(খণ্ড: ১)
হুসনুল উসওয়াহ বিমা সাবাতা মিনাল্লাহি ওয়া রাসূলিহী ফিন নিসওয়াহ
(পৃষ্ঠা: -)
حسن الأسوة بما ثبت من الله ورسوله في النسوة القسم: الفقه العام
الكتاب: حسن الأسوة بما ثبت من الله ورسوله في النسوة
المؤلف: أبو الطيب محمد صديق خان بن حسن بن علي ابن لطف الله الحسيني البخاري القِنَّوجي (المتوفى: 1307 هـ)
المحقق: د مصطفى الخن [ت 1429 هـ]- محي الدين مستو [ت 1442 هـ]
الناشر: مؤسسة الرسالة - بيروت
الطبعة: الثانية، 1401 هـ/ 1981 م
عدد الصفحات: 593
[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]
تاريخ النشر بالشاملة: 8 ذو الحجة 1431
হুসনুল উসওয়াহ বিমা সাবাতা মিনাল্লাহি ওয়া রাসূলিহি ফিন নিসওয়াহ বিভাগ: সাধারণ ফিকহ
গ্রন্থ: হুসনুল উসওয়াহ বিমা সাবাতা মিনাল্লাহি ওয়া রাসূলিহি ফিন নিসওয়াহ
লেখক: আবু আল-তাইয়িব মুহাম্মদ সিদ্দিক খান বিন হাসান বিন আলী ইবনে লুৎফুল্লাহ আল-হুসাইনি আল-বুখারি আল-কান্নওজি (মৃত্যু: ১৩০৭ হিজরি)
গবেষক: ড. মুস্তফা আল-খিন [মৃত্যু ১৪২৯ হিজরি]- মহিউদ্দিন মিস্তু [মৃত্যু ১৪৪২ হিজরি]
প্রকাশনী: মুয়াসসাসাতুর রিসালাহ - বৈরুত
সংস্করণ: দ্বিতীয়، ১৪০১ হিজরি/ ১৯৮১ খ্রিস্টাব্দ
পৃষ্ঠা সংখ্যা: ৫৯৩
[গ্রন্থের পৃষ্ঠা নম্বর মূল মুদ্রণ কপির সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ]
শামেলা-তে প্রকাশের তারিখ: ৮ জিলহজ ১৪৩১
(খণ্ড: ১)
হুসনুল উসওয়াহ বিমা সাবাতা মিনাল্লাহি ওয়া রাসূলিহী ফিন নিসওয়াহ
(পৃষ্ঠা: -)
ـ[حسن الأسوة بما ثبت من الله ورسوله في النسوة]ـ
المؤلف: أبو الطيب محمد صديق خان بن حسن بن علي ابن لطف الله الحسيني البخاري القِنَّوجي (المتوفى: 1307هـ)
المحقق: د مصطفى الخن - ومحي الدين ستو
الناشر: مؤسسة الرسالة - بيروت
الطبعة: الثانية، 1401هـ/ 1981م
عدد الأجزاء: 1
[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]
ـ[হাসান আল-উসওয়াহ বিমা সাব্যস্ত মিনাল্লাহি ওয়া রাসূলিহি ফিন নিসওয়াহ]ـ
লেখক: আবু আল-তায়্যিব মুহাম্মদ সিদ্দিক খান বিন হাসান বিন আলী ইবনে লুতফুল্লাহ আল-হুসাইনী আল-বুখারী আল-কান্নুজী (মৃত্যু: ১৩০৭ হিজরি)
সম্পাদক: ড. মুস্তফা আল-খিন এবং মুহিউদ্দিন সিততু
প্রকাশক: মুয়াসসাসাতুর রিসালাহ - বৈরুত
সংস্করণ: দ্বিতীয়, ১৪০১ হিজরি/ ১৯৮১ খ্রিস্টাব্দ
খণ্ড সংখ্যা: ১
[বইয়ের পৃষ্ঠা নম্বর মূল মুদ্রণের অনুরূপ]
(খণ্ড: ১)
হুসনুল উসওয়াহ বিমা সাবাতা মিনাল্লাহি ওয়া রাসূলিহী ফিন নিসওয়াহ
(পৃষ্ঠা: ১৫)
مُقَدّمَة الْمُؤلفلَا يخفى عَلَيْك أَن النِّسَاء نصف هَذِه الْأمة بل أَكْثَرهَا وَهن شقائق الرِّجَال فِي جَمِيع مَا ورد من الشَّرِيعَة الحقة إِلَّا أَشْيَاء خصهن الله تَعَالَى وَرَسُوله بهَا من دون الرِّجَال وَقد تفضل عَلَيْهِنَّ كَمَا تفضل عَلَيْهِم بأنواع من الإفضال فَلَهُنَّ مَا لَهُم وعليهن مَا عَلَيْهِم فِي جملَة الشَّرَائِع وَالْأَحْكَام وَهِي أَبْوَاب كَثِيرَة طيبَة جدا لَا يَتَّسِع لذكرها الْمقَام كَيفَ وَمَا من خِصَال حَسَنَة نزل بهَا الْقُرْآن والْحَدِيث إِلَّا وَهِي مَطْلُوب مِنْهُنَّ فعلهَا وَمَا من شيم سَيِّئَة نطق بهَا الْكتاب وَالسّنة إِلَّا وَهِي مَقْصُود مِنْهُنَّ تَركهَا لكني خصصت هَذَا الْكتاب بِبَيَان مَا ورد فِي ذكرهن على الْخُصُوص وَهَذَا شطر علم من عُلُوم الدَّين وشطره الْبَاقِي مُشْتَرك بَينهم وبينهن بِالْيَقِينِ
وَكم من تفاسير للآيات الْبَينَات وَرِوَايَات الْأَحَادِيث والدرايات جاءتنا من قبل نسَاء الْأَنْصَار والمهاجرات حَتَّى إِن نصف هَذَا الْعلم نقل إِلَيْنَا من عالمتهن عَائِشَة الصديقة رضي الله عنها وَكَانَت أعلمهن بأيام الله وأشعار الْعَرَب وَأَسْبَاب نزُول الْآي وأرواهن لأحاديثه صلى الله عليه وسلم وَآله من أَبْوَاب كَثِيرَة من الشَّرَائِع وَكَانَ لَهَا قُوَّة الِاجْتِهَاد فِي عُلُوم الْملَّة الصادقة
فَمن أتاح الله لَهُ علم هَذَا الْكتاب وَكَانَ قد رزق سائره الْمُشْتَرك
লেখকের ভূমিকাআপনার নিকট এটি অস্পষ্ট নয় যে, নারীরা এই উম্মতের অর্ধেক, বরং অধিকাংশ। তারা সত্য শরিয়তের প্রতিটি বিষয়েই পুরুষদের সহোদরা সদৃশ, কেবল সেই বিষয়গুলো ব্যতীত যা আল্লাহ তাআলা ও তাঁর রাসূল পুরুষদের বাদ দিয়ে বিশেষভাবে তাদের জন্য নির্দিষ্ট করেছেন। আল্লাহ যেমন তাদের ওপর অনুগ্রহ করেছেন তেমনি পুরুষদের ওপরও নানাবিধ অনুগ্রহ করেছেন। সুতরাং শরিয়তের সামগ্রিক বিধান ও আহকাম (أحكام)-এর ক্ষেত্রে পুরুষদের যা প্রাপ্য তাদেরও তা প্রাপ্য এবং পুরুষদের ওপর যা অর্পিত হয়েছে তাদের ওপরও তা অর্পিত হয়েছে। এ সংক্রান্ত অধ্যায়গুলো অত্যন্ত ব্যাপক ও উত্তম, যা বিস্তারিত আলোচনার অবকাশ এখানে নেই। কীভাবে নয়, অথচ কুরআন ও হাদিসে এমন কোনো উত্তম গুণাবলি অবতীর্ণ হয়নি যা তাদের জন্য পালনীয় নয় এবং কিতাব ও সুন্নাহতে এমন কোনো মন্দ স্বভাবের কথা বলা হয়নি যা তাদের জন্য বর্জনীয় নয়। তবে আমি এই কিতাবটিকে বিশেষভাবে কেবল নারীদের সম্পর্কে যা বর্ণিত হয়েছে তা আলোচনার জন্য নির্দিষ্ট করেছি। এটি দ্বীনি ইলমের একটি অংশ, আর অবশিষ্ট অংশটি নিশ্চিতভাবেই পুরুষ ও নারী উভয়ের মধ্যে সাধারণ।
সুস্পষ্ট আয়াতসমূহের কতই না তাফসির এবং হাদিসের বর্ণনা (روايات) ও বিশ্লেষণ (درايات) আমাদের নিকট আনসার ও মুহাজির নারীদের পক্ষ থেকে পৌঁছেছে। এমনকি এই ইলমের অর্ধেক অংশ আমাদের নিকট বর্ণিত হয়েছে তাদের মধ্যে মহীয়সী বিদুষী আয়েশা সিদ্দিকা (রা.)-এর মাধ্যমে। তিনি আল্লাহর দিবসসমূহ (ইতিহাস), আরবদের কবিতা এবং আয়াত অবতীর্ণ হওয়ার প্রেক্ষাপট (أسباب النزول) সম্পর্কে তাদের মাঝে সর্বাধিক বিজ্ঞ ছিলেন এবং শরিয়তের বহু অধ্যায় থেকে রাসূলুল্লাহ (সা.)-এর হাদিসসমূহের অধিক বর্ণনাকারী (رواة) ছিলেন। অধিকন্তু সত্য মিল্লাতের ইলমের ক্ষেত্রে তাঁর ইজতিহাদ (اجتهاد) করার বিশেষ সক্ষমতা ছিল।
সুতরাং আল্লাহ যাকে এই কিতাবের ইলম দান করেছেন এবং যাকে অপরাপর সাধারণ জ্ঞান দান করা হয়েছে...
(খণ্ড: ১)
হুসনুল উসওয়াহ বিমা সাবাতা মিনাল্লাহি ওয়া রাসূলিহী ফিন নিসওয়াহ
(পৃষ্ঠা: ১৬)
بَينهمَا من قبل فقد فَازَ بالقدح الْمُعَلَّى فِي مجَالِس أولي الْعلم والألباب وَإِيَّاك أَن تمر بِمَا فِي هَذَا السّفر من نفائس الْأَخْبَار والْآثَار ومحاسن آيَات الله الْوَاحِد الْغفار على غَفلَة مِنْك غير مبال بهَا بل عَلَيْك أَن تستفيد بِتِلْكَ الدَّلَائِل وتستفيد بتيك المخايل وتشيعها فِيهِنَّ وتحملهن على تعلمه وتعليمه لغيرهن مَا استطعن فان الله شَاكر لمن شكر ذَاكر لمن ذكر غَافِر لمن تَابَ وأناب إِلَيْهِ واستغفر والسعيد من وعظ بِغَيْرِهِ وتحلى بِعلم كل أَمر مِنْهُنَّ شَره وخيره
وَإِذا عسر عَلَيْك فهم شَيْء من مباني الْآي وَالسّنَن ومعانيها فَارْجِع إِلَى تفاسير الْكتاب الْمُعْتَمد عَلَيْهَا فِي هَذَا الْبَاب وشروح كتب الصِّحَاح وَالسّنَن من جمَاعَة من أهل الْأَلْبَاب كفتح الْبَيَان وَفتح الْبَارِي وَالرَّوْضَة الندية والنيل والسيل وَأَخَوَاتهَا فَإِن فِيهَا مَا يرشدك إِلَى الْحق بِالْقبُولِ والاتباع ويغنيك عَن الْميل إِلَى كتب الْفُرُوع الَّتِي لفقها أهل الرَّأْي وأرباب الابتداع وَلَو لم أكن فِي شغل شاغل وفكر هائل لأتيتك بذلك كُله ونبأتك بكثيره وقله وَحَيْثُ إِن آيَات الْكتاب متصفة بِالْبَيِّنَاتِ وَأَحَادِيث النَّبِي صلى الله عليه وسلم مَوْصُوفَة بِأَن لَيْلهَا كنهارها فِي الوضوح واللمعات لَا يحْتَاج الْعَالم بهما وعارفهما إِلَى غَيرهمَا فِي هَذِه الشَّرَائِع والأبواب إِن شَاءَ الله تَعَالَى فَهَذَا الْكتاب مَعَ اختصاره واقتصاره فِي جمع آيَاته وآثاره بَين لَا يتقنع وجلي لَا يتبرقع وَفِيه كِفَايَة ومقنع وبلاغ لمن لَهُ هِدَايَة فاصبر عَلَيْهِ صبرا جميلا فَخير الحَدِيث كتاب الله وَخير الْهدى هدي مُحَمَّد وَشر الْأُمُور محدثاتها وكل بِدعَة ضَلَالَة وَمن أصدق من الله وَرَسُوله قيلا وَبِأَيِّ حَدِيث بعده يُؤمنُونَ وَسَيعْلَمُ الَّذين ظلمُوا أَي مُنْقَلب يَنْقَلِبُون
তাদের মধ্যবর্তী বিষয়ে, তবে তিনি জ্ঞানবান ও প্রজ্ঞাবানদের মজলিসসমূহে সর্বোচ্চ মর্যাদা অর্জন করেছেন। সাবধান! এই গ্রন্থে বর্ণিত হাদীস ও আসার (آثار)-এর অমূল্য রত্নরাজি এবং এক ও পরম ক্ষমাশীল আল্লাহর নিদর্শনাবলীর সৌন্দর্য যেন তোমার নিকট থেকে অসতর্কাবস্থায় গুরুত্বহীনভাবে অতিবাহিত না হয়। বরং তোমার উচিত এই প্রমাণাদি থেকে উপকৃত হওয়া এবং এই সকল নিদর্শন থেকে শিক্ষা গ্রহণ করা এবং নারীদের মধ্যে তা প্রচার করা। সামর্থ্য অনুযায়ী তাদের তা শেখার ও অন্য নারীদের শেখানোর প্রতি উদ্বুদ্ধ করা। কারণ আল্লাহ কৃতজ্ঞদের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন, স্মরণকারীকে স্মরণ করেন এবং যে ব্যক্তি তওবা ও প্রত্যাবর্তন করে এবং ক্ষমা প্রার্থনা করে, তাকে তিনি ক্ষমা করেন। আর সেই ব্যক্তিই সৌভাগ্যবান যে অন্যের অবস্থা দেখে উপদেশ গ্রহণ করে এবং প্রতিটি বিষয়ের কল্যাণ ও অকল্যাণের জ্ঞান দ্বারা নিজেকে সুশোভিত করে।
আর যদি তোমার নিকট কুরআনের আয়াতের গঠন ও সুন্নাহর শব্দাবলী এবং তার মর্মার্থ অনুধাবন করা কঠিন হয়, তবে এই বিষয়ে কিতাবুল্লাহর নির্ভরযোগ্য তাফসীরসমূহ এবং প্রজ্ঞাবান পণ্ডিতদের সংকলিত সহিহ ও সুনান গ্রন্থসমূহের ব্যাখ্যাগ্রন্থের শরণাপন্ন হও। যেমন: ফাতহুল বয়ান, ফাতহুল বারী, আর-রাওজাতুন নাদিয়্যাহ, আন-নাইল ও আস-সাইল এবং এই জাতীয় অন্যান্য গ্রন্থসমূহ। কেননা এগুলোতে এমন বিষয় রয়েছে যা তোমাকে সত্য গ্রহণ ও অনুসরণের পথে পরিচালিত করবে এবং সেসব শাখাগত মাসআলার কিতাবাদি থেকে অমুখাপেক্ষী করবে যা রায়পন্থী (أهل الرأي) ও বিদআত (بدعة) পন্থীরা সংকলন করেছে। যদি আমি অতি ব্যস্ততা ও গভীর চিন্তার মধ্যে না থাকতাম, তবে আমি তোমার নিকট এই সবকিছুর বিস্তারিত ব্যাখ্যা নিয়ে আসতাম এবং এর অধিক ও অল্প সব বিষয়ে তোমাকে অবহিত করতাম। যেহেতু কিতাবুল্লাহর আয়াতসমূহ সুস্পষ্ট প্রমাণাদিতে উজ্জ্বল এবং নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর হাদীসসমূহ এমন বৈশিষ্ট্যে মণ্ডিত যে তার রাতও দিনের ন্যায় সুস্পষ্ট ও ভাস্বর, তাই ইনশাআল্লাহ এই শরয়ি বিধান ও অধ্যায়সমূহে এই দুইটির জ্ঞান ও প্রজ্ঞাসম্পন্ন ব্যক্তির জন্য অন্য কিছুর প্রয়োজন নেই। এই কিতাবটি সংক্ষিপ্ত হওয়া এবং আয়াত ও আসার (آثار) সংকলনের ক্ষেত্রে সীমাবদ্ধ থাকা সত্ত্বেও তা অত্যন্ত সুস্পষ্ট ও সুপ্রকাশিত। হিদায়াতপ্রাপ্তদের জন্য এতে পর্যাপ্ত ও সন্তোষজনক বিষয় রয়েছে। সুতরাং তুমি সুন্দর ধৈর্য ধারণ করো। কেননা সর্বোত্তম কথা হলো আল্লাহর কিতাব এবং সর্বোত্তম পথ হলো মুহাম্মাদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর প্রদর্শিত পথ। আর নিকৃষ্টতম বিষয় হলো দ্বীনের মধ্যে নতুন উদ্ভাবিত বিষয় এবং প্রতিটি বিদআত (بدعة) হলো গুমরাহি (ضلالة)। আল্লাহ ও তাঁর রাসুলের কথার চেয়ে সত্যবাদী আর কে হতে পারে? "এরপর আর কোন কথায় তারা ঈমান আনবে?" আর যালিমরা শীঘ্রই জানতে পারবে তাদের প্রত্যাবর্তনস্থল কোথায় হবে।
(খণ্ড: ১)
হুসনুল উসওয়াহ বিমা সাবাতা মিনাল্লাহি ওয়া রাসূলিহী ফিন নিসওয়াহ
(পৃষ্ঠা: ১৭)
الْكتاب الأول فِي آيَات الْكتاب الْعَزِيز
প্রথম কিতাব: মহাগ্রন্থের আয়াতসমূহ প্রসঙ্গে
(খণ্ড: ১)
হুসনুল উসওয়াহ বিমা সাবাতা মিনাল্লাহি ওয়া রাসূলিহী ফিন নিসওয়াহ
(পৃষ্ঠা: ১৯)
1 -
بَاب مَا نزل فِي إسكان الْأَبَوَيْنِ آدم وحواء فِي الْجنَّة وإزلال الشَّيْطَان لَهما عَنْهَا{يَا آدم اسكن أَنْت وزوجك الْجنَّة وكلا مِنْهَا رغدا حَيْثُ شئتما وَلَا تقربا هَذِه الشَّجَرَة فتكونا من الظَّالِمين فأزلهما الشَّيْطَان عَنْهَا فأخرجهما مِمَّا كَانَا فِيهِ}
قَالَ الله تَعَالَى فِي سُورَة الْبَقَرَة {يَا آدم اسكن أَنْت وزوجك الْجنَّة} أَي اتخذ الْجنَّة مأوى ومنزلا وَهُوَ مَحل السّكُون وَالزَّوْج هِيَ حَوَّاء بِالْمدِّ وَالزَّوْج فِي اللُّغَة الفصيحة بِغَيْر هَاء وَقد جَاءَ بهاء قَلِيلا كَمَا فِي صَحِيح مُسلم قَالَ يَا فلَان هَذِه زَوْجَتي فُلَانُهُ الحَدِيث وَكَانَ خلق حَوَّاء من ضلعه الْيُسْرَى فَلِذَا كَانَ كل إِنْسَان نَاقِصا ضلعا
১ -
পিতামাতা আদম ও হাওয়াকে জান্নাতে বসবাস করানো এবং শয়তান কর্তৃক তাঁদেরকে সেখান থেকে পদস্খলিত করা প্রসঙ্গে যা অবতীর্ণ হয়েছে সেই সম্পর্কিত পরিচ্ছেদ (باب){হে আদম, তুমি ও তোমার স্ত্রী জান্নাতে বসবাস করো এবং সেখান থেকে তোমাদের ইচ্ছা অনুযায়ী স্বচ্ছন্দে আহার করো। তবে এই বৃক্ষের নিকটবর্তী হয়ো না, অন্যথায় তোমরা জালিমদের অন্তর্ভুক্ত হবে। অতঃপর শয়তান তাঁদের সেখান থেকে পদস্খলিত করল এবং তাঁরা যেখানে ছিলেন সেখান থেকে তাঁদের বের করে দিল।}
আল্লাহ তাআলা সূরা আল-বাকারায় ইরশাদ করেছেন: {হে আদম, তুমি ও তোমার স্ত্রী জান্নাতে বসবাস করো} অর্থাৎ জান্নাতকে আবাস ও ঠিকানা হিসেবে গ্রহণ করো, যা হলো অবস্থানের জায়গা। এখানে ‘ঝাওজ’ (স্ত্রী) হলেন হাওয়া, যা মদ্দ (مد) বা দীর্ঘস্বর সহযোগে উচ্চারিত। বিশুদ্ধ ভাষায় ‘ঝাওজ’ শব্দটি ‘হা’ (هاء) বর্ণ ছাড়াই ব্যবহৃত হয়, তবে কদাচিৎ ‘হা’ বর্ণ যোগেও এর ব্যবহার এসেছে যেমন সহিহ মুসলিম-এ বর্ণিত হয়েছে: তিনি বললেন, “হে অমুক, এই নারী আমার স্ত্রী অমুক...” হাদিস। আর হাওয়ার সৃষ্টি হয়েছিল তাঁর বাম পাজরের হাড় থেকে, যার ফলে প্রতিটি মানুষ একটি পাজরের হাড় কম নিয়ে জন্মায়।
(খণ্ড: ১)
হুসনুল উসওয়াহ বিমা সাবাতা মিনাল্লাহি ওয়া রাসূলিহী ফিন নিসওয়াহ
(পৃষ্ঠা: ২০)
من الْجَانِب الْأَيْسَر فجهة الْيَمين أضلاعها ثَمَانِي عشرَة وجهة الْيَسَار أضلاعها سبع عشرَة وقصة خلقهَا مبسوطة فِي كتب السّنة
وَاخْتلفُوا فِي الْجنَّة الَّتِي أَمر آدم وزوجه بسكناها فَقيل إِنَّهَا كَانَت فِي الأَرْض وَقيل هِيَ دَار الْجَزَاء وَالثَّوَاب وَقد استوعب الْعَلامَة ابْن الْقيم فِي كِتَابه حادي الْأَرْوَاح الى بِلَاد الأفراح أَدِلَّة الْفَرِيقَيْنِ وَلكُل وجهة هُوَ موليها وَصحح بَعضهم القَوْل الأول وَمِنْهُم من صحّح القَوْل الثَّانِي وَقيل كِلَاهُمَا مُمكن فَلَا وَجه للْقطع وَالْأولَى الْوَقْف وَالله تَعَالَى أعلم
وَقَالَ تَعَالَى {فأزلهما} أَي استزل آدم وحواء الشَّيْطَان عَنْهَا أَي الْجنَّة ودعاهما إِلَى الزلة وَهِي الْخَطِيئَة وَقيل نحاهما قيل إِنَّه كَانَ ذَلِك بمشافهة مِنْهُ لَهما وَإِلَيْهِ ذهب الْجُمْهُور مستدلين بقوله تَعَالَى {وقاسمهما إِنِّي لَكمَا لمن الناصحين} والمقاسمة ظَاهرهَا المشافهة وَقيل لم يصدر مِنْهُ إِلَّا مُجَرّد الوسوسة والمفاعلة لَيست على بَابهَا بل للْمُبَالَغَة وَقيل غير ذَلِك {فأخرجهما مِمَّا كَانَا فِيهِ} أَي صرفهما عَمَّا كَانَا عَلَيْهِ من الطَّاعَة إِلَى الْمعْصِيَة وَقيل الضَّمِير إِلَى الْجنَّة وعَلى هَذَا فالفعل مضمن معنى أبعدهُمَا وَإِنَّمَا نسب ذَلِك إِلَى الشَّيْطَان لِأَنَّهُ هُوَ الَّذِي تولى إغواء آدم حَتَّى أكل من الشَّجَرَة
وَبِالْجُمْلَةِ فهبط آدم على سرنديب من أَرض الْهِنْد على جبل يُقَال لَهُ نود وأهبطت حَوَّاء على جدة وهما أصل هَذَا النَّوْع الانساني وَعَن ابْن عَبَّاس رضي الله عنهما قَالَ مَا سكن آدم الْجنَّة إِلَّا مَا بَين صَلَاة الْعَصْر
বাম পাশ থেকে, সুতরাং ডান দিকের পাঁজরের হাড় আঠারোটি এবং বাম দিকের পাঁজরের হাড় সতেরোটি। তাঁর সৃষ্টির কাহিনী সুন্নাহর কিতাবসমূহে বিস্তারিত বর্ণিত হয়েছে।
যে জান্নাতে আদম ও তাঁর স্ত্রীকে বসবাসের নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল, তা নিয়ে আলেমগণ মতভেদ করেছেন। বলা হয়েছে যে, তা পৃথিবীতে ছিল; আবার বলা হয়েছে যে, তা প্রতিদান ও সওয়াবের আবাস (আখেরাতের জান্নাত)। আল্লামা ইবনুল কাইয়্যিম তাঁর হাদিউল আরওয়াহ ইলা বিলাদিল আফরাহ গ্রন্থে উভয় পক্ষের দলিলসমূহ বিস্তারিতভাবে আলোচনা করেছেন এবং প্রত্যেক পক্ষেরই নিজস্ব দৃষ্টিভঙ্গি রয়েছে। তাদের মধ্যে কেউ প্রথম মতটিকে সহিহ বা বিশুদ্ধ (صحح) বলেছেন, আবার কেউ দ্বিতীয় মতটিকে সহিহ বা বিশুদ্ধ (صحح) বলেছেন। আবার বলা হয়েছে যে, উভয়টিই সম্ভব, তাই চূড়ান্ত কোনো সিদ্ধান্তে পৌঁছানোর অবকাশ নেই এবং এক্ষেত্রে স্থগিত রাখা বা নীরবতা (الوقف) অবলম্বন করাই শ্রেয়। আর আল্লাহ তাআলাই সর্বজ্ঞ।
