(খণ্ড: ১)
আস সারিমুল বাত্তার লিল ইজহাযি আলা মান খালাফাল কিতাবা ওয়াস সুন্নাতা ওয়াল ইজমাআ ওয়াল আসার
(পৃষ্ঠা: -)
الصارم البتار للإجهاز على من خالف الكتاب والسنة والإجماع والآثار القسم: الفرق والردود
الكتاب: الصارم البتار للإجهاز على من خالف الكتاب والسنة والإجماع والآثار
المؤلف: حمود بن عبد الله بن حمود بن عبد الرحمن التويجري (ت 1413هـ)
الناشر: الرئاسة العامة لإدارات البحوث العلمية والإفتاء والدعوة والإرشاد - الرياض
الطبعة: الأولى، 1409 هـ
عدد الصفحات: 193
[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]
تاريخ النشر بالشاملة: 30 ربيع الآخر 1436
কুরআন, সুন্নাহ, ইজমা এবং আসার (বর্ণনা)-এর বিরোধিতাকারীদের নির্মূল করার তীক্ষ্ণ তলোয়ার বিভাগ: দলসমূহ এবং খণ্ডনসমূহ
গ্রন্থ: কুরআন, সুন্নাহ, ইজমা এবং আসার-এর বিরোধিতাকারীদের নির্মূল করার তীক্ষ্ণ তলোয়ার
লেখক: হামুদ বিন আবদুল্লাহ বিন হামুদ বিন আবদুর রহমান আত-তুওয়াইজারি (মৃত্যু: ১৪১৩ হিজরি)
প্রকাশক: বৈজ্ঞানিক গবেষণা, ফতোয়া, দাওয়াত এবং নির্দেশনা বিভাগের সাধারণ প্রেসিডেন্সি - রিয়াদ
সংস্করণ: প্রথম, ১৪০৯ হিজরি
পৃষ্ঠা সংখ্যা: ১৯৩
[গ্রন্থের পৃষ্ঠা সংখ্যা মুদ্রণ কপির সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ]
শামেলায় প্রকাশের তারিখ: ৩০ রবিউস সানি ১৪৩৬
(খণ্ড: ১)
আস সারিমুল বাত্তার লিল ইজহাযি আলা মান খালাফাল কিতাবা ওয়াস সুন্নাতা ওয়াল ইজমাআ ওয়াল আসার
(পৃষ্ঠা: ৩)
بسم الله الرحمن الرحيم
الحمد لله، والصلاة والسلام على رسول الله، وعلى آله وأصحابه ومن اهتدى بهداه، أما بعد:-
فقد اطلعت على ما كتبه صاحب الفضيلة أخونا العلامة حمود بن عبد الله التويجري، في الرد على ما كتبه إبراهيم بن عبد الله بن ناصر في حِلِّ معاملات البنوك الربوية، وحصر الربا في مسألة واحدة من ربا الجاهلية، فألفيته ردا قيِّما قد أوضح فيه كاتبه الحق وكشف فيه الشبهات التي أوردها إبراهيم المذكور بالأدلة من الكتاب والسنة وإجماع سلف الأمة والآثار الواردة في ذلك عن الصحابة رضي الله عنهم وغيرهم، وقد سمَّى ردَّه المذكور (الصارم البتار للإجهاز على من خالف الكتاب والسنة والإجماع والآثار) وهو اسم مطابق للمسمى، قد تتبع فيه مؤلفه شبهات الكاتب المذكور وأغلاطه فكشفها وأبان عوارها وقضى عليها بالأدلة القاطعة والبراهين الساطعة من الآيات القرآنية والأحاديث النبوية وبما نقله غير واحد من الأئمة من الإجماع على تحري الربا بنوعيه (ربا الفضل وربا النسيئة) وما يلتحق بذلك من ربا القرض وسائر أنواع المعاملات الربوية التي يتعاطاها أصحاب البنوك وغيرهم، ونقل في ذلك من الآثار الصريحة في تحريم أنواع الربا عن الصحابة رضي الله عنهم وغيرهم من سلف الأمة ما فيه كفاية ومقنع لطالب الحق، فجزاه الله خيرا وضاعف مثوبته، وجعلنا وإياه وسائر إخواننا من دعاة الهدى وأنصار الحق. ولقد سمعت كتابه من أوله إلى آخره كما سمعت شبهات الكاتب إبراهيم المذكور من أول كتابه إلى آخره فاتضح لي يقينًا صحة ما كتبه أخونا العلامة الشيخ حمود في رده على إبراهيم المذكور
পরম করুণাময় অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে।
সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর জন্য, এবং দরুদ ও সালাম বর্ষিত হোক আল্লাহর রাসূলের ওপর, তাঁর পরিবার-পরিজন, সাহাবীগণ এবং যারা তাঁর পথ অনুসরণ করেছেন তাদের ওপর। অতপর:-
আমি আমাদের পরম শ্রদ্ধেয় ভাই আল্লামা হামুদ বিন আব্দুল্লাহ আত-তুয়াইজিরী রচিত সেই লেখাটি পর্যালোচনা করেছি, যা তিনি ইবরাহিম বিন আব্দুল্লাহ বিন নাসেরের সুদভিত্তিক ব্যাংক লেনদেনের বৈধতা এবং সুদকে কেবল জাহেলী যুগের একটি নির্দিষ্ট প্রকারের মধ্যে সীমাবদ্ধ করার দাবির জবাবে লিখেছেন। আমি এটিকে একটি অত্যন্ত মূল্যবান খণ্ডনমূলক রচনা হিসেবে পেয়েছি, যেখানে লেখক সত্যকে সুস্পষ্ট করেছেন এবং কুরআন, সুন্নাহ, উম্মতের সালাফদের ঐক্যমত এবং সাহাবী (রাদিয়াল্লাহু আনহুম) ও অন্যদের থেকে বর্ণিত বর্ণনার দলিলের মাধ্যমে উল্লেখিত ইবরাহিমের উত্থাপিত সংশয়গুলো উন্মোচন করেছেন। তিনি তাঁর এই খণ্ডনমূলক বইটির নামকরণ করেছেন 'আস-সারিমুল বাত্তার লিল-ইজহাযি আলা মান খালাফাল কিতাবা ওয়াস-সুন্নাতা ওয়াল-ইজমাআ ওয়াল-আছার' (কিতাব, সুন্নাহ, ইজমা ও আছারের বিরোধিতাকারীদের নির্মূল করার তীক্ষ্ণ তরবারি), যা বিষয়বস্তুর সাথে পূর্ণ সামঞ্জস্যপূর্ণ। এতে লেখক উক্ত লেখকের সংশয় ও ভুলগুলো চিহ্নিত করেছেন, সেগুলোর অসারতা প্রকাশ করেছেন এবং কুরআনের আয়াত, নববী হাদিস ও সুদের উভয় প্রকার (রিবাল ফযল ও রিবান নাসীয়া) এবং এর সাথে সংশ্লিষ্ট ঋণ সংক্রান্ত সুদ ও ব্যাংক মালিকদের পরিচালিত অন্যান্য সকল প্রকার সুদভিত্তিক লেনদেনের হারাম হওয়ার ব্যাপারে একাধিক ইমাম কর্তৃক বর্ণিত ঐক্যমতের অকাট্য ও উজ্জ্বল দলিলের মাধ্যমে সেগুলোকে খণ্ডন করেছেন। তিনি এই বিষয়ে সাহাবী (রাদিয়াল্লাহু আনহুম) এবং উম্মতের সালাফদের পক্ষ থেকে সুদের বিভিন্ন প্রকারের হারাম হওয়ার ব্যাপারে এমন স্পষ্ট বর্ণনা উদ্ধৃত করেছেন, যা সত্য অনুসন্ধানকারীর জন্য যথেষ্ট ও সন্তোষজনক। আল্লাহ তাকে উত্তম প্রতিদান দিন এবং তাঁর সওয়াব বহুগুণ বৃদ্ধি করে দিন; এবং আমাদের, তাকে ও আমাদের সকল ভাইকে হেদায়েতের আহ্বায়ক ও সত্যের সাহায্যকারী হিসেবে কবুল করুন। আমি তাঁর বইটি শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত শুনেছি, যেমনটি আমি উক্ত লেখক ইবরাহিমের সংশয়গুলোও তাঁর বইয়ের শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত শুনেছি; ফলে আমার কাছে অকাট্যভাবে এটি স্পষ্ট হয়েছে যে, আমাদের ভাই আল্লামা শায়খ হামুদ উক্ত ইবরাহিমের জবাবে যা লিখেছেন তা-ই সঠিক।
(খণ্ড: ১)
আস সারিমুল বাত্তার লিল ইজহাযি আলা মান খালাফাল কিতাবা ওয়াস সুন্নাতা ওয়াল ইজমাআ ওয়াল আসার
(পৃষ্ঠা: ৪)
وأنه هو عين الحق وأن الواجب عل المسلمين جميعًا أن يتمسكوا بكتاب الله عز وجل وسنة رسوله صلى الله عليه وسلم وبما أجمع عليه سلف الأمة من تحريم الربا بأنواعه وألا يغتروا بما كتبه إبراهيم المذكور وأمثاله ممن قل علمهم بالكتاب والسنة وما كان عليه سلف الأمة، والتبست عليهم الأمور وظنوا أنهم على علم فأملوا ما يخالف الحق ويشكك بعض المسلمين في بعض ما جاء به نبيهم صلى الله عليه وسلم {وَيَحْسَبُونَ أَنَّهُمْ عَلَى شَيْءٍ أَلَا إِنَّهُمْ هُمُ الْكَاذِبُونَ} وإن ظنوا أنهم مهتدون صادقون، وقد سبق أن رددت عليه ردا موجزًا نشر في وقته.
ونسأل الله أن يكفي المسلمين شر كل ذي شر، وأن يجزي أخانا الشيخ حمود وغيره من أهل العلم الذين ردوا على الكاتب المذكور وأوضحوا أباطيله وأخطاءه جزاء حسنا، وأن يرد الكاتب إبراهيم إلى الصواب، وأن يعيذه من شر نفسه وهواه ومن شر دعاة الباطل، إنه ولي ذلك والقادر عليه، وصلى الله وسلم على عبده ورسوله نبينا محمد وآله وصحبه.
عبد العزيز بن عبد الله بن باز
الرئيس العام
لإدارات البحوث العلمية والإفتاء والدعوة والإرشاد
আর এটিই ধ্রুব সত্য এবং সকল মুসলিমের ওপর আবশ্যিক কর্তব্য হলো তারা যেন মহান আল্লাহর কিতাব, তাঁর রাসূলের (তাঁর ওপর আল্লাহর দরুদ ও সালাম বর্ষিত হোক) সুন্নাহ এবং সকল প্রকার সুদ হারাম হওয়ার বিষয়ে উম্মতের পূর্বসূরিগণ যে ঐকমত্য পোষণ করেছেন, তা দৃঢ়ভাবে আঁকড়ে ধরে। তারা যেন উল্লিখিত ইবরাহিম এবং তার মতো যাদের কিতাব, সুন্নাহ এবং উম্মতের পূর্বসূরিদের আদর্শ সম্পর্কে জ্ঞান অতি সামান্য, তাদের লেখা দ্বারা বিভ্রান্ত না হয়। তাদের কাছে বিষয়গুলো অস্পষ্ট হয়ে গেছে এবং তারা মনে করেছে যে তারা জ্ঞানের ওপর আছে, ফলে তারা হকের পরিপন্থী বিষয়গুলো উপস্থাপন করেছে এবং তাদের নবী (তাঁর ওপর আল্লাহর দরুদ ও সালাম বর্ষিত হোক) যা নিয়ে এসেছেন তার কিছু বিষয়ে কোনো কোনো মুসলিমের মনে সংশয় তৈরি করেছে। {তারা মনে করে যে তারা কোনো ভিত্তির ওপর আছে। সাবধান! তারাই তো প্রকৃত মিথ্যাবাদী।} যদিও তারা মনে করে যে তারা সঠিক পথে আছে ও সত্যবাদী। ইতিপূর্বে আমি তার বক্তব্যের একটি সংক্ষিপ্ত জবাব দিয়েছিলাম যা যথাসময়ে প্রকাশিত হয়েছিল।
আমরা আল্লাহর কাছে প্রার্থনা করি তিনি যেন মুসলিমদেরকে প্রত্যেক অনিষ্টকারীর অনিষ্ট থেকে রক্ষা করেন। আমাদের ভাই শায়খ হাম্মুদ এবং অন্যান্য আলেমগণ যারা উক্ত লেখকের প্রতিবাদ করেছেন এবং তার অসারতা ও ভুলসমূহ স্পষ্ট করেছেন, আল্লাহ তাদের উত্তম প্রতিদান দান করুন। আল্লাহ যেন লেখক ইবরাহিমকে সত্যের পথে ফিরিয়ে আনেন এবং তাকে তার নফসের অনিষ্ট, কুপ্রবৃত্তি এবং বাতিলের আহ্বায়কদের অনিষ্ট থেকে রক্ষা করেন। নিশ্চয়ই তিনি এর অভিভাবক এবং এর ওপর পূর্ণ ক্ষমতাবান। আল্লাহ তাঁর বান্দা ও রাসূল আমাদের নবী মুহাম্মদ এবং তাঁর পরিবারবর্গ ও সাহাবীদের ওপর দরুদ ও সালাম বর্ষণ করুন।
আবদুল আজিজ বিন আবদুল্লাহ বিন বাজ
মহাপরিচালক
বৈজ্ঞানিক গবেষণা, ইফতা, দাওয়াহ ও ইরশাদ বিভাগ
(খণ্ড: ১)
আস সারিমুল বাত্তার লিল ইজহাযি আলা মান খালাফাল কিতাবা ওয়াস সুন্নাতা ওয়াল ইজমাআ ওয়াল আসার
(পৃষ্ঠা: ৫)
بسم الله الرحمن الرحيم
الحمد لله نحمده ونستعينه، ونستغفره ونتوب إليه، ونعوذ بالله من شرور أنفسنا وسيئات أعمالنا، من يهده الله فلا مُضِل له، ومن يضلل فلا هادي له، وأشهد أن لا إله إلا الله وحده لا شريك له، الذي حرم الربا على عباده وتوعد عليه بالوعيد الشديد، فقال -تعالى-: {يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آَمَنُوا اتَّقُوا اللَّهَ وَذَرُوا مَا بَقِيَ مِنَ الرِّبَا إِنْ كُنْتُمْ مُؤْمِنِينَ * فَإِنْ لَمْ تَفْعَلُوا فَأْذَنُوا بِحَرْبٍ مِنَ اللَّهِ وَرَسُولِهِ}، وأشهد أن محمدًا عبده ورسوله الذي حذر من الربا غاية التحذير، ولعن آكله وموكله وشاهديه وكاتبه وقال: «هم سواء» أرسله الله بالهدى ودين الحق، وجعل العزة والنصر له وللمؤمنين المتمسكين بسنته، وجعل الذلة والصغار على من خالف أمره وأرتكب نهيه، صلى الله عليه وعلى آله وأصحابه ومن تبعهم بإحسان إلى يوم الدين، وسلم تسليما كثيرًا.
أما بعد: فهذا كتاب وجيز في أحكام الربا والمرابين، وذكر ما جاء من الوعيد الشديد للمرابين، كتبته ردًا على الفتَّان الذي استزله الشيطان وأغواه، وزين له عمله السيئ في تحليل الربا في المعاملات مع أهل البنوك والمصارف، وفيه أيضا رد على من شايع الفتان من أعوان الشيطان والمتبعين لخطواته، وقد قال الله -تعالى- فيمن كان بهذه المثابة: {وَمَنْ يُرِدِ اللَّهُ فِتْنَتَهُ فَلَنْ تَمْلِكَ لَهُ مِنَ اللَّهِ شَيْئًا أُولَئِكَ الَّذِينَ لَمْ يُرِدِ اللَّهُ أَنْ يُطَهِّرَ قُلُوبَهُمْ لَهُمْ فِي الدُّنْيَا خِزْيٌ وَلَهُمْ فِي الْآَخِرَةِ عَذَابٌ عَظِيمٌ}، وقال -تعالى-: {وَمَنْ يَعْشُ عَنْ ذِكْرِ الرَّحْمَنِ نُقَيِّضْ لَهُ شَيْطَانًا فَهُوَ لَهُ قَرِينٌ * وَإِنَّهُمْ لَيَصُدُّونَهُمْ عَنِ السَّبِيلِ وَيَحْسَبُونَ أَنَّهُمْ مُهْتَدُونَ}، وقال -تعالى-: {أَفَمَنْ زُيِّنَ لَهُ سُوءُ عَمَلِهِ فَرَآَهُ حَسَنًا فَإِنَّ اللَّهَ يُضِلُّ مَنْ يَشَاءُ وَيَهْدِي مَنْ يَشَاءُ فَلَا تَذْهَبْ نَفْسُكَ عَلَيْهِمْ حَسَرَاتٍ إِنَّ اللَّهَ عَلِيمٌ بِمَا يَصْنَعُونَ} والآيات في هذا المعنى كثيرة.
فصل
وقد سمى الفتان كتابته في تحليل الربا (موقف الشريعة الإسلامية من المصارف)
وهذا من قلب الحقيقة والافتراء على الشريعة الإسلامية؛ لأنها قد جاءت بتحريم
المعاملات الربوية، ولم تأت بحلِّها، ومن زعم أن الشريعة الإسلامية تبيح المعاملات
পরম করুণাময় অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে।
সকল প্রশংসা আল্লাহর জন্য, আমরা তাঁরই প্রশংসা করি, তাঁরই নিকট সাহায্য প্রার্থনা করি, তাঁরই নিকট ক্ষমা প্রার্থনা করি এবং তাঁরই নিকট তওবা করি। আর আমরা আমাদের নফসের অনিষ্টতা ও আমাদের মন্দ আমলসমূহ হতে আল্লাহর নিকট আশ্রয় প্রার্থনা করি। আল্লাহ যাকে হিদায়াত দান করেন তার কোনো পথভ্রষ্টকারী নেই, আর তিনি যাকে পথভ্রষ্ট করেন তার কোনো পথপ্রদর্শক নেই। আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, আল্লাহ ছাড়া কোনো সত্য উপাস্য নেই, তিনি একক, তাঁর কোনো শরিক নেই, যিনি তাঁর বান্দাদের ওপর সুদ হারাম করেছেন এবং এর ওপর কঠোর শাস্তির হুঁশিয়ারি দিয়েছেন। মহান আল্লাহ ইরশাদ করেছেন: {হে মুমিনগণ, তোমরা আল্লাহকে ভয় করো এবং সুদের যা অবশিষ্ট আছে তা বর্জন করো, যদি তোমরা মুমিন হয়ে থাকো। তবে যদি তোমরা তা না করো, তাহলে আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের পক্ষ থেকে যুদ্ধের ঘোষণা জেনে নাও}। আমি আরও সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, মুহাম্মদ আল্লাহর বান্দা ও তাঁর রাসূল, যিনি সুদ থেকে চরমভাবে সতর্ক করেছেন এবং সুদ গ্রহণকারী, সুদ প্রদানকারী, এর দুই সাক্ষী ও এর লেখককে অভিশাপ দিয়েছেন এবং বলেছেন: «তারা সকলেই সমান»। আল্লাহ তাঁকে হিদায়াত ও সত্য দ্বীনসহ প্রেরণ করেছেন এবং তাঁর জন্য ও তাঁর সুন্নাহর ওপর অবিচল মুমিনদের জন্য সম্মান ও বিজয় রেখেছেন, আর যে তাঁর আদেশের অবাধ্য হয় ও তাঁর নিষিদ্ধ কাজে লিপ্ত হয় তার জন্য লাঞ্ছনা ও অপমান নির্ধারিত করেছেন। তাঁর ওপর এবং তাঁর পরিবার-পরিজন, সাহাবীগণ এবং কিয়ামত পর্যন্ত যারা নিষ্ঠার সাথে তাঁদের অনুসরণ করবে, তাদের ওপর আল্লাহর অজস্র দরুদ ও অফুরন্ত সালাম বর্ষিত হোক।
অতঃপর: সুদ ও সুদখোরদের বিধান এবং সুদখোরদের জন্য বর্ণিত কঠোর হুঁশিয়ারি সম্পর্কে এটি একটি সংক্ষিপ্ত গ্রন্থ। আমি এটি সেই ফিতনাকারীর প্রতিবাদে লিখেছি যাকে শয়তান পদস্খলিত ও বিভ্রান্ত করেছে এবং ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোর সাথে লেনদেনে সুদকে বৈধ করার মতো তার মন্দ কাজকে তার সামনে সুশোভিত করেছে। এতে শয়তানের সেইসব সহযোগীদেরও প্রতিবাদ রয়েছে যারা উক্ত ফিতনাকারীর সমর্থন করেছে এবং তার পদাঙ্ক অনুসরণ করেছে। যারা এই পর্যায়ে উপনীত হয়েছে তাদের সম্পর্কে আল্লাহ তাআলা বলেছেন: {আল্লাহ যার ফিতনা (বিপথগামিতা) চান, তার জন্য আল্লাহর কাছে আপনার কিছুই করার নেই। এরা তারাই যাদের অন্তরকে আল্লাহ পবিত্র করতে চাননি; তাদের জন্য দুনিয়াতে রয়েছে লাঞ্ছনা আর আখিরাতে রয়েছে মহা আজাব}। আল্লাহ তাআলা আরও বলেছেন: {যে ব্যক্তি পরম দয়াময় আল্লাহর জিকির থেকে বিমুখ হয়, আমি তার জন্য এক শয়তান নিয়োজিত করি, ফলে সে হয় তার সহচর। আর এই শয়তানরাই মানুষকে সঠিক পথ থেকে বাধা প্রদান করে, অথচ মানুষ মনে করে তারা সঠিক পথেই আছে}। আল্লাহ তাআলা আরও বলেছেন: {যাকে তার মন্দ কাজ সুশোভিত করে দেখানো হয়েছে ফলে সে তাকে উত্তম মনে করে (সে কি তার সমান যে সৎপথ প্রাপ্ত?)। নিশ্চয় আল্লাহ যাকে ইচ্ছা পথভ্রষ্ট করেন এবং যাকে ইচ্ছা হিদায়াত দান করেন। সুতরাং তাদের জন্য আক্ষেপে আপনার প্রাণ যেন ক্ষয় না হয়। নিশ্চয় তারা যা করে আল্লাহ সে সম্পর্কে সম্যক পরিজ্ঞাত}। এই মর্মে আরও অনেক আয়াত রয়েছে।
পরিচ্ছেদ
উক্ত ফিতনাকারী সুদকে বৈধ করার বিষয়ে তার লেখনীর নাম দিয়েছে (ব্যাংক ব্যবস্থার প্রতি ইসলামী শরীয়াহর দৃষ্টিভঙ্গি)।
এটি সত্যকে উল্টে দেওয়া এবং ইসলামী শরীয়াহর ওপর এক অপবাদ; কারণ শরীয়াহ সুদী লেনদেন নিষিদ্ধ করার বিধান নিয়ে এসেছে, তা বৈধ করার জন্য আসেনি। আর যে ব্যক্তি দাবি করে যে ইসলামী শরীয়াহ লেনদেনকে...
(খণ্ড: ১)
আস সারিমুল বাত্তার লিল ইজহাযি আলা মান খালাফাল কিতাবা ওয়াস সুন্নাতা ওয়াল ইজমাআ ওয়াল আসার
(পৃষ্ঠা: ৬)
الربوية في البنوك والمصارف فقد جنى على الشريعة الإسلامية وألصق بها ما ليس منها، والأولى بهذه الكتابة المؤسسة على معصية الله -تعالى- ومعصية رسوله صلى الله عليه وسلم أن تسمى (موقف المحاربين لله والرسول من الربا في المصارف)، فهذه التسمية الذميمة مطابقة لها غاية المطابقة. وقد اعتمد الفتان في كتابته على نظريات لبعض الباحثين في القرن الرابع عشر من الهجرة، وهم الذين وصفهم الشيخ أحمد محمد شاكر بأنهم يلعبون بالقرآن، ووصفهم محمود شلتوت بأنهم مولعون بتصحيح التصرفات الحديثة وتخريجها على أساس فقهي إسلامي ليعرفوا بالتجديد وعمق التفكير، وسيأتي كلام هذين في ذمهم مع الكلام على رد المقدمة الثالثة من مقدمات الفتان إن شاء الله تعالى.
فصل
وقد اشتملت كتابة الفتان في تحليل الربا على عشرة أمور من كبائر الإثم:
أحدها: الافتراء على الله -تعالى- وعلى رسوله صلى الله عليه وسلم، وذلك بالقول على الله وعلى رسوله بغير علم، وهذا الأمر واضح من زعم الكاتب أن المعاملات الربوية في المصارف حلال وأن القول بحلها هو موقف الشريعة الإسلامية من المصارف، وهذه جناية عظيمة على الشريعة الإسلامية، والشريعة منزهة عن هذا الإفك المبين، ومن نسب إلى الشريعة الإسلامية أنها تبيح الربا في المصارف فإنما هو في الحقيقة ينسب ذلك إلى الله -تعالى- وإلى رسوله صلى الله عليه وسلم؛ لأن الله تعالى هو الذي شرع الشريعة الإسلامية وبين أحكامها وحدودها في كتابه وعلى لسان نبيه محمد صلى الله عليه وسلم، فالحلال ما أحله الله ورسوله صلى الله عليه وسلم، والحرام ما حرمه الله ورسوله صلى الله عليه وسلم. ومن قال بخلاف هذا فهو من المفترين على الله وعلى رسوله صلى الله عليه وسلم، وقد ورد الوعيد الشديد للمفترين على الله-تعالى- في آيات كثيرة من القرآن، منها قوله -تعالى-: {فَمَنْ أَظْلَمُ مِمَّنِ افْتَرَى عَلَى اللَّهِ كَذِبًا لِيُضِلَّ النَّاسَ بِغَيْرِ عِلْمٍ إِنَّ اللَّهَ لَا يَهْدِي الْقَوْمَ الظَّالِمِينَ}، قال القرطبي في تفسير هذه الآية: "بيَّن أنهم كذبوا، إذ قالوا ما لم يقم عليه دليل". انتهى.
ومنها قوله -تعالى-: {وَلَا تَقُولُوا لِمَا تَصِفُ أَلْسِنَتُكُمُ الْكَذِبَ هَذَا حَلَالٌ وَهَذَا حَرَامٌ لِتَفْتَرُوا عَلَى اللَّهِ الْكَذِبَ إِنَّ الَّذِينَ يَفْتَرُونَ عَلَى اللَّهِ الْكَذِبَ لَا يُفْلِحُونَ * مَتَاعٌ قَلِيلٌ وَلَهُمْ عَذَابٌ أَلِيمٌ}، قال ابن القيم -رحمه الله تعالى- في الكلام على هذه الآية في كتابه (أعلام الموقعين): "تقدم إليهم سبحانه بالوعيد على الكذب عليه في أحكامه وقولهم لما لم يحرمه "هذا حرام"ولما لم يحله "هذا حلال"، وهذا
ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানের সুদি কারবার সম্পর্কিত বিষয়ে সে ইসলামী শরীয়তের ওপর জুলুম করেছে এবং এর সাথে এমন কিছু সেঁটে দিয়েছে যা এর অন্তর্ভুক্ত নয়। আল্লাহ তাআলা ও তাঁর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের নাফরমানির ওপর ভিত্তি করে রচিত এই লেখনীর জন্য সবচেয়ে উপযুক্ত নাম হলো (ব্যাংক সুদের ক্ষেত্রে আল্লাহ ও রাসূলের বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণাকারীদের অবস্থান); কেননা এই নিন্দনীয় নামই এর জন্য পুরোপুরি যুতসই। এই ফিতনা সৃষ্টিকারী তার লেখনীতে হিজরি চতুর্দশ শতাব্দীর এমন কিছু গবেষকের তত্ত্বের ওপর নির্ভর করেছে, যাদের সম্পর্কে শায়খ আহমদ মুহাম্মদ শাকির বর্ণনা করেছেন যে তারা কুরআন নিয়ে খেলছে। আর মাহমুদ শালতুত তাদের সম্পর্কে বলেছেন যে, তারা আধুনিক কর্মকাণ্ডসমূহকে বৈধ প্রমাণ করতে এবং সেগুলোকে ইসলামি ফিকহি রূপ দিতে অত্যন্ত আগ্রহী, যাতে তারা আধুনিকায়ন ও চিন্তার গভীরতার জন্য সুপরিচিত হতে পারে। ইনশাআল্লাহ তাআলা, ফিতনা সৃষ্টিকারীর তৃতীয় ভূমিকার খণ্ডন করার সময় এদের নিন্দায় তাদের বক্তব্য সবিস্তারে আসবে।
পরিচ্ছেদ
সুদকে বৈধতা দেওয়ার ক্ষেত্রে সেই ফিতনা সৃষ্টিকারীর লেখনী দশটি কবিরা গুনাহ বা মহাপাপকে অন্তর্ভুক্ত করেছে:
প্রথমত: আল্লাহ তাআলা ও তাঁর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের ওপর মিথ্যারোপ করা। আর তা হলো জ্ঞান ছাড়াই আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের নামে কোনো কথা বলা। লেখকের এই দাবি থেকে বিষয়টি স্পষ্ট যে, ব্যাংকের সুদি লেনদেনসমূহ হালাল এবং একে হালাল বলাটাই হলো ব্যাংকিং ব্যবস্থা সম্পর্কে ইসলামী শরীয়তের অবস্থান। এটি ইসলামী শরীয়তের ওপর একটি গুরুতর অপরাধ। শরীয়ত এই প্রকাশ্য মিথ্যা থেকে সম্পূর্ণ পবিত্র। যে ব্যক্তি ইসলামী শরীয়তের দিকে এই সম্বন্ধযুক্ত করে যে তা ব্যাংকের সুদকে বৈধ করে, সে মূলত আল্লাহ তাআলা ও তাঁর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের ওপরই তা আরোপ করছে। কেননা আল্লাহ তাআলাই ইসলামী শরীয়ত প্রবর্তন করেছেন এবং তাঁর কিতাবে ও তাঁর নবী মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের জবানিতে এর বিধি-বিধান ও সীমারেখা স্পষ্ট করেছেন। সুতরাং হালাল তা-ই যা আল্লাহ ও তাঁর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম হালাল করেছেন, আর হারাম তা-ই যা আল্লাহ ও তাঁর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম হারাম করেছেন। যে ব্যক্তি এর বিপরীত কথা বলবে, সে আল্লাহ ও তাঁর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের ওপর মিথ্যারোপকারীদের অন্তর্ভুক্ত হবে। কুরআনের বহু আয়াতে আল্লাহ তাআলার ওপর মিথ্যারোপকারীদের জন্য কঠোর হুঁশিয়ারি উচ্চারিত হয়েছে। তার মধ্যে আল্লাহ তাআলার এই বাণী অন্যতম: {সেই ব্যক্তির চেয়ে বড় জালেম আর কে হতে পারে, যে মানুষকে জ্ঞান ছাড়াই পথভ্রষ্ট করার জন্য আল্লাহর ওপর মিথ্যা অপবাদ আরোপ করে? নিশ্চয়ই আল্লাহ জালেম সম্প্রদায়কে হেদায়েত দান করেন না}। ইমাম কুরতুবি এই আয়াতের তাফসিরে বলেন: "তিনি স্পষ্ট করেছেন যে তারা মিথ্যা বলেছে, যেহেতু তারা এমন কথা বলেছে যার স্বপক্ষে কোনো দলিল নেই।" সমাপ্ত।
আরও রয়েছে আল্লাহ তাআলার এই বাণী: {আর তোমাদের জিহ্বা যেসব মিথ্যা বর্ণনা করে, তার ভিত্তিতে তোমরা বোলো না যে, 'এটি হালাল এবং এটি হারাম', যেন তোমরা আল্লাহর ওপর মিথ্যারোপ করতে পারো। নিশ্চয়ই যারা আল্লাহর ওপর মিথ্যারোপ করে, তারা সফলকাম হবে না। এ তো সামান্য সুখভোগ মাত্র, আর তাদের জন্য রয়েছে যন্ত্রণাদায়ক শাস্তি}। ইবনুল কাইয়্যিম রহমাতুল্লাহি আলাইহি তাঁর 'আলামুল মুওয়াক্কিঈন' গ্রন্থে এই আয়াতের আলোচনায় বলেন: "মহান আল্লাহ তাঁর পক্ষ থেকে বিধি-বিধানের ক্ষেত্রে তাঁর ওপর মিথ্যারোপ করা সম্পর্কে তাদের পূর্বেই সতর্ক করেছেন। যে বিষয় তিনি হারাম করেননি সে বিষয়ে তাদের এই বলা যে 'এটি হারাম' এবং যে বিষয় তিনি হালাল করেননি সে বিষয়ে বলা যে 'এটি হালাল'—এই সম্পর্কে তিনি হুঁশিয়ারি দিয়েছেন। আর এটি...
(খণ্ড: ১)
আস সারিমুল বাত্তার লিল ইজহাযি আলা মান খালাফাল কিতাবা ওয়াস সুন্নাতা ওয়াল ইজমাআ ওয়াল আসার
(পৃষ্ঠা: ৭)
بيان منه سبحانه أنه لا يجوز للعبد أن يقول هذا حلال وهذا حرام إلا بما علم أن الله أحله وحرمه، قال بعض السلف: "ليتق أحدكم أن يقول أحل الله كذا وحرم كذا فيقول الله له: كذبت لم أحل كذا ولم أحرم كذا" فلا ينبغي أن يقول لما لا يعلم ورود الوحي المبين بتحليله وتحريمه أحله الله وحرمه لمجرد التقليد أو بالتأويل". انتهى.
وقال ابن كثير في تفسير هذه الآية: "ويدخل في هذا كل من ابتدع بدعة ليس له فيها مستند شرعي أو حلل شيئا مما حرم الله أو حرم شيئا مما أباح الله بمجرد رأيه وتشهيه". انتهى.
