(খণ্ড: ১) মাবাহিছুল আমরি আল্লাতী ইনতাকাদাহা শাইখুল ইসলাম ইবনু তাইমিয়্যাহ ফী মাজমুয়িল ফাতাওয়া (পৃষ্ঠা: -)
مباحث الأمر التي انتقدها شيخ الإسلام ابن تيمية في مجموع الفتاوى   (سليمان بن سليم الله الرحيلي)

القسم: أصول الفقه


الكتاب: مباحث الأمر التي انتقدها شيخ الإسلام ابن تيمية في مجموع الفتاوى

المؤلف: سليمان بن سليم الله الرحيلي

الناشر: الجامعة الاسلامية بالمدينة المنورة

الطبعة: السنة السادسة والثلاثون - العدد (123)

1424هـ/2004م

[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]

عدد الصفحات: 424

تاريخ النشر بالشاملة: 8 ذو الحجة 1431

মজমুউল ফাতাওয়া-তে শায়খুল ইসলাম ইবনে তাইমিয়্যাহ কর্তৃক পর্যালোচিত নির্দেশ (الأمر) সংক্রান্ত গবেষণাসমূহ   (সুলাইমান ইবনে সালিমুল্লাহ আর-রুহাইলি)

বিভাগ: উসূল আল-ফিকহ (أصول الفقه)


বই: মজমুউল ফাতাওয়া-তে শায়খুল ইসলাম ইবনে তাইমিয়্যাহ কর্তৃক পর্যালোচিত নির্দেশ (الأمر) সংক্রান্ত গবেষণাসমূহ

লেখক: সুলাইমান ইবনে সালিমুল্লাহ আর-রুহাইলি

প্রকাশক: মদিনা ইসলামি বিশ্ববিদ্যালয়

সংস্করণ: ছত্রিশতম বর্ষ - সংখ্যা (১২৩)

১৪২৪ হিজরি/২০০৪ খ্রিষ্টাব্দ

[বইটির পৃষ্ঠা নম্বর মুদ্রণ কপির অনুরূপ]

পৃষ্ঠা সংখ্যা: ৪২৪

শামেলা-তে প্রকাশের তারিখ: ৮ জিলহজ ১৪৩১

(খণ্ড: ১) মাবাহিছুল আমরি আল্লাতী ইনতাকাদাহা শাইখুল ইসলাম ইবনু তাইমিয়্যাহ ফী মাজমুয়িল ফাতাওয়া (পৃষ্ঠা: ৩৫৫)
‌‌مُقَدّمَة

إِن الْحَمد لله نحمده، ونستعينه، وَنَسْتَغْفِرهُ، ونعوذ بِاللَّه من شرور أَنْفُسنَا، وَمن سيئات أَعمالنَا، من يهده الله فَلَا مضل لَهُ، وَمن يضلل فَلَا هادي لَهُ، وَأشْهد أَن لَا إِلَه إِلَّا الله وَحده لَا شريك لَهُ، وَأشْهد أَن مُحَمَّدًا عَبده وَرَسُوله.

{يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُواْ اتَّقُواْ اللهَ حَقَّ تُقَاتِهِ وَلَا تَمُوتُنَّ إِلاَّ وَأَنتُم مُّسْلِمُونَ.} 1

{يَا أَيُّهَا النَّاسُ اتَّقُواْ رَبَّكُمُ الَّذِي خَلَقَكُم مِّن نَّفْسٍ وَاحِدَةٍ وَخَلَقَ مِنْهَا زَوْجَهَا وَبَثَّ مِنْهُمَا رِجَالاً كَثِيرًا وَنِسَاء وَاتَّقُواْ اللهَ الَّذِي تَسَاءلُونَ بِهِ وَالأَرْحَامَ إِنَّ اللهَ كَانَ عَلَيْكُمْ رَقِيبًا} 2

{يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا اتَّقُوا اللَّهَ وَقُولُوا قَوْلًا سَدِيدًا يُصْلِحْ لَكُمْ أَعْمَالَكُمْ وَيَغْفِرْ لَكُمْ ذُنوبَكُمْ وَمَن يُطِعْ اللَّهَ وَرَسُولَهُ فَقَدْ فَازَ فَوْزًا عَظِيمًا} 3

أما بعد فَإِن خير الحَدِيث كتاب الله، وَخير الْهَدْي هدي مُحَمَّد صلى الله عليه وسلم، وَشر الْأُمُور محدثاتها وكل محدثة بِدعَة، وكل بِدعَة ضَلَالَة، وكل ضَلَالَة فِي النَّار.

أهمية الْمَوْضُوع ثمَّ إِن علم أصُول الْفِقْه علم شَرْعِي أصيل، طيبَة ثَمَرَته، باسقة شجرته، وَقد بدأت أُصُوله كَسَائِر الْعُلُوم الإسلامية ببعثة البشير النذير والسراج الْمُنِير رَسُول رب الْعَالمين الْمَبْعُوث رَحْمَة للْعَالمين مُحَمَّد بن عبد الله صلى الله عليه وسلم، وَقد قَامَ الصَّحَابَة رضوَان الله عَلَيْهِم بعد وَفَاة الرَّسُول صلى الله عليه وسلم بأعباء الْفَتْوَى وَالْقَضَاء، وَكَانَ استنباطهم للْأَحْكَام مَبْنِيا على قَوَاعِد متينة، وأصول راسخة وَكَانَ ذَلِك مَعْرُوفا لَهُم لَا يَحْتَاجُونَ فِيهِ إِلَى تدوين وتأليف، وَلَا زَالَ الْأَمر كَذَلِك إِلَى أَن تهيأت

--------------------------------------------

1 - سُورَة آل عمرَان آيَة رقم 102.

2 - سُورَة النِّسَاء آيَة رقم 1.

3 - سُورَة الْأَحْزَاب آيَة رقم 70 - 71.
ভূমিকা

নিশ্চয়ই সকল প্রশংসা আল্লাহর জন্য; আমরা তাঁরই প্রশংসা করি, তাঁর নিকট সাহায্য চাই এবং তাঁরই নিকট ক্ষমা প্রার্থনা করি। আমরা আমাদের নফসের অনিষ্টতা এবং আমাদের মন্দ আমলসমূহ থেকে আল্লাহর নিকট আশ্রয় প্রার্থনা করছি। আল্লাহ যাকে হিদায়াত দান করেন তাকে পথভ্রষ্ট করার কেউ নেই, আর যাকে তিনি পথভ্রষ্ট করেন তাকে পথ দেখানোর কেউ নেই। আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, আল্লাহ ছাড়া কোনো সত্য ইলাহ নেই, তিনি একক, তাঁর কোনো শরিক নেই। আমি আরও সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, মুহাম্মদ আল্লাহর বান্দা ও তাঁর রাসূল।

{হে মুমিনগণ! তোমরা আল্লাহকে যথাযথভাবে ভয় করো এবং আত্মসমর্পণকারী (মুসলিম) না হয়ে মৃত্যুবরণ করো না।} ১

{হে মানবজাতি! তোমরা তোমাদের প্রতিপালককে ভয় করো, যিনি তোমাদেরকে এক ব্যক্তি থেকে সৃষ্টি করেছেন এবং তা থেকে তার জোড়া সৃষ্টি করেছেন এবং তাদের উভয় থেকে বহু নর-নারী ছড়িয়ে দিয়েছেন। আর আল্লাহকে ভয় করো, যার নামে তোমরা একে অপরের কাছে যাচ্ঞা করো এবং রক্ত-সম্পর্কিত আত্মীয়তার বন্ধন ছিন্ন করা থেকে সতর্ক থাকো। নিশ্চয়ই আল্লাহ তোমাদের ওপর তীক্ষ্ণ দৃষ্টি রাখেন।} ২

{হে মুমিনগণ! তোমরা আল্লাহকে ভয় করো এবং সঠিক কথা বলো। তিনি তোমাদের আমলসমূহ সংশোধন করে দেবেন এবং তোমাদের পাপসমূহ ক্ষমা করে দেবেন। আর যে ব্যক্তি আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের আনুগত্য করে, সে অবশ্যই এক মহা সাফল্য অর্জন করল।} ৩

অতঃপর, নিশ্চয়ই সর্বোত্তম হাদিস হলো আল্লাহর কিতাব এবং সর্বোত্তম পথনির্দেশ হলো মুহাম্মদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর পথনির্দেশ। আর নিকৃষ্টতম কাজ হলো দ্বীনের মধ্যে নবউদ্ভাবিত বিষয়সমূহ, প্রতিটি নবউদ্ভাবিত বিষয়ই হলো বিদআত, আর প্রতিটি বিদআতই হলো পথভ্রষ্টতা এবং প্রতিটি পথভ্রষ্টতার পরিণাম জাহান্নাম।

বিষয়ের গুরুত্ব: অতঃপর, নিশ্চয়ই উসুল আল-ফিকহ শাস্ত্র একটি মৌলিক শরয়ি জ্ঞান, যার ফলাফল অত্যন্ত বরকতময় এবং যার বৃক্ষ সুউচ্চ। এর মূলনীতিসমূহ অন্যান্য ইসলামি জ্ঞানসমূহের মতোই বিশ্বজগতের প্রতিপালকের পক্ষ থেকে রহমতস্বরূপ প্রেরিত সুসংবাদদাতা, সতর্ককারী ও উজ্জ্বল প্রদীপ আল্লাহর রাসূল মুহাম্মদ ইবনে আব্দুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর নবুওয়াত প্রাপ্তির মাধ্যমেই শুরু হয়েছিল। রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর ইন্তেকালের পর সাহাবায়ে কেরাম (রাদিআল্লাহু আনহুম) ফতোয়া ও বিচারকার্য পরিচালনার মহান দায়িত্ব আঞ্জাম দেন। তাঁদের বিধান আহরণ পদ্ধতি ছিল সুদৃঢ় নিয়মাবলী ও সুপ্রতিষ্ঠিত মূলনীতির ওপর প্রতিষ্ঠিত। এ বিষয়গুলো তাঁদের নিকট সুপরিচিত ছিল বিধায় তাঁরা এ ক্ষেত্রে কোনো গ্রন্থ রচনা বা সংকলনের প্রয়োজন বোধ করেননি। পরিস্থিতি এভাবেই চলতে থাকে যতক্ষণ না...

--------------------------------------------

১ - সুরা আলে ইমরান, আয়াত নং ১০২।

২ - সুরা আন-নিসা, আয়াত নং ১।

৩ - সুরা আল-আহজাব, আয়াত নং ৭০ - ৭১।
(খণ্ড: ১) মাবাহিছুল আমরি আল্লাতী ইনতাকাদাহা শাইখুল ইসলাম ইবনু তাইমিয়্যাহ ফী মাজমুয়িল ফাতাওয়া (পৃষ্ঠা: ৩৫৬)
الْأَسْبَاب، وَقَامَت الْحَاجة الداعية إِلَى تدوين قَوَاعِد وأصول الاستنباط بعد اخْتِلَاط اللِّسَان الْعَرَبِيّ بِغَيْرِهِ من اللهجات، وَظُهُور أفكار وعلوم جَدِيدَة فِي الساحة الإسلامية مَبْنِيَّة على أسس غير إسلامية، فتصدى للتأليف فِيهِ الإِمَام الْكَبِير مُحَمَّد بن إِدْرِيس الشَّافِعِي، فَكتب الرسَالَة فِي أصُول الْفِقْه، على أسس صَحِيحَة، وطرق عِنْد أهل الشَّرْع مسلوكة، إِلَّا أَنه من أَسف شَدِيد تصدى أهل الأفكار المنحرفة والعقائد الْفَاسِدَة للتأليف فِيهِ بعد الإِمَام الشَّافِعِي رحمه الله وأدخلوا فِي علم أصُول الْفِقْه مَا لَيْسَ مِنْهُ، وَقد أدخلت الْفرق المنحرفة أُصُولهَا الْبَاطِلَة فِي كثير من عُلُوم الْإِسْلَام الْمَحْضَة، يَقُول شيخ الْإِسْلَام رحمه الله عَن الْمُعْتَزلَة ومنكري الْحِكْمَة: “ثمَّ إِن كثيرا من هَؤُلَاءِ وَهَؤُلَاء يَتَكَلَّمُونَ فِي تَفْسِير القرءان والْحَدِيث وَالْفِقْه فيبنون على تِلْكَ الْأُصُول الَّتِي لَهُم وَلَا يعرف حقائق أَقْوَالهم إِلَّا من عرف مأخذهم”1 وبسبب هَذَا كثر خلط الْعُلُوم الإسلامية ولاسيما علم أصُول الْفِقْه بالأصول الفلسفية، يَقُول شيخ الْإِسْلَام: “من لَهُ مَادَّة فلسفية من متكلمة الْمُسلمين كَابْن الْخَطِيب وَغَيره يَتَكَلَّمُونَ فِي أصُول الْفِقْه الَّذِي هُوَ علم إسلامي مَحْض فيبنونه على تِلْكَ الْأُصُول الفلسفية”2، وَأول من أبرز الْمنطق فِي أصُول الْفِقْه وَخَصه بالمقدمة فِي هَذَا الْعلم أَبُو حَامِد الْغَزالِيّ، يَقُول شيخ الْإِسْلَام: “وَأول من خلط منطقهم بأصول الْمُسلمين أَبُو حَامِد الْغَزالِيّ”3 “وَإِنَّمَا كثر اسْتِعْمَالهَا فِي زمن أبي حَامِد، فَإِنَّهُ أَدخل مُقَدّمَة من الْمنطق اليوناني فِي أول كِتَابه الْمُسْتَصْفى وَزعم أَنه لَا يَثِق بِعِلْمِهِ إِلَّا من عرف هَذَا الْمنطق”4.

--------------------------------------------

1 - مَجْمُوع الْفَتَاوَى 17/203 - 204.

2 - مَجْمُوع الْفَتَاوَى 2/86.

3 - مَجْمُوع الْفَتَاوَى 9/231.

4 - مَجْمُوع الْفَتَاوَى 9/184 - 185. وَانْظُر الْمُسْتَصْفى 1/30 حَيْثُ قَالَ عَن الْمُقدمَة المنطقية “وَلَيْسَت هَذِه الْمُقدمَة من جملَة علم الْأُصُول وَلَا من مقدماته الْخَاصَّة بِهِ بل هِيَ مُقَدّمَة الْعُلُوم كلهَا وَمن لَا يُحِيط بهَا فَلَا ثِقَة لَهُ بِعُلُومِهِ أصلا”
বিভিন্ন কারণ এবং আরবি ভাষার সাথে অন্যান্য উপভাষার সংমিশ্রণ ঘটার পর, এবং ইসলামি পরিমণ্ডলে অনৈসলামিক ভিত্তির ওপর প্রতিষ্ঠিত নতুন ধ্যান-ধারণা ও জ্ঞানবিজ্ঞানের আবির্ভাবের ফলে ইস্তিনবাতের (শরয়ি বিধান আহরণের) নীতিমালা ও মূলনীতিসমূহ সংকলনের প্রয়োজনীয়তা দেখা দেয়। এই বিষয়ে গ্রন্থ রচনায় অগ্রণী ভূমিকা পালন করেন মহান ইমাম মুহাম্মদ ইবনে ইদ্রিস আশ-শাফেয়ী। তিনি সঠিক (صحيحة) মূলনীতির ওপর এবং শরিয়তবিদদের নিকট অনুসৃত পদ্ধতির আলোকে উসুলুল ফিকহ বিষয়ে 'আর-রিসালাহ' গ্রন্থটি রচনা করেন। তবে অত্যন্ত পরিতাপের বিষয় এই যে, ইমাম শাফেয়ী (রাহিমাহুল্লাহ)-এর পর বিভ্রান্ত চিন্তাধারা ও ভ্রান্ত আকিদার অনুসারীরা এই শাস্ত্রে গ্রন্থ রচনায় প্রবৃত্ত হয় এবং তারা উসুলুল ফিকহ শাস্ত্রের অন্তর্ভুক্ত নয় এমন বিষয়াবলি এতে অনুপ্রবেশ করায়। এই বিভ্রান্ত দলগুলো তাদের বাতিল মূলনীতিসমূহ অনেক বিশুদ্ধ ইসলামি জ্ঞানের মধ্যেও প্রবিষ্ট করিয়ে দেয়। শায়খুল ইসলাম (রাহিমাহুল্লাহ) মুতাজিলা এবং হিকমত অস্বীকারকারীদের সম্পর্কে বলেন: “অতঃপর এদের মধ্যে অনেকেই কুরআন, হাদিস এবং ফিকহের তাফসির প্রসঙ্গে আলোচনা করেন এবং সেগুলোকে তাদের নিজস্ব মূলনীতিসমূহের ওপর ভিত্তি করে সাজান। যে ব্যক্তি তাদের উৎসমূল সম্পর্কে অবগত নয়, সে তাদের বক্তব্যের প্রকৃত হাকিকত বুঝতে পারবে না।”১ আর একারণেই ইসলামি জ্ঞানবিজ্ঞানে, বিশেষত উসুলুল ফিকহ শাস্ত্রের সাথে দার্শনিক মূলনীতিসমূহের সংমিশ্রণ বৃদ্ধি পায়। শায়খুল ইসলাম বলেন: “মুসলিম কালাম শাস্ত্রবিদদের মধ্যে যাদের দর্শনতাত্ত্বিক উপাদান রয়েছে, যেমন ইবনুল খাতিব ও অন্যান্যরা, তারা উসুলুল ফিকহ—যা একটি বিশুদ্ধ ইসলামি জ্ঞান—সে বিষয়ে আলোচনা করেন এবং সেটিকে ওইসব দার্শনিক মূলনীতির ওপর প্রতিষ্ঠিত করেন।”২ আর উসুলুল ফিকহ শাস্ত্রে যুক্তিবিদ্যাকে (মানতিক) প্রথম সামনে নিয়ে আসেন এবং একে এই শাস্ত্রের ভূমিকা হিসেবে নির্দিষ্ট করেন আবু হামিদ আল-গাজালি। শায়খুল ইসলাম বলেন: “এবং মুসলমানদের উসুল বা মূলনীতির সাথে তাদের (গ্রিকদের) যুক্তিবিদ্যাকে সর্বপ্রথম সংমিশ্রণ করেন আবু হামিদ আল-গাজালি।”৩ “আবু হামিদের সময়েই এর ব্যবহার ব্যাপকভাবে বৃদ্ধি পায়। কেননা তিনি তার ‘আল-মুসতাসফা’ গ্রন্থের শুরুতে গ্রিক যুক্তিবিদ্যার একটি ভূমিকা অন্তর্ভুক্ত করেন এবং দাবি করেন যে, যে ব্যক্তি এই যুক্তিবিদ্যা সম্পর্কে জানে না, তার জ্ঞানের ওপর কোনো নির্ভরযোগ্যতা (ثقة) নেই।”৪

--------------------------------------------

১ - মাজমুউল ফাতাওয়া ১৭/২০৩ - ২০৪।

২ - মাজমুউল ফাতাওয়া ২/৮৬।

৩ - মাজমুউল ফাতাওয়া ৯/২৩১।

৪ - মাজমুউল ফাতাওয়া ৯/১৮৪ - ১৮৫। এবং আল-মুসতাসফা ১/৩০ দেখুন যেখানে তিনি যুক্তিবিদ্যার ভূমিকা সম্পর্কে বলেছেন: “এই ভূমিকাটি উসুল শাস্ত্রের অংশ নয় এবং এর বিশেষ কোনো ভূমিকাও নয়; বরং এটি সকল জ্ঞানের ভূমিকা। যে ব্যক্তি এটি পূর্ণরূপে আয়ত্ত করতে পারবে না, তার জ্ঞানের ওপর আদপেই কোনো নির্ভরযোগ্যতা (ثقة) থাকবে না।”
(খণ্ড: ১) মাবাহিছুল আমরি আল্লাতী ইনতাকাদাহা শাইখুল ইসলাম ইবনু তাইমিয়্যাহ ফী মাজমুয়িল ফাতাওয়া (পৃষ্ঠা: ৩৫৭)
وعندما أدخلت هَذِه الفلسفات وصناعة الْمنطق فِي الْعُلُوم الإسلامية انحرفت بِكَثِير مِنْهَا عَن جادة الصَّوَاب، ومعين الْكتاب وَالسّنة لذا تَجِد أَن “كثيرا من النَّاس يقْرَأ كتبا مصنفة فِي أصُول الدّين وأصول الْفِقْه بل فِي تَفْسِير القرءان والْحَدِيث وَلَا يجد فِيهَا القَوْل الْمُوَافق للْكتاب وَالسّنة الَّذِي عَلَيْهِ سلف الْأمة وأئمتها وَهُوَ الْمُوَافق لصحيح الْمَنْقُول وصريح الْمَعْقُول، بل يجد أقوالاً كلٌّ مِنْهَا فِيهِ نوع من الْفساد والتناقض، فيحار مَا الَّذِي يُؤمن بِهِ فِي هَذَا الْبَاب، وَمَا الَّذِي جَاءَ بِهِ الرَّسُول، وَمَا هُوَ الْحق والصدق، إِذْ لم يجد فِي تِلْكَ الْأَقْوَال مَا يحصل بِهِ ذَلِك”1 و “إِدْخَال صناعَة الْمنطق فِي الْعُلُوم الصَّحِيحَة يطول الْعبارَة، وَيبعد الْإِشَارَة، وَيجْعَل الْقَرِيب من الْعلم بَعيدا، واليسير مِنْهُ عسيراً، وَلِهَذَا تَجِد من أدخلهُ فِي الْخلاف، وَالْكَلَام، وأصول الْفِقْه، وَغير ذَلِك، لم يفد إِلَّا كَثْرَة الْكَلَام والتشقيق مَعَ قلَّة الْعلم وَالتَّحْقِيق، فَعلم أَنه من أعظم حَشْو الْكَلَام، وَأبْعد الْأَشْيَاء عَن طَريقَة ذَوي الأحلام”2

وَمَعَ إِدْخَال صناعَة الْمنطق والفلسفة فِي أصُول الْفِقْه أَدخل فِيهِ مَا لَيْسَ مِنْهُ وَلَا طائل تَحْتَهُ، بل ضَرَره أَكثر من نَفعه وَذَلِكَ لِكَثْرَة من كتب فِيهِ من الْمُتَكَلِّمين “وَأَكْثَرهم لَا خبْرَة لَهُم بِمَا دلّ عَلَيْهِ الْكتاب وَالسّنة وآثار الصَّحَابَة وَالتَّابِعِينَ لَهُم بِإِحْسَان، بل ينصر مقالات يَظُنهَا دين الْمُسلمين، بل إِجْمَاع الْمُسلمين، وَلَا يكون قد قَالَهَا أحد من السّلف، بل الثَّابِت عَن السّلف مُخَالف لَهَا”3

وكل هَذَا جعل علم أصُول الْفِقْه فِي بعض مباحثه علما صَعب الْعبارَة معقد الْأَلْفَاظ بَعيدا عَن أصُول الْأَئِمَّة الْمُتَقَدِّمين فِي الْغَالِب، مِمَّا جعل كثيرا من

--------------------------------------------

1 - مَجْمُوع الْفَتَاوَى 17/102.

2 - مَجْمُوع الْفَتَاوَى 9/24.

