْحَدِيث بقوله بَاب الطّواف بَعْد الصُّبْح وَالْعصر وَهُوَ عِنْدَ أَحْمَد والشَّافِعِي والْحميدِي وَابْن منيع عَنِ ابْن عُيَيْنَة عَلَى الْمُوَافقَة وَكَذَا رَوَاهُ الْحَسَن بْن عَرَفَة وَهَارُون بْن مَعْرُوف وَغَيرهمَا عَنْ ابْن
তহাভী তাঁর ‘শারহু মাআনিল আষার’ গ্রন্থে ইউনুস বিন আবদিল আলা থেকে এবং আবু ইয়ালা তাঁর মুসনাদে আবু খাইছামা জুহাইর বিন হারব থেকে বর্ণনা করেছেন; তাঁরা সকলেই—যাঁদের সংখ্যা বারোজন—ইবন উয়াইনাহ থেকে বর্ণনা করেছেন। ফলে এটি আমাদের কাছে তাঁদের সূত্রে একটি সুউচ্চ ‘বাদাল’ (উচ্চতর বিকল্প সনদ) হিসেবে গণ্য হয়েছে। তিরমিজি বলেছেন, এটি হাসান সহিহ। হাকিমসহ অন্যরাও একে সহিহ বলেছেন এবং তিনি (হাকিম) বলেছেন যে, এটি মুসলিমের শর্তানুযায়ী, অর্থাৎ বুখারীর শর্তানুযায়ী নয়; কারণ তিনি (বুখারী) আবু যুবাইরের বর্ণনা কেবল অন্যের বর্ণনার সাথে যুক্ত অবস্থায় (মাকরুন) গ্রহণ করেছেন। হ্যাঁ, বাহ্যত মনে হয় যে, তিনি (বুখারী) তাঁর ‘ফজর ও আসরের পর তাওয়াফ অধ্যায়’ শিরোনামের মাধ্যমে এই হাদিসের দিকেই ইঙ্গিত করেছেন। এটি আহমদ, শাফেয়ী, হুমাইদী এবং ইবনে মানী‘-এর নিকট ইবন উয়াইনাহ থেকে ‘মুওয়াফাকাত’ হিসেবে বর্ণিত। অনুরূপভাবে হাসান বিন আরাফাহ, হারুন বিন মারুফ এবং অন্যান্যরা ইবন (উয়াইনাহ) থেকে এটি বর্ণনা করেছেন।
(খণ্ড: ১)
আল-বুলদানিয়্যাত লিস সাখাবী
(পৃষ্ঠা: ٥٤)
عُيَيْنَة بَل رَوَاهُ ابْن جريج وَعَمْرو بْن الْحَارِث كِلَاهُمَا عَنْ أَبِي الزُّبَيْر وَوَقع فِي حَدِيث غَيْر وَاحِد تَصْرِيح أَبِي الزُّبَيْر بِسَمَاعِهِ لَهُ من عَبْد اللَّهِ بْن بابيه فأمن تدليسه مَعَ أَنه لَمْ ينْفَرد بِهِ بَل تَابعه عَبْد اللَّهِ بْن أَبِي نجيح عَنِ ابْن بابيه لَكِن رَوَاهُ أَبُو العطوف الْجراح بْن منهال - وَهُوَ ضَعِيف - عَنْ أَبِي الزُّبَيْر فَقَالَ عَنْ نَافِع بْن جُبَير بن مطعم بدل ابْن بابيه وَهَكَذَا رُوِيَ عَنْ عَطَاء بْن أَبِي رَبَاح وَعِكْرِمَة بْن خَالِد وَعَمْرو بْن دِينَار ثَلَاثَتهمْ عَنْ نَافِع ثُمَّ إِن الْجُمْهُور عَنْ أَبِي الزُّبَيْر كَمَا تقدم وَرَوَاهُ أَبُو بَكْر بْن عُمَر بْن عَبْد الرَّحْمَنِ بْن عَبْد اللَّهِ بْن عُمَر بْن الْخَطَّاب
উয়াইনাহ; বরং ইবনে জুরাইজ এবং আমর ইবনুল হারিস উভয়েই আবু যুবায়ের থেকে এটি বর্ণনা করেছেন। আর একাধিক হাদিসে আবু যুবায়ের কর্তৃক আবদুল্লাহ ইবনে বাবাইহ থেকে এটি সরাসরি শোনার সুস্পষ্ট বর্ণনা রয়েছে, ফলে তার ‘তাদলিস’ (বর্ণনাসূত্র গোপন করা) থেকে আশঙ্কামুক্ত হওয়া গেল। এর পাশাপাশি তিনি এটি বর্ণনায় একক ছিলেন না, বরং আবদুল্লাহ ইবনে আবি নাজিহ ইবনে বাবাইহ থেকে তার অনুসরণ করেছেন। তবে আবুল আতুফ আল-জাররাহ ইবনে মিনহাল—যিনি একজন দুর্বল বর্ণনাকারী—আবু যুবায়ের থেকে এটি বর্ণনা করেছেন এবং সেখানে তিনি ইবনে বাবাইহ-এর পরিবর্তে নাফে ইবনে জুবায়ের ইবনে মুতয়িম-এর নাম উল্লেখ করেছেন। একইভাবে আতা ইবনে আবি রাবাহ, ইকরিমা ইবনে খালিদ এবং আমর ইবনে দিনার—এই তিনজনও নাফে থেকে এটি বর্ণনা করেছেন। অতঃপর অধিকাংশ বর্ণনাকারী আবু যুবায়ের থেকেই এটি বর্ণনা করেছেন যেমনটি পূর্বে উল্লেখ করা হয়েছে। আর এটি আবু বকর ইবনে উমর ইবনে আব্দুর রহমান ইবনে আবদুল্লাহ ইবনে উমর ইবনুল খাত্তাব বর্ণনা করেছেন।
(খণ্ড: ১)
আল-বুলদানিয়্যাত লিস সাখাবী
(পৃষ্ঠা: ٥٥)
- رضي الله عنهم عَنْهُ بِدُونِ وَاسِطَة بَينه وَبَين جُبَيْر وَرَوَاهُ معقل بْن عُبَيْد اللَّهِ وَأَيوب السّخْتِيَانِيّ كِلَاهُمَا عَنْ أَبِي الزُّبَيْر فجعلاه من حَدِيثه عَنْ جَابِر وَقيل عَنْ أَيُّوب مُرْسلا وَرَوَاهُ ثُمَامَة بْن عُبَيْدَة - وَهُوَ ضَعِيف - عَنْ أَبِي الزُّبَيْر فَجعله عَنْ عَلِي بْن عَبْد اللَّهِ بْن عَبَّاس عَنْ أَبِيهِ وَرَوَاهُ إِبْرَاهِيم بْن إِسْمَاعِيل بْن مجمع - وَهُوَ ضَعِيف أَيْضا - عَنْ أَبِي
আল্লাহ তাঁদের প্রতি সন্তুষ্ট হোন। তাঁর থেকে, তাঁর এবং জুবাইরের মধ্যে কোনো মাধ্যম ব্যতিরেকে। এটি মা'কিল ইবন উবাইদুল্লাহ এবং আইয়ুব আস-সাখতিয়ানী বর্ণনা করেছেন; তাঁরা উভয়েই আবু আজ-জুবায়ের থেকে বর্ণনা করেছেন এবং তাঁরা এটিকে জাবির থেকে তাঁর বর্ণনা হিসেবে গণ্য করেছেন। আইয়ুব থেকে এটি মুরসাল হিসেবেও বর্ণিত হয়েছে। সুমামাহ ইবন উবাইদাহ—যিনি দুর্বল—আবু আজ-জুবায়ের থেকে এটি বর্ণনা করেছেন এবং তিনি এটিকে আলী ইবন আবদুল্লাহ ইবন আব্বাস থেকে, তিনি তাঁর পিতা থেকে [বর্ণিত] হিসেবে গণ্য করেছেন। ইব্রাহীম ইবন ইসমাঈল ইবন মাজমা'—যিনিও দুর্বল—আবু থেকে এটি বর্ণনা করেছেন...
