(খণ্ড: ১) মাজলিসুম মিন আমালীয়্যি ইবনু ফানজুওয়াইহি ফী ফাদলি রামাদান (পৃষ্ঠা: -)
مجلس من أمالي ابن فنجويه في فضل رمضان   (ابن فنجويه)

القسم: كتب السنة


الكتاب: مَجْلِسٌ مِنْ أَمَالِي الشَّيْخِ الزَّاهِدِ أَبِي بَكْرٍ مُحَمَّدِ بْنِ الْحُسَيْنِ ابْنِ فَنْجُوَيْهِ الثَّقَفِيِّ فِي «فَضْلِ رَمَضَانَ» .

المؤلف: أَبُو عَبْدِ اللهِ الحُسَيْنُ بنُ مُحَمَّدِ بنِ الحُسَيْنِ بنِ عَبْدِ اللهِ بنِ صَالِحِ بنِ شُعَيْب بنِ فَنْجَوَيْهِ الثَّقَفِيُّ، الدِّيْنَوَرِيُّ (ت 414هـ)

حرَّرَهُ وَضَبَطَهُ وَعَلَّقَ عَلَى بَعْضِهِ: أبُو مُحَمَّدٍ الألْفِيُّ.

[الكتاب مرقم آليا]

عدد الصفحات: 7

تاريخ النشر بالشاملة: 8 ذو الحجة 1431

রমজানের ফযিলত সম্পর্কে ইবনে ফানজুওয়াইহ-এর আমালি থেকে একটি মাজলিস   (ইবনে ফানজুওয়াইহ)

বিভাগ: সুন্নাহর গ্রন্থসমূহ


গ্রন্থ: «রমজানের ফযিলত» বিষয়ে শায়খ জাহিদ আবু বকর মুহাম্মদ বিন আল-হুসাইন ইবনে ফানজুওয়াইহ আস-সাকাফির আমালি থেকে একটি মাজলিস।

লেখক: আবু আবদুল্লাহ আল-হুসাইন বিন মুহাম্মদ বিন আল-হুসাইন বিন আবদুল্লাহ বিন সালিহ বিন শুয়াইব বিন ফানজুওয়াইহ আস-সাকাফি, আদ-দিনাওয়ারি (মৃত্যু ৪১৪ হিজরি)

সম্পাদনা, বিন্যাস ও টীকা প্রদান করেছেন: আবু মুহাম্মদ আল-আলফি।

[গ্রন্থটি স্বয়ংক্রিয়ভাবে নম্বরযুক্ত]

পৃষ্ঠা সংখ্যা: ৭

শামিলাতে প্রকাশের তারিখ: ৮ জিলহজ ১৪৩১

(খণ্ড: ১) মাজলিসুম মিন আমালীয়্যি ইবনু ফানজুওয়াইহি ফী ফাদলি রামাদান (পৃষ্ঠা: ১)
مَجْلِسٌ مِنْ أَمَالِي الشَّيْخِ الزَّاهِدِ أَبِي بَكْرٍ مُحَمَّدِ بْنِ الْحُسَيْنِ ابْنِ فَنْجُوَيْهِ الثَّقَفِيِّ

فِي «فَضْلِ رَمَضَانَ»

رِوَايَةُ أَبِي نَصْرٍ حَمْدِ بْنِ مَنْصُورِ بْنِ حَمْدٍ الْهَمْذَانِيِّ عَنْهُ

رِوَايَةُ أَبِي حَفْصٍ عُمَرَ بْنِ مُحَمَّدِ بْنِ طَبَرْزَذْ عَنْهُ (1)

رِوَايَةُ أَبِي الْحَسَنِ عَلِيِّ بْنِ أَحْمَد بْنِ الْبُخَارِيِّ عَنْهُ

، ــ،

بسم الله الرحمن الرحيم

وَمَا تَوْفِيقِي إِلا بِاللهِ

أَخْبَرَنَا الشَّيْخُ الإمَامُ الْحَافِظُ الْعَلامَةُ جَمَالُ الدِّينِ أبُو الْحَجَّاجِ يُوسُفُ بْنُ الزَّكِيِّ عَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ يُوسُفَ الْمِزِّيِّ بِقِرَاءتِي عَلَيْهِ فِي يَوْمِ الْخَمِيسِ الثَّالِثِ عَشْرَ مِنْ شَهْرِ ذِي الْحِجَّةِ سَنَةَ ثَلاثِينَ وَسَبْعِ مِئَةٍ بِقَرْيَةِ حَزَرَمَاءَ مِنْ مَرْجِ دِمَشْقَ الْمَحْرُوسَةِ: أَخْبَرَنَا الشَّيْخُ الإمَامُ الْعَالِمُ فَخْرُ الدِّينِ أبُو الْحَسَنِ عَلِيُّ بْنُ أَحْمَدَ بْنِ عَبْدِ الْوَاحِدِ بْنِ الْبُخَارِيُّ الْمَقْدِسِيُّ قِرَاءَةً عَلَيْهِ: أَخْبَرَنَا أبُو حَفْصٍ عُمَرُ بْنُ مُحَمَّدِ بْنِ مَعْمَرِ بْنِ طَبَرْزَذْ الْبَغْدَادِيُّ قِرَاءةً عَلَيْهِ وَنَحْنُ نَسْمَعُ: أَخْبَرَنَا الشَّيْخُ أبُو نَصْرٍ حَمْدُ بْنُ مَنْصُورِ بْنِ حَمْدٍ الْهَمْدَانِيُّ: أَخْبَرَنَا الشَّيْخُ الزَّاهِدُ أبُو بَكْرٍ مُحَمَّدُ بْنُ الْحُسَيْنِ بْنِ فَنْجُوَيْهِ الثَّقَفِيُّ قِرَاءَةً عَلَيْهِ وَأنَا أَسْمَعُ بِهَمْدَانَ سَنَةَ ثَمَانٍ وَتِسْعِينَ وَأَرْبَعِ مِئَةٍ قَالَ:

--------------------------------------------

(1) ابْنُ طَبَرْزَذْ: عُمَرُ بْنُ مُحَمَّدِ بْنِ مَعْمَرِ بْنِ يَحْيَى بْنِ أَحْمَدَ بْنِ حَسَّانٍ أبُو حَفْصٍ ابْنُ طَبَرْزَذْ، الدَّارَقَزَّيُّ الْبَغْدَادِيُّ الْمُؤَدِّبُ [516 - 607 هـ] . شَيْخُ الْحَدِيثِ فِي عَصْرِهِ. أَدَّبَ الصِّبْيَانَ فِي مَحَلَّةِ «دَارَ الْقَزِّ» بِبَغْدَادَ فَنُسِبَ إِلَيْهَا. وَحَدَّثَ بِبَغْدَادَ وَإِرْبَلَ وَالْمَوْصِلِ وَحَرَّانَ وَحَلَبٍ وَدِمَشْقَ وَغَيْرِهَا. وَالطَّبَرْزَذْ بِذَالٍ مُعْجَمَةٍ هُوَ السُّكَرُ.

قَالَ الْحَافِظُ الذَّهَبِيُّ: الإِمَامُ الْمُحَدِّثُ الْمُسْنِدُ أبُو حَفْصٍ مُوَفِّقُ الدِّينِ الْمُؤَدِّبُ الْبَغْدَادِي.

