(খণ্ড: ১)
মাসায়িলু (ইযান)
(পৃষ্ঠা: -)
مسائل (إذن) القسم: النحو والصرف
الكتاب: مسائل (إذن)
المؤلف: أحمد بن محمد بن أحمد القرشي
الناشر: مجلة الجامعة الإسلامية بالمدينة المنورة
الطبعة: العدد 119 - السنة 35 - 1423هـ
[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]
عدد الصفحات: 447
تاريخ النشر بالشاملة: 8 ذو الحجة 1431
মাসআলাসমূহ (ইযন) বিভাগ: নাহু ও সরফ
বই: (ইযন) বিষয়ক মাসআলাসমূহ
লেখক: আহমদ বিন মুহাম্মদ বিন আহমদ আল-কুরাশি
প্রকাশক: মদিনা ইসলামি বিশ্ববিদ্যালয় সাময়িকী
সংস্করণ: সংখ্যা ১১৯ - বর্ষ ৩৫ - ১৪২৩ হিজরি
[বইটির পৃষ্ঠা বিন্যাস মুদ্রিত কপির অনুরূপ]
পৃষ্ঠা সংখ্যা: ৪৪৭
শামিলা লাইব্রেরিতে প্রকাশের তারিখ: ৮ জিলহজ ১৪৩১
(খণ্ড: ১)
মাসায়িলু (ইযান)
(পৃষ্ঠা: ৪০৯)
مقدَّمةالْحَمد لله وَحده وَالصَّلَاة وَالسَّلَام على من لَا نبيّ بعده.
وَبعد؛ فقد كَانَ من جملَة مَا اعتنى بِهِ عُلَمَاء الْعَرَبيَّة دراسة النَّحْو الْعَرَبِيّ عَامَّة، وأدوات الْمعَانِي خَاصَّة، فقد تتبعوا أَحْوَال الأدوات ودرسوها من مُخْتَلف جوانبها:
أَصْلهَا، عَملهَا، شُرُوط عَملهَا، إهمالها، زيادتها، حذفهَا، أقسامها، مَعَانِيهَا، لغاتها، اسميتها، حرفيتها، اتصالها بغَيْرهَا، بساطتها أَو تركيبها، ....
وَقد سلك النحويون فِي دراستهم أدوات الْمعَانِي ثَلَاثَة مناهج:
الْمنْهَج الأول: درس النُّحَاة الأدوات ضمن أَبْوَاب النَّحْو ومباحثه ومسائله، كأمثال سِيبَوَيْهٍ فِي "الْكتاب"، والمبرد فِي "المقتضب"، وَالْفراء فِي "مَعَاني الْقُرْآن"، وَابْن السراج فِي "الْأُصُول فِي النَّحْو"، والزّجاجيّ فِي "الجُمل"، والفارسيّ فِي "الْإِيضَاح العضدي، وَكتب الْمسَائِل"، وَابْن جنّى فِي "اللمع" والزمخشريّ فِي "المفصّل"، وَابْن الْحَاجِب فِي "الكافية"، وَابْن مَالك فِي "التسهيل" وَغَيرهم مِمَّن تنَاول الْكتب السَّابِقَة بالشرح.
الْمنْهَج الثَّانِي: درس بعض النُّحَاة أدوات الْمعَانِي دراسة مُسْتَقلَّة، إذْ أفردوها بكتب متخصصة تتناولها بالدراسة وَالِاسْتِقْصَاء من مُخْتَلف جوانبها، من هَذِه المؤلفات: حُرُوف الْمعَانِي" للّزجاجيّ، و"مَعَاني الْحُرُوف" للرّماني، و"الأُزهيّة" للهرويّ، و"رصف المباني" للمالقيّ، و "الجنى الداني" للمراديّ، و"جَوَاهِر الْأَدَب" للإربلّيّ، و"مُغنِي اللبيب" لِابْنِ هِشَام الأنصاريّ، وَغَيرهَا.
الْمنْهَج الثَّالِث: سلك بعض النُّحَاة مسلكاً آخر فِي دراسة أدوات الْمعَانِي،
ভূমিকা (مقدَّمة)সমস্ত প্রশংসা একমাত্র আল্লাহর জন্য, এবং সালাত ও সালাম বর্ষিত হোক তাঁর প্রতি যাঁর পরে কোনো নবী নেই।
অতপর; আরবি ভাষাবিদগণ সাধারণভাবে আরবি ব্যাকরণ (النحو) এবং বিশেষভাবে অর্থবোধক অব্যয়সমূহের (أدوات المعاني) প্রতি যে গুরুত্বারোপ করেছেন, এটি তারই অংশ। তাঁরা এই অব্যয়গুলোর অবস্থা পর্যবেক্ষণ করেছেন এবং বিভিন্ন দিক থেকে সেগুলো অধ্যয়ন করেছেন:
সেগুলোর উৎস (أصل), আমল বা কার্যকারিতা (عمل), আমল করার শর্তাবলি (شروط عمل), আমলহীনতা (إهمال), আধিক্য (زيادة), বিলুপ্তি (حذف), প্রকারভেদ (أقسام), অর্থসমূহ (معاني), উপভাষা (لغات), বিশেষ্য হওয়া (اسمية), অব্যয় হওয়া (حرفية), অন্যের সাথে যুক্ত হওয়া, সরলতা বা যৌগিকতা ইত্যাদি...।
ব্যাকরণবিদগণ (النحويون) অর্থবোধক অব্যয়সমূহ (أدوات المعاني) অধ্যয়নের ক্ষেত্রে তিনটি পদ্ধতি (مناهج) অনুসরণ করেছেন:
প্রথম পদ্ধতি (المنهج الأول): ব্যাকরণবিদগণ ব্যাকরণের বিভিন্ন অধ্যায়, আলোচনা ও মাসআলাসমূহের অধীনে অব্যয়গুলো নিয়ে আলোচনা করেছেন। যেমন: সিবাহওয়াইহ তাঁর "আল-কিতাব" গ্রন্থে, মুবাররাদ "আল-মুক্তাদাব" গ্রন্থে, ফাররা "মাআনিল কুরআন" গ্রন্থে, ইবনুল সাররাজ "আল-উসুল ফিন নাহু" গ্রন্থে, যাজ্জাজি "আল-জুমাল" গ্রন্থে, ফারিসি "আল-ইজাহ আল-আদাদি" ও "কুতুবুল মাসায়েল" গ্রন্থে, ইবনু জিন্নি "আল-লুমা" গ্রন্থে, যামাখশারি "আল-মুফাসসাল" গ্রন্থে, ইবনুল হাজিব "আল-কাফিয়া" গ্রন্থে, ইবনু মালিক "আত-তাসহিল" গ্রন্থে এবং যাঁরা পূর্বোক্ত গ্রন্থসমূহের ব্যাখ্যাগ্রন্থ (شرح) লিখেছেন তাঁরা।
দ্বিতীয় পদ্ধতি (المنهج الثاني): কোনো কোনো ব্যাকরণবিদ অর্থবোধক অব্যয়সমূহ স্বতন্ত্রভাবে (مستقلة) অধ্যয়ন করেছেন; কেননা তাঁরা এগুলোর জন্য বিশেষায়িত গ্রন্থ রচনা করেছেন যেখানে বিভিন্ন দিক থেকে সেগুলোর চুলচেরা বিশ্লেষণ ও অনুসন্ধান (استقصاء) করা হয়েছে। এসব সংকলনের মধ্যে রয়েছে: যাজ্জাজির "হুরুফুল মাআনি", রুম্মানির "মাআনিল হুরুফ", হারাবির "আল-উযহিয়্যাহ", মালিকির "রাসিফুল মাবানি", মুরাদিল "আল-জানাদ দানি", ইরবিলিল "জাওয়াহিরুল আদাব", ইবনু হিশাম আনসারির "মুগনিল লাবিব" ইত্যাদি।
তৃতীয় পদ্ধতি (المنهج الثالث): কিছু ব্যাকরণবিদ অর্থবোধক অব্যয়সমূহ অধ্যয়নের ক্ষেত্রে ভিন্ন একটি পথ অনুসরণ করেছেন,
(খণ্ড: ১)
মাসায়িলু (ইযান)
(পৃষ্ঠা: ৪১০)
هَذَا المسلك يتَمَثَّل فِي دراسة أداةٍ واحدةٍ، إذْ تُدْرَسُ من مُخْتَلف جوانبها، وممّن سلك هَذَا الْمنْهَج الزّجاجيّ فِي "كتاب اللامات"، وَأحمد بن فَارس فِي "مقَالَة كلاّ"، وَأَبُو جَعْفَر الطبريّ فِي "رِسَالَة كلاّ فِي الْكَلَام وَالْقُرْآن"، وَابْن هِشَام الأنصاريّ فِي رسَالَته "المباحث المَرْضِيّة الْمُتَعَلّقَة بمَنْ الشرطيّة" وَعُثْمَان النجديّ فِي رِسَالَة "أيّ الْمُشَدّدَة" وغَيرهم من النَّحْوِيين.
لذَلِك أردْت أَن أقوم بدراسة "إِذَنْ" من مُخْتَلف جوانبها، وَالَّذِي شجعني لدراستها، أنّني كنت أَقرَأ (بَاب إِذَنْ) فِي كتاب (المقتضب) للمبرد (2/12) ، واستوقفني قَوْله: (فَهَذِهِ حَال "إذَنْ" إِلَى أَنْ نُفرِدَ بَابا لمسائلها إِن شَاءَ الله) ، علّق عضيمة على الْمَسْأَلَة بقوله: (لم يُفرد بَابا لمسائل "إِذَنْ"، وإنّما استعرض النواصب فِي الْجُزْء الرَّابِع) .
عندئذ شمرت عَن ساعد الجدّ، وعقدت الْعَزْم على تتبع مسائلها فِي بطُون أمّات الْكتب النحوية، وَكتب أدوات الْمعَانِي، والمعاجم، وَالتَّفْسِير، وعلوم الْقُرْآن، والقراءات.
وَبعد جمع الْمسَائِل، ودراستها، تمّ تقسيمها على ثَلَاث عشرَة مَسْأَلَة، يسبقها مقدمةٌ، ويتلوها الخاتمة، ثمَّ فهرس المصادر والمراجع، ثمَّ فهرس الموضوعات.
وَقد جعلت هَذِه الدراسة بعنوان: (مسَائِل "إِذَنْ") .
أمّا الْمسَائِل الَّتِي درستها فَهِيَ على النَّحْو التَّالِي:
الْمَسْأَلَة الأولى: أصل "إِذَنْ".
الْمَسْأَلَة الثَّانِيَة: عَملهَا.
الْمَسْأَلَة الثَّالِثَة: شُرُوط عمل "إِذَنْ".
এই পদ্ধতিটি একটিমাত্র উপকরণ (أداة) অধ্যয়নের মাধ্যমে প্রতিফলিত হয়, যেখানে সেটিকে বিভিন্ন দিক থেকে আলোচনা করা হয়। যারা এই পদ্ধতি অনুসরণ করেছেন তাদের মধ্যে রয়েছেন কিতাবুল লামাত গ্রন্থে আয-যাজ্জাজি, মাকালাতু কাল্লা গ্রন্থে আহমাদ বিন ফারিস, রিসালাতু কাল্লা ফিল কালাম ওয়াল কুরআন গ্রন্থে আবু জাফর আত-তাবারী, আল-মাবাহিস আল-মারদিয়্যাহ আল-মুতায়াল্লিকাহ বি-মান আশ-শারতিয়্যাহ নামক পুস্তিকায় ইবনে হিশাম আল-আনসারী এবং আইয়ুল মুশাদ্দাদাহ নামক পুস্তিকায় উসমান আন-নাজদীসহ অন্যান্য ব্যাকরণবিদগণ।
এই কারণে আমি "ইযান" (إذن) শব্দটিকে এর বিভিন্ন দিক থেকে অধ্যয়ন করার সিদ্ধান্ত নিয়েছি। যে বিষয়টি আমাকে এটি অধ্যয়নে উৎসাহিত করেছে তা হলো, আমি মুবাররাদ রচিত আল-মুকতাদাব গ্রন্থের "ইযান পরিচ্ছেদ" পড়ছিলাম। সেখানে তার একটি বক্তব্য আমাকে ভাবিয়ে তোলে: "ইযান-এর অবস্থা এই পর্যন্তই, যতক্ষণ না আমরা ইনশাআল্লাহ এর মাসআলাগুলোর (مسألة) জন্য একটি স্বতন্ত্র পরিচ্ছেদ বরাদ্দ করি।" এই বিষয়ে আযাইমাহ মন্তব্য করে বলেন: "তিনি ইযান-এর মাসআলাগুলোর (مسألة) জন্য কোনো স্বতন্ত্র পরিচ্ছেদ তৈরি করেননি, বরং চতুর্থ খণ্ডে নওয়াসিব বা নসব প্রদানকারী অব্যয়গুলো পর্যালোচনার সময় এটি আলোচনা করেছেন।"
তখন আমি অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে সচেষ্ট হলাম এবং ব্যাকরণ শাস্ত্রের মূল আকর গ্রন্থসমূহ, অর্থবোধক অব্যয় বিষয়ক গ্রন্থসমূহ, অভিধান, তাফসির, উলুমুল কুরআন এবং কিরাত শাস্ত্রের গ্রন্থসমূহ থেকে এর মাসআলাগুলো (مسألة) অনুসরণের দৃঢ় সংকল্প করলাম।
মাসআলাগুলো (مسألة) সংগ্রহ ও পর্যালোচনার পর সেগুলোকে তেরটি মাসআলায় (مسألة) বিন্যস্ত করা হয়েছে। যার শুরুতে একটি ভূমিকা রয়েছে এবং শেষে রয়েছে একটি উপসংহার, তারপর উৎস ও তথ্যসূত্র তালিকা এবং বিষয়সূচি।
আমি এই গবেষণার শিরোনাম দিয়েছি: "ইযান-এর মাসআলাসমূহ (مسائل)"।
আমি যে মাসআলাগুলো (مسألة) আলোচনা করেছি তা নিম্নরূপ:
প্রথম মাসআলা (المسألة): "ইযান"-এর মূল ভিত্তি (أصل)।
দ্বিতীয় মাসআলা (المسألة): এর আমল বা ব্যাকরণগত কার্যকারিতা (عمل)।
তৃতীয় মাসআলা (المسألة): "ইযান"-এর আমল (عمل) করার শর্তাবলী (شروط)।
(খণ্ড: ১)
মাসায়িলু (ইযান)
(পৃষ্ঠা: ৪১২)
الْمَسْأَلَة الأولى: أصل "إِذَنْ":1
اخْتلف النحويون فِي أصل (إِذَنْ) ، هَل هِيَ حرفٌ أَو اسمٌ؟ وَهل هِيَ بسيطةٌ أَو مركبةٌ؟ ذهب الْجُمْهُور إِلَى أنّها حرفٌ، وَذهب بعض الْكُوفِيّين إِلَى أنّها اسمُ ظرفٍ، وَأَصلهَا "إِذا" الظَّرْفِيَّة لحقها التَّنْوِين عوضا من الْجُمْلَة المحذوفة، إِذْ الأَصْل فِي (إِذَنْ أكرمَك) أَن تَقول: (إِذا جئتني أكرمُك) ، حُذف ماتضاف إِلَيْهِ "إِذا"، وعُوّض مِنْهُ التَّنْوِين كَمَا عَوّضوا فِي (حينئذٍ) ، وحُذفت الْألف لالتقاء الساكنين، ونُقلت إِلَى الجزائية فبقى فِيهَا معنى الرَّبْط وَالسَّبَب.
