(খণ্ড: ১)
মানহাজুল ইমাম তাজুদ দীন আস সুবকী ফী উসুলিল ফিকহ
(পৃষ্ঠা: -)
منهج الإمام تاج الدين السبكي في أصول الفقه القسم: أصول الفقه
الكتاب: منهج الإمام تاج الدين السبكي في أصول الفقه
المؤلف: أحمد إبراهيم حسن الحسنات
رسالة: ماجستير بإشراف (عبد المعز عبد العزيز حريز) كلية الشريعة، الجامعة الأردنية - عمان
عام النشر: 2002
عدد الصفحات: 186
تاريخ النشر بالشاملة: 1 رمضان 1432
উসুলুল ফিকহ শাস্ত্রে ইমাম তাজউদ্দীন আস-সুবকীর মানহাজ বিভাগ: উসুলুল ফিকহ
বই: উসুলুল ফিকহ শাস্ত্রে ইমাম তাজউদ্দীন আস-সুবকীর মানহাজ
লেখক: আহমদ ইবরাহিম হাসান আল-হাসানাত
থিসিস: মাস্টার্স থিসিস, তত্ত্বাবধানে: (আব্দুল মুইয আব্দুল আজিজ হারিজ) শরিয়াহ অনুষদ, জর্ডান বিশ্ববিদ্যালয় - আম্মান
প্রকাশের বছর: ২০০২
পৃষ্ঠা সংখ্যা: ১৮৬
শামেলা লাইব্রেরিতে প্রকাশের তারিখ: ১ রমজান ১৪৩২
(খণ্ড: ১)
মানহাজুল ইমাম তাজুদ দীন আস সুবকী ফী উসুলিল ফিকহ
(পৃষ্ঠা: ৪)
المقدمةالحمد لله الذي رفع الذين آمنوا والذين أوتوا العلم درجات، والصلاة والسلام على من لا نبي بعده سيدنا محمد وعلى آله وأصحابه ما دامت الأرض والسماوات.
وبعد:
فإن علم أصول الفقه من أشرف العلوم وأعظمها وأكثرها فائدة ونفعا، فهو العلم الذي جمع بين المعقول والمنقول، وكيف لا يكون أنفعها وهو الذي يضع القواعد والضوابط التي بها يستنبط الفقيه الأحكام، وبها يرتفع العالم من حضيض التقليد إلى علياء الاجتهاد، وقد اهتم علماؤنا المتقدمون بالأصول اهتماما بالغا فأكثروا من التأليف والتدوين فيه، وكانت لهم مدارسهم ومناهجهم المتنوعة، فتنوعت طرائقهم في التأليف.
وإن دراسة مناهج العلماء في تدوين أصول الفقه من أهم المواضيع الجديرة بالبحث والاهتمام لدى الدارسين لعلم أصول الفقه، ذلك أن مثل هذه الدراسات تعطي الباحث فكرة عن جهود علماء الأصول، مما يجعل عند الدارس خلفية عن الآراء الأصولية، فيوظفها في معرفة منشأ الخلاف الفقهي، وكذا في توجيه الآراء توجيهاً سليماً حسب قواعد أصول الفقه عند أصحاب المذاهب.
ولعل من أبرز العلماء الذين اهتموا بأصول الفقه في القرن الثامن الهجري الإمام تاج الدين عبد الوهاب بن علي بن عبد الكافي السبكي، حيث كانت له عناية فائقة بتدوين أصول الفقه بشكل لافت للنظر لدى الدارسين لعلم الأصول.
فابن السبكي عالم كبير في مختلف العلوم الفنون، وذلك لكونه قد عاش في بيئةٍ علميةٍ رصينة أثرت في تحصيله العلمي بشكل يدعو إلى الإعجاب، حيث أولى علم الأصول اهتماماً خاصاً وأكبر دليل على ذلك أنه قد أكثر من التصنيف في علم الأصول، إذ ترك للمكتبة الإسلامية ثمانية كتب في الأصول ما بين مختصر وشرح وتقرير، فكان لزاماً على الدارسين والباحثين أن يتناولوا هذه المؤلفات بالدراسة والتمحيص، للكشف عن شخصية هذا العالم الفذ الذي ترك لنا كل هذه الآثار العلمية الرصينة وقد جاءت هذه الدراسة بهدف التعرف على الجوانب المهمة في حياة ابن السبكي العلمية وكيف أثرت هذه الجوانب في فكر ابن السبكي الأصولي لتبين حقيقة اللجهود التي بذلها التاج السبكي في علم الاصول وتبن المنهج الذي سار عليه في تأليفه لعلم الاصول وذلك من خلال دراسة كتبه في الأصول دراسة استقرائية شاملة من حيث:-
1 - سبب تأليفها.
2 - منهجه في تأليفها.
3 - مصادره في التأليف.
4 - أهمية هذا التأليف.
5 - بعض النماذج المختارة التي تبين منهجه
ভূমিকাপ্রশংসা সেই আল্লাহর জন্য যিনি ঈমানদার ও জ্ঞানীদের মর্যাদায় উন্নীত করেছেন, এবং সালাত ও সালাম বর্ষিত হোক সেই সত্তার ওপর যার পরে আর কোনো নবী নেই, আমাদের নেতা মুহাম্মাদ, তাঁর পরিবার এবং তাঁর সাথীদের ওপর যতদিন আসমান ও জমিন বিদ্যমান থাকবে।
অতঃপর:
নিশ্চয়ই উসূলে ফিকহ অন্যতম মর্যাদাপূর্ণ ও মহান বিজ্ঞান এবং এটি সর্বাধিক উপকারী ও কল্যাণকর। এটি এমন এক বিজ্ঞান যা যুক্তিনির্ভর ও বর্ণনা-নির্ভর জ্ঞানের সমন্বয় ঘটিয়েছে। কেনই বা এটি অধিকতর উপকারী হবে না, যেখানে এটিই এমন সব নীতি ও নিয়মাবলি নির্ধারণ করে যার মাধ্যমে একজন ফকীহ বিধানাবলি আহরণ করেন, এবং যার মাধ্যমে একজন আলেম অন্ধ অনুকরণের নিম্নস্তর থেকে ইজতিহাদের উচ্চ শিখরে আরোহণ করেন। আমাদের পূর্বসূরি ওলামায়ে কেরাম উসূলের প্রতি অত্যন্ত গুরুত্বারোপ করেছেন এবং এ বিষয়ে প্রচুর গ্রন্থ রচনা ও সংকলন করেছেন। তাঁদের বিভিন্ন মাযহাব ও স্বতন্ত্র কর্মপদ্ধতি ছিল, ফলে রচনার ক্ষেত্রেও তাঁদের পদ্ধতিগুলো বৈচিত্র্যময় হয়েছে।
উসূলে ফিকহ সংকলনে আলেমদের কর্মপদ্ধতি অধ্যয়ন করা উসূলে ফিকহ শাস্ত্রের শিক্ষার্থীদের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ও গবেষণার দাবি রাখে এমন একটি বিষয়। কারণ এ ধরনের গবেষণা গবেষককে উসূলবিদ আলেমদের প্রচেষ্টা সম্পর্কে ধারণা প্রদান করে, যা শিক্ষার্থীর মনে উসূলি মতাদর্শের একটি পটভূমি তৈরি করে। ফলে তিনি এটিকে ফিকহি মতভেদের উৎস জানতে এবং বিভিন্ন মাযহাবের ইমামদের উসূলে ফিকহের নীতিমালা অনুযায়ী মতামতের সঠিক দিকনির্দেশনা দানে প্রয়োগ করতে পারেন।
সম্ভবত হিজরি অষ্টম শতাব্দীতে উসূলে ফিকহের প্রতি গুরুত্বারোপকারী শ্রেষ্ঠ আলেমদের অন্যতম হলেন ইমাম তাজউদ্দীন আব্দুল ওয়াহহাব বিন আলী বিন আব্দুল কাফি আস-সুবকি। উসূলে ফিকহ সংকলনে তাঁর বিশেষ মনোযোগ এই শাস্ত্রের শিক্ষার্থীদের কাছে বিশেষভাবে লক্ষ্যণীয় ছিল।
ইবনুল সুবকি বিভিন্ন জ্ঞান ও বিদ্যায় একজন মহান আলেম ছিলেন, কারণ তিনি একটি সুদৃঢ় ইলমি পরিবেশে বেড়ে উঠেছিলেন যা তাঁর শিক্ষা অর্জনে বিস্ময়করভাবে প্রভাব ফেলেছিল। তিনি উসূল শাস্ত্রের প্রতি বিশেষ গুরুত্ব দিয়েছিলেন এবং এর সবচেয়ে বড় প্রমাণ হলো যে, তিনি উসূল শাস্ত্রে প্রচুর রচনা করেছেন। তিনি ইসলামি পাঠাগারের জন্য উসূলের আটটি গ্রন্থ রেখে গেছেন যার মধ্যে সংক্ষিপ্তসার, ব্যাখ্যাগ্রন্থ এবং বিস্তারিত বিবরণ রয়েছে। তাই গবেষক ও শিক্ষার্থীদের জন্য এই মহান আলেমের ব্যক্তিত্ব উন্মোচনের লক্ষ্যে তাঁর এই রচনাবলি নিয়ে গবেষণা ও পর্যালোচনার প্রয়োজন অনস্বীকার্য, যিনি আমাদের জন্য এমন সব সমৃদ্ধ জ্ঞানভাণ্ডার রেখে গেছেন। ইবনুল সুবকির ইলমি জীবনের গুরুত্বপূর্ণ দিকগুলো সম্পর্কে জানা এবং এই দিকগুলো কীভাবে তাঁর উসূলি চিন্তাধারায় প্রভাব ফেলেছে তা স্পষ্ট করার লক্ষ্যেই এই গবেষণাটি করা হয়েছে; যাতে তাজ আস-সুবকি উসূল শাস্ত্রে যে প্রচেষ্টা চালিয়েছেন তার স্বরূপ এবং উসূল শাস্ত্র রচনার ক্ষেত্রে তিনি যে পদ্ধতি অনুসরণ করেছেন তা উসূলের কিতাবসমূহের একটি বিস্তৃত ও অনুসন্ধানমূলক পর্যালোচনার মাধ্যমে ফুটে ওঠে, যার ভিত্তি হবে:-
১ - সেগুলো রচনার কারণ।
২ - সেগুলো রচনার ক্ষেত্রে তাঁর কর্মপদ্ধতি।
৩ - রচনার ক্ষেত্রে তাঁর উৎসসমূহ।
৪ - এই রচনাগুলোর গুরুত্ব।
৫ - তাঁর কর্মপদ্ধতি নির্দেশকারী কিছু নির্বাচিত নমুনা।
(খণ্ড: ১)
মানহাজুল ইমাম তাজুদ দীন আস সুবকী ফী উসুলিল ফিকহ
(পৃষ্ঠা: ৫)
إن ابن السبكي له أثر واضح في أصول الفقه من خلال عرضه لمسائله ومناقشته الآراء، والدارس له سيستفيد كثيراً في فهم وتصور مسائل هذا الفن وغاياته، خاصة وأن ابن السبكي له مجموعة من المؤلفات في أصول الفقه والتي عم نفعها الشرق والغرب فكان لزاماً علينا دراسة هذه المؤلفات وإبراز أهميتها ومنهجها للاستفادة منها في تطوير أصول الفقه والدراسات الأصولية الحديثة.
ولعل من أهم الاهداف التي نسعى ايها من خلال دراسة كتب التراث الضخم لعلماء أمتنا المجيدة، والذي نحن بأمس الحاجة إلى فهمه وتطويره، وبيان الأثر الإيجابي فيه، وإلا ستبقى الفجوة عميقة بين الدراسات الأصولية المعاصرة والدراسات الأصولية المتقدمة والقديمة، ونحن في هذا الوقت بأمس الحاجة إلى دراسات أصولية توسع المدارك وتفتح الأذهان، للوصول إلى عقلية اجتهادية لوضع حد للفوضى الفكرية التي تعيشها أمتنا، وللبحث عن حكم للمسائل العصرية المستجدة، التي لا يمكن الاجتهاد في معرفة أحكامها إلا إذا تمكنا من فهم علم الأصول، للوصول إلى نهضة حضارية شاملة أساسها وقوامها معتمداً على أصول الفقه.
هذا وليس الهدف من هذه الدراسة هو تناول آراء التاج السبكي بالنقد والتحليل بقدر ما هو محاولة إبراز حقيقة المنهج الذي سار عليه بغض النظر عن موافقته أو مخالفته لغيره، أو قوته وضعفه، ومن هنا فلم يكن لزاما علي عقد المقارنات بين التاج السبكي وبين غيره من العلماء ولا مناقشته للتاج في ما يذهب إليه.
وقد حاولت جهدي في هذه الرسالة أن أتناول الآراء بكل موضوعية، وأن لا تظهر العاطفة تجاه التاج السبكي أو عليه، بل تناولت الآراء بطريقتي الخاصة محاولا إيصال المعلومة بصورة علمية سليمة.
وبعد: فالله العظيم أسأل، أن يجعل هذا العمل خالصا لوجهه الكريم، وأن ينفع به قارئه وسامعه، ويجعله في صحيفة أعمالي يوم لا ينفع مال ولا بنون إلا من أتى الله بقلب سليم، فإن أصبت فبفضل الله ورحمته، وإن أخطأت فمني ومن الشيطان، ورحم الله من صوب خطأي بالحسنى، والحمد لله أولا وآخرا، وصلى الله تعالى على سيدنا محمد وعلى آله وصحبه وسلم.
أحمد ابراهيم الحسنات
عمان/ الأردن
17 ربيع الأول 1423هـ
الموافق 30 أيار 2002 م
উসুলুল ফিকহের মাসআলাসমূহ উপস্থাপন এবং মতামতের পর্যালোচনার মাধ্যমে ইবনে সুবকির এক স্পষ্ট প্রভাব বিদ্যমান। এই শাস্ত্রের মাসআলা এবং এর লক্ষ্যসমূহ বুঝতে ও কল্পনা করতে এর শিক্ষার্থী অনেক উপকৃত হবে। বিশেষ করে উসুলুল ফিকহ বিষয়ে ইবনে সুবকির এমন একগুচ্ছ রচনা রয়েছে যার উপকারিতা প্রাচ্য ও প্রতীচ্যে ছড়িয়ে পড়েছে। তাই উসুলুল ফিকহ এবং আধুনিক উসুলি গবেষণার উন্নয়নে এসব রচনার গুরুত্ব ও কর্মপদ্ধতি তুলে ধরা এবং তা অধ্যয়ন করা আমাদের জন্য অপরিহার্য হয়ে পড়েছে।
আমাদের মহান উম্মাহর আলেমদের বিশাল ঐতিহ্যের গ্রন্থসমূহ অধ্যয়নের মাধ্যমে আমরা যে প্রধান লক্ষ্যগুলো অর্জন করতে চাই, তা হলো একে বোঝা, এর উন্নয়ন ঘটানো এবং এতে বিদ্যমান ইতিবাচক প্রভাবকে স্পষ্ট করা। নতুবা সমকালীন উসুলি গবেষণা এবং পূর্ববর্তী ও প্রাচীন উসুলি গবেষণার মধ্যকার ব্যবধান গভীর থেকে গভীরতর হবে। বর্তমানে আমরা এমন উসুলি গবেষণার মুখাপেক্ষী যা বোধশক্তিকে প্রসারিত করে এবং চিন্তাশক্তিকে উন্মুক্ত করে, যাতে আমাদের উম্মাহ যে বুদ্ধিবৃত্তিক বিশৃঙ্খলার মধ্য দিয়ে যাচ্ছে তা নিরসনে একটি ইজতিহাদি মানসিকতায় পৌঁছানো যায় এবং আধুনিক ও সমসাময়িক বিষয়াদির বিধান সন্ধান করা যায়। উসুলুল ফিকহের জ্ঞান অর্জনে সক্ষম হওয়া ব্যতীত এসব বিষয়ের বিধান জানার ক্ষেত্রে ইজতিহাদ করা সম্ভব নয়, যা উসুলুল ফিকহের ওপর ভিত্তি করে একটি সামগ্রিক তামাদ্দুনিক নবজাগরণে পৌঁছানোর ভিত্তি ও স্তম্ভ।
এই গবেষণার উদ্দেশ্য তাজ সুবকির মতামতের সমালোচনা বা বিশ্লেষণ করা নয়, বরং তিনি যে পদ্ধতির অনুসরণ করেছেন তার প্রকৃত স্বরূপ তুলে ধরা; তা অন্যদের অনুকূলে হোক বা প্রতিকূলে, কিংবা তা শক্তিশালী হোক বা দুর্বল। একারণেই তাজ সুবকির সাথে অন্যান্য আলেমদের তুলনা করা কিংবা তাজ সুবকির অভিমত নিয়ে তাঁর সাথে তর্কে লিপ্ত হওয়া আমার জন্য আবশ্যক ছিল না।
আমি এই অভিসন্দর্ভে যথাযথ বস্তুনিষ্ঠতার সাথে মতামতগুলো নিয়ে আলোচনা করার চেষ্টা করেছি এবং তাজ সুবকির প্রতি কোনো প্রকার পক্ষপাতমূলক বা বিপক্ষীয় আবেগ যাতে প্রকাশ না পায় সেদিকে লক্ষ্য রেখেছি। বরং আমি নিজস্ব পদ্ধতিতে তথ্যগুলো সঠিকভাবে বৈজ্ঞানিক রূপে পৌঁছে দেওয়ার চেষ্টা করেছি।
অতপর: আমি মহান আল্লাহর কাছে প্রার্থনা করি, তিনি যেন এই কাজটিকে শুধুমাত্র তাঁর সন্তুষ্টির জন্য কবুল করেন, এর দ্বারা পাঠক ও শ্রবণকারীকে উপকৃত করেন এবং একে আমার আমলনামায় সেই দিনের জন্য জমা রাখেন যেদিন ধন-সম্পদ ও সন্তান-সন্ততি কোনো উপকারে আসবে না—সেদিন কেবল সেই ব্যক্তিই মুক্তি পাবে যে আল্লাহর কাছে বিশুদ্ধ অন্তর নিয়ে আসবে। যদি আমি সঠিক বলে থাকি তবে তা আল্লাহর অনুগ্রহ ও রহমতে, আর যদি ভুল করে থাকি তবে তা আমার নিজের পক্ষ থেকে এবং শয়তানের পক্ষ থেকে। আল্লাহ সেই ব্যক্তির ওপর রহম করুন যে সদয়ভাবে আমার ভুল সংশোধন করে দেবেন। সকল প্রশংসা আল্লাহর জন্য আদিতে ও অন্তে, এবং আল্লাহর রহমত বর্ষিত হোক আমাদের নেতা মুহাম্মাদ, তাঁর পরিবারবর্গ ও সকল সাহাবীর ওপর।
আহমাদ ইব্রাহিম আল-হাসানাত
আম্মান/ জর্ডান
১৭ রবিউল আউয়াল ১৪২৩ হিজরি
মোতাবেক ৩০ মে ২০০২ খ্রিস্টাব্দ
(খণ্ড: ১)
মানহাজুল ইমাম তাজুদ দীন আস সুবকী ফী উসুলিল ফিকহ
(পৃষ্ঠা: ৬)
الفصل الأولتاج الدين السبكيحياته - علومه - مؤلفاتهوفيه المباحث الآتية:
المبحث الأول: عصر الإمام تاج الدين السبكي
المبحث الثاني: اسمه، نسبه، أسرته
المبحث الثالث: نشأته وطلبه للعلم
المبحث الرابع: علومه
المبحث الخامس: آثاره ومصنفاته
المبحث السادس: مكانته العلمية والمناصب التي تولاها
المبحث السابع: عقيدته وتصوفه
المبحث الثامن: مظاهر من شخصيته
المبحث التاسع: وفاته
প্রথম পরিচ্ছেদতাজউদ্দীন আস-সুবকীতাঁর জীবন - তাঁর পাণ্ডিত্য - তাঁর রচনাবলিএতে নিম্নলিখিত অনুচ্ছেদসমূহ রয়েছে:
প্রথম অনুচ্ছেদ: ইমাম তাজউদ্দীন আস-সুবকীর যুগ
দ্বিতীয় অনুচ্ছেদ: তাঁর নাম, বংশপরিচয় ও পরিবার
তৃতীয় অনুচ্ছেদ: তাঁর শৈশব ও জ্ঞানার্জন
চতুর্থ অনুচ্ছেদ: তাঁর পাণ্ডিত্য
পঞ্চম অনুচ্ছেদ: তাঁর অবদান ও গ্রন্থাবলি
ষষ্ঠ অনুচ্ছেদ: তাঁর ইলমি মর্যাদা ও তিনি যেসব পদে অধিষ্ঠিত ছিলেন
সপ্তম অনুচ্ছেদ: তাঁর আকিদাহ ও তাসাউফ
অষ্টম অনুচ্ছেদ: তাঁর ব্যক্তিত্বের নানা দিক
নবম অনুচ্ছেদ: তাঁর মৃত্যু
(খণ্ড: ১)
মানহাজুল ইমাম তাজুদ দীন আস সুবকী ফী উসুলিল ফিকহ
(পৃষ্ঠা: ৭)
الفصل الأول
تاج الدين السبكي
حياته - علومه - مؤلفاته
سأتناول في هذا الفصل حياة تاج الدين السبكي منذ ولادته وحتى وفاته، مستعرضا نشأته
… وحياته العلمية، حتى يتبين للقارئ الجوانب الفكرية والشخصية التي أثرت في تكوين شخصية التاج السبكي العلمية ومدى ارتباطها بسلوكه وإنتاجه العلمي، وحتى يتيسر لي ذلك لا بد أولا من إعطاء فكر ة عامة عن العصر الذي عاش فيه التاج السبكي ومعرفة مدى تأثره أو تأثيره به.
المبحث الأولعصر الإمام تاج الدين السبكيتُعدُّ الفترة التي عاش فيها التاج السبكي من أهم مراحل الدولة المملوكية الأولى المسماة ((بالبحرية))، ذلك أنّ التاج قد عاش في الفترة الواقعة ما بين عامي 727هـ و 771هـ، لذا فلا بد أنّ نعطي صورة موجزة توضح لنا ماهية الوضع السياسي والعلمي والاجتماعي في مصر والشام في تلك الفترة، والتي تمثّل في مجملها القرن الثامن الهجري.
المطلب الأول: الحياة السياسيةتمكّن المماليك - بعد سلسلة من المؤامرات التي كانوا يُحِيكُونها ويُدبِّرونها للسلاطين -
من استلام السلطنة في مصر، وذلك بعد مقتل السلطان تورانشاه (1) آخر ملوك بني أيوب سنة 648هـ (2)،
… وكانت بذلك بداية العهد المملوكي الذي استمر نحو قرنين من الزمان (3).
ولم يكن عهد المماليك بأفضلَ حال من سابقه؛ ذلك أنّ هذا العهد كان يواجهه عدداً من المخاطر على الساحة الخارجية، فالخطر الصليبي ما زال يتهدد العالم الإسلامي، وذلك لوجود بعض القلاع والإمارات الصليبية على سواحل بلاد الشام؛ مما استدعى المماليك أن يأخذوا على عاتقهم عبء استرجاع وتحرير ما تبقى من هذه الإمارات استمراراً لجهود السلطان الناصر صلاح الدين الأيوبي المتوفى سنة 589هـ إثر هزيمته للصليبيين في موقعة حطين الشهيرة سنة 583هـ.
--------------------------------------------
প্রথম অধ্যায়
তাজউদ্দীন আস-সুবকী
তাঁর জীবন - তাঁর জ্ঞান - তাঁর রচনাসমগ্র
আমি এই অধ্যায়ে তাজউদ্দীন আস-সুবকীর জন্ম থেকে মৃত্যু পর্যন্ত তাঁর জীবনের আলোচনা করব এবং তাঁর বেড়ে ওঠা
… ও তাঁর জ্ঞানতাত্ত্বিক জীবন পর্যালোচনা করব, যাতে পাঠকের কাছে সেই বুদ্ধিবৃত্তিক ও ব্যক্তিগত দিকগুলো স্পষ্ট হয় যা তাজ সুবকীর বৈজ্ঞানিক ব্যক্তিত্ব গঠনে প্রভাব ফেলেছে এবং তাঁর আচরণ ও জ্ঞানতাত্ত্বিক কর্মের সাথে সেগুলোর কতটুকু সম্পৃক্ততা ছিল। আর এটি সহজতর করার জন্য প্রথমে তাজ সুবকী যে যুগে বাস করতেন সেই যুগ সম্পর্কে একটি সাধারণ ধারণা প্রদান করা এবং তাঁর ওপর সেই যুগের প্রভাব বা সেই যুগের ওপর তাঁর প্রভাব সম্পর্কে জানা আবশ্যক।
প্রথম পরিচ্ছেদইমাম তাজউদ্দীন আস-সুবকীর যুগতাজ সুবকী যে সময়ে অতিবাহিত করেছেন তা 'বাহরি' নামক প্রথম মামলুক রাষ্ট্রের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ পর্যায় হিসেবে বিবেচিত হয়। কারণ তাজ ৭২৭ হিজরি থেকে ৭৭১ হিজরির মধ্যবর্তী সময়ে বেঁচে ছিলেন। তাই আমাদের এমন একটি সংক্ষিপ্ত চিত্র তুলে ধরা প্রয়োজন যা সেই সময়ে মিসর ও শামে বিদ্যমান রাজনৈতিক, জ্ঞানতাত্ত্বিক ও সামাজিক অবস্থার স্বরূপ ব্যাখ্যা করবে, যা সামগ্রিকভাবে অষ্টম হিজরি শতাব্দীকে প্রতিনিধিত্ব করে।
প্রথম অনুচ্ছেদ: রাজনৈতিক জীবনমামলুকরা—সুলতানদের বিরুদ্ধে একের পর এক যে ষড়যন্ত্র তারা বুনত ও পরিচালনা করত তার ধারাবাহিকতায়—
মিসরের সালতানাত গ্রহণ করতে সক্ষম হয়। এটি সম্ভব হয়েছিল ৬৪৮ হিজরিতে বনী আইয়ুবের শেষ রাজা সুলতান তুরানশাহ (১) নিহত হওয়ার পর,
… আর এভাবেই মামলুক যুগের সূচনা হয় যা প্রায় দুই শতাব্দীকাল স্থায়ী হয়েছিল (৩)।
মামলুক আমল তার পূর্ববর্তী আমলের চেয়ে খুব একটা ভালো অবস্থায় ছিল না; কারণ এই আমলটি বৈদেশিক অঙ্গনে বেশ কিছু ঝুঁকির সম্মুখীন ছিল। ক্রুসেডীয় বিপদ তখনও ইসলামি বিশ্বকে হুমকির মুখে ফেলে রেখেছিল, কারণ শাম দেশের উপকূলীয় অঞ্চলে কিছু ক্রুসেডীয় দুর্গ ও আমিরাত তখনও বিদ্যমান ছিল; যা মামলুকদের ওপর এই আমিরাতগুলোর অবশিষ্টাংশ পুনরুদ্ধার ও মুক্ত করার দায়িত্ব অর্পণ করে। এটি ছিল ৫৮৩ হিজরিতে বিখ্যাত হাত্তিন যুদ্ধে ক্রুসেডারদের পরাজিত করার পর ৫৮৯ হিজরিতে ইন্তেকালকারী সুলতান নাসির সালাহউদ্দীন আইয়ুবীর প্রচেষ্টারই ধারাবাহিকতা।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
মানহাজুল ইমাম তাজুদ দীন আস সুবকী ফী উসুলিল ফিকহ
(পৃষ্ঠা: ৮)
بالإضافة إلى الخطر الصليبي المتجذر، كان قد ظهر على الساحة خطر لا يقل خطورة - بل هو أشد خطراً - من الخطر الصليبي، ألا وهو غزو المغول لبلاد الإسلام، إذ بعد سقوط بغداد عاصمة الخلافة الإسلامية على يد هولاكو عام 656هـ (1)، وزَحْف المغول باتجاه بلاد الشام واحتلالهم لدمشق عام 658هـ (2)، ومن ثَمَّ محاولة الزحف باتجاه مصر، حيث كان المماليك قد تنبّهوا لذلك، وخرجوا بجيوشهم لملاقاة المغول في موقعة عين جالوت سنة 658هـ (3)، بقيادة السلطان المملوكي المظفر قطز (4)، حيث حقق الله تعالى النصرَ على يديه، وبذلك استطاع المماليك من وقف الزحف المغولي، ومن ثَمَّ بدأوا باسترجاع المدن والإمارات الإسلامية من بين أيديهم حتى تمَّ تحرير سائر بلاد الشام من أيدي المغول (5) في عهد السلطان الظاهر بيبرس (6).