وَقَالَ الْحَافِظُ الْمُنْذِرِيُّ: لَقَيْتُهُ بِدِمَشْقَ، وَسَمِعْتُ مِنْهُ كَثِيْرَاً مِنَ الْكُتُبِ الْكِبَارِ والأَجْزَاءِ وَالْفَوَائِدِ، وَقَرَأْتُ عَلَيْهِ سَنَةَ 603 هـ الْغَيْلانِيَاتِ وَهِيَ أَحَدَ عَشَرَ جُزْءً، وَجَمَعَ لَهُ الْحَافِظُ أبُو عَبْدِ اللهِ مُحَمَّدُ بْنُ سَعِيدٍ «مَشْيَخَةً» فِي جُزْأَيْنِ، وَبَعْضِ الثَّالِثِ، فِيهَا ثَلاثٌ وَثَمَانُونَ شَيْخَاً، وَاسْتُدْرِكَ عَلَيْهِ غَيْرُهُمْ، وَصَنَّفَ «مَسْنَدَ الإِمَامِ عُمَرَ بْنِ عَبْدِ الْعَزِيزِ» مِنْ رِوَايَتِهِ. وَقَالَ الْعِمَادُ ابْنُ كَثِيْرٍ، بَعْدَ أَنْ عَرَّفَهُ بِشَيْخِ الْحَدِيثِ: كَانَ خَلِيعَاً ظَرِيفَاً مَاجِنَاً.

وَقَالَ الْحَافِظُ الْعَسْقَلانِيُّ: مُسْنِدُ الشَّامِيِّينَ، وَقَدْ وَهَّاهُ ابْنُ النَّجَّارِ مِنْ قِبَلِ دِينِهِ، يُسَامِحُهُ اللهُ.

قُلْتُ: وَأطَالَ ابْنُ النَّجَّارِ فِي تَرْجَمَتِهِ فِي «ذَيْلِ تَارِيخِ بَغْدَادَ» ، وَزَعَمَ أَنَّهُ كَانَ يُحَدِّثُهُمْ يَوْمَهُ أَجْمَعَ، فَيَقُومُونَ إِلَى الصَّلاةِ وَلا يُصَلِّى مَعَهُمْ، وَكَانَ يَطْلُبُ الأَجْرَ عَلَى رِوَايَةِ الْحَدِيثِ إِلَى غَيْرِ ذَلِكَ مِنْ سُوءِ الطَّرِيقَةِ وَفَاسِدِ الْحَالِ، وَاللهِ أَعْلَمُ بِحَالِهِ.

وَقَالَ ابْنُ الْعِمَادِ: مُسْنِدُ الْعَصْرِ، قَدِمَ دِمَشْقَ فِي آخِرِ أَيَّامِهِ، فَازْدَحَمُوا عَلَيْهِ، وَقَدْ أَمْلَى مَجَالِسَ بِجَامِعِ الْمَنْصُورِ، وَكَانَ ظَرِيفَاً كَثِيْرَ الْمِزَاحِ. تُوُفِّي بِبَغْدَادَ سَنَةَ 607 هـ، وَدُفِنَ بِبَابِ حَرْبٍ.

وَفِي دَارِ الْكُتُبِ الْمِصْرِيَّةِ جُزْءٌ فِيهِ أَحَادِيثَ عَنْ تِسْعَةَ عَشَرَ شَيْخَاً مِنْ أَصْحَابِ ابْنِ طَبَرْزَدْ.

[إيْضَاحٌ] وفِي «مُحِيطِ اللُّغَةِ» : سُكْرٌ طَبَرْزَذٌ وطَبَرْزَلٌ وطَبَرْزَنٌ.

وفِي «تَاجِ الْعَرُوسِ» : مُعَرَّبٌ أَصْلُ مَعْنَاهُ: مَا نُحِتَ بِالفَأْسِ.
শাইখ, যাহিদ আবু বকর মুহাম্মদ বিন আল-হুসাইন ইবনে ফাঞ্জুওয়াইহ আস-সাকাফির আমালি (শ্রুতিলিপি) থেকে একটি মজলিস

«রমজানের ফজিলত» বিষয়ে

তার থেকে আবু নাসর হামদ বিন মানসুর বিন হামদ আল-হামজানির বর্ণনা

তার থেকে আবু হাফস উমর বিন মুহাম্মদ বিন তাবারজাদ-এর বর্ণনা (১)

তার থেকে আবু আল-হাসান আলি বিন আহমদ বিন আল-বুখারির বর্ণনা

، ــ،

পরম করুণাময়, অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে

আমার তাওফিক কেবল আল্লাহর পক্ষ থেকেই

শাইখ, ইমাম, হাফিজ, আল্লামা জামালুদ্দিন আবু আল-হাজ্জাজ ইউসুফ বিন আজ-জাকি আবদুর রহমান বিন ইউসুফ আল-মিজ্জি—সংরক্ষিত দামেস্কের মারজ এলাকার হাজারমা গ্রামে সাতশত ত্রিশ হিজরি সনের জিলহজ মাসের তেরো তারিখ বৃহস্পতিবার আমি তাঁর কাছে পাঠ করার মাধ্যমে—আমাদের সংবাদ দিয়েছেন: শাইখ, ইমাম, আলিম ফখরুদ্দিন আবু আল-হাসান আলি বিন আহমদ বিন আবদুল ওয়াহিদ বিন আল-বুখারি আল-মাকদিসি তাঁর কাছে পাঠ করার মাধ্যমে আমাদের সংবাদ দিয়েছেন: আবু হাফস উমর বিন মুহাম্মদ বিন মামার বিন তাবারজাদ আল-বাগদাদি তাঁর কাছে পাঠ করার মাধ্যমে আমাদের সংবাদ দিয়েছেন এবং আমরা তা শুনছিলাম: শাইখ আবু নাসর হামদ বিন মানসুর বিন হামদ আল-হামদানি আমাদের সংবাদ দিয়েছেন: শাইখ, যাহিদ আবু বকর মুহাম্মদ বিন আল-হুসাইন বিন ফাঞ্জুওয়াইহ আস-সাকাফি চারশত আটানব্বই হিজরি সনে হামদানে তাঁর কাছে পাঠ করার মাধ্যমে আমাদের সংবাদ দিয়েছেন এবং আমি তা শুনছিলাম, তিনি বলেন:

--------------------------------------------

(১) ইবনে তাবারজাদ: উমর বিন মুহাম্মদ বিন মামার বিন ইয়াহইয়া বিন আহমদ বিন হাসান আবু হাফস ইবনে তাবারজাদ, আদ-দারাকাজ্জি আল-বাগদাদি আল-মুয়াদ্দিব [৫১৬ - ৬০৭ হিজরি]। তিনি তাঁর যুগের শাইখুল হাদিস ছিলেন। তিনি বাগদাদের «দারুল কাজ» মহল্লায় শিশুদের আদব শিক্ষা দিতেন, ফলে সেই মহল্লার দিকে সম্বন্ধ করে তাঁকে নিসবত করা হয়। তিনি বাগদাদ, ইরবিল, মসুল, হাররান, আলেপ্পো, দামেস্ক এবং অন্যান্য স্থানে হাদিস বর্ণনা করেছেন। আর তাবারজাদ শব্দটি ‘জাল’ (ذ) বর্ণ দিয়ে, যার অর্থ হলো চিনি।

হাফিজ আজ-জাহাবি বলেন: ইমাম, মুহাদ্দিস, মুসনিদ আবু হাফস মুওয়াফফাকুদ্দিন আল-মুয়াদ্দিব আল-বাগদাদি।

