(খণ্ড: ১)
আত্তানাকীলু বিমা ফী তানীবিিল কাওসারী মিনাল আবাতীল - যিমনু আসারুল মুআল্লিমী
(পৃষ্ঠা: -)
التنكيل بما في تأنيب الكوثري من الأباطيل - ضمن «آثار المعلمي» القسم: الفرق والردود
الكتاب: التنكيل بما في تأنيب الكوثري من الأباطيل
[آثار عبد الرحمن بن يحيى المعلمي اليماني (10) و (11)]
المؤلف: عبد الرحمن بن يحيى المُعَلِّمي اليماني (1313 - 1386 هـ)
جـ 10: حققه (علي بن محمد العمران - محمد أجمل الإصلاحي)، راجعه: (عادل بن عبد الشكور الزرقي)
جـ 11: حققه (محمد عزير شمس - محمد أجمل الإصلاحي)، راجعه: (جديع بن محمد الجديع)
الناشر: دار عالم الفوائد للنشر والتوزيع
الطبعة: الأولى، 1434 هـ
قدمه للشاملة: مؤسسة «عطاءات العلم»، جزاهم الله خيرا
[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]
تاريخ النشر بالشاملة: 10 شوّال 1442
আত-তানকীল বিমা ফী তা'নীবিল কাওসারী মিনাল আবাতীল - ‘আসারুল মুআল্লিমি’-এর অন্তর্ভুক্ত বিভাগ: ফেরকা এবং খণ্ডন
বই: আত-তানকীল বিমা ফী তা'নীবিল কাওসারী মিনাল আবাতীল
[আবদুর রহমান বিন ইয়াহইয়া আল-মুআল্লিমি আল-ইয়ামানির রচনাবলি (১০) এবং (১১)]
লেখক: আবদুর রহমান বিন ইয়াহইয়া আল-মুআল্লিমি আল-ইয়ামানি (১৩১৩ - ১৩৮৬ হিজরি)
খণ্ড ১০: তাহকীক করেছেন (আলী বিন মুহাম্মদ আল-উমরান - মুহাম্মদ আজমল আল-ইসলাহি), নিরীক্ষণ করেছেন: (আদিল বিন আবদুল শাক্কুর আল-জুরকি)
খণ্ড ১১: তাহকীক করেছেন (মুহাম্মদ উজাইর শামস - মুহাম্মদ আজমল আল-ইসলাহি), নিরীক্ষণ করেছেন: (জুদাই বিন মুহাম্মদ আল-জুদাই)
প্রকাশক: দার আলম আল-ফাওয়াইদ প্রকাশনা ও বিতরণ
সংস্করণ: প্রথম, ১৪৩৪ হিজরি
শামিলাহ সংস্করণের জন্য পেশ করেছেন: ‘আতাআতুল ইলম’ ফাউন্ডেশন, আল্লাহ তাদের উত্তম প্রতিদান দিন
[গ্রন্থের পৃষ্ঠা নম্বর মুদ্রিত কপির সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ]
শামিলাহ্-তে প্রকাশের তারিখ: ১০ শাওয়াল ১৪৪২
(খণ্ড: ١٠)
আত্তানাকীলু বিমা ফী তানীবিিল কাওসারী মিনাল আবাতীল - যিমনু আসারুল মুআল্লিমী
(পৃষ্ঠা: ١)
التَّنْكِيلُ
بِما في تَأنِيبِ الكَوْثَرِيِّ مِنَ الأباطِيل
تأليف
الشيخ العلامة عبد الرحمن بن يحيى المعلمي اليماني
(1313 - 1386 هـ)
رحمه الله تعالى
تحقيق
جـ 10: علي بن محمد العمران و محمد أجمل الإصلاحي
جـ 11: محمد عزير شمس و محمد أجمل الإصلاحي
আল-তানকিল
আল-কাওসারীর ‘তা’নীব’ গ্রন্থে বিদ্যমান অমূলক ও বাতিল বিষয়সমূহের খণ্ডন
রচনায়
শায়খ আল-আল্লামাহ আবদুর রহমান বিন ইয়াহইয়া আল-মুয়াল্লিমি আল-ইয়ামানি
(১৩১৩ - ১৩৮৬ হিজরি)
রাহিমাহুল্লাহ তাআলা
সম্পাদনা
খণ্ড ১০: আলী বিন মুহাম্মদ আল-উমরান ও মুহাম্মদ আজমল আল-ইসলাহী
খণ্ড ১১: মুহাম্মদ উযাইর শামস ও মুহাম্মদ আজমল আল-ইসলাহী
(খণ্ড: ١٠)
আত্তানাকীলু বিমা ফী তানীবিিল কাওসারী মিনাল আবাতীল - যিমনু আসারুল মুআল্লিমী
(পৃষ্ঠা: ٣)
راجع هذا الجزء
عادل بن عبد الشكور الزرقي
এই অংশটি পর্যালোচনা করেছেন
আদিল বিন আবদুল শাকুর আল-জুরকী
(খণ্ড: ١٠)
আত্তানাকীলু বিমা ফী তানীবিিল কাওসারী মিনাল আবাতীল - যিমনু আসারুল মুআল্লিমী
(পৃষ্ঠা: ٥)
مقدمة التحقيقالحمد لله، والصلاة والسلام على رسول الله وعلى آله وصحبه ومن تبعهم بإحسان إلى يوم الدين.
أما بعد، فإن كتاب «التنكيل بما في تأنيب الكوثري من الأباطيل» أهم وأكبر كتاب ألفه الشيخ العلامة عبد الرحمن بن يحيى المعلمي (ت 1386) رحمه الله. وهو بأقسامه الثلاثة (الحديث ـ والفقه ـ والعقائد) يعدّ من المؤلفات النادرة المعدودة في القرون المتأخرة؛ من حيث التدقيقُ والتحقيقُ وكثرةُ الفوائد، أفصح فيه مؤلفه عن نفَسٍ عالٍ من القدرة على البحث، والتمكّن من نواصي العلوم، والبراعة النادرة فيها، والخوض في لُجَج المشكلات العلمية، وحلها بتحقيق بالغ وتجرّد نادر، يحيط بذلك ويؤازره: قوة الحجة، وإنصاف الخصم، وعلوّ الأسلوب، ولغة معتدلة في النقد والمناظرة.
وهذا الكتاب الجليل هو الذي عرّف الشيخَ المعلمي رحمه الله إلى قرّائه، فبه عرفوا قوّتَه العلمية وتحقيقه النادر، إذ إنه لم يطبع من كتبه في حياته إلا ثلاثة كتب هي (طليعة التنكيل، والأنوار الكاشفة، ومقام إبراهيم) الأول والثالث كتابان لطيفان، و «الأنوار» جرى فيه أيضًا على الاختصار وردّ الشُّبَه بلا توسع بل بما يكفي في رد الشبهة.
ولم يطبع كتاب «التنكيل» في حياة مؤلفه، بل بعد وفاته في سنة 1386 هـ وهي السنة التي توفي فيها، مع أنه كان قد انتهى منه في حدود سنة 1370 هـ، بدليل أن «طليعتَه» طبعت سنة 1368 هـ، وذكر فيها أن كتاب «التنكيل» على وشك التمام.
সম্পাদকের ভূমিকাসমস্ত প্রশংসা আল্লাহর জন্য, এবং দরুদ ও সালাম বর্ষিত হোক আল্লাহর রাসূল, তাঁর পরিবারবর্গ, সাহাবীগণ এবং কিয়ামত পর্যন্ত যারা নিষ্ঠার সাথে তাঁদের অনুসরণ করবেন তাঁদের ওপর।
অতঃপর, শায়খ আল্লামা আব্দুর রহমান ইবনে ইয়াহইয়া আল-মুয়াল্লিমী (ওফাত ১৩৮৬ হি.)—আল্লাহ তাঁর ওপর রহমত বর্ষণ করুন—কর্তৃক রচিত গ্রন্থগুলোর মধ্যে ‘আত-তানকীল বিমা ফী তা’নীবিল কাওসারী মিনাল আবাতীল’ সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ও বৃহৎ গ্রন্থ। এর তিনটি বিভাগ (হাদীস, ফিকহ এবং আকীদা) সাম্প্রতিক শতাব্দীগুলোতে সূক্ষ্মতা, গভীর অনুসন্ধান এবং প্রচুর জ্ঞানগর্ভ তথ্যের দিক থেকে বিরল ও গণ্যমান্য গ্রন্থগুলোর অন্যতম হিসেবে বিবেচিত হয়। লেখক এতে উচ্চমানের গবেষণা দক্ষতা, ইলমের শাখা-প্রশাখায় পূর্ণ পারদর্শিতা এবং বিরল পাণ্ডিত্যের বহিঃপ্রকাশ ঘটিয়েছেন। তিনি জটিল ইলমী মাসআলাগুলোর গভীরে প্রবেশ করেছেন এবং অত্যন্ত গভীর অনুসন্ধান ও বিরল নিরপেক্ষতার সাথে সেগুলোর সমাধান পেশ করেছেন। শক্তিশালী যুক্তি, প্রতিপক্ষের প্রতি ইনসাফ, উচ্চাঙ্গের রচনাশৈলী এবং সমালোচনা ও বিতর্কে পরিমিত ভাষা—এসব কিছুই এই কাজের পরিবেষ্টক ও সহায়ক হয়েছে।
এই মহান গ্রন্থটিই মূলত পাঠকদের কাছে শায়খ মুয়াল্লিমী (রহ.)-কে পরিচিত করিয়েছে। এর মাধ্যমেই তাঁরা তাঁর ইলমী শক্তি এবং বিরল উদ্ভাবনী দক্ষতা সম্পর্কে জানতে পেরেছেন। কারণ, তাঁর জীবদ্দশায় তাঁর রচিত গ্রন্থগুলোর মধ্যে মাত্র তিনটি গ্রন্থ প্রকাশিত হয়েছিল: ‘তালীআতুত তানকীল’, ‘আল-আনওয়ারুল কাশিফাহ’ এবং ‘মাকামে ইবরাহীম’। এর মধ্যে প্রথম ও তৃতীয়টি নাতিদীর্ঘ গ্রন্থ, আর ‘আল-আনওয়ার’ গ্রন্থেও তিনি সংক্ষেপণ নীতি অনুসরণ করেছেন এবং কোনো বিস্তৃত ব্যাখ্যা ছাড়াই কেবল সংশয় নিরসনের জন্য যতটুকু প্রয়োজন তা উল্লেখ করেছেন।
‘আত-তানকীল’ গ্রন্থটি লেখকের জীবদ্দশায় মুদ্রিত হয়নি; বরং তাঁর ইন্তেকালের বছর অর্থাৎ ১৩৮৬ হিজরীতে এটি প্রকাশিত হয়। যদিও তিনি প্রায় ১৩৭০ হিজরী নাগাদ এর রচনা সমাপ্ত করেছিলেন। এর প্রমাণ হলো, এর ‘তালীআহ’ (ভূমিকা) অংশটি ১৩৬৮ হিজরীতে মুদ্রিত হয়েছিল এবং সেখানে উল্লেখ করা হয়েছিল যে ‘আত-তানকীল’ গ্রন্থটি সমাপ্তির পথে।
(খণ্ড: ١٠)
আত্তানাকীলু বিমা ফী তানীবিিল কাওসারী মিনাল আবাতীল - যিমনু আসারুল মুআল্লিমী
(পৃষ্ঠা: ٦)
ومع ما لهذا الكتاب من مكانة علمية يشهد بها كل من وقف عليه من العلماء والباحثين= فقد ألَّفه الشيخ في مدة وجيزة لا تتعدى سنتين، مع عدم التفرغ لذلك، بل ربما مكث الشهر أو أكثر مشغولًا عنه، كما سيأتي إيضاحه.
وسنعقد مفْتَتَح تحقيقه عدة مباحث تقودنا إلى التعرّف على الكتاب، وهي:
- عنوان الكتاب.
- سبب تأليفه.
- تاريخ تأليفه.
- أقسام الكتاب ومنهج المؤلف فيها.
- قيمة الكتاب العلمية.
- الكتب التي لها علاقة بالتنكيل.
- مبيّضة الكتاب ومسوّداته.
- طبعات الكتاب.
- منهج التحقيق.
- نماذج من المخطوطات.
ثم أتبعنا الكتاب بفهارس متنوعة للآيات والأحاديث والآثار والأعلام والكتب والأشعار والموضوعات، قام على صنعها الشيخ نبيل بن نصار السندي والشيخ مصطفى بن سعيد إيتيم.
والحمد لله الذي بنعمته تتم الصالحات.
