(খণ্ড: ১) আল মানযূমাতুত তাবরীজিয়্যাহ ফিল আক্বীদাতিল সহীহাতুস সুন্নিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: -)
المنظومة التبريزية في العقيدة الصحيحة السنية   (عبد القاهر التبريزي)

القسم: العقيدة


الكتاب: المنظومة التبريزية في العقيدة الصحيحة السنّية

شرح وتوثيق: مرزوق بن هيّاس آل مرزوق الزهراني (الأستاذ المشارك في قسم علوم - بكلية الحديث والدراسات الإسلامية بالمدينة)

الناشر: مكتبة العلوم والحكم، المدينة المنورة - المملكة العربية السعودية

الطبعة: الأولى، 1426 هـ - 2005 م

الكتاب/ إهداء من الشارح جزاه الله خيرا للمكتبة الشاملة

عدد الصفحات: 93

[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]

تاريخ النشر بالشاملة: 14 ربيع الأول 1439

বিশুদ্ধ সুন্নি আকিদা বিষয়ক মানজুমা তাবরিজিয়া   (আবদুল কাহির আত-তাবরিজি)

বিভাগ: আকিদা


বই: বিশুদ্ধ সুন্নি আকিদা বিষয়ক মানজুমা তাবরিজিয়া

ব্যাখ্যা ও প্রমাণীকরণ: মারজুক বিন হাইয়াস আল মারজুক আজ-জাহরানি (মদিনার হাদিস ও ইসলামি শিক্ষা অনুষদের উলুম বিভাগে কর্মরত সহযোগী অধ্যাপক)

প্রকাশক: মাকতাবাতুল উলুম ওয়াল হিকাম, মদিনা মুনাওয়ারা - সৌদি আরব কিংডম

সংস্করণ: প্রথম, ১৪২৬ হিজরি - ২০০৫ খ্রিস্টাব্দ

বইটি/ মাকতাবা শামিলার প্রতি ব্যাখ্যাকারীর পক্ষ থেকে উপহার, আল্লাহ তাঁকে উত্তম প্রতিদান দিন

পৃষ্ঠা সংখ্যা: ৯৩

[বইটির পৃষ্ঠা বিন্যাস মুদ্রিত কপির অনুরূপ]

শামিলাতে প্রকাশের তারিখ: ১৪ রবিউল আউয়াল ১৪৩৯

(খণ্ড: ১) আল মানযূমাতুত তাবরীজিয়্যাহ ফিল আক্বীদাতিল সহীহাতুস সুন্নিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ১)
المنظومة التبريزية

في

العقيدة الصحيحة السنّية

 

شرح وتوثيق

مرزوق بن هيّاس آل مرزوق الزهراني

الأستاذ المشارك في قسم علوم الحديث

بكلية الحديث والدراسات الإسلامية

بالمدينة النبوية

طبع على نفقة فاعل خير نسال الله لنا وله القبول وجزيل الثواب

الطبعة الأولى

1426 هـ ــ 2005 م
আল-মানজুমাতুত তাবরিজিয়্যাহ

প্রসঙ্গে

সঠিক সুন্নী আকীদা

 

ব্যাখ্যা ও তথ্যসূত্র যাচাইকরণ

মারজুক বিন হায়্যাস আল মারজুক আজ-জাহরানি

হাদিস বিজ্ঞান বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক

হাদিস ও ইসলামি শিক্ষা অনুষদ

মদিনা মুনাওয়ারায়

একজন পুণ্যবান ব্যক্তির অর্থায়নে মুদ্রিত, আল্লাহর কাছে আমাদের এবং তার জন্য কবুলিয়াত ও মহা প্রতিদান প্রার্থনা করছি

প্রথম সংস্করণ

১৪২৬ হিজরি — ২০০৫ খ্রিস্টাব্দ
(খণ্ড: ১) আল মানযূমাতুত তাবরীজিয়্যাহ ফিল আক্বীদাতিল সহীহাতুস সুন্নিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ২)
المنظومة التبريزية

في

العقيدة الصحيحة السنّية

 

شرح وتوثيق

مرزوق بن هيّاس آل مرزوق الزهراني

الأستاذ المشارك في قسم علوم الحديث

بكلية الحديث والدراسات الإسلامية

بالمدينة النبوية

طبع على نفقة فاعل خير نسال الله لنا وله القبول وجزيل الثواب

الطبعة الأولى

1426 هـ - 2005 م
আল-মানযুমা আত-তাবরিযীয়া

বিষয়ে

বিশুদ্ধ সুন্নী আকিদাহ

 

ব্যাখ্যা ও প্রামাণ্যিকরণ

মারযূক বিন হাইয়্যাস আল মারযূক আয-যাহরানী

হাদিস বিজ্ঞান বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক

হাদিস ও ইসলামি শিক্ষা অনুষদ

মদিনা মুনাওয়ারা

জনৈক দাতার অর্থায়নে মুদ্রিত; আমরা আল্লাহর কাছে আমাদের এবং তাঁর জন্য কবুলিয়াত ও প্রচুর সওয়াবের প্রার্থনা করি

প্রথম সংস্করণ

১৪২৬ হিজরি - ২০০৫ খ্রিস্টাব্দ
(খণ্ড: ১) আল মানযূমাতুত তাবরীজিয়্যাহ ফিল আক্বীদাতিল সহীহাতুস সুন্নিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ৩)
بسم الله الرحمن الرحيم
পরম করুণাময় ও অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে।
(খণ্ড: ১) আল মানযূমাতুত তাবরীজিয়্যাহ ফিল আক্বীদাতিল সহীহাতুস সুন্নিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ৪)
ح: مرزوق بن هياس آل مرزوق الزهراني، 1425 هـ

فهرسة مكتبة الملك فهد الوطنية أثناء النشر.

الزهراني، مرزوق بن هياس آل مرزوق.

المنظومة التبريزية في العقيدة الصحيحة السنية / مرزوق بن هياس آل مرزوق الزهراني، المدينة المنورة، 1425 هـ

ردمك × 895 - 46 - 9960

1 - العقيدة الإسلامية أ.

ديوي 240

6558/ 1425

رقم الإيداع: 6558/ 1425

ردمك × - 895 - 46 - 9960

الطبعة الأولى: ص: 95

21×14، 1426 هـ 2005 م

الناشر: المؤلف.
স্বত্ব: মারজুক বিন হাইয়াস আল মারজুক আল-যাহরানি, ১৪২৫ হিজরি

প্রকাশনা-কালীন কিং ফাহাদ জাতীয় গ্রন্থাগারের ক্যাটালগিং।

আল-যাহরানি, মারজুক বিন হাইয়াস আল মারজুক।

বিশুদ্ধ সুন্নি আকিদা বিষয়ক আল-মানযুমাহ আত-তাবরিযিয়াহ / মারজুক বিন হাইয়াস আল মারজুক আল-যাহরানি, মদিনা মুনাওয়ারা, ১৪২৫ হিজরি

আইএসবিএন × ৮৯৫ - ৪৬ - ৯৯৬০

১ - ইসলামি আকিদা ক.

ডিউই ২৪০

৬৫৫৮/ ১৪২৫

জমাদান নম্বর: ৬৫৫৮/ ১৪২৫

আইএসবিএন × - ৮৯৫ - ৪৬ - ৯৯৬০

প্রথম সংস্করণ: পৃষ্ঠা: ৯৫

২১×১৪, ১৪২৬ হিজরি ২০০৫ খ্রিষ্টাব্দ

প্রকাশক: লেখক।
(খণ্ড: ১) আল মানযূমাতুত তাবরীজিয়্যাহ ফিল আক্বীদাতিল সহীহাতুস সুন্নিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ৫)
‌‌المقدمة

الحمد لله حمدا طيبا كثيرا مباركا فيه، كما يحب ربنا ويرضى، حمدا يدوم ولا ينقطع، يكافئ فضل ربنا ومزيد نعمه، وأشهد أن لا إله إلا الله وحده لا شريك له، وأشهد أن محمدا عبد الله ورسوله، أرسله بالهدى ودين الحق، صلى الله وسلم وبارك عليه، وعلى آله وأصحابه وأتباعه إلى يوم الدين، أما بعد:

فإن اعتقاد أهل السنة والجماعة هو الإيمان بالله وملائكته، وكتبه، ورسله، والْبعث بعد الْموت، والإيمان بالقدر خيره وشره، ومن الإيمانِ بالله الإيمان بما وصف به نفسه في كتابه الْعزيز، وبما وصفه به رسوله محمد صلى الله عليه وسلم، من غير تحريف ولا تعطيل، ولا تكييف ولا تمثيل، فهم المؤمنون بِأن الله {لَيْسَ كَمِثْلِهِ شَيْءٌ وَهُوَ السَّمِيعُ الْبَصِيرُ} (1) فَلا ينفون عنه ما وصف بِه نفسه، ولا يحرفون الكلم عن مواضعه، ولا يلحدون فِي أسماء الله وآياته، ولا يكيفون ولا يمثلون صفات الله عز وجل بصفات خلقه، لأنه سبحانه: لا سمي لَه، ولا كفء له، ولا ند له، ولا يقَاس بِخلقه سبحانه وتعالى، فهو أعلم

--------------------------------------------

(1) من الآية (11) من سورة الشورى.
ভূমিকা

সকল প্রশংসা আল্লাহর জন্য, এমন পবিত্র, প্রচুর ও বরকতময় প্রশংসা যা আমাদের রব পছন্দ করেন এবং যাতে তিনি সন্তুষ্ট হন। এমন প্রশংসা যা স্থায়ী ও নিরবচ্ছিন্ন, যা আমাদের রবের অনুগ্রহ ও তাঁর নেয়ামতের আধিক্যের সমতুল্য। আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, আল্লাহ ছাড়া কোনো সত্য উপাস্য নেই, তিনি একক, তাঁর কোনো শরিক নেই। আমি আরও সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, মুহাম্মদ আল্লাহর বান্দা ও তাঁর রাসূল। আল্লাহ তাঁকে হিদায়াত ও সত্য দ্বীনসহ প্রেরণ করেছেন। তাঁর ওপর এবং তাঁর পরিবার-পরিজন, সাহাবীগণ ও কিয়ামত পর্যন্ত তাঁদের অনুসারীদের ওপর আল্লাহর দরুদ, সালাম ও বরকত বর্ষিত হোক। অতঃপর:

নিশ্চয়ই আহলুস সুন্নাহ ওয়াল জামাআতের আকিদাহ হলো আল্লাহ, তাঁর ফেরেশতাকুল, তাঁর কিতাবসমূহ, তাঁর রাসূলগণ, মৃত্যুর পর পুনরুত্থান এবং তাকদিরের ভালো-মন্দের ওপর ঈমান আনা। আল্লাহর প্রতি ঈমানের অন্তর্ভুক্ত হলো তিনি নিজের জন্য তাঁর সম্মানিত কিতাবে যে গুণাবলি বর্ণনা করেছেন এবং তাঁর রাসূল মুহাম্মদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) তাঁর জন্য যে গুণাবলি বর্ণনা করেছেন, তার ওপর কোনো প্রকার বিকৃতি (তাহরিফ), নিষ্ক্রিয়করণ (তা’তিল), ধরন নির্ধারণ (তাকয়িফ) ও সাদৃশ্য দান (তামসিল) ছাড়াই ঈমান আনা। তাঁরা বিশ্বাস করেন যে, আল্লাহ এমন এক সত্তা যে, “কোনো কিছুই তাঁর সদৃশ নয় এবং তিনি সর্বশ্রোতা, সর্বদ্রষ্টা।” (১) সুতরাং তাঁরা আল্লাহ নিজের জন্য যে গুণাবলি বর্ণনা করেছেন তা অস্বীকার করেন না, শব্দের প্রেক্ষাপট থেকে তার অর্থের বিকৃতি ঘটান না, আল্লাহর নামসমূহ ও তাঁর আয়াতসমূহের ব্যাপারে সত্যবিচ্যুত হন না এবং মহান আল্লাহর গুণাবলিকে তাঁর সৃষ্টির গুণাবলির সাথে তুলনা করেন না বা ধরন নির্ধারণ করেন না। কারণ তিনি সুবহানাহু ওয়া তা’আলা: তাঁর সমনামধারী কেউ নেই, তাঁর সমকক্ষ কেউ নেই, তাঁর কোনো প্রতিদ্বন্দ্বী নেই এবং তাঁর সৃষ্টির সাথে তাঁর তুলনা করা যায় না। কেননা তিনি অধিক অবগত

--------------------------------------------

(১) সূরা আশ-শূরার ১১ নং আয়াতের অংশবিশেষ।
(খণ্ড: ১) আল মানযূমাতুত তাবরীজিয়্যাহ ফিল আক্বীদাতিল সহীহাতুস সুন্নিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ৬)
بنفسه وبِما خلق، وهو خالق كل شيء، وبيّن سبحانه أنه ليس كمثله شيء، ومن أصدق قيلا، وأحسن حديثا، وهم يؤمنون بأن رسله صادقون مصدقون، فيما أخبروا به عن الله عز وجل، لم يختلفوا في ذلك، ولم يقولوا على الله ما لا يعلمون، ومن وصف الله عز وجل بغير ذلك فقد ضل عن الحق، فالله يقول: {سُبْحَانَ رَبِّكَ رَبِّ الْعِزَّةِ عَمَّا يَصِفُونَ (180) وَسَلَامٌ عَلَى الْمُرْسَلِينَ (181) وَالْحَمْدُ لِلَّهِ رَبِّ الْعَالَمِينَ} (1)

فَسبّح نفسه عما وصفه بِه المخالفون للرسل، وسلم على المرسلين، لسلامة ما قَالوه من النقصِ والعيب، وهو سبحانه قَد جمع فيما وصف وسمّى بِه نفسه بين النفيِ والإثبات، فَلا عدول لأَهل السنة والجماعة عما جاء بِه الْمرسلون، فَإِنه الصراط المستقيم، صراط الذين أَنعم الله عليهِم من النبِيين والصديقين والشهداء والصالحين، وهو الاعتصام بكتاب الله وسنة رسوله، المنهل العذب، الصافي النقي، لا يشوبه كدر، ولا يعلوه قتر، وما من غلو وقع في الدين إلا كان سببه بدعة، نشأت من فكر أو خيال، أو هوى ولذلك قال رسول الله صلى الله عليه وسلم: ) أما بعد: فإن خير الحديث كتاب الله، وخير الهدي هدي محمد، وشر الأمور

