(খণ্ড: ১)
দীওয়ানু লাবীদ ইবনে রাবীআতিল আমিরী
(পৃষ্ঠা: -)
ديوان لبيد بن ربيعة العامري القسم: الشعر ودواوينه
الكتاب: ديوان لبيد بن ربيعة العامري
المؤلف: لَبِيد بن ربيعة بن مالك، أبو عقيل العامري الشاعر معدود من الصحابة (ت 41هـ)
اعتنى به: حمدو طمّاس
الناشر: دار المعرفة
الطبعة: الأولى، 1425 هـ - 2004 م
عدد الصفحات: 139
أعده للشاملة: محمد العلوة
[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]
تاريخ النشر بالشاملة: 27 ربيع الأول 1432
লাবীদ ইবনে রবীআ আল-আমেরীর দীওয়ান বিভাগ: কবিতা ও কাব্যগ্রন্থসমূহ
গ্রন্থ: লাবীদ ইবনে রবীআ আল-আমেরীর দীওয়ান
লেখক: লাবীদ ইবনে রবীআ ইবনে মালিক, আবু আকীল আল-আমেরী, তিনি একজন কবি এবং সাহাবীদের অন্তর্ভুক্ত (মৃত্যু ৪১ হিজরী)
সম্পাদনা: হামদু তামমাস
প্রকাশক: দারুল মা'রিফা
সংস্করণ: প্রথম, ১৪২৫ হিজরী - ২০০৪ খ্রিস্টাব্দ
পৃষ্ঠা সংখ্যা: ১৩৯
শামেলার জন্য প্রস্তুত করেছেন: মুহাম্মদ আল-আলওয়া
[গ্রন্থের পৃষ্ঠা নম্বর মূল মুদ্রিত কপির অনুরূপ]
শামেলায় প্রকাশের তারিখ: ২৭ রবিউল আউয়াল ১৪৩২
(খণ্ড: ১)
দীওয়ানু লাবীদ ইবনে রাবীআতিল আমিরী
(পৃষ্ঠা: ৫)
بسم الله الرحمن الرحيم
لَبيد بن ربيعة العامريّ
اسمه ونسبه:
هو لبيد بن ربيعة بن مالك بن جعفر بن كلاب بن ربيعة بن عامر بن صعصعة بن معاوية .. وينتهي نسبه عند مُضَر. أبو جزاد كريم لُقِّبَ: بربيعةَ المقترين، وأمه تامرة بنت زنباع العبسية، إحدى بنات جذيمة بن رواحة.
واسم لبيد مشتق من قولنا لبد بالمكان إذا مكث به وأقام، ولم يذكر أن له ولداً سوى بنتين، وله أخ أكبر من ضرساً اسمه: (أربد)
نشأته:
نشأ شاعرنا لبيد يتيماً في إثر مقتل والده في يوم ذي علق، تكفلّه أعمامه، وكان إذّاك يبلغ التاسعة من عمره، ولقي لديهم من الرخاء والسعة في العيش ما لم يتوقعه لنفسه.
ولم يدم له ذلك حيث وقع بين أسرتين من بني عامر خلاف شتت شملهما.
وحينما بلغ لبيد من الشباب ذروةً اندفع إلى مجالسة الملوك ومنادمتهم حباً بما هم فيه وطموحاً لنيل حظوة لديهم، فكان أول من قصد النعمان بن منذر وله في مجالسته قصص نقلتها كتب الأدب.
ويبدو أن لبيداً في هذه الفترة من حياته كان مقبلاً على لذائذ الحياة، يصيب منها ما أراد إلى أن ظهر الإسلام، فقد تبدلت حياته رأساً على عقب وكان ممّن خف للإسلام، فدخل فيه وناصره وهاجر وحَسُن إسلامه.
পরম করুণাময় দয়ালু আল্লাহর নামে
লাবিদ বিন রাবি'আহ আল-আমিরি
নাম ও বংশপরিচয়:
তিনি হলেন লাবিদ বিন রাবি'আহ বিন মালিক বিন জাফর বিন কিলাব bin রাবি'আহ বিন আমির বিন সা'সা'আ বিন মুয়াবিয়া... এবং তাঁর বংশপরম্পরা মুদার-এ গিয়ে শেষ হয়েছে। তাঁর ডাকনাম আবু জাযাদ কারিম; তাঁকে 'রাবি'আতুল মুকতারিন' (অভাবীদের সহায়তাকারী রাবি'আহ) উপাধিতে ভূষিত করা হয়েছিল। তাঁর মা তামিহরাহ বিনতে জানবা আল-আবসিয়্যাহ, যিনি জাযিমা বিন রাওয়াহার অন্যতম কন্যা ছিলেন।
লাবিদ নামটি আরবি শব্দ 'লাবাদা বিল মাকান' (কোনো স্থানে অবস্থান করা বা স্থায়ী হওয়া) থেকে উদ্ভূত। তাঁর দুই কন্যা ব্যতীত অন্য কোনো সন্তানের কথা উল্লেখ পাওয়া যায় না। তাঁর দিরাসা থেকে বড় এক ভাই ছিল যার নাম ছিল 'আরবাদ'।
জন্ম ও বেড়ে ওঠা:
আমাদের কবি লাবিদ 'ইয়াওমে যি আলাক'-এর যুদ্ধে তাঁর পিতার নিহত হওয়ার পর এতিম হিসেবে বেড়ে ওঠেন। তাঁর চাচারা তাঁর লালন-পালনের দায়িত্ব গ্রহণ করেন। তখন তাঁর বয়স ছিল নয় বছর। তাঁদের কাছে তিনি এমন সচ্ছলতা ও স্বাচ্ছন্দ্যময় জীবন লাভ করেন যা তিনি নিজেও কল্পনা করেননি।
কিন্তু সেই সুখ তাঁর জীবনে দীর্ঘস্থায়ী হয়নি, কারণ বনী আমিরের দুটি পরিবারের মধ্যে বিরোধ সৃষ্টি হওয়ার ফলে তাদের ঐক্যে ফাটল ধরে এবং তারা বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে।
লাবিদ যখন পূর্ণ যৌবনে পদার্পণ করেন, তখন রাজকীয় জাঁকজমকের প্রতি আকর্ষণ এবং উচ্চমর্যাদা লাভের আকাঙ্ক্ষায় তিনি রাজন্যবর্গের সাহচর্য ও তাঁদের সতীর্থ হওয়ার প্রতি আগ্রহী হন। তিনি সর্বপ্রথম নুমান বিন মুনযিরের সান্নিধ্য লাভের সংকল্প করেন এবং তাঁর সাথে কাটানো সময় সম্পর্কে সাহিত্যের কিতাবগুলোতে অনেক কাহিনী বর্ণিত হয়েছে।
প্রতীয়মান হয় যে, জীবনের এই সময়টিতে লাবিদ পার্থিব ভোগ-বিলাসের প্রতি আসক্ত ছিলেন এবং তিনি যা ইচ্ছা তা-ই ভোগ করতেন। অবশেষে যখন ইসলামের আবির্ভাব ঘটল, তখন তাঁর জীবন আমূল বদলে গেল। যারা ইসলামের আহ্বানে দ্রুত সাড়া দিয়েছিলেন তিনি তাঁদের অন্তর্ভুক্ত ছিলেন। তিনি ইসলাম গ্রহণ করেন, ইসলামের সাহায্য করেন, হিজরত করেন এবং তাঁর ইসলাম গ্রহণ অত্যন্ত সুন্দর ও একনিষ্ঠ ছিল।
(খণ্ড: ১)
দীওয়ানু লাবীদ ইবনে রাবীআতিল আমিরী
(পৃষ্ঠা: ৬)
ويذكر أبو فرج الأصفهاني أن لبيداً كام ممن عُمِّرُوا طويلاً، فيقال: إنه عُمِّرَ مائة وخمساً وأربعين سنة. أما وفاته، فقيل: إنه توفي في آخر خلافة سيدنا معاوية رضي الله عنه، وقيل: بل توفي في آخر عهد سيدنا عثمان رضي الله عنه.
ويقال إن لبيداً هجر في آخر عمره الشعر إلى القرآن الكريم، فيروي ابن السلام في طبقاته قائلاً:
كتب عمر إلى عامله أن سَلْ لبيداً والأغلب ما أحدثا من الشعر في الإسلام؟ فقال الأغلب:
أرجزاً سألت أم قصيدا
فقد سألت هيناً موجودا
وقال لبيد: قد أبدلني الله بالشعر سورة البقرة وآل عمران.
شيء من أخباره.
قيل: إنه وفد عامر بن مالك ملاعب الأسنة وكان يكنى: أبا البراء، في رهط من بني جعفر، ومعه لبيد بن ربيعة، ومالك بن جعفر وعامر بن مالك عم لبيد على النعمان، فوجودا عنده الربيع بن زياد العبسي وأمّه فاطمة بنت الخرشب، وكان الربيع نديماً للنعمان مع رجل من تجار الشام يقال له: زرجون بن توفيل، وكان حريفاً للنعمان يبايعه، وكان أديباً حسن الحديث والندام، فاستخفّه النعمان، وكان إذا أراد أن يخلو على شرابه بعث إليه وإلى النطاسي: متطبّب كان له، وإلى الربيع بن زياد فخلا بهم، فلما قدم الجعفريون كانوا يحضرون النعمان لحاتهم فإذا خرجوا من عنده خلا به الربيع فطعن فيهم وذكر معايبهم، وكانت بنو جعفر له أعداءً، فلم يزل بالنعمان حتى صدّه عنهم، فدخلوا عليه يوماً فرأوا منه جفاءً وقد كان يكرمهم ويقربّهم، فخرجوا غضاباً ولبيد متخلّف في رحالهم يحفظ متاعهم ويغدو بإبلهم كل صباح يرعاها.
আবু ফারাজ আল-ইসফাহানি উল্লেখ করেন যে, লাবিদ দীর্ঘজীবী ব্যক্তিদের অন্তর্ভুক্ত ছিলেন। বলা হয় যে, তিনি একশত পঁয়তাল্লিশ বছর বেঁচে ছিলেন। তাঁর মৃত্যুর ব্যাপারে বলা হয়েছে: তিনি আমাদের নেতা মুয়াবিয়া (রাযিয়াল্লাহু আনহু)-এর খিলাফতের শেষ দিকে ইন্তেকাল করেন; আবার বলা হয়েছে: বরং তিনি আমাদের নেতা উসমান (রাযিয়াল্লাহু আনহু)-এর যুগের শেষ দিকে ইন্তেকাল করেন।
বলা হয় যে, লাবিদ তাঁর শেষ জীবনে কবিতা ত্যাগ করে পবিত্র কুরআনের দিকে মনোনিবেশ করেছিলেন। ইবনে সালাম তাঁর 'তাবাকাত' গ্রন্থে বর্ণনা করে বলেন:
উমর (রাযিয়াল্লাহু আনহু) তাঁর গভর্নরের কাছে লিখেছিলেন যে, লাবিদ এবং আগলাব ইসলাম গ্রহণের পর নতুন কী কী কবিতা রচনা করেছেন, তা যেন তিনি তাঁদের কাছে জিজ্ঞাসা করেন। তখন আগলাব বললেন:
আপনি কি রাজায ছন্দ সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করেছেন নাকি কাসিদা সম্পর্কে?
আপনি তো অতি সহজলভ্য একটি বিষয় সম্পর্কেই জিজ্ঞাসা করেছেন।
আর লাবিদ বললেন: আল্লাহ আমাকে কবিতার পরিবর্তে সূরা আল-বাকারা এবং আলে-ইমরান দান করেছেন।
তাঁর জীবনের কিছু ঘটনা।
বলা হয় যে: আমির বিন মালিক—যাঁর উপাধি ছিল 'মুলায়িবুল আসিন্না' (বর্শা নিয়ে ক্রীড়াকারী) এবং উপনাম ছিল আবু আল-বারা—বনু জাফরের একটি দলের সাথে নুমান বিন মুনযিরের নিকট আসেন। তাঁর সাথে ছিলেন লাবিদ বিন রাবিয়াহ, মালিক বিন জাফর এবং লাবীদের চাচা আমির বিন মালিক। তাঁরা সেখানে নুমানের নিকট রাবি' বিন যিয়াদ আল-আবসি এবং তাঁর মা ফাতিমা বিনতে আল-খারশাবকে দেখতে পেলেন। রাবি' সিরিয়ার জনৈক ব্যবসায়ী যার নাম সারজুন বিন তুফিল, তার সাথে নুমানের মদ্যপানের আসরের সঙ্গী ছিলেন। এই সারজুন নুমানের ব্যবসায়িক অংশীদার ছিলেন এবং তাঁর সাথে ক্রয়-বিক্রয় করতেন। তিনি ছিলেন সাহিত্যমনা, মিষ্টভাষী এবং চমৎকার মজলিসী মানুষ। ফলে নুমান তাঁকে খুব পছন্দ করতেন। নুমান যখন একান্তে মদ্যপান করতে চাইতেন, তখন তাঁর কাছে, তাঁর ব্যক্তিগত চিকিৎসক নাতাসি এবং রাবি' বিন জিয়াদের কাছে খবর পাঠাতেন এবং তাঁদের নিয়ে একান্তে বসতেন। যখন জাফরিরা আসত, তারা নিজেদের প্রয়োজনে নুমানের দরবারে উপস্থিত হত। তারা যখন তাঁর কাছ থেকে চলে যেত, তখন রাবি' নুমানের সাথে একান্তে বসে তাদের কুৎসা রটাত এবং তাদের দোষত্রুটি বর্ণনা করত। বনু জাফর ছিল তাঁর শত্রু। তিনি নুমানের কাছে ক্রমাগত প্ররোচনা দিতে থাকলেন যতক্ষণ না নুমান তাদের থেকে মুখ ফিরিয়ে নিলেন। একদিন তাঁরা যখন নুমানের দরবারে প্রবেশ করলেন, তখন তাঁর আচরণে কঠোরতা লক্ষ্য করলেন, অথচ ইতিপূর্বে তিনি তাদের যথেষ্ট সম্মান ও ঘনিষ্ঠতা প্রদর্শন করতেন। ফলে তাঁরা রাগান্বিত হয়ে বেরিয়ে এলেন। তখন লাবিদ তাঁদের তাবুতেই অবস্থান করছিলেন; তিনি তাঁদের আসবাবপত্র পাহারা দিতেন এবং প্রতিদিন সকালে উট চরাতে নিয়ে যেতেন।
(খণ্ড: ১)
দীওয়ানু লাবীদ ইবনে রাবীআতিল আমিরী
(পৃষ্ঠা: ৭)
فأتاهم ذات ليلة وهم يتذاكرون أمر الربيع، فسألهم عنه، فكتموه، فقال: والله لا حفظت لكم متاعاً، ولا سرّحت لهم لعيراً أو تخبروني فيم أنتم؟
وكانت أم لبيد يتيمة في حجر الربيع، فقالوا: خالك قد غلبنا على الملك وصدّ عنا وجهه.
فقال لبيد: هل تقدرون على أن تجمعوا بيني وبينه فأزجره عنكم بقول محضّ لا يلتفت إليه النعمان أبداً؟ فقالوا: وهل عندك شيء؟ قال: نعم. قالوا: فإنا نبلوك.
قال: وما ذاك؟ قالوا: تشتم هذه البقلة؟ فقال: هذه التربة التي لا تذكي ناراً، ولا تؤهل داراً، ولا تسرّ جاراً، عودها ضئيل، وفرعها كليل، وخيرها قليل، وأقبح البقول مرعىً، وأقصرعا فرعاً، وأشدّها قلعاً، بلدها شاسع، وآكلها جائع، والمقيم عليها قانع، فالقوا بي أخا عَبْس، أردّه عنك بتعس، وأتركه من أمره في لَبْس.
قالوا: نصبح ونرى فيك رأينا.
فقال عامر: انظرو إلى غلامكم هذه –يريد لبيداً- فإن رأيتموه نائماً فليس أمره شيء، إنما هو يتكلم بما جاء على لسانع، وإن رأيتموه ساهراً، فهو صاحبه.
فرمقوه فوجدوه وقد ركب رحلاً، وهو يكرم وسطه حتى أصبح، فقالو: أنت والله صاحبه.