وبعد ذلك التاريخ دانت بلاد الشام كلها لحكم المماليك، ومنذ ذلك الوقت ارتبط تاريخ الشام بتاريخ مصر، بحيث لا يمكن دراسة تاريخ الشام بمعزل عن تاريخ مصر؛ وذلك لقوّة الالتحام بين مصرَ والشام في هذا العصر في مختلف مظاهر الحياة العسكرية والسياسية والاجتماعية والاقتصادية
… والثقافية، وإنَّ ما يحدث في مصرَ من حالات ضعف وقوَّة كانت بدورها تَنْعكِس على الشام إيجاباً أو سلباً.
--------------------------------------------
বদ্ধমূল ক্রুসেডার বিপদের পাশাপাশি, সমকালীন প্রেক্ষাপটে এমন এক বিপদের উদ্ভব হয়েছিল যা ক্রুসেডার বিপদের চেয়ে কম ভয়ানক ছিল না—বরং এটি ছিল আরও বেশি বিপজ্জনক—আর তা হলো মুসলিম ভূখণ্ডে মঙ্গোলদের আক্রমণ। কেননা ৬৫৬ হিজরিতে (১) হালাকু খানের হাতে ইসলামি খিলাফতের রাজধানী বাগদাদের পতনের পর মঙ্গোলরা শাম অভিমুখে অগ্রসর হয় এবং ৬৫৮ হিজরিতে (২) দামেস্ক দখল করে নেয়। এরপর তারা মিসরের দিকে অগ্রসর হওয়ার চেষ্টা করে। সে সময় মামলুকরা এ বিষয়ে সজাগ হয়ে উঠেছিল এবং তারা ৬৫৮ হিজরিতে (৩) মামলুক সুলতান আল-মুজাফফর কুতুজের (৪) নেতৃত্বে আইন জালুতের যুদ্ধে মঙ্গোলদের মোকাবিলা করার জন্য সৈন্যবাহিনী নিয়ে বেরিয়ে পড়েছিল। সেখানে আল্লাহ তাআলা তাঁর হাতে বিজয় দান করেন। এর মাধ্যমে মামলুকরা মঙ্গোলদের অগ্রযাত্রা রুখতে সক্ষম হয় এবং এরপর তারা তাদের দখল থেকে মুসলিম শহর ও আমিরাতগুলো পুনরুদ্ধার করতে শুরু করে, এমনকি সুলতান আজ-জাহির বাইবার্সের (৬) শাসনামলে মঙ্গোলদের হাত থেকে সমগ্র শাম দেশ (৫) মুক্ত করা হয়।
উক্ত সময়ের পর সমগ্র শাম অঞ্চল মামলুক শাসনের অধীনে চলে আসে এবং তখন থেকেই শামের ইতিহাস মিসরের ইতিহাসের সাথে যুক্ত হয়ে যায়, ফলে মিসরের ইতিহাস থেকে বিচ্ছিন্ন করে শামের ইতিহাস অধ্যয়ন করা অসম্ভব হয়ে পড়ে। আর এর কারণ ছিল এই যুগে সামরিক, রাজনৈতিক, সামাজিক, অর্থনৈতিক
… এবং সাংস্কৃতিক জীবনের বিভিন্ন ক্ষেত্রে মিসর ও শামের মধ্যকার অত্যন্ত শক্তিশালী ঐক্য ও সংহতি। মিসরে শক্তি বা দুর্বলতার যে অবস্থাই সৃষ্টি হতো, তা পালাক্রমে শামের ওপর ইতিবাচক বা নেতিবাচক প্রভাব ফেলত।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
মানহাজুল ইমাম তাজুদ দীন আস সুবকী ফী উসুলিল ফিকহ
(পৃষ্ঠা: ৯)
وأما بالنسبة للخطر الصليبي، فقد استمرت المناوشات بين المماليك والصليبيين وظلَّ المماليك يحقِّقون الانتصار تِلْوَ الانتصار، حتى كان تحقيق أعظمَ انتصار وأهمَّه وذلك بفتح عكا سنة 690هـ (1) في عهد السلطان الأشرف بن قلاوون (2)، وقد كانت تلك الضربة القاضية للصليبيين، إذ لم يَقُم لهم بعد ذلك قائمة، فما تَبقَّى لهم من مدن لم تَلْبَث أن شاركت عكا في مصيرها؛ وبذلك استطاع المماليك إنهاء التواجد الصليبي مُنهِيةً بذلك عهد الصليبيين في الشام (3).
غير أنّ الصليبيين قد أعادوا الكرَّة، وذلك في الثلث الأخير من القرن الثامن الهجري وأغاروا على الإسكندرية واحتلوها سنة 767هـ (4)، ويصف لنا المؤرخ ابن كثير هذه الموقعة بقوله: ((وذلك أنّهم [الفرنج] وصلوا إليها [الإسكندرية]. . . فلم يجدوا بها نائباً ولا جيشاً ولا حافظاً للبحر ولا ناصراً، فدخلوها يوم الجمعة بُكْرة النهار بعد ما حرقوا أبواباً كثيرة منها، وعاثوا في أهلها فساداً، يقتّلون الرجال ويأخذون الأموال ويأسرون النساء والأطفال)) (5).
واستمرَّ الفرنج ينهبون الإسكندرية حتى وصل السلطان والجيش المصري إليها فهرب الفرنج منها آخذين معهم كثيراً من الأموال والخيرات والأسرى (6).
هكذا كان حال الدولة المملوكية في الخارج، دولة قوية مَنِيعَة مُهابَة الجانب استطاعت وَقْف الزحف المغولي، وإخراج بقايا فُلول الصليبيين من بلاد الشام.
أما في الداخل، فقد كان تاريخ المماليك متقلبا كثير الفوضى والاضطراب، حيث كانت الفتن
… والاضطرابات والصراع على السلطة هو المِيزة الرئيسة لعهد المماليك.
--------------------------------------------
আর ক্রুসেডার বিপদের ক্ষেত্রে, মামলুক ও ক্রুসেডারদের মধ্যে খণ্ডযুদ্ধ চলতেই থাকে এবং মামলুকরা একের পর এক বিজয় অর্জন করতে থাকেন। অবশেষে সুলতান আল-আশরাফ বিন কালাউনের (২) শাসনামলে ৬৯০ হিজরীতে (১) আক্কা বিজয়ের মাধ্যমে এক মহান ও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বিজয় অর্জিত হয়। এটিই ছিল ক্রুসেডারদের প্রতি চূড়ান্ত আঘাত, এরপর তারা আর মাথা তুলে দাঁড়াতে পারেনি। তাদের অধিকারে থাকা অবশিষ্ট শহরগুলোর ভাগ্যও অল্প সময়ের মধ্যেই আক্কার মতো হয়; এভাবেই মামলুকরা ক্রুসেডারদের উপস্থিতির অবসান ঘটাতে সক্ষম হয় এবং এর মাধ্যমে শাম (সিরিয়া) অঞ্চলে ক্রুসেডার যুগের ইতি ঘটে (৩)।
তবে ক্রুসেডাররা পুনরায় আক্রমণ চালায়। এটি ঘটেছিল অষ্টম হিজরী শতাব্দীর শেষ তৃতীয়াংশে, যখন তারা আলেকজান্দ্রিয়া আক্রমণ করে এবং ৭৬৭ হিজরীতে (৪) তা দখল করে নেয়। ইতিহাসবিদ ইবনে কাসীর এই যুদ্ধের বর্ণনা দিয়ে বলেন: ((তারা [ইউরোপীয়রা] সেখানে [আলেকজান্দ্রিয়া] পৌঁছাল... সেখানে তারা কোনো প্রতিনিধি, কোনো সেনাবাহিনী, কোনো সমুদ্র-রক্ষক বা কোনো সাহায্যকারী পায়নি। অনেকগুলো দরজা পুড়িয়ে দেওয়ার পর শুক্রবার ভোরের দিকে তারা শহরে প্রবেশ করে এবং সেখানকার অধিবাসীদের ওপর ব্যাপক বিশৃঙ্খলা ও তান্ডব চালায়; পুরুষদের হত্যা করে, সম্পদ কেড়ে নেয় এবং নারী ও শিশুদের বন্দি করে)) (৫)।
সুলতান ও মিশরীয় সেনাবাহিনী পৌঁছানো পর্যন্ত ইউরোপীয়রা আলেকজান্দ্রিয়ায় লুটতরাজ চালিয়ে যেতে থাকে। এরপর তারা বিপুল পরিমাণ ধন-সম্পদ ও বন্দি নিয়ে সেখান থেকে পালিয়ে যায় (৬)।
বৈদেশিক ক্ষেত্রে মামলুক রাষ্ট্রের অবস্থা ছিল এমনই—একটি শক্তিশালী, দুর্ভেদ্য ও মর্যাদাবান রাষ্ট্র, যা মোঙ্গলদের অগ্রযাত্রা রুখতে এবং শাম দেশ থেকে ক্রুসেডারদের অবশিষ্ট চিহ্নটুকু বিতাড়িত করতে সক্ষম হয়েছিল।
অভ্যন্তরীণ ক্ষেত্রে মামলুকদের ইতিহাস ছিল পরিবর্তনশীল এবং বিশৃঙ্খলা ও অস্থিরতায় পূর্ণ। যেখানে ফিতনা
… অস্থিরতা এবং ক্ষমতার দ্বন্দ্বই ছিল মামলুক যুগের প্রধান বৈশিষ্ট্য।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
মানহাজুল ইমাম তাজুদ দীন আস সুবকী ফী উসুলিল ফিকহ
(পৃষ্ঠা: ১০)
لقد كان عهد السلطان الناصر محمد بن قلاوون (1) في ولايته الثالثة 709 - 741هـ (2) هو آخر عهد بالاستقرار السياسي في دولة المماليك، فبعد وفاته تولى السلطنة ثمانيةٌ من أولاده في السنوات 741هـ - 762هـ، ومن ثَمَّ في العشرين سنة التالية 762 - 784هـ، تولى السلطنة أربعةٌ من أحفاده (3)، ومعلوم أنّ هذا العدد من السلاطين دليل على عدم الاستقرار السياسي.
وقد مرّ على هذه الفترة العديدُ من الأحداث الداخلية، إذ تقلَّد حكم مصرَ سلاطين
… أطفال (4)، لم يبلغوا سن الاحتلام، كانوا يُوَلَّون ويُعْزَلون طبقاً لأهواء أمراء المماليك الذين كان لهم النفوذ الأقوى في ذلك الوقت.
وخير ما يصوِّر ذلك الوضع ما قاله أحد شعراء ذلك العصر (5):
سلطانُنا اليومَ طفلٌ والأكابرُ في
… خُلْف بينهُم والشيطانُ قد نَزَغا
فكيفَ يَطمَعُ من في نفسْهِ مَظْلمة
… أن يَبْلُغَ في السّؤْلِ والسلطانُ ما بَلَغا؟!
ولم يكن للسلاطين في ذلك الوقت إلا مجرَّد الاسم فقط، وليس لهم من الأمر شيء؛ ذلك لصغر سِنِّهم، وضعف حيلتهم، فكان السلطان آلة في السلطنة والمتصرّف الحقيقي فيها هم الأمراء (6).
وهكذا ظل حال هؤلاء السلاطين أُلعوبة في أيدي الأمراء، وإذا ما حاول أحدهم التَمرّدَ عليهم أو التخلص من نفوذهم كانوا لا يتوَرّعون عن عزله وقتله أحياناً، فقد قُتِل أربعةٌ من السلاطين أبناء قلاوون على أيدي أمراء مماليكهم (7).
وأما بقية السلاطين فقلّما تجد واحداً منهم ترك الحكم بنتيجة طبيعية كالوفاة مثلاً، بل كانوا يُعزلون ويُولَّون تَبعاً لرغبات وأهواء الأمراء، دون النظر إلى أدنى مصلحة للبلاد أو العباد.
--------------------------------------------
সুলতান আন-নাসির মুহাম্মদ বিন কালাউনের (১) তৃতীয় শাসনকাল (৭০৯ - ৭৪১ হিজরি) (২) ছিল মামলুক সালতানাতের রাজনৈতিক স্থিতিশীলতার শেষ যুগ। তাঁর মৃত্যুর পর ৭৪১ হিজরি থেকে ৭৬২ হিজরি পর্যন্ত সময়ের মধ্যে তাঁর সন্তানদের মধ্য থেকে আটজন সালতানাতের দায়িত্বভার গ্রহণ করেন। এরপর পরবর্তী বিশ বছরে (৭৬২ - ৭৮৪ হিজরি) তাঁর পৌত্রদের মধ্য থেকে চারজন সুলতান হন (৩)। এটা সুপরিচিত যে, সুলতানদের এই সংখ্যা রাজনৈতিক অস্থিরতারই প্রমাণ বহন করে।
এই সময়কালে অনেক অভ্যন্তরীণ ঘটনাপ্রবাহ অতিবাহিত হয়েছে, কেননা তখন মিসরের শাসনক্ষমতায় এমন সব
… শিশু সুলতান (৪) আসীন হয়েছিলেন যারা তখনও সাবালকত্ব লাভ করেননি। তৎকালীন সময়ে যে সকল মামলুক আমিরদের সবচেয়ে বেশি প্রভাব-প্রতিপত্তি ছিল, তাদের খেয়ালখুশি অনুযায়ী এই সুলতানদের নিয়োগ ও বরখাস্ত করা হতো।
সেই সময়ের পরিস্থিতির শ্রেষ্ঠ চিত্রায়ন পাওয়া যায় তৎকালীন এক কবির উক্তিতে (৫):
আমাদের আজকের সুলতান এক শিশু, আর বড় বড় কর্তারা নিজেদের মধ্যে
… বিরোধে লিপ্ত এবং শয়তান তাদের মাঝে প্ররোচনা দিয়ে ফাটল ধরিয়েছে।
যার মনে কোনো
… আরজি আছে, সে কীভাবে তা পূরণের আশা করতে পারে, যখন সুলতান নিজেই এখনও সাবালকত্বে পৌঁছাননি?!
সেই সময়ে সুলতানগণ কেবল নামমাত্র ছিলেন, রাষ্ট্র পরিচালনার ক্ষেত্রে তাদের কোনো ভূমিকা ছিল না। এর কারণ ছিল তাদের অল্প বয়স এবং কৌশলের অভাব। ফলে সুলতান সালতানাতে কেবল একটি যন্ত্রের মতো ছিলেন, আর প্রকৃত ক্ষমতার অধিকারী ছিলেন আমিরগণ (৬)।
এভাবে এই সুলতানগণ আমিরদের হাতের পুতুল হয়ে রইলেন। যদি তাদের কেউ আমিরদের বিরুদ্ধে বিদ্রোহ করার বা তাদের প্রভাব থেকে মুক্ত হওয়ার চেষ্টা করত, তবে তারা তাকে বরখাস্ত করতে এবং কখনও কখনও হত্যা করতেও দ্বিধাবোধ করত না। কালাউনের সন্তানদের মধ্য থেকে চারজন সুলতান তাদের নিজস্ব মামলুক আমিরদের হাতে নিহত হয়েছিলেন (৭)।
আর অবশিষ্ট সুলতানদের মধ্যে খুব কমই কাউকে পাওয়া যাবে যারা স্বাভাবিকভাবে (যেমন মৃত্যুর মাধ্যমে) ক্ষমতা ত্যাগ করেছেন; বরং আমিরদের ইচ্ছা ও খেয়ালখুশি অনুযায়ী তাদের বরখাস্ত ও নিয়োগ দেওয়া হতো, যেখানে দেশ বা জনগণের ন্যূনতম স্বার্থের দিকেও খেয়াল রাখা হতো না।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
মানহাজুল ইমাম তাজুদ দীন আস সুবকী ফী উসুলিল ফিকহ
(পৃষ্ঠা: ১১)
ولم يقف الحدُّ عند تآمر الأمراء على سلاطينهم، بل وجدتُ أنّ أبناء قلاوون أنفسهم يتآمرون على بعضهم ويَقتُل بعضهم بعضاً، فقد وجدت الملك الصالح إسماعيل (1) يأمر بحصار أخيه أحمد (2) في قلعة الكرك ورميه بالمنجنيق، وذلك خَشيةً من محاولته العودة إلى السلطنة، حيث وقعت عدّة معارك بين العسكر المصري وبين أهل الكرك، وفيها قُتِل عدد كبير من الطرفين، واستمر حصار الكرك مدة سنتين انتهت بدخول الكرك ومن ثَمّ قلعتها حيث قُبِض على السلطان أحمد وقُتِل وحُمِل رأسه إلى أخيه الملك الصالح فقابله بأشدّ الفرح ولا حول ولا قوّة إلا بالله (3).
ولم يكن حال السلاطين أنفسهم بأفضل من مماليكهم، فقد عمَّ الفسق والفجور والظلم عند هؤلاء السلاطين، وفشى فيهم معاقرة الخمور وغشيان المنكرات وأكل أموال الناس بالباطل، حتى قال ابن شهبة في وصف خلاعة ومجون السلاطين وخاصة الملك المنصور سيف الدين أبو بكر (4) أنّه كان يتعاطى شرب الخمر: ((وغشيان المنكرات وتفريق الأموال على أهل الطرب، والتعاطي بما لا يليق به، ومعاشرة الخاصكية من المردان وغيرهم)) (5).
هكذا كان حال هؤلاء السلاطين، وحَريٌّ بأمّة هكذا سلاطينها أن يذيقها الله تعالى وَبالَ أمرها، وما الفتن الداخلية والاضطرابات الكثيرة وعزل السلاطين ومقتلهم إلا نكالاً من الله تعالى بهم لفسقهم وتعدِّيهم على حرمات الله (6).
--------------------------------------------
আমীরদের তাঁদের সুলতানদের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র করাই শেষ সীমা ছিল না, বরং আমি দেখেছি যে কালাউনের পুত্ররা নিজেরাও একে অপরের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র করত এবং একে অপরকে হত্যা করত। আল-মালিক আস-সালিহ ইসমাঈলকে (১) তাঁর ভাই আহমাদকে (২) আল-কারাক দুর্গে অবরোধ করার এবং মিনজানিক (পাথর নিক্ষেপক যন্ত্র) দিয়ে তাঁকে আঘাত করার নির্দেশ দিতে দেখা যায়; এটি ছিল তাঁর সুলতান পদে ফিরে আসার প্রচেষ্টার আশঙ্কায়। সেখানে মিসরীয় সেনাবাহিনী ও কারাকবাসীর মধ্যে বেশ কয়েকটি যুদ্ধ সংঘটিত হয় এবং এতে উভয় পক্ষের বিপুল সংখ্যক মানুষ নিহত হয়। কারাক অবরোধ দুই বছর স্থায়ী হয় এবং শেষ পর্যন্ত কারাকে এবং তারপর তার দুর্গে প্রবেশের মাধ্যমে শেষ হয়, যেখানে সুলতান আহমাদকে বন্দি করা হয় ও হত্যা করা হয় এবং তাঁর মাথা তাঁর ভাই আল-মালিক আস-সালিহ-এর কাছে নিয়ে যাওয়া হয়। তিনি এতে অত্যন্ত আনন্দিত হন। আল্লাহ ছাড়া কোনো শক্তি বা ক্ষমতা নেই (৩)।
সুলতানদের নিজেদের অবস্থা তাঁদের মামলুকদের চেয়ে ভালো ছিল না। এই সুলতানদের মাঝে পাপাচার, অনৈতিকতা ও জুলুম ছড়িয়ে পড়েছিল। তাঁদের মধ্যে মদ্যপানে লিপ্ত হওয়া, অপকর্মের প্রসার এবং মানুষের সম্পদ অন্যায়ভাবে ভক্ষণ করার প্রবণতা বৃদ্ধি পেয়েছিল। এমনকি ইবনে শাহবা সুলতানদের—বিশেষ করে আল-মালিক আল-মানসুর সাইফউদ্দীন আবু বকর (৪)—এর অসংলগ্নতা ও চারিত্রিক স্খলন বর্ণনায় বলেছেন যে, তিনি মদ্যপানে লিপ্ত হতেন: ((এবং পাপাচার ও গায়ক-বাদকদের পেছনে অর্থ অপচয় করা এবং নিজের পদের অনুপযুক্ত কাজে লিপ্ত হওয়া এবং বালক ভৃত্য ও অন্যদের সাথে মেলামেশা করা)) (৫)।
এই ছিল এই সুলতানদের অবস্থা। যে উম্মতের সুলতানরা এমন হয়, মহান আল্লাহ তাঁদের তাঁদের কর্মের অশুভ পরিণাম আস্বাদন করানোটাই স্বাভাবিক। অভ্যন্তরীণ ফিতনা, বহুবিধ বিশৃঙ্খলা, সুলতানদের পদচ্যুতি এবং তাঁদের হত্যাকাণ্ড মহান আল্লাহর পক্ষ থেকে তাঁদের পাপাচার এবং আল্লাহর পবিত্র সীমানাসমূহ লঙ্ঘনের কারণে এক প্রকার শাস্তি ছাড়া আর কিছু নয় (৬)।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
মানহাজুল ইমাম তাজুদ দীন আস সুবকী ফী উসুলিল ফিকহ
(পৃষ্ঠা: ১২)
كل هذه الأمور مُجتَمعةً والمتمثّلة بضعف السلاطين، وتنافسهم على العرش، وإغراق بعضهم في المجون وانغماسهم في التَّرف، إضافة إلى ازدياد نفوذ أمراء المماليك، كل هذه العوامل أدت إلى انحلال أسرة قلاوون، وإنهاء حكم بني قلاوون الذي استمر حوالي 106 سنوات من سنة 678 - 784هـ، وبنهاية أسرة قلاوون ينتهي عهد المماليك البحرية ويبدأ عهد المماليك الجراكسة [البرجية] سنة 784هـ (1).
هذه هي الأحوال العامّة في مصر، أما في الشام والتي عاش فيها التاج السبكي جُلّ حياته، فلم يكن الحال فيها بأحسن من حال مصر الأم، حيث كانت الشام تابعة للسلطنة في مصر في مختلف نواحي الحياة، ورَغمَ تبعية الشام المحضة لمركز السلطنة إلا أنّه وُجِدت بعض محاولات الانفصال عن مصر، غير أنّ التقسيم الإداري لبلاد الشام بحيث تكون كل نيابة شبه مستقلة، والسلطان يختار من يملأ المناصب الكبرى، ومن ثم حاجة الشام إلى العسكر المصري ضد الأخطار الخارجية حال دون نجاح أية حركة انفصالية رغم كثرة ثورات المماليك هناك (2).
إلا أنّ هناك مِيزة لأهل الشام تَميَّزوا بها عن أهل مصر ذلك أنّ أهل الشام كانوا أسرع إلى مواجهة أوامر الدولة بالإنكار من أهل مصر، وكانوا يتعلقون بكل سبب لإظهار عدم رضاهم عن بعض تصرفات الموظفين والمباشرين (3).
يمكن تلخيص الملامح العامّة للوضع السياسي في مصر والشام في القرن الثامن الهجري بما يأتي (4):
1 - صغر سن السلاطين الذين تعاقبوا على الحكم.
2 - ازدياد نفوذ الأمراء واشتداد سطوتهم وتَحَكُّمهم في مصالح البلاد وتلاعبهم بالسلاطين، بالتعيين والعزل والقتل وفقاً لأهوائهم.
3 - ازدياد نفوذ طائفة المماليك الجراكسة [البرجية] ازدياداً مضطرداً، فاستطاع أفرادها كسب الجولة الأخيرة من الصراع، وأسسوا دولة مملوكية ثانية على أنقاض الدولة المملوكية الأولى.
4 - اشتداد الانحلال الخلقي بشكل واضح، وكان السلاطين والأمراء هم مصدر هذا البلاء، فاشتهروا بالإدمان على الخمور ومعاشرة الجواري والخاصكية والمغنيات.
--------------------------------------------
এই সকল বিষয় একত্রিত হয়ে এবং সুলতানদের দুর্বলতা, সিংহাসন নিয়ে তাদের পারস্পরিক প্রতিযোগিতা, তাদের কারো কারো কামাচার ও বিলাসিতায় নিমগ্ন হওয়া, সেই সাথে মামলুক আমিরদের প্রভাব বৃদ্ধির মাধ্যমে প্রকাশ পেয়ে—এই সকল কারণ ক্বালাউন পরিবারের ভাঙন এবং বনু ক্বালাউনের শাসনের সমাপ্তি ঘটায়, যা ৬৭৮ থেকে ৭৮৪ হিজরি পর্যন্ত প্রায় ১০৬ বছর স্থায়ী ছিল। ক্বালাউন পরিবারের পতনের মাধ্যমে বাহরি মামলুক যুগের অবসান ঘটে এবং ৭৮৪ হিজরিতে সার্কাসীয় [বুরজি] মামলুক যুগের সূচনা হয় (১)।
এগুলো ছিল মিসরের সাধারণ অবস্থা। আর শামের অবস্থা—যেখানে তাজ সুবকী তাঁর জীবনের অধিকাংশ সময় কাটিয়েছেন—তা মূল কেন্দ্র মিসরের অবস্থার চেয়ে ভালো ছিল না। কেননা শাম জীবনের বিভিন্ন ক্ষেত্রে মিসরীয় সালতানাতের অনুগামী ছিল। যদিও শাম পুরোপুরিভাবে সালতানাতের কেন্দ্রের অনুগামী ছিল, তবুও মিসর থেকে বিচ্ছিন্ন হওয়ার কিছু প্রচেষ্টা সেখানে পরিলক্ষিত হয়। তবে শামের প্রশাসনিক বিন্যাস এমন ছিল যে প্রতিটি নিয়াবাত (প্রতিনিধিত্বকারী অঞ্চল) প্রায় স্বায়ত্তশাসিত ছিল এবং সুলতান উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাদের মনোনীত করতেন। অধিকন্তু, বহিঃশত্রুর মোকাবিলায় শামের জন্য মিসরীয় সেনাবাহিনীর প্রয়োজনীয়তা সেখানে মামলুকদের অসংখ্য বিদ্রোহ সত্ত্বেও যে কোনো বিচ্ছিন্নতাবাদী আন্দোলনের সাফল্যকে বাধাগ্রস্ত করেছিল (২)।
তবে শামের অধিবাসীদের একটি বৈশিষ্ট্য ছিল যা তাদের মিসরের অধিবাসীদের থেকে পৃথক করেছিল। তা হলো, শামের অধিবাসীরা রাষ্ট্রীয় নির্দেশের প্রতিবাদে মিসরীয়দের চেয়ে অধিক তৎপর ছিল। তারা সরকারি কর্মকর্তা ও পরিচালকদের কিছু কর্মকাণ্ডের প্রতি তাদের অসন্তোষ প্রকাশের জন্য যে কোনো উপলক্ষকে আঁকড়ে ধরত (৩)।
অষ্টম হিজরি শতাব্দীতে মিসর ও শামের রাজনৈতিক পরিস্থিতির সাধারণ বৈশিষ্ট্যগুলো নিম্নরূপভাবে সংক্ষেপ করা যেতে পারে (৪):
১ - একের পর এক ক্ষমতায় আসা সুলতানদের অল্প বয়স।
২ - আমিরদের প্রভাব বৃদ্ধি, তাদের আধিপত্যের তীব্রতা এবং দেশের স্বার্থের ওপর তাদের নিয়ন্ত্রণ; আর নিজেদের খেয়ালখুশি মতো সুলতানদের নিয়োগ, বরখাস্ত ও হত্যার মাধ্যমে তাদের ওপর খবরদারি করা।
৩ - সার্কাসীয় [বুরজি] মামলুক গোষ্ঠীর প্রভাব ক্রমাগত বৃদ্ধি পাওয়া; ফলে তাদের সদস্যরা দ্বন্দ্বের চূড়ান্ত পর্যায়ে জয়ী হতে সক্ষম হয় এবং প্রথম মামলুক রাষ্ট্রের ধ্বংসাবশেষের ওপর দ্বিতীয় মামলুক রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা করে।
৪ - নৈতিক অবক্ষয় স্পষ্টভাবে তীব্রতর হওয়া; আর সুলতান ও আমিররাই ছিলেন এই বিপর্যয়ের উৎস। তারা মদ্যপান এবং দাসী, খাস পরিচারক ও গায়িকাদের সাথে মেলামেশায় আসক্তির জন্য পরিচিত ছিলেন।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
মানহাজুল ইমাম তাজুদ দীন আস সুবকী ফী উসুলিল ফিকহ
(পৃষ্ঠা: ১৩)
موقف التاج السبكي من الوضع السياسيلم يكن التاج السبكي رجلاً منعزلاً عن أمّته، بل كان - رحمه الله تعالى - قريباً جداً منها، يلتمس همومها ويتأثر بما تتأثر به الأمّة، ولم يكن - رحمه الله تعالى - تأخذه في الله لومة لائم؛ لذا فقد وجدته كثير الانتقاد لأحوال الدولة السياسية العامّة، وكانت له مواقف كثيرة في هذا المجال لا يَقِفها إلا أمثاله من العلماء المخلصين الذين لا يداهنون في دين الله أحداً، ومن هنا جاء انتقاد التاج السبكي للسياسة التي اتبعها المماليك في ذلك العصر، واعتبر أنّ سياستهم لا تنفع أحداً، بل مَضرّتها أكثر من نَفْعِها، وأنّه لا بد من رفع الأمور إلى الشرع، فهو يقول في ذلك مُبيّنا ما على الحاجب من أمور: ((عليه رفع الأمور إلى الشرع، وأن يعتقد أنّ السياسة لا تنفع شيئا (1)، بل تَضرّ البلاد والرعايا، وتُوجبُ الهَرَج (2) والمَرَج (3)، ومصلحةُ الخلق فيما شرعه الخالق الذي هو أعلم بمصالحهم ومفاسدهم، وشريعةُ نبيّنا محمد صلى الله عليه وسلم متكفّلةٌ بجميع مصالح الخلق في معاشهم ومعادهم، ولا يأتي الفسادُ إلا من الخروج عنها، ومن لَزِمَها صَلُحَتْ أيامه واطمأنت)).
