(খণ্ড: ১)
তাহকীকু বিদায়াতুস সূল
(পৃষ্ঠা: -)
تحقيق بداية السول القسم: السيرة النبوية
الكتاب: بداية السول في تفضيل الرسول صلى الله عليه وسلم
المؤلف: عبد العزيز بن عبد السلام بن أبي القاسم بن الحسن السلمي الدمشقي، عز الدين الملقب بسلطان العلماء (ت 660هـ)
الناشر: المكتب الإسلامي - بيروت
الطبعة: الرابعة - 1406
تحقيق: محمد ناصر الدين الألباني
عدد الصفحات: 70
[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]
تاريخ النشر بالشاملة: 8 ذو الحجة 1431
বিদায়াতুস সুল-এর তাহকীক বিভাগ: সীরাতুন্নবী
কিতাব: বিদায়াতুস সুল ফী তাফদীলির রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম
লেখক: আব্দুল আযীয বিন আব্দুস সালাম বিন আবুল কাসেম বিন হাসান আস-সুলামী আদ-দামেশকী, সুলতানুল উলামা উপাধিতে ভূষিত ইযযুদ্দীন (মৃত্যু ৬৬০ হিজরী)
প্রকাশক: আল-মাকতাবুল ইসলামী - বৈরুত
সংস্করণ: চতুর্থ - ১৪০৬
তাহকীক: মুহাম্মদ নাসিরুদ্দীন আল-আলবানী
পৃষ্ঠা সংখ্যা: ৭০
[গ্রন্থের পৃষ্ঠা নম্বর মুদ্রিত কপির অনুরূপ]
শামিলায় প্রকাশের তারিখ: ৮ যিলহজ ১৪৩১
(খণ্ড: ১)
তাহকীকু বিদায়াতুস সূল
(পৃষ্ঠা: ১)
بداية السول في تفضيل الرسول
بداية السول في تفضيل الرسول صلى الله عليه وسلم
تأليف العلامة العز بن عبد السلام السلمي
تحقيق محمد ناصر الدين الألباني
المكتب الإسلامي
ط 4 - 1406 هـ
আকাঙ্ক্ষিত বিষয়ের সূচনা রাসূলের শ্রেষ্ঠত্ব বর্ণনায়
রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের শ্রেষ্ঠত্ব বর্ণনায় আকাঙ্ক্ষিত বিষয়ের সূচনা
আল্লামা ইয ইবন আবদুস সালাম আস-সুলামী কর্তৃক রচিত
মুহাম্মাদ নাসিরুদ্দিন আল-আলবানী কর্তৃক তাহকীককৃত
আল-মাকতাবুল ইসলামী
৪র্থ সংস্করণ - ১৪০৬ হিজরি
(খণ্ড: ১)
তাহকীকু বিদায়াতুস সূল
(পৃষ্ঠা: ৩৭)
(صحيح)
قوله صلى الله عليه وسلم: لكل نبي دعوة مستجابة يدعو بها فيستجاب له فيؤتاها وإني اختبأت دعوتي شفاعة لأمتي يوم القيامة
[37]
(সহীহ)
রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর বাণী: "প্রত্যেক নবীর জন্য একটি কবুলযোগ্য দুআ রয়েছে যা তিনি করেন এবং তা কবুল করা হয় ও তাকে তা প্রদান করা হয়; আর আমি কিয়ামতের দিন আমার উম্মতের শাফায়াতের জন্য আমার দুআটি গোপন করে রেখেছি (সংরক্ষণ করেছি)।"
[৩৭]
(খণ্ড: ১)
তাহকীকু বিদায়াতুস সূল
(পৃষ্ঠা: ৩৭)
(صحيح)
عن أبي هريرة رضي الله عن هـ أن رسول الله صلى الله عليه وسلم قال: ما من الأنبياء من نبي إلا قد أعطى من الآيات ما مثله آمن عليه البشر وإنما كان الذي أوتيت وحيا أوحى الله إلي فأرجو أن أكون أكثرهم تابعا إلى يوم القيامة
(সহিহ)