এই গ্রন্থের যে তাত্ত্বিক মর্যাদা রয়েছে তা এই গ্রন্থটি পর্যালোচনাকারী সকল আলেম ও গবেষকই স্বীকার করেন। শাইখ এটি দুই বছরেরও কম সময়ের এক সংক্ষিপ্ত পরিসরে রচনা করেছেন, যদিও তিনি এর জন্য পূর্ণ নিবিষ্ট ছিলেন না; বরং সম্ভবত তিনি এক মাস বা তারও বেশি সময় এটি থেকে অন্য কাজে ব্যস্ত ছিলেন, যা পরবর্তীতে স্পষ্টভাবে আলোচিত হবে।
আমরা এই তাহকিকের (সম্পাদনা) শুরুতে বেশ কিছু পরিচ্ছেদ উপস্থাপন করব যা আমাদের এই গ্রন্থটি সম্পর্কে সম্যক পরিচিতি প্রদান করবে, সেগুলো হলো:
- গ্রন্থের শিরোনাম।
- রচনার কারণ।
- রচনার ইতিহাস।
- গ্রন্থের পরিচ্ছেদসমূহ এবং এতে লেখকের অনুসৃত পদ্ধতি।
- গ্রন্থের তাত্ত্বিক গুরুত্ব।
- ‘আত-তানাকিল’ গ্রন্থের সাথে সংশ্লিষ্ট অন্যান্য বইসমূহ।
- গ্রন্থের মূল অনুলিপি ও খসড়াসমূহ।
- গ্রন্থের সংস্করণসমূহ।
- সম্পাদনা পদ্ধতি।
- পাণ্ডুলিপির কিছু নমুনা।
অতঃপর আমরা গ্রন্থের শেষে আয়াত, হাদিস, আছার, ব্যক্তিবর্গ, গ্রন্থ, কবিতা এবং বিষয়ভিত্তিক বিভিন্ন সূচিপত্র সংযোজন করেছি; যা শাইখ নাবিল বিন নাসসার আস-সিন্দি ও শাইখ মুস্তফা বিন সাঈদ ইতাম প্রস্তুত করেছেন।
সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর জন্য, যাঁর অনুগ্রহে সকল নেক কাজ সুসম্পন্ন হয়।
(খণ্ড: ١٠)
আত্তানাকীলু বিমা ফী তানীবিিল কাওসারী মিনাল আবাতীল - যিমনু আসারুল মুআল্লিমী
(পৃষ্ঠা: ٧)
*
عنوان الكتابسماه مؤلفه (التنكيل بما في تأنيب الكوثري من الأباطيل) كما هو ثابت في مقدمة الكتاب، وكما هو ثابت أيضًا بخطّه وفي مقدمة طليعته (ص 3) التي سماها (طليعة التنكيل بما في تأنيب الكوثري من الأباطيل) وطُبعت في حياته.
وكان المؤلف قد سماه أول الأمر (النقد البريء) كما في ورقة كتبها لبعض من طلب منه رأيه في كتاب «تأنيب الخطيب»، وطبعت خطأً على أنها مقدمة للطليعة في طبعتها الأولى، كما أشار إلى ذلك المؤلف في «الترحيب» (ص 190).
*
سبب التأليفنص المؤلفُ على ذلك في مقدمة الكتاب باختصار (ص 3) ، وبأوسع منه في «طليعة التنكيل» (ص 3 - 4) فقال: «فإني وقفت على كتاب «تأنيب الخطيب» للأستاذ العلامة محمد زاهد الكوثري، الذي تعقَّب فيه ما ذكره الحافظ المحدث الخطيب البغدادي في ترجمة الإمام أبي حنيفة من «تاريخ بغداد»
(1) من الروايات عن الماضين في الغَضِّ من أبي حنيفة.
فرأيتُ الأستاذ تعدَّى ما يوافقه عليه أهلُ العلم من توقير أبي حنيفة وحُسْن الذبّ عنه إلى ما لا يرضاه عالم متثبِّت من المغالطات المضادّة
--------------------------------------------
*
গ্রন্থের শিরোনামগ্রন্থকার এই গ্রন্থের নামকরণ করেছেন ‘আত-তানকীল বিমা ফী তা’নীবিল কাওসারী মিনাল আবাতীল’ (আল-কাওসারীর ‘তা’নীব’ গ্রন্থের অসারতাগুলোর কঠোর প্রতিঘাত), যেমনটি গ্রন্থের ভূমিকায় এবং লেখকের নিজস্ব হস্তলিপিতে প্রমাণিত। তদুপরি এটি তাঁর জীবদ্দশায় মুদ্রিত ‘তালীআতুত তানকীল বিমা ফী তা’নীবিল কাওসারী মিনাল আবাতীল’ (পৃ. ৩) নামক মুখবন্ধের শুরুতেও স্পষ্টভাবে সাব্যস্ত হয়েছে।
গ্রন্থকার প্রাথমিকভাবে এর নাম দিয়েছিলেন ‘আন-নাকদুল বারী’ (সঠিক সমালোচনা), যেমনটি তাঁর এক পত্রে পাওয়া যায় যা তিনি ‘তা’নীবুল খাতীব’ গ্রন্থ সম্পর্কে মতামত প্রার্থনাকারী জনৈক ব্যক্তির উদ্দেশ্যে লিখেছিলেন। সেই পত্রটি ভুলবশত ‘তালীআ’-এর প্রথম সংস্করণের ভূমিকা হিসেবে মুদ্রিত হয়েছিল, যে বিষয়টি গ্রন্থকার ‘আত-তারহীব’ (পৃ. ১৯০) গ্রন্থে নির্দেশ করেছেন।
*
রচনার কারণগ্রন্থকার এ বিষয়ে বইয়ের ভূমিকায় (পৃ. ৩) সংক্ষেপে এবং ‘তালীআতুত তানকীল’ (পৃ. ৩-৪) গ্রন্থে বিস্তারিতভাবে আলোকপাত করেছেন। তিনি বলেন: “আমি উস্তাদ আল্লামা মুহাম্মদ জাহেদ আল-কাওসারীর ‘তা’নীবুল খাতীব’ গ্রন্থটি পড়েছি, যেখানে তিনি হাফেয ও মুহাদ্দিস আল-খাতীব আল-বাগদাদীর ‘তারীখে বাগদাদ’
(১) গ্রন্থে ইমাম আবূ হানীফার জীবনীতে বর্ণিত পূর্ববর্তীদের সেই সব রেওয়ায়েত নিয়ে সমালোচনা করেছেন, যাতে ইমাম আবূ হানীফার মর্যাদাহানি করা হয়েছিল।
আমি দেখলাম যে, উস্তাদ ইমাম আবূ হানীফার প্রতি যথাযথ সম্মান প্রদর্শন এবং তাঁর সুচারু প্রতিরক্ষার ক্ষেত্রে বিজ্ঞ আলেমদের স্বীকৃত সীমা লঙ্ঘন করে এমন সব বিভ্রান্তিকর ও অসার যুক্তির আশ্রয় নিয়েছেন যা কোনো সত্যনিষ্ঠ গবেষক আলেমের নিকট গ্রহণযোগ্য হতে পারে না...”
--------------------------------------------
(খণ্ড: ١٠)
আত্তানাকীলু বিমা ফী তানীবিিল কাওসারী মিনাল আবাতীল - যিমনু আসারুল মুআল্লিমী
(পৃষ্ঠা: ٨)
للأمانة العلمية، ومن التخليط في القواعد، والطعن في أئمة السنة ونَقَلَتها، حتى تناول بعضَ أفاضل الصحابة والتابعين، والأئمة الثلاثة مالكًا والشافعي وأحمد وأضرابهم، وكبار أئمة الحديث وثقات نَقَلَته، والردّ لأحاديث صحيحة ثابتة، والعيب للعقيدة السلفية، وأساء في ذلك جدًّا حتى إلى الإمام أبي حنيفة نفسه، فإنه من يزعم أنه لا يتأتَّى الدفاع عن أبي حنيفة إلا بمثل ذلك الصنيع فساء ما يُثْني عليه.
فدعاني ذلك إلى تعقُّب الأستاذ فيما تعدَّى فيه، فجمعتُ في ذلك كتابًا
… ». وشرَحَ ذلك أيضًا في مقدمة «شكر الترحيب» (ص 189 - 191).
*
تاريخ التأليفللمؤلف كلام مفيد في تاريخ تأليف الكتاب ذكره في «شكر الترحيب» (ص 193 - 194) قال: «الواقع الذي يعرفه جماعةٌ هنا
(1): أن «التأنيب» لم يصل إلى الدائرة إلى الآن، وأني إنما وقفت عليه في شهر ربيع الثاني سنة (1366)، جاء بعض الأفاضل بنسخة منه، وعرض عليّ أن أنظر فيها، فأبيت؛ لأنني كنت أكره الخوض في تلك القضية، وقد عرفتُ مما اطلعتُ عليه قبلُ من تعاليق الأستاذ على بعض الكتب أنه كثيرًا ما يتطرَّف في نظري.
فألحَّ عليّ ذلك الفاضل، فأطعتُه، وهنالك رأيتُ ما هالني! فبدا لي أن أكتب شيئًا، فشرعتُ في ذلك ــ لعله ــ الأربعاء لعشر بقين من شهر ربيع الثاني سنة (1366).
--------------------------------------------
বৈজ্ঞানিক সততার খাতিরে, এবং নীতিমালার সংমিশ্রণ ঘটানো, সুন্নাহর ইমাম ও বর্ণনাকারীদের প্রতি অপবাদ আরোপ করা—যা এমনকি কিছু শ্রেষ্ঠ সাহাবী ও তাবিঈ এবং তিন ইমাম তথা মালিক, শাফিঈ, আহমাদ ও তাঁদের সমপর্যায়ের ব্যক্তিবর্গ, এবং হাদীসের মহান ইমাম ও নির্ভরযোগ্য বর্ণনাকারীদের পর্যন্ত স্পর্শ করেছে—সহীহ ও প্রমাণিত হাদীসসমূহ প্রত্যাখ্যান করা এবং সালাফী আকিদাকে দোষারোপ করার প্রেক্ষাপটে; তিনি এক্ষেত্রে অত্যন্ত মন্দ আচরণ করেছেন, এমনকি খোদ ইমাম আবু হানীফার প্রতিও। কেননা, যে ব্যক্তি মনে করে যে, এই ধরনের আচরণ ছাড়া আবু হানীফাকে রক্ষা করা সম্ভব নয়, সে তাঁর সম্পর্কে অত্যন্ত জঘন্য প্রশংসা করল।
এটিই আমাকে উক্ত শিক্ষকের সীমালঙ্ঘনমূলক বিষয়গুলোতে তাঁর পিছু নিতে (খণ্ডন করতে) উদ্বুদ্ধ করেছে। ফলে আমি এ বিষয়ে একটি গ্রন্থ সংকলন করেছি
… »। এবং তিনি ‘শুকরুত তারহীব’-এর ভূমিকায় (পৃ. ১৮৯-১৯১) এর বিশদ ব্যাখ্যা প্রদান করেছেন।
*
রচনার ইতিহাসগ্রন্থটির রচনার ইতিহাস সম্পর্কে লেখকের কিছু মূল্যবান বক্তব্য রয়েছে যা তিনি ‘শুকরুত তারহীব’ (পৃ. ১৯৩-১৯৪) গ্রন্থে উল্লেখ করেছেন। তিনি বলেন: «বাস্তবতা হলো যা এখানকার একটি দল জানে
(১): ‘আত-তানিীব’ এখন পর্যন্ত এই পরিমণ্ডলে পৌঁছেনি। আমি কেবল ১৩৬৬ হিজরীর রবিউস সানি মাসে এটি প্রত্যক্ষ করি। জনৈক গুণী ব্যক্তি এর একটি কপি নিয়ে আসেন এবং আমাকে তা দেখার অনুরোধ করেন। কিন্তু আমি অসম্মতি জানাই; কারণ আমি এই বিষয়ে লিপ্ত হওয়া অপছন্দ করতাম। আর ইতিপূর্বে বিভিন্ন কিতাবের ওপর উক্ত শিক্ষকের টীকা ও মন্তব্য দেখে আমি জেনেছিলাম যে, তিনি প্রায়শই আমার দৃষ্টিতে চরমপন্থা অবলম্বন বা বাড়াবাড়ি করে থাকেন।
অতঃপর সেই গুণী ব্যক্তি আমাকে পিড়াপিড়ি করলে আমি তাঁর কথা মান্য করি। আর সেখানেই আমি এমন কিছু দেখলাম যা আমাকে স্তম্ভিত করে দিল! তখন আমার কাছে প্রতীয়মান হলো যে, এ বিষয়ে কিছু লেখা প্রয়োজন। ফলে আমি সম্ভবত ১৩৬৬ হিজরীর রবিউস সানি মাসের দশ দিন বাকি থাকতে বুধবার সেটি লিখতে শুরু করি।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ١٠)
আত্তানাকীলু বিমা ফী তানীবিিল কাওসারী মিনাল আবাতীল - যিমনু আসারুল মুআল্লিমী
(পৃষ্ঠা: ٩)
ومع ذلك، لم أكن أواصل العمل، وربما يمضي الشهر وأكثر لا أنشط لكتابة شيء، وأنا إلى الآن لم أكمل قسم العقائد. هذا هو الواقع، أحوجني الأستاذ إلى شرحه، وإن كان لا تتعلق به فائدة» اهـ.