আর মহান আল্লাহ বলেছেন, {অতঃপর শয়তান তাদের পদস্খলন ঘটাল} অর্থাৎ শয়তান আদম ও হাওয়াকে জান্নাত থেকে বিচ্যুত করল এবং তাদের পদস্খলন তথা পাপের দিকে প্ররোচিত করল। অন্য মতে, তাদেরকে সেখান থেকে সরিয়ে দিল। বলা হয়ে থাকে যে, এটি ছিল তাদের সাথে শয়তানের সরাসরি কথোপকথন; সংখ্যাগরিষ্ঠ (الجمهور) আলেমগণ এই মত গ্রহণ করেছেন। তারা মহান আল্লাহর এই বাণী দ্বারা দলিল পেশ করেন: {সে তাদের কাছে কসম খেয়ে বলল, নিশ্চয়ই আমি তোমাদের হিতাকাঙ্ক্ষীদের একজন}। আর কসম খাওয়ার বাহ্যিক দিকটি সরাসরি কথোপকথনকেই নির্দেশ করে। অন্য মতে, শয়তানের পক্ষ থেকে কেবল কুপ্ররোচনা বা ওয়াসওয়াসা প্রকাশ পেয়েছিল এবং এখানে ক্রিয়াপদটি তার মূল অর্থে ব্যবহৃত হয়নি বরং আতিশয্য বুঝাতে ব্যবহৃত হয়েছে। এছাড়াও অন্যান্য কথা বলা হয়েছে। {অতঃপর তিনি তাদের বের করে দিলেন তারা যাতে ছিল তা থেকে} অর্থাৎ তাদের আনুগত্যের অবস্থা থেকে অবাধ্যতার দিকে ফিরিয়ে দিলেন। অন্য মতে, সর্বনামটি জান্নাতের দিকে নির্দেশ করে এবং এই ভিত্তিতে ক্রিয়াটি তাদের দূরে সরিয়ে দেওয়ার অর্থ প্রদান করে। আর এই কাজটিকে শয়তানের দিকে সম্বন্ধযুক্ত করা হয়েছে কারণ সেই আদমকে প্ররোচিত করার দায়িত্ব নিয়েছিল, যতক্ষণ না তিনি নিষিদ্ধ গাছ থেকে ফল ভক্ষণ করলেন।
সারসংক্ষেপে, আদম হিন্দুস্তানের সারান্দ্বীপের একটি পাহাড়ের ওপর অবতরণ করেন যাকে 'নুদ' বলা হয় এবং হাওয়া জেদ্দায় অবতরণ করেন। তাঁরাই এই মানবজাতির মূল উৎস। ইবনে আব্বাস (রাদিয়াল্লাহু আনহুমা) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: আদম আসর নামাজের মধ্যবর্তী সময়টুকু ছাড়া জান্নাতে অবস্থান করেননি।
(খণ্ড: ১)
হুসনুল উসওয়াহ বিমা সাবাতা মিনাল্লাহি ওয়া রাসূলিহী ফিন নিসওয়াহ
(পৃষ্ঠা: ২১)
إِلَى غرُوب الشَّمْس أخرجه عبد بن حميد وَالْحَاكِم وَصَححهُ وَعنهُ مَا غَابَتْ الشَّمْس من ذَلِك الْيَوْم حَتَّى أهبط من الْجنَّة وَعَن الْحسن قَالَ لبث آدم فِي الْجنَّة سَاعَة من نَهَار وَتلك السَّاعَة مائَة وَثَلَاثُونَ سنة من أَيَّام الدُّنْيَا
وَعَن أبي هُرَيْرَة عَن النَّبِي صلى الله عليه وسلم قَالَ لَوْلَا لم تخن أُنْثَى زَوجهَا أخرجه البُخَارِيّ وَالْحَاكِم
وَقد روى عَن جمَاعَة من الصَّحَابَة وَالتَّابِعِينَ وَمن بعدهمْ حكايات فِي صفة هبوط آدم وزوجه من الْجنَّة وَمَا أهبط مَعَهُمَا وَمَا صنعا عِنْد وصولهما إِلَى الأَرْض فَلَا حَاجَة لنا ببسط جَمِيع ذَلِك فِي هَذَا الْكتاب وَذكر طرفا مِنْهَا ابْن الْقيم فِي الْحَادِي فَرَاجعه
2 -
بَاب مَا نزل فِي ذبح الْأَبْنَاء واستحياء النِّسَاء{يذبحون أبناءكم ويستحيون نساءكم وَفِي ذَلِكُم بلَاء من ربكُم عَظِيم}
قَالَ تَعَالَى {يذبحون أبناءكم ويستحيون نساءكم} الذّبْح فِي الأَصْل الشق وَهُوَ فري أوداج الْمَذْبُوح وَهل نسَاء جمع نسْوَة أَو جمع امْرَأَة من حَيْثُ الْمَعْنى قَولَانِ وَالْمرَاد يتركون نساءكم أَحيَاء ليستخدموهن ويمتهنوهن عبر عَن الْبَنَات باسم النِّسَاء لِأَنَّهُ جنس يصدق عَلَيْهِنَّ وَلَا يخفى مَا فِي قتل الْأَبْنَاء واستحياء الْبَنَات للْخدمَة وَنَحْوهَا من إِنْزَال الذل بهم وإلصاق الإهانة الشَّدِيدَة بجميعهم لما فِي ذَلِك من الْعَار وَيُشِير إِلَى هَذَا قَوْله تَعَالَى {وَفِي ذَلِكُم بلَاء من ربكُم عَظِيم}
সূর্যাস্ত পর্যন্ত; এটি আবদ ইবনে হুমাইদ ও হাকিম সংকলন করেছেন (أخرجه) এবং তিনি একে সহিহ (صحيح) বলে অভিহিত করেছেন। তাঁর থেকেই বর্ণিত (روى) যে, সেই দিনের সূর্য অস্ত যাওয়ার আগেই তাঁকে জান্নাত থেকে নামিয়ে দেওয়া হয়। হাসান (রহ.) থেকে বর্ণিত (روى), তিনি বলেন: আদম জান্নাতে দিনের মাত্র এক মুহূর্ত অবস্থান করেছিলেন, আর সেই এক মুহূর্ত ছিল দুনিয়ার দিনপঞ্জিকা অনুযায়ী একশত ত্রিশ বছর।
আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত (روى), নবী (সা.) বলেছেন: যদি হাওয়া (আ.) না থাকতেন, তবে কোনো নারীই তার স্বামীর সাথে বিশ্বাসঘাতকতা করত না। এটি বুখারি ও হাকিম সংকলন করেছেন (أخرجه)।
আদম ও তাঁর স্ত্রীর জান্নাত থেকে অবতরণ, তাঁদের সাথে কী কী অবতীর্ণ হয়েছিল এবং পৃথিবীতে পৌঁছানোর পর তাঁরা কী করেছিলেন—এই মর্মে সাহাবী, তাবিঈ এবং পরবর্তীগণের এক বিশাল দল থেকে অনেক বর্ণনা বর্ণিত হয়েছে (روى)। আমাদের এই গ্রন্থে সেসবের বিস্তারিত বর্ণনার প্রয়োজন নেই। ইবনুল কাইয়্যিম তাঁর 'হাদিউল আরওয়াহ' গ্রন্থে এর কিছু অংশ উল্লেখ করেছেন, সুতরাং সেখানে তা দেখে নিন।
2 -
পরিচ্ছেদ: পুত্র সন্তানদের জবেহ করা এবং নারীদের জীবিত রাখা প্রসঙ্গে যা অবতীর্ণ হয়েছে{তারা তোমাদের পুত্র সন্তানদের জবেহ করত এবং তোমাদের নারীদের জীবিত রাখত; আর এতে তোমাদের রবের পক্ষ থেকে এক মহাপরীক্ষা ছিল}
আল্লাহ তাআলা বলেন: {তারা তোমাদের পুত্র সন্তানদের জবেহ করত এবং তোমাদের নারীদের জীবিত রাখত}। 'যব্হ' (জবেহ) শব্দের মূল অর্থ হলো বিদীর্ণ করা, আর তা হলো জবেহকৃত প্রাণীর কণ্ঠনালী কেটে ফেলা। 'নিসা' (নারীগণ) শব্দটি কি 'নিসওয়াহ' শব্দের বহুবচন নাকি অর্থের দিক থেকে 'ইমরাআহ' শব্দের বহুবচন—এ বিষয়ে দুটি মত রয়েছে। এখানে উদ্দেশ্য হলো, তারা তোমাদের নারীদের জীবিত রাখত যাতে তাদের সেবিকা হিসেবে ব্যবহার করতে পারে এবং লাঞ্ছিত করতে পারে। এখানে কন্যা সন্তানদের 'নিসা' বা নারী শব্দে ব্যক্ত করা হয়েছে কারণ এটি এমন একটি শ্রেণিবাচক শব্দ যা তাদের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হয়। পুত্র সন্তানদের হত্যা করা এবং কন্যা সন্তানদের সেবার জন্য জীবিত রাখার মধ্যে যে লাঞ্ছনা এবং চরম অবমাননা নিহিত রয়েছে তা কারো অজানা নয়, কারণ এতে চরম কলঙ্ক রয়েছে। আল্লাহ তাআলার এই বাণী সেদিকেই ইঙ্গিত করে: {আর এতে তোমাদের রবের পক্ষ থেকে এক মহাপরীক্ষা ছিল}।
(খণ্ড: ১)
হুসনুল উসওয়াহ বিমা সাবাতা মিনাল্লাহি ওয়া রাসূলিহী ফিন নিসওয়াহ
(পৃষ্ঠা: ২২)
3 -
بَاب مَا نزل فِي الْإِحْسَان إِلَى الْوَالِدين{وَإِذ أَخذنَا مِيثَاق بني إِسْرَائِيل لَا تَعْبدُونَ إِلَّا الله وبالوالدين إحسانا}
قَالَ تَعَالَى {وَإِذ أَخذنَا مِيثَاق بني إِسْرَائِيل لَا تَعْبدُونَ إِلَّا الله وبالوالدين إحسانا} قَالَ مكي هَذَا الْمِيثَاق أَخذه الله عَلَيْهِم فِي حياتهم على ألسن أَنْبِيَائهمْ وَالْجُمْلَة خبر بِمَعْنى النَّهْي وَهُوَ أبلغ من صَرِيح النَّهْي لما فِيهِ من الاعتناء بشأن الْمنْهِي عَنهُ وتأكد طلب امتثاله حَتَّى كَأَنَّهُ امتثل وَأخْبر عَنهُ وَعبادَة الله إِثْبَات توحيده وتصديق رسله وَالْعَمَل بِمَا أنزل الله فِي كتبه وَالْمرَاد بِالْإِحْسَانِ معاشرة الْأَبَوَيْنِ بِالْمَعْرُوفِ والتواضع لَهما وامتثال أَمرهمَا وَسَائِر مَا أوجبه الله على الْوَلَد لوَالِديهِ من الْحُقُوق وَمِنْه الْبر بهما وَالرَّحْمَة لَهما وَالنُّزُول عِنْد أَمرهمَا فِيمَا لَا يُخَالف أَمر الله وَأمر رَسُوله صلى الله عليه وسلم ويوصل إِلَيْهِمَا مَا يحتاجان إِلَيْهِ وَلَا يؤذيهما وَإِن كَانَا كَافِرين وَأَن يدعوهما إِلَى الْإِيمَان بالرفق واللين وَكَذَا إِن كَانَا فاسقين يأمرهما بِالْمَعْرُوفِ من غير عنف وَلَا يَقُول لَهما أُفٍّ
4 -
بَاب مَا نزل فِي ابْن مَرْيَم عليهما السلام{وآتينا عِيسَى ابْن مَرْيَم الْبَينَات}
قَالَ تَعَالَى {وآتينا عِيسَى ابْن مَرْيَم الْبَينَات} أَي الدلالات الواضحات الْمَذْكُورَة فِي سُورَة آل عمرَان والمائدة وَقيل هِيَ الْإِنْجِيل وَاسم عِيسَى بالسُّرْيَانيَّة يسوع وَمَرْيَم بِمَعْنى الْخَادِم وَقيل هُوَ اسْم علم لَهَا كزيد من الرِّجَال
3 -
পিতা-মাতার প্রতি সদাচরণ সম্পর্কে যা অবতীর্ণ হয়েছে{এবং যখন আমি বনী ইসরাঈলের অঙ্গীকার গ্রহণ করেছিলাম যে, তোমরা আল্লাহ ব্যতীত অন্য কারো ইবাদত করবে না এবং পিতা-মাতার সাথে সদাচরণ করবে।}
আল্লাহ তাআলা বলেন, {এবং যখন আমি বনী ইসরাঈলের অঙ্গীকার গ্রহণ করেছিলাম যে, তোমরা আল্লাহ ব্যতীত অন্য কারো ইবাদত করবে না এবং পিতা-মাতার সাথে সদাচরণ করবে।} মাক্কী (রহ.) বলেন, এই অঙ্গীকার আল্লাহ তাঁদের জীবদ্দশায় তাঁদের নবীদের যবানে গ্রহণ করেছিলেন। আর এই বাক্যটি নিষেধাজ্ঞার অর্থে সংবাদ (خبر), যা স্পষ্ট নিষেধাজ্ঞার চেয়েও অধিক জোরালো; কারণ এতে নিষিদ্ধ বিষয়টির প্রতি বিশেষ গুরুত্ব প্রদান এবং তা পালনের দাবির ওপর জোর দেওয়া হয়েছে, যেন মনে হয় তা ইতিপূর্বেই পালিত হয়েছে এবং সংবাদ (خبر) হিসেবে বর্ণিত হয়েছে। আল্লাহর ইবাদত বলতে তাঁর একত্ববাদ প্রতিষ্ঠা করা, তাঁর রাসূলদের সত্য বলে বিশ্বাস করা এবং আল্লাহ তাঁর কিতাবসমূহে যা অবতীর্ণ করেছেন তদানুযায়ী আমল করাকে বোঝায়। আর সদাচরণ দ্বারা উদ্দেশ্য হলো পিতা-মাতার সাথে উত্তম আচরণ করা, তাঁদের প্রতি বিনয়ী হওয়া, তাঁদের নির্দেশ পালন করা এবং আল্লাহ তাআলা সন্তানের ওপর পিতা-মাতার যে সকল অধিকার আবশ্যক (واجب) করেছেন তার পূর্ণ বিধান পালন করা। এর অন্তর্ভুক্ত হলো তাঁদের প্রতি সদ্ব্যবহার করা, তাঁদের প্রতি রহমত বা দয়া প্রদর্শন করা এবং আল্লাহর নির্দেশ ও তাঁর রাসূলের (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) নির্দেশের পরিপন্থী নয় এমন সব বিষয়ে তাঁদের নির্দেশের আনুগত্য করা। তাঁদের প্রয়োজনীয় সামগ্রী তাঁদের নিকট পৌঁছানো এবং তাঁদের কষ্ট না দেওয়া, এমনকি তাঁরা অবিশ্বাসী (كافر) হলেও। তাঁদের নম্রতা ও কোমলতার সাথে ঈমানের দিকে আহ্বান করা। তদ্রূপ তাঁরা পাপাচারী (فاسق) হলেও তাঁদের রূঢ়তা না করে সৎ কাজের আদেশ দেওয়া এবং তাঁদের প্রতি 'উফ' শব্দটিও না বলা।
4 -
ইবনে মারইয়াম (আলাইহিমাস সালাম) সম্পর্কে যা অবতীর্ণ হয়েছে{এবং আমি মারইয়াম তনয় ঈসাকে স্পষ্ট নিদর্শনসমূহ প্রদান করেছি}
আল্লাহ তাআলা বলেন, {এবং আমি মারইয়াম তনয় ঈসাকে স্পষ্ট নিদর্শনসমূহ প্রদান করেছি} অর্থাৎ সেই সকল সুস্পষ্ট প্রমাণাদি যা সূরা আল-ইমরান ও সূরা আল-মায়িদাহ-তে বর্ণিত হয়েছে। কেউ কেউ বলেছেন, তা হলো ইনজিল। সিরীয়াক ভাষায় 'ঈসা' শব্দের অর্থ 'ইয়াসু' এবং 'মারইয়াম' শব্দের অর্থ 'সেবিকা'। আবার কেউ কেউ বলেছেন, এটি তাঁর একটি নামবাচক বিশেষ্য, যেমন পুরুষদের মধ্যে 'যায়েদ' একটি নাম।
(খণ্ড: ১)
হুসনুল উসওয়াহ বিমা সাবাতা মিনাল্লাহি ওয়া রাসূলিহী ফিন নিসওয়াহ
(পৃষ্ঠা: ২৩)
5 -
بَاب مَا نزل فِي التَّفْرِيق بَين الْمَرْء وزوجه{فيتعلمون مِنْهُمَا مَا يفرقون بِهِ بَين الْمَرْء وزوجه وَمَا هم بضارين بِهِ من أحد إِلَّا بِإِذن الله ويتعلمون مَا يضرهم وَلَا يَنْفَعهُمْ}
قَالَ تَعَالَى {فيتعلمون مِنْهُمَا} أَي من الْملكَيْنِ {مَا يفرقون بِهِ بَين الْمَرْء وزوجه} أَي سحرًا يكون سَببا فِي التَّفْرِيق بَينهمَا كالنفث فِي العقد وَنَحْو ذَلِك مِمَّا يحدث الله تَعَالَى عِنْده الْبغضَاء وَالْخلاف بَين الزَّوْجَيْنِ على حسب الْعَادة الإلهية من خلق المسببات عقب الْأَسْبَاب العادية ابتلاء من الله تَعَالَى وَفِي الْآيَة دلَالَة على أَن للسحر تَأْثِيرا فِي نَفسه وَحَقِيقَة ثَابِتَة وَلم يُخَالف فِي ذَلِك إِلَّا الْمُعْتَزلَة وَأَبُو حنيفَة {وَمَا هم بضارين بِهِ من أحد إِلَّا بِإِذن الله ويتعلمون مَا يضرهم وَلَا يَنْفَعهُمْ} يَعْنِي السحر لأَنهم يقصدون بِهِ الْعَمَل أَو لِأَن الْعلم يجر إِلَى الْعَمَل غَالِبا قَالَ أَبُو السُّعُود فِيهِ إِن الاجتناب عَمَّا لَا تؤمن غوائله خير كتعلم الفلسفة الَّتِي لَا يُؤمن أَن تجر إِلَى الغواية انْتهى
6 -
بَاب مَا نزل فِي قصاص الْأُنْثَى{يَا أَيهَا الَّذين آمنُوا كتب عَلَيْكُم الْقصاص فِي الْقَتْلَى الْحر بِالْحرِّ وَالْعَبْد بِالْعَبدِ وَالْأُنْثَى بِالْأُنْثَى}
قَالَ تَعَالَى {يَا أَيهَا الَّذين آمنُوا كتب عَلَيْكُم الْقصاص فِي الْقَتْلَى الْحر بِالْحرِّ وَالْعَبْد بِالْعَبدِ وَالْأُنْثَى بِالْأُنْثَى} أستدل بِهَذِهِ الْآيَة على أَن الذّكر لَا يقتل
5 -
৫ - স্বামী ও স্ত্রীর মধ্যে বিচ্ছেদ ঘটানো প্রসঙ্গে যা নাযিল হয়েছে{অতঃপর তারা সেই দুজনের নিকট থেকে এমন বিষয় শিখত, যার দ্বারা তারা স্বামী ও স্ত্রীর মধ্যে বিচ্ছেদ ঘটাত। অথচ আল্লাহর অনুমতি ব্যতীত তারা এর দ্বারা কারো কোনো ক্ষতি করতে পারত না। আর তারা এমন বিষয় শিখত যা তাদের ক্ষতি করে এবং তাদের কোনো উপকারে আসে না।}
আল্লাহ তাআলা বলেন, {অতঃপর তারা সেই দুজনের নিকট থেকে শিখত} অর্থাৎ দুই ফেরেশতা থেকে, {এমন বিষয় যার দ্বারা তারা স্বামী ও স্ত্রীর মধ্যে বিচ্ছেদ ঘটাত} অর্থাৎ এমন জাদু যা তাদের উভয়ের মাঝে বিচ্ছেদের কারণ হয়, যেমন গিঁটে ফুঁ দেওয়া এবং এই জাতীয় অন্যান্য বিষয়, যার মাধ্যমে আল্লাহ তাআলা তাঁর খোদায়ী নিয়ম অনুযায়ী—অর্থাৎ সাধারণ কারণসমূহের পর কার্যফল সৃষ্টির মাধ্যমে—স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে বিদ্বেষ ও বিরোধ সৃষ্টি করেন। এটি আল্লাহ তাআলার পক্ষ থেকে একটি পরীক্ষা। এই আয়াতে এর প্রমাণ রয়েছে যে, জাদুর নিজস্ব প্রভাব ও একটি প্রতিষ্ঠিত বাস্তবতা রয়েছে। মুতাজিলা ও আবু হানিফা ব্যতীত অন্য কেউ এ বিষয়ে দ্বিমত পোষণ করেননি। {আর আল্লাহর অনুমতি ব্যতীত তারা এর দ্বারা কারো কোনো ক্ষতি করতে পারত না। আর তারা এমন বিষয় শিখত যা তাদের ক্ষতি করে এবং তাদের কোনো উপকারে আসে না} অর্থাৎ জাদু; কেননা তারা এর মাধ্যমে কাজ করার সংকল্প করে অথবা জ্ঞান সাধারণত কাজের দিকে ধাবিত করে। আবুস সাউদ এই বিষয়ে বলেছেন: যে বিষয়ের মন্দ পরিণতি থেকে নিরাপদ থাকা যায় না তা বর্জন করাই উত্তম, যেমন দর্শনশাস্ত্র শিক্ষা করা, যা পথভ্রষ্টতার দিকে নিয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা থেকে নিরাপদ নয়। সমাপ্ত।
6 -
৬ - নারীর কিসাস (قصاص) প্রসঙ্গে যা নাযিল হয়েছে{হে মুমিনগণ! নিহতদের ব্যাপারে তোমাদের ওপর কিসাস (قصاص) বিধিবিদ্ধ করা হয়েছে; স্বাধীনের বদলে স্বাধীন, দাসের বদলে দাস এবং নারীর বদলে নারী।}
আল্লাহ তাআলা বলেন, {হে মুমিনগণ! নিহতদের ব্যাপারে তোমাদের ওপর কিসাস (قصاص) বিধিবিদ্ধ করা হয়েছে; স্বাধীনের বদলে স্বাধীন, দাসের বদলে দাস এবং নারীর বদলে নারী।} এই আয়াতের মাধ্যমে এই মর্মে দলীল পেশ করা হয়েছে যে, (নারীর বিনিময়ে) পুরুষকে হত্যা করা হবে না।
(খণ্ড: ১)
হুসনুল উসওয়াহ বিমা সাবাতা মিনাল্লাহি ওয়া রাসূলিহী ফিন নিসওয়াহ
(পৃষ্ঠা: ২৪)
بِالْأُنْثَى إِلَّا إِذا سلم أَوْلِيَاء الْمَرْأَة الزِّيَادَة على دِيَتهَا من دِيَة الرجل وَبِه قَالَ مَالك وَالشَّافِعِيّ وَأحمد وَإِسْحَاق وَالثَّوْري وَأَبُو ثَوْر وَذهب الْجُمْهُور إِلَى أَنه يقتل الرجل بِالْمَرْأَةِ وَلَا زِيَادَة وَهُوَ الْحق وَقد بسط الشَّوْكَانِيّ رحمه الله الْبَحْث فِي نيل الأوطار فَرَاجعه
7 -
مَا نزل فِي وَصِيَّة الْوَالِدين{كتب عَلَيْكُم إِذا حضر أحدكُم الْمَوْت إِن ترك خيرا الْوَصِيَّة للْوَالِدين والأقربين بِالْمَعْرُوفِ}
قَالَ تَعَالَى {كتب عَلَيْكُم إِذا حضر أحدكُم الْمَوْت إِن ترك خيرا الْوَصِيَّة للْوَالِدين والأقربين بِالْمَعْرُوفِ} الْوَصِيَّة هُنَا عبارَة عَن الْأَمر بالشَّيْء بعد الْمَوْت وَقد اتّفق أهل الْعلم على وُجُوبهَا على من عَلَيْهِ دين أَو عِنْده وَدِيعَة أَو نَحْوهَا وَأما إِن لم يكن كَذَلِك فَذهب أَكْثَرهم إِلَى أَنَّهَا غير وَاجِبَة عَلَيْهِ سَوَاء كَانَ فَقِيرا أَو غَنِيا وَقَالَت طَائِفَة إِنَّهَا وَاجِبَة
وَذَهَبت جمَاعَة إِلَى أَن الْآيَة محكمَة وَالْمرَاد بهَا من الْوَالِدين من لَا يَرث كالأبوين الْكَافرين وَمن هُوَ فِي الرّقّ قَالَ ابْن الْمُنْذر أجمع كل من يحفظ عَنهُ من أهل الْعلم على أَن الْوَصِيَّة لَهما جَائِزَة وَقَالَ كثير من أهل الْعلم إِنَّهَا مَنْسُوخَة بِآيَة الْمَوَارِيث وَقيل نسخ الْوُجُوب وَبَقِي النّدب
