(খণ্ড: ১)
আলফিয়্যাতুল ইরাকি আত-তাবসিরাতু ওয়াত-তাযকিরাহ - তাকিক আল-কাসিম
(পৃষ্ঠা: -)
ألفية العراقي التبصرة والتذكرة - ت القاسم القسم: علوم الحديث
الكتاب: التبصرة والتذكرة في علوم الحديث، ألفية العراقي
المؤلف: أَبو الفضل عبد الرحيم بن الحسين العراقي (ت 806 هـ)
المحقق: د عبد المحسن بن محمد القاسم
محققة على نسخة بخط الناظم ونسخ أخرى مقروءة عليه وعليها خطه وإجازته
الطبعة: الثالثة، 1442 هـ - 2021 م
عدد الصفحات: 398
[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]
تاريخ النشر بالشاملة: 17 جُمادَى الآخرة 1443
আলফিয়্যাহ আল-ইরাকি আত-তাবসিরাহ ওয়াত-তাযকিরাহ - তাহকিক: আল-কাসিম বিভাগ: হাদিস শাস্ত্র (علوم الحديث)
গ্রন্থ: আত-তাবসিরাহ ওয়াত-তাযকিরাহ ফী উলুমিল হাদিস، আলফিয়্যাহ আল-ইরাকি
লেখক: আবু আল-ফজল আবদুর রহিম বিন আল-হুসাইন আল-ইরাকি (মৃত্যু ৮০৬ হি.)
মুহাক্কিক: ড. আবদুল মুহসিন বিন মুহাম্মদ আল-কাসিম
গ্রন্থটি লেখকের (কাব্য রচয়িতা) স্বহস্তলিখিত পাণ্ডুলিপি (نسخة) এবং তার সম্মুখে পঠিত অন্যান্য পাণ্ডুলিপির ভিত্তিতে সম্পাদিত, যাতে তার হস্তাক্ষর ও অনুমতিপত্র (إجازة) রয়েছে
সংস্করণ: তৃতীয়، ১৪৪২ হি. - ২০২১ খ্রি.
পৃষ্ঠা সংখ্যা: ৩৯৮
[গ্রন্থের সংখ্যায়ন মুদ্রিত কপির অনুরূপ]
শামিলা লাইব্রেরিতে প্রকাশের তারিখ: ১৭ জুমাদাল আখিরা ১৪৪৩
(খণ্ড: ১)
আলফিয়্যাতুল ইরাকি আত-তাবসিরাতু ওয়াত-তাযকিরাহ - তাকিক আল-কাসিম
(পৃষ্ঠা: ১)
مُتُونُ طالِبِ العِلِم
مُحَقَّقَةٌ عَلى (230) مَخطوُطَة
المُتُونُ الإضَافِيَّةُ
(5) التَّبْصِرَةُ وَالتَّذْكِرَةُ في عُلُوم الحَدِيثِ
أَلفِيَّةُ العِرَاقِيِّ
مُحَقَّقَةٌ عَلَى نُسَخَةٍ بِخَطِّ النَّاظِمِ وَنُسَخٍ أُخْرَى مَقْرُوءَةٍ عَلَيهِ وَعَلَيهَا خَطُّهُ وَإِجَازَتُهُ
لِلحَافِظِ
أَبِي الفَضْلِ عَبْدِ الرَّحِيمِ بْنِ الحُسَيْنِ العِرَاقِيّ
المُتَوفَّى (806 هـ)
تحقيق
د. عَبد المُحْسِن بن مُحَمَّدَ القَاسم
إمَامِ وَخَطِيبِ المَسجِدِ النَّبَوي الشَريف
ইলম অন্বেষণকারীর মূলপাঠসমূহ (متون)
অতিরিক্ত মূলপাঠসমূহ
(৫) হাদিস শাস্ত্রের (علوم الحديث) ক্ষেত্রে আত-তাবসিরাহ ওয়াত-তাযকিরাহ
আলফিয়াতুল ইরাকি
গ্রন্থকারের স্বহস্তে লিখিত অনুলিপি (نسخة) এবং তাঁর নিকট পঠিত অন্যান্য অনুলিপিগুলোর ভিত্তিতে সম্পাদিত (محقق), যেগুলোর ওপর তাঁর হস্তাক্ষর ও অনুমতিপত্র (إجازة) বিদ্যমান
আল-হাফিজ (الحافظ)
আবু আল-ফজল আবদুর রহিম বিন আল-হুসাইন আল-ইরাকি
মৃত্যু (৮০৬ হি.)
সম্পাদনায় (تحقيق)
ড. আবদুল মুহসিন বিন মুহাম্মদ আল-কাসিম
মসজিদে নববী আল-শরিফের ইমাম ও খতিব
(খণ্ড: ১)
আলফিয়্যাতুল ইরাকি আত-তাবসিরাতু ওয়াত-তাযকিরাহ - তাকিক আল-কাসিম
(পৃষ্ঠা: ২)
ح عبد المحسن بن محمد القاسم 1442 هـ
فهرسة مكتبة الملك فهد الوطنية أثناء النشر
العراقي، عبد الرحيم بن الحسين
التبصرة والتذكرة في علوم الحديث (ألفية العراقي)./
عبد المحسن بن محمد القاسم؛ عبد الرحيم بن الحسين العراقي - الرياض، ط 3.
- المدينة المنوة، 1442 هـ
ص 397، 17 × 24 سم
ردمك: 0 - 7735 - 03 - 603 - 978
1 - علوم الحديث
2 - الحديث - إسناد
3 - الحديث - تراجم الرواة
أ. القاسم، عبد المحسن بن محمد (محقق) ب. العنوان
ديوي 230
7855/ 1442
رقم الإيداع: 7855/ 1442
ردمك: 0 - 7735 - 03 - 603 - 978
حقوق الطبع محفوظة
الطبعة الثالثة
1442 هـ - 2021 م
© আব্দুল মুহসিন বিন মুহাম্মদ আল-কাসিম ১৪৪২ হিজরি
প্রকাশনা কালীন কিং ফাহাদ ন্যাশনাল লাইব্রেরি ক্যাটালগিং
আল-ইরাকি, আব্দুর রাহিম বিন আল-হুসাইন
আত-তাবসিরাহ ওয়াত-তাযকিরাহ ফি উলুমিল হাদিস (আলফিয়াতুল ইরাকি)।/
আব্দুল মুহসিন বিন মুহাম্মদ আল-কাসিম; আব্দুর রাহিম বিন আল-হুসাইন আল-ইরাকি - রিয়াদ, ৩য় সংস্করণ।
- মদিনা মুনাওয়ারা, ১৪৪২ হিজরি
পৃষ্ঠা ৩৯৭, ১৭ × ২৪ সেমি
আইএসবিএন: ৯৭৮ - ৬০৩ - ০৩ - ৭৭৩৫ - ০
১ - হাদিস শাস্ত্র (علوم الحديث)
২ - হাদিস - সনদ (إسناد)
৩ - হাদিস - বর্ণনাকারীদের জীবনী (تراجم الرواة)
ক. আল-কাসিম, আব্দুল মুহসিন বিন মুহাম্মদ (গবেষক ও সম্পাদক) (محقق) খ. শিরোনাম
ডিউই ২৩০
৭৮৫৫/ ১৪৪২
জমাদান নম্বর: ৭৮৫৫/ ১৪৪২
আইএসবিএন: ৯৭৮ - ৬০৩ - ০৩ - ৭৭৩৫ - ০
সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত
তৃতীয় সংস্করণ
১৪৪২ হিজরি - ২০২১ খ্রিস্টাব্দ
(খণ্ড: ১)
আলফিয়্যাতুল ইরাকি আত-তাবসিরাতু ওয়াত-তাযকিরাহ - তাকিক আল-কাসিম
(পৃষ্ঠা: ৩)
مُتُونُ طالِبِ العِلِم
مُحَقَّقَةٌ عَلى (230) مَخطوُطَة
المُتُونُ الإضَافِيَّةُ
(5) التَّبْصِرَةُ وَالتَّذْكِرَةُ في عُلُوم الحَدِيثِ
أَلفِيَّةُ العِرَاقِيِّ
مُحَقَّقَةٌ عَلَى نُسَخَةٍ بِخَطِّ النَّاظِمِ وَنُسَخٍ أُخْرَى مَقْرُوءَةٍ عَلَيهِ وَعَلَيهَا خَطُّهُ وَإِجَازَتُهُ
لِلحَافِظِ
أَبِي الفَضْلِ عَبْدِ الرَّحِيمِ بْنِ الحُسَيْنِ العِرَاقِيّ
المُتَوفَّى (806 هـ)
تحقيق
د. عَبد المُحْسِن بن مُحَمَّدَ القَاسم
إمَامِ وَخَطِيبِ المَسجِدِ النَّبَوي الشَريف
ইলম অন্বেষণকারীর মূলপাঠসমূহ
২৩০টি পাণ্ডুলিপির ভিত্তিতে সম্পাদিত (محققة)
অতিরিক্ত মূলপাঠসমূহ
(৫) হাদিস বিজ্ঞানের (علوم الحديث) ক্ষেত্রে 'আত-তাবসিরাহ ওয়াত-তাযকিরাহ'
আলফিয়াতুল ইরাকি
মূল রচয়িতার স্বহস্তে লিখিত অনুলিপি এবং তাঁর নিকট পঠিত ও তাঁর স্বাক্ষর ও অনুমতিপত্র (إجازة) সম্বলিত অন্যান্য পাণ্ডুলিপির ভিত্তিতে সম্পাদিত (محققة)
হাফিজ (الحافظ)
আবু আল-ফজল আবদুর রহিম বিন আল-হুসাইন আল-ইরাকি
মৃত্যু (৮০৬ হিজরি)
সম্পাদনা ও পাঠ-পর্যালোচনা (تحقيق)
ড. আবদুল মুহসিন বিন মুহাম্মদ আল-কাসিম
মসজিদে নববী শরীফের ইমাম ও খতিব
(খণ্ড: ১)
আলফিয়্যাতুল ইরাকি আত-তাবসিরাতু ওয়াত-তাযকিরাহ - তাকিক আল-কাসিম
(পৃষ্ঠা: ৪)
لأهمية المتون لطالب العلم
أُنشئ قسم في المسجد النبوي لحفظ هذه المتون،
ويضم العديد من الطلاب الصغار والكبار طوال العام
ويمكن الالتحاق به في حلقات التعليم عن بعد على رابط:
www.mottoon.com
لتَحميلِ متونِ طالبِ العلم نُسخة إلكترونيَّةً،
والاستماعِ إلى شرحِها مباشرةً أو تَحْميلِها على رابط:
www.a-alqasim.com
জ্ঞান অন্বেষীদের নিকট মূল পাঠ (متون) সমূহের গুরুত্বের কারণে
এই মূল পাঠ (متون) গুলো মুখস্থ করার নিমিত্তে মসজিদে নববীতে একটি বিভাগ প্রতিষ্ঠা করা হয়েছে,
যা বছরব্যাপী অসংখ্য ছোট ও বড় শিক্ষার্থীদের অন্তর্ভুক্ত করে
এবং নিচের লিঙ্কের মাধ্যমে দূরশিক্ষণ পাঠচক্র (حلقة) সমূহে যোগদান করা সম্ভব:
www.mottoon.com
মুতুন তালিব আল-ইলম-এর ইলেকট্রনিক সংস্করণ ডাউনলোড করতে,
এবং সরাসরি সেগুলোর ব্যাখ্যা (شرح) শুনতে অথবা ডাউনলোড করতে নিচের লিঙ্কে প্রবেশ করুন:
www.a-alqasim.com
(খণ্ড: ১)
আলফিয়্যাতুল ইরাকি আত-তাবসিরাতু ওয়াত-তাযকিরাহ - তাকিক আল-কাসিম
(পৃষ্ঠা: ৫)
بسم الله الرحمن الرحيم
المُقدِّمة
الحمدُ للَّه ربِّ العالمين، والصَّلاةُ والسَّلامُ على نبيِّنا محمَّدٍ، وعلى آله وأصحابه أجمعين.
أمَّا بعد:
فقد أنزلَ اللَّهُ كتابَه على النَّاس، ووعَد بحفظِه، ومنَّ على المؤمنين ببِعثةِ النَّبيِّ صلى الله عليه وسلم، وكان الصَّحابةُ رضي الله عنهم ينقلون للأمَّة أقوالَ النَّبيِّ صلى الله عليه وسلم وأفعالَه وتقريراتِه وأوصافَه، ثمَّ نقلَها مَن بعدَهم إلى مَن يليهِم.
ثمَّ دوَّن جهابذةُ العلماءِ سُنَّةَ النَّبيِّ صلى الله عليه وسلم على المسانيد والجوامع والسُّنن والمستخرجات، وبيَّنوا صحيحَها من سقيمِها، وأسَّسوا علمَ الجرح والتَّعديل، وتنوَّعت جهود العلماء في ذلك، فكان القاضي الحسن بن عبد الرَّحمن الرَّامَهُرْمُزِيُّ رحمه الله (ت 360 هـ) أوَّلَ مَن أفردَ علمَ أصول الحديث بالتَّصنيف، في كتابٍ سمَّاه: «المُحَدِّثَ الفاصِلَ بين الرَّاوي والوَاعي».
ثمَّ تلاه الحافظ أبو عبد اللَّه الحاكم النَّيسابوريُّ رحمه الله (ت 405 هـ)، فصنَّف كتاباً خفيفاً يشتمل على أنواعِ علم الحديث بمحاسن فيه لم يُسبَق إليها، عامداً في ذلك إلى سلوك الاختصار، دون الإطنابِ والإكثارِ، وسمَّاه: «معرفةَ علومِ الحديث وكمِّيَّة أجناسِه».
