(খণ্ড: ১) শারহু কিতাবিস সুন্নাহ লিল বারবাহারী - আর রাজহী (পৃষ্ঠা: -)
شرح كتاب السنة للبربهاري - الراجحي   (عبد العزيز بن عبد الله الراجحي)

القسم: العقيدة


الكتاب: شرح كتاب السنة للبربهاري

المؤلف: عبد العزيز بن عبد الله بن عبد الرحمن الراجحي

مصدر الكتاب: دروس صوتية قام بتفريغها موقع الشبكة الإسلامية

http://www.islamweb.net

[ الكتاب مرقم آليا، ورقم الجزء هو رقم الدرس - 16 درسا]

تاريخ النشر بالشاملة: 15 جُمادَى الآخرة 1432

শরহ কিতাবুস সুন্নাহ লিল বারবাহারি - আল-রাজিহি   (আব্দুল আজিজ বিন আব্দুল্লাহ আল-রাজিহি)

বিভাগ: আকীদা


কিতাব: শরহ কিতাবুস সুন্নাহ লিল বারবাহারি

গ্রন্থকার: আব্দুল আজিজ বিন আব্দুল্লাহ বিন আব্দুল রহমান আল-রাজিহি

কিতাবের উৎস: অডিও পাঠসমূহ যা ইসলাম ওয়েব সাইট কর্তৃক প্রতিলিপি করা হয়েছে

http://www.islamweb.net

[ কিতাবটি স্বয়ংক্রিয়ভাবে নম্বরযুক্ত, এবং খণ্ড নম্বরটি হলো পাঠ নম্বর - ১৬টি পাঠ ]

শামিলাতে প্রকাশের তারিখ: ১৫ জুমাদাল আখিরা ১৪৩২

(খণ্ড: ১) শারহু কিতাবিস সুন্নাহ লিল বারবাহারী - আর রাজহী (পৃষ্ঠা: ১)
شرح كتاب السنة للبربهاري ‌‌[1]

الإسلام هو السنة والسنة هي الإسلام، فلا قيام لأحدهما دون الآخر، ومن كفر بالسنة أو زعم أنه لا حاجة إليها فقد مرق من الدين وخلع ربقة الإسلام.
ইমাম বারবাহারী রচিত কিতাবুস সুন্নাহর ব্যাখ্যা [১]

ইসলামই হলো সুন্নাহ এবং সুন্নাহই হলো ইসলাম, একটি ব্যতীত অন্যটির কোনো অস্তিত্ব নেই। যে ব্যক্তি সুন্নাহর সাথে কুফরি করল কিংবা দাবি করল যে এর কোনো প্রয়োজন নেই, সে দ্বীন থেকে বিচ্যুত হলো এবং ইসলামের বন্ধন ছিন্ন করল।
(খণ্ড: ১) শারহু কিতাবিস সুন্নাহ লিল বারবাহারী - আর রাজহী (পৃষ্ঠা: ২)
‌‌شرح مقدمة الكتاب
গ্রন্থের ভূমিকার ব্যাখ্যা
(খণ্ড: ১) শারহু কিতাবিস সুন্নাহ লিল বারবাহারী - আর রাজহী (পৃষ্ঠা: ৩)
‌‌تعريف السنة

بسم الله الرحمن الرحيم الحمد لله رب العالمين، وصلى الله وسلم وبارك على عبد الله ورسوله نبينا محمد وعلى آله وصحبه أجمعين.

أما بعد: فسوف نشرح -إن شاء الله- كتاب السنة للعالم الفاضل الحنبلي أبي محمد الحسن بن علي بن خلف البربهاري وقد سمي بـ البربهاري نسبة إلى الأدوية التي تجلب من الهند، والمتوفى سنة (329) هجرية، فهو من علماء القرن الرابع والقرن الثالث الهجريين.

وقد سمى هذه الرسالة: شرح السنة، والسنة هي ما جاء به الرسول عليه الصلاة والسلام من الوحي عن الله عز وجل، وهي الوحي الثاني، وتشمل: مسائل الاعتقاد، ومسائل الفقه، قال عليه الصلاة والسلام في الحديث الصحيح: (ألا إني أوتيت القرآن ومثله معه)، فالسنة وحي ثانٍ، وقال الله عز وجل: {وَمَا يَنْطِقُ عَنِ الْهَوَى * إِنْ هُوَ إِلَّا وَحْيٌ يُوحَى} [النجم:3 - 4].

والسنة عند العلماء القدامى تشمل قول النبي صلى الله عليه وسلم وفعله وتقريره، وتشمل الواجب والمستحب، واصطلح المتأخرون من الفقهاء والأصوليين على إطلاق السنة على المندوب والمستحب.

ومراد المؤلف رحمه الله بقوله: شرح السنة، ما جاء به الرسول عليه الصلاة والسلام من مسائل الاعتقاد والإيمان والجنة والنار، ومسائل الفقه أيضاً، ويشمل ما ثبت عن النبي صلى الله عليه وسلم من قوله أو فعله أو تقريره، كما يبين المؤلف رحمه الله حيث يقول: السنة هي الإسلام والإسلام هو السنة، وقد قال الله تعالى في كتابه العظيم: {وَمَا آتَاكُمُ الرَّسُولُ فَخُذُوهُ وَمَا نَهَاكُمْ عَنْهُ فَانْتَهُوا} [الحشر:7].

وقد ثبت في صحيح البخاري أن عبد الله بن مسعود رضي الله عنه جاءته امرأة وكان قد قال رضي الله عنه: لعن الله النامصة والمتنمصة، وما لي لا ألعن من لعن الله.

فجاءت امرأة فقالت: إنك تقول إن لعن النامصة في القرآن، وإني قرأت ما بين اللوحين فلم أجد فيه ما ذكرت من لعن النامصة.

فقال رضي الله عنه: إن كنت قرأته فقد وجدته، أما تقرئين قول الله عز وجل: {وَمَا آتَاكُمُ الرَّسُولُ فَخُذُوهُ وَمَا نَهَاكُمْ عَنْهُ فَانْتَهُوا} [الحشر:7]، وقال سبحانه: {قُلْ أَطِيعُوا اللَّهَ وَأَطِيعُوا الرَّسُولَ} [النور:54].

ومن أنكر السنة وزعم أنه لا يعمل بها أو أنه لا حاجة إليها فهو كافر بإجماع المسلمين، وقد بين بعض السلف أن السنة هي التي توضح المشكل من القرآن وهي التي تقيد المطلق، وهي التي تخصص العام، ففي القرآن العظيم وجوب الصلاة، لكن ليس فيه بيان عدد الصلوات وأنها خمس صلوات في اليوم والليلة، وإن كان قد يؤخذ هذا من قوله تعالى إجمالاً: {وَسَبِّحْ بِحَمْدِ رَبِّكَ قَبْلَ طُلُوعِ الشَّمْسِ وَقَبْلَ غُرُوبِهَا} [طه:130].

وليس في القرآن بيان عدد ركعات صلاة الظهر، ولا عدد ركعات صلاة العصر، ولا عدد ركعات صلاة المغرب، ولا عدد ركعات صلاة العشاء أو صلاة الفجر.

وقد أوجب الله في القرآن الزكاة، ولكن ليس في القرآن بيان اشتراط وجوب النصاب وبيان اشتراط الحول.

وفي القرآن بيان وجوب الحج، وليس فيه تفصيل المناسك، وأنه يجب على الإنسان أن يقف بعرفة في اليوم التاسع وأنه ركن الحج الأعظم، ويجب عليه أن يقف بمنى ومزدلفة وأن يرمي الجمار.

فمن يزعم أنه لا يحتاج إلى السنة فلا دين له، وكما سيأتي أن السنة تقضي على القرآن والقرآن لا يقضي على السنة، ولهذا ألف العلماء الكتب في العقائد وفي مسائل الإيمان ودخول الأعمال في مسمى السنة، كما ألف الإمام أحمد رحمه الله كتاب السنة، والسنة لابنه عبد الله، والسنة لـ ابن أبي عاصم، ومنها ما ألفه المؤلف.

فالمقصود أن السنة اسم عام يشمل مسائل الإيمان ومسائل التوحيد ويشمل الفروع والأصول، ولهذا فإن المؤلف رحمه الله ذكر في هذا الكتاب جملاً كثيرة من مسائل التوحيد والإيمان، وجملاً كثيرة من مسائل الفقه، وهذه المسائل والموضوعات كثيرة جداً، ولو أردنا أن نتوقف طويلاً عند كل مسألة لما تجاوزنا الصفحة الأولى من الكتاب أو لما تجاوزنا مسألة أو مسألتين، ولكننا إن شاء الله نتكلم على كل مسألة بما يغلب على الظن أن فيه الفائدة، ونحاول أن نأتي على جميع المسائل بحول الله وقوته مع بيان وإيضاح المراد باختصار غير مخل حتى تعم الفائدة إن شاء الله تعالى، ونسأل الله أن يرزقنا الإخلاص في العمل والصدق في القول، ونعوذ بالله من فتنة القول كما نعوذ به من فتنة العمل، ونسأله سبحانه وتعالى أن يثبتنا وإياكم على دينه القويم إنه ولي ذلك والقادر عليه، وصلى الله وسلم على عبد الله ورسوله نبينا محمد وعلى آله وصحبه أجمعين.
সুন্নাহর সংজ্ঞা

পরম করুণাময় অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে। সমস্ত প্রশংসা বিশ্বজগতের প্রতিপালক আল্লাহর জন্য, এবং সালাত ও সালাম ও বরকত বর্ষিত হোক আল্লাহর বান্দা ও রাসূল আমাদের নবী মুহাম্মাদ এবং তাঁর পরিবার-পরিজন ও সকল সাহাবীর ওপর।

অতঃপর: আমরা ইনশাআল্লাহ বিদগ্ধ হাম্বলী আলিম আবু মুহাম্মাদ আল-হাসান বিন আলী বিন খালাফ আল-বারবাহারী রচিত 'কিতাবুস সুন্নাহ' ব্যাখ্যা করব। ভারত থেকে আমদানিকৃত ঔষধের (বারবাহার) দিকে নিসবত করে তাকে 'আল-বারবাহারী' বলা হয়। তিনি ৩২৯ হিজরীতে মৃত্যুবরণ করেন, ফলে তিনি হিজরী চতুর্থ ও তৃতীয় শতাব্দীর আলিমদের অন্তর্ভুক্ত।

তিনি এই রিসালাটির নাম দিয়েছেন: শারহুস সুন্নাহ (সুন্নাহর ব্যাখ্যা)। সুন্নাহ হলো তা-ই যা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আল্লাহর পক্ষ থেকে ওহী হিসেবে নিয়ে এসেছেন। এটি হলো দ্বিতীয় ওহী, এবং এর মধ্যে রয়েছে: আকীদার বিষয়াবলী ও ফিকহের বিষয়াবলী। তিনি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সহীহ হাদীসে বলেছেন: (জেনে রেখো, আমাকে কুরআন দেওয়া হয়েছে এবং এর সাথে এর অনুরূপ কিছু (সুন্নাহ) দেওয়া হয়েছে)। সুতরাং সুন্নাহ হলো দ্বিতীয় ওহী। আল্লাহ আযযা ওয়া জাল বলেছেন: {আর তিনি মনগড়া কথা বলেন না। এটি তো কেবল ওহী যা তাঁর প্রতি প্রত্যাদেশ হয়} [আন-নাজম: ৩-৪]।

প্রাচীন আলিমদের নিকট সুন্নাহ বলতে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের কথা, কাজ এবং মৌনসম্মতিকে বোঝায়। এটি ওয়াজিব ও মুস্তাহাব উভয়কেই অন্তর্ভুক্ত করে। তবে পরবর্তীকালের ফকীহ ও উসুলবিদগণ কেবল মানদুব ও মুস্তাহাব কাজের ওপর সুন্নাহ শব্দটি প্রয়োগ করার পরিভাষা গ্রহণ করেছেন।

লেখক রাহিমাহুল্লাহ 'শারহুস সুন্নাহ' বলে যা বুঝিয়েছেন তা হলো আকীদা, ঈমান, জান্নাত ও জাহান্নামের বিষয়াবলী এবং ফিকহের বিষয়াবলী যা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম নিয়ে এসেছেন। এটি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে প্রমাণিত তাঁর কথা, কাজ বা মৌনসম্মতিকেও অন্তর্ভুক্ত করে। যেমন লেখক রাহিমাহুল্লাহ নিজেই তা বর্ণনা করেছেন যেখানে তিনি বলেন: সুন্নাহই হলো ইসলাম এবং ইসলামই হলো সুন্নাহ। আল্লাহ তাআলা তাঁর মহান কিতাবে বলেছেন: {রাসূল তোমাদের যা দেন তা গ্রহণ করো এবং যা থেকে তোমাদের নিষেধ করেন তা থেকে বিরত থাকো} [আল-হাশর: ৭]।

সহীহ বুখারীতে প্রমাণিত হয়েছে যে, আব্দুল্লাহ বিন মাসউদ রাযিয়াল্লাহু আনহু এর নিকট এক মহিলা আসলেন। তিনি (ইবনে মাসউদ) বলেছিলেন: আল্লাহ লানত করেছেন সেই নারীদের ওপর যারা কপালে উল্কি আঁকে এবং যারা কপাল থেকে চুল চেঁছে ফেলে, আর আমি কেন তাকে লানত করব না যাকে আল্লাহ লানত করেছেন?

তখন এক মহিলা এসে বলল: আপনি বলছেন যে কপালে উল্কি আঁকার ওপর লানত কুরআনে রয়েছে, অথচ আমি দুই মলাটের মাঝে যা আছে তা সব পড়েছি কিন্তু আপনি যা বলেছেন সেই লানতের কথা কোথাও পাইনি।

তিনি রাযিয়াল্লাহু আনহু বললেন: তুমি যদি তা পড়তে তবে অবশ্যই পেতে। তুমি কি আল্লাহ আযযা ওয়া জালের এই বাণীটি পড়োনি: {রাসূল তোমাদের যা দেন তা গ্রহণ করো এবং যা থেকে তোমাদের নিষেধ করেন তা থেকে বিরত থাকো} [আল-হাশর: ৭]। আর আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআলা বলেছেন: {বলো, তোমরা আল্লাহর আনুগত্য করো এবং রাসূলের আনুগত্য করো} [আন-নূর: ৫৪]।

যে ব্যক্তি সুন্নাহকে অস্বীকার করে এবং দাবি করে যে সে সুন্নাহ অনুযায়ী আমল করবে না অথবা এর কোনো প্রয়োজন নেই, সে মুসলিমদের ঐক্যমত অনুযায়ী কাফির। সালাফদের কেউ কেউ বর্ণনা করেছেন যে, সুন্নাহই কুরআনের অস্পষ্ট বিষয়কে স্পষ্ট করে, মুতলাক (সাধারণ) বিষয়কে সীমাবদ্ধ করে এবং আম (ব্যাপক) বিষয়কে খাস (সুনির্দিষ্ট) করে। মহান কুরআনে সালাত বা নামাযের আবশ্যকতা বর্ণিত হয়েছে, কিন্তু তাতে নামাযের সংখ্যা এবং দিনে ও রাতে যে পাঁচ ওয়াক্ত নামায তা স্পষ্ট করে বলা হয়নি। যদিও মহান আল্লাহর এই বাণী থেকে তা সংক্ষেপে নেওয়া যেতে পারে: {এবং তোমার প্রতিপালকের সপ্রশংস পবিত্রতা ঘোষণা করো সূর্যোদয়ের পূর্বে ও সূর্যাস্তের পূর্বে} [ত্বাহা: ১৩০]।

কুরআনে যুহর নামাযের রাকাত সংখ্যা, আসর নামাযের রাকাত সংখ্যা, মাগরিবের রাকাত সংখ্যা, ইশা কিংবা ফজরের নামাযের রাকাত সংখ্যার কোনো বর্ণনা নেই।

আল্লাহ কুরআনে যাকাত ফরজ করেছেন, কিন্তু যাকাত ওয়াজিব হওয়ার জন্য নিসাব ও এক বছর অতিবাহিত হওয়ার শর্তের বর্ণনা কুরআনে নেই।

কুরআনে হজ ফরজ হওয়ার বর্ণনা রয়েছে, কিন্তু হজের কার্যাবলীর বিস্তারিত বিবরণ নেই। যেমন মানুষের জন্য নবম দিনে আরাফাতের ময়দানে অবস্থান করা যে হজের সবচেয়ে বড় রুকন, এবং মিনা ও মুযদালিফায় অবস্থান করা এবং জামারাতে পাথর নিক্ষেপ করা যে আবশ্যক, তা সেখানে নেই।

সুতরাং যে ব্যক্তি দাবি করবে যে তার সুন্নাহর কোনো প্রয়োজন নেই, তার কোনো দ্বীন নেই। সামনে যেমনটি আসবে যে, সুন্নাহ কুরআনের ওপর ফয়সালাকারী হিসেবে আসে কিন্তু কুরআন সুন্নাহর ওপর ফয়সালাকারী হয়ে আসে না। এই কারণেই আলিমগণ আকীদা, ঈমান ও আমলকে সুন্নাহর অন্তর্ভুক্ত করার বিষয়ে বিভিন্ন গ্রন্থ রচনা করেছেন। যেমন ইমাম আহমাদ রাহিমাহুল্লাহ 'কিতাবুস সুন্নাহ' রচনা করেছেন, ইমাম আহমাদের পুত্র আব্দুল্লাহ 'আস-সুন্নাহ' রচনা করেছেন, ইবনে আবী আসিম 'আস-সুন্নাহ' রচনা করেছেন এবং এগুলোর মধ্যে একটি হলো বর্তমান লেখকের এই গ্রন্থ।

মূল কথা হলো, সুন্নাহ একটি ব্যাপক নাম যা ঈমানের বিষয়াবলী, তাওহীদের বিষয়াবলী এবং শাখা-প্রশাখা ও মূল বিষয়সমূহকে অন্তর্ভুক্ত করে। এই কারণেই লেখক রাহিমাহুল্লাহ এই গ্রন্থে তাওহীদ ও ঈমানের অনেক বিষয় এবং ফিকহের অনেক বিষয় উল্লেখ করেছেন। এই মাসআলা ও বিষয়গুলো অত্যন্ত ব্যাপক। আমরা যদি প্রতিটি মাসআলায় দীর্ঘ সময় অতিবাহিত করতে চাই তবে আমরা বইটির প্রথম পৃষ্ঠাও পার করতে পারব না অথবা একটি বা দুটি মাসআলার বেশি এগোতে পারব না। তবে আমরা ইনশাআল্লাহ প্রতিটি মাসআলার ওপর ততটুকুই আলোচনা করব যা আমাদের ধারণায় উপকারী হবে। আমরা আল্লাহর শক্তিতে ও সামর্থ্যে প্রতিটি মাসআলা সম্পর্কে সংক্ষিপ্ত অথচ অসম্পূর্ণ নয় এমন ব্যাখ্যার মাধ্যমে তা সম্পন্ন করার চেষ্টা করব যেন সকলের উপকার হয়, ইনশাআল্লাহ তাআলা। আমরা আল্লাহর নিকট আমাদের কাজের ইখলাস এবং কথার সততা প্রার্থনা করি। আমরা বাচনিক ফিতনা থেকে আল্লাহর আশ্রয় চাই যেমনটি আশ্রয় চাই কর্মগত ফিতনা থেকে। আমরা আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআলার নিকট প্রার্থনা করি যেন তিনি আমাদের ও আপনাদের তাঁর সঠিক দ্বীনের ওপর অবিচল রাখেন; নিশ্চয়ই তিনি এর অভিভাবক ও এতে সক্ষম। আর আল্লাহর বান্দা ও রাসূল আমাদের নবী মুহাম্মাদ এবং তাঁর পরিবার-পরিজন ও সকল সাহাবীর ওপর আল্লাহর সালাত ও সালাম বর্ষিত হোক।
(খণ্ড: ১) শারহু কিতাবিস সুন্নাহ লিল বারবাহারী - আর রাজহী (পৃষ্ঠা: ৪)
‌‌تعريف الحمد والفرق بينه وبين الثناء والمدح

قال المؤلف رحمه الله تعالى: [الحمد لله الذي هدانا للإسلام، ومن علينا به، وأخرجنا في خير أمة، فنسأله التوفيق لما يحب ويرضى، والحفظ مما يكره ويسخط].

ابتدأ المؤلف هذه الرسالة بالحمد لله اقتداء بالكتاب العزيز، فالله تعالى افتتح كتابه بالحمد لله رب العالمين، والحمد هو الثناء على المحمود بالصفات والنعم المتعدية مع حبه وإجلاله، بخلاف الثناء على المحمود بالصفات الثابتة الملازمة التي لا تتعدى فإنه يسمى مدحاً، فالثناء على المحمود بالصفات الاختيارية التي يفعلها باختياره يسمى ثناء، والثناء عليه بالصفات الملازمة التي لا تكون له باختيار يسمى مدحاً، ولا يسمى حمداً.

والحمد أكمل من المدح، فأنت تمدح الأسد بأنه قوي، ولا يسمى هذا حمداً؛ وتمدح الرجل بالكرم والشجاعة والإحسان فيكون هذا حمداً؛ لأن هذه الصفة باختياره وقعت منه باختياره.

والله تعالى له جميع المحامد، ملكاً واستحقاقاً، فهو سبحانه وتعالى ذو العبودية والألوهية على خلقه أجمعين وما في العباد من نعمة فمن الله، قال تعالى: {وَمَا بِكُمْ مِنْ نِعْمَةٍ فَمِنِ اللَّهِ} [النحل:53]، فالله تعالى هو المحمود؛ لما اتصف به من الصفات العظيمة وبما أنعم به على عباده سبحانه وتعالى، فجميع أنواع المحامد لله ملكاً واستحقاقاً، ولهذا استفتح الله تعالى كتابه العزيز بالحمد لله رب العالمين، ثم قال: {الرَّحْمَنِ الرَّحِيمِ} [الفاتحة:3] ثناء بعد ثناء.

قال المؤلف رحمه الله: (الحمد لله الذي هدانا للإسلام) وهذه من النعم المتعدية، قال تعالى عن أهل الجنة: {وَقَالُوا الْحَمْدُ لِلَّهِ الَّذِي هَدَانَا لِهَذَا وَمَا كُنَّا لِنَهْتَدِيَ لَوْلا أَنْ هَدَانَا اللَّهُ} [الأعراف:43]، فهذه من النعم العظيمة التي لا يحمد بها إلا الرب عز وجل، فلولا هداية الله لنا بالإسلام لما كنا مهتدين، لكنه هدانا سبحانه وتعالى، فنحمده سبحانه وتعالى على نعمة الإسلام ونسأله أن يثبتنا عليها حتى الممات.
প্রশংসার (হামদ) সংজ্ঞা এবং এর সাথে ছানা (গুণগান) ও মাদহ-এর (স্তুতি) পার্থক্য

লেখক (রহিমাহুল্লাহ তায়ালা) বলেছেন: [সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর জন্য, যিনি আমাদের ইসলামের হেদায়েত দিয়েছেন, এর মাধ্যমে আমাদের ওপর অনুগ্রহ করেছেন এবং আমাদের সর্বোত্তম উম্মত হিসেবে বের করেছেন। সুতরাং আমরা তাঁর কাছে সেই তাওফিক প্রার্থনা করি যা তিনি পছন্দ করেন ও যাতে তিনি সন্তুষ্ট হন, এবং সেই সব বিষয় থেকে রক্ষা চাই যা তিনি অপছন্দ করেন ও যাতে তিনি অসন্তুষ্ট হন]।

লেখক এই পুস্তিকাটি মহান কিতাবের অনুসরণে 'আলহামদুলিল্লাহ' দিয়ে শুরু করেছেন; কেননা আল্লাহ তায়ালা তাঁর কিতাব 'আলহামদুলিল্লাহি রাব্বিল আলামিন' দিয়ে শুরু করেছেন। আর 'হামদ' হলো প্রশংসিত সত্তার ঐচ্ছিক গুণাবলী এবং অন্যদের প্রতি সঞ্চারিত নিয়ামতসমূহের জন্য ভালোবাসা ও সম্মানের সাথে তাঁর গুণকীর্তন করা। পক্ষান্তরে, প্রশংসিত সত্তার সেই সব স্থায়ী ও অবিচ্ছেদ্য গুণাবলীর প্রশংসা করা যা অন্যের প্রতি সঞ্চারিত হয় না, তাকে 'মাদহ' বলা হয়। সুতরাং প্রশংসিত সত্তার ঐসব ঐচ্ছিক গুণাবলীর প্রশংসা করা যা তিনি নিজের ইচ্ছায় সম্পাদন করেন, তাকে 'ছানা' বলা হয়। আর তাঁর এমন গুণাবলীর বর্ণনা যা তাঁর ইচ্ছাধীন নয়, তাকে 'মাদহ' বলা হয়, 'হামদ' বলা হয় না।

'হামদ' হলো 'মাদহ'-এর চেয়ে অধিক পূর্ণাঙ্গ। যেমন—আপনি সিংহের প্রশংসা করে বলেন যে সেটি শক্তিশালী, কিন্তু একে 'হামদ' বলা হয় না; তবে আপনি কোনো ব্যক্তির প্রশংসা করেন তার দানশীলতা, বীরত্ব ও উপকারের কারণে, তখন এটি 'হামদ' হিসেবে গণ্য হয়। কারণ এই গুণটি তার ইচ্ছায় এবং তার থেকে ঐচ্ছিকভাবে প্রকাশ পেয়েছে।

মালিকানা ও অধিকারের দিক থেকে সমস্ত প্রশংসা একমাত্র আল্লাহ তায়ালারই প্রাপ্য। তিনি সুবহানাহু ওয়া তায়ালা তাঁর সমস্ত সৃষ্টির ওপর বন্দেগি ও উলুহিয়্যাতের অধিকারী। বান্দাদের নিকট যা কিছু নিয়ামত আছে তা আল্লাহর পক্ষ থেকেই। মহান আল্লাহ বলেন: {তোমাদের কাছে যে নিয়ামতই আছে তা আল্লাহর পক্ষ থেকে} [নাহল: ৫৩]। সুতরাং আল্লাহ তায়ালই প্রশংসিত; কারণ তিনি মহান গুণাবলীতে গুণান্বিত এবং তিনি তাঁর বান্দাদের ওপর অজস্র নেয়ামত দান করেছেন। অতএব, সর্বপ্রকার প্রশংসা মালিকানা ও পাওনা হিসেবে একমাত্র আল্লাহরই। এই কারণেই আল্লাহ তায়ালা তাঁর মহান কিতাব 'আলহামদুলিল্লাহি রাব্বিল আলামিন' দিয়ে শুরু করেছেন। অতঃপর তিনি বলেছেন: {আর-রাহমানির রাহিম} [ফাতিহা: ৩], যা প্রশংসার পর পুনঃপ্রশংসা।

লেখক (রহিমাহুল্লাহ) বলেছেন: (সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর জন্য যিনি আমাদের ইসলামের হেদায়েত দিয়েছেন), আর এটি হলো অন্যের প্রতি সঞ্চারিত নিয়ামতসমূহের অন্তর্ভুক্ত। আল্লাহ তায়ালা জান্নাতবাসীদের সম্পর্কে বলেছেন: {তারা বলবে, সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর জন্য যিনি আমাদের এই পথের দিশা দিয়েছেন, আল্লাহ আমাদের পথ না দেখালে আমরা কখনো পথ পেতাম না} [আরাফ: ৪৩]। এটি সেই সব মহান নিয়ামতের অন্তর্ভুক্ত যার জন্য একমাত্র রব আজ্জা ওয়া জাল্ল ব্যতীত অন্য কারো প্রশংসা করা যায় না। আল্লাহ যদি আমাদের ইসলামের হেদায়েত না দিতেন তবে আমরা হেদায়েতপ্রাপ্ত হতাম না। কিন্তু তিনি সুবহানাহু ওয়া তায়ালা আমাদের হেদায়েত দিয়েছেন। সুতরাং আমরা ইসলামের নিয়ামতের জন্য তাঁর প্রশংসা করছি এবং তাঁর কাছে প্রার্থনা করছি যেন তিনি আমাদের মৃত্যু পর্যন্ত এর ওপর অটল রাখেন।
(খণ্ড: ১) শারহু কিতাবিস সুন্নাহ লিল বারবাহারী - আর রাজহী (পৃষ্ঠা: ৫)
‌‌تعريف الإسلام

والإسلام: هو الاستسلام لله بالتوحيد والخضوع والذل، والانقياد لله تعالى بالتوحيد، وأداء الأوامر واجتناب النواهي.

وسمي الإسلام إسلاماً لما فيه من الاستسلام والانقياد لأوامر الله عز وجل والانتهاء عن نواهيه، فالمسلم منقاد مستسلم لأمر الله خاضع ذليل، فالإسلام هو الاستسلام لله تعالى بالتوحيد والانقياد له بالطاعة والخلوص والبراءة من الشرك وأهله، ولهذا قال المؤلف رحمه الله: (الحمد لله الذي هدانا للإسلام ومن علينا به) ولا شك أن الله تعالى هو الذي من علينا، والعباد ليس لهم حق على الله، لكن الله هو الذي تفضل عليهم وأنعم عليهم، فالله تعالى له النعمة وله الفضل، فنحمده سبحانه أن هدانا للإسلام ومن علينا بالإيمان، كما قال الله سبحانه وتعالى في ضعفاء الإيمان في سورة الحجرات: {يَمُنُّونَ عَلَيْكَ أَنْ أَسْلَمُوا قُلْ لا تَمُنُّوا عَلَيَّ إِسْلامَكُمْ بَلِ اللَّهُ يَمُنُّ عَلَيْكُمْ أَنْ هَدَاكُمْ لِلإِيمَانِ إِنْ كُنتُمْ صَادِقِينَ} [الحجرات:17].

ثم قال المؤلف رحمه الله: (وأخرجنا في خير أمة) يعني: فنحمد الله على هذه الأمور، نحمد الله على أن هدانا للإسلام وأخرجنا في خير أمة وهي أمة محمد صلى الله عليه وسلم، كما قال الله عز وجل: {كُنْتُمْ خَيْرَ أُمَّةٍ أُخْرِجَتْ لِلنَّاسِ تَأْمُرُونَ بِالْمَعْرُوفِ وَتَنْهَوْنَ عَنِ الْمُنكَرِ وَتُؤْمِنُونَ بِاللَّهِ} [آل عمران:110].

وهذه الخيرية إنما حصلت للأمة بالإيمان بالله ورسوله وبالأمر بالمعروف وبالنهي عن المنكر، فمن حقق هذه الصفات حصلت له الخيرية، ومن ضيع هذه الصفات فاتته الخيرية.

والإيمان بالله هو أصل الدين وأساس الملة، ولكن قدم الأمر بالمعروف والنهي عن المنكر في الآية لأهميتهما وعظم شأنهما، ولأنهما قوام الدين، فالدين كله أمر ونهي، فأنت تأمر نفسك بالخير وتنهاها عن الشر، وتأمر غيرك بالخير وتنهاه عن الشر، فتأتمر بالأوامر، وتنهى نفسك عن النواهي، وتأمر غيرك بالأوامر وتنهاه عن النواهي، ولهذا قدم الله تعالى الأمر بالمعروف والنهي عن المنكر في هذه الآية، وإن كان الإيمان بالله هو أصل الدين وأساس الملة.

ثم قال المؤلف رحمه الله: (فنسأله التوفيق لما يحب ويرضى، والحفظ مما يكره ويسخط)، وهذا دعاء المؤلف رحمه الله لطالب العلم، فهو يعلمك وينصحك ويدعو لك، فقد سأل لنفسه ولإخوانه وللطلبة، قال: (نسأله التوفيق لما يحب ويرضى)، يعني: نسأل الله أن يوفقنا لما يحب ويرضى، والذي يحبه ويرضاه هو ما شرعه في كتابه وعلى لسان رسوله، فهو يحب سبحانه وتعالى من عباده أن يعبدوه ويوحدوه ويخلصوا له العبادة ويمتثلوا الأوامر ويجتنبوا النواهي.

