0/0
(খণ্ড: ১) আল-আনোয়ারুল কাশিফাহ লিমা ফী কিতাবি আদওয়াউ আলাস সুন্নাহ - যিমনু আসারুল মুআল্লিমী (পৃষ্ঠা: -)
الأنوار الكاشفة لما في كتاب «أضواء على السنة» - ضمن «آثار المعلمي»   (عبد الرحمن المعلمي اليماني)

القسم: الفرق والردود


الكتاب: الأنوار الكاشفة لما في كتاب «أضواء على السنة»

[آثار عبد الرحمن بن يحيى المعلمي اليماني (12)]

المؤلف: عبد الرحمن بن يحيى المُعَلِّمي اليماني (1313 - 1386 هـ)

المحقق: علي بن محمد العمران

راجعه: محمد أجمل الإصلاحي - عادل بن عبد الشكور الزرقي

الناشر: دار عالم الفوائد للنشر والتوزيع

الطبعة: الأولى، 1434 هـ

قدمه للشاملة: مؤسسة «عطاءات العلم»، جزاهم الله خيرا

[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]

تاريخ النشر بالشاملة: 10 شوّال 1442

"আদওয়াউ আলাস সুন্নাহ" কিতাবের রহস্য উন্মোচনকারী আলোকবর্তিকা - "আসারুল মুআল্লিমি"-র অন্তর্ভুক্ত   (আবদুর রহমান আল-মুআল্লিমি আল-ইয়ামানি)

বিভাগ: ফেরকা ও খণ্ডনসমূহ


গ্রন্থ: "আদওয়াউ আলাস সুন্নাহ" কিতাবের রহস্য উন্মোচনকারী আলোকবর্তিকা

[আবদুর রহমান ইবনে ইয়াহইয়া আল-মুআল্লিমি আল-ইয়ামানির রচনাবলী (১২)]

লেখক: আবদুর রহমান ইবনে ইয়াহইয়া আল-মুআল্লিমি আল-ইয়ামানি (১৩১৩ - ১৩৮৬ হিজরি)

সম্পাদক ও গবেষক: আলি ইবনে মুহাম্মদ আল-উমরান

পর্যবেক্ষণকারী: মুহাম্মদ আজমল আল-ইসলাহি - আদিল ইবনে আবদুশ শাকুর আজ-জুরাকি

প্রকাশক: দারু আলমিল ফাওয়াঈদ পাবলিশিং অ্যান্ড ডিস্ট্রিবিউশন

সংস্করণ: প্রথম, ১৪৩৪ হিজরি

শামেলায় পেশ করেছে: ‘আতাআতুল ইলম’ ফাউন্ডেশন, আল্লাহ তাদের উত্তম প্রতিদান দিন

[গ্রন্থের পৃষ্ঠাসংখ্যা মুদ্রিত কপির অনুরূপ]

শামেলায় প্রকাশের তারিখ: ১০ শাওয়াল ১৪৪২

(খণ্ড: ১২) আল-আনোয়ারুল কাশিফাহ লিমা ফী কিতাবি আদওয়াউ আলাস সুন্নাহ - যিমনু আসারুল মুআল্লিমী (পৃষ্ঠা: ১)
الأنوار الكاشفة

لما في كتاب «أضواء على السنة»

من الخلل والتضليل والمجازفة

 

تأليف

الشيخ العلامة عبد الرحمن بن يحيى المعلمي اليماني

(1313 - 1386 هـ)

رحمه الله تعالى

 

تحقيق

علي بن محمد العمران
আল-আনওয়ারুল কাশিফাহ

'আদওয়া আলাস সুন্নাহ' কিতাবে বিদ্যমান

বিচ্যুতি, বিভ্রান্তি ও হঠকারিতা প্রসঙ্গে

 

রচনায়

শায়খ আল্লামা আবদুর রহমান বিন ইয়াহইয়া আল-মুআল্লিমি আল-ইয়ামানি

(১৩১৩ - ১৩৮৬ হিজরি)

আল্লাহ তাআলা তাঁর ওপর রহমত বর্ষণ করুন

 

তাহকীক

আলী বিন মুহাম্মদ আল-উমরান
(খণ্ড: ১২) আল-আনোয়ারুল কাশিফাহ লিমা ফী কিতাবি আদওয়াউ আলাস সুন্নাহ - যিমনু আসারুল মুআল্লিমী (পৃষ্ঠা: ৩)
راجع هذا الجزء

 

محمد أجمل الإصلاحي

عادل بن عبد الشكور الزرقي
এই অংশটি পর্যালোচনা করেছেন

 

মুহাম্মদ আজমল আল-ইসলাহি

আদিল ইবনে আবদুশ শাকুর আজ-জুরকি
(খণ্ড: ১২) আল-আনোয়ারুল কাশিফাহ লিমা ফী কিতাবি আদওয়াউ আলাস সুন্নাহ - যিমনু আসারুল মুআল্লিমী (পৃষ্ঠা: ৫)
بِسْمِ اللَّهِ الرَّحْمَنِ الرَّحِيمِ

 

‌‌مقدمة التحقيق

الحمد لله، والصلاة والسلام على نبينا محمد وعلى آله وصحبه أجمعين.

أما بعد، فهذا كتاب "الأنوار الكاشفة لما في كتاب "أضواء على السنة" من الزلل والتضليل والمجازفة" للشيخ العلامة عبد الرحمن المعلمي رحمه الله. وواضح من عنوانه أنه نقضٌ لكتاب "أضواء على السنة المحمّدية" لمحمود أبو رية.

وخلاصة كتاب أبي رية: توجيه جملة من الطعون والشبهات إلى السنة النبوية والعمل بها، وإلى علم الحديث وعلمائه، وإلى رواة الحديث وحَمَلته، بل وإلى طائفة من الصحابة والتابعين رضوان الله عليهم أجمعين! وخصّ منهم بالطعن راويةَ الإسلام وحافظَ سنة النبي عليه السلام: أبا هريرة رضي الله عنه، ولم يكتفِ بالطعن بل زاد إليه السفاهةَ والتهكّمَ والتجنّي(1).

--------------------------------------------

(1) قال الشيخ أحمد شاكر رحمه الله في حاشية "المسند": (6/ 522): "وقد لهج أعداء الإسلام في عصرنا وشغفوا بالطعن في أبي هريرة، وتشكيك الناس في صدقه وفي روايته، وما إلى ذلك أرادوا، وإنما أرادوا أن يصلوا - زعموا - إلى تشكيك الناس في الإسلام تبعًا لسادتهم المبشرين، وإن تظاهروا بالقصد إلى الاقتصار على الأخذ بالقرآن أو الأخذ بما صح من الحديث - في رأيهم - وما صح من الحديث في رأيهم إلا ما وافق أهواءهم، وما يتبعون من شعائر أوربا وشرائعها".

পরম করুণাময় অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে।

 

‌‌সম্পাদকের ভূমিকা

সকল প্রশংসা আল্লাহর জন্য, এবং সালাত ও সালাম বর্ষিত হোক আমাদের নবী মুহাম্মাদ এবং তাঁর পরিবার-পরিজন ও সকল সঙ্গীদের ওপর।

অতঃপর, এটি হলো শাইখ আল্লামা আব্দুর রহমান আল-মুয়াল্লিমী (রাহিমাহুল্লাহ) বিরচিত গ্রন্থ "আল-আনোয়ার আল-কাশিফা লিমা ফী কিতাবি 'আদওয়া আলাস সুন্নাহ' মিনায যালাল ওয়াত তাদলীল ওয়াল মুজাফাফাহ" (আদওয়া আলাস সুন্নাহ কিতাবে বিদ্যমান পদস্খলন, বিভ্রান্তি ও অতিশয়োক্তির মুখোশ উন্মোচনকারী আলোকবর্তিকা)। এর শিরোনাম থেকেই স্পষ্ট যে, এটি মাহমুদ আবু রায়্যার "আদওয়া আলাস সুন্নাহ আল-মুহাম্মাদিয়া" নামক কিতাবটির একটি খণ্ডন।

আবু রায়্যার কিতাবের সারসংক্ষেপ হলো: সুন্নাহে নববী ও তার ওপর আমল করা, হাদীস শাস্ত্র ও এর উলামায়ে কেরাম, হাদীসের বর্ণনাকারী ও বাহকগণ, এমনকি একদল সাহাবী ও তাবিঈর (আল্লাহ তাঁদের সকলের ওপর সন্তুষ্ট হোন) প্রতি একগুচ্ছ অপবাদ ও সংশয় ছুঁড়ে দেওয়া! আর বিশেষভাবে তিনি অপবাদের লক্ষ্যবস্তু বানিয়েছেন ইসলামের মহান বর্ণনাকারী এবং নবী (আলাইহিস সালাম)-এর সুন্নাহর হাফিয আবু হুরায়রা (রাদিয়াল্লাহু আনহু)-কে। তিনি কেবল অপবাদ দিয়েই ক্ষান্ত হননি, বরং এর সাথে মূর্খতা, উপহাস ও অন্যায় আচরণকেও যোগ করেছেন(১)।

--------------------------------------------

(১) শাইখ আহমাদ শাকির (রাহিমাহুল্লাহ) "মুসনাদ"-এর টীকায় (৬/ ৫২২) বলেছেন: "আমাদের যুগে ইসলামের শত্রুরা আবু হুরায়রা (রা.)-এর সমালোচনায় মুখর হয়েছে এবং তাঁর সততা ও বর্ণনার ব্যাপারে মানুষের মনে সন্দেহ সৃষ্টি করতে লিপ্ত হয়েছে। তারা মূলত এর মাধ্যমে—তাদের ধারণা মতে—তাদের মিশনারী প্রভুদের পদাঙ্ক অনুসরণ করে মানুষকে ইসলামের ব্যাপারে সন্দিহান করে তুলতে চায়। যদিও তারা বাহ্যিকভাবে দাবি করে যে তারা কেবল কুরআন গ্রহণ করবে অথবা কেবল তাদের দৃষ্টিতে যা সহীহ হাদীস তা-ই গ্রহণ করবে—অথচ তাদের দৃষ্টিতে সহীহ হাদীস কেবল তা-ই যা তাদের প্রবৃত্তির অনুকূলে এবং যা ইউরোপের রীতি-নীতি ও আইন-কানুনের অনুসারী।"

(খণ্ড: ১২) আল-আনোয়ারুল কাশিফাহ লিমা ফী কিতাবি আদওয়াউ আলাস সুন্নাহ - যিমনু আসারুল মুআল্লিমী (পৃষ্ঠা: ৬)
ولن أكشف سِرًّا إذا قلت: إن أبا رية لم يُضف جديدًا إلى البحث العلمي، ولا إلى أصل الشُّبَه والطعون التي يذكرها الطاعنون في السنة النبوية وحَمَلَتها، بل كان في حقيقة أمره مِن مستنقع المستشرقين وأضرابهم يمتح، وعن مائهم الآسن يصدر! ولولا ما مَهَدوه له لَما راح أبو ريّة ولا جاء!

= مع ذلك فقد امتاز كتابه بأمور فاق بها مَن تقدّمه من الطاعنين، يجمعها: "ضعف الوازع الديني والأخلاقي والعلمي"! وتفصيلها: السفاهة والتجنّي، والتهوّر والمجازفة. مقدّمًا تلك النقائص في ثوب أدبيّ جميل!

هذا هو جديد أبي رية في كتابه ــ وبئس ما جدّد ــ، فما كان غرضه منه وما هو الدافع لانتهاجه؟ أقول: أما السفاهة … وأخواتها فلِغَرَضِ أنه قد انتهى من إضعاف السنة وضعضعتها ــ زعم ــ فما بقي إلا التهكّم بها وبحَمَلتها؛ فيجرؤ من يقف على كتابه على نقد السنة مهما كانت قوّةُ ثبوتها. وأما الأسلوب الأدبي فلتغرير القارئ وصرفه عن ملاحظة سوء كتابه، فهو كمن يسقيك سمًّا في زجاجة فاخرة!

وقد عَلِم الناسُ ــ بحمد الله ــ منذ أن صدر كتاب أبي رية أن غرضه منه أمر واحد هو (الطعن في السنة النبوية وحَمَلتها)! وقد جهد في حجب هذه النتيجة المكشوفة تارة في المقدمة، وتارة في الخاتمة، وأخيرًا بأن كتب على غلاف كتابه: (دفاع عن الحديث)(1)! فما أغنته محاولاته تلك وما صدّقه أحد(2)؟

--------------------------------------------

(1) كتب ذلك في الطبعات اللاحقة، وكان قد كتب على لوح الطبعة الأولى: "دراسة"! فما صدّقه أحد في عبارته الأولى، فغيّرها، ولن يصدّقه أحد في الثانية.

(2) إلا الرافضة فقد صدقوه وأثنوا عليه ثناءً بالغًا وعلى كتابه! فهنيئًا له تصديق الكذوب!

আমি কোনো গোপন রহস্য ফাঁস করছি না যদি বলি যে, আবু রাইয়্যাহ বৈজ্ঞানিক গবেষণায় কোনো নতুনত্ব যোগ করেননি, এমনকি সুন্নাহ এবং তার বাহকদের বিরুদ্ধে আক্রমণকারীদের উত্থাপিত সংশয় ও আপত্তির মূলে নতুন কিছু দিতে পারেননি। বরং বাস্তব সত্য হলো, তিনি প্রাচ্যবিদ ও তাদের সমমনাদের পচা ডোবা থেকে রসদ সংগ্রহ করেছেন এবং তাদের দুর্গন্ধযুক্ত পানি থেকেই নির্গত হয়েছেন! তারা যদি তার জন্য পথ সুগম না করে দিত, তবে আবু রাইয়্যাহর আসা-যাওয়ার কোনো পথই থাকত না!

তা সত্ত্বেও, তার বইটি এমন কিছু বৈশিষ্ট্যে অনন্য হয়েছে যা তাকে পূর্ববর্তী আক্রমণকারীদের ছাড়িয়ে গেছে, আর যার মূলে রয়েছে: "ধর্মীয়, নৈতিক এবং বৈজ্ঞানিক চেতনার দুর্বলতা"! এর বিস্তারিত রূপ হলো: মূর্খতা, বিদ্বেষমূলক অপবাদ, হঠকারিতা এবং দুঃসাহসিকতা। তিনি এই ত্রুটিগুলোকেই একটি সুন্দর সাহিত্যিক আবরণে উপস্থাপন করেছেন!

এটিই আবু রাইয়্যাহর বইয়ের নতুনত্ব — আর কতই না নিকৃষ্ট এই নতুনত্ব — তবে এতে তার উদ্দেশ্য কী ছিল এবং এই পথ অবলম্বনের পেছনে তার প্রেরণা কী ছিল? আমি বলব: মূর্খতা এবং এর অনুরূপ বিষয়গুলো ব্যবহারের উদ্দেশ্য ছিল এই যে, তিনি যখন সুন্নাহকে দুর্বল ও ভিত্তিহীন করতে সক্ষম হয়েছেন বলে মনে করলেন — যা তার দাবি মাত্র — তখন সুন্নাহ এবং এর বাহকদের নিয়ে বিদ্রূপ করা ছাড়া আর কিছুই অবশিষ্ট থাকল না; ফলে তার বইটি যে পড়বে সে সুন্নাহর বিশুদ্ধতা যতই সুদৃঢ় হোক না কেন, তা নিয়ে সমালোচনা করার দুঃসাহস দেখাবে। আর সাহিত্যিক শৈলী ব্যবহারের কারণ হলো পাঠককে প্রলুব্ধ করা এবং তার বইয়ের মন্দ দিকগুলো থেকে দৃষ্টি সরিয়ে রাখা। তিনি যেন এক বিলাসবহুল বোতলে আপনাকে বিষ পান করাচ্ছেন!

আল্লাহর প্রশংসায় মানুষ আবু রাইয়্যাহর বইটি প্রকাশের পর থেকেই জেনে গেছে যে, তার উদ্দেশ্য কেবল একটিই, আর তা হলো (সুন্নাহ এবং তার বাহকদের ওপর আক্রমণ করা)! তিনি কখনো ভূমিকায়, আবার কখনো উপসংহারে এই স্পষ্ট উদ্দেশ্যটি গোপন করার আপ্রাণ চেষ্টা করেছেন। সবশেষে তিনি তার বইয়ের প্রচ্ছদে লিখেছেন: (হাদিসের প্রতিরক্ষা)(১)! তার এই প্রচেষ্টাগুলো কোনো কাজে আসেনি এবং কেউ তাকে বিশ্বাসও করেনি(২)?

--------------------------------------------

(১) পরবর্তী সংস্করণগুলোতে তিনি এটি লিখেছিলেন, অথচ প্রথম সংস্করণের প্রচ্ছদে লিখেছিলেন: "গবেষণা"! প্রথম শব্দ চয়নে কেউ তাকে বিশ্বাস করেনি বিধায় তিনি তা পরিবর্তন করেছেন, তবে দ্বিতীয়টিতেও কেউ তাকে বিশ্বাস করবে না।

(২) তবে রাফেজিরা তাকে বিশ্বাস করেছে এবং তার ও তার বইয়ের অত্যন্ত প্রশংসা করেছে! একজন চরম মিথ্যাবাদীর সমর্থন পাওয়ায় তাকে অভিনন্দন!

(খণ্ড: ১২) আল-আনোয়ারুল কাশিফাহ লিমা ফী কিতাবি আদওয়াউ আলাস সুন্নাহ - যিমনু আসারুল মুআল্লিমী (পৃষ্ঠা: ৭)
فَعلَ أبو رية تلك الشناعات إرضاء لرَغَبات مَن وَجَّه إليهم عملَه هذا؟ فقد قال في ختام مقدمته: "وإني لأتوجّه بعملي هذا … إلى المثقفين من المسلمين خاصة، وإلى المهتمين بالدراسات الدينية عامة"(1).

وانظر بمَ علل توجيهه إليهم قال: "ذلك بأن هؤلاء وهؤلاء الذين يعرفون قدرَه. واللهَ أدعو أن يجدوا فيه جميعًا ما يرضيهم ويرضي العلم والحق معهم". فالمستشرقون وأتباعهم هم فقط من سيَقْدُر كتاب أبي رية قدرَه … وهم فقط من يحرص أبو ريّة أن ترضيهم نتائجُ كتابه … ! ولن ترضى اليهودُ ولا النصارى عن أحدٍ حتى يتّبع مِلّتهم كما أخبر الله في كتابه(2).

ولئن غابت عنّا أمور عن أبي رية ودوافعه … فلن تغيب عنّا علاقاته الحميمة، وصِلاته المريبة بالرافضة، الذين وجدوا فيه مطيّة طيّعةً لخدمة مآربهم وأغراضهم؛ من الطعن في الصحابة نَقَلَة الشريعة؛ للتوصل إلى الطعن في الدين نفسه، كما سيأتي شرح ذلك في ترجمة أبي رية. وهو ما فَطَن له الشيخ المعلمي فأشار إليه بقوله: "وطائفة لا يرضاها ولكنه رأى أنّ في كلامه ما يعجبها فراح يتملّقها في مواضع؛ رجاء أن يروج لديها كتابه كما راج لديها كتاب فلان"(3).

--------------------------------------------

(1) علق الشيخ المعلمي على هذا بقوله: "يعني المستشرقين من اليهود والنصارى والملحدين". ولأجل أن هذا كان قصده اضطرّ لتغييره في الطبعات اللاحقة إلى "بالدراسات الإسلامية".

(2) سورة البقرة آية 120.

(3) "الأنوار الكاشفة" (ص 18).

أقول: لعل الشيخ يقصد بـ (فلان) طه حسين في كتابه "الفتنة الكبرى" فقد أساء الأدب إلى بعض الصحابة، وأنكر وجود عبد الله بن سبأ اليهودي. وله آراء أخرى ذكرها بعض الرافضة عنه ــ إن صدقوا ــ. انظر "مع رجال الفكر في القاهرة": (1/ 276 - 278) للرضوي.