فهذا فيه دلالة واضحة على أنه بدأ به في أواخر شهر ربيع الثاني سنة 1366 هـ، وأرسل «الطليعة» للطبع سنة 1368 هـ وطبعت في تلك السنة، وكان قد أتمّ الكتابَ إلا القسم الأخير منه المتعلق بالعقائد بقيت فيه بقية.
وهذا يدلّنا على الوقت الذي استغرقه في تأليف الكتاب، إذ يكون أقل من سنتين، مع عمله الوظيفي في دائرة المعارف، والانقطاعات التي أشار إليها التي قد تمتد إلى أكثر من شهر.
وفي هذا دليل على قوة المؤلف العلمية واكتمال ملَكَة الاجتهاد لديه في العلوم المختلفة، وقُدرته على البحث والمطالعة والجَلَد عليهما.
*
أقسام الكتاب، ومنهج المؤلف فيهاذكر المؤلف في مقدمة الكتاب أنه قسمه إلى أربعة أقسام، هي:
القسم الأول: القواعد.
القسم الثاني: التراجم.
القسم الثالث: الفقهيات (البحث مع الحنفية في سبع عشرة قضيّة).
القسم الرابع: العقائد (القائد إلى تصحيح العقائد).
وسنتكلم على كل قسم منها، ومنهج المؤلف فيه فنقول:
তা সত্ত্বেও, আমি নিরবচ্ছিন্নভাবে কাজ চালিয়ে যেতে পারছিলাম না; সম্ভবত এক মাস বা তারও বেশি সময় অতিবাহিত হতো অথচ আমি কিছু লেখার উৎসাহ পেতাম না। আমি এখন পর্যন্ত আকাইদ (বিশ্বাসমালা) অংশটি সম্পন্ন করতে পারিনি। এটাই বাস্তবতা; উস্তাদ আমাকে এটি ব্যাখ্যা করতে বাধ্য করেছেন, যদিও এর সাথে সরাসরি কোনো উপকারিতা সংশ্লিষ্ট নেই—সংক্ষেপিত।
এটি স্পষ্ট প্রমাণ বহন করে যে, তিনি ১৩৬৬ হিজরি সনের রবিউস সানি মাসের শেষভাগে এটি রচনা শুরু করেছিলেন এবং ১৩৬৮ হিজরি সনে ‘আত-তালিআ’ পাণ্ডুলিপিটি মুদ্রণের জন্য পাঠিয়েছিলেন এবং সেই বছরই তা মুদ্রিত হয়েছিল। তখন তিনি আকাইদ বিষয়ক সর্বশেষ অংশটি ব্যতীত পুরো গ্রন্থটি সমাপ্ত করেছিলেন, যার কিছু অংশ বাকি ছিল।
এটি আমাদের সেই সময়ের ইঙ্গিত দেয় যা তিনি গ্রন্থটি রচনায় ব্যয় করেছিলেন, যা ছিল দুই বছরেরও কম সময়; অথচ তখন তিনি ‘দায়িরাতুল মাআরিফ’-এ দাপ্তরিক কাজে নিয়োজিত ছিলেন এবং মাঝেমধ্যে এমন ছেদও পড়ত যা তিনি উল্লেখ করেছেন এবং যা এক মাসেরও বেশি সময় দীর্ঘ হতে পারত।
এতে লেখকের বুদ্ধিবৃত্তিক সক্ষমতা এবং বিভিন্ন শাস্ত্রে তাঁর ইজতিহাদ করার যোগ্যতার পূর্ণতা, এবং গবেষণা ও অধ্যয়নে তাঁর দক্ষতা ও ধৈর্যশীলতার প্রমাণ পাওয়া যায়।
*
গ্রন্থের পরিচ্ছেদসমূহ এবং এতে লেখকের অনুসৃত পদ্ধতিলেখক গ্রন্থের ভূমিকায় উল্লেখ করেছেন যে, তিনি এটিকে চারটি পরিচ্ছেদে বিভক্ত করেছেন, সেগুলো হলো:
প্রথম পরিচ্ছেদ: মূলনীতিসমূহ (কাওয়াইদ)।
দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ: জীবনী (তারাজিম)।
তৃতীয় পরিচ্ছেদ: ফিকহ সংক্রান্ত আলোচনা (হানাফি মাযহাবের সাথে সতেরোটি মাসআলা নিয়ে পর্যালোচনা)।
চতুর্থ পরিচ্ছেদ: আকাইদ বা বিশ্বাসমালা (আল-কাইদ ইলা তাসহিহিল আকাইদ)।
আমরা এখন এর প্রতিটি পরিচ্ছেদ এবং তাতে লেখকের অনুসৃত পদ্ধতি নিয়ে আলোচনা করব:
(খণ্ড: ١٠)
আত্তানাকীলু বিমা ফী তানীবিিল কাওসারী মিনাল আবাতীল - যিমনু আসারুল মুআল্লিমী
(পৃষ্ঠা: ١٠)
قدّم المؤلف خمسة فصول قبل أن يشرع في القسم الأول من الكتاب، وهي أشبه بالتوطئة والتمهيد للكتاب؛ ذكر في الفصل الأول الغرضَ الأهمَّ من تأليف كتاب التنكيل، وهو ردّ المطاعن الباطلة عن أئمة السنة ورواتها، ثم شرح الأمر الذي اضطرّه إلى ذلك وخطورة هذا الأمر على السّنة.
وفي الفصل الثاني تكلم على الغلوّ في الأفاضل، وأنه هو الذي جرّ الكوثريَّ إلى الطعن في غيره، واتهامهم جميعًا بمعاداة أبي حنيفة. ثم تكلم على كلام العلماء بعضهم في بعض، وما يقع أحيانًا من الشدة في كلامهم، وتخريج ذلك على معنى لطيف، مع عدة أمثلة تشهد لما ذهب إليه المؤلف من المعنى.
وفي الفصل الثالث تكلم على محاولة الكوثري التبرّؤ مما نُسِب إليه من الطعن في أنس بن مالك رضي الله عنه، وفي هشام بن عروة بن الزبير.
وفي الرابع بحَثَ معه في العُذر الذي ذكره الكوثري في أثَر مسألة القول بخلق القرآن، وأنها هي السبب الذي أوغر صدور المحدّثين على أبي حنيفة، باعتبار أن من قام فيها ينتسبون لمذهب أبي حنيفة. وقد أجاب المؤلف عن ذلك بخمسة أمور.
وفي الخامس تكلم المؤلف عن ميول الكوثري المذهبية والثقافية وكيف أثّرت على كتاباته، فهو من أهل الرأي ومن غُلاة المقلّدين في الفقه، ومن مقلّدي المتكلمين، ومن المجارين لكُتّاب العصر، ثم تكلم على كل صفة من هذه الصفات وكيف أثرت على الكوثري فكرًا وسلوكًا.
ثم شرع في القسم الأول من الكتاب، وهو قسم القواعد، فذكر تحته
গ্রন্থকার বইটির প্রথম খণ্ড শুরু করার আগে পাঁচটি অধ্যায় উপস্থাপন করেছেন, যা অনেকটা বইটির ভূমিকা ও উপক্রমণিকার মতো। প্রথম অধ্যায়ে তিনি ‘আত-তানকিল’ গ্রন্থটি রচনার প্রধান উদ্দেশ্য উল্লেখ করেছেন, আর তা হলো সুন্নাহর ইমাম ও বর্ণনাকারীদের বিরুদ্ধে উত্থাপিত ভিত্তিহীন অভিযোগসমূহ খণ্ডন করা। এরপর তিনি সেই প্রেক্ষাপট ব্যাখ্যা করেছেন যা তাঁকে এই কাজে বাধ্য করেছে এবং সুন্নাহর জন্য এই বিষয়ের ভয়াবহতা বর্ণনা করেছেন।
দ্বিতীয় অধ্যায়ে তিনি বরেণ্য ব্যক্তিদের ব্যাপারে অতিশয়োক্তি (গুলু) নিয়ে আলোচনা করেছেন এবং দেখিয়েছেন যে, এটিই আল-কাওসারিকে অন্যদের সমালোচনা করতে এবং তাদের সবাইকে ইমাম আবু হানিফার প্রতি শত্রুতার অভিযোগে অভিযুক্ত করতে প্ররোচিত করেছে। অতঃপর তিনি ওলামায়ে কেরামের একে অপরের সমালোচনা এবং তাঁদের বক্তব্যে মাঝে মাঝে যে কঠোরতা পরিলক্ষিত হয় তা নিয়ে আলোচনা করেছেন এবং একটি সূক্ষ্ম ব্যাখ্যার মাধ্যমে এর নিরসন করেছেন; সাথে গ্রন্থকারের দাবির সপক্ষে বেশ কিছু উদাহরণও পেশ করেছেন।
তৃতীয় অধ্যায়ে তিনি হযরত আনাস ইবনে মালিক (রাদিয়াল্লাহু আনহু) এবং হিশাম ইবনে উরওয়া ইবনে যুবাইর সম্পর্কে আল-কাওসারির নামে যে মানহানিকর বক্তব্যের অভিযোগ উঠেছে, তা থেকে তাঁর দায়মুক্ত হওয়ার চেষ্টার বিষয়ে আলোচনা করেছেন।
চতুর্থ অধ্যায়ে তিনি আল-কাওসারির সেই ওজর বা যুক্তির ব্যবচ্ছেদ করেছেন যা তিনি ‘কুরআন সৃষ্টি’ সংক্রান্ত মাসআলার প্রভাব সম্পর্কে উল্লেখ করেছিলেন। আল-কাওসারির দাবি ছিল যে, এটিই মুহাদ্দিসগণের মনে ইমাম আবু হানিফার প্রতি ক্ষোভ সৃষ্টির কারণ ছিল, যেহেতু এই মতবাদে বিশ্বাসীরা হানাফি মাযহাবের অনুসারী ছিল। গ্রন্থকার পাঁচটি বিষয়ের মাধ্যমে এর উত্তর প্রদান করেছেন।
পঞ্চম অধ্যায়ে গ্রন্থকার আল-কাওসারির মাযহাবি ও বুদ্ধিবৃত্তিক ঝোঁক এবং তা তাঁর লেখনিতে কীভাবে প্রভাব ফেলেছে সে সম্পর্কে আলোচনা করেছেন। তিনি মূলত ‘আহলুর রায়’ (যৌক্তিক চিন্তাশীল), ফিকহ শাস্ত্রের একজন কট্টরপন্থী মুকাল্লিদ বা অনুসারী, কালামশাস্ত্রবিদদের অনুসারী এবং সমকালীন লেখকদের অনুসারী ছিলেন। অতঃপর তিনি এই বৈশিষ্ট্যগুলোর প্রত্যেকটি সম্পর্কে আলোচনা করেছেন এবং কীভাবে এগুলো আল-কাওসারির চিন্তা ও আচরণকে প্রভাবিত করেছে তা তুলে ধরেছেন।
এরপর তিনি বইটির প্রথম খণ্ড শুরু করেছেন যা হলো ‘মূলনীতি’ সংক্রান্ত বিভাগ। এর অধীনে তিনি উল্লেখ করেছেন—
(খণ্ড: ١٠)
আত্তানাকীলু বিমা ফী তানীবিিল কাওসারী মিনাল আবাতীল - যিমনু আসারুল মুআল্লিমী
(পৃষ্ঠা: ١١)
تسع قواعد تتعلق بعلم الجرح والتعديل والكلام على الرواة، نذكر عنواناتها هنا:
1 - رمي الراوي بالكذب في غير الحديث النبوي.
2 - التهمة بالكذب.
3 - رواية المبتدع.
4 - قدح الساخط ومدح المحبّ ونحو ذلك.
5 - هل يشترط تفسير الجرح؟
6 - كيف البحث عن أحوال الرواة؟
7 - إذا اجتمع جرح وتعديل فبأيهما يعمل؟
8 - قولهم: من ثبتت عدالته لم يقبل فيه الجرح إلا
…9 - مباحث في الاتصال والانقطاع.
وهذه القواعد صدّر بها المؤلف الكتاب لغرضين:
الأول: لأن الكوثري خلّط فيها في مواضع عديدة من كتابه، فأراد المؤلف أن يجمع الكلام فيها في مكان واحد، ويتكلم عليه على وجه التحرير والتحقيق.
الثاني: لكيلا يضطر المؤلف لإعادة الكلام في هذه المسائل في كل موضع يجيء مقتضى الكلام عليها، فنرى المؤلف يحيل في استيفاء الكلام على هذه القواعد كلّما احتاج إلى ذلك.
