(খণ্ড: ১)
আসারু তালীিলন নাসসি আলা দালালাতিহি
(পৃষ্ঠা: -)
أثر تعليل النص على دلالته القسم: أصول الفقه
الكتاب: أثر تعليل النص على دلالته
المؤلف: د أيمن علي عبد الرؤوف صالح
أصل الكتاب: رسالة ماجستير في الفقه وأصوله، الجامعة الأردنية 1417 هـ - 1996 م
الناشر: دار المعالي، عمان
الطبعة: الأولى، 1420 هـ - 1999 م
عدد الصفحات: 207
[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]
تاريخ النشر بالشاملة: 18 ربيع الآخر 1444
পাঠের (النص) কার্যকারণ নির্ধারণের (تعليل) প্রভাব তার নির্দেশনার (دلالة) ওপর বিভাগ: উসুল আল-ফিকহ (أصول الفقه)
বই: পাঠের (النص) কার্যকারণ নির্ধারণের (تعليل) প্রভাব তার নির্দেশনার (دلالة) ওপর
লেখক: ড. আইমান আলী আব্দুল রউফ সালেহ
মূল গ্রন্থ: ফিকহ এবং উসুল আল-ফিকহ (أصول الفقه) বিষয়ে মাস্টার্স থিসিস، জর্ডান বিশ্ববিদ্যালয়, ১৪১৭ হিজরি - ১৯৯৬ খ্রিস্টাব্দ
প্রকাশক: দারুল মাআলি، আম্মান
সংস্করণ: প্রথম، ১৪২০ হিজরি - ১৯৯৯ খ্রিস্টাব্দ
পৃষ্ঠা সংখ্যা: ২০৭
[বইটির পৃষ্ঠা বিন্যাস মুদ্রিত কপির অনুরূপ]
শামেলা লাইব্রেরিতে প্রকাশের তারিখ: ১৮ রবিউস সানি ১৪৪৪
(খণ্ড: ১)
আসারু তালীিলন নাসসি আলা দালালাতিহি
(পৃষ্ঠা: ১)
سلسلة الرسائل الجامعية
أثر تعليل النص على دلالته
(أو)
العلة والنص
تأليف
أيمن علي عبد الرؤوف صالح
دار المعالي
একাডেমিক থিসিস সিরিজ
নাসের (النص) কারণ দর্শানোর (تعليل) প্রভাব তার অর্থের নির্দেশকতার (دلالة) ওপর
(অথবা)
ইল্লত (العلة) এবং নাস (النص)
রচনায়
আয়মান আলী আব্দুল রউফ সালেহ
দারুল মাআলি
(খণ্ড: ১)
আসারু তালীিলন নাসসি আলা দালালাতিহি
(পৃষ্ঠা: ৪)
مقدِّمة الإصدار الإلكترونيالحمد لله، والصلاة والسلام على رسول اللَّه وآله ومن والاه، وبعد:
فهذا الكتاب، في أصله، رسالة علمية استكملتُ بها متطلبات درجة الماجستير في الفقه وأصوله من الجامعة الأردنية في العام (1996 م - 1417 هـ)، أي قبل حوالي عشرين سنة من الآن. وقد سبق طبع هذا الكتاب طبعة وحيدة في العام 1999 م - 1420 هـ، طبعته دار المعالي، في العاصمة الأردنية عمّان. ونظرًا لتعثُّر دار النشر، وإغلاقها فيما بعد، فقد أخلَّت بالتزاماتها تجاه المؤلّف حتى أني لم أرَ أيَّ نسخة للمطبوع من الكتاب إلا قبل أشهر قليلة فقط عن طريق أحد الأصدقاء في جامعة قطر، كان قد اقتنى منه نسخة في أثناء دراسته في المملكة السعودية، فاستعرتها منه آملا إعادة نشر الكتاب نشرًا إلكترونيًّا موافقًا للمطبوع منه؛ ليعمّ الانتفاع به، ولألبّي طَلب كثيرٍ من أهل العلم وطلبته الذين ما فتئوا يسألونني نُسَخًا من الكتاب.
الكتاب ذو موضوع هام؛ لأنه يرسم معالم أصولية للعلاقة الجدلية بين العلة والنص، وهي علاقة شديدة الحساسية والتعقيد، وهو من أوائل الدراسات العلمية التي تناولت هذا الموضوع الدقيق. وما تلاه من دراسات، بعد ذلك، أفاد منه بطريق مباشرة أو غير مباشرة، مع العزو والإحالة أحيانا، ودونهما في أكثر الأحيان.
ورغم أن عشرين سنة مُدّةٌ كفيلة بوجود كثير من التطورات العلمية التي تستدعي إعادة النظر في مادة الكتاب وتطويرها وتحسينها، ولا سيّما مع بحوثي المعمّقة في جناحي الاجتهاد: النصّ والعلة ـ كالقرائن والنص، وتحقيق معنى العلة، وأهل الألفاظ وأهل المعاني، وإشكالية القطع عند الأصوليين، وفوائد تعليل الأحكام، وغيرها من البحوث ـ إلا أني اخترت ألا أفعل ذلك؛ وذلك لأنّ الكتاب أصبح شيئًا من «التاريخ» الذي ينبغي أن يُحافظ عليه، ولذلك أخرجتُه في هذه النسخة الإلكترونية موافقًا للمطبوع منه في أرقام صفحاته ومادته العلمية، اللَّهم إلا بعض التحسينات الشكلية، والتصحيحات الطفيفة، ولا سيّما للأخطاء الطباعية واللغوية.
واللَّه أسأل أن ينفع به، ويقبله مني، فهو أكرم مسؤول، وأعظم مجيب، وصلى اللَّه على سيدنا محمد وعلى آله وصحبه أجمعين.
د. أيمن صالح
الدوحة
ربيع الثاني 1337 هـ/ يناير-كانون الثاني 2016 م
ইলেকট্রনিক সংস্করণের ভূমিকাসকল প্রশংসা আল্লাহর জন্য, এবং সালাত ও সালাম বর্ষিত হোক আল্লাহর রাসুল, তাঁর পরিবার-পরিজন এবং তাঁর অনুসারীদের ওপর। অতঃপর:
এই বইটি মূলত একটি গবেষণামূলক অভিসন্দর্ভ, যার মাধ্যমে আমি জর্ডান বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ১৯৯৬ খ্রিষ্টাব্দ (১৪১৭ হিজরি) সালে ফিকহ এবং উসুলুল ফিকহ বিষয়ে মাস্টার্স ডিগ্রির প্রয়োজনীয় শর্তাবলি সম্পন্ন করেছি; অর্থাৎ আজ থেকে প্রায় বিশ বছর আগে। ইতিপূর্বে ১৯৯৯ খ্রিষ্টাব্দ (১৪২০ হিজরি) সালে বইটির একটিমাত্র সংস্করণ জর্ডানের রাজধানী আম্মানের 'দারুল মাআলি' থেকে মুদ্রিত ও প্রকাশিত হয়েছিল। প্রকাশনীটি ব্যবসায়িক সংকটে পড়া এবং পরবর্তীতে বন্ধ হয়ে যাওয়ার কারণে তারা লেখকের প্রতি তাদের দায়বদ্ধতা পালনে ব্যর্থ হয়। এমনকি বইটির মুদ্রিত কোনো কপি মাত্র কয়েক মাস আগে ছাড়া আমার দেখার সুযোগ হয়নি। কাতার বিশ্ববিদ্যালয়ের আমার এক বন্ধুর মাধ্যমে এটি সম্ভব হয়েছে, যিনি সৌদি আরবে পড়াশোনাকালীন বইটির একটি কপি সংগ্রহ করেছিলেন। আমি তার কাছ থেকে এটি ধার নিই এই আশায় যে, বইটিকে মুদ্রিত সংস্করণের অনুরূপভাবে পুনরায় ইলেকট্রনিক উপায়ে প্রকাশ করব; যাতে এর উপকারিতা ব্যাপক হয় এবং আলেম সমাজ ও জ্ঞানান্বেষীদের চাহিদা পূরণ করতে পারি, যারা ক্রমাগত আমার কাছে বইটির কপির জন্য অনুরোধ করে আসছিলেন।
বইটি একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ের ওপর রচিত; কারণ এটি কার্যকারণ (العلة) এবং সুস্পষ্ট পাঠ (النص)-এর মধ্যকার দ্বান্দ্বিক সম্পর্কের মৌলিক রূপরেখা অঙ্কন করে। এটি একটি অত্যন্ত সংবেদনশীল ও জটিল সম্পর্ক। এটি সেই প্রথমদিকের বৈজ্ঞানিক গবেষণাসমূহের অন্তর্ভুক্ত যা এই সূক্ষ্ম বিষয়টি নিয়ে আলোচনা করেছে। এর পরবর্তী সময়ে যে গবেষণাসমূহ হয়েছে, তারা প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে এই বই থেকে উপকৃত হয়েছে; কখনো উৎস উল্লেখ ও উদ্ধৃতি প্রদানের মাধ্যমে, আবার অধিকাংশ ক্ষেত্রে তা ছাড়াই।
যদিও বিশ বছর অনেক দীর্ঘ সময়, যা বইটির বিষয়বস্তু পুনরায় বিবেচনা, উন্নয়ন এবং পরিমার্জনের জন্য অনেক জ্ঞানতাত্ত্বিক পরিবর্তনের দাবি রাখে; বিশেষ করে ইজতিহাদের দুই শাখা—সুস্পষ্ট পাঠ (النص) এবং কার্যকারণ (العلة) সংক্রান্ত আমার গভীর গবেষণাসমূহের প্রেক্ষিতে। যেমন: আলামত ও সুস্পষ্ট পাঠ (القرائن والنص), কার্যকারণের অর্থের বিশ্লেষণ (تحقيق معنى العلة), শব্দের অনুসারী ও অর্থের অনুসারী (أهل الألفاظ وأهل المعاني), উসুলবিদদের নিকট অকাট্যতার (القطع) সমস্যাবলি, বিধানের যৌক্তিক কারণ বর্ণনার (تعليل الأحكام) উপকারিতা এবং অন্যান্য গবেষণা—তা সত্ত্বেও আমি তা না করার সিদ্ধান্ত নিয়েছি; কারণ বইটি এখন 'ইতিহাসের' অংশে পরিণত হয়েছে যা সংরক্ষণ করা প্রয়োজন। তাই আমি একে এই ইলেকট্রনিক সংস্করণে এর পৃষ্ঠাসংখ্যা ও বৈজ্ঞানিক বিষয়বস্তুর দিক থেকে মুদ্রিত সংস্করণের হুবহু বের করেছি, তবে কিছু বাহ্যিক উন্নতি এবং সামান্য সংশোধনী আনা হয়েছে, বিশেষ করে মুদ্রণজনিত এবং ভাষাগত ভুলগুলোর ক্ষেত্রে।
আমি আল্লাহর নিকট প্রার্থনা করি যেন তিনি এর মাধ্যমে উপকার সাধন করেন এবং আমার পক্ষ থেকে এটি কবুল করেন। তিনি সর্বোত্তম প্রার্থিত এবং সর্বশ্রেষ্ঠ কবুলকারী। আল্লাহ আমাদের নেতা মুহাম্মাদ এবং তাঁর পরিবার ও সকল সাহাবীর ওপর দরুদ ও সালাম পাঠ করুন।
ড. আয়মান সালেহ
দোহা
রবিউস সানি ১৪৩৭ হিজরি / জানুয়ারি ২০১৬ খ্রিষ্টাব্দ
(খণ্ড: ১)
আসারু তালীিলন নাসসি আলা দালালাতিহি
(পৃষ্ঠা: ৫)
المقدِّمةالحمد لله، والصلاة والسلام على رسول اللَّه، وآله، ومن والاه، وبعد:
فإنّ التشريع السماوي، بما دلّ عليه من أحكام، لم يكن - بفضل اللَّه ورحمته - إلا هادفًا إلى إصلاح أمور الخلق في داريهم الأولى والآخرة، مصداقًا لقوله تعالى: {لَقَدْ أَرْسَلْنَا رُسُلَنَا بِالْبَيِّنَاتِ وَأَنْزَلْنَا مَعَهُمُ الْكِتَابَ وَالْمِيزَانَ لِيَقُومَ النَّاسُ بِالْقِسْطِ} [الحديد: 25]، ولقوله تعالى: {وَنُنَزِّلُ مِنَ الْقُرْآنِ مَا هُوَ شِفَاءٌ وَرَحْمَةٌ لِلْمُؤْمِنِينَ} [الإسراء: 82]- لاتّباعهم إياه - {وَلَا يَزِيدُ الظَّالِمِينَ إِلَّا خَسَارًا} [الإسراء: 82]- لإعراضهم عنه -، ولقوله تعالى: {إِنَّ اللَّهَ يَأْمُرُ بِالْعَدْلِ وَالْإِحْسَانِ وَإِيتَاءِ ذِي الْقُرْبَى وَيَنْهَى عَنِ الْفَحْشَاءِ وَالْمُنْكَرِ وَالْبَغْيِ يَعِظُكُمْ لَعَلَّكُمْ تَذَكَّرُونَ} [النحل: 90].
قال العز بن عبد السلام، رحمه الله: «اعلم أنّ اللَّه سبحانه وتعالى لم يشرع حكمًا من أحكامه إلا لمصلحة عاجلة أو آجلة، أو عاجلة وآجلة، تفضُّلًا منه على عباده، إذ لا حقَّ لأحد منهم عليه، ولو شرع الأحكام كلّها خليّةً عن المصالح لكان قسطًا وعدلًا كما كان شرعها للمصالح إحسانًا منه وفضلًا.
وقد وصف نفسه بأنه لطيفٌ بعباده، وأنه بالناس رؤوفٌ رحيم، وتمنَّنَ عليهم باللطف والحكمة، كما تمنَّن عليهم بالرأفة والرحمة، وأخبر أنه يريد بهم اليسر، ولا يريد بهم العسر، وأنّه بهم بَرُّ رحيم توّابٌ حكيم. وليس من آثار اللطف والرحمة واليسر والحكمة أن يكلِّف عباده المشاق بغير فائدة عاجلة ولا آجلة»
(1).
--------------------------------------------
ভূমিকাসকল প্রশংসা আল্লাহর জন্য, এবং সালাত ও সালাম বর্ষিত হোক আল্লাহর রাসূল, তাঁর পরিবারবর্গ এবং যারা তাঁর অনুসারী হয়েছেন তাদের ওপর। অতঃপর:
নিশ্চয়ই আসমানি শরিয়ত এবং এর দ্বারা নির্দেশিত বিধানাবলি — আল্লাহর অনুগ্রহ ও রহমতে — ইহকাল ও পরকাল এই উভয় জগতে সৃষ্টির কল্যাণ সাধন ছাড়া অন্য কোনো উদ্দেশ্যে আসেনি। এটি মহান আল্লাহর এই বাণীর সত্যতা স্বরূপ: {নিশ্চয়ই আমি আমার রাসূলগণকে সুস্পষ্ট প্রমাণসহ পাঠিয়েছি এবং তাদের সাথে কিতাব ও মানদণ্ড অবতীর্ণ করেছি যাতে মানুষ ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা করে} [আল-হাদিদ: ২৫], এবং আল্লাহর এই বাণীর কারণে: {আর আমি কুরআন থেকে যা অবতীর্ণ করি, তা মুমিনদের জন্য আরোগ্য ও রহমত স্বরূপ} [আল-ইসরা: ৮২] — যারা এটি অনুসরণ করে তাদের জন্য — {আর তা জালিমদের জন্য কেবল ক্ষতিই বৃদ্ধি করে} [আল-ইসরা: ৮২] — যারা এটি থেকে মুখ ফিরিয়ে নেয় তাদের জন্য — এবং আল্লাহর এই বাণীর কারণে: {নিশ্চয়ই আল্লাহ ন্যায়পরায়ণতা, সদাচরণ ও আত্মীয়-স্বজনকে দান করার নির্দেশ দেন এবং অশ্লীলতা, মন্দ কাজ (منكر) ও সীমালঙ্ঘন থেকে নিষেধ করেন। তিনি তোমাদেরকে উপদেশ দেন যাতে তোমরা শিক্ষা গ্রহণ কর} [আন-নাহল: ৯০]।
ইজ্জ বিন আবদুস সালাম (রহ.) বলেন: «জেনে রেখো, আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তায়ালা তাঁর বান্দাদের প্রতি অনুগ্রহ স্বরূপ তাঁর কোনো বিধানই পার্থিব বা পরলৌকিক কল্যাণ, অথবা উভয় জগতের কল্যাণ ব্যতীত প্রবর্তন করেননি। কেননা তাঁর ওপর বান্দাদের কারও কোনো অধিকার নেই। যদি তিনি সকল বিধান কল্যাণ ব্যতিরেকেই প্রবর্তন করতেন, তবুও তা হতো ইনসাফ ও ন্যায়বিচার; যেমনটা কল্যাণের উদ্দেশ্যে প্রবর্তন করাটা তাঁর সদাচরণ ও অনুগ্রহ।
তিনি নিজেকে বান্দাদের প্রতি কোমল এবং মানুষের প্রতি অত্যন্ত স্নেহশীল ও দয়ালু হিসেবে বর্ণনা করেছেন। তিনি তাদের প্রতি করুণা ও প্রজ্ঞার মাধ্যমে অনুগ্রহ প্রদর্শন করেছেন, যেমনটি করেছেন মমতা ও রহমতের মাধ্যমে। তিনি জানিয়েছেন যে, তিনি তাদের জন্য সহজসাধ্যতা চান এবং কঠোরতা চান না; আর তিনি তাদের প্রতি অতি দয়ালু, করুণাময়, তওবা কবুলকারী ও প্রজ্ঞাময়। কোনো পার্থিব বা পরলৌকিক উপকারিতা ছাড়া বান্দাদের কঠোর পরিশ্রমে বাধ্য করা করুণা, রহমত, সহজসাধ্যতা এবং প্রজ্ঞার বহিঃপ্রকাশ নয়»
(১)।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আসারু তালীিলন নাসসি আলা দালালাতিহি
(পৃষ্ঠা: ৬)
وانطلاقًا من هذا الأصل، وتأسيسًا عليه، لم ينظر سلف هذه الأمة وفقهاؤها إلى النصوص الشرعية، بما تنطوي عليه من أحكام، نظرة جمود على مقتضياتها اللغوية الظاهرة مجرّدة عما يكمن فيها، أو يقف وراءها، من معان مخبوءة، ومقاصدَ مُستبْطَنة. وإنما نظروا إليها - ما وسعهم الجهد - نظر المتدبِّر المستشرف إلى ما هو فوق أرضِ حرفيّةِ تلك النصوص، من أُفق المعاني المكتظّ بالدوافع والبواعث والعلل والحِكَم والمصالح المستهدَفة من تشريع الأحكام التي اشتملت عليها تلك النصوص. حتى وإن أدى بهم هذا النظر - أحيانًا كثيرة - إلى الخروج عن حرفية النص وظاهره بتخصيص عامّه، أو تقييد مُطلقه، أو إبطال مفهومه المخالف، أو صرفه من الحقيقة إلى المجاز. كلُّ ذلك سعيًا وراء البحث الدقيق عن مراد الشارع ومقصوده - على التمام - من النصوص المقرِّرة للأحكام.