(খণ্ড: ১)
আল-বুলদানিয়্যাত লিস সাখাবী
(পৃষ্ঠা: ٥٦)
الزُّبَيْر فَجعله عَنْ عَبْد الرَّحْمَنِ بْن سابط عَنْ جدته عَنِ النَّبِي {صلى الله عليه وسلم} وَالأَوَّل أصح وَبِالسَّنَدِ الْمَذْكُور إِلَى أَبِي إِسْحَاق الْهَاشِمِي ثَنَا أَبُو سَعِيد الْأَشَج ثَنَا ابْن الْأَجْلَح هُوَ عَبْد اللَّهِ عَنْ مُجَاهِد قَالَ طلبنا هَذَا الْعلم وَمَا لنا فِيهِ كَبِير نِيَّة ثُمَّ رزق اللَّه تَعَالَى النِّيَّة بَعْد
যুবাইর এটি আবদুর রহমান বিন সাবিত থেকে, তিনি তার দাদি থেকে, তিনি নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) থেকে বর্ণনা করেছেন। আর প্রথমটিই অধিকতর বিশুদ্ধ। এবং উল্লেখিত সনদে আবু ইসহাক আল-হাশিমী পর্যন্ত; আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আবু সাঈদ আল-আশাজ, আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন ইবনুল আজলাহ—যিনি আব্দুল্লাহ—মুজাহিদ থেকে, তিনি বলেন: আমরা এই ইলম অন্বেষণ করেছি অথচ আমাদের এতে বড় কোনো নিয়ত ছিল না, অতঃপর আল্লাহ তাআলা পরবর্তীতে নিয়ত দান করেছেন।
(খণ্ড: ১)
আল-বুলদানিয়্যাত লিস সাখাবী
(পৃষ্ঠা: ٥٧)
الْبَلَد الثَّالِث الْمَدِينَةوَهِيَ الَّتِي إِلَيْهَا هَاجر الرَّسُول وَبهَا قَبره الشريف الْمُشْتَمل عَلَى كُل خير مَنْقُول وَالثَّابِت فِي شرِيف السّنة أَن مَا بَينه وَبَين منبره رَوْضَة من رياض الْجَنَّة وَفِي تربَتهَا وحيطانها وهوائها من الرَّائِحَة الطّيبَة مَا لَا يتناهى وَلذَا كَانَ طابة وطيبة والمطيبة من أسمائها ليطابق ذَلِكَ مسماها وَهِيَ محروسة عَنِ الْأَعْوَر الدَّجَّال ومأنوسة على ممر الْأَيَّام والليال من أحدث فِيهَا حَدثا أَوْ
তৃতীয় শহর: মদিনাএটি সেই শহর যেখানে রাসূল হিজরত করেছিলেন এবং সেখানে তাঁর সেই সম্মানিত সমাধি অবস্থিত যা সকল বর্ণিত কল্যাণকে শামিল করে। সুন্নাহর বর্ণনায় এটি সুপ্রতিষ্ঠিত যে, তাঁর ঘর ও মিম্বরের মধ্যবর্তী স্থানটি জান্নাতের বাগানসমূহ হতে একটি বাগান। এর মাটি, প্রাচীর এবং বাতাসে এমন অফুরন্ত সুগন্ধি রয়েছে যার কোনো সমাপ্তি নেই। এ কারণেই 'তাবাহ', 'তাইবাহ' এবং 'মুতায়্যাবাহ' এর নামসমূহের অন্তর্ভুক্ত হয়েছে যাতে নামগুলো এর সত্তার সাথে সংগতিপূর্ণ হয়। এটি কানা দাজ্জাল থেকে সুরক্ষিত এবং কালপরিক্রমায় এটি সর্বদা প্রশান্তিময়। যে ব্যক্তি এখানে কোনো নতুন অনিষ্টের সূচনা করবে অথবা
(খণ্ড: ১)
আল-বুলদানিয়্যাত লিস সাখাবী
(পৃষ্ঠা: ٥٨)
آوى بهَا مُحدثا فَهُوَ مَلْعُون مُسْتَحقّ للشديد من الْعَذَاب الْهون وبمزيد الْبركَة فِيهَا دَعَا الشَّارِع وشوهد بهَا مِنْهَا مَا تقر بِهِ الْعُيُون وتلذ بِذكرِهِ المسامع وَقَدْ قَرَأت الْحَدِيث هُنَاكَ تجاه الْحُجْرَة المعظمة وتشرفت بِذَاكَ أَيْضا فِي عدَّة من أماكنها المحترمة حقق اللَّه لنا إِلَيْهَا الرُّجُوع ووفق لسلوك تِلْكَ الْمعَاهد والربوع
3 - أَخْبَرَنِي الإِمَامُ الْبَدْرُ عَبْدُ اللَّهِ بْنُ مُحَمَّدِ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ الْيَعْمُرِيُّ الْمَغْرِبِيُّ الْمَدَنِيُّ قَاضِيهَا الْمَالِكِيُّ وَيُعْرَفُ كَأَسْلافِهِ بِابْنِ فَرْحُونٍ بِقَرَاءَتِي عَلَيْهِ بِالْمَسْجِدِ النَّبَوِيِّ تِجَاهَ الْحُجْرَةِ الشَّرِيفَةِ عَلَى سَاكِنِهَا أَفْضَلُ الصَّلاةِ وَالسَّلامِ قُلْتُ أَخْبَرَكَ الْمُسْنِدُ أَبُو الرَّبِيعِ سُلَيْمَانُ بْنُ أَحْمَدَ الْمَدَنِيُّ السَّقَّاءُ سَمَاعًا فَأَقَرَّ بِهِ قَالَ أَخْبَرَتْنَا أُمُّ عَبْدِ اللَّهِ فَاطِمَةُ ابْنَةُ الْعِزِّ إِبْرَاهِيمِ بْنِ أَبِي عُمَرَ أَنا أَبُو إِسْحَاقَ إِبْرَاهِيمُ بْنُ خَلِيلٍ الأَدَمِيُّ أَنا أَبُو الْقَاسِمِ عَبْدُ الرَّحْمَنِ بْنُ عَلِيٍّ اللَّخْمِيُّ أَنا أَبُو الْحَسَنِ عَلِيُّ بْنُ الْحَسَنِ الْمَوَازِينِيُّ (ح)
وَأَخْبَرَنِي أَبُو الْمَعَالِي بْنُ الذَّهَبِيُّ الدِّمَشْقِيُّ أَنا أَبُو هُرَيْرَة ابْن الْحَافِظِ الذَّهَبِيُّ الدِّمَشْقِي بِهَا أَنا الْبَهَاءُ أَبُو مُحَمَّدٍ الْقَاسِمُ بْنُ الْمُظَفَّرِ بْنِ عَسَاكِرَ الدِّمَشْقِيُّ أَنا عَمُّ أَبِي الْعِزِّ النَّسَّابَةَ أَبُو عَبْدِ اللَّهِ مُحَمَّدُ بْنُ تَاجِ الأُمَنَاءِ أَبِي الْفَضْلِ بْنِ عَسَاكِرَ الدِّمَشْقِيِّ أَنا عَمُّ أَبِي الْحَافِظِ أَبُو الْقَاسِمِ بْنُ عَسَاكِرَ الدِّمَشْقِيِّ إِذْنًا وَأَبُو طَالِبٍ
যে ব্যক্তি সেখানে কোনো বিদআতকারীকে আশ্রয় দেয়, তবে সে অভিশপ্ত এবং লাঞ্ছনাকর কঠোর শাস্তির যোগ্য। শরীয়ত প্রণেতা সেখানে বরকত বৃদ্ধির জন্য দুআ করেছেন এবং সেখানে এমন সব নিদর্শন প্রত্যক্ষ করা গেছে যা চক্ষু শীতল করে এবং যার আলোচনা শ্রবণে তৃপ্তি পাওয়া যায়। আমি সেখানে মহান কক্ষের সামনে হাদীস পাঠ করেছি এবং এর বিভিন্ন সম্মানিত স্থানেও সেই সৌভাগ্য অর্জন করেছি। আল্লাহ যেন আমাদের পুনরায় সেখানে ফিরে যাওয়ার সুযোগ দেন এবং সেই সকল পবিত্র স্থান ও প্রাঙ্গণে গমনের তাওফিক দান করেন।
৩ - ইমাম বদর আবদুল্লাহ ইবনে মুহাম্মদ ইবনে আবদুল্লাহ আল-ইয়ামুরি আল-মাগরিবি আল-মাদানি, যিনি সেখানকার মালিকি বিচারক এবং তাঁর পূর্বসূরিদের মতো ইবনে ফারহুন নামে পরিচিত, তিনি আমাকে সংবাদ দিয়েছেন মসজিদে নববীতে সেই সম্মানিত কক্ষের সামনে আমার পাঠের মাধ্যমে, যাঁর অধিবাসীর ওপর সর্বোত্তম সালাত ও সালাম বর্ষিত হোক। আমি বললাম: মুসনিদ আবুুর রবি সুলায়মান ইবনে আহমাদ আল-মাদানি আস-সাক্কা কি শ্রবণের মাধ্যমে আপনাকে সংবাদ দিয়েছেন? তিনি তা স্বীকার করলেন। তিনি বললেন: আমাদের সংবাদ দিয়েছেন উম্মু আবদুল্লাহ ফাতিমা বিনতুল ইয ইব্রাহিম ইবনে আবি উমর। তিনি বললেন: আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবু ইসহাক ইব্রাহিম ইবনে খলিল আল-আদামি। তিনি বললেন: আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবুল কাসিম আবদুর রহমান ইবনে আলি আল-লাখমি। তিনি বললেন: আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবুল হাসান আলি ইবনে হাসান আল-মাওয়াজিনি (হা)।
এবং আমাকে সংবাদ দিয়েছেন আবুল মা’আলি ইবনে আয-যাহাবি আদ-দিমাশকি। তিনি বললেন: আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবু হুরায়রা ইবনুল হাফিজ আয-যাহাবি আদ-দিমাশকি সেখানে। তিনি বললেন: আমাদের সংবাদ দিয়েছেন বাহাউ আবু মুহাম্মদ আল-কাসিম ইবনুল মুজাফফর ইবনে আসাকির আদ-দিমাশকি। তিনি বললেন: আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আমার পিতার চাচা আল-ইয আন-নাসসাবাহ আবু আবদুল্লাহ মুহাম্মদ ইবনে তাজিল উমানা আবি আল-ফজল ইবনে আসাকির আদ-দিমাশকি। তিনি বললেন: আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আমার পিতার চাচা আল-হাফিজ আবুল কাসিম ইবনে আসাকির আদ-দিমাশকি অনুমতির মাধ্যমে এবং আবু তালিব।