নারীর বিনিময়ে পুরুষকে হত্যা করা হবে না, যতক্ষণ না নারীর অভিভাবকগণ পুরুষের রক্তপণ (دية) থেকে তার রক্তপণের (دية) অতিরিক্ত অংশটি পরিশোধ করেন। ইমাম মালিক, শাফেয়ী, আহমদ, ইসহাক, সাওরী এবং আবু সাওর এই মত পোষণ করেছেন। তবে জুমহুর (جمهور) আলিমগণের মতে, নারীর বিনিময়ে পুরুষকে হত্যা করা হবে এবং কোনো অতিরিক্ত অর্থ প্রদান করতে হবে না; আর এটিই সঠিক মত। ইমাম শাওকানী (রহিমাহুল্লাহ) নাইলুল আওতার গ্রন্থে এ বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা করেছেন, সুতরাং সেখানে দেখে নিন।
৭ -
পিতামাতার অসিয়ত (وصية) সংক্রান্ত যা অবতীর্ণ হয়েছে{তোমাদের ওপর বিধিবদ্ধ করা হলো যে, যখন তোমাদের কারও মৃত্যু উপস্থিত হয়, যদি সে কোনো সম্পদ রেখে যায়, তবে ন্যায়সঙ্গতভাবে পিতামাতা ও নিকটাত্মীয়দের জন্য অসিয়ত (وصية) করা}
আল্লাহ তাআলা বলেন: {তোমাদের ওপর বিধিবদ্ধ করা হলো যে, যখন তোমাদের কারও মৃত্যু উপস্থিত হয়, যদি সে কোনো সম্পদ রেখে যায়, তবে ন্যায়সঙ্গতভাবে পিতামাতা ও নিকটাত্মীয়দের জন্য অসিয়ত (وصية) করা}। এখানে অসিয়ত (وصية) বলতে মৃত্যুর পরের জন্য কোনো কাজের নির্দেশ প্রদান করাকে বোঝানো হয়েছে। আলিমগণ এই মর্মে ঐকমত্য পোষণ করেছেন যে, যার ওপর কোনো ঋণ রয়েছে অথবা যার কাছে কোনো আমানত (وديعة) বা অনুরূপ কিছু গচ্ছিত আছে, তার জন্য অসিয়ত করা ওয়াজিব (واجب)। আর যদি বিষয়টি এমন না হয়, তবে অধিকাংশ আলিমের মতে তা ওয়াজিব (واجب) নয়, সে ব্যক্তি দরিদ্র হোক বা ধনী। তবে একদল আলিম বলেছেন যে, এটি ওয়াজিব (واجب)।
একটি দল মনে করেন যে, এই আয়াতটি মুহকাম (محكمة) বা রহিত নয়। এখানে পিতামাতা বলতে তাদের বোঝানো হয়েছে যারা উত্তরাধিকার পায় না, যেমন কাফির পিতামাতা অথবা যারা দাসত্বের অধীনে রয়েছে। ইবনুল মুনজির বলেন, যে সকল আলিমের বক্তব্য সংরক্ষিত আছে তারা সবাই এ বিষয়ে একমত যে, তাদের জন্য অসিয়ত (وصية) করা বৈধ। অনেক আলিম বলেছেন যে, মিরাস সংক্রান্ত আয়াত দ্বারা এটি মানসুখ (منسوخة) বা রহিত হয়ে গেছে। আবার কেউ কেউ বলেছেন, এর ওয়াজিব (واجب) হওয়ার বিধান রহিত (نسخ) হয়েছে এবং মুস্তাহাব (ندب) হিসেবে এর বিধান অবশিষ্ট রয়েছে।
(খণ্ড: ১)
হুসনুল উসওয়াহ বিমা সাবাতা মিনাল্লাহি ওয়া রাসূলিহী ফিন নিসওয়াহ
(পৃষ্ঠা: ২৫)
8 -
بَاب مَا نزل فِي حل الرَّفَث إِلَى النِّسَاء ومباشرتهن فِي ليَالِي الصَّوْم{أحل لكم لَيْلَة الصّيام الرَّفَث إِلَى نِسَائِكُم هن لِبَاس لكم وَأَنْتُم لِبَاس لَهُنَّ} {فَالْآن باشروهن وابتغوا مَا كتب الله لكم} {وَلَا تباشروهن وَأَنْتُم عاكفون فِي الْمَسَاجِد}
قَالَ تَعَالَى {أحل لكم لَيْلَة الصّيام الرَّفَث إِلَى نِسَائِكُم} الرَّفَث كِنَايَة عَن الْجِمَاع قَالَ الزّجاج هُوَ كلمة جَامِعَة لكل مَا يُرِيد الرجل من امْرَأَته وَكَذَا قَالَ الْأَزْهَرِي وَقيل أَصله الْفُحْش وَلَيْسَ هُوَ المُرَاد هُنَا وعدي بإلى لتَضَمّنه معنى الْإِفْضَاء {هن لِبَاس لكم وَأَنْتُم لِبَاس لَهُنَّ} جعل النِّسَاء لباسا للرِّجَال وَالرِّجَال لباسا لَهُنَّ لامتزاج كل وَاحِد مِنْهُمَا بِالْآخرِ عِنْد الْجِمَاع كالامتزاج الَّذِي يكون بَين الثَّوْب ولابسه قَالَ أَبُو عُبَيْدَة وَغَيره يُقَال للْمَرْأَة لِبَاس وفراش وَإِزَار وَقيل إِنَّمَا جعل كل وَاحِد مِنْهُمَا لباسا للْآخر لِأَنَّهُ يستره عِنْد الْجِمَاع عَن أعين النَّاس وَعَن ابْن عَبَّاس رضي الله عنهما هن سكن لكم وَأَنْتُم سكن لَهُنَّ قيل لَا يسكن شَيْء إِلَى شَيْء كسكون إِحْدَى الزَّوْجَيْنِ إِلَى الآخر وَقَالَ الدُّخُول والتغشي والإفضاء والمباشرة والرفث واللمس والمس هِيَ الْجِمَاع فَإِن الله حييّ كريم يكني بِمَا شَاءَ
وَقَالَ تَعَالَى {فَالْآن باشروهن} أَي جامعوهن فَهُوَ حَلَال لكم فِي ليَالِي الصَّوْم وَسميت المجامعة مُبَاشرَة لتلاصق بشرة كل وَاحِد بِصَاحِبِهِ {وابتغوا مَا كتب الله لكم} أَي ابْتَغوا بِمُبَاشَرَة نِسَائِكُم حُصُول مَا هُوَ مُعظم الْمَقْصُود من النِّكَاح وَهُوَ حُصُول النَّسْل وَالْولد وَقيل ابْتَغوا مَا كتب الله لكم من الْإِمَاء والزوجات
৮ -
অধ্যায়: সিয়ামের রাতে স্ত্রীদের সাথে সহবাস ও তাদের সাথে মেলামেশার বৈধতা সম্পর্কে যা অবতীর্ণ হয়েছে{সিয়ামের রাতে তোমাদের জন্য তোমাদের স্ত্রীদের সাথে সহবাস বৈধ করা হয়েছে; তারা তোমাদের জন্য পরিচ্ছদ এবং তোমরা তাদের জন্য পরিচ্ছদ} {সুতরাং এখন তোমরা তাদের সাথে সহবাস করো এবং আল্লাহ তোমাদের জন্য যা লিখে রেখেছেন তা অন্বেষণ করো} {আর তোমরা যখন মসজিদে ইতিকাফ অবস্থায় থাকো, তখন তাদের সাথে মেলামেশা করো না}
মহান আল্লাহ বলেছেন: {সিয়ামের রাতে তোমাদের জন্য তোমাদের স্ত্রীদের সাথে সহবাস বৈধ করা হয়েছে}। এখানে ‘রাফাস’ শব্দটি সহবাসের ইঙ্গিত হিসেবে ব্যবহৃত হয়েছে। যাজ্জাজ বলেন, এটি এমন একটি ব্যাপক শব্দ যা একজন পুরুষ তার স্ত্রীর কাছে যা কিছু চায় তার সবকিছুকেই অন্তর্ভুক্ত করে; আজহারীও অনুরূপ কথা বলেছেন। কেউ কেউ বলেন, এর মূল অর্থ হলো অশ্লীলতা, তবে এখানে তা উদ্দেশ্য নয়। এই শব্দটির সাথে ‘ইলা’ অব্যয় যুক্ত হয়েছে কারণ এটি ‘ইফদা’ বা মিলনের অর্থকে অন্তর্ভুক্ত করে। {তারা তোমাদের জন্য পরিচ্ছদ এবং তোমরা তাদের জন্য পরিচ্ছদ}; এখানে নারীদের পুরুষদের জন্য এবং পুরুষদের নারীদের জন্য পরিচ্ছদ হিসেবে গণ্য করা হয়েছে, কারণ সহবাসের সময় একে অপরের সাথে এমনভাবে মিশে যায় যেমনটি পোশাক ও পরিধানকারীর মাঝে হয়ে থাকে। আবু উবাইদাহ ও অন্যান্যরা বলেন, স্ত্রীকে ‘লেবাস’ (পোশাক), ‘ফিরাশ’ (বিছানা) ও ‘ইজার’ (বস্ত্র) বলা হয়। কেউ কেউ বলেন, তাদের প্রত্যেককে একে অপরের জন্য পরিচ্ছদ বানানো হয়েছে কারণ সহবাসের সময় তারা একে অপরকে মানুষের দৃষ্টি থেকে আড়াল করে রাখে। ইবনে আব্বাস (রাযিয়াল্লাহু আনহুমা) থেকে বর্ণিত, তারা তোমাদের জন্য প্রশান্তি এবং তোমরা তাদের জন্য প্রশান্তি। বলা হয়ে থাকে যে, স্বামী-স্ত্রীর একে অপরের প্রতি যে প্রশান্তি, তার মতো অন্য কোনো বস্তু অন্য কোনো বস্তুর প্রতি প্রশান্ত হয় না। তিনি আরও বলেন, ‘দুখুল’ (প্রবেশ), ‘তাগাশি’ (আচ্ছন্ন করা), ‘ইফদা’ (মিলন), ‘মুবাসারাত’ (স্পর্শ করা), ‘রাফাস’ (সহবাস), ‘লামস’ ও ‘মাস’ (স্পর্শ করা)—এসবই হলো সহবাসের নামান্তর; নিশ্চয়ই আল্লাহ অত্যন্ত লজ্জাশীল ও মহানুভব, তিনি যা ইচ্ছা তা ইঙ্গিতে ব্যক্ত করেন।
মহান আল্লাহ আরও বলেছেন: {সুতরাং এখন তোমরা তাদের সাথে সহবাস করো} অর্থাৎ তাদের সাথে যৌন মিলন করো; আর এটি সিয়ামের রাতে তোমাদের জন্য হালাল। সহবাসকে ‘মুবাসারাত’ (শারীরিক স্পর্শ) বলা হয়েছে কারণ এতে একে অপরের চামড়ার সাথে চামড়ার সংলগ্নতা ঘটে। {এবং আল্লাহ তোমাদের জন্য যা লিখে রেখেছেন তা অন্বেষণ করো} অর্থাৎ তোমাদের স্ত্রীদের সাথে মিলনের মাধ্যমে বিবাহের মূল উদ্দেশ্য হাসিলের চেষ্টা করো, আর তা হলো বংশধারা রক্ষা ও সন্তান লাভ। কেউ কেউ বলেছেন, আল্লাহ তোমাদের জন্য যে সকল দাসী ও স্ত্রী লিখে রেখেছেন তাদের অন্বেষণ করো।
(খণ্ড: ১)
হুসনুল উসওয়াহ বিমা সাবাতা মিনাল্লাহি ওয়া রাসূলিহী ফিন নিসওয়াহ
(পৃষ্ঠা: ২৬)
وَقَالَ تَعَالَى {وَلَا تباشروهن وَأَنْتُم عاكفون فِي الْمَسَاجِد} قيل المُرَاد الْجِمَاع وَقيل يَشْمَل التَّقْبِيل واللمس إِذا كَانَا بِشَهْوَة لَا إِذا كَانَا بغَيْرهَا فهما جائزان قَالَه عَطاء وَالشَّافِعِيّ وَابْن الْمُنْذر وَغَيرهم
9 -
بَاب مَا نزل فِي أجر النَّفَقَة للْوَالِدين{مَا أنفقتم من خير فللوالدين والأقربين واليتامى وَالْمَسَاكِين وَابْن السَّبِيل}
قَالَ تَعَالَى {مَا أنفقتم من خير فللوالدين} قدمهما لوُجُوب حَقّهمَا على الْوَلَد لِأَنَّهُمَا السَّبَب فِي وجوده {والأقربين واليتامى وَالْمَسَاكِين وَابْن السَّبِيل} انْظُر إِلَى هَذَا التَّرْتِيب الْحسن العجيب فِي كَيْفيَّة الْإِنْفَاق كَيفَ فَصله
10 -
بَاب مَا نزل فِي نِكَاح المشركات{وَلَا تنْكِحُوا المشركات حَتَّى يُؤمن وَلأمة مُؤمنَة خير من مُشركَة وَلَو أَعجبتكُم وَلَا تنْكِحُوا الْمُشْركين حَتَّى يُؤمنُوا ولعَبْد مُؤمن خير من مُشْرك وَلَو أعجبكم}
قَالَ تَعَالَى {وَلَا تنْكِحُوا المشركات حَتَّى يُؤمن} أَي لَا تتزوجوا وَالْمرَاد بِالنِّكَاحِ العقد لَا الْوَطْء وَفِي هَذِه الْآيَة النَّهْي عَن نِكَاح المشركات قيل المُرَاد بهَا الوثنيات وَقيل تعم الكتابيات لما أخرج البُخَارِيّ عَن ابْن عمر قَالَ حرم الله نِكَاح المشركات على الْمُسلمين وَلَا أعرف
মহান আল্লাহ তাআলা ইরশাদ করেছেন, {আর তোমরা যখন মসজিদে ইতিকাফ অবস্থায় থাকবে, তখন তাদের সাথে মেলামেশা করো না}। বলা হয়েছে যে, এর দ্বারা উদ্দেশ্য হলো সহবাস (الجماع), আবার কেউ কেউ বলেছেন এর অন্তর্ভুক্ত হলো চুম্বন ও স্পর্শ যদি তা কামোত্তেজনা সহকারে হয়। কিন্তু যদি তা কামোত্তেজনা ব্যতিরেকে হয়, তবে তা বৈধ (جائز)। আতা, শাফেয়ী, ইবনুল মুনজির এবং অন্যগণ একথাই বলেছেন।
৯ -
পিতা-মাতার জন্য ব্যয় করার সওয়াব সম্পর্কে যা অবতীর্ণ হয়েছে তার পরিচ্ছেদ{তোমরা উত্তম যা কিছু ব্যয় করো, তা পিতা-মাতা, নিকটাত্মীয়, এতিম, মিসকিন ও মুসাফিরদের জন্য}
মহান আল্লাহ তাআলা ইরশাদ করেছেন, {তোমরা উত্তম যা কিছু ব্যয় করো, তা পিতা-মাতার জন্য}। সন্তানের ওপর পিতা-মাতার হকের আবশ্যকতা (وجوب) থাকার কারণে তিনি তাঁদেরকে প্রথমে উল্লেখ করেছেন, কেননা তাঁরাই সন্তানের অস্তিত্বের কারণ। {এবং নিকটাত্মীয়, এতিম, মিসকিন ও মুসাফিরদের জন্য}। ব্যয়ের এই চমৎকার ও বিস্ময়কর বিন্যাসটির দিকে লক্ষ্য করুন, তিনি কীভাবে এর বিস্তারিত বর্ণনা দিয়েছেন।
১০ -
মুশরিক নারীদের বিবাহ করা সম্পর্কে যা অবতীর্ণ হয়েছে তার পরিচ্ছেদ{আর তোমরা মুশরিক নারীদের বিবাহ করো না যতক্ষণ না তারা ঈমান আনে। নিশ্চয়ই একজন মুমিন দাসী একজন মুশরিক নারীর চেয়ে উত্তম, যদিও সে তোমাদের মুগ্ধ করে। আর তোমরা মুশরিক পুরুষদের সাথে (তোমাদের নারীদের) বিবাহ দিও না যতক্ষণ না তারা ঈমান আনে। নিশ্চয়ই একজন মুমিন দাস একজন মুশরিক পুরুষের চেয়ে উত্তম, যদিও সে তোমাদের মুগ্ধ করে।}
মহান আল্লাহ তাআলা ইরশাদ করেছেন, {আর তোমরা মুশরিক নারীদের বিবাহ করো না যতক্ষণ না তারা ঈমান আনে} অর্থাৎ তোমরা বিবাহ করো না। আর এখানে নিকাহ (النكاح) দ্বারা উদ্দেশ্য হলো বিবাহের চুক্তি বা আকদ (العقد), সহবাস (الوطء) নয়। এই আয়াতে মুশরিক নারীদের বিবাহের ব্যাপারে নিষেধাজ্ঞা (النهي) রয়েছে। বলা হয়েছে যে, এর দ্বারা উদ্দেশ্য হলো পৌত্তলিক নারীগণ, আবার বলা হয়েছে যে এটি কিতাবি নারীদের ক্ষেত্রেও ব্যাপক (عام)। কারণ বুখারি ইবনে ওমর (রা.) থেকে বর্ণনা (أخرج) করেছেন, তিনি বলেছেন: আল্লাহ তাআলা মুসলমানদের জন্য মুশরিক নারীদের বিবাহ করা হারাম (حرام) করেছেন এবং আমি জানি না...
(খণ্ড: ১)
হুসনুল উসওয়াহ বিমা সাবাতা মিনাল্লাহি ওয়া রাসূলিহী ফিন নিসওয়াহ
(পৃষ্ঠা: ২৭)
شَيْئا من الْإِشْرَاك أعظم من أَن تَقول الْمَرْأَة إِن رَبهَا عِيسَى وَهُوَ عبد من عباد الله
قَالَت طَائِفَة جَاءَت آيَة الْمَائِدَة فخصصت الكتابيات من هَذَا الْعُمُوم وَهُوَ القَوْل الراسخ عَن مقَاتل بن حَيَّان قَالَ نزلت هَذِه الْآيَة فِي أبي مرْثَد الغنوي وَكَانَ قد اسْتَأْذن النَّبِي صلى الله عليه وسلم فِي عنَاق أَن يَتَزَوَّجهَا وَكَانَت ذَات حَظّ من الْجمال وَهِي مُشركَة وَأَبُو مرْثَد يَوْمئِذٍ مُسلم فَقَالَ يَا رَسُول الله إِنَّهَا تعجبني فَأنْزل الله {وَلَا تنْكِحُوا المشركات} الْآيَة أخرجه ابْن أبي حَاتِم وَابْن الْمُنْذر {وَلأمة مُؤمنَة خير من مُشركَة} أَي رقيقَة مُؤمنَة أَنْفَع وَأصْلح وَأفضل من حرَّة مُشركَة وَيُسْتَفَاد مِنْهُ تَفْضِيل الْحرَّة المؤمنة على الْحرَّة المشركة بِالْأولَى قَالَ ابْن عَرَفَة يَجِيء التَّفْضِيل فِي كَلَامهم إِيجَابا للْأولِ ونفيا عَن الثَّانِي فعلى هَذَا يلْزم عدم الْخَيْر فِي المشركة مُطلقًا {وَلَو أَعجبتكُم} أَي المشركة من جِهَة كَونهَا ذَات جمال أَو مَال أَو نسب أَو شرف قَالَ السُّيُوطِيّ وَهَذَا مَخْصُوص بِغَيْر الكتابيات بِآيَة {وَالْمُحصنَات من الَّذين أُوتُوا الْكتاب} {وَلَا تنْكِحُوا الْمُشْركين} أَي لَا تزوجوا الْكفَّار بالمؤمنات خطاب للأولياء {حَتَّى يُؤمنُوا} قَالَ الْقُرْطُبِيّ أَجمعت الْأمة على أَن الْمُشرك لَا يطَأ المؤمنة بِوَجْه لما فِي ذَلِك من الغضاضة على الْإِسْلَام {ولعَبْد مُؤمن خير من مُشْرك وَلَو أعجبكم} أَي بحسنه وجماله وَنسبه وَمَاله
শিরকের (الشرك) অন্তর্ভুক্ত এর চেয়ে বড় কোনো বিষয় নেই যে, কোনো নারী বলবে তার রব হলো ঈসা, অথচ তিনি আল্লাহর বান্দাদের মধ্যে একজন বান্দা মাত্র।
এক দল বিশেষজ্ঞ বলেছেন, সূরা আল-মায়িদাহর আয়াত অবতীর্ণ হয়ে এই সাধারণ (العموم) বিধান থেকে আহলে কিতাব নারীদের সুনির্দিষ্ট (مخصص) করেছে। এটিই মুকাতিল ইবনে হাইয়্যান থেকে বর্ণিত সুদৃঢ় অভিমত। তিনি বলেন, এই আয়াতটি আবু মারসাদ আল-গানাবী সম্পর্কে অবতীর্ণ হয়েছে। তিনি নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর কাছে আনাক নামক এক নারীকে বিবাহ করার অনুমতি চেয়েছিলেন। সে ছিল অত্যন্ত সুন্দরী কিন্তু অংশীবাদী (مشركة), আর আবু মারসাদ তখন ছিলেন মুসলিম। তিনি বললেন, হে আল্লাহর রাসূল! সে আমার কাছে অত্যন্ত চমৎকার মনে হয়। তখন আল্লাহ অবতীর্ণ করলেন, {আর তোমরা অংশীবাদী (المشركات) নারীদের বিবাহ করো না}— আয়াতাংশ। এটি ইবনে আবি হাতিম ও ইবনে মুনজির উদ্ধৃত করেছেন। {একজন মুমিন দাসী একজন অংশীবাদী (مشركة) নারীর চেয়ে উত্তম} অর্থাৎ, একজন মুমিন দাসী একজন অংশীবাদী (مشركة) স্বাধীন নারীর চেয়ে অধিক উপকারী, কল্যাণকর এবং শ্রেষ্ঠ। এখান থেকে স্বাভাবিকভাবেই অংশীবাদী (مشركة) স্বাধীন নারীর ওপর মুমিন স্বাধীন নারীর শ্রেষ্ঠত্ব প্রমাণিত হয়। ইবনে আরাফা বলেন, আরবদের বক্তব্যে শ্রেষ্ঠত্ব (التفضيل) প্রদানের অর্থ হলো প্রথমটির ক্ষেত্রে গুণটি সাব্যস্ত করা এবং দ্বিতীয়টির ক্ষেত্রে তা নাকচ করা। সেই অনুযায়ী, অংশীবাদী (مشركة) নারীর মধ্যে কোনো প্রকার কল্যাণ না থাকাটা অপরিহার্য হয়ে পড়ে। {যদিও সে তোমাদের বিমোহিত করে} অর্থাৎ সৌন্দর্য, সম্পদ, বংশমর্যাদা বা আভিজাত্যের কারণে সেই অংশীবাদী (مشركة) নারী তোমাদের পছন্দ হয়। সুয়ূতী বলেন, এটি "আহলে কিতাবদের মধ্য থেকে সচ্চরিত্রা নারীগণ" সংক্রান্ত আয়াতের মাধ্যমে আহলে কিতাব ব্যতীত অন্যদের জন্য সুনির্দিষ্ট (مخصوص)। {আর তোমরা অংশীবাদী (المشركين) পুরুষদের সাথে বিবাহ দিও না} অর্থাৎ কাফিরদের (الكفار) সাথে মুমিন নারীদের বিবাহ দিও না; এটি অভিভাবকদের প্রতি সম্বোধন। {যতক্ষণ না তারা ঈমান আনে}। কুরতুবী বলেন, উম্মত এই বিষয়ে ঐকমত্য পোষণ (أجمعت) করেছে যে, কোনো অংশীবাদী (مشرك) পুরুষ কোনোভাবেই কোনো মুমিন নারীর সাথে সংগত হতে পারবে না, কারণ এতে ইসলামের অবমাননা নিহিত রয়েছে। {আর একজন মুমিন দাস একজন অংশীবাদী (مشرك) পুরুষের চেয়ে উত্তম, যদিও সে তোমাদের বিমোহিত করে} অর্থাৎ তার রূপ-সৌন্দর্য, বংশমর্যাদা এবং সম্পদের কারণে।
(খণ্ড: ১)
হুসনুল উসওয়াহ বিমা সাবাতা মিনাল্লাহি ওয়া রাসূলিহী ফিন নিসওয়াহ
(পৃষ্ঠা: ২৮)
11 -
بَاب مَا نزل فِي عدم قرب النِّسَاء حَتَّى يطهرن{ويسألونك عَن الْمَحِيض قل هُوَ أَذَى فاعتزلوا النِّسَاء فِي الْمَحِيض وَلَا تقربوهن حَتَّى يطهرن فَإِذا تطهرن فأتوهن من حَيْثُ أَمركُم الله إِن الله يحب التوابين وَيُحب المتطهرين}
قَالَ تَعَالَى {ويسألونك عَن الْمَحِيض} وَهُوَ اسْم الْحيض أَي الْحَدث وأصل الْكَلِمَة من السيلان والانفجار {قل هُوَ أَذَى} أَي شَيْء يتَأَذَّى بِهِ أَي برائحته والأذى كِنَايَة عَن القذر أَو مَحَله {فاعتزلوا النِّسَاء فِي الْمَحِيض} أَي اجتنبوهن واتركوا وطأهن فِي زمَان الْمَحِيض إِن حمل الْمَحِيض على الْمصدر أَو فِي مَحل الْحيض إِن حمل على الِاسْم وَالْمرَاد مِنْهُ ترك المجامعة لَا ترك المجالسة أَو الملابسة فَإِن ذَلِك جَائِز بل يجوز الِاسْتِمْتَاع بِهن مَا عدا الْفرج أَو مَا دون الْإِزَار على خلاف فِي ذَلِك وَلَا خلاف بَين أهل الْعلم فِي تَحْرِيم وَطْء الْحَائِض وَهُوَ مَعْلُوم من ضَرُورَة الدَّين {وَلَا تقربوهن حَتَّى يطهرن} قريء بِالتَّشْدِيدِ وَالتَّخْفِيف وَالطُّهْر انْقِطَاع الْحيض والتطهر الِاغْتِسَال وبسبب اخْتِلَاف الْقُرَّاء اخْتلف أهل الْعلم فَذهب الْجُمْهُور إِلَى منع الْجِمَاع حَتَّى تتطهر بِالْمَاءِ وَقَالَ