التوفيق: يعني الإعانة الإلهية، وهو إعانة يخص الله بها المؤمن، والتوفيق من الله والإعانة من الله، فالإعانة نعمة جليلة خص الله بها المؤمن دون غيره، وحبب إليه الإيمان وكره إليه الكفر والفسوق والعصيان، كما قال سبحانه وتعالى: {حَبَّبَ إِلَيْكُمُ الإِيمَانَ وَزَيَّنَهُ فِي قُلُوبِكُمْ وَكَرَّهَ إِلَيْكُمُ الْكُفْرَ وَالْفُسُوقَ وَالْعِصْيَانَ أُوْلَئِكَ هُمُ الرَّاشِدُونَ * فَضْلًا مِنَ اللَّهِ وَنِعْمَةً} [الحجرات:7 - 8]، فالمؤمن له نعمة جلية فقد أنعم عليه نعمة جلية وخصه بها دون الكافر، فلولا الإعانة من الله لما اهتدى المهتدون، ولهذا سأل المؤلف رحمه الله الإعانة والتوفيق من الله.

قال: (ونسأله سبحانه التوفيق لما يحب ويرضى) أي: من الأقوال والأعمال، فيفعل المسلم ما يحبه الله ويرضاه من الأقوال والأعمال ويترك ما يسخطه من الأقوال والأعمال، ولهذا قال: (والحفظ مما يكره ويسخط) يعني: نسأل الله أن يحفظنا مما يكره ويسخط وهي النواهي، وأعظمها الشرك بالله عز وجل، ثم العدوان على الناس في الدماء والأموال، والعدوان على الناس في الأعراض، فهذا دعاء عظيم جعله المؤلف رحمه الله في مقدمة هذه الرسالة بعد حمد الله والثناء عليه.

ثم بعد ذلك شرع المؤلف رحمه الله في تفاصيل مسائل السنة.
ইসলামের পরিচয়

আর ইসলাম হলো: তাওহীদের মাধ্যমে আল্লাহর কাছে আত্মসমর্পণ করা, তাঁর অনুগত হওয়া ও বিনীত হওয়া এবং তাওহীদের মাধ্যমে মহান আল্লাহর আনুগত্য করা, আদেশসমূহ পালন করা এবং নিষেধসমূহ বর্জন করা।

ইসলামকে ইসলাম নামকরণ করা হয়েছে কারণ এতে আল্লাহ আযযা ওয়া জাল্লার আদেশের প্রতি আত্মসমর্পণ ও আনুগত্য এবং তাঁর নিষেধসমূহ থেকে বিরত থাকা নিহিত রয়েছে। সুতরাং মুসলিম হলেন তিনি, যিনি আল্লাহর আদেশের অনুগত, আত্মসমর্পণকারী, বিনীত ও হীন। অতএব ইসলাম হলো তাওহীদের মাধ্যমে মহান আল্লাহর নিকট আত্মসমর্পণ, আনুগত্যের মাধ্যমে তাঁর অনুগমন এবং শিরক ও মুশরিকদের থেকে মুক্ত ও সম্পর্কহীন হওয়া। এ কারণেই লেখক (রহিমাহুল্লাহ) বলেছেন: (সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর জন্য যিনি আমাদের ইসলামের দিকে হেদায়েত করেছেন এবং এর মাধ্যমে আমাদের ওপর অনুগ্রহ করেছেন)। এতে কোনো সন্দেহ নেই যে, মহান আল্লাহই আমাদের ওপর অনুগ্রহ করেছেন। আল্লাহর ওপর বান্দাদের কোনো হক নেই, বরং আল্লাহই তাদের ওপর করুণা ও অনুগ্রহ করেছেন। সুতরাং মহান আল্লাহর জন্যই সমস্ত নেয়ামত ও শ্রেষ্ঠত্ব। অতএব আমরা তাঁর পবিত্রতা বর্ণনা করছি যে তিনি আমাদের ইসলামের দিকে হেদায়েত করেছেন এবং ঈমানের মাধ্যমে আমাদের ধন্য করেছেন। যেমনটি মহান আল্লাহ সূরা আল-হুজুরাতে ঈমানে দুর্বলদের সম্পর্কে বলেছেন: {তারা আপনার প্রতি ইসলাম কবুল করে অনুগ্রহ প্রকাশ করছে। বলুন, তোমরা তোমাদের ইসলাম গ্রহণকে আমার ওপর অনুগ্রহ মনে করো না, বরং আল্লাহই তোমাদের ওপর অনুগ্রহ করেছেন যে তিনি তোমাদের ঈমানের দিকে হেদায়েত দান করেছেন, যদি তোমরা সত্যবাদী হয়ে থাকো।} [হুজুরাত: ১৭]।

এরপর লেখক (রহিমাহুল্লাহ) বলেছেন: (এবং আমাদের সর্বোত্তম উম্মতের অন্তর্ভুক্ত করে বের করেছেন) অর্থাৎ: আমরা এসব বিষয়ে আল্লাহর প্রশংসা করি; আমরা আল্লাহর প্রশংসা করি যে তিনি আমাদের ইসলামের দিকে হেদায়েত করেছেন এবং আমাদের সর্বোত্তম উম্মতের অন্তর্ভুক্ত করেছেন, আর তা হলো মুহাম্মদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর উম্মত। যেমনটি আল্লাহ আযযা ওয়া জাল্লা বলেছেন: { তোমরা হলে সর্বোত্তম উম্মত, যাদের মানবজাতির জন্য বের করা হয়েছে। তোমরা সৎ কাজের আদেশ দাও এবং অসৎ কাজ হতে নিষেধ করো এবং আল্লাহর ওপর ঈমান রাখো।} [আল-ইমরান: ১১০]।

আর এই শ্রেষ্ঠত্ব উম্মত কেবল তখনই লাভ করেছে যখন তারা আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের ওপর ঈমান এনেছে এবং সৎ কাজের আদেশ ও অসৎ কাজের নিষেধ করেছে। সুতরাং যে ব্যক্তি এই গুণাবলি অর্জন করবে, সে শ্রেষ্ঠত্ব লাভ করবে। আর যে এই গুণাবলি নষ্ট করবে, সে এই শ্রেষ্ঠত্ব হারাবে।

আল্লাহর প্রতি ঈমান হলো দ্বীনের মূল এবং মিল্লাতের ভিত্তি। কিন্তু আয়াতে সৎ কাজের আদেশ ও অসৎ কাজের নিষেধকে তাদের গুরুত্ব ও মর্যাদার কারণে অগ্রগণ্য করা হয়েছে, এবং এ কারণে যে তারা হলো দ্বীনের ধারক। কেননা পুরো দ্বীনই হলো আদেশ এবং নিষেধ। সুতরাং আপনি নিজেকে ভালোর আদেশ দেবেন এবং মন্দ থেকে নিষেধ করবেন, আর অন্যদের ভালোর আদেশ দেবেন এবং মন্দ থেকে নিষেধ করবেন। ফলে আপনি আদেশসমূহ পালন করবেন এবং নিজেকে নিষেধসমূহ থেকে বিরত রাখবেন, এবং অন্যদের আদেশ করবেন ও নিষেধসমূহ থেকে বারণ করবেন। এ কারণেই মহান আল্লাহ এই আয়াতে সৎ কাজের আদেশ ও অসৎ কাজের নিষেধকে অগ্রগণ্য করেছেন, যদিও আল্লাহর প্রতি ঈমান হলো দ্বীনের মূল এবং মিল্লাতের ভিত্তি।

এরপর লেখক (রহিমাহুল্লাহ) বলেছেন: (অতএব আমরা তাঁর কাছে সেই তাওফীক প্রার্থনা করি যা তিনি ভালোবাসেন ও যাতে তিনি সন্তুষ্ট হন, এবং রক্ষা প্রার্থনা করি তা থেকে যা তিনি অপছন্দ করেন ও যাতে অসন্তুষ্ট হন)। এটি ইলম অন্বেষণকারীর জন্য লেখকের (রহিমাহুল্লাহ) পক্ষ থেকে দুআ। তিনি আপনাকে শিক্ষা দিচ্ছেন, নসিহত করছেন এবং আপনার জন্য দুআ করছেন। তিনি নিজের জন্য, তাঁর ভাইদের জন্য এবং ছাত্রদের জন্য প্রার্থনা করেছেন। তিনি বলেছেন: (আমরা তাঁর কাছে সেই তাওফীক প্রার্থনা করি যা তিনি ভালোবাসেন ও যাতে তিনি সন্তুষ্ট হন), অর্থাৎ: আমরা আল্লাহর কাছে প্রার্থনা করি যেন তিনি আমাদের সেই কাজের তাওফীক দেন যা তিনি ভালোবাসেন ও যাতে তিনি সন্তুষ্ট হন। আর তিনি যা ভালোবাসেন ও যাতে সন্তুষ্ট হন তা-ই যা তিনি তাঁর কিতাবে এবং তাঁর রাসূলের মুখে শরীয়ত হিসেবে দিয়েছেন। তিনি তাঁর বান্দাদের কাছ থেকে ভালোবাসেন যে তারা তাঁর ইবাদত করবে, তাঁকে একত্ববাদী হিসেবে গ্রহণ করবে, তাঁর জন্য ইবাদতকে একনিষ্ঠ করবে, আদেশসমূহ পালন করবে এবং নিষেধসমূহ বর্জন করবে।

তাওফীক: অর্থাৎ ঐশ্বরিক সাহায্য, এটি এমন এক সাহায্য যার মাধ্যমে আল্লাহ মুমিনকে বিশেষভাবে ধন্য করেন। তাওফীক আল্লাহর পক্ষ থেকে এবং সাহায্যও আল্লাহর পক্ষ থেকে। এই সাহায্য এক মহান নেয়ামত যা আল্লাহ মুমিনকে দিয়েছেন অন্য কাউকে নয়। তিনি ঈমানকে তার কাছে প্রিয় করেছেন এবং কুফর, পাপাচার ও অবাধ্যতাকে তার কাছে অপছন্দনীয় করেছেন। যেমনটি মহান আল্লাহ বলেছেন: {আল্লাহ তোমাদের কাছে ঈমানকে প্রিয় করেছেন এবং তা তোমাদের অন্তরে সুশোভিত করেছেন, আর কুফর, পাপাচার ও অবাধ্যতাকে তোমাদের কাছে অপছন্দনীয় করেছেন। তারাই হলো সৎপথপ্রাপ্ত। আল্লাহর পক্ষ থেকে করুণা ও নেয়ামত স্বরূপ।} [হুজুরাত: ৭-৮]। সুতরাং মুমিনের জন্য এক স্পষ্ট নেয়ামত রয়েছে, কারণ তিনি তাকে এক মহান নেয়ামত দিয়েছেন এবং কাফিরের পরিবর্তে তাকে বিশেষিত করেছেন। যদি আল্লাহর পক্ষ থেকে সাহায্য না হতো তবে হেদায়েতপ্রাপ্তরা হেদায়েত পেত না। এ কারণেই লেখক (রহিমাহুল্লাহ) আল্লাহর কাছে সাহায্য ও তাওফীক প্রার্থনা করেছেন।

তিনি বলেছেন: (এবং আমরা তাঁর কাছে তাওফীক প্রার্থনা করি যা তিনি ভালোবাসেন ও যাতে তিনি সন্তুষ্ট হন) অর্থাৎ: কথা ও কাজের ক্ষেত্রে। সুতরাং মুসলিম সেই কথা ও কাজ করবে যা আল্লাহ ভালোবাসেন ও যাতে তিনি সন্তুষ্ট হন এবং সেই কথা ও কাজ বর্জন করবে যা তাঁকে অসন্তুষ্ট করে। এ কারণেই তিনি বলেছেন: (এবং রক্ষা প্রার্থনা করি তা থেকে যা তিনি অপছন্দ করেন ও যাতে অসন্তুষ্ট হন) অর্থাৎ: আমরা আল্লাহর কাছে প্রার্থনা করি যেন তিনি আমাদের রক্ষা করেন যা তিনি অপছন্দ করেন ও যাতে তিনি অসন্তুষ্ট হন, আর তা হলো নিষিদ্ধ বিষয়সমূহ। তার মধ্যে সবচেয়ে বড় হলো আল্লাহর সাথে শিরক করা, এরপর মানুষের রক্ত ও সম্পদের ওপর সীমালঙ্ঘন করা এবং মানুষের সম্মানের ওপর সীমালঙ্ঘন করা। এটি এক মহান দুআ যা লেখক (রহিমাহুল্লাহ) আল্লাহর প্রশংসা ও স্তুতির পর এই রিসালার ভূমিকায় রেখেছেন।

এরপর লেখক (রহিমাহুল্লাহ) সুন্নাহর বিষয়সমূহের বিস্তারিত আলোচনা শুরু করেছেন।
(খণ্ড: ১) শারহু কিতাবিস সুন্নাহ লিল বারবাহারী - আর রাজহী (পৃষ্ঠা: ৬)
‌‌بيان مدى تلازم وترابط السنة والإسلام

قال المؤلف رحمه الله تعالى: [اعلموا أن الإسلام هو السنة والسنة هي الإسلام، ولا يقوم أحدهما إلا بالآخر].

يقول المؤلف رحمه الله: (اعلموا) يعني: أيها المخاطبون ومن يقرأ هذا الكتاب من طلبة العلم اعلموا أن الإسلام هو السنة، والسنة هو الإسلام؛ لأن السنة هي التي جاء بها الرسول عليه الصلاة والسلام، وهي وحي ثانٍ، كما قال الله تعالى: {وَمَا يَنْطِقُ عَنِ الْهَوَى * إِنْ هُوَ إِلَّا وَحْيٌ يُوحَى} [النجم:3 - 4].

إذاً: السنة هي الإسلام، والإسلام: هو الاستسلام لله تعالى والخضوع والذل والانقياد وفعل الأوامر والنواهي، والرسول صلى الله عليه وسلم جاء بالقرآن وبالسنة، فالإسلام هو السنة؛ لأن السنة توضح القرآن وتفسره وتبين المشكل وتقيد المطلق وتخصص العام، فهي مرتبطة بالقرآن ولا يمكن فصلها عنه أبداً، فالإسلام هو السنة؛ لأن من ألغى السنة فقد ألغى الإسلام وبطل إسلامه، فمثلاً: لو أراد إنسان أن يفصل السنة عن الإسلام فكيف سيصلي؟ لا يستطيع أن يصلي، فهل في القرآن تحديد للأوقات؟ وذكر عدد الركعات؟ وكيف يزكي وكيف يصوم، وكيف يحج، وكيف يبيع ويشتري، وكيف يتعامل مع الناس؟ فالقرآن مجمل، والسنة هي التي فصلت ووضحت وقيدت.

فالإسلام هو السنة يعني: مع القرآن؛ لأنها مرتبطة بالقرآن ولا يمكن فصلها عنه، والنبي صلى الله عليه وسلم جاء بالقرآن وجاء بالسنة، قال عليه الصلاة والسلام: (ألا إني أوتيت القرآن ومثله معه)، فالإسلام هو السنة والسنة هي الإسلام لا انفكاك لأحدهما عن الآخر، ولهذا قال: (اعلموا) والعلم: هو حكم الذهن الجازم، فيقال له علم ويقال له يقين، بخلاف الشك والتردد فلا يسمى علماً، ولا يقيناً؛ لأن الذهن يتردد في صحته.

ولهذا قال: (اعلموا) يعني: تيقنوا أيها المسلمون! ويا طلاب العلم! أن الإسلام هو السنة، وتيقنوا أن السنة هي الإسلام وأنه لا انفكاك لأحدهما عن الآخر، وأن من ألغى السنة فلا إسلام له، ومن ألغى الإسلام فلا سنة له، فالإسلام هو السنة والسنة هي الإسلام، فلا يقوم أحدهما إلا بالآخر، لا إسلام لمن ترك السنة ولا سنة لمن ترك الإسلام.

وبهذا يتبين أن من زعم أنه لا يحتاج إلى السنة فهو كافر، وهناك طائفة يسمون أنفسهم القرآنيين، ويزعمون أنهم يعملون بالقرآن ولا يعملون بالسنة، وهذا كفر وضلال، فقد جاء في الحديث ما معناه أن النبي صلى الله عليه وسلم قال: (لا ألفين أحدكم جالساً على أريكته -أو متكئاً على أريكته- يأتيه الحديث عني فيقول: بيننا وبينكم كتاب الله، فما وجدنا في كتاب الله من حلال أحللناه، وما وجدنا في كتاب الله من حرام حرمناه، ألا إني أوتيت القرآن ومثله معه)، وبهذا يتبين ارتباط الإسلام بالسنة وارتباط القرآن بالسنة وأنه لا انفكاك لأحدهما عن الآخر، فمن زعم أنه يعمل بالقرآن ولا يحتاج إلى السنة فهو كافر.
সুন্নাহ ও ইসলামের মধ্যে অবিচ্ছেদ্য সম্পর্ক ও সংশ্লিষ্টতার বর্ণনা

লেখক (রহিমাহুল্লাহ) বলেন: [তোমরা জেনে রেখো যে, ইসলামই হলো সুন্নাহ এবং সুন্নাহই হলো ইসলাম, আর একটি অপরটি ছাড়া প্রতিষ্ঠিত হতে পারে না]।

লেখক (রহিমাহুল্লাহ) বলছেন: (তোমরা জেনে রেখো) অর্থাৎ: হে সম্বোধিত ব্যক্তিবর্গ এবং ইলম অন্বেষণকারীদের মধ্যে যারা এই কিতাবটি পড়ছো, তোমরা জেনে রেখো যে ইসলামই হলো সুন্নাহ এবং সুন্নাহই হলো ইসলাম; কারণ সুন্নাহ তা-ই যা রসূল (আলাইহিস সালাতু ওয়াস সালাম) নিয়ে এসেছেন, আর এটি দ্বিতীয় ওহী, যেমনটি মহান আল্লাহ বলেছেন: {আর তিনি নিজ খেয়াল-খুশি থেকে কথা বলেন না। এটি তো কেবল ওহী, যা তাঁর কাছে পাঠানো হয়} [আন-নাজম: ৩ - ৪]।

অতএব: সুন্নাহ হলো ইসলাম। আর ইসলাম হলো: আল্লাহর নিকট আত্মসমর্পণ করা, বশ্যতা স্বীকার করা, হীনতা প্রকাশ করা, আনুগত্য করা এবং আদেশ ও নিষেধসমূহ পালন করা। আর রসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) কুরআন ও সুন্নাহ নিয়ে এসেছেন। সুতরাং ইসলামই হলো সুন্নাহ; কারণ সুন্নাহ কুরআনকে বিশদভাবে বর্ণনা করে, এর তাফসীর করে, অস্পষ্ট বিষয় স্পষ্ট করে, নিঃশর্ত বিষয়কে শর্তযুক্ত করে এবং সাধারণ বিষয়কে বিশেষিত করে। সুতরাং এটি কুরআনের সাথে সংশ্লিষ্ট এবং তা থেকে একে পৃথক করা কখনোই সম্ভব নয়। অতএব ইসলামই হলো সুন্নাহ; কারণ যে ব্যক্তি সুন্নাহকে বাতিল করলো, সে ইসলামকেই বাতিল করলো এবং তার ইসলাম পণ্ড হয়ে গেল। উদাহরণস্বরূপ: কোনো ব্যক্তি যদি ইসলাম থেকে সুন্নাহকে পৃথক করতে চায়, তবে সে কীভাবে সালাত আদায় করবে? সে সালাত আদায় করতে সক্ষম হবে না। কুরআনে কি ওয়াক্তগুলোর সুনির্দিষ্ট সীমা রয়েছে? রাকাআতের সংখ্যার উল্লেখ আছে? কীভাবে যাকাত দেবে, কীভাবে সিয়াম পালন করবে, কীভাবে হজ করবে, কীভাবে ক্রয়-বিক্রয় করবে এবং মানুষের সাথে কীভাবে লেনদেন করবে? কুরআন তো সংক্ষিপ্ত ও সারসংক্ষেপপূর্ণ, আর সুন্নাহই তা বিস্তারিত বর্ণনা করেছে, স্পষ্ট করেছে এবং নির্দিষ্ট করেছে।

সুতরাং ইসলামই হলো সুন্নাহ—অর্থাৎ কুরআনের সাথে; কারণ এটি কুরআনের সাথে সংশ্লিষ্ট এবং তা থেকে একে পৃথক করা সম্ভব নয়। নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) কুরআন ও সুন্নাহ নিয়ে এসেছেন। তিনি (আলাইহিস সালাতু ওয়াস সালাম) বলেছেন: (জেনে রেখো, আমাকে কুরআন এবং তার সাথে তারই অনুরূপ আরেকটি জিনিস দেওয়া হয়েছে)। সুতরাং ইসলামই হলো সুন্নাহ এবং সুন্নাহই হলো ইসলাম, একটি অপরটি থেকে বিচ্ছিন্ন নয়। এই কারণেই তিনি বলেছেন: (তোমরা জেনে রেখো)। আর ইলম বা জ্ঞান হলো: মনের সুদৃঢ় সিদ্ধান্ত। একে ইলম বলা হয় এবং একে ইয়াকীন (দৃঢ় বিশ্বাস) বলা হয়। এটি সন্দেহ ও দ্বিধা-দ্বন্দ্বের বিপরীত, তাই একে ইলম বা ইয়াকীন বলা হয় না; কারণ মন এর সঠিকতা নিয়ে দ্বিধাগ্রস্ত থাকে।

এই কারণেই তিনি বলেছেন: (তোমরা জেনে রেখো) অর্থাৎ: হে মুসলিমগণ এবং হে ইলম অন্বেষণকারীগণ! তোমরা নিশ্চিতভাবে বিশ্বাস করো যে, ইসলামই হলো সুন্নাহ। আর নিশ্চিত হও যে সুন্নাহই হলো ইসলাম এবং এদের একটি অপরটি থেকে বিচ্ছিন্ন নয়। যে সুন্নাহকে বর্জন করল তার জন্য কোনো ইসলাম নেই, আর যে ইসলামকে বর্জন করল তার জন্য কোনো সুন্নাহ নেই। সুতরাং ইসলামই হলো সুন্নাহ এবং সুন্নাহই হলো ইসলাম, একটি ছাড়া অপরটি প্রতিষ্ঠিত হয় না। যে সুন্নাহ ত্যাগ করে তার জন্য কোনো ইসলাম নেই এবং যে ইসলাম ত্যাগ করে তার জন্য কোনো সুন্নাহ নেই।

এর মাধ্যমেই স্পষ্ট হয় যে, যে ব্যক্তি দাবি করে যে তার সুন্নাহর কোনো প্রয়োজন নেই, সে কাফির। সেখানে একটি দল রয়েছে যারা নিজেদের ‘কুরআনী’ বলে পরিচয় দেয়। তারা দাবি করে যে তারা কুরআন অনুযায়ী আমল করে কিন্তু সুন্নাহ অনুযায়ী আমল করে না। এটি কুফরী ও ভ্রষ্টতা। হাদীসে বর্ণিত হয়েছে যার মর্মার্থ এই যে, নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন: (আমি যেন তোমাদের কাউকে এমন অবস্থায় না পাই যে, সে তার সুসজ্জিত আসনে—অথবা তার আসনে হেলান দিয়ে—বসা থাকবে, আর তার কাছে আমার পক্ষ থেকে কোনো হাদীস পৌঁছাবে তখন সে বলবে: আমাদের ও তোমাদের মাঝে আল্লাহর কিতাবই যথেষ্ট, আমরা আল্লাহর কিতাবে যা হালাল পাবো তাকেই হালাল মানবো আর যা হারাম পাবো তাকেই হারাম মানবো। সাবধান! আমাকে কুরআন এবং তার সাথে তারই অনুরূপ আরেকটি জিনিস দেওয়া হয়েছে)। এর মাধ্যমেই সুন্নাহর সাথে ইসলামের নিবিড় সম্পর্ক এবং সুন্নাহর সাথে কুরআনের নিবিড় সম্পর্ক স্পষ্ট হয় যে এদের একটি অপরটি থেকে বিচ্ছিন্ন নয়। সুতরাং যে ব্যক্তি দাবি করে যে সে কুরআন অনুযায়ী আমল করে কিন্তু তার সুন্নাহর প্রয়োজন নেই, সে কাফির।
(খণ্ড: ১) শারহু কিতাবিস সুন্নাহ লিল বারবাহারী - আর রাজহী (পৃষ্ঠা: ৭)
‌‌بيان وجوب لزوم الجماعة

قال المؤلف رحمه الله تعالى: [فمن السنة لزوم الجماعة، فمن رغب عن الجماعة وفارقها فقد خلع ربقة الإسلام من عنقه، وكان ضالاً مضلاً].

قوله: (ومن السنة لزوم الجماعة)، يعني: لزوم جماعة المسلمين، وجماعة المسلمين هم الصحابة والتابعون وتابعوهم والأئمة من بعدهم، فيجب على المسلم أن يلزم جماعة المسلمين ولا يشذ عنهم في الاعتقادات وفي الأعمال وفي الأقوال وفي الأفعال، قال الله عز وجل: {وَمَنْ يُشَاقِقِ الرَّسُولَ مِنْ بَعْدِ مَا تَبَيَّنَ لَهُ الْهُدَى وَيَتَّبِعْ غَيْرَ سَبِيلِ الْمُؤْمِنِينَ نُوَلِّهِ مَا تَوَلَّى وَنُصْلِهِ جَهَنَّمَ وَسَاءَتْ مَصِيرًا} [النساء:115]، فمن زعم أنه مخالف لجماعة المسلمين فهو متبع لغير سبيل المؤمنين وهو متوعد بأن يوليه الله ما تولى ويصليه جهنم.

والجماعة هم الصحابة والتابعون، وهم الذين يعملون بكتاب الله وسنة رسوله صلى الله عليه وسلم ويمتثلون الأوامر ويجتنبون النواهي، ويحذرون من البدع في الأقوال والأعمال والاعتقادات والنيات، قال عليه الصلاة والسلام: (افترقت اليهود على إحدى وسبعين فرقة، وافترقت النصارى على اثنتين وسبعين فرقة، وستفترق هذه الأمة على ثلاث وسبعين فرقة كلها في النار إلا واحدة، قلنا: من هي يا رسول الله؟ قال: من كان على مثل ما أنا عليه اليوم وأصحابي)، وفي لفظ: (وستفترق هذه الأمة على ثلاث وسبعين فرقة كلها في النار إلا واحدة وهي الجماعة).

وروي هذا الحديث بألفاظ متعددة، وفيه أنه يجب لزوم الجماعة، وهي الفرقة الناجية، وهم أهل السنة والجماعة وهم أهل الحق، قال عليه الصلاة والسلام: (لا تزال طائفة من أمتي على الحق ظاهرين لا يضرهم من خذلهم ولا من خالفهم حتى يأتي أمر الله تبارك وتعالى.

فإذاً: من السنة لزوم الجماعة ولزوم الجماعة هو العمل بالسنة، والعمل بما كان يعمل به جماعة المسلمين من الصحابة والتابعين ومن بعدهم وهم أهل الحق، ولزوم طريقتهم في الاعتقادات وفي الأعمال وفي الأقوال، ولهذا قال المؤلف رحمه الله: (فمن رغب عن الجماعة وفارقها فقد خلع ربقة الإسلام من عنقه وكان ضالاً مضلاً) فمن رغب في غير جماعة المسلمين وفارقها فهو كافر؛ لأنه خرج عن الطريق المستقيم الذي كان عليه الصحابة والتابعون والأئمة، فالصحابة والتابعون والأئمة يعتقدون ما جاء في الكتاب والسنة من توحيد الله والإخلاص في الدين له، والإيمان بأسمائه وصفاته وأفعاله، فيمتثلون الأوامر ويجتنبون النواهي، فمن رغب عن الجماعة خالفهم في الاعتقاد وخالفهم في الأعمال، ومن خالفهم فقد خرج من الإسلام وكان ضالاً مضلاً.
‌জামায়াতের সাথে থাকা ওয়াজিব হওয়ার বর্ণনা

লেখক রহিমাহুল্লাহ তাআলা বলেছেন: [সুন্নাহর অন্তর্ভুক্ত হলো জামায়াতকে আঁকড়ে ধরা। সুতরাং যে ব্যক্তি জামায়াত বিমুখ হয় এবং তা থেকে বিচ্ছিন্ন হয়, সে তার ঘাড় থেকে ইসলামের রশি খুলে ফেলল এবং সে ছিল পথভ্রষ্ট ও পথভ্রষ্টকারী]।

তার কথা: (সুন্নাহর অন্তর্ভুক্ত হলো জামায়াতকে আঁকড়ে ধরা), অর্থাৎ: মুসলিমদের জামায়াতকে আঁকড়ে ধরা। আর মুসলিমদের জামায়াত হলেন সাহাবীগণ, তাবেয়ীগণ, তাঁদের অনুসারীগণ এবং তাঁদের পরবর্তী ইমামগণ। অতএব, একজন মুসলিমের জন্য আবশ্যক হলো সে যেন মুসলিমদের জামায়াতের সাথে থাকে এবং বিশ্বাস, আমল, কথা ও কাজে তাদের থেকে বিচ্যুত না হয়। আল্লাহ তায়ালা বলেছেন: {আর যে ব্যক্তি তার কাছে সঠিক পথ স্পষ্ট হওয়ার পর রাসূলের বিরোধিতা করে এবং মুমিনদের পথ ছাড়া অন্য পথ অনুসরণ করে, আমি তাকে সেদিকেই ফিরিয়ে দেব যেদিকে সে ফিরতে চায় এবং তাকে জাহান্নামে প্রবেশ করাব; আর তা কতই না মন্দ আবাস!} [নিসা: ১১৫]। সুতরাং যে ব্যক্তি দাবি করে যে সে মুসলিমদের জামায়াতের পরিপন্থী, সে মুমিনদের পথ ব্যতীত অন্য পথের অনুসারী। আর তার জন্য এই হুমকি রয়েছে যে, আল্লাহ তাকে সেদিকেই ফিরিয়ে দেবেন যেদিকে সে ফিরতে চায় এবং তাকে জাহান্নামে প্রবেশ করাবেন।

আর জামায়াত হলেন সাহাবী এবং তাবেয়ীগণ। তারাই আল্লাহর কিতাব ও তাঁর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সুন্নাহ অনুযায়ী আমল করেন, আদেশসমূহ পালন করেন এবং নিষেধসমূহ বর্জন করেন। তাঁরা কথা, কাজ, বিশ্বাস ও নিয়তের ক্ষেত্রে বিদআত থেকে সতর্ক থাকেন। নবী আলাইহিস সালাতু ওয়াস সালাম বলেছেন: (ইয়াহুদিরা একাত্তর ফিরকায় বিভক্ত হয়েছিল, আর খ্রিস্টানরা বাহাত্তর ফিরকায় বিভক্ত হয়েছিল। আর অচিরেই এই উম্মত তিয়াত্তর ফিরকায় বিভক্ত হবে, যার একটি ছাড়া সবকটিই জাহান্নামে যাবে। আমরা বললাম: হে আল্লাহর রাসূল! তারা কারা? তিনি বললেন: আজ আমি এবং আমার সাহাবীগণ যার ওপর প্রতিষ্ঠিত আছি, তার ওপর যারা থাকবে)। অন্য শব্দে এসেছে: (আর অচিরেই এই উম্মত তিয়াত্তর ফিরকায় বিভক্ত হবে, যার একটি ছাড়া সবকটিই জাহান্নামে যাবে, আর সেটি হলো জামায়াত)।

এই হাদীসটি বিভিন্ন শব্দে বর্ণিত হয়েছে। এতে জামায়াতকে আঁকড়ে ধরা ওয়াজিব বলে উল্লেখ করা হয়েছে, আর তারাই হলো মুক্তিপ্রাপ্ত দল, তারাই আহলুস সুন্নাহ ওয়াল জামায়াত এবং তারাই হকের ওপর প্রতিষ্ঠিত। নবী আলাইহিস সালাতু ওয়াস সালাম বলেছেন: (আমার উম্মতের একটি দল সর্বদা হকের ওপর বিজয়ী থাকবে; যারা তাদের অপদস্থ করতে চায় কিংবা যারা তাদের বিরোধিতা করে, তারা তাদের কোনো ক্ষতি করতে পারবে না, যতক্ষণ না আল্লাহ তাবারাকা ওয়া তায়ালার নির্দেশ উপস্থিত হয়)।

অতএব: সুন্নাহর অন্তর্ভুক্ত হলো জামায়াতকে আঁকড়ে ধরা। আর জামায়াতকে আঁকড়ে ধরার অর্থ হলো সুন্নাহ অনুযায়ী আমল করা এবং সাহাবী, তাবেয়ী ও তাঁদের পরবর্তী মুসলিমদের জামায়াত যে বিষয়ের ওপর আমল করতেন তার ওপর আমল করা। তারাই হকের অনুসারী। বিশ্বাস, আমল ও কথার ক্ষেত্রে তাদের পথ অনুসরণ করাই হলো জামায়াতকে আঁকড়ে ধরা। এই কারণেই লেখক রহিমাহুল্লাহ বলেছেন: (সুতরাং যে ব্যক্তি জামায়াত বিমুখ হয় এবং তা থেকে বিচ্ছিন্ন হয়, সে তার ঘাড় থেকে ইসলামের রশি খুলে ফেলল এবং সে ছিল পথভ্রষ্ট ও পথভ্রষ্টকারী)। সুতরাং যে ব্যক্তি মুসলিমদের জামায়াত ব্যতীত অন্য কিছু পছন্দ করে এবং তা থেকে বিচ্ছিন্ন হয়, সে কাফির; কারণ সে সেই সঠিক পথ থেকে বের হয়ে গেল যার ওপর সাহাবী, তাবেয়ী এবং ইমামগণ ছিলেন। কারণ সাহাবী, তাবেয়ী এবং ইমামগণ আল্লাহর একত্ববাদ, দ্বীনের ক্ষেত্রে তাঁর জন্য একনিষ্ঠতা এবং তাঁর নামসমূহ, গুণাবলি ও কার্যাবলির ওপর ঈমান আনার বিষয়ে কিতাব ও সুন্নাহতে যা এসেছে তার ওপর বিশ্বাস রাখতেন। তাঁরা আদেশসমূহ পালন করতেন এবং নিষেধসমূহ বর্জন করতেন। সুতরাং যে ব্যক্তি জামায়াত বিমুখ হলো, সে বিশ্বাস ও আমলের ক্ষেত্রে তাদের বিরোধিতা করল। আর যে তাদের বিরোধিতা করল, সে ইসলাম থেকে বের হয়ে গেল এবং সে ছিল পথভ্রষ্ট ও পথভ্রষ্টকারী।
(খণ্ড: ১) শারহু কিতাবিস সুন্নাহ লিল বারবাহারী - আর রাজহী (পৃষ্ঠা: ৮)
‌‌أساس الجماعة هم الصحابة وما كانوا عليه

قال المؤلف رحمه الله تعالى: [والأساس الذي تبنى عليه الجماعة هم أصحاب محمد صلى الله عليه وسلم، ورحمهم الله أجمعين وهم أهل السنة والجماعة، فمن لم يأخذ عنهم فقد ضل وابتدع، وكل بدعة ضلالة، والضلالة وأهلها في النار].

