(খণ্ড: ১)
ফাতহুল বাক্বী বি-শারহি আলফিয়াতিল ইরাক্বী
(পৃষ্ঠা: -)
فتح الباقي بشرح ألفية العراقي القسم: علوم الحديث
الكتاب: فتح الباقي بشرح ألفية العراقي
المؤلف: زين الدين أبي يحيى زكريا بن محمد بن زكريا الأنصاري السنيكي (ت 926 هـ)
المحقق: عبد اللطيف هميم - ماهر الفحل
الناشر: دار الكتب العلمية
الطبعة: الطبعة الأولى، 1422هـ / 2002م
عدد الأجزاء: 2
أعده للشاملة: أسامة بن الزهراء، فريق عمل المكتبة الشاملة
[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]
تاريخ النشر بالشاملة: 21 شعبان 1432
ফাতহুল বাকি বি-শারহি আলফিয়াতিল ইরাকি বিভাগ: হাদিস শাস্ত্র
বই: ফাতহুল বাকি বি-শারহি আলফিয়াতিল ইরাকি
লেখক: জাইনুদ্দীন আবু ইয়াহিয়া জাকারিয়া বিন মুহাম্মদ বিন জাকারিয়া আল-আনসারী আস-সুনাইকী (মৃত্যু ৯২৬ হি.)
তাহকীককারী: আব্দুল লতিফ হামিম - মাহের আল-ফাহল
প্রকাশক: দারুল কুতুবিল ইলমিয়্যাহ
সংস্করণ: প্রথম সংস্করণ, ১৪২২ হি. / ২০০২ খ্রি.
খণ্ড সংখ্যা: ২
শামেলা সংস্করণের প্রস্তুতকারক: উসামা বিন আজ-জাহরা, আল-মাকতাবাতুশ শামেলার কর্মীদল
[বইয়ের পৃষ্ঠা নম্বর মুদ্রিত কপির সাথে সংগতিপূর্ণ]
শামেলায় প্রকাশের তারিখ: ২১ শাবান ১৪৩২
(খণ্ড: ১)
ফাতহুল বাক্বী বি-শারহি আলফিয়াতিল ইরাক্বী
(পৃষ্ঠা: ১)
ـ[فتح الباقي بشرح ألفية العراقي]ـ
المؤلف: زين الدين أبي يحيى زكريا بن محمد بن زكريا الأنصاري السنيكي (ت 926 هـ)
المحقق: عبد اللطيف هميم - ماهر الفحل
الناشر: دار الكتب العلمية
الطبعة: الطبعة الأولى، 1422هـ / 2002م
عدد الأجزاء: 2
أعده للشاملة/ أسامة بن الزهراء، فريق عمل المكتبة الشاملة
--------------------------------------------
[আলফিয়াতুল ইরাকির ব্যাখ্যাগ্রন্থ ফাতহুল বাকি]
লেখক: জাইন উদ্দিন আবি ইয়াহিয়া জাকারিয়া ইবনে মুহাম্মদ ইবনে জাকারিয়া আনসারী আস-সুনাইকি (মৃত্যু: ৯২৬ হিজরি)
সম্পাদক: আব্দুল লতিফ হামিম - মাহের আল-ফাহল
প্রকাশক: দারুল কুতুব আল-ইলমিয়্যাহ
সংস্করণ: প্রথম সংস্করণ, ১৪২২ হিজরি / ২০০২ খ্রিস্টাব্দ
খণ্ড সংখ্যা: ২
শামেলার জন্য প্রস্তুত করেছেন: উসামা বিন আল-জাহরা, মাকতাবাতুশ শামেলা কর্মীবৃন্দ
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
ফাতহুল বাক্বী বি-শারহি আলফিয়াতিল ইরাক্বী
(পৃষ্ঠা: ৫)
بسم الله الرحمن الرحيم
إن الحمد لله نحمده ونستعينه ونستغفره، ونعوذ بالله من شرور أنفسنا وسيئات أعمالنا، من يهده الله فلا مضل له، ومن يضلل فَلَا هادي له، ونشهد أن لا إله إلا الله وحده لا شريك له.
((ونشهد أنَّ محمداً عبده ورسوله، وأمينه على وحيه، وخيرته من خلقه وسفيره بينه وبين عباده، المبعوث بالدين القويم، والمنهج المستقيم، أرسله الله رحمةً للعالمين، وإماماً للمتقين، وحجةً على الخلائق أجمعين)) (1).
{يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا اتَّقُوا اللَّهَ حَقَّ تُقَاتِهِ وَلَا تَمُوتُنَّ إِلَاّ وَأَنْتُمْ مُسْلِمُونَ}.
آل عمران: 102.
{يَا أَيُّهَا النَّاسُ اتَّقُوا رَبَّكُمْ الَّذِي خَلَقَكُمْ مِنْ نَفْسٍ وَاحِدَةٍ وَخَلَقَ مِنْهَا زَوْجَهَا وَبَثَّ مِنْهُمَا رِجَالاً كَثِيرًا وَنِسَاءً وَاتَّقُوا اللَّهَ الَّذِي تَسَاءَلُونَ بِهِ وَالأَرْحَامَ إِنَّ اللَّهَ كَانَ عَلَيْكُمْ رَقِيبًا}. النساء: 1.
{يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا اتَّقُوا اللَّهَ وَقُولُوا قَوْلاً سَدِيدًا - يُصْلِحْ لَكُمْ أَعْمَالَكُمْ وَيَغْفِرْ لَكُمْ ذُنُوبَكُمْ وَمَنْ يُطِعْ اللَّهَ وَرَسُولَهُ فَقَدْ فَازَ فَوْزًا عَظِيمًا}. الأحزاب: 70 - 71.
أما بعد:
فإن الحديث النبوي الشريف المصدر الثاني للتشريع الإسلامي، بعضه يستقل بالتشريع، وكثيرٌ منه شارح لكتاب الله تعالى مُبين لما جاء فيه. قال تعالى: {وَأَنْزَلْنَا إِلَيْكَ الذِّكْرَ لِتُبِيِّنَ لِلنَّاسِ مَا نُزِّلَ إِلَيْهِمْ}. النحل: 44.
وقد أدرك المسلمون - منذ الصدر الأول، وحتى يوم الناس هذا - أهمية الحديث النبوي الشريف فحفظوا الأحاديث في الصدور، ودونوها في الدواوين، ونقَّروا عنها أشد التنقير والبحث كي لا ينضاف إليها ما ليس منها، فأنجبت هذه الأمة حُفَّاظاً عارفين وجهابذة ناقدين فكانوا بحق ينفون عن السنة تحريف الغالين وانتحال المبطلين وتأويل
--------------------------------------------
পরম করুণাময় অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে।
সকল প্রশংসা আল্লাহর জন্য। আমরা তাঁর প্রশংসা করি, তাঁর নিকট সাহায্য চাই এবং তাঁর নিকট ক্ষমা প্রার্থনা করি। আমরা আমাদের নফসের অনিষ্টতা এবং আমাদের মন্দ আমলসমূহ থেকে আল্লাহর নিকট আশ্রয় চাই। আল্লাহ যাকে পথপ্রদর্শন করেন তাকে পথভ্রষ্ট করার কেউ নেই, আর তিনি যাকে পথভ্রষ্ট করেন তাকে পথপ্রদর্শন করার কেউ নেই। আমরা সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, আল্লাহ ছাড়া কোনো সত্য ইলাহ নেই, তিনি একক, তাঁর কোনো শরিক নেই।
((আমরা আরও সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, মুহাম্মাদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) আল্লাহর বান্দা ও রাসূল, তাঁর ওহীর আমানতদার, তাঁর সৃষ্টির মধ্য হতে মনোনীত এবং তাঁর ও তাঁর বান্দাদের মাঝে দূত। তিনি সুপ্রতিষ্ঠিত দ্বীন ও সরল পথ নিয়ে প্রেরিত হয়েছেন। আল্লাহ তাঁকে বিশ্বজগতের জন্য রহমত হিসেবে, মুত্তাকীদের জন্য ইমাম হিসেবে এবং সকল সৃষ্টির ওপর হুজ্জাত বা প্রমাণ হিসেবে পাঠিয়েছেন)) (১)।
{হে ঈমানদারগণ! তোমরা আল্লাহকে যথার্থভাবে ভয় করো এবং মুসলিম না হয়ে মৃত্যুবরণ করো না।}
আলে ইমরান: ১০২।
{হে মানবজাতি! তোমরা তোমাদের সেই রবকে ভয় করো যিনি তোমাদের সৃষ্টি করেছেন এক সত্তা থেকে এবং তা থেকে তাঁর জোড়া সৃষ্টি করেছেন এবং তাঁদের উভয় থেকে বহু পুরুষ ও নারী ছড়িয়ে দিয়েছেন। আর তোমরা আল্লাহকে ভয় করো যাঁর মাধ্যমে তোমরা একে অপরের কাছে যাচনা করো এবং আত্মীয়তার বন্ধন ছিন্ন করা থেকে সতর্ক থাকো। নিশ্চয় আল্লাহ তোমাদের ওপর পর্যবেক্ষক।} আন-নিসা: ১।
{হে ঈমানদারগণ! তোমরা আল্লাহকে ভয় করো এবং সঠিক কথা বলো। তিনি তোমাদের আমলসমূহ সংশোধন করে দেবেন এবং তোমাদের পাপসমূহ ক্ষমা করবেন। আর যে ব্যক্তি আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের আনুগত্য করে সে অবশ্যই মহাসাফল্য লাভ করবে।} আল-আহযাব: ৭০ - ৭১।
অতঃপর:
নিশ্চয়ই সম্মানিত নববী হাদিস হলো ইসলামি শরীয়তের দ্বিতীয় উৎস। এর কিছু অংশ স্বতন্ত্রভাবে বিধান প্রদান করে, আর এর অধিকাংশ মহান আল্লাহর কিতাবের ব্যাখ্যাকারী এবং তাতে যা অবতীর্ণ হয়েছে তার স্পষ্টকারী। মহান আল্লাহ বলেন: {আর আমি আপনার প্রতি যিকর অবতীর্ণ করেছি যাতে আপনি মানুষের জন্য তা স্পষ্ট করে দেন যা তাদের প্রতি অবতীর্ণ হয়েছে।} আন-নাহল: ৪৪।
ইসলামের প্রথম যুগ থেকে শুরু করে বর্তমান সময় পর্যন্ত মুসলিমরা সম্মানিত নববী হাদিসের গুরুত্ব অনুধাবন করেছেন। তাই তাঁরা হাদিসসমূহকে অন্তরে মুখস্থ রেখেছেন, কিতাবসমূহে লিপিবদ্ধ করেছেন এবং অত্যন্ত সূক্ষ্মভাবে সেগুলি যাচাই-বাছাই ও গবেষণা করেছেন যাতে হাদিসের মধ্যে এমন কিছু অন্তর্ভুক্ত না হয় যা তার অংশ নয়। ফলে এই উম্মাহ এমন সব হাফেয, বিশেষজ্ঞ ও দক্ষ সমালোচকদের জন্ম দিয়েছে যারা সুন্নাহ থেকে অতিরঞ্জনকারীদের বিকৃতি, বাতিলপন্থীদের মিথ্যাচার এবং বিভ্রান্তদের অপব্যাখ্যাকে
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
ফাতহুল বাক্বী বি-শারহি আলফিয়াতিল ইরাক্বী
(পৃষ্ঠা: ৬)
الجاهلين، فظهرت المصنفات والجوامع والسنن والمسانيد والأجزاء والمشيخات وغيرها في صور عدة وضروب كثيرة، حرصاً واحتفاظاً واعتزازاً بسنة الحبيب المصطفى صلى الله عليه وسلم وكان لابد من ظهور مؤلفات تُبين مصطلحات المحدثين في كتبهم ودروسهم، تكشف عما يريدون من إطلاقاتهم وأقوالهم. فظهر عددٌ من المؤلفات في القرون التِي تلت عصر الرواية ومما لا شك فيه أنَّ من أحسنها تصنيفاً وأعمها نفعاً كتاب الحافظ أبي عَمْرو عثمان بن عَبْد الرَّحْمَان الشهرزوري المشهور بـ: ابن الصَّلَاح (577 - 643 هـ) المسمى: " مَعْرِفَة أنواع علم الْحَدِيْث " (1) الَّذِي لا يُحصى عدُّ من شرحه واختصره ونظمه ونكَّت عَلَيْهِ.
ولِمَا تميز بِهِ كتاب ابن الصَّلَاح من أهمية يعرفها المختصون بهذا الشأن؛ إذ اشتهر هَذَا الكِتَاب أيما اشتهار، وذاع صيته بَيْنَ الأنَامِ، وحرص عَلَى تحصيله القريب والبعيد. وَقَدْ هيأ الله لهذا الكِتَاب التعاليق الكثيرة والشروح المستفيضة. وَكَانَ من الَّذِيْنَ قيظهم الله لخدمة هَذَا الكِتَاب النفيس الحَافِظ زين الدين أَبُو الفضل عَبْد الرحيم بن الْحُسَيْن العراقي
(ت806 هـ) فنظم كتاب ابن الصَّلَاح في أرجوزة ربتْ عَلَى ألف بيت من الشعر (2). وَكَانَ لهذا النظم من المزايا والمنافع الشيء الكثير لما احتواه من زيادات وإيضاحات واستدراكات. وقد كتب الله لهذه الأرجوزة القبول فتسابق الناس في حفظها، وأخذوا في شرحها وإيضاحها. فكان من تِلْكَ الشروح الكثيرة هَذَا الكِتَاب الَّذِي بَيْنَ أيدينا، وَهُوَ شرح نفيس للغاية إِذْ امتاز بشرح وبيان المسائل اللغوية والصرفية والعروضية والتنبيه عَلَى ضرورات الشعر، وما إِلَى غَيْرِ ذَلِكَ من الميزات العديدة التِي احتواها هَذَا الشرح المبارك.
ولم يكتب - الباري عز وجل لهذا الكِتَاب أن يطبع من قَبْل محققاً تحقيقاً علمياً رصيناً رضياً عَلَى الرغم من أهميته ونفاسته، كُلّ هَذَا دفعنا إِلَى إعادة طبعه بالشكل الَّذِي يسر كُلّ محب لسنة المصطفى صلى الله عليه وسلم.
--------------------------------------------
অজ্ঞদের (চক্রান্ত) থেকে রক্ষার্থে; ফলে প্রিয় মনোনীত রাসুল (তাঁর ওপর আল্লাহর রহমত ও শান্তি বর্ষিত হোক)-এর সুন্নাহর প্রতি গভীর অনুরাগ, সংরক্ষণ এবং এর প্রতি মর্যাদাবোধের তাগিদে মুসান্নাফ, জামি, সুনান, মাসানিদ, আজজা, মাশিয়াখাত এবং আরও বহু আঙ্গিক ও প্রকারের গ্রন্থাবলি আত্মপ্রকাশ করে। আর মুহাদ্দিসগণ তাদের গ্রন্থ ও পাঠদানে যেসকল পরিভাষা ব্যবহার করেছেন এবং তাদের প্রয়োগ ও বক্তব্যের মাধ্যমে তারা কী উদ্দেশ্য নিয়েছেন তা উন্মোচন করার জন্য সহায়ক রচনাবলির আবশ্যকতা দেখা দেয়। ফলে হাদিস বর্ণনার যুগের পরবর্তী শতাব্দীগুলোতে বহু গ্রন্থ রচিত হয়। এতে কোনো সন্দেহ নেই যে, এগুলোর মধ্যে বিন্যাসের দিক থেকে শ্রেষ্ঠতম এবং উপকারের দিক থেকে সর্বাধিক ব্যাপক হলো হাফেজ আবু আমর উসমান ইবন আবদুর রহমান আশ-শাহরাজুরি—যিনি ইবনুস সালাহ (৫৭৭ - ৬৪৩ হিজরি) নামে প্রসিদ্ধ—তাঁর রচিত গ্রন্থ: "মা’রিফাতু আনওয়ায়ি ইলমিল হাদিস" (১), যার ব্যাখ্যাগ্রন্থ, সংক্ষিপ্তসার, পদ্যরূপ এবং টীকা যারা লিখেছেন তাদের সংখ্যা গণনা করা অসম্ভব।
ইবনুস সালাহর কিতাবটি যে অনন্য বৈশিষ্ট্যের অধিকারী তা এ বিষয়ের বিশেষজ্ঞরা অবগত আছেন; কেননা এই কিতাবটি অত্যন্ত প্রসিদ্ধি লাভ করেছে, মানুষের মাঝে এর সুখ্যাতি ছড়িয়ে পড়েছে এবং নিকটবর্তী ও দূরবর্তী সকলেই এটি সংগ্রহের জন্য ব্যাকুল হয়েছে। আল্লাহ তাআলা এই কিতাবের জন্য প্রচুর টীকা ও বিস্তারিত ব্যাখ্যাগ্রন্থের ব্যবস্থা করে দিয়েছেন। আল্লাহ যাদেরকে এই মহামূল্যবান কিতাবটির খিদমতের জন্য মনোনীত করেছেন, তাদের মধ্যে অন্যতম হলেন হাফেজ জয়নুদ্দিন আবুল ফজল আবদুর রহিম ইবন আল-হুসাইন আল-ইরাকি
(মৃত্যু ৮০৬ হিজরি)। তিনি ইবনুস সালাহর কিতাবটিকে এক হাজারেরও বেশি পঙক্তির একটি কবিতায় (আরজুজা) রূপান্তর করেছেন (২)। এই কাব্যের বহু বৈশিষ্ট্য ও উপকারিতা রয়েছে, কারণ এতে অতিরিক্ত সংযোজন, ব্যাখ্যা ও সংশোধনী অন্তর্ভুক্ত হয়েছে। আল্লাহ এই কাব্যটিকে কবুলিয়াত দান করেছেন, ফলে মানুষ এটি মুখস্থ করতে প্রতিযোগিতা করেছে এবং এর ব্যাখ্যা ও বিশদ বর্ণনায় আত্মনিয়োগ করেছে। সেই বহুসংখ্যক ব্যাখ্যাগ্রন্থের মধ্যে আমাদের সামনে বিদ্যমান এই কিতাবটিও একটি, যা অত্যন্ত মূল্যবান। এটি ভাষাতাত্ত্বিক, রূপতাত্ত্বিক, ছন্দতাত্ত্বিক মাসআলাসমূহের ব্যাখ্যা এবং কাব্যের প্রয়োজনীয়তা ও অন্যান্য বহু বৈশিষ্ট্যের কারণে অনন্যতা লাভ করেছে যা এই বরকতময় ব্যাখ্যাগ্রন্থে বিদ্যমান।
স্রষ্টা মহান আল্লাহ—এর আগে এই কিতাবটি এর গুরুত্ব ও মর্যাদা সত্ত্বেও কোনো সুনিপুণ ও সন্তোষজনক বৈজ্ঞানিক সম্পাদনার (তাহকিক) মাধ্যমে মুদ্রিত হওয়ার ফয়সালা করেননি। এই সবকিছুই আমাদেরকে কিতাবটি এমনভাবে পুনরায় মুদ্রণে উদ্বুদ্ধ করেছে যা প্রিয় মনোনীত রাসুল (তাঁর ওপর আল্লাহর রহমত ও শান্তি বর্ষিত হোক)-এর সুন্নাহর সকল প্রেমিকের জন্য আনন্দদায়ক হবে।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
ফাতহুল বাক্বী বি-শারহি আলফিয়াতিল ইরাক্বী
(পৃষ্ঠা: ৭)
وَقَدْ قدّمنا بَيْنَ يدي الكِتَاب دراسة ضمنّاها ثلاثة أبواب: الباب الأول: العراقي ونظمه " التبصرة والتذكرة "، والباب الثاني: الأنصاري وكتابه " فتح الباقي، والباب الثالث: التحقيق، واشتمل عَلَى ثلاثة فصول: الأول: التعريف بالكتاب، والثاني: وصف النسخ المعتمدة، والثالث: منهج التحقيق.