وقال -تعالى- في تحريم القول عليه بغير علم: {إِنَّمَا حَرَّمَ رَبِّيَ الْفَوَاحِشَ مَا ظَهَرَ مِنْهَا وَمَا بَطَنَ وَالْإِثْمَ وَالْبَغْيَ بِغَيْرِ الْحَقِّ وَأَنْ تُشْرِكُوا بِاللَّهِ مَا لَمْ يُنَزِّلْ بِهِ سُلْطَانًا وَأَنْ تَقُولُوا عَلَى اللَّهِ مَا لَا تَعْلَمُونَ}، قال ابن القيم -رحمه الله تعالى- في (أعلام الموقعين): "قد حرم الله القول عليه بغير علم في الفُتيا والقضاء وجعله من أعظم المحرمات، بل جعله في المرتبة العليا منها
… ثم ذكر الآية من سورة الأعراف وقال في الكلام عليها: فرتب المحرمات أربع مراتب وبدأ بأسهلها وهو الفواحش، ثم ثنَّى بما هو أشد تحريما منه وهو الإثم والظلم، ثم ثلَّث بما هو أعظم تحريما منهما وهو الشرك به -سبحانه-، ثم ربَّع بما هو أشد من ذلك كله وهو القول عليه بلا علم، وهذا يعم القول عليه -سبحانه- بلا علم في أسمائه وصفاته وأفعاله وفي دينه وشرعه". انتهى.
وقد تواتر عن النبي صلى الله عليه وسلم أنه قال: «من كذب عليَّ متعمدا فليتبوأ مقعده من النار».
الأمر الثاني: مما اشتملت عليه كتابة الفتان محادة الله ورسوله صلى الله عليه وسلم ومبارزتهما بالمعصية، وذلك بتحليل ما جاءت النصوص من القرآن والسنة بتحريمه والوعيد الشديد عليه، والمحادة هي المشاقة والمخالفة لأمر الله -تعالى- وأمر رسوله صلى الله عليه وسلم، وارتكاب ما جاء النهي عنه في الكتاب والسنة، وقد قال الله -تعالى-: {أَلَمْ يَعْلَمُوا أَنَّهُ مَنْ يُحَادِدِ اللَّهَ وَرَسُولَهُ فَأَنَّ لَهُ نَارَ جَهَنَّمَ خَالِدًا فِيهَا ذَلِكَ الْخِزْيُ الْعَظِيمُ}، وقال -تعالى-: {إِنَّ الَّذِينَ يُحَادُّونَ اللَّهَ وَرَسُولَهُ كُبِتُوا كَمَا كُبِتَ الَّذِينَ مِنْ قَبْلِهِمْ}، وقال -تعالى-: {يُشَاقِقِ اللَّهَ وَرَسُولَهُ فَإِنَّ اللَّهَ شَدِيدُ الْعِقَابِ}، وقال -تعالى-: {وَمَا كَانَ لِمُؤْمِنٍ وَلَا مُؤْمِنَةٍ إِذَا قَضَى اللَّهُ وَرَسُولُهُ أَمْرًا أَنْ يَكُونَ لَهُمُ الْخِيَرَةُ مِنْ أَمْرِهِمْ وَمَنْ يَعْصِ اللَّهَ وَرَسُولَهُ فَقَدْ ضَلَّ ضَلَالاً مُبِينًا}.
এটি মহান আল্লাহর পক্ষ থেকে এক সুস্পষ্ট বর্ণনা যে, আল্লাহর বান্দার জন্য এটি বলা বৈধ নয় যে 'এটি হালাল এবং এটি হারাম', যতক্ষণ না সে নিশ্চিতভাবে অবগত হয় যে আল্লাহ তা হালাল বা হারাম করেছেন। জনৈক পূর্বসূরি (সালাফ) বলেছেন: "তোমাদের কেউ যেন বলতে ভয় পায় যে 'আল্লাহ এটি হালাল করেছেন' বা 'আল্লাহ এটি হারাম করেছেন', পাছে আল্লাহ তাকে বলেন: 'তুমি মিথ্যা বলেছ, আমি এটি হালাল করিনি এবং আমি এটি হারামও করিনি'।" সুতরাং কোনো বিষয়ের হালাল বা হারাম হওয়ার ব্যাপারে সুস্পষ্ট ওহীর উপস্থিতি নিশ্চিতভাবে না জেনে নিছক অন্ধ অনুকরণ বা অপব্যাখ্যার ভিত্তিতে সেটিকে 'আল্লাহ হালাল করেছেন' বা 'আল্লাহ হারাম করেছেন' বলা সমীচীন নয়। সমাপ্ত।
ইমাম ইবনে কাসীর এই আয়াতের তাফসীরে বলেছেন: "এর অন্তর্ভুক্ত এমন প্রত্যেক ব্যক্তি যে কোনো বিদআত উদ্ভাবন করেছে যার পেছনে তার কোনো শরয়ী ভিত্তি নেই, অথবা মহান আল্লাহ যা হারাম করেছেন তার কোনো কিছুকে স্রেফ নিজের অভিমত ও প্রবৃত্তির বশবর্তী হয়ে হালাল করেছে, কিংবা আল্লাহ যা বৈধ করেছেন তা হারাম করেছে।" সমাপ্ত।
মহান আল্লাহ তাঁর সম্পর্কে জ্ঞানহীন কথা বলাকে হারাম ঘোষণা করে বলেছেন: "বলুন, আমার রব তো কেবল অশ্লীল বিষয়গুলো হারাম করেছেন—তা প্রকাশ্য হোক কিংবা গোপন—আর হারাম করেছেন পাপাচার, অন্যায় বিদ্রোহ এবং আল্লাহর সাথে এমন কিছুকে শরীক করা যার পক্ষে তিনি কোনো প্রমাণ অবতীর্ণ করেননি, আর আল্লাহর ওপর এমন কিছু বলা যা তোমরা জানো না।" ইমাম ইবনে কায়্যিম (রহিমাহুল্লাহ) তাঁর ‘আলামুল মুওয়াক্কিঈন’ গ্রন্থে বলেছেন: "আল্লাহ তাআলা ফতোয়া প্রদান ও বিচারকার্যের ক্ষেত্রে তাঁর সম্পর্কে জ্ঞানহীন কথা বলাকে হারাম করেছেন এবং একে অন্যতম গুরুতর হারামে পরিণত করেছেন। বরং তিনি একে হারামের সর্বোচ্চ স্তরে স্থান দিয়েছেন
… অতঃপর তিনি সূরা আল-আরাফের আয়াতটি উল্লেখ করে এর ব্যাখ্যায় বলেন: আল্লাহ হারাম বিষয়গুলোকে চারটি স্তরে বিন্যস্ত করেছেন এবং সবচেয়ে লঘুটি দিয়ে শুরু করেছেন, যা হলো অশ্লীলতা। দ্বিতীয় স্তরে রেখেছেন যা প্রথমটির চেয়ে অধিক গুরুতর হারাম, তা হলো পাপাচার ও জুলুম। তৃতীয় স্তরে রেখেছেন যা প্রথম দুটির চেয়েও বড় হারাম, তা হলো তাঁর সাথে শিরক করা। এরপর চতুর্থ স্তরে এমন বিষয় রেখেছেন যা এই সবগুলোর চেয়ে ভয়াবহ, তা হলো আল্লাহ সম্পর্কে জ্ঞানহীন কথা বলা। এটি আল্লাহর নাম, গুণাবলি, কর্ম এবং তাঁর দ্বীন ও শরীয়ত সম্পর্কে না জেনে কথা বলার সাধারণ অর্থকে অন্তর্ভুক্ত করে।" সমাপ্ত।
নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) থেকে মুতাওয়াতির সূত্রে বর্ণিত হয়েছে যে তিনি বলেছেন: "যে ব্যক্তি ইচ্ছাকৃতভাবে আমার ওপর মিথ্যা আরোপ করবে, সে যেন জাহান্নামে তার ঠিকানা বানিয়ে নেয়।"
দ্বিতীয় বিষয়: ফিতনাবাজের লেখনীতে যা অন্তর্ভুক্ত রয়েছে তা হলো আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বিরোধিতা করা এবং পাপের মাধ্যমে তাঁদের সাথে যুদ্ধে লিপ্ত হওয়া। আর তা হলো কুরআন ও সুন্নাহর দলিল দ্বারা যা হারাম করা হয়েছে এবং যার ওপর কঠোর হুঁশিয়ারি এসেছে, তাকে হালাল সাব্যস্ত করার মাধ্যমে। আর ‘মুহাদদাহ’ বা বিরোধিতা হলো মহান আল্লাহর নির্দেশ ও তাঁর রাসূলের (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) নির্দেশের অবাধ্যতা ও বিরুদ্ধাচরণ করা এবং কুরআন ও সুন্নাহতে যা নিষিদ্ধ করা হয়েছে তাতে লিপ্ত হওয়া। মহান আল্লাহ ইরশাদ করেছেন: "তারা কি জানে না যে, যে ব্যক্তি আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের বিরোধিতা করে, তার জন্য রয়েছে জাহান্নামের আগুন, সেখানে সে চিরস্থায়ী হবে? এটিই হলো চরম লাঞ্ছনা।" তিনি আরও ইরশাদ করেছেন: "নিশ্চয় যারা আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের বিরুদ্ধাচরণ করে, তাদের লাঞ্ছিত করা হবে যেমন লাঞ্ছিত করা হয়েছে তাদের পূর্ববর্তীদের।" তিনি আরও বলেছেন: "যে আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের বিরুদ্ধাচরণ করে, তবে জেনে রাখা উচিত যে আল্লাহর শাস্তি অত্যন্ত কঠোর।" মহান আল্লাহ আরও বলেছেন: "আল্লাহ ও তাঁর রাসূল কোনো বিষয়ে ফয়সালা দিলে কোনো মুমিন পুরুষ বা মুমিন নারীর জন্য সেই বিষয়ে নিজেদের কোনো সিদ্ধান্তের অধিকার থাকে না। আর যে ব্যক্তি আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের অবাধ্য হয়, সে তো সুস্পষ্ট পথভ্রষ্টতায় লিপ্ত হলো।"
(খণ্ড: ১)
আস সারিমুল বাত্তার লিল ইজহাযি আলা মান খালাফাল কিতাবা ওয়াস সুন্নাতা ওয়াল ইজমাআ ওয়াল আসার
(পৃষ্ঠা: ৮)
الأمر الثالث: محاربة الله ورسوله صلى الله عليه وسلم؛ لأن الله -تعالى- قد آذن الذين لم يتركوا الربا بالحرب منه ومن رسوله صلى الله عليه وسلم، والمحاربة تستلزم العداوة، فكل محارب لله ورسوله فهو عدو لهما ولا بد، ومن كان داعيا إلى استحلال الربا فهو أعظم جرما وأشد محاربة لله ورسوله ممن يتعامل بالربا من غير أن يكون داعيا إلى استحلاله.
الأمر الرابع: اتباع غير سبيل المؤمنين وذلك بمخالفة الإجماع على تحريم الربا وقد قال الله -تعالى-: {وَمَنْ يُشَاقِقِ الرَّسُولَ مِنْ بَعْدِ مَا تَبَيَّنَ لَهُ الْهُدَى وَيَتَّبِعْ غَيْرَ سَبِيلِ الْمُؤْمِنِينَ نُوَلِّهِ مَا تَوَلَّى وَنُصْلِهِ جَهَنَّمَ وَسَاءَتْ مَصِيرًا *}
الأمر الخامس: اتباع الهوى وتقديمه على نصوص الكتاب والسنة وإجماع المسلمين، وقد روى الإمام أحمد وأبو داود عن أبي الدرداء رضي الله عنه عن النبي صلى الله عليه وسلم أنه قال: «حبك الشيء يعمي ويصم»، وروى البزار والبيهقي عن أنس رضي الله عنه أن رسول الله صلى الله عليه وسلم قال: «ثلاث منجيات وثلاث مهلكات» فذكر الحديث وفيه: «وأما المهلكات فشُحٌّ مطاع وهوى مُتَّبع وإعجاب المرء بنفسه»، وروى عبد الله بن عمرو بن العاص رضي الله عنهما عن النبي صلى الله عليه وسلم أنه قال: «لا يؤمن أحدكم حتى يكون هواه تبعا لما جئت به»، قال النووي في كتاب (الأربعين) له: "حديث صحيح رُويناه في كتاب الحج بإسناد صحيح"، قال الحافظ ابن رجب في كتابه (جامع العلوم والحكم): "يريد بصاحب كتاب (الحجة) الشيخ أبا الفتح نصر بن إبراهيم المقدسي الشافعي
… قال: وقد خرج هذا الحديث الحافظ أو نعيم في كتابه (الأربعين)، وشرط في أولها أن تكون من صحاح الأخبار وجياد الآثار مما أجمع الناقلون على عدالة ناقليه وخرجته الأئمة في مسانيدهم، ثم خرجه عن الطبراني". انتهى، قال النووي في الكلام على هذا الحديث: "يعني أن الشخص يجب عليه أن يعرض عمله على الكتاب والسنة ويخالف هواه ويتبع ما جاء به صلى الله عليه وسلم، وهذا نظير قوله -تعالى-: {وَمَا كَانَ لِمُؤْمِنٍ وَلَا مُؤْمِنَةٍ إِذَا قَضَى اللَّهُ وَرَسُولُهُ أَمْرًا أَنْ يَكُونَ لَهُمُ الْخِيَرَةُ مِنْ أَمْرِهِمْ}، فليس لأحد مع الله عز وجل ورسوله صلى الله عليه وسلم أمر ولا هوى". انتهى.
الأمر السادس: الدعاء إلى الضلالة، وذلك بما لفَّقه من الشبه والتمويه على الجهال ودعائهم إلى التعامل بالربا في المصارف وإظهار الباطل في صورة الحق، وقد ورد الوعيد الشديد على ذلك، قال الله -تعالى-: {لِيَحْمِلُوا أَوْزَارَهُمْ كَامِلَةً يَوْمَ الْقِيَامَةِ وَمِنْ أَوْزَارِ الَّذِينَ يُضِلُّونَهُمْ بِغَيْرِ عِلْمٍ أَلَا سَاءَ مَا يَزِرُونَ}، وفي الحديث الصحيح
তৃতীয় বিষয়: আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণা করা; কেননা মহান আল্লাহ তাদের বিরুদ্ধে আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের পক্ষ থেকে যুদ্ধের ঘোষণা দিয়েছেন যারা সুদ বর্জন করেনি। আর যুদ্ধ শত্রুতাকে অপরিহার্য করে তোলে। সুতরাং আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের সাথে যুদ্ধকারী প্রত্যেক ব্যক্তিই আবশ্যিকভাবে তাঁদের শত্রু। আর যে ব্যক্তি সুদকে হালাল সাব্যস্ত করার আহ্বান জানায়, সে কেবল সুদী কারবার করার তুলনায় আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের বিরুদ্ধে অধিকতর পাপাচারী এবং চরম যুদ্ধে লিপ্ত।
চতুর্থ বিষয়: মুমিনদের পথ ভিন্ন অন্য পথের অনুসরণ করা। আর তা হলো সুদের হারামের বিষয়ে বিদ্যমান ঐকমত্য (ইজমা) লঙ্ঘন করার মাধ্যমে। মহান আল্লাহ বলেছেন: "যে ব্যক্তি তার কাছে হিদায়াত স্পষ্ট হওয়ার পর রাসূলের বিরোধিতা করে এবং মুমিনদের পথ ভিন্ন অন্য পথ অনুসরণ করে, আমি তাকে সেদিকেই ফিরিয়ে দেব যেদিকে সে ফিরেছে এবং তাকে জাহান্নামে দগ্ধ করব, আর তা অত্যন্ত মন্দ আবাস।"
পঞ্চম বিষয়: প্রবৃত্তির অনুসরণ করা এবং কুরআন, সুন্নাহর নস (সুস্পষ্ট পাঠ) ও মুসলিমদের ঐকমত্যের ওপর প্রবৃত্তিকে প্রাধান্য দেওয়া। ইমাম আহমাদ ও আবু দাউদ আবু দারদা (রাদিআল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণনা করেছেন যে, নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন: "কোনো জিনিসের প্রতি তোমার অতিশয় ভালোবাসা তোমাকে অন্ধ ও বধির করে দেয়।" আল-বাযযার ও আল-বাইহাকী আনাস (রাদিআল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণনা করেছেন যে, রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন: "তিনটি বিষয় মুক্তিদানকারী এবং তিনটি ধ্বংসকারী।" এরপর তিনি হাদিসটি উল্লেখ করেন যাতে রয়েছে: "আর ধ্বংসকারী বিষয়গুলো হলো—এমন কৃপণতা যার আনুগত্য করা হয়, এমন প্রবৃত্তি যার অনুসরণ করা হয় এবং মানুষের আত্মমুগ্ধতা।" আবদুল্লাহ ইবনে আমর ইবনুল আস (রাদিআল্লাহু আনহুমা) নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) থেকে বর্ণনা করেছেন যে, তিনি বলেছেন: "তোমাদের কেউ ততক্ষণ পর্যন্ত পূর্ণ মুমিন হতে পারবে না, যতক্ষণ না তার প্রবৃত্তি আমি যা নিয়ে এসেছি তার অনুগামী হয়।" ইমাম নববী তাঁর 'আরবাঈন' কিতাবে বলেছেন: "এটি একটি সহীহ হাদিস, যা আমরা 'কিতাবুল হুজ্জাহ' থেকে সহীহ সনদে বর্ণনা করেছি।" হাফেজ ইবনে রজব তাঁর 'জামি উল উলুম ওয়াল হিকাম' গ্রন্থে বলেছেন: "তিনি 'কিতাবুল হুজ্জাহ'-এর লেখক দ্বারা শায়খ আবুল ফাতহ নাসর ইবনে ইবরাহীম আল-মাকদিসী আশ-শাফেয়ীকে বুঝিয়েছেন
… তিনি বলেন: হাফেজ আবু নুয়াইম এই হাদিসটি তাঁর 'আরবাঈন' কিতাবে উদ্ধৃত করেছেন এবং এর শুরুতে শর্তারোপ করেছেন যে, তা হতে হবে সহীহ সংবাদ ও উত্তম আছার (বর্ণনা) থেকে, যার বর্ণনাকারীদের ন্যায়পরায়ণতার বিষয়ে মুহাদ্দিসগণ একমত হয়েছেন এবং ইমামগণ তাঁদের মুসনাদসমূহে তা বর্ণনা করেছেন। অতঃপর তিনি এটি তাবারানী থেকে বর্ণনা করেছেন।" সমাপ্ত। ইমাম নববী এই হাদিসের ব্যাখ্যায় বলেছেন: "এর অর্থ হলো—ব্যক্তির জন্য আবশ্যক হলো তার আমলকে কুরআন ও সুন্নাহর সামনে উপস্থাপন করা, স্বীয় প্রবৃত্তির বিরোধিতা করা এবং নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) যা নিয়ে এসেছেন তার অনুসরণ করা। এটি মহান আল্লাহর এই বাণীর অনুরূপ: 'আল্লাহ ও তাঁর রাসূল কোনো বিষয়ে ফয়সালা করলে কোনো মুমিন নর বা নারীর জন্য সেই বিষয়ে নিজেদের কোনো ইখতিয়ার বা পছন্দ খাটানোর সুযোগ নেই।' সুতরাং আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের নির্দেশের সামনে কারো কোনো হুকুম বা প্রবৃত্তি চলতে পারে না।" সমাপ্ত।
ষষ্ঠ বিষয়: পথভ্রষ্টতার দিকে আহ্বান করা। আর তা হলো অজ্ঞদের বিভ্রান্ত করার জন্য বিভিন্ন সংশয় ও ছলচাতুরী তৈরি করা এবং তাদেরকে ব্যাংকিং সুদের কারবারে লিপ্ত হতে প্ররোচিত করা এবং মিথ্যাকে সত্যের আবরণে উপস্থাপন করা। এ বিষয়ে কঠোর শাস্তির ঘোষণা এসেছে। মহান আল্লাহ বলেছেন: "যাতে কিয়ামতের দিন তারা তাদের নিজেদের পাপের পূর্ণ বোঝা বহন করে এবং যাদেরকে তারা না জেনে বিভ্রান্ত করেছে তাদের পাপের বোঝা থেকেও (কিছু অংশ বহন করে); দেখ, তারা যা বহন করছে তা কতই না মন্দ!" এবং সহীহ হাদিসে এসেছে—
(খণ্ড: ১)
আস সারিমুল বাত্তার লিল ইজহাযি আলা মান খালাফাল কিতাবা ওয়াস সুন্নাতা ওয়াল ইজমাআ ওয়াল আসার
(পৃষ্ঠা: ৯)
أن رسول الله صلى الله عليه وسلم قال: «من دعا إلى هدي كان له من الأجر مثل أجور من تبعه لا ينقص ذلك من أجورهم شيئا، ومن دعا إلى ضلالة كان عليه من الإثم مثل آثام من تبعه لا ينقص ذلك من آثامهم شيئًا» رواه الإمام أحمد ومسلم وأهل السنن وابن حبان في صحيحه، من حديث أبي هريرة رضي الله عنه، وقال الترمذي: "هذا حديث حسن صحيح"، قال النووي في (شرح مسلم): "سواء كان ذلك الهدي والضلالة هو الذي ابتدأه أم كان مسبوقا إليه". انتهى.
الأمر السابع: القول في القرآن بغير علم، وذلك بالتعسف في تطبيق الآيات على ما رآه بعقله الفاسد من تحليل الربا في المعاملات مع أهل البنوك والمصارف، وما أشد الخطر في هذا، وقد ورد الوعيد الشديد عليه فيما رواه الإمام أحمد والترمذي وابن جرير والبغوي من حديث ابن عباس رضي الله عنهما قال: قال رسول الله صلى الله عليه وسلم: «من قال في القرآن بغير علم فليتبوأ مقعده من النار»، قال الترمذي: "هذا حديث حسن صحيح"، وفي رواية للترمذي وابن جرير والبغوي عن ابن عباس رضي الله عنهما عن النبي صلى الله عليه وسلم أنه قال: «من قال في القرآن برأيه فليتبوأ مقعده من النار»، قال الترمذي: "هذا حديث حسن"، وفي رواية لابن جرير: «من قال في القرآن برأيه أو بما لا يعلم فليتبوأ مقعده من النار».
قال البغوي: "قال شيخنا (1) الإمام: قد جاء الوعيد في حق من قال في القرآن برأيه وذلك فيمن قال من قبل نفسه شيئا من غير علم". انتهى.
الأمر الثامن: عدم المبالاة بالوعيد الشديد على أخذ الربا وإعطائه، وهذا يدل على أنه مصاب في دينه وعقله، وإنه ليخشى عليه أن يكون له نصيب وافر من قول الله -تعالى-: {فَلَمَّا زَاغُوا أَزَاغَ اللَّهُ قُلُوبَهُمْ}، وقوله -تعالى-: {أَفَرَأَيْتَ مَنِ اتَّخَذَ إِلَهَهُ هَوَاهُ وَأَضَلَّهُ اللَّهُ عَلَى عِلْمٍ وَخَتَمَ عَلَى سَمْعِهِ وَقَلْبِهِ وَجَعَلَ عَلَى بَصَرِهِ غِشَاوَةً فَمَنْ يَهْدِيهِ مِنْ بَعْدِ اللَّهِ أَفَلَا تَذَكَّرُونَ}.
--------------------------------------------
আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন: "যে ব্যক্তি কোনো হিদায়াতের দিকে আহ্বান জানাবে, তার জন্য সেই পরিমাণ সওয়াব থাকবে যা তার অনুসরণকারীদের জন্য রয়েছে, এতে তাদের সওয়াবের সামান্যতম কমতি হবে না। আর যে ব্যক্তি কোনো ভ্রষ্টতার দিকে আহ্বান জানাবে, তার ওপর সেই পরিমাণ গুনাহ বর্তাবে যা তার অনুসরণকারীদের ওপর রয়েছে, এতে তাদের গুনাহের সামান্যতম কমতি হবে না।" এটি ইমাম আহমাদ, মুসলিম, সুনান গ্রন্থকারগণ এবং ইবনে হিব্বান তাঁর সহীহ গ্রন্থে আবু হুরায়রা (রাদিয়াল্লাহু আনহু)-এর হাদিস থেকে বর্ণনা করেছেন। ইমাম তিরমিজি বলেন: "এই হাদিসটি হাসান সহীহ।" ইমাম নববী (শরহে মুসলিম)-এ বলেন: "সেই হিদায়াত বা ভ্রষ্টতা সে নিজেই শুরু করুক কিংবা তার পূর্বে অন্য কেউ তা করে থাকুক (উভয়ই সমান)।" সমাপ্ত।
সপ্তম বিষয়: ইলম বা জ্ঞান ছাড়া কুরআন সম্পর্কে কথা বলা। আর তা হলো—ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোর সাথে লেনদেনে সুদের বৈধতা দেওয়ার ক্ষেত্রে নিজের কলুষিত বুদ্ধি খাটিয়ে মনগড়াভাবে আয়াতের অপপ্রয়োগ করা। এটি অত্যন্ত বিপজ্জনক বিষয়। এ সম্পর্কে অত্যন্ত কঠোর হুঁশিয়ারি এসেছে যা ইমাম আহমাদ, তিরমিজি, ইবনে জারির এবং বাগাউয়ি ইবনে আব্বাস (রাদিয়াল্লাহু আনহুমা)-এর হাদিস থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন: "যে ব্যক্তি জ্ঞান ছাড়া কুরআন সম্পর্কে কিছু বলবে, সে যেন জাহান্নামে তার ঠিকানা বানিয়ে নেয়।" তিরমিজি বলেন: "এই হাদিসটি হাসান সহীহ।" তিরমিজি, ইবনে জারির ও বাগাউয়ির অন্য এক বর্ণনায় ইবনে আব্বাস (রাদিয়াল্লাহু আনহুমা) নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) থেকে বর্ণনা করেন যে তিনি বলেছেন: "যে ব্যক্তি নিজের অভিমত দিয়ে কুরআন সম্পর্কে কিছু বলবে, সে যেন জাহান্নামে তার ঠিকানা বানিয়ে নেয়।" তিরমিজি বলেন: "এটি একটি হাসান হাদিস।" ইবনে জারিরের এক বর্ণনায় রয়েছে: "যে ব্যক্তি নিজের অভিমত দিয়ে অথবা যা সে জানে না এমন কিছু কুরআন সম্পর্কে বলবে, সে যেন জাহান্নামে তার ঠিকানা বানিয়ে নেয়।"
বাগাউয়ি বলেন: "আমাদের শায়খ (১) ইমাম বলেছেন: যে ব্যক্তি নিজের অভিমত দিয়ে কুরআন সম্পর্কে কথা বলবে তার ব্যাপারে হুঁশিয়ারি এসেছে; আর তা ওই ব্যক্তির ক্ষেত্রে প্রযোজ্য যে জ্ঞান ছাড়াই নিজের পক্ষ থেকে কোনো কিছু বলে।" সমাপ্ত।
অষ্টম বিষয়: সুদ গ্রহণ ও প্রদানের ওপর বর্ণিত কঠোর হুঁশিয়ারির প্রতি ভ্রুক্ষেপ না করা। এটি প্রমাণ করে যে, সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি তার দ্বীন ও আকলের (বিবেকের) দিক থেকে ক্ষতিগ্রস্ত। তার ব্যাপারে এই আশঙ্কা রয়েছে যে, মহান আল্লাহর এই বাণীতে তার বড় অংশ থাকবে: {অতঃপর তারা যখন বক্র পথ অবলম্বন করল, তখন আল্লাহ তাদের অন্তরগুলোকে বক্র করে দিলেন}। এবং মহান আল্লাহর বাণী: {আপনি কি তাকে লক্ষ্য করেছেন, যে তার প্রবৃত্তিকে ইলাহ হিসেবে গ্রহণ করেছে? আল্লাহ জেনে-বুঝেই তাকে পথভ্রষ্ট করেছেন এবং তার কান ও অন্তরে মোহর মেরে দিয়েছেন আর তার চোখের ওপর রেখেছেন পর্দা। অতএব, আল্লাহর পর কে তাকে হিদায়াত দেবে? তোমরা কি উপদেশ গ্রহণ করবে না?}।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আস সারিমুল বাত্তার লিল ইজহাযি আলা মান খালাফাল কিতাবা ওয়াস সুন্নাতা ওয়াল ইজমাআ ওয়াল আসার
(পৃষ্ঠা: ১০)
الأمر التاسع: التماس رضى أهل البنوك والمتعاملين معهم بالربا وتقديم رضاهم على رضى الله وعدم المبالاة بما يسخط الله، وهذا من ضعف اليقين كما جاء في الحديث الذي رواه أبو نعيم في الحلية عن أبي سعيد الخدري رضي الله عنه مرفوعا: «إن من ضعف اليقين أن ترضي الناس بسخط الله»، ومن آثر رضى الناس على رضى الله عامله الله بنقيض قصده، كما جاء في الحديث الذي رواه ابن حبان في صحيحه عن عائشة رضي الله عنها قالت: قال رسول الله صلى الله عليه وسلم: «من التمس رضى الله بسخط الناس رضي الله عنه وأرضى الناس عنه، ومن التمس رضى الناس بسخط الله سخط الله عليه وأسخط عليه الناس»، وفي رواية له عن عائشة رضي الله عنها أن رسول الله صلى الله عليه وسلم قال: «من أرضى الله بسخط الناس كفاه الله، ومن أسخط الله برضى الناس وكله الله إلى الناس»، وروى الطبراني عن ابن عباس رضي الله عنهما قال: قال رسول الله صلى الله عليه وسلم: «من أسخط الله في رضى الناس سخط الله عليه وأسخط عليه من أرضاه في سخطه، ومن أرضى الله في سخط الناس رضي الله عنه وأرضى عنه من أسخطه في رضاه حتى يزينه ويزين قوله وعمله في عينه»، قال المنذري: "إسناده جيد قوي"، وعن عائشة رضي الله عنها قالت: قال رسول الله صلى الله عليه وسلم: «من طلب محامد الناس بمعاصي الله عاد حامده له ذاما» رواه البزار والبيهقي ولفظه: «من أراد سخط الله ورضا الناس عاد حامده من الناس ذاما».