وَذهب رضيّ الدّين إِلَى ماذهب إِلَيْهِ بعض الْكُوفِيّين، فَقَالَ: "الَّذِي يلوح لي فِي "إِذَنْ" ويغلب فِي ظنّي أنّ أَصله "إذْ" حذفت الْجُمْلَة الْمُضَاف إِلَيْهَا، وعُوّض مِنْهَا التَّنْوِين لمّا قُصد جعله صَالحا لجَمِيع الْأَزْمِنَة الثَّلَاثَة بَعْدَمَا كَانَ مُخْتَصًّا بالماضي، وَذَلِكَ أنّهم أَرَادوا الْإِشَارَة إِلَى زمَان فعلٍ مذكورٍ فقصدوا إِلَى لفظ "إذْ" الَّذِي هُوَ بِمَعْنى مُطلق الْوَقْت لخفة لَفظه، وجرّدوه عَن معنى الْمَاضِي وجعلوه صَالحا للأزمنة الثَّلَاثَة، وحذفوا مِنْهُ الْجُمْلَة الْمُضَاف هُوَ إِلَيْهَا، لأنّهم لمّا قصدُوا أَن يشيروا بِهِ إِلَى زمَان الْفِعْل الْمَذْكُور، دلّ ذَلِك الْفِعْل السَّابِق على الْجُمْلَة الْمُضَاف إِلَيْهَا، كَمَا يَقُول لَك شخصّ مثلا: "أَنا أزورك"، فَتَقول: "إِذَنْ أكرمَك"، أَي: "إذْ تزورني أكرمك"، أَي: وَقت زيارتك لي أكرمك،
--------------------------------------------
প্রথম মাসআলা: "ইযান" (إذن)-এর মূল উৎস:১
ব্যাকরণবিদগণ (নাহুবিদ) "ইযান" (إذن)-এর মূল উৎস সম্পর্কে মতভেদ করেছেন যে, এটি কি একটি অব্যয় (حرف) নাকি বিশেষ্য (اسم)? এবং এটি কি মৌলিক (بسيط) নাকি যৌগিক (مركب)? অধিকাংশ আলেম (جمهور) এই মত পোষণ করেছেন যে, এটি একটি অব্যয় (حرف)। আবার কূফাবাসীদের কেউ কেউ মনে করেন এটি একটি কালবাচক বিশেষ্য (اسم ظرف)। তাদের মতে এর মূল উৎস হলো কালবাচক "ইযা" (إذا), যার সাথে উহ্য বাক্যের পরিবর্তে তানভীন (التنوين) যুক্ত হয়েছে। কারণ, "তাহলে আমি তোমাকে সম্মানিত করব" (إذن أكرمك) বাক্যটির ক্ষেত্রে মূল কথা ছিল: "যখন তুমি আমার কাছে আসবে তখন আমি তোমাকে সম্মানিত করব" (إذا جئتني أكرمك)। এখানে "ইযা" (إذا) শব্দটির পরবর্তী সম্বন্ধিত পদ (مضاف إليه) বিলুপ্ত করা হয়েছে এবং তার পরিবর্তে তানভীন (التنوين) যুক্ত করা হয়েছে, যেমনটি তারা "তখন" (حينئذٍ) শব্দের ক্ষেত্রে করে থাকে। আর দুই সুকুন একত্রিত হওয়া (التقاء الساكنين) এর কারণে আলিফটিকে বিলুপ্ত করা হয়েছে এবং একে প্রতিদানমূলক (الجزائية) অর্থের দিকে স্থানান্তরিত করা হয়েছে, ফলে এতে বাক্য সংযুক্তি (الربط) ও কারণের (السبب) অর্থ অবশিষ্ট রয়ে গেছে।
রাযি উদ্দিন কূফাবাসীদের কারো কারো মতের দিকে ঝুঁকেছেন এবং বলেছেন: "'ইযান' (إذن) সম্পর্কে আমার কাছে যা স্পষ্ট হয় এবং আমার প্রবল ধারণা এই যে, এর মূল উৎস হলো 'ইয' (إذ)। এর পরবর্তী সম্বন্ধিত বাক্যটিকে (جملة مضاف إليها) বিলুপ্ত করা হয়েছে এবং তার পরিবর্তে তানভীন (التنوين) যুক্ত করা হয়েছে। এটি তখন করা হয়েছে যখন একে কেবল অতীত কালের জন্য নির্দিষ্ট রাখার পরিবর্তে তিন কালের জন্যই উপযোগী করার সংকল্প করা হয়েছে। বিষয়টি হলো, তারা যখন কোনো উল্লিখিত ক্রিয়ার সময়ের দিকে ইঙ্গিত করার ইচ্ছা পোষণ করলেন, তখন তারা উচ্চারণের সহজতার কারণে 'ইয' (إذ) শব্দটিকে গ্রহণ করলেন যা সাধারণ সময়ের অর্থ প্রদান করে। তারা একে অতীত কালের অর্থ থেকে মুক্ত করে তিন কালের জন্যই উপযোগী করলেন এবং এর পরবর্তী সম্বন্ধিত বাক্যটিকে (جملة مضاف إليه) বিলুপ্ত করে দিলেন। কারণ যখন তারা এর মাধ্যমে উল্লিখিত ক্রিয়ার সময়ের দিকে ইঙ্গিত করার ইচ্ছা করলেন, তখন পূর্ববর্তী সেই ক্রিয়াই পরবর্তী সম্বন্ধিত বাক্যের (جملة مضاف إليه) দিকে ইঙ্গিত প্রদান করে। যেমন কেউ আপনাকে বলল: "আমি আপনার সাথে সাক্ষাৎ করব", তখন আপনি প্রতিউত্তরে বললেন: "তাহলে আমি আপনাকে সম্মান করব" (إذن أكرمك); অর্থাৎ: "যখন আপনি আমার সাথে সাক্ষাৎ করবেন আমি আপনাকে সম্মান করব" (إذ تزورني أكرمك), অর্থাৎ: আপনার সাক্ষাতের সময় আমি আপনাকে সম্মান করব।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
মাসায়িলু (ইযান)
(পৃষ্ঠা: ৪১৩)
وعُوّض التَّنْوِين من الْمُضَاف إِلَيْهِ؛ لأنّه وُضع فِي الأَصْل لَازم الْإِضَافَة، فَهُوَ كـ"كلٍّ وبعضٍ"، إلاّ أنّهما معربان و"إذْ" مبنيّ
…"1.
ويؤكد على اسميتها فِي أَكثر من موضعٍ بقوله: "وَإِذا جَازَ لَك إِضْمَار "أَنْ" بعد الْحُرُوف الَّتِي هِيَ: الْوَاو، وَالْفَاء، وأو، وَحَتَّى، فهلاّ جَازَ إضمارها بعد الِاسْم – يَعْنِي إِذَنْ - وإنّما لم يجز إِظْهَار "أَنْ" بعد "إِذَنْ" لاستبشاعهم للتلفظ بهَا بعْدهَا"2.
وَقَالَ فِي موضعٍ آخر: "و"إِذَنْ" كنواصب الْفِعْل الَّتِي لَا يُفصل بَينهَا وَبَين الْفِعْل، إلاّ أنّ "إِذَنْ" لمّا كَانَ اسْما بِخِلَاف أخواته جَازَ أَن يُفصل بَينه وَبَين الْفِعْل" 3.
بل إِنّه رجّح اسميتها بقوله: "وقَلْبُ نونها فِي الْوَقْف ألفا يُرجّح جَانب اسميّتها"4.
وَاخْتلف النحويون أَيْضا فِي بساطتها وتركّبها، فَذهب الْجُمْهُور إِلَى أنّها بسيطة لامركبة من (إذْ وأنْ) أَو (إِذا وأنْ) .
وَذهب الْخَلِيل فِي أحد أَقْوَاله فِيمَا حكى عَنهُ غير سِيبَوَيْهٍ إِلَى أنّها حرفٌ مركبٌ من "إذْ" و"أَنْ"، وغَلب عَلَيْهَا حكم الحرفية، ونُقلت حَرَكَة الْهمزَة إِلَى الذّال، ثمّ حُذفت والتُزم هَذَا النَّقْل.
وَمِمَّنْ ذهب إِلَى هَذَا الرَّأْي بعض الْكُوفِيّين، وَابْن مَالك، فَقَالَ: "
…--------------------------------------------
এবং 'মুদাফ ইলাইহি'-এর পরিবর্তে এখানে তানউইন আনা হয়েছে; কারণ এটি মূলগতভাবে সর্বদা অন্য পদের সাথে অন্বিত হওয়ার জন্য নির্ধারিত। ফলে এটি 'কুল্লুন' এবং 'বাদুন'-এর ন্যায়, তবে পার্থক্য হলো শব্দ দুটি রূপান্তরযোগ্য এবং 'ইজ' শব্দটি অপরিবর্তনীয়
…"১।
তিনি একাধিক স্থানে এর বিশেষ্য হওয়ার বিষয়টিকে গুরুত্ব দিয়ে তাঁর এই বক্তব্যের মাধ্যমে বলেছেন: "যদি তোমার জন্য 'ওয়াও', 'ফা', 'আও' এবং 'হাত্তা'—এই অব্যয়গুলোর পরে 'আন'-কে উহ্য রাখা বৈধ হয়, তবে বিশেষ্যের পরে—অর্থাৎ 'ইজান'-এর পরে কেন তা উহ্য রাখা বৈধ হবে না? মূলত 'ইজান'-এর পরে 'আন'-কে স্পষ্টভাবে প্রকাশ করা বৈধ হয়নি কারণ তারা এর পরে এর উচ্চারণকে শ্রুতিকটু মনে করত।"২।
তিনি অন্য এক স্থানে বলেছেন: "এবং 'ইজান' হলো ক্রিয়ার নসবদানকারী অব্যয়গুলোর ন্যায় যেগুলোর এবং ক্রিয়ার মধ্যে কোনো ব্যবধান করা যায় না। তবে 'ইজান' যেহেতু একটি বিশেষ্য এবং তার সমগোত্রীয়দের থেকে ভিন্ন, তাই এর এবং ক্রিয়ার মধ্যে ব্যবধান করা বৈধ হয়েছে।" ৩।
বরং তিনি এর বিশেষ্য হওয়ার মতটিকেই প্রাধান্য দিয়ে বলেছেন: "ওয়াকফ (থামা)-এর সময় এর 'নুন'-কে আলিফ দ্বারা পরিবর্তন করা এর বিশেষ্য হওয়ার দিকটিকেই শক্তিশালী করে।"৪।
ব্যাকরণবিদগণ এর মৌলিকত্ব ও যৌগিকত্ব নিয়েও মতভেদ করেছেন। সংখ্যাগুরু (جمهور) ওলামাদের অভিমত হলো এটি একটি মৌলিক শব্দ, এটি 'ইজ ও আন' অথবা 'ইজা ও আন' থেকে গঠিত কোনো যৌগিক শব্দ নয়।
আল-খালিল তাঁর এক মতানুসারে—যা সিবওয়াইহ ব্যতীত অন্য কেউ তাঁর থেকে বর্ণনা করেছেন—মনে করেন যে, এটি 'ইজ' এবং 'আন' থেকে গঠিত একটি যৌগিক অব্যয়, যার ওপর অব্যয় হওয়ার বৈশিষ্ট্য প্রবল হয়েছে। এখানে হামযাহর হরকতটি 'জাল' বর্ণের দিকে স্থানান্তরিত হয়েছে এবং পরে হামযাহটি বিলুপ্ত হয়েছে এবং এই নিয়মটিই অনুসরণ করা হয়েছে।
যাঁরা এই মতটি পোষণ করেছেন তাঁদের মধ্যে কুফাবাসীদের একাংশ এবং ইবনে মালিক রয়েছেন। তিনি বলেছেন: "
…--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
মাসায়িলু (ইযান)
(পৃষ্ঠা: ৪১৪)
وَلَيْسَ فِي هَذَا نصٌّ على أنّ انتصاب الْمُضَارع بعد "إِذَنْ" عِنْد الْخَلِيل بـ"أَنْ" مضمرة، لجَوَاز أَن تكون مركبة مَعَ "إذْ" الَّتِي للتَّعْلِيل، و"أَنْ" محذوفا همزتها
بعد النَّقْل، والقولُ بِهِ على ضعفه أقربُ من القَوْل بأنّ "إِذَنْ" غيرُ مركبة".
ويؤكّد ابْن مَالك تركّبها بقوله: "والقولُ بأنّ "إِذَنْ" مركبةٌ من "إذْ" و"أَنْ" أسهلُ مِنْهُ" 1.
وَذهب أَبُو عليّ الرُّنديّ تلميذ السهيليّ إِلَى أنّها مركبةٌ من "إِذا" و"أَنْ"، حُذفت همزَة "أَنْ"، ثمَّ حُذفت ألف "إِذا" لالتقاء الساكنين، ثمّ تُعطى مَا تُعطى كلّ وَاحِدَة مِنْهُمَا، فتعطى الرّبط كـ (إِذا) ، والنّصب كـ (أنْ) 2.
وَقد ردّ المالقيّ على من زعم أنّ "إِذَنْ" مركبةٌ، بقوله: "وَهَذَا فاسدٌ من وَجْهَيْن:
أَحدهمَا: أنّ الأَصْل فِي الْحُرُوف البساطة، وَلَا يُدّعى التَّرْكِيب إلاّ بدليلٍ قاطعٍ.
وَالثَّانِي: أنّها لَو كَانَت مركبة من "إذْ" و"أَنْ" لكَانَتْ ناصبةً على كلّ حالٍ، تقدّمت أَو تَأَخَّرت، وعدمُ الْعَمَل فِي الْمَوَاضِع الْمَذْكُورَة قبلُ دليلٌ على عدم التَّرْكِيب" 3.
এতে এ বিষয়ে এমন কোনো সুষ্পষ্ট বক্তব্য (نص) নেই যে, আল-খালিল-এর নিকট ‘ইযান’-এর পরে মুদারে ক্রিয়ার নসব (نصب) হওয়াটি একটি উহ্য (مضمر) ‘আন’-এর মাধ্যমে হয়; কারণ এটি কারণ নির্দেশক ‘ইয’ এবং ‘আন’-এর সমন্বয়ে গঠিত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে, যেখানে ‘আন’-এর হামযাহটি
বর্ণ স্থানান্তরের পর বিলুপ্ত হয়েছে। আর এই অভিমতটি তার দুর্বলতা (ضعيف) সত্ত্বেও ‘ইযান’ শব্দটি যৌগিক (مركب) নয়—এমন মতের চেয়ে সত্যের অধিক নিকটবর্তী।
ইবনে মালিক শব্দটির যৌগিক হওয়ার বিষয়টিকে সমর্থন করে বলেন: "‘ইযান’ শব্দটি ‘ইয’ এবং ‘আন’-এর সমন্বয়ে গঠিত—এই কথাটি অন্যটির তুলনায় অধিক সহজ" ১।
সুহাইলি-র ছাত্র আবু আলী আল-রুন্দি এই মত ব্যক্ত করেছেন যে, এটি ‘ইযা’ এবং ‘আন’ থেকে গঠিত; প্রথমে ‘আন’-এর হামযাহ বিলুপ্ত হয়েছে, অতঃপর দুই সাকিন বর্ণ একত্রে হওয়ার কারণে ‘ইযা’-এর আলিফ বিলুপ্ত হয়েছে। এরপর একে উভয়টির বৈশিষ্ট্য প্রদান করা হয়েছে; ফলে এটি ‘ইযা’-এর ন্যায় সংশ্লিষ্টকরণ এবং ‘আন’-এর ন্যায় নসব (نصب) প্রদানের গুণ লাভ করেছে ২।
আল-মালাকী যারা ‘ইযান’-কে যৌগিক (مركب) দাবি করেন তাদের খণ্ডন করে বলেন: "এটি দুই দিক থেকে ত্রুটিপূর্ণ (فاسد):
প্রথমত: অব্যয়ের মূল বৈশিষ্ট্য হলো একক বা সরল (بسيط) হওয়া, আর কোনো অকাট্য দলিল ব্যতীত একে যৌগিক (مركب) দাবি করা যায় না।
দ্বিতীয়ত: এটি যদি ‘ইয’ এবং ‘আন’ দ্বারা গঠিত হতো, তবে তা বাক্যের শুরুতে আসুক বা পরে—সর্বাবস্থায় নসব (نصب) প্রদানকারী হতো। অথচ ইতিপূর্বে উল্লিখিত স্থানসমূহে এর আমল বা ব্যাকরণিক ক্রিয়াহীন থাকাটাই এর যৌগিক না হওয়ার প্রমাণ" ৩।
(খণ্ড: ১)
মাসায়িলু (ইযান)
(পৃষ্ঠা: ৪১৪)
الْمَسْأَلَة الثَّانِيَة: عَملهَا:اخْتلف النحويون أَيْضا فِي عمل "إِذَنْ" إِذا جَاءَ الْفِعْل الْمُضَارع مَنْصُوبًا بعْدهَا، مَا النّاصب لَهُ؟ هَل النّاصب لَهُ "إِذَنْ" أَو "أَنْ" مضمرة بعْدهَا؟.
--------------------------------------------
দ্বিতীয় মাসআলা: এর আমল:ব্যাকরণবিদগণ ‘ইযান’-এর আমল সম্পর্কেও মতভেদ করেছেন যখন এর পরবর্তী বর্তমানকালীন ক্রিয়াটি মানসুব অবস্থায় আসে। সে ক্ষেত্রে নসব প্রদানকারী কোনটি? নসব প্রদানকারী কি স্বয়ং ‘ইযান’, নাকি এর পরে উহ্য থাকা ‘আন’?
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
মাসায়িলু (ইযান)
(পৃষ্ঠা: ৪১৫)
ذهب سِيبَوَيْهٍ وَأكْثر النَّحْوِيين إِلَى أنّها تنصب بِنَفسِهَا، وَهُوَ ماسمعه عَن الْخَلِيل، قَالَ سِيبَوَيْهٍ: "اعْلَم أنّ "إِذَنْ" إِذا كَانَت جَوَابا، وَكَانَت مُبتَدأَة عملت فِي الْفِعْل عمل "أُرى" فِي الِاسْم إِذا كَانَت مُبتَدأَة، وَذَلِكَ قَوْلك:
"إِذَنْ أجيئَك" و"إِذَنْ آتيَك"1.
وَذهب الْخَلِيل بن أَحْمد فِي أحد قوليه إِلَى أنّها لَيست ناصبةً بِنَفسِهَا، بل الْفِعْل بعد "إِذَنْ" مَنْصُوب بـ"أَنْ" مضمرة، وَهُوَ مارواه عَنهُ أَبُو عُبَيْدَة.
قَالَ سِيبَوَيْهٍ: "وَقد ذكر لي بَعضهم أنّ الْخَلِيل قَالَ: "أَنْ" مضمرة بعد "إِذَنْ"، وَلَو كَانَت مِمَّا يُضمر بعده "أَنْ" فَكَانَت بِمَنْزِلَة اللاّم وحتّى لأضمرتها إِذا قلت: "عبدُ الله إِذَنْ يَأْتِيك"، فَكَانَ يَنْبَغِي أَن تَنصب "إِذَنْ يأتيَك"؛ لأنّ الْمَعْنى وَاحِد، وَلم يُغيَّر فِيهِ الْمَعْنى الَّذِي كَانَ فِي قَوْله: "إِذَنْ يأتيَك عبدُ الله"، كَمَا يَتغيّر الْمَعْنى فِي حتّى فِي الرّفْع وَالنّصب، فَهَذَا مارَووا، وأمّا ماسمعتُ مِنْهُ فالأوّلُ" 2.
وَمِمَّنْ ذهب إِلَى مَذْهَب الْخَلِيل الزّجاج، والفارسيّ3، ورضيّ الدّين الاستراباذيّ.