--------------------------------------------

(1) الآيات (180 - 182) من سورة الصافّات ..
স্বয়ং এবং তিনি যা সৃষ্টি করেছেন তার মাধ্যমে (পরিচিত), এবং তিনি সবকিছুর স্রষ্টা। তিনি সুবহানাহু ওয়া তায়ালা স্পষ্ট বর্ণনা করেছেন যে, তাঁর সদৃশ কিছুই নেই। কার কথা তাঁর চেয়ে সত্য হতে পারে এবং কার কথা তাঁর চেয়ে সুন্দর হতে পারে? আর তাঁরা (আহলে সুন্নাত ওয়াল জামাত) বিশ্বাস করেন যে, আল্লাহর রাসূলগণ সত্যবাদী এবং প্রত্যাদেশপ্রাপ্ত সত্যের বাহক, আল্লাহ আজ্জা ওয়া জাল্লা সম্পর্কে তাঁরা যা সংবাদ দিয়েছেন সে বিষয়ে। তাঁরা এ ব্যাপারে কোনো মতভেদ করেননি এবং আল্লাহ সম্পর্কে এমন কিছু বলেননি যা তাঁরা জানেন না। আর যে ব্যক্তি আল্লাহ আজ্জা ওয়া জাল্লাকে এর বাইরে ভিন্নভাবে বিশেষিত করবে, সে সত্য পথ থেকে বিচ্যুত হবে। কারণ আল্লাহ বলেন: {আপনার প্রতিপালক, যিনি সম্মানের অধিকারী, তারা যা বর্ণনা করে তা থেকে তিনি পবিত্র। (১৮০) আর সালাম বর্ষিত হোক রাসূলগণের প্রতি। (১৮১) এবং সকল প্রশংসা জগতের প্রতিপালক আল্লাহর জন্য। (১৮২)} (১)

সুতরাং তিনি নিজেকে পবিত্র ঘোষণা করেছেন তা থেকে যা রাসূলগণের বিরোধীরা তাঁর গুণাবলি সম্পর্কে বর্ণনা করে থাকে। আর তিনি রাসূলগণের প্রতি সালাম পাঠিয়েছেন, কারণ তাঁরা যা বলেছেন তা ত্রুটি ও খুঁত থেকে মুক্ত হওয়ার কারণে। তিনি সুবহানাহু ওয়া তায়ালা নিজের যে গুণাবলি বর্ণনা করেছেন এবং নিজেকে যে নামে নামাঙ্কিত করেছেন, তাতে নেতিবাচক ও ইতিবাচক উভয় বিষয়ের সমন্বয় ঘটিয়েছেন। তাই রাসূলগণ যা নিয়ে এসেছেন তা থেকে আহলে সুন্নাত ওয়াল জামাতের বিচ্যুত হওয়ার কোনো সুযোগ নেই। কেননা এটাই হলো সরল পথ—সেইসব ব্যক্তিদের পথ যাদের ওপর আল্লাহ নেয়ামত বর্ষণ করেছেন অর্থাৎ নবীগণ, সত্যনিষ্ঠগণ, শহীদগণ এবং নেককারগণ। আর এটাই হলো আল্লাহর কিতাব ও তাঁর রাসূলের সুন্নাহকে আঁকড়ে ধরা; যা একটি সুমিষ্ট, স্বচ্ছ ও নির্মল ঝরনাধারা, যাতে কোনো পঙ্কিলতা নেই এবং যা কোনো অন্ধকার দ্বারা আচ্ছন্ন নয়। দ্বীনের মধ্যে যে বাড়াবাড়িই ঘটেছে, তার মূল কারণ হলো বিদআত, যা কোনো চিন্তা, কল্পনা অথবা প্রবৃত্তি থেকে উৎপন্ন হয়েছে। আর একারণেই রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: "অতঃপর, নিশ্চয়ই সর্বোত্তম বাণী হলো আল্লাহর কিতাব এবং সর্বোত্তম পথনির্দেশ হলো মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর পথনির্দেশ, আর নিকৃষ্টতম বিষয় হলো..."

--------------------------------------------

(১) সূরা আস-সাফফাত-এর ১৮০-১৮২ নং আয়াতসমূহ।
(খণ্ড: ১) আল মানযূমাতুত তাবরীজিয়্যাহ ফিল আক্বীদাতিল সহীহাতুস সুন্নিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ৭)
محدثاتها، وكل بدعة ضلالة (1) فعلى كل مسلم أن يجرد الإتباع لله عز وجل ورسوله صلى الله عليه وسلم، {قُلْ إِنْ تُحِبُّونَ اللَّهَ فَاتَّبِعُونِي يُحْبِبْكُمُ اللَّهُ وَيَغْفِرْ لَكُمْ ذُنُوبَكُمْ وَاللَّهُ غَفُورٌ رَحِيمٌ} (2) وأن يتجرد من أي متبوع سوى الله ورسوله، هذا ما كان عليه أصحاب رسول الله رضي الله عنهم طيلة حياة رسول الله صلى الله عليه وسلم، وبعد انتقاله إلى الرفيق الأعلى سار أصحابه على المنهج النبوي، حذو القذة بالقذة، حتى ظهرت الفتنة، وما نتج عنها من ظهور بعض الفرق التي شقت وحدة المسلمين في المعبود والمتبوع والمنهج، لكن أهل السنة والجماعة ثبتوا على ما كان عليه رسول الله صلى الله عليه وسلم وأصحابه رضي الله عنهم من التمسك بالكتاب والسنة، و {ذَلِكَ فَضْلُ اللَّهِ يُؤْتِيهِ مَنْ يَشَاءُ وَاللَّهُ ذُو الْفَضْلِ الْعَظِيمِ} (3).

--------------------------------------------

(1) انظر (المستدرك على الصحيحين 1/ 174).

(2) الآية (31) من سورة آل عمران.

(3) من الآية (21) من سورة الحديد.
নব-উদ্ভাবিত বিষয়সমূহ, আর প্রতিটি বিদআতই ভ্রষ্টতা (১)। অতএব প্রত্যেক মুসলিমের কর্তব্য হলো মহান আল্লাহ এবং তাঁর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের একনিষ্ঠ অনুসরণ করা; {বলুন, ‘যদি তোমরা আল্লাহকে ভালোবাস তবে আমাকে অনুসরণ করো, আল্লাহ তোমাদেরকে ভালোবাসবেন এবং তোমাদের পাপসমূহ ক্ষমা করে দেবেন। আর আল্লাহ অত্যন্ত ক্ষমাশীল ও পরম দয়ালু’} (২) এবং আল্লাহ ও তাঁর রাসূল ছাড়া অন্য যেকোনো অনুসরণীয় সত্তা থেকে নিজেকে বিমুক্ত করা। আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের সমগ্র জীবদ্দশায় তাঁর সাহাবীগণ (রাদিয়াল্লাহু আনহুম) এই আদর্শের ওপরই অটল ছিলেন। এবং তাঁর মহান রফীকের সান্নিধ্যে চলে যাওয়ার পর তাঁর সাহাবীগণ পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে নববী মানহাজের ওপর চলেছেন, যতক্ষণ না ফিতনা প্রকাশ পেল এবং এর ফলে এমন কিছু দলের উদ্ভব ঘটল যারা উপাস্য, অনুসরণীয় ব্যক্তি এবং মানহাজের ক্ষেত্রে মুসলিমদের ঐক্যকে খণ্ডিত করল। কিন্তু আহলুস সুন্নাহ ওয়াল জামাআত সেই বিষয়ের ওপরই অবিচল থাকলেন যার ওপর রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এবং তাঁর সাহাবীগণ (রাদিয়াল্লাহু আনহুম) ছিলেন—অর্থাৎ কিতাব ও সুন্নাহকে দৃঢ়ভাবে আঁকড়ে ধরা। আর {এটি আল্লাহর অনুগ্রহ, তিনি যাকে ইচ্ছা তা দান করেন। আর আল্লাহ মহা অনুগ্রহের অধিকারী} (৩)।

--------------------------------------------

(১) দেখুন (আল-মুস্তাদরাক আলাস-সহীহাইন ১/ ১৭৪)।

(২) সূরা আলে ইমরানের ৩১ নং আয়াত।

(৩) সূরা আল-হাদীদের ২১ নং আয়াতের অংশ।
(খণ্ড: ১) আল মানযূমাতুত তাবরীজিয়্যাহ ফিল আক্বীদাতিল সহীহাতুস সুন্নিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ৮)
‌‌ترجمة الناظم

‌‌نسبه:

عبد القاهر بن محمد (1) بن عبد الواحد بن محمد بن إبراهيم بن موسى، جمال الدين، أبو محمد وأبو بكر، التبريزي، ثم الحراني، الخطيب، القاضي، الشافعي (2).

 

‌‌نسبته:

التبريزي: نسبة إلى تبريز، أشهر مدن أذربيجان، كانت مدينة عامرة حسناء، ذات أسوار محكمة بالآجر والجص، وفي وسطها عدة أنهار جارية، والبساتين محيطة بها، وعمارتها بالآجر الأحمر المنقوش والجص، على غاية الإحكام، وكانت تبريز قرية حتى نزلها الرواد الأزدي، المتغلب على أذربيجان في أيام المتوكل، ثم إن الوجناء ابن الرواد بنى بها هو وإخوته قصورا، وحصنها بسور فنزلها الناس معه، عصمها الله من التتار سنة (618) ثمان عشرة وستمائة من الهجرة، بسبب ما بذل أهلها للصلح، وقد خرج منها جماعة وافرة من أهل

--------------------------------------------

(1) عند الذهبي: ابن عبد الواحد، ولعله نسبه لجده.

(2) الدرر 3/ 7، ومعجم الشيوخ 2/ 408، والدليل الشافي 1/ 423، فوات الوفيات 2/ 367.
নাযিমের জীবনী

তাঁর বংশপরিচয়:

আব্দুল কাহির ইবনে মুহাম্মাদ (১) ইবনে আব্দুল ওয়াহিদ ইবনে মুহাম্মাদ ইবনে ইবরাহিম ইবনে মুসা, জামালুদ্দিন, আবু মুহাম্মাদ এবং আবু বকর, আত-তাবরিযি, অতঃপর আল-হাররানি, আল-খাতিব, আল-কাযি, আশ-শাফিয়ি (২)।

 

তাঁর নিসবত বা সম্পৃক্ততা:

আত-তাবরিযি: তাবরিযের প্রতি সম্পৃক্ত, যা আজারবাইজানের প্রসিদ্ধতম শহর; এটি ছিল একটি জনবহুল সুন্দর শহর, যা ইট ও চুনকাম দ্বারা নির্মিত সুদৃঢ় প্রাচীরবেষ্টিত ছিল। এর মাঝখানে বেশ কিছু প্রবাহমান নদী ছিল এবং চারপাশ বাগানে ঘেরা ছিল। এর নির্মাণশৈলী ছিল খোদাই করা লাল ইট ও চুনকাম দ্বারা অত্যন্ত সুনিপুণ। তাবরিয একটি গ্রাম ছিল যতক্ষণ না সেখানে রুওয়াদ আল-আযদি বসতি স্থাপন করেন, যিনি আল-মুতাওয়াক্কিলের যুগে আজারবাইজানের ওপর কর্তৃত্ব লাভ করেছিলেন। এরপর আল-ওয়াজনা ইবনে আল-রুওয়াদ সেখানে তাঁর ভাইদের নিয়ে প্রাসাদ নির্মাণ করেন এবং একে প্রাচীর দিয়ে সুরক্ষিত করেন, ফলে মানুষ তাঁর সাথে সেখানে বসবাস করতে শুরু করে। আল্লাহ একে হিজরি ছয়শত আঠারো (৬১৮) সনে তাতারদের হাত থেকে রক্ষা করেছিলেন, কারণ এর অধিবাসীরা সন্ধির জন্য যা পেশ করেছিল তার কারণে। সেখান থেকে এক বিশাল এক দল বের হয়েছে...

--------------------------------------------

(১) আয-যাহাবির নিকট: ইবনে আব্দুল ওয়াহিদ, সম্ভবত তিনি তাকে তাঁর দাদার দিকে সম্পৃক্ত করেছেন।

(২) আদ-দুরার ৩/৭, মু'জামুশ শুইউখ ২/৪০৮, আদ-দালিলুশ শাফি ১/৪২৩, ফাওয়াতুল ওয়াফায়াত ২/৩৬৭।
(খণ্ড: ১) আল মানযূমাতুত তাবরীজিয়্যাহ ফিল আক্বীদাতিল সহীহাতুস সুন্নিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ৯)
العلم (1) الحراني: نسبة إلى حران، بلدة من الجزيرة، وحران بطن من همدان، كان بها جماعة من الفضلاء والعلماء، وهي من ديار ربيعة أو مضر، ظهر بها الصابئة وهم الحرانيون المذكورون في كتب الملل والنحل (2).

الشافعي: نسبة إلى إمام المذهب محمد بن إدريس بن شافع القرشي (3).

القاضي: نسبة إلى القضاء بين الناس والحكومة، وأول من عرف بهذه النسبة سلمان بن ربيعة الباهلي، وهو أول قاض استقضي بالكوفة، فمكث بها أربعين يوما لا يأتيه خصم (4).

 

‌‌ولادته:

ولد بحران (15/ 8/648) نصف شعبان سنة ثمان وأربعين وستمائة من الهجرة.

 

‌‌سعيه في طلب العلم:

أصله من بخارى، ومولده بحران، ومنشؤه واشتغاله

بد مشق (5).

--------------------------------------------

(1) معجم البلدان 2/ 13.

(2) الأنساب 2/ 240، بتصرف و 4/ 96.

(3) الأنساب 9/ 297، 2/ 105، 8/ 67، وانظر: ترجمة 1.

(4) الأنساب 10/ 487، 25، 6/ 89.