وبعد:
فهذا كتاب " فتح الباقي " نُقدمه لِمُحبي المصطفى صلى الله عليه وسلم السائرين عَلَى هديه الراجين شفاعته يوم القيامة، قَدْ خدمناه الخدمة التِي توازي تعلقنا بسيدنا المصطفى صلى الله عليه وسلم، وَكَانَ الوقت الَّذِي قضيناه فِيْهِ كله مباركاً.
وآخر دعوانا أن الحمد لله رب العالمين، والصلاة والسلام عَلَى سيدنا مُحَمَّد وعلى آله وصحبه والتابعين لهم بإحسان إِلَى يوم الدين.
المحققان
1/ 10 / 2001 م
আমরা গ্রন্থের শুরুতে একটি গবেষণা উপস্থাপন করেছি যা তিনটি অধ্যায় সম্বলিত: প্রথম অধ্যায়: আল-ইরাকি এবং তাঁর কাব্যগ্রন্থ "আত-তাবসিরাহ ওয়াত-তাযকিরাহ", দ্বিতীয় অধ্যায়: আল-আনসারি এবং তাঁর গ্রন্থ "ফাতহুল বাকি", এবং তৃতীয় অধ্যায়: সম্পাদনা, যা তিনটি পরিচ্ছেদের ওপর বিন্যস্ত: প্রথম: গ্রন্থটির পরিচিতি, দ্বিতীয়: নির্ভরযোগ্য পাণ্ডুলিপিগুলোর বর্ণনা, এবং তৃতীয়: সম্পাদনার পদ্ধতি।
অতঃপর:
এটি "ফাতহুল বাকি" গ্রন্থ; যা আমরা রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের প্রেমিকদের নিকট পেশ করছি, যারা তাঁর আদর্শের ওপর চলেন এবং কিয়ামতের দিন তাঁর সুপারিশের প্রত্যাশী। আমরা গ্রন্থটির জন্য এমন এক সেবা নিবেদন করেছি যা আমাদের নেতা রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের প্রতি আমাদের গভীর অনুরাগের বহিঃপ্রকাশ, এবং এতে ব্যয়িত আমাদের সম্পূর্ণ সময়টিই ছিল বরকতময়।
আমাদের শেষ প্রার্থনা হলো, সমস্ত প্রশংসা বিশ্বজগতের প্রতিপালক আল্লাহর জন্য। আর দরুদ ও সালাম বর্ষিত হোক আমাদের নেতা মুহাম্মদ এবং তাঁর পরিবারবর্গ, সহচরবৃন্দ ও কিয়ামত পর্যন্ত নিষ্ঠার সাথে তাদের অনুসারীদের ওপর।
সম্পাদকদ্বয়
১/ ১০ / ২০০১ খ্রি.
(খণ্ড: ১)
ফাতহুল বাক্বী বি-শারহি আলফিয়াতিল ইরাক্বী
(পৃষ্ঠা: ৮)
القِسْم الأول: [الدراسة]
الباب الأول: العراقي، ونظمه "التبصرة والتذكرة"
الفصل الأول: سيرته الذاتيةلا بد لنا وقد خضنا غمرة تحقيق كِتَاب "فتح الباقي بشرح ألفية العراقي" أن نعرِّج على تعريف موجز بصاحب النظم، ليس بالطويل المملّ ولا بالقصير المخلّ، لاسيّما أن هذا العمل يُعدّ مفتاحاً للولوج بمعرفة أكثر بالناظم، تعين القارئ على تكوين صورة مجملة عنه، وتوضح مكانته العلمية والمدة الزمنية التي عاشها.
ويشتمل هذا الفصل ثمانية مباحث نوردها تباعاً:
المبحث الأول: اسمه، ونسبه، وكنيته، وولادته:هو عَبْد الرحيم بن الحسين بن عبد الرحمان بن أبي بكر بن إبراهيم الكردي (1) الرازياني (2) العراقي الأصل (3) المهراني (4) المصري المولد الشافعي المذهب. كنيته: أبو الفضل، ويلقّب بـ (زين الدين) (5). وُلِدَ في اليوم الحادي والعشرين من شهر جُمَادَى
--------------------------------------------
প্রথম অংশ: [গবেষণা]প্রথম অধ্যায়: আল-ইরাকি এবং তাঁর কাব্যগ্রন্থ "আত-তাবসিরা ওয়াত-তাজকিরা"প্রথম পরিচ্ছেদ: তাঁর জীবনীআমরা যেহেতু "ফাতহুল বাকি বি-শারহি আলফিয়াতিল ইরাকি" গ্রন্থের সম্পাদনার গভীর সমুদ্রে অবগাহন করেছি, তাই মূল কাব্যগ্রন্থের রচয়িতার একটি সংক্ষিপ্ত পরিচয় প্রদান করা আমাদের জন্য অপরিহার্য; যা বিরক্তি উদ্রেককারী দীর্ঘ হবে না, আবার অসম্পূর্ণ সংক্ষিপ্তও হবে না। বিশেষ করে এই কাজটি রচয়িতা সম্পর্কে অধিকতর জ্ঞান অর্জনের একটি প্রবেশদ্বার হিসেবে গণ্য হবে, যা পাঠককে তাঁর সম্পর্কে একটি সামগ্রিক ধারণা লাভে সহায়তা করবে এবং তাঁর ইলমি মর্যাদা ও জীবনকালকে স্পষ্ট করবে।
এই পরিচ্ছেদটি আটটি অনুচ্ছেদ সম্বলিত যা আমরা ধারাবাহিকভাবে উপস্থাপন করছি:
প্রথম অনুচ্ছেদ: তাঁর নাম, বংশপরিচয়, উপনাম ও জন্ম:তিনি হলেন আব্দুর রহিম বিন আল-হুসাইন বিন আব্দুর রহমান বিন আবি বকর বিন ইবরাহিম আল-কুরদি (১) আর-রাজিয়ানি (২) ইরাকি বংশোদ্ভূত (৩) আল-মিহরানি (৪) মিশরে জন্মগ্রহণকারী শাফিয়ি মাযহাবের অনুসারী। তাঁর উপনাম (কুনিয়াত): আবু আল-ফাদল, এবং তাঁকে (যাইনুদ দীন) (৫) উপাধিতে ভূষিত করা হয়। তিনি জুমাদাল উলা মাসের একুশ তারিখে জন্মগ্রহণ করেন...
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
ফাতহুল বাক্বী বি-শারহি আলফিয়াতিল ইরাক্বী
(পৃষ্ঠা: ৯)
الأولى سنة (725 هـ) (1).
المبحث الثاني: أسرته:أقام أسلاف الحافظ العراقي في قرية رازيان - من أعمال إربل (2) - إلى أن انتقل والده وهو صغير مع بعض أقربائه إلى مصر (3)، إذ استقر فيها وتزوج من امرأة مصرية (4) ولدت له الحافظ العراقي. وكانت أسرته ممن عُرفوا بالزهد والصلاح والتقوى، وقد كان لأسلافه مناقب ومفاخر (5)، وكانت والدته ممن اشتهرن بالاجتهاد في العبادات والقربات مع الصبر والقناعة (6).
أمّا والدُه فقد اختصَّ - منذ قدومه مصر - بخدمة الصالحين (7)، ولعلَّ من أبرز الذين اختصَّ والده بخدمتهم الشيخ القناوي (8). ومن ثُمَّ ولد للمتَرجَمِ ابنٌ أسماه: أحمد، وكنَّاه: أبا زرعة، ولقَّبه: بولي الدين (9)، وبنت تدعى: خديجة، صاهره عليها: الحافظ نور الدين الهيثمي ورزق منها بأولاد، وأشارت بعض المصادر أنَّ له ابنتين أخريين: جويرية (10) وزينب (11).
--------------------------------------------
প্রথমটি ৭২৫ হিজরি সালে (১)।
দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ: তাঁর পরিবার:হাফেজ ইরাকির পূর্বপুরুষগণ ইরবিলের অন্তর্গত রাজিয়ান গ্রামে বসবাস করতেন (২) - যে পর্যন্ত না তাঁর পিতা ছোটবেলায় তাঁর কিছু আত্মীয়ের সাথে মিশরে চলে আসেন (৩)। সেখানে তিনি স্থায়ীভাবে বসবাস শুরু করেন এবং একজন মিশরীয় নারীকে বিবাহ করেন (৪), যাঁর গর্ভে হাফেজ ইরাকি জন্মগ্রহণ করেন। তাঁর পরিবার দুনিয়াবিমুখতা, নেক আমল এবং তাকওয়ার জন্য সুপরিচিত ছিল। তাঁর পূর্বপুরুষদের অনেক গুণাবলি ও গৌরবময় ইতিহাস ছিল (৫)। তাঁর মাতা ইবাদত-বন্দেগি ও আল্লাহর নৈকট্য লাভের প্রচেষ্টায় অধিক পরিশ্রমী হিসেবে প্রসিদ্ধ ছিলেন এবং তিনি ছিলেন ধৈর্যশীল ও অল্পে তুষ্ট (৬)।
আর তাঁর পিতা মিশরে আসার পর থেকে নেককার বান্দাদের সেবায় নিজেকে নিয়োজিত রেখেছিলেন (৭)। সম্ভবত তাঁর পিতা যাঁদের সেবায় বিশেষভাবে নিয়োজিত ছিলেন, তাঁদের মধ্যে সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য হলেন শেখ কিনাওয়ি (৮)। অতঃপর আলোচ্য ব্যক্তিত্বের (ইরাকি) একজন পুত্র সন্তান জন্মগ্রহণ করেন, যাঁর নাম তিনি রেখেছিলেন আহমদ, উপনাম (কুনিয়াত) রেখেছিলেন আবু যুরআ এবং উপাধি ছিল ওয়ালিউদ্দীন (৯)। তাঁর খাদিজা নামে এক কন্যাও ছিল, যাঁকে হাফেজ নূরুদ্দীন হাইসামি বিবাহ করেন এবং তাঁদের ঘরে সন্তানাদি জন্মায়। কিছু উৎস ইঙ্গিত দেয় যে তাঁর আরও দুই কন্যা ছিল: জুওয়াইরিয়া (১০) ও যয়নাব (১১)।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
ফাতহুল বাক্বী বি-শারহি আলফিয়াতিল ইরাক্বী
(পৃষ্ঠা: ১০)
المبحث الثالث: نشأتهوُلِد الحافظ العراقي - كما سبق - في مصر، وحمله والده صغيراً إلى الشيخ القناوي؛ ليباركه، إذ كَانَ الشَّيْخ هُوَ البشير بولادة الحَافِظ، وَهُوَ الَّذِي سمَّاه أيضاً (1)؛ ولكنَّ الوالد لَمْ يقم طويلاً مَعَ ولده، إذ إنَّ يدَ المنونِ تخطَّفته والطفل لَمْ يزل بَعْدُ طريَّ العود، غضَّ البنية لَمْ يُكمل الثالثة من عمره (2)، وَلَمْ نقف عَلَى ذكر لِمَن كفله بَعْدَ رحيل والده، والذي يغلب عَلَى ظننا أنّ الشَّيْخ القناوي هُوَ الَّذِي كفله وأسمعه (3)؛ وذلك لأن أقدم سماع وجد له كان سنة (737 هـ) بمعرفة القناوي (4)، وكان يُتَوقّعُ أن يكون له حضور أو سماع من الشيخ، إذ كان كثير التردد إليه سواء في حياة والده أو بعده، وأصحاب الحديث عند الشيخ يسمعون منه؛ لعلوِّ إسناده (5).
وحفظ الزينُ القرآنَ الكريمَ والتنبيه وأكثر الحاوي مَعَ بلوغه الثامنة من عمره (6)، واشتغل في بدء طلبه بدرس وتحصيل علم القراءات، وَلَمْ يثنِ عزمه عَنْهُ إلا نصيحة شيخه العزّ ابن جَمَاعَة، إذ قَالَ لَهُ: إنه علم كَثِيْر التعب قليل الجدوى، وأنت متوقد الذهن فاصرف همَّتك إلى الحَدِيْث (7). وَكَانَ قَدْ سبق لَهُ أن حضر دروس الفقه عَلَى ابن عدلان، ولازم العماد مُحَمَّد بن إسحاق البلبيسي (8)، وأخذ عَنْ الشمس بن اللبان، وجمال الدين الإسنوي الأصولَ (9) وَكَانَ الأخير كَثِيْر الثناء عَلَى فهمه، ويقول: ((إنَّ ذهنه
--------------------------------------------
তৃতীয় পরিচ্ছেদ: তাঁর বেড়ে ওঠাহাফিজ ইরাকী—ইতিপূর্বে যেমন উল্লেখ করা হয়েছে—মিশরে জন্মগ্রহণ করেন। শৈশবকালেই তাঁর পিতা তাঁকে শায়খ আল-ক্বানাউয়ীর কাছে নিয়ে যান, যাতে তিনি তাঁকে বরকত ও দোয়া দান করেন; কারণ শায়খই ছিলেন হাফিজের জন্মের সুসংবাদদাতা এবং তিনিই তাঁর নামকরণ করেছিলেন (১); কিন্তু পিতা তাঁর সন্তানের সাথে দীর্ঘকাল অবস্থান করতে পারেননি, কারণ শিশুটি তখনও অতি অল্পবয়সী এবং সুকুমার দেহের অধিকারী থাকাকালেই মৃত্যুর হাত তাকে ছিনিয়ে নিয়েছিল, যখন তাঁর বয়স তিন বছরও পূর্ণ হয়নি (২)। তাঁর পিতার ইন্তেকালের পর কে তাঁর লালন-পালন করেছিলেন সে সম্পর্কে আমরা কোনো উল্লেখ পাইনি; তবে আমাদের প্রবল ধারণা এই যে, শায়খ আল-ক্বানাউয়ীই তাঁর অভিভাবকত্ব গ্রহণ করেছিলেন এবং তাঁকে হাদিস শুনিয়েছিলেন (৩); এর কারণ হলো তাঁর প্রাপ্ত সবচেয়ে প্রাচীন হাদিস শ্রবণ ছিল ৭৩৭ হিজরিতে শায়খ ক্বানাউয়ীর তত্ত্বাবধানে (৪)। শায়খের কাছে তাঁর উপস্থিতি বা হাদিস শ্রবণ থাকাটাই ছিল স্বাভাবিক, কারণ তিনি পিতার জীবদ্দশায় এবং তাঁর পরেও শায়খের কাছে প্রচুর যাতায়াত করতেন; আর শায়খের উচ্চ সনদের (উলুউল ইসনাদ) কারণে হাদিস অনুসারীরা তাঁর কাছ থেকে হাদিস শ্রবণ করতেন (৫)।
যাইন (ইরাকী) তাঁর আট বছর বয়সের মধ্যেই পবিত্র কুরআন, 'আত-তানবিহ' এবং 'আল-হাভী'-র অধিকাংশ মুখস্থ সম্পন্ন করেন (৬)। জ্ঞান অন্বেষণের শুরুতে তিনি কিরাআত শাস্ত্র অধ্যয়ন ও অর্জনে লিপ্ত হন। তাঁর এই সংকল্প থেকে কেবল তাঁর শায়খ আল-ইযয ইবনে জামাআহ-এর নসিহতই তাঁকে বিরত করেছিল, যখন তিনি তাঁকে বলেছিলেন: "এটি এমন এক জ্ঞান যাতে পরিশ্রম অনেক কিন্তু সুফল কম, আর তোমার মেধা অত্যন্ত প্রখর, তাই তোমার একাগ্রতাকে হাদিস শাস্ত্রের দিকে নিবদ্ধ করো" (৭)। ইতোপূর্বে তিনি ইবনে আদলানের নিকট ফিকহ পাঠে উপস্থিত হয়েছিলেন এবং আল-ইমাদ মুহাম্মদ ইবনে ইসহাক আল-বালবিসির সান্নিধ্যে ছিলেন (৮), আর আশ-শামস ইবনে আল-লাব্বান ও জামালুদ্দিন আল-ইসনাভি থেকে উসুল শাস্ত্র গ্রহণ করেন (৯)। শেষোক্তজন (ইসনাভি) তাঁর বুঝ-জ্ঞানের অত্যন্ত প্রশংসা করতেন এবং বলতেন: "নিশ্চয়ই তাঁর মেধা...
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
ফাতহুল বাক্বী বি-শারহি আলফিয়াতিল ইরাক্বী
(পৃষ্ঠা: ১১)
صَحِيْح لا يقبل الخطأ)) (1)، وكان الشيخ القناوي في سنة سبع وثلاثين - وهي السنة التي مات فيها - قد أسمعه على الأمير سنجر الجاولي، والقاضي تقي الدين بن الأخنائي المالكي، وغيرهما ممّن لم يكونوا من أصحاب العلوِّ (2).
