القسم: الأنساب
الكتاب: لباب الأنساب والألقاب والأعقاب
المؤلف: أبو الحسن ظهير الدين علي بن زيد البيهقي، الشهير بابن فندق (ت 565هـ)
[الكتاب مرقم آليا غير موافق للمطبوع]
عدد الصفحات: 120
تاريخ النشر بالشاملة: 8 ذو الحجة 1431
বিভাগ: বংশবিদ্যা
গ্রন্থ: লুবাবুল আনসাব ওয়াল আলকাব ওয়াল আ'কাব
লেখক: আবুল হাসান জহিরুদ্দীন আলী বিন যাইদ আল-বায়হাকী, যিনি ইবন ফুনদুক নামে পরিচিত (মৃত্যু ৫৬৫ হিজরি)
[গ্রন্থটি স্বয়ংক্রিয়ভাবে সংখ্যায়িত, যা মুদ্রিত সংস্করণের সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়]
পৃষ্ঠা সংখ্যা: ১২০
শামিলায় প্রকাশের তারিখ: ৮ যিলহজ ১৪৩১
সিহাহ্ অভিধানের প্রণেতা জাওহারী বলেন: 'নসব' (বংশ) এর বহুবচন হলো 'আনসাব', আর 'নিসবাত' শব্দটিও এর অনুরূপ। সে তার পিতার দিকে সম্বন্ধযুক্ত হলো, অর্থাৎ সে নিজের পরিচয় দিল এবং বংশীয় সংযোগ স্থাপন করল, অর্থাৎ সে দাবি করল যে সে তোমার বংশীয় আত্মীয়। প্রবাদে আছে: 'নিকটবর্তী সেই যে নিকটবর্তী হয়েছে, সে নয় যে কেবল বংশীয় সম্বন্ধ দেখিয়েছে।' 'নস্সাবাহ' হলো বংশবিদ্যা বিশারদ ব্যক্তি, এখানে অতিশয়োক্তি বা প্রশংসার আধিক্যের জন্য 'হা' (هاء) বর্ণটি যুক্ত করা হয়েছে, যেন তারা এর দ্বারা অত্যন্ত দক্ষ বা এই বিদ্যার চূড়ান্ত পর্যায়ের কাউকে বুঝিয়েছেন। অমুক ব্যক্তি অমুকের সাথে সম্বন্ধযুক্ত হয় যখন তার বংশের উল্লেখ করা হয়।
পূর্ববর্তী কোনো কোনো ব্যাকরণবিদ বলেছেন: নিসবাহ হলো শাখাগুলোকে আসলের (মূলের) সাথে 'ইয়া' (ي) যুক্ত করে মিলিয়ে দেওয়া। কোনো ব্যক্তিকে পরিচয়ের উদ্দেশ্যে তার চেয়ে অধিক প্রসিদ্ধ অন্য কোনো ব্যক্তির দিকে সম্বন্ধিত করা হয়, যেমন হাশেমের দিকে নিসবত করে বলা হয়: হাশেমী।
বংশীয় সম্বন্ধ বা নিসবতের একটি বিধান হলো এর মাধ্যমে নামটি গুণবাচক শব্দে (বিশেষণে) পরিণত হয়। এর অর্থ হলো, হাশেম একটি নাম (বিশেষ্য), কিন্তু আপনি যখন 'হাশেমী' বলবেন তখন তা গুণবাচক বা বিশেষণ হয়ে যাবে। এটি এমন এক প্রকার যা দ্বিবচন, বহুবচন এবং স্ত্রীলিঙ্গ ও পুংলিঙ্গের ক্ষেত্রে অন্যের ওপর নির্ভরশীল হয়। তাই আপনি বলতে পারেন: হাশেমী নারী, এবং দুইজন হাশেমী পুরুষ।
একজন ব্যক্তি কোনো অঞ্চলের দিকেও সম্বন্ধিত হয়, যেমন আপনি বসরার দিকে নিসবত করে বলেন: বসরী, এবং কুফার দিকে বলেন: কুফী। ব্যাকরণবিদদের এ বিষয়ে আরও অনেক আলোচনা রয়েছে যা আমাদের এখানে প্রয়োজন নেই।
'মা’দুদ' মানে হলো 'মাহসুব' (গণনা করা হয়েছে এমন), আবার একে 'হাসব'ও বলা হয়। এটি এমন একটি ক্রিয়ামূল যা কর্মের (মফুল) অর্থ প্রদান করে, যেমন 'নাক্বস' এর অর্থ হলো 'মানক্বুস' (হ্রাসকৃত)। আর 'হাসব' মানে হলো সামর্থ্য বা পরিমাণ। বলা হয়: তোমার জ্ঞান সেই অনুযায়ী (বি-হাসবি যালিকা), অর্থাৎ সেই পরিমাণ অনুযায়ী।