ইলমে জারহ ও তাদীল এবং রাবীদের অবস্থা সংক্রান্ত আলোচনার সাথে সংশ্লিষ্ট নয়টি মূলনীতি, যেগুলোর শিরোনাম আমরা এখানে উল্লেখ করছি:
১ - নববী হাদীস ব্যতীত অন্য বিষয়ে রাবীকে মিথ্যার অভিযোগে অভিযুক্ত করা।
২ - মিথ্যার অপবাদ।
৩ - বিদআতী রাবীর বর্ণনা।
৪ - অসন্তুষ্ট ব্যক্তির সমালোচনা এবং অনুরক্ত ব্যক্তির প্রশংসা ও এ জাতীয় বিষয়।
৫ - জারহ বা সমালোচনার ব্যাখ্যা প্রদান কি শর্ত?
৬ - রাবীদের অবস্থা সম্পর্কে অনুসন্ধানের পদ্ধতি কী?
৭ - যখন জারহ এবং তাদীল একত্রিত হয়, তখন কোনটি অনুযায়ী আমল করা হবে?
৮ - ইমামগণের বক্তব্য: যার নির্ভরযোগ্যতা প্রমাণিত হয়েছে, তার বিরুদ্ধে জারহ গ্রহণযোগ্য নয় যতক্ষণ না
...৯ - সনদের নিরবচ্ছিন্নতা ও বিচ্ছিন্নতা সংক্রান্ত আলোচনা।
লেখক এই মূলনীতিগুলো দুটি উদ্দেশ্যে গ্রন্থের শুরুতে উপস্থাপন করেছেন:
প্রথমত: কারণ কাওসারী তাঁর গ্রন্থের বিভিন্ন স্থানে এ বিষয়ে বিভ্রান্তি ছড়িয়েছেন, তাই লেখক চেয়েছেন এ সংক্রান্ত আলোচনা একস্থানে পুঞ্জীভূত করতে এবং তাহকীক ও গবেষণার আলোকে তা বিশ্লেষণ করতে।
দ্বিতীয়ত: যাতে লেখককে প্রতিটি প্রাসঙ্গিক স্থানে এই বিষয়গুলোর পুনরাবৃত্তি করতে না হয়; ফলে আমরা লক্ষ্য করি যে, যখনই প্রয়োজন হয়েছে, লেখক বিস্তারিত আলোচনার জন্য এই মূলনীতিগুলোর দিকেই রেফারেন্স প্রদান করেছেন।
(খণ্ড: ١٠)
আত্তানাকীলু বিমা ফী তানীবিিল কাওসারী মিনাল আবাতীল - যিমনু আসারুল মুআল্লিমী
(পৃষ্ঠা: ١٢)
والسبب الذي اقتضى من المؤلف الكلام على هذه القواعد التسع دون غيرها من قواعد الجرح والتعديل ومعرفة الرجال هو أن الكوثري في كلامه على الرواة في كتابه موضوع النقد= قد أكثر من الاعتماد على مجموع هذه القواعد؛ إما على خلاف الراجح المعروف عند أهل الحديث والنقد، أو على وجهٍ فيه تَعْمِية وتلبيس على القارئ غير الممارس، أو بإلحاق راوٍ بما لا يناسبه من هذه القواعد، أو بتنزيل قاعدة على راوٍ لا يصح أن تنزّل عليه، وهكذا. وقد لخَّص المؤلف كل هذه التصرّفات من الكوثري بـ «التخليط في القواعد».
وقد جرى المؤلف في هذه القواعد على طريقته المعهودة من التأصيل والتحرير والمناقشة والترجيح، وصارت هذه القواعد مصدرًا ثرًّا لمن كتب فيها بعد ذلك من الدارسين.
ثم شرع في القسم الثاني من الكتاب، وهو قسم التراجم. وقد صدّره ببيان أن هؤلاء الرواة هم الذين تكلم عليهم الكوثري في كتابه، وقد يذكر غيرهم لاقتضاء الحال، وأن ما لم ينسبه من الأقوال في الرواة فهو من «تهذيب التهذيب» أو «اللسان»، وما كان من غيرهما فإنه يسمي الكتاب والجزء والصفحة غالبًا. وهذا القسم هو أكبر أقسام الكتاب، وهو الغرض الأساسي والأهم من تأليف «التنكيل» كما سلف.
ويمكننا أن نلخص طريقة المؤلف في هذا القسم في عدة نقاط:
1 - عدد التراجم المذكورة في هذا القسم ثلاث وسبعون ومِئَتا ترجمة.
2 - رتبهم المؤلف على حروف المعجم، مع رقم تسلسلي لكل ترجمة.
জারহ ও তাদিল এবং রাবী (বর্ণনাকারী) পরিচিতি সংক্রান্ত অন্যান্য মূলনীতির পরিবর্তে লেখক কেন বিশেষভাবে এই নয়টি মূলনীতির ওপর আলোচনা করেছেন, তার কারণ হলো—কাওসারি তার সমালোচিত গ্রন্থে বর্ণনাকারীদের বিষয়ে আলোচনার ক্ষেত্রে এই মূলনীতিগুলোর ওপরই সর্বাধিক নির্ভর করেছেন; যা হয় হাদিস ও সমালোচনাশাস্ত্রের পণ্ডিতদের (আহলুল হাদিস ওয়াল নাকদ) নিকট সুপরিচিত ও অগ্রগণ্য মতের পরিপন্থী ছিল, অথবা এমনভাবে উপস্থাপন করা হয়েছে যাতে অনভিজ্ঞ পাঠকের নিকট বিষয়টি অস্পষ্ট ও বিভ্রান্তিকর মনে হয়, কিংবা কোনো বর্ণনাকারীকে এমন মূলনীতির অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে যা তার ক্ষেত্রে প্রযোজ্য নয়, অথবা কোনো বর্ণনাকারীর ওপর এমন নীতি প্রয়োগ করা হয়েছে যা তার ওপর প্রয়োগ করা সঠিক নয়, ইত্যাদি। লেখক কাওসারির এই সমস্ত কর্মকাণ্ডকে 'মূলনীতিসমূহের বিশৃঙ্খলা' (আত-তাখলিত ফিল কাওয়াইদ) হিসেবে অভিহিত করেছেন।
লেখক এই মূলনীতিগুলো বর্ণনার ক্ষেত্রে তার চিরচেনা পদ্ধতি তথা মূলনীতি নির্ধারণ, পরিমার্জন, আলোচনা ও তর্জীহ (প্রাধান্য দান)-এর পথ অনুসরণ করেছেন। পরবর্তীতে এই বিষয়ে যারা গবেষণা করেছেন, তাদের জন্য এই মূলনীতিগুলো একটি সমৃদ্ধ উৎসে পরিণত হয়েছে।
এরপর তিনি গ্রন্থের দ্বিতীয় অংশ তথা 'জীবনী' (তারাজিম) অধ্যায় শুরু করেছেন। এর শুরুতে তিনি স্পষ্ট করেছেন যে, এই বর্ণনাকারীগণ তারাই যাদের সম্পর্কে কাওসারি তার গ্রন্থে আলোচনা করেছেন, তবে বিশেষ প্রয়োজনে তিনি অন্যদের কথাও উল্লেখ করেছেন। বর্ণনাকারীদের সম্পর্কে যে সকল বক্তব্যের উৎস তিনি উল্লেখ করেননি, সেগুলো সাধারণত 'তাহজিবুত তাহজিব' অথবা 'আল-লিসান' থেকে গৃহীত। অন্য কোনো গ্রন্থ থেকে হলে তিনি সাধারণত গ্রন্থ, খণ্ড ও পৃষ্ঠার নাম উল্লেখ করেছেন। এটি গ্রন্থের বৃহত্তম অংশ এবং পূর্বে যেমনটি উল্লেখ করা হয়েছে, 'আত-তানকিল' রচনার প্রধান ও গুরুত্বপূর্ণ উদ্দেশ্যও এটিই।
এই অংশে লেখকের কর্মপদ্ধতিকে আমরা কয়েকটি পয়েন্টে সংক্ষেপে সারসংক্ষেপ করতে পারি:
১ - এই অংশে বর্ণিত জীবনীর সংখ্যা হলো দুইশত তেহাত্তরটি।
২ - লেখক তাদের নাম বর্ণানুক্রমিক সাজিয়েছেন এবং প্রতিটি জীবনীর সাথে একটি করে ক্রমিক নম্বর যুক্ত করেছেন।
(খণ্ড: ١٠)
আত্তানাকীলু বিমা ফী তানীবিিল কাওসারী মিনাল আবাতীল - যিমনু আসারুল মুআল্লিমী
(পৃষ্ঠা: ١٣)
3 - طريقته في سياق الترجمة: أنه يذكر أولًا اسم الراوي، ثم عبارة الخطيب من «تاريخ بغداد» ــ بالجزء والصفحة ــ التي انتقدها الكوثري وورد فيها اسم الراوي، ثم ينقل كلام الكوثري من كتابه «التأنيب» بالصفحة قائلًا: «قال الأستاذ»، ثم يبدأ بتعقّبه ومناقشته والردّ عليه. هذه طريقته في جميع تراجم الكتاب.
4 - لم يقتصر المؤلف على مقصود التعقّب، بل حرَص أن يكون الكتاب جامعًا لفوائد عزيزة في علوم السنة مما يعين على التبحّر والتحقيق فيها، كما صرّح بذلك في «الطليعة» (ص 4).
5 - حرَص أيضًا على توخّي الحق والعدل واستعمال لغة العلم بعيدًا عن الأسلوب العنيف الذي انتهجه الكوثري في كتابه، غير أن إفراط الكوثري في إساءة القول في الأئمة جرّأه على التصريح ببعض ما يقتضيه صنيعه، كما نص على ذلك أيضًا.
6 - كانت تعقّبات المؤلف تختلف من ترجمة إلى أخرى طولًا وقصرًا وبحثًا ونظرًا بحسب ما يقع من الكوثري من الوهم أو الإيهام، وقد لخص المؤلف أوجه النقد الموجّهة إلى الكوثري في كتابه هذا في ثمانية من صور التغيير والمغالطات والمجازفات، وهي كما لخّصها في «طليعة التنكيل»:
أأوابده في تبديل الرواة.
ب عوامده في جعل ما لا علاقة له بالجرح جرحًا.
ت عجائبه في اهتبال التصحيف أو الغلط الواقع في بعض الكتب إذا ما وافق هواه.
৩ - জীবনী আলোচনার ক্ষেত্রে তাঁর পদ্ধতি হলো: তিনি প্রথমে বর্ণনাকারীর নাম উল্লেখ করেন, তারপর ‘তারিখে বাগদাদ’ থেকে খতীবের সেই বক্তব্যটি—খন্ড ও পৃষ্ঠাসহ—উদ্ধৃত করেন যা কাওসারী সমালোচনা করেছেন এবং যাতে বর্ণনাকারীর নাম এসেছে। এরপর তিনি কাওসারীর কিতাব ‘আত-তানিবে’র বক্তব্য পৃষ্ঠাসহ উদ্ধৃত করে বলেন: “উস্তাদ বলেছেন”, অতঃপর তিনি তাঁর ভুল সংশোধন, আলোচনা ও খন্ডন শুরু করেন। গ্রন্থের সকল জীবনীর ক্ষেত্রেই এটি তাঁর অনুসৃত পদ্ধতি।
৪ - লেখক কেবল ভুল সংশোধনের উদ্দেশ্যেই সীমাবদ্ধ থাকেননি, বরং তিনি সচেষ্ট ছিলেন যেন কিতাবটি উলূমুল সুন্নাহর বিরল জ্ঞানগর্ভ তথ্যের এক সমাহার হয়, যা এই শাস্ত্রের গভীরে প্রবেশ ও গবেষণায় সহায়ক হবে। যেমনটি তিনি ‘আত-তালিআহ’ (পৃষ্ঠা ৪)-এ স্পষ্টভাবে উল্লেখ করেছেন।
৫ - তিনি সত্য ও ন্যায়নিষ্ঠা বজায় রাখতে এবং বিজ্ঞানোচিত ভাষা ব্যবহারে সচেষ্ট ছিলেন, যা কাওসারী তাঁর গ্রন্থে অবলম্বনকৃত কঠোর ও রুক্ষ ভাষা থেকে বহু দূরে। তবে আইম্মায়ে কিরামের শানে কাওসারীর মাত্রাতিরিক্ত কটূক্তি তাঁকে তাঁর কাজের অনিবার্য পরিণতি হিসেবে কিছু বিষয় স্পষ্টভাবে বলতে সাহসী করেছে, যেমনটি তিনি নিজেও উল্লেখ করেছেন।
৬ - কাওসারীর পক্ষ থেকে সংঘটিত বিভ্রান্তি বা সংশয়ের ধরন অনুযায়ী লেখকের পর্যালোচনাসমূহ দৈর্ঘ্য, গভীরতা, গবেষণা ও বিশ্লেষণের দিক থেকে এক জীবনী থেকে অন্যটিতে ভিন্ন ভিন্ন হয়েছে। লেখক এই গ্রন্থে কাওসারীর প্রতি নির্দেশিত সমালোচনার দিকগুলোকে পরিবর্তন, অপব্যাখ্যা ও অসংলগ্নতার আটটি প্রকারে সংক্ষিপ্ত করেছেন, যা তিনি ‘তালিআতুত তানাকীল’-এ সারসংক্ষেপ করেছেন:
ক) বর্ণনাকারীদের পরিবর্তনের ক্ষেত্রে তাঁর অদ্ভুত সব কাণ্ড।
খ) যার সাথে ‘জারহ’ বা দোষারোপের কোনো সম্পর্ক নেই, তাকে ‘জারহ’ হিসেবে গণ্য করার ক্ষেত্রে তাঁর ভিত্তিহীন সব যুক্তি।
গ) কোনো কিতাবে সংঘটিত লেখনী বিভ্রাট বা ভুলকে সুযোগ হিসেবে গ্রহণ করার ক্ষেত্রে তাঁর আশ্চর্যজনক সব কাণ্ড, যখন তা তাঁর খেয়াল-খুশির অনুকূলে হয়।
(খণ্ড: ١٠)
আত্তানাকীলু বিমা ফী তানীবিিল কাওসারী মিনাল আবাতীল - যিমনু আসারুল মুআল্লিমী
(পৃষ্ঠা: ١٤)
ث غرائبه في تحريف نصوص أئمة الجرح والتعديل.