পরম করুণাময় অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে।
ভূমিকা
যাবতীয় প্রশংসা জগতসমূহের প্রতিপালক আল্লাহর জন্য। দরুদ ও সালাম বর্ষিত হোক আমাদের নবী মুহাম্মাদ (সা.)-এর ওপর এবং তাঁর পরিবার-পরিজন ও সকল সাহাবীর ওপর।
অতঃপর:
নিশ্চয়ই আল্লাহ তাআলা মানুষের নিকট তাঁর কিতাব নাযিল করেছেন এবং তা সংরক্ষণের প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। আর তিনি মুমিনদের প্রতি নবী (সা.)-কে প্রেরণের মাধ্যমে অনুগ্রহ করেছেন। সাহাবী (রা.)-গণ উম্মাহর কাছে নবী (সা.)-এর বাণী, কর্ম, মৌনসম্মতি ও গুণাবলি বর্ণনা করতেন। অতঃপর তাঁদের পরবর্তীগণ তাঁদের উত্তরসূরিদের কাছে তা পৌঁছে দিয়েছেন।
এরপর প্রাজ্ঞ আলেমগণ নবী (সা.)-এর সুন্নাহকে মুসনাদ, জামে, সুনান ও মুস্তাখরাজ গ্রন্থসমূহে সংকলন করেছেন এবং সেগুলোর বিশুদ্ধ (صحيح) বর্ণনাকে ত্রুটিযুক্ত (سقيم) বর্ণনা থেকে পৃথক করেছেন। তাঁরা বর্ণনাকারীদের দোষগুণ বিচার ও মূল্যায়ন (الجرح والتعديل) শাস্ত্রের ভিত্তি স্থাপন করেছেন এবং এ ক্ষেত্রে আলেমদের প্রচেষ্টা ছিল বহুমুখী। আল-কাজি আল-হাসান ইবনে আবদুর রহমান আর-রামাহুরমুজি (রহ.) (মৃত্যু ৩৬০ হি.) প্রথম ব্যক্তি হিসেবে হাদিস শাস্ত্রের মূলনীতি (أصول الحديث) বিষয়টিকে স্বতন্ত্রভাবে সংকলন করেন, তাঁর রচিত কিতাবটির নাম: ‘আল-মুহাদ্দিসুল ফাসিল বাইনার রাবি ওয়াল ওয়াঈ’।
এরপর তাঁর স্থলাভিষিক্ত হন হাফেজ আবু আবদুল্লাহ আল-হাকিম আন-নিশাপুরি (রহ.) (মৃত্যু ৪০৫ হি.); তিনি একটি সংক্ষিপ্ত কিতাব সংকলন করেন যা হাদিস বিজ্ঞানের বিভিন্ন প্রকারভেদকে (أنواع) অন্তর্ভুক্ত করে। এতে এমন কিছু অনন্য বৈশিষ্ট্য ছিল যা ইতিপূর্বে আর কেউ উপস্থাপন করতে পারেননি। তিনি দীর্ঘসূত্রতা ও বাহুল্য বর্জন করে সংক্ষেপণের পথ অবলম্বন করেছেন এবং এর নাম রেখেছেন: ‘মা’রিফাতু উলুমিল হাদিস ওয়া কাম্মিয়্যাতু আজনাসিহি’।
(খণ্ড: ১)
আলফিয়্যাতুল ইরাকি আত-তাবসিরাতু ওয়াত-তাযকিরাহ - তাকিক আল-কাসিম
(পৃষ্ঠা: ৬)
ثمَّ نقَّح الحافظُ أبو عمرٍو عثمان الشَّهرزوريُّ المشهور بابن الصَّلاح رحمه الله (ت 643 هـ) كتابَ الحاكم، وهذَّبه واستدركَ ما فاته، واعتنى بتصانيف الخطيب البغداديِّ رحمه الله (ت 463 هـ)، فجَمَعَ شتاتَ مقاصدها، وضمَّ إليها مِن غيرِها نُخَبَ فوائِدِها؛ في مصنَّفٍ سمَّاه: «معرفةَ أنواع علوم الحديث»، فاجتمعَ في كتابه ما تفرَّق في غيره، فعكف النَّاسُ عليه وساروا بسيره، وحاموا في حماه، ما بين شارحٍ له، ومُختصِرٍ، ومُستدرِكٍ عليه، ومُقتَصِرٍ.
ثمَّ انْبَرى الحافظُ أبو الفضلِ زينُ الدِّين عبد الرَّحيم بن الحُسَيْن العراقيُّ رحمه الله (ت 806 هـ)، فنَظَمَ ما حواه كتابُ الحافظ ابنِ الصَّلاحِ مع إيضاحاتٍ له، وزياداتٍ واستدراكاتٍ، في أرجوزةٍ حَوَتْ ألفَ بيتٍ وبيتين، سمَّاها: «التَّبْصِرَةَ والتَّذكِرَةَ في عُلومِ الحَديثِ»، وكتب عليها شرحاً حافلاً، فتسابق أهلُ العلم إليها ما بين حافظٍ لها، وشارحٍ، فَسَارَت في الآفاق.
ولأهمِّيَّتها حقَّقْتُهَا - ضِمنَ سلسلة المتون الإضافيَّة من متون طالب العلم - على عددٍ كبيرٍ من أحسنِ أُصولِها الخطِّيَّة؛ لتَظْهَرَ للقُرَّاء والحُفَّاظ كما وَضَعَها ناظمُها.
وقد أثبتُّ في هذه النُّسخةِ حواشي التَّحقيق المتضمِّنة لذكرِ فروقِ النُّسخ، وتوثيقِ المسائل، وشرحِ الغريب، وبيانِ المشكل، وغيرِ ذلك، وأفردتُ نسخةً أخرى خاليةً مِن جميع ذلك.
অতঃপর হাফেজ আবু আমর উসমান আশ-শাহরাজুরি, যিনি ইবনুস সালাহ (রহ.) (মৃত্যু ৬৪৩ হি.) নামে প্রসিদ্ধ, তিনি আল-হাকিমের কিতাবটি সংস্কার করেন এবং সেটিকে পরিমার্জিত করেন। তিনি তাতে বাদ পড়া বিষয়গুলো পরিপূরক সংযোজন (استدراك) করেন। পাশাপাশি তিনি খতিব আল-বাগদাদি (রহ.) (মৃত্যু ৪৬৩ হি.)-এর গ্রন্থাবলির প্রতিও বিশেষ যত্নশীল ছিলেন। তিনি সেগুলোর ছড়িয়ে-ছিটিয়ে থাকা মূল লক্ষ্য ও উদ্দেশ্যসমূহকে একত্র করেন এবং অন্যান্য উৎস থেকে বাছাইকৃত গুরুত্বপূর্ণ ফায়দাগুলো সেখানে যুক্ত করেন। তিনি তাঁর গ্রন্থটির নামকরণ করেন ‘মারিফাতু আনওয়ায়ি উলুমিল হাদিস’। ফলে অন্যান্য গ্রন্থে যা বিক্ষিপ্তভাবে ছিল, তা তাঁর এই গ্রন্থে পুঞ্জীভূত হয়। মানুষ এই গ্রন্থের প্রতি নিবিষ্ট হয় এবং এর পদাঙ্ক অনুসরণ করে। এর চারপাশেই তারা আবর্তিত হতে থাকে; কেউ এর ব্যাখ্যাগ্রন্থ (شرح) লিখেছেন, কেউ এর সংক্ষিপ্তসার (مختصر) করেছেন, কেউ এতে পরিপূরক সংযোজন (مستدرك) করেছেন, আবার কেউ কেবল মূল বিষয়ের মধ্যেই সীমাবদ্ধ (مقتصر) থেকেছেন।
এরপর হাফেজ আবুল ফজল জয়নুদ্দীন আবদুর রহিম বিন আল-হুসাইন আল-ইরাকি (রহ.) (মৃত্যু ৮০৬ হি.) এগিয়ে আসেন। তিনি হাফেজ ইবনুস সালাহর কিতাবে যা ছিল, তা বিশদ ব্যাখ্যা, পরিবর্ধন ও পরিপূরক সংযোজন (استدراك) সহ একটি কাব্যগ্রন্থের (أرجوزة) রূপ দান করেন, যা এক হাজার দুই পঙক্তি বিশিষ্ট। তিনি এর নামকরণ করেন ‘আত-তাবসিরাহ ওয়াত-তাযকিরাহ ফি উলুমিল হাদিস’। তিনি এর ওপর একটি সমৃদ্ধ ও তথ্যবহুল ব্যাখ্যাগ্রন্থ (شرح) লিখেন। ফলে বিদগ্ধ ব্যক্তিবর্গ এর প্রতি ধাবিত হন; কেউ এটি মুখস্থ (حفظ) করেছেন, আবার কেউ এর ব্যাখ্যা (شرح) লিখেছেন। ফলে এটি চতুর্দিকে ছড়িয়ে পড়ে।
এর গুরুত্বের কারণে আমি এটিকে ‘মুতুনে তালিবিল ইলম’ (শিক্ষার্থীর পাঠ্য ধারাবাহিক)-এর অতিরিক্ত পাঠ্য সিরিজের অন্তর্ভুক্ত করে এর অত্যন্ত নির্ভরযোগ্য কিছু পাণ্ডুলিপির (أصول خطية) ওপর ভিত্তি করে সম্পাদনা (تحقيق) করেছি; যেন তা পাঠক ও হাফেজদের (حفاظ) নিকট সেভাবেই প্রকাশিত হয় যেভাবে এর কাব্যকার (ناظم) একে প্রণয়ন করেছিলেন।
আমি এই সংস্করণে গবেষণামূলক টীকা (حواشي التحقيق) যুক্ত করেছি, যার মধ্যে পাণ্ডুলিপির পাঠভেদ, মাসআলাসমূহের প্রামাণিকতা (توثيق), দুর্লভ শব্দের (غريب) ব্যাখ্যা, জটিল বিষয়ের (مشكل) বিশ্লেষণ এবং অন্যান্য বিষয় অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। এছাড়া আমি এই সকল টীকা ব্যতিরেকে একটি স্বতন্ত্র সংস্করণও প্রস্তুত করেছি।
(খণ্ড: ১)
আলফিয়্যাতুল ইরাকি আত-তাবসিরাতু ওয়াত-তাযকিরাহ - তাকিক আল-কাসিম
(পৃষ্ঠা: ৭)
أسأل اللَّه أن ينفعَ بهذا العملِ، وأن يجعلَ عملَنا خالصاً لوجهِه الكريم.
وصلَّى اللَّه وسلَّم على نبيِّنا محمَّدٍ، وعلى آلِه وصحبِه أجمعين.
د. عبد المحسن بن محمد القاسم
إمام وخطيب المسجد النبوي
فرغتُ منه في العَاشر مِنْ شهرِ اللَّه المُحرَّم
من عامِ أَلفٍ وأَربعِ مِئةٍ واثْنَينِ وأَرْبَعِينَ مِن الهِجْرة
আমি আল্লাহর নিকট প্রার্থনা করি যেন তিনি এই আমলের মাধ্যমে কল্যাণ দান করেন এবং আমাদের এই কাজকে কেবলমাত্র তাঁর মহান সত্তার সন্তুষ্টির জন্য কবুল করেন।
আল্লাহ তাআলা আমাদের নবি মুহাম্মদ, তাঁর পরিবারবর্গ এবং তাঁর সকল সাহাবীদের (صحبه) ওপর দরুদ ও সালাম বর্ষণ করুন।
ড. আবদুল মুহসিন বিন মুহাম্মদ আল-কাসিম
ইমাম ও খতিব, মসজিদে নববী
আমি এটি সমাপ্ত করেছি আল্লাহর মাস মহররমের দশম তারিখে
হিজরি এক হাজার চারশত বিয়াল্লিশ সনে।
(খণ্ড: ১)
আলফিয়্যাতুল ইরাকি আত-তাবসিরাতু ওয়াত-তাযকিরাহ - তাকিক আল-কাসিম
(পৃষ্ঠা: ৮)
مَنهجي في التَّحقيق1 - رَمَزتُ للنُّسخِ بِالحُروفِ الأَبْجديَّة بِحسبِ تَاريخِها؛ الأَقْدم فالأَقْدم.
2 - أثبتُّ النصَّ على ما اشتهر من قواعد الإملاء المعاصر، ولم أُشِر إلى اختلاف النُّسخ فِي ذَلِك؛ كَطَريقةِ كِتابةِ الهَمَزَات، ورَسْمِ التَّاءِ مَفتوحة أو مَرْبوطة، ونَحْو ذَلك.
3 - أثبتُّ الفُروقَ التي بينَ النُّسَخ، وأشرتُ إِلى كلِّ ما يَنْكسِر بإثباتِهِ الوَزْن.
4 - أهْمَلْتُ ذِكرَ الأَخطَاءِ التِي انفَرَدت بها نُسَخ (أ)، و (ز)، و (ح)؛ لأنَّه وقع فيها تصحيف كثير.
5 - وَقَع تَلفِيق في النُّسخة (ط)، والنُّسخَة (ك)، ولذلكَ أَهمَلتُ الفُروقَ في الأجزاءِ المُلَفَّقَةِ.
6 - نبَّهتُ على ما كانَ مِن قبيل الوهَم أو التَّصحيف الظَّاهر، مكتفياً بذلك عن ذكر المثبت من بقيَّة النسخ.
7 - إذا كان في إحدى النُّسخ كلمة غير واضحةٍ وتحتمل الخطأ أو التَّفرُّد؛ وتحتمل الصَّوابَ وموافقةَ بقيَّة النُّسَخ؛ فإني أحملها على الصَّواب الموافق لبقيَّة النُّسَخ، ولا أنبِّه على ذلك.
আমার সম্পাদন (تحقيق) পদ্ধতি১ - আমি পাণ্ডুলিপিগুলোর প্রতীকরূপে তাদের প্রাচীনত্বের ক্রমানুসারে বর্ণমালার অক্ষর ব্যবহার করেছি; অর্থাৎ যেটি অধিকতর প্রাচীন সেটিকে আগে রেখেছি।
২ - আমি প্রচলিত আধুনিক বানানরীতি অনুযায়ী মূল পাঠ্যটি স্থির করেছি এবং এ ক্ষেত্রে পাণ্ডুলিপিগুলোর মধ্যকার বৈচিত্র্যের দিকে ইঙ্গিত করিনি; যেমন: হামজা লেখার নিয়ম, এবং 'তা' বর্ণটি খোলা বা গোল ভাবে লেখা ইত্যাদি।
৩ - আমি পাণ্ডুলিপিগুলোর মধ্যকার পাঠভেদগুলো লিপিবদ্ধ করেছি এবং এমন প্রতিটি বিষয়ের দিকে ইঙ্গিত করেছি যার কারণে কবিতার ছন্দপতন ঘটে।
৪ - আমি আলিফ (أ), যা (ز) এবং হা (ح) পাণ্ডুলিপিগুলোতে এককভাবে প্রাপ্ত ভুলগুলো উল্লেখ করা বর্জন করেছি; কারণ এগুলোতে প্রচুর বর্ণবিভ্রাট (تصحيف) ঘটেছে।
৫ - ত (ط) এবং কাফ (ك) পাণ্ডুলিপিদ্বয়ে পাঠ্যের কৃত্রিম সংমিশ্রণ (تلفيق) ঘটেছে, তাই আমি সেই সংমিশ্রিত অংশগুলোর পাঠভেদ বর্জন করেছি।
৬ - আমি কেবল সেই সব বিষয়ের ওপর সতর্ক করেছি যা সুস্পষ্ট ভ্রম (وهم) কিংবা বর্ণবিভ্রাট (تصحيف)-এর অন্তর্ভুক্ত, আর এ ক্ষেত্রে অবশিষ্ট পাণ্ডুলিপিগুলোর পাঠ উল্লেখ করার মাধ্যমেই বিষয়টিকে যথেষ্ট মনে করেছি।
৭ - যদি কোনো পাণ্ডুলিপিতে এমন কোনো শব্দ থাকে যা অস্পষ্ট এবং যাতে ভুল থাকার অথবা একক বর্ণনার (تفرد) সম্ভাবনা থাকে; আবার সেটি সঠিক হওয়ার এবং অবশিষ্ট পাণ্ডুলিপিগুলোর সাথে মিলে যাওয়ারও সম্ভাবনা থাকে; তবে আমি সেটিকে অবশিষ্ট পাণ্ডুলিপিগুলোর সাথে সংগতিপূর্ণ সঠিক পাঠ হিসেবেই গ্রহণ করেছি এবং সে বিষয়ে আলাদা কোনো সতর্কতা প্রদান করিনি।
(খণ্ড: ১)
আলফিয়্যাতুল ইরাকি আত-তাবসিরাতু ওয়াত-তাযকিরাহ - তাকিক আল-কাসিম
(পৃষ্ঠা: ৯)
8 - إذا ضُبِطت كلمة في بعض النُّسَخ وأُهْملت في البقيَّة، معَ عدم وجودِ خلافٍ بين النُّسَخ المَضْبوطة؛ فإنِّي أُثْبت الضَّبط الموجود دون إشارةٍ إِلى النُّسَخ المهملة، وإذا اختلفت النُّسَخ في الضَّبط أذكرُ خلافَها، وأتركُ ذكر النُّسَخ غيرِ المضبوطة.
