(খণ্ড: ১)
তাহকীকুল মাসহি আলাল জাওরাবাইনি ওয়ান নালাইনি
(পৃষ্ঠা: -)
تحقيق المسح على الجوربين والنعلين (جمال الدين القاسمي)
القسم: مسائل فقهية
الكتاب: المسح على الجوربين والنعلين
المؤلف: محمد جمال الدين القاسمي (ت 1332هـ)
الناشر: المكتب الإسلامي - بيروت
قدم له العلامة أحمد محمد شاكر
حققه: المحدث ناصر الدين الألباني
عدد الصفحات: 99
[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]
تاريخ النشر بالشاملة: 8 ذو الحجة 1431
মোজা এবং জুতার ওপর মাসাহ করার বিধানের গবেষণা ও বিশ্লেষণ (تحقيق) (জামালুদ্দীন আল-কাসিমি)
বিভাগ: ফিকহী মাসআলাসমূহ
কিতাব: মোজা এবং জুতার ওপর মাসাহ
লেখক: মুহাম্মাদ জামালুদ্দীন আল-কাসিমি (মৃ. ১৩৩২ হিজরি)
প্রকাশক: আল-মাকতাবুল ইসলামি - বৈরুত
এর ভূমিকা লিখেছেন আল্লামা আহমাদ মুহাম্মাদ শাকির
সম্পাদনা ও বিশ্লেষণ (تحقيق): হাদিস বিশারদ (المحدث) নাসিরুদ্দীন আল-আলবানী
পৃষ্ঠা সংখ্যা: ৯৯
[বইটির পৃষ্ঠা নম্বর মূল মুদ্রিত কপির অনুরূপ]
শামিলাতে প্রকাশের তারিখ: ৮ জিলহজ ১৪৩১
(খণ্ড: ১)
তাহকীকুল মাসহি আলাল জাওরাবাইনি ওয়ান নালাইনি
(পৃষ্ঠা: ১)
المسح على الجوربين والنعلينتأليف علامة الشام محمد جمال الدين القاسميقدم له العلامة أحمد محمد شاكرحققه المحدث ناصر الدين الألبانيالمكتب الإسلامي
মোজাদ্বয় ও পাদুকা দ্বয়ের ওপর মাসাহরচনায়: শাম অঞ্চলের প্রথিতযশা আলেম মুহাম্মাদ জামালুদ্দীন আল-কাসেমীভূমিকা লিখেছেন: আল্লামা আহমাদ মুহাম্মাদ শাকেরযাচাই ও সম্পাদনা (تحقيق) করেছেন: হাদিস বিশারদ (المحدث) নাসেরুদ্দীন আল-আলবানীআল-মাকতাব আল-ইসলামী
(খণ্ড: ১)
তাহকীকুল মাসহি আলাল জাওরাবাইনি ওয়ান নালাইনি
(পৃষ্ঠা: ২৫)
بيان أن مرد الأحكام الشرعية هو الكتاب الكريم لأنه أصل الأصولاعلم أن اصل كل حكم شرعي هو الكتاب الكريم لأنه اصل الأصول ومأخذ المآخذ وكلي الكليات فلا يمكن لحكم ما من الأحكام الشرعية إلا وأن يرجع إليه ويصدر منه حتى إن السنة النبوية أصلها كتاب الله تعالى لأنها تفصيل لمجمله وإيضاح لمبهمه وطريق من طرق الاستنباط منه. فكل سنة بحث عن أصلها باحث خبير فإنه يجدها في كتاب الله تعالى مدلولا عليها إما من نص آية أو ظاهرها أو مفهومها أو إشارتها أو عمومها إلى غير ذلك من وجوه الاستنباط التي يعلمها المجتهد ويذكر بعضها في فن الأصولإذا علمت ذلك فمسألتنا هذه - مسألة المسح على الجوربين - أصلها في الكتاب الكريم إما من عموم المسح في آية الوضوء وإما من عمومات أخرفأما (العموم الأول) فسنده قراءة الجر في قوله تعالى:[25]
শরয়ী বিধানসমূহের প্রত্যাবর্তনস্থল যে সম্মানিত কিতাব (কুরআন), তা বর্ণনা করা; কেননা এটি সকল মূলনীতির মূল (أصل الأصول)।জেনে রাখুন যে, প্রতিটি শরয়ী বিধানের মূল হলো সম্মানিত কিতাব, কারণ এটিই মূলসমূহের মূল, উৎসসমূহের উৎস এবং সকল মৌলিক বিষয়ের সমষ্টি। সুতরাং শরয়ী বিধানসমূহের মধ্য হতে এমন কোনো বিধান সম্ভব নয় যা এর দিকে ফিরে আসবে না এবং এটি হতে নির্গত হবে না। এমনকি সুন্নাহ নববীর মূলও মহান আল্লাহর কিতাব; কারণ সুন্নাহ হলো কিতাবুল্লাহর সংক্ষিপ্ত (مجمل) বিষয়ের বিস্তারিত ব্যাখ্যা, এর অস্পষ্ট (مبهم) বিষয়ের স্পষ্টীকরণ এবং এটি থেকে বিধান আহরণের (استنباط) একটি পদ্ধতি। অতএব, প্রতিটি সুন্নাহর মূল সম্পর্কে কোনো অভিজ্ঞ গবেষক অনুসন্ধান করলে তিনি তা মহান আল্লাহর কিতাবের মধ্যেই নির্দেশিত পাবেন; চাই তা আয়াতের সুস্পষ্ট বর্ণনা (نص), অথবা এর বাহ্যিক অর্থ (ظاهر), কিংবা এর মর্মার্থ (مفهوم), অথবা এর ইশারা (إشارة), অথবা এর ব্যাপকতা (عموم) কিংবা বিধান আহরণের (استنباط) অন্যান্য দিক থেকে হোক না কেন—যা একজন মুজতাহিদ (مجتهد) অবগত থাকেন এবং যার কিছু অংশ উসুল (الأصول) শাস্ত্রে উল্লেখ করা হয়।আপনি যখন এটি জানলেন, তখন আমাদের এই মাসআলাটি—অর্থাৎ মোজার ওপর মাসেহ করার মাসআলাটি—এর মূল ভিত্তিও সম্মানিত কিতাবে বিদ্যমান। এটি হয় ওযুর আয়াতে মাসেহ করার নির্দেশনার ব্যাপকতা (عموم) থেকে সাব্যস্ত, অথবা অন্য কোনো সাধারণ বর্ণনা (عمومات) থেকে গৃহীত।তবে (প্রথম ব্যাপকতা) এর ভিত্তি (سند) হলো মহান আল্লাহর বাণীতে ‘জর’ (জের সম্বলিত) কিরাতের বর্ণনা:[25]
(খণ্ড: ১)
তাহকীকুল মাসহি আলাল জাওরাবাইনি ওয়ান নালাইনি
(পৃষ্ঠা: ২৫)
{وامسحوا برؤوسكم وأرجلكم} فإن ظاهرها أن الفرض في الرجلين هو المسح كما روي ذلك عن ابن عباس وأنس وعكرمة والشعبي وقتادة وجعفر الصادق وعلماء سلالته رضي الله عن هم أجمعين. فعلى مذهب هؤلاء الأئمة يكون مفاد الآية وجوب المسح على الرجلين مباشرة أو بما عليها من خف أو جورب أو تساخين (1) فيظهر كون الآية مأخذا للسنة على هذه القراءةوأما على قول الجمهور: إن فرض الرجلين هو الغسل وصرف قراءة الجر إلى قراءة النصب - بالأوجه المعروفة في مواضعها - فيكون مأخذ مسح الجوربين من الكتاب العزيز (عمومات أخر) في آياته مثل آية {وما أتاكم الرسول فخذوه} وآية {لقد كان لكم في رسول الله أسوة حسنة} وآية {قل إن كنتم تحبون الله فاتبعوني} وآية {وأطيعوا الله وأطيعوا الرسول} ونظائرها مما لا يحصى. وقد تعدد وجوه الاستنباط ويترجح بعضها بقوة التفرع والارتباط ولا يخفى وجوه التراجيح على الراسخين والله الموفق والمعين
{তোমরা তোমাদের মস্তক ও তোমাদের পদযুগল মাসেহ করো} কারণ এর বাহ্যিক (ظاهر) মর্ম হলো দুই পায়ে ফরজ (فرض) বিধান হলো মাসেহ করা, যেমনটি ইবনে আব্বাস, আনাস, ইকরিমাহ, শা'বী, কাতাদাহ, জাফর আস-সাদিক এবং তাঁর বংশধর আলেমগণ (আল্লাহ তাঁদের সকলের প্রতি সন্তুষ্ট হোন) থেকে বর্ণিত হয়েছে। এই ইমামগণের মাযহাব অনুযায়ী আয়াতের মর্মার্থ হলো সরাসরি দুই পায়ের ওপর অথবা তার ওপর পরিহিত চামড়ার মোজা (خف), কাপড়ের মোজা (جورب) কিংবা পা আবৃতকারী পোশাকের (تساخين) ওপর মাসেহ করা ওয়াজিব (واجب)। সুতরাং এই পঠনরীতি (قراءة) অনুযায়ী আয়াতটি সুন্নাহর একটি উৎস হিসেবে প্রতীয়মান হয়।পক্ষান্তরে সংখ্যাগরিষ্ঠ (جمهور) ওলামাদের মতানুসারে: দুই পায়ের ফরজ (فرض) বিধান হলো ধৌত করা এবং এখানে ‘জের’ (جر) বিশিষ্ট পঠনরীতিকে (قراءة) সংশ্লিষ্ট স্থানে সুপরিচিত পদ্ধতিগুলোর মাধ্যমে ‘নাসব’ (نصب) বা জবর বিশিষ্ট পঠনরীতির (قراءة) দিকে ফিরিয়ে নেওয়া হয়েছে। সেক্ষেত্রে পবিত্র কিতাব থেকে মোজার ওপর মাসেহ করার ভিত্তি হবে আয়াতের অন্যান্য সাধারণ নির্দেশনাবলি (عمومات), যেমন: {রাসূল তোমাদের যা দেন তা গ্রহণ করো}, {রাসূলুল্লাহর মধ্যে তোমাদের জন্য রয়েছে উত্তম আদর্শ}, {বলুন, যদি তোমরা আল্লাহকে ভালোবাসো তবে আমাকে অনুসরণ করো} এবং {আল্লাহর আনুগত্য করো ও রাসূলের আনুগত্য করো} এবং এই জাতীয় অসংখ্য আয়াত। মাসআলা আহরণের (استنباط) বিভিন্ন পদ্ধতি রয়েছে এবং কোনো কোনোটি শাখা-প্রশাখার দৃঢ়তা ও সংশ্লিষ্টতার কারণে প্রাধান্য পায়। যারা ইলমে পারদর্শী (راسخين), তাদের কাছে অগ্রাধিকার প্রদানের (ترجيح) বিষয়গুলো অস্পষ্ট নয়। আল্লাহই তাওফিকদাতা ও সাহায্যকারী।
(খণ্ড: ১)
তাহকীকুল মাসহি আলাল জাওরাবাইনি ওয়ান নালাইনি
(পৃষ্ঠা: ২৬)
(1) خالف الشيعة في هذا فلم يجوزوا المسح على خف ولا جورب ولا تساخين[26]
(1) শিয়ারা এ বিষয়ে ভিন্নমত পোষণ করেছেন; ফলে তারা চামড়ার মোজা (خف), সাধারণ মোজা (جورব) কিংবা উষ্ণতাদায়ক আবরণের (تساخين) ওপর মাসেহ করা বৈধ (جائز) গণ্য করেন না।[26]
(খণ্ড: ১)
তাহকীকুল মাসহি আলাল জাওরাবাইনি ওয়ান নালাইনি
(পৃষ্ঠা: ২৬)
بيان الأحاديث المرفوعة إلى النبي صلى الله عليه وسلم في المسح على الجوربين والنساخيناعلم أن أحاديث هذا الباب منها ما يستفاد جواز المسح على الجوربين من عمومه ومنها ما يستفاد من خصوصهفمن (النوع الأول) وهو ما يستفاد من عمومه وإطلاقه جواز المسح على الجوربين حديث ثوبان رضي الله عن هـ قال الإمام أحمد رحمه الله في مسنده (1) : في مسند ثوبان رضي الله عن هـ: حدثنا يحيى بن سعيد عن ثور عن راشد بن سعد عن ثوبان قال: (بعث رسول الله صلى الله عليه وسلم سرية فأصابهم البرد فلما قدموا على النبي صلى الله عليه وسلم شكوا إليه ما أصابهم من البرد فأمرهم أن يمسحوا على العصائب والتساخين) رواه أبو داود في (سننه)قال العلامة ابن الأثير في (النهاية) : (العصائب) هي العمائم لأن الرأس يعصب بها و (التساخين) كل ما يسخن به القدم من خف وجورب ونحوهما ولا واحد لها من لفظهاأقول: رجال هذا الحديث ثقات مرضيون ما يعلم من مراجعة أسمائهم من كتب الرجالومن (النوع الثاني) وهو ما ورد نصا في الجوربين
