(খণ্ড: ১)
আল-মুগনি ফি দবিতিল আসমাই লি রুওয়াতিল আনবা
(পৃষ্ঠা: -)
المغني في ضبط الأسماء لرواة الأنباء القسم: التراجم والطبقات
الكتاب: المغني في ضبط الأسماء لرواة الأنباء
(كتاب نادر في ضبط أسماء الرجال، ومعرفة كنى الرواة وألقابهم وأنسابهم)
ومعه: فصول من مقدمة التوشيح شرح الجامع الصحيح للسيوطي
المؤلف: محمد طاهر بن علي الهندي (ت 976)
صاحب مجمع البحار في لغة الأحاديث والآثار
المحقق: زين العابدين الأعظمي
تقديم: محمد أحمد رضا السرجودوي - عبد الله المعروفي
الناشر: الرحيم أكاديمي - كراتشي - باكستان
عام النشر: [1428 هـ؟]
عدد الصفحات: 352
[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]
تاريخ النشر بالشاملة: 18 جُمادَى الآخرة 1443
আল-মুগনী ফী দ্বাবত্বিল আসমা লি রুওয়াতিল আনবা বিভাগ: জীবনী ও স্তরসমূহ
গ্রন্থ: আল-মুগনী ফী দ্বাবত্বিল আসমা লি রুওয়াতিল আনবা
(বর্ণনাকারীদের নাম শুদ্ধিকরণ এবং বর্ণনাকারীদের উপনাম, উপাধি ও বংশপরিচয় জানার ক্ষেত্রে একটি বিরল গ্রন্থ)
এবং এর সাথে রয়েছে: সুয়ূতী রচিত ‘আত-তাওশীহ শারহুল জামিউস সহীহ’-এর মুকাদ্দিমা বা মুখবন্ধ থেকে সংগৃহীত কিছু পরিচ্ছেদ
লেখক: মুহাম্মদ তাহির বিন আলী আল-হিন্দী (মৃত্যু ৯৭৬ হি.)
‘মাজমাউল বিহার ফী লুগাতিল আহাদীস ওয়াল আসার’ গ্রন্থের রচয়িতা
সম্পাদক: যাইনুল আবেদীন আল-আযমী
উপস্থাপনা: মুহাম্মদ আহমদ রেযা আস-সারজুদবী - আব্দুল্লাহ আল-মারূফী
প্রকাশক: আর-রাহীম একাডেমি - করাচি - পাকিস্তান
প্রকাশকাল: [১৪২৮ হি.?]
পৃষ্ঠা সংখ্যা: ৩৫২
[বইটির পৃষ্ঠা নম্বর মূল মুদ্রিত সংস্করণের অনুরূপ রাখা হয়েছে]
শামিলা লাইব্রেরিতে প্রকাশের তারিখ: ১৮ জুমাদাল আখিরাহ ১৪৪৩
(খণ্ড: ১)
আল-মুগনি ফি দবিতিল আসমাই লি রুওয়াতিল আনবা
(পৃষ্ঠা: ١)
كليمة عن هذه الطبعةبسم الله الرحمن الرحيم
الحمد لله الملك الكريم الوهاب، والصلاة والسلام على من أوتي الحكمة وفصل الخطاب، سيدنا وسندنا محمد الأوّاه الأوّاب، وآله وأحفاده السادة الأنجاب، ونجوم الهداية الأصحاب، والذين اتبعوهم بإحسان من المحدثين والفقهاء وأولي الألباب.
وبعد:
فإن من أهم ما يجب على طالب الحديث الشريف بأنواعه، والمشتغل بفروعه وأوضاعه -ضبط الأسماء والألفاظ الواردة في دواوينه والوقوف على الوجه الصحيح في ذلك؛ ليكون ما يحفظه مصونًا وما يكتبه ويقرأه موثقًا لدى أصحاب الحديث، وقد قال الإمام ابن الصلاح مُنَوِّهًا بشأن هذا الأمر ومُعَرّفًا بالحاجة إليه في "النوع الخامس والعشرين في كتابة الحديث وكيفية ضبط الكتاب وتقييده" من كتابه العظيم "معرفة أنواع علم الحديث":
"ثم إن على كتبة الحديث وطلَبته صرف الهمة إلى ضبط ما يكتبونه أو يحصلونه بخط الغير من مروياتهم على الوجه الذي رووه؛ شكلًا ونقطًا يؤمن معهما الالتباس -وأضاف قائلًا- وهذا بيان أمور مفيدة في ذلك:
أحدها: ينبغى أن يكون اعتناؤه -من بين ما يلتبس- بضبط الملتبس من أسماء الناس أكثر؛ فإنها لا تُستدرك بالمعنى، ولا يُستدل عليها بما قبل وما بعد". (معرفة أنواع علم الحديث، ص: 254 - 296).
ونظرًا إلى خطورة هذه الواجبة تنبه لها أصحاب الفن وقاموا بأعبائها؛ فنوعوا للضبط أنواعًا، ووضعوا للوقوف على الوجه الصحيح أصولًا عامة وقواعد لطيفة؛ يستمد بها في معرفة المطلوب ويُوقف بها على الضبط بسهولة ويسر.
এই সংস্করণ সম্পর্কে কিছু কথাপরম করুণাময় অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে শুরু করছি।
সকল প্রশংসা আল্লাহর জন্য, যিনি অধিপতি, মহিয়ান ও অতিশয় দাতা। সালাত ও সালাম বর্ষিত হোক তাঁর প্রতি, যাঁকে হিকমত (প্রজ্ঞা) ও ফাসলুল খিতাব (সুস্পষ্ট ভাষণ) দান করা হয়েছে—আমাদের নেতা ও আশ্রয়স্থল মুহাম্মাদ, যিনি ছিলেন অত্যন্ত বিনয়ী ও আল্লাহর অভিমুখী; এবং তাঁর পরিবার-পরিজন, উচ্চবংশীয় সম্ভ্রান্ত বংশধরগণ, হিদায়াতের নক্ষত্রতুল্য সাহাবায়ে কিরাম এবং কিয়ামত পর্যন্ত যারা নিষ্ঠার সাথে মুহাদ্দিসগণ, ফকীহগণ ও প্রজ্ঞাবানদের মধ্য থেকে তাঁদের অনুসরণ করেছেন, তাঁদের সকলের প্রতি।
অতঃপর:
হাদীস শাস্ত্রের বিভিন্ন প্রকারের শিক্ষার্থী এবং এর শাখা-প্রশাখা ও প্রয়োগিক বিষয়ে নিয়োজিত ব্যক্তিদের জন্য সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ কর্তব্যসমূহের একটি হলো—হাদীস গ্রন্থসমূহে উল্লিখিত নাম ও শব্দাবলির সঠিক বিন্যাস ও উচ্চারণ নিশ্চিত করা এবং এক্ষেত্রে সঠিক রূপটি সম্পর্কে অবগত হওয়া; যাতে তার মুখস্থকৃত বিষয় সংরক্ষিত থাকে এবং তার লিখিত ও পঠিত বিষয়সমূহ হাদীস বিশারদদের নিকট নির্ভরযোগ্য হয়। ইমাম ইবনুস সালাহ তাঁর মহান গ্রন্থ "মা'রিফাতু আনওয়া'ই 'ইলমিল হাদীস"-এর "পঞ্চবিংশ প্রকার: হাদীস লিখন এবং পাণ্ডুলিপি নির্ভুল ও সংবদ্ধ করার পদ্ধতি" অধ্যায়ে এই বিষয়টির গুরুত্ব তুলে ধরে এবং এর প্রয়োজনীয়তা বর্ণনা করে বলেছেন:
"অতঃপর হাদীস লেখক ও শিক্ষার্থীদের কর্তব্য হলো, তারা যা লিখে বা অন্যের হাতের লেখা থেকে তাদের বর্ণিত হাদীস হিসেবে যা সংগ্রহ করে, তা যেভাবে বর্ণিত হয়েছে সেভাবেই নির্ভুলভাবে সংরক্ষণে পূর্ণ মনোযোগ নিবদ্ধ করা; হরকত ও নুকতা প্রদানের মাধ্যমে যাতে কোনো প্রকার বিভ্রান্তির অবকাশ না থাকে। তিনি আরও বলেন—এ বিষয়ে কতিপয় উপকারী বিষয়ের বর্ণনা নিম্নরূপ:
এক: বিভ্রান্তি সৃষ্টির আশঙ্কাপূর্ণ বিষয়গুলোর মধ্যে মানুষের নামের নির্ভুল রূপ নিশ্চিত করার প্রতি তার বিশেষ যত্নবান হওয়া উচিত। কারণ, নামের ক্ষেত্রে অর্থ দেখে ভুল সংশোধন করা সম্ভব নয় এবং পূর্বাপর প্রসঙ্গের মাধ্যমেও তা নির্ণয় করা যায় না।" (মা'রিফাতু আনওয়া'ই 'ইলমিল হাদীস, পৃষ্ঠা: ২৫৪ - ২৯৬)।
এই কর্তব্যের গুরুত্ব বিবেচনা করে এই শাস্ত্রের বিশেষজ্ঞগণ সজাগ হয়েছেন এবং এর গুরুভার বহন করেছেন। ফলে তাঁরা শব্দ বা নামের নির্ভুলতা নিশ্চিত করার বিভিন্ন পদ্ধতি উদ্ভাবন করেছেন এবং সঠিক রূপটি জানার জন্য সাধারণ মূলনীতি ও সূক্ষ্ম নিয়মাবলি প্রণয়ন করেছেন; যার সাহায্যে কাঙ্ক্ষিত বিষয়টি জানা যায় এবং অত্যন্ত সহজে ও সাবলীলভাবে শব্দের সঠিক রূপটি নির্ণয় করা সম্ভব হয়।
(খণ্ড: ১)
আল-মুগনি ফি দবিতিল আসমাই লি রুওয়াতিল আনবা
(পৃষ্ঠা: ١)
وقد وسعوا في هذا الأمر، فأفردوا له تصانيف عديدة وتآليف قيمة؛ إضافةً إلى ما كتبوه في الضبط والتقييد خلال كتبهم في مصطلح الحديث، وبين ثنايا كلامهم حول آداب الطالب وما يجب على المحدث الاعتناء به، وقد أثروا بذلك المكتبة العربية بكم هائل من الكتب العظيمة والنادرة.
وكل هذا يدل على أهمية الموضوع وخطورته لديهم، وشعورهم بالحاجة إليه والعناية به، فكانوا على غاية من الإتقان والتحرز في هذ الشأن، آخذين بكل ما يُعَظم شانَ الحديث ويُقَويه من التيقظ والاتقان، فما كانوا يثقون بقراءة من لم يراع الضبط على الوجه الصحيح، ولا يُصغون إلى سماع من تغافل أثناء ذلك.
وخلال بحثنا عن تصانيف مفردة موضوعة في هذا الفن، وقفنا على كتاب موجَز في هذا الموضوع، كُتب في القرن العاشر من الهجرة في أرض الهند، ألا وهو كتاب "المغني في ضبط الأسماء لرواة الأنباء" قام بتأليفه ملك المحدثين، الإمام، المجاهد العلامة الشيخ محمد طاهر بن علي الفتني -المولود سنة 913 هـ
(1) في غجرات الهند، والمتوفى بأجَّين سنة 986 هـ شهيدًا- مفرد في بابه ومفيد جدًّا على اختصاره؛ وهو مرجع للمشتغلين بالحديث، ومأوى لهم في مشكلات الضبط منذ ما ألف ونشر، وقد أقر له بذلك أفذاذ من رجال العلم والمعرفة.
--------------------------------------------
তারা এই বিষয়ে ব্যাপক কাজ করেছেন এবং এর জন্য বহু স্বতন্ত্র গ্রন্থ ও মূল্যবান রচনা তৈরি করেছেন; হাদীস শাস্ত্রের পরিভাষা (মুসতালাহুল হাদীস) বিষয়ক কিতাবসমূহে শব্দের নির্ভুলতা (দাবত) ও নিয়মাবদ্ধকরণ (তাকয়িদ) সম্পর্কে যা লিখেছেন এবং ছাত্রের আদব ও মুহাদ্দিসের জন্য যা যত্ন নেওয়া আবশ্যক সেই সংক্রান্ত আলোচনার পাশাপাশি। এর মাধ্যমে তারা আরবি পাঠাগারকে এক বিশাল সংখ্যক মহান ও বিরল কিতাব দ্বারা সমৃদ্ধ করেছেন।
এ সমস্ত কিছুই তাদের নিকট এই বিষয়ের গুরুত্ব ও মহত্ত্বের প্রমাণ দেয় এবং এর প্রয়োজনীয়তা ও এর প্রতি তাদের যত্নের অনুভূতি প্রকাশ করে। ফলে তারা এই বিষয়ে চরম নৈপুণ্য ও সতর্কতা অবলম্বন করেছিলেন; তারা এমন সবকিছুই গ্রহণ করতেন যা হাদীসের মর্যাদা বৃদ্ধি করে এবং সতর্কতা ও নিপুণতার মাধ্যমে একে শক্তিশালী করে। তাই তারা এমন ব্যক্তির পাঠের ওপর আস্থা রাখতেন না যে সঠিকভাবে শব্দের নির্ভুলতা (দাবত) রক্ষা করত না এবং পাঠের সময় যারা অমনোযোগী থাকত তাদের শ্রবণকেও তারা গ্রাহ্য করতেন না।
এই শাস্ত্রে রচিত স্বতন্ত্র কিতাবসমূহ অনুসন্ধানের সময় আমরা এই বিষয়ে একটি সংক্ষিপ্ত কিতাবের সন্ধান পেয়েছি, যা হিজরি দশম শতাব্দীতে ভারতবর্ষের মাটিতে রচিত হয়েছে; আর তা হলো ‘আল-মুগনী ফী দাবতিল আসমা লি-রুওয়াতিল আনবা’ কিতাবটি। এটি রচনা করেছেন মুহাদ্দিসকুলের শিরোমণি, ইমাম, মুজাহিদ, আল্লামা শায়খ মুহাম্মদ তাহের বিন আলী আল-ফাত্তানী—যিনি ৯১৩ হিজরিতে
(১) ভারতের গুজরাটে জন্মগ্রহণ করেন এবং ৯৮৬ হিজরিতে উজ্জয়িনীতে শহীদ হিসেবে মৃত্যুবরণ করেন। এটি তার নিজ বিষয়ে এক অনন্য এবং এর সংক্ষিপ্ততা সত্ত্বেও অত্যন্ত উপকারী একটি গ্রন্থ। এটি সংকলন ও প্রকাশের পর থেকেই হাদীস চর্চাকারীদের জন্য একটি আকর গ্রন্থ এবং নির্ভুলতা (দাবত) সংক্রান্ত জটিলতায় তাদের আশ্রয়স্থল হিসেবে বিবেচিত; আর জ্ঞান-বিজ্ঞানের বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ এর এই শ্রেষ্ঠত্ব স্বীকার করেছেন।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-মুগনি ফি দবিতিল আসমাই লি রুওয়াতিল আনবা
(পৃষ্ঠা: ٢)
وقد طبع هذا الكتاب الفريد لأول مرة في الهند سنة 1290 هـ أو سنة 1292 هـ بالمطبع الفاروقي بدهلي، ملحقًا بكتاب آخر وهو "تقريب التهذيب" للمحدث العسقلاني
(2)، ثم أعيد طباعته سنة 1308 هـ بهامش ذلك الكتاب، وطبع مرة أخرى سنة 1320 هـ بالمطبع المجتبائي ملحقًا بالكتاب نفسه.
وتتابعت طبعاته لتوفر الطلبات وشدة الحاجة إليه؛ وبالرغم من أهميته البالغة في موضوعه واختصاره لم يقم أحد بخدمة الكتاب على وجه يليق بهذا الكتاب الفريد؛ بل تعرض لهجمات التصحيف والأوهام التي كان بصدد القضاء والهجوم عليها. كما قاله الأستاذ المعروفي في مقدمته الآتية:
". . . أكبر رزية من رزايا العلم كثرة الخطأ والتصحيف والتحريف؛ حتى إن كتابًا مثل "المغني" يتصدى لصيانة المجتمع العلمي عن الوقوع في معرة الخطأ والتصحيف والتحريف لم يسلم من هذه البلية! فأصيب في سائر طبعاته بأنواع من الأخطاء والتحريفات التي قد بَعدتها عن موضوعها، وكادت تُضلها عن هدف المؤلف من تأليفه؛ حتى قال بعضهم: عاد على موضوعه بالنقض"
(3).
--------------------------------------------
এই অনন্য কিতাবটি প্রথমবার ভারতে ১২৯০ হিজরি অথবা ১২৯২ হিজরিতে দিল্লির ফারুকি ছাপাখানায় মুদ্রিত হয়, যা মুহাদ্দিস আসকালানির 'তাকরীবুত তাহযীব'
(২) নামক অন্য একটি কিতাবের সাথে সংযুক্ত ছিল। এরপর ১৩০৮ হিজরিতে উক্ত কিতাবের হাশিয়াতে (টীকায়) এটি পুনরায় মুদ্রিত হয় এবং ১৩২০ হিজরিতে মুজতাবায়ি ছাপাখানায় একই কিতাবের সাথে সংযুক্ত হিসেবে আবারও মুদ্রিত হয়।
চাহিদা বৃদ্ধি ও এর প্রতি তীব্র প্রয়োজনের কারণে এর মুদ্রণ অব্যাহত থাকে। এই কিতাবটির বিষয়ের গভীর গুরুত্ব ও সংক্ষিপ্ততা সত্ত্বেও, কেউ এই অনন্য কিতাবের উপযুক্ত কোনো খিদমত বা সম্পাদনা করেনি; বরং এটি এমন সব ভুল পাঠ (তাসহিফ) ও বিভ্রান্তির শিকার হয়েছে যেগুলোকে দূর করার লক্ষ্যেই এটি রচিত হয়েছিল। যেমনটি উস্তাদ মারুফি তার পরবর্তী ভূমিকায় বলেছেন:
". . . ইলমি বা জ্ঞানতাত্ত্বিক জগতের অন্যতম বড় বিপদ হলো ভুল, ভুল পাঠ ও বিকৃতির আধিক্য; এমনকি 'আল-মুগনি'-র মতো একটি কিতাব, যা ইলমি সমাজকে ভুল, ভুল পাঠ ও বিকৃতির কলঙ্ক থেকে রক্ষা করার দায়িত্ব নিয়েছিল, সেটিও এই মুসিবত থেকে রক্ষা পায়নি! ফলে এর প্রতিটি মুদ্রণ এমন সব ভুল ও বিকৃতির শিকার হয়েছে যা একে তার মূল বিষয় থেকে দূরে সরিয়ে দিয়েছে এবং লেখকের রচনার উদ্দেশ্যকে প্রায় লক্ষ্যভ্রষ্ট করে ফেলেছে; এমনকি কেউ কেউ বলেছেন: এটি তার মূল উদ্দেশ্যের বিপরীত ফল বয়ে এনেছে"
(৩).
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-মুগনি ফি দবিতিল আসমাই লি রুওয়াতিল আনবা
(পৃষ্ঠা: ٣)
فقد كان هذا الكتاب العظيم بحاجة إلى التحقيق والتصحيح عن طريق مقابلة النسخ المو [. . .] والرجوع إلى مصادر المؤلف ومراجع الكتاب، فقام بهذا العمل فضيلة الشيخ المحدث الأستاذ زين العابدين الأعظمي حفظه الله تعالى، مشرف قسم التخصص في علوم الحديث بجامعة مظاهر علوم، بسهارنفور، وأتى بذلك ما كان يجب على علماء الهند والباحثين القيام به بالنسبة إلى الكتاب. جزاه الله عن العلم وأهله موفورًا، وجعل سعيه مشكورًا.
فاستطعنا بذلك أن نقول: إنها الطبعة الأولى للكتاب، متوفرة التحقيق، اعتنت بتصحيح المتن، منذ ما طبع الكتاب في الهند وخارجه، وطبعت هذه النسخة المحققة بمكتبة دار العلوم الرحيمية، باندى بوره، بكشمير المحتلة، سنة 1426 هـ.
وصلت بضعة نسخ من هذه الطبعة الجديدة إلى جمهورية باكستان الإسلامية، ولكنها لا تزيد طلبة الحديث والمشتغلين به إلا لهبًا وغمًّا، فازدادت بذلك الطلبات وصاحت الحاجة إلى توفير مئاة من النسخ، ولكن أين طالب الحديث من اقتناء الكتاب من الهند -البلاد المجاورة أرضًا والبعيدة تناولًا-؛ فقلل الجبال ودونها حتوف!.
فلمس فضيلة الشيخ مولانا الدكتور محمد عبد الرحمان غضنفر المحترم -مدير الرحيم أكادمي، بكراتشي- حاجة الطلبة والمشتغلين بالحديث، وأراد سدها حسب ديدنه في خدمة العلم وأهله
(4). جزاه الله خيرًا وزاده توفيقًا وتيسيرًا.
لمحة عن الاختلاف في اسم المؤلف:واختلف المترجمون في تعيين اسم المؤلف بأن "طاهر" جزء من اسمه -وهو مركب من جزءين كعادة أهل الهند في تسمية الأولاد- أو هو اسم أبيه وإنما اسمه "محمد"؟
--------------------------------------------
এই মহান গ্রন্থটির পাণ্ডুলিপিগুলোর পারস্পরিক তুলনা এবং লেখকের মূল উৎস ও গ্রন্থের তথ্যসূত্রসমূহের প্রতি প্রত্যাবর্তনের মাধ্যমে তাহকীক (সম্পাদনা) ও তাসহীহ (সংশোধন)-এর প্রয়োজন ছিল। এই মহান কাজটি সম্পাদন করেছেন শাইখুল মুহাদ্দিস আল-উস্তায যাইনুল আবিদীন আল-আ’জমী (হাফিযাহুল্লাহ), যিনি সাহারানপুরের মাযাহিরে উলূম মাদরাসার ইলমে হাদীস বিশেষজ্ঞ বিভাগের প্রধান। গ্রন্থটির ক্ষেত্রে হিন্দুস্তানের উলামায়ে কিরাম ও গবেষকদের যা করণীয় ছিল, তিনি তা আঞ্জাম দিয়েছেন। আল্লাহ তাআলা ইলম ও আহলে ইলমের পক্ষ থেকে তাঁকে সর্বোত্তম প্রতিদান দান করুন এবং তাঁর এই প্রচেষ্টাকে কবুল করুন।
এর মাধ্যমে আমরা বলতে পারি যে: এটিই এই কিতাবটির প্রথম তাহকীক সম্বলিত সংস্করণ, যা মূল পাঠের (মতন) সংশোধনের প্রতি যত্নশীল হয়েছে—ভারতে এবং ভারতের বাইরে কিতাবটি মুদ্রিত হওয়ার পর থেকে। এই তাহকীককৃত সংস্করণটি ১৪২৬ হিজরীতে অধিকৃত কাশ্মীরের বান্ডিপোরার মাকতাবাতু দারিল উলূমির রাহীমিয়্যাহ থেকে প্রকাশিত হয়েছে।
এই নতুন সংস্করণের কিছু অনুলিপি ইসলামী প্রজাতন্ত্র পাকিস্তানে পৌঁছেছিল, কিন্তু তা হাদীসের ছাত্র ও গবেষকদের তৃষ্ণা ও ব্যাকুলতাকে কেবল বাড়িয়েই দিয়েছে। ফলে এর চাহিদা বহুগুণ বেড়ে যায় এবং শত শত কপির প্রয়োজনীয়তা দেখা দেয়। কিন্তু একজন হাদীসের ছাত্রের পক্ষে হিন্দুস্তান থেকে এই কিতাব সংগ্রহ করা অত্যন্ত কঠিন—যা ভূখণ্ড হিসেবে নিকটবর্তী হলেও সংগ্রহের দিক থেকে অনেক দূরে; কারণ মাঝে পাহাড়ের বাধা এবং জীবনের ঝুঁকি রয়েছে!
করাচির আর-রাহীম একাডেমির পরিচালক শাইখ মাওলানা ডক্টর মুহাম্মাদ আব্দুর রহমান গাযানফার (মুহতারাম) হাদীসের ছাত্র ও গবেষকদের এই প্রয়োজনীয়তা অনুভব করলেন এবং ইলম ও আহলে ইলমের খিদমতে তাঁর চিরাচরিত নিয়ম অনুযায়ী তিনি সেই অভাব পূরণের ইচ্ছা পোষণ করলেন। আল্লাহ তাঁকে উত্তম প্রতিদান দিন এবং তাঁর জন্য তাওফীক ও আসানি বৃদ্ধি করে দিন।
লেখকের নাম সংক্রান্ত মতভেদ সম্পর্কে একটি আলোকপাত:জীবনীকারগণ লেখকের নাম নির্ধারণে মতভেদ করেছেন যে, "তাহের" কি তাঁর নামেরই অংশ—যা ভারতবাসীদের নাম রাখার প্রথা অনুযায়ী দুই অংশের সমন্বয়ে একটি যৌগিক নাম—নাকি এটি তাঁর পিতার নাম এবং তাঁর মূল নাম হলো "মুহাম্মাদ"?