(5) معجم الشيوخ 2/ 409، والدرر 3/ 8.
আল-হাররানি (১): এটি জাজিরা অঞ্চলের একটি শহর হাররানের দিকে সম্বন্ধযুক্ত। হাররান হামদানের একটি শাখা। সেখানে একদল গুণী ও আলেম ব্যক্তি ছিলেন। এটি রাবিআহ বা মুদার গোত্রের আবাসস্থলের অন্তর্ভুক্ত। সেখানে সাবি সম্প্রদায়ের উদ্ভব ঘটেছিল, আর তারাই হলো সেই হাররানি যাদের কথা ‘আল-মিলাল ওয়ান নিহাল’ (ধর্ম ও মতবাদ) বিষয়ক গ্রন্থগুলোতে বর্ণিত হয়েছে (২)।

আশ-শাফিয়ি: এটি মাযহাবের ইমাম মুহাম্মদ বিন ইদরিস বিন শাফি আল-কুরাশির দিকে সম্বন্ধযুক্ত (৩)।

আল-কাদি: এটি মানুষের মাঝে বিচারকার্য পরিচালনা ও শাসনের দিকে সম্বন্ধযুক্ত। এই উপাধিতে সর্বপ্রথম যিনি পরিচিতি লাভ করেন তিনি হলেন সালমান বিন রাবিআহ আল-বাহিলি। তিনি কুফায় নিযুক্ত সর্বপ্রথম বিচারক ছিলেন। সেখানে তিনি চল্লিশ দিন অবস্থান করেছিলেন অথচ কোনো বিবাদী তাঁর নিকট উপস্থিত হয়নি (৪)।

 

‌‌তাঁর জন্ম:

হিজরি ছয়শত আটচল্লিশ সনের পনেরোই শাবান (১৫/৮/৬৪৮) হাররানে তাঁর জন্ম হয়।

 

‌‌জ্ঞান অন্বেষণে তাঁর প্রচেষ্টা:

তাঁর মূল শিকড় বুখারা থেকে, জন্ম হাররানে এবং তাঁর বেড়ে ওঠা ও শিক্ষা কার্যক্রম দামেস্কে (৫)।

--------------------------------------------

(১) মুজামুল বুলদান ২/ ১৩।

(২) আল-আনসাব ২/ ২৪০, পরিমার্জিত এবং ৪/ ৯৬।

(৩) আল-আনসাব ৯/ ২৯৭, ২/ ১০৫, ৮/ ৬৭, এবং দেখুন: জীবনী ১।

(৪) আল-আনসাব ১০/ ৪৮৭, ২৫, ৬/ ৮৯।

(৫) মুজামুশ শুয়ুখ ২/ ৪০৯, এবং আদ-দুরার ৩/ ৮।
(খণ্ড: ১) আল মানযূমাতুত তাবরীজিয়্যাহ ফিল আক্বীদাতিল সহীহাতুস সুন্নিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ১০)
‌‌من أشهر شيوخه:

تاج الدين الفزاري: عبد الرحمن بن إبراهيم بن سباع بن ضياء، أبو إسحاق (1) والنجم الموغاني: نسبة إلى موغان، هكذا يقول أهلها بالغين المعجمة، وهي موقان: ولاية بأذر بيجان، فيها قرى ومروج كثيرة، أكثر أهلها من التركمان، وهي بين إربيل وتبريز في الجبال (2) وقد تفقه على هذين الشيخين، وقرأ القرآن على الزواوي (3): محمد بن سليمان بن سومر، أبو عبد الله، البربري، قاضي القضاة، جمال الدين، المالكي (4) ومجد الدين الظهير، سمع منه القصيدة البائية، التي أولها: كل حي إلى الممات ذهابه.

 

‌‌حالته الاجتماعية:

حكى عنه الذهبي وغيره: أن أمه ماتت وهي ابنة عشرين سنة، وأن أباه قدم به دمشق وهو ابن ست، وكان تاجرا ذا مال، فمات فكفله عمه عبد الخالق،

--------------------------------------------

(1) ذيل التقييد 2/ 79.

(2) معجم البلدان 5/ 225.

(3) الدرر 2/ 8.

(4) معجم الشيوخ 2/ 194، وذيل التقييد 1/ 128، والدرر 4/ 68، وانظر (برنامج الوادي آشي: 142، والوافي بالوفيات 3/ 137 - 137، والبداية والنهاية 14/ 87، والنجوم الزاهرة 9/ 239، والشذرات 6/ 44).
তাঁর প্রখ্যাত শিক্ষকদের মধ্যে রয়েছেন:

তাজউদ্দীন আল-ফাজারি: আবদুর রহমান বিন ইব্রাহিম বিন সিবা বিন দিয়া, আবু ইসহাক (১) এবং আন-নাজম আল-মুগানি: মুগানের দিকে নিসবত বা সম্পৃক্ত করে এই নাম, এর অধিবাসীরা 'গাইন' বর্ণ যোগে এভাবেই উচ্চারণ করে থাকে, আর এটি হলো মুকান: আজারবাইজানের একটি প্রদেশ, এতে বহু গ্রাম ও চারণভূমি রয়েছে, এর অধিকাংশ অধিবাসী তুর্কমেন এবং এটি পাহাড়ের অভ্যন্তরে এরবিল ও তাবরিজের মধ্যবর্তী স্থানে অবস্থিত (২)। তিনি এই দুই শায়খের নিকট ফিকহ অধ্যয়ন করেন এবং আল-জাওয়াভির (৩) নিকট কুরআন পাঠ করেন: তিনি হলেন মুহাম্মাদ বিন সুলাইমান বিন সুমার, আবু আবদুল্লাহ, আল-বারবারি, প্রধান বিচারপতি, জামালুদ্দীন, আল-মালিকি (৪)। এছাড়া মাজদুদ্দীন আয-জহির, তাঁর নিকট থেকে তিনি সেই 'বা-ইয়া' কাসিদাটি শ্রবণ করেন, যার প্রথম চরণ হলো: প্রত্যেক প্রাণীর গন্তব্যই হলো মৃত্যু।

 

‌‌তাঁর সামাজিক অবস্থা:

আয-জাহাবি ও অন্যরা তাঁর সম্পর্কে বর্ণনা করেছেন যে: তাঁর মা যখন মারা যান তখন তাঁর বয়স ছিল বিশ বছর। আর তাঁর পিতা তাঁকে নিয়ে যখন দামেস্কে আসেন তখন তাঁর বয়স ছিল ছয় বছর। তিনি একজন সম্পদশালী ব্যবসায়ী ছিলেন। অতঃপর তিনি মারা গেলে তাঁর চাচা আবদুল খালিক তাঁর লালন-পালনের দায়িত্ব গ্রহণ করেন।

--------------------------------------------

(১) যাইল আত-তাকয়িদ ২/ ৭৯।

(২) মুজামুল বুলদান ৫/ ২২৫।

(৩) আদ-দুরার ২/ ৮।

(৪) মুজামুশ শুয়ুখ ২/ ১৯৪, এবং যাইল আত-তাকয়িদ ১/ ১২৮, এবং আদ-দুরার ৪/ ৬৮, এবং দেখুন (বারনামাজুল ওয়াদি আশি: ১৪২, এবং আল-ওয়াফি বিল ওয়াফায়াত ৩/ ১৩৭ - ১৩৭, এবং আল-বিদায়া ওয়ান নিহায়া ১৪/ ৮৭, এবং আন-নুজুম আয-যাহিরা ৯/ ২৩৯, এবং আশ-শাযারাত ৬/ ৪৪)।
(খণ্ড: ১) আল মানযূমাতুত তাবরীজিয়্যাহ ফিল আক্বীদাতিল সহীহাতুস সুন্নিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ১১)
ورجع به إلى حران، وباع أملاكه بثمانين ألفا، وردَ به عمه إلى دمشق، فقال له يوما: امض بنا نتفرج، فخلا به عمه وخنقه حتى غشي عليه، فرماه في حفرة وطمّ عليه التراب، ظنا منه أنه قد مات، فعل هذا طمعا في ما ورث من أبيه من مال، فمر بعد ذلك شخص جلس يبول فرأى المدر يتحرك بتحرك رجليه، فاستخرجه، فقام يعدو إلى الماء من شدة العطش فشرب، وتوجه إلى بعض أقاربه من النساء، فأقام عندها مختفيا، حتى بلغ وحفظ القرآن، فمرّ يوما فإذا بعمه، فقال: هاه جمال الدين امش بنا؟ ! ! ، فلم يكلمه، ثم رآه مرة أخرى بالجامع، فغاب منه، وتوجه عمه إلى اليمن، فأقام بها، بعد أن أخذ مال ابن أخيه، والعجب أن التبريزي لم يطالب عمه بشيء، ولم يعاتبه على فعلته الشنعاء عندما رآه، وهذا ينبئ عن أدب وخير وبركة فيه، وهو ما ظهر عليه، فقد تفقه على الشيخ تاج الدين الفزاري، والنجم الموغاني، وكان قاضيا مشهورا،

وخطيبا بليغا (1).

 

‌‌من تلاميذه:

الذهبي: قال: أنشدنا القاضي عبد القاهر لنفسه، سنة (704) أربع وسبعمائة من الهجرة:

--------------------------------------------

(1) الدرر 2/ 8، وفي فوات الوفيات 2/ 367 - 368، أتم مما في الدرر.
এবং তিনি তাকে নিয়ে হাররানে ফিরে গেলেন এবং আশি হাজারে তার সম্পদ বিক্রি করলেন। তার চাচা তাকে নিয়ে দামেস্কে ফিরে এলেন। একদিন চাচা তাকে বললেন: আমাদের সাথে চলো আমরা একটু ঘুরে আসি। অতঃপর তার চাচা তাকে নির্জনে নিয়ে গেলেন এবং তার শ্বাসরোধ করলেন যতক্ষণ না তিনি অজ্ঞান হয়ে পড়লেন। এরপর তাকে একটি গর্তে নিক্ষেপ করে তার ওপর মাটি চাপা দিয়ে দিলেন, এই ভেবে যে তিনি মারা গেছেন। তিনি এটি করেছিলেন তার পিতার থেকে উত্তরাধিকারসূত্রে পাওয়া সম্পদের লোভে। এরপর এক ব্যক্তি সেখান দিয়ে যাচ্ছিলেন, তিনি প্রস্রাব করতে বসলেন এবং দেখলেন যে তার দুই পায়ের নড়াচড়ায় মাটি নড়ছে। তিনি তাকে উদ্ধার করলেন। প্রচণ্ড তৃষ্ণার কারণে তিনি দৌড়ে পানির কাছে গেলেন এবং পান করলেন। এরপর তিনি তার নারী আত্মীয়দের একজনের কাছে গেলেন এবং সেখানে আত্মগোপন করে থাকলেন, যতক্ষণ না তিনি প্রাপ্তবয়স্ক হলেন এবং কুরআন হিফজ করলেন। একদিন তিনি যাচ্ছিলেন, হঠাৎ তার চাচার সাথে দেখা হয়ে গেল। চাচা বললেন: ওহে জামালুদ্দিন, আমাদের সাথে চলো?!! তিনি তার সাথে কোনো কথা বললেন না। এরপর তিনি তাকে পুনরায় মসজিদে দেখলেন, তখন তিনি তার সামনে থেকে সরে গেলেন। তার চাচা তার ভ্রাতুষ্পুত্রের সম্পদ আত্মসাৎ করার পর ইয়ামেনে চলে গেলেন এবং সেখানে বসবাস শুরু করলেন। বিস্ময়ের বিষয় এই যে, তিবরিযী তার চাচার কাছে কিছুই দাবি করেননি এবং তাকে দেখার পর তার সেই জঘন্য কাজের জন্য তাকে ভর্ৎসনাও করেননি। এটি তার আদব, কল্যাণ ও বরকতের পরিচায়ক যা তার মধ্যে প্রকাশ পেয়েছিল। তিনি শায়খ তাজউদ্দীন আল-ফাযারি এবং আন-নাজম আল-মুগানির নিকট ফিকহ শাস্ত্র অধ্যয়ন করেন এবং তিনি একজন প্রসিদ্ধ বিচারক ছিলেন,

এবং একজন বাগ্মী খতিব ছিলেন (১)।

 

‌‌তার ছাত্রবৃন্দের মধ্যে:

আয-যাহাবি: তিনি বলেন: বিচারক আব্দুল কাহের আমাদের নিকট হিজরি ৭০৪ (সাতশত চার) সালে তার নিজের রচিত কবিতা পাঠ করেন:

--------------------------------------------

(১) আদ-দুরার ২/৮; এবং ফাওয়াতুল ওয়াফায়াত ২/৩৬৭ - ৩৬৮, যেখানে আদ-দুরার অপেক্ষা অধিক পূর্ণাঙ্গ বিবরণ রয়েছে।
(খণ্ড: ১) আল মানযূমাতুত তাবরীজিয়্যাহ ফিল আক্বীদাতিল সহীহাতুস সুন্নিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ১২)
كم بين بان الأجرع ورامية ولعلع … من قلب صب موجع سكران وجد لا يعي (1).

إلى تمام المنظومة التي نحن بصدد شرحها.

 

‌‌مكانته العلمية:

كان عارفا باللغة، خبيرا بالأحكام، قوي المشاركة، له نظم رائق ومحاسن كثيرة.

 

‌‌عقيدته:

قال الحافظ ابن حجر: قرأت بخط البدر النابلسي، كان عالما فاضلا، على معتقد السلف، وقال الذهبي: عزله القزويني لكونه أثبت ولم يتأول (2)، فسار التبريزي إلى مصر فولاه ابن جماعة نيابة دمياط.

وهذا مؤيد بقصيدته هذه، وأنه على منهج السلف في الاعتقاد، ولذلك عزله القزويني الأشعري؛ لأنه لم يتأول الاستواء.

 

‌‌ذِكر بعض صفاته:

كان مليح الصورة، أبيض مستدير اللحية، فصيح العبارة، فاخر البزة (3).

--------------------------------------------

(1) معجم الشيوخ 2/ 409.

(2) الاستواء.