আবু রাইয়্যাহ কি এই জঘন্য কাজগুলো তাদেরই কামনা পূরণের জন্য করেছেন যাদের প্রতি তিনি তার এই কর্মটি নিবেদন করেছেন? কেননা তিনি তার ভূমিকার শেষে বলেছেন: "আমি আমার এই কর্মটি বিশেষভাবে মুসলিম বুদ্ধিজীবীদের নিকট এবং সাধারণভাবে ধর্মতাত্ত্বিক গবেষণায় আগ্রহীদের নিকট নিবেদন করছি"(১)।

আর দেখুন কেন তিনি তাদের কাছে এটি নিবেদন করেছেন, তার কারণ হিসেবে তিনি বলেছেন: "তা এই কারণে যে, এরাই তার (বইটির) কদর বুঝবেন। আর আমি আল্লাহর নিকট দোয়া করি যেন তারা সকলেই এতে এমন কিছু পান যা তাদের সন্তুষ্ট করবে এবং সেই সাথে জ্ঞান ও সত্যকেও সন্তুষ্ট করবে।" সুতরাং কেবল প্রাচ্যবিদগণ এবং তাদের অনুসারীরাই আবু রাইয়্যাহর বইয়ের যথাযথ মূল্যায়ন করবে … এবং আবু রাইয়্যাহ কেবল তাদেরকেই তার বইয়ের ফলাফলের মাধ্যমে সন্তুষ্ট করতে আগ্রহী … ! আর ইহুদি ও নাসারারা কখনই কারও প্রতি সন্তুষ্ট হবে না যতক্ষণ না সে তাদের ধর্মের অনুসরণ করে, যেমনটি আল্লাহ তাঁর কিতাবে জানিয়েছেন(২)।

যদিও আবু রাইয়্যাহ এবং তার উদ্দেশ্য সম্পর্কে কিছু বিষয় আমাদের কাছে অস্পষ্ট থাকতে পারে … তবে রাফেজিদের সাথে তার অন্তরঙ্গ সম্পর্ক এবং সন্দেহজনক যোগাযোগ আমাদের কাছে অস্পষ্ট নয়, যারা তাকে তাদের হীন উদ্দেশ্য ও লক্ষ্য পূরণের জন্য একটি অনুগত বাহন হিসেবে পেয়েছে; যা শরিয়তের বাহক সাহাবায়ে কেরামকে আক্রমণ করার মাধ্যমে খোদ দ্বীনকে আক্রমণ করার পর্যায়ে পৌঁছেছে, যেমনটি আবু রাইয়্যাহর জীবনী আলোচনায় বিস্তারিত আসবে। এটি এমন এক বিষয় যা শায়খ আল-মুয়াল্লিমী বুঝতে পেরেছিলেন এবং সেদিকে ইঙ্গিত করে বলেছেন: "এবং এমন একটি দল যাকে তিনি পছন্দ করেন না, কিন্তু তিনি দেখলেন যে তার কথার মধ্যে এমন কিছু আছে যা তাদের মুগ্ধ করবে, তাই তিনি বিভিন্ন স্থানে তাদের তোষামোদ করতে শুরু করলেন; এই আশায় যে তার বইটি তাদের কাছে সমাদৃত হবে যেমন অমুকের বইটি তাদের কাছে সমাদৃত হয়েছে"(৩)।

--------------------------------------------

(১) শায়খ আল-মুয়াল্লিমী এর ওপর মন্তব্য করে বলেছেন: "অর্থাৎ ইহুদি, নাসারা এবং নাস্তিক প্রাচ্যবিদগণ।" যেহেতু এটাই ছিল তার উদ্দেশ্য, তাই পরবর্তী সংস্করণগুলোতে তিনি এটি পরিবর্তন করে "ইসলামি গবেষণায়" (আগ্রহী) করতে বাধ্য হন।

(২) সূরা আল-বাকারাহ, আয়াত ১২০।

(৩) "আল-আনওয়ার আল-কাশিফাহ" (পৃ. ১৮)।

আমি (গ্রন্থকার) বলছি: সম্ভবত শায়খ 'অমুক' বলতে তাহার হোসেনকে তার 'আল-ফিতনাতুল কুবরা' বইয়ের জন্য বুঝিয়েছেন, কারণ তিনি কিছু সাহাবীর প্রতি বেয়াদবি করেছেন এবং ইহুদি আবদুল্লাহ ইবনে সাবার অস্তিত্ব অস্বীকার করেছেন। তার আরও কিছু মত রয়েছে যা কিছু রাফেজি তার বরাতে উল্লেখ করেছে —যদি তারা সত্য বলে থাকে—। দেখুন রাজাভী প্রণীত "মা'আ রিজালিল ফিকর ফিল কাহিরা": (১/ ২৭৬ - ২৭৮)।

(খণ্ড: ১২) আল-আনোয়ারুল কাশিফাহ লিমা ফী কিতাবি আদওয়াউ আলাস সুন্নাহ - যিমনু আসারুল মুআল্লিমী (পৃষ্ঠা: ৮)
قلت: وقول المؤلف: "لا يرضاها" إحسان للظن بأبي رية، وقد ثبت أنه يرضاها وترضاه، وبينه وبين شيوخها صلات حميمة وعلائق وشيجة ــ كما سيأتي شرحه ــ.

وليس وصف أبي ريّة بكونه تابعًا ذليلًا لهؤلاء وأولئك من الطاعنين في السنة= تجنّيًا عليه أو تقويلًا له ما لم يقله، بل هو الذي ألْمَحَ إلى ذلك في أول كتابه كما مرّ(1)، وصرّح به في أثنائه، فأحال لاستكمال مباحثه إلى كتب اليهوديّ جولد زيهر وأشباهه(2)! وقد حاول أن يغطّي تلك العلاقة، ويلبس ثوبَ النصيحة والغيرة على الحديث النبوي، لكن هيهات! فها هو قد أفصح عما كان يخفيه، وكل إناء ينضح بالذي فيه، وصَدَق المؤلف إذ ضرب لصنيعه مثلًا: "صَدَقني سِنَّ بَكْرِه"(3).

كَتَب أبو رية كتابه هذا على حين فترةٍ من علماء الحديث ونُقّاده، وهجمة مَهُولة على علوم الدين وثوابت الشريعة(4)، وما علم أن في الزوايا

--------------------------------------------

(1) (ص 7)، كما في مقدمة الطبعة الأولى، واضطر لتغيير العبارة في الطبعات اللاحقة، لتضليل الناس وتنفيق كتابه، لكن هيهات!

(2) انظر ص 193 من كتابنا هذا.

(3) الموضع السالف.

(4) فكتَبَ مصطفى عبد الرّازق "الإسلام وأصول الحكم" في نفي وجوب التحاكم إلى الشريعة، وكتب قاسم أمين "المرأة الجديدة" و"تحرير المرأة" في تشريع التبرّج والسفور، وكتب طه حسين "في الشعر الجاهلي" وإنكار القصص القرآني … وكتب أبو رية كتابه هذا وكتابه "شيخ المضيرة … " في الطعن في السنة وأهلها.

আমি বলছি: লেখকের কথা: "তিনি এতে সন্তুষ্ট নন" - এটি আবু রাইয়্যার প্রতি সুধারণা পোষণ মাত্র। অথচ এটি প্রমাণিত যে তিনি এতে সন্তুষ্ট এবং এটিও তার প্রতি সন্তুষ্ট। তার এবং এই মতবাদের শাইখদের মধ্যে গভীর বন্ধুত্ব ও সুদৃঢ় বন্ধন বিদ্যমান ছিল — যেমনটি সামনে ব্যাখ্যা করা হবে —।

সুন্নাহর ওপর আক্রমণকারী এদের এবং তাদের এক হীন অনুসারী হিসেবে আবু রাইয়্যার বিবরণ দেওয়াটা তার ওপর কোনো অপবাদ বা তার নামে এমন কিছু বলা নয় যা সে বলেনি; বরং সে নিজেই তার বইয়ের শুরুতে এর প্রতি ইঙ্গিত করেছে যেমনটি ইতিপূর্বে অতিক্রান্ত হয়েছে(১), এবং বইয়ের অভ্যন্তরে তা স্পষ্টভাবে ব্যক্ত করেছে। ফলে সে তার গবেষণার পূর্ণতার জন্য ইহুদি গোল্ডজিহার ও তার সদৃশ ব্যক্তিদের বইয়ের উদ্ধৃতি প্রদান করেছে(২)! সে এই সম্পর্ককে গোপন করার চেষ্টা করেছে এবং নববী হাদিসের প্রতি হিতাকাঙ্ক্ষা ও সংবেদনশীলতার পোশাক পরিধান করতে চেয়েছে, কিন্তু হায় আফসোস! এই তো সে যা গোপন করছিল তা প্রকাশ করে দিয়েছে, আর প্রত্যেক পাত্র থেকে তাই চুইয়ে পড়ে যা তাতে থাকে। লেখক যথার্থই বলেছেন যখন তিনি তার কাজের জন্য একটি প্রবাদ দিয়েছেন: "সে তার উটের বাচ্চার বয়স সম্পর্কে আমাকে সত্য বলেছে"(৩)।

আবু রাইয়্যা তার এই বইটি এমন এক সময়ে লিখেছেন যখন হাদিস বিশারদ ও সমালোচকগণের অভাব ছিল এবং দ্বীনি ইলম ও শরীয়তের মৌলিক বিষয়াবলির ওপর এক ভয়াবহ আক্রমণ চলছিল(৪), আর সে জানত না যে লোকচক্ষুর অন্তরালে...

--------------------------------------------

(১) (পৃষ্ঠা ৭), যেমনটি প্রথম সংস্করণের ভূমিকায় রয়েছে। সে পরবর্তী সংস্করণগুলোতে বাক্যটি পরিবর্তন করতে বাধ্য হয়েছে মানুষকে বিভ্রান্ত করতে এবং তার বইয়ের প্রচার বাড়াতে, কিন্তু হায় আফসোস!

(২) আমাদের এই বইয়ের ১৯৩ পৃষ্ঠা দেখুন।

(৩) পূর্ববর্তী স্থান।

(৪) ফলে মোস্তফা আবদুর রাজ্জাক শরীয়তের বিধান অনুযায়ী বিচারকার্য পরিচালনার আবশ্যকতা অস্বীকার করে "আল-ইসলাম ওয়া উসুলুল হুকুম" লিখেছিলেন, কাসেম আমিন বেপর্দা ও নগ্নতা প্রচারের উদ্দেশ্যে "আল-মারআতুল জাদিদাহ" এবং "তাহরিরুল মারআ" লিখেছিলেন, ত্বহা হুসাইন "ফিশ-শি’রিল জাহিলি" লিখে কুরআনের ঘটনাবলিকে অস্বীকার করেছিলেন... এবং আবু রাইয়্যা সুন্নাহ ও সুন্নাহর অনুসারীদের নিন্দা করতে তার এই বই এবং তার অন্য বই "শাইখুল মুদিরা..." লিখেছিলেন।

(খণ্ড: ১২) আল-আনোয়ারুল কাশিফাহ লিমা ফী কিতাবি আদওয়াউ আলাস সুন্নাহ - যিমনু আসারুল মুআল্লিমী (পৃষ্ঠা: ৯)
خبايا، وأن الله تعالى قد أبقى للسنة والحديث خُدّامًا وحُرّاسًا، فقد نَهَض للردّ على أبي رية في كتابه هذا جمعٌ من أهل العلم بُعيد صدور كتابه بقليل، فكتب الشيخ محمد محمد أبو شهبة مقالات في "مجلة الأزهر"، ثم أصدر كتابًا سماه: "دفاع عن السنة والردّ على شبهات المستشرقين والكُتَّاب المعاصرين"، وكتب الشيخ محمد عبد الرزاق حمزة كتابًا سماه: "ظلمات أبي رية أمام أضواء السنة المحمدية"، وكتب الدكتور مصطفى السباعي ردًّا ضمن كتابه "السنة النبوية ومكانتها في التشريع الإسلامي". وكتب الشيخ العلامة عبد الرحمن المعلمي اليماني "الأنوار الكاشفة … " فكان ردّه واسطة العقد، ونهاية التحقيق.

وقد طبع كتابنا هذا "الأنوار الكاشفة … " في حياة مؤلِّفه سنة 1378 هـ في المطبعة السلفية ومكتبتها لمحبّ الدين الخطيب، وأعيد تصويره مرارًا. وها هو اليوم يظهر ضمن هذا المشروع المبارك في حلة قشيبة تليق به وبمكانة مؤلفه.

وقد قدمت بين يدي الكتاب عدة مباحث تتعلق بالتعريف بالكتاب وهي:

- اسم الكتاب.

- تاريخ تأليفه.

- سبب تأليفه.

- أهم الموضوعات التي ناقشها الكتاب.

- منهج المؤلّف وطريقته في المناقشة والتقرير.
রহস্যসমূহ, এবং মহান আল্লাহ সুন্নাহ ও হাদিসের জন্য খাদেম ও রক্ষক অবশিষ্ট রেখেছেন। তাই আবু রাইয়্যাহর এই কিতাবের জবাব দেওয়ার জন্য একদল আলেম তার কিতাব প্রকাশের অল্প সময় পরেই এগিয়ে এসেছেন। শায়খ মুহাম্মাদ মুহাম্মাদ আবু শাহবাহ 'মাজাল্লাতুল আজহার'-এ বেশ কিছু প্রবন্ধ লেখেন, অতঃপর তিনি 'দিফাউ আনিল সুন্নাহ ওয়ার-রাদ্দু আলা শুবুহাতিল মুস্তাশরিকিন ওয়াল কুত্তাবিল মুয়াসিরিন' (সুন্নাহর প্রতিরক্ষা এবং প্রাচ্যবিদ ও সমসাময়িক লেখকদের সংশয় নিরসন) নামক একটি কিতাব প্রকাশ করেন। শায়খ মুহাম্মাদ আব্দুর রাজ্জাক হামজাহ 'জুলুমাতু আবি রাইয়্যাহ আমামা আদওয়াইস সুন্নাতিল মুহাম্মাদিয়্যাহ' (মুহাম্মাদি সুন্নাহর আলোর সামনে আবু রাইয়্যাহর অন্ধকারসমূহ) নামক একটি কিতাব লেখেন। ডক্টর মুস্তফা আস-সিবাঈ তার 'আস-সুন্নাতুন নাবাবিয়্যাহ ওয়া মাকানাতুহা ফিত-তাশরিইল ইসলামি' (সুন্নাহ এবং ইসলামি শরিয়তে তার অবস্থান) কিতাবে একটি উত্তর অন্তর্ভুক্ত করেন। আর আল্লামা শায়খ আব্দুর রহমান আল-মুয়াল্লিমি আল-ইয়ামানি 'আল-আনওয়ারুল কাশিফাহ …' রচনা করেন; তাঁর এই জবাবটিই ছিল এই শাস্ত্রের মূল অলঙ্কার এবং গবেষণার চূড়ান্ত রূপ।

আমাদের এই 'আল-আনওয়ারুল কাশিফাহ …' কিতাবটি লেখকের জীবদ্দশায় ১৩৭৮ হিজরিতে মুহিব্বুদ্দীন আল-খাতিব-এর আস-সালাফিয়্যাহ প্রেস ও লাইব্রেরি থেকে মুদ্রিত হয়েছে এবং বারবার এটি পুনর্মুদ্রিত হয়েছে। আর আজ এই বরকতময় প্রকল্পের অধীনে এটি তার এবং তার লেখকের মর্যাদার উপযোগী এক নতুন ও সুন্দর অবয়বে প্রকাশিত হচ্ছে।

আমি কিতাবটির প্রারম্ভে কিতাবটির পরিচিতি সংক্রান্ত বেশ কিছু আলোচনা পেশ করেছি, সেগুলো হলো:

- কিতাবটির নাম।

- এটি রচনার ইতিহাস।

- এটি রচনার কারণ।

- কিতাবটিতে আলোচিত সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়সমূহ।

- কিতাবটিতে লেখকের মানহাজ এবং আলোচনা ও সাব্যস্তকরণের পদ্ধতি।
(খণ্ড: ১২) আল-আনোয়ারুল কাশিফাহ লিমা ফী কিতাবি আদওয়াউ আলাস সুন্নাহ - যিমনু আসারুল মুআল্লিমী (পৃষ্ঠা: ১০)
- ترجمة محمود أبو رية (المردود عليه).

- طبعات الكتاب.

- مخطوطات الكتاب.

- منهج التحقيق.

ثم ختمناه بفهارس كاشفة متنوّعة، والحمد لله رب العالمين.

وكتب

 

aliomran@hotmail.com

a-alemran تويتر
- মাহমুদ আবু রাইয়্যাহ-এর জীবনী (যার খণ্ডন করা হয়েছে)।

- গ্রন্থটির সংস্করণসমূহ।

- গ্রন্থটির পাণ্ডুলিপিসমূহ।

- সম্পাদনা পদ্ধতি।

অতঃপর আমরা একে বিভিন্ন তথ্যবহুল নির্ঘণ্টের মাধ্যমে সমাপ্ত করেছি, এবং সমস্ত প্রশংসা বিশ্বজগতের প্রতিপালক আল্লাহর জন্য।

লিখেছেন

 

aliomran@hotmail.com

a-alemran টুইটার
(খণ্ড: ১২) আল-আনোয়ারুল কাশিফাহ লিমা ফী কিতাবি আদওয়াউ আলাস সুন্নাহ - যিমনু আসারুল মুআল্লিমী (পৃষ্ঠা: ১১)
التعريف بالكتاب

 

*‌‌ اسم الكتاب:

سمى المؤلف كتابه: "الأنوار الكاشفة لما في كتاب (أضواء على السنة) من الزلل والتضليل والمجازفة". لم أقف على هذه التسمية بخط المؤلف في المسوّدة التي وقفت عليها، وغالب الظن أن يكون كتبه على ورقة العنوان في المبيّضة التي طبع الكتاب عنها، وقد طبع في حياته، فيبعد جدًّا أن يسمّى بغير ما سمّاه به مؤلفه. وللشيخ عادة في التسميات المسجوعة، مثل "التنكيل بما في تأنيب الكوثري من الأباطيل"، و "إرشاد العامِه إلى الكذب وأحكامه" و"الاستبصار في نقد الأخبار" وغير ذلك.

 

*‌‌ تاريخ تأليفه

نصّ المؤلّف على تاريخ تأليف كتابه في آخره قال: "انتهى … جمع هذا الكتاب في أواخر شهر جمادى الآخرة سنة 1378".

أما بداية جمعه له وكم استغرق من الوقت؛ فيمكن أن نستدل عليه بالآتي: انتهى أبو رية من تأليف كتابه في الخامس من جمادى الأولى سنة 1377 هـ، كما نص عليه في آخر مقدمته (ص 15 - ط الأولى، 10 - ط السادسة). فيكون بين انتهاء أبي رية من تأليف كتابه وانتهاء الشيخ من ردّه سنة وشهر. ولو حسبنا المدة التي استغرقتها طباعةُ كتاب أبي رية، ثم وصوله من مصر إلى مكة، ثم تأليف الشيخ محمد عبد الرزاق حمزة لجملة من التعليقات والملاحظات على كتاب أبي رية واطلاع الشيخ عليها بغرض التقديم لها (انظر المبحث الآتي)، ومن ثَمّ وقوفه على كتاب أبي رية. بعد
গ্রন্থ পরিচিতি

 

*‌‌ গ্রন্থের নাম:

লেখক তাঁর গ্রন্থের নাম রেখেছেন: "সুন্নাহর ওপর আলোকপাত নামক বইটিতে বিদ্যমান বিচ্যুতি, বিভ্রান্তি ও হঠকারিতার স্বরূপ উন্মোচনকারী উজ্জ্বল আলোকমালা"। আমি যে খসড়া পাণ্ডুলিপিটি দেখেছি তাতে লেখকের নিজ হাতে এই নামকরণটি পাইনি। প্রবল ধারণা এই যে, তিনি এটি সেই চূড়ান্ত পাণ্ডুলিপির শিরোনাম পাতায় লিখেছিলেন যা থেকে বইটি মুদ্রিত হয়েছে। আর বইটি তাঁর জীবদ্দশাতেই মুদ্রিত হয়েছে, তাই লেখক যে নাম দিয়েছেন তার পরিবর্তে অন্য কোনো নামে বইটির নামকরণ হওয়া অত্যন্ত সুদূরপরাহত। আর ছন্দোবদ্ধ নাম রাখায় শাইখের একটি বিশেষ অভ্যাস ছিল, যেমন: "কাওসারীর ভর্ৎসনামূলক লেখায় বিদ্যমান বাতিল মতবাদের দাঁতভাঙা জবাব", এবং "মিথ্যা ও এর বিধান সম্পর্কে বিভ্রান্তদের পথপ্রদর্শন" ও "সংবাদ পর্যালোচনায় অন্তর্দৃষ্টি" ইত্যাদি।

 

*‌‌ রচনার ইতিহাস

লেখক বইটির শেষে এর রচনার তারিখ সুনির্দিষ্টভাবে উল্লেখ করেছেন। তিনি বলেছেন: "সমাপ্ত হলো ... ১৩৭৮ হিজরীর জুমাদাল আখিরাহ মাসের শেষ দিকে এই কিতাবটি সংকলন সম্পন্ন হয়েছে।"

এর সংকলন শুরুর সময় এবং এতে ঠিক কতটুকু সময় লেগেছে, তা আমরা নিচের তথ্যের মাধ্যমে অনুমান করতে পারি: আবু রাইয়্যাহ তাঁর কিতাবটির রচনা সম্পন্ন করেছিলেন ১৩৭৭ হিজরীর ৫ই জুমাদাল উলা তারিখে, যেমনটি তিনি তাঁর ভূমিকার শেষে উল্লেখ করেছেন (পৃষ্ঠা ১৫ - ১ম সংস্করণ, ১০ - ৬ষ্ঠ সংস্করণ)। সুতরাং আবু রাইয়্যাহর কিতাব লেখা শেষ হওয়া এবং শাইখের পক্ষ থেকে এর জবাব প্রদান সম্পন্ন হওয়ার মধ্যবর্তী সময় হলো এক বছর এক মাস। যদি আমরা আবু রাইয়্যাহর কিতাবটি মুদ্রণে ব্যয় হওয়া সময়, এরপর মিশর থেকে মক্কায় এর পৌঁছানো, অতঃপর শাইখ মুহাম্মদ আব্দুর রাজ্জাক হামযাহর আবু রাইয়্যাহর কিতাবের ওপর বেশ কিছু টীকা ও মন্তব্য রচনা করা এবং সেগুলোর ওপর ভূমিকা লেখার উদ্দেশ্যে শাইখের সেগুলো পাঠ করা (পরবর্তী পরিচ্ছেদ দ্রষ্টব্য) এবং এর মাধ্যমেই আবু রাইয়্যাহর কিতাবের ওপর তাঁর দৃষ্টি পড়ার সময়টুকু হিসাব করি, তবে দেখা যায়... [পরবর্তী অংশ]
(খণ্ড: ১২) আল-আনোয়ারুল কাশিফাহ লিমা ফী কিতাবি আদওয়াউ আলাস সুন্নাহ - যিমনু আসারুল মুআল্লিমী (পৃষ্ঠা: ১২)
ذلك شَرَع الشيخُ في تأليف كتابه. فلا أظنّ الشيخ قد شرع في كتابه إلا بعد مضيّ بضعة أشهر على طباعة كتاب أبي رية، فعليه يكون الشيخ قد مكث في تأليفه نحو ثمانية أشهر أو أقل.

