(খণ্ড: ১)
শুরুতু লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ
(পৃষ্ঠা: -)
شروط لا إله إلا الله القسم: العقيدة
الكتاب: شروط لا إله إلا الله
المؤلف: د عواد بن عبد الله المعتق
الناشر: الجامعة الإسلامية بالمدينة المنورة
الطبعة: السنة السادسة والعشرون - العددان (101، 102) - 1414/1415هـ
[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]
عدد الصفحات: 452
تاريخ النشر بالشاملة: 8 ذو الحجة 1431
‘লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ’-এর শর্তসমূহ বিভাগ: আকীদা
গ্রন্থ: ‘লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ’-এর শর্তসমূহ
লেখক: ড. আওয়াদ বিন আব্দুল্লাহ আল-মু'তাক
প্রকাশক: মদিনা ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়
সংস্করণ: ২৬তম বর্ষ - সংখ্যা (১০১, ১০২) - ১৪১৪/১৪১৫ হিজরী
[বইয়ের পৃষ্ঠা নম্বর মূল মুদ্রণের সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ]
পৃষ্ঠা সংখ্যা: ৪৫২
শামেলার প্রকাশনা তারিখ: ৮ যিলহজ ১৪৩১
(খণ্ড: ১)
শুরুতু লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ
(পৃষ্ঠা: ৪১১)
شُرُوط
"لَا إِله إِلا الله "
إعداد
الدكتور/ عواد الْمُعْتق
الْ
مُقدمَةالْحَمد لله وَحده وَالصَّلَاة وَالسَّلَام على من لَا نَبِي بعده.
أما بعد: فَإِنَّهُ لَا يخفى على من لَهُ أدنى علم بِكِتَاب الله وَسنة رَسُوله صلى الله عليه وسلم مَا للشَّهَادَة من أهمية، إِذْ هِيَ دَعْوَة الرُّسُل عَلَيْهِم الصَّلَاة وَالسَّلَام.
قَالَ تَعَالَى: {وَمَا أَرْسَلْنَا مِنْ قَبْلِكَ مِنْ رَسُولٍ إِلا نُوحِي إِلَيْهِ أَنَّهُ لَا إِلَهَ إِلا أَنَا فَاعْبُدُونِ} 1، وَهِي مِفْتَاح الْإِسْلَام، وَبِاللَّهِ ثمَّ بهَا يعْصم الدَّم وَالْمَال، وبتحقيقها تحصل النجَاة من النَّار.
وَحَيْثُ إِن الْبَعْض قد يفهم أَن مُجَرّد النُّطْق بهَا، أَو النُّطْق وَالْإِقْرَار بِدُونِ عمل بمقتضاها كافٍ فِي الْحُصُول على حَقِيقَة الْإِيمَان. أَو يقصر فِي بعض شُرُوطهَا ظَانّا أَن ذَلِك لَا يُؤثر فِي تحقيقها.
لذا أَحْبَبْت أَن أكتب لمحة موجزة حول هَذِه الشُّرُوط تتلخص فِيمَا يَلِي:
تمهيد: ويتضمن مَا يَلِي:
أَولا: معنى لَا إِلَه إِلَّا الله، وتحقيقها.
ثَانِيًا: مَتى ينْتَفع الْإِنْسَان بقولِهَا.
ثَالِثا: أَرْكَانهَا.
ثمَّ شُرُوطهَا: وَفِيه:
تمهيد: فِي تَعْرِيف الشَّرْط.
الشَّرْط الأول: الْعلم.
الشَّرْط الثَّانِي: الْيَقِين.
الشَّرْط الثَّالِث: الْإِخْلَاص.
الشَّرْط الرَّابِع: الصدْق.
--------------------------------------------
"লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ"-এর শর্তাবলি
প্রস্তুতকরণে:
ডক্টর/ আওয়াদ আল-মু'তিক
ভূমিকাসকল প্রশংসা একমাত্র আল্লাহর জন্য এবং দরুদ ও সালাম বর্ষিত হোক তাঁর প্রতি, যাঁর পর আর কোনো নবী নেই।
অতঃপর: আল্লাহর কিতাব ও তাঁর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সুন্নাহ সম্পর্কে যার সামান্যতম জ্ঞান রয়েছে, তার নিকট শাহাদাহ বা সাক্ষ্যের গুরুত্ব গোপন নয়; কেননা এটিই ছিল সকল রাসূল আলাইহিমুস সালাতু ওয়াস সালাম-এর দাওয়াতের মূল বিষয়।
মহান আল্লাহ বলেন: {আপনার পূর্বে আমি এমন কোনো রাসূল প্রেরণ করিনি যার প্রতি এই ওহী অবতীর্ণ করিনি যে, "আমি ছাড়া সত্য কোনো ইলাহ নেই; সুতরাং তোমরা আমারই ইবাদত করো"} ১। এটি ইসলামের চাবিকাঠি; আল্লাহর ইচ্ছায় এই সাক্ষ্যের মাধ্যমেই রক্ত ও সম্পদ সংরক্ষিত হয় এবং এটি বাস্তবায়নের মাধ্যমেই জাহান্নাম থেকে মুক্তি অর্জিত হয়।
যেহেতু কিছু মানুষ মনে করতে পারে যে, কেবল এটি উচ্চারণ করা, অথবা এর দাবি অনুযায়ী আমল না করে শুধু উচ্চারণ ও স্বীকৃতি প্রদানই প্রকৃত ঈমান অর্জনের জন্য যথেষ্ট; অথবা কেউ এর কিছু শর্ত পালনে অবহেলা করে এই ভেবে যে, এটি তার ঈমান বাস্তবায়নে কোনো প্রভাব ফেলবে না।
তাই আমি এই শর্তাবলি সম্পর্কে একটি সংক্ষিপ্ত আলোকপাত করতে চেয়েছি, যার সারসংক্ষেপ নিম্নরূপ:
উপস্থাপনা: এতে নিম্নোক্ত বিষয়গুলো অন্তর্ভুক্ত রয়েছে:
প্রথমত: "লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ"-এর অর্থ ও এর বাস্তবায়ন।
দ্বিতীয়ত: মানুষ কখন এই বাণী পাঠ করার দ্বারা উপকৃত হয়।
তৃতীয়ত: এর রুকনসমূহ।
অতঃপর এর শর্তাবলি: এতে রয়েছে:
প্রারম্ভিকা: শর্তের সংজ্ঞার বর্ণনায়।
প্রথম শর্ত: জ্ঞান।
দ্বিতীয় শর্ত: দৃঢ় বিশ্বাস।
তৃতীয় শর্ত: একনিষ্ঠতা।
চতুর্থ শর্ত: সত্যবাদিতা।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
শুরুতু লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ
(পৃষ্ঠা: ৪১২)
الشَّرْط الْخَامِس: الْمحبَّة.
الشَّرْط السَّادِس: الانقياد.
الشَّرْط السَّابِع: الْقبُول.
ثمَّ ختمت الْبَحْث بِذكر بعض النتائج. وأخيراً أسأله تَعَالَى أَن يتَقَبَّل صَوَابه ويتجاوز عَن خطئه إِنَّه سميع مُجيب، وَصلى الله على نَبينَا مُحَمَّد وَآله وَصَحبه وَسلم.
পঞ্চম শর্ত: ভালোবাসা।
ষষ্ঠ শর্ত: আনুগত্য।
সপ্তম শর্ত: গ্রহণ করা।
অতঃপর আমি কিছু ফলাফল উল্লেখ করার মাধ্যমে এই গবেষণাটি সমাপ্ত করেছি। পরিশেষে আমি মহান আল্লাহর নিকট প্রার্থনা করি যেন তিনি এর সঠিক বিষয়গুলো কবুল করেন এবং ভুলত্রুটিগুলো মার্জনা করেন। নিশ্চয়ই তিনি সর্বশ্রোতা ও কবুলকারী। আমাদের নবী মুহাম্মাদ এবং তাঁর পরিবারবর্গ ও তাঁর সকল সাহাবীর ওপর আল্লাহর রহমত ও শান্তি বর্ষিত হোক।
(খণ্ড: ১)
শুরুতু লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ
(পৃষ্ঠা: ৪১২)
تمهيديحسن قبل أَن نبين شُرُوط هَذِه الْكَلِمَة - أَن نشِير إِلَى مَعْنَاهَا، وتحقيقها وَمَتى ينْتَفع الْإِنْسَان بقولِهَا، وأركانها. ثمَّ شُرُوطهَا.
أَولا: مَعْنَاهَا وتحقيقها:
أما مَعْنَاهَا: فَإِن معنى لَا إِلَه إِلَّا الله: هُوَ: لَا معبود بِحَق إِلَّا الله وَحده لَا شريك لَهُ.
فتضمنت هَذِه الْكَلِمَة الْعَظِيمَة أَن مَا سوى الله من سَائِر المعبودات لَيْسَ بإله حق بل إِنَّه بَاطِل. وَأَن الْإِلَه الْحق إِنَّمَا هُوَ الله وَحده لَا شريك لَهُ - كَمَا قَالَ تَعَالَى: {وَمَا أَرْسَلْنَا مِنْ قَبْلِكَ مِنْ رَسُولٍ إِلا نُوحِي إِلَيْهِ أَنَّهُ لَا إِلَهَ إِلا أَنَا فَاعْبُدُونِ} 1 مَعَ قَوْله تَعَالَى: {وَلَقَدْ بَعَثْنَا فِي كُلِّ أُمَّةٍ رَسُولاً أَنِ اعْبُدُوا الله وَاجْتَنِبُوا الطَّاغُوتَ} 2.
وَنَحْوهمَا من الْآيَات وَمَا صَحَّ من الْأَحَادِيث الَّتِي فِيهَا بَيَان حَقِيقَة هَذِه الْكَلِمَة من حَيْثُ مدلولها ومقتضاها.
وَمِمَّا يشْهد لهَذَا الْمَعْنى: أَن النَّبِي صلى الله عليه وسلم لما قَالَ لكفار قُرَيْش "قُولُوا
--------------------------------------------
ভূমিকাএই কালিমার শর্তসমূহ বর্ণনা করার পূর্বে—এর অর্থ, এর তাৎপর্য, কখন একজন মানুষ এটি পাঠ করার মাধ্যমে উপকৃত হয় এবং এর রুকনসমূহ নির্দেশ করা সমীচীন হবে। অতঃপর এর শর্তসমূহ আলোচনা করা হবে।
প্রথমত: এর অর্থ ও তাৎপর্য:
অর্থের ক্ষেত্রে বলা যায়: 'লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ'-এর অর্থ হলো: আল্লাহ ছাড়া সত্য কোনো উপাস্য নেই, তিনি একক, তাঁর কোনো শরিক নেই।
এই মহান কালিমাটি এই বিষয়টি অন্তর্ভুক্ত করে যে, আল্লাহ ছাড়া অন্যান্য সকল উপাস্য সত্য ইলাহ নয়, বরং তা বাতিল। আর সত্য ইলাহ কেবল আল্লাহ এককভাবে, তাঁর কোনো শরিক নেই—যেমনটি মহান আল্লাহ বলেছেন: {আপনার পূর্বে আমি এমন কোনো রাসূল প্রেরণ করিনি যার প্রতি এই ওহী অবতীর্ণ করিনি যে, আমি ছাড়া অন্য কোনো সত্য ইলাহ নেই; সুতরাং তোমরা আমারই ইবাদত করো।} ১ সাথে মহান আল্লাহর বাণী: {আমি প্রত্যেক জাতির মধ্যেই রাসূল পাঠিয়েছি এই মর্মে যে, তোমরা আল্লাহর ইবাদত করো এবং তাগুতকে বর্জন করো।} ২।
অনুরূপ আরও আয়াত এবং সহীহ হাদীসসমূহ রয়েছে যাতে এই কালিমার প্রকৃত স্বরূপ এর অর্থ ও দাবির দিক থেকে বর্ণিত হয়েছে।
এই অর্থের সপক্ষে যা সাক্ষ্য দেয় তা হলো: নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) যখন কুরাইশ কাফেরদের বলেছিলেন, "তোমরা বলো...
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
শুরুতু লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ
(পৃষ্ঠা: ৪১৩)
لَا إِلَه إِلَّا الله " قَالُوا: {أَجَعَلَ الآلِهَةَ إِلَهاً وَاحِداً إِنَّ هَذَا لَشَيْءٌ عُجَابٌ} 1 ففهموا من هَذِه الْكَلِمَة أَنَّهَا تبطل عبَادَة الْأَصْنَام كلهَا وتحصر الْعِبَادَة لله وَحده. وَمثل ذَلِك قوم هود لما دعاهم هود عليه السلام إِلَى قَول لَا الله إِلَّا الله قَالُوا: {قَالُوا أَجِئْتَنَا لِنَعْبُدَ الله وَحْدَهُ وَنَذَرَ مَا كَانَ يَعْبُدُ آبَاؤُنَا} 2 وَهَذَا هُوَ معنى لَا إِلَه إِلَّا الله.
فَتبين بِهَذَا أَن معنى لَا إِلَه إِلَّا الله ومقتضاها: إِفْرَاد الله بِالْعبَادَة وَترك عبَادَة مَا سواهُ، وَأَن معنى الْإِلَه هُوَ المألوه: أَي المعبود فَإِذا قَالَ العَبْد لَا إِلَه إِلَّا الله: فقد أعلن وجوب إِفْرَاد الله بِالْعبَادَة وَبطلَان عبَادَة مَا سواهُ من الْأَصْنَام والقبور والأولياء وَغَيرهم.
وَبِهَذَا يبطل: مَا يَعْتَقِدهُ عباد الْقُبُور الْيَوْم وأشباههم من أَن معنى لَا إِلَه إِلَّا الله: هُوَ الْإِقْرَار بِوُجُود الله، أَو أَنه هُوَ الْخَالِق الْقَادِر على الاختراع وَأَشْبَاه ذَلِك. أَو أَن مَعْنَاهَا: لَا حاكميه إِلَّا لله، ويظنون أَن من اعْتقد ذَلِك وَفسّر بِهِ لَا إِلَه إِلَّا الله، فقد حقق التَّوْحِيد الْمُطلق، وَلَو فعل مَا فعل من عبَادَة غير الله كالاعتقاد بالأموات، والتقرب إِلَيْهِم بالذبائح وَالنُّذُور وَالطّواف بقبورهم والتبرك بتربهم.
وَمَا شعر هَؤُلَاءِ أَن كفار الْعَرَب يشاركونهم فِي هَذَا الِاعْتِقَاد ويقرون بِأَن الله هُوَ الْخَالِق الْقَادِر على الاختراع. قَالَ تَعَالَى: {وَلَئِنْ سَأَلْتَهُمْ مَنْ خَلَقَ السَّمَاوَاتِ وَالأَرْضَ لَيَقُولُنَّ خَلَقَهُنَّ الْعَزِيزُ الْعَلِيمُ} 3 وَأَنَّهُمْ مَا عبدُوا غَيره إِلَّا لزعمهم أَنهم يقربونهم إِلَى الله زلفى. كَمَا قَالَ تَعَالَى عَنْهُم: {
… مَا نَعْبُدُهُمْ إِلا لِيُقَرِّبُونَا إِلَى الله زُلْفَى
…} 4. لَا أَنهم يخلقون وَيُرْزَقُونَ.
--------------------------------------------
'আল্লাহ ছাড়া কোনো সত্য উপাস্য নেই'— তারা বলেছিল: "সে কি বহু উপাস্যের পরিবর্তে মাত্র এক উপাস্য সাব্যস্ত করেছে? এটি অবশ্যই এক বিস্ময়কর ব্যাপার।" ১ তারা এই কালিমা থেকে বুঝেছিল যে এটি সমস্ত মূর্তিপূজাকে বাতিল করে এবং ইবাদতকে একমাত্র আল্লাহর জন্য নির্দিষ্ট করে। অনুরূপ ছিল হূদ আলাইহিস সালাম-এর সম্প্রদায়; যখন তিনি তাদের 'আল্লাহ ছাড়া কোনো সত্য উপাস্য নেই'— এই কথার দিকে দাওয়াত দিয়েছিলেন, তারা বলেছিল: "তারা বলল, তুমি কি আমাদের কাছে এজন্য এসেছ যে আমরা যেন কেবল এক আল্লাহর ইবাদত করি এবং আমাদের পিতৃপুরুষরা যাদের ইবাদত করত তাদের বর্জন করি?" ২ আর এটিই হলো 'আল্লাহ ছাড়া কোনো সত্য উপাস্য নেই'-এর অর্থ।
এর দ্বারা স্পষ্ট হলো যে, 'আল্লাহ ছাড়া কোনো সত্য উপাস্য নেই'-এর অর্থ ও দাবি হলো: ইবাদতকে আল্লাহর জন্য একক করা এবং তিনি ব্যতীত অন্য কিছুর ইবাদত বর্জন করা। আর 'ইলাহ' শব্দের অর্থ হলো 'মাবুদ' বা উপাস্য। সুতরাং যখন কোনো বান্দা 'আল্লাহ ছাড়া কোনো সত্য উপাস্য নেই' বলে, তখন সে মূলত ইবাদতে আল্লাহকে একক করার আবশ্যকতা এবং আল্লাহ ব্যতীত অন্য সকল মূর্তি, কবর, অলি-আউলিয়া ও অন্যদের ইবাদতের অসারতা ঘোষণা করে।
এর মাধ্যমে বাতিল হয়ে যায় বর্তমান সময়ের কবরপূজারী ও তাদের সমমনাদের সেই বিশ্বাস যে, 'আল্লাহ ছাড়া কোনো সত্য উপাস্য নেই'-এর অর্থ হলো কেবল আল্লাহর অস্তিত্বের স্বীকৃতি প্রদান করা, অথবা তিনি এমন এক স্রষ্টা যিনি অনস্তিত্ব থেকে অস্তিত্বে আনয়নে সক্ষম, অথবা এই জাতীয় অন্য কিছু। অথবা তারা মনে করে এর অর্থ হলো: 'আল্লাহ ছাড়া কোনো শাসনকর্তৃত্ব নেই'। তারা মনে করে যে ব্যক্তি এই বিশ্বাস পোষণ করবে এবং এভাবেই 'আল্লাহ ছাড়া কোনো সত্য উপাস্য নেই'-এর ব্যাখ্যা করবে, সে-ই নিরঙ্কুশ তাওহীদ অর্জন করল; যদিও সে আল্লাহ ব্যতীত অন্যের ইবাদত হিসেবে মৃত ব্যক্তিদের ওপর অলৌকিক ক্ষমতার বিশ্বাস রাখে, পশু জবাই ও মানতের মাধ্যমে তাদের নৈকট্য লাভের চেষ্টা করে এবং তাদের কবর তাওয়াফ করে ও তাদের মাটি থেকে বরকত প্রার্থনা করে।
অথচ এরা উপলব্ধি করে না যে, আরবের কাফেররাও এই বিশ্বাসে তাদের অংশীদার ছিল এবং তারা স্বীকার করত যে আল্লাহই হলেন সেই স্রষ্টা যিনি অনস্তিত্ব থেকে সৃষ্টি করতে সক্ষম। আল্লাহ তাআলা বলেন: "আর যদি তুমি তাদের জিজ্ঞাসা কর, কে আসমানসমূহ ও জমিন সৃষ্টি করেছেন? তবে তারা অবশ্যই বলবে, এগুলি সৃষ্টি করেছেন মহাপরাক্রমশালী সর্বজ্ঞ।" ৩ তারা যে আল্লাহ ছাড়া অন্যদের ইবাদত করত, তা কেবল তাদের এই ধারণার কারণে যে, তারা তাদের আল্লাহর নিকটবর্তী করে দেবে। যেমন আল্লাহ তাআলা তাদের উদ্ধৃতি দিয়ে বলেন: "{
… we worship them only that they may bring us near to Allah in station
…}" ৪। তারা এমনটি মনে করত না যে তারা সৃষ্টি করে কিংবা রিযিক প্রদান করে।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
শুরুতু লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ
(পৃষ্ঠা: ৪১৪)
وَلَو كَانَ معنى لَا إِلَه إِلَّا الله مَا زَعمه هَؤُلَاءِ لم يكن بَين الرَّسُول صلى الله عليه وسلم وَبَين الْمُشْركين نزاع بل كَانُوا يبادرون إِلَى إجَابَته صلى الله عليه وسلم إِذْ يَقُول لَهُم - بزعم هَؤُلَاءِ - قُولُوا لَا الله إِلَّا الله - بِمَعْنى: لَا قَادر على الاختراع إِلَّا الله. لَكِن الْقَوْم - وهم أهل اللِّسَان الْعَرَبِيّ - فَهموا أَنهم إِذا قَالُوا لَا إِلَه إِلَّا الله: فقد أقرُّوا بِبُطْلَان عبَادَة الْأَصْنَام. وَلِهَذَا نفروا مِنْهَا وَقَالُوا: {أَجَعَلَ الْآلِهَةَ إِلَهاً وَاحِداً إِنَّ هَذَا لَشَيْءٌ عُجَابٌ} 1 فعرفوا أَن لَا الله إِلَّا الله تَقْتَضِي ترك عبَادَة مَا سوى الله وإفراده سبحانه وتعالى بِالْعبَادَة، وَأَنَّهُمْ لَو قالوها واستمروا على عبَادَة مَا سوى الله لتناقضوا مَعَ أنفسهم. وَعباد الْقُبُور الْيَوْم لَا يأنفون من هَذَا التَّنَاقُض، فهم يَقُولُونَ لَا إِلَه إِلَّا الله ثمَّ ينقضونها بِعبَادة الْأَمْوَات والتقرب إِلَى الأضرحة بأنواع من الْعِبَادَات 2.