الأساس الذي تبنى عليه الجماعة هم أصحاب رسول الله، وهم أهل السنة والجماعة، أي: أن الجماعة هم المجتمعون على الحق، وأول المجتمعين على الحق هم الصحابة في هذه الأمة، أي: ما كان عليه الصحابة رضوان الله عليهم من الاعتقادات والأعمال والأقوال هو الأساس الذي تبنى عليه الجماعة.

فإذاً: أهل السنة والجماعة هم الصحابة وهم الفرقة الناجية، ومن قال إن الفرقة الناجية طائفة وأهل السنة طائفة فقد أخطأ، فأهل السنة والجماعة هم الصحابة، وهم الفرقة الناجية، وهم أهل الحق، فأهل السنة والجماعة هي الفرقة التي توصف بكل هذه الأوصاف، فتوصف بأنها الجماعة، وتوصف بأنها الفرقة الناجية، وتوصف بأنها أهل السنة والجماعة، ويدخل فيهم دخولاً أولياً الصحابة والتابعون ومن بعدهم.

(والأساس الذي تبنى عليه الجماعة هم أصحاب رسول الله صلى الله عليه وسلم ورحمهم الله أجمعين، وهم أهل السنة والجماعة، فمن لم يأخذ عنهم فقد ضل وابتدع)، بل قد يقال إنه يكفر؛ لأن الذي نقل إلينا الشريعة هم الصحابة والتابعون، فقد نقلوا إلينا القرآن ونقلوا إلينا السنة، فمن زعم أنه لا يؤخذ عن الصحابة فقد كفر، فليس له طريق إلا طريق الصحابة؛ لأنهم نقلة الشريعة، ونقلة الدين، ولهذا فإن من طعن فيهم فقد طعن في الدين.

بعض الفرق الضالة كالرافضة يطعنون في الصحابة ويكفرونهم ويفسقونهم، وهذا كفر وضلال؛ لأن الطعن في الصحابة طعن في الدين الذي حملوه، فالذي يقول إن الصحابة كفروا وارتدوا بعد وفاة النبي صلى الله عليه وسلم فقد طعن في الدين الذي حملوه، ولهذا فإن من كفر الصحابة وفسقهم فهو كافر؛ لأنه مكذب لله، فقد زكاهم وعدلهم ووعدهم بالجنة، ومن كذب الله كفر، وإذا كانوا كفاراً فكيف يوثق في دين حمله كفار وفساق؟! فالطعن في الصحابة زندقة وكفر وضلال.

قال المؤلف رحمه الله تعالى: [قال عمر بن الخطاب رضي الله عنه: لا عذر لأحد في ضلالة ركبها حسبها هدى، ولا في هدى تركه حسبه ضلالة، فقد بُينت الأمور وثبتت الحجة وانقطع العذر؛ وذلك أن السنة والجماعة قد أحكما أمر الدين كله، وتبين للناس، فعلى الناس الاتباع].

هذا القول وهذا الأثر عن عمر رضي الله عنه وقد ذكر المحقق أن الذي أخرجه ابن بطة في الإبانة الكبرى من طريق الأوزاعي وأن إسناده منقطع، ولكن له شواهد عن السلف وعن عمر بن عبد العزيز رحمه الله أنه قال: لا عذر لأحد بعد السنة في ضلالة ركبها ويحسب أنه هدى، وأيضاً معناه صحيح.

فهذا القول عن عمر رضي الله عنه حتى ولو لم يصح سنده فمعناه صحيح دلت عليه النصوص، يقول عمر بن الخطاب رضي الله عنه: (لا عذر لأحد في ضلالة ركبها حسبها هدى)، أي: أنه لا يعذر الإنسان في الضلالة التي يرتكبها يظن أنها من الهدى، ولا في الهدى الذي يتركه يحسب أنه ضلالة؛ لأنه من الواجب على الإنسان أن يسأل عن دينه، وأن يسأل عما أشكل عليه ولاسيما بعد بعثة النبي صلى الله عليه وسلم، وقد قال الله تعالى: {وَأُوحِيَ إِلَيَّ هَذَا الْقُرْآنُ لِأُنذِرَكُمْ بِهِ وَمَنْ بَلَغَ} [الأنعام:19]، فمن بلغه القرآن فقد قامت الحجة، وقال تعالى: {وَمَا كُنَّا مُعَذِّبِينَ حَتَّى نَبْعَثَ رَسُولًا} [الإسراء:15].

وقد بعث الرسول.

وكما أن الإنسان يسأل عن دنياه إذا أراد أن يشتري سلعة فيسأل أهل الخبرة، فعليه أن يسأل عن دينه وعما أشكل عليه، فلا عذر له؛ في العمل بما يخالف شرع الله وهو يستطيع أن يسأل أهل العلم، قال تعالى: {فَاسْأَلُوا أَهْلَ الذِّكْرِ إِنْ كُنْتُمْ لا تَعْلَمُونَ} [النحل:43]، ولهذا قال عمر رضي الله عنه: (فقد بُينت الأمور وثبتت الحجة وانقطع العذر) أي: ببعثة الرسول صلى الله عليه وسلم وبنزول القرآن، إنما يعذر الذي لم يبلغه القرآن ومن كان قبل بعثة النبي صلى الله عليه وسلم، فأهل الفترات هم الذين يعذرون، ولهم أحكام خاصة جاءت بها النصوص، وهي أنهم يمتحنون يوم القيامة، وكذلك من لم يبلغه شيء من القرآن.

أما من يعيش بين المسلمين ويسمع القرآن والرسول عليه الصلاة والسلام فقد بُينت الأمور وثبتت الحجة والقرآن يتلى والسنة موجودة بين الناس، فلا عذر في هذه الحالة، قال عليه الصلاة والسلام في الحديث الصحيح: (والذي نفسي بيده! لا يسمع بي أحد من هذه الأمة يهودي ولا نصراني ثم لا يؤمن بي إلا دخل النار)، ولهذا قال: (وذلك أن السنة والجماعة قد أحكما أمر الدين كله وتبين للناس فعلى الناس الاتباع).

السنة والجماعة قد أحكما أمر الدين كله ولم يبق شيء إلا وقد بُين في السنة وفي الكتاب العزيز واجتمع المسلمون من الصحابة والتابعين على العمل بهذا الدين، فمن ترك السنة والجماعة بعد وضوح ذلك فقد خلع ربقة الإسلام من عنقه.
‌‌জামাআতের মূল ভিত্তি হলেন সাহাবীগণ এবং তাঁরা যে আদর্শের ওপর ছিলেন

লেখক (আল্লাহ তাঁর ওপর রহমত বর্ষণ করুন) বলেন: [আর যে ভিত্তির ওপর জামাআত প্রতিষ্ঠিত, তাঁরা হলেন মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সাহাবীগণ, আল্লাহ তাঁদের সকলের ওপর রহমত বর্ষণ করুন; তাঁরাই হলেন আহলুস সুন্নাহ ওয়াল জামাআত। সুতরাং যে ব্যক্তি তাঁদের থেকে দ্বীন গ্রহণ করেনি, সে পথভ্রষ্ট হয়েছে এবং বিদআত সৃষ্টি করেছে; আর প্রত্যেক বিদআতই পথভ্রষ্টতা, এবং পথভ্রষ্টতা ও এর অনুসারীরা জাহান্নামী।]

যে ভিত্তির ওপর জামাআত প্রতিষ্ঠিত, তাঁরা হলেন রাসূলুল্লাহর সাহাবীগণ, এবং তাঁরাই আহলুস সুন্নাহ ওয়াল জামাআত। অর্থাৎ: ‘জামাআত’ হলো তারা যারা সত্যের ওপর ঐক্যবদ্ধ, আর এই উম্মতের মধ্যে যারা সর্বপ্রথম সত্যের ওপর ঐক্যবদ্ধ হয়েছিলেন তাঁরা হলেন সাহাবীগণ। অর্থাৎ সাহাবীগণ (আল্লাহ তাঁদের ওপর সন্তুষ্ট হোন) যে সকল আকিদা, আমল ও বাণীর ওপর প্রতিষ্ঠিত ছিলেন, সেটিই হলো জামাআত গঠনের মূল ভিত্তি।

অতএব: আহলুস সুন্নাহ ওয়াল জামাআত হলেন সাহাবীগণ এবং তাঁরাই মুক্তিপ্রাপ্ত দল। যারা বলে যে, মুক্তিপ্রাপ্ত দল এক গোষ্ঠী এবং আহলুস সুন্নাহ অন্য এক গোষ্ঠী, তারা ভুল করেছে। কারণ আহলুস সুন্নাহ ওয়াল জামাআত হলেন সাহাবীগণ, তাঁরাই মুক্তিপ্রাপ্ত দল এবং তাঁরাই হকের অনুসারী। সুতরাং আহলুস সুন্নাহ ওয়াল জামাআত হলো সেই দল যাকে এই সকল বিশেষণে বিশেষিত করা হয়; তাদের ‘জামাআত’ বলা হয়, ‘মুক্তিপ্রাপ্ত দল’ বলা হয় এবং ‘আহলুস সুন্নাহ ওয়াল জামাআত’ বলা হয়। তাঁদের মধ্যে সাহাবীগণ, তাবেয়ীগণ এবং তাঁদের পরবর্তীগণ প্রাথমিকভাবে অন্তর্ভুক্ত।

(আর যে ভিত্তির ওপর জামাআত প্রতিষ্ঠিত, তা হলো রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সাহাবীগণ, আল্লাহ তাঁদের সবার ওপর রহমত বর্ষণ করুন এবং তাঁরাই আহলুস সুন্নাহ ওয়াল জামাআত। সুতরাং যে ব্যক্তি তাঁদের থেকে দ্বীন গ্রহণ করেনি, সে পথভ্রষ্ট হয়েছে এবং বিদআত সৃষ্টি করেছে)। এমনকি এ কথাও বলা যেতে পারে যে, সে কুফরী করেছে; কারণ যারা আমাদের কাছে শরীয়ত পৌঁছে দিয়েছেন তাঁরা হলেন সাহাবীগণ ও তাবেয়ীগণ। তাঁরাই আমাদের কাছে কুরআন ও সুন্নাহ পৌঁছে দিয়েছেন। সুতরাং যে ব্যক্তি দাবি করে যে সাহাবীদের থেকে দ্বীন গ্রহণ করা হবে না, সে কুফরী করল। সাহাবীদের পথ ব্যতীত অন্য কোনো পথ নেই; কারণ তাঁরাই শরীয়ত ও দ্বীনের বাহক। এ কারণেই যারা তাঁদের সমালোচনা করে, তারা মূলত দ্বীনেরই সমালোচনা করে।

কিছু পথভ্রষ্ট দল যেমন রাফেযীরা সাহাবীদের সমালোচনা করে এবং তাঁদেরকে কাফের ও ফাসেক বলে গণ্য করে; এটি কুফরী ও পথভ্রষ্টতা। কারণ সাহাবীদের সমালোচনা করা মানে তাঁরা যে দ্বীন বহন করেছেন তারই সমালোচনা করা। যে ব্যক্তি বলে যে সাহাবীগণ নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের ইন্তেকালের পর কাফের হয়ে গেছেন বা মুরতাদ হয়ে গেছেন, সে মূলত তাঁরা যে দ্বীন বহন করেছেন তারই নিন্দা করল। এ কারণেই যে সাহাবীদের কাফের বা ফাসেক বলে, সে কাফের; কারণ সে আল্লাহকে মিথ্যা প্রতিপন্ন করছে। আল্লাহ তাঁদের প্রশংসা করেছেন, তাঁদের ন্যায়পরায়ণ ঘোষণা করেছেন এবং তাঁদের জান্নাতের প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। আর যে আল্লাহকে মিথ্যা প্রতিপন্ন করে, সে কাফের। তাছাড়া তাঁরা যদি কাফেরই হতেন, তবে কাফের ও ফাসেকদের বহন করা দ্বীনের ওপর কীভাবে আস্থা রাখা সম্ভব?! সুতরাং সাহাবীদের নিন্দা করা হলো ধর্মদ্রোহিতা, কুফরী এবং পথভ্রষ্টতা।

লেখক (আল্লাহ তাঁর ওপর রহমত বর্ষণ করুন) বলেন: [উমর ইবনুল খাত্তাব (আল্লাহ তাঁর ওপর সন্তুষ্ট হোন) বলেছেন: কোনো ব্যক্তি এমন কোনো পথভ্রষ্টতায় লিপ্ত হলে তার ওজর গ্রহণযোগ্য হবে না যাকে সে হেদায়েত মনে করে লিপ্ত হয়েছে, কিংবা এমন কোনো হেদায়েত ত্যাগ করলেও ওজর গ্রহণযোগ্য হবে না যাকে সে পথভ্রষ্টতা মনে করে ত্যাগ করেছে। নিশ্চয়ই সকল বিষয় সুস্পষ্ট করা হয়েছে, প্রমাণাদি প্রতিষ্ঠিত হয়েছে এবং অজুহাত পেশ করার সুযোগ শেষ হয়েছে। আর তা এ কারণে যে, সুন্নাহ ও জামাআত দ্বীনের সমস্ত বিষয়কে সুদৃঢ়ভাবে সম্পন্ন করেছে এবং মানুষের কাছে তা সুস্পষ্ট করেছে, সুতরাং মানুষের জন্য কর্তব্য হলো অনুসরণ করা।]

উমর (আল্লাহ তাঁর ওপর সন্তুষ্ট হোন) থেকে বর্ণিত এই উক্তি বা আছার সম্পর্কে মুহাক্কিক (গবেষক) উল্লেখ করেছেন যে, ইবনে বাত্তাহ ‘আল-ইবানাতুল কুবরা’ গ্রন্থে আওযাঈর সূত্রে এটি বর্ণনা করেছেন এবং এর সনদ বিচ্ছিন্ন। তবে সলফে সালেহীন এবং উমর ইবনে আব্দুল আজিজ (রহিমাহুল্লাহ) থেকে এর স্বপক্ষে প্রমাণ পাওয়া যায় যে তিনি বলেছিলেন: সুন্নাহর উপস্থিতিতে কোনো ব্যক্তি পথভ্রষ্টতায় লিপ্ত হয়ে সেটাকে হেদায়েত মনে করলে তার কোনো অজুহাত নেই। তাছাড়া এর অর্থও সঠিক।

উমর (আল্লাহ তাঁর ওপর সন্তুষ্ট হোন) থেকে বর্ণিত এই উক্তির সনদ সহীহ না হলেও এর অর্থ সহীহ যা বিভিন্ন দলিল দ্বারা প্রমাণিত। উমর ইবনুল খাত্তাব (আল্লাহ তাঁর ওপর সন্তুষ্ট হোন) বলেন: (কোনো ব্যক্তি এমন কোনো পথভ্রষ্টতায় লিপ্ত হলে তার ওজর গ্রহণযোগ্য হবে না যাকে সে হেদায়েত মনে করেছে)। অর্থাৎ, মানুষ যে পথভ্রষ্টতা অবলম্বন করে তাকে হেদায়েত মনে করার কারণে তাকে ক্ষমা করা হবে না, আবার যে হেদায়েতকে সে পথভ্রষ্টতা মনে করে ত্যাগ করে তার জন্যও তাকে ছাড় দেওয়া হবে না। কারণ মানুষের ওপর অর্পিত দায়িত্ব হলো তার দ্বীন সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করা এবং যা তার কাছে অস্পষ্ট মনে হয় সে বিষয়ে প্রশ্ন করা, বিশেষ করে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের প্রেরণের পর। আল্লাহ তাআলা বলেন: {আর এই কুরআন আমার কাছে ওহী করা হয়েছে যেন এর দ্বারা আমি তোমাদেরকে এবং যাদের কাছে এটি পৌঁছাবে তাদের সবাইকে সতর্ক করি} [সূরা আল-আনআম: ১৯]। সুতরাং যার কাছে কুরআন পৌঁছেছে, তার বিরুদ্ধে প্রমাণ প্রতিষ্ঠিত হয়ে গেছে। আল্লাহ তাআলা আরও বলেন: {আর আমি ততক্ষণ শাস্তি দেই না যতক্ষণ না কোনো রাসূল প্রেরণ করি} [সূরা আল-ইসরা: ১৫]।

আর রাসূল প্রেরিত হয়ে গেছেন।

মানুষ যেমন তার দুনিয়াবী বিষয়ে কোনো পণ্য কেনার সময় অভিজ্ঞ ব্যক্তিদের জিজ্ঞাসা করে, তেমনি তার দ্বীনের বিষয়ে এবং যা তার কাছে অস্পষ্ট লাগে সে বিষয়েও জিজ্ঞাসা করা উচিত। আল্লাহর শরীয়তের পরিপন্থী কাজ করার ক্ষেত্রে তার কোনো অজুহাত নেই, অথচ সে আলেমদের জিজ্ঞাসা করার ক্ষমতা রাখে। আল্লাহ তাআলা বলেন: {যদি তোমরা না জানো তবে জ্ঞানীদের জিজ্ঞাসা করো} [সূরা আন-নাহল: ৪৩]। এজন্যই উমর (আল্লাহ তাঁর ওপর সন্তুষ্ট হোন) বলেছেন: (নিশ্চয়ই বিষয়সমূহ সুস্পষ্ট হয়েছে, দলিল প্রতিষ্ঠিত হয়েছে এবং ওজর শেষ হয়েছে)। অর্থাৎ রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের প্রেরণ এবং কুরআন নাযিলের মাধ্যমে এটি সম্পন্ন হয়েছে। কেবল তাকেই ক্ষমা করা হবে যার কাছে কুরআন পৌঁছায়নি এবং যারা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের আগমনের পূর্বে ছিল। যারা দুই নবীর অন্তবর্তীকালীন সময়ের লোক, তাদের ওজর কবুল হতে পারে এবং তাদের জন্য বিশেষ বিধান রয়েছে যা দলিল দ্বারা প্রমাণিত, আর তা হলো কিয়ামতের দিন তাদের পরীক্ষা নেওয়া হবে। অনুরূপভাবে যার কাছে কুরআনের কোনো কিছুই পৌঁছায়নি সেও এই হুকুমে পড়বে।

কিন্তু যে ব্যক্তি মুসলিমদের মধ্যে বসবাস করে এবং কুরআন ও রাসূল (আলাইহিস সালাতু ওয়াস সালাম) সম্পর্কে শুনেছে, তার জন্য সকল বিষয় স্পষ্ট হয়ে গেছে এবং দলিল প্রতিষ্ঠিত হয়ে গেছে; কারণ কুরআন তিলাওয়াত করা হচ্ছে এবং সুন্নাহ মানুষের মাঝে বিদ্যমান রয়েছে। এমতাবস্থায় কোনো অজুহাত চলবে না। নবী (আলাইহিস সালাতু ওয়াস সালাম) সহীহ হাদীসে বলেছেন: (সেই সত্তার কসম যার হাতে আমার প্রাণ! এই উম্মতের যে কেউ—সে ইহুদি হোক বা খ্রিস্টান—আমার কথা শুনবে অথচ আমার ওপর ঈমান আনবে না, সে অবশ্যই জাহান্নামে প্রবেশ করবে)। এই কারণেই বলা হয়েছে: (আর তা এ কারণে যে, সুন্নাহ ও জামাআত দ্বীনের সমস্ত বিষয়কে সুদৃঢ়ভাবে সম্পন্ন করেছে এবং মানুষের কাছে তা সুস্পষ্ট করেছে, সুতরাং মানুষের জন্য কর্তব্য হলো অনুসরণ করা)।

সুন্নাহ ও জামাআত দ্বীনের সমস্ত বিষয়কে সুদৃঢ়ভাবে সম্পন্ন করেছে এবং এমন কিছুই অবশিষ্ট নেই যা সুন্নাহ ও সুমহান কিতাবে বর্ণনা করা হয়নি। আর সাহাবী ও তাবেয়ীগণসহ মুসলিমগণ এই দ্বীনের ওপর আমল করার ব্যাপারে ঐক্যবদ্ধ হয়েছিলেন। সুতরাং এই সব কিছু স্পষ্ট হওয়ার পর যে ব্যক্তি সুন্নাহ ও জামাআত ত্যাগ করবে, সে ইসলামের রশি নিজের ঘাড় থেকে ছুড়ে ফেলল।
(খণ্ড: ১) শারহু কিতাবিস সুন্নাহ লিল বারবাহারী - আর রাজহী (পৃষ্ঠা: ৯)
‌‌الدين وحي من الله لم يوضع على آراء الرجال

قال المؤلف رحمه الله تعالى: [واعلم رحمك الله! أن الدين إنما جاء من قبل الله تبارك وتعالى، لم يوضع على أقوال الرجال وآرائهم، وعلمه عند الله وعند رسوله، فلا تتبع شيئاً بهواك فتمرق من الدين فتخرج من الإسلام، فإنه لا حجة لك، فقد بين رسول الله صلى الله عليه وسلم لأمته السنة وأوضحها لأصحابه وهم الجماعة، وهم السواد الأعظم.

والسواد الأعظم: الحق وأهله، فمن خالف أصحاب رسول الله صلى الله عليه وسلم في شيء من أمر الدين فقد كفر].

يقول المؤلف رحمه الله: (واعلم رحمك الله)، وهذا من باب التنبيه، يعني: اجزم وتيقن بهذا الأمر الذي سأبينه لك؛ لأن العلم هو حكم الذهن الجازم.

وقوله: (رحمك الله)، هذا خبر بمعنى الدعاء، أي: أسأل الله أن يرحمك، وهذا من نصح المؤلف فهو يعلمك ويدعو لك.

قوله: (اعلم رحمك الله أن الدين، إنما جاء من قبل الله تبارك وتعالى لم يوضع على عقول الرجال وآرائهم، وعلمه عند الله وعند رسوله) يعني: تيقن واجزم أن الدين إنما جاء من الله؛ لأن الدين وحي الله إلى رسوله صلى الله عليه وسلم، فقد أوحى إليه القرآن وأوحى إليه السنة، والدين هو ما جاء في القرآن والسنة، وهو من قبل الله لم يوضع على عقول الرجال وآراؤهم، فعقول الرجال وآرائهم لم يجعلها الله هي الميزان الذي يرجع إليه، وإنما الميزان كتاب الله وسنة رسوله صلى الله عليه وسلم، فالدين إنما جاء من قبل الله تعالى بالوحي المنزل على نبيه قرآناً وسنة وعلمه عند الله وعند رسوله.

ثم قال: (فلا تتبع شيئاً بهواك فتمرق من الدين فتخرج من الإسلام، فإنه لا حجة لك)، أي: لا تتبع الهوى؛ لأن اتباع الهوى ضلال، ولهذا قال الله تعالى لنبيه داود: {يَا دَاوُدُ إِنَّا جَعَلْنَاكَ خَلِيفَةً فِي الأَرْضِ فَاحْكُمْ بَيْنَ النَّاسِ بِالْحَقِّ وَلا تَتَّبِعِ الْهَوَى فَيُضِلَّكَ عَنْ سَبِيلِ اللَّهِ إِنَّ الَّذِينَ يَضِلُّونَ عَنْ سَبِيلِ اللَّهِ لَهُمْ عَذَابٌ شَدِيدٌ بِمَا نَسُوا يَوْمَ الْحِسَابِ} [ص:26]، فمن اتبع شيئاً بهواه مرق من الدين ومن مرق من الدين خرج من الإسلام، ولا حجة له في هذه الحالة.

وقد بين المؤلف السبب بقوله: (فقد بين رسول الله صلى الله عليه وسلم لأمته السنة وأوضحها لأصحابه وهم الجماعة)، إذاً: ليس هناك حجة لمن خرج عن الدين؛ لأن الرسول صلى الله عليه وسلم بين لأمته السنة وأوضحها لأصحابه، والرسول عليه الصلاة والسلام قد بلغ الرسالة، وأدى الأمانة، ونصح الأمة، وجاهد في الله حق جهاده، فقامت الحجة على الناس.

قوله: (وهم السواد الأعظم، والسواد الأعظم: الحق وأهله)، أي: المراد بالسواد الأعظم الحق وأهله، فأهل الحق هم السواد الأعظم، (عليك بالسواد الأعظم)، كما جاء في بعض الأحاديث الأمر بلزوم السواد الأعظم، والمراد بالسواد الأعظم من ثبت على الحق ولو كان واحداً، كما قال بعض السلف: إذا كنت على الحق فأنت الجماعة ولو كنت وحدك، وليس المراد أن الحق يعرف بكثرة الناس، بل إن الكثرة في الغالب تكون هالكة، قال تعالى: {وَإِنْ تُطِعْ أَكْثَرَ مَنْ فِي الأَرْضِ يُضِلُّوكَ عَنْ سَبِيلِ اللَّهِ} [الأنعام:116]، وقال سبحانه: {وَلَكِنَّ أَكْثَرَ النَّاسِ لا يُؤْمِنُونَ} [هود:17]، وقال: {وَلَكِنَّ أَكْثَرَ النَّاسِ لا يَشْكُرُونَ} [البقرة:243]، وقال: {وَقَلِيلٌ مِنْ عِبَادِيَ الشَّكُورُ} [سبأ:13].

والسواد الأعظم يكثرون ويقلون، ففي عهد النبي صلى الله عليه وسلم كان الصحابة هم السواد الأعظم، وفي عهد التابعين كان التابعون هم السواد الأعظم، وفي عهد تابعيهم والأئمة وهكذا، وفي بعض الأزمنة يكون على الحق واحد أو اثنان أو ثلاثة أو أربعة، وقد يكون على الحق جماعة متفرقون قلة، فيكون في هذا البلد أفراد وفي هذا البلد أفراد وفي هذا البلد أفراد، فهم الحق وهم السواد الأعظم، وفي آخر الزمان وفي وقت الفتن وقبيل خروج الدجال يجتمعون في الشام.

وأهل السواد الأعظم هم الطائفة المنصورة، وهم أهل الحق وهم أهل السنة وهم الجماعة، وقد يكون الإنسان من أهل السنة والجماعة وهو مزارع أو تاجر أو جزار أو سباك وقد يكون محدثاً وفقيهاً، ومقدم أهل السنة والجماعة أهل الحديث وأهل العلم وأهل الفقه وأهل البصيرة ومن كان على طريقتهم، ولهذا قال الإمام أحمد: إن لم يكونوا أهل الحديث -يعني الجماعة- فلا أدري من هم! فيكون في مقدمتهم أهل الحديث وكل من تبعهم فهو منهم، ومقدمتهم الأولى الصحابة والتابعون ومن تبعهم من الأئمة.