فعمدوا إليه فحلقوا رأسه وتركوا ذؤابته، وألبسوه حلّة ثم إذا معهم وأدخلوه على النعمان، فوجوده يتغذّى ومعه الربيع بن زياد، وهما يأكلان لا ثالث لهما والدار والمجالس مملوءة من الوفود، فلما فرغ من الغداء أذِن للجعفريين فدخلوا عليه، وقد كان أمرهم تقارب، فذكروا الذي قدموا له من حاجتهم، فاعترض الربيع بن زياد في كلامهم، فقال لبيد في ذلك:
أكلّ يوم هامتي مقزّعه
এক রাতে তিনি তাদের কাছে এলেন যখন তারা রবী’র বিষয়টি নিয়ে আলোচনা করছিলেন। তিনি তাদের এ ব্যাপারে জিজ্ঞেস করলে তারা তা গোপন করলেন। তখন তিনি বললেন: "আল্লাহর কসম, আমি আর আপনাদের মালপত্র পাহারা দেব না এবং আপনাদের উট চরাব না, যতক্ষণ না আপনারা আমাকে বলবেন আপনারা কী নিয়ে আলোচনা করছেন?"
লবীদের মা ছিলেন রবী’র তত্ত্বাবধানে থাকা এক ইয়াতীম। তারা বললেন: "তোমার মামা বাদশাহর ওপর প্রভাব বিস্তার করেছে এবং বাদশাহর মুখ আমাদের থেকে ফিরিয়ে দিয়েছে।"
লবীদ বললেন: "আপনারা কি আমাকে ও তাকে একত্র করার ব্যবস্থা করতে পারেন, যাতে আমি তাকে এমন অকাট্য কথা বলে আপনাদের থেকে সরিয়ে দিতে পারি, যার পর নু’মান আর কখনও তার দিকে ফিরেও তাকাবে না?" তারা বললেন: "তোমার কাছে কি তেমন কিছু আছে?" তিনি বললেন: "হ্যাঁ।" তারা বললেন: "তবে আমরা তোমাকে পরীক্ষা করব।"
তিনি বললেন: "সেটা কী?" তারা বললেন: "তুমি কি এই শাক-সবজিটির নিন্দা করতে পারবে?" তখন তিনি বললেন: "এটি এমন মাটি যা আগুন জ্বালায় না, ঘর গড়ে তোলে না, প্রতিবেশীকে আনন্দিত করে না; এর কাণ্ড দুর্বল, এর শাখা নড়বড়ে, এর কল্যাণ সামান্য; এটি চারণভূমি হিসেবে নিকৃষ্টতম সবজি, এর শাখা ক্ষুদ্রতম এবং একে উপড়ে ফেলা অত্যন্ত কঠিন; এর ভূমি বিস্তীর্ণ, এর ভক্ষণকারী ক্ষুধার্ত থাকে এবং এর ওপর অবস্থানকারী কেবল তুষ্টই থাকে। সুতরাং আমাকে আবস গোত্রের ঐ লোকের মুখোমুখি করে দিন, আমি তাকে দুর্দশাগ্রস্ত করে আপনার থেকে হটিয়ে দেব এবং তাকে তার নিজের বিষয়ে বিভ্রান্তিতে ফেলে দেব।"
তারা বললেন: "সকাল হোক, তখন আমরা তোমার বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেব।"
আমের বললেন: "তোমাদের এই কিশোরটির প্রতি লক্ষ্য রাখো—তিনি লবীদকে উদ্দেশ্য করছিলেন—যদি দেখো সে ঘুমিয়ে পড়েছে, তবে তার কথার কোনো গুরুত্ব নেই, সে স্রেফ তার মুখে যা এসেছে তাই বলেছে। আর যদি দেখো সে রাত জেগে আছে, তবে সেই উপযুক্ত ব্যক্তি।"
তারা তাকে পর্যবেক্ষণ করলেন এবং দেখলেন তিনি একটি উটের জিনে আরোহণ করেছেন এবং ভোর হওয়া পর্যন্ত তার কটিদেশ সুসংহত করছেন। তারা বললেন: "আল্লাহর কসম, তুমিই উপযুক্ত ব্যক্তি।"
অতঃপর তারা তার কাছে গিয়ে তার মাথা মুণ্ডন করলেন এবং মাথার উপরিভাগে কিছু চুল রেখে দিলেন। তারা তাকে রাজকীয় পোশাক পরালেন এবং সাথে করে নু’মানের দরবারে নিয়ে গেলেন। তারা দেখলেন বাদশাহ তখন দুপুরের খাবার খাচ্ছিলেন এবং তার সাথে ছিলেন রবী’ ইবনে যিয়াদ। তারা দু’জনই আহার করছিলেন, তৃতীয় কেউ সেখানে ছিল না; যদিও ঘর এবং মজলিসগুলো অভ্যাগতদের ভিড়ে পূর্ণ ছিল। যখন দুপুরের খাবার শেষ হলো, তখন তিনি জা’ফরী গোত্রের লোকদের অনুমতি দিলেন এবং তারা ভেতরে প্রবেশ করলেন। তাদের উদ্দেশ্য সফল হওয়ার কাছাকাছি ছিল, এমতাবস্থায় তারা তাদের প্রয়োজনের কথা উল্লেখ করলেন। কিন্তু রবী’ ইবনে যিয়াদ তাদের কথার মাঝে বাধা প্রদান করলেন। তখন লবীদ সে বিষয়ে বললেন:
প্রতিদিন কি আমার মস্তক এমন অগোছালোভাবে মুণ্ডিত থাকবে?
(খণ্ড: ১)
দীওয়ানু লাবীদ ইবনে রাবীআতিল আমিরী
(পৃষ্ঠা: ৮)
يا ربّ هيجا هي خير مِنْ دعه
نحن بني أم البنين الأربعه
سيوف حَزّ وجفان مترعه
نحن خيار عامر بن صعصعه
الضاربون الهام تحت الخيضعه
والمطعمون الجفنة المدعدعه
مهلاً أبيت اللعن لا تأكل معه
إن استه من برص ملمعّه
وإنه يدخل فيه إصبعه
يدخلها حتى يواري أشجعه
كأنه يطلب شيئاً ضيّعه
فرفع النعمان يده من الطعام، وقال: خَبَّثت والله عليّ طعامي يا غلام، وما رأيت كاليوم.
فأقبل الربيع على النعمان، فقال: كذب والله ابن الفاعلة، ولقد فعلت بأمّه كذا وكذا.
فقال له لبيد: مثلك فعل ذلك بربيبة أهله والقريبة من أهله، وإن أمي من نساء لم يكنّ فواعل ما ذكرت.
وقضى النعمان حوائج الجعفريين، ومضى من وقته وصرفهم، ومضى الربيع بن زياد إلى منزله من وقته، فبعث إليه النعمان بضعف ما كان يحبوه، وأمره بالانصراف إلى أهله فكتب إليه الربيع: إني قد عرفت أنه قد وقع في صدرك ما قال لبيد، وإني لست بارحاً حتى تبعث إلىّ من يجرّدني فيعلم من حَضَرك من الناس أنني لست كما قال لبيد. فأرسل إليه: إنك لست صانعاً
হে পালনকর্তা! একটি যুদ্ধ আরামদায়ক প্রশান্তির চেয়েও উত্তম।
আমরা উম্মুল বানিনের সেই চার পুত্র।
কর্তনকারী তলোয়ার এবং কানায় কানায় পূর্ণ অন্নপাত্র।
আমরা আমির বিন সা’সাআ-এর শ্রেষ্ঠ সন্তান।
যুদ্ধের বিভীষিকার নিচে আমরাই মস্তকে আঘাতকারী।
এবং উপচে পড়া বড় পাত্র থেকে আহার দানকারী।
থামুন! আপনি অভিশাপ হতে মুক্ত থাকুন, তার সাথে আহার করবেন না।
নিশ্চয়ই তার মলদ্বার শ্বেতী রোগে চিত্রবিচিত্র।
এবং সে সেখানে তার আঙুল প্রবেশ করায়।
সে তা ততক্ষণ প্রবেশ করায় যতক্ষণ না তার আঙুলের গ্রন্থিগুলো অদৃশ্য হয়ে যায়।
যেন সে হারানো কোনো কিছু সেখানে খুঁজছে।
অতঃপর নুমান আহার থেকে নিজের হাত উঠিয়ে নিলেন এবং বললেন: আল্লাহর শপথ হে বালক! তুমি আমার আহারকে আমার নিকট অতি জঘন্য ও অপবিত্র করে তুলেছ, আজকের দিনের মতো বিষয় আমি আর কখনো দেখিনি।
তখন রাবি নুমানের দিকে এগিয়ে এলেন এবং বললেন: আল্লাহর শপথ, এই ব্যভিচারিণীর পুত্র মিথ্যা বলছে। আমি তার মায়ের সাথে অমুক অমুক কাজ করেছি।
তখন লাবিদ তাকে বললেন: তোমার মতো লোকই নিজের পরিবারের পালিত কন্যা এবং নিকটাত্মীয়ের সাথে এমন আচরণ করে থাকে। আর আমার মা এমন নারীদের অন্তর্ভুক্ত ছিলেন না যারা তোমার উল্লিখিত জঘন্য কাজ করে।
অতঃপর নুমান জাফরিদের প্রয়োজনসমূহ পূরণ করলেন এবং তৎক্ষণাৎ তাদের বিদায় দিলেন। রাবি ইবনে জিয়াদও তখনই তার নিজের বাড়িতে চলে গেলেন। নুমান তাকে তার প্রাপ্য উপঢৌকনের দ্বিগুণ পাঠিয়ে দিলেন এবং তাকে নিজ পরিবারের নিকট চলে যাওয়ার আদেশ দিলেন। তখন রাবি তাকে লিখে পাঠালেন: আমি বুঝতে পেরেছি যে লাবিদ যা বলেছে তা আপনার মনে গভীর রেখাপাত করেছে। আমি এখান থেকে নড়ব না যতক্ষণ না আপনি এমন কাউকে পাঠান যে আমাকে অনাবৃত করে পরীক্ষা করবে, যাতে আপনার কাছে উপস্থিত লোকেরা জানতে পারে যে লাবিদ যা বলেছে আমি তেমন নই। তখন নুমান তাকে উত্তর পাঠালেন: তুমি এমনটি করছ না।
(খণ্ড: ১)
দীওয়ানু লাবীদ ইবনে রাবীআতিল আমিরী
(পৃষ্ঠা: ৯)
بانتفائك مما قال لبيد شيئاً ولا قادراً على ردّ ما زلّت به الألسن، فالحق بأهلك ..
ويُروى -في خبر آخر- أن لبيداً كان من جوداء العرب، وكان قد آلى في الجاهلية ألا تهبّ صبا إلا أطعم، وكان له جفنتان يغدو بهما ويروح في كل قوم على مسج قومه فيطعمهم، فهبّت الصبا يوماً والوليد بن عقية على الموفة فصعد الوليد المنبر فخطب بالناس ثم قال: إن أخاكم لبيد بن ربيعة قد نذر في الجاهلية ألا تهب صباً إلا أطعم وهذ يوم من أيامه، وقد هبّت صبا فأعينوه، فأنا أول من فعل.
ثم نزل عن المنبر فأرسل إليه بمائة بَكْرَةٍ، وكتب إليه بأبيات قالها:
أرى الجزَّارَ يشحذ شفرتيه
… إذا هبَّت رياح أبي عقيل
أشم الأنف أصيد عامري
… طويل الباع كالسيف الصقيل
وَفَى ابن الجعفري بحلفتيه
… على العلات والمال القليل
بنحر الكُوم إذ سحبت عليه
… ذيول صبًا تجاوب بالأصيل
فلما بلغت أبياته لبيدًا قال لابنته: أجيبيه، فلعمري لقد عشت برهة وما أعيا بجواب شاعر. فقالت ابنته:
إذَا هبت رياح أبي عقيل
… دعونا عند هبَّتِها الوليدا
أشم الأنف، أروع عبشميًّا
… أعان على مروءته لبيدا
بأمثال الهضاب كأن ركبا
… عليها من بني حام قُعُودا
أبا وهب جزاك الله خيرًا
… نحرناها فأطعمنا الثريدا
فَعُد إنَّ الكريم له معاد
… وظني لا أبا لك أن تعودا
فقال: قد أحسنت لولا أنك استطعمته، فقالت: إن الملوك لا يُسْتَحْيَا من مسألتهم، فقال: وأنت يا بنيّةً في هذه أشعر.
লাবীদ যা বলেছে তা অস্বীকার করার মতো তোমার কিছু নেই, আর জিহ্বা যা ভুল করে ফেলেছে তা ফিরিয়ে নেওয়ার ক্ষমতাও তোমার নেই। সুতরাং তুমি তোমার পরিবারের কাছে ফিরে যাও...
অন্য এক বর্ণনায় বর্ণিত আছে যে, লাবীদ আরবদের অন্যতম দানশীল ব্যক্তি ছিলেন। জাহেলী যুগে তিনি শপথ করেছিলেন যে, যখনই পুবালি হাওয়া বইবে তখনই তিনি লোক খাওয়াবেন। তাঁর দুটি বিশাল পাত্র ছিল, যা নিয়ে তিনি সকাল-সন্ধ্যায় তাঁর গোত্রের লোকদের মাঝে ঘুরে বেড়াতেন এবং তাঁদের আহার করাতেন। একদিন পুবালি হাওয়া বইতে শুরু করল, তখন ওয়ালীদ বিন উকবা কুফায় ছিলেন। ওয়ালীদ মিম্বরে আরোহণ করলেন এবং মানুষের সামনে ভাষণ দিয়ে বললেন: "তোমাদের ভাই লাবীদ বিন রাবীআহ জাহেলী যুগে মানত করেছিলেন যে, যখনই পুবালি হাওয়া বইবে তখনই তিনি আহার করাবেন। আজ সেই দিনগুলোরই একটি দিন, আর পুবালি হাওয়া বইছে। সুতরাং তোমরা তাকে সাহায্য করো, আর আমিই প্রথম তা করছি।"
এরপর তিনি মিম্বর থেকে নামলেন এবং তাঁর কাছে একশটি মাদী উট পাঠালেন। সাথে এই কবিতাগুলো লিখে পাঠালেন:
আমি দেখছি কসাই তার ছুরি শাণ দিচ্ছে
… যখনই আবু আকীলের হাওয়া বইছে
উন্নত নাসিকাধারী, প্রভাবশালী আমেরী বংশীয় সেই ব্যক্তি
… মার্জিত তলোয়ারের ন্যায় দীর্ঘবাহু সম্পন্ন
জাফরীর পুত্র তার শপথ পূর্ণ করেছেন
… অভাব এবং স্বল্প সম্পদের মাঝেও
উন্নত কুঁজবিশিষ্ট উট জবাই করার মাধ্যমে, যখন তার ওপর
… পুবালি হাওয়ার প্রান্তদেশ বৈকালিক সময়ে আছড়ে পড়ছিল
কবিতাগুলো যখন লাবীদের কাছে পৌঁছাল, তিনি তাঁর কন্যাকে বললেন: এর উত্তর দাও। আমার জীবনের কসম, আমি দীর্ঘকাল বেঁচেছি কিন্তু কোনো কবির উত্তর দিতে আমি কখনও অক্ষম হইনি। তখন তাঁর কন্যা বললেন:
যখনই আবু আকীলের হাওয়া প্রবাহিত হয়
… তার প্রবহমান কালে আমরা ওয়ালীদকে ডাকি
উন্নত নাসিকাধারী, বিস্ময়কর সেই আবশামী ব্যক্তি
… লাবীদের মুরুওয়াত বা পৌরুষ রক্ষায় সাহায্য করেছেন
পাহাড়ের ন্যায় বিশাল উটগুলো দিয়ে, যেন মনে হয়
… তার ওপর হামের বংশধরদের এক আরোহী দল বসে আছে
হে আবু ওয়াহাব! আল্লাহ আপনাকে উত্তম প্রতিদান দিন
… আমরা সেগুলো জবাই করেছি এবং সারীদ খাইয়েছি
আপনি পুনরায় দান করুন, কেননা দানশীলের স্বভাবই হলো পুনরায় দান করা
… আর আমার ধারণা—হে পিতৃ পরিচয়হীন ব্যক্তি—আপনি পুনরায় দান করবেন
লাবীদ বললেন: তুমি চমৎকার বলেছ, যদি না তুমি তার কাছে পুনরায় আহার চাইতে। মেয়েটি বলল: রাজাদের কাছে কিছু চাইতে লজ্জা নেই। তখন তিনি বললেন: হে বৎসা! এই ক্ষেত্রে তুমিই বড় কবি।
(খণ্ড: ১)
দীওয়ানু লাবীদ ইবনে রাবীআতিল আমিরী
(পৃষ্ঠা: ১০)
شعره:
عُني بدراسة لبيد وشعره كثيراً لدى كل من القدماء والمعاصرين، هذا وقد روى ديوانه أشياخ الرواة من القدماء كأبي عمرو الشيباني والأصمعي وغيرهما، ونشره من المعارين كثير حتى أتم جهودهم العلامة الدكتور إحسان عباس.