11 -
পরিচ্ছেদ: ঋতুস্রাব থেকে পবিত্র না হওয়া পর্যন্ত স্ত্রীদের নিকটবর্তী না হওয়া প্রসঙ্গে যা অবতীর্ণ হয়েছে{তারা আপনাকে ঋতুস্রাব সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করে। বলুন, তা হলো অশুচি। সুতরাং তোমরা ঋতুকালীন সময়ে স্ত্রীদের থেকে পৃথক থাকো এবং তারা পবিত্র না হওয়া পর্যন্ত তাদের নিকটবর্তী হয়ো না। যখন তারা ভালোভাবে পবিত্র হবে, তখন তাদের নিকট আসো যেভাবে আল্লাহ তোমাদের নির্দেশ দিয়েছেন। নিশ্চয়ই আল্লাহ তওবাকারীদের ভালোবাসেন এবং যারা পবিত্র থাকে তাদেরও ভালোবাসেন।}
আল্লাহ তাআলা বলেছেন, {তারা আপনাকে ঋতুস্রাব সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করে}। এটি ঋতুস্রাবের একটি নাম, যার অর্থ হলো অপবিত্রতা (حدث)। এই শব্দের মূল অর্থ হলো প্রবাহিত হওয়া ও সজোরে নির্গত হওয়া। {বলুন, তা হলো অশুচি (أذى)} অর্থাৎ এমন বস্তু যা দ্বারা কষ্ট অনুভূত হয়, যেমন তার দুর্গন্ধ। এখানে 'অশুচি' শব্দটি ময়লা-আবর্জনা বা তার স্থানের রূপক হিসেবে ব্যবহৃত হয়েছে। {সুতরাং তোমরা ঋতুকালীন সময়ে স্ত্রীদের থেকে পৃথক থাকো} অর্থাৎ তাদের থেকে দূরে থাকো এবং ঋতুস্রাবের সময়ে তাদের সাথে সহবাস বর্জন করো—যদি 'মাহিয' শব্দটিকে ক্রিয়ামূল (مصدر) হিসেবে ধরা হয়; অথবা ঋতুস্রাবের স্থানে সহবাস বর্জন করো—যদি একে বিশেষ্য (اسم) হিসেবে ধরা হয়। আর এর দ্বারা উদ্দেশ্য হলো সহবাস বর্জন করা, একত্রে উঠাবসা বা মেলামেশা বর্জন করা নয়। কারণ তা বৈধ (جائز)। বরং লজ্জাস্থান ব্যতীত শরীরের অন্য অংশ দিয়ে অথবা ইজারের (লুঙ্গি) ওপরের অংশ দিয়ে তাদের সাথে সান্নিধ্য লাভ করা বৈধ (جائز), যদিও এ বিষয়ে মতভেদ রয়েছে। তবে ঋতুবতী স্ত্রীর সাথে সহবাস হারাম (تحريم) হওয়ার ব্যাপারে আলেমদের মধ্যে কোনো মতভেদ নেই এবং এটি দ্বীনের অপরিহার্য বিষয় হিসেবে সুবিদিত। {এবং তারা পবিত্র না হওয়া পর্যন্ত তাদের নিকটবর্তী হয়ো না}। শব্দটি তাশদীদ (تشديد) ও তাখফীফ (تخفيف) উভয় পদ্ধতিতেই পাঠ করা হয়েছে। এখানে 'তুহর' মানে ঋতুস্রাব বন্ধ হওয়া এবং 'তাতাহহুর' মানে গোসল করা। কিরাআতের (قراءة) এই ভিন্নতার কারণে আলেমগণও ভিন্ন ভিন্ন মত পোষণ করেছেন। জুমহুর (جمهور) বা অধিকাংশ আলেম এই অভিমত ব্যক্ত করেছেন যে, পানি দিয়ে গোসল করার মাধ্যমে পবিত্র না হওয়া পর্যন্ত সহবাস করা নিষিদ্ধ (منع)। আর তিনি বলেছেন
(খণ্ড: ১)
হুসনুল উসওয়াহ বিমা সাবাতা মিনাল্লাহি ওয়া রাসূলিহী ফিন নিসওয়াহ
(পৃষ্ঠা: ২৯)
آخَرُونَ حلت لزَوجهَا وَإِن لم تَغْتَسِل وَرجح الطَّبَرِيّ قِرَاءَة التَّشْدِيد وَالْأولَى أَن يُقَال إِن الله تَعَالَى جعل للْحلّ غايتين كَمَا تَقْتَضِيه القراءتان إِحْدَاهمَا انْقِطَاع الدَّم وَالْأُخْرَى التطهر مِنْهُ والغاية الْأُخْرَى مُشْتَمِلَة على زِيَادَة على الْغَايَة الأولى فَيجب الْمصير إِلَيْهَا وَقد دلّ على أَن الْغَايَة الْأُخْرَى هِيَ الْمُعْتَبرَة وَقَوله سُبْحَانَهُ بعد ذَلِك {فَإِذا تطهرن} فَإِن ذَلِك يُفِيد أَن الْمُعْتَبر التطهر لَا مُجَرّد انْقِطَاع الدَّم وَقد تقرر أَن الْقِرَاءَتَيْن بِمَنْزِلَة الْآيَتَيْنِ فَكَمَا أَنه يجب الْجمع بَين الْآيَتَيْنِ الْمُشْتَملَة إِحْدَاهمَا على زِيَادَة بِالْعَمَلِ بِتِلْكَ الزِّيَادَة كَذَلِك يجب الْجمع بَين الْقِرَاءَتَيْن {فأتوهن من حَيْثُ أَمركُم الله} أَي فجامعوهن وكنى عَنهُ بالإتيان وَالْمرَاد أَنهم يجامعونهن فِي المأتى الَّذِي أَبَاحَهُ الله وَهُوَ الْقبل وَقيل من قبل الْحَلَال لَا من قبل الزِّنَى {إِن الله يحب التوابين} من إتْيَان النِّسَاء فِي أدبارهن أَو فِي الْمَحِيض {وَيُحب المتطهرين} من الْجَنَابَة والأحداث والعموم أولى
12 -
بَاب مَا نزل فِي مَوضِع إتْيَان النِّسَاء{نِسَاؤُكُمْ حرث لكم فَأتوا حَرْثكُمْ أَنى شِئْتُم}
قَالَ تَعَالَى (نِسَاؤُكُمْ حرث لكم) لفظ الْحَرْث يُفِيد أَن الْإِبَاحَة لم تقع إِلَّا فِي الْفرج الَّذِي هُوَ الْقبل خَاصَّة إِذْ هُوَ مزدرع الذُّرِّيَّة كَمَا أَن الْحَرْث مزدرع النَّبَات فقد شبه مَا يلقى فِي أرحامهن من النطف الَّتِي مِنْهَا النَّسْل بِمَا يلقى فِي الأَرْض من البزور الَّتِي مِنْهَا النَّبَات بِجَامِع أَن كل وَاحِد مِنْهُمَا مَادَّة لما يحصل مِنْهُ {فَأتوا حَرْثكُمْ} أَي مَحل زرعكم واستنباتكم الْوَلَد وَهُوَ الْقبل وَهَذَا على سَبِيل التَّشْبِيه جعل فرج الْمَرْأَة كالأرض
অন্যান্যরা বলেছেন, স্ত্রী তার স্বামীর জন্য হালাল হয় যদিও সে গোসল না করে। আত-তাবারী তাশদীদযুক্ত কিরাআতকে প্রাধান্য দিয়েছেন। আর উত্তম হলো এটি বলা যে, আল্লাহ তাআলা হালাল হওয়ার জন্য দুটি সীমা নির্ধারণ করেছেন, যেমনটি উভয় কিরাআত দাবি করে। একটি হলো রক্ত বন্ধ হওয়া এবং অন্যটি হলো তা থেকে পবিত্র হওয়া। দ্বিতীয় সীমাটি প্রথম সীমার অতিরিক্ত বিষয়কে অন্তর্ভুক্ত করে, তাই সেটির দিকেই প্রত্যাবর্তন করা আবশ্যক। দ্বিতীয় সীমাটিই যে গ্রহণযোগ্য (معتبر) তা মহান আল্লাহর এই বাণীর মাধ্যমে প্রমাণিত হয়: {অতঃপর তারা যখন পবিত্র হয়}। এটি নির্দেশ করে যে, কেবল রক্ত বন্ধ হওয়া নয় বরং পবিত্রতা অর্জনই হলো গ্রহণযোগ্য (معتبر) বিষয়। আর এটি সুপ্রতিষ্ঠিত যে, দুটি কিরাআত দুটি আয়াতের সমতুল্য। সুতরাং যেমনভাবে এমন দুটি আয়াতের মধ্যে সমন্বয় করা আবশ্যক যার একটির আমল অতিরিক্ত বিষয়ের ওপর নির্ভরশীল, তেমনিভাবে দুটি কিরাআতের মধ্যেও সমন্বয় করা আবশ্যক। {অতঃপর তোমরা তাদের নিকট সেই স্থান দিয়ে গমন করো যে স্থানের জন্য আল্লাহ তোমাদের আদেশ দিয়েছেন} অর্থাৎ তাদের সাথে সহবাস করো। এখানে 'আগমনের' মাধ্যমে সহবাসের রূপক অর্থ প্রকাশ করা হয়েছে। এর উদ্দেশ্য হলো তারা যেন তাদের সাথে সেই স্থানে সহবাস করে যা আল্লাহ বৈধ করেছেন, আর তা হলো সম্মুখ পথ। বলা হয়েছে এর অর্থ হলো হালাল পন্থায়, ব্যভিচারের পন্থায় নয়। {নিশ্চয়ই আল্লাহ তাওবাকারীদের ভালোবাসেন} অর্থাৎ যারা স্ত্রীদের পশ্চাৎপথে বা ঋতুকালীন সময়ে সহবাস করা থেকে তাওবা করে। {এবং তিনি পবিত্রতা অর্জনকারীদের ভালোবাসেন} অর্থাৎ যারা জানাবাত ও অপবিত্রতা থেকে পবিত্র থাকে; তবে এর ব্যাপকতা (عموم) গ্রহণ করাই অধিকতর উত্তম।
12 -
অধ্যায়: স্ত্রীদের গমনের স্থান সম্পর্কে যা অবতীর্ণ হয়েছে{তোমাদের স্ত্রীরা তোমাদের শস্যক্ষেত্র, অতএব তোমরা তোমাদের শস্যক্ষেত্রে যেভাবে ইচ্ছা গমন করো।}
আল্লাহ তাআলা বলেছেন (তোমাদের স্ত্রীরা তোমাদের শস্যক্ষেত্র), এখানে শস্যক্ষেত্র শব্দটি এটাই বুঝায় যে, কেবল সম্মুখ পথ অর্থাৎ যোনিতেই সহবাস বৈধ, কারণ এটি হলো বংশবৃদ্ধির চারণভূমি। যেমন শস্যক্ষেত্র হলো চারাগাছ জন্মানোর স্থান। এখানে জরায়ুতে নিক্ষিপ্ত বীর্য—যা থেকে সন্তান সন্ততি হয়—তাকে জমিনে নিক্ষিপ্ত বীজের সাথে তুলনা করা হয়েছে যা থেকে চারাগাছ উৎপন্ন হয়। কারণ উভয়েই হলো যা কিছু অর্জিত হয় তার মূল উপাদান। {অতএব তোমরা তোমাদের শস্যক্ষেত্রে গমন করো} অর্থাৎ তোমাদের চারা রোপণ ও সন্তান উৎপাদনের স্থানে, আর তা হলো সম্মুখ পথ। এটি একটি রূপক বর্ণনা যেখানে স্ত্রীর যোনিকে ভূমির সমতুল্য করা হয়েছে।
(খণ্ড: ১)
হুসনুল উসওয়াহ বিমা সাবাতা মিনাল্লাহি ওয়া রাসূলিহী ফিন নিসওয়াহ
(পৃষ্ঠা: ৩০)
والنطفة كالبزر وَالْولد كالزرع {أَنى شِئْتُم} أَي أَي من أَي جِهَة شِئْتُم من خلف وَقُدَّام وباركة ومستلقية ومضطجعة وقائمة وَقَاعِدَة ومقبلة ومدبرة إِذا كَانَ فِي مَوضِع الْحَرْث
وَقد ذهب السّلف وَالْخلف من الصَّحَابَة وَالتَّابِعِينَ وَالْأَئِمَّة الْمُجْتَهدين إِلَى أَن إتْيَان الزَّوْجَة فِي دبرهَا حرَام وروى عَن مَالك من طرق مَا يَقْتَضِي إِبَاحَة ذَلِك وَفِي أسانيدها ضعف وَأخرج الشَّيْخَانِ وَأهل السّنَن وَغَيرهم عَن جَابر قَالَ كَانَت الْيَهُود تَقول إِذا أَتَى الرجل امْرَأَة من خلفهَا فِي قبلهَا ثمَّ حملت جَاءَ الْوَلَد أَحول فَنزلت {نِسَاؤُكُمْ حرث لكم فَأتوا حَرْثكُمْ أَنى شِئْتُم} أَي إِن شَاءَ مجبية وَإِن شَاءَ غير مجبية بِحَيْثُ يكون ذَلِك فِي صمام وَاحِد وَقد رُوِيَ هَذَا عَن جمَاعَة من السّلف وصرحوا أَنه السَّبَب والصمام السَّبِيل وَعَن ابْن عَبَّاس قَالَ جَاءَ عمر إِلَى رَسُول الله صلى الله عليه وسلم فَقَالَ يَا رَسُول الله هَلَكت قَالَ وَمَا أهْلكك قَالَ حولت رحلي اللَّيْلَة فَلم يرد عَلَيْهِ شَيْئا فَأوحى الله إِلَى رَسُوله هَذِه الْآيَة {نِسَاؤُكُمْ حرث لكم} يَقُول أقبل وَأدبر وَاتَّقِ الدبر والحيضة أخرجه أَحْمد وَعبد بن حميد وَالتِّرْمِذِيّ وَحسنه وَالنَّسَائِيّ والضياء فِي المختارة وَغَيرهم وَأخرج الشَّافِعِي فِي الْأُم وَابْن أبي شيبَة وَأحمد وَالنَّسَائِيّ وَابْن مَاجَه وَابْن الْمُنْذر وَالْبَيْهَقِيّ فِي سنَنه من طَرِيق خُزَيْمَة بن ثَابت أَن سَائِلًا سَأَلَ رَسُول الله صلى الله عليه وسلم عَن إتْيَان النِّسَاء فِي أدبارهن فَقَالَ حَلَال أَو لَا بَأْس فَلَمَّا ولى دَعَاهُ فَقَالَ كَيفَ قلت أَمن دبرهَا فِي قبلهَا فَنعم أم من دبرهَا فَلَا إِن الله لَا يستحي من الْحق لَا تَأْتُوا النِّسَاء فِي أدبارهن
বীর্য বীজের মতো এবং সন্তান ফসলের মতো। {যেভাবে ইচ্ছা} অর্থাৎ তোমরা যেভাবে চাও—পেছন থেকে, সামনে থেকে, হাঁটু গেড়ে বসা অবস্থায়, চিৎ হয়ে শুয়ে, কাত হয়ে শুয়ে, দাঁড়িয়ে, বসে, সামনে থেকে বা পেছন থেকে—যদি তা শস্যক্ষেত্রে (যোনিপথে) হয়।
সাহাবী, তাবিঈন এবং মুজতাহিদ ইমামগণের মধ্য থেকে পূর্ববর্তী ও পরবর্তী আলেমগণ এই অভিমত পোষণ করেছেন যে, স্ত্রীর মলদ্বারে মৈথুন করা হারাম। ইমাম মালিক থেকে এমন কিছু সূত্রে বর্ণনা পাওয়া যায় যা এর বৈধতার ইঙ্গিত দেয়, তবে সেগুলোর বর্ণনা পরম্পরায় দুর্বলতা (ضعف) রয়েছে। শাইখাইন, সুনান গ্রন্থসমূহ এবং অন্যান্য গ্রন্থে জাবির (রা.) থেকে বর্ণিত হয়েছে, তিনি বলেন, ইহুদিরা বলত যে, যদি কোনো পুরুষ তার স্ত্রীর যোনিপথে পেছন দিক থেকে মৈথুন করে এবং সে গর্ভবতী হয়, তবে সন্তান টেরা হবে। তখন অবতীর্ণ হয়: {তোমাদের স্ত্রীরা তোমাদের শস্যক্ষেত্র, অতএব তোমরা তোমাদের শস্যক্ষেত্রে যেভাবে ইচ্ছা গমন করো}। অর্থাৎ ইচ্ছা করলে উপুড় করে অথবা উপুড় না করে, তবে শর্ত হলো তা যেন একই পথে (যোনিপথে) হয়। পূর্বসূরিদের এক জামাত থেকে এটি বর্ণিত হয়েছে এবং তারা স্পষ্ট করেছেন যে এটিই আয়াতের অবতীর্ণ হওয়ার কারণ। এখানে 'সিমাম' অর্থ পথ। ইবনে আব্বাস (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, উমর (রা.) রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের কাছে এসে বললেন, 'হে আল্লাহর রাসূল! আমি তো ধ্বংস হয়ে গেছি।' তিনি জিজ্ঞেস করলেন, 'কিসে তোমাকে ধ্বংস করেছে?' তিনি বললেন, 'গত রাতে আমি আমার সওয়ারি উল্টে দিয়েছি (পেছন দিক থেকে যোনিপথে মিলন করেছি)।' রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাকে কোনো উত্তর দিলেন না। তখন আল্লাহ তাঁর রাসূলের ওপর এই আয়াত অবতীর্ণ করলেন: {তোমাদের স্ত্রীরা তোমাদের শস্যক্ষেত্র}। তিনি বললেন, সামনে থেকে হোক বা পেছন থেকে, তবে মলদ্বার ও ঋতুস্রাব এড়িয়ে চলবে। এটি বর্ণনা করেছেন আহমাদ, আবদ বিন হুমাইদ, তিরমিজি এবং তিনি একে হাসান (حسن) বলেছেন, নাসাঈ, দিয়া আল-মাকদিসি আল-মুখতারা গ্রন্থে এবং অন্যান্যরা। ইমাম শাফেঈ আল-উম্ম গ্রন্থে, ইবনে আবি শায়বাহ, আহমাদ, নাসাঈ, ইবনে মাজাহ, ইবনে মুনজির এবং বাইহাকি তাঁর সুনান গ্রন্থে খুজাইমাহ বিন সাবিত (রা.)-এর সূত্রে বর্ণনা করেছেন যে, এক ব্যক্তি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে মহিলাদের মলদ্বারে মৈথুন সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করলে তিনি বললেন, 'হালাল' অথবা 'কোনো অসুবিধা নেই'। লোকটি যখন চলে যেতে লাগল, তখন তিনি তাকে ডেকে বললেন, 'তুমি কী বললে? যদি পেছন দিক থেকে যোনিপথে হয় তবে হ্যাঁ, কিন্তু যদি মলদ্বারে হয় তবে না। নিশ্চয়ই আল্লাহ সত্য প্রকাশে লজ্জা করেন না; তোমরা মহিলাদের মলদ্বারে মৈথুন করো না।'
(খণ্ড: ১)
হুসনুল উসওয়াহ বিমা সাবাতা মিনাল্লাহি ওয়া রাসূলিহী ফিন নিসওয়াহ
(পৃষ্ঠা: ৩১)
وَقد ورد النَّهْي عَن ذَلِك من طرق وَقد ثَبت نَحْو ذَلِك عَن جمَاعَة من الصَّحَابَة وَالتَّابِعِينَ مَرْفُوعا وموقوفا
وَقد روى القَوْل بحله عَن بَعضهم وَلَيْسَ فِي أَقْوَال هَؤُلَاءِ حجَّة الْبَتَّةَ وَلَا يجوز لأحد أَن يعْمل بأقوالهم فَإِنَّهُم لم يَأْتُوا بِدَلِيل يدل على الْجَوَاز فَمن زعم مِنْهُم أَنه فهم ذَلِك من الْآيَة فقد أَخطَأ فِي فهمه فقد فَسرهَا لنا رَسُول الله صلى الله عليه وسلم وأكابر أَصْحَابه بِخِلَاف مَا قَالَه هَذَا المخطيء فِي فهمه كَائِنا من كَانَ وأينما كَانَ وَمن زعم مِنْهُم أَن سَبَب نزُول الْآيَة أَن رجلا أَتَى امْرَأَته فِي دبرهَا فَلَيْسَ فِي هَذَا مَا يدل على أَن الْآيَة أحلّت ذَلِك وَمن زعم ذَلِك فقد أَخطَأ بل الَّذِي تدل عَلَيْهِ الْآيَة أَن ذَلِك حرَام فكون ذَلِك هُوَ السَّبَب لَا يسْتَلْزم أَن تكون الْآيَة نازلة فِي تَحْلِيله فَإِن الْآيَات النَّازِلَة على أَسبَاب تَأتي تَارَة بتحليل هَذَا وَتارَة بِتَحْرِيمِهِ
13 -
بَاب مَا نزل فِي الْإِيلَاء من النِّسَاء{للَّذين يؤلون من نِسَائِهِم تربص أَرْبَعَة أشهر فَإِن فاؤوا فَإِن الله غَفُور رَحِيم وَإِن عزموا الطَّلَاق فَإِن الله سميع عليم}
قَالَ تَعَالَى {للَّذين يؤلون من نِسَائِهِم تربص أَرْبَعَة أشهر} الْإِيلَاء أَن يحلف أَن لَا يطَأ امْرَأَته أَكثر من أَرْبَعَة أشهر فَمَا دونهَا فَإِن حلف على أَرْبَعَة أشهر فَمَا دونهَا لم يكن مؤليا وَكَانَت يَمِينا مَحْضَة وَبِهَذَا قَالَ
এই বিষয়ে একাধিক সূত্রে (طرق) নিষেধাজ্ঞা বর্ণিত হয়েছে এবং একদল সাহাবী ও তাবেয়ীর থেকে মারফু (مرفوعا) ও মাওকুফ (موقوفا) উভয়ভাবেই অনুরূপ বিষয় সাব্যস্ত (ثبت) হয়েছে।
তাদের কারো কারো থেকে এটি হালাল হওয়ার কথা বর্ণিত (روى) হয়েছে, তবে তাদের বক্তব্যের মধ্যে বিন্দুমাত্র কোনো প্রমাণ (حجة) নেই এবং কারো জন্য তাদের কথা অনুযায়ী আমল করা জায়েজ নয়। কেননা তারা এর বৈধতার সপক্ষে কোনো দলিল (دليل) উপস্থাপন করতে পারেননি। তাদের মধ্যে যে ব্যক্তিই দাবি করেছে যে সে আয়াত থেকে এটি বুঝতে পেরেছে, সে তার বুঝের ক্ষেত্রে ভুল করেছে। কারণ রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এবং তাঁর বড় বড় সাহাবীগণ এই আয়াতটিকে সেই ভুল বুঝ পোষণকারীর বুঝের বিপরীতে ব্যাখ্যা করেছেন, তিনি যে-ই হোন বা যেখানেই থাকুন না কেন। আর তাদের মধ্যে যে দাবি করে যে, আয়াত নাযিলের প্রেক্ষাপট (سبب نزول) ছিল কোনো এক ব্যক্তির তার স্ত্রীর পশ্চাৎদেশ ব্যবহার করা, তবে এর মধ্যে এমন কিছু নেই যা নির্দেশ করে যে আয়াতটি একে হালাল করেছে। যে ব্যক্তি এমন দাবি করে সে ভুল করেছে; বরং আয়াতটি যা নির্দেশ করে তা হলো এটি হারাম। কারণ কোনো প্রেক্ষাপট (السبب) হওয়ার অর্থ এই নয় যে আয়াতটি তা হালাল করার জন্য নাযিল হয়েছে। নিশ্চয়ই প্রেক্ষাপটের ভিত্তিতে নাযিল হওয়া আয়াতসমূহ কখনো হালাল করার জন্য আসে, আবার কখনো তা হারাম করার জন্য আসে।
১৩ -
পরিচ্ছেদ: স্ত্রীদের সাথে ইলা (الإيلاء) করা প্রসঙ্গে যা নাযিল হয়েছে{যারা নিজেদের স্ত্রীদের সাথে ইলা (الإيلاء) করে, তাদের জন্য চার মাসের প্রতীক্ষা রয়েছে। অতঃপর তারা যদি ফিরে আসে, তবে নিশ্চয়ই আল্লাহ ক্ষমাশীল ও পরম দয়ালু। আর যদি তারা তালাকের সংকল্প করে, তবে নিশ্চয়ই আল্লাহ সর্বশ্রোতা ও সর্বজ্ঞ।}
আল্লাহ তাআলা বলেন: {যারা নিজেদের স্ত্রীদের সাথে ইলা (الإيلاء) করে, তাদের জন্য চার মাসের প্রতীক্ষা রয়েছে}। ইলা (الإيلاء) হলো এই মর্মে শপথ করা যে, সে তার স্ত্রীর সাথে চার মাসের বেশি সময় ধরে সহবাস করবে না। এর কম সময়ের জন্য হলে সে ইলাকারী (مؤليا) হিসেবে গণ্য হবে না, বরং তা একটি সাধারণ শপথ হিসেবে বিবেচিত হবে। আর এই মত ব্যক্ত করেছেন...