3 - مَجْمُوع الْفَتَاوَى 17/334 - 335.
যখন এই দর্শনসমূহ এবং যুক্তিবিদ্যাকে ইসলামি জ্ঞানবিজ্ঞানে প্রবিষ্ট করানো হলো, তখন তা অনেক বিষয়কে সঠিক পথ এবং কুরআন ও সুন্নাহর উৎসধারা থেকে বিচ্যুত করে দিল। একারণেই আপনি দেখতে পাবেন যে, “অনেকেই ধর্মতত্ত্ব (উসুলুদ দীন) ও ফিকহ শাস্ত্রের মূলনীতি (উসুলুল ফিকহ), এমনকি কুরআনের তাফসির ও হাদিসের ওপর রচিত কিতাবসমূহ পাঠ করে, কিন্তু তাতে কিতাব ও সুন্নাহর সাথে সংগতিপূর্ণ সেই বক্তব্য খুঁজে পায় না যার ওপর উম্মতের পূর্বসূরি (সালাফ) ও ইমামগণ অধিষ্ঠিত ছিলেন। অথচ সেটিই হলো সহিহ (صحيح) বর্ণিত উদ্ধৃতি এবং সুস্পষ্ট যুক্তির সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ। বরং সে এমন সব মতবাদ খুঁজে পায় যেগুলোর প্রতিটিতেই কোনো না কোনো প্রকারের ভ্রান্তি ও বৈপরীত্য রয়েছে; ফলে সে বিভ্রান্ত হয়ে পড়ে যে এই বিষয়ে সে কী বিশ্বাস করবে, রাসুল কী নিয়ে এসেছেন এবং সত্য ও সঠিক বিষয় আসলে কোনটি? কারণ সে ওইসব মতবাদের মধ্যে এমন কিছু পায় না যা দ্বারা প্রকৃত সত্য অর্জিত হতে পারে।”১ এবং “সঠিক জ্ঞানবিজ্ঞানের মধ্যে যুক্তিবিদ্যার অনুপ্রবেশ বক্তব্যকে দীর্ঘায়িত করে, ইঙ্গিতকে অস্পষ্ট করে এবং সহজ বিষয়কে কঠিন ও নিকটবর্তী জ্ঞানকে দূরবর্তী করে তোলে। একারণেই আপনি দেখতে পাবেন যে, যারা একে মতপার্থক্যমূলক বিষয় (ইখতিলাফ), কালাম শাস্ত্র এবং ফিকহ শাস্ত্রের মূলনীতি (উসুলুল ফিকহ) ইত্যাদিতে প্রবেশ করিয়েছেন, তারা তত্ত্ব ও প্রকৃত জ্ঞানের অভাবসহ কেবল অসার বাক্যব্যয় ও শব্দচাতুর্যই বৃদ্ধি করেছেন। সুতরাং এটি প্রমাণিত যে এটি অসার কথার সমাবেশ এবং প্রজ্ঞাবানদের পথ থেকে সবচেয়ে দূরবর্তী বিষয়।”২

ফিকহ শাস্ত্রের মূলনীতিতে (উসুলুল ফিকহ) যুক্তিবিদ্যা ও দর্শন প্রবেশের সাথে সাথে এতে এমন কিছু বিষয় অন্তর্ভুক্ত হয়েছে যা এর অংশ নয় এবং যার কোনো উল্লেখযোগ্য ফল নেই। বরং এর ক্ষতির দিকই উপকারের চেয়ে বেশি। আর তা হয়েছে কালাম শাস্ত্রবিদদের আধিক্যের কারণে যারা এই বিষয়ে গ্রন্থ রচনা করেছেন। “তাদের অধিকাংশেরই কিতাব, সুন্নাহ এবং ইহসানের সাথে তাদের অনুসারী সাহাবী ও তাবেয়ীদের বর্ণিত আসার (آثار) সম্পর্কে কোনো অভিজ্ঞতা নেই। বরং তারা এমন সব মতবাদকে সমর্থন করে যেগুলোকে তারা মুসলমানদের দ্বীন, এমনকি মুসলমানদের ঐক্যমত্য (ইজমা) মনে করে; অথচ সালাফদের কেউ তা বলেননি, বরং সালাফদের থেকে যা প্রমাণিত তা এর পরিপন্থী।”৩

এই সবকিছুই ফিকহ শাস্ত্রের মূলনীতিকে (উসুলুল ফিকহ) এর কিছু কিছু আলোচনায় কঠিন শব্দ ও জটিল পরিভাষাযুক্ত একটি বিদ্যায় পরিণত করেছে এবং একে অধিকাংশ ক্ষেত্রে প্রাচীন ইমামদের মূলনীতি থেকে দূরে সরিয়ে দিয়েছে, যার ফলে অনেক...

--------------------------------------------

১ - মাজমুউল ফাতাওয়া ১৭/১০২।

২ - মাজমুউল ফাতাওয়া ৯/২৪।

৩ - মাজমুউল ফাতাওয়া ১৭/৩৩৪ - ৩৩৫।
(খণ্ড: ১) মাবাহিছুল আমরি আল্লাতী ইনতাকাদাহা শাইখুল ইসলাম ইবনু তাইমিয়্যাহ ফী মাজমুয়িল ফাতাওয়া (পৃষ্ঠা: ৩৫৮)
طلبة الْعلم منصرفين عَنهُ زاهدين فِيهِ، وَمن أُلْزِم بِهِ رأى أَنه يدرس علما لَا ثَمَرَة لَهُ، وَأَنه حُمِّل حملا عَظِيما بِلَا فَائِدَة وَلِهَذَا وَغَيره كَانَ الْوَاجِب أَن يرجع بالعلوم الإسلامية عُمُوما، وبعلم أصُول الْفِقْه خُصُوصا إِلَى الصفاء السَّابِق وَأَن ترد إِلَى أُصُولهَا الثَّابِتَة الَّتِي كَانَ عَلَيْهَا الْأَئِمَّة المعتبرون المهديون “وَقد صُنِّف فِي الْإِسْلَام عُلُوم النَّحْو، واللغة، وَالْعرُوض، وَالْفِقْه، وأصوله، وَالْكَلَام، وَغير ذَلِك، وَلَيْسَ فِي أَئِمَّة هَذِه الْفُنُون من كَانَ يلْتَفت إِلَى الْمنطق، بل عامتهم كَانُوا قبل أَن يعرب هَذَا الْمنطق اليوناني، وَأما الْعُلُوم الموروثة عَن الْأَنْبِيَاء صرفا وَإِن كَانَ الْفِقْه وأصوله مُتَّصِلا بذلك فَهِيَ أجل وَأعظم من أَن يظنّ أَن لأَهْلهَا التفاتاً إِلَى الْمنطق، إِذْ لَيْسَ فِي الْقُرُون الثَّلَاثَة من هَذِه الْأمة، الَّتِي هِيَ خير أمة أخرجت للنَّاس، وأفضلها الْقُرُون الثَّلَاثَة، من كَانَ يلْتَفت إِلَى الْمنطق أَو يعرج عَلَيْهِ، مَعَ أَنهم فِي تَحْقِيق الْعُلُوم وكمالها بالغاية الَّتِي لَا يدْرك أحد شأوها كَانُوا أعمق النَّاس علما، وَأَقلهمْ تكلفاً وأبرهم قلوباً”1 “وَإِنَّمَا الْهدى فِيمَا جَاءَ بِهِ الرَّسُول الَّذِي قَالَ الله فِيهِ {وَإِنَّكَ لَتَهْدِي إِلَى صِرَاطٍ مُّسْتَقِيمٍ صِرَاطِ اللَّهِ الَّذِي لَهُ مَا فِي السَّمَاوَاتِ وَمَا فِي الأَرْضِ أَلا إِلَى اللَّهِ تَصِيرُ الأُمُورُ} 2 3.

“وَالصَّوَاب فِي جَمِيع مسَائِل النزاع مَا كَانَ عَلَيْهِ السّلف من الصَّحَابَة، وَالتَّابِعِينَ لَهُم بِإِحْسَان، وَقَوْلهمْ هُوَ الَّذِي يدل عَلَيْهِ الْكتاب، وَالسّنة، وَالْعقل الصَّرِيح”4.

فَيجب أَن يُعْرَضَ مَا دُوِّن فِي كتب أصُول الْفِقْه على الْكتاب وَالسّنة على ضوء فهم السّلف الصَّالح رضوَان الله عَلَيْهِم، كَمَا يعرض الذَّهَب على النَّار،

--------------------------------------------

1 - مَجْمُوع الْفَتَاوَى 9/23.

2 - سُورَة الشورى آيَة رقم 52 - 53.

3 - مَجْمُوع الْفَتَاوَى 17/102.

4 - مَجْمُوع الْفَتَاوَى 17/205.
জ্ঞানপিপাসুরা এর থেকে বিমুখ এবং এর প্রতি অনাসক্ত হয়ে পড়েছে। আর যাকে এটি পড়তে বাধ্য করা হয়, সে মনে করে যে সে এমন একটি শাস্ত্র অধ্যয়ন করছে যার কোনো ফল নেই, এবং তাকে কোনো উপকার ছাড়াই এক বিশাল বোঝা বহন করতে দেওয়া হয়েছে। এ কারণে এবং অন্যান্য কারণে আবশ্যক (واجب) ছিল যে, সাধারণভাবে ইসলামি জ্ঞানসমূহ এবং বিশেষভাবে উসুল আল-ফিকহ শাস্ত্রকে পূর্ববর্তী স্বচ্ছতায় ফিরিয়ে নেওয়া এবং এগুলোকে সেই সুদৃঢ় মূলনীতির (أصول) দিকে ফিরিয়ে নেওয়া, যার ওপর নির্ভরযোগ্য (معتبر) ও সঠিক পথপ্রাপ্ত ইমামগণ প্রতিষ্ঠিত ছিলেন। “ইসলামে নাহু, ভাষা, ছন্দবিজ্ঞান, ফিকহ, উসুল (أصول), ইলমুল কালাম এবং অন্যান্য শাস্ত্র সংকলিত হয়েছে। আর এই শিল্পকলাসমূহের ইমামদের মধ্যে এমন কেউ ছিলেন না যারা মানতিক বা যুক্তিবিদ্যার প্রতি ভ্রূক্ষেপ করতেন। বরং তাঁদের অধিকাংশেরই কাল ছিল গ্রিক যুক্তিবিদ্যা আরবিতে অনূদিত হওয়ার পূর্বের। আর নবীগণের থেকে উত্তরাধিকার সূত্রে প্রাপ্ত বিশুদ্ধ জ্ঞানসমূহের ক্ষেত্রে—যদিও ফিকহ ও উসুল (أصول) তার সাথে সম্পৃক্ত—তা এতই মহিমান্বিত ও মহান যে, এটা কল্পনা করাও অসম্ভব যে এগুলোর বিদগ্ধ পণ্ডিতগণ যুক্তিবিদ্যার প্রতি ভ্রূক্ষেপ করতেন। কেননা এই উম্মতের প্রথম তিন প্রজন্মে—যা মানবজাতির জন্য প্রেরিত শ্রেষ্ঠ উম্মত এবং যার শ্রেষ্ঠ সময় হলো সেই তিন যুগ—এমন কেউ ছিলেন না যিনি যুক্তিবিদ্যার প্রতি ভ্রূক্ষেপ করতেন বা সেদিকে ঝুঁকে পড়তেন। অথচ তাঁরা জ্ঞানের বিশ্লেষণ ও পূর্ণতায় এমন এক শিখরে ছিলেন যে কেউ তাঁদের স্তরের নাগাল পেতে পারে না; তাঁরা ছিলেন জ্ঞানের দিক দিয়ে গভীরতম, লৌকিকতায় সবচেয়ে কম এবং হৃদয়ের দিক থেকে পরম পুণ্যবান।”1 “প্রকৃত হিদায়াত কেবল রাসূলের আনীত বিষয়ের মধ্যেই সীমাবদ্ধ, যা সম্পর্কে আল্লাহ তাআলা বলেছেন: {আর নিশ্চয়ই আপনি সরল পথের দিকে পরিচালিত করেন, আল্লাহর পথের দিকে, যাঁর মালিকানায় আসমান ও জমিনের সব কিছু রয়েছে। জেনে রেখো, সব বিষয় আল্লাহর দিকেই ফিরে যায়} 2 3.

“আর মতভেদপূর্ণ সকল বিষয়ে সঠিক পথ হলো তাই, যার ওপর সাহাবা এবং উত্তমভাবে তাঁদের অনুসারী তাবেয়িগণের অন্তর্ভুক্ত সালাফ (السلف) অটল ছিলেন। আর তাঁদের বক্তব্যই হলো কুরআন, সুন্নাহ এবং স্পষ্ট বিবেক-বুদ্ধি যা নির্দেশ করে।”4.

সুতরাং উসুল আল-ফিকহ এর কিতাবসমূহে যা কিছু সংকলিত হয়েছে, সেগুলোকে সালাফে সালেহীন (رضوان الله عليهم)-এর বুঝ ও উপলব্ধির আলোকে কুরআন ও সুন্নাহর মানদণ্ডে পেশ করা আবশ্যক (واجب), ঠিক যেভাবে সোনাকে আগুনে পুড়িয়ে যাচাই করা হয়।

--------------------------------------------

1 - মাজমু আল-ফাতাওয়া ৯/২৩।

2 - সূরা আশ-শূরা, আয়াত নং ৫২ - ৫৩।

3 - মাজমু আল-ফাতাওয়া ১৭/১০২।

4 - মাজমু আল-ফাতাওয়া ১৭/২০৫।
(খণ্ড: ১) মাবাহিছুল আমরি আল্লাতী ইনতাকাদাহা শাইখুল ইসলাম ইবনু তাইমিয়্যাহ ফী মাজমুয়িল ফাতাওয়া (পৃষ্ঠা: ৩৫৯)
ليبقى النافع الصافي ويرمى الضار فَإِن “مسَائِل النزاع الَّتِي تنَازع فِيهَا الْأمة فِي الْأُصُول وَالْفُرُوع إِذا لم ترد إِلَى الله وَالرَّسُول لم يتَبَيَّن فِيهَا الْحق، بل يصير فِيهَا المتنازعون على غير بَيِّنَة من أَمرهم”1 و “من بنى الْكَلَام فِي الْعلم، وَالْأُصُول، وَالْفُرُوع، على الْكتاب، وَالسّنة، والْآثَار المأثورة عَن السَّابِقين، قد أصَاب طَرِيق النُّبُوَّة”2.

وَمن أجل مَا تقدم عقدت الْعَزْم على أَن أبذل مَا أمكنني فِي محاولة الْمُشَاركَة فِي إِعَادَة هَذَا الْعلم الْأَصِيل إِلَى أصالته السلفية، وَبَيَان زيف مَا أُدْخِل فِيهِ مِمَّا لَيْسَ مِنْهُ ويضر وَلَا ينفع وَبعد طول بحث وَكَثْرَة الْكَشْف وَالسُّؤَال، وتدبر لأنجع الطّرق فِي ذَلِك، ظهر لي أَن خير وَسِيلَة لذَلِك نقل أَقْوَال الْعلمَاء النقاد، الَّذين سخروا حياتهم لنصرة الْكتاب وَالسّنة، وإبراز نصوصهم، وَرَأَيْت أَن أَكثر هَؤُلَاءِ الْعلمَاء تناولاً لمباحث أصُول الْفِقْه عرضا، ونقداً، وتحليلاً وتقريراً، شيخ الْإِسْلَام ابْن تَيْمِية رحمه الله فعزمت على إِخْرَاج موسوعة أصولية من كتب شيخ الْإِسْلَام بِحَيْثُ يكون متنها من كَلَامه رحمه الله فَبَدَأت بِمَجْمُوع الْفَتَاوَى فَقَرَأته قِرَاءَة كَامِلَة مرَارًا، واستخرجت كل مَا يتَعَلَّق بأصول الْفِقْه فِي هَذَا الْمَجْمُوع الْمُبَارك وَقسمت ذَلِك إِلَى أَقسَام، أَولهَا قسم التعريفات الْأُصُولِيَّة وَهُوَ بحث قُدم لإحدى المجلات المحكمة لنشره فِيهَا.

وَأما الْقسم الثَّانِي فَهُوَ المباحث الْأُصُولِيَّة الَّتِي انتقدها شيخ الْإِسْلَام فِي مَجْمُوع الْفَتَاوَى وَهَذَا الْبَحْث الَّذِي بَين أَيْدِينَا باكورة هَذِه المباحث بعنوان “مبَاحث الْأَمر الْأُصُولِيَّة الَّتِي انتقدها شيخ الْإِسْلَام فِي مَجْمُوع الْفَتَاوَى” وستتلوه إِن شَاءَ الله بَقِيَّة المباحث وَهِي كلهَا بِحَمْد الله جاهزة للدَّفْع للنشر قَرِيبا بِإِذن الله تَعَالَى.

--------------------------------------------

1 - مَجْمُوع الْفَتَاوَى 17/311.

2 - مَجْمُوع الْفَتَاوَى 10/363.
যেন বিশুদ্ধ ও উপকারী অংশটুকু অবশিষ্ট থাকে এবং ক্ষতিকর অংশটুকু বর্জন করা হয়। কেননা, “উম্মাহর মৌলিক (الأصول) ও শাখা-প্রশাখা (الفروع) সংক্রান্ত যে সকল বিবাদমান বিষয়ে বিতর্ক রয়েছে, সেগুলোকে যদি আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের দিকে ফিরিয়ে নেওয়া না হয়, তবে তাতে সত্য স্পষ্ট হয় না; বরং বিবাদকারীরা তাদের বিষয়ে সুস্পষ্ট প্রমাণের অভাবে বিভ্রান্তিতে নিপতিত হয়।”১ এবং “যে ব্যক্তি জ্ঞান, মৌলিক বিষয় (الأصول) এবং শাখা-প্রশাখা (الفروع) সংক্রান্ত আলোচনাকে কিতাব, সুন্নাহ এবং পূর্ববর্তীদের থেকে বর্ণিত বর্ণনা (الآثار) এর ওপর ভিত্তি করে গড়ে তোলে, সে নবুওয়াতের পথ লাভে সফল হয়েছে।”২।

উপরে বর্ণিত কারণে আমি সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছি যে, এই মৌলিক জ্ঞানকে তার সালাফি মৌলিকতায় ফিরিয়ে আনতে সাধ্যমতো অংশগ্রহণের চেষ্টা করব এবং এতে যা কিছু প্রক্ষিপ্ত হয়েছে—যা এর অংশ নয় বরং উপকারী হওয়ার পরিবর্তে ক্ষতিকর—সেগুলোর অসারতা স্পষ্ট করব। দীর্ঘ গবেষণা, ব্যাপক অনুসন্ধান ও জিজ্ঞাসার পর এবং এ ক্ষেত্রে সবচেয়ে কার্যকর পদ্ধতি নিয়ে চিন্তা-ভাবনার পর আমার কাছে এটি স্পষ্ট হয়েছে যে, এর সর্বোত্তম উপায় হলো সেই সমালোচক (النقاد) বিশেষজ্ঞগণের উক্তিগুলো উদ্ধৃত করা, যারা কিতাব ও সুন্নাহর সাহায্যের জন্য নিজেদের জীবন উৎসর্গ করেছেন এবং তাঁদের মূল বক্তব্যগুলো সামনে নিয়ে আসা। আমি দেখেছি যে, উসুলুল ফিকহ (أصول الفقه) সংক্রান্ত আলোচনার উপস্থাপনা, সমালোচনা, বিশ্লেষণ ও সিদ্ধান্তের ক্ষেত্রে শাইখুল ইসলাম ইবনে তাইমিয়্যাহ (রহিমাহুল্লাহ) সর্বাধিক অগ্রগামী। তাই আমি শাইখুল ইসলামের কিতাবসমূহ থেকে একটি উসুলি বিশ্বকোষ বের করার সংকল্প করেছি, যার মূল পাঠ (متن) হবে তাঁরই বক্তব্য থেকে। আমি মাজমুউল ফাতাওয়া দিয়ে শুরু করেছি এবং তা কয়েকবার আদ্যোপান্ত পাঠ করেছি। এই বরকতময় সংকলন থেকে উসুলুল ফিকহ (أصول الفقه) সম্পর্কিত যা কিছু আছে তা বের করেছি এবং সেগুলোকে কয়েকটি ভাগে বিভক্ত করেছি। এর প্রথমটি হলো ‘উসুলি সংজ্ঞা (التعريفات الأصولية)’ সংক্রান্ত বিভাগ, যা একটি গবেষণাপত্র হিসেবে একটি স্বীকৃত জার্নালে প্রকাশের জন্য জমা দেওয়া হয়েছে।

আর দ্বিতীয় বিভাগটি হলো সেই উসুলি বিষয়াবলি (المباحث الأصولية) যেগুলোর সমালোচনা শাইখুল ইসলাম মাজমুউল ফাতাওয়া-তে করেছেন। আমাদের সামনে বিদ্যমান এই গবেষণাটি হলো এই বিষয়াবলির প্রথম ফল, যার শিরোনাম: “উসুলি আদেশের বিষয়াবলি (مباحث الأمر الأصولية) যেগুলোর সমালোচনা শাইখুল ইসলাম মাজমুউল ফাতাওয়া-তে করেছেন।” ইনশাআল্লাহ বাকি বিষয়গুলো ধারাবাহিকভাবে আসবে এবং আল্লাহর অশেষ মেহেরবানিতে সেগুলো অচিরেই প্রকাশের জন্য প্রস্তুত রয়েছে।

--------------------------------------------

১ - মাজমুউল ফাতাওয়া ১৭/৩১১।

২ - মাজমুউল ফাতাওয়া ১০/৩৬৩।
(খণ্ড: ১) মাবাহিছুল আমরি আল্লাতী ইনতাকাদাহা শাইখুল ইসলাম ইবনু তাইমিয়্যাহ ফী মাজমুয়িল ফাতাওয়া (পৃষ্ঠা: ৩৬৪)
‌‌التَّمْهِيد

‌‌تَرْجَمَة موجزة لشيخ الْإِسْلَام ابْن تَيْمِية وَبَيَان منهجه فِي نقد المباحث الْأُصُولِيَّة إِجْمَالا

‌‌الْمطلب الأول: اسْمه، وَنسبه، وشهرته، ولقبه، وكنيته

…

الْمطلب الأول: اسْمه وَنسبه وشهرته ولقبه وكنيته

هُوَ أَحْمد بن عبد الْحَلِيم بن عبد السَّلَام بن عبد الله بن أبي الْقَاسِم الْخضر ابْن مُحَمَّد بن تَيْمِية الْحَرَّانِي ثمَّ الدِّمَشْقِي.

الإِمَام، الْعَلامَة، الْفَقِيه، الْمُجْتَهد، النَّاقِد، الْمُفَسّر، البارع، الْحَافِظ، الْمُحدث الأصولي، عَلَم الزهاد، ونادرة الدَّهْر.