আবু হুরায়রা (রা.) হতে বর্ণিত যে, আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন: নবীদের মধ্যে এমন কোনো নবী ছিলেন না যাকে এমন কোনো নিদর্শন প্রদান করা হয়নি যা দেখে মানুষ ঈমান এনেছে। আর আমাকে যা প্রদান করা হয়েছে তা হলো ওহী যা আল্লাহ আমার প্রতি প্রত্যাদেশ করেছেন। অতএব আমি আশা করি যে, কিয়ামতের দিন অনুসারীর সংখ্যায় আমি তাদের সকলের চেয়ে অধিক হব।
(খণ্ড: ১)
তাহকীকু বিদায়াতুস সূল
(পৃষ্ঠা: ৩৯)
(صحيح)
عن جابر بن سمرة قال: قال رسول الله صلى الله عليه وسلم: إني لأعرف حجرا بمكة كان يسلم علي قبل أن أبعث إني لأعرفه الآن
[39]
(সহীহ)
জাবির বিন সামুরা (রা.) হতে বর্ণিত, তিনি বলেন: আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন: নিশ্চয়ই আমি মক্কার এমন একটি পাথরকে চিনি যা আমার নবী হিসেবে প্রেরিত হওয়ার আগে আমাকে সালাম দিত; নিশ্চয়ই আমি তাকে এখনো চিনি।
[৩৯]
(খণ্ড: ১)
তাহকীকু বিদায়াতুস সূল
(পৃষ্ঠা: ৪০)
(صحيح)
عن أنس بن مالك وابن عباس رضي الله عن هما معا أن النبي صلى الله عليه وسلم كان يخطب على جذع. فلما اتخذ المنبر ذهب إلى المنبر. فحن الجذع فأتاه فاحتضنه فسكن. فقال: لو لم أحتضنه لحن إلى يوم القيامة
[40]
(সহীহ)
আনাস ইবনে মালিক এবং ইবনে আব্বাস (রাযিয়াল্লাহু আনহুমা) উভয় থেকে বর্ণিত যে, নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) একটি বৃক্ষকাণ্ডের ওপর দাঁড়িয়ে খুতবা প্রদান করতেন। অতঃপর যখন মিম্বর তৈরি করা হলো, তখন তিনি মিম্বরের দিকে গমন করলেন। এতে কাণ্ডটি রোদন করে উঠল; তখন তিনি সেটির নিকট এসে সেটিকে আলিঙ্গন করলেন, ফলে সেটি শান্ত হলো। তিনি বললেন: "আমি যদি একে আলিঙ্গন না করতাম, তবে এটি কিয়ামত দিবস পর্যন্ত এভাবেই রোদন করতে থাকত।"
[৪০]
(খণ্ড: ১)
তাহকীকু বিদায়াতুস সূল
(পৃষ্ঠা: ৪০)
(صحيح)
عن أنس بن مالك أنه قال: رأيت رسول الله صلى الله عليه وسلم وحانت صلاة العصر فالتمس الناس الوضوء فلم يجدوه فأتي رسول الله صلى الله عليه وسلم بوضوء فوضع رسول الله صلى الله عليه وسلم في ذلك الإناء يده وأمر الناس أن يتوضؤوا منه قال: فرأيت الماء ينبع من تحت أصابعه فتوضأ الناس حتى توضؤوا من عند أخرهم
(সহিহ)
আনাস ইবনে মালিক (রা.) হতে বর্ণিত, তিনি বলেন: আমি আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে দেখেছি যখন আসরের নামাজের সময় উপস্থিত হয়েছিল। তখন লোকেরা ওজুর পানি অনুসন্ধান করছিল কিন্তু তারা তা পাচ্ছিল না। অতঃপর রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের নিকট ওজুর পানি আনা হলে তিনি সেই পাত্রে তাঁর হাত রাখলেন এবং লোকেদের নির্দেশ দিলেন তা থেকে ওজু করতে। তিনি (আনাস) বলেন: আমি তাঁর আঙুলসমূহের নিচ থেকে পানি উথলে উঠতে দেখলাম। অতঃপর সকল মানুষ ওজু করলেন, এমনকি তাদের সর্বশেষ ব্যক্তিটিও ওজু সম্পন্ন করলেন।
(খণ্ড: ১)
তাহকীকু বিদায়াতুস সূল
(পৃষ্ঠা: ৪১)
صحيح بتعدد طرقه