ج فواقره في تقطيع نصوص أئمة الجرح والتعديل.
ح عواقره في الاحتجاج بجرح لم يثبت وحكايته بصيغة الجزم.
خ تجاهله ومجازفاته.
د أعاجيبه في اختلاق صيَغ الجرح من غير بيّنة.
هذه الأنواع الثمانية التقط منها المؤلف نماذج، ولخّصها في «الطليعة» ثم ذكر في «الطليعة» (ص 87) أنه بقيت ستة فروع أخرى ذكرها بالتفصيل في «التنكيل»، وهي:
ذ أنه قد يكون في الرجل كلام يسير لا يضرُّ، فيزعمُه الأستاذُ جرحًا تُردّ به الرواية.
ر أن الأستاذ قد يحكي كلامًا في الرجل مع أنه لا يضره بالنسبة إلى الموضع الذي يتكلّم عليه.
ز تكلّفه الكلام في أسانيد بعض الكتب بالصحة والثبوت بما لا يقدح في ثبوت الكتاب.
س أن الأستاذ يعمد إلى كلامٍ قد ردّه الأئمة، فيتجاهل الأستاذ ردَّهم ويحتج بذلك الكلام.
ش أنه يعمد إلى ما يعلم أنه لا يُعدّ جرحًا البتة، فيعتدّ به ويهوِّل.
ص أنه يتهم بعض الحفاظ الثقات بتُهَم لا أصل لها، كما قاله في الحميدي وغيره.
(ছা) জারহ ও তাদীল (সমালোচনা ও গুণগান) শাস্ত্রের ইমামগণের মূল বক্তব্য বিকৃত করার ক্ষেত্রে তার অদ্ভুত কর্মকাণ্ড।
(জিম) জারহ ও তাদীল শাস্ত্রের ইমামগণের বক্তব্য খণ্ডবিখণ্ড করার ক্ষেত্রে তার ভয়াবহ কারসাজি।
(হা) অপ্রমাণিত কোনো ত্রুটিকে (জারহ) প্রমাণ হিসেবে উপস্থাপন এবং তা সুনিশ্চিতভাবে বর্ণনা করার ক্ষেত্রে তার ধ্বংসাত্মক পদস্খলন।
(খা) তার জেনেশুনে উপেক্ষা এবং হঠকারিতামূলক দুঃসাহস।
(দাল) কোনো প্রমাণ ছাড়াই সমালোচনার (জারহ) মনগড়া পরিভাষা তৈরির ক্ষেত্রে তার বিস্ময়কর কাণ্ড।
এই আটটি প্রকার থেকে লেখক কিছু নমুনা চয়ন করেছেন এবং 'আত্ব-তালিআহ' গ্রন্থে সেগুলোর সংক্ষিপ্তসার তুলে ধরেছেন। অতঃপর 'আত্ব-তালিআহ' (পৃ. ৮৭) গ্রন্থে তিনি উল্লেখ করেছেন যে, আরও ছয়টি শাখা অবশিষ্ট রয়েছে যা তিনি 'আত-তানাকিল' গ্রন্থে বিস্তারিত বর্ণনা করেছেন, সেগুলো হলো:
(যাল) কোনো বর্ণনাকারী সম্পর্কে সামান্য কোনো মন্তব্য থাকতে পারে যা প্রকৃতপক্ষে ক্ষতিকর নয়, কিন্তু উস্তাদ সেটাকে এমন গুরুতর 'জারহ' বলে দাবি করেন যার ফলে তার বর্ণনা প্রত্যাখ্যান করা হয়।
(রা) উস্তাদ কোনো বর্ণনাকারী সম্পর্কে এমন মন্তব্য উদ্ধৃত করেন যা আলোচিত প্রসঙ্গের বিচারে ঐ ব্যক্তির জন্য মোটেও ক্ষতিকর নয়।
(যা) কোনো কিতাবের বিশুদ্ধতার ক্ষেত্রে কোনো নেতিবাচক প্রভাব না ফেলা সত্ত্বেও, সেই কিতাবের সনদগুলোর বিশুদ্ধতা ও প্রামাণিকতা নিয়ে তার অনর্থক ও কষ্টকল্পিত বিতর্ক।
(সীন) উস্তাদ এমন সব বক্তব্য গ্রহণ করেন যা ইমামগণ প্রত্যাখ্যান করেছেন; তিনি ইমামগণের সেই প্রত্যাখ্যানকে উপেক্ষা করে উক্ত বক্তব্যগুলোকেই দলীল হিসেবে পেশ করেন।
(শীন) তিনি এমন বিষয়কে সমালোচনা হিসেবে গ্রহণ করেন যা তিনি নিজেও জানেন যে মোটেও 'জারহ' নয়, তবুও তিনি সেটিকে বড় করে দেখান এবং অতিরঞ্জিত করেন।
(সোয়াদ) তিনি নির্ভরযোগ্য হাফেজগণের (হাদিস বিশারদ) বিরুদ্ধে এমন সব ভিত্তিহীন অভিযোগ উত্থাপন করেন যার কোনো মূল নেই; যেমনটি তিনি আল-হুমাইদী ও অন্যদের সম্পর্কে করেছেন।
(খণ্ড: ١٠)
আত্তানাকীলু বিমা ফী তানীবিিল কাওসারী মিনাল আবাতীল - যিমনু আসারুল মুআল্লিমী
(পৃষ্ঠা: ١٥)
فهذه الأنواع من المغالطات والمجازفات هي أغلب ما ناقش المؤلف الكوثريَّ فيه، وبيَّن تهافتَ كتابه، وسقوطَ حججه أمام التحقيق والبرهان، وأظهر بجلاء أن صياغة الكوثري المُحْكمة لكتابه ما هي إلا ستر خفيف للتغطية على بناء مهلهل من الداخل.
7 - جرى المؤلف في كتابه على نمطٍ صعب من التحلّي بأدب النقاش، وجمال العبارة، ومنهاج ثابت من الخلق الحسن والإنصاف للخصم. فقد جرى في طول الكتاب وعرضه على وصف الكوثري بـ (الأستاذ)، وكان عفيف العبارة لم يجرح ولم يبكّت ولم يُجار الكوثريَّ حتى فيما يمكن مجاراته فيه من باب {فَمَنِ اعْتَدَى عَلَيْكُمْ فَاعْتَدُوا عَلَيْهِ بِمِثْلِ مَا اعْتَدَى عَلَيْكُمْ} [البقرة: 194]. غير أنه قد يشتد في مواضع نادرة جرّأه عليها إساءةُ الأستاذ القول في أئمة السنة، كما قال في «الطليعة» (ص 4)، وكما هو واقع في «التنكيل» في التراجم ذوات الأرقام (23 و 98 و 189 و 191).
8 - صرّح المؤلف في ترجمة البخاري رقم (191) أنه سلك في هذا الكتاب سبيل المجاملة، قال: «وليس هذا موضع استيفاء الحق»، وأنه قد أعدّ لاستيفاء الحق عدّته إن لزم الأمر.
أما القسم الثالث الخاص بالفقه، فقد بحث فيه سبع عشرة مسألة، وكان سبب الكلام عليها تعقب الأستاذ الكوثري في كتابه «التأنيب» على الخطيب البغدادي لإيراده أحاديث في ترجمة الإمام أبي حنيفة من «تاريخ بغداد» ، ونقل إنكار بعض المتقدمين على الإمام بسبب ترك العمل بها وردّها.
والمسائل الواردة في الكتاب كما يلي:
এই ধরণের বিভ্রান্তি ও হঠকারিতাগুলোর অধিকাংশ নিয়েই লেখক আল-কাওসারীর সাথে আলোচনা করেছেন। তিনি তার বইয়ের অন্তঃসারশূন্যতা এবং যথাযথ অনুসন্ধান ও প্রমাণের সামনে তার যুক্তিসমূহের অসারতা সপ্রমাণ করেছেন। তিনি স্পষ্টভাবে ফুটিয়ে তুলেছেন যে, কাওসারীর বইটির সুসংহত বিন্যাস মূলত একটি দুর্বল অভ্যন্তরীণ কাঠামোর ওপর পাতলা আবরণের আবরণ ছাড়া আর কিছুই নয়।
৭ - লেখক তার গ্রন্থে আলোচনার শিষ্টাচার বজায় রাখা, মার্জিত শব্দচয়ন এবং প্রতিপক্ষের প্রতি সদাচরণ ও ইনসাফের একটি অটল ও কঠিন মানদণ্ড অনুসরণ করেছেন। তিনি পুরো গ্রন্থজুড়ে কাওসারীকে 'উস্তাদ' হিসেবে সম্বোধন করেছেন। তার ভাষা ছিল মার্জিত; তিনি কাউকে ব্যক্তিগতভাবে আক্রমণ করেননি, তিরস্কার করেননি, এমনকি যেখানে {যে তোমাদের ওপর আক্রমণ করে, তোমরাও তার ওপর তদ্রূপ আক্রমণ করো} [আল-বাকারা: ১৯৪] নীতি অনুযায়ী পাল্টা জবাব দেওয়ার সুযোগ ছিল, সেখানেও তিনি কাওসারীর পদাঙ্ক অনুসরণ করেননি। তবে কদাচিৎ কিছু স্থানে তিনি কঠোরতা অবলম্বন করেছেন, যার কারণ ছিল সুন্নাহর ইমামগণের প্রতি 'উস্তাদ' (কাওসারী)-এর কটুউক্তি। যেমনটি তিনি ‘আত-তালিআ’ (পৃষ্ঠা ৪) এবং ‘আত-তানকীল’-এর ২৩, ৯৮, ১৮৯ ও ১৯১ নম্বর জীবনীসমূহে উল্লেখ করেছেন।
৮ - লেখক ইমাম বুখারীর জীবনীতে (নম্বর ১৯১) স্পষ্টভাবে উল্লেখ করেছেন যে, এই গ্রন্থে তিনি সৌজন্যমূলক পথ অবলম্বন করেছেন। তিনি বলেছেন: "এটি যথাযথ হক আদায়ের স্থান নয়"; এবং তিনি আরও জানিয়েছেন যে, প্রয়োজন হলে সত্য প্রকাশের জন্য তিনি পূর্ণ প্রস্তুতি গ্রহণ করে রেখেছেন।
ফিকহ সংক্রান্ত তৃতীয় পরিচ্ছেদে তিনি সতেরোটি মাসআলা নিয়ে আলোচনা করেছেন। এসব আলোচনার সূত্রপাত হয়েছিল উস্তাদ কাওসারীর ‘আত-তানিইব’ গ্রন্থে খতীব আল-বাগদাদীর সমালোচনার প্রেক্ষিতে। বাগদাদী তার ‘তারীখে বাগদাদ’-এ ইমাম আবূ হানীফার জীবনীতে এমন কিছু হাদীস উল্লেখ করেছিলেন এবং পূর্ববর্তী কিছু আলিমের আপত্তি উদ্ধৃত করেছিলেন যেগুলোর ওপর আমল না করা বা সেগুলো প্রত্যাখ্যান করার কারণে ইমামের সমালোচনা করা হয়েছিল।
গ্রন্থে বর্ণিত মাসআলাগুলো নিম্নরূপ:
(খণ্ড: ١٠)
আত্তানাকীলু বিমা ফী তানীবিিল কাওসারী মিনাল আবাতীল - যিমনু আসারুল মুআল্লিমী
(পৃষ্ঠা: ١٦)
1 - إذا بلغ الماء قلتين لم ينجس.
2 - رفع اليدين في الصلاة.