قال المؤلف رحمه الله: (فمن خالف أصحاب رسول الله صلى الله عليه وسلم في شيء من أمر الدين فقد كفر) وهذا كلام مجمل من المؤلف رحمه الله، أن من خالف رسول الله صلى الله عليه وسلم في أمر من أمور الدين فقد كفر؛ لأنه إذا خالف في أمر من الأمور الاعتقادية بأن فعل ناقضاً من نواقض الإسلام، أو أشرك في العبادة، أو أنكر أمراً معلوماً من الدين بالضرورة فقد كفر، وقد يكون كفره كفراً أصغر، كما إذا حلف بغير الله أو طعن في النسب أو ناح على الميت؛ كما قال عليه الصلاة والسلام: (اثنتان في الناس هما بهم كفر: الطعن في النسب والنياحة على الميت)، وكذا من قال لأخيه: يا كافر، والقتال بين المسلمين، فكل هذه أعمال كفريه، لكنها لا تخرج من الملة، وقد يكون دون ذلك فيكون مخالفة، فكلام المؤلف مجمل ليس على إطلاقه وفيه تفصيل، فإن المخالفة قد تكون كفراً أكبر وقد تكون كفراً أصغر، وقد تكون بدعة، وقد تكون معصية.
দ্বীন আল্লাহর পক্ষ থেকে অবতীর্ণ ওহি, এটি মানুষের মতামতের ওপর ভিত্তি করে তৈরি হয়নি

গ্রন্থকার (রহিমাহুল্লাহ) বলেন: [জেনে রাখুন, আল্লাহ আপনার ওপর দয়া করুন! দ্বীন কেবল আল্লাহ তাবারাকা ওয়া তাআলার পক্ষ থেকেই এসেছে, এটি মানুষের কথা ও মতামতের ওপর ভিত্তি করে তৈরি করা হয়নি। এর জ্ঞান আল্লাহ এবং তাঁর রাসূলের কাছে। সুতরাং আপনি নিজের খেয়াল-খুশির অনুসরণ করবেন না, অন্যথায় আপনি দ্বীন থেকে বিচ্যুত হয়ে ইসলাম থেকে বের হয়ে যাবেন। কারণ আপনার জন্য কোনো প্রমাণ নেই। রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) তাঁর উম্মতের জন্য সুন্নাহ বর্ণনা করেছেন এবং তাঁর সাহাবীদের কাছে তা সুস্পষ্ট করেছেন। আর তাঁরাই হলেন জামাআহ এবং তাঁরাই আস-সাওয়াদুল আ'জাম (সর্ববৃহৎ দল)।

আর আস-সাওয়াদুল আ'জাম হলো: সত্য এবং সত্যের অনুসারীগণ। সুতরাং যে ব্যক্তি দ্বীনের কোনো বিষয়ে রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর সাহাবীদের বিরোধিতা করল, সে কুফরি করল]।

গ্রন্থকার (রহিমাহুল্লাহ) বলছেন: (জেনে রাখুন, আল্লাহ আপনার ওপর দয়া করুন), এটি সতর্কীকরণের অন্তর্ভুক্ত। অর্থাৎ: আমি আপনার কাছে যা বর্ণনা করব, সে বিষয়ে দৃঢ়প্রতিজ্ঞ এবং নিশ্চিত হোন; কারণ জ্ঞান হলো মনের সুদৃঢ় সিদ্ধান্ত।

আর তাঁর উক্তি: (আল্লাহ আপনার ওপর দয়া করুন), এটি সংবাদ যা দোয়ার অর্থে ব্যবহৃত হয়েছে। অর্থাৎ: আমি আল্লাহর কাছে প্রার্থনা করছি তিনি যেন আপনার ওপর দয়া করেন। এটি গ্রন্থকারের নসিহতের অন্তর্ভুক্ত যে, তিনি আপনাকে শিক্ষা দিচ্ছেন এবং আপনার জন্য দোয়া করছেন।

তাঁর উক্তি: (জেনে রাখুন, আল্লাহ আপনার ওপর দয়া করুন যে, দ্বীন কেবল আল্লাহ তাবারাকা ওয়া তাআলার পক্ষ থেকেই এসেছে, এটি মানুষের বুদ্ধি ও মতামতের ওপর ভিত্তি করে তৈরি করা হয়নি এবং এর জ্ঞান আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের কাছে রয়েছে)। অর্থাৎ: নিশ্চিত হোন এবং দৃঢ় বিশ্বাস রাখুন যে, দ্বীন কেবল আল্লাহর পক্ষ থেকেই এসেছে; কারণ দ্বীন হলো রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর প্রতি আল্লাহর ওহি। তিনি তাঁর প্রতি কুরআন ও সুন্নাহ ওহি হিসেবে পাঠিয়েছেন। দ্বীন হলো তা-ই যা কুরআন ও সুন্নাহতে এসেছে এবং এটি আল্লাহর পক্ষ থেকে আগত, মানুষের বুদ্ধি ও মতামতের ওপর তা রচিত হয়নি। মানুষের বুদ্ধি ও মতামতকে আল্লাহ কোনো মানদণ্ড বানাননি যার দিকে ফিরে যেতে হবে, বরং মানদণ্ড হলো আল্লাহর কিতাব এবং তাঁর রাসূলের সুন্নাহ। সুতরাং দ্বীন তাঁর নবীর ওপর অবতীর্ণ ওহি—কুরআন ও সুন্নাহ—হিসেবে কেবল আল্লাহ তাআলার পক্ষ থেকেই এসেছে এবং এর জ্ঞান আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের কাছে রয়েছে।

এরপর তিনি বলেছেন: (সুতরাং আপনি নিজের খেয়াল-খুশির অনুসরণ করবেন না, অন্যথায় আপনি দ্বীন থেকে বিচ্যুত হয়ে ইসলাম থেকে বের হয়ে যাবেন। কেননা আপনার জন্য কোনো প্রমাণ নেই)। অর্থাৎ: খেয়াল-খুশির অনুসরণ করবেন না; কারণ প্রবৃত্তি বা খেয়াল-খুশির অনুসরণ হলো পথভ্রষ্টতা। একারণেই আল্লাহ তাআলা তাঁর নবী দাউদকে বলেছেন: {হে দাউদ! আমি তোমাকে জমিনে খলিফা নিযুক্ত করেছি, সুতরাং তুমি মানুষের মধ্যে ন্যায়ের সাথে ফয়সালা করো এবং খেয়াল-খুশির অনুসরণ করো না; অন্যথায় তা তোমাকে আল্লাহর পথ থেকে বিচ্যুত করে দেবে। নিশ্চয় যারা আল্লাহর পথ থেকে বিচ্যুত হয়, তাদের জন্য রয়েছে কঠোর শাস্তি, যেহেতু তারা হিসাব দিবসকে ভুলে গিয়েছে} [সোয়াদ: ২৬]। সুতরাং যে ব্যক্তি তার খেয়াল-খুশি অনুযায়ী কোনো কিছুর অনুসরণ করবে, সে দ্বীন থেকে বিচ্যুত হবে, আর যে দ্বীন থেকে বিচ্যুত হবে সে ইসলাম থেকে বের হয়ে যাবে। এমতাবস্থায় তার কোনো প্রমাণ বা যুক্তি থাকবে না।

গ্রন্থকার এর কারণ বর্ণনা করে বলেছেন: (রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তাঁর উম্মতের জন্য সুন্নাহ বর্ণনা করেছেন এবং তাঁর সাহাবীদের কাছে তা সুস্পষ্ট করেছেন, আর তাঁরাই হলেন জামাআহ)। সুতরাং যে ব্যক্তি দ্বীন থেকে বের হয়ে যাবে তার কোনো প্রমাণ নেই; কারণ রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) তাঁর উম্মতের জন্য সুন্নাহ বর্ণনা করেছেন এবং সাহাবীদের কাছে তা সুস্পষ্ট করেছেন। রাসূল (আলাইহিস সালাতু ওয়াস সালাম) রিসালাত পৌঁছে দিয়েছেন, আমানত আদায় করেছেন, উম্মতকে নসিহত করেছেন এবং আল্লাহর পথে যথাযথ জিহাদ করেছেন। ফলে মানুষের ওপর দলিল ও প্রমাণ প্রতিষ্ঠিত হয়েছে।

তাঁর উক্তি: (আর তাঁরাই হলেন আস-সাওয়াদুল আ'জাম। আস-সাওয়াদুল আ'জাম হলো: সত্য এবং তার অনুসারীগণ)। অর্থাৎ: 'আস-সাওয়াদুল আ'জাম' বলতে সত্য এবং সত্যপন্থীদের বোঝানো হয়েছে। সত্যপন্থীরাই হলেন আস-সাওয়াদুল আ'জাম। (তোমরা আস-সাওয়াদুল আ'জামকে আঁকড়ে ধরো), যেমনটি কিছু হাদিসে আস-সাওয়াদুল আ'জামকে আঁকড়ে ধরার নির্দেশ এসেছে। আর আস-সাওয়াদুল আ'জাম বলতে সেই ব্যক্তিকে বোঝায় যে সত্যের ওপর অটল থাকে, যদিও সে একা হয়। যেমন সালাফদের কেউ কেউ বলেছেন: 'যদি তুমি সত্যের ওপর থাকো, তবে তুমিই জামাআহ, যদিও তুমি একা হও।' এর অর্থ এই নয় যে, সত্যকে মানুষের সংখ্যাধিক্য দিয়ে চেনা যাবে। বরং অধিকাংশ ক্ষেত্রে সংখ্যাধিক্য ধ্বংসপ্রাপ্তদের অন্তর্ভুক্ত হয়। আল্লাহ তাআলা বলেছেন: {যদি তুমি জমিনের অধিকাংশ মানুষের আনুগত্য করো, তবে তারা তোমাকে আল্লাহর পথ থেকে বিচ্যুত করে দেবে} [আনআম: ১১৬]। তিনি সুবহানাহু ওয়া তাআলা আরও বলেছেন: {কিন্তু অধিকাংশ মানুষ ঈমান আনে না} [হুদ: ১৭]। তিনি বলেছেন: {কিন্তু অধিকাংশ মানুষ কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে না} [বাকারা: ২৪৩]। আরও বলেছেন: {আমার বান্দাদের মধ্যে অল্প সংখ্যকই কৃতজ্ঞ} [সাবা: ১৩]।

আস-সাওয়াদুল আ'জামের সংখ্যা কখনো বাড়ে আবার কখনো কমে। নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর যুগে সাহাবীগণই ছিলেন আস-সাওয়াদুল আ'জাম। তাবিঈদের যুগে তাবিঈগণই ছিলেন আস-সাওয়াদুল আ'জাম। তাদের পরবর্তী অনুসারী ও ইমামগণের যুগেও তাই ছিল। কোনো কোনো সময়ে সত্যের ওপর একজন, দুজন, তিনজন বা চারজন থাকতে পারে। আবার কখনো সত্যের ওপর বিচ্ছিন্ন কিছু ছোট ছোট দল থাকতে পারে; হয়তো এই শহরে কিছু ব্যক্তি, ঐ শহরে কিছু ব্যক্তি এবং অন্য শহরে কিছু ব্যক্তি রয়েছে। তাঁরাই সত্য এবং তাঁরাই আস-সাওয়াদুল আ'জাম। শেষ জামানায় ফিতনার সময় এবং দাজ্জাল বের হওয়ার কিছু আগে তাঁরা সিরিয়ায় একত্রিত হবেন।

আর আস-সাওয়াদুল আ'জামের অন্তর্ভুক্ত লোকরাই হলেন বিজয়ী দল (তায়েফা মানসুরা), তাঁরাই সত্যপন্থী, তাঁরাই আহলে সুন্নাত এবং তাঁরাই জামাআহ। কোনো ব্যক্তি আহলে সুন্নাত ওয়াল জামাআহর অন্তর্ভুক্ত হতে পারেন যদিও তিনি কৃষক, ব্যবসায়ী, কসাই বা প্লাম্বার হন। আবার তিনি মুহাদ্দিস বা ফকিহও হতে পারেন। আহলে সুন্নাত ওয়াল জামাআহর অগ্রগণ্য ব্যক্তিরা হলেন আহলে হাদিস, আহলে ইলম, আহলে ফিকহ, অন্তর্দৃষ্টিসম্পন্ন ব্যক্তি এবং যারা তাঁদের পথে চলেন। একারণেই ইমাম আহমাদ বলেছেন: 'যদি তাঁরা আহলে হাদিস না হন, তবে আমি জানি না তাঁরা কারা!' সুতরাং আহলে হাদিসগণ তাঁদের অগ্রভাগে রয়েছেন এবং যে তাঁদের অনুসরণ করবে সে তাঁদেরই অন্তর্ভুক্ত। তাঁদের প্রথম অগ্রভাগে রয়েছেন সাহাবীগণ, তাবিঈগণ এবং ইমামদের মধ্য থেকে যারা তাঁদের অনুসরণ করেছেন।

গ্রন্থকার (রহিমাহুল্লাহ) বলেছেন: (সুতরাং যে ব্যক্তি দ্বীনের কোনো বিষয়ে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর সাহাবীদের বিরোধিতা করল, সে কুফরি করল)। এটি গ্রন্থকারের একটি সংক্ষিপ্ত কথা যে, যে ব্যক্তি দ্বীনের কোনো বিষয়ে রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর বিরোধিতা করল সে কুফরি করল। কারণ, যদি সে আকিদাগত কোনো বিষয়ে এমন কোনো কাজ করে বিরোধিতা করে যা ইসলাম ভঙ্গকারী, অথবা ইবাদতে শিরক করে, অথবা দ্বীনের অকাট্যভাবে জানা কোনো বিষয় অস্বীকার করে, তবে সে কুফরি করল। আবার তার এই কুফরি ছোট কুফরিও হতে পারে; যেমন আল্লাহ ছাড়া অন্য কারো নামে কসম করা, বংশমর্যাদায় আঘাত করা অথবা মৃত ব্যক্তির জন্য বিলাপ করা; যেমন নবী (আলাইহিস সালাতু ওয়াস সালাম) বলেছেন: 'মানুষের মধ্যে দুটি বিষয় কুফরি: বংশমর্যাদায় আঘাত করা এবং মৃত ব্যক্তির জন্য বিলাপ করা।' তদ্রূপ কারো ভাইকে 'হে কাফের' বলা এবং মুসলিমদের মধ্যে যুদ্ধ—এসবই কুফরির কাজ, কিন্তু এগুলো ইসলাম থেকে বের করে দেয় না। আবার কখনো এর চেয়ে কম হতে পারে যা কেবল বিরোধিতা হিসেবে গণ্য। সুতরাং গ্রন্থকারের কথাটি সংক্ষিপ্ত, এটি ঢালাওভাবে প্রযোজ্য নয় বরং এতে বিস্তারিত ব্যাখ্যা রয়েছে। কেননা বিরোধিতা কখনো বড় কুফরি, কখনো ছোট কুফরি, কখনো বিদআত এবং কখনো পাপাচার হতে পারে।
(খণ্ড: ১) শারহু কিতাবিস সুন্নাহ লিল বারবাহারী - আর রাজহী (পৃষ্ঠা: -)
شرح كتاب السنة للبربهاري - الراجحي   (عبد العزيز بن عبد الله الراجحي)

القسم: العقيدة


الكتاب: شرح كتاب السنة للبربهاري

المؤلف: عبد العزيز بن عبد الله بن عبد الرحمن الراجحي

مصدر الكتاب: دروس صوتية قام بتفريغها موقع الشبكة الإسلامية

http://www.islamweb.net

[ الكتاب مرقم آليا، ورقم الجزء هو رقم الدرس - 16 درسا]

تاريخ النشر بالشاملة: 15 جُمادَى الآخرة 1432

শারহু কিতাবিস সুন্নাহ লিল বারবাহারী - আর-রাজহী   (আবদুল আজিজ বিন আবদুল্লাহ আর-রাজহী)

বিভাগ: আকীদা


কিতাব: শারহু কিতাবিস সুন্নাহ লিল বারবাহারী

লেখক: আবদুল আজিজ বিন আবদুল্লাহ বিন আবদুর রহমান আর-রাজহী

কিতাবের উৎস: ইসলাম ওয়েব সাইট কর্তৃক অনুলিখিত অডিও দরসসমূহ

http://www.islamweb.net

[ কিতাবটি স্বয়ংক্রিয়ভাবে সংখ্যায়িত করা হয়েছে, এবং খণ্ড নম্বর হলো দরস নম্বর - ১৬টি দরস]

শামিলা লাইব্রেরিতে প্রকাশের তারিখ: ১৫ জুমাদাল আখিরা ১৪৩২

(খণ্ড: ২) শারহু কিতাবিস সুন্নাহ লিল বারবাহারী - আর রাজহী (পৃষ্ঠা: ১)
شرح كتاب السنة للبربهاري ‌‌[2]

لابد للمسلم أن يحفظ دينه من البدع والمحدثات صغيرها وكبيرها، فإنه لا يتم إسلام مسلم حتى يكون متبعاً مصدقاً مسلماً.
ইমাম বারবাহারি কর্তৃক কিতাবুস সুন্নাহর ব্যাখ্যা ‌‌[২]

একজন মুসলিমের জন্য তার দ্বীনকে বিদআত ও নব-উদ্ভাবিত বিষয়াবলির ছোট-বড় সকল প্রকার অনিষ্ট থেকে রক্ষা করা অপরিহার্য; কেননা কোনো মুসলিমের ইসলাম ততক্ষণ পর্যন্ত পূর্ণতা লাভ করে না, যতক্ষণ না সে (সুন্নাহর) অনুসারী, সত্যায়নকারী ও আত্মসমর্পণকারী হয়।
(খণ্ড: ২) শারহু কিতাবিস সুন্নাহ লিল বারবাহারী - আর রাজহী (পৃষ্ঠা: ২)
‌‌كل بدعة ضلالة

قال المؤلف رحمه الله تعالى: [واعلم أن الناس لم يبتدعوا بدعة قط حتى تركوا من السنة مثلها، فاحذر المحدثات من الأمور، فإن كل محدثة بدعة، وكل بدعة ضلالة، والضلالة وأهلها في النار].

يقول المؤلف رحمه الله: (واعلم) وهذا من باب التنبيه كي يجذب انتباه الذهن، ومعناه: اجزم وتيقن أن الناس لم يبتدعوا بدعة قط حتى تركوا من السنة مثلها، فكل بدعة تحدث يموت مثلها من السنة، فالسنة تقابل البدعة والبدعة تقابل السنة، وإذا أحيت سنة ماتت البدعة المقابلة لها، وهذا شيء واضح لا شك فيه.

ثم قال: (فاحذر المحدثات من الأمور، فإن كل محدثة بدعة وكل بدعة ضلالة والضلالة وأهلها في النار)، هذا مأخوذ من الأحاديث التي جاء فيها التحذير من البدع، قال عليه الصلاة والسلام: (وعليكم بسنتي وسنة الخلفاء الراشدين المهديين من بعدي، عضوا عليها بالنواجذ، وإياكم ومحدثات الأمور فإن كل محدثة بدعة) وفي لفظ آخر: (وكل بدعة ضلالة) وفي رواية النسائي: (وكل ضلالة في النار).

وثبت في الصحيحين من حديث عائشة رضي الله عنها أن النبي صلى الله عليه وسلم قال: (من أحدث في أمرنا هذا ما ليس منه فهو رد)، وفي لفظ لـ مسلم: (من عمل عملاً ليس عليه أمرنا فهو رد)، فكل عمل وكل حدث في الدين يخالف أمر الله وأمر رسوله فهو بدعة.
প্রত্যেক বিদআতই ভ্রষ্টতা

লেখক (রাহিমাহুল্লাহ) বলেন: [জেনে রাখুন যে, মানুষ যখনই কোনো বিদআত উদ্ভাবন করেছে, তখনই তারা তার সমপরিমাণ একটি সুন্নাত ত্যাগ করেছে। অতএব নবউদ্ভাবিত বিষয়াবলি থেকে সতর্ক থাকুন, কেননা প্রতিটি নবউদ্ভাবিত বিষয়ই বিদআত, আর প্রতিটি বিদআতই ভ্রষ্টতা, এবং ভ্রষ্টতা ও এর অনুসারীরা জাহান্নামে যাবে।]

লেখক (রাহিমাহুল্লাহ) বলছেন: (জেনে রাখুন) এটি মনোযোগ আকর্ষণের জন্য সতর্কতামূলক সম্বোধন। এর অর্থ হলো: আপনি দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করুন যে, মানুষ যখনই কোনো বিদআত প্রবর্তন করে, তখন তারা তার সমপরিমাণ একটি সুন্নাত বর্জন করে। সুতরাং প্রতিটি বিদআত যখন জন্ম নেয়, তার বিপরীত সমপরিমাণ একটি সুন্নাত বিলুপ্ত হয়ে যায়। সুন্নাত বিদআতের বিপরীতে এবং বিদআত সুন্নাতের বিপরীতে অবস্থান করে। যখন কোনো সুন্নাতকে জীবিত করা হয়, তখন তার বিপরীত বিদআতটি বিলুপ্ত হয়। এটি একটি স্পষ্ট বিষয়, যাতে কোনো সন্দেহ নেই।

অতঃপর তিনি বলেন: (অতএব নবউদ্ভাবিত বিষয়াবলি থেকে সতর্ক থাকুন, কারণ প্রতিটি নবউদ্ভাবিত বিষয়ই বিদআত এবং প্রতিটি বিদআতই ভ্রষ্টতা, আর ভ্রষ্টতা ও এর অনুসারীরা জাহান্নামে যাবে)। এটি ঐ সকল হাদীস থেকে নেওয়া হয়েছে যাতে বিদআত সম্পর্কে সতর্ক করা হয়েছে। নবী (আলাইহিস সালাতু ওয়াস সালাম) বলেছেন: (তোমরা আমার সুন্নাত এবং আমার পরবর্তী হিদায়েতপ্রাপ্ত খুলাফায়ে রাশিদীনের সুন্নাত আঁকড়ে ধরো, তা দাঁত দিয়ে কামড়ে ধরে থাকো। আর দ্বীনের মধ্যে নবউদ্ভাবিত বিষয়গুলো থেকে বেঁচে থাকো, কারণ প্রতিটি নবউদ্ভাবিত বিষয়ই বিদআত)। অন্য শব্দে বর্ণিত হয়েছে: (এবং প্রতিটি বিদআতই ভ্রষ্টতা)। আন-নাসাঈর বর্ণনায় এসেছে: (এবং প্রতিটি ভ্রষ্টতাই জাহান্নামে যাবে)।

সহীহাইন (বুখারী ও মুসলিম)-এ আয়েশা (রাদিয়াল্লাহু আনহা) থেকে বর্ণিত হাদীসে প্রমাণিত হয়েছে যে, নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন: (যে ব্যক্তি আমাদের এই দ্বীনের মধ্যে এমন কিছু উদ্ভাবন করল যা এর অন্তর্ভুক্ত নয়, তা প্রত্যাখ্যাত)। মুসলিমের এক বর্ণনায় আছে: (যে ব্যক্তি এমন কোনো কাজ করল যার ওপর আমাদের এই আদর্শ নেই, তা প্রত্যাখ্যাত)। সুতরাং দ্বীনের মধ্যে এমন প্রতিটি কাজ এবং প্রতিটি নতুন বিষয় যা আল্লাহর নির্দেশ এবং তাঁর রাসূলের নির্দেশের পরিপন্থী, তা-ই বিদআত।
(খণ্ড: ২) শারহু কিতাবিস সুন্নাহ লিল বারবাহারী - আর রাজহী (পৃষ্ঠা: ৩)
‌‌صغير البدع يقود صاحبها إلى كبيرها

قال المؤلف رحمه الله تعالى: [واحذر صغار المحدثات من الأمور، فإن صغير البدع يعود حتى يصير كبيراً، وكذلك كل بدعة أحدثت في هذه الأمة كان أولها صغيراً يشبه الحق فاغتر بذلك من دخل فيها، ثم لم يستطع المخرج منها، فعظمت وصارت ديناً يدان بها، فخالف الصراط المستقيم فخرج من الإسلام].

أي أن المؤلف يقول: إن عليك أن تجتنب البدع حتى ولو كانت صغيرة، ولو كانت بدعة قولية، مثل ما يقوله بعض الناس: كأن ينطق بالنية حينما يصلي، فإذا صليت بجواره فإنه يقول: نويت أن أصلي فرض الظهر أربع ركعات خلف هذا الإمام، وإذا أراد أن يصوم، قال: نويت أن أصوم هذا اليوم من رمضان من طلوع الفجر إلى غروب الشمس، وإذا أراد أن يطوف بالبيت قال: نويت أن أطوف بالبيت سبعة أشواط طواف العمرة أو طواف الوداع، أو نويت أن أسعى بين الصفا والمروة مع الحج، وهذه بدعة ليس لهم عليها دليل، ولهذا قال بعض السلف: لو عمرت عمر نوح ثم فتشت في الكتاب والسنة لم تجد دليلاً يدل على شرعية النطق بالنية، فهذه بدعة صغيرة يتساهل بها بعض الناس، لكن قد تجره إلى البدع الكبار.

وكذلك أيضاً بعض الناس إذا توضأ فإنه يأتي بأذكار لا أصل لها، فإذا غسل وجهه قال: اللهم بيض وجهي يوم تسود الوجوه، وإذا غسل يده اليمنى قال: اللهم أعطني كتابي بيميني وهذه بدعة لا أصل لها، فالمؤلف رحمه الله يقول: (احذر صغار المحدثات من الأمور فإن صغير البدع يعود حتى يصير كبيراً)، فالصغير يجر إلى الكبير.

ثم قال المؤلف: (وكذلك كل بدعة أحدثت في هذه الأمة كان أولها صغيراً يشبه الحق فاغتر بذلك من دخل فيها، ثم لم يستطع الخروج منها)، يقول: كل بدعة حينما تحدث تكون صغيرة تشبه الحق من وجه فيغتر بها بعض الناس فيدخلون فيها فإذا دخل ما استطاع الخروج منها، وهكذا ينتقل من بدعة إلى بدعة حتى يصل إلى الكفر نعوذ بالله، ولهذا قال المؤلف رحمه الله: (فعظمت وصارت ديناً يدان بها)؛ بسبب الإلف والاعتياد، فهو يبتدع أولاً بدعة صغيرة ويغتر بها، ثم لا يستطيع الخروج منها، ثم تعظم وتصير ديناً اعتاده الناس فخالف الصراط المستقيم وخرج بذلك من الإسلام.

فمثلاً بعض الناس في بعض المجتمعات اعتادوا أن المرأة لا تحتجب عن أقاربها من بني عمها وجيرانها، فالمرأة تسلم على ابن عمها وتكشف له وجهها وتسافر معه وقد تأكل معه، وابن خالها وجارها، لكن إذا خرجت للشارع تتحجب، وزوج الأخت لا تحتجب عنه، فبعض الناس إذا نهيته قلت: يا فلان! لا يجوز لك أن تترك امرأتك تسلم على جارك أو تسلم على أخيك وتكشف له وجهها، فيقول: لا نستطيع تركه فقد نشأنا عليه، ولهذا قال المؤلف رحمه الله: (إن البدعة تعظم وتصير ديناً يدان بها) لا يستطيع الفكاك عنها، لكن لو جاهد نفسه وكان شجاعاً قوياً في الحق لنصح أهله وجاره وابنه وبني عمه وبني خاله ويقول: هذا لا يجوز وهو محرم ولا يجوز للمرأة أن تكشف لهم وجهها، لكن هذا التساهل الذي نشأ عليه الصغير وهرم عليه الكبير جعل هذه البدعة أو هذه المعصية لا يستطيع الإنسان الفكاك عنها، وهذا هو معنى قول المؤلف رحمه الله: (وكذلك كل بدعة أحدثت في هذه الأمة كان أولها صغيراً يشبه الحق فاغتر بذلك من دخل فيها ثم لم يستطع الخروج منها فعظمت وصارت ديناً يدان بها فخالف الصراط المستقيم فخرج من الإسلام)، يعني: أن هذه البدعة وإن كانت صغيرة فقد خالف صاحبها بها الصراط المستقيم، والصراط المستقيم هو العمل بالسنة وترك البدعة.

وقد تجر هذه البدعة الصغيرة إلى ما هو أكبر منها، وصدق الشاعر حين قال: كل الحوادث مبدؤها من النظر ومعظم النار من مستصغر الشرر فحينما يأتي الرجل الأجنبي إلى امرأة فيقول: السلام عليكم، تقول: عليك السلام، وما عندهم أحد، ثم يكلمها، فهذا كلام، ثم لقاء، حتى يصل إلى فعل الفاحشة حتى يصل إلى الزنا، وأول شيء كان كلاماً، نظرة فسلام فكلام ثم لقاء، نظرة أولاً نظر إليها، ثم سلم عليها، ثم صار بينهما الكلام ثم لقاء، وهكذا يتدرج الإنسان من المعصية إلى المعصية، فكذلك البدعة ينتقل من بدعة إلى بدعة إلى بدعة حتى يصل إلى الكفر، فيخرج بذلك عن الإسلام كله، نسأل الله السلامة والعافية.

قال المؤلف رحمه الله تعالى: [فانظر رحمك الله! كل من سمعت كلامه من أهل زمانك خاصة فلا تعجلن ولا يدخلن في شيء منه حتى تسأل وتنظر، هل تكلم به أحد من أصحاب النبي صلى الله عليه وسلم أو أحد من العلماء فإن أصبت فيه أثراً عنهم فتمسك به ولا تجاوزه لشيء ولا تختر عليه شيئاً فتسقط في النار].

قول المؤلف رحمه الله: (فانظر رحمك الله) بمعنى تأمل، وليس المراد النظر بالعينين، وإنما المراد النظر بالقلب، كقوله تعالى: {فَانظُرْ إِلَى آثَارِ رَحْمَةِ اللَّهِ كَيْفَ يُحْيِ الأَرْضَ بَعْدَ مَوْتِهَا} [الروم:50].

(رحمك الله)، هذا من نصح المؤلف رحمه الله أن يسأل لك الرحمة، يعني: اللهم ارحمه.

ومعنى كلامه: إذا رأيت أهل زمانك يتكلمون في شيء أو يعملون شيئاً فتأمل ولا تستعجل ولا تدخل في شيء من هذه الأمور، ولا تتكلم في هذا الشيء الذي تكلموه ولا تعمل هذا العمل الذي عملوه إلا بعد أن تتأمل، وتسأل وتنظر، وإذا كنت طالب علم فابحث في كتب العلم ومع أهل العلم، فانظر هذا الأمر الذي يعمله الناس مثل رفع اليدين في الدعاء أو الزيارة والصلاة في المقبرة، فإذا رأيت بعض الناس يصلي عند المقبرة وأنت لا تدري ما الحكم، فانظر وتأمل ولا تستعجل فتصلي عند القبر تقليداً لمن يفعل ذلك، حتى تنظر وتتأمل هل تكلم فيه أصحاب رسول الله صلى الله عليه وسلم أو أحد من العلماء، فإن وجدت فيه أثراً فتمسك به، وإن وجدت أن هذا العمل مشروع فاعمل به، وإذا وجدتهم ينهون عنه ويحذرون منه فاتركه.

(ولا تجاوزه لشيء ولا تختر عليه شيئاً فتسقط في النار) يعني: أن المعاصي توصل إلى النار، فعلى الإنسان ألا يعمل شيئاً ولا يقل شيئاً إلا بدليل من كتاب الله وسنة رسوله صلى الله عليه وسلم، فقد نهى النبي صلى الله عليه وسلم عن الصلاة إلى القبور بقوله: (لا تجلسوا إلى القبور ولا تصلوا إليها)، ونهى النبي صلى الله عليه وسلم عن الصلاة في المقبرة، فالصلاة في المقبرة من وسائل الشرك وهذا حرام.