(3) الدرر 2/ 8.
'বান আল-আজরা', 'রামিয়া' এবং 'লা'লা' এর মাঝে কতটুকু দূরত্ব … এক ব্যথিত, অনুরাগী হৃদয়ের, যা প্রেমের নেশায় বিভোর ও অচেতন (১)।

আমরা যে কাব্যগ্রন্থটি ব্যাখ্যা করতে চলেছি তার শেষ পর্যন্ত।

 

‌‌তাঁর ইলমী মর্যাদা:

তিনি ভাষা সম্পর্কে অভিজ্ঞ, আহকাম (বিধান) বিষয়ে পারদর্শী এবং ইলমের বিভিন্ন শাখায় তাঁর শক্তিশালী অংশগ্রহণ ছিল। তাঁর চমৎকার কাব্যপ্রতিভা এবং অনেক গুণাবলি ছিল।

 

‌‌তাঁর আকিদাহ:

হাফিজ ইবনে হাজার বলেন: আমি বদর আন-নাবলুসির হস্তাক্ষরে পড়েছি যে, তিনি একজন শ্রেষ্ঠ আলেম ছিলেন এবং সালাফদের আকিদাহর ওপর অটল ছিলেন। ইমাম যাহাবি বলেন: কাজভিনি তাঁকে পদচ্যুত করেছিলেন কারণ তিনি (সিফাতসমূহ) সাব্যস্ত করেছিলেন এবং অপব্যাখ্যা করেননি (২)। এরপর তিবরিজি মিসরে চলে যান এবং ইবনুল জামায়াহ তাঁকে দামিয়েতের প্রতিনিধি নিযুক্ত করেন।

এটি তাঁর এই কাসিদা (কবিতা) দ্বারাও সমর্থিত যে, তিনি আকিদাহর ক্ষেত্রে সালাফদের মানহাজের ওপর ছিলেন। এ কারণেই আশআরি কাজভিনি তাঁকে পদচ্যুত করেছিলেন; কারণ তিনি আরশের ওপর উঠার অপব্যাখ্যা করেননি।

 

‌‌তাঁর কিছু গুণাবলির উল্লেখ:

তিনি সুশ্রী চেহারার অধিকারী ছিলেন, গায়ের রং ছিল ফর্সা, দাড়ি ছিল গোলাকার, অত্যন্ত সাবলীল ভাষায় কথা বলতেন এবং উন্নত মানের পোশাক পরিধান করতেন (৩)।

--------------------------------------------

(১) মুজামুশ শুয়ুখ ২/ ৪০৯।

(২) আরশের ওপর উঠা।

(৩) আদ-দুরার ২/ ৮।
(খণ্ড: ১) আল মানযূমাতুত তাবরীজিয়্যাহ ফিল আক্বীদাতিল সহীহাতুস সুন্নিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ১৩)
‌‌مناصبه:

ناب في القضاء عن الزرعي في صفد: مدينة في جبال عاملة من جبال لبنان المطلة على حمص (1)، وكان قد ناب في عجلون: من مدن الشام اليوم - ولم أقف على من وصفها - وسلمية: بليدة في ناحية البرية، من أعمال حماة، بينهما مسيرة يومين في ذلك الوقت، وفي تسميتها قصة: أنه لما نزل العذاب بالمؤتفكة، وهي قريبة منها، رحم الله منهم مائة نفس فنجوا، فانتزحوا إلى موقعها، فعمروا وسكنوا، فسمي الموقع "سلم مائة" ثم حرف الناس بعد ذلك اسمها فقالوا: "سلمية" بالتخفيف، ثم إن صالح بن علي بن عباس اتخذها منزلا، وبنى هو وولده الأبنية فيها ونزلوها، وبها محاريب سبعة، يقال: تحتها قبور التابعين، وفي طريقها إلى حمص قبر النعمان بن بشير، نسب إليها جماعة من العلماء (2) ثم ولي في الآخر قضاء دمياط: مدينة بين تنيس ومصر، بينها وبين تنيس نصف نهار ذلك الوقت، تقع على زاوية بين البحر الأبيض المتوسط ونهر النيل، ومن شمالها يصب النيل في البحر، لها سور عليه محارس ورباطات، طيبة الهواء، ثغر من ثغور الإسلام، ذكر فيها رواية تتعلق بفتحها على يد عمر بن الخطاب، بها حرف وصناعات

--------------------------------------------

(1) معجم البلدان 3/ 412.

(2) معجم البلدان 3/ 240 ..
তাঁর পদমর্যাদাসমূহ:

তিনি সাফাদে আয-যারয়ির প্রতিনিধি হিসেবে বিচারকের দায়িত্ব পালন করেন: এটি আমেলা পাহাড়ের অন্তর্গত লেবাননের একটি শহর যা হিমস অভিমুখে অবস্থিত (১), তিনি আজলুনেও প্রতিনিধি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছিলেন: যা বর্তমানে সিরিয়ার শহরগুলোর একটি—তবে আমি এমন কাউকে পাইনি যিনি এর বর্ণনা দিয়েছেন—এবং সালামিয়া: এটি মরু অঞ্চলের একটি ছোট শহর, যা হামার প্রশাসনিক অঞ্চলের অন্তর্গত; সে সময় এই দুটির মাঝে দুদিনের পথ ছিল। এর নামকরণের একটি প্রেক্ষাপট রয়েছে: যখন মুতাফিকার ওপর আযাব নাজিল হলো—যা এর নিকটেই ছিল—তখন আল্লাহ তাদের মধ্য থেকে একশজন ব্যক্তির ওপর দয়া করলেন এবং তারা মুক্তি পেল। তারা এই স্থানে চলে এলো এবং একে আবাদ করে বসবাস শুরু করল। তখন এই স্থানের নাম রাখা হলো "সালাম মিআহ" (একশ জনের নিরাপত্তা), পরবর্তীতে মানুষ এর নাম পরিবর্তন করে সহজ উচ্চারণে "সালামিয়া" বলতে শুরু করল। এরপর সালিহ বিন আলি বিন আব্বাস একে আবাসস্থল হিসেবে গ্রহণ করেন এবং তিনি ও তাঁর সন্তানরা এখানে অট্টালিকা নির্মাণ করে বসবাস শুরু করেন। এখানে সাতটি মেহরাব রয়েছে, বলা হয় যে: এগুলোর নিচেই তাবেয়িদের কবর রয়েছে। হিমস যাওয়ার পথে নুমান বিন বশিরের কবর অবস্থিত। একদল আলেম এই শহরের দিকে সম্বন্ধিত (২)। পরিশেষে তিনি দমিয়াতের বিচারকের দায়িত্ব পান: এটি তেনিস ও মিসরের মধ্যবর্তী একটি শহর, সে সময় তেনিস থেকে এখানে পৌঁছাতে আধাদিন লাগত। এটি ভূমধ্যসাগর ও নীল নদের মধ্যবর্তী কোণে অবস্থিত এবং এর উত্তর দিক দিয়ে নীল নদ সমুদ্রে পতিত হয়েছে। এর একটি প্রাচীর রয়েছে যাতে প্রহরা কক্ষ ও সীমান্ত চৌকি রয়েছে। এর আবহাওয়া মনোরম এবং এটি ইসলামের অন্যতম একটি সীমান্ত দুর্গ। এটি ওমর ইবনুল খাত্তাবের হাতে বিজিত হওয়া সংক্রান্ত একটি বর্ণনা এখানে উল্লেখ করা হয়েছে। এখানে বিভিন্ন কারুশিল্প ও শিল্প কারখানা রয়েছে।

--------------------------------------------

(১) মুজামুল বুলদান ৩/ ৪১২।

(২) মুজামুল বুলদান ৩/ ২৪০ ..
(খণ্ড: ১) আল মানযূমাতুত তাবরীজিয়্যাহ ফিল আক্বীদাতিল সহীহাতুস সুন্নিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ১৪)
عالية الجودة، ومن أجودها عمل ثياب الشَّرَب الفائق، وهي ثياب رفيعة ذات قيمة عالية، تقدر بثلاثمائة دينار للثوب الواحد، ولم يكن مشغولا بالذهب، وقيل: إنه في سنة (398) ثلاثمائة وثمانية وتسعين من الهجرة، بيع حلتان دمياطيتان بثلاثة آلاف دينار، وهذا مما لم يسمع بمثله ببلد، في ذلك الزمان، وكان الوالي عليها عنبسة بن إسحاق الضبي أيام المتوكل، سنة (238) ثمان وثلاثين ومائتين من الهجرة، وفي يوم عرفة من هذه السنة هاجمها الروم فملكوها وما فيها، وقتلوا بها جمعا كثيرا من المسلمين، وسبوا النساء والأطفال وأهل الذمة، وعلى أثر ذلك أمر المتوكل ببناء حصن دمياط، فبقيت في أيدي المسلمين إلى أن كان شهر ذي القعدة سنة (614) أربع عشرة وستمائة من الهجرة، عهد الملك العادل أبي بكر بن أيوب هاجمها الإفرنج، فهذا شيء من قديم تاريخ هذه المدينة العريقة، في جمهورية مصر العربية اليوم (1).

 

‌‌مؤلفاته:

أنشأ خطبا سماها تحفة الألباء، وهي على حروف المعجم، في مجلد، ونظم في وقعة التتار بشقحب (2): كانت بقيادة ابن تيمية في أول رمضان سنة (702) ثنتين وسبعمائة من الهجرة، وحصل للناس شدة عظيمة وظهر فيها من كرامات الشيخ وإجابة دعائه وعظيم جهاده وفرط شجاعته ونهاية كرمه ونصحه للإسلام وغير ذلك ما يتجاوز الوصف (3)، - قصيدة أولها: الله أكبر جاء

--------------------------------------------

(1) معجم الشيوخ 2/ 409، والدر 3/ 8، ومعجم البدان 2/ 472 - 475.

(2) موضع قرب دمشق، وهي قرية صغرة قبلي دمشق على تخوم أرض حوران تبعد عن دمشق 37 كيلو مترا. وشقحب تقع تحت جبل غباغب وهي قرية في أول عمل حوران، انظر: تاج العروس (1/ 324) ومعجم البلدان (4/ 184) والسلوك (1/ 932).

(3) توضيح المقاصد شرح الكافية الشافية نونية ابن القيم (2/ 8).
উচ্চমানের, এবং এর মধ্যে অন্যতম সেরা হলো উচ্চমানের শারাব (এক প্রকার সূক্ষ্ম বস্ত্র) কাপড় তৈরি করা। এগুলো অত্যন্ত মূল্যবান ও উন্নতমানের কাপড় ছিল, যার প্রতিটির মূল্য তিনশ দিনার পর্যন্ত নির্ধারিত হতো। আর এটি স্বর্ণখচিত ছিল না। বলা হয়ে থাকে যে, ৩৯৮ (তিনশ আটানব্বই) হিজরি সনে দিময়াতী অঞ্চলের দুই সেট পোশাক তিন হাজার দিনারে বিক্রি হয়েছিল। সেই সময় অন্য কোনো শহরে এর কোনো নজির শোনা যায়নি। সেই সময় মুতাওয়াক্কিলের যুগে ২৩৮ (দুইশ আটত্রিশ) হিজরি সনে আনবাসাহ ইবনে ইসহাক আদ-দাব্বি এর গভর্নর ছিলেন। সেই বছরের আরাফার দিনে রোমানরা আক্রমণ করে এটি এবং এর মধ্যস্থিত সব দখল করে নেয়। তারা সেখানে বহু সংখ্যক মুসলিমকে হত্যা করে এবং নারী, শিশু ও জিম্মিদের বন্দি করে নিয়ে যায়। এর প্রেক্ষিতে মুতাওয়াক্কিল দিময়াতের দুর্গ নির্মাণের নির্দেশ দেন। এটি ৬১৪ (ছয়শ চৌদ্দ) হিজরি সনের জিলকদ মাস পর্যন্ত মুসলমানদের হাতে ছিল। বাদশাহ আল-আদিল আবু বকর ইবনে আইয়ুবের শাসনামলে ফ্রাঙ্করা এটি আক্রমণ করে। এটিই বর্তমান আরব প্রজাতন্ত্র মিসরের এই প্রাচীন শহরের প্রাচীন ইতিহাসের কিছু অংশ (১)।

 

‌‌তাঁর রচনাবলী:

তিনি 'তুহফাতুল আলবা' নামে খুতবা সংকলন রচনা করেছেন, যা বর্ণানুক্রমিকভাবে সাজানো এবং এক খণ্ডে সমাপ্ত। তিনি শাকহাবের যুদ্ধে তাতারদের বিরুদ্ধে কবিতা রচনা করেছেন (২): এটি ৭০২ (সাতশ দুই) হিজরি সনের রমজান মাসের শুরুতে ইবনে তাইমিয়ার নেতৃত্বে সংঘটিত হয়েছিল। এতে মানুষের ওপর মহাবিপদ আপতিত হয়েছিল এবং সেখানে শাইখের বহু কারামত, দুআ কবুল হওয়া, মহান জিহাদ, অত্যধিক বীরত্ব, পরম মহানুভবতা এবং ইসলামের প্রতি তাঁর হিতাকাঙ্ক্ষা ও আরও অনেক কিছু প্রকাশ পেয়েছিল যা বর্ণনাতীত (৩), - এমন এক কাসিদা যার শুরু হলো: আল্লাহু আকবার এসেছে...

--------------------------------------------

(১) মুজামুশ শুয়ুখ ২/৪০৯, আদ-দুরার ৩/৮, এবং মুজামুল বুলদান ২/৪৭২ - ৪৭৫।

(২) দামেস্কের নিকটবর্তী একটি স্থান। এটি দামেস্কের দক্ষিণে হাওরান ভূমির সীমান্তে অবস্থিত একটি ছোট গ্রাম, যা দামেস্ক থেকে ৩৭ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত। শাকহাব গাবাগিব পাহাড়ের নিচে অবস্থিত এবং এটি হাওরান এলাকার প্রবেশমুখের একটি গ্রাম। দেখুন: তাজুল আরুস (১/৩২৪), মুজামুল বুলদান (৪/১৮৪) এবং আস-সুলুক (১/৯৩২)।

(৩) তাওদিহুল মাকাসিদ শারহু কাফিয়া শাফিয়া নুনিয়া ইবনিল কাইয়্যিম (২/৮)।
(খণ্ড: ১) আল মানযূমাতুত তাবরীজিয়্যাহ ফিল আক্বীদাতিল সহীহাতুস সুন্নিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ১৫)
النصر والظفر، ومن شعره في قلعة صفد لما حاصرها الظاهر بيبرس:

ترى منجنيقا يذهب العقل حسه … إذا بات في أقطارها الناس رصدا

إذا ما أراها السهم منه ركوعه … يخر له أعلى الشراريف سجدا (1).

 

‌‌وفاته:

مات بدمياط في جمادى الآخرة سنة (740) أربعين وسبعمائة من الهجرة، وله (92) ثنتين وتسعين سنة (2).

--------------------------------------------

(1) الدرر 2/ 8 - 9.