3 - أفطر الحاجم والمحجوم.
4 - إشعار الهدي.
5 - المحرم لا يجد إزارًا أو نعلين يلبس السراويل والخف ولا فدية عليه.
6 - درهم وجوزة بدرهمين.
7 - خيار المجلس.
8 - رجل خلا بأجنبية ثم قالا: نحن زوجان.
9 - الطلاق قبل النكاح.
10 - العقيقة مشروعة.
11 - سهام الخيل من الغنيمة.
12 - القتل بالمثقّل.
13 - لا تعقل العاقلة عبدًا.
14 - تقطع اليد في ربع دينار.
15 - القضاء بشاهد ويمين.
16 - نكاح الشاهد امرأة شهد بطلاقها زورًا.
17 - القرعة.
ومنهج الشيخ في بحث كل مسألة: أنه ينقل أولًا ما في «تاريخ بغداد» ،
১ - পানির পরিমাণ দুই কুল্লায় পৌঁছালে তা অপবিত্র হয় না।
২ - সালাতে হাত উত্তোলন করা (রফে ইয়াদাইন)।
৩ - শিঙা দানকারী এবং যার শিঙা লাগানো হয়েছে, উভয়ের রোজা ভঙ্গ হয়ে যায়।
৪ - হাদির পশুর পিঠে চিহ্ন দেওয়া (ইশআর)।
৫ - এহরামকারী ব্যক্তি যদি লুঙ্গি বা জুতা না পায়, তবে সে পায়জামা ও মোজা পরিধান করবে এবং এজন্য তাকে কোনো ফিদয়া দিতে হবে না।
৬ - এক দিরহাম ও একটি আখরোট, দুই দিরহামের বিনিময়ে বিক্রয় করা।
৭ - চুক্তির মজলিসে থাকা অবস্থায় তা বহাল বা বাতিল করার অধিকার (খিয়ারে মজলিস)।
৮ - এক ব্যক্তি কোনো বেগানা নারীর সাথে নির্জনে অবস্থান করার পর তারা উভয়ে দাবি করল যে, তারা স্বামী-স্ত্রী।
৯ - বিবাহের পূর্বে তালাক প্রদান।
১০ - আকিকা শরিয়তসম্মত।
১১ - গনিমতের মালের মধ্যে ঘোড়ার অংশ।
১২ - ভারী বস্তু দ্বারা হত্যা করা।
১৩ - আকিলা (রক্তপণ বহনকারী আত্মীয়স্বজন) দাসের দিয়ত বা রক্তপণ বহন করবে না।
১৪ - এক চতুর্থাংশ দিনার চুরির দায়ে হাত কাটা যাবে।
১৫ - একজন সাক্ষী ও শপথের ভিত্তিতে ফয়সালা প্রদান।
১৬ - যে ব্যক্তি কোনো নারীর তালাকের ব্যাপারে মিথ্যা সাক্ষ্য দিয়েছে, সেই মহিলার সাথে ওই সাক্ষীর বিবাহ।
১৭ - লটারি বা কুরা।
প্রতিটি মাসআলা পর্যালোচনায় শাইখের পদ্ধতি হলো: তিনি প্রথমে «তারিখে বাগদাদ»-এ যা বর্ণিত হয়েছে তা উদ্ধৃত করেন,
(খণ্ড: ١٠)
আত্তানাকীলু বিমা ফী তানীবিিল কাওসারী মিনাল আবাতীল - যিমনু আসারুল মুআল্লিমী
(পৃষ্ঠা: ١٧)
ثم يذكر كلام الكوثري، ثم يعقب عليه بما له وما عليه. وقد فصل الكلام حول بعض المسائل، مثل قطع اليد في ربع دينار (رقم 14) ، والقضاء بشاهد ويمين (رقم 15) ، ومسألة رفع اليدين (رقم 2) ، وإذا بلغ الماء قلتين لم ينجس (رقم 1) ، وخيار المجلس (رقم 7) ، والقتل بالمثقل (رقم 12). وأطال في نقد الأحاديث الواردة في الباب وبيان فقهها ومذاهب العلماء فيها، وناقش الكوثري وبين ما في كلامه من التعسف ومجانبة الحق والصواب، ورد على تضعيفه للأحاديث الصحيحة وتأويلها. كل ذلك بأسلوب علمي هادئ رصين يقنع الباحث المنصف، وينبغي أن يقتدى به في بحث المسائل الفقهية دون همز أو لمز أو جناية على الآخرين.
وقد نظر المؤلف في الأحاديث والآثار التي احتج بها الأستاذ الكوثري ومَن سبقه، وبين درجتها من الصحة والضعف، وتكلم على أسانيدها ومتونها وما يستنبط منها، وذكر وجوه التوفيق بين الأحاديث التي ظاهرها التعارض، ورد على دعوى الاختلاف والاضطراب فيها. ونثر في أثنائها فوائد حديثية ودقائق علمية قد لا توجد في المطوَّلات.
أما القسم الرابع من التنكيل فهو «القائد إلى تصحيح العقائد» ، ألفه الشيخ ردًّا على الكوثري عند ما تعرض في كتابه «تأنيب الخطيب» للطعن في عقيدة أهل الحديث، ونبزهم بالمجسمة والمشبهة والحشوية، ورماهم بالجهل والبدعة والزيغ والضلالة، وخاض في بعض المسائل الاعتقادية كمسألة الكلام والإرجاء، فتعقبه الشيخ في هذا كما تعقبه في غيره.
ويتكون الكتاب من مقدمة وأربعة أبواب وخاتمة، أما المقدمة فقد بدأها بذكر أن الله غني عن العالمين، وقد خلق الخلق لعبادته وطاعته بامتثال
এরপর তিনি আল-কাওসারীর বক্তব্য উল্লেখ করেন, অতঃপর তার সপক্ষে ও বিপক্ষে যা রয়েছে তার ওপর আলোকপাত করেন। তিনি কিছু বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা করেছেন, যেমন এক চতুর্থাংশ দিনার চুরির দায়ে হাত কাটা (নং ১৪), এক সাক্ষী ও শপথের মাধ্যমে বিচার (নং ১৫), রফউল ইয়াদাইন বা হস্ত উত্তোলন (নং ২), পানি যখন দুই কুল্লায় পৌঁছে তখন তা অপবিত্র হয় না (নং ১), খিয়ারুল মাজলিস বা ক্রয়-বিক্রয় চুক্তির মজলিস ত্যাগের পূর্ব পর্যন্ত বাতিলের অধিকার (নং ৭) এবং ভারী বস্তু দ্বারা হত্যার দণ্ড (নং ১২)। তিনি সংশ্লিষ্ট অধ্যায়ে বর্ণিত হাদিসসমূহের সমালোচনা এবং সেগুলোর ফিকহী বিশ্লেষণ ও আলেমদের মাযহাব বর্ণনায় দীর্ঘ আলোচনা করেছেন। তিনি আল-কাওসারীর সাথে বিতর্ক করেছেন এবং তার বক্তব্যে বিদ্যমান জবরদস্তি ও সত্য-সঠিক পথ থেকে বিচ্যুতি স্পষ্ট করেছেন। পাশাপাশি সহিহ হাদিসসমূহকে তাঁর দুর্বল সাব্যস্ত করা এবং সেগুলোর অপব্যাখ্যা প্রদানের প্রত্যুত্তর দিয়েছেন। এই সবকিছুই তিনি এক শান্ত, গম্ভীর ও জ্ঞানগর্ভ পদ্ধতিতে সম্পন্ন করেছেন যা একজন ইনসাফকারী গবেষককে সন্তুষ্ট করে। ফিকহী মাসআলা গবেষণার ক্ষেত্রে কোনো প্রকার কটাক্ষ, বিদ্রূপ বা অন্যের ওপর অন্যায্য আক্রমণ ছাড়াই এটি অনুসরণীয় হওয়া উচিত।
লেখক উস্তাদ আল-কাওসারী এবং তাঁর পূর্বসূরিদের পেশকৃত হাদিস ও আসারসমূহ (সাহাবীদের বাণী ও কর্ম) পর্যালোচনা করেছেন এবং সেগুলোর বিশুদ্ধতা ও দুর্বলতার মান স্পষ্ট করেছেন। তিনি সেগুলোর সনদ ও মতন এবং তা থেকে উৎসারিত বিধানসমূহ নিয়ে আলোচনা করেছেন। আপাত বিরোধী প্রতীয়মান হাদিসগুলোর মধ্যে সমন্বয়ের দিকগুলো উল্লেখ করেছেন এবং সেগুলোর মধ্যে মতভেদ ও অসংগতির দাবির জবাব দিয়েছেন। এর ফাঁকে ফাঁকে তিনি এমন কিছু হাদিস শাস্ত্রীয় উপকারিতা ও সূক্ষ্ম তাত্ত্বিক তথ্য ছড়িয়ে দিয়েছেন যা হয়তো বড় কলেবরের কিতাবসমূহেও পাওয়া যায় না।
'আত-তানকিল' গ্রন্থের চতুর্থ অংশ হলো 'আল-কায়িদ ইলা তাসহিহিল আকাইদ'। শায়খ এটি আল-কাওসারীর প্রতিবাদে রচনা করেন, যখন তিনি তাঁর 'তা'নিবুল খাতিব' গ্রন্থে আহলে হাদিসদের আকিদার ওপর আক্রমণ করেন এবং তাঁদেরকে মুজাসসিমা (দেহবাদী), মুশাববিহা (সদৃশকারী) ও হাশাবিয়া বলে অভিহিত করেন। তিনি তাঁদের ওপর অজ্ঞতা, বিদআত, বিচ্যুতি ও গোমরাহীর অপবাদ আরোপ করেন এবং কালাম (আল্লাহর কালাম) ও ইরজা-এর মতো কিছু আকিদাগত বিষয়ে আলোচনায় লিপ্ত হন। শায়খ অন্যান্য বিষয়ের মতো এই ক্ষেত্রেও তাঁর সমালোচনা ও বিচার-বিশ্লেষণ করেছেন।
গ্রন্থটি একটি ভূমিকা, চারটি অধ্যায় ও একটি উপসংহার নিয়ে গঠিত। ভূমিকার শুরুতে তিনি উল্লেখ করেছেন যে, আল্লাহ তাআলা সৃষ্টিজগতের মুখাপেক্ষী নন। তিনি সৃষ্টিজগতকে তাঁর ইবাদত ও আনুগত্যের নিমিত্তে সৃষ্টি করেছেন যাতে তারা আদেশসমূহ পালনের মাধ্যমে...
(খণ্ড: ١٠)
আত্তানাকীলু বিমা ফী তানীবিিল কাওসারী মিনাল আবাতীল - যিমনু আসারুল মুআল্লিমী
(পৃষ্ঠা: ١٨)
ما أمر به واجتناب ما نهى عنه، وجعل مدار كمال المخلوق على حب الحق وكراهية الباطل، فخلق الله الناس مفطورين على ذلك، وقدَّر لهم ما يؤكد تلك الفطرة وما يدعوهم إلى خلافها، ليكون عليهم في اختيار الكمال مشقة وتعب، ولهم في خلاف ذلك شهوة وهوى. والمقصود أن يتبين حال الإنسان، فيفوز مَنْ صبر على تحمل المشاق، ويخسر من يلجأ إلى الباطل فرارًا من تلك المشاق أو من شدتها، فمدار الفوز أو الخسران على إيثار الحق أو الباطل.
وعقد فصلًا ذكر فيه أن الدين على درجات: كفٌّ عما نهي عنه، وعمل بما أمر به، واعتراف بالحق، واعتقاد له وعلم به. وبيَّن كيف يكون مخالفة الهوى للحق في هذه الأمور، ولم يجعل الله جميع حجج الحق مكشوفة قاهرة لا تشتبه على أحد، لأنها لو كانت كذلك لكان الناس مجبورين على اعتقاد الحق، فلا يستحقون عليه حمدًا ولا كمالًا ولا ثوابًا، وكذلك اقتضت الحكمة أن لا تكون الشبهات غالبة حتى لا توقع الناس كلهم في الكفر، بل اقتضت أن تكون هناك بينات وشبهات، فمن جرى مع فطرته وآثر مقتضاها وتفقد مسالك الهوى فاحترس منها تتجلى له البينات وتتضاءل عنده الشبهات، ومن اتبع الهوى وآثر الحياة الدنيا تبرقعت دونه البينات واستهوته الشبهات.
ثم عقد فصلًا ذكر فيه أن المطالب على ثلاثة أضرب: الأول: العقائد التي يُطلَب الجزم بها ولا يسع جهلها. الثاني: بقية العقائد. الثالث: الأحكام.