ثم بيّن أنّه ما من سلطان ولا حاجب ولا صاحبُ شرطة يُعْمِلُ حُكمَ الله تعالى، ويُلقِي الأمور إلى الشرع إلا اطمأنت نفسه ونجا من المصائب والمحن، وكانت أيامه أصلح وأقل مفاسد. . . وقال:
… ((وكذلك اعتبرت فلم أرَ ولم أجد من يظن أنّه يُصْلح الدنيا بعقله، ويُدَبّر البلاد برأيه وسياسته،
… ويَتعدّى حدود الله تعالى وزواجره، إلا وكانت عاقبتُهُ وخيمةً وأيامُه منغصةً منكدة، وعيشُه قلقاً،
… وتُفتح عليه أبواب الشرور، ويتسع الخرق على الراقع، فلا يَسدُّ ثُلمة (4) إلا وتُفتَح ثُلمات، ولا تُرفَع فتنة إلا وينشأ بعدها فتن كثيرة)) (5).
--------------------------------------------
রাজনৈতিক পরিস্থিতির প্রতি তাজ সুবকির অবস্থানতাজ সুবকি তাঁর উম্মত থেকে বিচ্ছিন্ন কোনো ব্যক্তি ছিলেন না, বরং তিনি—আল্লাহ তাআলা তাঁর প্রতি রহম করুন—তাদের খুব কাছাকাছি ছিলেন, তাদের দুঃখ-কষ্ট অনুভব করতেন এবং উম্মত যা দ্বারা প্রভাবিত হতো তিনিও তার দ্বারা প্রভাবিত হতেন। আল্লাহর দ্বীনের পথে কোনো তিরস্কারকারীর তিরস্কার তাঁকে বিচলিত করত না; তাই আমি তাঁকে রাষ্ট্রের সাধারণ রাজনৈতিক অবস্থার কঠোর সমালোচনা করতে দেখি। এই ক্ষেত্রে তাঁর এমন অনেক সাহসী অবস্থান ছিল যা কেবল তাঁর মতো একনিষ্ঠ আলেমদের পক্ষেই সম্ভব, যারা আল্লাহর দ্বীনের ব্যাপারে কারো সাথে তোষামোদি করেন না। এখান থেকেই তাজ সুবকির সেই রাজনীতির সমালোচনা আসে যা সেই যুগে মামলুকরা অনুসরণ করত। তিনি মনে করতেন যে তাদের রাজনীতি কারো উপকারে আসে না, বরং এর উপকারিতার চেয়ে ক্ষতিই বেশি; এবং বিষয়গুলোকে অবশ্যই শরীয়তের দিকে ফিরিয়ে নিতে হবে। এই বিষয়ে তিনি হাজিবের (উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা) দায়িত্ব বর্ণনা করে বলেন: ((তার উচিত বিষয়গুলোকে শরীয়তের দিকে ফিরিয়ে দেওয়া এবং এই বিশ্বাস রাখা যে (শরীয়তবিমুখ) রাজনীতি কোনো কাজে আসে না (১), বরং তা দেশ ও প্রজাসাধারণের ক্ষতি করে এবং বিশৃঙ্খলা (২) ও অরাজকতা (৩) সৃষ্টি করে। সৃষ্টির কল্যাণ নিহিত রয়েছে স্রষ্টা যা প্রবর্তন করেছেন তার মধ্যে, যিনি তাদের কল্যাণ ও অকল্যাণ সম্পর্কে সবচেয়ে ভালো জানেন। আমাদের নবী মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর শরীয়ত সৃষ্টির ইহকালীন ও পরকালীন সমস্ত কল্যাণের জিম্মাদার। শরীয়ত থেকে বিচ্যুত হওয়া ছাড়া অন্য কোনোভাবে বিপর্যয় আসে না। আর যে ব্যক্তি একে আঁকড়ে ধরবে, তার দিনগুলো সুন্দর হবে এবং সে প্রশান্তি লাভ করবে।))
অতঃপর তিনি বর্ণনা করেন যে, এমন কোনো সুলতান, হাজিব বা পুলিশ প্রধান নেই যে আল্লাহ তাআলার বিধান কার্যকর করে এবং বিষয়গুলোকে শরীয়তের সোপর্দ করে, কিন্তু তার অন্তর প্রশান্ত হয় না এবং সে বিপদ-আপদ ও মুসিবত থেকে মুক্তি পায় না; বরং তার সময়কাল অধিকতর কল্যাণকর এবং তাতে অনিষ্ট কম থাকে। . . এবং তিনি বলেন:
… ((অনুরূপভাবে আমি পর্যবেক্ষণ করেছি এবং এমন কাউকে দেখিনি বা পাইনি যে মনে করে সে তার নিজের বুদ্ধিবলে দুনিয়াকে সংশোধন করবে, নিজের মত ও রাজনীতির মাধ্যমে দেশ পরিচালনা করবে,
… এবং আল্লাহ তাআলার সীমা ও তাঁর নিষেধাজ্ঞাগুলো লঙ্ঘন করবে, অথচ তার পরিণাম ভয়াবহ হয়নি এবং তার দিনগুলো অশান্ত ও কণ্টকাকীর্ণ হয়নি এবং তার জীবন উদ্বেগপূর্ণ হয়নি,
… তার ওপর মন্দের দ্বার উন্মুক্ত হয় এবং তালি প্রদানকারীর জন্য ফাটল আরও বড় হয়ে যায়, ফলে সে একটি ছিদ্র (৪) বন্ধ করতে না করতেই আরও অনেক ছিদ্র খুলে যায়, এবং একটি ফিতনা দূর করতে না করতেই এরপর আরও অনেক ফিতনা তৈরি হয়)) (৫)।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
মানহাজুল ইমাম তাজুদ দীন আস সুবকী ফী উসুলিল ফিকহ
(পৃষ্ঠা: ১৪)
هذا هو موقف التاج السبكي من السياسة، وهذا رأيه فيها، ومع ذلك فلم يكن بعيداً عنها، وقد وجدته كثيراً ما ينتقد تصرفات الحكام والسلاطين، فمن ذلك ما دَوّنه في كتابه العظيم ((معيد النعم)) حيث قال مُوجّهاً خطابه إلى الخلفاء والسلاطين وولاة الأمور: ((إذا ولاك الله تعالى أمراً على الخلق فعليك البحثُ عن الرعية، والعدلُ بينهم في القضية، والحكمُ فيهم بالسوية، ومُجانَبة الهوى والميل، وعدمُ سماع بعضهم في بعض، إلا أن يأتيَ بحجة مبيّنة، وعدمُ الركون إلى الأسبق، فإن وجدت نفسك تُصغي إلى الأسبق وتميل إلى صدقه؛ فاعلم أنّك ظالم للخلق، وأنّ قلبك إلى الآن متقلّب مع الأغراض، يُميلُه الهوى كيف شاء [إلى أن قال]: وقد اعتبرتُ كثيراً من الأتراك فوجدتهم يميلون إلى أول شاك، وما ذاك إلا للغفلة المستولية على قلوبهم التي صيّرت قلوبهم كالأرض الترابية التي لم تُروَ بالماء)) (1).
وقال مبيّناً للسلاطين حقيقة أمرهم وحقيقة الخلافة: ((وأن تعرف أنّك أنت والرعية سواء لم تَتَميّز عنهم بنفسك، بل بفعل الله تعالى الذي لو شاء لأعطاهم ومنعك، فإذا كان قد أعطاك الولاية عليهم ومنعهم فما ينبغي أن تتمرّدَ وتستعين بنعمته على معصيته وأذاهم، بل لا أقَلّ من أن تتجنّبَ أذاهم وتكُفَّ عنهم شَرَّك، وتُجانبَ الهوى والميلَ والغَرَض، فنعمة الولاية لا تتطلب منك غير ذلك)) (2).
وقال أيضاً مبيّناً ما على السلطان من وظائف: ((فمن وظائف السلطان تجنيد الجنود، وإقامة فرض الجهاد لإعلاء كلمة الله تعالى، فإنّ الله تعالى لم يُوَلّه على المسلمين ليكون رئيساً آكلاً شارباً مستريحاً، بل لينصُرَ الدين وُيعلي الكلمة، فمن حقه ألا يدعَ الكفار يكفرون أَنعُم الله، ولا يؤمنون بالله ولا برسوله، فإذا رأينا ملكاً تقاعد عن هذا الأمر، وأخذ يظلم المسلمين، ويأكل أموالهم بغير حق ثم سلبه الله نعمته وجاء يعتب الزمان، ويشكو الدهر أفليس هو الظالم، وقد كان يمكنه بَدَل أَخْذ أموال المسلمين وظلمهم أن يُقيمَ جماعةً في البحر يتلصّصون أهل الحرب؟! فإن كان هذا الملك شجاعاً ناهضاً فَلْيُرِنا همته في أعداء الله الكفار، ويجاهدهم ويتلصّصهم، ويُعملَ الحيلة في أخذ أموالهم حِلاً وبِلاً (3) ويدعَ عنه أذية المسلمين)) (4).
يالها من كلمات قاسية الوقع عظيمة الأثر، لا يفوه بها إلا من كان يتمتع بصفات عالية من الجرأة والشجاعة التي لا يتصف بها إلا من كان من أمثال التاج السبكي (5).
--------------------------------------------
এটিই রাজনীতির প্রতি তাজ আল-দীন আস-সুবকীর অবস্থান এবং এতে তাঁর অভিমত। তা সত্ত্বেও তিনি রাজনীতি থেকে দূরে ছিলেন না। আমি তাঁকে প্রায়শই শাসক ও সুলতানদের কর্মকাণ্ডের সমালোচনা করতে দেখেছি। এর মধ্যে একটি হলো যা তিনি তাঁর মহান গ্রন্থ 'মুয়ীদুন নিআম'-এ লিপিবদ্ধ করেছেন, যেখানে তিনি খলিফা, সুলতান ও শাসনকর্তাদের সম্বোধন করে বলেছেন: "যখন আল্লাহ তাআলা তোমাকে সৃষ্টির ওপর কোনো বিষয়ের দায়িত্ব অর্পণ করেন, তখন তোমার কর্তব্য হলো প্রজাদের অবস্থা অনুসন্ধান করা, তাদের মাঝে বিচারে ইনসাফ করা, তাদের মধ্যে সমতার ভিত্তিতে ফয়সালা করা, প্রবৃত্তি ও পক্ষপাতিত্ব পরিহার করা এবং একজনের বিরুদ্ধে অন্যজনের কথা না শোনা, যতক্ষণ না সে সুস্পষ্ট প্রমাণ নিয়ে আসে। আর প্রথম আগমনকারীর প্রতি ঝুঁকে না পড়া। কারণ তুমি যদি লক্ষ্য করো যে তোমার মন প্রথম অভিযোগকারীর কথা শুনতে আগ্রহী এবং তার সত্যতার দিকে ঝুঁকছে, তবে জেনে রাখো যে তুমি সৃষ্টির প্রতি জুলুম করছ। তোমার অন্তর এখনো উদ্দেশ্য দ্বারা প্রভাবিত হচ্ছে এবং খেয়াল-খুশি তাকে যেভাবে ইচ্ছা সেদিকে চালিত করছে। [তিনি আরও বলেন:] আমি তুর্কিদের অনেককেই পর্যবেক্ষণ করেছি এবং তাদের প্রথম অভিযোগকারীর দিকেই ঝুঁকতে দেখেছি। আর তা কেবল তাদের অন্তরে জেঁকে বসা উদাসীনতার কারণেই হয়েছে, যা তাদের অন্তরকে এমন শুষ্ক মাটির মতো করে দিয়েছে যা পানি দ্বারা সিক্ত হয়নি।" (১)।
সুলতানদের কাছে তাদের বিষয়ের এবং খেলাফতের হাকিকত বর্ণনা করে তিনি বলেন: "আর জেনে রেখো যে, তুমি এবং সাধারণ প্রজারা সমান; তুমি সত্তাগতভাবে তাদের থেকে উচ্চতর নও, বরং আল্লাহ তাআলার বিশেষ কর্মের মাধ্যমে (তুমি মর্যাদা পেয়েছ), যিনি চাইলে তাদের এটি দিতে পারতেন এবং তোমাকে বঞ্চিত করতে পারতেন। সুতরাং তিনি যখন তোমাকে তাদের ওপর কর্তৃত্ব দান করেছেন এবং তাদের তা থেকে বঞ্চিত করেছেন, তখন তোমার জন্য অবাধ্য হওয়া এবং তাঁর নেয়ামতকে তাঁর নাফরমানি ও তাদের কষ্টের কাজে ব্যবহার করা সমীচীন নয়। বরং কমপক্ষে তাদের কষ্ট দেওয়া থেকে বিরত থাকা এবং তাদের থেকে তোমার অনিষ্ট দূর রাখা আবশ্যক। প্রবৃত্তি, পক্ষপাতিত্ব ও ব্যক্তিগত স্বার্থ পরিহার করাও জরুরি। কর্তৃত্বের নেয়ামত তোমার কাছে এর চেয়ে বেশি কিছু দাবি করে না।" (২)।
সুলতানের দায়িত্বসমূহ বর্ণনা করে তিনি আরও বলেন: "সুলতানের অন্যতম দায়িত্ব হলো সৈন্য সমাবেশ করা এবং আল্লাহর বাণীকে সমুন্নত করার জন্য ফরজে জিহাদ কায়েম করা। কেননা আল্লাহ তাআলা তাকে মুসলমানদের ওপর এই জন্য শাসক বানাননি যে সে কেবল একজন আহারকারী, পানকারী ও আরামপ্রিয় নেতা হবে। বরং সে যেন দ্বীনকে সাহায্য করে এবং (আল্লাহর) বাণীকে উচ্চকিত করে। সুতরাং তার ওপর হক হলো সে যেন কাফেরদের আল্লাহর নেয়ামত অস্বীকার করতে না দেয় এবং আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের ওপর ঈমান না আনার সুযোগ না দেয়। আমরা যখন এমন কোনো রাজাকে দেখি যে এই দায়িত্ব পালনে অলসতা করে এবং মুসলমানদের ওপর জুলুম শুরু করে ও অন্যায়ভাবে তাদের ধন-সম্পদ আত্মসাৎ করে, অতঃপর আল্লাহ তার নেয়ামত কেড়ে নেন এবং সে সময়ের ওপর দোষ চাপাতে থাকে ও যুগের বিরুদ্ধে অভিযোগ করে—তবে সে কি নিজেই জালেম নয়? অথচ মুসলমানদের সম্পদ গ্রহণ ও তাদের ওপর জুলুম করার পরিবর্তে সে সাগরে একটি দল নিযুক্ত করতে পারত যারা হারবী কাফেরদের আক্রমণ করত?! এই রাজা যদি সাহসী ও উদ্যোগী হতো তবে সে যেন আল্লাহর শত্রু কাফেরদের বিরুদ্ধে তার হিম্মত দেখাত, তাদের বিরুদ্ধে জিহাদ করত, তাদের ওপর আক্রমণ চালাত এবং হালাল ও বৈধ উপায়ে তাদের সম্পদ অর্জনে কৌশল অবলম্বন করত, আর মুসলমানদের কষ্ট দেওয়া ছেড়ে দিত।" (৪)।
কী কঠোর বাণীর আঘাত এবং কী মহান এর প্রভাব! এ ধরনের কথা কেবল সেই ব্যক্তিই উচ্চারণ করতে পারেন যিনি উচ্চতর সাহস ও বীরত্বপূর্ণ গুণের অধিকারী, যা একমাত্র তাজ আল-দীন আস-সুবকীর মতো ব্যক্তিদের মাঝেই দেখা যায় (৫)।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
মানহাজুল ইমাম তাজুদ দীন আস সুবকী ফী উসুলিল ফিকহ
(পৃষ্ঠা: ১৫)
المطلب الثاني: الحياة الاجتماعيةإنّ الحياة الاجتماعية في أي بلد إنّما هي الانعكاس الحقيقي، والتمثيل العملي للوضع السياسي في ذلك البلد، إذ كلما كانت الحياة السياسية طبيعية ومستقرة كانت الحياة الاجتماعية مستقرة مزدهرة والناس في رَغَدٍ وهناء، وكلما اضطربت الحياة السياسية تَبِع ذلك اضطراب في الحياة الاجتماعية؛ فتسود الفوضى، ويَعم الظلم والجور والانحلال والفساد، إذ أنّ قوّة البلد سياسياً تستلزم قوّة المجتمع وترابط أفراده واستقرار نظامِهِ، وكلما كانت البلد ضعيفة سياسياً انعكس ذلك سلبياً على الحياة الاجتماعية في ذلك البلد.
وقد كان الوضع السياسي في القرن الثامن الهجري في مصر والشام وضعاً كثير الاضطراب والانقلاب؛ مما يعني ضعف المجتمع وضعف الحياة الاجتماعية في مصر والشام في تلك الفترة.
لقد كان المجتمع المملوكي في تلك الفترة مجتمعاً طبقياً تَميَّز بكَثْرَة طبقاته، إذ أنّ طبيعةَ حكم المماليك الأغراب عن تلك البلاد، وانعزالهم عن أهل البلاد وعن انخراطهم في سلكهم، أدى إلى ظهور طبقة مُتمَيّزة في المجتمع، تمتلكُ زِمامَ الحكم فيه وهي طبقة المماليك أصحاب السيادة والنفوذ (1).
بناءً على ذلك يمكن تقسيم المجتمع المملوكي في تلك الفترة إلى الطبقات الآتية (2):
الطبقة الأولى: أهلُ الدولة من السلاطين والمماليك، وهؤلاء كانوا يعيشون حياة الترف واللهو،
… وكَثُرت الأموال في أيديهم، مما جعلهم طبقة مُتَميّزة منعزلة عن بقية الشعب (3).
الطبقة الثانية: أهلُ اليَسار من التجار وأولي النِّعمة من ذوي الرفاهة، وكان هؤلاء من المقرّبين إلى السلاطين، ذلك أنّ السلاطين كانوا قد أحسّوا أنّ هذه الطبقة هي المصدر الأساسي الذي يَمُدُّ الدولة بالمال لا سيّما في ساعات الحرج والشدة (4).
الطبقة الثالثة: المُعَمّمون، وهم أَرباب الوظائف الديوانية والفقهاء والعلماء والأدباء والكُتّاب، وهؤلاء كانوا موضعَ احترامٍ وتقدير من السلاطين؛ ذلك أنّ المماليك كانوا يَرغبون بالعلماء والفقهاء لأنّهم قوّةٌ لها وزنُها في اكتساب الرأي العام في البلاد، وبذلك يكون لهم دِعامة قوية يستندون إليها في حكمهم، ويستعينون بها على إرضاء عامّة الشعب (5).
الطبقة الرابعة: طبقة الصناع والعمال وأصحاب المهن والأُجَراء، وهم ما يطلق عليهم بالاصطلاح المعاصر بطبقة (العامّة)، وهؤلاء كالعادة كانوا يعيشون حياة البؤس والفقر بالنسبة لطبقة المماليك وغيرهم من المُنَعّمين؛ لذا كانوا كثيراً ما يلجئون إلى السلب والنهب والتسول للحصول على ما يسد رَمَقَهُم في أوقات الفتن والاضطرابات (6).
--------------------------------------------
দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ: সামাজিক জীবনপ্রকৃতপক্ষে যেকোনো দেশের সামাজিক জীবন হলো সেই দেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতিরই বাস্তব প্রতিফলন এবং প্রায়োগিক রূপায়ণ। কারণ রাজনৈতিক জীবন যখনই স্বাভাবিক ও স্থিতিশীল হয়, তখনই সামাজিক জীবন স্থিতিশীল ও সমৃদ্ধ হয় এবং মানুষ সচ্ছলতা ও সুখ-শান্তিতে জীবন অতিবাহিত করে। আর যখনই রাজনৈতিক জীবন অস্থির হয়ে পড়ে, তার অনুসরণে সামাজিক জীবনেও অস্থিরতা দেখা দেয়; ফলে বিশৃঙ্খলা ছড়িয়ে পড়ে এবং জুলুম, অবিচার, নৈতিক অবক্ষয় ও দুর্নীতি ব্যাপক আকার ধারণ করে। কেননা রাজনৈতিকভাবে কোনো দেশের শক্তিশালী হওয়া সমাজের শক্তি, এর সদস্যদের মধ্যকার সংহতি এবং এর ব্যবস্থার স্থিতিশীলতাকে ত্বরান্বিত করে। পক্ষান্তরে, কোনো দেশ যখন রাজনৈতিকভাবে দুর্বল হয়, তখন সেই দেশের সামাজিক জীবনেও তার নেতিবাচক প্রভাব পড়ে।
হিজরি অষ্টম শতাব্দীতে মিসর ও শামের রাজনৈতিক পরিস্থিতি ছিল অত্যন্ত অস্থির ও বৈপ্লবিক; যার অর্থ হলো সেই সময়ে মিসর ও শামের সমাজ ও সামাজিক জীবনের দুর্বলতা।
সেই সময়ে মামলুক সমাজ ছিল একটি শ্রেণিবিভক্ত সমাজ যা এর বহু স্তরের শ্রেণি বিন্যাসের মাধ্যমে বৈশিষ্ট্যমণ্ডিত ছিল। কারণ সেই দেশগুলোতে আগন্তুক মামলুকদের শাসনের প্রকৃতি এবং দেশের সাধারণ মানুষের থেকে তাদের বিচ্ছিন্ন থাকা ও তাদের সাথে একীভূত না হওয়ার প্রবণতা সমাজে একটি স্বতন্ত্র শ্রেণির উদ্ভব ঘটিয়েছিল, যারা শাসনের লাগাম নিজেদের হাতে রেখেছিল; আর তারা হলো সার্বভৌম ক্ষমতা ও প্রভাব-প্রতিপত্তির অধিকারী মামলুক শ্রেণি (১)।
এর ওপর ভিত্তি করে সেই সময়ের মামলুক সমাজকে নিম্নোক্ত শ্রেণিগুলোতে বিভক্ত করা যায় (২):
প্রথম শ্রেণি: সুলতান ও মামলুকদের নিয়ে গঠিত রাষ্ট্রীয় ব্যক্তিবর্গ। এরা অত্যন্ত বিলাসিতা ও আমোদ-প্রমোদের জীবন যাপন করত,
… এবং তাদের হাতে প্রচুর ধনসম্পদ ছিল, যা তাদেরকে অবশিষ্ট জনগণ থেকে বিচ্ছিন্ন একটি স্বতন্ত্র শ্রেণিতে পরিণত করেছিল (৩)।
দ্বিতীয় শ্রেণি: ব্যবসায়ী ও সচ্ছল বিত্তবান ব্যক্তিদের নিয়ে গঠিত প্রভাবশালী শ্রেণি। এরা ছিল সুলতানদের ঘনিষ্ঠদের অন্তর্ভুক্ত। কারণ সুলতানরা অনুভব করেছিলেন যে, এই শ্রেণিটিই হলো সেই মূল উৎস যা রাষ্ট্রকে অর্থের যোগান দেয়, বিশেষ করে সংকট ও কঠিন সময়ে (৪)।
তৃতীয় শ্রেণি: পাগড়িধারী বা শিক্ষিত সমাজ; তারা হলেন প্রশাসনিক দপ্তরের কর্মকর্তা, ফকিহ, আলেম, সাহিত্যিক ও লেখকবৃন্দ। তারা সুলতানদের কাছে অত্যন্ত শ্রদ্ধা ও মূল্যায়নের পাত্র ছিলেন। কারণ মামলুকরা আলেম ও ফকিহদের সঙ্গ পছন্দ করত, কেননা দেশে জনমত গঠনে তাদের এক প্রভাবশালী ভূমিকা ছিল। আর এর মাধ্যমে তাদের শাসনের জন্য একটি শক্তিশালী ভিত্তি তৈরি হতো যার ওপর তারা নির্ভর করতে পারত এবং এর মাধ্যমে তারা সাধারণ জনগণকে সন্তুষ্ট করতে সহায়তা নিত (৫)।
চতুর্থ শ্রেণি: কারিগর, শ্রমিক, বিভিন্ন পেশাজীবী ও দিনমজুরদের শ্রেণি; যাদেরকে বর্তমান পরিভাষায় 'সাধারণ শ্রেণি' বলা হয়। তারা প্রথাগতভাবেই মামলুক ও অন্যান্য সুবিধাভোগী শ্রেণির তুলনায় চরম দুর্দশা ও দারিদ্র্যের মধ্যে জীবন যাপন করত। তাই ফিতনা ও অস্থিরতার সময় জীবন ধারণের ন্যূনতম সংস্থান পেতে তারা প্রায়শই ছিনতাই, লুণ্ঠন ও ভিক্ষাবৃত্তির আশ্রয় নিত (৬)।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
মানহাজুল ইমাম তাজুদ দীন আস সুবকী ফী উসুলিল ফিকহ
(পৃষ্ঠা: ১৬)
الطبقة الخامسة: الفلاحين وهم أهل الزراعات والحرث سكان القرى والريف (1) الذين يمثّلون السَّواد الأعظم من السكان، وهؤلاء لم يكن لهم نصيب في هذا العصر سوى الإهمال والاحتقار حتى أصبح لفظ فلاح في ذلك العصر مرادفاً للشخص المُستضعف المغلوب على أمره، وزاد من سوء حالهم كَثْرَة المغارم والمظالم التي حلّت بهم من الولاة والحكام (2).