হাফিজ আল-মুনজিরি বলেন: আমি দামেস্কে তাঁর সাথে সাক্ষাৎ করেছি এবং তাঁর থেকে অনেক বড় বড় কিতাব, জুজ (পুস্তিকা) ও ফাওয়ায়েদ শুনেছি। এবং ৬০৩ হিজরি সনে আমি তাঁর কাছে আল-গাইলানিয়্যাত পাঠ করেছি যা এগারোটি জুজ বা খণ্ডে বিভক্ত। এবং হাফিজ আবু আব্দুল্লাহ মুহাম্মদ বিন সাঈদ তাঁর জন্য দুই খণ্ডে এবং তৃতীয় খণ্ডের কিছু অংশ জুড়ে একটি «মাশয়াখাহ» (উস্তাদদের তালিকা) সংকলন করেছেন, যাতে তিরাশিজন শাইখ রয়েছেন এবং অন্যদের নামও সেখানে সংযোজন করা হয়েছে। এবং তিনি তাঁর বর্ণনা থেকে «মুসনাদে ইমাম উমর বিন আব্দুল আজিজ» সংকলন করেছেন। ইমাদ ইবনে কাসির তাকে শাইখুল হাদিস হিসেবে পরিচয় করিয়ে দেওয়ার পর বলেন: তিনি ছিলেন আমুদে, রসিক ও প্রফুল্ল চিত্তের মানুষ।

হাফিজ আল-আসকালানি বলেন: শামবাসীদের মুসনিদ; তবে ইবনুন নাজ্জার তাঁর দ্বীনদারির দিক থেকে তাঁকে দুর্বল বলেছেন, আল্লাহ তাঁকে ক্ষমা করুন।

আমি (সংকলক) বলছি: ইবনুন নাজ্জার «জাইলু তারিখি বাগদাদ»-এ তাঁর জীবনী দীর্ঘভাবে আলোচনা করেছেন এবং দাবি করেছেন যে, তিনি সারাদিন তাদের নিকট হাদিস বর্ণনা করতেন, অতঃপর তারা নামাজের জন্য দাঁড়িয়ে যেত কিন্তু তিনি তাদের সাথে নামাজ পড়তেন না। এবং তিনি হাদিস বর্ণনার বিনিময়ে পারিশ্রমিক দাবি করতেন—এরকম আরও কিছু মন্দ স্বভাব ও ত্রুটিপূর্ণ অবস্থার কথা উল্লেখ করেছেন। আল্লাহই তাঁর অবস্থা সম্পর্কে ভালো জানেন।

ইবনুল ইমাদ বলেন: তিনি ছিলেন যুগের মুসনিদ, জীবনের শেষ দিনগুলোতে দামেস্কে এসেছিলেন, তখন তাঁর কাছে মানুষের ভিড় জমে যেত। তিনি মানসুর জামে মসজিদে অনেকগুলো মাজলিসে ইমলা (শ্রুতিলিপি) প্রদান করেছেন। তিনি রসিক ও অনেক কৌতুকপ্রিয় ছিলেন। ৬০৭ হিজরি সনে বাগদাদে ইন্তেকাল করেন এবং বাবু হারব-এ তাঁকে দাফন করা হয়।

দারুল কুতুব আল-মিসরিয়্যাহ-তে একটি জুজ (পুস্তিকা) রয়েছে যাতে ইবনে তাবারজাদের ১৯ জন ছাত্রের বর্ণিত হাদিসসমূহ সংকলিত আছে।