যিনি আদেশ করেছেন তা পালন করা এবং যা তিনি নিষেধ করেছেন তা বর্জন করা; আর তিনি সৃষ্টির পূর্ণতার ভিত্তি স্থাপন করেছেন সত্যের প্রতি ভালোবাসা এবং মিথ্যার প্রতি ঘৃণার ওপর। আল্লাহ মানুষকে এই স্বভাবজাত প্রকৃতির (ফিতরাত) ওপর সৃষ্টি করেছেন এবং তাদের জন্য এমন বিষয় নির্ধারণ করেছেন যা এই ফিতরাতকে সুদৃঢ় করে, আবার এমন বিষয়ও রেখেছেন যা তাদের এর বিরুদ্ধাচরণে প্ররোচিত করে; যাতে পূর্ণতা নির্বাচনের ক্ষেত্রে তাদের জন্য কষ্ট ও শ্রম বিদ্যমান থাকে, আর এর বিপরীতে থাকে প্রবৃত্তি ও লালসা। এর মূল উদ্দেশ্য হলো মানুষের প্রকৃত অবস্থা প্রকাশ পাওয়া; ফলে যে ব্যক্তি কষ্ট সহ্য করে ধৈর্য ধারণ করবে সে সফল হবে, আর যে ব্যক্তি কষ্টের ভয়ে বা তার তীব্রতা থেকে পলায়ন করে মিথ্যার আশ্রয় নেবে সে ক্ষতিগ্রস্ত হবে। সুতরাং সফলতা বা ব্যর্থতার আবর্ত হলো সত্য বা মিথ্যার মধ্য থেকে কোনো একটিকে অগ্রাধিকার দেওয়া।
তিনি একটি পরিচ্ছেদ রচনা করেছেন যেখানে উল্লেখ করেছেন যে, দ্বীনের কয়েকটি স্তর রয়েছে: নিষিদ্ধ বিষয় থেকে বিরত থাকা, আদিষ্ট বিষয় অনুযায়ী আমল করা, সত্যের স্বীকৃতি প্রদান এবং সত্যের প্রতি বিশ্বাস ও জ্ঞান রাখা। তিনি বর্ণনা করেছেন যে, এই বিষয়গুলোতে কীভাবে প্রবৃত্তি সত্যের বিরোধিতা করে। আল্লাহ সত্যের সকল প্রমাণকে এমনভাবে উন্মুক্ত ও অকাট্য করেননি যা কারো নিকট বিন্দুমাত্র অস্পষ্ট না থাকে; কারণ যদি তা-ই হতো তবে মানুষ সত্য বিশ্বাস করতে বাধ্য হতো, ফলে তারা এর জন্য কোনো প্রশংসা, পূর্ণতা বা সওয়াবের অধিকারী হতো না। তেমনিভাবে হিকমত বা প্রজ্ঞার দাবি ছিল যেন সংশয়সমূহও এত প্রবল না হয় যা সকল মানুষকে কুফরিতে লিপ্ত করে। বরং প্রজ্ঞার দাবি হলো সেখানে স্পষ্ট প্রমাণ এবং সংশয়—উভয়ই বিদ্যমান থাকবে। অতএব, যে ব্যক্তি তার স্বভাবজাত প্রকৃতির অনুসারী হয়, তার দাবিকে অগ্রাধিকার দেয় এবং প্রবৃত্তির পথসমূহ পর্যবেক্ষণ করে তা থেকে সতর্ক থাকে, তার নিকট সত্যের প্রমাণসমূহ উদ্ভাসিত হয় এবং সংশয়গুলো দূরীভূত হয়। আর যে ব্যক্তি প্রবৃত্তির অনুসরণ করে এবং পার্থিব জীবনকে অগ্রাধিকার দেয়, তার সামনে সত্যের প্রমাণসমূহ আবৃত হয়ে পড়ে এবং সংশয় তাকে বিভ্রান্ত করে।
এরপর তিনি একটি পরিচ্ছেদ সংকলন করেছেন যাতে উল্লেখ করেছেন যে, অন্বেষিত বিষয়সমূহ তিন প্রকার: প্রথম: সেই সকল বিশ্বাস (আকাইদ) যাতে দৃঢ় প্রত্যয় রাখা আবশ্যক এবং যা না জানা মার্জনীয় নয়। দ্বিতীয়: অবশিষ্ট অন্যান্য বিশ্বাস। তৃতীয়: আহকাম বা বিধিবিধান।
(খণ্ড: ١٠)
আত্তানাকীলু বিমা ফী তানীবিিল কাওসারী মিনাল আবাতীল - যিমনু আসারুল মুআল্লিমী
(পৃষ্ঠা: ١٩)
فأما الضرب الأول فالنظر فيه ميسر لكل أحد، والنظر العقلي المتعمق فيه لا حاجة إليه، بل هو مثار الشبهات.
وأما الضرب الثاني فمن كان قائلًا بشيء منه عن حجة صحيحة فإن الاستجابة لا تزيد تلك الحجة إلا وضوحًا مع الخلاص عن الهوى. وإلا فالجهل بهذا الضرب خير من القول فيه بغير حجة.
وأما الضرب الثالث فالمتواتر منه والمجمع عليه لا يختلف حكمه، وما عداه قضايا اجتهادية يكفي فيها بذل الوسع لتعرف الراجح أو الأرجح أو الأحوط، فيؤخذ به.
وفي الفصل الخامس الأخير من المقدمة ذكر عشرة أمور ينبغي للإنسان أن يقدم التفكر فيها ويجعلها نصب عينيه. عليه أن يفكر في شرف الحق وضعة الباطل، ويفكر في نسبة نعيم الدنيا إلى رضوان رب العالمين ونعيم الآخرة، ويفكر في حاله بالنظر إلى أعماله من الطاعة والمعصية، ويفكر في حاله مع الهوى، ويستحضر أنه على فرض أن يكون فيما نشأ عليه باطل، لا يخلو من أن يكون قد سلف منه تقصير أو لا، فعلى الأول إن استمر على ذلك كان مستمرًّا على النقص ومصرًّا عليه، وذلك هو هلاك الأبد، وإن نظر فتبين له الحق فرجع إليه حاز الكمال. ويستحضر أن الذي يهمه ويسأل عنه هو حاله في نفسه، فلا يضره عند الله ولا عند أهل العلم والدين والعقل أن يكون معلمه أو أسلافه أو أشياخه على نقص. ويتدبر ما يرجى لمؤثر الحق من رضوان الله والفوز العظيم الدائم في الآخرة، وما يستحقه متبع الهوى من سخطه والمقت في الدنيا والعذاب الأليم الخالد في الآخرة.
প্রথম প্রকারের ক্ষেত্রে, তা নিয়ে বিচার-বিশ্লেষণ করা প্রত্যেকের জন্যই সহজসাধ্য; এতে গভীর তাত্ত্বিক পর্যালোচনার কোনো প্রয়োজন নেই, বরং তা সংশয়েরই উৎস।
আর দ্বিতীয় প্রকারের ক্ষেত্রে, যিনি সহিহ দলিলের ভিত্তিতে এর কোনো বিষয়ে প্রবক্তা হবেন, তবে সত্যের ডাকে সাড়া দেওয়া তার সেই দলিলের স্পষ্টতা বৃদ্ধির পাশাপাশি প্রবৃত্তির তাড়না থেকে মুক্তি লাভের কারণ হবে। অন্যথায়, দলিলবিহীন বক্তব্যের চেয়ে এই প্রকার সম্পর্কে অজ্ঞ থাকাই শ্রেয়।
আর তৃতীয় প্রকারের ক্ষেত্রে, এর মুতাওয়াতির ও ইজমা-ভিত্তিক বিষয়সমূহের বিধান অভিন্ন। এর বাইরে যা কিছু আছে তা ইজতিহাদ-সাপেক্ষ বিষয়, যেখানে প্রবল, প্রবলতর কিংবা অধিকতর সতর্কতামূলক মতটি জানার জন্য যথাসাধ্য প্রচেষ্টা চালানোই যথেষ্ট, অতঃপর তা গ্রহণ করা হবে।
মুকাদ্দামার পঞ্চম তথা সর্বশেষ পরিচ্ছেদে তিনি দশটি বিষয়ের উল্লেখ করেছেন, যা নিয়ে মানুষের চিন্তা-ভাবনা করা এবং সর্বদা দৃষ্টির সম্মুখে রাখা আবশ্যক। তার কর্তব্য হলো সত্যের মর্যাদা ও বাতিলের হীনতা সম্পর্কে চিন্তা করা; রাব্বুল আলামীনের সন্তুষ্টি ও আখিরাতের নিআমতের তুলনায় দুনিয়ার নিআমতের তুচ্ছতা নিয়ে ভাবা; আনুগত্য ও নাফরমানির প্রেক্ষিতে নিজের আমলসমূহের প্রতি দৃষ্টি রেখে নিজের অবস্থা বিচার করা এবং প্রবৃত্তির বশবর্তী হওয়ার বিষয়ে নিজ অবস্থা নিয়ে ভাবা। আর এ বিষয়টি স্মরণে রাখা যে, সে যে মতাদর্শের ওপর বেড়ে উঠেছে তা যদি বাতিল হয়, তবে ইতিপূর্বে তার পক্ষ থেকে অবহেলা হয়ে থাকতে পারে অথবা নাও পারে। প্রথমত, যদি সে এতেই অবিচল থাকে তবে সে ত্রুটির ওপরই অবস্থান করল এবং এর ওপর অটল থাকল, যা মূলত চিরন্তন ধ্বংসের পথ। আর যদি সে নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করে এবং সত্য তার নিকট স্পষ্ট হয়ে ওঠে ও সেদিকে প্রত্যাবর্তন করে, তবে সে পূর্ণতা লাভ করল। সে যেন এ কথাও স্মরণে রাখে যে, তার জন্য গুরুত্বপূর্ণ এবং যে বিষয়ে তাকে জবাবদিহি করতে হবে তা হলো তার নিজের অবস্থা। সুতরাং তার শিক্ষক, পূর্বসূরি বা শায়খগণ যদি ত্রুটির ওপর থাকেন, তবে আল্লাহর নিকট কিংবা ইলম, দ্বীন ও বিবেকের অধিকারী ব্যক্তিদের নিকট তার কোনো ক্ষতি হবে না। এছাড়া তাকে আরও অনুধাবন করতে হবে যে, সত্যকে অগ্রাধিকার প্রদানকারীর জন্য আল্লাহর সন্তুষ্টি এবং পরকালে স্থায়ী মহাসাফল্যের সুসংবাদ রয়েছে; আর প্রবৃত্তির অনুসারীর জন্য রয়েছে আল্লাহর ক্রোধ, দুনিয়াতে লাঞ্ছনা এবং আখিরাতে চিরস্থায়ী যন্ত্রণাদায়ক শাস্তি।
(খণ্ড: ١٠)
আত্তানাকীলু বিমা ফী তানীবিিল কাওসারী মিনাল আবাতীল - যিমনু আসারুল মুআল্লিমী
(পৃষ্ঠা: ٢٠)
ويأخذ نفسه بخلاف هواها فيما يتبين له، فلا يسامحها في ترك واجب ولا في ارتكاب معصية ولا في هجوم على مشتبه، ويروضها على التثبت والخضوع للحق. ويأخذ نفسه بالاحتياط فيما يخالف ما نشأ عليه، فإذا كان فيما نشأ عليه أشياء يقول أهل العلم: إنها شرك أو بدعة أو حرام، فليأخذ نفسه بتركها، حتى يتبين له بالحجج الواضحة صحة ما نشأ عليه. والأمر الأخير أن يسعى في التمييز بين معدن الحجج ومعدن الشبهات، فإنه إذا تم له ذلك هان عليه الخطب.
والباب الأول في الفرق بين معدن الحق ومعدن الشبهات، وبيان مآخذ العقائد الإسلامية ومراتبها. ذكر فيه أن مآخذ العقائد أربعة: سلفيان وهما الفطرة والشرع، وخلفيان وهما النظر العقلي المتعمَّق فيه والكشف الصوفي. وفصّل الكلام عليها، وبين أن الله فطر الناس على الهيئة التي ترشحهم لمعرفة الحق، والشرع هو كلام الله وكلام رسوله، لا يخشى فيه جهل ولا خطأ، ولا كذب ولا تلبيس، ولا تقصير في البيان، فهل يقول مسلم بعد هذا: إن المأخذين السلفيين غير كافيين في معرفة الحق في العقائد، وأن ما يؤخذ من علم الكلام والفلسفة مقدم على المأخذين السلفيين ومهيمن عليهما؟ !