কিসাঈ বলেন: আমি জানি না তোমার কথার 'হাসব' (পরিমাণ বা গাম্ভীর্য) কতটুকু। অর্থাৎ এর মর্যাদা বা পরিমাণ কী।
জাওহারী বলেন: বলা হয়, ব্যক্তির 'হাসব' হলো তার দীন, আবার বলা হয় তার সম্পদ। ইবনুল সিক্কীত বলেন: 'হাসব' এবং 'কারাম' (মর্যাদাপূর্ণ গুণাবলী) একজন ব্যক্তির মধ্যে থাকতে পারে যদিও তার গৌরবময় কোনো পূর্বপুরুষ না থাকে। তবে 'শরাফ' (আভিজাত্য) এবং 'মাজদ' (গৌরব) কেবল পূর্বপুরুষদের মাধ্যমেই অর্জিত হয়।
অতএব যার পিতার কোনো আভিজাত্য নেই তাকে 'শরীফ' (অভিজাত) বলা হবে না, আর তাকে 'মাজিদ' (গৌরবান্বিত) বলা হবে না। তার ক্ষেত্রে 'শরাফ' ও 'মাজদ' এর উল্লেখ করা হবে না। সুতরাং 'শরাফ' এবং 'মাজদ' বংশের (নসব) সাথে সম্পৃক্ত, আর 'হাসব' ও 'কারাম' ব্যক্তির নিজস্ব সত্তার সাথে সম্পৃক্ত।
হাসব এবং নসবের মধ্যে এটিই স্পষ্ট পার্থক্য, ওয়াস সালাম।
অনুচ্ছেদকুরাইশ এবং তামীমের মধ্যবর্তী আত্মীয়তানিশ্চয়ই নজর-এর মা যয়নাব বিনতে … কিনানার স্ত্রী ছিলেন, যারা কুরাইশদের মাতুল পক্ষ। এই আত্মীয়তার দিকেই আমীরুল মুমিনীন আলী ইবনে আবী তালিব রাযিয়াল্লাহু আনহু নাহজুল বালাগাহ গ্রন্থে ইঙ্গিত করেছেন।নজর ইবনে কিনানা ইবনে মুদরিকা ইবনে ইলিয়াস-এর সন্তানদের 'কুরাইশ' বলা হতো। কুসাই-এর বংশধরেরা কুরাইশ থেকে অন্তর্ভুক্ত, কুসাই-এর ভাই জোহরা (তিনি হলেন জোহরা ইবনে কিলাব) এবং জোহরার বংশধরেরাও কুরাইশদের অন্তর্ভুক্ত। আর তামীম ইবনে মুররা—যিনি কুসাই ইবনে কিলাব ইবনে মুররা-এর চাচাতো ভাই—তার বংশধরেরাও কুরাইশদের অন্তর্ভুক্ত। আদী ইবনে কা’ব—যিনি কুসাই-এর পিতার চাচাতো ভাই—তিনিও কুরাইশদের অন্তর্ভুক্ত।আর বংশধারা হলো: হাশেম ইবনে আবদে মানাফ ইবনে কুসাই ইবনে কিলাব ইবনে মুররা ইবনে কা’ব ইবনে লুয়াই ইবনে গালিব ইবনে নজর ইবনে কিনানা ইবনে মুদরিকা ইবনে ইলিয়াস।সুতরাং বনু কিনানা হলো কুরাইশ থেকে। মাখজুম ইবনে ইয়াকাজা ইবনে মুররা ইবনে কা’ব-এর বংশধরেরাও কুরাইশদের অন্তর্ভুক্ত। কুরাইশ হলো: বনু আবদে মানাফ, বনু আবদিদ দার, বনু জোহরা, বনু তামীম, বনু আদী এবং বনু মাখজুম। আর যারা নজর ইবনে কিনানার দিকে সম্বন্ধিত হয়, তারাই কুরাইশ।তাফসীরে সা’লাবী-তে বর্ণিত পূর্বোক্ত সনদে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়া সাল্লাম থেকে বর্ণিত যে, তিনি বলেছেন: আমরা নজর ইবনে কিনানার বংশধর। আমরা আমাদের মাকে উপেক্ষা করি না এবং আমাদের পিতা ছাড়া অন্য কারও দিকে নিজেদের সম্বন্ধ করি না। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়া সাল্লাম এর উদ্দেশ্য হলো: আমরা নিজেদের বনু তামীমের দিকে সম্বন্ধ করি না, বরং আমরা নজর ইবনে কিনানার দিকে সম্বন্ধ করি।