[ব্যাখ্যা] «মুহিতুল লুগাহ»-তে এসেছে: সুক্কুর তাবারজাদ, তাবারজাল এবং তাবারজান।

«তাজুল আরুস»-এ আছে: এটি একটি আরবীকরণকৃত শব্দ, যার মূল অর্থ হলো: কুড়াল দিয়ে যা কাটা বা খোদাই করা হয়েছে।
(খণ্ড: ১) মাজলিসুম মিন আমালীয়্যি ইবনু ফানজুওয়াইহি ফী ফাদলি রামাদান (পৃষ্ঠা: ২)
(1) أَخْبَرَنَا وَالِدِي أبُو عَبْدِ اللهِ الْحُسَيْنُ بْنُ مُحَمَّدِ بْنِ الْحُسَيْنِ بْنِ فَنْجُوَيْهِ الثَّقَفِيُّ إِمْلاءً حَدَّثَنَا عَبْدُ اللهِ بْنُ عَبْدِ الرَّحْمَنِ الدَّقَّاقُ حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ عَبْدِ الْعَزِيزِ حَدَّثَنَا سَعْدُ بْنُ حَفْصٍ الطَّلْحِيُّ أَخْبَرَنَا شَيْبَانُ بْنُ عبْدِ الرَّحْمَنِ عَنْ يَحْيَى عَنْ أَبِي سَلَمَةَ‌‌ أنَّ أبَا هُرَيْرَةَ رضي الله عنه أَخْبَرَهُ قَالَ: «لا تَقَدَّمُوا قَبْلَ شَهْرِ رَمَضَانَ بِيَوْمٍ، وَلا يَوْمَيْنِ إِلا أَنْ يَكُونَ رَجُلٌ كَانَ يَصُومُ صِيَامَاً فَلْيَصُمْهُ» .
(১) আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আমার পিতা আবু আবদুল্লাহ আল-হুসাইন ইবনে মুহাম্মদ ইবনে আল-হুসাইন ইবনে ফাঞ্জুওয়াইহ আস-সাকাফী ইমলা প্রদানের মাধ্যমে; আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন আবদুল্লাহ ইবনে আব্দুর রহমান আদ-দাক্কাক; আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন মুহাম্মদ ইবনে আব্দুল আজিজ; আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন সা'দ ইবনে হাফস আত-তালহী; আমাদের সংবাদ দিয়েছেন শাইবান ইবনে আব্দুর রহমান, ইয়াহইয়া থেকে, তিনি আবু সালামাহ থেকে বর্ণনা করেন যে, আবু হুরায়রা (রাদিয়াল্লাহু আনহু) তাকে সংবাদ দিয়েছেন, তিনি বলেছেন: "তোমরা রমজান মাসের একদিন বা দুইদিন আগে (রোজা রেখে) অগ্রসর হয়ো না; তবে যদি এমন কোনো ব্যক্তি হয় যে (নির্দিষ্ট কোনো দিনে) রোজা পালনে অভ্যস্ত ছিল, তবে সে যেন সেই রোজাটি পালন করে।"।
(খণ্ড: ১) মাজলিসুম মিন আমালীয়্যি ইবনু ফানজুওয়াইহি ফী ফাদলি রামাদান (পৃষ্ঠা: ৩)
(2) وَأَخْبَرَنَا وَالِدِي حَدَّثَنَا أحْمَدُ بْنُ مُحَمَّدِ بْنِ يُوسُفَ الصَّرْصَرِيُّ حَدَّثَنَا عَبْدُ اللهِ بْنُ مُحَمَّدِ بْنِ نَاجِيَةَ حَدَّثَنَا حَجَّاجُ بْنُ يُوسُفَ الشَّاعِرُ حَدَّثَنَا يَعْقُوبُ بْنُ إبْرَاهِيمَ بْنِ سَعْدٍ حَدَّثَنَا أَبِي عَنْ ابْنِ إِسْحَاقَ قَالَ: وَذَكَرَ ابْنُ شِهَابٍ عَنْ سَالِمِ بْنِ عَبْدِ اللهِ عَنْ أبِيهِ قَالَ: سَمِعْتُ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم يَقُولُ: «صُومُوا لِرُؤْيَتِهِ، وَأَفْطِرُوا لِرُؤْيَتِهِ، فَإِنْ غُمَّ عَلَيْكُمْ فَاقْدُرُوا لَهُ» .
(২) এবং আমাদের নিকট আমার পিতা বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমাদের নিকট আহমাদ ইবন মুহাম্মাদ ইবন ইউসুফ আস-সারসারী বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমাদের নিকট আবদুল্লাহ ইবন মুহাম্মাদ ইবন নাজিয়াহ বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমাদের নিকট হাজ্জাজ ইবন ইউসুফ আশ-শা'ইর বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমাদের নিকট ইয়াকুব ইবন ইবরাহীম ইবন সা'দ বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমার নিকট আমার পিতা বর্ণনা করেছেন ইবন ইসহাক থেকে; তিনি বলেন: ইবন শিহাব বর্ণনা করেছেন সালিম ইবন আবদুল্লাহ থেকে এবং তিনি তাঁর পিতা থেকে বর্ণনা করেন যে, তিনি বলেছেন: আমি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে বলতে শুনেছি: «তোমরা চাঁদ দেখে রোজা রাখো এবং চাঁদ দেখে রোজা ভঙ্গ করো; আর যদি তোমাদের নিকট আকাশ মেঘাচ্ছন্ন থাকে, তবে তার সময় গণনা করো»।
(খণ্ড: ১) মাজলিসুম মিন আমালীয়্যি ইবনু ফানজুওয়াইহি ফী ফাদলি রামাদান (পৃষ্ঠা: ৪)
(3) حَدَّثَنَا أَبِي حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ نَصْرِ بْنِ مُكْرَمٍ حَدَّثَنَا يَحْيَى بْنُ مُحَمَّدِ بْنِ صَاعِدٍ حَدَّثَنَا يَعْقُوبُ بْنُ إبْرَاهِيمَ الدَّوْرَقِيُّ حَدَّثَنَا هُشَيْمٌ عَنْ أَبِي إِسْحَاقَ حَدَّثَنِي رَجُلٌ مِنْ أَهْلِ الْمَدِينَةِ‌‌ عَنْ أبِي هُرَيْرَةَ رضي الله عنه قَالَ: «نَهَى رسُولُ اللهِ صلى الله عليه وسلم عَنْ صِيَامِ سِتَّةِ أَيَّامٍ: التَّشْرِيقِ الثَّلاثَةِ، وَيَوْمِ النَّحْرِ، وَيَوْمِ الْفِطْرِ، وَالْيَوْمِ الَّذِي يُشَكُّ فِيهِ مِنْ رَمَضَانَ» .
(৩) আমাদের নিকট আমার পিতা বর্ণনা করেছেন, আমাদের নিকট মুহাম্মাদ ইবনে নাসর ইবনে মুকরাম বর্ণনা করেছেন, আমাদের নিকট ইয়াহইয়া ইবনে মুহাম্মাদ ইবনে সাঈদ বর্ণনা করেছেন, আমাদের নিকট ইয়াকুব ইবনে ইবরাহিম আদ-দাওরাকী বর্ণনা করেছেন, আমাদের নিকট হুশাইম বর্ণনা করেছেন, আবু ইসহাক থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: মদিনাবাসীদের জনৈক ব্যক্তি আমার নিকট বর্ণনা করেছেন, আবু হুরাইরা (রাদিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: «আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) ছয়টি দিনে রোজা রাখতে নিষেধ করেছেন: তাশরীকের তিন দিন, কুরবানীর দিন, ঈদুল ফিতরের দিন এবং সেই দিন যেটিতে রমজান শুরু হওয়ার ব্যাপারে সন্দেহ করা হয়।»
(খণ্ড: ১) মাজলিসুম মিন আমালীয়্যি ইবনু ফানজুওয়াইহি ফী ফাদলি রামাদান (পৃষ্ঠা: ৫)
(4) حَدَّثَنَا وَالِدِي حَدَّثَنَا أحْمَدُ بْنُ جَعْفَرِ بْنِ حَمْدَانَ بْنِ عَبْدِ اللهِ حَدَّثَنَا مُسَبِّحُ بْنُ أَحْمَدَ بْنِ مُسَبِّحٍ حَدَّثَنَا أحْمَدُ بْنُ مُحَمَّدِ بْنِ عُمَرَ بْنِ يُونُسَ حَدَّثَنَا مَعْرُوفُ بْنُ مُوسَى الْعُمَانِيُّ حَدَّثَنَا عَبْدُ اللهِ بْنُ جَبَلَةَ الصَّنْعَانِيُّ حَدَّثَنِي الْحَسَنُ بْنُ مُحَمَّدِ بْنِ الْحَنَفِيَّةِ حَدَّثَنِي أَبِي عَنْ أبِيهِ عَلِيِّ بْنِ أَبِي طَالِبٍ رضي الله عنه قَالَ: «كَانَ رَسُولُ اللهِ صلى الله عليه وسلم إِذَا اسْتَهَلَّ شَهْرُ رَمَضَانَ اسْتَقْبَلَ الْقِبْلَةَ بِوَجْهِهِ، ثُمَّ قَالَ: اللَّهُمَّ أَهْلَّهُ عَلَيْنَا بِالأَمْنِ وَالإِيْمَانِ، وَالسَّلامَةِ وَالإِسْلامِ، وَالْعَافِيَةِ الْمُجَلَّلَةِ وَالرِّزْقِ الْحَسَنِ، وَدِفَاعِ الأَسْقَامِ، وَالْعَوْنِ عَلَى الصَّلاةِ وَالصِّيَامِ وَالْقِيَامِ وَتِلاوَةِ الْقُرْآنِ، اللَّهُمَّ سَلِّمْنَا لِرَمَضَانَ، وَسَلِّمْهُ مِنَّا، حَتَّى يَنْقَضِي وَقَدْ غَفَرْتَ لَنَا، وَرَحِمْتَنَا وَعَفَوْتَ عَنَّا، ثُمَّ يُقْبِلُ عَلَى النَّاسِ بِوَجْهِهِ، فَيَقُولُ: أيُّهَا النَّاسُ؛ إِنَّهُ إِذَا اسْتَهَلَّ شَهْرُ رَمَضَانَ فُتِحَتْ أبْوَابُ السَّمَاءِ وَأبْوَابُ الْجِنَانِ، وَغُلِّقَتْ أبْوَابُ النَّارِ، وَسُلْسِلَتْ الشَّيَاطِينُ، وَكَانَ للهِ عز وجل عِنْدَ كُلِّ فِطْرٍ عُتَقَاءُ مِنَ النَّارِ، وَنَادَى مُنَادٍ كُلَّ لَيْلَةٍ: اللَّهُمَّ أَعْطِ كُلَّ مُمْسِكٍ تَلَفَاً، وَأَعْطِ كُلَّ مُنْفِقٍ خَلَفَاً، فَإِذَا اسْتَهَلَّ شَهْرُ شَوَالٍ نُودِيَ الْمُؤْمِنُونَ: أَنْ اغْدُوا إلَى جَوَائِزِكُمْ، فَإِنَّهُ يَوْمُ جَائِزَةٍ، فَأَقَلُّ مَا يُجَازَي بِهِ الرَّجُلُ أَنْ يُكْتَبَ لَهُ أَلْفَ أَلْفَ حَسَنَةٍ، وَيُمْحَى عَنْهُ أَلْف أَلْفَ سَيْئِةٍ، قَالَ: وَأَرَادَ الْمُسْلِمُونَ رَسُولَ اللهِ صلى الله عليه وسلم أنْ يُخْبِرَهُمْ عَنْ لَيْلَةِ الْقَدْرِ، وَاسْتَعَانُوا بِعِشْرِينِ وَمِئَةٍ مِنَ الْبَدْرِيِّينَ، وَكَانَ الْبَدْرِيُّونَ إِذَا سَأَلُوا رَسُولَ اللهِ صلى الله عليه وسلم لَمْ يُدْفَعُوا عَنْهُ، فَأَمَرَ رَسُولُ اللهِ صلى الله عليه وسلم مُنَادِيَاً، فَنَادَى: الصَّلاةَ جَامِعَةَ، فَلَمَّا صَعَدَ الْمِنْبَرَ، حَمِدَ اللهَ وَأَثْنَى عَلَيْهِ، ثُمَّ قَالَ: أُثْنِي عَلَى رَبِّي عز وجل أَحْسَنَ الثَّنَاءِ طُولَ الْحَيَاةِ وَبَعْدَ الْفَنَاءِ، وَأَحْمَدُهُ عَلَى كُلِّ حَالٍ مِنْ شِدَّةٍ أَوْ رَخَاءٍ، وَعَلَى طُولِ الْعَافِيَةِ وَحُسْنِ الْبَلاءِ، وَأَشْهَدُ أنْ لا إِلَهَ إِلا اللهَ وَحْدَهُ لا شَرِيكَ لَهُ وَأَشْهَدُ أنِّي رَسُولُ اللهِ، قَالَ: فَارْتَجَّ الْمَسْجِدُ بِذَلِكَ، ثُمَّ قَالَ: أيُّهَا النَّاسِ، إِنَّكُمْ قَدْ أَحْفَيْتُمْ فِي الْمَسْأَلَةِ عَنْ لَيْلَةِ الْقَدْرِ، وَلَمْ يَمْنَعْنِي أَنْ أُخْبَرَكُمْ بِهَا فَتَتَكِّلُوا عَلَيْهَا، فَتَهَاوَنُوا بِبَقِيَّةِ الشَّهْرِ، أيُّهَا النَّاسِ مَنْ أَهْجَمَ عَلَيْهِ شَهْرُ رَمَضَانَ صَحِيحَاً سَلِيمَاً مُقِيمَاً، فَصَامَ نَهَارَهُ، وَقَامَ وِرْدَاً مِنْ لَيْلِهِ، وَحَافَظَ عَلَى صَلَوَاتِهِ مَجْمُوعَةً فِي جماعتهم، وَبَكَّرَ إلَى عِيدٍ وَجُمُعَةِ، وَحَفِظَ فَرْجَهُ وَلِسَانَهُ، وَغَضَّ بَصَرَهُ، فَقَدْ صَامَ الشَّهْرَ، وَأَدْرَكَ لَيْلَةَ الْقَدْرِ، وَفَازَ بِجَائِزَةِ الرَّبِّ عز وجل.
(৪) আমাদের কাছে আমার পিতা বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন, আমাদের কাছে আহমাদ বিন জাফর বিন হামদান বিন আবদুল্লাহ বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন, আমাদের কাছে মুসাব্বিহ বিন আহমাদ বিন মুসাব্বিহ বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন, আমাদের কাছে আহমাদ বিন মুহাম্মদ বিন উমর বিন ইউনুস বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন, আমাদের কাছে মারুফ বিন মুসা আল-উমানি বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন, আমাদের কাছে আবদুল্লাহ বিন জাবালা আস-সানআনি বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন, আমার কাছে হাসান বিন মুহাম্মদ বিন আল-হানাফিয়্যাহ বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন, আমার কাছে আমার পিতা তাঁর পিতা আলী বিন আবি তালিব (রাদিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: «আল্লাহর রাসুল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) যখন রমজান মাস শুরু হতে দেখতেন, তখন তিনি কিবলার দিকে মুখ করতেন, অতঃপর বলতেন: হে আল্লাহ! আপনি এই মাসকে আমাদের উপর নিরাপত্তা, ঈমান, শান্তি, ইসলাম, পূর্ণ সুস্থতা, উত্তম রিজিক, ব্যাধি থেকে সুরক্ষা এবং নামাজ, রোজা, রাতের ইবাদত ও কুরআন তিলাওয়াতের তৌফিকের সাথে উদিত করুন। হে আল্লাহ! আমাদের রমজানের জন্য নিরাপদ রাখুন এবং রমজানকে আমাদের পক্ষ থেকে কবুলিয়াতের সাথে নিরাপদ রাখুন, যতক্ষণ না তা অতিবাহিত হয় এমতাবস্থায় যে আপনি আমাদের ক্ষমা করেছেন, আমাদের প্রতি দয়া করেছেন এবং আমাদের মার্জনা করেছেন। অতঃপর তিনি মানুষের দিকে মুখ ফিরাতেন এবং বলতেন: হে লোকসকল! যখন রমজান মাস শুরু হয়, তখন আকাশের দরজাসমূহ এবং জান্নাতের দরজাসমূহ খুলে দেওয়া হয়, জাহান্নামের দরজাসমূহ বন্ধ করে দেওয়া হয় এবং শয়তানদের শৃঙ্খলিত করা হয়। আর প্রত্যেক ইফতারের সময় মহান আল্লাহর জাহান্নাম থেকে মুক্তিপ্রাপ্ত কিছু বান্দা থাকে। প্রতি রাতে একজন ঘোষণাকারী আহ্বান করেন: হে আল্লাহ! প্রত্যেক কৃপণ ব্যক্তিকে ধ্বংস দান করুন এবং প্রত্যেক দানকারীকে তার বিনিময় দান করুন। অতঃপর যখন শাওয়াল মাস শুরু হয়, তখন মুমিনদের উদ্দেশ্যে ঘোষণা করা হয়: তোমরা তোমাদের পুরস্কার গ্রহণ করতে ভোরে বেরিয়ে পড়ো, কেননা আজ পুরস্কারের দিন। একজন ব্যক্তিকে সর্বনিম্ন যে পুরস্কার দেওয়া হয় তা হলো, তার জন্য দশ লক্ষ নেকি লিখে দেওয়া হয় এবং তার থেকে দশ লক্ষ গুনাহ মিটিয়ে দেওয়া হয়। বর্ণনাকারী বলেন: মুসলিমগণ চেয়েছিলেন যে আল্লাহর রাসুল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) যেন তাঁদের লাইলাতুল কদর সম্পর্কে অবহিত করেন, এজন্য তাঁরা একশ বিশ জন বদরী সাহাবীর সাহায্য নিলেন। আর বদরী সাহাবীগণ যখন আল্লাহর রাসুল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর কাছে কিছু জিজ্ঞাসা করতেন, তখন তাঁদের ফিরিয়ে দেওয়া হতো না। অতঃপর আল্লাহর রাসুল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) এক ঘোষণাকারীকে আদেশ দিলেন, সে ঘোষণা করল: নামাজের জন্য সমবেত হও। যখন তিনি মিম্বারে আরোহণ করলেন, আল্লাহর প্রশংসা ও মহিমা বর্ণনা করলেন, অতঃপর বললেন: আমি আমার মহান রবের সর্বোত্তম প্রশংসা করছি আজীবন এবং মৃত্যুর পরেও। আমি সকল অবস্থায় তাঁর প্রশংসা করি—চাই তা কঠিন হোক বা স্বাচ্ছন্দ্যময়, এবং দীর্ঘকালীন সুস্থতা ও উত্তম পরীক্ষার জন্য আমি তাঁর প্রশংসা করি। আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, আল্লাহ ছাড়া কোনো ইলাহ নেই, তিনি একক, তাঁর কোনো শরিক নেই এবং আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে আমি আল্লাহর রাসুল। বর্ণনাকারী বলেন: তখন মসজিদ প্রকম্পিত হয়ে উঠল। অতঃপর তিনি বললেন: হে লোকসকল! তোমরা লাইলাতুল কদর সম্পর্কে প্রশ্নের ব্যাপারে অনেক বেশি পীড়াপীড়ি করেছ। তোমাদের তা জানাতে আমাকে কোনো কিছুই বাধা দেয়নি, তবে আশঙ্কা হলো পাছে তোমরা কেবল তার ওপরই ভরসা করে বসো এবং মাসের অবশিষ্ট দিনগুলোতে অবহেলা করো। হে লোকসকল! যে ব্যক্তির কাছে রমজান মাস উপস্থিত হলো এমতাবস্থায় যে সে সুস্থ, নিরাপদ ও নিজ এলাকায় অবস্থানকারী, আর সে দিনের বেলা রোজা রাখল, রাতের কিছু অংশে ইবাদতে দাঁড়িয়ে কাটাল, জামাতের সাথে নিয়মিত পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ আদায় করল, ঈদ ও জুমুআর নামাজে দ্রুত উপস্থিত হলো, নিজের লজ্জাস্থান ও জিহ্বা হেফাজত করল এবং নিজের দৃষ্টি অবনত রাখল—তবে সে ব্যক্তি পুরো মাস রোজা রাখল, লাইলাতুল কদর প্রাপ্ত হলো এবং মহান রবের পুরস্কারে জয়ী হলো।»
(খণ্ড: ১) মাজলিসুম মিন আমালীয়্যি ইবনু ফানজুওয়াইহি ফী ফাদলি রামাদান (পৃষ্ঠা: ৬)
(5) أَخْبَرَنَا وَالِدِي حَدَّثَنَا عُبَيْدُ اللهِ بْنُ مُحَمَّدِ بْنِ شَنَبَةَ الْقَاضِي حَدَّثَنَا عَبْدُ اللهِ بْنُ مُحَمَّدِ بْنِ سِنَانٍ حَدَّثَنَا مُسْلِمُ بْنُ إِبْرَاهِيمَ حَدَّثَنَا عَمْرُو بْنُ حَمْزَةَ أبُو أَسِيدٍ الْقَيْسِيُّ حَدَّثَنَا خَلَفٌ أبُو الرَّبِيعِ‌‌ عَنْ أَنَسٍ رضي الله عنه قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللهِ صلى الله عليه وسلم لَمَّا حَضَرَ شَهْرُ رَمَضَانَ: سُبْحَانَ اللهِ، مَاذَا تَسْتَقْبِلُونَ وَمَا يَسْتَقْبِلُكُمْ؟ - قَالَهَا ثَلاثَاً - فَقَالَ لَهُ عُمَرُ بْنُ الْخَطَّابِ رضي الله عنه: يَا رَسُولَ اللهِ، وَحْيٌ نَزَلَ أَوْ عَدُوٌّ حَضَرَ، قَالَ: لا، وَلَكِنَّ اللهَ عز وجل يَغْفِرُ فِي أَوَّلِ لَيْلَةٍ مِنْ رَمَضَانَ لأَهْلِ هَذِهِ الْقِبْلَةِ، قَالَ: وَفِي الْقَوْمِ رَجُلٌ يَهُزُّ رَأْسَهُ، وَيَقُولُ: بَخٍ بَخٍ، قَالَ لَهُ رَسُولُ اللهِ صلى الله عليه وسلم: كَأَنَّهُ ضَاقَ صَدْرُكَ مِمَّا سَمِعْتَ، قَالَ: لا، وَاللهِ يَا رَسُولَ اللهِ، وَلَكِنِّي ذَكَرْتُ الْمُنَافِقِينَ، فَقَالَ لَهُ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم: «الْمُنَافِقُ كَافِرٌ، وَلَيْسَ لِكَافِرٍ فِي ذَا شَيْءٌ» .