ثمَّ ابتدأ الطلب بنفسه، وكان قد سمع على عبد الرحيم بن شاهد الجيش، وابن عبد الهادي، وقرأ بنفسه على الشيخ شهاب الدين بن البابا (3)، وصرف همَّته إلى التخريج وكان كثير اللهج بتخريج أحاديث " الإحياء " وله من العمر -آنذاك- عشرون سنة (4)، وقد فاته إدراك العوالي مما يمكن لأترابه ومَن هو في مثل سنّه إدراكه، ففاته يحيى بن المصري - آخر مَن روى حديث السِّلَفي عالياً بالإجازة (5) - والكثير من أصحاب ابن عبد الدائم والنجيب بن العلاّق (6)، وكان أوّل مَن طلب عَلَيْهِ: الحافظ علاء الدين بن التركماني في القاهرة وبه تخرّج وانتفع (7)، وأدرك بالقاهرة أبا الفتح الميدومي، فأكثر عنه وهو من أعلى مشايخه إسناداً (8)، ولم يلقَ من أصحاب النجيب غيره (9)، ومن ناصر الدين محمد بن إسماعيل الأيوبي (10)، ومن ثَمَّ شدَّ رحاله - على عادة أهل الحديث- إلى الشام قاصداً دمشق فدخلها سنة (754 هـ) (11)، ثُمَّ عادَ إليها بعد ذلك سنة (758هـ)، وثالثة في سنة (759 هـ) (12)، ولم تقتصر رحلته الأخيرة على دمشق بل رحل إلى غالب
--------------------------------------------
নির্ভুল সহিহ (১), এবং শায়খ কিনাওয়ি সাইত্রিশ হিজরি সনে—যেটি ছিল তাঁর মৃত্যু বছর—আমির সানজার আল-জাওলি, কাজী তাকিউদ্দীন ইবনে আল-আখনায়ি আল-মালিকি এবং উচ্চ সনদধারীদের (আসহাবুল উলু) অন্তর্ভুক্ত নন এমন অন্যদের এটি শুনিয়েছিলেন (২)।
এরপর তিনি নিজে ইলম অন্বেষণ শুরু করেন। তিনি আবদুর রহিম ইবনে শাহিদ আল-জাইশ এবং ইবনে আবদুল হাদির কাছে শ্রবণ করেছেন এবং শায়খ শিহাবুদ্দীন ইবনুল বাবার কাছে নিজে পাঠ করেছেন (৩)। তিনি হাদিসের সূত্র যাচাই বা তাখরিজের প্রতি পূর্ণ মনোযোগ নিবদ্ধ করেন। 'ইহয়া'র হাদিসসমূহের তাখরিজ করার ব্যাপারে তিনি অত্যন্ত সচেষ্ট ছিলেন এবং সে সময়ে তাঁর বয়স ছিল বিশ বছর (৪)। তাঁর সমবয়সী বা সমসাময়িকরা যা অর্জন করতে সক্ষম হয়েছিলেন, সেই উচ্চ সনদ (আওয়ালি) অর্জনের সুযোগ তিনি হারিয়েছিলেন। ফলে তিনি ইয়াহইয়া ইবনুল মিসরি—যিনি ইজাজতের মাধ্যমে উচ্চ সনদে সিলফির হাদিস বর্ণনাকারী সর্বশেষ ব্যক্তি ছিলেন (৫)—এবং ইবনে আবদুল দায়িম ও নাজিব ইবনুল আল্লাকের অনেক ছাত্র বা সঙ্গীকেও তিনি পাননি (৬)। কায়রোতে তিনি সর্বপ্রথম হাফেজ আলাউদ্দীন ইবনে তুর্কিমানির কাছে ইলম অন্বেষণ করেন এবং তাঁর মাধ্যমেই তিনি বুৎপত্তি লাভ করেন ও উপকৃত হন (৭)। তিনি কায়রোতে আবুল ফাতহ আল-মাইদুমিকে পান এবং তাঁর থেকে প্রচুর হাদিস গ্রহণ করেন; ইসনাদের উচ্চতার দিক থেকে তিনি ছিলেন তাঁর শ্রেষ্ঠ শায়খদের অন্যতম (৮)। তিনি নাজিবের ছাত্রদের মধ্যে তাঁকে ছাড়া আর কাউকে পাননি (৯)। এবং নাসিরুদ্দীন মুহাম্মদ বিন ইসমাইল আল-আইয়ুবি থেকেও বর্ণনা করেছেন (১০)। অতঃপর মুহাদ্দিসগণের রীতি অনুযায়ী তিনি শামের উদ্দেশ্যে সফর করেন এবং ৭৫৪ হিজরি সনে দামেস্কে প্রবেশ করেন (১১)। এরপর তিনি পুনরায় সেখানে ফিরে আসেন ৭৫৮ হিজরি সনে এবং তৃতীয়বার ৭৫৯ হিজরি সনে (১২)। তাঁর শেষ সফরটি কেবল দামেস্কের মধ্যেই সীমাবদ্ধ ছিল না, বরং তিনি অধিকাংশ অঞ্চলে সফর করেছিলেন...
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
ফাতহুল বাক্বী বি-শারহি আলফিয়াতিল ইরাক্বী
(পৃষ্ঠা: ১২)
مدن بلاد الشام (1)، ومنذ أول رحلة له سنة (754 هـ) لم تخلُ سنة بعدها من الرحلة إمّا في الحديث وإمّا في الحجّ (2)، فسمع بمصر (3) ابن عبد الهادي، ومحمد بن علي القطرواني، وبمكة أحمد بن قاسم الحرازي، والفقيه خليل إمام المالكية بها، وبالمدينة العفيف المطري، وببيت المقدس العلائي، وبالخليل خليل بن عيسى القيمري، وبدمشق ابن الخباز، وبصالحيتها ابن قيم الضيائية، والشهاب المرداوي، وبحلب سليمان بن إبراهيم بن المطوع، والجمال إبراهيم بن الشهاب محمود في آخرين بهذه البلاد وغيرها كالإسكندرية وبعلبك، وحماة، وحمص، وصفد، وطرابلس، وغزّة، ونابلس
… تمام ستة وثلاثين مدينة. وهكذا أصبح الحديث ديدنه وأقبل عليه بكليته (4)، وتضلّع فيه رواية ودراية وصار المعول عليه في إيضاح مشكلاته وحلّ معضلاته، واستقامت له الرئاسة فيه، والتفرد بفنونه، حتّى إنّ كثيراً من مشايخه كانوا يرجعون إليه، وينقلون عنه -كما سيأتي- حتَّى قال ابن حجر: ((صار المنظور إليه في هذا الفن من زمن الشيخ جمال الدين الإسنائي
… وهلمَّ جرّاً، ولم نرَ في هذا الفنّ أتقن منه، وعليه تخرج غالب أهل عصره)) (5).
المبحث الرابع: مكانته العلمية وأقوال العلماء فيهمما تقدّم تبيّنت المكانة العلمية التي تبوّأها الحافظ العراقي، والتي كانت من توفيق الله تعالى له، إذ أعانه بسعة الاطلاع، وجودة القريحة، وصفاء الذهن، وقوة الحفظ، وسرعة الاستحضار، فلم يكن أمام مَن عاصره إلاّ أن يخضع له سواء من شيوخه أو تلامذته. ومما يزيد هذا الأمر وضوحاً عرضِ جملةٍ من أقوال العلماء فيه، من ذلك:
--------------------------------------------
শাম দেশের শহরসমূহ (১), এবং ৭৫৪ হিজরিতে তাঁর প্রথম সফরের পর থেকে এমন কোনো বছর অতিবাহিত হয়নি যাতে তিনি হাদিস অথবা হজের উদ্দেশ্যে সফর করেননি (২)। তিনি মিশরে (৩) ইবন আব্দুল হাদী ও মুহাম্মাদ ইবন আলী আল-কাতরওয়ানী থেকে, মক্কায় আহমদ ইবন কাসিম আল-হাররাজি এবং সেখানকার মালিকি মাযহাবের ইমাম ফকিহ খলিল থেকে, মদিনায় আফিফ আল-মাতারী থেকে, বাইতুল মাকদিসে আল-আলায়ী থেকে, খলিলে খলিল ইবন ঈসা আল-কায়মারী থেকে, দামেস্কে ইবনুল খাব্বায থেকে, সালিহিয়াতে ইবন কাইয়্যিম আদ-দিয়াঈয়াহ ও শিহাব আল-মারদাওয়ী থেকে, আলেপ্পোতে সুলাইমান ইবন ইব্রাহিম ইবনুল মুতাউওয়া ও জামাল ইব্রাহিম ইবনুশ শিহাব মাহমুদ এবং আলেকজান্দ্রিয়া, বালবাক, হামাত, হিমস, সাফাদ, ত্রিপোলি, গাজা ও নাবলুসসহ অন্যান্য শহরের আরও অনেকের কাছে হাদিস শ্রবণ করেছেন
… সর্বমোট ছত্রিশটি শহর। এভাবে হাদিসচর্চাই তাঁর মজ্জাগত অভ্যাসে পরিণত হয় এবং তিনি পূর্ণাঙ্গভাবে এর প্রতি মনোনিবেশ করেন (৪)। বর্ণনা ও উপলব্ধি উভয় ক্ষেত্রেই তিনি প্রগাঢ় পাণ্ডিত্য অর্জন করেন এবং হাদিসের জটিল বিষয়গুলোর ব্যাখ্যা ও কঠিন সমস্যার সমাধানে তিনি প্রধান নির্ভরযোগ্য ব্যক্তিতে পরিণত হন। এই শাস্ত্রে তাঁর নেতৃত্ব সুপ্রতিষ্ঠিত হয় এবং এর বিভিন্ন শাখায় তিনি অনন্য হয়ে ওঠেন, এমনকি তাঁর অনেক উস্তাদও তাঁর কাছেই প্রত্যাবর্তন করতেন এবং তাঁর থেকে বর্ণনা গ্রহণ করতেন—যেমনটি সামনে আসবে—এমনকি ইবন হাজার বলেন: ((শায়খ জামালুদ্দিন আল-ইসনায়ীর সময় থেকে
… এবং পরবর্তী সময় পর্যন্ত এই শাস্ত্রে তিনিই ছিলেন সবার দৃষ্টির কেন্দ্রবিন্দু। আমরা এই শাস্ত্রে তাঁর চেয়ে অধিক সুনিপুণ আর কাউকে দেখিনি, এবং তাঁর নিকট থেকেই তাঁর যুগের অধিকাংশ আলেম শিক্ষা লাভ করেছেন)) (৫)।
চতুর্থ পরিচ্ছেদ: তাঁর ইলমি মর্যাদা ও তাঁর সম্পর্কে আলেমগণের উক্তিউপরে যা বর্ণিত হয়েছে তা থেকে হাফেজ ইরাকি যে সুউচ্চ ইলমি আসনে সমাসীন ছিলেন তা সুস্পষ্ট হয়, যা মূলত তাঁর প্রতি মহান আল্লাহর বিশেষ তাওফিক ছিল। কেননা আল্লাহ তাঁকে ব্যাপক অধ্যয়ন, প্রখর মেধা, চিন্তার স্বচ্ছতা, শক্তিশালী স্মৃতিশক্তি এবং দ্রুত উপস্থাপনের সামর্থ্য দিয়ে সাহায্য করেছিলেন। ফলে তাঁর সমসাময়িক উস্তাদ কিংবা ছাত্র—সকলেরই তাঁর শ্রেষ্ঠত্ব স্বীকার করা ছাড়া গত্যন্তর ছিল না। এ বিষয়টি আরও স্পষ্টভাবে ফুটিয়ে তোলার জন্য তাঁর সম্পর্কে আলেমদের একগুচ্ছ বক্তব্য নিচে পেশ করা হলো:
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
ফাতহুল বাক্বী বি-শারহি আলফিয়াতিল ইরাক্বী
(পৃষ্ঠা: ১৩)
1 - قال شيخه العزُّ بن جماعة: ((كلّ مَن يدّعي الحديث في الديار المصرية سواه فهو مدَّعٍ)) (1).
2 - قال التقي بن رافع السلامي: ((ما في القاهرة مُحَدِّثٌ إلاّ هذا، والقاضي عزّ الدين ابن جماعة))، فلمَّا بلغته وفاة العزّ قال: ((ما بقي الآن بالقاهرة مُحَدِّثٌ إلاّ الشيخ زين الدين العراقي)) (2).
3 - قال ابن الجزري: ((حافظ الديار المصرية ومُحَدِّثُها وشيخها)) (3).
4 - قال ابن ناصر الدين: ((الشيخ الإمام العلاّمة الأوحد، شيخ العصر حافظ الوقت
… شيخ الْمُحَدِّثِيْن عَلَم الناقدين عُمْدَة المخرِّجِين)) (4).
5 - قال ابن قاضي شهبة: ((الحافظ الكبير المفيد المتقن المحرّر الناقد، محَدِّث الديار المصرية، ذو التصانيف المفيدة)) (5).
6 - قال التقي الفاسي: ((الحافظ المعتمد،
… كان حافظاً متقناً عارفاً بفنون الحديث وبالفقه والعربية وغير ذلك،
… كان كثير الفضائل والمحاسن)) (6).
7 - وقال ابن حجر: ((حافظ العصر)) (7)، وقال: ((الحافظ الكبير شيخنا الشهير)) (8).
8 - وقال ابن تغري بردي: ((الحافظ،
… شيخ الحديث بالديار المصرية،
… وانتهت إليه رئاسة علم الحديث في زمانه)) (9).
9 - وقال ابن فهد: ((الإمام الأوحد، العلاّمة الحجة الحبر الناقد، عمدة الأنام حافظ الإسلام، فريد دهره، ووحيد عصره، من فاق بالحفظ والإتقان في زمانه، وشهد له في التفرّد
--------------------------------------------
১ - তাঁর শিক্ষক ইয ইবন জামাআহ বলেছেন: ((মিসর ভূখণ্ডে তাঁকে ছাড়া অন্য যারা ইলমে হাদীসের দাবিদার, তারা কেবলই দাবিদার (প্রকৃত মুহাদ্দিস নয়))) (১)।
২ - তাকী ইবন রাফে আস-সালামী বলেছেন: ((কায়রোতে তিনি এবং কাযী ইযউদ্দীন ইবন জামাআহ ছাড়া আর কোনো মুহাদ্দিস নেই)), অতঃপর যখন তাঁর নিকট ইয-এর মৃত্যুর সংবাদ পৌঁছাল, তিনি বললেন: ((এখন কায়রোতে শাইখ যাইনুদ্দীন আল-ইরাকী ছাড়া আর কোনো মুহাদ্দিস অবশিষ্ট রইলেন না)) (২)।
৩ - ইবনুল জাযারী বলেছেন: ((মিসর ভূখণ্ডের হাফিয, মুহাদ্দিস এবং তাদের শাইখ)) (৩)।
৪ - ইবন নাসিরুদ্দীন বলেছেন: ((শাইখ, ইমাম, অদ্বিতীয় আল্লামাহ, সমকালীন শাইখ, যুগের হাফিয
… মুহাদ্দিসদের শাইখ, সমালোচকদের ঝাণ্ডাধারী, তাখরীজকারীদের প্রধান অবলম্বন)) (৪)।
৫ - ইবন কাযী শুহবাহ বলেছেন: ((বিশাল হাফিয, সুনিপুণ গবেষক, বিশ্লেষক ও সমালোচক, মিসর ভূখণ্ডের মুহাদ্দিস এবং বহু উপকারী গ্রন্থের রচয়িতা)) (৫)।
৬ - তাকী আল-ফাসী বলেছেন: ((নির্ভরযোগ্য হাফিয,
… তিনি ছিলেন একজন সুনিপুণ হাফিয, হাদীস শাস্ত্রের বিভিন্ন শাখা, ফিকহ, আরবি ভাষা এবং অন্যান্য বিষয়ে পারদর্শী,
… তিনি প্রভূত ফযীলত ও গুণের অধিকারী ছিলেন)) (৬)।
৭ - ইবন হাজার বলেছেন: ((সময়ের হাফিয)) (৭), এবং আরও বলেছেন: ((বিশাল হাফিয, আমাদের প্রসিদ্ধ শাইখ)) (৮)।
৮ - ইবন তাগরী বারদী বলেছেন: ((হাফিয,
… মিসর ভূখণ্ডের শাইখুল হাদীস,
… এবং তাঁর সময়ে ইলমে হাদীসের নেতৃত্ব তাঁর কাছে এসেই সমাপ্ত হয়েছে (অর্থাৎ তিনি ছিলেন শীর্ষস্থানীয়))) (৯)।
৯ - ইবন ফাহাদ বলেছেন: ((অদ্বিতীয় ইমাম, হুজ্জাহ ও বিচক্ষণ সমালোচক আল্লামাহ, সৃষ্টির আশ্রয়স্থল, হাফিযুল ইসলাম, স্বীয় যুগের অনন্য এবং সময়ের একক ব্যক্তিত্ব, যিনি হিফয (মুখস্থশক্তি) ও নিপুণতায় স্বীয় যুগে শ্রেষ্ঠত্ব লাভ করেছেন এবং যাঁর অনন্যতার সাক্ষ্য দেওয়া হয়েছে
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
ফাতহুল বাক্বী বি-শারহি আলফিয়াতিল ইরাক্বী
(পৃষ্ঠা: ১৪)
في فنه أئمة عصره وأوانه)) (1). وأطال النفس في الثناء عليه.
10 - وقال السيوطي: ((الحافظ الإمام الكبير الشهير،
… حافظ العصر)) (2).
ويبدو أنّ الأمر الأكثر إيضاحاً لمكانة الحافظ العراقي نقولات شيوخه عنه وعودتهم إليه، والصدور عن رأيه، وكانوا يكثرون من الثناء عليه، ويصفونه بالمعرفة، من أمثال السبكي والعلائي وابن جماعة وابن كثير والإسنوي (3).
ونقل الإسنوي عنه في " المهمات " وغيرها (4)، وترجم له في طبقاته (5)
ولم يترجم لأحد من الأحياء سواه (6)، وصرّح ابن كثير بالإفادة منه في تخريج بعض الشيء (7).