وَبِهَذَا يَتَّضِح أَن مَعْنَاهَا الصَّحِيح: - هُوَ مَا ذَكرْنَاهُ فِي الْبِدَايَة - من نفي الألوهية الحقة عَمَّا سوى الله وإثباتها لله وَحده لَا شريك لَهُ.
وَأما تحقيقها: فَهُوَ أَن لَا نعْبد إِلَّا الله وَحده بِالْقَلْبِ وَاللِّسَان وَسَائِر الْجَوَارِح مَعَ نفي اسْتِحْقَاق أَي مَخْلُوق لأي نوع من أَنْوَاع الْعِبَادَة الَّتِي لَا تصح إِلَّا لله. قَالَ شيخ الْإِسْلَام ابْن تيميه "
… وَبِالْجُمْلَةِ فمعنا أصلان عظيمان: أَحدهمَا: أَن لَا نعْبد إِلَّا الله. وَالثَّانِي: أَن لَا نعبده إِلَّا بِمَا شرع، لَا نعبده بِعبَادة مبتدعة. وَهَذَا الأصلان هما: تَحْقِيق شَهَادَة أَن لَا إِلَه إِلَّا الله وَأَن مُحَمَّدًا رَسُول الله " 3.
ثَانِيًا: مَتى ينْتَفع الْإِنْسَان بقولِهَا:
ينْتَفع الْإِنْسَان بقول لَا الله إِلَّا الله - إِذا حقق أَرْكَانهَا وشروطها - كَمَا سَيَأْتِي بَيَانه. وَمَات على ذَلِك لم يرتكب ناقضاً من نواقضها.
--------------------------------------------
যদি 'লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ'-এর অর্থ তা-ই হতো যা এরা দাবি করে, তবে রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) এবং মুশরিকদের মধ্যে কোনো বিরোধ থাকত না; বরং তারা দ্রুত তাঁর আহ্বানে সাড়া দিত যখন তিনি তাদের বলতেন—এদের দাবি অনুযায়ী—তোমরা বলো 'আল্লাহ ছাড়া কোনো উপাস্য নেই'—যার অর্থ: 'আল্লাহ ছাড়া কোনো উদ্ভাবক (সৃষ্টিকর্তা) নেই'। কিন্তু সেই জাতি—যারা ছিল আরবি ভাষায় পারদর্শী—তারা বুঝতে পেরেছিল যে, তারা যখন 'লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ' বলবে, তখন তারা মূর্তিপূজার অসারতাকে স্বীকার করে নিল। এই কারণেই তারা এটি থেকে বিমুখ হয়েছিল এবং বলেছিল: {সে কি বহু উপাস্যের পরিবর্তে এক উপাস্য সাব্যস্ত করেছে? নিশ্চয়ই এটি এক বিস্ময়কর ব্যাপার} ১। সুতরাং তারা বুঝতে পেরেছিল যে, 'লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ' আল্লাহ ছাড়া অন্য সবকিছুর ইবাদত বর্জন করা এবং ইবাদতকে একমাত্র আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআলার জন্য নির্দিষ্ট করার দাবি রাখে। আর তারা যদি এটি বলত এবং আল্লাহ ছাড়া অন্যের ইবাদত চালিয়ে যেত, তবে তারা স্ববিরোধিতায় লিপ্ত হতো। কিন্তু বর্তমান যুগের কবরপূজারীরা এই স্ববিরোধিতা করতে কুণ্ঠাবোধ করে না; তারা মুখে 'লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ' বলে, আবার মৃত ব্যক্তিদের ইবাদত করে এবং বিভিন্ন প্রকার ইবাদতের মাধ্যমে মাজারগুলোর নৈকট্য লাভের চেষ্টা করে তা ভঙ্গ করে ২।
এর মাধ্যমে এটি স্পষ্ট হয় যে, এর সঠিক অর্থ হলো—যা আমরা শুরুতে উল্লেখ করেছি—আল্লাহ ছাড়া অন্য সবকিছুর সত্য উপাস্য হওয়ার অধিকারকে অস্বীকার করা এবং তা কেবল আল্লাহর জন্য সাব্যস্ত করা, যাঁর কোনো শরিক নেই।
আর এর বাস্তবায়ন (তাহকীক) হলো: আমরা যেন অন্তর, জবান এবং সকল অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ দিয়ে একমাত্র আল্লাহর ইবাদত করি, সাথে সাথে আল্লাহ ছাড়া অন্য কোনো সৃষ্টির জন্য কোনো প্রকার ইবাদতের অধিকারকে অস্বীকার করি, যা আল্লাহ ছাড়া অন্য কারো জন্য প্রযোজ্য নয়। শাইখুল ইসলাম ইবনে তাইমিয়্যাহ বলেছেন, "...সারকথা হলো, আমাদের নিকট দুটি মহান মূলনীতি রয়েছে: একটি হলো—আমরা আল্লাহ ছাড়া অন্য কারো ইবাদত করব না। দ্বিতীয়টি হলো—তিনি যা বিধান দিয়েছেন তা ছাড়া অন্য কোনোভাবে তাঁর ইবাদত করব না, কোনো বিদআতি পদ্ধতিতে তাঁর ইবাদত করব না। আর এই দুটি মূলনীতিই হলো 'লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ' এবং 'মুহাম্মাদুর রাসূলুল্লাহ' সাক্ষ্য প্রদানের প্রকৃত বাস্তবায়ন।" ৩।
দ্বিতীয়ত: মানুষ কখন এটি বলার দ্বারা উপকৃত হবে:
মানুষ 'লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ' বলার দ্বারা তখনই উপকৃত হবে—যখন সে এর রুকন ও শর্তসমূহ পূর্ণ করবে—যেমনটি সামনে বিস্তারিত আসছে। এবং এর ওপর অটল থেকে মৃত্যুবরণ করবে এবং এর কোনো ভঙ্গকারী বিষয়ে লিপ্ত হবে না।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
শুরুতু লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ
(পৃষ্ঠা: ৪১৫)
وَبِذَلِك يَزُول الْوَهم الَّذِي تعلق بِهِ بعض النَّاس - وَهُوَ أَن مُجَرّد التَّلَفُّظ بِهَذِهِ الْكَلِمَة يَكْفِي - أخذا بِظَاهِر بعض النُّصُوص كَقَوْلِه صلى الله عليه وسلم فِيمَا رَوَاهُ البُخَارِيّ من حَدِيث عتْبَان "إِن الله حرم على النَّار من قَالَ لَا إِلَه إِلَّا الله يَبْتَغِي بذلك وَجه الله " 1 وَحَدِيث أنس قَالَ "إِن النَّبِي صلى الله عليه وسلم ومعاذ رديفه على الرحل - قَالَ: يَا معَاذ بن جبل: قَالَ: لبيْك يَا رَسُول الله وَسَعْديك - (ثَلَاثًا) - قَالَ: "مَا من أحد يشْهد أَن لَا إِلَه إِلَّا الله وَأَن مُحَمَّدًا رَسُول الله صِدقاً من قلبه إِلَّا حرمه الله على النَّار
… " الحَدِيث 2. وَحَدِيث أبي هُرَيْرَة أَنهم كَانُوا مَعَ النَّبِي فِي غَزْوَة تَبُوك
… الحَدِيث، وَفِيه: فَقَالَ رَسُول الله صلى الله عليه وسلم "أشهد أَن لَا إِلَه إِلَّا الله وَأَنِّي رَسُول الله لَا يلقى الله بهما عبد غير شَاك فيحجب عَنهُ الْجنَّة" 3، وأمثالها.
إِذْ المُرَاد بِهَذِهِ النُّصُوص وأمثالها من قَالَ لَا إِلَه إِلَّا الله - محققاً أَرْكَانهَا وشروطها وَمَات على ذَلِك.
إِذْ الرُّكْن أساس، وَالشّرط: لَا يَصح الْمَشْرُوط لَهُ إِلَّا بِهِ، والأعمال بالخواتيم فَلَو قَالَهَا - محققاً أَرْكَانهَا وشروطها لَكِن ارْتكب بعد ذَلِك ناقضاً من نواقضها وَمَات لم تَنْفَعهُ. فلابد أَن يَمُوت عَلَيْهَا لم يرتكب ناقضاً من نواقضها - بِدَلِيل حَدِيث أبي ذَر رضي الله عنه قَالَ: قَالَ رَسُول الله صلى الله عليه وسلم "مَا من عبد قَالَ لَا إِلَه إِلَّا الله ثمَّ مَاتَ على ذَلِك إِلَّا دخل الْجنَّة
… " الحَدِيث4 5
--------------------------------------------
এর মাধ্যমে সেই বিভ্রান্তি দূর হয় যা কিছু মানুষের মনে বাসা বেঁধেছে - আর তা হলো কেবল এই কালিমা উচ্চারণ করাই যথেষ্ট - কিছু দলিলের বাহ্যিক অর্থের ওপর ভিত্তি করে। যেমন নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) ইতবান কর্তৃক বর্ণিত হাদিসে বলেছেন যা বুখারি বর্ণনা করেছেন: "নিশ্চয়ই আল্লাহ জাহান্নামের জন্য তাকে হারাম করেছেন যে আল্লাহর চেহারা (সন্তুষ্টি) কামনা করে ‘লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ’ বলবে।" ১ এবং আনাস (রা.) এর হাদিস, তিনি বলেন, "নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) এবং মুআয সাওয়ারিতে তাঁর পেছনে ছিলেন - তিনি বললেন: হে মুআয বিন জাবাল! তিনি বললেন: আমি আপনার খেদমতে হাজির হে আল্লাহর রাসূল (তিনবার)। তিনি বললেন: এমন কোনো ব্যক্তি নেই যে সত্য হৃদয়ে সাক্ষ্য দেয় যে ‘আল্লাহ ছাড়া কোনো ইলাহ নেই এবং মুহাম্মদ আল্লাহর রাসূল’, তবে আল্লাহ তাকে জাহান্নামের জন্য হারাম করে দেবেন..." হাদিস ২। এবং আবু হুরায়রা (রা.) বর্ণিত হাদিস যে তারা তাবুক যুদ্ধে নবীর সাথে ছিলেন... হাদিস, সেখানে আছে: রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বললেন, "আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে আল্লাহ ছাড়া কোনো ইলাহ নেই এবং আমি আল্লাহর রাসূল। কোনো বান্দা যদি এই দুই সাক্ষ্য নিয়ে কোনো সন্দেহ ছাড়া আল্লাহর সাথে সাক্ষাৎ করে, তবে তাকে জান্নাত থেকে বঞ্চিত করা হবে না।" ৩, এবং এ জাতীয় অন্যান্য।
কেননা এই সব দলিল এবং সমজাতীয় বর্ণনার উদ্দেশ্য হলো ঐ ব্যক্তি, যে এর রুকন ও শর্তসমূহ পূর্ণ করে ‘লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ’ বলেছে এবং এর ওপর মৃত্যুবরণ করেছে।
যেহেতু রুকন হলো ভিত্তি, আর শর্ত হলো: শর্ত ছাড়া শর্তযুক্ত বিষয়টি সঠিক হয় না। আর আমল শেষ অবস্থার ওপর নির্ভরশীল। সুতরাং যদি কেউ এর রুকন ও শর্তসমূহ পূর্ণ করে এটি বলে, কিন্তু এরপর এর কোনো ভঙ্গকারী কাজে লিপ্ত হয় এবং সে অবস্থায় মারা যায়, তবে এটি তার কোনো উপকারে আসবে না। অতএব এর কোনো ভঙ্গকারী কাজে লিপ্ত না হয়ে এর ওপর মৃত্যুবরণ করা আবশ্যক - যার দলিল হলো আবু যার (রা.) এর হাদিস, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন, "এমন কোনো বান্দা নেই যে ‘লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ’ বলেছে তারপর সেটির ওপর মৃত্যুবরণ করেছে, তবে সে অবশ্যই জান্নাতে প্রবেশ করবে..." হাদিস ৪ ৫
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
শুরুতু লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ
(পৃষ্ঠা: ৪১৬)
ثَالِثا: أَرْكَان لَا إِلَه إِلَّا الله.
تَعْرِيف الرُّكْن لُغَة وَاصْطِلَاحا.
الرُّكْن لُغَة: من كل شَيْء: جَانِبه الْأَقْوَى الَّذِي يسْتَند إِلَيْهِ، وَالْأَمر الْعَظِيم. وللرجل: مَا فِيهِ عزّة ومنعَة من عشيرة أَو سُلْطَان وكل مَا يتقوى بِهِ. وَفِي الْقَوْم: الشريف بَينهم. جمعه أَرْكَان وأركن. وأركان الْإِنْسَان جوارحه والأركان من كل شَيْء: جوانبه الَّتِي يسْتَند إِلَيْهَا. وَالْعِبَادَة: كَالصَّلَاةِ - مَا تبطل بالإخلال بِهِ عمدا أَو سَهوا 1
الرُّكْن فِي الِاصْطِلَاح: مَا يقوم بِهِ ذَلِك الشَّيْء من التقوّم، إِذْ قوام الشَّيْء بركنه لَا من الْقيام وَإِلَّا يلْزم أَن يكون الْفَاعِل ركنا للْفِعْل، والجسم ركنا للعرض، والموصوف للصفة 2 وَقيل: ركن الشَّيْء: مَا يتم بِهِ وَهُوَ دَاخل فِيهِ بِخِلَاف شَرطه وَهُوَ خَارج عَنهُ 3. وَقيل ركن الشَّيْء: مَا توقف الشَّيْء على وجوده وَكَانَ جُزْءا من حَقِيقَته كَقِرَاءَة الْقُرْآن فِي الصَّلَاة فَإِنَّهَا ركن لَهَا لتوقف وجودهَا فِي نظر الشَّارِع على تحققها. وَهِي جُزْء من حَقِيقَة الصَّلَاة. وَهَكَذَا كل مَا كَانَ ركنا لشَيْء فَإِن ذَلِك الشَّيْء لَا يكون لَهُ وجود فِي نظر الشَّارِع إِلَّا إِذا تحقق ذَلِك الرُّكْن4.
والتعارف - كَمَا نرى - مُتَقَارِبَة إِلَّا أَن الْأَخير أدقها وأكملها لذا نختاره.
وَعَلِيهِ، فأركان الشَّيْء: أجزاؤه الَّتِي لَا يتَحَقَّق بِدُونِهَا.
وَإِذا: فأركان لَا إِلَه إِلَّا الله: هِيَ أجزاؤها الَّتِي لَا تتَحَقَّق بِدُونِهَا وَهِي اثْنَان: نفي، وَإِثْبَات.
النَّفْي: وحدّه: لَا إِلَه. وَالْمرَاد بِهِ: نفي الإلهية الحقة عَمَّا سوى الله من
--------------------------------------------
তৃতীয়ত: ‘লা-ইলাহা ইল্লাল্লাহ’-এর রুকনসমূহ।
আভিধানিক ও পারিভাষিক অর্থে রুকন-এর পরিচয়।
আভিধানিক অর্থে রুকন: যে কোনো বস্তুর রুকন হলো তার শক্তিশালী পার্শ্ব যার ওপর ভিত্তি স্থাপিত হয়, এবং মহান বিষয়। মানুষের ক্ষেত্রে: যার মধ্যে বংশ বা প্রভাব-প্রতিপত্তি থেকে আসা সম্মান ও প্রতিরক্ষা রয়েছে এবং যা কিছু দ্বারা সে শক্তিশালী হয়। আর কোনো সম্প্রদায়ের মাঝে রুকন হলো তাদের মধ্যবর্তী সম্মানিত ব্যক্তি। এর বহুবচন হলো আরকান ও আরকুন। মানুষের রুকনসমূহ হলো তার অঙ্গপ্রত্যঙ্গ। আর যে কোনো বস্তুর রুকনসমূহ হলো তার পার্শ্বসমূহ যার ওপর তা নির্ভর করে। ইবাদত: যেমন সালাত— রুকন হলো তা, যা ইচ্ছাকৃত বা ভুলবশত পালন না করলে ইবাদত বাতিল হয়ে যায়। ১
পারিভাষিক অর্থে রুকন: রুকন হলো যা দ্বারা কোনো বস্তু তার অস্তিত্ব লাভ করে, কেননা বস্তুর স্থায়িত্ব তার রুকনের ওপর নির্ভরশীল। এটি 'কিয়াম' (দাঁড়ানো) থেকে উৎপন্ন নয়, অন্যথায় কর্তা কর্মের রুকন, দেহ গুণের (আরয) রুকন এবং বিশেষ্য বিশেষণের রুকন হতে বাধ্য হতো। ২ আবার বলা হয়েছে: কোনো বস্তুর রুকন হলো তা, যার মাধ্যমে বস্তুটি পূর্ণ হয় এবং তা ওই বস্তুর সত্তার অন্তর্ভুক্ত হয়, যা শর্তের বিপরীত, কারণ শর্ত সত্তার বাইরে থাকে। ৩ আরও বলা হয়েছে: কোনো বস্তুর রুকন হলো তা, যার ওপর বস্তুর অস্তিত্ব নির্ভর করে এবং তা ওই বস্তুর হাকিকত বা মূল সত্তার অংশ হয়। যেমন সালাতে কুরআন তিলাওয়াত করা; কারণ এটি সালাতের জন্য রুকন, যেহেতু শরিয়ত প্রবর্তকের দৃষ্টিতে সালাতের অস্তিত্ব এর বাস্তবায়নের ওপর নির্ভরশীল এবং এটি সালাতের মূল সত্তার অংশ। একইভাবে যা কিছু কোনো বিষয়ের রুকন হবে, শরিয়ত প্রবর্তকের দৃষ্টিতে সেই বিষয়টির কোনো অস্তিত্ব থাকবে না যতক্ষণ না ওই রুকনটি বাস্তবায়িত হয়। ৪
আর সংজ্ঞাগুলো—যেমন আমরা দেখছি—পরস্পর নিকটবর্তী, তবে শেষোক্ত সংজ্ঞাটি সবচেয়ে সূক্ষ্ম ও পূর্ণাঙ্গ, তাই আমরা এটিকেই গ্রহণ করছি।
সুতরাং, কোনো বস্তুর রুকনসমূহ হলো তার এমন অংশসমূহ যা ছাড়া ওই বস্তুটি বাস্তবায়িত হয় না।
সেই অনুযায়ী: ‘লা-ইলাহা ইল্লাল্লাহ’-এর রুকনসমূহ হলো এর সেই অংশসমূহ যা ছাড়া এটি বাস্তবায়িত হয় না। আর রুকন দুটি: নফি (অস্বীকৃতি) ও ইসবাত (স্বীকৃতি)।
নফি (অস্বীকৃতি): এর সীমা হলো— ‘লা-ইলাহা’ (কোনো উপাস্য নেই)। এর দ্বারা উদ্দেশ্য হলো— আল্লাহ ছাড়া অন্য যা কিছু আছে তা থেকে সত্য ইলাহ হওয়ার বিষয়টি অস্বীকার করা...
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
শুরুতু লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ
(পৃষ্ঠা: ৪১৭)
سَائِر الْمَخْلُوقَات. وَالْإِثْبَات: وحدّ5: إِلَّا الله. وَالْمرَاد بِهِ: إِثْبَات الإلهية الحقة لله وَحده لَا شريك لَهُ فِي عِبَادَته كَمَا أَنه لَا شريك لَهُ فِي ملكه فَهُوَ سبحانه وتعالى الْإِلَه الْحق وَمَا سواهُ من الْآلهَة الَّتِي اتخذها الْمُشْركُونَ كلهَا بَاطِلَة. قَالَ تَعَالَى: {ذَلِكَ بِأَنَّ اللَّهَ هُوَ الْحَقُّ وَأَنَّ مَا يَدْعُونَ مِنْ دُونِهِ هُوَ الْبَاطِلُ
… } الْآيَة1 2.
--------------------------------------------
অন্যান্য সকল সৃষ্টিজগত। এবং ইসবাত (সাব্যস্তকরণ): এবং তা হলো 'আল্লাহ ছাড়া কেউ নেই'। আর এর দ্বারা উদ্দেশ্য হলো: একমাত্র আল্লাহর জন্য সত্য ইলাহ হওয়া সাব্যস্ত করা, তাঁর ইবাদতে কোনো শরিক নেই; যেমন তাঁর রাজত্বেও কোনো শরিক নেই। সুতরাং তিনি পবিত্র ও মহান, তিনিই সত্য ইলাহ এবং মুশরিকরা তাঁকে ছাড়া অন্য যেসব ইলাহ গ্রহণ করেছে সে সবই বাতিল। মহান আল্লাহ বলেন: {তা এ কারণে যে, আল্লাহই সত্য এবং তারা তাঁর পরিবর্তে যাকে ডাকে তা বাতিল...} আয়াত ১ ২।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
শুরুতু লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ
(পৃষ্ঠা: ৪১৭)
مدْخل…شُرُوط لَا الله إِلَّا الله:
تَقْدِيم:
فِي تَعْرِيف الشَّرْط، الشَّرْط لُغَة: - بِسُكُون الرَّاء - هُوَ إِلْزَام الشَّيْء والتزامه فِي البيع وَنَحْوه. جمعه شُرُوط. تَقول: شَرط لَهُ أمرا: الْتَزمهُ وَعَلِيهِ أمرا: ألزمهُ إِيَّاه1.
وَفِي الِاصْطِلَاح: مَا يتَوَقَّف ثُبُوت الحكم عَلَيْهِ 2.
وَقيل: مَا لَا يُوجد الْمَشْرُوط مَعَ عَدمه وَلَا يلْزم أَن يُوجد عِنْد وجوده3.
وَقيل: مَا يتَوَقَّف عَلَيْهِ صِحَة شُرُوطه 4
وَقيل: مَا توقف الشَّيْء على وجوده وَلم يكن جُزْءا من حَقِيقَته. كَالْوضُوءِ فِي الصَّلَاة. فَإِنَّهُ شَرط لصِحَّة الصَّلَاة. فَإِذا لم يُوجد لم تصح الصَّلَاة، وَلَيْسَ الْوضُوء جُزْءا من حَقِيقَة الصَّلَاة. وَهَكَذَا كل مَا جعله الشَّارِع شرطا لشَيْء. فَإِن هَذَا الشَّيْء لَا يتَحَقَّق وَلَا يعْتد بِهِ - فِي نظر الشَّارِع إِلَّا إِذا تحقق ذَلِك الشَّرْط - وَإِن لم يكن جُزْءا من حَقِيقَته 5وَهَذَا التَّعْرِيف: هُوَ الأولى، لِأَنَّهُ يتَضَمَّن مَا
--------------------------------------------
ভূমিকা…লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ-এর শর্তাবলি:
উপস্থাপনা:
শর্তের সংজ্ঞায়: আভিধানিক অর্থে 'শর্ত'—'রা' বর্ণে সুকুনসহ—হলো ক্রয়-বিক্রয় বা অনুরূপ ক্ষেত্রে কোনো বিষয় আবশ্যক করা বা তা মেনে নেওয়া। এর বহুবচন হলো 'শুরুত' (শর্তাবলি)। বলা হয়: সে তার জন্য কোনো বিষয় শর্ত করেছে, অর্থাৎ সে তা পালনে অঙ্গীকারবদ্ধ হয়েছে; এবং তার ওপর কোনো বিষয় শর্ত করেছে, অর্থাৎ সে তা তার ওপর আবশ্যক করেছে।১
এবং পারিভাষিক অর্থে: যার ওপর কোনো বিধানের সাব্যস্ত হওয়া নির্ভর করে।২
আবার বলা হয়েছে: যার অনুপস্থিতিতে শর্তযুক্ত বিষয়টি অনুপস্থিত থাকে, কিন্তু যার উপস্থিতিতে শর্তযুক্ত বিষয়টি উপস্থিত হওয়া আবশ্যক নয়।৩
আরও বলা হয়েছে: যার ওপর এর শর্তাবলির বিশুদ্ধতা নির্ভর করে।৪
আরও বলা হয়েছে: যার অস্তিত্বের ওপর কোনো বিষয় নির্ভর করে অথচ তা ওই বিষয়ের মূল সত্তার অংশ নয়। যেমন নামাজের জন্য ওযু। কেননা ওযু নামাজের বিশুদ্ধতার জন্য একটি শর্ত। সুতরাং যদি ওযু না থাকে তবে নামাজ বিশুদ্ধ হবে না, অথচ ওযু নামাজের মূল সত্তার অংশ নয়। বিধানদাতা (শারী‘) কোনো বিষয়ের জন্য যা কিছু শর্ত করেছেন, তার প্রতিটিই এমন। অর্থাৎ বিধানদাতার দৃষ্টিতে সেই বিষয়টি বাস্তবায়িত হবে না এবং গ্রহণযোগ্য হবে না—যতক্ষণ না সেই শর্তটি বাস্তবায়িত হয়—যদিও তা ওই বিষয়ের মূল সত্তার অংশ নয়।৫ আর এই সংজ্ঞাটিই হলো অধিকতর উত্তম, কারণ এটি এমন বিষয়কে অন্তর্ভুক্ত করে যা...
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
শুরুতু লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ
(পৃষ্ঠা: ৪১৮)
أشارت إِلَيْهِ التعاريف السَّابِقَة وَعَلِيهِ: فشروط الشَّيْء هِيَ الَّتِي لَا يَصح إِلَّا بتوافرها.
وَإِذا فشروط لَا الله إِلَّا الله. هِيَ: الَّتِي لَا تصح لَا الله إِلَّا الله إلاّ بتوافرها. وَهِي سَبْعَة نظمها أحد الْعلمَاء فِي قَوْله.
علم يَقِين وإخلاص وصدقك مَعَ
… محبَّة وانقياد وَالْقَبُول لَهَا 1
كَمَا جمعهَا الشَّيْخ حَافظ فِي قَوْله:
وبشروط سَبْعَة قد قيدت
… وَفِي نُصُوص الْوَحْي حَقًا وَردت
فَإِنَّهُ لم ينْتَفع قَائِلهَا
… بالنطق إِلَّا حَيْثُ يستكملها
وَالْعلم وَالْيَقِين وَالْقَبُول
… والانقياد فادر مَا أَقُول
والصدق وَالْإِخْلَاص والمحبة
… وفقك الله لما أحبه 2
والآن نشرع فِي بَيَان كل شَرط مِنْهَا بِشَيْء من الْإِيضَاح.
--------------------------------------------
পূর্ববর্তী সংজ্ঞাগুলো এর প্রতি ইঙ্গিত করেছে এবং সেই অনুযায়ী: কোনো বিষয়ের শর্তাবলী হলো সেগুলো, যা বিদ্যমান থাকা ছাড়া বিষয়টি সঠিক হয় না।
সুতরাং 'লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ'-এর শর্তসমূহ হলো: সেগুলো যার উপস্থিতি ব্যতীত 'লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ' সঠিক হয় না। আর এগুলো সাতটি, যা জনৈক আলেম তাঁর কাব্যে এভাবে সংকলিত করেছেন:
জ্ঞান, নিশ্চয়তা, একনিষ্ঠতা ও তোমার সততা, সেই সাথে
… ভালোবাসা, আনুগত্য এবং এর গ্রহণযোগ্যতা ১
যেমনটি শেখ হাফেজ তাঁর কাব্যে এগুলোকে একত্রিত করেছেন:
সাতটি শর্তের দ্বারা একে আবদ্ধ করা হয়েছে
… এবং ওহীর ভাষ্যে এগুলো নিশ্চিতভাবে এসেছে
কেননা এর পাঠকারী কেবল উচ্চারণ দ্বারা উপকৃত হবে না
… যতক্ষণ না সে এগুলো পূর্ণাঙ্গভাবে সম্পাদন করবে
জ্ঞান, নিশ্চয়তা এবং গ্রহণ করা
… আর আনুগত্য, অতএব আমি যা বলছি তা বুঝে নাও
সততা, একনিষ্ঠতা এবং ভালোবাসা
… আল্লাহ তোমাকে তাঁর পছন্দনীয় বিষয়ের তাওফিক দান করুন ২
এখন আমরা এর প্রতিটি শর্ত কিছুটা বিশদভাবে বর্ণনা করতে শুরু করছি।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
শুরুতু লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ
(পৃষ্ঠা: ৪১৮)
الشَّرْط الأول: الْعلم.
الْعلم لُغَة: نقيض الْجَهْل. تَقول علمه علما - أَي - عرفه حق الْمعرفَة وَفِي التَّنْزِيل: {
… مِنْ دُونِهِمْ لَا تَعْلَمُونَهُمُ اللَّهُ يَعْلَمُهُمْ
… } الْآيَة3.
وَعلم الرجل: خَبره، وَأحب أَن يُعلمهُ: أَن يُخبرهُ. وَعلم بالشَّيْء: شعر بِهِ ودرى. يُقَال: مَا علمت بِخَبَر قدومك، أَي: مَا شَعرت. وَفِي التَّنْزِيل: {قِيلَ ادْخُلِ الْجَنَّةَ قَالَ يَا لَيْتَ قَوْمِي يَعْلَمُونَ ، بِمَا غَفَرَ لِي رَبِّي
… } 4 الْآيَة.
وَعلم الْأَمر وتعلمه: أتقنه.
--------------------------------------------
প্রথম শর্ত: জ্ঞান (ইলম).
আভিধানিক অর্থে জ্ঞান হলো অজ্ঞতার বিপরীত। বলা হয়: সে তা জেনেছে—অর্থাৎ সে তা যথাযথভাবে চিনেছে বা উপলব্ধি করেছে। পবিত্র কুরআনে এসেছে: { ...তাদের ছাড়া অন্যদেরও (তোমরা জান না), আল্লাহ তাদের জানেন... } ৩ নং আয়াত।
ব্যক্তিকে জানার অর্থ হলো তার খবর জানা; আর ‘সে তাকে জানাতে চাইল’ এর অর্থ হলো ‘সে তাকে সংবাদ দিতে চাইল’। কোনো বিষয় জানা অর্থ হলো তা উপলব্ধি করা এবং অবগত হওয়া। বলা হয়: ‘আমি আপনার আগমনের সংবাদ জানতাম না’, অর্থাৎ আমি তা টের পাইনি। পবিত্র কুরআনে এসেছে: { বলা হলো: ‘জান্নাতে প্রবেশ করো’। সে বলল: ‘হায়! আমার সম্প্রদায় যদি জানতে পারত—আমার প্রতিপালক কেন আমাকে ক্ষমা করেছেন...’ } ৪ নং আয়াত।
কোনো বিষয় জানা এবং তা শিক্ষা করার অর্থ হলো তা নিখুঁতভাবে আয়ত্ত করা।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
শুরুতু লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ
(পৃষ্ঠা: ৪১৯)
وَعلمت الْعلم نَافِعًا: أيقنت وصدقت. وفى التَّنْزِيل: {
… فَإِنْ عَلِمْتُمُوهُنَّ مُؤْمِنَاتٍ
… } الْآيَة1 2
وَفِي الِاصْطِلَاح: عرف بتعاريف كَثِيرَة، اخْتَرْت مِنْهَا هَذَا التَّعْرِيف.
وَهُوَ: معرفَة الْمَعْلُوم على مَا هُوَ بِهِ.3 وَهُوَ مَا اخْتَارَهُ أَبُو يعلى فِي كِتَابه الْعدة4 - بعد أَن عرض بعض التعاريف وناقشها مُبينًا عدم صِحَّتهَا وَأَن هَذَا التَّعْرِيف هُوَ الصَّحِيح. وَذَلِكَ أَن هَذَا الْحَد - كَمَا قَالَ القَاضِي أَبُو بكر: "يحصره على مَعْنَاهُ وَلَا يدْخل فِيهِ مَا لَيْسَ مِنْهُ، وَلَا يخرج مِنْهُ شَيْئا هُوَ مِنْهُ. وَالْحَد إِذا أحَاط بالمحدود على هَذَا السَّبِيل وَجب أَن يكون حدا ثَابتا صَحِيحا
… وَقد ثَبت أَن كل علم تعلق بِمَعْلُوم فَإِنَّهُ معرفَة لَهُ وكل معرفَة لمعلوم فَإِنَّهَا علم بِهِ، فَوَجَبَ تَوْثِيق الْحَد الَّذِي حددنا بِهِ الْعلم"5. وَعَلِيهِ فالعلم بِلَا إِلَه إِلَّا الله: مَعْرفَتهَا بحقيقتها. وَهُوَ: أَن تعلم بمعناها نفيا وإثباتاً علما منافياً للْجَهْل.
وَمَعْنَاهَا: الْبَرَاءَة من كل مَا يعبد من دون الله، وإخلاص الْعِبَادَة لله وَحده بِاللِّسَانِ وَالْقلب وَسَائِر الْجَوَارِح.6
وَقد دلّ الْكتاب وَالسّنة على ذَلِك. فَمن الْكتاب:
قَوْله تَعَالَى: {فَاعْلَمْ أَنَّهُ لَا إِلَهَ إِلا اللَّهُ
… } الْآيَة.7
وَهَذِه الْآيَة - كَمَا نرى - صَرِيحَة فِي اشْتِرَاط الْعلم بِلَا إِلَه إِلَّا الله.