(খণ্ড: ১)
হুসনুল উসওয়াহ বিমা সাবাতা মিনাল্লাহি ওয়া রাসূলিহী ফিন নিসওয়াহ
(পৃষ্ঠা: ৩২)
مَالك وَالشَّافِعِيّ وَأحمد وَأَبُو ثَوْر وَقَالَ الثَّوْريّ وَأهل الْكُوفَة الْإِيلَاء أَن يحلف على أَرْبَعَة أشهر فَصَاعِدا وَقَالَ أبن عَبَّاس لَا يكون مؤليا حَتَّى يحلف أَن لَا يَمَسهَا أبدا وَلَفظ من نِسَائِهِم يَشْمَل الْحَرَائِر وَالْإِمَاء إِذا كن زَوْجَات وَكَذَلِكَ يدْخل تَحت قَوْله يؤلون العَبْد إِذا حلف من زَوجته قَالَ أَحْمد وَالشَّافِعِيّ وَأَبُو ثَوْر إيلاؤه كَالْحرِّ وَقَالَ مَالك وَأَبُو حنيفَة إِن أَجله شَهْرَان وَقَالَ الشّعبِيّ إِيلَاء الْأمة نصف إِيلَاء الْحرَّة
والتربص التأني والتأخر وَإِنَّمَا وَقت الله بِهَذِهِ الْمدَّة دفعا للضرار عَن الزَّوْجَة وَقد كَانَ أهل الْجَاهِلِيَّة يؤلون السّنة والسنتين وَأكْثر من ذَلِك يقصدون بذلك ضرار النِّسَاء وَقد قيل إِن الْأَرْبَعَة الْأَشْهر هِيَ الَّتِي لَا تطِيق الْمَرْأَة الصَّبْر عَن زَوجهَا زِيَادَة عَلَيْهَا {فَإِن فاؤوا} أَي رجعُوا فِيهَا أَو بعْدهَا عَن الْيَمين إِلَى الْوَطْء وللسلف فِي الْفَيْء أَقْوَال هَذَا أولاها لُغَة وَهُوَ الَّذِي يَنْبَغِي الرُّجُوع إِلَيْهِ {فَإِن الله غَفُور رَحِيم} {وَإِن عزموا الطَّلَاق} فِيهِ دَلِيل على أَنَّهَا لَا تطلق بِمُضِيِّ أَرْبَعَة أشهر كَمَا قَالَ مَالك مَا لم يَقع إنْشَاء تطليق بعد الْمدَّة {فَإِن الله سميع عليم} يَعْنِي لَيْسَ لَهُم بعد تربص مَا ذكر إِلَّا الْفَيْء أَو الطَّلَاق
وَلَا يخفى عَلَيْك أَن أهل كل مَذْهَب قد فسروا هَذِه الأية بِمَا يُطَابق مَذْهَبهم وتكلفوا بِمَا لم يدل عَلَيْهِ اللَّفْظ وَلَا دَلِيل آخر وَمَعْنَاهَا ظَاهر وَاضح وَهُوَ أَن الله جعل الْأَجَل لمن يؤلي أَي يحلف من امْرَأَته أَرْبَعَة أشهر ثمَّ قَالَ فَإِن فاؤوا أَي رجعُوا إِلَى بَقَاء الزَّوْجَة واستدامة النِّكَاح فَإِن الله لَا يؤاخذهم بِتِلْكَ الْيَمين بل يغْفر لَهُم ويرحمهم وَإِن وَقع الْعَزْم مِنْهُم على الطَّلَاق وَالْقَصْد لَهُ فَإِن الله سميع لذَلِك عليم بِهِ فَهَذَا معنى الْآيَة الَّذِي لَا شكّ فِيهِ وَلَا شُبْهَة فَمن حلف أَن لَا يطَأ امْرَأَته وَلم يُقيد بِمدَّة أَو قيد بِزِيَادَة على أَرْبَعَة أشهر كَانَ علينا إمهاله أَرْبَعَة أشهر فَإِذا مَضَت فَهُوَ بِالْخِيَارِ
মালেক, শাফেঈ, আহমদ এবং আবু সাওর বলেন; আর সাওরী ও কুফাবাসীগণ বলেন যে, ঈলা (الإيلاء) হলো চার মাস বা তার অধিক সময়ের জন্য শপথ করা। ইবনে আব্বাস বলেন, যতক্ষণ না সে চিরকাল স্পর্শ না করার শপথ করবে, ততক্ষণ সে ঈলাকারী (مؤلٍ) হিসেবে গণ্য হবে না। “তাদের স্ত্রীদের মধ্য থেকে” শব্দবন্ধটি স্বাধীন নারী ও দাসীদের অন্তর্ভুক্ত করে যদি তারা স্ত্রী হয়ে থাকে। একইভাবে “যারা ঈলা করে” এই বাণীর অধীনে ক্রীতদাসও অন্তর্ভুক্ত হবে যখন সে তার স্ত্রীর ব্যাপারে শপথ করবে। আহমদ, শাফেঈ এবং আবু সাওর বলেন, তার ঈলা স্বাধীন ব্যক্তির মতোই। আর মালেক ও আবু হানিফা বলেন, তার সময়সীমা দুই মাস। শাবি বলেন, দাসীর ঈলা স্বাধীন নারীর ঈলার অর্ধেক।
আর ‘তারাব্বুস’ (التربص) অর্থ হলো প্রতীক্ষা করা ও বিলম্ব করা। আল্লাহ এই সময়সীমা নির্ধারণ করেছেন মূলত স্ত্রীর ক্ষতি রোধ করার জন্য। জাহেলিয়াত যুগে লোকেরা এক বছর, দুই বছর বা তারও বেশি সময়ের জন্য ঈলা করত এবং এর মাধ্যমে তারা নারীদের ক্ষতি করার উদ্দেশ্য রাখত। বলা হয়ে থাকে যে, এই চার মাস এমন এক সময় যার অতিরিক্ত সময় কোনো নারী তার স্বামী ব্যতিরেকে ধৈর্য ধারণ করতে সক্ষম নয়। {অতঃপর যদি তারা প্রত্যাবর্তন করে} অর্থাৎ যদি তারা সেই সময়ের মধ্যে বা পরে শপথ থেকে সহবাসের দিকে ফিরে আসে। ‘ফায়’ (الفيء) বা প্রত্যাবর্তনের ব্যাপারে সালাফদের বিভিন্ন অভিমত রয়েছে; আভিধানিক দিক থেকে এটিই সবচেয়ে গ্রহণযোগ্য এবং এর দিকেই ফিরে আসা উচিত। {তবে নিশ্চয়ই আল্লাহ ক্ষমাশীল, পরম দয়ালু}। {আর যদি তারা তালাকের সংকল্প করে}, এতে এই প্রমাণ (دليل) রয়েছে যে, চার মাস অতিবাহিত হলেই তালাক হয়ে যায় না, যেমনটি মালেক বলেছেন যে, নির্ধারিত সময়ের পর পুনরায় তালাক প্রদান না করা পর্যন্ত তা কার্যকর হয় না। {তবে নিশ্চয়ই আল্লাহ সর্বশ্রোতা, সর্বজ্ঞ}। অর্থাৎ উল্লিখিত প্রতীক্ষার পর তাদের সামনে প্রত্যাবর্তন অথবা তালাক ছাড়া আর কোনো পথ নেই।
আপনার কাছে এটি অস্পষ্ট নয় যে, প্রত্যেক মাযহাবের অনুসারীগণ এই আয়াতকে নিজ নিজ মাযহাবের অনুকূলে ব্যাখ্যা করেছেন এবং এমন সব বিষয়ে তারা কষ্টকল্পিত প্রয়াস চালিয়েছেন যা শব্দের দ্বারা বা অন্য কোনো প্রমাণ (دليل) দ্বারা সাব্যস্ত নয়। অথচ এর অর্থ সুস্পষ্ট (ظاهر) ও প্রাঞ্জল; আর তা হলো, আল্লাহ সেই ব্যক্তির জন্য সময়সীমা চার মাস নির্ধারণ করেছেন যে ঈলা করে অর্থাৎ নিজের স্ত্রীর ব্যাপারে শপথ করে। অতঃপর তিনি বললেন, {যদি তারা প্রত্যাবর্তন করে}, অর্থাৎ স্ত্রীর সান্নিধ্যে ফিরে আসা এবং দাম্পত্য সম্পর্ক বজায় রাখা, তবে আল্লাহ তাদের সেই শপথের কারণে পাকড়াও করবেন না; বরং তিনি তাদের ক্ষমা করবেন ও দয়া করবেন। আর যদি তাদের পক্ষ থেকে তালাকের সংকল্প ও ইচ্ছা প্রকাশ পায়, তবে আল্লাহ তা শোনেন এবং সে সম্পর্কে অবগত। এটিই আয়াতের সেই অর্থ যাতে কোনো সন্দেহ বা সংশয় নেই। সুতরাং যে ব্যক্তি তার স্ত্রীর সাথে সহবাস না করার শপথ করবে এবং কোনো সময়সীমা নির্দিষ্ট করবে না অথবা চার মাসের অতিরিক্ত সময়ের শর্ত দেবে, তাকে চার মাস পর্যন্ত অবকাশ দেওয়া আমাদের জন্য আবশ্যক। অতঃপর যখন সময় অতিবাহিত হবে, তখন সে ফিরে আসা বা তালাকের ইখতিয়ার লাভ করবে।
(খণ্ড: ১)
হুসনুল উসওয়াহ বিমা সাবাতা মিনাল্লাহি ওয়া রাসূলিহী ফিন নিসওয়াহ
(পৃষ্ঠা: ৩৩)
إِمَّا أَن يرجع إِلَى نِكَاح امْرَأَته وَكَانَت زَوجته بعد مُضِيّ الْمدَّة كَمَا كَانَت زَوجته قبلهَا أَو يطلقهَا وَكَانَ لَهُ حكم الْمُطلق لامْرَأَته ابْتِدَاء وَأما إِذا وَقت بِدُونِ أَرْبَعَة أشهر فَإِن أَرَادَ أَن يبر فِي يَمِينه اعتزل امْرَأَته الَّتِي حلف مِنْهَا حَتَّى تَنْقَضِي الْمدَّة كَمَا فعل رَسُول الله صلى الله عليه وسلم حِين إِلَى من نِسَائِهِ شهرا فَإِنَّهُ اعتزلهن حَتَّى مضى الشَّهْر وَإِن أَرَادَ أَن يطَأ امْرَأَته قبل تِلْكَ الْمدَّة الَّتِي هِيَ دون أَرْبَعَة أشهر فِي يَمِينه وَلَزِمتهُ الْكَفَّارَة وَكَانَ ممتثلا لما صَحَّ عَنهُ صلى الله عليه وسلم من قَوْله
من حلف على يَمِين فَرَأى غَيره خيرا مِنْهُ فليأت الَّذِي هُوَ خير وليكفر عَن يَمِينه وَالله أعلم
14 -
بَاب مَا نزل فِي عدَّة المطلقات ودرجة الرِّجَال عَلَيْهِنَّ{والمطلقات يَتَرَبَّصْنَ بِأَنْفُسِهِنَّ ثَلَاثَة قُرُوء وَلَا يحل لَهُنَّ أَن يكتمن مَا خلق الله فِي أرحامهن إِن كن يُؤمن بِاللَّه وَالْيَوْم الآخر وبعولتهن أَحَق بردهن فِي ذَلِك إِن أَرَادوا إصلاحا ولهن مثل الَّذِي عَلَيْهِنَّ بِالْمَعْرُوفِ وللرجال عَلَيْهِنَّ دَرَجَة وَالله عَزِيز حَكِيم}
قَالَ تَعَالَى {والمطلقات} أَي المخليات من حبال أَزوَاجهنَّ والمطلقة هِيَ الَّتِي أوقع الزَّوْج عَلَيْهَا الطَّلَاق {يَتَرَبَّصْنَ بِأَنْفُسِهِنَّ ثَلَاثَة قُرُوء} تمْضِي من حِين الطَّلَاق فَتدخل تَحت عُمُومه الْمُطلقَة قبل الدُّخُول ثمَّ خصصت بقوله تَعَالَى {فَمَا لكم عَلَيْهِنَّ من عدَّة تعتدونها} سُورَة الْأَحْزَاب فَوَجَبَ بِنَاء الْعَام على الْخَاص وَخرجت من هَذَا الْعُمُوم الْمُطلقَة قبل الدُّخُول وَكَذَلِكَ خرجت الْحَامِل بقوله تَعَالَى {وَأولَات الْأَحْمَال أَجلهنَّ أَن يَضعن حَملهنَّ} الطَّلَاق 4 وَكَذَلِكَ خرجت الْآيَة بقوله تَعَالَى {فعدتهن ثَلَاثَة أشهر} سُورَة الطَّلَاق
হয় তিনি তাঁর স্ত্রীর সাথে দাম্পত্য জীবনে ফিরে আসবেন এবং নির্ধারিত সময় অতিবাহিত হওয়ার পর সে তাঁর স্ত্রী হিসেবেই গণ্য হবে যেভাবে সে পূর্বে তাঁর স্ত্রী ছিল, অথবা তিনি তাকে তালাক দেবেন এবং এমতাবস্থায় তাঁর জন্য নতুন করে স্ত্রীকে তালাক প্রদানকারীর বিধান প্রযোজ্য হবে। আর যদি তিনি চার মাসের কম সময়ের জন্য কসম করে থাকেন, তবে তিনি যদি তাঁর কসম পূর্ণ করতে চান তবে যে স্ত্রীর ব্যাপারে কসম করেছেন তার থেকে পৃথক থাকবেন যতক্ষণ না মেয়াদ শেষ হয়, যেভাবে রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) করেছিলেন যখন তিনি তাঁর স্ত্রীদের থেকে এক মাসের জন্য ইলা করেছিলেন; তিনি মাস শেষ হওয়া পর্যন্ত তাঁদের থেকে পৃথক ছিলেন। আর যদি তিনি চার মাসের কম মেয়াদের সেই কসমের নির্ধারিত সময়ের আগেই স্ত্রীর সাথে সহবাস করতে চান, তবে তাঁর ওপর কাফফারা (প্রায়শ্চিত্ত) অবধারিত হবে এবং তা রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) থেকে যা বিশুদ্ধ (صحيح) ভাবে বর্ণিত হয়েছে তাঁর সেই বাণীর অনুগামী হবে:
"যে ব্যক্তি কোনো বিষয়ে কসম করল, অতঃপর অন্য কিছুকে তার চেয়ে উত্তম মনে করল, সে যেন সেই উত্তম কাজটিই করে এবং নিজের কসমের কাফফারা আদায় করে।" আর আল্লাহই সর্বজ্ঞ।
14 -
পরিচ্ছেদ: তালাকপ্রাপ্তা নারীদের ইদ্দত এবং তাদের ওপর পুরুষদের মর্যাদা সম্পর্কে যা অবতীর্ণ হয়েছে{"আর তালাকপ্রাপ্তা নারীগণ নিজেদেরকে তিন ঋতু পর্যন্ত অপেক্ষায় রাখবে। আর তাদের জন্য বৈধ নয় যে, আল্লাহ তাদের জরায়ুতে যা সৃষ্টি করেছেন তা তারা গোপন করবে, যদি তারা আল্লাহ ও পরকালের প্রতি বিশ্বাস রাখে। আর তাদের স্বামীরা যদি পুনর্মিলন (সংশোধন) চায়, তবে উক্ত মেয়াদের মধ্যে তাদেরকে ফিরিয়ে নেওয়ার অধিক হকদার। আর নারীদেরও তেমনি ন্যায়সংগত অধিকার রয়েছে যেমন রয়েছে পুরুষদের তাদের ওপর। আর পুরুষদের মর্যাদা নারীদের ওপর এক ধাপ বেশি। আর আল্লাহ পরাক্রমশালী, প্রজ্ঞাময়।"} [সূরা আল-বাকারাহ: ২২৮]
মহান আল্লাহ বলেন, {আর তালাকপ্রাপ্তা নারীগণ} অর্থাৎ যারা তাদের স্বামীদের বৈবাহিক বন্ধন থেকে মুক্ত হয়েছে। আর তালাকপ্রাপ্তা সে-ই, যার ওপর তার স্বামী তালাক পতিত করেছে। {নিজেদেরকে তিন ঋতু পর্যন্ত অপেক্ষায় রাখবে} যা তালাকের সময় থেকে অতিবাহিত হবে। এর সাধারণ (عام) নির্দেশের অধীনে সেই তালাকপ্রাপ্তা নারীও অন্তর্ভুক্ত ছিল যার সাথে সহবাস হয়নি; অতঃপর তাকে মহান আল্লাহর এই বাণীর মাধ্যমে বিশেষায়িত (مخصص) করা হয়েছে: {তবে তাদের ওপর তোমাদের কোনো ইদ্দত পালনের আবশ্যকতা নেই} [সূরা আল-আহজাব: ৪৯]। সুতরাং সাধারণ (عام) বিষয়কে বিশেষ (خاص) বিষয়ের ওপর ভিত্তি করা ওয়াজিব (আবশ্যক)। ফলে সহবাসের পূর্বের তালাকপ্রাপ্তা নারী এই সাধারণ (عام) বিধান থেকে বহির্ভূত হয়েছে। তদ্রূপ গর্ভবতী নারীও মহান আল্লাহর এই বাণীর কারণে বহির্ভূত হয়েছে: {আর গর্ভবতী নারীদের ইদ্দতকাল তাদের সন্তান প্রসব হওয়া পর্যন্ত} [সূরা আত-তালাক: ৪]। একইভাবে সেই আয়াতটিও (বৃদ্ধা বা কম বয়সী নারী) বহির্ভূত হয়েছে মহান আল্লাহর এই বাণীর মাধ্যমে: {তাদের ইদ্দতকাল হবে তিন মাস} [সূরা আত-তালাক: ৪]।
(খণ্ড: ১)
হুসনুল উসওয়াহ বিমা সাবাতা মিনাল্লাহি ওয়া রাসূলিহী ফিন নিসওয়াহ
(পৃষ্ঠা: ৩৪)
والتربص الِانْتِظَار قيل هُوَ خبر فِي معنى الْأَمر أَن ليتربصن قصد بِإِخْرَاجِهِ مخرج الْخَبَر تَأْكِيد وُقُوعه وزاده تَأْكِيدًا وُقُوعه خَبرا للمبتدأ قَالَ ابْن الْعَرَبِيّ وَهَذَا بَاطِل وَإِنَّمَا هُوَ خبر عَن حكم الشَّرْع فَإِن وجدت مُطلقَة لَا تَتَرَبَّص فَلَيْسَ ذَلِك من الشَّرْع وَلَا يلْزم من ذَلِك وُقُوع خبر الله سُبْحَانَهُ على خلاف مخبره
والقروء جمع قرء وَمن الْعَرَب من يُسَمِّي الْحيض قرءا وَمِنْهُم من يُسَمِّي الطُّهْر قرءا وَمِنْهُم من جَمعهمَا جَمِيعًا فيسمي الْحيض مَعَ الطُّهْر قرءا وَالْحَاصِل أَن الْقُرْء فِي لُغَة الْعَرَب مُشْتَرك بَين الْحيض وَالطُّهْر وَلأَجل ذَلِك الِاشْتِرَاك اخْتلف أهل الْعلم فِي تعْيين مَا هُوَ المُرَاد بالقروء الْمَذْكُورَة فِي الْآيَة فَقَالَ أهل الْكُوفَة هِيَ الْحيض وَقَالَ أهل الْحجاز هِيَ الْأَطْهَار وَاسْتدلَّ كل وَاحِد بأدلة على قَوْله وَعِنْدِي أَنه لَا حجَّة فِي بعض مَا احْتج بِهِ أهل الْقَوْلَيْنِ جَمِيعًا وَيُمكن أَن يُقَال إِن الْعدة تَنْقَضِي بِثَلَاثَة أطهار أَو بِثَلَاث حيض وَلَا مَانع من ذَلِك فقد جوز جمع من أهل الْعلم حمل الْمُشْتَرك على معنييه وَبِذَلِك يجمع بَين الْأَدِلَّة ويرتفع الْخلاف ويندفع النزاع
{وَلَا يحل لَهُنَّ أَن يكتمن مَا خلق الله فِي أرحامهن} قيل المُرَاد بِهِ الْحيض وَقيل الْحمل وَقيل كِلَاهُمَا وَوجه النَّهْي عَن الكتمان مَا فِيهِ فِي بعض الْأَحْوَال من الْإِضْرَار بِالزَّوْجِ وإذهاب حَقه فَإِذا قَالَت الْمَرْأَة إِنَّهَا حَاضَت وَهِي لم تَحض ذهبت بِحقِّهِ من الارتجاع وَإِذا قَالَت إِنَّهَا لم تَحض وَهِي قد حَاضَت ألزمته من النَّفَقَة مَا لم يلْزمه فأضرت بِهِ وَكَذَلِكَ الْحمل رُبمَا تكتمه لتقطع حَقه من الارتجاع وَرُبمَا تدعيه لتوجب عَلَيْهِ النَّفَقَة وَنَحْو ذَلِك من الْمَقَاصِد المستلزمة للإضرار بِالزَّوْجِ وَقد اخْتلفت الْأَقْوَال فِي الْمدَّة الَّتِي تصدق فِيهَا الْمَرْأَة إِذا ادَّعَت انْقِضَاء عدتهَا وَفِيه دَلِيل على قبُول قولهن فِي ذَلِك نفيا وإثباتا
‘তারাব্বুস’ (التربص) অর্থ হলো অপেক্ষা করা। বলা হয়ে থাকে যে, এটি আদেশের অর্থে ব্যবহৃত একটি সংবাদ (خبر); অর্থাৎ তারা যেন অবশ্যই অপেক্ষা করে। একে সংবাদের ধারায় ব্যক্ত করার উদ্দেশ্য হলো এর সংঘটন নিশ্চিত করা। আর বিষয়টিকে ‘মুবতাদা’-এর সংবাদ হিসেবে উল্লেখ করার মাধ্যমে এর গুরুত্ব আরও বৃদ্ধি করা হয়েছে। ইবনুল আরাবি বলেন, এ অভিমতটি অসার (باطل); বরং এটি কেবল শরয়ি বিধান সম্পর্কিত একটি সংবাদ (خبر)। সুতরাং যদি কোনো তালাকপ্রাপ্তা নারী অপেক্ষা না করে, তবে তা শরয়ি বিধান অনুযায়ী হবে না। আর এর দ্বারা মহান আল্লাহর সংবাদ তাঁর সংবাদের বিষয়বস্তুর বিপরীত হওয়া আবশ্যক হয় না।
‘কুরু’ (القروء) হলো ‘কুর’ (قرء)-এর বহুবচন। আরবদের মধ্যে কেউ কেউ ঋতুস্রাবকে (حيض) ‘কুর’ বলেন, আবার কেউ কেউ পবিত্রতাকে (طهر) ‘কুর’ বলেন। আবার কেউ কেউ উভয় অবস্থাকে একত্রে ‘কুর’ নামে অভিহিত করেন। সারকথা হলো, আরবি ভাষায় ‘কুর’ শব্দটি ঋতুস্রাব ও পবিত্রতা—উভয় অর্থেই ব্যবহৃত একটি সমোচ্চারিত বা দ্ব্যর্থবোধক শব্দ (مشترك)। এই দ্ব্যর্থবোধকতার কারণেই আয়াতে বর্ণিত ‘কুরু’ দ্বারা প্রকৃতপক্ষে কী উদ্দেশ্য, তা নির্ধারণে বিশেষজ্ঞগণ মতভেদ করেছেন। কুফাবাসীগণ বলেছেন, এর দ্বারা ঋতুস্রাব (حيض) উদ্দেশ্য; আর হিজাজবাসীগণ বলেছেন, এর দ্বারা পবিত্রতা (طهر) উদ্দেশ্য। উভয় পক্ষই নিজ নিজ অবস্থানের সপক্ষে বিভিন্ন দলীল পেশ করেছেন। আমার মতে, উভয় পক্ষের পেশ করা কিছু দলীলের ক্ষেত্রে আপত্তির অবকাশ রয়েছে। এটি বলা সম্ভব যে, ইদ্দত (عدة) তিন পবিত্রতা অথবা তিন ঋতুস্রাবের মাধ্যমে সমাপ্ত হতে পারে এবং এতে কোনো বাধা নেই। কেননা একদল আলেম একটি সমোচ্চারিত শব্দকে (مشترك) তার উভয় অর্থেই গ্রহণ করা বৈধ বলেছেন। এর মাধ্যমে দলীলসমূহের মধ্যে সমন্বয় সাধিত হয়, মতভেদ দূর হয় এবং বিবাদ নিরসন হয়।
{আর আল্লাহ তাদের জরায়ুতে যা সৃষ্টি করেছেন তা গোপন করা তাদের জন্য বৈধ নয়}। বলা হয়েছে, এর দ্বারা উদ্দেশ্য হলো ঋতুস্রাব; আবার কেউ বলেছেন গর্ভধারণ, আবার কেউ বলেছেন উভয়ই। এই গোপনীয়তার ব্যাপারে নিষেধাজ্ঞার কারণ হলো, কোনো কোনো ক্ষেত্রে এর মাধ্যমে স্বামীর ক্ষতি করা হয় এবং তার অধিকার হরণ করা হয়। যদি কোনো নারী দাবি করে যে তার ঋতুস্রাব হয়েছে অথচ প্রকৃতপক্ষে তা হয়নি, তবে সে স্বামীর ফিরিয়ে নেওয়ার (رجعة) অধিকার নষ্ট করল। আর যদি সে দাবি করে যে তার ঋতুস্রাব হয়নি অথচ হয়ে গিয়েছে, তবে সে স্বামীর ওপর এমন ভরণপোষণ (نفقة) আবশ্যক করে দিল যা তার প্রাপ্য ছিল না, ফলে সে স্বামীর ক্ষতি করল। একইভাবে, গর্ভধারণের বিষয়টিও অনেক সময় গোপন করা হয় যাতে স্বামীর ফিরিয়ে নেওয়ার অধিকার রদ করা যায়, অথবা গর্ভাবস্থার মিথ্যা দাবি করা হয় যাতে ভরণপোষণ আবশ্যক করা যায় এবং এ জাতীয় স্বামীর ক্ষতিমূলক উদ্দেশ্য সাধন করা যায়। কোনো নারী যখন তার ইদ্দত (عدة) শেষ হওয়ার দাবি করে, তখন কোন সময়সীমার মধ্যে তার কথা গ্রহণযোগ্য হবে সে বিষয়ে বিভিন্ন বক্তব্য রয়েছে। আর এ আয়াতে নারীদের নিজেদের বিষয়ে প্রদত্ত বক্তব্য (হ্যাঁ বা না উভয় ক্ষেত্রে) গ্রহণ করার প্রমাণ নিহিত রয়েছে।