الأمر
العاشر: التشبه باليهود الذين يستحلون محارم الله بالحيل، ووجه المشابهة بين اليهود وبين الفتان أن اليهود لما حرم الله عليهم صيد الحيتان في يوم السبت احتالوا على صيدها فيه فوضعوا لها الحبائل والبرك العميقة قبل يوم السبت لتقع فيها يوم السبت ويأخذوها يوم الأحد، فعاقبهم الله -تعالى- على هذه الحيلة ومسخهم قِرَدَة. وقد ذكر الله -تعالى- قصتهم في سورتي البقرة والأعراف؛ ليعتبر المسلمون بما حل بهم ويحذروا من الوقوع في مثل ما وقع فيه اليهود من استحلال المحرمات بالحيل فيصيبهم مثل ما أصابهم من العقوبة، فما هي من الظالمين ببعيد، وأما الفتان فإنه قد استحل المعاملات الربوية في البنوك والمصارف ودعا الناس إلى استحلالها بما لفقه من الشبه والمغالطات وتأويل القرآن على غير تأويله وحمل كلام العلماء على غير محامله وغير ذلك من أنواع الحيل التي قد جعلها مستندا له في استحلال المعاملات الربوية في البنوك والمصارف، وهذا من الاغترار بالله والاستخفاف بما أنزله في كتابه وعلى لسان رسوله صلى الله عليه وسلم من تحريم الربا والوعيد الشديد عليه، والاستخفاف أيضا بإجماع المسلمين على
নবম বিষয়: ব্যাংক কর্তৃপক্ষ এবং তাদের সাথে সুদভিত্তিক লেনদেনকারীদের সন্তুষ্টি অন্বেষণ করা, আল্লাহর সন্তুষ্টির ওপর তাদের সন্তুষ্টিকে প্রাধান্য দেওয়া এবং আল্লাহর অসন্তুষ্টির বিষয়ে ভ্রুক্ষেপ না করা। এটি বিশ্বাসের (ইয়াকীন) দুর্বলতার অন্তর্ভুক্ত, যেমনটি আবু নুআইম 'হিলইয়াহ' গ্রন্থে আবু সাঈদ খুদরী (রা.) থেকে মারফু সূত্রে বর্ণনা করেছেন: "নিশ্চয়ই ইয়াকীন বা বিশ্বাসের দুর্বলতা হলো আল্লাহর অসন্তুষ্টির বিনিময়ে মানুষকে সন্তুষ্ট করা।" আর যে ব্যক্তি আল্লাহর সন্তুষ্টির ওপর মানুষের সন্তুষ্টিকে প্রাধান্য দেয়, আল্লাহ তার সাথে তার উদ্দেশ্যের বিপরীত আচরণ করেন; যেমনটি ইবনে হিব্বান তাঁর 'সহীহ' গ্রন্থে আয়েশা (রা.) থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেন: "যে ব্যক্তি মানুষের অসন্তুষ্টির বিনিময়ে আল্লাহর সন্তুষ্টি অন্বেষণ করে, আল্লাহ তার ওপর সন্তুষ্ট হন এবং মানুষকেও তার ওপর সন্তুষ্ট করে দেন। আর যে ব্যক্তি আল্লাহর অসন্তুষ্টির বিনিময়ে মানুষের সন্তুষ্টি অন্বেষণ করে, আল্লাহ তার ওপর রাগান্বিত হন এবং মানুষকেও তার ওপর রাগান্বিত করে দেন।" আয়েশা (রা.) থেকে বর্ণিত অন্য একটি রেওয়ায়েতে রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেন: "যে ব্যক্তি মানুষের অসন্তুষ্টি সত্ত্বেও আল্লাহকে সন্তুষ্ট করে, আল্লাহ তার জন্য (মানুষের বিপরীতে) যথেষ্ট হয়ে যান। আর যে ব্যক্তি মানুষকে সন্তুষ্ট করতে গিয়ে আল্লাহকে অসন্তুষ্ট করে, আল্লাহ তাকে মানুষের ওপরই ছেড়ে দেন।" তাবারানী ইবনে আব্বাস (রা.) থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেন: "যে ব্যক্তি আল্লাহর অসন্তুষ্টির বিনিময়ে মানুষকে সন্তুষ্ট করে, আল্লাহ তার ওপর রাগান্বিত হন এবং যার সন্তুষ্টি সে আল্লাহর অসন্তুষ্টির মাধ্যমে অর্জন করেছিল তাকেও তার ওপর রাগান্বিত করে দেন। আর যে ব্যক্তি মানুষের অসন্তুষ্টির বিনিময়ে আল্লাহকে সন্তুষ্ট করে, আল্লাহ তার ওপর সন্তুষ্ট হন এবং যার অসন্তুষ্টির বিনিময়ে সে আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জন করেছিল তাকেও তার ওপর সন্তুষ্ট করে দেন, এমনকি আল্লাহ তাকে এবং তার কথা ও কাজকে ওই ব্যক্তির দৃষ্টিতে সুশোভিত করে দেন।" মুনজিরি বলেন: "এর সনদ উত্তম ও শক্তিশালী।" আয়েশা (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেন: "যে ব্যক্তি আল্লাহর অবাধ্যতার মাধ্যমে মানুষের প্রশংসা পেতে চায়, তার প্রশংসাকারী ব্যক্তিই তার নিন্দাকারীতে পরিণত হয়।" এটি বাযযার ও বায়হাকী বর্ণনা করেছেন এবং এর শব্দমালা হলো: "যে ব্যক্তি আল্লাহর অসন্তুষ্টি ও মানুষের সন্তুষ্টি চায়, মানুষের মধ্য হতে তার প্রশংসাকারী ব্যক্তিই তার নিন্দুক হয়ে যায়।"
দশম বিষয়:
ইয়াহূদীদের সাদৃশ্য অবলম্বন করা যারা কৌশলের মাধ্যমে আল্লাহর হারামকৃত বিষয়গুলোকে হালাল করে নেয়। ইয়াহূদীদের সাথে ফিতনাকারীদের সাদৃশ্যের দিকটি হলো—যখন আল্লাহ ইয়াহূদীদের ওপর শনিবার মাছ শিকার করা হারাম করলেন, তখন তারা মাছ শিকারের জন্য কৌশল অবলম্বন করল। তারা শনিবারের আগে জাল পেতে রাখত এবং গভীর গর্ত তৈরি করত যাতে শনিবার তাতে মাছ পড়ে এবং তারা রবিবার সেগুলো ধরে নিতে পারে। ফলে আল্লাহ তাদের এই কৌশলের কারণে শাস্তি দিলেন এবং তাদের বানরে রূপান্তরিত করলেন। আল্লাহ তা'আলা সূরা আল-বাকারাহ এবং আল-আ'রাফে তাদের এই কাহিনী বর্ণনা করেছেন; যাতে মুসলমানরা তাদের পরিণাম দেখে শিক্ষা গ্রহণ করতে পারে এবং ইয়াহূদীরা যেভাবে কৌশল অবলম্বন করে হারামকে হালাল করেছিল, সেভাবে লিপ্ত হওয়া থেকে সতর্ক থাকতে পারে। নতুবা ইয়াহূদীদের ওপর যে শাস্তি অবতীর্ণ হয়েছিল তাদের ওপরেও অনুরূপ শাস্তি আসতে পারে, আর তা জালিমদের থেকে খুব বেশি দূরে নয়। পক্ষান্তরে ফিতনাকারী ব্যক্তি ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোর সুদভিত্তিক লেনদেনকে হালাল করে নিয়েছে এবং মিথ্যা সংশয় ও বিভ্রান্তিকর যুক্তি উপস্থাপনের মাধ্যমে মানুষকে তা হালাল মনে করার আহ্বান জানিয়েছে। সে কুরআনের অপব্যাখ্যা করেছে, আলেমদের বক্তব্যকে ভুলভাবে প্রয়োগ করেছে এবং বিভিন্ন প্রকার কৌশলের আশ্রয় নিয়েছে যেগুলোকে সে ব্যাংক ও আর্থিক লেনদেন হালাল করার ভিত্তি হিসেবে দাঁড় করিয়েছে। এটি আল্লাহর সাথে প্রতারণা এবং তাঁর কিতাব ও তাঁর রাসূল (সা.)-এর পবিত্র জবানে সুদের যে হারাম হওয়া ও কঠিন শাস্তির ঘোষণা এসেছে তাকে তুচ্ছজ্ঞান করার নামান্তর। সেইসাথে এটি সুদের হারামের ব্যাপারে মুসলমানদের ঐকমত্যকে (ইজমা) অবজ্ঞা করার শামিল।
(খণ্ড: ১)
আস সারিমুল বাত্তার লিল ইজহাযি আলা মান খালাফাল কিতাবা ওয়াস সুন্নাতা ওয়াল ইজমাআ ওয়াল আসার
(পৃষ্ঠা: ১১)
تحريم الربا، وقد روى ابن بطة بإسناد جيد عن أبي هريرة رضي الله عنه أن رسول الله صلى الله عليه وسلم قال: «لا ترتكبوا ما ارتكب اليهود فتستحلوا محارم الله بأدنى الحيل»، وفي ارتكاب الفتان لما ارتكب اليهود من استحلال محارم الله بالحيل دليل على أنه قد أمن مكر الله وقد قال الله -تعالى-: {فَلَا يَأْمَنُ مَكْرَ اللَّهِ إِلَّا الْقَوْمُ الْخَاسِرُونَ}، فلا يأمن الفتان والمساعدون له على استحلال الربا أن يصيبهم مثل ما أصاب المعتدين في السبت، فقد قال الله -تعالى-: {فَجَعَلْنَاهَا نَكَالاً لِمَا بَيْنَ يَدَيْهَا وَمَا خَلْفَهَا وَمَوْعِظَةً لِلْمُتَّقِينَ}، قال الزجَّاج في قوله -تعالى-: {وَمَوْعِظَةً لِلْمُتَّقِينَ}: "لأمة محمد صلى الله عليه وسلم أن ينتهكوا من حرم الله ما نهاهم عنه فيصيبهم ما أصاب أصحاب السبت إذ انتهكوا حُرَم الله في سبتهم".
فصل
وفي نشر لفتان لكتابته في استحلال الربا وعدم مبالاته بما يترتب على ذلك من محاربة الله ورسوله ومخالفة القرآن والسنة وإجماع المسلمين وغير ذلك من الكبائر العشر التي تقدم ذكرها دليل على أنه لا حياء عنده، ومن لا حياء عند فلا خير فيه، وقد روى الإمام أحمد والبخاري وأبو داود وابن ماجة عن أبي مسعود البدري رضي الله عنه قال: قال رسول الله صلى الله عليه وسلم: «إن مما أدرك الناس من كلام النبوة الأولى، إذا لم تستح فاصنع ما شئت»، ومعناه على أحد الأقوال: أن من لا يمنعه الحياء فإنه يقول ويفعل ما يشاء ولا يبالي بما يترتب على ذلك من الذم له والتجريح لعدالته.
فصل
وقد قام بعض الجهال الأغبياء بطبع ما كتبه الفتان في استحلال الربا وتوزيعه على الناس، وهؤلاء شركاء للفتان في جميع ما اشتملت عليه كتابته من الكبائر؛ لأن الراضي بالذنب كفاعله، وهؤلاء قد جمعوا بين الرضا بما كتبه الفتان في استحلال الربا وزادوا على الرضا بالإعانة على طبعه ونشره، فهم أعظم جرما ممن رضي به ولم يعن على طبعه ونشره، وقد روى الإمام أحمد وابن حبان في صحيحه عن عبد الله بن مسعود رضي الله عنه عن رسول الله صلى الله عليه وسلم أنه قال: «مثل الذي يعين قومه على غير الحق كمثل بعير تردى في بئر فهو ينزع منها بذَنَبِهِ»، وقد رواه أبو داود بنحوه مرفوعا وموقوفًا، قال
সুদ হারাম হওয়া প্রসঙ্গে; ইবনে বাত্তাহ একটি উত্তম সনদে আবু হুরায়রা (রাযিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণনা করেছেন যে, রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন: «তোমরা তা করো না যা ইয়াহুদীরা করেছিল, যার ফলে তারা অতি সামান্য কৌশলের আশ্রয় নিয়ে আল্লাহর হারামকৃত বিষয়সমূহকে হালাল করে নিয়েছিল»। আর ইয়াহুদীরা আল্লাহর হারামকৃত বিষয়সমূহকে হালাল করার জন্য যে কৌশলের আশ্রয় নিয়েছিল, ফিতনাকারীর সেই কাজে লিপ্ত হওয়া এই প্রমাণ বহন করে যে, সে আল্লাহর পাকড়াও থেকে নিজেকে নিরাপদ মনে করছে; অথচ মহান আল্লাহ বলেছেন: {সুতরাং আল্লাহর পাকড়াও থেকে ক্ষতিগ্রস্ত সম্প্রদায় ব্যতীত আর কেউ নিরাপদ বোধ করে না}। অতএব, ফিতনাকারী এবং সুদ হালাল করার কাজে তার সহযোগীদের এমন বিষয়ে নিরাপদ থাকা উচিত নয় যে, তাদের ওপরও তেমন শাস্তি আসতে পারে যা শনিবারের সীমালঙ্ঘনকারীদের ওপর এসেছিল। মহান আল্লাহ বলেছেন: {অতঃপর আমি একে সমসাময়িক ও পরবর্তী প্রজন্মের জন্য দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি এবং মুত্তাকীদের জন্য উপদেশ হিসেবে নির্ধারণ করেছি}। আয-যাজ্জাজ মহান আল্লাহর বাণী: {এবং মুত্তাকীদের জন্য উপদেশ} এর ব্যাখ্যায় বলেন: "মুহাম্মাদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর উম্মতের জন্য উপদেশ হলো তারা যেন আল্লাহর নিষিদ্ধ বিষয়সমূহের অবমাননা না করে যা তিনি তাদের নিষেধ করেছেন, অন্যথায় তাদের ওপরও তেমন মুসিবত আসবে যা শনিবারওয়ালাদের ওপর এসেছিল যখন তারা তাদের শনিবারে আল্লাহর হারামকৃত বিষয়ের অবমাননা করেছিল।"
অনুচ্ছেদ
ফিতনাকারী সুদকে হালাল সাব্যস্ত করে তার লেখা প্রচার করা এবং এর মাধ্যমে আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের বিরুদ্ধে যুদ্ধ, কুরআন-সুন্নাহর বিরোধিতা, মুসলিমদের ঐকমত্য বা ইজমা লঙ্ঘন এবং পূর্বে বর্ণিত দশটি কবিরা গুনাহের প্রতি ভ্রুক্ষেপ না করা এই কথার দলিল যে, তার মধ্যে কোনো লজ্জা নেই। আর যার লজ্জা নেই তার মধ্যে কোনো কল্যাণ নেই। ইমাম আহমাদ, বুখারী, আবু দাউদ ও ইবনে মাজাহ আবু মাসউদ আল-বদরী (রাযিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন: «মানুষ নবুওয়াতের আদি বাণী থেকে যা লাভ করেছে তার মধ্যে একটি হলো: যখন তোমার লজ্জা থাকবে না, তখন তুমি যা ইচ্ছা তা-ই করো»। এর একটি অর্থ হলো: লজ্জা যাকে বাধা প্রদান করে না, সে যা খুশি বলে ও করে এবং এর ফলে তার প্রতি যে নিন্দা বা তার ন্যায়পরায়ণতার যে ক্ষতি হবে সে বিষয়ে সে ভ্রুক্ষেপ করে না।
অনুচ্ছেদ
কিছু নির্বোধ মূর্খ ব্যক্তি ফিতনাকারীর সেই সুদ হালাল করার লেখাটি মুদ্রণ করেছে এবং মানুষের মাঝে বিতরণ করেছে; এরা ফিতনাকারীর লেখার অন্তর্ভুক্ত সকল কবিরা গুনাহে তার অংশীদার। কেননা পাপে সন্তুষ্ট ব্যক্তি পাপ সম্পাদনকারীর মতোই গণ্য হয়। এরা কেবল ফিতনাকারীর সুদ হালাল করার বিষয়ে সন্তুষ্ট হয়েই ক্ষান্ত হয়নি, বরং তারা এটি মুদ্রণ ও প্রচারে সহযোগিতার মাধ্যমে সেই সন্তুষ্টির মাত্রা আরও বাড়িয়ে দিয়েছে। সুতরাং তারা সেই ব্যক্তির চেয়েও গুরুতর অপরাধী যে কেবল এতে সন্তুষ্ট ছিল কিন্তু মুদ্রণ ও প্রচারে সাহায্য করেনি। ইমাম আহমাদ ও ইবনে হিব্বান তাঁর সহীহ গ্রন্থে আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদ (রাযিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণনা করেছেন যে, রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন: «যে ব্যক্তি অন্যায় কাজে নিজ সম্প্রদায়কে সাহায্য করে, তার উদাহরণ হলো সেই উটের মতো যা কূপে পতিত হয়েছে এবং সে তার লেজ ধরে তা থেকে টেনে বের করার চেষ্টা করছে»। আবু দাউদ অনুরূপভাবে মারফু ও মাওকুফ উভয় সূত্রে এটি বর্ণনা করেছেন।বী করেছেন।
(খণ্ড: ১)
আস সারিমুল বাত্তার লিল ইজহাযি আলা মান খালাফাল কিতাবা ওয়াস সুন্নাতা ওয়াল ইজমাআ ওয়াল আসার
(পৃষ্ঠা: ১২)
الخطابي: "معناه أنه قد وقع في الإثم وهلك كالبعير إذا تردى في بئر فصار ينزع بذنبه ولا يقدر على خلاصه". انتهى، وقد ترجم ابن حبان على هذا الحديث بقوله: "ذكر الزجر عن أن يعين المرء أحدا على ما ليس لله فيه رضى"، وروي عن ابن عباس رضي الله عنهما قال: قال رسول الله صلى الله عليه وسلم: «من أعان ظالما ليدحض بباطله حقا فقد برئ من ذمة الله وذمة رسوله»، رواه الطبراني وأبو نعيم في الحلية، فليتدبر الذين أيَّدوا أباطيل الفتان بالكتابة والذين أعانوه بالطبع والنشر ما جاء في هذين الحديثين وليعلموا أنهم قد وقعوا في أمر خطير وهو محاربة الله ورسوله والبراءة من ذمة الله وذمة رسوله.
فصل
وقد روي البخاري ومسلم واللفظ له عن حذيفة بن اليمان رضي الله عنهما قال: "كان الناس يسألون رسول الله صلى الله عليه وسلم عن الخير وكنت أسأله عن الشر مخافة أن يدركني، فقلت: يا رسول الله، إنا كنا في جاهلية وشر فجاءنا الله بهذا الخير، فهل بعد هذا الخير شر؟ قال: «نعم»، فقلت: هل بعد ذلك الشر من خير؟ قال: «نعم وفيه دخن»، قلت: وما دخنه؟ قال: «قوم يستنون بغير سنتي ويهدون بغير هديي تعرف منهم وتنكر»، فقلت: هل بعد ذلك الخير من شر؟ قال: «نعم، دعاة على أبواب جهنم من أجابهم إليها قذفوه فيها»، فقلت: يا رسول الله، صفهم لنا، قال: «نعم، قوم من جلدتنا ويتكلمون بألسنتنا»
… " وذكر تمام الحديث، وفيه عَلَم من أعلام النبوة؛ لأنه قد وقع ما أخبر به رسول الله صلى الله عليه وسلم عن القوم الذين يستنون بغير سنته ويهدون بغير هديه، وهم كثيرون في زماننا وقبله بزمن طويل، وكذلك الدعاة على أبواب جهنم هم أيضا كثيرون في زماننا وقبله بزمن طويل، ومن رزقه الله البصيرة النافذة فإنه يعرفهم من خلال كتاباتهم ومقالاتهم الباطلة التي تنشر في الصحف والكتب التي لا خير فيها، ومنهم الفتان الذي قد لعب الشيطان بعقله وزين له عمله السيئ في تحليل الربا في المعاملات مع أهل البنوك والمصارف فصار بهذا العمل السيئ من الدعاء على أبواب جهنم، فمن أجابه إلى ما دعا إليه من استحلال الربا ومحاربة الله ورسوله قذفه في جهنم، وقد قال -تعالى-: {وَمَنْ يَكُنِ الشَّيْطَانُ لَهُ قَرِينًا فَسَاءَ قَرِينًا}.
খাত্তাবি বলেন: "এর অর্থ হলো সে পাপে নিপতিত হয়েছে এবং ধ্বংস হয়েছে, ঠিক যেমন কোনো উট কূপে পড়ে গেলে তার লেজ নাড়াতে থাকে কিন্তু সেখান থেকে নিষ্কৃতি পাওয়ার কোনো সামর্থ্য রাখে না।" সমাপ্ত। ইবনে হিব্বান এই হাদিসের শিরোনাম দিয়েছেন এই বলে: "আল্লাহর সন্তুষ্টি নেই এমন বিষয়ে কাউকে সাহায্য করা থেকে বিরত থাকার বর্ণনা।" ইবনে আব্বাস (রাদিয়াল্লাহু আনহুমা) থেকে বর্ণিত হয়েছে, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) ইরশাদ করেছেন: "যে ব্যক্তি কোনো জালিমকে তার মিথ্যার মাধ্যমে সত্যকে নস্যাৎ করার জন্য সাহায্য করল, সে আল্লাহর জিম্মাদারি এবং তাঁর রাসূলের জিম্মাদারি থেকে মুক্ত হয়ে গেল।" এটি তাবারানি এবং আবু নুআইম 'আল-হিলয়াহ' গ্রন্থে বর্ণনা করেছেন। সুতরাং যারা লেখনীর মাধ্যমে এই ফিতনাকারীর বাতিল মতবাদকে সমর্থন করেছে এবং যারা মুদ্রণ ও প্রকাশের মাধ্যমে তাকে সাহায্য করেছে, তারা যেন এই দুই হাদিসে বর্ণিত বিষয়াবলি নিয়ে গভীরভাবে চিন্তা করে এবং জেনে রাখে যে, তারা এক ভয়াবহ বিষয়ে লিপ্ত হয়েছে, আর তা হলো আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের বিরুদ্ধে যুদ্ধ এবং আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের জিম্মাদারি থেকে বিচ্ছিন্ন হওয়া।
পরিচ্ছেদ
ইমাম বুখারি ও মুসলিম (শব্দশৈলী মুসলিমের) হুযাইফা ইবনুল ইয়ামান (রাদিয়াল্লাহু আনহুমা) থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: "লোকেরা রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-কে কল্যাণ সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করত, কিন্তু আমি তাঁকে অকল্যাণ সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করতাম এই ভয়ে যে, পাছে তা আমাকে গ্রাস না করে। আমি বললাম: হে আল্লাহর রাসূল! আমরা জাহেলিয়াত ও মন্দের মধ্যে ছিলাম, অতঃপর আল্লাহ আমাদের এই কল্যাণ দান করলেন। এই কল্যাণের পর কি আর কোনো মন্দ আসবে? তিনি বললেন: 'হ্যাঁ'। আমি বললাম: সেই মন্দের পর কি আবার কোনো কল্যাণ আসবে? তিনি বললেন: 'হ্যাঁ, তবে তাতে ধোঁয়াশা থাকবে'। আমি বললাম: তার ধোঁয়াশা কী? তিনি বললেন: 'এমন এক জাতি যারা আমার সুন্নাত ব্যতীত অন্য পথে চলবে এবং আমার আদর্শ ব্যতীত অন্য আদর্শে পরিচালিত হবে। তুমি তাদের মধ্যে ভালো এবং মন্দ উভয় কাজই দেখবে'। আমি বললাম: সেই কল্যাণের পর কি আবারও কোনো মন্দ আসবে? তিনি বললেন: 'হ্যাঁ, জাহান্নামের দরজাসমূহে দাঁড়িয়ে আহ্বানকারী একদল লোক; যারা তাদের আহ্বানে সাড়া দেবে, তারা তাকে তাতে নিক্ষেপ করবে'। আমি বললাম: হে আল্লাহর রাসূল! আমাদের কাছে তাদের পরিচয় বর্ণনা করুন। তিনি বললেন: 'হ্যাঁ, তারা আমাদেরই জাতির অন্তর্ভুক্ত এবং আমাদের ভাষাতেই কথা বলবে'
… " এরপর তিনি পূর্ণ হাদিসটি উল্লেখ করলেন। এর মধ্যে নবুয়তের অন্যতম একটি নিদর্শন বিদ্যমান; কেননা রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) সেইসব লোকেদের সম্পর্কে যা সংবাদ দিয়েছিলেন যারা তাঁর সুন্নাত ছেড়ে অন্য প্রথা অনুসরণ করবে এবং তাঁর আদর্শ ছেড়ে অন্য পথে চলবে, তা বাস্তবায়িত হয়েছে। আমাদের বর্তমান সময়ে এবং এর অনেক আগে থেকেই এমন লোকের সংখ্যা বহু। অনুরূপভাবে, জাহান্নামের দরজাসমূহের দিকে আহ্বানকারীরাও আমাদের যুগে এবং তার দীর্ঘ সময় আগে থেকেই বহু সংখ্যায় বিদ্যমান। আল্লাহ যাকে তীক্ষ্ণ অন্তর্দৃষ্টি দান করেছেন, তিনি তাদের বাতিল লেখনী ও প্রবন্ধের মাধ্যমেই তাদের চিনে নিতে পারেন, যা বিভিন্ন সংবাদপত্র ও কল্যাণহীন বইপুস্তকে প্রকাশিত হয়। তাদের মধ্যে সেই ফিতনাকারীও রয়েছে যার বিবেক নিয়ে শয়তান খেলা করেছে এবং তার কাছে তার মন্দ কাজকে সুশোভিত করেছে—যা হলো ব্যাংক ও অর্থলগ্নী প্রতিষ্ঠানের সাথে লেনদেনে সুদকে বৈধ ঘোষণা করা। এই অপকর্মের মাধ্যমে সে জাহান্নামের দরজায় দণ্ডায়মান আহ্বানকারীদের অন্তর্ভুক্ত হয়ে গেছে। সুতরাং যে ব্যক্তি সুদকে হালাল করা এবং আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণার মতো তার এই আহ্বানে সাড়া দেবে, সে তাকে জাহান্নামে নিক্ষেপ করবে। আর মহান আল্লাহ তাআলা ইরশাদ করেছেন: "আর শয়তান যার সাথী হয়, সে কতই না নিকৃষ্ট সাথী!"
(খণ্ড: ১)
আস সারিমুল বাত্তার লিল ইজহাযি আলা মান খালাফাল কিতাবা ওয়াস সুন্নাতা ওয়াল ইজমাআ ওয়াল আসার
(পৃষ্ঠা: ১৩)
فصل
وقد روى الإمام أحمد وأبو داود والنسائي وابن ماجة والحاكم من حديث الحسن عن أبي هريرة رضي الله عنه أن رسول الله صلى الله عليه وسلم قال: «ليأتين على الناس زمان لا يبقى منهم أحد إلا أكل الربا فمن لم يأكله أصابه من غباره»، قال الحاكم: "صحيح إن صح سماع الحسن من أبي هريرة"، قال الذهبي: "سماع الحسن من أبي هريرة بهذا صحيح". انتهى.
وهذا الحديث مطابق لحال أهل البنوك ومن يعاملهم بالمعاملات الربوية، وفيه عَلَم من أعلام النبوة؛ لأنه قد وقع ما أخبر به رسول الله صلى الله عليه وسلم من فشو الربا وكثرة من يأكله.
وروى الإمام أحمد والبخاري والدارمي والنسائي عن أبي هريرة رضي الله عنه أن رسول الله صلى الله عليه وسلم قال: «ليأتين على الناس زمان لا يبالي المرء بما أخذ المال أمن حلال أم من حرام».
وهذا الحديث أعم من الحديث الذي قبله فيدخل فيه أهل البنوك ومن يعاملهم بالمعاملات الربوية، ويدخل فيه غيرهم من الذين ليس فيهم تقوى ولا ورع يحجزهم عن أكل المال بالباطل وأخذه من أي طريق حصل لهم.
وروى الطبراني في الأوسط عن أبن مسعود رضي الله عنه عن النبي صلى الله عليه وسلم أنه قال: «بين يدي الساعة يظهر الربا والزنا والخمر»، قال المنذري والهيثمي: "رجاله رجال الصحيح".
وفي هذا الحديث عَلَم من أعلام النبوة؛ لأنه قد وقع ما أخبر به رسول الله صلى الله عليه وسلم من ظهور الربا ولا سيما في البنوك التي قد كثرت في البلاد الإسلامية وفي جميع أنحاء العالم، وسيأتي -إن شاء الله تعالى- ذكر الأحاديث التي قد جاء فيها أن ظهور الربا والزنا سبب لحلول العقوبة.
ولا يخفى على من له علم وفهم ما في كتابة الفتان من الحث على أكل الربا وأخذ المال من غير حِلِّه والإعانة على ظهور الربا بين المسلمين، وبهذا العلم الشيطاني يكون الفتان من المعتدين الداخلين في عموم قوم الله -تعالى-: {وَإِنَّ كَثِيرًا لَيُضِلُّونَ بِأَهْوَائِهِمْ بِغَيْرِ عِلْمٍ إِنَّ رَبَّكَ هُوَ أَعْلَمُ بِالْمُعْتَدِينَ}، ومن الداخلين أيضا فيما أخبر به رسول الله
পরিচ্ছেদ
ইমাম আহমাদ, আবু দাউদ, নাসাঈ, ইবনে মাজাহ এবং হাকেম হাসান থেকে, তিনি আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণনা করেছেন যে, রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেন: "মানুষের ওপর এমন এক সময় আসবে যখন তাদের মধ্যে এমন কেউ অবশিষ্ট থাকবে না যে সুদ খাবে না; আর যে ব্যক্তি তা খাবে না, তার কাছে সুদের ধূলিকণা পৌঁছাবে।" হাকেম বলেছেন: "হাসান যদি আবু হুরায়রা থেকে শুনে থাকেন তবে এটি সহীহ।" যাহাবী বলেছেন: "এ বিষয়ে আবু হুরায়রা থেকে হাসানের শ্রবণ করা সহীহ।" সমাপ্ত।
এই হাদীসটি ব্যাংক সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিবর্গ এবং যারা সুদী লেনদেনের মাধ্যমে তাদের সাথে কারবার করে তাদের অবস্থার সাথে হুবহু মিলে যায়। এতে নবুওয়তের অন্যতম নিদর্শন বিদ্যমান; কারণ সুদের প্রসার এবং এর ভক্ষণকারীর আধিক্য সম্পর্কে রাসূলুল্লাহ (সা.) যা সংবাদ দিয়েছিলেন তা বাস্তবে সংঘটিত হয়েছে।
ইমাম আহমাদ, বুখারী, দারেমী এবং নাসাঈ আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণনা করেছেন যে, রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেন: "মানুষের ওপর এমন এক সময় আসবে যখন ব্যক্তি পরোয়া করবে না যে সে কীভাবে সম্পদ অর্জন করল—তা হালাল নাকি হারাম পন্থায়।"
এই হাদীসটি পূর্ববর্তী হাদীস অপেক্ষা অধিক ব্যাপক। ফলে এর অন্তর্ভুক্ত হবে ব্যাংক সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিবর্গ এবং যারা তাদের সাথে সুদী লেনদেন করে। এছাড়াও এর অন্তর্ভুক্ত হবে এমন সব লোক যাদের মধ্যে তাকওয়া ও খোদাভীতি নেই, যা তাদেরকে অন্যায়ভাবে সম্পদ গ্রাস করা এবং যেকোনো উপায়ে তা হস্তগত করা থেকে বিরত রাখে।
তাবারানী তার 'আল-আওসাত' গ্রন্থে ইবনে মাসউদ (রা.) থেকে বর্ণনা করেছেন যে, নবী করীম (সা.) বলেছেন: "কিয়ামতের পূর্বমুহূর্তে সুদ, ব্যভিচার ও মদ্যপান প্রকাশ পাবে।" আল-মুনযিরী এবং আল-হাইসামী বলেছেন: "এর বর্ণনাকারীগণ সহীহ গ্রন্থের বর্ণনাকারী।"
এই হাদীসেও নবুওয়তের একটি নিদর্শন রয়েছে; কারণ রাসূলুল্লাহ (সা.) সুদের প্রকাশ সম্পর্কে যে সংবাদ দিয়েছিলেন তা বাস্তবে ঘটেছে, বিশেষ করে ব্যাংকসমূহের মাধ্যমে যা মুসলিম দেশগুলো এবং সারা বিশ্বে ছড়িয়ে পড়েছে। আল্লাহ তাআলা চাহেন তো অচিরেই এমন সব হাদীস উল্লিখিত হবে যেখানে সুদ ও ব্যভিচারের প্রকাশ পাওয়াকে শাস্তি অবতীর্ণ হওয়ার কারণ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।
জ্ঞান ও প্রজ্ঞা সম্পন্ন ব্যক্তির কাছে ফিতনা সৃষ্টিকারীর লিখনীর বিষয়টি গোপন নয় যে, এতে সুদ গ্রহণে উস্কানি দেওয়া হয়েছে, অবৈধ পন্থায় সম্পদ অর্জনের প্রতি উৎসাহ দেওয়া হয়েছে এবং মুসলিমদের মাঝে সুদের প্রসারে সহায়তা করা হয়েছে। এই শয়তানি জ্ঞানের কারণে উক্ত ফিতনাবাজ ব্যক্তি সেই সব সীমালঙ্ঘনকারীদের অন্তর্ভুক্ত হবে যাদের সম্পর্কে মহান আল্লাহ বলেছেন: "নিশ্চয়ই অনেকে না জেনে নিজেদের প্রবৃত্তির দ্বারা অন্যদের পথভ্রষ্ট করে। নিশ্চয়ই আপনার প্রতিপালক সীমালঙ্ঘনকারীদের সম্পর্কে সম্যক অবগত।" এছাড়াও সে রাসূলুল্লাহ (সা.) যা সংবাদ দিয়েছেন তারও অন্তর্ভুক্ত...
(খণ্ড: ১)
আস সারিমুল বাত্তার লিল ইজহাযি আলা মান খালাফাল কিতাবা ওয়াস সুন্নাতা ওয়াল ইজমাআ ওয়াল আসার
(পৃষ্ঠা: ১৪)
- صلى الله عليه وسلم عما سيكون في آخر هذه الأمة حيث قال: «وسيقوم فيهم رجال قلوبهم قلوب الشياطين في جثمان إنس» رواه مسلم من حديث حذيفة بن اليمان رضي الله عنهما، والله المسؤول أن يقيض للفتان وأشباهه من المضلين بأهوائهم من يأخذ على أيديهم ويأطرهم على الحق أطرًا، وما ذلك على الله بعزيز.
فصل
وقد تظافرت الأدلة من الكتاب والسنة على تحريم الربا، وأجمع المسلمون على تحريمه، وعلى أنه من الكبائر، قال النووي في (شرح المهذب): "وقيل إنه كان محرما في جميع الشرائع، وممن حكاه الماوردي". انتهى.
قلت: ويدل على تحريمه في شريعتي التوراة والإنجيل قول الله -تعالى- مخبرًا عن اليهود: {وَأَخْذِهِمُ الرِّبَا وَقَدْ نُهُوا عَنْهُ}، وقوله -تعالى- مخبرًا عن الإنجيل: {مُصَدِّقًا لِمَا بَيْنَ يَدَيْهِ مِنَ التَّوْرَاةِ}، وأخبر أيضا عن عيسى في عدة آيات أنه مصدق لما بين يديه من التوراة، فهذا يدل على أن الربا كان محرما في شرع من قبلنا، ولم يأت في القرآن ولا في السنة ولا في إجماع المسلمين ما يدل على التفريق بين المعاملات الربوية في البنوك وغير البنوك، فالتفريق إذا من التحكم المردود على قائله كائنا من كان.
فأما الأدلة من القرآن على تحريم المعاملات الربوية على وجه العموم ففي خمس آيات، منها أربع في سورة البقرة، وهي قوله -تعالى-: {الَّذِينَ يَأْكُلُونَ الرِّبَا لَا يَقُومُونَ إِلَّا كَمَا يَقُومُ الَّذِي يَتَخَبَّطُهُ الشَّيْطَانُ مِنَ الْمَسِّ ذَلِكَ بِأَنَّهُمْ قَالُوا إِنَّمَا الْبَيْعُ مِثْلُ الرِّبَا وَأَحَلَّ اللَّهُ الْبَيْعَ وَحَرَّمَ الرِّبَا فَمَنْ جَاءَهُ مَوْعِظَةٌ مِنْ رَبِّهِ فَانْتَهَى فَلَهُ مَا سَلَفَ وَأَمْرُهُ إِلَى اللَّهِ وَمَنْ عَادَ فَأُولَئِكَ أَصْحَابُ النَّارِ هُمْ فِيهَا خَالِدُونَ * يَمْحَقُ اللَّهُ الرِّبَا وَيُرْبِي الصَّدَقَاتِ وَاللَّهُ لَا يُحِبُّ كُلَّ كَفَّارٍ أَثِيمٍ}، وقوله -تعالى-: {يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آَمَنُوا اتَّقُوا اللَّهَ وَذَرُوا مَا بَقِيَ مِنَ الرِّبَا إِنْ كُنْتُمْ مُؤْمِنِينَ * فَإِنْ لَمْ تَفْعَلُوا فَأْذَنُوا بِحَرْبٍ مِنَ اللَّهِ وَرَسُولِهِ وَإِنْ تُبْتُمْ فَلَكُمْ رُءُوسُ أَمْوَالِكُمْ لَا تَظْلِمُونَ وَلَا تُظْلَمُونَ}، الآية الخامسة قول الله -تعالى- في سورة آل عمران: {يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آَمَنُوا لَا تَأْكُلُوا الرِّبَا أَضْعَافًا مُضَاعَفَةً وَاتَّقُوا اللَّهَ لَعَلَّكُمْ تُفْلِحُونَ}.
وقد تضمنت هذه الآيات فوائد كثيرة وأمورًا مهمة تتعلق بالربا والمرابين.
রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এই উম্মতের শেষ যুগে যা ঘটবে সে সম্পর্কে বলেছেন: "অচিরেই তাদের মধ্যে এমন একদল লোক দাঁড়াবে যাদের অন্তর হবে মানুষের দেহে শয়তানের অন্তর।" এটি হুযাইফা ইবনুল ইয়ামান রাদিয়াল্লাহু আনহুমা বর্ণিত হাদীস থেকে ইমাম মুসলিম বর্ণনা করেছেন। আল্লাহর কাছেই প্রার্থনা, তিনি যেন এই ফিতনাবাজ এবং তার মতো যারা নিজেদের প্রবৃত্তি অনুযায়ী বিভ্রান্তিতে লিপ্ত, তাদের প্রতিহত করার জন্য এমন কাউকে ব্যবস্থা করে দেন যারা তাদের হাত ধরবে এবং সত্যের পথে তাদের সুপ্রতিষ্ঠিত করবে। আর আল্লাহর কাছে এটি মোটেও কঠিন কিছু নয়।
পরিচ্ছেদ
কুরআন ও সুন্নাহর অসংখ্য দলিল সুদের হারামের ওপর একমত হয়েছে এবং মুসলিমগণ এর অবৈধতা ও এটি যে কবিরা গুনাহসমূহের অন্তর্ভুক্ত—এ বিষয়ে ঐক্যমত পোষণ করেছেন। ইমাম নববী (রহ.) 'শারহুল মুহাযযাব'-এ বলেছেন: "বলা হয়েছে যে, সুদ সমস্ত শরীয়তেই হারাম ছিল; ইমাম মাওয়ারদীও এই কথা বর্ণনা করেছেন।" (উদ্ধৃতি সমাপ্ত)।
আমি বলছি: তাওরাত ও ইনজিল শরীয়তেও এর হারামের প্রমাণ হলো মহান আল্লাহর বাণী, যা তিনি ইহুদিদের সম্পর্কে সংবাদ দিতে গিয়ে বলেছেন: "এবং তাদের সুদ গ্রহণের কারণে, অথচ তা থেকে তাদের নিষেধ করা হয়েছিল।" এবং মহান আল্লাহর বাণী যা তিনি ইনজিল সম্পর্কে বলেছেন: "তা (ইনজিল) তার পূর্ববর্তী তাওরাতের সত্যায়নকারী।" এছাড়াও ঈসা আলাইহিস সালাম সম্পর্কে বিভিন্ন আয়াতে সংবাদ দেওয়া হয়েছে যে, তিনি তার পূর্ববর্তী তাওরাতের সত্যায়নকারী ছিলেন। এটি প্রমাণ করে যে, আমাদের পূর্ববর্তী শরীয়তগুলোতেও সুদ হারাম ছিল। আর কুরআন, সুন্নাহ কিংবা মুসলিম উম্মাহর ইজমার কোথাও এমন কোনো প্রমাণ আসেনি যা ব্যাংকিং লেনদেন এবং অন্যান্য লেনদেনের সুদের মধ্যে পার্থক্যের অবকাশ রাখে। সুতরাং, এই পার্থক্য করা হলো একটি ভিত্তিহীন স্বেচ্ছাচারিতা, যা যে কেউই বলুক না কেন তা প্রত্যাখ্যাত।
সুদের কারবার সাধারণভাবে হারাম হওয়ার ব্যাপারে কুরআনের দলিলসমূহ পাঁচটি আয়াতে বর্ণিত হয়েছে, যার মধ্যে চারটি সূরা বাকারায়। মহান আল্লাহ বলেছেন: "যারা সুদ খায়, তারা (কিয়ামতের দিন) কেবল সেই ব্যক্তির মতো দাঁড়াবে যাকে শয়তান স্পর্শ করে পাগল করে দেয়। এটি একারণে যে, তারা বলে: ক্রয়-বিক্রয় তো সুদের মতোই। অথচ আল্লাহ ক্রয়-বিক্রয়কে হালাল করেছেন এবং সুদকে হারাম করেছেন। অতএব, যার কাছে তার রবের পক্ষ থেকে উপদেশ এসেছে এবং সে তা থেকে বিরত হয়েছে, তবে অতীতে যা গত হয়েছে তা তারই থাকবে এবং তার বিষয়টি আল্লাহর এখতিয়ারে। আর যারা পুনরায় (সুদ গ্রহণ) করবে, তারাই জাহান্নামের অধিবাসী, সেখানে তারা চিরস্থায়ী হবে। আল্লাহ সুদকে মিশিয়ে দেন এবং দান-সদকাকে বৃদ্ধি করেন। আর আল্লাহ কোনো পাপিষ্ঠ অকৃতজ্ঞকে পছন্দ করেন না।" এবং মহান আল্লাহর বাণী: "হে ঈমানদারগণ, তোমরা আল্লাহকে ভয় করো এবং সুদের যা বকেয়া আছে তা বর্জন করো, যদি তোমরা মুমিন হয়ে থাকো। আর যদি তোমরা তা না করো, তবে আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের পক্ষ থেকে যুদ্ধের ঘোষণা জেনে নাও। কিন্তু যদি তোমরা তওবা করো, তবে তোমাদের মূলধন তোমাদেরই থাকবে। তোমরা জুলুম করবে না এবং তোমাদের ওপরও জুলুম করা হবে না।" পঞ্চম আয়াতটি হলো সূরা আলে ইমরানে মহান আল্লাহর বাণী: "হে ঈমানদারগণ, তোমরা চক্রবৃদ্ধি হারে সুদ ভক্ষণ করো না এবং আল্লাহকে ভয় করো, যাতে তোমরা সফলকাম হতে পারো।"
এই আয়াতগুলো সুদ এবং সুদখোরদের সাথে সংশ্লিষ্ট অনেক গুরুত্বপূর্ণ শিক্ষা ও মাসায়েল অন্তর্ভুক্ত করেছে।
(খণ্ড: ১)
আস সারিমুল বাত্তার লিল ইজহাযি আলা মান খালাফাল কিতাবা ওয়াস সুন্নাতা ওয়াল ইজমাআ ওয়াল আসার
(পৃষ্ঠা: ১৫)
الأولى: تعظيم أكل الربا والوعيد عليه في الدنيا والآخرة، وسيأتي بيان ذلك إن شاء الله تعالى.
الثانية: أن المراد بأكل الربا أخذه والانتفاع به على أي وجه كان، وبهذا قال كثير من المفسرين، قال ابن جرير: "فإن قال لنا قائل: أفرأيت من عمل ما نهى الله عنه من الربا في تجارته ولم يأكله أيستحق هذا الوعيد من الله؟ قيل: نعم، وليس المقصود من الربا في هذه الآية الأكل، إلا أن الذين نزلت فيهم هذه الآيات يوم نزلت كانت طعمتهم ومأكلهم من الربا فذكرهم بصفتهم معظما بذلك عليهم أمر الربا ومقبحا إليهم الحال التي كانوا عليها في مطاعمهم
… ثم ذكر أن التحريم من الله في ذلك كان لكل معاني الربا وأنه سواء العمل به وأكله وأخذه وإعطاؤه". انتهى، وقال الماوردي في تفسيره: "قوله عز وجل: {الَّذِينَ يَأْكُلُونَ الرِّبَا}؛ أي الذين يعاملون به، وإنما خص الأكل لأنه معظم المقصود من المال". انتهى، وبنحو هذا قال ابن الجوزي في تفسيره، وقال ابن عطية في تفسيره: "معنى الآية يكسبون الربا ويفعلونه، وقصد إلى لفظة الأكل لأنها أقوى مقاصد الإنسان في المال، ولأنها دالة على الجشع، فأقيم هذا البعض من توابع الكسب مقام الكسب كله، فاللباس والسكنى والادخار والإنفاق على العيال وغير ذلك داخل كله في قوله: {الَّذِينَ يَأْكُلُونَ الرِّبَا} ". انتهى، وقال ابن جزي في تفسير: " {الَّذِينَ يَأْكُلُونَ الرِّبَا} أي ينتفعون به، وعبر عن ذلك بالأكل لأنه أغلب المنافع، وسواء من أعطاه أو من أخذه". انتهى.
الثالثة: أن المراد بالربا الزيادة على رأس المال؛ لقول الله -تعالى-: {وَإِنْ تُبْتُمْ فَلَكُمْ رُءُوسُ أَمْوَالِكُمْ لَا تَظْلِمُونَ وَلَا تُظْلَمُونَ}، ومعنى الربا في اللغة الزيادة في الشيء، قال الجوهري: "ربا الشيء يربو ربوا أي زاد"، وكذا قال غيره من أهل اللغة، وقال الفيومي في (المصباح المنير): "الربا الفضل والزيادة"، وقد ذكر المفسرون في معنى الربا نحو ما ذكره أهل اللغة، قال ابن جرير: "الإرباء الزيادة على الشيء، يقال منه أربي فلان على فلان إذا زاد عليه، والزيادة هي الربا، وإنما قيل للمربي مربٍ لتضعيفه المال الذي كان له على غريمه حالا أو لزيادته عليه فيه لسبب الأجل الذي يؤخره إليه". انتهى، وقال الماوردي: "الربا هو الزيادة على مقدار الدين لمكان الأجل"، وقال
প্রথমত: সুদ গ্রহণের ভয়াবহতা এবং দুনিয়া ও আখিরাতে এর জন্য প্রতিশ্রুত শাস্তির কঠোরতা; ইনশাআল্লাহ পরবর্তীতে এর বিস্তারিত বর্ণনা আসছে।
দ্বিতীয়ত: সুদ 'খাওয়া' বা গ্রহণের অর্থ হলো তা গ্রহণ করা এবং যেকোনো উপায়ে তা থেকে উপকৃত হওয়া। অধিকাংশ মুফাসসির একথাই বলেছেন। ইবনে জারীর বলেন: "যদি কেউ প্রশ্ন করে: যে ব্যক্তি তার ব্যবসায় আল্লাহর নিষিদ্ধ সুদী কারবার করল কিন্তু তা খেল না, সে কি আল্লাহর পক্ষ থেকে এই শাস্তির যোগ্য হবে? উত্তরে বলা হবে: হ্যাঁ। এই আয়াতে সুদ 'খাওয়া' বলতে কেবল আহার করা উদ্দেশ্য নয়; বরং যাদের ব্যাপারে এই আয়াতগুলো নাজিল হয়েছিল, তাদের জীবিকা ও আহার্য ছিল সুদের ওপর নির্ভরশীল। তাই তাদের বিশেষ গুণের উল্লেখ করার মাধ্যমে সুদের বিষয়টিকে ভয়াবহ হিসেবে উপস্থাপন করা হয়েছে এবং তাদের খাদ্যাভ্যাসের মন্দ অবস্থাকে তুলে ধরা হয়েছে
… অতঃপর তিনি উল্লেখ করেন যে, আল্লাহর পক্ষ থেকে এই হারাম হওয়া সুদের সকল প্রকার অর্থকে অন্তর্ভুক্ত করে; চাই তা সুদের ওপর আমল করা হোক, তা খাওয়া হোক, গ্রহণ করা হোক কিংবা প্রদান করা হোক।" (উদ্ধৃতি সমাপ্ত)। ইমাম মাওয়ার্দী তাঁর তাফসীরে বলেন: "মহান আল্লাহর বাণী: {যারা সুদ খায়}; অর্থাৎ যারা সুদী কারবার করে। এখানে বিশেষভাবে 'খাওয়া' শব্দটি ব্যবহার করা হয়েছে কারণ সম্পদের মূল উদ্দেশ্যই হলো আহার।" (উদ্ধৃতি সমাপ্ত)। ইবনুল জাওযী তাঁর তাফসীরে অনুরূপ কথা বলেছেন। ইবনে আতিয়্যাহ তাঁর তাফসীরে বলেন: "আয়াতের অর্থ হলো তারা সুদ উপার্জন করে এবং সুদী কারবার করে। এখানে 'খাওয়া' শব্দটি ব্যবহারের উদ্দেশ্য হলো, সম্পদের প্রতি মানুষের প্রবলতম আকাঙ্ক্ষা হলো আহার। এছাড়া এটি লোভ-লালসার পরিচায়ক। তাই উপার্জনের একটি অংশকে (আহার) পূর্ণ উপার্জনের স্থলাভিষিক্ত করা হয়েছে। সুতরাং পোশাক, বাসস্থান, সঞ্চয় এবং পরিবার-পরিজনের পেছনে ব্যয়—সবই 'যারা সুদ খায়'—এই বাণীর অন্তর্ভুক্ত।" (উদ্ধৃতি সমাপ্ত)। ইবনে জুযাই তাঁর তাফসীরে বলেন: "{যারা সুদ খায়} অর্থাৎ যারা তা থেকে উপকৃত হয়। আর 'খাওয়া' শব্দ দ্বারা একে ব্যক্ত করা হয়েছে কারণ এটিই উপকারের প্রধান মাধ্যম। এক্ষেত্রে সুদ দাতা ও গ্রহীতা উভয়ই সমান।" (উদ্ধৃতি সমাপ্ত)।
তৃতীয়ত: সুদের অর্থ হলো মূলধনের ওপর অতিরিক্ত গ্রহণ; কারণ মহান আল্লাহ বলেছেন: {আর তোমরা যদি তওবা করো, তবে তোমাদের জন্য তোমাদের মূলধন। তোমরা কারো প্রতি জুলুম করবে না এবং তোমাদের প্রতিও জুলুম করা হবে না}। আর অভিধানে 'রিবা' (সুদ) মানে কোনো বস্তুর বৃদ্ধি। জাওহারী বলেন: "বস্তুর বৃদ্ধি ঘটা মানে তা বেড়ে যাওয়া।" ভাষাবিদগণের অন্যান্যরাও অনুরূপ বলেছেন। ফায়্যূমী 'আল-মিসবাহুল মুনীর'-এ বলেন: "রিবা হলো আধিক্য ও বৃদ্ধি।" মুফাসসিরগণ সুদের অর্থ বর্ণনায় ভাষাবিদদের অনুরূপ বক্তব্যই প্রদান করেছেন। ইবনে জারীর বলেন: "ইরবা হলো কোনো বস্তুর ওপর অতিরিক্ত কিছু। বলা হয় অমুক অমুকের ওপর 'আরবা' অর্থাৎ সে তার ওপর আধিক্য লাভ করেছে বা বাড়িয়ে দিয়েছে। এই অতিরিক্ত অংশটিই হলো সুদ। আর সুদখোরকে 'মুবী' বলা হয় এজন্য যে, সে তার ঋণী ব্যক্তির ওপর ধার্যকৃত সম্পদকে নগদে দ্বিগুণ করে দেয় অথবা নির্ধারিত সময়ের বিলম্বে মেয়াদের কারণে তার ওপর অতিরিক্ত বৃদ্ধি করে।" (উদ্ধৃতি সমাপ্ত)। ইমাম মাওয়ার্দী বলেন: "রিবা হলো সময়ের কারণে ঋণের পরিমাণের ওপর অতিরিক্ত বৃদ্ধি।" এবং তিনি বলেন...
(খণ্ড: ১)
আস সারিমুল বাত্তার লিল ইজহাযি আলা মান খালাফাল কিতাবা ওয়াস সুন্নাতা ওয়াল ইজমাআ ওয়াল আসার
(পৃষ্ঠা: ১৬)
النسفي: "الربا هو فضل مال خال عن العوض في معارضة مال بمال"، وقال ابن عطية: "الربا هو الزيادة وهو مأخوذ من ربا يربو إذا نما وزاد على ما كان .... قال: ومن الربا البين التفاضل في النوع الواحد؛ لأنها زيادة، وكذلك أكثر البيوع الممنوعة إنما تجد منعها لمعنى زيادة إما في عين المال وإما في منفعة لأحدهما من تأخير ونحوه".انتهى.
وذكر ابن منظور في (لسان العرب) عن أبي إسحاق - يعني الزجاج - أنه قال: "الربا الحرام كل قرض يؤخذ به أكثر منه أو تجر به منفعة". انتهى، وقال أبو بكر الجصاص في (أحكام القرآن): "الربا الذي كانت العرب تعرفه وتفعله إنما كان قرض الدراهم والدنانير إلى أجل بزيادة على مقدار ما استقرض على ما يتراضون به ولم يكونوا يعرفون البيع بالنقد إذا كان متفاضلا من جنس واحد، هذا كان المتعارف المشهور بينهم". انتهى.
ومن تأمل ما ذكره المفسرون وأهل اللغة في معنى الربا رآه مطابقًا للمعاملات الربوية في البنوك، ولا سيما قول أبي إسحاق الزجاج وأبي بكر الجصاص، ومن توقف في هذا فإنه لا يخلو من أحد أمرين: إما أن يكون جاهلا لا علم له بالأحكام، وإما أن يكون معاندًا قد أعماه اتباع الهوى وأصمه فهو يخبط خبط عشواء فيما رضي به أهل البنوك ومن يتعامل معهم بالمعاملات الربوية ولا يبالي بما يترتب على ذلك من سخط الله ومحاربته ومحاربة رسوله واتباع غير سبيل المؤمنين.
الرابعة:
تعذيب المرابين، حين يبعثون من قبورهم بالجنون أو بما يشبه الجنون، قال ابن عباس رضي الله عنهما: «آكل الربا يبعث يوم القيامة مجنونا يخنق» رواه ابن أبي حاتم، وذكره ابن كثير في تفسيره، ثم قال: "وروي عن عوف بن مالك وسعيد بن جبير والسدي والربيع بن أنس وقتادة ومقاتل بن حيان نحو ذلك"، وقال ابن عطية في تفسير: "قال ابن عباس رضي الله عنهما ومجاهد وابن جبير وقتادة والربيع والضحاك والسدي وابن زيد: معنى قوله (ولا يقومون) من قبورهم في البعث يوم القيامة، قال بعضهم: يجعل معه شيطان يخنقه، وقالوا كلهم: يبعث كالمجنون عقوبة له وتمقيتا عند جمع المحشر". انتهى، وقال ابن جزي في تفسيره: "أجمع المفسرون أن المعنى لا يقومون من قبورهم في البعث إلا كالمجنون". انتهى، قال الماوردي: "فيكون ذلك في القيامة علامة لآكل الربا في الدنيا". انتهى، وقال النسفي: "المعنى أنهم يقومون يوم القيامة مخبلين كالمصروعين، تلك سيماهم يعرفون بها عند أهل الموقف، وقيل: الذين
আন-নাসাফি বলেন: "সুদ হলো মালের বিনিময়ে মাল হস্তান্তরের ক্ষেত্রে এমন অতিরিক্ত মাল যা কোনো প্রতিদান থেকে মুক্ত।" ইবনে আতিয়্যাহ বলেন: "সুদ হলো প্রবৃদ্ধি বা আধিক্য। এটি ‘রাবা ইয়ারবু’ থেকে উদ্ভূত, যার অর্থ কোনো কিছুর বৃদ্ধি পাওয়া এবং যা ছিল তার চেয়ে বেড়ে যাওয়া... তিনি আরও বলেন: স্পষ্ট সুদের অন্তর্ভুক্ত হলো একই জাতীয় বস্তুর লেনদেনে কম-বেশি হওয়া; কারণ এটি একটি অতিরিক্ত অংশ। অনুরূপভাবে, অধিকাংশ নিষিদ্ধ কেনাবেচা মূলত নিষিদ্ধ হওয়ার কারণ হলো তাতে অতিরিক্ত কোনো অংশ বিদ্যমান থাকে—হয় সরাসরি মূল সম্পদের মধ্যে অথবা লেনদেনে বিলম্ব বা এই জাতীয় কারণে কোনো এক পক্ষের উপকারের ক্ষেত্রে।" (সমাপ্ত)।
ইবনে মানজুর ‘লিসানুল আরব’ গ্রন্থে আবু ইসহাক—অর্থাৎ আয-যাজ্জাজ—থেকে বর্ণনা করেছেন যে তিনি বলেছেন: "হারাম সুদ হলো এমন প্রতিটি ঋণ যার বিনিময়ে আসলের চেয়ে বেশি গ্রহণ করা হয় অথবা যা কোনো উপকারের সুযোগ তৈরি করে দেয়।" (সমাপ্ত)। আবু বকর আল-জাসসাস ‘আহকামুল কুরআন’ গ্রন্থে বলেছেন: "আরবরা যে সুদের সাথে পরিচিত ছিল এবং যা তারা চর্চা করত, তা ছিল দিরহাম ও দিনার একটি নির্দিষ্ট মেয়াদের জন্য ঋণ দেওয়া—ঋণের পরিমাণের চেয়ে অতিরিক্ত বৃদ্ধির শর্তে যা তারা পরস্পরের সম্মতিতে নির্ধারণ করত। তারা একই জাতীয় দ্রব্যের হাতে হাতে লেনদেনের ক্ষেত্রে যে কম-বেশি হতো, তাকে (প্রাথমিকভাবে) সুদ হিসেবে চিনত না; এটিই তাদের মাঝে সুপরিচিত ও প্রচলিত প্রথা ছিল।" (সমাপ্ত)।
মুফাসসিরগণ এবং ভাষাবিদগণ সুদের যে অর্থ বর্ণনা করেছেন, কেউ যদি তা নিয়ে গভীরভাবে চিন্তা করে, তবে সে দেখতে পাবে যে বর্তমান ব্যাংকগুলোর সুদি লেনদেনের সাথে তা পুরোপুরি মিলে যাচ্ছে; বিশেষ করে আবু ইসহাক আয-যাজ্জাজ এবং আবু বকর আল-জাসসাসের বক্তব্য। এরপরও যে ব্যক্তি এ ব্যাপারে দ্বিধাদ্বন্দ্বে থাকে, সে দুটি বিষয়ের যেকোনো একটি থেকে মুক্ত নয়: হয় সে অজ্ঞ যার বিধানাবলি সম্পর্কে কোনো জ্ঞান নেই, অথবা সে একগুঁয়ে যাকে কুপ্রবৃত্তি অন্ধ ও বধির করে দিয়েছে; ফলে ব্যাংক সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা এবং যারা ব্যাংকের সাথে সুদি লেনদেনে লিপ্ত তারা যে বিষয়ে সন্তুষ্ট, সে ব্যক্তি তাতে অন্ধের মতো হাতড়াচ্ছে। সে আল্লাহর অসন্তুষ্টি, তাঁর সাথে এবং তাঁর রাসূলের সাথে যুদ্ধ ঘোষণা এবং মুমিনদের পথ ছেড়ে অন্য পথ অবলম্বনের ভয়াবহ পরিণতির পরোয়া করছে না।
চতুর্থ:
সুদখোরদের শাস্তি, যখন তাদের কবর থেকে উন্মাদের মতো বা উন্মাদের সদৃশ অবস্থায় পুনরুত্থিত করা হবে। ইবনে আব্বাস (রাযিয়াল্লাহু আনহুমা) বলেন: "সুদখোর কিয়ামতের দিন পাগল অবস্থায় পুনরুত্থিত হবে যার শ্বাস রুদ্ধ হতে থাকবে।" এটি ইবনে আবি হাতিম বর্ণনা করেছেন এবং ইবনে কাসির তাঁর তাফসিরে তা উল্লেখ করেছেন। এরপর তিনি বলেন: "আউফ ইবনে মালিক, সাঈদ ইবনে জুবায়ের, আস-সুদ্দি, আর-রাবি ইবনে আনাস, কাতাদাহ এবং মুকাতিল ইবনে হাইয়ান থেকেও অনুরূপ বর্ণিত হয়েছে।" ইবনে আতিয়্যাহ তাঁর তাফসিরে বলেন: "ইবনে আব্বাস (রাযিয়াল্লাহু আনহুমা), মুজাহিদ, ইবনে জুবায়ের, কাতাদাহ, আর-রাবি, দাহহাক, আস-সুদ্দি এবং ইবনে যায়িদ বলেন: আল্লাহর বাণী ‘(তারা দাঁড়াবে না)’ এর অর্থ হলো কিয়ামতের দিন কবর থেকে পুনরুত্থানের সময়। তাদের কেউ কেউ বলেছেন: তার সাথে একটি শয়তান জুড়ে দেওয়া হবে যে তাকে শ্বাসরোধ করবে। আর তারা সবাই বলেছেন: তাকে শাস্তি স্বরূপ এবং হাশরের ময়দানে উপস্থিতদের সামনে ঘৃণিত করার জন্য উন্মাদের মতো পুনরুত্থিত করা হবে।" (সমাপ্ত)। ইবনে জুযাই তাঁর তাফসিরে বলেন: "মুফাসসিরগণ এ ব্যাপারে একমত হয়েছেন যে, এর অর্থ হলো তারা কিয়ামতের দিন কবর থেকে উন্মাদের মতো অবস্থা ছাড়া দাঁড়াতে পারবে না।" (সমাপ্ত)। আল-মাওয়ার্দি বলেন: "এটি কিয়ামতের ময়দানে দুনিয়ার সুদখোরদের জন্য একটি চিহ্ন হবে।" (সমাপ্ত)। আন-নাসাফি বলেন: "এর অর্থ হলো তারা কিয়ামতের দিন মস্তিস্কবিকৃত মৃগী রোগীর মতো হয়ে দাঁড়াবে। হাশরের ময়দানে উপস্থিতদের কাছে এটিই হবে তাদের চেনার নিদর্শন। আর বলা হয়েছে যে: যারা..."
(খণ্ড: ১)
আস সারিমুল বাত্তার লিল ইজহাযি আলা মান খালাফাল কিতাবা ওয়াস সুন্নাতা ওয়াল ইজমাআ ওয়াল আসার
(পৃষ্ঠা: ১৭)
يخرجون من الأجداث يوفضون إلا أكلة الربا فإنهم ينهضون ويسقطون كالمصروعين؛ لأنهم أكلوا الربا فأرباه الله في بطونهم حتى أثقلهم فلا يقدرون على الإيفاض" انتهى.
وللمرابين أيضا أنواع من العذاب في البرزخ قبل يوم القيامة.
فمن هذه الأنواع تعذيبهم بالسباحة في النهر الذي هو أحمر مثل الدم أو هو من الدم وإلقامهم الحجارة إذا أرادوا أن يخرجوا من ذلك النهر ليرجعوا فيه. وقد جاء ذلك في حديث صحيح رواه الإمام أحمد في مسنده والبخاري في آخِر (كتاب التعبير) من صحيحه عن سمرة بن جندب رضي الله عنه عن النبي صلى الله عليه وسلم في حديث المنام الطويل، فقد جاء فيه أن رسول الله صلى الله عليه وسلم قال: «إنه أتاني الليلة آتيان، وإنهما ابتعثاني، وإنهما قالا لي: انطلق وإني انطلقت معهما» فذكر الحديث، وفيه: «قال: فانطلقنا فأتينا على نهر حسبت أنه كان يقول أحمر مثل الدم، وإذا في النهر رجل سابح يسبح، وإذا على شط النهر رجل قد جمع عنده حجارة كثيرة، وإذا ذلك السابح يسبح ما يسبح ثم يأتي ذلك الذي قد جمع عنده الحجارة فيفغر له فاه فيلقمه حجرا» الحديث، وفيه: «وأما الرجل الذي أتيت عليه يسبح في النهر ويلقم الحجارة فإنه آكل الربا» وفي رواية لأحمد أن رسول الله صلى الله عليه وسلم قال: «رأيت رجلين أتياني فأخذا بيدي فأخرجاني إلى أرض فضاء أو أرض مستوية» فذكر الحديث بطوله، وفيه: «فانطلقت فإذا نهر من دم فيه رجل وعلى شط النهر رجل بين يديه حجارة فيقبل الرجل الذي في النهر فإذا دنا ليخرج رمي في فيه حجرًا فرجع إلى مكانه فهو يفعل ذلك به» الحديث، وفيه: «وأما الذي رأيت في النهر فذاك آكل الربا» وفيه أيضا أن الرجلين أخبرا رسول الله صلى الله عليه وسلم أنهما جبريل وميكائيل، وقد رواه البخاري في (باب آكل لربا وشاهده وكاتبه) مختصرا بنحوه.
وإذا علم ما جاء في الحديث الصحيح من تعذيب آكل الربا في البرزخ فليعلم أيضا أن رؤيا الأنبياء في المنام وحي، والدليل على ذلك قول الله -تعالى- مخبرا عن خليله إبراهيم أنه قال لابنه: {يَا بُنَيَّ إِنِّي أَرَى فِي الْمَنَامِ أَنِّي أَذْبَحُكَ فَانْظُرْ مَاذَا تَرَى قَالَ يَا أَبَتِ افْعَلْ مَا تُؤْمَرُ} الآيات، وروى أبن أبي حاتم عن ابن عباس رضي الله عنهما قال: قال رسول الله صلى الله عليه وسلم: «رؤيا الأنبياء في المنام وحي»، وروى ابن جرير في تفسيره وابن أبي عاصم في (كتاب السنة) عن ابن عباس رضي الله عنهما قال: «كانت
رؤيا الأنبياء وحيا»، وروى البخاري في صحيحه عن عبيد بن عمير قال: «إن رؤيا الأنبياء وحي» ثم قرأ {إِنِّي أَرَى فِي الْمَنَامِ أَنِّي أَذْبَحُكَ}، وروى الإمام أحمد في مسنده وابن أبي
তারা কবর থেকে ক্ষিপ্রগতিতে বের হবে, তবে সুদখোররা ব্যতীত; তারা মৃগী রোগীর ন্যায় বারবার উঠতে গিয়ে পড়ে যাবে। কারণ তারা সুদ ভক্ষণ করেছিল, ফলে আল্লাহ তাদের পেটে তা বাড়িয়ে দিয়েছেন এমনকি তা তাদের ভারাক্রান্ত করে ফেলেছে, ফলে তারা ক্ষিপ্রগতিতে চলতে সক্ষম হবে না।" সমাপ্ত।
কিয়ামত দিবসের পূর্বে বারজাখ জগতেও সুদখোরদের জন্য বিভিন্ন প্রকারের শাস্তি রয়েছে।
এই প্রকারসমূহের অন্তর্ভুক্ত হলো—রক্তের ন্যায় লাল বর্ণবিশিষ্ট অথবা রক্ত দ্বারা পূর্ণ নদীতে সাঁতার কাটানোর মাধ্যমে তাদের শাস্তি প্রদান করা এবং তারা যখনই সেই নদী থেকে বের হতে চাইবে, তখনই তাদের মুখে পাথর নিক্ষেপ করে পুনরায় সেদিকে ফিরিয়ে দেওয়া হবে। এটি একটি সহীহ হাদীসে বর্ণিত হয়েছে, যা ইমাম আহমাদ তাঁর মুসনাদে এবং ইমাম বুখারী তাঁর সহীহ গ্রন্থের (স্বপ্ন ব্যাখ্যা অধ্যায়)-এর শেষে সামুরাহ ইবনে জুনদুব রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের দীর্ঘ স্বপ্ন সম্পর্কিত হাদীসে উল্লেখ করেছেন। তাতে এসেছে যে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: «গত রাতে আমার নিকট দুজন আগমনকারী আসলেন এবং তাঁরা আমাকে উঠিয়ে নিলেন। অতঃপর তাঁরা আমাকে বললেন: ‘চলুন’। আমি তাঁদের সাথে রওনা হলাম» এরপর তিনি হাদীসটি বর্ণনা করলেন, যাতে রয়েছে: «তিনি বললেন: ‘অতঃপর আমরা চলতে চলতে একটি নদীর কূলে পৌঁছলাম (বর্ণনাকারী বলেন: আমার ধারণা তিনি বলেছিলেন সেটি ছিল রক্তের মতো লাল), সেখানে নদীর মাঝখানে এক ব্যক্তি সাঁতার কাটছিল এবং নদীর তীরে অন্য এক ব্যক্তি দাঁড়িয়ে ছিল যার নিকট অনেক পাথর জমা করা ছিল। সেই সাঁতারু ব্যক্তিটি কিছুক্ষণ সাঁতার কাটার পর যখন ওই ব্যক্তির কাছে আসত যে পাথর জমা করে রেখেছিল, তখন সে তার মুখ হা করত এবং ওই ব্যক্তি তার মুখে একটি পাথর নিক্ষেপ করত’» হাদীস। তাতে আরও রয়েছে: «আর সেই ব্যক্তি যার কাছে আপনি গিয়েছিলেন, যে নদীতে সাঁতার কাটছিল এবং যাকে পাথর গেলানো হচ্ছিল, সে হলো সুদখোর»। ইমাম আহমাদ-এর এক বর্ণনায় এসেছে যে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: «আমি দেখলাম দুজন লোক আমার নিকট আসলেন এবং তাঁরা আমার হাত ধরে আমাকে একটি প্রশস্ত ময়দান বা সমতল ভূমির দিকে নিয়ে গেলেন» এরপর তিনি পূর্ণ হাদীসটি বর্ণনা করলেন, তাতে রয়েছে: «আমি চলতে লাগলাম, হঠাৎ দেখি একটি রক্তের নদী যাতে এক ব্যক্তি রয়েছে এবং নদীর পাড়ে অন্য এক ব্যক্তি দাঁড়িয়ে আছে যার সামনে পাথর রাখা। নদীর ভেতরের লোকটি যখন তীরের দিকে অগ্রসর হয় এবং বের হওয়ার উপক্রম করে, তখনই তার মুখে পাথর নিক্ষেপ করা হয় এবং সে তার পূর্বের স্থানে ফিরে যায়। তার সাথে এরূপ আচরণই করা হচ্ছিল» হাদীস। তাতে আরও রয়েছে: «আর যাকে আপনি নদীতে দেখেছিলেন, সে হলো সুদখোর»। তাতে এও আছে যে, ওই দুই ব্যক্তি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে অবহিত করলেন যে তাঁরা হলেন জিবরাঈল ও মিকাইল। ইমাম বুখারী এটি (সুদখোর, তার সাক্ষী ও লেখকের অনুচ্ছেদ)-এ সংক্ষেপে অনুরূপভাবে বর্ণনা করেছেন।
সহীহ হাদীসে বারজাখ জগতে সুদখোরদের শাস্তির বিষয়ে যা এসেছে তা যখন জানা গেল, তখন এটিও জেনে রাখা উচিত যে, স্বপ্নে নবীদের দর্শন ওহী হিসেবে গণ্য। এর প্রমাণ হলো মহান আল্লাহর বাণী, যেখানে তিনি তাঁর খলীল ইবরাহীম সম্পর্কে সংবাদ দিচ্ছেন যে তিনি তাঁর পুত্রকে বলেছিলেন: {হে বত্স! আমি স্বপ্নে দেখি যে আমি তোমাকে জবেহ করছি, অতএব দেখ তোমার অভিমত কী। সে বলল, হে আমার পিতা! আপনাকে যা আদেশ করা হয়েছে আপনি তা-ই করুন} - আয়াতসমূহ। ইবনে আবি হাতিম ইবনে আব্বাস রাদিয়াল্লাহু আনহুমা থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: «স্বপ্নে নবীদের দর্শন ওহী»। ইবনে জারীর তাঁর তাফসীরে এবং ইবনে আবি আসিম (সুন্নাহ গ্রন্থে) ইবনে আব্বাস রাদিয়াল্লাহু আনহুমা থেকে বর্ণনা করেছেন যে তিনি বলেন: «
নবীদের স্বপ্ন ছিল ওহী»। ইমাম বুখারী তাঁর সহীহ গ্রন্থে উবায়েদ ইবনে উমায়ের থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: «নিশ্চয়ই নবীদের স্বপ্ন ওহী» অতঃপর তিনি পাঠ করলেন {আমি স্বপ্নে দেখি যে আমি তোমাকে জবেহ করছি}। ইমাম আহমাদ তাঁর মুসনাদে এবং ইবনে আবি...