মোজা ও তাসাখিন-এর ওপর মাসেহ করার বিষয়ে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের নিকট মারফু (مرفوع) হাদিসসমূহের বিবরণ।জেনে রাখুন যে, এই অধ্যায়ের হাদিসসমূহের মধ্যে এমন কিছু রয়েছে যা থেকে মোজার উপর মাসেহ করার বৈধতা এর ব্যাপকতা (عموم) থেকে প্রমাণিত হয় এবং কিছু এর নির্দিষ্টতা (خصوص) থেকে প্রমাণিত হয়।প্রথমত (প্রথম প্রকার) যা এর ব্যাপকতা ও সাধারণত্ব (إطلاق) থেকে মোজার উপর মাসেহ করার বৈধতা নির্দেশ করে, তা হলো সাওবান রাদিয়াল্লাহু আনহু বর্ণিত হাদিস। ইমাম আহমাদ রাহিমাহুল্লাহ তাঁর মুসনাদ গ্রন্থে (১) সাওবান রাদিয়াল্লাহু আনহুর মুসনাদ অংশে বর্ণনা করেছেন: ইয়াহইয়া ইবনে সাঈদ আমাদের নিকট সাওরের সূত্রে, তিনি রাশিদ ইবনে সা'দ থেকে এবং তিনি সাওবান থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: (রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম একটি সেনাদল প্রেরণ করেছিলেন, ফলে তারা তীব্র শীতের কবলে পড়ে। যখন তারা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের নিকট ফিরে এল, তখন তারা তাঁর কাছে তাদের শীতজনিত কষ্টের কথা জানাল। তখন তিনি তাদেরকে পাগড়ি ও তাসাখিন-এর ওপর মাসেহ করার নির্দেশ দিলেন)। এটি আবু দাউদ তাঁর সুনান-এ বর্ণনা করেছেন।আল্লামা ইবনুল আসির আন-নিহায়াহ গ্রন্থে বলেছেন: 'আসায়িব' হলো পাগড়িসমূহ, কারণ মাথা এর দ্বারা বেঁধে রাখা হয়। আর 'তাসাখিন' হলো পা গরম রাখে এমন প্রতিটি বস্তু, যেমন চামড়ার মোজা, সাধারণ মোজা এবং অনুরূপ কিছু; এর মূল শব্দ থেকে কোনো একবচন নেই।আমি বলছি: এই হাদিসের বর্ণনাকারীগণ (رجال) নির্ভরযোগ্য (ثقات) ও সন্তোষজনক (مرضيون); যা রিজাল (رجال) শাস্ত্রের গ্রন্থসমূহ থেকে তাঁদের নাম পর্যালোচনার মাধ্যমে জানা যায়।এবং (দ্বিতীয় প্রকার) যা সরাসরি মোজার বিষয়ে সুস্পষ্ট বর্ণনায় (نصا) এসেছে।
(খণ্ড: ১)
তাহকীকুল মাসহি আলাল জাওরাবাইনি ওয়ান নালাইনি
(পৃষ্ঠা: ২৭)
(1) انظر المسند 5 / 275 وقد طبعه المكتب الإسلامي طباعة أنيقة في ست مجلدات[27]
(১) দেখুন মুসনাদ ৫/২৭৫; আল-মাকতাব আল-ইসলামি এটি ছয় খণ্ডে অত্যন্ত চমৎকারভাবে মুদ্রণ করেছে।[২৭]
(খণ্ড: ১)
তাহকীকুল মাসহি আলাল জাওরাবাইনি ওয়ান নালাইনি
(পৃষ্ঠা: ২৭)
حديثنا المغيرة وأبي موسى. (فأما حديث المغيرة) فرواه الإمام أحمد في (مسنده) - في مسند الكوفيين - في حديث المغيرة بن شعبة قال: حدثنا وكيع حدثنا سفيان عن أبي قيس عن هزيل (1) بن شرحبيل عن المغيرة بن شعبة (أن رسول الله صلى توضأ ومسح على الجوربين والنعلين)ورواه أبو داود في (سننه) في (باب المسح على الجوربين)وأخرجه الترمذي وابن ماجه كلاهما في (باب المسح على الجوربين والنعلين)وأما (حديث أبي موسى) فوراه ابن ماجه في (سننه) قال: حدثنا محمد بن يحيى حدثنا معلى بن منصور وبشر بن آدم حدثنا عيسى بن يونس عن عيسى بن سنان عن الضحاك بن عبد الرحمن بن عرزب (2) عن أبي موسى الأشعري (أن رسول الله صلى الله عليه وسلم توضأ ومسح على الجوربين والنعلين)ذكر ما ورد على هذه الأحاديث الثلاثة من الشبه والجواب عنهاالشبهة الأولى:قالوا: في إسناد حديث ثوبان (الأول) راشد بن سعد
মুগীরা এবং আবু মুসা বর্ণিত আমাদের হাদিসসমূহ। (মুগীরা বর্ণিত হাদিসটির ব্যাপারে কথা হলো) ইমাম আহমদ তাঁর মুসনাদ-এ —মুসনাদ আল-কুফিয়্যিন অংশে— মুগীরা ইবনে শু'বা বর্ণিত হাদিসে এটি বর্ণনা করেছেন। তিনি বলেন: ওয়াকী' আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি সুফিয়ান থেকে, তিনি আবু কাইস থেকে, তিনি হুযাইল (১) ইবনে শারহাবীল থেকে, তিনি মুগীরা ইবনে শু'বা থেকে বর্ণনা করেছেন যে, (রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ওযু করলেন এবং মোজা ও জুতার ওপর মাসেহ করলেন)এবং আবু দাউদ তাঁর সুনান-এর ‘মোজার ওপর মাসেহ অধ্যায়’-এ এটি বর্ণনা করেছেনআর তিরমিযী ও ইবনে মাজাহ উভয়ই ‘মোজা ও জুতার ওপর মাসেহ অধ্যায়’-এ এটি সংকলন করেছেনআর (আবু মুসা বর্ণিত হাদিসের) ব্যাপারে কথা হলো, ইবনে মাজাহ তাঁর সুনান-এ এটি বর্ণনা করেছেন। তিনি বলেন: মুহাম্মদ ইবনে ইয়াহইয়া আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, মুআল্লা ইবনে মানসুর ও বিশর ইবনে আদম আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তাঁরা ঈসা ইবনে ইউনুস থেকে, তিনি ঈসা ইবনে সিনান থেকে, তিনি দাহহাক ইবনে আবদুর রহমান ইবনে আরযাব (২) থেকে, তিনি আবু মুসা আল-আশআরী থেকে বর্ণনা করেছেন যে, (রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ওযু করলেন এবং মোজা ও জুতার ওপর মাসেহ করলেন)এই তিনটি হাদিসের ওপর উত্থাপিত সংশয়সমূহ এবং সেগুলোর জবাবের আলোচনাপ্রথম সংশয়:তাঁরা বলেছেন: সাওবান বর্ণিত (প্রথম) হাদিসের সনদ (إسناد)-এ রাশিদ ইবনে সাদ রয়েছেন
(খণ্ড: ১)
তাহকীকুল মাসহি আলাল জাওরাবাইনি ওয়ান নালাইনি
(পৃষ্ঠা: ২৮)
(1) بالزاي كزبير تابعي أدرك الجاهلية (قاموس)(2) براء ثم زاي كجعفر تابعي (قاموس)[28]
(১) 'যা' অক্ষরযোগে যেমন 'জুবায়র', তিনি একজন তাবিঈ (تابعي) যিনি জাহেলিয়াত যুগ পেয়েছিলেন (কামুস)(২) 'রা' এরপর 'যা' অক্ষরযোগে যেমন 'জাফর', তিনি একজন তাবিঈ (تابعي) (কামুস)[২৮]
(খণ্ড: ১)
তাহকীকুল মাসহি আলাল জাওরাবাইনি ওয়ান নালাইনি
(পৃষ্ঠা: ২৮)
عن ثوبان وقد قال الخلال في علله: إن أحمد بن حنبل قال: لا ينبغي أن يكون راشد بن سعد سمع من ثوبان لأنه مات قديما ا. هـ. أي فيكون معللا بالانقطاع لسقوط راو بين راشد وثوبانو (الجواب) أن هذا إنما يأتي على مذهب من يشترط في الاتصال ثبوت السماع. وقد أنكر الإمام مسلم ذلك في مقدمة صحيحه إنكارا شديدا ورأى أنه قول مخترع وأن المتفق عليه أن يكفي للاتصال إمكان اللقاء والسماع (1) وعليه فالانقطاع في الحديث غير مقطوع به ويرجع الأمر إلى رجال سنده فإذا كان رجاله ثقات كان صحيحا أو حسنا جيدا صالحا للاحتجاج به ولذا أخرجه الإمام أحمد في (مسنده) معولا على الاحتجاج به وتبليغه سنة يعمل بها. وخرجه أيضا أبو داود وسكت عليه وما سكت عليه فهو
সাওবান থেকে বর্ণিত, আর আল-খাল্লাল তাঁর 'ইলাল' গ্রন্থে বলেছেন: আহমদ ইবন হাম্বল বলেছেন যে, রাশিদ ইবন সা'দ সাওবান থেকে শ্রবণ করেছেন—এমনটি হওয়া সমীচীন নয়, কারণ তিনি (সাওবান) অনেক আগে ইন্তেকাল করেছেন। অর্থাৎ, রাশিদ ও সাওবানের মধ্যবর্তী একজন বর্ণনাকারী বাদ পড়ার কারণে এটি বিচ্ছিন্নতা (انقطاع) জনিত ত্রুটিযুক্ত (معلل) হবে।এবং (উত্তর) হলো এই যে, বিষয়টি কেবল তাদের মাজহাব বা মতানুসারে প্রযোজ্য যারা সূত্র নিরবচ্ছিন্ন (اتصال) হওয়ার জন্য শ্রবণের প্রমাণকে (ثبوت السماع) শর্ত হিসেবে গণ্য করেন। ইমাম মুসলিম তাঁর সহীহ-এর মুকাদ্দিমায় এই মতটিকে কঠোরভাবে প্রত্যাখ্যান করেছেন এবং মনে করেন যে এটি একটি নব-উদ্ভাবিত কথা; বরং সর্বসম্মত বিষয় হলো নিরবচ্ছিন্নতার (اتصال) জন্য সাক্ষাৎ এবং শ্রবণের সম্ভাবনা থাকাই যথেষ্ট (১)। আর সেই হিসেবে এই হাদিসের ক্ষেত্রে বিচ্ছিন্নতা (انقطاع) নিশ্চিত নয়। বিষয়টি এর সনদের বর্ণনাকারীদের ওপর নির্ভর করে; যদি এর বর্ণনাকারীগণ নির্ভরযোগ্য (ثقات) হন, তবে তা সহিহ (صحيح) কিংবা উত্তম (حسن), উৎকৃষ্ট (جيد) এবং দলিল হিসেবে গ্রহণের (احتجاج) জন্য উপযুক্ত (صالح) হবে। এই কারণেই ইমাম আহমদ তাঁর মুসনাদ গ্রন্থে এটি সংকলন করেছেন এবং একে দলিল হিসেবে ব্যবহারের (احتجاج) ওপর নির্ভর করেছেন এবং একে আমলযোগ্য সুন্নাহ হিসেবে পৌঁছে দিয়েছেন। আবু দাউদও এটি বর্ণনা করেছেন এবং এর ব্যাপারে নীরব থেকেছেন; আর তিনি যা নিয়ে নীরব থাকেন তা...