وهو وقت قياسيّ إذا ما اعتبرنا قيمة الكتاب العلمية وتحرير مسائله، وتتبّع أبي رية في جميع ما أورده من نقول وقضايا، والرجوع لجميع مصادره، مع عدم توفّر بعضها، وكتابة مسوّدته ثم تبييضها. مع اشتغال الشيخ بأعمال علميّة أخرى، وعمله الرسمي في مكتبة الحرم المكي الشريف.

 

*‌‌ سبب تأليفه:

أبان المؤلف عن سبب تأليف كتابه في إحدى تعاليقه المخطوطة المدرجة تحت عنوان "الأنوار الكاشفة": (الدفتر الثالث ص 1) بقوله: " … فإن فضيلة أخي العلامة محمد عبد الرزاق حمزة كتب ــ وهو على فراش المرض عافاه الله ــ "مطالعات وملاحظات على كتاب ألّفه الأستاذ محمود أبو ريّة وسماه "أضواء على السنة المحمدية".

فأرسل إليّ حضرة المحسن الكريم صاحب الفضيلة الشيخ محمد نصيف تلك الملاحظات، وتقدَّم إليَّ بأن أكتب كلمة تكون بمثابة مقدّمة، فاحتجتُ مع الاطلاع على الملاحظات أن أطالع كتاب أبي رية، فتبيّن لي أنّ استيفاء الكلام له وعليه يستدعي تأليفًا مستقلًّا، عسى أن يتيسّر لي فيما بعد .. ". وذكر قريبًا منه في الدفتر الرابع من المسوّدة. ثم كتب المؤلف في تلك الورقات ملاحظات على كتاب أبي رية.

ثم لمّا عَزَم على تأليف كتابه هذا كان الشيخ محمد عبد الرزاق حمزة رحمه الله قد زاد في كتابه وتوسّع فيه، فلم يعُد مجرّد "مطالعات وملاحظات"
তাই শায়খ তাঁর কিতাবটি রচনা শুরু করেন। আমার মনে হয় না যে, আবু রাইয়্যার কিতাবটি মুদ্রণের কয়েক মাস অতিবাহিত হওয়ার আগে শায়খ তাঁর কিতাবটি শুরু করেছিলেন; ফলে এটি রচনায় শায়খ প্রায় আট মাস বা তার কম সময় ব্যয় করেছিলেন।

কিতাবটির ইলমি মান ও এর মাসআলাসমূহের সূক্ষ্ম বিশ্লেষণ, আবু রাইয়্যার বর্ণিত সকল উদ্ধৃতি ও বিষয়ের চুলচেরা অনুসন্ধান এবং তাঁর সমস্ত উৎসগুলোর প্রতি প্রত্যাবর্তন (যার কিছু দুষ্প্রাপ্য ছিল) এবং খসড়া লিখে তা চূড়ান্ত পাণ্ডুলিপিতে রূপান্তরের বিষয়গুলো বিবেচনা করলে এটি একটি রেকর্ড সময়। এর পাশাপাশি শায়খ অন্যান্য ইলমি কাজে ব্যস্ত ছিলেন এবং মক্কার মসজিদে হারামের লাইব্রেরিতে দাপ্তরিক দায়িত্ব পালন করছিলেন।

 

*‌‌ রচনার কারণ:

লেখক তাঁর কিতাবটি রচনার কারণ বর্ণনা করেছেন "আল-আনওয়ারুল কাশিফাহ" শিরোনামের অধীনে তাঁর একটি পাণ্ডুলিপিবদ্ধ টীকায়: (তৃতীয় খাতা, পৃ. ১)। তিনি বলেন: " … নিশ্চয়ই আমার শ্রদ্ধেয় ভাই আল্লামা মুহাম্মাদ আবদুর রাজ্জাক হামজা—আল্লাহ তাঁকে সুস্থতা দান করুন, তিনি তখন রোগশয্যায় ছিলেন—উস্তাদ মাহমুদ আবু রাইয়্যা রচিত 'আদওয়া আলাস সুন্নাহ আল-মুহাম্মাদিয়্যাহ' নামক কিতাবটির ওপর 'মুতালাআত ওয়া মুলাহাজাত' (পর্যবেক্ষণ ও মন্তব্য) লিখেছিলেন।

অতঃপর পরম শ্রদ্ধেয় দানবীর শায়খ মুহাম্মাদ নাসিফ সেই মন্তব্যগুলো আমার নিকট পাঠান এবং আমাকে একটি ভূমিকা লিখে দেওয়ার অনুরোধ করেন। সেই মন্তব্যগুলো দেখার সাথে সাথে আবু রাইয়্যার কিতাবটিও পড়ার প্রয়োজন আমি অনুভব করি। তখন আমার নিকট স্পষ্ট হয় যে, এর স্বপক্ষে ও বিপক্ষে পূর্ণাঙ্গ আলোচনার জন্য একটি স্বতন্ত্র কিতাব রচনা করা প্রয়োজন, সম্ভবত পরবর্তীতে আমার জন্য তা সহজ হবে..."। পাণ্ডুলিপির চতুর্থ খাতায়ও তিনি অনুরূপ কথা উল্লেখ করেছেন। অতঃপর লেখক সেই কাগজগুলোতে আবু রাইয়্যার কিতাবের ওপর পর্যবেক্ষণসমূহ লিপিবদ্ধ করেন।

অতঃপর যখন তিনি এই কিতাবটি রচনার সংকল্প করেন, ততদিনে শায়খ মুহাম্মাদ আবদুর রাজ্জাক হামজা (রহিমাহুল্লাহ) তাঁর কিতাবটিকে আরও দীর্ঘ ও বিস্তৃত করেছিলেন, ফলে তা আর কেবল 'পর্যবেক্ষণ ও মন্তব্য' এর মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকেনি।
(খণ্ড: ১২) আল-আনোয়ারুল কাশিফাহ লিমা ফী কিতাবি আদওয়াউ আলাস সুন্নাহ - যিমনু আসারুল মুআল্লিমী (পৃষ্ঠা: ১৩)
لكنه لم يكمُل. فذكر الشيخ المعلمي في صدر كتابه أنه استفاد منه، ووصفه في المقدّمة بكونه "ردًّا مبسوطًا لم يكمل حتى الآن". ومع ذلك فقد رأى المصنف أنه ينبغي له تأليف كتاب مفرد في الردّ، قال: "ورأيتُ من الحقّ عليَّ أن أضع رسالةً أسوقُ فيها القضايا التي ذكرها أبو رية، وأعقِّب كلّ قضية ببيان الحقّ فيها، متحرِّيًا إن شاء الله تعالى الحقّ، وأسأل الله التوفيق والتسديد … "(1).

 

*‌‌ منهج المؤلّف وطريقته في المناقشة والتقرير:

يمكن تلخيص معالم منهج المؤلف في هذا الكتاب في النقاط الآتية:

 

‌‌1 - التصدير والمقدمة: كتب المؤلف تصديرًا في صفحة واحدة؛ أبان فيه عن تواضعه المعهود، وأنه كتب كتابه على عَجَل، وذَكَر مَن سبقه إلى الردّ وأنه استفاد منه، ومَن استحَثّه لإكمال الكتاب، ومَن أمدَّه ببعض المراجع أو مراجعة بعض النقول. ثم مقدمة قصيرة بين فيها وقوع كتاب أبي رية إليه، وعَلِمْنا في مبحث "سبب التأليف" كيف وقع إليه، ثم ذكر خلاصة كتاب أبي رية وأنه "تكميل للمطاعن في السنة"، وذكر كتاب الشيخ محمد عبد الرزاق حمزة بما سبق ذكره في سبب التأليف، وأنه من الحق عليه أن أن يفرد في الرد على أبي رية كتابًا يتعقّب قضاياه ببيان الحق فيها …

‌‌2 - الترتيب: جرى المؤلف في نقده للكتاب على ترتيب الكتاب المنقود وفصلًا فصلًا وبحثًا بحثًا من أول الكتاب إلى آخره، اللهم إلا في موضوعات قليلة، مثل عدالة الصحابة، فقد أخّر الكلامَ عليه مستوفى إلى آخر الكتاب (ص 365) حيث ذكر أبو رية فصلًا خاصًّا بذلك، فأخّره الشيخ

--------------------------------------------

(1) "الأنوار الكاشفة" (ص 5).

কিন্তু এটি পূর্ণতা পায়নি। শায়খ মুয়াল্লিমী তাঁর কিতাবের শুরুতে উল্লেখ করেছেন যে তিনি এটি থেকে উপকৃত হয়েছেন এবং ভূমিকার মধ্যে একে "একটি বিস্তারিত খণ্ডন যা এখন পর্যন্ত অসম্পূর্ণ" হিসেবে বর্ণনা করেছেন। তা সত্ত্বেও লেখক মনে করেছেন যে খণ্ডনমূলক একটি স্বতন্ত্র কিতাব রচনা করা তাঁর জন্য উচিত। তিনি বলেছেন: "আমি নিজের ওপর এটি কর্তব্য মনে করেছি যে আমি একটি রিসালাহ রচনা করব যেখানে আবু রাইয়্যাহ যেসব বিষয় উল্লেখ করেছেন তা তুলে ধরব এবং প্রতিটি বিষয়ের পরে ইনশাআল্লাহ তাআলা সত্য অন্বেষণের মাধ্যমে সত্যের বর্ণনা প্রদান করব। আমি আল্লাহর কাছে তাওফীক ও সঠিক পথে অটল থাকার প্রার্থনা করছি … "(১).

 

*‌‌ লেখকের মানহাজ এবং আলোচনা ও বর্ণনার পদ্ধতি:

এই কিতাবে লেখকের মানহাজের বৈশিষ্ট্যসমূহ নিচের পয়েন্টগুলোতে সংক্ষেপে তুলে ধরা যেতে পারে:

 

‌‌১ - সম্পাদকীয় এবং ভূমিকা: লেখক এক পৃষ্ঠার একটি সম্পাদকীয় লিখেছেন; যাতে তিনি তাঁর চিরচেনা বিনয় প্রকাশ করেছেন এবং এটি যে তিনি তাড়াহুড়ো করে লিখেছেন তাও উল্লেখ করেছেন। তাঁর পূর্বে যারা খণ্ডনমূলক কাজ করেছেন তাদের কথা এবং তিনি যে তাঁদের থেকে উপকৃত হয়েছেন তাও উল্লেখ করেছেন। এছাড়া কে তাঁকে কিতাবটি পূর্ণ করতে উৎসাহিত করেছেন এবং কে তাঁকে কিছু তথ্যসূত্র সরবরাহ করে বা কিছু উদ্ধৃতি পর্যালোচনায় সহায়তা করেছেন তাও জানিয়েছেন। এরপর একটি সংক্ষিপ্ত ভূমিকা রয়েছে যেখানে আবু রাইয়্যাহর কিতাবটি তাঁর হাতে আসার ঘটনা বর্ণনা করেছেন। "রচনার কারণ" শীর্ষক পরিচ্ছেদে আমরা জেনেছি কীভাবে এটি তাঁর কাছে পৌঁছাল। এরপর তিনি আবু রাইয়্যাহর কিতাবের সারসংক্ষেপ উল্লেখ করেছেন এবং বলেছেন যে এটি "সুন্নাহর বিরুদ্ধে অপবাদের পূর্ণতাস্বরূপ"। শায়খ মুহাম্মদ আবদুর রাজ্জাক হামজার কিতাবের কথাও রচনার কারণ বর্ণনায় যা আগে আলোচিত হয়েছে সে অনুযায়ী উল্লেখ করেছেন। এবং তিনি নিজের ওপর এটি কর্তব্য মনে করেছেন যে আবু রাইয়্যাহর খণ্ডনে তিনি একটি স্বতন্ত্র কিতাব রচনা করবেন যেখানে তাঁর উত্থাপিত বিষয়গুলো ধারাবাহিকভাবে খণ্ডন করে সত্য উন্মোচন করবেন …

‌‌২ - বিন্যাস: লেখক কিতাবটি সমালোচনার ক্ষেত্রে মূল কিতাবটির বিন্যাসই অনুসরণ করেছেন এবং কিতাবের শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত প্রতিটি অধ্যায় ও প্রতিটি বিষয় ধারাবাহিকভাবে আলোচনা করেছেন। তবে খুব সামান্য কিছু বিষয়ের ক্ষেত্রে ব্যতিক্রম ঘটেছে, যেমন সাহাবীগণের ন্যায়পরায়ণতা (আদালাত)। এ বিষয়ে তিনি পূর্ণাঙ্গ আলোচনা কিতাবের শেষে (পৃষ্ঠা ৩৬৫) নিয়ে গেছেন, যেহেতু আবু রাইয়্যাহ সেখানে এ বিষয়ে একটি বিশেষ অধ্যায় যুক্ত করেছিলেন, তাই শায়খও তা সেখানে পিছিয়ে নিয়েছেন।

--------------------------------------------

(১) "আল-আনওয়ারুল কাশিফাহ" (পৃ. ৫)।

(খণ্ড: ১২) আল-আনোয়ারুল কাশিফাহ লিমা ফী কিতাবি আদওয়াউ আলাস সুন্নাহ - যিমনু আসারুল মুআল্লিমী (পৃষ্ঠা: ১৪)
إلى مكانه ورجع ينقل وينقد ما ذكره في أول الكتاب، وكذلك فَعَل في مواضع أخرى.

 

‌‌3 - طريقته: ينقل كلام أبي رية بحروفه بذكر رقم الصفحة من الطبعة الأولى لكتاب أبي رية، ثم يسوق كلامه موضعَ النقد بين قوسين صغيرين "". فأحيانًا يسوق موضع النقد فلا يتعدى كلمات، وأحيانًا يسوقه بطوله فيبلغ عشرة أسطر، وذلك بحسب مقتضى الحال. ثم يتعقبه بقوله: "أقول". وجرى على هذا من أول الكتاب إلى آخره.

‌‌4 - منهجه: نحا الشيخ في رده منحى علميًّا منضبطًا، مبتعدًا عن أسلوب الإنشاء والخطابة، فتتبّع كتاب أبي رية في نقوله وقضاياه؛ فإن نقل أبو رية من كتابٍ راجعه وتثبّت من نقله، فإن وجد النقل كما هو بيّن ثبوتَ النقل مِن عدمه وصحّته من ضعفه، فإن كان ثابتًا نظَرَ فيه نَظَرَ العالم المنصف المريد للحق، فنظر في النصوص النبوية نظرَ أهل العلم؛ وذلك بالقبول والعمل عند سلامتها من المعارض، وبالجمع والتوجيه عند وجود التعارض أو الإشكال. وتعامَلَ مع آثار السلف ونصوص العلماء بفهمها وتوجيهها بالنظر إلى سياقاتها ومناسباتها ومراد قائلها منها بتجرّد ونصَفَة.

أما إن تبيّن أنّ النصّ غير ثابت، فيبيّن موضع العلة فيه، وسبب التضعيف، ثم ردّه عليه، فإن كان له وجهٌ مِن الفهم يسوغ ذَكَرَه تنزّلًا منه على فرض الثبوت.

فإن لم يجد النقل كما هو، بيّن تصرُّف أبي ريّة إما بالحذف أو التدليس أو التصرُّف، أو عدم نقل التضعيف للخبر من المصدر المنقول منه. انظر (215، 216، 254، 373، 411).
তার স্বস্থানে এবং তিনি ফিরে গিয়ে বইয়ের শুরুতে যা উল্লেখ করেছিলেন তা উদ্ধৃত ও পর্যালোচনা করতে শুরু করেন, এবং একইভাবে তিনি অন্যান্য স্থানেও করেছেন।

 

‌‌৩ - তাঁর কর্মপদ্ধতি: তিনি আবু রাইয়্যার বইয়ের প্রথম সংস্করণের পৃষ্ঠা নম্বর উল্লেখ করে তাঁর বক্তব্যসমূহ হুবহু উদ্ধৃত করেন, অতঃপর পর্যালোচনার বিষয়টি ছোট উদ্ধৃতি চিহ্নের "" মধ্যে উপস্থাপন করেন। কখনও কখনও পর্যালোচনার বিষয়টি কয়েক শব্দের বেশি হয় না, আবার কখনও তা দীর্ঘ হয়ে দশ লাইন পর্যন্ত পৌঁছে যায়, যা পরিস্থিতির চাহিদা অনুযায়ী হয়ে থাকে। এরপর তিনি "আমি বলছি" বলে তার প্রতিউত্তর করেন। বইয়ের শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত তিনি এই পদ্ধতিই অনুসরণ করেছেন।

‌‌৪ - তাঁর মানহাজ: শাইখ তাঁর উত্তরে একটি সুশৃঙ্খল বৈজ্ঞানিক পদ্ধতি অবলম্বন করেছেন এবং আলঙ্কারিক ও আবেগপূর্ণ শৈলী পরিহার করেছেন। তিনি আবু রাইয়্যার বইয়ের উদ্ধৃতি ও দাবিগুলো পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে অনুসরণ করেছেন। আবু রাইয়্যা যদি কোনো গ্রন্থ থেকে উদ্ধৃতি দিয়ে থাকেন, তবে শাইখ তা মূল গ্রন্থের সাথে মিলিয়ে দেখেছেন এবং উদ্ধৃতির সত্যতা যাচাই করেছেন। যদি উদ্ধৃতিটি অবিকল পাওয়া যায়, তবে তিনি সেই উদ্ধৃতির প্রামাণিকতা এবং তার শুদ্ধতা ও দুর্বলতা স্পষ্ট করেছেন। যদি তা প্রমাণিত হয়, তবে তিনি একজন ন্যায়নিষ্ঠ ও সত্যসন্ধানী আলেমের দৃষ্টিভঙ্গিতে তা বিচার করেছেন। তিনি নববী হাদিসসমূহের ক্ষেত্রে ইলমি মানদণ্ড অনুসরণ করেছেন; অর্থাৎ কোনো বিরোধ না থাকলে তা গ্রহণ ও আমল করেছেন, আর বৈপরীত্য বা জটিলতা থাকলে সেগুলোর মাঝে সমন্বয় সাধন ও যথাযথ ব্যাখ্যা প্রদান করেছেন। তিনি সালাফদের বর্ণনা এবং আলেমদের বক্তব্যের প্রেক্ষাপট, প্রাসঙ্গিকতা এবং বক্তার প্রকৃত উদ্দেশ্য বিবেচনা করে নিরপেক্ষতা ও ন্যায়নিষ্ঠার সাথে সেগুলো অনুধাবন ও ব্যাখ্যা করেছেন।

আর যদি এটি প্রতীয়মান হয় যে পাঠটি প্রমাণিত নয়, তবে তিনি এর ত্রুটির দিক এবং দুর্বল হওয়ার কারণ বর্ণনা করেন এবং অতঃপর তা খণ্ডন করেন। তবে যদি এর কোনো গ্রহণযোগ্য অর্থ থাকে, তবে তিনি তা তর্কের খাতিরে প্রমাণিত ধরে নিয়ে উল্লেখ করেন।

যদি তিনি উদ্ধৃতিটি হুবহু না পান, তবে তিনি আবু রাইয়্যার কারসাজি যেমন—অংশবিশেষ বর্জন, প্রতারণা (তাদলিস) বা রদবদল, অথবা মূল সূত্র থেকে বর্ণনার দুর্বলতা উল্লেখ না করার বিষয়টি উন্মোচন করে দেন। দেখুন (২১৫, ২১৬, ২৫৪, ৩৭৩, ৪১১)।
(খণ্ড: ১২) আল-আনোয়ারুল কাশিফাহ লিমা ফী কিতাবি আদওয়াউ আলাস সুন্নাহ - যিমনু আসারুল মুআল্লিমী (পৃষ্ঠা: ১৫)
فإن لم يجد النقل أصلاً بيّن أنه لم يجده، فيبقى أمر الحكم عليه حتى الوجدان ــ وهذا نادر ــ. وقد يبحث عنه الشيخ في مظانه فيجده، فيصحّح الإحالة إلى مكانه. ثم ينظر فيه نظره السابق الذي شرحناه.

أما إذا لم يذكر أبو رية مصدر النقل؛ فهذه ــ بتتبّع المؤلف ــ حيلته في تدليس بلاياه، وأنه إن ذكر مصدرَه سيُفضَح بذكره، كما بيّنه الشيخ في مواضع (ص 242، 246، 258).