هذا وقد ضمت دفتا الديوان شعراً بلغ إحدى وستين قصيدة ومقطعةً إلى جانب متفرقات وأشعار نسبت إليه.
وقد استغرقت هذه القصائد والمقطعات من الموضوعات الوصف والفخر والحماسة والرثاء والحكمة، وشيئاً من الغزل والهجاء.
أما معلقته فقد بلغت عدتها ثمانية وثمانون بيتاً نظمت على البحر الكامل وبروي الميم، وتنقسم المعلقة إلى ما يأتي:
(1 - 11) وقوف على الأطلال ووصف للآثار والديار.
(12 - 19) وصف الطعائن ومشاهد الارتحال.
(20 - 21) بيتان في الحكمة.
(22 - 52) وصف الناقة وتشبيهها بالأتان.
(53) حلقة وصل بين الغرض السابق والغرض اللاحق.
(54 - 61) حديث الشاعر عن نفسه ولهوها وأهوائها.
(62 - 71) فخر الشاعر بنفسه.
(72 - 88) فخر الشاعر بقومه.
هذا وتعد المعلقة صورة ناضجة لشعر لبيد الذي انتثر في الديوان لما تضمنه من تنوع في الأغراض وجودة في الاعتناء حتى خرجت إلينا نموذجاً سامقاً للشعر في ذلك العصر، وعدّت بحق، معلقة من معلقات العصر الجاهلي ..
তাঁর কাব্য:
প্রাচীন ও আধুনিক উভয় যুগের গবেষকদের নিকট লবিদ এবং তাঁর কাব্যচর্চা যথেষ্ট গুরুত্ব পেয়েছে। প্রাচীন বর্ণনাকারীদের প্রধানগণ যেমন আবু আমর আশ-শাইবানী, আল-আসমায়ী ও অন্যান্যরা তাঁর কাব্যসংগ্রহ (দিওয়ান) বর্ণনা করেছেন। আধুনিককালের অনেক গবেষক এটি প্রকাশ করেছেন, শেষ পর্যন্ত আল্লামা ড. ইহসান আব্বাসের প্রচেষ্টার মাধ্যমে তা পূর্ণতা লাভ করে।
এই কাব্যসংগ্রহের দুই মলাটের মাঝে ৬১টি কাসিদা ও খণ্ড কবিতা অন্তর্ভুক্ত রয়েছে, সেই সাথে তাঁর প্রতি সম্পৃক্ত আরও কিছু বিক্ষিপ্ত কবিতা এতে স্থান পেয়েছে।
এই কাসিদা ও খণ্ড কবিতাগুলোতে বর্ণনা, আত্মগৌরব, বীরত্বগাথা, শোকগাথা, প্রজ্ঞা এবং কিছু ক্ষেত্রে গজল ও বিদ্রূপাত্মক বিষয়বস্তু স্থান পেয়েছে।
তাঁর মুয়াল্লাকাটি ৮৮টি পঙ্ক্তি নিয়ে গঠিত, যা ‘কামিল’ ছন্দে এবং ‘মিম’ অন্ত্যমিলে রচিত। মুয়াল্লাকাটি নিম্নোক্ত ভাগে বিভক্ত:
(১ - ১১) ধ্বংসাবশেষের সামনে অবস্থান এবং প্রাচীন চিহ্ন ও আবাসস্থলের বর্ণনা।
(১২ - ১৯) হাওদাহ-আরোহী নারীদের কাফেলার বর্ণনা এবং প্রস্থানের দৃশ্য।
(২০ - ২১) প্রজ্ঞা বিষয়ক দুটি পঙ্ক্তি।
(২২ - ৫২) উষ্ট্রীর বর্ণনা এবং একে বন্য গর্দভীর সাথে তুলনা।
(৫৩) পূর্ববর্তী উদ্দেশ্য ও পরবর্তী উদ্দেশ্যের মধ্যে সংযোগকারী যোগসূত্র।
(৫৪ - ৬১) কবির নিজের জীবন, আমোদ-প্রমোদ এবং প্রবৃত্তি বিষয়ক আলোচনা।
(৬২ - ৭১) কবির আত্মগৌরব।
(৭২ - ৮৮) কবির স্বীয় গোত্র নিয়ে গৌরব।
এই মুয়াল্লাকাটি লবিদের কবিতার এক পরিপক্ক প্রতিচ্ছবি হিসেবে গণ্য হয়, যা তাঁর দিওয়ানে ছড়িয়ে থাকা বৈচিত্র্যময় বিষয়বস্তু এবং শৈল্পিক নিপুণতাকে ধারণ করেছে। ফলে এটি আমাদের সামনে সেই যুগের কবিতার এক সমুন্নত আদর্শ হিসেবে প্রকাশ পেয়েছে এবং এটি যথার্থভাবেই জাহেলি যুগের অন্যতম ‘মুয়াল্লাকা’ হিসেবে স্বীকৃত।
(খণ্ড: ১)
দীওয়ানু লাবীদ ইবনে রাবীআতিল আমিরী
(পৃষ্ঠা: ১১)
ونحن إذا قدمنا هذا الشاعر الكبير، فإننا نقدم لقارئنا العزيز هذا الديوان لعلّه يلقى لديه الفيول وتنظر إليه عينه بنظر الرضا، ويكون له أثر إيجابيّ في النفوس. والحمد لله أولاً وآخراً.
حمدو أحمد طماس
আমরা যখন এই মহান কবিকে উপস্থাপন করছি, তখন আমরা আমাদের প্রিয় পাঠকের সম্মুখে এই দিওয়ান (কাব্যসংকলন) পেশ করছি এই আশায় যে, এটি তাঁর নিকট গ্রহণযোগ্যতা লাভ করবে এবং তিনি একে সন্তুষ্টির দৃষ্টিতে দেখবেন, এবং এটি মানুষের হৃদয়ে ইতিবাচক প্রভাব বিস্তার করবে। আর আদিতে ও অন্তে সমস্ত প্রশংসা আল্লাহরই জন্য।
হামদু আহমাদ তাম্মাস
(খণ্ড: ১)
দীওয়ানু লাবীদ ইবনে রাবীআতিল আমিরী
(পৃষ্ঠা: ১৩)
حرف الباء
أَبني كِلابٍ كيف تُنْعى جعفر؟ [الكامل]
جاورت قبيلة غني بن أبي بكر بن كلاب فتعدى أحد الغنويّبن على ابن لعروة بن جعفر فقتله، ثمّ إن منيعاً الجعفري قتل واحداً من الكلابيّين فأراد هؤلاء أن يبوء القتيل الثاني بالأولّ، فأبى الجعفريوان ذلك، فشبّت الحرب بين الحيّين وخُذل فيها بنو جعفر، فنزلوا على حكم جوّاب بن عوف سيّد بني أبي بكر بن كلاب فحكم بنفي الجعفريّين عن مواطنهم، فهاجروا منها ولحقوا ببني الحارث بن كعب في اليمن وأقاموا فيها حولاً، وقد غضب لبيد استياء من حكم جوّاب فقال يذكر الحكومة ويتهكّم به:
وَلَدَتْ بَنُو حُرْثانَ فَرْخَ مُحَرِّقٍ
… بِلوَى [الوَضيعة ِ مُرْتَجَ الأبْوابِ] (1)
لا تَسقِنِي بيَدَيْكَ إنْ لمِ [ألتَمِسْ]
… نَعَمَ الضَّجُوعِ بِغارَة ٍ أسْرابِ (2)
تَهْدي أوائِلَهُنَّ كُلُّ طِمِرَّة ٍ
… جَرْداءَ مِثْلَ [هِرَاوَةِ] الأعْزابِ (3)
--------------------------------------------
বা বর্ণ
হে বনু কিলাব! জাফরকে কীভাবে শোকগাথা শোনাবে? [আল-কামিল ছন্দ]গানি ইবনে আবি বকর ইবনে কিলাব গোত্রটি প্রতিবেশী হিসেবে বসবাস করত। একদা গানি গোত্রের একজন উরওয়াহ ইবনে জাফরের এক পুত্রের ওপর সীমালঙ্ঘন করে তাকে হত্যা করল। অতঃপর জাফরি গোত্রের মানি' নামক এক ব্যক্তি কিলাবিদের একজনকে হত্যা করল। তখন কিলাবিরা চাইল যে দ্বিতীয় নিহত ব্যক্তিটি প্রথমজনের বদলা হিসেবে গণ্য হোক, কিন্তু জাফরিরা তা অস্বীকার করল। ফলে উভয় গোত্রের মধ্যে যুদ্ধ প্রজ্বলিত হলো এবং এতে বনু জাফর পরাজিত হলো। এরপর তারা বনু আবি বকর ইবনে কিলাব গোত্রের নেতা জাওয়াব ইবনে আউফের সিদ্ধান্তের শরণাপন্ন হলো। তিনি জাফরিদের তাদের আদি নিবাস থেকে নির্বাসিত করার রায় দিলেন। ফলে তারা সেখান থেকে হিজরত করে ইয়ামেনে বনু হারিস ইবনে কাব গোত্রের সাথে মিলিত হলো এবং সেখানে এক বছর অবস্থান করল। জাওয়াবের এই সিদ্ধান্তে লাবিদ অত্যন্ত অসন্তুষ্ট ও ক্রুদ্ধ হলেন এবং এই ফয়সালার বিষয়টি উল্লেখ করে তাকে উপহাসস্বরূপ বললেন:
বনু হুরসান মুহররিকের শাবক জন্ম দিয়েছে... আল-ওয়াদিআহ নামক বালুকাময় প্রান্তরের রুদ্ধদ্বার দুর্গে (১)
তুমি তোমার হাত দিয়ে আমাকে পানীয় পান করাও না, যদি আমি অতর্কিত অভিযানের মাধ্যমে দলে দলে আসা দ্বাজু'র গবাদিপশু অন্বেষণ না করি (২)
তাদের অগ্রভাগে নেতৃত্ব দিচ্ছে প্রতিটি দীর্ঘদেহী দ্রুতগামী ঘোড়া, যা অবিবাহিত রাখালদের হাতের লাঠির মতো মসৃণ (৩)
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
দীওয়ানু লাবীদ ইবনে রাবীআতিল আমিরী
(পৃষ্ঠা: ১৪)
وَمُقَطَّعٍ حَلَقَ الرِّحَالة ِ سابِحٍ
… بادٍ نَوَاجِذُهُ على الأظْرابِ (1)
يَخرُجْنَ مِن خَلَلِ الغُبارِ عَوابساً
… تَحْتَ العَجاجَةِ في الغُبارِ الكَابي (2)
وإذا الأسِنَّة ُ أُشْرِعَتْ لنُحورِها
… أبدينَ حَدَّ نَواجِذِ الأنْيابِ (3)
يَحْمِلْنَ فِتْيانَ الوَغَى مِنْ جَعفرٍ
… شُعْثاً كأنَّهُمُ أُسُودُ الغابِ (4)
وَمُدَجَّجينَ تَرى [المغاوِلَ] وَسْطَهمْ
… وذُبابَ كُلِّ مُهنَّدٍ قِرضابِ (5)
يَرْعَوْنَ [مُنْخرِقَ اللَّديدِ] كأنَّهُمْ
… في العزِّ أسرَةُ حاجِبٍ وشِهَابِ (6)
أبَني كِلابٍ كَيفَ تُنْفَى جَعْفَرٌ
… وبَنُو ضُبَيْنَة َ حاضِرُو الأجبابِ (7)
قَتلوا ابنَ عُروة َ ثمَّ لَطُّوا دُونَهُ
… حتى [نُحاكِمَهُمْ] إلى جَوَّابِ (8)
بَينَ ابنِ قُطْرَة َ وابنِ هاتِكٍ عَرْشِهِ
… ما إنْ يَجُودُ لِوَافِدٍ بِخِطَابِ (9)
قَومٌ لَهُمْ عرفتْ معدٌّ فَضْلَها
… والحَقُّ يَعرِفُهُ ذَوُو الألْبَابِ
--------------------------------------------
এবং এমন দ্রুতগামী ঘোড়া যা জিনের حلق (রিং) ছিঁড়ে ফেলে, লাগামের কড়ার ওপর যার মাড়ির দাঁত প্রকট।
তারা ধূলিকণার মধ্য থেকে বিমর্ষ মুখে বেরিয়ে আসে, উড্ডীয়মান ধূলি ও ঘন কুয়াশার নিচ দিয়ে।
যখন বর্শাগুলো তাদের কণ্ঠনালীর দিকে তাক করা হয়, তখন তারা তাদের কষের দাঁতগুলো বের করে দেয়।
তারা জাফরের সেই রণ-যুবকদের বহন করে, যারা আলুথালু চুলে যেন বনের সিংহ।
এবং বর্মাবৃত যোদ্ধারা, যাদের মাঝে তুমি দেখবে ছোট তলোয়ারসমূহ এবং ধারালো প্রতিটি ভারতীয় তলোয়ারের অগ্রভাগ।
তারা বিস্তৃত প্রান্তর পাহারা দেয়, যেন সম্মানের ক্ষেত্রে তারা হাজিব ও শিহাবের পরিবারভুক্ত।
হে বনী কিলাব! কীভাবে জাফর গোত্রকে বহিষ্কার করা হবে, অথচ বনী দুবায়নাহ কূপের পাশেই উপস্থিত রয়েছে?