(খণ্ড: ১)
তাহকীকুল মাসহি আলাল জাওরাবাইনি ওয়ান নালাইনি
(পৃষ্ঠা: ২৯)
(1) قلت: وهذا الإمكان متحقق فقد ذكر البخاري أن راشد بن سعد شهد صفين مع معاوية ومن المعلوم أن وقعة صفين كانت سنة (36) . ووفاة ثوبان سنة (54) . فقد عاصره (18) سنة. وإذا تذكرنا أن العلماء وثقوه - دون خلاف يذكر وأنه لم يرم بالتدليس ينتج من ذلك أن الإسناد متصل وأن إعلاله بالانقطاع مردود لأنه قائم على مذهب من يشترط في الاتصال ثبوت السماع. وهو مرجوح كما أشار إليه المؤلف رحمه الله تعالى. ومما يقوي ما ذكرنا أن البخاري أثبت سماع راشد من ثوبان كما تقدم في كلام أحمد شاكر رحمه الله تعالى وذلك دليل قاطع على لقيه إياه لأن البخاري رحمه الله تعالى من القائلين باشتراط ثبوت السماع في الاتصال وأنه لا يكفي فيه المعاصرة فتأمل[29]
(1) আমি বলছি: এই সম্ভাবনাটি বাস্তবায়িত হয়েছে। কেননা বুখারি উল্লেখ করেছেন যে, রাশিদ ইবনে সাদ মুয়াবিয়ার সাথে সিফফিনের যুদ্ধে উপস্থিত ছিলেন। আর এটি সুপরিচিত যে, সিফফিনের যুদ্ধ ছিল ৩৬ হিজরিতে এবং সাওবানের মৃত্যু ৫৪ হিজরিতে। সুতরাং তিনি আঠারো বছর তাঁর সমসাময়িক (معاصرة) ছিলেন। আর আমরা যদি স্মরণ করি যে, ওলামায়ে কেরাম কোনো উল্লেখযোগ্য মতভেদ ছাড়াই তাঁকে নির্ভরযোগ্য (ثقة) সাব্যস্ত করেছেন এবং তাঁর বিরুদ্ধে তাদলিস (تدليس)-এর অভিযোগ আনা হয়নি, তবে এর দ্বারা এটাই প্রমাণিত হয় যে ইসনাদ (إسناد) টি সংযুক্ত (متصل)। আর বিচ্ছিন্নতা (انقطاع)-এর কারণে একে ত্রুটিযুক্ত (إعلال) সাব্যস্ত করা প্রত্যাখ্যাত (مردود); কারণ এটি এমন মাযহাবের ওপর ভিত্তি করে করা হয়েছে যারা ইসনাদ সংযুক্ত (اتصال) হওয়ার জন্য শ্রবণ (سماع) প্রমাণিত হওয়াকে শর্ত হিসেবে গণ্য করেন। অথচ এই মতটি অগ্রাধিকারহীন (مرجوح), যেমনটি লেখক (রহমাতুল্লাহি আলাইহি) ইঙ্গিত করেছেন। আমাদের বর্ণিত বিষয়টিকে যা আরও শক্তিশালী করে তা হলো, বুখারি সাওবান থেকে রাশিদের শ্রবণ (سماع) সাব্যস্ত করেছেন, যেমনটি ইতিপূর্বে আহমাদ শাকিরের (রহমাতুল্লাহি আলাইহি) বক্তব্যে অতিক্রান্ত হয়েছে। আর এটি তাদের পরস্পরের সাক্ষাতের একটি অকাট্য দলিল; কেননা ইমাম বুখারি (রহমাতুল্লাহি আলাইহি) সেই সকল উলামাদের অন্তর্ভুক্ত যারা ইসনাদ সংযুক্ত (اتصال) হওয়ার ক্ষেত্রে শ্রবণ (سماع) প্রমাণিত হওয়াকে শর্ত হিসেবোরোপ করেন এবং কেবল সমসাময়িকতা (معاصرة) এতে যথেষ্ট নয় বলে মনে করেন। সুতরাং বিষয়টি নিয়ে চিন্তা করুন।[29]
(খণ্ড: ১)
তাহকীকুল মাসহি আলাল জাওরাবাইনি ওয়ান নালাইনি
(পৃষ্ঠা: ২৯)
صالح للاستدلال به. إذ لا جرح في رواته ولا علة ظاهرة فيه فاستوفى شروط الحسن. والحسن كالصحيح في الاحتجاج به والعمل بما فيه. وبالجملة فقصارى أمر هذا الحديث أن يكون حسنا وصالحا ويكفي ذلكعلى أن مجرد الانقطاع ليس قادحا فقد وقع في مسلم بضعة عشر حديثا منقطعة وإن تبين وصلها من وجه آخر لأن مقطوع الثقة ليس كغيره ولذلك قبل من المراسيل مراسيل الثقات كما تقرر في موضعه (1)وتسميتنا لذلك بالحسن جري على قول بعضهم - كما في التدريب - إن الحسن هو الذي فيه ضعف قريب محتمل. وعلى قول البغوي: إن ما في السنن من الحسان فإن هذين القولين متجهان فيما نراه وإن اشتهر تفسير الحسن بغيرهماقال الإمام النووي في (التقريب) : وقد جاء عن أبي داود أن يذكر في (سننه) الصحيح وما يشبهه ويقاربه وما
এটি দলিল হিসেবে গ্রহণের উপযোগী। যেহেতু এর বর্ণনাকারীদের মধ্যে কোনো সমালোচনা (جرح) নেই এবং এতে কোনো প্রকাশ্য ত্রুটি (علة) নেই, তাই এটি হাসানের (الحسن) শর্তাবলি পূর্ণ করেছে। আর দলিল হিসেবে গ্রহণ ও আমল করার ক্ষেত্রে হাসান (الحسن) সহিহর (الصحيح) মতোই। মোদ্দাকথা, এই হাদিসের চূড়ান্ত অবস্থা হলো এটি হাসান (حسنا) ও দলিলযোগ্য (صالحا) এবং এটিই যথেষ্ট।তা ছাড়া কেবল বিচ্ছিন্নতা (انقطاع) দোষণীয় নয়; কেননা সহিহ মুসলিম গ্রন্থে দশটিরও বেশি বিচ্ছিন্ন (منقطعة) হাদিস এসেছে, যদিও অন্য কোনো দিক থেকে সেগুলোর সূত্র নিরবচ্ছিন্ন হওয়া স্পষ্ট হয়েছে। কারণ নির্ভরযোগ্য (الثقة) বর্ণনাকারীর বিচ্ছিন্ন (مقطوع) বর্ণনা অন্যদের মতো নয়। আর এই কারণেই মুরসাল (المراسيل) বর্ণনার মধ্য থেকে নির্ভরযোগ্যদের মুরসাল (مراسيل الثقات) বর্ণনা গ্রহণ করা হয়েছে, যেমনটি তার নিজ স্থানে সাব্যস্ত হয়েছে (১)।আমাদের এই বর্ণনাকে হাসান (الحسن) হিসেবে নামকরণ করা মূলত কারো কারো মতানুসারে—যেমনটি তাদরিব গ্রন্থে রয়েছে—যে হাসান (الحسن) হলো তা-ই যাতে নিকটবর্তী ও গ্রহণযোগ্য দুর্বলতা (ضعف) থাকে। আর বাগভী-এর মতানুসারে: সুনান গ্রন্থসমূহে যা রয়েছে তা হাসান (الحسان) পর্যায়ের। আমাদের দৃষ্টিতে এই দুটি অভিমত যুক্তিযুক্ত, যদিও হাসান (الحسن)-এর সংজ্ঞায় এই দুই মতের বাইরে অন্য কিছু প্রসিদ্ধ।ইমাম নববী তাকরিব গ্রন্থে বলেছেন: আবু দাউদ থেকে বর্ণিত হয়েছে যে, তিনি তাঁর সুনান গ্রন্থে সহিহ (الصحيح) এবং যা তার সদৃশ ও নিকটবর্তী তা উল্লেখ করেন এবং যা...
(খণ্ড: ১)
তাহকীকুল মাসহি আলাল জাওরাবাইনি ওয়ান নালাইনি
(পৃষ্ঠা: ৩০)
(1) قلت: بعد أن عرفت صحة إسناد الحديث واتصاله فلا أرى من المفيد التوسع في تطريق الاحتمالات البعيدة في سبيل الدفاع عنه فغن المتقرر في علم المصطلح هو أن الحديث المنقطع من أنواع الحديث الضعيف لجهالة الراوي الساقط ولا أعلم أحدا من المصنفين في المصطلح صرح بقبول مراسيل الثقات هكذا مطلقا بل فيه خلاف مشهور مذكور في محله وما ذكره من الأحاديث المنقطعة في (مسلم) لا ينفي القدح المذكور ما دام أنه تبين وصلها من وجه آخر وإلا فلولا ذلك لثبت القدح فتأمل[30]
(1) আমি বললাম: হাদিসের সনদের বিশুদ্ধতা (صحة) এবং এর নিরবচ্ছিন্নতা (اتصال) অবগত হওয়ার পর, একে রক্ষা করার জন্য দূরবর্তী সম্ভাবনাগুলোর অবতারণা করা আমি ফলপ্রসূ মনে করি না। কারণ হাদিসশাস্ত্রে এটি সুপ্রতিষ্ঠিত যে, বিচ্ছিন্ন (منقطع) হাদিস হলো দুর্বল (ضعيف) হাদিসের একটি প্রকার; যেহেতু বাদ পড়া বর্ণনাকারী অজ্ঞাত (جهالة)। হাদিসশাস্ত্রের লেখকদের মধ্যে এমন কাউকে আমি জানি না যিনি নির্ভরযোগ্যদের (ثقات) বিচ্ছিন্ন (مراسيل) হাদিসকে এভাবে নিঃশর্তভাবে গ্রহণ করার কথা স্পষ্টভাবে ব্যক্ত করেছেন; বরং এ বিষয়ে একটি প্রসিদ্ধ মতভেদ রয়েছে যা সংশ্লিষ্ট স্থানে আলোচিত হয়েছে। আর মুসলিম গ্রন্থে তিনি যে সকল বিচ্ছিন্ন (منقطعة) হাদিসের উল্লেখ করেছেন, তা উল্লিখিত ত্রুটিকে নাকচ করে না যতক্ষণ না অন্য কোনো সূত্র থেকে সেগুলোর নিরবচ্ছিন্নতা (وصل) প্রমাণিত হয়। অন্যথায়, তা না হলে ত্রুটিই সাব্যস্ত হতো। সুতরাং গভীরভাবে চিন্তা করুন।[30]
(খণ্ড: ১)
তাহকীকুল মাসহি আলাল জাওরাবাইনি ওয়ান নালাইনি
(পৃষ্ঠা: ৩০)
كان فيه وهن شديد بينه وما لم يذكر فيه شيئا فهو صالح(قال النووي) : فعلى هذا ما وجدنا في كتابه مطلقا ولم يصححه غيره ولا ضعفه فهو حسن عند أبي داود لأن الصالح للاحتجاج لا يخرج عنهما بل قال ابن رشيد: إنما سكت عليه (أبو داود) قد يكون عنده صحيحا وإن لم يكن كذلك عند غيره (1) (انظر التدريب)وبعد فإن رجال حديث ثوبان كلهم ثقات مرضوين كما يعلم من مراجعة أسمائهم من طبقات الرجال وقد عرفت الجواب عن شبهة الانقطاع فيه فقوي وحسن وصلح للاحتجاج به. والحمد للهالشبهة الثانية:
যাতে অতিশয় দুর্বলতা (وهن شديد) রয়েছে তিনি তা স্পষ্টভাবে বর্ণনা করেছেন, আর যে বিষয়ে তিনি কিছুই উল্লেখ করেননি তা গ্রহণযোগ্য (صالح)।(ইমাম নববী বলেন): এই ভিত্তিতে, তাঁর কিতাবে আমরা এমন যা কিছু সাধারণভাবে পাই যা অন্য কেউ বিশুদ্ধ (صحيح) বলেননি আবার দুর্বল (ضعيف)-ও সাব্যস্ত করেননি, তা ইমাম আবু দাউদের নিকট হাসান (حسن)। কারণ দলীল হিসেবে গ্রহণের উপযোগী (الصالح للاحتجاج) বর্ণনা এই দুই স্তরের বাইরে নয়। বরং ইবনে রুশাইদ বলেন: যে বিষয়ে আবু দাউদ নিশ্চুপ থেকেছেন, তা তাঁর নিকট বিশুদ্ধ (صحيح) হতে পারে, যদিও অন্যের নিকট তা সেরূপ না হয়। (১) (দেখুন: আত-তাদরীব)পরিশেষে, সাওবান বর্ণিত হাদিসের সকল বর্ণনাকারীই নির্ভরযোগ্য (ثقات) ও সন্তোষজনক, যা বর্ণনাকারীদের জীবনচরিত (طبقات الرجال) পর্যালোচনা করলে জানা যায়। এতে বিচ্ছিন্নতার (انقطاع) যে সংশয় ছিল তার উত্তরও ইতিমধ্যে জানা হয়ে গেছে; ফলে হাদিসটি শক্তিশালী ও হাসান (حسن) হয়েছে এবং দলীল হিসেবে গ্রহণের উপযোগী (صلح للاحتجاج) হয়েছে। সকল প্রশংসা আল্লাহর জন্য।দ্বিতীয় সংশয়:
(খণ্ড: ১)
তাহকীকুল মাসহি আলাল জাওরাবাইনি ওয়ান নালাইনি
(পৃষ্ঠা: ৩১)
(1) قلت: لا شك عند العارفين بهذا العلم الشريف أن في (أبي داود) ما إسناده صحيح وإنما ينبغي النظر فيما اشتهر عند المتأخرين أن ما سكت عنه أبو داود فهو صالح للاستدلال به كما تقدم عن المؤلف فاعلم أن قول أبي داود (. . . . فهو صالح) كما نقله (التدريب) يحتمل أنه يعني أنه صالح للاحتجاج به: وعليه جرى النووي ويحتمل أنه يعني أنه صالح للاستشهاد به لأنه ليس شديد الضعف وهو الذي اختاره أمير المؤمنين في الحديث الحافظ العسقلاني وهو الصواب الذي أراه لأمور كثيرة لا مجال لذكرها الآن ولكن لا بد من لفت النظر إلى قول أبي داود: (وما كان فيه وهن شديد بينته) . فإن مفهومه أن ما كان فيه وهن غير شديد لا يبينه أي يسكت عنه فينتج من ذلك أن هذا هو المراد بقوله بعد: (وما لم يذكر فيه شيئا فهو صالح) . فتأمل وتحر الصواب ولا تغتر بما اشتهر بين الناس[31]
(1) আমি বলছি: এই মহান শাস্ত্র সম্পর্কে অভিজ্ঞদের নিকট এ বিষয়ে কোনো সন্দেহ নেই যে, (আবু দাউদ) গ্রন্থে এমন হাদিস রয়েছে যার সনদ (إسناد) সহিহ (صحيح)। তবে পরবর্তী যুগের আলেমদের মাঝে যা প্রসিদ্ধি লাভ করেছে সে বিষয়ে খতিয়ে দেখা প্রয়োজন যে, আবু দাউদ যে হাদিস সম্পর্কে নীরবতা অবলম্বন করেছেন তা দলিল হিসেবে গ্রহণের যোগ্য (صالح), যেমনটি ইতিপূর্বে লেখকের উদ্ধৃতিতে গত হয়েছে। জেনে রাখুন, আবু দাউদের উক্তি (...তা গ্রহণযোগ্য (صالح)), যা (তাদরিব) গ্রন্থে বর্ণিত হয়েছে, তার একটি সম্ভাব্য অর্থ হলো এটি দলিল হিসেবে পেশ করার (للاحتجاج) যোগ্য; ইমাম নববী এই পথই অনুসরণ করেছেন। এর দ্বিতীয় সম্ভাব্য অর্থ হলো এটি কেবল সমর্থক প্রমাণ হিসেবে (للاستشهاد) গ্রহণের যোগ্য, কারণ এটি চরম দুর্বল (شديد الضعف) নয়। হাদিস শাস্ত্রে আমিরুল মুমিনিন হাফেজ আসকালানি এই মতটিই বেছে নিয়েছেন এবং অনেকগুলো কারণে এটিই আমার কাছে সঠিক মনে হয় যা এখন উল্লেখ করার অবকাশ নেই। তবে আবু দাউদের এই উক্তির প্রতি অবশ্যই দৃষ্টি আকর্ষণ করা প্রয়োজন: (আর যাতে চরম দুর্বলতা (وهن شديد) ছিল, তা আমি স্পষ্ট করে দিয়েছি)। এর মর্মার্থ হলো, যাতে দুর্বলতা চরম নয় (وهن غير شديد) তিনি তা স্পষ্ট করেননি অর্থাৎ সে বিষয়ে নীরব থেকেছেন। সুতরাং এর দ্বারা এটিই সাব্যস্ত হয় যে, পরবর্তীতে তাঁর এই উক্তি—(আর যে বিষয়ে আমি কিছুই উল্লেখ করিনি, তা গ্রহণযোগ্য (صالح))—দ্বারা এটিই উদ্দেশ্য। অতএব, আপনি চিন্তা করুন ও সঠিকটি অনুসন্ধান করুন এবং মানুষের মাঝে যা প্রসিদ্ধি লাভ করেছে তা দ্বারা প্রতারিত হবেন না।[31]
(খণ্ড: ১)
তাহকীকুল মাসহি আলাল জাওরাবাইনি ওয়ান নালাইনি
(পৃষ্ঠা: ৩২)
بحث بعضهم بأن الدليل من هذا الحديث أخص من الدعوى لأن الحديث يدل على جواز المسح على التساخين في حالة البرد خاصة لأنه جواب السائل في تلك الحالةو (الجواب) أنه تقرر في علم الأصول أن (اللفظ العام الوارد على سبب خاص يحمل على عمومه ولا يخص بالسبب الذي ورد فيه) . قال الإمام أبو إسحاق الشيرازي: والدليل عليه هو (أن الحجة في قول رسول الله صلى الله عليه وسلم دون السبب فوجب أن يعتبره عمومه) . وحاصل القاعدة في هذا أن (اللفظ الذي يستقل بنفسه يعتبر حكمه فإن كان خاصا حمل على خصوصه وإن كان عاما حمل على عمومه ولا يخص بالسبب الذي ورد فيه) . وما يقال في العام يقال في المطلق لاشتراكهما في الأحكام كما تقرر في الأصول وتقرر أيضا أن (ترك الاستفصال في حكاية الحال ينزل منزلة العموم في المقال)ولا يقال: إن الفعل المثبت لا عموم له كما أطلقه الأصوليون لأنه يقال: إن إطلاقهم مقيد بغير نحو أمر أو نهي لأن هذا ليس حكاية لفعله حتى يقال: إنه لم يقع إلا على صفة واحدة بل حكاية لصدور أمر بشيء أو نهي عنه عاما في أقسامه البتة كما اختاره ابن الحاجب وبسطه في المطولات. ثم إن ما ورد من مسحه صلوات الله عليه على الجوربين وهما من التساخين - غير مقيد بحالة[32]
কেউ কেউ এই মর্মে আলোচনা করেছেন যে, এই হাদিস থেকে প্রাপ্ত প্রমাণটি দাবির তুলনায় অধিকতর সুনির্দিষ্ট (أخص); কারণ হাদিসটি কেবল তীব্র শীতের অবস্থায় তাসাখিনের (এক ধরণের মোজা বা পাদুকা) ওপর মাসাহ্ করার বৈধতা নির্দেশ করে, যেহেতু এটি সেই বিশেষ অবস্থার একজন প্রশ্নকারীর উত্তর ছিল।এবং (উত্তর) হলো এই যে, উসুল শাস্ত্রে এটি প্রতিষ্ঠিত হয়েছে যে, (একটি বিশেষ কারণের (سبب خاص) প্রেক্ষাপটে বর্ণিত সাধারণ শব্দকে (اللفظ العام) তার ব্যাপক অর্থেই (عمومه) গ্রহণ করা হয় এবং যে সুনির্দিষ্ট কারণে সেটি বর্ণিত হয়েছে কেবল তার মধ্যেই তা সীমাবদ্ধ করা হয় না)। ইমাম আবু ইসহাক আল-শিরাজি বলেছেন: এর স্বপক্ষে প্রমাণ হলো (রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর বাণীর মধ্যেই দলিল (الحجة) নিহিত, প্রেক্ষাপট বা কারণের মধ্যে নয়; সুতরাং তাঁর বাণীর ব্যাপকতাকে (عمومه) বিবেচনা করা আবশ্যক)। এই নীতিমালার সারমর্ম হলো (যে শব্দ নিজেই পূর্ণাঙ্গ অর্থ প্রকাশে সক্ষম, তার বিধানই গণ্য হবে; যদি তা সুনির্দিষ্ট (خاص) হয় তবে তাকে সুনির্দিষ্ট অর্থেই গ্রহণ করা হবে, আর যদি তা সাধারণ (عام) হয় তবে তাকে তার ব্যাপক অর্থেই (عمومه) গ্রহণ করা হবে এবং যে কারণে তা বর্ণিত হয়েছে তার সাথে সীমাবদ্ধ করা হবে না)। যা কিছু সাধারণ (عام) শব্দের ক্ষেত্রে বলা হয়, তা শর্তহীন (المطلق) শব্দের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য, কারণ উসুল শাস্ত্রের প্রতিষ্ঠিত নিয়মানুযায়ী তারা বিধানের ক্ষেত্রে পরস্পর অংশীদার। আরও প্রতিষ্ঠিত হয়েছে যে, (কোনো ঘটনার বর্ণনায় বিস্তারিত বিবরণের অভাব (ترك الاستفصال) উক্ত বক্তব্যের ব্যাপকতার (العموم) পর্যায়ভুক্ত হয়)।এটি বলা যাবে না যে, ইতিবাচক কাজের (الفعل المثبت) কোনো ব্যাপকতা (عموم) নেই, যেমনটি উসুলবিদগণ শর্তহীনভাবে উল্লেখ করেছেন; কারণ বলা হয়ে থাকে যে, তাঁদের এই বক্তব্য আদেশ বা নিষেধ ব্যতীত অন্যান্য ক্ষেত্রে সীমাবদ্ধ। কেননা এটি তাঁর কোনো ব্যক্তিগত কাজের বিবরণ নয় যে বলা হবে তা কেবল একটি নির্দিষ্ট পদ্ধতিতেই সম্পন্ন হয়েছিল; বরং এটি কোনো বিষয়ে আদেশ প্রদান বা নিষেধ করার বিবরণ, যা এর সকল প্রকারের ক্ষেত্রে নিশ্চিতভাবে সাধারণ (عام)। যেমনটি ইবনুল হাজিব পছন্দ করেছেন এবং বিশদ গ্রন্থসমূহে বিস্তারিত আলোচনা করেছেন। তদুপরি, আল্লাহর সালাত ও সালাম তাঁর ওপর বর্ষিত হোক, মোজা দুটির ওপর তাঁর মাসাহ্ করার যে বর্ণনা এসেছে—আর সেগুলোও তাসাখিনের অন্তর্ভুক্ত—তা কোনো বিশেষ অবস্থার সাথে সীমাবদ্ধ নয়।[32]
(খণ্ড: ১)
তাহকীকুল মাসহি আলাল জাওরাবাইনি ওয়ান নালাইনি
(পৃষ্ঠা: ৩৩)
لا أمرا منه ولا فعلا وكذا ما صح من مسحه صلوات الله عليه في الوضوء على عمامته - وهي من العصائب - غير مقيد بحالة دون أخرى وسيأتي مزيد لهذا البحث إن شاء اللهالشبهة الثالثة:في حديث المغيرة (الثاني) قالوا: إن فيه شذوذا بيانه أن المروزي قال: إن الإمام أحمد ذكر أبا قيس - أحد رواته فقال: ليس به بأس أنكروا عليه حديثين: حديث المغيرة في المسح فأما ابن مهدي فأبى أن يحدث به وأما وكيع فحدث به. وقال أبو داود في سننه: كان عبد الرحمن بن مهدي لا يحدث بهذا الحديث لأن المعروف عن المغيرة أن النبي صلى الله عليه وسلم مسح على الخفين ا. هـ. قال السندي: فكان يراه ضعيفا شاذا و (الشاذ) : ما رواه المقبول مخالفا لما هو أولى منهو (الجواب) من وجوه:(الأول) : أن تضعيفه بما ذكر يعارضه تصحيح الترمذي له فقد قال بعد تخريجه له في سننه: هذا حديث حسن صحيح وهو قول غير واحد من أهل العلم. وتصحيح الترمذي مقدم على تضعيف غيره لأن الترمذي من الطبقة التي تأخرت عن تلك ووقفت على كل ما قيل فيه ورأت أن الحق في تصحيحه وكذا[33]