(খণ্ড: ১)
হুসনুল উসওয়াহ বিমা সাবাতা মিনাল্লাহি ওয়া রাসূলিহী ফিন নিসওয়াহ
(পৃষ্ঠা: ৩৫)
{إِن كن يُؤمن بِاللَّه وَالْيَوْم الآخر} فِيهِ وَعِيد شَدِيد للكاتمات وَبَيَان أَن من كتمت ذَلِك مِنْهُنَّ لم تسْتَحقّ اسْم الْإِيمَان وَهَذَا الشَّرْط لَيْسَ للتَّقْيِيد بل للتغليظ حَتَّى لَو لم يكن مؤمنات كَانَ عَلَيْهِنَّ الْعدة أَيْضا {وبعولتهن} جمع بعل وَهُوَ الزَّوْج وَهُوَ أَيْضا مصدر من بعل الرجل إِذا صَار بعلا فَهُوَ لفظ مُشْتَرك بَين الْمصدر وَالْجمع {أَحَق بردهن} أَي برجعتهن وَذَلِكَ يخْتَص بِمن كَانَ يجوز للزَّوْج مراجعتها فَيكون فِي حكم التَّخْصِيص لعُمُوم قَوْله {والمطلقات يَتَرَبَّصْنَ بِأَنْفُسِهِنَّ} لِأَنَّهُ يعم المثلثات وغيرهن وَصِيغَة التَّفْضِيل لإِرَادَة أَن الرجل إِذا أَرَادَ الرّجْعَة وَالْمَرْأَة تأباها وَجب إِيثَار قَوْله على قَوْلهَا وَلَيْسَ مَعْنَاهُ أَن لَهَا حَقًا فِي الرّجْعَة قَالَه أَبُو السُّعُود {فِي ذَلِك} يَعْنِي فِي مُدَّة التَّرَبُّص فَإِن انْقَضتْ مُدَّة التَّرَبُّص فَهِيَ أَحَق بِنَفسِهَا وَلَا تحل لَهُ إِلَّا بِنِكَاح مُسْتَأْنف بولِي وشهود وَمهر جَدِيد وَلَا خلاف فِي ذَلِك وَالرَّجْعَة تكون بِاللَّفْظِ وَتَكون بِالْوَطْءِ وَلَا يلْزم المراجع شَيْء من أَحْكَام النِّكَاح بِلَا خلاف {إِن أَرَادوا إصلاحا} أَي بالمراجعة أَي إصْلَاح حَاله مَعهَا وحالها مَعَه فَإِن قصد الْإِضْرَار بهَا فَهِيَ مُحرمَة لقَوْله تَعَالَى {وَلَا تمسكوهن ضِرَارًا لتعتدوا} وَقيل إِذا قصد بالرجعة الضرار فَهِيَ صَحِيحَة وَإِن ارْتكب بِهِ محرما وظلم نَفسه وعَلى هَذَا فَيكون الشَّرْط الْمَذْكُور فِي الْآيَة لحث الْأزْوَاج على قصد الصّلاح والزجر لَهُم عَن قصد الضرار وَلَيْسَ المُرَاد بِهِ جعل قصد الصّلاح شرطا لصِحَّة الرّجْعَة {ولهن مثل الَّذِي عَلَيْهِنَّ بِالْمَعْرُوفِ} أَي من حُقُوق الزَّوْجَات على الرِّجَال مثل مَا للرِّجَال عَلَيْهِنَّ فَيحسن عشرتها بِمَا هُوَ مَعْرُوف من عَادَة النَّاس أَنهم يَفْعَلُونَهُ لنسائهم وَهِي كَذَلِك تحسن عشرَة زَوجهَا بِمَا هُوَ مَعْرُوف من عَادَة النِّسَاء أَنَّهُنَّ يفعلنه لِأَزْوَاجِهِنَّ من طَاعَة وتزين وتحبب وَنَحْو ذَلِك
قَالَ أبن عَبَّاس فِي الْآيَة إِنِّي أحب أَن أتزين لامرأتي كَمَا أحب أَن
{যদি তারা আল্লাহ এবং পরকালের প্রতি ঈমান রাখে}—এতে (সত্য) গোপনকারিণী নারীদের জন্য কঠোর হুঁশিয়ারি এবং এ বিষয়ের বর্ণনা রয়েছে যে, তাদের মধ্য থেকে যারা তা গোপন করবে তারা মুমিন নামের যোগ্য হবে না। এই শর্তটি মূলত সীমাবদ্ধ করার জন্য নয়, বরং কাঠিন্য আরোপের জন্য; এমনকি তারা যদি মুমিন নাও হয় তবুও তাদের ওপর ইদ্দত পালন করা আবশ্যক। {এবং তাদের স্বামীগণ}—এখানে ‘বুউলাত’ হলো ‘বাল’ শব্দের বহুবচন, যার অর্থ হলো স্বামী। এটি ‘বালুর রাজুল’ এর ক্রিয়ামূল (مصدر) থেকেও হতে পারে যখন সে স্বামী হয়। সুতরাং এটি ক্রিয়ামূল (مصدر) এবং বহুবচনের মধ্যে একটি উভয়ার্থবোধক শব্দ (لفظ مشترك)। {তাদেরকে ফিরিয়ে নিতে অধিক হকদার}—অর্থাৎ তাদেরকে পুনরায় ফিরিয়ে নেওয়ার ক্ষেত্রে। আর এটি কেবল তাদের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য যাদেরকে পুনরায় ফিরিয়ে নেওয়া স্বামীর জন্য বৈধ। ফলে এটি মহান আল্লাহর বাণী: {এবং তালাকপ্রাপ্তা নারীরা নিজেদের প্রতীক্ষায় রাখবে}—এর ব্যাপক (عام) নির্দেশের বিপরীতে সুনির্দিষ্টকরণ (تخصيص) এর বিধানের অন্তর্ভুক্ত হবে; কারণ তা তিন তালাকপ্রাপ্তা এবং অন্যদের ক্ষেত্রেও সাধারণ (عام) অর্থ প্রদান করে। আর এখানে আধিক্যবোধক রূপ (ইসমুত তাফদিল) ব্যবহারের উদ্দেশ্য হলো—যখন পুরুষ ফিরিয়ে নিতে চায় এবং নারী তা অস্বীকার করে, তখন নারীর কথার ওপর পুরুষের কথাকে প্রাধান্য দেওয়া ওয়াজিব হবে। এর অর্থ এই নয় যে, ফিরিয়ে নেওয়ার ক্ষেত্রে নারীর কোনো অধিকার আছে; আবুস সাউদ এমনটিই বলেছেন। {এর মধ্যে}—অর্থাৎ ইদ্দত বা প্রতীক্ষার মেয়াদের মধ্যে। যদি প্রতীক্ষার মেয়াদ শেষ হয়ে যায়, তবে নারী নিজের ব্যাপারে অধিক হকদার হবে। তখন অভিভাবক, সাক্ষী এবং নতুন মোহরানার মাধ্যমে পুনরায় বিবাহ করা ব্যতীত সে আর তার জন্য হালাল হবে না; এ ব্যাপারে কোনো মতভেদ (خلاف) নেই। আর ফিরিয়ে নেওয়া (রাজআত) মৌখিক শব্দের মাধ্যমে হতে পারে আবার শারীরিক সম্পর্কের মাধ্যমেও হতে পারে। এবং ফিরিয়ে গ্রহণকারীর ওপর বিবাহের অন্য কোনো বিধান পালন করা আবশ্যক হবে না, এতে কোনো মতভেদ (خلاف) নেই। {যদি তারা সংশোধন চায়}—অর্থাৎ ফিরিয়ে নেওয়ার মাধ্যমে; যদি তার ও স্ত্রীর মধ্যকার অবস্থা সংশোধন করা উদ্দেশ্য হয়। কিন্তু যদি তাকে কষ্ট দেওয়ার উদ্দেশ্য থাকে তবে তা নিষিদ্ধ (محرم); যেহেতু মহান আল্লাহ বলেছেন: {আর তোমরা তাদেরকে কষ্ট দেওয়ার জন্য আটকে রেখো না যাতে তোমরা সীমালঙ্ঘন করো}। বলা হয়ে থাকে যে, যদি ফিরিয়ে নেওয়ার মাধ্যমে ক্ষতি করার ইচ্ছা থাকে তবুও তা সহিহ (صحيح) হবে, যদিও সে এর দ্বারা একটি নিষিদ্ধ (محرم) কাজ করল এবং নিজের নফসের ওপর জুলুম করল। এর ওপর ভিত্তি করে আয়াতে উল্লিখিত শর্তটি স্বামীদের সংশোধনের সংকল্পের প্রতি উৎসাহিত করার জন্য এবং কষ্ট দেওয়ার ইচ্ছা থেকে বিরত রাখার জন্য। এখানে সংশোধনের ইচ্ছাকে রাজআত সহিহ (صحيح) হওয়ার জন্য শর্ত করা উদ্দেশ্য নয়। {আর নারীদের জন্যও রয়েছে ন্যায়সঙ্গত অধিকার, যেমন রয়েছে তাদের ওপর পুরুষদের অধিকার}—অর্থাৎ পুরুষদের ওপর স্ত্রীদের এমন সব অধিকার রয়েছে যেমনটি স্ত্রীদের ওপর পুরুষদের রয়েছে। সুতরাং পুরুষ প্রচলিত প্রথা অনুযায়ী স্ত্রীর সাথে সদ্ব্যবহার করবে যেমনটি মানুষ সাধারণত তাদের স্ত্রীদের সাথে করে থাকে। স্ত্রীও তদ্রূপ স্বামীর সাথে সদ্ব্যবহার করবে যা নারীরা সাধারণত তাদের স্বামীদের জন্য করে থাকে—যেমন আনুগত্য, সাজসজ্জা, ভালোবাসা প্রকাশ এবং এইজাতীয় বিষয়াদি।
ইবনে আব্বাস এই আয়াত সম্পর্কে বলেছেন: নিশ্চয়ই আমি আমার স্ত্রীর জন্য সাজসজ্জা করতে পছন্দ করি ঠিক যেমন আমি পছন্দ করি যে (সে আমার জন্য সাজসজ্জা করুক)।
(খণ্ড: ১)
হুসনুল উসওয়াহ বিমা সাবাতা মিনাল্লাহি ওয়া রাসূলিহী ফিন নিসওয়াহ
(পৃষ্ঠা: ৩৬)
تتزين لي لِأَن الله تَعَالَى قَالَ ولهن مثل الَّذِي عَلَيْهِنَّ قَالَ الْكَرْخِي أَي فِي الْوُجُوب لَا فِي الْجِنْس فَلَو غسلت ثِيَابه أَو خبزت لَهُ لم يلْزمه أَن يفعل ذَلِك وَقيل فِي مُطلق الْوُجُوب لَا فِي عدد الْأَفْرَاد وَلَا فِي صفة الْوَاجِب {وللرجال عَلَيْهِنَّ دَرَجَة} أَي منزلَة لَيست لَهُنَّ وَهِي قِيَامه عَلَيْهَا فِي الْإِنْفَاق وَكَونه من أهل الْجِهَاد وَالْعقل وَالْقُوَّة وَله من الْمِيرَاث أَكثر مِمَّا لَهَا وَكَونه يجب عَلَيْهَا امْتِثَال أمره وَالْوُقُوف عِنْد رِضَاهُ وَالشَّهَادَة وَالدية وصلاحية الْإِمَامَة وَالْقَضَاء وَله أَن يتَزَوَّج عَلَيْهَا ويتسرى وَلَيْسَ لَهَا ذَلِك وَبِيَدِهِ الطَّلَاق وَالرَّجْعَة وَلَيْسَ شَيْء من ذَلِك بِيَدِهَا وَلَو لم يكن من فَضِيلَة الرِّجَال على النِّسَاء إِلَّا كونهن خُلِقْنَ من الرِّجَال لما ثَبت أَن حَوَّاء خلقت من ضلع آدم لكفي
وَقد أخرج أهل السّنَن عَن عمر بن الْأَحْوَص أَن رَسُول الله صلى الله عليه وسلم قَالَ أَلا إِن لكم على نِسَائِكُم حَقًا ولنسائكم عَلَيْكُم حَقًا أما حقكم على نِسَائِكُم أَن لَا يوطئن فرشكم من تَكْرَهُونَ وَلَا يَأْذَن فِي بُيُوتكُمْ لمن تَكْرَهُونَ أَلا وحقهن عَلَيْكُم أَن تحسنوا إلَيْهِنَّ فِي كسوتهن وطعامهن وَصَححهُ التِّرْمِذِيّ وَأَصله عِنْد مُسلم فِي الصَّحِيح وَأخرجه أَحْمد وَأَبُو دَاوُد وَالنَّسَائِيّ وَابْن جرير وَالْحَاكِم وَصَححهُ الْبَيْهَقِيّ
{وَالله عَزِيز حَكِيم} فِيمَا دبر خلقه وَعَن أبي ظبْيَان أَن معَاذ بن جبل خرج فِي غزَاة بَعثه رَسُول الله صلى الله عليه وسلم فِيهَا ثمَّ رَجَعَ فَرَأى رجَالًا يسْجد بَعضهم لبَعض فَذكر ذَلِك لرَسُول الله صلى الله عليه وسلم فَقَالَ لَو أمرت أحدا أَن يسْجد لأحد لأمرت الْمَرْأَة أَن تسْجد لزَوجهَا
তিনি আমার জন্য সুসজ্জিত হন, কারণ আল্লাহ তাআলা বলেছেন: "নারীদের ওপর যেমন অধিকার রয়েছে, তেমনি তাদেরও ন্যায়সঙ্গত অধিকার রয়েছে।" আল-কারখী বলেছেন, এটি ওয়াজিব বা আবশ্যকতার ক্ষেত্রে প্রযোজ্য, কাজের ধরণের ক্ষেত্রে নয়। সুতরাং স্ত্রী যদি স্বামীর কাপড় ধুয়ে দেয় বা তার জন্য রুটি তৈরি করে দেয়, তবে স্বামীর ওপরও তেমনটি করা আবশ্যক নয়। আবার বলা হয়েছে, এটি নিঃশর্ত আবশ্যকতার ক্ষেত্রে, কার্যাবলীর সংখ্যা বা গুণের ক্ষেত্রে নয়। "আর নারীদের ওপর পুরুষদের শ্রেষ্ঠত্ব রয়েছে।" অর্থাৎ পুরুষদের এমন মর্যাদা রয়েছে যা নারীদের নেই; আর তা হলো ভরণ-পোষণের মাধ্যমে নারীর ওপর পুরুষের দায়িত্বশীলতা, জিহাদের উপযুক্ত হওয়া, প্রজ্ঞা ও শক্তি এবং উত্তরাধিকার সূত্রে নারীর চেয়ে অধিক অংশ পাওয়া। তদ্রূপ স্বামীর নির্দেশ পালন করা এবং তার সন্তুষ্টির ওপর অটল থাকা নারীর জন্য আবশ্যক। এছাড়া সাক্ষ্য প্রদান, দিয়াত (রক্তপণ), ইমামত ও বিচারকার্যের যোগ্যতা; এবং স্বামীর জন্য একাধিক বিবাহ ও দাসী গ্রহণের অধিকার রয়েছে যা নারীর নেই। তালাক ও রাজআহ (প্রত্যাহার) করার ক্ষমতাও তার হাতে, যা নারীর অধিকারে নেই। নারীদের ওপর পুরুষদের শ্রেষ্ঠত্বের আর কোনো প্রমাণ যদি নাও থাকত, তবে কেবল হাওয়া (আ.)-এর আদমের পাঁজরের হাড় থেকে সৃষ্টি হওয়াই যথেষ্ট হতো।
সুনান গ্রন্থকারগণ আমর ইবনুল আহওয়াস থেকে বর্ণনা করেছেন যে, রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেন: "জেনে রেখো, তোমাদের স্ত্রীদের ওপর তোমাদের যেমন অধিকার রয়েছে, তোমাদের ওপরও তোমাদের স্ত্রীদের অধিকার রয়েছে। তোমাদের স্ত্রীদের ওপর তোমাদের অধিকার হলো—তারা যেন তোমাদের অপছন্দনীয় কাউকে তোমাদের বিছানায় জায়গা না দেয় এবং তোমাদের অপছন্দনীয় কাউকে তোমাদের ঘরে প্রবেশের অনুমতি না দেয়। জেনে রেখো, তাদের ওপর তোমাদের কর্তব্য হলো তাদের পোশাক-পরিচ্ছদ ও পানাহারে তাদের সাথে সদাচরণ করা।" ইমাম তিরমিজি একে সহিহ (صحيح) বলেছেন। এর মূল বর্ণনা মুসলিম-এর সহিহ গ্রন্থে রয়েছে। এছাড়াও এটি আহমদ, আবু দাউদ, নাসায়ি, ইবনে জারির এবং আল-হাকিম বর্ণনা করেছেন এবং আল-বায়হাকি একে সহিহ (صحيح) বলেছেন।
"আর আল্লাহ পরাক্রমশালী, প্রজ্ঞাময়" তাঁর সৃষ্টির ব্যবস্থাপনায়। আবু জিবইয়ান থেকে বর্ণিত, মুআয ইবনে জাবাল (রা.) একটি যুদ্ধে বের হলেন যেখানে রাসূলুল্লাহ (সা.) তাঁকে পাঠিয়েছিলেন। এরপর তিনি ফিরে এসে দেখলেন কিছু লোক একে অপরকে সিজদা করছে। তিনি রাসূলুল্লাহ (সা.)-এর কাছে বিষয়টি উল্লেখ করলে তিনি বললেন: "আমি যদি কাউকে নির্দেশ দিতাম অন্য কাউকে সিজদা করার জন্য, তবে অবশ্যই স্ত্রীকে নির্দেশ দিতাম তার স্বামীকে সিজদা করতে।"
(খণ্ড: ১)
হুসনুল উসওয়াহ বিমা সাবাতা মিনাল্লাহি ওয়া রাসূলিহী ফিন নিসওয়াহ
(পৃষ্ঠা: ৩৭)
15 -
بَاب مَا نزل فِي مدارج الطَّلَاق وَالْخلْع{الطَّلَاق مَرَّتَانِ فإمساك بِمَعْرُوف أَو تَسْرِيح بِإِحْسَان وَلَا يحل لكم أَن تَأْخُذُوا مِمَّا آتَيْتُمُوهُنَّ شَيْئا إِلَّا أَن يخافا أَلا يُقِيمَا حُدُود الله فَإِن خِفْتُمْ أَلا يُقِيمَا حُدُود الله فَلَا جنَاح عَلَيْهِمَا فِيمَا افتدت}
قَالَ تَعَالَى {الطَّلَاق مَرَّتَانِ} أَي عدد الطَّلَاق الَّذِي تثبت فِيهِ الرّجْعَة للأزواج هُوَ مَرَّتَانِ فَالْمُرَاد بِالطَّلَاق الْمَذْكُور هُوَ الرَّجْعِيّ إِذْ لَا رَجْعَة بعد الثَّالِثَة وَإِنَّمَا قَالَ سُبْحَانَهُ مَرَّتَانِ وَلم يقل طَلْقَتَانِ إِشَارَة إِلَى أَنه يَنْبَغِي أَن يكون الطَّلَاق مرّة بعد أُخْرَى لَا طَلْقَتَانِ دفْعَة وَاحِدَة كَذَا قَالَ جمَاعَة من الْمُفَسّرين وَلما لم يكن بعد الطَّلقَة الثَّانِيَة إِلَّا أحد أَمريْن إِمَّا إِيقَاع الثَّالِثَة الَّتِي تبين بهَا الزَّوْجَة أَو الْإِمْسَاك لَهَا واستدامة نِكَاحهَا وَعدم إِيقَاع الثَّالِثَة عَلَيْهَا قَالَ سُبْحَانَهُ {فإمساك} أَي بعد الرّجْعَة لمن طَلقهَا زَوجهَا طَلْقَتَيْنِ {بِمَعْرُوف} عِنْد النَّاس من حسن الْعشْرَة وَحُقُوق النِّكَاح {أَو تَسْرِيح بِإِحْسَان} أَي بإيقاع طَلْقَة ثَالِثَة من دون ضرار لَهَا وَقيل المُرَاد بالإمساك رَجْعَة بعد الطَّلقَة الثَّانِيَة وبالتسريح ترك الرّجْعَة بعد الثَّانِيَة حَتَّى تَنْقَضِي عدتهَا وَالْأول أظهر قَالَ أَبُو عَمْرو أجمع الْعلمَاء على أَن التسريح هِيَ الطَّلقَة الثَّالِثَة بعد الطلقتين وَإِيَّاهَا عني بقوله {فَإِن طَلقهَا فَلَا تحل لَهُ من بعد حَتَّى تنْكح زوجا غَيره} وَقد اخْتلف أهل الْعلم فِي إرْسَال الثَّلَاث دفْعَة وَاحِدَة هَل تقع ثَلَاث أَو وَاحِدَة فَقَط فَذهب إِلَى الأول الْجُمْهُور وَذهب إِلَى الثَّانِي من عداهم وَهُوَ الْحق وَقد قَرَّرَهُ الْعَلامَة الشَّوْكَانِيّ فِي مؤلفاته تقريرا بَالغا وأفرده برسالة مُسْتَقلَّة وَكَذَا الْحَافِظ ابْن الْقيم فِي إغاثة اللهفان وإِعْلَام الموقعين
১৫ -
তালাকের পর্যায়ক্রম এবং খুলা প্রসঙ্গে যা অবতীর্ণ হয়েছে সেই সম্পর্কিত পরিচ্ছেদ{তালাক দুই বার; অতঃপর হয় বিধিসম্মতভাবে রেখে দেওয়া অথবা মহানুভবতার সাথে বিদায় দেওয়া। আর তোমাদের জন্য এটি বৈধ নয় যে, তোমরা তাদেরকে যা প্রদান করেছ তার মধ্য থেকে কিছু গ্রহণ করবে, তবে যদি তারা উভয়েই এই আশঙ্কা করে যে আল্লাহর বিধানসমূহ রক্ষা করতে পারবে না। অতঃপর যদি তোমরা আশঙ্কা কর যে তারা আল্লাহর বিধানসমূহ রক্ষা করতে পারবে না, তবে স্ত্রী যা দিয়ে নিজেকে মুক্ত করে নেবে তাতে তাদের উভয়ের কোনো গুনাহ নেই।}
আল্লাহ তাআলা বলেছেন, {তালাক দুই বার}; অর্থাৎ তালাকের সেই সংখ্যা যাতে স্বামীদের জন্য পুনরায় ফিরিয়ে নেওয়ার (رجعة) অধিকার বহাল থাকে, তা হলো দুই বার। সুতরাং উল্লিখিত তালাক দ্বারা উদ্দেশ্য হলো প্রত্যাহারযোগ্য (رجعي) তালাক, যেহেতু তৃতীয় তালাকের পর পুনরায় ফিরিয়ে নেওয়ার আর কোনো সুযোগ নেই। মহান আল্লাহ 'দুই বার' বলেছেন এবং 'দুই তালাক' বলেননি—এটি এই দিকে ইঙ্গিত করতে যে, তালাক এক বারের পর অন্য বার (পৃথকভাবে) হওয়া বাঞ্ছনীয়, এক সাথে দুই তালাক নয়; মুফাসসিরগণের একটি দল এমনটিই বলেছেন। যেহেতু দ্বিতীয় তালাকের পর দুটি বিষয়ের একটি ছাড়া গত্যন্তর থাকে না—হয় তৃতীয় তালাক প্রদান করা যার মাধ্যমে স্ত্রী পূর্ণরূপে বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়, অথবা তাকে রেখে দেওয়া, বৈবাহিক সম্পর্ক বজায় রাখা এবং তার ওপর তৃতীয় তালাক আপতিত না করা—তাই আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআলা বলেছেন, {অতঃপর রেখে দেওয়া}; অর্থাৎ যার স্ত্রীকে দুই তালাক দেওয়া হয়েছে তাকে পুনরায় ফিরিয়ে নেওয়ার (رجعة) পর। {বিধিসম্মতভাবে} যা মানুষের নিকট সুন্দর সহাবস্থান এবং বৈবাহিক অধিকার পালনের ক্ষেত্রে পরিচিত। {অথবা মহানুভবতার সাথে বিদায় দেওয়া} অর্থাৎ তাকে কোনো প্রকার কষ্ট না দিয়ে তৃতীয় তালাক প্রদান করা। কেউ কেউ বলেছেন, 'রেখে দেওয়া' বলতে দ্বিতীয় তালাকের পর পুনরায় ফিরিয়ে নেওয়াকে (رجعة) বোঝানো হয়েছে এবং 'বিদায় দেওয়া' বলতে দ্বিতীয় তালাকের পর ফিরিয়ে নেওয়া বর্জন করাকে বোঝানো হয়েছে যাতে তার ইদ্দত শেষ হয়ে যায়। তবে প্রথম মতটিই অধিকতর স্পষ্ট। আবু আমর বলেন, উলামায়ে কেরাম এই বিষয়ে ঐক্যমতে পৌঁছেছেন যে, বিদায় দেওয়া হলো দুই তালাকের পর তৃতীয় তালাক। আর মহান আল্লাহর এই বাণীর মাধ্যমে এটিই উদ্দেশ্য: {অতঃপর যদি সে তাকে তালাক দেয়, তবে সে তার জন্য আর বৈধ হবে না যতক্ষণ না সে অন্য কোনো স্বামী গ্রহণ করে}। এক সাথে তিন তালাক দেওয়ার বিষয়ে বিজ্ঞ আলিমগণের মধ্যে মতভেদ রয়েছে যে, তা তিনটি হিসেবেই গণ্য হবে নাকি কেবল একটি হবে? জুমহুর (جمهور) বা অধিকাংশ আলিম প্রথম মতের দিকে গিয়েছেন এবং অন্যগণ দ্বিতীয় মতটি গ্রহণ করেছেন, আর এটিই সত্য। আল্লামা শাওকানী তার গ্রন্থসমূহে অত্যন্ত জোরালোভাবে এটি সাব্যস্ত করেছেন এবং এ বিষয়ে একটি স্বতন্ত্র পুস্তিকা রচনা করেছেন। একইভাবে হাফিজ (حافظ) ইবনুল কাইয়্যিম ইগাসাতুল লাহফান এবং ইলামুল মুওয়াক্কিয়িন গ্রন্থেও অনুরূপ বর্ণনা করেছেন।
(খণ্ড: ১)
হুসনুল উসওয়াহ বিমা সাবাতা মিনাল্লাহি ওয়া রাসূলিহী ফিন নিসওয়াহ
(পৃষ্ঠা: ৩৮)