إذاً: لا تفعل شيئاً تقليداً لمن فعله، فكل عمل لابد أن تنظر فيه وتتأمل وتعمل بالسنة ولا تجاوزه إلى غيرها فتسقط في النار، والمعنى: أن البدع والمعاصي توصل إلى النار وهي بريد الكفر.
‌‌ছোট বিদআত তার কর্তাকে বড় বিদআতের দিকে নিয়ে যায়

লেখক রহিমাহুল্লাহ বলেন: [দ্বীনের মধ্যে নব উদ্ভাবিত ছোট বিষয়গুলো থেকে সতর্ক থাকুন। কেননা ছোট বিদআত বাড়তে বাড়তে বড় বিদআতে পরিণত হয়। তেমনিভাবে এই উম্মতের মধ্যে উদ্ভাবিত প্রতিটি বিদআতের সূচনাই ছিল ছোট এবং সত্যের সদৃশ, ফলে যে এতে প্রবেশ করেছে সে ধোঁকায় পড়েছে। অতঃপর সে তা থেকে বের হতে পারেনি, ফলে বিষয়টি বিশাল আকার ধারণ করেছে এবং এটি এমন এক দ্বীনে পরিণত হয়েছে যার অনুসরণ করা হয়। এভাবে সে সঠিক পথ থেকে বিচ্যুত হয়ে ইসলাম থেকে বের হয়ে গেছে।]

অর্থাৎ লেখক বলছেন: বিদআত থেকে আপনাকে বেঁচে থাকতে হবে যদিও তা ছোট হয়, এমনকি তা যদি মৌখিক বিদআতও হয়। যেমন কিছু মানুষ করে থাকে: সালাতের সময় মুখে নিয়ত উচ্চারণ করা। আপনি যদি তার পাশে সালাত আদায় করেন তবে সে বলে: আমি এই ইমামের পিছনে যোহরের চার রাকাত ফরজ সালাত আদায়ের নিয়ত করছি। যখন সে রোজা রাখতে চায় তখন বলে: আমি রমজানের এই দিনে সুবহে সাদিক থেকে সূর্যাস্ত পর্যন্ত রোজা রাখার নিয়ত করছি। যখন সে কাবা ঘরের তাওয়াফ করতে চায় তখন বলে: আমি উমরার সাত চক্কর বা বিদায়ী তাওয়াফের নিয়ত করছি, অথবা হজের সাথে সাফা ও মারওয়ার মাঝে সায়ীর নিয়ত করছি। এসব বিদআতের স্বপক্ষে তাদের কাছে কোনো দলিল নেই। এজন্য পূর্বসূরিদের কেউ কেউ বলেছেন: আপনি যদি নূহ আলাইহিস সালামের সমান হায়াত পান এবং এরপর কিতাব ও সুন্নাহ তন্ন তন্ন করে খোঁজেন, তবুও নিয়ত মুখে উচ্চারণের বৈধতার সপক্ষে কোনো দলিল পাবেন না। এটি একটি ছোট বিদআত যা কিছু মানুষ সহজভাবে গ্রহণ করে, কিন্তু এটি তাকে বড় বড় বিদআতের দিকে টেনে নিয়ে যেতে পারে।

তেমনিভাবে কিছু মানুষ যখন অজু করে তখন এমন কিছু জিকির করে যার কোনো ভিত্তি নেই। যখন মুখ ধোয় তখন বলে: হে আল্লাহ! যেদিন মুখসমূহ কালো হয়ে যাবে সেদিন আমার মুখ উজ্জ্বল করে দিও। যখন ডান হাত ধোয় তখন বলে: হে আল্লাহ! আমার আমলনামা আমার ডান হাতে দিও। এটি এমন এক বিদআত যার কোনো ভিত্তি নেই। লেখক রহিমাহুল্লাহ বলেন: (দ্বীনের নব উদ্ভাবিত ছোট বিষয়গুলো থেকে সতর্ক থাকুন। কেননা ছোট বিদআত বাড়তে বাড়তে বড় বিদআতে পরিণত হয়)। অর্থাৎ ছোট বিষয় বড় বিষয়ের দিকে টেনে নিয়ে যায়।

এরপর লেখক বলেন: (তেমনিভাবে এই উম্মতের মধ্যে উদ্ভাবিত প্রতিটি বিদআতের সূচনাই ছিল ছোট এবং সত্যের সদৃশ, ফলে যে এতে প্রবেশ করেছে সে ধোঁকায় পড়েছে। অতঃপর সে তা থেকে বের হতে পারেনি)। তিনি বলছেন: প্রতিটি বিদআত যখন শুরু হয় তখন তা ছোট থাকে এবং একদিক থেকে সত্যের সদৃশ মনে হয়, ফলে কিছু মানুষ এতে বিভ্রান্ত হয়ে লিপ্ত হয়ে পড়ে। একবার এতে ঢুকে পড়লে আর বের হতে পারে না। এভাবেই সে এক বিদআত থেকে অন্য বিদআতে স্থানান্তরিত হতে থাকে যতক্ষণ না সে কুফর পর্যন্ত পৌঁছে যায়, আল্লাহর কাছে এ থেকে আশ্রয় চাই। এজন্য লেখক রহিমাহুল্লাহ বলেছেন: (ফলে বিষয়টি বিশাল আকার ধারণ করেছে এবং এটি এমন এক দ্বীনে পরিণত হয়েছে যার অনুসরণ করা হয়); এটি হয় অভ্যাস এবং নিয়মিত চর্চার কারণে। সে প্রথমে একটি ছোট বিদআত শুরু করে এবং এতে ধোঁকায় পড়ে, এরপর সে তা থেকে বের হতে পারে না। অতঃপর তা বিশাল হয়ে যায় এবং এমন এক দ্বীনে পরিণত হয় যাতে মানুষ অভ্যস্ত হয়ে পড়ে, ফলে সে সঠিক পথ থেকে বিচ্যুত হয় এবং এর মাধ্যমে ইসলাম থেকে বের হয়ে যায়।

উদাহরণস্বরূপ, কিছু সমাজে মানুষ অভ্যস্ত হয়ে গেছে যে মহিলারা তাদের আত্মীয় যেমন চাচাতো ভাই বা প্রতিবেশীদের থেকে পর্দা করে না। ফলে মহিলাটি তার চাচাতো ভাইকে সালাম দেয়, তার সামনে চেহারা খোলা রাখে, তার সাথে সফর করে এবং এমনকি একসাথে খাবারও খায়। তেমনিভাবে খালাতো ভাই এবং প্রতিবেশীদের ক্ষেত্রেও। কিন্তু যখন সে রাস্তায় বের হয় তখন পর্দা করে। দুলাভাইয়ের সামনে সে পর্দা করে না। কিছু মানুষকে যখন আপনি নিষেধ করেন এবং বলেন: হে অমুক! আপনার স্ত্রীর জন্য আপনার প্রতিবেশী বা আপনার ভাইয়ের সামনে সালাম দেওয়া বা চেহারা খোলা রাখা জায়েজ নয়। তখন সে বলে: আমরা এটি ছাড়তে পারব না কারণ আমরা এভাবেই বড় হয়েছি। একারণেই লেখক রহিমাহুল্লাহ বলেছেন: (বিদআত বিশাল হয়ে যায় এবং এটি এমন এক দ্বীনে পরিণত হয় যার অনুসরণ করা হয়) সে তা থেকে মুক্ত হতে পারে না। কিন্তু সে যদি নিজের নফসের সাথে জিহাদ করত এবং সত্যের ওপর অটল থাকার সাহস রাখত, তবে সে তার পরিবার, প্রতিবেশী, সন্তান, চাচাতো ভাই ও খালাতো ভাইদের উপদেশ দিত এবং বলত: এটি জায়েজ নয়, এটি হারাম এবং মহিলাদের জন্য তাদের সামনে চেহারা খোলা রাখা বৈধ নয়। কিন্তু এই শিথিলতা যার ওপর ছোটরা বড় হয়েছে এবং বৃদ্ধরা বার্ধক্যে উপনীত হয়েছে, তা এই বিদআত বা এই গুনাহকে এমন পর্যায়ে নিয়ে গেছে যে মানুষ তা থেকে মুক্ত হতে পারছে না। লেখক রহিমাহুল্লাহ-এর এই কথার অর্থ এটাই: (তেমনিভাবে এই উম্মতের মধ্যে উদ্ভাবিত প্রতিটি বিদআতের সূচনাই ছিল ছোট এবং সত্যের সদৃশ, ফলে যে এতে প্রবেশ করেছে সে ধোঁকায় পড়েছে। অতঃপর সে তা থেকে বের হতে পারেনি, ফলে বিষয়টি বিশাল আকার ধারণ করেছে এবং এটি এমন এক দ্বীনে পরিণত হয়েছে যার অনুসরণ করা হয়। এভাবে সে সঠিক পথ থেকে বিচ্যুত হয়ে ইসলাম থেকে বের হয়ে গেছে)। অর্থাৎ: এই বিদআত ছোট হলেও এর কর্তা সঠিক পথ থেকে বিচ্যুত হয়েছে। আর সঠিক পথ হলো সুন্নাহর ওপর আমল করা এবং বিদআত বর্জন করা।

এই ছোট বিদআত তাকে তার চেয়ে বড় বিদআতের দিকে টেনে নিয়ে যেতে পারে। কবি সত্যই বলেছেন: সব ঘটনার শুরু হয় দৃষ্টি থেকে, আর বিশাল অগ্নিকাণ্ডের সূত্রপাত হয় ছোট স্ফুলিঙ্গ থেকে। যখন একজন পরপুরুষ কোনো মহিলার কাছে আসে এবং বলে: আসসালামু আলাইকুম, মহিলাটি উত্তর দেয়: ওয়া আলাইকুমুস সালাম, অথচ সেখানে আর কেউ নেই। এরপর সে তার সাথে কথা বলে, এভাবে কথা বলা থেকে সাক্ষাৎ, এমনকি তা অশ্লীলতা এবং জিনা (ব্যব্যিচার) পর্যন্ত পৌঁছায়। অথচ প্রথম বিষয়টি ছিল কেবল কথা বলা। প্রথমে দৃষ্টি, তারপর সালাম, তারপর কথা, এরপর সাক্ষাৎ। প্রথমে তার দিকে তাকাল, তারপর সালাম দিল, এরপর তাদের মাঝে কথা হলো, তারপর সাক্ষাৎ। এভাবেই মানুষ এক গুনাহ থেকে অন্য গুনাহর দিকে ধাপে ধাপে অগ্রসর হয়। ঠিক তেমনি বিদআত; মানুষ এক বিদআত থেকে অন্য বিদআতে স্থানান্তরিত হতে থাকে যতক্ষণ না সে কুফর পর্যন্ত পৌঁছায় এবং এর মাধ্যমে সম্পূর্ণ ইসলাম থেকে বের হয়ে যায়। আমরা আল্লাহর কাছে নিরাপত্তা ও সুস্থতা কামনা করি।

লেখক রহিমাহুল্লাহ বলেন: [আপনার ওপর আল্লাহর রহমত বর্ষিত হোক, আপনি দেখুন! বিশেষ করে আপনার সমসাময়িকদের মধ্যে যার কথাই আপনি শোনেন না কেন, সে বিষয়ে তাড়াহুড়ো করবেন না এবং তার কোনো কিছুতেই প্রবেশ করবেন না যতক্ষণ না আপনি জিজ্ঞাসা করেন এবং দেখেন যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সাহাবীদের কেউ অথবা আলেমদের কেউ কি এ সম্পর্কে কথা বলেছেন? যদি আপনি তাদের থেকে এ বিষয়ে কোনো বর্ণনা পান তবে তা আঁকড়ে ধরুন এবং কোনো কিছুর বিনিময়ে তা অতিক্রম করবেন না। তার মোকাবিলায় অন্য কিছু বেছে নেবেন না, অন্যথায় আপনি আগুনে নিক্ষিপ্ত হবেন।]

লেখক রহিমাহুল্লাহ-এর কথা: (আপনার ওপর আল্লাহর রহমত বর্ষিত হোক, আপনি দেখুন) এর অর্থ হলো চিন্তা করুন। এখানে চোখ দিয়ে দেখা উদ্দেশ্য নয়, বরং অন্তর দিয়ে দেখা বা চিন্তা করা উদ্দেশ্য। যেমন মহান আল্লাহর বাণী: {আল্লাহর রহমতের নিদর্শনের দিকে তাকিয়ে দেখ, কীভাবে তিনি জমিনকে তার মৃত্যুর পর পুনর্জীবিত করেন} [রূম: ৫০]।

(আপনার ওপর আল্লাহর রহমত বর্ষিত হোক), এটি লেখকের পক্ষ থেকে আপনার জন্য নসিহত যে তিনি আপনার জন্য রহমতের দোয়া করছেন। অর্থাৎ: হে আল্লাহ, আপনি তার ওপর রহমত করুন।

তাঁর কথার অর্থ হলো: আপনি যখন আপনার সমসাময়িকদের দেখেন যে তারা কোনো বিষয়ে কথা বলছে বা কোনো কাজ করছে, তখন চিন্তা করুন এবং তাড়াহুড়ো করবেন না। এসবের কোনো কিছুতে প্রবেশ করবেন না। তারা যে কথা বলছে তা বলবেন না এবং তারা যে কাজ করছে তা করবেন না যতক্ষণ না আপনি চিন্তা করেন, জিজ্ঞাসা করেন এবং দেখেন। আপনি যদি ইলম অন্বেষণকারী হন তবে ইলমি কিতাবসমূহে এবং আলেমদের নিকট সন্ধান করুন। মানুষ যে কাজগুলো করছে তা লক্ষ্য করুন, যেমন দোয়ার সময় হাত তোলা কিংবা কবরস্থানে জিয়ারত ও সালাত আদায় করা। আপনি যদি দেখেন যে কিছু মানুষ কবরস্থানের পাশে সালাত আদায় করছে অথচ আপনি এর বিধান জানেন না, তবে চিন্তা করুন এবং তাড়াহুড়ো করে তাদের অন্ধ অনুসরণ করে কবরের কাছে সালাত আদায় করবেন না। যতক্ষণ না আপনি দেখেন এবং চিন্তা করেন যে আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সাহাবীগণ বা আলেমদের কেউ এ বিষয়ে কথা বলেছেন কি না। যদি আপনি এ বিষয়ে কোনো বর্ণনা পান তবে তা আঁকড়ে ধরুন। যদি দেখেন যে এই কাজটি শরীয়তসম্মত তবে তা পালন করুন। আর যদি দেখেন যে তারা এটি নিষেধ করছেন এবং এ থেকে সতর্ক করছেন তবে তা বর্জন করুন।

(এবং কোনো কিছুর বিনিময়ে তা অতিক্রম করবেন না। তার মোকাবিলায় অন্য কিছু বেছে নেবেন না, অন্যথায় আপনি আগুনে নিক্ষিপ্ত হবেন) অর্থাৎ: গুনাহ মানুষকে আগুনের দিকে নিয়ে যায়। মানুষের উচিত আল্লাহ তাআলার কিতাব এবং তাঁর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সুন্নাহর দলিল ছাড়া কোনো কাজ না করা এবং কোনো কথা না বলা। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কবরের দিকে মুখ করে সালাত আদায় করতে নিষেধ করেছেন তাঁর এই বাণীর মাধ্যমে: (তোমরা কবরের ওপর বসো না এবং কবরের দিকে মুখ করে সালাত আদায় করো না)। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কবরস্থানে সালাত আদায় করতেও নিষেধ করেছেন। কবরস্থানে সালাত আদায় করা শিরকের অন্যতম মাধ্যম এবং এটি হারাম।

সুতরাং, অন্য কেউ করছে বলেই অন্ধভাবে কোনো কিছু করবেন না। প্রতিটি কাজে আপনাকে চিন্তা করতে হবে এবং সুন্নাহ অনুযায়ী আমল করতে হবে। সুন্নাহ ছেড়ে অন্য দিকে যাবেন না, অন্যথায় আগুনে নিক্ষিপ্ত হবেন। এর অর্থ হলো: বিদআত এবং গুনাহ মানুষকে আগুনের দিকে নিয়ে যায় এবং তা কুফরির বার্তাবাহক।
(খণ্ড: ২) শারহু কিতাবিস সুন্নাহ লিল বারবাহারী - আর রাজহী (পৃষ্ঠা: ৪)
‌‌حالات من خرج عن الطريق المستقيم

قال المؤلف رحمه الله تعالى: [واعلم أن الخروج عن الطريق على وجهين: أما أحدهما: فرجل قد زل عن الطريق وهو لا يريد إلا الخير فلا يقتدى بزلته فإنه هالك.

وآخر عاند الحق وخالف من كان قبله من المتقين فهو ضال مضل، شيطان مريد في هذه الأمة، حقيق على من يعرفه أن يحذر الناس منه ويبين لهم قصته؛ لئلا يقع في بدعته أحد فيهلك].

(اعلم) يعني: تيقن (أن الخروج من الطريق يكون على وجهين) يعني: الذي خرج عن الطريق المستقيم وخالف السنة له حالتان: الحالة الأولى: (رجل قد زل عن الطريق وهو لا يريد إلا الخير فلا يقتدى بزلته فإنه هالك)، هذا النوع من الناس أو هذه الحالة هو من لا يريد إلا الخير فلا يقتدى بزلته فإنه هالك، يعني: أنه لم يتعمد ترك الحق ولكنه خالف الحق، فهذا لا يقتدى به ولو كان من الصحابة أو التابعين.

وأما قول المؤلف رحمه الله (فإنه هالك) فهذا فيه تفصيل: إن كان عالماً مجتهداً واجتهد وهذا هو الذي وصل إليه باجتهاده فهو مأجور على اجتهاده وخطؤه مغفور، ولكن لا نقتدي به وإنما نترحم عليه ما دام أننا عرفنا أنه مخالف للنص حتى ولو كان من الصحابة.

ومثال ذلك: أن أصحاب النبي صلى الله عليه وسلم في حجة الوداع منهم من أحرم بحج فقط ومنهم من أحرم بعمرة وحج، ومنهم من أحرم بالحج مفرداً، ومن أحرم متمتعاً بالعمرة إلى الحج، ومنهم من أحرم بالعمرة مفرداً، فلما قربوا من مكة أمر عليه الصلاة والسلام الذين لم يسوقوا الهدي أن يقلبوا إحرامهم إلى عمرة، ثم لما طافوا وسعوا عند المروة حتم عليهم وألزمهم أن يتحللوا فتحللوا كلهم إلا من ساق الهدي؛ وذلك لإزالة اعتقاد الجاهلية؛ فقد كان أهل الجاهلية يرون أن العمرة في أشهر الحج من أفجر الفجور، فأراد النبي صلى الله عليه وسلم أن يزيل اعتقاد أهل الجاهلية وأمرهم أن يجعلوها عمرة، حتى إن الصحابة رضوان الله عليهم قالوا: يا رسول الله! أيذهب أحدنا إلى منى وذكره يقطر منياً، فخطبهم، وقال: لولا أني سقت الهدي لأحللت.

تطييباً لخواطرهم، لأنهم كانوا في الجاهلية لا يعتمرون في وقت الحج.

فأخذ العلماء من هذا مشروعية فسخ الحج إلى العمرة لمن لم يسق الهدي، وقالوا: إن هذا هو الأفضل، ولا شك أنه الأفضل، وقد أفتى بذلك علي رضي الله عنه وأبو موسى الأشعري وابن عباس، ثم اجتهد الخلفاء الثلاثة رضوان الله عليهم أبو بكر وعمر وعثمان وصاروا بعد وفاة النبي صلى الله عليه وسلم يفتون الناس أن يحرموا بالحج مفردين، وقالوا إن العمرة يؤتى بها في وقت آخر حتى يستمر الإحرام ولا يزال هذا البيت يحج ويعتمر، وقالوا: إن اعتقاد أهل الجاهلية زال، فكانوا يفتون الناس بالحج مفردين، وبقي ابن عباس وعلي يفتيان بالتمتع.

ولما اختلف علي وعثمان، فقال علي لـ عثمان: ما كنت لأدع سنة النبي صلى الله عليه وسلم لقول أحد.

وكذلك أبو موسى الأشعري، حتى إن جماعة ناظروا ابن عباس، وقالوا له: كيف يا ابن عباس! تأمر بالعمرة وأبو بكر وعمر يأمران بالحج؟ فاشتد ابن عباس رضي الله عنه في الإنكار عليهم؛ لأنهم خالفوا السنة، فقال: يوشك أن تنزل عليكم حجارة من السماء، أقول قال رسول الله، وتقولون قال أبو بكر وعمر.

فهذا قول للخلفاء الثلاثة وقد اجتهدوا رضي الله عنهم، لكن الصواب مع ابن عباس، ومع علي، ومع أبي موسى الأشعري، فمن خالف السنة باجتهاد فهذا له أجر على اجتهاده كالصحابة ومن بعدهم من العلماء، وقال صلى الله عليه وسلم: (إذا اجتهد الحاكم فأصاب فله أجران، وإذا اجتهد فأخطأ فله أجر).

يقول المؤلف رحمه الله: (فإنه هالك) وهذا فيه تفصيل، فإن كان متعمداً ترك الحق فهذا هالك، أما إذا كان عن اجتهاد فليس بهالك.

والحالة الثانية: قال: (وآخر عاند الحق وخالف من كان قبله من المتقين فهذا ضال مضل، شيطان مريد في هذه الأمة)، فإذا عاند الحق وترك الحق عن هوى لا عن اجتهاد بل عن اتباع للهوى فهو ضال مضل، وهو شيطان مريد في هذه الأمة، هذا إذا كانت مخالفته كبيرة توصل إلى هذا الحد، أما إذا كانت مخالفة يسيرة فقد لا يكون بهذا الوصف، حيث إن هذا الوصف من قوة المؤلف رحمه الله، وشدته على أهل البدع، وقوة الدفاع عن الحق، ولشدة تحذيره من أهل البدع وإلا هذا فيه تفصيل أيضاً، فالذي خالف الحق في بعض المسائل الواردة في السنة مثل رفع اليدين في الصلاة، أو جلسة الاستراحة وغيرها من المسائل التي لا توصل إلى هذا الوصف فيكون قد خالف السنة ولا يكون بهذا الوصف، وإن كان قد خالف الحق في المسائل التي خلافها مؤثر حتى يكون فاعلها ضالاً مضلاً فهو بهذا الوصف.

فيجب على الإنسان أن يحذَّر من البدع ويحذَّر من أهل البدع وأهل الضلال حتى لا يقعوا في بدعته فيهلكون.
‌‌সঠিক পথ থেকে বিচ্যুতদের অবস্থা

লেখক রহিমাহুল্লাহ বলেছেন: [জেনে রাখুন যে, পথ থেকে বিচ্যুত হওয়া দুই প্রকার: প্রথমত: এমন ব্যক্তি যে পথ থেকে বিচ্যুত হয়েছে অথচ সে কল্যাণ ছাড়া অন্য কিছু চায়নি, সুতরাং তার বিচ্যুতির অনুসরণ করা যাবে না কারণ সে ধ্বংসপ্রাপ্ত।

দ্বিতীয়ত: অন্য একজন যে সত্যের সাথে হঠকারিতা করেছে এবং তার পূর্ববর্তী মুত্তাকীদের বিরোধিতা করেছে, সে পথভ্রষ্ট ও পথভ্রষ্টকারী এবং এই উম্মতের মধ্যে এক অবাধ্য শয়তান। যে ব্যক্তি তাকে চেনে তার জন্য আবশ্যক হলো মানুষকে তার ব্যাপারে সতর্ক করা এবং তাদের কাছে তার অবস্থা বর্ণনা করা; যাতে কেউ তার বিদআতে পতিত হয়ে ধ্বংস না হয়।]।

(জেনে রাখুন) অর্থাৎ নিশ্চিত হোন (যে পথ থেকে বিচ্যুত হওয়া দুই প্রকার) অর্থাৎ যে ব্যক্তি সঠিক পথ থেকে বিচ্যুত হয়েছে এবং সুন্নাহর বিরোধিতা করেছে তার দুটি অবস্থা রয়েছে: প্রথম অবস্থা: (এমন ব্যক্তি যে পথ থেকে বিচ্যুত হয়েছে অথচ সে কল্যাণ ছাড়া অন্য কিছু চায়নি, সুতরাং তার বিচ্যুতির অনুসরণ করা যাবে না কারণ সে ধ্বংসপ্রাপ্ত), এই প্রকারের লোক বা এই অবস্থাটি এমন ব্যক্তির যে কেবল কল্যাণই চায়, কিন্তু তার বিচ্যুতির অনুসরণ করা যাবে না কারণ সে ধ্বংসপ্রাপ্ত। অর্থাৎ সে উদ্দেশ্যমূলকভাবে সত্য ত্যাগ করেনি কিন্তু সত্যের পরিপন্থী কাজ করে ফেলেছে, এমতাবস্থায় তার অনুসরণ করা যাবে না যদিও তিনি সাহাবী বা তাবেয়ীদের অন্তর্ভুক্ত হন।

আর লেখকের উক্তি (কারণ সে ধ্বংসপ্রাপ্ত) - এর মধ্যে বিস্তারিত ব্যাখ্যা রয়েছে: যদি তিনি একজন আলেম ও মুজতাহিদ হন এবং ইজতিহাদ করার পর তার ইজতিহাদ তাকে এই অবস্থানে পৌঁছায়, তবে তিনি তার ইজতিহাদের জন্য সওয়াব পাবেন এবং তার ভুল ক্ষমাযোগ্য। কিন্তু আমরা তার অনুসরণ করব না, বরং আমরা তার জন্য রহমতের দুআ করব যতক্ষণ আমরা জানব যে তিনি দলিলের বিরোধিতা করেছেন, এমনকি তিনি যদি সাহাবীও হন।

এর উদাহরণ হলো: নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের সাহাবীগণ বিদায় হজের সময় তাদের মধ্যে কেউ শুধু হজের ইহরাম বেঁধেছিলেন, কেউ উমরাহ ও হজের ইহরাম একত্রে বেঁধেছিলেন, কেউ এককভাবে হজের ইহরাম বেঁধেছিলেন এবং কেউ হজের আগে উমরাহ পালনের মাধ্যমে তামাত্তু হজের ইহরাম বেঁধেছিলেন। আবার কেউ শুধু উমরার ইহরাম বেঁধেছিলেন। যখন তারা মক্কার নিকটবর্তী হলেন, তখন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম যাদের সাথে কোরবানির পশু ছিল না তাদেরকে তাদের ইহরাম উমরায় পরিবর্তন করার নির্দেশ দিলেন। এরপর যখন তারা তাওয়াফ ও সাঈ সম্পন্ন করলেন, তখন তিনি তাদের জন্য ইহরাম খুলে হালাল হওয়া আবশ্যক করে দিলেন। ফলে যাদের সাথে কোরবানির পশু ছিল না তারা সবাই হালাল হয়ে গেলেন; আর এটি ছিল জাহেলিয়াতের বিশ্বাস দূর করার জন্য। কেননা জাহেলিয়াতের যুগের লোকেরা মনে করত যে, হজের মাসগুলোতে উমরাহ করা চরম পাপাচার। তাই নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম জাহেলিয়াতের সেই বিশ্বাস মিটিয়ে দিতে চেয়েছিলেন এবং তাদেরকে উমরাহ করার নির্দেশ দিয়েছিলেন। এমনকি সাহাবীগণ রাদিয়াল্লাহু আনহুম বলেছিলেন: হে আল্লাহর রাসূল! আমাদের কেউ কি মিনায় এমন অবস্থায় যাবে যে তার পুরুষাঙ্গ থেকে বীর্য ঝরছে? তখন তিনি ভাষণ দিলেন এবং বললেন: যদি আমার সাথে কোরবানির পশু না থাকত তবে আমিও হালাল হয়ে যেতাম।

এটি তাদের মন তুষ্ট করার জন্য ছিল, কারণ জাহেলিয়াতের যুগে তারা হজের সময় উমরাহ করত না।

আলেমগণ এখান থেকে যাদের সাথে কোরবানির পশু নেই তাদের জন্য হজের ইহরাম পরিবর্তন করে উমরাহ করার বৈধতা গ্রহণ করেছেন এবং বলেছেন: এটিই সর্বোত্তম। এতে কোনো সন্দেহ নেই যে এটিই সর্বোত্তম। আলী রাদিয়াল্লাহু আনহু, আবু মুসা আল-আশআরী এবং ইবনে আব্বাস এই ফতোয়া দিয়েছিলেন। অতঃপর তিন খলিফা আবু বকর, উমর ও উসমান রাদিয়াল্লাহু আনহুম ইজতিহাদ করেছিলেন এবং নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের ইন্তেকালের পর তারা মানুষকে কেবল হজের ইহরাম বাঁধার ফতোয়া দিতে শুরু করেন। তারা বলতেন যে উমরাহ অন্য সময়ে করা হবে যাতে ইহরামের ধারাবাহিকতা বজায় থাকে এবং এই পবিত্র ঘরে হজ ও উমরাহ অব্যাহত থাকে। তারা বলেছিলেন যে জাহেলিয়াতের বিশ্বাস দূরীভূত হয়েছে। তাই তারা মানুষকে একক হজের ফতোয়া দিতেন। এদিকে ইবনে আব্বাস ও আলী তামাত্তু হজের ফতোয়া দিতে থাকেন।

যখন আলী ও উসমানের মধ্যে মতভেদ হলো, তখন আলী উসমানকে বললেন: আমি কারো কথার কারণে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের সুন্নাহ ছেড়ে দিতে পারি না।

অনুরূপভাবে আবু মুসা আল-আশআরীও। এমনকি একদল লোক ইবনে আব্বাসের সাথে বিতর্ক করল এবং তাকে বলল: হে ইবনে আব্বাস, এটি কেমন কথা! আপনি উমরার আদেশ দিচ্ছেন অথচ আবু বকর ও উমর হজের আদেশ দিচ্ছেন? তখন ইবনে আব্বাস রাদিয়াল্লাহু আনহু তাদের কঠোরভাবে তিরস্কার করলেন কারণ তারা সুন্নাহর বিরোধিতা করছিল। তিনি বললেন: অচিরেই তোমাদের ওপর আকাশ থেকে পাথর বর্ষিত হবে; আমি বলছি আল্লাহর রাসূল বলেছেন, আর তোমরা বলছ আবু বকর ও উমর বলেছেন।

এটি ছিল তিন খলিফার বক্তব্য এবং তারা রাদিয়াল্লাহু আনহুম ইজতিহাদ করেছিলেন, কিন্তু সঠিক মত ছিল ইবনে আব্বাস, আলী এবং আবু মুসা আল-আশআরীর সাথে। সুতরাং যে ব্যক্তি ইজতিহাদের কারণে সুন্নাহর বিরোধিতা করে, সে তার ইজতিহাদের জন্য সওয়াব পাবে যেমন সাহাবীগণ এবং পরবর্তী আলেমগণ পেয়েছেন। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন: (যখন বিচারক ইজতিহাদ করে সঠিক সিদ্ধান্তে পৌঁছান তখন তার জন্য দুটি সওয়াব, আর যখন ইজতিহাদ করে ভুল করেন তখন তার জন্য একটি সওয়াব রয়েছে)।

লেখক রহিমাহুল্লাহ বলছেন: (কারণ সে ধ্বংসপ্রাপ্ত), এতে বিস্তারিত ব্যাখ্যা আছে। যদি সে সত্য ত্যাগের ব্যাপারে ইচ্ছাকৃত হয় তবে সে ধ্বংসপ্রাপ্ত। কিন্তু যদি তা ইজতিহাদের কারণে হয় তবে সে ধ্বংসপ্রাপ্ত নয়।

দ্বিতীয় অবস্থা: তিনি বলেছেন: (অন্য একজন যে সত্যের সাথে হঠকারিতা করেছে এবং তার পূর্ববর্তী মুত্তাকীদের বিরোধিতা করেছে, সে পথভ্রষ্ট ও পথভ্রষ্টকারী এবং এই উম্মতের মধ্যে এক অবাধ্য শয়তান)। সুতরাং যদি সে সত্যের সাথে হঠকারিতা করে এবং ইজতিহাদের কারণে নয় বরং খেয়ালখুশির বশবর্তী হয়ে সত্য ত্যাগ করে, তবে সে পথভ্রষ্ট ও পথভ্রষ্টকারী এবং সে এই উম্মতের মাঝে এক অবাধ্য শয়তান। এটি তখনই প্রযোজ্য যখন তার বিরোধিতা এত বড় হয় যা এই পর্যায় পর্যন্ত পৌঁছে। কিন্তু যদি সামান্য বিরোধিতা হয় তবে হয়তো সে এই বিশেষণের উপযুক্ত হবে না। যেহেতু এই বর্ণনাটি লেখকের কঠোরতা এবং বিদআতিদের বিরুদ্ধে ও সত্য রক্ষায় তার দৃঢ় অবস্থানের বহিঃপ্রকাশ এবং বিদআতিদের ব্যাপারে সতর্ক করার তীব্রতার কারণে। অন্যথায় এর মধ্যেও বিস্তারিত ব্যাখ্যা রয়েছে। যে ব্যক্তি সুন্নাহর অন্তর্ভুক্ত কিছু বিষয়ে সত্যের বিরোধিতা করে যেমন সালাতে হাত তোলা বা বিশ্রামের বৈঠক এবং এই জাতীয় অন্যান্য মাসয়ালা যা তাকে এই বিশেষণের স্তরে পৌঁছায় না, তবে সে সুন্নাহর বিরোধিতা করেছে বলা হবে কিন্তু তাকে এই বিশেষণে বিশেষায়িত করা হবে না। তবে যদি সে এমন সব বিষয়ে সত্যের বিরোধিতা করে যেখানে বিরোধিতা অত্যন্ত প্রভাবশালী, এমনকি তার কর্তা পথভ্রষ্ট ও পথভ্রষ্টকারী হিসেবে গণ্য হয়, তবে সে এই বিশেষণের অন্তর্ভুক্ত হবে।

সুতরাং মানুষের জন্য আবশ্যক হলো বিদআত থেকে সতর্ক থাকা এবং বিদআতি ও পথভ্রষ্টদের থেকে সতর্ক করা যাতে তারা তাদের বিদআতে পতিত হয়ে ধ্বংস না হয়ে যায়।
(খণ্ড: ২) শারহু কিতাবিস সুন্নাহ লিল বারবাহারী - আর রাজহী (পৃষ্ঠা: ৫)
‌‌بيان أنه لا يتم إسلام عبد حتى يكون متبعاً مصدقاً مسلماً

قال المؤلف رحمه الله تعالى: [واعلم رحمك الله! أنه لا يتم إسلام عبد حتى يكون متبعاً مصدقاً مسلماً، فمن زعم أنه قد بقي شيء من أمر الإسلام لم يكفوناه أصحاب رسول الله صلى الله عليه وسلم فقد كذبهم، وكفى بهذا فرقة وطعناً عليهم، وهو مبتدع ضال مضل محدث في الإسلام ما ليس فيه].

قوله: (اعلم رحمك الله أنه لا يتم إسلام عبد حتى يكون متبعاً مصدقاً مسلماً) فلابد أن يكون مصدقاً أي: مقراً ومعترفاً بما جاء عن الله وجاء عن رسول الله صلى الله عليه وسلم، يكون لسان حاله ومقاله: آمنا بالله وبما جاء عن الله على مراد الله، وآمنا برسول الله وبما جاء عن رسول الله على مراد رسول الله، وبذلك يتم إسلام العبد ويكون متبعاً للرسول صلى الله عليه وسلم مصدقاً مسلماً مسلِّماً، فمن لم يصدق بالباطن يكون منافقاً، قال تعالى: {وَمِنَ النَّاسِ مَنْ يَقُولُ آمَنَّا بِاللَّهِ وَبِالْيَوْمِ الآخِرِ وَمَا هُمْ بِمُؤْمِنِينَ} [البقرة:8] فهم يقولون: آمنا بألسنتهم وما هم بمؤمنين بقلوبهم، وقال سبحانه: {إِذَا جَاءَكَ الْمُنَافِقُونَ قَالُوا نَشْهَدُ إِنَّكَ لَرَسُولُ اللَّهِ وَاللَّهُ يَعْلَمُ إِنَّكَ لَرَسُولُهُ وَاللَّهُ يَشْهَدُ إِنَّ الْمُنَافِقِينَ لَكَاذِبُونَ} [المنافقون:1].