না তাঁর কোনো নির্দেশ হিসেবে, আর না তাঁর কোনো কাজ হিসেবে। অনুরূপভাবে, ওযুর সময় তাঁর পাগড়ির —যা এক প্রকার মস্তক বেষ্টনী— উপর মাসেহ করার ব্যাপারে যা বিশুদ্ধ (صحيح) সাব্যস্ত হয়েছে, তা কোনো সুনির্দিষ্ট অবস্থার সাথে সীমাবদ্ধ নয়। ইনশাআল্লাহ, এই আলোচনার বিস্তারিত বিবরণ সামনে আসবে।তৃতীয় সংশয়:মুগীরাহ-এর (দ্বিতীয়) হাদিস সম্পর্কে তারা বলেন: এতে শায (شاذ) হওয়ার ত্রুটি রয়েছে। এর ব্যাখ্যায় মারওয়াযী বলেন: ইমাম আহমাদ এর অন্যতম বর্ণনাকারী আবু কাইস সম্পর্কে আলোচনা করতে গিয়ে বলেছেন, “তার মধ্যে কোনো সমস্যা নেই।” তবে তারা তাঁর দুটি হাদিসকে অস্বীকার করেছেন: মাসেহ সংক্রান্ত মুগীরাহ-এর হাদিসটি। ফলে ইবনে মাহদী এটি বর্ণনা করতে অস্বীকার করেছেন, অন্যদিকে ওয়াকী এটি বর্ণনা করেছেন। আবু দাউদ তাঁর সুনান গ্রন্থে বলেন: আব্দুর রহমান ইবনে মাহদী এই হাদিসটি বর্ণনা করতেন না, কারণ মুগীরাহ থেকে যা প্রসিদ্ধ (معروف) তা হলো—নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম চামড়ার মোজার (খুফ) ওপর মাসেহ করেছেন। সমাপ্ত। সিন্ধী বলেন: তিনি এটিকে দুর্বল (ضعيف) ও শায (شاذ) মনে করতেন। আর শায (الشاذ) হলো: যা গ্রহণযোগ্য (مقبول) বর্ণনাকারী তাঁর চেয়ে অধিক অগ্রাধিকারযোগ্য (أولى) বর্ণনাকারীর বিপরীতে বর্ণনা করেন।এবং (উত্তর) কয়েকটি দিক থেকে:(প্রথমত): উল্লিখিত কারণে হাদিসটিকে দুর্বল (تضعيف) সাব্যস্ত করা ইমাম তিরমিযীর সহীহ (تصحيح) সাব্যস্ত করার পরিপন্থী। কেননা তিনি তাঁর সুনান গ্রন্থে হাদিসটি উদ্ধৃত করার পর বলেছেন: “এই হাদিসটি হাসান (حسن) সহীহ (صحيহ) এবং এটি একাধিক আলিমের অভিমত।” ইমাম তিরমিযীর সহীহ (تصحيح) সাব্যস্ত করা অন্য কারো দুর্বল (تضعيف) সাব্যস্ত করার ওপর অগ্রাধিকার পাবে; কারণ তিরমিযী পরবর্তী প্রজন্মের অন্তর্ভুক্ত ছিলেন এবং তিনি এই হাদিস সম্পর্কে যা কিছু বলা হয়েছে তা অবগত হয়েও একে সহীহ (تصحيح) সাব্যস্ত করাকেই সঠিক মনে করেছেন এবং অনুরূপভাবে...[33]
(খণ্ড: ১)
তাহকীকুল মাসহি আলাল জাওরাবাইনি ওয়ান নালাইনি
(পৃষ্ঠা: ৩৩)
صححه ابن حبان (1) وهو ممن استقرأ وسبر أيضا (2)
একে ইবনে হিব্বান সহিহ (صحيح) সাব্যস্ত করেছেন (১) এবং তিনিও তাদের অন্তর্ভুক্ত যারা পুঙ্খানুপুঙ্খ অনুসন্ধান (استقرأ) ও গভীর নিরীক্ষা (سبر) করেছেন (২)।
(খণ্ড: ১)
তাহকীকুল মাসহি আলাল জাওরাবাইনি ওয়ান নালাইনি
(পৃষ্ঠা: ৩৪)
(1) عن الجوهر النقي للمارديني صفحة 74(2) قلت: هذا الوجه من الجواب لا يستقيم إلا لو كان الترمذي وابن حبان من الأئمة المتثبتين في التصحيح مثل الإمام أحمد ومسلم وغيرهما ممن ضعفوا الحديث ففي هذه الحال تصح المعارضة ويسلم الجواب من الاعتراض لتأخر الترمذي عنهم ووقوفه على ما أعلوه به وأنه لا يقدح ولكن لما كان الترمذي ومثله ابن حبان معروفا بالتساهل في التصحيح حتى قال الذهبي في ترجمة كثير بن عبد الله بن عمرو بن عوف وقد نقل عن الترمذي أنه صحح حديثا له مع أنه متهم عند الشافعي وغيره قال الذهبي: (ولذلك لا يعتمد العلماء على تصحيح الترمذي)قلت: فإذا كان الحال ما ذكرنا فالجواب ضعيف ولكن الحديث صحيح الإسناد وما أعلوه به مردود كما بينه المصنف في الجواب الثاني وأحسن منه بيان الشيخ أحمد المتقدم ص 5 / 10 فقد أجاد كل الإجادة في الرد على الذين أعلوه بالشذوذ والنكارة جزاه الله خيرا. وخلاصة ذلك أن هزيل بن شرحبيل الثقة الذي روى عن المغيرة المسح على الجوربين لا يجوز أن يقال إنه خالف الثقات الذين رووا عنه المسح على الخفين إلا إذا كانت الحادثة واحدة فحينئذ يرد حديث هزيل بالمخالفة والشذوذ لعدم إمكان الأخذ بالروايتين ففي حديث الجماعة عنه: أنه صلى الله عليه وسلم مسح في السفر وليس هذا في حديث هزيل فدل ذلك على أنهما حادثتان مغايرتان وأن الجماعة روت ما لم يرو هزيل وهذا روى ما لم يرو الجماعة فليس من الشذوذ بسبيل ورحم الله الشافعي إذ قال: وليس الحديث الشاذ أن يروي الثقة ما لم يرو الثقات وإنما أن يروي ما يخالف فيه الثقات. انظر (اختصار علوم الحديث) للحافظ ابن كثيرومن الغريب أن الإمام مسلما الذي أعل الحديث بالشذوذ والمخالفة هو نفسه لما أخرج حديث المسح على الخفين في السفر من طريق الجماعة عن المغيرة أخرجه أيضا من طريق أخرى عنه فزاد فيه المسح على العمامة فعلى طريقته في إعلال حديث هزيل بمخالفته للثقات كان ينبغي أن يعل حديث العمامة أيضا بل هو بالإعلال عنده أولى لأنها زيادة في نفس حديث الجماعة أعني في السفر وليس ذلك عن حديث هزيل[34]
(1) আল-জাওহার আন-নাকী লিল মারদিনী, পৃষ্ঠা ৭৪ থেকে।(2) আমি বলছি: উত্তরের এই দিকটি তখনই যথাযথ হতো যদি তিরমিজি এবং ইবনে হিব্বান সহিহকরণের (تصحيح) ক্ষেত্রে ইমাম আহমাদ, মুসলিম ও অন্যদের মতো দৃঢ় ও সূক্ষ্মদর্শী (متثبتين) ইমামদের অন্তর্ভুক্ত হতেন, যারা এই হাদিসটিকে দুর্বল (ضعفوا) আখ্যা দিয়েছেন। এমতাবস্থায় বিরোধিতাটি সঠিক হতো এবং উত্তরটি আপত্তি থেকে মুক্ত থাকত; কারণ তিরমিজি তাদের পরবর্তী সময়ের এবং তিনি অবগত ছিলেন যে তারা হাদিসটিকে কিসের ভিত্তিতে ত্রুটিযুক্ত (أعلوه) সাব্যস্ত করেছেন এবং কেন তা দোষের (يقدح) নয়। কিন্তু যেহেতু তিরমিজি এবং তাঁর মতো ইবনে হিব্বান সহিহকরণের (تصحيح) ক্ষেত্রে শিথিলতা প্রদর্শনের (تساهل) জন্য পরিচিত, এমনকি ইমাম যাহাবী কাসীর ইবন আবদুল্লাহ ইবন আমর ইবন আউফের জীবনী আলোচনায় তিরমিজি থেকে উদ্ধৃত করেছেন যে তিনি তাঁর একটি হাদিসকে সহিহ (صحح) সাব্যস্ত করেছেন, যদিও তিনি ইমাম শাফেয়ি ও অন্যদের নিকট অভিযুক্ত (متهم) ছিলেন। যাহাবী বলেন: (আর এই কারণেই উলামায়ে কেরাম তিরমিজির সহিহকরণের (تصحيح) ওপর নির্ভর করেন না)।আমি বলছি: অবস্থা যদি তা-ই হয় যা আমরা উল্লেখ করেছি, তবে উত্তরটি দুর্বল (ضعيف); কিন্তু হাদিসটির সনদ সহিহ (صحيح الإسناد) এবং তারা যে কারণে এটিকে ত্রুটিযুক্ত (أعلوه) বলেছেন তা প্রত্যাখ্যাত (مردود), যেমনটি গ্রন্থকার দ্বিতীয় উত্তরে স্পষ্ট করেছেন। আর এর চেয়েও উত্তম হলো শাইখ আহমাদের পূর্বোক্ত বর্ণনা (পৃষ্ঠা ৫/১০), যারা হাদিসটিকে বিচ্ছিন্নতা (شذوذ) ও অগ্রহণযোগ্যতার (نكارة) ভিত্তিতে ত্রুটিযুক্ত (أعلوه) বলতে চেয়েছেন, তাদের খণ্ডন করতে গিয়ে তিনি অত্যন্ত চমৎকার ও নিখুঁত আলোচনা করেছেন, আল্লাহ তাকে উত্তম প্রতিদান দিন। এর সারসংক্ষেপ হলো এই যে, নির্ভরযোগ্য (ثقة) বর্ণনাকারী হুজাইল ইবন শুরাহবিল, যিনি মুগিরা থেকে মোজার ওপর মাসাহ করার কথা বর্ণনা করেছেন, তাঁর সম্পর্কে এটি বলা জায়েজ নয় যে, তিনি সেইসব নির্ভরযোগ্য (ثقات) বর্ণনাকারীদের বিরোধিতা করেছেন যারা তাঁর (মুগিরা) থেকে চামড়ার মোজার (খুফ) ওপর মাসাহ করার কথা বর্ণনা করেছেন। এটি কেবল তখনই বলা যেত যদি ঘটনাটি একটিই হতো; সেক্ষেত্রে দুই বর্ণনার মধ্যে সমন্বয় করা অসম্ভব হওয়ায় হুজাইলের হাদিসটি বৈপরীত্য ও বিচ্ছিন্নতার (شذوذ) কারণে প্রত্যাখ্যান (يرد) করা হতো। কারণ বর্ণনাকারীদের জামাতের (الجماعة) হাদিসে রয়েছে যে: রাসুলুল্লাহ (সা.) সফরে মাসাহ করেছিলেন, কিন্তু হুজাইলের হাদিসে এটি নেই। এটি প্রমাণ করে যে ঘটনা দুটি ভিন্ন। জামাত (الجماعة) এমন কিছু বর্ণনা করেছে যা হুজাইল করেননি, আবার হুজাইল এমন কিছু বর্ণনা করেছেন যা জামাত (الجماعة) করেনি। সুতরাং এটি বিচ্ছিন্নতার (شذوذ) পর্যায়ের নয়। আল্লাহ তাআলা ইমাম শাফেয়ির ওপর রহম করুন, তিনি বলেছেন: "বিচ্ছিন্ন (شاذ) হাদিস তা নয় যে একজন নির্ভরযোগ্য (ثقة) রাবি এমন কিছু বর্ণনা করবেন যা অন্য নির্ভরযোগ্যরা (ثقات) করেননি; বরং বিচ্ছিন্ন (شاذ) হাদিস হলো তা, যেখানে সে অন্য নির্ভরযোগ্যদের (ثقات) বিরোধিতা করবে।" দেখুন ইকতিসার উলুমিল হাদিস, হাফেজ ইবনে কাসীর।আশ্চর্যের (غريب) বিষয় হলো, ইমাম মুসলিম যিনি হাদিসটিকে বিচ্ছিন্নতা (شذوذ) ও বৈপরীত্যের কারণে ত্রুটিযুক্ত (أعل) সাব্যস্ত করেছেন, তিনি নিজেই যখন জামাতের (الجماعة) সূত্রে মুগিরা থেকে সফরে চামড়ার মোজার ওপর মাসাহ করার হাদিসটি বর্ণনা করেছেন, তখন তিনি অন্য একটি সূত্রেও এটি বর্ণনা করেছেন যেখানে পাগড়ির ওপর মাসাহ করার অতিরিক্ত অংশ রয়েছে। হুজাইলের হাদিসকে নির্ভরযোগ্যদের (ثقات) সাথে বিরোধের কারণে ত্রুটিযুক্ত (إعلال) করার যে মানদণ্ড তিনি গ্রহণ করেছেন, সেই অনুযায়ী পাগড়ির হাদিসটিও ত্রুটিযুক্ত (يعل) বলা উচিত ছিল। বরং তাঁর নিকট এটিই ত্রুটিযুক্ত (إعلال) হওয়ার অধিক দাবি রাখে, কারণ এটি জামাতের (الجماعة) সেই একই হাদিসের (অর্থাৎ সফরের ঘটনার) অতিরিক্ত অংশ, অথচ হুজাইলের হাদিসটি তেমন নয়।[34]