و «أثر تعليل النص على دلالته» باعتباره عنوان وموضوع هذه الرسالة يخوض هذا المخاض؛ إذ إنه ليس إلا محاولة من الباحث:
أولًا: للبرهنة على شرعية دور العلة - وهي ما لأجله شُرع الحكم - في توجيه النص الشرعي وتأويله وتبيين المراد منه.
وثانيًا: لوضع ميزان دقيق يمكن من خلاله التوفيق أو الترجيح بين ما تقتضيه علّة النصّ من جهة، وبين ما يقتضيه ظاهر النصّ نفسِه من جهة أخرى، للخروج بعد ذلك بحكم شرعي صحيح.
وثالثًا: لبيان حقيقة مسألة «أثر تعليل النص على دلالته» وواقعها عند الأصوليين، قديما وحديثا، وعرض أقوالهم فيها، وأدلتهم على هذه الأقوال ومناقشة ذلك كله.
এই মূলনীতির আলোকে এবং এর ওপর ভিত্তি করেই, এই উম্মতের পূর্বসূরি (سلف) এবং ফকিহগণ (فقهاء) শরয়ি নসসমূহ (نصوص شرعية) এবং এর অন্তর্ভুক্ত বিধানগুলোকে কেবল বাহ্যিক ভাষাগত চাহিদার নিরিখে স্থবির দৃষ্টিতে দেখেননি, যেখানে এর ভেতরে নিহিত বা এর পেছনে থাকা প্রচ্ছন্ন অর্থ ও অন্তর্নিহিত উদ্দেশ্যসমূহকে (مقاصد) উপেক্ষা করা হয়। বরং তাঁরা সেগুলোর প্রতি সাধ্যমতো একজন চিন্তাশীল ও দূরদর্শী ব্যক্তির ন্যায় দৃষ্টিপাত করেছেন, যা নসের আক্ষরিক গণ্ডি ছাপিয়ে অর্থের সেই দিগন্ত পর্যন্ত বিস্তৃত, যা বিধানসমূহ প্রণয়নের লক্ষ্য-উদ্দেশ্য, প্রেষণা, কারণসমূহ (علل), হিকমত এবং জনকল্যাণ দ্বারা পরিপূর্ণ। এমনকি এই দৃষ্টিভঙ্গি অনেক সময় তাঁদেরকে নসের আক্ষরিক ও বাহ্যিক রূপ (ظاهر) থেকে বেরিয়ে এসে তার সাধারণ (عام) বিধানকে সুনির্দিষ্ট (تخصيص) করা, তার শর্তহীন (مطلق) অর্থকে শর্তযুক্ত (تقييد) করা, তার বিপরীত অর্থবোধক ধারণাকে (مفهوم المخالفة) বাতিল করা, কিংবা তাকে প্রকৃত অর্থ (حقيقة) থেকে রূপক (مجاز) অর্থের দিকে সরিয়ে নেওয়ার দিকে পরিচালিত করেছে। এই সবকিছুই বিধান নির্ধারণকারী নসসমূহ থেকে বিধানদাতার (شارع) প্রকৃত ইচ্ছা ও উদ্দেশ্য পূর্ণাঙ্গভাবে অনুসন্ধান করার সূক্ষ্ম প্রচেষ্টার অংশ ছিল।
এবং ‘নসের কারণ নিরূপণের (تعليل) প্রভাব তার অর্থপ্রকাশক ক্ষমতার (دلالة) ওপর’—যা এই গবেষণাপত্রের শিরোনাম ও মূল প্রতিপাদ্য—এই সংগ্রামেরই একটি অংশ; যেহেতু এটি গবেষকের পক্ষ থেকে কেবল একটি প্রচেষ্টা মাত্র:
প্রথমত: শরয়ি নসের দিকনির্দেশনা প্রদান, এর ব্যাখ্যা (تأويل) এবং এর উদ্দেশ্য স্পষ্ট করার ক্ষেত্রে ‘ইল্লত’ বা কারণের (علة)—যার ভিত্তিতে বিধানটি প্রণীত হয়েছে—ভূমিকার বৈধতা প্রমাণ করা।
দ্বিতীয়ত: একটি সূক্ষ্ম মানদণ্ড নির্ধারণ করা, যার মাধ্যমে একদিকে নসের কারণের (علة) দাবি এবং অন্যদিকে নসের বাহ্যিক রূপের (ظاهر) দাবির মধ্যে সমন্বয় (توفيق) সাধন বা প্রাধান্য (ترجيح) নিরূপণ করা সম্ভব হয়, যাতে এর মাধ্যমে একটি সঠিক (صحيح) শরয়ি বিধান পাওয়া যায়।
তৃতীয়ত: ‘নসের কারণ নিরূপণের (تعليل) প্রভাব তার অর্থপ্রকাশক ক্ষমতার (دلالة) ওপর’—এই মাসআলাটির প্রকৃত রূপ এবং প্রাচীন ও আধুনিক উসুলবিদগণের (أصوليون) নিকট এর বাস্তবতা স্পষ্ট করা, এ বিষয়ে তাঁদের মতামত ও দলিলসমূহ উপস্থাপন করা এবং সেগুলোর সামগ্রিক পর্যালোচনা করা।
(খণ্ড: ১)
আসারু তালীিলন নাসসি আলা দালালাতিহি
(পৃষ্ঠা: ৭)
وبكلمة، فإن هذه الرسالة تبحث في نقاط التقاطع، ونقاط التوافق، في النص الشرعي الواحد، بين ما يمكن تسميتهما بِ: «نظرية المصلحة» و «نظرية النص»، وأثر ذلك على الحكم الشرعي المستفاد من هذا النص.
ما راعيته في
منهجية البحث في هذه الرسالة:أجمله في النقاط التالية:
1 - انطلقت في عرضي فصول ومباحث هذه الرسالة من أني أخاطب بها قارئًا حصَّل شيئا من علم الأصول، ولذا فإني لم ألجأ إلى التبسيط الشديد الذي يناسب المبتدئ، ولا كذلك إلى الإجمال الذي يناسب المنتهي، وإنما ابتغيت بين ذلك سبيلا.
2 - حاولت، قدر الإمكان، تجريد الرسالة من القضايا العقلية الكلامية الجامدة، وفي الوقت نفسه، حاولت الإكثار من الأمثلة الفقهية المخرّجة على المسائل الأصولية توضيحًا لهذه المسائل من ناحية، وربطًا لهذه المسائل بواقعها وفائدتها الفقهية من ناحية أخرى.
3 - ترجمت لبعض الأعلام الواردة في الرسالة ممن ظننت احتياجهم للترجمة لعدم شهرتهم.
4 - عزوت الآيات الواردة في الرسالة إلى مواضعها من كتاب اللَّه عز وجل.
5 - خرّجتُ الأحاديث الواردة في الرسالة، فما كان منها في الصحيحين أو في أحدهما اكتفيت بعزوه إليهما أو لأحدهما، وما كان في غيرهما عزوته
সংক্ষেপে বলতে গেলে, এই গবেষণাপত্রটি একই শারয়ী নস (نص)-এর মধ্যে বিদ্যমান ছেদবিন্দু ও সামঞ্জস্যের স্থানগুলো নিয়ে আলোচনা করে, যেগুলোকে ‘মাসলাহাত তত্ত্ব’ (نظرية المصلحة) এবং ‘নস তত্ত্ব’ (نظرية النص) হিসেবে অভিহিত করা যেতে পারে; সেই সাথে উক্ত নস থেকে আহরিত শারয়ী বিধানের ওপর এর প্রভাব নিয়েও আলোকপাত করে।
এই গবেষণাপত্রের
গবেষণা পদ্ধতিতে আমি যা অনুসরণ করেছি:তা নিম্নোক্ত পয়েন্টগুলোতে সংক্ষেপে তুলে ধরছি:
১ - এই গবেষণাপত্রের অধ্যায় ও পরিচ্ছেদগুলো উপস্থাপনের ক্ষেত্রে আমি এই বিষয়টিকে ভিত্তি ধরেছি যে, আমি এমন একজন পাঠকের উদ্দেশ্যে লিখছি যিনি উসুল শাস্ত্রের (علم الأصول) কিছুটা জ্ঞান অর্জন করেছেন। তাই আমি নতুনদের জন্য প্রযোজ্য অতিরিক্ত সহজীকরণের আশ্রয় নেইনি, আবার পারদর্শীদের উপযোগী অতি-সংক্ষিপ্তকরণের পথও ধরিনি; বরং আমি এই দুয়ের মাঝামাঝি পথ অবলম্বন করেছি।
২ - আমি যথাসম্ভব এই গবেষণাপত্রটিকে অনমনীয় বুদ্ধিবৃত্তিক কালামী (كلامية) বিতর্ক থেকে মুক্ত রাখার চেষ্টা করেছি। একই সাথে, উসুল সংক্রান্ত মাসআলাগুলোর ওপর ভিত্তি করে উদ্ভাবিত (مخرجة) ফিকহি উদাহরণের আধিক্য ঘটানোর চেষ্টা করেছি; যাতে একদিকে এই মাসআলাগুলো স্পষ্ট হয় এবং অন্যদিকে বাস্তবতার সাথে এই মাসআলাগুলোর ফিকহি উপযোগিতা ও সম্পর্কের যোগসূত্র স্থাপিত হয়।
৩ - এই গবেষণাপত্রে উল্লেখিত এমন কিছু ব্যক্তিত্বের জীবনী (ترجمة) আমি তুলে ধরেছি, যাদের স্বল্প প্রসিদ্ধির কারণে তাদের পরিচিতি জানানোর প্রয়োজন রয়েছে বলে আমি মনে করেছি।
৪ - গবেষণাপত্রে উল্লেখিত আয়াতগুলোকে মহান আল্লাহর কিতাবের সংশ্লিষ্ট সূরার সাথে উদ্ধৃত করেছি।
৫ - গবেষণাপত্রে বর্ণিত হাদিসগুলোর তাখরিজ (تخريج) করেছি। যে হাদিসগুলো সহিহাইন-এ বা এর কোনো একটিতে রয়েছে, আমি কেবল সেগুলোর উদ্ধৃতি তাদের দিকেই সম্পৃক্ত করার ওপর সীমাবদ্ধ থেকেছি। আর যা অন্য কিতাবে রয়েছে, তা আমি সংশ্লিষ্ট কিতাবের উদ্ধৃতিসহ উল্লেখ করেছি।
(খণ্ড: ১)
আসারু তালীিলন নাসসি আলা দালালাতিহি
(পৃষ্ঠা: ৮)
إلى مصدر أو مصدرين ولم أستقصِ، محاولًا بيان درجة الحديث من الصحة أو الضعف بما ورد من ذلك عن أهل الحديث، فإن لم أجد لهم كلامًا، اكتفيت بالتخريج إلا في مواضع يسيرة سَهُل علي فيها الاجتهاد بالحكم على ظاهر إسناد الحديث على طريقة أهل هذا الشأن.
6 - تدخّلت أحيانًا أثناء نقل النصوص بإيراد كلام لتوضيح المراد ببعض ما غَمُض منها، وتمييزًا لكلامي عن كلام صاحب النص، جعلت كلامي بين معكوفتين على النحو التالي: [].
এক বা দুটি উৎসের প্রতি (নির্দেশ করেছি) এবং আমি পূর্ণ অনুসন্ধান করিনি; হাদিস বিশারদদের নিকট থেকে বর্ণিত বক্তব্যের আলোকে হাদিসের মান সহিহ (صحيح) নাকি জয়িফ (ضعيف) তা স্পষ্ট করার চেষ্টা করেছি। যদি আমি তাদের কোনো বক্তব্য না পাই, তবে আমি কেবল উৎস নির্দেশ (تخريج) করার মধ্যেই সীমাবদ্ধ থেকেছি; তবে এমন কিছু অল্প ক্ষেত্র ব্যতীত যেখানে এই শাস্ত্রের বিশেষজ্ঞদের পদ্ধতি অনুসরণ করে হাদিসের সনদ (إسناد)-এর বাহ্যিক অবস্থার ওপর ভিত্তি করে হুকুম প্রদানের ক্ষেত্রে ইজতিহাদ (اجتهاد) করা আমার জন্য সহজসাধ্য হয়েছে।
6 - মূল পাঠ উদ্ধৃত করার সময় অস্পষ্ট অংশগুলোর উদ্দেশ্য স্পষ্ট করার জন্য মাঝেমধ্যে আমি কিছু কথা সংযোজন করেছি। মূল লেখকের বক্তব্যের সাথে আমার বক্তব্যের পার্থক্য করার জন্য আমি আমার কথাগুলোকে এভাবে চতুষ্কোণ বন্ধনী []:-এর মধ্যে রেখেছি।
(খণ্ড: ১)
আসারু তালীিলন নাসসি আলা দালালাতিহি
(পৃষ্ঠা: ৯)
أثر تعليل النص على دلالته
الفصل الأول: التعريف بمسألة «تأثير تعليل النص على دلالته»
الفصل الثاني: «أثر تعليل النص على دلالته» في اجتهادات الصحابة رضوان اللَّه عليهم
الفصل الثالث: «تأثير تعليل النص على دلالته» عند الأصوليين
وخاتمة: في أهم نتائج هذا البحث
নصوص বা পাঠের কারণ অনুসন্ধানের (تعليل) প্রভাব তার নির্দেশক অর্থের (دلالة) ওপর
প্রথম অধ্যায়: ‘নصوص বা পাঠের কারণ অনুসন্ধানের (تعليل) প্রভাব তার নির্দেশক অর্থের (دلالة) ওপর’ বিষয়টি সম্পর্কে পরিচিতি
দ্বিতীয় অধ্যায়: সাহাবায়ে কিরামের (আল্লাহ তাঁদের প্রতি সন্তুষ্ট হন) ইজতিহাদসমূহের (اجتهادات) ক্ষেত্রে ‘নصوص বা পাঠের কারণ অনুসন্ধানের (تعليل) প্রভাব তার নির্দেশক অর্থের (دلالة) ওপর’
তৃতীয় অধ্যায়: উসুলবিদদের (الأصوليون) নিকট ‘নصوص বা পাঠের কারণ অনুসন্ধানের (تعليل) প্রভাব তার নির্দেশক অর্থের (دلالة) ওপর’
উপসংহার: এই গবেষণার গুরুত্বপূর্ণ ফলাফলসমূহ সম্পর্কে
(খণ্ড: ১)
আসারু তালীিলন নাসসি আলা দালালাতিহি
(পৃষ্ঠা: ১০)
الفصل الأول التعريف بمسألة «تأثير تعليل النص على دلالته»وسيكون ذلك في ثلاثة مباحث:
المبحث الأول: التعريف بطرفي عملية «تأثير تعليل النص على دلالته» وعلاقتهما بالحكم الشرعي
المبحث الثاني: التعريف بعملية «تأثير تعليل النص على دلالته»
المبحث الثالث: البعد الاجتهادي لمسألة «تأثير تعليل النص على دلالته»
প্রথম পরিচ্ছেদ: "নসের (النص) ইল্লত বর্ণনা (تعليل) করার প্রভাব তার দালালাত (دلالة) বা নির্দেশনার ওপর" - এই প্রসঙ্গের পরিচিতিএটি তিনটি আলোচনার (مباحث) মাধ্যমে সম্পন্ন হবে:
প্রথম আলোচনা: "নসের (النص) ইল্লত বর্ণনা (تعليل) করার প্রভাব তার দালালাত (دلالة) বা নির্দেশনার ওপর" - এই প্রক্রিয়ার উভয় পক্ষ এবং শরয়ী হুকুমের (الحكم الشرعي) সাথে তাদের সম্পর্কের পরিচিতি
দ্বিতীয় আলোচনা: "নসের (النص) ইল্লত বর্ণনা (تعليل) করার প্রভাব তার দালালাত (دلالة) বা নির্দেশনার ওপর" - এই প্রক্রিয়ার পরিচিতি
তৃতীয় আলোচনা: "নসের (النص) ইল্লত বর্ণনা (تعليل) করার প্রভাব তার দালালাত (دلالة) বা নির্দেশনার ওপর" - এই মাসআলাটির ইজতিহাদী (اجتهادي) দিকসমূহ
(খণ্ড: ১)
আসারু তালীিলন নাসসি আলা দালালাতিহি
(পৃষ্ঠা: ১১)
المبحث الأول التعريف بطرفي عملية «تأثير تعليل النص على دلالته»، وعلاقتهما بالحكم الشرعيطرفا عملية تأثير تعليل النص على دلالته هما - كما هو بادٍ لكلّ ناظر - العلة والنص، وإذا شئتَ التدقيق قلتَ: هما دلالة العلة ودلالة النص، وذلك لأن العلة من حيث هي معنى مناسب تترتب عليه مصلحة، والنص من حيث هو خطابٌ مكون من حروف، لا يؤثّر أو يتأثر أحدهما بالآخر، وإنما الذي يحصل له أو به التأثير فهو ما تدل عليه العلة أو - بعبارة أخرى - ما تقتضيه العلة، وهو كذلك في الطرف الآخر ما يدل عليه النص، أو ما يقتضيه النص.