ومن بين الأمور التي توضّح مكانة الحافظ العراقي العلمية تلك المناصب التي تولاها، والتي لا يمكن أن تسند إليه لولا اتفاق عصرييه على أولويته لها، ومن بين ذلك:
تدريسه في العديد من مدارس مصر والقاهرة مثل: دار الحديث الكاملية (8)، والظاهرية القديمة (9)، والقراسنقرية (10)، وجامع ابن طولون (11)، والفاضلية (12)،
--------------------------------------------
নিজ বিদ্যায় তিনি তাঁর সময়ের ও যুগের ইমামগণের অন্তর্ভুক্ত ছিলেন)) (১)। আর তিনি তাঁর প্রশংসায় দীর্ঘ আলোচনা করেছেন।
১০ - এবং সুয়ূতী বলেছেন: ((বিখ্যাত মহান হাফেয ও ইমাম,
… যুগের হাফেয)) (২)।
এটা প্রতীয়মান হয় যে, হাফেয ইরাকীর মর্যাদাকে সবচেয়ে বেশি স্পষ্ট করে এমন বিষয়টি হলো তাঁর সম্পর্কে তাঁর শিক্ষকদের উদ্ধৃতি প্রদান, তাঁদের তাঁর নিকট প্রত্যাবর্তন এবং তাঁর মতামতের ওপর ভিত্তি করা। তাঁরা তাঁর প্রশংসা অনেক বেশি করতেন এবং তাঁকে গভীর জ্ঞানের অধিকারী হিসেবে বর্ণনা করতেন, যেমন: সুবকী, আল-আলাঈ, ইবনে জামাআহ, ইবনে কাসীর এবং আল-ইসনাবী (৩)।
এবং আল-ইসনাবী তাঁর থেকে 'আল-মুহিম্মাত' এবং অন্যান্য গ্রন্থে উদ্ধৃতি দিয়েছেন (৪), এবং তাঁর 'তাবাকাত' গ্রন্থে তাঁর জীবনী বর্ণনা করেছেন (৫)।
তিনি জীবিতদের মধ্যে একমাত্র তাঁর জীবনীই বর্ণনা করেছেন (৬), এবং ইবনে কাসীর কিছু বিষয়ের তাখরীজ করার ক্ষেত্রে তাঁর থেকে উপকৃত হওয়ার কথা স্পষ্টভাবে ব্যক্ত করেছেন (৭)।
হাফেয ইরাকীর ইলমী মর্যাদা স্পষ্টকারী বিষয়গুলোর মধ্যে রয়েছে তাঁর অধিষ্ঠিত সেই পদসমূহ, যা তাঁর ওপর ন্যস্ত করা সম্ভব হতো না যদি না সমসাময়িকরা সেগুলোর জন্য তাঁর যোগ্যতার বিষয়ে একমত হতেন। তার মধ্যে রয়েছে:
মিসর ও কায়রোর বহু মাদরাসায় তাঁর শিক্ষকতা, যেমন: দারুল হাদীস আল-কামিলিয়্যাহ (৮), আয-যাহিরিয়্যাহ আল-কাদিমাহ (৯), আল-কারাসুনকুরিয়্যাহ (১০), জামে ইবনে তুলুন (১১) এবং আল-ফাদিলিয়্যাহ (১২),
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
ফাতহুল বাক্বী বি-শারহি আলফিয়াতিল ইরাক্বী
(পৃষ্ঠা: ১৫)
وجاور مدةً بالحرمين (1).
كما أنّه تولّى قضاء المدينة المنورة، والخطابة والإمامة فيها، منذ الثاني عشر من جُمَادَى الأولى سنة (788 هـ)، حتى الثالث عشر من شوال سنة (791 هـ)، فكانت المدة ثلاث سنين وخمسة أشهر (2).
وفي سبيل جعل شخصية الحافظ العراقي بينة للعيان من جميع جوانبها، ننقل ما دبَّجه قلم تلميذه وخِصِّيصه الحافظ ابن حجر في وصفه شيخه، إذ قال في مجمعه (3):
((كان الشيخ منور الشيبة، جميل الصورة، كثير الوقار، نزر الكلام، طارحاً للتكلف، ضيق العيش، شديد التوقي في الطهارة، لطيف المزاج، سليم الصدر، كثير الحياء، قلَّما يواجه أحداً بما يكرهه ولو آذاه، متواضعاً منجمعاً، حسن النادرة والفكاهة، وقد لازمته مدّة فلم أره ترك قيام الليل، بل صار له كالمألوف، وإذا صلَّى الصبح استمر غالباً في مجلسه، مستقبل القبلة، تالياً ذاكراً إلى أن تطلع الشمس، ويتطوع بصيام ثلاثة أيام من كلِّ شهر وستة شوال، كثير التلاوة إذا ركب
… ))، ثُمَّ ختم كلامه قائلاً: ((وليس العيان في ذلك كالخبر)).
المبحث الخامس: شيوخهعرفنا فيما مضى أنَّ الحافظ العراقي منذ أن أكبَّ على علم الحديث؛ كان حريصاً على التلقي من مشايخه، وقد وفّرت له رحلاته المتواصلة سواء إلى الحج أو إلى بلاد الشام فرصة التنويع في فنون مشايخه والإكثار منهم.
والباحث في ترجمته وترجمة شيوخه يجد نفسه أمام حقيقة لا مناص عنها، وهي أنَّ سمة الحديث كانت الطابع المميز لأولئك المشايخ، مما أدَّى بالنتيجة إلى تنّوع معارف
--------------------------------------------
এবং তিনি হারমাইন শরিফে কিছুদিন অবস্থান করেন (১)।
তেমনিভাবে তিনি মদিনা মুনাওয়ারার কাজি হিসেবে এবং সেখানে খুতবা প্রদান ও ইমামতির দায়িত্ব পালন করেন; যা ৭৮৮ হিজরি সনের ১২ই জুমাদাল উলা থেকে শুরু করে ৭৯১ হিজরি সনের ১৩ই শাওয়াল পর্যন্ত অব্যাহত ছিল। ফলে এই সময়কাল ছিল তিন বছর পাঁচ মাস (২)।
হাফেজ ইরাকির ব্যক্তিত্বের সকল দিক স্পষ্টভাবে ফুটিয়ে তোলার লক্ষ্যে, আমরা তাঁর ছাত্র এবং ঘনিষ্ঠ সহচর হাফেজ ইবনে হাজার তাঁর শায়খের বর্ণনায় যা লিখেছেন তা উদ্ধৃত করছি। তিনি তাঁর 'মাজমা' (৩) গ্রন্থে বলেছেন:
(("শায়খ ছিলেন উজ্জ্বল শুভ্র দাড়িবিশিষ্ট, সুন্দর চেহারার অধিকারী, অত্যন্ত গাম্ভীর্যপূর্ণ, স্বল্পভাষী এবং কৃত্রিমতামুক্ত। তাঁর জীবন যাপন ছিল সাদাসিধে, পবিত্রতার বিষয়ে অত্যন্ত সতর্ক ছিলেন, তাঁর মেজাজ ছিল নম্র, অন্তর ছিল কলুষমুক্ত এবং তিনি অত্যন্ত লজ্জাশীল ছিলেন। কেউ তাঁকে কষ্ট দিলেও তিনি তার সাথে অপ্রীতিকর আচরণ করতেন না। তিনি ছিলেন বিনয়ী ও আত্মমর্যাদাবান, চমৎকার কৌতুক ও হাস্যরসের অধিকারী ছিলেন। আমি দীর্ঘকাল তাঁর সাথে ছিলাম এবং কখনো তাঁকে রাতের ইবাদত (কিয়ামুল লাইল) বর্জন করতে দেখিনি, বরং এটি তাঁর অভ্যাসে পরিণত হয়েছিল। ফজরের সালাত আদায়ের পর তিনি সাধারণত সূর্যোদয় পর্যন্ত কিবলামুখী হয়ে বসে কুরআন তিলাওয়াত ও জিকির করতেন। তিনি প্রতি মাসে তিন দিন এবং শাওয়ালের ছয় দিন নফল রোজা রাখতেন। সওয়ারিতে আরোহণকালেও তিনি প্রচুর তিলাওয়াত করতেন
… "))। অতঃপর তিনি তাঁর কথা এই বলে শেষ করেন: (("আর এক্ষেত্রে চাক্ষুষ দেখা সংবাদের মতো নয়।"))।
পঞ্চম পরিচ্ছেদ: তাঁর শায়খগণআমরা ইতিপূর্বে জেনেছি যে, হাফেজ ইরাকি যখন থেকে হাদিস শাস্ত্রের প্রতি মনোনিবেশ করেছিলেন, তখন থেকেই তিনি তাঁর শায়খদের থেকে শিক্ষা গ্রহণের বিষয়ে অত্যন্ত আগ্রহী ছিলেন। তাঁর হজ্জ কিংবা শাম (সিরিয়া) অঞ্চলের নিরবচ্ছিন্ন সফরগুলো তাঁকে বিভিন্ন শাস্ত্রের অনেক শায়খের সান্নিধ্য লাভের এবং তাঁদের থেকে উপকৃত হওয়ার সুযোগ করে দিয়েছিল।
তাঁর জীবনী এবং তাঁর শায়খদের জীবনী নিয়ে গবেষণাকারীরা একটি অনস্বীকার্য বাস্তবতার সম্মুখীন হন, তা হলো হাদিস চর্চায় পারদর্শিতা ছিল সেই শায়খদের স্বতন্ত্র বৈশিষ্ট্য; যার ফলে অর্জিত জ্ঞানের ক্ষেত্রে বৈচিত্র্য দেখা দিয়েছিল।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
ফাতহুল বাক্বী বি-শারহি আলফিয়াতিল ইরাক্বী
(পৃষ্ঠা: ১৬)
الحافظ العراقي وتضلّعه في فنون علوم الحديث، فمنهم من كان ضليعاً بأسماء الرجال، ومنهم من كان التخريج صناعته، ومنهم من كان عارفاً بوفيات الرواة، ومنهم من كانت في لغة الحديث براعته
… وهكذا. وهذا شيء نلمسه جلياً في شرحه هذا بجميع مباحثه، وذلك من خلال استدراكاته وتعقباته وإيضاحاته والفوائد التي كان يطالعنا بها على مرِّ صفحات شرحه الحافل.
ومسألة استقصاء جميع مشايخه من نافلة القول - فضلاً عن كونها شبه متعذرة سلفاً - لاسيّما أنه لم يؤلف معجماً بأسماء مشايخه على غير عادة المحدّثين، خلافاً لقول البرهان الحلبي من أنه خرّج لنفسه معجماً (1).
لذا نقتصر على أبرزهم، مع التزامنا بعدم إطالة تراجمهم:
1 - الإمام الحافظ قاضي القضاة علي بن عثمان بن إبراهيم المارديني، المشهور بـ ((ابن التركماني)) الحنفي، مولده سنة (683 هـ)، وتوفي سنة (750 هـ) لَهُ من التآليف:
" الجوهر النقي في الرد عَلَى البَيْهَقِيّ "، وغيره (2).
2 - الشيخ الْمُسْنِد المعمر صدر الدين أبو الفتح محمد بن محمد بن إبراهيم الميدومي المصري، ولد سنة (664 هـ)، وهو آخر من روى عن النجيب الحراني، وابن العلاق، وابن عزون، توفي سنة (754 هـ) (3).
3 - الإمام الحافظ العلاّمة علاء الدين أبو سعيد خليل بن كيكلدي بن عبد الله العلائي الدمشقي ثم المقدسي، ولد سنة (694 هـ)، وتوفي سنة (761 هـ)، له من التصانيف: " جامع التحصيل "، و " الوشي المعلم "، و " نظم الفرائد " وغيرها (4).
4 - الإمام الحافظ العلاّمة علاء الدين أبو عبد الله مغلطاي بن قُليج بن عبد الله البكجري الحكري الحنفي، مولده سنة (689 هـ)، وقيل غيرها، برع في فنون
--------------------------------------------
হাফেজ ইরাকি এবং হাদিস শাস্ত্রের বিভিন্ন শাখায় তাঁর গভীর পাণ্ডিত্য; তাঁদের মধ্যে কেউ ছিলেন রিজাল শাস্ত্রের বর্ণনাকারীদের নামের ক্ষেত্রে পারদর্শী, কেউ ছিলেন তাখরিজ (উৎস নির্ণয়) বিদ্যায় দক্ষ, কেউ ছিলেন বর্ণনাকারীদের মৃত্যু সন সম্পর্কে অভিজ্ঞ, আবার কারও পারদর্শিতা ছিল হাদিসের ভাষাগত তাত্ত্বিকতায়
… এবং এভাবেই। এটি এমন একটি বিষয় যা আমরা তাঁর এই ব্যাখ্যামূলক গ্রন্থের সকল আলোচনায় স্পষ্টভাবে অনুভব করি। আর তা ফুটে উঠেছে তাঁর সংযোজন, পর্যালোচনা, ব্যাখ্যা এবং সেই সব উপকারের মাধ্যমে যা তিনি তাঁর এই সমৃদ্ধ ব্যাখ্যামূলক গ্রন্থের পাতায় পাতায় আমাদের সামনে উপস্থাপন করেছেন।
তাঁর সকল উস্তাদের তালিকা পূর্ণাঙ্গভাবে অনুসন্ধান করা একটি অনর্থক প্রচেষ্টা হবে—তাছাড়া এটি আগে থেকেই একপ্রকার অসম্ভব—বিশেষ করে যেহেতু তিনি মুহাদ্দিসগণের প্রচলিত রীতির বাইরে তাঁর উস্তাদদের নামের কোনো অভিধান (মুজাম) সংকলন করেননি। যদিও বুরহান আল-হালাবি বলেছেন যে, তিনি নিজের জন্য একটি মুজাম সংকলন করেছিলেন (১)।
তাই আমরা তাঁদের জীবনীর দৈর্ঘ্য না বাড়িয়ে কেবল তাঁদের মধ্যে যারা সর্বাধিক প্রসিদ্ধ, তাঁদের আলোচনার মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকব:
১ - ইমাম হাফেজ কাজিউল কুজাত (প্রধান বিচারপতি) আলী বিন উসমান বিন ইবরাহিম আল-মারদিনি, যিনি 'ইবনুত তুর্কমানি' হানাফি নামে পরিচিত। তাঁর জন্ম ৬৮৩ হিজরিতে এবং মৃত্যু ৭৫০ হিজরিতে। তাঁর রচিত গ্রন্থাবলির মধ্যে রয়েছে:
"আল-জাওহারুন নাকি ফির রাদ্দি আলাল বাইহাকি" এবং অন্যান্য (২)।
২ - শায়খুল মুসনিদ আল-মুয়াম্মার সদরুদ্দীন আবুল ফাতহ মুহাম্মদ বিন মুহাম্মদ বিন ইবরাহিম আল-মাইদুমি আল-মিসরি। জন্ম ৬৬৪ হিজরিতে। তিনি ছিলেন নাজীব আল-হাররানি, ইবনুল আল্লাক এবং ইবনু আজজুনের নিকট থেকে বর্ণনা করা সর্বশেষ ব্যক্তি। তিনি ৭৫৪ হিজরিতে মৃত্যুবরণ করেন (৩)।
৩ - ইমাম হাফেজ আল্লামা আলাউদ্দীন আবু সাঈদ খলিল বিন কাইকালদি বিন আব্দুল্লাহ আল-আলাই আদ-দিমাশকি অত:পর আল-মাকদিসি। জন্ম ৬৯৪ হিজরিতে এবং মৃত্যু ৭৬১ হিজরিতে। তাঁর সংকলিত গ্রন্থাবলির মধ্যে রয়েছে: "জামি’ুত তাহসিল", "আল-ওয়াশয়ুল মুআল্লাম", "নাজমুল ফারিদ" এবং অন্যান্য (৪)।
৪ - ইমাম হাফেজ আল্লামা আলাউদ্দীন আবু আব্দুল্লাহ মুগলতাই বিন কুলিজ বিন আব্দুল্লাহ আল-বাকজারি আল-হাকারি আল-হানাফি। তাঁর জন্ম ৬৮৯ হিজরিতে, অন্যমতে ভিন্ন সালও বলা হয়েছে। তিনি বিভিন্ন শাস্ত্রে পারদর্শিতা অর্জন করেন
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
ফাতহুল বাক্বী বি-শারহি আলফিয়াতিল ইরাক্বী
(পৃষ্ঠা: ১৭)
الحديث، وتوفي سنة (762 هـ)، من تصانيفه: ترتيب كتاب بيان الوهم والإيهام
وسمّاه: " منارة الإسلام "، ورتّب المبهمات على أبواب الفقه، وله شرح على صحيح البخاري، وتعقّبات على المزي، وغيرها (1).
5 - الإمام العلاّمة جمال الدين أبو محمد عبد الرحيم بن الحسن بن علي الإسنوي، شيخ الشافعية، ولد سنة (704 هـ)، وتوفي سنة (777 هـ)، له من التصانيف: "طبقات الشافعية" و "المهمات" و "التنقيح" وغيرها (2).
المبحث السادس: تلامذتهتبين مما تقدّم أنّ الحافظ العراقي بعد أن تبوأ مكان الصدارة في الحديث وعلومه، وأصبح المعوّل عليه في فنونه، بدأت أفواج طلاب الحديث تتقاطر نحوه، ووفود الناهلين من معينه تتجه صوبه، لاسيّما وقد أقرَّ له الجميع بالتفرد بالمعرفة في هذا الباب، لذا كانت فرصة التتلمذ له شيئاً يعدّه الناس من المفاخر، والطلبةُ من الحسنات التي لا تجود بها الأيام دوماً.
والأمر الآخر الذي يستدعي كثرة طلبة الحافظ العراقي كثرة مفرطة، أنه أحيا سنة إملاء الحديث - على عادة المحدّثين - بعد أن كان درس عهدها منذ عهد ابن الصلاح، فأملى مجالس أربت على الأربع مئة مجلس، أتى فيها بفوائد ومستجدات ((وكان يمليها من حفظه متقنة مهذّبة محرّرة كثيرة الفوائد الحديثية)) على حد تعبير ابن حجر (3).