كَانَ رحمه الله من أسرة علم وورع، فوالده الْعَلامَة الْمُفْتِي شهَاب الدّين
উপক্রমণিকা

শাইখুল ইসলাম ইবনে তাইমিয়াহ-এর সংক্ষিপ্ত জীবনী এবং উসুলের মাসআলাসমূহের পর্যালোচনায় তাঁর সামগ্রিক পদ্ধতির বর্ণনা

প্রথম পরিচ্ছেদ: তাঁর নাম, বংশপরিচয়, খ্যাতি, উপাধি এবং কুনিয়াত

…

প্রথম পরিচ্ছেদ: তাঁর নাম, বংশপরিচয়, খ্যাতি, উপাধি এবং কুনিয়াত

তিনি হলেন আহমদ ইবনে আব্দুল হালিম ইবনে আব্দুল সালাম ইবনে আব্দুল্লাহ ইবনে আবিল কাসিম আল-খিজর ইবনে মুহাম্মদ ইবনে তাইমিয়াহ আল-হাররানি অতঃপর আদ-দিমাশকি।

ইমাম, আল্লামা, ফকিহ (فقيه), মুজতাহিদ (مجتهد), সমালোচক (ناقد), মুফাসসির, অনন্য প্রতিভাধর, হাফেজ (حافظ), মুহাদ্দিস (محدث), উসুলবিদ (أصولي), যুহদ অবলম্বনকারীদের শিরোমণি এবং সমকালের এক বিস্ময়কর ব্যক্তিত্ব।

তিনি (রহিমাহুল্লাহ) এক জ্ঞানদীপ্ত ও আল্লাহভীতিপূর্ণ পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন; তাঁর পিতা ছিলেন আল্লামা মুফতি শিহাবউদ্দীন।
(খণ্ড: ১) মাবাহিছুল আমরি আল্লাতী ইনতাকাদাহা শাইখুল ইসলাম ইবনু তাইমিয়্যাহ ফী মাজমুয়িল ফাতাওয়া (পৃষ্ঠা: ৩৬৫)
‌‌الْمطلب الثَّانِي: مولده، ونشأته

ولد يَوْم الِاثْنَيْنِ، عَاشر ربيع الأول، سنة إِحْدَى وَسِتِّينَ وسِتمِائَة بحران، وَقيل ثَانِي عشر ربيع الأول.

وعاش فِي حران بضع سِنِين، ثمَّ قدمت أسرته إِلَى دمشق فِرَارًا من التتار الَّذين استولوا على الْبِلَاد سنة سبع وَسِتِّينَ، وَأَقْبل على الْعُلُوم فِي صغره، وَختم القرءان، وَأخذ الْفِقْه وَالْأُصُول عَن وَالِده، وَعَن الشَّيْخ شمس الدّين بن أبي عمر، وَالشَّيْخ زين الدّين ابْن المنجا وبرع فِي ذَلِك، وَقَرَأَ فِي الْعَرَبيَّة أَيَّامًا على بن عبد الْقوي، ثمَّ أَخذ كتاب سِيبَوَيْهٍ فَتَأَمّله ففهمه، وَأَقْبل على تَفْسِير القرءان الْكَرِيم وبَرَّز فِيهِ، وَأحكم أصُول الْفِقْه، والفرائض والحساب، والجبر، والمقابلة، وَغير ذَلِك من الْعُلُوم، وَنظر فِي علم الْكَلَام، وبرز فِي ذَلِك على أَهله، ورد على كبارهم، وتأهل للْفَتْوَى، والتدريس، وَله دون الْعشْرين سنة، وَأفْتى من قبل الْعشْرين أَيْضا.
‌দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ: তাঁর জন্ম ও বেড়ে ওঠা

তিনি ৬৬১ হিজরি সনের ১০ই রবিউল আউয়াল সোমবার হাররানে জন্মগ্রহণ করেন; মতান্তরে ১২ই রবিউল আউয়াল।

তিনি হাররানে কয়েক বছর অতিবাহিত করেন, অতঃপর ৬৬৭ হিজরি সনে তাঁর পরিবার তাতারীদের হাত থেকে পলায়ন করে দামেস্কে আগমন করেন, যারা তখন দেশসমূহ দখল করে নিচ্ছিল। শৈশবেই তিনি জ্ঞানার্জনের প্রতি মনোনিবেশ করেন এবং কুরআন মাজিদ সমাপ্ত করেন। তিনি তাঁর পিতা, শায়খ শামসুদ্দিন ইবনে আবি ওমর এবং শায়খ জয়নুদ্দিন ইবনে আল-মুনাজ্জার নিকট থেকে ফিকহ ও উসুল শিক্ষা লাভ করেন এবং তাতে ব্যুৎপত্তি অর্জন করেন। তিনি ইবনে আবদিল কাভির কাছে কিছুদিন আরবি ভাষা পাঠ করেন, অতঃপর সিবওয়াইহ-এর কিতাবটি গভীর মনোযোগের সাথে অধ্যয়ন করে তা আয়ত্ত করেন। তিনি আল-কুরআনের তাফসিরের প্রতি মনোনিবেশ করেন এবং তাতে বিশিষ্টতা অর্জন করেন। এছাড়াও তিনি উসুল আল-ফিকহ, ফারায়েজ (উত্তরাধিকার আইন), পাটিগণিত, বীজগণিত ও অন্যান্য বিজ্ঞানে পারদর্শিতা লাভ করেন। তিনি ইলমুল কালাম পর্যালোচনা করেন এবং এ বিষয়ে সংশ্লিষ্টদের ওপর শ্রেষ্ঠত্ব অর্জন করেন ও তাদের বড় বড় পণ্ডিতদের যুক্তি খণ্ডন করেন। বিশ বছর পূর্ণ হওয়ার আগেই তিনি ফতোয়া প্রদান ও পাঠদানের যোগ্যতা অর্জন করেন এবং বিশ বছর বয়স হওয়ার আগে থেকেই তিনি ফতোয়া প্রদান শুরু করেন।
(খণ্ড: ১) মাবাহিছুল আমরি আল্লাতী ইনতাকাদাহা শাইখুল ইসলাম ইবনু তাইমিয়্যাহ ফী মাজমুয়িল ফাতাওয়া (পৃষ্ঠা: ৩৬৬)
وأمده الله بِكَثْرَة الْكتب، وَسُرْعَة الْحِفْظ، وَقُوَّة الْإِدْرَاك، والفهم، وبطء النسْيَان حَتَّى قَالَ غير وَاحِد إِنَّه لم يكن يحفظ شَيْئا فينساه.

ثمَّ توفّي وَالِده وَكَانَ عمره إِحْدَى وَعشْرين سنة، فَقَامَ بوظائفه بعده، فدرَّس بدار الحَدِيث السكرية أول سنة ثَلَاث وَثَمَانِينَ، ثمَّ جلس عقب ذَلِك مَكَان وَالِده بالجامع لتفسير القرءان الْعَظِيم، وَكَانَ يُورد من حفظه فِي الْمجْلس نَحْو كراسين أَو أَكثر.

وَشرع الشَّيْخ فِي الْجمع، والتصنيف من دون الْعشْرين، وَلم يزل فِي علو وازدياد من الْعلم وَالْقدر إِلَى آخر عمره.

نشأته:

وَقد كَانَ مُنْذُ صغره ناشئاً على الطَّاعَة، والبصيرة فِي دينه، والبعد عَن الْمُحرمَات واسمع لَهُ يَحْكِي قَائِلا: “وَكنت فِي أَوَائِل عمري حضرت مَعَ جمَاعَة من أهل الزّهْد، وَالْعِبَادَة والإرادة فَكَانُوا من خِيَار أهل هَذِه الطَّبَقَة، فبتنا بمَكَان وَأَرَادُوا أَن يقيموا سَمَاعا، وَأَن أحضر مَعَهم فامتنعت من ذَلِك، فَجعلُوا لي مَكَانا مُنْفَردا قعدت فِيهِ، فَلَمَّا سمعُوا، وَحصل الوجد وَالْحَال صَار الشَّيْخ الْكَبِير يَهْتِف بِي فِي حَال وجده وَيَقُول: يَا فلَان قد جَاءَك نصيب عَظِيم تعال خُذ نصيبك، فَقلت فِي نَفسِي، ثمَّ أظهرته لَهُم لما اجْتَمَعنَا: - أَنْتُم فِي حل من هَذَا النَّصِيب، فَكل نصيب لَا يَأْتِي عَن طَرِيق مُحَمَّد بن عبد الله فَإِنِّي لَا آكل مِنْهُ شَيْئا، وَتبين لبَعض من كَانَ فيهم مِمَّن لَهُ معرفَة وَعلم أَنه كَانَ مَعَهم الشَّيَاطِين”1.

وَقد كَانَت نشأته رحمه الله فِي تصونٍ تَامّ، وعفاف، وَتعبد، واقتصاد فِي الملبس والمأكل، فَنَشَأَ على جَانب كَبِير من الْخَوْف من الله تَعَالَى، زاهداً، ورِعاً، ملازماً لِلْعِبَادَةِ وتلاوة القرءان الْكَرِيم، وَكَانَ قد قطع جلّ وقته وزمانه فِي عبَادَة الله، وَلم تشغله شاغلة عَن عبَادَة ربه وَكَانَت بضاعته طوال عمره الْعلم ونصرة السّنة.

--------------------------------------------

1 - مَجْمُوع الْفَتَاوَى 3/418 - 419.
আল্লাহ তাঁকে প্রচুর কিতাব, দ্রুত মুখস্থ করার ক্ষমতা, প্রখর মেধা ও প্রজ্ঞা এবং বিস্মৃতির ধীরতা দান করেছিলেন; এমনকি একাধিক ব্যক্তি বলেছেন যে, তিনি যা একবার মুখস্থ করতেন তা আর কখনো ভুলতেন না।

অতঃপর তাঁর বয়স যখন একুশ বছর, তখন তাঁর পিতা ইন্তেকাল করেন। পিতার মৃত্যুর পর তিনি তাঁর স্থলাভিষিক্ত হয়ে দায়িত্বসমূহ আঞ্জাম দিতে থাকেন। তিনি ৬৮৩ হিজরির শুরুর দিকে 'দারুল হাদিস আস-সুক্কারিয়্যাহ'-তে অধ্যাপনা করেন। এরপর তিনি জামে মসজিদে পিতার স্থলাভিষিক্ত হয়ে মহান কুরআনের তাফসিরের মজলিসে বসেন। তিনি সেই মজলিসে নিজের স্মৃতি থেকে প্রায় দুই 'কুরাস' (অধ্যায়) বা তার চেয়েও বেশি পরিমাণ ইলমি আলোচনা পেশ করতেন।

শাইখ বিশ বছর বয়স হওয়ার আগেই গ্রন্থ সংকলন ও রচনার কাজ শুরু করেন। আমৃত্যু তাঁর ইলম ও মর্যাদার উত্তরোত্তর উন্নতি ও বৃদ্ধি অব্যাহত ছিল।

তাঁর বেড়ে ওঠা:

শৈশব থেকেই তিনি আল্লাহর আনুগত্য, দ্বীনের সঠিক প্রজ্ঞা এবং হারাম কাজ থেকে দূরে থাকার মাধ্যমে বেড়ে ওঠেন। তাঁর নিজের একটি বর্ণনা শুনুন, তিনি বলেন: “জীবনের শুরুর দিকে আমি একদল যাহেদ, ইবাদতকারী ও সাধকের মজলিসে উপস্থিত হয়েছিলাম, যারা সেই স্তরের (طبقة) শ্রেষ্ঠ লোকদের অন্তর্ভুক্ত ছিলেন। আমরা এক স্থানে রাত কাটালাম এবং তারা ‘সামা’ (এক প্রকার আধ্যাত্মিক সংগীত) আয়োজন করতে চাইলেন এবং আমাকে তাতে শরিক হতে বললেন। আমি তা প্রত্যাখ্যান করলাম। তারা আমার বসার জন্য একটি আলাদা জায়গা করে দিলেন। যখন তারা সামা শুরু করলেন এবং তাদের মাঝে এক প্রকার ভাবাবেগ ও আধ্যাত্মিক অবস্থা সৃষ্টি হলো, তখন তাদের বড় শাইখ তাঁর ভাবাবেগের ঘোরে আমাকে চিৎকার করে বলতে লাগলেন: ‘হে অমুক! তোমার কাছে একটি মহান অংশ এসেছে, এসো এবং তোমার অংশ গ্রহণ করো।’ আমি মনে মনে ভাবলাম এবং পরবর্তীতে যখন আমরা একত্রিত হলাম তখন তাদের কাছে তা প্রকাশ করলাম— তোমরা তোমাদের এই প্রাপ্তি বা অংশ নিয়ে থাকো, কারণ মুহাম্মাদ ইবনে আব্দুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর পথ ধরে যে অংশ আসে না, আমি তার থেকে কিছুই গ্রহণ করি না। পরবর্তীতে তাদের মধ্যে যাদের ইলম ও মা’রিফাত ছিল, তাদের নিকট স্পষ্ট হলো যে, সেখানে তাদের সাথে শয়তানদের উপস্থিতি ছিল।”১

তাঁর (রহিমাহুল্লাহ) বেড়ে ওঠা ছিল পূর্ণ পবিত্রতা, চারিত্রিক নির্মলতা, ইবাদত এবং পোশাক ও আহারের ক্ষেত্রে পরিমিতিবোধের সাথে। তিনি আল্লাহ তাআলার অগাধ ভয়, দুনিয়াবিমুখতা (زهد) ও আল্লাহভীতি (ورع)-র ওপর গড়ে উঠেছিলেন এবং সর্বদা ইবাদত ও কুরআন তিলাওয়াতে রত থাকতেন। তিনি তাঁর সময়ের অধিকাংশ অংশ আল্লাহর ইবাদতে ব্যয় করতেন। রবের ইবাদত থেকে কোনো কিছুই তাঁকে বিচ্যুত করতে পারেনি। সারা জীবন তাঁর একমাত্র পুঁজি ছিল ইলম এবং সুন্নাহর সাহায্য করা।

--------------------------------------------

১ - মাজমুউল ফাতাওয়া ৩/৪১৮-৪১৯।
(খণ্ড: ১) মাবাহিছুল আমরি আল্লাতী ইনতাকাদাহা শাইখুল ইসলাম ইবনু তাইমিয়্যাহ ফী মাজমুয়িল ফাতাওয়া (পৃষ্ঠা: ৩৬৭)
‌‌الْمطلب الثَّالِث: صِفَاته الخِلقية، والخُلُقية، والعلمية

صِفَاته الخِلْقية:

كَانَ الشَّيْخ أَبيض، أسود الرَّأْس واللحية، قَلِيل الشيب، شعره إِلَى شحمة أُذُنه كَأَن عَيْنَيْهِ لسانان ناطقان، تلوح نَضرة النَّعيم على وَجهه، ربعَة من الرِّجَال، بعيد مَا بَين الْمَنْكِبَيْنِ، جَهورِي الصَّوْت.

صِفَاته الخُلُقِيَّة:

كَانَ سَمحا كَرِيمًا بطبعه لَا يتصنع ذَلِك، وَكَانَ لَا يرد من سَأَلَهُ شَيْئا، وَكَانَ حَلِيمًا كثير الْعَفو عمَّن آذاه حَتَّى قَالَ “فَلَا أحب أَن ينتصر من أحد بِسَبَب كذبه عَليّ أَو ظلمه أَو عدوانه فَإِنِّي قد أحللت كل مُسلم وَأَنا أحب الْخَيْر لكل الْمُسلمين وَأُرِيد بِكُل مُؤمن من الْخَيْر مَا أحبه لنَفْسي، وَالَّذين كذبُوا أَو ظلمُوا فهم فِي حل من جهتي”

فقد كَانَ حَلِيمًا رَفِيقًا محباً للخير لَا يروم انتقاماً بل يعْفُو عَن مخالفه وَإِن ظلمه.

واسمع لَهُ رحمه الله وَهُوَ يتحدث عَن مُخَالف لَهُ ناله من شَره الشَّيْء الْكثير، حَيْثُ يَقُول: “وَأَنا وَالله من أعظم النَّاس معاونة على إطفاء كل شَرّ فِيهَا وَفِي غَيرهَا، وَإِقَامَة كل خير، وَابْن مخلوف لَو عمل مهما عمل وَالله مَا أقدر على خير إِلَّا وأعمله مَعَه، وَلَا أعين عَلَيْهِ عدوه قطّ، وَلَا حول وَلَا قُوَّة إِلَّا بِاللَّه، هَذِه نيتي وعزمي، مَعَ علمي بِجَمِيعِ الْأُمُور فَإِنِّي أعلم أَن الشَّيْطَان ينزغ بَين الْمُؤمنِينَ، وَلنْ أكون عوناً للشَّيْطَان على إخْوَانِي الْمُسلمين” 1.

وَقَالَ أَيْضا “لَيْسَ غرضي فِي إِيذَاء أحد، وَلَا الانتقام مِنْهُ، وَلَا مؤاخذته، وَأَنا عافٍ عَمَّن ظَلَمَنِي” 2.

--------------------------------------------

1 - مَجْمُوع الْفَتَاوَى 3/271.

2 - مَجْمُوع الْفَتَاوَى 3/266.
‌‌তৃতীয় পরিচ্ছেদ: তাঁর শারীরিক অবয়ব, চারিত্রিক গুণাবলি এবং ইলমি বৈশিষ্ট্যসমূহ

শারীরিক অবয়ব:

শাইখ গৌরবর্ণের ছিলেন, তাঁর মাথা ও দাড়ির চুল ছিল কৃষ্ণবর্ণ এবং তাতে পক্কতা ছিল সামান্য। তাঁর কেশরাজি কানের লতি পর্যন্ত প্রলম্বিত ছিল। তাঁর নয়নদ্বয় যেন দুটি বাঙ্ময় জিহ্বা; তাঁর চেহারায় সজীবতা ও নিয়ামতের দীপ্তি ফুটে উঠত। তিনি মাঝারি উচ্চতার পুরুষ ছিলেন, তাঁর দুই কাঁধের মধ্যবর্তী স্থান ছিল প্রশস্ত এবং তাঁর কণ্ঠস্বর ছিল গম্ভীর।

চারিত্রিক গুণাবলি:

তিনি স্বভাবজাতভাবেই অত্যন্ত উদার ও মহানুভব ছিলেন, এতে কোনো কৃত্রিমতা ছিল না। তিনি কোনো যাচনাকারীকে রিক্তহস্তে ফিরিয়ে দিতেন না। তিনি ছিলেন অত্যন্ত সহনশীল এবং যারা তাঁকে কষ্ট দিত তাদের অধিক ক্ষমা করতেন। এমনকি তিনি বলতেন, “আমার বিরুদ্ধে মিথ্যাচার, জুলুম বা শত্রুতার কারণে কেউ আমার থেকে প্রতিশোধ গ্রহণ করুক—তা আমি পছন্দ করি না। আমি প্রত্যেক মুসলিমকে ক্ষমা করে দিয়েছি। আমি সকল মুসলিমের জন্য কল্যাণ কামনা করি এবং প্রত্যেক মুমিনের জন্য সেই কল্যাণই চাই যা আমি নিজের জন্য পছন্দ করি। আর যারা মিথ্যা বলেছে বা জুলুম করেছে, তারা আমার পক্ষ থেকে দায়মুক্ত।”

নিশ্চয়ই তিনি ছিলেন সহনশীল, কোমলপ্রাণ ও কল্যাণকামী; তিনি প্রতিশোধ গ্রহণের আকাঙ্ক্ষা করতেন না, বরং তাঁর প্রতি জুলুম করা সত্ত্বেও তিনি বিরোধীদের ক্ষমা করে দিতেন।

তাঁর একটি বক্তব্য শুনুন (আল্লাহ তাঁর প্রতি রহম করুন), যেখানে তিনি তাঁর এক বিরোধী সম্পর্কে আলোচনা করছেন যার অনিষ্ট তাঁকে অনেক স্পর্শ করেছিল। তিনি বলছিলেন: “আল্লাহর কসম, আমি হচ্ছি সেই ব্যক্তিদের একজন যারা তাঁর (বিরোধীর) মধ্যে বা অন্যের মধ্যে বিদ্যমান যাবতীয় অনিষ্ট নির্বাপণ করতে এবং সকল কল্যাণ প্রতিষ্ঠায় সর্বাধিক সহযোগিতা করে থাকি। ইবন মাখলুফ যাই করুক না কেন, আল্লাহর কসম, আমি যদি কোনো কল্যাণকর কাজ করতে সক্ষম হই তবে অবশ্যই তাঁর সাথে তা করব এবং কখনোই তাঁর শত্রুকে তাঁর বিরুদ্ধে সাহায্য করব না। আল্লাহ ছাড়া কোনো শক্তি বা ক্ষমতা নেই। এটিই আমার নিয়ত ও দৃঢ় সংকল্প, যদিও আমি সকল বিষয় সম্পর্কে সম্যক অবগত। কারণ আমি জানি যে, শয়তান মুমিনদের মধ্যে বিভেদ সৃষ্টি করে, আর আমি আমার মুসলিম ভাইদের বিরুদ্ধে শয়তানের সহযোগী হব না।” ১।

তিনি আরও বলেছেন: “কাউকে কষ্ট দেওয়া, কারও থেকে প্রতিশোধ গ্রহণ করা বা কাউকে পাকড়াও করা আমার উদ্দেশ্য নয়। আর যে আমার ওপর জুলুম করেছে, আমি তাকে ক্ষমা করে দিয়েছি।” ২।

--------------------------------------------

১ - মাজমুউল ফাতাওয়া ৩/২৭১।

২ - মাজমুউল ফাতাওয়া ৩/২৬৬।
(খণ্ড: ১) মাবাহিছুল আমরি আল্লাতী ইনতাকাদাহা শাইখুল ইসলাম ইবনু তাইমিয়্যাহ ফী মাজমুয়িল ফাতাওয়া (পৃষ্ঠা: ৩৬৮)
وَكَانَ رحمه الله صبوراً على من يكلمهُ، عادلاً فِي مُخَاطبَة مخالفيه، مُتبعا السّنة فِي مُعَاملَة وُلَاة الْأُمُور يَقُول رحمه الله “النَّاس يعلمُونَ أَنِّي من أطول النَّاس روحاً وصبراً على مُرِّ الْكَلَام، وَأعظم النَّاس عدلا فِي المخاطبة لأَقل النَّاس، داعٍ لولاة الْأُمُور”1.

وَكَانَ شجاعاً من أَشْجَع النَّاس وَأَقْوَاهُمْ قلباً، مَا رأى النَّاس فِي عصره أحدا أثبت جأشاً مِنْهُ، وَلَا أعظم عناءً فِي جِهَاد الْعَدو وَكَانَ لَا يتْرك سَبِيلا من سبل الْجِهَاد إلاّ ولجه فَجَاهد بِقَلْبِه، وَلسَانه، وَيَده.

وَكَانَ رحمه الله شَدِيد التَّمَسُّك بِدِينِهِ، مقدما حُرِّيَّته وَنَفسه وَمَاله فِي سَبِيل ذَلِك وَكَانَ لَا يُبَالِي بِمَا يلاقيه فِي سَبِيل الله شجاعاً فِي الْحق، مطمئن الْقلب، واثقاً بوعد الرب سبحانه وتعالى يَقُول رحمه الله “أَنا عَليّ أَي شَيْء أَخَاف إِن قتلت كنت من أفضل الشُّهَدَاء وَكَانَ عَليّ الرَّحْمَة والرضوان إِلَى يَوْم الْقِيَامَة، وَكَانَ على من قتلني اللَّعْنَة الدائمة فِي الدُّنْيَا وَالْعَذَاب فِي الْآخِرَة، ليعلم كل من يُؤمن بِاللَّه وَرَسُوله أَنِّي إِن قتلت لأجل دين الله، وَإِن حبست فالحبس فِي حَقي من أعظم نعم الله عَليّ، وَوَاللَّه مَا أُطِيق أَن أشكر نعْمَة الله عَليّ فِي هَذَا الْحَبْس، وَلَيْسَ لي مَا أَخَاف النَّاس عَلَيْهِ لَا أقطاعي، وَلَا مدرستي، وَلَا مَالِي، وَلَا رياستي، وجاهي”2.