9 - راعيتُ في وصفِ اختلافِ ضَبطِ الكلمات تَمييزَ علامة البناء وما يرجع إلى البِنيةِ الصَّرفية للكلمة؛ عن علامات الإعراب غالباً.
10 - أثبتُّ جميع بلاغات وقيودِ القراءة والمقابلةِ الواردة في حواشي النُّسَخ.
11 - استعملتُ علامات التَّرقيم في توضيح أبيات النَّظم؛ لتيسير فهمه، وإيضاح معانيه.
12 - اقتصرتُ في ضبط الكلمات التي يجوز فيها وجهان أو أكثر على الأقوى أو الأشهر، وأشرتُ إلى بقيَّة الأوجه في الحاشية.
13 - رجَّحتُ بين فروق النُّسَخ على النَّحوِ الآتي:
أ. جعلتُ ما ورد في نسخة المؤلِّف بخطِّه راجحاً على الفروق في النُّسَخ الأخرى - على أنَّها تتَّفق مع النُسَخ الجيِّدة غالباً -.
ب. أَجْتهِد في إثبات الرَّاجح من فروق النُّسَخِ، مع نَقلِ ما يدلُّ على ترجيحه من كلام شُرَّاح الألفيَّة، وأوَّلُها شرح النَّاظم، وأكتفي به إذا كان فيه غُنية، وإلَّا فإنَّي أراجع بقيَّة الشُّروح للألفيَّة، وهي: شرح ابن العيني، وفتح المغيث للسَّخاوي، وشرح السُّيوطي، وفتح الباقي
8 - যদি কোনো শব্দ কিছু অনুলিপিতে যথাযথ বিন্যাসে (ضبط) বিধৃত থাকে এবং অবশিষ্ট অনুলিপিগুলোতে তা উপেক্ষিত হয়, আর যথাযথভাবে বিন্যস্ত অনুলিপিগুলোর মধ্যে কোনো মতভেদ না থাকে; তবে আমি উপেক্ষিত অনুলিপিগুলোর উল্লেখ ব্যতিরেকেই বিদ্যমান বিন্যাসটি (ضبط) বহাল রেখেছি। আর যদি অনুলিপিগুলোর মধ্যে বিন্যাসগত (ضبط) ভিন্নতা থাকে, তবে আমি সেই ভিন্নতা উল্লেখ করেছি এবং বিন্যাসহীন অনুলিপিগুলোর কথা বর্জন করেছি।
9 - শব্দের বিন্যাসগত (ضبط) ভিন্নতা বর্ণনার ক্ষেত্রে আমি অধিকাংশ ক্ষেত্রে শব্দের রূপতাত্ত্বিক কাঠামোর চিহ্ন ও গঠনগত অপরিবর্তনীয়তার চিহ্নকে ব্যাকরণিক বিভক্তি থেকে পৃথক রাখার বিষয়ে লক্ষ্য রেখেছি।
10 - আমি অনুলিপিগুলোর পার্শ্বটীকায় বর্ণিত পঠন সমাপ্তির সকল ঘোষণা (بلاغات) এবং পঠন ও পাঠ-যাচাইয়ের (المقابلة) যাবতীয় শর্তাবলী ও সীমাবদ্ধতা লিপিবদ্ধ করেছি।
11 - ছন্দোবদ্ধ কাব্যগাথার (نظم) পংক্তিগুলো সুস্পষ্ট করার জন্য আমি বিরাম চিহ্ন ব্যবহার করেছি; যাতে তা বোঝা সহজ হয় এবং এর অর্থসমূহ পরিষ্কার হয়।
12 - যে সকল শব্দের ক্ষেত্রে দুই বা ততোধিক রূপ বৈধ হওয়ার অবকাশ রয়েছে, সেগুলোর ক্ষেত্রে আমি কেবল অধিক শক্তিশালী বা অধিক প্রসিদ্ধ রূপটি গ্রহণ করেছি এবং অন্যান্য রূপগুলোর কথা পাদটীকায় উল্লেখ করেছি।
13 - আমি অনুলিপিগুলোর পাঠভেদের মধ্যে নিম্নোক্ত পদ্ধতিতে অগ্রাধিকার প্রদান করেছি:
ক. গ্রন্থকারের স্বহস্তে লিখিত অনুলিপিতে যা বর্ণিত হয়েছে, তাকে অন্যান্য অনুলিপির পাঠভেদের ওপর অগ্রগণ্য (راجح) হিসেবে গণ্য করেছি—বিশেষ করে যেহেতু তা সাধারণত উন্নত মানের অনুলিপিগুলোর সাথে সংগতিপূর্ণ হয়।
খ. আমি অনুলিপিগুলোর পাঠভেদের মধ্য থেকে অগ্রগণ্য (راجح) পাঠটি নির্ধারণে সচেষ্ট হয়েছি এবং আলফিয়ার ব্যাখ্যাকারগণের বক্তব্যের আলোকে সেই অগ্রাধিকারের প্রমাণ উদ্ধৃত করেছি। এক্ষেত্রে সর্বপ্রথম মূল লেখকের নিজস্ব ব্যাখ্যাগ্রন্থের সাহায্য নিয়েছি এবং যদি তাতে পর্যাপ্ত সমাধান পাওয়া যায় তবে সেটিই যথেষ্ট মনে করেছি। অন্যথায়, আমি আলফিয়ার অন্যান্য ব্যাখ্যাগ্রন্থগুলো পর্যালোচনা করেছি, আর সেগুলো হলো: শরহ ইবনুল আইনি, সাখাভি রচিত ফাতহুল মুগিস, শরহ আস-সুয়ূতি এবং ফাতহুল বাকি।
(খণ্ড: ১)
আলফিয়্যাতুল ইরাকি আত-তাবসিরাতু ওয়াত-তাযকিরাহ - তাকিক আল-কাসিম
(পৃষ্ঠা: ১০)
لزكريا الأنصاري. وأراجع الحواشي على شرح النَّاظم: كمفتاح السَّعيدية لابن عمَّار المالكي، والنُّكت الوفيَّة للبقاعي، وحاشية محمد بن قاسم الغزِّي.
ج. استفدْتُ ممَّا ورد في حواشي بعض النُّسَخ الخطِّية للنَّظم، من إصلاحات منسوبة للنَّاظم، ومثاله: ما جاء في حاشية (ز) عند البيت (49): «هكذا قرأ شيخنا - يعني: سبط ابن العجمي - على المؤلِّف، ثمَّ أصلَحه المؤلفُ على: (جَزْمٍ)، فاعلم».
ومثاله أيضاً: ما جاء في حاشية (هـ) عند البيت (334): «كان أولاً النصف الآتي في البيت وهو قوله: (صويلح) مقدَّم على النصف الأول؛ وهو قوله: (أرجو)، ثم رَسَمَ المصنف - أبقاه اللَّه تعالى - في رابع عشر صفر سنة ثمان مئة بأن يقدم (أرجو) - وهو النصف الأول - على (صويلح) - وهو الثاني - كما هو الآن موضوع».
د. إذا لم أجد فيما تقدَّم ما يرجِّح بين الفروق فإنِّي أراجع مظانَّ التَّرجيح الأخرى؛ ككتب اللُّغة، أو النَّحو، أو مصطلح الحديث، أو التَّراجم، وغيرها.
هـ. أكتفي بما اتَّفقت عليه أغلب النُّسَخ إذا كانت الفروق غير مؤثِّرة، أو لم أجد في المصادر ما يبيِّن الرَّاجح منها.
14 - نقلتُ من كلام الشُّرَّاح ما يوافق بعض الفروق المرجوحة لبيان وجهها؛ ليُعرَف أنَّها فرق معتبَر وليس وهماً.
জাকারিয়া আল-আনসারীর। এছাড়া আমি মূল রচয়িতার (নাজিম) ব্যাখ্যার ওপর লিখিত টীকাগুলোও পর্যালোচনা করি; যেমন: ইবনে আম্মার আল-মালিকির 'মিফতাহুস সাঈদিয়্যাহ', আল-বিকায়ির 'আন-নুকাওয়াল ওয়াফিয়্যাহ' এবং মুহাম্মদ বিন কাসিম আল-গাজ্জির টীকা।
গ. আমি কবিতার (নাজম) কিছু পাণ্ডুলিপির টীকা থেকে উপকৃত হয়েছি, যাতে রচয়িতার (নাজিম) দিকে সম্বন্ধযুক্ত কিছু সংশোধনী বর্ণিত হয়েছে। এর উদাহরণ: পাণ্ডুলিপি (ঝ)-এর টীকায় ৪৯তম চরণের ক্ষেত্রে যা এসেছে: "আমাদের শাইখ —অর্থাৎ সিবত ইবনুল আজামি— লেখকের নিকট এভাবেই পাঠ করেছেন। এরপর লেখক একে 'জাজম' (جزم) হিসেবে সংশোধন করেছেন, সুতরাং জেনে রাখো।"
এর আরেকটি উদাহরণ: পাণ্ডুলিপি (হা)-এর টীকায় ৩৩৪তম চরণের ক্ষেত্রে যা এসেছে: "চরণের পরবর্তী অর্ধেক অংশ —অর্থাৎ তাঁর বক্তব্য: (সুওয়াইলিহ)— প্রথম অর্ধেকের আগে ছিল; আর তা হলো তাঁর বক্তব্য: (আরজু)। অতঃপর গ্রন্থকার —আল্লাহ তাআলা তাঁকে দীর্ঘজীবী করুন— ৮০০ হিজরির ১৪ই সফর নির্দেশ দেন যেন 'আরজু' অংশটিকে —যা প্রথম অর্ধেক— 'সুওয়াইলিহ'-এর —যা দ্বিতীয় অর্ধেক— আগে রাখা হয়, যেমনটি বর্তমানে বিন্যস্ত রয়েছে।"
ঘ. যদি উপরোক্ত বিষয়গুলোতে পাঠভেদের মধ্যে কোনোটিকে প্রাধান্য দেওয়ার মতো কোনো সূত্র খুঁজে না পাই, তবে আমি প্রাধান্য নির্ধারণের জন্য অন্যান্য উৎস পর্যালোচনা করি; যেমন: ভাষা, ব্যাকরণ, হাদিস পরিভাষা (مصطلح الحديث), জীবনীগ্রন্থ (التراجم) এবং অন্যান্য বিষয়ের কিতাবসমূহ।
ঙ. যদি পাঠভেদগুলো প্রভাব বিস্তারকারী না হয়, অথবা যদি উৎসগুলোতে সেগুলোর মধ্যে অগ্রগণ্য (راجح) বিষয়টি স্পষ্ট করার মতো কিছু না পাই, তবে অধিকাংশ পাণ্ডুলিপি যে বিষয়ে একমত হয়েছে তাতেই আমি সীমাবদ্ধ থাকি।
14 - ব্যাখ্যাকারকদের বক্তব্য থেকে আমি অপ্রাধান্যপ্রাপ্ত (مرجوحة) কিছু পাঠভেদের স্বপক্ষে উদ্ধৃতি দিয়েছি যাতে সেগুলোর যৌক্তিকতা স্পষ্ট হয়; এর ফলে জানা যাবে যে এটি একটি গ্রহণযোগ্য (معتبر) পাঠভেদ, কোনো বিভ্রম (وهم) নয়।
(খণ্ড: ১)
আলফিয়্যাতুল ইরাকি আত-তাবসিরাতু ওয়াত-তাযকিরাহ - তাকিক আল-কাসিম
(পৃষ্ঠা: ১১)
15 - أنقلُ عبارة الشُّرَّاح وغيرهم إذا دعت الحاجة لذلك في التَّرجيح، وإلَّا فأكتفي بالإحالة إلى موضعها من غير نقل.
16 - اكتفيتُ غالباً بأقدم مصدر من الشُّروح؛ إذا لم يكن عند غيره ممَّن بعده زيادة عليه، وربما اقتصرت على المتأخِّر لوضوح عبارته ومناسبتها.
17 - وثَّقتُ الأقوال التِي ينقلها النَّاظِم بعزوِها إلى أقدم مصدر وقفتُ عليه، وما لم أقف عليه في مصدر أقدم من مقدمة ابن الصَّلاح فقد عزوتُه إليها؛ إذ هي أصلُ هذا النَّظمِ، وإذا دَعت الحاجَة إلى نَقلِ النَّصِّ من مصدره فَعَلتُ ذلك لمزيد البيانِ والإيضاح.
18 - تَرجمتُ للأعلامِ المذكورينَ في النَّظم إذا كانوا غيرَ مشهورين، وأقتصِرُ في الرُّواة المذكورين في التَّقريب لابن حجر على ما ورد فيه غالباً.
19 - خرَّجتُ الأحاديث التي يشير إليها النَّاظم، وبيَّنت وجه التَّمثيل بها بما يناسب المقام.
20 - بيَّنتُ المقصود مِمَّا يخفى إدراكه في بعض عبارات النَّظم، وذلك بالرُّجوع إلى شرح النَّاظم وغيره.
21 - ميَّزتُ بالحمرة زيادات العراقي في نظمه على مقدِّمة ابن الصَّلاح.