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-মুগনি ফি দবিতিল আসমাই লি রুওয়াতিল আনবা
(পৃষ্ঠা: ٤)
فذكر المؤرخ عبد القادر العيدروسي -وهو أقربهم إليه وأعرف بأحواله- في "النور السافر" والمحدث الشيخ عبد الحق الدهلوي في "أخبارا الأخيار" وابن العماد في "شذرات الذهب" والمحدث الشيخ عبد العزيز الدهلوي في "العجالة النافعة"
(5) والعلامة عبد الحي اللكنوي في التعليقات السنية
(6)، بأنه "محمد طاهر"، وهو المعتمد؛ إذ أنها مصادر ذات أهمية بالغة في ترجمة المؤلف.
في حين أن الشيخ عبد الحي الحسني سماه بمحمد بن طاهر في "نزهة الخواطر"، و"الثقافة الإسلامية في الهند"، وجزم بذلك أبو ظفر الندوي في كتاب "تذكرة شيخ عبد الوهاب أقضى القضاة"
(7)، وذكره شيخنا فضيلة الأستاذ العلامة محمد عبد الحليم النعماني حفظه الله تعالى في كتابه العجاب "فوائد جامعة بر عجاله نافعه" شرح العجالة النافعة للشيخ عبد العزيز الدهلوي
(8).
وقد قام العلامة عبد الحي اللكنوي بالنقد على عصريه النواب الشيخ صديق حسن خان القنوجي، وخطأه في أن سماه في كتابه "تقصار جيود الأحرار من تذكرة جنود الأبرار" بـ "محمد بن طاهر"، وإليك نصه:
--------------------------------------------
ঐতিহাসিক আব্দুল কাদির আল-আইদারুসি—যিনি তাদের মধ্যে তাঁর সবচেয়ে নিকটবর্তী এবং তাঁর জীবনকাল সম্পর্কে অধিক অবগত ছিলেন—'আন-নূরুস সাফির'-এ, মুহাদ্দিস শায়খ আব্দুল হক দেহলভি 'আখবারুল আখইয়ার'-এ, ইবনুল ইমাদ 'শাযারাতুয যাহাব'-এ, মুহাদ্দিস শায়খ আব্দুল আজিজ দেহলভি 'আল-উজালাতুন নাফিয়া'
(৫)-এ এবং আল্লামা আব্দুল হাই লখনভি 'আত-তালিকাতুস সানিয়্যাহ'
(৬)-এ উল্লেখ করেছেন যে, তাঁর নাম "মুহাম্মদ তাহের", এবং এটিই নির্ভরযোগ্য; কেননা লেখকের জীবনী পর্যালোচনায় এগুলি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ উৎস।
পক্ষান্তরে, শায়খ আব্দুল হাই আল-হাসানি 'নুযহাতুল খাওয়াতীর' এবং 'আস-সাকাফাতুল ইসলামিয়া ফিল হিন্দ'-এ তাঁর নাম "মুহাম্মদ বিন তাহের" উল্লেখ করেছেন, এবং আবু যফর নদভী 'তাযকিরাহ শায়খ আব্দুল ওয়াহাব আকদ্বাল কুদাত'
(৭) গ্রন্থে এই বিষয়ে দৃঢ়তা ব্যক্ত করেছেন। আমাদের শায়খ ফদিলাতুল উস্তায আল্লামা মুহাম্মদ আব্দুল হালিম নোমানী (হাফিজাহুল্লাহু তাআলা) তাঁর বিস্ময়কর গ্রন্থ 'ফওয়ায়েদে জামেয়া বার উজালা নাফেয়া'-এ এটি উল্লেখ করেছেন, যা শায়খ আব্দুল আজিজ দেহলভির 'আল-উজালাতুন নাফিয়া' এর ব্যাখ্যাগ্রন্থ
(৮)।
আল্লামা আব্দুল হাই লখনভি তাঁর সমসাময়িক নওয়াব শায়খ সিদ্দিক হাসান খান কান্নুজীর সমালোচনা করেছেন এবং তাঁকে ভুল সাব্যস্ত করেছেন যে তিনি তাঁর 'তিকসারু জুয়ুদিল আহরার মিন তাযকিরাতি জুনুদিল আবরার' গ্রন্থে তাঁকে "মুহাম্মদ বিন তাহের" নামে অভিহিত করেছেন। নিচে তাঁর বক্তব্য উদ্ধৃত করা হলো:
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-মুগনি ফি দবিতিল আসমাই লি রুওয়াতিল আনবা
(পৃষ্ঠা: ٥)
"الثالث والسبعون: ذكر فى ذلك الكتاب ترجمة مؤلف "مجمع البحار" وسماه بمحمد بن طاهر، وهو باطل عند كل ماهر، فليس اسمه محمدًا؛ بل طاهر صرح به هو بنفسه في كتبه، وغيره من الأكابر"
(9).
وقال أيضًا في كتابه "ظفر الأماني بشرح مختصر الجرجاني" أثناء كلامه عن حديث مشهور في الوضوء:
"وكذا العلامة محمد طاهر الفتني، في آخر كتابه "مجمع البحار" إنه لم يوجد. -فعلق عليه بما نصه-: ذكر غير ملتزم الصحة من أفاضل عصرنا في اسمه: محمد بن طاهر، وهو زلة عن قلمه، ولا عجب؛ فإنه مجدِّد الزلات، ومحدد المسامحات، عفا الله عنه السيئات. منه سلمه الله تعالى
(10).
لكن خلط الشيخ القنوجي بين تسمية المؤلف، فسماه في المذكور أعلاه بمحمد بن طاهر وكذا في كتابه "اتحاف النبلاء المتقين بإحياء مآثر الفقهاء والمحدثين" وقد سماه بـ "محمد طاهر" في كتابه الآخر وهو "أبجد العلوم" ولعل الشيخ اللكنوي لم يكن يتذكر ذلك
لكن الجزم في الاسم من الشيخ اللكنوي واتفاق المصادر الأولى عليه هما يرجحان كون الاسم مركبًا من جزئين وهو "محمد طاهر"، وقد ذكر هذا الاختلاف شيخنا عبد الحليم النعماني حفظه الله تعالى ورعاه أخيرًا فى مقالته عن شخصية المؤلف
(11).
--------------------------------------------
তিয়াত্তরতম: উক্ত কিতাবে 'মাজমাউল বিহার'-এর লেখকের পরিচিতি আলোচনা করা হয়েছে এবং তাকে মুহাম্মদ ইবনে তাহের নামে অভিহিত করা হয়েছে, যা সকল বিশেষজ্ঞের নিকট ভুল। তার নাম মুহাম্মদ নয়; বরং তাহের। তিনি নিজে তার কিতাবসমূহে এবং অন্যান্য বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গও স্পষ্টভাবে তা উল্লেখ করেছেন
(৯).
তিনি তার 'যফরুল আমানি বিশারহি মুখতাসারিল জুরজানি' কিতাবে উযূ সংক্রান্ত একটি প্রসিদ্ধ হাদীস সম্পর্কে আলোচনার সময় আরও বলেছেন:
"অনুরূপভাবে আল্লামা মুহাম্মদ তাহের ফাত্তানি তার 'মাজমাউল বিহার' কিতাবের শেষে বলেছেন যে, এটি পাওয়া যায়নি। -তিনি এর ওপর নিম্নোক্ত টীকা প্রদান করেছেন-: আমাদের যুগের বিশিষ্টজনদের মধ্যে এমন একজন—যিনি সঠিকতা বজায় রাখার ব্যাপারে যত্নশীল নন—তার নাম মুহাম্মদ ইবনে তাহের উল্লেখ করেছেন। এটি তার কলমের একটি বিচ্যুতি। এতে আশ্চর্যের কিছু নেই; কারণ তিনি বিচ্যুতির পুনর্জীবনদানকারী এবং শিথিলতার সীমারেখা নির্ধারণকারী। আল্লাহ তার গুনাহসমূহ ক্ষমা করুন। এটি তারই পক্ষ থেকে, আল্লাহ তাকে শান্তিতে রাখুন
(১০).
কিন্তু শেখ কান্নুজি লেখকের নামকরণের ক্ষেত্রে সংমিশ্রণ করে ফেলেছেন। তিনি উপরে উল্লিখিত স্থানে তার নাম মুহাম্মদ ইবনে তাহের বলেছেন এবং অনুরূপভাবে তার 'ইতিহাফুন নুবালাউল মুত্তাকীন বি-ইহয়ায়ি মাআসিরিল ফুকাহা ওয়াল মুহাদ্দিসীন' কিতাবেও এটিই বলেছেন। অথচ তিনি তার অন্য কিতাব 'আবজাদুল উলূম'-এ তার নাম 'মুহাম্মদ তাহের' লিখেছেন। সম্ভবত শেখ লাখনভী বিষয়টি স্মরণে রাখতে পারেননি।
তবে শেখ লাখনভীর পক্ষ থেকে নামের ব্যাপারে সুনিশ্চিত হওয়া এবং আদি উৎসসমূহের এ বিষয়ে ঐকমত্য এই বিষয়টিকে প্রাধান্য দেয় যে, নামটি দুই অংশ বিশিষ্ট একটি যৌগিক নাম এবং তা হলো 'মুহাম্মদ তাহের'। আমাদের শাইখ আব্দুল হালীম নুমানী (আল্লাহ তাকে হিফাযত ও রক্ষা করুন) সম্প্রতি লেখকের ব্যক্তিত্ব সম্পর্কে তার প্রবন্ধে এই মতপার্থক্যের কথা উল্লেখ করেছেন
(১১).
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-মুগনি ফি দবিতিল আসমাই লি রুওয়াতিল আনবা
(পৃষ্ঠা: ٦)
وأضف إلى ذلك أن فضيلته لما ترجم للمؤلف ما ذكر أي مصدر أو مرجع لتلك الترجمة، ولعل ما هجس في صدر أحد أن هذا نقد أورد على فضيلة الأستاذ المحقق، كلّا! وهل يعد ما يعلقه التلميذ -تذكرة وفائدة على ما أفاده شيخه- إلا بركة ذلك الشيخ!
وليكن هذا آخر ما أردنا إيراده في هذا المقام، والحمد لله أولًا وآخرًا، والصلاة والسلام على حبيبه سيدنا محمد وآله وصحبه أجمعين
(12).
وكتبه محمد أحمد رضا السرجودوي
خريج قسم التخصص في علوم الحديث الشريف جامعة العلوم الإسلامية، بنوري تاون، كراتشي فى 6/ 1/ 1428 هـ
--------------------------------------------
এর সাথে আরও যোগ করা প্রয়োজন যে, যখন মান্যবর শায়খ লেখকের জীবনী লিখেছেন, তখন তিনি সেই জীবনীর জন্য কোনো উৎস বা সূত্রের উল্লেখ করেননি। সম্ভবত কারো মনে এই ধারণা জাগতে পারে যে, এটি মান্যবর মুহাক্কিক উস্তাদের ওপর করা একটি সমালোচনা; না, কখনোই নয়! একজন ছাত্র তার শায়খের বর্ণিত বিষয়ের ওপর স্মারক ও জ্ঞানতাত্ত্বিক সংযোজন হিসেবে যা কিছু মন্তব্য করে, তা তো সেই শায়খেরই ইলমী বরকত ছাড়া আর কিছু নয়!
এই পর্যায়ে আমরা যা উল্লেখ করতে চেয়েছিলাম, এখানেই তার সমাপ্তি হোক। শুরুতে ও শেষে সকল প্রশংসা আল্লাহর জন্য; আর সালাত ও সালাম বর্ষিত হোক তাঁর প্রিয় হাবিব আমাদের নেতা মুহাম্মাদ এবং তাঁর পরিবার-পরিজন ও সকল সঙ্গীর ওপর
(১২)।
এটি লিখেছেন মুহাম্মাদ আহমাদ রেজা সারগোদভী
উলূমে হাদীস বিশেষজ্ঞ বিভাগ থেকে স্নাতক, জামিয়া উলূমুল ইসলামিয়া, বিন্নোরী টাউন, করাচি। তারিখ: ০৬/০১/১৪২৮ হিজরি।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-মুগনি ফি দবিতিল আসমাই লি রুওয়াতিল আনবা
(পৃষ্ঠা: ٧)
تعريفبقلم: الأستاذ عبد الله المعروفي حفظه الله أستاذ مشارك بقسم التخصص في الحديث بجامعة دار العلوم؛ ديوبند
الحمد لله رب العالمين، والصلاة والسلام على رسوله الأميِّ الأمين، وعلى آله وأصحابه أجمعين، وبعد:
فإن معرفة ضبط أسماء الرجال، وكناهم، وألقابهم، وأنسابهم حاجة كل دارس في العلوم الشرعية، وبغية كل متصدٍّ للدعوة والإرشاد، وخاصةً المشتغلون بالحديث وعلومه في أمس حاجة إلى معرفته، ومعرفة قواعد وأصول تصونهم عن الوقوع في تصحيف أو تحريف في الأسماء والألفاظ الملتبسة ربما يؤديانهم إلى نتائج وخيمة، مضحكة، أو مبكية.
أهمية علم الضبط:قال الحافظ العراقي (ت 806 هـ) في ألفيته:
وينبغي إعجامُ ما يُسْتَعجَم
… وشَكْلُ ما يُشكِل لا ما يُفهَم
وقيل: كلّه لذي ابتداءٍ
… وأكَّدوا ملتبسَ الأسماءِ
قال الحافظ السخاوي (ت 902 هـ) في شرح البيتين: (ينبغي) استحبابًا مؤكدًا، بل عبارة ابن خلاد وعياض تقتضي الوجوب، وبه صرح الماوردي (إعجامُ) أي نقطُ (ما يُستَعْجَم) بإغفال نقطة بحيث تصير فيه عجمة، بأن يميز الخاء المعجمة من الحاء المهملة، والذال المعجمة من الدال المهملة، فقد قال الثوري فيما نقله عنه الماوردي في "أدب الدنيا والدين": الخطوط المعجمة كالبرود المعلمة.
وقال الأوزاعي عن ثابت بن معبد: نور الكتاب العجم.
وكذا ينبغي (شكلُ ما يُشكِل) إعرابهُ من المتون والأسماء في الكتاب، فذلك يمنع
পরিচয়লিখেছেন: উস্তাদ আব্দুল্লাহ আল-মারুফী হাফিজাহুল্লাহ, সহযোগী অধ্যাপক, হাদীস বিশেষায়ন বিভাগ, দারুল উলূম দেওবন্দ বিশ্ববিদ্যালয়।
সমস্ত প্রশংসা বিশ্বজগতের প্রতিপালক আল্লাহর জন্য এবং সালাত ও সালাম বর্ষিত হোক তাঁর উম্মী ও আমীন রাসূলের প্রতি এবং তাঁর পরিবারবর্গ ও সকল সাহাবীর প্রতি। অতঃপর:
নিশ্চয়ই বর্ণনাকারীদের (রিজাল) নামের সঠিক উচ্চারণ ও লিখনপদ্ধতি (যব্ত), তাঁদের উপনাম (কুনিয়া), উপাধি (লকব) এবং বংশপরিচয় সম্পর্কে জ্ঞান রাখা শরয়ী শাস্ত্রের প্রত্যেক শিক্ষার্থীর জন্য একটি প্রয়োজনীয় বিষয় এবং দাওয়াত ও ইরশাদের কাজে নিয়োজিত প্রত্যেকের অভীষ্ট লক্ষ্য। বিশেষ করে যারা হাদীস ও হাদীস শাস্ত্র নিয়ে কাজ করেন, তাঁদের জন্য এটি জানা অত্যন্ত জরুরি। সেই সঙ্গে এমন সব নিয়ম ও মূলনীতি জানা প্রয়োজন যা তাঁদেরকে অস্পষ্ট নাম ও শব্দাবলীর ক্ষেত্রে বর্ণবিকৃতি (তাসহিফ) বা শব্দবিকৃতি (তাহরিফ)-এ পতিত হওয়া থেকে রক্ষা করবে; যা সম্ভবত তাঁদেরকে ভয়াবহ, হাস্যকর অথবা বেদনাদায়ক পরিণতির দিকে নিয়ে যেতে পারে।
যব্ত বা সঠিক লিখনপদ্ধতির গুরুত্ব:হাফেজ ইরাকী (ওফাত ৮০৬ হি.) তাঁর আলফিয়্যাহ-তে বলেছেন:
যেখানে অস্পষ্টতা রয়েছে সেখানে নুকতা দেওয়া উচিত
… আর যা অস্পষ্ট তার হরকত প্রদান করা উচিত, যা স্পষ্ট তা নয়।
বলা হয়েছে: শুরুতে সব কিছুতেই হরকত-নুকতা দেওয়া উচিত
… তবে অস্পষ্ট নামগুলোর ক্ষেত্রে তাঁরা অধিক গুরুত্বারোপ করেছেন।
হাফেজ সাখাভী (ওফাত ৯০২ হি.) উক্ত পঙক্তিদ্বয়ের ব্যাখ্যায় বলেছেন: (উচিত) দ্বারা সুন্নাতে মুয়াক্কাদা বা জোরালো মুস্তাহাব বোঝানো হয়েছে, বরং ইবনে খাল্লাদ ও ইয়ায-এর বক্তব্য ওয়াজিব হওয়ার দাবি রাখে এবং মাওয়ারদী তা স্পষ্টভাবে উল্লেখ করেছেন। (ই'জাম) অর্থাৎ নুকতা প্রদান করা (যা অস্পষ্ট) নুকতা না দেওয়ার কারণে যাতে অস্পষ্টতা তৈরি হয়; যেমন নুকতাযুক্ত 'খা' কে নুকতাহীন 'হা' থেকে এবং নুকতাযুক্ত 'যাল' কে নুকতাহীন 'দাল' থেকে পৃথক করা। সুফিয়ান সাওরী—যাঁর উদ্ধৃতি মাওয়ারদী তাঁর "আদাবুদ দুনিয়া ওয়াদ দীন" গ্রন্থে দিয়েছেন—বলেছেন: নুকতাযুক্ত লিপি হলো কারুকার্যখচিত চাদরের মতো।
আওযাঈ সাবেত ইবনে মাবাদ থেকে বর্ণনা করেছেন: কিতাবের জ্যোতি হলো নুকতা প্রদান করা।
অনুরূপভাবে কিতাবের মূল পাঠ ও নামসমূহের মধ্যে যার ব্যাকরণিক অবস্থান (ইরাব) অস্পষ্ট, তার (হরকত প্রদান করা) উচিত; কেননা এটি রক্ষা করে...
(খণ্ড: ১)
আল-মুগনি ফি দবিতিল আসমাই লি রুওয়াতিল আনবা
(পৃষ্ঠা: ٨)
من إشكاله، (لا ما يُفهَم) بدون شكل ولا نقط؛ فإنه تشاغلٌ بما غيرُه أولى منه.
(وقيل): بل ينبغي الشكل والإعجام للمكتوب (كلّه) أشكَل أم لا، وصوَّبه عياض (لأجل ذي ابتداء) في الصنعة والعلم ممن لا يعرف المؤتلف والمختلف وغيرهما من السند والمتن؛ لأنه حينئذ لا يميز المشكل من غيره، ولا صواب وجه الإعراب للكلمة من خطئه، وأيضًا قد يكون واضحًا عند قوم مشكلًا عند آخرين، وربما يظن هو لبراعته المشكل واضحًا، بل وقد يخفى عنه الصواب بعد.
(و) لكن (أكدوا) أي الأئمة من المحدثين وغيرهم ضبط (ملتبس الأسماء) لا سيما الأسماء الأعجمية، والقبائل الغريبة لقلة المتميزين فيها بخلاف الإعراب، ولأنها -كما قال أبو إسحاق إبراهيم بن عبد الله النجيرمي- أولى الأشياء بالضبط؛ لأنها لا يدخلها القياس، ولا قبلها ولا بعدها شيء يدل عليها. انتهى ملخصًا من فتح المغيث. وكلام السخاوي هذا كافٍ لإثبات أهمية علم الضبط.
أثر الإخلال بالضبط:على أن التهاون أو الإخلال بالضبط ربما يورث نتائج هائلة سجل بعضَها التأريخ، فيقول الحافظ السيوطي: قد قيل: إن النصارى كفروا بلفظة أخطؤا في إعجامها وشكلها، قال الله في الإنجيل لعيسى: "أنت نبيِّي، ولَّدتُك من البتول"، فصحفوها، وقالوا: "أنت بُنَيَّ وَلَدْتُك" مخففًا.
وقيل: أول فتنة وقعت في الإسلام سببها ذلك أيضًا، وهي فتنة عثمان رضي الله عنه، فإنه كتب الذي أرسله أميرًا إلى مصر: "إذا جاءكم؛ فاقبلوه"، فصحفوها: "فاقتلوه"، فجرى ما جرى.
وكتب بعض الخلفاء إلى عامل له ببلد: "أن أحص المخنثين". أي بالعدد، فصحفها بالمعجمة، فخصاهم. انتهى من التدريب.
اعتناء العلماء بالضبط:لذلك نرى العلماء القدامى حراصًا على الاعتناء بضبط ملتبس الكلمات، ولا سيما ملتبس الأسماء؛ فإن مظنة الخطأ فيها أقوى وأكثر من غيرها من الألفاظ اللغوية والفقهية. فممن كان يحض على الضبط حماد بن سلمة وعفان كما حكاه عنهما القاضى
তার অস্পষ্টতা থেকে, (তা নয় যা বুঝা যায়) হরকত ও নুকতা ছাড়া; কেননা এটি এমন কাজে লিপ্ত হওয়া যার চেয়ে অন্য কাজ অধিক গুরুত্বপূর্ণ।
(এবং বলা হয়েছে): বরং লিখিত বিষয়ের (সবটুকুতেই) হরকত ও নুকতা দেওয়া উচিত, তা অস্পষ্ট হোক বা না হোক। আর কাযী ইয়াদ একেই সঠিক বলেছেন (নতুনদের জন্য) এই শিল্প ও জ্ঞানের ক্ষেত্রে, যারা মুতালিফ ও মুখতালিফ এবং সনদ ও মতনের অন্যান্য বিষয় সম্পর্কে অবগত নয়; কারণ তখন সে অস্পষ্ট বিষয়কে স্পষ্ট থেকে আলাদা করতে পারে না, এবং শব্দের সঠিক ব্যাকরণিক অবস্থা ও ভুল অবস্থার পার্থক্য করতে পারে না। এছাড়াও কোনো বিষয় একদলের কাছে স্পষ্ট হলেও অন্য দলের কাছে অস্পষ্ট হতে পারে। এমনকি অনেক সময় সে নিজের দক্ষতার কারণে অস্পষ্ট বিষয়কেও স্পষ্ট মনে করতে পারে, অথচ পরবর্তীতে সঠিক বিষয়টি তার কাছে গোপন থেকে যায়।
(এবং) তবে (তাঁরা অর্থাৎ মুহাদ্দিস ও অন্যান্য ইমামগণ জোর দিয়েছেন) সন্দেহযুক্ত নামসমূহের সঠিক সংরক্ষণের ওপর, বিশেষ করে অনারব নাম এবং অপরিচিত গোত্রগুলোর ক্ষেত্রে, কারণ ব্যাকরণিক নিয়মের মতো এগুলোতে পার্থক্যকারী বিষয়ের অভাব রয়েছে। আর যেহেতু আবু ইসহাক ইবরাহিম বিন আব্দুল্লাহ আল-নাজাইরামি বলেছেন—এগুলোই নিখুঁতভাবে লিপিবদ্ধ করার সবচেয়ে যোগ্য বিষয়; কারণ এগুলোতে কোনো অনুমান খাটে না এবং এর আগে বা পরে এমন কিছু থাকে না যা এর সঠিক রূপের দিকে নির্দেশ করে। ‘ফাতহুল মুগীস’ থেকে সংক্ষেপে সমাপ্ত। আর সাখাভীর এই বক্তব্য যবত বা সঠিক সংরক্ষণ বিজ্ঞানের গুরুত্ব প্রমাণের জন্য যথেষ্ট।
যবত বা সঠিক উচ্চারণে অবহেলার প্রভাব:অধিকন্তু যবত বা সঠিক উচ্চারণের ক্ষেত্রে অবহেলা বা ত্রুটি অনেক সময় ভয়াবহ ফলাফল বয়ে আনে, যার কিছু ইতিহাস লিপিবদ্ধ করেছে। হাফেজ সুয়ূতী বলেন: বলা হয়ে থাকে যে, খ্রিস্টানরা একটি শব্দের নুকতা ও হরকতে ভুল করার কারণে কুফরি করেছিল। আল্লাহ তাআলা ইনজীলে ঈসা আলাইহিস সালামের প্রতি বলেছিলেন: "তুমি আমার নবী, আমি তোমাকে কুমারী থেকে সৃষ্টি করেছি", কিন্তু তারা একে বিকৃত করে ফেলে এবং বলে: "তুমি আমার পুত্র, আমি তোমাকে জন্ম দিয়েছি" (হালকা উচ্চারণে)।
আরও বলা হয়েছে যে, ইসলামে প্রথম যে ফিতনাটি সংঘটিত হয়েছিল তার কারণও ছিল এটি, আর তা হলো উসমান রাদিয়াল্লাহু আনহুর ফিতনা। তিনি মিসরে আমির হিসেবে যাকে পাঠিয়েছিলেন তার নিকট লিখেছিলেন: "যখন সে তোমাদের কাছে আসবে, তখন তাকে গ্রহণ করো", কিন্তু তারা একে বিকৃত করে পড়েছিল: "তাকে হত্যা করো", ফলে যা ঘটার তা ঘটে গেল।
কোনো এক খলিফা তাঁর এক অঞ্চলের গভর্নরের কাছে লিখেছিলেন: "হিজড়াদের গণনা করো"। অর্থাৎ সংখ্যার দিক থেকে। কিন্তু সে নুকতাযুক্ত হরফের মাধ্যমে একে বিকৃত করে পড়ে ফেলে, ফলে সে তাদের খাসি করে দেয়। ‘তাদরীবুর রাবী’ থেকে সমাপ্ত।
যবত বা সঠিক সংরক্ষণের প্রতি উলামায়ে কেরামের যত্ন:এ কারণে আমরা প্রাচীন আলেমদের সন্দেহযুক্ত শব্দগুলোর সঠিক উচ্চারণের ব্যাপারে অত্যন্ত যত্নশীল হতে দেখি, বিশেষ করে সন্দেহযুক্ত নামগুলোর ক্ষেত্রে; কারণ ভাষাগত বা ফিকহি পরিভাষার চেয়ে এগুলোতে ভুলের সম্ভাবনা অনেক বেশি ও প্রবল। যারা সঠিক উচ্চারণের জন্য উৎসাহিত করতেন তাঁদের মধ্যে অন্যতম হলেন হাম্মাদ বিন সালামাহ ও আফফান, যেমনটি কাযী তাঁদের থেকে বর্ণনা করেছেন।
(খণ্ড: ১)
আল-মুগনি ফি দবিতিল আসমাই লি রুওয়াতিল আনবা
(পৃষ্ঠা: ٩)
عياض بن موسى اليحصبي في كتاب "الإلماع".