الطبقة السادسة: ذوي الحاجة والمسكنة، وهم الذين يتكفَّفون الناس ويعيشون منهم، وهؤلاء كما يقول المقريزي: ((فَنِي معظمهم جوعاً وبرداً ولم يَبقَ منهم إلا أقلَّ من القليل.)) (3)
هذه هي تركيبة المجتمع في ذلك العصر، والملاحظ عليها أنّ أكثَرَ هذه الطبقات كانت تعيش حياة البؤس والظلم والفقر، ولم يقف الحد عند ذلك فحسب، بل وجدتُ أنّ هذه الفترة التاريخية قد ابْتُلِيَت بالعديد من الأمراض والأوبئة الفتاكة، فيَذْكُر المُؤَرّخون أنّ الأَوبئة كانت تجتاح أكثَرَ المدن
… والإمارات المملوكية، ولكنّ أخطر هذه الأوبئة والأمراض والتي أودت بحياة الآلاف من الناس
… والحيوانات، ثلاثة أوبئة اجتاحت الأمّة في تلك الفترة وهي:-
01 وباء سنة 748هـ (4): اجتاح هذا الوباء والذي ابتدأ في أواخر سنة 748هـ بلاد المسلمين قاطبة بما فيها مصر والشام، بل إنّ المؤرخين يَذْكُرون أنّ هذا الوباء قد عم الأرض كلها، وكان يَحصُدُ الآلاف من النفوس، واستمر هذا الوباء نحو سنتين حتى عام 750هـ، وفَنِيَ فيه من الناس نحو ثلثيهم تقريباً (5).
02 وباء سنة 761هـ (6): وقع هذا الوباء سنة 761هـ، واستمر إلى أوائل سنة 762هـ، ومات فيه جماعة كثيرة من الأعيان، وقد سماه المؤرخون ((الوباء الوَسَطيّ))، لكونه وقع بين وباءين.
03 وباء سنة 769 هـ (7): وقع هذا الوباء في القاهرة والديار المصرية واستمر أربعة شهور، انحصر بعدها بعد أن خلف عددا كبيرا من الموتى.
--------------------------------------------
পঞ্চম স্তর: কৃষক সমাজ, যারা মূলত কৃষি ও চাষাবাদের সাথে যুক্ত গ্রাম ও মফস্বলের অধিবাসী (১)। তারা জনসংখ্যার এক বিশাল অংশের প্রতিনিধিত্ব করত। এই যুগে তাদের ভাগ্যে অবজ্ঞা ও ঘৃণা ছাড়া আর কিছুই জোটেনি, এমনকি তৎকালীন সময়ে 'কৃষক' (ফাল্লাহ) শব্দটি 'অসহায় ও নিগৃহীত' ব্যক্তির সমার্থক হয়ে দাঁড়িয়েছিল। শাসক ও গভর্নরদের পক্ষ থেকে তাদের ওপর আপতিত হওয়া অতিরিক্ত কর এবং জুলুম তাদের অবস্থাকে আরও শোচনীয় করে তুলেছিল (২)।
ষষ্ঠ স্তর: অভাবী ও নিঃস্ব শ্রেণি, যারা মানুষের কাছে হাত পেতে জীবিকা নির্বাহ করত। তাদের সম্পর্কে মাকরিজি বলেন: ((তাদের অধিকাংশ ক্ষুধায় ও শীতে মারা গেছে এবং তাদের মধ্যে অতি সামান্যই অবশিষ্ট ছিল।)) (৩)
এটিই ছিল তৎকালীন সমাজের গঠন। লক্ষণীয় যে, এই স্তরগুলোর অধিকাংশ মানুষই চরম দুর্দশা, জুলুম ও দারিদ্র্যের মধ্যে জীবন অতিবাহিত করত। বিষয়টি কেবল এর মধ্যেই সীমাবদ্ধ ছিল না, বরং এই ঐতিহাসিক কালখণ্ডটি অসংখ্য ভয়াবহ রোগ ও মহামারীর শিকার হয়েছিল। ঐতিহাসিকগণ উল্লেখ করেছেন যে, মহামারীগুলো অধিকাংশ শহর
… এবং মামলুক আমিরাতগুলোতে ছড়িয়ে পড়ত। তবে মানুষ
… ও প্রাণীদের জীবন কেড়ে নেওয়া এই মহামারী ও রোগগুলোর মধ্যে সবচেয়ে ভয়াবহ ছিল তিনটি মহামারী, যা সেই যুগে উম্মাহকে বিপর্যস্ত করেছিল, সেগুলো হলো:-
০১. ৭৪৮ হিজরির মহামারী (৪): এই মহামারীটি ৭৪৮ হিজরির শেষদিকে শুরু হয়ে মিশর ও শামসহ মুসলিম বিশ্বের প্রতিটি জনপদে ছড়িয়ে পড়েছিল। ঐতিহাসিকরা এমনকি উল্লেখ করেছেন যে, এই মহামারী পুরো পৃথিবীতে ছড়িয়ে পড়েছিল এবং হাজার হাজার মানুষের প্রাণ কেড়ে নিচ্ছিল। এই মহামারী ৭৫০ হিজরি পর্যন্ত প্রায় দুই বছর স্থায়ী হয়েছিল এবং এতে প্রায় দুই-তৃতীয়াংশ মানুষ প্রাণ হারায় (৫)।
০২. ৭৬১ হিজরির মহামারী (৬): এই মহামারীটি ৭৬১ হিজরিতে শুরু হয়ে ৭৬২ হিজরির শুরুর দিক পর্যন্ত স্থায়ী হয়েছিল। এতে অনেক গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ মৃত্যুবরণ করেন। ঐতিহাসিকরা একে "মধ্যবর্তী মহামারী" (আল-ওয়াবাউল ওয়াসাতি) বলে অভিহিত করেছেন, কারণ এটি অন্য দুটি মহামারীর মাঝামাঝি সময়ে ঘটেছিল।
০৩. ৭৬৯ হিজরির মহামারী (৭): এই মহামারীটি কায়রো এবং মিশরীয় জনপদগুলোতে দেখা দিয়েছিল এবং চার মাস স্থায়ী হয়েছিল। অনেক মৃত্যু ঘটিয়ে এটি প্রশমিত হয়।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
মানহাজুল ইমাম তাজুদ দীন আস সুবকী ফী উসুলিল ফিকহ
(পৃষ্ঠা: ১৭)
ولم يقف الأمر عند الأمراض والأوبئة الفتاكة فحسب، بل فشت في أهل ذلك العصر العديد من الأمراض الاجتماعية والمتمثلة باشتداد الانحلال الخلقي الذي عم الكثير من طبقات ذلك المجتمع، وخاصة طبقة السلاطين، وأهل الدولة، فانتشر فيهم الزنا والبغاء وشرب الخمور والمخدرات التي كانت تفتك بالمجتمع ذلك العصر (1)
وكان السلاطين كلما دَاهمَ البلاد وَباءٌ لجؤوا إلى الله تعالى، وحاربوا تلك المنكرات، وأغلقوا بيوت الخواطيء وحانات الخمر (2)، حتى يفرج الله تعالى عنهم؛ فإذا رفع الله تعالى البلاء عادوا إلى ما كانوا عليه سابقا ً، ولا حول ولا قوّة إلا بالله العلي العظيم.
إلا أنّه وفي ظل هذا الوضع السيء لا بُدّ أن نُسَجّل بعض الملاحظات الهامّة عليه:
الأولى: الاهتمام بالعلم والعلماء، وانتشار العلم الذي أنتج العديد من العلماء الذين كان لهم دور بارز في ذلك العصر (3)، كما سيأتي بيانه في المبحث الثاني.
الثانية: انتشار التصوف بشكل كبير ملحوظ في ذلك العصر، حتى غدا التصوف سِمة بارزة للحياة في مصر والشام في ذلك الوقت (4).
هذه حال المجتمع في ذلك العصر، مجتمع غريب التكوين، يجمع بين طياته عدداً من المتناقضات؛ فهو مجتمع كَثُر فيه الانحلال الخلقي والاجتماعي، وبالمقابل كَثُر فيه العلم والعلماء، وانتشر فيه الزهد المتمثّل بالحركة الصوفية؛ مما أعطى له أهمية كبيرة في تاريخ العالم الإسلامي، ولولا وجود هذا الكم الهائل من العلماء وانتشار العلم مع التصوف لما كان لهذا العصر أيُّ مِيزة يُحمد عليها.
موقف الإمام تاج الدين السبكي من الوضع الاجتماعي في عصره:ذَكَرتُ سابقا (5) أنّ الإمام تاج الدين السبكي لم يكن قَطُّ منعزلاً عن أمته؛ بل كان قريباً جداً منها، يتلمّسُ نواحيَ الضعف فيها، فيشخّصُ الداء، ويصفُ له أنجع دواء.
--------------------------------------------
বিষয়টি কেবল মারাত্মক রোগব্যাধি ও মহামারীর মধ্যেই সীমাবদ্ধ ছিল না, বরং সেই যুগের অধিবাসীদের মধ্যে বহু সামাজিক ব্যাধিও ছড়িয়ে পড়েছিল। এর বহিঃপ্রকাশ ঘটেছিল চরম চারিত্রিক অবক্ষয়ের মাধ্যমে যা সেই সমাজের বহু স্তরে, বিশেষ করে সুলতান ও রাষ্ট্রীয় কর্মকর্তাদের স্তরে ব্যপ্ত ছিল। ফলে তাদের মধ্যে ব্যভিচার, গণিকাবৃত্তি, মদ্যপান ও মাদকদ্রব্যের ব্যাপক বিস্তার ঘটেছিল, যা সেই যুগের সমাজকে ধ্বংস করে দিচ্ছিল (১)।
যখনই দেশে কোনো মহামারী হানা দিত, সুলতানগণ আল্লাহ তাআলার দিকে ধাবিত হতেন এবং সেসব অশ্লীল কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণা করতেন। তারা পাপাচারিণীদের আবাসস্থল ও মদের সরাইখানাগুলো বন্ধ করে দিতেন (২), যাতে আল্লাহ তাআলা তাদের বিপদ দূর করে দেন। কিন্তু আল্লাহ যখন বিপদ উঠিয়ে নিতেন, তখন তারা পুনরায় তাদের আগের অবস্থায় ফিরে যেতেন। মহান ও সুউচ্চ আল্লাহর সাহায্য ছাড়া (পাপ থেকে ফেরার) কোনো উপায় এবং (ইবাদত করার) কোনো শক্তি নেই।
তবে এই শোচনীয় পরিস্থিতির প্রেক্ষাপটে আমাদের কিছু গুরুত্বপূর্ণ বিষয় লক্ষ্য করা প্রয়োজন:
প্রথমত: জ্ঞান ও জ্ঞানীদের প্রতি গুরুত্বারোপ এবং ইলমের ব্যাপক প্রসার, যার ফলে এমন অনেক পণ্ডিতের উদ্ভব হয়েছিল যারা সেই যুগে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছিলেন (৩), যেমনটি দ্বিতীয় পরিচ্ছেদে বিস্তারিত বর্ণিত হবে।
দ্বিতীয়ত: সেই যুগে তাসাউফের অত্যন্ত লক্ষণীয় ও ব্যাপক প্রসার ঘটেছিল, এমনকি তাসাউফ তৎকালীন মিসর ও শামের জীবনের একটি প্রধান বৈশিষ্ট্য হয়ে দাঁড়িয়েছিল (৪)।
এটিই ছিল সেই যুগের সমাজের অবস্থা—বিচিত্র গঠনশৈলীর এক সমাজ, যা তার অভ্যন্তরে অসংখ্য বৈপরীত্যের সমন্বয় ঘটিয়েছিল। এটি এমন এক সমাজ ছিল যেখানে একদিকে চারিত্রিক ও সামাজিক অবক্ষয় ছিল প্রবল, আবার অন্যদিকে জ্ঞান ও জ্ঞানীদের আধিক্য ছিল চোখে পড়ার মতো। সেখানে সুফি আন্দোলনের মাধ্যমে দুনিয়াবিমুখতা বা যুহদ প্রসার লাভ করেছিল। এই বিষয়গুলোই ইসলামি বিশ্বের ইতিহাসে এই যুগকে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ করে তুলেছে। যদি বিপুল সংখ্যক জ্ঞানীর উপস্থিতি এবং তাসাউফের সাথে ইলমের এই প্রসার না থাকত, তবে এই যুগের প্রশংসনীয় কোনো বৈশিষ্ট্য অবশিষ্ট থাকত না।
তাঁর যুগের সামাজিক পরিস্থিতির প্রতি ইমাম তাজউদ্দীন আস-সুবকীর অবস্থান:আমি পূর্বে উল্লেখ করেছি (৫) যে, ইমাম তাজউদ্দীন আস-সুবকী কখনোই তাঁর উম্মত থেকে বিচ্ছিন্ন ছিলেন না; বরং তিনি তাদের অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ ছিলেন। তিনি সমাজের দুর্বল দিকগুলো অনুভব করতেন, ফলে রোগ নির্ণয় করে তার জন্য অত্যন্ত কার্যকর মহৌষধ বাতলে দিতেন।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
মানহাজুল ইমাম তাজুদ দীন আস সুবকী ফী উসুলিল ফিকহ
(পৃষ্ঠা: ১৮)
ومر معنا كيف وصلت الحال بالمجتمع الإسلامي في ذلك الوقت، ومن هنا فقد كان الإمام تاج الدين السبكي صاحبُ دعوةٍ إصلاحيةٍ للمجتمع، فهو لم يرضَ أبداً عن حال الأمّة في ذك الوقت، ذلك أنّ التاج السبكي وكما وصفه الأستاذ محمد صادق حسين: ((من أولئكم الرجال ذوي الشخصيات الضخمة والنفوس القوية والأخلاق المتينة، أولئكم الذين يَسمُون بأنفسهم فوق منافعهم الخاصة، ويأبون - وإن تهيأت لهم كل أسباب الراحة - أن يصبروا على فساد بيئة أو طغيان قوّة أو موت حق وقيام باطل، فلم يكن من أولئكم الأنذال أشباه الرجال الذين يرحّبون بالفساد يستغلّونه لمآربهم
… ويُسَخّرونه لمنافعهم)) (1).
هكذا كان تاج الدين السبكي، ومن هنا جاء تأليفه لكتابٍ يُعدّ من أعظم ما أُلِّف في بابه ألا وهو كتابه ((معيد النعم ومبيد النقم)) (2)، هذا الكتاب الذي حاول فيه التاج السبكي الدعوة إلى إصلاح المجتمع الإسلامي من أعلى طبقة فيه ألا وهو السلطان إلى أدنى طبقاته المتمثّلة بالشحاذين، فقد بيّن التاج في هذا الكتاب ما يجب على كل أحد من أفراد الأمّة - حكاماً كانوا أو محكومين - أن يفعله، وما يجب عليه أن يَجتَنبه، وبيّن الكثير من نواحي الضعف في هذه الأمّة مبيّناً سببها، وواصفاً لها علاجاً ناجعاً يقوم على أساس شكر النعمة، وقيام كُلٍّ بما يجب عليه (3).
وبهذه التوجيهات التي ضمنها التاج السبكي كتابه ((معيد النعم)) يعدّ التاج مصلحاً اجتماعياً ومربياً فاضلاً قلّما تجد له نظيراً، وبذلك عدّه الأستاذ محمد الصادق مصلحاً لم تعرف مصر من أبنائها آخر من طرازه حتى ظهر الشيخ محمد عبده (4).
قلت: وليس الأمر مقتصراً على مصر وحدها، بل توجيهات تاج الدين السبكي ودعوته الإصلاحية شاملة كل أنحاء البلاد الإسلامية، وأكثَرُها ينطبق على حال أمتنا اليوم، فلو أنّ علماءنا اتّخذوا من توجيهات التاج السبكي التربوية منهاجاً وساروا عليها ودعوا الناس إليها لانقلب حالنا إلى أحسن حال، وأصبحنا أمّة قوية منيعة مهابة الجانب بدلاً من الضعف والذل والخنوع الذي نعيشه اليوم صباح مساء (5).
--------------------------------------------
আমরা ইতিপূর্বে দেখেছি সেই সময়ে মুসলিম সমাজের অবস্থা কেমন হয়েছিল। এখান থেকেই ইমাম তাজউদ্দীন আল-সুবকী একটি সংস্কার আন্দোলনের ডাক দিয়েছিলেন; তিনি সেই সময়ের উম্মাহর অবস্থার ওপর কখনোই সন্তুষ্ট ছিলেন না। এর কারণ হলো, তাজ আল-সুবকী যেমনটি অধ্যাপক মুহাম্মাদ সাদিক হুসাইন বর্ণনা করেছেন: "তিনি ছিলেন সেই বিশাল ব্যক্তিত্ব, শক্তিশালী আত্মা এবং সুদৃঢ় চরিত্রের অধিকারী মহাপুরুষদের অন্যতম, যারা নিজেদের ব্যক্তিস্বার্থের ঊর্ধ্বে অবস্থান করেন। আরাম-আয়েশের সকল উপকরণ থাকা সত্ত্বেও তারা কোনো পরিবেশের কলুষতা, শক্তির জুলুম অথবা সত্যের বিনাশ ও মিথ্যার উত্থানে ধৈর্য ধারণ করতে অস্বীকার করেন। তিনি সেইসব হীন পুরুষ সদৃশ ব্যক্তিদের অন্তর্ভুক্ত ছিলেন না যারা দুর্নীতিকে স্বাগত জানায় এবং নিজেদের উদ্দেশ্য হাসিলে তা ব্যবহার করে... এবং নিজেদের উপকারে সেটিকে নিয়োজিত করে।" (১)।
তাজউদ্দীন আল-সুবকী এমনই ছিলেন। আর এখান থেকেই তাঁর সেই কিতাব রচনার প্রেক্ষাপট তৈরি হয় যা নিজ বিষয়ের শ্রেষ্ঠ কিতাবগুলোর অন্যতম হিসেবে বিবেচিত, আর তা হলো তাঁর কিতাব "মুয়ীদুন নিআম ওয়া মুবীদুন নিকাম" (২)। এই কিতাবের মাধ্যমে তাজ আল-সুবকী মুসলিম সমাজের সর্বোচ্চ স্তর অর্থাৎ সুলতান থেকে শুরু করে সর্বনিম্ন স্তর তথা ভিক্ষুক পর্যন্ত সকলের সংস্কারের ডাক দেওয়ার চেষ্টা করেছেন। তাজ আল-সুবকী এই কিতাবে বর্ণনা করেছেন উম্মাহর প্রত্যেক ব্যক্তি—শাসক হোক বা শাসিত—তার কী করা উচিত এবং কী বর্জন করা উচিত। তিনি এই উম্মাহর দুর্বলতার অনেক দিক তুলে ধরেছেন এবং তার কারণ ব্যাখ্যা করেছেন। পাশাপাশি এর এক ফলপ্রসূ প্রতিকারও বাতলে দিয়েছেন যা নিয়ামতের শুকরিয়া এবং প্রত্যেকের নিজ দায়িত্ব পালনের ওপর প্রতিষ্ঠিত (৩)।
তাজ আল-সুবকী তাঁর "মুয়ীদুন নিআম" কিতাবে যে দিকনির্দেশনাগুলো অন্তর্ভুক্ত করেছেন, তার মাধ্যমে তিনি এমন এক সমাজ সংস্কারক ও শ্রেষ্ঠ শিক্ষক হিসেবে গণ্য হন যার তুলনা মেলা ভার। এ কারণেই অধ্যাপক মুহাম্মাদ আল-সাদিক তাঁকে এমন একজন সংস্কারক হিসেবে গণ্য করেছেন যে, শেখ মুহাম্মাদ আবদুহুর আবির্ভাবের আগ পর্যন্ত মিশর তার সন্তানদের মধ্যে তাঁর মতো দ্বিতীয় কাউকে দেখেনি (৪)।
আমি বলি: এই বিষয়টি কেবল মিশরের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়, বরং তাজউদ্দীন আল-সুবকীর দিকনির্দেশনা ও সংস্কারের ডাক সমস্ত মুসলিম ভূখণ্ডে পরিব্যাপ্ত। এর অধিকাংশ দিকই বর্তমান আমাদের উম্মাহর অবস্থার সাথে মিলে যায়। আমাদের ওলামায়ে কেরাম যদি তাজ আল-সুবকীর শিক্ষামূলক দিকনির্দেশনাগুলোকে একটি কর্মপন্থা হিসেবে গ্রহণ করতেন, সে অনুযায়ী চলতেন এবং মানুষকে সেদিকে আহ্বান করতেন, তবে আমাদের অবস্থা সর্বোত্তম অবস্থায় রূপান্তরিত হতো। আজ আমরা দিনরাত যে দুর্বলতা, লাঞ্ছনা ও হীনম্মন্যতার মধ্যে অতিবাহিত করছি, তার পরিবর্তে আমরা এক শক্তিশালী, অজেয় এবং মর্যাদাপূর্ণ জাতিতে পরিণত হতাম (৫)।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
মানহাজুল ইমাম তাজুদ দীন আস সুবকী ফী উসুলিল ফিকহ
(পৃষ্ঠা: ১৯)
المطلب الثالث: الحياة العلميةلا غرابة ولا عجب إذا ما قلت أنّ القرن الثامن الهجري أو بالأحرى عصر المماليك، كان من أزهى العصور علمياً وثقافياً بعد القرن الثالث الهجري؛ ذلك أنّ هذا العصر قد امتاز بكَثرَة العلماء الذين أنتجتهم الأمّة في ذلك الوقت، تاركين للأجيال القادمة تراثاً ضخماً في شتى فنون المعرفة.
ولم يكن سلاطين المماليك بمعزل عن هذا النشاط العلمي، فما كان لهذا النشاط الثقافي أن يزدهر لولا تشجيع المماليك للعلم وترحيبهم بالعلماء، لذا فقد أَكثَرَ المماليك من بناء المدارس
والجوامع والرُّبَط (1) والخانقاوات (2) لتكون قبلة للعلماء وطلاب العلم ينهلون منها العلم في شتى ميادين المعرفة (3).
ولعلَّ من أهم المدارس التي أنشئت في زمن المماليك وكان لها دور بارز في هذا التقدم العلمي المشهود:-
01 المدرسة الظاهرية (4): وهي المدرسة التي أنشأها السلطان الظاهر بيبرس سنة 662هـ، وفيها خِزانَةُ كُتُبٍ تشتمل على أمهات الكتب في سائر العلوم، وكان يُدَرّس فيها الفقه الحنفي والشافعي والحديث والقراءات.
02 المدرسة المنصورية (5): أنشأها السلطان الملك المنصور قلاوون الألفي الصالحي (6)، ورتّبَ فيها درساً لطوائف الفقهاء الأربعة، ودرساً للطّب، ودرساً للحديث وآخر للتفسير.
03 المدرسة الناصرية (7): ابتدأ بناءها العادل كتبغا (8)، وأتمها الناصر محمد بن قلاوون، وإليه نُسبت، فُرِغَ من بنائها سنة 703هـ، ورُتّب فيها درساً للمذاهب الأربعة.
04 المدرسة الحجازية (9): أنشأتها الست الجليلة خوندتتر الحجازية، بنت السلطان محمد بن قلاوون وزوجة بكتمر الحجازي وإليه تُنسب، وقد رَتَّبتْ فيها درساً للفقهاء المالكية وآخر للشافعية، وجعلت فيها خزانة لأمهات الكتب.
--------------------------------------------
তৃতীয় পরিচ্ছেদ: জ্ঞানতাত্ত্বিক জীবনআমি যদি বলি যে হিজরি অষ্টম শতাব্দী বা আরও স্পষ্টভাবে বলতে গেলে মামলুক যুগ ছিল হিজরি তৃতীয় শতাব্দীর পর জ্ঞান ও সংস্কৃতির দিক থেকে অন্যতম উজ্জ্বল যুগ, তবে তাতে কোনো বিস্ময় বা আশ্চর্যের কিছু নেই। কারণ এই যুগটি সেই সময়ে উম্মাহ কর্তৃক উৎপাদিত অসংখ্য আলিমের প্রাচুর্য দ্বারা বৈশিষ্ট্যমন্ডিত ছিল, যারা পরবর্তী প্রজন্মের জন্য জ্ঞানের বিভিন্ন শাখায় এক বিশাল ঐতিহ্য রেখে গেছেন।
আর মামলুক সুলতানগণ এই জ্ঞানতাত্ত্বিক তৎপরতা থেকে বিচ্ছিন্ন ছিলেন না। মামলুকদের জ্ঞান-বিজ্ঞানে উৎসাহ প্রদান এবং আলিমদের প্রতি তাদের উষ্ণ অভ্যর্থনা না থাকলে এই সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডের বিকাশ ঘটত না। তাই মামলুকরা প্রচুর পরিমাণে মাদ্রাসা নির্মাণ করেছিলেন
এবং জামে মসজিদ, রিবাতসমূহ (১) ও খানকাহসমূহ (২) নির্মাণ করেছিলেন, যাতে সেগুলো আলিম ও জ্ঞানপিপাসুদের গন্তব্যস্থলে পরিণত হয়, যেখান থেকে তারা জ্ঞানের বিভিন্ন ক্ষেত্রে জ্ঞান আহরণ করতে পারে (৩)।
মামলুক যুগে প্রতিষ্ঠিত প্রধান মাদ্রাসাগুলোর মধ্যে যেগুলো এই দৃশ্যমান জ্ঞানতাত্ত্বিক অগ্রযাত্রায় অগ্রণী ভূমিকা পালন করেছিল, সেগুলো হলো:-
০১. আল-মাদরাসা আল-জাহিরিয়া (৪): এটি সেই মাদ্রাসা যা সুলতান জাহির বাইবার্স ৬৬২ হিজরিতে প্রতিষ্ঠা করেছিলেন। এতে একটি পাঠাগার ছিল যেখানে সমস্ত বিজ্ঞানের মূল গ্রন্থগুলো সংরক্ষিত ছিল। সেখানে হানাফি ফিকহ, শাফেয়ী ফিকহ, হাদিস এবং ক্বিরাত পড়ানো হতো।
০২. আল-মাদরাসা আল-মানসুরিয়া (৫): এটি সুলতান মালিক মানসুর কালাউন আল-আলফি আস-সালিহি (৬) প্রতিষ্ঠা করেছিলেন। তিনি এতে চারটি মাযহাবের ফকীহদের জন্য পাঠদান, চিকিৎসার পাঠদান, হাদিসের পাঠদান এবং তাফসীরের পাঠদানের ব্যবস্থা করেছিলেন।
০৩. আল-মাদরাসা আন-নাসিরিয়া (৭): এর নির্মাণকাজ শুরু করেছিলেন আল-আদিল কিতবুগা (৮) এবং এটি সম্পন্ন করেছিলেন আন-নাসির মুহাম্মাদ ইবনে কালাউন, যার নামে এর নামকরণ করা হয়েছে। ৭০৩ হিজরিতে এর নির্মাণ সম্পন্ন হয় এবং এতে চার মাযহাবের পাঠদানের ব্যবস্থা করা হয়।
০৪. আল-মাদরাসা আল-হিজাজিয়া (৯): এটি মহীয়সী নারী খুন্দ তাতার আল-হিজাজিয়া প্রতিষ্ঠা করেছিলেন, যিনি সুলতান মুহাম্মাদ ইবনে কালাউনের কন্যা এবং বকতুমুর আল-হিজাজির স্ত্রী ছিলেন, যার নামে এর নামকরণ করা হয়েছে। তিনি এতে মালিকি ফকীহ ও শাফেয়ী ফকীহদের জন্য পৃথক পাঠদানের ব্যবস্থা করেন এবং এতে মূল গ্রন্থাবলির একটি পাঠাগার স্থাপন করেন।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
মানহাজুল ইমাম তাজুদ দীন আস সুবকী ফী উসুলিল ফিকহ
(পৃষ্ঠা: ২০)
05 مدرسة السلطان حسن بن الناصر محمد (1): شرع في إنشائها سنة 758هـ، وهي من أعظم المدارس في ذلك العصر بناءً، وأحسنها هنداماً، وفيها أربع مدارس للمذاهب الأربعة.