15 - অগ্রাধিকার প্রদানের (الترجيح) ক্ষেত্রে প্রয়োজনবোধে আমি ব্যাখ্যাকারগণ ও অন্যদের উদ্ধৃতি প্রদান করেছি; অন্যথায় উদ্ধৃতি প্রদান না করে কেবল সংশ্লিষ্ট স্থানের প্রতি ইঙ্গিত করাই যথেষ্ট মনে করেছি।
16 - অধিকাংশ ক্ষেত্রে আমি ব্যাখ্যাগ্রন্থগুলোর মধ্যে প্রাচীনতম উৎসের ওপর নির্ভর করেছি; যদি পরবর্তী কারও কাছে অতিরিক্ত কিছু না থাকে। তবে অনেক সময় ভাষ্যের স্পষ্টতা ও প্রাসঙ্গিকতার কারণে পরবর্তী যুগের আলেমদের (المتأخر) বর্ণনার ওপরও সীমাবদ্ধ থেকেছি।
17 - নাযিম (মূল রচয়িতা) যেসব উক্তি বর্ণনা করেছেন, আমি সেগুলো আমার হস্তগত হওয়া প্রাচীনতম উৎসের দিকে সম্বন্ধযুক্তকরণের (عزو) মাধ্যমে সেগুলোর নির্ভরযোগ্যতা যাচাই (توثيق) করেছি। আর যা আমি ইবনুস সালাহর মুকাদ্দিমাহ অপেক্ষা প্রাচীনতর কোনো উৎসে পাইনি, তাকে সেই মুকাদ্দিমাহর দিকেই সম্বন্ধযুক্ত করেছি; কারণ এটিই এই পদ্যগ্রন্থের মূল ভিত্তি। অধিকতর বর্ণনা ও স্পষ্টীকরণের জন্য মূল উৎস থেকে পাঠ্যটি উদ্ধৃত করার প্রয়োজন হলে আমি তাই করেছি।
18 - পদ্যে উল্লেখিত ব্যক্তিদের মধ্যে যারা প্রসিদ্ধ নন, আমি তাদের জীবনী (ترجمة) আলোচনা করেছি। আর ইবনে হাজারের তাকরিব গ্রন্থে বর্ণিত বর্ণনাকারীদের (رواة) ক্ষেত্রে আমি সাধারণত সেখানে যা বর্ণিত হয়েছে তার মধ্যেই সীমাবদ্ধ থেকেছি।
19 - নাযিম যেসব হাদিসের দিকে ইশারা করেছেন, আমি সেগুলোর তাখরিজ (تخريج) করেছি এবং প্রসঙ্গের সাথে সামঞ্জস্য রেখে উদাহরণ হিসেবে ব্যবহারের দিকটি স্পষ্ট করেছি।
20 - পদ্যের কিছু বাক্যের মর্ম যা সহজে বোধগম্য নয়, আমি নাযিমের নিজস্ব ব্যাখ্যাগ্রন্থ ও অন্যদের কিতাবের সাহায্য নিয়ে তার উদ্দেশ্য স্পষ্ট করেছি।
21 - ইবনুস সালাহর মুকাদ্দিমাহর ওপর আল-ইরাকির পদ্যে যে অংশগুলো অতিরিক্ত (زيادات), সেগুলোকে আমি লাল রঙ দিয়ে চিহ্নিত করেছি।
(খণ্ড: ১)
আলফিয়্যাতুল ইরাকি আত-তাবসিরাতু ওয়াত-তাযকিরাহ - তাকিক আল-কাসিম
(পৃষ্ঠা: ১২)
22 - أثبتُّ في الحاشية زيادات تلميذ النَّاظم برهان الدِّين سبط ابن العجمي، التي زادها أو استدركها، وهي مثبتةٌ في حواشي النُّسخة ز، وبعضها ورد في شروح النَّظم؛ كالنُّكت الوفيَّة للبِقاعي، وفتح المغيث للسَّخاوي.
23 - أضفتُ صُوراً لبعض مصطلحاتِ كتابةِ الحديث وضبطِه، وهي التي بيَّنها النَّاظم بخطِّه في النُّسخة ط.
24 - جعلتُ لِلكتابِ نُسْخَتين:
أ. النُّسْخةُ الأُولى: وهي النُّسْخة المُتضمِّنة لِحَواشي التَّحقيق؛ مِن الفُروقِ بين النُّسخ، والتَّرجيح بينها، والتَّعليق على ما يحتاج إلى تعليق، وهي هذه النُّسخة.
ب. النُّسْخة الثَّانية: نُسخةٌ مُجردةٌ من جَميع الحَواشي المثبتة في النُّسخة الأولى، وهي أنسب للحفظ.
২২ - আমি পাদটীকাতে (حاشية) মূল গ্রন্থকারের ছাত্র বুরহানুদ্দীন সিবত ইবনুল আজমির বর্ধিত অংশগুলো (زيادات) উল্লেখ করেছি, যা তিনি বৃদ্ধি করেছেন কিংবা পরিপূরক হিসেবে সংযোজন (استدرك) করেছেন। এগুলো পাণ্ডুলিপি 'ঝা'-এর পার্শ্বটীকায় সংরক্ষিত আছে এবং এগুলোর কিছু অংশ মূল কাব্যের ব্যাখ্যাগ্রন্থসমূহেও এসেছে; যেমন আল-বিকায়ি রচিত 'আন-নুয়াকাতুল ওয়াফিয়্যাহ' এবং আস-সাখাভি রচিত 'ফাতহুল মুগিস'।
২৩ - আমি হাদিস লিখন এবং এর নির্ভুলতা রক্ষা (ضبط) সংক্রান্ত কিছু পরিভাষার (مصطلحات) ছবি যুক্ত করেছি, যা মূল গ্রন্থকার পাণ্ডুলিপি 'ত'-তে নিজ হাতে ব্যাখ্যা করেছেন।
২৪ - আমি গ্রন্থটির জন্য দুটি সংস্করণ প্রস্তুত করেছি:
ক. প্রথম সংস্করণ: এটি সেই সংস্করণ যা গবেষণামূলক সম্পাদনার (تحقيق) পাদটীকা (حواشي) সম্বলিত; যার মধ্যে পাণ্ডুলিপিগুলোর মধ্যকার পাঠভেদ, সেগুলোর মধ্যে প্রাধান্য নির্ধারণ (ترجيح) এবং প্রয়োজনীয় ব্যাখ্যা-টিকা (تعليق) অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। এটিই বর্তমান সংস্করণ।
খ. দ্বিতীয় সংস্করণ: এটি প্রথম সংস্করণে উল্লিখিত সকল পাদটীকা (حواشي) বর্জিত একটি সংস্করণ, যা মুখস্থ করার জন্য অধিক উপযোগী।
(খণ্ড: ১)
আলফিয়্যাতুল ইরাকি আত-তাবসিরাতু ওয়াত-তাযকিরাহ - তাকিক আল-কাসিম
(পৃষ্ঠা: ১৩)
تَرجَمة النَّاظِم (1)
اسمُه ونسبُه:هو: الحافظُ النَّاقِدُ الكبيرُ، محدِّثُ الدِّيارِ المصريَّة، زَينُ الدِّين أبو الفضلِ عبد الرَّحيم بن الحسين بن عبد الرَّحمن بن أبي بكر بن إبراهيم، المهرانيُّ المولد، العراقيُّ الأصل، الكرديُّ، الشافعيُّ.
مولدُه:وُلِدَ الحافظ العراقي رحمه الله في جمادى الأولى سنة خمس وعشرين وسبع مئة (725 هـ) بمنشأة المهرانيّ - بين مصر القديمة والقاهرة -، وكان أصلُ أبيه من بلدة يقال لها: رازيان مِن عمل أربل، حيث قَدِمَ والدُه إلى القاهرة وهو صغير.
رِحلتُه وأشهرُ شُيُوخِه:كان الحافظُ العراقيُّ رحمه الله واسِعَ الرِّحلَة في طلب الحديث،
--------------------------------------------
নাজিমের জীবনী (১)
তাঁর নাম ও বংশপরিচয়:তিনি হলেন: মহান হাফিজ (حافظ) ও সমালোচক (ناقد), মিশরীয় ভূখণ্ডের হাদিস বিশারদ (محدث), জয়নুদ্দীন আবুল ফজল আবদুর রহিম বিন আল-হুসাইন বিন আবদুর রহমান বিন আবি বকর বিন ইবরাহিম। তিনি মেহরানে জন্মগ্রহণকারী, ইরাকি বংশোদ্ভূত, কুর্দি এবং শাফেয়ি মাযহাবের অনুসারী।
তাঁর জন্ম:হাফিজ (حافظ) আল-ইরাকি (আল্লাহ তাঁর ওপর রহম করুন) ৭২৫ হিজরির জমাদিউল উলা মাসে প্রাচীন মিসর ও কায়রোর মধ্যবর্তী মানশাত আল-মেহরানি-তে জন্মগ্রহণ করেন। তাঁর পিতার আদি নিবাস ছিল আরবল এলাকার ‘রাজিয়ান’ নামক একটি জনপদ; তাঁর পিতা শৈশবে কায়রোতে আগমন করেন।
তাঁর জ্ঞানার্জন সফর ও প্রসিদ্ধ শিক্ষকগণ:হাফিজ (حافظ) আল-ইরাকি (আল্লাহ তাঁর ওপর রহম করুন) হাদিস অন্বেষণে ব্যাপক সফর করেছিলেন,
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আলফিয়্যাতুল ইরাকি আত-তাবসিরাতু ওয়াত-তাযকিরাহ - তাকিক আল-কাসিম
(পৃষ্ঠা: ১৪)
فدَخَلَ دمشق، وحلب، والحجاز، فأخذ عن كثيرٍ مِن علمائها، وكَتَب الكثير.
قال تلميذه الحافظ ابن حجر رحمهما الله: «رحل إلى دمشق فسمع من ابن الخبَّاز، ومن أبي العبَّاس المرداوي ونحوهما، وعُني بهذا الشَّأن ورحل فيه مرَّاتٍ إلى دمشق، وحلب، والحجاز، وأراد الدُّخول إلى العراق ففَتَرَت همَّتُه مِن خوف الطَّريق، ورَحَلَ إلى الإسكندريَّة، ثم عَزَمَ على التَّوجُّه إلى تونس فلم يُقدَّر له ذلك»
(1).
سَمِعَ صحيحَ البُخاريِّ على القاضي علاء الدِّين علي بن عثمان التُّركماني (ت 750 هـ)، وسَمِعَ صحيحَ مسلم على محمَّد بن إسماعيل ابن الخبَّاز (ت 756 هـ)، وسَمِعَ سننَ أبي داود على أبي الفتح محمَّد بن محمَّد الميدومي (ت 754 هـ)، وأخذَ الفقهَ عن العلَّامة جمال الدِّين الإسنوي (ت 772 هـ).
ومن شيوخه: تقيُّ الدِّين علي بن عبد الكافي السُّبكي الشَّافعي (ت 756 هـ)، والحافظ العلائي (ت 761 هـ)، وغيرهم كثير.
أشهرُ تلاميذه:أخذَ العلمَ عن الحافظِ العراقِيِّ رحمه الله كثيرٌ من العلماء؛ ومن أشهرهم:
ابنه الشَّيخ أبو زرعة أحمد بن عبد الرحيم العراقي (ت 826 هـ)،
--------------------------------------------
অতঃপর তিনি দামেস্ক, আলেপ্পো এবং হিজাজে প্রবেশ করেন। তিনি সেখানকার বহু আলেম থেকে জ্ঞান অর্জন করেন এবং প্রচুর লিপিবদ্ধ করেন।
তাঁর ছাত্র হাফেজ (الحافظ) ইবনে হাজার (আল্লাহ তাঁদের উভয়ের ওপর রহম করুন) বলেন: “তিনি দামেস্কে সফর করেন এবং ইবনুল খাব্বাজ ও আবুল আব্বাস আল-মারদাবি এবং তাঁদের সমপর্যায়ের ব্যক্তিবর্গের নিকট থেকে শ্রবণ করেন। তিনি এই বিষয়ের প্রতি অত্যন্ত মনোযোগী ছিলেন এবং এ উদ্দেশ্যে দামেস্ক, আলেপ্পো ও হিজাজে কয়েকবার সফর করেন। তিনি ইরাকে প্রবেশের ইচ্ছা করেছিলেন, কিন্তু পথের আশঙ্কায় তাঁর সংকল্প শিথিল হয়ে যায়। তিনি আলেকজান্দ্রিয়ায় সফর করেন এবং পরবর্তীতে তিউনিসিয়ায় যাওয়ার সংকল্প করেন, কিন্তু তা তাঁর জন্য নির্ধারিত ছিল না”
(১).
তিনি কাজি আলাউদ্দীন আলী ইবনে উসমান আত-তুর্কিমানির (মৃত্যু: ৭৫০ হিজরি) নিকট সহিহ বুখারি শ্রবণ করেন, মুহাম্মদ ইবনে ইসমাইল ইবনুল খাব্বাজের (মৃত্যু: ৭৫৬ হিজরি) নিকট সহিহ মুসলিম শ্রবণ করেন এবং আবুল ফাতহ মুহাম্মদ ইবনে মুহাম্মদ আল-মাইদুমির (মৃত্যু: ৭৫৪ হিজরি) নিকট সুনান আবু দাউদ শ্রবণ করেন। এছাড়া তিনি আল্লামা জামালুদ্দীন আল-ইসনাভির (মৃত্যু: ৭৭২ হিজরি) নিকট ফিকহ শাস্ত্র গ্রহণ করেন।
তাঁর শিক্ষকদের মধ্যে রয়েছেন: তাকিউদ্দীন আলী ইবনে আব্দুল কাফি আস-সুবকি আশ-শাফেয়ি (মৃত্যু: ৭৫৬ হিজরি), হাফেজ (الحافظ) আল-আলাই (মৃত্যু: ৭৬১ হিজরি) এবং আরও অনেকে।
তাঁর প্রসিদ্ধ ছাত্রগণ:হাফেজ (الحافظ) ইরাকি (রাহিমাহুল্লাহ) থেকে বহু আলেম জ্ঞান অর্জন করেছেন; তাঁদের মধ্যে সর্বাধিক প্রসিদ্ধ হলেন:
তাঁর পুত্র শায়খ আবু জুরআহ আহমদ ইবনে আব্দুর রহিম আল-ইরাকি (মৃত্যু: ৮২৬ হিজরি),
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আলফিয়্যাতুল ইরাকি আত-তাবসিরাতু ওয়াত-তাযকিরাহ - তাকিক আল-কাসিম
(পৃষ্ঠা: ১৫)
والحافظ نور الدِّين علي بن أبي بكر الهيثمي (ت 802 هـ)، والشَّيخ تقي الدِّين أبو الطَّيِّب محمَّد بن أحمد المكِّي الحسني الفاسي (ت 832 هـ)، وبرهان الدِّين إبراهيم بن محمَّد الحلبي المعروف بسبط ابن العجمي (ت 841 هـ)، والحافظ أبو الفضل أحمد بن علي ابن حجر العَسقلاني (ت 852 هـ)، وخَلقٌ كثيرٌ غيرُهم.