وهذا شعبة أمير المؤمنين في الحديث يعتني بالضبط بمثل ما نقل القاضي عياض أيضًا: عن عبد الله بن إدريس الكوفي أنه قال: لما حدثني شعبة بحديث أبي الحوراء السعدي، عن الحسن بن علي؛ كتب أسفلَه: "حور عين" لئلا أغلط، يعني: فيقرأه: "أبو الجوزاء" لشبهه به في الخط. اهـ (تدريب الراوي).
ومن أعجب أخبار أئمتنا في حرصهم على الضبط والإتقان أن بعضهم يترك الأخذ عمن لم يضبط، ويقع في الخطأ والتحريف ما نقله العسكري (382 هـ) في كتابيه "تصحيفات المحدثين 1/ 17، 18"، و"شرح ما يقع فيه التصحيف والتحريف ص 17): عن أبى عبيد الآجري قال: سمعت أبا داود السجستاني يقول: قال أحمد بن صالح المصري: قال سلامة بن روح الأيلي في حديث السقيفة: إلا كانا "بَعْرةَ أن يَفِيْلا"، تصحيف "تَغِرَّة أن يُقتَلا". قال أبو داود: وكان أحمد بن صالح قد كتب عنه خمسين ألف حديث، فتركه.
استخدام القواعد للضبط:وهذا الذي دعاهم إلى وضع قواعد رصينة للضبط والتقييد كي لا يتطرق إلى المكتوب أيّ تصحيف أو تحريف، ومن أهمها:
1 - استحباب تكرار الضبط في الألفاظ المشكلة بأن يضبط في متن الكتاب، ثم يكتبها قبالة ذلك في الحاشية مفردة مضبوطة، فقال ابن دقيق العيد في "الاقتراح": من عادة المتقنين أن يبالغوا في إيضاح المشكل، فيفرقوا حروف الكلمة في الحاشية، ويضبطوها حرفًا حرفًا، فلا يبقى بعده إشكال.
2 - كراهية الخط الدقيق من غير عذر يقتضيه.
3 - اختيار التحقيق في الخط؛ دون المشق والتعليق.
4 - ضبط الحروف المهملة بعلامة الإهمال كضبط الحروف المعجمة بالنقط.
وغير ذلك من القواعد قد نقلها مؤلف كتابنا هذا بعد الفراغ من ضبط الأسماء.
ولكن مع مرور الزمن حينما دبَّ الضعف في الأمة؛ وأصيبت بالتساهل في الضبط،
ইয়াদ ইবনে মুসা আল-ইয়াহসুবি "আল-ইলমা" গ্রন্থে।
আর হাদীস শাস্ত্রের আমিরুল মুমিনীন শু'বাহও নির্ভুলতা বজায় রাখার ক্ষেত্রে সেরূপ গুরুত্বারোপ করতেন যেমনটি কাজী ইয়াদও উদ্ধৃত করেছেন: আবদুল্লাহ ইবনে ইদ্রিস আল-কুফি থেকে বর্ণিত যে তিনি বলেন: যখন শু'বাহ আমাকে আবু আল-হাওরা আস-সাদি-এর সূত্রে হাসান ইবনে আলী থেকে বর্ণিত একটি হাদীস শোনালেন; তখন তিনি এর নিচে লিখে রাখলেন: "হুর আইন", যাতে আমি ভুল না করি। অর্থাৎ পাছে কেউ একে লেখার সাদৃশ্যের কারণে "আবু আল-জাওযা" পড়ে ফেলে। সমাপ্ত (তাদরীবুর রাবী)।
নির্ভুলতা ও সুনিপুণতার প্রতি আমাদের ইমামগণের একাগ্রতার সংবাদসমূহের মধ্যে অত্যন্ত বিস্ময়কর বিষয় হলো যে, তাঁদের কেউ কেউ এমন ব্যক্তির থেকে বর্ণনা গ্রহণ করা ছেড়ে দিতেন যিনি শব্দের সঠিক রূপ বজায় রাখতেন না এবং ভুল ও বিকৃতিতে পতিত হতেন। আল-আসকারি (৩৮২ হিজরি) তাঁর "তাসহিফাতুল মুহাদ্দিসিন" (১/১৭, ১৮) এবং "শারহু মা ইয়াকাউ ফিহিল তাসহিফু ওয়াত তাহরিফ" (পৃ. ১৭) গ্রন্থদ্বয়ে উদ্ধৃত করেছেন: আবু উবাইদ আল-আজুরি থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: আমি আবু দাউদ আস-সিজিস্তানিকে বলতে শুনেছি: আহমাদ ইবনে সালিহ আল-মিসরি বলেছেন: সালামাহ ইবনে রূহ আল-আইলি সকিফার হাদীস বর্ণনায় বলেছেন: "মা ইল্লা কানা বা’রাতা আন ইাফিলা", যা মূলত "তাগিররাতা আন ইয়ুকতালা" এর বিকৃতি ছিল। আবু দাউদ বলেন: আহমাদ ইবনে সালিহ তাঁর থেকে পঞ্চাশ হাজার হাদীস লিখেছিলেন, এরপর তিনি তাঁকে পরিত্যাগ করেন।
নির্ভুলতা নিশ্চিতকরণে মূলনীতির ব্যবহার:আর এটিই তাঁদেরকে নির্ভুল লিখন ও তথ্য সংরক্ষণের জন্য সুদৃঢ় নীতিমালা প্রণয়নে উদ্বুদ্ধ করেছিল যাতে লিখিত পাঠে কোনো প্রকার শব্দগত বা অর্থগত বিকৃতি প্রবেশ করতে না পারে। তন্মধ্যে গুরুত্বপূর্ণ কিছু হলো:
১ - অস্পষ্ট ও জটিল শব্দসমূহে বারবার নির্ভুলতা নিশ্চিত করা মুস্তাহাব। এর পদ্ধতি হলো—মূল পাঠে শব্দটি নির্ভুলভাবে লিখে পুনরায় এর বিপরীতে পার্শ্বটীকায় শব্দটি পৃথকভাবে লিখে হরকত প্রদান করা। ইবনে দাকীকুল ঈদ "আল-ইকতিরাহ" গ্রন্থে বলেছেন: সুনিপুণ পণ্ডিতদের অভ্যাস ছিল তাঁরা জটিল বিষয়সমূহ স্পষ্ট করার ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ চেষ্টা করতেন; ফলে তাঁরা পার্শ্বটীকায় শব্দের অক্ষরসমূহ পৃথকভাবে লিখতেন এবং প্রতিটি বর্ণে হরকত প্রদান করতেন, যাতে এরপর আর কোনো অস্পষ্টতা অবশিষ্ট না থাকে।
২ - কোনো অনিবার্য কারণ ব্যতীত অতি সূক্ষ্ম বা ছোট অক্ষরে লেখা অপছন্দনীয়।
৩ - হস্তাক্ষরে দ্রুতলিপি বা টানা-হাতের লেখার পরিবর্তে প্রতিটি বর্ণ সুস্পষ্টভাবে ফুটিয়ে তোলা নির্বাচন করা।
৪ - নুকতাহীন বর্ণসমূহকে বিশেষ চিহ্নের মাধ্যমে চিহ্নিত করা, যেমনভাবে নুকতাযুক্ত বর্ণসমূহকে নুকতার মাধ্যমে চিহ্নিত করা হয়।
এছাড়াও অন্যান্য নীতিমালা এই গ্রন্থের লেখক নামসমূহের নির্ভুল রূপ নির্ণয় শেষ করার পর উল্লেখ করেছেন।
কিন্তু সময়ের পরিক্রমায় যখন উম্মাহর মধ্যে দুর্বলতা দেখা দিল এবং নির্ভুলতা বজায় রাখার ক্ষেত্রে শিথিলতা প্রকাশ পেল,
(খণ্ড: ১)
আল-মুগনি ফি দবিতিল আসমাই লি রুওয়াতিল আনবা
(পৃষ্ঠা: ١٠)
وكثر في الشيوخ من يقل تحقيقه، واضطر أهل العلم إلى الأخذ من الكتب بدون سماعٍ من الشيوخ، فالتجأ المحققون إلى ما يدفعون به الخطأ والتحريف، فخَطَوا خطواتٍ أكيدة ليصيبوا هدفهم من عملية الضبط.
منها أنهم وضعوا طريقة الضبط بالحروف والألفاظ، كما يقال: "بالسين المهملة"، أو "بالشين المعجمة"، وهذا عند القدماء قليل، وكثر في مؤلفات بعض المتأخرين، كما في "مشارق الأنوار" للقاضي عياض، و"وفيات الأعيان" لابن خلكان، و"تكملة المنذري"، و"الكامل" لابن الأثير، و"الوافي بالوفيات" للصفدي، و"الإصابة" و"تقريب التهذيب" كلاهما للحافظ ابن حجر.
كتب التصحيفات:ومنها أنهم بدأوا يؤلفون الكتب في هذا الموضوع خاصة، فبعضهم اكتفى بالدلالة على ما وقع من بعض المحدثين من التصحيفات، أو التحريفات في أسانيد الأحاديث و متونها؛ كي يتحرز الناس عن الوقوع عن مثل تلك التصحيفات، ومن أهمها ما يلي:
1 - تصحيف العلماء لأبي محمد عبد الله بن مسلم بن قتيبة الدينوري (ت 276 هـ).
2 - شرح ما يقع فيه التصحيف والتحريف، لأبي أحمد الحسن بن عبد الله العسكري (ت 382 هـ).
3 - تصحيفات المحدثين للعسكري أيضًا.
4 - إصلاح خطأ المحدثين، لأبي سليمان حمد بن محمد الخطابي (ت 388 هـ).
5 - تلخيص المتشابه في الرسم، وحماية ما أشكل منه عن بوادر التصحيف والوهم، لأبي بكر أحمد بن علي الخطيب البغدادي. (ت 463 هـ).
6 - مشارق الأنوار على صحيح الآثار، لأبي الفضل القاضي عياض بن موسى (ت 544 هـ).
7 - مطالع الأنوار لأبي إسحاق إبراهيم بن يوسف، المعروف بابن قُرقول (ت 569 هـ) وضعه على غرار كتاب "مشارق الأنوار".
8 - تصحيح التصحيف وتحرير التحريف، لخليل بن أيبك الصفدي (ت 764 هـ).
শিক্ষকদের মধ্যে এমন ব্যক্তিদের সংখ্যা বৃদ্ধি পেয়েছিল যাদের পাণ্ডিত্য ও যাচাই-বাছাইয়ের মান ছিল কম, ফলে আলেম সমাজ শিক্ষকদের নিকট থেকে সরাসরি শ্রবণ ব্যতিরেকে কিতাব থেকে জ্ঞান আহরণে বাধ্য হন। এমতাবস্থায় গবেষকগণ ভুল ও বিকৃতি রোধের উপায়গুলোর দিকে ধাবিত হন এবং তারা নির্ভুলতা নিশ্চিতকরণের প্রক্রিয়ায় সুদৃঢ় পদক্ষেপ গ্রহণ করেন।
এর মধ্যে একটি পদ্ধতি হলো তারা বর্ণ এবং শব্দের মাধ্যমে নির্ভুলতা রক্ষার নিয়ম প্রবর্তন করেন, যেমন বলা হয়: "নুকতাহীন সীন-এর সাথে", অথবা "নুকতাযুক্ত শীন-এর সাথে"। প্রাচীনদের যুগে এই পদ্ধতি কম ছিল, তবে পরবর্তী যুগের অনেক লেখকের রচনায় এটি বৃদ্ধি পায়, যেমন কাজী ইয়াদ-এর "মাশারিকুল আনোয়ার", ইবনে খাল্লিকান-এর "ওয়াফায়াতুল আইয়ান", মুনযিরীর "তাকমিলাহ", ইবনুল আসীর-এর "আল-কামিল", সাফাদীর "আল-ওয়াফি বিল ওয়াফায়াত", এবং হাফেজ ইবনে হাজার-এর "আল-ইসাবাহ" ও "তাকরিবুত তাহযীব" উভয় কিতাব।
ভুল পাঠ (তাসহীফ) বিষয়ক গ্রন্থাবলি:এর মধ্যে আরও একটি পদক্ষেপ হলো তারা বিশেষভাবে এই বিষয়ে কিতাব রচনা শুরু করেন। তাদের কেউ কেউ মুহাদ্দিসগণের পক্ষ থেকে হাদিসের সনদ ও মতনসমূহে যেসব ভুল পাঠ (তাসহীফ) বা বিকৃতি (তাহরীফ) সংঘটিত হয়েছিল, তা চিহ্নিত করার মধ্যেই সীমাবদ্ধ থেকেছেন; যেন মানুষ এই জাতীয় ভুল পাঠে পতিত হওয়া থেকে বেঁচে থাকতে পারে। এর মধ্যে প্রধান কিছু গ্রন্থ হলো:
১ - আবু মুহাম্মদ আবদুল্লাহ বিন মুসলিম বিন কুতায়বা আদ-দিনাওয়ারী (মৃত্যু ২৭৬ হিজরি) রচিত 'তাসহীফুল উলামা'।
২ - আবু আহমদ আল-হাসান বিন আবদুল্লাহ আল-আসকারী (মৃত্যু ৩৮২ হিজরি) রচিত 'শারহু মা ইয়াকায়ু ফিহিত তাসহীফ ওয়াত তাহরীফ'।
৩ - আল-আসকারী রচিত 'তাসহীফাতুল মুহাদ্দিসীন'।
৪ - আবু সুলাইমান হামদ বিন মুহাম্মদ আল-খাত্তাবী (মৃত্যু ৩৮৮ হিজরি) রচিত 'ইসলাহু খাতাইল মুহাদ্দিসীন'।
৫ - আবু বকর আহমদ বিন আলী আল-খতিব আল-বাগদাদী (মৃত্যু ৪৬৩ হিজরি) রচিত 'তালখীসুল মুতাশাবিহ ফির রাসম, ওয়া হিমায়াতু মা উশকিলা মিনহু আন বাওয়াদিরিত তাসহীফ ওয়াল ওয়াহাম'।
৬ - আবুল ফজল কাজী ইয়াদ বিন মুসা (মৃত্যু ৫৪৪ হিজরি) রচিত 'মাশারিকুল আনোয়ার আলা সহীহিল আসার'।
৭ - আবু ইসহাক ইব্রাহিম বিন ইউসুফ, যিনি ইবনে কুরকুল (মৃত্যু ৫৬৯ হিজরি) নামে পরিচিত, রচিত 'মাতালিউল আনোয়ার'; এটি তিনি 'মাশারিকুল আনোয়ার' কিতাবের আদলে রচনা করেছেন।
৮ - খলীল বিন আইবাক আস-সাফাদী (মৃত্যু ৭৬৪ হিজরি) রচিত 'তাসহীহুত তাসহীফ ওয়া তাহরীরুত তাহরীফ'।
(খণ্ড: ১)
আল-মুগনি ফি দবিতিল আসমাই লি রুওয়াতিল আনবা
(পৃষ্ঠা: ١١)
كتب المؤتلف والمختلف:ومنهم من تعرض لضبط ما يخشى الخطأ والتحريف فيه، ومن الثابت المقرر لدى علماء هذا الشأن أن ملتبس الأسماء أشد خطورة، وأحرى بالاعتناء بضبطها، وكثرة الخطأ توجد في الأسماء التي توجد أسماء أخرى تشبهها، فلذلك وجَّه العلماء معظم عنايتهم إلى هذا، فوضعوا له فنًّا خاصًّا، وهو "المؤتلف والمختلف"، وجعلوه أحد أنواع علوم الحديث، فقال ابن الصلاح: هذا فن جليل، من لم يعرفه من المحدثين كثر عثاره، ولم يعدم مخجلًا. اهـ. وإليك بعض المؤلفات المهمة في "المؤتلف والمختلف"، أو "مشتبه الألقاب والأنساب":
1 - المؤتلف والمختلف للإمام أبي الحسن علي بن عمر الدارقطني البغدادي (ت 385 هـ).
2 - المؤتلف والمختلف لأبي محمد عبد الغني بن سعيد الأزدي (ت 409 هـ).
3 - مشتبه النسبة له أيضًا.
4 - الزيادات في كتاب المؤتلف والمختلف لعبد الغني، لأبي العباس جعفر بن محمد بن المعتز المستغفري (ت 433).
5 - المؤتنف في تكملة المؤتلف والمختلف للدارقطني، لأبي بكر أحمد بن علي بن ثابت المعروف بالخطيب البغدادي (ت 463 هـ).
6 - الإكمال في رفع عارض الارتياب عن المؤتلف والمختلف من الأسماء والكنى والأنساب. لأبي نصر على بن هبة الله، المعروف بـ "ابن ماكولا" (ت ما بين 475 و 486 هـ).
7 - "تكملة الإكمال"، أو "الاستدراك" أو "إكمال الإكمال" للحافظ أبي بكر محمد بن عبد الغني، المعروف بابن نقطة (ت 629 هـ).
8 - تكملة إكمال الإكمال للحافظ محمد بن علي الصابوني (ت 680 هـ).
9 - المشتبه في الرجال أسمائهم وأنسابهم، لأبي عبد الله محمد بن أحمد الذهبي (ت 748 هـ).
মু'তালিফ ও মুখতালিফ (সদৃশ ও বৈসাদৃশ্যপূর্ণ নাম) বিষয়ক গ্রন্থসমূহ:তাদের মধ্যে কেউ কেউ এমন বিষয়গুলো নির্ভুল করার প্রয়াস চালিয়েছেন যাতে ভুল ও বিকৃতির আশঙ্কা রয়েছে। এই শাস্ত্রের পণ্ডিতদের নিকট এটি সুপ্রতিষ্ঠিত ও স্বীকৃত যে, নামের অস্পষ্টতা অত্যন্ত বিপজ্জনক এবং এর বিশুদ্ধতা নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে অধিক যত্নের প্রয়োজন। অধিকাংশ ভুল এমন নামগুলোতে ঘটে থাকে যেগুলোর সদৃশ অন্য নাম রয়েছে। এই কারণেই আলেমগণ এই বিষয়ের প্রতি তাদের অধিকাংশ মনোযোগ নিবদ্ধ করেছেন এবং এর জন্য একটি বিশেষ শাস্ত্র উদ্ভাবন করেছেন, যার নাম "আল-মু'তালিফ ওয়াল মুখতালিফ", এবং তারা এটিকে হাদিস শাস্ত্রের অন্যতম প্রকার হিসেবে গণ্য করেছেন। ইমাম ইবনে সালাহ বলেন: এটি একটি সুমহান শাস্ত্র, মুহাদ্দিসদের মধ্যে যারা এটি জানেন না, তাদের পদস্খলন বৃদ্ধি পায় এবং তারা লজ্জাজনক পরিস্থিতিতে পড়া থেকে রেহাই পান না। সমাপ্ত। নিচে "মু'তালিফ ও মুখতালিফ" অথবা "সন্দেহযুক্ত উপাধি ও বংশ পরিচয়" বিষয়ক কিছু গুরুত্বপূর্ণ গ্রন্থের বর্ণনা দেওয়া হলো:
১ - ইমাম আবুল হাসান আলী ইবনে উমর আদ-দারাকুতনি আল-বাগদাদি (মৃত্যু: ৩৮৫ হিজরি) রচিত 'আল-মু'তালিফ ওয়াল মুখতালিফ'।
২ - আবু মুহাম্মদ আব্দুল গনি ইবনে সাঈদ আল-আযদি (মৃত্যু: ৪০৯ হিজরি) রচিত 'আল-মু'তালিফ ওয়াল মুখতালিফ'।
৩ - তাঁরই রচিত 'মুশতাবিহুন নিসবাহ'।
৪ - আবু আব্বাস জাফর ইবনে মুহাম্মদ ইবনুল মু'তায আল-মুসতাগফিরি (মৃত্যু: ৪৩৩ হিজরি) রচিত আব্দুল গনির কিতাব 'আল-মু'তালিফ ওয়াল মুখতালিফ'-এর পরিশিষ্ট 'আয-যিয়াদাত'।
৫ - খতিব আল-বাগদাদি হিসেবে পরিচিত আবু বকর আহমদ ইবনে আলী ইবনে সাবিত (মৃত্যু: ৪৬৩ হিজরি) রচিত আদ-দারাকুতনির মু'তালিফ ও মুখতালিফ-এর পরিপূরক গ্রন্থ 'আল-মু'তানিফ'।
৬ - "ইবনে মাকুলা" হিসেবে পরিচিত আবু নাসর আলী ইবনে হিবাতুল্লাহ (মৃত্যু: ৪৭৫ থেকে ৪৮৬ হিজরির মধ্যে) রচিত 'আল-ইকমাল ফি রাফয়ি আরিদিল ইরতিয়াব আনিল মু'তালিফ ওয়াল মুখতালিফ মিনাল আসমা ওয়াল কুনা ওয়াল আনসাব'।
৭ - ইবনে নুকতাহ হিসেবে পরিচিত হাফেজ আবু বকর মুহাম্মদ ইবনে আব্দুল গনি (মৃত্যু: ৬২৯ হিজরি) রচিত 'তাকমিলাতুল ইকমাল' অথবা 'আল-ইসতিদরিক' অথবা 'ইকমালুল ইকমাল'।
৮ - হাফেজ মুহাম্মদ ইবনে আলী আস-সাবুনি (মৃত্যু: ৬৮০ হিজরি) রচিত 'তাকমিলাতু ইকমালিল ইকমাল'।
৯ - আবু আব্দুল্লাহ মুহাম্মদ ইবনে আহমদ আয-যাহাবি (মৃত্যু: ৭৪৮ হিজরি) রচিত 'আল-মুশতাবিহু ফির রিজাল: আসমা-ইহিম ওয়া আনসাবিহিম'।
(খণ্ড: ১)
আল-মুগনি ফি দবিতিল আসমাই লি রুওয়াতিল আনবা
(পৃষ্ঠা: ١٢)
10 - الذيل للحافظ علاء الدين مغلطاي بن قليج (ت 762 هـ).
11 - تبصير المنتبه بتحرير المشتبه للحافظ ابن حجر العسقلاني (ت 852 هـ).
كتاب "المغني":
ولكن هذه الكتب القيمة مع عِظَم حجمها وكثرة فوائدها لم تكن تسد حاجة عامة المشتغلين بعامة الكتب الحديثية الأصول من ناحية المعرفة بضبط أسمائها الملتبسة بأيسر طريق، في أقل وقت، مع أجمع فائدة، إلى أن جاء المحدث العلامة الشيخ محمد بن طاهر بن علي الفَتَّني (913 - 986) فأحس بخطورة هذا الفن الشريف (فن ضبط الأسماء)، وعاين فتورَ هِمم المشتغلين بالحديث وعلومه عن هذا الجانب، ورأى معاناة الكثيرين منهم بما يعوقهم عن معرفته من إعدامهم مصدرًا وجيزًا مغنيًا في هذا الفن عن المطولات.