তারা ইবন উরওয়াহকে হত্যা করল এবং তার সামনে আড়াল তৈরি করল, যতক্ষণ না আমরা জওয়াবের কাছে তাদের বিচার নিয়ে যাই।
ইবন কুতরাহ এবং তার সিংহাসন ধ্বংসকারীর মাঝে এমন অবস্থা যে, সে অহংকারের আতিশয্যে কোনো আগন্তুকের সাথে কথা বলারও প্রয়োজন বোধ করে না।
এমন এক কওম যাদের শ্রেষ্ঠত্ব মাআদ গোত্রও স্বীকার করেছে; আর সত্যকে তো কেবল জ্ঞানীরাই চিনে থাকে।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
দীওয়ানু লাবীদ ইবনে রাবীআতিল আমিরী
(পৃষ্ঠা: ১৫)
قومي بنو عامر [المنسرح]
وقال يصف رحلة الأحباب، ومناظر بقر الوحش والحمر والسيول، ويفتخر بقومه بني عامر:
طَافَتْ أُسَيْماءُ [بالرِّحَالِ] فَقَدْ
… هَيَّجَ مِنِّي خَيالُها طَرَبَا (1)
إحْدَى بَني جَعْفَرٍ بأرْضِهِمِ
… لمْ تُمْسِ مِنِّي نَوْباً وَلا قُرُبَا (2)
لَمْ أخْشَ عُلْوِيَّة ً يَمَانِيَة ً
… وكَمْ قَطَعْنا مِنْ عَرْعَرٍ شُعَبَا (3)
جاوزنَ فلجاً فالحَزْنَ يُدْلِجـ
… ـنَ بالليلِ ومِنْ رَملِ عالجٍ كُشُبَا (4)
مِنْ بَعدِ ما جاوَزَتْ شَقائِقَ فالدّهـ
… ـنَا وَغُلْبَ الصُّمَانِ والخُشُبَا (5)
فصَدَّهُمْ مَنطِقُ الدَّجاجِ عنِ العَهـ
… ـدِ وضَرْبُ النّاقُوسِ فاجْتُنِبَا (6)
هَلْ يُبْلِغَنِّي دِيارَها حَرَجٌ
… وَجْناءُ تَفْري النَّجَاءَ والخَبَبَا (7)
--------------------------------------------
আমার গোত্র বনু আমির [মুনসারিহ ছন্দ]
তিনি প্রিয়জনদের যাত্রা, বন্য গরু ও গাধার দৃশ্য এবং প্লাবনের বর্ণনা দিচ্ছেন এবং নিজ গোত্র বনু আমিরকে নিয়ে গর্ব করে বলছেন:
উসাইমা সওয়ারিদের চারপাশে ঘুরে বেড়ালো, ফলে তার স্মৃতিচ্ছায়া আমার মাঝে ব্যাকুলতা জাগিয়ে তুলল (১)
সে তাদের ভূমিতে বনু জাফর বংশের এক নারী, সে আমার থেকে ‘নওব’ কিংবা ‘কুরব’ দূরত্বের ব্যবধানেও ছিল না (২)
আমি ইয়েমেনের উচ্চভূমিকে ভয় পাইনি, আর আমরা আরআরের কত জলধারা অতিক্রম করেছি (৩)
তারা ফালজ অতিক্রম করল, অতঃপর বন্ধুর ভূমি দিয়ে রাতের বেলা পথ চলে এবং আলিজের বালুকাময় প্রান্তরের ঝোপঝাড় পাড়ি দেয় (৪)
বালুকাময় প্রান্তরের মধ্যবর্তী সমতল ভূমি, অতঃপর দাহনা, সুম্মানের শক্ত ভূমি এবং শুষ্ক প্রান্তর অতিক্রম করার পর (৫)
অতঃপর মুরগির ডাক এবং ঘণ্টার আওয়াজ তাদের পরিচিত পথ থেকে বিমুখ করল, ফলে তা বর্জন করা হলো (৬)
একটি শীর্ণকায় উষ্ট্রী কি আমাকে তার আবাসস্থলে পৌঁছে দেবে? যা দ্রুতগতিতে শক্ত কদমে পথ পাড়ি দেয় (৭)
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
দীওয়ানু লাবীদ ইবনে রাবীআতিল আমিরী
(পৃষ্ঠা: ১৬)
كأنَّهَا بِالغُمَيْرِ مُمْرِيَة ٌ
… تَبْعي بكُثْمَانَ جُؤذَراً عَطِبَا (1)
قَدْ آثَرَتْ فِرْقَة َالبُغَاءِ وَقَدْ
… كانَتْ تُراعي مُلَمَّعاً شَبَبا (2)
أتِيكَ أمْ سَمْحَجٌ تَخَيَّرَها
… عِلْجٌ تَسَرَّى نحَائِصاً شُسُبَا (3)
فاخْتَارَ مِنْها مِثلَ الخَريدةِ لا
… تَأمَنُ مِنْهُ الحِذارَ والعَطَبَا (4)
فلا تؤولُ إذا يؤولُ ولا
… تَقْرُبُ مِنْهُ إذا هُوَ اقتَرَبَا (5)
فَهو كَدَلْوِ البَحريِّ أسْلَمَهَا الـ
… ـعَقْدُ وخانَتْ آذانُهَا الكَرَبَا (6)
فَهو كَقِدْحِ المنيحِ أحْوَذَهُ [القَا
… نِصُ] يَنْفي عَنْ مَتْنِهِ العَقَبَا (7)
[يا هَلْ تَرَى البَرْقَ] بِتُّ أرْقُبُهُ
… يُزْجي حَبِيّاً إذا خَبَا ثَقَبَا (8)
--------------------------------------------
যেন সেটি আল-গুমাইর প্রান্তরে এক দুগ্ধবতী গাভী
… যে কুসমান পাহাড়ে তার মৃত শাবকটিকে খুঁজছে (১)
সে অন্বেষণকারীদের দলকেই প্রাধান্য দিয়েছে, অথচ সে
… এক চিত্রবিচিত্র বয়স্ক পশুর সাথে বিচরণ করছিল (২)
সেটি কি তা, নাকি সেই দীর্ঘকায়া বুনো গাধী যাকে বেছে নিয়েছে
… এক শক্তিশালী বুনো গাধা, যে কৃশকায় ও গর্ভহীন গাধীগুলোকে নির্বাচন করে? (৩)
সে তাদের মধ্য থেকে অস্পর্শিত মুক্তার মতো একজনকে বেছে নিল, যে
… তার থেকে সতর্কতা ও বিনাশের আশঙ্কা মুক্ত নয় (৪)
সে ফিরে আসে না যখন সে ফিরে আসে, আর
… সে তার নিকটবর্তী হয় না যখন সে কাছে আসে (৫)
ফলে সেটি সেই গ্রাম্য ব্যক্তির বালতির ন্যায় যাকে গিঁট
… আলগা করে দিয়েছে এবং যার হাতল দড়ির সাথে বিশ্বাসঘাতকতা করেছে (৬)
আর সে হলো সেই অংশহীন তীরের মতো যাকে শিকারী [বা নির্মাতা]
… দ্রুতগামী করেছে এবং তার পিঠ থেকে তন্তু সরিয়ে ফেলেছে (৭)
[ওহে তুমি কি বিদ্যুৎ দেখছ?] আমি রাত জেগে তা পর্যবেক্ষণ করছি
… যা মেঘমালাকে পরিচালিত করে, যখন তা স্তিমিত হয় তখন পুনরায় তীব্রভাবে জ্বলে ওঠে (৮)
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
দীওয়ানু লাবীদ ইবনে রাবীআতিল আমিরী
(পৃষ্ঠা: ১৭)
قَعَدْتُ وَحْدي لَهُ؛ وَقَالَ أبُو
… لَيلى: مَتى يَغْتَمِنْ فَقَدْ دأبَا؟ (1)
كأنَّ فِيهِ لَمّا ارتَفقْتُ لَهُ
… رَيْطاً ومِرباعَ غانِمٍ لَجِبَا (2)
فَجادَ [رَهواً إلى مداخِلَ فالصُّحْـ
… ـرَة ِ] أمْسَتْ نِعَاجُهُ عُصَبَا (3)
فَحَدَّرَ العُصْمَ مِنْ عَمَايَة َ للسّهْـ
… ـلِ وَقضَّى بصاحَةَ الأرَبا (4)
فَالماء يَجْلُو مُتُونَهُنَّ كَمَا
… يَجْلُو التّلاميذُ لُؤلؤاً قَشِبَا (5)
لاقَى البَديُّ الكِلابَ فاعْتَلَجَا
… مَوْجُ أتِيَّيْهِمَا لِمَنْ غلبَا (6)
فَدَعْدَعَا سُرَّة َ الرَّكَاءِ كَمَا
… دَعْدَعَ ساقي الأعاجمِ الغَرَبَا (7)
فكُلُّ وادٍ هَدَّتْ حَوَالِبُهُ
… يَقْذِفُ خُضْرَ الدَّباءِ فالخُشُبَا (8)
مالَتْ بهِ نَحْوَها الجَنُوبُ مَعاً
… ثمَّ ازْدَهَتْهُ الشَّمالُ فانْقَلَبَا
--------------------------------------------
আমি তার প্রতীক্ষায় একাকী বসলাম; আর আবু
… লায়লা বলল: কখন সে স্থির হবে, অথচ সে তো কঠোর পরিশ্রম করেছে? (১)
যখন আমি তার ওপর হেলান দিলাম, মনে হলো তাতে রয়েছে
… মিহি চাদর এবং বিজয়ীর লব্ধ সম্পদের এক-চতুর্থাংশ শোরগোলপূর্ণ অংশ। (২)
অতঃপর তা প্রশান্তভাবে [মাদাখিল থেকে সাহ
… রা পর্যন্ত] বর্ষিত হলো, ফলে তার বন্য গাভীগুলো দলে দলে সমবেত হলো। (৩)
এটি আমায়াহ পাহাড় থেকে আইবেক্সগুলোকে সমতলে
… নামিয়ে আনল এবং সাহাহ নামক স্থানে তার উদ্দেশ্য পূর্ণ করল। (৪)
পানি তাদের পিঠকে এমনভাবে উজ্জ্বল করে দিচ্ছে, যেমন
… কারিগরদের শিক্ষানবিশরা নতুন মুক্তাকে উজ্জ্বল করে। (৫)
আল-বাদি এবং আল-কিলাব উপত্যকা একে অপরের সাথে মিলিত হয়ে সংঘর্ষে লিপ্ত হলো,
… যেন বিজয়ীর জন্য তাদের উভয়ের স্রোতের ঢেউ আছড়ে পড়ছে। (৬)
তারা রাকা-এর মধ্যভাগকে এমনভাবে
… পূর্ণ করল, যেমন অনারবদের পানপাত্র পরিবেশক বড় পেয়ালা পূর্ণ করে। (৭)
প্রতিটি উপত্যকা, যার জলধারা গর্জন করে উঠেছিল,
… তা সবুজ কদু এবং শুকনো কাঠ নিক্ষেপ করছিল। (৮)
দক্ষিণ বায়ু একে তার দিকে হেলিয়ে দিল, অতঃপর উত্তর বায়ু একে চালিত করল এবং এটি উল্টে গেল।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
দীওয়ানু লাবীদ ইবনে রাবীআতিল আমিরী
(পৃষ্ঠা: ১৮)
فقُلْتُ صَابَ الأعْراضَ رَيِّقُهُ
… يَسْقي بلاداً قَد أمْحَلَتْ حِقَبَا (1)
لِتَرْعَ مِنْ نَبْتِهِ أُسَيْمُ إذَا
… أنْبَتَ حُرَّ البُقُولِ والعُشُبَا (2)
وَلْيَرْعَهُ قَوْمُهَا فَإنَّهُمُ
… من خَيرِ حيٍّ عَلِمتهمْ حسبَا
قَوْمي بَنُو عامِرٍ وَإنْ نَطَقَ الـ
… ـأعْداءُ فيهِمْ مَناطِقاً كَذبَا
بمِثْلِهِمْ يُجْبَهُ المُناطِحُ ذو العِ
… ـزّ وَيُعْطي المُحافِظُ الجَنَبَا (3)
أصبحت أمشي … [الطويل]
قال لبيد يذكر أعمامه وقومه بني جعفر بن كلاب ويأسى لفقدهم، وهي من أشعاره في فترة البعثة النبويّة؛ لأنّه يذكر فيها فَقَدَ عمّه أبي براء وعامر بن الطفيل:
أصْبَحْتُ أمْشي بَعْدَ سَلْمى بن مالكٍ
… وبَعْدَ أبي قَيسٍ وعُرْوَة َ كالأجَبّ (4)
يَضِجُّ إذا ظِلُّ الغُرابِ دَنَا لَهُ
… حِذاراً على باقي السَّنَاسِنِ والعَصَبْ (5)
وَبَعدَ أبي عمرٍو وذي الفضْلِ عامِرٍ
… وبَعدَ المُرَجَّى عُرْوَة َ الخَيرِ للكُرَبْ
وبعدَ طفيلٍ ذي الفعالِ تعلقَتْ
… بهِ ذاتُ ظُفْرٍ لا تُوَرَّعُ باللَّجَبْ (6)
--------------------------------------------
আমি বললাম, বৃষ্টির প্রথম ধারা আল-আ'রাজ উপত্যকাগুলোতে বর্ষিত হয়েছে
… যা দীর্ঘ সময় যাবত অনাবৃষ্টিতে ভোগা জনপদগুলোকে সিঞ্চিত করছে। (১)
যাতে উসাইম সেখানকার উদ্ভিদরাজি থেকে চরে বেড়াতে পারে যখন
… তা কোমল শাকসবজি ও ঘাস উৎপন্ন করে। (২)
আর ওই জনপদের লোকেরা যেন তা ভোগ করে, কারণ আমি যদ্দূর জানি
… আভিজাত্যের বিচারে তারা সর্বোত্তম গোত্র।
আমার কওম বনু আমির; যদিও শত্রুরা
… তাদের ব্যাপারে মিথ্যা কথা বলে বেড়ায়।
তাদের মাধ্যমেই প্রতাপশালী প্রতিদ্বন্দ্বীকে পরাস্ত করা হয়
… এবং আত্মমর্যাদাবান ব্যক্তি আনুগত্য প্রদর্শন করে। (৩)
আমি চলতে শুরু করলাম … [আত-তওয়িল ছন্দ]
লাবীদ তার চাচা এবং তার গোত্র বনু জাফর বিন কিলাবের কথা উল্লেখ করছেন এবং তাদের বিয়োগব্যথায় শোক প্রকাশ করছেন। এটি নবুওয়াত পরবর্তী সময়ের কাব্য; কারণ এতে তিনি তার চাচা আবু বারা এবং আমির বিন তুফাইলের মৃত্যু শোক বর্ণনা করেছেন:
সালমা বিন মালিক, আবু কায়স এবং উরওয়াহর মৃত্যুর পর আমি
… কুঁজহীন উটের মতো চলতে শুরু করেছি। (৪)
সে তখন যন্ত্রণায় চিৎকার করে ওঠে যখন কাকের ছায়া তার কাছে আসে
… অবশিষ্ট মেরুদণ্ডের হাড় এবং রগগুলোর ক্ষতির আশঙ্কায়। (৫)
আবু আমর এবং ফজিলতপূর্ণ আমির, এবং বিপদকালের ভরসা
… উরওয়াহ আল-খাইরের মৃত্যুর পর।
এবং কর্মঠ তুফাইলের পর, যাকে এমন এক নখরধারী (মৃত্যু) আঁকড়ে ধরেছে
… যা কোনো শোরগোল বা আর্তনাদে নিবৃত্ত হয় না। (৬)
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
দীওয়ানু লাবীদ ইবনে রাবীআতিল আমিরী
(পৃষ্ঠা: ১৯)
وبَعدَ أبي حَيّانَ يَوْمَ حَمُومَة ٍ
… أُتِيحَ لَهُ زَأوٌ فأُزْلِقَ عَنْ رَتَبْ (1)
ألَمْ تَرَ فيما يَذكُرُ النَاسُ أنّني
… ذكرْتُ أبا لَيلى فأصبَحْتُ ذا أرَبْ (2)
فهوَّنَ ما ألْقَى وإنْ كُنْتُ مُثبتاً
… يَقيني بأنْ لا حيَّ يَنجو من العَطَبْ (3)
أصدرتهم شتّى [الطويل]
وقال لبيد أيضاً يذكر أيّامه ومفاخرهـ ومقاماته بين أيدي الملوك:
أرَى النّفسَ لَجّتْ في رَجاءٍ مُكذِّبِ
… وَقَد جَرَّبتْ لوْ تَقْتَدي بالمُجَرَّبِ (4)
وكائِنْ رَأيْتُ مِنْ مُلوكٍ وسُوقةٍ
… وَصاحَبْتُ مِن وَفدٍ كرامٍ ومَوكِبِ (5)
وسانَيْتُ مِن ذي بَهْجَة ٍ ورَقَيْتُهُ
… عليهِ السُّمُوطُ عابِسٍ مُتغَضِّبِ (6)
وفارَقْتُهُ والوُدُّ بَيني وبَينَهُ
… بحُسْنِ الثَّنَاءِ مِنْ وَرَاءِ المُغَيَّبِ
وَأبّنْتُ مِنْ فَقْدِ ابنِ عَمٍّ وخُلَّةٍ
… وفارَقتُ من عَمٍّ كريمٍ ومن أبِ (7)
فبانُوا ولمْ يُحْدِثْ عليَّ سبيلهُمْ
… سِوَى أمَلي فيما أمامي ومَرْغَبي (8)
--------------------------------------------
এবং আবু হাইয়ানের পর হামুমার দিনে