قَالَ الزّجاج بعد أَن حكى رأيَ سِيبَوَيْهٍ ورأيَ الْخَلِيل: "وكلا الْقَوْلَيْنِ حسنٌ جميلٌ إلاّ أنّ الْعَامِل – عِنْدِي – النصبَ فِي سَائِر الْأَفْعَال "أَنْ"، وَذَلِكَ أَجود، إمّا أَن تقع ظَاهِرَة أَو مضمرة".
--------------------------------------------
সিবওয়াইহ এবং অধিকাংশ ব্যাকরণবিদ এই মত পোষণ করেছেন যে, এটি (ইযান) নিজেই নসব প্রদান করে; আর এটিই তিনি খলীল থেকে শ্রবণ করেছেন। সিবওয়াইহ বলেন: "জেনে রেখো, 'ইযান' যখন উত্তর হিসেবে আসে এবং বাক্যের শুরুতে থাকে, তখন এটি ক্রিয়ার (ফেল) ক্ষেত্রে ঠিক তেমনি আমল করে, যেমনটি 'উরা' বিশেষ্যের (ইসম) ক্ষেত্রে আমল করে যখন তা শুরুতে থাকে। আর তা তোমার এই উক্তির মতো:
"ইযান আজিয়াকা" এবং "ইযান আতিয়াকা"১।
খলীল বিন আহমদ তাঁর দুটি মতের একটিতে এই অভিমত ব্যক্ত করেছেন যে, এটি (ইযান) নিজে নসব প্রদানকারী নয়, বরং 'ইযান'-এর পরবর্তী ক্রিয়াটি একটি উহ্য 'আন' দ্বারা মানসুব হয়; আর এটিই আবু উবায়দাহ তাঁর থেকে বর্ণনা করেছেন (رواه)।
সিবওয়াইহ বলেন: "তাদের কেউ কেউ আমার কাছে উল্লেখ করেছেন যে, খলীল বলেছেন: 'ইযান'-এর পরে 'আন' উহ্য থাকে। যদি এটি এমন কিছুর অন্তর্ভুক্ত হতো যার পরে 'আন' উহ্য থাকে এবং তা 'লাম' ও 'হাত্তা'-এর সমপর্যায়ভুক্ত হতো, তবে তুমি যখন বলতে: 'আবদুল্লাহ ইযান ইয়াতিকা', তখন অবশ্যই সেখানে 'আন' উহ্য রাখতে। সেক্ষেত্রে 'ইযান ইয়াতিকা' বাক্যে নসব প্রদান করা আবশ্যক ছিল; কারণ অর্থ অভিন্ন এবং এতে সেই অর্থ পরিবর্তিত হয়নি যা 'ইযান ইয়াতিকা আবদুল্লাহ' বাক্যে বিদ্যমান ছিল, যেমনটি 'হাত্তা'-এর ক্ষেত্রে রফ ও নসবের কারণে অর্থ পরিবর্তিত হয়ে থাকে। সুতরাং এটিই তারা বর্ণনা করেছেন (رواوا); তবে আমি তাঁর থেকে যা শ্রবণ করেছি তা প্রথমটিই।" ২।
যারা খলীলের মাযহাব অনুসরণ করেছেন তাদের মধ্যে রয়েছেন আয-যাজ্জাজ, আল-ফারিসি৩ এবং রাযি উদ্দিন আল-আস্তারাবাদী।
আয-যাজ্জাজ সিবওয়াইহ ও খলীলের মত বর্ণনা করার পর বলেন: "উভয় মতই চমৎকার ও সুন্দর, তবে আমার মতে—সমস্ত ক্রিয়ার ক্ষেত্রে নসব প্রদানকারী আমেল হলো 'আন'; আর এটিই অধিকতর তাত্ত্বিক, তা প্রকাশ্য হোক কিংবা উহ্য।"
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
মাসায়িলু (ইযান)
(পৃষ্ঠা: ৪১৬)
وَقَالَ فِي تَأْوِيل "إِذَنْ أكرمَه": "تَأْوِيله إنْ كَانَ الأمرُ على مَا تصِفُ وَقَعَ إِكْرامُه، فـ"أَنْ" مَعَ "أُكرمُه" مقدرةٌ بعد "إِذَنْ" "1.
أَمّا الفارسيّ فَذهب إِلَى أنّها العاملةُ بِنَفسِهَا، وَهُوَ مخالفٌ لما نُسب إِلَيْهِ، فَقَالَ: "وممّا ينْتَصب الْفِعْل بعده من الْحُرُوف الَّتِي لاتضمر "إِذَنْ"، وإنّما تعْمل فِي الْفِعْل إِذا كَانَت جَوَابا،
…"2، وربّما قَالَ بِهِ فِي كتاب آخر، أَو أنّه يَقُول بهما.
أَمّا الرضيّ فقد دَافع عَن مَذْهَب الْخَلِيل وردّ على سِيبَوَيْهٍ بقوله: "وَيُمكن تَوْجِيه هَذَا القَوْل على ماذكرنا" ثمّ قَالَ: "وَإِذا جَازَ لَك إِضْمَار "أَنْ" بعد الْحُرُوف الَّتِي هِيَ: الْوَاو، وَالْفَاء، وأو، وحتّى، فهلاّ جَازَ إضمارها بعد الِاسْم، وإنّما لم يجز إِظْهَار "أَنْ" بعد "إِذَنْ" لاستبشاعهم للتلّفظ بهَا بعْدهَا"
ويؤكّد ذَلِك أَيْضا بقوله: "فَلَمَّا احْتمل "إِذَنْ" الَّتِي يَليهَا الْمُضَارع معنى الْجَزَاء، فالمضارع بِمَعْنى الِاسْتِقْبَال، وَاحْتمل معنى مُطلق الزَّمَان، فالمضارع بِمَعْنى الْحَال، وَقصد التَّنْصِيص على معنى الْجَزَاء فِي "إِذَنْ"، نصب الْمُضَارع بـ"أَنْ" الْمقدرَة؛ لأنّها تُخلّص الْمُضَارع للاستقبال،
…".
ويُبرهن بأنّها غيرُ عاملة بِنَفسِهَا بقوله: "وتجويز الْفَصْل بَينهَا وَبَين منصوبها بالقسم، والنِّداء، وَالدُّعَاء، يُقوِّى كَونهَا غيرَ ناصبة بِنَفسِهَا، كـ"أَنْ"، و"لَنْ"، إذْ لايُفصل بَين الْحَرْف ومعموله بِمَا لَيْسَ من معموله" 3.
أمّا ابْن مَالك فَيرى أنّه لايوجد نصٌّ على أنّ الْخَلِيل يذهب إِلَى أنّ الْفِعْل
--------------------------------------------
এবং তিনি "إِذَنْ أكرمَه" (তবে আমি তাকে সম্মানিত করব)-এর ব্যাখ্যায় বলেছেন: "এর ব্যাখ্যা হলো—যদি বিষয়টি আপনার বর্ণনা অনুযায়ী হয় তবে তার সম্মাননা বাস্তবায়িত হবে। সুতরাং 'إِذَنْ'-এর পরে 'أَنْ' বর্ণটি 'أُكرمُه'-এর সাথে উহ্য (مقدرة) হিসেবে ধরা হয়েছে।" 1.
আর আল-ফারিসি এই মত পোষণ করেছেন যে, এটি নিজেই আমল বা ক্রিয়া সম্পাদন করে; যা তাঁর প্রতি যা সম্বন্ধযুক্ত করা হয়েছে তার পরিপন্থী। তিনি বলেন: "সেসব হরফের অন্তর্ভুক্ত—যার পরে ক্রিয়া নসব (نصب) প্রাপ্ত হয় এবং যা উহ্য থাকে না—হলো 'إِذَنْ'। এটি ক্রিয়ার ওপর তখনই আমল করে যখন তা উত্তর বা জওয়াব হিসেবে আসে,
…" 2, সম্ভবত তিনি অন্য কোনো গ্রন্থে এটি বলেছেন অথবা তিনি উভয় মতই পোষণ করেন।
পক্ষান্তরে আল-রাযী আল-খালীল-এর মাযহাব বা মতকে সমর্থন করেছেন এবং সিবওয়াইহ-এর প্রতিবাদ করে বলেছেন: "আমরা যা উল্লেখ করেছি তার আলোকে এই উক্তিটির ব্যাখ্যা প্রদান করা সম্ভব।" অতঃপর তিনি বলেন: "যদি ওয়াও, ফা, আও এবং হাত্তা-এর মতো হরফগুলোর পরে 'أَنْ' উহ্য রাখা জায়েজ বা বৈধ হয়, তবে বিশেষ্য বা ইসম-এর পরে কেন তা বৈধ হবে না? মূলত 'إِذَنْ'-এর পরে 'أَنْ' প্রকাশ করা বৈধ নয়, কারণ তারা এর পরবর্তী উচ্চারণে একে শ্রুতিকটু মনে করতেন।"
তিনি একথার সপক্ষে আরও গুরুত্বারোপ করে বলেন: "যেহেতু মুযারে' (বর্তমান বা ভবিষ্যৎ কালীন ক্রিয়া) সংলগ্ন 'إِذَنْ' প্রতিদানের অর্থ বহন করে, তাই মুযারে' এখানে ভবিষ্যৎ কালের অর্থ প্রদান করে। আবার যখন তা সাধারণ সময়ের অর্থ প্রদান করে, তখন মুযারে' বর্তমান কালের অর্থ প্রদান করে। আর 'إِذَنْ'-এর মধ্যে প্রতিদানের অর্থ সুনির্দিষ্ট করার উদ্দেশ্যে মুযারে'-কে উহ্য (مقدرة) 'أَنْ' দ্বারা নসব প্রদান করা হয়; কারণ এটি মুযারে'-কে ভবিষ্যৎ কালের জন্য নির্দিষ্ট করে দেয়,
…"।
তিনি এটি নিজেই আমলকারী নয়—তার প্রমাণ হিসেবে বলেন: "এর এবং এর মানসুব (যাকে নসব প্রদান করা হয়েছে)-এর মাঝে শপথ, আহ্বান এবং দোয়ার মাধ্যমে ব্যবধান করা জায়েজ হওয়া একথাই শক্তিশালী করে যে, এটি 'أَنْ' ও 'لَنْ'-এর মতো নিজেই নসব প্রদানকারী নয়। কেননা হরফ এবং তার মামুল (যার ওপর আমল করা হয়)-এর মাঝে এমন কোনো শব্দ দ্বারা ব্যবধান করা যায় না যা মামুলের অন্তর্ভুক্ত নয়।" 3.
ইবনে মালিক-এর মতে, আল-খালীল এই মত পোষণ করেন যে ক্রিয়া...—এর সপক্ষে কোনো অকাট্য পাঠ বা নস (نص) নেই।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
মাসায়িলু (ইযান)
(পৃষ্ঠা: ৪১৭)
الْمُضَارع منصوبٌ بـ"أَنْ" مضمرة بعد "إِذَنْ"، وَمَا رَوَاهُ عَنهُ أَبُو عُبَيْدَة لانصَّ فِيهِ على مَذْهَب الْخَلِيل، إذْ قَالَ: "وَمَا عزاهُ إِلَى الْخَلِيل من أنّ الْفِعْل بعد "إِذَنْ" منصوبٌ بـ"أَنْ" مضمرة، إِنّما مُسْتَنده فِيهِ قَول السيرافيّ فِي أوّل شرح الْكتاب: 1 "روى أَبُو عُبَيْدَة عَن الْخَلِيل أنّه قَالَ: "لاينصب شَيْء من الْأَفْعَال إلاّ بـ"أَنْ" مظهرة أَو مضمرة فِي: كي، ولَنْ، وإِذَنْ، وَغير ذَلِك"، وَلَيْسَ فِي هَذَا نصّ على أنّ انتصاب الْمُضَارع بعد "إِذَنْ" عِنْد الْخَلِيل بـ"أَنْ" مضمرة، لجَوَاز أَن تكون مركبة مَعَ "إذْ" الَّتِي للتَّعْلِيل، و"أَنْ" محذوفاً همزتها بعد النَّقْل، على نَحْو مايراه فِي انتصابه بعد "لَنْ"، وَالْقَوْل بِهِ على ضعفه أقرب من القَوْل بأنّ "إِذَنْ" غيرُ مركبةٍ، وانتصاب الْمُضَارع بعْدهَا بـ"أَنْ" مضمرة؛ لأنّه لايستقيم إلاّ على أنْ يكون مابعد "إِذَنْ" فِي تَأْوِيل مبتدأٍ لازمٍ حُذف خَبره، أَو "إِذَنْ" قبله لَيست حرفا بل ظرفا مخبرا بِهِ عَن الْمُبْتَدَأ، وَأَصلهَا "إِذا" فقُطعت عَن الْإِضَافَة وعُوّض عَنْهَا التَّنْوِين، وَكِلَاهُمَا فِي غايةٍ من التَّكَلُّف، وَالْقَوْل بأنّ "إِذَنْ" مركبة من "إذْ وأَنْ" أسهل مِنْهُ " 2.
هَذِه آراء وأدلة الْقَائِلين بأنّ "إِذَنْ" لَيست ناصبة بِنَفسِهَا، وأَنّ "أَنْ" بعْدهَا مقدّرةٌ، ماعدا ابْن مَالك فقد دَافع عَن مَذْهَب الْخَلِيل وبيّن وجهة نظره.
أَمّا جُمْهُور النَّحْوِيين فيرون أنّها الناصبة للمضارع بِنَفسِهَا، لَا "أَنْ" مضمرة بعْدهَا، وَقد انتصر المالقيّ لمَذْهَب الْجُمْهُور مدلّلا على فَسَاد الْمَذْهَب الآخر بقوله: "وكأنّ من نصب بإضمار "أَنْ" قاسها على "حَتَّى، وكي، ولامها، وَلَام الْجُحُود"، وَلَا يصحُّ الْقيَاس على ذَلِك؛ لأنّ حَتَّى، وكي، ولامَها، ولامَ الْجُحُود
--------------------------------------------
"ইদান"-এর পরে উহ্য "আন" দ্বারা মুদারে ক্রিয়াটি নসবযুক্ত হয়। আবু উবাইদাহ তাঁর থেকে যা বর্ণনা করেছেন তাতে খালিলের মাযহাবের সপক্ষে কোনো সুস্পষ্ট ভাষ্য নেই। কেননা তিনি বলেছেন: "খালিলের প্রতি যা সম্বন্ধ করা হয়েছে যে, 'ইদান'-এর পরবর্তী ক্রিয়াটি উহ্য 'আন' দ্বারা নসবযুক্ত হয়, সে ক্ষেত্রে তাঁর ভিত্তি হলো সিরাফি কৃত শারহুল কিতাব-এর শুরুতে বর্ণিত এই বক্তব্য: ১ 'আবু উবাইদাহ খালিল থেকে বর্ণনা করেছেন যে তিনি বলেছেন: দৃশ্যমান বা উহ্য 'আন' ছাড়া কোনো ক্রিয়াই নসবযুক্ত হয় না; যেমন— কাই, লান, ইদান এবং অন্যান্য ক্ষেত্রে'। এতে খালিলের নিকট 'ইদান'-এর পরে মুদারে ক্রিয়ার নসবপ্রাপ্তি উহ্য 'আন' দ্বারা হওয়ার ব্যাপারে কোনো অকাট্য প্রমাণ নেই। কারণ এটি সম্ভব যে, শব্দটি কারণবাচক 'ইজ' এবং 'আন'-এর সমন্বয়ে গঠিত, যেখানে অক্ষর স্থানান্তরের পর 'আন'-এর হামজাটি বিলুপ্ত করা হয়েছে, যেমনটি তিনি 'লান'-এর মাধ্যমে নসবপ্রাপ্তির ক্ষেত্রে মনে করেন। আর এই মতটি এর দুর্বল (ضعيف) দিক থাকা সত্ত্বেও এই কথা বলার চেয়ে অধিকতর নিকটবর্তী যে, 'ইদান' কোনো যৌগিক শব্দ নয় এবং এর পরে মুদারে উহ্য 'আন' দ্বারা নসবপ্রাপ্ত হয়েছে। কারণ এটি কেবল তখনই সংগতিপূর্ণ হয় যদি 'ইদান'-এর পরবর্তী অংশকে এমন একটি আবশ্যিক মুবতাদা হিসেবে গণ্য করা হয় যার খবরটি উহ্য, অথবা এর পূর্বের 'ইদান' কোনো অব্যয় নয় বরং খবর হিসেবে ব্যবহৃত একটি জরফ, যা মুবতাদা সম্পর্কে সংবাদ দেয়। এর মূল উৎস হলো 'ইজা', যা ইজাফত বা সম্বন্ধ থেকে বিচ্ছিন্ন হয়েছে এবং এর পরিবর্তে তানভিন যুক্ত হয়েছে। এই উভয় ব্যাখ্যাই অত্যন্ত কৃত্রিমতাপূর্ণ, আর 'ইদান' শব্দটি 'ইজ' ও 'আন' এর সমষ্টি—এই কথা বলা তার চেয়ে সহজ।" ২
এগুলো হলো সেই সকল প্রাজ্ঞদের মতামত ও দলিল যারা মনে করেন যে, "ইদান" নিজে নসব প্রদানকারী নয়, বরং এর পরে "আন" উহ্য থাকে। তবে ইবনে মালিক এর ব্যতিক্রম; তিনি খালিলের মাযহাবকে সমর্থন করেছেন এবং তাঁর দৃষ্টিভঙ্গি স্পষ্ট করেছেন।
পক্ষান্তরে জুমহুর ব্যাকরণবিদগণ মনে করেন যে, এটি নিজেই মুদারে ক্রিয়াকে নসব প্রদান করে, এর পরে কোনো "আন" উহ্য থাকে না। আল-মালিকি জুমহুরের মাযহাবকে সমর্থন করেছেন এবং অন্য মাযহাবটির অসারতা প্রমাণ করে বলেছেন: "যারা উহ্য 'আন'-এর মাধ্যমে নসব হওয়ার কথা বলেন, তারা সম্ভবত একে 'হাত্তা', 'কাই', এদের 'লাম' এবং 'লামুল জুহুদ'-এর সাথে তুলনা করেছেন। কিন্তু এই তুলনা বা কিয়াস সঠিক নয়; কারণ 'হাত্তা', 'কাই', এদের 'লাম' এবং 'লামুল জুহুদ'
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
মাসায়িলু (ইযান)
(পৃষ্ঠা: ৪১৮)
إنّما تنصب بإضمار "أَنْ"؛ لجَوَاز دُخُولهَا على المصادر، وَرُبمَا ظَهرت "أَنْ" مَعَ بَعْضهَا فِي بعض الْمَوَاضِع على مَا يُبيّن بعد، وَلما كَانَت "إِذَنْ" لايصحُّ دُخُولهَا على مصدرٍ ملفوظٍ بِهِ وَلَا مقدّرٍ، ولايصحُّ إِظْهَار "أَنْ" بعْدهَا فِي موضعٍ من الْمَوَاضِع، لم يجز الْقيَاس فِي نصب مابعدها على ماذُكر" 1.