(খণ্ড: ১)
আল-বুলদানিয়্যাত লিস সাখাবী
(পৃষ্ঠা: ٥٩)
الْخَضْرُ بْنُ هِبَةِ اللَّهِ بْنِ طَاوُسٍ سَمَاعًا قَالا أَنا الشَّرِيفُ أَبُو الْقَاسِمِ عَلِيُّ بْنُ إِبْرَاهِيمَ الْحُسَيْنِيُّ خَطِيبُ دِمَشْقَ قَالا أَنا أَبُو عَبْدِ اللَّهِ مُحَمَّدُ بْنُ عَلِيِّ بْنِ سُلْوَانَ التَّمِيمِيُّ أَنا أَبُو الْقَاسِمِ الْفَضْلُ بْنُ جَعْفَرٍ التَّمِيمِيُّ أَنا أَبُو بَكْرٍ عَبْدُ الرَّحْمَنِ بْنُ الْقَاسِمِ الْهَاشِمِيُّ (ح)
وَأَخْبَرَنِي بِعُلُوٍ أُمُّ مُحَمَّدٍ ابْنَةُ أَبِي حَفْصِ بْنِ جَمَاعَةَ بِقَرَاءَتِي وَالْعَلاءُ أَبُو الْحَسَنِ عَلِيُّ بْنُ إِسْمَاعِيلَ الْبَعْلِيُّ إِذْنًا كِلاهُمَا عَنْ أَبِي حَفْصٍ عُمَرَ بْنِ الْحَسَنِ الْمَرَاغِيِّ قَالَ الثَّانِي سَمَاعًا أَنا الْفَخْرُ أَبُو الْحَسَنِ بْنُ الْبُخَارِيُّ عَنْ أَبِي عَبْدِ اللَّهِ مُحَمَّدِ بْنِ أَبِي زَيْدٍ وَأَبِي عَبْدِ اللَّهِ مُحَمَّدٍ وَأُمِّ هَانِئٍ عَفِيفَةَ ابْنَيْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ أَحْمَدَ قَالَ الأَوَّلُ أَنا أَبُو مَنْصُورٍ مَحْمُودُ بْنُ إِسْمَاعِيلَ الصَّيْرَفِيُّ أَنا أَبُو الْحُسَيْنِ أَحْمَدُ بْنُ مُحَمَّدِ بْنِ فَاذَشَاهِ وَقَالَ الآخَرَانِ أَخْبَرَتْنَا أُمُّ إِبْرَاهِيمَ فَاطِمَةُ ابْنَةُ عَبْدِ اللَّهِ الْجَوْزَدَانِيَّةُ قَالَتْ أَنا أَبُوُ بَكْرٍ مُحَمَّدُ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ الضَّبِّيُّ قَالا أَنا أَبُو الْقَاسِمِ الطَّبَرَانِيُّ حَدَّثَنَا أَحْمَدُ بْنُ مُحَمَّدِ بْنِ يَحْيَى بْنِ حَمْزَةَ الدِّمَشْقِيُّ قَالا أَنا أَبُو مِسْهَرٍ عَبْدُ الأَعْلَى بْنُ مِسْهَرٍ الْغَسَّانِيُّ ثَنَا سَعِيدُ بْنُ عَبْدِ الْعَزِيزِ عَنْ رَبِيعَةَ بْنِ يَزِيدَ عَنْ أَبِي إِدْرِيسَ الْخَوْلانِيِّ عَنِ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ حَوَالَةَ رضي الله عنه عَنْ رَسُولِ اللَّهِ {صلى الله عليه وسلم} قَالَ إِنَّكُم ستجندون أَجْنَادًا فَجُنْدًا بِالشَّامِ وَجُنْدًا بِالْعِرَاقِ وَجُنْدًا بِالْيَمَنِ فَقَالَ الْحَوَالِيُّ يَا رَسُولَ اللَّهِ خِرْ لِي قَالَ {صلى الله عليه وسلم} عَلَيْكَ بِالشَّامِ زَادَ الْهَاشِمِيُّ فَمَنْ أَبَى فَلْيَلْحَقْ بِيَمَنِهِ وَلْيَسْقِ مِنْ غُدُرِهِ
আল-খাদর বিন হিবাতুল্লাহ বিন তাউস শ্রবণ করার মাধ্যমে—তাঁরা উভয়ে বলেছেন যে, আমাদের সংবাদ দিয়েছেন শরিফ আবু আল-কাসিম আলী বিন ইব্রাহিম আল-হুসাইনি, যিনি দামেস্কের খতিব। তাঁরা উভয়ে বলেছেন যে, আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবু আব্দুল্লাহ মুহাম্মদ বিন আলী বিন সুলওয়ান আত-তামিমি। আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবু আল-কাসিম আল-ফাদল বিন জাফর আত-তামিমি। আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবু বকর আব্দুর রহমান বিন আল-কাসিম আল-হাশেমি। (হ)
এবং উচ্চ সনদে আমাকে সংবাদ দিয়েছেন উম্মু মুহাম্মদ বিনতে আবু হাফস বিন জামা'আহ আমার পাঠের (কিরাআত) মাধ্যমে, এবং আল-আলা আবু আল-হাসান আলী বিন ইসমাইল আল-বালি অনুমতির মাধ্যমে—তাঁরা উভয়েই আবু হাফস উমর বিন আল-হাসান আল-মারাগি থেকে। দ্বিতীয়জন শ্রবণ করার মাধ্যমে বলেছেন যে, আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আল-ফাখর আবু আল-হাসান বিন আল-বুখারি। তিনি আবু আব্দুল্লাহ মুহাম্মদ বিন আবি জাইদ এবং আবু আব্দুল্লাহ মুহাম্মদ ও উম্মু হানি আফিফা থেকে—যাঁরা আব্দুল্লাহ বিন আহমদের সন্তান। প্রথমজন বলেছেন, আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবু মনসুর মাহমুদ বিন ইসমাইল আস-সাইরাফি। আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবু আল-হুসাইন আহমদ বিন মুহাম্মদ বিন ফাদাশাহ। আর অপর দুজন বলেছেন, আমাদের সংবাদ দিয়েছেন উম্মু ইব্রাহিম ফাতিমা বিনতে আব্দুল্লাহ আল-জাওযদানিয়াহ। তিনি বলেন, আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবু বকর মুহাম্মদ বিন আব্দুল্লাহ আদ-দাব্বি। তাঁরা উভয়ে বলেন, আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবু আল-কাসিম আত-তাবারানি। আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আহমদ বিন মুহাম্মদ বিন ইয়াহইয়া বিন হামযাহ আদ-দিমাশকি। তাঁরা উভয়ে বলেন, আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবু মিসহার আব্দুল আলা বিন মিসহার আল-গাসসানি। আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন সাঈদ বিন আব্দুল আজিজ, রাবিআহ বিন ইয়াজিদ থেকে, তিনি আবু ইদ্রিস আল-খাওলানি থেকে, তিনি আব্দুল্লাহ বিন হাওয়ালা (আল্লাহ তাঁর প্রতি সন্তুষ্ট হোন) থেকে, তিনি আল্লাহর রাসূল (তাঁর ওপর আল্লাহর দরুদ ও সালাম বর্ষিত হোক) থেকে বর্ণনা করেন যে, তিনি বলেছেন: "নিশ্চয়ই তোমরা শীঘ্রই কতগুলো সেনাদলে বিভক্ত হয়ে পড়বে; একদল সিরিয়ায় (শাম), একদল ইরাকে এবং একদল ইয়েমেনে।" তখন আল-হাওয়ালি বললেন, "হে আল্লাহর রাসূল! আমার জন্য আপনি পছন্দ করে দিন।" তিনি (তাঁর ওপর আল্লাহর দরুদ ও সালাম বর্ষিত হোক) বললেন, "তোমার সিরিয়াকে (শাম) আঁকড়ে ধরা উচিত।" হাশেমি আরও অতিরিক্ত বর্ণনা করেছেন যে, "তবে যে ব্যক্তি তা করতে অস্বীকার করবে, সে যেন ইয়েমেনে চলে যায় এবং সেখানকার জলাধারগুলো থেকে পানি পান করে।"
(খণ্ড: ১)
আল-বুলদানিয়্যাত লিস সাখাবী
(পৃষ্ঠা: ٦٠)
فَإِنَّ اللَّهَ تَعَالَى قَدْ تَكَفَّلَ لِي بِالشَّامِ وَأَهْلِهِ فَكَانَ أَبُو إِدْرِيسَ إِذَا حَدَّثَ بِهَذَا الْحَدِيثِ الْتَفَتَ إِلَى ابْنِ عَامِرٍ فَقَالَ مَنْ تَكَفَّلَ اللَّهُ بِهِ فَلا ضَيْعَةَ عَلَيْهِ هَذَا حَدِيثٌ حَسَنٌ مُسَلْسَلٌ مِنْ طَرِيقِنَا الثَّانِي بِالدِّمَشْقِيِّينَ فِي جَمِيعِ رِجَالِهِ وََقَدْ دَخَلْتُهَا وَكَذَا نَزَلَهَا ابْنُ حَوَالَةَ رضي الله عنه أَخْرَجَهُ الطَّبَرَانِيُّ أَيْضًا عَنْ أَبِي زُرْعَةَ عَنْ أَبِي مُسْهِرٍ عَلَى الْبَدَلِيَّةِ وَهُوَ عِنْدَ ابْنِ حِبَّانَ فِي صَحِيحِهِ مِنْ حَدِيثِ الْوَلِيدِ بْنِ مَزِيدٍ وَالْحَاكِمِ فِي مُسْتَدْرَكِهِ وَقَالَ صَحِيحُ الإِسْنَادِ مِنْ حَدِيثِ بِشْرِ بْنِ بَكْرٍ كِلاهُمَا عَنْ سَعِيدِ بْنِ عَبْدِ الْعَزِيزِ لَكِنَّهُمَا قَالا عَنْ مَكْحُولٍ بَدَلَ رَبِيعَةَ وَهَكَذَا رَوَاهُ عُقْبَةُ بْنُ عَلْقَمَةَ عَنْ سَعِيدٍ وَالظَّاهِرُ أَنَّهُ سَمِعَهُ مِنْهُمَا فَقَدْ رَوَاهُ الْوَلِيدُ بْنُ مُسْلِمٍ عَنْ سَعِيدٍ عَنْهُمَا