هذه أهم المدارس في ذلك الوقت، غير أنّه كانت هناك العديد من المدارس قد انتشرت في طول البلاد وعرضها، مثل: الخانقاه البيبرسية (2)، وخانقاه قوصون (3)، وخانقاه شيخو (4)، ومدرسة صرغتمش (5)
والمدرسة الظاهرية الجوانية بدمشق (6)، والمدرسة القيمرية (7)، والمدرسة الناصرية الجوانية (8)، وغيرها الكثير.
هذا بالإضافة إلى المدارس التي كانت منتشرة من قبل إبان عهد الدولة الأيوبية، والتي اهتمت اهتماماً بالغاً بإنشاء المدارس (9).
وكان من نتاج هذه النهضة العلمية أن ظهر العديد من العلماء في مختلف العلوم والفنون، حيث كان لهم أثر بارز في مسيرة العلم ونشر الثقافة العربية والإسلامية، ومن هؤلاء العلماء على سبيل المثال (10):
01 ابن الرفعة: الإمام شيخ الإسلام، نجم الدين أبو العباس أحمد بن محمد بن علي بن الرفعة المتوفى سنة 710هـ إمام الشافعية في زمانه، قال عنه التاج السبكي: ((أُقسم بالله يميناً بَرَّةً لو رآه الشافعي لَتَبَجّح بمكانه، وترجَّح عنده على أَقرانه، وترشّح لأن يكون في طبقة مَن عاصَرَه وكان في زمانه.)) (11)
--------------------------------------------
০৫ সুলতান হাসান বিন আন-নাসির মুহাম্মদ মাদ্রাসা (১): এটি হিজরি ৭৫৮ সালে নির্মাণ শুরু হয়। এটি সেকালের স্থাপত্যশৈলীর দিক থেকে অন্যতম শ্রেষ্ঠ ও সুশোভিত একটি মাদ্রাসা। এতে চারটি মাযহাবের জন্য চারটি স্বতন্ত্র মাদ্রাসা ছিল।
এগুলো ছিল তখনকার সময়ের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ মাদ্রাসা। তবে এ ছাড়াও দেশের দৈর্ঘ্য ও প্রস্থ জুড়ে অর্থাৎ সর্বত্র অনেক মাদ্রাসা ছড়িয়ে ছিল, যেমন: খানকাহ বাইবারসিয়া (২), খানকাহ কুসুন (৩), খানকাহ শাইখু (৪) এবং মাদ্রাসা সরগাতমিশ (৫)।
আরও ছিল দামেস্কের মাদ্রাসা জাহিরিয়া জুওয়ানিয়া (৬), মাদ্রাসা কাইমারিয়া (৭), মাদ্রাসা নাসিরিয়া জুওয়ানিয়া (৮) এবং এ জাতীয় আরও অনেক মাদ্রাসা।
এর সাথে যুক্ত ছিল আইয়ুবী শাসনামলের পূর্ব থেকেই বিদ্যমান মাদ্রাসাগুলো, যারা মাদ্রাসা প্রতিষ্ঠার ক্ষেত্রে অত্যন্ত গুরুত্বারোপ করেছিল (৯)।
এই জ্ঞানতাত্ত্বিক জাগরণের ফলস্বরূপ বিভিন্ন জ্ঞান-বিজ্ঞানে অনেক পণ্ডিতের আবির্ভাব ঘটে, যাদের জ্ঞানচর্চার পথপ্রদর্শনে এবং আরবি ও ইসলামি সংস্কৃতি প্রসারে উল্লেখযোগ্য প্রভাব ছিল। উদাহরণস্বরূপ কয়েকজন পণ্ডিত হলেন (১০):
০১ ইবনুর রিফআহ: ইমাম শাইখুল ইসলাম, নাজমুদ্দীন আবুল আব্বাস আহমাদ বিন মুহাম্মদ বিন আলি বিন ইবনুর রিফআহ (মৃত্যু হিজরি ৭১০)। তিনি ছিলেন তাঁর যুগের শাফেয়ী মাযহাবের ইমাম। তাজউদ্দীন আস-সুবকি তাঁর সম্পর্কে বলেন: "আমি আল্লাহর নামে সত্য শপথ করে বলছি, ইমাম শাফেয়ী যদি তাঁকে দেখতেন, তবে তাঁর মর্যাদা দেখে আনন্দিত হতেন এবং তাঁর সমসাময়িকদের ওপর তাঁকে প্রাধান্য দিতেন। এমনকি তাঁকে তাঁর নিজের যুগের সমসাময়িক স্তরের যোগ্য মনে করতেন।" (১১)
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
মানহাজুল ইমাম তাজুদ দীন আস সুবকী ফী উসুলিল ফিকহ
(পৃষ্ঠা: ২১)
من مصنفاته: ((المطلب العالي في شرح وسيط الغزالي))، ((كفاية النبيه في شرح التنبيه))، كتاب في هدم الكنائس سماه ((النفائس في هدم الكنائس)) وغيرها (1).
02 ابن الزملكاني: الإمام العلامة المناظر محمد بن علي بن عبد الواحد كمال الدين بن الزملكاني، شيخ الشافعية في زمانه، انتهت إليه رياسة المذهب تدريساً وإفتاء، ذَكَره الذهبي في المعجم المختص وقال: ((شيخنا قاضي القضاة عَلَمُ العصر
… كان من بقايا المجتهدين ومن أذكياء أهل زمانه، دَرَّس
… وأفتى وتَخَرّج به الأصحاب.)) (2)
له تصانيف نافعة كثيرة، منها: ((شرح منهاج النووي))، ((كتاب في تفضيل البشر على المَلَك))، كتاب في ((الرد على ابن تيمية في مسألتي الطلاق والزيارة))، وغيرها، توفي رحمة الله سنة 727هـ (3)
03 ابن تيمية: الإمام أبو العباس تقي الدين أحمد بن عبد الحليم بن عبد السلام بن تيمية الحراني الدمشقي، العلامة الحنبلي المعروف، ذَكَره الذهبي في معجمه وقال عنه: ((برع في علوم الآثار والسنن ودرّس وأفتى وصنّف التصانيف البديعة، وانفرد بمسائل فَنِيلَ من عرضه لأجلها، وهو بشر له ذنوب وخطأ، ومع هذا فوالله ما قلّت عيني مثله، ولا رأى هو مثل نفسه ولا رأى.)) اهـ (4)
وقال ابن كثير في حقه: ((وبالجملة كان رحمه الله من كبار العلماء ممن يخطئ ويصيب، ولكن خطؤه بالنسبة إلى صوابه كنقطة من بحر لُجِّي.)) (5)
من مصنفاته: ((الفتاوى))، ((الصارم المسلول على شاتم الرسول))، ((اقتضاء الصراط
… المستقيم)) وغيرها، توفي رحمه الله بدمشق سنة 728هـ (6).
04 الإسنوي: الإمام الفهّامة الأصولي الناقد جمال الدين عبد الرحيم بن الحسن بن علي بن عمر الإسنوي، شيخ الشافعية في زمانه وفقيههم، وأَكثَرُ أهل زمانه اطلاعاً على كتب المذهب، قال عنه ابن شهبة: ((أَكثَرُ علماء الديار المصرية طَلَبتُه، وكان حَسَن الشكل، حَسَن التصنيف، ليِّنَ الجانب، كثيرَ الإحسان إلى طلبته، ملازماً للإفادة والتصنيف.)) (7)
له المصنفات النافعة المفيدة منها: ((شرح منهاج الوصول للبيضاوي))، ((التنقيح على
… التصحيح))، ((المهمات))، ((التمهيد))، وغيرها، توفي رحمه الله تعالى سنة 772هـ (8).
--------------------------------------------
তাঁর রচিত গ্রন্থাবলির মধ্যে রয়েছে: ((আল-মাতলাবুল আলি ফি শারহি ওয়াসিতিল গাজালি)), ((কিফায়াতুন নাবিহ ফি শারহিত তানবিহ)), গির্জা ধ্বংস করার বিষয়ে একটি গ্রন্থ যার নাম তিনি রেখেছেন ((আন-নাফাইস ফি হাদমিল কানাইস)) এবং অন্যান্য (১)।
০২ ইবনে আল-জামলাকানি: ইমাম, আল্লামা, তার্কিক মুহাম্মাদ ইবনে আলি ইবনে আবদুল ওয়াহিদ কামালুদ্দিন ইবনে আল-জামলাকানি। তিনি তাঁর সময়ের শাফেয়ি মাজহাবের প্রধান শায়খ ছিলেন। শিক্ষকতা ও ফতোয়া প্রদানের ক্ষেত্রে মাজহাবের নেতৃত্ব তাঁর ওপর ন্যস্ত হয়েছিল। যাহাবি 'আল-মু'জামুল মুখতাস' গ্রন্থে তাঁর উল্লেখ করেছেন এবং বলেছেন: ((আমাদের শায়খ, কাযিউল কুযাত (প্রধান বিচারপতি), যুগের প্রবাদপুরুষ
… তিনি অবশিষ্ট মুজতাহিদদের অন্তর্ভুক্ত এবং তাঁর সময়ের অত্যন্ত মেধাবীদের একজন ছিলেন। তিনি শিক্ষকতা করেছেন
… এবং ফতোয়া দিয়েছেন, আর তাঁর নিকট বহু ছাত্র শিক্ষা সম্পন্ন করেছেন।)) (২)
তাঁর অনেক উপকারী রচনা রয়েছে, যার মধ্যে আছে: ((শারহু মিনহাজিন নববী)), ((কিতাবুন ফি তাফদিলিল বাশার আলাল মালাক)), ((তালাক ও যিয়ারত সংক্রান্ত দুটি মাসআলায় ইবনে তাইমিয়ার খণ্ডন)) বিষয়ক গ্রন্থ এবং অন্যান্য। তিনি ৭২৭ হিজরিতে মৃত্যুবরণ করেন, আল্লাহ তাঁর ওপর রহমত বর্ষণ করুন (৩)।
০৩ ইবনে তাইমিয়া: ইমাম আবুল আব্বাস তাকিউদ্দীন আহমাদ ইবনে আবদুল হালিম ইবনে আব্দুস সালাম ইবনে তাইমিয়া আল-হাররানি আদ-দিমাশকি। তিনি সুপরিচিত হাম্বলি আল্লামা। যাহাবি তাঁর মু'জামে তাঁর উল্লেখ করে বলেছেন: ((তিনি আছার (সাহাবীদের বাণী) এবং সুন্নাহর জ্ঞানে পারদর্শী ছিলেন, শিক্ষকতা করেছেন, ফতোয়া দিয়েছেন এবং চমৎকার সব গ্রন্থ রচনা করেছেন। তিনি এমন কিছু মাসআলায় একক মত পোষণ করেছেন যার কারণে তাঁর সমালোচনা করা হয়েছে। তিনি একজন মানুষ, তাঁর গুনাহ ও ভুলভ্রান্তি আছে; তা সত্ত্বেও আল্লাহর কসম, আমার চোখ তাঁর মতো কাউকে দেখেনি এবং তিনিও নিজের মতো কাউকে দেখেননি।)) সমাপ্ত (৪)।
এবং ইবনে কাসির তাঁর সম্পর্কে বলেছেন: ((সারকথা হলো, তিনি (রহিমাহুল্লাহ) সেই সকল বড় আলেমদের অন্তর্ভুক্ত ছিলেন যাঁরা ভুলও করেন আবার সঠিক সিদ্ধান্তে উপনীত হন। তবে তাঁর সঠিকের তুলনায় তাঁর ভুল একটি গভীর সমুদ্রের এক ফোঁটা পানির মতো।)) (৫)
তাঁর রচিত গ্রন্থাবলির মধ্যে রয়েছে: ((আল-ফাতাওয়া)), ((আস-সারিমুল মাসলুল আলা শাতিমির রাসুল)), ((ইকতিদাউস সিরাতিল
… মুস্তাকিম)) এবং অন্যান্য। তিনি ৭২৮ হিজরিতে দামেস্কে মৃত্যুবরণ করেন, আল্লাহ তাঁর ওপর রহমত বর্ষণ করুন (৬)।
০৪ আল-ইসনবি: ইমাম, প্রাজ্ঞ আলেম, উসুলবিদ ও সমালোচক জামালুদ্দিন আবদুর রহিম ইবনে আল-হাসান ইবনে আলি ইবনে উমর আল-ইসনবি। তিনি তাঁর সময়ের শাফেয়ি মাজহাবের শায়খ ও ফকিহ ছিলেন এবং তাঁর সময়ের আলেমদের মধ্যে মাজহাবের কিতাবসমূহের ওপর সবচেয়ে বেশি অবগত ছিলেন। ইবনে শাহবাহ তাঁর সম্পর্কে বলেছেন: ((মিসরের অধিকাংশ আলেম তাঁর ছাত্র ছিলেন। তিনি ছিলেন সুন্দর অবয়ব ও চমৎকার লেখনীর অধিকারী, অমায়িক স্বভাবের, তাঁর ছাত্রদের প্রতি অত্যন্ত দয়ালু এবং সর্বদা জ্ঞান দান ও গ্রন্থ রচনায় নিবেদিত।)) (৭)
তাঁর অনেক উপকারী ও ফলপ্রসূ গ্রন্থ রয়েছে যার মধ্যে উল্লেখযোগ্য: ((শারহু মিনহাজিল উসুল লিল-বায়দাবি)), ((আত-তানকিহ আলা
… আত-তাসহিহ)), ((আল-মুহিম্মাত)), ((আত-তামহিদ)) এবং অন্যান্য। তিনি ৭৭২ হিজরিতে মৃত্যুবরণ করেন, আল্লাহ তাআলা তাঁর ওপর রহমত বর্ষণ করুন (৮)।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
মানহাজুল ইমাম তাজুদ দীন আস সুবকী ফী উসুলিল ফিকহ
(পৃষ্ঠা: ২২)
05 ابن كثير: الإمام الحافظ عماد الدين أبو الفداء اسماعيل بن كثير بن ضَوء بن كثير القرشي الدمشقي، المؤرخ المتفنن والمفسر النقاد، ذَكَره الذهبي في معجمه فقال: ((يدري الفقه، ويفهم العربية والأصول، ويحفظ جملة صالحة من المتون والتفسير والرجال وأحوالهم.)) (1)
من مصنفاته المشهورة: ((البداية والنهاية)) وهو في التاريخ، ((التفسير))، ((طبقات
… الشافعية))، ((تخريج أحاديث مختصر ابن الحاجب))، توفي بدمشق سنة 774هـ (2).
06 التفتازاني: الإمام المحقق المتكلم الأصولي النظار سعد الدين مسعود بن عمر بن عبد الله التفتازاني، عالم النحو والبيان والأصلين والمنطق وغيرها.
قال عنه ابن حجر (3): ((كان قد انتهت إليه معرفة علوم البلاغة والمعقول بالمشرق، بل بسائر الأمصار، لم يكن له نظير في معرفة هذه العلوم، مات ولم يخلف بعده مثله)).
من مصنفاته: ((شرح العقائد النسفية))، ((المقاصد)) في أصول الدين، ((شرح الشمسية)) في المنطق، ((شرح تصريف الغزي)) في الصرف، ((التلويح)) في أصول الفقه، وغيرها الكثير.
توفي رحمه الله تعالى سنة 792هـ (4).
المبحث الثانياسمه، نسبه، أسرته
المطلب الأول: ذِكْر مصادر ترجمته:تعدّ شخصية التاج السبكي شخصية عبقرية فَذَّة، كانت ولا تزال مثار اهتمام العديد من المؤرخين والدارسين، لذا فليس من المستغرب أن تجد كتب التاريخ والطبقات حافلة بذِكْره وذِكْر أخباره وآثاره، وقد استقرأت كل ما وقع تحت يدي من كتب التاريخ والطبقات بحثاً عن التاج السبكي فوجدت له ذِكْراً عند كل من:
? الذهبي (ت 748هـ) في المعجم المختص ص 108.
? الصفدي (ت 764هـ) في ((الوافي بالوفيات)) (19/ 315) وفي ((أعيان العصر)) (3/ 132، 436، 437، 657 وغيرها).
? الحسيني (ت 765هـ) في ((ذيله على العبر)) (4/ 177، 200).
? ابن رافع (ت 772هـ) في ((الوفيات)) (2/ 364).
? ابن كثير (ت 774هـ) في ((البداية النهاية)) (14/ 688، 690، 726، 735، 746، 728).
? ابن حبيب (ت 779هـ) في ((تذكرة النبيه)) (3/ 218).
? ابن العراقي (ت 826هـ) في ((ذيله على العبر)) (2/ 303).
? ابن ناصر الدين الدمشقي (ت 842هـ) في ((مجالس في تفسير قوله تعالى:'' لقد منّ الله على
… المؤمنين
… '')) ص 49 - 50.
? المقريزي (ت 845هـ) في ((السلوك)) (4/ 337).
? ابن شهبة (ت 851هـ) في ((تاريخه)) (3/ 372) وفي ((طبقات الشافعية)) (3/ 140).
? ابن حجر (ت 852هـ) في ((الدرر الكامنة)) (2/ 425).
? ابن تغري بردي (ت 874هـ) في ((النجوم الزاهرة)) (11/ 86) وفي ((المنهل الصافي))
… (7/ 385) وفي ((الدليل الشافي)) (1/ 433).
? السخاوي (ت 902هـ) في ((وجيز الكلام)) (1/ 122، 130، 162 - 163، 174، 177).
? السيوطي (ت 911هـ) في ((حسن المحاضرة)) (1/ 282).
? النعيمي (ت 927هـ) في ((الدارس في تاريخ المدارس)) (1/ 18، 37 - 38، 200، 216
… وغيرها).
--------------------------------------------
05 ইবনে কাসীর: আল-ইমাম আল-হাফিজ ইমাদুদ্দীন আবুল ফিদা ইসমাঈল বিন কাসীর বিন দাউ বিন কাসীর আল-কুরাশী আদ-দিমাশকী, বহুমুখী প্রতিভাধর ঐতিহাসিক এবং সমালোচক মুফাসসির। আয-যাহাবী তাঁর মুজামে তাঁর সম্পর্কে উল্লেখ করে বলেছেন: ((তিনি ফিকহ সম্পর্কে অবগত, আরবি ভাষা ও উসূলে ফিকহ বোঝেন এবং মতন (মূল পাঠ), তাফসীর ও রিজাল (বর্ণনাকারী) এবং তাঁদের অবস্থা সম্পর্কে একটি বিশাল অংশ মুখস্থ রাখেন।)) (১)
তাঁর বিখ্যাত গ্রন্থগুলোর মধ্যে রয়েছে: ((আল-বিদায়া ওয়ান নিহায়া)) যা ইতিহাস বিষয়ক, ((আত-তাফসীর)), ((তাবাকাতুশ শাফিঈয়্যাহ)), ((তাখরীজু আহাদীসি মুখতাসার ইবনিল হাজিব))। তিনি ৭৭৪ হিজরিতে দামেস্কে মৃত্যুবরণ করেন (২)।
06 আত-তাফতাজানী: আল-ইমাম আল-মুহাক্কিক আল-মুতাকাল্লিম আল-উসূলী আন-নাজ্জার সাদউদ্দীন মাসউদ বিন উমর বিন আব্দুল্লাহ আত-তাফতাজানী। তিনি নাহু (ব্যাকরণ), বালাগাত (অলঙ্কারশাস্ত্র), উসূলদ্বয় (উসূলে দ্বীন ও উসূলে ফিকহ), মানতিক (যুক্তিবিদ্যা) এবং অন্যান্য শাস্ত্রের পণ্ডিত ছিলেন।
ইবনে হাজার (৩) তাঁর সম্পর্কে বলেছেন: ((প্রাচ্যের বরং সমস্ত জনপদের বালাগাত ও আকলী (যুক্তিভিত্তিক) শাস্ত্রের জ্ঞান তাঁর কাছে এসেই শেষ হয়েছিল। এই শাস্ত্রগুলোর জ্ঞানে তাঁর কোনো সমকক্ষ ছিল না। তিনি মৃত্যুবরণ করেছেন অথচ নিজের পরে তাঁর মতো কাউকে রেখে যাননি))।
তাঁর রচিত গ্রন্থের মধ্যে রয়েছে: ((শারহুল আকাইদিন নাসাফিয়্যাহ)), উসূলে দ্বীনের ক্ষেত্রে ((আল-মাকাসিদ)), মানতিকের ক্ষেত্রে ((শারহুশ শামসিয়্যাহ)), সরফের (রূপান্তর শাস্ত্র) ক্ষেত্রে ((শারহু তাসরীফিল গুযযী)), উসূলে ফিকহের ক্ষেত্রে ((আত-তালবীহ)) এবং আরও অনেক।
তিনি রহমাতুল্লাহি তাআলা ৭৯২ হিজরিতে মৃত্যুবরণ করেন (৪)।
দ্বিতীয় পরিচ্ছেদতাঁর নাম, বংশপরিচয় ও পরিবার
প্রথম অনুচ্ছেদ: তাঁর জীবনীর উৎসসমূহের আলোচনা:তাজ আস-সুবকীর ব্যক্তিত্ব একজন অসামান্য মেধাবী হিসেবে গণ্য, যিনি অনেক ঐতিহাসিক ও গবেষকের আগ্রহের কেন্দ্রবিন্দু ছিলেন এবং এখনও আছেন। তাই ইতিহাস ও তাবাকাত (জীবনী অভিধান) গ্রন্থগুলোতে তাঁর এবং তাঁর সংবাদ ও কর্মের উল্লেখ প্রচুর পরিমাণে পাওয়া যাওয়াটা বিস্ময়কর নয়। তাজ আস-সুবকীর সন্ধানে আমার হাতে আসা ইতিহাস ও তাবাকাতের সমস্ত গ্রন্থ আমি পর্যবেক্ষণ করেছি এবং নিম্নোক্ত ব্যক্তিবর্গের নিকট তাঁর উল্লেখ পেয়েছি:
? আয-যাহাবী (মৃ. ৭৪৮ হি.) 'আল-মুজামুল মুখতাস' পৃ. ১০৮-এ।
? আস-সাফাদী (মৃ. ৭৬৪ হি.) 'আল-ওয়াফি বিল ওয়াফায়াত' (১৯/৩১৫) এবং 'আয়ানুল আসর' (৩/১৩২, ৪৩৬, ৪৩৭, ৬৫৭ এবং অন্যান্য)-এ।
? আল-হুসাইনী (মৃ. ৭৬৫ হি.) 'যাইলু আলাল ইবার' (৪/১৭৭, ২০০)-এ।
? ইবনে রাফে (মৃ. ৭৭২ হি.) 'আল-ওয়াফায়াত' (২/৩৬৪)-এ।
? ইবনে কাসীর (মৃ. ৭৭৪ হি.) 'আল-বিদায়া ওয়ান নিহায়া' (১৪/৬৮৮, ৬৯০, ৭২৬, ৭৩৫, ৭৪৬, ৭২৮)-এ।
? ইবনে হাবীব (মৃ. ৭৭৯ হি.) 'তাযকিরাতুন নাবীহ' (৩/২১৮)-এ।
? ইবনুল ইরাকী (মৃ. ৮২৬ হি.) 'যাইলু আলাল ইবার' (২/৩০৩)-এ।
? ইবনে নাসিরুদ্দীন আদ-দিমাশকী (মৃ. ৮৪২ হি.) 'মাজালিসু ফি তাফসীরি ক্বাউলিহি তাআলা: লাকাদ মান্নাল্লাহু আলাল মুমিনীন...' পৃ. ৪৯-৫০-এ।
? আল-মাকরিযী (মৃ. ৮৪৫ হি.) 'আস-সুলূক' (৪/৩৩৭)-এ।
? ইবনে শুহবাহ (মৃ. ৮৫১ হি.) 'তারীখ' (৩/৩৭২) এবং 'তাবাকাতুশ শাফিঈয়্যাহ' (৩/১৪০)-এ।
? ইবনে হাজার (মৃ. ৮৫২ হি.) 'আদ-দুরারুল কামিনাহ' (২/৪২৫)-এ।
? ইবনে তাগরি বারদি (মৃ. ৮৭৪ হি.) 'আন-নুজুমুজ যাহিরাহ' (১১/৮৬), 'আল-মানহালুস সাফি' (৭/৩৮৫) এবং 'আদ-দালিলুশ শাফি' (১/৪৩৩)-এ।
? আস-সাখাভী (মৃ. ৯০২ হি.) 'ওয়াজিযুল কালাম' (১/১২২, ১৩০, ১৬২-১৬৩, ১৭৪, ১৭৭)-এ।
? আস-সুয়ূতী (মৃ. ৯১১ হি.) 'হুসনুল মুহাদারা' (১/২৮২)-এ।
? আন-নুআইমী (মৃ. ৯২৭ হি.) 'আদ-দারিসু ফি তারীখিল মাদারিস' (১/১৮, ৩৭-৩৮, ২০০, ২১৬ এবং অন্যান্য)-এ।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
মানহাজুল ইমাম তাজুদ দীন আস সুবকী ফী উসুলিল ফিকহ
(পৃষ্ঠা: ২৩)
ابن طولون (ت 953هـ) في ((قضاة دمشق)) ص 105 وفي ((تاريخ الصالحية)) (2/ 371).
? ابن إياس الحنفي في ((بدائع الزهور)) (الجزء الأول، قسم 2، ص 98).
? طاش كبرى زاده (ت 968هـ) في ((مفتاح السعادة)) (1/ 285، 340).
? ابن هداية الله (ت 1014هـ) في ((طبقات الشافعية)) ص 234.
? حاجي خليفة (ت 1067) في ((كشف الظنون)) (1/ 467).
? البغدادي () في ((هداية العارفين)) (5/ 639).
? ابن العماد (ت 1089هـ) في ((شذرات الذهب)) (6/ 419).
? الغزي (ت 1167هـ) في ((ديوان الإسلام)) (3/ 45).
? الزبيدي (ت 1205هـ) في ((تاج العروس)) (7/ 141).
? الشوكاني (ت 1250هـ) في ((البدر الطالع)) ص 415.
? القنوجي (ت 1307هـ) في ((أبجد العلوم)) (2/ 301).
? الألوسي (ت 1317هـ) في ((محاكمة الأحمدين)) ص 24.
? الكتاني في ((الرسالة المستطرفة)) ص 105 وفي ((فهرس الفهارس)) (2/ 1037).
? الثعالبي (ت 1376هـ) في ((الفكر السامي)) (2/ 411 - 412).
? المراغي () في ((الفتح المبين)) (2/ 191 - 192).
? شعبان اسماعيل في ((أصول الفقه: تاريخه ورجاله)) ص 363 - 364.
? محمد الصادق حسين في ((البيت السبكي)) ص 1 - 22.
? الزركلي في ((الأعلام)) (4/ 184).
? كحالة في معجم المؤلفين (2/ 343)
? شاكر مصطفى في ((تاريخ العرب والمؤرخون)) (4/ 81 - 83).
? السيد عبد العزيز سالم في ((التاريخ والمؤرخون العرب)) ص 181.
? المنجد في ((معجم المؤرخين الدمشقيين)) ص 199 - 202.
كما له ذِكْر في: موسوعة طبقات الفقهاء (8/ 124، الموسوعة العربية العالمية (12/ 136) والموسوعة العربية الميسرة والموسعة (1/ 79)، وفي دائرة معارف القرن الرابع عشر، القرن العشرين (5/ 28).
المطلب الثاني: اسمه ونسبه.
هو الإمام العلامّة قاضي القضاة شَيخُ الإسلامِ ومفتي الأنام، تاجُ الدِّين أبو نَصرٍ عَبدُ الوهّابِ ابن عليٍّ بن عَبد الكافي بن عليٍّ بن تمّام بن سَوّار بن سُلَيمٍ السُّبكيِّ الخَزْرَجيِّ الأنَصْاريِّ، الأشَعريُّ مُعتَقَداً، الشافعيُّ مذهباً، القاهريُّ مولداً، والدمشقيُّ مدفناً (1).
فاسمه: عَبدُ الوهّاب.
وكنيته: أبو نَصْر.
ولقبه: تاجُ الدِّين.