قَالَ الْوَزير أَبُو المظفر فِي الإفصاح: "قَوْله "شَهَادَة أَن لَا إِلَه إِلَّا الله "
--------------------------------------------
এবং আমি জ্ঞানকে উপকারী হিসেবে জেনেছি: অর্থাৎ আমি নিশ্চিত হয়েছি এবং বিশ্বাস করেছি। আর পবিত্র কুরআনে এসেছে: {
… যদি তোমরা তাদের মুমিন হিসেবে জানো
… } আয়াতের অংশ। ১ ২
পারিভাষিক অর্থে: একে অনেক সংজ্ঞার মাধ্যমে সংজ্ঞায়িত করা হয়েছে, আমি তার মধ্য থেকে এই সংজ্ঞাটি নির্বাচন করেছি।
আর তা হলো: জ্ঞাত বিষয়কে তার প্রকৃত স্বরূপ অনুযায়ী জানা। ৩ আর এটিই আবু ইয়ালা তার 'আল-উদ্দাহ' গ্রন্থে ৪ পছন্দ করেছেন - কিছু সংজ্ঞা উপস্থাপন ও সেগুলো নিয়ে আলোচনা করে এগুলোর সঠিক না হওয়ার বিষয়টি স্পষ্ট করার পর এবং এই সংজ্ঞাটিই যে সঠিক তা উল্লেখ করার পর। এর কারণ হলো এই সংজ্ঞাটি - যেমনটি কাজী আবু বকর বলেছেন: "এটি এর অর্থকে সীমাবদ্ধ করে এবং এতে এমন কিছু প্রবেশ করতে দেয় না যা এর অন্তর্ভুক্ত নয়, আবার এর অন্তর্ভুক্ত কোনো কিছুকেও তা থেকে বের করে দেয় না। আর সংজ্ঞা যখন এভাবে সংজ্ঞায়িত বস্তুকে বেষ্টন করে ফেলে, তখন তা একটি সুপ্রতিষ্ঠিত ও সঠিক সংজ্ঞা হওয়া অপরিহার্য হয়ে পড়ে
… এবং এটি প্রমাণিত যে, প্রতিটি জ্ঞান যা কোনো জ্ঞাত বিষয়ের সাথে সংশ্লিষ্ট তা তার পরিচয়, আর কোনো জ্ঞাত বিষয় সম্পর্কে প্রতিটি পরিচয়ই তার জ্ঞান। সুতরাং আমরা জ্ঞানের যে সংজ্ঞা প্রদান করেছি তার প্রামাণিকতা সুদৃঢ় করা আবশ্যক হয়ে পড়েছে" ৫। সেই অনুযায়ী 'লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ' এর জ্ঞান হলো: এর প্রকৃত রূপ সম্পর্কে জানা। আর তা হলো: এর অর্থ তথা অস্বীকৃতি ও স্বীকৃতি সম্পর্কে এমনভাবে জানা যা মূর্খতাকে বিদূরিত করে।
আর এর অর্থ হলো: আল্লাহ ছাড়া অন্য যা কিছুর ইবাদত করা হয় তা থেকে সম্পর্ক ছিন্ন করা এবং জিহ্বা, অন্তর ও অন্যান্য অঙ্গপ্রত্যঙ্গের মাধ্যমে একমাত্র আল্লাহর জন্য ইবাদতকে একনিষ্ঠ করা। ৬
কুরআন ও সুন্নাহ এর প্রমাণ বহন করে। কুরআন থেকে প্রমাণ হলো:
আল্লাহ তাআলার বাণী: {অতএব জেনে রাখুন যে, আল্লাহ ছাড়া আর কোনো সত্য ইলাহ নেই
… } আয়াতের অংশ। ৭
আর এই আয়াতটি - যেমনটি আমরা দেখছি - 'লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ' এর জ্ঞানের শর্ত হওয়ার ব্যাপারে সুস্পষ্ট।
উজির আবু মুজাফফর 'আল-ইফসাহ' গ্রন্থে বলেছেন: "তার বাণী 'সাক্ষ্য প্রদান করা যে আল্লাহ ছাড়া কোনো সত্য ইলাহ নেই' "
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
শুরুতু লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ
(পৃষ্ঠা: ৪২০)
يَقْتَضِي أَن يكون الشَّاهِد عَالما بِأَنَّهُ لَا إِلَه إِلَّا الله. كَمَا قَالَ تَعَالَى: {فَاعْلَمْ أَنَّهُ لَا إِلَهَ إِلا اللَّهُ} .1
وَقَوله تَعَالَى: {وَلا يَمْلِكُ الَّذِينَ يَدْعُونَ مِنْ دُونِهِ الشَّفَاعَةَ إِلا مَنْ شَهِدَ بِالْحَقِّ وَهُمْ يَعْلَمُونَ} 2.
وَالشَّاهِد - قَوْله: {إِلا مَنْ شَهِدَ بِالْحَقِّ وَهُمْ يَعْلَمُونَ} .
إِذا المُرَاد بِشَهَادَة الْحق: قَول لَا إِلَه إِلَّا الله 3 فَيكون الْمَعْنى: إِلَّا من شهد أَن لَا إِلَه إِلَّا الله وهم يعلمُونَ معنى مَا نطقوا بِهِ.
وَقَوله تَعَالَى: {هَذَا بَلاغٌ لِلنَّاسِ وَلِيُنْذَرُوا بِهِ وَلِيَعْلَمُوا أَنَّمَا هُوَ إِلَهٌ وَاحِدٌ
…} الْآيَة4.
وَمن السّنة: قَوْله صلى الله عليه وسلم "من مَاتَ وَهُوَ يعلم أَن لَا إِلَه إِلَّا الله دخل الْجنَّة".5
وَقَوله صلى الله عليه وسلم فِيمَا رَوَاهُ عبَادَة بن الصَّامِت. قَالَ: قَالَ رَسُول الله صلى الله عليه وسلم "من شهد أَن لَا إِلَه إِلَّا الله وَحده لَا شريك لَهُ وَأَن مُحَمَّدًا عَبده وَرَسُوله وَأَن عِيسَى عبد الله وَرَسُوله وكلمته أَلْقَاهَا إِلَى مَرْيَم وروح مِنْهُ، وَالْجنَّة حق، وَالنَّار حق، أدخلهُ الله الْجنَّة على مَا كَانَ من الْعَمَل ".6
وَالشَّاهِد: قَوْله "من شهد" كَيفَ يشْهد وَهُوَ لَا يعلم، إِذْ مُجَرّد النُّطْق بالشَّيْء لَا يُسمى شَهَادَة بِهِ.7
--------------------------------------------
এটি দাবি করে যে, সাক্ষ্যদানকারীকে অবশ্যই জানতে হবে যে আল্লাহ ছাড়া কোনো সত্য উপাস্য নেই। যেমন মহান আল্লাহ বলেছেন: "অতএব জেনে রাখুন যে, আল্লাহ ছাড়া কোনো সত্য উপাস্য নেই।" ১।
এবং মহান আল্লাহর বাণী: "আল্লাহকে বাদ দিয়ে তারা যাদেরকে ডাকে তারা সুপারিশ করার কোনো ক্ষমতা রাখে না; তবে যারা সত্যের সাক্ষ্য দেয় এবং তারা (সে বিষয়ে) জ্ঞান রাখে।" ২।
এবং প্রামাণ্য অংশ হলো—তাঁর বাণী: "তবে যারা সত্যের সাক্ষ্য দেয় এবং তারা জ্ঞান রাখে।"
যেহেতু সত্যের সাক্ষ্য দ্বারা উদ্দেশ্য হলো: 'আল্লাহ ছাড়া কোনো সত্য উপাস্য নেই'—এ কথা বলা ৩, তাই এর অর্থ হবে: তবে তারা ছাড়া যারা সাক্ষ্য দিয়েছে যে আল্লাহ ব্যতীত কোনো সত্য উপাস্য নেই এবং তারা যা উচ্চারণ করেছে তার অর্থ সম্পর্কে অবগত আছে।
এবং মহান আল্লাহর বাণী: "এটি মানুষের জন্য এক বার্তা, যাতে এর দ্বারা তাদেরকে সতর্ক করা হয় এবং তারা যেন জানতে পারে যে তিনিই একমাত্র ইলাহ..." ৪—আয়াতটি।
সুন্নাহ থেকে দলীল: রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর বাণী: "যে ব্যক্তি এই জ্ঞান নিয়ে মারা গেল যে আল্লাহ ছাড়া কোনো সত্য উপাস্য নেই, সে জান্নাতে প্রবেশ করবে।" ৫।
এবং রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর বাণী যা উবাদাহ ইবনুস সামিত বর্ণনা করেছেন। তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন: "যে ব্যক্তি সাক্ষ্য দেবে যে, আল্লাহ ছাড়া কোনো সত্য উপাস্য নেই, তিনি একক, তাঁর কোনো অংশীদার নেই; এবং মুহাম্মদ তাঁর বান্দা ও রাসূল; আর ঈসা আল্লাহর বান্দা ও তাঁর রাসূল এবং তাঁর বাণী যা তিনি মারইয়ামের কাছে পাঠিয়েছেন এবং তাঁর পক্ষ থেকে এক রূহ; আর জান্নাত সত্য এবং জাহান্নাম সত্য; আল্লাহ তাকে জান্নাতে প্রবেশ করাবেন তার আমল যা-ই হোক না কেন।" ৬।
এবং প্রামাণ্য অংশ হলো: তাঁর বাণী "যে ব্যক্তি সাক্ষ্য দেবে"—সে কীভাবে সাক্ষ্য দেবে অথচ সে জানেই না? কারণ কোনো বিষয় কেবল মুখে উচ্চারণ করাকে তার সাক্ষ্য প্রদান বলা হয় না। ৭।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
শুরুতু লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ
(পৃষ্ঠা: ৪২১)
وَقَوله صلى الله عليه وسلم فِيمَا رَوَاهُ أنس أَن النَّبِي صلى الله عليه وسلم قَالَ: "إِذا قَالَ العَبْد أشهد أَن لَا إِلَه إِلَّا الله قَالَ الله يَا ملائكتي علم عَبدِي أَنه لَيْسَ لَهُ رب غَيْرِي - أشهدكم أَنِّي قد غفرت لَهُ " 1.
وَقَوله صلى الله عليه وسلم: "من علم أَن الله ربه وَأَنِّي نبيه موقنا من قلبه حرمه الله على النَّار" 2.
هَذِه بعض الْأَدِلَّة من الْكتاب وَالسّنة الَّتِي توضح شَرْطِيَّة الْعلم بِلَا إِلَه إِلَّا الله ولاشك أَن الْعلم لَا يكون علما إِلَّا إِذا كَانَ نَافِعًا وَلَا يكون نَافِعًا إِلَّا مَعَ الْعَمَل. فَمن لم ينْتَفع بِهَذِهِ الشَّهَادَة بِالْعَمَلِ بِمَا تَقْتَضِيه لم يتَحَقَّق لَدَيْهِ شَرط الْعلم.
قَالَ البقاعي: " "لَا إِلَه إِلَّا الله " أَي انْتَفَى انْتِفَاء عَظِيما أَن يكون معبوداً بِحَق غير الْملك الْأَعْظَم، فَإِن هَذَا الْعلم هُوَ أعظم الذكرى المنجية من أهوال السَّاعَة، وَإِنَّمَا يكون علما إِذا كَانَ نَافِعًا وَإِنَّمَا يكون نَافِعًا إِذا كَانَ مَعَ الإِذعان وَالْعَمَل بِمَا تَقْتَضِيه وَإِلَّا فَهُوَ جهل صرف"3.
وَالْمرَاد من هَذِه الْكَلِمَة - كَمَا ذكرت آنِفا - مَعْنَاهَا وتحقيقها بِالْعَمَلِ بمقتضاها لَا مُجَرّد لَفظهَا فَإِن الْمُنَافِقين كَانُوا يَقُولُونَهَا وهم تَحت الْكفَّار فِي الدَّرك الْأَسْفَل من النَّار.
وَالْكفَّار - مَعَ جهلهم بِمَا جَاءَ فِي الْكتاب وَالسّنة - يعلمُونَ أَن مُرَاد النَّبِي صلى الله عليه وسلم بِهَذِهِ الْكَلِمَة هُوَ إِفْرَاد الله بالتعلق وَالْكفْر بِمَا يعبد من دون الله والبراءة مِنْهُ، فَإِنَّهُ لما قَالَ لَهُم: "قُولُوا لَا إِلَه إِلَّا الله" قَالُوا: {أَجَعَلَ الآلِهَةَ إِلَهاً وَاحِداً إِنَّ هَذَا لَشَيْءٌ عُجَابٌ!} 4.
--------------------------------------------
রাসূলুল্লাহ (সা.)-এর বাণী যা আনাস (রা.) বর্ণনা করেছেন যে, নবী (সা.) বলেছেন: "যখন কোনো বান্দা বলে, আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে আল্লাহ ছাড়া কোনো সত্য ইলাহ নেই, তখন আল্লাহ বলেন: হে আমার ফেরেশতারা! আমার বান্দা জেনেছে যে আমি ছাড়া তার আর কোনো রব নেই। আমি তোমাদের সাক্ষ্য রাখছি যে, আমি তাকে ক্ষমা করে দিয়েছি।" ১।
এবং রাসূলুল্লাহ (সা.)-এর বাণী: "যে ব্যক্তি অন্তরের দৃঢ় বিশ্বাসের সাথে জানবে যে আল্লাহ তার রব এবং আমি তাঁর নবী, আল্লাহ তার জন্য জাহান্নামের আগুন হারাম করে দেবেন।" ২।
এগুলো হলো কুরআন ও সুন্নাহর কিছু প্রমাণ যা 'লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ'-এর জন্য 'ইলম' বা জ্ঞানের শর্তটিকে স্পষ্ট করে। এতে কোনো সন্দেহ নেই যে, ইলম ততক্ষণ পর্যন্ত প্রকৃত ইলম হিসেবে গণ্য হয় না যতক্ষণ না তা উপকারী হয়, আর তা আমল ছাড়া উপকারী হয় না। অতএব, যে ব্যক্তি এই শাহাদাহর দাবি অনুযায়ী আমল করার মাধ্যমে উপকৃত হলো না, তার ক্ষেত্রে ইলমের শর্তটি বাস্তবায়িত হয়নি।
আল-বিকায়ি বলেছেন: "'লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ' অর্থাৎ মহান সম্রাট (আল্লাহ) ছাড়া অন্য কেউ সত্য মা'বুদ হওয়াকে চূড়ান্তভাবে অস্বীকার করা। কেননা এই ইলমই হলো কিয়ামতের ভয়াবহতা থেকে মুক্তিদানকারী সর্বশ্রেষ্ঠ যিকর। আর তা ইলম হিসেবে তখনই গণ্য হবে যখন তা উপকারী হবে, আর তা তখনই উপকারী হবে যখন এর সাথে আনুগত্য এবং এর দাবি অনুযায়ী আমল থাকবে; অন্যথায় এটি নিছক মূর্খতা।" ৩।
এই কালিমার উদ্দেশ্য হলো—যেমনটি আমি ইতিপূর্বে উল্লেখ করেছি—এর অর্থ অনুধাবন করা এবং এর দাবি অনুযায়ী আমল করার মাধ্যমে একে বাস্তবায়ন করা, কেবল মুখে উচ্চারণ করা নয়। কেননা মুনাফিকরাও এটি উচ্চারণ করত, অথচ তারা জাহান্নামের সর্বনিম্ন স্তরে কাফিরদেরও নিচে থাকবে।
কাফিররা—কুরআন ও সুন্নাহর বিষয়াবলী সম্পর্কে তাদের অজ্ঞতা সত্ত্বেও—এটা জানত যে, এই কালিমার মাধ্যমে নবী (সা.)-এর উদ্দেশ্য হলো একমাত্র আল্লাহর সাথে সম্পৃক্ত হওয়া, আল্লাহ ছাড়া অন্য সব উপাস্যকে অস্বীকার করা এবং তাদের থেকে সম্পর্কবিচ্ছিন্ন হওয়া। কেননা তিনি যখন তাদের বলেছিলেন: "তোমরা বলো লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ", তখন তারা বলেছিল: {সে কি সমস্ত ইলাহকে এক ইলাহে পরিণত করেছে? নিশ্চয়ই এটি এক বিস্ময়কর ব্যাপার!} ৪।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
শুরুতু লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ
(পৃষ্ঠা: ৪২২)
فَإِذا عرفت أَن جهال الْكفَّار يعْرفُونَ ذَلِك، فالعجب مِمَّن يَدعِي الْإِسْلَام وَهولا يعرف من تَفْسِير هَذِه الْكَلِمَة مَا عرفه جهال الْكَفَرَة بل يظنّ أَن ذَلِك: هُوَ التَّلَفُّظ بحروفها من غير اعْتِقَاد الْقلب لشَيْء من الْمعَانِي، والحاذق مِنْهُم يظنّ أَن مَعْنَاهَا: لَا يخلق وَلَا يرْزق إِلَّا الله. فَلَا خير فِي إِنْسَان جهال الْكفَّار أعلم مِنْهُ بِلَا اله إِلَّا الله. وبسبب هَذَا الْجَهْل ضل من ضل مِنْهُم حِين قلبوا حَقِيقَة الْمَعْنى فأثبتوا الإلهية المنفية لمن نفيت عَنهُ من المخلوقين أَرْبَاب الْقُبُور والمشاهد وَالْأَشْجَار والأحجار وَالْجِنّ وَغير ذَلِك. فَلهَذَا تجدهم يَقُولُونَ لَا إِلَه إِلَّا الله وهم يدعونَ مَعَ الله غَيره، وَمَا ذَاك إِلَّا بِسَبَب الْجَهْل بِمَعْنى لَا إِلَه إِلَّا الله 1.
وَالْحَد الْأَدْنَى للْعلم بِشَهَادَة أَن لَا إِلَه إِلَّا الله الْعلم بمعناها بِصُورَة إجمالية وَيَأْتِي بعد هَذَا الْحَد دَرَجَات يتَفَاوَت النَّاس فِيهَا فِي الْعلم بِهَذِهِ الشَّهَادَة أَعْلَاهَا البصيرة الَّتِي تكون بِنِسْبَة الْمَعْلُوم فِيهَا إِلَى الْقلب كنسبة المرئي إِلَى الْبَصَر2. وبقدر الْعلم وَالْجهل يحصل التَّفَاضُل فِي الإِيمان بهَا، إِذْ أَن الْعلم يسْتَلْزم الْعَمَل فَكلما زَاد الْعلم زَاد الْعَمَل، وَبِذَلِك يزْدَاد الْإِيمَان وَمن ثمَّ يحصل التَّفَاضُل فِيهِ.
رُوِيَ عَن أنس عَن النَّبِي صلى الله عليه وسلم أَنه قَالَ "يخرج من النَّار من قَالَ لَا اله إِلَّا الله وَفِي قلبه وزن شعيرَة من خير، وَيخرج من النَّار من قَالَ لَا إِلَه إِلَّا الله وَفِي قلبه وزن بُرّة من خير، وَيخرج من النَّار من قَالَ لَا إِلَه إِلَّا الله وَفِي قلبه وزن ذرة من خير".3
وَفِي رِوَايَة عَن أنس عَن النَّبِي صلى الله عليه وسلم "من إِيمَان " مَكَان "من خير" 4.
المُرَاد بقوله "من خير" من إِيمَان. بِدَلِيل الرِّوَايَة الْأُخْرَى.