কারণ মহান আল্লাহ আমার জন্য শাম এবং তার অধিবাসীদের জিম্মাদারি গ্রহণ করেছেন। আবু ইদরিস যখন এই হাদিসটি বর্ণনা করতেন, তখন তিনি ইবনে আমিরের দিকে তাকাতেন এবং বলতেন: আল্লাহ যার জিম্মাদার হন, তার কোনো ধ্বংস বা ক্ষতি নেই। এটি একটি হাসান মুসালসাল হাদিস, যা আমাদের দ্বিতীয় সূত্রের মাধ্যমে দামেস্কবাসীদের একটি পরম্পরায় বর্ণিত, যার সকল বর্ণনাকারীই দামেস্কের। আর আমি সেখানে প্রবেশ করেছি, এবং একইভাবে ইবনে হাওয়ালা (রাদিয়াল্লাহু আনহু) সেখানে অবস্থান করেছিলেন। তাবারানিও এটি আবু জুরআহ থেকে, তিনি আবু মুশহির থেকে 'বাদালিয়্যাহ' হিসেবে বর্ণনা করেছেন। আর এটি ইবনে হিব্বানের নিকট তাঁর 'সহিহ' গ্রন্থে ওয়ালিদ ইবনে মাজিদের হাদিস থেকে এবং হাকিমের নিকট তাঁর 'মুস্তাদরাক' গ্রন্থে রয়েছে, এবং তিনি বলেছেন যে এটি বিশর ইবনে বকরের হাদিস থেকে 'সহিহুল ইসনাদ' বা সহিহ সনদে বর্ণিত। তাঁরা উভয়েই সাঈদ ইবনে আব্দুল আজিজ থেকে বর্ণনা করেছেন, তবে তাঁরা রবীআহর পরিবর্তে মাকহুল থেকে বর্ণনা করেছেন। একইভাবে উকবাহ ইবনে আলকামা এটি সাঈদ থেকে বর্ণনা করেছেন। আর স্পষ্ট প্রতীয়মান হয় যে, তিনি তাঁদের উভয়ের থেকেই এটি শুনেছেন; কারণ ওয়ালিদ ইবনে মুসলিম এটি সাঈদ থেকে এবং তিনি তাঁদের উভয়ের থেকেই বর্ণনা করেছেন।
(খণ্ড: ১)
আল-বুলদানিয়্যাত লিস সাখাবী
(পৃষ্ঠা: ٦١)
مَعًا لَكِنْ بِدُونِ أَبِي إِدْرِيسَ نَبَّهَ عَلَيْهَا الْمِزِّيُّ فِي أَطْرَافِهِ وَهُوَ مُنْقَطِعٌ فَرَبِيعَةُ لَمْ يُدْرِكْ ابْنَ حَوَالَةَ وَمَكْحُولٌ لَمْ يَسْمَعْ مِنْهُ وَقَدْ روينَاهُ فِي فَضَائِل الشَّام لأبي مُحَمَّد الربعِي من طَرِيق الْوَلِيد بْن مُسْلِم بِإِثْبَات أَبِي إِدْرِيس فَكَأَنَّهُ سَهْو فَقَدْ روى أَحْمَد طَرِيق مَكْحُول خَاصَّة من طَرِيق مُحَمَّد بْن رَاشد عَنْهُ بِدُونِهِ وَمِمَّنْ روى هَذَا الْحَدِيث عَنِ ابْن حِوَالَة سلمَان أَوْ سُلَيْمَان بْن سمير ومرثد أَبُو قتيلة وَكِلَاهُمَا عِنْدَ أَحْمَد فِي مُسْنده والطَّبَرَانِيّ فِي الْكَبِير وَثَانِيهمَا عِنْدَ أَبِي دَاوُود فِي سنَنه وَالْبَغوِيّ وَابْن شاهين فِي مُعْجم الصَّحَابَة لَهما وَكَذَا رَوَاهُ بسر بْن عُبَيْد اللَّهِ الْحَضْرَمِيّ وَصَالح بن رستم كِلَاهُمَا عَنِ ابْن حِوَالَة بِنَحْوِهِ
একত্রে, তবে আবু ইদরীস ব্যতীত; আল-মিযযী তার 'আতরাফ' গ্রন্থে এ বিষয়ে সতর্ক করেছেন। আর এটি বিচ্ছিন্ন (মুনকাতি‘), কেননা রাবিয়াহ ইবনে হাওয়ালাকে পাননি এবং মাকহুল তার থেকে শ্রবণ করেননি। আমরা এটি আবু মুহাম্মাদ আর-রাবাঈ রচিত 'ফাযায়িলে শাম' গ্রন্থে ওয়ালিদ ইবনে মুসলিমের সূত্রে আবু ইদরীসের উল্লেখসহ বর্ণনা করেছি, তাই এটি সম্ভবত একটি ভ্রম; কেননা ইমাম আহমাদ বিশেষভাবে মাকহুলের সূত্রটি মুহাম্মাদ ইবনে রাশিদের মাধ্যমে তার (আবু ইদরীস) ব্যতীতই বর্ণনা করেছেন। যারা ইবনে হাওয়ালা থেকে এই হাদিসটি বর্ণনা করেছেন তাদের মধ্যে রয়েছেন সালমান অথবা সুলাইমান ইবনে সামির এবং মারসাদ আবু কাতীলাহ। তারা উভয়েই আহমাদের 'মুসনাদ' এবং তাবারানির 'আল-কাবীর'-এ রয়েছেন। দ্বিতীয় জন আবু দাউদের 'সুনান', এবং বাগাওয়ী ও ইবনে শাহীনের নিজ নিজ 'মু'জামুস সাহাবাহ' গ্রন্থে রয়েছেন। একইভাবে বিসর ইবনে উবাইদুল্লাহ আল-হাদরামি এবং সালিহ ইবনে রুস্তম—উভয়েই ইবনে হাওয়ালা থেকে অনুরূপ বর্ণনা করেছেন।
(খণ্ড: ১)
আল-বুলদানিয়্যাত লিস সাখাবী
(পৃষ্ঠা: ٦٢)
وَرَوَاهُ جُبَيْر بْن نفير والْحَارث بْن الْحَارِث الْحِمصِي وَعبد اللَّه بْن عَبْد الثمالِي وَكثير بْن مرّة وَآخَرُونَ أَن ابْن حِوَالَة قَالَ فَذكر نَحوه وَلَفظ رِوَايَة أَبِي قتيلة عَلَيْك بِالشَّام فَإِنَّهُ خيرة اللَّه من أرضه يجتبي إِلَيْهَا خيرته من عباده فَإِن أَبَيْتُم فَعَلَيْكُم بيمنكم واسقوا من غدركم فَإِن اللَّه قَدْ توكل لي بِالشَّام وَأَهله وَلَهُ شَاهد عَنْ أَبِي الدَّرْدَاء وواثلة بْن الْأَسْقَع وَابْن عُمَر وَغَيرهم من الصَّحَابَة رضي الله عنهم وَبِالسَّنَدِ الأَوَّل إِلَى أَبِي بَكْر الْهَاشِمِي ثَنَا أَبُو مسْهر ثَنَا سَعِيد بْن عَبْد الْعَزِيز لَعَلَّه عَنْ ربيعَة بْن يَزِيد قَالَ قَالَ أَبُو إِدْرِيس الْخَولَانِيّ رحمه الله الْمَسَاجِد مجَالِس الْكِرَام
এটি জুবায়ের বিন নুফাইর, আল-হারিস বিন আল-হারিস আল-হিমসি, আবদুল্লাহ বিন আবদ আস-সুমালি, কাসীর বিন মুররাহ এবং অন্যান্যরা বর্ণনা করেছেন যে, ইবনে হাওয়ালা বলেছেন—অতঃপর তিনি এর অনুরূপ উল্লেখ করেছেন। আবু কুতাইলার বর্ণনার শব্দ হলো: "তুমি শামের প্রতি মনোযোগী হও, কারণ এটি আল্লাহর জমিনের মধ্যে তাঁর মনোনীত স্থান, যেখানে তিনি তাঁর বান্দাদের মধ্য থেকে মনোনীতদের সমবেত করেন। যদি তোমরা অস্বীকার করো, তবে তোমরা তোমাদের ইয়ামেনের প্রতি মনোযোগী হও এবং তোমাদের জলাশয় থেকে পানি পান করো। কারণ আল্লাহ শামের এবং এর অধিবাসীদের ব্যাপারে আমার জন্য জিম্মাদারি গ্রহণ করেছেন।" আবু আদ-দারদা, ওয়াসিলা বিন আল-আসকা, ইবনে উমর এবং অন্যান্য সাহাবীগণের (আল্লাহ তাঁদের প্রতি সন্তুষ্ট হন) পক্ষ থেকে এর সমর্থনমূলক বর্ণনা রয়েছে। এবং প্রথম সনদের মাধ্যমে আবু বকর আল-হাশিমির সূত্রে, আবু মুসগির আমাদের নিকট হাদীস বর্ণনা করেছেন, সাঈদ বিন আব্দুল আজিজ আমাদের নিকট হাদীস বর্ণনা করেছেন—সম্ভবত রাবিয়া বিন ইয়াজিদ থেকে—তিনি বলেন, আবু ইদ্রিস আল-খাওলানি (আল্লাহ তাঁর প্রতি রহম করুন) বলেছেন: "মসজিদসমূহ হলো সম্মানিত ব্যক্তিদের মজলিস।"
(খণ্ড: ১)
আল-বুলদানিয়্যাত লিস সাখাবী
(পৃষ্ঠা: ٦٣)
الْبَلَد الرَّابِع بَيْت الْمُقَدّسواسْمه أَيْضا إيليا وَهُوَ بلد فضائله لَا تستقصى وشمائل بهجتها زَائِدَة بمسجده الشريف الْأَقْصَى ثَالِث الْحَرَمَيْنِ وَثَانِي المسجدين وَأول الْقبْلَتَيْنِ ذِي الصَّخْرَة المعظمة والقبة النضرة المحترمة لَا تشد الرّحال بَعْد المسجدين إِلَّا إِلَيْهِ وَلَا تعقد الخناصر بَعْد الموطنين إِلَّا عَلَيْهِ وَبِهِ صلى
চতুর্থ শহর: বায়তুল মুকাদ্দাসএর নাম ইলিয়াও বটে। এটি এমন এক শহর যার ফযীলতসমূহ গণনা করে শেষ করা যায় না এবং এর সুমহান মসজিদুল আকসার কারণে এর সৌন্দর্যের বৈশিষ্ট্যসমূহ অপরিসীম। এটি দুই হারামের পর তৃতীয় পবিত্র স্থান, দ্বিতীয় নির্মিত মসজিদ এবং প্রথম কিবলা। এটি সুমহান পাথর (সখরা) এবং উজ্জ্বল ও সম্মানিত গম্বুজ বিশিষ্ট। দুই মসজিদের পর কেবল এর উদ্দেশ্যেই সফরের প্রস্তুতি গ্রহণ করা হয় এবং এই দুই পবিত্র স্থানের পর কেবল এরই শ্রেষ্ঠত্ব ঘোষণা করা হয়। সেখানেই তিনি সালাত আদায় করেছেন...