(খণ্ড: ১)
আস সারিমুল বাত্তার লিল ইজহাযি আলা মান খালাফাল কিতাবা ওয়াস সুন্নাতা ওয়াল ইজমাআ ওয়াল আসার
(পৃষ্ঠা: ১৮)
عاصم في كتاب (السنة) بأسانيد صحيحة عن معاذ بن جبل رضي الله عنه موقوفا: «أن رسول الله صلى الله عليه وسلم كان ما رأى في يقظته أو نومه فهو حق» وفي رواية لأحمد قال: «رؤيا النبي صلى الله عليه وسلم حق».
النوع الثاني من أنواع تعذيب المرابين في البرزخ: ما جاء في الحديث الذي رواه الإمام أحمد وابن ماجة وابن أبي حاتم عن أبي هريرة رضي الله عنه قال: قال رسول الله صلى الله عليه وسلم: «أتيت ليلة أسري بي على قوم بطونهم كالبيوت فيها الحيات ترى من خارج بطونهم، فقلت من هؤلاء يا جبريل؟ قال: هؤلاء أكلة الربا».
النوع الثالث من أنواع تعذيب المرابين في البرزخ: ما رواه ابن جرير وابن أبي حاتم والبيهقي في دلائل النبوة عن أبي سعيد الخدري رضي الله عنه عن النبي صلى الله عليه وسلم في حديث الإسراء قال: «ثم نظرت فإذا أنا بقوم لهم بطون كأنها البيوت وهم على سابلة آل فرعون فإذا مرَّ بهم آل فرعون ثاروا فيميل بأحدهم بطنه فيقع فيتوطؤهم آل فرعون بأرجلهم وهم يعرضون على النار غدوا وعشيا، قلت من هؤلاء يا جبريل؟ قال: هؤلاء أكلة الربا ربا في بطونهم فمثلهم كمثل الذي يتخبطه الشيطان من المس» وفي رواية البيهقي: «فإذا أنا بقوم بطونهم أمثال البيوت كلما نهض أحدهم خرَّ يقول: اللهم لا تقم الساعة» وفي روايته أيضا: «قال فسمعتهم يضجون إلى الله سبحانه»، وللمرابين أيضا عذاب جهنم كما سيأتي بيانه إن شاء الله تعالى.
الخامسة: الإنكار على من سوَّى بين البيع والربا والرد عليهم. قال ابن جرير في الكلام على قول الله -تعالى-: {ذَلِكَ بِأَنَّهُمْ قَالُوا إِنَّمَا الْبَيْعُ مِثْلُ الرِّبَا}: "يعني بذلك جل ثناؤه ذلك الذي وصفهم به من قيامهم يوم القيامة من قبورهم كقيام الذي يتخبطه الشيطان من المس من الجنون، فقال تعالى ذكره: هذا الذي ذكرنا أنه يصيبهم يوم القيامة من قبح حالهم ووحشة قيامهم من قبورهم وسوء حل بهم من أجل أنهم كانوا في الدنيا يكذبون ويفترون ويقولون إنما البيع الذي أحله الله لعباده مثل الربا، وذلك أن الذين كانوا يأكلون الربا من أهل الجاهلية كان إذا حل مال أحدهم على غريمه يقول الغريم لغريم الحق زدني في الأجل وأزيدك في مالك، فكان يقال لهما إذا فعل ذلك هذا ربا لا يحل، فإذا قيل لهما ذلك قالا سواء علينا زدنا في أول البيع أو عند محل المال فكذبهم الله في قيلهم فقال: {وَأَحَلَّ اللَّهُ الْبَيْعَ} ".انتهى.
আসেম তাঁর ‘আস-সুন্নাহ’ গ্রন্থে সহীহ সনদসমূহের মাধ্যমে মুয়াজ ইবনে জাবাল (রাদিয়াল্লাহু আনহু) হতে মাওকুফ হিসেবে বর্ণনা করেছেন যে: “রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম জাগ্রত অবস্থায় বা নিদ্রাকালে যা কিছু দেখতেন তা ধ্রুব সত্য।” আহমাদের একটি বর্ণনায় আছে: “নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর স্বপ্ন সত্য।”
বরজখে সুদখোরদের শাস্তির দ্বিতীয় প্রকার: ইমাম আহমাদ, ইবনে মাজাহ এবং ইবনে আবি হাতিম আবু হুরায়রা (রাদিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণিত হাদিসে উল্লেখ করেছেন, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেছেন: “মিরাজের রাতে আমি এমন এক সম্প্রদায়ের নিকট দিয়ে অতিক্রান্ত হলাম যাদের পেট ছিল ঘরের মতো বিশাল, আর তার অভ্যন্তরে সাপগুলো পেটের বাহির থেকে দেখা যাচ্ছিল। আমি জিজ্ঞেস করলাম, হে জিবরাঈল! এরা কারা? তিনি বললেন: এরা হলো সুদখোর।”
বরজখে সুদখোরদের শাস্তির তৃতীয় প্রকার: ইবনে জারীর, ইবনে আবি হাতিম এবং বায়হাকী তাঁর ‘দালাইলুন নুবুওয়াহ’ গ্রন্থে আবু সাঈদ খুদরী (রাদিয়াল্লাহু আনহু) হতে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর মিরাজ সংক্রান্ত হাদিসে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: “অতঃপর আমি প্রত্যক্ষ করলাম যে, এমন এক সম্প্রদায় যাদের পেটগুলো ঘরের ন্যায় বিশাল এবং তারা ফেরাউনের অনুসারীদের চলার পথে পড়ে আছে। যখনই ফেরাউনের অনুসারীরা তাদের নিকট দিয়ে অতিক্রম করে, তারা উঠে দাঁড়ানোর চেষ্টা করে কিন্তু উদরের ভারে টলে গিয়ে পড়ে যায়। ফলে ফেরাউনের অনুসারীরা তাদের পদপিষ্ট করে চলে যায়, এমতাবস্থায় যে ফেরাউনদের সকাল-সন্ধ্যা আগুনের সামনে পেশ করা হচ্ছিল। আমি জিজ্ঞেস করলাম, হে জিবরাঈল! এরা কারা? তিনি বললেন: এরা হলো সুদখোর, সুদের সম্পদ এদের পেটে জমা রয়েছে। তাদের অবস্থা সেই ব্যক্তির ন্যায় যাকে শয়তান স্পর্শের মাধ্যমে উন্মাদ করে দিয়েছে।” বায়হাকীর বর্ণনায় রয়েছে: “অতঃপর আমি এমন এক সম্প্রদায়ের দেখা পেলাম যাদের পেটগুলো ঘরের ন্যায়; তাদের কেউ যখনই দণ্ডায়মান হওয়ার চেষ্টা করে তখনই সে আছড়ে পড়ে এবং বলতে থাকে: হে আল্লাহ! কিয়ামত যেন সংঘটিত না হয়।” তাঁর অপর বর্ণনায় আছে: “রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন: আমি তাদের আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআলার দরবারে আর্তনাদ করতে শুনেছি।” এছাড়াও সুদখোরদের জন্য রয়েছে জাহান্নামের আজাব, যা ইনশাআল্লাহ যথাস্থানে বর্ণিত হবে।
পঞ্চম: ক্রয়-বিক্রয় ও সুদকে যারা একীভূত করে দেখে, তাদের ওপর অস্বীকৃতি এবং তাদের প্রতিবাদ। আল্লাহ তাআলার বাণী—{এটি এ কারণে যে তারা বলেছিল: ‘ক্রয়-বিক্রয় তো সুদের মতোই’}—এর ব্যাখ্যায় ইবনে জারীর বলেন: “এর মাধ্যমে মহান আল্লাহ—যাঁর প্রশংসা অতি মহান—তাদের সেই অবস্থার বর্ণনা দিয়েছেন যা কিয়ামতের দিন তাদের কবর থেকে উত্থানের সময় ঘটবে, অর্থাৎ তারা সেই ব্যক্তির ন্যায় দণ্ডায়মান হবে যাকে শয়তান স্পর্শের দ্বারা পাগল করে দিয়েছে। মহান আল্লাহ আরও বলেন: কিয়ামতের দিন তাদের যে কুৎসিত অবস্থা, কবর থেকে ওঠার ভয়াবহতা এবং তাদের ওপর যে বিপদ আপতিত হবে বলে আমরা উল্লেখ করেছি, তা এ কারণে যে তারা পার্থিব জীবনে মিথ্যাচার ও অপবাদ আরোপ করত এবং বলত যে: ‘আল্লাহ তাঁর বান্দাদের জন্য যে ব্যবসা বৈধ করেছেন তা তো সুদের সমতুল্য।’ এর প্রেক্ষাপট ছিল এই যে, জাহেলী যুগের সুদখোরদের কারোর ঋণের মেয়াদ পূর্ণ হলে ঋণগ্রহীতা পাওনাদারকে বলত: ‘ঋণ পরিশোধের সময় বাড়িয়ে দাও, তবে বিনিময়ে আমি মালের পরিমাণ বাড়িয়ে দেব।’ যখন তারা এরূপ করত তখন তাদের বলা হতো: ‘এটি তো সুদ যা বৈধ নয়।’ যখন তাদের এটি বলা হতো, তখন তারা বলত: ‘ক্রয়-বিক্রয়ের শুরুতে মূল্যবৃদ্ধি করা আর মেয়াদ শেষে ঋণের পরিমাণ বৃদ্ধি করা আমাদের কাছে একই সমান।’ অতঃপর আল্লাহ তাদের এই উক্তিকে মিথ্যা প্রতিপন্ন করে ইরশাদ করলেন: {অথচ আল্লাহ ব্যবসা হালাল করেছেন}।” সমাপ্ত।
(খণ্ড: ১)
আস সারিমুল বাত্তার লিল ইজহাযি আলা মান খালাফাল কিতাবা ওয়াস সুন্নাতা ওয়াল ইজমাআ ওয়াল আসার
(পৃষ্ঠা: ১৯)
وقال أبو حيان في الكلام على قول الله -تعالى-: {وَأَحَلَّ اللَّهُ الْبَيْعَ وَحَرَّمَ الرِّبَا}: "في ذلك رد عليهم إذ ساووا بينهما، والحكم في الأشياء إنما هو إلى الله -تعالى-، لا يعارض في حكمه ولا يخالف في أمره، وفي هذه الآية دلالة على أن القياس في مقابلة النص لا يصح، إذ جعل -تعالى- الدليل في إبطال قولهم هو أن الله أحل البيع وحرم الربا، وقال بعض العلماء قياسهم فاسد؛ لأن البيع عوض ومعوض لا غبن فيه، والربا فيه التغابن وأكل المال بالباطل؛ لأن الزيادة لا مقابل لها من جنسها بخلاف البيع فإن الثمن مقابل بالمثمن". انتهى.
السادسة:
النص على تحريم الربا، وفي النص على تحريمه أبلغ رد على الفتان وعلى أمثاله من الذين يزعمون حل المعاملات الربوية في البنوك.
السابعة: العفو عما سلف من أخذ الربا قبل نزول الآية بتحريمه، قال ابن كثير في الكلام على قول الله -تعالى-: {فَمَنْ جَاءَهُ مَوْعِظَةٌ مِنْ رَبِّهِ فَانْتَهَى فَلَهُ مَا سَلَفَ وَأَمْرُهُ إِلَى اللَّهِ}: "أي من بلغه نهي الله عن الربا فانتهى حال وصول الشرع، إليه ما سلف من المعاملة، ثم ذكر عن سعيد بن جبير والسدي أنهما قالا (فله ما سلف) ما كان أكل من الربا قبل التحريم". انتهى، وقال أبو حيان في تفسيره الظاهر: "أن الآية في الكفار لقوله {فَلَهُ مَا سَلَفَ}؛ لأن المؤمن العاصي بالربا ليس له ما سلف، بل ينقض ويرد فعله وإن كان جاهلاً بالتحريم، لكنه يأخذ بطرف من وعيد هذه الآية". انتهى.
الثامنة: الوعيد بالنار لمن عاد إلى استحلال الربا بعد تحريمه، قال ابن عطية في تفسيره: "قوله -تعالى-: {وَمَنْ عَادَ} يعني إلى فعل الربا والقول إنما البيع مثل الربا، وإن قدرنا الآية في كافر فالخلود خلود تأبيد حقيقي، وإن لحظناها في مسلم عاصٍ فهذا خلود مستعار على معنى المبالغة كما تقول العرب: (ملك خالد) عبارة عن دوامٍ مَّا، لا على التأبيد الحقيقي". انتهى، وقال القرطبي في الكلام على قوله -تعالى-: {وَمَنْ عَادَ}: "يعني إلى فعل الربا حتى يموت قاله سفيان، وقال غيره: من عاد فقال إنما البيع مثل الربا فقد كفر
… " ثم ذكر كلام ابن عطية، وقال النسفي في تفسيره: " {وَمَنْ عَادَ} إلى استحلال الربا {فَأُولَئِكَ أَصْحَابُ النَّارِ هُمْ فِيهَا خَالِدُونَ}؛ لأنهم بالاستحلال صاروا كافرين؛ لأن من أحل ما حرم الله عز وجل فهو كافر؛ فلذا استحق الخلود، وبهذا تبين أنه لا تعلق للمعتزلة بهذه الآية في تخليد الفساد". انتهى، وقال ابن جزي في تفسيره: " {وَمَنْ عَادَ} الآية؛ يعني من عاد إلى فعل الربا وإلى القول {إِنَّمَا الْبَيْعُ مِثْلُ الرِّبَا} ولذلك حكم عليه بالخلود في النار؛ لأن ذلك القول لا يصدر إلا من كافر فلا حجة فيها لمن
মহান আল্লাহ তাআলার বাণী: {এবং আল্লাহ ব্যবসাকে হালাল করেছেন এবং সুদকে হারাম করেছেন}-এর ব্যাখ্যায় আবু হাইয়ান বলেন: "এতে তাদের প্রতি উত্তর রয়েছে যেহেতু তারা উভয়টিকে সমান মনে করেছিল। বস্তুত সব বিষয়ের বিধান কেবল মহান আল্লাহ তাআলার পক্ষ থেকেই নির্ধারিত হয়; তাঁর বিধানে কোনো প্রতিবাদ চলে না এবং তাঁর আদেশের কোনো ব্যতিক্রম হয় না। এই আয়াতটি একথার প্রমাণ বহন করে যে, সুস্পষ্ট দলীলের (নস) বিপরীতে অনুমান (কিয়াস) সঠিক নয়। কারণ মহান আল্লাহ তাদের বক্তব্য বাতিলের ক্ষেত্রে দলিল হিসেবে এটিকেই নির্ধারণ করেছেন যে, আল্লাহ ব্যবসাকে হালাল করেছেন এবং সুদকে হারাম করেছেন। কোনো কোনো আলেম বলেন যে, তাদের কিয়াসটি অসার; কারণ ব্যবসা হচ্ছে বিনিময় ও বিনিময়ের বস্তু যাতে কোনো ঠকবাজি নেই। আর সুদে রয়েছে পারস্পরিক ঠকানো এবং অন্যায়ভাবে সম্পদ ভোগ করা; কেননা সুদের অতিরিক্ত অংশের বিপরীতে সমজাতীয় কোনো বিনিময় নেই, পক্ষান্তরে ব্যবসায় মূল্য পরিশোধ করা হয় পণ্যের বিনিময়ে।" সমাপ্ত।
ষষ্ঠ:
সুদ হারাম হওয়ার বিষয়ে সুস্পষ্ট বিধান, আর এর হারাম হওয়ার বিধানের মধ্যে সেই ফিতনাবাজ এবং তাদের মতো যারা ব্যাংকিং সুদী লেনদেনকে হালাল দাবি করে, তাদের প্রতি অত্যন্ত জোরালো খণ্ডন রয়েছে।
সপ্তম: সুদ হারামের আয়াত অবতীর্ণ হওয়ার আগে যা সুদ হিসেবে গ্রহণ করা হয়েছে তা ক্ষমা করা। মহান আল্লাহর বাণী: {যার কাছে তার রবের পক্ষ থেকে উপদেশ পৌঁছাল এবং সে বিরত থাকল, তবে অতীতে যা হয়েছে তা তারই থাকবে এবং তার বিষয়টি আল্লাহর নিকট ন্যস্ত}-এর ব্যাখ্যায় ইবনে কাসীর বলেন: "অর্থাৎ যার কাছে সুদের ব্যাপারে আল্লাহর নিষেধ পৌঁছেছে এবং শরীয়তের বিধান পৌঁছামাত্র সে বিরত হয়েছে, তবে তার পূর্ববর্তী লেনদেনের বিষয়টি মার্জনীয়। অতঃপর তিনি সাঈদ ইবনে জুবায়ের ও সুদ্দী থেকে বর্ণনা করেন যে, তারা উভয়ে বলেছেন, ‘(অতীতে যা হয়েছে তা তারই থাকবে)’ এর অর্থ হলো হারামের বিধান আসার আগে যা সুদ হিসেবে ভক্ষণ করা হয়েছে।" সমাপ্ত। আবু হাইয়ান তাঁর তাফসীরে বলেন, এর বাহ্যিক অর্থ হলো: "আয়াতটি কাফেরদের সম্পর্কে, কারণ আল্লাহ বলেছেন {অতীতে যা হয়েছে তা তারই থাকবে}; কেননা সুদে লিপ্ত গুনাহগার মুমিনের ক্ষেত্রে অতীতের সুদ তার জন্য রাখা বৈধ নয়, বরং তার এই কাজ বাতিল করে (সুদ) ফেরত দিতে হবে—যদিও সে হারামের বিধান সম্পর্কে অজ্ঞ থাকে। তবে সে এই আয়াতে বর্ণিত শাস্তির হুমকির অংশবিশেষের অন্তর্ভুক্ত হবে।" সমাপ্ত।
অষ্টম: সুদের হারামের বিধান আসার পর পুনরায় তা হালাল মনে করার দিকে প্রত্যাবর্তনকারীদের জন্য জাহান্নামের আগুনের ভীতিপ্রদর্শন। ইবনে আতিয়্যাহ তাঁর তাফসীরে বলেন: "মহান আল্লাহর বাণী: {এবং যারা পুনরায় লিপ্ত হয়} অর্থাৎ সুদী কারবার এবং এই কথার দিকে ফিরে যাওয়া যে ‘ব্যবসা তো সুদের মতোই’। যদি আমরা আয়াতটিকে কাফেরের ক্ষেত্রে ধরি, তবে এখানে ‘স্থায়িত্ব’ হবে প্রকৃত ও চিরস্থায়ী। আর যদি আমরা একে পাপাচারী মুসলিমের ক্ষেত্রে ধরি, তবে এই স্থায়িত্ব হবে আধিক্য বোঝানোর জন্য রূপক অর্থে ব্যবহৃত, যেমনটি আরবরা বলে থাকে: (চিরস্থায়ী রাজত্ব), যা দ্বারা সুদীর্ঘকাল বোঝানো হয়, প্রকৃত চিরস্থায়িত্ব নয়।" সমাপ্ত। ইমাম কুরতুবী মহান আল্লাহর বাণী: {এবং যারা পুনরায় লিপ্ত হয়}-এর ব্যাখ্যায় বলেন: "অর্থাৎ যে ব্যক্তি মৃত্যু পর্যন্ত সুদে লিপ্ত থাকল—একথা সুফিয়ান বলেছেন। অন্যরা বলেছেন: যে ব্যক্তি পুনরায় ফিরে গিয়ে বলল যে ‘ব্যবসা তো সুদের মতোই’, সে কুফরি করল
… " অতঃপর তিনি ইবনে আতিয়্যাহর বক্তব্য উল্লেখ করেন। ইমাম নাসাফী তাঁর তাফসীরে বলেন: " {এবং যারা পুনরায় লিপ্ত হয়} সুদের হালাল মনে করার দিকে, {তবে তারাই জাহান্নামের অধিবাসী, তারা সেখানে চিরকাল থাকবে}; কারণ হালাল মনে করার কারণে তারা কাফের হয়ে গেছে। কেননা আল্লাহ যা হারাম করেছেন তাকে যে হালাল করে সে কাফের; তাই সে চিরস্থায়ী শাস্তির উপযুক্ত। এর মাধ্যমেই স্পষ্ট হয় যে, পাপাচারীদের চিরস্থায়ী শাস্তির বিষয়ে মুতাজিলাদের জন্য এই আয়াতে কোনো সংশ্লিষ্টতা নেই।" সমাপ্ত। ইবনে জুযাই তাঁর তাফসীরে বলেন: " {এবং যারা পুনরায় লিপ্ত হয়} এই আয়াতে; অর্থাৎ যারা পুনরায় সুদী কাজে এবং {ব্যবসা তো সুদের মতোই}—এই উক্তির দিকে ফিরে যায়; এই কারণেই তাদের জন্য জাহান্নামে চিরস্থায়ী থাকার ফয়সালা করা হয়েছে। কারণ এই উক্তি কেবল কাফেরের পক্ষ থেকেই প্রকাশ পেতে পারে। সুতরাং এতে তাদের জন্য কোনো প্রমাণ নেই যারা"
(খণ্ড: ১)
আস সারিমুল বাত্তার লিল ইজহাযি আলা মান খালাফাল কিতাবা ওয়াস সুন্নাতা ওয়াল ইজমাআ ওয়াল আসার
(পৃষ্ঠা: ২০)
قال بتخليد العصاة لكونها في الكفار". انتهى، وقال أبو حيان في الكلام على الآية: "قيل هو إخبار ووعيد عن الذين يأكلون الربا مستحلين ذلك بدليل قولهم: {إِنَّمَا الْبَيْعُ مِثْلُ الرِّبَا}، وقوله: {وَاللَّهُ لَا يُحِبُّ كُلَّ كَفَّارٍ أَثِيمٍ}، وقوله: {فَأْذَنُوا بِحَرْبٍ مِنَ اللَّهِ وَرَسُولِهِ} ومن اختار حرب الله ورسوله فهو كافر". انتهى.
وقد استدل الزمخشري بهذه الآية على تخليد الفساق في النار، وتعقبه ناصر الدين أحمد بن محمد بن المنير فقال: "إن الذي وقع العَود عليه مسكوت عنه في الآية، فيحمل على ما تقدم، كأنه قال: ومن عاد إلى ما سلف ذكره {وَأُولَئِكَ أَصْحَابُ النَّارِ هُمْ فِيهَا خَالِدُونَ} والذين سلف ذكره فعل الربا واعتقاد جوازه والاحتجاج عليه بقياسه على البيع، ولا شك عندنا أهل السنة والجماعة أن من تعاطى معاملة الربا مستحلا لها مكابرا في تحريمها مسندا إحلالها إلى معارضة آيات الله البينات بما يتوهمه من الخيالات فقد كفر ثم ازداد كفرًا، وإذ ذاك يكون الموعود بالخلود في الآية من يقول (1) إنه كافر مكذب غير مؤمن، وهذا لا خلاف فيه، فلا دليل للزمخشري إذا على اعتزاله في هذه الآية، والله الموفق". انتهى.
فليتأمل الفتان والمشايعون له على استحلال الربا بالشبه والأباطيل ما قاله المفسرون فيمن عاد إلى استحلال الربا وسوى وبين البيع وأنه بذلك يصير كافرا مستحقا للخلود في النار إلا أن يتوب إلى الله -تعالى- وينزع عن تعاطي الربا واستحلاله.
التاسعة: أن الله -تعالى- يمحق الربا، قال البغوي في تفسيره: "أي ينقصه ويهلكه ويذهب ببركته، وقال الضحاك عن ابن عباس رضي الله عنهما: {يَمْحَقُ اللَّهُ الرِّبَا}؛ يعني لا يقبل منه صدقة ولا جهادًا ولا حجًا ولا صلة". انتهى، وقال ابن كثير في تفسيره: يخبر -تعالى- أنه يمحق الربا أي يذهبه، إما بأن يذهبه بالكلية من يد صاحبه أو يحرمه بركة ماله فلا ينتفع به، بل يعذبه به في الدنيا ويعاقبه عليه يوم القيامة، كما قال -تعالى-: {قُلْ لَا يَسْتَوِي الْخَبِيثُ وَالطَّيِّبُ وَلَوْ أَعْجَبَكَ كَثْرَةُ الْخَبِيثِ}، وقال -تعالى-: {وَيَجْعَلَ الْخَبِيثَ بَعْضَهُ عَلَى بَعْضٍ فَيَرْكُمَهُ جَمِيعًا فَيَجْعَلَهُ فِي جَهَنَّمَ}، وقال -تعالى-: {وَمَا آَتَيْتُمْ مِنْ رِبًا لِيَرْبُوَ فِي أَمْوَالِ النَّاسِ فَلَا يَرْبُو عِنْدَ اللَّهِ} الآية، ثم ذكر ما رواه الإمام أحمد وابن ماجة بإسناد حسن عن ابن مسعود رضي الله عنه أن النبي
--------------------------------------------
তিনি অবাধ্যদের চিরকাল জাহান্নামে থাকার কথা বলেছেন কারণ এই বিধান কাফিরদের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য।" সমাপ্ত। আবু হাইয়ান এই আয়াতের আলোচনায় বলেছেন: "বলা হয়েছে যে, এটি সেই সমস্ত লোকদের সম্পর্কে একটি সংবাদ ও সতর্কবাণী যারা সুদকে হালাল মনে করে তা ভক্ষণ করে। এর প্রমাণ হলো তাদের এই উক্তি: 'বেচাকেনা তো সুদের মতোই', এবং আল্লাহর বাণী: 'আল্লাহ কোনো অকৃতজ্ঞ পাপিষ্ঠকে পছন্দ করেন না', এবং তাঁর বাণী: 'তাহলে আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের পক্ষ থেকে যুদ্ধের ঘোষণা শুনে নাও'। আর যে ব্যক্তি আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের বিরুদ্ধে যুদ্ধ বেছে নেয়, সে কাফির।" সমাপ্ত।
যামাখশারি এই আয়াত দ্বারা পাপাচারীদের জাহান্নামে চিরকাল থাকার স্বপক্ষে দলিল পেশ করেছেন। এর প্রতিবাদে নাসিরুদ্দিন আহমদ ইবনে মুহাম্মদ ইবনুল মুনাইয়্যির বলেছেন: "আয়াতে যে বিষয়ের দিকে প্রত্যাবর্তনের কথা বলা হয়েছে, সেটি উহ্য রাখা হয়েছে। তাই একে পূর্ববর্তী প্রসঙ্গের ওপর ভিত্তি করে বুঝতে হবে। বিষয়টি এমন যেন তিনি বলেছেন: আর যারা পূর্বে উল্লেখিত বিষয়ের দিকে ফিরে যাবে 'তারাই জাহান্নামের অধিবাসী, সেখানে তারা চিরকাল থাকবে'। আর পূর্বে যা উল্লেখিত হয়েছে তা হলো সুদী লেনদেন করা, একে বৈধ মনে করা এবং বেচাকেনার সাথে তুলনা করে এর পক্ষে যুক্তি দেওয়া। আহলুস সুন্নাহ ওয়াল জামাআতের নিকট এতে কোনো সন্দেহ নেই যে, যে ব্যক্তি সুদের লেনদেন করে একে হালাল মনে করে, এর নিষিদ্ধতার ব্যাপারে হঠকারিতা করে এবং আল্লাহর সুস্পষ্ট আয়াতসমূহের বিপরীতে নিজ কল্পনাপ্রসূত ধারণার ভিত্তিতে একে হালাল সাব্যস্ত করে, সে কুফরি করল এবং তার কুফরি আরও বৃদ্ধি পেল। এমতাবস্থায় আয়াতে চিরস্থায়ী অবস্থানের যে হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়েছে, তা ঐ ব্যক্তির ক্ষেত্রে প্রযোজ্য (১) যাকে কাফির, মিথ্যারোপকারী ও ঈমানহীন বলা হয়। এ বিষয়ে কোনো মতভেদ নেই। সুতরাং এই আয়াতে যামাখশারির মুতাজিলা মতবাদের কোনো দলিল নেই। আর আল্লাহই তাওফীকদাতা।" সমাপ্ত।
সুতরাং ফিতনাকারী এবং বিভিন্ন সংশয় ও অসার যুক্তির মাধ্যমে সুদকে হালাল সাব্যস্ত করার ক্ষেত্রে তার অনুসারীদের গভীরভাবে চিন্তা করা উচিত যে, যারা পুনরায় সুদকে হালাল সাব্যস্ত করে এবং বেচাকেনা ও সুদের মধ্যে সমতা দাবি করে, তাদের সম্পর্কে মুফাসসিরগণ কী বলেছেন। তারা এ কাজের মাধ্যমে কাফিরে পরিণত হয় এবং জাহান্নামে চিরস্থায়ী অবস্থানের যোগ্য হয়, যদি না তারা মহান আল্লাহর কাছে তওবা করে এবং সুদের লেনদেন ও একে হালাল মনে করা থেকে বিরত থাকে।
নবম বিষয়: মহান আল্লাহ সুদকে ধ্বংস করেন। ইমাম বাগাভী তাঁর তাফসিরে বলেছেন: "অর্থাৎ তিনি একে হ্রাস করেন, ধ্বংস করেন এবং এর বরকত মিটিয়ে দেন। দাহহাক ইবনে আব্বাস (রাযিয়াল্লাহু আনহুমা) থেকে বর্ণনা করেন: 'আল্লাহ সুদকে ধ্বংস করেন'; অর্থাৎ এর থেকে কোনো সদকা, জিহাদ, হজ বা আত্মীয়তার সম্পর্ক রক্ষার দান কবুল করা হয় না।" সমাপ্ত। ইবনে কাসীর তাঁর তাফসিরে বলেছেন: মহান আল্লাহ সংবাদ দিচ্ছেন যে, তিনি সুদকে ধ্বংস করেন অর্থাৎ মিটিয়ে দেন; হয় এর মালিকের হাত থেকে এটি সম্পূর্ণভাবে নিঃশেষ করে দেওয়ার মাধ্যমে, অথবা তার সম্পদের বরকত কেড়ে নেওয়ার মাধ্যমে, ফলে সে তা দ্বারা উপকৃত হতে পারে না। বরং দুনিয়াতে এর মাধ্যমে তাকে কষ্ট দেন এবং কিয়ামতের দিন এর জন্য তাকে শাস্তি প্রদান করবেন। যেমন মহান আল্লাহ বলেছেন: "বলুন, অপবিত্র ও পবিত্র সমান নয়, যদিও অপবিত্রের আধিক্য আপনাকে মুগ্ধ করে।" আল্লাহ আরও বলেছেন: "এবং তিনি অপবিত্রকে একে অপরের ওপর রাখবেন, অতঃপর সবগুলোকে স্তূপ করবেন এবং জাহান্নামে নিক্ষেপ করবেন।" আল্লাহ আরও বলেছেন: "মানুষের সম্পদে বৃদ্ধি পাবে বলে তোমরা যে সুদ দাও, আল্লাহর কাছে তা বৃদ্ধি পায় না" (আয়াত শেষ পর্যন্ত)। এরপর তিনি ইমাম আহমদ ও ইবনে মাজাহ কর্তৃক উত্তম সনদে ইবনে মাসউদ (রাযিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণিত হাদিস উল্লেখ করেন যে, নবী
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আস সারিমুল বাত্তার লিল ইজহাযি আলা মান খালাফাল কিতাবা ওয়াস সুন্নাতা ওয়াল ইজমাআ ওয়াল আসার
(পৃষ্ঠা: ২১)
- صلى الله عليه وسلم قال: «الربا وإن كثر فإن عاقبته تصير إلى قل» هذا لفظ أحمد، ولفظ ابن ماجة: «ما أحد أكثر من الربا إلا كان عاقبة أمره إلى قلة» قال في الزوائد: "إسناده صحيح ورجاله موثقون"، وقد رواه الحاكم في مستدركه بنحو رواية أحمد وصححه، ووافقه الذهبي على تصحيحه.
العاشرة: أن الله تعالى يربي الصدقات، قال ابن جرير: "يعني أنه يضاعف أجرها لربها وينميها له"، وقال البغوي: "أي يثمرها ويبارك فيها في الدنيا ويضاعف بها الأجر والثواب في العقبى"، وقال ابن عطية في الكلام على قوله -تعالى-: {يَمْحَقُ اللَّهُ الرِّبَا وَيُرْبِي الصَّدَقَاتِ}: "قد جعل الله هذين الفعلين بعكس ما يظنه الحريص الجشع من بني آدم، يظن الربا يغنيه وهو في الحقيقة ممحق، ويظن الصدقة تفقره وهي نماء في الدنيا والآخرة". انتهى.
الحادية عشرة: أن الله تعالى لا يحب كل كفار أثيم، قال ابن جرير: "يعني لا يحب كل مُصِرٍّ على كفر بربه مقيم عليه مستحل كل الربا وإطعامه، {أَثِيمٍ} متمادٍ في الإثم فيما نهاه عنه من أكل الربا والحرام وغير ذلك من معاصيه، لا ينزجر عن ذلك ولا يرعوي عنه ولا يتعظ". انتهى، وقال النسفي في الكلام على قول الله -تعالى-: {وَاللَّهُ لَا يُحِبُّ كُلَّ كَفَّارٍ}: "عظيم الكفر باستحلال الربا، {أَثِيمٍ} متماد في الإثم بأكله". انتهى.
الثانية عشرة: أن الله تعالى أمر المؤمنين بتقواه وترك الربا، وجعل ذلك من لوازم الإيمان وحكمه، قال الماوردي في تفسيره: "قوله عز وجل: {وَذَرُوا مَا بَقِيَ مِنَ الرِّبَا} محمول على أن من أربى قبل إسلامه وقبض بعضه في كفره وأسلم وقد بقي بعضه فما قبضه قبل إسلامه معفو عنه لا يجب عليه رده، وما بقي منه بعد إسلامه حرام عليه لا يجوز له أخذه، فأما المراباة بعد الإسلام فيجب رده فيما قبض وبقي، فيرد ما قبض ويسقط ما بقي بخلاف المقبوض في الكفر؛ لأن الإسلام يجب ما قبله، وفي قوله: {إِنْ كُنْتُمْ مُؤْمِنِينَ} قولان: أحدهما: يعني أن من كان مؤمنا فهذا حكمه، والثاني: معناه إذا كنتم مؤمنين". انتهى.
الثالثة عشرة: أن الآية الكريمة دلت على أن ترك الربا من صفات المؤمنين وأن استحلاله من صفات غير المؤمنين.