... তাকে এক নির্দিষ্ট আয়ু দেওয়া হয়েছিল, অতঃপর সে তার উচ্চ মর্যাদা থেকে বিচ্যুত হলো (১)
মানুষ যা আলোচনা করে তাতে কি তুমি দেখনি যে
... আমি আবু লায়লার কথা স্মরণ করলাম আর আমি এক সংকল্পের অধিকারী হলাম (২)
মৃত্যু থেকে কোনো প্রাণীই নিস্তার পাবে না—আমার এই সুদৃঢ় বিশ্বাস আমার বিপদকে সহজ করে দিয়েছে (৩)
আমি তাদেরকে বিভিন্নভাবে বিদায় দিয়েছি [ত্ববীল ছন্দ]
লাবিদ তার অতীত দিনসমূহ, গৌরবগাথা এবং রাজদরবারে তার অবস্থানের কথা উল্লেখ করে আরও বলেন:
আমি দেখছি আত্মা এক মিথ্যা আশায় বিভোর হয়ে আছে
... অথচ সে বহু অভিজ্ঞতার সম্মুখীন হয়েছে, যদি সে সেই অভিজ্ঞতা থেকে শিক্ষা গ্রহণ করত (৪)
আমি কত রাজা ও সাধারণ প্রজা দেখেছি
... আর কতই না সম্মানিত প্রতিনিধি দল ও রাজকীয় কাফেলার সঙ্গী হয়েছি (৫)
আমি এমন এক দীপ্তিময় ব্যক্তির প্রতি কোমল আচরণ করেছি এবং তাকে তুষ্ট করেছি
... যার কণ্ঠে ছিল মণি-মুক্তার মালা এবং সে ছিল স্বীয় গাম্ভীর্যে মহিমান্বিত ও মুকুটশোভিত (৬)
আমি তাকে এমন অবস্থায় ছেড়ে এসেছি যে আমার ও তার মাঝে হৃদ্যতা বিদ্যমান ছিল
... তার অগোচরেও আমি উত্তম প্রশংসার মাধ্যমে সেই সম্পর্ক রক্ষা করেছি
আমি চাচাতো ভাই ও অকৃত্রিম বন্ধুর বিয়োগে শোকগাঁথা রচনা করেছি
... এবং বিচ্ছেদ ঘটেছে সম্মানিত চাচা ও পিতার সাথে (৭)
তারা বিদায় নিয়েছে, কিন্তু তাদের চলে যাওয়া আমার সামনের আশা ও আকাঙ্ক্ষা ছাড়া
... আমার ওপর অন্য কোনো প্রভাব বিস্তার করতে পারেনি (৮)
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
দীওয়ানু লাবীদ ইবনে রাবীআতিল আমিরী
(পৃষ্ঠা: ২০)
فَأيَّ أوَانٍ لا تَجِئْني مَنِيَّتي
… بقَصْدٍ مِنَ المَعْرُوفِ لا أتَعَجَّبِ (1)
فَلَسْتُ بركْنٍ مِنْ أَبَانٍ وصاحَةٍ
… وَلا الخالداتِ مِنْ سُوَاجٍ وغُرَّبِ (2)
قَضَيْتُ لُباناتٍ وسَلَّيْتُ حاجَة ً
… ونَفْسُ الفتى رَهْنٌ بقَمرَة ِ مُؤرِبِ (3)
وفيتانِ صدقٍ قد غَدَوْتُ عَلَيْهِمُ
… بِلا دَخِنٍ وَلا رَجيعٍ مُجَنَّبِ (4)
بِمُجْتَزَفٍ جَوْنٍ كأَنَّ خَفَاءَهُ
… قَرَا حَبَشِيٍّ في السَّرَوْمَطِ مُحْقَبِ (5)
إذا أرْسَلَتْ كَفُّ الوَليدِ كِعامَهُ
… يَمُجُّ سُلافاً مِنْ رَحيقٍ [مًعَطّبِ] (6)
فمَهْما نَغِضْ مِنْهُ فإنَّ ضَمَانَهُ
… على طَيّبِ الأرْدانِ غَيرِ مُسَبَّبِ (7)
جَميلِ الأُسَى فِيما أتَى الدَّهرُ دونَهُ
… كريمِ الثَّنا حُلْوِ الشّمائلِ مُعجِبِ (8)
تَرَاهُ رَخيَّ البَالِ إنْ تَلْقَ تَلْقَهُ
… كريماً وما يَذّهَبْ بهِ الدَّهرُ يَذهبِ (9)
--------------------------------------------
সুতরাং আমার মৃত্যু যে কোনো সময়ই আসুক না কেন
… পরিচিত কোনো পরিমিত পন্থায়, আমি তাতে আশ্চর্য হব না (১)
আমি তো আবান বা সাহাহ পাহাড়ের কোনো অংশ নই
… আর না আমি সুওয়াজ ও গুররাব-এর মতো চিরস্থায়ী পাহাড় (২)
আমি আমার কামনাগুলো পূর্ণ করেছি এবং প্রয়োজন মিটিয়েছি
… আর যুবকের প্রাণ তো এক চতুর জুয়াড়ির বাজি ধরার কাছে বন্ধক মাত্র (৩)
আর আমি এমন কিছু সত্যনিষ্ঠ যুবকের কাছে ভোরে উপনীত হয়েছি
… যেখানে ধোঁয়াটে বিস্বাদ খাবার ছিল না এবং তুলে রাখা বাসি পানীয়ও ছিল না (৪)
একটি কালো চামড়ার মশক নিয়ে, যার বহিরাবরণ দেখে মনে হয়
… যেন পশুর পশ্চাদ্দেশে দড়িতে বাঁধা কোনো হাবশী ব্যক্তির পিঠ (৫)
যখন সেবকের হাত এর বন্ধন খুলে দেয়
… তখন তা থেকে পরিচ্ছন্ন সুগন্ধিযুক্ত সুরা নির্গত হতে থাকে (৬)
সুতরাং আমরা তা থেকে যা-ই পান করে কমিয়েছি, তার নিশ্চয়তা
… পবিত্র পোশাকধারী ও নিন্দামুক্ত এক মহান ব্যক্তির ওপর ন্যস্ত (৭)
কালচক্র যা কেড়ে নিয়েছে তাতে তিনি উত্তম ধৈর্যশীল
… প্রশংসিত মহৎ গুণের অধিকারী, মিষ্ট স্বভাবের এবং বিস্ময়কর ব্যক্তিত্বসম্পন্ন (৮)
তুমি তাকে প্রশান্ত চিত্তের অধিকারী দেখতে পাবে, যখনই তার সাক্ষাৎ পাবে তাকে পাবে
… এক মহৎ ব্যক্তি হিসেবে; আর কাল যা নিয়ে যায়, তা তো চলেই যায় (৯)
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
দীওয়ানু লাবীদ ইবনে রাবীআতিল আমিরী
(পৃষ্ঠা: ২১)
يُثَبِّي ثَنَاءً منْ كَريمٍ وقَوْلُهُ
… ألا انْعَمْ على حُسنِ التحيّةِ واشَربِ (1)
لَدُنْ أنْ دعا ديكُ الصَّباحِ بسُحرَة ٍ
… إلى قَدْرِ وِرْدِ الخامِسِ المُتَأوِّبِ (2)
من المُسْبِلينَ الرَّيْطَ لَذٍّ كأنَّمَا
… تشرَّبَ ضاحي جلدِه لَوْنَ مُذْهَبِ (3)
وعانٍ فكَكْتُ الكَبلَ عنه، وسُدفةٍ
… سَرَيْتُ، وأصحابي هَدَيتُ بكوكبِ (4)
سَرَيتُ بهِمْ [حتّى تغيَّبَ] نَجمُهُمْ
… وقال النَّعُوسُ: نَوَّرَ الصُّبحُ فاذهبِ (5)
فلَمْ أُسْدِ ما أرْعَى وتَبْلٍ رَدَدْتُهُ
… وأنجَحْتُ بَعدَ اللّهِ من خيرِ مَطْلَبِ (6)
وَدَعوَةِ مَرْهُوبٍ أجَبتُ، وطَعْنَةٍ
… رَفَعتُ بها أصواتَ نَوْحٍ مُسَلَّبِ (7)
وغَيْثٍ بِدَكْداكٍ يَزينُ وهادَهُ
… نَبَاتٌ كَوَشْيِ العَبقَريِّ المُخَلَّبِ (8)
أَربَّتْ عليهِ كلُّ وطفاءَ جَوْنَةٍ
… [هَتُوفٍ] متى يُنزِفْ لها الوَبلُ تسكُبِ (9)
بذي بَهْجَةٍ كَنَّ المَقانِبُ صَوْبَهُ
… وزَيَّنَهُ [أطْرَافُ نَبْتٍ] مُشَرَّبِ (10)
جَلاهُ طُلُوعُ الشّمْسِ لمّا هَبَطْتُهُ
… وأشرَفتُ من قُضفانِهِ فوْقَ مَرْقَبِ (11)
--------------------------------------------
একজন উদার ব্যক্তির পক্ষ থেকে বারবার প্রশংসা করা হচ্ছে এবং তার কথা হলো
… শোনো! চমৎকার এই অভিবাদনে আনন্দিত হও এবং পান করো। (১)
ভোরের মোরগ যখন শেষ রাতে ডাক দিল
… ফিরে আসা উটের পালের পঞ্চম দিনের তৃষ্ণা নিবারণের সময় পর্যন্ত। (২)
এমন ব্যক্তিদের মধ্য থেকে যারা মিহি চাদর ঝুলিয়ে রাখে, যেন মনে হয়
… তাদের উন্মুক্ত চামড়া সোনালি রঙ শুষে নিয়েছে। (৩)
কত বন্দীর পায়ের শিকল আমি খুলে দিয়েছি, আর রাতের অন্ধকারে
… আমি পথ চলেছি, যখন নক্ষত্রের সাহায্যে আমি আমার সাথীদের পথ দেখিয়েছি। (৪)
আমি তাদের নিয়ে পথ চললাম [যতক্ষণ না তাদের নক্ষত্রটি ডুবে গেল]
… আর তন্দ্রাচ্ছন্ন ব্যক্তিটি বলল: "ভোর ফর্সা হয়ে গেছে, এবার চলো।" (৫)
আমি যা দেখাশোনা করি তা অবহেলা করিনি এবং আমি প্রতিশোধ গ্রহণ করেছি
… আর আল্লাহর পরে আমি সর্বোত্তম লক্ষ্য অর্জনে সফল হয়েছি। (৬)
আমি ভীত ব্যক্তির ডাকে সাড়া দিয়েছি, এবং এমন এক আঘাত করেছি
… যার ফলে শোকাতুর বিলাপকারিনীদের কণ্ঠস্বর উচ্চকিত হয়েছে। (৭)
এমন বৃষ্টি যা সমতল উচ্চভূমিতে হয়েছে এবং যার নিচু ভূমিগুলোকে সুশোভিত করছে
… বিচিত্র কারুকার্যখচিত মূল্যবান গালিচার মতো উদ্ভিদরাজি। (৮)
এর ওপর অবস্থান নিয়েছে প্রতিটি নিচু ও কালো মেঘ
… [গর্জনকারী], যখনই তার প্রবল বৃষ্টি নিঃশেষ হতে চায়, সে পুনরায় বর্ষণ করে। (৯)
এমন এক সৌন্দর্যমন্ডিত স্থানে যেখানে অশ্বারোহী দল বৃষ্টির সময় আশ্রয় নেয়
… এবং যাকে ঘন রঙের [উদ্ভিদের ডগা] সুশোভিত করেছে। (১০)
যখন আমি তাতে নামলাম তখন সূর্যোদয় একে উদ্ভাসিত করল
… আর আমি তার শৈলশিরা বেয়ে পাহাড়ের চূড়ায় আরোহণ করলাম। (১১)
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
দীওয়ানু লাবীদ ইবনে রাবীআতিল আমিরী
(পৃষ্ঠা: ২২)
وصُحْمٍ صِيامٍ بَينَ صَمْدٍ ورَجْلةٍ
… وَبيضٍ تُؤامٍ بينَ مَيْثٍ ومِذنَبِ (1)
بَسَرْتُ نَداهُ لم تَسَرَّبْ وُحُوشُهُ
… بغَرْبٍ كجِذْعِ الهاجريِّ المُشذَّبِ (2)
بمُطَّرِدٍ جَلْسٍ عَلَتْهُ طَريقَة ٌ
… لسَمْكِ عِظامٍ عُرِّضَتْ لمْ تُنَصَّبِ (3)
إذا ما نَأى منّي بَرَاحٌ نَفَضْتُهُ
… وإنْ يدنُ مني الغَيبُ أُلجِمْ فأركَبِ (4)
رَفيع اللَّبَانِ مُطْمَئِنّاً عِذارُهُ
… على خدِّ مَنحوضِ الغَرارَينِ صُلَّبِ (5)
فلَمّا تَغَشَّى كُلَّ ثَغْرٍ ظَلامُهُ
… وألْقَتْ يَداً في كافِرٍ مُسْيَ مَغرِبِ (6)
تَجَافَيتُ عَنْهُ واتَّقاني عِنَانُهُ
… بشدٍّ منَ التّقريبِ عَجْلانَ مُلهَبِ (7)
رِضَاكَ فإنْ تَضْرِبْ إذا مارَ عِطْفُهُ
… يَزِدْكَ وإنْ تَقْنَعْ بذلكَ يَدْأبِ (8)
هَوِيَّ غُدافٍ هَيَّجَتْهُ جَنُوبُهُ
… حَثيثٍ إلى أذراءِ طَلْحٍ وتَنْضُبِ (9)
--------------------------------------------
এবং কৃষ্ণবর্ণের সেই সকল প্রাণী যারা অনড় হয়ে দাঁড়িয়ে আছে শক্ত ভূমি ও উপত্যকার জলপথের মাঝে... এবং যমজ শ্বেতশুভ্র বস্তুসমূহ যা বিস্তৃত প্রান্তর ও জলনালার মাঝে বিদ্যমান। (১)
আমি তার সতেজ উদ্ভিদরাজি চরিয়েছি যখন বন্যপশুরা সেখান থেকে পলায়ন করেনি... 'গারব' নামক অশ্বের মাধ্যমে যা হজর অঞ্চলের সুবিন্যস্ত খেজুর কাণ্ডের ন্যায় সুদৃঢ়। (২)
এমন এক চঞ্চল ও কর্মতৎপর অশ্বের দ্বারা, যার পিঠের মধ্যভাগে একটি রেখা ফুটে উঠেছে... তার দীর্ঘ হাড়ের উচ্চতার কারণে, যা প্রশস্ত করা হয়েছে কিন্তু উলম্বভাবে স্থাপন করা হয়নি। (৩)
যখনই কোনো উন্মুক্ত প্রান্তর আমার থেকে দূরে সরে যায়, আমি তা অতিক্রম করি... আর যখনই কোনো নিচু ভূমি দৃষ্টির আড়ালে চলে আসে, আমি লাগাম পরিয়ে তাতে আরোহণ করি। (৪)
উন্নত বক্ষবিশিষ্ট সেই অশ্ব, যার লাগামের বন্ধনীগুলো স্থির হয়ে থাকে... তার মাংসল ও সুদৃঢ় গণ্ডদেশের ওপর। (৫)
অতঃপর যখন গাঢ় অন্ধকার পাহাড়ের প্রতিটি পথকে আচ্ছন্ন করে ফেলল... এবং সূর্য সূর্যাস্তের সন্ধ্যায় অন্ধকারের চাদরে নিজের হাত নিক্ষেপ করল। (৬)
আমি তা থেকে পৃথক হলাম এবং তার লাগাম আমাকে রক্ষা করল... অত্যন্ত দ্রুত ও অগ্নিবৎ তেজোদীপ্ত দৌড়ের মাধ্যমে। (৭)
তার দৌড় তোমাকে সন্তুষ্ট করবে; যদি তুমি তাকে আঘাত করো যখন তার পার্শ্বদেশ আন্দোলিত হয়... তবে সে তোমার জন্য ক্ষিপ্রতা বাড়িয়ে দেবে, আর যদি তুমি তাতেই সন্তুষ্ট থাকো তবে সে অবিরাম দৌড়াতে থাকবে। (৮)
তার গতি যেন দক্ষিণ বায়ুর তাড়নায় দ্রুত ধাবমান বিশাল পক্ষবিশিষ্ট কৃষ্ণবর্ণ কাকের ন্যায়... যা তালহ ও তানদুব বৃক্ষের ঝোপের আশ্রয়ের দিকে দ্রুত ছুটে চলে। (৯)
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
দীওয়ানু লাবীদ ইবনে রাবীআতিল আমিরী
(পৃষ্ঠা: ২৩)
فأصْبَحَ يُذْريني إذا ما احتَثَثْتُهُ
… بأزْواج مَعْلُولٍ مِنَ الدَّلوٍ مُعشِبِ (1)
وَيَوْمٍ هَوَادي أمْرِهِ لِشَمَالِهِ
… يُهَتِّكُ أخْطالَ الطِّرافِ المُطَنَّبِ (2)
يُنيخُ المَخاضَ البُرْكَ والشَّمسُ حيَّة ٌ
… إذا ذُكِّيَتْ نِيرانُها لَمْ تَلَهَّبِ (3)
ذَعَرْتُ قِلاصَ الثّلجِ تَحتَ ظِلالِهِ
… بمَثْنَى الأيادي والمنيحِ المُعَقَّبِ (4)
وناجِيَةٍ أنْعَلْتُها وابْتَذَلْتُها
… إذا ما اسْجَهَرَّ الآلُ في كلّ سَبسَبِ (5)
فَكَلَّفْتُها وَهْماً فآبَتْ رَكِيَّة ً
… طَلِيحاً كألْواحِ الغَبيطِ المُذَأْأَبِ (6)
متى ما أشأ أسْمَعْ عِراراً بِقَفْرَة ٍ
… تُجيبُ زِماراً كاليَراعِ المُثَقَّبِ (7)
وخصْمٍ قِيامٍ بالعَراءِ كأنَّهُمْ
… قُرُومٌ غَيَارَى كُلَّ أزْهرَ مُصْعَبِ (8)
عَلا المِسكَ والدّيباجَ فَوْقَ نحُورِهمْ
… فَراشُ المَسيحِ كالجُمانِ [المُثَقَّبِ] (9)