(খণ্ড: ১)
আল-বুলদানিয়্যাত লিস সাখাবী
(পৃষ্ঠা: ٦٤)
الرَّسُول بالأنبياء عليهم السلام لَيْلَة الْإِسْرَاء وعرج بِهِ مِنْهُ إِلَى السَّمَاء بِدُونِ شكّ وامتراء الصَّلَاة فِيهِ مَعَ الْإِخْلَاص وَعدم الِاشْتِبَاه تفضل عَلَيْهَا فِي غَيْر المسجدين بِخمْس مئة أَو بِأَلف صَلَاة ولشرفه سَأَلَ الكليم مُوسَى عليه السلام عِنْدَ وَفَاته ربه الدنو مِنْهُ ليفوز بِتِلْكَ الْقرْبَة بَل استوطنه وورده خلق من الْأَنْبِيَاء وَالصَّحَابَة والأعيان جديرون بإفرادهم فِي ديوَان وَكنت مِمَّن تشرف بسلوكه وتعرف بِالْأَخْذِ عَنْ أجلاء السَّنَد فِيهِ وملوكه تفضل اللَّه الْكَرِيم بِالْعودِ إِلَيْهِ وتطول بِمَا الْمعول فِي تَحْقِيقه عَلَيْهِ
4 - أَخْبَرَنِي الشَّيْخَانِ الإِمَامُ التَّقِيُّ أَبُو بَكْرٍ وَأَسْمَاءُ ابْنَا مُحَمَّدِ بْنِ إِسْمَاعِيلَ الْقَلْقَشَنْدِيُّ بِبَيْتِ الْمَقْدِسِ قُلْت لَهُمَا أَخْبَرَكُمَا الشِّهَابُ أَبُو الْخَيْرِ أَحْمَدُ بْنُ الْحَافِظِ أَبِي سَعِيدٍ الْعَلائِيُّ سَمَاعًا لِلْمَرْأَةِ وَإِذْنًا إِنْ لَمْ يَكُنْ سَمَاعًا لِلآخَرِ قَالَ أَنا أَبُو مُحَمَّدٍ عَبْدُ اللَّهِ بْنُ الْحَسَنِ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ الْحَافِظِ عَبْدُ الْغَنِي وَالْعِمَادُ أَبُو بَكْرِ بْنُ الرَّضِيُّ وَأَبُو مُحَمَّدٍ عَبْدُ اللَّهِ بْنُ الْحُسَيْنِ بْنِ أَبِي التَّائِبِ الأَنْصَارِيُّ وَحَبِيبَةُ ابْنَةِ الزّيْنِ عَبْدِ الرَّحْمَنِ وَزَيْنَبُ ابْنَةُ الْكَمَالِ وَعَائِشَةُ ابْنَةُ مُحَمَّدِ بْنِ الْمُسْلِمِ وَفَاطِمَةُ ابْنَةُ عَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ عِيسِى الذَّهَبِيُّ سَمَاعًا قَالُوا أَنا إِبْرَاهِيمُ بْنُ خَلِيلٍ الدِّمَشْقِيُّ زَادَ الثَّالِثُ وَأَبُو مُحَمَّدٍ مَكِّيُّ بْنُ الْمُسْلِمِ بْنِ مَكِّيِّ بْنِ عَلانَ قَالَ أَوَّلُهُمَا أَنا عَبْدُ الرَّحْمَنِ بْنُ عَلِيِّ بْنِ الْخَرَقِيُّ وَقَالَ ثَانِيهُمَا أَنا الْفَضْلُ بْنُ الْحُسَيْنِ الْبَانَيَاسِيُّ قَالا أَنا عَلِيُّ بْنُ الْحَسَنِ أَنا مُحَمَّدُ بْنُ عَلِيٍّ الْمَازِنِيُّ أَنا الْفَضْلُ بْنُ جَعْفَرٍ الْمُؤَذِّنُ أَنا عَبْدُ الرَّحْمَنِ بْنُ الْقَاسِمِ بْنِ الْفَرَجِ أَنا عَبْدُ الأَعْلَى بْنُ مسْهر ثَنَا سَعِيد بْن عَبْد الْعَزِيزِ عَنْ زِيَادِ بْنِ أَبِي سَوْدَةَ عَنْ مَيْمُونَةَ رضي الله عنها مَوْلاةٍ لِرَسُولِ اللَّهِ {صلى الله عليه وسلم} قَالَتْ قُلْتُ يَا رَسُولَ اللَّهِ أَفْتِنَا فِي بَيْتِ الْمَقْدِسِ قَالَ {صلى الله عليه وسلم} ائْتُوهُ فَصَلُّوا فِيهِ قَالَت كَيْفَ وَالرُّومُ إِذْ ذَاكَ فِيهِ قَالَ {صلى الله عليه وسلم} فَإِنْ لَمْ تَسْتَطِيعُوا فَابْعَثُوا بِزَيْتٍ يُسْرَجُ فِي قَنَادِيلِهِ هَذَا حَدِيثٌ حسن
ইসরা বা নৈশ ভ্রমণের রজনীতে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আম্বিয়া আলাইহিমুস সালামদের নিয়ে (সালাত আদায় করেছেন) এবং সেখান থেকেই কোনো প্রকার সন্দেহ ও সংশয় ব্যতিরেকে তাঁকে আসমানে আরোহণ করানো হয়েছে। সেখানে ইখলাসের সাথে এবং দ্বিধাহীন চিত্তে সালাত আদায় করা অন্য দুই মাসজিদ ব্যতীত অন্যত্র পাঁচশত বা এক হাজার সালাতের চেয়েও অধিক ফযীলতপূর্ণ। এর মর্যাদার কারণেই কালিমুল্লাহ মূসা আলাইহিস সালাম তাঁর ইন্তেকালের সময় তাঁর রবের নিকট এর নিকটবর্তী হওয়ার প্রার্থনা করেছিলেন যাতে তিনি সেই সান্নিধ্য লাভে ধন্য হতে পারেন। বরং সেখানে বহু নবী, সাহাবী এবং মহান ব্যক্তিবর্গ বসবাস করেছেন এবং আগমন করেছেন, যাঁদের প্রত্যেকের কথা স্বতন্ত্র গ্রন্থে লিপিবদ্ধ হওয়ার যোগ্য। আমি তাঁদের অন্তর্ভুক্ত ছিলাম যারা সেখানে যাতায়াতের মাধ্যমে ধন্য হয়েছি এবং এর মহান সনদধারী ব্যক্তিত্ব ও অধিপতিদের নিকট হতে জ্ঞানার্জনের মাধ্যমে পরিচিতি লাভ করেছি। মহান আল্লাহ অনুগ্রহ করে আমাকে সেখানে পুনরায় প্রত্যাবর্তনের সুযোগ দান করেছেন এবং এর গবেষণায় যার ওপর পূর্ণ নির্ভর করা হয় তাঁর মাধ্যমে কৃপা করেছেন।
৪ - আমাকে দুই শায়খ, ইমাম তাকী আবু বকর এবং আসমা—যাঁরা মুহাম্মাদ বিন ইসমাঈল আল-কালকাশান্দীর সন্তান—বায়তুল মাকদিসে সংবাদ দিয়েছেন। আমি তাঁদের উভয়কে বলেছি, শিহাব আবু আল-খাইর আহমদ বিন হাফিজ আবু সাঈদ আল-আলাই কি আপনাদের সংবাদ দিয়েছেন—নারীর জন্য শ্রবণের মাধ্যমে এবং অন্যের জন্য যদি শ্রবণ না হয়ে থাকে তবে অনুমতির মাধ্যমে? তিনি বলেন, আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবু মুহাম্মাদ আবদুল্লাহ বিন হাসান বিন আবদুল্লাহ বিন হাফিজ আব্দুল গানি, ইমাদ আবু বকর বিন আর-রাদি, আবু মুহাম্মাদ আবদুল্লাহ বিন আল-হুসাইন বিন আবু আত-তায়িব আল-আনসারী, হাবীবাহ বিনতে আয-যাইন আব্দুর রহমান, যাইনাব বিনতে আল-কামাল, আয়িশা বিনতে মুহাম্মাদ বিন আল-মুসলিম এবং ফাতিমা বিনতে আব্দুর রহমান বিন ঈসা আদ-দাহাবী, শ্রবণের মাধ্যমে। তাঁরা বলেন, আমাদের সংবাদ দিয়েছেন ইবরাহীম বিন খালিল আদ-দিমাশকী। তৃতীয়জন আরও বর্ধিত করেছেন আবু মুহাম্মাদ মাক্কী বিন আল-মুসলিম বিন মাক্কী বিন আলানকে। তাঁদের প্রথমজন বলেন, আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আব্দুর রহমান বিন আলী বিন আল-খারাকী। দ্বিতীয়জন বলেন, আমাদের সংবাদ দিয়েছেন ফাদল বিন আল-হুসাইন আল-বানিয়াসী। তাঁরা উভয়ে বলেন, আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আলী বিন হাসান। তিনি বলেন, আমাদের সংবাদ দিয়েছেন মুহাম্মাদ বিন আলী আল-মাযিনী। তিনি বলেন, আমাদের সংবাদ দিয়েছেন ফাদল বিন জাফর আল-মুয়াযযিন। তিনি বলেন, আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আব্দুর রহমান বিন আল-কাসিম বিন আল-ফারাজ। তিনি বলেন, আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আব্দুল আলা বিন মুসহির। তিনি বলেন, আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন সাঈদ বিন আব্দুল আজিজ, যিয়াদ বিন আবু সাওদাহ থেকে, তিনি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের মুক্তদাসী মায়মুনা রাদিয়াল্লাহু আনহা থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: আমি বললাম, হে আল্লাহর রাসূল! বায়তুল মাকদিস সম্পর্কে আমাদের ফতোয়া দিন। তিনি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন: "সেখানে যাও এবং তাতে সালাত আদায় করো।" তিনি বললেন, কিন্তু তখন তো সেখানে রোমানদের আধিপত্য (কীভাবে যাব)? তিনি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন: "যদি তোমরা সেখানে যেতে সক্ষম না হও, তবে অন্তত তার প্রদীপগুলো জ্বালানোর জন্য তেল পাঠিয়ে দাও।" এটি একটি হাসান হাদিস।
(খণ্ড: ১)
আল-বুলদানিয়্যাত লিস সাখাবী
(পৃষ্ঠা: ٦٥)
أخرجه أَبُو دَاوُود فِي الصَّلاةِ مِنْ سُنَنِهِ عَنِ النُّفَيْلِيِّ عَنْ مِسْكِينِ بْنِ بُكَيْرٍ وَأَبُو أَحْمَدَ الْعَسْكَرِيُّ فِي مَعْرِفَةِ الصَّحَابَةِ مِنْ طَرِيقِ مَرْوَانَ بْنِ مُحَمَّدٍ كِلاهُمَا عَنْ سَعِيدٍ بِهِ فَوَقَعَ لَنَا عَالِيًا وَسَكَتَ عَلَيْهِ أَبُو دَاوُدَ فَهُوَ عَلَى قَاعِدَتِهِ صَالِحٌ وَلَمْ يَنْفَرِدْ بِهِ سَعِيدٌ فَقَدْ رَوَاهُ كَذَلِكَ مُعَاوِيَةُ بْنُ صَالِحٍ عَنْ زِيَادٍ أخرجه الطَّبَرَانِي فِي المعجم الْكَبِير وَعنهُ أَبُو نعيم فِي الْمعرفَة بِلَفْظ قُلْت يَا رَسُولَ اللَّهِ أَفْتِنَا عَنْ بَيْت الْمُقَدّس فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ {صلى الله عليه وسلم} أَرض الْمَحْشَر والمنشر ائتوه فصلوا فِيهِ فَإِن الصَّلَاة فِيهِ كألف صَلَاة قَالَ فَقُلْتُ أَرَأَيْت يَا رَسُولَ اللَّهِ من لَمْ يطق أَن يتَحَمَّل إِلَيْهِ أَن يَأْتِيهِ فَقَالَ {صلى الله عليه وسلم} فَإِنْ لَمْ يطق ذَلِكَ فليهد إِلَيْهِ زيتا يسرج فِيهِ فَمن أهدي إِلَيْهِ كَانَ كمن صلى فِيهِ وَكَذَا رَوَاهُ الْبَيْهَقِيّ فِي الشّعب من حَدِيث سَعِيد وَعُثْمَان بْن عَطَاء الْخُرَاسَانِي كِلَاهُمَا عَنْ زِيَاد وَلَفظه أَنَّ رَسُولَ اللَّهَ {صلى الله عليه وسلم} قَالَ من لَمْ يَأْتِ بَيت
আবু দাউদ তাঁর সুনানের 'সালাত' অধ্যায়ে নুফাইলি থেকে, তিনি মিসকিন বিন বুকাইর থেকে এটি বর্ণনা করেছেন। আবু আহমাদ আল-আসকারি 'মা'রিফাতুস সাহাবা' গ্রন্থে মারওয়ান বিন মুহাম্মদের সূত্রে বর্ণনা করেছেন; তাঁরা উভয়ই সাঈদ থেকে এটি বর্ণনা করেছেন। ফলে এটি আমাদের কাছে উচ্চ সনদে পৌঁছেছে এবং আবু দাউদ এ বিষয়ে নীরব থেকেছেন, তাই তাঁর নীতিমালা অনুযায়ী এটি গ্রহণযোগ্য (সলিহ)। সাঈদ এটি বর্ণনায় একাকী নন, মুয়াবিয়া বিন সলিহ-ও যিয়াদ থেকে অনুরূপ বর্ণনা করেছেন। তাবারানি এটি 'আল-মু'জাম আল-কাবীর'-এ বর্ণনা করেছেন এবং তাঁর থেকে আবু নুআইম 'আল-মা'রিফা' গ্রন্থে এই শব্দে বর্ণনা করেছেন: আমি বললাম, "হে আল্লাহর রাসূল! বায়তুল মাকদিস সম্পর্কে আমাদের ফতোয়া দিন।" তখন রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বললেন, "এটি হাশর ও পুনরুত্থানের ভূমি। তোমরা সেখানে যাও এবং সালাত আদায় করো। কারণ সেখানে সালাত আদায় করা এক হাজার সালাতের সমান।" তিনি বলেন, আমি বললাম, "হে আল্লাহর রাসূল! আপনি কি মনে করেন, যে ব্যক্তি সেখানে যাওয়ার সামর্থ্য রাখে না বা সেখানে পৌঁছাতে সক্ষম নয়?" তখন তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বললেন, "যদি সে তাতে সক্ষম না হয়, তবে সে যেন সেখানে প্রদীপ জ্বালানোর জন্য তেল উপহার পাঠায়। যে ব্যক্তি সেখানে তেল উপহার পাঠাবে, সে সেখানে সালাত আদায়কারীর ন্যায় সওয়াব পাবে।" অনুরূপভাবে বাইহাকি 'আশ-শুআব'-এ সাঈদ এবং উসমান বিন আতা আল-খুরাসানি উভয়ের সূত্রে যিয়াদ থেকে এটি বর্ণনা করেছেন এবং তাঁর বর্ণনার শব্দ হলো, রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন, "যে ব্যক্তি বায়তুল (মাকদিসে) আসতে পারবে না..."