فلذا وللتعريف بهذين الطرفين ولبيان وجه تعلق الحكم الشرعي بكل منهما كان لا بد من تضمين هذا المبحث ثلاثة مطالب هي:
المطلب الأول: التعريف بالعلة وبمقتضاها
المطلب الثاني: التعريف بالنص وبمقتضاه
المطلب الثالث: ثبوت الحكم هل هو بالعلة أو النص؟
প্রথম পরিচ্ছেদ: 'নসের (نص) দালালাতের (دلالة) ওপর এর তালিল (تعليل) বা কারণ দর্শানোর প্রভাব' প্রক্রিয়ার পক্ষদ্বয়ের পরিচয় এবং শরয়ি বিধানের (الحكم الشرعي) সাথে এগুলোর সম্পর্কের বর্ণনানসের দালালাতের (دلالة) ওপর এর তালিলের (تعليل) প্রভাব প্রক্রিয়ার পক্ষ দুটি হলো—যেমনটি প্রতিটি গবেষকের নিকট স্পষ্ট—ইল্লত (علة) এবং নস (نص)। আর আপনি যদি সূক্ষ্মভাবে বলতে চান তবে বলবেন: এই দুটি হলো ইল্লতের দালালাত (دلالة العلة) এবং নসের দালালাত (دلالة النص)। এর কারণ হলো, ইল্লত একটি সামঞ্জস্যপূর্ণ অর্থ (معنى مناسب) হওয়ার দিক থেকে যার ওপর ভিত্তি করে কোনো জনকল্যাণ (مصلحة) সাধিত হয়, আর নস বর্ণ বা অক্ষর দ্বারা গঠিত একটি সম্বোধন (خطاب) হওয়ার দিক থেকে—এদের একটি অন্যটির ওপর প্রভাব ফেলে না কিংবা অন্যটি দ্বারা প্রভাবিত হয় না। বরং প্রভাব যা দ্বারা বা যাতে ঘটে তা হলো সেই বিষয় যার ওপর ইল্লত দালালাত করে বা নির্দেশনা দেয়, অথবা অন্য কথায়—ইল্লত যা দাবি (تقتضيه) করে। একইভাবে অন্য পক্ষটির ক্ষেত্রেও তা-ই যা নস দালালাত করে বা নস যা দাবি (تقتضيه) করে।
অতএব, এই উভয় পক্ষকে পরিচিত করতে এবং প্রত্যেকের সাথে শরয়ি বিধানের (الحكم الشرعي) সংশ্লিষ্টতার ধরন স্পষ্ট করার লক্ষ্যে এই পরিচ্ছেদটিকে তিনটি অনুচ্ছেদে (مطالب) বিন্যস্ত করা আবশ্যক হয়ে পড়েছে:
প্রথম অনুচ্ছেদ: ইল্লত (علة) এবং এর দাবিকৃত বিষয়ের (مقتضاها) পরিচয়
দ্বিতীয় অনুচ্ছেদ: নস (نص) এবং এর দাবিকৃত বিষয়ের (مقتضاه) পরিচয়
তৃতীয় অনুচ্ছেদ: বিধান (حكم) সাব্যস্ত হওয়া কি ইল্লতের মাধ্যমে নাকি নসের মাধ্যমে?
(খণ্ড: ১)
আসারু তালীিলন নাসসি আলা দালালাতিহি
(পৃষ্ঠা: ১৩)
المطلب الأول التعريف بالعلة وبمقتضاهاوهو في مقصدين:
الأول: التعريف بالعلة
والثاني: التعريف بمقتضى العلة
المقصد الأول التعريف بالعلةالعلة لغة:
قيل: هي اسم لما يتغير حكم الشيء بحصوله، مأخوذٌ من العلة التي هي المرض، لأن تأثيرها في الحكم كأثر العلة في ذات المريض.
وقيل: هي مأخوذة من العَلَل بعد النَّهل، والعلل هو الشرب الثاني، والنهل هو الشرب الأول، وفي ذلك معاودة لشرب الماء مرة بعد مرة - وذلك لأن المجتهد في استخراجها يعاود النظر بعد النظر ولأن الحكم يتكرر بوجودها.
وقيل: - ولعل هذا هو الصحيح - هي عمّا لأجله يُقدم على الفعل أو يمتنع عنه، يقال: فعل الفعل لعلة كيت أو لم يفعل لعلة كيت
(1).
--------------------------------------------
প্রথম পরিচ্ছেদ: ইল্লাহ (العلة) এবং এর অনিবার্য পরিণতির (مقتضاها) পরিচিতিএটি দুটি উদ্দেশ্যের ওপর বিন্যস্ত:
প্রথম: ইল্লাহ (العلة)-এর পরিচিতি
দ্বিতীয়: ইল্লাহর অনিবার্য পরিণতির (مقتضى العلة) পরিচিতি
প্রথম উদ্দেশ্য: ইল্লাহ (العلة)-এর পরিচিতিআভিধানিক অর্থে ইল্লাহ (العلة):
বলা হয়েছে: এটি এমন এক বিষয়ের নাম যার উপস্থিতিতে কোনো বস্তুর বিধান (حكم) পরিবর্তিত হয়ে যায়। এটি 'ইল্লাহ' শব্দ থেকে গৃহীত যার অর্থ রোগ (المرض); কারণ বিধানের ওপর এর প্রভাব রোগীর সত্তার ওপর রোগের প্রভাবের মতো।
আরও বলা হয়েছে: এটি 'নাহল' (النهل)-এর পর 'আলাল' (العلل) থেকে গৃহীত। 'আলাল' হলো দ্বিতীয়বার পান করা এবং 'নাহল' হলো প্রথমবার পান করা। এর মাঝে বারবার পানি পান করার বিষয়টি বিদ্যমান—আর এটি এজন্য যে, ইল্লাহ (العلة) উদ্ঘাটনের ক্ষেত্রে মুজতাহিদ (المجتهد) বারবার চিন্তা-গবেষণা (النظر) করেন এবং এর উপস্থিতির কারণে বিধান (الحكم) পুনরাবৃত্ত হয়।
আরও বলা হয়েছে—এবং সম্ভবত এটিই সঠিক—এটি এমন বিষয় যার কারণে কোনো কাজ করা হয় অথবা তা থেকে বিরত থাকা হয়। বলা হয়: অমুক কারণে (لعلة) সে কাজটি করেছে অথবা অমুক কারণে সে কাজটি করেনি
(১)।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আসারু তালীিলন নাসসি আলা দালালাতিহি
(পৃষ্ঠা: ১৪)
العلة اصطلاحًا:
تباينت أقوال الأصوليين في «تعريف» العلة:
فعرفها بعضهم بأنها «المعنى الموجب للحكم»
(1).
واعتُرض على هذا التعريف بأنّ جعْل العلل موجبة «يؤدي إلى الشركة في الألوهية فإن الموجب في الحقيقة هو اللَّه تعالى»
(2).
فزاد بعضهم في التعريف قيدًا، وهو أن العلة هي «الموجب للحكم بجعل اللَّه تعالى»
(3)، واعتُرض عليه بأن «الحكم ليس إلا خطاب اللَّه تعالى المتعلق بأفعال المكلفين، وذلك هو كلامه القديم فكيف يُعقل كون الصفة المحدثة موجِبةً للشيء القديم، سواء أكانت الموجبيّة بالذات أو بالجعل»
(4).
وللخروج عن هذا الاعتراض وغيره لجأ بعضهم إلى تعريف العلة بأنها «باعث الشرع على الحكم أو الداعي له»
(5).
--------------------------------------------
পারিভাষিক সংজ্ঞায় ইল্লত (العلة):
‘ইল্লত’ (العلة)-এর «সংজ্ঞা» নির্ধারণে উসুলবিদগণের (الأصوليين) মধ্যে মতভেদ পরিলক্ষিত হয়:
তাদের কেউ কেউ এর সংজ্ঞা দিয়েছেন এভাবে যে, এটি হলো «এমন অর্থ যা বিধানকে (الحكم) অপরিহার্যকারী (الموجب)»
(১)।
এই সংজ্ঞার ওপর এই বলে আপত্তি করা হয়েছে যে, ইল্লতসমূহকে (العلل) অপরিহার্যকারী (موجبة) সাব্যস্ত করা «উলুহিয়্যাতে (ঈশ্বরত্বে) অংশীদারিত্বের দিকে নিয়ে যায়; কারণ প্রকৃতপক্ষে বিধানের অপরিহার্যকারী (الموجب) হলেন মহান আল্লাহ তাআলা»
(২)।
ফলে কেউ কেউ সংজ্ঞায় একটি শর্ত (قيد) যুক্ত করেছেন, আর তা হলো—ইল্লত (العلة) হলো «আল্লাহ তাআলার নির্ধারণের মাধ্যমে বিধানের (الحكم) জন্য অপরিহার্যকারী (الموجب)»
(৩); এবং এর ওপর আপত্তি করা হয়েছে যে, «বিধান (الحكم) হলো কেবল মুকাল্লাফ বা দায়বদ্ধ ব্যক্তিদের কর্মের সাথে সংশ্লিষ্ট মহান আল্লাহ তাআলার সম্বোধন, আর তা হলো তাঁর কালামে কাদীম (অনাদি বাণী)। সুতরাং কোনো সৃষ্ট বৈশিষ্ট্য (صفة محدثة) কীভাবে একটি অনাদি বিষয়ের জন্য অপরিহার্যকারী (موجبة) হতে পারে—তা সত্তাগতভাবেই হোক বা নির্ধারণের মাধ্যমেই হোক?»
(৪)।
এই আপত্তি এবং অন্যান্য আপত্তি থেকে উত্তরণের জন্য কেউ কেউ ইল্লত (العلة)-এর সংজ্ঞায় এই মত গ্রহণ করেছেন যে, এটি হলো «বিধানের (الحكم) ক্ষেত্রে শররিয়তের প্রবর্তক (باعث) বা এর প্রতি আহ্বানকারী (الداعي)»
(৫)।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আসারু তালীিলন নাসসি আলা দালালাতিহি
(পৃষ্ঠা: ১৫)
وهذا تعريف حسن مطابق للوضع اللغوي ولما يعقله الناس من معنى العلة في أفعالهم وأقوالهم إلا أنه على الرغم من ذلك لم يسلم من انتقاد بعض الأصوليين، لا سيما أولئك الذين تأثروا بمذهب الأشعري في نفي التعليل عن أفعاله سبحانه وتعالى، فقالوا: هذا التعريف يستلزم نسبة الغرض إليه سبحانه وتعالى وهو محال عليه «لأنّ من فَعَل فعلًا لغرض فلا بد وأن يكون حصول ذلك الغرض بالنسبة إليه أولى من لا حصوله، وإلا لم يكن غرضًا، وإذ كان حصول الغرض أولى وكان حصول تلك الأولوية متوقفًا على فعل ذلك الفعل كان حصول تلك الأولوية لله تعالى متوقفة على الغير، فتكون ممكنة غير واجبة لذاته ضرورةَ توقفها على الغير، فيكون كماله تعالى غير واجب لذاته، وهو باطل»
(1).
وبناء على ذلك لجأوا إلى تعريف العلة بأنها «المعرّف للحكم أو الأمارة على الحكم»
(2)، ولم يسلم هذا التعريف من اعتراض أيضًا فقال الآمدي: إذا كانت العلة «أمارة مجردة فالتعليل بها في الأصل ممتنع لوجهين:
الأول: أنه لا فائدة في الأمارة سوى تعريف الحكم، والحكم في الأصل معروف بالخطاب لا بالعلة المستنبطة منه.
الثاني: أن علة الأصل مستنبطةٌ من حكم الأصل ومتفرّعةٌ عنه فلو كانت معرَّفة لحكم الأصل لكان متوقفًا عليها ومتفرّعًا عنها وهو دورٌ ممتنع»
(3).
--------------------------------------------
وهذا تعريف حسن (حسن) مطابق للوضع اللغوي ولما يعقله الناس من معنى العلة (العلة) في أفعالهم وأقوالهم إلا أنه على الرغم من ذلك لم يسلم من انتقاد بعض الأصوليين (الأصوليين)، لا سيما أولئك الذين تأثروا بمذهب الأشعري في نفي التعليل (التعليل) عن أفعاله سبحانه وتعالى، فقالوا: هذا التعريف يستلزم نسبة الغرض (الغرض) إليه سبحانه وتعالى وهو محال عليه «لأنّ من فَعَل فعلًا لغرض (لغرض) فلا بد وأن يكون حصول ذلك الغرض (الغرض) بالنسبة إليه أولى من لا حصوله، وإلا لم يكن غرضًا (غرضًا)، وإذ كان حصول الغرض (الغرض) أولى وكان حصول تلك الأولوية متوقفًا على فعل ذلك الفعل كان حصول تلك الأولوية لله تعالى متوقفة على الغير، فتكون ممكنة (ممكنة) غير واجبة لذاته (واجبة لذاته) ضرورةَ توقفها على الغير، فيكون كماله تعالى غير واجب لذاته (واجب لذاته)، وهو باطل (باطل)»
(1).
وبناء على ذلك لجأوا إلى تعريف العلة (العلة) بأنها «المعرّف للحكم أو الأمارة (الأمارة) على الحكم»
(2)، ولم يسلم هذا التعريف من اعتراض أيضًا فقال الآمدي: إذا كانت العلة (العلة) «أمارة (أمارة) مجردة فالتعليل (التعليل) بها في الأصل ممتنع لوجهين:
الأول: أنه لا فائدة في الأمارة (الأمارة) سوى تعريف الحكم، والحكم في الأصل معروف بالخطاب لا بالعلة المستنبطة (بالعلة المستنبطة) منه.
الثاني: أن علة الأصل مستنبطةٌ (مستنبطةٌ) من حكم الأصل ومتفرّعةٌ عنه فلو كانت معرَّفة لحكم الأصل لكان متوقفًا عليها ومتفرّعًا عنها وهو دورٌ ممتنع (دورٌ ممتنع)»
(3).
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আসারু তালীিলন নাসসি আলা দালালাতিহি
(পৃষ্ঠা: ১৬)
وللخروج عن هذا الاعتراض زاد بعضهم في هذا التعريف قيدًا وهو أن العلة هي: «المعرف لحكم الفرع»
(1) لا لحكم الأصل، وبهذا يُخرج عما أورده الآمدي.
وعلى الرغم من وجود هذا القيد فإن هذا التعريف لم يسلم من جديد من الاعتراض عليه، ومن ثَمَّ جوابٌ ودفعٌ لهذا الاعتراض
(2)، وهكذا حتى غَدا معنى العلة تيهًا مُضلًّا وبحرًا مهلكًا.
والحقّ أن معنى العلة ليس هو بهذه الدرجة من التعقيد حتى ينشب فيه الخلاف ويكثر فيه الكلام؛ إذ لا يُراد بالعلة - لغة وعرفًا - أكثر من أنها المعنى الذي لأجله شُرع الحكم، ولا غضاضة في إطلاق أي من التعريفات السابقة إذا اتُفق على أنها تتضمّن هذا المعنى، قال الأستاذ محمد شلبي في كتابه «تعليل الأحكام» بعد إيراده جملة من تعريفات العلة والمراحل التي مر بها بعضها: «هذه بعض خطوات ذلك التعريف وما صادفه في طريقه من عوامل المد والجزر والأخذ والرد في جامعيته ومانعيته وتمامه ونقصانه، وهو شيء يوقفنا على مبلغ عناية هؤلاء بالألفاظ وتقاتلهم من أجل العبارات؛ الأمر الذي لم يوله الأئمة السابقون شيئًا من عنايتهم، بل لم يلتفتوا إليه بالكلية وما كانوا يفهمون في العلة أكثر من أنها: الأمر الجامع بين الأصل والفرع الذي من أجله شرع الحكم منصوصًا عليه أو غير منصوص يقول الإمام الشافعي رضي الله عنه في رسالته
(3): فإن قال قائل: فاذكر من الأخبار التي
--------------------------------------------
এই আপত্তি থেকে উত্তরণের জন্য কেউ কেউ এই সংজ্ঞায় (تعريف) একটি শর্ত যুক্ত করেছেন, আর তা হলো: কার্যকারণ (علة) হলো: «শাখার (فرع) বিধানের (حكم) পরিচয় প্রদানকারী»
(১) মূলের (أصل) বিধানের জন্য নয়। এর মাধ্যমে আল-আমিদী যা উত্থাপন করেছিলেন তা থেকে নিষ্কৃতি পাওয়া যায়।
এই শর্ত থাকা সত্ত্বেও এই সংজ্ঞাটি (تعريف) পুনরায় আপত্তির ঊর্ধ্বে থাকতে পারেনি, ফলে এই আপত্তিরও জবাব ও খণ্ডন তৈরি হয়েছে
(২); আর এভাবেই কার্যকারণের (علة) অর্থ একটি পথভ্রষ্টকারী গোলকধাঁধা এবং ধ্বংসাত্মক সমুদ্রে পরিণত হয়েছে।
সত্য কথা হলো, কার্যকারণের (علة) অর্থ এতোটা জটিল নয় যে তা নিয়ে এতো মতপার্থক্য ও দীর্ঘ আলোচনা হতে হবে; কারণ ভাষাগত ও প্রচলিত দৃষ্টিকোণ থেকে কার্যকারণ (علة) বলতে সেই তাৎপর্যকেই বোঝানো হয় যার জন্য বিধান (حكم) প্রবর্তন করা হয়েছে। যদি এই মর্মে একমত হওয়া যায় যে পূর্বোক্ত সংজ্ঞাগুলোর (تعريف) যেকোনোটি এই অর্থকেই ধারণ করে, তবে সেগুলোর যেকোনোটি প্রয়োগ করতে কোনো দ্বিধা নেই। উস্তাদ মুহাম্মদ শালবী তাঁর ‘তাইলিলুল আহকাম’ গ্রন্থে কার্যকারণের (علة) একগুচ্ছ সংজ্ঞা (تعريف) এবং এর পর্যায়ক্রমিক বিবর্তন বর্ণনা করার পর বলেন: «এটিই সেই সংজ্ঞার (تعريف) কতিপয় ধাপ এবং এর পথে আসা জোয়ার-ভাটা ও গ্রহণ-বর্জনের বিষয়গুলো, যা এর ব্যাপকতা (جامعية) ও বর্জনশীলতা (مانعية) এবং এর পূর্ণতা ও অসম্পূর্ণতার ক্ষেত্রে লক্ষণীয়। এটি এমন একটি বিষয় যা আমাদের শব্দ নিয়ে তাঁদের অতিমাত্রায় সচেতনতা এবং বাক্যের সূক্ষ্মতার লড়াই সম্পর্কে ধারণা দেয়; অথচ পূর্বসূরি ইমামগণ একে মোটেও গুরুত্ব দেননি, বরং তাঁরা এর প্রতি মোটেও ভ্রুক্ষেপ করেননি। তাঁরা কার্যকারণ (علة) বলতে এর চেয়ে বেশি কিছু বুঝতেন না যে: এটি হলো মূল (أصل) ও শাখার (فرع) মধ্যবর্তী একটি সাধারণ বিষয় যার জন্য বিধান (حكم) প্রবর্তিত হয়েছে—তা সরাসরি উল্লিখিত (منصوص) হোক বা না হোক। ইমাম শাফিঈ (রাহ.) তাঁর রিসালা গ্রন্থে বলেন
(৩): যদি কেউ প্রশ্ন করেন: তবে এমন সব হাদিস উল্লেখ করুন যা...»