এটি মূলত "আন"-এর উহ্য (إضمار) থাকার মাধ্যমেই নসব (نصب) প্রদান করে; কেননা ক্রিয়ামূলগুলোর (المصادر) ওপর এর প্রবেশের বৈধতা রয়েছে। সম্ভবত কিছু ক্ষেত্রে কয়েকটির সাথে "আন" প্রকাশ্য হয়, যা পরবর্তীতে স্পষ্ট করা হবে। যেহেতু "ইজান" কোনো উচ্চারিত বা উহ্য ক্রিয়ামূলের (مصدر) ওপর আসা সঠিক নয় এবং কোনো অবস্থাতেই এর পরে "আন" প্রকাশ করাও শুদ্ধ নয়, তাই উল্লিখিত বিষয়ের ওপর ভিত্তি করে এর পরবর্তী শব্দের নসব (نصب) প্রদানের ক্ষেত্রে কিয়াস (قياس) করা বৈধ নয়। ১।
(খণ্ড: ১)
মাসায়িলু (ইযান)
(পৃষ্ঠা: ৪১৮)
الْمَسْأَلَة الثَّالِثَة: شُرُوط عمل "إِذَنْ"2:
ذهب أَكثر النَّحْوِيين إِلَى أنّ "إِذَنْ" حرف ينصب الْمُضَارع بِثَلَاثَة شُرُوط، وَبَعض النُّحَاة جعلهَا أَرْبَعَة، وَبَعْضهمْ فصّل الشُّرُوط فَجَعلهَا خَمْسَة، وَمن النُّحَاة من اشْترط فِي نصبها المضارعَ ستةَ شروطٍ:
الأول: أَن تكون "إِذَنْ" وَاقعَة فِي صدر الْكَلَام:
أَي: فِي أوّل الْكَلَام؛ لأنّها حينئذٍ فِي أشرف محالها، فَإِن تَأَخَّرت أُلغيت حتما نَحْو: "أكرمُك إِذَنْ" بِلَا خلاف؛ لأنّ الْفِعْل الْمَنْصُوب لايجوز تَقْدِيمه علىناصبه، أَمّا إِذا توسطت، أَي: وَقعت حَشْوًا فِي الْكَلَام وَذَلِكَ بِأَن اعْتمد مابعدها على ماقبلها، مثل أَن تتوسط بَين الشَّرْط وجزائه، وَبَين الْقسم وَجَوَابه، وَبَين الْمُبْتَدَأ وَخَبره، وَجب إلغاؤها فِي الصُّور كلّها.
--------------------------------------------
তৃতীয় মাসআলা (المسألة): "ইযান" (إذن) এর আমল করার শর্তাবলি:অধিকাংশ ব্যাকরণবিদের মতে "ইযান" (إذن) এমন একটি অব্যয় যা তিনটি শর্তের ভিত্তিতে বর্তমান বা ভবিষ্যৎকালীন ক্রিয়াকে (المضارع) নসব (نصب) প্রদান করে। কিছু ব্যাকরণবিদ একে চারটি শর্ত বলেছেন, কেউ কেউ শর্তগুলো বিস্তারিত বর্ণনা করে পাঁচটি বলেছেন, আবার ব্যাকরণবিদদের মধ্যে কেউ কেউ বর্তমান বা ভবিষ্যৎকালীন ক্রিয়াকে (المضارع) নসব প্রদানের ক্ষেত্রে ছয়টি শর্তারোপ করেছেন:
প্রথম শর্ত: "ইযান" (إذن) বাক্যের শুরুতে (صدر الكلام) অবস্থিত হওয়া:
অর্থাৎ: বাক্যের প্রারম্ভে; কারণ এই অবস্থায় এটি তার সবচেয়ে শক্তিশালী অবস্থানে থাকে। যদি এটি পরে আসে, তবে সর্বসম্মতিক্রমে এর আমল বাতিল (إلغاء) হয়ে যাবে; যেমন: "أكرمُك إِذَنْ" (আমি তোমাকে সম্মান করব) - এখানে কোনো মতভেদ নেই; কারণ মানসুব (منصوب) হওয়া ক্রিয়াকে তার নসব প্রদানকারী আমেলের (ناصب) পূর্বে আনা বৈধ নয়। তবে যদি এটি বাক্যের মাঝে আসে অর্থাৎ যদি এর পরবর্তী অংশ পূর্ববর্তী অংশের ওপর নির্ভরশীল হয়—যেমন শর্ত (الشرط) ও তার প্রতিদানের (الجزاء) মাঝে, শপথ (القسم) ও তার উত্তরের (الجواب) মাঝে কিংবা মুবতাদা (المبتدأ) ও খবরের (الخبر) মাঝে এর অবস্থান হয়—তবে এই সকল ক্ষেত্রে এর আমল বাতিল (إلغاء) করা ওয়াজিব।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
মাসায়িলু (ইযান)
(পৃষ্ঠা: ৪১৯)
فَإِن تقدمها كَلَام وتمّ دونهَا جَازَ أَن تسْتَأْنف بهَا، وتنصب وَيكون جَوَابا، كَمَا لَو لم يتقدمها شَيْء، وَذَلِكَ نَحْو قَول عبد الله بن عَنَمة الضبيّ:
اُرْدُدْ حِمَارَكَ لاتُنْزَعْ سَوِيَّتُهُ إِذَن يُرَدَّ وقَيْدُ العَيرِ مَكْروبُ1
قَالَ ابْن السراج: "فَهَذَا نصْبٌ؛ لأنّ ماقبله من الْكَلَام قد اسْتغنى وتمَّ، أَلا ترى أنّ قَوْله: "اُرْدُدْ حِمَارك لاتُنزعْ سَوِيَّتُهُ" كلامٌ قد تمَّ، ثمّ اسْتَأْنف كأنّه أجَاب من قَالَ: لَا أفعلُ ذَاك، فَقَالَ: "إِذَنْ يُردَّ وقَيدُ العَيرِ مكروبُ" "2.
الثَّانِي: أَن يكون الْفِعْل الْمُضَارع بعْدهَا مُسْتَقْبلا:
فَإِن كَانَ حَالا فَلَا يُنصب، كَقَوْلِك لمن يُحدّثك: "إِذَنْ أظنُّكَ صَادِقا" فَترفع؛ لأنّه حالٌ، وَالْفِعْل الْمَنْصُوب لايكون إلاّ مُسْتَقْبلا.
قَالَ أَبُو عليّ الشلوبين: "وَهُوَ ألاّ تدخل إلاّ على مُسْتَقْبل، فَإِذا أدخلناها على فعل حالٍ لم تعْمل أصلا وَإِن كَانَت مُتَقَدّمَة؛ لأنّه لَيْسَ فِي الدُّنيا ناصب يدْخل على فعل حالٍ، فَوَجَبَ لَهَا هُنَالك الإلغاء" 3.
الثَّالِث: ألاّ يُفصل بَين "إِذَنْ" وَالْفِعْل بفاصل:
أَي: أَن يكون الْمُضَارع مُتَّصِلا بهَا لِضعْفِهَا مَعَ الْفَصْل عَن الْعَمَل فِيمَا
--------------------------------------------
যদ এর পূর্বে কোনো কথা অতিক্রান্ত হয় এবং তা ছাড়াই বাক্যটি পূর্ণাঙ্গ হয়, তবে এটি দ্বারা নতুন বাক্য শুরু করা (استئناف) বৈধ এবং এটি নসব (نصب) প্রদান করবে ও উত্তর (جواب) হিসেবে গণ্য হবে; যেমনটি এর আগে কোনো কিছু না থাকলে হতো। আর এটি আব্দুল্লাহ ইবনে আনামাহ আদ-দাব্বি-এর উক্তির ন্যায়:
তোমার গাধাটিকে ফিরিয়ে নাও, তার জিনের গদি যেন উপড়ে না যায়; তবেই সে ফিরে আসবে যখন বুনো গাধার বাঁধন শক্ত হয়।১
ইবনুল সাররাজ বলেন: "এটি নসব (نصب); কারণ এর পূর্ববর্তী কথাটি স্বয়ংসম্পূর্ণ ও পূর্ণ হয়েছে। আপনি কি দেখছেন না যে, তাঁর কথা: 'তোমার গাধাটিকে ফিরিয়ে নাও, তার জিনের গদি যেন উপড়ে না যায়' একটি পূর্ণাঙ্গ বাক্য? অতঃপর তিনি এমনভাবে নতুন করে কথা শুরু (استئناف) করেছেন যেন তিনি সেই ব্যক্তির উত্তর দিচ্ছেন যে বলেছে: 'আমি তা করব না'। তখন তিনি বললেন: 'তাহলে সে ফিরে আসবে যখন বুনো গাধার বাঁধন শক্ত হয়'।"২
দ্বিতীয়ত: এর পরবর্তী বর্তমানকালীন ক্রিয়াটি (فعل مضارع) ভবিষ্যৎ অর্থবোধক (مستقبلا) হতে হবে:
যদি সেটি বর্তমান অর্থ (حالا) প্রকাশ করে তবে নসব (نصب) হবে না। যেমন তোমার সাথে কথা বলছে এমন ব্যক্তিকে যদি তুমি বলো: "তাহলে আমি তোমাকে সত্যবাদী মনে করছি", তখন এটি রফা (رفع) হবে; কারণ এটি বর্তমান কাল (حال), আর নসবপ্রাপ্ত ক্রিয়া (فعل منصوب) কেবল ভবিষ্যৎ অর্থেই (مستقبلا) হয়ে থাকে।
আবু আলী আল-শালুবিন বলেন: "এটি কেবল ভবিষ্যৎকালীন ক্রিয়ার (مستقبل) ওপর দাখিল হয়। যখন আমরা একে বর্তমান কালবাচক ক্রিয়ার ওপর দাখিল করি, তখন এটি কোনো আমল করে না, যদিও এটি শুরুতে আসে; কারণ পৃথিবীতে এমন কোনো নসব প্রদানকারী আমিল (ناصب) নেই যা বর্তমান অর্থবোধক ক্রিয়ার ওপর দাখিল হয়। ফলে সেক্ষেত্রে এর কার্যকারিতা রহিত হওয়া (الإلغاء) আবশ্যক।"৩
তৃতীয়ত: "ইযান" (إذن) এবং ক্রিয়ার মাঝে কোনো ব্যবধানকারী না থাকা:
অর্থাৎ: বর্তমানকালীন ক্রিয়াটি (المضارع) এর সাথে সরাসরি সংযুক্ত থাকতে হবে; কারণ ব্যবধান থাকলে আমল করার ক্ষেত্রে এর দুর্বলতা প্রকাশ পায়...
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
মাসায়িলু (ইযান)
(পৃষ্ঠা: ৪২০)
بعْدهَا، فإنْ فُصلت بفاصل بَطل عَملهَا، إلاّ أَن تُفصل بواحدٍ من اثْنَيْنِ، فإنّ الْفَصْل بذلك كَلا فصلٍ، وهما: "الْقسم" و"لَا"، وَأَجَازَ بعض النَّحْوِيين الْفَصْل بِغَيْر ماسبق ذكره، وَهُوَ ماسنوضحه بالتفصيل فِي مَوْضِعه.
وَإِلَى الشُّرُوط الثَّلَاثَة الَّتِي سبق ذكرهَا أَشَارَ ابْن مَالك بقوله1:
وَنَصَبُوا بـ"إِذَنِ" الْمُسْتَقْبلَا إِنْ صُدِّرَتْ، والْفِعْلُ بَعْدُ مُوصَلَا
الرَّابِع: أَن تكون جَوَابا أَو فِي تَقْدِير الْجَواب:
قَالَ الزمخشريّ: " و"إِذَنْ" جوابٌ وجزاءٌ، يَقُول الرجل: "أَنا آتِيك"، فَتَقول: "إِذَنْ أُكرمَك"، فَهَذَا الْكَلَام قد أَجَبْته بِهِ وصيرت إكرامَك جَزَاء لَهُ على إِتْيَانه؛ وَقَالَ الزّجاج: (تَأْوِيلهَا إنْ كَانَ الْأَمر كَمَا ذكرت فإنّي أكرمُك"2.
وَقَالَ السيرافيّ: "وإنّما أردْت إِكْرَاما تُوقِعُه فِي الْمُسْتَقْبل، فَصَارَت بِمَنْزِلَة "أَنْ" فِي وُقُوعهَا للمستقبل من الْأَفْعَال" 3.
وَقَالَ ابْن هِشَام: "وَالْأَكْثَر أَن تكون جَوَابا لـ"إنْ أَو لَوْ" ظاهرتين أَو مقدرتين" 4.
الْخَامِس: ألاّ يكون الْفِعْل الَّذِي بعْدهَا مُعْتَمدًا على مَا قبلهَا5:
قَالَ الفارسيّ: "فإنِ اعتمَدْتَ بِالْفِعْلِ على شيءٍ قبلهَا رفعْتَ، وَذَلِكَ
--------------------------------------------
এর পরে; যদি এটি কোনো ব্যবধান দ্বারা বিচ্ছিন্ন (فصل) হয় তবে এর আমল বাতিল হয়ে যাবে, তবে দুটি বিষয়ের কোনো একটির দ্বারা বিচ্ছিন্ন হওয়া ব্যতীত; কেননা সে ক্ষেত্রে বিচ্ছেদ হওয়া না হওয়ার মতোই গণ্য। সেই দুটি হলো: "শপথ" (القسم) এবং "না" (لا)। কিছু ব্যাকরণবিদ (النحويين) উল্লিখিত বিষয়গুলো ছাড়াও বিচ্ছেদকে বৈধ বলেছেন, যা আমরা যথাস্থানে বিস্তারিতভাবে স্পষ্ট করব।
ইতিপূর্বে উল্লিখিত তিনটি শর্তের প্রতি ইবনে মালিক তার এই বাণীর মাধ্যমে ইঙ্গিত করেছেন ১:
তারা (আরবরা) "ইযান" (إذن) দ্বারা ভবিষ্যৎকাল (المستقبل) বাচক ক্রিয়াকে নসব (نصب) প্রদান করেছেন, যদি তা বাক্যের শুরুতে আসে এবং পরবর্তী ক্রিয়াটি এর সাথে সরাসরি যুক্ত (وصل) থাকে।
চতুর্থ (শর্ত): এটি উত্তর (جواب) হিসেবে হওয়া অথবা উত্তরের স্থলাভিষিক্ত (تقدير الجواب) হওয়া:
যামাখশারি বলেছেন: "'ইযান' (إذن) হলো উত্তর (جواب) এবং প্রতিদান (جزاء)। জনৈক ব্যক্তি বলল: 'আমি তোমার নিকট আগমন করছি', তখন তুমি বললে: 'তাহলে (إذن) আমি তোমাকে সম্মানিত করব'। সুতরাং এই বাক্যের মাধ্যমে তুমি তাকে উত্তর দিলে এবং তোমার সম্মান প্রদর্শনকে তার আগমনের প্রতিদান হিসেবে নির্ধারণ করলে।" আয-যাজ্জাজ বলেছেন: "(এর ব্যাখ্যা হলো) যদি বিষয়টি তেমনই হয় যেমনটি তুমি উল্লেখ করেছ, তবে নিশ্চয়ই আমি তোমাকে সম্মানিত করব" ২।
আস-সিরাফি বলেছেন: "তুমি কেবল এমন সম্মান প্রদর্শনকে উদ্দেশ্য করেছ যা ভবিষ্যতে ঘটবে, ফলে ক্রিয়ার ক্ষেত্রে ভবিষ্যৎকাল (المستقبل) নির্ধারণের দিক থেকে এটি 'আন' (أن)-এর সমপর্যায়ে গণ্য হয়েছে" ৩।
ইবনে হিশাম বলেছেন: "অধিকাংশ ক্ষেত্রে এটি 'ইন' (إن) অথবা 'লাও' (لو)-এর উত্তর (جواب) হিসেবে আসে, চাই সেগুলো প্রকাশ্য (ظاهر) হোক বা উহ্য (مقدر)" ৪।
পঞ্চম (শর্ত): এর পরবর্তী ক্রিয়াটি এর পূর্ববর্তী কোনো বিষয়ের ওপর নির্ভরশীল (معتمد) না হওয়া ৫:
আল-ফারিসি বলেছেন: "যদি তুমি ক্রিয়াটি দ্বারা এর পূর্ববর্তী কোনো বিষয়ের ওপর নির্ভর করো, তবে তুমি রফ্ (رفع) প্রদান করবে, আর তা হলো..."