(খণ্ড: ১)
আল-বুলদানিয়্যাত লিস সাখাবী
(পৃষ্ঠা: ٦٦)
الْمُقَدّس يُصَلِّي فِيهِ فليبعث بِزَيْت يسرج فِيهِ ووصفت مَيْمُونَة فِي هَذِه الرِّوَايَة بِأَنَّهَا زوج النَّبِي {صلى الله عليه وسلم} وَهُوَ وهم فَهَؤُلَاءِ جَمَاعَة متفقون عَلَى أَنه عَنْ زِيَاد عَنْ مَيْمُونَة بِلَا وَاسِطَة لَكِن رَوَاهُ ثَوْر بْن يَزِيد وَصدقَة بْن يَزِيد وَيزِيد بْن يَزِيد بْن جَابِر كلهم عَنْ زِيَاد بِإِثْبَات عُثْمَان أخي زِيَاد بَينهمَا فحَدِيث صَدَقَة عِنْدَ الطَّبَرَانِي فِي الْكَبِير وحَدِيث ثَوْر عِنْده أَيْضا وَكَذَا عِنْدَ أَحْمَد فِي مُسْنده وَابْنه عَبْد اللَّهِ فِي زوائده وَابْن ماجة فِي سنَنه كلهم من حَدِيث عِيسَى بْن يُونُس عَنْهُ وَرَوَاهُ أَبُو يعلي فِي مُسْنَدِهِ عَنْ عَمْرِو بْنِ الْحصين عَنْ يحيي بْن الْعَلَاء عَنْ ثَوْر فَجعل الْوَاسِطَة أَبَا أُمَامَة وَنسب مَيْمُونَة ابْنة الْحَارِث وَأَنَّهَا زوج النَّبِي {صلى الله عليه وسلم} رضي الله عنها وَلَكِن عَمْرو وَشَيْخه ضعيفان جدا وَهَذَا الْإِسْنَاد خطأ من أَحدهمَا وَرَوَاهُ مُحَمَّدُ بْنُ عَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ ثَوْبَانَ عَنْ ثَوْرٍ فَقَالَ عَنْ مَكْحُولٍ أَنَّ
পবিত্র স্থানে সালাত আদায় করবে, তাই সে যেন সেখানে প্রদীপ জ্বালাবার জন্য তেল পাঠায়। এই বর্ণনায় মাইমুনাহকে নবী (তাঁর ওপর আল্লাহর শান্তি ও রহমত বর্ষিত হোক)-এর স্ত্রী হিসেবে বর্ণনা করা হয়েছে, যা একটি বিভ্রম। বর্ণনাকারীদের এই দলটি এ বিষয়ে একমত যে, এটি যিয়াদ থেকে কোনো মাধ্যম ছাড়াই সরাসরি মাইমুনাহ থেকে বর্ণিত। তবে সাওর ইবনে ইয়াজিদ, সাদাকা ইবনে ইয়াজিদ এবং ইয়াজিদ ইবনে ইয়াজিদ ইবনে জাবির—তাঁরা সকলে যিয়াদ থেকে বর্ণনা করার সময় তাঁদের উভয়ের মাঝে যিয়াদের ভাই উসমানকে মাধ্যম হিসেবে উল্লেখ করেছেন। সাদাকার হাদিসটি তাবারানি তাঁর 'আল-কাবীর' গ্রন্থে বর্ণনা করেছেন এবং সাওরের হাদিসটিও সেখানে রয়েছে। অনুরূপভাবে আহমাদ তাঁর 'মুসনাদ' গ্রন্থে, তাঁর পুত্র আব্দুল্লাহ তাঁর 'যাওয়ায়েদ' গ্রন্থে এবং ইবনে মাজাহ তাঁর 'সুনান' গ্রন্থে এটি বর্ণনা করেছেন; তাঁরা সকলেই ঈসা ইবনে ইউনুসের সূত্রে তাঁর থেকে বর্ণনা করেছেন। আবু ইয়ালা তাঁর 'মুসনাদ' গ্রন্থে আমর ইবনুল হুসাইন থেকে, তিনি ইয়াহইয়া ইবনুল আলা থেকে এবং তিনি সাওর থেকে বর্ণনা করেছেন; সেখানে তিনি আবু উমামাহকে মাধ্যম হিসেবে উল্লেখ করেছেন এবং মাইমুনাহ বিনতুল হারিসকে নবী (তাঁর ওপর আল্লাহর শান্তি ও রহমত বর্ষিত হোক)-এর স্ত্রী হিসেবে অভিহিত করেছেন (আল্লাহ তাঁর প্রতি সন্তুষ্ট হোন)। কিন্তু আমর এবং তাঁর উস্তাদ উভয়েই অত্যন্ত দুর্বল, আর এই সনদটি তাঁদের কোনো একজনের পক্ষ থেকে হওয়া একটি ভুল। মুহাম্মদ ইবনে আব্দুর রহমান ইবনে সাওবান এটি সাওর থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি মাকহুল থেকে বর্ণনা করে বলেছেন যে...
(খণ্ড: ১)
আল-বুলদানিয়্যাত লিস সাখাবী
(পৃষ্ঠা: ٦٧)
مَيْمُونَةَ سَأَلَتْ رَسُولَ اللَّهِ {صلى الله عليه وسلم} عَنْ بَيْتِ الْمَقْدِسِ فَقَالَ {صلى الله عليه وسلم} نِعْمَ الْمَسْكَنُ بَيْتُ الْمَقْدِسِ وَمَنْ صَلَّى فِيهِ صَلاةً كَانَتْ بِأَلْفِ صَلاةٍ فِيمَا سِوَاهُ قَالَتْ فَمَنْ لَمْ يُطِقْ ذَلِكَ قَالَ {صلى الله عليه وسلم} فَلْيُهْدِ زَيْتًا وَهَذَا مُرْسَلٌ فَظَاهره شُهُود مَكْحُول سُؤال مَيْمُونَة رضي الله عنها وعَلى تَقْدِير رِوَايَته لَهُ عَنْهَا فَهُوَ لَمْ يسمع مِنْهَا وَالَّذِي قبله أصح وَزِيَاد وثقة ابْن حبَان ومروان بْن مُحَمَّد الدِّمَشْقِي وَكَذَا وثقا أَخَاهُ عُثْمَان وَهُوَ مَشْهُور بالرواية عَنِ الصَّحَابَة وَبَاقِي رِجَاله أَيْضا ثِقَات وَلذَا قَالَ النَّوَوِيّ فِي شرح الْمُهَذّب عَنْ سَنَد ابْن ماجة إِنَّه لَا بَأْس بِهِ بَل قَالَ العلائي إِنَّه حَدِيث حسن أَوْ صَحِيح إِن شَاءَ اللَّه قَالَ وَهُوَ أقوى مَا ورد فِي مِقْدَار المضاعفة فِي الصَّلَاة بِالْمَسْجِدِ الْأَقْصَى وَحِينَئِذٍ فَقَوْل الْحَافِظ عَبْد الْحق إِنَّه لَيْسَ بِقَوي وَكَذَا قَوْل الذَّهَبِيّ فِي مِيزَانه إِنَّه مُنكر جدا فِيهِ نظر ومقالة
মাইমুনা (রাদিয়াল্লাহু আনহা) আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-কে বায়তুল মাকদিস সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করলেন। তখন তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বললেন, "বাসস্থান হিসেবে বায়তুল মাকদিস কতই না চমৎকার! সেখানে কেউ এক ওয়াক্ত সালাত আদায় করলে তা অন্য স্থানের এক হাজার সালাতের সমান সওয়াব রাখে।" তিনি (মাইমুনা) বললেন, "তবে যে ব্যক্তি সেখানে পৌঁছাতে সক্ষম হবে না?" তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বললেন, "সে যেন (সেখানকার প্রদীপ জ্বালানোর জন্য) তেল হাদিয়া পাঠায়।" এটি একটি মুরসাল বর্ণনা; বাহ্যিকভাবে মনে হয় মাকহুল মাইমুনা (রাদিয়াল্লাহু আনহা)-এর প্রশ্ন করার সময় উপস্থিত ছিলেন, তবে তাঁর থেকে তাঁর বর্ণনার বিষয়টি বিবেচনা করলে দেখা যায় যে, তিনি মূলত তাঁর থেকে সরাসরি শ্রবণ করেননি। এর পূর্ববর্তী বর্ণনাটি অধিকতর বিশুদ্ধ। ইবনে হিব্বান ও মারওয়ান ইবনে মুহাম্মদ আদ-দিমাশকি যিয়াদ-কে নির্ভরযোগ্য বলেছেন, তেমনি তাঁরা তাঁর ভাই উসমানকেও নির্ভরযোগ্য বলেছেন, আর তিনি সাহাবীগণের নিকট থেকে বর্ণনার জন্য প্রসিদ্ধ। এর অবশিষ্ট বর্ণনাকারীগণও নির্ভরযোগ্য। একারণেই ইমাম নববী 'শারহুল মুহাযযাব'-এ ইবনে মাজাহ-র সনদ সম্পর্কে বলেছেন যে, এতে কোনো সমস্যা নেই; বরং আল-আলাই বলেছেন যে, এটি ইনশাআল্লাহ হাসান অথবা সহীহ হাদীস। তিনি আরও বলেছেন যে, মসজিদে আকসায় সালাতের সওয়াব বৃদ্ধির পরিমাণ সম্পর্কে যা কিছু বর্ণিত হয়েছে, তার মধ্যে এটিই সবচেয়ে শক্তিশালী। এমতাবস্থায়, হাফেজ আব্দুল হকের বক্তব্য যে এটি শক্তিশালী নয়, এবং ইমাম যাহাবীর তাঁর 'মীযান'-এ করা মন্তব্য যে এটি অত্যন্ত মুনকার—এই উক্তিগুলো পর্যালোচনার অবকাশ রাখে।
(খণ্ড: ১)
আল-বুলদানিয়্যাত লিস সাখাবী
(পৃষ্ঠা: ٦٨)