فوضع هذا الكتاب العُجاب، سماه: "كتاب المغني في ضبط الأسماء لرواة الأنباء"؛ وإنه لَعِطرٌ منزوعٌ مما تشتت في كتب السالفين من ضبط الأسماء والأنساب والألقاب، فهو جدير بأن يلقب بـ"لب الألباب"، ولا شك أن الكتاب عصارة جهد متواصلٍ، وسهَر دائم، ويقظة تامة من عالم ذكي، كثير الاطلاع على مصادر مهمة نادرة في علوم الحديث عامة، وفي شرح غريب الحديث وفي ضبط الأسماء والألفاظ خاصةً، وقد امتثل المصنف في تأليف هذا الكتاب بإشارة شيخه علي بن حسام الدين المتقي (ت 975 هـ) صاحب كنز العمال، الذي كان قد تخرج عليه، وبرع في الفنون الحديثية بجثوه بين يديه، كما أوضحه بنفسه في مقدمة المغني.
أما مكانة الكتاب فغير خافية على علماء الأمة، وقد انتشر في الآفاق شرقًا وغربًا، فيقول المؤلف نفسه في خاتمة كتابه "مجمع بحار الأنوار" بعد أن فرغ من بيان ضبط بعض أسامي الرواة على وجه الكلية:
هذا كله من مسوَّدي المسمى بـ"المغني"؛ وهو كتاب جليل، تلقته الفضلاء بالقبول، ولا بد منه لمن يريد التبحر في هذا الشأن. (5/ 260).
وقال العلامة، المحدث، شارح مشكاة المصابيح، عمدة علماء بلاد الهند، الشيخ عبد الحق الدهلوي رحمه الله في كتابه الحفيل بتراجم العلماء والأصفياء "أخبار
১০ - হাফিজ আলাউদ্দীন মুগলতাই বিন ক্বিলিজ (মৃত্যু ৭৬২ হি.) রচিত 'আদ-দাইল'।
১১ - হাফিজ ইবনে হাজার আল-আসক্বালানী (মৃত্যু ৮৫২ হি.) রচিত 'তাবসীরুল মুনতাবিহ বি-তাহরীরিল মুশতাবিহ'।
"আল-মুগনী" গ্রন্থ:
কিন্তু এই মূল্যবান গ্রন্থগুলো বিশাল কলেবর এবং প্রচুর উপকারিতা থাকা সত্ত্বেও হাদিসের মূল গ্রন্থসমূহ নিয়ে গবেষণারত সাধারণ ব্যক্তিদের প্রয়োজন মেটাতে সক্ষম ছিল না। বিশেষ করে বিভ্রান্তিকর নামসমূহের সঠিক উচ্চারণ সহজতম উপায়ে, স্বল্পতম সময়ে এবং পূর্ণাঙ্গ উপকারিতার সাথে জানার ক্ষেত্রে এক প্রকার অপূর্ণতা রয়ে গিয়েছিল। অবশেষে মুহাদ্দিস আল্লামা শেখ মুহাম্মদ বিন তাহির বিন আলী আল-ফাত্তানী (৯১৩ - ৯৮৬ হি.) আত্মপ্রকাশ করলেন এবং তিনি এই মহান ইলমের (নামসমূহের সঠিক উচ্চারণ বিষয়ক বিদ্যা) গুরুত্ব অনুভব করলেন। তিনি হাদিস ও এর সংশ্লিষ্ট জ্ঞান নিয়ে গবেষণাকারীদের এই বিষয়ের প্রতি অনীহা লক্ষ্য করলেন। তিনি দেখলেন যে, দীর্ঘ কলেবরের কিতাবগুলোর পরিবর্তে একটি সংক্ষিপ্ত ও স্বয়ংসম্পূর্ণ উৎসের অভাবে অনেকেই এই জ্ঞান অর্জনে কষ্টের সম্মুখীন হচ্ছেন, যা তাদের এই বিষয়ে জানার পথে অন্তরায় হয়ে দাঁড়িয়েছে।
ফলে তিনি এই বিস্ময়কর গ্রন্থটি রচনা করেন এবং এর নামকরণ করেন: "আল-মুগনী ফী দাবতিল আসমা লি-রুওয়াতিল আনবা"; এটি মূলত পূর্বসূরিদের গ্রন্থসমূহে ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা নাম, বংশ পরিচয় এবং উপাধিসমূহের সঠিক উচ্চারণের একটি নির্যাস। তাই এটি "লুব্বুল আলবাব" (মজ্জারও মজ্জা) উপাধিতে ভূষিত হওয়ার যোগ্য। নিঃসন্দেহে এই কিতাবটি একজন মেধাবী আলেমের নিরবচ্ছিন্ন প্রচেষ্টা, বিনিদ্র রজনী এবং পূর্ণ সতর্কতার ফসল। তিনি সাধারণভাবে হাদিস শাস্ত্রের গুরুত্বপূর্ণ ও দুর্লভ উৎসসমূহ এবং বিশেষভাবে 'গারীবুল হাদিস' ব্যাখ্যা ও নাম ও শব্দের সঠিক উচ্চারণ বিষয়ক কিতাবসমূহের ব্যাপক অধ্যয়ন করেছিলেন। গ্রন্থকার এই কিতাবটি সংকলনের ক্ষেত্রে তাঁর উস্তাদ 'কানযুল উম্মাল'-এর লেখক আলী বিন হুসামুদ্দীন আল-মুত্তাক্বীর (মৃত্যু ৯৭৫ হি.) নির্দেশ পালন করেছেন, যাঁর নিকট তিনি শিক্ষা গ্রহণ করেছিলেন এবং যাঁর সান্নিধ্যে থেকেই হাদিস শাস্ত্রে পারদর্শিতা অর্জন করেছিলেন, যেমনটি তিনি নিজেই 'আল-মুগনী'র ভূমিকায় স্পষ্ট করেছেন।
এই কিতাবের মর্যাদা উম্মাহর আলেমদের নিকট অস্পষ্ট নয় এবং এটি প্রাচ্য ও পাশ্চাত্যের দিগন্তসমূহে ছড়িয়ে পড়েছে। লেখক নিজেই তাঁর কিতাব "মাজমাউ বিহারিল আনওয়ার"-এর শেষে বর্ণনাকারীদের কিছু নামের সঠিক উচ্চারণ সামগ্রিকভাবে বর্ণনা করার পর বলেন:
এই সবই আমার "আল-মুগনী" নামক পাণ্ডুলিপি থেকে গৃহীত; এটি একটি মহান গ্রন্থ, যা গুণীজনদের নিকট গ্রহণযোগ্যতা লাভ করেছে। এই বিষয়ে যারা গভীর জ্ঞান অর্জন করতে চায়, তাদের জন্য এটি অপরিহার্য। (৫/ ২৬০)।
আল্লামা, মুহাদ্দিস, মিশকাতুল মাসাবীহ-এর ব্যাখ্যাকার এবং ভারতের আলেমদের নির্ভরযোগ্য ব্যক্তিত্ব শেখ আব্দুল হক দেহলভী (রহ.) আলেম ও বুজুর্গদের জীবনী সম্বলিত তাঁর "আখবার...
(খণ্ড: ১)
আল-মুগনি ফি দবিতিল আসমাই লি রুওয়াতিল আনবা
(পৃষ্ঠা: ١٣)
الأخيار" باللغة الفارسية ما معناه:
"وله كتاب آخر مختصر مسمًّى بـ"المغني" ضبط فيه بالصحة أسماء الرجال دون تعرض لبيان أحوالهم، الكتاب مختصر، ومفيد جدًّا". انتهى مترجمًا من الفارسية.
مصادر "المغني":
ومن أهم الدوافع التي جعل هذا الكتاب أجمع الكتب، وأخلصها، ومرجعًا موثوقًا به هو اعتماده على أهم المصادر التي هي عصارة لجهود مضنية من جهابذة الفن الذين يخضع لهم كل من سلك هذا السبيل، ولا يستطيع التخطي بأي خطوة إلا بأن يهتدي بمعالمهم النيرة، أمثال:
1 - البغوي (ت 516 هـ) في "مصابيح السنة".
2 - والقاضي عياض بن موسى اليحصبي (ت 544 هـ) في كتبه القيمة، وبالخاصة: في كتابه "مشارق الأنوار".
3 - وابن الأثير مبارك بن محمد الجزري (ت 606 هـ) في كتابه الموسوعي
"جامع الأصول" وخواتيمه، وليكن القارئ الكريم على ذُكْرٍ من أن مؤلفنا رحمه الله خِصِّيص، مِرِّيس لكتابي ابن الأثير؛ "جامع الأصول"، و"النهاية في غريب الحديث" ومن شواهد الصدق على ذلك كتابه "مجمع بحار الأنوار"، فإن عمدة مراجعه فيه "النهاية" لابن الأثير حينما نراه يلخص أبواب خواتيم جامع الأصول في كتاب يستقل باسم: "تلخيص خواتم جامع الأصول"، وكذلك عمدة مراجعه في كتاب "المغني" هو "الجامع"، ألا تراه قائلًا على فراغه من سرد الرموز لمصادره: "فإن عُدِم شيء، أو وُجد "ج"؛ فمن الجامع. اهـ.
4 - وأخوه علي بن محمد عز الدين (ت 630 هـ) في كتابه "لباب الأنساب".
5 - والنووي يحيى بن شرف المري (ت 676 هـ) في شرحه لصحيح مسلم وغيره من الكتب القيمة.
6 - والكرماني محمد بن يوسف (ت 786 هـ) في شرحه لصحيح البخاري.
7 - وبدر الدين الزركشي محمد بن عبد الله بن بهادر (ت 794 هـ) في كتابه
ফারসি ভাষায় 'আল-আখইয়ার' গ্রন্থে যা বলা হয়েছে তার অর্থ হলো:
"তাঁর আরেকটি সংক্ষিপ্ত কিতাব রয়েছে যার নাম 'আল-মুগনি', এতে তিনি বর্ণনাকারীদের নামসমূহ বিশুদ্ধভাবে নিরূপণ করেছেন, তবে তাঁদের জীবনবৃত্তান্ত বর্ণনায় লিপ্ত হননি। কিতাবটি সংক্ষিপ্ত এবং অত্যন্ত উপকারী।" ফারসি থেকে অনুবাদ সমাপ্ত।
'আল-মুগনি' এর উৎসসমূহ:
যে সকল গুরুত্বপূর্ণ কারণ এই কিতাবটিকে সর্বাধিক সংকলিত, বিশুদ্ধ এবং একটি নির্ভরযোগ্য রেফারেন্সে পরিণত করেছে, তার মধ্যে অন্যতম হলো এর প্রধান উৎসগুলোর ওপর নির্ভরশীলতা। এই উৎসগুলো হলো সেই সব শাস্ত্রীয় পণ্ডিতদের কঠোর পরিশ্রমের নির্যাস, যাঁদের সামনে এই পথের প্রতিটি পথিক মাথা নত করে এবং যাঁদের উজ্জ্বল দিকনির্দেশনা ছাড়া এক পা-ও অগ্রসর হওয়া সম্ভব নয়। যেমন:
১ - আল-বাগাভী (মৃত ৫১৬ হিজরী) তাঁর 'মাসাবীহুস সুন্নাহ' গ্রন্থে।
২ - এবং কাজী আইয়াজ বিন মুসা আল-ইয়াহসুবি (মৃত ৫৪৪ হিজরী) তাঁর মূল্যবান কিতাবসমূহে, বিশেষ করে তাঁর 'মাশারিকুল আনোয়ার' গ্রন্থে।
৩ - এবং ইবনুল আসীর মুবারক বিন মুহাম্মদ আল-জাযারি (মৃত ৬০৬ হিজরী) তাঁর বিশ্বকোষীয় গ্রন্থ
'জামি-উল উসুল' ও এর পরিশিষ্টসমূহে। সম্মানিত পাঠক স্মরণ রাখবেন যে, আমাদের গ্রন্থকার (রহমাতুল্লাহি আলাইহি) ইবনুল আসীরের দুটি কিতাব—'জামি-উল উসুল' ও 'আন-নিহায়া ফি গারিবিল হাদিস' এর প্রতি বিশেষভাবে অনুরাগী ও অভিজ্ঞ ছিলেন। এর অন্যতম সত্য প্রমাণ হলো তাঁর 'মাজমাউ বিহারিল আনোয়ার' কিতাবটি; কেননা সেখানে তাঁর প্রধান নির্ভরযোগ্য উৎস ছিল ইবনুল আসীরের 'আন-নিহায়া'। আবার যখন আমরা দেখি যে তিনি 'জামি-উল উসুল'-এর পরিশিষ্টের অধ্যায়গুলোকে একটি স্বতন্ত্র কিতাবে সারসংক্ষেপ করেছেন যার নাম: 'তালখিসু খাওয়াতিমি জামি-ইল উসুল', এবং তেমনিভাবে 'আল-মুগনি' কিতাবেও তাঁর প্রধান উৎস হলো 'আল-জামি'। আপনি কি দেখছেন না যে, তিনি তাঁর উৎসসমূহের সংকেতগুলো বর্ণনার শেষে বলছেন: "যদি কিছু না পাওয়া যায়, অথবা 'জিম' পাওয়া যায়, তবে তা 'আল-জামি' থেকে।" উদ্ধৃতি সমাপ্ত।
৪ - এবং তাঁর ভাই আলী বিন মুহাম্মদ ইজ্জুদ্দীন (মৃত ৬৩০ হিজরী) তাঁর 'লুবাবুল আনসাব' গ্রন্থে।
৫ - এবং আন-নববী ইয়াহইয়া বিন শারাফ আল-মাররি (মৃত ৬৭৬ হিজরী) তাঁর সহীহ মুসলিমের ব্যাখ্যাগ্রন্থ ও অন্যান্য মূল্যবান কিতাবসমূহে।
৬ - এবং আল-কিরমানি মুহাম্মদ বিন ইউসুফ (মৃত ৭৮৬ হিজরী) তাঁর সহীহ বুখারীর ব্যাখ্যাগ্রন্থে।
৭ - এবং বদরুদ্দিন আজ-যারকাশি মুহাম্মদ বিন আব্দুল্লাহ বিন বাহাদুর (মৃত ৭৯৪ হিজরী) তাঁর কিতাবে
(খণ্ড: ১)
আল-মুগনি ফি দবিতিল আসমাই লি রুওয়াতিল আনবা
(পৃষ্ঠা: ١٤)
"التنقيح لألفاظ الجامع الصحيح" وغيره.
8 - وابن حجر الحافظ العسقلاني (ت 852 هـ) في مقدمة فتح الباري، وسائر كتبه الحديثية؛ فإنه معتنٍ تمامًا بضبط الألفاظ الملتبسة بالحروف.
وغيرهم الذين استقى المؤلف بمناهلهم الصافية كما يبدو ذلك جليًّا من إحالات المؤلف في كتابه برموز تشير إلى تلك الشخصيات.
بين "المغني" و"مجمع بحار الأنوار":
ولكتابنا هذا صلة أكيدة بكتاب موسوعي آخر للمؤلف نفسه "مجمع بحار الأنوار في غرائب التنزيل ولطائف الأخبار" الذي طار صيته شرقًا وغربًا، وحظي بالقبول في الأوساط العلمية، وهو كتابٌ فذٌّ، عُجاب في شرح الكلمات الغريبة، لا يختلف اثنان في أنه بحر زاخر لإكثاره من الفوائد المهمة، النادرة، المستعذبة في شرح غريبي القرآن والحديث، مع مزايا عديدة لا نطول بذكرها هنا؛ فقد تناول بذكر بعضها العلامة المحدث حبيب الرحمن الأعظمي رحمه الله في مقدمته التعريفية على المجمع، فقال بعد بيانه لمزايا الكتاب:
"وبالجملة أنه إلى جانب كونه أجمع تأليف في غريب الحديث كتاب ممتع في شرح معاني الحديث، وتفسير غامضه، ولذلك ترى الشيخ عبد الحق المحدث الدهلوي يقول: في ترجمة مؤلفه: إن له كتابًا يتكفل بشرح الصحاح (الكتب الستة) يسمى "مجمع البحار". اهـ.
أما كتابه "المغني"؛ فقد ألفه المؤلف قبل "مجمع بحار الأنوار" اقتصر فيه على الضبط فقط بالنسبة للرجال الواردة في الكتب الستة وغيرها؛ أعم من أن يكونوا رجال الأسانيد، أو ورد لهم ذكر في غضون المتون، وبالنسبة للأمكنة والبلدان الواقعة في متون الأحاديث، والكتاب -بحق- يشتمل على جانب مهم من كتابه "المجمع"، حيث لم يتعرض المصنف في المجمع لضبط الكلمات التي يتصدى لشرحها إلا نادرًا، ولا لضبط الأعلام الواردة أثناء كلامه، لأن ناحية الضبط فيها قد صارت مفروغًا عنها، وقد نبه هو على ذلك في مقدمة "المجمع"، فيقول:
"واعلم أني لا أذكر فيه ضبط أسماء الرجال، والمواضع على الاستيفاء،
"আত-তানকীহ লি-আলফাজিল জামিইত সহীহ" এবং অন্যান্য।
৮ - এবং হাফেজ ইবনে হাজার আসকালানি (মৃত: ৮৫২ হিজরি) তাঁর 'ফাতহুল বারী'র ভূমিকা এবং তাঁর অন্যান্য হাদিস বিষয়ক কিতাবসমূহে; কেননা তিনি বর্ণমালার মাধ্যমে অস্পষ্ট শব্দসমূহের নির্ভুল উচ্চারণ নির্ধারণের ক্ষেত্রে পূর্ণ যত্নবান ছিলেন।
এবং অন্যান্য ব্যক্তিবর্গ যাদের স্বচ্ছ ঝরনাধারা থেকে লেখক জ্ঞান আহরণ করেছেন, যা তাঁর কিতাবের উদ্ধৃতিগুলোতে সেই সব ব্যক্তিত্বের দিকে ইঙ্গিতকারী সংকেত চিহ্ন থেকে স্পষ্টভাবে প্রতীয়মান হয়।
"আল-মুগনি" এবং "মাজমাউ বিহারিল আনওয়ার"-এর মাঝে:
আমাদের এই কিতাবটির সাথে লেখকেরই অন্য এক বিশ্বকোষীয় কিতাব "মাজমাউ বিহারিল আনওয়ার ফি গারাইবিত তানজিল ওয়া লাতাইফিল আখবার"-এর গভীর সম্পর্ক রয়েছে, যার খ্যাতি পূর্ব ও পশ্চিমে ছড়িয়ে পড়েছে এবং যা ইলমি মহলে সমাদৃত হয়েছে। এটি একটি অনন্য ও বিস্ময়কর কিতাব যা কঠিন শব্দাবলির ব্যাখ্যায় রচিত। এতে কারো দ্বিমত নেই যে এটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ, দুর্লভ এবং শ্রুতিমধুর তথ্যে ভরপুর এক বিশাল সমুদ্র যা কুরআন ও হাদিসের কঠিন শব্দাবলির ব্যাখ্যায় সমৃদ্ধ। এর আরও অনেক বৈশিষ্ট্য রয়েছে যা এখানে বিস্তারিত আলোচনার অবকাশ নেই; আল্লামা মুহাদ্দিস হাবিবুর রহমান আজমি (রহিমাহুল্লাহ) 'মাজমা'-এর পরিচিতিমূলক ভূমিকায় এর কিছু বৈশিষ্ট্যের কথা উল্লেখ করে কিতাবটির গুণাবলি বর্ণনার পর বলেছেন:
"মোটকথা, হাদিসের কঠিন শব্দাবলি (গারিবুল হাদিস) বিষয়ক সংকলনগুলোর মধ্যে সবচেয়ে পূর্ণাঙ্গ হওয়ার পাশাপাশি এটি হাদিসের অর্থ ব্যাখ্যা এবং এর জটিল বিষয়সমূহ উন্মোচনে একটি চমৎকার কিতাব। এ কারণেই আপনি শায়খ আব্দুল হক মুহাদ্দিসে দেহলবিকে তাঁর জীবনীতে বলতে দেখবেন: সিহাহ (ছয়টি কিতাব) ব্যাখ্যার দায়িত্ব গ্রহণকারী তাঁর একটি কিতাব রয়েছে যার নাম 'মাজমাউল বিহার'।" সমাপ্ত।
পক্ষান্তরে তাঁর "আল-মুগনি" কিতাবটি; লেখক এটি "মাজমাউ বিহারিল আনওয়ার"-এর পূর্বে সংকলন করেছেন। এতে তিনি কেবল কুতুবে সিত্তাহ ও অন্যান্য কিতাবে বর্ণিত ব্যক্তিবর্গের নামের নির্ভুল উচ্চারণের মাঝেই সীমাবদ্ধ থেকেছেন; চাই তারা সনদের রাবি হোন বা হাদিসের মূল পাঠের (মতন) মধ্যে যাদের উল্লেখ এসেছে তারা হোন। এছাড়া হাদিসের মতনের মধ্যে আসা স্থান ও দেশসমূহের নামের শুদ্ধ রূপও তিনি এতে উল্লেখ করেছেন। কিতাবটি প্রকৃতপক্ষে তাঁর "আল-মাজমা" কিতাবের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশকে অন্তর্ভুক্ত করে, কারণ লেখক 'মাজমা' কিতাবে যে শব্দগুলোর ব্যাখ্যা দিয়েছেন সেগুলোর উচ্চারণ খুব কমই উল্লেখ করেছেন। এমনকি আলোচনার মাঝে আসা ব্যক্তিবর্গের নামের উচ্চারণও সেখানে সচরাচর উল্লেখ করেননি, কারণ সেগুলোর শুদ্ধ উচ্চারণের বিষয়টি ইতিমধ্যে সম্পন্ন করা হয়েছে। তিনি স্বয়ং 'মাজমা'-এর ভূমিকায় এ বিষয়ে সতর্ক করে বলেছেন:
"জেনে রাখুন, আমি এতে রাবিদের নাম এবং স্থানসমূহের নামের উচ্চারণ পূর্ণাঙ্গভাবে উল্লেখ করিনি,
(খণ্ড: ১)
আল-মুগনি ফি দবিতিল আসমাই লি রুওয়াতিল আনবা
(পৃষ্ঠা: ١٥)
اكتفاءً بما صدر مني فيما مضى من كتاب "المغني في ضبط الرجال".
وبدهي أن شرح الغريب لا يتم للناظر في الكتاب إلا إذا استوثق بضبطه، فالمستقي من هذا البحر الزاخر المواج لا يشفي غليله حق شفاء إلا إذا جعل بينه وبين هذا البحر ذاك النهر العذب الفرات، المسمى بـ"المغني"، وهذا الذي اضطر المؤلف أن يجعل في خاتمة "المجمع" نوعًا برأسه في ضبط بعض أسامي الرواة على وجه الكلية ملخصًا من كتاب "المغني".
احتياج المغني إلى تحقيق جديد:هذا، وقد طبع الكتاب أول مرة سنة 1292 هـ من المطبع الفاروقي بالهند، ثم خرجت منه طبعات عديدة في الهند وخارجها؛ ولكن أكبر رزية من رزايا العلم كثرة الخطأ والتصحيف والتحريف؛ حتى إن كتابًا مثل "المغني" يتصدى لصيانة المجتمع العلمي عن الوقوع في معرة الخطأ والتصحيف والتحريف لم يسلَم من هذه البلية، فأصيب في سائر طبعاته بأنواع من الأخطاء والتحريفات التي قد بعَّدَتْها عن موضوعها، وكادت تُضِلُّها عن هدفِ المؤلف من تأليفه؛ حتى قال بعضهم: "عاد على موضوعه بالنقض"، و لتلك التصحيفات المطبعية أسباب عديدة:
منها: تقارب صور بعض الحروف، والكلمات؛ وقَلَّ من يهتدي إلى ذلك.
ومنها: غفلة النساخين في الكتابة مما أفسد غالبية المخطوطات، فإذا لم يُعتنَ بالتصحيح قبل طبع الكتاب يأتي المطبوع أكثر، وأفحش غلطًا مما كان في المخطوطة.