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
মাসায়িলু (ইযান)
(পৃষ্ঠা: ৪২১)
قَوْلك: "أَنا إِذَنْ أكرمُك"، تُرفع؛ لأنّ الْفِعْل مُعْتَمد على الِابْتِدَاء الَّذِي هُوَ "أَنا"، وَكَذَلِكَ: "إنْ تكرِمْني إِذَنْ أُكرمْك" "1.
السَّادِس: ألاّ تقع "إِذَنْ" بعد حرف عطف2:
فَإِن وَقعت بعد حرف عطف كالواو أَو الْفَاء، نَحْو: "وإِذَنْ آتِيك" أَو "فإِذَنْ آتِيك"، جَازَ فِيهَا الْوَجْهَانِ: الإلغاء، والإعمال، والإلغاء أَجود وَأكْثر، وَبِه قَرَأَ القُرّاء.
আপনার কথা: "আমি তবে তোমাকে সম্মান করব", (এক্ষেত্রে ক্রিয়াটি) রফা (رفع) যুক্ত হবে; কারণ ক্রিয়াটি 'আমি' রূপি প্রারম্ভিকতা (الابتداء)-এর ওপর নির্ভরশীল। একইভাবে: "যদি তুমি আমাকে সম্মান করো তবে আমি তোমাকে সম্মান করব" ১।
ষষ্ঠ: "ইজান" (إذن) যেন কোনো সংযোজক অব্যয় (حرف عطف) ২-এর পরে না আসে:
যদি এটি 'ওয়াও' বা 'ফা'-এর মতো কোনো সংযোজক অব্যয়ের পরে আসে, যেমন: "আর তবে আমি তোমার কাছে আসব" অথবা "অতঃপর তবে আমি তোমার কাছে আসব", তবে সেক্ষেত্রে উভয় পদ্ধতিই বৈধ: আমল রহিতকরণ (الإلغاء) এবং আমল বহাল রাখা (الإعمال)। তবে আমল রহিত করাই অধিক উত্তম ও অধিক প্রচলিত, আর ক্বারিগণ (القراء) এভাবেই পাঠ করেছেন।
(খণ্ড: ১)
মাসায়িলু (ইযান)
(পৃষ্ঠা: ৪২১)
الْمَسْأَلَة الرَّابِعَة: مَعْنَاهَا3:قَالَ سِيبَوَيْهٍ: "وأمّا "إِذَنْ" فجوابٌ وجزاءٌ" 4.
قَالَ أَبُو حيّان: "وتحرير معنى "إِذَنْ" صعبٌ، وَقد اضْطربَ النّاس فِي مَعْنَاهَا، وَقد نصَّ سِيبَوَيْهٍ على أنّ مَعْنَاهَا: "الجوَابُ والجزاءُ"، وَاخْتلف النحويون فِي فهم كَلَام سِيبَوَيْهٍ" 5.
نعم اخْتلف النحويون فِي فهم مَعْنَاهَا، وَالَّذِي يظْهر من لَفظه أنّها حَيْثُمَا
--------------------------------------------
চতুর্থ মাসআলা (المسألة): এর অর্থ৩:সিবওয়াইহ বলেছেন: "আর 'ইযান' (إِذَنْ) এর ক্ষেত্রে তা হলো উত্তর (جواب) এবং প্রতিদান (جزاء)" ৪।
আবু হাইয়ান বলেছেন: "'ইযান'-এর অর্থ বিশ্লেষণ করা অত্যন্ত দুরূহ, এবং এর অর্থ নিয়ে আলিমগণ বিভ্রান্তিতে পড়েছেন। সিবওয়াইহ স্পষ্টভাবে উল্লেখ করেছেন যে এর অর্থ হলো: 'উত্তর (الجواب) এবং প্রতিদান (الجزاء)', আর সিবওয়াইহর বক্তব্য অনুধাবনের ক্ষেত্রে ব্যাকরণবিদগণ মতভেদ করেছেন" ৫।
হ্যাঁ, এর অর্থ অনুধাবনের ক্ষেত্রে ব্যাকরণবিদগণ মতভেদ করেছেন, এবং তাঁর শব্দ থেকে যা প্রতীয়মান হয় তা হলো এটি যেখানেই...
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
মাসায়িলু (ইযান)
(পৃষ্ঠা: ৪২২)
تُوجد يكون مَعْنَاهَا الْجَواب وَالْجَزَاء مَعًا، وَهَذَا مَا فهمه الْأُسْتَاذ أَبُو عليّ الشلوبين1، حَيْثُ حمل كَلَام سِيبَوَيْهٍ على ظَاهره، وتكلّف فِي كلّ مَكَان وَقعت فِيهِ أنّها جوابٌ وجزاءٌ.
أمّا أَبُو عليّ الفارسيّ فإنّه فهم من كَلَام سِيبَوَيْهٍ أنّها قد تَرِدُ لَهما، وَهُوَ الْأَكْثَر، وَقد تتمحض للجواب فَقَط، نَحْو: أَن يَقُول لَك الْقَائِل: "أحبُّك"، فَتَقول: "إِذَنْ أَظُنُّكَ صَادِقا" فَلَا يتصوّر هُنَا الْجَزَاء2.
قَالَ المالقيّ: "وَالصَّحِيح أنّها شَرط فِي موضعٍ، وَجَوَاب فِي موضعٍ، وَإِذا كَانَت شرطا فَلَا تكون إلاّ جَوَابا، وَهَذَا هُوَ الْمَفْهُوم من كَلَام سِيبَوَيْهٍ، لأنّه لم ينصّ على أنّهما مَعًا فِي موضعٍ واحدٍ".
وَقد ردَّ ابْن عُصْفُور على شَيْخه الْأُسْتَاذ أبي عليّ الشلوبين فِي تكلّفه لِمَعْنى "إِذَنْ"، بقوله: "ففهم الْأُسْتَاذ أَبُو عَليّ الشلوبين هَذَا على أنّه شَرط وَجَوَاب، وَأخذ الْجَزَاء بِمَعْنى الشَّرْط، وَالْجَوَاب جَوَابه فَحَيْثُمَا جَاءَت قدرهَا بفعلي الشَّرْط وَالْجَزَاء؛ فَإِذا قلت لمن قَالَ لَك: "أَنا أزورُك"، "إِذَنْ أُكرمَك"، فَمَعْنَاه: إِنْ تَزُرْني أكرمْك.
فلمّا أَخذهَا هَذَا المأخذ اضْطر إِلَى هَذَا التَّقْدِير فِي قَوْله تَعَالَى: {قَالَ فَعَلْتُهَا إِذاً وَأَنَا مِنَ الضَّالِّينَ} 3، فَلَمَّا قدّر: إِن كنتُ فعلتُها فَأَنا ضالٌّ، جَاءَهُ إِثْبَات الضلال لمُوسَى عليه السلام؛ قَالَ: وَلم يرد إِثْبَات الضلال لنَفسِهِ، فأثار إشْكَالًا
--------------------------------------------
এটি এমনভাবে পাওয়া যায় যে এর অর্থ উত্তর এবং প্রতিদান উভয়ই হয়। উস্তাদ আবু আলী আশ-শালুবিন১ এটিই বুঝেছেন, যেখানে তিনি সিবওয়াই-এর বক্তব্যকে তার বাহ্যিক অর্থের ওপর প্রয়োগ করেছেন এবং যেখানেই এটি ব্যবহৃত হয়েছে সেখানে কষ্টকল্পিতভাবে একে উত্তর ও প্রতিদান হিসেবে গণ্য করেছেন।
পক্ষান্তরে আবু আলী আল-ফারিসি সিবওয়াই-এর বক্তব্য থেকে বুঝেছেন যে, এটি উভয় অর্থেই আসতে পারে এবং অধিকাংশ ক্ষেত্রে এমনটিই হয়। আবার কখনো এটি কেবল উত্তরের জন্য নির্দিষ্ট হতে পারে, যেমন: কেউ আপনাকে বলল: "আমি তোমাকে ভালোবাসি", তখন আপনি বললেন: "তাহলে আমি তোমাকে সত্যবাদী মনে করি", এক্ষেত্রে প্রতিদানের বিষয়টি কল্পনা করা যায় না২।
আল-মালিকি বলেন: "সঠিক (صحيح) মত হলো এটি কোনো স্থানে শর্ত এবং কোনো স্থানে উত্তর হিসেবে ব্যবহৃত হয়। যখন এটি শর্ত হিসেবে থাকে, তখন এটি উত্তর ছাড়া আর কিছু হয় না। সিবওয়াই-এর বক্তব্য থেকে এটিই বোধগম্য হয়, কারণ তিনি এটি স্পষ্টভাবে বলেননি যে তারা উভয়ই একই স্থানে একত্রে থাকে।"
ইবনুল উসফুর তার উস্তাদ আবু আলী আশ-শালুবিনের 'ইযান'-এর অর্থের ক্ষেত্রে এই কষ্টকল্পনার প্রতিবাদ করে বলেন: "উস্তাদ আবু আলী আশ-শালুবিন একে শর্ত ও উত্তর হিসেবে বুঝেছেন এবং প্রতিদানকে শর্তের অর্থে গ্রহণ করেছেন, আর উত্তরকে তার জবাব হিসেবে। ফলে যেখানেই এটি এসেছে, তিনি একে শর্ত ও প্রতিদানের দুটি ক্রিয়া দ্বারা নির্ধারণ করেছেন; সুতরাং আপনি যখন আপনাকে কেউ বলে 'আমি তোমার সাথে সাক্ষাৎ করব' তার উত্তরে বলেন 'তাহলে আমি তোমাকে সম্মানিত করব', তখন এর অর্থ দাঁড়ায়: 'যদি তুমি আমার সাথে সাক্ষাৎ করো, তবে আমি তোমাকে সম্মানিত করব'।"
যখন তিনি এই ব্যাখ্যা পদ্ধতি গ্রহণ করলেন, তখন মহান আল্লাহর বাণী: {তিনি বললেন, আমি তখন তা করেছিলাম যখন আমি ছিলাম পথভ্রষ্টদের অন্তর্ভুক্ত}৩ -এর ক্ষেত্রেও এই ধরণের ব্যাখ্যা করতে বাধ্য হলেন। যখন তিনি এভাবে ব্যাখ্যা করলেন যে: 'যদি আমি তা করে থাকি তবে আমি পথভ্রষ্ট', তখন এর দ্বারা মুসা (আলাইহিস সালাম)-এর জন্য পথভ্রষ্টতা সাব্যস্ত করার বিষয়টি চলে আসে; তিনি বলেন: অথচ তিনি নিজের জন্য পথভ্রষ্টতা সাব্যস্ত করতে চাননি, ফলে এটি একটি জটিলতার সৃষ্টি করেছে।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
মাসায়িলু (ইযান)
(পৃষ্ঠা: ৪২৩)
على فهمه، فَكَانَ انْفِصَاله عَن هَذَا بأنْ قَالَ: معنى قَوْله: {وَأَنْتَ مِنَ الْكَافِرِينَ} 1، أَي: بأنعمي، فَقَالَ لَهُ مُوسَى عليه السلام: إنْ كنتُ فعلتُها كَافِرًا بنعمتك فَأَنا من الضَّالّين، أَي: من الْجَاهِلين بأنّ الوكزة تقضي على القبطيّ".
ثمَّ قَالَ ابْن عُصْفُور: "وَكَلَامه معترَضٌ فِي هَذَا بيِّنُ الِاعْتِرَاض؛ لأنّه بنى الْأَمر على أنّ " إِذَنْ" شَرط وَجَوَاب، وَلَيْسَ كَذَلِك، بل إنّما هِيَ جوابٌ بِمَعْنى أنّها لاتقال مُبتَدأَة، ولابدّ أَن يتقدمها كَلَام، فَلَا تَقول أبدا: "إِذَنْ أزورَك" ابْتِدَاء، فَهِيَ جَوَاب وَتَكون جَزَاء، وَلَا يلْزم أَن يكون ذَلِك فِيهَا مجموعاً" 2.
وَقد بيّن ابْن هِشَام الأنصاريّ مَتى تكون "إِذَنْ" جَوَابا؟ بقوله: "وَالْأَكْثَر أَن تكون جَوَابا لـ"إِنْ" أَو "لَو" ظاهرتين أَو مقدرتين" 3.
وخلاصة القَوْل إنّ "إِذَنْ" تكون جَوَابا وَجَزَاء، فقد يجْتَمع فِيهَا هَذَانِ، وَقد ينْفَرد أَحدهمَا، فَإِذا قلت لمن قَالَ لَك: "أَنا أزورُك"، "إِذَنْ أُكرمَك"، فَهَذَا جوابٌ وجزاءٌ؛ وَإِذا قَالَ لَك: "أُحبُّك"، فَتَقول لَهُ: "إِذَنْ أظنُّك صَادِقا"، فَهَذَا جَوَاب لاجزاء مَعَه، فعلى هَذَا لاتخلو من الجوابِ، وَتَكون فِي بعض الْمَوَاضِع جَزَاء.
--------------------------------------------
তাঁর উপলব্ধি অনুযায়ী, এ থেকে তাঁর উত্তরণ ছিল এই যে তিনি বললেন: তাঁর বাণী: {এবং আপনি তো ছিলেন অকৃতজ্ঞদের অন্তর্ভুক্ত} ১-এর অর্থ হলো: আমার নেয়ামতের প্রতি। অতঃপর মূসা (আলাইহিস সালাম) তাঁকে বললেন: যদি আমি আপনার নেয়ামতের প্রতি অকৃতজ্ঞ (كافراً) হয়ে তা করে থাকি, তবে আমি তো বিভ্রান্তদের অন্তর্ভুক্ত ছিলাম, অর্থাৎ: ওইসব অজ্ঞদের (الجاهلين) অন্তর্ভুক্ত যারা জানত না যে সেই আঘাতটি কিবতি ব্যক্তিকে মেরে ফেলবে।
অতঃপর ইবনে উসফুর বলেন: "এই বিষয়ে তাঁর বক্তব্যটি আপত্তিযোগ্য এবং এর আপত্তি সুস্পষ্ট; কারণ তিনি বিষয়টিকে এই ভিত্তির ওপর দাঁড় করিয়েছেন যে, 'ইযান' (إِذَنْ) হলো শর্ত (شرط) ও উত্তর (جواب), অথচ বিষয়টি তেমন নয়। বরং এটি কেবল একটি উত্তর (جواب) এই অর্থে যে, এটি বাক্যের শুরুতে ব্যবহৃত হয় না এবং এর আগে অবশ্যই কোনো কথা থাকতে হয়। সুতরাং আপনি কখনো প্রারম্ভিকভাবে: 'ইযান আযুরাকা' (তাহলে আমি আপনার সাথে সাক্ষাৎ করব) বলতে পারেন না। অতএব এটি একটি উত্তর (جواب) এবং কখনো প্রতিদান (جزاء) হিসেবে ব্যবহৃত হয়, তবে এতে উভয় বৈশিষ্ট্য একত্রিত হওয়া আবশ্যক নয়।" ২।
আর ইবনে হিশাম আল-আনসারি 'ইযান' (إِذَنْ) কখন উত্তর (جواب) হয় তা স্পষ্ট করে বলেছেন: "অধিকাংশ ক্ষেত্রে এটি প্রকাশ্য বা উহ্য 'ইন' (إِنْ) অথবা 'লাও' (لَوْ)-এর উত্তর (جواب) হিসেবে ব্যবহৃত হয়।" ৩।
সারকথা হলো, 'ইযান' (إِذَنْ) উত্তর (جواب) ও প্রতিদান (جزاء) উভয়ই হয়ে থাকে। কখনো এতে উভয়টি একত্রিত হয়, আবার কখনো কোনো একটি এককভাবে থাকে। সুতরাং যে আপনাকে বলল: "আমি আপনার সাথে সাক্ষাৎ করব", তাকে যদি আপনি বলেন: "ইযান উকরিমাঁকা" (তাহলে আমি আপনাকে আপ্যায়ন করব), তবে এটি উত্তর (جواب) ও প্রতিদান (جزاء) উভয়ই। আর যদি কেউ আপনাকে বলে: "আমি আপনাকে ভালোবাসি", আর আপনি তাকে বলেন: "ইযান আযুন্নুকা সাদিকান" (তাহলে আমি আপনাকে সত্যবাদী মনে করি), তবে এটি কেবল একটি উত্তর (جواب), এতে কোনো প্রতিদান (جزاء) নেই। সুতরাং এই ভিত্তিতে, এটি উত্তর (جواب) হওয়া থেকে মুক্ত নয় এবং কোনো কোনো ক্ষেত্রে এটি প্রতিদান (جزاء) হিসেবে গণ্য হয়।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
মাসায়িলু (ইযান)
(পৃষ্ঠা: ৪২৪)
الْمَسْأَلَة الْخَامِسَة: حكم "إِذن" إِذا وَقعت بَين شَيْئَيْنِ متلازمين…الْمَسْأَلَة الْخَامِسَة:
حكم"إِذَنْ"إِن وَقعت بَين شَيْئَيْنِ متلازمين1:
اشْترط النُّحَاة فِي عمل "إِذَنْ" أَن تكون فِي صدر الْكَلَام، فَإِن وَقعت حَشْوًا فِي الْكَلَام بأَنِ اعْتمد مابعدها على ماقبلها أُهملت، قَالَ سِيبَوَيْهٍ: "وَاعْلَم أنّ "إِذَنْ" إِذا كَانَت بَين الْفِعْل وَبَين شيءٍ الفعلُ معتمدٌ عَلَيْهِ فإنّها مُلغاةٌ لاتَنصب الْبَتَّةَ، كَمَا لاتَنصب "أُرى" إِذا كَانَت بَين الْفِعْل وَالِاسْم فِي قَوْلك: "كَانَ أُرى زيدٌ ذَاهِبًا"، وكما لاتعمل فِي قَوْلك: "إنّي أُرى ذاهبٌ"، فـ"إِذَنْ" لاتصل فِي ذَا الْموضع إِلَى أَن تنصب كَمَا لاتصل "أُرى" هُنَا إِلَى أَن تنصب، فَهَذَا تَفْسِير الْخَلِيل، وَذَلِكَ قَوْلك: "أَنا إِذَنْ آتِيك"، فَهِيَ هَهُنَا بِمَنْزِلَة "أُرى" حَيْثُ لاتكون إلاّ ملغاةً، وَمن ذَلِك أَيْضا قَوْلك: "إنْ تأتني إِذَنْ آتِك"؛ لأنّ الْفِعْل هَهُنَا معتمدٌ على ماقبل "إِذَنْ" "2.