--------------------------------------------
যখন আমি তাকে দ্রুত চালিত করি, তখন সে দালু নক্ষত্রমণ্ডল থেকে বারংবার বর্ষিত পানির ঝাপটা দিয়ে আমাকে সিক্ত করতে থাকে
… যা সজীব ও তৃণাচ্ছাদিত।
আর এমন একদিন যার প্রথমাংশ ছিল উত্তরীয় বাতাসের তীব্রতা
… যা রশি দিয়ে শক্ত করে বাঁধা চামড়ার তাঁবুর ঝালরগুলোকে ছিন্নভিন্ন করে দিচ্ছিল।
প্রচণ্ড ঠান্ডায় তা গর্ভবতী উটগুলোকে হাঁটু গেড়ে বসিয়ে দেয় অথচ সূর্য তখনো উজ্জ্বল
… এমনকি যখন আগুনের কুণ্ডলী প্রজ্বলিত করা হয়, তখন তার শিখাও উত্তাপ ছড়ায় না।
আমি তার ছায়াতলে তুষারশুভ্র মেঘমালাকে তাড়িত করেছি
… উটের মাংসের অবশিষ্টাংশ এবং চিহ্নযুক্ত তীরের বিনিময়ে।
আর এক দ্রুতগামী উষ্ট্রীকে আমি পরিশ্রান্ত করেছি এবং তাকে খুর-আবরণ পরিয়েছি
… যখন প্রতিটি ধূ ধূ প্রান্তরে মরীচিকা বিস্তৃত হচ্ছিল।
আমি তাকে প্রশস্ত পথে চলার ভার অর্পণ করেছি, ফলে সে অত্যন্ত কৃশ হয়ে ফিরে এসেছে
… যেন ছিদ্রযুক্ত জীর্ণ হাওদার কাঠের তক্তা।
যখনই আমি চাই, নির্জন প্রান্তরে পুরুষ উটপাখির ডাক শুনতে পাই
… যা ছিদ্রযুক্ত বাঁশির শব্দের মতো স্ত্রী উটপাখির ডাকের উত্তর দেয়।
আর একদল প্রতিপক্ষ যারা খোলা প্রান্তরে দাঁড়িয়ে আছে, তারা যেন
… তেজস্বী ও শক্তিশালী উটের পালের মতো, যাদের প্রতিটিই উজ্জ্বল ও অপরাজেয়।
তাদের কণ্ঠদেশের কস্তুরী ও রেশমি বস্ত্রের ওপর
… ঘামের ফোঁটাগুলো ছিদ্রযুক্ত মুক্তোর দানার মতো শোভা পাচ্ছিল।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
দীওয়ানু লাবীদ ইবনে রাবীআতিল আমিরী
(পৃষ্ঠা: ২৪)
نَشِينُ صِحَاحَ البِيدِ كُلَّ عَشِيَّةٍ
… بِعُوجِ السّراء عِندَ بابٍ مُحَجَّبِ (1)
شَهِدتُ فلَمْ تَنْجَحْ كَواذِبُ قوْلهم
… لَدَيَّ ولمْ أحفِلْ [ثَنا كلِّ] مِشْغَبِ (2)
أصْدَرْتُهُمْ شَتَّى كأنَّ قِسِيَّهُمْ
… قُرُونُ صِوَارٍ سَاقِطٍ مُتَلَغِّبِ (3)
فإن يُسهِلوا فالسَّهلُ حظّي وَطُرْقتي
… وإنْ يُحزِنوا أركبْ بهم كلَّ مركَبِ (4)
الرزيّة [الكامل]
وقال يصف تغيّر الناس والأيّام ويذكر أخاه أربد، ويتحدّث عن مآثر ذاتيّة حقّقها في الأيّام الخوالي؛ وهذه رواية الطوسي للقصيد عن أشياخه وفيها -فيما يبدو- نقص بعد البيت الرابع، واضطراب في السياق، وسنثبتها كما وردت، ثمّ نثبت في أثرها القصيدة نفسها كما رواها أبو الفرج الأصفهاني في الأغاني:
قَضِّ اللُّبانَة َ لا أبَا لكَ واذْهَبِ
… وَالَحَقْ بأُسْرَتِكَ الكِرامِ الغُيَّبِ (5)
ذَهَبَ الّذينَ يُعاشُ في أكنافِهمْ
… وبَقيتُ في خَلفٍ كجِلدِ الأجرَبِ (6)
يَتَأكَّلُونَ [مَغَالَةً وخِيَانَةً]
… ويُعَابُ قائِلُهُمْ وإنْ لم يَشْغَبِ (7)
--------------------------------------------
আমরা প্রত্যেক সন্ধ্যায় প্রশস্ত ও মসৃণ মরুভূমি অতিক্রম করি... পর্দার অন্তরালে থাকা অধিপতির দ্বারে সারা বৃক্ষের বাঁকানো ধনুক নিয়ে (১)।
আমি উপস্থিত ছিলাম, কিন্তু তাদের মিথ্যা উক্তি আমার সামনে সফল হয়নি; আমি কোনো বিবাদকারীর [প্রশংসার] পরোয়া করিনি (২)।
আমি তাদের বিভিন্ন দিকে পাঠিয়ে দিয়েছি, যেন তাদের ধনুকগুলো ক্লান্ত হয়ে ঝিমিয়ে পড়া একদল বন্য গরুর শিং (৩)।
তারা যদি সহজ পথ ধরে তবে সহজ পথই আমার পাওনা ও পদ্ধতি; আর তারা যদি কঠিন পথ অবলম্বন করে, তবে আমি তাদের সাথে নিয়ে দুস্তর পথে পাড়ি দেব (৪)।
বিপর্যয় [আল-কামিল ছন্দ]
মানুষের ও যুগের পরিবর্তন বর্ণনা করে এবং তাঁর ভাই আরবাদকে স্মরণ করে তিনি বলেন, এবং এখানে তিনি অতীতে নিজের অর্জিত কৃতিত্বসমূহ আলোচনা করেছেন। এটি আল-তুসী তাঁর শিক্ষকদের নিকট থেকে কবিতার যে পাঠ বর্ণনা করেছেন তা-ই; এতে দেখা যায় চতুর্থ চরণের পর সম্ভবত কিছু অংশ বাদ পড়েছে এবং ধারাবাহিকতায় বিচ্যুতি রয়েছে। আমরা এটি যেভাবে বর্ণিত হয়েছে সেভাবেই এখানে উল্লেখ করব, এরপর আবু আল-ফারাজ আল-ইসফাহানি 'আল-আগানি' গ্রন্থে এই কবিতাটি যেভাবে বর্ণনা করেছেন তা প্রদান করব:
তোমার প্রয়োজন মিটিয়ে নাও—তোমার কোনো পিতা নেই—এবং প্রস্থান করো; তোমার সেই সম্মানিত স্বজনদের সাথে মিলিত হও যারা আজ পরলোকে (৫)।
তারা চলে গেছেন যাদের আশ্রয়ে জীবন অতিবাহিত হতো, আর আমি এক চর্মরোগগ্রস্ত পশুর চামড়ার মতো নিকৃষ্ট উত্তরসূরিদের মাঝে রয়ে গেলাম (৬)।
তারা [পরনিন্দা ও বিশ্বাসঘাতকতায়] একে অপরকে গ্রাস করে, আর তাদের মধ্যকার বক্তাকে দোষারোপ করা হয় যদিও সে কোনো অন্যায় বা বিশৃঙ্খলা না করে (৭)।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
দীওয়ানু লাবীদ ইবনে রাবীআতিল আমিরী
(পৃষ্ঠা: ২৫)
يا أَرْبدَ الخيرِ الكريمَ جدودُهُ
… خَلَّيتَني أمشي بِقَرْنٍ أعْضَبِ (1)
لَوْلا الإلَهُ وَسَعيُ صاحِبِ حِمْيرٍ
… وتَعَرُّضي في كلِّ جَوْنٍ مُصْعَبِ (2)
لَتَقَيَّظَتْ عِلْكَ الحجازِ مُقيمَةً
… فجَنُوبَ ناصِفَةٍ لِقاحُ الحَوْأَبِ (3)
ولَقَدْ دَخَلْتُ على خُمَيِّرَ بَيْتَهُ
… مُتَنَكِّراً في مُلكِهِ كالأغْلَبِ (4)
فأجازَني مِنْهُ بِطِرْسٍ ناطِقٍ
… وبكلِّ أطْلَسَ جَوْبُهُ في المنكِبِ (5)
إنَّ الرَّزِيّةَ لا رَزِيَّةَ مِثْلُهَا
… فِقدانُ كلِّ أخٍ كضَوْء الكَوكَبِ (6)
طرب الفؤاد [الكامل]
وهذه رواية الأصفهاني وفيها اختلاف كبير عمّا هي عليه عند الطوسي:
طَرِبَ الفُؤادُ ولَيْتَهُ لمْ يَطْرَبِ
… وعَناهُ ذِكْرَى خُلَّةٍ لَمْ تَصْقَبِ (7)
سَفهاً وَلَوْ أنّي أطَعْتُ عَواذِلي
… فيما يُشِرْنَ بهِ بسَفْحِ المِذْنَبِ (8)
لزجرْتُ قَلْباً لا يَريعُ لزاجِرٍ
… إنَّ الغويَّ إذا نُهي لمْ يُعْتِبِ
فتَعَزَّ عَنْ هذا وَقُلْ في غَيرِهِ
… واذكرْ شَمائلَ مِنْ أخيكَ المنجبِ
--------------------------------------------
হে কল্যাণের আর্বাদ, যার পূর্বপুরুষগণ ছিলেন অতি মর্যাদাবান
… আপনি আমাকে এক ভগ্নশৃঙ্গ (অসহায়) অবস্থায় চলতে বাধ্য করেছেন। (১)
যদি মহান আল্লাহ এবং হিমইয়ার অধিপতির প্রচেষ্টা না থাকত
… এবং প্রতিটি অন্ধকার ও কঠিন বিপদের সম্মুখীন হওয়া না হতো। (২)
তবে হিজাজের বৃক্ষ-নির্যাস চিবিয়ে তারা গ্রীষ্মকাল অতিবাহিত করত
… আর হাওয়াবের গর্ভবতী উষ্ট্রীগুলো নাসিফার দক্ষিণে অবস্থান করত। (৩)
আর আমি খুমাইরের গৃহে তার নিকট প্রবেশ করেছিলাম
… তার রাজত্বে ছদ্মবেশে এক পরাক্রমশালী সিংহের ন্যায়। (৪)
অতঃপর তিনি আমাকে একটি স্পষ্ট লিপি দ্বারা পুরস্কৃত করলেন
… এবং এমন হাবশী গোলামদের দ্বারা যাদের ঢাল ছিল কাঁধের উপর। (৫)
নিশ্চয়ই বিপদ—যার সমতুল্য আর কোনো বিপদ নেই—তা হলো
… নক্ষত্রের আলোর ন্যায় প্রতিটি ভাইকে হারানো। (৬)
হৃদয়ের স্পন্দন [আল-কামিল ছন্দ]
এটি আসফাহানীর বর্ণনা এবং এতে তূসীর বর্ণনার তুলনায় ব্যাপক পার্থক্য রয়েছে:
হৃদয় স্পন্দিত হলো, হায়! যদি তা স্পন্দিত না হতো
… এবং তাকে এমন এক বন্ধুর স্মৃতি ব্যাকুল করল যে নিকটে নেই। (৭)
মূর্খতাবশত; আর আমি যদি আমার নিন্দুকদের আনুগত্য করতাম
… মিজ নাব-এর পাদদেশে তারা যা পরামর্শ দিচ্ছিল সেই বিষয়ে। (৮)
তবে আমি এমন এক হৃদয়কে ধমক দিতাম যা কোনো ধমককারীর কথায় ফিরে আসে না
… নিশ্চয়ই পথভ্রষ্ট ব্যক্তিকে যখন নিষেধ করা হয়, সে তা গ্রাহ্য করে না।
সুতরাং এই শোক পরিহার করো এবং অন্য কিছু বলো
… এবং তোমার সেই মহৎ ভাইয়ের গুণাবলি স্মরণ করো।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
দীওয়ানু লাবীদ ইবনে রাবীআতিল আমিরী
(পৃষ্ঠা: ২৬)
يا أرْبَدَ الخَيرِ الكَريمَ جُدُودُهُ
… أفرَدتَني أمْشي بقَرْنٍ أعْضَبِ
إنَّ الرزيّةَ لا رزيّةَ مِثْلُهَا
… فِقدانُ كُلِّ أخٍ كضوْءِ الكَوْكَبِ
ذَهَبَ الّذينَ يُعاشُ في أكْنَافِهِمْ
… وبَقيتُ في خَلْفٍ كجِلدِ الأجرَبِ
يَتَأكّلُونَ مغالة ً وخِيانة ً
… وَيُعاَبُ قائِلُهُمْ وإن لَمْ يَشْغَبِ
وَلَقَدْ أراني تارة ً مِنْ جَعْفَرٍ
… في مِثلِ غَيثِ الوابِلِ المُتَحَلِّبِ
مِنْ كُلِّ كَهْلٍ كالسِّنَانِ وسَيِّدٍ
… صَعْبِ المَقَادَةِ كالفَنيقِ المُصْعَبِ (1)
مِنْ مَعشَرٍ سَنّتْ لَهُمْ آبَاؤهُمْ
… والعِزُّ قَدْ يأتي بغَيرِ تَطَلُّبِ (2)
فَبَرَى عِظاميَ بَعْدَ لَحْميَ فَقْدُهم
… والدَّهرُ إنْ عاتَبْتُ لَيسَ بمُعْتِبِ
فاحكمْ وصوِّب [الرجز]
لمَا شاخ أبو براء عامر بن مالك ملاعب الأسنّة أخذ علقمة بن علاثة من الحوص من بني جعفر وعامر بن الطفيل يتنافسان على زعامة بني عامر، فتنافرا وتحاكما إلى هرم بن قطبة الفزاري، وكان لبيد في صف عامر، وله في هذه المنافرة المشهورة رجز وقصيد، فممّا قاله في تلك المنافرة يخاطب هرماً يوم جلس للحكومة، وقد انتهت المنافرة وتجمع النّاس ليعرفوا رأيه:
يا هَرِمَ ابنَ الأكْرَمِينَ مَنْصِبَا
إنّكَ قَدْ وَلِيتَ حُكْماً مُعْجِبَا
فاحْكُمْ وصَوِّبْ رَأيَ مَنْ تَصَوَّبَا
--------------------------------------------
হে মঙ্গলের আরবাদ, যার পূর্বপুরুষগণ ছিলেন অতিশয় মর্যাদাবান
… তুমি আমাকে একা ফেলে গিয়েছ, আমি এখন এক ভগ্নশৃঙ্গ প্রাণীর ন্যায় চলছি।
নিশ্চয়ই বিপদ, এর মতো কোনো বিপদ নেই
… তা হলো নক্ষত্রের আলোর ন্যায় উজ্জ্বল প্রতিটি ভাইকে হারানো।
তারা চলে গেছেন যাদের ছত্রছায়ায় জীবন অতিবাহিত হতো
… আর আমি রয়ে গেছি এমন এক অযোগ্য উত্তরসূরিদের মধ্যে যারা পাঁচড়া আক্রান্ত চর্মের ন্যায়।
তারা প্রবঞ্চনা ও খিয়ানতের মাধ্যমে পরস্পরকে গ্রাস করে
… এবং তাদের বক্তাকেও দোষারোপ করা হয়, যদিও সে কোনো হট্টগোল না করে।
আর আমি এক সময় জাফর গোত্রীয়দের মধ্যে নিজেকে দেখেছি
… যেন অঝোর ধারায় বর্ষিত প্রবল বৃষ্টির মাঝে।
সেখানে ছিল বর্শার ফলার ন্যায় তেজোদীপ্ত বয়োজ্যেষ্ঠ ব্যক্তিবর্গ এবং এমন নেতা
… যাকে বশ করা কঠিন, যেমন অবাধ্য ও শক্তিশালী উষ্ট্র (১)
এমন এক সম্প্রদায়ের অন্তর্ভুক্ত যাদের জন্য তাদের পূর্বপুরুষেরা আদর্শ প্রতিষ্ঠা করে গেছেন
… আর মর্যাদা কখনও অন্বেষণ ছাড়াই চলে আসে (২)
তাদের বিয়োগব্যথা আমার গোশতের পর হাড়গুলোকেও ক্ষয় করে দিয়েছে
… আর সময়ের কাছে অভিযোগ করলেও সে তো অনুশোচনা প্রকাশকারী নয়।
সুতরাং ফয়সালা করুন এবং সঠিক মত দিন [রাজায ছন্দ]
যখন 'মুলায়িবুল আসিন্না' খ্যাত আবু বারা আমির বিন মালিক বৃদ্ধ হলেন, তখন বনু জাফরের আল-হাওস বংশের আলকামা বিন উলাসা এবং আমির বিন তুফাইল বনু আমির গোত্রের নেতৃত্বের জন্য প্রতিযোগিতায় লিপ্ত হলেন। তারা পরস্পর শ্রেষ্ঠত্ব প্রমাণের দ্বন্দ্বে লিপ্ত হলেন এবং হারাম বিন কুতবা আল-ফাজারির নিকট বিচারপ্রার্থী হলেন। লাবিদ ছিলেন আমিরের পক্ষে, এবং এই বিখ্যাত শ্রেষ্ঠত্ব প্রমাণের লড়াইয়ে (মুনাফারা) তার অনেক রাজায ছন্দ ও কাসিদা রয়েছে। তিনি সেই প্রতিযোগিতায় হারামকে সম্বোধন করে যা বলেছিলেন, যখন তিনি বিচারের আসনে বসেছিলেন এবং প্রতিযোগিতা শেষ হওয়ার পর লোকজন তার রায় জানার জন্য সমবেত হয়েছিল:<
হে সুউচ্চ মর্যাদাবানদের সন্তান হারাম!