لا يتم إسلام العبد حتى يكون مسلِّماً لأمر الله وأمر رسوله ولا يكون معترضاً، فمن اعترض على أمر الله وعلى أمر رسوله فهذا كفر وضلال، فإبليس قابل أمر الله بالاعتراض والرد وهو لم يكذب بل هو مصدق لكنه معترض على الله ورد أمر الله: {وَإِذْ قُلْنَا لِلْمَلائِكَةِ اسْجُدُوا لِآدَمَ فَسَجَدُوا إِلَّا إِبْلِيسَ أَبَى وَاسْتَكْبَرَ} [البقرة:34] وهذا اعتراض ورد لما أمره الله بالسجود لآدم ما أنكر أمر الله، وهو معترف أن هذا أمر الله، لكنه اعترض ورد أمر الله لأن آدم مخلوق من الطين وهو مخلوق من النار، والنار أحسن من الطين وأفضل ولا يمكن أن يخرج بزعمه عن الفاضل إلى المفضول {قَالَ أَنَا خَيْرٌ مِنْهُ خَلَقْتَنِي مِنْ نَارٍ وَخَلَقْتَهُ مِنْ طِينٍ} [الأعراف:12]، فكفر وطرد من رحمة الله بالرفض والرد والاعتراض على الله.

(فمن زعم أنه قد بقي شيء من أمر الإسلام لم يكفوناه أصحاب محمد صلى الله عليه وسلم فقد كذبهم) أي: من زعم أن هناك شيئاً ما نقله الصحابة ولا وصل إلى أيدينا من الدين فقد كذب الصحابة.

ثم قال: (وكفى به فرقة وطعناً عليهم) من كذب الصحابة فقد أعظم الطعن عليهم، ومن كذب الصحابة فهو مبتدع ضال مضل محدث في الإسلام ما ليس منه.
একজন বান্দার ইসলাম ততক্ষণ পূর্ণ হয় না যতক্ষণ না সে অনুসরণকারী, সত্যায়নকারী এবং আত্মসমর্পণকারী হয় তার বর্ণনা

লেখক (আল্লাহ তাঁর ওপর রহমত বর্ষণ করুন) বলেছেন: [জেনে রাখুন, আল্লাহ আপনার প্রতি রহমত বর্ষণ করুন! নিশ্চয়ই কোনো বান্দার ইসলাম ততক্ষণ পর্যন্ত পূর্ণ হয় না, যতক্ষণ না সে সুন্নাহর অনুসরণকারী, সত্যায়নকারী এবং আত্মসমর্পণকারী হয়। সুতরাং যে ব্যক্তি ধারণা করল যে ইসলামের বিষয়ের মধ্যে এমন কিছু অবশিষ্ট আছে যা আল্লাহর রাসূলের (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) সাহাবীগণ আমাদের জন্য যথেষ্ট হিসেবে বর্ণনা করে যাননি, সে মূলত তাঁদেরকে মিথ্যা প্রতিপন্ন করল। আর তাঁদের থেকে বিচ্ছিন্ন হওয়ার এবং তাঁদের ওপর অপবাদ দেওয়ার জন্য এটাই যথেষ্ট। সে এক পথভ্রষ্ট বিদআতী এবং ইসলামের মধ্যে এমন নতুন কিছু উদ্ভাবনকারী যা তার অন্তর্ভুক্ত নয়।]

তাঁর উক্তি: (জেনে রাখুন, আল্লাহ আপনার প্রতি রহমত বর্ষণ করুন যে, কোনো বান্দার ইসলাম ততক্ষণ পূর্ণ হয় না যতক্ষণ সে অনুসরণকারী, সত্যায়নকারী ও আত্মসমর্পণকারী হয়।) সুতরাং তাকে অবশ্যই সত্যায়নকারী হতে হবে, অর্থাৎ: আল্লাহ ও আল্লাহর রাসূলের (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) পক্ষ থেকে যা কিছু এসেছে তা স্বীকারকারী ও মেনে নেওয়া ব্যক্তি হতে হবে। তার অবস্থার ও কথার ভাষা এমন হতে হবে: আমরা আল্লাহর ওপর এবং আল্লাহর পক্ষ থেকে যা কিছু আল্লাহর উদ্দেশ্য অনুযায়ী এসেছে তার ওপর ঈমান এনেছি; এবং আমরা আল্লাহর রাসূলের ওপর এবং আল্লাহর রাসূলের পক্ষ থেকে যা কিছু রাসূলের উদ্দেশ্য অনুযায়ী এসেছে তার ওপর ঈমান এনেছি। আর এভাবেই বান্দার ইসলাম পূর্ণ হয় এবং সে রাসূলের (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) অনুসারী, সত্যায়নকারী ও পূর্ণ আত্মসমর্পণকারী হয়। সুতরাং যে ব্যক্তি অন্তরে বিশ্বাস করবে না সে মুনাফিক হিসেবে গণ্য হবে। মহান আল্লাহ বলেন: {আর মানুষের মধ্যে এমন লোকও রয়েছে যারা বলে, ‘আমরা আল্লাহর ওপর ও পরকালের ওপর ঈমান এনেছি’, অথচ তারা মুমিন নয়} [আল-বাকারাহ: ৮]। তারা তাদের মুখে বলে যে তারা ঈমান এনেছে কিন্তু তাদের অন্তরে তারা মুমিন নয়। মহান আল্লাহ আরও বলেন: {যখন মুনাফিকরা আপনার কাছে আসে তখন তারা বলে, ‘আমরা সাক্ষ্য দিচ্ছি যে নিশ্চয়ই আপনি আল্লাহর রাসূল’। আর আল্লাহ জানেন যে নিশ্চয়ই আপনি তাঁর রাসূল এবং আল্লাহ সাক্ষ্য দিচ্ছেন যে নিশ্চয়ই মুনাফিকরা মিথ্যাবাদী} [আল-মুনাফিকুন: ১]।

বান্দার ইসলাম ততক্ষণ পর্যন্ত পূর্ণ হয় না যতক্ষণ না সে আল্লাহর নির্দেশ ও তাঁর রাসূলের নির্দেশের সামনে আত্মসমর্পণকারী হয় এবং কোনো প্রতিবাদকারী না হয়। সুতরাং যে ব্যক্তি আল্লাহর নির্দেশ ও তাঁর রাসূলের নির্দেশের ওপর প্রতিবাদ করল, তবে তা কুফরি ও পথভ্রষ্টতা। ইবলিস আল্লাহর নির্দেশের মোকাবিলা করেছিল প্রতিবাদ ও প্রত্যাখ্যানের মাধ্যমে; অথচ সে আল্লাহর অস্তিত্বকে মিথ্যা বলেনি বরং সে বিশ্বাসী ছিল, কিন্তু সে আল্লাহর ওপর প্রতিবাদ করেছিল এবং আল্লাহর নির্দেশকে প্রত্যাখ্যান করেছিল: {আর যখন আমি ফেরেশতাদের বললাম, ‘তোমরা আদমের জন্য সিজদাহ করো’, তখন তারা সিজদাহ করল ইবলিস ছাড়া; সে অস্বীকার করল ও অহংকার করল} [আল-বাকারাহ: ৩৪]। এটা ছিল প্রতিবাদ এবং প্রত্যাখ্যান; যখন আল্লাহ তাকে আদমের জন্য সিজদাহ করার নির্দেশ দিলেন তখন সে আল্লাহর নির্দেশকে অস্বীকার করেনি এবং সে স্বীকার করেছিল যে এটি আল্লাহর নির্দেশ, কিন্তু সে প্রতিবাদ করেছিল এবং আল্লাহর নির্দেশ প্রত্যাখ্যান করেছিল কারণ আদম মাটি থেকে তৈরি এবং সে আগুন থেকে তৈরি। তার দাবি অনুযায়ী আগুন মাটির চেয়ে উত্তম ও শ্রেষ্ঠ, আর শ্রেষ্ঠকে ছেড়ে নিকৃষ্টের দিকে যাওয়া তার মতে সম্ভব নয়— {সে বলল, ‘আমি তার চেয়ে শ্রেষ্ঠ; আপনি আমাকে আগুন থেকে সৃষ্টি করেছেন এবং তাকে কাদা মাটি থেকে সৃষ্টি করেছেন’} [আল-আরাফ: ১২]। ফলে সে কুফরি করল এবং আল্লাহর ওপর অস্বীকৃতি, প্রত্যাখ্যান ও প্রতিবাদের কারণে তাঁর রহমত থেকে বিতাড়িত হলো।

(সুতরাং যে ব্যক্তি ধারণা করল যে ইসলামের বিষয়ের মধ্যে এমন কিছু অবশিষ্ট আছে যা মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের সাহাবীগণ আমাদের জন্য যথেষ্ট হিসেবে বর্ণনা করে যাননি, সে মূলত তাঁদেরকে মিথ্যা প্রতিপন্ন করল) অর্থাৎ: যে ব্যক্তি ধারণা করল যে এমন কিছু বিষয় আছে যা সাহাবীগণ বর্ণনা করেননি অথবা দ্বীনের এমন কোনো অংশ যা আমাদের নিকট পৌঁছেনি, সে মূলত সাহাবীদের মিথ্যাবাদী সাব্যস্ত করল।

অতঃপর তিনি বললেন: (আর তাঁদের থেকে বিচ্ছিন্ন হওয়ার এবং তাঁদের ওপর অপবাদ দেওয়ার জন্য এটাই যথেষ্ট) যে ব্যক্তি সাহাবীদের মিথ্যাবাদী বলল সে তাঁদের ওপর সবচেয়ে বড় অপবাদ দিল। আর যে সাহাবীদের মিথ্যাবাদী সাব্যস্ত করে সে এক পথভ্রষ্ট বিদআতী এবং ইসলামের মধ্যে এমন নতুন কিছু উদ্ভাবনকারী যা তার অন্তর্ভুক্ত নয়।
(খণ্ড: ২) শারহু কিতাবিস সুন্নাহ লিল বারবাহারী - আর রাজহী (পৃষ্ঠা: ৬)
‌‌نفي وجود القياس في السنة أو ضرب الأمثال أو اتباع الأهواء

قال المؤلف رحمه الله تعالى: [واعلم رحمك الله! أنه ليس في السنة قياس، ولا تضرب لها الأمثال، ولا تتبع فيها الأهواء، وإنما هو التصديق بآثار رسول الله صلى الله عليه وسلم بلا كيف ولا شرح ولا يقال: لم ولا كيف].

قال: (واعلم رحمك الله أنه ليس في السنة قياس) يعني: المراد بالقياس القياس الفاسد وهو الذي يعارض به النصوص مثل قياس إبليس، فهو أول من قاس القياس الفاسد، قال: {أَنَا خَيْرٌ مِنْهُ خَلَقْتَنِي مِنْ نَارٍ وَخَلَقْتَهُ مِنْ طِينٍ} [الأعراف:12]، ولهذا قال بعض السلف: ما عبدت الشمس والقمر إلا بالمقاييس.

والقياس الفاسد: هو أن يستعمل القياس مقابل النص، فإذا جاءك نص فلا تقس، ومثال ذلك: حرم الله تعالى الربا بقوله: {يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا اتَّقُوا اللَّهَ وَذَرُوا مَا بَقِيَ مِنَ الرِّبَا} [البقرة:278]، فالمشركون قاسوا وقالوا: إن البيع مثل الربا، {ذَلِكَ بِأَنَّهُمْ قَالُوا إِنَّمَا الْبَيْعُ مِثْلُ الرِّبَا وَأَحَلَّ اللَّهُ الْبَيْعَ وَحَرَّمَ الرِّبَا} [البقرة:275]، وهذا القياس فاسد مقابل النص، فالنص هو: {يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا اتَّقُوا اللَّهَ وَذَرُوا مَا بَقِيَ مِنَ الرِّبَا} [البقرة:278]، فالقياس الفاسد هو الذي يكون في مقابلة النصوص، فإبليس كان عنده نص وهو: {اسْجُدُوا لِآدَمَ} [البقرة:34]، فقام بالقياس الفاسد وهو: {أَنَا خَيْرٌ مِنْهُ خَلَقْتَنِي مِنْ نَارٍ وَخَلَقْتَهُ مِنْ طِينٍ} [الأعراف:12].

ولهذا قال المؤلف رحمه الله: (واعلم رحمك الله أنه ليس في السنة قياس ولا يضرب لها الأمثال)، يعني: لا يضرب لكلام الله وكلام رسوله الأشباه والنظائر، فيقول: إن هذا مثل كذا وهذا مثل كذا فيكون حكمه كذا، فأمر الله وأمر رسوله يتلقى بالتصديق والقبول والامتثال، ولا تتبع فيه الأهواء، فالله تعالى حرم عليك الربا، لكن الإنسان يهوى أن يتعامل بالربا حتى يحصل له ربح، فهذه شهوة وهوى فاترك الهوى: {وَلا تَتَّبِعِ الْهَوَى فَيُضِلَّكَ عَنْ سَبِيلِ اللَّهِ} [ص:26]، وقدم أمر الله وأمر رسوله على الهوى.

(وإنما هو التصديق بآثار الرسول صلى الله عليه وسلم بلا كيف ولا شرح)، يعني: لا يقال: لم، ولا كيف؟ فإذا جاءتك النصوص فلا تعترض، لا تقول: لم ولا كيف؟ لا يقال: لم في الأفعال، وكيف في الصفات، فلا تقول: لماذا أوجب الله علينا الصلوات الخمس، لماذا لم يجعلها ست صلوات؟! لماذا جعل الله هذا فقيراً وهذا غنياً، وهذا طويلاً وهذا قصيراً، وهذا ملكاً وهذا مملوكاً؟!

و

‌‌الجواب

لأن الله حكيم {لا يُسْأَلُ عَمَّا يَفْعَلُ وَهُمْ يُسْأَلُونَ} [الأنبياء:23]؛ لكمال حكمته ولا تقل: الله استوى على العرش، كيف استوى؟ كيف ينزل؟ كيف يتكلم؟ لا تقل شيئاً، فهو ينزل بلا كيف، ويتكلم بلا كيف، كما قال الإمام مالك رحمه الله لما سئل عن الاستواء: الاستواء معلوم -أي: معلوم في اللغة العربية- والكيف مجهول والإيمان به واجب، والسؤال عنه بدعة.

فالواجب على المسلم التصديق بآثار الرسول صلى الله عليه وسلم بلا كيف ولا شرح يخالف النصوص، أو يكون فيه اعتراض على أمر الله وأمر رسوله.
‌‌সুন্নাহর ক্ষেত্রে কিয়াসের অস্তিত্ব, উপমা প্রদান বা প্রবৃত্তির অনুসরণ অস্বীকার করা

লেখক (রহিমাহুল্লাহ) বলেন: [জেনে রাখুন, আল্লাহ আপনার ওপর রহম করুন! সুন্নাহর ক্ষেত্রে কোনো কিয়াস (অনুমান বা যুক্তি) নেই, এর জন্য কোনো উপমা দেওয়া যাবে না এবং এতে প্রবৃত্তির অনুসরণ করা যাবে না। বরং এটি হলো রাসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর বর্ণিত বিষয়সমূহের (আসার) প্রতি কোনো প্রকার ধরন নির্ধারণ বা ব্যাখ্যা ছাড়াই বিশ্বাস স্থাপন করা। আর ‘কেন’ বা ‘কীভাবে’—এসব বলা যাবে না।]

তিনি বলেন: (জেনে রাখুন, আল্লাহ আপনার ওপর রহম করুন যে, সুন্নাহর ক্ষেত্রে কোনো কিয়াস নেই) অর্থাৎ: এখানে কিয়াস বলতে ‘ভ্রান্ত কিয়াস’ উদ্দেশ্য, যা দিয়ে দলিলের (নসুস) বিরোধিতা করা হয়; যেমন ইবলিসের কিয়াস। সে-ই সর্বপ্রথম ভ্রান্ত কিয়াস করেছিল। সে বলেছিল: {আমি তার চেয়ে শ্রেষ্ঠ, আপনি আমাকে আগুন থেকে সৃষ্টি করেছেন আর তাকে সৃষ্টি করেছেন মাটি থেকে} [আল-আরাফ: ১২]। এ কারণেই পূর্বসূরিদের (সালাফ) কেউ কেউ বলেছেন: সূর্য ও চন্দ্রের পূজা করা হয়েছে কেবল কিয়াসের মাধ্যমেই।

আর ভ্রান্ত কিয়াস হলো: দলিলের বিপরীতে কিয়াস ব্যবহার করা। সুতরাং যখন আপনার কাছে কোনো দলিল আসবে, তখন আপনি কিয়াস করবেন না। উদাহরণস্বরূপ: আল্লাহ তাআলা তাঁর বাণীর মাধ্যমে সুদ হারাম করেছেন: {হে মুমিনগণ, তোমরা আল্লাহকে ভয় করো এবং সুদের যা বকেয়া আছে তা ছেড়ে দাও} [আল-বাকারা: ২৭৮]। কিন্তু মুশরিকরা কিয়াস করে বলেছিল: নিশ্চয়ই ব্যবসা তো সুদের মতোই। {এটি এ কারণে যে, তারা বলেছিল: ব্যবসা তো সুদের মতোই। অথচ আল্লাহ ব্যবসাকে হালাল করেছেন এবং সুদকে হারাম করেছেন} [আল-বাকারা: ২৭৫]। এই কিয়াসটি দলিলের বিপরীতে হওয়ার কারণে ভ্রান্ত। আর দলিলটি হলো: {হে মুমিনগণ, তোমরা আল্লাহকে ভয় করো এবং সুদের যা বকেয়া আছে তা ছেড়ে দাও} [আল-বাকারা: ২৭৮]। অতএব, ভ্রান্ত কিয়াস হলো যা দলিলের বিপরীতে দাঁড় করানো হয়। ইবলিসের কাছে দলিল ছিল এই যে: {তোমরা আদমকে সেজদা করো} [আল-বাকারা: ৩৪]। কিন্তু সে ভ্রান্ত কিয়াস করে বসল যে: {আমি তার চেয়ে শ্রেষ্ঠ, আপনি আমাকে আগুন থেকে সৃষ্টি করেছেন আর তাকে সৃষ্টি করেছেন মাটি থেকে} [আল-আরাফ: ১২]।

এ কারণেই লেখক (রহিমাহুল্লাহ) বলেছেন: (জেনে রাখুন, আল্লাহ আপনার ওপর রহম করুন যে, সুন্নাহর ক্ষেত্রে কোনো কিয়াস নেই এবং এর জন্য উপমা দেওয়া যাবে না)। অর্থাৎ: আল্লাহর কালাম ও তাঁর রাসুলের কালামের জন্য কোনো সদৃশ বা দৃষ্টান্ত পেশ করা যাবে না যে, কেউ বলল: ‘এটি তো অমুকের মতো বা এটি তো তমুকের মতো, তাই এর হুকুমও এমন হবে’। বরং আল্লাহর নির্দেশ ও তাঁর রাসুলের নির্দেশকে সত্য বলে মেনে নেওয়া, গ্রহণ করা ও পালন করার মাধ্যমে গ্রহণ করতে হবে। আর এতে প্রবৃত্তির অনুসরণ করা যাবে না। আল্লাহ তাআলা আপনার ওপর সুদ হারাম করেছেন, কিন্তু মানুষ সুদের কারবার করতে পছন্দ করে যাতে তার লাভ হয়; এটি একটি লালসা ও প্রবৃত্তি। সুতরাং প্রবৃত্তি বর্জন করুন: {আর তুমি প্রবৃত্তির অনুসরণ করো না, কেননা তা তোমাকে আল্লাহর পথ থেকে বিচ্যুত করে দেবে} [সোয়াদ: ২৬]। আর আল্লাহর নির্দেশ ও রাসুলের নির্দেশকে প্রবৃত্তির ওপর প্রাধান্য দিন।

(বরং এটি হলো রাসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর বর্ণিত বিষয়সমূহের প্রতি কোনো প্রকার ধরন নির্ধারণ বা ব্যাখ্যা ছাড়াই বিশ্বাস স্থাপন করা)। অর্থাৎ: ‘কেন’ বা ‘কীভাবে’—তা বলা যাবে না। যখন আপনার কাছে দলিল আসবে, তখন আপনি আপত্তি করবেন না। আপনি ‘কেন’ বা ‘কীভাবে’ বলবেন না। কাজের ক্ষেত্রে ‘কেন’ এবং গুণাবলির (সিফাত) ক্ষেত্রে ‘কীভাবে’—এগুলো বলা যাবে না। আপনি বলবেন না: আল্লাহ কেন আমাদের ওপর পাঁচ ওয়াক্ত সালাত ফরজ করলেন, কেন ছয় ওয়াক্ত করলেন না?! কেন আল্লাহ একে দরিদ্র আর ওকে ধনী করলেন, একে লম্বা আর ওকে খাটো করলেন, একে রাজা আর ওকে প্রজা করলেন?!

ও

‌‌উত্তর

কারণ আল্লাহ প্রজ্ঞাময় (হাকিম); {তিনি যা করেন সে বিষয়ে তাঁকে প্রশ্ন করা যাবে না, বরং তাদেরকেই প্রশ্ন করা হবে} [আল-আম্বিয়া: ২৩]; এটি তাঁর হিকমতের পূর্ণতার কারণে। আর আপনি বলবেন না: আল্লাহ আরশের ওপর উঠেছেন, তিনি কীভাবে উঠেছেন? তিনি কীভাবে নামেন? তিনি কীভাবে কথা বলেন? আপনি কিছুই বলবেন না। তিনি কোনো ধরন ছাড়াই নামেন এবং কোনো ধরন ছাড়াই কথা বলেন। যেমন ইমাম মালিক (রহিমাহুল্লাহ)-কে যখন উপরে ওঠার (ইস্তিওয়া) বিষয়ে জিজ্ঞাসা করা হয়েছিল, তখন তিনি বলেছিলেন: ‘উঠা’ (ইস্তিওয়া) জানা আছে—অর্থাৎ আরবি ভাষায় এর অর্থ জানা আছে—কিন্তু এর ধরন (কায়ফিয়াত) অজানা, এর ওপর ইমান আনা ওয়াজিব এবং এ সম্পর্কে প্রশ্ন করা বিদআত।

অতএব, একজন মুসলিমের ওপর ওয়াজিব হলো দলিলের বিরোধী কোনো ধরন বা ব্যাখ্যা ছাড়াই রাসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর বর্ণিত বিষয়সমূহকে সত্য বলে মেনে নেওয়া, অথবা এমন ব্যাখ্যা না করা যাতে আল্লাহর নির্দেশ ও তাঁর রাসুলের নির্দেশের ওপর কোনো আপত্তি আসে।
(খণ্ড: ২) শারহু কিতাবিস সুন্নাহ লিল বারবাহারী - আর রাজহী (পৃষ্ঠা: ৭)
‌‌الجدال والمراء يقدح في قلب صاحبه الشك

قال المؤلف رحمه الله تعالى: [والكلام والخصومة والجدال والمراء محدث، يقدح الشك في القلب، وإن أصاب صاحبه الحق والسنة].

(والكلام والخصومة والجدال والمراء محدث) يعني: الخصام والنزاع والجدال في أمور الدين وفي مسائل الاعتقاد بدعة محدثة.

(يقدح الشك في القلب، وإن أصاب صاحبه الحق والسنة)، حتى ولو أصاب صاحبه الحق فلا ينبغي للإنسان أن يتكلم في الصفات وفي مسائل الدين بالشبهة التي توقع الشك، ولهذا كان السلف رحمهم الله يكرهون الكلام في الصفات وفي الأفعال، وكانوا لا يودون الكلام فيها، لكن لما تكلم أهل الباطل وأهل البدع بالباطل اضطر العلماء إلى الرد عليهم، وإلا فالأصل أنه لا يتكلم فيها، فقد كان أحد الصحابة إذا وقع في نفسه الشك كتم، واستعظم الكلام فيه وحاربه، ولهذا لما قال الصحابة: (يا رسول الله! إن الإنسان يجد في نفسه ما لأن يخر من السماء خير له من أن ينطق به -وفي لفظ- لأن يكون حمماً خيراً له من أن ينطق به، قال: أوقد وجدتموه؟ قالوا: نعم، قال: ذاك صريح الإيمان)، أي إن كتم الوسوسة ومحاربتها واستعظام الكلام بها صريح الإيمان، لكن المتأخرين صاروا يتكلمون بالوساوس وكتبوها وألفوها فحصلت الشكوك والبدع، فاضطر العلماء إلى الرد عليها.

وفق الله الجميع لطاعته ورزق الله الجميع العلم النافع والعمل الصالح، وصلى الله على محمد وآله وصحبه.
বিতর্ক ও বাকবিতণ্ডা বিবাদকারীর অন্তরে সন্দেহ তৈরি করে

লেখক (রাহিমাহুল্লাহ) বলেছেন: [কালাম (ধর্মতাত্ত্বিক বিতর্ক), বিবাদ, বিতর্ক ও বাকবিতণ্ডা হলো নবউদ্ভাবিত বিষয়; এগুলো অন্তরে সন্দেহ তৈরি করে, যদিও ব্যক্তি সত্য ও সুন্নাহর দেখা পায়]।

(কালাম, বিবাদ, বিতর্ক ও বাকবিতণ্ডা নবউদ্ভাবিত বিষয়) অর্থাৎ: দ্বীনি বিষয়ে এবং আকিদাগত মাসআলাগুলোতে বিবাদ, ঝগড়া ও বিতর্ক করা হলো নবউদ্ভাবিত বিদআত।

(এটি অন্তরে সন্দেহ তৈরি করে, যদিও ব্যক্তি সত্য ও সুন্নাহর দেখা পায়), এমনকি ব্যক্তি যদি সত্যেও উপনীত হয়, তবুও মানুষের জন্য আল্লাহর গুণাবলি এবং দ্বীনি বিষয়ে এমন সংশয় নিয়ে কথা বলা উচিত নয় যা সন্দেহ তৈরি করে। এই কারণেই সালাফগণ (রাহিমাহুমুল্লাহ) আল্লাহর গুণাবলি ও কার্যাবলি নিয়ে তাত্ত্বিক আলোচনা অপছন্দ করতেন এবং তাঁরা এ বিষয়ে কথা বলতে চাইতেন না। কিন্তু যখন বাতিলপন্থী ও বিদআতিরা বাতিল বিষয় নিয়ে কথা বলতে শুরু করল, তখন উলামায়ে কেরাম তাদের জবাব দিতে বাধ্য হলেন। নতুবা মূল নীতি হলো, এ নিয়ে কথা বলা হবে না। এমনকি কোনো সাহাবীর মনে যদি সন্দেহ জাগত, তবে তিনি তা গোপন করতেন এবং তা মুখে আনাকে অত্যন্ত গুরুতর মনে করতেন ও তার বিরুদ্ধে লড়াই করতেন। এই কারণেই যখন সাহাবীগণ বললেন: (হে আল্লাহর রাসূল! মানুষ নিজের মনে এমন কিছু অনুভব করে যা মুখে উচ্চারণ করার চেয়ে আকাশ থেকে নিচে পড়ে যাওয়া তার কাছে উত্তম মনে হয় —অন্য শব্দে— ছাই বা কয়লা হয়ে যাওয়া তার কাছে তা উচ্চারণ করার চেয়ে উত্তম মনে হয়। তিনি বললেন: তোমরা কি তা অনুভব করেছ? তাঁরা বললেন: হ্যাঁ। তিনি বললেন: এটাই হলো স্পষ্ট ঈমান)। অর্থাৎ ওয়াসওয়াসা (কুমন্ত্রণা) গোপন করা, তার বিরুদ্ধে লড়াই করা এবং তা মুখে আনাকে গুরুতর মনে করাই হলো স্পষ্ট ঈমান। কিন্তু পরবর্তীকালের লোকেরা এসব ওয়াসওয়াসা নিয়ে কথা বলতে শুরু করল এবং সেগুলো কিতাব আকারে লিখে সংকলন করল, যার ফলে সন্দেহ ও বিদআতের সৃষ্টি হলো। অতঃপর উলামায়ে কেরাম এগুলোর খণ্ডন করতে বাধ্য হলেন।

আল্লাহ সবাইকে তাঁর আনুগত্যের তাওফিক দিন এবং সবাইকে উপকারী জ্ঞান ও নেক আমল দান করুন। আর মুহাম্মদ, তাঁর পরিবারবর্গ ও সঙ্গীদের ওপর আল্লাহর রহমত ও শান্তি বর্ষিত হোক।
(খণ্ড: ২) শারহু কিতাবিস সুন্নাহ লিল বারবাহারী - আর রাজহী (পৃষ্ঠা: ৮)
‌‌الأسئلة
প্রশ্নসমূহ
(খণ্ড: ২) শারহু কিতাবিস সুন্নাহ লিল বারবাহারী - আর রাজহী (পৃষ্ঠা: ৯)
‌‌بيان خطأ من فرق بين الطائفة المنصورة والفرقة الناجية

 

‌‌السؤال

ما رأي فضيلتكم فيمن يفرق بين الطائفة المنصورة والفرقة الناجية؟

 

‌‌الجواب

هذا غلط كما سبق، فالطائفة المنصورة هم أهل الحق وهم الصحابة والتابعون ومن بعدهم، كما بين ذلك الإمام شيخ الإسلام رحمه الله في رسالته (العقيدة الواسطية) الرسالة عظيمة التي تكتب بماء الذهب، فقال: إن أهل السنة والجماعة هم الطائفة المنصورة وهم أهل الحق وهم الصحابة والتابعون، فهذا التفريق لا وجه له.
বিজয়ী দল এবং মুক্তিপ্রাপ্ত দলের মধ্যে যারা পার্থক্য করে তাদের ভুল বর্ণনা

 

প্রশ্ন

বিজয়ী দল এবং মুক্তিপ্রাপ্ত দলের মধ্যে যারা পার্থক্য করে, তাদের বিষয়ে আপনার সম্মানীয় অভিমত কী?

 

উত্তর

এটি একটি ভুল ধারণা যেমনটি ইতিপূর্বে উল্লেখ করা হয়েছে। মূলত বিজয়ী দলই হলো সত্যের অনুসারী, আর তারা হলেন সাহাবীগণ, তাবেয়ীগণ এবং তাঁদের পরবর্তীগণ। যেমনটি ইমাম শায়খুল ইসলাম (রহিমাহুল্লাহ) তাঁর ‘আল-আকিদাহ আল-ওয়াসিতিয়্যাহ’ নামক গ্রন্থে বর্ণনা করেছেন—যা একটি অত্যন্ত মহান গ্রন্থ যা স্বর্ণাক্ষরে লিখে রাখার যোগ্য। তিনি বলেছেন: নিশ্চয়ই আহলুস সুন্নাহ ওয়াল জামাআত হলো সেই বিজয়ী দল এবং তারাই সত্যের অনুসারী, আর তারা হলেন সাহাবীগণ ও তাবেয়ীগণ। সুতরাং, এই পার্থক্যের কোনো ভিত্তি নেই।
(খণ্ড: ২) শারহু কিতাবিস সুন্নাহ লিল বারবাহারী - আর রাজহী (পৃষ্ঠা: ১০)
‌‌ضابط الإطلاق الذي ذكره المصنف في قوله: (فلا تتبع شيئاً بهواك فتمرق من الدين)

 

‌‌السؤال

ما ضابط هذا الإطلاق الذي ذكره المصنف رحمه الله في قوله: (فلا تتبع شيئاً بهواك فتمرق من الدين فتخرج من الإسلام)؟

 

‌‌الجواب

ضابطه النصوص وما دلت عليه النصوص؛ لأن المروق من الدين يكون مروقاً، وما لم تدل عليه النصوص أنه لا يكون مروقاً فلا يكون مروقاً.

السؤال: ما معنى قول الشيخ محمد بن عبد الوهاب رحمه الله قال: لابد من إقامة الحجة المعتبرة في الحكم على الإنسان، وكذلك قوله رحمه الله: وأنا وإن كنت لا أكفر الرجل الذي يطوف حول قبر البدوي، فكيف أكفر من هو دونه؟ الجواب: المراد من ذلك أن من جهل شيئاً وكان هذا الشيء الذي يجهله من الأمور الدقيقة الخفية على مثله فإنه لابد أن تقام عليه الحجة، أما من أنكر أمراً واضحاً لكل أحد فلا يعذر، إنما الذي يعذر من جهل شيئاً من الأمور الدقيقة الخفية الذي مثله يجهل ذلك، أما من كان يعيش بين المسلمين ويفعل الكفر فلا يعذر، وهذا يختلف باختلاف المجتمعات، مثال ذلك: لو تعامل إنسان بالربا في مجتمعنا المسلم، وظل عائشاً فيه عمراً طويلاً، فلما أنكرنا عليه تعامله بالربا قال: أنا جاهل، لا أدري أن الربا حرام، فهذا ليس بمعذور؛ لأن مثل هذا لا يجهل، لكن إذا أسلم شخص في أمريكا وبعد عشرة أيام رأيناه يتعامل بالربا، فأنكر عليه، فيقول: أنا جاهل لا أدري، فنقول: كلامه صحيح فهذا جاهل؛ لأنه عاش في مجتمع ربوي ولا يعلم هذا.
গ্রন্থকার তার এই বাণীতে যে নিঃশর্তকরণের মানদণ্ড উল্লেখ করেছেন: (সুতরাং তুমি নিজ প্রবৃত্তির অনুসরণে কোনো কিছুর অনুসরণ করো না, অন্যথায় তুমি দ্বীন থেকে বিচ্যুত হয়ে যাবে)

 

‌প্রশ্ন

গ্রন্থকার (রহিমাহুল্লাহ) তার এই বাণীতে যে নিঃশর্তকরণের মানদণ্ড উল্লেখ করেছেন তার স্বরূপ কী: (সুতরাং তুমি নিজ প্রবৃত্তির অনুসরণে কোনো কিছুর অনুসরণ করো না, অন্যথায় তুমি দ্বীন থেকে বিচ্যুত হয়ে যাবে এবং ইসলাম থেকে বের হয়ে যাবে)?