{وَلَا يحل لكم أَن تَأْخُذُوا مِمَّا آتَيْتُمُوهُنَّ شَيْئا} الْخطاب للأزواج أَي لَا يحل لَهُم أَن يَأْخُذُوا فِي مُقَابلَة الطَّلَاق مِمَّا دفعوه إِلَى نِسَائِهِم من الْمهْر شَيْئا على وَجه المضارة لَهُنَّ وتنكير شَيْء للتحقير أَي شَيْئا نزرا فضلا عَن الْكثير وَخص مَا دفعوه إلَيْهِنَّ بِعَدَمِ حل الْأَخْذ مِنْهُ مَعَ كَونه لَا يحل للأزواج أَن يَأْخُذُوا من أَمْوَالهم الَّتِي يملكنها من غير الْمهْر لكَون ذَلِك هُوَ الَّذِي يتَعَلَّق بِهِ نفس الزَّوْج ويتطلع لأَخذه دون مَا عداهُ مِمَّا هُوَ فِي ملكهَا على أَنه إِذا كَانَ أَخذ مَا دَفعه إِلَيْهَا فِي مُقَابلَة الْبضْع عِنْد خُرُوجه عَن ملكه لَا يحل لَهُ كَانَ مَا عداهُ مَمْنُوعًا مِنْهُ بِالْأولَى وَقيل الْخطاب للأئمة والحكام ليطابق قَوْله {فَإِن خِفْتُمْ} فَإِن الْخطاب فِيهِ لَهُم وعَلى هَذَا يكون إِسْنَاد الْأَخْذ إِلَيْهِم لكَوْنهم الآمرين بذلك وَالْأول أولى لقَوْله {مَا آتَيْتُمُوهُنَّ} فَإِن إِسْنَاده إِلَى غير الْأزْوَاج بعيد جدا لِأَن إيتَاء الْأزْوَاج لم يكن عَن أَمرهم وَقيل إِن الثَّانِي أولى لِئَلَّا يشوش النّظم {إِلَّا أَن يخافا} أَي يعلمَا أَي الزَّوْجَانِ من أَنفسهمَا فِيهِ الْتِفَات من الْخطاب إِلَى الْغَيْبَة {أَلا يُقِيمَا حُدُود الله} أَي تخَاف الْمَرْأَة أَن تَعْصِي الله فِي أُمُور زَوجهَا وَيخَاف الزَّوْج أَنه إِذا لم تطعه أَن يعتدي عَلَيْهَا {فَإِن خِفْتُمْ} أَي خشيتم وأشفقتم وَقيل ظننتم {أَلا يُقِيمَا حُدُود الله} يَعْنِي مَا أوجب الله على كل وَاحِد مِنْهُمَا من طَاعَته فِيمَا أَمر بِهِ من حسن الصُّحْبَة والمعاشرة بِالْمَعْرُوفِ وَقيل هُوَ يرجع إِلَى الْمَرْأَة وَهُوَ سوء خلقهَا واستخفافها بِحَق زَوجهَا {فَلَا جنَاح عَلَيْهِمَا فِيمَا افتدت بِهِ} أَي لَا جنَاح على الرجل فِي الْأَخْذ وَلَا على الْمَرْأَة فِي الْإِعْطَاء بِأَن تَفْتَدِي نَفسهَا من ذَلِك النِّكَاح ببذل شَيْء من المَال يرضى بِهِ الزَّوْج فيطلقها لأَجله وَهَذَا هُوَ الْخلْع وَقد ذهب الْجُمْهُور إِلَى ذَلِك للزَّوْج وَأَنه يحل لَهُ الْأَخْذ مَعَ ذَلِك الْخَوْف وَهُوَ الَّذِي صرح بِهِ الْقُرْآن وَحكى ابْن الْمُنْذر عَن بعض أهل الْعلم أَنه لَا يحل لَهُ مَا أَخذ وَيجْبر على رده وَهَذَا فِي الْغَايَة السُّقُوط
وَقد ورد فِي ذمّ المختلعات أَحَادِيث مِنْهَا عَن ابْن عَبَّاس عِنْد ابْن
{তোমাদের জন্য এটি বৈধ নয় যে, তোমরা তাদেরকে যা প্রদান করেছ তা থেকে কোনো কিছু গ্রহণ করবে}—এখানে সম্বোধন করা হয়েছে স্বামীদের প্রতি। অর্থাৎ, তালাকের বিনিময়ে মোহরানা হিসেবে তারা তাদের স্ত্রীদের যা প্রদান করেছে, তাদের ক্ষতি করার উদ্দেশ্যে তা থেকে কোনো কিছু গ্রহণ করা তাদের জন্য বৈধ নয়। আর 'شيء' (কোনো কিছু) শব্দটিকে তুচ্ছতা বোঝাতে অনির্দিষ্ট (নাকিরাহ) রাখা হয়েছে; অর্থাৎ অধিক তো দূরের কথা, সামান্য পরিমাণও গ্রহণ করা বৈধ নয়। স্ত্রীদের মালিকানাধীন মোহরানা ব্যতীত অন্য কোনো সম্পদ গ্রহণ করা স্বামীদের জন্য বৈধ না হওয়া সত্ত্বেও বিশেষভাবে মোহরানা থেকে গ্রহণ না করার বিষয়টি উল্লেখ করা হয়েছে; কারণ সাধারণত স্বামীর মন মোহরানার সাথেই সংশ্লিষ্ট থাকে এবং সে তা পাওয়ার আকাঙ্ক্ষা করে, স্ত্রীর মালিকানাধীন অন্য কোনো সম্পদের প্রতি নয়। তাছাড়া দাম্পত্য সম্পর্কের বিনিময়ে যা সে প্রদান করেছে, তা তার মালিকানা থেকে বেরিয়ে যাওয়ার পর ফেরত নেওয়া যদি বৈধ না হয়, তবে অন্য কিছু গ্রহণ করা তো আরও জোরালোভাবে নিষিদ্ধ। কেউ কেউ বলেছেন, এই সম্বোধনটি ইমাম ও বিচারকদের প্রতি, যেন তা {যদি তোমরা আশঙ্কা করো} বাণীর সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ হয়। কারণ সেই অংশে সম্বোধনটি বিচারকদের প্রতি করা হয়েছে। এই মত অনুযায়ী, সম্পদ গ্রহণের বিষয়টি তাদের (বিচারকদের) দিকে সম্বন্ধিত করার কারণ হলো তারাই এর নির্দেশদাতা। তবে প্রথম মতটিই অধিকতর অগ্রগণ্য; কারণ মহান আল্লাহর বাণী: {যা তোমরা তাদেরকে প্রদান করেছ}, এখানে প্রদান করার বিষয়টি স্বামী ব্যতীত অন্য কারো দিকে সম্বন্ধ করা অত্যন্ত দূরহ ব্যাপার। কেননা স্বামীদের এই মোহরানা প্রদান বিচারকদের নির্দেশে ছিল না। আবার কেউ কেউ বলেছেন, দ্বিতীয় মতটিই (বিচারকদের সম্বোধন) অধিকতর উত্তম যেন বাক্যরীতিতে কোনো বৈসাদৃশ্য সৃষ্টি না হয়। {অবশ্য যদি তারা উভয়ে আশঙ্কা করে} অর্থাৎ স্বামী-স্ত্রী উভয়ে যদি নিজেদের অবস্থা সম্পর্কে বুঝতে পারে। এখানে সম্বোধনের রীতি (হাজির) থেকে নামপুরুষের (গায়েব) দিকে পরিবর্তন (ইলতিফাত) করা হয়েছে। {যে তারা আল্লাহর সীমারেখা বজায় রাখতে পারবে না} অর্থাৎ স্ত্রী আশঙ্কা করে যে সে স্বামীর হকের ব্যাপারে আল্লাহর অবাধ্য হবে, আর স্বামী আশঙ্কা করে যে স্ত্রী যদি তার আনুগত্য না করে তবে সে তার ওপর জুলুম বা সীমা লঙ্ঘন করবে। {অতঃপর যদি তোমরা আশঙ্কা করো} অর্থাৎ তোমরা যদি ভয় পাও ও উদ্বিগ্ন হও, কারো মতে এটি ধারণা করার অর্থে। {যে তারা আল্লাহর সীমারেখা কায়েম রাখতে পারবে না} অর্থাৎ মহান আল্লাহ তাদের প্রত্যেকের ওপর সদ্ব্যবহার ও সুন্দর সাহচর্যের যে আদেশ ও আনুগত্য ওয়াজিব করেছেন তা তারা পালন করতে পারবে না। কেউ কেউ বলেছেন, এই বিষয়টি স্ত্রীর দিকে ফিরে যায়, যা হলো তার মন্দ স্বভাব এবং স্বামীর হকের প্রতি অবজ্ঞা প্রদর্শন। {তবে স্ত্রী যা দিয়ে নিজেকে মুক্ত করে নেবে তাতে তাদের উভয়ের কোনো গুনাহ নেই} অর্থাৎ পুরুষের জন্য সেই সম্পদ গ্রহণ করতে এবং নারীর জন্য তা প্রদান করতে কোনো গুনাহ নেই। আর তা হলো সম্পদের বিনিময়ে নিজেকে ওই বিবাহ বন্ধন থেকে মুক্ত করে নেওয়া, যাতে স্বামী সন্তুষ্ট হয় এবং সেই সম্পদের বিনিময়ে তাকে তালাক প্রদান করে। আর এটিই হলো খুলা (الخلع)। জমহুর (অধিকাংশ আলেম) স্বামীদের জন্য এই বিধানের প্রবক্তা এবং সেই আশঙ্কার ক্ষেত্রে স্বামীর জন্য তা গ্রহণ করা বৈধ; এটিই পবিত্র কুরআনে স্পষ্টভাবে ব্যক্ত হয়েছে। ইবনুল মুনযির কোনো কোনো আলেমের পক্ষ থেকে বর্ণনা করেছেন যে, স্বামী যা গ্রহণ করেছে তা তার জন্য বৈধ নয় এবং তা ফিরিয়ে দিতে তাকে বাধ্য করা হবে। তবে এই মতটি চূড়ান্ত পর্যায়ের অসার (ساقط)।
খুলা (الخلع) কারী নারীদের নিন্দায় বেশ কিছু হাদিস বর্ণিত হয়েছে, যার মধ্যে ইবনে আব্বাসের সূত্রে ইবনে [মাজাহ] এর নিকট বর্ণিত হাদিস অন্যতম।
(খণ্ড: ১)
হুসনুল উসওয়াহ বিমা সাবাতা মিনাল্লাহি ওয়া রাসূলিহী ফিন নিসওয়াহ
(পৃষ্ঠা: ৩৯)
مَاجَه أَن رَسُول الله صلى الله عليه وسلم قَالَ لَا تسْأَل الْمَرْأَة زَوجهَا الطَّلَاق فِي غير كنهه فتجد ريح الْجنَّة وَإِن رِيحهَا لتوجد فِي مَسَافَة أَرْبَعِينَ عَاما
وَقد اخْتلف أهل الْعلم فِي عدَّة المختلعة وَالرَّاجِح أَنَّهَا تَعْتَد بِحَيْضَة لما أخرجه أَبُو دَاوُد وَالتِّرْمِذِيّ وَالنَّسَائِيّ وَالْحَاكِم وَصَححهُ عَن ابْن عَبَّاس أَن النَّبِي صلى الله عليه وسلم أَمر امْرَأَة ثَابت بن قيس أَن تَعْتَد بِحَيْضَة وَلما أخرجه التِّرْمِذِيّ عَن الرّبيع بنت معوذ بن عفراء أَنَّهَا اخْتلعت على عهد رَسُول الله صلى الله عليه وسلم فَأمر النَّبِي صلى الله عليه وسلم أَن تَعْتَد بِحَيْضَة قَالَ التِّرْمِذِيّ الصَّحِيح أَنَّهَا أمرت أَن تَعْتَد بِحَيْضَة وَفِي الْبَاب أَحَادِيث وَلم يرد مَا يُعَارض هَذَا من الْمَرْفُوع بل ورد عَن جمَاعَة من الصَّحَابَة وَالتَّابِعِينَ أَن عدَّة المختلعة كعدة الطَّلَاق وَبِه قَالَ الْجُمْهُور قَالَ التِّرْمِذِيّ وَهُوَ قَول أَكثر أهل الْعلم من الصَّحَابَة وَغَيرهم وَاسْتَدَلُّوا على ذَلِك بِأَن المختلعة من جملَة المطلقات فَهِيَ دَاخله تَحت عُمُوم الْقُرْآن وَالْحق مَا ذَكرْنَاهُ لِأَن مَا ورد عَن النَّبِي صلى الله عليه وسلم يخصص عُمُوم الْقُرْآن وَقد اخْتلف أهل الْعلم إِذا طلب الزَّوْج من الْمَرْأَة زِيَادَة على مَا دَفعه إِلَيْهَا من الْمهْر وَمَا يتبعهُ ورضيت بذلك هَل يجوز أم لَا ظَاهر الْقُرْآن الْجَوَاز لعدم تَقْيِيده بِمِقْدَار معِين وَبِهَذَا قَالَ مَالك وَالشَّافِعِيّ وَأَبُو ثَوْر وَرُوِيَ مثل ذَلِك عَن جمَاعَة الصَّحَابَة وَالتَّابِعِينَ وَقَالَ أَحْمد وَغَيره لَا يجوز لما ورد فِي ذَلِك عَن النَّبِي صلى الله عَلَيْهِ وَسلم
ইবনে মাজাহ বর্ণনা করেছেন যে, রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন: "কোনো নারী যেন সঙ্গত কারণ ব্যতীত তার স্বামীর কাছে তালাক প্রার্থনা না করে; অন্যথায় সে জান্নাতের সুঘ্রাণও পাবে না। অথচ জান্নাতের সুঘ্রাণ চল্লিশ বছরের দূরত্ব থেকেও পাওয়া যায়।"
খুলাকারিনী নারীর ইদ্দত পালনের বিষয়ে আলেমগণ মতভেদ করেছেন। তবে অধিকতর গ্রহণযোগ্য (الراجح) মত হলো, সে এক ঋতু পর্যন্ত ইদ্দত পালন করবে। কারণ আবু দাউদ, তিরমিজি, নাসায়ি ও হাকেম বর্ণনা করেছেন এবং হাকেম একে বিশুদ্ধ (صحيح) বলে অভিহিত করেছেন ইবনে আব্বাস (রাযিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণিত যে, নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) সাবিত ইবনে কায়সের স্ত্রীকে এক ঋতু ইদ্দত পালনের নির্দেশ দিয়েছিলেন। এছাড়া তিরমিজি রুবাইয়ি বিনতে মুআউভিয ইবনে আফরা (রাযিয়াল্লাহু আনহা) থেকে বর্ণনা করেছেন যে, তিনি রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর যুগে খুলা করেছিলেন; তখন নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) তাকে এক ঋতু ইদ্দত পালনের নির্দেশ দেন। ইমাম তিরমিজি বলেন, বিশুদ্ধ (صحيح) মত হলো তাকে এক ঋতু ইদ্দত পালনের নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল। এ বিষয়ে আরও অনেক হাদিস রয়েছে এবং এর বিপরীতে রাসূল পর্যন্ত বর্ণিত (مرفوع) পর্যায়ের কোনো কিছু বর্ণিত হয়নি। বরং একদল সাহাবী ও তাবেয়ী থেকে বর্ণিত হয়েছে যে, খুলাকারিনী নারীর ইদ্দত সাধারণ তালাকের ইদ্দতের মতোই এবং সংখ্যাগরিষ্ঠ (جمهور) ওলামায়ে কেরাম এই মতই ব্যক্ত করেছেন। তিরমিজি বলেন, এটি সাহাবী ও অন্যান্যদের মধ্যে অধিকাংশ আলেমের বক্তব্য। তারা এই দলিল পেশ করেন যে, খুলাকারিনী নারীও তালাকপ্রাপ্তাদের অন্তর্ভুক্ত, তাই সে কুরআনের সাধারণ (عموم) নির্দেশের আওতাভুক্ত। তবে সত্য ও সঠিক হলো আমরা যা ইতিপূর্বে উল্লেখ করেছি, কারণ নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) থেকে যা বর্ণিত হয়েছে তা কুরআনের সাধারণ (عموم) বিধানকে সুনির্দিষ্ট (يخصص) করে। আর স্বামী যদি স্ত্রীর কাছে তার প্রদত্ত মোহর ও তৎসংশ্লিষ্ট বিষয়ের চেয়ে অতিরিক্ত কিছু দাবি করে এবং স্ত্রী তাতে রাজি হয়, তবে তা বৈধ হবে কি না—এ বিষয়ে আলেমগণ মতভেদ করেছেন। কুরআনের প্রকাশ্য (ظاهر) অর্থ অনুযায়ী এটি বৈধ, কারণ এতে কোনো নির্দিষ্ট পরিমাণ বেঁধে দেওয়া হয়নি। ইমাম মালিক, শাফিঈ ও আবু সাওর এই মত পোষণ করেছেন এবং একদল সাহাবী ও তাবেয়ী থেকেও অনুরূপ বর্ণিত হয়েছে। ইমাম আহমাদ ও অন্যান্যগণ বলেছেন যে, এটি বৈধ নয়; কারণ এ বিষয়ে নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) থেকে যা বর্ণিত হয়েছে তার ভিত্তিতে।
(খণ্ড: ১)
হুসনুল উসওয়াহ বিমা সাবাতা মিনাল্লাহি ওয়া রাসূলিহী ফিন নিসওয়াহ
(পৃষ্ঠা: ৪০)
16 -
بَاب مَا نزل فِي التَّحْلِيل{فَإِن طَلقهَا فَلَا تحل لَهُ من بعد حَتَّى تنْكح زوجا غَيره فَإِن طَلقهَا فَلَا جنَاح عَلَيْهِمَا أَن يتراجعا إِن ظنا أَن يُقِيمَا حُدُود الله}
قَالَ تَعَالَى {فَإِن طَلقهَا} أَي الطَّلقَة الثَّالِثَة الَّتِي ذكرهَا سُبْحَانَهُ بقوله {أَو تَسْرِيح بِإِحْسَان} فَإِن وَقع مِنْهُ ذَلِك فقد حرمت عَلَيْهِ بالتثليث سَوَاء كَانَ قد رَاجعهَا أم لَا وَسَوَاء انْقَضتْ عدتهَا فِي صُورَة عدم الرّجْعَة أم لَا {فَلَا تحل لَهُ من بعد} وَالْحكمَة فِي شرع هَذَا الحكم الردع عَن المسارعة إِلَى الطَّلَاق وَعَن الْعود إِلَى الْمُطلقَة الثَّالِثَة وَالرَّغْبَة فِيهَا {حَتَّى تنْكح زوجا غَيره} أَي حَتَّى تتَزَوَّج زوجا آخر غير الْمُطلق بعد انْقِضَاء عدتهَا من الأول فيجامعها وَالنِّكَاح يتَنَاوَل العقد وَالْوَطْء جَمِيعًا وَالْمرَاد هُنَا الْوَطْء وَقد أَخذ بِظَاهِر الْآيَة سعيد بن الْمسيب وَمن وَافقه فَقَالُوا يَكْفِي مُجَرّد العقد لِأَنَّهُ المُرَاد وَذهب الْجُمْهُور من السّلف وَالْخلف إِلَى أَنه لَا بُد مَعَ العقد من الْوَطْء لما ثَبت عَن النَّبِي صلى الله عليه وسلم من اعْتِبَار ذَلِك وَهُوَ زِيَادَة يتَعَيَّن قبُولهَا وَلَعَلَّه لم يبلغ ابْن الْمسيب وَمن تَابعه
وَفِي الْآيَة دَلِيل على أَنه لَا بُد أَن يكون ذَلِك نِكَاحا شَرْعِيًّا مَقْصُودا لذاته لَا نِكَاحا غير مَقْصُود لذاته بل حِيلَة للتحليل وذريعة إِلَى ردهَا إِلَى الزَّوْج الأول فَإِن ذَلِك حرَام للأدلة الْوَارِدَة فِي ذمه وذم فَاعله وَإِن التيس الْمُسْتَعَار الَّذِي لَعنه الشَّارِع وَلعن من اتَّخذهُ لذَلِك أخرج الشَّافِعِي وَعبد الرَّزَّاق وَابْن أبي شيبَة وَأحمد وَالْبُخَارِيّ وَمُسلم وَالتِّرْمِذِيّ وَالنَّسَائِيّ وَابْن مَاجَه وَالْبَيْهَقِيّ عَن عَائِشَة قَالَت جَاءَت امْرَأَة رِفَاعَة الْقرظِيّ إِلَى رَسُول الله صلى الله عليه وسلم فَقَالَت إِنِّي كنت عِنْد رِفَاعَة فطلقني فَبت طَلَاقي فتزوجني
16 -
তাহলীল (বৈধকরণ) প্রসঙ্গে যা অবতীর্ণ হয়েছে{অতঃপর সে যদি তাকে তালাক দেয়, তবে এর পরে সে তার জন্য আর বৈধ হবে না, যতক্ষণ না সে অন্য কোনো স্বামী গ্রহণ করে। অতঃপর সে (দ্বিতীয় স্বামী) যদি তাকে তালাক দেয়, তবে তাদের উভয়ের পুনরায় দাম্পত্য জীবনে ফিরে আসাতে কোনো গুনাহ নেই; যদি তারা মনে করে যে তারা আল্লাহর নির্ধারিত সীমারেখা রক্ষা করতে পারবে।}
আল্লাহ তাআলা বলেছেন {অতঃপর সে যদি তাকে তালাক দেয়} অর্থাৎ সেই তৃতীয় তালাক, যা মহান আল্লাহ তাঁর বাণী {অথবা মহানুভবতার সাথে বিদায় দান} এর মাধ্যমে উল্লেখ করেছেন। যদি তার পক্ষ থেকে এটি ঘটে, তবে তিন তালাক দেওয়ার কারণে সে তার জন্য নিষিদ্ধ হয়ে যাবে; চাই সে তাকে ইতিপূর্বে ফিরিয়ে নিয়ে থাকুক বা না থাকুক, আর পুনরায় ফিরিয়ে না নেওয়ার ক্ষেত্রে তার ইদ্দত শেষ হোক বা না হোক। {তবে এরপর সে তার জন্য বৈধ হবে না}। এই বিধান প্রবর্তনের রহস্য হলো তালাকের ক্ষেত্রে তাড়াহুড়ো করা থেকে এবং তৃতীয়বার তালাকপ্রাপ্তা স্ত্রীর দিকে ফিরে আসা ও তার প্রতি অমূলক আগ্রহ পোষণ করা থেকে বিরত রাখা। {যতক্ষণ না সে অন্য স্বামী গ্রহণ করে} অর্থাৎ প্রথম স্বামীর ইদ্দত শেষ হওয়ার পর তালাকদাতা ব্যতীত অন্য স্বামীকে বিবাহ করে এবং সে তার সাথে সহবাস করে। 'নিকাহ' শব্দটি বিবাহ বন্ধন এবং সহবাস উভয়কেই অন্তর্ভুক্ত করে, তবে এখানে সহবাসই উদ্দেশ্য। সাঈদ ইবনুল মুসাইয়্যিব এবং যারা তাঁর সাথে একমত হয়েছেন তারা আয়াতের বাহ্যিক অর্থের ওপর আমল করেছেন এবং বলেছেন যে কেবল বিবাহ বন্ধনই যথেষ্ট, কারণ আয়াতে এটাই উদ্দেশ্য। তবে সালাফ এবং খালাফগণের জমহুর (সংখ্যাগরিষ্ঠ) এই মত পোষণ করেছেন যে, বিবাহ বন্ধনের সাথে সহবাসও আবশ্যক; যেহেতু নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) থেকে এ বিষয়টি শর্ত হওয়ার ব্যাপারটি প্রমাণিত (ثبت) হয়েছে। এটি এমন এক অতিরিক্ত বিধান যা গ্রহণ করা অপরিহার্য। সম্ভবত ইবনুল মুসাইয়্যিব ও তাঁর অনুসারীদের কাছে এ সংক্রান্ত হাদিস পৌঁছেনি।
আয়াতে এ বিষয়ে দলিল রয়েছে যে, সেই বিবাহটি হতে হবে একটি শরয়ী বিবাহ যা স্বয়ং উদ্দেশ্য, এমন বিবাহ নয় যা বিবাহের উদ্দেশ্যে নয় বরং তাহলীল (تحليل) বা বৈধকরণের জন্য একটি কৌশল এবং প্রথম স্বামীর কাছে ফিরিয়ে নেওয়ার মাধ্যম মাত্র। কেননা এটি হারাম, যেহেতু এর নিন্দায় এবং এটি সম্পাদনকারীর নিন্দায় বিভিন্ন দলিল বর্ণিত হয়েছে। আর এ ব্যক্তি হলো সেই 'ভাড়ায় আনা পাঠা' যাকে শরীয়ত প্রণেতা অভিশাপ দিয়েছেন এবং যে একে সেই উদ্দেশ্যে গ্রহণ করেছে তাকেও অভিশাপ দিয়েছেন। শাফিঈ, আবদুর রাজ্জাক, ইবনে আবি শায়বাহ, আহমাদ, বুখারী, মুসলিম, তিরমিযী, নাসাঈ, ইবনে মাজাহ এবং বায়হাকী আয়েশা (রা.) থেকে সংকলন করেছেন (أخرج), তিনি বলেন: রিফাআ আল-কুরাযীর স্ত্রী রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর কাছে এসে বললেন: আমি রিফাআর বিবাহাধীনে ছিলাম, সে আমাকে তালাক দিল এবং আমার তালাককে চূড়ান্ত (بت) করে দিল। এরপর আমি বিবাহ করলাম...