ثناءُ العُلَماء عليه:قال تقي الدِّين الفاسيّ رحمه الله: «كان حافظاً متقناً، عارفاً بفنون الحديث، وبالفقه، والعربيَّة، وغير ذلك
… ، وكان كثير الفضائل والمحاسن متواضعاً ظريفاً»
(1).
وقال ابن الجزريِّ رحمه الله: «بَرَعَ في الحديث متناً وإسناداً، وتفقَّه على شيخنا الإسنوي وغيره، وكتب وألَّف، وجمع وخرَّج، وانفرد في وقته»
(2).
وقال الحافظ شهاب الدِّين ابن حجي رحمه الله: «كان محدِّث الدِّيار المصريةِ، انتهت إليه معرفة علم الحديث، وكتب وجمع وصنَّف»
(3).
وقال ابن قاضي شهبة رحمه الله: «الحافظ الكبير، المفيد المتقن، المحرر النَّاقد، محدِّث الدِّيار المصريَّة، ذو التَّصانيف المفيدة»
(4).
--------------------------------------------
এবং হাফিজ (حافظ) নুরউদ্দীন আলি ইবনে আবি বকর আল-হাইসামি (মৃ. ৮০২ হিজরি), শায়খ তাকিউদ্দীন আবুত্তাইয়িব মুহাম্মদ ইবনে আহমদ আল-মাক্কি আল-হাসানি আল-ফাসি (মৃ. ৮৩২ হিজরি), বুরহানুদ্দীন ইবরাহিম ইবনে মুহাম্মদ আল-হালাবি, যিনি সিবত ইবনুল আজামি নামে পরিচিত (মৃ. ৮৪১ হিজরি), হাফিজ (حافظ) আবুল ফজল আহমদ ইবনে আলি ইবনে হাজার আল-আসকালানি (মৃ. ৮৫২ হিজরি) এবং তাঁদের বাইরে আরও অসংখ্য ব্যক্তিবর্গ।
তাঁর সম্পর্কে আলেমগণের প্রশংসা:তাকিউদ্দীন আল-ফাসি (রহিমাহুল্লাহ) বলেছেন: «তিনি ছিলেন একজন হাফিজ (حافظ) ও সুনিপুণ (متقن), হাদিস শাস্ত্রের বিভিন্ন শাখা, ফিকহ, আরবি ভাষা এবং অন্যান্য বিষয়ে বিজ্ঞ
… , এবং তিনি বহু গুণ ও বৈশিষ্ট্যের অধিকারী, বিনয়ী ও মার্জিত ছিলেন»
(১)।
ইবনুল জাজারি (রহিমাহুল্লাহ) বলেছেন: «তিনি হাদিসের মতন (متن) ও ইসনাদ (إسناد) উভয় ক্ষেত্রে পারদর্শিতা অর্জন করেছিলেন এবং আমাদের শায়খ আল-ইসনাভি ও অন্যদের নিকট ফিকহ অধ্যয়ন করেছেন। তিনি লিখেছেন ও গ্রন্থনা করেছেন, সংগ্রহ ও তাখরিজ (تخريج) করেছেন এবং নিজ সময়ে অদ্বিতীয় ছিলেন»
(২)।
হাফিজ (حافظ) শিহাবুদ্দীন ইবনে হাজ্জি (রহিমাহুল্লাহ) বলেছেন: «তিনি ছিলেন মিশর অঞ্চলের মুহাদ্দিস (محدث), হাদিস শাস্ত্রের জ্ঞান তাঁর নিকটে এসে সমাপ্ত হয়েছিল এবং তিনি লিখেছেন, সংগ্রহ করেছেন ও গ্রন্থনা করেছেন»
(৩)।
ইবনে কাজি শুহবা (রহিমাহুল্লাহ) বলেছেন: «সুবিখ্যাত হাফিজ (حافظ), অধিক উপকারী ও সুনিপুণ (متقن), সূক্ষ্ম গবেষক (محرر) ও সমালোচক (ناقد), মিশর অঞ্চলের মুহাদ্দিস (محدث), যিনি বহু উপকারী গ্রন্থের রচয়িতা»
(৪)।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আলফিয়্যাতুল ইরাকি আত-তাবসিরাতু ওয়াত-তাযকিরাহ - তাকিক আল-কাসিম
(পৃষ্ঠা: ১৬)
وقال ابن فهد المكيُّ رحمه الله: «الإمام الأوحد، العلَّامة الحُجَّة، الحبر النَّاقد، عمدة الأنام، حافظ الإسلام، فريد دهره ووحيد عصره، من فاق بالحفظ والإتقان في زمانه، وشَهِدَ له بالتَّفَرُّدِ في فَنِّه أئمَّةُ عصرِه وأوانِه»
(1).
وقال العزُّ ابن جماعة رحمه الله: «كلُّ مَن يَدَّعِي الحديثَ بالدِّيارِ المصرية سواه فهو مُدَّعٍ»
(2).
أشهرُ مؤلَّفاته:1 - الألفيَّة في علوم الحديث المُسمَّاة بـ «التَّبصرة والتَّذكرة في علوم الحديث»، وهي كتابنا هذا.
2 - «تقريب الأسانيد وترتيب المسانيد».
3 - «التَّقييد والإيضاح شرح مقدمة ابن الصَّلاح».
4 - «شرح التَّبصرة والتَّذكرة في علوم الحديث».
5 - «شرح سنن التِّرمذي».
6 - «طرح التَّثريب في شرح التَّقريب»، وهو شرح للكتاب السَّابق ولم يكمله.
7 - «المُغني عن حمل الأسفار في الأسفار في تخريج ما في الإحياءِ من الآثارِ».
--------------------------------------------
ইবনে ফাহাদ আল-মাক্কি (রহিমাহুল্লাহ) বলেছেন: «অনন্য ইমাম, প্রাজ্ঞ দলীল (حجة), সূক্ষ্মদর্শী (ناقد) পণ্ডিত, সৃষ্টির নির্ভরযোগ্য স্তম্ভ, ইসলামের হাফিজ (حافظ), তাঁর যুগের অদ্বিতীয় ও সময়ের একক ব্যক্তিত্ব; যিনি তাঁর সময়ে হিফজ ও নিপুণতায় (إتقان) সবাইকে ছাড়িয়ে গিয়েছিলেন এবং তাঁর সমসাময়িক ইমামগণ স্বীয় শাস্ত্রে তাঁর অনন্যতার সাক্ষ্য দিয়েছেন»
(১).
এবং ইজ্জ ইবনে জামাআহ (রহিমাহুল্লাহ) বলেছেন: «মিসর ভূখণ্ডে তিনি ব্যতীত অন্য যারা হাদিসের দাবি করে, তারা কেবলই দাবিদার»
(২).
তাঁর প্রসিদ্ধ রচনাবলী:১ - আলফিয়্যাহ ফি উলুমিল হাদিস, যার নাম «আত-তাবসিরাহ ওয়াত তাজকিরাহ ফি উলুমিল হাদিস», এবং এটিই আমাদের এই গ্রন্থ।
২ - «তকরিবুল আসানিদ ওয়া তারতিবুল মাসানিদ»।
৩ - «আত-তাকিয়িদ ওয়াল ইজাহ শারহু মুকাদ্দিমাতি ইবনিস সালাহ»।
৪ - «শারহুত তাবসিরাহ ওয়াত তাজকিরাহ ফি উলুমিল হাদিস»।
৫ - «শারহু সুনানে তিরমিজি»।
৬ - «তরাহুত তাসরিব ফি শারহিত তাকরিব», এটি পূর্বোক্ত গ্রন্থের ব্যাখ্যা যা তিনি সমাপ্ত করেননি।
৭ - «আল-মুগনি আন হামলিল আসফার ফিল আসফার ফি তাখরিজি মা ফিল ইহয়ায়ি মিনাল আসার»।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আলফিয়্যাতুল ইরাকি আত-তাবসিরাতু ওয়াত-তাযকিরাহ - তাকিক আল-কাসিম
(পৃষ্ঠা: ১৭)
8 - «نظم الدُّرر السَّنِيَّة في السِّير الزَّكِيَّة»، وهي ألفيَّة في السِّيرة النَّبوية.
وغيرها من المُصنَّفات
(1).
وفاتُه:توفِّي رحمه الله في الثَّامن من شهر شعبان، سنة ست وثمان مئة (806 هـ)، بعد خروجه من الحمام، ودفن في تربة خارج باب البرقية بمصر، فرحمه اللَّه وغفر له، وجزاه عن الإسلام والمسلمين خير الجزاء.
--------------------------------------------
৮ - ‘নাজমুদ দুরারিস সানিয়্যাহ ফিস সিয়ারিজ জাকিয়্যাহ’, যা সিরাতে নববীর ওপর রচিত একটি আলফিয়্যাহ (ألفية)।
এবং অন্যান্য গ্রন্থসমূহ
(১)।
তাঁর ইন্তেকাল:তিনি (রহিমাহুল্লাহ) ৮০৬ হিজরি সনের ৮ই শাবান গোসলখানা থেকে বের হওয়ার পর ইন্তেকাল করেন এবং মিশরের বাবুল বারকিয়্যাহর বাইরে একটি গোরস্থানে তাঁকে দাফন করা হয়। আল্লাহ তাঁর প্রতি রহমত বর্ষণ করুন ও তাঁকে ক্ষমা করুন এবং ইসলাম ও মুসলিমদের পক্ষ থেকে তাঁকে সর্বোত্তম প্রতিদান দান করুন।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আলফিয়্যাতুল ইরাকি আত-তাবসিরাতু ওয়াত-তাযকিরাহ - তাকিক আল-কাসিম
(পৃষ্ঠা: ১৮)
اسمُ الكتابسمَّى النَّاظم أرجوزته بـ «التَّبصرة والتَّذكرة»، وكثيراً ما قُيِّدَ هذا الاسمُ بما يدلُّ على الفنِّ المنظوم فيه، فيقال: «التَّبصرة والتَّذكرة في علوم الحديث»، وقد يُضاف النَّظمُ إلى صاحبه اختِصاراً فيُقال: «ألفيَّة العراقي»، ويقال أيضاً: «الألفيَّة في علوم الحديث»، وكلُّ هذه التَّسميات وردَت في النُّسَخِ الخطِّيَّة وخواتِيمها، وفي الإجازات المُلحَقة بها، وكذلك في الشُّرُوحَات، وكتبِ التَّراجم والفَهارِس
(1)، ونحوِها مِن مَظانِّ معرفةِ اسمِ الكتاب.
وقد أشار النَّاظم رحمه الله إليه في نظمِه، حيث قال في البيت الخامس:
نَظَمْتُهَا تَبْصِرَةً لِلْمُبْتَدِي
… تَذْكِرَةً لِلْمُنْتَهِي وَالمُسْنِدِ
ونصَّ عليه - أيضاً - في إجازته لتلميذه الحافظ ابن حجر رحمهما الله، فقال: «وقرأ عليَّ الألفيَّة المُسمَّاة: بـ (التَّبصرة والتَّذكرة) مِنْ نظمي، وقرأ عليَّ جميعَ شرحي عليها قراءة بحثٍ وتأمُّل، ونظرٍ وتعقُّل، في مجالس آخرها في العشر الأخير من شهر رمضان، سنة ثمان وتسعين وسبع مئة»
(2).
--------------------------------------------
গ্রন্থের নামনাজিম (ناظم) তাঁর আরজুজা (أرجوزة) বা কাব্যগ্রন্থটিকে ‘আত-তাবসিরাহ ওয়াত-তাদকিরাহ’ নামে অভিহিত করেছেন। এই নামটিকে প্রায়শই সেই বিষয়ের পরিচায়ক শব্দ দ্বারা সীমাবদ্ধ করা হয় যা এতে কাব্য আকারে বর্ণিত হয়েছে; ফলে বলা হয়: ‘আত-তাবসিরাহ ওয়াত-তাদকিরাহ ফী উলুমিল হাদিস’। সংক্ষিপ্তাকারে কাব্যটিকে এর রচয়িতার দিকে নিসবত করে ‘আলফিয়াতুল ইরাকি’ বলা হয় এবং একে ‘আল-আলফিয়্যাহ ফী উলুমিল হাদিস’-ও বলা হয়ে থাকে। এই সকল নামকরণই হস্তলিখিত পাণ্ডুলিপি (نسخة خطية) ও তার সমাপ্তি অংশে, এর সাথে সংযুক্ত অনুমতিপত্রসমূহে (إجازة), তদ্রূপ ব্যাখ্যাগ্রন্থসমূহ (شرح), জীবনীগ্রন্থ (ترجمة) ও নির্ঘণ্ট (فهرس) এবং গ্রন্থের নাম জানার অনুরূপ উৎসসমূহে উল্লেখ পাওয়া গেছে
(১)।
নাজিম (রহিমাহুল্লাহ) তাঁর কাব্যে এর প্রতি ইঙ্গিত করেছেন, যেখানে তিনি পঞ্চম চরণে বলেছেন:
আমি এটি রচনা করেছি প্রারম্ভিক শিক্ষার্থীর জন্য চক্ষুদানকারী (تبصرة) … এবং উচ্চতর শিক্ষার্থী ও সনদ বর্ণনাকারী (المسند)-এর জন্য স্মারক (تذكرة) হিসেবে।
তিনি তাঁর ছাত্র হাফিজ ইবনে হাজার (রহিমাহুমাল্লাহ)-এর জন্য লিখিত অনুমতিপত্রেও (إجازة) এটি স্পষ্টভাবে উল্লেখ করেছেন। সেখানে তিনি বলেন: “তিনি আমার নিকট আমার স্বরচিত ‘আত-তাবসিরাহ ওয়াত-তাদকিরাহ’ নামক আলফিয়্যাহটি পাঠ করেছেন এবং তিনি এর ওপর আমার পূর্ণ ব্যাখ্যাগ্রন্থটি (شرح) গবেষণা, গভীর চিন্তা, পর্যবেক্ষণ ও বিচার-বুদ্ধির সাথে পাঠ করেছেন। এই পাঠদান বিভিন্ন মজলিসে (مجلس) সম্পন্ন হয়েছে যার শেষটি ছিল সাতশত আটানব্বই হিজরি সনের রমজান মাসের শেষ দশকে”
(২)।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আলফিয়্যাতুল ইরাকি আত-তাবসিরাতু ওয়াত-তাযকিরাহ - তাকিক আল-কাসিম
(পৃষ্ঠা: ১৯)
كما نصَّ الحافظُ ابن حَجَر رحمه الله على اسم الكتاب في إجازته لعبد اللَّه بن زين الدِّين خلف النابتي في النسخة (و)، فقال: «
… عرض عليَّ جميع التَّبصرة والتَّذكرة في علوم الحديث».