--------------------------------------------
যখন আপনি জানলেন যে কাফেরদের অজ্ঞ ব্যক্তিরা তা জানত, তবে সেই ব্যক্তির ব্যাপারে বিস্ময় লাগে যে ইসলামের দাবি করে অথচ সে এই কালিমার ব্যাখ্যা সম্পর্কে ততটুকুও জানে না যতটুকু কাফেরদের অজ্ঞরা জানত। বরং সে মনে করে যে, এটি হলো এর অর্থগুলোর কোনো কিছু অন্তরে বিশ্বাস না করে কেবল এর অক্ষরগুলো উচ্চারণ করা; আর তাদের মধ্যে যারা চতুর, তারা মনে করে এর অর্থ হলো: আল্লাহ ছাড়া আর কেউ সৃষ্টি করেন না এবং রিযিক দেন না। সুতরাং এমন ব্যক্তির মধ্যে কোনো কল্যাণ নেই যার চেয়ে কাফেরদের অজ্ঞরা 'লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ' সম্পর্কে অধিক জ্ঞাত। আর এই অজ্ঞতার কারণেই তাদের মধ্যে যারা পথভ্রষ্ট হওয়ার তারা পথভ্রষ্ট হয়েছে যখন তারা অর্থের প্রকৃত রূপ উল্টে দিল, ফলে তারা সৃষ্টির মধ্য হতে যাদের থেকে উপাস্যত্ব (ইলাহিয়্যাত) অস্বীকার করা হয়েছিল তাদের জন্যই তা সাব্যস্ত করল; যেমন— কবরের অধিবাসী, মাজার, গাছপালা, পাথর, জিন এবং অন্যান্য। এই কারণেই আপনি তাদের দেখবেন তারা 'লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ' বলছে অথচ তারা আল্লাহর সাথে অন্যের নিকট দুআ করছে। আর এটি কেবল 'লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ'-এর অর্থ সম্পর্কে অজ্ঞতার কারণেই। 1.
'লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ' সাক্ষ্য সম্পর্কে জ্ঞানের সর্বনিম্ন স্তর হলো এর অর্থ সংক্ষেপে জানা। এই স্তরের পর মানুষের জ্ঞানের ক্ষেত্রে বিভিন্ন স্তর রয়েছে যাতে তারা এই সাক্ষ্য সম্পর্কে জ্ঞানের বিষয়ে একে অপরের থেকে ভিন্ন হয়। এর সর্বোচ্চ স্তর হলো 'বাসীরাত' (অন্তর্দৃষ্টি), যা জানা বিষয়ের সাথে অন্তরের এমন সম্পর্ক তৈরি করে যেমন দেখা বিষয়ের সাথে চোখের সম্পর্ক। 2. আর জ্ঞান ও অজ্ঞতার পরিমাণের ভিত্তিতেই এতে ঈমানের ক্ষেত্রে শ্রেষ্ঠত্ব অর্জিত হয়; কারণ জ্ঞান আমলকে অপরিহার্য করে। ফলে জ্ঞান যত বাড়বে, আমল তত বাড়বে, আর এর মাধ্যমে ঈমান বৃদ্ধি পাবে এবং এভাবেই তাতে শ্রেষ্ঠত্ব অর্জিত হবে।
আনাস (রাদিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণিত যে, নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন: "জাহান্নাম থেকে সেই ব্যক্তি বের হবে যে 'লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ' বলেছে এবং তার অন্তরে একটি যব পরিমাণ কল্যাণ রয়েছে। জাহান্নাম থেকে সেই ব্যক্তি বের হবে যে 'লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ' বলেছে এবং তার অন্তরে একটি গমের দানা পরিমাণ কল্যাণ রয়েছে। আর জাহান্নাম থেকে সেই ব্যক্তি বের হবে যে 'লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ' বলেছে এবং তার অন্তরে একটি অণু পরিমাণ কল্যাণ রয়েছে।" 3
আনাস (রাদিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণিত নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর অন্য এক বর্ণনায় 'কল্যাণ'-এর স্থলে 'ঈমান' শব্দ এসেছে। 4
"কল্যাণ" কথাটির উদ্দেশ্য হলো "ঈমান", অন্য বর্ণনার দলীলের ভিত্তিতে।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
শুরুতু লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ
(পৃষ্ঠা: ৪২৩)
والْحَدِيث ظَاهر الدّلَالَة بمنطوقه على تفاضل أهل الْإِيمَان فِيهِ وبمفهومه على زِيَادَته ونقصانه 1.
وَهَذَا التَّفَاضُل فِي الْإِيمَان من أثر الْعلم وَالْجهل، فَكلما ازْدَادَ الْإِنْسَان علما كَانَ إيمَانه أفضل. وَيُؤَيّد ذَلِك قَوْله تَعَالَى: {.. إِنَّمَا يَخْشَى اللَّهَ مِنْ عِبَادِهِ الْعُلَمَاءُ} 00 الْآيَة 2.
قَالَ ابْن كثير: "أَي إِنَّمَا يخشاه حق خَشيته الْعلمَاء العارفون بِهِ
… لِأَنَّهُ كلما كَانَت الْمعرفَة بِهِ أتم وَالْعلم بِهِ أكمل كَانَت الخشية لَهُ أعظم وَأكْثر" 3وَعَلِيهِ فإيمان الْعلمَاء أفضل من إِيمَان غَيرهم.
وَقَوله تَعَالَى: {
… قُلْ هَلْ يَسْتَوِي الَّذِينَ يَعْلَمُونَ وَالَّذِينَ لَا يَعْلَمُونَ إِنَّمَا يَتَذَكَّرُ أُولُو الأَلْبَابِ} 4.
أَشَارَ سبحانه وتعالى فِي هَذِه الْآيَة - إِلَى أَن الْعَالم 5 لَا يَسْتَوِي مَعَ غير الْعَالم بل بَينهمَا تفاضل، وَمن أوجه التَّفَاضُل: التَّفَاضُل فِي الْإِيمَان.
وَعَلِيهِ: فَكلما ازْدَادَ الْإِنْسَان علما بِلَا إِلَه إِلَّا الله كَانَ إيمَانه بهَا أفضل. وَبِذَلِك يَتَّضِح أَن الْعلم بِلَا إِلَه إِلَّا الله (بمعناها ومقتضاها المستلزم للْعَمَل) أحد شُرُوط لَا إِلَه إِلَّا الله الَّتِي لَا تصح إِلَّا بهَا. وَأَن الْعلم بهَا يتَفَاوَت وبقدر الْعلم وَالْجهل يحصل التَّفَاضُل فِي الْإِيمَان بهَا. وَالله أعلم.
--------------------------------------------
হাদিসটি তার উচ্চারিত ভাষ্যের (মানতুক) মাধ্যমে ঈমানদারদের মধ্যে ঈমানের মর্যাদাগত পার্থক্যের বিষয়ে এবং তার মর্মার্থের (মাফহুম) মাধ্যমে ঈমানের হ্রাস-বৃদ্ধির বিষয়ে সুস্পষ্ট প্রমাণ বহন করে। ১।
ঈমানের এই মর্যাদাগত পার্থক্য হলো জ্ঞান ও মূর্খতার প্রভাবের ফসল। সুতরাং মানুষ যখনই জ্ঞানে বৃদ্ধি পায়, তার ঈমানও অধিক শ্রেষ্ঠ হয়। মহান আল্লাহর এই বাণী একে সমর্থন করে: {.. আল্লাহর বান্দাদের মধ্যে কেবল আলেমগণই (জ্ঞানীরা) তাঁকে ভয় করে।} আয়াত ২।
ইবনে কাসীর বলেন: "অর্থাৎ কেবল আলেমগণই, যারা তাঁর সম্পর্কে সম্যক মারেফাত বা পরিচয় রাখেন, তাঁরাই তাঁকে যথাযথভাবে ভয় করেন
… কারণ আল্লাহর সম্পর্কে পরিচয় যত পূর্ণ হবে এবং তাঁর সম্পর্কে জ্ঞান যত নিখুঁত হবে, তাঁর প্রতি ভয় তত মহান ও অধিক হবে।" ৩। এর ভিত্তিতে আলেমদের ঈমান অন্যদের ঈমানের চেয়ে শ্রেষ্ঠ।
এবং মহান আল্লাহর বাণী: {
… বলুন, যারা জানে আর যারা জানে না, তারা কি সমান? কেবল বুদ্ধিমান লোকেরাই উপদেশ গ্রহণ করে।} ৪।
আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআলা এই আয়াতে ইঙ্গিত করেছেন যে, আলেম ৫ এবং অ-আলেম সমান নয়, বরং উভয়ের মাঝে মর্যাদাগত পার্থক্য রয়েছে। আর এই পার্থক্যের অন্যতম দিক হলো: ঈমানের মর্যাদাগত পার্থক্য।
এর আলোকে: মানুষ যখনই ‘লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ’ সম্পর্কে অধিক জ্ঞান অর্জন করবে, তার প্রতি তার ঈমান তত বেশি শ্রেষ্ঠ হবে। এর মাধ্যমেই স্পষ্ট হয় যে, ‘লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ’ সম্পর্কে জ্ঞান (তার অর্থ এবং তার দাবি যা আমলকে আবশ্যক করে সে সম্পর্কে জ্ঞান) হলো ‘লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ’-এর অন্যতম শর্ত, যা ব্যতীত তা শুদ্ধ হয় না। এবং এই কালিমার জ্ঞান স্তরে স্তরে ভিন্ন হয়, আর জ্ঞান ও মূর্খতার পরিমাণ অনুযায়ী এর প্রতি ঈমানের মর্যাদাগত পার্থক্য তৈরি হয়। আল্লাহই ভালো জানেন।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
শুরুতু লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ
(পৃষ্ঠা: ৪২৩)
الشَّرْط الثَّانِي: الْقَيْن.
…الشَّرْط الثَّانِي: الْيَقِين.
الْيَقِين: لُغَة: هُوَ زَوَال الشَّك، وَتَحْقِيق الْأَمر، وَالْعلم بِهِ.
وَهُوَ: نقيض الشَّك - كَمَا أَن الْعلم نقيض الْجَهْل.
দ্বিতীয় শর্ত: ইয়াকিন.
…দ্বিতীয় শর্ত: ইয়াকিন (নিশ্চয়তা)।
ইয়াকিন: শাব্দিক অর্থে: তা হলো সন্দেহের বিদূরণ হওয়া, কোনো বিষয় সুনিশ্চিত হওয়া এবং সে সম্পর্কে জ্ঞান লাভ করা।
আর তা হলো: সন্দেহের বিপরীত—যেমনটি জ্ঞান হলো অজ্ঞতার বিপরীত।
(খণ্ড: ১)
শুরুতু লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ
(পৃষ্ঠা: ৪২৪)
وَالْمَوْت: كَمَا قَالَ تَعَالَى: {وَاعْبُدْ رَبَّكَ حَتَّى يَأْتِيَكَ الْيَقِينُ} 1.
وَرُبمَا عبروا بِالظَّنِّ عَن الْيَقِين وباليقين عَن الظَّن - قَالَ: أَبُو سِدْرَة الْأَسدي وَيُقَال الهُجَيْمِي:
تحسب هواس وأيقن أنني
… بهَا مقتد من وَاحِد لَا أغامره
يَقُول: تشمم الْأسد نَاقَتي يظنّ أنني أفتدي بهَا مِنْهُ واستحمي نَفسِي فأتركها لَهُ وَلَا أقتحم المهالك بمقاتلته.
وَحقّ الْيَقِين - كَمَا فِي قَوْله تَعَالَى -: {وَإِنَّهُ لَحَقُّ الْيَقِينِ} 2 هُوَ خالصه وأصحه 3.
وَفِي الِاصْطِلَاح: اعْتِقَاد الشَّيْء بِأَنَّهُ كَذَا مَعَ اعْتِقَاد أَنه لَا يُمكن إِلَّا كَذَا مطابقاً للْوَاقِع غير مُمكن الزَّوَال 4.
وَالْمرَاد هُنَا: أَن يكون قَالَ لَا إِلَه إِلَّا الله مُسْتَيْقنًا قلبه بمدلول هَذِه الْكَلِمَة يَقِينا جَازِمًا منافياً للشَّكّ.
فَمن قَالَهَا وهوشاك فِي شَيْء مِمَّا دلّت عَلَيْهِ من مَعْنَاهَا لم يتَحَقَّق لَدَيْهِ هَذَا الشَّرْط 5
والأدلة على ذَلِك كَثِيرَة من الْكتاب وَالسّنة.
فَمن الْكتاب: قَوْله تَعَالَى: {إِنَّمَا الْمُؤْمِنُونَ الَّذِينَ آمَنُوا بِاللَّهِ وَرَسُولِهِ ثُمَّ لَمْ يَرْتَابُوا وَجَاهَدُوا بِأَمْوَالِهِمْ وَأَنْفُسِهِمْ فِي سَبِيلِ اللَّهِ أُولَئِكَ هُمُ الصَّادِقُونَ} 6 فالآية تدل على أَن من شُرُوط صدق إِيمَان الْمُؤمنِينَ بِاللَّه وَرَسُوله الَّذِي هُوَ معنى
--------------------------------------------
এবং মৃত্যু: যেমন মহান আল্লাহ বলেছেন: {আর আপনি আপনার রবের ইবাদত করুন যতক্ষণ না আপনার নিকট নিশ্চিত বিশ্বাস (মৃত্যু) আসে} ১।
এবং তারা কখনো কখনো ‘জান্ন’ (ধারণা) দ্বারা ‘ইয়াকিন’ (নিশ্চিত বিশ্বাস) এবং ‘ইয়াকিন’ দ্বারা ‘জান্ন’ প্রকাশ করেছেন - আবু সিদরাহ আল-আসাদি, যাকে আল-হুজাইমিও বলা হয়, তিনি বলেন:
হুওয়াস (সিংহ) ধারণা করল এবং নিশ্চিত হলো যে আমি... এর মাধ্যমে একজনের থেকে মুক্তি চাচ্ছি যার মোকাবিলা আমি করব না
তিনি বলছেন: সিংহটি আমার উষ্ট্রীকে আঘ্রাণ করল, সে ধারণা করছিল যে আমি এর বিনিময়ে নিজেকে তার থেকে রক্ষা করব এবং নিজের প্রাণ বাঁচাব, তাই আমি তাকে (উষ্ট্রীকে) তার জন্য ছেড়ে দেব এবং তার সাথে লড়াই করে ধ্বংসের মুখে ঝাঁপ দেব না।
আর ‘হক্কুল ইয়াকিন’ - যেমন মহান আল্লাহর বাণীতে রয়েছে -: {আর নিশ্চয়ই এটি নিশ্চিত সত্য} ২। এটি হলো এর বিশুদ্ধতম ও সঠিকতম রূপ ৩।
আর পারিভাষিক অর্থে: কোন বিষয় সম্পর্কে এমন দৃঢ় বিশ্বাস পোষণ করা যে তা বাস্তবে এমনই, সাথে এই বিশ্বাস রাখা যে এটি অন্য কিছু হওয়া সম্ভব নয়, যা বাস্তবতার সাথে সংগতিপূর্ণ এবং যা দূরীভূত হওয়া অসম্ভব ৪।
আর এখানে উদ্দেশ্য হলো: ‘লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ’ পাঠকারী ব্যক্তির অন্তরে এই কালিমার মর্মার্থের প্রতি এমন দৃঢ় ও নিশ্চিত বিশ্বাস থাকা যা সকল প্রকার সংশয়কে নাকচ করে দেয়।
সুতরাং যে ব্যক্তি এটি পাঠ করল অথচ এর অর্থ যা নির্দেশ করে তার কোনো বিষয়ে সে সন্দিহান, তবে তার ক্ষেত্রে এই শর্তটি অর্জিত হয়নি ৫
এর সপক্ষে কুরআন ও সুন্নাহ থেকে অসংখ্য দলিল রয়েছে।
কুরআন থেকে দলিল: মহান আল্লাহর বাণী: {মুমিন তো তারাই যারা আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের প্রতি ঈমান এনেছে, অতঃপর আর কোনো সংশয় পোষণ করেনি এবং তাদের সম্পদ ও জীবন দিয়ে আল্লাহর পথে জিহাদ করেছে; তারাই হলো সত্যবাদী} ৬। এই আয়াতটি প্রমাণ করে যে, আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের প্রতি মুমিনদের ঈমান সত্য হওয়ার শর্তাবলির অন্যতম হলো—যা...
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
শুরুতু লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ
(পৃষ্ঠা: ৪২৫)
الشَّهَادَة كَونهم متيقنين بهَا لم يرتابوا - أَي لم يشكوا - فَمن ارتاب فَلَيْسَ بِمُؤْمِن بل هُوَ من الْمُنَافِقين الَّذين قَالَ الله تَعَالَى فيهم: {إِنَّمَا يَسْتَأْذِنُكَ الَّذِينَ لَا يُؤْمِنُونَ بِاللَّهِ وَالْيَوْمِ الآخِرِ وَارْتَابَتْ قُلُوبُهُمْ فَهُمْ فِي رَيْبِهِمْ يَتَرَدَّدُونَ} 1.
وَمن السّنة مَا ورد فِي الصَّحِيح عَن أبي هُرَيْرَة قَالَ: قَالَ رَسُوله الله صلى الله عليه وسلم: "أشهد أَن لَا إِلَه إِلَّا الله وَأَنِّي رَسُول الله لَا يلقى الله بهما عبد غير شَاك فيهمَا إِلَّا دخل الْجنَّة" 2
وَقَوله صلى الله عليه وسلم لأبي هُرَيْرَة: " اذْهَبْ بنعلي هَاتين فَمن لقِيت وَرَاء هَذَا الْحَائِط يشْهد أَن لَا إِلَه إِلَّا الله مُسْتَيْقنًا بهَا قلبه فبشره بِالْجنَّةِ " 3.
وَقَوله صلى الله عليه وسلم فِيمَا رَوَاهُ معَاذ أَنه صلى الله عليه وسلم قَالَ: "مَا من نفس تَمُوت وَهِي تشهد أَن لَا إِلَه إِلَّا الله وَأَنِّي رَسُول الله يرجع ذَلِك إِلَى قلب موقن إِلَّا غفر الله لَهَا" 4.
وَقَوله صلى الله عليه وسلم فِيمَا رَوَاهُ جَابر أَنه قَالَ: " اذْهَبْ فَنَادِ فِي النَّاس أَنه من شهد أَن لَا إِلَه إِلَّا الله موقنا أَو مخلصاً فَلهُ الْجنَّة " 5.
وَعَن عُثْمَان بن عَفَّان عَن عمر بن الْخطاب قَالَ: قَالَ رَسُول الله صلى الله عليه وسلم لَهُ: "إِنِّي لأعْلم كلمة لَا يَقُولهَا عبد حَقًا من قلبه فَيَمُوت على ذَلِك إِلَّا حرمه الله على النَّار: لَا إِلَه إِلَّا الله " 6.