وَكَانَ رحمه الله حَرِيصًا على وحدة الْمُسلمين، وتأليف قُلُوبهم، والتقريب بَينهم وَإِزَالَة الوحشة الَّتِي تقع فِي قُلُوب الْمُخْتَلِفين، باذلاً فِي ذَلِك غَايَة طاقته، ومستفرغاً تَمام جهده يَقُول رحمه الله: “وَالنَّاس يعلمُونَ أَنه كَانَ بَين الحنبلية والأشعرية وَحْشَة ومنافرة، وَأَنا كنت من أعظم النَّاس تأليفاً لقلوب الْمُسلمين، وطلباً لِاتِّفَاق كلمتهم، واتباعاً لما أمرنَا بِهِ من الِاعْتِصَام بِحَبل الله،

--------------------------------------------

1 - مَجْمُوع الْفَتَاوَى 3/251.

2 - مَجْمُوع الْفَتَاوَى 3/215 - 216.
তিনি (রাহিমাহুল্লাহ) তাঁর সাথে কথা বলা ব্যক্তিদের প্রতি অত্যন্ত ধৈর্যশীল ছিলেন, তাঁর বিরোধীদের সাথে আলাপের ক্ষেত্রে ইনসাফপূর্ণ আচরণ করতেন এবং শাসকগোষ্ঠীর সাথে আচরণের ক্ষেত্রে সুন্নাহর (سنة) অনুসারী ছিলেন। তিনি (রাহিমাহুল্লাহ) বলতেন: “মানুষ জানে যে আমি মানুষের কটু কথা ও তিক্ত ভাষণের বিপরীতে ধৈর্য ও সহনশীলতার দিক থেকে দীর্ঘ প্রাণশক্তির অধিকারী এবং অতি নগণ্য ব্যক্তির সাথেও আলাপ-আলোচনার ক্ষেত্রে সর্বাধিক ইনসাফকারী। আমি শাসকগোষ্ঠীর মঙ্গল কামনাকারী।”১।

তিনি ছিলেন অত্যন্ত সাহসী ও মানুষের মধ্যে অন্যতম বীর এবং সুদৃঢ় হৃদয়ের অধিকারী। তাঁর সমসাময়িককালে মানুষ তাঁর চেয়ে অধিক স্থিরচিত্ত কাউকে দেখেনি, আর শত্রুর বিরুদ্ধে জিহাদে তাঁর চেয়ে বেশি কষ্টসহিষ্ণু কাউকে দেখেনি। জিহাদের এমন কোনো পথ ছিল না যা তিনি অনুসরণ করেননি; তিনি তাঁর অন্তর, জিহ্বা ও হাত দিয়ে জিহাদ করেছেন।

তিনি (রাহিমাহুল্লাহ) তাঁর দ্বীনের ওপর অটল থাকায় অত্যন্ত কঠোর ছিলেন, সেই পথে তিনি তাঁর স্বাধীনতা, প্রাণ ও সম্পদ বিসর্জন দিয়েছেন। আল্লাহর পথে যা কিছুর সম্মুখীন হতেন তাতে তিনি পরোয়া করতেন না। হকের ক্ষেত্রে তিনি ছিলেন সাহসী, প্রশান্ত হৃদয়ের অধিকারী এবং মহান রবের প্রতিশ্রুতির ওপর আস্থাশীল। তিনি (রাহিমাহুল্লাহ) বলতেন: “আমি কোন জিনিসকে ভয় পাব? আমাকে যদি হত্যা করা হয়, তবে আমি শ্রেষ্ঠ শহীদদের অন্তর্ভুক্ত হব এবং কিয়ামত পর্যন্ত আমার ওপর আল্লাহর রহমত ও সন্তুষ্টি বর্ষিত হবে। আর যে আমাকে হত্যা করবে, তার ওপর দুনিয়াতে চিরস্থায়ী অভিশাপ ও আখিরাতে আযাব অবধারিত হবে। আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের ওপর বিশ্বাসী প্রত্যেক ব্যক্তির জানা উচিত যে, আমি যদি নিহত হই তবে তা আল্লাহর দ্বীনের জন্যই হবে। আর যদি আমাকে বন্দি করা হয়, তবে আমার জন্য এই বন্দিত্ব আল্লাহর অন্যতম শ্রেষ্ঠ নিয়ামত। আল্লাহর কসম, এই বন্দি অবস্থায় আল্লাহ আমার ওপর যে নিয়ামত দান করেছেন তার শোকর আদায় করার শক্তি আমার নেই। মানুষের কাছে আমার হারানোর মতো ভয়ের কিছু নেই; আমার কোনো জমিদারি নেই, কোনো মাদ্রাসা নেই, কোনো সম্পদ নেই, কোনো নেতৃত্ব বা পদমর্যাদাও নেই।”২।

তিনি (রাহিমাহুল্লাহ) মুসলিমদের ঐক্য, তাদের হৃদয়ের মেলবন্ধন, তাদের মধ্যকার সম্প্রীতি স্থাপন এবং ভিন্নমতাবলম্বীদের অন্তরের তিক্ততা দূর করার জন্য অত্যন্ত আগ্রহী ছিলেন। এক্ষেত্রে তিনি তাঁর সর্বোচ্চ শক্তি ও প্রচেষ্টা ব্যয় করতেন। তিনি (রাহিমাহুল্লাহ) বলতেন: “মানুষ জানে যে হানবালি ও আশআরিদের মধ্যে এক প্রকার দূরত্ব ও বিদ্বেষ বিদ্যমান ছিল। আর আমি ছিলাম মুসলিমদের হৃদয়ের মেলবন্ধন তৈরি এবং তাদের ঐক্য প্রচেষ্টায় সর্বাধিক অগ্রগামী। আর আল্লাহর রজ্জুকে মজবুতভাবে আঁকড়ে ধরার যে নির্দেশ আমাদের দেওয়া হয়েছে, আমি তারই অনুসরণকারী...”

--------------------------------------------

১ - মাজমুউল ফাতাওয়া ৩/২৫১।

২ - মাজমুউল ফাতাওয়া ৩/২১৫ - ২১৬।
(খণ্ড: ১) মাবাহিছুল আমরি আল্লাতী ইনতাকাদাহা শাইখুল ইসলাম ইবনু তাইমিয়্যাহ ফী মাজমুয়িল ফাতাওয়া (পৃষ্ঠা: ৩৬৯)
وَإِزَالَة عَامَّة مَا كَانَ فِي النُّفُوس من الوحشة وبينت لَهُم أَن الْأَشْعَرِيّ كَانَ من أجل الْمُتَكَلِّمين المنتسبين إِلَى الإِمَام أَحْمد رحمه الله وَنَحْوه، المنتصرين لطريقته كَمَا يذكر الْأَشْعَرِيّ فِي كتبه1 … وَلما أظهرت كَلَام الْأَشْعَرِيّ وَرَآهُ الحنبلية قَالُوا هَذَا خير من كَلَام الْمُوفق، وَفَرح الْمُسلمُونَ بِاتِّفَاق الْكَلِمَة”2.

وَكَانَ رحمه الله يُخَاطب النَّاس بِالَّتِي هِيَ أحسن، ويلين الْكَلَام للخصوم، إِلَّا فِي المواطن الَّتِي تَأمر فِيهَا الشَّرِيعَة بالإغلاظ قَالَ رحمه الله: “مَا ذكرْتُمْ من لين الْكَلَام والمخاطبة بِالَّتِي هِيَ أحسن، فَأنْتم تعلمُونَ أَنِّي من أَكثر النَّاس اسْتِعْمَالا لهَذَا، لَكِن كل شَيْء فِي مَوْضِعه حسن، وَحَيْثُ أَمر الله وَرَسُوله بالإغلاظ على الْمُتَكَلّم لبغيه، وعدوانه على الْكتاب، وَالسّنة فَنحْن مأمورون بمقابلته، وَلم نَكُنْ مأمورين أَن نخاطبه بِالَّتِي هِيَ أحسن”3.

صِفَاته العلمية:

كَانَ رحمه الله شَدِيد التَّمَسُّك بالأثر مُعظما لَهُ، وَمن أَشد النَّاس تَعْظِيمًا لرَسُول الله صلى الله عليه وسلم، حَرِيصًا على اتِّبَاعه، باذلاً كل مَا يملكهُ فِي نصر مَا جَاءَ بِهِ، فَبنى علمه على نُصُوص الْكتاب، وَالسّنة، ونصوص سلف الْأمة، وَكَانَ فِي تأليفه ومناظراته مستحضراً للأدلة من الْكتاب وَالسّنة، كَأَن الْكتاب وَالسّنة نصب عَيْنَيْهِ، وعَلى طرف لِسَانه، قَالَ عَنهُ الذَّهَبِيّ: “برع فِي

--------------------------------------------

1 - وَهَذَا فِي المرحلة الثَّالِثَة من مراحل أبي الْحسن رحمه الله حَيْثُ كَانَ رحمه الله أَولا معتزلياً، ثمَّ ترك الاعتزال وَأَنْشَأَ مذهبا خَاصّا بِهِ، وَإِلَيْهِ ينتسب الأشاعرة من بعده إِلَى الْيَوْم، ثمَّ هداه الله إِلَى مَذْهَب أهل السّنة وَالْجَمَاعَة وَقد أعلن تَوْبَته على الْمِنْبَر، وصنف فِي عقيدته الْأَخِيرَة كتبا من أشهرها كِتَابه الْإِبَانَة. انْظُر سير أَعْلَام النبلاء 15/85.

2 - مَجْمُوع الْفَتَاوَى 3/227 - 229.

3 - مَجْمُوع الْفَتَاوَى 3/232.
“এবং মানুষের অন্তরে যে তিক্ততা বা দূরত্ব ছিল, তার সিংহভাগ দূর করা হয়েছে। আমি তাদের কাছে স্পষ্ট করেছি যে, আল-আশআরি ছিলেন ইমাম আহমাদ (রহিমাহুল্লাহ) ও তাঁর সমমনাদের অনুসারী কালামশাস্ত্রবিদদের (المتكلمين) মধ্যে অন্যতম শ্রেষ্ঠ ব্যক্তিত্ব। তিনি তাঁর (ইমাম আহমাদের) পদ্ধতির সাহায্যকারী ছিলেন, যেমনটি আল-আশআরি তাঁর কিতাবসমূহে উল্লেখ করেছেন১ … আর যখন আমি আল-আশআরির বক্তব্য তুলে ধরলাম এবং হাম্বলিগণ তা দেখল, তখন তারা বলল: ‘এটি আল-মুওয়াফফাকের বক্তব্যের চেয়েও উত্তম’, এবং মুসলিমগণ ঐক্যের কারণে আনন্দিত হলো।”২

তিনি (রহিমাহুল্লাহ) মানুষের সাথে সর্বোত্তম উপায়ে কথা বলতেন এবং প্রতিপক্ষের সাথে কোমল ভাষায় আলোচনা করতেন; তবে শরিয়ত যেখানে কঠোর হওয়ার নির্দেশ দিয়েছে, সে ক্ষেত্রগুলো ব্যতীত। তিনি (রহিমাহুল্লাহ) বলেছেন: “কোমল ভাষা ও সর্বোত্তম উপায়ে সম্বোধন করার বিষয়ে আপনারা যা উল্লেখ করেছেন, সে সম্পর্কে আপনারা জানেন যে আমি মানুষের মধ্যে এটি সবচেয়ে বেশি ব্যবহার করি। তবে প্রত্যেক বিষয় তার স্বস্থানেই সুন্দর। যেখানে আল্লাহ ও তাঁর রাসুল কোনো বক্তার সীমালঙ্ঘন এবং কুরআন ও সুন্নাহর বিরুদ্ধে তার শত্রুতার কারণে কঠোর হওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন, সেখানে আমরা তার মোকাবিলা করতে আদিষ্ট। সেক্ষেত্রে তাকে সর্বোত্তম পন্থায় সম্বোধন করতে আমরা আদিষ্ট নই”৩।

তাঁর ইলমি বৈশিষ্ট্যসমূহ:

তিনি (রহিমাহুল্লাহ) বর্ণনার (الأثر) প্রতি অত্যন্ত দৃঢ়ভাবে অবিচল এবং সেটিকে অতিশয় সম্মানকারী ছিলেন। রাসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-কে সম্মান প্রদর্শনে তিনি ছিলেন মানুষের মাঝে অগ্রগণ্য এবং তাঁর অনুসরণে অত্যন্ত আগ্রহী। রাসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) যা নিয়ে এসেছেন, তার সাহায্যে তিনি নিজের সর্বস্ব বিলিয়ে দিতেন। ফলে তিনি তাঁর জ্ঞানকে কুরআন, সুন্নাহ এবং উম্মতের সালাফগণের নস বা মূল পাঠের (النصوص) ওপর ভিত্তি করে গড়ে তুলেছিলেন। তিনি তাঁর রচনা ও বিতর্কে কুরআন ও সুন্নাহর দলিল বা প্রমাণসমূহকে (الأدلة) এমনভাবে উপস্থাপন করতেন, যেন কুরআন ও সুন্নাহ তাঁর চোখের সামনে এবং জিহ্বার অগ্রভাগে রয়েছে। তাঁর সম্পর্কে ইমাম জাহাবি বলেন: “তিনি পারদর্শিতা অর্জন করেছেন...

--------------------------------------------

১ - এটি ছিল আবুল হাসান (রহিমাহুল্লাহ)-এর জীবনের তৃতীয় পর্যায়। তিনি প্রথমে মুতাজিলি (معتزلي) ছিলেন, অতঃপর মুতাজিলা মতবাদ ত্যাগ করেন এবং একটি স্বতন্ত্র মাযহাব প্রতিষ্ঠা করেন, যার দিকে আজও আশআরিগণ নিজেদের সম্বন্ধ করে থাকে। এরপর আল্লাহ তাঁকে আহলে সুন্নাত ওয়াল জামাআতের মাযহাবের দিকে হিদায়াত দান করেন এবং তিনি মিম্বরে দাঁড়িয়ে তাওবা ঘোষণা করেন। তিনি তাঁর সর্বশেষ আকিদার ওপর বেশ কিছু কিতাব রচনা করেন, যার মধ্যে আল-ইবানাহ কিতাবটি সর্বাধিক প্রসিদ্ধ। দেখুন: সিয়ারু আলামিন নুবালা ১৫/৮৫।

২ - মাজমুউল ফাতাওয়া ৩/২২৭ - ২২৯।

৩ - মাজমুউল ফাতাওয়া ৩/২৩২।
(খণ্ড: ১) মাবাহিছুল আমরি আল্লাতী ইনতাকাদাহা শাইখুল ইসলাম ইবনু তাইমিয়্যাহ ফী মাজমুয়িল ফাতাওয়া (পৃষ্ঠা: ৩৭০)
تَفْسِير القرءان، وغاص فِي دَقِيق مَعَانِيه، بطبع سيال وخاطر إِلَى مواقع الْإِشْكَال ميال، واستنبط مِنْهُ أَشْيَاء لم يسْبق إِلَيْهَا، وبرع فِي الحَدِيث وَحفظه، فَقل من يحفظ مَا يحفظه معزواً إِلَى أُصُوله، وصحابته مَعَ شدَّة استحضار لَهُ وَقت إِقَامَة الدَّلِيل، وفَاق النَّاس فِي معرفَة الْفِقْه، وَاخْتِلَاف الْمذَاهب، وفتاوى الصَّحَابَة وَالتَّابِعِينَ بِحَيْثُ إِنَّه إِذا أفتى لم يلْتَزم بِمذهب بل بِمَا يقوم دَلِيله عِنْده، وأتقن الْعَرَبيَّة أصولاً، وفروعاً وتعليلاً، واختلافاً، وَنظر فِي العقليات وَعرف أَقْوَال الْمُتَكَلِّمين، ورد عَلَيْهِم، وَنبهَ على أخطائهم، وحذر مِنْهُم، وَنصر السّنة بأوضح حجج وأبهر براهين”.

وَكَانَ رحمه الله متواضعاً فِي تَعْلِيمه للنَّاس، يجلس تَحت كرسيه ويدع صدر الْمجْلس عِنْد جُلُوسه للتدريس، وَيجْرِي فِي درسه مجْرى السَّيْل، وَيصير مُنْذُ يتَكَلَّم إِلَى أَن يفرغ كالغائب عَن الْحَاضِرين مغمضاً عينه من غير تعجرف، وَلَا توقف، وَلَا لحن، وَإِذا فرغ من درسه فتح عَيْنَيْهِ، وَأَقْبل على النَّاس بِوَجْه طلق بشوش، وَخلق دمث، كَأَنَّهُ قد لَقِيَهُمْ حِينَئِذٍ.

وَكَانَ لَا يسأم مِمَّن يستفتيه، أَو يسْأَله، وَيقف مَعَه حَتَّى يكون هُوَ الَّذِي يُفَارِقهُ كَبِيرا أَو صَغِيرا، رجلا، أَو امْرَأَة، حرا، أَو عبدا، ويجيب السَّائِل ويفهمه بلطف وانبساط.

وَكَانَ رحمه الله عَالما متعمقاً فِي علمه، متبصراً بِالسنةِ، ذاباً عَنْهَا، مُحَاربًا لمخالفتها شَدِيد الاهتمام بِالْعلمِ بِمَا ينْهَى عَنهُ من الْمُنْكَرَات، تأصيلاً، وتفريعاً حَتَّى يَقُول رحمه الله: “أَنا أعلم كل بِدعَة حدثت فِي الْإِسْلَام، وَأول من ابتدعها، وَمَا كَانَ سَبَب ابتداعها”1.

وَكَانَ يَدْعُو إِلَى ذَلِك، ويحض عَلَيْهِ، وَينْهى عَن أَن يقدم الْإِنْسَان على

--------------------------------------------

1 - مَجْمُوع الْفَتَاوَى 3/184.
তিনি কুরআনের তাফসির এবং এর সূক্ষ্ম অর্থসমূহে নিমগ্ন হতেন। তাঁর স্বভাব ছিল সাবলীল এবং চিন্তাশক্তি ছিল জটিল বিষয়গুলোর সমাধানের প্রতি অনুরাগী। তিনি কুরআন থেকে এমন সব বিষয় উদ্ভাবন করতেন যা ইতিপূর্বে কেউ করেনি। তিনি হাদিস শাস্ত্রে এবং তা মুখস্থ রাখায় পারদর্শিতা অর্জন করেছিলেন। তিনি হাদিসের মূল উৎস ও সাহাবীদের পরম্পরাসহ যা মুখস্থ রাখতেন, তা মুখস্থ রাখার মতো লোক খুব কমই ছিল। বিশেষ করে দলিল উপস্থাপনের সময় তাঁর প্রখর স্মরণশক্তি লক্ষ্য করা যেত। ফিকহ শাস্ত্রের জ্ঞান, মাযহাবসমূহের মতপার্থক্য এবং সাহাবী ও তাবিঈগণের ফতোয়া সম্পর্কে তিনি সমকালীনদের ছাড়িয়ে গিয়েছিলেন। এমনকি তিনি যখন ফতোয়া দিতেন, তখন নির্দিষ্ট কোনো মাযহাবের অনুসরণ করতেন না, বরং তাঁর নিকট যে দলিল প্রতিষ্ঠিত হতো, সেটিই তিনি গ্রহণ করতেন। তিনি আরবি ভাষার মূলনীতি, শাখা-প্রশাখা, ভাষাতাত্ত্বিক কারণ ও ব্যাকরণগত মতভেদসমূহে পূর্ণ দক্ষতা অর্জন করেছিলেন। তিনি বুদ্ধিবৃত্তিক জ্ঞানসমূহ পর্যালোচনা করেছিলেন এবং মুতাকাল্লিমদের বক্তব্য সম্পর্কে অবগত ছিলেন। তিনি তাদের খণ্ডন করেছেন, তাদের ভুলত্রুটি সম্পর্কে সতর্ক করেছেন এবং তাদের ব্যাপারে সাবধান করেছেন। তিনি অত্যন্ত স্পষ্ট দলিল ও প্রোজ্জ্বল প্রমাণের মাধ্যমে সুন্নাহকে সাহায্য করেছেন।

তিনি (রহিমাহুল্লাহ) মানুষকে শিক্ষা প্রদানের ক্ষেত্রে অত্যন্ত বিনয়ী ছিলেন। তিনি পাঠদানের সময় নিজের আসনের নিচে বসতেন এবং পাঠদানের আসরের প্রধান স্থানটি ত্যাগ করতেন। পাঠদানকালে তাঁর বাচনভঙ্গি ছিল প্রবহমান স্রোতের মতো। তিনি যখন কথা বলা শুরু করতেন, তখন শেষ না করা পর্যন্ত উপস্থিতদের থেকে যেন বিচ্ছিন্ন হয়ে যেতেন। তিনি চক্ষু বন্ধ করে পাঠ দান করতেন; এতে কোনো কৃত্রিমতা, জড়তা বা ভাষাগত ভুল থাকত না। পাঠ শেষ করে তিনি চোখ খুলতেন এবং অত্যন্ত প্রসন্ন ও হাস্যোজ্জ্বল মুখে এবং নম্র আচরণের সাথে মানুষের দিকে মনোনিবেশ করতেন, যেন তিনি এইমাত্র তাদের সাথে সাক্ষাৎ করেছেন।

ফতোয়া প্রার্থী বা কোনো প্রশ্নকারীর প্রতি তিনি কখনোই বিরক্ত হতেন না। ছোট বা বড়, পুরুষ বা নারী, স্বাধীন বা ক্রীতদাস—যে-ই হোক না কেন, প্রশ্নকারী নিজে থেকে বিদায় না নেওয়া পর্যন্ত তিনি তাঁর সাথেই অবস্থান করতেন। তিনি অত্যন্ত কোমলতা ও প্রসন্নতার সাথে প্রশ্নকর্তাকে উত্তর দিতেন এবং বিষয়টি বুঝিয়ে বলতেন।

তিনি (রহিমাহুল্লাহ) ছিলেন তাঁর ইলমের গভীরে প্রবেশকারী একজন আলিম, সুন্নাহর ব্যাপারে দূরদৃষ্টিসম্পন্ন ও এর সংরক্ষক এবং সুন্নাহর বিরোধিতাকারীদের বিরুদ্ধে লড়াইকারী। তিনি প্রত্যাখ্যাত (منكرات) বিষয়সমূহ থেকে নিষেধ করার ইলমের ব্যাপারে অত্যন্ত যত্নবান ছিলেন—হোক তা মূলনীতিগত বা শাখা-প্রশাখা সংক্রান্ত। এমনকি তিনি (রহিমাহুল্লাহ) বলতেন: “ইসলামে যত বিদআত সৃষ্টি হয়েছে, আমি তার প্রতিটি সম্পর্কে অবগত আছি; কে প্রথম তা উদ্ভাবন করেছে এবং সেই বিদআত সৃষ্টির কারণই বা কী ছিল, তা-ও আমি জানি।”১

তিনি এ বিষয়ের দিকে আহ্বান জানাতেন এবং এর ওপর উৎসাহ প্রদান করতেন। তিনি মানুষকে নিষেধ করতেন কোনো বিষয়ে অগ্রবর্তী হতে...