 

‌উত্তর

এর মানদণ্ড হলো নাস (শরয়ি পাঠ) এবং নাসসমূহ যা নির্দেশ করে; কেননা দ্বীন থেকে বিচ্যুতি কেবল তখনই বিচ্যুতি বলে গণ্য হবে যখন তা নাসের মাধ্যমে সাব্যস্ত হবে, আর যা নাসের মাধ্যমে বিচ্যুতি হিসেবে সাব্যস্ত নয় তা বিচ্যুতি হিসেবে গণ্য হবে না।

প্রশ্ন: শায়খ মুহাম্মাদ বিন আব্দুল ওয়াহহাব (রহিমাহুল্লাহ)-এর এই বাণীর অর্থ কী: "কোনো ব্যক্তির ওপর ফায়সালা প্রদানের ক্ষেত্রে গ্রহণযোগ্য হুজ্জাত (শরয়ি প্রমাণ) কায়েম করা অপরিহার্য", এবং তার এই উক্তি: "আমি যদিও সেই ব্যক্তিকে কাফির বলি না যে বাদাবীর কবরের চারপাশে তাওয়াফ করে, তবে আমি কীভাবে তার চেয়ে নিম্ন পর্যায়ের ব্যক্তিকে কাফির বলব?" উত্তর: এর উদ্দেশ্য হলো, কোনো ব্যক্তি যদি কোনো বিষয়ে অজ্ঞ হয় এবং তার অজ্ঞতার বিষয়টি যদি এমন কোনো সূক্ষ্ম ও অস্পষ্ট বিষয় হয় যা তার মতো ব্যক্তির অগোচরে থাকা সম্ভব, তবে তার ওপর অবশ্যই হুজ্জাত কায়েম করতে হবে। কিন্তু যে ব্যক্তি এমন কোনো বিষয় অস্বীকার করে যা সবার কাছে স্পষ্ট, তাকে ওজরপ্রাপ্ত (অজ্ঞতার কারণে ক্ষমাযোগ্য) গণ্য করা হবে না। মূলত তাকেই ওজরপ্রাপ্ত গণ্য করা হবে যে এমন কোনো সূক্ষ্ম ও অস্পষ্ট বিষয়ে অজ্ঞ যা তার মতো ব্যক্তির অজানা থাকা স্বাভাবিক। পক্ষান্তরে, যে ব্যক্তি মুসলিমদের মাঝে বসবাস করে কুফরি কাজ করে, তাকে ওজরপ্রাপ্ত গণ্য করা হবে না। এটি সমাজের ভিন্নতার কারণে ভিন্ন ভিন্ন হতে পারে। উদাহরণস্বরূপ: আমাদের মুসলিম সমাজে যদি কোনো ব্যক্তি সুদি কারবার করে এবং সেখানে দীর্ঘ সময় বসবাস করে, অতঃপর যখন আমরা তার সুদি কারবারের প্রতিবাদ করি এবং সে বলে: 'আমি অজ্ঞ, আমি জানতাম না যে সুদ হারাম', তবে তাকে ওজরপ্রাপ্ত গণ্য করা হবে না; কারণ তার মতো ব্যক্তির কাছে এটি অজানা থাকার কথা নয়। কিন্তু যদি কোনো ব্যক্তি আমেরিকায় ইসলাম গ্রহণ করে এবং দশ দিন পর আমরা তাকে সুদি কারবার করতে দেখি, আর তাকে বারণ করলে সে বলে: 'আমি অজ্ঞ, আমি জানতাম না', তবে আমরা বলব: তার কথা সঠিক এবং সে একজন অজ্ঞ ব্যক্তি; কারণ সে একটি সুদি সমাজে বসবাস করেছে এবং এ সম্পর্কে সে জানত না।
(খণ্ড: ২) শারহু কিতাবিস সুন্নাহ লিল বারবাহারী - আর রাজহী (পৃষ্ঠা: ১১)
‌‌حكم إهداء ثواب قراءة القرآن

 

‌‌السؤال

إهداء ثواب قراءة القرآن، هل فعله الصحابة؟

 

‌‌الجواب

هذه المسألة خلافية بين أهل السنة والجماعة، فمن العلماء فمنهم من قال: إن ثواب القراءة يصل، ومنهم من قال: لا يصل، والأصل في هذا أن النصوص إنما جاءت بإهداء ثواب الدعاء والصدقة والحج والعمرة، وبعض العلماء قاس عليها إهداء ثواب القراءة، وإهداء ثواب الصيام، والذكر، وتلاوة القرآن، وبعض أهل العلم قال: لا نقيس؛ لأن العبادات توقيفية.

والصواب أنه يقتصر على هذه الأمور الأربعة: الدعاء والصدقة والحج والعمرة ومنه الأضحية، وأما إهداء ثواب القراءة أو إهداء ثواب الصيام، فهذا ليس عليه دليل إلا الصيام الواجب؛ لقول النبي صلى الله عليه وسلم في الحديث الذي رواه الإمام البخاري عن عائشة رضي الله عنها: (من مات وعليه صيام صام عنه وليه)، فإذا كان الصيام الواجب أو صيام نذر أو كفارة فيصوم، أما صيام تطوع أو إهداء ثواب القراءة أو إهداء التسبيح والتهليل فهذا ليس عليه دليل، فالأرجح والأفضل في هذا أنه يقتصر على ما جاءت به النصوص.
কুরআন তিলাওয়াতের সওয়াব উপহার দেওয়ার বিধান

 

‌প্রশ্ন

কুরআন তিলাওয়াতের সওয়াব উপহার দেওয়া—সাহাবীগণ কি এটি করেছিলেন?

 

‌উত্তর

এই বিষয়টি আহলে সুন্নাত ওয়াল জামাআতের আলেমদের মাঝে মতপার্থক্যপূর্ণ। আলেমদের মধ্যে কেউ কেউ বলেছেন: তিলাওয়াতের সওয়াব পৌঁছে থাকে। আবার কেউ কেউ বলেছেন: তা পৌঁছে না। এই বিষয়ের মূল নীতি হলো যে, দলীলসমূহ কেবল দুআ, সদকা, হজ ও উমরার সওয়াব উপহার দেওয়ার ব্যাপারেই এসেছে। আর কিছু আলেম এর ওপর ভিত্তি করে তিলাওয়াতের সওয়াব, রোজার সওয়াব, যিকির এবং কুরআন তিলাওয়াতের সওয়াব প্রদানের বিষয়টিকে কিয়াস (অনুমান বা তুলনা) করেছেন। পক্ষান্তরে কিছু আলেম বলেছেন: আমরা কিয়াস করব না; কারণ ইবাদতসমূহ তাওকীফিয়্যাহ (অর্থাৎ ওহীর দলীলের ওপর নির্ভরশীল)।

আর সঠিক মত হলো যে, এটি কেবল এই চারটি বিষয়ের মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকবে: দুআ, সদকা, হজ ও উমরা এবং এর অন্তর্ভুক্ত হলো কুরবানী। আর তিলাওয়াতের সওয়াব বা রোজার সওয়াব উপহার দেওয়ার ব্যাপারে কোনো দলীল নেই, তবে ওয়াজিব রোজার বিষয়টি ভিন্ন; কেননা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সেই হাদীসে বলেছেন যা ইমাম বুখারী আয়েশা রাদিয়াল্লাহু আনহা থেকে বর্ণনা করেছেন: (যে ব্যক্তি মৃত্যুবরণ করল এমতাবস্থায় যে তার ওপর রোজা বাকি ছিল, তবে তার পক্ষ থেকে তার অভিভাবক রোজা রাখবে)। সুতরাং যদি তা ওয়াজিব রোজা হয় কিংবা মানতের রোজা বা কাফফারার রোজা হয়, তবে সে রোজা রাখবে। কিন্তু নফল রোজা কিংবা তিলাওয়াতের সওয়াব অথবা তাসবীহ ও তাহলীলের সওয়াব উপহার দেওয়ার কোনো দলীল নেই। তাই এই ক্ষেত্রে অধিকতর অগ্রগণ্য ও উত্তম হলো দলীলসমূহে যা এসেছে তার মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকা।
(খণ্ড: ২) শারহু কিতাবিস সুন্নাহ লিল বারবাহারী - আর রাজহী (পৃষ্ঠা: ১২)
‌‌حكم رفع اليدين أثناء الدعاء

 

‌‌السؤال

ما حكم رفع اليدين في الدعاء، وقد جاء في حديث معناه: أن الإنسان إذا رفع يديه إلى السماء ودعا الله فإن الله لا يردهما خائبتين، فما توجيه هذا الحديث؟

 

‌‌الجواب

رفع اليدين من أسباب قبول الدعاء، كما جاء في الحديث: (إن الله يستحي من عبده إذا رفع يديه إليه أن يردهما صفراً) فإذا صلى الإنسان مثلاً رفع يديه ودعا في الضحى أو في الليل أو في أي وقت فهذا من أسباب قبول الدعاء، إلا في المواضع التي لم يرفع فيها النبي صلى الله عليه وسلم يديه فلا نرفعها، مثل الدعاء بين السجدتين في الصلاة، فلو رفع الإنسان يديه وقع في بدعة؛ لأن هذا ما ورد عن الرسول صلى الله عليه وسلم، أو الدعاء في آخر التشهد فلا ترفع يديك، والدعاء بعد الفريضة كذلك؛ لأن النبي صلى الله عليه وسلم لم يفعله، كذلك رفع اليدين أثناء الدعاء في خطبة الجمعة فهذا بدعة؛ لأنه لم يفعله النبي صلى الله عليه وسلم لا من الخطيب ولا من المصلي إلا إذا استسقى الإمام فإنه يرفع يديه ويرفع الناس أيديهم.

والخلاصة في هذا أن رفع اليدين من أسباب قبول الدعاء إلا في المواضع التي ثبت أن النبي صلى الله عليه وسلم لم يرفع فيها فلا نرفع أيدينا فيها.
‌‌দোয়ার সময় হাত তোলার বিধান

 

‌‌প্রশ্ন

দোয়ার সময় হাত তোলার বিধান কী? একটি হাদিসে এসেছে যার মর্মার্থ হলো: মানুষ যখন আকাশের দিকে হাত তোলে এবং আল্লাহর কাছে দোয়া করে, তখন আল্লাহ সে হাত দুটিকে ব্যর্থভাবে ফিরিয়ে দেন না। এই হাদিসের ব্যাখ্যা কী?

 

‌‌উত্তর

হাত তোলা দোয়া কবুল হওয়ার অন্যতম কারণ। যেমনটি হাদিসে এসেছে: (নিশ্চয়ই আল্লাহ তাঁর বান্দার প্রতি লজ্জা বোধ করেন, যখন সে তাঁর কাছে হাত তোলে, তখন তা শূন্য হাতে ফিরিয়ে দিতে)। সুতরাং কোনো ব্যক্তি যদি সালাত আদায়ের পর, উদাহরণস্বরূপ চাশতের সময়ে বা রাতে অথবা যেকোনো সময়ে হাত তোলে এবং দোয়া করে, তবে এটি দোয়া কবুল হওয়ার অন্যতম কারণ। তবে যেসকল স্থানে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হাত তোলেননি, সেখানে আমরা হাত তুলব না। যেমন: সালাতে দুই সিজদার মাঝখানে দোয়া করার সময়; যদি কেউ সেখানে হাত তোলে তবে সে বিদআতে লিপ্ত হবে, কারণ এটি রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে বর্ণিত হয়নি। অথবা শেষ তাশাহহুদের দোয়ার সময় হাত তুলবেন না। একইভাবে ফরজ সালাতের পরের দোয়াতেও হাত তুলবেন না; কারণ নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এটি করেননি। তদ্রূপ জুমার খুতবায় দোয়ার সময় হাত তোলাও বিদআত; কারণ নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এটি করেননি—খতিবও করেননি, মুসল্লিরাও করেননি। তবে ইমাম যদি বৃষ্টির জন্য প্রার্থনা (ইসতিসকা) করেন, তবে তিনি হাত তুলবেন এবং মুসল্লিরাও তাদের হাত তুলবে।

এর সারকথা হলো, হাত তোলা দোয়া কবুল হওয়ার অন্যতম মাধ্যম, তবে যেসব স্থানে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হাত তোলেননি বলে প্রমাণিত, সেসব স্থানে আমরা হাত তুলব না।
(খণ্ড: ২) শারহু কিতাবিস সুন্নাহ লিল বারবাহারী - আর রাজহী (পৃষ্ঠা: ১৩)
‌‌حكم التلفظ بالنية

 

‌‌السؤال

نجد أن موقف علماء أهل السنة قد اختلف في بعض مسائل العقيدة بعد انتشار البدع، كما في مسألة التلفظ، فما هو الضابط في ذلك؟

 

‌‌الجواب

الضابط كما قال الله سبحانه وتعالى: {فَإِنْ تَنَازَعْتُمْ فِي شَيْءٍ فَرُدُّوهُ إِلَى اللَّهِ وَالرَّسُولِ إِنْ كُنتُمْ تُؤْمِنُونَ بِاللَّهِ وَالْيَوْمِ الآخِرِ} [النساء:59] فتعرض أقوال العلماء على النصوص فما وافقها قُبل وما خالفها رد، وفي مسألة التلفظ إن كان مقصود السائل التلفظ بالنية فهذا ليس عليه دليل، وإن قال به بعض الفقهاء المتأخرين وحجتهم أنه يتلفظ بالنية استحباباً حتى يتوضأ القلب واللسان، لكن هذا الاستحباب لا دليل عليه.
‌নিয়ত মুখে উচ্চারণ করার বিধান

 

‌প্রশ্ন

আমরা দেখতে পাই যে, বিদআতের প্রসারের পর আকিদার কিছু মাসআলায় আহলে সুন্নাহর আলেমদের অবস্থানের ভিন্নতা ঘটেছে, যেমনটি ঘটেছে মুখে উচ্চারণ করার মাসআলায়। এক্ষেত্রে সঠিক মানদণ্ড কী?

 

‌উত্তর

মানদণ্ড হলো তা-ই যা আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআলা বলেছেন: "অতঃপর যদি তোমরা কোনো বিষয়ে বিবাদে লিপ্ত হও, তবে তা আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের দিকে ফিরিয়ে দাও, যদি তোমরা আল্লাহ ও শেষ দিনের প্রতি ঈমান রেখে থাকো।" [আন-নিসা: ৫৯]। সুতরাং আলেমদের বক্তব্যসমূহ দলিলের সামনে পেশ করা হবে; যা দলিলের সাথে মিলবে তা গ্রহণ করা হবে, আর যা দলিলের পরিপন্থী হবে তা প্রত্যাখ্যান করা হবে। আর মুখে উচ্চারণের মাসআলায়, যদি প্রশ্নকারীর উদ্দেশ্য নিয়ত মুখে উচ্চারণ করা হয়ে থাকে, তবে এর স্বপক্ষে কোনো দলিল নেই। যদিও পরবর্তী যুগের কোনো কোনো ফকিহ এটি বলেছেন এবং তাদের যুক্তি হলো—অন্তর ও জিহ্বা যেন সমন্বিত হয় সেজন্য নিয়ত মুখে উচ্চারণ করা মুস্তাহাব। কিন্তু এই মুস্তাহাব হওয়ার স্বপক্ষে কোনো দলিল নেই।
(খণ্ড: ১) শারহু কিতাবিস সুন্নাহ লিল বারবাহারী - আর রাজহী (পৃষ্ঠা: -)
شرح كتاب السنة للبربهاري - الراجحي   (عبد العزيز بن عبد الله الراجحي)

القسم: العقيدة


الكتاب: شرح كتاب السنة للبربهاري

المؤلف: عبد العزيز بن عبد الله بن عبد الرحمن الراجحي

مصدر الكتاب: دروس صوتية قام بتفريغها موقع الشبكة الإسلامية

http://www.islamweb.net

[ الكتاب مرقم آليا، ورقم الجزء هو رقم الدرس - 16 درسا]

تاريخ النشر بالشاملة: 15 جُمادَى الآخرة 1432

বারবাহারির কিতাবুস সুন্নাহর ব্যাখ্যা - আল-রাজহী   (আব্দুল আজিজ বিন আব্দুল্লাহ আল-রাজহী)

বিভাগ: আকিদাহ


গ্রন্থ: বারবাহারির কিতাবুস সুন্নাহর ব্যাখ্যা

লেখক: আব্দুল আজিজ বিন আব্দুল্লাহ বিন আব্দুর রহমান আল-রাজহী

গ্রন্থের উৎস: ইসলাম ওয়েব সাইট কর্তৃক অনুলিখিত অডিও পাঠসমূহ

http://www.islamweb.net

[ গ্রন্থটি স্বয়ংক্রিয়ভাবে নম্বরযুক্ত, এবং খণ্ড সংখ্যা হলো পাঠ সংখ্যা - ১৬টি পাঠ]

শামিলা লাইব্রেরিতে প্রকাশের তারিখ: ১৫ জুমাদাল আখিরাহ ১৪৩২

(খণ্ড: ৩) শারহু কিতাবিস সুন্নাহ লিল বারবাহারী - আর রাজহী (পৃষ্ঠা: ১)
شرح كتاب السنة للبربهاري ‌‌[3]

من معتقدات أهل السنة والجماعة الإيمان بصفات الله تعالى دون تأويل ولا تعطيل ولا تكييف ولا تمثيل، والإيمان بأن القرآن كلام الله، وأن المؤمنين يرون ربهم يوم القيامة، ويؤمنون بعذاب القبر ونعيمه ومنكر ونكير.
ইমাম বারবাহারীর কিতাবুস সুন্নাহর ব্যাখ্যা ‌‌[৩]

আহলুস সুন্নাহ ওয়াল জামায়াতের আকিদাহসমূহের অন্তর্ভুক্ত হলো কোনো প্রকার অপব্যাখ্যা, অকেজো করা, ধরন নির্ধারণ কিংবা সাদৃশ্য প্রদান ছাড়াই মহান আল্লাহর গুণাবলীতে ঈমান আনা; এবং এই বিশ্বাস রাখা যে কুরআন আল্লাহর কালাম, এবং মুমিনগণ কিয়ামতের দিন তাদের প্রতিপালককে দেখবেন, আর তারা কবরের আজাব ও নিআমত এবং মুনকার ও নাকিরের ওপর ঈমান রাখে।
(খণ্ড: ৩) শারহু কিতাবিস সুন্নাহ লিল বারবাহারী - আর রাজহী (পৃষ্ঠা: ২)
‌‌الإيمان بصفات الله سبحانه وأفعاله بدون تكييف ولا تمثيل

قال المؤلف رحمه الله تعالى: [واعلم رحمك الله أن الكلام في الرب تعالى محدث].

هذه عادة المؤلف رحمه الله، يقول في أول كل فقرة جديدة: (اعلم) يعني: تيقن تيقناً جازماً، فهو يدعو ويسأل من الله عز وجل الرحمة لطالب العلم.

وقوله: أن الكلام في الرب، يعني: ما يتكلم به أهل الكلام في الخوض في الرب تعالى وأسمائه وصفاته وأفعاله بغير علم، فمنهم من تكلم في الرب فقال: إنه ليس فوق العرش والعياذ بالله، ومنهم من قال: إنه في كل مكان، فهذا كله محدث، وهو كفر وردة والعياذ بالله.

فالجهمية الذين يقولون: إن الرب ليس فوق العرش وإنما هو في كل مكان، وكذلك من ينفي النقيضين عن الله، يقول: لا داخل العالم ولا خارجه، ولا مباين له ولا محايد له، ولا متصل به ولا منفصل عنه، هذا الكلام في الرب كفر وضلال، بل الرب سبحانه وتعالى فوق العرش، مستو على عرشه، بائن من خلقه.

فكلام الجهمية في هذه المسألة محدث، وكذلك كلامهم وكلام المعتزلة في نفي الأسماء والصفات، وكذلك كلام الأشاعرة في نفي الصفات ما عدا الصفات السبع، وكذلك نفيهم للإرادة الدينية، ونفي المعتزلة للإرادة الكونية، كل هذا محدث، وهذا المحدث منه ما هو كفر ومنه ما هو دون الكفر.

فلم يكن السلف من الصحابة والتابعين والأئمة من بعدهم يتكلمون في الرب بما تكلم به هؤلاء، فالرب سبحانه وتعالى أثبت لنفسه الأسماء والصفات، وأثبت أنه فوق العرش، فالواجب إثبات ما أثبته الله لنفسه، ونفي ما نفاه الله عن نفسه، فهؤلاء المبتدعة تجاوزوا ما وصف به الرب نفسه، ووصفه به رسوله صلى الله عليه وسلم، فكان كلامهم محدثاً.

فهو بدعة، وهذه البدعة إما أن تكون مكفرة، كبدعة الجهمية الذين يقولون: إنه ليس فوق العرش، وإنما هو في كل مكان، وإما أن تكون بدعة غير مكفرة كبدعة الأشاعرة الذين يتأولون بقية الصفات ما عدا الصفات السبع، ولهذا قال المؤلف رحمه الله: [واعلم رحمك الله أن الكلام في الرب محدث، وهو بدعة وضلالة، ولا يتكلم في الرب إلا بما وصف به نفسه عز وجل في القرآن، وما بينه رسوله صلى الله عليه وسلم لأصحابه] وهذا كما قال بعض السلف: لا يوصف الرب إلا بما وصف به نفسه، أو وصفه به رسوله صلى الله عليه وسلم، فلا يتجاوز القرآن والحديث.

ولهذا قال المؤلف رحمه الله: [ولا يتكلم في الرب إلا بما وصف به نفسه عز وجل في القرآن، وما بينه رسوله صلى الله عليه وسلم لأصحابه، وهو جل ثناؤه واحد، فهو واحد في ذاته، وواحد في أسمائه وصفاته وأفعاله، وواحد في ألوهيته، وواحد في ذاته، كما قال الله تعالى: {قُلْ هُوَ اللَّهُ أَحَدٌ * اللَّهُ الصَّمَدُ} [الإخلاص:2].

واحد في أسمائه وصفاته أي: ليس له مثيل، ولا يشبه أحداً من خلقه في ذاته ولا في صفاته ولا في أفعاله، وهو واحد في ألوهيته، فلا يستحق العبادة أحد غيره.

فهو سبحانه واحد، وهو الأحد، وهو الصمد الذي تصمد إليه الخلائق في حوائجها، فهو صمد في نفسه، وتصمد إليه الخلائق في حوائجها، ولا نظير ولا مثيل ولا سمي ولا ند له، كما قال سبحانه: {لَيْسَ كَمِثْلِهِ شَيْءٌ وَهُوَ السَّمِيعُ البَصِيرُ} [الشورى:11]، وقال سبحانه: {فَلا تَضْرِبُوا لِلَّهِ الأَمْثَالَ إِنَّ اللَّهَ يَعْلَمُ وَأَنْتُمْ لا تَعْلَمُونَ} [النحل:74]، وقال سبحانه: {هَلْ تَعْلَمُ لَهُ سَمِيًّا} [مريم:65]، وقال سبحانه: {وَلَمْ يَكُنْ لَهُ كُفُوًا أَحَدٌ} [الإخلاص:4].

قال المؤلف رحمه الله: [ربنا أول بلا متى، وآخر بلا منتهى، يعلم السر وأخفى، وعلى عرشه استوى وعلمه بكل مكان لا يخلو من علمه مكان].

قوله: (ربنا أول بلا متى) يعني: لا يوجه إليه هذا السؤال، فلا يقال: متى كان؟ فهو سبحانه وتعالى الأول الذي ليس قبله شيء، وهو الآخر الذي ليس بعده شيء، فهو سبحانه وتعالى واجب الوجود بذاته، وهو الظاهر الذي ليس فوقه شيء، وهو الباطن الذي ليس دونه شيء، كما قال الله عز وجل في كتابه المبين: {هُوَ الأَوَّلُ وَالآخِرُ وَالظَّاهِرُ وَالْبَاطِنُ وَهُوَ بِكُلِّ شَيْءٍ عَلِيمٌ} [الحديد:3].

فهذان اسمان متقابلان لأوليته وأبديته: (الأول والآخر)، وهذان اسمان متقابلان لفوقيته وعلوه: (الظاهر والباطن) وهو سبحانه لا يشبهه شيء من خلقه.

وقد فسر النبي صلى الله عليه وسلم هذه الأسماء الأربعة في حديث الاستفتاح الصحيح، حيث قال صلى الله عليه وسلم: (اللهم أنت الأول فليس قبلك شيء، وأنت الآخر فليس بعدك شيء، وأنت الظاهر فليس فوقك شيء، وأنت الباطن فليس دونك شيء، اقض عني الدين وأغنني من الفقر).

ولهذا قال المؤلف رحمه الله: (ربنا أول بلا متى)، يعني: لا يوجه هذا السؤال إليه، فلا يقال متى كان، (وآخر بلا منتهى)، كما ورد في الحديث الذي قدمناه آنفاً.

يعلم السر وأخفى، فصفة العلم من صفاته سبحانه وتعالى، والذي أخفى من السر هو حديث النفس، فهو سبحانه يعلم الكلام الذي تتكلم به سراً، ويعلم ما هو أخفى من ذلك، وهو ما تحدث به نفسك، كما قال سبحانه وتعالى: {وَلَقَدْ خَلَقْنَا الإِنْسَانَ وَنَعْلَمُ مَا تُوَسْوِسُ بِهِ نَفْسُهُ وَنَحْنُ أَقْرَبُ إِلَيْهِ مِنْ حَبْلِ الْوَرِيدِ} [ق:16].

وكما أخبر الله سبحانه وتعالى في خطابه لموسى عليه الصلاة والسلام: {إِنَّ السَّاعَةَ آتِيَةٌ أَكَادُ أُخْفِيهَا لِتُجْزَى كُلُّ نَفْسٍ بِمَا تَسْعَى} [طه:15].

وقوله رحمه الله تعالى: (وعلى عرشه استوى) أي: أن الله سبحانه استوى على العرش، والاستواء ذكر في سبعة مواضع من كتاب الله عز وجل، وكلها جاءت بلفظ الاستواء، وتعدت بعلى التي تفيد العلو والارتفاع، وهذه المواضع جاء ذكرها في سورة الأعراف وفي سورة يونس وفي سورة طه وفي سورة الفرقان وفي سورة السجدة، وفي سورة الحديد، والموضع السابع في سورة الرعد، وكلها فيها التصريح بأنه سبحانه استوى على العرش، ومع ذلك أنكر الاستواء أهل البدع من الجهمية والأشاعرة والمعتزلة، وقالوا معنى استوى: استولى، وهذا لا شك أنه تحريف لمعنى استوى، فإن الله تعالى لو أراد بمعنى استوى: استولى فليس عاجزاً أن يقول: الرحمن على العرش استولى، أي: لو أراد هذا المعنى لبين ذلك.

ولأن (استوى) يختلف معناها عن استولى، فمعنى استوى: استقر وارتفع وصعد، واستولى تتضمن نقصاً في حق الرب، وذلك أنه لا يقال للشيء استولى إلا بعد أن كان عاجزاً ثم غلب غيره واستولى عليه، وهل العرش حاول أحد أن يغالب الله عليه؟! وهل كان الله عاجزاً عن الاستيلاء ثم استولى بعد ذلك؟! فلا يقال استولى إلا في حق من كان عاجزاً ثم غلب، كما قال الشاعر: قد استوى بشر على العراق.

فهذا التحريف الذي جاء به أهل البدع يعتبر زيادة في كلام الله، ولهذا قال العلماء: إن هذه اللام الزائدة، وهي تحريف لكلام الله ومحادة له ورسوله، وهذه صفة اليهود حين قال الله لهم: قولوا حطة، فقالوا: حنطة، زادوا حرفاً واحداً، ولهذا يقول العلماء: لام الجهمية كنون اليهود، حين قال الله لهم: {وَادْخُلُوا الْبَابَ سُجَّدًا وَقُولُوا حِطَّةٌ} [البقرة:58]، أي: قولوا: حط عنا يا الله ذنوبنا واغفرها لنا، فزادوا في كلام الله، واستهزءوا، وقالوا: حنطة، فزادوا نوناً.

وكذلك الجهمية أخبر الله عن نفسه أنه استوى على العرش، فزادوا لاماً وقالوا: استوى بمعنى استولى، نسأل الله السلامة والعافية.

وقوله: (على عرشه استوى) وعلمه بكل مكان، لا يخلو من علمه مكان، المعنى: أن الله تعالى استوى فوق العرش استواء يليق بجلاله وعظمته، فهو فوق العرش سبحانه وتعالى، فله علو القدر وعلو القهر وعلو الذات، أما علمه فهو في كل مكان، يعلم ما في لجة البحار، وما في ظلمات البر والبحر، ويعلم السر، ويعلم دبيب النملة السوداء على الصخرة الصماء في الليلة الظلماء.