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আসারু তালীিলন নাসসি আলা দালালাতিহি
(পৃষ্ঠা: ১৭)
تقيس عليها، وكيف تقيس؟ قيل له إن شاء اللَّه: كل حكم لله أو لرسوله وجدت عليه دلالة فيه أو في غيره من أحكام اللَّه أو رسوله بأنه حُكِمَ به لمعنى من المعاني فنزلت نازلة ليس فيها نصُّ حُكْمٍ حُكِمَ فيها حُكْمُ النازلة المحكوم فيها إذا كانت في معناها»
(1).
ومن هنا قال الشاطبي، وهو ميّال إلى إحياء المعاني السلفية: «وأما العلة فالمراد بها الحِكَمُ والمصالح التي تعلّقت بها الأوامر أو الإباحة، والمفاسد التي تعلقت بها النواهي، فالمشقة علة في إباحة القصر، والفطر في السفر»
(2).
والذي يمكن الخلوص إليه بعد إمعان النظر في تعريفات الأصوليين للعلة وفيما أداروا حول هذه التعريفات من نقاش هو أن خلافهم - أي الأصوليين - نشأ عن أمرين، كلاهما محدث:
أما الأمر الأول: فهو علم الكلام؛ إذ من كان مذهبه الكلامي قاضيًا بوجوب أو جواز تعليل أفعاله سبحانه وتعالى لم يأنف عن تعريف العلة بالموجب أو المؤثر أو الداعي أو الباعث، ومن كان مذهبه قاضيًا بخلاف ذلك عرّف العلّة بالمعرف وفرّ من كل تعريف سواه.
وهاهنا يحسن التنبيه إلى حقيقة مهمة وهي أن المتكلمين جميعًا معلّلين وغير معلّلين معترفون بالقياس وبكل ما تقتضيه العلة من حيث البناء الفقهي، فخلافهم ليس منصبًا على العلة من حيث هي مصلحة يحصلها الحكم الشرعي، بل الكل متفقون على أن الأحكام الشرعية تحقق مصالح وتدفع مفاسد، وإنما خلافهم منصب - في رأي البعض - على قضية وجوب رعاية
--------------------------------------------
আপনি এর ওপর ভিত্তি করে কিয়াস (قياس) করবেন, আর কিভাবে কিয়াস (قياس) করবেন? তাকে বলা হয়েছে—ইনশাআল্লাহ: আল্লাহ বা তাঁর রাসূলের প্রতিটি বিধান (حكم), যার মধ্যে বা আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের অন্য কোনো বিধানের (حكم) মধ্যে এমন কোনো নির্দেশক প্রমাণ (دلالة) পাওয়া যায় যে, তা কোনো একটি বিশেষ তাৎপর্যের (معنى) কারণে বিধিবদ্ধ হয়েছে; অতঃপর এমন কোনো উদ্ভূত সমস্যা (نازلة) দেখা দেয় যার ব্যাপারে কোনো অকাট্য পাঠ (نص) নেই, তবে সেই সমস্যার ক্ষেত্রে পূর্বের সমাধানকৃত সমস্যার বিধান (حكم) প্রয়োগ করা হবে যদি তা একই তাৎপর্যমণ্ডিত (معنى) হয়।
(1)এখান থেকেই শাতবি বলেছেন—যিনি সালাফী অর্থ ও তাৎপর্যসমূহ পুনরুজ্জীবিত করার প্রতি অনুরাগী ছিলেন: «আর কার্যকারণ (علة) বলতে সেই হিকমত (حكم) ও জনকল্যাণকে (مصالح) বোঝায় যার সাথে আদেশ (أوامر) বা বৈধতা (إباحة) সংশ্লিষ্ট, এবং সেই অপকারিতাসমূহ (مفاسد) যা নিষেধের (نواهي) সাথে সংশ্লিষ্ট। সুতরাং সফরকালীন অবস্থায় নামাজ কসর (قصر) করা এবং রোজা ভঙ্গ করার (فطر) বৈধতার (إباحة) পেছনে সফরজনিত কষ্টই হলো কার্যকারণ (علة)»
(2).
কার্যকারণ (علة) সম্পর্কে উসুলবিদদের (أصوليون) প্রদত্ত সংজ্ঞাসমূহ এবং এই সংজ্ঞাসমূহকে কেন্দ্র করে তাদের মধ্যকার আলোচনা ও বিতর্ক গভীরভাবে পর্যবেক্ষণের পর যা প্রতীয়মান হয় তা হলো, তাদের—অর্থাৎ উসুলবিদদের (أصوليون)—এই মতপার্থক্য দুটি বিষয় থেকে উদ্ভূত হয়েছে, যার উভয়টিই পরবর্তীকালে উদ্ভাবিত (محدث)।
প্রথম বিষয়টি হলো: ইলমুল কালাম (علم الكلام); কারণ যাদের কালামী মাযহাব (مذهب) মহান আল্লাহর কর্মসমূহকে কারণ দ্বারা ব্যাখ্যা করা বা তা'লীল (تعليل) করাকে ওয়াজিব বা জায়েজ মনে করে, তারা কার্যকারণকে (علة) আবশ্যককারী (موجب), প্রভাবশালী (مؤثر), প্রভাবক (داعي) বা প্রবর্তক (باعث) হিসেবে সংজ্ঞায়িত করতে কুণ্ঠাবোধ করেনি। অন্যদিকে যাদের মাযহাব (مذهب) এর বিপরীতে ছিল, তারা কার্যকারণকে (علة) কেবল পরিচয়দানকারী (معرف) হিসেবে সংজ্ঞায়িত করেছে এবং এ ছাড়া অন্য সব সংজ্ঞা এড়িয়ে চলেছে।
এখানে একটি গুরুত্বপূর্ণ সত্যের প্রতি আলোকপাত করা সমীচীন যে, কালামশাস্ত্রবিদদের (متكلمون) সবাই—চাই তারা তা'লীল (تعليل) এর প্রবক্তা হোক বা না হোক—ফেকহি কাঠামোর (بناء فقهي) প্রয়োজনে কিয়াস (قياس) এবং কার্যকারণের (علة) যাবতীয় দাবিকে স্বীকার করেন। সুতরাং তাদের মতপার্থক্য কার্যকারণের (علة) সেই সত্তার ওপর নয় যা শরয়ী বিধান (حكم شرعي) হিসেবে অর্জিত একটি জনকল্যাণ (مصلحة); বরং সবাই এই বিষয়ে একমত যে শরয়ী বিধানসমূহ জনকল্যাণ (مصالح) নিশ্চিত করে এবং অপকারিতা (مفاسد) দূর করে। কারো কারো মতে তাদের মতপার্থক্য কেবল রعاية (রক্ষণাবেক্ষণ) ওয়াজিব হওয়ার প্রসঙ্গের ওপর নিবদ্ধ।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আসারু তালীিলন নাসসি আলা দালালাতিহি
(পৃষ্ঠা: ১৮)
المصالح عليه سبحانه وتعالى، أو كون ذلك منه سبحانه وتعالى تفضلًا وإحسانًا
(1)، وعلى رأي آخر هو منصب على جواز التعبير بنسبة «الغرض» أو «البعث» إليه سبحانه وتعالى أو عدم جواز ذلك لما يوحيه من النقص
(2)، قال الألوسي المفسِّر، رحمه الله: «الحق الذي لا محيص عنه أن أفعاله سبحانه وتعالى معللة بمصالح العباد، مع أنه سبحانه لا يجب عليه الأصلح، ومن أنكر تعليل بعض الأفعال - لا سيما الأحكام الشرعية كالحدود - فقد كاد أن ينكر النبوة كما قاله مولانا صدر الشريعة، والوقوف على ذلك في كل محل لا يلزم، على أن بعضهم يجعل الخلاف في المسألة لفظيًا لأن العلة إن فُسِّرت بما يتوقف عليه ويستكمل به الفاعل، امتنع ذلك في حقه سبحانه، وإن فسِّرت بالحكمة المقتضية للفعل ظاهرًا مع الغنى الذاتي فلا شبهة في وقوعها، ولا ينكر ذلك إلا جهول أو معاند»
(3).
وعليه - وكما هو في واقع الأمر - فالخلاف بين المتكلمين في تعليل أفعاله سبحانه وتعالى، ليس له ثمرة في الواقع الفقهي أو حتى الأصولي، وإنما هو - على فرض التسليم بأنه خلاف معنوي لا لفظي - خلاف في فرع من فروع الاعتقاد الكلامية المبتدعة؛ لذلك لا غضاضة في القول بلزوم محو هذه المسألة من علم أصول الفقه والاقتصار على بحثها في علم الكلام. قال الشاطبي، رحمه الله: «كل مسألة مرسومة في أصول الفقه لا ينبني عليها فروع فقهية أو آداب شرعية، أو لا تكون عونًا في ذلك - فوضعها في أصول الفقه عارية»
(4).
--------------------------------------------
মহা মহিমান্বিত আল্লাহর প্রতি মাসলাহাত বা জনকল্যাণ ন্যস্ত থাকা, অথবা তাঁর পক্ষ থেকে বিষয়গুলো অনুগ্রহ ও ইহসান হিসেবে গণ্য হওয়া
(১)। অন্য এক মতানুসারে, এটি মহিমান্বিত আল্লাহর ক্ষেত্রে 'উদ্দেশ্য' বা 'প্রেরণা' শব্দটি ব্যবহারের বৈধতা বা অবৈধতা সম্পর্কিত; কারণ এটি অপূর্ণতার ইঙ্গিত দিতে পারে
(২)। মুফাসসির আল-আলুসি (রহ.) বলেন: "অনিবার্য সত্য এই যে, মহিমান্বিত আল্লাহর কার্যাবলি বান্দাদের কল্যাণের হেতুযুক্ত (معللة), যদিও আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআলার ওপর 'আসল্লাহ' (সবচেয়ে কল্যাণকর কাজ) আবশ্যক নয়। আর যে ব্যক্তি কিছু কার্যাবলির কারণ বা হেতু বিশ্লেষণ — বিশেষত হুদূদ (দণ্ডবিধি)-এর মতো শরয়ি বিধানাবলির হেতু বিশ্লেষণ (تعليل) — অস্বীকার করে, সে নবুয়ত অস্বীকার করার উপক্রম করে, যেমনটি আমাদের মাওলানা সদরুশ শারিয়াহ বলেছেন। আর প্রতিটি ক্ষেত্রে এই কারণ অবগত হওয়া আবশ্যক নয়। তদুপরি, কেউ কেউ এই মাসআলার বিরোধকে শাব্দিক মনে করেন; কারণ যদি কারণকে (العلة) এমনভাবে ব্যাখ্যা করা হয় যার ওপর কর্তা নির্ভরশীল বা যার দ্বারা কর্তা পূর্ণতা লাভ করেন, তবে আল্লাহর ক্ষেত্রে তা অসম্ভব। আর যদি এর ব্যাখ্যা এমন হিকমত (প্রজ্ঞা) দ্বারা করা হয় যা বাহ্যিকভাবে কাজটির দাবি রাখে এবং যা আল্লাহর সত্তাগত অমুখাপেক্ষিতার সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ, তবে তা সংঘটিত হওয়ার ব্যাপারে কোনো সন্দেহ নেই। কেবল অজ্ঞ বা হঠকারী ব্যক্তিই তা অস্বীকার করতে পারে"
(৩)।
এর প্রেক্ষিতে — এবং বাস্তব অবস্থাও তাই — মহিমান্বিত আল্লাহর কার্যাবলির হেতু বিশ্লেষণ (تعليل) নিয়ে মুতাকাল্লিমদের (ইলমে কালাম শাস্ত্রবিদ) মধ্যকার এই মতভেদের কোনো বাস্তব ফলাফল ফিকহ বা এমনকি উসূলে ফিকহের ক্ষেত্রেও নেই। বরং এটি — যদি তর্কের খাতিরে মেনেও নেওয়া হয় যে এটি শাব্দিক নয় বরং অর্থগত বিরোধ — ইলমে কালামের নবউদ্ভাবিত আকিদাগত শাখাগুলোর একটি। অতএব, উসূলে ফিকহ শাস্ত্র থেকে এই মাসআলাটি বাদ দিয়ে কেবল ইলমে কালামে এর আলোচনা সীমাবদ্ধ রাখার কথা বললে কোনো দোষ নেই। ইমাম শাতিবি (রহ.) বলেন: "উসূলে ফিকহে বর্ণিত এমন প্রতিটি মাসআলা যার ওপর কোনো ফিকহি শাখা বা শরয়ি আদব গড়ে ওঠে না, অথবা যা এসব ক্ষেত্রে সহায়ক নয় — উসূলে ফিকহে তার স্থান দেওয়াটা এক প্রকার নিরর্থক বিষয় মাত্র"
(৪)।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আসারু তালীিলন নাসসি আলা দালালাতিহি
(পৃষ্ঠা: ১৯)
وأمّا الأمر الآخر الذي جعل الأصوليين يختلفون في تعريف العلة ويتجادلون فيه هو: ما ألزموه أنفسهم من صناعة الحدود الجامعة المانعة، فكان هذا مثارًا للبحث والجدال لا في تعريف العلة فحسب بل في كثير من المفاهيم العلمية، فتجد الكم الهائل من الجدال في تعريف الحكم الشرعي وأنواعه المختلفة، وتعريف الأمر والنهي، والعام والخاص، وتعريف القياس، وغير ذلك من الأمور التي كثر فيها الأخذ والرد بما تستحق أحيانًا وبما لا تستحق في غالب الأحيان، حتى تضخم علم الأصول وتعقّد فعَسُر على المبتدئ وُلوجُه وعلى المنتهي حفظُه والإحاطة به.
وصناعة الحدود أو التعريفات والجدال فيها لا ينتمي إلى منهج السلف بنسب ولا ولاء، إنما هو شيء أحدثه المناطقة؛ قال الشاطبي، رحمه الله: «إن ما يتوقف عليه معرفة المطلوب قد يكون له طريق تقريبيٌّ يليق بالجمهور، وقد يكون له طريق لا يليق بالجمهور. فأما الأول: فهو المطلوب المنبَّه عليه كما إذا طلب معنى المَلَك فقيل: «إنه خلق من خلق اللَّه يتصرف في أمره»، أو معنى الإنسان فقيل: «إنه هو هذا الذي أنت من جنسه»، أو معنى الكوكب فقيل: «هذا الذي نشاهده بالليل»، ونحو ذلك، فيحصل فهم الخطاب مع هذا الفهم التقريبي حتى يمكن الامتثال.
وعلى هذا وقع البيان في الشريعة كما قال صلى الله عليه وسلم: "الكبر بطر الحق وغمط الناس"
(1) ففسره بلازمه الظاهر لكل أحد وكما نفسر ألفاظ القرآن والحديث بمرادفاتها لغةً من حيث كانت أظهر في الفهم منها، وهي عادة العرب والشريعة عربية، ولأن الأمة أمية فلا يليق بها من البيان إلا الأمي
…--------------------------------------------
আর অন্য বিষয়টি যা উসুলবিদদের (الأصوليون) ইল্লত (العلة) বা কারণের সংজ্ঞার বিষয়ে ভিন্নমত পোষণ করতে এবং এ নিয়ে বিতর্কে লিপ্ত হতে বাধ্য করেছে তা হলো: তারা নিজেদের ওপর 'জামে' ও 'মানি' (الجامعة المانعة) বা পূর্ণাঙ্গ ও ব্যাবর্তক সংজ্ঞা তৈরির যে আবশ্যকতা আরোপ করেছিলেন তা। এটি কেবল ইল্লতের (العلة) সংজ্ঞার ক্ষেত্রেই নয়, বরং অনেক বৈজ্ঞানিক ধারণার ক্ষেত্রেও অনুসন্ধান ও বাদানুবাদের কেন্দ্রবিন্দু ছিল। ফলে আপনি শরয়ী বিধান (الحكم الشرعي) ও এর বিভিন্ন প্রকারের সংজ্ঞা, আদেশ ও নিষেধ (الأمر والنهي), সাধারণ ও বিশেষ (العام والخاص), কিয়াসের (القياس) সংজ্ঞা এবং অন্যান্য বিষয়ের ক্ষেত্রে বাদানুবাদের এক বিশাল পাহাড় দেখতে পাবেন, যেখানে কখনও কখনও যতটুকু প্রয়োজন ততটুকু আলোচনা হয়েছে, আবার অধিকাংশ ক্ষেত্রে অহেতুক বাদানুবাদ করা হয়েছে। এমনকি এর ফলে উসুল শাস্ত্র (علم الأصول) অতিমাত্রায় বৃদ্ধি ও জটিল হয়ে ওঠে, যা একজন প্রাথমিক শিক্ষার্থীর জন্য প্রবেশ করা এবং একজন দক্ষ আলেমের পক্ষে তা মুখস্থ রাখা ও পূর্ণ আয়ত্ত করা দুঃসাধ্য হয়ে পড়ে।
সংজ্ঞা বা সংজ্ঞায়ন পদ্ধতি এবং এ নিয়ে বিতর্ক করা কোনোভাবেই সালাফদের পদ্ধতির (منهج السلف) সাথে সম্পৃক্ত নয়; বরং এটি যুক্তিবিদদের (المناطقة) উদ্ভাবিত একটি বিষয়। ইমাম শাতিবি (রহিমাহুল্লাহ) বলেন: «উদ্দিষ্ট বিষয় বা লক্ষ্যবস্তু জানার জন্য কখনও এমন একটি নিকটবর্তী বা সহজ পথ থাকতে পারে যা সাধারণ মানুষের জন্য উপযোগী, আবার কখনও এমন পথ হতে পারে যা সাধারণের উপযোগী নয়। প্রথমটি হলো সেই কাঙ্ক্ষিত বিষয় যার প্রতি ইঙ্গিত করা হয়; যেমন যখন ফেরেশতার অর্থ জানতে চাওয়া হয় তখন বলা হয়: 'তিনি আল্লাহর সৃষ্টিসমূহের মধ্যে এমন এক সৃষ্টি যিনি তাঁর নির্দেশ পালন করেন', অথবা মানুষের অর্থ জানতে চাইলে বলা হয়: 'সে হলো এই সত্তা যার স্বজাতীয় আপনি নিজেও', অথবা নক্ষত্রের অর্থ জানতে চাওয়া হলে বলা হয়: 'এটি সেই বস্তু যা আমরা রাতে দেখতে পাই', এবং এই জাতীয় অন্যান্য বিষয়। এই সহজবোধ্য ধারণার মাধ্যমেই সম্বোধনের উদ্দেশ্য অর্জিত হয়, এমনকি এর মাধ্যমে নির্দেশ পালনও সম্ভব হয়।
আর এই পদ্ধতির ওপর ভিত্তি করেই শরিয়তের বর্ণনা বা ব্যাখ্যা প্রদান করা হয়েছে, যেমন রাসুলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেন: "অহংকার হলো সত্যকে অস্বীকার করা এবং মানুষকে তুচ্ছজ্ঞান করা"
(১)। এখানে তিনি অহংকারকে এমন একটি অনিবার্য লক্ষণ দ্বারা ব্যাখ্যা করেছেন যা প্রত্যেকের নিকট স্পষ্ট। ঠিক যেভাবে আমরা কুরআন ও হাদিসের শব্দাবলিকে ভাষায় এর সমার্থক শব্দ দিয়ে ব্যাখ্যা করি যেহেতু তা অনুধাবনের ক্ষেত্রে মূল শব্দের চেয়ে বেশি স্পষ্ট হয়ে থাকে। আর এটিই আরবদের স্বভাব এবং শরিয়তও আরবি ভাষায় অবতীর্ণ। যেহেতু এই উম্মত ছিল নিরক্ষর, তাই তাদের জন্য সহজবোধ্য বা নিরক্ষর রীতি ছাড়া অন্য কোনো বর্ণনাশৈলী মানানসই ছিল না
…--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আসারু তালীিলন নাসসি আলা দালালাতিহি
(পৃষ্ঠা: ২০)
وأما الثاني: وهو ما لا يليق بالجمهور، فعدم مناسبته أخرجه عن اعتبار الشرع له، لأن مسالكه صعبة المرام، وما جعل عليكم في الدين من حرج، كما إذا طلب معنى الملك فأُحيل به على معنى أغمض منه وهو: "ماهية مجرّدة عن المادة أصلًا" أو يقال: "جوهر بسيط ذو نهاية ونطق عقلي" أو طلب معنى الإنسان فقيل هو "الحيوان الناطق المائت" وما أشبه ذلك من الأمور التي لا تعرفها العرب ولا يوصل إليها إلا بعد قطع أزمنة في طلب تلك المعاني ومعلوم أن الشارع لم يقصد إلى هذا ولا كلّف به»
(1).