--------------------------------------------

১ - মাজমুউল ফাতাওয়া ৩/১৮৪।
(খণ্ড: ১) মাবাহিছুল আমরি আল্লাতী ইনতাকাদাহা শাইখুল ইসলাম ইবনু তাইমিয়্যাহ ফী মাজমুয়িল ফাতাওয়া (পৃষ্ঠা: ৩৭১)
إِنْكَار شَيْء بِلَا حجَّة وَلَا علم يَقُول رحمه الله: “وَمِمَّا يجب أَن يعلم أَن الَّذِي يُرِيد أَن يُنكر على النَّاس لَيْسَ لَهُ أَن يُنكر إِلَّا بِحجَّة وَبَيَان، إِذْ لَيْسَ لأحد أَن يلْزم أحدا بِشَيْء، وَلَا يحظر على أحد شَيْئا بِلَا حجَّة خَاصَّة، إِلَّا رَسُول الله صلى الله عليه وسلم الْمبلغ عَن الله الَّذِي أوجب على الْخلق طَاعَته، فِيمَا أَدْرَكته عُقُولهمْ، وَمَا لم تُدْرِكهُ، وَخَبره مُصدق فِيمَا علمناه وَمَا لم نعلمهُ، أما غَيره إِذا قَالَ هَذَا صَوَاب أَو خطأ فَإِن لم يبين ذَلِك بِمَا يجب بِهِ اتِّبَاعه [لم يجب اتِّبَاعه] 1، فَأول دَرَجَات الْإِنْكَار أَن يكون الْمُنكر عَالما بِمَا يُنكره … فَلَيْسَ لأحد من خلق الله كَائِنا من كَانَ أَن يبطل قولا أَو يحرم فعلا إِلَّا بسُلْطَان الْحجَّة”2.

وَلم يكن رحمه الله دَاعيا إِلَى مَذْهَب أحد من النَّاس فِي أصُول الدّين، بل كَانَ منافحاً عَن مَنْهَج السّلف دَاعيا إِلَيْهِ ومنتصراً لَهُ، وَكَانَ يَقُول: “كلما كَانَ عهد الْإِنْسَان بالسلف أقرب كَانَ أعلم بالمعقول وَالْمَنْقُول”3 وَيَقُول رحمه الله: “مَعَ أَنِّي فِي عمري إِلَى سَاعَتِي هَذِه لم أدع أحدا قطّ فِي أصُول الدّين إِلَى مَذْهَب حنبلي وَغير حنبلي، وَلَا انتصرت لذَلِك، وَلَا أذكرهُ فِي كَلَامي، وَلَا أذكر إِلَّا مَا اتّفق عَلَيْهِ سلف الْأمة وأئمتها، وَقد قلت لَهُم غير مرَّة أَنا أمْهل من يخالفني ثَلَاث سِنِين إِن جَاءَ بِحرف وَاحِد عَن أحد من أَئِمَّة الْقُرُون الثَّلَاثَة يُخَالف مَا قلته فَأَنا أقرّ بذلك، وَأما مَا أذكرهُ فأذكره عَن أَئِمَّة الْقُرُون الثَّلَاثَة بألفاظهم وألفاظ من نقل إِجْمَاعهم من عَامَّة الطوائف”4.

وَكَانَ رحمه الله مُتبعا للنصوص ومنهج السّلف الصَّالح رضوَان الله عَلَيْهِم

--------------------------------------------

1 - مَا بَين القوسين زِيَادَة من الباحث ليستقيم الْكَلَام.

2 - مَجْمُوع الْفَتَاوَى 3/254.

3 - مَجْمُوع الْفَتَاوَى 3/228.

4 - مَجْمُوع الْفَتَاوَى 3/229.
প্রমাণ (حجة) ও জ্ঞান ব্যতীত কোনো কিছু প্রত্যাখ্যান বা সমালোচনা করা (إنكار)। তিনি (রাহিমাহুল্লাহ) বলেন: “একটি বিষয় জানা আবশ্যক যে, যে ব্যক্তি মানুষের কোনো কাজের সমালোচনা (إنكار) করতে চায়, তার জন্য প্রমাণ (حجة) ও স্পষ্ট ব্যাখ্যা (بيان) ব্যতীত তা করার অধিকার নেই। কেননা কারো জন্য অন্য কাউকে কোনো বিষয়ে বাধ্য করার অধিকার নেই, এবং বিশেষ কোনো প্রমাণ (حجة) ছাড়া কারোর ওপর কোনো কিছু নিষিদ্ধ করারও অধিকার নেই; কেবল আল্লাহর পক্ষ থেকে বার্তা পৌঁছানো রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) ব্যতীত, যাঁর আনুগত্য করা আল্লাহ সৃষ্টিজীবের ওপর আবশ্যক করেছেন—চাই তা তাদের বুদ্ধিগোচর হোক বা না হোক। তাঁর প্রদত্ত সংবাদ (خبر) সত্য বলে স্বীকৃত, চাই তা আমরা জানি বা না জানি। আর তিনি ব্যতীত অন্য কেউ যদি বলে এটি সঠিক অথবা এটি ভুল, আর যদি সে অনুসরণের বাধ্যবাধকতার সপক্ষে প্রমাণ পেশ না করে, [তবে তা অনুসরণ করা আবশ্যক নয়] ১। সুতরাং সমালোচনা বা প্রতিবাদের (إنكار) প্রথম স্তর হলো সমালোচনাকারীকে সে বিষয়ে বিজ্ঞ হতে হবে যা সে প্রত্যাখ্যান করছে … তাই আল্লাহর সৃষ্টির মধ্যে কারোর জন্য, সে যেই হোক না কেন, প্রমাণের (حجة) জোরালো ভিত্তি ব্যতীত কোনো বক্তব্য বাতিল করা বা কোনো কাজ হারাম ঘোষণা করা বৈধ নয়।”২

তিনি (রাহিমাহুল্লাহ) দ্বীনের মূলনীতিসমূহের (أصول الدين) ক্ষেত্রে মানুষের মধ্য থেকে বিশেষ কারো মাযহাবের দিকে আহ্বানকারী ছিলেন না, বরং তিনি সালাফদের মানহাজ বা পদ্ধতির প্রতিরক্ষা করতেন, সেদিকে আহ্বান জানাতেন এবং তার সহায়তা করতেন। তিনি বলতেন: “মানুষের সময়কাল সালাফদের যত কাছাকাছি হবে, সে যুক্তিগ্রাহ্য বিষয় (معقول) এবং বর্ণিত দলীল (منقول) সম্পর্কে তত বেশি জ্ঞানী হবে।”৩ এবং তিনি (রাহিমাহুল্লাহ) আরও বলতেন: “আমার জীবনের বর্তমান মুহূর্ত পর্যন্ত আমি দ্বীনের মূলনীতিসমূহের (أصول الدين) ক্ষেত্রে কাউকে কখনো হাম্বলি বা অন্য কোনো মাযহাবের দিকে আহ্বান করিনি, আমি এর সপক্ষে অবস্থান নেইনি এবং আমার আলোচনায় এর উল্লেখও করিনি। আমি কেবল উম্মাহর সালাফ এবং ইমামগণ যে বিষয়ে একমত হয়েছেন কেবল তাই উল্লেখ করি। আমি তাদের একাধিকবার বলেছি, যারা আমার বিরোধিতা করে তাদের আমি তিন বছর সময় দেব; যদি তারা প্রথম তিন প্রজন্মের ইমামদের থেকে একটি শব্দও আনতে পারে যা আমার বক্তব্যের পরিপন্থী, তবে আমি তা মেনে নেব। আর আমি যা উল্লেখ করি, তা প্রথম তিন প্রজন্মের ইমামদের শব্দেই বর্ণনা করি অথবা সর্বস্তরের দলসমূহের মধ্য থেকে যারা তাদের সর্বসম্মত সিদ্ধান্ত (إجماع) বর্ণনা করেছেন তাদের শব্দে উল্লেখ করি।”৪

তিনি (রাহিমাহুল্লাহ) পবিত্র মূলপাঠসমূহ (نصوص) এবং সালাফে সালেহীনের (আল্লাহ তাঁদের প্রতি সন্তুষ্ট হোন) মানহাজের অনুসারী ছিলেন।

--------------------------------------------

১ - বন্ধনীর মধ্যবর্তী অংশটুকু গবেষক কর্তৃক সংযোজিত যাতে বক্তব্য সুসংগত হয়।

২ - মাজমুউল ফাতাওয়া ৩/২৫৪।

৩ - মাজমুউল ফাতাওয়া ৩/২২৮।

৪ - মাজমুউল ফাতাওয়া ৩/২২৯।
(খণ্ড: ১) মাবাহিছুল আমরি আল্লাতী ইনতাকাদাহা শাইখুল ইসলাম ইবনু তাইমিয়্যাহ ফী মাজমুয়িল ফাতাওয়া (পৃষ্ঠা: ৩৭২)
فِي نِسْبَة معِين إِلَى تَكْفِير أَو تفسيق، ناهياً عَن التسرع فِي ذَلِك، مطالباً بالتثبت فِي ذَلِك وَاتِّبَاع الشُّرُوط الشَّرْعِيَّة فِيهِ يَقُول رحمه الله “إِنِّي دَائِما وَمن جالسني يعلم ذَلِك مني أَنِّي من أعظم النَّاس نهيا عَن أَن ينْسب معِين إِلَى تَكْفِير، وتفسيق، ومعصية، إِلَّا إِذا علم أَنه قد قَامَت عَلَيْهِ الْحجَّة الرسالية الَّتِي من خالفها كَانَ كَافِرًا تَارَة، وفاسقاً أُخْرَى، وعاصياً أُخْرَى، وَأَنِّي أقرر أَن الله غفر لهَذِهِ الْأمة خطأها، وَذَلِكَ يعم الْخَطَأ فِي الْمسَائِل الخبرية القولية، والمسائل العملية”1.

وَكَانَ رحمه الله ذَا علم متبحر، مستظهراً لأقوال السّلف الصَّالح رضوَان الله عَلَيْهِم والأدلة النقلية، والعقلية، وَهَذَا ظَاهر بَيِّن تَمام الْبَيَان فِي مَجْمُوع الْفَتَاوَى، وَمن ذَلِك أَنه رحمه الله سُئِلَ عَن رجلَيْنِ تجادلا فِي الأحرف الَّتِي أنزلهَا الله على آدم، فَقَالَ أَحدهمَا: إِنَّهَا قديمَة، لَيْسَ لَهَا مُبْتَدأ، وشكلها ونقطها مُحدث، وَقَالَ الآخر: لَيست بِكَلَام الله، وَهِي مخلوقة، بشكلها، ونقطها، وَالْقَدِيم هُوَ الله وَكَلَامه مِنْهُ بَدَأَ وَإِلَيْهِ يعود منزل غير مَخْلُوق وَلكنه كتب بهَا وسألا أَيهمَا أصوب قولا وَأَصَح اعتقاداً؟

فَأجَاب رحمه الله عَن هَذِه الْمَسْأَلَة من صفحة 37 إِلَى نِهَايَة صفحة 116 من المجلد الثَّانِي عشر من مَجْمُوع الْفَتَاوَى، وَتكلم عَن الْمَسْأَلَة تأصيلاً، وتقعيداً، وتفريعاً وتدليلاً، وَنقل أَقْوَال سلف الْأمة وأئمتها بنصوصهم، حَتَّى يخيل للقارئ أَن شيخ الْإِسْلَام قد قضى فِي تحريرها أَيَّامًا عديدة، وراجع مئات الْكتب، وَإِذا بِهِ رحمه الله يَقُول فِي آخر الْجَواب “وَلَكِن هَذَا الْجَواب كتب وَصَاحبه مستوفز فِي قعدة وَاحِدَة” 2.

وَسُئِلَ فِي سُؤال آخر عَن قوم يَقُولُونَ “كَلَام النَّاس وَغَيرهم قديم … وَلَا فرق بَين كَلَام الله وَكَلَامهم فِي الْقدَم إِلَّا من جِهَة الثَّوَاب، وَقَالَ قوم مِنْهُم بل

--------------------------------------------

1 - مَجْمُوع الْفَتَاوَى 3/229.

2 - مَجْمُوع الْفَتَاوَى 12/116.
কোনো নির্দিষ্ট ব্যক্তিকে কাফির সাব্যস্ত করা (تكفير) অথবা পাপাচারী সাব্যস্ত করার (تفسيق) ক্ষেত্রে তিনি তাড়াহুড়া করতে নিষেধ করতেন এবং এ ব্যাপারে সুনিশ্চিত হওয়া ও শরয়ি শর্তাবলি অনুসরণের দাবি জানাতেন। আল্লাহ তাঁর ওপর রহমত বর্ষণ করুন, তিনি বলেন: “আমি সর্বদা—এবং যারা আমার মজলিসে বসেছে তারা আমার থেকে এ কথা জানে—কোনো নির্দিষ্ট ব্যক্তিকে কাফির সাব্যস্ত করা (تكفير), পাপাচারী সাব্যস্ত করা (تفسيق) অথবা পাপী সাব্যস্ত করার (معصية) বিষয়ে সবচেয়ে কঠোরভাবে নিষেধকারী; যতক্ষণ না জানা যায় যে, তার ওপর সেই রিসালতের দলিল প্রতিষ্ঠিত হয়েছে, যার বিরোধিতা করলে কেউ কখনো কাফির (كافر), কখনো ফাসেক (فاسق), আবার কখনো অবাধ্য (عاصي) হিসেবে গণ্য হয়। আমি এটিও সাব্যস্ত করি যে, আল্লাহ এই উম্মতের ভুলভ্রান্তি ক্ষমা করে দিয়েছেন; আর তা সংবাদ সংক্রান্ত বক্তব্যধর্মী বিষয় এবং আমল সংক্রান্ত বিষয়সমূহ—উভয় ক্ষেত্রেই ভুলকে অন্তর্ভুক্ত করে।”১.

আল্লাহ তাঁর ওপর রহমত বর্ষণ করুন, তিনি অগাধ ইলমের অধিকারী ছিলেন এবং সলফে সালেহীন (আল্লাহ তাঁদের প্রতি সন্তুষ্ট হোন)-এর বক্তব্যসমূহ এবং তাত্ত্বিক ও যৌক্তিক দলিলসমূহের ওপর গভীর পাণ্ডিত্য রাখতেন। এটি মাজমু আল-ফাতাওয়া গ্রন্থে অত্যন্ত স্পষ্টভাবে প্রতীয়মান। এরই একটি উদাহরণ হলো, তাঁকে (আল্লাহ তাঁর ওপর রহমত বর্ষণ করুন) এমন দুইজন ব্যক্তি সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করা হয়েছিল যারা আল্লাহর পক্ষ থেকে আদমের ওপর অবতীর্ণ বর্ণমালা সম্পর্কে তর্কে লিপ্ত হয়েছিল। তাদের একজন বলেছিল: “নিশ্চয়ই তা অনাদি, যার কোনো শুরু নেই; তবে এর রূপ ও নুকতাগুলো (চিহ্ন) পরবর্তীকালে সৃষ্ট।” অপরজন বলেছিল: “সেগুলো আল্লাহর কালাম নয়, বরং তা সৃষ্ট; এর রূপ ও নুকতা সহকারে। অনাদি হলেন কেবল আল্লাহ এবং তাঁর কালাম তাঁর থেকেই শুরু হয়েছে এবং তাঁর দিকেই ফিরে যাবে; তা অবতীর্ণ, সৃষ্ট নয়, তবে তিনি তা দ্বারা লিখেছেন।” তারা জিজ্ঞাসা করেছিল যে, তাদের মধ্যে কার বক্তব্য বেশি সঠিক এবং কার আকিদা অধিক বিশুদ্ধ?

আল্লাহ তাঁর ওপর রহমত বর্ষণ করুন, তিনি এই মাসআলার উত্তর মাজমু আল-ফাতাওয়া-এর দ্বাদশ খণ্ডের ৩৭ পৃষ্ঠা থেকে শুরু করে ১১৬ পৃষ্ঠার শেষ পর্যন্ত দিয়েছেন। তিনি মাসআলাটি এর মূলনীতি, ভিত্তি, শাখা-প্রশাখা ও দলিলসহ বিস্তারিত আলোচনা করেছেন এবং উম্মতের সলফ ও ইমামদের বক্তব্যসমূহ তাঁদের মূল উদ্ধৃতিসহ বর্ণনা করেছেন; এমনকি পাঠকের মনে হবে যে, শাইখুল ইসলাম এটি সংকলনে অনেক দিন অতিবাহিত করেছেন এবং শত শত কিতাব পর্যবেক্ষণ করেছেন। অথচ উত্তরের শেষে তিনি (আল্লাহ তাঁর ওপর রহমত বর্ষণ করুন) বলছেন, “কিন্তু এই উত্তরটি লেখা হয়েছে যখন এর লেখক অত্যন্ত তাড়াহুড়ার মধ্যে মাত্র এক বৈঠকে উপবিষ্ট ছিলেন।” ২.

অন্য একটি প্রশ্নে তাঁকে এমন এক জাতি সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করা হয়েছিল যারা বলে, “মানুষ ও অন্যদের কথা অনাদি … এবং অনাদি হওয়ার দিক থেকে আল্লাহর কালাম ও তাদের কালামের মধ্যে সওয়াব ছাড়া অন্য কোনো পার্থক্য নেই।” তাদের একটি দল আরও বলল...

--------------------------------------------

১ - মাজমু আল-ফাতাওয়া ৩/২২৯।

২ - মাজমু আল-ফাতাওয়া ১২/১১৬।
(খণ্ড: ১) মাবাহিছুল আমরি আল্লাতী ইনতাকাদাহা শাইখুল ইসলাম ইবনু তাইমিয়্যাহ ফী মাজমুয়িল ফাতাওয়া (পৃষ্ঠা: ৩৭৩)
أَكْثَرهم أصوات الْحمير وَالْكلاب كَذَلِك، وَلما قرئَ عَلَيْهِم مَا نقل عَن الإِمَام أَحْمد ردا على قَوْلهم، تأولوا ذَلِك وَقَالُوا: إِن أَحْمد إِنَّمَا قَالَ ذَلِك خوفًا من النَّاس، فَهَل هَؤُلَاءِ مصيبون أَو مخطئون؟ وَهل يكفرون بالإصرار على ذَلِك أم لَا؟ وَهل الَّذِي نقل عَن الإِمَام أَحْمد حق كَمَا زَعَمُوا أم لَا؟

فَأجَاب رحمه الله عَن هَذِه الْمَسْأَلَة من صفحة 323 إِلَى صفحة 501 من المجلد الثَّانِي عشر بِنَفس منهجه فِي الْمَسْأَلَة السَّابِقَة، مَعَ ذكر الْمسَائِل المرتبطة بالسؤال، بترتيب عَجِيب وتتابع دَقِيق، ودقة فِي النَّقْل، وكل هَذَا فِي جلْسَة وَاحِدَة وَصَاحب الْفَتْوَى جَالس عِنْده عجلَان حَيْثُ قَالَ رحمه الله “لَكِن هَذَا الْموضع فِيهِ اشْتِبَاه وإشكال، لَا تحْتَمل تحريره وَبسطه هَذِه الْفَتْوَى، لِأَن صَاحبهَا مستوفز عجلَان يُرِيد أَخذهَا” 1.

وَهَذَا تَمْثِيل فَقَط وَقَلِيل من كثير وغيض من فيض من الْمسَائِل الْمَعْرُوفَة عَن الشَّيْخ الَّتِي تدل على غزارة علمه وتمكنه من الْعُلُوم، واستحضاره للدلائل، ودقة نَقله، وَشدَّة حفظه لما أثر عَن السّلف فِي الْعُلُوم.

--------------------------------------------

1 - مَجْمُوع الْفَتَاوَى 12/416.
তাদের অধিকাংশের শব্দ গাধা ও কুকুরের শব্দের ন্যায়; একইভাবে, যখন তাদের নিকট ইমাম আহমাদ থেকে বর্ণিত খণ্ডনমূলক বক্তব্য পাঠ করা হলো, তখন তারা সেটির অপব্যাখ্যা (تأويل) করল এবং বলল: ইমাম আহমাদ কেবল মানুষের ভয়েই এমনটি বলেছেন। এমতাবস্থায় তারা কি সঠিক (مصيبون) নাকি ভ্রান্ত (مخطئون)? তারা কি এই বিষয়ের ওপর অটল থাকার কারণে কাফির সাব্যস্ত হবে কি না? আর ইমাম আহমাদ থেকে যা বর্ণিত হয়েছে তা কি সত্য (حق) যেমনটি তারা দাবি করেছে, নাকি নয়?

তিনি (রহিমাহুল্লাহ) এই মাসআলার উত্তর ১২তম খণ্ডের ৩২৩ পৃষ্ঠা থেকে ৫০১ পৃষ্ঠা পর্যন্ত তাঁর পূর্ববর্তী মাসআলার অনুসৃত পদ্ধতিতে প্রদান করেছেন। এতে তিনি অত্যন্ত চমৎকার বিন্যাস, সূক্ষ্ম ধারাবাহিকতা এবং বর্ণনার (النقل) নির্ভুলতার সাথে সংশ্লিষ্ট বিষয়সমূহ উল্লেখ করেছেন। এই দীর্ঘ উত্তর তিনি এক বৈঠকে প্রদান করেছিলেন, যখন ফতোয়া প্রার্থী ব্যক্তি অত্যন্ত তড়িঘড়ি করে তাঁর নিকটে উপবিষ্ট ছিলেন। সেখানে তিনি (রহিমাহুল্লাহ) বলেন: "তবে এই বিষয়টি অস্পষ্টতা ও জটিলতাপূর্ণ, যার বিশ্লেষণ (تحرير) ও বিস্তারিত ব্যাখ্যা প্রদান করা এই ফতোয়ায় সম্ভব নয়; কারণ এর আবেদনকারী অস্থির ও তাড়াহুড়ো করছেন, তিনি এখনই এটি নিয়ে যেতে চান" ১।

এটি কেবল একটি দৃষ্টান্ত এবং অগাধ ইলমের যৎসামান্য নমুনা মাত্র, যা শাইখের ঐ সকল সুপরিচিত মাসআলাসমূহের অন্তর্ভুক্ত যা তাঁর জ্ঞানের গভীরতা, ইলমের ওপর পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ, প্রমাণাদি (الدلائل) উপস্থিত করার ক্ষমতা, বর্ণনার (نقل) সূক্ষ্মতা এবং সালাফদের থেকে বর্ণিত ইলম সংরক্ষণে তাঁর প্রবল স্মৃতিশক্তির (حفظ) পরিচয় দেয়।

--------------------------------------------

১ - মাজমুউল ফাতাওয়া ১২/৪১৬।
(খণ্ড: ১) মাবাহিছুল আমরি আল্লাতী ইনতাকাদাহা শাইখুল ইসলাম ইবনু তাইমিয়্যাহ ফী মাজমুয়িল ফাতাওয়া (পৃষ্ঠা: ৩৭৩)
‌‌الْمطلب الرَّابِع: شُيُوخه وتلاميذه

شُيُوخه:

أولع الشَّيْخ بِطَلَب الْعلم من صغره، وأوقف حَيَاته على طلب الْعلم، فَسمع من كثير من الشُّيُوخ فَسمع من أَكثر من مِائَتي شيخ مِنْهُم:

1 - وَالِده، عبد الْحَلِيم بن عبد السَّلَام بن عبد الله بن تَيْمِية الْحَرَّانِي شهَاب الدّين (627 - 682 هـ) 2.