لذا فليس من المستغرب أن يبلغوا كثر كاثرة يكاد يستعصي على الباحث سردها، إن لم نقل إنها استعصت فعلاً، فضلاً عن ذكر تراجمهم، ولكن القاعدة تقول: ((ما لا
--------------------------------------------
হাদিসশাস্ত্রের পণ্ডিত ছিলেন এবং ৭৬২ হিজরি সালে মৃত্যুবরণ করেন। তাঁর রচনাবলির মধ্যে রয়েছে: ‘কিতাবুন বায়ানিল ওয়াহমি ওয়াল ইহাম’-এর বিন্যাস
এবং তিনি এর নাম দেন: ‘মানারাতুল ইসলাম’। তিনি ‘মুবহামাত’ (অস্পষ্ট বিষয়সমূহ) ফিকহী অধ্যায় অনুযায়ী বিন্যস্ত করেন। সহীহ বুখারীর ওপর তাঁর একটি শারহ (ব্যাখ্যাগ্রন্থ) রয়েছে এবং আল-মিযযীর ওপর তাঁর কিছু ‘তা'কুবাত’ (পর্যালোচনা) ও অন্যান্য কাজ রয়েছে (১)।
৫ - ইমাম আল্লামা জামালুদ্দীন আবু মুহাম্মাদ আব্দুর রহীম ইবনুল হাসান ইবনে আলী আল-ইসনাভী। তিনি ছিলেন শাফেয়ী মাজহাবের শায়খ। ৭০৪ হিজরিতে জন্মগ্রহণ করেন এবং ৭৭৭ হিজরিতে মৃত্যুবরণ করেন। তাঁর রচনাবলির মধ্যে রয়েছে: ‘তাবাকাতুশ শাফেয়িয়্যাহ’, ‘আল-মুহিম্মাত’, ‘আত-তানকীহ’ এবং অন্যান্য (২)।
ষষ্ঠ পরিচ্ছেদ: তাঁর ছাত্রবৃন্দপূর্ববর্তী আলোচনা থেকে স্পষ্ট হয়েছে যে, হাফেজ ইরাকী হাদিস ও এর শাখা-উপশাখায় শীর্ষস্থান অধিকার করার পর এবং এই বিষয়ে নির্ভরতার মূর্ত প্রতীক হওয়ার পর, হাদিসের ছাত্রদের দল তাঁর দিকে আসতে শুরু করে। তাঁর জ্ঞান-ঝর্ণা থেকে পিপাসা মেটাতে আগ্রহী প্রতিনিধিদলগুলো তাঁর অভিমুখী হয়। বিশেষ করে যেহেতু সবাই এই বিষয়ে তাঁর অনন্য জ্ঞানের কথা স্বীকার করেছিলেন। তাই তাঁর ছাত্র হওয়ার সুযোগ পাওয়াকে মানুষ গর্বের বিষয় এবং ছাত্ররা এমন নেয়ামত হিসেবে গণ্য করত যা যামানা সবসময় দান করে না।
আর অন্য যে বিষয়টি হাফেজ ইরাকীর অত্যধিক সংখ্যক ছাত্র হওয়ার পেছনে কাজ করেছে তা হলো, তিনি মুহাদ্দিসগণের রীতিনীতি অনুযায়ী ‘ইমলায়ে হাদিস’ (হাদিস শ্রুতিলিখনের মজলিস)-এর সুন্নাতকে পুনর্জীবিত করেন, ইবনে সালাহ-এর সময়কাল থেকে যার প্রচলন ম্লান হয়ে গিয়েছিল। তিনি চার শতাধিক মজলিসে হাদিস ইমলা (শ্রুতিলিখন) করান, যাতে তিনি অনেক গবেষণালব্ধ ফায়দা ও নতুন তথ্য উপস্থাপন করেন। ইবনে হাজার-এর ভাষায়: “তিনি সেগুলো তাঁর মুখস্থ থেকে অত্যন্ত নিপুণভাবে, মার্জিত ও পরিমার্জিতরূপে প্রদান করতেন, যা হাদিসশাস্ত্রীয় অসংখ্য উপকারে ভরপুর ছিল” (৩)।
তাই তাদের সংখ্যা বিশাল হওয়া কোনো আশ্চর্যজনক বিষয় নয়, যা কোনো গবেষকের পক্ষে গণনা করা প্রায় অসম্ভব, যদি না বলি যে তা আসলেই অসম্ভব হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের জীবনী বর্ণনা করা তো দূরের কথা। তবে নীতি হলো: “যা পূর্ণাঙ্গভাবে
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
ফাতহুল বাক্বী বি-শারহি আলফিয়াতিল ইরাক্বী
(পৃষ্ঠা: ১৮)
يدرك كلّه لا يترك جلّه)) وانسجاماً معها نعرّف تعريفاً موجزاً بخمسة من تلامذته كانوا بحقّ مفخرة أيامهم، وهم:
1 - الإمام برهان الدين أبو إسحاق إبراهيم بن موسى بن أيوب الأبناسي، مولده سنة (725هـ)، وهو من أقران العراقي، برع في الفقه، وله مشاركة في باقي الفنون، توفي سنة (802 هـ)، من تصانيفه: " الشذا الفياح من علوم ابن الصَّلاح "، وغيره (1).
2 - الإمام الحافظ نور الدين أبو الحسن علي بن أبي بكر بن سليمان الهيثمي القاهري، ولد سنة (735 هـ)، وهو في عداد أقرانه أيضاً، ولكنه اختص به وسمع معه، وتخرّج به، وهو الذي كان يعلّمه كيفية التخريج، ويقترح عليه مواضيعها، ولازم الهيثمي خدمته ومصاحبته، وصاهره فتزوج ابنة الحافظ العراقي، توفي سنة (807 هـ)، من تصانيفه: " مجمع الزوائد " و " بغية الباحث " و " المقصد العلي " و " كشف الأستار " و " مجمع البحرين " و " موارد الظمآن "، وغيرها (2).
3 - ولده: الإمام العلاّمة الحافظ ولي الدين أبو زرعة أحمد بن عبد الرحيم بن الحسين العراقي الأصل المصري الشافعي، ولد سنة (762 هـ)، وبكّر بِهِ والده بالسماع فأدرك العوالي، وانتفع بأبيه غاية الانتفاع، ودرّس في حياته، توفي سنة (826 هـ)، من تصانيفه: "الإطراف بأوهام الأطراف"، و "تكملة طرح التثريب "، و " تحفة التحصيل في ذكر رواة المراسيل "، وغيرها (3).
4 - الإمام الحافظ برهان الدين أبو الوفاء إبراهيم بن محمد بن خليل الحلبي المشهور بسبط ابن العجمي، مولده سنة (753هـ)، رحل وطلب وحصّل، وله كلام لطيف على الرجال، توفي سنة (841 هـ)، من تصانيفه: " حاشية على الكاشف " للذهبي،
--------------------------------------------
যা সবটুকু অর্জন করা সম্ভব নয়, তার অধিকাংশ বর্জন করা সমীচীন নয়—এই মূলনীতির সাথে সামঞ্জস্য রেখে আমরা তাঁর পাঁচজন ছাত্রের সংক্ষিপ্ত পরিচয় তুলে ধরছি, যারা প্রকৃতপক্ষে তাঁদের যুগের গৌরব ছিলেন। তাঁরা হলেন:
১ - ইমাম বুরহানউদ্দীন আবু ইসহাক ইব্রাহিম ইবনে মুসা ইবনে আইয়ুব আল-আবনাাসি। তাঁর জন্ম ৭২৫ হিজরি সালে। তিনি আল-ইরাকির সমসাময়িক ছিলেন। তিনি ফিকহ শাস্ত্রে পারদর্শিতা অর্জন করেন এবং অন্যান্য শাস্ত্রেও তাঁর বিশেষ অবদান ছিল। তিনি ৮০২ হিজরি সালে মৃত্যুবরণ করেন। তাঁর রচিত গ্রন্থাবলির মধ্যে রয়েছে: "আশ-শাযাল ফাইয়াহ মিন উলুমি ইবনিস সালাহ" এবং অন্যান্য (১)।
২ - ইমাম হাফিজ নূরুদ্দীন আবুল হাসান আলী ইবনে আবি বকর ইবনে সুলাইমান আল-হাইসামি আল-কাহিরি। তিনি ৭৩৫ হিজরি সালে জন্মগ্রহণ করেন। তিনিও তাঁর সমসাময়িকদের অন্তর্ভুক্ত ছিলেন, তবে তিনি বিশেষভাবে তাঁর (ইরাকির) সাথে যুক্ত ছিলেন, তাঁর নিকট হাদিস শ্রবণ করেছেন এবং তাঁর নিকট থেকেই শিক্ষা সমাপ্ত করেছেন। তিনিই তাঁকে হাদিসের তাখরিজ পদ্ধতি শিক্ষা দিতেন এবং এ সংক্রান্ত বিভিন্ন বিষয়ের প্রস্তাব করতেন। আল-হাইসামি নিরবচ্ছিন্নভাবে তাঁর খেদমত ও সাহচর্যে ছিলেন। তিনি হাফিজ আল-ইরাকির কন্যার সাথে বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হওয়ার মাধ্যমে তাঁর জামাতা হন। তিনি ৮০৭ হিজরি সালে মৃত্যুবরণ করেন। তাঁর রচিত গ্রন্থাবলির মধ্যে রয়েছে: "মাজমাউয যাওয়াইদ", "বুগইয়াতুল বাহিস", "আল-মাকসাদুল আলী", "কাশফুল আস্তার", "মাজমাউল বাহরাইন" এবং "মাওয়ারিদুয যামআন" ইত্যাদি (২)।
৩ - তাঁর পুত্র: ইমাম আল্লামা হাফিজ ওয়ালীউদ্দীন আবু যুরআ আহমাদ ইবনে আব্দুর রাহিম ইবনে আল-হুসাইন আল-ইরাকি, যিনি বংশগতভাবে ইরাকি কিন্তু জন্মগতভাবে মিসরি এবং মাযহাবগতভাবে শাফিয়ি ছিলেন। তিনি ৭৬২ হিজরি সালে জন্মগ্রহণ করেন। তাঁর পিতা শৈশবেই তাঁকে হাদিস শ্রবণের সুযোগ করে দেন, ফলে তিনি উচ্চস্তরের সনদ লাভে সক্ষম হন। তিনি তাঁর পিতার নিকট থেকে সর্বোচ্চ মাত্রায় উপকৃত হন এবং তাঁর জীবদ্দশাতেই অধ্যাপনার কাজ পরিচালনা করেন। তিনি ৮২৬ হিজরি সালে মৃত্যুবরণ করেন। তাঁর রচিত গ্রন্থাবলির মধ্যে রয়েছে: "আল-ইতরাফ বি আওহামিল আতরাফ", "তাকমিলাতু তরাহিত তাসরিব", "তুহফাতুত তাহসিল ফি যিকরি রুওয়াতিল মারাসিল" প্রভৃতি (৩)।
৪ - ইমাম হাফিজ বুরহানউদ্দীন আবু ওয়াফা ইব্রাহিম ইবনে মুহাম্মদ ইবনে খলিল আল-হালাবি, যিনি 'সিবত ইবনুল আজামি' নামে প্রসিদ্ধ। তাঁর জন্ম ৭৫৩ হিজরি সালে। তিনি জ্ঞান অন্বেষণে দেশভ্রমণ করেছেন এবং ইলম হাসিল করেছেন। রিজাল শাস্ত্র বা বর্ণনাকারীদের বিষয়ে তাঁর চমৎকার ও সূক্ষ্ম পর্যবেক্ষণ রয়েছে। তিনি ৮৪১ হিজরি সালে মৃত্যুবরণ করেন। তাঁর রচিত গ্রন্থাবলির মধ্যে রয়েছে: যাহাবীর "আল-কাশিফ" গ্রন্থের ওপর হাশিয়া (টীকা),
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
ফাতহুল বাক্বী বি-শারহি আলফিয়াতিল ইরাক্বী
(পৃষ্ঠা: ১৯)
و " نثل الهميان " (1)، و "التبيين في أسماء المدلّسين"، و "الاغتباط فيمن رمي بالاختلاط" وغيرها (2).
5 - الإمام العلاّمة الحافظ الأوحد شهاب الدين أبو الفضل أحمد بن علي بن محمد الكناني العسقلاني المعروف بابن حجر، ولد سنة (773 هـ)، طلب ورحل، وألقى إليه الحديث والعلم بمقاليده، والتفرد بفنونه، توفي سنة (852 هـ)، من تصانيفه: " فتح الباري "، و "تهذيب التهذيب"، و " تقريب التهذيب " و" نزهة الألباب "، وغيرها (3).
المبحث السابع: آثاره العلميةلقد عرف الحافظ العراقي أهمية الوقت في حياة المسلم، لذا فقد عمل جاهداً على توظيف الوقت بما يخدم السنة العزيزة، بحثاً منه أو مباحثة مع غيره فكانت ((غالب أوقاته في تصنيف أو إسماع)) كما يقول السخاوي (4)، لذا كثرت تصانيفه وتنوعت، مما حدا بنا -من أجل جعل البحث أكثر تخصصاً- إلى تقسيمها على قسمين: قسم خاصّ بمؤلفاته التي تتعلق بالحديث وعلومه، وقسم يتضمن مؤلفاته في العلوم الأخرى، وسنبحث كلاً منهما في مطلب مستقل.
المطلب الأول: مؤلفاته فيما عدا الحديث وعلومهتنوعت طبيعة هذه المؤلفات ما بين الفقه وأصوله وعلوم القرآن، غير أنَّ أغلبها كان ذا طابع فقهي، يمتاز الحافظ فيه بالتحقيق، وبروز شخصيته مدافعاً مرجّحاً موازناً بين الآراء.
--------------------------------------------
এবং "নাথলুল হামিয়ান" (১), এবং "আত-তাবয়ীন ফী আসমায়িল মুদাল্লিসীন", এবং "আল-ইগতিবাত ফীমান রুমিয়া বিল-ইখতিলাত" ও অন্যান্য (২)।
৫ - ইমাম আল্লামা হাফিজ আল-আওহাদ শিহাবুদ্দীন আবুল ফদল আহমদ বিন আলী বিন মুহাম্মদ আল-কিনানী আল-আসকালানী, যিনি ইবনে হাজার হিসেবে সুপরিচিত, জন্ম ৭৭৩ হিজরি সালে। তিনি ইলম অন্বেষণ করেছেন এবং দেশ-বিদেশে সফর করেছেন। ইলমে হাদিস ও জ্ঞানভাণ্ডার এর চাবিকাঠিসহ তাঁর নিকট সমর্পিত হয়েছে এবং তিনি এর সকল শাখায় অনন্যতা অর্জন করেছেন। তিনি ৮৫২ হিজরি সালে ইন্তেকাল করেন। তাঁর রচনাবলীর মধ্যে রয়েছে: "ফাতহুল বারী", "তাহযীবুত তাহযীব", "তাক্বরীবুত তাহযীব" এবং "নুযহাতুল আলবাব", ও অন্যান্য (৩)।
সপ্তম পরিচ্ছেদ: তাঁর ইলমী অবদানহাফিজ ইরাকী মুসলিম জীবনে সময়ের গুরুত্ব উপলব্ধি করেছিলেন, তাই তিনি সুন্নাহর সেবায় সময় নিয়োগের ক্ষেত্রে কঠোর পরিশ্রম করেছেন, হোক তা নিজস্ব গবেষণার মাধ্যমে কিংবা অন্যের সাথে আলোচনার মাধ্যমে। সাখাভী (৪) যেমনটি বলেছেন: ((তাঁর অধিকাংশ সময় ব্যয় হতো গ্রন্থ রচনা অথবা পাঠদানে))। এই কারণেই তাঁর রচনাবলী ছিল প্রচুর ও বৈচিত্র্যময়, যা আমাদের এই গবেষণাকে আরও বেশি বিশেষায়িত করার স্বার্থে দুই ভাগে ভাগ করতে অনুপ্রাণিত করেছে: প্রথম ভাগটি হাদিস ও হাদিস শাস্ত্র সংশ্লিষ্ট তাঁর রচনাবলীর জন্য নির্দিষ্ট, এবং দ্বিতীয় ভাগটি অন্যান্য জ্ঞান-বিজ্ঞানে তাঁর রচিত গ্রন্থসমূহকে অন্তর্ভুক্ত করে। আমরা এর প্রত্যেকটি সম্পর্কে স্বতন্ত্র শিরোনামে আলোচনা করব।
প্রথম অনুচ্ছেদ: হাদিস ও হাদিস শাস্ত্র ব্যতিরেকে তাঁর অন্যান্য রচনাবলীএই সকল রচনার প্রকৃতি ফিকহ, উসূলে ফিকহ এবং উলূমুল কুরআনের মধ্যে বৈচিত্র্যময় ছিল। তবে এগুলোর অধিকাংশ ছিল ফিকহী ধাঁচের, যেখানে হাফিজ (ইরাকী) তাহকীক বা চুলচেরা বিশ্লেষণের মাধ্যমে অনন্য বৈশিষ্ট্যের অধিকারী ছিলেন এবং বিভিন্ন মতামতের মধ্যে প্রতিরক্ষা, প্রাধান্য দান ও ভারসাম্য রক্ষাকারী হিসেবে তাঁর ব্যক্তিত্ব ফুটে উঠেছে।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
ফাতহুল বাক্বী বি-শারহি আলফিয়াতিল ইরাক্বী
(পৃষ্ঠা: ২০)
على أنَّ الأمر الذي نأسف عليه هو أنَّ أكثر مصنفاته فُقدت، ولسنا نعلم سبب ذلك، وقد حفظ لنا مَنْ ترجم له بعض أسماء كتبه، تعين الباحث على امتلاك رؤية أكثر وضوحاً لشخص هذا الحافظ الجليل، وإلماماً بجوانب ثقافته المتنوعة المواضيع.
ومن بين تلك الكتب:
1 - أجوبة ابن العربي (1).
2 - إحياء القلب الميت بدخول البيت (2).
3 - الاستعاذة بالواحد من إقامة جمعتين في مكان واحد (3).
4 - أسماء الله الحسنى (4).
5 - ألفية في غريب القرآن (5).
6 - تتمات المهمات (6).
7 - تاريخ تحريم الربا (7).
8 - التحرير في أصول الفقه (8).
9 - ترجمة الإسنوي (9).