الرابعة عشرة: إيذان من لم يترك الربا بحرب من الله ورسوله، وما أعظم الخطر في هذا الوعيد الشديد، قال ابن كثير في الكلام على قول الله -تعالى-: {فَإِنْ لَمْ تَفْعَلُوا
রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন: «সুদ যদিও পরিমাণে বৃদ্ধি পায়, তবুও এর পরিণতি শেষ পর্যন্ত স্বল্পতার দিকেই ধাবিত হয়» এটি আহমাদ কর্তৃক বর্ণিত শব্দমালা। ইবনে মাজাহর বর্ণনাটি হলো: «যে ব্যক্তিই সুদের মাধ্যমে সম্পদ বৃদ্ধি করার চেষ্টা করেছে, তার পরিণাম শেষ পর্যন্ত স্বল্পতার দিকেই গড়িয়েছে» যওয়াইদ গ্রন্থে বলা হয়েছে: "এর সনদ সহীহ এবং বর্ণনাকারীগণ নির্ভরযোগ্য", হাকেম তাঁর মুস্তাদরাক গ্রন্থে আহমাদ বর্ণিত হাদিসের অনুরূপ বর্ণনা করেছেন এবং একে সহীহ বলেছেন, আর যাহাবীও এই সহীহ হওয়ার ব্যাপারে একমত হয়েছেন।
দশম বিষয়: মহান আল্লাহ সদাকাত বা দানকে বৃদ্ধি করেন। ইবনে জারীর বলেন: "অর্থাৎ তিনি দাতার জন্য এর সওয়াবকে বহুগুণ বাড়িয়ে দেন এবং তাঁর জন্য এটিকে বৃদ্ধি করেন", বাগাভী বলেন: "অর্থাৎ তিনি দুনিয়াতে এতে বরকত দান করেন ও একে ফলপ্রসূ করেন এবং পরকালে এর সওয়াব ও প্রতিদান বহুগুণ বাড়িয়ে দেন", ইবনে আতিয়্যাহ মহান আল্লাহর বাণী: {আল্লাহ সুদকে মিটিয়ে দেন এবং সদাকাতকে বৃদ্ধি করেন}-এর ব্যাখ্যায় বলেন: "মহান আল্লাহ এই দুটি কাজকে মানুষের লোভাতুর ও লালসাগ্রস্ত ধারণার বিপরীত করেছেন; সে মনে করে সুদ তাকে ধনী করবে, অথচ বাস্তবে এটি ধ্বংসকারী। আর সে মনে করে সদাকাত তাকে দরিদ্র করবে, অথচ এটি দুনিয়া ও আখেরাতে প্রবৃদ্ধির কারণ।" (সমাপ্ত)।
একাদশ বিষয়: মহান আল্লাহ কোনো অকৃতজ্ঞ পাপিষ্ঠকে ভালোবাসেন না। ইবনে জারীর বলেন: "অর্থাৎ তিনি এমন কোনো ব্যক্তিকে ভালোবাসেন না যে তাঁর রবের প্রতি কুফরিতে অটল থাকে, সুদের কারবার ও সুদ ভক্ষণকে হালাল মনে করে এতে লিপ্ত থাকে। {অত্যধিক পাপিষ্ঠ} সে-ই যে পাপাচারে সীমা অতিক্রম করে, যেমন সুদের কারবার, হারাম ভক্ষণ এবং আল্লাহর অন্যান্য নাফরমানি থেকে বিরত হয় না, উপদেশ গ্রহণ করে না এবং অনুতপ্ত হয় না।" (সমাপ্ত)। নাসাফী মহান আল্লাহর বাণী: {আল্লাহ কোনো অকৃতজ্ঞকে ভালোবাসেন না}-এর ব্যাখ্যায় বলেন: "সুদকে হালাল মনে করার কারণে সে কুফরিতে জঘন্য। {অত্যধিক পাপিষ্ঠ} সে সুদ ভক্ষণের মাধ্যমে পাপাচারে লিপ্ত থাকে।" (সমাপ্ত)।
দ্বাদশ বিষয়: মহান আল্লাহ মুমিনদেরকে তাঁর তাকওয়া অবলম্বন করতে এবং সুদ বর্জন করতে নির্দেশ দিয়েছেন এবং একে ঈমানের অপরিহার্য দাবি ও বিধান হিসেবে সাব্যস্ত করেছেন। আল-মাওয়ারদী তাঁর তাফসীরে বলেন: "মহান আল্লাহর বাণী: {সুদের যা অবশিষ্ট আছে তা বর্জন করো} এর অর্থ হলো: যে ব্যক্তি ইসলাম গ্রহণের আগে সুদি কারবার করেছিল এবং কুফরি অবস্থায় কিছু সুদ গ্রহণ করেছিল, অতঃপর সে ইসলাম গ্রহণ করেছে এমতাবস্থায় যে সুদের কিছু অংশ তখনও বকেয়া রয়ে গেছে; তবে ইসলাম গ্রহণের আগে যা সে গ্রহণ করেছে তা ক্ষমাযোগ্য, তা ফেরত দেওয়া তার ওপর আবশ্যক নয়। কিন্তু ইসলাম গ্রহণের পর সুদের যা অবশিষ্ট আছে তা তার জন্য হারাম এবং তা গ্রহণ করা বৈধ নয়। পক্ষান্তরে ইসলাম গ্রহণের পর যদি কেউ সুদি লেনদেন করে, তবে যা সে গ্রহণ করেছে এবং যা বকেয়া আছে উভয়টিই বর্জন করা আবশ্যক; অর্থাৎ যা সে গ্রহণ করেছে তা ফেরত দিতে হবে এবং যা বকেয়া আছে তা বাতিল হবে। এটি কুফরি অবস্থায় গ্রহণকৃত সুদের বিপরীত; কারণ ইসলাম তার পূর্ববর্তী গুনাহসমূহ মিটিয়ে দেয়। আর তাঁর বাণী: {যদি তোমরা মুমিন হও}-এর ব্যাপারে দুটি মত রয়েছে: প্রথমটি হলো, যে ব্যক্তি মুমিন হবে এটি তার জন্য বিধান। দ্বিতীয়টি হলো, এর অর্থ হলো 'যেহেতু তোমরা মুমিন'।" (সমাপ্ত)।
ত্রয়োদশ বিষয়: এই মহিমান্বিত আয়াতটি প্রমাণ করে যে, সুদ বর্জন করা মুমিনদের অন্যতম বৈশিষ্ট্য এবং একে হালাল মনে করা অ-মুমিনদের বৈশিষ্ট্য।
চতুর্দশ বিষয়: যে ব্যক্তি সুদ ত্যাগ করে না, তাকে আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের পক্ষ থেকে যুদ্ধের ঘোষণা দেওয়া হয়েছে। এই কঠোর সতর্কবার্তার মধ্যে কত বড় বিপদ নিহিত রয়েছে! ইবনে কাসীর মহান আল্লাহর বাণী: {অতঃপর যদি তোমরা না করো...} এর ব্যাখ্যায় বলেন:
(খণ্ড: ১)
আস সারিমুল বাত্তার লিল ইজহাযি আলা মান খালাফাল কিতাবা ওয়াস সুন্নাতা ওয়াল ইজমাআ ওয়াল আসার
(পৃষ্ঠা: ২২)
فَأْذَنُوا بِحَرْبٍ مِنَ اللَّهِ وَرَسُولِهِ}: "هذا تهديد شديد ووعيد أكيد لمن استمر على تعاطي الربا بعد الإنذار". انتهى، ومعنى قوله: {فَأْذَنُوا} أي استيقنوا وكونوا على علم، قال ابن عباس رضي الله عنهما: "قوله: {فَأْذَنُوا بِحَرْبٍ مِنَ اللَّهِ وَرَسُولِهِ} فاستيقنوا بحرب من الله ورسوله" رواه ابن جرير، وعنه أيضا قال: «يقال يوم القيامة لآكل الربا خذ سلاحك للحرب» رواه ابن جرير، وقال البغوي: قال أهل المعاني: "حرب الله النار وحرب رسول الله السيف". وروى ابن جرير من طريق على بن أبي طلحة عن ابن عباس رضي الله عنهما في قوله: {يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آَمَنُوا اتَّقُوا اللَّهَ وَذَرُوا مَا بَقِيَ مِنَ الرِّبَا} إلى قوله: {بِحَرْبٍ مِنَ اللَّهِ وَرَسُولِهِ}: "فمن كان مقيمًا على الربا لا ينزع عنه فحق على إمام المسلمين أن يستتيبه فإن نزع وإلا ضرب عنقه"، قال أبو بكر الجصاص في (أحكام القرآن): "هذا محمول على أن يفعله مستحلا له؛ لأنه لا خلاف بين أهل العلم أنه ليس بكافر إذا اعتقد تحريمه". انتهى، وروى ابن أبي حاتم عن الحسن وابن سيرين أنهما قالا: "والله إن هؤلاء الصيارفة لأكلة الربا، وإنهم قد أذنوا بحرب من الله ورسوله، ولو كان على الناس إمام عادل لاستتابهم فإن تابوا وإلا وضع فيهم السلاح".
وإذا كان هذا قول الحسن وابن سيرين في الصيارفة الذين كانوا في زمانهما فكيف لو رأوا أهل البنوك في زماننا؟! فإنهم بلا شك أشد محاربة لله ولرسوله ممن كانوا في زمان الحسن وابن سيرين، وعلى هذا فإنه يجب على إمام المسلمين أن يستتيبهم فإن تابوا وإلا عاقبهم بأشد العقوبة، وسيسأل الله تبارك وتعالى ولاة أمور المسلمين يوم القيامة عما استرعاهم، وهو لهم بالمرصاد فيما أهملوه من الأخذ على أيدي المرابين والمجادلين بالباطل في استحلال الربا وغيرهم من المعاندين والمجاهرين بالمعاصي، وقد ثبت عن النبي صلى الله عليه وسلم أنه قال: «ألا كلكم راعٍ وكلكم مسئول عن رعيته، فالإمام الذي على الناس راع وهو مسئول عن رعيته» الحديث، رواه الإمام أحمد والبخاري ومسلم وأبو داود والترمذي والنسائي من حديث عبد الله بن عمر رضي الله عنهما، وروى الإمام أحمد أيضا عن ابن عمر رضي الله عنهما أن النبي صلى الله عليه وسلم قال: «لا يسترعي الله تبارك وتعالى عبدًا رعية قلَّت أو كثرت إلا سأله تبارك وتعالى عنها يوم القيامة، أقام فيهم أمر الله تبارك وتعالى أم أضاعه، حتى يسأله عن أهل بيته خاصة».
وروي ابن جرير عن قتادة في قوله: {وَذَرُوا مَا بَقِيَ مِنَ الرِّبَا إِنْ كُنْتُمْ مُؤْمِنِينَ * فَإِنْ لَمْ تَفْعَلُوا فَأْذَنُوا بِحَرْبٍ مِنَ اللَّهِ وَرَسُولِهِ} قال: "أوعدهم الله بالقتل كما تسمعون
"তবে আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের পক্ষ থেকে যুদ্ধের ঘোষণা গ্রহণ করো": "এটি তাদের জন্য কঠোর হুমকি ও নিশ্চিত সতর্কবার্তা যারা সতর্ক করার পরও সুদ লেনদেনে লিপ্ত থাকে।" সমাপ্ত। আর তাঁর বাণী: "তোমরা গ্রহণ করো" (ফাযানূ) এর অর্থ হলো—তোমরা নিশ্চিত হও এবং অবগত থাকো। ইবনে আব্বাস (রাদিয়াল্লাহু আনহুমা) বলেন: "তাঁর বাণী: 'তবে আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের পক্ষ থেকে যুদ্ধের ঘোষণা গ্রহণ করো' এর অর্থ হলো—আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের পক্ষ থেকে যুদ্ধের ব্যাপারে নিশ্চিত হয়ে যাও।" এটি ইবনে জারীর বর্ণনা করেছেন। তাঁর থেকে আরও বর্ণিত হয়েছে, তিনি বলেন: "কিয়ামতের দিন সুদখোরকে বলা হবে, যুদ্ধের জন্য তোমার অস্ত্র গ্রহণ করো।" এটি ইবনে জারীর বর্ণনা করেছেন। ইমাম বাগাভী বলেন: আভিধানিক অর্থবিদগণ বলেছেন: "আল্লাহর পক্ষ থেকে যুদ্ধ হলো অগ্নি (জাহান্নাম) এবং তাঁর রাসূলের পক্ষ থেকে যুদ্ধ হলো তলোয়ার।" ইবনে জারীর আলী বিন আবি তালহা-র সূত্রে ইবনে আব্বাস (রাদিয়াল্লাহু আনহুমা) থেকে আল্লাহর বাণী: "হে মুমিনগণ, তোমরা আল্লাহকে ভয় করো এবং সুদের যা অবশিষ্ট আছে তা বর্জন করো..." থেকে "আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের পক্ষ থেকে যুদ্ধের ঘোষণা..." পর্যন্ত আয়াতের ব্যাখ্যায় বর্ণনা করেছেন: "যে ব্যক্তি সুদের ওপর অবিচল থাকে এবং তা থেকে বিরত হয় না, মুসলিমদের ইমামের (শাসকের) ওপর কর্তব্য হলো তাকে তওবা করানো; যদি সে বিরত হয় তবে ভালো, অন্যথায় তার গর্দান উড়িয়ে দেওয়া হবে।" আবু বকর আল-জাসসাস তাঁর 'আহকামুল কুরআন' গ্রন্থে বলেন: "এটি সেই ব্যক্তির ক্ষেত্রে প্রযোজ্য যে সুদকে হালাল মনে করে তা করে; কারণ আলেমদের মধ্যে এ বিষয়ে কোনো মতভেদ নেই যে, যদি কেউ সুদকে হারাম বিশ্বাস করে (কিন্তু তাতে লিপ্ত হয়), তবে সে কাফির নয়।" সমাপ্ত। ইবনে আবি হাতিম হাসান বসরী এবং ইবনে সীরীন থেকে বর্ণনা করেছেন যে, তাঁরা উভয়েই বলেছেন: "আল্লাহর কসম, এই মুদ্রা বিনিময়কারীরা নিশ্চিতভাবেই সুদখোর এবং তারা আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের পক্ষ থেকে যুদ্ধের ঘোষণা পেয়েছে। যদি মানুষের ওপর কোনো ন্যায়পরায়ণ শাসক থাকত, তবে সে তাদের তওবা করাত; তারা তওবা করলে ভালো, অন্যথায় তাদের বিরুদ্ধে অস্ত্র ধারণ করত।"
হাসান ও ইবনে সীরীনের যুগের মুদ্রা বিনিময়কারীদের সম্পর্কে যদি এই মন্তব্য হয়, তবে তারা যদি আমাদের সময়ের ব্যাংক সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের দেখতেন তবে কী বলতেন?! নিঃসন্দেহে তারা হাসান ও ইবনে সীরীনের যুগের লোকেদের তুলনায় আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের বিরুদ্ধে অধিক কঠোর যুদ্ধে লিপ্ত। এই প্রেক্ষিতে, মুসলিমদের শাসকের ওপর কর্তব্য হলো তাদের তওবা করানো; তারা তওবা করলে ভালো, অন্যথায় তাদের কঠোরতম শাস্তি প্রদান করা। আল্লাহ তাবারাকা ওয়া তা'আলা কিয়ামতের দিন মুসলিমদের শাসকদের তাদের দায়িত্ব ও প্রজাদের সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করবেন। সুদখোরদের পাকড়াও করার ক্ষেত্রে এবং যারা সুদকে হালাল করার জন্য বাতিল বিতর্ক করে তাদের দমনে এবং অন্যান্য হঠকারী ও প্রকাশ্যে পাপে লিপ্তদের বিষয়ে শাসকরা যে অবহেলা করেছে, সে ব্যাপারে আল্লাহ তাদের জন্য ওত পেতে আছেন। নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) থেকে প্রমাণিত যে তিনি বলেছেন: "জেনে রেখো, তোমাদের প্রত্যেকেই দায়িত্বশীল এবং তোমাদের প্রত্যেককেই তার অধীনস্থদের সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করা হবে। সুতরাং মানুষের ওপর নিয়োজিত শাসক একজন দায়িত্বশীল এবং তাকে তার অধীনস্থদের সম্পর্কে জবাবদিহি করতে হবে।" হাদিসটি ইমাম আহমদ, বুখারী, মুসলিম, আবু দাউদ, তিরমিযী এবং নাসাঈ আব্দুল্লাহ বিন উমর (রাদিয়াল্লাহু আনহুমা)-র সূত্রে বর্ণনা করেছেন। ইমাম আহমদ আরও আব্দুল্লাহ বিন উমর (রাদিয়াল্লাহু আনহুমা) থেকে বর্ণনা করেন যে, নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন: "আল্লাহ তাবারাকা ওয়া তা'আলা যখনই কোনো বান্দাকে কোনো বিষয়ের দায়িত্ব দেন, তা অল্প হোক বা বেশি, কিয়ামতের দিন আল্লাহ তাকে সে বিষয়ে অবশ্যই জিজ্ঞাসা করবেন যে—সে তাদের মধ্যে আল্লাহর নির্দেশ কায়েম করেছিল নাকি তা নষ্ট করেছিল; এমনকি তাকে বিশেষভাবে তার পরিবার-পরিজন সম্পর্কেও জিজ্ঞাসা করা হবে।"
ইবনে জারীর কাতাদাহ থেকে আল্লাহর বাণী: "তোমরা সুদের যা অবশিষ্ট আছে তা বর্জন করো যদি তোমরা মুমিন হও। আর যদি তোমরা তা না করো, তবে আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের পক্ষ থেকে যুদ্ধের ঘোষণা গ্রহণ করো"—এর ব্যাখ্যায় বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: "আল্লাহ তাদের হত্যার হুমকি দিয়েছেন, যেমনটি তোমরা শুনছ..."
(খণ্ড: ১)
আস সারিমুল বাত্তার লিল ইজহাযি আলা মান খালাফাল কিতাবা ওয়াস সুন্নাতা ওয়াল ইজমাআ ওয়াল আসার
(পৃষ্ঠা: ২৩)
فجعلهم بهرجا أينما ثقفوا"، ورواه ابن أبي حاتم وزاد: "فإياكم ومخالطة هذه البيوع من الربا، فإن الله قد أوسع الحلال وأطابه فلا يلجئنكم إلى معصيته فاقة"، وقال الربيع بن أنس: "أوعد الله آكل الربا بالقتل" رواه ابن جرير.
وذكر القرطبي في تفسيره عن ابن خويز منداد أنه قال: "لو أن أهل بلد اصطلحوا على الربا استحلالا كانوا مرتدين والحكم فيهم كالحكم في أهل الردة، وإن لم يكن ذلك منهم استحلالا جاز للإمام محاربتهم، ألا ترى أن الله -تعالى- قد أذن في ذلك فقال: {فَأْذَنُوا بِحَرْبٍ مِنَ اللَّهِ وَرَسُولِهِ} ".
وذكر أيضًا عن ابن بكير قال: "جاء رجل إلى مالك بن أنس فقال: يا أبا عبد الله، إني رأيت رجلا سكران يتعاقر يريد أن يأخذ القمر فقلت امرأتي طالق إن كان يدخل جوف ابن آدم أشر من الخمر، فقال: ارجع حتى أنظر في مسألتك، فأتاه من الغد، فقال له: ارجع حتى أنظر في مسألتك، فأتاه من الغد، فقال له: امرأتك طالق، إني تصفحت كتاب الله وسنة نبيه فلم أر شيئا أشر من الربا؛ لأن الله أذن فيه بالحرب".
وقال محمد بن يوسف الكافي التونسي في كتابه المسمى بـ (المسائل الكافية) ما نصه: " (المسألة الخامسة والعشرون): من استحل شيئا من الخبائث كالخمر والزنا والربا والمكس أو شكَّ في تحريمه أو تأوَّل تأويلا فاسدا خرق به الإجماع كتأويل بعض الفسقة في آية الربا فقال إن المحرم منه ما كان أضعافا مضاعفة وأما إذا كان قانونيا كخمسة في المائة مثلا فلا حرمة، وذلك كذب وافتراء على الله -تعالى-، بل الربا قليله وكثيره في الحكم سواء، ومفهوم (أضعافا مضاعفة) في قوله -تعالى-: {يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آَمَنُوا لَا تَأْكُلُوا الرِّبَا أَضْعَافًا مُضَاعَفَةً} معطل ليس عليه عمل، أو معتبر ونسخ بآية {وَأَحَلَّ اللَّهُ الْبَيْعَ وَحَرَّمَ الرِّبَا} ويشهد لما قلته ما ذكره العلامة أبو بكر الجصاص في أحكامه، قال رحمه الله تعالي- في قوله -تعالى-: {لَا تَأْكُلُوا الرِّبَا أَضْعَافًا مُضَاعَفَةً}: "قيل في معنى أضعافا مضاعفة وجهان: أحدهما: المضاعفة بالتأجيل أجلاً بعد أجل ولكل أجل قسط من الزيادة على المال، والثاني: ما يضاعفون به أموالهم، وفي هذا دلالة على أن المخصوص بالذكر لا يدل على أن ما عداه بخلافه؛ لأنه لو كان كذلك لوجب أن يكون ذكر تحريم الربا أضعافا مضاعفة دلالة على إباحته إذا لم يكن أضعافا مضاعفة، فلما كان الربا محظورا بهذه الصفة وبعدمها دل ذلك على فساد قولهم في ذلك، ويلزمهم في ذلك أن تكون هذه الدلالة منسوخة بقوله -تعالى-: {وَحَرَّمَ الرِّبَا} إذ لم يبق لها حكم في الاستعمال". انتهى، فمن استحل شيئا من تلك الخبائث يكفر لمعارضة قول الله -تعالى-: {وَيُحَرِّمُ عَلَيْهِمُ الْخَبَائِثَ} ". انتهى كلام الكافي.
"অতঃপর তিনি তাদের অকেজো করে দিয়েছেন যেখানেই তাদের পাওয়া গেছে।" ইবনে আবি হাতিম এটি বর্ণনা করেছেন এবং আরও যোগ করেছেন: "সুদ সংশ্লিষ্ট এই ক্রয়-বিক্রয় থেকে তোমরা বেঁচে থাকো; কেননা আল্লাহ তাআলা হালালকে প্রশস্ত ও উত্তম করেছেন। সুতরাং অভাব যেন তোমাদেরকে তাঁর অবাধ্যতার দিকে ঠেলে না দেয়।" রাবী বিন আনাস বলেন: "আল্লাহ তাআলা সুদখোরকে হত্যার হুমকি দিয়েছেন।" এটি ইবনে জারির বর্ণনা করেছেন।
ইমাম কুরতুবী তাঁর তাফসীর গ্রন্থে ইবনে খুওয়াইয মানদাদ থেকে বর্ণনা করেছেন যে, তিনি বলেন: "যদি কোনো জনপদের অধিবাসীরা সুদকে হালাল মনে করে সে বিষয়ে একমত হয়, তবে তারা মুরতাদ হিসেবে গণ্য হবে এবং তাদের ব্যাপারে হুকুম হবে মুরতাদদের হুকুমের অনুরূপ। আর যদি তারা এটিকে হালাল মনে না করে লিপ্ত হয়, তবে ইমাম বা শাসকের জন্য তাদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করা বৈধ হবে। আপনি কি দেখেন না যে, আল্লাহ তাআলা এ বিষয়ে অনুমতি দিয়ে বলেছেন: 'তবে আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের পক্ষ থেকে যুদ্ধের ঘোষণা শুনে নাও'।"
তিনি আরও উল্লেখ করেছেন ইবনে বুকাইর থেকে, তিনি বলেন: "এক ব্যক্তি মালিক বিন আনাসের নিকট এসে বলল: হে আবু আবদুল্লাহ! আমি একজন মাতাল ব্যক্তিকে দেখেছি যে আবোল-তাবোল বলছিল এবং চাঁদ ধরতে চাচ্ছিল। তখন আমি বললাম, 'আমার স্ত্রী তালাক যদি আদম সন্তানের পেটে মদের চেয়ে নিকৃষ্ট কিছু প্রবেশ করে থাকে।' তিনি বললেন, 'তুমি ফিরে যাও, আমি তোমার বিষয়টি ভেবে দেখি।' পরদিন সে আবার এল, তিনি বললেন, 'তুমি ফিরে যাও, আমি বিষয়টি ভেবে দেখি।' পরবর্তী দিন সে আবার এলে তিনি তাকে বললেন, 'তোমার স্ত্রী তালাক হয়ে গেছে। আমি আল্লাহর কিতাব ও তাঁর নবীর সুন্নাহ তন্নতন্ন করে খুঁজেছি কিন্তু সুদের চেয়ে নিকৃষ্ট আর কিছুই দেখিনি; কারণ আল্লাহ তাআলা এতে যুদ্ধের ঘোষণা দিয়েছেন'।"
মুহাম্মদ বিন ইউসুফ আল-কাফি আত-তিউনিসি তাঁর 'আল-মাসায়িলুল কাফিয়াহ' নামক গ্রন্থে লিখেছেন: "(পঁচিশতম মাসআলা): যে ব্যক্তি মদ, ব্যভিচার, সুদ এবং অবৈধ করের মতো কোনো অপবিত্র বিষয়কে হালাল মনে করে, অথবা এর হারাম হওয়ার বিষয়ে সন্দেহ পোষণ করে, কিংবা এমন কোনো ভ্রান্ত ব্যাখ্যা প্রদান করে যা ইজমার পরিপন্থী—যেমন সুদের আয়াতের ক্ষেত্রে কিছু পাপাচারী লোক ব্যাখ্যা দেয় যে, শুধুমাত্র চক্রবৃদ্ধি হারের (অধিক পরিমাণে) সুদই হারাম, আর যদি তা নিয়মমাফিক হয়, যেমন শতকরা পাঁচ ভাগ, তবে তাতে কোনো হাররাম নেই—তবে তা আল্লাহ তাআলার ওপর মিথ্যাচার ও অপবাদ ছাড়া আর কিছু নয়। বরং সুদের পরিমাণ কম হোক বা বেশি, বিধানের ক্ষেত্রে উভয়ই সমান। আর আল্লাহ তাআলার বাণী: 'হে মুমিনগণ, তোমরা চক্রবৃদ্ধি হারে সুদ খেও না'-এ বর্ণিত 'চক্রবৃদ্ধি হারে' শব্দবন্ধটি প্রয়োগের ক্ষেত্রে কার্যকর নয় অথবা এটি বিবেচ্য ছিল কিন্তু 'আল্লাহ ব্যবসাকে হালাল করেছেন এবং সুদকে হারাম করেছেন' আয়াত দ্বারা রহিত হয়ে গেছে। আমি যা বলেছি তার প্রমাণ হিসেবে আল্লামা আবু বকর আল-জাসসাস তাঁর আহকামুল কুরআনে যা উল্লেখ করেছেন তা পেশ করছি। তিনি আল্লাহ তাআলার বাণী—'তোমরা চক্রবৃদ্ধি হারে সুদ খেও না'—এর ব্যাখ্যায় বলেন: 'চক্রবৃদ্ধি হারের দুটি অর্থ বলা হয়েছে: এক. মেয়াদের পর মেয়াদ বৃদ্ধির মাধ্যমে আসলের ওপর অতিরিক্ত অংশ বৃদ্ধি পাওয়া। দুই. যা তারা তাদের সম্পদের বৃদ্ধিতে ব্যবহার করে। এতে প্রমাণিত হয় যে, বিশেষ কোনো অবস্থার কথা উল্লেখ করা মানে এই নয় যে, সেই অবস্থা না থাকলে বিধান বিপরীত হবে। কারণ যদি এমন হতো, তবে চক্রবৃদ্ধি হারে সুদের হারাম হওয়া এই কথা প্রমাণ করত যে, চক্রবৃদ্ধি হার না হলে তা বৈধ হবে। কিন্তু যেহেতু সুদ এই গুণ থাক বা না থাক সর্বাবস্থায় নিষিদ্ধ, তাই তাদের এই দাবি বাতিল সাব্যস্ত হয়েছে। আর তাদের দাবি অনুযায়ী এই নির্দেশটি 'আল্লাহ সুদ হারাম করেছেন' এই আয়াত দ্বারা রহিত হয়ে গেছে, ফলে প্রয়োগের ক্ষেত্রে এর কোনো বিধান অবশিষ্ট নেই।' সমাপ্ত। সুতরাং যে ব্যক্তি এই অপবিত্র বিষয়গুলোর কোনো একটিকে হালাল মনে করবে, সে কাফির হয়ে যাবে; কারণ তা আল্লাহর এই বাণীর পরিপন্থী যেখানে তিনি বলেছেন: 'তিনি তাদের জন্য অপবিত্র বস্তুসমূহকে হারাম করেন'।" কাফির বক্তব্য শেষ।
(খণ্ড: ১)
আস সারিমুল বাত্তার লিল ইজহাযি আলা মান খালাফাল কিতাবা ওয়াস সুন্নাতা ওয়াল ইজমাআ ওয়াল আসার
(পৃষ্ঠা: ২৪)
وقد تقدم في الفائدة الثامنة ما قاله غير واحد من العلماء في تكفير المستحلين للربا فليراجع (1)، وليتأمله الفتان وأضرابه مع ما ذكر ههنا، وليتأمله أيضا أهل البنوك والذين يعاملونهم بالمعاملات الربوية، ولا يظنون أن التعامل بالربا أمر يسير، ولا يغتروا بحلم الله عنهم، فإنه تبارك وتعالى يمهل ولا يهمل ويملي للظالم حتى إذا أخذه لم يفلته، وينبغي لأهل البنوك والمتعاملين معهم أن يسألوا العلماء المعروفين بمزيد المعرفة والتقوى والورع عما يحل لهم من المعاملات وما يحرم عليهم منها، ولا يغتروا بالفساق الذين يتزلفون إليهم بما يحبونه من تحليل الربا ولا يبالون بما يترتب على ذلك من محاربة الله ورسوله واتباع غير سبيل المؤمنين.
الخامسة عشرة: أن المرابين ليس لهم إلا رؤوس أموالهم وليس لهم أن يأخذوا زيادة عليها من المدين ولا من البنوك وغيرها؛ لأن ذلك من الظلم الذي نهى الله عنه، قال ابن جرير في قوله -تعالى-: {وَإِنْ تُبْتُمْ فَلَكُمْ رُءُوسُ أَمْوَالِكُمْ}: "يعني بذلك إن تبتم فتركتم أكل الربا وأنبتم إلى الله عز وجل فلكم رؤوس أموالكم من الديون التي لكم على الناس دون الزيادة التي أحدثتموها على ذلك ربا منكم
… "، ثم روى عن قتادة أنه قال: "جعل لهم رؤوس أموالهم حين نزلت هذه الآية، فأما الربح والفضل فليس لهم ولا ينبغي لهم أن يأخذوا منه شيئًا"، وفي رواية له عنه قال: "جعل لهم أن يأخذوا رؤوس أموالهم ولا يزدادوا عليها شيئا"، وروى أيضا عن الضحاك قال: "وضع الله الربا وجعل لهم رؤوس أموالهم". وقال الماوردي على قوله -تعالى-: {وَإِنْ تُبْتُمْ فَلَكُمْ رُءُوسُ أَمْوَالِكُمْ}: "يعني التي دفعتم {لَا تَظْلِمُونَ} بأن تأخذوا الزيادة على رؤوس أموالكم {وَلَا تُظْلَمُونَ} بأن تمنعوا رؤوس أموالكم". وقال القرطبي: "ردهم -تعالى- مع التوبة إلى رؤوس أموالهم وقال لهم: {لَا تَظْلِمُونَ} في أخذ الربا {وَلَا تُظْلَمُونَ} في أن يتمسك بشيء من رؤوس أموالكم فتذهب أموالكم". انتهى، وبنحو هذا قال كثير من المفسرين.