(2) الدرر 2/ 9.
সাহায্য ও বিজয়; আর সাফাদ দুর্গ সম্পর্কে তাঁর কবিতা থেকে যখন যাহির বাইবার্স সেটি অবরোধ করেছিলেন:

তুমি এমন এক মিনজানিক (পাথর নিক্ষেপক যন্ত্র) দেখতে পাবে যার শব্দ বুদ্ধি বিলুপ্ত করে দেয় … যখন তার চারপাশের অঞ্চলে মানুষ পাহারারত অবস্থায় রাত অতিবাহিত করে

যখন তির তাকে নিজের রুকু প্রদর্শন করে … তখন সুউচ্চ প্রাচীরসমূহ তার সামনে সেজদাবনত হয়ে লুটিয়ে পড়ে (১)।

 

‌‌তাঁর মৃত্যু:

তিনি হিজরি ৭৪০ (সাতশ চল্লিশ) সনের জুমাদাল আখিরাহ মাসে দমিয়াতে মৃত্যুবরণ করেন, এবং তাঁর বয়স হয়েছিল ৯২ (বিরানব্বই) বছর (২)।

--------------------------------------------

(১) আদ-দুরার ২/ ৮ - ৯।

(২) আদ-দুরার ২/ ৯।
(খণ্ড: ১) আল মানযূমাতুত তাবরীজিয়্যাহ ফিল আক্বীদাতিল সহীহাতুস সুন্নিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ১৬)
قال الناظم عبد القاهر بن عبد الواحد التبريزي رحمه الله، مجزوء الرجز:

 

1 - كم بين بان الأجرع ورامية ولعلع … من قلب صب موجع سكران وجد لا يعي

2 - تراه ما بين الحلل جريح أسياف المقل … فارفق به ولا تسل عن قلبه المضيع

3 - ود الحمى فأخلصا إذ حقه قد حصحصا … فوده أن يخلصا من الحضيض الأوضع

4 - إلى المقام الأول ومعهد الأنس الحلي … والمربع السامي العلي سقيا له من مربع

5 - رحلت عن ذاك الفضا لا باختياري والرضا … فيا زمانا قد مضى إن عاد ماض فارجع

6 - واركع إذا الليل دجى ركوع خوف ورجا … وعدّ في سفن النجا إلى الفضاء الأوسع
কবি আব্দুল কাহির বিন আব্দুল ওয়াহিদ আত-তাবরিজি (রাহিমাহুল্লাহ) বলেছেন, মাজজু আর-রাজায ছন্দে:

 

১ - আল-আজরা-এর বান বৃক্ষরাজি, রামিয়া এবং লালআ’র মাঝে কতই না ব্যথিত অনুরাগী হৃদয়ের হাহাকার … যা প্রেমের উন্মাদনায় বিভোর ও সংজ্ঞাহীন।

২ - তাকে তুমি বিভিন্ন লোকালয়ের মাঝে আঁখিপল্লবের তরবারিতে আহত অবস্থায় দেখতে পাবে … অতএব তার প্রতি সদয় হও এবং তার হারিয়ে যাওয়া হৃদয় সম্পর্কে কিছু জিজ্ঞাসা করো না।

৩ - সে পবিত্র ভূমিকে অকৃত্রিমভাবে ভালোবেসেছে যখন তার সত্যতা স্পষ্ট হয়েছে … তার একান্ত চাওয়া হলো নিকৃষ্টতম গভীর তলদেশ থেকে মুক্তি পাওয়া।

৪ - সেই আদি মাকাম এবং সুন্দর সখ্যতার চিরচেনা নিকেতনের পানে … সেই সুউচ্চ ও মহান বিচরণক্ষেত্রে, সিক্ত হোক সেই চারণভূমি রহমতের বারিধারায়।

৫ - আমি সেই উন্মুক্ত প্রান্তর ছেড়ে চলে এসেছি, নিজের পছন্দ বা সন্তুষ্টিতে নয় … হে অতীত সময় যা চলে গেছে, যদি অতীত ফিরে আসে তবে তুমি ফিরে এসো।

৬ - আর যখন রাত অন্ধকারাচ্ছন্ন হয় তখন ভয় ও আশার সাথে রুকু করো … এবং প্রশস্ততর প্রান্তরের পানে নাজাতের নৌকাসমূহে আরোহণ করো।
(খণ্ড: ১) আল মানযূমাতুত তাবরীজিয়্যাহ ফিল আক্বীদাতিল সহীহাতুস সুন্নিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ১৭)
7 - عليك بالتهجد وقم طويلا واسجد … وبت نديم الفرقد واشرب كؤوس الأدمع

8 - قف عند حكم المصحف من غير ما تحرف … ولا تخض وقعت في أقوال أهل البدع

9 - فإنه كلامه أعيى الورى نظامه … وبهرت أحكامه الغر جميع الشيع

10 - منه كما جاء بدا وكن به معتضدا … ولا تجادل أحدا في آية وارتدع

11 - ولا تؤل ما ورد لله من سمع ويد … وقل هو الله أحد قول امرئ متبع

12 - وأنه عز وجل كلم موسى ذا الوجل … لما تجلى للجبل جهرا كلاما مسمع

13 - أصغى إليه فوعى بأذنه ما سمعا … ثم أجاب مسرعا جواب ثبت أروع (1)

--------------------------------------------

(1) أي ملهم (النهاية 2/ 277).
৭ - তোমার জন্য তাহাজ্জুদ আবশ্যক, দীর্ঘক্ষণ দাঁড়িয়ে থাকো ও সিজদা করো … এবং ধ্রুবতারার সঙ্গী হয়ে রাত কাটাও ও অশ্রুর পেয়ালা পান করো।

৮ - কুরআনের বিধানের ওপর অবিচল থাকো কোনো প্রকার বিকৃতি ছাড়াই … এবং তর্কে লিপ্ত হয়ো না, অন্যথায় বিদআতিদের বক্তব্যে নিপতিত হবে।

৯ - কেননা এটি তাঁরই বাণী, যার সুনিপুণ বিন্যাস সৃষ্টিজগতকে অক্ষম করে দিয়েছে … আর এর উজ্জ্বল বিধানসমূহ সকল দলকে অভিভূত করেছে।

১০ - এটি যেভাবে এসেছে সেভাবেই তাঁর পক্ষ থেকে প্রকাশিত হয়েছে এবং একেই অবলম্বন হিসেবে আঁকড়ে ধরো … কোনো আয়াতের বিষয়ে কারো সাথে বিতর্ক করো না এবং তা থেকে বিরত থাকো।

১১ - আল্লাহর জন্য যা বর্ণিত হয়েছে যেমন শ্রবণ ও হাত—সেগুলোর অপব্যাখ্যা করো না … বরং একজন একনিষ্ঠ অনুসারীর ন্যায় বলো, 'তিনি আল্লাহ এক'।

১২ - আর তিনি মহান ও প্রতাপশালী, ভীত-সন্ত্রস্ত মুসার সাথে কথা বলেছেন … যখন তিনি পাহাড়ের নিকট স্পষ্টভাবে প্রকাশিত হলেন শ্রবণযোগ্য বাণীর মাধ্যমে।

১৩ - তিনি মনোযোগ দিয়ে তা শুনেছেন এবং যা শুনেছেন তা নিজ কানে ধারণ করেছেন … অতঃপর দ্রুত উত্তর দিয়েছেন একজন অটল ও ধীমান ব্যক্তির ন্যায় (১)

--------------------------------------------

(১) অর্থাৎ অনুপ্রাণিত বা ইলহামপ্রাপ্ত (আন-নিহায়াহ ২/ ২৭৭)।
(খণ্ড: ১) আল মানযূমাতুত তাবরীজিয়্যাহ ফিল আক্বীদাতিল সহীহাতুস সুন্নিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ১৮)
14 - ولا توافق من غوى وقل بأن ذا القوى … حقا على العرش استوى كما أراد فاسمع

15 - وهو تعالى في السما عال ومعنا أينما … بغير كيف لا كما يخطر للمبتدع

16 - من قاسه من البشر بخلقه فقد كفر … وقد أطاع ونصر أمر الهوى المتبع

17 - ويلاه من وزن العمل وبحره عندي وشل (1) … قد غاض (2) طاميه وقل فما ترى من منبع

18 - واعترضت جهنم ونارها تضطرم … وكب فيها المجرم وقيل يا نار ابلعي

19 - وجنة الفردوس قد تزخرفت لمن عبد … وقام ليلا وسجد في طمره المرقع

--------------------------------------------

(1) أي قليل (النهاية 5/ 189).

(2) أي غار ونقص (النهاية 3/ 401).
১৪ - আর তুমি পথভ্রষ্ট ব্যক্তির সাথে একমত হয়ো না এবং বলো যে, মহাশক্তিধর আল্লাহ … প্রকৃতপক্ষেই আরশের উপর উঠেছেন, যেভাবে তিনি চেয়েছেন; অতএব শ্রবণ করো।

১৫ - আর মহান আল্লাহ আসমানে সমুন্নত এবং আমরা যেখানেই থাকি তিনি আমাদের সাথে আছেন … কোনো ধরণ বা প্রকৃতি ব্যতিরেকেই; বিদআতিদের মনে যেভাবে উদয় হয় সেরূপ নয়।

১৬ - মানুষের মধ্যে যে ব্যক্তি তাঁকে তাঁর সৃষ্টির সাথে তুলনা করল, সে অবশ্যই কুফরি করল … এবং সে তার প্রবৃত্তির অনুসৃত নির্দেশের আনুগত্য ও সহায়তা করল।

১৭ - হায় আফসোস আমল পরিমাপের সময় নিয়ে! আর আমার নিকট আমলের সমুদ্র অতি সামান্য (১) … এর উত্তাল ঢেউ শুকিয়ে গেছে (২) এবং কমে গেছে, ফলে তুমি কোনো উৎস দেখতে পাচ্ছ না।

১৮ - আর জাহান্নাম সামনে আসবে যার আগুন হবে প্রজ্বলিত … আর তাতে অপরাধীকে নিক্ষেপ করা হবে এবং বলা হবে, হে আগুন! তুমি গিলে ফেলো।

১৯ - আর জান্নাতুল ফিরদাউসকে সজ্জিত করা হয়েছে সেই ব্যক্তির জন্য যে ইবাদত করেছে … এবং রাতে সালাতে দাঁড়িয়েছে ও সিজদা করেছে তার তালিযুক্ত জীর্ণ পোশাকে।

--------------------------------------------

(১) অর্থাৎ অল্প (আন-নিহায়া ৫/ ১৮৯)।

(২) অর্থাৎ শুকিয়ে যাওয়া ও হ্রাস পাওয়া (আন-নিহায়া ৩/ ৪০১)।
(খণ্ড: ১) আল মানযূমাতুত তাবরীজিয়্যাহ ফিল আক্বীদাতিল সহীহাতুস সুন্নিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ১৯)
20 - ونهدت أبكارها واطردت أنهارها … وغردت أطيارها في كل غصن مونع (1)

21 - يا من له تبتلي في كل ليل أليل … ومن إليه موئلي دون الورى ومفزع

22 - صل على خير البشر من كل أنثى وذكر … محمد وجه القمر ذي الجانب الممنع

--------------------------------------------

(1) مصدر ينع ينيع، أي أدرك النضج (النهاية 5/ 303).
২০ - এবং তার নব্য ফলসমূহ পূর্ণতা লাভ করেছে ও তার নদীসমূহ অবিরাম ধারায় প্রবাহিত হয়েছে ... আর তার পাখিগুলো প্রতিটি সুপক্ক ও সজীব শাখায় সুমধুর স্বরে কলকাকলি করেছে (১)

২১ - হে সেই সত্তা, যাঁর জন্য প্রতিটি নিবিড় অন্ধকার রাতে আমার ঐকান্তিক নিবেদন ... আর সৃষ্টিজগতকে ছেড়ে যাঁর নিকট আমার প্রত্যাবর্তনস্থল ও আশ্রয়স্থল

২২ - সকল নর-নারীর মধ্যে সর্বোত্তম মানব মুহাম্মাদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর ওপর রহমত বর্ষণ করুন, যাঁর চেহারা চাঁদের মতো উজ্জ্বল এবং যিনি সুউচ্চ ও সুরক্ষিত মর্যাদার অধিকারী

--------------------------------------------

(১) এটি ‘ইয়ানাআ-ইয়ানিউ’ ক্রিয়ামূল থেকে আগত, যার অর্থ হলো পরিপক্কতা লাভ করা (আন-নিহায়াহ ৫/৩০৩)।
(খণ্ড: ১) আল মানযূমাতুত তাবরীজিয়্যাহ ফিল আক্বীদাতিল সহীহাতুস সুন্নিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ২০)
‌‌شرح المنظومة

1 - كم بين بان الأجرع ورامية ولعلع … من قلب صب موجع سكران وجد لا يعي

بدأ الناظم رحمه الله هذه المنظومة بما درج عليه الكثيرون من الشعراء قبل الإسلام وبعده من طرق باب الغزل، وأرى أن فيه براعة استهلال، واستجلاب لنظر الحاضر وسمعه في آن واحد، فإن الناظر إلى غيرك قد لا يكون سامعا لك، فالنظر يصرف السمع في الغالب إلى المنظور، وإن سمع شيئا آخر، فضبطه لما سمع، قد يكون خفيفا، ويضاف إلى هذا زيادة استشراف السماع لما يتلو من القول، وهو أقوى في الضبط، وأوعى للسمع، وقد سلك هذا الصحابي كعب بن زهير في قصيدته والتي استهلها بقوله:

بانت سعاد فقلبي اليوم متبول … متيم إثرها لم يفد مكبول

وما سعاد غداة البيت إذ رحلوا … إلا أغن غضيض الطرف مكحول

والتي يقال إنه أنشدها في المسجد النبوي بين يدي رسول الله صلى الله عليه وسلم، وأنه كساه بردته، وقيل إن معاوية طلبها منه بعشرة آلاف
কবিতার ব্যাখ্যা

১ - আল-আজরা’র বান গাছ, রামিয়াহ এবং লা’লা’-এর মাঝে কতই না ব্যবধান! … ব্যথাতুর, অনুরাগী ও প্রেমে মাতাল এক হৃদয়ের হাহাকার, যা কিছুই অনুভব করতে পারছে না।

নাজিম (আল্লাহ তাঁর প্রতি রহম করুন) এই কবিতাটি সেই পদ্ধতিতে শুরু করেছেন যা ইসলামের আগে এবং পরে অনেক কবিই গজল বা প্রেমকাব্য দিয়ে কবিতা শুরু করার ক্ষেত্রে অনুসরণ করতেন। আমি মনে করি এর মধ্যে চমৎকার প্রারম্ভিক শৈলী (বারাআতুল ইস্তিহলাল) রয়েছে এবং এটি একই সাথে উপস্থিত ব্যক্তির দৃষ্টি ও শ্রবণকে আকর্ষণ করার একটি মাধ্যম। কারণ, যে ব্যক্তি আপনার দিকে তাকাচ্ছে না, সে সম্ভবত আপনার কথা শুনছে না; কেননা দৃষ্টি সাধারণত শ্রবণশক্তিকে দৃশ্যমান বস্তুর দিকে নিবদ্ধ করে। ফলে সে অন্য কিছু শুনলেও যা শুনল তার ওপর নিয়ন্ত্রণ বা মনোযোগ কম হতে পারে। এর সাথে যুক্ত হয় পরবর্তী বক্তব্যের প্রতি অধিকতর কৌতূহল ও আগ্রহ, যা শ্রুত বিষয়কে আয়ত্ত করার জন্য অধিক শক্তিশালী এবং শ্রবণের জন্য অধিক কার্যকর। সাহাবী কাব বিন জুহাইর তাঁর সেই কবিতায় এই পথ অবলম্বন করেছেন যার শুরুতে তিনি বলেছেন:

সুয়াদ পৃথক হয়ে গেছে, ফলে আজ আমার হৃদয় রুগ্ন … তার বিরহে ব্যাকুল, যা মুক্তি পায়নি বরং শৃঙ্খলিত।

সেদিন সকালে কাফেলা যখন প্রস্থান করল, সুয়াদ তো কেবল … গুনগুন কণ্ঠী, অবনত নয়না ও সুরমা মাখা চোখের অধিকারিণী ছিল।

বলা হয়ে থাকে যে, তিনি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সামনে মসজিদে নববীতে এটি পাঠ করেছিলেন এবং তিনি (রাসূলুল্লাহ) তাঁকে নিজের চাদর পরিয়ে দিয়েছিলেন। আরও বলা হয় যে, মুয়াবিয়া তাঁর কাছে দশ হাজারের বিনিময়ে সেটি চেয়েছিলেন।
(খণ্ড: ১) আল মানযূমাতুত তাবরীজিয়্যাহ ফিল আক্বীদাতিল সহীহাতুস সুন্নিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ২১)
درهم، فأبى وقال: ما كنت لأوثر بها أحدا، فلما مات باعها الورثة على معاوية بعشرين ألف درهم.