--------------------------------------------
তবে পরিতাপের বিষয় এই যে, তাঁর অধিকাংশ রচনাই হারিয়ে গেছে, আর এর কারণ আমাদের জানা নেই। তবে যাঁরা তাঁর জীবনী রচনা করেছেন, তাঁরা আমাদের জন্য তাঁর কিছু কিতাবের নাম সংরক্ষণ করেছেন, যা গবেষককে এই মহান হাফিজের ব্যক্তিত্ব সম্পর্কে আরও স্বচ্ছ ধারণা লাভে এবং তাঁর বহুমুখী পাণ্ডিত্যের বিভিন্ন বিষয় সম্পর্কে জ্ঞান অর্জনে সহায়তা করে।
সেই বইগুলোর মধ্যে রয়েছে:
১ - আজউবাতু ইবনিল আরাবি (ইবনুল আরাবির উত্তরসমূহ) (১)।
২ - ইহইয়াউল কালবিল মাইয়িত বি-দুখুলিল বাইত (২)।
৩ - আল-ইসতিআজাতু বিল ওয়াহিদ মিন ইকামাতু জুমুআতাইনি ফি মাকানিন ওয়াহিদ (৩)।
৪ - আসমাউল্লাহিল হুসনা (আল্লাহর সুন্দর নামসমূহ) (৪)।
৫ - আলফিয়্যাহ ফি গারিবিল কুরআন (৫)।
৬ - তাতাম্মাতুল মুহিম্মাত (৬)।
৭ - তারিখু তাহরিমির রিবা (সুদ হারামের ইতিহাস) (৭)।
৮ - আত-তাহরির ফি উসুলিল ফিকহ (৮)।
৯ - তারজামাতুল ইসনাউয়ি (৯)।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
ফাতহুল বাক্বী বি-শারহি আলফিয়াতিল ইরাক্বী
(পৃষ্ঠা: ২১)
10 - تفضيل زمزم على كلّ ماء قليل زمزم (1).
11 - الرد على من انتقد أبياتاً للصرصري في المدح النبوي (2).
12 - العدد المعتبر في الأوجه التي بين السور (3).
13 - فضل غار حراء (4).
14 - القرب في محبة العرب (5).
15 - قرة العين بوفاء الدين (6).
16 - الكلام على مسألة السجود لترك الصلاة (7).
17 - مسألة الشرب قائماً (8).
18 - مسألة قصّ الشارب (9).
19 - منظومة في الضوء المستحب (10).
20 - المورد الهني في المولد السني (11).
21 - النجم الوهاج في نظم المنهاج (12).
22 - نظم السيرة النبوية (13).
--------------------------------------------
১০ - জমজমকে অন্য সকল স্বল্প পরিমাণ পানির ওপর শ্রেষ্ঠত্ব দান (১)।
১১ - নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের প্রশংসায় আল-সারসারীর কাব্যিক পংক্তিগুলোর সমালোচনায় লিপ্ত ব্যক্তিদের প্রতিবাদ (২)।
১২ - সূরাসমূহের মধ্যবর্তী পদ্ধতিসমূহের নির্ভরযোগ্য সংখ্যা (৩)।
১৩ - হেরা গুহার শ্রেষ্ঠত্ব (৪)।
১৪ - আরবদের প্রতি ভালোবাসার মাধ্যমে নৈকট্য লাভ (৫)।
১৫ - ঋণ পরিশোধের মাধ্যমে চোখের শীতলতা (৬)।
১৬ - সালাত বর্জনের কারণে সিজদা করার মাসআলার আলোচনা (৭)।
১৭ - দাঁড়িয়ে পান করার মাসআলা (৮)।
১৮ - গোঁফ কাটার মাসআলা (৯)।
১৯ - মুস্তাহাব আলোর বিষয়ে একটি কাব্যগ্রন্থ (১০)।
২০ - সুন্নাহসম্মত মাওলিদ বিষয়ে সুপেয় উৎস (১১)।
২১ - আল-মিনহাজ-এর কাব্যানুবাদে উজ্জ্বল নক্ষত্র (১২)।
২২ - সীরাত-এ-নববীর কাব্যানুবাদ (১৩)।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
ফাতহুল বাক্বী বি-শারহি আলফিয়াতিল ইরাক্বী
(পৃষ্ঠা: ২২)
23 - النكت على منهاج البيضاوي (1).
24 - هل يوزن في الميزان أعمال الأولياء والأنبياء أم لا؟ (2).
المطلب الثاني: مؤلفاته في الحديث وعلومههذه الناحية من التصنيف كانت المجال الرحب أمام الحافظ العراقي ليظهر إمكاناته وبراعته في علوم الحديث ظهوراً بارزاً، يتجلى لنا ذلك من تنوع هذه التصانيف، التي بلغت (42) مصنفاً تتراوح حجماً ما بين مجلدات إلى أوراق معدودة، وهذه التصانيف هي:
1 - الأحاديث المخرّجة في الصحيحين التي تُكُلِّمَ فيها بضعف أو انقطاع (3).
2 - الأربعون البلدانية (4).
3 - أطراف صحيح ابن حبان (5).
4 - الأمالي (6).
5 - الباعث على الخلاص من حوادث القصاص (7).
6 - بيان ما ليس بموضوع من الأحاديث (8).
7 - تبصرة المبتدي وتذكرة المنتهي (9).
--------------------------------------------
২৩ - আল-মিনহাজ আল-বায়দাভির ওপর আন-নুখাত (১)।
২৪ - মিজানে আউলিয়া ও আম্বিয়াদের আমল ওজন করা হবে কি না? (২)।
দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ: হাদিস ও হাদিস শাস্ত্র বিষয়ক তাঁর গ্রন্থসমূহরচনার এই দিকটি হাফেজ ইরাকির সামনে হাদিস শাস্ত্রে তাঁর সক্ষমতা ও পারদর্শিতা স্পষ্টভাবে ফুটিয়ে তোলার এক প্রশস্ত ক্ষেত্র ছিল। এটি আমাদের কাছে এই সকল রচনার বৈচিত্র্য থেকে স্পষ্টভাবে প্রতিভাত হয়, যার সংখ্যা ৪২টি গ্রন্থ পর্যন্ত পৌঁছেছে, যা আয়তনের দিক থেকে কয়েক খণ্ড থেকে শুরু করে সামান্য কয়েক পৃষ্ঠা পর্যন্ত বিস্তৃত। এই গ্রন্থগুলো হলো:
১ - সহিহাইনের সেই সকল হাদিস যা দুর্বলতা বা বিচ্ছিন্নতা (ইনকিতা) নিয়ে সমালোচিত হয়েছে (৩)।
২ - আল-আরবাউন আল-বুলদানিয়্যাহ (৪)।
৩ - আতরাফু সহিহ ইবনে হিব্বান (৫)।
৪ - আল-আমালি (৬)।
৫ - আল-বাইসু আলাল খালাস মিন হাওয়াদ্দিসিল কুসসাস (৭)।
৬ - জাল নয় এমন হাদিসসমূহের বর্ণনা (৮)।
৭ - তাবসিরাতুল মুবতাদি ওয়া তাজকিরাতুল মুনতাহি (৯)।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
ফাতহুল বাক্বী বি-শারহি আলফিয়াতিল ইরাক্বী
(পৃষ্ঠা: ২৩)
8 - ترتيب من له ذكر أو تجريح أو تعديل في بيان الوهم والإيهام (1).
9 - تخريج أحاديث منهاج البيضاوي (2).
10 - تساعيات الميدومي (3).
11 - تقريب الأسانيد وترتيب المسانيد (4).
12 - التقييد والإيضاح لما أطلق وأغلق من كِتَاب ابن الصلاح (5).
13 - تكملة شرح الترمذي لابن سيد الناس (6).
14 - جامع التحصيل في معرفة رواة المراسيل (7).
15 - ذيل على ذيل العبر للذهبي (8).
16 - ذيل على كتاب أُسد الغابة (9).
17 - ذيل مشيخة البياني (10).
18 - ذيل مشيخة القلانسي (11).
19 - ذيل ميزان الاعتدال للذهبي (12).
--------------------------------------------
৮ - 'বায়ানুল ওয়াহমি ওয়াল ইহাম' গ্রন্থে যাদের উল্লেখ করা হয়েছে অথবা যাদের জারহ বা তাদীল করা হয়েছে তাদের বিন্যাস (১)।
৯ - বায়যাভীর 'মিনহাজ'-এর হাদিসসমূহের তাখরীজ (২)।
১০ - আল-মাইদুমীর তুসায়িয়্যাত (৩)।
১১ - তাকরীবুল আসানিদ ওয়া তারতীবুল মাসানিদ (৪)।
১২ - আত-তাকয়ীদ ওয়াল ইহায লিমা উতিলাকা ওয়া উগ্লিকা মিন কিতাবি ইবনুস সালাহ (৫)।
১৩ - ইবনু সায়্যিদিন নাস-এর 'শরহু তিরমিযী'-এর পরিশিষ্ট (৬)।
১৪ - জামিউত তাহসীল ফী মা’রিফাতি রুওয়াতিল মারাসীল (৭)।
১৫ - যাহাবীর 'যাইলুল ইবার'-এর উপর অতিরিক্ত পরিশিষ্ট (৮)।
১৬ - 'উসদুল গাবাহ' গ্রন্থের উপর পরিশিষ্ট (৯)।
১৭ - আল-বায়ানীর মাশায়িখ তালিকার উপর পরিশিষ্ট (১০)।
১৮ - আল-কালানিসীর মাশায়িখ তালিকার উপর পরিশিষ্ট (১১)।
১৯ - যাহাবীর 'মীযানুল ইতিদাল'-এর উপর পরিশিষ্ট (১২)।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
ফাতহুল বাক্বী বি-শারহি আলফিয়াতিল ইরাক্বী
(পৃষ্ঠা: ২৪)
20 - ذيل على وفيات ابن أيبك (1).
21 - رجال سنن الدارقطني (2).
22 - رجال صحيح ابن حبان (3).
23 - شرح التبصرة والتذكرة (4).
24 - شرح تقريب النووي (5).
25 - طرح التثريب في شرح التقريب (6).
26 - عوالي ابن الشيخة (7).
27 - عشاريات العراقي (8).
28 - فهرست مرويات البياني (9).
29 - الكلام على الأحاديث التي تُكُلِّمَ فيها بالوضع، وهي في مسند الإمام أحمد (10).
30 - الكلام على حديث: التوسعة على العيال يوم عاشوراء (11).
31 - الكلام على حديث: صوم ستٍّ من شوال (12).
--------------------------------------------
20 - ইবনে আইবকের 'ওফায়াত'-এর পরিশিষ্টাংশ (১)।
21 - সুনানে দারা কুতনীর বর্ণনাকারীগণ (২)।
22 - সহীহ ইবনে হিব্বানের বর্ণনাকারীগণ (৩)।
23 - শারহুত তাবসিরা ওয়াত তাজকিরা (৪)।
24 - ইমাম নববীর 'তাকরীব'-এর ব্যাখ্যা (৫)।
25 - ত্বরহুত তাসরীব ফি শারহিত তাকরীব (৬)।
26 - আওয়ালি ইবনে আশ-শাইখা (৭)।
27 - ইরাকির উশারিয়াত (৮)।
28 - আল-বায়ানি বর্ণিত হাদিসসমূহের তালিকা (৯)।
29 - ইমাম আহমদের মুসনাদে বিদ্যমান ঐ সকল হাদিস সম্পর্কে আলোচনা যেগুলোকে জাল (মাওজু) বলে অভিহিত করা হয়েছে (১০)।
30 - আশুরার দিনে পরিবারের জন্য উদারভাবে খরচ করার হাদিস সম্পর্কে আলোচনা (১১)।
31 - শাওয়ালের ছয় রোজা সম্পর্কিত হাদিস সম্পর্কে আলোচনা (১২)।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
ফাতহুল বাক্বী বি-শারহি আলফিয়াতিল ইরাক্বী
(পৃষ্ঠা: ২৫)
32 - الكلام على حديث: من كنت مولاه فعليٌّ مولاه (1).
33 - الكلام على حديث: الموت كفّارة لكل مسلم (2).
34 - الكلام على الحديث الوارد في أقل الحيض وأكثره (3).
35 - المستخرج على مستدرك الحاكم (4).
36 - معجم مشتمل على تراجم جماعة من القرن الثامن (5).
37 - المغني عن حمل الأسفار في الأسفار بتخريج ما في الإحياء من الأحاديث والآثار (6).
38 - مشيخة عبد الرحمان بن علي المصري المشهور بابن القاريء (7).
39 - مشيخة محمد بن محمد المربعي التونسي وذيلها (8).
40 - من روى عن عمرو بن شعيب من التابعين (9).
41 - من لم يروِ عنهم إلا واحد (10).
42 - نظم الاقتراح (11).
المبحث الثامن: وفاتهتتفق المصادر التي بين أيدينا على أنَّه في يوم الأربعاء الثامن من شعبان سنة (806هـ) فاضت روح الحافظ العراقي عقيب خروجه من الحمام عن عمر ناهز الإحدى
--------------------------------------------
৩২ - হাদীস: "আমি যার মাওলা, আলীও তার মাওলা"-এর উপর আলোচনা (১)।
৩৩ - হাদীস: "মৃত্যু প্রত্যেক মুসলমানের জন্য কাফফারা"-এর উপর আলোচনা (২)।
৩৪ - ঋতুস্রাবের (হায়েজ) সর্বনিম্ন ও সর্বোচ্চ সময়সীমা সম্পর্কে বর্ণিত হাদীসের উপর আলোচনা (৩)।
৩৫ - হাকিমের মুস্তাদরাকের উপর আল-মুস্তাখরাজ (৪)।
৩৬ - অষ্টম হিজরী শতাব্দীর একদল ব্যক্তির জীবনী সম্বলিত মু'জাম (অভিধান) (৫)।
৩৭ - আল-মুগনী আন হামলিল আসফার ফিল আসফার বি-তাখরিজি মা ফিল ইহয়া মিনাল আহাদিসি ওয়াল আসার (এহয়াউ উলুমিদ্দিনের হাদীস ও আসারসমূহের তাখরিজ) (৬)।
৩৮ - ইবনুল কারী নামে পরিচিত আবদুর রহমান ইবনে আলী আল-মিশরীয়ের মাশয়াখাহ (শিক্ষক তালিকা) (৭)।
৩৯ - মুহাম্মদ ইবনে মুহাম্মদ আল-মরবায়ী আত-তিউনেসী-এর মাশয়াখাহ এবং এর পরিশিষ্ট (৮)।
৪০ - তাবেয়ীদের মধ্যে যারা আমর ইবনে শুআইব থেকে বর্ণনা করেছেন (৯)।
৪১ - যাদের থেকে কেবল একজন রাবী বর্ণনা করেছেন (১০)।
৪২ - নাজমুল ইকতিরাহ (১১)।
অষ্টম পরিচ্ছেদ: তাঁর মৃত্যুআমাদের নিকট বিদ্যমান উৎসসমূহ এই বিষয়ে একমত যে, ৮০৬ হিজরী সনের ৮ই শাবান, বুধবার দিন গোসলখানা থেকে বের হওয়ার পরপরই হাফেজ ইরাকীর রূহ বিদায় নেয় (তিনি ইন্তেকাল করেন)। সে সময় তাঁর বয়স হয়েছিল প্রায় একাশি...
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
ফাতহুল বাক্বী বি-শারহি আলফিয়াতিল ইরাক্বী
(পৃষ্ঠা: ২৬)
وثمانين سنة، وكانت جنازته مشهودة، صلّى عليه الشيخ شهاب الدين الذهبي ودفن خارج القاهرة (1) رحمه الله.