নিশ্চয়ই আপনি এক বিস্ময়কর বিচারের দায়িত্বভার গ্রহণ করেছেন,
সুতরাং বিচার করুন এবং যার রায় সঠিক তাকে সমর্থন করুন।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
দীওয়ানু লাবীদ ইবনে রাবীআতিল আমিরী
(পৃষ্ঠা: ২৭)
إنَّ الذي يَعْلُو عَلَيها تُرْتُبَا (1)
لخَيْرُنَا [عَمّاً] وأُمّاً وَأَبَا (2)
وَعَامِرٌ خَيْرُهُمَا مُركَّبَا (3)
وعَامِرٌ أدْنَى لقَيْسٍ نَسَبَا
هل تعرف الدارَ … ؟ [الرجز]
نسبها الجوهري للبيد وأنكر الصاغاني نسبتها وقال: ليس للبيد على هذا الرويّ شيء:
هَلْ تَعرِفُ الدَّارَ بسَفْحِ الشَّرْبَبَهْ (4)
مِن قُلَلِ الشِّحرِ فذاتِ العُنظُبَهْ (5)
جَرَّتْ علَيها، أنْ خوَتْ من أهلِها (6)
أذْيالَها كلُّ عَصُوفٍ حَصِبَهْ (7)
يَمَّمْنَ أعداداً بلُبْنَى أوْ أجَا (8)
--------------------------------------------
নিশ্চয় যিনি মর্যাদাগতভাবে তাদের ওপর শ্রেষ্ঠত্ব লাভ করেন (১)
তিনি [চাচা], মাতা ও পিতার দিক থেকে আমাদের মাঝে শ্রেষ্ঠ (২)
আর আমের তাদের উভয়ের মধ্যে বংশীয় উৎসে শ্রেষ্ঠ (৩)
এবং আমের কায়সের বংশের অধিক নিকটবর্তী
তুমি কি সেই গৃহকে চেন... … ? [রজজ ছন্দ]
জাওহারি এটি লাবিদের প্রতি সম্বন্ধ করেছেন, কিন্তু সাগানি এই সম্বন্ধ অস্বীকার করেছেন এবং বলেছেন: এই অন্ত্যমিলের ওপর লাবিদের কোনো পঙক্তি নেই:
তুমি কি শারবাবাহ-র পাদদেশে অবস্থিত সেই গৃহকে চেন? (৪)
শিহরের চূড়া থেকে আনজুবা নামক স্থান পর্যন্ত (৫)
যেহেতু তা তার অধিবাসীদের থেকে শূন্য হয়ে পড়েছে, তাই তার ওপর দিয়ে বয়ে গেছে (৬)
প্রতিটি প্রবল ধূলিময় বাতাসের আঁচল (৭)
তারা লুবনা অথবা আজা-র স্থায়ী জলাধারগুলোর দিকে যাত্রা করেছে (৮)
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
দীওয়ানু লাবীদ ইবনে রাবীআতিল আমিরী
(পৃষ্ঠা: ২৮)
مُضَفْدَعاتٌ كُلُّها مُطَحْلَبَهْ (1)
أرْوَى الأناويضَ وأرْوَى مِذنَبَهْ (2)
جلبنا الخيل [الوافر]
وأنشد ذات مرة:
فبِتْنا حَيْثُ أمْسِيْنَأ قَريباً
… على جَسَداءَ تَنبَحُنا الكَلِيبُ (3)
نَقَلْنَا سَبْيَهُمْ صِرْماً فصِرْماً
… إلى صِرْمٍ كَما نُقِلَ النّصِيبُ
غَضِبْنَا للّذي لاقَتْ نُفَيْلٌ
… وخيرُ الطّالبي الترَةِ الغَضُوبُ (4)
جَلَبْنَا الخَيْلَ سائِلَة ً عِجافاً
… منَ الضُّمرينِ يخبِطُها الضّريبُ (5)
--------------------------------------------
সবগুলো ব্যাঙাচ্ছন্ন এবং শৈবালদাম-আবৃত (১)
এটি সিক্ত করল জলপ্রবাহের নালাসমূহকে এবং সিক্ত করল তার নির্গমন পথকে (২)
আমরা অশ্বারোহী বাহিনী নিয়ে এলাম [আল-ওয়াফির ছন্দ]
এবং তিনি একবার আবৃত্তি করলেন:
আমরা রাত কাটালাম যেখানে আমাদের সন্ধ্যা হয়েছিল তার নিকটেই
… জাসাদা নামক স্থানে, যেখানে কুকুরগুলো আমাদের লক্ষ্য করে ঘেউ ঘেউ করছিল (৩)
আমরা তাদের যুদ্ধবন্দীদের এক দল এক দল করে সরিয়ে নিলাম
… অন্য এক দলের দিকে, যেভাবে প্রাপ্য অংশ সরিয়ে নেওয়া হয়
নুফাইল গোত্র যা কিছুর সম্মুখীন হয়েছে আমরা তার জন্য ক্রোধান্বিত হয়েছি
… আর প্রতিশোধ কামনাকারীদের মধ্যে সেই সর্বোত্তম যে রাগান্বিত হতে জানে (৪)
আমরা দ্রুতগামী কৃশকায় ঘোড়াগুলো নিয়ে এলাম
… দাউমারাইন পাহাড় হতে, প্রচণ্ড তুষারপাত যাদের আঘাত করছিল (৫)
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
দীওয়ানু লাবীদ ইবনে রাবীআতিল আমিরী
(পৃষ্ঠা: ২৯)
حرف الحاء
لو أنّ حيَّا مدرك الفَلاح [الرجز]
وقال في عمّه أبي براء مالك بن عامر ملاعب الأسنّة، وهي من أراجيز النواح؛ وكان عمّه قد شاخ وخالفت بنو عامر أوامره واتهمته بعزوب العقل، فشرب الخمر ثمّ اتكأ على سيفه وقتل نفسه:
قُوما [تَنُوحانِ] مَعَ الأنْوَاحِ (1)
في مأتَمٍ مٌهَجِّرِ الرَّوِاحِ
يَخْمِشْنَ حُرَّ أوْجُهٍ صِحَاحِ
في السُّلُبِ السُّودِ وفي الأمْسَاحِ (2)
وَأبِّنا مُلاعِبَ الرِّمَاحِ
أبَا بَرَاءٍ مِدْرَهَ الشِّيَاحِ (3)
يا عامِرا يا عَامِرَ الصَّبَاحِ
ومِدْرَهَ الكَتيبَةِ الرَّداحِ (4)
--------------------------------------------
বর্ণ হা
যদি কোনো জীবিত ব্যক্তি মুক্তি বা সফলতা লাভ করতে পারত [রাজাজ ছন্দ]
তিনি তাঁর চাচা আবু বারা মালিক ইবনে আমির সম্পর্কে এ কথা বলেছেন, যাঁর উপাধি ছিল 'মুলাইবুল আসিন্না' (বর্শা নিয়ে ক্রীড়াকারী); এটি শোকগাথার অন্তর্ভুক্ত। তাঁর চাচা বার্ধক্যে উপনীত হয়েছিলেন এবং বনু আমির গোত্র তাঁর অবাধ্য হয়েছিল ও তাঁর বুদ্ধিলোপের অভিযোগ তুলেছিল। ফলে তিনি মদ্যপান করেন এবং নিজের তরবারির ওপর ভর দিয়ে আত্মহত্যা করেন:
তোমরা দুজনে ওঠো [বিলাপকারিনী হিসেবে], অন্য বিলাপকারিনীদের সাথে
এমন এক জানাজায় বা শোকসভায়, যা সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত প্রলম্বিত
তারা সুস্থ ও সুন্দর চেহারার চামড়ায় আঁচড় কাটছে
কালো শোকবস্ত্র এবং পশমি মোটা পোশাক পরিহিত অবস্থায়
আর তোমরা সেই বর্শা নিয়ে ক্রীড়াকারীর গুণগান ও শোকগাথা বর্ণনা করো
আবু বারা, যিনি কঠিন যুদ্ধের সময় অকুতোভয় পথপ্রদর্শক
হে আমির, হে সুপ্রভাতের বীর আমির
এবং সেই বিশাল ও মহাবিক্রমী সৈন্যবাহিনীর পরিচালক
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
দীওয়ানু লাবীদ ইবনে রাবীআতিল আমিরী
(পৃষ্ঠা: ৩০)
وفِتْيَةٍ كالرَّسَلِ القِمَاحِ (1)
بَاكَرْتَهُمْ بِحُلَبٍ ورَاحِ
وزَعْفرانٍ كَدَمِ الأذْبَاحِ (2)
وَقَيْنَةٍ ومِزْهَرٍ صَدَّاحِ
لَوْ أنَّ حَيّاً مُدْرِك الفَلاحِ
أدْرَكَهُ مُلاعِبُ الرَّمَاحِ
كامَ غِياثِ المُرْمِلِ المُمْتَاحِ (3)
وعِصْمَةً في الزَّمَنِ الكَلاحِ (4)
حينَ تَهُبُّ شَمْألُ الرِّياحِ
كأساً من الذِّسفانِ والذُّبَاحِ (5)
تَرَكْتَهُ للقَدَرِ المُتَاحِ
مُجَدَّلاً بالصَّفْصَفِ الصَّحَاحِ (6)
--------------------------------------------
এবং একদল যুবক যেন মস্তক উত্তোলিত উটের পালের ন্যায় (১)
আমি প্রভাতে তাদের নিকট উপস্থিত হলাম দোহনকৃত দুধ ও সুরা নিয়ে
এবং জাফরান নিয়ে যা যবাইকৃত পশুর রক্তের ন্যায় (২)
এবং গায়িকা ও উচ্চস্বরে রণিত বীণা নিয়ে
যদি কোনো জীবিত ব্যক্তি সফলতা অর্জনকারী হতো
তবে বর্শা চালক নিপুণ যোদ্ধা অবশ্যই তাকে পেয়ে যেত
নিঃস্ব ও সাহায্যপ্রার্থীর ত্রাতার ন্যায় (৩)
এবং চরম দুর্ভিক্ষের সময়ে আশ্রয়স্থল হিসেবে (৪)
যখন উত্তরী বাতাস প্রবাহিত হয়
তীব্র বিষ ও প্রাণঘাতী হলাহলের পেয়ালা স্বরূপ (৫)
তুমি তাকে নির্ধারিত ভাগ্যের হাতে সমর্পণ করলে
বিজন সমতল ভূমিতে ভূলুণ্ঠিত অবস্থায় (৬)
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
দীওয়ানু লাবীদ ইবনে রাবীআতিল আমিরী
(পৃষ্ঠা: ৩১)
حرف الدال
أولئك أسرتي [الوافر]
يبدو أن عقبة بن عتبة بن مالك بن جعفر وندماناً له تهجما بشيءٍ على لبيد فقال يردّ عليهما ويفتخر بأعمامه وبأخواله وبأبيه الذي كان ربيعاً لليتامى ويتحدى هذين الرجلين، وفي البيتين الأوّلين روح دينيّة إسلاميّة:
حَمِدْتُ اللّهَ، واللّهُ الحَميدُ
… وللهِ المُؤثَّلُ والعَديدُ
فإنَّ اللّهَ نافِلَة ٌ تُقاهُ
… وَلا [يَقتالُها] إلَاّ سَعِيدُ (1)
ولَستُ كمَا يَقولُ أبو حُفَيْدٍ
… وَلا نَدْمانُهُ الرِّخْوُ البَليدُ (2)
فعَمّي ابنُ الحَيَا وأبُو شُرَيْحٍ
… وعمّي خالِدٌ حَزْمٌ وجُودُ (3)
وجدّي فارِسُ الرّعْشاءِ مِنْهمُْ
… رئيسٌ لا أسَرُّ وَلا سَنيدُ (4)
وَشارَفَ في قُرَى الأرْيافِ خَالي
… وأُعْطيَ فوقَ ما يُعْطَى الوُفُودُ (5)
--------------------------------------------
দাল বর্ণ
তারাই আমার পরিবার [ওয়াফির ছন্দ]
ধারণা করা হয় যে, উকবাহ বিন উতবাহ বিন মালিক বিন জাফর এবং তার এক সঙ্গী লাবীদকে কোনো বিষয়ে কটাক্ষ করেছিলেন। এর উত্তরে তিনি নিজের পিতৃব্য, মাতুল এবং তাঁর পিতার—যিনি এতিমদের জন্য বসন্তের মতো দানশীল ছিলেন—গৌরবগাথা বর্ণনা করে এবং এই দুই ব্যক্তিকে চ্যালেঞ্জ জানিয়ে কবিতাটি রচনা করেন। এর প্রথম দুটি চরণে ইসলামি ধর্মীয় চেতনার প্রতিফলন ঘটেছে:
আমি আল্লাহর প্রশংসা করেছি, আর আল্লাহই চির প্রশংসিত
… আর আল্লাহর জন্যই সমস্ত সুপ্রতিষ্ঠিত সম্পদ ও লোকবল।
নিশ্চয়ই আল্লাহর তাকওয়া বা খোদাভীতি একটি বিশেষ দান
… যা কেবল ভাগ্যবান ব্যক্তিই [অর্জন] করতে পারে। (১)
আমি তেমন নই যেমনটি আবু হুফাইদ বলে
… আর না তার সেই দুর্বল ও নির্বোধ মদ্যপ সঙ্গী যেমন বলে। (২)
আমার পিতৃব্য হলেন ইবনুল হায়া এবং আবু শুরাইহ
… আর আমার চাচা খালিদ হলেন দৃঢ়তা ও বদান্যতার মূর্ত প্রতীক। (৩)
তাঁদের মধ্যে আমার দাদাই ছিলেন আর-রা’শা নামক ঘোড়ার আরোহী
… তিনি এমন এক নেতা যার কোনো শারীরিক ত্রুটি ছিল না এবং তিনি বহিরাগতও ছিলেন না। (৪)
আমার মামা গ্রামাঞ্চলের জনপদগুলোতে উচ্চ মর্যাদা লাভ করেছিলেন
… আর তাঁকে সাধারণ প্রতিনিধিদলকে যা দেওয়া হয় তার চেয়েও অধিক প্রদান করা হয়েছিল। (৫)
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
দীওয়ানু লাবীদ ইবনে রাবীআতিল আমিরী
(পৃষ্ঠা: ৩২)
وَجَدْتُ أبي رَبيعاً لليَتامَى
… وللأضْيافِ إذْ حُبَّ الفَئيدُ (1)