(খণ্ড: ১)
হুসনুল উসওয়াহ বিমা সাবাতা মিনাল্লাহি ওয়া রাসূলিহী ফিন নিসওয়াহ
(পৃষ্ঠা: ৪১)
عبد الرَّحْمَن بن الزبير وَمَا مَعَه إِلَّا مثل هدبة الثَّوْب فَتَبَسَّمَ النَّبِي صلى الله عليه وسلم فَقَالَ أَتُرِيدِينَ أَن تَرْجِعِي إِلَى رِفَاعَة لَا حَتَّى تَذُوقِي عُسَيْلَته وَيَذُوق عُسَيْلَتك وَقد رُوِيَ نَحْو هَذَا عَنْهَا من طرق
وَأخرج أَحْمد وَالنَّسَائِيّ عَن ابْن عَبَّاس أَن الغميصاء أَو الرميصاء أَتَت النَّبِي صلى الله عليه وسلم وَفِي آخِره فَقَالَ النَّبِي صلى الله عليه وسلم لَيْسَ ذَلِك لَك حَتَّى يَذُوق عسالتك رجل غَيره والعسيلة والعسالة مجَاز عَن قَلِيل الْجِمَاع أَو يَكْفِي قَلِيل الانتشار شبهت تِلْكَ اللَّذَّة بالعسل وصغرت بِالْهَاءِ لِأَن الْغَالِب على الْعَسَل التَّأْنِيث قَالَه الْجَوْهَرِي
وَقد ثَبت لعن الْمُحَلّل والمحلل لَهُ فِي أَحَادِيث كَثِيرَة مِنْهَا عَن ابْن مَسْعُود عِنْد أَحْمد وَالتِّرْمِذِيّ صَححهُ النَّسَائِيّ وَالْبَيْهَقِيّ فِي سنَنه قَالَ لعن النَّبِي صلى الله عليه وسلم الْمُحَلّل والمحلل لَهُ وَفِي الْبَاب أَحَادِيث فِي ذمّ التَّحْلِيل وفاعله أَطَالَ بذكرها ابْن الْقيم فِي إغاثة اللهفان وإعلام الموقعين وَهُوَ بحث نَفِيس جدا فَرَاجعه {فَإِن طَلقهَا فَلَا جنَاح عَلَيْهِمَا أَن يتراجعا} أَي إِن طَلقهَا الزَّوْج الثَّانِي فَلَا جنَاح على الزَّوْج الأول وَالْمَرْأَة أَن يرجع كل وَاحِد مِنْهُمَا لصَاحبه يَعْنِي بِنِكَاح جَدِيد قَالَ ابْن الْمُنْذر أجمع أهل الْعلم على أَن الْحر إِذا طلق زَوجته ثَلَاثًا ثمَّ انْقَضتْ عدتهَا ونكحت زوجا دخل بهَا ثمَّ فَارقهَا وَانْقَضَت عدتهَا ثمَّ نَكَحَهَا الزَّوْج الأول أَنَّهَا تكون عِنْده على ثَلَاث تَطْلِيقَات {إِن ظنا} أَي علما وأيقنا وَقيل إِن رجوا إِذْ لَا يعلم مَا هُوَ كَائِن إِلَّا الله تَعَالَى {أَن يُقِيمَا حُدُود الله} أَي حُقُوق الزَّوْجِيَّة الْوَاجِبَة لكل مِنْهُمَا على الآخر وَأما إِذا لم يحصل ظن ذَلِك بِأَن يعلمَا أَو أَحدهمَا عدم الْإِقَامَة لحدود الله أَو ترددا أَو أَحدهمَا وَلم يحصل لَهما الظَّن فَلَا يجوز الدُّخُول فِي هَذَا النِّكَاح لِأَنَّهُ مَظَنَّة لمعصية الله والوقوع فِيمَا حرمه على الزَّوْجَيْنِ
...আব্দুর রহমান বিন আল-জুবায়ের, অথচ তার কাছে কাপড়ের ঝালরের ন্যায় (শিথিল বস্তু) ব্যতীত আর কিছুই নেই। তখন নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) মুচকি হাসলেন এবং বললেন, "তুমি কি পুনরায় রিফায়ার কাছে ফিরে যেতে চাও? না, যতক্ষণ না তুমি তার মধুর স্বাদ আস্বাদন করবে এবং সে তোমার মধুর স্বাদ আস্বাদন করবে।" আর তার থেকে এ সংক্রান্ত বর্ণনা একাধিক সূত্রে (طرق) বর্ণিত (روي) হয়েছে।
ইমাম আহমাদ ও নাসাঈ ইবনে আব্বাস (রাযিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণনা (أخرج) করেছেন যে, গুমায়সা অথবা রুমায়সা নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর নিকট এলেন এবং এর শেষাংশে রয়েছে যে, নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বললেন, "তোমার জন্য তা (প্রথম স্বামীর কাছে ফিরে যাওয়া) বৈধ নয় যতক্ষণ না অন্য এক ব্যক্তি তোমার মধুর স্বাদ আস্বাদন করবে।" এখানে 'উসাইলা' ও 'আসসালা' শব্দটি স্বল্প সহবাসের রূপকার্থে ব্যবহৃত হয়েছে অথবা লিঙ্গোত্থান পর্যাপ্ত হওয়া বুঝাতে ব্যবহৃত হয়েছে। সেই আনন্দকে মধুর সাথে তুলনা করা হয়েছে এবং 'হা' যুক্ত করে এর ক্ষুদ্রতাবাচক রূপ গঠন করা হয়েছে, কারণ মধুকে সাধারণত স্ত্রীলিঙ্গ হিসেবে গণ্য করা হয়; আল-জাওহারী এমনটিই বলেছেন।
অনেক হাদিসে 'মুহাল্লিল' (যে ব্যক্তি অন্যের জন্য স্ত্রীকে হালাল করে দেয়) এবং 'মুহাল্লাল লাহূ' (যার জন্য হালাল করা হয়)-এর ওপর অভিশাপের বিষয়টি প্রমাণিত (ثبت) হয়েছে। তার মধ্যে ইবনে মাসউদ (রাযিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণিত একটি হাদিস যা আহমাদ ও তিরমিযীতে রয়েছে এবং নাসাঈ ও বাইহাকী তাদের সুনানে একে সহিহ (صححه) বলেছেন। তিনি বলেন, নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) মুহাল্লিল এবং মুহাল্লাল লাহূকে অভিশাপ দিয়েছেন। এ বিষয়ে 'তাহলীল' এবং এর কর্তার নিন্দায় আরও অনেক হাদিস রয়েছে, ইবনুল কায়্যিম 'ইগাসাতুল লাহফান' এবং 'ইলামুল মুয়াক্কিইন' গ্রন্থে এ বিষয়ে দীর্ঘ আলোচনা করেছেন। এটি অত্যন্ত মূল্যবান একটি গবেষণা, তাই আপনি তা দেখে নিতে পারেন। {অতঃপর যদি সে তাকে তালাক দেয়, তবে তারা পুনরায় একে অপরের কাছে ফিরে আসলে তাদের কোনো গুনাহ নেই} অর্থাৎ দ্বিতীয় স্বামী যদি তাকে তালাক দেয়, তবে প্রথম স্বামী এবং সেই মহিলার একে অপরের কাছে ফিরে আসতে কোনো দোষ নেই, অর্থাৎ নতুন বিবাহের মাধ্যমে। ইবনুল মুনযির বলেন: আলেমগণ ঐকমত্য (أجمع) পোষণ করেছেন যে, যদি কোনো স্বাধীন ব্যক্তি তার স্ত্রীকে তিন তালাক দেয়, অতঃপর তার ইদ্দত শেষ হওয়ার পর সে অন্য স্বামীকে বিবাহ করে এবং সেই স্বামী তার সাথে সহবাস করে, এরপর সে তাকে বিচ্ছিন্ন করে দেয় এবং ইদ্দত শেষ হয়, অতঃপর প্রথম স্বামী তাকে পুনরায় বিবাহ করে, তবে সে তার কাছে পুনরায় তিনটি তালাকের সুযোগ পাবে। {যদি তারা ধারণা করে} অর্থাৎ যদি তারা জানে এবং নিশ্চিত বিশ্বাস করে। আর বলা হয়েছে, যদি তারা আশা রাখে, কারণ ভবিষ্যতে কী ঘটবে তা আল্লাহ ছাড়া আর কেউ জানে না। {যে তারা আল্লাহর সীমারেখা রক্ষা করতে পারবে} অর্থাৎ একে অপরের ওপর অর্পিত দাম্পত্য জীবনের ওয়াজিব হকসমূহ আদায় করতে পারবে। আর যদি এই ধারণা অর্জিত না হয়, যেমন তারা বা তাদের কেউ একজন যদি জানে যে আল্লাহর সীমারেখা রক্ষা করা সম্ভব হবে না, অথবা তারা বা তাদের কেউ যদি দ্বিধাগ্রস্ত থাকে এবং তাদের প্রবল ধারণা না জন্মে, তবে এই বিবাহে লিপ্ত হওয়া জায়েয নয়। কারণ এটি আল্লাহর নাফরমানি এবং স্বামী-স্ত্রীর জন্য হারামকৃত বিষয়ে পতিত হওয়ার প্রবল সম্ভাবনা।
(খণ্ড: ১)
হুসনুল উসওয়াহ বিমা সাবাতা মিনাল্লাহি ওয়া রাসূলিহী ফিন নিসওয়াহ
(পৃষ্ঠা: ৪২)
17 -
بَاب مَا نزل فِي بُلُوغ أجل الْعدة وَعدم الضرار بِهن{وَإِذا طلّقْتُم النِّسَاء فبلغن أَجلهنَّ فأمسكوهن بِمَعْرُوف أَو سرحوهن بِمَعْرُوف وَلَا تمسكوهن ضِرَارًا لتعتدوا}
قَالَ تَعَالَى {وَإِذا طلّقْتُم النِّسَاء فبلغن أَجلهنَّ} أَي قاربن انْقِضَاء عدتهن وشارفن مُنْتَهَاهَا وَلم يرد انْقِضَاء الْعدة فَهَذَا من بَاب الْمجَاز الَّذِي يُطلق فِيهِ اسْم الْكل على الْأَكْثَر وَقيل إِن الْأَجَل اسْم للزمان فَيحمل على الزَّمَان الَّذِي هُوَ آخر زمَان يُمكن إِيقَاع رَجْعَة فِيهِ بِحَيْثُ إِذا فَاتَ لَا يبْقى بعده مكنة إِلَى الرّجْعَة وعَلى هَذَا لَا حَاجَة إِلَى الْمجَاز {فأمسكوهن بِمَعْرُوف} أَي راجعوهن بِمَعْرُوف وَهُوَ أَن يشْهد على رَجعتهَا وَأَن يُرَاجِعهَا بالْقَوْل لَا بِالْوَطْءِ وَقيل هُوَ الْقيام بِحُقُوق الزَّوْجِيَّة وَهُوَ الظَّاهِر {أَو سرحوهن بِمَعْرُوف} أَي اتركوهن حَتَّى تَنْقَضِي عدتهن فيملكن أَنْفسهنَّ وَالْمعْنَى إِذا طلّقْتُم النِّسَاء فقاربن آخر الْعدة فَلَا تضاروهن بالمراجعة من غير قصد لاستمرار الزَّوْجِيَّة واستدامتها بل اخْتَارُوا أحد الْأَمريْنِ إِمَّا الْإِمْسَاك أَو التسريح {وَلَا تمسكوهن ضِرَارًا} كَمَا كَانَت تفعل الْجَاهِلِيَّة من طَلَاق الْمَرْأَة حَتَّى يقرب انْقِضَاء عدتهَا ثمَّ مراجعتها لَا عَن حَاجَة وَلَا لمحبة وَلَكِن لقصد تَطْوِيل الْعدة وتوسيع مُدَّة الِانْتِظَار ضِرَارًا {لتعتدوا} أَي لقصد الاعتداء مِنْكُم عَلَيْهِنَّ وَالظُّلم بِهن وَمن يفعل ذَلِك فقد ظلم نَفسه
17 -
পরিচ্ছেদ: ইদ্দত (عدة) পূর্ণ হওয়া এবং তাদের ক্ষতিগ্রস্ত না করার বিষয়ে যা অবতীর্ণ হয়েছে{আর যখন তোমরা নারীদের তালাক (طلاق) দাও এবং তারা তাদের মেয়াদের [ইদ্দতের] শেষ পর্যায়ে পৌঁছে যায়, তখন তোমরা হয় সদ্ভাবের সাথে তাদের রেখে দাও, অথবা সদ্ভাবের সাথে তাদের মুক্ত করে দাও। আর তোমরা তাদের ক্ষতিগ্রস্ত করার উদ্দেশ্যে আটকে রেখো না যাতে তোমরা সীমা লঙ্ঘন করো।}
মহান আল্লাহ বলেছেন: {আর যখন তোমরা নারীদের তালাক (طلاق) দাও এবং তারা তাদের মেয়াদের শেষ পর্যায়ে পৌঁছে যায়} অর্থাৎ তাদের ইদ্দত (عدة) শেষ হওয়ার নিকটবর্তী হয় এবং এর সমাপ্তির সন্নিকটে পৌঁছায়। এখানে ইদ্দত শেষ হওয়া উদ্দেশ্য নয়; বরং এটি রূপক (مجاز) ব্যবহারের অন্তর্ভুক্ত, যেখানে অধিকাংশের ওপর পূর্ণাঙ্গতার নাম আরোপ করা হয়েছে। আবার কেউ কেউ বলেছেন, 'আজল' বা মেয়াদ বলতে সময়কে বোঝানো হয়েছে; সুতরাং একে এমন সময়ের ওপর প্রয়োগ করা হবে যা ফিরিয়ে নেওয়ার বা রুজু (رجعة) করার সর্বশেষ সুযোগ হিসেবে গণ্য, এমনভাবে যে তা অতিক্রান্ত হয়ে গেলে পুনরায় ফিরিয়ে নেওয়ার আর কোনো সুযোগ থাকে না। এই ব্যাখ্যা অনুযায়ী রূপক (مجاز) অর্থের প্রয়োজন পড়ে না। {অতঃপর তোমরা সদ্ভাবের সাথে তাদের রেখে দাও} অর্থাৎ সদ্ভাবের সাথে তাদের ফিরিয়ে নাও (রুজু করো)। আর তা হলো—তার ফিরিয়ে নেওয়ার ওপর সাক্ষী রাখা এবং বাচনিকভাবে ফিরিয়ে নেওয়া, শারীরিক মিলনের মাধ্যমে নয়। আবার কেউ বলেছেন, এর অর্থ হলো বৈবাহিক অধিকারসমূহ যথাযথভাবে আদায় করা; আর এটিই অধিক স্পষ্ট (ظاهر)। {অথবা সদ্ভাবের সাথে তাদের মুক্ত করে দাও} অর্থাৎ তাদের ছেড়ে দাও যাতে তাদের ইদ্দত (عدة) পূর্ণ হয়ে যায় এবং তারা নিজেদের মালিকানাধীন বা ইখতিয়ারপ্রাপ্ত হতে পারে। মর্মার্থ হলো—যখন তোমরা নারীদের তালাক (طلاق) দাও এবং তারা ইদ্দতের শেষ পর্যায়ে পৌঁছে যায়, তখন বৈবাহিক সম্পর্ক স্থায়ী ও নিরবচ্ছিন্ন রাখার উদ্দেশ্য ছাড়াই কেবল তাদের ক্ষতিগ্রস্ত করার জন্য ফিরিয়ে নিয়ো না। বরং দুটি বিষয়ের যেকোনো একটি বেছে নাও: হয় সদ্ভাবের সাথে রাখা, অথবা সদ্ভাবের সাথে বিদায় দেওয়া। {আর তোমরা তাদের ক্ষতিগ্রস্ত করার উদ্দেশ্যে আটকে রেখো না} যেমন জাহেলি যুগে করা হতো—কোনো নারীকে তালাক (طلاق) দিয়ে তার ইদ্দত (عدة) শেষ হওয়ার উপক্রম হলে কোনো প্রয়োজন বা ভালোবাসা ছাড়াই তাকে ফিরিয়ে নেওয়া হতো; কেবলমাত্র ইদ্দত দীর্ঘ করার এবং ক্ষতির উদ্দেশ্যে প্রতীক্ষার সময় বাড়িয়ে দেওয়ার জন্য। {যাতে তোমরা সীমা লঙ্ঘন করো} অর্থাৎ তাদের ওপর সীমালঙ্ঘন ও জুলুম করার উদ্দেশ্যে। আর যে ব্যক্তি এরূপ করবে, সে অবশ্যই নিজের ওপর জুলুম করল।
(খণ্ড: ১)
হুসনুল উসওয়াহ বিমা সাবাতা মিনাল্লাহি ওয়া রাসূলিহী ফিন নিসওয়াহ
(পৃষ্ঠা: ৪৩)
18 -
بَاب مَا نزل فِي عضل النِّسَاء عَن النِّكَاح{وَإِذا طلّقْتُم النِّسَاء فبلغن أَجلهنَّ فَلَا تعضلوهن أَن ينكحن أَزوَاجهنَّ إِذا تراضوا بَينهم بِالْمَعْرُوفِ}
قَالَ تَعَالَى {وَإِذا طلّقْتُم النِّسَاء فبلغن أَجلهنَّ فَلَا تعضلوهن أَن ينكحن أَزوَاجهنَّ} الْخطاب إِمَّا للأزواج وَيكون معنى العضل مِنْهُم أَن يمنعوهن من أَن يتزوجن من أردن من الْأزْوَاج بعد انْقِضَاء عدتهن لحمية الْجَاهِلِيَّة كَمَا يَقع كثيرا من الْخُلَفَاء والسلاطين غيرَة على من كن تَحْتهم من النِّسَاء أَن يصرن تَحت غَيرهم لأَنهم لما نالوه من رئاسة الدُّنْيَا وَمَا صَارُوا فِيهِ من النخوة والكبرياء يتخيلون أَنهم قد خَرجُوا من جنس بني آدم إِلَّا من عصمه الله مِنْهُم بالورع والتواضع وَإِمَّا أَن يكون الْخطاب للأولياء وَيكون معنى إِسْنَاد الطَّلَاق إِلَيْهِم أَنهم سَبَب لَهُ لكَوْنهم المزوجين للنِّسَاء المطلقات من الْأزْوَاج المطلقين لَهُنَّ وَالْمرَاد ببلوغ الْأَجَل نهايته لَا كَمَا سبق فِي الْآيَة الأولى وَلِهَذَا قَالَ الشَّافِعِي اخْتِلَاف الْكَلَامَيْنِ على افْتِرَاق البلوغين
والعضل الْحَبْس وَقيل التَّضْيِيق وَالْمَنْع وَهُوَ رَاجع إِلَى معنى الْحَبْس وَقَوله أَزوَاجهنَّ إِن أُرِيد بِهِ المطلقون لَهُنَّ فَهُوَ مجَاز بِاعْتِبَار مَا كَانَ وَإِن أُرِيد من يردن أَن يتزوجنه فَهُوَ مجَاز أَيْضا بِاعْتِبَار مَا سَيكون {إِذا تراضوا بَينهم بِالْمَعْرُوفِ} يَعْنِي إِذا تراضى الْخطاب وَالنِّسَاء وَالْمَعْرُوف هُنَا مَا وَافق الشَّرْع من عقد حَلَال وَمهر جَائِز وَقيل هُوَ أَن يرضى كل وَاحِد مِنْهُمَا بِمَا الْتَزمهُ لصَاحبه بِحَق العقد حَتَّى تحصل الصُّحْبَة الْحَسَنَة وَالْعشرَة الجميلة والعيشة الرضية
قيل سَبَب نُزُولهَا أَن أُخْت معقل بن يسَار طَلقهَا زَوجهَا فَأَرَادَ
১৮ -
নারীদের বিবাহে বাধা প্রদান (عضل) সংক্রান্ত পরিচ্ছেদ{আর যখন তোমরা স্ত্রীদের তালাক দাও এবং তারা তাদের ইদ্দতকাল পূর্ণ করে, তখন তারা বিধিসম্মতভাবে (المعروف) পরস্পর সম্মত হলে, তারা তাদের (প্রাক্তন) স্বামীদের বিবাহ করতে চাইলে তোমরা তাদের বাধা প্রদান (عضل) করো না।}
আল্লাহ তাআলা বলেছেন, {আর যখন তোমরা স্ত্রীদের তালাক দাও এবং তারা তাদের ইদ্দতকাল পূর্ণ করে, তবে তারা তাদের স্বামীদের বিবাহ করতে চাইলে তোমরা তাদের বাধা দিও না}। এখানে সম্বোধনটি হয় স্বামীদের প্রতি, আর তাদের পক্ষ থেকে বাধা প্রদানের (العضل) অর্থ হলো— জাহেলী যুগের আত্মগৌরবের বশবর্তী হয়ে ইদ্দত অতিবাহিত হওয়ার পর তারা যাদের বিবাহ করতে চায় তাদের থেকে তাদের বিরত রাখা। যেমনটি অনেক খলিফা ও সুলতানদের ক্ষেত্রে ঘটে থাকে; তাদের অধীনে থাকা নারীরা অন্য কারো অধীনে চলে যাবে— এই ঈর্ষাবোধ থেকে তারা এমনটি করেন। কারণ দুনিয়াবি নেতৃত্ব লাভ এবং আভিজাত্য ও অহংকারের যে শিখরে তারা পৌঁছান, তাতে তারা ধারণা করেন যে তারা যেন সাধারণ মানবজাতির ঊর্ধ্বে চলে গেছেন; তবে আল্লাহ যাদের পরহেযগারি ও বিনয় দ্বারা রক্ষা করেছেন তারা এর ব্যতিক্রম। অথবা সম্বোধনটি হতে পারে অভিভাবকদের প্রতি। আর তালাক প্রদানের বিষয়টি তাদের দিকে সম্বন্ধযুক্ত করার (إسناد) কারণ হলো— তারা তালাকপ্রাপ্ত নারীদের সাথে তালাকদানকারী স্বামীদের বিবাহের মাধ্যম বা কারণ ছিলেন। এখানে সময়কাল অতিবাহিত হওয়া (بلوغ الأجل) বলতে ইদ্দতের সমাপ্তিকে বোঝানো হয়েছে, পূর্ববর্তী আয়াতে যা অতিক্রান্ত হয়েছে তা নয়। একারণেই ইমাম শাফিঈ বলেছেন, ‘উভয় বর্ণনায় শব্দের ভিন্নতা মূলত দুই ধরনের সময়কাল সমাপ্তির (البلوغين) পার্থক্যের ওপর ভিত্তি করে।’
‘আদাল’ (العضل) অর্থ হলো আটকে রাখা। কেউ কেউ বলেছেন এর অর্থ হলো সংকীর্ণতা সৃষ্টি করা ও বাধা দান করা, যা মূলত আটকে রাখার অর্থের দিকেই ফিরে যায়। আর ‘তাদের স্বামীদের’ বলতে যদি তালাকদানকারী স্বামীদের বোঝানো হয়, তবে তা অতীতের বিবেচনায় রূপক (مجاز)। আর যদি যাদের তারা বিবাহ করার ইচ্ছা পোষণ করে তাদের বোঝানো হয়, তবে তাও ভবিষ্যতের বিবেচনায় রূপক (مجاز)। {যখন তারা বিধিসম্মতভাবে পরস্পর সম্মত হয়} অর্থাৎ যখন বিবাহের পয়গামকারী ও নারীরা একমত হয়। আর এখানে ‘বিধিসম্মত’ (المعروف) বলতে শরিয়তসম্মত বৈধ আকদ ও অনুমোদিত মোহরকে বোঝানো হয়েছে। অন্যমতে, এর অর্থ হলো— বিবাহের চুক্তির হক অনুযায়ী একে অপরের জন্য যা অবধারিত করেছে তাতে উভয়ে সন্তুষ্ট হওয়া, যাতে উত্তম সাহচর্য, সুন্দর দাম্পত্য ও সুখময় জীবন লাভ করা যায়।
বলা হয়েছে যে, এই আয়াত নাযিলের প্রেক্ষাপট হলো— মা'কিল ইবন ইয়াসার-এর বোনকে তার স্বামী তালাক দিয়েছিল, অতঃপর সে চেয়েছিল...