وَقد حدد النُّحَاة إهمالها فِي ثَلَاثَة مَوَاضِع:
الأول: أَن يكون مابعدها جَوَابا للشّرط الَّذِي قبل "إِذَنْ"، نَحْو: "إنْ تأتِني إِذَنْ أكرمْك"، فتجزم "أكرمْك" لأنّه جَوَاب الشَّرْط، وَلَا تَأْثِير لـ"إِذَنْ".
وَمن ذَلِك أَيْضا جعل الرّضيّ الْبَيْت السَّابِق: (اُرْدُدْ حِمَارَكَ.. إِذَنْ يُرَدّْ..) ؛ إِذْ قَالَ: "يجوز على مَذْهَب الكسائيّ أَن يكون "لايرتعْ" مَجْزُومًا بِكَوْن
--------------------------------------------
পঞ্চম মাসআলা: দুটি অবিচ্ছেদ্য বিষয়ের মাঝে "ইযান" (إذن) পতিত হওয়ার বিধান…পঞ্চম মাসআলা:
দুটি অবিচ্ছেদ্য বিষয়ের মাঝে "ইযান" (إذن) পতিত হওয়ার বিধান ১:
ব্যাকরণবিদগণ "ইযান" (إذن)-এর আমল করার জন্য শর্তারোপ করেছেন যে, এটিকে বাক্যের প্রারম্ভে (صدر الكلام) হতে হবে। যদি এটি বাক্যের মধ্যস্থলে এমনভাবে পতিত হয় যে, এর পরবর্তী অংশ পূর্ববর্তী অংশের ওপর নির্ভরশীল হয়, তবে তা আমলহীন (أهملت) হয়ে যাবে। সিবওয়াইহি বলেছেন: "জেনে রেখো, 'ইযান' (إذن) যখন ক্রিয়া এবং এমন বিষয়ের মাঝে আসে যার ওপর ক্রিয়াটি নির্ভরশীল, তবে তা আমলহীন (ملغاة) গণ্য হবে এবং তা কোনোভাবেই নসব প্রদান করবে না। যেমন 'উরা' নসব প্রদান করে না যখন তা আপনার এই উক্তিতে ক্রিয়া ও বিশেষ্যের মাঝে আসে: 'কানা উরা যাইদুন যাহিবান'; এবং যেমন তা আপনার এই উক্তিতেও আমল করে না: 'ইন্নি উরা যাহিবুন'। সুতরাং 'ইযান' (إذن) এই স্থানে নসব প্রদানের পর্যায়ে পৌঁছায় না, যেমন 'উরা' এখানে নসব প্রদানের পর্যায়ে পৌঁছায় না। এটিই খলীল-এর ব্যাখ্যা। আর এর উদাহরণ আপনার এই উক্তি: 'আনা ইযান আতিকা', এখানে এটি 'উরা'-এর ন্যায় যা কেবল আমলহীন (ملغاة) অবস্থাতেই থাকে। আপনার এই উক্তিটিও এরই অন্তর্ভুক্ত: 'ইন তা'তিনি ইযান আতিকা'; কারণ এখানে ক্রিয়াটি 'ইযান' (إذن)-এর পূর্ববর্তী অংশের ওপর নির্ভরশীল।" ২
ব্যাকরণবিদগণ তিনটি স্থানে এর আমলহীন হওয়া নির্ধারণ করেছেন:
প্রথম: এর পরবর্তী অংশটি যদি 'ইযান' (إذن)-এর পূর্ববর্তী শর্তের উত্তর (جواب الشرط) হয়, যেমন: "ইন তা'তিনি ইযান উকরিমকা", এখানে "উকরিমকা" শব্দটি জজমযুক্ত হবে কারণ এটি শর্তের উত্তর (جواب الشرط), আর এখানে "ইযান" (إذن)-এর কোনো প্রভাব থাকবে না।
এর অন্তর্ভুক্ত আল-রাযী কর্তৃক পূর্বোক্ত পঙ্ক্তিটিকে সাব্যস্ত করাও: (উর্দুদ হিমারাকা... ইযান ইউরদ্দা...); যেহেতু তিনি বলেছেন: "কিসায়ীর মাযহাব অনুযায়ী 'লা ইয়ারতা' শব্দটি জজমযুক্ত (مجزوم) হওয়া বৈধ..."
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
মাসায়িলু (ইযান)
(পৃষ্ঠা: ৪২৫)
"لَا" فِيهِ للنَّهْي لَا أنّه جَوَاب الْأَمر، و "يُردّْ" مَجْزُومًا لَا مَنْصُوبًا بِكَوْنِهِ جَوَابا للنَّهْي كَمَا هُوَ مذْهبه فِي نَحْو قَوْلك: "لَا تكفرْ تدخلِ النّار" أَي: إنْ تكفرْ تدخلِ النّار، فَيكون الْمَعْنى: لايرتعْ إِنْ يرتعْ يُردّْ" 1.
الثَّانِي: أَن يكون مابعدها جَوَابا للقسم الَّذِي قبلهَا، إمّا مَذْكُور، نَحْو: "وَالله إِذَنْ لَا أفعلُ"، قَالَ سِيبَوَيْهٍ: "وَمن ذَلِك أَيْضا: "وَالله إِذَنْ لَا أفعلُ"، من قِبَلِ أنّ "أفعلُ" معتمدٌ على الْيَمين، و"إِذَنْ" لغوٌ " 2.
وإمّا مُقَدّر، كَقَوْل كُثَيِّر عَزَّةَ:
لَئِنْ عَادَ لي عبدُ الْعَزِيز بمثْلِها
… وأمْكَنَنِي مِنْهَا إِذَنْ لَا أَقِيلُها3
فـ (لَا أقيلُها) مَرْفُوع؛ لأنّ "إِذَنْ" لم تتصدر لكَونهَا جَوَاب الْقسم الْمُقدر الْمُوَطَّأ عَلَيْهِ بِاللَّامِ الدَّاخِلَة على "أَنْ" فِي أول الْبَيْت، وَالتَّقْدِير: وَالله لَئِنْ.
الثَّالِث: أَن يكون مابعدها خَبرا للمبتدأ الَّذِي قبلهَا، نَحْو: "أَنا إِذَنْ أكرمُك"
قَالَ المالقيّ: "وَتقول فِي الْمُبْتَدَأ: "زيدٌ إِذَنْ يكرمُك"، فـ"يكرمُك"، مَرْفُوع؛ لأنّه خبر عَن "زيد"، وَكَذَلِكَ حكمه فِي خبر مايدخل على الْمُبْتَدَأ وَالْخَبَر، من "كَانَ" أَو "إِنّ" وشبههما، كَقَوْلِك: "كَانَ زيدٌ إِذَنْ يكرمُك" و"إنّ زيدا إِذَنْ يكرمُك"، و"ظَنَنْت زيدا إِذَنْ يكرمُك"؛ لأنّ الْمَفْعُول الثَّانِي فِي "بَاب ظَنَنْت" حكمه أَن يكون خَبرا للمبتدأ فِي الأَصْل، فَهُوَ كَخَبَر "كَانَ" و"إنّ" "4.
--------------------------------------------
"লা" (لا) এখানে নিষেধবাচক (نهي) হিসেবে ব্যবহৃত হয়েছে, এটি আদেশবাচক (أمر) পদের উত্তর হিসেবে আসেনি। আর "ইরাদ" (يُردّ) শব্দটি এখানে মাজজুম (مجزوم) বা জজমযুক্ত অবস্থায় আছে, মানসুব (منصুব) বা নসবযুক্ত হিসেবে নয়; কারণ এটি নিষেধবাচক (نهي) পদের উত্তর হিসেবে এসেছে। যেমনটি তাঁর (সিবাওয়াইহ) রীতি এ জাতীয় বাক্যের ক্ষেত্রে: "কুফরি করো না, তাহলে জাহান্নামে প্রবেশ করবে", অর্থাৎ: "যদি তুমি কুফরি করো তবে জাহান্নামে প্রবেশ করবে"। সুতরাং বাক্যটির অর্থ হবে: "সে যেন বিচরণ না করে, যদি সে বিচরণ করে তবে তাকে ফিরিয়ে দেওয়া হবে।" 1.
দ্বিতীয়ত: এর পরবর্তী অংশটি তার পূর্ববর্তী শপথ (قسم)-এর উত্তর হতে হবে; চাই তা সরাসরি উল্লেখ থাকুক, যেমন: "আল্লাহর কসম, তখন (إذن) আমি তা করব না।" সিবাওয়াইহ বলেছেন: "এর অন্তর্ভুক্ত হলো: 'আল্লাহর কসম, তখন (إذن) আমি তা করব না'; কারণ 'আমি করব' (أفعلُ) ক্রিয়াটি শপথের ওপর নির্ভরশীল এবং 'তখন' (إذن) শব্দটি এখানে আমলহীন।" 2.
অথবা শপথটি উহ্য থাকতে পারে, যেমন কুথায়্যির আজ্জার উক্তি:
যদি আব্দুল আজিজ আমার নিকট অনুরূপভাবে ফিরে আসত
… এবং আমাকে সুযোগ দিত, তবে (إذن) আমি তা ছেড়ে দিতাম না। 3
এখানে (লা আকিলুহা) মারফু (مرفوع) বা পেশযুক্ত হয়েছে; কারণ "ইযান" (إذن) শব্দটি বাক্যের শুরুতে আসেনি। এটি একটি উহ্য শপথের উত্তর হিসেবে এসেছে, যা বাক্যের শুরুতে 'আন' (أَنْ) শব্দের ওপর দাখিল হওয়া 'লাম' দ্বারা সূচিত হয়েছে। এর মূল বাক্যটি হলো: "আল্লাহর কসম, যদি..."।
তৃতীয়ত: এর পরবর্তী অংশটি তার পূর্ববর্তী মুবতাদা (مبتدأ) বা উদ্দেশ্যের খবর (خبر) বা বিধেয় হিসেবে আসা। যেমন: "আমি তখন (إذن) তোমাকে সম্মানিত করব।"
আল-মালাকি বলেন: "মুবতাদা (مبتدأ)-এর ক্ষেত্রে আপনি বলবেন: 'যায়েদ তখন (إذن) তোমাকে সম্মানিত করবে'। এখানে 'সে তোমাকে সম্মানিত করবে' (يكرمك) অংশটি মারফু (مرفوع) হবে; কারণ এটি 'যায়েদ'-এর খবর (خبر)। অনুরূপ বিধান প্রযোজ্য হবে মুবতাদা ও খবরের ওপর প্রবেশকারী আমেলসমূহ যেমন: 'কানা' (كَانَ) অথবা 'ইন্না' (إِنّ) এবং এদের সাদৃশ্যপূর্ণ শব্দগুলোর ক্ষেত্রেও। যেমন আপনার উক্তি: 'যায়েদ তখন তোমাকে সম্মানিত করছিল', 'নিশ্চয় যায়েদ তখন তোমাকে সম্মানিত করবে', এবং 'আমি মনে করেছিলাম যায়েদ তখন তোমাকে সম্মানিত করবে'; কারণ 'যানানতু' (ظَنَنْتُ)-এর পরিচ্ছেদে দ্বিতীয় মাফ'উল (مَفْعُول) বা কর্মের বিধান হলো মূলত মুবতাদার খবর (خبر) হওয়া। সুতরাং এটি 'কানা' (كَانَ) এবং 'ইন্না' (إِنّ)-এর খবরের মতোই।" 4.
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
মাসায়িলু (ইযান)
(পৃষ্ঠা: ৪২৬)
وَهَذِه الصُّورَة موضِعُ خِلافٍ بَين الْبَصرِيين والكوفيين، فمذهب الْبَصرِيين أنّه لايجوز الإعمال، وفصّل الْكُوفِيُّونَ فَأجَاز هِشَام النصب وَالرَّفْع بعد الْمُبْتَدَأ، وأجازهما الكسائيّ بعد اسْم "إنّ"، وَبعد اسْم "كَانَ"، وَوَافَقَهُ الْفراء فِي "إنّ"، وَخَالفهُ فِي "كَانَ" فَأوجب الرّفْع، ونصّ الْفراء على وجوب الرّفْع بعد "ظنّ"، قَالَ أَبُو حَيَّان: " وَقِيَاس قَول الكسائيّ جَوَاز الْوَجْهَيْنِ " 1، لذَلِك اخْتلف الْفَرِيقَانِ فِي قَول الشَّاعِر:
لاتَترُكَنِّي فِيهُمُ شَطِيرا
… إِنّي إِذَنْ أَهْلِكَ أَو أَطِيرا2
فتأوّله البصريون على أنّه شاذٌّ، أَو إِنْ صحت الرِّوَايَة فإنّه على أحد وَجْهَيْن:
إمّا أَن يَجْعَل "إِذَنْ أَهْلِكَ" جملَة فِي مَوضِع خبر "إنّ"، وإمّا أَن يكون خبر "إنّي" محذوفاً، أَي: إنّي لاأستطيع، أَو لَا أقدر عَلَيْهِ، أَو إنّي أُذلّ، ثمَّ اسْتَأْنف بـ"إِذَنْ" فنصب الْفِعْل بعد تَمام الأول بِخَبَرِهِ؛ أَمّا الْكُوفِيُّونَ فبنوا على هَذَا الْبَيْت مسائلهم.
قَالَ رضيّ الدّين فِي نِهَايَة هَذِه الْمَوَاضِع الثَّلَاثَة الَّتِي تقع فِيهَا "إِذَنْ" حَشْوًا: "وَلَا يَقع الْمُضَارع بعد "إِذَنْ" فِي غير هَذِه الْمَوَاضِع الثَّلَاثَة مُعْتَمدًا على مَا قبلهَا بالاستقراء، بل تقع متوسطة فِي غير هَذِه الْمَوَاضِع، نَحْو: "يقتلُ إِذَنْ
--------------------------------------------
এই বিষয়টি বসরী ও কুফী ব্যাকরণবিদদের মধ্যে মতভেদের একটি স্থল। বসরীগণের মাযহাব হলো, এক্ষেত্রে আমল (إعمال) করা জায়েয নেই। কুফীগণ এ বিষয়ে বিস্তারিত বর্ণনা দিয়েছেন; হিশাম মুবতাদা (مبتدأ)-এর পরে নাসব (النصب) ও রাফ’ (الرفع) উভয়টি জায়েয রেখেছেন। কিসাঈ 'ইন্না' (إنّ)-এর ইসিম এবং 'কানা' (كان)-এর ইসিমের পরে উভয়টি জায়েয বলেছেন। ফাররা 'ইন্না'-এর ক্ষেত্রে তাঁর সাথে একমত পোষণ করেছেন, কিন্তু 'কানা'-এর ক্ষেত্রে ভিন্নমত পোষণ করে রাফ’ (الرفع) করাকে অপরিহার্য বলেছেন। ফাররা 'যান্না' (ظنّ)-এর পরে রাফ’ (الرفع) করা ওয়াজিব হওয়ার ব্যাপারে সুস্পষ্ট মত দিয়েছেন। আবু হাইয়্যান বলেন: "কিসাঈর মতের কিয়াস বা অনুমান হলো উভয় পদ্ধতি জায়েয হওয়া।" ১ এজন্য কবির এই বক্তব্যের ব্যাপারে উভয় পক্ষ মতভেদ করেছেন:
আমাকে তাদের মধ্যে একা ছেড়ে দিও না
… তবে আমি ধ্বংস হয়ে যাব অথবা উড়ে যাব২
বসরীগণ এটিকে বিরল (شاذٌّ) হিসেবে ব্যাখ্যা করেছেন, অথবা যদি বর্ণনাটি (الرِّوَايَة) বিশুদ্ধ হয়, তবে তা দুটি সুরতের কোনো একটির উপর ভিত্তি করে হবে:
হয় 'ইযান আহলিকা' (إِذَنْ أَهْلِكَ) বাক্যটিকে 'ইন্না'-এর খবরের (خبر) স্থলে রাখা হবে, অথবা 'ইন্নী' (إنّي)-এর খবর উহ্য থাকবে; অর্থাৎ: 'আমি পারব না', অথবা 'আমি এ বিষয়ে সক্ষম নই', অথবা 'আমি লাঞ্ছিত হব', অতঃপর 'ইযান' (إِذَنْ) দ্বারা নতুন বাক্য শুরু করা হয়েছে এবং পূর্ববর্তী বাক্যটি তার খবরের মাধ্যমে পূর্ণ হওয়ার পর পরবর্তী ক্রিয়াটিকে নাসব (النصب) প্রদান করা হয়েছে। অন্যদিকে কুফীগণ এই পঙক্তির ওপর ভিত্তি করেই তাদের মাসআলাগুলো সাজিয়েছেন।
রাযীউদ্দীন এই তিনটি স্থান—যেখানে 'ইযান' (إِذَنْ) বাক্যের মধ্যবর্তী স্থানে (حشوا) আসে—তার আলোচনা শেষে বলেন: "অনুসন্ধান (الاستقراء) অনুযায়ী এই তিনটি স্থান ব্যতীত অন্য কোথাও 'ইযান'-এর পরবর্তী মুযারে (المضارع) ক্রিয়াটি তার পূর্ববর্তী অংশের ওপর নির্ভরশীল হয়ে আসে না; বরং এটি অন্যান্য স্থানে মধ্যবর্তী অবস্থায় আসে, যেমন: 'সে তখন হত্যা করবে' (يقتلُ إِذَنْ)
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
মাসায়িলু (ইযান)
(পৃষ্ঠা: ৪২৭)
زيدٌ عمرا"، و"لِبئْسَ الرجلُ إِذَنْ زيدٌ" وَنَحْوه" 1.