عن عاصم بن عمر بن قتادة عن أبيه عن جده قتادة ابن النعمان أنه أصيبت عينه يوم بدر فسالت حدقته على وجنته فأرادوا أن يقطعوها فسألوا النبي صلى الله عليه وسلم فقال: (لا فدعا به فغمز عينيه براحته)
فكان لا يدري أي عينيه أصيبت
[41]
এর একাধিক সূত্রের কারণে হাদীসটি সহীহ।
আসিম ইবনে উমর ইবনে কাতাদাহ থেকে তাঁর পিতা এবং তাঁর পিতা তাঁর দাদা কাতাদাহ ইবনে নুমান (রাযিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণনা করেছেন যে, বদরের যুদ্ধের দিন তাঁর চোখ আঘাতপ্রাপ্ত হয়েছিল, ফলে তাঁর চোখের মণি গালের ওপর ঝুলে পড়েছিল। তারা তা কেটে ফেলার ইচ্ছা করলেন, তখন তারা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে এ বিষয়ে জিজ্ঞাসা করলেন। তিনি বললেন: "না।" এরপর তিনি তাঁকে ডেকে আনলেন এবং তাঁর হাতের তালু দিয়ে চোখটি চেপে (যথাস্থানে বসিয়ে) দিলেন।
ফলে পরবর্তীতে তিনি আর বুঝতে পারতেন না যে তাঁর কোন চোখটি আঘাতপ্রাপ্ত হয়েছিল।
[৪১]
(খণ্ড: ১)
তাহকীকু বিদায়াতুস সূল
(পৃষ্ঠা: ৪৩)
(صحيح)
عن أبي سعيد الخدري مرفوعا بلفظ: يقول الله عز وجل يوم القيامة: يا آدم يقول: لبيك ربنا وسعديك فينادى بصوت: إن الله يأمرك أن تخرج من ذريتك بعثا إلى النار قال: يا رب وما بعث النار؟ قال: من كل ألف - أراه قال - تسعمائة وتسعة وتسعين فحينئذ تضع الحامل حملها ويشيب الوليد وترى الناس سكارى وما هم بسكارى ولكن عذاب الله شديد
فشق ذلك على الناس حتى تغيرت وجوههم. فقال النبي صلى الله عليه وسلم: (من يأجوج ومأجوج تسعمائة وتسعة وتسعين ومنكم واحد ثم أنتم في الناس كالشعرة السوداء في جنب الثور الأبيض أو كالشعرة البيضاء في جنب الثور الأسود وإني لأرجو أن تكونوا ربع أهل الجنة)
فكبرنا ثم قال: (ثلث أهل الجنة)
فكبرنا ثم قال: (شطر أهل الجنة)
فكبرنا
[43]
(সহীহ)
আবু সাঈদ আল-খুদরী রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে মারফূ সূত্রে বর্ণিত: কিয়ামতের দিন মহান আল্লাহ বলবেন: হে আদম! তিনি বলবেন: আমি আপনার দরবারে উপস্থিত ও আপনার অনুগত হে আমাদের রব! তখন একটি উচ্চ আওয়াযে ঘোষণা করা হবে: আল্লাহ আপনাকে নির্দেশ দিচ্ছেন যে, আপনি আপনার বংশধরদের মধ্য থেকে জাহান্নামের জন্য একটি দল বের করে নিন। তিনি বলবেন: হে রব, জাহান্নামের সেই দলটি কতজন? তিনি বলবেন: প্রতি এক হাজারের মধ্যে—আমার মনে হয় তিনি বলেছেন—নয়শত নিরানব্বই জন। সেই মুহূর্তে গর্ভবতী তার গর্ভপাত করবে, শিশু বৃদ্ধ হয়ে যাবে এবং আপনি মানুষকে মাতাল সদৃশ দেখবেন, অথচ তারা মাতাল নয়; বরং আল্লাহর আযাব অত্যন্ত কঠিন।
এ বিষয়টি মানুষের জন্য অত্যন্ত কঠিন হয়ে দাঁড়ালো, এমনকি তাদের চেহারা বিবর্ণ হয়ে গেল। তখন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন: (ইয়াজুজ ও মাজুজ থেকে নয়শত নিরানব্বই জন এবং তোমাদের মধ্য থেকে হবে একজন। অতঃপর মানুষের মাঝে তোমরা হবে সাদা ষাঁড়ের চামড়ায় একটি কালো পশমের মতো অথবা কালো ষাঁড়ের চামড়ায় একটি সাদা পশমের মতো। আর আমি অবশ্যই আশা করি যে তোমরা জান্নাতবাসীদের এক-চতুর্থাংশ হবে।)