ولما تمتع به الحافظ العراقي في نفوس الناس، فقد توجع لفقده الْجَمِيْع، ومن صور ذلك التوجع أن العديد من محبيه قد رثاه بغرر القصائد، ومنها قول ابن الجزري (2):
رحمة الله للعراقي تترى
… حافظ الأرض حبرها باتفاق
إنني مقسم أليَّة صدق
… لم يكن في البلاد مثل العراقي
ومنها قصيدة ابن حجر ومطلعها (3):
مصاب لم ينفّس للخناق
… أصار الدمع جاراً للمآ قي
ومن غرر شعر ابن حجر في رثاء شيخه العراقي قوله في رائيته التي رثا بها شيخه البلقيني:
نعم ويا طول حزني ما حييت على
… عبد الرحيم فخري غير مقتصر (4)
لهفي على حافظ العصر الذي اشتهرت
… أعلامه كاشتهار الشمس في الظهر
علم الحديث انقضى لَمَّا قضى ومضى
… والدهر يفجع بعد العين بالأثر
لَهفي على فَقْدِ شيخَيَّ اللذان هما
… أعزّ عِنديَ من سمعي ومن بصري
لَهْفِيْ على من حديثي عن كمالهما
… يحيي الرميم ويلهي الحي عن سمر
اثنانِ لَمْ يرتقِ النسران ما ارتقيا
… نسر السما إن يلح والأرض إن يطر
ذا شبه فرخ عقاب حجة صدقت
… وذا جهينة إن يسأل عن الخبر
لا ينقضي عجبي من وفق عمرهما
… العام كالعام حتى الشهر كالشهر
عاشا ثمانين عاما بعدها سنة
… وربع عام سوى نقص لمعتبر
--------------------------------------------
এবং আশি বছর বয়সে। তাঁর জানাজায় মানুষের ব্যাপক উপস্থিতি ছিল, শেখ শিহাবুদ্দিন আদ-দাহাবি তাঁর জানাজার নামাজ পড়ান এবং তাঁকে কায়রোর বাইরে দাফন করা হয় (১), আল্লাহ তাঁর ওপর রহম করুন।
মানুষের অন্তরে হাফেজ ইরাকির যে সুউচ্চ মর্যাদা ছিল, তার কারণে তাঁর বিয়োগে সকলেই ব্যথিত হয়েছিল। সেই শোকের অন্যতম বহিঃপ্রকাশ হলো, তাঁর অনেক মুহিব্বিন (ভালোবাসার পাত্র) চমৎকার সব শোকগাথা বা কাসিদার মাধ্যমে তাঁর স্মৃতিচারণ করেছেন। যার মধ্যে ইবনুল জাজারির (২) উক্তি হলো:
ইরাকির ওপর আল্লাহর রহমত নিরন্তর বর্ষিত হোক
… সর্বসম্মতিক্রমে তিনি ছিলেন এই জমিনের হাফেজ ও মহাপণ্ডিত।
আমি সত্য শপথ করে বলছি
… জনপদে ইরাকির মতো দ্বিতীয় কেউ ছিল না।
এর মধ্যে ইবনে হাজারের একটি কাসিদাও রয়েছে যার প্রারম্ভিক অংশ (৩) হলো:
এমন এক বিপদ যা শ্বাসরোধকারী কষ্টকেও লাঘব করেনি
… যা অশ্রুকে চোখের কোণে চিরস্থায়ী করে দিয়েছে।
আপন উস্তাদ ইরাকির শোকগাথায় ইবনে হাজারের চমৎকার সব পঙক্তির মধ্যে রয়েছে তাঁর সেই ‘রা’ ছন্দযুক্ত কাসিদাটি, যা দিয়ে তিনি তাঁর উস্তাদ আল-বুলকিনিরও শোক প্রকাশ করেছিলেন:
হ্যাঁ, আমি যতদিন বেঁচে থাকব আমার শোক দীর্ঘ হবে
… আব্দুর রহিমের প্রতি, আমার এই গৌরব কেবল তাঁর মাঝেই সীমাবদ্ধ নয় (৪)।
আফসোস সেই যুগের হাফেজের জন্য যাঁর খ্যাতি
… দ্বিপ্রহরের সূর্যের মতো সুপ্রসিদ্ধ ছিল।
ইলমে হাদিস সমাপ্ত হয়ে গেল যখন তিনি বিদায় নিলেন ও চলে গেলেন
… আর মহাকাল চোখের মণির পর কেবল স্মৃতি দিয়েই শোকাতুর করে।
আফসোস আমার সেই দুই উস্তাদকে হারানোর জন্য যাঁরা
… আমার কাছে আমার শ্রবণ ও দৃষ্টিশক্তির চেয়েও অধিক প্রিয়।
আফসোস তাঁর প্রতি, যাঁর পূর্ণতা নিয়ে আমার আলোচনা
… জীর্ণ অস্থিকে প্রাণ দেয় এবং জীবিতদের সান্ধ্যকালীন আড্ডা থেকে বিমুখ রাখে।
এমন দুইজন যাঁদের উচ্চতায় আসমানের নক্ষত্রদ্বয়ও পৌঁছাতে পারেনি
… আসমানের নক্ষত্র যখন উদিত হয় আর জমিনের নক্ষত্র যখন ওড়ে।
ইনি যেন ঈগলের বাচ্চার মতো এক সত্য দলিল
… আর তিনি যেন জুহাইনা গোত্রের লোক, যদি কোনো খবর সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করা হয়।
তাঁদের বয়সের সামঞ্জস্য দেখে আমার বিস্ময় শেষ হয় না
… বছরের মতো বছর, এমনকি মাসের মতো মাস।
তাঁরা একাশি বছর জীবিত ছিলেন
… এবং বিচারবোধ সম্পন্নদের নিকট সামান্য কমতি ছাড়া এক বছরের এক চতুর্থাংশ।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
ফাতহুল বাক্বী বি-শারহি আলফিয়াতিল ইরাক্বী
(পৃষ্ঠা: ২৭)
الدين تتبعه الدنيا مضت بهما
… رزية لم تهن يوما على بشر
بالشمس وهو سراج الدين يتبعه
… بدر الدياجي زين الدين في الأثر (1)
الفصل الثَّانِي: " التبصرة والتذكرة "
المبحث الأول: اسمهاسبق لَنَا عندما حَقَّقنا " شرح التبصرة والتذكرة " للحافظ العراقي - بحمد الله وفضله - أنْ رجَّحنا أن اسم نظم العراقي لألفيته " التبصرة والتذكرة " (2)، ولا بأس أن نعيده هنا، ولاسيَّما وقَدْ استجدَّت أشياء أُخَر.
اشتهرت هذِهِ المنظومة بَيْن عوام الناس ودهمائهم، بَلْ بَيْن علمائهم ومختصيهم - خطأً - باسم ألفية الحَدِيْث (3)، ولعل هَذَا كَانَ من باب التجوز محاكاة لألفية ابن معطٍ وابن مَالِك في النحو، فإن النَّاظِم لَمْ يصرح البتة في نظمه بأنه جعلها ألفية، وما هَذَا إلا لمغزى لَمْ يغب عَنْ ذهن الحافظ العراقي، وَلَمْ يأت من باب الاتفاق وعدم القصد، فلقد كَانَ يقصد هَذَا فعلاً من خلال الواقع، إذ زادت أبيات النظم عَلَى الألف ببيتين (4)، وهذه الالتفاتة قلَّ مَنْ تَنبَّه عليها: وَهِيَ السرُّ في عدم قوله في النظم: إنها ألفية، عَلَى الرغم من أنه قَالَ ذَلِكَ في الشرح (5) من باب التغليب.
وزاد بعضهم (6) الطين بلة -كَمَا يَقُول القدامى- بأن وضع لها اسماً فسمَّاها: "نظم الدرر في علم الأثر"، وَلَسنا ندري من أين جاء بهذا الاسم؟ !
--------------------------------------------
দ্বীন অনুসরণ করে দুনিয়া, উভয়েই অতিবাহিত হয়েছে
… এমন এক বিপদ যা কোনোদিন মানুষের জন্য সহজ হয়নি
সূর্যের মাধ্যমে, যিনি দ্বীনের প্রদীপ, তাকে অনুসরণ করে
… অন্ধকারের পূর্ণিমা, ঐতিহ্যের মাঝে দ্বীনের অলংকার (১)
দ্বিতীয় অধ্যায়: "আত-তাবসিরাহ ওয়াত-তাযকিরাহ"
প্রথম পরিচ্ছেদ: এর নামকরণআল্লাহর প্রশংসা ও অনুগ্রহে ইতিপূর্বে আমরা যখন হাফিজ ইরাকির "শারহুত তাবসিরাহ ওয়াত-তাযকিরাহ" সম্পাদনা করেছি, তখন আমরা এই মতকে প্রাধান্য দিয়েছিলাম যে, ইরাকির তাঁর আলফিয়্যাহর জন্য নির্ধারিত নাম হলো "আত-তাবসিরাহ ওয়াত-তাযকিরাহ" (২)। এটি এখানে পুনরায় উল্লেখ করতে কোনো বাধা নেই, বিশেষ করে যেহেতু এখন আরও কিছু নতুন তথ্য যুক্ত হয়েছে।
এই কাব্যগ্রন্থটি সাধারণ মানুষ ও সর্বস্তরের মানুষের মাঝে, এমনকি আলেম ও বিশেষজ্ঞদের মাঝেও - ভুলভাবে - "আলফিয়াতুল হাদিস" (৩) নামে প্রসিদ্ধি লাভ করেছে। সম্ভবত এটি নাহু শাস্ত্রে ইবনে মু’তি ও ইবনে মালিকের আলফিয়্যাহর অনুকরণে রূপক অর্থে বলা হতো। কারণ রচয়িতা তাঁর কাব্যে কখনোই স্পষ্টভাবে উল্লেখ করেননি যে তিনি এটিকে আলফিয়্যাহ হিসেবে সাব্যস্ত করেছেন। এটি এমন এক তাৎপর্যের কারণে যা হাফিজ ইরাকির চিন্তার বাইরে ছিল না এবং এটি কোনো কাকতালীয় বা অনিচ্ছাকৃত বিষয় ছিল না। বরং বাস্তবতার নিরিখে তিনি প্রকৃতপক্ষে এটিই চেয়েছিলেন, কেননা কাব্যের শ্লোক সংখ্যা এক হাজারের চেয়ে দুটি বেশি ছিল (৪)। খুব কম লোকই এই সূক্ষ্ম দিকটি খেয়াল করেছেন: আর এটিই হলো কাব্যে একে "আলফিয়্যাহ" না বলার রহস্য, যদিও তিনি তাঁর ব্যাখ্যাগ্রন্থে (৫) আধিক্যের বিচারে তা বলেছেন।
কেউ কেউ (৬) পরিস্থিতির আরও অবনতি ঘটিয়েছেন -যেমন প্রাচীনরা বলতেন- এর একটি নাম আরোপ করে, তিনি একে "নাযমুত দুরার ফি ইলমিল আসার" নামে অভিহিত করেছেন। আমরা জানি না তিনি কোথা থেকে এই নাম নিয়ে এসেছেন?!
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
ফাতহুল বাক্বী বি-শারহি আলফিয়াতিল ইরাক্বী
(পৃষ্ঠা: ২৮)
ولسنا نرى هَذَا إلَاّ محض تخليط وتداخل في المسمَّيات، فالذي نعرفه ويعرفه المدقِّقون المنقبون في هَذَا المجال أن "نظم الدرر في علم الأثر" إنما هُوَ علم عَلَى نظم السيوطي لا العراقي والذي يدفعنا إلى القطع بهذا قَوْل السيوطي في شرحه المسمَّى " البحر الذي زخر" (1): ((فإني نظمت في علم الحَدِيْث ألفية سميتها: " نظم الدرر في علم الأثر")).
وَقَالَ بعدها بقليل: ((فتخيرت لَهُمْ هذِهِ العجالة وسميتها: " قطر الدرر عَلَى نظم الدُّرر)) (2).
والذي نجزم بِهِ يقيناً أن نظم العراقي اسمه " التبصرة والتذكرة " لما يأتي:
1. قول الحافظ العراقي:
5 - نَظَمْتُهَا تَبْصِرَةً لِلمُبتَدِيْ
… تَذْكِرَةً لِلْمُنْتَهِي والْمُسْنِدِ (3)
2. قول السخاوي في شرح هَذَا البيت:
((وأشير بـ" التبصرة والتذكرة " إلى لقب هذِهِ المنظومة)) (4).
3. قَوْل الْقَاضِي زكريا الأنصاري:
((وبعد: فإن ألفية علم الحَدِيْث المسماة بـ"التبصرة والتذكرة"
… الخ كلامه)) (5).
4. وقول الْقَاضِي أيضاً في شرح البيت السابق:
((وأشار بـ" التبصرة والتذكرة " إلى اسم منظومته)) (6).
وَهُوَ الاسم الذي طبعناها بِهِ، وطبعنا شرح الحافظ العراقي تبعاً لِذلِكَ باسم:
" شرح التبصرة والتذكرة ".
--------------------------------------------
আমরা একে নামগুলোর ক্ষেত্রে নিছক বিভ্রান্তি ও সংমিশ্রণ ছাড়া অন্য কিছু মনে করি না। এই বিষয়ে গভীর পর্যবেক্ষণকারী ও গবেষকরা যা জানেন এবং আমরা যা জানি তা হলো, "নাজমুদ দুরার ফী ইলমিল আসার" মূলত সুয়ূতী-এর কাব্যের নাম, ইরাকী-এর নয়। যা আমাদের এই বিষয়ে নিশ্চিত হতে বাধ্য করে তা হলো সুয়ূতী-এর তাঁর ‘আল-বাহরুল্লাযী যাখার’ নামক ব্যাখ্যাগ্রন্থে (১) বক্তব্য: "আমি ইলমে হাদিসে একটি আলফিয়াহ রচনা করেছি যার নাম দিয়েছি: 'নাজমুদ দুরার ফী ইলমিল আসার'।"
এর কিছুক্ষণ পরেই তিনি বলেন: "অতঃপর আমি তাদের জন্য এই সংক্ষিপ্ত সংকলনটি নির্বাচন করেছি এবং এর নাম দিয়েছি: 'কাতরুদ দুরার আলা নাজমিদ দুরার'" (২)।
আর আমরা নিশ্চিতভাবে যা বলতে পারি তা হলো, ইরাকী-এর কাব্যটির নাম "আত-তাবসিরাহ ওয়াত-তাযকিরাহ"; যার প্রমাণ নিম্নরূপ:
১. হাফেয ইরাকী-এর উক্তি:
৫ - আমি একে রচনা করেছি নবিশদের জন্য স্পষ্ট অনুধাবন (তাবসিরাহ) হিসেবে
… অভিজ্ঞ ও মুসনিদদের জন্য স্মারক (তাযকিরাহ) হিসেবে (৩)
২. এই শ্লোকের ব্যাখ্যায় সাখাবী-এর উক্তি:
((তিনি ‘আত-তাবসিরাহ ওয়াত-তাযকিরাহ’ দ্বারা এই কাব্যগ্রন্থের উপাধির দিকে ইঙ্গিত করেছেন)) (৪)।
৩. কাযী যাকারিয়া আল-আনসারী-এর উক্তি:
((অতঃপর: ইলমে হাদিসের আলফিয়াহ যা ‘আত-তাবসিরাহ ওয়াত-তাযকিরাহ’ নামে পরিচিত
… ইত্যাদি বক্তব্য)) (৫)।
৪. এবং পূর্বোক্ত শ্লোকের ব্যাখ্যায় কাযীর আরও একটি উক্তি:
((এবং তিনি ‘আত-তাবসিরাহ ওয়াত-তাযকিরাহ’ দ্বারা তাঁর কাব্যগ্রন্থের নামের দিকে ইঙ্গিত করেছেন)) (৬)।
এটিই সেই নাম যে নামে আমরা এটি মুদ্রণ করেছি এবং এর অনুগামী হিসেবে হাফেয ইরাকী-এর ব্যাখ্যাগ্রন্থটি এই নামে মুদ্রণ করেছি:
"শারহুত তাবসিরাহ ওয়াত-তাযকিরাহ"।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
ফাতহুল বাক্বী বি-শারহি আলফিয়াতিল ইরাক্বী
(পৃষ্ঠা: ২৯)
المبحث الثَّانِي: أصلهابات من الضروري في بحث المختصرات التحدث عَنْ أصولها ليتسنى للباحث الإحاطة بجوانب الأمور، وَلَمِّ شعثها وجمع متفرقها.
والحق أن طريقة الاختصار عَنْ طريق النظم - لا سيَّما في القرن الثامن الذي عاش فِيهِ الحافظ العراقي - لَمْ تعد طريقة مستغربة أو أمراً مستبدعاً، أو مقصوراً عَلَى علم الحَدِيْث، بَلْ الحق أنه لَمْ يعد هناك فن من فنون العلوم والمعارف عَلَى اختلاف أجناسها وأنواعها إلا وَقَدْ نظمت فِيهِ العديد من المنظومات التي تشابه في فكرتها منظومة الحافظ العراقي.
ولعل من أوثق طرق تحديد أصل تِلْكَ المنظومات نص المختصر عَلَى ذَلِكَ، وممن فعل ذَلِكَ الحافظ العراقي إذ يَقُول في " التبصرة والتذكرة " (1):
6 - لَخَّصْتُ فيهَا ابْنَ الصَّلاحِ أَجْمَعَهْ
… وَزِدْتُهَا عِلْماً تَرَاهُ مَوْضِعَهْ
وقال في شرح هَذَا البيت:
((وقوله: لخصت فِيْهَا ابن الصَّلاح، أي: كِتَاب ابن الصَّلاح، والمراد: مسائله وأقسامه دُوْنَ الكثير من أمثلته وتعاليله ونسبة أقوال لقائليها وما تكرر فِيهِ)) (2).
وهكذا بدا واضحاً بصورة جلية أن أصل " التبصرة والتذكرة " هُوَ كِتَاب ابن الصَّلاح " مَعْرِفَة أنواع علم الحَدِيْث " (3)، مَعَ شيء من الزيادات العلمية التي تتصل بالمواضع الرئيسة في الكِتَاب، لا بالأمثلة والشواهد حسب.
--------------------------------------------
দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ: এর উৎসসংক্ষেপিত গ্রন্থাবলি (মুখতাসারাত) বিষয়ক গবেষণায় এগুলোর উৎস নিয়ে আলোচনা করা জরুরি হয়ে পড়েছে, যাতে গবেষকের জন্য বিষয়গুলোর সকল দিক পরিবেষ্টন করা এবং এর বিক্ষিপ্ত ও বিচ্ছুরিত অংশগুলোকে একত্রিত করা সম্ভব হয়।
বস্তুত কাব্যরূপের (নাজম) মাধ্যমে সংক্ষেপ করার পদ্ধতিটি—বিশেষ করে অষ্টম শতাব্দীতে যাতে হাফেজ ইরাকি বসবাস করতেন—কোনো বিস্ময়কর বা নববিষ্কৃত বিষয় ছিল না, কিংবা তা কেবল হাদিস শাস্ত্রের মধ্যেই সীমাবদ্ধ ছিল না। বরং সত্য হলো এই যে, বিভিন্ন প্রকার ও শ্রেণির জ্ঞান-বিজ্ঞানের এমন কোনো শাখা বাকি ছিল না, যাতে হাফেজ ইরাকির কাব্যগ্রন্থের (মানজুমা) ধারণার অনুরূপ বহু কাব্য রচিত হয়নি।
সম্ভবত এই কাব্যগ্রন্থগুলোর উৎস নির্ধারণের সবচেয়ে নির্ভরযোগ্য উপায় হলো স্বয়ং সংক্ষেপকারী কর্তৃক এর মূল উৎস উল্লেখ করা। হাফেজ ইরাকি এটি করেছেন; তিনি তাঁর "আত-তাবসিরাহ ওয়াত তাজকিরাহ" (১) গ্রন্থে বলেন:
৬ - এতে আমি ইবনে আস-সালাহর সম্পূর্ণ কিতাবকে সংক্ষেপ করেছি
… এবং এতে আমি অতিরিক্ত জ্ঞান যোগ করেছি যা আপনি যথাযোগ্য স্থানে দেখতে পাবেন।
তিনি এই পঙক্তির ব্যাখ্যায় বলেন:
(("তার কথা: 'এতে আমি ইবনে আস-সালাহকে সংক্ষেপ করেছি', অর্থাৎ: ইবনে আস-সালাহর কিতাব। এর দ্বারা উদ্দেশ্য হলো: কিতাবটির মাসআলাসমূহ এবং পরিচ্ছেদসমূহ; তবে এর অনেক উদাহরণ, কারণ বর্ণনা (তা’লিল), প্রবক্তাদের প্রতি উক্তির সম্বন্ধ এবং যে বিষয়গুলোর পুনরাবৃত্তি ঘটেছে তা বাদ দেওয়া হয়েছে।")) (২)।
এভাবে এটি অত্যন্ত স্পষ্টভাবে প্রতীয়মান হলো যে, "আত-তাবসিরাহ ওয়াত তাজকিরাহ"-এর মূল উৎস হলো ইবনে আস-সালাহর কিতাব "মা’রিফাতু আনওয়া-ই ইলমিল হাদিস" (৩)। এর সাথে কিছু জ্ঞানতাত্ত্বিক সংযোজনও রয়েছে যা কিতাবটির প্রধান বিষয়গুলোর সাথে সংশ্লিষ্ট, কেবল উদাহরণ ও সাক্ষ্যের (শাওয়াহেদ) সাথে নয়।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
ফাতহুল বাক্বী বি-শারহি আলফিয়াতিল ইরাক্বী
(পৃষ্ঠা: ৩০)
المبحث الثَّالِث: التبصرة والتذكرة، لماذا؟
برز إلى ساحة التأليف تيار جديد في الشعر العربي يدعى "الشعر التعليمي" وَهُوَ نمط من أنماط الشعر يفتقر في معانيه إلى مادة الشعر الأصيلة من الصور والأحاسيس والأخيلة؛ لذا فَهُوَ لا يملك من الشعر إلا اسمه والأوزان والقوافي وقواعد علم العروض، غَيْر أنه في المقابل غني في الجوانب العلمية التي يتناولها، ويمتاز بأن هدفه إيصال فكرة مكثفة بعبارة قصيرة.