أما ما يذكره أبو رية من القضايا والمسائل والإشكالات، فينظر الشيخ في ذلك كلّه نظَرَ العالم المتبحِّر العارف، فيحلّلها ويدرسها دراسةً عميقة متأنّية، ثم يأتي بخلاصتها في أسطر معدودة، وقد يطيل النَّفَس بعض إطالةٍ إن اقتضى الأمر ذلك، وتلك مسائل معدودة، وأنا على يقين أن الشيخ مال إلى تلخيص القضايا حتى لا يطول الكتاب، وإلا فكثير من مباحثه وتحقيقاته التي ذكرها لم تتأتّ إلا بنَظَر طويل وتحقيق بالغ. فها هو الشيخ ص 190 يحيل إلى بحث له طويل في قوله تعالى: {وَإِنَّ الظَّنَّ لَا يُغْنِي مِنَ الْحَقِّ شَيْئًا}(1) ثم يذكر خلاصته. وقال في موضع آخر (ص 230): "وشرح ذلك يطول".

وبعد، فإن للمؤلف في كتابه ــ كما عوّدنا ــ من التحقيقات والإشارات والفوائد ما لو وقعت لغيره لتبجّح بها في طول الكتاب وعرضه، وزَعَم وزَعَم، لكن الشيخ في تواضعه ورزانته نادر المثال. وتأمل قوله رحمه الله: "الباحث المتّزن الواثق بحجته هو الذي يترك الإعلان عن نفسه وعن كتابه

--------------------------------------------

(1) وهذا البحث مضمّن في "رسائل التفسير" من هذه الموسوعة المباركة.

যদি তিনি উদ্ধৃতিটির কোনো মূল উৎস খুঁজে না পান, তবে তিনি তা স্পষ্ট করেন যে তিনি তা পাননি; ফলে এর ওপর হুকুম প্রদানের বিষয়টি প্রাপ্তি পর্যন্ত স্থগিত থাকে—এবং এটি বিরল। তবে শায়খ হয়তো তাঁর সম্ভাব্য স্থানগুলোতে তা অনুসন্ধান করেন এবং পেয়ে যান, তখন তিনি সংশ্লিষ্ট স্থানে উদ্ধৃতির রেফারেন্সটি সংশোধন করে দেন। অতঃপর তিনি তাতে তাঁর পূর্ববর্ণিত দৃষ্টিভঙ্গি অনুযায়ী দৃষ্টিপাত করেন।

আর যদি আবু রাইয়্যাহ উদ্ধৃতির উৎস উল্লেখ না করেন, তবে লেখকের অনুসন্ধান অনুযায়ী—এটি তাঁর আপত্তিকর বিষয়গুলো প্রতারণাপূর্ণভাবে আড়াল করার একটি কৌশল। কেননা তিনি যদি এর উৎস উল্লেখ করতেন, তবে তা উল্লেখ করার কারণেই তিনি অপদস্থ হতেন; যেমনটি শায়খ বিভিন্ন স্থানে (পৃষ্ঠা ২৪২, ২৪৬, ২৫৮) স্পষ্ট করেছেন।

আবু রাইয়্যাহ যেসব বিষয়, মাসআলা এবং সংশয় উল্লেখ করেছেন, শায়খ সেগুলোর প্রতি একজন অগাধ পাণ্ডিত্যের অধিকারী বিজ্ঞ আলিমের দৃষ্টিতে তাকান। তিনি সেগুলো বিশ্লেষণ করেন এবং অত্যন্ত গভীর ও ধীরস্থিরভাবে পর্যালোচনা করেন। অতঃপর তিনি মাত্র কয়েক লাইনে সেগুলোর সারসংক্ষেপ পেশ করেন। অবশ্য প্রয়োজনবোধে কখনো কখনো তিনি আলোচনার পরিধি কিছুটা দীর্ঘ করেন, তবে এমন মাসআলা সংখ্যায় সামান্য। আমি নিশ্চিত যে, শায়খ বিষয়গুলোকে সংক্ষিপ্ত করার দিকেই ঝুঁকেছেন যাতে কিতাবটি দীর্ঘ না হয়। নতুবা তিনি যেসব আলোচনা ও সূক্ষ্ম গবেষণা উল্লেখ করেছেন, সেগুলোর অধিকাংশ দীর্ঘ চিন্তাভাবনা এবং চরম পর্যায়ের তাহকীক ছাড়া অর্জিত হওয়া সম্ভব ছিল না। এই তো শায়খ ১৯০ নং পৃষ্ঠায় মহান আল্লাহর বাণী: "নিশ্চয়ই ধারণা সত্যের বিপরীতে কোনো কাজে আসে না" এর ওপর তাঁর একটি দীর্ঘ গবেষণার দিকে ইঙ্গিত করেছেন এবং এরপর তার সারসংক্ষেপ উল্লেখ করেছেন। অন্য এক স্থানে (পৃষ্ঠা ২৩০) তিনি বলেছেন: "এর ব্যাখ্যা দীর্ঘ হবে।"

পরিশেষে, লেখকের এই কিতাবে—যেমনটি তিনি আমাদের অভ্যস্ত করেছেন—এমন সব তাহকীক, ইঙ্গিত এবং ফায়দা রয়েছে যা যদি অন্য কারো হস্তগত হতো, তবে সে কিতাবের দৈর্ঘ্য-প্রস্থ জুড়ে তা নিয়ে আস্ফালন করত এবং নানাবিধ দাবি করত। কিন্তু শায়খ তাঁর বিনয় এবং গাম্ভীর্যের ক্ষেত্রে এক বিরল দৃষ্টান্ত। আল্লাহ তাঁর ওপর রহম করুন, তাঁর এই বাণীর প্রতি লক্ষ করুন: "সুষম এবং স্বীয় দলিলের ওপর আস্থাশীল গবেষক তিনিই, যিনি নিজের এবং নিজের কিতাবের প্রচারণা পরিহার করেন...

--------------------------------------------

(১) এই গবেষণাটি এই বরকতময় এনসাইক্লোপিডিয়ার "রাসায়িলুত তাফসীর" (তাফসীর বিষয়ক পত্রাবলি) অংশে অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।

(খণ্ড: ১২) আল-আনোয়ারুল কাশিফাহ লিমা ফী কিতাবি আদওয়াউ আলাস সুন্নাহ - যিমনু আসারুল মুআল্লিমী (পৃষ্ঠা: ১৬)
إلى الأدلة نفسها، ويَدَع للناس الحريّة التامة في موافقته أو مخالفته"(1).

 

*‌‌ أهم الموضوعات التي ناقشها الكتاب:

- السنة ومكانتها من الدين.

- كتابة الحديث في العهد النبوي.

- هل نهى النبي صلى الله عليه وسلم عن كتابة الحديث.

- الرد على نظرية "دين عام ودين خاص".

- الصحابة وروايتهم للحديث، وقضية تشديدهم في قبول الأخبار.

- الكذب على النبي صلى الله عليه وسلم.

- الرواية بالمعنى.

- رواية الحديث ونقد الأئمة للرواة.

- الوضع وأسبابه.

- الإسرائيليات ووجودها في الحديث وردّ مزاعمَ لأبي رية فيها.

- تفنيد مكيدة مَهُولة حاول تمريرها والتدليس بها.

- ردّ مزاعم له بشأن المسيحيات في الحديث.

- الدفاع عن أبي هريرة رضي الله عنه (ص 190 - 320) وهو أطول فصل في الكتاب.

- أحاديث مشكلة والجواب عنها.

--------------------------------------------

(1) "الأنوار الكاشفة": (الدفتر الرابع ص 3 - مخ).

দলিলগুলোর দিকেই, এবং তিনি মানুষের জন্য তাঁর সাথে একমত হওয়া বা দ্বিমত পোষণ করার পূর্ণ স্বাধীনতা ছেড়ে দেন"(১).

 

*‌‌ গ্রন্থটিতে আলোচিত গুরুত্বপূর্ণ বিষয়সমূহ:

- সুন্নাহ এবং দ্বীনের মধ্যে এর মর্যাদা।

- নববী যুগে হাদীস লিখন।

- নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম কি হাদীস লিখন থেকে নিষেধ করেছিলেন?

- "সাধারণ ধর্ম ও বিশেষ ধর্ম" তত্ত্বের খণ্ডন।

- সাহাবীগণ এবং তাঁদের হাদীস বর্ণনা, এবং সংবাদ গ্রহণের ক্ষেত্রে তাঁদের কঠোরতার বিষয়টি।

- নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের নামে মিথ্যাচার।

- মর্মার্থে বর্ণনা (রেওয়ায়াত বিল মা'না)।

- হাদীস বর্ণনা এবং বর্ণনাকারীদের ওপর ইমামগণের সমালোচনা।

- হাদীস জালকরণ এবং এর কারণসমূহ।

- ইসরাঈলী বর্ণনা এবং হাদীসে সেগুলোর উপস্থিতি, এবং এ বিষয়ে আবু রাইয়্যার দাবিসমূহের খণ্ডন।

- একটি ভয়াবহ ষড়যন্ত্রের খণ্ডন যা তিনি চালিয়ে দিতে এবং প্রতারণা করতে চেয়েছিলেন।

- হাদীসে খ্রিষ্টীয় বর্ণনার বিষয়ে তাঁর দাবিসমূহের খণ্ডন।

- আবু হুরায়রা রাদিয়াল্লাহু আনহুর পক্ষ সমর্থন (পৃষ্ঠা ১৯০ - ৩২০), যা এই গ্রন্থের দীর্ঘতম অধ্যায়।

- জটিল প্রতীয়মান হাদীসসমূহ এবং সেগুলোর উত্তর।

--------------------------------------------

(১) "আল-আনওয়ারুল কাশিফাহ": (চতুর্থ খাতা, পৃষ্ঠা ৩ - পাণ্ডুলিপি)।

(খণ্ড: ১২) আল-আনোয়ারুল কাশিফাহ লিমা ফী কিতাবি আদওয়াউ আলাস সুন্নাহ - যিমনু আসারুল মুআল্লিমী (পৃষ্ঠা: ১৭)
- تدوين الحديث وأقسام الخبر.

- الكلام على "الموطأ"، و"البخاري".

- المحدثون وعنايتهم بنقد المتن.

- الصحابة وعدالتهم.

- درجات الصحابة.

- القواعد النظرية القديمة والحديثة.

- طلب الحديث بعد فقهه.

- خاتمة أبي رية وفيها قضايا حديثية عدة.

 

*‌‌ ترجمة محمود أبو رية(1) (المردود عليه) (1889 - 1970):

نستطيع القول إن أبا رية لم يترجمه أحد، فقد جهِدْتُ وجَهِد الباحثون قبلي للوقوف على ترجمة له أو تعريف به فلم نظفر بكبير شيء، عدا معلومات متناثرة هنا وهناك، فكأنما تواصى الناسُ على إخمال ذكره(2)! ولولا أنه يُعاد ذكرُه عند الطاعنين في السنة والحديث مستشهدين بكتابه،

--------------------------------------------

(1) تنبيه: هناك شخصية أخرى بالاسم نفسه "محمود أبو رية" وهو داعية مصريّ من الإخوان المسلمين (ت 2004)، وقد وقع خلطٌ بين الاثنين من بعض الكتّاب، وعليه جرى التنبيه.

(2) حتى أصدقاؤه ومعارفه ممن كتب في تراجم المعاصرين! وقد كنت كتبت رسالة إلى الأستاذ وديع فلسطين، أطلب منه أن يكتب لي ما يعرفه عن أبي ريّة، فلم يصلني منه شيء حتى اللحظة، وكان قد ذَكَره في مواضع من كتابه "وديع فلسطين يتحدث عن أعلام عصره" ووصفه بالصديق.

হাদীস সংকলন এবং খবরের প্রকারভেদ।

- "মুয়াত্তা" এবং "বুখারী" সম্পর্কিত আলোচনা।

- মুহাদ্দিসগণ এবং মতন (মূল পাঠ) পর্যালোচনায় তাঁদের গুরুত্বারোপ।

- সাহাবীগণ এবং তাঁদের ন্যায়পরায়ণতা।

- সাহাবীগণের স্তরসমূহ।

- প্রাচীন ও আধুনিক তাত্ত্বিক নিয়মাবলি।

- ফিকহ (বুঝ) অর্জনের পর হাদীস অন্বেষণ।

- আবু রাইয়্যার উপসংহার এবং তাতে হাদীস সংক্রান্ত বেশ কিছু বিষয়।

 

*‌‌ মাহমুদ আবু রাইয়্যার জীবনী(১) (যার খণ্ডন করা হয়েছে) (১৮৮৯ - ১৯৭০):

আমরা বলতে পারি যে, আবু রাইয়্যার জীবনী কেউ লেখেনি; কেননা আমি এবং আমার পূর্ববর্তী গবেষকগণ তাঁর জীবনী বা পরিচয় জানার জন্য আপ্রাণ চেষ্টা করেছি, কিন্তু এখানে-সেখানে ছড়িয়ে থাকা কিছু তথ্য ছাড়া আমরা বিশেষ কিছুই পাইনি। মনে হয় যেন মানুষ তাঁর কথা বিস্মৃত করে দেওয়ার ব্যাপারে একমত হয়েছে! যদি সুন্নাহ এবং হাদীসের সমালোচকরা তাঁর বইয়ের উদ্ধৃতি দিয়ে তাঁর কথা বারবার উল্লেখ না করত,

--------------------------------------------

(১) সতর্কতা: একই নামে "মাহমুদ আবু রাইয়্যা" অন্য এক ব্যক্তি আছেন, যিনি ইখওয়ানুল মুসলিমীনের একজন মিশরীয় দাঈ (মৃত্যু ২০০৪)। কিছু লেখক এই দুই ব্যক্তির মধ্যে বিভ্রান্তিতে পড়েছেন, তাই এ বিষয়ে সতর্ক করা হলো।

(২) এমনকি সমসাময়িকদের জীবনী নিয়ে লিখেছেন এমন তাঁর বন্ধু এবং পরিচিতজনরাও (তাঁর জীবনী লেখেননি)! আমি উস্তাদ ওয়াদীয় ফিলিস্তিনকে একটি পত্র লিখেছিলাম, যাতে তিনি আবু রাইয়্যা সম্পর্কে যা জানেন তা আমাকে লিখে পাঠান; কিন্তু এই মুহূর্ত পর্যন্ত তাঁর কাছ থেকে আমি কিছুই পাইনি। তিনি তাঁর "ওয়াদীয় ফিলিস্তিন তাঁর সময়ের বিশিষ্ট ব্যক্তিদের সম্পর্কে বলছেন" বইটির কয়েকটি স্থানে তাঁকে উল্লেখ করেছেন এবং তাঁকে বন্ধু হিসেবে বর্ণনা করেছেন।

(খণ্ড: ১২) আল-আনোয়ারুল কাশিফাহ লিমা ফী কিতাবি আদওয়াউ আলাস সুন্নাহ - যিমনু আসারুল মুআল্লিমী (পৃষ্ঠা: ১৮)
وعند المدافعين عنها نقضًا لكلامه= لكان نَسْيًا منسيًّا! وهذا من عجيب صنع الله به!

غير أنه قد ذكره من لا يُفرَح بهم، من أعدء السنة وسُباب الصحابة، فذكروه وأشادوا به، وخلعوا عليه أفخم الألقاب، وسعوا في طباعة كتبه، وصارت بينه وبينهم صِلات حميمة ومودّة ورسائل خاصة. وأهمّ مَن ذَكَره منهم مرتضى الرضوي في كتابه "مع رجال الفكر في القاهرة": (1/ 130 - 158)(1). والكتاب عبارة عن ذكريات المؤلف بمن التقى بهم في القاهرة، وما دار بينهم من أحاديث وحوارات، وليست تراجم متكاملة. وسنذكر منه ومن غيره(2) ما يفيد في التعريف بأبي رية.

اسمه: محمود أبو رية.

ولده في كفر المندره (مركز أجا) محافظة الدقهلية في 15 ديسمبر عام 1889 م.

وتوفي في 11 ديسمبر 1970 م بالجيزة.

عاش في بلدته عيشة جيدة الحال، إلى أن حلّت به وبأسرته سنة 1916 م نكبةٌ مالية ذهبت بكل ما يملكون وساءت حاله جدًّا(3). وبقيت حاله في فاقة، وكان كثير الشكوى من حاله وتقلّب الدهر به(4).

--------------------------------------------

(1) أرشد إلى هذه الترجمة أخي الشيخ عبد الرحمن قائد.

(2) ما كان من غيره ذكرتُ مصدره.

(3) "رسائل الرافعي" (ص 21).

(4) المصدر نفسه (ص 23، 34 - 35).

এবং যারা তার কথার খণ্ডন করে এর প্রতিরক্ষা করেছেন তাদের কাছেও তিনি বিস্মৃত বিষয় হয়ে যেতেন! আর এটি তার প্রতি আল্লাহর এক বিস্ময়কর কর্ম!

তবে যারা আনন্দিত হওয়ার যোগ্য নয়—অর্থাৎ সুন্নাহর শত্রু এবং সাহাবায়ে কিরামের গালিদানকারীরা—তার কথা উল্লেখ করেছে। তারা তার কথা আলোচনা করেছে, তার প্রশংসা করেছে, তাকে জাঁকজমকপূর্ণ উপাধিতে ভূষিত করেছে এবং তার বই ছাপানোর চেষ্টা করেছে। তাদের মাঝে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক, হৃদ্যতা ও ব্যক্তিগত পত্রালাপও গড়ে উঠেছিল। তাদের মধ্যে যারা তার কথা সবচেয়ে গুরুত্বের সাথে উল্লেখ করেছে, তাদের অন্যতম হলো মুরতাজা আর-রাদাওয়ী তার "মাআ রিজালিল ফিকর ফিল কাহিরা" (কায়রোর চিন্তাবিদদের সাথে) গ্রন্থে: (১/ ১৩০ - ১৫৮)(১)। বইটি মূলত কায়রোতে লেখকের সাথে যাদের সাক্ষাৎ হয়েছিল তাদের স্মৃতিকথা এবং তাদের মধ্যে হওয়া কথোপকথন ও সংলাপের সমষ্টি; এটি কোনো পূর্ণাঙ্গ জীবনীগ্রন্থ নয়। আমরা এই গ্রন্থ এবং অন্যান্য উৎস থেকে(২) আবু রাইয়্যার পরিচয়ের জন্য যা উপকারী তা উল্লেখ করব।

নাম: মাহমুদ আবু রাইয়্যা।

জন্ম: তিনি ১৮৮৯ সালের ১৫ ডিসেম্বর আদ-দাকাহলিয়্যাহ প্রদেশের কাফরুল মানদারা (আজা কেন্দ্র)-তে জন্মগ্রহণ করেন।

মৃত্যু: তিনি ১৯৭০ সালের ১১ ডিসেম্বর গিজায় মৃত্যুবরণ করেন।

তিনি তার গ্রামে সচ্ছলভাবে জীবনযাপন করতেন, যতক্ষণ না ১৯১৬ সালে তিনি এবং তার পরিবার এক আর্থিক বিপর্যয়ের সম্মুখীন হন, যা তাদের সব সম্পদ কেড়ে নেয় এবং তার অবস্থা অত্যন্ত শোচনীয় হয়ে পড়ে(৩)। তিনি অভাবের মধ্যেই জীবন অতিবাহিত করতে থাকেন এবং তার অবস্থা ও কালের পরিবর্তনের ব্যাপারে অত্যন্ত অভিযোগপ্রবণ ছিলেন(৪)।

--------------------------------------------

(১) আমার ভাই শেখ আব্দুর রহমান কায়েদ এই জীবনীর দিকে পথনির্দেশ করেছেন।

(২) অন্যান্য উৎস থেকে যা নেওয়া হয়েছে, তার উৎস আমি উল্লেখ করেছি।

(৩) "রাসায়িলুর রাফিয়ি" (পৃ. ২১)।

(৪) একই উৎস (পৃ. ২৩, ৩৪ - ৩৫)।

(খণ্ড: ১২) আল-আনোয়ারুল কাশিফাহ লিমা ফী কিতাবি আদওয়াউ আলাস সুন্নাহ - যিমনু আসারুল মুআল্লিমী (পৃষ্ঠা: ১৯)
انتسب إلى الأزهر في مقتبل عمره، لكنه لم يتجاوز المرحلة الثانوية الأزهرية مع محاولته أكثر من مرة، ثم عمل مصححًا للأخطاء المطبعية بجريدةٍ في بلده، ثم موظفًا في دائرة البلدية حتى أحيل إلى التقاعد(1).

انتقل إلى المنصورة في سنة 1924 م أو قبلها، ولم يأنس بها وكان يشكو من الوحشة فيها(2).

وفي المنصورة تولى تحرير جريدة التوفيق، وكان يشارك في تحرير جريدة المنصورة، ويراسل جريدتي المقطم والسياسة(3). ومع أنه قد تيسّرت أموره وحصّل وظيفة جديدة … فلم يكن راضيًا بالحال التي هو عليها(4).

قضى أكثر أيام عمره في مدينة المنصورة حتى وفد إلى الجيزة عام 1957 م، وبقي فيها إلى حين وفاته.