ومنها: زلقات قلم المؤلف نفسه لأسباب طارئة، فكثيرًا ما نجد في عبارات المدققين والفضلاء المتقنين أخطاء ظاهرة، ولكنها إما لسرعة الكتابة، أو القراءة، أو النظر العارض، أو شرود الذهن، لا ينتبهون إليها، ويقرؤونها في أنفسهم صحيحة، ولا يسلم من ذلك أيُّ كتاب بشري مهما سما قدره وقدر مؤلفه كما هو مشاهد، معاين، ولا يحط ذلك من قيمة الكتاب العلمية، فما هذا من المؤلف للجهل، وإنما هذا من سبق الذهن، والقلم، وقراءة الإنسان ما في نفسه من المعلومات؛ لا ما في منظوره، وأيضًا: فالفكر يذهب، والقلب يسهو، والفهم عرَض يطرأ، ويزول، والحفظ يضعف ويقوى،
আমার পক্ষ থেকে পূর্বে প্রকাশিত "আল-মুগনি ফি দবিতুর রিজাল" কিতাবে যা বর্ণিত হয়েছে তার ওপর নির্ভর করে (এখানে সংক্ষেপ করছি)।
এটি স্বতঃসিদ্ধ যে, কিতাব পাঠকারীর নিকট বিরল শব্দাবলির ব্যাখ্যা ততক্ষণ পূর্ণাঙ্গ হয় না, যতক্ষণ না তিনি তার সঠিক উচ্চারণ বা শুদ্ধ রূপ সম্পর্কে নিশ্চিত হন। সুতরাং এই উত্তাল বিশাল সমুদ্র থেকে জ্ঞান আহরণকারী ব্যক্তির তৃষ্ণা ততক্ষণ যথাযথভাবে নিবারিত হবে না, যতক্ষণ না তিনি নিজের এবং এই সমুদ্রের মাঝে "আল-মুগনি" নামক সেই সুপেয় মিষ্ট পানির নদীকে স্থাপন করবেন। আর এই বিষয়টিই লেখককে বাধ্য করেছে যেন তিনি "আল-মাজমা" এর সমাপ্তিতে বর্ণনাকারীদের কিছু নামের শুদ্ধ রূপ নির্ধারণের ওপর পৃথক একটি পরিচ্ছেদ যুক্ত করেন, যা মূলত "আল-মুগনি" কিতাব থেকে সঙ্কলিত একটি সারসংক্ষেপ।
আল-মুগনি-র নতুন সম্পাদনার প্রয়োজনীয়তা:এই কিতাবটি সর্বপ্রথম ১২৯২ হিজরিতে ভারতের ফারুকি প্রেস থেকে মুদ্রিত হয়। এরপর ভারত ও ভারতের বাইরে এর বহু সংস্করণ প্রকাশিত হয়েছে; কিন্তু ইলমি জগতের অন্যতম বড় বিপর্যয় হলো ভুলভ্রান্তি, শব্দের বিকৃতি এবং পরিবর্তনের আধিক্য। এমনকি "আল-মুগনি"-র মতো কিতাব, যা ইলমি সমাজকে ভুল ও বিকৃতির গ্লানি থেকে রক্ষা করার দায়িত্ব নিয়েছে, সেটিও এই বিপদ থেকে মুক্ত থাকতে পারেনি। ফলে এর সকল সংস্করণেই এমন সব ভুল ও বিকৃতি অনুপ্রবেশ করেছে যা কিতাবটিকে তার মূল বিষয়বস্তু থেকে দূরে সরিয়ে দিয়েছে এবং লেখকের লক্ষ্য-উদ্দেশ্য থেকে বিচ্যুত করার উপক্রম করেছে; এমনকি কেউ কেউ বলেছেন: "এটি তার মূল উদ্দেশ্যকেই ব্যাহত করেছে"। মুদ্রণজনিত সেই বিকৃতিগুলোর পেছনে বেশ কিছু কারণ রয়েছে:
তন্মধ্যে একটি হলো: কিছু বর্ণ ও শব্দের আকৃতিগত সাদৃশ্য; খুব কম লোকই আছে যারা এটি ধরতে পারে।
আরেকটি কারণ হলো: অনুলিপিকারীদের অসতর্কতা, যা অধিকাংশ পাণ্ডুলিপিকে ত্রুটিপূর্ণ করে ফেলেছে। ফলে কিতাব মুদ্রণের পূর্বে যদি পাঠ-সংশোধনের ব্যাপারে যত্নবান হওয়া না হয়, তবে মুদ্রিত কপিটি পাণ্ডুলিপির তুলনায় অধিকতর এবং জঘন্য ভুলসহ আত্মপ্রকাশ করে।
আরেকটি কারণ হলো: খোদ লেখকের কলমের স্খলন, যা আকস্মিক কোনো কারণে ঘটে থাকে। আমরা প্রায়শই অত্যন্ত সূক্ষ্মদর্শী ও বিদগ্ধ পণ্ডিতদের লেখনীতেও প্রকাশ্য ভুল দেখতে পাই; কিন্তু দ্রুত লেখা, দ্রুত পঠন, আকস্মিক দৃষ্টিপাত কিংবা অন্যমনস্কতার কারণে তারা সেদিকে ভ্রুক্ষেপ করতে পারেন না এবং মনে মনে সেটাকে সঠিকই পাঠ করেন। কোনো মানবিক কিতাবই—তার মান এবং লেখকের মর্যাদা যত উঁচুই হোক না কেন—এই ত্রুটি থেকে মুক্ত নয়, যেমনটি বাস্তব দৃষ্টিতে পরিলক্ষিত হয়। এটি কিতাবের ইলমি গুরুত্বকে মোটেও ক্ষুণ্ণ করে না; কেননা লেখকের পক্ষ থেকে এটি অজ্ঞতার কারণে ঘটে না, বরং এটি মনের অসতর্কতা, কলমের ক্ষিপ্রতা এবং চোখের সামনে যা আছে তার পরিবর্তে নিজের স্মৃতিতে যা আছে তা পাঠ করার কারণে ঘটে থাকে। এছাড়া চিন্তা কখনো বিচ্ছিন্ন হয়, অন্তর অন্যমনস্ক হয়, বোধশক্তি একটি আপেক্ষিক বিষয় যা কখনো আসে আবার কখনো চলে যায় এবং স্মৃতিশক্তিও কখনো দুর্বল হয় আবার কখনো শক্তিশালী হয়।
(খণ্ড: ১)
আল-মুগনি ফি দবিতিল আসমাই লি রুওয়াতিল আনবা
(পৃষ্ঠা: ١٦)
والذهن يكِلُّ وينشط، والنظر يُصيب ويزيغ، والقلم يكبو ويطغى.
وعن هذا المعنى عبر الحافظ ابن القيم في "زاد المعاد" 2/ 433 بقوله: "وسفر الوهَم من زمان إلى زمان، ومن مكان إلى مكان، ومن واقعة إلى واقعة، كثيرًا ما يعرض للحفاظ فمن دونهم"، وهذا تعبير لطيف ينبئ عن دقة نظر قائله. (انظر: مقدمة الشيخ عبد الفتاح أبو غدة لتحقيقه على كتاب "ظفر الأماني" للكنوي.
وأيًّا ما كان السبب؛ فغير خافٍ على الناظر في نسخ "المغني" المطبوعة -بل والمخطوطة- وقوع أخطاء كثيرة قد تُربك القارئ، فتتركه تائهًا حيران.
فجعل هذا الكتاب -المطبوع مرارًا، المشحون بالأخطاء المطبعية وغيرها- ينادي بلسان حاله من يقدر قيمته العلمية، ويوفي حقه من غير بخس ولا شطط، وكان عامة المشتغلين بالحديث وعلومه ينتظرون إلى من ينتهض لهذه العملية الدقيقة، المتعبة.
إلى أن قيض الله تعالى لهذا العمل الجليل فضيلة شيخنا العلامة المحدث زين العابدين الأعظمي -حفظه الله تعالى- الذي قد رُزق من الله العلي القدير ذوقًا فريدًا في علم الضبط والتقييد خاصةً، وفي سائر علوم الحديث عامةً، وقد جاوز الآن خمسًا وسبعين من عمره الذي قضى معظمه خادمًا للحديث النبوي الشريف تدريسًا، وتأليفًا، وتدريبًا لطلاب الدراسات العليا في علوم الحديث، ويحسن بنا ذكر نبذة من ترجمته.
ترجمة المحقق:هو المحدث، الناقد، العلامة زين العابدين بن محمد بشير بن محمد نذير الأعظمي، ولد في قرية بوره معروف، من مديرية أعظم جراه، يوبي، الهند سنة 1351 هـ، وحصل على العلوم الابتدائية العربية، والشرعية إلى المتوسطات في "المدرسة المعروفية" وكان أهم أساتذته فيها الشيخ العلامة المحدث عبد الستار المعروفي رحمه الله الذي تولى مشيخة دار الحديث بجامعة دار العلوم ندوة العلماء لكناؤ فيما بعد، فتخرج عليه.
ثم التحق بالمدرسة العريقة "إحياء العلوم، مباركفور، أعظم جراه" سنة 1367 هـ، فارتوى من هذا المنهل سنةً كاملةً، ومن أبرز أساتذته فيها الشيخ القدوة المفتي محمد ياسين، والعلامة المحدث عبد الجبار المعروفي، الأعظمي، الذي تولى مشيخة
মন ক্লান্ত হয় ও সজীব হয়, দৃষ্টি সঠিক লক্ষ্যে পৌঁছে এবং বিচ্যুত হয়, আর কলম পদস্খলিত হয় এবং সীমালঙ্ঘন করে।
এই অর্থ সম্পর্কে হাফিজ ইবনুল কায়্যিম 'যাদুল মাআদ' (২/৪৩৩) গ্রন্থে তার এই বক্তব্যের মাধ্যমে ব্যক্ত করেছেন: "কল্পনার এক কাল থেকে অন্য কালে, এক স্থান থেকে অন্য স্থানে এবং এক ঘটনা থেকে অন্য ঘটনায় পরিভ্রমণ প্রায়শই হাফিজগণ এবং তাদের নিচের স্তরের লোকদের ক্ষেত্রে ঘটে থাকে।" এটি একটি চমৎকার অভিব্যক্তি যা এর বক্তার সূক্ষ্ম দৃষ্টিশক্তির পরিচয় দেয়। (দেখুন: লাখনভীর 'যাফারুল আমানী' গ্রন্থের তাহকিকে শায়খ আব্দুল ফাত্তাহ আবু গুদ্দাহর ভূমিকা)।
কারণ যাই হোক না কেন, 'আল-মুগনী' গ্রন্থের মুদ্রিত—বরং পাণ্ডুলিপি সংস্করণসমূহের প্রতি দৃষ্টিপাতকারীর কাছে এটি অস্পষ্ট নয় যে, এতে অনেক ভুলত্রুটি ঘটেছে যা পাঠককে বিভ্রান্ত করতে পারে এবং তাকে কিংকর্তব্যবিমূঢ় ও লক্ষ্যভ্রষ্ট অবস্থায় ছেড়ে দেয়।
ফলে বারবার মুদ্রিত এবং মুদ্রণজনিত ও অন্যান্য ভুলে ভরপুর এই বইটি তার অবস্থার ভাষায় এমন কাউকে ডাকছিল, যে এর ইলমী কদর বুঝবে এবং এর প্রতি অবমূল্যায়ন বা অতিরঞ্জন না করে এর যথাযথ হক আদায় করবে। হাদিস ও এর সংশ্লিষ্ট জ্ঞান নিয়ে চর্চাকারী সাধারণ ব্যক্তিবর্গ এমন কারো অপেক্ষায় ছিলেন, যিনি এই সূক্ষ্ম ও ক্লান্তিকর কাজের জন্য এগিয়ে আসবেন।
পরিশেষে আল্লাহ তাআলা এই মহান কাজের জন্য আমাদের শায়খ, আল্লামা মুহাদ্দিস যয়নুল আবেদীন আল-আজমীকে—আল্লাহ তাআলা তাকে হিফাজত করুন—মনোনীত করেছেন। তিনি মহান পরাক্রমশালী আল্লাহর পক্ষ থেকে বিশেষভাবে নির্ভুল লিখন ও সংরক্ষণ বিদ্যায় এবং সাধারণভাবে হাদিসের অন্যান্য সকল বিদ্যায় এক অনন্য রুচি ও প্রজ্ঞা লাভ করেছেন। বর্তমানে তার বয়স পঁচাত্তর বছর অতিক্রম করেছে, যার অধিকাংশ সময় তিনি পাঠদান, রচনা এবং হাদিস শাস্ত্রের উচ্চতর শিক্ষার্থীদের প্রশিক্ষণের মাধ্যমে পবিত্র হাদিসে নববীর খিদমতে ব্যয় করেছেন। এখানে তার জীবনীর একটি সংক্ষিপ্ত সারসংক্ষেপ উল্লেখ করা সমীচীন হবে।
মুহাক্কিকের জীবনী:তিনি হলেন মুহাদ্দিস, সমালোচক, আল্লামা যয়নুল আবেদীন বিন মুহাম্মদ বশীর বিন মুহাম্মদ নাযীর আল-আজমী। তিনি ১৩৫১ হিজরি সালে ভারতের উত্তর প্রদেশের আজমগড় জেলার পুরা মারুফ গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। তিনি 'মাদরাসা মারুফিয়া' থেকে প্রাথমিক আরবি এবং উচ্চ-মাধ্যমিক পর্যন্ত শরয়ী জ্ঞান অর্জন করেন। সেখানে তার প্রধান শিক্ষকদের মধ্যে অন্যতম ছিলেন শায়খ আল্লামা মুহাদ্দিস আবদুস সাত্তার আল-মারুফী (রহিমাহুল্লাহ), যিনি পরবর্তীতে লখনউয়ের জামিয়া দারুল উলুম নদওয়াতুল উলামার শায়খুল হাদিস হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছিলেন; তিনি তার নিকট শিক্ষা সমাপ্ত করেন।
অতঃপর তিনি ১৩৬৭ হিজরি সালে আজমগড়ের মুবারকপুরের ঐতিহ্যবাহী মাদরাসা 'ইহয়াউল উলুম'-এ ভর্তি হন এবং পূর্ণ এক বছর এই জ্ঞানধারা থেকে তৃপ্ত হন। সেখানে তার উল্লেখযোগ্য উস্তাদগণের মধ্যে ছিলেন অনুসরণীয় ব্যক্তিত্ব শায়খ মুফতি মুহাম্মদ ইয়াসিন এবং আল্লামা মুহাদ্দিস আব্দুল জব্বার আল-মারুফী আল-আজমী, যিনি শায়খুল হাদিসের দায়িত্ব পালন করেছেন।
(খণ্ড: ১)
আল-মুগনি ফি দবিতিল আসমাই লি রুওয়াতিল আনবা
(পৃষ্ঠা: ١٧)
دار الحديث بالجامعة القاسمية، مراد آباد، والعالم الجهبذ بشير أحمد، رحمهم الله تعالى.
ثم توجه إلى أم المدارس في شبه القارة الهندية جامعة دار العلوم ديوبند، فالتحق بها سنة 1368 هـ، وعكف بها أربع سنوات على دراسة العلوم النقلية والعقلية، فبرع في الفنون العقلية من المنطق، والفلسفة، والهيئة بجانب إكبابه على العلوم الشرعية من التفسير، والحديث الشريف، والفقه، فتخرج من الجامعة في شعبان سنة 1372 هـ، وفاز في الامتحان السنوي بدرجة "ممتاز"، ففاق بها على سائر أقرانه في دورة الحديث الشريف عامئذٍ.
ومن أساتذته المبرزين بها:
1 - شيخ العرب والعجم السيد حسين أحمد المدني (ت 1377 هـ)، قرأ عليه صحيح البخاري، وجامع الترمذي.
2 - والعلامة المحقق الجامع بين المنقول والمعقول محمد إبراهيم البلياوي (ت 1387 هـ) قرأ عليه معظم المعقولات، وصحيح الإمام مسلم بن الحجاج القشيري.
3 - العلامة الفقيه الأديب إعزاز علي الأمروهوي (ت 1374 هـ).
وغيرهم من الأساتذة البررة الأفذاذ النابهين رحم الله الجميع.
ثم بدأ في التدريس، فلم يزل يخدم الدين والعلم في المدارس والجامعات في شتى أقطاع بلاد الهند، ومن أهمها: مدرسة "إحياء العلوم" بمباركفور، أعظم جراه، درس بها احدى عشرة سنة، و"مدرسة الإصلاح" بسرائمير، أعظم جراه، درس بها ثمان سنوات، و"مظهر العلوم" ببنارس، درس بها عشر سنوات، و"دار العلوم"، بـ شابي، شماليَّ غجرات، درس بها خمس سنوات، و"دار العلوم سبيل السلام" حيدر آباد قضى بها سنتين فقط، فقام في جميع هذه المدارس بتدريس العلوم الشرعية العالية، وفي معظمها بمشيخة دور الحديث، ثم تحول إلى "جامعة مظاهر علوم" بسهارنبور مخصِّصًا لطلبة الدراسات العليا في الحديث الشريف وعلومه، ومدرِّبًا إياهم في إنشاء البحوث العلمية، ومشرفًا عليهم، وعلى أساتذة قسم التخصص في الحديث، وهو قائم على مسئولياته تلك حتى اليوم؛ وقد جاوز ثلاثة أرباع قرن.
মুরাদাবাদের জামিয়া কাসিমিয়ার দারুল হাদিস এবং বিজ্ঞ পণ্ডিত বশির আহমদ, আল্লাহ তায়ালা তাঁদের প্রতি রহম করুন।
অতঃপর তিনি ভারতীয় উপমহাদেশের সকল মাদরাসার জননী জামিয়া দারুল উলুম দেওবন্দের দিকে মনোনিবেশ করেন এবং ১৩৬৮ হিজরি সনে সেখানে ভর্তি হন। তিনি সেখানে চার বছর যাবত তাত্ত্বিক ও যৌক্তিক ইলম অর্জনে নিমগ্ন থাকেন। তিনি তাফসির, হাদিসে শরিফ এবং ফিকহ শাস্ত্রের ন্যায় শরয়ী ইলমের পাশাপাশি যুক্তিবিদ্যা, দর্শন ও জ্যোতির্বিজ্ঞানের ন্যায় বুদ্ধিবৃত্তিক কলাকৌশলে দক্ষতা অর্জন করেন। অতঃপর তিনি ১৩৭২ হিজরি সনের শাবান মাসে জামিয়া থেকে স্নাতক সম্পন্ন করেন এবং বার্ষিক পরীক্ষায় 'মুমতাজ' (অত্যন্ত চমৎকার) স্থান লাভ করে উত্তীর্ণ হন। সে বছরের দাওরায়ে হাদিসে তিনি তাঁর সমসাময়িক সকল সহপাঠীর মধ্যে শ্রেষ্ঠত্ব অর্জন করেন।
সেখানে তাঁর বিশিষ্ট উস্তাদগণের মধ্যে রয়েছেন:
১ - শায়খুল আরব ওয়াল আজম সাইয়্যিদ হুসাইন আহমদ মাদানি (মৃত্যু: ১৩৭৭ হি.), তাঁর কাছে তিনি সহিহ বুখারি এবং জামে তিরমিজি পাঠ করেছেন।
২ - আল্লামা মুহাক্কিক, তাত্ত্বিক ও যৌক্তিক উভয় ইলমের সমন্বয়কারী মুহাম্মদ ইবরাহিম বলিয়াবি (মৃত্যু: ১৩৮৭ হি.), তাঁর কাছে তিনি অধিকাংশ আকলি কিতাবসমূহ এবং ইমাম মুসলিম বিন হাজ্জাজ আল-কুশাইরির সহিহ মুসলিম পাঠ করেছেন।
৩ - আল্লামা ফকিহ ও সাহিত্যিক ইজাজ আলি আমরুহি (মৃত্যু: ১৩৭৪ হি.)।
এছাড়াও অন্যান্য সৎকর্মপরায়ণ, অদ্বিতীয় ও প্রথিতযশা উস্তাদগণ, আল্লাহ তাঁদের সকলের প্রতি রহম করুন।
অতঃপর তিনি শিক্ষকতা শুরু করেন এবং ভারতের বিভিন্ন অঞ্চলের মাদরাসা ও জামিয়াগুলোতে দ্বীন ও ইলমের খিদমত অব্যাহত রাখেন। সেগুলোর মধ্যে অন্যতম হলো: আজমগড়ের মোবারকপুরের মাদরাসা 'ইহয়াউল উলুম', যেখানে তিনি এগারো বছর শিক্ষকতা করেন; আজমগড়ের সরাইমিরের 'মাদরাসাতুল ইসলাহ', যেখানে তিনি আট বছর শিক্ষকতা করেন; বেনারসের 'মাযহারুল উলুম', যেখানে তিনি দশ বছর শিক্ষকতা করেন; উত্তর গুজরাটের ছাপির 'দারুল উলুম', যেখানে তিনি পাঁচ বছর শিক্ষকতা করেন এবং হায়দ্রাবাদের 'দারুল উলুম সাবিলুস সালাম', যেখানে তিনি মাত্র দুই বছর অতিবাহিত করেন। এই সকল মাদরাসায় তিনি উচ্চতর শরয়ী ইলমসমূহের পাঠদান করেন এবং সেগুলোর অধিকাংশতে দাওরায়ে হাদিসের প্রধান শায়খ হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। পরবর্তীতে তিনি সাহারানপুরের 'জামিয়া মাজাহির উলুম'-এ স্থানান্তরিত হন, যেখানে তিনি হাদিসে শরিফ ও উলুমুল হাদিসের উচ্চতর গবেষণার শিক্ষার্থীদের জন্য নিবেদিত হন এবং তাদেরকে উচ্চতর গবেষণাপত্র তৈরিতে প্রশিক্ষণ ও তত্ত্বাবধান প্রদান করেন। পাশাপাশি তিনি হাদিস বিশেষজ্ঞ বিভাগের উস্তাদগণেরও তত্ত্বাবধায়ক হিসেবে নিয়োজিত রয়েছেন। তিনি আজ অবধি এই দায়িত্বসমূহ পালন করে আসছেন; যার সময়কাল পৌনে এক শতাব্দী অতিক্রম করেছে।
(খণ্ড: ১)
আল-মুগনি ফি দবিতিল আসমাই লি রুওয়াতিল আনবা
(পৃষ্ঠা: ١٨)
وبجانب هذه الأعمال التدريسية قد حظي شيخنا -حفظه الله- ذوقًا سليمًا في التأليف، والتحقيق؛ بل وإن التدقيق في المسائل العلمية من أهم مزاياه، فترى العلماء يثقون بنقده العلمي، ويعرضون عليه ثمرات جهودهم المضنية للنقد، والملاحظة، فيقطع لهم الكثير من أوقاته الثمينة.
ومن مؤلفاته المطبوعة:
(1) تكملة "إمداد الباري شرح صحيح البخاري" لأستاذه المحدث عبد الجبار المعروفي الأعظمي باللغة الأردوية، طبع من التكملة مجلدان.
(2) و"دلائل الأمور الستة"، تناول فيه بعرض الأدلة من نصوص القرآن والسنة على مشروعية وفضائل الأمور الستة التي يعنى بها أهل الدعوة والتبليغ.
(3) و"الاستبراك من الأسماء الحسنى" كتيِّب في اللغة الأردوية.
(4) و"القراءة المسنونة" جمع فيه الأحاديث التي جاء فيها قراءة رسول الله صلى الله عليه وسلم سورةً معينة في صلاة بعينها.
(5) و"النقد العلمي على كتاب "المرتضى" للكاتب والداعية الإسلامي أبو الحسن علي الحسني الندوي رحمه الله.
(6) حلٌّ موجَز لكتاب شرح العقائد النسفية للتفتازاني باللغة الأردوية.
(7) تحقيق وتعليق على رسالة الأوائل لمحمد سعيد بن سنبل رحمه الله.
وهناك مؤلفات له لم يُقَدَّر لها أن تطبع بعد، وهي:
• "التعليقات السنية على شرح العقائد النسفية"، وهذا شرح نفيس لشرح العقائد للتفتازاني باللغة العربية.
• و"تذكره علمائ هند" ألفه الشيخ رحمان علي الناروي باللغة الفارسية، فنقله شيخنا إلى الأردية.
• وكتابٌ كتب فيه تراجم الرجال الذين ذكرهم الذهبي في رسالته "من يعتمد قوله في الجرح والتعديل".
• وأيضًا قد عدَّ أحاديث "جامع الترمذي" مع أحكامه التي حكم بها على الأحاديث، من قوله "حسن صحيح"، "صحيح"، "حسن"، "غريب"، "حسن غريب"، "حسن صحيح غريب"، "غير محفوظ"، "مضطرب" وغير ذلك، فدوَّن تلك الأحكام إجمالًا، فتفصيلًا، وهذا جهد يُشكر له.