ونسبه: أـ السبكي: نسبة إلى قرية ((سُبك العبيد)) (2)، من قرى المنوفية بمصر، والتي تسمى اليوم بـ ((سبك الأحد)) أو ((سبك الحد)) عند العامّة (3).
--------------------------------------------
ইবনে তুলুন (মৃ. ৯৫৩ হি.) তাঁর ‘কুযাতু দিমাশক’ গ্রন্থের ১০৫ পৃষ্ঠায় এবং ‘তারিখুস সলিহিয়্যাহ’ (২/৩৭১) গ্রন্থে।
ইবনে ইয়াস আল-হানাফী তাঁর ‘বাদায়িউয যুহুর’ (১ম খণ্ড, ২য় ভাগ, ৯৮ পৃষ্ঠা) গ্রন্থে।
তাশ কুবরী যাদেহ (মৃ. ৯৬৮ হি.) তাঁর ‘মিফতাহুস সাআদাহ’ (১/২৮৫, ৩৪০) গ্রন্থে।
ইবনে হিদায়াতুল্লাহ (মৃ. ১০১৪ হি.) তাঁর ‘তাবাকাতুশ শাফিইয়্যাহ’ গ্রন্থের ২৩৪ পৃষ্ঠায়।
হাজ্জী খলিফা (মৃ. ১০৬৭ হি.) তাঁর ‘কাশফুয যুনুন’ (১/৪৬৭) গ্রন্থে।
আল-বাগদাদী তাঁর ‘হিদায়াতুল আরিফিন’ (৫/৬৩৯) গ্রন্থে।
ইবনে আল-ইমাদ (মৃ. ১০৮৯ হি.) তাঁর ‘শাযারাতুয যাহাব’ (৬/৪১৯) গ্রন্থে।
আল-গাযযী (মৃ. ১১৬৭ হি.) তাঁর ‘দিওয়ানুল ইসলাম’ (৩/৪৫) গ্রন্থে।
আজ-যাবীদী (মৃ. ১২০৫ হি.) তাঁর ‘তাজুল আরুস’ (৭/১৪১) গ্রন্থে।
আশ-শাওকানী (মৃ. ১২৫০ হি.) তাঁর ‘আল-বাদরুত তালি’ গ্রন্থের ৪১৫ পৃষ্ঠায়।
আল-কানুজি (মৃ. ১৩০৭ হি.) তাঁর ‘আবজাদুল উলুম’ (২/৩০১) গ্রন্থে।
আল-আলুসী (মৃ. ১৩১৭ হি.) তাঁর ‘মুহাকামাতুল আহমাদাইন’ গ্রন্থের ২৪ পৃষ্ঠায়।
আল-কাত্তানী তাঁর ‘আর-রিসালাতুল মুস্তাতরাফাহ’ গ্রন্থের ১০৫ পৃষ্ঠায় এবং ‘ফিহরিসুল ফাহারিস’ (২/১০৩৭) গ্রন্থে।
আস-সাআলিবি (মৃ. ১৩৭৬ হি.) তাঁর ‘আল-ফিকরুস সামী’ (২/৪১১-৪১২) গ্রন্থে।
আল-মারাগী তাঁর ‘আল-ফাতহুল মুবীন’ (২/১৯১-১৯২) গ্রন্থে।
শাবান ইসমাইল তাঁর ‘উসুলুল ফিকহ: তারিখুহু ওয়া রিজালুহু’ গ্রন্থের ৩৬৩-৩৬৪ পৃষ্ঠায়।
মুহাম্মদ আল-সাদিক হুসাইন তাঁর ‘আল-বাইতুস সুবকী’ গ্রন্থের ১-২২ পৃষ্ঠায়।
আয-যিরিকলী তাঁর ‘আল-আলাম’ (৪/১৮৪) গ্রন্থে।
কাহহালা তাঁর ‘মুজামুল মুআল্লিফীন’ (২/৩৪৩) গ্রন্থে।
শাকের মুস্তফা তাঁর ‘তারিখুল আরব ওয়াল মুআররিখুন’ (৪/৮১-৮৩) গ্রন্থে।
আস-সাইয়িদ আব্দুল আজিজ সালিম তাঁর ‘আত-তারিখ ওয়াল মুআররিখুন আল-আরব’ গ্রন্থের ১৮১ পৃষ্ঠায়।
আল-মুনজিদ তাঁর ‘মুজামুল মুআররিখিন আদ-দিমাশকিয়্যিন’ গ্রন্থের ১৯৯-২০২ পৃষ্ঠায়।
এছাড়াও তাঁর উল্লেখ রয়েছে: ‘মাওসুআতু তাবাকাতি ফুকাহা’ (৮/১২৪), ‘আল-মাওসুআতুল আরাবিয়্যা আল-আলামিয়্যা’ (১২/১৩৬), ‘আল-মাওসুআতুল আরাবিয়্যা আল-মুয়্যাসসারাহ ওয়াল মুওয়াসসাআ’ (১/৭৯) এবং ‘দাইরাতু মাআরিফিল কারনির রাবে আশারা, আল-কারনিল ইশরিন’ (৫/২৮) গ্রন্থে।
দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ: তাঁর নাম ও বংশপরিচয়.
তিনি হলেন ইমাম, আল্লামা, প্রধান বিচারপতি (কাযীউল কুযাত), শায়খুল ইসলাম এবং জগতের মুফতী, তাজউদ্দীন আবু নাসর আব্দুল ওয়াহহাব ইবনে আলী ইবনে আব্দুল কাফী ইবনে আলী ইবনে তাম্মাম ইবনে সাওয়ার ইবনে সুলাইম আল-সুবকী আল-খাজরাজী আল-আনসারী। আকিদাগতভাবে তিনি আশআরী, মাযহাবগতভাবে শাফিঈ, জন্মগতভাবে কায়রোবাসী এবং দাফনস্থলে তিনি দামেস্কী (১)।
তাঁর নাম: আব্দুল ওয়াহহাব।
তাঁর উপনাম: আবু নাসর।
তাঁর উপাধি: তাজউদ্দীন।
তাঁর বংশপরিচয়: ক- সুবকী: এটি মিশরের মানুফিয়্যাহ প্রদেশের ‘সুবকুল আবিদ’ (২) নামক গ্রামের দিকে সম্পৃক্ত, যাকে বর্তমানে সাধারণ মানুষের ভাষায় ‘সুবকুল আহাদ’ বা ‘সুবকুল হাদ্দ’ বলা হয় (৩)।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
মানহাজুল ইমাম তাজুদ দীন আস সুবকী ফী উসুলিল ফিকহ
(পৃষ্ঠা: ২৪)
ب ـ الخزرجي الأنصاري: نسبة إلى قبيلة الخزرج من الأنصار، وهذه النسبة قد نقلها تاج الدين السبكي من خط جده عبد الكافي بن علي، وقال: إنّ النسابة شرف الدين الدمياطي (1) كان يكتبها بخطه للشيخ الوالد (2)، وكان الشعراء يمتدحونه بها، ولم يكن لينكر عليهم (3).
إلا أنّه قد بيّن أنّ والده ما كان ليكتبها لنفسه، وذلك ورعاً منه واحتياطاً أن يكون قد دعا نفسه إلى قوم ليس منهم (4).
مما سبق يتبيّن لي أنّ هذه النسبة صحيحة مقبولة ولو كانت خطأ محضاً لما أقرها تقي الدين السبكي ولا ابنه التاج ولأنكراها وبيّنا ذلك، وأما عدم كتابته لها فهي من باب الاحتياط والورع ليس إلا، وليس نفياً لها البتة.
المطلب الثالث: مولده:اختلف المؤرخون والمترجمون للتاج السبكي في سنة مولده على ثلاثة أقوال:
الأول: أنّه ولد سنة 727 هـ (5).
الثاني: أنّ مولده سنة 728 هـ (6).
الثالث: أنّ مولده سنة 729 هـ (7).
والذي يترجّح لديّ من هذه الأقوال هو الثاني أنّ مولده سنة 728 هـ وذلك للأسباب الآتية:
01 أنّ الذهبي وهو شيخ التاج السبكي، وصديق والده، قد نص على أنّ مولده سنة 728 هـ، وكونه شيخه وصديق والده يقوي إمكانية سماع هذا التاريخ من التاج نفسه أو من والده، أضف إلى ذلك أنّ التاج السبكي قد ذَكَر ((المعجم المختص)) في مصنفات الذهبي مما يقوي احتمالية اطلاعه عليه، ولو كان الذهبي أخطأ في تاريخ مولده لتعقبه وبيّن أنّه أخطأ فيه.
02 أنّ ابن رافع وهو من معاصري التاج ومن تلامذة والده قد ذَكَر هذا التاريخ أيضاً، وقوله أقرب إلى الصحة لاحتمالية سماعه من شيخه أو من التاج نفسه.
03 إنّ الصلاح الصفدي (8) وهو من أعز أصدقاء التاج السبكي قد ذَكَر هذا التاريخ أيضاً، ومن الصعب أن يكون الصفدي قد أخطأ في تاريخ مولد صديقه وحميمه رغم ما بينهما من صداقة ومراسلات ومساجلات مشهورة.
--------------------------------------------
খ — আল-খাযরাজী আল-আনসারী: আনসারদের খাযরাজ গোত্রের প্রতি সম্বন্ধ করে এই উপাধি। এই সম্বন্ধের কথা তাজউদ্দীন আস-সুবকী তাঁর দাদা আবদুল কাফি ইবনে আলীর হস্তলিপি থেকে বর্ণনা করেছেন এবং তিনি বলেছেন যে, বংশবিদ্যাবিশারদ শরফুদ্দীন আদ-দিমইয়াতি (১) তাঁর নিজ হাতে সম্মানিত পিতা শায়খের (২) জন্য এটি লিখেছিলেন। কবিরা এই নামে তাঁর প্রশংসা করতেন এবং তিনি তা অস্বীকার করতেন না (৩)।
তবে তিনি স্পষ্ট করেছেন যে, তাঁর পিতা তা নিজের জন্য লিখতেন না। এটি তাঁর তাকওয়া এবং সতর্কতার কারণে ছিল, যাতে তিনি নিজেকে এমন কোনো জাতির অন্তর্ভুক্ত না করেন যাদের তিনি অন্তর্ভুক্ত নন (৪)।
উপরোক্ত আলোচনা থেকে আমার কাছে স্পষ্ট হয় যে, এই সম্বন্ধটি সঠিক এবং গ্রহণযোগ্য। যদি এটি নিছক ভুল হতো তবে তাকিউদ্দীন আস-সুবকী বা তাঁর পুত্র আত-তাজ তা স্বীকার করতেন না, বরং তারা একে অস্বীকার করতেন এবং বিষয়টি স্পষ্ট করে দিতেন। আর তাঁর এটি না লেখার কারণ কেবল সতর্কতা ও তাকওয়া ছাড়া আর কিছু নয়, এবং এটি মোটেও একে অস্বীকার করার নামান্তর নয়।
পরিচ্ছেদ তিন: তাঁর জন্ম:তাজউদ্দীন আস-সুবকীর জন্ম সাল নিয়ে ঐতিহাসিক এবং জীবনীকারগণ তিনটি মতে বিভক্ত হয়েছেন:
প্রথম মত: তিনি ৭২৭ হিজরিতে জন্মগ্রহণ করেছেন (৫)।
দ্বিতীয় মত: তাঁর জন্ম ৭২৮ হিজরিতে (৬)।
তৃতীয় মত: তাঁর জন্ম ৭২৯ হিজরিতে (৭)।
এই মতগুলোর মধ্যে দ্বিতীয়টি অর্থাৎ ৭২৮ হিজরিতে জন্ম গ্রহণ করার মতটিই আমার কাছে অধিকতর যুক্তিযুক্ত মনে হয়, আর তা নিম্নলিখিত কারণে:
০১. আয-যাহাবী, যিনি তাজউদ্দীন আস-সুবকীর উস্তাদ এবং তাঁর পিতার বন্ধু ছিলেন, তিনি স্পষ্ট করে বলেছেন যে তাঁর জন্ম ৭২৮ হিজরিতে। তাঁর উস্তাদ এবং তাঁর পিতার বন্ধু হওয়ার কারণে এই তারিখটি স্বয়ং তাজউদ্দীন বা তাঁর পিতার কাছ থেকে শোনার সম্ভাবনাকে শক্তিশালী করে। তদুপরি, তাজ সুবকী আয-যাহাবীর গ্রন্থসমূহের তালিকায় "আল-মু'জাম আল-মুখতাস"-এর কথা উল্লেখ করেছেন, যা এই সম্ভাবনাকে আরও জোরালো করে যে তিনি গ্রন্থটি দেখেছেন। যদি আয-যাহাবী তাঁর জন্ম তারিখের ক্ষেত্রে ভুল করতেন তবে তিনি (তাজ সুবকী) তা সংশোধন করতেন এবং ভুলটি নির্দেশ করতেন।
০২. ইবনে রাফি, যিনি তাজ সুবকীর সমসাময়িক এবং তাঁর পিতার ছাত্রদের একজন ছিলেন, তিনিও এই তারিখটি উল্লেখ করেছেন। তাঁর বক্তব্য সত্যের কাছাকাছি হওয়ার সম্ভাবনা বেশি কারণ তিনি এটি তাঁর উস্তাদ বা স্বয়ং তাজ সুবকীর কাছ থেকে শুনতে পারেন।
০৩. সালাহ আস-সাফাদী (৮), যিনি তাজ সুবকীর ঘনিষ্ঠ বন্ধুদের একজন ছিলেন, তিনিও এই তারিখটি উল্লেখ করেছেন। সাফাদী তাঁর বন্ধুর জন্ম তারিখের ক্ষেত্রে ভুল করবেন—তা অসম্ভব মনে হয়, বিশেষ করে তাদের মধ্যকার বন্ধুত্ব, পত্রালাপ এবং বিখ্যাত জ্ঞানতাত্ত্বিক প্রতিযোগিতার পরিপ্রেক্ষিতে।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
মানহাজুল ইমাম তাজুদ দীন আস সুবকী ফী উসুলিল ফিকহ
(পৃষ্ঠা: ২৫)
04 إنّ الذين ذَكَروا سنة 728هـ كما رأيت هم من المعاصرين للتاج السبكي ومنهم شيوخه وأقرانه، في حين الذين ذَكَروا سنة 727هـ أو سنة 729هـ كلهم متأخِّرون عن عصره وعهده ولم يُدرِك أيّ منهم التاج السبكي، مما يَعني تقديمَ قول المعاصرين عليهم؛ لأنّهم أعلمُ بحاله من غيرهم، كلُّ ذلك يؤكّدُ أنّ مولدَه سنة 728هـ، ما في ذلك شك.
المطلب الرابع: أسرتهتعدّ الأسرة التي منها التاج السبكي أسرةً عريقةً فريدةً من نوعها، إذ أنّ معظم أفراد هذه الأسرة ـ إن لم نقل كلهم ـ علماء أو قضاة أو خطباء أو مدرسون للعلم، قلّما تجد أسرة تمتاز بهذه المِيزة، وسأعرض هنا بصورة موجزة أبرز أفراد أسرة التاج السبكي، فأَذكُرُ منهم (1):
والده:الإمام العلامة شيخ الإسلام أبو الحسن تقي الدين علي بن عبد الكافي بن علي بن تمّام بن يوسف السبكي الخزرجي الأنصاري، الشيخ الإمام الفقيه المجتهد، المحدث الحافظ، المفسر المقريء، الأصولي المتكلم النحوي اللغوي الأديب، الحكيم المنطقي الجدلي الخلافي النظار.
ذَكَره الذهبي في المعجم المختص وقال عنه: ((القاضي الإمام العلامة الفقيه المحدث الحافظ فخر العلماء
… كان صادقاً متثبتاً خيراً ديناً متواضعاً حَسَنَ السَّمتِ من أوعية العلم يدري الفقهَ ويقرّره، وعلمَ الحديث ويحرّره، والأصولَ ويُقْرِئها، والعربيةَ ويحقّقها
… ، وصنّف التصانيف المتقنة، وقد بقي في زمانه الملحوظَ إليه بالتحقيق والفضل، سمعت منه وسمع مني، وحكم بالشام وحُمِدَت أحكامه والله يُؤيّده ويُسدّده)) (2) اهـ.
له تصانيف فائقة كثيرة تربو على 211 مصنفاً منها (3):
((الاعتبار ببقاء الجنة والنار))، ((النكت على صحيح البخاري))، ((الابتهاج في شرح المنهاج))، ((ورد العلل في فهم العلل))، ((أحكام كل وما تدل عليه))، وغيرها الكثير الكثير. توفي رحمه الله تعالى في القاهرة سنة 756 هـ (4).
إخوته:01 بهاء الدين: الإمام العلامة قاضي القضاة أبو حامد أحمد بن علي السبكي، فقيه أصولي، لغوي نحوي، صاحب فضائل جمة ومناقب كثيرة، قال عنه الذهبي: ((الإمام العلامة المدرس
… له فضائل وعلم جيد، وفيه أدب وتقوى، ساد وهو ابن عشرين سنة، ودرّس في مناصب أبيه وأثنى على دروسه)) (5)
وقال عنه ابن شهبة: ((كان كثير الحج والمجاورة والتعبد والأوراد، كثير المروءة والإحسان)) (6).
--------------------------------------------
০৪ যারা ৭২৮ হিজরি সাল উল্লেখ করেছেন, যেমনটি আপনি দেখেছেন, তারা তাজ সুবকির সমসাময়িক ছিলেন এবং তাদের মধ্যে তাঁর শিক্ষক ও সমবয়সীরাও রয়েছেন। অপরদিকে, যারা ৭২৭ হিজরি বা ৭২৯ হিজরি সাল উল্লেখ করেছেন, তারা সবাই তাঁর যুগের পরবর্তী সময়ের এবং তাদের কেউই তাজ সুবকির সাক্ষাৎ পাননি। এর অর্থ হলো সমসাময়িকদের বক্তব্য অন্যদের বক্তব্যের ওপর প্রাধান্য পাবে; কারণ তারা অন্যের চেয়ে তাঁর অবস্থা সম্পর্কে অধিক অবগত ছিলেন। এই সবকিছু নিশ্চিত করে যে, তাঁর জন্ম ৭২৮ হিজরিতে, এতে কোনো সন্দেহ নেই।
চতুর্থ পরিচ্ছেদ: তাঁর পরিবারযে পরিবারে তাজ সুবকি জন্মগ্রহণ করেছেন, তা এক সুপ্রাচীন ও অনন্য পরিবার হিসেবে গণ্য। কারণ এই পরিবারের অধিকাংশ সদস্যই—যদি আমরা সবাই না-ও বলি—ছিলেন আলেম, বিচারক (কাযী), খতিব অথবা দ্বীনি ইলমের শিক্ষক। এমন বৈশিষ্ট্যের অধিকারী পরিবার খুব কমই দেখা যায়। আমি এখানে সংক্ষেপে তাজ সুবকির পরিবারের সবচেয়ে বিশিষ্ট সদস্যদের বর্ণনা করব, যাদের মধ্যে রয়েছেন (১):
তাঁর পিতা:ইমাম, আল্লামা, শাইখুল ইসলাম আবুল হাসান তাকিউদ্দীন আলি ইবনে আব্দুল কাফি ইবনে আলি ইবনে তাম্মাম ইবনে ইউসুফ আস-সুবকি আল-খাজরাজি আল-আনসারি; তিনি ছিলেন শাইখ, ইমাম, ফকিহ, মুজতাহিদ, মুহাদ্দিস, হাফেজ, মুফাসসির, মুকরি (কুরআন পাঠ বিশেষজ্ঞ), উসুলবিদ, কালামশাস্ত্রবিদ, নাহুবিদ (ব্যাকরণবিদ), ভাষাবিদ, সাহিত্যিক, হেকিম, যুক্তিবিদ, বিতার্কিক এবং গভীর তত্ত্বজ্ঞানী।
যাহাবি তাঁকে 'আল-মু'জাম আল-মুখতাস' গ্রন্থে উল্লেখ করেছেন এবং তাঁর সম্পর্কে বলেছেন: "কাযী, ইমাম, আল্লামা, ফকিহ, মুহাদ্দিস, হাফেজ, ওলামাদের গৌরব... তিনি ছিলেন সত্যবাদী, নির্ভরযোগ্য, নেককার, ধর্মপ্রাণ, বিনয়ী ও উত্তম স্বভাবের অধিকারী। তিনি ছিলেন ইলমের ভাণ্ডার, ফিকহ জানতেন ও তা বর্ণনা করতেন, হাদিস শাস্ত্র জানতেন ও তা যাচাই-বাছাই করতেন, উসুল জানতেন ও তা শিক্ষা দিতেন এবং আরবি ভাষাকে সুপ্রতিষ্ঠিত করতেন... তিনি অনেক নিপুণ গ্রন্থ রচনা করেছেন। তিনি নিজ যুগে তাহকিক ও শ্রেষ্ঠত্বের বিচারে সকলের দৃষ্টির কেন্দ্রে ছিলেন। আমি তাঁর কাছ থেকে শুনেছি এবং তিনিও আমার কাছ থেকে শুনেছেন। তিনি শামে বিচারকার্য পরিচালনা করেছেন এবং তাঁর বিচারসমূহ প্রশংসিত হয়েছিল। আল্লাহ তাঁকে সাহায্য ও সঠিক পথে পরিচালিত করুন" (২)। সমাপ্ত।
তাঁর ২১১টিরও বেশি উচ্চমানের রচনা রয়েছে, যার মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো (৩):
"আল-ইতিবার বি-বাকাউল জান্নাতি ওয়ান নার", "আন-নুকাতি আলা সহিহ আল-বুখারি", "আল-ইবতিহাজ ফি শারহিল মিনহাজ", "ওয়ার্দুল ইলাল ফি ফাহমিল ইলাল", "আহকামু কুল্লিন ওয়া মা তাদাল্লু আলাইহি" এবং আরও অনেক। তিনি রহিমানুল্লাহ ৭৫৬ হিজরিতে কায়রোতে মৃত্যুবরণ করেন (৪)।
তাঁর ভাইগণ:০১ বাহাউদ্দীন: ইমাম, আল্লামা, প্রধান বিচারপতি আবু হামিদ আহমদ ইবনে আলি আস-সুবকি। তিনি ছিলেন ফকিহ, উসুলবিদ, ভাষাবিদ ও নাহুবিদ এবং বহু গুণ ও মর্যাদার অধিকারী। যাহাবি তাঁর সম্পর্কে বলেছেন: "ইমাম, আল্লামা, শিক্ষক... তিনি শ্রেষ্ঠত্ব ও উত্তম ইলমের অধিকারী ছিলেন। তাঁর মধ্যে শিষ্টাচার ও তাকওয়া ছিল। তিনি বিশ বছর বয়সেই নেতৃত্ব লাভ করেন এবং তাঁর পিতার পদে অধ্যাপনা করেন; তাঁর পাঠদানের ভূয়সী প্রশংসা করা হয়েছে" (৫)।
ইবনে শাহবাহ তাঁর সম্পর্কে বলেছেন: "তিনি প্রচুর হজ পালন করতেন, মক্কায় অবস্থান করতেন (মুজাওয়ারা), ইবাদত ও অজিফায় মগ্ন থাকতেন। তিনি অত্যন্ত পৌরুষত্ব ও পরোপকারী গুণের অধিকারী ছিলেন" (৬)।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
মানহাজুল ইমাম তাজুদ দীন আস সুবকী ফী উসুলিল ফিকহ
(পৃষ্ঠা: ২৬)
من مصنفاته: ((شرح التلخيص))، ((المناقضات)) في الفقه، وشرح ((قطعة من الحاوي))، ((وقطعة أخرى من مختصر ابن الحاجب))، توفي رحمه الله تعالى بمكة مجاوراً سنة 773هـ (1).
02 جمال الدين: الإمام العلامة القاضي أبو الطيب الحسين بن علي بن عبد الكافي السبكي، النحوي الأديب الشاعر الفقيه الأصولي، صاحب عقل وفضل وفهم ونبل (2)، قال عنه ابن كثير عند ذِكْر وفاته: ((تأسف الناس عليه لسماحة أخلاقه وانجماعه على نفسه، ولا يتعدّى شره غيره، وكان يحكم جيداً، نظيف العرض في ذلك،
… أفتى وتصدر، وكانت لديه فضيلة جيدة بالنحو والفقه والفرائض)) (3).
وقال عنه أخوه التاج السبكي: ((كان من أذكياء العالم، وكان عجباً في استحضار (التسهيل) في النحو، ودرس بالآخرة على (الحاوي الصغير)، وكان عجباً في استحضاره)) (4).
من مصنفاته: جمع كتاباً في من اسمه الحسين بن علي. توفي رحمه الله سنة 755هـ في حياة والده، ودفن بتربة السبكية بسفح قاسيون (5).
03 أبو بكر: محمد بن علي السبكي، أكبر أولاد الشيخ تقي الدين السبكي، ولا يوجد بين أيدينا شيء من أخباره إلا ما ورد في طبقات أخيه التاج السبكي، حيث ذَكَره عرضاً في ترجمة والده، مبيّناً أنّ والده قد وجه إليه قصيدة يخاطبه بها ناصحاً له الاهتمام بالعلم ودروسه من كتاب الله تعالى وسنة نبيه صلى الله عليه وسلم وفقه الشافعي الإمام، وأصول الفقه، واتباع طريقة الجنيد في التصوف. وقد توفي قبل أن يُشتَهر ويُعرَف عن حاله شيء (6).
شقيقاته:01 أم محمد: خديجة بنت علي بن عبد الكافي، الشيخة الصالحة، توفيت رحمها الله في ذي القعدة من سنة 770هـ، ودفنت بقاسيون في مقبرة السبكية (7).
02 ست الخطباء: الشيخة الصالحة بنت القاضي علي بن عبد الكافي، حدَّثت بمصر وبحمص وغزة وغيرها، وأُضِرَّتْ في آخر عمرها، وثَقُلَ سمعها، وقد كانت خيِّرة ديِّنة، توفيت رحمها الله تعالى في
جمادى الآخرة من سنة 773هـ بالقاهرة، ودفنت بمقابر باب النصر (8).
03 أم الخير: ستيتة بنت علي، محدثة فاضلة، ماتت بالقاهرة سنة 776هـ رحمها الله تعالى وأسكنها فسيح جناته (9).