وخالي خِدْيَمٌ وأبُو زُهَيرٍ
… وزنْباعٌ وموْلاهُمْ أسِيدُ
وقَيسٌ رَهطُ آل أبي أُسَيْمٍ
… فإنْ قايَسْتَ فانْظُرْ ما تُفِيدُ (2)
أُولئِكَ أُسْرَتي فاجْمَعْ إليَهِمْ
… فمَا في شُعْبَتَيْكَ لَهُمْ نَدِيدُ
إنّ البريءَ على الهناتِ سعيد [الكامل]
وقال يذكر طول عمره وسأمه من الحياة ويتحدّث عن مآثره ومقاماته ويوازن بين ما كان وما صار إليه من ضعف وشيخوخة:
قُضِيَ الأُمورُ وأُنْجِزَ المَوعودُ
… واللهُ ربّي ماجدٌ محمودُ
ولهُ الفَواضِلُ والنَّوافِلُ والعُلا
… ولَهُ أثيثُ الخَيرِ والمَعْدُودُ (3)
ولَقَد بَلَتْ إرَمٌ وعادٌ كَيْدَهُ
… وَلَقَد بَلَتْهُ بَعدَ ذاكَ ثَمُودُ
خَلُّوا ثِيابَهُمُ على عَوْراتِهِمْ
… فهُمُ بأفنِيَةِ البُيُوتِ هُمُودُ (4)
وَلقَد سَئِمتُ منَ الحَياةِ وطولِها
… وسُؤالِ هذا النّاسِ كَيفَ لَبيدُ
وغَنيتُ سَبتاً [قبلَ] مُجرَى داحسٍ
… لوْ كانَ للنَّفسِ اللَّجوجِ خُلُودُ (5)
--------------------------------------------
আমি আমার পিতাকে অনাথদের জন্য বসন্তকাল হিসেবে পেয়েছি
… এবং অতিথিদের জন্য (আশ্রয়স্থল), যখন উত্তপ্ত রুটি পছন্দ করা হয় (১)
আমার মামা হলেন খিদয়াম ও আবু যুহায়ের
… এবং যানবা’ ও তাদের মিত্র আসীদ
আর কায়স হলো আল আবু উসায়মের গোত্র
… সুতরাং তুমি যদি শ্রেষ্ঠত্বের তুলনা করতে চাও, তবে দেখো তুমি কী লাভ করো (২)
এরাই আমার পরিবার, তাই তাদের সাথে অন্যদেরও যুক্ত করো
… কেননা তোমার বংশের দুই শাখার মাঝে তাদের কোনো সমকক্ষ নেই
ত্রুটি থাকা সত্ত্বেও নির্দোষ ব্যক্তি সৌভাগ্যবান [কামিল ছন্দ]
তিনি তার দীর্ঘায়ু এবং জীবনের প্রতি তার ক্লান্তি উল্লেখ করে বলেন, এবং তার গৌরবময় কাজ ও মর্যাদার কথা আলোচনা করেন; আর তিনি অতীতে যা ছিলেন এবং বার্ধক্য ও দুর্বলতার কারণে বর্তমানে যা হয়েছেন তার মধ্যে তুলনা করেন:
বিষয়সমূহ মীমাংসিত হয়েছে এবং প্রতিশ্রুতি পূর্ণ হয়েছে
… আর আল্লাহ আমার পালনকর্তা, অতিশয় সম্মানিত ও প্রশংসিত
শ্রেষ্ঠত্ব, অতিরিক্ত দান এবং উচ্চ মর্যাদা তাঁরই
… আর প্রচুর ও অগণিত কল্যাণ তাঁরই নিকট (৩)
নিশ্চয়ই ইরাম ও আদ জাতি তাঁর কৌশলের পরীক্ষা দিয়েছে
… আর এরপর সামুদ জাতিও তা প্রত্যক্ষ করেছে
তারা তাদের আব্রু আবৃত রেখেই পোশাক ত্যাগ করে চলে গিয়েছে
… অতঃপর তারা তাদের গৃহের প্রাঙ্গণে নিথর ও প্রাণহীন পড়ে আছে (৪)
আমি এই জীবন এবং এর দীর্ঘতা থেকে ক্লান্ত হয়ে পড়েছি
… এবং মানুষের এই জিজ্ঞাসা থেকে যে, লাবীদ কেমন আছে?
আমি দাহিস যুদ্ধের আগে দীর্ঘকাল যাবৎ বসবাস করেছি
… যদি এই নাছোড়বান্দা প্রাণের কোনো চিরস্থায়িত্ব থাকতো (৫)
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
দীওয়ানু লাবীদ ইবনে রাবীআতিল আমিরী
(পৃষ্ঠা: ৩৩)
وشَهِدتُ أنْجِيَةَ الأُفاقَةِ عالِياً
… كَعبي، وأرْدافُ المُلوكِ شُهودُ (1)
وأبُوكِ بُسْرٌ لا يُفَنَّدُ عُمْرَهُ
… وإلى بِلَى ً ما يُرْجَعَنَّ جَديدُ (2)
غَلَبَ العَزاءَ وكُنتُ غيرَ مُغَلَّبٍ
… دَهْرٌ طَويلٌ دائِمٌ مَمدُودُ
يَومٌ إذا يأتي عَليَّ ولَيلَة ٌ
… وكِلاهُما بَعْدَ المَضاء يَعُودُ
وأراهُ يأتي مثْلَ يَوْمِ لَقِيتُهُ
… [لم يَنصرِمُ] وضَعُفْتُ وَهوَ شَديدُ (3)
وحَمَيتُ قَوْمي إذْ دَعَتني عامِرٌ
… وَتَقَدَّمَتْ يوْمَ الغَبيطِ وُفُودُ
وتَداكأتْ أركانُ كلِّ قَبيلَةٍ
… وفَوارِسُ الملكِ الهُمامِ تَذودُ (4)
أكرَمتُ عِرْضي أن يُنالَ بنَجْوَة ٍ
… إنَّ البريء منَ الهَنَاتِ سَعيدُ (5)
ما إنْ أهابُ إذا السُّرادِقُ غَمَّهُ
… قرعُ القسيُّ وأرعشَ الرّعديدُ (6)
يا عينُ هلّا بكيتِ أربدَ [المنسرح]
وقال يرثي أربد بن قيس بن جزء وكان أخا لبيد لأمه، وقد وفد على الرسول -في عام الوفود- مع عامر بن الطفبل وجابر بن سلمى بن مالك، فعرض الرسول عليهم الإسلام
--------------------------------------------
আমি উফাকার উচ্চতর মজলিসগুলোতে সুউচ্চ মর্যাদা নিয়ে উপস্থিত হয়েছি
… আর রাজাদের সহচররা তার সাক্ষী। (১)
তোমার পিতা হলেন বুসর, যার সারা জীবন কখনও অবজ্ঞার পাত্র হয়নি
… আর জীর্ণ হয়ে যাওয়ার পর কোনো নতুনই আর ফিরে আসে না। (২)
দীর্ঘ, চিরস্থায়ী এবং প্রলম্বিত সময় আমার ধৈর্যকে পরাস্ত করেছে, অথচ ইতিপূর্বে আমি অপরাজিত ছিলাম
…একটি দিন এবং একটি রাত যখন আমার ওপর আসে
… তারা উভয়েই অতিবাহিত হওয়ার পর পুনরায় ফিরে আসে।
আমি তাকে এমনভাবেই আসতে দেখি যেমনটি তাকে প্রথম দেখার দিনে দেখেছিলাম
… [তা শেষ হয়ে যায়নি] অথচ আমি দুর্বল হয়ে পড়েছি আর সে এখনও শক্তিশালী। (৩)
আমি আমার কওমকে রক্ষা করেছি যখন আমির গোত্র আমাকে আহ্বান করেছিল
… এবং গাবীতের যুদ্ধের দিন প্রতিনিধি দলগুলো অগ্রসর হয়েছিল।
প্রতিটি গোত্রের স্তম্ভগুলো একে অপরের ওপর ভিড় করছিল
… আর মহৎ রাজার অশ্বারোহীরা তাদের প্রতিহত করছিল। (৪)
আমি আমার সম্মানকে রক্ষা করেছি যেন তা কোনো উচ্চস্থান থেকেও আক্রান্ত না হয়
… নিশ্চয়ই দোষত্রুটি থেকে মুক্ত ব্যক্তিই সৌভাগ্যবান। (৫)
আমি ভয় পাই না যখন তাঁবুর বাসিন্দাদের ওপর ছেয়ে যায়
… ধনুকের আওয়াজ এবং কাপুরুষরা কাঁপতে থাকে। (৬)
হে চক্ষু! তুমি কি আরবাদের জন্য কাঁদবে না? [মানসারীহ ছন্দ]
তিনি আরবাদ বিন কাইস বিন জুজ-এর স্মরণে শোকগাঁথা পাঠ করেছেন, যিনি ছিলেন লাবীদের বৈমাত্রেয় ভাই। তিনি প্রতিনিধি প্রেরণের বছর (আমুল উফুদ) আমির বিন তুফাইল এবং জাবির বিন সালমা বিন মালিকের সাথে রাসুলের নিকট প্রতিনিধি হিসেবে এসেছিলেন এবং রাসুল তাদের নিকট ইসলাম পেশ করেছিলেন।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
দীওয়ানু লাবীদ ইবনে রাবীআতিল আমিরী
(পৃষ্ঠা: ৩৪)
فلم يسلموا، وفي عودتهم توفيّ عامر بالطاعون، وأصابت أريد صاعقة فأحرقته، فذلك قوله: (فجعني الرعد والصواعق بالفارس
… )
ما إنْ تُعَرّي المَنُونُ مِنْ أحَدِ
… لا والِدٍ مُشفِقٍ وَلا وَلَدِ
أخشَى على أَرْبَدَ الحُتُوفَ وَلا
… أرْهَبُ نَوْءَ السِّماكِ والأسَدِ
فَجَّعَني الرَّعدُ والصَّواعِقُ بالـ
… فارِسِ يومَ الكَرِيهَةِ النّجُدِ
الحارِبِ الجابِرِ الحَريبَ إذا
… جاء نَكيباً وإنْ يَعُدْ يَعُدِ (1)
يَعْفُو عَلى الجَهْدِ والسّؤالِ كما
… أُنْزِلَ صَوْبُ الرَّبيعِ ذي الرَّصَدِ (2)
لمْ يُبْلِغِ العَينَ كُلَّ نَهْمَتِها
… لَيلَة َ تُمسي الجِيادُ كالقِدَدِ (3)
كُلُّ بَني حُرَّة ٍ مَصِيرُهُمُ
… قُلٌّ وإنْ أكثَرْتَ مِنَ العَدَدِ
إنْ يُغْبَطُوا يُهْبَطُوا وإنْ أَمِرُوا
… يَوْماً يَصِيرُوا [للهُلْكِ] والنَّكَدِ (4)
يا عَينُ هَلَاّ بَكَيْتِ أرْبَدَ إذْ
… قُمْنا وقامَ الخُصُومُ في كَبَدِ
وعَينِ هَلَاّ بَكَيْتِ أرْبَدَ إذْ
… ألْوَتْ رِياحُ الشّتاء بالعَضَدِ (5)
فأصْبَحَتْ لاقِحاً مُصَرَّمَة ً
… حينَ تَقَضَّتْ غَوابِرُ المُدَدِ (6)
إنْ يَشْغَبُوا لا يُبَالِ شَغْبَهُمُ
… أوْ يَقْصِدوا في الحُكومِ يَقْتَصِدِ (7)
--------------------------------------------
ফলে তারা ইসলাম গ্রহণ করেনি; আর ফেরার পথে আমির প্লেগ রোগে মারা গেল এবং আরবাদকে একটি বজ্র আঘাত করে তাকে জ্বালিয়ে দিল। এটিই হলো সেই কথা (কাব্য): (বজ্র এবং কড়কড়ানি আমাকে সেই বীরপুরুষের বিয়োগে শোকার্ত করেছে...)
মৃত্যু কাউকেই রেহাই দেয় না... না কোনো মমতাময়ী পিতাকে, আর না কোনো সন্তানকে।
আমি আরবাদের জন্য মৃত্যুর ভয়ে ভীত ছিলাম, অথচ আমি সিমাখ বা আসাদের (নক্ষত্রপুঞ্জের) ঝড়কে ভয় পেতাম না।
বজ্র এবং কড়কড়ানি আমাকে সেই বীরপুরুষের বিয়োগে ব্যথিত করেছে, যিনি যুদ্ধের বিভীষিকাময় দিনে ছিলেন অত্যন্ত সাহসী।
যিনি শত্রুর সম্পদ ছিনিয়ে নিতেন এবং রিক্তহস্ত ব্যক্তিকে সাহায্য করতেন যখন সে বিপদগ্রস্ত হয়ে আসত; আর তিনি বারবারই তা করতেন। (১)
তিনি অভাব ও প্রার্থনার প্রেক্ষিতে অকাতরে দান করতেন, যেমনভাবে বর্ষিত হয় বসন্তের বৃষ্টি যা একের পর এক আসতেই থাকে। (২)
সেটি চোখকে তার পূর্ণ আকাঙ্ক্ষায় পৌঁছাতে দেয়নি, এমন এক রাতে যখন ঘোড়াগুলো চামড়ার ফিতার মতো জীর্ণ হয়ে পড়েছিল। (৩)
প্রত্যেক স্বাধীন মাতার সন্তানের শেষ পরিণতি হলো ধ্বংস হওয়া, যদিও তুমি তাদের সংখ্যা অনেক বাড়িয়ে দেখাও।
যদি তারা ঈর্ষণীয় অবস্থায় থাকে তবে তারা নিচে নেমে আসবে, আর যদি তারা কোনোদিন সংখ্যায় বা ক্ষমতায় বৃদ্ধি পায় তবে তারা শেষ পর্যন্ত ধ্বংস ও দুর্দশার দিকেই যাবে। (৪)
হে চক্ষু! তুমি কেন আরবাদের জন্য কাঁদলে না যখন আমরা দাঁড়িয়েছিলাম এবং আমাদের প্রতিপক্ষরাও কঠোর পরিশ্রম ও কষ্টে দাঁড়িয়েছিল।
হে চক্ষু! তুমি কেন আরবাদের জন্য কাঁদলে না যখন শীতের বাতাস শুকনো ডালপালাকে উড়িয়ে নিয়ে গিয়েছিল। (৫)
ফলে সেটি এমন গাভীতে পরিণত হয়েছিল যার ওলান কাটা এবং যার দুধ নেই, যখন পূর্ববর্তী সময়গুলো অতিবাহিত হয়ে গেল। (৬)
তারা যদি বিবাদ করে তবে তিনি তাদের বিবাদের তোয়াক্কা করতেন না, আর যদি তারা বিচারে ন্যায়নিষ্ঠ হতে চায় তবে তিনিও ন্যায়পরায়ণ থাকতেন। (৭)
--------------------------------------------