فَهَذِهِ الْأَحَادِيث - كَمَا نرى - تدل صَرَاحَة على اشْتِرَاط الْيَقِين بِالشَّهَادَةِ بل
--------------------------------------------
কালিমার সাক্ষ্য প্রদানের অর্থ হলো তারা এতে দৃঢ়বিশ্বাসী এবং কোনো প্রকার সংশয় পোষণ করে না - অর্থাৎ তারা কোনো সন্দেহ করে না - সুতরাং যে ব্যক্তি সংশয় পোষণ করল সে মুমিন নয়, বরং সে মুনাফিকদের অন্তর্ভুক্ত যাদের সম্পর্কে আল্লাহ তাআলা বলেছেন: {কেবল তারাই আপনার কাছে অব্যাহতি চায় যারা আল্লাহ ও শেষ দিবসে বিশ্বাস করে না এবং যাদের অন্তরে সংশয় রয়েছে, সুতরাং তারা তাদের সংশয়ে দ্বিধাগ্রস্ত হয়ে ঘুরে বেড়ায়} ১।
আর সুন্নাহ থেকে যা সহীহ গ্রন্থে বর্ণিত হয়েছে, আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেন: "আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে আল্লাহ ছাড়া কোনো সত্য উপাস্য নেই এবং আমি আল্লাহর রাসূল। যে বান্দাই এই দুটির (সাক্ষ্যের) ওপর কোনো সন্দেহ পোষণ না করে আল্লাহর সাথে সাক্ষাৎ করবে, সে জান্নাতে প্রবেশ করবে" ২
এবং আবু হুরায়রা (রা.)-এর প্রতি রাসূলুল্লাহ (সা.)-এর বাণী: "আমার এই জুতো জোড়া নিয়ে যাও, এই দেয়ালের ওপাশে যার সাথেই তোমার সাক্ষাৎ হবে যে তার অন্তরের দৃঢ় বিশ্বাসের সাথে সাক্ষ্য দেয় যে আল্লাহ ছাড়া কোনো সত্য উপাস্য নেই, তাকে জান্নাতের সুসংবাদ দাও" ৩।
এবং মুয়াজ (রা.) বর্ণিত রেওয়ায়েতে রাসূলুল্লাহ (সা.)-এর বাণী, তিনি বলেছেন: "এমন কোনো ব্যক্তি নেই যে মৃত্যুবরণ করে এমতাবস্থায় যে সে সাক্ষ্য দিচ্ছে আল্লাহ ছাড়া কোনো সত্য উপাস্য নেই এবং আমি আল্লাহর রাসূল—আর বিষয়টি তার অন্তরের দৃঢ় বিশ্বাস থেকে উৎসারিত—তবে আল্লাহ অবশ্যই তাকে ক্ষমা করে দেবেন" ৪।
এবং জাবির (রা.) বর্ণিত রেওয়ায়েতে রাসূলুল্লাহ (সা.)-এর বাণী, তিনি বলেছেন: "যাও এবং মানুষের মাঝে ঘোষণা করে দাও যে, যে ব্যক্তি দৃঢ় বিশ্বাস অথবা একনিষ্ঠতার সাথে সাক্ষ্য দেবে যে আল্লাহ ছাড়া কোনো সত্য উপাস্য নেই, তার জন্য জান্নাত রয়েছে" ৫।
ওসমান ইবনে আফফান (রা.) থেকে বর্ণিত যে, ওমর ইবনুল খাত্তাব (রা.) বলেছেন: রাসূলুল্লাহ (সা.) তাকে বলেছেন: "আমি এমন একটি বাক্য জানি, কোনো বান্দা যদি তার অন্তরের সত্যতা থেকে তা পাঠ করে এবং সেই অবস্থায় মৃত্যুবরণ করে, তবে আল্লাহ তাকে জাহান্নামের আগুনের জন্য হারাম করে দেবেন; আর তা হলো: লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ (আল্লাহ ছাড়া কোনো সত্য উপাস্য নেই)" ৬।
সুতরাং এই হাদীসগুলো—যেমনটি আমরা দেখতে পাচ্ছি—কালিমার সাক্ষ্যের ক্ষেত্রে দৃঢ় বিশ্বাসের (ইয়াকীন) শর্ত হওয়ার ওপর স্পষ্টভাবে প্রমাণ বহন করে, বরং
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
শুরুতু লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ
(পৃষ্ঠা: ৪২৬)
سَمَّاهُ بعض الْأَئِمَّة أصل الْإِيمَان كَمَا قَالَ ابْن حجر فِي شَرحه لقَوْل ابْن مَسْعُود: (الْيَقِين الْإِيمَان كُله) 1.
إِن مُرَاد ابْن مَسْعُود أَن الْيَقِين هُوَ أصل الْإِيمَان، فَإِذا أَيقَن الْقلب - كَمَا يَنْبَغِي - انبعثت الْجَوَارِح كلهَا للقاء الله بِالْأَعْمَالِ الصَّالِحَات. حَتَّى قَالَ سُفْيَان الثَّوْريّ: "لَو أَن الْيَقِين وَقع فِي الْقلب - كَمَا يَنْبَغِي - لطار اشتياقاً إِلَى الْجنَّة وهرباً من النَّار" 2.
إِذا عرفنَا مَا ذكر اتَّضَح أهمية الْيَقِين بِالشَّهَادَةِ وَأَنه فضلا عَن كَونه شرطا لتحققها وفارقاً بَين الْمُؤمن وَالْمُنَافِق وشرطاً للمغفرة وَدخُول الْجنَّة.
أَنه أصل الْإِيمَان - كَمَا قَالَ ابْن حجر.
أما القَوْل بِأَن التَّلَفُّظ بِالشَّهَادَتَيْنِ بِدُونِ استيقان الْقلب كافٍ فِي الإِيمان فَهُوَ مَذْهَب غلاة المرجئة - والآيات وَالْأَحَادِيث الآنف ذكرهَا كلهَا تدل على فَسَاده بل هُوَ مَذْهَب مَعْلُوم الْفساد من الشَّرِيعَة لمن وقف عَلَيْهَا، وَلِأَنَّهُ يلْزم مِنْهُ تسويق النِّفَاق وَالْحكم لِلْمُنَافِقِ بِالْإِيمَان الصَّحِيح وَهُوَ بَاطِل قطعا 3. وَالله أعلم.
--------------------------------------------
কোনো কোনো ইমাম একে ঈমানের মূল ভিত্তি হিসেবে অভিহিত করেছেন, যেমন ইবনে হাজার ইবনে মাসউদের উক্তি: "(দৃঢ় বিশ্বাস) ইয়াকীনই হলো পূর্ণ ঈমান" এর ব্যাখ্যায় বলেছেন। ১.
ইবনে মাসউদের উদ্দেশ্য হলো, ইয়াকীনই ঈমানের মূল। সুতরাং যখন অন্তরে যথাযথভাবে ইয়াকীন বা দৃঢ় বিশ্বাস স্থাপিত হয়, তখন শরীরের সমস্ত অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ সৎকাজের মাধ্যমে আল্লাহর সাথে সাক্ষাতের জন্য উজ্জীবিত হয়। এমনকি সুফিয়ান সাওরী রহ. বলেছেন: "যদি অন্তরে যথাযথভাবে ইয়াকীন বদ্ধমূল হতো, তবে জান্নাতের আকাঙ্ক্ষায় এবং জাহান্নামের ভয়ে তা উড়ে যেত।" ২.
উল্লিখিত বিষয়গুলো জানার পর শাহাদাতের প্রতি ইয়াকীনের গুরুত্ব স্পষ্ট হয়ে ওঠে। এটি শুধু শাহাদাত বাস্তবায়নের শর্তই নয় এবং মুমিন ও মুনাফিকের মধ্যে পার্থক্যকারীই নয়, বরং ক্ষমা লাভ ও জান্নাতে প্রবেশের জন্যও একটি শর্ত।
আর এটি ঈমানের মূল ভিত্তি—যেমনটি ইবনে হাজার বলেছেন।
পক্ষান্তরে, অন্তরের ইয়াকীন বা দৃঢ় বিশ্বাস ছাড়াই কেবল দুই শাহাদাত পাঠ করা ঈমানের জন্য যথেষ্ট—এই কথাটি চরমপন্থী মুরজিয়াদের মতবাদ। ইতিপূর্বে উল্লিখিত আয়াত ও হাদিসসমূহ এই মতবাদের অসারতা প্রমাণ করে; বরং শরীয়ত সম্পর্কে যার সামান্য জ্ঞান আছে তার নিকট এই মতবাদের অসারতা সুপরিচিত। কারণ এটি নিফাক বা কপটতাকে বৈধতা দেয় এবং মুনাফিকের জন্য সঠিক ঈমানের রায় প্রদান করে, যা অকাট্যভাবে বাতিল। ৩. আর আল্লাহই ভালো জানেন।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
শুরুতু লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ
(পৃষ্ঠা: ৪২৬)
الشَّرْط الثَّالِث: الْإِخْلَاص.
الْإِخْلَاص: لُغَة: مصدر أخْلص يخلص. وَهُوَ يرد لمعانٍ. مِنْهَا: تنقية الشَّيْء وتهذيبه. تَقول: أخلصت السّمن: أَي جعلته خَالِصا. وأخلص لله دينه: أمحضه وَترك الرِّيَاء فِيهِ. فَهُوَ عبد مخلص. وأخلص الشَّيْء: اخْتَارَهُ.
তৃতীয় শর্ত: ইখলাস.
ইখলাস: ভাষাগত অর্থে: এটি আখলাসা-ইউখলিসু এর মাসদার (ক্রিয়ামূল)। এটি একাধিক অর্থে ব্যবহৃত হয়। তার মধ্যে অন্যতম হলো: কোনো কিছুকে পরিচ্ছন্ন ও সংস্কৃত করা। যেমন আপনি বলেন: আমি ঘি-কে বিশুদ্ধ করেছি, অর্থাৎ আমি একে খাঁটি করেছি। আর আল্লাহর জন্য দ্বীনকে একনিষ্ঠ করার অর্থ হলো: তা নিখাদ করা এবং তাতে লোকদেখানো মানসিকতা বর্জন করা। তখন সে ব্যক্তি একজন একনিষ্ঠ বান্দা। আর কোনো বস্তুকে 'আখলাসা' করার অর্থ হলো: তা নির্বাচন করা।
(খণ্ড: ১)
শুরুতু লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ
(পৃষ্ঠা: ৪২৭)
وَقُرِئَ: {إِلاَّ عِبَادَكَ مِنْهُمُ الْمُخْلَصِينَ} 1 بِكَسْر اللَّام وَفتحهَا - قَالَ ثَعْلَب: يَعْنِي بالمخلِصين: الَّذين أَخْلصُوا الْعِبَادَة لله تَعَالَى، وبالمخلَصين: الَّذين أخلصهم الله عز وجل.
وَقَالَ الزّجاج فِي قَوْله تَعَالَى: {وَاذْكُرْ فِي الْكِتَابِ مُوسَى إِنَّهُ كَانَ مُخْلَصاً
… } الْآيَة2وَقُرِئَ: مخلِصاً. والمخلَص: الَّذِي جعله الله مُخْتَارًا خَالِصا من الدنس. والمخلِص: الَّذِي وحد الله تَعَالَى خَاصّا. وَلذَلِك قيل لسورة قل هُوَ الله أحد سُورَة الْإِخْلَاص. قَالَ ابْن الْأَثِير: سميت بذلك لِأَنَّهَا خَالِصَة فِي صفة الله تَعَالَى وتقدس. أَو لِأَن اللافظ بهَا قد أخْلص التَّوْحِيد لله عز وجل. وَسميت كَذَلِك - لَا إِلَه إِلَّا الله - كلمة الْإِخْلَاص لِأَن اللافظ بهَا قد أخْلص التَّوْحِيد لله عز وجل.3
وَحَقِيقَة الْإِخْلَاص: هُوَ تصفية الْعَمَل لله بالتبري من دونه.4
قَالَ الْغَزالِيّ - فِي بَيَان حَقِيقَة الْإِخْلَاص -: "اعْلَم أَن كل شَيْء يتصّور أَن يشوبه غَيره فَإِذا صفا عَن شوبه وخلص عَنهُ سمي خَالِصا، وَيُسمى الْفِعْل الْمُصَفّى: المخلص. والتصفية إخلاصاً. قَالَ تَعَالَى: {
… مِنْ بَيْنِ فَرْثٍ وَدَمٍ لَبَناً خَالِصاً سَائِغاً لِلشَّارِبِينَ} 5
… وَالْإِخْلَاص يضاده الْإِشْرَاك
… فمهما كَانَ الْبَاعِث وَاحِدًا على التجرد سمي الْفِعْل الصَّادِر عَنهُ إخلاصاً
… وَلَكِن الْعَادة جَارِيَة بتخصيص اسْم الْإِخْلَاص بتجريد قصد التَّقَرُّب إِلَى الله تَعَالَى عَن جَمِيع الشوائب
… ".6
--------------------------------------------
এবং পাঠ করা হয়েছে: {তবে তাদের মধ্যে আপনার একনিষ্ঠ বান্দারা ব্যতীত} ১ 'লাম' অক্ষরের নিচে কাসরা (জের) এবং উপরে ফাতহা (জবর) উভয় কিরাআতে। ছা'লাব বলেন: 'মুখলিসীন' (লামের নিচে কাসরা দিয়ে) অর্থ: যারা মহান আল্লাহর জন্য ইবাদতকে একনিষ্ঠ করেছে। আর 'মুখলাসিন' (লামের উপরে ফাতহা দিয়ে) অর্থ: যাদের মহান আল্লাহ (নিজের জন্য) মনোনীত করেছেন।
এবং আয-যাজ্জাজ মহান আল্লাহর এই বাণী সম্পর্কে বলেন: {আর এই কিতাবে মূসার কথা স্মরণ করুন, নিশ্চয়ই তিনি ছিলেন মনোনীত...} ২ আয়াতটি 'মুখলিসান' (লামের নিচে কাসরা দিয়ে) হিসেবেও পাঠ করা হয়েছে। আর 'মুখলাসান' হলেন তিনি যাকে আল্লাহ সকল কলুষতা থেকে মুক্ত করে মনোনীত করেছেন। আর 'মুখলিসান' হলেন তিনি যিনি মহান আল্লাহর তাওহীদকে বিশেষভাবে বিশুদ্ধ করেছেন। আর এই কারণেই সূরা 'কুল হুওয়াল্লাহু আহাদ'-কে সূরা আল-ইখলাস বলা হয়। ইবনুল আসীর বলেন: এর এই নাম রাখা হয়েছে কারণ এটি মহান ও পবিত্র আল্লাহর গুণাবলি বর্ণনায় বিশুদ্ধ। অথবা এজন্য যে, এর পাঠকারী মহান আল্লাহর জন্য তাওহীদকে বিশুদ্ধ করে নেয়। একইভাবে 'লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ'-কেও কালিমাতুল ইখলাস (একনিষ্ঠতার বাণী) বলা হয়, কারণ এর পাঠকারী মহান আল্লাহর জন্য তাওহীদকে বিশুদ্ধ করে নেয়। ৩
ইখলাসের প্রকৃত অর্থ হলো: আল্লাহ ছাড়া অন্য সবকিছু থেকে সম্পর্ক ছিন্ন করার মাধ্যমে আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য আমলকে বিশুদ্ধ করা। ৪
আল-গাযালী ইখলাসের হাকিকত বর্ণনায় বলেন: "জেনে রাখুন, এমন প্রতিটি বিষয় যাতে অন্য কিছুর মিশ্রণ ঘটার সম্ভাবনা থাকে, যখন সেটি সেই মিশ্রণ থেকে মুক্ত ও স্বচ্ছ হয়, তখন তাকে 'খলিস' (বিশুদ্ধ) বলা হয়। আর এই বিশোধন কর্মকে ইখলাস বলা হয়। মহান আল্লাহ বলেন: {...গোবর ও রক্তর মধ্য থেকে (আমি তোমাদের পান করাই) বিশুদ্ধ দুধ, যা পানকারীদের জন্য সুস্বাদু} ৫... আর ইখলাসের বিপরীত হলো শিরক... সুতরাং যখন কোনো কাজের মূল চালিকাশক্তি একক হয়, তখন তা থেকে নির্গত কাজকে ইখলাস বলা হয়... তবে প্রচলিত পরিভাষায় ইখলাস শব্দটিকে মহান আল্লাহর নৈকট্য লাভের উদ্দেশ্যকে যাবতীয় পঙ্কিলতা থেকে মুক্ত করার ক্ষেত্রে নির্দিষ্ট করা হয়েছে..."। ৬
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
শুরুতু লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ
(পৃষ্ঠা: ৪২৮)
فَمن لم يخلص الْعِبَادَة لله تَعَالَى بِأَن أَرَادَ بهَا الرِّيَاء أَو السمعة أَو الدُّنْيَا أَو نَحْوهَا لم يُحَقّق الشَّهَادَة لانْتِفَاء شَرط الْإِخْلَاص1. قَالَ شيخ الْإِسْلَام ابْن تيميه: "وأصل الْإِسْلَام أشهد أَن لَا إِلَه إِلَّا الله وَأَن مُحَمَّدًا رَسُول الله فَمن طلب بِعِبَادَتِهِ الرِّيَاء والسمعة فَلم يُحَقّق شَهَادَة أَن لَا إِلَه إِلَّا الله
…" 2 لِأَنَّهُ لم يخلص فِي مقتضاها.
وَإِلَيْك بعض الْأَدِلَّة من الْكتاب وَالسّنة الَّتِي تُشِير إِلَى هَذَا الشَّرْط:
فَمن الْكتاب: قَوْله تَعَالَى: {إِنَّا أَنْزَلْنَا إِلَيْكَ الْكِتَابَ بِالْحَقِّ فَاعْبُدِ اللَّهَ مُخْلِصاً لَهُ الدِّينَ ، أَلا لِلَّهِ الدِّينُ الْخَالِصُ
…} الْآيَة 3.
وَقَوله تَعَالَى: {قُلِ اللَّهَ أَعْبُدُ مُخْلِصاً لَهُ دِينِي} 4.
وَقَوله تَعَالَى: {وَمَا أُمِرُوا إِلا لِيَعْبُدُوا اللَّهَ مُخْلِصِينَ لَهُ الدِّينَ حُنَفَاءَ
… } الآَية 5.
وَمن السّنة مَا يضيق عَنهُ الْمقَام. مِنْهَا: مَا يَلِي:
عَن أبي هُرَيْرَة رضي الله عنه قَالَ: سَمِعت رَسُول الله صلى الله عليه وسلم يَقُول: "قَالَ الله تَعَالَى: أَنا أغْنى الشُّرَكَاء من عمل عملا أشرك فِيهِ معي غَيْرِي تركته وشركه " 6.