তখন আমরা তাকবীর পাঠ করলাম, এরপর তিনি বললেন: (জান্নাতবাসীদের এক-তৃতীয়াংশ।)
তখন আমরা তাকবীর পাঠ করলাম, এরপর তিনি বললেন: (জান্নাতবাসীদের অর্ধেক।)
তখন আমরা তাকবীর পাঠ করলাম।
[43]
(খণ্ড: ১)
তাহকীকু বিদায়াতুস সূল
(পৃষ্ঠা: ৬৩)
(ضعيف جدا)
عن أبي أمامة قال: قال رسول الله صلى الله عليه وسلم: عرض علي ربي ليجعل لي بطحاء مكة ذهبا فقلت: لا يا رب ولكن أشبع يوما وأجوع يوماا وإذا جعت تضرعت إليك وذكرتك وإذا شبعت حمدتك وشكرتك
[63]
(অত্যন্ত দুর্বল)
আবু উমামাহ (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন: আমার প্রতিপালক আমার নিকট প্রস্তাব পেশ করলেন যে, তিনি আমার জন্য মক্কার উপত্যকাকে স্বর্ণে পরিণত করে দেবেন। আমি বললাম: না, হে আমার রব! বরং আমি একদিন তৃপ্ত হয়ে আহার করব এবং একদিন ক্ষুধার্ত থাকব। যখন আমি ক্ষুধার্ত থাকব, তখন আপনার নিকট বিনয়াবনত হব এবং আপনাকে স্মরণ করব; আর যখন আমি তৃপ্ত হব, তখন আপনার প্রশংসা করব এবং আপনার কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করব।
[৬৩]
(খণ্ড: ১)
তাহকীকু বিদায়াতুস সূল
(পৃষ্ঠা: ৬৪)
(صحيح)
عن أبي هريرة قال جلس جبريل إلى النبي صلى الله عليه وسلم فنظر إلى السماء فإذا ملك ينزل فقال له جبريل: هذا الملك ما نزل منذ خلق قبل الساعة فلما نزل قال يا محمد: أرسلني إليك ربك أملكا جعلك أم عبدا رسولا؟ فقال له جبريل: تواضع لربك يا محمد فقال صلى الله عليه وسلم: لا بل عبدا رسولا)
[64]
(সহিহ)
আবু হুরায়রা (রা.) হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, জিবরাঈল (আ.) নবী (সা.)-এর নিকট বসা ছিলেন। এমতাবস্থায় তিনি আকাশের দিকে তাকালেন এবং দেখলেন একজন ফেরেশতা অবতীর্ণ হচ্ছেন। তখন জিবরাঈল (আ.) তাঁকে বললেন: এই ফেরেশতাটি সৃষ্টির পর থেকে এই মুহূর্তের আগে কখনো পৃথিবীতে অবতীর্ণ হননি। যখন তিনি অবতীর্ণ হলেন, তখন বললেন: হে মুহাম্মদ! আপনার রব আমাকে আপনার নিকট পাঠিয়েছেন—তিনি কি আপনাকে বাদশাহ-নবী করবেন নাকি বান্দা-রাসূল? তখন জিবরাঈল (আ.) তাঁকে বললেন: হে মুহাম্মদ! আপনার রবের প্রতি বিনয়ী হোন। তখন নবী (সা.) বললেন: না, বরং একজন বান্দা-রাসূল।
[৬৪]
(খণ্ড: ১)
তাহকীকু বিদায়াতুস সূল
(পৃষ্ঠা: ৭০)
صحيح
عن بن عمر قال: قال رسول الله صلى الله عليه وسلم: (لا يجمع الله أمتي على ضلالة أبدا ويد الله على الجماعة)
[70]
সহিহ
ইবনে উমর (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন: (আল্লাহ আমার উম্মতকে কখনোই পথভ্রষ্টতার ওপর একত্রিত করবেন না এবং আল্লাহর হাত জামাতের ওপর রয়েছে)
[৭০]