এই পাঠদান সংক্রান্ত কার্যক্রমের পাশাপাশি আমাদের শাইখ -আল্লাহ তাঁকে রক্ষা করুন- রচনা ও গবেষণায় এক মার্জিত রুচিবোধের অধিকারী হয়েছেন। বরং ইলমি মাসআলাসমূহের সূক্ষ্ম বিশ্লেষণ তাঁর অন্যতম প্রধান বৈশিষ্ট্য। তাই দেখা যায়, উলামায়ে কেরাম তাঁর ইলমি পর্যালোচনার ওপর আস্থা রাখেন এবং তাঁদের কঠোর পরিশ্রমের ফসল তাঁর কাছে পর্যালোচনা ও মতামতের জন্য পেশ করেন; আর তিনি তাঁদের জন্য তাঁর মূল্যবান সময়ের একটি বড় অংশ ব্যয় করেন।
তাঁর মুদ্রিত রচনাবলির মধ্যে রয়েছে:
(১) তাঁর উস্তাদ মুহাদ্দিস আবদুল জব্বার মারুফি আজমির উর্দু ভাষায় রচিত সহিহ বুখারির ব্যাখ্যাগ্রন্থ 'ইমদাদুল বারী'-র পরিশিষ্ট (তাকমিলা); এই পরিশিষ্টের দুই খণ্ড মুদ্রিত হয়েছে।
(২) 'দালাইলুল উমুরিস সিত্তা'; এতে তিনি দাওয়াত ও তাবলিগের সাথীদের মাঝে প্রচলিত ছয়টি বিষয়ের বৈধতা ও শ্রেষ্ঠত্বের ওপর কুরআন ও সুন্নাহর দলিলসমূহ উপস্থাপন করেছেন।
(৩) 'আল-ইস্তিবরাকু মিনাল আসমাউল হুসনা'; এটি উর্দু ভাষায় রচিত একটি পুস্তিকা।
(৪) 'আল-কিরাআতুল মাসনূনা'; এতে তিনি সেইসব হাদিস সংকলন করেছেন যেগুলোতে নির্দিষ্ট নামাজে নির্দিষ্ট সূরা পাঠের ব্যাপারে রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের আমল বর্ণিত হয়েছে।
(৫) লেখক ও ইসলামি দাঈ আবুল হাসান আলী হাসানী নদভী রাহিমাহুল্লাহর 'আল-মুরতাজা' গ্রন্থের ওপর ইলমি পর্যালোচনা।
(৬) তাফতাযানী রচিত 'শারহুল আকাইদিন নাসাফিয়া' গ্রন্থের উর্দু ভাষায় একটি সংক্ষিপ্ত সমাধান।
(৭) মুহাম্মদ সাঈদ বিন সুম্বুল রাহিমাহুল্লাহর 'রিসালাতুল আওয়াইল'-এর সম্পাদনা (তাহকিক) ও টিকা।
এছাড়া তাঁর এমন কিছু রচনা রয়েছে যা এখনও মুদ্রিত হওয়ার সুযোগ হয়নি, সেগুলো হলো:
• 'আত-তালীকাতুস সানিয়্যাহ আলা শারহিল আকাইদিন নাসাফিয়া'; এটি তাফতাযানী রচিত শারহুল আকাইদের ওপর আরবি ভাষায় একটি মূল্যবান ব্যাখ্যাগ্রন্থ।
• 'তাযকিরায়ে উলামায়ে হিন্দ'; শাইখ রহমান আলী নারভী এটি ফারসি ভাষায় রচনা করেছিলেন, আমাদের শাইখ তা উর্দুতে অনুবাদ করেছেন।
• একটি গ্রন্থ যাতে তিনি সেইসব ব্যক্তিদের জীবনী আলোচনা করেছেন যাঁদের নাম ইমাম যাহাবী তাঁর 'মান ইউতামাদু কওলুহু ফিল জারহি ওয়াত তাদীল' নামক পুস্তিকায় উল্লেখ করেছেন।
• এছাড়া তিনি 'জামে তিরমিজি'-র হাদিসসমূহ গণনা করেছেন এবং সেগুলোর ওপর ইমাম তিরমিজির দেওয়া হুকুমসমূহ—যেমন 'হাসান সহিহ', 'সহিহ', 'হাসান', 'গরিব', 'হাসান গরিব', 'হাসান সহিহ গরিব', 'গয়রে মাহফুজ', 'মুজতারিব' ইত্যাদি সংগ্রহ করেছেন। তিনি সেই হুকুমগুলোকে সংক্ষিপ্ত ও বিস্তারিত উভয়ভাবে লিপিবদ্ধ করেছেন; এটি তাঁর একটি প্রশংসনীয় প্রচেষ্টা।
(খণ্ড: ১)
আল-মুগনি ফি দবিতিল আসমাই লি রুওয়াতিল আনবা
(পৃষ্ঠা: ١٩)
إطلالة على صلته بـ"المغني":
ومن الجدير بالذكر هنا أن المحقق -حفظه الله تعالى- كما هو شيخي في الطريقة، وأستاذي في العلم إنه عمي من القرابة، وأياديه عليَّ كثيرة لا يجزيه بها عني إلا الله الملك الوهاب، فما إن فتحتُ عينيَّ؛ إلا وقد رأيته شَغوفًا بكتابَي العلامة المحدث محمد بن طاهر الفتَّني، وطالمَا رأيته مُكِبًّا على "مجمع بحار الأنوار" خلالَ استعداده لإلقاء الدروس على الطلبة، وكثُرَ ما رأيتُه يتفحَّص سطور "المغني" للتوثق من الضبط الصحيح لأيِّ اسم من أسماء الرجال، وكم مرةً سمعته يوصي إلى أحد المسترشدين في الدراسة الحديثية إلى الاعتناء بـ"المجمع"، أو بـ"المغني"؟ وكم مرةً رأيته يكتب ملاحظة، أو تصويبًا، أو تخريجًا للساقط على حاشية نسخته من "المغني"؟ فأشهد بأعماق قلبي على أن فضيلة شيخنا يَحِقُّ له تحقيق كتاب "المغني" هذا، والله على ما نقول وكيل.
لمحة على متانة التحقيق:قد بين المحقق -حفظه الله- في مقدمة التحقيق منهج تحقيقه، وعمله في تعليقاته، فليراجع القارئ الكريم إليه، ولسنا في حاجة إلى إعادته، ولكن لِيَظْهَرَ مدى توفيقه في التحقيق نقدم إلى القارئ نماذج، وأمثلة من تصحيف، أو تقديم وتأخير، واتفقت عليها سائر نسخ المغني التي بين يدي المحقق ما بين مخطوط ومطبوع، فتنبه لها المحقق، وضبطها على وجه الصواب بناءً على ما كان في المصادر الموثوق بها، المتوفرة لديه:
1 - "معاوية بن خُدَيج: بضم معجمة، وفتح دال مهملة، وبياء، وبجيم.".
علَّق عليه: "كذا في النسخ هاهنا بضم معجمة، وفتح دال، وقد مرَّ في الحاء المهملة خلافه: زهير بن معاوية بن حُدَيج: بضم مهملة، وفتح دال مهملة. اهـ. وفي التقريب: معاوية بن حُديج بمهملة، ثم جيم مصغرًا، الكِندي، صحابي صغير، ومعاوية بن حُديج آخر متأخر، كوفي، ذكره للتمييز. اهـ. ففي الكتاب هاهنا خطأ، فتفكَّر. زين العابدين.
2 - الزُّبير بن الخِرِّيت: بمعجمة، وراء مشددة مكسورتين، وسكون مثناة تحت، فمثناة فوق. [وما سواه فيه: حُرَيث بمثلثة، تصغير حارث، وقد يتميَّز بلزوم لام التعريف له. مق]. أيمن بن خُرَيم: بضم معجمة، وفتح راء مصغرًا، وكذا: خُرَيْم بن أخْرَم رضي الله عنه.
"আল-মুগনী"-এর সাথে তাঁর সম্পর্কের উপর একটি আলোকপাত:এখানে উল্লেখ করা বাঞ্ছনীয় যে, মুহাক্কিক —আল্লাহ তাআলা তাঁকে হিফাযত করুন— যেমন তরীকার ক্ষেত্রে আমার শায়খ এবং ইলমের ক্ষেত্রে আমার উস্তাদ, তেমনি তিনি আত্মীয়তার সূত্রে আমার চাচা। আমার উপর তাঁর অসংখ্য অনুগ্রহ রয়েছে, যার প্রতিদান মালিক ও ওহহাব (দানশীল) আল্লাহ ছাড়া আর কেউ দিতে পারবে না। আমি চোখ খোলার পর থেকেই তাঁকে আল্লামা মুহাদ্দিস মুহাম্মদ বিন তাহির আল-ফাত্তানীর গ্রন্থদ্বয়ের প্রতি অত্যন্ত অনুরাগী দেখেছি। ছাত্রদের দরস প্রদানের প্রস্তুতির সময় আমি তাঁকে দীর্ঘক্ষণ "মাজমাউ বিহারিল আনওয়ার"-এর উপর নিবিষ্ট থাকতে দেখেছি। বর্ণনাকারীদের নামের সঠিক উচ্চারণ নিশ্চিত করতে আমি তাঁকে বারবার "আল-মুগনী"-এর পঙক্তিগুলো পরীক্ষা করতে দেখেছি। ইলমে হাদীসের কোনো শিক্ষার্থীকে তিনি কতবার যে "মাজমা" বা "আল-মুগনী"-এর প্রতি যত্নবান হওয়ার উপদেশ দিয়েছেন! তাঁর নিজস্ব "আল-মুগনী" কপির হাশিয়া বা মার্জিনে কতবার তাঁকে টীকা লিখতে, সংশোধন করতে বা বাদ পড়া অংশের উদ্ধৃতি দিতে দেখেছি! আমি আমার অন্তরের গভীর থেকে সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, আমাদের শায়খ এই "আল-মুগনী" গ্রন্থটি তাহকীক করার পূর্ণ অধিকার রাখেন। আর আমরা যা বলছি, সে বিষয়ে আল্লাহই একমাত্র কর্মবিধায়ক।
তাহকীকের সুদৃঢ়তার উপর একটি সংক্ষিপ্ত আলোকপাত:মুহাক্কিক —আল্লাহ তাঁকে হিফাযত করুন— তাঁর তাহকীকের ভূমিকাভাগে গবেষণার পদ্ধতি এবং টীকা প্রদানের কাজ সম্পর্কে বর্ণনা করেছেন। সুতরাং সম্মানিত পাঠক যেন সেদিকে লক্ষ্য করেন, আমাদের তা পুনরাবৃত্তি করার প্রয়োজন নেই। তবে তাঁর তাহকীকের সার্থকতা কতটুকু তা প্রকাশের জন্য আমরা পাঠকের সামনে কিছু নমুনা ও উদাহরণ পেশ করছি, যেখানে বর্ণবিভ্রাট (তাসহিফ) অথবা শব্দের অগ্র-পশ্চাৎ (তাকদীম ওয়া তা’খীর) হয়েছে এবং মুহাক্কিকের নিকট বিদ্যমান পাণ্ডুলিপি ও মুদ্রিত সকল কপিতেই সেই ভুলগুলো অভিন্ন ছিল। মুহাক্কিক সেগুলোর প্রতি সজাগ দৃষ্টি দিয়েছেন এবং তাঁর নিকট উপলব্ধ নির্ভরযোগ্য উৎসগুলোর ভিত্তিতে সেগুলো সঠিকভাবে বিন্যস্ত করেছেন:
১ - "মুআবিয়াহ বিন খুদাইজ: নুকতাযুক্ত অক্ষরের (খ) পেশ, নুকতাহীন দাল-এর যবর, এরপর ইয়া এবং জীম।"
এর উপর তিনি টীকা লিখেছেন: "এখানে পাণ্ডুলিপিগুলোতে এভাবেই নুকতাযুক্ত অক্ষরের পেশ এবং দাল-এর যবর সহকারে রয়েছে, অথচ 'হা' (ح) বর্ণের আলোচনায় এর বিপরীত অতিবাহিত হয়েছে: 'যুহায়ের বিন মুআবিয়াহ বিন হুদাইজ: নুকতাহীন অক্ষরের পেশ এবং নুকতাহীন দাল-এর যবর সহকারে'। সমাপ্ত। আর 'তাকরীব' গ্রন্থে রয়েছে: মুআবিয়াহ বিন হুদাইজ নুকতাহীন বর্ণ সহকারে, এরপর জীম, ক্ষুদ্রার্থে (তাসগীর), আল-কিন্দী, তিনি একজন অল্পবয়স্ক সাহাবী; এবং অপর একজন মুআবিয়াহ বিন হুদাইজ যিনি পরবর্তী কালের, কূফী, উভয়ের মধ্যে পার্থক্য করার জন্য তাঁকে উল্লেখ করেছেন। সমাপ্ত। সুতরাং এখানে কিতাবে ভুল রয়েছে, ভেবে দেখুন। জয়নুল আবেদীন।"
২ - আয-যুবাইর বিন আল-খিররীত: নুকতাযুক্ত অক্ষরের (খ) সাথে, এবং তাশদীদযুক্ত ও যেরযুক্ত রা-এর সাথে, এরপর সাকিনযুক্ত ইয়া ও শেষে তা। [এবং তিনি ছাড়া অন্য ক্ষেত্রে রয়েছে: 'হুরাইছ', হারিস-এর তাসগীর বা ক্ষুদ্রার্থ, অনেক সময় আলিফ-লাম যুক্ত হওয়ার মাধ্যমে এটি পৃথক করা যায়। মুক্বাতিল]। আইমান বিন খুরাইম: নুকতাযুক্ত অক্ষরের পেশ এবং রা-এর যবরসহ ক্ষুদ্রার্থে, তদ্রূপ: খুরাইম বিন আখরাম রাযিয়াল্লাহু আনহু।
(খণ্ড: ১)
আল-মুগনি ফি দবিতিল আসমাই লি রুওয়াতিল আনবা
(পৃষ্ঠা: ٢٠)
علَّق على العبارة التي جعلها بين المعكوفتين:
في المخطوطة، والمطبوعات كانت هذه العبارة بعد: "خُريم بن أخرَم" من غير علاقة بينهما، فجعلناها متعلقة بـ "الخِريت" تبعًا لمقدمة فتح الباري. زين العابدين.
3 - "أبو سِرْوَعة: بكسر مهملة، وسكون راء، وخفة واو، وعين مهملة، وهو عقبة بن عامر، هو بفتح سين، وكسرها، وبخط الدارقطني: بفتح سين، وضم راء. زر."
علَّق على قوله: "عقبة بن عامر": هذه زلة قلم، والصواب: عقبة بن الحارث، ذكره البخاري: "ثم قام إليه أبو سِروعة عقبة بن الحارث، فقتله" اهـ في قصة خبيب من كتاب المغازي. زين.
4 - قال المؤلف في ترجمة عباس ضمن كلامه على ما اثبته في صحيح البخاري من "عياش بن الوليد"، و"عباس بن الوليد": واختُلف في الحج في حديث أبي بكر في فضل المخلصين، فالأكثر الإعجام، وعند أبي السَّكَن بالمهملة، والقابُسي يَشك. اهـ.
علق على قوله "في الحج" بعد أن صوبه من "الحد": وهو الصواب، وفي بعض المطبوعات: "في الحد"؛ وهو خطأ، وقوله: "في حديث أبي بكر" وفي المخطوطة: "أبي بكرة". وكلاهما خطأ، والصواب: "في حديث أبي هريرة في فضل المحَلِّقين"، وتصحف في النسخ إلى "المخلصين". انظر: صحيح البخاري، باب الحلق، والتقصير في الإحلال، وإرشاد الساري 4/ 281، رقم الحديث 1728. زين.
5 - يزيد بن الفقر: بفاء، وقاف.
علق على "الفقر": هكذا في جميع النسخ، وعندي فيه سقط، وتصحيف، فالصواب: يزيد بن [صُهَيب] الفقير، فسقط صُهَيب وتصحف "الفقير" إلى "الفقر"، والله أعلم، وحديثه عن جابر عند مسلم في الشفاعة.
6 - قال المؤلف: [أبو المُنْذِر القذار: بقاف -في بعض النسخ- وهو الأشهَر، وبياء في أكثرها، وإسماعيل بن عمرو]. ن.
هذه عبارة مُظلمة، وليس لها أي معنًى، فجعلها بين المعكوفتين، وعلق عليها قائلًا: ما بين المعكوفين كذا في جميع نسخ المغني، ونرى أن هذه الترجمة بما فيها قد حلَّت
তিনি বন্ধনীভুক্ত বাক্যটির ওপর মন্তব্য করেছেন:
পাণ্ডুলিপি এবং মুদ্রিত কপিগুলোতে এই বাক্যটি 'খুরাইম ইবন আখরাম' এর পরে ছিল, যদিও তাদের মধ্যে কোনো সম্পর্ক নেই। তাই আমরা ফাতহুল বারীর ভূমিকা অনুসরণ করে এটিকে 'আল-খিররিত' এর সাথে সংশ্লিষ্ট করেছি। যয়নুল আবেদীন।
৩ - "আবু সিরওয়াআহ: সিন বর্ণে কাসরা (জের), রা বর্ণে সুকুন (জজম), ওয়াও বর্ণে লঘু উচ্চারণ এবং আইন বর্ণে নুকতাহীনতা সহকারে। তিনি হলেন উকবাহ ইবন আমির; এটি সিনের ফাতহা (যবর) ও কাসরা (জের) উভয় যোগে হতে পারে। দারা কুতনী-র হস্তাক্ষরে এটি সিনের ফাতহা এবং রা-র দম্মাহ (পেশ) সহকারে বর্ণিত। যার।"
তাঁর উক্তি "উকবাহ ইবন আমির"-এর ওপর মন্তব্য: এটি একটি লিখন প্রমাদ, সঠিক হলো: উকবাহ ইবনুল হারিস। বুখারী এটি উল্লেখ করেছেন: "অতঃপর আবু সিরওয়াআহ উকবাহ ইবনুল হারিস তাঁর দিকে এগিয়ে গেলেন এবং তাঁকে হত্যা করলেন।" - কিতাবুল মাগাজির খুবাইব-এর কাহিনীতে এটি শেষ হয়েছে। যয়ন।
৪ - লেখক আব্বাসের জীবনীতে সহীহ বুখারীতে প্রমাণিত 'আইয়াশ ইবনুল ওয়ালিদ' এবং 'আব্বাস ইবনুল ওয়ালিদ' সম্পর্কিত আলোচনার মধ্যে বলেছেন: হজ অধ্যায়ে আবু বকর বর্ণিত নিষ্ঠাবানদের ফযীলত সংক্রান্ত হাদিসে মতভেদ রয়েছে। অধিকাংশের মতে এটি নুকতাযুক্ত, আবু সাকানের মতে এটি নুকতাহীন, এবং আল-কাবিসী এ ব্যাপারে সন্দিহান। সমাপ্ত।
"আল-হাদ্দ" থেকে সংশোধন করে তাঁর "আল-হজ" উক্তির ওপর মন্তব্য: এটিই সঠিক, কিছু মুদ্রিত কপিতে "আল-হাদ্দ" রয়েছে যা ভুল। আর তাঁর উক্তি "আবু বকরের হাদিসে" এবং পাণ্ডুলিপিতে "আবু বাকরাহ" রয়েছে; উভয়টিই ভুল। সঠিক হলো: "মাথা মুণ্ডনকারীদের ফযীলত সম্পর্কে আবু হুরায়রা বর্ণিত হাদিসে"। অনুলিপিগুলোতে এটি বিকৃত হয়ে "আল-মুখলিসীন" (নিষ্ঠাবানদের) হয়ে গেছে। দেখুন: সহীহ বুখারী, হালাল হওয়ার ক্ষেত্রে মাথা মুণ্ডন ও চুল ছোট করার অধ্যায়; এবং ইরশাদুস সারী ৪/২৮১, হাদিস নং ১৭২৮। যয়ন।
৫ - ইয়াযীদ ইবনুল ফাকর: ফা এবং কাফ বর্ণযোগে।
"আল-ফাকর"-এর ওপর মন্তব্য: সমস্ত পাণ্ডুলিপিতে এভাবেই আছে, তবে আমার মতে এখানে একটি শব্দ বাদ পড়েছে এবং বিকৃতি ঘটেছে। সঠিক হলো: ইয়াযীদ ইবন [সুহাইব] আল-ফাকীর। এখানে 'সুহাইব' শব্দটি বাদ পড়েছে এবং 'আল-ফাকীর' শব্দটি বিকৃত হয়ে 'আল-ফাকর' হয়ে গেছে। আল্লাহই ভালো জানেন। জাবির (রা.) থেকে বর্ণিত তাঁর হাদিসটি মুসলিম শরীফে শাফাআত (সুপারিশ) অধ্যায়ে রয়েছে।
৬ - লেখক বলেছেন: [আবু মুনযির আল-কাযার: কাফ বর্ণযোগে -কিছু কপিতে- এবং এটিই অধিক প্রসিদ্ধ; তবে অধিকাংশ কপিতে ইয়া বর্ণযোগে, এবং ইসমাইল ইবন আমর]। ন।
এটি একটি অস্পষ্ট বাক্য যার কোনো অর্থ হয় না। তাই তিনি এটিকে বন্ধনীভুক্ত করেছেন এবং মন্তব্য করে বলেছেন: বন্ধনীভুক্ত অংশটি 'আল-মুগনী'র সকল কপিতে এভাবেই আছে। আমাদের দৃষ্টিতে এই জীবনীটি তার অন্তর্ভুক্ত বিষয়সহ এখানে স্থানান্তরিত হয়েছে।
(খণ্ড: ১)
আল-মুগনি ফি দবিতিল আসমাই লি রুওয়াতিল আনবা
(পৃষ্ঠা: ٢١)
غير محلها؛ مع ما فيها من تحريفات، ومقتضى كلام النووي أن تكون العبارة هكذا:
"أبو المنذِر القَزَّاز: بقاف في بعض النسخ، وهو الأشهر، وبباء في أكثرها، وبزايين الأولى مشددة، وهو إسماعيل بن عُمَر".
وإليك نص النووي، فقال رحمه الله شارحًا لقول الإمام مسلم: "حدثني محمد بن رافع، قال نا أبو المنذر القزاز إلخ": وذكر في هذا الإسناد أبو المنذر القزاز، هكذا هو في بعض نسخ بلادنا "القزاز" بالقاف، وفي أكثرها "البزاز" وذكر القاضي أيضًا اختلاف الرواة فيه، والأشهر بالقاف، وهو الذي ذكره السمعاني في الأنساب، وآخرون، وذكره خلف الواسطي في الأطراف بالباء عن رواية مسلم، لكن عليه تضبيب، فلعله يقال بالوجهين، فالقزَّاز بزَّاز.
وأبو المنذر هذا إسماعيل بن حسين بن المثنى، كذا سماه أحمد بن حنبل فيما ذكره ابن أبي حاتم في كتابه، واقتصر الجمهور على أنه إسماعيل بن عُمَر، قال أبو حاتم: هو صدوق، وأمر أحمد بن حنبل بالكتابة عنه، وهو من أفراد مسلم". انتهى كلام النووي. (كتاب الصيد، والذبائح، باب إباحة ميتات البحر، 2/ 149). اهـ.
ولنكتف بهذا القدر من الأمثلة؛ وهذا غيض من فيض، وقد تجلى بذلك ما كان عليه كتاب "المغني" قبل هذه الخدمة، وما قد صار إليه بعدها، فما علينا إلا الشكر، والدعاء للمحقق -حفظه الله- فقد كُفِيَتِ الأوساط العلمية بخدمته هذه عن أنواع من المشكلات أثناء الاستفادة من هذا الكتاب القيم، جزى الله المؤلف، والمحقق، والناشر، وكل من له إسهامٌ ما في إخراج هذا الكتاب بهذه الصورة أفضل ما يجزي به عباده الصالحين، وصلى الله تعالى على خير خلقه محمد، وعلى آله، وأصحابه أجمعين.