المقصد الثاني التعريف بمقتضى العلةالاقتضاء هو الاستلزام أو التطلّب
(2). ومقتضى العلّة هو ما تستلزمه أو تتطلبه العلة، أو إن شئتَ قلتَ: ما تدل عليه العلة، وذلك كما نقول: مقتضى الأمر الوجوب أي: ما يدل عليه هو الوجوب، أو ما يستلزمه هو الوجوب.
والذي تقتضيه العلة - إذا ثبتت لأحد الأحكام بمسلك صحيح - أمران:
أحدهما: ثبوت هذا الحكم لكل محل توجد فيه هذه العلة، وهذا ناشئ عما يعبر عنه الأصوليون بـ «اطراد العلّة»
(3) أو «العموم العقلي للعلة»
(4).
--------------------------------------------
আর দ্বিতীয় বিষয়টি হলো: যা জনসাধারণের জন্য অনুপযুক্ত; এর অসামঞ্জস্যতা একে শরিয়তের বিবেচনার বাইরে নিয়ে গেছে। কারণ এর পথগুলো অত্যন্ত দুর্গম, আর আল্লাহ দ্বীনের ব্যাপারে তোমাদের ওপর কোনো সংকীর্ণতা চাপিয়ে দেননি। যেমন যদি কেউ ফেরেশতার অর্থ জানতে চায় এবং তাকে এর চেয়েও জটিল একটি অর্থের দিকে ফিরিয়ে দেয়া হয়, যা হলো: "এমন এক সত্তা যা মৌলিকভাবে জড় পদার্থ থেকে মুক্ত" অথবা বলা হয়: "এক সরল উপাদান যা সসীম এবং বুদ্ধিবৃত্তিক বাগ্মিতা সম্পন্ন"। কিংবা মানুষের অর্থ জানতে চাইলে বলা হয় যে সে হলো "মননশীল মরণশীল প্রাণী"। এই জাতীয় বিষয়গুলো আরবদের জানা ছিল না এবং দীর্ঘ সময় ব্যয় করে এই অর্থগুলো অনুসন্ধান করা ছাড়া এগুলোতে পৌঁছানো সম্ভব নয়। এটি সর্বজনবিদিত যে, বিধানদাতা (الشارع) এমন উদ্দেশ্য করেননি এবং এর দায়িত্বও অর্পণ করেননি।
(১).
দ্বিতীয় উদ্দেশ্য: ইল্লত বা কারণের দাবি (مقتضى العلة) সম্পর্কে পরিচিতিদাবি (الاقتضاء) বলতে অপরিহার্যতা বা চাহিদাকে বোঝায়
(২)। আর ইল্লত বা কারণের দাবি (مقتضى العلّة) হলো যা সেই ইল্লত বা কারণটি অপরিহার্য করে বা দাবি করে। অথবা আপনি চাইলে বলতে পারেন: যা সেই ইল্লত বা কারণটি নির্দেশ করে। যেমন আমরা বলি: নির্দেশের (الأمر) দাবি হলো ওয়াজিব বা আবশ্যকতা (الوجوب), অর্থাৎ এটি যা নির্দেশ করে তা হলো ওয়াজিব বা আবশ্যকতা (الوجوب), অথবা যা এটি অপরিহার্য করে তা হলো ওয়াজিব বা আবশ্যকতা (الوجوب)।
আর একটি ইল্লত বা কারণ (العلة) যখন কোনো বিধানের (الأحكام) জন্য সঠিক (صحيح) পন্থায় সাব্যস্ত হয়, তখন সেটি দুটি বিষয় দাবি করে:
প্রথমটি: এই ইল্লত বা কারণ (العلة) যেখানেই পাওয়া যাবে, সেখানেই এই বিধানটি সাব্যস্ত হওয়া। এটি মূলত সেই বিষয় থেকে উদ্ভূত যাকে উসুলবিদগণ (الأصوليون) 'ইল্লতের ধারাবাহিকতা বা ব্যাপ্তি' (اطراد العلّة)
(৩) অথবা 'ইল্লতের বুদ্ধিবৃত্তিক সাধারণতা' (العموم العقلي للعلة)
(৪) হিসেবে অভিহিত করেন।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আসারু তালীিলন নাসসি আলা দালালাতিহি
(পৃষ্ঠা: ২১)
والآخر: انتفاء هذا الحكم عن كل محل لا تتحقق فيه هذه العلّة.
وهذا ناشئ عما يعبر عنه الأصوليون بـ «انعكاس العلة»
(1) أو «المفهوم المخالف للعلة»
(2).
فالمقتضى الأول موجب للحكم والمقتضى الآخر سالبٌ للحكم، وفيما يلي شرح لهذين المقتضيين بشيء من التفصيل:
أولًا: مقتضى اطراد العلة:
معناه: ثبوت حكم العلة في كل محل تتحقق فيه.
وبيان ذلك: أنه إذا تقرر أن حكمًا من الأحكام الشرعية ثبت في محل من المحال لعلة من العلل، كما لو قيل بتحريم قضاء القاضي حالة الغضب لما في ذلك من تشوش الفكر الحائل دون الإصابة في الحكم - فإنّ مقتضى اطراد العلة هذه - وهي تشوش الفكر - هو ثبوت حكمها، وهو في المثال التحريم، لجميع المحال التي تتحقق فيها هذه العلة.
فيحرم بناءً على هذا المقتضى القضاء حالة الألم المفرط، أو الجوع المفرط، أو النعاس المفرط، أو الحزن المفرط، وغير ذلك من المحال التي تتحقق فيها العلة.
الفرق بين مقتضى اطراد العلة وبين القياس:
فإن قيل: فما الفرق بين مقتضى اطراد العلة وبين القياس مع أنهما في النتيجة يشتركان في كونهما إلحاق واقعة مسكوت عنها بأخرى منصوص عليها إذا اشتركتا في العلّة المقتضية للحكم؟
--------------------------------------------
এবং অপরটি হলো: এমন প্রতিটি ক্ষেত্র থেকে এই বিধানটি অপসারিত হওয়া যেখানে এই ইল্লাত বা কারণটি (علة) বিদ্যমান নেই।
আর এটি সেই বিষয় থেকে উদ্ভূত হয়েছে যাকে উসুলবিদগণ ‘ইল্লাতের বিপরীতমুখিতা’ (انعكاس العلة)
(১) বা ‘ইল্লাতের বিপরীত মর্ম’ (المفهوم المخالف للعلة)
(২) হিসেবে ব্যক্ত করেন।
প্রথম দাবিটি বিধানকে সাব্যস্তকারী (موجب) এবং দ্বিতীয় দাবিটি বিধানকে নেতিবাচককারী (سالب)। নিম্নে এই দুটি দাবির (مقتضيين) বিস্তারিত ব্যাখ্যা প্রদান করা হলো:
প্রথমত: ইল্লাতের অবিচ্ছিন্নতার দাবি (مقتضى اطراد العلة):
এর অর্থ হলো: ইল্লাত বা কারণের বিধানটি এমন প্রতিটি ক্ষেত্রে সাব্যস্ত হওয়া যেখানে সেটি বিদ্যমান।
এর ব্যাখ্যা হলো: যখন এটি সাব্যস্ত হয় যে কোনো একটি শরয়ি বিধান কোনো নির্দিষ্ট ক্ষেত্রে কোনো একটি ইল্লাত বা কারণের (علة) ভিত্তিতে প্রতিষ্ঠিত হয়েছে—যেমন যদি বলা হয় যে, রাগান্বিত অবস্থায় বিচারকের বিচারকার্য পরিচালনা করা হারাম, কারণ এতে চিন্তার বিক্ষিপ্ততা তৈরি হয় যা সঠিক সিদ্ধান্তে পৌঁছাতে বাধা দেয়—তবে এই ইল্লাত বা কারণটির—যা হলো চিন্তার বিক্ষিপ্ততা—অবিচ্ছিন্নতার দাবি (مقتضى اطراد العلة) হলো এর বিধান সাব্যস্ত হওয়া (যা এই উদাহরণে ‘হারাম’ হওয়া) এমন সকল ক্ষেত্রের জন্য যেখানে এই ইল্লাতটি (علة) পাওয়া যাবে।
এই দাবির (مقتضى) ভিত্তিতে তীব্র যন্ত্রণা, প্রচণ্ড ক্ষুধা, চরম তন্দ্রাচ্ছন্নতা কিংবা অত্যধিক দুঃখ-বেদনার অবস্থায় বিচারকার্য পরিচালনা করা হারাম হবে, এবং অনুরূপ অন্যান্য ক্ষেত্রেও যেখানে এই ইল্লাতটি (علة) বিদ্যমান।
ইল্লাতের অবিচ্ছিন্নতার দাবি (مقتضى اطراد العلة) এবং কিয়াসের (القياس) মধ্যে পার্থক্য:
যদি বলা হয়: ইল্লাতের অবিচ্ছিন্নতার দাবি (مقتضى اطراد العلة) এবং কিয়াসের (القياس) মধ্যে পার্থক্য কী, অথচ ফলাফলের দিক থেকে উভয়টিই এই বিষয়ে এক যে, যে ঘটনার ব্যাপারে শরয়ি মৌনতা অবলম্বন করা হয়েছে (مسكوت عنها) তাকে এমন ঘটনার সাথে যুক্ত করা হয় যার ব্যাপারে নস বা পাঠ (منصوص عليها) বিদ্যমান, যদি উভয়টি বিধানের দাবিদার ইল্লাত বা কারণের (علة) ক্ষেত্রে অংশীদার হয়?
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আসারু তালীিলন নাসসি আলা দালালাতিহি
(পৃষ্ঠা: ২২)
فالجواب: نعم، هما من حيث النتيجة سيّان؛ إذ لا اختلاف بين الحكم بالقياس في واقعة ما وبين الحكم بمقتضى اطراد العلة في الواقعة ذاتها بل هما يؤديان الغرض نفسه ويثبتان الحكم نفسه، وإنما يكمن الفرق بينهما - ولم أرَ من نبّه على ذلك - في طريقة إجراء كل منهما من قِبَل المجتهد وذلك من وجهين:
الأول: أن المجتهد حين إجرائه القياس يبتدئُ النظر في الواقعة المسكوت عنها ليلحقها بما يشابهها من الوقائع المنصوص عليها، وهذا بخلاف حاله إذا أراد أن يحكم بمقتضى اطراد العلة، فإن نظره إذ ذاك، ينصب بادئ ذي بدء على الواقعة المنصوص عليها ليستنبط منها العلة ثم ليعمم حكمها في جميع الوقائع المسكوت عنها التي تتحقق فيها هذه العلة.
فالقياس - على ذلك - يبدأ بالمسكوت عنه، والحكم بمقتضى اطراد العلّة يبدأ بالمنطوق به.
والوجه الثاني: أن المجتهد حين إجرائه القياس ينظر في إلحاق واقعة مفردة مسكوت عنها بأخرى منصوص عليها وأما في مقتضى اطراد العلة فينظر في إلحاق عموم الوقائع المسكوت عنها والتي تتحقق فيها العلة بحكم الواقعة المنصوص عليها التي أُخذت منها هذه العلة.
وعليه فمقتضى اطراد العلة هو حكم بجملة من الأقيسة في آن واحد دفعة واحدة واللَّه أعلم.
عموم العلة وعموم اللفظ والفرق بينهما:
والحكم بمقتضى اطراد العلة أو - بعبارة أخرى - بمقتضى عموم العلة، بما هو تتبع لمحال تحقق العلة لإلصاق حكمها بهذه المحال، كالعموم اللفظي الذي
উত্তর হলো: হ্যাঁ, ফলাফলের দিক থেকে উভয়ই অভিন্ন; যেহেতু কোনো নির্দিষ্ট ঘটনায় কিয়াস (القياس) এর মাধ্যমে বিধান প্রদান করা এবং একই ঘটনায় ইল্লতের ধারাবাহিকতা বা ব্যাপ্তির (اطراد العلة) দাবি অনুযায়ী বিধান প্রদান করার মধ্যে কোনো পার্থক্য নেই। বরং উভয়ই একই উদ্দেশ্য পূরণ করে এবং একই বিধান সাব্যস্ত করে। তবে উভয়ের মধ্যে পার্থক্য—যা আমি কাউকে সতর্ক করতে দেখিনি—মুজতাহিদ (المجتهد) কর্তৃক এ দুটি প্রয়োগের পদ্ধতির মধ্যে নিহিত, যা দুটি দিক থেকে দৃশ্যমান:
প্রথমত: মুজতাহিদ (المجتهد) যখন কিয়াস (القياس) প্রয়োগ করেন, তখন তিনি প্রথমে সেই অনুক্ত বিষয়টি (المسكوت عنه) নিয়ে চিন্তা শুরু করেন যেটির বিধান বর্ণিত নেই, যাতে তিনি একে দলিলে বর্ণিত (المنصوص عليه) কোনো সদৃশ বিষয়ের সাথে যুক্ত করতে পারেন। এটি সেই পরিস্থিতির বিপরীত যখন তিনি ইল্লতের ধারাবাহিকতা বা ব্যাপ্তির (اطرাদ العلة) দাবি অনুযায়ী বিধান দিতে চান। কারণ তখন তাঁর দৃষ্টি শুরুতেই নিবদ্ধ হয় দলিলে বর্ণিত (المنصوص عليه) বিষয়ের ওপর, যাতে তিনি সেখান থেকে ইল্লত (العلة) উদ্ভাবন করতে পারেন এবং এরপর সেই সমস্ত অনুক্ত বিষয়ের ওপর এর বিধানকে ব্যাপক করতে পারেন যেগুলোতে এই ইল্লত (العلة) বিদ্যমান।
অতএব, কিয়াস (القياس) শুরু হয় অনুক্ত বিষয় (المسكوت عنه) থেকে, আর ইল্লতের ধারাবাহিকতা বা ব্যাপ্তির (اطراد العلة) দাবি অনুযায়ী হুকুম প্রদান শুরু হয় দলিলে সরাসরি বর্ণিত বিষয় (المنطوق به) থেকে।
দ্বিতীয় দিক: মুজতাহিদ (المجتهد) যখন কিয়াস (القياس) প্রয়োগ করেন, তখন তিনি একটি একক অনুক্ত ঘটনাকে দলিলে বর্ণিত অন্য একটি ঘটনার সাথে সংযুক্ত করার বিষয়টি বিবেচনা করেন। কিন্তু ইল্লতের ধারাবাহিকতা বা ব্যাপ্তির (اطراد العلة) দাবির ক্ষেত্রে তিনি সেই সমস্ত সাধারণ অনুক্ত ঘটনার সমষ্টিকে দলিলে বর্ণিত বিষয়ের বিধানের সাথে সংযুক্ত করার বিষয়টি বিবেচনা করেন, যেগুলোতে সেই ইল্লত (العلة) পাওয়া যায় যা মূল বর্ণিত বিষয় থেকে গৃহীত হয়েছে।
এর ভিত্তিতে, ইল্লতের ধারাবাহিকতা বা ব্যাপ্তির (اطراد العلة) দাবি হলো একই সময়ে ও একযোগে একগুচ্ছ কিয়াসের (القياس) মাধ্যমে বিধান প্রদান করা। আল্লাহই সর্বজ্ঞ।
ইল্লতের ব্যাপকতা (عموم العلة) ও শব্দের ব্যাপকতা (عموم اللفظ) এবং উভয়ের মধ্যে পার্থক্য:
ইল্লতের ধারাবাহিকতা বা ব্যাপ্তির (اطراد العلة) দাবি অনুযায়ী বিধান দেওয়া, অথবা ভিন্ন কথায়—ইল্লতের ব্যাপকতার (عموم العلة) দাবি অনুযায়ী বিধান দেওয়া; যেহেতু এটি ইল্লত (العلة) বিদ্যমান থাকার ক্ষেত্রগুলো অনুসন্ধানের একটি প্রক্রিয়া যাতে সেই স্থানগুলোতে এর বিধান প্রয়োগ করা যায়, যা অনেকটা শাব্দিক ব্যাপকতার (العموم اللفظي) মতো যা...