وَعَن أبي هُرَيْرَة رضي الله عنه قَالَ: قيل يَا رَسُول الله من أسعد النَّاس بشفاعتك يَوْم الْقِيَامَة؟ فَقَالَ صلى الله عليه وسلم: "لقد ظَنَنْت يَا أَبَا هُرَيْرَة أَن لَا يسْأَل عَن هَذَا الحَدِيث أحد أوَّل مِنْك لما رَأَيْت من حرصك على الحَدِيث. أسعد النَّاس بشفاعتي يَوْم الْقِيَامَة من قَالَ لَا إِلَه إِلَّا الله خَالِصا من قلبه ". وَفِي رِوَايَة
--------------------------------------------
সুতরাং যে ব্যক্তি মহান আল্লাহর জন্য ইবাদতকে একনিষ্ঠ করেনি এভাবে যে, সে এর মাধ্যমে লোকদেখানো, সুখ্যাতি, দুনিয়া অর্জন বা এই জাতীয় কিছু চেয়েছে, সে ইখলাসের (একনিষ্ঠতা) শর্ত না থাকার কারণে শাহাদাহ (সাক্ষ্য) বাস্তবায়ন করেনি১। শাইখুল ইসলাম ইবনে তাইমিয়্যাহ বলেছেন: "ইসলামের মূল হলো—আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, আল্লাহ ছাড়া কোনো সত্য উপাস্য নেই এবং মুহাম্মদ আল্লাহর রাসুল। সুতরাং যে ব্যক্তি তার ইবাদতের মাধ্যমে লোকদেখানো ও সুখ্যাতি কামনা করল, সে 'আল্লাহ ছাড়া কোনো সত্য উপাস্য নেই' এই সাক্ষ্যকে বাস্তবায়ন করল না
…" ২ কারণ সে এর দাবি অনুযায়ী একনিষ্ঠ হয়নি।
আর এখানে কিতাব (কুরআন) ও সুন্নাহ থেকে কিছু দলীল দেওয়া হলো যা এই শর্তের দিকে ইঙ্গিত করে:
কিতাব থেকে: মহান আল্লাহর বাণী: {নিশ্চয় আমি আপনার প্রতি সত্যসহ কিতাব অবতীর্ণ করেছি; সুতরাং আপনি আল্লাহর ইবাদত করুন তাঁরই অনুগত হয়ে একনিষ্ঠভাবে। জেনে রাখুন, একনিষ্ঠ আনুগত্য কেবল আল্লাহরই প্রাপ্য
…} আয়াত ৩।
এবং মহান আল্লাহর বাণী: {বলুন, আমি আল্লাহরই ইবাদত করি আমার আনুগত্যকে তাঁর জন্য একনিষ্ঠ করে} ৪।
এবং মহান আল্লাহর বাণী: {তাদেরকে কেবল এই আদেশই দেওয়া হয়েছিল যে, তারা যেন আল্লাহর ইবাদত করে তাঁর প্রতি আনুগত্যে একনিষ্ঠ হয়ে, একনিষ্ঠভাবে
…} আয়াত ৫।
আর সুন্নাহ থেকে এত দলীল রয়েছে যে, এখানে তা সংকুলান করা সম্ভব নয়। তার মধ্যে নিম্নোক্তগুলো অন্যতম:
আবু হুরায়রা রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: আমি আল্লাহর রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে বলতে শুনেছি: "মহান আল্লাহ বলেছেন: আমি অংশীদারদের অংশীদারিত্ব থেকে সম্পূর্ণ অমুখাপেক্ষী। যে ব্যক্তি কোনো কাজ করল এবং তাতে আমার সাথে অন্য কাউকে শরিক করল, আমি তাকে ও তার শিরককে বর্জন করি" ৬।
আবু হুরায়রা রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: জিজ্ঞেস করা হলো, হে আল্লাহর রাসুল! কিয়ামতের দিন আপনার শাফায়াত লাভের সবচেয়ে সৌভাগ্যবান ব্যক্তি কে হবে? তখন সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন: "হে আবু হুরায়রা! আমি ধারণা করেছিলাম যে, তোমার আগে এই হাদীস সম্পর্কে আর কেউ আমাকে জিজ্ঞেস করবে না; কারণ হাদীসের প্রতি তোমার প্রবল আগ্রহ আমি দেখেছি। কিয়ামতের দিন আমার শাফায়াত লাভের সবচেয়ে সৌভাগ্যবান ব্যক্তি সে-ই হবে, যে নিজের অন্তর থেকে একনিষ্ঠভাবে বলেছে যে, আল্লাহ ছাড়া কোনো সত্য উপাস্য নেই।" আর এক বর্ণনায় রয়েছে—
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
শুরুতু লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ
(পৃষ্ঠা: ৪২৯)
"خَالِصَة من قلبه " 1.
وَعَن عتْبَان بن مَالك رضي الله عنه عَن النَّبِي صلى الله عليه وسلم قَالَ: "الله حرم على النَّار من قَالَ لَا إِلَه إِلَّا الله يَبْتَغِي بذلك وَجه الله عز وجل " 2.
وَعَن ابْن عمر أَن رَسُول الله صلى الله عليه وسلم قَالَ: " إِنِّي لأرجو أَلا يَمُوت أحد يشْهد أَن لَا إِلَه إِلَّا الله مخلصا من قلبه فيعذبه الله عز وجل " 3.
وَعَن أبي هُرَيْرَة رضي الله عنه قَالَ: قَالَ رَسُول الله صلى الله عليه وسلم: "مَا قَالَ عبد لَا إِلَه إِلَّا الله مخلصاً من قلبه، إِلَّا فتحت لَهُ أَبْوَاب السَّمَاء حَتَّى تُفْضِي إِلَى الْعَرْش مَا اجْتنب الْكَبَائِر" 4.
وَعَن معَاذ رضي الله عنه أَن النَّبِي صلى الله عليه وسلم قَالَ: " من شهد أَن لَا إِلَه إِلَّا الله مخلصاً من قلبه دخل الْجنَّة".5
وَعَن أنس أَن النَّبِي صلى الله عليه وسلم قَالَ: "لَا إِلَه إِلَّا الله كلمة عَظِيمَة كَرِيمَة على الله تَعَالَى من قَالَهَا مخلصا ستوجب الْجنَّة وَمن قَالَهَا كَاذِبًا عصمت مَاله وَدَمه وَكَانَ مصيره إِلَى النَّار".6
وَالْمرَاد هُنَا: الْإِخْلَاص فِيمَا تَقْتَضِيه لَا إِلَه إِلَّا الله من الْعُبُودِيَّة لله وَحده لَا شريك لَهُ.
--------------------------------------------
"নিজের অন্তর থেকে একনিষ্ঠভাবে।" 1.
এবং ইতবান ইবনে মালিক (রা.) থেকে বর্ণিত, নবী (সা.) বলেছেন: "যে ব্যক্তি এর মাধ্যমে আল্লাহর চেহারা কামনা করে 'লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ' বলবে, আল্লাহ তার জন্য জাহান্নাম হারাম করে দিয়েছেন।" 2.
এবং ইবনে উমর (রা.) থেকে বর্ণিত যে, রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেন: "নিশ্চয়ই আমি আশা করি যে, অন্তর থেকে একনিষ্ঠভাবে 'লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ'র সাক্ষ্য প্রদানকারী কোনো ব্যক্তি মৃত্যুবরণ করলে মহান আল্লাহ তাকে শাস্তি দেবেন না।" 3.
এবং আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেন: "যখনই কোনো বান্দা অন্তর থেকে একনিষ্ঠভাবে 'লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ' বলে, তখনই তার জন্য আসমানের দরজাগুলো খুলে দেওয়া হয়, এমনকি তা আরশ পর্যন্ত পৌঁছে যায়; যতক্ষণ সে কবিরা গুনাহসমূহ থেকে বিরত থাকে।" 4.
এবং মুয়াজ (রা.) থেকে বর্ণিত যে, নবী (সা.) বলেছেন: "যে ব্যক্তি অন্তর থেকে একনিষ্ঠভাবে 'লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ'র সাক্ষ্য দেবে, সে জান্নাতে প্রবেশ করবে।" 5.
এবং আনাস (রা.) থেকে বর্ণিত যে, নবী (সা.) বলেছেন: "'লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ' একটি মহান ও মর্যাদাপূর্ণ কালিমা যা মহান আল্লাহর নিকট অত্যন্ত প্রিয়। যে ব্যক্তি এটি একনিষ্ঠভাবে পাঠ করবে, তার জন্য জান্নাত অবধারিত হবে। আর যে ব্যক্তি এটি মিথ্যাভাবে বলবে, তা (দুনিয়াতে) তার সম্পদ ও রক্তকে নিরাপদ করবে, কিন্তু তার পরিণাম হবে জাহান্নাম।" 6.
আর এখানে উদ্দেশ্য হলো: 'লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ'র দাবি অনুযায়ী অংশীদারহীন একমাত্র আল্লাহর ইবাদতে একনিষ্ঠ হওয়া।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
শুরুতু লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ
(পৃষ্ঠা: ৪৩০)
هَذِه بعض الْأَدِلَّة من الْكتاب وَالسّنة الَّتِي توكد شَرْطِيَّة الْإِخْلَاص وأهميته. بل هُوَ حَقِيقَة الْإِسْلَام. قَالَ شيخ الْإِسْلَام: "وَأما الْإِخْلَاص فَهُوَ حَقِيقَة الْإِسْلَام إِذْ "الْإِسْلَام " هُوَ الاستسلام لله لَا لغيره كَمَا قَالَ تَعَالَى: {ضَرَبَ اللَّهُ مَثَلاً رَجُلاً فِيهِ شُرَكَاءُ مُتَشَاكِسُونَ وَرَجُلاً سَلَماً لِرَجُلٍ هَلْ يَسْتَوِيَانِ
… } 1 فَمن لم يستسلم لله فقد استكبر، وَمن استسلم لله وَلغيره فقد أشرك وكل من الْكبر والشرك ضد الْإِسْلَام، وَالْإِسْلَام ضد الشّرك وَالْكبر" 2.
وَمن هُنَا يتَبَيَّن لنا أَنه لَا ينْتَفع قائلوا الشَّهَادَة - وَإِن كَانُوا عَالمين بمعناها علما يَقِينا إِلَّا إِذا كَانُوا مُخلصين فِي عِبَادَتهم لله وَحده. والمخلصون هم: الَّذين كَانَت أَعْمَالهم كلهَا لله - سَوَاء كَانَت قلبية أَو قوليه أَو عملية - لله وَحده لَا شريك لَهُ لَا يُرِيدُونَ بهَا من النَّاس جَزَاء وَلَا شكُورًا وَلَا ابْتِغَاء الجاه عِنْدهم، وَلَا طلب المحمودة والمنزلة فِي قُلُوبهم، وَلَا هرباً من ذمهم3.
فلابد من الْإِخْلَاص لله تَعَالَى فِي جَمِيع أَنْوَاع الْعِبَادَة، وَهُوَ مَا تَقْتَضِيه شَهَادَة أَن لَا إِلَه إِلَّا الله قَالَ الشَّيْخ عبد الرَّحْمَن بن حسن فِي قَوْله تَعَالَى: {
… فَلا تَجْعَلُوا لِلَّهِ أَنْدَاداً وَأَنْتُمْ تَعْلَمُونَ} 4: "إِنَّه ربكُم وخالقكم وَمن قبلكُمْ وأسبغ عَلَيْكُم نعمه ظَاهِرَة وباطنة فَلَا ترغبوا عَنهُ إِلَى غَيره بل أَخْلصُوا لَهُ الْعِبَادَة بِجَمِيعِ أَنْوَاعهَا فِيمَا تطلبونه من قَلِيل أَو كثير" 5
وَلم يُحَقّق الْإِخْلَاص لله تَعَالَى من دَعَا غَيره وَإِن كَانَ نَبيا أَو صَالحا أَو ملكا أَو استشفع بجاههم أَو ذاتهم إِلَى الله تَعَالَى فِي طلب خير أَو كشف ضرّ قَالَ تَعَالَى: {قُلِ ادْعُوا الَّذِينَ زَعَمْتُمْ مِنْ دُونِهِ فَلا يَمْلِكُونَ كَشْفَ الضُّرِّ عَنْكُمْ وَلا تَحْوِيلاً ، أُولَئِكَ الَّذِينَ يَدْعُونَ يَبْتَغُونَ إِلَى رَبِّهِمُ الْوَسِيلَةَ أَيُّهُمْ أَقْرَبُ وَيَرْجُونَ
--------------------------------------------
কিতাব ও সুন্নাহ থেকে এগুলো কিছু দলিল যা ইখলাসের শর্ত হওয়া এবং এর গুরুত্বকে সুনিশ্চিত করে। বরং এটিই ইসলামের হাকিকত। শাইখুল ইসলাম বলেন: "আর ইখলাস হলো ইসলামের হাকিকত; কেননা 'ইসলাম' হলো কেবল আল্লাহর নিকট আত্মসমর্পণ করা, অন্য কারো নিকট নয়। যেমন মহান আল্লাহ বলেন: {আল্লাহ একটি দৃষ্টান্ত পেশ করছেন: এক ব্যক্তি, যার মালিকানায় রয়েছে পরস্পর বিরোধী কতিপয় অংশীদার; আর অন্য এক ব্যক্তি, যে পূর্ণভাবে কেবল একজনের অনুগত। তারা কি উভয়ে সমান?
… } ১। অতএব, যে ব্যক্তি আল্লাহর নিকট আত্মসমর্পণ করল না, সে অহংকার করল। আর যে ব্যক্তি আল্লাহর নিকট এবং অন্য কারো নিকটও আত্মসমর্পণ করল, সে শিরক করল। আর অহংকার ও শিরক উভয়েই ইসলামের পরিপন্থী, আর ইসলাম হলো শিরক ও অহংকারের পরিপন্থী।" ২।
এখান থেকে আমাদের নিকট স্পষ্ট হয় যে, শাহাদাত পাঠকারীরা—যদিও তারা এর অর্থের ব্যাপারে নিশ্চিত জ্ঞানের অধিকারী হয়—ততক্ষণ পর্যন্ত উপকৃত হবে না যতক্ষণ না তারা একমাত্র আল্লাহর ইবাদতে একনিষ্ঠ হয়। আর মুখলিসগণ (একনিষ্ঠ ব্যক্তিগণ) হলেন তারা: যাদের সকল আমল কেবল আল্লাহর জন্য—তা কলবি (হৃদয়সংশ্লিষ্ট), কওলি (মৌখিক) কিংবা আমলি (কার্যিক) যাই হোক না কেন—কেবল আল্লাহর জন্য যার কোনো শরিক নেই। তারা এর মাধ্যমে মানুষের নিকট থেকে কোনো প্রতিদান বা কৃতজ্ঞতা চায় না, তাদের নিকট কোনো পদমর্যাদা অন্বেষণ করে না, তাদের হৃদয়ে প্রশংসা ও উচ্চ মর্যাদার প্রত্যাশা করে না এবং তাদের নিন্দা থেকে পলায়নের উদ্দেশ্যও রাখে না।৩।
সুতরাং সকল প্রকার ইবাদতে মহান আল্লাহর জন্য ইখলাস থাকা অপরিহার্য, আর 'লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ' শাহাদাত এটিই দাবি করে। শাইখ আব্দুর রহমান বিন হাসান মহান আল্লাহর এই বাণীর ব্যাপারে বলেন: {
… সুতরাং তোমরা জেনেশুনে আল্লাহর জন্য সমকক্ষ স্থির করো না} ৪: "নিশ্চয়ই তিনি তোমাদের রব ও স্রষ্টা এবং তোমাদের পূর্ববর্তীদেরও, আর তিনি তোমাদের ওপর তাঁর প্রকাশ্য ও অপ্রকাশ্য নেয়ামতসমূহ পূর্ণ করে দিয়েছেন। সুতরাং তোমরা তাঁকে ছেড়ে অন্যের প্রতি বিমুখ হয়ো না, বরং তোমাদের অল্প বা অধিক যা কিছু প্রার্থনা করো না কেন, সকল প্রকার ইবাদতকে তাঁর জন্যই একনিষ্ঠ করো।" ৫
আর সে ব্যক্তি মহান আল্লাহর জন্য ইখলাস অর্জন করতে পারেনি, যে ব্যক্তি অন্য কাউকে ডাকে—চাই সে কোনো নবী, নেককার ব্যক্তি বা ফেরেশতা হোক না কেন—কিংবা কল্যাণ লাভ বা বিপদ দূর করার জন্য মহান আল্লাহর নিকট তাদের মর্যাদা বা সত্তার মাধ্যমে সুপারিশ কামনা করে। মহান আল্লাহ বলেন: {বলুন, তোমরা আল্লাহ ছাড়া যাদেরকে (উপাস্য) মনে করো তাদের আহ্বান করো, তারা তোমাদের থেকে দুঃখ-কষ্ট দূর করার বা তা পরিবর্তন করার কোনো ক্ষমতা রাখে না। তারা যাদেরকে আহ্বান করে, তারা নিজেরাই তো তাদের রবের নৈকট্য লাভের জন্য মাধ্যম তালাশ করে যে, তাদের মধ্যে কে কত নিকটতর হতে পারে, আর তারা তাঁর রহমতের আশা করে...
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
শুরুতু লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ
(পৃষ্ঠা: ৪৩১)
رَحْمَتَهُ وَيَخَافُونَ عَذَابَهُ إِنَّ عَذَابَ رَبِّكَ كَانَ مَحْذُوراً} 1.
كَذَلِك لم يُحَقّق الْإِخْلَاص لله تَعَالَى من أطَاع غَيره وَغير رَسُوله فِي تَحْلِيل مَا حرم الله أَو تَحْرِيم مَا أحل الله عَن رضَا وطمأنينة قلب - قَالَ تَعَالَى: {اتَّخَذُوا أَحْبَارَهُمْ وَرُهْبَانَهُمْ أَرْبَاباً مِنْ دُونِ اللَّهِ وَالْمَسِيحَ ابْنَ مَرْيَمَ وَمَا أُمِرُوا إِلا لِيَعْبُدُوا إِلَهاً وَاحِداً لَا إِلَهَ إِلا هُوَ سُبْحَانَهُ عَمَّا يُشْرِكُونَ} 2 أَي اتَّبَعُوهُمْ فِي تَحْلِيل مَا حرم الله وَتَحْرِيم مَا أحل الله. فَسرهَا بذلك الرَّسُول صلى الله عليه وسلم وَالصَّحَابَة من بعده 3.
هَذَا: هُوَ الْإِخْلَاص الْمُشْتَرط فِي الشَّهَادَة، فَالْعَمَل لَا يقبل إِذا لم يكن خَالِصا وَإِن كَانَ صَوَابا. قَالَ الفضيل بن عِيَاض: فِي قَوْله تَعَالَى: {
… لِيَبْلُوَكُمْ أَيُّكُمْ أَحْسَنُ عَمَلاً
… } الْآيَة 4. قَالَ: "أخلصه وأصوبه. قَالُوا: يَا أَبَا عَليّ مَا أخلصه وأصوبه؟ قَالَ: إِن الْعَمَل إِذا كَانَ خَالِصا وَلم يكن صَوَابا لم يقبل، وَإِذا كَانَ صَوَابا وَلم يكن خَالِصا لم يقبل، حَتَّى يكون خَالِصا صَوَابا. والخالص: أَن يكون لله. وَالصَّوَاب: أَن يكون على السّنة. وَذَلِكَ تَحْقِيق قَوْله تَعَالَى: {
… فَمَنْ كَانَ يَرْجُوا لِقَاءَ رَبِّهِ فَلْيَعْمَلْ عَمَلاً صَالِحاً وَلا يُشْرِكْ بِعِبَادَةِ رَبِّهِ أَحَداً} 5 6.