--------------------------------------------
তার রচিত গ্রন্থাবলির মধ্যে রয়েছে: ((শারহুত তালখিস)), ফিকহ শাস্ত্রের ওপর ((আল-মুনাকাদাত)), এবং ((আল-হাবি))-এর একাংশের ব্যাখ্যাগ্রন্থ ও ((মুখতাসার ইবনুল হাজিব))-এর অপরাংশের ব্যাখ্যাগ্রন্থ। তিনি রহমতুল্লাহি আলাইহি ৭৭৩ হিজরিতে মক্কায় অবস্থানরত অবস্থায় মৃত্যুবরণ করেন (১)।
০২ জামালুদ্দিন: ইমাম, আল্লামা, বিচারক আবু তায়্যিব হুসাইন বিন আলী বিন আব্দুল কাফি আস-সুবকি। তিনি ছিলেন একজন ব্যাকরণবিদ, সাহিত্যিক, কবি, ফকিহ এবং উসুলবিদ; প্রজ্ঞা, শ্রেষ্ঠত্ব, বোধশক্তি ও আভিজাত্যের অধিকারী (২)। ইবনে কাসির তাঁর মৃত্যু প্রসঙ্গে বলেন: "মানুষ তাঁর অমায়িক চরিত্র এবং নির্জনতাপ্রিয়তার জন্য তাঁর প্রতি অত্যন্ত অনুরাগী ছিল। তাঁর দ্বারা কারো কোনো অনিষ্ট হতো না। তিনি অত্যন্ত নিষ্ঠার সাথে বিচারকার্য পরিচালনা করতেন এবং এ ক্ষেত্রে তিনি নির্মল চরিত্রের অধিকারী ছিলেন।
… তিনি ফতোয়া প্রদান ও শিক্ষকতা করেছেন। ব্যাকরণ, ফিকহ এবং ফারায়েজ শাস্ত্রে তাঁর অনন্য বুৎপত্তি ছিল" (৩)।
তাঁর ভাই তাজ আস-সুবকি তাঁর সম্পর্কে বলেন: "তিনি ছিলেন পৃথিবীর অন্যতম মেধাবী ব্যক্তি। ব্যাকরণ শাস্ত্রের 'আত-তাসহিল' গ্রন্থটি মুখস্থ উপস্থাপনে তিনি ছিলেন বিস্ময়কর। জীবনের শেষভাগে তিনি 'আল-হাবি আস-সগির' পাঠদান করেন এবং এটি স্মরণে রাখাতেও তিনি বিস্ময়কর প্রতিভার পরিচয় দেন" (৪)।
তাঁর রচিত গ্রন্থাবলির মধ্যে রয়েছে: 'হুসাইন বিন আলী' নামধারী ব্যক্তিদের জীবনী সংক্রান্ত একটি সংকলন। তিনি রহমতুল্লাহি আলাইহি তাঁর পিতার জীবদ্দশাতেই ৭৫৫ হিজরিতে মৃত্যুবরণ করেন এবং কাসিউন পাহাড়ের পাদদেশে সুবকি পরিবারের কবরস্থানে সমাহিত হন (৫)।
০৩ আবু বকর: মুহাম্মাদ বিন আলী আস-সুবকি, শেখ তাকিউদ্দিন আস-সুবকির জ্যেষ্ঠ পুত্র। তাঁর ভাই তাজ আস-সুবকির 'তাবাকাত' গ্রন্থে তাঁর পিতার জীবনীতে আনুষঙ্গিকভাবে যা উল্লেখ করা হয়েছে, তা ছাড়া তাঁর সম্পর্কে অন্য কোনো তথ্য আমাদের কাছে নেই। সেখানে উল্লেখ করা হয়েছে যে, তাঁর পিতা তাঁকে উপদেশ দিয়ে একটি কবিতা লিখেছিলেন, যেখানে তাঁকে জ্ঞান অর্জন এবং আল্লাহর কিতাব, তাঁর নবীর (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) সুন্নাহ, ইমাম শাফেয়ির ফিকহ ও উসুলুল ফিকহ চর্চায় মনোনিবেশ করার এবং তাসাউফের ক্ষেত্রে জুনাইদ (রহ.)-এর পথ অনুসরণের নসিহত করেছিলেন। তিনি খ্যাতি লাভ করার এবং তাঁর অবস্থা সম্পর্কে বিস্তারিত জানার আগেই মৃত্যুবরণ করেন (৬)।
তাঁর সহোদরাগণ:০১ উম্মে মুহাম্মাদ: খাদিজা বিনতে আলী বিন আব্দুল কাফি। তিনি ছিলেন একজন নেককার বিদুষী নারী। তিনি রহমাতুল্লাহি আলাইহা ৭৭০ হিজরির জিলকদ মাসে মৃত্যুবরণ করেন এবং কাসিউন পাহাড়ে সুবকি কবরস্থানে সমাহিত হন (৭)।
০২ সিত্তুল খুতাবা: বিচারক আলী বিন আব্দুল কাফির পুণ্যবতী কন্যা। তিনি মিসর, হিমস, গাজা এবং অন্যান্য স্থানে হাদিস বর্ণনা করেছেন। জীবনের শেষ দিকে তিনি দৃষ্টিশক্তি হারান এবং শ্রবণশক্তিও ক্ষীণ হয়ে আসে। তিনি অত্যন্ত পুণ্যবতী ও ধর্মপ্রাণ নারী ছিলেন। তিনি রহমতুল্লাহি আলাইহি ৭৭৩ হিজরির জমাদিউল আখের মাসে কায়রোতে মৃত্যুবরণ করেন এবং বাবুন্নাসর কবরস্থানে সমাহিত হন (৮)।
০৩ উম্মুল খায়ের: স্তিতাহ বিনতে আলী। তিনি ছিলেন একজন বিদুষী মুহাদ্দিসাহ। তিনি ৭৭৬ হিজরিতে কায়রোতে মৃত্যুবরণ করেন। আল্লাহ তাআলা তাঁর ওপর রহমত বর্ষণ করুন এবং তাঁকে জান্নাতের সুউচ্চ মাকাম দান করুন (৯)।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
মানহাজুল ইমাম তাজুদ দীন আস সুবকী ফী উসুলিল ফিকহ
(পৃষ্ঠা: ২৭)
04 سارة: بنت علي بن عبد الكافي، سمعت من أبيها ومن زينب بنت الكمال (1)، وتزوجها أبو البقاء السبكي (2)، ولما مات رجعت إلى القاهرة، ثم عادت إلى دمشق فالقدس فالقاهرة، وحدَّثت وسمع منها الكثير منهم ابن حجر العسقلاني، توفيت رحمها الله في القاهرة سنة 805هـ، وقد جاوزت التسعين (3).
المبحث الثالثنشأته وطلبه للعلمفي ظل هذه الأسرة وهذا البيت وُلِد ونَشَأ تاج الدين وتَرعرَعَ في كَنَف والده الذي رعاه رِعايةً خاصة منذ نعومة أظفاره، وقد كان لنشأة تاج الدين الأولى أكبرَ الأثر في صقل شخصيته العلمية وتوجيهها التوجيه العلمي الصحيح.
حيث كان والده الشيخ تقي الدين أوّلَ مُرّبِ ومُعلّمٍ لولده تاج الدين، ولا غرابة في ذلك إذ كان والده قِبلةً للعلماء وطلاب العلم في ذلك الوقت؛ لذا فقد وجّه ولدَه تاج الدين التوجيهَ العلميَّ الرصين والسليم.
فأقبل تاج الدين على العلم مبكراً؛ فحفظ القرآن صغيراً، وأخذ عن والده علوم العربية والعقيدة والفقه وأصوله، وغيرها من العلوم التي تَميَّز بها الشيخ تقي الدين (4).
وقد كان لتوجيهات والده أكبر الأثر في تَميُّزه ونبوغه المبكر، فقد كان دائماً ما يُحرّضه على العلم وطلبه، ويُحذّره من الكسل أو التواني فيه، وها هو التاج يُحدّثُنا عن بعض هذه التوجيهات والنصائح فيقول:
((وكان ينهانا عن نوم النصف الثاني من الليل، ويقول لي: يا بني تعود السهر ولو أنّك تلعب، والويل كل الويل لمن يراه نائماً وقد انتصف الليل)) (5).
وهكذا ظل التاج يَنهَلُ العِلمَ من والده ومن غيره من علماء عصره، وطلب بنفسه واشتغل وبَرعَ وحَدّث وأفتى ودرّس؛ حتى فاق كل أقرانه وبَزغَ نَجمُه في حياة والده (6).
المطلب الأول: شيوخهلم يكن الشيخ تقي الدين هو المعلم الوحيد لولده بل قد زَجّ به والده مبكراً في أحضان العلماء ليَنْهلَ من علومهم ويكتسبَ من معارفهم ما يقوي به شخصيته ويُنمّي فكره وثقافته، حيث تتلمذ على مشايخ وجهابذة العلم في زمانه، ففي مصر حيث نشأة التاج الأولى وبدايته العلمية أخذ العلم على يحيى
--------------------------------------------
০৪. সারা: আলী ইবনে আবদুল কাফীর কন্যা। তিনি তার পিতা এবং যয়নব বিনতে আল-কামাল (১) থেকে শ্রবণ করেছেন। আবু আল-বাকা আস-সুবকী (২) তাকে বিবাহ করেন। স্বামীর মৃত্যুর পর তিনি কায়রোতে ফিরে আসেন, এরপর দামেস্ক, অতঃপর জেরুজালেম এবং পুনরায় কায়রোতে ফিরে আসেন। তিনি হাদিস বর্ণনা করেছেন এবং ইবনে হাজার আল-আসকালানীসহ অনেকেই তার থেকে শ্রবণ করেছেন। তিনি ৮০৫ হিজরিতে কায়রোতে মৃত্যুবরণ করেন (আল্লাহ তার ওপর রহম করুন), তখন তার বয়স নব্বই বছর অতিক্রম করেছিল (৩)।
তৃতীয় পরিচ্ছেদতার বেড়ে ওঠা ও জ্ঞান অন্বেষণএই পরিবার ও গৃহের ছায়াতলে তাজউদ্দীন জন্মগ্রহণ করেন এবং তার পিতার তত্ত্বাবধানে বেড়ে ওঠেন, যিনি শৈশব থেকেই তার বিশেষ যত্ন নিতেন। তাজউদ্দীনের প্রাথমিক জীবনের এই বেড়ে ওঠা তার জ্ঞানতাত্ত্বিক ব্যক্তিত্ব গঠনে এবং তাকে সঠিক বৈজ্ঞানিক দিকনির্দেশনা প্রদানে অত্যন্ত জোরালো প্রভাব ফেলেছিল।
যেখানে তার পিতা শাইখ তাকীউদ্দীন ছিলেন তার পুত্র তাজউদ্দীনের প্রথম শিক্ষক ও মেন্টর। এতে অবাক হওয়ার কিছু নেই, কারণ সে সময় তার পিতা ছিলেন আলেম ও জ্ঞানপিপাসুদের গন্তব্যস্থল। তাই তিনি তার পুত্র তাজউদ্দীনকে একটি সুদৃঢ় ও সঠিক জ্ঞানতাত্ত্বিক দিকনির্দেশনা দিয়েছিলেন।
তাজউদ্দীন অল্প বয়সেই ইলমের পথে পা বাড়ান; ছোটবেলাতেই কুরআন হিফজ করেন এবং তার পিতার নিকট থেকে আরবি ভাষা, আকিদাহ, ফিকহ ও উসুলুল ফিকহসহ অন্যান্য ইলম অর্জন করেন যাতে শাইখ তাকীউদ্দীন পারদর্শী ছিলেন (৪)।
তার পিতার নির্দেশনাবলি তার শ্রেষ্ঠত্ব ও অল্প বয়সেই মেধার স্ফুরণে ব্যাপক প্রভাব ফেলেছিল। তিনি সর্বদা তাকে ইলম অর্জন করতে উৎসাহিত করতেন এবং অলসতা বা শিথিলতা প্রদর্শন থেকে সতর্ক করতেন। তাজউদ্দীন নিজেই সেই সব উপদেশ ও নির্দেশনার কিছু আমাদের বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন:
((তিনি আমাদেরকে রাতের শেষার্ধে ঘুমাতে নিষেধ করতেন এবং আমাকে বলতেন: হে প্রিয় বৎস! রাত জেগে থাকার অভ্যাস করো, এমনকি যদি তুমি খেলো তবুও। আর দুর্ভোগ, চরম দুর্ভোগ তার জন্য, যাকে রাত অর্ধেক হয়ে যাওয়ার পর ঘুমন্ত অবস্থায় পাওয়া যায়)) (৫)।
এভাবেই তাজউদ্দীন তার পিতা ও সমসাময়িক অন্যান্য আলেমদের কাছ থেকে জ্ঞান অর্জন করতে থাকেন। তিনি নিজ প্রচেষ্টায় জ্ঞান অন্বেষণ করেন, গবেষণায় আত্মনিয়োগ করেন এবং পারদর্শিতা অর্জন করেন। তিনি হাদিস বর্ণনা করেন, ফতোয়া দেন এবং শিক্ষাদান করেন; এমনকি তিনি তার সমসাময়িকদের ছাড়িয়ে যান এবং তার পিতার জীবদ্দশাতেই তার খ্যাতির নক্ষত্র উজ্জ্বল হয়ে ওঠে (৬)।
প্রথম উপ-পরিচ্ছেদ: তার শিক্ষকগণশাইখ তাকীউদ্দীন তার পুত্রের একমাত্র শিক্ষক ছিলেন না, বরং তার পিতা তাকে খুব সকালেই আলেমদের সান্নিধ্যে পাঠিয়ে দিয়েছিলেন যাতে তিনি তাদের জ্ঞান থেকে শিক্ষা নিতে পারেন এবং এমন সব প্রজ্ঞা অর্জন করতে পারেন যা তার ব্যক্তিত্বকে শক্তিশালী করবে এবং তার চিন্তা ও সংস্কৃতিকে বিকশিত করবে। তিনি তার সময়ের শ্রেষ্ঠ আলেম ও মনীষীদের নিকট ছাত্রত্ব গ্রহণ করেন। তাজউদ্দীনের প্রাথমিক বেড়ে ওঠা ও ইলমি জীবনের শুরুতে মিশরে তিনি ইয়াহইয়া... এর নিকট ইলম অর্জন করেন।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
মানহাজুল ইমাম তাজুদ দীন আস সুবকী ফী উসুলিল ফিকহ
(পৃষ্ঠা: ২৮)
ابن يوسف المصري (1)، وعبد المحسن بن الصابوني (2)، والحافظ أبي الفتح بن سيد الناس (3)، وغيرهم (4).
ولما وَلِي أبوه قضاء الشام سنة 739 هـ (5)، قَدِم التاج دمشق مع والده، وهنالك سمع من جماعة من العلماء وأجازه العديد منهم وأذن له ابن النقيب بالإفتاء، ولما توفي ابن النقيب لم يكن عمر التاج إذ ذاك قد تجاوز الثامنة عشرة من عمره (6).
وسأعرض فيما يأتي لأهم شيوخه الذين تتلمذ عليهم (7):
01 الذهبي: الإمام الحافظ المؤرخ شمس الدين أبو عبد الله محمد بن أحمد بن عثمان بن قايماز الذهبي، المتوفى سنة 746 هـ (8).
قال عنه تلميذه التاج السبكي: ((شيخنا وأستاذنا الإمام الحافظ، مُحدّث العصر
… بَصَرٌ لا نظير له، وكنز هو الملجأ إذا نزلت المعضلة، إمام الوجود حفظاً، وذَهَبُ العصر معنى ولفظاً، وشيخ الجرح والتعديل والحديث، ورجل الرجال في كل سبيل)) (9)، وقد أخذ عنه التاج علم التاريخ والجرح والتعديل والحديث ومعرفة أحوال الرجال.
ويعدّ الذهبي أستاذه الأول في كل ذلك حيث يقول التاج: ((وهو الذي خَرّجَنا في هذه الصناعة وأدخلنا في عداد الجماعة)) (10) اهـ
02 المِزِّي: الإمام الحافظ أبو الحجاج يوسف بن الزَّكي بن عبد الرحمن القُضاعي الدمشقي جمال الدين المزي المتوفى سنة 742 هـ (11).
--------------------------------------------
ইবনে ইউসুফ আল-মিসরি (১), আব্দুল মুহসিন বিন আস-সাবুনি (২), হাফেজ আবুল ফাতহ ইবনে সাইয়্যেদুন নাস (৩) এবং অন্যান্য (৪)।
যখন তাঁর পিতা ৭৩৯ হিজরি সালে সিরিয়ার বিচারপতির (কদ্বা) দায়িত্ব লাভ করেন (৫), তখন তাজ (তাজুদ্দিন) তাঁর পিতার সাথে দামেস্কে আগমন করেন। সেখানে তিনি একদল ওলামার নিকট থেকে (হাদিস) শ্রবণ করেন এবং তাঁদের অনেকে তাঁকে ইজাজত প্রদান করেন। ইবনুন নাকিব তাঁকে ফতোয়া প্রদানের অনুমতি দেন। যখন ইবনুন নাকিব ইন্তেকাল করেন, তখন তাজের বয়স আঠারো বছর অতিক্রম করেনি (৬)।
নিম্নে আমি তাঁর সেই প্রধান শিক্ষকদের কথা উপস্থাপন করব যাঁদের নিকট তিনি শিক্ষালাভ করেছেন (৭):
০১ আয-যাহাবি: ইমাম, হাফেজ, ইতিহাসবিদ শামসুদ্দিন আবু আব্দুল্লাহ মুহাম্মদ বিন আহমদ বিন উসমান বিন কাইমাজ আয-যাহাবি, মৃত্যু ৭৪৬ হিজরি (৮)।
তাঁর সম্পর্কে তাঁর ছাত্র তাজ আস-সুবকি বলেছেন: ((আমাদের শায়খ ও উস্তাদ, ইমাম, হাফেজ, সমকালীন মুহাদ্দিস
… এমন এক প্রজ্ঞা যাঁর কোনো তুলনা নেই, এবং এমন এক ভাণ্ডার যা কোনো সমস্যা দেখা দিলে আশ্রয়স্থল হিসেবে কাজ করে। হিফজের (মুখস্থ রাখার) দিক থেকে তিনি অস্তিত্বশীলদের ইমাম, অর্থ ও শব্দের বিচারে সমকালের স্বর্ণ (যাহাব), জারহ ওয়া তা'দিল (হাদিস বর্ণনাকারীদের যাচাই-বাছাই) ও হাদিস শাস্ত্রের শায়খ এবং সকল ক্ষেত্রে বীর পুরুষদের অগ্রগণ্য)) (৯)। তাজ তাঁর কাছ থেকে ইতিহাস বিদ্যা, জারহ ওয়া তা'দিল, হাদিস এবং বর্ণনাকারীদের অবস্থা সম্পর্কিত জ্ঞান অর্জন করেছেন।
এবং এই সমস্ত বিষয়ে যাহাবিকে তাঁর প্রধান উস্তাদ হিসেবে গণ্য করা হয়, কেননা তাজ বলেন: ((তিনিই আমাদের এই শিল্পে (শাস্ত্রে) দক্ষ করে গড়ে তুলেছেন এবং আমাদের এই জামাতের অন্তর্ভুক্ত করেছেন)) (১০) সমাপ্ত।
০২ আল-মিযযি: ইমাম, হাফেজ আবু আল-হাজ্জাজ ইউসুফ বিন আয-যাকি বিন আব্দুর রহমান আল-কুদাঈ আদ-দিমাশকি জামালুদ্দিন আল-মিযযি, মৃত্যু ৭৪২ হিজরি (১১)।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
মানহাজুল ইমাম তাজুদ দীন আস সুবকী ফী উসুলিল ফিকহ
(পৃষ্ঠা: ২৯)
ترجمه التاج فقال عنه: ((شيخنا وأستاذنا وقُدوتُنا
… حافظُ زماننا، وحاملُ راية السنة والجماعة، والقائم بأعباء هذه الصناعة، والمتدرّع بجلباب الطاعة، إمام الحفاظ
… واحد عصره بالإجماع، وشيخ زمانه الذي تُصغي لما يقول الأسماع)) (1)، وقد قرأ عليه التاج الحديثَ وسمع منه الكثير وبه تخرج في معرفة الرجال (2).
03 أبو حيان: الإمام النحوي الأديب المفسر، أثير الدين محمد بن يوسف بن علي بن يوسف بن
… حيان، المتوفى سنة 745 هـ (3).
ذَكَره التاج في طبقاته فقال: ((شيخنا وأستاذنا
… شيخ النحاة، العَلَمُ الفَردُ والبحر الذي لم يعرف الجزر بل المد، سيبويه الزمان، والمبرد إذا حمى الوطيسُ بتشاجر الأقران، وإمام النحو الذي لقاصده منه ما يشاء، ولسان العرب الذي لكل سمع لديه إصغاء)) (4)، وقد أخذ عليه التاج علم النحو وعلوم اللغة وهو أستاذه في النحو بلا منازع.
04 ابن النقيب: الإمام الفقيه شمس الدين محمد بن أبي بكر بن إبراهيم بن عبد الرحمن بن النقيب المتوفى سنة 745 هـ (5).
قال عنه التاج: ((شيخنا قاضي القضاة
… وصاحب النووي، وأَعظِم بتلك الصحبة رُتبةً عَليّةً، وله الديانة والفقه والورع الذي طَرَدَ به الشيطانَ وأَرغمَ أنفه، وكان من أساطين المذهب وجمرة نار وذكاء، إلا أنّها لا تتلهب)) (6)، وقد أخذ عنه التاج الفقه الشافعي، وهو الذي أجازه بالإفتاء ولم يكن سنه قد تجاوز الثامنة عشرة.
05 زينب بنت الكمال: السيدة العذراء مُسنِدة الشام زينب بنت أحمد بن عبد الرحيم بن عبد الواحد بن أحمد المقدسية، المتوفاة سنة 740 هـ (7).
قال عنها الذهبي: ((تفرّدَت ورَوَتْ كتباً كباراً)) (8)، وقال ابن حجر في حقّها مادحاً: ((روت الكثير وتزاحم عليها الطلبة وقرأوا عليها الكتب الكبار)) (9)، وتاج الدين السبكي من المُكثِرِين بالرواية عنها وخاصة في كتابه الطبقات.
المطلب الثاني: تلاميذهلقد أعطى التاج السبكي جُلّ حياته في التدريس والتصنيف والإفتاء، فكَثُرَ طلاب العلم على بابه، وتخرّج على يديه العديد من العلماء، ونظراً لكَثرَة تلاميذه الذين تتلمذوا عليه سأقتصر في هذا المبحث على ذكر الأبرز منهم:
--------------------------------------------
তাজ তাঁর জীবনী আলোচনা করতে গিয়ে বলেছেন: ((আমাদের শাইখ, আমাদের শিক্ষক এবং আমাদের আদর্শ
… আমাদের যুগের হাফেজ, আহলুস সুন্নাহ ওয়াল জামাআতের পতাকাবাহী, এই শাস্ত্রের দায়িত্ব পালনকারী, আনুগত্যের পোশাকে আবৃত, হাফেজদের ইমাম
… সর্বসম্মতিক্রমে তাঁর সময়ের অদ্বিতীয় ব্যক্তি এবং তাঁর যুগের সেই শাইখ যাঁর কথা শোনার জন্য কর্ণপাত করা হয়)) (১), তাজ তাঁর কাছে হাদিস পাঠ করেছেন এবং তাঁর থেকে প্রচুর শ্রবণ করেছেন এবং ইলমুর রিজাল শাস্ত্রে তাঁর মাধ্যমেই ব্যুৎপত্তি অর্জন করেছেন (২)।
০৩ আবু হাইয়ান: ইমাম, ব্যাকরণবিদ, সাহিত্যিক, মুফাসসির, আসীরুদ্দীন মুহাম্মাদ বিন ইউসুফ বিন আলী বিন ইউসুফ বিন
… হাইয়ান, মৃত্যু ৭৪৫ হিজরি (৩)।
তাজ তাঁর তাবাকাত গ্রন্থে তাঁর কথা উল্লেখ করে বলেছেন: ((আমাদের শাইখ ও শিক্ষক
… ব্যাকরণবিদদের শাইখ, একক ব্যক্তিত্ব এবং এমন এক সমুদ্র যাতে ভাটা নেই বরং জোয়ারই জোয়ার, যুগের সিবওয়াইহ এবং মুবাররাদ যখন সমসাময়িকদের বিবাদে যুদ্ধ পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়, ব্যাকরণ শাস্ত্রের এমন ইমাম যার কাছে প্রত্যাশী ব্যক্তি যা চায় তাই পায়, এবং আরবের এমন জবান যার প্রতি প্রত্যেকের কান নিবিষ্ট থাকে)) (৪), তাজ তাঁর নিকট নাহু ও ভাষাবিজ্ঞান শিক্ষা করেছেন এবং তিনি নাহু শাস্ত্রে তাঁর অবিসংবাদিত শিক্ষক।
০৪ ইবনুন নাকীব: ইমাম, ফকীহ শামসুদ্দীন মুহাম্মাদ বিন আবি বকর বিন ইব্রাহীম বিন আবদুর রহমান বিন ইবনুন নাকীব, মৃত্যু ৭৪৫ হিজরি (৫)।
তাজ তাঁর সম্পর্কে বলেছেন: ((আমাদের শাইখ, প্রধান বিচারপতি
… এবং নববীর সহচর; এই সাহচর্য কতই না উচ্চ মর্যাদার! তাঁর মধ্যে দ্বীনদারি, ফিকহ ও তাকওয়া ছিল যার মাধ্যমে তিনি শয়তানকে বিতাড়িত ও লাঞ্ছিত করেছিলেন। তিনি ছিলেন মাযহাবের স্তম্ভ এবং আগুনের স্ফুলিঙ্গ ও মেধার অধিকারী, তবে তা লেলিহান ছিল না)) (৬), তাজ তাঁর নিকট শাফেয়ী ফিকহ শিক্ষা করেছেন এবং তিনিই তাঁকে ইফতা বা ফতোয়া প্রদানের অনুমতি দিয়েছিলেন যখন তাঁর বয়স আঠারো বছরও পার হয়নি।
০৫ জয়নাব বিনতে আল-কামাল: কুমারী মহীয়সী নারী, শামের মুসনিদাহ জয়নাব বিনতে আহমাদ বিন আবদুর রহীম বিন আবদুল ওয়াহিদ বিন আহমাদ আল-মাকদিসিয়্যাহ, মৃত্যু ৭৪০ হিজরি (৭)।
যাহাবী তাঁর সম্পর্কে বলেছেন: ((তিনি এককভাবে অনেক বড় বড় কিতাব বর্ণনা করেছেন)) (৮), এবং ইবনে হাজার তাঁর প্রশংসা করে বলেছেন: ((তিনি প্রচুর বর্ণনা করেছেন, ছাত্ররা তাঁর কাছে ভিড় জমাত এবং তাঁর নিকট বড় বড় কিতাব পাঠ করত)) (৯), এবং তাজউদ্দীন আস-সুবকী তাঁর থেকে অধিক বর্ণনা করা ব্যক্তিদের অন্তর্ভুক্ত, বিশেষ করে তাঁর ‘তাবাকাত’ গ্রন্থে।
দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ: তাঁর ছাত্রগণতাজউদ্দীন আস-সুবকী তাঁর জীবনের অধিকাংশ সময় অধ্যাপনা, রচনা এবং ফতোয়া প্রদানে ব্যয় করেছেন। ফলে তাঁর দ্বারে জ্ঞানপিপাসু ছাত্রদের ভিড় ছিল প্রচুর এবং তাঁর হাতে বহু আলেম তৈরি হয়েছেন। তাঁর ছাত্রের সংখ্যা অনেক হওয়ায় আমি এই পরিচ্ছেদে কেবল তাদের মধ্যে বিশিষ্ট ব্যক্তিদের নাম উল্লেখ করার মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকব:
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
মানহাজুল ইমাম তাজুদ দীন আস সুবকী ফী উসুলিল ফিকহ
(পৃষ্ঠা: ৩০)
01 شمس الدين الغزي: الإمام العلامة القاضي أبو عبد الله محمد بن خلف بن كامل بن عطاء الله الغزي، المتوفى بدمشق سنة 770 هـ، والمدفون بتربة السبكيين (1).
ذَكَره التاج في طبقاته وقال عنه: ((رفيقي في الطلب)) (2).
وقال عن كتابه الذي جمع فيه مناقب الإمام الرافعي، والذي قد سماه التاج السبكي بـ ((ميدان الفرسان)) وذلك بناءً على طلب من تلميذه الغزي فقال: ((وكان يقرأ عليّ غالب ما يَكتُبُ فيه، ويسألني عما أُشكِلَ عليه، فلي في كتابه هذا كثير من العمل، وبالجملة لعلنا استفدنا منه أَكثَرَ مما استفاد منا.)) (3)
وقال أيضاً: ((استنَبْتُه في الحكم بدمشق، ونزلت له عن تدريس التقويه، ثم تدريس الناصريه)) (4).
وكان الغزي قد قام في محنة التاج السبكي (5) قياماً عظيماً وحاقَقَ عنه، فجزاه الله خير الجزاء (6).
02 ابن سند: الإمام العالم الحافظ شمس الدين أبو العباس محمد بن موسى بن محمد بن سند بن تميم اللّخمي، المتوفى سنة 790 هـ (7).
صَحِبَ القاضي تاج الدين ولازمه وكان يقرأ عليه تصانيفه في الدروس، كما قرأ عليه السيرة النبوية، وولاه التاج السبكي بعض الوظائف (8).
03 زين الدين القرشي: الإمام العلامة الفقيه المفسر، زين الدين أبو حفص عمر بن مسلم بن سعيد ابن عمر بن بدر بن مسلم القرشي الملحي الدمشقي، المتوفى سنة 792 هـ (9).