(খণ্ড: ১)
তাহকীকুল মাসহি আলাল জাওরাবাইনি ওয়ান নালাইনি
(পৃষ্ঠা: ৩৪)
(الثاني) قال العلامة المحقق علاء الدين المارديني (1) في رد قول البيهقي (أبو قيس الأودي وهزيل لا يحتملان مع مخالفتهما الأجلة الذين رووا هذا الخبر عن المغيرة فقالوا: مسح على الخفين) ما مثاله: هذا الخبر أخرجه أبو داود وسكت عنه وصححه ابن حبان وقال الترمذي حسن صحيح. وأبو قيس عبد الرحمن بن ثروان وثقه ابن معين وقال العجلي ثقة ثبت وهزيل وثقه العجلي وأخرج لهما معا البخاري في صحيحه. ثم إنهما لم يخالفا الناس مخالفة معارضة بل رويا أمرا زائدا على ما رووه بطريق مستقل غير معارض فيحمل على أنهما حديثان ولهذا صحح الحديث كما مر. ا. هـوهكذا قال شيخ الإسلام منصور الحنبلي في شرح الإقناع: وتكلم بعضهم في الحديث - أي حديث المغيرة - لأن المعروف عن المغيرة (الخفين) قال في المبدع: وهذا لا يصلح مانعا لجواز رواية اللفظين فيصح المسح على ما تقدم (أي الجوربين)وكذا قال العلامة ملا علي القاري في شرح المشكاة:
(দ্বিতীয়) প্রাজ্ঞ মুহাক্কিক আল্লামা আলাউদ্দিন আল-মারদিনি (১) বায়হাকির বক্তব্যের খণ্ডনে—যিনি বলেছিলেন: "আবু কায়স আল-আউদি এবং হুযায়িল এমন নন যে তাঁদের বর্ণনা গ্রহণযোগ্য হবে (لا يحتملان) যখন তাঁরা সেই সব মহান ব্যক্তিদের বিরোধিতা করেন যাঁরা মুগিরা থেকে এই বর্ণনাটি প্রদান করে বলেছেন: তিনি চামড়ার মোজার ওপর মাসাহ করেছেন"—এর জবাবে যা বলেছেন তা হলো: এই সংবাদটি আবু দাউদ সংকলন করেছেন (أخرجه) এবং এর ব্যাপারে তিনি মৌনতা অবলম্বন করেছেন (سكت عنه)। ইবনে হিব্বান একে সহিহ আখ্যা দিয়েছেন (صححه) এবং তিরমিজি একে হাসান সহিহ (حسن صحيح) বলেছেন। আর আবু কায়স আবদুর রহমান ইবনে সারওয়ানকে ইবনে মাইন নির্ভরযোগ্য বলেছেন (وثقه) এবং ইজলি তাঁকে নির্ভরযোগ্য সুপ্রতিষ্ঠিত (ثقة ثبت) বলেছেন। হুযায়িলকেও ইজলি নির্ভরযোগ্য বলেছেন (وثقه) এবং ইমাম বুখারি তাঁর সহিহ গ্রন্থে তাঁদের উভয়ের বর্ণনা গ্রহণ করেছেন। অধিকন্তু, তাঁরা অন্যদের বর্ণনার সাথে এমন কোনো বিরোধিতা করেননি যা একে অপরের পরিপন্থী হয়, বরং তাঁরা একটি স্বাধীন সূত্রে অন্যদের বর্ণিত তথ্যের ওপর অতিরিক্ত একটি বিষয় বর্ণনা করেছেন যা সাংঘর্ষিক নয়। সুতরাং একে দুটি ভিন্ন হাদিস হিসেবে গণ্য করা হবে এবং এ কারণেই হাদিসটিকে সহিহ আখ্যা দেয়া হয়েছে (صحح) যেমনটি পূর্বে অতিক্রান্ত হয়েছে। সমাপ্ত।অনুরূপভাবে শায়খুল ইসলাম মনসুর আল-হানবালি শারহুল ইকনাহ গ্রন্থে বলেছেন: কেউ কেউ এই হাদিসটি সম্পর্কে—অর্থাৎ মুগিরার হাদিস সম্পর্কে—সমালোচনা করেছেন (تكلم), কারণ মুগিরা থেকে সাধারণত চামড়ার মোজার বিষয়টিই সুপরিচিত। আল-মুবদি গ্রন্থে বলা হয়েছে: এটি কোনো বাধা হওয়ার যোগ্য নয়, কারণ উভয় শব্দই বর্ণিত হওয়ার অবকাশ রয়েছে; সুতরাং পূর্বে যা অতিবাহিত হয়েছে (অর্থাৎ মোজা) তার ওপর মাসাহ করা সহিহ (يصح) হবে।একইভাবে আল্লামা মোল্লা আলী কারী শারহুল মিশকাত গ্রন্থে বলেছেন:
(খণ্ড: ১)
তাহকীকুল মাসহি আলাল জাওরাবাইনি ওয়ান নালাইনি
(পৃষ্ঠা: ৩৫)
(1) في الجوهر النقي طبع حيد آباد الدكن صفحة 74[35]
(১) আল-জাওহার আন-নাকী গ্রন্থে, হায়দ্রাবাদ ডেকান মুদ্রণ, পৃষ্ঠা ৭৪[৩৫]
(খণ্ড: ১)
তাহকীকুল মাসহি আলাল জাওরাবাইনি ওয়ান নালাইনি
(পৃষ্ঠা: ৩৫)
قيل المعروف من رواية المغيرة المسح على الخفين وأجيب بأنه لا مانع من أن يروي المغيرة اللفظين وقد عضده فعل الصحابة ا. هـ. وسيأتي تسميتهم وبلوغ عدتهم ستة عشر صحابياو (الثالث) وهو جوابنا عن دعوى شذوذه علما أن الشذوذ مختلف في معناه وأنه ليس بعلة على الإطلاق ولا بمتفق عليها. توضيحه أن السيوطي قال في التدريب (1) في شرح قول النووي في حد الصحيح: (وهو ما اتصل إسناده بالعدول الضابطين من غير شذوذ ولا علة) ما مثاله: قيل لم يفصح بمراده من الشذوذ هنا وقد ذكر في نوعه ثلاثة أقوال: (أحدها) : مخالفة الثقة لأرجح منه و (الثاني) : تفرد الثقة مطلقا و (الثالث) : تفرد الراوي مطلقا. قال ورد الأخيران فالظاهر أنه أراد هنا الأول قال شيخ الإسلام: وهو مشكل لأن الإسناد إذا كان متصلا ورواته كلهم عدولا ضابطين فقد انتفت عنه العلل الظاهرة ثم إذا انتفى كونه معلولا فما المانع من الحكم بصحته؟ فمجرد مخالفة أحد رواته لمن هو أوثق منه أو أكثر عددا لا يستلزم الضعف بل يكون من باب صحيح وأصح. قال: ولم أر مع ذلك من أحد من أئمة الحديث اشتراط نفي الشذوذ المعبر عنه بالمخالفة. وإنما الموجود من تصرفاتهم
বলা হয়েছে যে, মুগিরাহ-এর বর্ণনা থেকে সুপরিচিত (المعروف) হলো মোজার ওপর মাসেহ করা। এর উত্তরে বলা হয়েছে যে, মুগিরাহ-এর পক্ষে উভয় শব্দ বর্ণনা করার ক্ষেত্রে কোনো বাধা নেই এবং সাহাবীদের আমল একে শক্তিশালী করেছে। তাদের নাম এবং তাদের সংখ্যা যে ষোলজন সাহাবী পর্যন্ত পৌঁছেছে তা সামনে আলোচিত হবে।এবং (তৃতীয়ত) এটি হলো এর অস্বাভাবিকতা (الشذوذ) হওয়ার দাবির বিপরীতে আমাদের উত্তর। জেনে রাখা উচিত যে, শায (الشذوذ) এর সংজ্ঞার ক্ষেত্রে মতভেদ রয়েছে এবং এটি নিরঙ্কুশভাবে কোনো ত্রুটি (علة) নয়, আর না এটি কোনো সর্বসম্মত বিষয়। এর ব্যাখ্যা হলো, সুয়ূতী 'তাদরীব' গ্রন্থে ইমাম নববীর সহিহ (الصحيح) এর সংজ্ঞার ব্যাখ্যায়—যা হলো: (এটি এমন যার সনদ নিরবচ্ছিন্ন (اتصل إسناده) এবং নির্ভরযোগ্য (العدول) ও প্রখর স্মৃতিসম্পন্ন (الضابطين) বর্ণনাকারীদের দ্বারা বর্ণিত, যাতে কোনো অস্বাভাবিকতা (شذوذ) ও ত্রুটি (علة) নেই)—বলেছেন: বলা হয়ে থাকে যে, তিনি এখানে 'শায' (الشذوذ) দ্বারা তার উদ্দেশ্য স্পষ্টভাবে ব্যক্ত করেননি। এ প্রসঙ্গে তিনটি মত উল্লেখ করা হয়েছে: (এক) নির্ভরযোগ্য (الثقة) বর্ণনাকারীর তার চেয়ে অধিক অগ্রগণ্য বর্ণনাকারীর বিরোধিতা করা; (দুই) নির্ভরযোগ্য (الثقة) রাবির এককভাবে বর্ণনা করা (تفرد); এবং (তিন) বর্ণনাকারীর (الراوي) নিরঙ্কুশভাবে একক বর্ণনা (تفرد)। তিনি বলেন, শেষোক্ত দুটি মত প্রত্যাখ্যাত, তাই দৃশ্যত তিনি এখানে প্রথমটিই উদ্দেশ্য নিয়েছেন। শায়খুল ইসলাম বলেন: এটি সমস্যাযুক্ত, কারণ সনদ (الإسناد) যদি নিরবচ্ছিন্ন (متصلا) হয় এবং এর বর্ণনাকারীরা সবাই নির্ভরযোগ্য (عدولا) ও প্রখর স্মৃতিসম্পন্ন (ضابطين) হন, তবে তা থেকে প্রকাশ্য ত্রুটিসমূহ (العلل) দূরীভূত হয়ে যায়। অতঃপর যদি এটি ত্রুটিযুক্ত (معلولا) হওয়া থেকে মুক্ত হয়, তবে এর সহিহ (صحيح) হওয়ার হুকুম প্রদানে বাধা কোথায়? সুতরাং কোনো একজন বর্ণনাকারীর তার চেয়ে অধিক নির্ভরযোগ্য (أوثق) অথবা অধিক সংখ্যক বর্ণনাকারীর বিরোধিতা করা কেবল এই কারণে দুর্বলতা (الضعف) প্রকাশ করে না, বরং এটি সহিহ (صحيح) ও অধিক সহিহ-এর পর্যায়ের অন্তর্ভুক্ত হয়। তিনি বলেন: তা সত্ত্বেও আমি হাদিস শাস্ত্রের ইমামগণের মধ্য থেকে কাউকে 'শায' (الشذوذ) বা বিরোধিতার অনুপস্থিতিকে শর্ত হিসেবে গণ্য করতে দেখিনি। বরং তাদের কর্মপদ্ধতি থেকে যা পাওয়া যায়...