--------------------------------------------

(5) مُنْكَرٌ. وَأَخْرَجَهُ ابْنُ خُزَيْمَةَ (1885) ، وَالدَّوْلابِيُّ «الْكُنَى وَالأَسْمَاءُ» (1/107) ، وَالْعُقَيْلِيُّ «الضُّعَفَاءُ» (3/265) ، وَالطَّبَرَانِيُّ «الأوْسَطُ» ، وَالْبَيْهَقِيُّ «شُعُبُ الإِيْمَانِ» (3/309/3621) ، وَأبُو طَاهِرِ بْنُ الأَنْبَارِيِّ «مَشِيخَتُهُ» ، وَالْوَاحِدِيُّ «الْوَسِيطُ» (1/64/1) ، وَالضِّيَاءُ «الْمُخْتَارَةُ» (2114،2113،2112،2111) مِنْ طُرُقٍ عَنْ عَمْرِو بْنِ حَمْزَةَ أبِي أَسِيدٍ الْقَيْسِيِّ عَنْ خَلَفٍ أبِي الرَّبِيعِ عَنْ أَنَسٍ مَرْفُوعَاً بِه.

وَقَالَ أبُو بَكْرِ ابْنُ خُزَيْمَةَ: «إنْ صَحَّ الْخَبَرُ، فَإِنِّي لا أَعْرَفُ خَلَفَاً أبَا الرَّبِيعِ هَذَا بِعَدَالَةٍ وَلا جَرْحٍ، وَلا عَمْرَو بْنَ حَمْزَةَ الْقَيْسِيَّ الَّذِي هُوَ دُونَهُ» .

وقال الضِّيَاءُ الْمَقْدِسِيُّ: «ذَكَرَهُمَا ابْنُ أَبِي حَاتِمٍ وَلَمْ يَذْكُرْ فِيهِمَا جَرْحَاً، وَقَالَ: خَلَفُ بْنُ مِهْرَانَ أبُو الرَّبِيعِ إِمَامُ مَسْجِدِ ابْنِ أَبِي عَرُوبَةَ، وَخَلَفُ أبُو الرَّبِيعِ الَّذِي رَوَى عَنْهُ عَمْرُو بْنُ حَمْزَةَ الْقَيْسِيُّ آخَرُ غَيْرُهُ، وَلَعَلَّهُمَا وَاحِدٌ وَاللهُ أَعْلَمُ. وَقَالَ فِي عَمْرِو بْنِ حَمْزَةَ الْقَيْسِيِّ: رَوَى عَنْهُ مُسْلِمُ بْنُ إبْرَاهِيمَ وَمُحَمَّدُ بْنُ سَعِيدِ بْنِ الْوَليِدِ الْخُزَاعِيُّ» .