 

كم بين بان الأجرع، ورامية، ولعلع:

ليس المراد الاستفهام، بل المراد الإخبار بكثرة هذا النوع من القلوب، والبان شجر مستقيم الأغصان طويلها كثيرا ما تغنى به الشعراء، والأجرع: هو علم على موضع باليمامة (1) ورامية: إما أن تكون رامن: بليدة بينها وبين همذان سبعة فراسخ، وهي من بلاد إيران اليوم، أو أنها رامة: منزل في طريق البصرة إلى مكة، وهي آخر بلاد بني تميم، وبين رامة وبين البصرة اثنتا عشرة مرحلة، أو رامة: من قرى بيت المقدس بها مقام إبراهيم عليه السلام، وهو الأقرب في نظري (2) ولعلع: موضع على طريق الحاج من البصرة، بينه وبين أقر ثلاثون ميلا (3).

 

من قلب صب موجع سكران وجد لا يعي:

أي من قلوب كثيرة أصابها العشق الشديد، فالصب: هو العاشق، والصبابة غاية العشق، ولذلك قال: موجع، أي أصابه

--------------------------------------------

(1) معجم البلدان 1/ 102.

(2) معجم البلدان 3/ 17، 18.

(3) معجم البلدان 3/ 18.
দিরহাম, কিন্তু তিনি অস্বীকৃতি জানালেন এবং বললেন: আমি এর জন্য অন্য কাউকে অগ্রাধিকার দিতে পারি না। অতঃপর তিনি যখন মৃত্যুবরণ করলেন, তখন উত্তরাধিকারীরা তা মুআবিয়ার নিকট বিশ হাজার দিরহামে বিক্রয় করে দিল।

 

বানুল আজরা, রামিয়াহ এবং লা’লা-এর মাঝে কতই না (ব্যথিত হৃদয়):

এখানে উদ্দেশ্য প্রশ্ন করা নয়, বরং এই প্রকার হৃদয়ের আধিক্য সম্পর্কে সংবাদ দেওয়া। 'বান' হলো এমন একটি বৃক্ষ যার শাখা-প্রশাখাগুলো অত্যন্ত সোজা ও দীর্ঘ এবং কবিরা প্রায়ই এর প্রশংসা করে থাকেন। 'আল-আজরা' হলো ইয়ামামার একটি স্থানের নাম (১)। আর 'রামিয়াহ' হয়তো 'রামেন' হতে পারে: যা হামাদান থেকে সাত ফারসাখ দূরে অবস্থিত একটি ছোট শহর এবং বর্তমানে তা ইরানের অন্তর্ভুক্ত। অথবা এটি হতে পারে 'রামাহ': যা বসরা থেকে মক্কা যাওয়ার পথের একটি মনজিল এবং এটি বনী তামীম গোত্রের ভূখণ্ডের শেষ সীমানা; রামাহ এবং বসরার ব্যবধান বারোটি মনজিল। অথবা এটি বায়তুল মুকাদ্দাসের পার্শ্ববর্তী একটি গ্রাম হতে পারে যেখানে ইবরাহিম আলাইহিস সালামের মাকাম বা স্মৃতিবিজড়িত স্থান রয়েছে এবং আমার দৃষ্টিতে এটিই অধিকতর সঠিক (২)। আর 'লা’লা' হলো বসরার হজ্জযাত্রীদের পথের একটি স্থান, যা 'আকর' থেকে ত্রিশ মাইল দূরত্বে অবস্থিত (৩)।

 

ব্যথিত ও মোহগ্রস্ত হৃদয়ের অধিকারীরা তীব্র অনুরাগে আত্মহারা:

অর্থাৎ এমন অনেক হৃদয় রয়েছে যারা তীব্র অনুরাগে আক্রান্ত। 'আস-সাব্ব' অর্থ হলো প্রেমিক এবং 'আস-সাবাহ' হলো প্রেমের চরম সীমা। এই কারণেই তিনি বলেছেন: 'মুজি' বা ব্যথিত, অর্থাৎ যা তাকে ব্যথিত করেছে...

--------------------------------------------

(১) মু’জামুল বুলদান ১/১০২।

(২) মু’জামুল বুলদান ৩/১৭, ১৮।

(৩) মু’জামুল বুলদান ৩/১৮।
(খণ্ড: ১) আল মানযূমাতুত তাবরীজিয়্যাহ ফিল আক্বীদাতিল সহীহাতুস সুন্নিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ২২)
الألم من شدة الوله، وأرّقه ما نزل به من ذلك (1) حتى أصبح شبيها بمن ولغ المسكر المحرم فأفقده صوابه، وإن كان ذلك من حرام، لكن سكر المشبه هنا من نوع آخر، وهو فقدان الوعي من ولع شديد بشيء مباح، كما هو معلوم من غاية هذه المنظومة، والوجد: الحب الشديد، ومنه ما ورد في حديث ابن عمر، وعيينة بن حصن: "والله ما بطنها بوالد، ولا زوجها بواجد" (2).

 

2 - تراه ما بين الحلل جريح أسياف المقل … فارفق به ولا تسل عن قلبه المضيّع

 

تراه ما بين الحلل جريح أسياف المقل:

أي: تنظر إليه في حلل بهيجة، تدل على مكانة كريمة، وملك وغنى، والحلل مفردها حلة: وهي الفاخر من الثياب، وكانوا لا يسمون اللباس حلة إلا إذا اشتمل على إزار ورداء من نوع واحد، وهي أنواع بحسب العادات والأعراف، مما هو لباس العظماء، من الأغنياء وغيرهم (3)، فإذا كان هذا حاله، وهو مع ذلك مضرّج جريح، صرعه ما حل به من طعن المقل، جمع مقلة: وهي الحدقة: الناظر من العين، لكنه هنا أراد العين (4)،

--------------------------------------------

(1) لسان العرب 1/ 518.

(2) النهاية 5/ 156.

(3) النهاية 1/ 432.

(4) النهاية 4/ 348، ولسان العرب 11، 627.
তীব্র আকুলতার যন্ত্রণায় তিনি কাতর ছিলেন এবং যা তাঁর ওপর আপতিত হয়েছিল তা তাঁকে নির্ঘুম করে দিয়েছিল (১), এমনকি তিনি সেই ব্যক্তির সদৃশ হয়ে গিয়েছিলেন যে নিষিদ্ধ মাদক পান করে নিজের হিতাহিত জ্ঞান হারিয়ে ফেলেছে। যদিও তা (মাদক) হারাম থেকে উদ্ভূত, কিন্তু এখানে যার সাথে তুলনা করা হয়েছে তার মত্ততা ভিন্ন প্রকৃতির। তা হলো কোনো বৈধ জিনিসের প্রতি তীব্র অনুরাগের কারণে চেতনা হারানো, যেমনটি এই কাব্যগ্রন্থের উদ্দেশ্য থেকে সুপরিজ্ঞাত। আর ‘ওয়াজদ’ অর্থ হলো অতিশয় প্রেম; এ থেকেই ইবনে উমর এবং উয়াইনা ইবনে হিসন-এর হাদিসে বর্ণিত হয়েছে: “আল্লাহর কসম, তার গর্ভ কোনো সন্তান ধারণ করেনি এবং তার স্বামীও কোনো তীব্র প্রেম পোষণকারী নয়” (২)।

 

২ - তুমি তাকে পোশাক-পরিচ্ছদের মাঝে নেত্র-তলোয়ারের আঘাতে আহত দেখতে পাবে … অতএব তার প্রতি সদয় হও এবং তার হারিয়ে যাওয়া হৃদয় সম্পর্কে জিজ্ঞেস করো না

 

তুমি তাকে পোশাক-পরিচ্ছদের মাঝে নেত্র-তলোয়ারের আঘাতে আহত দেখতে পাবে:

অর্থাৎ: তুমি তাকে উজ্জ্বল পোশাকে দেখতে পাবে যা উচ্চ মর্যাদা, রাজকীয়তা এবং ঐশ্বর্যের পরিচয় দেয়। ‘হুলুল’ (পোশাকসমূহ) এর একবচন হলো ‘হুল্লাহ’: যা চমৎকার ও দামী পোশাককে বোঝায়। তারা কোনো পোশাককে ততক্ষণ পর্যন্ত ‘হুল্লাহ’ বলত না যতক্ষণ না তাতে একই প্রকারের লুঙ্গি এবং চাদর অন্তর্ভুক্ত থাকত। প্রথা ও রীতিনীতি অনুযায়ী এটি বিভিন্ন প্রকারের হয়ে থাকে, যা ধনী এবং অন্যান্য প্রভাবশালীদের পোশাক হিসেবে পরিচিত ছিল (৩)। সুতরাং এটি যদি তার অবস্থা হয় এবং তা সত্ত্বেও সে রক্তাক্ত ও আহত হয়, যা তার ওপর ‘মুকাল’ (চোখ)-এর আঘাতের ফলে পতিত হয়ে তাকে ধরাশায়ী করেছে। ‘মুকলাহ’ এর বহুবচন হলো ‘মুকাল’, যার অর্থ চোখের মণি বা দৃষ্টির কেন্দ্রবিন্দু; তবে এখানে তিনি চোখকেই উদ্দেশ্য করেছেন (৪)।

--------------------------------------------

(১) লিসানুল আরব ১/ ৫১৮।

(২) আন-নিহায়া ৫/ ১৫৬।

(৩) আন-নিহায়া ১/ ৪৩২।

(৪) আন-নিহায়া ৪/ ৩৪৮, এবং লিসানুল আরব ১১/ ৬২৭।
(খণ্ড: ১) আল মানযূমাতুত তাবরীজিয়্যাহ ফিল আক্বীদাতিল সহীহাতুস সুন্নিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ২৩)
بلحظها وجمالها، ولم يرد جزءا منها، وقد شبه اللحظ منها بالأسياف الشديدة المضاء والفتك.

فارفق به ولا تسل عن قلبه المضيّع:

لأن من كان هذا حاله يرفل في حلل، وهو في الوقت ذاته صريع مضرّج، فالأدعى لحاله أن تزيد الشفقة به، فما أوصله إلى هذه الحال إلا أمر جلل، شبه بمن يفقد قلبه، وما حال من فقد قلبه يا ترى؟ ! ! .

 

3 - ود الحمى فأخلصا إذ حقه قد حصحصا … فوده أن يخلصا من الحضيض الأوضع

 

ودّ الحمى فأخلصا إذ حقه قد حصحصا:

أي أخلص الود لأهل الحي، والود: المحبة الخالصة (1)، ولا يكون الود إلا في مداخل الخير، ولذلك أكد، خلوص الود للحمى قدرا لمن حل به ممن عشق، وقد كان حق هذا الحي قد وجب، ولا مفر من إخلاص الود له فقد نزل به محبوبه، وقد سمى الحي حمى تشبيها بالحمى المصان الممنوع، سواء كان ماديا كأحمية الديار، أو معنويا كما ورد في حديث الإفك من قوله: "أحمي سمعي وبصري"

--------------------------------------------

(1) النهاية 5/ 164، ولسان العرب 3/ 453.
তার দৃষ্টিপাত ও সৌন্দর্যের মাধ্যমে, এবং তিনি এর কোনো অংশই চাননি। তার দৃষ্টিপাতকে তীব্র ধারালো ও সংহারক তলোয়ারের সাথে তুলনা করা হয়েছে।

সুতরাং তার প্রতি সদয় হও এবং তার হারিয়ে যাওয়া হৃদয়ের কথা জিজ্ঞেস করো না:

কারণ যার অবস্থা এমন হয় যে সে অলংকৃত পোশাকে বিচরণ করছে, অথচ একই সময়ে সে রক্তাপ্লুত এক নিহত ব্যক্তি, তবে তার অবস্থার দাবি হলো তার প্রতি মমতা আরও বৃদ্ধি করা। কোনো এক মহান বিষয় ছাড়া অন্য কিছু তাকে এই অবস্থায় পৌঁছে দেয়নি। তাকে এমন ব্যক্তির সাথে তুলনা করা হয়েছে যে তার হৃদয় হারিয়েছে। আর যে তার হৃদয় হারিয়েছে, তার অবস্থা আসলে কেমন হতে পারে?!!

 

৩ - তিনি সংরক্ষিত অঞ্চলের প্রতি ভালোবাসা পোষণ করেছেন এবং একনিষ্ঠ হয়েছেন, যেহেতু তার হক সুস্পষ্ট হয়েছে … আর তার আকাঙ্ক্ষা হলো হীনতম পতন থেকে মুক্তি পাওয়া

 

সংরক্ষিত অঞ্চলের প্রতি ভালোবাসা পোষণ করেছেন এবং একনিষ্ঠ হয়েছেন, যেহেতু তার হক সুস্পষ্ট হয়েছে:

অর্থাৎ তিনি জনপদের অধিবাসীদের প্রতি ভালোবাসা একনিষ্ঠ করেছেন। ‘উদ্দ’ (নিবিড় মমতা) হলো: খাঁটি ভালোবাসা (১)। আর এই ভালোবাসা কেবল কল্যাণের পথেই হয়ে থাকে। এজন্যই তিনি সংরক্ষিত অঞ্চলের প্রতি ভালোবাসার একনিষ্ঠতাকে গুরুত্ব দিয়েছেন, সেখানে অবস্থানরত সেই প্রিয়তমার সম্মানে যাকে তিনি ভালোবেসেছেন। এই জনপদের হক বা অধিকার এখন আবশ্যক হয়ে পড়েছে, আর এর প্রতি ভালোবাসা একনিষ্ঠ করা ছাড়া কোনো উপায় নেই, কারণ তার প্রিয়তম সেখানে অবতরণ করেছেন। তিনি এই জনপদকে ‘হিমা’ (সংরক্ষিত এলাকা) নামে অভিহিত করেছেন সুরক্ষিত ও নিষিদ্ধ সংরক্ষিত এলাকার সাথে তুলনা করে; চাই তা বস্তুগত হোক যেমন গৃহের সীমানা, অথবা আধ্যাত্মিক হোক যেমনটি অপবাদের হাদীসে (হাদীসুল ইফক) বর্ণিত হয়েছে: "আমি আমার কান ও চোখকে রক্ষা করছি।"

--------------------------------------------

(১) আন-নিহায়া ৫/১৬৪, এবং লিসানুল আরব ৩/৪৫৩।
(খণ্ড: ১) আল মানযূমাতুত তাবরীজিয়্যাহ ফিল আক্বীদাতিল সহীহাতুস সুন্নিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ২৪)
أي أمنعهما من أن أنسب إليهما ما لم يدركاه، وبه أصونهما من العذاب (1).