"জায়েদ আমরকে", এবং "তাহলে জায়েদ কতই না মন্দ লোক" এবং এর অনুরূপ ১।
(খণ্ড: ১)
মাসায়িলু (ইযান)
(পৃষ্ঠা: ৪২৭)
الْمَسْأَلَة السَّادِسَة: حكم "إِذن" إِذا فصل بَينهمَا وَالْفِعْل بفاصل…الْمَسْأَلَة السَّادِسَة:
حكم "إِذَنْ" إِذا فُصل بَينهَا وَالْفِعْل بفاصلٍ2:
ذهب النُّحَاة إِلَى أنّه لايجوز الْفَصْل بَين "إِذَنْ" ومنصوبها؛ لِضعْفِهَا مَعَ الْفَصْل عَن الْعَمَل فِيمَا بعْدهَا، إلاّ أنّهم اغتفروا الْفَصْل بالقسم، نَحْو: "إِذَنْ وَالله أجيئَك"، وَمِنْه قَول حسان بن ثَابت:
إِذَنْ واللهِ نرميَهُمْ بحربٍ تُشيبُ الطّفلَ من قبْلِ المَشيبِ3
أَو الْفَصْل بـ"لَا" النافية، نَحْو: "إِذَنْ لاأكرمَك"، وَمِنْه قِرَاءَة عبد الله بن مَسْعُود: {ِ فَإِذاً لَا يُؤْتُونَ النَّاسَ نَقِيراً} 4.
وَمَا عدا ذَلِك اخْتلف النُّحَاة فِيهِ، فَأجَاز ابْن بابشاذ5 الفصلَ بالدّعاء، والنِّداء، وَوَافَقَهُ الرضيّ6، نَحْو: "إِذَنْ – يَغفِرُ اللهُ لكَ – يُدخِلَك الجنّة"، وَنَحْو:
--------------------------------------------
ষষ্ঠ মাসআলা: "ইযান" এবং ক্রিয়ার মাঝে ব্যবধান থাকলে তার বিধান…ষষ্ঠ মাসআলা:
"ইযান" এবং ক্রিয়ার মাঝে ব্যবধানের মাধ্যমে বিচ্ছেদ ঘটলে তার বিধান:
ব্যাকরণবিদগণ এই অভিমত ব্যক্ত করেছেন যে, "ইযান" এবং তার দ্বারা নসবপ্রাপ্ত পদের মধ্যে বিচ্ছেদ ঘটানো বৈধ নয়; কারণ ব্যবধানের ফলে পরবর্তী শব্দের ওপর আমল করার ক্ষেত্রে এটি দুর্বল হয়ে পড়ে। তবে তারা শপথের মাধ্যমে বিচ্ছেদকে বৈধ গণ্য করেছেন, যেমন: "তবে আল্লাহর কসম, আমি তোমার কাছে আসব।" এর সপক্ষে হাসসান ইবনে সাবিত-এর উক্তি:
তবে আল্লাহর কসম, আমরা তাদের বিরুদ্ধে এমন যুদ্ধ করব যা শিশুদের বার্ধক্যের আগেই বৃদ্ধ করে দেবে।
অথবা না-বোধক "লা"-এর মাধ্যমে বিচ্ছেদ, যেমন: "তবে আমি তোমাকে সম্মান করব না।" এর সপক্ষে আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদের কিরাত: "তবে তারা মানুষকে তিল পরিমাণও দিত না।"
এ ছাড়া অন্য কোনো উপায়ে বিচ্ছেদ ঘটানোর ক্ষেত্রে ব্যাকরণবিদগণ মতভেদ করেছেন। ইবনে বাবিশায দোয়া এবং সম্বোধনের মাধ্যমে বিচ্ছেদ ঘটানোকে জায়েজ বলেছেন এবং আল-রাযী তাঁর সাথে একমত পোষণ করেছেন। যেমন: "তবে—আল্লাহ তোমাকে ক্ষমা করুন—তিনি তোমাকে জান্নাতে প্রবেশ করাবেন", এবং অনুরূপ:
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
মাসায়িলু (ইযান)
(পৃষ্ঠা: ৪২৮)
"إِذَنْ – يازيدُ – أحسنَ إِلَيْك"، وَوَافَقَهُمَا ابْن أبي الرّبيع القرشيّ فِي النِّداء فَقَط1.
وَأَجَازَ بعض النَّحْوِيين مِنْهُم ابْن عُصْفُور2، والمالقيّ3، والأبّديّ4 الْفَصْل بالظرف، أَو الْمَجْرُور، نَحْو: "إِذَنْ - يومَ الْجُمُعَة - أُكرمَك"، وَنَحْو: "إِذَنْ - فِي الدَّار - آتيَك".
وَأَجَازَ الكسائيّ، وَالْفراء، وَهِشَام، الْفَصْل بَين "إِذَنْ" وَالْفِعْل بمعمول الْفِعْل، نَحْو: "إِذَنْ زيدا أُكرمَُ"، و"إِذَنْ فِيك أرغبَُ"، فَفِي الْفِعْل حينئذٍ وَجْهَان: الرّفْع وَاخْتَارَهُ الْفراء وهشامٌ، وَالنّصب وَاخْتَارَهُ الكسائيّ5.
وَجُمْهُور النَّحْوِيين لايرون فِي هَذَا وَنَحْوه إلاّ الرفعَ لوُجُود الْفَصْل، واغتفروا الْفَصْل بالقسم، وبـ"لَا" النافية كَمَا سبق ذكره.
تَنْبِيه: قَالَ أَبُو حيّان: "لَو قدمت مَعْمُول الْفِعْل على "إِذَنْ" نَحْو: "زيدا إِذَنْ أُكرمَُ" جَازَ ذَلِك عِنْد الكسائيّ وَالْفراء، إلاّ أنّ الْفراء يُبطل عَملهَا، والكسائيَّ يُجِيز الْإِبْطَال والإعمال، وَلَا نصَّ عِنْد الْبَصرِيين أحفظه فِي ذَلِك، وَالَّذِي تَقْتَضِيه قواعدهم الْمَنْع" 6.
--------------------------------------------
"সুতরাং – হে যায়িদ – তোমার প্রতি অনুগ্রহ করব", এবং ইবনে আবি আল-রাবি আল-কুরাশি কেবল আহ্বানের (النداء) ক্ষেত্রে তাঁদের উভয়ের সাথে একমত হয়েছেন।১
ইবনে উসফুর২, আল-মালাকি৩ এবং আল-আববাদি৪-সহ কিছু ব্যাকরণবিদ ক্রিয়া-বিশেষণ (الظرف) অথবা অব্যয়যুক্ত পদ (المجرুর) দ্বারা বিচ্ছেদ করা বৈধ বলেছেন; যেমন: "সুতরাং - শুক্রবার - আমি তোমাকে সম্মান করব", এবং যেমন: "সুতরাং - বাড়িতে - আমি তোমার কাছে আসব"।
আল-কিসায়ি, আল-ফাররা এবং হিশাম "ইযান" ও ক্রিয়ার মাঝে উক্ত ক্রিয়ার কর্ম (المعمول) দ্বারা বিচ্ছেদ বৈধ বলেছেন; যেমন: "সুতরাং যায়িদকে আমি সম্মান করব" এবং "সুতরাং তোমার প্রতি আমি আগ্রহী হব"। এমতাবস্থায় উক্ত ক্রিয়ার ক্ষেত্রে দুটি রূপ রয়েছে: পেশ (الرفع), যা আল-ফাররা ও হিশাম পছন্দ করেছেন এবং যবর (النصب), যা আল-কিসায়ি পছন্দ করেছেন৫।
অধিকাংশ ব্যাকরণবিদ এক্ষেত্রে এবং এই জাতীয় উদাহরণে বিচ্ছেদ থাকার কারণে পেশ (الرفع) ব্যতীত অন্য কিছু দেখেন না। তবে তাঁরা শপথের (القسم) মাধ্যমে এবং পূর্বোল্লিখিত না-বোধক (النافية) "লা" এর মাধ্যমে বিচ্ছেদকে ক্ষমারযোগ্য মনে করেছেন।
সতর্কীকরণ: আবু হাইয়্যান বলেন: "যদি ক্রিয়ার কর্মকে (المعمول) 'ইযান'-এর পূর্বে আনা হয়, যেমন: 'যায়িদকে সুতরাং আমি সম্মান করব', তবে তা আল-কিসায়ি ও আল-ফাররার নিকট জায়েজ। তবে আল-ফাররা এক্ষেত্রে এর কার্যকারিতা বাতিল (الإبطال) করে দেন, আর আল-কিসায়ি কার্যকারিতা বাতিল ও বহাল রাখা (الإعمال) উভয়টিই জায়েজ মনে করেন। বসরাবাসীদের নিকট এ বিষয়ে আমার জানা মতে কোনো সুস্পষ্ট বক্তব্য নেই, তবে তাদের মূলনীতি অনুযায়ী এটি নিষিদ্ধ" ৬।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
মাসায়িলু (ইযান)
(পৃষ্ঠা: ৪২৯)
الْمَسْأَلَة السَّابِعَة:حكم"إِذَنْ"الْوَاقِعَة بَين حرف الْعَطف وَالْفِعْل الْمُسْتَقْبل1:اعْلَم أنّ "إِذَنْ" إِن وَقعت بَين حرف الْعَطف وَالْفِعْل الْمُسْتَقْبل، كنت فِيهَا بِالْخِيَارِ، إِن شِئْت أعملتها، وَإِن شِئْت ألغيتها، وَهُوَ الْأَكْثَر والأجود، وَفِي الْمَسْأَلَة صُورَتَانِ:
الأولى: نَحْو قَوْلك: "فإِذَنْ أُحسنُ إِلَيْك" جَوَابا لمن قَالَ: "أزورُكَ"، جَازَ فِيهَا الْوَجْهَانِ، قَالَ سِيبَوَيْهٍ: "وَاعْلَم أنّ "إِذَنْ" إِذا كَانَت بَين "الْفَاء وَالْوَاو" وَبَين الْفِعْل، فإنّك فِيهَا بِالْخِيَارِ، إِن شِئْت أعملتها
…، وَإِن شِئْت ألغيت "إِذَنْ"
…، فأمّا الِاسْتِعْمَال فقولك: "فإِذَنْ آتيَك، وإِذَنْ أُكرمَك"
…، وأمّا الإلغاء فقولك: "فإِذَنْ لَا أجيئُك" "2.
فالإلغاء بِالرَّفْع على اعْتِبَار كَون مابعد العاطف من تَمام ماقبله بِسَبَب ربطِ حرفِ العطفِ الْكَلَام بعضه ببعضٍ، فَصَارَت "إِذَنْ" بذلك متوسطةً.
والإعمال وَهُوَ نصب الْفِعْل بِاعْتِبَار كَون مابعد العاطف جملَة مُسْتَقلَّة، وَالْفِعْل فِيهَا بعد "إِذَنْ" غير مُعْتَمد على ماقبلها، وعَلى هَذَا الْوَجْه خرّج النُّحَاة
--------------------------------------------
সপ্তম মাসআলা (المسألة السابعة):সংযোজক অব্যয় (حرف العطف) এবং ভবিষ্যৎকালবাচক ক্রিয়া (الفعل المستقبل)-এর মাঝে অবস্থিত ‘ইযান’ (إذن)-এর বিধান ১:জেনে রাখুন যে, ‘ইযান’ (إذن) যদি সংযোজক অব্যয় (حرف العطف) এবং ভবিষ্যৎকালবাচক ক্রিয়া (الفعل المستقبل)-এর মাঝখানে বসে, তবে আপনি সেটির ব্যবহারের ক্ষেত্রে পছন্দের অধিকারী থাকবেন। আপনি চাইলে সেটিকে আমল প্রদান (إعمال) করতে পারেন, আবার চাইলে সেটিকে স্থগিতকরণ (إلغاء) করতে পারেন; আর স্থগিত রাখাই অধিক প্রচলিত এবং উত্তম। এই বিষয়ে দুটি রূপ রয়েছে:
প্রথমটি: যেমন আপনার উক্তি: "ফইযান উহসিনু ইলাইকা" (فإذن أُحسنُ إليك), যা "আযুরুকা" (আমি তোমার সাথে সাক্ষাৎ করব) উক্তিটির উত্তরে বলা হয়েছে। এতে উভয় পদ্ধতিই বৈধ। সিবওয়াইহি বলেছেন: "জেনে রাখুন যে, ‘ইযান’ (إذن) যখন ‘ফা’ (الفاء) ও ‘ওয়াও’ (الواو) এবং ক্রিয়ার মাঝে অবস্থিত হয়, তখন আপনি সেটির বিষয়ে পছন্দের অধিকারী হবেন; চাইলে আপনি সেটিকে আমল প্রদান (إعمال) করবেন... আর চাইলে ‘ইযান’-কে স্থগিতকরণ (إلغاء) করবেন... ব্যবহারের (আমল প্রদানের) উদাহরণ হলো আপনার উক্তি: ‘ফইযান আতিয়াকা’ (فإذن آتيَك) এবং ‘ওয়া ইযান উকরিয়াকা’ (وإذن أُكرمَক)... আর স্থগিতকরণের (إلغاء) উদাহরণ হলো আপনার উক্তি: ‘ফইযান লা আজিউকা’ (فإذن لَا أجيئُك)" ২।
সুপ্ত বা স্থগিতকরণ (إلغاء)-এর ক্ষেত্রে রফ বা পেশ প্রদান (رفع) করা হয় এই বিবেচনায় যে, সংযোজক অব্যয়ের পরের অংশটি পূর্ববর্তী অংশেরই পরিপূরক; কারণ সংযোজক অব্যয় বাক্যের এক অংশকে অন্য অংশের সাথে গেঁথে দেয়, ফলে ‘ইযান’ সেখানে মধ্যবর্তী অবস্থানে চলে আসে।
আর আমল প্রদান (إعمال) তথা ক্রিয়াকে নসব বা যবর প্রদান (نصب) করা হয় এই বিবেচনায় যে, সংযোজক অব্যয়ের পরবর্তী অংশটি একটি স্বাধীন বাক্য (جملة مستقلة), এবং তাতে ক্রিয়াটি ‘ইযান’-এর পরে হওয়ার কারণে পূর্ববর্তী অংশের ওপর নির্ভরশীল নয়। এই পদ্ধতির ওপর ভিত্তি করেই ব্যাকরণবিদগণ ব্যাখ্যা প্রদান করেছেন।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
মাসায়িলু (ইযান)
(পৃষ্ঠা: ৪৩০)
الْقِرَاءَة الشّاذة فِي قَوْله: {فَإِذا لايُؤتُوا النَّاسَ نَقِيراً} 1، وقولِهِ: {وَإذاً لايَلْبثُوا خَلْفَكَ إِلاّ قَليلاً} 2.
وَإِلَى هَذِه الصُّورَة أَشَارَ ابْن مَالك بقوله:
… ، وَانْصِبْ وَارْفَعا إِذا "إِذَنْ" مِنْ بعْدِ عَطْفٍ وَقَعَا3
الصُّورَة الثَّانِيَة: وُقُوعهَا مَعَ حرف الْعَطف بعد جَوَاب الشَّرْط، نَحْو قَوْلك: "إنْ تأتِني آتِك وإِذَنْ أُكرمُْك" جَازَ فِيهَا ثَلَاثَة أوجهٍ، قَالَ الْمبرد: "وَاعْلَم أنّها إِذا وَقعت بعد واوٍ أوفاءٍ، صَلُحَ الإعمال فِيهَا والإلغاءُ، لِمَا أذكرهُ لَك، وَذَلِكَ قَوْلك: "إنْ تأتِني آتِك وإِذَنْ أُكرمَُْك"، إِنْ شِئْت رفعت، وإِنْ شِئْت نصبت، وإِنْ شِئْت جزمت؛ أمّا الْجَزْم فعلى الْعَطف على "آتِك" وإلغاء "إِذَنْ"؛ والنّصب على إِعْمَال "إِذَنْ"؛ وَالرَّفْع على قَوْلك: "وَأَنا أُكرمُك"، ثمّ أُدخلت "إِذَنْ" بَين الِابْتِدَاء وَالْفِعْل فَلم تعْمل شَيْئا" 4.