أَولهمَا أخف وَكَأن ثَانِيهمَا استنكره من جِهَة تضمنه إهداء الزَّيْت من الْحجاز إِلَى الشَّام وَهَذَا لَا يصير الْخَبَر مُنْكرا خُصُوصا وَلَا يمْتَنع حمله عَلَى إرْسَال ثمن لشراء ذَلِكَ أَخْبَرَنِي الْعِزّ أَبُو مُحَمَّد الْحَنَفِيّ عَنْ أم مُحَمَّد حفيدة الْفَخر أَنبأَنَا جدي الْفَخر ابْن الْبُخَارِي حُضُورًا وَإِجَازَةً أَنا أَبُو البركات بْن ملاعب أَنا الشريف أَبُو جَعْفَر العباسي الْمَكِّي أَنا أَبُو عَلِي الْحَسَن بْن عَبْد الرَّحْمَنِ الشَّافِعِي أَنا أَحْمَد بْن إِبْرَاهِيمَ بْن فراس العبقسي أَنا الْعَبَّاس بْن مُحَمَّد بْن الْحَسَن بْن قُتَيْبَة الْعَسْقَلَانِي ثَنَا دهثم بْن الْفَضْل بْن خلف الرَّمْلِيّ قَالَ سَمِعت ضَمرَة بْن ربيعَة يَقُول مَا رَأَيْت لَذَّة الْعَيْش إِلَّا فِي خَصْلَتَيْنِ أكل الموز بالعسل فِي ظلّ صَخْرَة بَيْت الْمُقَدّس وحَدِيث إِبْرَاهِيم بْن أَبِي عبلة فَلم أر أفْصح مِنْهُ
তাদের প্রথমটি অধিকতর হালকা এবং মনে হয় দ্বিতীয়টি তিনি এই কারণে প্রত্যাখ্যান করেছেন যে, এতে হিজাজ থেকে শামে জলপাই তেল উপহার পাঠানোর বিষয়টি অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। তবে এটি বিশেষভাবে হাদিসটিকে ‘মুনকার’ (অস্বীকৃত) করে দেয় না এবং এটি ক্রয়ের জন্য মূল্য পাঠানোর অর্থ গ্রহণ করতে কোনো বাধা নেই। আমাকে আল-ইয আবু মুহাম্মদ আল-হানাফি সংবাদ দিয়েছেন উম্মে মুহাম্মদ থেকে, যিনি আল-ফখরের নাতনি; তিনি বলেন, আমার দাদা ফখর ইবনে আল-বুখারি আমাদের সংবাদ দিয়েছেন সশরীরে উপস্থিতি এবং অনুমতির (ইজাজত) মাধ্যমে; তিনি বলেন, আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবু আল-বারাকাত বিন মুলাইব; তিনি বলেন, আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আশ-শরিফ আবু জাফর আল-আব্বাসি আল-মাক্কি; তিনি বলেন, আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবু আলি আল-হাসান বিন আবদুর রহমান আশ-শাফিয়ি; তিনি বলেন, আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আহমদ বিন ইব্রাহিম বিন ফিরাাস আল-আবকাসি; তিনি বলেন, আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আল-আব্বাস বিন মুহাম্মদ বিন আল-হাসান বিন কুতাইবা আল-আসকালানি; আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন দাহসাম বিন আল-ফাদল বিন খালাফ আর-রামলি, তিনি বলেন, আমি দামরা বিন রাবিয়াহকে বলতে শুনেছি যে: আমি দুই প্রকারের স্বাদ ব্যতীত জীবনের প্রকৃত স্বাদ আর কিছুতে দেখিনি—বাইতুল মুকাদ্দাসের পাথরের ছায়ায় বসে মধুর সাথে কলা খাওয়া এবং ইব্রাহিম বিন আবি আবলাহর হাদিস শ্রবণ করা; কারণ আমি তাঁর চেয়ে অধিক প্রাঞ্জল ভাষী আর কাউকেই দেখিনি।
(খণ্ড: ১)
আল-বুলদানিয়্যাত লিস সাখাবী
(পৃষ্ঠা: ٦٩)
الْبَلَد الْخَامِس بلد الْخَلِيلوَيُقَال لَهُ بلد حبرون بِفَتْح الْمُهْملَة ثُمَّ مُوَحدَة سَاكِنة ثُمَّ رَاء مُهْملَة وَآخره نون وَهُوَ فِي وهدة بَيْنَ جبال كثيفة الْأَشْجَار بِيَقِين أغلب فواكهها الزَّيْتُون والخرنوب والتين وَبَينه وَبَين الْقُدس بِدُونِ إِشْكَال سِتَّة أَمْيَال وَإِنَّمَا أضيف للخليل أَبِي الْأَنْبِيَاء الْكِرَام لشرفه بِكَوْنِهِ محلا لدفنه مَعَ وَلَده إِسْحَاق وحفيده يَعْقُوب عَلَيْهِم الصَّلَاة وَالسَّلَام وَكَذَا لدفن زَوجته الصديقة سارة أم إِسْحَاق المتوفية قبله بِاتِّفَاق بَل كُل ذَلِكَ مِمَّا تَلقاهُ الجيل بَعْد الجيل من زمن بَنِي إِسْرَائِيل وَإِلَى هَذَا الْوَقْت بِدُونِ تَبْدِيل وَأَنَّهُمْ فِي المربعة الَّتِي بناها السَّيِّد سُلَيْمَان وَهِيَ المغارة الَّتِي اشْتَرَاهَا الْخَلِيل من قَرْيَة حبرون بِأَرْض كنعان وَهُوَ مَحل شرِيف مفضل منيف خُصُوصا تِلْكَ المربعة المتضمنة للقبور الشَّرِيفَة الْأَرْبَعَة عَلَى وَجه الْإِجْمَال لَا التَّعْيِين المزيل للاحتمال وَلذَا كَانَ الْمُتَعَيّن فِي جَمِيعهَا الإجلال وصون كُل مَوضِع مِنْهَا عَنْ أَن تدوسه النِّسَاء وَالرِّجَال وَقَدْ قَرَأت الْحَدِيث بِتِلْكَ الْبقْعَة راجيا بركَة ذَلِكَ ونفعه وَشهِدت ذَاك السماط المأنوس ووددت التفضل من الرب سُبْحَانَهُ بِإِدْرَاك الِاغْتِبَاط بِالْعودِ لِهَذَا الْمحل المحروس
পঞ্চম শহর, খলীল (আলাইহিস সালাম)-এর শহরএকে হাবরুন শহরও বলা হয়—হা বর্ণে ফাতহা (জবর), এরপর বা বর্ণে সুকুন (জযম), এরপর রা এবং শেষে নুন। এটি নিসন্দেহে ঘন বৃক্ষরাজি ঘেরা পাহাড়গুলোর মধ্যবর্তী একটি নিম্নভূমিতে অবস্থিত, যার প্রধান ফল হলো জয়তুন, খারনুব এবং ডুমুর। আল-কুদস (জেরুজালেম) থেকে এর দূরত্ব কোনো প্রকার সংশয় ছাড়াই ছয় মাইল। সম্মানিত নবীদের পিতা খলীল (আলাইহিস সালাম)-এর দিকে এই শহরটি সম্পর্কিত হওয়ার কারণ হলো তাঁর মর্যাদা; যেহেতু এটি তাঁর এবং তাঁর পুত্র ইসহাক ও পৌত্র ইয়াকুব (তাঁদের ওপর সালাত ও সালাম বর্ষিত হোক)-এর সমাধিস্থল। তদ্রূপ এটি তাঁর স্ত্রী সিদ্দীকা সারা (ইসহাক আলাইহিস সালাম-এর জননী)-এরও সমাধিস্থল, যিনি সর্বসম্মতিক্রমে তাঁর পূর্বেই মৃত্যুবরণ করেছিলেন। বরং বনী ইসরাঈলের সময় থেকে বর্তমান সময় পর্যন্ত কোনো পরিবর্তন ছাড়াই প্রজন্ম থেকে প্রজন্মান্তরে এটি ঐতিহাসিকভাবে স্বীকৃত। তাঁরা সেই চতুর্ভুজাকৃতির প্রাঙ্গণে শায়িত আছেন যা সাইয়্যেদ সুলাইমান (আলাইহিস সালাম) নির্মাণ করেছিলেন; আর এটি সেই গুহা যা খলীল (আলাইহিস সালাম) কেনান ভূমির হাবরুন জনপদ থেকে ক্রয় করেছিলেন। এটি একটি অত্যন্ত সম্মানিত, শ্রেষ্ঠ ও উচ্চমর্যাদাসম্পন্ন স্থান, বিশেষ করে সেই চতুর্ভুজাকৃতির প্রাঙ্গণটি যা সামগ্রিকভাবে চারটি সম্মানিত কবরকে বেষ্টন করে আছে, যদিও সংশয় দূর করার মতো নির্দিষ্টভাবে কবরের অবস্থান চিহ্নিত করা হয়নি। তাই এই সম্পূর্ণ স্থানের প্রতি যথাযথ সম্মান প্রদর্শন করা এবং এর প্রতিটি অংশকে নারী ও পুরুষের পদদলিত হওয়া থেকে রক্ষা করা আবশ্যক। আমি সেই পবিত্র স্থানে হাদীস পাঠ করেছি এর বরকত ও উপকার লাভের আশায় এবং সেখানকার পরিচিত দস্তরখান (মেহমানদারি) প্রত্যক্ষ করেছি। আমি সুবহানাহু রব্ব-এর নিকট অনুগ্রহ প্রার্থনা করি যেন পুনরায় এই সুরক্ষিত স্থানে ফিরে আসার পরম সৌভাগ্য লাভ করতে পারি।
(খণ্ড: ১)
আল-বুলদানিয়্যাত লিস সাখাবী
(পৃষ্ঠা: ٧٠)