وكذلك نصَّ عليه ابن المُصنِّف - أحمد بن عبد الرحيم العراقي - في إجازته لأبي العباس أحمد بن أبي بكر البُوصِيري الشَّافعي في النسخة (هـ)، فقال: «عرض عليَّ الشَّيخ الفقيه، العالم البارع، المحدِّث الفاضل الكامل، ذو الفوائد الفريدة، والفرائد العديدة، شهاب الدِّين، مفيد الطَّالبين، أبو العباس أحمد بن أبي بكر بن إسماعيل البُوصِيري الشَّافعي، نفع اللَّه بفوائده، وأجراه على أجمل عوائده، جميع هذه الألفيَّة المُسمَّاة: بالتَّبصرة والتَّذكرة في علوم الحديث، نظم سيدي الذي أمتع اللَّه بحياته».
وكذلك ذكره ابن فهد المكيُّ رحمه الله في لحظ الألحاظ فقال: «والألفيَّة المُسمَّاة: بالتَّبصرة والتَّذكرة في علم الحديث»
(1).
ونصَّ عليه السَّخاويُّ رحمه الله في فتح المغيث فقال: «وَأُشِيرَ بـ (التَّبْصِرَةِ وَالتَّذْكِرَةِ) إِلَى لَقَبِ هَذِهِ المَنْظُومَةِ»
(2).
ونصَّ عليه - أيضاً - زكريا الأنصاري رحمه الله في شرحه على الألفيَّة فقال: «فإنَّ ألْفِيَّةَ علمِ الحديثِ المُسمَّاة: بـ (التَّبصرةِ والتَّذكرةِ)
… »
(3).
--------------------------------------------
যেমন হাফিজ (الحافظ) ইবনে হাজার (রহিমাহুল্লাহ) 'ওয়াও' (و) পাণ্ডুলিপিতে আবদুল্লাহ ইবনে জাইন উদ্দিন খালাফ আল-নাবিতির জন্য প্রদত্ত তাঁর অনুমতিপত্রে (إجازة) কিতাবটির নাম স্পষ্টভাবে উল্লেখ করেছেন। তিনি বলেন: «
… তিনি আমার নিকট হাদিস শাস্ত্রের (علوم الحديث) 'আত-তাবসিরাহ ওয়াত তাজকিরাহ' নামক পুরো গ্রন্থটি পেশ করেছেন।»
একইভাবে গ্রন্থকারের পুত্র—আহমাদ ইবনে আবদুর রহিম আল-ইরাকি—'হা' (هـ) পাণ্ডুলিপিতে আবুল আব্বাস আহমাদ ইবনে আবি বকর আল-বুসিরি আশ-শাফিয়ির জন্য প্রদত্ত তাঁর অনুমতিপত্রে (إجازة) এটি উল্লেখ করেছেন। তিনি বলেন: «ফকিহ (الفقيه) শায়খ, প্রাজ্ঞ আলিম (العالم), গুণী ও পূর্ণতাপ্রাপ্ত হাদিস বিশারদ (المحدث), অনন্য বৈশিষ্ট্যমণ্ডিত ও প্রচুর উপকারের আধার, শিহাবুদ্দিন, শিক্ষার্থীদের জন্য পরম হিতাকাঙ্ক্ষী, আবুল আব্বাস আহমাদ ইবনে আবি বকর ইবনে ইসমাইল আল-বুসিরি আশ-শাফিয়ি—আল্লাহ যেন তাঁর উপকারের দ্বারা সকলকে ধন্য করেন এবং তাঁর ওপর তাঁর সুন্দর অনুগ্রহসমূহ বজায় রাখেন—তিনি আমার নিকট হাদিস শাস্ত্রের (علوم الحديث) 'আত-তাবসিরাহ ওয়াত তাজকিরাহ' নামক এই পুরো আলফিয়্যাহ (الألفية) পেশ করেছেন, যা আমার অভিভাবকের রচিত কাব্য (نظم), আল্লাহ যাঁর হায়াত দ্বারা আমাদের উপকৃত করুন।»
তেমনিভাবে ইবনে ফাহদ আল-মাক্কি (রহিমাহুল্লাহ) 'লাহজুল আলহাজ' গ্রন্থে এটি উল্লেখ করে বলেন: «এবং হাদিস শাস্ত্রের (علم الحديث) 'আত-তাবসিরাহ ওয়াত তাজকিরাহ' নামক আলফিয়্যাহ (الألفية)»
(১)。
সাখাভি (রহিমাহুল্লাহ) 'ফাতহুল মুগিস' গ্রন্থে এটি স্পষ্টভাবে উল্লেখ করেছেন। তিনি বলেন: «'আত-তাবসিরাহ ওয়াত তাজকিরাহ' দ্বারা এই কাব্যগ্রন্থের (منظومة) উপাধিকে নির্দেশ করা হয়েছে»
(২)。
জাকারিয়া আল-আনসারি (রহিমাহুল্লাহ) তাঁর আলফিয়্যাহর ব্যাখ্যাগ্রন্থে এটি উল্লেখ করে বলেছেন: «নিশ্চয়ই হাদিস শাস্ত্রের (علم الحديث) আলফিয়্যাহ (الألفية), যার নাম 'আত-তাবসিরাহ ওয়াত তাজকিরাহ'
… »
(৩)。
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আলফিয়্যাতুল ইরাকি আত-তাবসিরাতু ওয়াত-তাযকিরাহ - তাকিক আল-কাসিম
(পৃষ্ঠা: ২০)
وقال - أيضاً -: «وأشارَ بـ (التَّبصرةِ والتَّذكرةِ) إلى اسْمِ مَنْظُومَتِهِ»
(1).
وقد ورد اسم الكتابِ في النُّسخ الخطِّيَّة على النَّحو الآتي:
- «التَّبصرة والتَّذكرة في علوم الحديث» ورد في أ، ج، ف.
- «التَّبصرة والتَّذكرة» ورد في خواتيم أ، ك.
- «الألفيَّة في علوم الحديث» ورد في هـ.
- «الألفيَّة في علم الحديث» ورد في ي، س.
- «ألفيَّة العراقي في مصطلح الحديث» ورد في ك.
- «ألفيَّة العراقي في علم الحديث» ورد في ل.
--------------------------------------------
এবং তিনি আরও বলেন—: “তিনি ‘আত-তাবসিরাহ ওয়াত-তাযকিরাহ’ দ্বারা তাঁর কাব্যগ্রন্থের (منظومة) নামের প্রতি ইঙ্গিত করেছেন”
(১).
পাণ্ডুলিপিগুলোতে গ্রন্থটির নাম নিম্নোক্ত উপায়ে এসেছে:
- “হাদিস বিজ্ঞানে (علوم الحديث) আত-তাবসিরাহ ওয়াত-তাযকিরাহ” এটি আলিফ, জিম ও ফা পাণ্ডুলিপিতে এসেছে।
- “আত-তাবসিরাহ ওয়াত-তাযকিরাহ” এটি আলিফ ও কাফ পাণ্ডুলিপির শেষাংশে এসেছে।
- “হাদিস বিজ্ঞানে (علوم الحديث) আল-আলফিয়্যাহ” এটি হা পাণ্ডুলিপিতে এসেছে।
- “হাদিস বিদ্যায় (علم الحديث) আল-আলফিয়্যাহ” এটি ইয়া ও সিন পাণ্ডুলিপিতে এসেছে।
- “হাদিস পরিভাষায় (مصطلح الحديث) আলফিয়্যাতুল ইরাকি” এটি কাফ পাণ্ডুলিপিতে এসেছে।
- “হাদিস বিদ্যায় (علم الحديث) আলফিয়্যাতুল ইরাকি” এটি লাম পাণ্ডুলিপিতে এসেছে।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আলফিয়্যাতুল ইরাকি আত-তাবসিরাতু ওয়াত-তাযকিরাহ - তাকিক আল-কাসিম
(পৃষ্ঠা: ২১)
النُّسَخُ المُعتَمَدة في التَّحقيقاعتَمدتُ فِي تحقيقِ هذا النَّظمِ على سبعَ عشرَة نسخةً خطِّيَّةً، ثمانٌ منها لمتنِ الألفِيَّة مُجرَّداً، وبقيَّتُها نسخٌ ضمنَ شرح النَّاظمِ، وهي حسبَ تاريخِ نسخِها على التَّرتيب الآتِي:
أوَّلاً: نُسَخ متن الألفِيَّة:
النُّسْخَة الأولى، ورمزتُ لها بـ «أ»:وهي محفوظة بالمكتَبَةِ العثمانية بحلب - سوريا - برقم (2280)، وهي ضمن مكتبة الأسد بدمشق.
عدد لوحاتِها: (50) لوحةً.
تاريخ نسخِها: الأحد (15) من شهر شَعْبَان، سَنَةَ (775 هـ).
ناسخُهَا: عبد اللَّه بن أحمد بن عَبْدِ الرَّحمن اليَمَنِي الجَبَرْتِي.
نوع الخطِّ: نسخي معتاد.
خصائصها:
1 - نسخةٌ تامَّةٌ.
2 - بعضُ كلماتِها مشكولةٌ أحياناً، وقد يَترُكُ النَّاسِخُ نقط الحروف.
3 - مُيِّزَت عناوينُ أبوابِها بخطٍّ كبير.
তাহক্বীকে (تحقيق) নির্ভরকৃত পাণ্ডুলিপিসমূহএই কাব্যের তাহক্বীকে (تحقيق) আমি সতেরোটি পাণ্ডুলিপির ওপর নির্ভর করেছি; যার মধ্যে আটটি ছিল আলফিয়্যাহর মূলপাঠের (متن) জন্য এবং অবশিষ্টগুলো গ্রন্থকারের ব্যাখ্যার (شرح) অন্তর্ভুক্ত। অনুলিপি তৈরির তারিখ অনুযায়ী সেগুলো নিম্নোক্ত ক্রমানুসারে সাজানো হলো:
প্রথমত: আলফিয়্যাহর মূলপাঠের (متن) পাণ্ডুলিপিসমূহ:
প্রথম পাণ্ডুলিপি, যাকে আমি «আলিফ» (أ) দ্বারা চিহ্নিত করেছি:এটি সিরিয়ার আলেপ্পোর ওসমানিয়া লাইব্রেরিতে সংরক্ষিত (সংগ্রহ নম্বর: ২২৮০) এবং এটি দামেস্কের আসাদ লাইব্রেরির অন্তর্ভুক্ত।
এর পৃষ্ঠা সংখ্যা: (৫০) পৃষ্ঠা।
অনুলিপি তৈরির তারিখ: রবিবার, ১৫ই শাবান, ৭৭৫ হিজরি।
অনুলিপিকারক: আবদুল্লাহ ইবনে আহমদ ইবনে আবদুর রহমান আল-ইয়ামানি আল-জাবারতি।
লিপিশৈলীর ধরন: সাধারণ নাসখ (نسخي) লিপি।
এর বৈশিষ্ট্যসমূহ:
১ - এটি একটি পূর্ণাঙ্গ (تام) পাণ্ডুলিপি।
২ - এর কিছু শব্দ মাঝে মাঝে হরকতযুক্ত (مشكولة) করা হয়েছে, তবে কখনো কখনো অনুলিপিকারক বর্ণের নুকতা বাদ দিয়েছেন।
৩ - এর অধ্যায়ের শিরোনামগুলোকে বড় হরফে স্বতন্ত্রভাবে চিহ্নিত করা হয়েছে।
(খণ্ড: ১)
আলফিয়্যাতুল ইরাকি আত-তাবসিরাতু ওয়াত-তাযকিরাহ - তাকিক আল-কাসিম
(পৃষ্ঠা: ২২)
4 - مقابلَةٌ ومصحَّحةٌ على الأصلِ المنقولِ بخطِّ النَّاظم.
5 - وَرَدَ في آخرِهَا نَقْلٌ لِقَيدِ فَراغِ النَّاظِم من كتابة منظومته، وفيه أنَّه فَرَغَ من تَسوِيد نَظمِه في الثَّالث من شهر جُمَادَى الآخرة سَنَةَ (768 هـ) بالمدينةِ الشَّريفة، وأكملَ تَبْيِيضَها بعد ذلك في الرَّابع عشر من شهرِ رجب منَ السَّنة نفسها.
6 - نَقَلَ النَّاسخُ من نسخةِ الأصلِ على هوامشِ الأبيات تواريخَ لإضافة النَّاظمِ بعضَ الأبياتِ من المسوَّدة
(1)، وهي تَدُلُّ على اعتناءِ النَّاظم بتنقيحِ نَظمِه بعدَ تبييضِه سنة (768 هـ).
7 - اعتُنِي بمقابلَة هذه النُّسخةِ على أصلِ النَّاظم، ومع ذلك فقد شَابها كثيرٌ مِنَ التَّصحيفِ الذي ظَهَرَ بالمقابلة على النُّسَخِ الأخرى.
النُّسْخَة الثَّانية، ورمزتُ لها بـ «ب»:وهي محفوظة بمَكْتَبَةِ دار الكتب المصريَّة بالقاهرة - مصر - برقم (مصطلح 403).
عدد لوحاتِها: (24) لوحةً.
تاريخ نسخِها: الأربِعَاء (18) من شَهْرِ شَوَّال، سَنَةَ (795 هـ).
ناسخها: محمَّد بن يَحيَى بن محمَّد بن الحَسَنِ الأنْصَارِي الشَّافِعِي المَعروفُ بابن الرَّشِيد.
--------------------------------------------
4 - এটি লেখকের স্বহস্তে লিখিত মূল কপি থেকে মিলিয়ে সংশোধন করা হয়েছে।
5 - এর শেষভাগে লেখকের কাব্যগ্রন্থ রচনার সমাপ্তিকালীন একটি নোটের অনুলিপি রয়েছে। এতে উল্লেখ আছে যে, তিনি ৭৬৮ হিজরি সনের ৩রা জুমাদাল আখিরায় পবিত্র মদিনায় তাঁর কাব্যের খসড়া রচনার কাজ সম্পন্ন করেছেন এবং এর পরবর্তী সময়ে একই বছরের ১৪ই রজব তারিখে এর চূড়ান্ত পরিচ্ছন্ন অনুলিপি প্রস্তুত করেছেন।
6 - লিপিকার মূল কপি থেকে কবিতার পার্শ্বটীকায় লেখকের খসড়া
(1) থেকে কিছু কবিতা যোগ করার তারিখসমূহ অনুলিপি করেছেন; যা ৭৬৮ হিজরিতে চূড়ান্ত অনুলিপি করার পরেও লেখকের স্বীয় কাব্য পরিমার্জনে বিশেষ যত্নের পরিচয় দেয়।
7 - এই কপিটি লেখকের মূল কপির সাথে মিলিয়ে দেখার ব্যাপারে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে, তা সত্ত্বেও এতে প্রচুর ভুল পাঠ (تصحيف) পরিলক্ষিত হয় যা অন্যান্য কপির সাথে তুলনামূলক পর্যালোচনার মাধ্যমে প্রকাশ পেয়েছে।
দ্বিতীয় পাণ্ডুলিপি, যেটিকে আমি «বা» প্রতীক দ্বারা চিহ্নিত করেছি:এটি মিশরের কায়রোতে অবস্থিত দারুল কুতুবিল মিসরিয়্যাহ লাইব্রেরিতে সংরক্ষিত রয়েছে - যার নম্বর (পরিভাষা ৪০৩)।
এর পৃষ্ঠা সংখ্যা: (২৪)টি ফোলিও।
অনুলিপি করার তারিখ: বুধবার, (১৮)ই শাওয়াল, ৭৯৫ হিজরি।
লিপিকার: মুহাম্মদ বিন ইয়াহইয়া বিন মুহাম্মদ বিন আল-হাসান আল-আনসারি আশ-শাফেয়ি, যিনি ইবনুর রাশিদ নামে পরিচিত।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আলফিয়্যাতুল ইরাকি আত-তাবসিরাতু ওয়াত-তাযকিরাহ - তাকিক আল-কাসিম
(পৃষ্ঠা: ২৩)
نوع الخطِّ: نسخي جَميلٌ ووَاضِح.