(খণ্ড: ১)
আসারু তালীিলন নাসসি আলা দালালাতিহি
(পৃষ্ঠা: ২৩)
هو تتبع لمحال تحقق الاسم العام لإلصاق حكمه بها - فإنه يختلف عن الحكم بمقتضى عموم اللفظ اختلافًا جوهريًا، نشأ عن التباين بين طبيعة كلا العمومين: عموم العلة، وعموم اللفظ.
فعموم العلة، عموم عقلي لا بد فيه من الاطراد كما هو الشأن - تقريبًا - في القضايا العقلية إذ لا تثبت إلا بالاستقراء التام.
أما عموم اللفظ فهو عموم لغوي خاضع للاصطلاح، وقد اصطلح العرب في خطابهم على أن لا يشترط له الاطراد، ولذا كان من السائغ بل الواقع الكثير أن يُحدَّ من عموم اللفظ بالتخصيص فيبطل حكم اللفظ في محلّ التخصيص بينما يبقى عاملًا فيما هو وراءه من المحال، ولا يُعد هذا التخصيص بحال من الأحوال إبطالًا للفظ العام بالكلّية.
أما عموم العلة فإن ثبت تخصيصه أو - بعبارة أخرى - إن ثبت تخلّف حكم العلة عن محل من محال تحققها من غير «فرق مؤثر»
(1) بين محل التخصيص وبين باقي المحال، فإن هذا يُعد إبطالًا «نقضًا» لهذه العلة بالكلية.
قال الغزالي، رحمه الله: «اعلم أن العلة إذا ثبتت فالحكم بها عند وجودها حكم بالعموم، فإنه إذا ثبت أن الطعم علة انتظم منه أن يقال: كل مطعوم ربوي، والسفرجل مطعوم، فكان ربويًا، وإذا ثبت أن السُّكْر علة انتظم أن
--------------------------------------------
এটি হলো সাধারণ নামের (الاسم العام) বাস্তবায়িত হওয়ার ক্ষেত্রসমূহ অনুসরণ করা যাতে তার বিধানকে সেগুলোর সাথে সংশ্লিষ্ট করা যায় - কারণ এটি শব্দের ব্যাপকতা (عموم اللفظ) অনুযায়ী বিধান প্রদানের চেয়ে মৌলিকভাবে ভিন্ন। এই ভিন্নতা উভয় ব্যাপকতার প্রকৃতির বৈসাদৃশ্য থেকে উদ্ভূত হয়েছে: কারণের ব্যাপকতা (عموم العلة) এবং শব্দের ব্যাপকতা (عموم اللفظ)।
কারণের ব্যাপকতা (عموم العلة) হলো একটি বুদ্ধিবৃত্তিক ব্যাপকতা যাতে ধারাবাহিকতা (الاطراد) থাকা আবশ্যক, যেমনটি বুদ্ধিবৃত্তিক বিষয়সমূহের ক্ষেত্রে প্রায়শই হয়ে থাকে; কারণ এগুলো পূর্ণাঙ্গ আরোহ পদ্ধতি (الاستقراء التام) ব্যতীত প্রমাণিত হয় না।
পক্ষান্তরে শব্দের ব্যাপকতা (عموم اللفظ) হলো একটি ভাষাগত ব্যাপকতা যা পরিভাষার অধীন। আর আরবরা তাদের কথোপকথনে এই রীতি গ্রহণ করেছে যে, এর জন্য ধারাবাহিকতা (الاطراد) শর্ত নয়। এই কারণেই শব্দের ব্যাপকতাকে (عموم اللفظ) বিশেষায়ন (تخصيص)-এর মাধ্যমে সীমিত করা কেবল সংগতই নয় বরং এটি অহরহ ঘটে থাকে। ফলে বিশেষায়নের (تخصيص) ক্ষেত্রে শব্দের বিধান বাতিল হয়ে যায়, যদিও তা তার বহির্ভূত অন্যান্য ক্ষেত্রে কার্যকর থাকে। আর এই বিশেষায়নকে (تخصيص) কোনোভাবেই সাধারণ (عام) শব্দের পূর্ণাঙ্গ বিলুপ্তি হিসেবে গণ্য করা হয় না।
কিন্তু কারণের ব্যাপকতার (عموم العلة) ক্ষেত্রে যদি বিশেষায়ন (تخصيص) প্রমাণিত হয়—বা অন্য কথায়—যদি কোনো 'প্রভাবশালী পার্থক্য' (الفرق المؤثر)
(১) ছাড়াই কারণের কোনো একটি ক্ষেত্রে তার বিধানের ব্যত্যয় ঘটে, তবে একে সামগ্রিকভাবে উক্ত কারণের (علة) খণ্ডন (نقض) হিসেবে গণ্য করা হয়।
ইমাম গাযালী (রহ.) বলেন: "জেনে রাখুন, যখন কোনো কারণ (علة) প্রমাণিত হয়, তখন তার উপস্থিতিতে সেই অনুযায়ী বিধান প্রদান করা ব্যাপকতার (العموم) অন্তর্ভুক্ত। কেননা যদি প্রমাণিত হয় যে 'স্বাদ' (الطعم) হলো একটি কারণ (علة), তবে তা থেকে এই নিয়ম বিন্যস্ত হয় যে: প্রত্যেক স্বাদযুক্ত বস্তু সুদযোগ্য, আর সফরজল (একপ্রকার ফল) স্বাদযুক্ত বস্তু, সুতরাং এটি সুদযোগ্য। আর যদি প্রমাণিত হয় যে 'মাদকতা' (السكر) হলো একটি কারণ (علة) তবে তা থেকে বিন্যস্ত হয় যে..."
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আসারু তালীিলন নাসসি আলা দালালাতিহি
(পৃষ্ঠা: ২৪)
يُقال: كل مسكر حرام، والنبيذ مسكر، فكان حرامًا، وكذلك في كل علة دل الدليل على كونها مناطًا للحكم فينتظم منها قضية عامة كلية تجري مجرى عموم لفظ الشارع بل أقوى؛ لأن عموم اللفظ معرّض للتخصيص، والعلة إذا كانت عبارة عن مناطٍ [و] كانت جامعة لجميع أوصافها وقيودها لم يتطرق إليها تخصيص؛ إذ يكون تخصيصها نقضًا لعمومها»
(1).
فإن قيل: فتخصيص العلة ونقضها به مسألة مختلف فيها بين الأصوليين حتى حكى الزركشي فيها بضعة عشر قولًا
(2)، فكيف ساغ هاهنا - وكما دلّ عليه كلام الغزالي - جزم القول بأن تخصيص العلة غير جائز وأنه إذا ثبت لعلة من العلل فإنه يُعدّ نقضًا لها.
فالجواب: هو أن ما سبق تقريره من أن ثبوت تخلف حكم العلة عن محل من محال تحققها من غير «فرق مؤثر» بين محل التخلف وبين باقي المحالّ يُعدّ نقضًا للعلة أمرٌ - بعد التمحيص - لا خلاف فيه، والذي جرى بين الأصوليين في هذه المسألة هو خلافٌ وهمي لا حقيقة له، إذ هو دائر على الألفاظ فحسب نشأ - في أغلبه - عن اختلاف مآخذهم في تفسير العلة.
وقد أشار إلى عدم جدوى الخلاف في هذه المسألة ولفظيته كل من إمام الحرمين
(3) والغزالي
(4)، وهو ظاهر كلام ابن الحاجب
(5) والبيضاوي
(6)، وقرره
--------------------------------------------
বলা হয়: প্রতিটি নেশাজাতীয় দ্রব্যই হারাম, এবং নবীজ নেশাজাতীয়, তাই এটি হারাম ছিল। একইভাবে প্রতিটি 'আইনগত কারণ' (علة)-এর ক্ষেত্রে যেটির বিধানের 'ভিত্তিমূল' (مناط) হওয়ার ব্যাপারে দলিল বিদ্যমান, তার থেকে একটি সাধারণ ও সামগ্রিক মূলনীতি তৈরি হয় যা শারীয়াতের বাচনের 'সাধারণ অর্থের' (عموم) মতোই কার্যকর হয়, বরং তা আরও শক্তিশালী; কারণ শব্দের 'সাধারণ অর্থ' (عموم) 'সুনির্দিষ্টকরণের' (تخصيص) আওতায় আসার সম্ভাবনা থাকে, কিন্তু 'আইনগত কারণ' (علة) যদি তার 'ভিত্তিমূল' (مناط) হিসেবে বিদ্যমান থাকে এবং তা তার সমস্ত গুণাবলি ও শর্তাবলিকে অন্তর্ভুক্ত করে, তবে তাতে 'সুনির্দিষ্টকরণ' (تخصيص)-এর অবকাশ থাকে না; কেননা এর 'সুনির্দিষ্টকরণ' (تخصيص) হবে এর 'সাধারণত্বের' (عموم) 'খণ্ডন' (نقض) স্বরূপ।
(১)যদি প্রশ্ন করা হয়: 'আইনগত কারণ' (علة)-এর 'সুনির্দিষ্টকরণ' (تخصيص) এবং এর মাধ্যমে তাকে 'খণ্ডন' (نقض) করার বিষয়টি এমন একটি মাসআলা যা 'মূলনীতিবিদদের' (الأصوليين) মধ্যে মতবিরোধপূর্ণ, এমনকি যারকাশি এতে দশটিরও বেশি মত বর্ণনা করেছেন
(২)। এমতাবস্থায় এখানে—যেমনটি গাজালির বক্তব্যেও নির্দেশিত হয়েছে—এই সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা কীভাবে সঠিক হলো যে, 'আইনগত কারণ' (علة)-এর 'সুনির্দিষ্টকরণ' (تخصيص) বৈধ নয় এবং যদি কোনো একটি 'আইনগত কারণ' (علة)-এর ক্ষেত্রে তা ঘটে তবে তা 'খণ্ডন' (نقض) হিসেবে গণ্য হবে?
উত্তর হলো: ইতোপূর্বে যা সাব্যস্ত হয়েছে তা হলো, কোনো 'আইনগত কারণ' (علة) বিদ্যমান থাকা সত্ত্বেও যেখানে তার বিধানটি কার্যকর হওয়া থেকে পিছিয়ে থাকে এবং সেই ক্ষেত্র ও বাকি ক্ষেত্রগুলোর মধ্যে কোনো 'প্রভাবশালী পার্থক্য' না থাকে, তবে তাকে 'আইনগত কারণ' (علة)-এর 'খণ্ডন' (نقض) হিসেবে গণ্য করা হবে—গভীর পর্যালোচনার পর এটি একটি অবিসংবাদিত বিষয়। এই মাসআলায় 'মূলনীতিবিদদের' (الأصوليين) মধ্যে যে মতবিরোধ হয়েছে তা মূলত বাহ্যিক, এর কোনো প্রকৃত ভিত্তি নেই। কারণ এটি কেবল শব্দগত পার্থক্যের ওপর আবর্তিত, যা মূলত 'আইনগত কারণ' (علة)-এর ব্যাখ্যায় তাদের দৃষ্টিভঙ্গির ভিন্নতা থেকে সৃষ্টি হয়েছে।
এই মাসআলায় মতবিরোধের অসারতা এবং এটি কেবল শব্দগত হওয়ার বিষয়টি ইমামুল হারামাইন
(৩) এবং গাজালি
(৪) উভয়েই উল্লেখ করেছেন। ইবনুল হাজিব
(৫) ও বায়দাউয়ির
(৬) বক্তব্যেও এটি স্পষ্ট এবং তিনি এটি স্থির করেছেন।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আসারু তালীিলন নাসসি আলা দালালাতিহি
(পৃষ্ঠা: ২৫)
ابن تيمية، رحمه الله، في «مجموع الفتاوى»
(1)، وكذلك فعل ابن الهمام في «التحرير»
(2) والأنصاري في «فواتح الرحموت»
(3) وأطال في بيانه الأستاذ شلبي في «تعليل الأحكام»
(4).
وعليه ساغ جزم القول بأن تخصيص العلة لا يجوز وأنه إذا ثبت فإنه يُعد نقضًا لها.
والفلسفة في ذلك أن قول المعلل: إنّ هذا الحكم شُرع لهذه العلة، بعد ثبوت تخصيصها أو - بعبارة أخرى - بعد وجود محل تحقّقت فيه هذه العلة ولم يُشرع له ذات الحكم - ينافي منطقية وعدالة وحكمة التشريع اللائي يقضين بوجوب التشريك بين المتشابهات في الحكم، فإذا ما ثبت أنّ ثمة فرقًا معنويًا بين محلّ الحكم وبين محل التخلف كان ذلك خروجًا عن هذه المنافاة.
ثم إن المجتهد في استنباطه للعلة إنما يستدلُّ على كونها علّةً ملحوظةً للشارع في موارد أحكامه بوجود خصيصة الاطراد فيها، فإذا انخرم هذا الاطراد بثبوت التخصيص في محل من المحال دون عذر مانع دلَّ هذا على عدم اعتبار الشارع لهذه العلة.
ثانيًا: مقتضى انعكاس العلة:
ومعناه: انتفاء حكم العلة عن كل محل لم تتحقق فيه.
--------------------------------------------
ইবনে তাইমিয়াহ (রহ.), তাঁর ‘মাজমুউল ফাতাওয়া’
(১) গ্রন্থে এবং অনুরূপভাবে ইবনুল হুমাম তাঁর ‘আত-তাহরীর’
(২) গ্রন্থে এবং আল-আনসারী ‘ফাওয়াতিহুর রাহমুত’
(৩) গ্রন্থেও তাই করেছেন; আর উস্তাদ শালাবী তাঁর ‘তাইলীলুল আহকাম’
(৪) গ্রন্থে এ বিষয়ের ব্যাখ্যায় দীর্ঘ আলোচনা করেছেন।
এর ওপর ভিত্তি করেই এই অভিমত ব্যক্ত করা বৈধ হয়েছে যে, ইল্লাত বা কারণকে নির্দিষ্টকরণ (تخصيص العلة) জায়েজ নয় এবং এটি যদি প্রমাণিত হয় তবে তা ইল্লাতের জন্য খণ্ডন বা নাকচ (نقض) হিসেবে গণ্য হবে।
এর পেছনের দার্শনিক যুক্তি হলো, ইল্লাত বা কারণ বর্ণনাকারীর (المعلل) এই দাবি যে: "এই বিধানটি এই ইল্লাতের জন্যই প্রণীত হয়েছে"—উক্ত কারণের সুনির্দিষ্টকরণ (تخصيص) প্রমাণিত হওয়ার পর, অথবা অন্য কথায়—এমন একটি প্রেক্ষিত পাওয়ার পর যেখানে উক্ত ইল্লাতটি বিদ্যমান থাকা সত্ত্বেও সেখানে সেই একই বিধান প্রণীত হয়নি—তা বিধান প্রণয়নের (التشريع) যৌক্তিকতা, ন্যায়বিচার এবং প্রজ্ঞার পরিপন্থী। কারণ এগুলো দাবি করে যে, সমজাতীয় বিষয়গুলোর ক্ষেত্রে বিধানের অভিন্নতা বা অংশীদারিত্ব থাকা আবশ্যক। সুতরাং যদি বিধানের ক্ষেত্র এবং বিধান অনুপস্থিত থাকার ক্ষেত্রের মধ্যে কোনো তাৎপর্যপূর্ণ পার্থক্য প্রমাণিত হয়, তবেই কেবল তা এই বৈপরীত্য থেকে মুক্ত হবে।
অতঃপর একজন মুজতাহিদ (مجتهد) যখন কোনো কারণ বা ইল্লাত আহরণ বা উদ্ভাবন (استنباط) করেন, তখন তিনি বিধানদাতার বিধানে সেই কারণটি ইল্লাত হিসেবে ধর্তব্য হওয়ার স্বপক্ষে এর অবিচ্ছিন্নতা বা ধারাবাহিকতা (الاطراد) দ্বারা দলিল পেশ করেন। সুতরাং যদি কোনো প্রতিবন্ধক ওজুহাত ছাড়াই কোনো ক্ষেত্রে সুনির্দিষ্টকরণের (تخصيص) মাধ্যমে এই অবিচ্ছিন্নতা বা ধারাবাহিকতা ব্যাহত হয়, তবে তা প্রমাণ করে যে বিধানদাতা সেই কারণটিকে ইল্লাত হিসেবে বিবেচনা করেননি।
দ্বিতীয়ত: ইল্লাত বা কারণের বিপরীতমুখী প্রতিক্রিয়া (انعكاس العلة):
এর অর্থ হলো: এমন প্রতিটি ক্ষেত্র থেকে ইল্লাতের বিধানটি বিলুপ্ত হওয়া যেখানে সেই ইল্লাতটি বিদ্যমান নেই।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আসারু তালীিলন নাসসি আলা দালালাতিহি
(পৃষ্ঠা: ২৬)
وبيان ذلك: أنه إذا تقرر أن حكما من الأحكام الشرعية ثبت في محل من المحال لعلة من العلل كما سبق القول بتحريم قضاء القاضي حالة الغضب لعلة تشوش الفكر - فإن مقتضى انعكاس العلة هو انتفاء هذا الحكم عن كل محل لم تتحقق فيه العلة المذكورة، فيحل بناء على هذا المقتضى القضاء حالة الغضب اليسير الذي لا يشوش لخلوّه من العلة المقتضية للتحريم.
والفلسفة التشريعية التي ينبني عليها القول بمقتضى انعكاس العلة أو - بعبارة أخرى - القول بزوال الحكم إذا زالت علته: هي أن العلة هي الباعث على تشريع الحكم أو هي المصلحة التي يستهدفها الحكم، فإذا انتفى الباعث أو انعدمت المصلحة وافترضنا عدم انتفاء الحكم لذلك، كان هذا الحكم ثابتًا من غير باعث ومستهدفًا ما ليس بمصلحة، وهذا لا يجوز؛ لأنه مناقض لحكمة الباري سبحانه وتعالى ولِما اطرد في أحكامه من أنها شُرعت لعلل ومصالح سواء أمكن الوقوف عليها أم لا.
انعكاس العلة عند الأصوليين
(1):
فإن قيل: يلزم من القول بزوال الحكم إذا زالت علّته القول باشتراط الانعكاس في العلل الشرعية، وهذه قضية خلاف بين الأصوليين، والأكثرون على عدم اشتراطه فكيف يصح جزم الحكم في أفراد المسائل بمقتضى انعكاس العلة مع أن اشتراطه قضية خلاف؟!