السادسة عشرة:
النهي عن أكل الربا وتضعيفه على المدين، قال أبو بكر الجصاص في (أحكام القرآن): "قوله -تعالى-: {لَا تَأْكُلُوا الرِّبَا أَضْعَافًا مُضَاعَفَةً} إخبار عن الحال التي خرج عليها الكلام من شرط الزيادة أضعافا مضاعفة، فأبطل الله الربا الذي كانوا يتعاملون به، وأبطل ضروبًا أخر من البياعات وسماها ربا، فانتظم قوله -تعالى-:
--------------------------------------------
অষ্টম উপদেশে ইতিপূর্বেই একাধিক আলেম সুদের হালালকারীকে কাফের ঘোষণা করার ব্যাপারে যা বলেছেন তা উল্লেখ করা হয়েছে, সুতরাং তা দেখে নেওয়া উচিত (১)। বিভ্রান্তি সৃষ্টিকারী ও তার সমমনাদের উচিত এখানে যা উল্লেখ করা হয়েছে তার সাথে সেই বিষয়টি নিয়ে গভীরভাবে চিন্তা করা। ব্যাংক কর্তৃপক্ষ এবং যারা তাদের সাথে সুদী লেনদেন করে, তাদেরও এ বিষয়ে চিন্তা করা উচিত। তারা যেন মনে না করে যে সুদী কারবার কোনো সামান্য বিষয়। আল্লাহর ধৈর্য ও সহনশীলতা দেখে যেন তারা প্রতারিত না হয়; কারণ আল্লাহ তাবারাকা ওয়া তাআলা অবকাশ দেন কিন্তু ছেড়ে দেন না। তিনি জালেমকে দীর্ঘ সময় দেন, কিন্তু যখন তিনি তাকে পাকড়াও করেন, তখন আর নিষ্কৃতি দেন না। ব্যাংক কর্তৃপক্ষ ও তাদের সাথে লেনদেনকারীদের উচিত এমন আলেমদের নিকট জিজ্ঞাসা করা যারা অধিক জ্ঞান, তাকওয়া ও পরহেজগারির জন্য সুপরিচিত—যাতে তারা জানতে পারে কোন লেনদেন তাদের জন্য হালাল আর কোনটি হারাম। তারা যেন সেই ফাসেকদের দ্বারা প্রতারিত না হয় যারা সুদের হালালকরণের মতো তাদের পছন্দনীয় বিষয়গুলো বলে তাদের নৈকট্য অর্জন করতে চায়, অথচ এর ফলে আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণা এবং মুমিনদের পথ ছাড়া অন্য পথ অনুসরণের যে ভয়াবহ পরিণতি হবে সে সম্পর্কে তারা পরোয়া করে না।
পঞ্চদশ: সুদখোরদের জন্য কেবল তাদের মূলধনই প্রাপ্য, তারা ঋণগ্রহীতা কিংবা ব্যাংক বা অন্য কারো কাছ থেকে এর অতিরিক্ত কিছু গ্রহণ করতে পারবে না; কারণ এটি সেই জুলুমের অন্তর্ভুক্ত যা আল্লাহ নিষেধ করেছেন। মহান আল্লাহর বাণী: {আর যদি তোমরা তওবা করো, তবে তোমাদের জন্য তোমাদের মূলধন} এর ব্যাখ্যায় ইবনে জারীর বলেন: "অর্থাৎ যদি তোমরা তওবা করো এবং সুদ খাওয়া ছেড়ে দিয়ে আল্লাহ আজ্জা ওয়া জাল্লার দিকে ফিরে আসো, তবে মানুষের কাছে তোমাদের পাওনা ঋণের মধ্য থেকে কেবল তোমাদের মূলধনই তোমাদের প্রাপ্য, সেই অতিরিক্ত অংশ নয় যা তোমরা সুদ হিসেবে তাতে যুক্ত করেছিলে
… "। অতঃপর তিনি কাতাদাহ থেকে বর্ণনা করেন যে তিনি বলেন: "যখন এই আয়াত নাযিল হলো তখন তাদের জন্য কেবল মূলধন সাব্যস্ত করা হলো। আর লভ্যাংশ বা অতিরিক্ত যা ছিল তা তাদের জন্য নয় এবং তা থেকে সামান্য কিছু গ্রহণ করাও তাদের জন্য উচিত নয়।" তাঁর থেকে বর্ণিত অন্য এক রেওয়ায়েতে আছে: "তাদের জন্য কেবল মূলধন নেওয়ার অধিকার দেওয়া হয়েছে এবং এর ওপর অতিরিক্ত কিছু তারা নেবে না।" যাহহাক থেকেও বর্ণিত হয়েছে, তিনি বলেন: "আল্লাহ সুদ রহিত করেছেন এবং তাদের জন্য কেবল মূলধন নির্ধারিত করেছেন।" মাওয়ার্দী মহান আল্লাহর বাণী: {আর যদি তোমরা তওবা করো তবে তোমাদের জন্য তোমাদের মূলধন} এর ব্যাখ্যায় বলেন: "অর্থাৎ যা তোমরা প্রদান করেছিলে। {তোমরা জুলুম করবে না} মূলধনের অতিরিক্ত গ্রহণ করার মাধ্যমে, {এবং তোমাদের প্রতিও জুলুম করা হবে না} তোমাদের মূলধন আটকে রাখার মাধ্যমে।" ইমাম কুরতুবী বলেন: "তওবা করার সাথে সাথে মহান আল্লাহ তাদেরকে তাদের মূলধনের দিকে ফিরিয়ে দিয়েছেন এবং তাদের বলেছেন: {তোমরা জুলুম করবে না} সুদ গ্রহণের মাধ্যমে, {এবং তোমাদের প্রতিও জুলুম করা হবে না} তোমাদের মূলধনের কোনো অংশ আটকে রাখার মাধ্যমে যার ফলে তোমাদের সম্পদ নষ্ট হয়ে যায়।" সমাপ্ত। অনেক মুফাসসিরই অনুরুপ কথা বলেছেন।
ষোড়শ:
সুদ গ্রহণ এবং ঋণগ্রহীতার ওপর তা চক্রবৃদ্ধি হারে বৃদ্ধি করার নিষেধাজ্ঞা, আবু বকর জাসসাস (আহকামুল কুরআন) গ্রন্থে বলেন: "মহান আল্লাহর বাণী: {তোমরা সুদ খেয়ো না বহুগুণ বৃদ্ধি করে} এটি সেই অবস্থার বর্ণনা যে অবস্থার প্রেক্ষিতে চক্রবৃদ্ধি হারে বৃদ্ধির শর্তারোপের কথাটি এসেছে। অতঃপর আল্লাহ সেই সুদ বাতিল করে দিয়েছেন যা তারা লেনদেন করত, এবং কেনাবেচার আরও কিছু ধরণ বাতিল করে সেগুলোকে সুদ হিসেবে নামকরণ করেছেন। সুতরাং মহান আল্লাহর বাণী অন্তর্ভুক্ত করল:
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আস সারিমুল বাত্তার লিল ইজহাযি আলা মান খালাফাল কিতাবা ওয়াস সুন্নাতা ওয়াল ইজমাআ ওয়াল আসার
(পৃষ্ঠা: ২৫)
{وَحَرَّمَ الرِّبَا} تحريم جميعها لشمول الاسم عليها من طريق الشرع، ولم يكن تعاملهم بالربا إلا على الوجه الذي ذكرنا من قرض دراهم أو دنانير إلى أجل مع شرط الزيادة". انتهى، وقال الزمخشري والنسفي في الكلام على قوله -تعالى-: {لَا تَأْكُلُوا الرِّبَا أَضْعَافًا مُضَاعَفَةً}: "هذا نهي عن الربا مع التوبيخ بما كانوا عليه من تضعيفه"، وقال ابن الجوزي: "قال أهل التفسير: هذه الآية نزلت في ربان الجاهلية"، قال سعيد بن جبير: "كان الرجل يكون له على الرجل المال فإذا حل الأجل يقول أخِّر عني وأزيدك على مالك فتلك الأضعاف المضاعفة". وقال الماوردي في الكلام على الآية: "هو أن يقول له بعد حلول الأجل إما أن تقضي وإما أن تربي، فإن لم يفعل ضاعف ذلك عليه ثم يفعل كذلك عند حلوله من بعد حتى تصير أضعافا مضاعفة"، وقال أبو حيان في الكلام على الآية: "نهوا عن الحالة الشنعاء التي يوقعون الربا عليها، كان الطالب يقول أتقضي أم تربي، وربما استغرق بالنزر اليسير مال المدين؛ لأنه إذا لم يجد وفاء زاد في الدين وزاد في الأجل، وأشار بقوله: (مضاعفة) إلى أنهم كانوا يكررون التضعيف عاما بعد عام، والربا محرم جميع أنواعه، فهذه الحال لا مفهوم لها وليست قيدًا في النهي، إذ ما لا يقع أضعافا مضاعفة مساوٍ في التحريم لما كان أضعافًا مضاعفة". انتهى، وقال القرطبي في الكلام على الآية: "إنما خص الربا من بين سائر المعاصي لأنه الذي أذن الله فيه بالحرب في قوله -تعالى-: {فَإِنْ لَمْ تَفْعَلُوا فَأْذَنُوا بِحَرْبٍ مِنَ اللَّهِ وَرَسُولِهِ} والحرب يؤذن بالقتل، فكأنه يقول إن لم تتقوا الربا هزمتم وقتلتم فأمرهم بترك الربا، و (مضاعفة) إشارة إلى تكرار التضعيف عاما بعد عام كما كانوا يصنعون، فدلت هذه العبارة المؤكدة على شنعة فعلهم وقبحه، ولذلك ذكرت حالة التضعيف خاصة". انتهى.
السابعة عشرة: أن النهي عن أكل الربا في سورة آل عمران جاء مقرونا بالأمر بتقوى الله -تعالى- والأمر باتقاء النار والأمر بطاعة الله وطاعة رسوله، فدل هذا على التشديد في التعامل بالربا والتأكيد في النهي عنه، قال القرطبي: "قوله -تعالى-: {وَاتَّقُوا اللَّهَ} أي في أموال الربا فلا تأكلوها، ثم خوفهم فقال: {وَاتَّقُوا النَّارَ الَّتِي أُعِدَّتْ لِلْكَافِرِينَ} قال كثير من المفسرين: وهذا الوعيد لمن استحل الربا، ومن استحل الربا فإنه يكفر ويكفر، وقيل معناه: اتقوا العمل الذي ينزع منكم الإيمان فتستوجبون النار
… ثم ذكر أنواعًا من الكبائر التي يستوجب صاحبها نزع الإيمان ويخاف عليه من نزعه ومنها أكل الربا"، وذكر ابن الجوزي وأبو حيان عن ابن عباس رضي الله عنهما-
{এবং তিনি সুদকে হারাম করেছেন} শরিয়তের পরিভাষায় এই নামের ব্যাপকতার কারণে এর সকল প্রকারই হারামের অন্তর্ভুক্ত। তাদের সুদি লেনদেন কেবল আমাদের উল্লিখিত পদ্ধতিতেই হতো, যা হলো দিরহাম বা দিনার একটি নির্দিষ্ট মেয়াদের জন্য অতিরিক্ত প্রদানের শর্তে ঋণ দেওয়া।" সমাপ্ত। যামাখশারী এবং নাসাফী মহান আল্লাহর বাণী— {তোমরা চক্রবৃদ্ধি হারে সুদ ভক্ষণ করো না} প্রসঙ্গে বলেন: "এটি তাদের সুদের হার দ্বিগুণ করার অভ্যাসের প্রতি তিরস্কারসহ সুদের ব্যাপারে একটি নিষেধাজ্ঞা।" ইবনুল জাওযী বলেন: "মুফাসসিরগণ বলেছেন: এই আয়াতটি জাহেলিয়াত আমলের সুদের ব্যাপারে অবতীর্ণ হয়েছে।" সাঈদ ইবনে জুবাইর বলেন: "এক ব্যক্তির কাছে অন্য ব্যক্তির ঋণ থাকতো। যখন সময় উত্তীর্ণ হতো, তখন সে বলতো: মেয়াদ বাড়িয়ে দাও, আমি তোমার মালের পরিমাণ বাড়িয়ে দেবো। এটাই হলো চক্রবৃদ্ধি হার।" মাওয়ার্দী এই আয়াতের ব্যাখ্যায় বলেন: "তা হলো মেয়াদ শেষ হওয়ার পর পাওনাদার বলবে— হয় তুমি পরিশোধ করো, নয়তো সুদ বাড়িয়ে দাও। যদি সে পরিশোধ না করত, তবে সে তার ওপর ঋণ দ্বিগুণ করে দিত। এরপর পরবর্তী মেয়াদ শেষ হলে একইভাবে করা হতো, যতক্ষণ না তা বহুগুণে বৃদ্ধি পেত।" আবু হাইয়ান এই আয়াত প্রসঙ্গে বলেন: "তাদের সেই জঘন্য অবস্থা থেকে নিষেধ করা হয়েছে যাতে তারা সুদে লিপ্ত হতো। পাওনাদার বলত: পরিশোধ করবে নাকি সুদ বাড়াবে? অনেক সময় সামান্য ঋণের কারণে দেনাদারের পুরো সম্পদ গ্রাস করে নেওয়া হতো; কারণ সে পরিশোধ করতে না পারলে ঋণের পরিমাণ এবং সময় উভয়ই বৃদ্ধি করা হতো। 'চক্রবৃদ্ধি' শব্দটির মাধ্যমে তিনি ইঙ্গিত করেছেন যে, তারা বছরের পর বছর ঋণের পরিমাণ দ্বিগুণ করতে থাকত। সুদের সকল প্রকারই হারাম। সুতরাং এই বর্ণনাটি কোনো সীমাবদ্ধতা নয়, বরং যা চক্রবৃদ্ধি হারে নয় তা-ও হারামের ক্ষেত্রে চক্রবৃদ্ধি হারের মতোই সমান।" সমাপ্ত। কুরতুবী এই আয়াত প্রসঙ্গে বলেন: "অন্যান্য সকল গুনাহের মধ্যে সুদকে বিশেষভাবে উল্লেখ করা হয়েছে কারণ এটিই সেই পাপ যার বিরুদ্ধে আল্লাহ যুদ্ধের ঘোষণা দিয়েছেন। মহান আল্লাহর বাণী: {যদি তোমরা তা না করো, তবে আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের পক্ষ থেকে যুদ্ধের ঘোষণা জেনে নাও}। আর যুদ্ধ মানেই হত্যার সংবাদ। যেন তিনি বলছেন: যদি তোমরা সুদ থেকে বেঁচে না থাকো, তবে তোমরা পরাজিত ও নিহত হবে। তাই তিনি তাদের সুদ বর্জন করার আদেশ দিয়েছেন। আর 'চক্রবৃদ্ধি' শব্দটি বছরের পর বছর দ্বিগুণ করার পুনরাবৃত্তির দিকে ইঙ্গিত করে যা তারা করত। এই তাকিদপূর্ণ অভিব্যক্তিটি তাদের কাজের বীভৎসতা ও কদর্যতাকে প্রমাণ করে। এই কারণেই বিশেষভাবে দ্বিগুণ হওয়ার অবস্থার কথা উল্লেখ করা হয়েছে।" সমাপ্ত।
সপ্তদশ: সূরা আলে ইমরানে সুদ ভক্ষণ থেকে নিষেধ করার বিষয়টি মহান আল্লাহকে ভয় করার আদেশ, জাহান্নাম থেকে বেঁচে থাকার নির্দেশ এবং আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের আনুগত্যের আদেশের সাথে যুক্ত হয়ে এসেছে। এটি সুদি কারবারের কঠোরতা এবং এর নিষেধাজ্ঞার গুরুত্বের ওপর প্রমাণ বহন করে। কুরতুবী বলেন: "মহান আল্লাহর বাণী: {তোমরা আল্লাহকে ভয় করো} অর্থাৎ সুদের মালের ব্যাপারে, যাতে তোমরা তা ভক্ষণ না করো। অতঃপর তিনি তাদের ভয় দেখিয়ে বলেন: {এবং তোমরা সেই আগুনকে ভয় করো যা কাফেরদের জন্য প্রস্তুত করা হয়েছে}। অনেক মুফাসসির বলেছেন: এই ধমক তাদের জন্য যারা সুদকে হালাল মনে করে। আর যে সুদকে হালাল মনে করে সে কুফরি করে। আবার কেউ কেউ বলেন এর অর্থ হলো: তোমরা এমন কাজ থেকে বেঁচে থাকো যা তোমাদের থেকে ঈমান কেড়ে নেয়, ফলে তোমরা জাহান্নামের উপযোগী হয়ে পড়বে
… এরপর তিনি এমন কিছু কবিরা গুনাহের কথা উল্লেখ করেছেন যা লিপ্ত ব্যক্তির ঈমান কেড়ে নেয় এবং যার কারণে ঈমান হারানোর ভয় থাকে, আর এর মধ্যে একটি হলো সুদ ভক্ষণ।" ইবনুল জাওযী এবং আবু হাইয়ান ইবনে আব্বাস (রাদিয়াল্লাহু আনহুমা) থেকে বর্ণনা করেছেন—
(খণ্ড: ১)
আস সারিমুল বাত্তার লিল ইজহাযি আলা মান খালাফাল কিতাবা ওয়াস সুন্নাতা ওয়াল ইজমাআ ওয়াল আসার
(পৃষ্ঠা: ২৬)
في قول الله -تعالى-: {وَاتَّقُوا النَّارَ الَّتِي أُعِدَّتْ لِلْكَافِرِينَ} قال: "هذا تهديد للمؤمنين لئلا يستحلوا الربا"، وقال الزجاج: "والمعنى اتقوا أن تحلوا ما حرم الله فتكفروا"، وروى ابن أبي حاتم عن مقاتل بن حيان أنه قال: "من أكل الربا فلم ينته فله النار". وقوله: {وَأَطِيعُوا اللَّهَ وَالرَّسُولَ} قال القرطبي: " (وَأَطِيعُوا اللَّهَ) في تحريم الربا (وَالرَّسُولَ) فيما بلغكم من التحريم".
الثامنة عشرة: أن أكل الربا والتعامل به من الكبائر الموبقات، أي المهلكات، ويدل على ذلك ما جاء في القرآن من تعظيم أكل الربا والوعيد عليه بالنار وإيذان أهله بحرب من الله ورسوله، قال القرطبي: "دلت الآية - يعني قوله -تعالى-: {فَإِنْ لَمْ تَفْعَلُوا فَأْذَنُوا بِحَرْبٍ مِنَ اللَّهِ وَرَسُولِهِ} - على أن أكل الربا والعمل به من الكبائر ولا خلاف في ذلك". وقال الماوردي في الكلام على قول الله -تعالى-: {وَاتَّقُوا النَّارَ الَّتِي أُعِدَّتْ لِلْكَافِرِينَ}: "دل أن الربا من الكبائر التي يستحق عليها الوعيد بالنار". انتهى، وسيأتي في الحديث الصحيح عن النبي صلى الله عليه وسلم أنه عدَّ أكل الربا من السبع الموبقات.
وفيما ذكرته من الآيات وأقوال المفسرين كفاية في بيان موقف القرآن الكريم من تحريم الربا على وجه العموم وأنه لا فرق في ذلك بين البنوك وغيرها.
وفيه أيضا أبلغ رد على الفتان المحارب لله ورسوله وعلى غيره من المبطلين الذين يزعمون حِل الربا في المعاملات مع أهل البنوك ويتعلقون بالشبه والأباطيل في استحلاله ولا يبالون بما يترتب على ذلك من معصية الله ورسوله صلى الله عليه وسلم واتِّباع غير سبيل المؤمنين.
فصل
وأما الأدلة من السنة على تحريم المعاملات الربوية على وجه العموم فكثيرة جدا:
الأول منها: عن أبي هريرة رضي الله عنه أن رسول الله صلى الله عليه وسلم قال: «اجتنبوا السبع الموبقات» قيل: يا رسول الله، وما هن؟ قال: «الشرك بالله، والسحر، وقتل النفس التي حرم الله إلا بالحق، وأكل مال اليتيم، وأكل الربا، والتولي يوم الزحف، وقذف المحصنات الغافلات المؤمنات» رواه البخاري ومسلم وأبو داود والنسائي.
قال ابن الأثير: "الموبقات جمع موبقة، وهي الخصلة المهلكة".
মহান আল্লাহর বাণী: {আর তোমরা সেই আগুনকে ভয় করো যা কাফেরদের জন্য প্রস্তুত করা হয়েছে} প্রসঙ্গে বলা হয়েছে: "এটি মুমিনদের প্রতি একটি সতর্কতা যাতে তারা সুদকে হালাল মনে না করে।" আয-যাজ্জাজ বলেছেন: "এর অর্থ হলো—তোমরা আল্লাহ যা হারাম করেছেন তা হালাল করার মাধ্যমে কুফরিতে লিপ্ত হওয়াকে ভয় করো।" ইবনে আবি হাতিম মুকাতিল বিন হাইয়্যান থেকে বর্ণনা করেছেন যে তিনি বলেছেন: "যে ব্যক্তি সুদ খায় এবং তা থেকে বিরত হয় না, তার জন্য রয়েছে জাহান্নাম।" আর আল্লাহর বাণী: {আর তোমরা আল্লাহ ও রাসূলের আনুগত্য করো} প্রসঙ্গে আল-কুরতুবী বলেছেন: "(আল্লাহর আনুগত্য করো) সুদের নিষিদ্ধতার ব্যাপারে (এবং রাসূলের আনুগত্য করো) তোমাদের কাছে পৌঁছানো সুদের হারামের নির্দেশের ব্যাপারে।"
আঠারোতম: সুদ খাওয়া এবং সুদী কারবার করা ধ্বংসাত্মক কবিরা গুনাহসমূহের অন্তর্ভুক্ত। এর প্রমাণ হলো সুদের ভয়াবহতা সম্পর্কে কুরআনে যা বর্ণিত হয়েছে, সুদের কারণে জাহান্নামের হুমকি এবং সুদের কারবারীদের বিরুদ্ধে আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের পক্ষ থেকে যুদ্ধের ঘোষণা। আল-কুরতুবী বলেছেন: "এই আয়াতটি—অর্থাৎ মহান আল্লাহর বাণী: {অতঃপর যদি তোমরা তা না করো, তবে আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের পক্ষ থেকে যুদ্ধের ঘোষণা জেনে নাও}—প্রমাণ করে যে সুদ খাওয়া এবং সুদী লেনদেন করা কবিরা গুনাহের অন্তর্ভুক্ত, আর এ ব্যাপারে কোনো মতভেদ নেই।" আল-মাওয়ার্দী আল্লাহর বাণী: {আর তোমরা সেই আগুনকে ভয় করো যা কাফেরদের জন্য প্রস্তুত করা হয়েছে} প্রসঙ্গে বলেছেন: "এটি প্রমাণ করে যে সুদ এমন এক কবিরা গুনাহ যার কারণে জাহান্নামের শাস্তির ঘোষণা প্রযোজ্য হয়।" সমাপ্ত। সামনে সহীহ হাদীসে আসবে যে নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) সুদ গ্রহণকে সাতটি ধ্বংসাত্মক কাজের অন্যতম হিসেবে গণ্য করেছেন।
আমি যে আয়াতসমূহ ও মুফাসসিরগণের বক্তব্য উল্লেখ করেছি, সাধারণভাবে সুদের হারাম হওয়া এবং এ ক্ষেত্রে ব্যাংক বা অন্য কোনো প্রতিষ্ঠানের মধ্যে যে কোনো পার্থক্য নেই, তা স্পষ্ট করার জন্য যথেষ্ট।
এতে আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের বিরুদ্ধে যুদ্ধকারী ফিতনাবাজ এবং অন্যান্য বাতিলপন্থীদের দাঁতভাঙ্গা জবাব রয়েছে, যারা ব্যাংকের সাথে লেনদেনে সুদ হালাল বলে দাবি করে এবং একে বৈধ করার জন্য বিভিন্ন সন্দেহ ও মিথ্যা যুক্তির আশ্রয় নেয়। তারা এর ফলে আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) অবাধ্য হওয়া এবং মুমিনদের পথ ছেড়ে অন্য পথ অনুসরণের পরিণতির পরোয়া করে না।
পরিচ্ছেদ
আর সাধারণভাবে সুদী লেনদেন হারাম হওয়ার ব্যাপারে সুন্নাহ থেকে প্রাপ্ত দলীলসমূহ অনেক:
প্রথম দলীল: আবু হুরায়রা (রাযিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণিত যে রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন: "তোমরা সাতটি ধ্বংসাত্মক কাজ থেকে বেঁচে থাকো।" জিজ্ঞেস করা হলো: হে আল্লাহর রাসূল, সেগুলো কী? তিনি বললেন: "আল্লাহর সাথে শিরক করা, জাদু, যথাযথ কারণ ছাড়া আল্লাহ যে প্রাণ হত্যা করা হারাম করেছেন তা হত্যা করা, এতিমের সম্পদ ভক্ষণ করা, সুদ খাওয়া, যুদ্ধের ময়দান থেকে পলায়ন করা এবং সতী-সাধ্বী সরলমনা মুমিন নারীদের প্রতি অপবাদ দেওয়া।" (বুখারী, মুসলিম, আবু দাউদ ও নাসাঈ)।
ইবনুল আসীর বলেছেন: "'মুবিকাত' হলো 'মুবিকা' শব্দের বহুবচন, যার অর্থ হলো ধ্বংসাত্মক কাজ বা বৈশিষ্ট্য।"
(খণ্ড: ১)
আস সারিমুল বাত্তার লিল ইজহাযি আলা মান খালাফাল কিতাবা ওয়াস সুন্নাতা ওয়াল ইজমাআ ওয়াল আসার
(পৃষ্ঠা: ২৭)
وقد جاء في عدِّ أكل الربا من الكبائر أحاديث كثيرة، بعضها مرفوع وبعضها موقوف، وقد تركت ذكرها خشية الإطالة، وقد ذكرها ابن جرير وابن كثير في تفسيريهما مع الكلام على قول الله -تعالى- في سورة النساء: {إِنْ تَجْتَنِبُوا كَبَائِرَ مَا تُنْهَوْنَ عَنْهُ نُكَفِّرْ عَنْكُمْ سَيِّئَاتِكُمْ} فلتراجع هناك.
الحديث الثاني: عن أبي جحيفة - واسمه وهب بن عبد الله السوائي رضي الله عنه أن رسول الله صلى الله عليه وسلم «لعن آكل الربا ومؤكله» رواه الإمام أحمد والبخاري.
الحديث الثالث: عن عبد الله - وهو ابن مسعود رضي الله عنه قال: «لعن رسول الله صلى الله عليه وسلم آكل الربا ومؤكله» رواه الإمام أحمد ومسلم والنسائي هكذا مختصرًا، ورواه أحمد أيضا وأبو داود والترمذي وابن ماجة وابن حبان في صحيحه أطول منه ولفظه: «لعن رسول الله صلى الله عليه وسلم آكل الربا وموكله وشاهديه وكاتبه» قال الترمذي: "حديث حسن صحيح"، قال: وفي الباب عن عمر وعلي وجابر وأبي جحيفة، وفي رواية لأحمد أن رسول الله صلى الله عليه وسلم قال: «لعن الله آكل الربا وموكله وشاهديه وكاتبه».
الحديث الرابع: عن جابر رضي الله عنه قال: «لعن رسول الله صلى الله عليه وسلم آكل الربا وموكله وشاهديه وكاتبه» رواه الإمام أحمد ومسلم وزاد، وقال: «هم سواء».
الحديث الخامس: عن علي رضي الله عنه قال: «لعن رسول الله صلى الله عليه وسلم آكل الربا وموكله وشاهديه وكاتبه» رواه الإمام أحمد، وفي إسناده الحارث الأعور وهو ضعيف وقد وثق، وما تقدم قبله من الأحاديث الصحيحة يشهد له ويقويه، وقد رواه النسائي مختصرًا.
الحديث السادس: عن عبد الله بن مسعود رضي الله عنه أنه قال: «آكل الربا وموكله وكاتبه وشاهداه إذا علموا به، والواشمة والمتوشمة للحسن، ولاوي الصدقة، والمرتد أعرابيا بعد هجرته ملعونون على لسان محمد صلى الله عليه وسلم يوم القيامة» رواه الإمام أحمد وأبو داود الطيالسي وأبو يعلي والطبراني في الكبير، وابن حبان في صحيحه من طريق الحارث بن عبد الله الأعور وهو ضعيف وقد وثق، ورواه الإمام أحمد أيضا من طريق الأعمش عن إبراهيم النخعي عن علقمة عن ابن مسعود رضي الله عنه، وهذا إسناد صحيح، ورواه ابن خزيمة في صحيحه والحاكم في مستدركه من طريق الأعمش عن عبد الله بن مرة عن مسروق عن ابن مسعود رضي الله عنه وقال الحاكم: "صحيح على شرط مسلم"، ووافقه الذهبي في تلخيصه. لاوي الصدقة: هو المماطل بها، قال أهل اللغة: "اللَّي هو المطل".
সুদ ভক্ষণকে কবিরা গুনাহের অন্তর্ভুক্ত করার বিষয়ে অনেক হাদিস বর্ণিত হয়েছে, যার কিছু মারফু (রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম পর্যন্ত পৌঁছানো) এবং কিছু মাওকুফ (সাহাবি পর্যন্ত পৌঁছানো)। দীর্ঘ হওয়ার আশঙ্কায় আমি সেগুলো উল্লেখ করা থেকে বিরত থাকলাম। ইবনে জারির এবং ইবনে কাসির তাদের তাফসির গ্রন্থে সূরা আন-নিসার আল্লাহর এই বাণীর আলোচনায় সেগুলো উল্লেখ করেছেন: "তোমাদের যা নিষেধ করা হয়েছে তার মধ্যে যা কবিরা (বড় গুনাহ), তা যদি তোমরা বর্জন করো, তবে আমি তোমাদের ছোট পাপগুলো মোচন করে দেব।" সুতরাং সেখানে তা দেখে নেওয়া যেতে পারে।
দ্বিতীয় হাদিস: আবু জুহাইফা (রাদিয়াল্লাহু আনহু) হতে বর্ণিত—তার নাম ওহাব ইবনে আবদুল্লাহ আস-সুওয়ায়ি—আল্লাহর রাসুল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) সুদখোর ও সুদদাতার ওপর অভিশাপ দিয়েছেন। ইমাম আহমাদ ও বুখারি এটি বর্ণনা করেছেন।
তৃতীয় হাদিস: আবদুল্লাহ—যিনি ইবনে মাসউদ (রাদিয়াল্লাহু আনহু)—হতে বর্ণিত, তিনি বলেন: "আল্লাহর রাসুল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) সুদখোর ও সুদদাতার ওপর অভিশাপ দিয়েছেন।" ইমাম আহমাদ, মুসলিম ও নাসায়ি হাদিসটি এভাবে সংক্ষেপে বর্ণনা করেছেন। আহমাদ, আবু দাউদ, তিরমিজি, ইবনে মাজাহ এবং ইবনে হিব্বান তার সহিহ গ্রন্থে এটি আরও দীর্ঘভাবে বর্ণনা করেছেন, যার শব্দবিন্যাস হলো: "আল্লাহর রাসুল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) সুদখোর, সুদদাতা, এর দুই সাক্ষী এবং এর লেখকের ওপর অভিশাপ দিয়েছেন।" ইমাম তিরমিজি বলেন: "হাদিসটি হাসান সহিহ।" তিনি আরও বলেন: এই বিষয়ে উমর, আলি, জাবির এবং আবু জুহাইফা (রাদিয়াল্লাহু আনহুম) হতেও বর্ণনা রয়েছে। আহমাদের এক বর্ণনায় আছে যে, আল্লাহর রাসুল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন: "আল্লাহ সুদখোর, সুদদাতা, এর দুই সাক্ষী এবং এর লেখকের ওপর অভিশাপ করেছেন।"
চতুর্থ হাদিস: জাবির (রাদিয়াল্লাহু আনহু) হতে বর্ণিত, তিনি বলেন: "আল্লাহর রাসুল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) সুদখোর, সুদদাতা, এর দুই সাক্ষী এবং এর লেখকের ওপর অভিশাপ দিয়েছেন।" ইমাম আহমাদ ও মুসলিম এটি বর্ণনা করেছেন এবং মুসলিম অতিরিক্ত অংশ বর্ণনা করেছেন যে, তিনি (নবীজি) বলেছেন: "তারা সকলেই সমান।"
পঞ্চম হাদিস: আলি (রাদিয়াল্লাহু আনহু) হতে বর্ণিত, তিনি বলেন: "আল্লাহর রাসুল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) সুদখোর, সুদদাতা, এর দুই সাক্ষী এবং এর লেখকের ওপর অভিশাপ দিয়েছেন।" ইমাম আহমাদ এটি বর্ণনা করেছেন। এর সনদ বা সূত্রে হারিস আল-আওয়ার রয়েছেন, যিনি দুর্বল হলেও তাকে নির্ভরযোগ্য বলা হয়েছে। তবে এর পূর্বে বর্ণিত সহিহ হাদিসগুলো এর স্বপক্ষে সাক্ষ্য দেয় এবং একে শক্তিশালী করে। নাসায়ি এটি সংক্ষেপে বর্ণনা করেছেন।
ষষ্ঠ হাদিস: আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদ (রাদিয়াল্লাহু আনহু) হতে বর্ণিত যে, তিনি বলেছেন: "সুদখোর, সুদদাতা, এর লেখক এবং এর দুই সাক্ষী—যদি তারা বিষয়টি অবগত থাকে; আর সৌন্দর্যের জন্য উল্কি অঙ্কনকারিণী এবং যে উল্কি গ্রহণ করে; জাকাত দানে গড়িমসি করা ব্যক্তি; এবং হিজরতের পর পুনরায় যাযাবর জীবনে ফিরে যাওয়া মুরতাদ—কিয়ামতের দিন মুহাম্মদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর জবানে তারা অভিশপ্ত।" ইমাম আহমাদ, আবু দাউদ তায়ালিসি, আবু ইয়ালা, তাবারানি 'আল-কাবির'-এ এবং ইবনে হিব্বান তার সহিহ গ্রন্থে হারিস ইবনে আবদুল্লাহ আল-আওয়ারের সূত্রে এটি বর্ণনা করেছেন, যিনি দুর্বল হলেও তাকে নির্ভরযোগ্য বলা হয়েছে। ইমাম আহমাদ হাদিসটি আমাশ হতে, তিনি ইব্রাহিম নাখয়ি হতে, তিনি আলকামা হতে, তিনি ইবনে মাসউদ (রাদিয়াল্লাহু আনহু)-এর সূত্রেও বর্ণনা করেছেন এবং এই সনদটি সহিহ। ইবনে খুজাইমা তার সহিহ গ্রন্থে এবং হাকেম তার মুস্তাদরাক গ্রন্থে আমাশ হতে, তিনি আবদুল্লাহ ইবনে মুররাহ হতে, তিনি মাসরুক হতে এবং তিনি ইবনে মাসউদ (রাদিয়াল্লাহু আনহু)-এর সূত্রে বর্ণনা করেছেন। হাকেম বলেন: "এটি মুসলিমের শর্ত অনুযায়ী সহিহ", আর জাহাবি তার তালখিসে এর সাথে একমত পোষণ করেছেন। "লাউয়ি আস-সাদাকা" অর্থ হলো জাকাত দানে গড়িমসি করা ব্যক্তি। ভাষাবিদগণ বলেন: "আল-লাইয়ু" অর্থ হলো টালবাহানা বা গড়িমসি করা।
(খণ্ড: ১)
আস সারিমুল বাত্তার লিল ইজহাযি আলা মান খালাফাল কিতাবা ওয়াস সুন্নাতা ওয়াল ইজমাআ ওয়াল আসার
(পৃষ্ঠা: ২৮)
الحديث السابع: عن سليمان بن عمرو بن الأحوص عن أبيه قال: سمعت رسول الله صلى الله عليه وسلم في حجة الوداع يقول: «ألا إن كل ربا من ربا الجاهلية موضوع، لكم رؤوس أموالكم لا تَظلِمون ولا تُظلَمون» رواه أبو داود والترمذي وابن ماجة، وقال الترمذي: "حديث حسن صحيح".
الحديث الثامن: عن جابر بن عبد الله رضي الله عنهما في حديثه الطويل في صفة حج النبي صلى الله عليه وسلم، وفيه أن رسول الله صلى الله عليه وسلم خطب الناس يوم عرفة في بطن الوادي وقال في خطبته: «ألا إن كل شيء من أمر الجاهلية تحت قدمي موضوع، وربا الجاهلية موضوع، وأول ربا أضعه ربا عباس بن عبد المطلب فإنه موضوع كله» رواه مسلم والدارمي وأبو داود وابن ماجة وابن خزيمة وابن حبان في صحيحيهما والبيهقي في سننه.
الحديث التاسع: عن أبي حرة الرقاشي عن عمه رضي الله عنه قال: كنت آخذا بزمام ناقة رسول الله صلى الله عليه وسلم في أوساط أيام التشريق أذود الناس عنه فقال: «ألا إن كل ربا كان في الجاهلية موضوع، ألا وإن الله قضى أن أول ربا يوضع ربا عباس ابن عبد المطلب، لكم رؤوس أموالكم لا تَظلِمون ولا تُظلَمون» رواه الإمام أحمد والدارمي وأبو يعلي، وفي إسناده علي بن زيد بن جدعان وفيه كلام وقد وثق، ويشهد لحديثه ما تقدم قبله من حديث عمرو بن الأحوص وجابر بن عبد الله رضي الله عنهم.