وكان القاضي تاج الدين هو الذي أدخله بين الفقهاء، فلما حصلت له المحنة كان ممن قام عليه (10).
04 ابن الشّريشي: الإمام العلامة شرف الدين أبو الثناء محمود بن محمد بن أحمد بن محمد بن أحمد البكري الوائلي، المتوفى سنة 795 هـ (11).
كان ممن لازم القاضي تاج الدين، وحضر حلقاته، وقد استَنابَهُ التاج في الحكم قبل موته بيسير (12).
05 شرف الدين الغزي: الإمام العلامة الفقيه، أبو الروح عيسى بن عثمان بن عيسى الغزي المتوفي سنة 799 هـ، وكان قد أخذ عن التاج الفقه وأصوله (13).
06 ابن الجباب: الإمام العلامة المفتي شهاب الدين أبو العباس أحمد بن عبد الوهاب بن عبد الرحيم، المتوفى سنة 800 هـ (14).
كان ممن صحب التاج أيام محنته، فقرّبه وأحسن إليه وأدخله بين الفقهاء (15).
--------------------------------------------
০১ শামসুদ্দীন আল-গাযযী: ইমাম আল্লামা কাজী আবু আব্দুল্লাহ মুহাম্মাদ ইবন খালাফ ইবন কামিল ইবন আতাউল্লাহ আল-গাযযী, যিনি ৭৭০ হিজরি সনে দামেস্কে মৃত্যুবরণ করেন এবং সুবকী বংশীয়দের কবরস্থানে সমাহিত (১)।
তাজ (তাজুদ্দীন সুবকী) তাঁর 'তাবাকাত'-এ তাঁর উল্লেখ করেছেন এবং তাঁর সম্পর্কে বলেছেন: "ইলম অর্জনের সফরে তিনি আমার সঙ্গী ছিলেন" (২)।
এবং তিনি তাঁর সেই কিতাব সম্পর্কে বলেছেন যাতে তিনি ইমাম রাফিয়ীর মর্যাদা (মানাকিব) সংগ্রহ করেছেন, যার নাম তাজ সুবকী তাঁর ছাত্র গাযযীর অনুরোধে 'ময়দানুল ফুরসান' রেখেছিলেন। তিনি বলেন: "সে তাঁর লেখার অধিকাংশ অংশই আমাকে পড়ে শোনাত এবং যেসব বিষয়ে তাঁর সংশয় দেখা দিত তা আমাকে জিজ্ঞেস করত। তাই তাঁর এই কিতাবে আমার অনেক অবদান রয়েছে। মোটকথা, সম্ভবত আমরা তাঁর কাছ থেকে যা উপকৃত হয়েছি তা সে আমাদের কাছ থেকে যা উপকৃত হয়েছে তার চেয়ে বেশি" (৩)।
তিনি আরও বলেন: "আমি তাঁকে দামেস্কে বিচারকাজে আমার স্থলাভিষিক্ত নিযুক্ত করেছিলাম এবং তাঁর সম্মানে তাকভিয়াহ মাদ্রাসার শিক্ষকতা ও পরবর্তীতে নাসিরিয়া মাদ্রাসার শিক্ষকতা ছেড়ে দিয়েছিলাম" (৪)।
তাজ সুবকী যে পরীক্ষার (বিপদের) সম্মুখীন হয়েছিলেন, গাযযী তাতে অত্যন্ত সাহসিকতার সাথে অটল অবস্থান গ্রহণ করেন এবং তাঁর পক্ষ হয়ে জোরালো দাবি উত্থাপন করেন; আল্লাহ তাঁকে সর্বোত্তম প্রতিদান দান করুন (৬)।
০২ ইবন সানাদ: ইমাম আলিম হাফিজ শামসুদ্দীন আবু আব্বাস মুহাম্মাদ ইবন মূসা ইবন মুহাম্মাদ ইবন সানাদ ইবন তামীম আল-লাখমী, মৃত্যু ৭৯০ হিজরি (৭)।
তিনি কাজী তাজুদ্দীনের সান্নিধ্যে ছিলেন এবং সর্বদা তাঁর সাথে থাকতেন। তিনি পাঠদানের সময় তাঁর কাছে তাঁরই রচিত গ্রন্থাবলি পড়তেন, যেমনটি তিনি তাঁর কাছে সীরাতুন নবী (সা.) পড়েছেন। তাজ সুবকী তাঁকে কিছু গুরুত্বপূর্ণ পদে নিয়োগ দিয়েছিলেন (৮)।
০৩ যাইনুদ্দীন আল-কুরাশী: ইমাম আল্লামা ফকিহ মুফাসসির যাইনুদ্দীন আবু হাফস উমর ইবন মুসলিম ইবন সাঈদ ইবন উমর ইবন বদর ইবন মুসলিম আল-কুরাশী আল-মিলহী আদ-দিমাশকী, মৃত্যু ৭৯২ হিজরি (৯)।
কাজী তাজুদ্দীনই তাঁকে ফকিহদের অন্তর্ভুক্ত করেছিলেন, কিন্তু যখন তাঁর উপর বিপদ (মিহনা) এল, তখন তিনি তাঁদের মধ্যে একজন ছিলেন যারা তাঁর বিরোধিতা করেছিলেন (১০)।
০৪ ইবনুল শারীশী: ইমাম আল্লামা শারফুদ্দীন আবু সানা মাহমুদ ইবন মুহাম্মাদ ইবন আহমাদ ইবন মুহাম্মাদ ইবন আহমাদ আল-বাকরী আল-ওয়াইলী, মৃত্যু ৭৯৫ হিজরি (১১)।
তিনি কাজী তাজুদ্দীনের ঘনিষ্ঠ সহচরদের অন্তর্ভুক্ত ছিলেন এবং তাঁর দরসে উপস্থিত থাকতেন। তাজ সুবকী তাঁর মৃত্যুর অল্পকাল আগে তাঁকে বিচারকার্যে স্থলাভিষিক্ত করেছিলেন (১২)।
০৫ শারফুদ্দীন আল-গাযযী: ইমাম আল্লামা ফকিহ আবু রূহ ঈসা ইবন উসমান ইবন ঈসা আল-গাযযী, মৃত্যু ৭৯৯ হিজরি। তিনি তাজুদ্দীনের নিকট ফিকহ ও উসূলে ফিকহ শিক্ষা করেছিলেন (১৩)।
০৬ ইবনুল জাববাব: ইমাম আল্লামা মুফতি শিহাবুদ্দীন আবু আব্বাস আহমাদ ইবন আব্দুল ওয়াহহাব ইবন আব্দুল রাহীম, মৃত্যু ৮০০ হিজরি (১৪)।
তিনি তাজুদ্দীনের বিপদের দিনগুলোতে তাঁর সাথী ছিলেন। ফলে তিনি তাঁকে নিকটবর্তী করেন, তাঁর প্রতি সদাচরণ করেন এবং তাঁকে ফকিহদের অন্তর্ভুক্ত করেন (১৫)।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
মানহাজুল ইমাম তাজুদ দীন আস সুবকী ফী উসুলিল ফিকহ
(পৃষ্ঠা: ৩১)
07 العَيزري: الإمام العلامة شمس الدين محمد بن محمد بن الخضر بن شمّري الزُّبَيري الأسدي العَيزري، المتوفى سنة 808 هـ (1).
له شرح على ((جمع الجوامع)) سماه ((تشنيف المسامع في شرح جمع الجوامع)). كما له إيرادات على المتن سأل عنها التاج السبكي سماها ((البروق اللوامع فيما أورد على جمع الجوامع))، وقد أجابه التاج السبكي عليها في مؤلف سماه ((منع الموانع عن جمع الجوامع)) (2).
08 الحمَوي: الإمام الشيخ جلال الدين يوسف بن الحسن بن محمد بن الحسن بن مسعود بن علي بن عبد الله، خطيب المنصورية وشيخ البلاد الشمالية (3) وعالمها وفقيها، توفي بحماة سنة 809 هـ، وقد تخرج على التاج السبكي في الفقه (4).
09 ابن حَجّي: الإمام العلامة الحافظ المتقن، ذو الخصال الزكية والأخلاق المرضية، وشيخ الشافعية، أحمد بن حَجّي بن أحمد بن سعيد بن غشم بن غزوان، المتوفى سنة 816 هـ (5).
10 ـ الفيروز آبادي: الإمام العلامة مجد الدين أبو الطاهر محمد بن يعقوب بن محمد بن إبراهيم الشيرازي الفيروز آبادي، إمام اللغة في عصره وصاحب ((القاموس المحيط)) توفي بزبيد سنة 817 هـ (6).
المبحث الرابععلومهلم يُعمّر تاج الدين السبكي طويلاً، فقد عاش ثلاثة وأربعين سنة، ومع قصر مدة حياته إلا أنّه ترك لنا تراثاً ضخماً في كثير من العلوم والمعارف فتاج الدين يعدّ موسوعة علمية متكاملة - إذا ما جاز لي التعبير -، فهو لم يترك علماً من العلوم الشرعية وآلاتها إلا وله فيه يد طولى وسأعرض في هذا المبحث العلوم التي كان يتقنها هذا العالم الفذ، وهي:
01 علم الحديث: لقد عُنِيَ التاج بالحديث عناية فائقة سواء رواية أو دراية، فهو يروي لنا الحديث بالأسانيد المتصلة إلى النبي صلى الله عليه وآله وسلم، ويتحدث على رجالها بالنقد والتعديل، ويتحدث على ألفاظها بالإيضاح والبيان.
ولم يقتصر الأمر على ذلك فحسب، بل وجدته يقرّر قواعدَ خاصةً في علم الجرح والتعديل ينتقد فيها سابقيه ويبيّن فيها قوله المعتمد في الجرح والتعديل (7).
ومن يطالع مصنفات التاج وخاصة كتاب الطبقات يُدرِكُ بوضوح مكانته العَليّة في هذا العلم
… وحسبه بذلك شهادة شيخ حفاظ الإسلام ابن حجر العسقلاني حيث قال في حقه: ((ومن الطبقات تعرف منزلته في الحديث)) (8).
--------------------------------------------
০৭ আল-আইজারি: ইমাম আল্লামা শামসুদ্দিন মুহাম্মদ বিন মুহাম্মদ বিন আল-খিজর বিন শাম্মারি আজ-জুবাইরি আল-আসাদি আল-আইজারি, মৃত্যু ৮০৮ হিজরি (১)।
‘জামউল জাওয়ামি’ গ্রন্থের উপর তাঁর একটি ব্যাখ্যাগ্রন্থ রয়েছে যার নাম তিনি রেখেছেন ‘তাশনিফুল মাসামি ফি শারহি জাময়িল জাওয়ামি’। মূল পাঠের উপর তাঁর কিছু আপত্তিও রয়েছে যা তিনি তাজ আল-সুবকিকে জিজ্ঞেস করেছিলেন, এর নাম তিনি রেখেছেন ‘আল-বুরুকুল লাওয়ামি ফিমা উরিদা আলা জাময়িল জাওয়ামি’। তাজ আল-সুবকি এর উত্তর দিয়ে একটি গ্রন্থ রচনা করেছেন যার নাম ‘মানউল মাওয়ানি আন জাময়িল জাওয়ামি’ (২)।
০৮ আল-হামাউয়ি: ইমাম শাইখ জালালুদ্দিন ইউসুফ বিন আল-হাসান বিন মুহাম্মদ বিন আল-হাসান বিন মাসউদ বিন আলি বিন আব্দুল্লাহ, আল-মানসুরিয়ার খতিব এবং উত্তরাঞ্চলীয় দেশসমূহের (৩) শাইখ, সেখানকার আলেম ও ফকিহ, ৮০৯ হিজরিতে হামাতে ইন্তেকাল করেন। তিনি ফিকহ শাস্ত্রে তাজ আল-সুবকির নিকট শিক্ষা লাভ করেছেন (৪)।
০৯ ইবনে হাজ্জি: ইমাম আল্লামা হাফিজ ও পারদর্শী, পবিত্র গুণাবলি ও সন্তোষজনক চরিত্রের অধিকারী এবং শাফেয়ি মাজহাবের শাইখ, আহমদ বিন হাজ্জি বিন আহমদ বিন সাইদ বিন গাশাম বিন গাজওয়ান, মৃত্যু ৮১৬ হিজরি (৫)।
১০ — আল-ফিরোজাবাদি: ইমাম আল্লামা মাজদুদ্দিন আবু তাহের মুহাম্মদ বিন ইয়াকুব বিন মুহাম্মদ বিন ইবরাহিম আশ-শিরাজি আল-ফিরোজাবাদি, তাঁর সময়ের ভাষাবিজ্ঞানের ইমাম এবং ‘আল-কামুস আল-মুহিত’ গ্রন্থের রচয়িতা, ৮১৭ হিজরিতে জাবিদে ইন্তেকাল করেন (৬)।
চতুর্থ পরিচ্ছেদতাঁর জ্ঞানসমূহতাজউদ্দিন সুবকি দীর্ঘায়ু লাভ করেননি, তিনি মাত্র তেতাল্লিশ বছর বেঁচে ছিলেন। তাঁর সংক্ষিপ্ত জীবনকাল সত্ত্বেও তিনি আমাদের জন্য বহু জ্ঞান-বিজ্ঞানে এক বিশাল ঐতিহ্য রেখে গেছেন। তাজউদ্দিনকে একটি পূর্ণাঙ্গ বৈজ্ঞানিক বিশ্বকোষ বলা যায়—যদি আমি এ কথাটি বলার অনুমতি পাই—কেননা তিনি শরয়ি বিজ্ঞান ও এর সংশ্লিষ্ট শাখাগুলোর এমন কোনো জ্ঞান বাদ দেননি যাতে তাঁর সুগভীর পাণ্ডিত্য ছিল না। আমি এই পরিচ্ছেদে সেই জ্ঞানগুলো তুলে ধরব যেগুলোতে এই অনন্য আলেম পারদর্শী ছিলেন, আর সেগুলো হলো:
০১ হাদিস শাস্ত্র: তাজ আল-সুবকি রেওয়ায়েত (বর্ণনা) ও দেরায়েত (বিশ্লেষণ) উভয় দিক থেকে হাদিসের প্রতি অত্যন্ত গুরুত্বারোপ করেছেন। তিনি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়ালিহি ওয়াসাল্লাম-এর পর্যন্ত নিরবচ্ছিন্ন সনদের মাধ্যমে হাদিস বর্ণনা করেছেন এবং বর্ণনাকারীদের সমালোচনা (জরহ) ও প্রশংসা (তাদিল) নিয়ে আলোচনা করেছেন, পাশাপাশি হাদিসের শব্দাবলির ব্যাখ্যা ও স্পষ্টীকরণ প্রদান করেছেন।
বিষয়টি কেবল এখানেই সীমাবদ্ধ ছিল না, বরং আমি দেখেছি যে তিনি ‘জরহ ও তাদিল’ শাস্ত্রে বিশেষ কিছু মূলনীতি নির্ধারণ করেছেন যেখানে তিনি তাঁর পূর্বসূরিদের সমালোচনা করেছেন এবং ‘জরহ ও তাদিল’ বিষয়ে তাঁর নির্ভরযোগ্য অভিমত স্পষ্ট করেছেন (৭)।
যে ব্যক্তি তাজ আল-সুবকির রচনাবলি, বিশেষ করে ‘আত-তবাকাত’ গ্রন্থটি অধ্যয়ন করবেন, তিনি এই শাস্ত্রে তাঁর সুউচ্চ মাকাম স্পষ্টভাবে উপলব্ধি করবেন... আর এ ব্যাপারে ইসলামের হাফিজদের শাইখ ইবনে হাজার আসকালানির সাক্ষ্যই যথেষ্ট, যেখানে তিনি তাঁর সম্পর্কে বলেছেন: “এবং (তাঁর রচিত) ‘তবাকাত’ থেকেই হাদিস শাস্ত্রে তাঁর মর্যাদা জানা যায়” (৮)।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
মানহাজুল ইমাম তাজুদ দীন আস সুবকী ফী উসুলিল ফিকহ
(পৃষ্ঠা: ৩২)
02 علم الكلام: إنّ من يطالع مصنفات التاج السبكي، لَيَرى واضحاً اهتمامه بعلم الكلام، فهو مُتكلِّم على طريقة الأشاعرة من أهل السنة، وكتبه زاخِرةٌ بمسائل هذا الفن الذي ارتبط ارتباطاً وثيقاً بعلم الأصول الذي كان التاج فيه إمام زمانه، فهو يذَكْرُ المسألة الكلامية مبيّناً ما فيها من مذاهب معقّباً على كل مذهب بما يستحق مع بيان الحق في كل ذلك، وليس أدل على ذلك من أنّه قد ترك لنا مصنفات خاصة بعلم الكلام، وأما كتابه الطبقات فهو مليءٌ وغنيٌّ بمسائل هذا الفن (1).
03 علم المنطق: وأما المنطق فلم يُهمِلهُ التاج قَط، بل له فيه باعٌ طويل، يَظهَرٌ ذلك جليّاً من مطالعتي لشرحه على ((مختصر ابن الحاجب))، حيث ضمّن ابن الحاجب ((مختصره)) بمقدمة منطقية على طريقة الإمام الغزالي وبعض الأصوليين، وترى في شرح التاج له مَقدَرةً وبراعةً في هذا العلم مما يَعدُّه من كبار علماء المنطق (2).
04 أصول الفقه: وإذا ما جئنا إلى هذا العلم، فقد بلغ به التاج عَنانَ السماء، وخضعت له رقاب العلماء، وفاق كل أقرانه بل فاق أكثَر العلماء، لقد أعطى التاجُ الأصولَ جُلَّ عنايته وعظيم اهتمامه، فتارةً يُدرّسه وأخرى يُؤلّف فيه، ويَستدرِك على من سبقه، ويُناقش من عارضه، وتارةً يقرّر عبارة سابقيه، مقيداً ما أطلقوه ومفسراً لما أجملوه، ومكمّلاً لما قد أغفلوه، وله في هذا الفن قدم راسخة، فهو ينظر إلى الأصول بنظر الناقد البصير، يوضّح مشكلاته، ويحلّ غوامضه، ويجمع شتاته، حتى عُدّتْ مؤلفاته مائدة زاخرة بكل ما لذ وطاب من هذا الفن.
وليس أدلُّ على اهتمامه بهذا العلم من تركه ثمانيةَ مصنفات في علم الأصول، قلّما تجد لعالمٍ في فنّ الأصول قد ترك لنا هذا القدر من المصنفات.
05 القواعد الفقهية: اهتم التاج بهذا العلم اهتماماً بالغاً، وله فيه مصنف زاخر يعدّ من أهم المصنفات في الأشباه والنظائر، فقد خرج فيه الفروع على الأصول وجمع شتات هذه الفروع في قواعد عامّة تنتظمها، فأجاد فيه وأجاد.
06 الفقه: يعدّ التاج السبكي فقيهاً متمكناً وناقداً بصيراً، ولا غرابة في ذلك، فقد تربّى في أحضان والده إمامِ الدنيا في عصره، فنهل من علمه واستقى من معارفه، وكتبُه مشحونةٌ بالفتاوى والمسائل المنقولة عنه، وقد جمع قتاوى والده، واختياراته الفقهية في مصنفات خاصّة.
وفي كتابه الطبقات يُكثِر من ذِكْر المسائل الفقهية المروية عن الشخصية المترجَم لها وغالباً ما يعقّب عليها، ويختار ما يراه الأصوب منها.
07 التاريخ: وأما التاريخ فحدّث ولا حرج، لقد برع التاج فيه براعة لا مثيل لها، وكان ذو اطّلاع واسع على أخبار الماضين، وأحوال السابقين، وقد أسهم التاج في هذا المجال إسهاماً عظيماً، يُثبتُ أنّه مؤرخ لا نظير له، وتعدّ مؤلفاته في الطبقات من أعظم ما دوّن في هذا المجال، إذ يستوعب فيها جوانب الشخصية المترجَم لها، ويأتي بالعجب العجاب من قصص وغرائب لهذه الشخصيات، قلّما تجده عند غيره من كُتّاب الطبقات.
--------------------------------------------
02 علم الكلام: যে ব্যক্তি তাজ আল-সুবকীর রচনাগুলো পাঠ করবেন, তিনি ইলমুল কালামের প্রতি তাঁর আগ্রহ স্পষ্টভাবে দেখতে পাবেন। তিনি আহলে সুন্নাতের আশআরী তরিকায় একজন মুতাকাল্লিম (ধর্মতাত্ত্বিক)। তাঁর গ্রন্থগুলো এই শিল্পের মাসআলায় ভরপুর, যা উসুল শাস্ত্রের সাথে ঘনিষ্ঠভাবে যুক্ত, যে শাস্ত্রে তাজ ছিলেন তাঁর সময়ের ইমাম। তিনি কালামশাস্ত্রীয় মাসআলা উল্লেখ করেন এবং সেখানে বিদ্যমান বিভিন্ন মাযহাব বা মতবাদগুলো বর্ণনা করেন, অতঃপর প্রতিটি মতবাদের ওপর যথাযথ মন্তব্য করার পাশাপাশি সত্য বিষয়টি স্পষ্ট করেন। এর সবচেয়ে বড় প্রমাণ হলো যে, তিনি আমাদের জন্য ইলমুল কালামের ওপর বিশেষ কিছু রচনা রেখে গেছেন। আর তাঁর ‘তাবাকাত’ গ্রন্থটি এই শিল্পের মাসআলায় অত্যন্ত সমৃদ্ধ (১)।
03 علم المنطق: তাজ আল-সুবকী মানতিক বা যুক্তিবিদ্যাকে কখনোই উপেক্ষা করেননি; বরং এই শাস্ত্রে তাঁর দীর্ঘ পদচারণা ছিল। ‘মুখতাসার ইবনে আল-হাজিব’-এর ওপর তাঁর শারহ (ব্যাখ্যাগ্রন্থ) পাঠ করলে তা স্পষ্টভাবে প্রতীয়মান হয়। ইবনে আল-হাজিব তাঁর ‘মুখতাসার’-এ ইমাম গাযালী ও কিছু উসুলবিদের তরিকায় একটি মানতিকী ভূমিকা অন্তর্ভুক্ত করেছিলেন। আপনি তাজ-এর ব্যাখ্যাগ্রন্থে এই শাস্ত্রে তাঁর এমন দক্ষতা ও পারদর্শিতা দেখতে পাবেন যা তাঁকে মানতিকের শ্রেষ্ঠ আলেমদের অন্তর্ভুক্ত করে (২)।
04 أصول الفقه: যখন আমরা এই শাস্ত্রের প্রসঙ্গে আসি, তখন তাজ এর মাধ্যমে আকাশের উচ্চতায় পৌঁছেছিলেন, আলেমগণ তাঁর সামনে মস্তক অবনত করেছেন এবং তিনি তাঁর সমসাময়িকদের ছাড়িয়ে গেছেন, এমনকি অধিকাংশ আলেমকে অতিক্রম করেছেন। তাজ উসুল শাস্ত্রকে তাঁর সর্বোচ্চ মনোযোগ ও বিশেষ গুরুত্ব প্রদান করেছেন। কখনো তিনি এটি পাঠদান করেছেন, আবার কখনো এতে কিতাব রচনা করেছেন। তিনি তাঁর পূর্বসূরিদের ওপর ইস্তিদরাক (সংশোধনী) করেছেন এবং বিরোধীদের সাথে বিতর্ক করেছেন। কখনো তিনি পূর্বসূরিদের বক্তব্যকে প্রতিষ্ঠিত করেছেন, তাঁদের অস্পষ্ট বক্তব্যকে সুনির্দিষ্ট করেছেন এবং তাঁদের সংক্ষিপ্ত কথার ব্যাখ্যা প্রদান করেছেন, আর যা তাঁরা উপেক্ষা করেছিলেন তা পূর্ণ করেছেন। এই বিদ্যায় তাঁর রয়েছে সুদৃঢ় অবস্থান। তিনি একজন বিচক্ষণ সমালোচকের দৃষ্টিতে উসুলের দিকে তাকান, এর জটিল বিষয়গুলো স্পষ্ট করেন, অস্পষ্টতার সমাধান দেন এবং এর বিক্ষিপ্ত বিষয়গুলোকে একত্রিত করেন; এমনকি তাঁর গ্রন্থগুলো এই শাস্ত্রের সকল প্রকার জ্ঞানগর্ভ উপাদানে সমৃদ্ধ এক দস্তরখান হিসেবে গণ্য হয়।
উসুল শাস্ত্রের প্রতি তাঁর আগ্রহের এর চেয়ে বড় কোনো প্রমাণ নেই যে, তিনি এই শাস্ত্রে আটটি গ্রন্থ রেখে গেছেন। উসুল শাস্ত্রের কোনো আলেমের ক্ষেত্রে আমাদের জন্য এত অধিক সংখ্যক রচনা রেখে যাওয়ার উদাহরণ খুব কমই দেখা যায়।
05 القواعد الفقهية: তাজ এই শাস্ত্রের প্রতি অত্যন্ত গভীর আগ্রহ দেখিয়েছেন এবং এতে তাঁর একটি সমৃদ্ধ রচনা রয়েছে যা ‘আল-আশবাহ ওয়ান নাযাইর’ বিষয়ক গুরুত্বপূর্ণ গ্রন্থগুলোর মধ্যে অন্যতম। এতে তিনি উসুলের ভিত্তিতে ফুরু’ (শাখা-প্রশাখা) উদ্ঘাটন করেছেন এবং এই ফুরু’গুলোর বিক্ষিপ্ত বিষয়গুলোকে সাধারণ কিছু মূলনীতির অধীনে সুবিন্যস্ত করেছেন। এতে তিনি অত্যন্ত নিপুণতা ও উৎকর্ষের পরিচয় দিয়েছেন।
06 الفقه: তাজ আল-সুবকী একজন সুনিপুণ ফকিহ এবং বিচক্ষণ সমালোচক হিসেবে গণ্য হন। এতে আশ্চর্যের কিছু নেই, কারণ তিনি তাঁর সময়ের বিশ্বের ইমাম তাঁর পিতার ক্রোড়ে লালিত-পালিত হয়েছেন। তিনি তাঁর পিতার ইলম ও জ্ঞান থেকে সুধা পান করেছেন। তাঁর গ্রন্থগুলো পিতার নিকট থেকে বর্ণিত ফাতাওয়া ও মাসআলায় পরিপূর্ণ। তিনি তাঁর পিতার ফাতাওয়া ও ফিকহী ইখতিয়ারগুলো (পছন্দকৃত মত) স্বতন্ত্র গ্রন্থে সংকলন করেছেন।
তাঁর ‘তাবাকাত’ গ্রন্থে তিনি সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিত্ব থেকে বর্ণিত ফিকহী মাসআলা প্রচুর পরিমাণে উল্লেখ করেন এবং প্রায়ই সেগুলোর ওপর মন্তব্য করেন এবং তাঁর দৃষ্টিতে যেটি অধিক সঠিক সেটি গ্রহণ করেন।
07 التاريخ: আর ইতিহাসের কথা বললে, তা ভাষায় প্রকাশ করা কঠিন। তাজ এতে এমন এক অনন্য পারদর্শিতা অর্জন করেছেন যার কোনো তুলনা নেই। পূর্ববর্তীদের সংবাদ এবং প্রাচীনদের অবস্থা সম্পর্কে তাঁর ব্যাপক জানাশোনা ছিল। তাজ এই ক্ষেত্রে এমন এক মহান অবদান রেখেছেন যা প্রমাণ করে যে তিনি একজন অতুলনীয় ঐতিহাসিক। ‘তাবাকাত’ বিষয়ক তাঁর রচনাগুলো এই ক্ষেত্রে রচিত শ্রেষ্ঠ গ্রন্থগুলোর অন্যতম। কেননা সেখানে তিনি আলোচিত ব্যক্তিত্বের চরিত্রের সকল দিক ফুটিয়ে তোলেন এবং এই ব্যক্তিত্বদের এমন সব বিস্ময়কর গল্প ও বিরল সংবাদ নিয়ে আসেন যা তাবাকাত বিষয়ক অন্যান্য লেখকদের কাছে খুব কমই পাওয়া যায়।
--------------------------------------------