(খণ্ড: ১)
তাহকীকুল মাসহি আলাল জাওরাবাইনি ওয়ান নালাইনি
(পৃষ্ঠা: ৩৬)
(1) صفحة 14 - 15 من (تدريب الراوي)[36]
(1) (তাদরীবুর রাবী) এর ১৪ - ১৫ পৃষ্ঠা হতে[36]
(খণ্ড: ১)
তাহকীকুল মাসহি আলাল জাওরাবাইনি ওয়ান নালাইনি
(পৃষ্ঠা: ৩৬)
تقديم بعض ذلك على بعض في الصحةوقال الإمام النووي في بحث الشاذ: (فإن لم يخالف الراوي بتفرده غيره وإنما روى أمرا لم يروه غيره فإن كان عدلا حافظا موثوقا بضبطه كان تفرده صحيحا وإن لم يوثق بحفظه ولم يبعد عن درجة الضابط كان ما انفرد به حسنا وإن بعد كان شاذا منكرا مردودا) ا. هـ وبه يعلم أن الشذوذ ليس علة قادحة في صحة المروي مطلقا بل هي على هذا التفصيل وإن من كان عدلا حافظا موثوقا بضبطه كان تفرده صحيحاوممن اعترض جعل الشذوذ قادحا في صحة الحديث الإمام ابن دقيق العيد فقد قال العراقي: وأما السلامة من الشذوذ والعلة فقال ابن دقيق العيد في (الاقتراح) :(إن أصحاب الحديث زادوا ذلك في حد الصحيح - قال - وفيه نظر على مقتضى نظر الفقهاء فإن كثيرا من العلل التي يعلل بها المحدثون لا تجري على أصول الفقهاء) (1) . وقال
বিশুদ্ধতার (صحة) বিচারে এদের একে অপরের ওপর অগ্রাধিকার প্রদানইমাম নববী 'শাজ' (الشاذ) বিষয়ক আলোচনায় বলেছেন: (যদি বর্ণনাকারী তার একক বর্ণনার (تفرد) মাধ্যমে অন্য কারো বিরোধিতা না করেন, বরং তিনি কেবল এমন কিছু বর্ণনা করেন যা অন্য কেউ বর্ণনা করেনি; তবে তিনি যদি ন্যায়পরায়ণ (عدل), হাফিজ (حافظ) এবং স্বীয় হিফজ বা সংরক্ষণের দৃঢ়তায় (ضبط) নির্ভরযোগ্য হন, তবে তার একক বর্ণনা (تفرد) সহিহ (صحيح) বলে গণ্য হবে। আর যদি তার হিফজের নির্ভরযোগ্যতা সুনিশ্চিত না হয় এবং তিনি যদি নির্ভুল বর্ণনাকারীর (ضابط) স্তর থেকে খুব বেশি দূরে না হন, তবে তার সেই একক বর্ণনা হাসান (حسن) হবে। আর যদি তিনি উক্ত স্তর থেকে দূরে হন, তবে তা বিচ্যুতিপূর্ণ (شاذ), অগ্রহণযোগ্য (منكر) এবং প্রত্যাখ্যাত (مردود) বলে গণ্য হবে।) উদ্ধৃতি সমাপ্ত। এর মাধ্যমে জানা গেল যে, বিচ্যুতি (الشذوذ) বর্ণনার বিশুদ্ধতার (صحة) ক্ষেত্রে নিরঙ্কুশভাবে কোনো ক্ষতিকর ত্রুটি (علة قادحة) নয়; বরং এটি উপরোক্ত বিস্তারিত ব্যাখ্যার ওপর নির্ভরশীল। আর যে ব্যক্তি ন্যায়পরায়ণ (عدل), হাফিজ (حافظ) এবং নিজ হিফজের দৃঢ়তায় নির্ভরযোগ্য, তার একক বর্ণনা (تفرد) সহিহ (صحيح) বলে গণ্য হবে।যারা বিচ্যুতিকে (الشذوذ) হাদিসের বিশুদ্ধতার (صحة) ক্ষেত্রে প্রতিবন্ধক বা ত্রুটি হিসেবে গণ্য করার বিষয়ে আপত্তি জানিয়েছেন, ইমাম ইবনু দাকীকুল ঈদ তাদের অন্যতম। আল্লামা ইরাকি বলেন: বিচ্যুতি (الشذوذ) ও ত্রুটি (العلة) থেকে মুক্ত থাকার বিষয়টি সম্পর্কে ইবনু দাকীকুল ঈদ তাঁর 'আল-ইকতিরাহ' গ্রন্থে বলেছেন:(নিশ্চয়ই হাদিসবিশারদগণ সহিহ (صحيح) হাদিসের সংজ্ঞায় বিষয়টি অতিরিক্ত যুক্ত করেছেন। তিনি বলেন— ফকিহদের দৃষ্টিভঙ্গি অনুযায়ী এ বিষয়ে পর্যালোচনার অবকাশ রয়েছে। কারণ, মুহাদ্দিসগণ যে সকল ত্রুটির (العلل) মাধ্যমে হাদিসকে ত্রুটিযুক্ত (يعلل) সাব্যস্ত করেন, তার অনেকগুলোই ফকিহদের মূলনীতির (أصول الفقهاء) ওপর কার্যকর নয়।) (১)। তিনি আরও বলেন—
(খণ্ড: ১)
তাহকীকুল মাসহি আলাল জাওরাবাইনি ওয়ান নালাইনি
(পৃষ্ঠা: ৩৭)
(1) قلت: أهل مكة أدرى بشعابها فالاعتماد إنما هو على المحدثين لأنه علمهم الذي اختصوا به فهم أعرف به من غيرهم وكل علم يرجع فيه إلى ذوي الاختصاص والإتقان فيه والمحدثون اتفقوا على اشتراط السلامة من الشذوذ في الحديث الصحيح كما هو معروف من كتبهم والمتتبع للطرق في دواوين السنة يجد غير قليل من الأحاديث اختلف الرواة الثقات في ضبط متونها اختلافا لا سبيل للأخذ بجميع وجوه الاختلاف فيها بل لا بد من ترجيح بعضها على بعض فالراجح هو المحفوظ والمرجوح هو الشاذ وهو من أنواع الحديث الضعيف وحديث المسح على الجوربين صحيح سالم من الشذوذ كما قدم بيانه لذلك فلا مجال للأخذ بتشكيك من وهم ورمي الحديث بالشذوذ فهو حديث صحيح محفوظ اتفق المحدثون على سلامته[37]
(1) আমি বলছি: মক্কাবাসীগণই তাদের অলিগলি সম্পর্কে অধিক অবগত, তাই নির্ভরতা কেবল হাদিস বিশারদদের ওপরই হওয়া উচিত; কারণ এটি তাদেরই বিশেষায়িত জ্ঞান যার মাধ্যমে তারা বৈশিষ্ট্যমণ্ডিত, ফলে তারা অন্যদের তুলনায় এ বিষয়ে অধিক দক্ষ। আর প্রত্যেক বিদ্যার ক্ষেত্রেই সেই বিষয়ের বিশেষজ্ঞ ও পারদর্শীদের শরণাপন্ন হতে হয়। হাদিস বিশারদগণ সহিহ (صحيح) হাদিসের ক্ষেত্রে অস্বাভাবিকতা (الشذوذ) থেকে মুক্ত থাকার শর্তারোপের ব্যাপারে ঐকমত্য পোষণ করেছেন, যা তাদের গ্রন্থসমূহ থেকে সুপরিচিত। সুন্নাহর সংকলনসমূহে হাদিসের সূত্রসমূহ (الطرق) অনুসন্ধানকারী এমন অনেক হাদিস পাবেন যেখানে নির্ভরযোগ্য (الثقات) বর্ণনাকারীগণ হাদিসের মূল পাঠ বা মতন (متونها) সংরক্ষণের (ضبط) ক্ষেত্রে এমনভাবে মতভেদ করেছেন যে, সেই মতভেদের সকল দিক গ্রহণ করার কোনো উপায় নেই; বরং অবশ্যই একটিকে অন্যটির ওপর প্রাধান্য (ترجيح) দিতে হবে। এক্ষেত্রে যা অগ্রগণ্য (الراجح) তা হলো সংরক্ষিত (المحفوظ), আর যা দুর্বলতর (المرجوح) তা হলো অস্বাভাবিক (الشاذ); আর এটি দুর্বল (الضعيف) হাদিসের প্রকারভেদের অন্তর্ভুক্ত। মোজার ওপর মাসেহ সংক্রান্ত হাদিসটি সহিহ (صحيح) এবং অস্বাভাবিকতা (الشذوذ) থেকে মুক্ত, যেমনটি ইতিপূর্বে স্পষ্ট করা হয়েছে। অতএব, যারা বিভ্রান্ত হয়ে হাদিসটিকে অস্বাভাবিক (الشذوذ) সাব্যস্ত করার মাধ্যমে সংশয় তৈরি করেছেন, তাদের সেই সংশয় গ্রহণ করার কোনো অবকাশ নেই। বরং এটি একটি সহিহ (صحيহ) ও সংরক্ষিত (محفوظ) হাদিস যার ত্রুটিমুক্ত হওয়ার ব্যাপারে হাদিস বিশারদগণ একমত হয়েছেন।[37]
(খণ্ড: ১)
তাহকীকুল মাসহি আলাল জাওরাবাইনি ওয়ান নালাইনি
(পৃষ্ঠা: ৩৭)
ابن الصلاح: (وقد يختلفون في صحة بعض الأحاديث لاختلافهم وجود هذه الأوصاف فيه (1) أو لاختلافهم في اشتراط بعضها) ا. هـفأفاد أن اشتراط السلامة من الشذوذ ليس بمتفق عليه بل هو مختلف فيه ولذا حد الإمام الخطابي الصحيح بأنه: ما اتصل سنده وعدلت نقلته. قال العراقي: (فلم يشترط ضبط الراوي ولا السلامة من الشذوذ والعلة)وحكي أن مثل هذه الشروط مردها إلى اجتهاد المجتهدين في تحري المأثور ولذلك تفاوتت مسنداتهم ومخرجاتهم بتفاوت شروطهم كما بسطناه في مقدمة كتاب (حياة البخاري) . وكل ما يبحث عن تصحيحه باعتبار السند وقواعد المصطلح فذاك من حيث رعاية صحته سندا وأما من حيث تصحيحه باعتبار أمر أجنبي عنه - وهو المسمى بالصحيح لغيره - فذاك نوع آخر على ما سيأتي بيانهالشبهة الرابعة:قول الإمام النووي في شرح المهذب: واحتج أصحابنا (2)
ইবনুল সালাহ বলেন: (কোনো হাদিসে এসব গুণাবলি বিদ্যমান থাকা বা না থাকার ব্যাপারে তাদের ভিন্নমত থাকায়, কিংবা কোনো কোনো গুণাবলি শর্ত হিসেবে গণ্য করা নিয়ে মতভেদ থাকায় কোনো কোনো হাদিসের বিশুদ্ধতা (صحة) নিয়ে তাঁরা ভিন্নমত পোষণ করতে পারেন।) সমাপ্ত।সুতরাং তিনি জানালেন যে, বিচ্যুতি (شذوذ) থেকে মুক্ত থাকার শর্তটি সর্বসম্মত নয়, বরং এটি মতভেদপূর্ণ। আর এ কারণেই ইমাম খাত্তাবি সহিহ (صحيح) হাদিসের সংজ্ঞায় বলেছেন: যার সনদ (سند) নিরবচ্ছিন্ন (متصل) এবং যার বর্ণনাকারীরা ন্যায়পরায়ণ (عدول)। ইরাকি বলেন: (তিনি বর্ণনাকারীর হিফজ বা সংরক্ষণ ক্ষমতা (ضبط) এবং বিচ্যুতি (شذوذ) ও ত্রুটি (علة) থেকে মুক্ত থাকার শর্তারোপ করেননি।)আর বর্ণিত আছে যে, এ ধরনের শর্তাবলি মূলত বর্ণিত হাদিস যাচাই-বাছাইয়ের ক্ষেত্রে মুজতাহিদগণের গবেষণার (اجتهاد) ওপর নির্ভরশীল। আর এ কারণেই তাঁদের শর্তের ভিন্নতার ভিত্তিতে তাঁদের সংকলিত হাদিস ও বর্ণনার উৎসসমূহ ভিন্ন ভিন্ন হয়েছে, যেমনটি আমরা হায়াতে বুখারি গ্রন্থের ভূমিকায় বিস্তারিত আলোচনা করেছি। আর সনদ (سند) এবং পরিভাষার (مصطلح) মূলনীতির আলোকে কোনো হাদিসকে সহিহ সাব্যস্ত করার (تصحيح) যাবতীয় আলোচনা সনদের বিচারে তার বিশুদ্ধতা (صحة) রক্ষার বিচারে। পক্ষান্তরে বাহ্যিক কোনো বিষয়ের বিবেচনায় কোনো হাদিসকে সহিহ সাব্যস্ত করা (تصحيح)—যাকে লি-গাইরিহি সহিহ (صحيح لغيره) বলা হয়—তা একটি ভিন্ন প্রকার, যার ব্যাখ্যা সামনে আসবে।চতুর্থ সংশয়:শারহুল মুহাযযাব গ্রন্থে ইমাম নববীর উক্তি: আর আমাদের সাথীরা (أصحابنا) দলিল পেশ করেছেন...