الحديث العاشر: عن عبد الله بن حنظلة غسيل الملائكة رضي الله عنهما قال: قال رسول الله صلى الله عليه وسلم: «درهم ربا يأكله الرجل وهو يعلم أشد من ستة وثلاثين زنية» رواه الإمام أحمد والطبراني في الكبير والأوسط، قال المنذري والهيثمي: "ورجال أحمد رجال الصحيح".
الحديث الحادي عشر: عن ابن مسعود رضي الله عنه عن النبي صلى الله عليه وسلم أنه قال: «ما ظهر في قوم الزنى والربا إلا أحلوا بأنفسهم عذاب الله» رواه أبو يعلي، قال المنذري والهيثمي: "إسناده جيد".
الحديث الثاني عشر: عن ابن عباس رضي الله عنهما أن رسول الله صلى الله عليه وسلم قال: «إذا ظهر الزنى والربا في قرية فقد أحلوا بأنفسهم عذاب الله» رواه الحاكم في مستدركه وصححه، ووافق الذهبي على تصحيحه.
الحديث الثالث عشر: عن أبي سعيد الخدري رضي الله عنه قال: قال رسول
সপ্তম হাদিস: সুলায়মান ইবনে আমর ইবনুল আহওয়াস তাঁর পিতা থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: আমি রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে বিদায় হজের ভাষণে বলতে শুনেছি: "জেনে রেখো, জাহেলিয়াত যুগের সকল সুদ রহিত করা হলো। তোমাদের জন্য কেবল তোমাদের মূলধন প্রাপ্য; তোমরা কারো প্রতি জুলুম করবে না এবং তোমাদের প্রতিও জুলুম করা হবে না।" এটি বর্ণনা করেছেন আবু দাউদ, তিরমিজি ও ইবনে মাজাহ। ইমাম তিরমিজি বলেন: "হাদিসটি হাসান সহিহ।"
অষ্টম হাদিস: জাবির ইবনে আব্দুল্লাহ রাদিয়াল্লাহু আনহুমা থেকে বর্ণিত, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের হজের বিবরণ সম্বলিত দীর্ঘ হাদিসে উল্লেখ আছে যে, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আরাফার দিন বাতনে ওয়াদিতে মানুষের উদ্দেশ্যে ভাষণ দেন এবং তাতে বলেন: "জেনে রেখো, জাহেলিয়াত যুগের সকল বিষয় আমার দুই পায়ের নিচে (অর্থাৎ সমূলে রহিত)। জাহেলিয়াত যুগের সুদও রহিত করা হলো। আর আমি প্রথম যে সুদটি রহিত করছি তা হলো আব্বাস ইবনে আব্দুল মুত্তালিবের সুদ; তার সমস্ত সুদ রহিত করা হলো।" এটি বর্ণনা করেছেন মুসলিম, দারেমি, আবু দাউদ, ইবনে মাজাহ, ইবনে খুজাইমা ও ইবনে হিব্বান তাঁদের সহিহ গ্রন্থে এবং বায়হাকি তাঁর সুনান গ্রন্থে।
নবম হাদিস: আবু হুররাহ আর-রকাশী তাঁর চাচা রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: আমি আইয়ামে তাশরিকের মধ্যবর্তী দিনগুলোতে রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের উষ্ট্রীর লাগাম ধরেছিলাম এবং মানুষকে তাঁর থেকে সরিয়ে দিচ্ছিলাম। তখন তিনি বললেন: "জেনে রেখো, জাহেলিয়াত যুগের সকল সুদ রহিত। আর আল্লাহ ফয়সালা করেছেন যে, প্রথম যে সুদটি রহিত করা হবে তা হলো আব্বাস ইবনে আব্দুল মুত্তালিবের সুদ। তোমাদের জন্য কেবল তোমাদের মূলধন প্রাপ্য; তোমরা জুলুম করবে না এবং তোমাদের প্রতিও জুলুম করা হবে না।" এটি বর্ণনা করেছেন ইমাম আহমাদ, দারেমি ও আবু ইয়ালা। এর সনদে আলী ইবনে যাইদ ইবনে জুদআন রয়েছেন, তাঁর সম্পর্কে সমালোচনা থাকলেও তাঁকে নির্ভরযোগ্য বলা হয়েছে। আর তাঁর বর্ণিত হাদিসের সমর্থনে আমর ইবনুল আহওয়াস ও জাবির ইবনে আব্দুল্লাহ রাদিয়াল্লাহু আনহুমের ইতিপূর্বে উল্লিখিত হাদিসগুলো বিদ্যমান।
দশম হাদিস: ফেরেশতাদের দ্বারা গোসলপ্রাপ্ত আব্দুল্লাহ ইবনে হানজালা রাদিয়াল্লাহু আনহুমা থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: "জেনেশুনে সুদের এক দিরহাম ভক্ষণ করা ছত্রিশ বার ব্যভিচার করার চেয়েও গুরুতর।" এটি বর্ণনা করেছেন ইমাম আহমাদ এবং তাবারানি আল-কাবীর ও আল-আওসাত গ্রন্থে। আল-মুনজিরি ও আল-হাইসামি বলেন: "আহমাদের বর্ণনাকারীগণ সহিহ হাদিসের বর্ণনাকারী।"
একাদশ হাদিস: ইবনে মাসউদ রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: "যখন কোনো সম্প্রদায়ের মধ্যে ব্যভিচার ও সুদ প্রকাশ পায়, তখন তারা নিজেদের ওপর আল্লাহর আজাব অবধারিত করে নেয়।" এটি বর্ণনা করেছেন আবু ইয়ালা। আল-মুনজিরি ও আল-হাইসামি বলেন: "এর সনদ উত্তম।"
দ্বাদশ হাদিস: ইবনে আব্বাস রাদিয়াল্লাহু আনহুমা থেকে বর্ণিত যে, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: "যখন কোনো জনপদে ব্যভিচার ও সুদ প্রকাশ পায়, তখন তারা নিজেদের ওপর আল্লাহর আজাব নামিয়ে আনে।" এটি বর্ণনা করেছেন হাকেম তাঁর মুস্তাদরাক গ্রন্থে এবং একে সহিহ বলেছেন। ইমাম যাহাবিও এই হাদিসটি সহিহ হওয়ার বিষয়ে একমত পোষণ করেছেন।
ত্রয়োদশ হাদিস: আবু সাঈদ খুদরি রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন:
(খণ্ড: ১)
আস সারিমুল বাত্তার লিল ইজহাযি আলা মান খালাফাল কিতাবা ওয়াস সুন্নাতা ওয়াল ইজমাআ ওয়াল আসার
(পৃষ্ঠা: ২৯)
الله صلى الله عليه وسلم:
«الآخذ والمعطي سواء في الربا» رواه الدارقطني والحاكم في مستدركه وصححه، ووافقه الذهبي على تصحيحه، وتقدم له شاهد من رواية مسلم عن جابر رضي الله عنه.
الحديث الرابع عشر: عن نافع عن أبي سعيد الخدري رضي الله عنه أن رسول الله صلى الله عليه وسلم قال: «لا تبيعوا الذهب بالذهب إلا مثلا بمثل ولا تشفوا بعضها على بعض، ولا تبيعوا الورق بالورق إلا مثلا بمثل ولا تشفوا بعضها على بعض، ولا تبيعوا منها غائبا بناجز» رواه مالك والشافعي وأحمد والبخاري ومسلم والنسائي.
قال ابن الأثير في (جامع الأصول): " «ولا تشفوا» أي لا تزيدوا ولا تفضلوا أحدهما على الآخر، قال: والناجز المعجل الحاضر"، وقال النووي في (شرح صحيح مسلم): " «ولا تشفوا بعضها على بعض» هو بضم التاء وكسر الشين المعجمة وتشديد الفاء أي لا تفضلوا". انتهى.
وفي رواية لمسلم عن نافع عن أبي سعيد رضي الله عنه أنه أشار بأصبعيه إلى عينيه وأذنيه فقال: أبصرت عيناي وسمعت أذناي رسول الله صلى الله عليه وسلم يقول: «لا تبيعوا الذهب بالذهب ولا تبيعوا الورق بالورق إلا مثلا بمثل، ولا تشفوا بعضه على بعض ولا تبيعوا شيئا غائبا منه بناجز إلا يدا بيد» وقد رواه الإمام أحمد والترمذي بنحوه، وليس في روايتهما قوله: «إلا يدًا بيد» قال الترمذي: "وفي الباب عن أبي بكر وعمر وعثمان وأبي هريرة وهشام بن عامر والبراء وزيد بن أرقم وفضالة بن عبيد وأبي بكرة وابن عمر وأبي الدرداء وبلال، قال: وحديث أبي سعيد عن النبي صلى الله عليه وسلم في الربا حديث حسن صحيح". وسيأتي ذكر هذه الأحاديث التي أشار إليها الترمذي وغيرها من الأحاديث الدالة على تحريم ربا الفضل والنسيئة -إن شاء الله تعالى-.
وفي رواية لأحمد قال أبو سعيد رضي الله عنه: بصر عيني وسمع أذني - وأشار بأصبعيه إلى عينيه وأذنيه - من رسول الله صلى الله عليه وسلم أنه «نهى عن الذهب بالذهب والورق بالورق إلا سواء بسواء مثلا بمثل، ألا لا تبيعوا غائبا بناجز ولا تشفوا أحدهما على الآخر» ورواه النسائي بنحوه.
ورواه البخاري مختصرًا من حديث سالم بن عبد الله عن عبد الله بن عمر رضي الله عنهما عن أبي سعيد رضي الله عنه أنه قال في الصرف: سمعت رسول الله صلى الله عليه وسلم يقول: «الذهب بالذهب مثلا بمثل والورق بالورق مثلا بمثل».
আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন:
«সুদ গ্রহণকারী এবং প্রদানকারী সুদের ক্ষেত্রে সমান» এটি বর্ণনা করেছেন আদ-দারাকুতনি এবং আল-হাকিম তাঁর 'মুস্তাদরাক' গ্রন্থে এবং তিনি একে সহীহ বলেছেন। আয-যাহাবী একে সহীহ সাব্যস্ত করার ক্ষেত্রে তাঁর সাথে ঐকমত্য পোষণ করেছেন। আর এর স্বপক্ষে একটি সাক্ষ্যমূলক বর্ণনা ইমাম মুসলিম জাবির (রাযিয়াল্লাহু আনহু) থেকে ইতিপূর্বে পেশ করেছেন।
চতুর্দশ হাদীস: নাফে' থেকে বর্ণিত, আবু সাঈদ আল-খুদরী (রাযিয়াল্লাহু আনহু) হতে বর্ণিত যে, রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন: «তোমরা সোনার বদলে সোনা বিক্রি করো না সমান সমান ও সমপরিমাণ ছাড়া, এবং এর একটির ওপর অন্যটিকে কম-বেশি করো না। আর রুপার বদলে রুপা বিক্রি করো না সমান সমান ও সমপরিমাণ ছাড়া, এবং এর একটির ওপর অন্যটিকে কম-বেশি করো না। আর এদের মধ্য থেকে কোনো অনুপস্থিত বা বাকিতে থাকা বস্তু নগদ বস্তুর বিনিময়ে বিক্রি করো না» এটি মালিক, শাফেয়ী, আহমাদ, বুখারী, মুসলিম এবং নাসাঈ বর্ণনা করেছেন।
ইবনুল আসীর (জামি আল-উসুল) গ্রন্থে বলেছেন: "«ওয়া লা তুশিফ্ফূ» অর্থ হলো তোমরা বৃদ্ধি করো না এবং একটিকে অন্যটির ওপর শ্রেষ্ঠত্ব দিও না। তিনি আরও বলেন: আর 'নাজিজ' অর্থ হলো ত্বরান্বিত বা উপস্থিত"। নববী (শারহ সহীহ মুসলিম) গ্রন্থে বলেছেন: "«ওয়া লা তুশিফ্ফূ বাদাহা আলা বাদিন» এটি ত-এ পেশ, শীন-এ যের এবং ফা-এ তাশদীদ সহকারে গঠিত, যার অর্থ হলো তোমরা শ্রেষ্ঠত্ব দিও না"। সমাপ্ত।
মুসলিমের এক বর্ণনায় নাফে' থেকে আবু সাঈদ (রাযিয়াল্লাহু আনহু) সূত্রে বর্ণিত যে, তিনি তাঁর দুই আঙুল দিয়ে তাঁর চোখ ও কানের দিকে ইশারা করে বললেন: আমার দুই চোখ দেখেছে এবং দুই কান শুনেছে রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-কে বলতে: «তোমরা সোনার বিনিময়ে সোনা বিক্রি করো না এবং রুপার বিনিময়ে রুপা বিক্রি করো না সমান সমান ছাড়া। আর একটিকে অন্যটির ওপর কম-বেশি করো না। আর এদের মধ্য থেকে কোনো অনুপস্থিত বা বাকিতে থাকা বস্তু নগদের বিনিময়ে বিক্রি করো না হাতে হাতে ছাড়া»। ইমাম আহমাদ এবং তিরমিযী অনুরূপ বর্ণনা করেছেন, তবে তাঁদের বর্ণনায় তাঁর এই কথাটি নেই: «হাতে হাতে ছাড়া»। তিরমিযী বলেন: "এই অনুচ্ছেদে আবু বকর, উমর, উসমান, আবু হুরায়রা, হিশাম বিন আমের, বারা, যায়িদ বিন আরকাম, ফাদালা বিন উবাইদ, আবু বাকরাহ, ইবনে উমর, আবু দারদা এবং বিলাল থেকে বর্ণনা রয়েছে। তিনি আরও বলেন: সুদ সম্পর্কে নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) থেকে বর্ণিত আবু সাঈদের হাদীসটি হাসান সহীহ"। তিরমিযী যেসব হাদীসের প্রতি ইঙ্গিত করেছেন এবং 'রিবাল ফদল' ও 'রিবাল নাসীয়াহ' হারাম হওয়ার প্রমাণস্বরূপ অন্যান্য যেসব হাদীস রয়েছে, তা ইনশাআল্লাহ তাআলা সামনে আলোচিত হবে।
আহমাদের এক বর্ণনায় আবু সাঈদ (রাযিয়াল্লাহু আনহু) বলেন: আমার চক্ষু প্রত্যক্ষ করেছে এবং আমার কর্ণ শ্রবণ করেছে - এবং তিনি তাঁর দুই আঙুল দিয়ে তাঁর চক্ষু ও কর্ণের দিকে ইশারা করলেন - রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) থেকে যে, তিনি «সোনার বদলে সোনা এবং রুপার বদলে রুপা বিক্রি করতে নিষেধ করেছেন সমান সমান ও সমপরিমাণ ছাড়া। সাবধান, তোমরা অনুপস্থিত বা বাকিতে থাকা বস্তু নগদের বদলে বিক্রি করো না এবং একটিকে অন্যটির ওপর কম-বেশি করো না»। নাসাঈ অনুরূপ বর্ণনা করেছেন।
ইমাম বুখারী এটি সংক্ষিপ্ত আকারে সালেম বিন আব্দুল্লাহ থেকে, তিনি আব্দুল্লাহ বিন উমর (রাযিয়াল্লাহু আনহুমা) থেকে, তিনি আবু সাঈদ (রাযিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণনা করেছেন যে, তিনি মুদ্রা বিনিময় সম্পর্কে বলেছেন: আমি রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-কে বলতে শুনেছি: «সোনার বদলে সোনা সমান সমান এবং রুপার বদলে রুপা সমান সমান»।
(খণ্ড: ১)
আস সারিমুল বাত্তার লিল ইজহাযি আলা মান খালাফাল কিতাবা ওয়াস সুন্নাতা ওয়াল ইজমাআ ওয়াল আসার
(পৃষ্ঠা: ৩০)
وفي رواية لأحمد ومسلم عن سهيل عن أبيه عن أبي سعيد الخدري رضي الله عنه أن رسول الله صلى الله عليه وسلم قال: «لا تبيعوا الذهب بالذهب ولا والورق بالورق إلا وزنا بوزن مثلا بمثل سواء بسواء».
الحديث الخامس عشر: عن أبي المتوكل الناجي عن أبي سعيد الخدري رضي الله عنه قال: قال رسول الله صلى الله عليه وسلم: «الذهب بالذهب، والفضة بالفضة، والبُر بالبُر، والشعير بالشعير، والتمر بالتمر، والملح بالملح، مثلا بمثل يدا بيد، فمن زاد أو استزاد فقد أربى، الآخذ والمعطي فيه سواء» رواه الإمام أحمد ومسلم والنسائي.
الحديث السادس عشر: عن مالك بن أوس بن الحدثان النصري أنه التمس صرفا بمائة دينار قال: فدعاني طلحة بن عبيد الله فتراوضنا حتى اصطرف مني وأخذ الذهب يقلبها في يده ثم قال: حتى يأتيني خازني من الغابة وعمر بن الخطاب يسمع، فقال عمر: والله لا تفارقه حتى تأخذ منه، ثم قال: قال رسول الله صلى الله عليه وسلم: «الذهب بالورق ربا إلا هاء وهاء، والبر بالبر ربا إلا هاء وهاء، والتمر بالتمر ربا إلا هاء وهاء، والشعير بالشعير ربا إلا هاء وهاء» رواه مالك والشافعي وأحمد والبخاري ومسلم وأهل السنن، وليس في رواية أبي داود والنسائي قصة مالك بن أوس مع طلحة، وقد رواه الدارمي في سننه ولفظه عن مالك بن أوس بن الحدثان النصري عن عمر بن الخطاب رضي الله عنه قال: سمعت رسول الله صلى الله عليه وسلم يقول: «الذهب بالذهب هاء وهاء، والفضة بالفضة هاء وهاء، والتمر بالتمر هاء وهاء، والبر بالبر هاء وهاء، والشعير بالشعير هاء وهاء، لا فضل بينهما» قال الترمذي: "هذا حديث حسن صحيح والعمل على هذا عند أهل العلم، قال: ومعنى قوله «إلا هاء وهاء» يقول: يدا بيد". انتهى، وقال ابن الأثير في (النهاية): "هو أن يقول كل واحد من البيعين «ها» فيعطيه ما في يده كحديثه الآخر إلا يدا بيد، يعني مقابضة في المجلس، وقيل معناه هاك وهات أي خذ وأعط"، وقال النووي في (شرح مسلم): "قال العلماء: معناه التقابض، ففيه اشتراط التقابض في بيع الربوي بالربوي إذا اتفقا في علة الربا سواء اتفق جنسهما كذهب بذهب أم اختلف كذهب بفضه، ونبَّه صلى الله عليه وسلم في هذا الحديث بمختلف الجنس على متفقه". انتهى.
الحديث السابع عشر: عن عثمان بن عفان رضي الله عنه أن رسول الله صلى الله عليه وسلم قال: «لا تبيعوا الدينار بالدينارين ولا الدرهم بالدرهمين» رواه مسلم والبيهقي، وقد رواه مالك في الموطأ بلاغا، والشافعي عن مالك.
আহমদ ও মুসলিমের এক বর্ণনায় সুহাইল তার পিতা থেকে এবং তিনি আবু সাঈদ খুদরি (রা.) থেকে বর্ণনা করেন যে, রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন: “তোমরা সোনার বিনিময়ে সোনা এবং রুপার বিনিময়ে রুপা বিক্রি করো না ওজনের সমতা, পরিমাণে সমতা এবং সমানে সমান ব্যতিরেকে।”
পঞ্চদশ হাদিস: আবু আল-মুতাওয়াক্কিল আল-নাজি আবু সাঈদ খুদরি (রা.) থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন: “সোনার বিনিময়ে সোনা, রুপার বিনিময়ে রুপা, গমের বিনিময়ে গম, যবের বিনিময়ে যব, খেজুরের বিনিময়ে খেজুর এবং লবণের বিনিময়ে লবণ; পরিমাণে সমান এবং হাতে হাতে (নগদ) হতে হবে। যে ব্যক্তি বেশি দিল বা বেশি চাইল, সে সুদের কারবার করল। এক্ষেত্রে দাতা ও গ্রহীতা উভয়ই সমান।” এটি ইমাম আহমদ, মুসলিম ও নাসাঈ বর্ণনা করেছেন।
ষোড়শ হাদিস: মালিক বিন আওস বিন আল-হাদাছান আল-নাসরি থেকে বর্ণিত যে, তিনি একশ দিনারের বিনিময়ে মুদ্রা বিনিময় (সারফ) খুঁজছিলেন। তিনি বলেন: তখন তালহা বিন উবাইদুল্লাহ আমাকে ডাকলেন এবং আমরা দরদাম করলাম যতক্ষণ না তিনি আমার কাছ থেকে বিনিময় করতে সম্মত হলেন। তিনি সোনা হাতে নিয়ে উল্টেপাল্টে দেখতে লাগলেন এবং বললেন: “যতক্ষণ না আমার খাজাঞ্চি বন (আল-গাবাহ) থেকে ফিরে আসে (ততক্ষণ অপেক্ষা করো)।” উমর বিন আল-খাত্তাব (রা.) তা শুনছিলেন। তখন উমর (রা.) বললেন: “আল্লাহর কসম! তুমি তার থেকে (বিনিময়কৃত অর্থ) গ্রহণ না করা পর্যন্ত তার থেকে পৃথক হবে না।” অতঃপর তিনি বললেন: রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন: “রুপার বিনিময়ে সোনা বিক্রি করা সুদ, যদি না তা ‘নাও এবং দাও’ (নগদ) হয়। গমের বিনিময়ে গম বিক্রি করা সুদ, যদি না তা ‘নাও এবং দাও’ হয়। খেজুরের বিনিময়ে খেজুর বিক্রি করা সুদ, যদি না তা ‘নাও এবং দাও’ হয়। যবের বিনিময়ে যব বিক্রি করা সুদ, যদি না তা ‘নাও এবং দাও’ হয়।” এটি মালিক, শাফিঈ, আহমদ, বুখারি, মুসলিম এবং সুনান গ্রন্থকারগণ বর্ণনা করেছেন। তবে আবু দাউদ ও নাসাঈর বর্ণনায় তালহার সাথে মালিক বিন আওসের ঘটনার উল্লেখ নেই। দারেমি তাঁর সুনানে এটি মালিক বিন আওস বিন আল-হাদাছান আল-নাসরি সূত্রে উমর বিন আল-খাত্তাব (রা.) থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমি রাসুলুল্লাহ (সা.)-কে বলতে শুনেছি: “সোনার বিনিময়ে সোনা ‘নাও এবং দাও’, রুপার বিনিময়ে রুপা ‘নাও এবং দাও’, খেজুরের বিনিময়ে খেজুর ‘নাও এবং দাও’, গমের বিনিময়ে গম ‘নাও এবং দাও’, এবং যবের বিনিময়ে যব ‘নাও এবং দাও’। এদের মাঝে কোনো কমবেশি হওয়া চলবে না।” ইমাম তিরমিজি বলেন: “এই হাদিসটি হাসান সহিহ এবং ইলমে দ্বীনের ধারকগণের নিকট এর ওপরই আমল বিদ্যমান। তিনি বলেন: ‘নাও এবং দাও’ এর অর্থ হলো হাতে হাতে (নগদ)।” সমাপ্ত। ইবনুল আসির ‘আন-নিহায়াহ’ গ্রন্থে বলেন: “এর অর্থ হলো ক্রেতা-বিক্রেতা উভয়ে বলবে ‘নাও’, ফলে প্রত্যেকেই তার হাতের বস্তু অন্যকে অর্পণ করবে। যেমন অন্য হাদিসে ‘হাতে হাতে’ শব্দ এসেছে, অর্থাৎ মজলিসেই দখল গ্রহণ করা। কেউ কেউ বলেছেন এর অর্থ হলো ‘নাও এবং দাও’।” সমাপ্ত। ইমাম নববী ‘শারহ মুসলিম’-এ বলেন: “উলামায়ে কেরাম বলেছেন: এর অর্থ হলো দখল গ্রহণ করা। এতে প্রমাণিত হয় যে, যখন দুটি সুদ-প্রযোজ্য (রিববি) পণ্য বিনিময় করা হয় এবং তাদের সুদের কারণ (ইল্লাত) অভিন্ন হয়, তখন মজলিসেই দখল আদান-প্রদান করা শর্ত; চাই তাদের প্রকার এক হোক (যেমন সোনার বিনিময়ে সোনা) কিংবা ভিন্ন হোক (যেমন সোনার বিনিময়ে রুপা)। রাসুলুল্লাহ (সা.) এই হাদিসে ভিন্ন প্রকারের মাধ্যমে অভিন্ন প্রকারের হুকুমের ব্যাপারেও সতর্ক করেছেন।” সমাপ্ত।
সপ্তদশ হাদিস: উসমান বিন আফফান (রা.) থেকে বর্ণিত যে, রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন: “তোমরা এক দিনারের বিনিময়ে দুই দিনার এবং এক দিরহামের বিনিময়ে দুই দিরহাম বিক্রি করো না।” এটি মুসলিম ও বায়হাকি বর্ণনা করেছেন। ইমাম মালিক ‘মুয়াত্তা’-তে এটি সরাসরি (বালাগ) বর্ণনা করেছেন এবং ইমাম শাফিঈ মালিক থেকে বর্ণনা করেছেন।
(খণ্ড: ১)
আস সারিমুল বাত্তার লিল ইজহাযি আলা মান খালাফাল কিতাবা ওয়াস সুন্নাতা ওয়াল ইজমাআ ওয়াল আসার
(পৃষ্ঠা: ৩১)
الحديث الثامن عشر: عن عبادة بن الصامت رضي الله عنه قال: سمعت رسول الله صلى الله عليه وسلم «ينهي عن بيع الذهب بالذهب، والفضة بالفضة، والبُر بالبر، والشعير بالشعير، والتمر بالتمر، والملح بالملح، إلا سواء بسواء، عينا بعين، فمن زاد أو ازداد فقد أربى» رواه الشافعي وأحمد والدارمي ومسلم وأهل السنن وهذا لفظ مسلم. قال النووي: "قوله: «فمن زاد أو ازداد فقد أربي» معناه فقد فعل الربا المحرم، فدافع الزيادة وآخذها عاصيان". انتهى، وفي رواية لمسلم عن عبادة بن الصامت رضي الله عنه قال: قال رسول الله صلى الله عليه وسلم: «الذهب بالذهب، والفضة بالفضة، والبر بالبر، والشعير بالشعير، والتمر بالتمر، والملح بالملح، مثلا بمثل، سواء بسواء، يدا بيد، فإذا اختلفت هذه الأصناف فبيعوا كيف شئتم إذا كان يدا بيد» ورواه الإمام أحمد وأبو داود بنحوه، ورواه الترمذي والنسائي وابن ماجة بمعناه، وقال الترمذي "حديث حسن صحيح"، وفي رواية للنسائي: «ألا إن الذهب بالذهب وزنًا بوزن تبرها وعينها، وإن الفضة بالفضة وزنا بوزن تبرها وعينها» ونحوه في رواية أبي داود، قال الخطابي: "التبر قطع الذهب والفضة قبل أن تضرب وتطبع دراهم ودنانير، والعين المضروب من الدراهم والدنانير". انتهى.
الحديث التاسع عشر: عن أبي هريرة رضي الله عنه قال: قال رسول الله صلى الله عليه وسلم: «التمر بالتمر، والحنطة بالحنطة، والشعير بالشعير، والملح بالملح، مثلا بمثل، يدا بيد، فمن زاد أو استزاد فقد أربى، إلا ما اختلفت ألوانه» رواه الإمام أحمد ومسلم والنسائي. قوله: (ألوانه) قال النووي: "يعني أجناسه". وفي رواية لمسلم قال رسول الله صلى الله عليه وسلم: «الذهب بالذهب وزنا بوزن مثلا بمثل، والفضة بالفضة وزنا بوزن مثلا بمثل، فمن زاد أو استزاد فهو ربا» ورواه الإمام أحمد والنسائي بنحوه، ورواه ابن ماجة مختصرًا، ورواه الإمام أحمد أيضا ولفظه: «الذهب بالذهب، والفضة بالفضة، والورق بالورق، مثلا بمثل يدا بيد، من زاد أو ازداد فقد أربى» وروى مالك في الموطأ عن أبي هريرة رضي الله عنه أن رسول الله صلى الله عليه وسلم قال: «الدينار بالدينار والدرهم بالدرهم لا فضل بينهما» وقد رواه الشافعي وأحمد ومسلم والنسائي من طريق مالك، ورواه أحمد ومسلم أيضا من غير طريقه.
الحديث العشرون: عن أبي بكرة رضي الله عنه قال: «نهى رسول الله صلى الله عليه وسلم عن الفضة بالفضة والذهب بالذهب إلا سواء بسواء، وأمرنا أن نشتري الفضة بالذهب
অষ্টাদশ হাদীস: উবাদাহ ইবনে সামিত রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে বলতে শুনেছি, "তিনি স্বর্ণের বদলে স্বর্ণ, রূপার বদলে রূপা, গমের বদলে গম, যবের বদলে যব, খেজুরের বদলে খেজুর এবং লবণের বদলে লবণ বিক্রয় করতে নিষেধ করেছেন, তবে সমান সমান ও সমজাতীয় হতে হবে। যে ব্যক্তি বেশি দিল বা বেশি চাইল সে সুদ সংশ্লিষ্ট হলো।" এটি ইমাম শাফেয়ী, আহমাদ, দারেমী, মুসলিম এবং সুনান গ্রন্থকারগণ বর্ণনা করেছেন এবং এটি মুসলিমের শব্দ। ইমাম নববী বলেন: "তাঁর উক্তি: 'যে ব্যক্তি বেশি দিল বা বেশি চাইল সে সুদ সংশ্লিষ্ট হলো' এর অর্থ হলো সে হারাম সুদী কারবার করল; সুতরাং অতিরিক্ত দাতা ও গ্রহীতা উভয়ই পাপিষ্ঠ।" সমাপ্ত। মুসলিমের অন্য এক বর্ণনায় উবাদাহ ইবনে সামিত রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: "স্বর্ণের বদলে স্বর্ণ, রূপার বদলে রূপা, গমের বদলে গম, যবের বদলে যব, খেজুরের বদলে খেজুর এবং লবণের বদলে লবণ—পরিমাণে সমান, সমজাতীয় এবং হাতে হাতে হতে হবে। যখন এই শ্রেণীগুলো ভিন্ন ভিন্ন হবে, তখন তোমরা যেভাবে ইচ্ছা বিক্রয় করো যদি তা হাতে হাতে হয়।" ইমাম আহমাদ ও আবু দাউদ অনুরূপ বর্ণনা করেছেন এবং তিরমিযী, নাসাঈ ও ইবনে মাজাহ এর মর্মার্থ বর্ণনা করেছেন। তিরমিযী বলেছেন, "হাদীসটি হাসান সহীহ"। নাসাঈর এক বর্ণনায় আছে: "জেনে রেখো, স্বর্ণের বদলে স্বর্ণ ওজনের সমান হতে হবে, চাই তা কাঁচা সোনা হোক বা স্বর্ণমুদ্রা; এবং রূপার বদলে রূপা ওজনের সমান হতে হবে, চাই তা কাঁচা রূপা হোক বা রূপ্যমুদ্রা।" আবু দাউদের বর্ণনায়ও অনুরূপ রয়েছে। খাত্তাবী বলেন: "তিবর' হলো স্বর্ণ ও রূপার ওই টুকরোগুলো যা দিরহাম ও দিনার হিসেবে মুদ্রিত হওয়ার আগের অবস্থায় থাকে, আর 'আইন' হলো মুদ্রিত দিরহাম ও দিনার।" সমাপ্ত।
ঊনবিংশ হাদীস: আবু হুরায়রা রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: "খেজুরের বদলে খেজুর, গমের বদলে গম, যবের বদলে যব এবং লবণের বদলে লবণ—পরিমাণে সমান ও হাতে হাতে হতে হবে। যে ব্যক্তি বেশি দিল বা বেশি চাইল সে সুদ সংশ্লিষ্ট হলো, তবে যদি এগুলোর প্রকার (শ্রেণী) ভিন্ন হয় তবে ভিন্ন কথা।" এটি ইমাম আহমাদ, মুসলিম ও নাসাঈ বর্ণনা করেছেন। 'প্রকার' শব্দটির ব্যাপারে ইমাম নববী বলেন: "অর্থাৎ এর বিভিন্ন শ্রেণী।" মুসলিমের এক বর্ণনায় রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: "স্বর্ণের বদলে স্বর্ণ ওজনে সমান ও পরিমাণে সমান হতে হবে এবং রূপার বদলে রূপা ওজনে সমান ও পরিমাণে সমান হতে হবে। যে ব্যক্তি বেশি দিল বা বেশি চাইল তা সুদ।" ইমাম আহমাদ ও নাসাঈ অনুরূপ বর্ণনা করেছেন এবং ইবনে মাজাহ সংক্ষেপে বর্ণনা করেছেন। ইমাম আহমাদ আরও বর্ণনা করেছেন যার শব্দ হলো: "স্বর্ণের বদলে স্বর্ণ, রূপার বদলে রূপা এবং রৌপ্য মুদ্রার বদলে রৌপ্য মুদ্রা—পরিমাণে সমান ও হাতে হাতে হতে হবে; যে ব্যক্তি বেশি দিল বা বেশি চাইল সে সুদ সংশ্লিষ্ট হলো।" ইমাম মালেক মুয়াত্তায় আবু হুরায়রা রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণনা করেছেন যে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: "দিনারের বদলে দিনার এবং দিরহামের বদলে দিরহাম, এদের মধ্যে কোনো কম-বেশি নেই।" এটি ইমাম শাফেয়ী, আহমাদ, মুসলিম ও নাসাঈ ইমাম মালেকের সূত্র ধরে বর্ণনা করেছেন এবং আহমাদ ও মুসলিম অন্য সূত্র থেকেও বর্ণনা করেছেন।
বিংশ হাদীস: আবু বাকরা রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: "রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম রূপার বদলে রূপা এবং স্বর্ণের বদলে স্বর্ণ বিক্রয় করতে নিষেধ করেছেন সমান সমান হওয়া ব্যতীত, এবং তিনি আমাদের স্বর্ণ দিয়ে রূপা ক্রয় করার নির্দেশ দিয়েছেন..."