بدأ محمود أبو رية حياته ملتمسًا التعرّف بأشهر أُدباء عصره وكُتّابهم، حتى اتصلت أسبابه بإمام الأدب مصطفى صادق الرافعي عن طريق المراسلة، وذلك من عام 1912 م إلى عام 1934 م قبل وفاة الرافعي بثلاث سنين(5).

--------------------------------------------

(1) السنة النبوية في كتابات أعداء الإسلام ص 21.

(2) "رسائل الرافعي" (ص 94).

(3) المصدر نفسه (ص 93).

(4) المصدر نفسه (ص 91، 107، 110، 113).

(5) بلغ مجموع الرسائل التي وصلته من الرافعي حوالي 350 رسالة. نشر منها أبو رية 263 رسالة، ومن خلالها استفدنا هذه المعلومات المعزوّة إليها. وللرافعي اهتمام بالغ بما يَرِدُ إليه من الرسائل وبأصحابها، وله في ذلك طرائف. انظر "حياة الرافعي" (ص 250) للعريان.

তিনি তাঁর যৌবনের শুরুতে আল-আযহারে ভর্তি হন, কিন্তু একাধিকবার চেষ্টা করা সত্ত্বেও আল-আযহারের মাধ্যমিক স্তর অতিক্রম করতে পারেননি। এরপর তিনি তাঁর শহরের একটি সংবাদপত্রে প্রুফ রিডার (মুসহিহ) হিসেবে কাজ করেন, এরপর পৌরসভায় একজন কর্মকর্তা হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন এবং সেখান থেকেই অবসরে যান(১).

তিনি ১৯২৪ খ্রিস্টাব্দে বা তার আগে মানসুরায় চলে যান, কিন্তু সেখানে তিনি স্বাচ্ছন্দ্য বোধ করেননি এবং সেখানে একাকীত্ব ও নিঃসঙ্গতার অভিযোগ করতেন(২).

মানসুরায় থাকাকালীন তিনি 'আত-তাওফিক' পত্রিকা সম্পাদনার দায়িত্ব গ্রহণ করেন, 'আল-মানসুরা' পত্রিকা সম্পাদনায় অংশগ্রহণ করতেন এবং 'আল-মুকাত্তাম' ও 'আস-সিয়াসাহ' পত্রিকায় লেখালেখি করতেন(৩)। যদিও তাঁর অবস্থা সচ্ছল হয়েছিল এবং তিনি একটি নতুন চাকরি পেয়েছিলেন … তবুও তিনি নিজের বর্তমান অবস্থা নিয়ে সন্তুষ্ট ছিলেন না(৪).

তিনি তাঁর জীবনের অধিকাংশ সময় মানসুরা শহরেই অতিবাহিত করেন, অবশেষে ১৯৫৭ খ্রিস্টাব্দে গিজায় চলে আসেন এবং মৃত্যু পর্যন্ত সেখানেই অবস্থান করেন।

মাহমুদ আবু রায়্যাহ তাঁর জীবনের শুরুতে সমসাময়িক বিখ্যাত সাহিত্যিক ও লেখকদের সাথে পরিচিত হওয়ার চেষ্টা করতেন। অবশেষে চিঠিপত্রের মাধ্যমে সাহিত্যের ইমাম মুস্তফা সাদিক আর-রাফেয়ীর সাথে তাঁর যোগাযোগ স্থাপিত হয়; ১৯১২ খ্রিস্টাব্দ থেকে ১৯৩৪ খ্রিস্টাব্দ পর্যন্ত অর্থাৎ আর-রাফেয়ীর মৃত্যুর তিন বছর পূর্ব পর্যন্ত এই যোগাযোগ বজায় ছিল(৫).

--------------------------------------------

(১) আস-সুন্নাহ আন-নাবাবিয়্যাহ ফি কিতাবাতি আদাইল ইসলাম, পৃষ্ঠা ২১।

(২) "রাসাইলুর রাফেয়ী" (পৃষ্ঠা ৯৪)।

(৩) একই উৎস (পৃষ্ঠা ৯৩)।

(৪) একই উৎস (পৃষ্ঠা ৯১, ১০৭, ১১০, ১১৩)।

(৫) রাফেয়ীর নিকট থেকে আসা চিঠির মোট সংখ্যা ছিল প্রায় ৩৫০টি। আবু রায়্যাহ এর মধ্যে ২৬৩টি চিঠি প্রকাশ করেছেন এবং সেগুলোর মাধ্যমেই আমরা এই তথ্যগুলো লাভ করেছি। রাফেয়ী তাঁর নিকট প্রেরিত চিঠিপত্র ও প্রেরকদের ব্যাপারে অত্যন্ত যত্নবান ছিলেন এবং এ বিষয়ে তাঁর কিছু চমকপ্রদ ঘটনা রয়েছে। দেখুন আরইয়ান রচিত "হায়াতুর রাফেয়ী" (পৃষ্ঠা ২৫০)।

(খণ্ড: ১২) আল-আনোয়ারুল কাশিফাহ লিমা ফী কিতাবি আদওয়াউ আলাস সুন্নাহ - যিমনু আসারুল মুআল্লিমী (পৃষ্ঠা: ২০)
وواضح من رسائله إلى الرافعي أنه كان يسعى لأن يكون كاتبًا يملك ناصية الأدب، ففي كثير منها يسأله عن كتب الأدب وكيف قراءتها، وكتب النحو والمنطق والتصحيح اللغوي …(1).

بدأ أبو رية بالكتابة في الصحف والمجلات المعروفة في عصره، وبتلخيص بعض الكتب الأدبية، ككتاب الحيوان للجاحظ وبعض الكتب الأدبية(2).

وكان في أولى مقالاته مدافعًا عن الدين وعن البلدان الإسلامية، فمرَّة تراه يستنجد للحجاز ليهب المسلمون بتقديم يد المساعدة إليه، وإلى أهل الحرمين قبيل الحرب العالمية الثانية، في مقال بعنوان: ما يجب على المسلمين للحجاز(3).

ومرةً يدعو إلى تطهير التوحيد مما لصق به، وإخلاصه لله عز وجل في مقال بعنوان: تطهير العقائد أساس الإصلاح في البراء(4).

بل نجده أحد الذين تصدّوا للردّ على توفيق الحكيم في دعوته إلى توحيد الأديان.

--------------------------------------------

(1) "رسائل الرافعي" (ص 13، 15، 40، 28، 122).

(2) المصدر نفسه (ص 115). ولم يحمد الرافعي تلخيصه وقال: إنه لم يحسن الاختيار.

(3) مجلة الفتح: العدد 524، 12 محرم 1356 هـ، جـ 11، ص 1034.

(4) مجلة الفتح: العدد 543، 19 محرم 1356 هـ.

আল-রাফিয়ীর নিকট প্রেরিত তার পত্রাবলি থেকে এটি স্পষ্ট যে, তিনি একজন দক্ষ সাহিত্যিক হওয়ার প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছিলেন। তার অনেক চিঠিতেই তিনি তাকে সাহিত্যের বই এবং সেগুলো পড়ার পদ্ধতি সম্পর্কে, এবং নাহু (ব্যাকরণ), মানতিক (তর্কশাস্ত্র) ও ভাষাগত সংশোধনী বিষয়ক বই সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করেছেন …(১)।

আবু রাইয়াহ তার সমসাময়িক সুপরিচিত সংবাদপত্র ও সাময়িকীগুলোতে লেখালেখি এবং জাহিযের ‘কিতাবুল হাইওয়ান’ সহ কিছু সাহিত্যিক গ্রন্থের সারসংক্ষেপ তৈরির মাধ্যমে লেখালেখি শুরু করেন(২)।

তার প্রথম দিকের প্রবন্ধগুলোতে তিনি দ্বীন ও মুসলিম দেশসমূহের পক্ষে প্রতিরক্ষা বজায় রাখতেন। কখনো দেখা যায় তিনি হিজাযের জন্য সাহায্য প্রার্থনা করছেন যাতে মুসলিমরা হিজায এবং হারামাইনবাসীদের সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দেওয়ার জন্য এগিয়ে আসে; এটি ছিল দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পূর্বমুহূর্তের কথা, ‘হিজাযের প্রতি মুসলিমদের কর্তব্য’ শিরোনামের একটি প্রবন্ধে(৩)।

আবার কখনো তিনি তাওহীদকে তার সাথে যুক্ত হওয়া আবিলতা থেকে মুক্ত করার এবং মহান আল্লাহর জন্য একে একনিষ্ঠ করার আহ্বান জানান; ‘আকীদা পরিশুদ্ধিই সংস্কারের মূল ভিত্তি’ শিরোনামের একটি প্রবন্ধে(৪)।

এমনকি আমরা তাকে তাদের মধ্যে একজন হিসেবে পাই যারা তাওফিক আল-হাকিমের সর্বধর্ম ঐক্যের আহ্বানের প্রতিবাদে রুখে দাঁড়িয়েছিলেন।

--------------------------------------------

(১) "রাফিয়ীর পত্রাবলি" (পৃষ্ঠা ১৩, ১৫, ৪০, ২৮, ১২২)।

(২) একই উৎস (পৃষ্ঠা ১১৫)। রাফিয়ী তার এই সারসংক্ষেপের প্রশংসা করেননি এবং বলেছেন: তিনি নির্বাচনে মুন্সিয়ানা দেখাতে পারেননি।

(৩) আল-ফাতহ সাময়িকী: সংখ্যা ৫২৪, ১২ মহররম ১৩৫৬ হিজরি, খণ্ড ১১, পৃষ্ঠা ১০৩৪।

(৪) আল-ফাতহ সাময়িকী: সংখ্যা ৫৪৩, ১৯ মহররম ১৩৫৬ হিজরি।

(খণ্ড: ১২) আল-আনোয়ারুল কাশিফাহ লিমা ফী কিতাবি আদওয়াউ আলাস সুন্নাহ - যিমনু আসারুল মুআল্লিমী (পৃষ্ঠা: ২১)
قد تعود بداية انحراف أبي رية عن السنة إلى عام 1363 هـ حيث نشاهده في "مجلة الفتح الإسلامية" وهو يدافع عن القرآن، لكنه في الوقت نفسه يغمز ويلمز السنة ضمنًا(1).

وبدا أكثرَ صراحة في نقد السنة الصحيحة والقدح فيها بعد ذلك؛ فكتب مقالًا في "مجلة الرسالة" في إنكار حديث سِحْر النبي صلى الله عليه وسلم الوارد في الصحيح، وردّ عليه الأستاذ محمد فؤاد عبد الباقي.

ثم وضَح انحرافه عن السنة بعد ذلك في مقال له في "مجلة الرسالة" عدد 633 رمضان 1364 هـ/1945 م بعنوان "الحديث المحمدي". ذَكَر فيه أن مقاله هذا خلاصة كتاب سيُنشر في هذا الخصوص. وقد رد على مقاله ذاك الدكتور محمد أبو شهبة في "مجلة الرسالة" نفسها بعد نحو شهرين عدد 642 سنة 1364 هـ. ثم ردّ على الردّ أبو رية في العدد 654 من المجلة نفسها(2).

وبعد ذلك بنحو ثلاث عشرة سنة نَشَر أبو رية ما وَعَد به في كتاب بعنوان "أضواء على السنة المحمدية".

 

-‌‌ مؤلفاته:

1 - عليٌّ وما لقيه من أصحاب الرسول. مخطوط(3).

2 - أضواء على السنة المحمدية. وهو الكتاب المردود عليه.

--------------------------------------------

(1) مجلة الفتح: العدد 546، 10 صفر 1356 هـ، جـ 11، ص 1100.

(2) انظر "دفاع عن السنة" (ص 34) لأبي شهبة.

(3) ذكره مرتضى الرضوي ونقل منه في كتابه "مع رجال الفكر": (1/ 130 - 158).

সুন্নাহর পথ থেকে আবু রাইয়্যার বিচ্যুতি বা ভ্রষ্টতার সূচনা ১৩৬৩ হিজরি সাল পর্যন্ত পিছিয়ে নেওয়া যেতে পারে। সে সময় আমরা তাকে "মাজাল্লাতুল ফাতহ আল-ইসলামিয়্যাহ"-তে কুরআনের প্রতিরক্ষা করতে দেখি, কিন্তু একই সাথে তিনি পরোক্ষভাবে সুন্নাহর প্রতি টিপ্পনী কাটতেন এবং দোষারোপ করতেন(১)।

এরপর তিনি সহিহ সুন্নাহর সমালোচনা এবং এতে ত্রুটি অন্বেষণের ক্ষেত্রে আরও স্পষ্টবাদী হয়ে ওঠেন; তিনি "মাজাল্লাতুর রিসালাহ"-তে সহিহ গ্রন্থে বর্ণিত নবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের ওপর জাদুর প্রভাব সংক্রান্ত হাদিসটি অস্বীকার করে একটি প্রবন্ধ লেখেন এবং উস্তাদ মুহাম্মদ ফুয়াদ আব্দুল বাকি তার সেই প্রবন্ধের উত্তর দেন।

অতঃপর সুন্নাহ থেকে তার বিচ্যুতি আরও স্পষ্ট হয় রমজান ১৩৬৪ হিজরি/১৯৪৫ সালের "মাজাল্লাতুর রিসালাহ"-র ৬৩৩তম সংখ্যায় প্রকাশিত "আল-হাদিস আল-মুহাম্মাদি" শীর্ষক একটি প্রবন্ধের মাধ্যমে। সেখানে তিনি উল্লেখ করেন যে, তার এই প্রবন্ধটি এ বিষয়ে প্রকাশিতব্য একটি বইয়ের সারাংশ। ডক্টর মুহাম্মদ আবু শাহবাহ প্রায় দুই মাস পর ১৩৬৪ হিজরির ৬৪২তম সংখ্যায় একই সাময়িকীতে সেই প্রবন্ধের উত্তর দেন। পরবর্তীতে আবু রাইয়্যাহ একই সাময়িকীর ৬৫৪তম সংখ্যায় সেই উত্তরের প্রত্যুত্তর দেন(২)।

এর প্রায় তেরো বছর পর আবু রাইয়্যাহ তার প্রতিশ্রুত সেই বইটি "আদওয়া আলাস সুন্নাহ আল-মুহাম্মাদিয়্যাহ" শিরোনামে প্রকাশ করেন।

 

-‌‌ তার রচনাবলি:

১ - আলী ওয়া মা লাকিয়াহু মিন আসহাবির রাসুল। এটি একটি পাণ্ডুলিপি(৩)।

২ - আদওয়া আলাস সুন্নাহ আল-মুহাম্মাদিয়্যাহ। এটি সেই বই যার খণ্ডন করা হয়েছে।

--------------------------------------------

(১) মাজাল্লাতুল ফাতহ: ৫৪৬তম সংখ্যা, ১০ সফর ১৩৫৬ হিজরি, ১১তম খণ্ড, ১১০০ পৃষ্ঠা।

(২) দেখুন আবু শাহবাহ-র "দিফাউ আনিল সুন্নাহ" (পৃষ্ঠা ৩৪)।

(৩) মুরতাজা আল-রাদওয়ি এটি উল্লেখ করেছেন এবং তার "মাআ রিজালিল ফিকর" নামক বইয়ে এখান থেকে উদ্ধৃতি দিয়েছেন: (১/ ১৩০ - ১৫৮)।

(খণ্ড: ১২) আল-আনোয়ারুল কাশিফাহ লিমা ফী কিতাবি আদওয়াউ আলাস সুন্নাহ - যিমনু আসারুল মুআল্লিমী (পৃষ্ঠা: ২২)
3 - أبو هريرة شيخ المضيرة. طبع.

4 - السيد البدوي. طبع.

5 - كتاب حياة القرى. طبع.

6 - صيحة جمال الدين الأفغاني. طبع.

7 - رسائل الرافعي. طبع.

8 - جمال الدين الأفغاني. طبع.

9 - دين الله واحد. طبع.

10 - قصة الحديث المحمدي. طبع.

* وهذا سياق ما ذكره مرتضى الرضوي (شيعي اثنا عشري) من ذكريات مهمة مع "أبو ريّة"(1) قال:

"تعرفت إليه عام 1958 م .... وتعرفت على الشيخ سليمان الوكيل صاحب مطبعة "دار التأليف". وقد عمل لنا الأخ حسين محمد كاظم ــ صاحب المكتب أو النادي ــ دعوة في مكتبه فدعاني، والشيخ سليمان الوكيل، والأستاذ محمد برهومة على طعام في ظهر يوم جمعة وجلس معنا، وقد أحضر لنا الطعام من أحد المطاعم القريبة لمحله وبعد أن فرغنا من تناول الطعام أحضر لنا الشاي، والقهوة، والكازوز، والشيشة "النركيله".

--------------------------------------------

(1) في كتاب "مع رجال الفكر في القاهرة": (1/ 130 - 158). وقد حذفت منه الاستطرادات التي لا تفيد شيئًا عن أبي رية. وحرصت على نقل كلامه بطوله؛ لأنه يكشف حقيقة كانت خفيّة في علاقته مع الرافضة وصلاته القوية بهم واحتفالهم به.

৩ - আবু হুরায়রা: শাইখুল মুদিরা। মুদ্রিত।

৪ - আস-সাইয়্যিদ আল-বাদাবী। মুদ্রিত।

৫ - কিতাব হায়াতুল কুরা। মুদ্রিত।

৬ - সাইহাতু জামালিদ্দিন আল-আফগানি। মুদ্রিত।

৭ - রাসাইলুর রাফেয়ী। মুদ্রিত।

৮ - জামালুদ্দিন আল-আফগানি। মুদ্রিত।

৯ - আল্লাহর দ্বীন এক। মুদ্রিত।

১০ - কিসসাতুল হাদিস আল-মুহাম্মাদী। মুদ্রিত।

* এটি মুর্তজা আল-রাদাওয়ী (দ্বাদশ ইমামপন্থী শিয়া) কর্তৃক "আবু রাইয়্যাহ" এর সাথে তার গুরুত্বপূর্ণ স্মৃতির বর্ণনা(১)। তিনি বলেন:

"১৯৫৮ খ্রিস্টাব্দে আমি তার সাথে পরিচিত হই... এবং আমি 'দারুত তালিফ' ছাপাখানার মালিক শাইখ সুলাইমান আল-ওয়াকিলের সাথে পরিচিত হই। ভাই হোসেন মুহাম্মদ কাজিম —যিনি অফিসের বা ক্লাবের মালিক— তিনি তার অফিসে আমাদের জন্য একটি দাওয়াতের আয়োজন করেছিলেন। তিনি আমাকে, শাইখ সুলাইমান আল-ওয়াকিলকে এবং উস্তাদ মুহাম্মদ বারহুমাকে এক জুমার দিন দুপুরে খাবারের জন্য আমন্ত্রণ জানান এবং আমাদের সাথে বসেন। তিনি তার দোকানের কাছের একটি রেস্তোরাঁ থেকে আমাদের জন্য খাবার আনিয়েছিলেন। খাবার শেষ করার পর তিনি আমাদের জন্য চা, কফি, কারজুজ (শীতল পানীয়) এবং শিশা 'নারগিলা' (হুক্কা) পরিবেশন করেন।"

--------------------------------------------

(১) "মা'আ রিজালিল ফিকর ফিল কাহিরা" কিতাবে: (১/ ১৩০ - ১৫৮)। আমি সেখান থেকে অপ্রাসঙ্গিক দীর্ঘ বর্ণনাগুলো বাদ দিয়েছি যা আবু রাইয়্যাহ সম্পর্কে কোনো তথ্য প্রদান করে না। আমি তার বক্তব্য সবিস্তারে উদ্ধৃত করার ব্যাপারে সচেষ্ট ছিলাম; কারণ এটি রাফেজিদের সাথে তার সম্পর্কের একটি গোপন সত্য উন্মোচন করে এবং তাদের সাথে তার মজবুত যোগাযোগ ও তাকে নিয়ে তাদের উদ্‌যাপনের বিষয়টি প্রকাশ করে।

(খণ্ড: ১২) আল-আনোয়ারুল কাশিফাহ লিমা ফী কিতাবি আদওয়াউ আলাস সুন্নাহ - যিমনু আসারুল মুআল্লিমী (পৃষ্ঠা: ২৩)
وبعده تكلم الشيخ سليمان الوكيل وقال: إن لي مطبعة وعندي كتب طبعتها ومستعد لطبع الكتب التي عندك. ثم قال: إن العلامة الشيخ محمد أبو رية له كتاب يطبعه الآن عندنا واسمه: "أضواء على السنة المحمدية"، وبلغه مجيئُك إلى القاهرة ويطلب فضيلته الاتصال بك(1)، فلو سمحت أن تزورنا في المطبعة، وفضيلته سوف يحضر في الصباح قبل الساعة العاشرة …

وعندما دخلت رأيت شيخًا وقورًا جالسًا عن يمينه فسلمت عليه فرد عليّ السلام، وأشار الشيخ سليمان صاحب المطبعة على الشيخ الوقور الجالس عن يمينه وقال: هذا هو الشيخ محمود أبو رية الذي حدّثتك عنه أمس.

فجلست إلى جنب فضيلته وحييته، فرحّب بي كثيرًا، وفتحت الحديث معه وقلت: يا مولانا الشيخ: بأيّ مذهب من المذاهب الأربعة متمسّك.