--------------------------------------------

2 - انْظُر تَرْجَمته فِي الْمَقْصد الأرشد 2/166 وذيل طَبَقَات الْحَنَابِلَة 2/310.
চতুর্থ পরিচ্ছেদ: তাঁর শিক্ষক ও ছাত্রগণ

তাঁর শিক্ষকবৃন্দ:

শায়খ শৈশব থেকেই জ্ঞান অর্জনে অত্যন্ত অনুরাগী ছিলেন এবং তিনি জ্ঞান অর্জনের লক্ষ্যে নিজের জীবন উৎসর্গ করেছিলেন। তিনি বহু শায়খের নিকট থেকে হাদিস শ্রবণ করেছেন (سمع)। তিনি দুই শতাধিক শায়খের (شيخ) নিকট থেকে শ্রবণ করেছেন (سمع), তাঁদের মধ্যে রয়েছেন:

১ - তাঁর পিতা, আবদুল হালীম ইবনে আবদুস সালাম ইবনে আবদুল্লাহ ইবনে তাইমিয়্যাহ আল-হাররানী শিহাবুদ্দিন (৬২৭ - ৬৮২ হিজরি) ২।

--------------------------------------------

২ - তাঁর জীবনী দেখুন: আল-মাকসাদুল আরশাদ ২/১৬৬ এবং যাইল তাবাকাতিল হানাবিলাহ ২/৩১০।
(খণ্ড: ১) মাবাহিছুল আমরি আল্লাতী ইনতাকাদাহা শাইখুল ইসলাম ইবনু তাইমিয়্যাহ ফী মাজমুয়িল ফাতাওয়া (পৃষ্ঠা: ৩৭৪)
2 - مُحَمَّد بن عبد الْقوي بن بدران الْمَقْدِسِي الصَّالِحِي الْحَنْبَلِيّ (630 - 699هـ (1.

3 - عبد الرَّحْمَن بن مُحَمَّد بن أَحْمد بن مُحَمَّد بن قدامَة الْمَقْدِسِي الصَّالِحِي (597 - 682 هـ (2.

4 - منجى بن عُثْمَان بن أسعد بن المنجى الدِّمَشْقِي الْحَنْبَلِيّ زين الدّين (631 - 695هـ (3.

5 - عَبَّاس بن عمر بن عَبْدَانِ البعلي (ت 681 هـ (4.

6 - مُحَمَّد بن إِسْمَاعِيل بن أبي سعد بن عَليّ الشَّيْبَانِيّ الْآمِدِيّ الْحَنْبَلِيّ (633 - 704هـ (5.

7 - أَحْمد بن عبد الدايم بن نعْمَة بن أَحْمد زين الدّين أَبُو الْعَبَّاس (575 - 668 هـ (6.

تلاميذه:

عَاشَ الشَّيْخ باذلاً نَفسه فِي نشر الْعلم، وَقد أقبل على الْأَخْذ عَنهُ تلاميذ كَثِيرُونَ اشْتهر كثير مِنْهُم بِالْعلمِ والإمامة فِي الدّين وَمن هَؤُلَاءِ:

1 - الإِمَام، الْحَافِظ، مؤرخ الْإِسْلَام، شمس الدّين أَبُو عبد الله مُحَمَّد بن أَحْمد الذَّهَبِيّ (ت 748 هـ (7.

2 - الإِمَام، الْحَافِظ، شيخ الْإِسْلَام، مُحَمَّد بن أبي بكر بن أَيُّوب الزرعي

--------------------------------------------

1 - انْظُر تَرْجَمته فِي الْمَقْصد الأرشد 2/459 وذيل طَبَقَات الْحَنَابِلَة 2/342.

2 - انْظُر تَرْجَمته فِي الْمَقْصد الأرشد 2/107 وذيل طَبَقَات الْحَنَابِلَة 2/304.

3 - انْظُر تَرْجَمته فِي ذيل طَبَقَات الْحَنَابِلَة 2/332 والمقصد الأرشد 3/41.

4 - انْظُر تَرْجَمته فِي الْمَقْصد الأرشد 2/277.

5 - انْظُر تَرْجَمته فِي الْمَقْصد الأرشد 2/379 وذيل طَبَقَات الْحَنَابِلَة 2/352.

6 - انْظُر تَرْجَمته فِي الْمَقْصد الأرشد 1/130 وذيل طَبَقَات الْحَنَابِلَة 2/278.

7 - انْظُر تَرْجَمته فِي طَبَقَات الشَّافِعِيَّة للأسنوي 1/273.
২ - মুহাম্মদ বিন আব্দুল কউয়ি বিন বদরান আল-মাকদিসি আস-সালিহি আল-হানবালি (৬৩০ - ৬৯৯ হিজরি) (১)।

৩ - আব্দুর রহমান বিন মুহাম্মদ বিন আহমদ বিন মুহাম্মদ বিন কুদামা আল-মাকদিসি আস-সালিহি (৫৯৭ - ৬৮২ হিজরি) (২)।

৪ - মুঞ্জা বিন উসমান বিন আস'াদ বিন আল-মুঞ্জা আদ-দিমাশকি আল-হানবালি জয়নুদ্দিন (৬৩১ - ৬৯৫ হিজরি) (৩)।

৫ - আব্বাস বিন উমর বিন আবদান আল-বালি (মৃত্যু ৬৮১ হিজরি) (৪)।

৬ - মুহাম্মদ বিন ইসমাইল বিন আবি সা'দ বিন আলী আশ-শায়বানি আল-আমিদি আল-হানবালি (৬৩৩ - ৭০৪ হিজরি) (৫)।

৭ - আহমদ বিন আব্দুল দায়েম বিন নি'মাহ বিন আহমদ জয়নুদ্দিন আবু আল-আব্বাস (৫৭৫ - ৬৬৮ হিজরি) (৬)।

তাঁর ছাত্রবৃন্দ:

শায়খ ইলম প্রসারে নিজেকে বিলিয়ে দিয়ে জীবন অতিবাহিত করেছেন। বহু শিক্ষার্থী তাঁর নিকট থেকে ইলম অর্জনের জন্য মনোনিবেশ করেছিলেন, যাঁদের মধ্যে অনেকেই ইলম এবং দ্বীনের ইমামত বা নেতৃত্বের ক্ষেত্রে প্রসিদ্ধি লাভ করেছেন। তাঁদের মধ্য হতে কয়েকজন হলেন:

১ - ইমাম, হাফেজ (الحافظ), ইসলামের ইতিহাসবিদ, শামসুদ্দিন আবু আব্দুল্লাহ মুহাম্মদ বিন আহমদ আল-জাহাবি (মৃত্যু ৭৪৮ হিজরি) (৭)।

২ - ইমাম, হাফেজ (الحافظ), শায়খুল ইসলাম, মুহাম্মদ বিন আবু বকর বিন আইয়ুব আল-জারয়ি

--------------------------------------------

১ - তাঁর জীবনী দেখুন: আল-মাকসাদুল আরশাদ ২/৪৫৯ এবং জাইলু তাবাকাতিল হানাবিলাহ ২/৩৪২।

২ - তাঁর জীবনী দেখুন: আল-মাকসাদুল আরশাদ ২/১০৭ এবং জাইলু তাবাকাতিল হানাবিলাহ ২/৩০৪।

৩ - তাঁর জীবনী দেখুন: জাইলু তাবাকাতিল হানাবিলাহ ২/৩৩২ এবং আল-মাকসাদুল আরশাদ ৩/৪১।

৪ - তাঁর জীবনী দেখুন: আল-মাকসাদুল আরশাদ ২/২৭৭।

৫ - তাঁর জীবনী দেখুন: আল-মাকসাদুল আরশাদ ২/৩৭৯ এবং জাইলু তাবাকাতিল হানাবিলাহ ২/৩৫২।

৬ - তাঁর জীবনী দেখুন: আল-মাকসাদুল আরশাদ ১/১৩০ এবং জাইলু তাবাকাতিল হানাবিলাহ ২/২৭৮।

৭ - তাঁর জীবনী দেখুন: আল-আসনাবি কৃত তাবাকাতুশ শাফিইয়্যাহ ১/২৭৩।
(খণ্ড: ১) মাবাহিছুল আমরি আল্লাতী ইনতাকাদাহা শাইখুল ইসলাম ইবনু তাইমিয়্যাহ ফী মাজমুয়িল ফাতাওয়া (পৃষ্ঠা: ৩৭৫)
الدِّمَشْقِي ابْن قيم الجوزية"مُحَمَّد بن أبي بكر الزرعي " [ابْن قيم الجوزية] (691 - 751 هـ) 1.

3 - الإِمَام، الْحَافِظ، الْمُحدث، مُحَمَّد بن أَحْمد بن عبد الْهَادِي (704 - 744 هـ (2.

4 - ابْن قَاضِي الْجَبَل، أَحْمد بن الْحسن بن عبد الله بن مُحَمَّد بن أَحْمد بن قدامَة الْمَقْدِسِي الصَّالِحِي (693 - 771 هـ (3.

5 - عماد الدّين، أَبُو الْفِدَاء ابْن كثير،: - إِسْمَاعِيل بن عمر بن كثير بن ضوء بن ذرع الْقرشِي الْبَصْرِيّ ثمَّ الدِّمَشْقِي (671 - 774 هـ (4.

6 - الْحَافِظ، خَلِيل بن كيكلدي بن عبد الله العلائي، الدِّمَشْقِي، الشَّافِعِي (694 - 761 هـ (5.

--------------------------------------------

1 - انْظُر تَرْجَمته فِي ذيل طَبَقَات الْحَنَابِلَة 2/447 والدرر الكامنة 4/21.

2 - انْظُر تَرْجَمته فِي الْمَقْصد الأرشد 2/360 وذيل طَبَقَات الْحَنَابِلَة 2/436.

3 - انْظُر تَرْجَمته فِي الْمَقْصد الأرشد 1/92.

4 - انْظُر تَرْجَمته فِي طَبَقَات الْمُفَسّرين للداودي 1/111.

5 - انْظُر تَرْجَمته فِي طَبَقَات الشَّافِعِيَّة للأسنوي 2/109.
আদ-দামেস্কি ইবনুল কাইয়্যিম আল-জাওজিয়্যাহ "মুহাম্মদ বিন আবি বকর আল-জারয়ি" [ইবনুল কাইয়্যিম আল-জাওজিয়্যাহ] (৬৯১ - ৭৫১ হিজরি) ১।

৩ - ইমাম (الإمام), হাফেজ (الحافظ), মুহাদ্দিস (المحدث), মুহাম্মদ বিন আহমদ বিন আব্দুল হাদি (৭০৪ - ৭৪৪ হিজরি) (২।

৪ - ইবনু কাদিল জাবাল, আহমদ বিন আল-হাসান বিন আব্দুল্লাহ বিন মুহাম্মদ বিন আহমদ বিন কুদামা আল-মাকদিসি আস-সালিহি (৬৯৩ - ৭৭১ হিজরি) (৩।

৫ - ইমাদুদ্দিন, আবুল ফিদা ইবনু কাসির: - ইসমাইল বিন উমর বিন কাসির বিন দাউ বিন যারআ আল-কুরাশি আল-বাসরি অতপর আদ-দামেস্কি (৬৭১ - ৭৭৪ হিজরি) (৪।

৬ - হাফেজ (الحافظ), খলিল বিন কাইকালদি বিন আব্দুল্লাহ আল-আলায়ি, আদ-দামেস্কি, আশ-শাফেয়ি (৬৯৪ - ৭৬১ হিজরি) (৫।

--------------------------------------------

১ - তার জীবনী দেখুন জাইলু তাবাকাতিল হানাবিলা ২/৪৪৭ এবং আদ-দুরারুল কামিনাহ ৪/২১-এ।

২ - তার জীবনী দেখুন আল-মাকসাদুল আরশাদ ২/৩৬০ এবং জাইলু তাবাকাতিল হানাবিলা ২/৪৩৬-এ।

৩ - তার জীবনী দেখুন আল-মাকসাদুল আরশাদ ১/৯২-এ।

৪ - তার জীবনী দেখুন দাউদির তাবাকাতুল মুফাসসিরিন ১/১১১-এ।

৫ - তার জীবনী দেখুন আসনভির তাবাকাতুশ শাফিইয়্যাহ ২/১০৯-এ।
(খণ্ড: ১) মাবাহিছুল আমরি আল্লাতী ইনতাকাদাহা শাইখুল ইসলাম ইবনু তাইমিয়্যাহ ফী মাজমুয়িল ফাতাওয়া (পৃষ্ঠা: ৩৭৫)
‌‌الْمطلب الْخَامِس: جهاده وابتلاؤه

كَانَ رحمه الله فِي طَلِيعَة الْمُجَاهدين للتتار بِنَفسِهِ، وَكَانَ يحث السُّلْطَان والولاة على الْجِهَاد، ويبشرهم بنصر الله، ويحذرهم من مُخَالفَة أمره بترك الْجِهَاد، وَكَانَ يخْطب النَّاس ويحثهم على الْقِتَال، وبذل النَّفس والنفيس فِي جِهَاد أَعدَاء الله، كَمَا كَانَ يحارب الْبدع بشتى صورها وألوانها، وَيعْمل للْقَضَاء على مظاهرها، باذلاً كل وقته لبَيَان الْحق للْمُسلمين، والدعوة إِلَى العقيدة السلفية، المبنية على كتاب الله وَسنة نبيه صلى الله عليه وسلم، وَإِلَى تحكيم الْأُصُول الشَّرْعِيَّة، فَكَانَ سَيْفا مسلولاً على الْمُخَالفين للسّنة وشجى فِي حلوق أهل الْأَهْوَاء المبتدعين وإماماً قَائِما بِبَيَان الْحق ونصرة الدّين، ناصراً للسّنة، وَإِن
পঞ্চম পরিচ্ছেদ: তাঁর জিহাদ ও পরীক্ষা

তিনি (আল্লাহ তাঁর ওপর রহমত বর্ষণ করুন) সশরীরে তাতারদের বিরুদ্ধে জিহাদকারী মুজাহিদদের অগ্রভাগে ছিলেন। তিনি সুলতান ও শাসকবর্গকে জিহাদের প্রতি উদ্বুদ্ধ করতেন, তাঁদের আল্লাহর পক্ষ থেকে সাহায্যের সুসংবাদ দিতেন এবং জিহাদ বর্জন করে আল্লাহর আদেশ অমান্য করার ব্যাপারে সতর্ক করতেন। তিনি মানুষের মাঝে খুতবা দিতেন এবং আল্লাহর শত্রুদের বিরুদ্ধে জিহাদে জান ও মূল্যবান সব কিছু বিলিয়ে দিয়ে লড়াই করতে উৎসাহিত করতেন। পাশাপাশি তিনি বিদআতের (بدعة) সকল রূপ ও বৈচিত্র্যের বিরুদ্ধে লড়াই করতেন এবং এর প্রকাশ্য নিদর্শনগুলো নির্মূল করতে সচেষ্ট থাকতেন। তিনি মুসলিমদের কাছে সত্য স্পষ্ট করতে, আল্লাহর কিতাব ও তাঁর নবীর (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) সুন্নাহর (سنة) ওপর ভিত্তি করে প্রতিষ্ঠিত সালাফী আকিদাহর দাওয়াত দিতে এবং শরয়ি মূলনীতিসমূহ (الأصول الشرعية) বাস্তবায়নের লক্ষে নিজের পূর্ণ সময় ব্যয় করতেন। তিনি সুন্নাহর (سنة) বিরোধীদের বিরুদ্ধে এক উন্মুক্ত তরবারি এবং প্রবৃত্তি পূজারী বিদআতিদের (مبتدعين) জন্য গলার কাঁটা স্বরূপ ছিলেন। তিনি ছিলেন সত্য প্রকাশে, দ্বীনের সাহায্যে এবং সুন্নাহর (سنة) সমর্থনে এক অটল ইমাম, আর যদিও...
(খণ্ড: ১) মাবাহিছুল আমরি আল্লাতী ইনতাকাদাহা শাইখুল ইসলাম ইবনু তাইমিয়্যাহ ফী মাজমুয়িল ফাতাওয়া (পৃষ্ঠা: ৩৭৬)
خَالَفت مَا عَلَيْهِ النَّاس، مِمَّا أَصَابَهُ بمحن وشدائد يَقُول الذَّهَبِيّ رحمه الله: “وَلَقَد نصر السّنة الْمَحْضَة، والطريقة السلفية، وَاحْتج لَهَا ببراهين ومقدمات.... حَتَّى قَامَ عَلَيْهِ خلق من عُلَمَاء مصر وَالشَّام قيَاما لَا مزِيد عَلَيْهِ، وبدَّعوه، وناظروه، وكابروه، وَهُوَ ثَابت لَا يداهن وَلَا يُمَارِي بل يَقُول الْحق المر الَّذِي أَدَّاهُ إِلَيْهِ اجْتِهَاده” وَقد كَانَ خصومه يكيدون لَهُ حَتَّى تمكنوا من جعل السُّلْطَان ونوابه يسألونه عَن معتقده فِي عدَّة مجَالِس، وَلَكِن الْحق أَبْلَج وَقد كَانَ كَمَا قَالَ عَنهُ الذَّهَبِيّ: “وَكم من نوبَة قد رَمَوْهُ من قَوس وَاحِدَة فينجيه الله” وَشاء الله أَن يَبْتَلِي الشَّيْخ فأوذي فِي ذَات الله من الْمُخَالفين، وأخيف فِي نصر السّنة الْمَحْضَة، وامتحن مرَارًا، وَاتفقَ أهل الْأَهْوَاء والبدع والشهوات على معاداته، وجُلُّ من عَادَاهُ تستروا باسم الْعلمَاء والزمرة الفاخرة، فتخرصوا عَلَيْهِ بِالْكَذِبِ والبهتان، ونسبوا إِلَيْهِ مَا لم يقلهُ، وَمَا لم يَنْقُلهُ، وَمَا لم يُوجد لَهُ بِخَط، وَلَا سمع مِنْهُ فِي مجْلِس، فسجن بسببهم فِي قلعة مصر والقاهرة، والإسكندرية، وَفِي قلعة دمشق مرَّتَيْنِ، كل ذَلِك بِسَبَب تمسكه بنصوص الْكتاب وَالسّنة على فهم السّلف الصَّالح رضوَان الله عَلَيْهِم وَكَانَ رَحمَه لله ينشر دَعوته بَين النَّاس وَهُوَ فِي دَاخل سجنه حَتَّى كَانَ النَّاس يأْتونَ إِلَيْهِ من كل مَكَان يستفتونه، ويتلقون كلمة الْحق مِنْهُ، وَفِي آخر حَيَاته رحمه الله سجن فِي قلعة دمشق حَتَّى أَتَاهُ الْيَقِين، وَهُوَ ثَابت على لحق الْمُبين، لَا يَشْتَرِي رَاحَة الدُّنْيَا بِشَيْء من الدّين فرحمه الله رَحْمَة وَاسِعَة، وَجعله من أهل الفردوس الْأَعْلَى.

তিনি সমকালীন মানুষের প্রচলিত প্রথার বিরোধিতা করেছিলেন, যার ফলে তাঁকে বিভিন্ন পরীক্ষা ও কষ্টের সম্মুখীন হতে হয়েছিল। ইমাম আয-যাহাবী (রহিমাহুল্লাহ) বলেন: “তিনি বিশুদ্ধ সুন্নাহ এবং সালাফী পদ্ধতির সাহায্য করেছেন এবং এর পক্ষে বিভিন্ন দলিল ও ভূমিকা উপস্থাপন করেছেন... এমনকি মিশর ও শামের একদল আলেম তাঁর বিরুদ্ধে চূড়ান্তভাবে রুখে দাঁড়িয়েছিলেন। তাঁরা তাঁকে বিদআতি (مبتدع) আখ্যা দিয়েছিলেন, তাঁর সঙ্গে বিতর্কে লিপ্ত হয়েছিলেন এবং তাঁর ওপর শ্রেষ্ঠত্ব জাহির করার চেষ্টা করেছিলেন। কিন্তু তিনি ছিলেন অবিচল; তিনি কোনো প্রকার তোষামোদ বা অনর্থক বিতণ্ডা করতেন না, বরং তিনি সেই তিক্ত সত্যই উচ্চারণ করতেন যা তাঁর ইজতিহাদের (اجتهاد) মাধ্যমে অর্জিত হয়েছিল।” তাঁর বিরোধীরা তাঁর বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্রে লিপ্ত ছিল, এমনকি তারা সুলতান ও তাঁর প্রতিনিধিদের এই পর্যায়ে প্ররোচিত করেছিল যে, তারা বিভিন্ন মজলিসে তাঁর আকিদা সম্পর্কে জিজ্ঞাসাবাদ শুরু করে। কিন্তু সত্য সর্বদা সমুজ্জ্বল। ইমাম আয-যাহাবী তাঁর সম্পর্কে যেমনটি বলেছেন: “কতবার তারা একযোগে তাঁর দিকে তীর নিক্ষেপ করেছে, কিন্তু আল্লাহ তাঁকে রক্ষা করেছেন।” আল্লাহ চাইলেন শায়খকে পরীক্ষা করতে, ফলে বিরোধীদের পক্ষ থেকে আল্লাহর পথে তিনি নিগৃহীত হন। বিশুদ্ধ সুন্নাহর সাহায্যের কারণে তাঁকে ভীত-সন্ত্রস্ত করা হয় এবং বারবার তাঁকে পরীক্ষার সম্মুখীন করা হয়। প্রবৃত্তি পূজারি, বিদআত (بدع) এবং কামনা-বাসনায় মত্ত ব্যক্তিবর্গ তাঁর শত্রুতায় ঐক্যবদ্ধ হয়েছিল। যারা তাঁর বিরোধিতা করেছিল, তাদের অধিকাংশই আলেম সমাজ এবং অভিজাত শ্রেণীর লেবাসে নিজেদের আবৃত করেছিল। তারা তাঁর নামে মিথ্যা (كذب) ও অপবাদ রটনা করেছিল এবং তাঁর প্রতি এমন সব বিষয় সম্বন্ধ করেছিল যা তিনি বলেননি, যা তিনি বর্ণনা (نقل) করেননি, যা তাঁর হস্তাক্ষরে পাওয়া যায়নি এবং কোনো মজলিসে তাঁর থেকে শ্রবণ করা হয়নি। তাদের কারণেই তিনি মিশর, কায়রো ও আলেকজান্দ্রিয়ার দুর্গে এবং দামেস্কের দুর্গে দুইবার কারাবরণ করেন। এই সবকিছুই ছিল সালাফে সালেহীন (আল্লাহ তাঁদের প্রতি সন্তুষ্ট হোন)-এর বুঝ অনুযায়ী কিতাব ও সুন্নাহর নস (نصوص) সমূহের প্রতি তাঁর দৃঢ় সংলগ্ন থাকার কারণে। তিনি (রহিমাহুল্লাহ) কারাগারে থাকা অবস্থাতেও মানুষের মাঝে তাঁর দাওয়াহ প্রচার করতেন, এমনকি মানুষ দূর-দূরান্ত থেকে তাঁর কাছে ফতোয়া নিতে আসত এবং তাঁর থেকে সত্যের বাণী গ্রহণ করত। জীবনের শেষ সময়ে তিনি (রহিমাহুল্লাহ) দামেস্কের দুর্গে কারাবদ্ধ ছিলেন যতক্ষণ না তাঁর নিকট মৃত্যু উপস্থিত হয়। তিনি সুস্পষ্ট সত্যের ওপর অবিচল ছিলেন, দ্বীনের বিনিময়ে পার্থিব আরাম-আয়েশ ক্রয় করেননি। আল্লাহ তাঁর প্রতি প্রশস্ত রহমত বর্ষণ করুন এবং তাঁকে জান্নাতুল ফিরদাউসের সুউচ্চ মাকাম দান করুন।