ولعل هذِهِ الميزات هِيَ التي دفعت بهذا النمط إلى أرض الوجود، ومن ثَمَّ انتشاره عَلَى ميدان واسع في مجال العلوم، وَهُوَ الغرض نَفْسه الذي دفع بالحافظ العراقي إلى نظم كِتَاب ابن الصَّلاح بهذه الأرجوزة، تسهيلاً لطلاب هَذَا العِلْم في حفظ مباحثه والتعرف عَلَى مَا قِيلَ فِيْهَا.
ولربما كَانَ هناك دافع آخر حدا بالحافظ العراقي لأنْ يضمن مباحث كِتَاب ابن الصَّلاح في أرجوزته، هُوَ مَا وقع فِيهِ ابن الصَّلاح من وهم نتيجة تقليده للحاكم أبي عَبْد الله، وما كَانَ لَهُ من استدراكات عَلَى ابن الصَّلاح كمَّلت جوانب المواضيع، ثُمَّ الجواب عَنِ الاعتراضات التي وجهها بعضهم لابن الصَّلاح، لا سيَّما أن الحافظ العراقي سبق لَهُ أن كتب نكتاً عَلَى كِتَاب ابن الصَّلاح وَهِيَ المشهورة باسم "التقييد والإيضاح "؛ لذا إننا نجد غالب المادة العلمية التي أضافها عَلَى ابن الصَّلاح قَدْ ضمَّنها أرجوزته، فهي حلقة في سبيل تكميل عرض لمباحث هَذَا العِلْم، خالياً -عَلَى قدر الطاقة - من الإخلال والنقص.
المبحث الرابع: اهتمام العُلَمَاء بِهَانظراً لما تمتعت به ألفية العراقي من جزالة الأسلوب، وثراء المعاني، وسلاسة الألفاظ، وترتيب الأفكار والموضوعات، فقد أصبحت ديدن طلاب هذا العلم والمشتغلين فيه، لاسيما وقد كان وكْدُ الناظم الأول تلخيص كتابٍ هو العمدة في هذا الباب، ألا وهو كتاب ابن الصلاح.
فلم يكن بدعاً من الأمر أن يتوالى عليها الشراح، ويضعون عصارة أفكارهم، درراً نفيسة تحلي جيدَ الألفية، وتلبسها ثوباً قشيباً تقرُّ به عين ناظمها، ومن ثمَّ عيون
তৃতীয় পরিচ্ছেদ: আল-তাবসিরাহ ওয়া আল-তাযকিরাহ, কেন?
আরবি কাব্যসাহিত্যের অঙ্গনে "শিক্ষামূলক কাব্য" (আশ-শি'রুত তালীমি) নামক একটি নতুন ধারার উদ্ভব ঘটে। এটি এমন এক ধরণের কাব্যশৈলী যা অর্থের দিক থেকে কবিতার মূল উপাদান—যেমন চিত্রকল্প, আবেগ ও কল্পনা—থেকে রিক্ত। তাই কবিতার নাম, ছন্দ, অন্ত্যমিল এবং ছন্দতত্ত্বের (ইলমুল আরুয) নিয়মকানুন ব্যতীত কবিতার আর কিছুই এতে অবশিষ্ট থাকে না। তবে এর বিপরীতে, এটি যেসব বৈজ্ঞানিক ও তাত্ত্বিক বিষয় নিয়ে আলোচনা করে, সেদিক থেকে অত্যন্ত সমৃদ্ধ। সংক্ষিপ্ত বাক্যের মাধ্যমে একটি নিবিড় ও সারগর্ভ ধারণা প্রদান করাই এর বিশেষত্ব।
সম্ভবত এই বৈশিষ্ট্যগুলোই এই কাব্যধারাকে বাস্তবে রূপ দিতে এবং জ্ঞান-বিজ্ঞানের বিস্তৃত ময়দানে এর প্রসারে ভূমিকা রেখেছে। আর হাফেজ ইরাকিকে ইবনুস সালাহ-র গ্রন্থটিকে এই উরজুযাহ (কাব্যধারা)-তে রূপান্তর করতে ঠিক এই উদ্দেশ্যটিই তাড়িত করেছিল, যাতে এই শাস্ত্রের শিক্ষার্থীদের জন্য এর আলোচ্য বিষয়গুলো মুখস্থ করা এবং সেখানে যা বলা হয়েছে তা অবগত হওয়া সহজ হয়।
হাফেজ ইরাকি কেন ইবনুস সালাহ-র গ্রন্থের আলোচ্য বিষয়গুলো তাঁর উরজুযাহ-তে অন্তর্ভুক্ত করেছিলেন, তার পেছনে সম্ভবত আরও একটি কারণ ছিল। সেটি হলো—হাকীম আবু আব্দুল্লাহ-র অন্ধ অনুসরণের ফলে ইবনুস সালাহ যেসব বিভ্রান্তি বা ভুলের শিকার হয়েছিলেন, সেগুলো নিরসন করা। এছাড়া ইবনুস সালাহ-র ওপর তাঁর কিছু 'ইস্তিদরাক' বা সংশোধনী ও সংযোজনী ছিল যা বিষয়গুলোর বিভিন্ন দিককে পূর্ণতা দান করেছে। পাশাপাশি ইবনুস সালাহ-র ওপর কেউ কেউ যে আপত্তি তুলেছিলেন, তার জবাব প্রদানও একটি উদ্দেশ্য ছিল। বিশেষ করে হাফেজ ইরাকি ইতিপূর্বেই ইবনুস সালাহ-র গ্রন্থের ওপর 'নুকাত' (সূক্ষ্ম টীকা) লিখেছিলেন, যা "আল-তাকয়ীদ ওয়াল ইযাহ" নামে সুপরিচিত। তাই আমরা দেখতে পাই, তিনি ইবনুস সালাহ-র ওপর যেসব তাত্ত্বিক বিষয় সংযোজন করেছিলেন, তার অধিকাংশই তাঁর উরজুযাহ-তে অন্তর্ভুক্ত করেছেন। সুতরাং এটি এই শাস্ত্রের আলোচ্য বিষয়গুলো উপস্থাপনের পূর্ণতা লাভের পথে একটি ধারাবাহিক সংযোগ, যা সাধ্যানুসারে ত্রুটি ও অসম্পূর্ণতা থেকে মুক্ত।
চতুর্থ পরিচ্ছেদ: আলেমগণের নিকট এর গুরুত্বইরাকির আলফিয়্যাহ-র শৈলীর সাবলীলতা, অর্থের প্রাচুর্য, শব্দের কমনীয়তা এবং চিন্তা ও বিষয়বস্তুর সুশৃঙ্খল বিন্যাসের কারণে এটি এই শাস্ত্রের শিক্ষার্থী এবং গবেষকদের নিত্যচর্চার বিষয়ে পরিণত হয়েছে। বিশেষ করে এই কাব্যের রচয়িতার মূল লক্ষ্যই ছিল এমন একটি গ্রন্থের সারসংক্ষেপ করা যা এই শাস্ত্রের প্রধান অবলম্বন, আর সেটি হলো ইবনুস সালাহ-র গ্রন্থ।
তাই এটি মোটেও বিস্ময়কর ছিল না যে, একের পর এক ব্যাখ্যাকারগণ এর ওপর কাজ করবেন এবং তাঁদের চিন্তার নির্যাস এতে ঢেলে দেবেন। তাঁরা মূল্যবান মনিমুক্তার মাধ্যমে এই আলফিয়্যাহ-র গ্রীবাকে অলঙ্কৃত করেছেন এবং একে এমন এক নতুন পোশাকে সজ্জিত করেছেন যা এর রচয়িতার নয়নকে শীতল করে, আর পরবর্তীতে নয়ন শীতল করে...
(খণ্ড: ১)
ফাতহুল বাক্বী বি-শারহি আলফিয়াতিল ইরাক্বী
(পৃষ্ঠা: ৩১)
المحبين لهذا العلم الشريف.
ولا غرو هناك أن تختلف طبائع هذه الشروح تبعاً لتمرس الشارح في هذا العلم، وتذوقه لحلاوة النقد والتعليل، والتخريج والتأصيل، وإفادته في المجال العلمي الذي يبرع فِيْهِ، ولعلنا لا نغادر أرض الواقع والحقيقة إذا قلنا: إنَّ شرح الحافظ العراقي من أكثر الشروح أصالة في مادته العلمية، وأوفرها إغناءً لجوانب البحث العلمي، سواء أكان في مجاله الأصيل، أم في المجالات الطارئة الأخرى، لغوية كانت أم نحوية، وسواء أكان توضيحه لتلك المباحث بشكل مطول أم مختزل؟
ثمَّ إن تلك الشروح تختلف طولاً واختصاراً حسب إشباع الشارح للمادة العلمية، وتبعاً لِمَقْدِرَتِهِ، ونحن في صدد عرضنا لأهم شروح الألفية نود التنبيه على أن تحقيقنا لهذا الشرح ليس الأخير في بابه، بل ستصدر قريباً شروح محققة على غرار هذا الشرح - إن شاء الله تعالى -.
وأهم هذه الشروح:
1 - الشرح الكبير، للناظم الحافظ أبي الفضل زين الدين عبد الرحيم ابن الحسين العراقي (806 هـ) (1).
2 - الشرح المتوسط، وَهُوَ كِتَاب " شرح التبصرة والتذكرة " (2).
3 - النكت الوفية بما في شرح الألفية، للبقاعي: إبراهيم بن عمر بن حسن (885هـ) (3).
3 - شرح ألفية العراقي، لابن العيني زين الدين أبي محمد عبد الرحمان ابن أبي بكر بن محمد الحنفي (893 هـ) (4).
5 - فتح المغيث بشرح ألفية الحديث، للحافظ شمس الدين أبي الخير محمد بن عبد الرحمان بن محمد السخاوي (902 هـ) (5).
--------------------------------------------
এই মহিমান্বিত ইলমের অনুরাগীগণের জন্য।
আর এতে আশ্চর্যের কিছু নেই যে, এই জ্ঞানশাখায় ব্যাখ্যাকারীর পাণ্ডিত্য এবং সমালোচনা ও কারণ অনুসন্ধান (ইল্লত), উৎসায়ন (তাখরিজ) ও মূলনীতি নির্ধারণের স্বাদ আস্বাদন এবং তাঁর পারদর্শী বৈজ্ঞানিক ক্ষেত্রে তাঁর অবদানের ওপর ভিত্তি করে এই ব্যাখ্যাগ্রন্থগুলোর প্রকৃতি ভিন্ন ভিন্ন হবে। সম্ভবত আমরা বাস্তবতাকে ছাড়িয়ে যাব না যদি বলি যে: হাফেজ ইরাকির ব্যাখ্যাগ্রন্থটি এর ইলমি উপাদানের দিক থেকে সবচেয়ে বেশি মৌলিক এবং বৈজ্ঞানিক গবেষণার বিভিন্ন দিককে সমৃদ্ধ করার ক্ষেত্রে সবচেয়ে বেশি ফলপ্রসূ, তা সেটির নিজস্ব মূল ক্ষেত্র হোক বা অন্যান্য প্রাসঙ্গিক ক্ষেত্র যেমন ভাষাতত্ত্ব বা ব্যাকরণ হোক, আর সেই বিষয়গুলোর ব্যাখ্যা বিস্তারিত হোক বা সংক্ষিপ্ত।
তদুপরি, এই ব্যাখ্যাগ্রন্থগুলো ব্যাখ্যাকারীর ইলমি উপাদানের পরিতৃপ্তি এবং তাঁর সক্ষমতা অনুযায়ী দৈর্ঘ্য ও সংক্ষিপ্ততার দিক থেকে ভিন্ন ভিন্ন হয়। আলফিয়্যাহর সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ব্যাখ্যাগ্রন্থগুলো উপস্থাপনের ক্ষেত্রে আমরা এই বিষয়ে সতর্ক করতে চাই যে, আমাদের এই ব্যাখ্যাগ্রন্থটির সম্পাদনা (তাহকিক) এই বিষয়ের শেষ কাজ নয়, বরং শীঘ্রই এই ব্যাখ্যাগ্রন্থের অনুরূপ আরও কিছু সম্পাদিত ব্যাখ্যাগ্রন্থ প্রকাশিত হবে - ইনশাআল্লাহ তাআলা।
আর এই ব্যাখ্যাগ্রন্থগুলোর মধ্যে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো:
১ - আশ-শারহুল কাবীর, মূল রচয়িতা হাফেজ আবুল ফজল জয়নুদ্দীন আব্দুর রহিম ইবনুল হুসাইন আল-ইরাকি (৮০৬ হি.) (১)।
২ - আশ-শারহুল মুতাওয়াস্সিত, যা "শারহুত তাবসিরাহ ওয়াত তাজকিরাহ" নামক গ্রন্থ (২)।
৩ - আন-নুকাতুল ওয়াফিয়্যাহ বিমা ফি শারহিল আলফিয়্যাহ, আল-বিকায়ি কর্তৃক: ইব্রাহিম বিন উমর বিন হাসান (৮৮৫ হি.) (৩)।
৩ - শারহু আলফিয়্যাতিল ইরাকি, ইবনুল আইনি জয়নুদ্দীন আবু মুহাম্মদ আব্দুর রহমান ইবনে আবু বকর বিন মুহাম্মদ আল-হানাফি (৮৯৩ হি.) (৪)।
৫ - ফাতহুল মুগীস বি-শারহি আলফিয়্যাতিল হাদিস, হাফেজ শামসুদ্দীন আবুল খায়ের মুহাম্মদ বিন আব্দুর রহমান বিন মুহাম্মদ আস-সাখাভী (৯০২ হি.) (৫)।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
ফাতহুল বাক্বী বি-শারহি আলফিয়াতিল ইরাক্বী
(পৃষ্ঠা: ৩২)
6 - شرح ألفية الحديث، للحافظ جلال الدين أبي الفضل عبد الرحمان ابن أبي بكر السيوطي (911 هـ) (1).
7 - فتح الباقي على ألفية العراقي، لقاضي القضاة زين الدين أبي يحيى زكريا بن محمد بن أحمد بن زكريا الأنصاري السنكي ثم القاهري (926 هـ) (2)
8 - شرح ألفية العراقي، لأمير بادشاه: شمس الدين محمد أمين بن محمود البخاري الحسيني (972 هـ) (3).
9 - شرح ألفية العراقي، للمناوي: زين الدين محمد عبد الرؤوف بن تاج العارفين بن علي بن زين العابدين (1031 هـ) (4).
10 - شرح ألفية العراقي، للأجهوري: نور الدين أبي الإرشاد عَلِيّ بن مُحَمَّد ابن عبد الرحمان بن علي المالكي (1066 هـ) (5).
11 - نهاية التعريف بأقسام الحديث الضعيف، للدمنهوري: أحمد بن عبد المنعم ابن يوسف بن صيام (1192 هـ) (6).
12 - شرح ألفية العراقي لابن كيران أبي عبد الله محمد الطيب بن
عبد المجيد بن عبد السلام الفاسي (1227 هـ) (7).
13 - معراج الراقي لألفية العراقي، للبطاوري: المكي بن محمد بن علي الرباطي (1354 هـ) (8).
--------------------------------------------
৬ - শারহু আলফিয়্যাতিল হাদিস, হাফিজ জালালুদ্দিন আবুল ফজল আব্দুর রহমান ইবনে আবু বকর আস-সুয়ূতী (৯১১ হি.) (১)।
৭ - ফাতহুল বাকি আলা আলফিয়্যাতিল ইরাকি, কাযিল কুযাত যাইনুদ্দিন আবু ইয়াহিয়া যাকারিয়া ইবনে মুহাম্মদ ইবনে আহমদ ইবনে যাকারিয়া আল-আনসারি আস-সুনকি অতঃপর আল-কাহিরি (৯২৬ হি.) (২)
৮ - শারহু আলফিয়্যাতিল ইরাকি, আমির বাদশাহ: শামসুদ্দিন মুহাম্মদ আমিন ইবনে মাহমুদ আল-বুখারি আল-হুসাইনি (৯৭২ হি.) (৩)।
৯ - শারহু আলফিয়্যাতিল ইরাকি, আল-মুনাউয়ি: যাইনুদ্দিন মুহাম্মদ আব্দুর রউফ ইবনে তাজল আরিফিন ইবনে আলি ইবনে যাইনুল আবিদিন (১০৩১ হি.) (৪)।
১০ - শারহু আলফিয়্যাতিল ইরাকি, আল-আজহুরি: নুরুদ্দিন আবুল ইরশাদ আলি ইবনে মুহাম্মদ ইবনে আব্দুর রহমান ইবনে আলি আল-মালিকি (১০৬৬ হি.) (৫)।
১১ - নিহায়াতুত তারিফ বি-আকসামিল হাদিস আদ-দইফ, আদ-দামানহুরি: আহমদ ইবনে আব্দুল মুনইম ইবনে ইউসুফ ইবনে সিয়াম (১১৯২ হি.) (৬)।
১২ - ইবনে কিরান আবু আব্দুল্লাহ মুহাম্মদ আত-তাইয়িব ইবনে আব্দুল মাজিদ ইবনে আব্দুস সালাম আল-ফাসি রচিত শারহু আলফিয়্যাতিল ইরাকি (১২২৭ হি.) (৭)।
১৩ - মিরাজুর রাখি লি-আলফিয়্যাতিল ইরাকি, আল-বাত্তাওয়ুরি: আল-মাক্কি ইবনে মুহাম্মদ ইবনে আলি আর-রিবাত্বি (১৩৫৪ হি.) (৮)।
--------------------------------------------