عبد الله المعروفي غُفِر له
خادم الطلبة في قسم التخصص في الحديث
دار العلوم/ ديوبند، الهند
24/ 1/ 1426 هـ
এটি তার স্থান নয়; এর পাশাপাশি এতে কিছু বিকৃতিও রয়েছে। ইমাম নববীর বক্তব্যের দাবি অনুযায়ী বাক্যটি এরূপ হওয়া উচিত:
"আবু আল-মুনজির আল-কাজ্জায: কিছু পাণ্ডুলিপিতে 'ক্বাফ' বর্ণ দিয়ে রয়েছে, যা অধিক প্রসিদ্ধ। তবে অধিকাংশ পাণ্ডুলিপিতে 'বা' বর্ণ দিয়ে (আল-বাজ্জায) রয়েছে। এবং এতে দুটি 'যা' রয়েছে যার প্রথমটি তাশদিদযুক্ত। তিনি হলেন ইসমাইল ইবনে উমর।"
ইমাম নববীর মূল পাঠ আপনার সামনে পেশ করা হলো। ইমাম মুসলিমের বক্তব্য: "মুহাম্মাদ ইবনে রাফে' আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন, আবু আল-মুনজির আল-কাজ্জায আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন..."-এর ব্যাখ্যায় তিনি (আল্লাহ তাঁর ওপর রহমত বর্ষণ করুন) বলেছেন: "এই সনদে আবু আল-মুনজির আল-কাজ্জাযের উল্লেখ রয়েছে। আমাদের অঞ্চলের কিছু পাণ্ডুলিপিতে 'ক্বাফ' সহকারে 'আল-কাজ্জায' এভাবেই রয়েছে। কিন্তু অধিকাংশ পাণ্ডুলিপিতে এটি 'আল-বাজ্জায' হিসেবে আছে। কাজী (আইয়ায) রহ. বর্ণনাকারীদের ক্ষেত্রে এতে মতপার্থক্যের কথা উল্লেখ করেছেন। তবে 'ক্বাফ' সহকারেই অধিক প্রসিদ্ধ এবং আস-সামআনি 'আল-আনসাব' গ্রন্থে ও অন্যান্যরা এভাবেই উল্লেখ করেছেন। খালাফ আল-ওয়াসিতি 'আল-আতরাফ' গ্রন্থে ইমাম মুসলিমের বর্ণনা থেকে এটি 'বা' বর্ণ দিয়ে উল্লেখ করেছেন, তবে সেখানে সংশয়সূচক চিহ্ন (তাদবিব) দেওয়া আছে। সম্ভবত এটি উভয়ভাবেই বলা যায়, কেননা রেশম বিক্রেতা (কাজ্জায) কাপড় বিক্রেতাও (বাজ্জায) হতে পারেন।"
"আর এই আবু আল-মুনজির হলেন ইসমাইল ইবনে হুসাইন ইবনুল মুসান্না। ইমাম আহমদ ইবনে হাম্বল তাকে এ নামেই অভিহিত করেছেন, যা ইবনে আবি হাতিম তার গ্রন্থে উল্লেখ করেছেন। তবে জমহুর (অধিকাংশ) আলেম তাকে ইসমাইল ইবনে উমর হিসেবেই সীমাবদ্ধ রেখেছেন। আবু হাতিম বলেছেন: তিনি সত্যবাদী, আর আহমদ ইবনে হাম্বল তার থেকে হাদিস লিখে নিতে নির্দেশ দিয়েছেন। তিনি ইমাম মুসলিমের একক বর্ণনাকারীদের অন্তর্ভুক্ত।" ইমাম নববীর বক্তব্য এখানেই শেষ। (কিতাবুস সাইদ ওয়ায যাবাহ, সমুদ্রের মৃত প্রাণী হালাল হওয়ার অধ্যায়, ২/১৪৯)। ইতি।
আমরা উদাহরণের এই পরিমাণেই সীমাবদ্ধ থাকব; এটি বিশাল সমুদ্র থেকে এক বিন্দু মাত্র। এর মাধ্যমেই স্পষ্টভাবে ফুটে উঠেছে যে, বর্তমান খেদমতের পূর্বে "আল-মুগনি" গ্রন্থটি কেমন ছিল এবং পরে কেমন হয়েছে। সুতরাং আমাদের কর্তব্য কেবল শুকরিয়া আদায় করা এবং মুহাক্কিকের (গবেষক) জন্য—আল্লাহ তাকে হিফাযত করুন—দোয়া করা। কেননা তার এই খেদমতের মাধ্যমে ইলমি অঙ্গন এই মূল্যবান গ্রন্থটি থেকে উপকৃত হওয়ার ক্ষেত্রে নানা প্রকার সমস্যা থেকে মুক্তি পেয়েছে। আল্লাহ তাআলা গ্রন্থকার, গবেষক, প্রকাশক এবং এই গ্রন্থটিকে এই সুশোভিত রূপে বের করার পেছনে যাদেরই অবদান রয়েছে, তাদের সকলকে সেই সর্বোত্তম প্রতিদান দান করুন যা তিনি তাঁর নেক বান্দাদের প্রদান করে থাকেন। আর আল্লাহর সৃষ্টিজগতের শ্রেষ্ঠতম সত্তা মুহাম্মাদ (সা.) এবং তাঁর পরিবারবর্গ ও সকল সাহাবীর ওপর আল্লাহর দরুদ ও সালাম বর্ষিত হোক।
আব্দুল্লাহ আল-মা'রুফি, আল্লাহ তাকে ক্ষমা করুন
হাদিস গবেষণা বিভাগের শিক্ষার্থীদের খাদেম
দারুল উলুম দেওবন্দ, ভারত
২৪/ ০১/ ১৪২৬ হিজরি
(খণ্ড: ১)
আল-মুগনি ফি দবিতিল আসমাই লি রুওয়াতিল আনবা
(পৃষ্ঠা: ٢٢)
مقدمة التحقيقبسم الله الرحمن الرحيم
الحمد لله الذي منَّ علينا بفضله، وكرمه أن هدانا للإيمان، وجعلنا من أمة خير الأنام، والصلاة والسلام على رسوله محمد المبعوث بالملة البيضاء التي نسخت كل دين كان مشوَّهًا بالتحريف والتبديل، وعلى آله، وأصحابه الحافظين لدينه، والحاملين لسنته، الذين بلَّغوا سنته الشريفة إلى أهل الضبط والإتقان، فهم حفظوها، وضبطوا ألفاظها، وأتقنوا معانيها، وبلغوها إلى المحدثين والفقهاء الكرام بغاية من الاعتناء بنقطها وشكلها، حتى وصلت إلينا السنة المشرفة مصونة من التصحيف والتبديل، فجزاهم الله تعالى خير جزاء عن سائر المسلمين.
وبعد؛ فإن كتاب "المغني" لنابغة الهند، ملِك المحدثين، الشيخ محمد بن طاهر الفَتَّني، الهندي، (ت سنة 986 هـ) كان كافلًا لضبط الأسماء والرواة، مفيدًا جدًّا لطلبة الحديث الشريف، قد طُبع مرة بعد مرة في شبه القارة الهندية، وبلاد العرب، فأول طبع وقفنا عليه طباعة "المطبع الفاروقي" سنة 1292 هـ، ثم سنة 1308 هـ على هامش "تقريب التهذيب"، وبعده طباعة "المطبع المجتبائي" سنة. . .، ثم أعيد طبعُه في باكستان تصويرًا من نسخة المطبع المجتبائي، قام بطباعته الشيخ منير أحمد من "كراتشي" سنة 1393 هـ، ثم طُبع في "بيروت" مرارًا، منها طبعة 1402 هـ.
ومما يؤسفني أن أصل النسخة الفاروقية كانت فيها أخطاء كثيرة، ثم لم تزل تزداد، وتزداد في المطبوعات المتوالية على ما في النسخة الفاروقية؛ حتى صار الكتاب مملوءًا بأنواع من الأخطاء الفاحشة، والمظلمة التي قلما يُهتدى بها إلى وجه الصواب.
ومن تلك الأخطاء المربكة للناظر في الكتاب المزج بين رموز اختصها المؤلف للإشارة إلى مصدر من مصادر الكتاب، وبين رموز جعلها المؤلف للدلالة على فصول
সম্পাদকের ভূমিকাপরম করুণাময় অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে।
সকল প্রশংসা আল্লাহর জন্য, যিনি স্বীয় অনুগ্রহ ও করুণার মাধ্যমে আমাদের প্রতি ইহসান করেছেন যে, তিনি আমাদের ঈমানের দিকে হেদায়েত দিয়েছেন এবং আমাদের সর্বশ্রেষ্ঠ মানবের উম্মতভুক্ত করেছেন। দরুদ ও সালাম বর্ষিত হোক তাঁর রাসুল মুহাম্মাদের ওপর, যাঁকে এমন এক উজ্জ্বল আদর্শসহ প্রেরণ করা হয়েছে যা ইতিপূর্বেকার বিকৃতি ও পরিবর্তনের শিকার হওয়া সকল দ্বীনকে রহিত করে দিয়েছে। আরও বর্ষিত হোক তাঁর পরিবারবর্গ ও সাহাবায়ে কেরামের ওপর, যারা তাঁর দ্বীনের হিফাজতকারী এবং তাঁর সুন্নাহর বাহক। তাঁরাই সুনিপুণ ও সূক্ষ্মতা সম্পন্ন ব্যক্তিবর্গের নিকট তাঁর সুমহান সুন্নাহ পৌঁছে দিয়েছেন। তাঁরা তা মুখস্থ করেছেন, এর শব্দাবলি যথাযথভাবে সংরক্ষণ করেছেন, এর অর্থসমূহ নিখুঁতভাবে আয়ত্ত করেছেন এবং অত্যন্ত যত্ন সহকারে নুকতা ও হরকত নির্ধারণপূর্বক তা সম্মানিত মুহাদ্দিস ও ফকিহগণের কাছে পৌঁছে দিয়েছেন। ফলে এই সুমহান সুন্নাহ কোনো প্রকার বিকৃতি ও পরিবর্তন ছাড়াই সংরক্ষিত অবস্থায় আমাদের কাছে পৌঁছেছে। আল্লাহ তাআলা তাঁদেরকে সকল মুসলিমের পক্ষ থেকে সর্বোত্তম প্রতিদান দান করুন।
অতঃপর; ভারতের অনন্য প্রতিভা, মুহাদ্দিসকুলের সম্রাট শায়খ মুহাম্মদ বিন তাহির আল-ফাত্তানি আল-হিন্দি (মৃত্যু: ৯৮৬ হিজরি) রচিত "আল-মুগনি" গ্রন্থটি রাবি ও নামসমূহের নির্ভুলতার ক্ষেত্রে নিশ্চয়তা প্রদানকারী এবং ইলমে হাদিসের ছাত্রদের জন্য অত্যন্ত উপকারী। এটি ভারতীয় উপমহাদেশ ও আরব দেশসমূহে বারবার মুদ্রিত হয়েছে। আমাদের দেখা প্রথম মুদ্রণ ছিল ১২৯২ হিজরিতে 'মাতবা-ই ফারুকি' থেকে প্রকাশিত কপিটি। এরপর ১৩০৮ হিজরিতে 'তাকরীবুত তাহযীব'-এর হাশিয়ায় এটি মুদ্রিত হয়। এরপর '. . .' সালে 'মাতবা-ই মুজতবাই' থেকে এটি মুদ্রিত হয়। পরবর্তীতে মুজতবাই সংস্করণের ফটোকপি হিসেবে পাকিস্তানের করাচি থেকে ১৩৯৩ হিজরিতে শায়খ মুনির আহমদ এটি প্রকাশ করেন। এরপর বৈরুত থেকে বারবার এটি মুদ্রিত হয়েছে, যার মধ্যে একটি হলো ১৪০২ হিজরির সংস্করণ।
অত্যন্ত পরিতাপের বিষয় এই যে, ফারুকি সংস্করণের মূল কপিতে প্রচুর ভুল ছিল এবং পরবর্তীতে ফারুকি সংস্করণের ওপর ভিত্তি করে ধারাবাহিকভাবে প্রকাশিত সংস্করণগুলোতে এই ভুল ক্রমশ বৃদ্ধি পেতে থাকে। এক পর্যায়ে কিতাবটি বিভিন্ন ধরনের মারাত্মক ও অস্পষ্ট ভুলে পূর্ণ হয়ে যায়, যা থেকে সঠিক দিকনির্দেশনা পাওয়া দুষ্কর হয়ে পড়ে।
কিতাবটির পাঠকের জন্য বিভ্রান্তিকর সেসব ভুলের একটি হলো—লেখক কিতাবের উৎসসমূহের প্রতি ইশারা করার জন্য যেসকল সংকেত নির্দিষ্ট করেছিলেন, সেগুলোর সাথে বিভিন্ন অধ্যায় বোঝানোর জন্য তাঁর ব্যবহৃত সংকেতগুলোর সংমিশ্রণ ঘটিয়ে ফেলা।
(খণ্ড: ১)
আল-মুগনি ফি দবিতিল আসমাই লি রুওয়াতিল আনবা
(পৃষ্ঠা: ٢٣)
تابعة للأبواب، فلم يهتد إلى ذلك أصحاب المطابع، فجمعوا كلا نوعي الرموز في سلك واحد، وذلك عام في كل الكتاب بسائر طبعاته، فأفرزت كلًّا منهما من الآخر بأن جعلتُ رمز الكتاب المعزو إليه الضبط في سياقته، وجعلتُ رمز الفصل في سطر جديد.
ومنها أن كتاب "المغني" قد تم على "فصل في التواريخ"، ثم ألحِقت في نسخة المطبع المجتبائي فصول من مقدمة كتاب "التوشيح شرح الكتاب الصحيح" للحافظ جلال الدين السيوطي (ت 911 هـ)، وقد طبع كتاب "المغني" مفردًا عن "تقريب التهذيب"، ولكن لم يُشر أحد من المحققين، والطابعين إلى أن هذه الفصول ليست من كتاب "المغني".
وصف النسخة الخطية:أعانني على تحصيل النسخة الخطية صديقي الفاضل عبد القادر الفتَّني، الأستاذ بدار العلوم ندوة العلماء لكناؤ، وهي مصوَّرة من نسخته المحفوظة في مكتبة دار العلوم، ديوبند، وهي بخط بعض تلامذة الشيخ عبد الحق المحدث الدهلوي (المولود 959، والمتوفي 1052 هـ)، واسم ذلك التلميذ "محمد حيدر الكشميري" كما هو مكتوب في خاتمة فصل التواريخ:
"وكان الفراغ من نساخته. . . سنة 1018 هـ ألف وثمانية عشر في بلدة دهلي، في مدرسة الشيخ الحافظ الشيخ عبد الحق البخاري، ثم الدهلوي زيد عمره بيد العبد الضعيف الراجي إلى رحمة الله الغني حيدر الكشميري."
ثم أضاف إلى أصل الكتاب فصولًا مفيدة في ضبط الأسماء شيخ مشايخنا الشيخ أحمد علي السهارنفوري (ت 1297 هـ)، وكان الفراغ من النسخ في 17/ من شهر رمضان سنة 1246 هـ، ثم حرر النسخة محرره محمد محسن سنة 1247 هـ.
وعلى المخطوطة تعليقات مفيدة لبعض الأفاضل، لم نقف على اسمه حتمًا، كتب بعضها بين السطرين، وبعضها على الحاشية، وفيها إضافة من فات ضبطه في الأصل، وأكثرها مطبوعة في طبعة "المجتبائي، دهلي"، وكتب في آخر بعض الحواشي: "محمد
অনুচ্ছেদগুলোর অনুগামী, কিন্তু মুদ্রণালয়ের মালিকগণ বিষয়টি অনুধাবন করতে পারেননি, তাই তারা উভয় প্রকার প্রতীককে একই ধারায় একত্রিত করে ফেলেছেন। এটি কিতাবটির সকল সংস্করণের ক্ষেত্রে একটি সাধারণ ত্রুটি। তাই আমি একটিকে অন্যটি থেকে পৃথক করেছি এভাবে যে, যে কিতাবের দিকে 'দাবত' (শব্দ বিন্যাস/উচ্চারণ) সম্বন্ধযুক্ত করা হয়েছে তার প্রতীককে তার প্রসঙ্গের মধ্যেই রেখেছি, আর পরিচ্ছেদের প্রতীককে নতুন লাইনে স্থাপন করেছি।
তার মধ্যে একটি হলো, "আল-মুগনি" কিতাবটি "তারিখ সংক্রান্ত পরিচ্ছেদ"-এ সমাপ্ত হয়েছে, এরপর আল-মুজতাবায়ি মুদ্রণ সংস্করণে হাফেজ জালালুদ্দিন সুয়ুতি (ওফাত ৯১১ হিজরি) রচিত "আত-তাওশিহ শারহুল কিতাব আস-সহিহ" গ্রন্থের ভূমিকার কিছু পরিচ্ছেদ এর সাথে যুক্ত করা হয়েছে। "আল-মুগনি" কিতাবটি "তাকরিবুত তাহজিব" থেকে পৃথকভাবে মুদ্রিত হয়েছে, কিন্তু কোনো মুহাক্কিক (গবেষক) বা প্রকাশক এ কথা উল্লেখ করেননি যে, এই পরিচ্ছেদগুলো "আল-মুগনি" কিতাবের অংশ নয়।
পাণ্ডুলিপির বিবরণ:পাণ্ডুলিপিটি সংগ্রহ করতে আমাকে সাহায্য করেছেন আমার বিজ্ঞ বন্ধু আব্দুল কাদির আল-ফাত্তানি, যিনি লখনউয়ের দারুল উলুম নাদওয়াতুল উলামার উস্তাদ। এটি দারুল উলুম দেওবন্দের মাকতাবায় সংরক্ষিত তাঁর কপি থেকে গৃহীত প্রতিলিপি। এটি শেখ আব্দুল হক মুহাদ্দিসে দেহলভি (জন্ম ৯৫৯ হিজরি, মৃত্যু ১০৫২ হিজরি)-এর জনৈক ছাত্রের হস্তাক্ষরে লিখিত। সেই ছাত্রের নাম "মুহাম্মদ হায়দার কাশ্মীরি", যেমনটি তারিখ সংক্রান্ত পরিচ্ছেদের শেষে লেখা হয়েছে:
"এর প্রতিলিপি তৈরির কাজ সমাপ্ত হয়েছে... ১০১৮ (এক হাজার আঠারো) হিজরি সনে দিল্লি শহরে, শেখ হাফেজ শেখ আব্দুল হক বুখারি অতঃপর দেহলভি—তাঁর আয়ু বৃদ্ধি হোক—এর মাদরাসায়, আল্লাহর রহমতের আশাবাদী দুর্বল বান্দা হায়দার কাশ্মীরির হাতে।"
অতঃপর আমাদের উস্তাদদের উস্তাদ শেখ আহমদ আলী সাহারানপুরি (ওফাত ১২৯৭ হিজরি) মূল কিতাবের সাথে নামসমূহের শুদ্ধ উচ্চারণের ক্ষেত্রে কিছু উপকারী পরিচ্ছেদ যোগ করেছেন। প্রতিলিপি তৈরির কাজ সমাপ্ত হয়েছিল ১২৪৬ হিজরি সনের ১৭ই রমজান। এরপর ১২৪৭ হিজরি সনে এর সম্পাদক মুহাম্মদ মহসিন কপিটি সংশোধন ও পরিমার্জন করেন।
পাণ্ডুলিপিটির ওপর কিছু বিজ্ঞ ব্যক্তির মূল্যবান টীকা রয়েছে, যাদের নাম আমরা নিশ্চিতভাবে জানতে পারিনি। কিছু টীকা লাইনের মাঝখানে এবং কিছু পার্শ্বটীকায় লেখা হয়েছে। এতে এমন কিছু বিষয় যোগ করা হয়েছে যার উচ্চারণ মূল কপিতে বাদ পড়েছিল। এর অধিকাংশ টীকা দিল্লির "মুজতাবায়ি" সংস্করণে মুদ্রিত হয়েছে। কিছু টীকার শেষে লেখা হয়েছে: "মুহাম্মদ"
(খণ্ড: ১)
আল-মুগনি ফি দবিতিল আসমাই লি রুওয়াতিল আনবা
(পৃষ্ঠা: ٢٤)
محسن عفي عنه" كما في التعليقة على: "الشحيمي"، ولعله مصنف "اليانع الجني" محمد محسن الترهتي، من تلامذة الشيخ عبد الغني المجددي.
عملي في الكتاب:1 - إخراج النصوص من مصادرها؛ غير أني لم أجد "غنية اللبيب شرح التقريب".
2 - إيراد النص الذي أشار إليه المصنف حيث يُحتاج إلى ذلك.
3 - تصويب الترتيب فيما تأخر؛ وحقه التقدم، أو عكسه.
4 - تصحيح الأخطاء الواقعة في الوفيات، أو الطبقات.
5 - تصحيح الأخطاء المطبعية.
6 - تصويب ما وقع في الكتاب من زلات قلم المؤلف رحمه الله.
7 - تصحيح الرموز، فأفرزت رموز الكتب المحال عليها من رموز الفصول.
8 - ميَّزت الحواشي القديمة مما زدت عليها بحيث عزوت الحواشي القديمة إلى المحشي، والحواشي الجديدة إلى نفسي.
9 - اعتنيت بمقابلة النسخة الخطية على المطبوعات بمعاونة بعض الأفاضل.
شكر وتقدير:فأوَّلًا أشكر الله العلي العظيم على أن وفقني لهذا العمل، وألهمني وجه الصواب في غير واحد من مواضع معقدة لا تكاد تنحل إن لم يرافقني توفيقه، وعونه الخاص، على أني لا أبرئ عملي هذا من نقص، ولا زلل، وأرجو الله تعالى أن يجعله خالصًا لوجهه الكريم، ويتقبل.
ثم أشكر للأخ الفاضل، الصالح، الذكي، الحريص في خدمة العلم -ولا سيما علم الحديث- والمولَع بصلاح المسلمين، والملة الأستاذ محمد رحمة الله القاسمي الكشميري، مدير دار العلوم الرحيمية باندي بوره كشمير، وأستاذ الحديث بها؛ حيث انتهض لطباعة هذا الكتاب، فاقترح عليَّ لأقوم بتحقيقه، والحق أن هذا العمل ما كاد يتم لو لم يكن علي ضغطة رغباته، وطلباته الميمونة.
"মুহসিন (আল্লাহ তাকে ক্ষমা করুন)" যেমনটি 'আশ-শুহাইমি'-এর টীকাগ্রন্থে রয়েছে; সম্ভবত তিনি 'আল-ইয়ানি আল-জানি' গ্রন্থের লেখক মুহাম্মদ মুহসিন আত-তারহাতি, যিনি শায়খ আব্দুল গনি আল-মুজাদ্দিদির অন্যতম ছাত্র।
গ্রন্থে আমার কাজ:১ - মূল উৎস থেকে পাঠ্যসমূহ উদ্ধৃত করা; তবে আমি 'গুনিয়াতুল লাবিব শারহুত তাকরিব' গ্রন্থটি খুঁজে পাইনি।
২ - যেখানে প্রয়োজন সেখানে গ্রন্থকার যে পাঠ্যের প্রতি ইশারা করেছেন তা উল্লেখ করা।
৩ - বিন্যাসে যা পরে এসেছে অথচ আগে হওয়া উচিত ছিল, কিংবা এর বিপরীত—তা সংশোধন করা।
৪ - মৃত্যুসাল বা স্তর বিন্যাসে (তাবাকাত) সংঘটিত ভুলসমূহ সংশোধন করা।
৫ - মুদ্রণজনিত ভুলসমূহ সংশোধন করা।
৬ - কিতাবটিতে লেখকের (রহিমাহুল্লাহ) লেখনী প্রমাদবশত যে বিচ্যুতিগুলো ঘটেছে তা সংশোধন করা।
৭ - প্রতীকসমূহ সংশোধন করা; ফলে আমি উদ্ধৃত কিতাবসমূহের প্রতীকগুলোকে অধ্যায়ের প্রতীকগুলো থেকে পৃথক করেছি।
৮ - পুরনো টীকাগুলোকে আমার সংযোজিত নতুন টীকা থেকে পৃথক করেছি; ফলে পুরনো টীকাগুলোকে মূল টীকাকারের দিকে এবং নতুন টীকাগুলোকে নিজের দিকে সম্বন্ধযুক্ত করেছি।
৯ - কতিপয় গুণীজনের সহযোগিতায় মুদ্রিত কপির সাথে পাণ্ডুলিপি মিলিয়ে দেখার (মুকাবিলা) ব্যাপারে যত্নশীল হয়েছি।
কৃতজ্ঞতা ও স্বীকৃতি:প্রথমত, আমি সুউচ্চ ও মহান আল্লাহর কৃতজ্ঞতা আদায় করছি যিনি আমাকে এই কাজের তাওফিক দান করেছেন এবং অনেক জটিল স্থানে আমাকে সঠিক পথের দিশা দিয়েছেন, যা তাঁর বিশেষ তাওফিক ও সাহায্য ছাড়া সমাধান হওয়া প্রায় অসম্ভব ছিল। তা সত্ত্বেও আমি আমার এই কাজকে ত্রুটি বা বিচ্যুতিমুক্ত দাবি করি না। আমি মহান আল্লাহর কাছে প্রার্থনা করি তিনি যেন একে তাঁর সন্তুষ্টির জন্য কবুল করেন এবং গ্রহণ করেন।
এরপর আমি কৃতজ্ঞতা জানাই ফাযেল, নেককার, বুদ্ধিমান এবং ইলম—বিশেষ করে ইলমে হাদীসের—খিদমতে নিবেদিতপ্রাণ এবং মুসলিম উম্মাহর কল্যাণে সচেষ্ট ভাই উস্তাদ মুহাম্মদ রাহমাতুল্লাহ আল-কাসমি আল-কাশ্মীরি-এর প্রতি, যিনি কাশ্মীরের বান্দিপুরার দারুল উলুমুর রাহিমিয়ার পরিচালক এবং সেখানে হাদীসের উস্তাদ; যেহেতু তিনি এই কিতাবটি মুদ্রণের উদ্যোগ নিয়েছেন এবং এটি সম্পাদনা (তাহকিক) করার জন্য আমাকে প্রস্তাব দিয়েছেন। সত্য কথা এই যে, তাঁর শুভকামনা ও ক্রমাগত অনুরোধের মিম্মত চাপ না থাকলে এই কাজ সম্পন্ন হওয়া প্রায় অসম্ভব ছিল।
(খণ্ড: ১)
আল-মুগনি ফি দবিতিল আসমাই লি রুওয়াতিল আনবা
(পৃষ্ঠা: ٢٥)
وجدير بالدعاء مني ابن أخي، وتلميذي الأستاذ عبد الله المعروفي، أستاذ قسم التخصص في الحديث الشريف، وعلومه بدار العلوم ديوبند؛ حيث راجع عملي هذا مراجعة دقيقة، ثم أشار علي بملاحظات جديرة بالقبول والتقدير، وكذلك العالم الشاب محمد خالد سعيد الأعظمي أستاذ جامعة مظاهر علوم، والأستاذ عبد الله خالد القاسمي الخير آبادي مدير مجلة "مظاهر علوم الشهرية"، فقد ساعداني مساعدة حسنة في مقابلة النصوص، وتصحيح التجارب، جزى الله الجميع عني خير الجزاء، وتقبلهم لخدمة دينه المتين، وخاصة لخدمة الحديث النبوي الشريف وعلومه.
وصلى الله تعالى على حبيبه وصفيه محمد وعلى آله، وصحبه أجمعين.