فأجاب: أنا مسلم أعمل بكتاب الله وسنة نبيه، وأنا غير ملتزم بمذهب من هذه المذاهب الأربعة. وقال: أنا أعلم من الشافعي، وأبي حنيفة!(2)

فسألته عن رأيه في الصحاح؟ فقال: الصحاح صحاح عند أصحابها.

فقلت: ما رأي سيادتكم في بعض الرواة المكثرين للحديث. فقال: تقصد زي من، مثل من؟

قلت: أبو هريرة.

فقال: أبو هريرة رجل وضَّاع.

--------------------------------------------

(1) أبو رية هو من سعى للتعرف بهذا الرافضي، وهو مِن قَبْله على علاقة حميمة بعبد الحسين شرف الدين كما سيقص خبرَه.

(2) إن صدق هذا الرافضي في النقل، فإن الرافعي يقول لأبي رية في إحدى رسائله: "ليتك كنت مجذوبًا يا أبا رية … ولكنك لا تصلح مجذوبًا ولا عاقلًا"! "رسائل الرافعي" (ص 77). أقول: وأين مثل الرافعي خبرةً بأبي رية! !

এরপর শেখ সুলাইমান আল-ওয়াকীল কথা বললেন এবং বললেন: আমার একটি ছাপাখানা আছে এবং আমার কাছে এমন কিছু বই আছে যা আমি ছাপিয়েছি, আর আপনার কাছে থাকা বইগুলো ছাপানোর জন্যও আমি প্রস্তুত। তারপর তিনি বললেন: আল্লামা শেখ মাহমুদ আবু রাইয়্যাহর একটি বই আছে যা তিনি এখন আমাদের এখানে ছাপাচ্ছেন এবং সেটির নাম: "আদওয়া আলা আস-সুন্নাহ আল-মুহাম্মাদিয়্যাহ", আর কায়রোতে আপনার আগমনের সংবাদ তিনি পেয়েছেন এবং আপনার সাথে যোগাযোগ করতে চেয়েছেন(১), আপনি যদি অনুগ্রহ করে ছাপাখানায় আমাদের এখানে আসতেন, তবে তিনি সকাল দশটার আগেই সেখানে উপস্থিত থাকবেন …

যখন আমি প্রবেশ করলাম, আমি তাঁর ডান পাশে একজন গাম্ভীর্যপূর্ণ শেখকে বসা অবস্থায় দেখলাম, আমি তাঁকে সালাম দিলাম এবং তিনিও সালামের উত্তর দিলেন। ছাপাখানার মালিক শেখ সুলাইমান তাঁর ডান পাশে বসা গাম্ভীর্যপূর্ণ শেখের দিকে ইশারা করে বললেন: ইনিই সেই শেখ মাহমুদ আবু রাইয়্যাহ যার কথা আমি গতকাল আপনাকে বলেছিলাম।

আমি তাঁর পাশে বসলাম এবং তাঁকে অভিবাদন জানালাম, তিনি আমাকে অনেক উষ্ণ অভ্যর্থনা জানালেন। আমি তাঁর সাথে কথোপকথন শুরু করলাম এবং বললাম: হে মাওলানা শেখ! আপনি চার মাযহাবের মধ্যে কোন মাযহাবের অনুসারী?

তিনি উত্তর দিলেন: আমি একজন মুসলিম, আমি আল্লাহর কিতাব এবং তাঁর নবীর সুন্নাহ অনুযায়ী আমল করি। আমি এই চার মাযহাবের কোনোটিরই অনুসারী নই। তিনি আরও বললেন: আমি শাফেয়ী এবং আবু হানিফার চেয়েও অধিক জ্ঞানী!(২)

আমি তাঁকে সিহাহ (বিশুদ্ধ হাদীস গ্রন্থসমূহ) সম্পর্কে তাঁর মতামত জিজ্ঞাসা করলাম? তিনি বললেন: সিহাহ গ্রন্থসমূহ কেবল তাদের লেখকদের নিকটই সহীহ।

আমি বললাম: অধিক হাদীস বর্ণনাকারী কিছু বর্ণনাকারী সম্পর্কে আপনার অভিমত কী? তিনি বললেন: আপনি কার কথা বুঝাচ্ছেন, যেমন কে?

আমি বললাম: আবু হুরায়রা।

তিনি বললেন: আবু হুরায়রা একজন হাদীস জালকারী ব্যক্তি ছিলেন।

--------------------------------------------

(১) আবু রাইয়্যাহই এই রাফিজীর সাথে পরিচিত হওয়ার চেষ্টা করেছিলেন, আর এর আগে থেকেই আব্দুল হুসাইন শারাফ উদ্দিনের সাথে তাঁর ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক ছিল, যেমনটি তিনি সামনে বর্ণনা করবেন।

(২) যদি এই রাফিজীর বর্ণনা সত্য হয়, তবে আর-রাফেয়ী আবু রাইয়্যাহর কাছে পাঠানো তাঁর একটি চিঠিতে বলেছিলেন: "হে আবু রাইয়্যাহ! যদি তুমি একজন মজজুব হতে … কিন্তু তুমি তো মজজুব হওয়ারও যোগ্য নও, আবার সুস্থ মস্তিষ্কের হওয়ারও যোগ্য নও!" "রাসায়িলুর রাফেয়ী" (পৃষ্ঠা ৭৭)। আমি বলি: আবু রাইয়্যাহ সম্পর্কে আর-রাফেয়ীর মতো অভিজ্ঞ আর কে আছে!!

(খণ্ড: ১২) আল-আনোয়ারুল কাশিফাহ লিমা ফী কিতাবি আদওয়াউ আলাস সুন্নাহ - যিমনু আসারুল মুআল্লিমী (পৃষ্ঠা: ২৪)
قلت: قد ألف الإمام شرف الدين العاملي كتابًا في حياة هذا الراوية المكثر وأسماه: (أبو هريرة) ، فمد فضيلته يده إلى حقيبة كانت معه وأخرج منها كتاب: (أبو هريرة) الذي ألفه الإمام شرف الدين العاملي ، وكانت الطبعة الأولى طبعة صيدا - لبنان، وقال: هذا ما أهداه لي الإمام شرف الدين. فناوَلَني النسخة فأخذتها بيدي، فرأيتُ الإهداء بخط الإمام شرف الدين على الكتاب وفيه ما يشعر بجهاده وعلمه وإكباره(1).

ثم أخبرته بوفاة … - شرف الدين - قبل أسبوع في يوم الاثنين الماضي الموافق 30/ 12/1957 م الموافق 8/ 6/1377 هـ … فتأثر كثيرًا وقال: كان في نيتي إهداء كتاب "الأضواء" له عند إتمامه من الطبع.

ثم طلب فضيلته الشيخ سليمان - صاحب المطبعة - وقال: هات الملازم المطبوعة من كتاب "الأضواء"، فجاءني بها الشيخ سليمان وكانت آنذاك خمسة عشر ملزمة ولغاية (240) صفحة مطبوعة، فأخذتها بيدي وتصفحتها حتى وصلت إلى عنوان: (أحاديث المهدي) ، فرأيت فضيلته ينقل عن ابن خَلْدون البربري ويقول: وقد طعن ابن خلدون في أحاديث المهدي وفندها كلها، فقلت: يا مولانا الشيخ، إن البربري هذا ابن خلدون من ألدّ أعداء الشيعة وخصومهم ولا يصح نقل شيء من الخصم وكلامه ليس بحجة. وإذا كنتم بحاجة إلى (أحاديث في المهدي) فإن معي كتاب (منتخب الأثر) في الإمام الثاني عشر لفضيلة العلامة الكبير الشيخ لطف الله الصافي وفيه ينقل عن أعلام السنة ومحدثيهم، وإني مستعدّ لتقديمه لفضيلتكم حيث أنه ملمّ بهذا الموضوع.

وبعد أيام اتصلت به هاتفيًّا وحددت الموعد معه وقصدت منزله وصحبت معي كتاب: (منتخب الأثر) وأهديته له، وجُلْت معه ساعة وانصرفت.

--------------------------------------------

(1) هذا يعطينا سببًا من أسباب انحرافات أبي رية عن السنة وطعنه في رواتها وأهلها!

আমি বললাম: ইমাম শরাফ উদ্দিন আল-আমিলি এই বহু হাদিস বর্ণনাকারী রাবির জীবনের ওপর একটি কিতাব রচনা করেছেন এবং তার নাম রেখেছেন: (আবু হুরায়রা)। তখন মহামান্য তার সাথে থাকা একটি ব্যাগের দিকে হাত বাড়িয়ে দিলেন এবং সেখান থেকে ইমাম শরাফ উদ্দিন আল-আমিলি রচিত (আবু হুরায়রা) কিতাবটি বের করলেন। এটি ছিল সাইদা - লেবাননের প্রথম সংস্করণ। তিনি বললেন: এটিই ইমাম শরাফ উদ্দিন আমাকে উপহার দিয়েছেন। অতঃপর তিনি কিতাবটি আমাকে দিলেন এবং আমি তা নিজ হাতে গ্রহণ করলাম। আমি কিতাবটির ওপর ইমাম শরাফ উদ্দিনের নিজ হাতের লেখা উপহারনামা দেখতে পেলাম, যাতে তার সংগ্রাম, ইলম এবং মহত্ত্বের পরিচয় ছিল(১)।

এরপর আমি তাকে গত সপ্তাহের সোমবার, মোতাবেক ৩০/১২/১৯৫৭ খ্রিষ্টাব্দ ও ৮/৬/১৩৭৭ হিজরি তারিখে ... শরাফ উদ্দিনের ... ইন্তেকালের সংবাদ জানালাম। এতে তিনি অনেক প্রভাবিত হলেন এবং বললেন: আমার ইচ্ছা ছিল "আল-আদওয়া" কিতাবটির মুদ্রণ সম্পন্ন হলে তাকে উপহার দেওয়ার।

এরপর মহামান্য ছাপাখানার মালিক শেখ সুলাইমানকে ডাকলেন এবং বললেন: "আল-আদওয়া" কিতাবের মুদ্রিত ফর্মগুলো নিয়ে এসো। শেখ সুলাইমান সেগুলো আমার কাছে নিয়ে এলেন; তখন পনেরোটি ফর্ম ছিল এবং ২৪০ পৃষ্ঠা পর্যন্ত মুদ্রিত ছিল। আমি সেগুলো হাতে নিয়ে উল্টেপাল্টে দেখলাম যতক্ষণ না (মাহদির হাদিসসমূহ) শিরোনাম পর্যন্ত পৌঁছালাম। আমি দেখলাম যে মহামান্য ইবনে খালদুন আল-বারবারী থেকে উদ্ধৃতি দিচ্ছেন এবং বলছেন: ইবনে খালদুন মাহদি সম্পর্কিত হাদিসগুলোর সমালোচনা করেছেন এবং সেগুলো সব অসার সাব্যস্ত করেছেন। তখন আমি বললাম: হে মাওলানা শেখ, এই বারবারী ইবনে খালদুন শিয়াদের ঘোরতর শত্রুদের একজন এবং প্রতিপক্ষের থেকে কোনো কিছু উদ্ধৃত করা সঠিক নয়, আর তার কথা দলিল হিসেবে গণ্য হতে পারে না। যদি আপনাদের (মাহদি সংক্রান্ত হাদিসের) প্রয়োজন হয়, তবে আমার কাছে মহামান্য বড় আলেম শেখ লুৎফুল্লাহ আস-সাফী রচিত দ্বাদশ ইমাম সম্পর্কিত (মুনতাখাবুল আসার) কিতাবটি রয়েছে, যেখানে তিনি সুন্নিদের প্রধান আলেম ও মুহাদ্দিসদের থেকে উদ্ধৃতি দিয়েছেন। আমি এটি আপনার খেদমতে পেশ করতে প্রস্তুত, যেহেতু তিনি এই বিষয়ে সবিশেষ অবগত।

কয়েক দিন পর আমি তার সাথে ফোনে যোগাযোগ করলাম এবং সাক্ষাতের সময় নির্ধারণ করে তার বাসভবনে গেলাম। আমি সাথে করে (মুনতাখাবুল আসার) কিতাবটি নিয়ে গিয়েছিলাম এবং তা তাকে উপহার দিলাম। আমি তার সাথে এক ঘণ্টা সময় অতিবাহিত করে বিদায় নিলাম।

--------------------------------------------

(১) এটি সুন্নাহ থেকে আবু রাইয়ার বিচ্যুতি এবং এর বর্ণনাকারী ও অনুসারীদের প্রতি তার অপবাদের অন্যতম কারণ আমাদের সামনে প্রকাশ করে!

(খণ্ড: ১২) আল-আনোয়ারুল কাশিফাহ লিমা ফী কিতাবি আদওয়াউ আলাস সুন্নাহ - যিমনু আসারুল মুআল্লিমী (পৃষ্ঠা: ২৫)
وبعد مدة اتصلت به هاتفيًّا للاجتماع به في منزله … وتذاكرنا حول (أحاديث المهدي) وكتاب (منتخب الأثر) وكان قد أُعجب به كثيرًا واستفاد منه.

ثم طلبت من فضيلته أن يكتب للسيد العسكري حول هذا الموضوع …

ثم قلت لفضيلته: السيد العسكري من كبار المؤلفين في العراق، ومعروف لدى كبار علماء النجف الأشرف، ويمكنكم مراسلته وأخذ ما يخص هذا الموضوع منه، فراجعه فضيلته بعد ذلك وذكر هذا في كتابه "أضواء على السنة المحمدية" في الطبعة الثالثة التي طبعتها دار المعارف بمصر تحت إشرافه.

ثم تحدثت عن المذاهب الأربعة وقلت: إن هذه المذاهب: هي التي احتضنتها السياسة، وروّجتها تجاه الإمام الصادق من أئمة أهل البيت عليهم السلام.

وقلت: إن المستشرقين الذين طعنوا في الإسلام استندوا إلى الخرافات والإسرائيليات التي وجدوها في كتب أهل السنة.

فقال: أنا معك.

وفي إحدى رحلاتي إلى القاهرة قصدت داره العامرة وقد حملت له مجموعة من الكتب كنت قد صحبتها وحملتها معي من العراق، ومن بينها: (أحاديث عائشة) لمؤلف كتاب (عبد الله بن سبأ) ــ السيد العسكري ــ وطلبت منه أن يكتب رأيه حول هذا الكتاب الخالد. وهذا نص ما كتبه:

"أحاديث أم المؤمنين عائشة يحسب العامة وأشباه العامة من الذين يزعمون أنهم على شئ من العلم أن التاريخ الإسلامي وبخاصة في (دوره الأول) قد جاء صحيحًا لا ريب فيه، وأن رجاله جميعًا ثقات لا يكذبون - وهو من أجل ذلك يصدقون كل خبر جاء من هذه الفترة، ويشدون أيديهم على تلك
কিছুকাল পরে আমি তাঁর সাথে তাঁর বাড়িতে সাক্ষাতের উদ্দেশ্যে ফোনে যোগাযোগ করলাম … এবং আমরা 'মাহদী সংক্রান্ত হাদিসসমূহ' ও 'মুনতাখাবুল আসার' গ্রন্থটি নিয়ে আলোচনা করলাম; তিনি এটি অত্যন্ত পছন্দ করেছিলেন এবং এর দ্বারা উপকৃত হয়েছিলেন।

অতঃপর আমি তাঁর নিকট আবেদন করলাম যাতে তিনি এই বিষয়ে সাইয়্যেদ আসকারিকে কিছু লেখেন …

তারপর আমি তাঁকে বললাম: সাইয়্যেদ আসকারি ইরাকের বড় লেখকদের অন্যতম এবং নাজাফে আশরাফের বড় আলেমদের নিকট সুপরিচিত। আপনি তাঁর সাথে যোগাযোগ করতে পারেন এবং এই সংক্রান্ত প্রয়োজনীয় বিষয়াদি তাঁর কাছ থেকে সংগ্রহ করতে পারেন। অতঃপর তিনি তা যাচাই করেন এবং তাঁর তত্ত্বাবধানে মিশরের দারুল মাআরিফ থেকে প্রকাশিত "আদওয়াউ আলাস সুন্নাতিল মুহাম্মাদিয়্যাহ" গ্রন্থের তৃতীয় সংস্করণে এটি উল্লেখ করেন।

এরপর আমি চারটি মাজহাব সম্পর্কে আলোচনা করলাম এবং বললাম: এই মাজহাবগুলো রাজনীতি দ্বারা লালিত হয়েছে এবং আহলে বাইতের ইমামদের অন্তর্ভুক্ত ইমাম সাদিক (আলাইহিমুস সালাম)-এর বিপরীতে এগুলোকে প্রচার করা হয়েছে।

আমি আরও বললাম: যে সকল প্রাচ্যবিদ ইসলামের সমালোচনা করেছেন, তারা আহলে সুন্নতের কিতাবসমূহে প্রাপ্ত কাল্পনিক কাহিনী ও ইসরাঈলি বর্ণনার ওপর ভিত্তি করেই তা করেছেন।

তিনি বললেন: আমি আপনার সাথে একমত।

কায়রোতে আমার এক সফরের সময় আমি তাঁর সমৃদ্ধ বাসভবনে গেলাম। আমি ইরাক থেকে এক সেট বই তাঁর জন্য নিয়ে এসেছিলাম, যার মধ্যে 'আবদুল্লাহ ইবনে সাবা' গ্রন্থের লেখক সাইয়্যেদ আসকারির 'আহাদিসু আইশা' গ্রন্থটিও ছিল। আমি তাঁর নিকট এই কালজয়ী গ্রন্থটি সম্পর্কে তাঁর মতামত লিখে দেওয়ার অনুরোধ জানালাম। তিনি যা লিখেছিলেন তার পাঠ নিম্নরূপ:

"উম্মুল মুমিনীন আয়িশার হাদিসসমূহ: সাধারণ মানুষ এবং সাধারণদের মতো যারা নিজেদেরকে কিছুটা জ্ঞানী বলে দাবি করে, তারা ধারণা করে যে ইসলামী ইতিহাস—বিশেষ করে এর (প্রথম যুগ)—সন্দেহাতীতভাবে নির্ভুলভাবে পৌঁছেছে এবং এর সকল বর্ণনাকারী বিশ্বস্ত ও তারা মিথ্যা বলেন না। এই কারণেই তারা এই সময়ের প্রতিটি সংবাদ বিশ্বাস করে এবং সেগুলোকে দৃঢ়ভাবে আঁকড়ে ধরে..."
(খণ্ড: ১২) আল-আনোয়ারুল কাশিফাহ লিমা ফী কিতাবি আদওয়াউ আলাস সুন্নাহ - যিমনু আসারুল মুআল্লিমী (পৃষ্ঠা: ২৬)
الأحاديث التي شحنت بها الكتب المشهورة في الحديث. تلك التي حملت الطِّمّ والرِّم، والغث والسمين، والصحيح القليل، والموضوع الكثير. وقد بلغ من ثقتهم بأحاديث هذه الكتب، أن من يشك في حديث منها يعد في رأيهم فاسقًا! ! وإذا كان الله قد آتاهم عقولا لا ليفهموا بها، وفهوما لا يَزِنون بها، فإنهم يعطلون هذه المواهب استمساكا بالتقليد الأعمى، والتعبد لمن سلف! وإذا أنت بصَّرتهم بالحق، وبينت لهم المحجة الواضحة، لووا رؤوسهم، وأصروا على معتقداتهم واستكبروا استكبارا. وليتك تسلم من ألسنتهم، بل يرمونك بشتائمهم، وسبابهم، ويسلقونك بألسنتهم، وقد بلوت ذلك منهم عندما أخرجت كتابي: (أضواء على السنة المحمدية) الذي أرَّخت فيه الحديث، وكشفت كيف روي وما شابه رواية من الموضوعات ومتى دُوّن وما إلى ذلك ما يجب بيانه - فإنهم ما كادوا يقرأونه حتى هبَّت عليَّ أعاصير الشتائم والسباب من كل ناحية، من مصر والحجاز والشام! فلم أبال كل ذلك بل استعذت به لأني على سبيل الحق أسير، فلا يهمني شيء يلاقيني في هذا السبيل مهما كان. ومن عجيب أمر هؤلاء الذين يقفون في سبيل الحق حتى لا يظهر. ويمنعون ضوء العلم الصحيح أن يبدو، لا يعلمون مقدار ما يجنون من وراء جمودهم، وأن ضرر هذا الجمود لا يقف عند الجناية على العلم والدين فحسب؟ بل يمتد إلى ما وراء ذلك.