--------------------------------------------
নিম্নোক্ত বাণীদ্বয়ে অনিয়মিত (شاذة) পাঠ: {তখন তারা মানুষকে তিল পরিমাণও দিত না} ১, এবং তাঁর বাণী: {এবং তখন তারা আপনার পশ্চাতে অল্প সময় ছাড়া অবস্থান করত না} ২।
আর এই সুরত বা অবস্থার প্রতি ইবনে মালিক তাঁর এই উক্তির মাধ্যমে ইঙ্গিত করেছেন:
... , এবং নসব ও রফা প্রদান করো যখন ‘ইযান’ (إذن) কোনো সংযোজক অব্যয়ের পরে আসবে ৩
দ্বিতীয় সুরত: শর্তের জবাবের পর সংযোজক অব্যয়ের সাথে এর অবস্থান, যেমন আপনার উক্তি: "যদি তুমি আমার নিকট আসো তবে আমি তোমার নিকট আসব এবং তখন আমি তোমাকে সম্মানিত করব"। এতে তিনটি পদ্ধতি বৈধ। মুবাররাদ বলেন: "জেনে রাখুন, যখন এটি ওয়াও অথবা ফা-এর পরে আসে, তখন আমল সচল রাখা এবং আমল বাতিল করা উভয়ই সঠিক। আমি আপনার নিকট যা উল্লেখ করছি তার কারণে; আর তা হলো আপনার উক্তি: 'যদি তুমি আমার নিকট আসো আমি তোমার নিকট আসব এবং তখন আমি তোমাকে সম্মানিত করব', আপনি চাইলে রফা পড়তে পারেন, চাইলে নসব পড়তে পারেন এবং চাইলে জযমও পড়তে পারেন। জযম হবে 'আতিক' শব্দের ওপর আতফ বা সংযোজনের ভিত্তিতে এবং 'ইযান' এর আমল বাতিল করার কারণে; নসব হবে 'ইযান' এর আমল সচল করার কারণে; আর রফা হবে আপনার উক্তি: 'এবং আমি তোমাকে সম্মানিত করছি' এর ভিত্তিতে, যেখানে 'ইযান' কে বাক্য প্রারম্ভক ও ক্রিয়ার মাঝখানে প্রবেশ করানো হয়েছে ফলে এটি কোনো আমল করেনি" ৪।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
মাসায়িলু (ইযান)
(পৃষ্ঠা: ৪৩১)
الْمَسْأَلَة الثَّامِنَة:حكم إِلْغَاء عمل "إِذَنْ" مَعَ اسْتِيفَاء شُرُوط الْعَمَل1:الْمَشْهُور من لِسَان الْعَرَب إِذا وجدت الشُّرُوط الْمَذْكُورَة سَابِقًا أَن تنصب "إِذَنْ" الْفِعْل بعْدهَا، إلاّ أنّ بعض الْعَرَب يُلغى "إِذَنْ" مَعَ اسْتِيفَاء الشُّرُوط.
قَالَ سِيبَوَيْهٍ: "وَزعم عِيسَى بن عمر أنّ نَاسا من الْعَرَب يَقُولُونَ: "إِذَنْ أفعلُ ذَلِك" فِي الْجَواب، فَأخْبرت يُونُس بذلك، فَقَالَ: لَا تُبْعِدنّ ذَا، وَلم يكن ليرويَ إلاّ ماسمع، جعلوها بِمَنْزِلَة "هَلْ وبَلْ" "2.
وَبِنَاء على ماحكاه سِيبَوَيْهٍ، اخْتلف النحويون فِي إِلْغَاء عَملهَا مَعَ اسْتِيفَاء الشُّرُوط: فَذهب البصريون إِلَى إِثْبَات إِلْغَاء عَملهَا رُجُوعا إِلَى نقل عِيسَى، وَوَافَقَهُمْ ثَعْلَب، وَخَالفهُم سَائِر الْكُوفِيّين فَلم يُجز أحدٌ الرّفْع بعْدهَا3.
وَذهب ابْن يعِيش إِلَى أنّه يجب إعمالها لاغير إِن دخلت فِي الْفِعْل فِي ابْتِدَاء الْجَواب، و - أَيْضا - ذهب إِلَيْهِ ابْن عُصْفُور، فَقَالَ: "وَإِن وَقعت صَدرا فالإعمال لَيْسَ إلاّ، وَقد حُكي إلغاؤها، وَذَلِكَ قَلِيل جدا" 4.
وَذهب ابْن مَالك إِلَى أنّها تنصب الْفِعْل غَالِبا، وَذَلِكَ بِنَاء على مارواه
--------------------------------------------
অষ্টম মাসআলা:আমলের শর্তাবলি পূর্ণ থাকা সত্ত্বেও "ইযান"-এর আমল বাতিল করার বিধান১:আরবদের ভাষার প্রসিদ্ধ রীতি হলো, যখন পূর্বে উল্লিখিত শর্তাবলি বিদ্যমান থাকবে তখন "ইযান" তার পরবর্তী ফেল (ক্রিয়া)-কে নসব প্রদান করবে। তবে কোনো কোনো আরব শর্তাবলি পূর্ণ থাকা সত্ত্বেও "ইযান"-এর আমল বাতিল করে থাকেন।
সিবওয়াইহি বলেন: "ঈসা ইবনে উমর দাবি করেছেন যে, আরবের কিছু লোক উত্তর প্রদানের ক্ষেত্রে বলেন: 'ইযান আফআলু যালিকা' (তবে আমি তা করব), আমি ইউনুসকে এ ব্যাপারে অবহিত করলে তিনি বলেন: একে অসম্ভব মনে করো না, আর তিনি যা শুনেছেন তা ব্যতীত কিছুই বর্ণনা করতেন না; তারা একে 'হাল' এবং 'বাল'-এর সমপর্যায়ভুক্ত করেছে।"২
সিবওয়াইহি যা বর্ণনা করেছেন তার ওপর ভিত্তি করে, শর্তাবলি পূর্ণ থাকা অবস্থায় এর আমল বাতিল করার ব্যাপারে নাহুবিদগণ মতভেদ করেছেন: বসরীগণ ঈসার বর্ণনার দিকে প্রত্যাবর্তন করে আমল বাতিল হওয়াকে সাব্যস্ত করেছেন এবং ছা'লাব তাদের সাথে একমত পোষণ করেছেন। তবে অন্যান্য কুফীগণ তাদের বিরোধিতা করেছেন এবং তাদের কেউ এরপর রফ পড়াকে বৈধ বলেননি।৩
ইবনে ইয়াইশ এই মত পোষণ করেছেন যে, যদি উত্তর প্রদানের শুরুতে ফেল-এর ওপর এটি আসে তবে আমল দেওয়া ব্যতিরেকে কোনো উপায় নেই। ইবনে উসফুরও এই মতের দিকে গিয়েছেন, তিনি বলেন: "আর যদি এটি বাক্যের শুরুতে আসে তবে আমল দেওয়া ছাড়া আর কোনো বিকল্প নেই। তবে এর আমল বাতিলের বিষয়টিও বর্ণিত হয়েছে, যা অত্যন্ত বিরল।"৪
ইবনে মালিক এই মত পোষণ করেছেন যে, এটি অধিকাংশ ক্ষেত্রে ফেল-কে নসব প্রদান করে এবং তা তিনি যা বর্ণনা করেছেন তার ওপর ভিত্তি করে...
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
মাসায়িলু (ইযান)
(পৃষ্ঠা: ৪৩২)
عِيسَى ابْن عمر1.
أَمّا ابْن النَّاظِم فَذهب إِلَى أنّ إِلْغَاء عَملهَا هُوَ الْقيَاس؛ لأنّها غير مُخْتَصَّة، فَقَالَ: "وإنّما أعملها الْأَكْثَرُونَ حملا على "ظنّ"؛ لأنّها مثلُها فِي جَوَاز تقدمها على الْجُمْلَة، وتأخرِها عَنْهَا، وتوسطِها بَين جزأيها، كَمَا حُملت "مَا"على"لَيْسَ"؛لِأَنَّهَا مثلُها فِي نفي الْحَال" 2.
وَذهب بعض النُّحَاة إِلَى أنّ مارواه عِيسَى لغةٌ نادرةٌ3، وَذهب المالقيّ إِلَى أنّ ذَلِك شاذٌّ لايُعتبر4.
--------------------------------------------
ঈসা ইবনে উমর ১।
পক্ষান্তরে ইবনুন নাজিম এই মত পোষণ করেছেন যে, এর আমল (কার্যকারিতা) রহিত করাই হলো নিয়ম (কিয়াস); কারণ এটি নির্দিষ্ট নয়। তিনি বলেন: "অধিকাংশ ব্যাকরণবিদ এটিকে 'জান্না' এর ওপর ভিত্তি করে আমলযোগ্য করেছেন; কারণ এটি বাক্যের শুরুতে আসা, শেষে আসা এবং এর দুই অংশের মাঝখানে আসার বৈধতার ক্ষেত্রে তার অনুরূপ, যেমনটি 'মা' কে 'লাইসা' এর ওপর কিয়াস করা হয়েছে; কারণ বর্তমান কালের নেতিবাচক অর্থ প্রদানের ক্ষেত্রে এটি তার অনুরূপ।" ২।
কিছু ব্যাকরণবিদ মনে করেন যে, ঈসা যা বর্ণনা করেছেন তা একটি বিরল (نادرة) ভাষা ৩ এবং আল-মালিকী এই মত ব্যক্ত করেছেন যে, এটি বিচ্যুত (شاذّ), যা ধর্তব্য নয় ৪।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
মাসায়িলু (ইযান)
(পৃষ্ঠা: ৪৩২)
الْمَسْأَلَة التَّاسِعَة:حكم"إِذَنْ"إِذا وَقع بعْدهَا الْمَاضِي مصحوباً باللاّم5:ذهب النحويون إِلَى أنّه إِذا أَتَى بعد "إِذَنْ" الْمَاضِي مصحوباً بِاللَّامِ، نَحْو قَوْله تَعَالَى: {إِذاً لأَذَقْنَاك} 6 فَالظَّاهِر أنّ الْفِعْل جوابُ قسمٍ مقدرٍ قبل "إِذَنْ"، فَلذَلِك دخلت اللَّام على الْمَاضِي.
--------------------------------------------
নবম মাসয়ালা (المسألة):'ইযান' (إِذَنْ)-এর বিধান, যখন এরপরে 'লাম' (اللام) যুক্ত অতীতকালীন ক্রিয়া (الماضي) আসে:ব্যাকরণবিদগণ (النحويون) এই অভিমত পোষণ করেছেন যে, যখন 'ইযান' (إِذَنْ)-এর পরে 'লাম' (اللام) যুক্ত অতীতকালীন ক্রিয়া (الماضي) আসে, যেমন মহান আল্লাহর বাণী: {তবে অবশ্যই আমি আপনাকে আস্বাদন করাতাম}, তখন বাহ্যত এই ক্রিয়াটি 'ইযান' (إِذَنْ)-এর পূর্বে উহ্য থাকা একটি শপথের উত্তর (جواب قسم مقدر) হিসেবে গণ্য হয়; আর একারণেই অতীতকালীন ক্রিয়ার (الماضي) শুরুতে 'লাম' (اللام) যুক্ত হয়েছে।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
মাসায়িলু (ইযান)
(পৃষ্ঠা: ৪৩৩)
قَالَ الْفراء: (وَإِذا رَأَيْت فِي جَوَاب"إِذَنْ"اللَّام فقد أضمرت لَهَا"لَئِنْ"أَو يَمِينا، أَو "لَو"، من ذَلِك قَوْله عز وجل: {مَا اتَّخَذَ اللَّهُ مِنْ وَلَدٍ وَمَا كَانَ مَعَهُ مِنْ إِلَهٍ إِذاً لَذَهَبَ كُلُّ إِلَهٍ بِمَا خَلَقَ} 1، وَالْمعْنَى – وَالله أعلم -: لَو كَانَ مَعَه فيهمَا إلهٌ لذهب كلُّ إلهٍ بِمَا خلق، وَمثله قَالَ تَعَالَى: {وَإِنْ كَادُوا لَيَفْتِنُونَكَ عَنِ الَّذِي أَوْحَيْنَا إِلَيْكَ لِتَفْتَرِيَ عَلَيْنَا غَيْرَهُ وَإِذاً لأتَّخَذُوكَ خَلِيلا} 2، وَمَعْنَاهُ: لَو فعلت لاتخذوك، وَكَذَلِكَ قَوْله: {كِدْتَ تَرْكَنُ} ثمَّ قَالَ: {إِذاً لَأَذَقْنَاكَ} مَعْنَاهُ: لَو ركنت لأذقناك إِذا" 3.
فنلحظ أنّ الْفراء يرى أنّ اللَّام جَوَاب قسم مُقَدّر، أَو جَوَاب "لَو" مقدرَة.
أمّا رضيّ الدّين الاستراباذيّ فَلَا يرى أنّ "اللَّام" واقعةٌ فِي جوابٍ لقسم مقدرٍ، إِذْ قَالَ: "وَإِذا كَانَ للشّرط جَازَ أَن يكون للشّرط فِي الْمَاضِي، نَحْو: "لَو جئتني إِذَنْ لأكرمتك"، وَفِي الْمُسْتَقْبل نَحْو: "إِذَنْ أُكرمَك" بِنصب الْفِعْل، وَإِذا كَانَ بِمَعْنى الشَّرْط فِي الْمَاضِي جَازَ إجراؤه مجْرى "لَو" فِي إِدْخَال "اللَّام" فِي جَوَابه، كَقَوْلِه تَعَالَى: {إِذاً لَأَذَقْنَاكَ ضِعْفَ الْحَيَاةِ} ، أَي: لَو ركنت إِلَيْهِم شَيْئا قَلِيلا لأذقناك، .... وَلَيْسَ "اللَّام" جوابَ الْقسم الْمُقدر كَمَا قَالَ بَعضهم، وَإِذا كَانَ بِمَعْنى الشَّرْط فِي الْمُسْتَقْبل جَازَ دُخُول الْفَاء فِي جزائها كَمَا فِي جَزَاء "إِنْ" "4.
--------------------------------------------
আল-ফাররা বলেন: (যখন আপনি 'ইযান'-এর জওয়াবে 'লাম' দেখতে পাবেন, তখন এর জন্য 'লায়িন', অথবা একটি শপথ, কিংবা 'লাও' ঊহ্য রাখা হয়েছে। এর উদাহরণ হলো মহান আল্লাহর বাণী: {আল্লাহ কোনো সন্তান গ্রহণ করেননি এবং তাঁর সাথে কোনো ইলাহ নেই; (যদি থাকত) তবে প্রত্যেক ইলাহ নিজ নিজ সৃষ্টি নিয়ে পৃথক হয়ে যেত} ১। এর অর্থ—আল্লাহই ভালো জানেন—: যদি আসমান ও জমিনে তাঁর সাথে অন্য কোনো ইলাহ থাকত, তবে প্রত্যেক ইলাহ তার সৃষ্টি নিয়ে চলে যেত। অনুরূপভাবে মহান আল্লাহ বলেছেন: {আর তারা আপনাকে সেই ওহী থেকে বিচ্যুত করার প্রায় উপক্রম করেছিল যা আমি আপনার প্রতি নাযিল করেছি, যাতে আপনি আমার প্রতি অন্য কিছু মিথ্যা আরোপ করেন; এবং তখন তারা অবশ্যই আপনাকে বন্ধুরূপে গ্রহণ করত} ২। এর অর্থ হলো: আপনি যদি তা করতেন, তবে তারা আপনাকে বন্ধুরূপে গ্রহণ করত। তেমনিভাবে তাঁর বাণী: {আপনি তাদের প্রতি প্রায় ঝুঁকে পড়েছিলেন}, অতঃপর তিনি বলেন: {তবে অবশ্যই আমি আপনাকে আস্বাদন করাতাম}; এর অর্থ হলো: যদি আপনি ঝুঁকে পড়তেন, তবে আমি তখন আপনাকে (শাস্তি) আস্বাদন করাতাম) ৩।
সুতরাং আমরা লক্ষ্য করি যে, আল-ফাররা মনে করেন 'লাম' অক্ষরটি একটি ঊহ্য শপথের জওয়াব, অথবা একটি ঊহ্য 'লাও'-এর জওয়াব।
পক্ষান্তরে রাযি উদ্দিন আল-আস্তারাবাদী মনে করেন না যে 'লাম' অক্ষরটি কোনো ঊহ্য শপথের জওয়াব হিসেবে এসেছে; কেননা তিনি বলেছেন: "যখন এটি শর্তের অর্থে আসে, তখন এটি অতীতের শর্ত হতে পারে, যেমন: 'যদি তুমি আমার কাছে আসতে, তবে আমি তোমাকে সম্মান করতাম'; আবার ভবিষ্যতের জন্য হতে পারে, যেমন: 'ইযান উকরিমা-কা' (তবে আমি তোমাকে সম্মান করব) ক্রিয়াটিকে নসব প্রদান করে। আর যখন এটি অতীতের শর্তের অর্থে ব্যবহৃত হয়, তখন এর জওয়াবে 'লাম' যুক্ত করার ক্ষেত্রে একে 'লাও'-এর সমগোত্রীয় করা বৈধ, যেমন মহান আল্লাহর বাণী: {তবে অবশ্যই আমি আপনাকে আস্বাদন করাতাম জীবনের দ্বিগুণ শাস্তি}, অর্থাৎ: যদি আপনি তাদের প্রতি সামান্যতম ঝুঁকে পড়তেন, তবে আমি আপনাকে আস্বাদন করাতাম...। আর এই 'লাম' কোনো ঊহ্য শপথের জওয়াব নয় যেমনটি কেউ কেউ বলেছেন। আর যখন এটি ভবিষ্যতের শর্তের অর্থে আসে, তখন এর জওয়াবে 'ফা' যুক্ত হওয়া বৈধ, যেমনটি 'ইন'-এর জওয়াবে হয়ে থাকে" ৪।
--------------------------------------------