فوده أن يخلصا من الحضيض الأوضع:

أي مرغوبه ومقصوده من هذا الحب أن يكون نظيفا نقيا من الأدران التي تنزل بصاحبها إلى الحضيض: وهو قرار الشيء وأسفله، وأراد الصفات الموغلة المهانة والضعة (2) وهنا يبرز مراد الناظم من هذه المقدمة الغزلية، وهو غزل في المكارم والعلا، وليس طلبا للشهوة والهوى.

 

4 - إلى المقام الأول ومعهد الأنس الحلي … والمربع السامي العلي سقيا له من مربع

 

إلى المقام الأول ومعهد الأنس الحلي:

لعل الناظم حنّ إلى مرابع الآباء والأجداد من بلاد الإسلام، بخارى من أعظم مدن ما وراء النهر، وقد خرج منها علماء في كل فن يجاوزون الحد، من أبرزهم أبو عبد الله البخاري صاحب الصحيح، وقد فتحت بخارى مرتين: الأولى في عهد معاوية رضي الله عنه، سنة (55) خمس وخمسين من الهجرة، بقيادة سعيد بن عثمان بن عفان، والثانية سنة (87) سبع وثمانين من الهجرة،

--------------------------------------------

(1) لسان العرب 14/ 199.

(2) النهاية 1/ 400، ولسان العرب 7/ 136.
অর্থাৎ আমি সে দুটিকে এমন কিছুর সাথে সম্পর্কিত করা থেকে বিরত রাখি যা তারা উপলব্ধি করেনি এবং এর মাধ্যমে আমি তাদের শাস্তির হাত থেকে রক্ষা করি (১)।

তার আকাঙ্ক্ষা হলো তারা যেন নিকৃষ্টতম নিম্নদেশ থেকে মুক্তি পায়:

অর্থাৎ এই ভালোবাসার মাধ্যমে তার বাঞ্ছিত লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য হলো একে এমন সব কলুষতা থেকে পরিষ্কার ও পরিচ্ছন্ন রাখা, যা এর অধিকারীকে নিম্নদেশে অধঃপতিত করে। 'হাদিজ' অর্থ হলো কোনো বস্তুর তলদেশ ও সর্বনিম্ন স্তর। তিনি এখানে চরম অবমাননাকর ও হীন গুণাবলিকে বুঝিয়েছেন (২)। এখান থেকেই এই গজলধর্মী গৌরচন্দ্রিকার মাধ্যমে কবির উদ্দেশ্য ফুটে ওঠে; এটি মূলত মহৎ গুণাবলি ও উচ্চমর্যাদার প্রতি অনুরাগ, লালসা বা কুপ্রবৃত্তির অন্বেষণ নয়।

 

৪ - প্রথম মাকাম এবং সুশোভিত পরিচিত নিকেতনের দিকে... এবং উচ্চ ও মহান চারণভূমির প্রতি; সেই চারণভূমি রহমতে সিক্ত হোক।

 

প্রথম মাকাম এবং সুশোভিত পরিচিত নিকেতনের দিকে:

সম্ভবত কবি ইসলামি ভূখণ্ডের অন্তর্ভুক্ত তাঁর পূর্বপুরুষদের চারণভূমির প্রতি আকুলতা প্রকাশ করেছেন। বুখারা হলো 'মা ওয়ারাউন নাহর' (ট্রান্সঅক্সিয়ানা) অঞ্চলের অন্যতম মহান শহর। এখান থেকে প্রতিটি জ্ঞানশাখায় অগণিত বরেণ্য আলেম বেরিয়েছেন যাঁরা অনন্য উচ্চতায় আসীন, যাঁদের মধ্যে সর্বাধিক প্রখ্যাত হলেন 'সহিহ' গ্রন্থের সংকলক আবু আব্দুল্লাহ আল-বুখারী। বুখারা দুইবার বিজিত হয়েছিল: প্রথমবার মুয়াবিয়া (রাযিয়াল্লাহু আনহু)-এর যুগে হিজরি ৫৫ (পঞ্চাশ) সনে, সাঈদ ইবনে উসমান ইবনে আফফান-এর নেতৃত্বে এবং দ্বিতীয়বার হিজরি ৮৭ (সাতাশি) সনে,

--------------------------------------------

(১) লিসানুল আরব ১৪/১৯৯।

(২) আন-নিহায়া ১/৪০০ এবং লিসানুল আরব ৭/১৩৬।
(খণ্ড: ১) আল মানযূমাতুত তাবরীজিয়্যাহ ফিল আক্বীদাতিল সহীহাতুস সুন্নিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ২৫)
بقيادة قتيبة بن مسلم (1) أو إلى حران مسقط رأسه، ومقر نشأته ولذلك وقع في النفس كبير، وحران بلدة من الجزيرة، نسبت إلى حران بطن من همدان، كان بها جماعة من الفضلاء والعلماء، وهي من ديار ربيعة أو مضر، ظهر بها الصابئة وهم الحرانيون المذكورون في كتب الملل والنحل (2) ولا أظنه أراد سوى الأولى، ولا يبعد حنينه لمسقط رأسه، وما في البيت من كلمات توحي بجواز الأمرين.

 

والمربع السامي العلي سقيا له من مربع:

المربع مكان الإقامة، والربع هو المنزل، والدار بعينها، والوطن متى كان، وبأي مكان كان، ومنه قول رسول لله صلى الله عليه وسلم: (وهل ترك لنا عقيل من ربع؟ وفي رواية: من رباع) وهي المنزل ودار الإقامة (3) وقد وصفه بالسمو والعلو في المكارم، والصفات الحسنة، لأنه لا يوصف بذلك سواها، وطلب السقيا والغيث للمرابع، من أحسن الدعاء لما يتبع ذلك من خير وحسن وجمال تكتسي به المرابع من الديار.

--------------------------------------------

(1) الأنساب 2/ 100، ومعجم البلدان 1/ 353 - 255.

(2) الأنساب 2/ 240، 4/ 96، ومعجم البلدان 2/ 235.

(3) لسان العرب 8/ 102
কুতায়বা ইবন মুসলিমের (১) নেতৃত্বে, অথবা তাঁর জন্মস্থান এবং বেড়ে ওঠার স্থান হাররানের দিকে, আর এ কারণেই অন্তরে এর প্রভাব অত্যন্ত গভীর। হাররান হলো জাজিরা অঞ্চলের একটি শহর, যা হামদানের একটি শাখা হাররানের দিকে সম্বন্ধযুক্ত। সেখানে একদল গুণী ও আলেম ছিলেন। এটি রাবিআ অথবা মুদার অঞ্চলের অন্তর্ভুক্ত। সেখানে সাবেয়ীরা প্রকাশ পেয়েছিল, আর তারাই সেই হাররানি যাদের কথা 'কিতাবুল মিলাল ওয়ান নিহাল' (২)-এ উল্লেখ করা হয়েছে। আমার মনে হয় না তিনি প্রথমটি ব্যতীত অন্য কিছু বুঝিয়েছেন, তবে জন্মভূমির প্রতি তাঁর আকুলতাও অসম্ভব নয়। কবিতার চরণে এমন কিছু শব্দ রয়েছে যা উভয় সম্ভাবনার প্রতি ইঙ্গিত করে।

 

এবং উচ্চ ও সমুন্নত আবাসস্থল, সেই আবাসের জন্য বর্ষণ কাম্য:

'আল-মুরব্বা' মানে হলো বসবাসের স্থান। আর 'আর-রাব' হলো ঘর, মূল বাড়ি এবং স্বদেশ—তা যে সময়েই হোক এবং যে স্থানেই হোক। আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের বাণী থেকেও এটি প্রমাণিত: (আকীল কি আমাদের জন্য কোনো ঘরবাড়ি অবশিষ্ট রেখেছে? অন্য বর্ণনায় এসেছে: কোনো ঘরসমূহ?) এর অর্থ হলো ঘর এবং বসবাসের স্থান (৩)। তিনি একে উচ্চমর্যাদা ও চারিত্রিক শ্রেষ্ঠত্বের গুণাবলি দ্বারা বিশেষিত করেছেন, কারণ এগুলো ছাড়া অন্য কিছুকে এভাবে বর্ণনা করা যায় না। আর আবাসস্থলের জন্য বৃষ্টি ও সেচ প্রার্থনা করা সর্বোত্তম দোয়াগুলোর অন্তর্ভুক্ত; কারণ এর ফলে কল্যাণ, সৌন্দর্য এবং লাবণ্য ফিরে আসে যা দ্বারা বসতবাড়িগুলো সুশোভিত হয়।

--------------------------------------------

(১) আল-আনসাব ২/ ১০০, এবং মুজামুল বুলদান ১/ ৩৫৩ - ২৫৫।

(২) আল-আনসাব ২/ ২৪০, ৪/ ৯৬, এবং মুজামুল বুলদান ২/ ২৩৫।

(৩) লিসানুল আরব ৮/ ১০২
(খণ্ড: ১) আল মানযূমাতুত তাবরীজিয়্যাহ ফিল আক্বীদাতিল সহীহাতুস সুন্নিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ২৬)
5 - رحلت عن ذاك الفضا لا باختياري والرضا … فيا زمانا قد مضى إن عاد ماض فارجع

 

رحلت عن ذاك الفضا لا باختياري والرضا:

أي: انتقل عن مرابعه وديار نشأته، بسبب ما قضى الله من صروف الحياة، فالقدر نافذ بغير اختيار من العبد، لكنه قد يؤول به إلى الخير إما في دنياه أو في آخرته.

 

فيا زمانا قد مضى إن عاد ماض فارجع:

فيه إشارة إلى أن ما مضى لا يعود، وإن تمنى المتمني، فكأن الناظم يقول: أتمنى عودة الأيام التي عشتها في تلك المرابع، ولما لم يكن ذلك حاصلا، عدل عنه إلى ما هو واقع من عدم الرجوع، للرد على ما تتمناه نفسه بأن الماضي لا يعود، وذلك آكد في يأسها، وأقوى في إقناعها.

 

6 - واركع إذا الليل دجى ركوع خوف ورجا … وعدّ في سفن النجا إلى الفضاء الأوسع

 

هنا يكشف الناظم رحمه الله عن مراده من تلك الأمنية العديمة التحقق، فالزمان الماضي لا يعود، لا كلا ولا جزءا، وهذا يستدعي الحرص الشديد على استثمار الوقت فيما ينفع، وإلى ما تجب العناية به في استثمار
৫ - আমি সেই প্রান্তর ছেড়ে চলে এসেছি আমার ইচ্ছা বা সন্তুষ্টি ছাড়াই … হে অতীত হয়ে যাওয়া সময়, যদি অতীত ফিরে আসে তবে তুমিও ফিরে এসো।

 

আমি সেই প্রান্তর ছেড়ে চলে এসেছি আমার ইচ্ছা বা সন্তুষ্টি ছাড়াই:

অর্থাৎ: তিনি তাঁর বিচরণস্থল এবং বেড়ে ওঠার আবাসভূমি থেকে স্থানান্তরিত হয়েছেন জীবনের সেইসব পরিবর্তনের কারণে যা আল্লাহ ফয়সালা করেছেন। সুতরাং তাকদীর বান্দার ইচ্ছা ছাড়াই কার্যকর হয়, তবে এটি তার জন্য কল্যাণের দিকে নিয়ে যেতে পারে, হোক তা তার দুনিয়াতে অথবা তার আখিরাতে।

 

হে অতীত হয়ে যাওয়া সময়, যদি অতীত ফিরে আসে তবে তুমিও ফিরে এসো:

এতে এই বিষয়ের প্রতি ইঙ্গিত রয়েছে যে, যা গত হয়ে গেছে তা আর ফিরে আসে না, যদিও কোনো আকাঙ্ক্ষাকারী আকাঙ্ক্ষা পোষণ করে। যেন কাব্যকার বলছেন: আমি সেই দিনগুলোর প্রত্যাবর্তনের আকাঙ্ক্ষা করছি যা আমি সেই বিচরণস্থলে অতিবাহিত করেছি। আর যখন তা ঘটা সম্ভব নয়, তখন তিনি ফিরে না আসার বাস্তবতার দিকে ফিরে গেলেন, যাতে নিজের নফসের আকাঙ্ক্ষার প্রতিত্তোর দেওয়া যায় যে, অতীত ফিরে আসে না। এটি নফসের নিরাশার ক্ষেত্রে অধিক সুনিশ্চিত এবং তাকে বোঝানোর ক্ষেত্রে অধিক শক্তিশালী।

 

৬ - আর যখন রাত গভীর অন্ধকার হয় তখন ভয় ও আশার সাথে রুকু করো … এবং মুক্তির নৌকায় চড়ে প্রশস্ত প্রান্তরের দিকে অগ্রসর হও।

 

এখানে কাব্যকার (রহিমাহুল্লাহ) সেই অসম্ভব আকাঙ্ক্ষার পেছনে তাঁর মূল উদ্দেশ্য উন্মোচন করেছেন। কেননা অতীত সময় ফিরে আসে না, পূর্ণাঙ্গভাবেও নয় কিংবা আংশিকভাবেও নয়। আর এটি সময়ের সর্বোত্তম ব্যবহারে চরম সচেষ্ট হওয়ার দাবি রাখে যা উপকারে আসে এবং যাতে সময়ের সদ্ব্যবহারের প্রতি যত্নবান হওয়া আবশ্যক হয়...
(খণ্ড: ১) আল মানযূমাতুত তাবরীজিয়্যাহ ফিল আক্বীদাতিল সহীহাতুস সুন্নিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ২৭)
الوقت، ما فيه طاعة لله ورسوله، فإنه غراس الآخرة، وهو غراس لا تجنى ثماره إلا في يوم لا ينفع فيه مال ولا بنون إلا من أتى الله بقلب سليم، ومن أسباب السلامة حمل النفس على الطاعات وأعمال الخير، وتزكيتها من الشرور والآثام، فقد أفلح من زكاها، وقد خاب من دساها.