فالجواب هو أن القول في انعكاس العلة كالقول في اطرادها سواءً بسواء، وقد سبق بيان أن الأصل هو اطراد العلة وأنه لا يجوز الحدُّ من هذا الاطراد في محل من المحال إلا لعذر مانع، فكذلك الانعكاس لا بدّ منه إلا أن يمنع منه مانع - يقوم عليه
--------------------------------------------
وبیان ذلك: أنه إذا تقرر أن حكما من الأحكام الشرعية ثبت في محل من المحال لعلة من العلل كما سبق القول بتحريم قضاء القاضي حالة الغضب لعلة تشوش الفكر - فإن مقتضى انعكاس العلة هو انتفاء هذا الحكم عن كل محل لم تتحقق فيه العلة المذكورة، فيحل بناء على هذا المقتضى القضاء حالة الغضب اليسير الذي لا يشوش لخلوّه من العلة المقتضية للتحريم। এর ব্যাখ্যা হলো: যখন এটি সাব্যস্ত হয় যে, কোনো একটি শরয়ি বিধান কোনো নির্দিষ্ট ক্ষেত্রে কোনো একটি আইনি কারণের (علة) দরুন প্রতিষ্ঠিত হয়েছে—যেমনটি পূর্বে উল্লেখ করা হয়েছে যে, বিচারকের চিন্তা ও বিচারবুদ্ধি আচ্ছন্ন হয়ে পড়ার আইনি কারণের (علة) প্রেক্ষিতে রাগান্বিত অবস্থায় রায় প্রদান করা নিষিদ্ধ—তখন আইনি কারণের (علة) বিপরীতমুখী প্রতিফলনের (انعكاس) দাবি হলো, যে সকল ক্ষেত্রে উক্ত আইনি কারণটি (علة) বিদ্যমান নেই, সেখান থেকে সেই বিধানটিও অপসারিত হবে। এই আবশ্যিকতার ভিত্তিতে, সামান্য রাগের অবস্থায় বিচারকার্য পরিচালনা করা বৈধ হবে যা বিচারবুদ্ধিকে আচ্ছন্ন করে ফেলে না; কারণ সেখানে নিষিদ্ধকরণের সেই আইনি কারণটি (علة) অনুপস্থিত।
والفلسفة التشريعية التي ينبني عليها القول بمقتضى انعكاس العلة أو - بعبارة أخرى - القول بزوال الحكم إذا زالت علته: هي أن العلة هي الباعث على تشريع الحكم أو هي المصلحة التي يستهدفها الحكم، فإذا انتفى الباعث أو انعدمت المصلحة وافترضنا عدم انتفاء الحكم لذلك، كان هذا الحكم ثابتًا من غير باعث ومستهدفًا ما ليس بمصلحة، وهذا لا يجوز؛ لأنه مناقض لحكمة الباري سبحانه وتعالى ولِما اطرد في أحكامه من أنها شُرعت لعلل ومصالح سواء أمكن الوقوف عليها أم لا। আর আইনি কারণের (علة) বিপরীতমুখী প্রতিফলন (انعكاس) কিংবা ভিন্ন কথায়—আইনি কারণ (علة) দূরীভূত হলে বিধানও বিলুপ্ত হয়ে যাওয়ার মতবাদের পেছনে যে বিধানতাত্ত্বিক দর্শন কাজ করে তা হলো: আইনি কারণই (علة) হলো কোনো বিধান প্রণয়নের মূল প্রেরণা অথবা এটি এমন একটি কল্যাণ যা বিধানটির লক্ষ্য। সুতরাং যদি সেই প্রেরণা বা জনকল্যাণ অনুপস্থিত থাকে এবং আমরা ধরে নিই যে বিধানটি রহিত হয়নি, তবে সেই বিধানটি কোনো প্রেরণা ছাড়াই সাব্যস্ত থাকবে এবং এমন কিছু লক্ষ্য করবে যা আদতে কোনো কল্যাণ নয়। আর এটি বৈধ নয়; কারণ এটি মহান স্রষ্টার প্রজ্ঞার পরিপন্থী এবং তাঁর বিধানসমূহের অবিচ্ছিন্ন (اطراد) নিয়মেরও বিপরীত, যেখানে প্রতিটি বিধানই কোনো না কোনো আইনি কারণ (علة) ও জনকল্যাণের উদ্দেশ্যে প্রণীত হয়েছে—চাই তা অনুধাবন করা সম্ভব হোক বা না হোক।
انعكاس العلة عند الأصوليين
(১): উসুল শাস্ত্রবিদদের (الأصوليون) নিকট আইনি কারণের (علة) বিপরীতমুখী প্রতিফলন (انعكاس):
فإن قيل: يلزم من القول بزوال الحكم إذا زالت علّته القول باشتراط الانعكاس في العلل الشرعية، وهذه قضية خلاف بين الأصوليين، والأكثرون على عدم اشتراطه فكيف يصح جزم الحكم في أفراد المسائل بمقتضى انعكاس العلة مع أن اشتراطه قضية خلاف؟! যদি প্রশ্ন করা হয়: আইনি কারণ (علة) দূরীভূত হওয়ার সাথে সাথে বিধান বিলুপ্ত হওয়ার বিষয়টি মেনে নিলে শরয়ি কারণসমূহের (العلل الشرعية) ক্ষেত্রে বিপরীতমুখী প্রতিফলন (انعكاس) থাকাকে শর্ত হিসেবে গ্রহণ করা আবশ্যক হয়ে পড়ে। অথচ এটি উসুল শাস্ত্রবিদদের (الأصوليون) মাঝে একটি মতপার্থক্যপূর্ণ বিষয় এবং অধিকাংশের মতে এটি শর্ত নয়। তবে কীভাবে এই মতপার্থক্য থাকা সত্ত্বেও নির্দিষ্ট মাসআলাগুলোর ক্ষেত্রে আইনি কারণের (علة) বিপরীতমুখী প্রতিফলনের (انعكاس) ভিত্তিতে বিধানের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া সঠিক হতে পারে?
فالجواب هو أن القول في انعكاس العلة كالقول في اطرادها سواءً بسواء، وقد سبق بيان أن الأصل هو اطراد العلة وأنه لا يجوز الحدُّ من هذا الاطراد في محل من المحال إلا لعذر مانع، فكذلك الانعكاس لا بدّ منه إلا أن يمنع منه مانع - يقوم عليه। এর উত্তর হলো, আইনি কারণের (علة) বিপরীতমুখী প্রতিফলনের (انعكاس) বিষয়টি ঠিক এর ধারাবাহিকতা বা অবিচ্ছিন্নতার (اطراد) বিষয়ের মতোই। ইতিপূর্বে ব্যাখ্যা করা হয়েছে যে, মূলনীতি হলো আইনি কারণের (علة) অবিচ্ছিন্নতা (اطراد) এবং কোনো প্রতিবন্ধক কারণ ছাড়া কোনো অবস্থাতেই এই অবিচ্ছিন্নতা (اطراد) সীমিত করা বৈধ নয়। একইভাবে, বিপরীতমুখী প্রতিফলন (انعكاس) থাকাটাও আবশ্যক, যতক্ষণ না কোনো প্রতিবন্ধক একে বাধা প্রদান করে—
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আসারু তালীিলন নাসসি আলা দালালাতিহি
(পৃষ্ঠা: ২৭)
الدليل - وهذا مما لا ينبغي الخلاف فيه، قال إمام الحرمين: «دينًا حقَّ على كل مجتهد أن يفتي بعكس العلة إذا لم يمنع من ذلك مانع ولم يحجز حاجز»
(1).
وقال الغزالي، رحمه الله: «اختلفوا في اشتراط العكس في العلل الشرعية وهذا الخلاف لا معنى له، بل لا بد من تفصيل، وقبل التفصيل فاعلم: أن العلامات الشرعية دلالات فإذا جاز اجتماع دلالات لم يكن من ضرورة انتفاء بعضها انتفاء الحكم، لكناّ نقول: إن لم يكن للحكم إلا علة واحدة فالعكس لازم، لا لأن انتفاء العلة يوجب الحكم بل لأن الحكم لا بد له من علة، فإذا اتحدت العلة [أي كانت واحدة] وانتفت فلو بقي الحكم لكان ثابتًا بغير سبب، أما حيث تعدّدت العلة فلا يلزم انتفاء الحكم عند انتفاء بعض العلل بل عند انتفاء جميعها»
(2).
والذي يُلحظ من كلام الغزالي هذا هو أن القول في اشتراط الانعكاس، إثباتًا ونفيًا، إنما ينبني على كون الحكم معلّلًا بعلة واحدة أو أكثر، فحيث قيل في حكم من الأحكام: إنه معلل بعلل، فحيث انتفت إحدى هذه العلل لم يلزم من ذلك انتفاء الحكم لأنه يثبت بغيرها من العلل، ومثال ذلك:
مَنْ قَتَل وارتدّ، فإنّ دمه يباح لعلّتين:
الأولى: الردة.
والثانية: القتل العمد العدوان.
فإذا انتفت علة الردة، بأن فاء إلى الإسلام، لم ينتفِ حكم إباحة الدم لثبوته بالعلة الأخرى، وإذا انتفت علة القتل العمد العدوان، كأن تراجع
--------------------------------------------
প্রমাণ - আর এটি এমন একটি বিষয় যাতে কোনো মতভেদ থাকা উচিত নয়। ইমামুল হারামাইন বলেন: «ধর্মীয়ভাবে প্রত্যেক মুজতাহিদ (مجتهد)-এর ওপর এটি কর্তব্য যে, তিনি আইনি কারণের বিপরীতমুখিতা (عكس العلة) অনুযায়ী ফতোয়া দেবেন, যদি কোনো প্রতিবন্ধক তাকে বাধা না দেয় এবং কোনো অন্তরায় তাকে প্রতিহত না করে»
(1).
আল-গাজালি (রহিমাহুল্লাহ) বলেছেন: «শরয়ী কারণসমূহের (العلل الشرعية) ক্ষেত্রে বিপরীতমুখিতা (العكس) শর্ত করার বিষয়ে তারা মতভেদ করেছেন। এই মতভেদের কোনো বিশেষ অর্থ নেই, বরং বিস্তারিত আলোচনার প্রয়োজন রয়েছে। সেই বিস্তারিত আলোচনার পূর্বে জেনে রাখুন: শরয়ী চিহ্নসমূহ হলো নিদর্শন (دلالات); সুতরাং যেখানে একাধিক নিদর্শনের একত্র হওয়া সম্ভব, সেখানে কোনো একটি নিদর্শনের অনুপস্থিতি (انتفاء) বিধানের অনুপস্থিতি (انتفاء الحكم) হওয়া আবশ্যক নয়। তবে আমরা বলি: যদি কোনো বিধানের (الحكم) জন্য মাত্র একটিই আইনি কারণ (علة) থাকে, তবে সেখানে বিপরীতমুখিতা (العكس) অনিবার্য (لازم)। এটি এজন্য নয় যে আইনি কারণের অনুপস্থিতি (انتفاء العلة) বিধানকে অবধারিত করে, বরং এজন্য যে প্রতিটি বিধানের (الحكم) জন্য অবশ্যই একটি আইনি কারণ (علة) থাকতে হয়। সুতরাং যখন আইনি কারণটি (العلة) একক হয় এবং তা অনুপস্থিত (انتفت) থাকে, এমতাবস্থায় যদি বিধানটি (الحكم) বহাল থাকে, তবে তা কোনো কারণ (سبب) ছাড়াই সাব্যস্ত বলে গণ্য হবে। পক্ষান্তরে, যেখানে আইনি কারণ (العلة) একাধিক হয়, সেখানে কোনো একটি কারণের অনুপস্থিতির কারণে বিধানের বিলুপ্তি (انتفاء الحكم) আবশ্যক হয় না, বরং সকল কারণের অনুপস্থিতিতেই তা ঘটে»
(2).
আল-গাজালির এই বক্তব্য থেকে যা লক্ষ্য করা যায় তা হলো, বিপরীতমুখিতা (الانعكاس) শর্ত করার বিষয়টি—তা সাব্যস্ত করার ক্ষেত্রে হোক বা নাকচ করার ক্ষেত্রে—তা নির্ভর করে বিধানটি (الحكم) একটি মাত্র আইনি কারণ (علة) দ্বারা সাব্যস্ত নাকি একাধিক কারণ দ্বারা সাব্যস্ত তার ওপর। সুতরাং যখন কোনো বিধানের (الحكم) ক্ষেত্রে বলা হয় যে এটি একাধিক আইনি কারণ (علل) দ্বারা সাব্যস্ত, তখন সেগুলোর কোনো একটি আইনি কারণের অনুপস্থিতির (انتفت) কারণে বিধানের বিলুপ্তি (انتفاء الحكم) আবশ্যক হয় না, কারণ তা অন্যান্য আইনি কারণের (العلل) মাধ্যমে সাব্যস্ত হতে পারে। এর উদাহরণ হলো:
যে ব্যক্তি হত্যা করেছে এবং ধর্মত্যাগ করেছে, তবে তার রক্ত (অর্থাৎ তাকে মৃত্যুদণ্ড প্রদান) দুটি আইনি কারণে (علتين) বৈধ হবে:
প্রথমত: ধর্মত্যাগ (الردة)।
দ্বিতীয়ত: অন্যায়ভাবে ইচ্ছাকৃত হত্যা (القتل العمد العدوان)।
যদি ইসলামে ফিরে আসার মাধ্যমে ধর্মত্যাগের (الردة) কারণটি দূরীভূত হয়, তবুও রক্ত বৈধ হওয়ার বিধানটি (حكم إباحة الدم) রহিত হবে না, কারণ অন্য আইনি কারণের (العلة) মাধ্যমে তা বহাল রয়েছে। আর যদি অন্যায়ভাবে ইচ্ছাকৃত হত্যার কারণটি দূরীভূত হয়, যেমন সে যদি ফিরে আসে...
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আসারু তালীিলন নাসসি আলা দালালাতিহি
(পৃষ্ঠা: ২৮)
الشهود، لم ينتفِ كذلك حكم إباحة الدم.
إذن، فالانعكاس ليس يُشترط في حالة تعدد العلل الموجبة للحكم، أما حيث قيل: بأن الحكم معلل بعلة واحدة فقط، فلا بد حينئذ من اشتراط الانعكاس أو - بعبارة أخرى - لا بد من انتفاء الحكم إذا انتفت هذه العلة.
ومثال ذلك: ما لو قيل بأن العلة في إعطاء المؤلفة قلوبهم من الصدقات هي حاجة الدولة إليهم في كفّ شرهم وشرّ غيرهم، فإذا انتفت هذه العلة بأن قويت الدولة فلم تعد بحاجة إليهم، كان لا بد من قطع العطاء عنهم؛ لأنا لو أعطيناهم - والحالة هذه - لكان هذا لغير علة ولا مصلحة وهو لا يجوز، ولعل هذا هو منحى اجتهاد عمر رضي الله عنه في هذه المسألة
(1).
أما لو قيل بأن العلة في إعطاء المؤلفة ليست هي ما سبق فحسب، بل يضاف إليها علة تشوف الشارع إلى إسلامهم ببذل المال لهم تحبيبًا لهم في الإسلام، ففي مثل هذه الحالة لا يشترط الانعكاس، لأنها إن انتفت الحاجة إلى دفع الشر؛ نظرًا إلى قوة الدولة، فإنها لا تزال تبقى الحاجة إلى التأليف والتحبيب في الإسلام، وبهذه العلة يثبت الحكم وإن زالت العلة الأولى، وعلى هذا لا يُمنع عطاء المؤلفة بحال.
وعليه فحاصل مسألة الانعكاس، وحاصل ما قاله الغزالي، رحمه الله، في هذا الشأن: هو أنه لا بدّ من زوال الحكم إذا زالت علته إلا أن يثبت الحكم لعلة أخرى.
وهذا لا ينبغي الخلاف فيه، قال العلامة الأصولي الصفي الهندي
(2): «لا ينبغي أن يكون فيما ذكره الغزالي [وهو ما أُورد آنفًا] خلافٌ ونزاعٌ لأحد»
(3).
--------------------------------------------
সাক্ষীদের সাক্ষ্য (الشهود), একইভাবে রক্ত হালাল হওয়ার বিধান রহিত হয় না।
সুতরাং, বিধানকে অনিবার্যকারী কারণসমূহ (العلل) একাধিক হওয়ার ক্ষেত্রে বিপরীতমুখিতা বা সহ-অনুপস্থিতি (الانعكاس) শর্ত নয়। তবে যেখানে বলা হয়েছে যে: বিধানটি শুধুমাত্র একটি কারণ (علة) দ্বারা সাব্যস্ত, তখন সেখানে বিপরীতমুখিতা (الانعكاس) শর্ত করা আবশ্যক, অথবা অন্য কথায়—এই কারণটি (العلة) বিলুপ্ত হলে বিধানটিও বিলুপ্ত হওয়া আবশ্যক।
এর উদাহরণ হলো: যদি বলা হয় যে, মুয়াল্লাফাতুল কুলুবকে (যাদের অন্তর জয় করা প্রয়োজন) সদকা প্রদানের পেছনের কারণ (العلة) হলো তাদের অনিষ্ট ও অন্যদের অনিষ্ট দমনে রাষ্ট্রের জন্য তাদের প্রয়োজনীয়তা; সুতরাং যখন এই কারণটি (العلة) বিলুপ্ত হয় অর্থাৎ রাষ্ট্র শক্তিশালী হওয়ার কারণে তাদের আর প্রয়োজন না থাকে, তখন তাদের দান বন্ধ করে দেওয়া আবশ্যক। কারণ এই অবস্থায় আমরা তাদের দান করলে তা কোনো কারণ (علة) বা জনকল্যাণ (مصلحة) ছাড়াই দেওয়া হবে, যা বৈধ নয়। সম্ভবত এই মাসআলায় ওমর (রাযিয়াল্লাহু আনহু)-এর ইজতিহাদ (اجتهاد)-এর গতিপ্রকৃতি এমনই ছিল
(1)।
পক্ষান্তরে যদি বলা হয় যে, মুয়াল্লাফাতুল কুলুবকে দান করার কারণ (العلة) শুধু পূর্বোক্ত বিষয়টিই নয়, বরং এর সাথে শরয়ি বিধানদাতার (الشارع) পক্ষ থেকে তাদের ইসলামের প্রতি অনুরাগী করার আকাঙ্ক্ষাও একটি কারণ (علة) হিসেবে যুক্ত, তবে এই জাতীয় ক্ষেত্রে বিপরীতমুখিতা (الانعكাস) শর্ত নয়। কারণ রাষ্ট্রের শক্তির কারণে যদি অনিষ্ট প্রতিরোধের প্রয়োজনীয়তা শেষও হয়ে যায়, তবুও ইসলামের প্রতি আকৃষ্ট করা ও ভালোবাসা সৃষ্টির প্রয়োজনীয়তা থেকেই যায়। আর এই কারণটির (العلة) মাধ্যমে বিধানটি সাব্যস্ত থাকে, যদিও প্রথম কারণটি (العلة) বিলুপ্ত হয়ে যায়। এর ভিত্তিতে কোনো অবস্থাতেই মুয়াল্লাফাতুল কুলুবকে দান করা থেকে বিরত রাখা যাবে না।
সুতরাং বিপরীতমুখিতার (الانعكاس) মাসআলার সারসংক্ষেপ এবং এই বিষয়ে ইমাম গাজালি (রহিমাহুল্লাহ) যা বলেছেন তার নির্যাস হলো: কারণ (العلة) বিলুপ্ত হলে বিধানও বিলুপ্ত হওয়া আবশ্যক, যদি না বিধানটি অন্য কোনো কারণের (علة) ভিত্তিতে সাব্যস্ত থাকে।
আর এতে কোনো মতভেদ থাকা উচিত নয়। উসুলবিদ (الأصولي) আল্লামা সাফি আল-হিন্দি
(2) বলেন: «গাজালি যা উল্লেখ করেছেন [যা উপরে বর্ণিত হয়েছে], তাতে কারো কোনো মতভেদ বা বিবাদ থাকা অনুচিত»
(3)।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আসারু তালীিলন নাসসি আলা দালালাতিহি
(পৃষ্ঠা: ২৯)
مثال لتوضيح مقتضى العلة طردًا وعكسًا في المسألة الواحدة:
قال تعالى: {يَاأَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا إِذَا نُودِيَ لِلصَّلَاةِ مِنْ يَوْمِ الْجُمُعَةِ فَاسْعَوْا إِلَى ذِكْرِ اللَّهِ وَذَرُوا الْبَيْعَ ذَلِكُمْ خَيْرٌ لَكُمْ إِنْ كُنْتُمْ تَعْلَمُونَ} [الجمعة: 9]. دلت هذه على تحريم البيع وقت النداء يوم الجمعة، وهذا الحكم مأخوذ من قوله تعالى: {وَذَرُوا الْبَيْعَ}.