(খণ্ড: ১) মাবাহিছুল আমরি আল্লাতী ইনতাকাদাহা শাইখুল ইসলাম ইবনু তাইমিয়্যাহ ফী মাজমুয়িল ফাতাওয়া (পৃষ্ঠা: ৩৭৬)
‌‌الْمطلب السَّادِس: مؤلفاته

بَارك الله للشَّيْخ فِي عمره، وأمده بتوفيقه، فصنف مصنفات عَظِيمَة، هِيَ أشهر من أَن تذكر، وَأعرف من أَن تنكر، حَتَّى قَالَ غير وَاحِد “إِنَّهَا سَارَتْ مسير الشَّمْس فِي الأقطار وامتلأت بهَا الْبِلَاد والأمصار، قد جَاوَزت حد الْكَثْرَة
ষষ্ঠ পরিচ্ছেদ: তাঁর রচনাবলি

আল্লাহ শাইখের হায়াতে বরকত দান করুন এবং তাঁকে তাঁর তাওফিকের মাধ্যমে সাহায্য করুন। তিনি অত্যন্ত মহান কিছু গ্রন্থ রচনা করেছেন, যা উল্লেখ করার অপেক্ষায় রাখে না এমন প্রসিদ্ধ এবং অস্বীকার করার অবকাশ নেই এমন পরিচিত। এমনকি একাধিক ব্যক্তি বলেছেন, “নিশ্চয়ই তা (রচনাবলি) দিগন্তজুড়ে সূর্যের মতো ছড়িয়ে পড়েছে এবং দেশ ও জনপদসমূহ তা দিয়ে পূর্ণ হয়ে গেছে; যা প্রাচুর্যের সীমা ছাড়িয়ে গেছে।”
(খণ্ড: ১) মাবাহিছুল আমরি আল্লাতী ইনতাকাদাহা শাইখুল ইসলাম ইবনু তাইমিয়্যাহ ফী মাজমুয়িল ফাতাওয়া (পৃষ্ঠা: ৩৭৭)
فَلَا يُمكن أحد حصرها” وَلابْن الْقيم رحمه الله رِسَالَة خَاصَّة فِي مؤلفات الشَّيْخ، ذكر فِيهَا وَاحِدًا وَأَرْبَعين وثلاثمائة كتاب وَمَعَ ذَلِك فقد فَاتَهُ من رسائل الشَّيْخ الْكثير.

وَمن مؤلفاته:

1 - منهاج السّنة النَّبَوِيَّة فِي نقد كَلَام الشِّيعَة والقدرية.

2 - دَرْء تعَارض الْعقل وَالنَّقْل.

3 - الْجَواب الصَّحِيح لمن بدل دين الْمَسِيح.

4 - اقْتِضَاء الصِّرَاط الْمُسْتَقيم مُخَالفَة أَصْحَاب الْجَحِيم.

5 - شرح الْعُمْدَة فِي الْفِقْه.

6 - الْقَوَاعِد النورانية.

7 - الْفَتْوَى الحمويّة.

8 - العقيدة الواسطية.

9 - بغية المرتاد.

10 - النبوات.
“তাই কারো পক্ষে এগুলো সীমাবদ্ধ করা সম্ভব নয়।” ইবনুল কাইয়্যিম (রহিমাহুল্লাহ)-এর শাইখের রচনাবলি বিষয়ে একটি স্বতন্ত্র রিসালা রয়েছে, যাতে তিনি তিনশত একচল্লিশটি গ্রন্থের কথা উল্লেখ করেছেন। তা সত্ত্বেও শাইখের অনেক রিসালা তাঁর অগোচরে থেকে গেছে।

এবং তাঁর রচনাবলির মধ্যে রয়েছে:

1 - মিনহাজুস সুন্নাহ আন-নাবাবিয়্যাহ ফি নাকদি কালামিশ শিয়া ওয়াল কাদারিইয়্যাহ।

2 - দারউ তাআরুদিল আকলি ওয়ান নাকলি।

3 - আল-জাওয়াবুস সহিহ লিমান বাদ্দালা দিনাল মাসিহ।

4 - ইকতিদাউস সিরাতিল মুস্তাকিম মুখালাফাতু আসহাবিল জাহিম।

5 - শারহুল উমদাহ ফিল ফিকহ।

6 - আল-কাওয়ায়িদুল নুরানিয়্যাহ।

7 - আল-ফাতওয়া আল-হামাবিয়্যাহ।

8 - আল-আকিদাহ আল-ওয়াসিতিয়্যাহ।

9 - বুগইয়াতুল মুরতাদ।

10 - আন-নুবুওয়াত।
(খণ্ড: ১) মাবাহিছুল আমরি আল্লাতী ইনতাকাদাহা শাইখুল ইসলাম ইবনু তাইমিয়্যাহ ফী মাজমুয়িল ফাতাওয়া (পৃষ্ঠা: ৩৭৭)
‌‌الْمطلب السَّابِع: وَفَاته وثناء الْعلمَاء عَلَيْهِ

وَفَاته:

مرض الشَّيْخ وَهُوَ فِي سجن قلعة دمشق بضعَة وَعشْرين يَوْمًا، وَلم يعلم أَكثر النَّاس بمرضه، ثمَّ توفّي فِي سحر لَيْلَة الِاثْنَيْنِ وَالْعِشْرين من ذِي الْقعدَة سنة ثَمَان وَعشْرين وَسَبْعمائة فَصلي عَلَيْهِ بالقلعة، ثمَّ حمل إِلَى جَامع دمشق وَصلى عَلَيْهِ، وشيعه أنَاس لَا يُحصونَ كَثْرَة وعدداً، وَلم تفتح الْأَسْوَاق الْمُعْتَادَة بِالْفَتْح أول ذَلِك النَّهَار، وَاجْتمعَ عِنْده خلق يَبْكُونَ وَأخْبرهمْ أَخُوهُ زين الدّين عبد الرَّحْمَن أَنَّهُمَا ختما فِي القلعة ثَمَانِينَ ختمة والحادية والثمانين انتهيا فِيهَا إِلَى قَوْله
সপ্তম পরিচ্ছেদ: তাঁর ইন্তেকাল এবং তাঁর প্রতি ওলামায়ে কেরামের প্রশংসা

তাঁর ইন্তেকাল:

শায়খ দামেস্ক দুর্গের কারাগারে থাকা অবস্থায় বিশ দিনেরও বেশি সময় অসুস্থ ছিলেন এবং অধিকাংশ মানুষই তাঁর অসুস্থতার খবর জানতেন না। অতঃপর তিনি ৭২৮ হিজরির ২২শে জিলকদ সোমবার দিবাগত শেষ রাতে ইন্তেকাল করেন। এরপর দুর্গের ভেতরেই তাঁর জানাজা আদায় করা হয়, অতঃপর তাঁকে দামেস্কের জামে মসজিদে নিয়ে আসা হয় এবং সেখানে জানাজা পড়া হয়। তাঁর জানাজায় অগণিত ও অসংখ্য মানুষ অংশগ্রহণ করেছিলেন এবং সেদিন দিনের শুরুতে সচরাচর খোলা বাজারগুলোও খোলা হয়নি। তাঁর নিকট এক বিশাল জনসমাবেশ ক্রন্দনরত অবস্থায় একত্রিত হয়েছিলেন এবং তাঁর ভাই জয়নুদ্দীন আব্দুর রহমান তাঁদেরকে অবহিত করেন যে, তাঁরা দুজনে মিলে দুর্গে আশিবার কুরআন খতম সম্পন্ন করেছেন এবং একাশিতম খতমের সময় তাঁরা এই আয়াত পর্যন্ত পৌঁছেছিলেন—
(খণ্ড: ১) মাবাহিছুল আমরি আল্লাতী ইনতাকাদাহা শাইখুল ইসলাম ইবনু তাইমিয়্যাহ ফী মাজমুয়িল ফাতাওয়া (পৃষ্ঠা: ৩৭৮)
تَعَالَى {إِنَّ الْمُتَّقِينَ فِي جَنَّاتٍ وَنَهَرٍ فِي مَقْعَدِ صِدْقٍ عِنْدَ مَلِيكٍ مُقْتَدِرٍ} 1 وحزر الرِّجَال فِي جنَازَته بستين ألفا أَو أَكثر، وَالنِّسَاء بِخَمْسَة عشر ألفا.

ثَنَاء الْعلمَاء عَلَيْهِ:

قَالَ الذَّهَبِيّ “قد قَرَأت بِخَط شَيخنَا الْعَلامَة كَمَال الدّين بن الزملكاني2 مَا كتبه سنة بضع وَتِسْعين تَحت اسْم ابْن تَيْمِية: كَانَ إِذا سُئِلَ عَن فنٍّ من الْعلم ظن الرَّائِي وَالسَّامِع أَنه لَا يعرف غير ذَلِك الْفَنّ، وَحكم أَن أحدا لَا يعرفهُ مثله”.

وَقَالَ الذَّهَبِيّ عَنهُ: “يصدق عَلَيْهِ أَن يُقَال: - كل حَدِيث لَا يعرفهُ ابْن تَيْمِية فَلَيْسَ بِحَدِيث وَلَكِن الْإِحَاطَة لله”.

وَقَالَ أَيْضا: “فوَاللَّه مَا رمقت عَيْني أوسع علما، وَلَا أقوى ذكاءً من رجل يُقَال لَهُ ابْن تَيْمِية مَعَ الزّهْد فِي المأكل، والملبس، وَالنِّسَاء، وَمَعَ الْقيام بِالْحَقِّ وَالْجهَاد بِكُل مُمكن”3.

وَحكى الذَّهَبِيّ عَن الشَّيْخ تَقِيّ الدّين ابْن دَقِيق الْعِيد4 أَنه قَالَ للشَّيْخ

--------------------------------------------

1 - سُورَة الْقَمَر آيَة رقم 54 - 55.

2 - هُوَ كَمَال الدّين مُحَمَّد بن عَليّ بن عبد الْوَاحِد بن عبد الْكَرِيم الْأنْصَارِيّ، ابْن الزملكاني، ولد بِدِمَشْق فِي شَوَّال سنة 667هـ، كَانَ عَالما، بليغاً، من أذكياء أهل زَمَانه، درس، وَأفْتى، وصنف، وَتخرج عَلَيْهِ تلاميذ كثر، توفّي فِي مصر سادس عشر من رَمَضَان سنة 727هـ. انْظُر تَرْجَمته فِي طَبَقَات الشَّافِعِيَّة للأسنوي 1/310 - 311.

3 - زغل الْعلم 38.

4 - هُوَ مُحَمَّد بن عَليّ بن مُطِيع الْقشيرِي، الْمَعْرُوف بِابْن دَقِيق الْعِيد، ولد قَرِيبا من سَاحل يَنْبع وَأَبَوَاهُ متوجهان إِلَى الْحَج يَوْم السبت الْخَامِس وَالْعِشْرين من شعْبَان سنة 625هـ، كَانَ جَامعا للعلوم الشَّرْعِيَّة والعقلية صَاحب نظم رائق، ونثر فائق من مؤلفاته الْإِلْمَام، وإحكام الْأَحْكَام شرح عُمْدَة الْأَحْكَام، توفّي فِي الْقَاهِرَة حادي عشر من صفر سنة 702هـ. انْظُر تَرْجَمته فِي طَبَقَات الشَّافِعِيَّة للأسنوي 2/102 - 104.
মহান আল্লাহ তায়ালা বলেন, {নিশ্চয়ই মুত্তাকিরা থাকবে জান্নাত ও নহরসমূহে, সত্যের আসনে, সর্বশক্তিমান অধিপতির সান্নিধ্যে} ১। তাঁর জানাজায় উপস্থিত পুরুষের সংখ্যা ষাট হাজার বা তার বেশি এবং নারীর সংখ্যা পনেরো হাজার বলে ধারণা করা হয়েছিল।

তাঁর সম্পর্কে উলামায়ে কিরামের প্রশংসা:

আয-যাহাবি বলেন, “আমি আমাদের শাইখ আল্লামা কামালুদ্দীন ইবনুল জামলাকানি ২-এর স্বহস্তে লিখিত এমন কিছু পড়েছি, যা তিনি নব্বইয়ের পরবর্তী কয়েক বছরে ইবনে তাইমিয়াহ-এর নামের নিচে লিখেছিলেন: যখনই তাঁকে কোনো শাস্ত্র বা জ্ঞানের শাখা সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করা হতো, দর্শক ও শ্রোতা মনে করতেন যে তিনি এই শাস্ত্র ব্যতীত অন্য কিছু জানেন না এবং তারা সিদ্ধান্ত দিতেন যে, তাঁর মতো আর কেউ এই বিষয়ে পারদর্শী নয়।”

আয-যাহাবি তাঁর সম্পর্কে আরও বলেন: “তাঁর ব্যাপারে এই কথাটি বলা যথার্থ যে— যে হাদিস ইবনে তাইমিয়াহ জানেন না, তা হাদিসই নয়; তবে সবকিছুর বেষ্টনকারী পূর্ণ জ্ঞান কেবল আল্লাহরই রয়েছে।”

তিনি আরও বলেন: “আল্লাহর কসম, ইবনে তাইমিয়াহ নামক এই ব্যক্তির চেয়ে অধিকতর প্রশস্ত ইলম এবং প্রখর মেধাসম্পন্ন আর কাউকে আমার চোখ দেখেনি; যাঁর মাঝে পানাহার, পোশাক ও নারীবিমুখতার পাশাপাশি সত্য প্রতিষ্ঠা ও সাধ্যমতো জিহাদ করার গুণাবলী বিদ্যমান ছিল” ৩।

আয-যাহাবি শাইখ তাকিউদ্দীন ইবনে দাকীক আল-ঈদ ৪ থেকে বর্ণনা করেছেন যে, তিনি শাইখকে বলেছিলেন...

--------------------------------------------

১ - সূরা আল-কামার, আয়াত নং ৫৪ - ৫৫।

২ - তিনি হলেন কামালুদ্দীন মুহাম্মদ ইবনে আলী ইবনে আবদুল ওয়াহিদ ইবনে আবদুল কারীম আল-আনসারি, ইবনুল জামলাকানি। তিনি ৬৬৭ হিজরি সনের শাওয়াল মাসে দামেস্কে জন্মগ্রহণ করেন। তিনি একজন আলিম ও বাগ্মী ছিলেন এবং তাঁর সময়ের অন্যতম মেধাবী ব্যক্তি ছিলেন। তিনি দরস দিয়েছেন, ফতোয়া দিয়েছেন এবং গ্রন্থ রচনা করেছেন; তাঁর নিকট বহু ছাত্র শিক্ষালাভ করেছেন। তিনি ৭২৭ হিজরি সনের ১৬ই রমজান মিশরে মৃত্যুবরণ করেন। দেখুন: আল-আসনাউয়ি রচিত তাবাকাতুশ শাফিয়্যাহ ১/৩১০ - ৩১১।

৩ - যাগলুল ইলম ৩৮।

৪ - তিনি হলেন মুহাম্মদ ইবনে আলী ইবনে মুতী আল-কুশাইরী, যিনি ইবনে দাকীক আল-ঈদ নামে পরিচিত। তিনি ৬২৫ হিজরি সনের ২৫শে শাবান শনিবার লোহিত সাগরের ইয়ানবু উপকূলের নিকট জন্মগ্রহণ করেন, যখন তাঁর পিতামাতা হজের উদ্দেশ্যে যাচ্ছিলেন। তিনি শরয়ী ও যৌক্তিক উভয় বিদ্যায় পারদর্শী ছিলেন এবং অত্যন্ত চমৎকার কাব্য ও গদ্যের অধিকারী ছিলেন। তাঁর রচিত গ্রন্থাবলির মধ্যে রয়েছে আল-ইলমাম এবং ইহকামুল আহকাম শারহু উমদাতিল আহকাম। তিনি ৭০২ হিজরি সনের ১১ই সফর কায়রোতে মৃত্যুবরণ করেন। দেখুন: আল-আসনাউয়ি রচিত তাবাকাতুশ শাফিয়্যাহ ২/১০২ - ১০৪।
(খণ্ড: ১) মাবাহিছুল আমরি আল্লাতী ইনতাকাদাহা শাইখুল ইসলাম ইবনু তাইমিয়্যাহ ফী মাজমুয়িল ফাতাওয়া (পৃষ্ঠা: ৩৭৯)
عِنْد اجتماعه بِهِ وَسَمَاع كَلَامه: “مَا كنت أَظن أَن الله تَعَالَى بقى؟ يخلق مثلك”.

وَقَالَ الْحَافِظ الْمزي1: “مَا رَأَيْت مثله وَلَا رأى هُوَ مثل نَفسه”.

وَقَالَ ابْن عبد الْهَادِي: “كَانَ بحراً لَا تكدره الدلاء وحبراً يَقْتَدِي بِهِ الأخيار الألباء طَنَّت بِذكرِهِ الْأَمْصَار، وضَنَّت بِمثلِهِ الْأَعْصَار”.

--------------------------------------------

1 - هُوَ يُوسُف بن الزكي عبد الرَّحْمَن بن يُوسُف الْقُضَاعِي، الْحلَبِي، المِزِّي، أَبُو الْحجَّاج، جمال الدّين، ولد فِي حلب سنة 654هـ كَانَ أحفظ أهل زَمَانه، وَكَانَت الرحلة إِلَيْهِ لروايته، وَكَانَ إِمَامًا فِي اللُّغَة والتصريف ديِّنا، خَيِّراً، من مصنفاته تَهْذِيب الْكَمَال فِي أَسمَاء الرِّجَال، وتحفة الْأَشْرَاف بِمَعْرِِفَة الْأَطْرَاف، توفّي بِدِمَشْق ثَانِي عشر من صفر سنة 742هـ. انْظُر تَرْجَمته فِي طَبَقَات الشَّافِعِيَّة للأسنوي 2/257 - 258.
তাঁর সাথে সাক্ষাতের সময় এবং তাঁর কথা শোনার পর [তিনি বলেছিলেন]: “আমি ভাবিনি যে আল্লাহ তাআলা এখনও আপনার মতো কাউকে সৃষ্টি করেন।”

হাফিজ (الحافظ) আল-মিযযী১ বলেছেন: “আমি তাঁর মতো কাউকে দেখিনি এবং তিনিও নিজের মতো কাউকে দেখেননি।”

ইবনে আব্দুল হাদি বলেছেন: “তিনি ছিলেন এমন এক সমুদ্র যাকে বালতি দিয়ে ঘোলা করা যায় না, এবং এমন এক বিদগ্ধ পণ্ডিত (حبر) যাঁকে সচ্চরিত্র ও বুদ্ধিমান ব্যক্তিরা অনুসরণ করেন। জনপদসমূহ তাঁর প্রশংসায় মুখরিত ছিল এবং যুগ তাঁর মতো কাউকে উপহার দিতে কার্পণ্য করেছিল।”

--------------------------------------------

১ - তিনি হলেন ইউসুফ ইবনে আয-যাকি আব্দুর রহমান ইবনে ইউসুফ আল-কুযায়ী, আল-হালাবি, আল-মিযযী, আবু আল-হাজ্জাজ, জামালুদ্দীন। তিনি ৬৫৪ হিজরিতে হালবে জন্মগ্রহণ করেন। তিনি তাঁর সময়ের সবচেয়ে বড় হাফিজ (أحفظ) ছিলেন এবং তাঁর বর্ণনার (رواية) আধিক্যের কারণে জ্ঞানপিপাসুরা তাঁর কাছে আসতেন। তিনি ভাষাবিজ্ঞান ও শব্দতত্ত্বে (تصريف) একজন ইমাম (إمام) এবং অত্যন্ত ধর্মপ্রাণ ও নেককার মানুষ ছিলেন। তাঁর গ্রন্থাবলির মধ্যে রয়েছে তাহযীবুল কামাল ফি আসমাইর রিজাল এবং তুহফাতুল আশরাফ বি মা’রিফাতিল আতরাফ। তিনি ৭৪২ হিজরির ১২ই সফর দামেস্কে ইন্তেকাল করেন। আল-আসনভী রচিত তাবাকাতুশ শাফিইয়্যাহ ২/২৫৭-২৫৮ গ্রন্থে তাঁর জীবনী দেখুন।
(খণ্ড: ১) মাবাহিছুল আমরি আল্লাতী ইনতাকাদাহা শাইখুল ইসলাম ইবনু তাইমিয়্যাহ ফী মাজমুয়িল ফাতাওয়া (পৃষ্ঠা: ৩৬০)
‌‌مدْخل

…

خطة الْبَحْث:

قسمتُ هَذَا الْبَحْث إِلَى مُقَدّمَة وتمهيد ومبحثين وخاتمة وفهارس وَإِلَيْك تَفْصِيل ذَلِك:

أما الْمُقدمَة فقد تحدثت فِيهَا عَن أصُول الْفِقْه مبرزاً أهمية الْمَوْضُوع وَسبب الْكِتَابَة فِيهِ من خلال ذَلِك، ثمَّ ذكرت خطة الْبَحْث ومنهجي فِي الْبَحْث.

وَأما التَّمْهِيد فَفِي تَرْجَمَة موجزة لشيخ الْإِسْلَام بن تَيْمِية وَبَيَان منهجه فِي نقد المباحث الْأُصُولِيَّة إِجْمَالا وَفِيه فرعان:

الْفَرْع الأول: تَرْجَمَة موجزة لشيخ الْإِسْلَام ابْن تَيْمِية فِي المطالب التالية:

الْمطلب الأول: اسْمه، وَنسبه، وشهرته، ولقبه، وكنيته.

الْمطلب الثَّانِي: مولده، ونشأته.

الْمطلب الثَّالِث: صِفَاته الخِلْقية، والخُلُقِية، والعلمية.

الْمطلب الرَّابِع: شُيُوخه، وتلاميذه.

الْمطلب الْخَامِس: جهاده، وابتلاؤه.

الْمطلب السَّادِس: مؤلفاته.