وقد تضمنت هذه المنظومة مباحث مهمة في عبادة واعتقاد المسلم، يجب أن يجعلها ركائز في أعماله وتصرفاته، وكل شؤون حياته:

 

‌‌المبحث الأول

المحافظة على النوافل

يقول الناظم رحمه الله:

واركع إذا الليل دجى ركوع خوف ورجا:

تجاوز الناظم رحمه الله التوجيه والإرشاد إلى المحافظة على الفرائض إيماء منه إلى أن الفرائض أمر مفروغ من وجوب المحافظة عليها، وذلك أدنى الكمال من فرّط في شيء منه هلك والعياذ بالله، أخرج البخاري من حديث طلحة بن عبيد الله رضي الله عنه يقول: جاء رجل إلى رسول الله صلى الله عليه وسلم من أهل نجد، ثائر الرأس، يسمع دوي صوته ولا يفقه ما يقول، حتى دنا، فإذا هو يسأل عن
সময়, যাতে আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের আনুগত্য রয়েছে, তা হলো পরকালের বৃক্ষরোপণ। এটি এমন এক বৃক্ষরোপণ যার ফল কেবল সেই দিনেই সংগ্রহ করা যাবে, যে দিন ধন-সম্পদ ও সন্তান-সন্ততি কোনো কাজে আসবে না—কেবল সে ব্যতীত যে আল্লাহর কাছে প্রশান্ত হৃদয় নিয়ে উপস্থিত হয়েছে। আর নিরাপত্তার অন্যতম উপায় হলো নফসকে আনুগত্য ও নেক আমলের ওপর পরিচালিত করা এবং তাকে পাপাচার ও অনিষ্ট থেকে পবিত্র করা। নিশ্চয়ই সে সফল হয়েছে যে তাকে পবিত্র করেছে, আর সে ব্যর্থ হয়েছে যে তাকে কলুষিত করেছে।

এই কাব্যগ্রন্থটি মুসলিমের ইবাদত ও আকিদার গুরুত্বপূর্ণ বিষয়সমূহ অন্তর্ভুক্ত করেছে, যা তার কর্ম, আচরণ এবং জীবনের সকল ক্ষেত্রে ভিত্তি হিসেবে নির্ধারণ করা আবশ্যক:

 

‌‌প্রথম পরিচ্ছেদ

নফল ইবাদতের প্রতি যত্নশীল হওয়া

গ্রন্থকার রাহিমাহুল্লাহ বলেন:

যখন রাত অন্ধকারাচ্ছন্ন হয়, তখন ভয় ও আশার সাথে রুকু করো:

গ্রন্থকার রাহিমাহুল্লাহ ফরয বিধানসমূহ পালনের প্রতি দিকনির্দেশনা ও উপদেশের বিষয়টি এড়িয়ে গেছেন এই ইঙ্গিত প্রদানের জন্য যে, ফরযসমূহের হেফাজত করা একটি অবধারিত বিষয়। এটি হলো পূর্ণতার সর্বনিম্ন স্তর; যে ব্যক্তি এর কোনো অংশে অবহেলা করবে সে ধ্বংস হবে, আমরা আল্লাহর কাছে এ থেকে আশ্রয় চাই। ইমাম বুখারি তালহা ইবনে উবায়দুল্লাহ রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত হাদিসে উল্লেখ করেছেন, তিনি বলেন: নজদবাসীদের মধ্য থেকে উস্কোখুস্কো চুলে এক ব্যক্তি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের কাছে আসলেন। তাঁর কণ্ঠস্বরের গুঞ্জন শোনা যাচ্ছিল, কিন্তু তিনি কী বলছিলেন তা বোঝা যাচ্ছিল না, যতক্ষণ না তিনি কাছে আসলেন। দেখা গেল তিনি জিজ্ঞাসা করছেন...
(খণ্ড: ১) আল মানযূমাতুত তাবরীজিয়্যাহ ফিল আক্বীদাতিল সহীহাতুস সুন্নিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ২৮)
الإسلام، فقال رسول الله صلى الله عليه وسلم: (خمس صلوات في اليوم والليلة) فقال: هل علي غيرها؟ قال: (لا إلا أن تطوع) قال رسول الله صلى الله عليه وسلم: (وصيام رمضان) قال هل علي غيره؟ قال: (لا إلا أن تطوع) قال: وذكر له رسول الله صلى الله عليه وسلم الزكاة، قال: هل علي غيرها؟ قال: (لا إلا أن تطوع). قال: فأدبر الرجل وهو يقول: والله لا أزيد على هذا ولا أنقص، قال رسول الله صلى الله عليه وسلم: (أفلح إن صدق) (1) هذا الرجل أقسم أنه لا يزيد على ذلك ولا ينقص، فلم يعنفه رسول الله صلى الله عليه وسلم، بل ألزم صلى الله عليه وسلم فلاحه بصدقه في عدم النقصان، لأنه أدنى الكمال، ولم يلزمه بالتطوع لأنه زيادة طاعة على الفرض، ولذلك سمي نفلا، فكأن الناظم يقول نحن متفقون على وجوب المحافظة على أدنى الكمال، ولكني أدعو إلى الكمال نفسه، وهو الزيادة على الفرض، ثم بدأ مرة أخرى بالتوجيه إلى الكمال في أعمال النوافل، إيماء منه إلى أن أدنى الكمال في النوافل هو المحافظة على السنن الراتبة، وهي ركعتين قبل صلاة الفجر، لقول عائشة رضي الله عنها: (لم يكن النبي صلى الله عليه وسلم، على شيء من النوافل، أشد منه تعاهدا على ركعتي الفجر) (2) وقولها: "كان يصلي في بيتي قبل الظهر أربعا، ثم يخرج فيصلي بالناس، ثم يدخل فيصلي ركعتين، وكان يصلي بالناس المغرب، ثم يدخل فيصلي

--------------------------------------------

(1) البخاري حديث (46).

(2) أخرجه البخاري حديث (1116) ..
ইসলাম সম্পর্কে, তখন আল্লাহর রাসূল (তাঁর ওপর আল্লাহর রহমত ও শান্তি বর্ষিত হোক) বললেন: (দিন ও রাতে পাঁচ ওয়াক্ত সালাত)। তখন তিনি বললেন: আমার ওপর কি এছাড়া অন্য কিছু আছে? তিনি বললেন: (না, তবে যদি তুমি নফল আদায় করো)। আল্লাহর রাসূল (তাঁর ওপর আল্লাহর রহমত ও শান্তি বর্ষিত হোক) বললেন: (এবং রমজানের রোজা)। সে বলল: আমার ওপর কি এছাড়া অন্য কিছু আছে? তিনি বললেন: (না, তবে যদি তুমি নফল আদায় করো)। বর্ণনাকারী বলেন: আল্লাহর রাসূল (তাঁর ওপর আল্লাহর রহমত ও শান্তি বর্ষিত হোক) তার কাছে জাকাতের কথা উল্লেখ করলেন। সে বলল: আমার ওপর কি এছাড়া অন্য কিছু আছে? তিনি বললেন: (না, তবে যদি তুমি নফল আদায় করো)। সে বলল: এরপর লোকটি এই বলতে বলতে ফিরে গেল যে: আল্লাহর কসম, আমি এর চেয়ে বাড়াব না এবং কমাব না। আল্লাহর রাসূল (তাঁর ওপর আল্লাহর রহমত ও শান্তি বর্ষিত হোক) বললেন: (সে সফল হবে যদি সত্য বলে থাকে)। (১) এই ব্যক্তি কসম করেছেন যে, তিনি এর চেয়ে বাড়াবেন না এবং কমাবেন না। ফলে আল্লাহর রাসূল (তাঁর ওপর আল্লাহর রহমত ও শান্তি বর্ষিত হোক) তাকে তিরস্কার করেননি, বরং তিনি (তাঁর ওপর আল্লাহর রহমত ও শান্তি বর্ষিত হোক) তার সফলতাকে যুক্ত করেছেন কম না করার ক্ষেত্রে তার সত্যবাদিতার সাথে। কারণ এটি হলো পূর্ণতার সর্বনিম্ন স্তর। আর তিনি তাকে নফলের ব্যাপারে বাধ্য করেননি কারণ এটি ফরজের অতিরিক্ত আনুগত্য, আর একারণেই একে নফল বলা হয়। যেন গ্রন্থকার বলছেন, আমরা পূর্ণতার সর্বনিম্ন স্তর বজায় রাখার আবশ্যকতা বিষয়ে একমত, কিন্তু আমি স্বয়ং পূর্ণতার দিকেই আহ্বান করছি, যা হলো ফরজের ওপর অতিরিক্ত ইবাদত। এরপর তিনি পুনরায় নফল ইবাদতের ক্ষেত্রে পূর্ণতার দিকে দিকনির্দেশনা শুরু করলেন, যার মাধ্যমে তিনি ইঙ্গিত করেছেন যে নফল কাজের মধ্যে পূর্ণতার সর্বনিম্ন স্তর হলো সুন্নতে রাতিবাহগুলো নিয়মিত আদায় করা, আর তা হলো ফজর সালাতের পূর্বের দুই রাকাত। আয়েশা (আল্লাহ তাঁর ওপর সন্তুষ্ট হোন)-এর বাণীর কারণে: (নবী -তাঁর ওপর আল্লাহর রহমত ও শান্তি বর্ষিত হোক- নফলসমূহের মধ্যে অন্য কোনোটির তুলনায় ফজরের দুই রাকাতের প্রতি অধিক যত্নশীল ছিলেন না)। (২) এবং তাঁর উক্তি: "তিনি যোহরের পূর্বে আমার ঘরে চার রাকাত পড়তেন, এরপর বের হয়ে মানুষকে নিয়ে সালাত আদায় করতেন, তারপর ঘরে ফিরে দুই রাকাত পড়তেন। আর তিনি মানুষকে নিয়ে মাগরিবের সালাত আদায় করতেন, এরপর ঘরে ফিরে সালাত পড়তেন..."

--------------------------------------------

(১) বুখারি, হাদিস (৪৬)।

(২) এটি বুখারি বর্ণনা করেছেন, হাদিস (১১১৬)।
(খণ্ড: ১) আল মানযূমাতুত তাবরীজিয়্যাহ ফিল আক্বীদাতিল সহীহাতুস সুন্নিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ২৯)
ركعتين، ويصلي بالناس العشاء، ويدخل بيتي فيصلي ركعتين" (1) وما ورد في حديث ابن عمر رضي الله عنه قال: "صليت مع رسول الله صلى الله عليه وسلم قبل الظهر سجدتين، وبعدها سجدتين، وبعد المغرب سجدتين، وبعد العشاء سجدتين، وبعد الجمعة سجدتين، فأما المغرب والعشاء والجمعة، فصليت مع النبي في بيته" (2) وقد عبر بالسجدتين وهو يعني ركعتين، فيكون المجموع (12) ثنتي عشرة ركعة في اليوم والليلة، وهو ما ورد في حديث أم حبيبة أنها تقول: سمعت رسول الله صلى الله عليه وسلم يقول: (من صلى اثنتي عشرة ركعة في يوم وليلة، بني له بهن بيت في الجنة) قالت أم حبيبة: فما تركتهن منذ سمعتهن من رسول الله صلى الله عليه وسلم.

وقال ابن عنبسة: فما تركتهن منذ سمعتهن من أم حبيبة.

وقال عمرو بن أوس: ما تركتهن منذ سمعتهن من عنبسة.

وقال النعمان بن سالم: ما تركتهن منذ سمعتهن من عمرو بن أوس (3).

وهذا هو الكمال في الرواتب، وأدنى الكمال في النوافل، أما الكمال في النوافل فهو الإتيان بمزيد على هذا، وهو كمال نسبي يتفاوت من شخص لآخر، على قدر ما ينال

--------------------------------------------

(1) أخرجه مسلم حديث (730).

(2) أخرجه مسلم حديث (729).

(3) أخرجه مسلم حديث (728).
দুই রাকাত, আর তিনি লোকেদের সাথে এশার সালাত আদায় করতেন এবং আমার ঘরে প্রবেশ করে দুই রাকাত সালাত পড়তেন (১)। এবং ইবনে উমর রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত হাদিসে যা এসেছে, তিনি বলেন: "আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সাথে যোহরের আগে দুই সিজদা, এরপর দুই সিজদা, মাগরিবের পরে দুই সিজদা, এশার পরে দুই সিজদা এবং জুমার পরে দুই সিজদা আদায় করেছি। তবে মাগরিব, এশা ও জুমা আমি নবীর সাথে তাঁর ঘরেই আদায় করেছি" (২)। এখানে তিনি 'দুই সিজদা' শব্দ ব্যবহার করেছেন যার অর্থ দুই রাকাত; ফলে দিন ও রাতে মোট বারো (১২) রাকাত হয়। এটিই উম্মে হাবিবা রাদিয়াল্লাহু আনহা বর্ণিত হাদিসে এসেছে যে, তিনি বলেন: আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে বলতে শুনেছি: (যে ব্যক্তি দিন ও রাতে বারো রাকাত সালাত পড়বে, তার বিনিময়ে জান্নাতে তার জন্য একটি ঘর নির্মাণ করা হবে)। উম্মে হাবিবা বলেন: আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের নিকট থেকে এটি শোনার পর কখনো তা ত্যাগ করিনি।

ইবনে আনবাসা বলেন: আমি উম্মে হাবিবার নিকট থেকে শোনার পর কখনো তা ত্যাগ করিনি।

আমর ইবনুল আউস বলেন: আমি আনবাসার নিকট থেকে শোনার পর তা আর কখনো ত্যাগ করিনি।

নুমান ইবনে সালেম বলেন: আমি আমর ইবনুল আউসের নিকট থেকে শোনার পর আর কখনো তা ত্যাগ করিনি (৩)।

আর এটিই হলো সুন্নতে রাতেবার ক্ষেত্রে পূর্ণতা এবং নফল ইবাদতের ক্ষেত্রে পূর্ণতার সর্বনিম্ন স্তর। আর নফলের ক্ষেত্রে পূর্ণতা হলো এর চেয়েও অতিরিক্ত আদায় করা, যা এক ব্যক্তি থেকে অন্য ব্যক্তির ক্ষেত্রে তার অর্জিত মাকাম অনুযায়ী আপেক্ষিকভাবে ভিন্নতর হয়ে থাকে।

--------------------------------------------

(১) এটি মুসলিম হাদিস নং (৭৩০) এ বর্ণনা করেছেন।

(২) এটি মুসলিম হাদিস নং (৭২৯) এ বর্ণনা করেছেন।

(৩) এটি মুসলিম হাদিস নং (৭২৮) এ বর্ণনা করেছেন।