এই একই সনদে ওয়াছিলা ইবনুল আসকা’ থেকে বর্ণিত, যিনি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়া সাল্লাম এর সাহাবীদের মধ্যে সর্বশেষ মৃত্যুবরণকারী ব্যক্তি। তিনি হিজরী ১০৬ সালে ইন্তেকাল করেন এবং তার মৃত্যুর মাধ্যমেই সাহাবীদের যুগের সমাপ্তি ঘটে।ওয়াছিলা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়া সাল্লাম থেকে বর্ণনা করেছেন যে, তিনি বলেছেন: নিশ্চয়ই আল্লাহ ইসমাঈলের বংশধরদের মধ্য থেকে বনু কিনানাকে মনোনীত করেছেন, বনু কিনানা থেকে কুরাইশদের মনোনীত করেছেন, কুরাইশ থেকে বনু হাশেমকে মনোনীত করেছেন এবং বনু হাশেম থেকে আমাকে মনোনীত করেছেন।বলা হয়ে থাকে: কুরাইশ নামটি এসেছে 'তাকাররুশ' শব্দ থেকে, যার অর্থ উপার্জন করা, ব্যবসা-বাণিজ্যে লিপ্ত হওয়া, সঞ্চয় করা এবং অনুসন্ধান করা।আব্দুল্লাহ ইবনে আব্বাসকে 'কুরাইশ' শব্দের অর্থ সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করা হলে তিনি বলেন: কুরাইশ সমুদ্রের এমন এক জলজ প্রাণী যা অন্য প্রাণীকে ভক্ষণ করে কিন্তু তাকে ভক্ষণ করা যায় না, সে সবার উপরে থাকে কিন্তু তাকে কেউ পরাস্ত করতে পারে না। তিনি এর প্রমাণ হিসেবে কবির কবিতার পঙক্তি উদ্ধৃত করেছেন:আর কুরাইশ হলো সেই যে সমুদ্রে বাস করে … তার নামানুসারেই কুরাইশকে কুরাইশ বলা হয়আরও বলা হয়: এটি আরবদের 'তাকাররাশু' কথাটি থেকে উদ্ভূত যার অর্থ 'তারা একত্রিত হয়েছে'; কারণ তারা একত্রিত হয়েছিল এবং অন্যদের বিরুদ্ধে এক হাতের মতো শক্তিশালী ছিল। আবার বলা হয়: এটি তাদের 'তাকারশাত আর-রিমাহ' কথা থেকে নেওয়া হয়েছে, যার অর্থ হলো যুদ্ধে বর্শার সাথে বর্শার সংঘাত হওয়া, আর তারাও যুদ্ধে একে অপরের পরিপূরক ও লড়াকু ছিল। কখনো কখনো তারা 'কুরাইশী' বলে থাকে। আরও বলা হয়েছে … প্রত্যেক কুরাইশ ব্যক্তিই গাম্ভীর্যপূর্ণ। আপনি যদি 'কুরাইশ' দ্বারা গোত্রকে বোঝাতে চান তবে তা তানভীন গ্রহণ করবে, আর যদি উপজাতি বোঝাতে চান তবে তা তানভীন গ্রহণ করবে না। কবির কবিতায় তানভীন ছাড়া ব্যবহারের উদাহরণ হলো:কুরাইশ কঠিন পরিস্থিতি মোকাবিলা করার জন্য যথেষ্ট ছিল এবং এর নেতৃত্ব দিয়েছেরাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন: ইমাম বা নেতৃবৃন্দ কুরাইশ থেকে হবেন।তিনি আরও বলেছেন: আরবদের প্রতি ভালোবাসা ঈমানের অংশ, এবং কুরাইশদের প্রতি ভালোবাসা ঈমানের অংশ।আরবদের একদল সাকিফ, কুরাইশ ও রবীআ-এর দিকে নিসবত করতে গিয়ে বলে: সাক্বাফী, কুরাশী ও রাবীঈ। আবার অন্য দল বলে: সাক্বীফী, কুরাইশী ও রাবীঈ।অনুচ্ছেদনবীর বাণী: আমি আওয়াতিকদের সন্তাননবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়া সাল্লাম-এর এই বাণীর অর্থ—'আমি আওয়াতিকদের সন্তান', 'আমি ফাওয়াত্বিমদের সন্তান'—হলো তারা সবাই ছিলেন অত্যন্ত পবিত্র এবং মহীয়সী নারী।