زين العابدين الأعظمي
(رئيس) قسم التخصص في الحديث، جامعة مظاهر علوم/ سهارنبور، أترا براديش، الهند
আমার দোয়ার বিশেষ উপযুক্ত পাত্র হলেন আমার ভ্রাতুষ্পুত্র ও ছাত্র, উস্তাদ আব্দুল্লাহ আল-মারুফী, যিনি দারুল উলূম দেওবন্দের ইলমে হাদীস ও সংশ্লিষ্ট শাস্ত্রের উচ্চতর গবেষণা (তাখাসসুস) বিভাগের শিক্ষক; তিনি আমার এই কর্মটি অত্যন্ত সূক্ষ্মভাবে পর্যালোচনা করেছেন এবং আমাকে এমন কিছু মূল্যবান পরামর্শ প্রদান করেছেন যা গ্রহণ ও মূল্যায়নের যোগ্য। একইভাবে তরুণ আলেম মুহাম্মাদ খালিদ সাঈদ আল-আ'জমী, মাজাহির উলূম বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক; এবং উস্তাদ আব্দুল্লাহ খালিদ কাসেমী খাইরাবাদী, মাসিক 'মাজাহির উলূম' পত্রিকার পরিচালক; তাঁরা উভয়েই মূল পাণ্ডুলিপির সাথে পাঠ মিলিয়ে দেখা এবং প্রুফ সংশোধনে আমাকে উত্তমভাবে সহযোগিতা করেছেন। আল্লাহ তাআলা তাঁদের সকলকে আমার পক্ষ থেকে সর্বোত্তম প্রতিদান দান করুন এবং তাঁর সুদৃঢ় দ্বীনের খিদমতে, বিশেষত হাদীসে নববী ও সংশ্লিষ্ট শাস্ত্রের খিদমতে তাঁদের কবুল করে নিন।
আল্লাহ তাআলা তাঁর প্রিয় ও মনোনীত বান্দা মুহাম্মাদ এবং তাঁর পরিবার-পরিজন ও সকল সাহাবীর ওপর রহমত ও শান্তি বর্ষণ করুন।
জয়নুল আবেদীন আল-আ'জমী
(বিভাগীয় প্রধান) ইলমে হাদীসের উচ্চতর গবেষণা বিভাগ, মাজাহির উলূম বিশ্ববিদ্যালয়/ সাহারানপুর, উত্তর প্রদেশ, ভারত
(খণ্ড: ১)
আল-মুগনি ফি দবিতিল আসমাই লি রুওয়াতিল আনবা
(পৃষ্ঠা: ٢٦)
ترجمة المؤلفهو خادم الحديث النبوي الشريف، الشيخ محمد بن طاهر بن علي (913 هـ - 986 هـ)، من بلاد كجرات الشمالية، أكمل حفظ القرآن الكريم في سنة 924 هـ (أربع وعشرين وتسع مائة)؛ وكان ابن ثلاث عشرة سنة، لم يبلغ الحنث، ثم تلمذ على بعض علماء كجرات، منهم ملا مهنة، والشيخ الناكوري، ثم درس في فَتَّن إلى سنة 944 هـ (أربع وأربعين وتسع مائة)، ثم ارتحل إلى الحرمين المكرمين زادهما الله شرفًا، فتلمذ على الشيخ أبي الحسن البكري (899 هـ - 952 هـ)، والشهاب أحمد بن حجر المكي (ت 974 هـ)، والشيخ عبد الله العيدروس (919 هـ - 990 هـ)، والشيخ علي بن حسام الدين المتقي (ت 952 هـ)، وغيرهم.
ثم رجع إلى وطنه، وقصَّر همته على التدريس، والتصنيف، وبرع في علوم الحديث العديدة، تشهد له بذلك كتبه: "مجمع بحار الأنوار"، و"تذكرة الموضوعات"، وهذا الكتاب "المغني"، ولما رجع إلى بلاده؛ وجد بدعة المهدوية، فشمَّر لقلعها، وأعانه على ذلك ملوك الهند، منهم السلطان "أكبر" والي دهلي، فإنه ربط الإمامة على رأس الشيخ محمد بن طاهر، وقال: على نصرة الدين المبين، وكسر الفرقة المبتدعين وفق إرادتك، وفوَّض هذا الأمر إلى أخيه من الرضاع "مرزا عزيز كوكا" الملقب بـ "خان الأعظم".
ثم لما عُزل "خان الأعظم"، وقام مكانه "عبد الرحيم خان خانه"؛ وكان شيعيًّا؛ اعتضد به الفرقة المهدوية، وأشاعوا هذه البدعة ثانيًا، فارتحل الشيخ إلى السلطان "أكبر"؛ وهو بـ "أكبر آباد" إزالة لهذه البدعة مع جماعة من تلاميذه، فاندرج بعض المهدويين مختفيًا في هذه الجماعة، ولم يزالوا يكلؤنه ليغتنموا فرصة لقتل الشيخ؛ حتى بلغ الشيخ محمد بن طاهر إلى بلدة "أُجَّين"، فوجدوا فرصةً، وقتلوه، وذلك سنة 986 هـ (ست وثمانين وتسع مائة)، فنقل جثمانه إلى وطنه "فَتَّن"، ودُفن هنالك بمقبرة أسلافه، رحمات الله، وبركاته عليه، إنه حميد مجيد.
লেখকের জীবনীতিনি হলেন পবিত্র নববী হাদীসের খাদেম, শেখ মুহাম্মদ ইবনে তাহির ইবনে আলী (৯১৩ হিজরী - ৯৮৬ হিজরী), উত্তর গুজরাট অঞ্চলের অধিবাসী। তিনি ৯২৪ হিজরীতে (নয়শত চব্বিশ) পবিত্র কুরআন হিফজ সম্পন্ন করেন; তখন তাঁর বয়স ছিল তেরো বছর, তখনও তিনি সাবালক হননি। এরপর তিনি গুজরাটের কতিপয় আলেমের কাছে শিক্ষা গ্রহণ করেন, যাদের মধ্যে মোল্লা মেহনা এবং শেখ নাকুরি রয়েছেন। এরপর তিনি ৯৪৪ হিজরী (নয়শত চুয়াল্লিশ) পর্যন্ত পাত্তানে পড়াশোনা করেন। অতঃপর তিনি দুই পবিত্র হারামের উদ্দেশ্যে—আল্লাহ তাদের মর্যাদা বৃদ্ধি করুন—সফর করেন এবং সেখানে শেখ আবু হাসান আল-বাকরি (৮৯৯ হি. - ৯৫২ হি.), শিহাব আহমদ ইবনে হাজার আল-মাক্কি (মৃত্যু ৯৭৪ হি.), শেখ আব্দুল্লাহ আল-আইদারুস (৯১৯ হি. - ৯৯০ হি.), শেখ আলী ইবনে হুসামুদ্দিন আল-মুত্তাকি (মৃত্যু ৯৫২ হি.) ও অন্যান্যদের নিকট শিষ্যত্ব গ্রহণ করেন।
অতঃপর তিনি নিজ দেশে ফিরে আসেন এবং অধ্যাপনা ও গ্রন্থ রচনায় স্বীয় মনোযোগ নিবদ্ধ করেন। তিনি হাদীস শাস্ত্রের বিভিন্ন শাখায় ব্যুৎপত্তি অর্জন করেন, যার সাক্ষ্য দেয় তাঁর রচিত গ্রন্থসমূহ: "মাজমাউ বিহারিল আনওয়ার", "তাজকিরাতুল মাওদুআত" এবং এই গ্রন্থ "আল-মুগনি"। যখন তিনি নিজ দেশে ফিরলেন, তখন সেখানে 'মাহদাবিয়া' বিদআত দেখতে পেলেন। তিনি তা নির্মূলে কটিবদ্ধ হলেন এবং ভারতের বাদশাহগণ তাঁকে এ কাজে সহায়তা করেন। তাঁদের মধ্যে দিল্লির শাসক সুলতান "আকবর" অন্যতম; তিনি শেখ মুহাম্মদ ইবনে তাহিরের মস্তকে ইমামতির শিরস্ত্রাণ পরিধান করিয়ে দেন এবং বলেন: "সুস্পষ্ট দ্বীনের বিজয় এবং আপনার ইচ্ছা অনুযায়ী বিদআতী দলগুলোর দমনের স্বার্থে।" তিনি এই বিষয়টি তাঁর দুধভাই "মির্জা আজিজ কোকা"র ওপর ন্যস্ত করেন, যাঁর উপাধি ছিল "খানে আজম"।
পরবর্তীতে যখন "খানে আজম" অপসারিত হলেন এবং তাঁর স্থলাভিষিক্ত হলেন "আব্দুর রহিম খানে খানা"—যিনি একজন শিয়া ছিলেন—তখন মাহদাবিয়া গোষ্ঠী তাঁর সমর্থন লাভ করে এবং দ্বিতীয়বার এই বিদআত ছড়িয়ে দেয়। তখন শেখ এই বিদআত দূর করার জন্য একদল ছাত্রসহ সুলতান আকবরের উদ্দেশ্যে—যিনি তখন "আকবরবাদে" অবস্থান করছিলেন—যাত্রা করেন। মাহদাবিয়াদের কিছু লোক আত্মগোপন করে এই কাফেলায় মিশে যায় এবং তারা শেখকে হত্যার সুযোগের অপেক্ষায় ওত পেতে থাকে। অবশেষে শেখ মুহাম্মদ ইবনে তাহির যখন "উজ্জয়িনী" শহরে পৌঁছালেন, তখন তারা সুযোগ পেয়ে তাঁকে হত্যা করে। এটি ছিল ৯৮৬ হিজরী (নয়শত ছিয়াশি) সালের ঘটনা। এরপর তাঁর মরদেহ নিজ দেশ "পাত্তানে" স্থানান্তর করা হয় এবং সেখানে তাঁর পূর্বপুরুষদের কবরস্থানে দাফন করা হয়। আল্লাহর রহমত ও বরকত তাঁর ওপর বর্ষিত হোক, নিশ্চয়ই তিনি প্রশংসিত ও মহিমান্বিত।
(খণ্ড: ১)
আল-মুগনি ফি দবিতিল আসমাই লি রুওয়াতিল আনবা
(পৃষ্ঠা: ٢٧)
بسم الله الرحمن الرحيم
وصلى الله على سيدنا محمد وآله وصحبه أجمعين.
الحمد لله الذي فضّل بني آدم بتعليم الأسماء، وشرّفهم بتشريف الارسال والاصطفاء، واصطفى بعضهم ليميز الرائج من الكاسد من العلماء والأصفياء، وبعث إليهم الرسل والأنبياء، صلوات الله عليهم أجمعين، وختمهم بأشرفهم دِينًا، وأمتنهم حجة وأوضحهم بيانًا، فبين طريق الحق بجواهر نظمه، وبحر علومه ولججه، وأزاح شبهات أهل الزيغ ببواهر حججه، وجعل صحبه كالنجوم مبلغين ما نطق، وأتباع صحبه التابعين بالإحسان ناقلين ما فتق، فرضي الله عنهم أجمعين، ثم إنه تدرج في الناقلين من ليس منهم فخلطوا بالحق ما ليس منه، فمنَّ الله تعالى بتوفيق الأئمة الأعلام أن يميِّزوا غير الأهل عنه بكشف أحوالهم من مولدهم ومماتهم، وتعيين منشأهم ومعاشهم، وضبط أسمائهم، إذ به ينكشف حال ما نقلوه من صحة أو سقام، ويفتضح العوار فيما بلّغوه في كل حال ومقام، فلابد للطالب من خدمة
(1) الحديث أن يخدم العلم الكافل بذلك، فلذا اعتنى السلف الصالح لما هنالك، حتى صنّفوا في الجرح والتعديل، والمشتبهات والمختلفات ما إن مفاتحه لتنوء بعُصبة أولي قوة شديد، وقال النووي: لكنَّ
(2) اعتناءَك بضبط ملتبس الأسماء أكثر من ملتبس المتون، إذ لا مدخل للمعني والذهن فيها ولو باعتناء شديد، وقد اتخذ في بلادنا ظِهريّا، وصار طلبه فريّا، فلا تجد أكثرهم من كتاب منه إلا عريّا، بل لا تجد عزماتهم عن طلب نفس الحديث إلا بريّا، والله المستعان على هذه المصيبة الفظيعة، وإليه الملتجى في إزالة هذه الوقيعة.
فتتبّعت ما اتفق لي من كتب القوم، وكم من الليالي سهرت من النوم، فلبسطها وكثرة الشواغل رأيت الهِمَم عنها قاصرة، ولقلة الدواعي وجدت الرغبات بها فاترة، مع قلة الاحتياج إلى مجرد الضبط في هذا الزمان، فامتدّت أعناق
(3) هذه الأوان إلى
--------------------------------------------
পরম করুণাময় অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে।
আমাদের নেতা মুহাম্মদ এবং তাঁর পরিবারবর্গ ও সকল সঙ্গীর ওপর আল্লাহর রহমত ও শান্তি বর্ষিত হোক।
সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর জন্য, যিনি আদম সন্তানকে নামসমূহ শিক্ষা দেওয়ার মাধ্যমে শ্রেষ্ঠত্ব দান করেছেন এবং তাদের রিসালাত ও নির্বাচনের মাধ্যমে সম্মানিত করেছেন। তিনি উলামা ও শুদ্ধচিত্তদের মধ্য থেকে একদলকে মনোনীত করেছেন যাতে তারা বিশুদ্ধ ও অশুদ্ধকে পৃথক করতে পারে; আর তিনি তাদের নিকট রাসূল ও নবীগণকে প্রেরণ করেছেন—তাঁদের সকলের ওপর আল্লাহর রহমত বর্ষিত হোক। তিনি তাঁদের সমাপ্তি ঘটিয়েছেন এমন একজনের মাধ্যমে যিনি দীনের দিক থেকে সর্বাধিক মর্যাদাবান, দলীল উপস্থাপনে অত্যন্ত মজবুত এবং বর্ণনার দিক থেকে সর্বাধিক সুস্পষ্ট। অতঃপর তিনি তাঁর বাণীর রত্নরাজি এবং তাঁর জ্ঞানের সমুদ্র ও তার উত্তাল তরঙ্গের দ্বারা সত্যের পথ স্পষ্ট করেছেন, আর তাঁর উজ্জ্বল দলীলসমূহের মাধ্যমে বিভ্রান্তদের সংশয়সমূহ দূর করেছেন। তিনি তাঁর সঙ্গীদের করেছেন নক্ষত্রের ন্যায়, যারা তিনি যা বলেছেন তা পৌঁছে দিয়েছেন; আর তাঁর সঙ্গীদের অনুসারী তথা তাবেঈনদের করেছেন ইহসানের সাথে সেসব বিষয়ের বর্ণনাকারী যা উন্মোচিত হয়েছিল। আল্লাহ তাঁদের সকলের প্রতি সন্তুষ্ট হোন। অতঃপর বর্ণনাকারীদের সারিতে এমন ব্যক্তিরা অনুপ্রবেশ করল যারা তাদের অন্তর্ভুক্ত ছিল না, ফলে তারা হকের সাথে এমন কিছু মিশ্রিত করল যা হকের অংশ নয়। অতঃপর আল্লাহ তা'আলা প্রখ্যাত ইমামগণকে তাওফিক প্রদানের মাধ্যমে অনুগ্রহ করলেন যাতে তাঁরা অযোগ্য ব্যক্তিদের অবস্থা উন্মোচনের মাধ্যমে পৃথক করতে পারেন—তাদের জন্ম থেকে মৃত্যু পর্যন্ত বর্ণনার মাধ্যমে, তাদের বেড়ে ওঠা ও জীবনধারা নির্ধারণের মাধ্যমে এবং তাদের নামসমূহ সুনির্দিষ্টভাবে সংরক্ষণের মাধ্যমে। কেননা এর মাধ্যমেই তারা যা বর্ণনা করেছে তার বিশুদ্ধতা বা ত্রুটি প্রকাশিত হয় এবং তারা যা কিছু পৌঁছে দিয়েছে তার দোষ-ত্রুটি প্রতিটি অবস্থায় ও স্থানে উম্মোচিত হয়ে পড়ে। সুতরাং হাদীসের খিদমত
(১) করতে ইচ্ছুক ছাত্রের জন্য এমন ইলমের খিদমত করা অপরিহার্য যা এর নিশ্চয়তা প্রদান করে। এ কারণেই সালাফে সালেহীন এ বিষয়ে যত্নবান হয়েছেন, এমনকি তাঁরা জারহ ও তা'দীল (সমালোচনা ও গুণগান) এবং সন্দেহযুক্ত ও ভিন্নতাপূর্ণ বিষয়সমূহে এমন সব গ্রন্থ রচনা করেছেন যার চাবিকাঠি বহন করা একদল শক্তিশালী লোকের জন্য কষ্টসাধ্য। ইমাম নববী বলেছেন: তবে
(২) বিভ্রান্তিকর নামসমূহ নির্ভুলভাবে সংরক্ষণের প্রতি তোমার মনোযোগ মতন-এর (মূল পাঠ) বিভ্রান্তিকর বিষয়ের চেয়ে অধিক হওয়া উচিত; কারণ অত্যন্ত মনোযোগ দিলেও নামসমূহের ক্ষেত্রে অর্থ ও মেধার কোনো বিশেষ ভূমিকা থাকে না। কিন্তু আমাদের দেশে একে উপেক্ষা করা হয়েছে এবং এর অন্বেষণ করা একটি আশ্চর্যের বিষয়ে পরিণত হয়েছে; ফলে আপনি তাদের অধিকাংশকেই এই বিষয়ক কিতাব থেকে শূন্য পাবেন। বরং আপনি হাদীস অন্বেষণের সংকল্প থেকেও তাদের বিমুখ পাবেন। এই ভয়াবহ বিপদে আল্লাহর কাছেই সাহায্য চাওয়া হচ্ছে এবং এই বিপর্যয় দূরীকরণে তাঁর কাছেই আশ্রয় প্রার্থনা করা হচ্ছে।
অতঃপর আমি এই মনীষীদের কিতাবসমূহ থেকে যা কিছু আমার হস্তগত হয়েছে তা তন্নতন্ন করে অনুসন্ধান করেছি। আমি কত রাত জেগে কাটিয়েছি। কিন্তু বিষয়টির ব্যাপ্তি এবং ব্যস্ততার আধিক্যের কারণে আমি লক্ষ্য করেছি যে মানুষের হিম্মত তা গ্রহণে অক্ষম। আর আগ্রহের অভাবের কারণে আমি অনুরাগগুলোকে শিথিল দেখেছি, বিশেষ করে বর্তমান যুগে নিছক নির্ভুলভাবে নাম সংরক্ষণের প্রয়োজনীয়তা কমে যাওয়ার কারণে। ফলে এই সময়ের
(৩) দৃষ্টি প্রসারিত হয়েছে...
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-মুগনি ফি দবিতিল আসমাই লি রুওয়াতিল আনবা
(পৃষ্ঠা: ٢٨)
كتاب يتضمن الضبط من غير كشف الأحوال، فتصفّحتُ له بلاد العرب والعجم ببذل ما في الوسع من الجهد والأموال، فلم أجد كتابا وافيا على نحو ما اقترحتُ لبيان أحوالهم، فحداني الرفق على نفسي وعليهم إلى تخريج ضبط أكثر ما في الصحيح وغيرها بطلب صريح أقوالهم، فاختطفت مما صرفته من بعض أوقاتي؛ لتعليقة صحيح مسلم نَبْذة من الدهور، وشمّرت عن ساعدي جدي في عدة من الشهور.
فجاء بحمد الله على وفق ما راموا وجيزًا مغنيًا عن مجلدات ذوات خطر، وكافية عن البحر المحيط بعدّة القطر، سارعت في تبييضه ممتثلًا إشارة من أمره مطاع، وحكمه يُماع
(1)، إذ مِننه سالفة سانية، وعزماته باهرة عالية، وما هو إلا باب هممه واسعة، ومفاض أنوار إلهية شائعة، مخزن علوم لدنية، وفياض نفحات قدسية، ذو دراسة الحقيقية والشرعية، والهمم العالية المرضية، صفي من الوهّاب بالنية، ومغتنى
(2) من الرحمن بالقيمة، إمام المتقين
(3) بشهادة أعلام الأمة، كاشف يوم القارعة، عن محبّيه الغُمّة، عارف اضطرّه الرحمن لأمرٍ ما من الأرض القدسية، فقيَّده في الأرض الصعبة السفلية، فكم ممن أرشده وخلصه عن الغواية من الخواص والعوامّ، وكم ممن أبرد حرارته، للفرقة من الواهين المتحرين على الدوام، وكم ممن حرره
(4) من عبودية الكونين، وصيّره وجيهًا مخلِصًا لخالق الثقلين، وكم نشر من العلوم النبوية، والحقيقية فأشاع، فصار مجدد المائة في هذا القطر عند المنصفين بلا نزاع، وما رُمتُ به
--------------------------------------------
এমন একটি গ্রন্থ যা অবস্থার উন্মোচন ব্যতিরেকেই নির্ভুলতাকে ধারণ করে। আমি এর জন্য যথাসাধ্য চেষ্টা ও অর্থ ব্যয় করে আরব ও অনারব ভূখণ্ডসমূহ চষে বেড়িয়েছি। কিন্তু তাদের অবস্থা বর্ণনার জন্য আমি যেমনটি চেয়েছিলাম, তেমন কোনো পূর্ণাঙ্গ গ্রন্থ খুঁজে পাইনি। তাই নিজের এবং তাদের প্রতি মমত্ববোধ আমাকে সহীহ এবং অন্যান্য গ্রন্থের অধিকাংশ নির্ভুল পাঠগুলোকে তাদের সুষ্পষ্ট বক্তব্যের সন্ধানে বের করে আনতে উদ্বুদ্ধ করেছে। তাই সহীহ মুসলিমের টীকা রচনার জন্য ব্যয়িত সময়ের মধ্য থেকে আমি কিছু সময় বের করে নিয়েছি এবং কয়েক মাস যাবত কঠোর পরিশ্রম করেছি।
আল্লাহর প্রশংসায় এটি তাদের আকাঙ্ক্ষা অনুযায়ী সংক্ষিপ্ত আকারে প্রস্তুত হয়েছে, যা বিশাল খণ্ডসমূহের অভাব পূরণকারী এবং মহাসাগরের বিপরীতে বারিবিন্দুর ন্যায় যথেষ্ট। আমি এটি চূড়ান্তভাবে লিপিবদ্ধ করতে ত্বরান্বিত হয়েছি এমন একজনের নির্দেশ পালনার্থে যা মান্য করা হয় এবং যার হুকুম সর্বত্র বাস্তবায়িত হয়
(১), কারণ তার পূর্ববর্তী অনুগ্রহসমূহ অত্যন্ত উজ্জ্বল এবং তার সংকল্পসমূহ বিস্ময়কর ও উচ্চতর। তিনি সুউচ্চ সংকল্পের এক বিশাল দুয়ার এবং স্বর্গীয় নূরের ব্যাপক বিচ্ছুরণস্থল, লুদুন্নি জ্ঞানের ভাণ্ডার এবং পবিত্র সুঘ্রাণের প্রস্রবণ। তিনি হাকীকত ও শরীয়ত উভয় শাস্ত্রের বিদগ্ধ পণ্ডিত এবং পছন্দনীয় উচ্চাকাঙ্ক্ষার অধিকারী। তিনি নিয়তের স্বচ্ছতায় ওহাবের (আল্লাহর) মনোনীত এবং আপন মহিমায় রহমানের পক্ষ থেকে মহিমান্বিত
(২)। উম্মতের শীর্ষস্থানীয় আলেমদের সাক্ষ্য অনুযায়ী তিনি পরহেযগারদের ইমাম (ইমামুল মুত্তাকীন)
(৩), যিনি তাঁর ভালোবাসাকারীদের থেকে ঘোর বিপদের মেঘ অপসারণকারী। তিনি এমন একজন আরেফ (আল্লাহওয়ালা), যাকে রহমান কোনো এক বিশেষ কারণে পবিত্র ভূমি থেকে নিয়ে এসে এই কঠিন নিম্নভূমিতে আবদ্ধ করেছেন। তিনি বিশিষ্ট ও সাধারণ স্তরের কত মানুষকে যে পথপ্রদর্শন করেছেন এবং বিভ্রান্তি থেকে মুক্তি দিয়েছেন! বিরামহীনভাবে সত্যের সন্ধানে থাকা দুর্বল ও পথহারা দলের কতজনের মনের উত্তাপ যে তিনি প্রশমিত করেছেন! কতজনকে তিনি এই নশ্বর জগতের দাসত্ব থেকে মুক্তি দিয়েছেন এবং উভয় জগতের স্রষ্টার একনিষ্ঠ ও মর্যাদাবান বান্দায় পরিণত করেছেন
(৪)! তিনি নববী জ্ঞান ও হাকীকতের কত বিষয় যে প্রচার ও প্রসার করেছেন! যার ফলে তিনি এই অঞ্চলে ন্যায়পরায়ণদের নিকট বিনাতর্কে এই শতাব্দীর মুজাদ্দিদ বা সংস্কারক হিসেবে গণ্য হয়েছেন। আর আমি যা চেয়েছি...
--------------------------------------------