الْمطلب السَّابِع: وَفَاته، وثناء الْعلمَاء عَلَيْهِ.

الْفَرْع الثَّانِي: نظرة إجمالية فِي مَنْهَج شيخ الْإِسْلَام فِي نقد المباحث الْأُصُولِيَّة فِي مَجْمُوع الْفَتَاوَى.

وَأما المبحث الأول: فَفِي الْإِرَادَة فِي الْأَمر.

وَفِيه ثَلَاثَة مطَالب:

الْمطلب الأول: أصل الْمَسْأَلَة وَمَا تتفرع عَنهُ.

الْمطلب الثَّانِي: الْأَقْوَال فِي الْمَسْأَلَة.

الْمطلب الثَّالِث: الِاخْتِيَار فِي الْمَسْأَلَة.
উপক্রমণিকা

…

গবেষণা পরিকল্পনা:

আমি এই গবেষণাকে একটি ভূমিকা, একটি প্রারম্ভিকা, দু’টি অধ্যায়, একটি উপসংহার এবং নির্ঘণ্টসমূহে বিভক্ত করেছি। নিচে এর বিস্তারিত বিবরণ তুলে ধরা হলো:

ভূমিকা অংশে আমি উসুলুল ফিকহ (أصول الفقه) নিয়ে আলোচনা করেছি এবং এর মাধ্যমে বিষয়টির গুরুত্ব ও এ বিষয়ে গবেষণার কারণ স্পষ্টভাবে ফুটিয়ে তুলেছি। এরপর আমি গবেষণার পরিকল্পনা ও গবেষণায় আমার অনুসৃত পদ্ধতি উল্লেখ করেছি।

আর প্রারম্ভিকা অংশে শাইখুল ইসলাম ইবনে তাইমিয়্যাহ-এর একটি সংক্ষিপ্ত জীবনী এবং সামগ্রিকভাবে উসুল সংক্রান্ত বিষয়াদি পর্যালোচনায় তাঁর পদ্ধতির বর্ণনা দেওয়া হয়েছে। এতে দু’টি শাখা রয়েছে:

প্রথম শাখা: নিম্নোক্ত পরিচ্ছেদসমূহের আলোকে শাইখুল ইসলাম ইবনে তাইমিয়্যাহ-এর একটি সংক্ষিপ্ত জীবনী:

প্রথম পরিচ্ছেদ: তাঁর নাম, বংশপরিচয়, খ্যাতি, উপাধি এবং কুনিয়াত (ডাকনাম)।

দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ: তাঁর জন্ম ও শৈশবকাল।

তৃতীয় পরিচ্ছেদ: তাঁর শারীরিক, চারিত্রিক ও জ্ঞানগত বৈশিষ্ট্যসমূহ।

চতুর্থ পরিচ্ছেদ: তাঁর শিক্ষকবৃন্দ ও ছাত্রবৃন্দ।

পঞ্চম পরিচ্ছেদ: তাঁর জিহাদ এবং তাঁর ওপর আসা পরীক্ষাসমূহ।

ষষ্ঠ পরিচ্ছেদ: তাঁর রচনাবলি।

সপ্তম পরিচ্ছেদ: তাঁর মৃত্যু এবং তাঁর প্রতি আলেমগণের প্রশংসা।

দ্বিতীয় শাখা: মাজমুউল ফাতাওয়া-এ উসুল সংক্রান্ত বিষয়াদি পর্যালোচনায় শাইখুল ইসলামের পদ্ধতির ওপর একটি সামগ্রিক দৃষ্টিপাত।

আর প্রথম অধ্যায়: আদেশের ক্ষেত্রে ইচ্ছাশক্তি (الإرادة في الأمر) প্রসঙ্গে।

এতে তিনটি পরিচ্ছেদ রয়েছে:

প্রথম পরিচ্ছেদ: মাসআলাটির মূল ভিত্তি এবং তা থেকে উৎসারিত শাখাসমূহ।

দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ: মাসআলাটি নিয়ে বিদ্যমান বিভিন্ন মতামত।

তৃতীয় পরিচ্ছেদ: মাসআলাটির ক্ষেত্রে পছন্দকৃত (الاختيار) অভিমত।
(খণ্ড: ১) মাবাহিছুল আমরি আল্লাতী ইনতাকাদাহা শাইখুল ইসলাম ইবনু তাইমিয়্যাহ ফী মাজমুয়িল ফাতাওয়া (পৃষ্ঠা: ৩৬১)
وَأما المبحث الثَّانِي فَفِي الْعَمَل الْوَاحِد هَل يجوز أَن يكون مَأْمُورا بِهِ مَنْهِيّا عَنهُ؟

وَفِيه ثَلَاثَة مطَالب:

الْمطلب الأول: أصل الْمَسْأَلَة وَمَا تفرع عَنهُ.

الْمطلب الثَّانِي: الْأَقْوَال فِي الْمَسْأَلَة.

الْمطلب الثَّالِث: الِاخْتِيَار فِي الْمَسْأَلَة.

وَأما الخاتمة فلخصت فِيهَا أهم نتائج الْبَحْث.

وَأما الفهارس فَهِيَ:

ثَبت المصادر والمراجع.

فهرس الموضوعات.

منهجي فِي الْبَحْث:

سرتُ فِي هَذَا الْبَحْث على الْمنْهَج التَّالِي:

1 - قمتُ باستقراء جَمِيع مجلدات مَجْمُوع الْفَتَاوَى، واستخرجت مبَاحث الْأَمر الَّتِي انتقدها شيخ الْإِسْلَام فِيهَا، ووصلت إِلَى مبحثين هما الْإِرَادَة فِي الْأَمر، وَالْعَمَل الْوَاحِد هَل يجوز أَن يكون مَأْمُورا بِهِ مَنْهِيّا عَنهُ؟، وانتقاد شيخ الْإِسْلَام لَهما كَانَ بربطهما بأصول مُخَالفَة لأصول أهل السّنة وَالْجَمَاعَة فِي العقيدة، وَنسبَة بعض الْأَقْوَال فيهمَا إِلَى فرق مُخَالفَة لأهل السّنة وَالْجَمَاعَة.

2 - جمعتُ كَلَام شيخ الْإِسْلَام فِي الْمَسْأَلَتَيْنِ فِي مَجْمُوع الْفَتَاوَى وألفت بَين الْكَلَام حَتَّى صَار كَأَنَّهُ كَلَام وَاحِد، بِحَيْثُ أتم بعضُه بَعْضًا، وَفسّر بعضُه بَعْضًا، ووضعتُ النقول بَين قوسين “، ذَاكِرًا موطن كل نقل فِي مَجْمُوع الْفَتَاوَى.

3 - جعلتُ متن الْبَحْث من كَلَام شيخ الْإِسْلَام رحمه الله دون ذكر كَلَام لي إِلَّا مَا اقتضته الضَّرُورَة مَعَ التَّنْبِيه على ذَلِك فِي مَوْضِعه، أَو جعله خَارج أقواس التَّنْصِيص.
আর দ্বিতীয় পরিচ্ছেদটি হলো একটি নির্দিষ্ট কাজের ক্ষেত্রে, তা কি একই সাথে আদিষ্ট এবং নিষিদ্ধ হওয়া বৈধ কি না?

এতে তিনটি অনুচ্ছেদ রয়েছে:

প্রথম অনুচ্ছেদ: মাসআলাটির মূল ভিত্তি (أصل) এবং তা থেকে উদ্ভূত বিষয়সমূহ।

দ্বিতীয় অনুচ্ছেদ: এই মাসআলায় বিদ্যমান মতামতসমূহ।

তৃতীয় অনুচ্ছেদ: এই মাসআলায় অগ্রাধিকারপ্রাপ্ত মত নির্বাচন (اختيار)।

আর উপসংহারে আমি গবেষণার গুরুত্বপূর্ণ ফলাফলগুলো সারসংক্ষেপ করেছি।

আর নির্ঘণ্টসমূহ নিম্নরূপ:

উৎস ও তথ্যসূত্র তালিকা।

বিষয়সূচি।

গবেষণায় আমার পদ্ধতি:

এই গবেষণায় আমি নিম্নোক্ত পদ্ধতি অনুসরণ করেছি:

1 - আমি মাজমুউল ফাতাওয়া-র সকল খণ্ড পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে পর্যালোচনা করেছি এবং আদেশ সংক্রান্ত সেই বিষয়গুলো বের করেছি যা শাইখুল ইসলাম সেখানে সমালোচনা করেছেন। আমি দুটি পরিচ্ছেদে উপনীত হয়েছি, সেগুলো হলো: আদেশের ক্ষেত্রে ইচ্ছা এবং একটি নির্দিষ্ট কাজ একই সাথে আদিষ্ট ও নিষিদ্ধ হওয়া কি বৈধ কি না? এই দুটির প্রতি শাইখুল ইসলামের সমালোচনা ছিল সেগুলোকে আকিদার ক্ষেত্রে আহলুস সুন্নাহ ওয়াল জামাআতের মূলনীতিসমূহের (أصول) পরিপন্থী মূলনীতিসমূহের (أصول) সাথে সংশ্লিষ্ট করার মাধ্যমে এবং এই বিষয়ে কিছু মতবাদকে আহলুস সুন্নাহ ওয়াল জামাআতের বিরোধী দলগুলোর দিকে সম্বন্ধ করার মাধ্যমে।

2 - আমি মাজমুউল ফাতাওয়া থেকে এই দুটি মাসআলায় শাইখুল ইসলামের বক্তব্যসমূহ সংগ্রহ করেছি এবং বক্তব্যগুলোর মধ্যে এমনভাবে সমন্বয় সাধন করেছি যাতে মনে হয় যেন তা একটি নিরবচ্ছিন্ন বক্তব্য, এমনভাবে যে এর একটি অংশ অন্যটিকে পূর্ণতা দান করে এবং এক অংশ অন্য অংশের ব্যাখ্যা প্রদান করে; এবং উদ্ধৃতিগুলোকে আমি উদ্ধৃতি চিহ্নের মধ্যে রেখেছি, সাথে মাজমুউল ফাতাওয়া-র প্রতিটি উদ্ধৃতির উৎস উল্লেখ করেছি।

3 - আমি গবেষণার মূল পাঠ (متن) শাইখুল ইসলাম (রাহিমাহুল্লাহ)-এর বক্তব্য থেকে তৈরি করেছি, তবে একান্ত প্রয়োজন ব্যতীত আমি নিজের কোনো কথা উল্লেখ করিনি, সাথে প্রয়োজনীয় স্থানে সে বিষয়ে সতর্কীকরণ প্রদান করেছি অথবা তা উদ্ধৃতি চিহ্নের বাইরে রেখেছি।
(খণ্ড: ১) মাবাহিছুল আমরি আল্লাতী ইনতাকাদাহা শাইখুল ইসলাম ইবনু তাইমিয়্যাহ ফী মাজমুয়িল ফাতাওয়া (পৃষ্ঠা: ৩৬২)
4 - عزوتُ الْآيَات القرآنية بِذكر اسْم السُّورَة ورقم الْآيَة.

5 - خرّجتُ الْأَحَادِيث الْوَارِدَة فِي الْبَحْث فَإِن كَانَ الحَدِيث فِي الصَّحِيحَيْنِ أَو أَحدهمَا اكتفيت بذلك وَإِن لم يكن فيهمَا أَو فِي أَحدهمَا خرّجته من كتب السّنة مَعَ النَّص على الحكم عَلَيْهِ.

6 - عرّفتُ المصطلحات الْأُصُولِيَّة.

7 - ترجمتُ للأعلام الْوَارِدَة أَسمَاؤُهُم فِي متن الْبَحْث تَرْجَمَة موجزة.

8 - وثّقتُ المعلومات الْوَارِدَة فِي الْمَتْن بعزوها إِلَى مصادرها.

9 - علّقتُ على مَا يحْتَاج إِلَى تَعْلِيق مَعَ تَوْثِيق ذَلِك.

هَذَا وَفِي ختام هَذِه الْمُقدمَة أسأَل الله عز وجل أَن يوفقني لإتمام هَذِه البحوث وَأَن يَنْفَعنِي وَالْمُسْلِمين بهَا، كَمَا أسأله سُبْحَانَهُ بأسمائه الْحسنى وَصِفَاته العلى أَن يغْفر لي، ولوالدي ولمشايخي، وَلِجَمِيعِ الْمُسلمين وَآخر دعوانا أَن الْحَمد لله رب الْعَالمين.
4 - আমি কুরআনের আয়াতগুলোর উদ্ধৃতি প্রদান করেছি সূরার নাম ও আয়াত নম্বর উল্লেখ করার মাধ্যমে।

5 - আমি গবেষণায় উল্লিখিত হাদিসগুলোর উৎস উল্লেখ (تخريج) করেছি। হাদিসটি যদি সহিহাইন বা এ দুটির কোনো একটিতে বর্ণিত হয়ে থাকে তবে আমি সেটির ওপরই সীমাবদ্ধ থেকেছি। আর যদি হাদিসটি এই দুই কিতাবে বা এ দুটির কোনো একটিতে না থাকে, তবে আমি অন্যান্য সুন্নাহর কিতাব থেকে সেটির উৎস উল্লেখ (تخريج) করার সাথে সাথে হাদিসটির হুকুম (الحكم) বা মান বর্ণনা করেছি।

6 - আমি উসুল বা মূলনীতি শাস্ত্রের পরিভাষাগুলোর সংজ্ঞা প্রদান করেছি।

7 - গবেষণার মূল পাঠ (متن)-এ উল্লিখিত বরেণ্য ব্যক্তিদের সংক্ষিপ্ত জীবনী (ترجمة) প্রদান করেছি।

8 - মূল পাঠ (متن)-এ বর্ণিত তথ্যাবলিকে মূল উৎসের দিকে সম্বন্ধ করার মাধ্যমে প্রামাণ্যকরণ করেছি।

9 - যেখানে ব্যাখ্যার প্রয়োজন সেখানে প্রামাণ্য উদ্ধৃতিসহ টীকা (تعليق) প্রদান করেছি।

পরিশেষে, এই ভূমিকার সমাপ্তিতে আমি মহান আল্লাহর নিকট প্রার্থনা করি তিনি যেন আমাকে এই গবেষণাকর্মগুলো সম্পন্ন করার তাওফিক দান করেন এবং এর দ্বারা আমাকে ও সকল মুসলিমকে উপকৃত করেন। আমি তাঁর সুন্দরতম নামসমূহ ও সুউচ্চ গুণাবলির মাধ্যমে তাঁর নিকট প্রার্থনা করছি যেন তিনি আমাকে, আমার পিতামাতাকে, আমার শিক্ষকদের এবং সকল মুসলিমকে ক্ষমা করে দেন। আমাদের শেষ কথা হলো, সকল প্রশংসা বিশ্বজগতের প্রতিপালক আল্লাহর জন্য।
(খণ্ড: ১) মাবাহিছুল আমরি আল্লাতী ইনতাকাদাহা শাইখুল ইসলাম ইবনু তাইমিয়্যাহ ফী মাজমুয়িল ফাতাওয়া (পৃষ্ঠা: ৩৮০)
‌‌نظرة إجمالية فِي مَنْهَج شيخ الْإِسْلَام فِي نقد المباحث الْأُصُولِيَّة فِي مَجْمُوع الْفَتَاوَى

…

الْفَرْع الثَّانِي: نظرة إجمالية فِي مَنْهَج شيخ الْإِسْلَام ابْن تَيْمِية فِي نقد المباحث الْأُصُولِيَّة فِي مَجْمُوع الْفَتَاوَى

بعد أَن أنعم الله عز وجل عليّ بِقِرَاءَة مَجْمُوع فَتَاوَى شيخ الْإِسْلَام ابْن تَيْمِية رحمه الله وتتبع المباحث الْأُصُولِيَّة فِي جَمِيع مجلدات الْمَجْمُوع واستخراج كل مَا يتَعَلَّق بأصول الْفِقْه فِيهَا، قسّمتُ ذَلِك إِلَى أَقسَام، وَكَانَ مِنْهَا قسم المباحث الْأُصُولِيَّة الَّتِي انتقدها شيخ الْإِسْلَام، وَقد درسْتُ هَذِه المباحث، وَتبين لي أَن من مَنْهَج شيخ الْإِسْلَام رحمه الله فِي انتقاد المباحث الْأُصُولِيَّة النقاط التالية:

1 - نسْبة القَوْل إِلَى فرق المبتدعة مَعَ التشنيع عَلَيْهِ، كَقَوْلِه فِي 19/149 - 151 عَن الْأَقْوَال فِي الْأَحْكَام الشَّرْعِيَّة: “النَّاس فِيهَا طرفان ووسط:

الطّرف الأول: طرف الزَّنَادِقَة الإباحية الْكَافِرَة بالشرائع … الَّذين يرَوْنَ أَن هَذِه الْأَحْكَام تتبع الِاعْتِقَاد مُطلقًا …

الطّرف الثَّانِي: طرف الغالية المتشددين الَّذين لَا يرَوْنَ للاعتقاد أثرا فِي الْأَفْعَال … وَهَذَا قَول جُمْهُور الْمُعْتَزلَة والخوارج … ”.

وَكَقَوْلِه فِي11/341 عَن الْإِجْمَاع: “وَأنْكرهُ بعض أهل الْبدع من الْمُعْتَزلَة والشيعة”.

2 - وصْف القَوْل بِأَنَّهُ مُبْتَدع مَعَ التشنيع عَلَيْهِ، وَذَلِكَ كَقَوْلِه رحمه الله فِي 19/134 عَن القَوْل إِنَّه لَيْسَ للحادثة حكم عِنْد الله فِي نفس الْأَمر وَإِنَّمَا حكمه فِي حق كل مُكَلّف يتبع اجْتِهَاده واعتقاده: “قَول مُبْتَدع، يشبه فِي المجتهدات قَول الزَّنَادِقَة الإباحية فِي المنصوصات”.

3 - وصْف المبحث بِأَنَّهُ مُحدث، كَقَوْلِه فِي 6/56 عَن تَسْمِيَة مسَائِل أصُول ومسائل فروع فِي بِنَاء الْأَحْكَام: “هَذِه تَسْمِيَة محدثة، قسمهَا طَائِفَة من الْفُقَهَاء والمتكلمين، وَهُوَ على الْمُتَكَلِّمين والأصوليين أغلب، لَا سِيمَا إِذا
‌‌'মাজমুউল ফাতাওয়া'-তে উসুলি বিষয়াবলির সমালোচনায় শাইখুল ইসলামের মানহাজ বা পদ্ধতির ওপর একটি সামগ্রিক দৃষ্টিপাত

…

দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ: 'মাজমুউল ফাতাওয়া'-তে উসুলি বিষয়াবলির সমালোচনায় শাইখুল ইসলাম ইবনে তাইমিয়্যাহ-এর পদ্ধতির ওপর একটি সামগ্রিক দৃষ্টিপাত

মহান আল্লাহ আমার প্রতি অনুগ্রহ করেছেন শাইখুল ইসলাম ইবনে তাইমিয়্যাহ (রহ.)-এর 'মাজমুউল ফাতাওয়া' পড়ার মাধ্যমে এবং এই সংকলনের সকল খণ্ডে বিদ্যমান উসুলি আলোচনাগুলো অনুসন্ধান করা এবং এর অন্তর্ভুক্ত উসুলুল ফিকহ সংশ্লিষ্ট সকল বিষয় বের করার তাওফিক দান করেছেন। আমি সেগুলোকে কয়েকটি ভাগে বিভক্ত করেছি, যার মধ্যে একটি বিভাগ ছিল ওই সকল উসুলি বিষয়াবলি যা শাইখুল ইসলাম সমালোচনা করেছেন। আমি এই বিষয়গুলো নিয়ে গবেষণা করেছি এবং আমার কাছে এটি স্পষ্ট হয়েছে যে, উসুলি বিষয়াবলির সমালোচনায় শাইখুল ইসলাম (রহ.)-এর মানহাজ বা পদ্ধতির মধ্যে নিম্নোক্ত পয়েন্টগুলো অন্তর্ভুক্ত রয়েছে:

১ - কোনো মতকে বিদআতি দলের (فرق المبتدعة) দিকে সম্বন্ধ করা এবং সেই সঙ্গে তার তীব্র নিন্দা জ্ঞাপন করা। যেমন ১৯/১৪৯-১৫১ পৃষ্ঠায় শরয়ি বিধানসমূহ (الأحكام الشرعية) সম্পর্কে বিভিন্ন মতের বর্ণনায় তাঁর উক্তি: “এ বিষয়ে মানুষ দুই প্রান্তসীমায় ও মধ্যপন্থায় বিভক্ত:

প্রথম প্রান্ত: শরিয়ত অস্বীকারকারী ইবাহিয়া যিনদিকদের (الزنادقة الإباحية) প্রান্ত... যারা মনে করে যে, এই বিধানগুলো নিঃশর্তভাবে বিশ্বাসের অনুগামী...

দ্বিতীয় প্রান্ত: চরমপন্থী ও কঠোরপন্থীদের প্রান্ত যারা কর্মের ক্ষেত্রে বিশ্বাসের কোনো প্রভাব দেখে না... এটি অধিকাংশ মুতাজিলা ও খারিজিদের মত...”।

তদ্রূপ ১১/৩৪১ পৃষ্ঠায় ইজমা (الإجماع) সম্পর্কে তাঁর উক্তি: “বিদআতিদের মধ্য থেকে মুতাজিলা ও শিয়াদের কেউ কেউ এটি অস্বীকার করেছে।”

২ - কোনো মতকে বিদআতি (مبتدع) হিসেবে বর্ণনা করা এবং সেই সঙ্গে তার তীব্র নিন্দা করা। যেমন ১৯/১৩৪ পৃষ্ঠায় তাঁর (রহ.) উক্তি—যেখানে বলা হয়েছে যে, বাস্তব ক্ষেত্রে আল্লাহর কাছে কোনো ঘটনার নির্দিষ্ট বিধান নেই, বরং এর বিধান প্রত্যেক মুকাল্লাফের ক্ষেত্রে তার ইজতিহাদ (اجتهاد) ও বিশ্বাসের অনুগামী—এই বিষয়ে তিনি বলেন: “এটি একটি বিদআতি (مبتدع) মত, যা গবেষণালব্ধ বিষয়গুলোর (المجتهدات) ক্ষেত্রে যিনদিক ইবাহিয়াদের ওই মতের সদৃশ যা তারা অকাট্য দলিলভিত্তিক বিষয়সমূহের (المنصوصات) ক্ষেত্রে পোষণ করে থাকে।”

৩ - কোনো আলোচ্য বিষয়কে নবউদ্ভাবিত (محدث) হিসেবে বর্ণনা করা। যেমন ৬/৫৬ পৃষ্ঠায় বিধান প্রণয়নের ক্ষেত্রে মাসআলাসমূহকে উসুল (মূল) ও ফুরু (শাখা) হিসেবে নামকরণের বিষয়ে তাঁর উক্তি: “এটি একটি নবউদ্ভাবিত (محدث) নামকরণ, যা ফকিহ ও মুতাকাল্লিমদের একটি গোষ্ঠী বিভাজন করেছে। আর এটি মুতাকাল্লিম ও উসুলিবিদদের মধ্যেই বেশি প্রচলিত, বিশেষ করে যখন...”