قُلْتُ: كَذَا جَهِلَ أبُو بَكْرٍ وَالْمَقْدِسِيُّ حَالَهُمَا، مَعَ مَعْرِفَةِ غَيْرِهِمَا مِنَ الأَئِمَّةِ بِضَعْفِ أَدْنَاهُمَا. فإن عَمْرَو بْنَ حَمْزَةَ الْقَيْسِيِّ الْبَصْرِيَّ ضَعَّفَهُ الدَّارَقُطْنِيُّ، وَقَالَ الْبُخَارِيُّ وَالْعُقَيْلِيُّ: لا يُتَابَعُ عَلَى حَدِيثِهِ هَذَا. وَذَكَرَ لَهُ ابْنُ عَدِيٍّ فِي «الْكَامِلِ» (5/143) حَدِيثَيْنِ مُنْكَرَيْنِ، وَقَالَ: مِقْدَارُ مَا يَرْوِيهِ غَيْرُ مَحْفُوظٍ.
(৫) আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আমার পিতা, তিনি বলেন: আমাদের নিকট হাদীস বর্ণনা করেছেন উবায়দুল্লাহ ইবন মুহাম্মাদ ইবন শানাবাহ আল-কাজী, তিনি বলেন: আমাদের নিকট হাদীস বর্ণনা করেছেন আবদুল্লাহ ইবন মুহাম্মাদ ইবন সিনান, তিনি বলেন: আমাদের নিকট হাদীস বর্ণনা করেছেন মুসলিম ইবন ইবরাহীম, তিনি বলেন: আমাদের নিকট হাদীস বর্ণনা করেছেন আমর ইবন হামযাহ আবু আসীদ আল-কাইসী, তিনি বলেন: আমাদের নিকট হাদীস বর্ণনা করেছেন খালাফ আবু আর-রাবী‘, আনাস রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: রমযান মাস উপস্থিত হলে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন: “সুবহানাল্লাহ! তোমরা কিসের অভ্যর্থনা জানাচ্ছ আর কে তোমাদের অভ্যর্থনা জানাচ্ছে?” —কথাটি তিনি তিনবার বললেন। তখন উমর ইবনুল খাত্তাব রাদিয়াল্লাহু আনহু তাঁকে বললেন: “হে আল্লাহর রাসূল! কোনো ওহী কি নাযিল হয়েছে, নাকি কোনো শত্রু উপস্থিত হয়েছে?” তিনি বললেন: “না, বরং মহান আল্লাহ রমযানের প্রথম রাতে এই কিবলার অনুসারীদের ক্ষমা করে দেন।” বর্ণনাকারী বলেন: তখন লোকদের মাঝে এক ব্যক্তি তার মাথা নাড়ছিলেন এবং বলছিলেন: “বাহ্! বাহ্!” রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁকে বললেন: “তুমি যা শুনলে তাতে মনে হচ্ছে তোমার অন্তর সংকুচিত হয়ে গেছে।” সে বলল: “না, আল্লাহর কসম, হে আল্লাহর রাসূল! বরং আমি মুনাফিকদের কথা স্মরণ করছিলাম।” তখন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাকে বললেন: “মুনাফিক তো কাফির, আর কাফিরের জন্য এতে কোনো অংশ নেই।”

--------------------------------------------

(৫) মুনকার (অস্বীকৃত)। এটি বর্ণনা করেছেন ইবনু খুযাইমাহ (১৮৮৫), আদ-দাওলাবী ‘আল-কুনা ওয়াল আসমা’ (১/১০৭), আল-উকায়লী ‘আদ-দুয়াফা’ (৩/২৬৫), আত-তাবারানী ‘আল-আওসাত’, আল-বায়হাকী ‘শুআবুল ঈমান’ (৩/৩০৯/৩৬২১), আবু তাহির ইবনুল আনবারী ‘মাশইয়াখাতুহু’, আল-ওয়াহিদী ‘আল-ওয়াসীত’ (১/৬৪/১) এবং আদ-দিয়া ‘আল-মুখতারাহ’ (২১১১, ২১১২, ২১১৩, ২১১৪) সূত্রে, তারা আমর ইবন হামযাহ আবু আসীদ আল-কাইসী থেকে, তিনি খালাফ আবু আর-রাবী‘ থেকে, তিনি আনাস থেকে মারফূ হিসেবে বর্ণনা করেছেন।

আবু বকর ইবনু খুযাইমাহ বলেন: “যদি সংবাদটি সহীহ হয়, তবে আমি এই খালাফ আবু আর-রাবী‘র বিশ্বস্ততা বা ত্রুটি সম্পর্কে জানি না, আর না তার পরবর্তী স্তরের রাবী আমর ইবন হামযাহ আল-কাইসী সম্পর্কে জানি।”

আদ-দিয়া আল-মাকদিসী বলেন: “ইবনু আবী হাতিম তাদের উভয়ের উল্লেখ করেছেন কিন্তু তাদের ব্যাপারে কোনো ত্রুটির কথা উল্লেখ করেননি। তিনি বলেছেন: খালাফ ইবন মিহরান আবু আর-রাবী‘ ছিলেন ইবনু আবী আরূবাহর মসজিদের ইমাম। আর খালাফ আবু আর-রাবী‘—যার থেকে আমর ইবন হামযাহ আল-কাইসী বর্ণনা করেছেন—তিনি অন্য একজন। সম্ভবত তারা একই ব্যক্তি হতে পারেন, আল্লাহই ভালো জানেন। তিনি আমর ইবন হামযাহ আল-কাইসী সম্পর্কে বলেন: তার থেকে মুসলিম ইবন ইবরাহীম ও মুহাম্মাদ ইবন সাঈদ ইবনুল ওয়ালীদ আল-খুযাঈ বর্ণনা করেছেন।”

আমি (গ্রন্থকার) বলছি: এভাবে আবু বকর (ইবনু খুযাইমাহ) ও আল-মাকদিসী তাদের অবস্থা সম্পর্কে অজ্ঞাত ছিলেন, অথচ অন্যান্য ইমামগণ তাদের মধ্যে নিম্নস্তরের রাবীর দুর্বলতা সম্পর্কে অবগত ছিলেন। কেননা আমর ইবন হামযাহ আল-কাইসী আল-বাসরীকে আদ-দারাকুতনী দুর্বল বলেছেন। আল-বুখারী ও আল-উকায়লী বলেছেন: তার এই হাদীসের কোনো অনুসরণমূলক বর্ণনা পাওয়া যায় না। ইবনু আদী ‘আল-কামিল’ গ্রন্থে (৫/১৪৩) তার সূত্রে দুটি মুনকার হাদীস উল্লেখ করেছেন এবং বলেছেন: সে যা বর্ণনা করে তা সংরক্ষিত (নির্ভরযোগ্য) নয়।
(খণ্ড: ১) মাজলিসুম মিন আমালীয়্যি ইবনু ফানজুওয়াইহি ফী ফাদলি রামাদান (পৃষ্ঠা: ৭)
(6) حَدَّثَنَا وَالِدِي حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ بَدْرٍ الأَمِيرِ حَدَّثَنَا حَمَّادُ بْنُ مُدْرِكٍ الْهَجَسْتَانِيُّ حَدَّثَنَا عُثْمَانُ بْنُ عَبْدِ اللهِ حَدَّثَنَا مَالِكٌ عَنْ أَبِي الزِّنَادِ عَنْ الأَعْرَجِ‌‌ عَنْ أبِي هُرَيْرَةَ رضي الله عنه قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللهِ صلى الله عليه وسلم: «إِذَا كَانَ أوَّلُ لَيْلَةٍ مِنْ شَهْرِ رَمَضَانَ نَظَرَ اللهُ عز وجل إلَى خَلْقَهِ، وَإِذَا نَظَرَ اللهُ عز وجل إلَى عَبْدِهِ لَمْ يُعَذِّبْهُ أَبَدَاً، وَللهِ عز وجل فِي كُلِّ لَيْلَةٍ أَلْفُ أَلْفِ عَتِيقٍ مِنَ النَّارِ» .

آخِرُ الْمَجْلِسِ

كَتَبَهُ عَلِيُّ بْنُ مُحَمَّدِ...... مِنْ خَطِّ مُحَمَّدِ بْنِ سُلَيْمَانَ بْنِ عَبْدِ اللهِ الْجَعْبَرِيِّ.

--------------------------------------------

(6) مَوْضُوعٌ. لَمْ يَرْوِه عَنْ مَالِكٍ بِهَذَا الإِسْنَادِ إِلا عُثْمَانُ بْنُ عَبْدِ اللهِ، وَهُوَ فِيمَا يُقَالُ: عُثْمَانُ بْنُ عَبْدِ اللهِ بْنِ عَمْرِو بْنِ عُثْمَانَ بْنِ عَفَّانَ أبُو عَمْرٍو الأَمَوِيُّ، يَسْرِقُ الْحَدِيثَ وَيَضَعُ عَلَى الثِّقَاتِ مَا لَيْسَ مِنْ أَحَادِيثِهِمْ، لا يَجُوزُ الاحْتِجَاجُ بِهِ، وَلا الرِّوَايَةُ عَنْهُ إِلا تَحْذِيرَاً مِنْهُ.