فهو سبحانه فوق العرش وعلمه في كل مكان.
সদৃশ সাব্যস্তকরণ এবং ধরণ নির্ধারণ ব্যতীত আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআলার গুণাবলি ও কার্যাবলির প্রতি ঈমান

লেখক (রাহিমাহুল্লাহ) বলেছেন: [জেনে রাখুন, আল্লাহ আপনার প্রতি দয়া করুন, মহান রব সম্পর্কে কালাম (তর্কশাস্ত্র বা যুক্তিনির্ভর আলোচনা) একটি নব উদ্ভাবিত বিষয়]।

এটি লেখকের (রাহিমাহুল্লাহ) একটি নিয়ম যে, তিনি প্রতিটি নতুন অনুচ্ছেদের শুরুতে বলেন: (জেনে রাখুন) অর্থাৎ: সুনিশ্চিতভাবে বিশ্বাস করুন; আর তিনি ইলম অন্বেষণকারীর জন্য মহান আল্লাহর কাছে রহমত প্রার্থনা করছেন।

তার কথা: ‘রব সম্পর্কে কালাম’, অর্থাৎ: কালাম শাস্ত্রবিদরা জ্ঞান ছাড়াই মহান রব, তাঁর নাম, গুণাবলি ও কার্যাবলি নিয়ে গভীর আলোচনায় লিপ্ত হয়ে যা বলে থাকে। তাদের মধ্যে কেউ রব সম্পর্কে এমন কথা বলেছে যে, তিনি আরশের উপরে নন (আল্লাহর কাছে এ থেকে আশ্রয় চাই), আবার কেউ বলেছে যে, তিনি সর্বত্র বিরাজমান। এই সবকিছুই নব উদ্ভাবিত বিষয়, যা কুফর ও ধর্মত্যাগ (আল্লাহর কাছে এ থেকে আশ্রয় চাই)।

জাহমিয়া সম্প্রদায় বলে যে, রব আরশের উপরে নন বরং তিনি সর্বত্র বিরাজমান। একইভাবে যারা আল্লাহর ক্ষেত্রে পরস্পরবিরোধী দুটি বিষয়কে অস্বীকার করে, তারা বলে: তিনি জগতের ভেতরেও নন, বাইরেও নন; তিনি জগত থেকে আলাদাও নন, জগতের সাথে মিশেও নেই; তিনি জগতের সাথে সংযুক্তও নন, বিচ্ছিন্নও নন। রব সম্পর্কে এই জাতীয় কথা কুফর ও গোমরাহি। বরং রব সুবহানাহু ওয়া তাআলা আরশের উপরে, তাঁর আরশের উপরে উঠেছেন এবং তিনি তাঁর সৃষ্টিজগত থেকে পৃথক।

এই মাসআলায় জাহমিয়াদের কথা নব উদ্ভাবিত। একইভাবে নাম ও গুণাবলি অস্বীকার করার ক্ষেত্রে তাদের এবং মুতাজিলাদের কথা, এবং সাতটি গুণ ব্যতীত বাকি গুণাবলি অস্বীকার করার ক্ষেত্রে আশায়েরা সম্প্রদায়ের কথা, একইভাবে তাদের দ্বীনি ইচ্ছা অস্বীকার করা এবং মুতাজিলাদের মহাজাগতিক ইচ্ছা অস্বীকার করা—এই সবই নব উদ্ভাবিত। আর এই নব উদ্ভাবিত বিষয়গুলোর কোনটি কুফর এবং কোনটি কুফরের চেয়ে নিম্নপর্যায়ের।

সাহাবী, তাবেয়ী এবং তাদের পরবর্তী ইমামগণের মতো পূর্বসূরিগণ (সালাফ) রব সম্পর্কে এমন কথা বলতেন না যা এই লোকেরা বলে থাকে। রব সুবহানাহু ওয়া তাআলা নিজের জন্য নাম ও গুণাবলি সাব্যস্ত করেছেন এবং তিনি যে আরশের উপরে তাও সাব্যস্ত করেছেন। সুতরাং আল্লাহ নিজের জন্য যা সাব্যস্ত করেছেন তা সাব্যস্ত করা এবং আল্লাহ নিজের থেকে যা অস্বীকার করেছেন তা অস্বীকার করা ওয়াজিব। এই বিদআতিরা মহান রব নিজের জন্য এবং তাঁর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) তাঁর জন্য যে বর্ণনা দিয়েছেন তা অতিক্রম করে গেছে, তাই তাদের কথা নব উদ্ভাবিত।

এটি বিদআত। এই বিদআত কখনো কুফরি হতে পারে, যেমন জাহমিয়াদের বিদআত যারা বলে যে: তিনি আরশের উপরে নন বরং তিনি সর্বত্র বিরাজমান। আবার কখনো তা কুফরি নয় এমন বিদআতও হতে পারে, যেমন আশায়েরা সম্প্রদায়ের বিদআত যারা সাতটি গুণ ব্যতীত বাকি গুণাবলি ব্যাখ্যা করে থাকে। এই কারণেই লেখক (রাহিমাহুল্লাহ) বলেছেন: [জেনে রাখুন, আল্লাহ আপনার প্রতি দয়া করুন, রব সম্পর্কে কালাম নব উদ্ভাবিত বিষয়, এটি বিদআত ও ভ্রষ্টতা। রব সম্পর্কে কেবল তা-ই বলা যাবে যার মাধ্যমে তিনি পবিত্র কুরআনে নিজেকে বিশেষিত করেছেন এবং যা তাঁর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) তাঁর সাহাবীদের কাছে বর্ণনা করেছেন।] এটি কিছু সালাফদের কথার মতো: রবকে কেবল তা দিয়েই বিশেষিত করা যাবে যা দিয়ে তিনি নিজেকে বিশেষিত করেছেন অথবা তাঁর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) তাঁকে বিশেষিত করেছেন। কুরআন ও হাদীসের সীমা অতিক্রম করা যাবে না।

এই কারণেই লেখক (রাহিমাহুল্লাহ) বলেছেন: [রব সম্পর্কে কেবল তা-ই বলা যাবে যার মাধ্যমে তিনি পবিত্র কুরআনে নিজেকে বিশেষিত করেছেন এবং যা তাঁর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) তাঁর সাহাবীদের কাছে বর্ণনা করেছেন। তিনি মহান সত্তা, তিনি এক। তিনি তাঁর সত্তায় এক, তাঁর নামসমূহ, গুণাবলি ও কার্যাবলিতে এক, তাঁর উলুহিয়্যাত বা উপাস্য হওয়ার ক্ষেত্রে এক এবং তাঁর সত্তায় এক, যেমনটি আল্লাহ তাআলা বলেছেন: {বলুন, তিনিই আল্লাহ, একক। আল্লাহ অমুখাপেক্ষী।} [ইখলাস: ১-২]।

তাঁর নাম ও গুণাবলিতে এক হওয়ার অর্থ হলো: তাঁর কোনো সমকক্ষ নেই। তিনি তাঁর সত্তায়, গুণাবলিতে বা কার্যাবলিতে তাঁর সৃষ্টির কারো সদৃশ নন। তিনি তাঁর উলুহিয়্যাত বা উপাস্য হওয়ার ক্ষেত্রে এক, সুতরাং তিনি ছাড়া অন্য কেউ ইবাদতের যোগ্য নয়।

তিনি সুবহানাহু এক, তিনি অদ্বিতীয়, তিনি অমুখাপেক্ষী যাঁর কাছে সৃষ্টিজগত তাদের প্রয়োজনে আশ্রয় নেয়। তিনি স্বয়ং অমুখাপেক্ষী এবং সৃষ্টিজগত তাদের প্রয়োজনে তাঁর মুখাপেক্ষী হয়। তাঁর কোনো নজির নেই, সাদৃশ্য নেই, সমতুল্য নেই এবং কোনো প্রতিদ্বন্দ্বী নেই। যেমনটি তিনি বলেছেন: {কোনো কিছুই তাঁর সদৃশ নয়, আর তিনি সর্বশ্রোতা, সর্বদ্রষ্টা।} [শূরা: ১১]। তিনি আরও বলেছেন: {সুতরাং তোমরা আল্লাহর জন্য কোনো উদাহরণ পেশ করো না। নিশ্চয়ই আল্লাহ জানেন আর তোমরা জানো না।} [নাহল: ৭৪]। তিনি আরও বলেছেন: {আপনি কি তাঁর সমতুল্য কাউকে জানেন?} [মারইয়াম: ৬৫]। তিনি আরও বলেছেন: {এবং তাঁর সমতুল্য কেউ নেই।} [ইখলাস: ৪]।

লেখক (রাহিমাহুল্লাহ) বলেছেন: [আমাদের রব ‘কবে’ শব্দ ছাড়াই আদি, কোনো সীমা ছাড়াই অন্ত, তিনি গোপন ও অতি গোপন বিষয় জানেন, আর তিনি তাঁর আরশের উপর উঠেছেন, তাঁর জ্ঞান সর্বত্র বিরাজমান, কোনো স্থানই তাঁর জ্ঞানের বাইরে নয়]।

তাঁর কথা: (আমাদের রব ‘কবে’ ছাড়াই আদি) অর্থাৎ: তাঁর প্রতি এই প্রশ্ন উত্থাপন করা যাবে না, বলা যাবে না: তিনি ‘কবে’ ছিলেন? তিনি সুবহানাহু ওয়া তাআলা এমন ‘প্রথম’ যার পূর্বে কিছু নেই এবং তিনি এমন ‘শেষ’ যার পরে কিছু নেই। তিনি সুবহানাহু ওয়া তাআলা তাঁর স্বীয় সত্তায় বিদ্যমান থাকা অপরিহার্য। তিনি ‘প্রকাশ্য’ যার উপরে কিছু নেই এবং তিনি ‘অপ্রকাশ্য’ যার নিচে কিছু নেই। যেমন আল্লাহ আজ্জা ওয়া জাল্লা তাঁর সুস্পষ্ট কিতাবে বলেছেন: {তিনিই প্রথম, তিনিই শেষ, তিনিই প্রকাশ্য ও তিনিই অপ্রকাশ্য এবং তিনি সর্ববিষয়ে সম্যক পরিজ্ঞাত।} [হাদীদ: ৩]।

এই দুটি নাম তাঁর অনাদ্যন্ত ও অনন্ত হওয়ার সাথে সম্পর্কিত: (প্রথম ও শেষ)। আর এই দুটি নাম তাঁর উচ্চতা ও শ্রেষ্ঠত্বের সাথে সম্পর্কিত: (প্রকাশ্য ও অপ্রকাশ্য)। আর তিনি সুবহানাহু, তাঁর সৃষ্টির কোনো কিছুই তাঁর সদৃশ নয়।

নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) সহীহ ইস্তিফতাহ হাদীসে এই চারটি নামের ব্যাখ্যা করেছেন। তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন: (হে আল্লাহ, আপনিই প্রথম, আপনার আগে কিছু নেই; আপনিই শেষ, আপনার পরে কিছু নেই; আপনিই প্রকাশ্য, আপনার উপরে কিছু নেই; আপনিই অপ্রকাশ্য, আপনার নিচে কিছু নেই। আপনি আমার ঋণ পরিশোধ করে দিন এবং আমাকে অভাবমুক্ত করুন)।

এই কারণেই লেখক (রাহিমাহুল্লাহ) বলেছেন: (আমাদের রব ‘কবে’ শব্দ ছাড়াই আদি), অর্থাৎ: তাঁর প্রতি এই প্রশ্ন করা যাবে না, বলা যাবে না তিনি কবে ছিলেন। (এবং কোনো সীমা ছাড়াই অন্ত), যেমনটি ইতিপূর্বে উল্লেখিত হাদীসে এসেছে।

তিনি গোপন ও অতি গোপন বিষয় জানেন। জ্ঞানের গুণটি আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআলার গুণাবলির অন্তর্ভুক্ত। গোপন থেকে যা অতি গোপন তা হলো মনের কথা। তিনি সুবহানাহু গোপন কথা জানেন এবং যা তার চেয়েও গোপন তাও জানেন, আর তা হলো যা আপনার মনে উদিত হয়। যেমনটি তিনি বলেছেন: {আমিই মানুষকে সৃষ্টি করেছি এবং তার মন তাকে যে কুমন্ত্রণা দেয় তা আমি জানি। আমি তার ঘাড়ের শিরার চেয়েও নিকটবর্তী।} [ক্বাফ: ১৬]।

যেমন আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআলা মুসা (আলাইহিস সালাতু ওয়াস সালাম)-এর প্রতি তাঁর সম্বোধনে সংবাদ দিয়েছেন: {নিশ্চয়ই কিয়ামত আসবেই, আমি তা প্রায় গোপন রাখতে চাই যাতে প্রত্যেক ব্যক্তি তার কর্মানুযায়ী ফল পায়।} [ত্বহা: ১৫]।

লেখকের (রাহিমাহুল্লাহ) কথা: (এবং তিনি তাঁর আরশের উপর উঠেছেন) অর্থাৎ: আল্লাহ সুবহানাহু আরশের উপর উঠেছেন। 'ইস্তিওয়া' (উঠা) শব্দটির উল্লেখ আল্লাহর কিতাবে সাতটি স্থানে এসেছে। সবগুলোতেই 'ইস্তিওয়া' শব্দ ব্যবহৃত হয়েছে এবং তা 'আলা' অব্যয় যোগে এসেছে যা উচ্চতা ও আরোহণ বুঝায়। এই স্থানগুলো সূরা আল-আরাফ, সূরা ইউনুস, সূরা ত্বহা, সূরা আল-ফুরকান, সূরা আস-সাজদাহ এবং সূরা আল-হাদীদে বর্ণিত হয়েছে। সপ্তম স্থানটি হলো সূরা আর-রাদ-এ। সবগুলোতে স্পষ্টভাবে বর্ণিত হয়েছে যে তিনি সুবহানাহু আরশের উপর উঠেছেন। তা সত্ত্বেও বিদআতি জাহমিয়া, আশায়েরা ও মুতাজিলারা 'ইস্তিওয়া' অস্বীকার করেছে। তারা বলেছে যে 'ইস্তিওয়া' মানে 'কর্তৃত্ব প্রতিষ্ঠা করা'। এতে কোনো সন্দেহ নেই যে এটি 'ইস্তিওয়া'-এর অর্থের বিকৃতি। কেননা আল্লাহ যদি 'ইস্তিওয়া' বলতে 'কর্তৃত্ব প্রতিষ্ঠা করা' বুঝাতে চাইতেন, তবে তিনি বলতে অক্ষম ছিলেন না যে: 'রাহমান আরশের উপর কর্তৃত্ব প্রতিষ্ঠা করেছেন'। অর্থাৎ তিনি যদি এই অর্থ চাইতেন তবে তা স্পষ্ট করে দিতেন।

কারণ 'উঠা' (ইস্তিওয়া) এর অর্থ কর্তৃত্ব প্রতিষ্ঠা করা থেকে ভিন্ন। 'উঠা' অর্থ হলো: স্থির হওয়া, উচ্চ হওয়া এবং আরোহণ করা। আর 'কর্তৃত্ব প্রতিষ্ঠা' শব্দের মধ্যে রবের ক্ষেত্রে একটি ত্রুটি প্রকাশ পায়। কেননা কোনো কিছুর ওপর 'কর্তৃত্ব প্রতিষ্ঠা' কথাটি তখনই বলা হয় যখন কেউ আগে অক্ষম ছিল, অতঃপর অন্য কাউকে পরাজিত করে তার ওপর কর্তৃত্ব লাভ করে। আর আরশ কি এমন কিছু যা নিয়ে কেউ আল্লাহর সাথে জয়ী হওয়ার চেষ্টা করেছিল?! আল্লাহ কি কর্তৃত্ব প্রতিষ্ঠায় অক্ষম ছিলেন যে পরবর্তীতে কর্তৃত্ব লাভ করেছেন?! সুতরাং 'কর্তৃত্ব প্রতিষ্ঠা' কথাটি কেবল তার ক্ষেত্রে বলা যায় যে আগে অক্ষম ছিল অতঃপর বিজয়ী হয়েছে; যেমন কবি বলেছেন: "বিশর ইরাকের ওপর কর্তৃত্ব প্রতিষ্ঠা করেছে।"

বিদআতিরা যে বিকৃতি নিয়ে এসেছে তা আল্লাহর বাণীতে অতিরিক্ত সংযোজন হিসেবে গণ্য। এই কারণেই ওলামায়ে কেরাম বলেছেন: এই 'লাম' বর্ণটি অতিরিক্ত, যা আল্লাহর বাণীর বিকৃতি এবং তাঁর ও তাঁর রাসূলের বিরোধিতা। এটি ইহুদীদের স্বভাবের মতো, যখন আল্লাহ তাদের বলেছিলেন: 'ক্ষমা চাই' বলতে, তখন তারা বলেছিল: 'গম'; তারা একটি অতিরিক্ত বর্ণ যোগ করেছিল। এই কারণেই ওলামায়ে কেরাম বলেন: জাহমিয়াদের 'লাম' ইহুদীদের 'নুন'-এর মতো। যখন আল্লাহ তাদের বলেছিলেন: {সিজদাবনত হয়ে দরজায় প্রবেশ করো এবং বলো: ক্ষমা চাই} [বাকারা: ৫৮]। অর্থাৎ: হে আল্লাহ, আমাদের গুনাহ মিটিয়ে দিন এবং আমাদের ক্ষমা করুন। কিন্তু তারা আল্লাহর বাণীতে সংযোজন করল এবং উপহাস করে বলল: 'গম'; তারা একটি 'নুন' বাড়িয়ে দিল।

একইভাবে জাহমিয়াদের ক্ষেত্রে আল্লাহ সংবাদ দিয়েছেন যে তিনি আরশের উপর উঠেছেন, কিন্তু তারা একটি 'লাম' যুক্ত করে বলল: 'ইস্তিওয়া' মানে 'কর্তৃত্ব প্রতিষ্ঠা করা'। আমরা আল্লাহর কাছে নিরাপত্তা ও সুস্থতা কামনা করি।

তাঁর কথা: (তাঁর আরশের উপর উঠেছেন) এবং তাঁর জ্ঞান সর্বত্র বিরাজমান, কোনো স্থানই তাঁর জ্ঞানের বাইরে নয়। এর অর্থ হলো: আল্লাহ তাআলা আরশের উপর উঠেছেন এমনভাবে যা তাঁর মর্যাদা ও মহত্ত্বের সাথে সঙ্গতিপূর্ণ। তিনি সুবহানাহু ওয়া তাআলা আরশের উপরে। তাঁর রয়েছে মর্যাদার উচ্চতা, ক্ষমতার উচ্চতা এবং সত্তাগত উচ্চতা। পক্ষান্তরে তাঁর জ্ঞান সর্বত্র বিরাজমান। সমুদ্রের অতলে যা আছে এবং স্থল ও সমুদ্রের অন্ধকারে যা আছে তিনি তা জানেন। তিনি গোপন বিষয় জানেন এবং অন্ধকার রাতে মসৃণ পাথরের ওপর কালো পিঁপড়ার চলাচলের শব্দও তিনি জানেন।

সুতরাং তিনি সুবহানাহু আরশের উপরে এবং তাঁর জ্ঞান সর্বত্র বিরাজমান।
(খণ্ড: ৩) শারহু কিতাবিস সুন্নাহ লিল বারবাহারী - আর রাজহী (পৃষ্ঠা: ৩)
‌‌لا يقال في صفات الله: كيف، ولا في أفعاله: لِمَ؟

قال المؤلف رحمه الله: [ولا يقول في صفات الرب تعالى لم؟ إلا شاك في الله تبارك وتعالى].

أي: لا يقول في صفات الرب كيف، كأن يقول: كيف استوى؟ أو كيف ينزل؟ أو كيف يعلم؟ أو كيف يسمع؟ أو كيف يبصر؟ فهذا السؤال اعتراض، فلا يوجهه إلى الرب إلا شاك في الله، أما المؤمن المتيقن فلا يوجه هذا السؤال في صفات الله، بل يقول: آمنت بالله وبما جاء عن الله على لسان رسول الله، وآمنت برسول الله وبما جاء عن رسول الله على مراد رسول الله.

وكذلك لا يوجه لأفعال الله هذا

 

‌‌السؤال

لم فعل كذا؟ لم قال كذا؟ لم شرع كذا؟ لم أغنى هذا، ولم أفقر هذا؟ فهذا السؤال باطل، فالسؤال بلِمَ لا يوجه إلى أفعال الله، والسؤال بكيف لا يوجه إلى صفات الله.

فالذي يوجه هذا السؤال: كيف ولم، يقول عنه المؤلف إنه شاك في الله تبارك وتعالى، أما المتيقن والمسلم فإنه إذا بلغه النص في صفات الله يقول: آمنت بالله ورسوله، سلمت، ولا يقول كيف؟ وكذلك إذا بلغه شيء من أفعال الله فلا يقول: لم، بل يسلم ويمتثل الأوامر ويجتنب النواهي.
আল্লাহর গুণাবলির ক্ষেত্রে ‘কিভাবে’ এবং তাঁর কার্যাবলির ক্ষেত্রে ‘কেন’ বলা যাবে না

লেখক (আল্লাহ তাঁর প্রতি রহম করুন) বলেন: [আর মহান রবের গুণাবলির ক্ষেত্রে ‘কেন?’ কেবল সেই ব্যক্তিই বলে, যে বরকতময় ও মহান আল্লাহ সম্পর্কে সন্দিহান]।

অর্থাৎ: রবের গুণাবলির ক্ষেত্রে ‘কিভাবে’ বলা যাবে না। যেমন কেউ যদি বলে: তিনি কিভাবে উঠেছেন? কিংবা তিনি কিভাবে অবতরণ করেন? অথবা তিনি কিভাবে জানেন? অথবা তিনি কিভাবে শোনেন? অথবা তিনি কিভাবে দেখেন? সুতরাং এই প্রশ্নটি একটি আপত্তি, আর আল্লাহ সম্পর্কে সন্দিহান ব্যক্তি ছাড়া অন্য কেউ রবের প্রতি এটি উত্থাপন করে না। পক্ষান্তরে দৃঢ় বিশ্বাসী মুমিন আল্লাহর গুণাবলির বিষয়ে এ ধরনের প্রশ্ন উত্থাপন করে না, বরং সে বলে: আমি আল্লাহর প্রতি এবং আল্লাহর পক্ষ থেকে আল্লাহর রাসূলের মুখে যা এসেছে তার প্রতি ঈমান এনেছি, আর আমি আল্লাহর রাসূলের প্রতি এবং আল্লাহর রাসূলের পক্ষ থেকে যা এসেছে তার প্রতি আল্লাহর রাসূলের উদ্দেশ্য অনুযায়ী ঈমান এনেছি।

তদ্রূপ আল্লাহর কার্যাবলির ক্ষেত্রেও এই

 

প্রশ্ন

করা যাবে না যে, কেন তিনি এমন করেছেন? কেন তিনি এমন বলেছেন? কেন তিনি এমন বিধান দিয়েছেন? কেন তিনি একে ধনী করেছেন এবং তাকে দরিদ্র করেছেন? সুতরাং এই প্রশ্নটি বাতিল। কারণ ‘কেন’ প্রশ্নটি আল্লাহর কার্যাবলির ক্ষেত্রে করা যায় না, আর ‘কিভাবে’ প্রশ্নটি আল্লাহর গুণাবলির ক্ষেত্রে করা যায় না।

অতএব যে ব্যক্তি এই প্রশ্ন অর্থাৎ ‘কিভাবে’ এবং ‘কেন’ উত্থাপন করে, তার সম্পর্কে লেখক বলেন যে সে বরকতময় ও মহান আল্লাহ সম্পর্কে সন্দিহান। আর সুনিশ্চিত বিশ্বাসী ও আত্মসমর্পণকারী মুসলিমের নিকট যখন আল্লাহর গুণাবলি সম্পর্কিত কোনো দলিল পৌঁছে, তখন সে বলে: আমি আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের প্রতি ঈমান এনেছি, আমি আত্মসমর্পণ করেছি এবং সে ‘কিভাবে’ বলে না। একইভাবে আল্লাহর কার্যাবলি সম্পর্কে যখন তার কাছে কিছু পৌঁছে, তখন সে ‘কেন’ বলে না; বরং সে আত্মসমর্পণ করে এবং আদেশসমূহ পালন করে ও নিষেধসমূহ থেকে দূরে থাকে।
(খণ্ড: ৩) শারহু কিতাবিস সুন্নাহ লিল বারবাহারী - আর রাজহী (পৃষ্ঠা: ৪)
‌‌القرآن الكريم كلام الله ليس بمخلوق

قال المؤلف رحمه الله تعالى: [والقرآن كلام الله وتنزيله ونوره وليس بمخلوق؛ لأن القرآن من الله، وما كان من الله فليس بمخلوق، وهكذا قال مالك بن أنس وأحمد بن حنبل والفقهاء قبلهما وبعدهما، والمراء فيه كفر].

القرآن كلام الله وتنزيله ونوره ليس بمخلوق، وهو صفة من صفاته جل وعلا، وهذا هو الصواب الذي عليه أهل السنة والجماعة، أن القرآن كلام الله، منزل غير مخلوق، منه بدأ وإليه يعود.

فالقرآن كلامه وتنزيله، أنزله على نبيه صلى الله عليه وسلم وحياً بواسطة جبرائيل، كما قال عز وجل: {نَزَلَ بِهِ الرُّوحُ الأَمِينُ * عَلَى قَلْبِكَ لِتَكُونَ مِنَ الْمُنذِرِينَ * بِلِسَانٍ عَرَبِيٍّ مُبِينٍ} [الشعراء:193 - 195].

فالقرآن كلام الله وتنزيله قال تعالى: {إِنَّا نَحْنُ نَزَّلْنَا الذِّكْرَ وَإِنَّا لَهُ لَحَافِظُونَ} [الحجر:9]، وقال: {وَلَكِنْ حَقَّ الْقَوْلُ مِنِّي} [السجدة:13]، وقال: {قُلْ نَزَّلَهُ رُوحُ الْقُدُسِ مِنْ رَبِّكَ بِالْحَقِّ} [النحل:102]، وقال: {وَأَنزَلْنَا إِلَيْكَ الْكِتَابَ بِالْحَقِّ} [المائدة:48]، وقال: {حم * تَنْزِيلُ الْكِتَابِ مِنَ اللَّهِ الْعَزِيزِ الْحَكِيمِ} [الأحقاف:1 - 2]، وقال: {حم * تَنزِيلٌ مِنَ الرَّحْمَنِ الرَّحِيمِ} [فصلت:1 - 2]، وقال: {إِنَّا أَنزَلْنَاهُ فِي لَيْلَةِ الْقَدْرِ} [القدر:1]، وقال: {إِنَّا أَنزَلْنَاهُ فِي لَيْلَةٍ مُبَارَكَةٍ إِنَّا كُنَّا مُنذِرِينَ} [الدخان:3].

إلى غير ذلك من النصوص الكثيرة التي فيها بيان أن القرآن كلام الله وتنزيله، نزل به جبريل عليه الصلاة والسلام على قلب محمد صلى الله عليه وسلم، قال تعالى: {نَزَلَ بِهِ الرُّوحُ الأَمِينُ * عَلَى قَلْبِكَ لِتَكُونَ مِنَ الْمُنذِرِينَ * بِلِسَانٍ عَرَبِيٍّ مُبِينٍ} [الشعراء:193 - 195]، فمن قال إنه مخلوق فقد كفر، وهذا هو قول الأئمة كلهم؛ لأن القرآن الكريم صفة من صفات الله تعالى، فمن قال إنه مخلوق فقد كفر؛ لأنه جعل صفات الله من جنس المخلوقات، وهذا كفر والعياذ بالله، كما قال الإمام أحمد والشافعي وغيرهم، قالوا: من قال إن القرآن مخلوق فقد كفر، وهذا على وجه العموم، أما الشخص بعينه فلا يكفر حتى تقوم عليه الحجة.

إذاً: فالقرآن من الله وما كان من الله فليس بمخلوق، وهكذا قال مالك بن أنس وأحمد بن حنبل والفقهاء قبلهما وبعدهما، كلهم قالوا: القرآن كلام الله منزل غير مخلوق، وكلهم قالوا: من قال: القرآن مخلوق فقد كفر.

وقوله: المراء فيه كفر، يعني: الجدال في القرآن كفر؛ لأنه يوقع في الضلال، وفي البدعة.
আল-কুরআনুল কারীম আল্লাহর কালাম, তা মাখলুক (সৃষ্ট) নয়

লেখক (রহিমাহুল্লাহ তায়ালা) বলেন: [আর কুরআন আল্লাহর কালাম, তাঁর অবতীর্ণ কিতাব এবং তাঁর নূর, আর তা মাখলুক নয়; কারণ কুরআন আল্লাহর পক্ষ থেকে, আর যা আল্লাহর পক্ষ থেকে তা মাখলুক নয়। মালিক ইবনে আনাস, আহমাদ ইবনে হাম্বল এবং তাঁদের পূর্ববর্তী ও পরবর্তী ফকীহগণ এ কথাই বলেছেন। আর এ বিষয়ে বিতণ্ডা করা কুফর]।

কুরআন আল্লাহর কালাম, তাঁর অবতীর্ণ কিতাব এবং তাঁর নূর, তা মাখলুক নয়। এটি মহান আল্লাহর গুণাবলির একটি গুণ। আর এটাই সঠিক পথ যার ওপর আহলুস সুন্নাহ ওয়াল জামাআত প্রতিষ্ঠিত যে, কুরআন আল্লাহর কালাম, তা অবতীর্ণ, মাখলুক নয়; তাঁর থেকেই এর সূচনা এবং তাঁর দিকেই তা ফিরে যাবে।

সুতরাং কুরআন তাঁর কালাম এবং তাঁর অবতীর্ণ কিতাব, যা তিনি তাঁর নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর ওপর জিবরাঈলের মাধ্যমে ওহী হিসেবে অবতীর্ণ করেছেন। যেমন মহান আল্লাহ বলেন: "বিশ্বস্ত আত্মা তা নিয়ে অবতরণ করেছেন, আপনার হৃদয়ে, যাতে আপনি সতর্ককারীদের অন্তর্ভুক্ত হন, সুস্পষ্ট আরবি ভাষায়।" [আশ-শুয়ারা: ১৯৩ - ১৯৫]।

সুতরাং কুরআন আল্লাহর কালাম এবং তাঁর অবতীর্ণ কিতাব। আল্লাহ তায়ালা বলেন: "নিশ্চয়ই আমিই এ উপদেশ অবতীর্ণ করেছি এবং আমিই এর সংরক্ষক।" [আল-হিজর: ৯], তিনি আরও বলেন: "কিন্তু আমার পক্ষ থেকে এ কথা সুনিশ্চিত হয়েছে।" [আস-সাজদাহ: ১৩], তিনি আরও বলেন: "বলুন, একে পবিত্র আত্মা আপনার রবের পক্ষ থেকে সত্যসহ অবতীর্ণ করেছেন।" [আন-নাহল: ১০২], তিনি আরও বলেন: "আমি আপনার প্রতি সত্যসহ কিতাব অবতীর্ণ করেছি।" [আল-মায়েদাহ: ৪৮], তিনি আরও বলেন: "হা-মীম। পরাক্রমশালী প্রজ্ঞাময় আল্লাহর পক্ষ থেকে কিতাব অবতীর্ণ।" [আল-আহকাফ: ১ - ২], তিনি আরও বলেন: "হা-মীম। পরম করুণাময় দয়ালু আল্লাহর পক্ষ থেকে অবতীর্ণ।" [ফুসসিলাত: ১ - ২], তিনি আরও বলেন: "নিশ্চয়ই আমি একে কদরের রাতে অবতীর্ণ করেছি।" [আল-কদর: ১], তিনি আরও বলেন: "নিশ্চয়ই আমি একে এক বরকতময় রাতে অবতীর্ণ করেছি, নিশ্চয়ই আমি সতর্ককারী।" [আদ-দুখান: ৩]।

এ ছাড়াও আরও অনেক দলিল রয়েছে যাতে স্পষ্ট করা হয়েছে যে কুরআন আল্লাহর কালাম ও তাঁর অবতীর্ণ কিতাব। জিবরাঈল (আলাইহিস সালাতু ওয়াস সালাম) তা নিয়ে মুহাম্মাদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর হৃদয়ে অবতীর্ণ হয়েছেন। আল্লাহ তায়ালা বলেন: "বিশ্বস্ত আত্মা তা নিয়ে অবতরণ করেছেন, আপনার হৃদয়ে, যাতে আপনি সতর্ককারীদের অন্তর্ভুক্ত হন, সুস্পষ্ট আরবি ভাষায়।" [আশ-শুয়ারা: ১৯৩ - ১৯৫]। সুতরাং যে ব্যক্তি বলবে যে এটি মাখলুক, সে কুফরি করল। আর এটাই সকল ইমামের অভিমত; কারণ আল-কুরআনুল কারীম আল্লাহ তায়ালার গুণাবলির একটি গুণ। তাই যে ব্যক্তি একে মাখলুক বলবে সে কুফরি করল; কারণ সে আল্লাহর গুণাবলিকে সৃষ্টিজাত বস্তুর পর্যায়ভুক্ত করল। আল্লাহর কাছে এ থেকে আশ্রয় চাই, এটি কুফরি। যেমনটি ইমাম আহমাদ, শাফিঈ এবং অন্যান্যরা বলেছেন। তাঁরা বলেছেন: যে বলবে কুরআন মাখলুক সে কুফরি করল। এটি সাধারণ হুকুমের ক্ষেত্রে। তবে সুনির্দিষ্ট কোনো ব্যক্তির ওপর প্রমাণ (হুজ্জত) প্রতিষ্ঠিত হওয়ার আগে তাকে কাফের বলা যাবে না।

সুতরাং: কুরআন আল্লাহর পক্ষ থেকে, আর যা আল্লাহর পক্ষ থেকে তা মাখলুক নয়। মালিক ইবনে আনাস, আহমাদ ইবনে হাম্বল এবং তাঁদের পূর্ববর্তী ও পরবর্তী ফকীহগণ এ কথাই বলেছেন। তাঁরা সবাই বলেছেন: কুরআন আল্লাহর কালাম, যা অবতীর্ণ এবং মাখলুক নয়। আর তাঁরা সবাই বলেছেন: যে বলবে কুরআন মাখলুক, সে কুফরি করল।

আর লেখকের কথা: "এ বিষয়ে বিতণ্ডা করা কুফর", অর্থাৎ: কুরআন নিয়ে ঝগড়া-বিবাদ করা কুফরি; কারণ এটি বিভ্রান্তি ও বিদআতের মধ্যে নিপতিত করে।
(খণ্ড: ৩) শারহু কিতাবিস সুন্নাহ লিল বারবাহারী - আর রাজহী (পৃষ্ঠা: ৫)
‌‌رؤية المؤمنين لربهم يوم القيامة وفي الآخرة حق
কিয়ামতের দিনে এবং পরকালে মুমিনদের তাদের রবের দর্শন লাভ করা সত্য