فإن الناشئين من المسلمين وغير المسلمين الذين بلغوا بدراستهم الجامعية العلمية إلى أنهم لا يفهمون إلا لقبولهم، وما وصلوا إليه بعلمهم، قد انصرفوا عن الإسلام لما بدى لهم على هذه الصورة المشوهة التي عارضها هؤلاء الشيوخ عليهم. من أجل ذلك كله كان من الواجب الحتم على العلماء المحققين الذين حرروا أعناقهم من أغلال التقليد، وعقولهم من رق التعبد للسلف، أن يشمروا عن سواعد الجد، ويتناولوا تاريخنا بالتمحيص، وأن يخلصوه من شوائب الباطل والعصبيات، ولا يخشون في ذلك لومة لائم.
সেই হাদিসসমূহ যা দ্বারা হাদিসের প্রসিদ্ধ গ্রন্থগুলো পূর্ণ করা হয়েছে। সেগুলো যা ভালো-মন্দ, অসার ও সারগর্ভ এবং অল্প কিছু সহিহ ও প্রচুর পরিমাণ জাল হাদিস বহন করেছে। এই গ্রন্থগুলোর হাদিসের প্রতি তাদের আস্থা এমন পর্যায়ে পৌঁছেছে যে, তাদের মতে কেউ যদি এগুলোর কোনো হাদিস সম্পর্কে সন্দেহ পোষণ করে তবে তাকে পাপাচারী গণ্য করা হয়! ! আল্লাহ যদি তাদের এমন বুদ্ধি দিয়ে থাকেন যা দিয়ে তারা বোঝে না, এবং এমন উপলব্ধি দিয়ে থাকেন যা দিয়ে তারা সত্য-মিথ্যা যাচাই করে না, তবে তারা অন্ধ তাকলিদ আঁকড়ে ধরার জন্য এবং পূর্বসূরিদের অন্ধ আনুগত্যের জন্য এই প্রতিভাগুলোকে অকেজো করে রেখেছে! আর আপনি যখন তাদের সত্যের পথে দৃষ্টি আকর্ষণ করেন এবং তাদের সামনে সুস্পষ্ট পথ তুলে ধরেন, তখন তারা তাদের মাথা ঘুরিয়ে নেয় এবং তাদের বিশ্বাসে অটল থাকে ও চরম অহংকার প্রদর্শন করে। আর হায়! আপনি যদি তাদের রসনা থেকে রেহাই পেতেন; বরং তারা আপনাকে গালিগালাজ ও তিরস্কার ছুড়ে মারবে এবং তাদের তীক্ষ্ণ জিহ্বা দ্বারা আপনাকে বিদ্ধ করবে। আমি তাদের থেকে এর তিক্ত অভিজ্ঞতা লাভ করেছি যখন আমি আমার গ্রন্থ 'আদওয়া আলাস সুন্নাহ আল-মুহাম্মাদিয়্যাহ' (মুহাম্মাদি সুন্নাহর ওপর আলোকপাত) প্রকাশ করি, যাতে আমি হাদিসের ইতিহাস বর্ণনা করেছি এবং এটি কীভাবে বর্ণিত হয়েছে, এর বর্ণনায় কী ধরনের জাল বিষয় অনুপ্রবেশ করেছে, কখন এটি সংকলিত হয়েছে এবং যা কিছু বর্ণনা করা আবশ্যক তা উন্মোচন করেছি—তখন তারা এটি পড়ার সাথে সাথেই মিসর, হিজাজ ও শাম থেকে সব দিক থেকে আমার ওপর গালিগালাজ ও তিরস্কারের ঘূর্ণিঝড় বয়ে গিয়েছিল! কিন্তু আমি এসবে ভ্রুক্ষেপ করিনি, বরং এতে আল্লাহর কাছে আশ্রয় চেয়েছি। কারণ আমি সত্যের পথে চলছি, তাই এই পথে আমার সামনে যা-ই আসুক না কেন, তাতে আমি বিচলিত নই। আর এদের বিষয়টি বড়ই বিস্ময়কর যারা সত্যের পথে অন্তরায় হয়ে দাঁড়ায় যাতে তা প্রকাশিত না হয়। তারা সঠিক জ্ঞানের আলোকে উদ্ভাসিত হতে বাধা দেয়। তারা জানে না যে তাদের এই অনড় জড়তার পেছনে তারা কত বড় অপরাধ করছে এবং এই জড়তার ক্ষতি কেবল জ্ঞান ও ধর্মের ওপর অপরাধের মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকে না, বরং তা তার বাইরেও বিস্তৃত হয়।

নিশ্চয়ই মুসলিম ও অমুসলিমদের মধ্যে যারা উদীয়মান, যারা তাদের বিশ্ববিদ্যালয়ের বৈজ্ঞানিক শিক্ষা দ্বারা এই পর্যায়ে পৌঁছেছে যে তারা তাদের বোধগম্যতার বাইরে কিছু গ্রহণ করে না এবং যা কিছু তারা তাদের জ্ঞান দ্বারা লাভ করেছে, তারা ইসলাম থেকে মুখ ফিরিয়ে নিয়েছে। কারণ তাদের সামনে ইসলাম এমন এক বিকৃত রূপে উপস্থাপিত হয়েছে যা এই শায়খরা তাদের সামনে পেশ করেছেন। এই সব কারণেই সেই সব গবেষক আলেমদের ওপর এটি অপরিহার্য দায়িত্ব হয়ে পড়েছে যারা তাকলিদের শৃঙ্খল থেকে নিজেদের ঘাড় মুক্ত করেছেন এবং পূর্বসূরিদের অন্ধ আনুগত্য থেকে নিজেদের বুদ্ধিকে স্বাধীন করেছেন, তারা যেন কোমর বেঁধে নেমে পড়েন এবং আমাদের ইতিহাসকে সূক্ষ্ম পর্যালোচনার মাধ্যমে গ্রহণ করেন এবং একে বাতিলের আবর্জনা ও গোঁড়ামি থেকে মুক্ত করেন। আর এই কাজে তারা যেন কোনো নিন্দুকের নিন্দার পরোয়া না করেন।
(খণ্ড: ১২) আল-আনোয়ারুল কাশিফাহ লিমা ফী কিতাবি আদওয়াউ আলাস সুন্নাহ - যিমনু আসারুল মুআল্লিমী (পৃষ্ঠা: ২৭)
وإني ليسرني كل السرور أن أشيد بفضل عالم محقق كبير من علماء العراق قد نهض ليؤدي ما عليه نحو الدين والعلم فأخرج للناس كتبا نفيسة كانت كالمرآة الصافية التي يرى فيها المسلمون وغير المسلمين تاريخ الإسلام على أجمل صوره في أول أدواره، ذلكم هو الأستاذ (مرتضى العسكري) فقد أخرج لنا من قبل: كتاب (عبد الله بن سبأ) أثبت فيه بالأدلة القاطعة، والبراهين الساطعة، أن هذا الاسم لم يكن له وجود وأن السياسة "لعنها الله" هي التي ابتدعت هذا الاسم لتجعله من أسباب تشويه وجه التاريخ، وبيَّن أن شيخ المؤرخين في نظر العلماء وهو الطبري قد جعل جل اعتماده في تاريخه ورواياته على رجل أجمع الناس على تكذيبه. ومن الغريب أن جميع المؤرخين الذين جاؤوا بعد الطبري قد نقلوا عن ابن جرير كل رواياته بغير تمحيص ولا نقد، وهذا الرجل الكذاب هو: سيف بن عمر التميمي. وأردف العلامة العسكري هذا الكتاب النفيس بكتاب آخر أكثر منه نفاسة هو كتاب: (أحاديث عائشة) وقد تناول في هذا الكتاب تاريخ هذه السيدة لا كما جاء من ناحية السياسة والهوى والعصبية، ولكن من أفق الحقيقة التي لا ريب فيها، وكتبه بقلم نزيه يرعى حرمة العلم وحق الدين لا يخشى في الله لومة لائم.

أشار الأستاذ في تمهيده لكتابه إلى ما في الأحاديث التي نسبت إلى النبي صلى الله عليه وسلم من اختلاف بين حديث وآخر، وبين بعض تلك الأحاديث، وآي القرآن فما كان مثار الطعن والنقد إلى النبي من أعداء الإسلام. ثم بيَّن أن هذه الأحاديث إن هي إلا مجموعات مختلفة رويت عن رواة مختلفين، وعلى الباحث العالم النزيه أن يقوم بتصنيفها نسبة إلى رواتها. ثم يدرس أحاديث كل منهم على حدة. وبخاصة أحاديث الرواة المكثرين أمثال: عائشة، وأبي هريرة، وأنس، وابن عمر، مع دراسة حياة راويها، وبيئته وظروفه، ثم مضى يقول: إن التاريخ الإسلامي منذ بعثة الرسول حتى بيعة يزيد بن معاوية لا يفهم صحيحا إلا بعد دراسة أحاديث أم المؤمنين (دراسة موضوعية) ولأن
ইরাকের একজন প্রথিতযশা ও বিজ্ঞ গবেষক আলেমের শ্রেষ্ঠত্বের কথা উল্লেখ করতে পেরে আমি অত্যন্ত আনন্দিত, যিনি দ্বীন ও ইলমের প্রতি তার দায়বদ্ধতা পালনে সচেষ্ট হয়েছেন। তিনি মানুষের সামনে এমন কিছু মূল্যবান গ্রন্থ পেশ করেছেন যা একটি স্বচ্ছ দর্পণের ন্যায়, যাতে মুসলিম এবং অমুসলিমগণ ইসলামের প্রাথমিক যুগের ইতিহাসকে এর সুন্দরতম রূপে অবলোকন করতে পারে। তিনি হলেন উস্তাদ (মুরতাজা আল-আসকারী)। তিনি ইতিপূর্বে আমাদের জন্য 'আবদুল্লাহ বিন সাবা' নামক গ্রন্থটি উপহার দিয়েছেন, যেখানে তিনি অকাট্য যুক্তি ও উজ্জ্বল প্রমাণের মাধ্যমে প্রতিষ্ঠা করেছেন যে, এই নামের কোনো অস্তিত্বই ছিল না। বরং 'অভিশপ্ত' রাজনীতিই এই নামটির উদ্ভব ঘটিয়েছে যাতে একে ইতিহাসের সৌন্দর্য বিকৃত করার অন্যতম মাধ্যম হিসেবে ব্যবহার করা যায়। তিনি আরও স্পষ্ট করেছেন যে, আলেমদের দৃষ্টিতে ঐতিহাসিকদের প্রধান হিসেবে স্বীকৃত আল-তাবারী তার ইতিহাসের বর্ণনাসমূহে মূলত এমন এক ব্যক্তির ওপর নির্ভর করেছেন যাকে মিথ্যাবাদী হিসেবে সাব্যস্ত করার ব্যাপারে সকলে একমত পোষণ করেছেন। আশ্চর্যের বিষয় এই যে, তাবারীর পরবর্তী সকল ঐতিহাসিকই ইবনে জারীরের সকল বর্ণনা কোনো প্রকার চুলচেরা বিশ্লেষণ বা সমালোচনা ছাড়াই গ্রহণ করেছেন। আর সেই চরম মিথ্যাবাদী ব্যক্তিটি হলো: সাইফ বিন ওমর আত-তামিমী। আল্লামা আসকারী এই মূল্যবান গ্রন্থটির পর আরও একটি অধিকতর জ্ঞানগর্ভ গ্রন্থ রচনা করেছেন, যা হলো: 'আহাদিসে আয়েশা'। এই গ্রন্থে তিনি এই মহীয়সী নারীর ইতিহাস আলোচনা করেছেন; তবে তা রাজনীতি, প্রবৃত্তি বা সংকীর্ণতার দৃষ্টিভঙ্গি থেকে নয়, বরং সংশয়হীন সত্যের আলোকে। তিনি এটি এমন এক নিরপেক্ষ লেখনীর মাধ্যমে সম্পন্ন করেছেন যা ইলমের মর্যাদা ও দ্বীনের অধিকারের প্রতি যত্নশীল এবং আল্লাহর পথে কোনো নিন্দুকের নিন্দাকে ভয় করে না।

উস্তাদ তার গ্রন্থের ভূমিকায় নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের দিকে সম্বন্ধযুক্ত হাদীসসমূহের মধ্যকার পারস্পরিক বৈসাদৃশ্য এবং কিছু হাদীসের সাথে কুরআনের আয়াতের পার্থক্যের প্রতি ইঙ্গিত করেছেন, যা ইসলামের শত্রুদের পক্ষ থেকে নবীর বিরুদ্ধে বিদ্রূপ ও সমালোচনার পথ উন্মুক্ত করেছিল। অতঃপর তিনি স্পষ্ট করেছেন যে, এই হাদীসগুলো মূলত বিভিন্ন বর্ণনাকারীর মাধ্যমে বর্ণিত ভিন্ন ভিন্ন সংকলন মাত্র। একজন নিরপেক্ষ আলেম গবেষকের কর্তব্য হলো বর্ণনাকারীদের পরম্পরা অনুযায়ী সেগুলো শ্রেণীবদ্ধ করা এবং এরপর প্রত্যেকের বর্ণিত হাদীসগুলো স্বতন্ত্রভাবে পর্যালোচনা করা। বিশেষ করে যারা অধিক পরিমাণে হাদীস বর্ণনা করেছেন যেমন: আয়েশা, আবু হুরায়রা, আনাস এবং ইবনে ওমর; এর পাশাপাশি বর্ণনাকারীর জীবন, পরিবেশ ও প্রেক্ষাপট নিয়ে গবেষণা করা। এরপর তিনি বলেন: রাসূলের নবুওয়াত প্রাপ্তি থেকে শুরু করে ইয়াজিদ বিন মুয়াবিয়ার বায়আত পর্যন্ত সময়ের ইসলামী ইতিহাস সঠিকভাবে বোঝা সম্ভব নয়, যতক্ষণ না উম্মুল মুমিনীন (আয়েশা)-এর বর্ণিত হাদীসসমূহ সম্পর্কে একটি (বিষয়ভিত্তিক অধ্যয়ন) করা হচ্ছে। কারণ...
(খণ্ড: ১২) আল-আনোয়ারুল কাশিফাহ লিমা ফী কিতাবি আদওয়াউ আলাস সুন্নাহ - যিমনু আসারুল মুআল্লিমী (পৃষ্ঠা: ২৮)
الأستاذ المؤلف بصدد البحث عن التاريخ الإسلامي في دوره الأول فقد قدم هذه الدراسة على غيرها من الدراسات. وبعد أن بيَّن صعوبة هذه الدراسة لما يجد في سبيلها من عقبات متعددة أخذ في موضوع دراسة فبيَّن نسب عائشة، ومولدها، وتزويجها من النبي صلى الله عليه وسلم وما صنعته معه (كامرأة) كما قال شوي: من مكر وكيد "كيدهن عظيم".

وإنها قد أقامت مع النبي نيفًا وثمانية أعوام، ثم أخذ يذكر أنها كانت تؤيد خلفاء النبي (أبي بكر، وعمر، وعثمان) في أول خلافته ثم انحرافها عنه وترأسها للمعارضة له حتى بلغ من أمرها أنها كانت تحرّض على قتله، وما أن قتل هذا الخليفة بسبب خروجه عن نهج سابقيه، وتركه الأمر لقومه يتصرفون فيه بأهوائهم حتى "برزت" تعارض عليًّا معارضة شديدة لم يلق مثلها من غيرها، وكان في أول شئ بدا منها لهذا الإمام العظيم أنها ما كادت تعلم بنبأ بيعته حتى ثارت ثائرتها وصاحت: لا يمكن أن يتم ذلك! ولو انطبقت هذه - أي السماء على الأرض - ولما لبثت أن ألبت عليه طلحة والزبير وقادوا جميعًا الجيوش الجرارة لمحاربة علي رضي الله عنه في وقعة الجمل - وكانت تركب جملًا من المدينة إلى البصرة، وبعد أن انتهيت هذه المعركة بسفك الدماء المحترمة انتهت المعركة بقتل طلحة فأعادها " علي رضي الله عنه " إلى المدينة مكرمة لم ينلها سوء، ولكنها لم تحفظ له هذا الجميل، ولم ترجع عن غيها وظلت تعمل ضده بكل وسيلة وكان من ذلك أن كانت تؤيد معاوية في حروبه مع " علي رضي الله عنه " ولم تهدأ ثائرتها حتى قُتل علي فقرت عينها، وهدأت نفسها، وتمثلت عند قتله بقول الشاعر:

فألقت عصاها واستقرّ بها النوى … كما قرَّ عينًا بالإياب المسافر

وقد كان ذلك بسبب ضغنها لعلي رضي الله عنه، وما يكنه صدرها له لأنه
সম্মানিত গ্রন্থকার ইসলামের ইতিহাসের প্রাথমিক যুগের গবেষণার কার্যে নিয়োজিত আছেন, তাই তিনি অন্যান্য গবেষণার তুলনায় এই অধ্যয়নটিকেই অগ্রাধিকার দিয়েছেন। এই গবেষণার পথে নানাবিধ বাধা-বিপত্তি ও প্রতিকূলতার কারণে এর কাঠিন্য বর্ণনা করার পর তিনি মূল আলোচনায় প্রবেশ করেন এবং আয়েশার বংশপরিচয়, জন্ম, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের সাথে তাঁর বিবাহ এবং (একজন নারী হিসেবে) তাঁর সাথে তিনি যা করেছিলেন সে সম্পর্কে আলোচনা করেন; যেমনটি শুয়াই বলেছেন: ছলনা ও চক্রান্তের মধ্য দিয়ে, "নিশ্চয়ই তোমাদের চক্রান্ত অত্যন্ত ভয়াবহ"।

তিনি নবীর সাথে আট বছরের কিছু বেশি সময় অতিবাহিত করেছিলেন। অতঃপর লেখক উল্লেখ করতে শুরু করেন যে, তিনি নবীর খলীফাগণকে (আবু বকর, উমর ও উসমান) তাঁদের খিলাফতের প্রথম দিকে সমর্থন করেছিলেন। কিন্তু পরবর্তীতে উসমানের থেকে তাঁর বিচ্যুতি ঘটে এবং তাঁর বিরোধিতার নেতৃত্ব দেন; এমনকি বিষয়টি এমন পর্যায়ে পৌঁছায় যে তিনি তাঁকে হত্যার জন্য প্ররোচিত করতে থাকেন। আর যখন এই খলীফা তাঁর পূর্বসূরিদের পথ থেকে বিচ্যুত হওয়া এবং স্বীয় গোত্রের হাতে ক্ষমতা ছেড়ে দেওয়ার কারণে নিহত হলেন—যাতে তারা নিজেদের খেয়ালখুশি মতো তা পরিচালনা করতে পারে—তখন তিনি আলীর বিরুদ্ধে তীব্র বিরোধিতায় "অবতীর্ণ" হলেন, যে রূপ বিরোধিতার সম্মুখীন তিনি অন্য কারো পক্ষ থেকে হননি। এই মহান ইমামের ক্ষেত্রে তাঁর পক্ষ থেকে প্রকাশিত প্রথম বিষয়টি ছিল এই যে, তাঁর বায়আতের সংবাদ পাওয়া মাত্রই তিনি অত্যন্ত ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠেন এবং চিৎকার করে বলেন: "তা কখনও হতে পারে না! এমনকি যদি আকাশ জমিনের ওপর ভেঙে পড়ে তবুও নয়!" এর কিছুকাল পরই তিনি তাঁর বিরুদ্ধে তালহা ও জুবায়েরকে প্ররোচিত করেন এবং তাঁরা সকলে মিলে আলী রাদিয়াল্লাহু আনহুর বিরুদ্ধে যুদ্ধ করার জন্য উষ্ট্রের যুদ্ধে (জঙ্গে জামাল) এক বিশাল বাহিনী পরিচালনা করেন—আর তিনি মদীনা থেকে বসরা পর্যন্ত একটি উটে সওয়ার ছিলেন। সম্মানিত রক্তক্ষরণের মাধ্যমে এই যুদ্ধের সমাপ্তি ঘটার পর এবং তালহার নিহত হওয়ার মধ্য দিয়ে লড়াই শেষ হলে, "আলী রাদিয়াল্লাহু আনহু" তাঁকে অত্যন্ত সম্মানের সাথে মদীনায় ফেরত পাঠিয়ে দেন এবং কোনো প্রকার মন্দ আচরণ তাঁর প্রতি করা হয়নি। কিন্তু তিনি তাঁর এই অনুগ্রহ রক্ষা করেননি এবং নিজের গোঁড়ামি থেকে ফিরে আসেননি; বরং তিনি সর্বতোভাবে তাঁর বিরুদ্ধে কাজ করে যেতে থাকেন। যার একটি দিক ছিল এই যে, আলী রাদিয়াল্লাহু আনহুর সাথে যুদ্ধের সময় তিনি মুয়াবিয়াকে সমর্থন করেছিলেন। আলী নিহত হওয়া পর্যন্ত তাঁর ক্রোধ প্রশমিত হয়নি; আলী নিহত হওয়ার পর তাঁর চক্ষু শীতল হলো এবং তিনি প্রশান্তি লাভ করলেন। আলীর শাহাদাতের সংবাদে তিনি কবির এই পঙক্তিটি আওড়ান:

অতঃপর সে তার লাঠি নিক্ষেপ করল এবং গন্তব্যে স্থির হলো … যেমনটি প্রবাসী মুসাফিরের চক্ষু প্রত্যাবর্তনের মাধ্যমে শীতল হয়।

আর এটি ছিল আলী রাদিয়াল্লাহু আনহুর প্রতি তাঁর বিদ্বেষের কারণে এবং তাঁর অন্তর তাঁর প্রতি যা গোপন করে রেখেছিল সেই কারণে, কেননা তিনি...
(খণ্ড: ১২) আল-আনোয়ারুল কাশিফাহ লিমা ফী কিতাবি আদওয়াউ আলাস সুন্নাহ - যিমনু আসারুল মুআল্লিমী (পৃষ্ঠা: ২৯)
زوج فاطمة بنت خديجة. وما كان لموقفه من حديث الإفك …

وفي كتاب أرسله إليها وإلى طلحة والزبير أثناء وقعة الجمل، لو أنها عقلته وتدبرته لاشتد ندمها واستغفرت الله مما أجرمت وإن كان الظن أن الله لا يغفر لها.