خصائصها:
1 - نسخةٌ تامَّةٌ، ومُتقَنَةٌ.
2 - غالبُ كلماتِها مشكولة.
3 - منقولة من نسخةٍ نُقِلَت من الأصلِ الذي بخطِّ النَّاظم، وقَدْ قُرِئتْ عليه، وعليها خطُّهُ في النِّصف من شوَّال من سنة (779 هـ).
4 - عَلَى أوَّلِ وَرَقَةٍ مِنها بلاغُ قراءة على المؤلِّف، وفي أسفلها قَيدُ قِراءَةٍ مِنَ النَّاسِخِ على النَّاظِم طُمِسَ بعضُها، وظَهَرَ منها ما يدلُّ على خطِّه المَعرُوف.
5 - وَرَدَ في آخرِهَا نَقْلٌ لِقَيدِ فَراغِ النَّاظِم من كتابة نظمه، فيه أنَّه فَرَغَ من تَسوِيده في الثَّالث من جُمَادَى الآخرة سَنَةَ (768 هـ) بالمَدِينَةِ الشَّرِيفَة، وأكمَلَ تَبْيِيضَها بعد ذلك في الرَّابع عَشَرَ مِن شَهرِ رَجَبٍ مِنَ السَّنَةِ نَفسِها.
6 - عليها تصحيحات، وتَعلِيقَاتٌ في بيان معاني بعض الأبيات.
النُّسخَةُ الثَّالثة، ورمزتُ لها بِـ «ج»:وهي محفوظةٌ في مكتبةِ الغَازِي خسرو بالبوسنة، برقم (855).
عدد لوحاتِها: (31) لوحةً.
تاريخ نسخِها: (19) من شهر ذي القَعْدَةِ، سَنَةَ (796 هـ).
লিপির ধরন: সুন্দর ও স্পষ্ট নাসখ লিপি।
এর বৈশিষ্ট্যসমূহ:
১ - একটি পূর্ণাঙ্গ (نسخة تامة) ও নিখুঁত (متقنة) অনুলিপি।
২ - এর অধিকাংশ শব্দই হরকতযুক্ত (مشكولة)।
৩ - এটি এমন একটি অনুলিপি থেকে সংগৃহীত যা মূল কাব্যকারের স্বহস্তে লিখিত মূল পাণ্ডুলিপি (أصل) থেকে অনুলিপি করা হয়েছিল। এটি তাঁর সামনে পাঠ (قراءة) করা হয়েছে এবং এতে ৭৭৯ হিজরি সালের শাওয়াল মাসের মাঝামাঝি সময়ে তাঁর স্বহস্তাক্ষর রয়েছে।
৪ - এর প্রথম পাতায় লেখকের কাছে পাঠ সমাপনের ঘোষণা (بلاغ قراءة) রয়েছে। এর নিচের অংশে লিপিকার কর্তৃক কাব্যকারের নিকট পাঠের একটি নোট (قيد قراءة) রয়েছে যার কিছু অংশ মুছে গেছে, তবে যা অবশিষ্ট আছে তা তাঁর পরিচিত হস্তাক্ষরের প্রমাণ দেয়।
৫ - এর শেষে কাব্যকারের কাব্য রচনার সমাপ্তি নোটের একটি উদ্ধৃতি রয়েছে। এতে উল্লেখ আছে যে, তিনি ৭৬৮ হিজরি সালের ৩রা জুমাদাল আখিরায় পবিত্র মদিনায় এর খসড়া (تسويد) সম্পন্ন করেন এবং একই বছরের ১৪ই রজব তারিখে এর চূড়ান্ত অনুলিপি (تبييض) সম্পন্ন করেন।
৬ - এতে কিছু সংশোধন (تصحيحات) এবং কিছু পঙক্তির অর্থ বর্ণনায় টীকা-টিপ্পনী (تعليقات) রয়েছে।
তৃতীয় অনুলিপি, যাকে আমি «জিম» দ্বারা চিহ্নিত করেছি:এটি বসনিয়ার গাজী খুসরো লাইব্রেরিতে ৮৫৫ নম্বরে সংরক্ষিত আছে।
এর পত্র সংখ্যা: (৩১)টি পত্র (لوحة)।
এর অনুলিপি করার তারিখ: (১৯) জিলকদ, বছর (৭৯৬ হিজরি)।
(খণ্ড: ১)
আলফিয়্যাতুল ইরাকি আত-তাবসিরাতু ওয়াত-তাযকিরাহ - তাকিক আল-কাসিম
(পৃষ্ঠা: ২৪)
ناسخها: تلميذ النَّاظم عُبادة المالكي الأنصاري
(1)، كما جاء ذلك في أوَّلِها.
نوع الخطِّ: نسخي جَميلٌ ووَاضِح.
خصائصُها:
1 - نسخةٌ جيِّدة، لكن وقع فيها خَرْمٌ من وسطها بمقدارِ ورقة، من البيت (202) إلى البيت (236).
2 - جَمِيعُ كَلِماتِها مشكولَةٌ.
3 - مُيِّزَت الأبوابُ بالحُمْرَةِ، وكذلك ما كان من زَوائدِ العراقي على ابنِ الصَّلاح ممَّا صَدَّرَهُ بـ «قُلْتُ».
4 - يُبَيِّنُ النَّاسِخُ ما صَحَّ بوجهينِ في ضبطِ بعض الكلمات مُعْلِماً عَلَيْهِ بكلمة «مَعاً».
5 - على النُّسخة تَصْحِيحَاتٌ، وَبَلاغاتُ سماعٍ وَمُقابلةٍ، وجاء في ختامها: «بَلَغَ مُقَابَلَةً جَهْدَ الطَّاقَةِ».
6 - في أوائلها تَعليقاتٌ نفيسةٌ - بغير خطِّ النَّاسخ - في شرح الأبياتِ، بعضُها للنَّاظِم يُرمَزُ لها أَحياناً (ع ق)
(2)، وأحياناً تُختَمُ
--------------------------------------------
অনুলিপিকার (ناسخ): মূল রচয়িতার (ناظم) ছাত্র উবাদাহ আল-মালিকি আল-আনসারি
(১), যেমনটি এর শুরুতে উল্লেখ করা হয়েছে।
লিপির ধরন: সুন্দর ও স্পষ্ট নাসখ (نسخي) লিপি।
এর বৈশিষ্ট্যসমূহ:
১ - এটি একটি উত্তম পাণ্ডুলিপি (نسخة), তবে এর মাঝখান থেকে এক পৃষ্ঠার পরিমাণ অংশ বিচ্ছিন্ন (خرم) হয়ে গিয়েছে, যা ২০২ নং শ্লোক থেকে ২৩৬ নং শ্লোক পর্যন্ত।
২ - এর প্রতিটি শব্দ হরকত বা স্বরচিহ্নযুক্ত (مشكولة)।
৩ - অধ্যায়গুলোকে লাল কালি দ্বারা পৃথক করা হয়েছে; একইভাবে আল-ইরাকির সেই অতিরিক্ত সংযোজনসমূহ (زوائد) যা তিনি ইবনে আল-সালাহর ওপর করেছেন এবং যা তিনি 'আমি বলেছি' (قلت) শব্দ দ্বারা শুরু করেছেন, সেগুলোও লাল কালিতে চিহ্নিত।
৪ - কিছু শব্দের উচ্চারণের ক্ষেত্রে যে দুটি রূপই বিশুদ্ধ (صح), অনুলিপিকার (ناسخ) তা স্পষ্ট করে দিয়েছেন এবং তার ওপর 'উভয়টিই' (معاً) শব্দ দ্বারা চিহ্ন প্রদান করেছেন।
৫ - পাণ্ডুলিপিটিতে সংশোধনীসমূহ (تصحيحات), শ্রবণ বা পাঠের সমাপনলিপি (بلاغات سماع) এবং মূল পাঠের সাথে মিলিয়ে দেখার বা কোলাশন (مقابلة) সংক্রান্ত টীকা রয়েছে। এর সমাপ্তিতে লেখা আছে: "সাধ্যমতো মূল পাঠের সাথে মিলিয়ে দেখা (مقابلة) সম্পন্ন হয়েছে।"
৬ - এর শুরুর দিকে শ্লোকগুলোর ব্যাখ্যায় মূল্যবান কিছু টীকা (تعليقات) রয়েছে—যা অনুলিপিকারের হাতের লেখা নয়—সেগুলোর কিছু মূল রচয়িতার (ناظم), যার জন্য কখনো কখনো (আইন কাফ) সংকেত ব্যবহার করা হয়েছে, আর কখনো সেগুলো শেষ করা হয়েছে...
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আলফিয়্যাতুল ইরাকি আত-তাবসিরাতু ওয়াত-তাযকিরাহ - তাকিক আল-কাসিম
(পৃষ্ঠা: ২৫)
بعبارَةِ: «قالَه مُؤَلِّفُهُ»، ووردت فِي مَوْضِعٍ عبارة: «قال مصنِّفُهُ رحمه الله»؛ مِمَّا يُفيدُ أَنَّ التَّعليقاتِ كُتِبَتْ بعد وفاته.
7 - النَّاسِخُ من تلاميذ النَّاظم، وقد كتبَ النُّسخَة في حياةِ شيخِه.
النُّسخةُ الرَّابعة، ورَمَزتُ لها بـ «د»:وهي محفوظةٌ بمكتبة رئيس الكُتَّاب ضمنَ المكتبة السُّليمانيَّة بتركيا، برقم (102).
عدد لوحاتِها: (34) لوحةً.
تاريخ نسخِها: (19) من شهر جمادى الآخرة، سنة (801 هـ) بمكَّة المكرَّمة.
ناسخها: مُحبُّ الدِّين محمَّد بن موسى بن محمَّد القلقشندي.
نوع الخطِّ: نسخي جميلٌ وواضح.
خصائصها:
1 - نسخةٌ تامَّةٌ.
2 - جميع كلماتها مشكولة، ومُيِّزَت عناوينها بالحمرة.
3 - عليها تعليقاتٌ وتصحيحاتٌ يسيرةٌ، وأُثبِت على حواشيها في مواطن قليلةٍ فروقٌ من نسخٍ أخرى.
4 - كتب النَّاظم بخطِّه في مواضع منها بلاغات عَرْضٍ للنَّاسخ من حفظه عليه، وكان آخرُها عند نهاية (باب الوجادة).
এরকম বক্তব্যের মাধ্যমে: «এর লেখক বলেছেন», এবং একটি স্থানে এই বক্তব্য এসেছে: «এর গ্রন্থকার (রাহিমাহুল্লাহ) বলেছেন»; যা থেকে প্রতীয়মান হয় যে, টীকাগুলো তাঁর ইন্তেকালের পর লিপিবদ্ধ করা হয়েছে।
৭ - পাণ্ডুলিপি প্রস্তুতকারী (الناسخ) মূল কাব্য রচয়িতার (الناظم) ছাত্রদের অন্তর্ভুক্ত ছিলেন এবং তিনি পাণ্ডুলিপিটি তাঁর শায়খের জীবদ্দশায় লিখেছিলেন।
চতুর্থ পাণ্ডুলিপি, যাকে আমি «দাল» (د) দ্বারা চিহ্নিত করেছি:এটি তুরস্কের সুলাইমানিয়া লাইব্রেরির অন্তর্ভুক্ত রাইসুল কুত্তাব লাইব্রেরিতে (১০২) নম্বরে সংরক্ষিত রয়েছে।
এর পত্র সংখ্যা: (৩৪) টি পাতা।
নকলের তারিখ: মক্কা মুকাররমায় ১৯ জমাদিউল আখিরা, ৮০১ হিজরি।
পাণ্ডুলিপি প্রস্তুতকারী: মুহিব্বুদ্দীন মুহাম্মদ ইবনে মুসা ইবনে মুহাম্মদ আল-কালকাশান্দি।
লিপির ধরন: সুন্দর এবং স্পষ্ট নাসখ (نسخي) লিপি।
এর বৈশিষ্ট্যসমূহ:
১ - এটি একটি পূর্ণাঙ্গ (تامة) পাণ্ডুলিপি।
২ - এর সকল শব্দ স্বরচিহ্নযুক্ত (مشكولة), এবং শিরোনামগুলোকে লাল রঙ দ্বারা চিহ্নিত করা হয়েছে।
৩ - এতে সামান্য কিছু টীকা ও সংশোধন রয়েছে এবং অল্প কিছু স্থানে অন্যান্য পাণ্ডুলিপির সাথে পাঠভেদগুলো পার্শ্বটীকায় (حواشي) সাব্যস্ত করা হয়েছে।
৪ - মূল কাব্য রচয়িতা (الناظم) নিজ হাতে এর বিভিন্ন স্থানে পাণ্ডুলিপি প্রস্তুতকারীর মুখস্থ পাঠের স্বীকৃতি (بلاغات عرض) লিখে দিয়েছেন, যার সর্বশেষটি ছিল হস্তলিখিত পাণ্ডুলিপি প্রাপ্তি বা উইজাদাহ অধ্যায়ের (باب الوجادة) শেষে।
(খণ্ড: ১)
আলফিয়্যাতুল ইরাকি আত-তাবসিরাতু ওয়াত-তাযকিরাহ - তাকিক আল-কাসিম
(পৃষ্ঠা: ২৬)
النُّسخةُ الخامسة، ورمزتُ لها بـ «هـ»:وهي محفوظة بمكتبة راغب باشا في المكتبة السُّليمانيَّة بتركيا، ضمن مجموع برقم (1470/ 7).
عدد لوحاتِها: (38) لوحةً.
تاريخ نسخِها: لم يُذكَر، ولكن في آخرها إجازةٌ من النَّاظم لناسخِها مؤرَّخةٌ سنة (801 هـ).