قَالَ ابْنُ عَدِيٍّ «الكامِلُ» (5/176) : «كَانَ يَسْكُنُ نِصِّيبِينَ، وَدَارَ الْبِلادَ، وَحَدَّثَ عَنْ مَالِكٍ وَحَمَّادِ بْنِ سَلَمَةَ وَابْنِ لَهِيعَةَ وَغَيْرِهِمْ بِالْمَنَاكِيرِ، يَرْوِي الْمَوْضُوعَاتِ عَنِ الثِّقَاتِ» . وَذَكَرَ جُمْلَةً مِنْ بَوَاطِيلِهِ وَمَنَاكِيرِهِ.

قَالَ ابْنُ حِبَّانَ «الْمَجْرُوحِينَ» (2/102) : «عُثْمَانُ بْنُ عَبْدِ اللهِ الْمَغْرِبِيُّ أبُو عَمْرٍو شَيْخٌ قَدِمَ خُرَاسَانَ، فَحَدَّثَهُمْ بِهَا. يَرْوِي عَنْ اللَّيْثِ بْنِ سَعْدٍ وَمَالِكٍ وَابْنِ لَهِيعَةَ، وَيَضَعُ عَلَيْهِمْ الْحَدِيث، كَتَبَ عَنْهُ أَصْحَابُ الرَّأي، لا يَحِلُّ كِتَابَةُ حَدِيثِهِ إِلا عَلَى سَبِيلِ الاعْتِبَارِ. رَوَى عَنْ مَالِكٍ عَنْ نَافِعٍ عَنْ ابْنِ عُمَرَ عَنْ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم قَالَ: «صَلُّوا خَلَفَ مَنْ قَالَ لا إِلَهَ إِلا اللهُ، وَصَلُّوا عَلَى مَنْ مَاتَ مِنْ أَهْلِ لا إِلَهَ إِلا اللهُ» . وَلَيْسَ هَذَا مِنْ حَدِيثِ رَسُولِ اللهِ، ولا مِنْ حَدِيثِ ابْنِ عُمَرَ، وَلا مِنْ حَدِيثِ نَافِعٍ، وَلا مِنْ حَدِيثِ مَالِكٍ» .
(৬) আমাদের নিকট আমার পিতা বর্ণনা করেছেন, আমাদের নিকট মুহাম্মদ ইবনুল বদর আল-আমির বর্ণনা করেছেন, আমাদের নিকট হাম্মাদ ইবনে মুদরিক আল-হাজাসতানি বর্ণনা করেছেন, আমাদের নিকট উসমান ইবনে আব্দুল্লাহ বর্ণনা করেছেন, আমাদের নিকট মালিক বর্ণনা করেছেন, তিনি আবুয যিনাদ থেকে, তিনি আল-আ’রাজ থেকে, আবু হুরায়রা (আল্লাহ তাঁর প্রতি সন্তুষ্ট হন) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: আল্লাহর রাসূল (তাঁর উপর আল্লাহর রহমত ও শান্তি বর্ষিত হোক) বলেছেন: «যখন রমজান মাসের প্রথম রাত উপস্থিত হয়, আল্লাহ মহান ও পরাক্রমশালী তাঁর সৃষ্টির দিকে তাকান, আর আল্লাহ মহান ও পরাক্রমশালী যখন তাঁর কোনো বান্দার দিকে তাকান, তখন তাকে আর কখনো শাস্তি দেন না। আর মহান ও পরাক্রমশালী আল্লাহর জন্য প্রত্যেক রাতে দশ লক্ষ জাহান্নাম হতে মুক্তিপ্রাপ্ত ব্যক্তি রয়েছে।»

অধিবেশনের সমাপ্তি।

এটি মুহাম্মদ ইবনে সুলাইমান ইবনে আব্দুল্লাহ আল-জা'বারীর পাণ্ডুলিপি থেকে আলি ইবনে মুহাম্মদ... লিখেছেন।

--------------------------------------------

(৬) বানোয়াট। এই বর্ণনাসূত্রে উসমান ইবনে আব্দুল্লাহ ব্যতীত অন্য কেউ মালিক থেকে এটি বর্ণনা করেননি। আর তিনি হলেন সেই ব্যক্তি যার সম্পর্কে বলা হয়: উসমান ইবনে আব্দুল্লাহ ইবনে আমর ইবনে উসমান ইবনে আফফান আবু আমর আল-উমায়বী। তিনি হাদিস চুরি করতেন এবং নির্ভরযোগ্য বর্ণনাকারীদের নামে এমন সব হাদিস জুড়ে দিতেন যা তাদের হাদিস নয়। তাকে দলিল হিসেবে গ্রহণ করা বৈধ নয় এবং তার থেকে হাদিস বর্ণনা করাও জায়েজ নয়, তবে কেবল সতর্ক করার উদ্দেশ্যে করা যেতে পারে।

ইবনে আদি 'আল-কামিল' (৫/১৭৬) গ্রন্থে বলেন: "তিনি নিস্সিবিনে বসবাস করতেন এবং দেশ-বিদেশে ভ্রমণ করেছেন। তিনি মালিক, হাম্মাদ ইবনে সালামাহ, ইবনে লাহিয়া ও অন্যদের থেকে আপত্তিকর হাদিস বর্ণনা করেছেন। তিনি নির্ভরযোগ্য বর্ণনাকারীদের বরাতে বানোয়াট হাদিস বর্ণনা করতেন।" তিনি তার বহু বাতিল ও আপত্তিকর বর্ণনার কথা উল্লেখ করেছেন।

ইবনে হিব্বান 'আল-মাজরুহিন' (২/১০২) গ্রন্থে বলেন: "উসমান ইবনে আব্দুল্লাহ আল-মাগরিবি আবু আমর একজন শায়খ যিনি খুরাসানে এসেছিলেন এবং সেখানে তাদের নিকট হাদিস বর্ণনা করেছেন। তিনি লাইস ইবনে সাদ, মালিক এবং ইবনে লাহিয়া থেকে হাদিস বর্ণনা করতেন এবং তাদের নামে হাদিস জাল করতেন। রায়পন্থীরা তার থেকে হাদিস লিপিবদ্ধ করেছেন। কেবল তুলনামূলক পর্যালোচনার উদ্দেশ্য ব্যতীত তার হাদিস লিখে রাখা বৈধ নয়। তিনি মালিক থেকে, তিনি নাফে থেকে, তিনি ইবনে উমর থেকে, তিনি নবী (তাঁর উপর আল্লাহর রহমত ও শান্তি বর্ষিত হোক) থেকে বর্ণনা করেছেন যে, তিনি বলেছেন: 'তোমরা আল্লাহ ব্যতীত কোনো সত্য উপাস্য নেই—এই সাক্ষ্য দানকারী প্রত্যেকের পেছনে সালাত আদায় করো এবং আল্লাহ ব্যতীত কোনো সত্য উপাস্য নেই—এই সাক্ষ্য দানকারীদের কেউ মারা গেলে তার জানাজা পড়ো।' অথচ এটি আল্লাহর রাসূলের হাদিস নয়, ইবনে উমরের হাদিস নয়, নাফে’র হাদিস নয় এবং মালিকের হাদিসও নয়।"