--------------------------------------------
তাঁর রহমতের আশা করে এবং তাঁর আযাবকে ভয় করে। নিশ্চয়ই আপনার রবের আযাব ভীতিপ্রদ।} ১।
অনুরূপভাবে, যে ব্যক্তি আল্লাহ যা হারাম করেছেন তা হালাল করার ক্ষেত্রে অথবা আল্লাহ যা হালাল করেছেন তা হারাম করার ক্ষেত্রে সন্তুষ্টি ও হৃদয়ের প্রশান্তির সাথে আল্লাহ ও তাঁর রাসূল ব্যতীত অন্য কারো আনুগত্য করে, সে মহান আল্লাহর জন্য ইখলাস (একনিষ্ঠতা) বাস্তবায়ন করেনি। মহান আল্লাহ বলেন: {তারা আল্লাহকে ছেড়ে তাদের পন্ডিত ও সংসারবিরাগীদের এবং মারইয়াম তনয় মাসীহকে রবরূপে গ্রহণ করেছে; অথচ তারা কেবল এক ইলাহের ইবাদত করার জন্য আদিষ্ট হয়েছিল। তিনি ছাড়া কোনো সত্য ইলাহ নেই। তারা যে অংশীদার সাব্যস্ত করে তা থেকে তিনি অত্যন্ত পবিত্র।} ২ অর্থাৎ আল্লাহ যা হারাম করেছেন তা হালাল করার ক্ষেত্রে এবং আল্লাহ যা হালাল করেছেন তা হারাম করার ক্ষেত্রে তারা তাদের অনুসরণ করেছিল। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এবং তাঁর পরবর্তী সাহাবীগণ এভাবেই এর ব্যাখ্যা করেছেন ৩।
এটিই হলো শাহাদাতের (সাক্ষ্য প্রদানের) ক্ষেত্রে শর্তযুক্ত ইখলাস। সুতরাং আমল যদি সঠিক (সুন্নাহ মোতাবেক) হলেও একনিষ্ঠ (আল্লাহর জন্য) না হয়, তবে তা কবুল হয় না। ফুদাইল ইবনে ইয়াদ মহান আল্লাহর বাণী: {
… যাতে তোমাদের পরীক্ষা করেন যে, তোমাদের মধ্যে আমলের দিক থেকে কে শ্রেষ্ঠ
… } ৪ -এই আয়াতের ব্যাখ্যায় বলেন: "সবচেয়ে একনিষ্ঠ এবং সবচেয়ে সঠিকটি।" তারা জিজ্ঞেস করলেন: "হে আবু আলী! সবচেয়ে একনিষ্ঠ এবং সবচেয়ে সঠিক বলতে কী বুঝায়?" তিনি বললেন: "নিশ্চয়ই আমল যদি একনিষ্ঠ হয় কিন্তু সঠিক না হয়, তবে তা কবুল হয় না। আর যদি তা সঠিক হয় কিন্তু একনিষ্ঠ না হয়, তবে তাও কবুল হয় না, যতক্ষণ না তা একনিষ্ঠ ও সঠিক উভয়ই হয়। আর 'একনিষ্ঠ' হলো যা কেবল আল্লাহর জন্য হয়, আর 'সঠিক' হলো যা সুন্নাহ অনুযায়ী হয়।" আর এটিই মহান আল্লাহর এই বাণীর বাস্তব রূপ: {
… সুতরাং যে ব্যক্তি তার রবের সাক্ষাৎ কামনা করে, সে যেন নেক আমল করে এবং তার রবের ইবাদতে অন্য কাউকে শরীক না করে।} ৫ ৬।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
শুরুতু লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ
(পৃষ্ঠা: ৪৩১)
الشَّرْط الرَّابِع: الصدْق الْمنَافِي للكذب.
الصدْق: لُغَة: مصدر صدق - تَقول: صدق يصدق صَدقا وصِدقا - يفتح وَيكسر وَالْكَسْر أفْصح - أَو الْفَتْح للمصدر، وَالْكَسْر للاسم. ضد الْكَذِب. وَهُوَ مُطَابقَة الْكَلَام للْوَاقِع بِحَسب اعْتِقَاد الْمُتَكَلّم. والشجاعة، والصلابة والشدة،
চতুর্থ শর্ত: সত্যবাদিতা যা মিথ্যাচারের পরিপন্থী।
সত্যবাদিতা: আভিধানিক অর্থ: এটি ‘সাদাক্বা’ ক্রিয়াপদের মাসদার (ক্রিয়ামূল)। আপনি বলবেন: সাদাক্বা, ইয়াসদুক্বু, সাদাক্বান এবং সিদক্বান—এতে ফাতহা (যবর) ও কাসরা (যের) উভয়ই হতে পারে, তবে কাসরা হওয়াই অধিক বিশুদ্ধ। অথবা ফাতহা মাসদারের জন্য এবং কাসরা বিশেষ্যের জন্য। এটি মিথ্যার বিপরীত। আর তা হলো বক্তার বিশ্বাস অনুযায়ী বাস্তবতার সাথে কথার সংগতি হওয়া। এছাড়া এর অর্থ সাহসিকতা, দৃঢ়তা ও কঠোরতা।
(খণ্ড: ১)
শুরুতু লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ
(পৃষ্ঠা: ৪৩২)
ومحض النَّصِيحَة والإخاء وكل مَا نسب إِلَى الْخَيْر وَالصَّلَاح أضيف إِلَى الصدْق وَالْأَمر الصَّالح لَا شية فِيهِ من نقص أَو كذب. وَفِي التَّنْزِيل قَوْله تَعَالَى: {وَقُلْ رَبِّ أَدْخِلْنِي مُدْخَلَ صِدْقٍ وَأَخْرِجْنِي مُخْرَجَ صِدْقٍ
… } الْآيَة 1 2
وَالْمرَاد هُنَا: أَن يَقُول الْمَرْء لَا إِلَه إِلَّا الله صَادِقا من قلبه بمعناها ومقتضاها صدقا منافياً للكذب.
قَالَ تَعَالَى: {الم. أَحَسِبَ النَّاسُ أَنْ يُتْرَكُوا أَنْ يَقُولُوا آمَنَّا وَهُمْ لَا يُفْتَنُونَ، وَلَقَدْ فَتَنَّا الَّذِينَ مِنْ قَبْلِهِمْ فَلَيَعْلَمَنَّ اللَّهُ الَّذِينَ صَدَقُوا وَلَيَعْلَمَنَّ الْكَاذِبِينَ} 3.
وَقَالَ تَعَالَى: {وَمِنَ النَّاسِ مَنْ يَقُولُ آمَنَّا بِاللَّهِ وَبِالْيَوْمِ الآخِرِ وَمَا هُمْ بِمُؤْمِنِينَ، يُخَادِعُونَ اللَّهَ وَالَّذِينَ آمَنُوا وَمَا يَخْدَعُونَ إِلا أَنْفُسَهُمْ وَمَا يَشْعُرُونَ، فِي قُلُوبِهِمْ مَرَضٌ فَزَادَهُمُ اللَّهُ مَرَضاً وَلَهُمْ عَذَابٌ أَلِيمٌ بِمَا كَانُوا يَكْذِبُونَ} 4.
وَقَالَ تَعَالَى: {لِيَجْزِيَ اللَّهُ الصَّادِقِينَ بِصِدْقِهِمْ وَيُعَذِّبَ الْمُنَافِقِينَ إِنْ شَاءَ أَوْ يَتُوبَ عَلَيْهِمْ
… } الْآيَة5.
وَقَالَ تَعَالَى: {وَمَنْ يُطِعِ اللَّهَ وَالرَّسُولَ فَأُولَئِكَ مَعَ الَّذِينَ أَنْعَمَ اللَّهُ عَلَيْهِمْ مِنَ النَّبِيِّينَ وَالصِّدِّيقِينَ وَالشُّهَدَاءِ وَالصَّالِحِينَ وَحَسُنَ أُولَئِكَ رَفِيقاً} 6
وَقَالَ تَعَالَى: {قَالَ اللَّهُ هَذَا يَوْمُ يَنْفَعُ الصَّادِقِينَ صِدْقُهُمْ لَهُمْ جَنَّاتٌ تَجْرِي مِنْ تَحْتِهَا الْأَنْهَارُ خَالِدِينَ فِيهَا أَبَداً رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُمْ وَرَضُوا عَنْهُ ذَلِكَ الْفَوْزُ الْعَظِيمُ} 7.
--------------------------------------------
বিশুদ্ধ নসিহত ও ভ্রাতৃত্ব এবং কল্যাণ ও নেক কাজের সাথে সম্পর্কিত সবকিছুই সত্যের সাথে সম্পৃক্ত করা হয়। নেক আমল বা বিষয় হলো এমন যাতে কোনো খুঁত বা মিথ্যার লেশমাত্র নেই। পবিত্র কুরআনে মহান আল্লাহর বাণী: {আর বলুন, হে আমার পালনকর্তা! আমাকে প্রবেশ করান সত্যের প্রবেশস্থলে এবং আমাকে বের করুন সত্যের বহির্গমন পথ দিয়ে...} আয়াত ১ ২
এখানে উদ্দেশ্য হলো: একজন ব্যক্তি তার অন্তর থেকে সত্যনিষ্ঠার সাথে, এর অর্থ ও দাবি অনুযায়ী 'লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ' বলবে—এমন সত্যবাদিতার সাথে যা মিথ্যার পরিপন্থী।
মহান আল্লাহ বলেন: {আলিফ-লাম-মীম। মানুষ কি মনে করে যে, 'আমরা ঈমান এনেছি' এ কথা বললেই তাদের ছেড়ে দেওয়া হবে এবং তাদের পরীক্ষা করা হবে না? অথচ আমি তাদের পূর্ববর্তীদের পরীক্ষা করেছি। অবশ্যই আল্লাহ জেনে নেবেন কারা সত্যবাদী এবং অবশ্যই তিনি জেনে নেবেন কারা মিথ্যাবাদী} ৩।
মহান আল্লাহ বলেন: {আর মানুষের মধ্যে এমন লোকও রয়েছে যারা বলে, 'আমরা আল্লাহ ও পরকালের ওপর ঈমান এনেছি', অথচ তারা মুমিন নয়। তারা আল্লাহ ও মুমিনদের ধোঁকা দিতে চায়, অথচ তারা কেবল নিজেদেরই ধোঁকা দিচ্ছে কিন্তু তারা তা অনুভব করতে পারে না। তাদের অন্তরে ব্যাধি রয়েছে, অতঃপর আল্লাহ তাদের ব্যাধি বাড়িয়ে দিয়েছেন। আর তাদের জন্য রয়েছে যন্ত্রণাদায়ক শাস্তি, যেহেতু তারা মিথ্যা বলত} ৪।
মহান আল্লাহ বলেন: {যাতে আল্লাহ সত্যবাদীদের তাদের সত্যবাদিতার জন্য পুরস্কৃত করেন এবং মুনাফিকদের শাস্তি দেন যদি তিনি চান, অথবা তাদের ক্ষমা করেন...} আয়াত ৫।
মহান আল্লাহ বলেন: {আর যারা আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের আনুগত্য করে, তারা তাদের সঙ্গী হবে যাদের ওপর আল্লাহ অনুগ্রহ করেছেন—অর্থাৎ নবীগণ, সত্যনিষ্ঠগণ (সিদ্দীক), শহীদগণ ও সৎকর্মশীলগণ। আর সঙ্গী হিসেবে তারা কতই না উত্তম} ৬
মহান আল্লাহ বলেন: {আল্লাহ বলবেন, 'আজ সেই দিন যেদিন সত্যবাদীদের সত্যবাদিতা তাদের উপকারে আসবে। তাদের জন্য রয়েছে জান্নাত, যার পাদদেশে নদীসমূহ প্রবাহিত, সেখানে তারা চিরকাল থাকবে। আল্লাহ তাদের ওপর সন্তুষ্ট হয়েছেন এবং তারাও তাঁর ওপর সন্তুষ্ট। এটিই মহা সাফল্য'} ৭।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
শুরুতু লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ
(পৃষ্ঠা: ৪৩৩)
وَقَالَ تَعَالَى: {وَالَّذِي جَاءَ بِالصِّدْقِ وَصَدَّقَ بِهِ أُولَئِكَ هُمُ الْمُتَّقُونَ} 1.
عَن ابْن عَبَّاس قَالَ: "من جَاءَ بِلَا إِلَه إِلَّا الله" 2.
وَقَالَ ابْن الْقيم: "هُوَ من شَأْنه الصدْق فِي قَوْله وَعَمله وحاله فالصدق فِي الْأَقْوَال: اسْتِوَاء اللِّسَان على الْأَقْوَال كاستواء السنبلة على سَاقهَا، والصدق فِي الْأَعْمَال: اسْتِوَاء الْأَفْعَال على الْأَمر والمتابعة كاستواء الرَّأْس على الْجَسَد، والصدق فِي الْأَحْوَال: اسْتِوَاء أَعمال الْقلب والجوارح على الْإِخْلَاص واستفراغ الوسع وبذل الطَّاقَة فبذلك يكون العَبْد من الَّذين جَاءُوا بِالصّدقِ وبحسب كَمَال هَذِه الْأُمُور فِيهِ وقيامها بِهِ تكون صدقيته" 3.
من كَلَام ابْن الْقيم يَتَّضِح أَن الصدْق الْوَاجِب وَهُوَ مَا دلّت عَلَيْهِ الْآيَات - بِمَعْنى الشَّهَادَة ومقتضاها قولا وَعَملا وَحَالا.
هَذِه بعض الْأَدِلَّة من الْكتاب - وَهِي - كَمَا نرى - إِمَّا وَعِيد للكاذبين أَو وعد للصادقين.
أما الْأَدِلَّة من السّنة - فيضيق عَنْهَا الْمقَام - وَإِلَيْك الْبَعْض مِنْهَا:
قَوْله صلى الله عليه وسلم فِي الْأَعرَابِي الَّذِي علمه شرائع الْإِسْلَام: "أَفْلح إِن صدق " 4. وَهَذَا الحَدِيث صَرِيح فِي شَرْطِيَّة الصدْق فِي الْأَقْوَال وَفِي الْأَعْمَال (فِي الصَّلَاة وَالصِّيَام وَالزَّكَاة) وَهِي من مقتضيات لَا إِلَه إِلَّا الله.
وَقَوله صلى الله عليه وسلم لأبي مُوسَى - وَمَعَهُ نفر من قومه - "ابشروا وبشروا من وَرَائِكُمْ: أَنه من شهد أَن لَا إِلَه إِلَّا الله صَادِقا بهَا دخل الْجنَّة" 5.
--------------------------------------------
আল্লাহ তাআলা বলেছেন: "আর যে সত্য নিয়ে এসেছে এবং তা সত্য বলে গ্রহণ করেছে, তারাই তো মুত্তাকী।" 1.
ইবনে আব্বাস (রাযিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: "যে ব্যক্তি 'লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ' নিয়ে এসেছে।" 2.
ইবনুল কায়্যিম বলেছেন: "তার বৈশিষ্ট্য হলো তার কথা, কাজ ও অবস্থায় সত্যবাদিতা। সুতরাং কথায় সত্যবাদিতা হলো: কথার ওপর জিহ্বার অটল থাকা, যেমন শস্যের শিষ তার কাণ্ডের ওপর সোজা হয়ে দাঁড়িয়ে থাকে। কাজে সত্যবাদিতা হলো: আদেশ পালন এবং অনুসরণের ওপর কার্যাবলীর স্থিরতা, যেমন শরীরের ওপর মাথার অবস্থান। আর অবস্থায় সত্যবাদিতা হলো: ইখলাস (একনিষ্ঠতা), সামর্থ্যের পূর্ণ ব্যবহার এবং শক্তি ব্যয়ের ওপর অন্তরের কাজ ও অঙ্গপ্রত্যঙ্গের ক্রিয়ার অটল থাকা। এভাবেই বান্দা তাদের অন্তর্ভুক্ত হয় যারা সত্য নিয়ে এসেছে এবং তার মধ্যে এই বিষয়গুলোর পূর্ণতা ও উপস্থিতির অনুপাতেই তার সত্যবাদিতা নির্ধারিত হয়।" 3.
ইবনুল কায়্যিমের বক্তব্য থেকে স্পষ্ট হয় যে, ওয়াজিব (আবশ্যকীয়) সত্যবাদিতা—যা আয়াতসমূহ দ্বারা নির্দেশিত হয়েছে—তা হলো কথা, কাজ ও অবস্থার মাধ্যমে শাহাদাত (সাক্ষ্য) ও তার দাবি পূরণ করা।
এগুলো কিতাবুল্লাহ (কুরআন) থেকে কিছু দলিল—যা আমরা দেখছি—হয়তো মিথ্যুকদের জন্য হুঁশিয়ারি অথবা সত্যবাদীদের জন্য পুরস্কারের প্রতিশ্রুতি।
আর সুন্নাহ থেকে প্রাপ্ত দলিলসমূহ—যা এখানে বিস্তারিত উল্লেখ করার অবকাশ নেই—তার মধ্যে কিছু নিচে দেওয়া হলো:
রাসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) সেই গ্রাম্য লোকটির ব্যাপারে বলেছেন যাকে তিনি ইসলামের বিধানসমূহ শিক্ষা দিয়েছিলেন: "সে সফল হবে যদি সে সত্য বলে থাকে।" 4. এই হাদিসটি কথা ও কাজে (সালাত, সিয়াম ও জাকাতের ক্ষেত্রে) সত্যবাদিতা শর্ত হওয়ার ব্যাপারে স্পষ্ট দলিল, আর এটিই 'লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ'-এর দাবি।
এবং রাসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) আবু মুসা (রাযিয়াল্লাহু আনহু)-কে উদ্দেশ্য করে—যখন তার সাথে তার কওমের একদল লোক ছিল—বলেছিলেন: "তোমরা সুসংবাদ গ্রহণ করো এবং তোমাদের পেছনে যারা আছে তাদের সুসংবাদ দাও যে: যে ব্যক্তি সত্য অন্তরে 'লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ'-এর সাক্ষ্য দিবে, সে জান্নাতে প্রবেশ করবে।" 5.
--------------------------------------------