ناسخها: تلميذ النَّاظم أحمد بن أبي بكر بن إسماعيل بن سليم بن قَيْمَاز بن عثمان بن عمر الكِنَاني البُوصِيرِيُّ
(1).
نوع الخطِّ: نسخي جميلٌ وواضح.
خصائصها:
1 - نسخةٌ تامَّةٌ.
2 - مضبوطةٌ بالشَّكل غالباً، وقد يكتفي النَّاسخُ بحركة واحدة عن التَّنوين.
3 - مُيِّزت أبواب النَّظمِ بالحُمرة.
4 - كَتَبَها تلميذُ النَّاظم أحمد بن أبي بكر بن إسماعيل
--------------------------------------------
পঞ্চম পাণ্ডুলিপি, যা আমি «هـ» (হা) প্রতীক দ্বারা চিহ্নিত করেছি:এটি তুরস্কের সুলাইমানিয়া লাইব্রেরির অন্তর্গত রাগিব পাশা লাইব্রেরিতে সংরক্ষিত রয়েছে, যা (১৪৭০/ ৭) নম্বর সংকলনের অন্তর্ভুক্ত।
এর পত্রসংখ্যা: (৩৮)টি।
অনুলিপি করার তারিখ: উল্লেখ করা হয়নি, তবে এর শেষে মূল গ্রন্থকারের পক্ষ থেকে অনুলিপিকারীর জন্য একটি অনুমতিপত্র (إجازة) রয়েছে, যা ৮০১ হিজরি সালের।
অনুলিপিকারী: গ্রন্থকারের ছাত্র আহমাদ ইবনে আবি বকর ইবনে ইসমাইল ইবনে সুলাইম ইবনে কায়মাজ ইবনে উসমান ইবনে উমর আল-কিনানি আল-বুসিরি
(১)।
লিপিশৈলীর ধরন: সুন্দর ও স্পষ্ট নাসখ (نسخي) লিপি।
এর বৈশিষ্ট্যসমূহ:
১ - এটি একটি পূর্ণাঙ্গ পাণ্ডুলিপি।
২ - অধিকাংশ ক্ষেত্রে হরকতসহ (مضبوطة بالشكل) সঠিকভাবে লিখিত, তবে অনুলিপিকারী কখনও কখনও তানভীনের পরিবর্তে একটি হরকত ব্যবহার করেছেন।
৩ - কাব্যগ্রন্থের অধ্যায়সমূহ লাল কালি দিয়ে চিহ্নিত করা হয়েছে।
৪ - এটি গ্রন্থকারের ছাত্র আহমাদ ইবনে আবি বকর ইবনে ইসমাইল লিখেছেন।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আলফিয়্যাতুল ইরাকি আত-তাবসিরাতু ওয়াত-তাযকিরাহ - তাকিক আল-কাসিম
(পৃষ্ঠা: ২৭)
البُوصِيرِي، وقد أَثْبَت أيضاً في حواشيها وفي أوراقٍ طيَّارةٍ - مُلحَقةٍ بها - شرحَ النَّاظم مستوعِباً له.
5 - وَقَعَ في آخرِها إجازتان من النَّاظم بخطِّه للبوصيري ناسخِها:
ذُكِرَ في الأولى: أنَّه قرأها عليه عَرْضاً مِن حفظِه في مجلس واحدٍ، يوم الخميس سابع شوَّال سنة (801 هـ).
وفي الثَّانية: قرأها عليه قراءة بحثٍ ونظرٍ، من استيضاح مشكلٍ، واستفتاح مقفلٍ، في مجالس عديدةٍ، آخرها في تاسع عشر ذي الحجَّة الحرام، سنة (803 هـ).
ثمَّ وقعت بعدهما إجازةٌ في حياة النَّاظم من ابنه أبي زرعة بخطِّه للبوصيري ناسخِها، بعد أن قرأَها عليه مِن حفظِه، وأرَّخها في العشر الوسط من جمادى الآخرة سنة (805 هـ).
ثمّ أجاز البوصيريُّ لابنِه أبي الفتح محمَّد رواية النّظم بعد أن عَرَضَه عليه في مجلسٍ واحدٍ، يوم السّبت عاشر شهر ذي الحجَّة، سنة (838 هـ).
النُّسخة السَّادسة، ورمزتُ لها بـ «و»:وهي محفوظة بمكتبة عارف حكمت ضمن مكتبة الملك عبد العزيز بالمدينة المنوَّرة، برقم (278).
عدد لوحاتِها: (57) لوحةً.
تاريخ نسخِها: لم يُذكَر، ولكنَّها كُتِبت في حياة النَّاظم، وقُرِئَت عليه كما أَثْبَتَ ذلك بخطِّه على النُّسخة.
আল-বুসিরি; এবং তিনি এর পার্শ্বটীকা (حواشي) ও এর সাথে যুক্ত আলগা কাগজপত্রেও গ্রন্থকারের ব্যাখ্যাটি বিস্তারিতভাবে অন্তর্ভুক্ত করেছেন।
৫ - এর শেষভাগে এর লিপিকার আল-বুসিরির জন্য গ্রন্থকারের নিজ হাতে লেখা দুটি অনুমতিপত্র (إجازة) রয়েছে:
প্রথমটিতে উল্লেখ করা হয়েছে যে: তিনি এটি তাঁর নিকট মুখস্থ থেকে উপস্থাপনের মাধ্যমে পাঠ (عرضا) করে শুনিয়েছেন এক মজলিসে, ৮০১ হিজরি সালের ৭ই শাওয়াল, বৃহস্পতিবার।
আর দ্বিতীয়টিতে (উল্লেখ আছে): তিনি এটি তাঁর নিকট গবেষণা ও পর্যালোচনামূলক পাঠের মাধ্যমে পড়েছেন, যেখানে জটিল বিষয়সমূহের স্পষ্টীকরণ এবং দুর্বোধ্য বিষয়সমূহের উন্মোচন করা হয়েছে। এটি একাধিক মজলিসে সম্পন্ন হয়েছে, যার সর্বশেষটি ছিল ৮০৩ হিজরি সালের ১৯শে জিলহজ।
এরপর গ্রন্থকারের জীবদ্দশায় তাঁদের উভয়ের পর তাঁর পুত্র আবু জুরআ কর্তৃক এর লিপিকার আল-বুসিরির জন্য তাঁর নিজ হাতে লেখা একটি অনুমতিপত্র (إجازة) রয়েছে, যা তিনি তাঁর নিকট মুখস্থ থেকে পাঠ করার পর প্রদান করা হয়েছে। তিনি এর তারিখ প্রদান করেছেন ৮০৫ হিজরি সালের জমাদিউল আখিরা মাসের মধ্যম দশকে।
অতঃপর আল-বুসিরি তাঁর পুত্র আবুল ফাতহ মুহাম্মদকে এই কাব্যটি বর্ণনার অনুমতি (أجاز) প্রদান করেন, তাঁর নিকট এটি এক মজলিসে উপস্থাপনের (عرض) পর; দিনটি ছিল ৮৩৮ হিজরি সালের ১০ই জিলহজ, শনিবার।
ষষ্ঠ পাণ্ডুলিপি, যা আমি «و» (ওয়াও) অক্ষর দ্বারা চিহ্নিত করেছি:এটি মদিনা মুনাওয়ারার কিং আব্দুল আজিজ লাইব্রেরির অন্তর্ভুক্ত আরিফ হিকমত লাইব্রেরিতে সংরক্ষিত আছে, যার নম্বর (২৭৮)।
এর পত্রসংখ্যা: (৫৭)টি।
এটি অনুলিপি করার তারিখ: উল্লেখ করা হয়নি, তবে এটি গ্রন্থকারের জীবদ্দশায় লেখা হয়েছে এবং তাঁর নিকট পাঠ করা হয়েছে, যেমনটি তিনি পাণ্ডুলিপির ওপর নিজ হস্তাক্ষরে তা নিশ্চিত করেছেন।
(খণ্ড: ১)
আলফিয়্যাতুল ইরাকি আত-তাবসিরাতু ওয়াত-তাযকিরাহ - তাকিক আল-কাসিম
(পৃষ্ঠা: ২৮)
ناسخها: محمَّد بن أحمد بن عليٍّ الشَّهير بالكُفْتِي
(1).
نوع الخطِّ: نسخي جميلٌ ومنمَّق.
خصائصها:
1 - نسخةٌ تامَّةٌ.
2 - جميع كلماتها مشكولة.
3 - ميَّز النَّاسخُ العناوين بالحمرة.
4 - أثبت على النُّسخة تصحيحاتٌ يسيرةٌ، وتنبيهاتٌ على فروق النُّسَخ.
5 - على النُّسخة بلاغات قراءة لجمال الدِّين عبد اللَّه بن خلف النَّابِتِي
(2) على النَّاظم، وقد كتبها له بخطِّه، وآخر تلك البلاغات عند نهاية (باب التَّنبيهات)، وكانت القراءة بحضور جماعة من الطُّلاب كما تضمَّنته البلاغات المذكورة.
ووقع لجمال الدِّين النَّابِتيِّ أيضاً في الورقة (3) بلاغ قراءةٍ على الحافظ ابن حجر، وقد كتبه له بخطِّه، وكذلك كتب له في آخرها إجازةً
--------------------------------------------
এর প্রতিলিপিকারক: মুহাম্মাদ বিন আহমাদ বিন আলী, যিনি আল-কুফতি
(১) নামে পরিচিত।
লিপির ধরন: সুন্দর ও সুশোভিত নাসখ লিপি।
এর বৈশিষ্ট্যসমূহ:
১ - এটি একটি পূর্ণাঙ্গ পাণ্ডুলিপি।
২ - এর সকল শব্দ হরকতযুক্ত।
৩ - প্রতিলিপিকারক শিরোনামগুলোকে লাল রঙের মাধ্যমে পৃথক করেছেন।
৪ - পাণ্ডুলিপিতে সামান্য কিছু সংশোধন এবং পাঠভেদের ওপর সতর্কবার্তা লিপিবদ্ধ করা হয়েছে।
৫ - পাণ্ডুলিপিটিতে মূল রচয়িতার নিকট জামালুদ্দিন আব্দুল্লাহ বিন খালাফ আন-নাবিতির
(২) পাঠ শ্রবণ সমাপ্তির নোটসমূহ (بلاغات قراءة) রয়েছে; যা তিনি তাঁর জন্য নিজ হাতে লিখে দিয়েছেন। সেই নোটগুলোর শেষটি ‘সতর্কীকরণ অধ্যায়’ (বাবুত তানবিহাত)-এর শেষে অবস্থিত। উল্লিখিত নোটগুলোতে বর্ণিত তথ্যানুসারে, একদল শিক্ষার্থীর উপস্থিতিতে এই পাঠ গ্রহণ সম্পন্ন হয়েছিল।
জামালুদ্দিন আন-নাবিতির জন্য ৩ নম্বর পৃষ্ঠায় হাফিজ (الحافظ) ইবনে হাজারের নিকট পাঠ শ্রবণ সমাপ্তির একটি নোটও (بلاغ قراءة) রয়েছে, যা তিনি তাঁর জন্য নিজ হাতে লিখে দিয়েছেন। অনুরূপভাবে তিনি এর শেষে তাঁর জন্য একটি অনুমতিপত্র (إجازة) লিখে দিয়েছেন।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আলফিয়্যাতুল ইরাকি আত-তাবসিরাতু ওয়াত-তাযকিরাহ - তাকিক আল-কাসিম
(পৃষ্ঠা: ২৯)
فيها أنَّه عرض عليه الألفيَّة في مجلسين، وأرَّخها في مستهلِّ ذي الحجَّة، سنة (808 هـ).
وفي الورقة (40) أيضاً بلاغ عرضٍ وسماعٍ لجمال الدِّين النَّابِتِي على محمَّد بن عمَّارٍ المالكي
(1)، كتبه له بخطِّه، وأرَّخه يوم الأربعاء الرَّابع عشر من جمادى الأخرى، سنة (809 هـ).
6 - جاء في آخر النُّسخة بلاغ مقابلة خفي بعضه، وفيه: «بلغت مقـ
… قرئت على المصنِّف»، ولعلَّ المرادَ أنَّها قُوبِلت على نسخةٍ قُرِئت على النَّاظم.
النُّسخة السَّابعة، ورمزتُ لها بـ «ز»:وهي محفوظة بمكتبة جامعة الإمام محمَّد بن سعود بالرِّياض.
عدد لوحاتِها: (38) لوحةً.
تاريخ نسخِها: الأحد رابع ذي الحجّة، سنة (824 هـ).
ناسخها: محبُّ الدِّين محمَّد بن محمَّد ابن الشِّحْنَة الحنفيُّ
(2).
--------------------------------------------
এতে উল্লেখ আছে যে, তিনি তাঁর কাছে দুই মজলিসে আলফিয়্যাহ পেশ (عرض) করেছেন এবং ৮০৮ হিজরি সনের জিলহজ মাসের শুরুতে এর তারিখ লিপিবদ্ধ করেছেন।
এবং ৪০ নম্বর পাতায় জামালুদ্দিন আন-নাবিতি কর্তৃক মুহাম্মদ ইবনে আম্মার আল-মালিকির কাছে একটি পেশ (عرض) ও শ্রবণ (سماع) সংক্রান্ত সমাপ্তি টীকা (بلاغ) রয়েছে
(১), যা তিনি নিজ হাতে তাঁর জন্য লিখেছেন এবং এর তারিখ বুধবার, ১৪ই জুমাদাল উখরা, ৮০৯ হিজরি লিপিবদ্ধ করেছেন।
৬ - পাণ্ডুলিপির শেষে পাঠ-মিলকরণ (مقابلة) সংক্রান্ত একটি সমাপ্তি টীকা (بلاغ) এসেছে যার কিছু অংশ অস্পষ্ট, সেখানে রয়েছে: «আমি মুকা... পৌঁছেছি, এটি গ্রন্থকারের কাছে পাঠ করা হয়েছে», সম্ভবত এর উদ্দেশ্য হলো এটি এমন একটি পাণ্ডুলিপির সাথে মিলিয়ে দেখা হয়েছে যা মূল কবির কাছে পাঠ করা হয়েছিল।
সপ্তম পাণ্ডুলিপি, এবং আমি একে ‘যা’ (ز) প্রতীক দ্বারা চিহ্নিত করেছি:এটি রিয়াদের ইমাম মুহাম্মদ বিন সাউদ ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের গ্রন্থাগারে সংরক্ষিত আছে।
এর পৃষ্ঠাসংখ্যা: (৩৮) পৃষ্ঠা।
অনুলিপির তারিখ: রবিবার, ৪ঠা জিলহজ, ৮২৪ হিজরি।
অনুলিপিকার (ناسخ): মুহিব্বুদ্দীন মুহাম্মদ ইবনে মুহাম্মদ ইবনুল শিহনা আল-হানাফি
(২)।
--------------------------------------------