5 - أَخْبَرَنِي الْمُقْرِئُ الْخَيْرِ صَلاحُ الدِّينِ خَلِيلُ بْنُ أَحْمَدَ بْنِ عِيسَى بن الْعَلامَة صَلَاح الدَّين القيمري الْكُرْدِيِّ الْخَلِيلِيِّ بِقَرَاءَتِي عَلَيْهِ بِمَسْجِدِهَا الشَّرِيفِ قَالَ أَنا مُحَمَّدُ بْنُ مُحَمَّدِ بْنِ السَّرَّاجِ السَّكَنْدَرِيُّ بِالْقَاهِرَةِ أَنا أَبُو إِسْحَاقَ إِبْرَاهِيمُ بْنُ عَلِي الزَّرْزَارِيُّ وَأَبُو نُعَيْمٍ أَحْمَدُ بْنُ التَّقِيُّ الإِسْعَرْدِيُّ حُضُورًا عَلَيْهِمَا وِإِجَازَةً (ح)
وَأَنْبَأَنِي عَالِيًا أَبُو عَبْدِ اللَّهِ مُحَمَّدُ بْنُ أَحْمَدَ التِّرْمِذِيُّ فِيمَا أَجَازَ بِهِ إِلَيْنَا مِنَ الْبَلَدِ الْمُشَارِ إِلَيْهِ عَنِ الصَّدْرِ أَبِي الْفَتْحِ الْمَيْدُومِيُّ حُضُورًا وَإِجَازَةً قَالَ الثَّلاثَةُ أَنا النَّجِيبُ أَبُو الْفَرَجِ بْنُ الصَّيْقَلِ الْحَرَّانِيُّ أَنا أَبُو الْفَرَجِ بْنِ كُلَيْبٍ الْحَرَّانِيُّ أَنا أَبُو الْقَاسِمِ بْنُ بَيَانٍ الرَّزَّازُ أَنا أَبُو الْحَسَنِ بْنُ مَخْلَدٍ الْبَزَّارُ أَنا أَبُو عَلِيٍّ الصَّفَّارُ ثَنَا أَبُو عَلِيٍّ الْحَسَنُ بْنُ عَرَفَةَ الْعَبْدِيُّ ثَنَا هُشَيْمُ بْنُ بَشِيرٍ عَنْ يَزِيدَ بْنِ أَبِي زِيَادٍ ثَنَا عَبْدُ الرَّحْمَنِ بْنُ أَبِي لَيْلَى عَنْ كَعْبِ بْنِ عُجْرَةَ رضي الله عنه قَالَ لَمَّا نَزَلَتْ (إِنَّ اللَّهَ وَمَلائِكَتَهُ يُصَلُّونَ عَلَى النَّبِيِّ ياأيها الَّذين ءامنوا صَلُّوا عَلَيْهِ وَسَلِّمُوا تَسْلِيمًا) الْأَحْزَاب 56 قُلْنَا يَا رَسُولَ اللَّهِ قَدْ عَلِمْنَا السَّلامَ عَلَيْكَ فَكَيْفَ الصَّلاةُ عَلَيْكَ قَالَ {صلى الله عليه وسلم} قُولُوا اللَّهُمَّ صَلِّ عَلَى مُحَمَّدٍ وَعَلَى آلِ مُحَمَّدٍ كَمَا صليت على إِبْرَاهِيم وعَلى آل إِبْرَاهِيمَ إِنَّكَ حَمِيدٌ مَجِيدٌ وَبَارِكْ عَلَى مُحَمَّدٍ وَعَلَى آلِ مُحَمَّدٍ كَمَا باركت على إِبْرَاهِيم وعَلى آل إِبْرَاهِيمَ إِنَّكَ حَمِيدٌ مَجِيدٌ
৫ - উত্তম কারী সালাহুদ্দীন খলীল ইবন আহমাদ ইবন ঈসা ইবন আল্লামা সালাহুদ্দীন আল-কায়মারী আল-কুরদী আল-খালীলী তাঁর পবিত্র মসজিদে আমার কিরাআতের মাধ্যমে আমাকে সংবাদ দিয়েছেন। তিনি বলেন, কায়রোতে মুহাম্মদ ইবন মুহাম্মদ ইবন আস-সাররাজ আস-সাকান্দারী আমাদের সংবাদ দিয়েছেন। আবু ইসহাক ইব্রাহিম ইবন আলী আজ-জারজারী এবং আবু নুআয়ম আহমাদ ইবন আত-তাকি আল-ইসআরদী তাঁদের উপস্থিতিতে এবং ইজাজতের মাধ্যমে আমাদের সংবাদ দিয়েছেন (হ)
এবং আবু আবদুল্লাহ মুহাম্মদ ইবন আহমাদ আত-তিরমিজি উচ্চতর সনদে আমাকে সংবাদ দিয়েছেন যা তিনি উল্লিখিত শহর থেকে আমাদের প্রতি ইজাজত দিয়েছেন সাদর আবু আল-ফাতহ আল-মাইদুমি থেকে তাঁর উপস্থিতিতে এবং ইজাজতের মাধ্যমে। এই তিনজন বলেছেন, নাজীব আবু আল-ফারাজ ইবন আস-সাইকাল আল-হাররানী আমাদের সংবাদ দিয়েছেন। আবু আল-ফারাজ ইবন কুলাইব আল-হাররানী আমাদের সংবাদ দিয়েছেন। আবু আল-কাসিম ইবন বায়ান আর-রাজজাজ আমাদের সংবাদ দিয়েছেন। আবু আল-হাসান ইবন মাখলাদ আল-বাজজার আমাদের সংবাদ দিয়েছেন। আবু আলী আস-সাফফার আমাদের সংবাদ দিয়েছেন। আবু আলী হাসান ইবন আরাফাহ আল-আবদী আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন। হুশাইম ইবন বাশীর আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন ইয়াজিদ ইবন আবু জিয়াদ থেকে। আবদুর রহমান ইবন আবু লাইলা আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন কাব ইবন উজরাহ (আল্লাহ তাঁর ওপর সন্তুষ্ট হোন) থেকে। তিনি বলেন, যখন অবতীর্ণ হলো: (নিশ্চয়ই আল্লাহ এবং তাঁর ফেরেশতাগণ নবীর প্রতি রহমত বর্ষণ করেন; হে মুমিনগণ! তোমরাও তাঁর প্রতি রহমত বর্ষণ করো এবং যথাযথভাবে সালাম পেশ করো) আল-আহজাব ৫৬, তখন আমরা বললাম, হে আল্লাহর রাসূল! আপনার প্রতি সালাম পেশ করার পদ্ধতি তো আমরা জেনেছি, কিন্তু আপনার প্রতি দরুদ পাঠ করার নিয়ম কী? তিনি (আল্লাহর শান্তি ও রহমত তাঁর ওপর বর্ষিত হোক) বললেন, তোমরা বলো: হে আল্লাহ! আপনি মুহাম্মাদ এবং মুহাম্মাদের বংশধরদের ওপর রহমত বর্ষণ করুন যেভাবে আপনি ইব্রাহিম ও ইব্রাহিমের বংশধরদের ওপর রহমত বর্ষণ করেছেন, নিশ্চয়ই আপনি পরম প্রশংসিত ও মহিমান্বিত। আর আপনি মুহাম্মাদ এবং মুহাম্মাদের বংশধরদের ওপর বরকত দান করুন যেভাবে আপনি ইব্রাহিম ও ইব্রাহিমের বংশধরদের ওপর বরকত দান করেছেন, নিশ্চয়ই আপনি পরম প্রশংসিত ও মহিমান্বিত।
(খণ্ড: ১)
আল-বুলদানিয়্যাত লিস সাখাবী
(পৃষ্ঠা: ٧١)
قَالَ يَزِيد وَكَانَ عَبْد الرَّحْمَنِ يَقُول وَعَلَيْنَا مَعَهُمْ هَذَا حَدِيثٌ صَحِيحٌ رَوَاهُ أَحْمَدُ فِي مُسْنَدِهِ وَمِنْ طَرِيقِهِ الطَّبَرَانِيُّ عَنْ مُحَمَّدِ بْنِ فُضَيْلٍ وَالْحُمَيْدِيُّ وَالْعَدَنِيُّ فِي مُسْنَدَيْهِمَا عَنْ سُفْيَانَ بْنِ عُيَيْنَةَ كِلاهُمَا عَنْ يَزِيدَ وَالْقَاضِي إِسْمَاعِيل فِي الصَّلَاة النَّبَوِيَّة لَهُ عَنْ مُسَدّد وَأَبُو بكر بن عَاصِم فِي الصَّلَاة النَّبَوِيَّة لَهُ أَيْضا عَنْ أَبِي بَكْر بْن أَبِي شيبَة كِلَاهُمَا عَنْ هُشَيْم فَوَقَعَ لَنَا بَدَلا لَهُمْ عَاليًا وَمن طَرِيق مُحَمَّد بْن فُضَيْل رَوَاهُ الْمحَامِلِي فِي الْجُزْء الثَّامِن من أَمَالِيهِ البغدادية وَمن طَرِيق ابْن عُيَيْنَة رَوَاهُ الخلعي فِي الثَّانِي من فَوَائده وَمن طَرِيق مُسَدّد وَابْن أَبِي شيبَة رَوَاهُ الطَّبَرَانِي أَيْضا
ইয়াজিদ বলেন এবং আবদুর রহমান বলতেন: "আর আমাদের উপরেও তাদের সাথে"। এটি একটি সহিহ হাদিস। ইমাম আহমাদ এটি তাঁর মুসনাদে বর্ণনা করেছেন এবং তাঁর সূত্রে তাবারানি এটি মুহাম্মাদ ইবন ফুদাইল থেকে বর্ণনা করেছেন। হুমাইদি এবং আদানি তাঁদের নিজ নিজ মুসনাদে সুফইয়ান ইবন উইয়াইনাহ থেকে বর্ণনা করেছেন, তাঁরা উভয়েই ইয়াজিদ থেকে এটি বর্ণনা করেছেন। আর কাজী ইসমাইল তাঁর 'আস-সালাতুন নাবাওয়িয়্যাহ' গ্রন্থে মুসাদ্দাদ থেকে এবং আবু বকর ইবন আসিমও তাঁর 'আস-সালাতুন নাবাওয়িয়্যাহ' গ্রন্থে আবু বকর ইবন আবি শায়বাহ থেকে বর্ণনা করেছেন; তাঁরা উভয়েই হুশাইম থেকে বর্ণনা করেছেন। ফলে এটি আমাদের নিকট তাঁদের তুলনায় একটি 'আলি বাদাল' (উচ্চতর বিকল্প সনদ) হিসেবে পৌঁছেছে। মুহাম্মাদ ইবন ফুদাইলের সূত্রে মুহাম্মালি তাঁর 'আমালিল বাগদাদিয়্যাহ' এর অষ্টম খণ্ডে এটি বর্ণনা করেছেন এবং ইবন উইয়াইনাহর সূত্রে খালাঈ তাঁর 'ফাওয়ায়েদ' এর দ্বিতীয় খণ্ডে এটি বর্ণনা করেছেন। মুসাদ্দাদ ও ইবন আবি শায়বাহর সূত্রে তাবারানিও এটি বর্ণনা করেছেন।