(খণ্ড: ১)
তাহকীকুল মাসহি আলাল জাওরাবাইনি ওয়ান নালাইনি
(পৃষ্ঠা: ৩৮)
(1) وهي العدالة والضبط والسلامة من الشذوذ والعلة(2) في الرد على من أباح المسح على الجورب الرقيق (المتقدم ذلك في عبارته)[38]
(১) আর তা হলো ন্যায়নিষ্ঠতা (عدالة), সঠিকরূপে সংরক্ষণ (ضبط) এবং বিচ্যুতি (شذوذ) ও ত্রুটি (علة) থেকে মুক্ত থাকা।(২) যারা পাতলা মোজার ওপর মাসেহ করা বৈধ বলেছেন, তাদের খণ্ডনে (যা ইতিপূর্বে তাঁর বক্তব্যে অতিক্রান্ত হয়েছে)।[৩৮]
(খণ্ড: ১)
তাহকীকুল মাসহি আলাল জাওরাবাইনি ওয়ান নালাইনি
(পৃষ্ঠা: ৩৮)
بأنه لا يمكن متابعة المشي عليه فلم يجز كالخرقة. قال: والجواب عن حديث المغيرة من أوجه:(أحدها) : أنه ضعيف ضعفه الحفاظ وقد ضعفه البيهقي ونقل تضعيفه عن سفيان الثوري وعبد الرحمن بن مهدي وأحمد بن حنبل وعلي بن المديني ويحيى بن معين ومسلم بن الحجاج وهؤلاء هم أعلام أئمة الحديث وإن كان الترمذي قال: (حديث حسن صحيح) فهؤلاء مقدمون عليه بل كل واحد من هؤلاء لو انفرد قدم على الترمذي باتفاق أهل المعرفة(الثاني) : أنه لو صح يحمل على الذي يمكن متابعة المشي عليه جمعا بين الأدلة وليس في اللفظ عموم يتعلق به(الثالث) : حكاه البيهقي رحمه الله عن الأستاذ أبي الوليد النيسابوري أنه حمله على أنه مسح على جوربين منعلين لا أنه جورب منفرد ونعل منفردة فكأنه قال: مسح على جوربيه المنعلين ا. هـ(والجواب عن ذلك) : أما قول الإمام النووي: (واحتج أصحابنا بأنه لا يمكن متابعة المشي عليه) فهذا قد يراه المقلد حجة أما المحدث والأصولي فعنده الحجة الكتاب والسنة وما رجع إليهما من بقية الأدلة. وقانون المناظرة يقضي بأن يدفع القوي بالأقوى والحديث بمثله أو بآية لا برأي أو قياس وإلا فيكون ذهابا إلى ما رمى به أهل الرأي (1)
যেহেতু এর ওপর নিরবচ্ছিন্নভাবে হেঁটে চলা সম্ভব নয়, তাই এটি ছেঁড়া কাপড়ের (ন্যাকড়া) ন্যায় অবৈধ। তিনি বলেন: মুগিরা বর্ণিত হাদিসের উত্তর কয়েকটি দিক থেকে হতে পারে:(প্রথমত): এটি দুর্বল (ضعيف); হাফিজগণ (الحفاظ) এটিকে দুর্বল (ضعفه) আখ্যা দিয়েছেন। ইমাম বায়হাকি এটিকে দুর্বল (ضعفه) বলেছেন এবং তিনি সুফিয়ান সাওরি, আবদুর রহমান ইবনে মাহদি, আহমদ ইবনে হাম্বল, আলি ইবনুল মাদিনি, ইয়াহইয়া ইবনে মায়িন এবং মুসলিম ইবনুল হাজ্জাজ থেকে এর দুর্বলতার (تضعيفه) বিষয়টি বর্ণনা করেছেন। তাঁরা হলেন হাদিস শাস্ত্রের শ্রেষ্ঠ ইমাম। যদিও ইমাম তিরমিজি একে 'হাসান সহিহ (حسن صحيح)' বলেছেন, তবুও তাঁরা তিরমিজির চেয়ে অগ্রগণ্য। এমনকি বিশেষজ্ঞগণের (أهل المعرفة) ঐকমত্য অনুযায়ী, তাঁদের প্রত্যেকে এককভাবেও তিরমিজির চেয়ে অগ্রগণ্য।(দ্বিতীয়ত): এটি যদি সহিহ (صح) হয়েও থাকে, তবুও একে এমন মোজার ক্ষেত্রে ধরা হবে যার ওপর নিরবচ্ছিন্নভাবে হেঁটে চলা সম্ভব, যাতে সব দলিলের মধ্যে সমন্বয় করা যায়। আর এই শব্দের মধ্যে এমন কোনো ব্যাপকতা নেই যা এর সাথে সংশ্লিষ্ট হতে পারে।(তৃতীয়ত): ইমাম বায়হাকি (রহ.) উস্তাদ আবুল ওয়ালিদ আন-নিসাপুরি থেকে বর্ণনা করেছেন যে, তিনি এটিকে চামড়ার তলাযুক্ত মোজার (جوربين منعلين) ওপর মাসেহ করার অর্থে গ্রহণ করেছেন; এটি কেবল পৃথক মোজা বা কেবল পৃথক জুতা নয়। যেন তিনি বলেছেন: তিনি তাঁর তলাযুক্ত মোজার ওপর মাসেহ করেছেন। (সমাপ্ত)(এর উত্তর): ইমাম নববির বক্তব্য প্রসঙ্গে: "আমাদের সাথীরা যুক্তি দিয়েছেন যে, এর ওপর নিরবচ্ছিন্নভাবে হেঁটে চলা সম্ভব নয়" - এটি একজন মুকাল্লিদ (المقلد) হয়তো দলিল হিসেবে মনে করতে পারেন। কিন্তু একজন মুহাদ্দিস (المحدث) এবং উসুলবিদ (الأصولي)-এর নিকট দলিল হলো কুরআন ও সুন্নাহ এবং অন্যান্য দলিল যা এই দুটির দিকেই ফিরে আসে। বিতর্কের নিয়ম দাবি করে যে, একটি শক্তিশালী দলিলকে আরও শক্তিশালী দলিল দ্বারা এবং একটি হাদিসকে অনুরূপ হাদিস অথবা আয়াত দ্বারা খণ্ডন করতে হয়; কোনো রায় (رأي) বা কিয়াস (قياس) দিয়ে নয়। অন্যথায় এটি সেই পথেই ধাবিত হওয়া হবে যেটির অভিযোগ আহলে রায় (أهل الرأي)-এর বিরুদ্ধে করা হয়। (১)
(খণ্ড: ১)
তাহকীকুল মাসহি আলাল জাওরাবাইনি ওয়ান নালাইনি
(পৃষ্ঠা: ৩৯)
(1) يعني الحنفية الذي يروون بعض الأحاديث بآرائهم انتصارا منهم لأقوال أئمتهم وتجد بعض الأمثلة على ذلك في كتابي (أحكام الجنائز وبدعها) في بحث الصلاة على الميت وغيره. ولا أبرئ غيرهم من مثله كما تراه في تأول أصحاب النووي لهذا الحديث الصحيح وقد أحسن المصنف رحمه الله تعالى في الرد عليهم أثابهم الله تعالى[39]
(১) অর্থাৎ সেই হানাফীগণ যারা তাদের ইমামদের বক্তব্যের সমর্থনে নিজেদের মতামতের ভিত্তিতে কিছু হাদিস বর্ণনা করে থাকেন। এর কিছু উদাহরণ আপনি আমার 'আহকামুল জানাইয ওয়া বিদাউহা' গ্রন্থের মৃত ব্যক্তির জানাজার নামাজ ও অন্যান্য বিষয়ের আলোচনায় পাবেন। আমি অন্যদেরকেও এ জাতীয় কাজ থেকে নির্দোষ মনে করি না, যেমনটি আপনি এই সহিহ (صحيح) হাদিসটির ক্ষেত্রে ইমাম নববীর অনুসারীদের অপব্যাখ্যার (تأول) মাঝে দেখতে পাবেন। গ্রন্থকার (المصنف) (আল্লাহ তাঁর ওপর রহমত বর্ষণ করুন) তাদের খণ্ডন করার ক্ষেত্রে অত্যন্ত সঠিক কাজ করেছেন; আল্লাহ তাআলা তাঁদের উত্তম প্রতিদান দান করুন।[৩৯]
(খণ্ড: ১)
তাহকীকুল মাসহি আলাল জাওরাবাইনি ওয়ান নালাইনি
(পৃষ্ঠা: ৩৯)
وليس ثمة في الباب آية ترد هذا الحديث ولا حديث يرده لا بل ثمة ما يؤيده من الكتاب والسنة كما مر وهذا هو الحجة المعروفة في الأصولوأما قوله: (إنه ضعيف ضعفه الحفاظ) ثم نقل تضعيفه عمن ذكره فجوابه ما قدمناه قبل - في الوجه الثالث - من درء الشبهة الثالثة من معارضة ذلك بتصحيح من صححه على أن سند تضعيفه هو دعوى شذوذه وقد أوضحنا أن الشذوذ ليس علة مضعفة على إطلاقها بل من كان عدلا ضابطا كان تفرده صحيحا لا سيما وقد عضده ما روي بمعناه من حديث النساخين المتقدم وما قواه من عمل الصحب كما سيأتي ولذا صححه الإمام الترمذي ولا يخفي أن المضعفين له مهما كثروا فإن حجة تضعيفهم شذوذه وقد عرفت ما فيها فليس المقام مقام ترجيح بالكثرة والقلة بل المقام مقام استدلال واحتجاج وانطباق على القواعد المرعية وإلا فإن الكثرة ليست من الحجج والبراهين المعروفة ولذا قال الأصوليون (1) في بحث خبر الآحاد: إن عمل الأكثر بخلافه - أي بخلاف خبر الآحاد - لا يمنع وجوب العمل
এই প্রসঙ্গে এমন কোনো আয়াত নেই যা এই হাদিসটিকে প্রত্যাখ্যান করে, আর এমন কোনো হাদিসও নেই যা এটিকে খণ্ডন করে; বরং কুরআন ও সুন্নাহ থেকে এমন প্রমাণ রয়েছে যা এটিকে সমর্থন করে, যেমনটি পূর্বে অতিক্রান্ত হয়েছে। আর এটিই উসুল (الأصول) শাস্ত্রের সুপরিচিত দলিল।আর তার বক্তব্য: (এটি দুর্বল (ضعيف), হাফিজগণ একে দুর্বল (ضعيف) বলেছেন) এবং যারা একে উল্লেখ করেছেন তাদের থেকে এর দুর্বলতা (تضعيف) বর্ণনা করার উত্তর হলো যা আমরা পূর্বে—তৃতীয় সংশয় নিরসনের তৃতীয় পদ্ধতিতে—উপস্থাপন করেছি; তা হলো যারা একে সহিহ (صحيহ) বলেছেন তাদের সহিহ সাব্যস্ত করার (تصحيح) মাধ্যমে সেই দাবির বিরোধিতা করা। উপরন্তু, একে দুর্বল (ضعيف) বলার ভিত্তি হলো এর শায হওয়া (شذوذ)-এর দাবি। অথচ আমরা স্পষ্ট করেছি যে, শায হওয়া (شذوذ) ঢালাওভাবে কোনো দুর্বলকারী ত্রুটি (علة) নয়। বরং যে বর্ণনাকারী ন্যায়পরায়ণ (عدل) ও নির্ভুল স্মৃতিশক্তিসম্পন্ন (ضابط), তার একাকী বর্ণনাও (تفرد) সহিহ (صحيহ) বলে গণ্য হয়; বিশেষ করে যখন একে নাসসাখীনদের বর্ণিত পূর্বোক্ত হাদিসটি অর্থগতভাবে সমর্থন করে এবং সাহাবীগণের আমল একে শক্তিশালী করেছে—যেমনটি সামনে আসবে—আর সে কারণেই ইমাম তিরমিজি একে সহিহ (صحيহ) বলেছেন। এটি স্পষ্ট যে, যারা একে দুর্বল (ضعيف) বলেছেন তাদের সংখ্যা যত বেশিই হোক না কেন, তাদের দুর্বল সাব্যস্ত করার (تضعيف) দলিল হলো এর শায হওয়া (شذوذ); আর আপনি জেনেছেন যে তার স্বরূপ কী। সুতরাং এই স্থানটি আধিক্য বা স্বল্পতা দিয়ে প্রাধান্য (ترجيح) দেওয়ার ক্ষেত্র নয়, বরং এটি হলো দলিল উপস্থাপন, যুক্তি প্রদর্শন এবং অনুসৃত নিয়মাবলির (القواعد) যথাযথ প্রয়োগের ক্ষেত্র। অন্যথায়, আধিক্য কোনো সুপরিচিত দলিল বা প্রমাণের অন্তর্ভুক্ত নয়। এই কারণেই উসুলবিদগণ (الأصوليون) খবরে ওয়াহিদ (خبر الآحاد) সংক্রান্ত আলোচনায় বলেছেন: অধিকাংশের আমল যদি এর বিপরীতেও হয়—অর্থাৎ খবরে ওয়াহিদ (خبر الآحاد)-এর বিপরীতে—তবে তা সেই অনুযায়ী আমল করার আবশ্যকতাকে বাধাগ্রস্ত করে না।