قال رضي الله عنه: وأنت يا عائشة فإنك خرجت من بيتك عاصية لله ولرسوله تطلبين أمرًا كان عنك موضوعًا، ثم تزعمين أنك تريدين الإصلاح بين المسلمين فخبريني ما للنساء وقود الجيوش؟ والبروز للرجال؟ والوقع بين أهل القبلة، وسفك الدماء المحترمة؟ ثم إنك على زعمك طلبت دم عثمان، وما أنت وذاك؟ وعثمان رجل من بني أمية وأنت من تيم؟ إنك بالأمس تقولين في ملأ من أصحاب رسول الله: اقتلوا نعثلًا فقد كفر! ثم تطلبين اليوم بدمه! فاتقي الله وارجعي إلى بيتك والبسي عليك سترك والسلام.

هذه لمحة خاطفة مما حواه كتاب (أحاديث عائشة) ولو نحن ذهبنا نبين ما فصَّله هذا العالم المحقّق في كتابه هذا مما أوفى به على الغاية، ولم نر مثله من قبل لغيره لاحتجنا إلى كتاب برأسه.

وإذا كان لا بد من كلمة نختم بها قولنا هذا الموجز فإنا نقول مخلصين: إنه يجب على كل من يريد أن يقف على حقيقة الإسلام في مستهل تاريخه إلى بيعة يزيد فليقرأ كتابي هذا العلامة (عبد الله بن سبأ - وأحاديث عائشة) وليتدبر ما جاء فيهما، فإن فيهما القول الفصل.

أما ما نرجوه من العلامة مؤلفهما فهو أن يغذّ السير في هذا الطريق الذي اختطه حتى يتم ما أخذ نفسه به. والله ندعو أن يكتب له التوفيق، والسداد في عمله، إنه سميع الدعاء … محمود أبو رية القاهرة: عن جيزة الفسطاط ليلة الجمعة 18 رمضان المبارك 1381 هـ. الموافق 23 فبراير 1962 م".
খাদিজার কন্যা ফাতিমার স্বামী। ইফকের (অপবাদের) ঘটনার ব্যাপারে তার অবস্থানের ক্ষেত্রে যা হয়েছিল …

এবং জঙ্গে জামালের (উটের যুদ্ধের) সময় তিনি তার নিকট এবং তালহা ও যুবাইরের নিকট যে পত্রটি পাঠিয়েছিলেন, যদি তিনি তা বুঝতেন এবং অনুধাবন করতেন তবে তার অনুশোচনা তীব্র হতো এবং তিনি যা অপরাধ করেছেন তার জন্য আল্লাহর কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করতেন, যদিও ধারণা করা হয় যে আল্লাহ তাকে ক্ষমা করবেন না।

তিনি (আল্লাহ তাঁর ওপর সন্তুষ্ট হোন) বলেছেন: আর তুমি হে আয়েশা! তুমি আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের অবাধ্য হয়ে তোমার ঘর থেকে বের হয়েছ এমন এক বিষয় অন্বেষণ করতে যা তোমার ওপর অর্পিত ছিল না। এরপর তুমি দাবি করছ যে তুমি মুসলমানদের মধ্যে সংস্কার চাও। তবে আমাকে বলো, নারীদের কাজ কি সেনাবাহিনী পরিচালনা করা? পুরুষদের সামনে আসা? আহলে কিবলার (মুসলমানদের) মধ্যে যুদ্ধ বাধানো এবং সম্মানিত রক্তপাত ঘটানো? এরপর তোমার দাবি অনুযায়ী তুমি উসমানের রক্তের বদলা চাইছ, অথচ তোমার সাথে তার সম্পর্ক কী? উসমান বনী উমাইয়া গোত্রের লোক আর তুমি তায়ম গোত্রের। গতকালই তুমি রাসূলুল্লাহর সাহাবীদের সমাবেশে বলেছিলে: 'এই নাথালকে (উসমানকে) হত্যা করো, কারণ সে কুফরি করেছে!' আর আজ তুমি তার রক্তের দাবি জানাচ্ছ! অতএব আল্লাহকে ভয় করো, নিজের ঘরে ফিরে যাও এবং পর্দার অন্তরালে থাকো। আস-সালাম।

এটি 'আহাদিসু আয়েশা' গ্রন্থে যা রয়েছে তার একটি সংক্ষিপ্ত ঝলক মাত্র। এই গবেষক আলেম তার এই কিতাবে যা বিস্তারিত বর্ণনা করেছেন এবং যার মাধ্যমে তিনি চূড়ান্ত লক্ষ্যে পৌঁছেছেন—যা আমরা এর আগে অন্য কারো কাছে দেখিনি—তা যদি আমরা ব্যাখ্যা করতে যেতাম তবে আমাদের একটি স্বতন্ত্র গ্রন্থের প্রয়োজন হতো।

এবং যদি আমাদের এই সংক্ষিপ্ত আলোচনার সমাপ্তিতে কোনো কথা বলতেই হয়, তবে আমরা একনিষ্ঠভাবে বলছি: যারা ইসলামের ইতিহাসের সূচনা থেকে ইয়াজিদের বায়াত পর্যন্ত প্রকৃত সত্য জানতে চায়, তাদের উচিত এই আল্লামার দুটি কিতাব 'আবদুল্লাহ ইবনে সাবা' এবং 'আহাদিসু আয়েশা' পাঠ করা এবং তাতে যা বর্ণিত হয়েছে তা নিয়ে চিন্তা করা; কারণ এই কিতাব দুটিতেই রয়েছে চূড়ান্ত কথা।

আর এই কিতাবদ্বয়ের রচয়িতা আল্লামার কাছে আমাদের প্রত্যাশা হলো, তিনি যেন তার নির্ধারিত এই পথে দ্রুত অগ্রসর হন যাতে তিনি যে কাজ নিজের কাঁধে নিয়েছেন তা সম্পন্ন করতে পারেন। আমরা আল্লাহর কাছে প্রার্থনা করি তিনি যেন তাকে তার কাজে তাওফিক ও সঠিক দিকনির্দেশনা দান করেন। নিশ্চয়ই তিনি প্রার্থনা শ্রবণকারী … মাহমুদ আবু রাইয়্যাহ। কায়রো: গিজাতুল ফুসতাত থেকে, শুক্রবার রাত, ১৮ই রমজানুল মুবারক ১৩৮১ হিজরি, যা ২৩শে ফেব্রুয়ারি ১৯৬২ খ্রিস্টাব্দের সমসাময়িক।
(খণ্ড: ১২) আল-আনোয়ারুল কাশিফাহ লিমা ফী কিতাবি আদওয়াউ আলাস সুন্নাহ - যিমনু আসারুল মুআল্লিমী (পৃষ্ঠা: ৩০)
هذا وإني لما غادرت القاهرة وأتيت إلى سوريا ولبنان وقبل وصولي العراق عَرَّفت فضيلة الأستاذ الشيخ محمود أبو رية على جماعة من الأساتذة والعلماء والكتّاب في كل من سوريا ولبنان، والعراق: كالأستاذ صدر الدين شرف الدين، وفضيلة الشيخ محمد جواد مُغْنية، وآية الله الإمام الخوئي، والعلامة الأستاذ الشيخ أحمد الوائلي، والأستاذ رشيد الصفار.

وقد تبودلت الرسائل بينه وبين السيد صدر الدين شرف الدين وطلب من الشيخ أن يراسله وأرسل له فصولًا من كتابه (شيخ المضيرة) فنشر منه في عدة أعداد من مجلته "مجلة النهج" وتوثقت بينه وبين الشيخ الاتصالات، وتبادلت بينهما الرسائل حتى استطاع الأستاذ صدر الدين أن يقوم بطبع كتابه (شيخ المضيرة) الطبعة الأولى في صور - لبنان.

وكما تبادلت الرسائل بينه وبين الشيخ محمد جواد مُغْنية حول طبع (شيخ المضيرة أبو هريرة) وذلك قبل أن يتم الاتفاق مع السيد صدر الدين شرف الدين. كما تبادلت الرسائل بينه وبين آية الله الخوئي، والأستاذ رشيد الصفار.

وفي 12/ 10/1963 م تسلمت طردًا من دائرة بريد النجف مُرسِلُه فضيلة الأستاذ "أبو رية" من القاهرة، وفي باطنه ثلاث نسخ من كتاب: (أبو هريرة راوية الإسلام) بقلم العجاج الخطيب الشامي، وقد صدر هذا الكتاب ضمن سلسلة أعلام العرب إلى الأسواق بتاريخ 7/ 11/1963 وكانت النسخ مهداة لي وللسيد العسكري وللأستاذ رشيد الصفار، لأني كنت همزة وصل وتعريف بينهم.

وفي إحدى رحلاتي إلى القاهرة التقيت بالأستاذ رشيد الصفار فكان يذهب معي إلى منزل الأستاذ الشيخ محمود أبو رية. وكان آية الله الخوئي عندما تصل إليه رسائل الشيخ محمود أبو رية كان يرسل إليّ ويطلعني عليها أو يرسلها لي لأطلع عليها. وفي أحد الأيام جاءني السيد عماد حفيد آية الله
এটি এই যে, যখন আমি কায়রো ত্যাগ করে সিরিয়া ও লেবাননে এলাম এবং ইরাকে পৌঁছানোর পূর্বে, আমি সিরিয়া, লেবানন ও ইরাকের একদল উস্তাদ, আলিম ও লেখকের সাথে শ্রদ্ধেয় উস্তাদ শায়খ মাহমুদ আবু রায়্যাহকে পরিচয় করিয়ে দিয়েছিলাম: যেমন উস্তাদ সদরুদ্দিন শরাফুদ্দিন, শ্রদ্ধেয় শায়খ মুহাম্মদ জাওয়াদ মুগনিয়া, আয়াতুল্লাহ ইমাম আল-খুই, আল্লামা উস্তাদ শায়খ আহমাদ আল-ওয়ায়েলি এবং উস্তাদ রশীদ আস-সাফফার।

এবং তাঁর ও সাইয়্যিদ সদরুদ্দিন শরাফুদ্দিনের মধ্যে পত্রবিনিময় হয়েছিল এবং তিনি শায়খকে অনুরোধ করেছিলেন যাতে তিনি তাঁকে পত্র লেখেন এবং তাঁর (শায়খুল মুদীরা) গ্রন্থের কিছু অধ্যায় তাঁকে পাঠান। ফলে তিনি তাঁর সাময়িকী "মাজাল্লাত আন-নাহজ"-এর বেশ কয়েকটি সংখ্যায় তা প্রকাশ করেন এবং তাঁর ও শায়খের মধ্যে যোগাযোগ সুদৃঢ় হয়। তাঁদের মধ্যে পত্রবিনিময় অব্যাহত থাকে যতক্ষণ না উস্তাদ সদরুদ্দিন লেবাননের সূর শহরে তাঁর (শায়খুল মুদীরা) গ্রন্থের প্রথম সংস্করণ মুদ্রণ করতে সক্ষম হন।

তেমনিভাবে সাইয়্যিদ সদরুদ্দিন শরাফুদ্দিনের সাথে চুক্তি হওয়ার পূর্বেই (শায়খুল মুদীরা আবু হুরায়রা) মুদ্রণ বিষয়ে তাঁর এবং শায়খ মুহাম্মদ জাওয়াদ মুগনিয়ার মধ্যে পত্রবিনিময় হয়েছিল। এছাড়াও তাঁর এবং আয়াতুল্লাহ খুই ও উস্তাদ রশীদ আস-সাফফারের মধ্যে পত্রবিনিময় হয়েছিল।

এবং ১৯৬৩ সালের ১২ই অক্টোবর আমি নাজাফ ডাকঘর থেকে একটি পার্সেল গ্রহণ করি যা কায়রো থেকে শ্রদ্ধেয় উস্তাদ "আবু রায়্যাহ" পাঠিয়েছিলেন। এর ভেতরে আল-আজাজ আল-খতীব আল-শামি রচিত (আবু হুরায়রা রাওয়িয়াতুল ইসলাম) বইটির তিনটি কপি ছিল। এই বইটি ১৯৬৩ সালের ৭ই নভেম্বর 'আলামুল আরব' (আরব মনীষী) সিরিজের অধীনে বাজারে প্রকাশিত হয়েছিল। কপিগুলো আমাকে, সাইয়্যিদ আসকারী এবং উস্তাদ রশীদ আস-সাফফারকে উপহারস্বরূপ পাঠানো হয়েছিল, কারণ আমি তাঁদের মধ্যে যোগাযোগের মাধ্যম ও পরিচয়ের সেতুবন্ধন ছিলাম।

এবং কায়রোতে আমার একটি সফরের সময় উস্তাদ রশীদ আস-সাফফারের সাথে আমার দেখা হয় এবং তিনি আমার সাথে উস্তাদ শায়খ মাহমুদ আবু রায়্যাহর বাসভবনে যেতেন। যখনই আয়াতুল্লাহ খুই-এর কাছে শায়খ মাহমুদ আবু রায়্যাহর চিঠি আসত, তিনি আমাকে ডেকে পাঠাতেন এবং আমাকে সেগুলো দেখাতেন অথবা সেগুলো আমার কাছে পাঠাতেন যাতে আমি তা অধ্যয়ন করতে পারি। একদিন আয়াতুল্লাহর নাতি সাইয়্যিদ ইমাদ আমার কাছে এলেন।
(খণ্ড: ১২) আল-আনোয়ারুল কাশিফাহ লিমা ফী কিতাবি আদওয়াউ আলাস সুন্নাহ - যিমনু আসারুল মুআল্লিমী (পৃষ্ঠা: ৩১)
الخوئي وقال: إن جدي يطلب حضورك، وكان عندي جماعة وعندما انصرفوا توجهت إلى دار سماحته، ولما دخلت سلّمت وجلست فتوجه نحوي سماحته وقال: لقد تأخرت علينا في المجيء وأرسلت الرسالة إليك مع فضيلة السيد مرتضى الحكمي. وعند ذلك جلست زمنًا يسيرًا وإذا بفضيلة السيد الحكمي قد دخل علينا، فتوجه إليه آية الله الخوئي وقال: لقد حضر السيد، فأعطه رسالة الشيخ ليطلع عليها فتسلمتها وقرأتها وهذا بعضها: "عزمتُ على وضع كتاب باسم: (أمير المؤمنين علي وما لقي هو وبنوه من أصحاب رسول الله). أولًا: من الثالوث الأول: أبو بكر وعمر وعثمان. ثانيًا: من الثالوث الثاني: عائشة وطلحة والزبير. وثالثة الأثافي: ما صنعه عثمان من تأسيس الدولة الأموية، ثم انتهاء أمر الخلافة إلى سكير خمر عربيد ملعون هو وأبوه وجده. وإني الآن أعكف على قراءة المصادر التي تعينني على ذلك، وكل ما أرجوه أن يوفقني الله إلى أداء هذا العمل على أكمل وجه. محمود أبو ريه القاهرة: 12/ 1/ 1388 هـ".

وفي 5/ 11/69 وصلتني رسالة من الأستاذ "أبو رية" تاريخها 26/ 10/ 1969 من القاهرة يقول فيها: (كتاب قصة الحديث المحمدي) الذي كانت وزارة الثقافة قد طلبته مني منذ عشر سنين ووقف الأزهر في سبيله حتى لا يظهر قد أراد الله أن يظهر رغم أنف الأزهر بعد ما قرأه الدكتور طه حسين وشهد بقيمته شهادة فائقة، وسأرسل لك نسخةً منه هدية ومعها بعض نسخ لأصدقائنا الأعزاء، ومع كل نسخة بيان مطبوع منا … وفي 20/ 11/ 1969 جاءني البريد ويحمل ملفًّا فيه ثلاث نسخ من الكتاب (قصة الحديث المحمدي) إحداها كانت باسمي، والثانية باسم السيد العسكري، والثالثة للأستاذ رشيد الصفار، وفي كل نسخة بيان مطبوع وإليك نصه:

"للحقيقة والتاريخ كان من حق هذا الكتاب (قصة الحديث المحمدي) أن يخرج إلى الناس مطبوعًا منذ أكثر من عشر سنين، ذلك بأن وزارة الثقافة
আল-খুই এবং তিনি বললেন: আমার দাদা আপনার উপস্থিতি কামনা করছেন। আমার কাছে একদল লোক ছিল, তারা চলে যাওয়ার পর আমি তাঁর মহানুভবতার বাসভবনের দিকে রওনা হলাম। যখন আমি প্রবেশ করলাম, সালাম দিলাম এবং বসলাম, তখন তিনি আমার দিকে ফিরে বললেন: আপনি আমাদের কাছে আসতে দেরি করে ফেলেছেন, অথচ আমি আপনার কাছে ফজিলতুস সায়্যিদ মুর্তজা আল-হাকামির মাধ্যমে চিঠি পাঠিয়েছিলাম। তখন আমি অল্প সময় বসলাম এবং হঠাৎ ফজিলতুস সায়্যিদ আল-হাকামি আমাদের মাঝে প্রবেশ করলেন। তখন আয়াতুল্লাহ আল-খুই তাঁর দিকে ফিরে বললেন: সায়্যিদ উপস্থিত হয়েছেন, সুতরাং তাঁকে শায়খের চিঠিটি দিন যেন তিনি তা দেখে নিতে পারেন। আমি তা গ্রহণ করলাম এবং পড়লাম, যার একাংশ ছিল নিম্নরূপ: "আমি একটি গ্রন্থ রচনার সংকল্প করেছি যার নাম হবে: (আমীরুল মুমিনীন আলী এবং তিনি ও তাঁর সন্তানগণ রাসূলুল্লাহর সাহাবীদের থেকে যা ভোগ করেছেন)। প্রথমত: প্রথম ত্রয়ী থেকে: আবু বকর, উমর ও উসমান। দ্বিতীয়ত: দ্বিতীয় ত্রয়ী থেকে: আয়েশা, তালহা ও যুবায়ের। আর চরম বিপদ হলো: উমাইয়া রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠায় উসমানের ভূমিকা, অতঃপর খিলাফতের পরিসমাপ্তি ঘটলো একজন মাতাল, লম্পট এবং অভিশপ্ত ব্যক্তির কাছে, সে এবং তার পিতা ও তার দাদাও অভিশপ্ত। বর্তমানে আমি সেসব উৎস পাঠে নিমগ্ন আছি যা আমাকে এ কাজে সাহায্য করবে। আমার একমাত্র প্রত্যাশা আল্লাহ যেন আমাকে সর্বোত্তম উপায়ে এ কাজটি সম্পন্ন করার তাওফিক দান করেন। মাহমুদ আবু রাইয়্যাহ, কায়রো: ১২/ ১/ ১৩৮৮ হিজরি।"

এবং ৫/ ১১/ ৬৯ তারিখে আমার কাছে উস্তাদ "আবু রাইয়্যাহ"র পক্ষ থেকে একটি চিঠি পৌঁছায় যার তারিখ ছিল ২৬/ ১০/ ১৯৬৯ কায়রো থেকে। তাতে তিনি বলেন: (কিসসাতুল হাদিস আল-মুহাম্মাদী) বইটি, যা সংস্কৃতি মন্ত্রণালয় দশ বছর আগে আমার কাছে চেয়েছিল এবং আল-আজহার এর পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছিল যাতে এটি প্রকাশিত না হয়, আল্লাহ তাআলা চেয়েছেন যে এটি আল-আজহারের অনিচ্ছা সত্ত্বেও প্রকাশিত হোক, যখন ড. ত্বহা হোসেন এটি পাঠ করেছেন এবং এর উচ্চমানের ব্যাপারে অসাধারণ সাক্ষ্য দিয়েছেন। আমি উপহার হিসেবে আপনাকে এর একটি কপি পাঠাব এবং সাথে আমাদের প্রিয় বন্ধুদের জন্য আরও কিছু কপি থাকবে। প্রতিটি কপির সাথে আমাদের পক্ষ থেকে একটি মুদ্রিত বিবৃতি থাকবে … এবং ২০/ ১১/ ১৯৬৯ তারিখে ডাকযোগে আমার কাছে একটি ফাইল আসে যাতে (কিসসাতুল হাদিস আল-মুহাম্মাদী) বইটির তিনটি কপি ছিল। যার একটি ছিল আমার নামে, দ্বিতীয়টি সায়্যিদ আল-আসকারীর নামে এবং তৃতীয়টি উস্তাদ রশিদ আস-সাফফারের জন্য। প্রতিটি কপিতে একটি মুদ্রিত বিবৃতি ছিল এবং আপনার জন্য তার পাঠ নিম্নরূপ:

"সত্য এবং ইতিহাসের খাতিরে এই বইটির (কিসসাতুল হাদিস আল-মুহাম্মাদী) অধিকার ছিল দশ বছরেরও বেশি সময় আগে মুদ্রিত হয়ে মানুষের সামনে আসার, কারণ সংস্কৃতি মন্ত্রণালয় অনুমিতভাবে এটি প্রকাশের উদ্যোগ নিয়েছিল।