وعلة هذا الحكم - كما هي لائحة من خلال السياق - هي أن البيع شاغل عن السعي المطلوب.
ولهذه العلة - بطردها وعكسها - مقتضيان: موجب وسالب، أما الموجب - وهو مقتضى اطراد العلة - فهو تحريم كل عمل تحققت فيه علة الإشغال عن السعي يوم الجمعة، فيدخل في هذا إجراء العقود كلها وقت النداء، كالإجارة والسَّلم والهبة والدين وحتى عقد النكاح.
بل يدخل فيه كذلك كل عمل هو في الأصل مباح لكنها تتحقق فيه علة الإشغال كالأكل والشرب واللعب وغير ذلك.
لا يقال: ويدخل الوضوء أو الاغتسال وقت النداء لأنه شاغل عن السعي.
لأنا نقول: إن الأمر بالشيء أمرٌ بلوازمه، فالأمر بالصلاة أمر بالوضوء، وعليه يكون الوضوء أو الغسل وقت النداء جزءًا من المأمور به بالنص نفسه.
فإن قيل: فهذا نقض للعلة إذ هي لم تستلزم حكمها في جميع محالّ تحققها.
একটি একক মাসআলায় ইল্লত (علة) বা কারণের প্রাসঙ্গিকতা ও বিপরীতমুখী প্রয়োগ (طردًا وعكسًا) স্পষ্ট করার একটি উদাহরণ:
মহান আল্লাহ বলেন: {হে মুমিনগণ, যখন জুমার দিন সালাতের জন্য আহ্বান করা হয়, তখন তোমরা আল্লাহর স্মরণের দিকে ধাবিত হও এবং কেনাবেচা বর্জন করো। এটাই তোমাদের জন্য কল্যাণকর, যদি তোমরা জানতে।} [আল-জুমা: ৯]। এটি জুমার দিন আজানের সময় কেনাবেচা হারাম (تحريم) হওয়ার ওপর দলিল প্রদান করে, আর এই বিধানটি (حكم) মহান আল্লাহর বাণী: {কেনাবেচা বর্জন করো} থেকে গ্রহণ করা হয়েছে।
আর এই বিধানের (حكم) ইল্লত (علة) —যা প্রসঙ্গের মাধ্যমে সুস্পষ্ট— তা হলো কেনাবেচা কাঙ্ক্ষিত প্রচেষ্টার ক্ষেত্রে প্রতিবন্ধক।
আর এই ইল্লতের (علة) —এর অনুকূল ও প্রতিকূল প্রয়োগের (طردًا وعكسًا) ভিত্তিতে— দুটি দাবি রয়েছে: ইতিবাচক ও নেতিবাচক। ইতিবাচক দিকটি —যা ইল্লতের প্রাসঙ্গিকতার (اطراد العلة) দাবি— হলো জুমার দিন ধাবিত হওয়ার পথে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টির ইল্লত (علة) পাওয়া যায় এমন প্রতিটি কাজ হারাম (تحريم) হওয়া। এর অন্তর্ভুক্ত হবে আজানের সময় সম্পাদিত সকল প্রকার চুক্তি (عقود), যেমন: ইজারা, সালাম, হেবা, ঋণ এবং এমনকি বিবাহ বন্ধনও।
বরং এর অন্তর্ভুক্ত হবে এমন প্রতিটি কাজ যা মূলত বৈধ (مباح), কিন্তু তাতে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টির ইল্লত (علة) পাওয়া যায়, যেমন: পানাহার করা, খেলাধুলা করা এবং অন্যান্য কাজ।
এমনটি বলা যাবে না যে: আজানের সময় ওজু বা গোসল করাও এর অন্তর্ভুক্ত হবে কারণ তা ধাবিত হওয়ার পথে অন্তরায়।
কারণ আমরা বলি: কোনো বিষয়ের আদেশ (الأمر) তার অপরিহার্য অনুষঙ্গগুলোরও আদেশ। সুতরাং সালাতের আদেশ ওজুরও আদেশ, সেই প্রেক্ষিতে আজানের সময় ওজু বা গোসল করা খোদ নসের (النص) মাধ্যমেই আদিষ্ট বিষয়ের (المأمور به) অংশ হিসেবে গণ্য হয়।
যদি বলা হয়: এটি তো ইল্লতের (علة) অকার্যকারিতা (نقض), যেহেতু এটি তার উপস্থিতির সকল ক্ষেত্রে বিধানকে (حكم) অবধারিত করেনি।
(খণ্ড: ১)
আসারু তালীিলন নাসসি আলা দালালাতিহি
(পৃষ্ঠা: ৩০)
فيقال: بل هو تخصيص لها وقد سبق القول بجوازه بوجود دليل مانع من اطرادها ينبني على وجود فرق مناسب بين محل التخصيص وبين باقي المحال، وهو الحاصل هاهنا.
هذا هو مقتضى اطراد العلة وهو موجب للحكم في جميع محال تحقق العلة.
وأما المقتضى الآخر، وهو مقتضى انعكاس العلة، فيسلب حكم تحريم البيع عن جميع المحال التي لا تتحقق فيها العلة، وهي الإشغال عن السعي، حتى لو كان أحد هذه المحال مندرجًا في جنس البيع.
وهذا يُتصور في حالة ما إذا تعاقد المتبايعان وهما - مثلًا - في سيارة أو حافلة تسعى بهما إلى المسجد.
ففي هذه الحالة وُجد جنس متعلق الحكم، وهو مطلق البيع، وانتفت العلة المقتضية للتحريم، وهي الإشغال عن السعي، فأُبيحت هذه الصورة من مطلق البيع.
অতএব বলা হয়: বরং এটি তার জন্য একটি বিশেষায়ন (تخصيص); আর এর বৈধতা সম্পর্কে পূর্বেই আলোচনা করা হয়েছে, যেখানে এমন একটি প্রমাণ বিদ্যমান যা এর নিরবচ্ছিন্নতার (اطراد) পথে বাধা প্রদান করে। এটি মূলত বিশেষায়িত স্থান এবং অবশিষ্ট স্থানসমূহের মধ্যে বিদ্যমান উপযুক্ত পার্থক্যের ওপর ভিত্তি করে প্রতিষ্ঠিত, আর এখানে সেটিই ঘটেছে।
এটিই হলো কার্যকর কারণের (علة) নিরবচ্ছিন্নতার (اطراد) দাবি, যা উক্ত কারণটি (علة) বিদ্যমান থাকার সকল ক্ষেত্রে বিধানটিকে (حكم) আবশ্যক করে।
আর দ্বিতীয় বিষয়টি হলো কার্যকর কারণের (علة) ব্যতিরেক (انعكاس), যা ক্রয়-বিক্রয় নিষিদ্ধকরণের (تحريم) বিধানটিকে (حكم) সেই সমস্ত ক্ষেত্র থেকে রহিত করে যেখানে কারণটি (علة) অনুপস্থিত। সেই কারণটি হলো জুমার নামাজের প্রচেষ্টায় বিঘ্ন ঘটানো, যদিও এই ক্ষেত্রটি সাধারণ ক্রয়-বিক্রয়ের অন্তর্ভুক্ত হয়।
এটি এমন একটি ক্ষেত্রে কল্পনা করা যেতে পারে যেখানে ক্রেতা ও বিক্রেতা—উদাহরণস্বরূপ—এমন একটি গাড়ি বা বাসে আরোহী অবস্থায় চুক্তিবদ্ধ হচ্ছে যা তাদের মসজিদের দিকেই নিয়ে যাচ্ছে।
এমতাবস্থায় বিধানের (حكم) সাথে সংশ্লিষ্ট মূল বিষয়টি অর্থাৎ সাধারণ ক্রয়-বিক্রয় বিদ্যমান থাকলেও, নিষিদ্ধকরণের (تحريم) দাবিদার কার্যকর কারণটি (علة)—অর্থাৎ প্রচেষ্টায় বিঘ্ন ঘটানো—অনুপস্থিত। ফলে সাধারণ ক্রয়-বিক্রয়ের এই রূপটি বৈধ হিসেবে গণ্য হয়েছে।
(খণ্ড: ১)
আসারু তালীিলন নাসসি আলা দালালাতিহি
(পৃষ্ঠা: ৩১)
المطلب الثاني التعريف بالنص وبمقتضاهوهو في مقصدين:
المقصد الأول: التعريف بالنصالمقصد الثاني: التعريف بمقتضى النص
المقصد الأول
التعريف بالنص
النص لغة:
مأخوذٌ من الظهور، يقال: نصَّ الشيء ينصُّه نصًا إذا رفعه وأظهره، ويقال: نصت الظبية جيدها إذا رفعته، ومنه «المنصة» وهي كرسي مرتفع أو سرير يُعدّ للخطيب ليخطب أو للعروس لتجلى
(1).
النص اصطلاحًا:
يطلق النص في اصطلاح الأصوليين ويراد به معانٍ خمسة:
الأول: نصوص الكتاب والسنة، فيقال: هذا الحكم ثبت بالنصّ وهذا بالقياس
(2).
الثاني: اللفظ الذي لا يحتمل إلا معنى واحدًا، أو: ما لا يحتمل التأويل وذلك كلفظ خمسة فإنه لا يحتمل الأربعة أو الستة، ولفظ الفرس فإنه لا يحتمل الحمار ولا البعير
…(3).
--------------------------------------------
দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ: সুস্পষ্ট পাঠ (النص) এবং এর অনিবার্য দাবি (بمقتضى النص) সম্পর্কে পরিচয়এটি দুটি অনুচ্ছেদে বিভক্ত:
প্রথম অনুচ্ছেদ: সুস্পষ্ট পাঠ (النص)-এর পরিচয়দ্বিতীয় অনুচ্ছেদ: পাঠের অনিবার্য দাবি (بمقتضى النص)-এর পরিচয়
প্রথম অনুচ্ছেদ
সুস্পষ্ট পাঠ (النص)-এর পরিচয়
আভিধানিক অর্থে 'নাস' (النص):
এটি প্রকাশ হওয়া বা প্রকাশ করা অর্থ থেকে গৃহীত। বলা হয়: 'نصَّ الشيء ينصُّه نصًا' যখন কেউ কোনো বস্তুকে উঁচুতে তুলে ধরে এবং তা প্রকাশ করে। আরও বলা হয়: 'نصت الظبية جيدها' যখন হরিণী তার ঘাড় উঁচু করে। এখান থেকেই 'মঞ্চ (المنصة)' শব্দের উৎপত্তি, যা এমন একটি উঁচু আসন বা খাট যা খতিবের খুতবা প্রদান বা কনের প্রদর্শনের জন্য প্রস্তুত করা হয়
(১)।
পারিভাষিক অর্থে 'নাস' (النص):
উসুলশাস্ত্রবিদদের (الأصوليين) পরিভাষায় 'নাস' (النص) শব্দটি পাঁচটি অর্থে ব্যবহৃত হয়:
প্রথম: কুরআন ও সুন্নাহর মূল পাঠসমূহ (نصوص الكتاب والسنة); যেমন বলা হয়: এই বিধানটি 'নাস' (النص) দ্বারা প্রমাণিত এবং এটি কিয়াস (القياس) দ্বারা প্রমাণিত
(২)।
দ্বিতীয়: এমন শব্দ যা কেবল একটিই অর্থ প্রকাশ করে, অথবা: যাতে অন্য কোনো ব্যাখ্যার অবকাশ (التأويل) থাকে না। যেমন 'পাঁচ' সংখ্যাটি; এটি চার বা ছয় হওয়ার সম্ভাবনা রাখে না। অনুরূপভাবে 'ঘোড়া' শব্দটি; এটি গাধা বা উট হওয়ার সম্ভাবনা রাখে না
…(৩)।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আসারু তালীিলন নাসসি আলা দালালাতিহি
(পৃষ্ঠা: ৩২)
الثالث: اللفظ الذي يحتمل أكثر من معنى هو في أحدها أكثر ظهورًا من غيره لذا فهو يحتمل التأويل، وهو إطلاق «أطلقه الشافعي، رحمه الله، فإنه سمّى الظاهر نصًا وهو منطبق على اللغة ولا مانع منه في الشرع»
(1).
الرابع: اللفظ الذي يحتمل أكثر من معنى هو في أحدها أكثر ظهورًا من غيره، لذا فهو يحتمل التأويل إلا أنه لم يتطرق إليه تأويل مقبول يعضده دليل، وبهذا يختلف هذا الإطلاق عن الثالث الذي قبله
(2).
الخامس: اللفظ أو المعنى الذي سيق الكلام لأجله، مع أنه يحتمل التأويل وهذا الإطلاق خاصّ بالحنفية
(3).
والمراد بالنص - في اصطلاح هذه الرسالة - من بين هذه الإطلاقات هو الإطلاق الأول، إذ لا يعني كاتب هذه الرسالة بـ «أثر تعليل النص على دلالته» إلا نصوص الكتاب والسنة بغض النظر عن كون ألفاظها تحتمل التأويل أو لا تحتمله.
ثم إن المراد بنصوص الكتاب والسنة ليس هو كل ما ورد في الكتاب والسنة على الإطلاق، وإنما ما ورد فأمكن استنباط الأحكام منه فقط، إذ لا علاقة لأصول الفقه بالنصوص التي لا تدل على أحكام فقهية، كالنصوص
--------------------------------------------
তৃতীয়: এমন শব্দ যা একাধিক অর্থ বহন করার সম্ভাবনা রাখে, তবে সেগুলোর মধ্যে একটি অর্থ অন্যদের তুলনায় অধিক স্পষ্ট; বিধায় এটি ব্যাখ্যার (تأويل) অবকাশ রাখে। এটি এমন একটি প্রয়োগ যা ইমাম শাফিঈ (রহিমাহুল্লাহ) ব্যবহার করেছেন। তিনি প্রকাশ্য (ظاهر) শব্দকে সুস্পষ্ট প্রমাণ (نص) হিসেবে অভিহিত করেছেন, যা ভাষাগতভাবে সংগতিপূর্ণ এবং শরিয়তে এর কোনো বাধা নেই
(১).
চতুর্থ: এমন শব্দ যা একাধিক অর্থ বহন করার সম্ভাবনা রাখে এবং যার একটি অর্থ অন্যদের চেয়ে অধিক স্পষ্ট। সুতরাং এটি ব্যাখ্যার (تأويل) অবকাশ রাখে, তবে এতে দলিল দ্বারা সমর্থিত কোনো গ্রহণযোগ্য ব্যাখ্যা (تأويل) প্রবেশ করেনি। এ দিক থেকে এই প্রয়োগটি পূর্ববর্তী তৃতীয় প্রয়োগটি থেকে ভিন্ন
(২).
পঞ্চম: এমন শব্দ বা অর্থ যার উদ্দেশ্যে বক্তব্যটি পেশ করা হয়েছে, যদিও এটি ব্যাখ্যার (تأويل) অবকাশ রাখে। এই প্রয়োগটি হানাফীগণের জন্য নির্দিষ্ট
(৩).
আর এই গবেষণাপত্রের পরিভাষায় ‘সুস্পষ্ট প্রমাণ’ (نص) বলতে এই প্রয়োগগুলোর মধ্যে প্রথমটিই উদ্দেশ্য। কেননা এই গবেষণাপত্রের লেখক ‘সুস্পষ্ট প্রমাণের (نص) নির্দেশনার (دلالة) ওপর তার কার্যকারণ সাব্যস্ত করার (تعليل) প্রভাব’ বলতে কেবল কুরআন ও সুন্নাহর নসসমূহকেই বুঝিয়েছেন, সেগুলোর শব্দাবলি ব্যাখ্যার (تأويل) অবকাশ রাখুক বা না রাখুক।
অতঃপর, কুরআন ও সুন্নাহর নস বলতে কুরআন ও সুন্নাহতে বর্ণিত ঢালাওভাবে সবকিছুকে বোঝানো হয়নি, বরং কেবল যা থেকে বিধান আহরণ (استنباط) করা সম্ভব কেবল সেগুলোই উদ্দেশ্য। কেননা উসুলুল ফিকহের সাথে এমন নসের কোনো সম্পর্ক নেই যা ফিকহি বিধানের (أحكام) প্রতি নির্দেশনা (دلالة) দেয় না, যেমন সেই নসসমূহ...
--------------------------------------------