أما المأخذ الخلفي الأول (وهو النظر العقلي المتعمَّق فيه) فلا حاجة إليه في معرفة العقائد في الإسلام، وهو مثار للشبهات والتشكيك، ولذا وجب التنفير عنه والتحذير منه. وقد كشف المؤلف عواره وهتك أستاره بسلاح أهل الكلام والفلسفة، فنقل كلامهم وبين اختلافهم، وقدح بعضهم في الحسيات والبديهيات وجواب بعضهم عنه وتناقضهم في ذلك. ثم
তিনি নিজের প্রবৃত্তির চাহিদার বিপরীতে নিজেকে পরিচালিত করবেন যখন সত্য তাঁর কাছে স্পষ্ট হয়। কোনো ওয়াজিব বর্জন, পাপাচার সম্পাদন বা সন্দেহজনক বিষয়ে লিপ্ত হওয়ার ক্ষেত্রে তিনি নিজেকে বিন্দুমাত্র ছাড় দেবেন না। তিনি নিজেকে সত্যের প্রতি অবিচল থাকা এবং সত্যের কাছে মস্তক অবনত করার বিষয়ে অভ্যস্ত করবেন। যা কিছুর ওপর তিনি লালিত-পালিত হয়েছেন, তার বিপরীতে সতর্কতার পথ অবলম্বন করবেন। যদি তার লালিত-পালিত অভ্যাসের মধ্যে এমন কিছু থাকে যা সম্পর্কে আলেম সমাজ বলেন যে, তা শিরক, বিদআত বা হারাম; তবে তিনি তা বর্জন করতে বদ্ধপরিকর হবেন, যতক্ষণ না সুস্পষ্ট প্রমাণের মাধ্যমে তার লালিত-পালিত অভ্যাসের বিশুদ্ধতা তাঁর কাছে স্পষ্ট হয়। এবং শেষ বিষয়টি হলো—দলিল ও সংশয়ের উৎসের মধ্যে পার্থক্য করার চেষ্টা করা। কেননা, যদি তিনি এতে সফল হন, তবে পরবর্তী বিষয়গুলো তাঁর জন্য সহজ হয়ে যাবে।
প্রথম পরিচ্ছেদটি সত্য ও সংশয়ের উৎসের মধ্যকার পার্থক্য এবং ইসলামী আকিদার উৎস ও সেগুলোর স্তরবিন্যাস প্রসঙ্গে। এতে উল্লেখ করা হয়েছে যে, আকিদার উৎস চারটি: দুটি সালাফি (পূর্বসূরিদের অনুসৃত) উৎস—ফিতরাত (স্বভাবজাত প্রবৃত্তি) ও শররিয়ত; এবং দুটি খালাফি (পরবর্তী সময়ের) উৎস—গভীর যুক্তিভিত্তিক চিন্তা ও সুফি ঘরানার কাশফ। তিনি এ বিষয়গুলো বিস্তারিত আলোচনা করেছেন এবং স্পষ্ট করেছেন যে, আল্লাহ মানুষকে এমন এক প্রকৃতিতে সৃষ্টি করেছেন যা তাদের সত্য অনুধাবনের যোগ্য করে তোলে। আর শররিয়ত হলো আল্লাহর কালাম ও তাঁর রাসূলের বাণী, যাতে নেই কোনো অজ্ঞতা বা ভুল, নেই মিথ্যা বা প্রতারণা এবং নেই বর্ণনাভঙ্গিতে কোনো অসম্পূর্ণতা। এরপর কি কোনো মুসলমান বলতে পারে যে, আকিদার ক্ষেত্রে সত্য অন্বেষণে এই সালাফি উৎস দুটি যথেষ্ট নয়? এবং ইলমুল কালাম ও দর্শন থেকে যা গ্রহণ করা হয়, তা এই সালাফি উৎস দুটির ওপর অগ্রাধিকারযোগ্য বা সেগুলোর নিয়ন্ত্রক?!
প্রথম খালাফি উৎসের (অর্থাৎ গভীর যুক্তিভিত্তিক চিন্তা) কথা বলতে গেলে, ইসলামি আকিদা জানার ক্ষেত্রে এর কোনো প্রয়োজন নেই। বরং এটি সংশয় ও সন্দেহ সৃষ্টির কেন্দ্রস্থল; তাই এ থেকে বিমুখ থাকা এবং সতর্ক করা ওয়াজিব। লেখক এই পদ্ধতির ত্রুটিসমূহ উন্মোচন করেছেন এবং খোদ কালামশাস্ত্রবিদ ও দার্শনিকদের যুক্তি ব্যবহার করেই এর রহস্য উন্মোচন করেছেন। তিনি তাদের বক্তব্য উদ্ধৃত করেছেন এবং তাদের মধ্যকার মতভেদ স্পষ্ট করেছেন। এছাড়া ইন্দ্রিয়জাত ও স্বতঃসিদ্ধ বিষয়াবলির ওপর তাদের কারো কারো আপত্তি, সেগুলোর উত্তর এবং এ ক্ষেত্রে তাদের মধ্যকার স্ববিরোধিতাও তিনি ফুটিয়ে তুলেছেন। এরপর...
(খণ্ড: ١٠)
আত্তানাকীলু বিমা ফী তানীবিিল কাওসারী মিনাল আবাতীল - যিমনু আসারুল মুআল্লিমী
(পৃষ্ঠা: ٢١)
تطرق المؤلف إلى ذكر القادحين في إفادة النظر العلم، والوجوه التي تمسكوا بها وما أجيب به عنها. وذكر في آخر هذا الفصل بعض أئمة المتكلمين الذين رجعوا قبل وفاتهم إلى تمني الحال التي عليها عامة المسلمين، مثل الشيخ أبي الحسن الأشعري، والجويني، والغزالي، والفخر الرازي. فرجوع هؤلاء الأكابر وقضاؤهم على النظر المتعمَّق فيه بعد أن أفنوا فيه أعمارهم من أوضح الحجج على من دونهم.
ثم تكلم المؤلف عن المأخذ الخلفي الثاني وهو الكشف الصوفي، فذكر أن أول من مزج التصوف بالكلام الحارث المحاسبي، ثم اشتد الأمر في الذين أخذوا عنه فمن بعدهم، حتى جاء ابن عربي وابن سبعين والتلمساني، ومقالاتهم معروفة، ومن تتبع ما كان عليه النبي صلى الله عليه وسلم والصحابة وأئمة التابعين، وما يصرح به الكتاب والسنة وآثار السلف، وأنعم النظر في ذلك، ثم قارن ذلك بمقالات هؤلاء القوم، علم يقينًا أنه لا يمكنه أن يصدق الشرع ويصدقهم معًا. والشرع يقضي بأن الكشف ليس مما يصلح الاستناد إليه في الدين، ونجد في كلام المتصوفة أن الكشف قد يكون حقًّا، وقد يكون من الشيطان، وقد يكون تخيلًا موافقًا لحديث النفس، وصرحوا بأنه كثيرًا ما يُكْشَف للرجل بما يوافق رأيه حقًّا كان أو باطلًا، فالكشف إذن تبع للهوى، فغايته أن يؤيد الهوى ويرسخه في النفس ويحول بين صاحبه وبين الاعتبار والاستبصار، فكأن الساعي في أن يحصل له الكشف إنما يسعى في أن يضلَّه الله عز وجل. وما يزعمه بعض غلاتهم من أن لهم علامات يميزون بها بين ما هو حق من الكشف وما هو باطل، دعوى فارغة.
লেখক যৌক্তিক চিন্তাভাবনা ও গবেষণার (নজর) মাধ্যমে জ্ঞান অর্জনের কার্যকারিতার সমালোচকদের সম্পর্কে এবং তারা যে সকল যুক্তি উপস্থাপন করেছিলেন ও সেগুলোর বিপরীতে যে উত্তর দেওয়া হয়েছে, সে বিষয়ে আলোকপাত করেছেন। তিনি এই পরিচ্ছেদের শেষে ইলমুল কালামের এমন কিছু ইমামের কথা উল্লেখ করেছেন, যারা মৃত্যুর পূর্বে সাধারণ মুসলমানদের সরল বিশ্বাসের অবস্থার প্রতি আকাঙ্ক্ষা ব্যক্ত করে তাদের পূর্বাবস্থান থেকে ফিরে এসেছিলেন; যেমন— শায়খ আবুল হাসান আল-আশআরী, আল-জুওয়াইনী, আল-গাযালী এবং ফখর আল-রাযী। এই মহান মনীষীদের ফিরে আসা এবং জীবনভর সাধনার পর গভীর যৌক্তিক বিশ্লেষণের অসারতা বিষয়ে তাদের দেওয়া সিদ্ধান্ত, তাদের পরবর্তী স্তরের লোকদের জন্য এক সুস্পষ্ট দলিল।
অতঃপর লেখক পরবর্তী যুগের দ্বিতীয় অবলম্বন অর্থাৎ সুফিবাদী 'কাশফ' (আধ্যাত্মিক উন্মোচন) সম্পর্কে আলোচনা করেছেন। তিনি উল্লেখ করেছেন যে, আল-হারিস আল-মুহাসিবীই সর্বপ্রথম তাসাউফকে ইলমুল কালামের সাথে মিশ্রিত করেন। পরবর্তীতে যারা তার থেকে শিক্ষা গ্রহণ করেছেন এবং তাদের পরবর্তী প্রজন্মের মধ্যে বিষয়টি আরও তীব্র আকার ধারণ করে, যা শেষ পর্যন্ত ইবনে আরাবী, ইবনে সাবঈন এবং তিলিমসানী পর্যন্ত গড়ায়; তাদের মতবাদসমূহ সর্বজনবিদিত। যে ব্যক্তি নবী (সা.), সাহাবায়ে কেরাম ও তাবেয়ী ইমামগণের পথ এবং কুরআন, সুন্নাহ ও সালাফদের বাণীর অনুসরণ করবে এবং এ বিষয়ে গভীর অভিনিবেশ করবে, অতঃপর এগুলোর সাথে উক্ত ব্যক্তিদের মতবাদের তুলনা করবে, সে নিশ্চিতভাবে জানতে পারবে যে—একই সাথে শরিয়তকে সত্য বলে বিশ্বাস করা এবং তাদের এসব মতবাদকে মেনে নেওয়া অসম্ভব। শরিয়তের বিধান হলো, দ্বীনের ক্ষেত্রে 'কাশফ' নির্ভরযোগ্য কোনো ভিত্তি হতে পারে না। এমনকি সুফিদের বক্তব্যেই পাওয়া যায় যে, 'কাশফ' কখনও সত্য হতে পারে, আবার কখনও শয়তানের পক্ষ থেকে হতে পারে, কিংবা কখনও তা মনের খেয়াল বা কল্পনার অনুগামী হতে পারে। তারা স্পষ্টভাবে বলেছেন যে, প্রায়শই মানুষের কাছে তার নিজস্ব মতাদর্শ অনুযায়ীই কোনো বিষয় উন্মোচিত (কাশফ) হয়, চাই তা সত্য হোক বা মিথ্যা। সুতরাং 'কাশফ' তখন প্রবৃত্তির অনুগামী হয়ে পড়ে। এর চূড়ান্ত লক্ষ্য হলো প্রবৃত্তিকে সমর্থন দেওয়া, অন্তরে একে বদ্ধমূল করা এবং সত্য উপলব্ধি ও অন্তর্দৃষ্টির পথে অন্তরায় সৃষ্টি করা। ফলে কাশফ লাভের জন্য সচেষ্ট ব্যক্তি যেন আল্লাহ তাআলা কর্তৃক বিভ্রান্ত হওয়ার পথেই সচেষ্ট। তাদের কিছু চরমপন্থী যে দাবি করে যে, তাদের কাছে এমন কিছু চিহ্ন রয়েছে যার মাধ্যমে তারা সত্য ও মিথ্যা কাশফের মধ্যে পার্থক্য করতে পারে—তা একটি অন্তঃসারশূন্য দাবি মাত্র।
(খণ্ড: ١٠)
আত্তানাকীলু বিমা ফী তানীবিিল কাওসারী মিনাল আবাতীল - যিমনু আসারুল মুআল্লিমী
(পৃষ্ঠা: ٢٢)
وختم المؤلف كلامه على المأخذين الخلفيين بقوله: «مهما يكن في المأخذين الخلفيين من الوهن فإننا لا نمنع أن يُستَند إليهما فيما ليس من الدين ولا يدفعه الدين، وكذلك لا نرى كبير حرج في الاستئناس بما يوافق المأخذين السلفيين بعد الاعتراف بأنهما كافيان شافيان، وإنما الممنوع الباطل هو زعم أنهما غير وافيين ببيان الحق في الدين».
أما الباب الثاني فقد عقده لبيان تنزيه الله ورسله عن الكذب، قصد به الرد على طوائف المتكلمين الذين يردون نصوص الكتاب والسنة في العقائد، فمنهم من ردها مع تصريحه بأن كثيرًا منها لا يحمل إلا المعاني التي يزعم أنها باطلة، ويزعم أن الشرع أتى بها مجاراةً لعقول الجمهور. ومنهم من زعم أنها غير صالحة للحجة في العقائد مطلقًا. ومنهم من لم يصرح بذلك، ولكنه قدّم غيرها عليها وتعسّف في تأويلها تعسفًا مخرجًا عن قانون الكلام. فتحصل من كلامهم حملهم تلك النصوص على الكذب.
وقد فصَّل الكلام على تنزيه الله والأنبياء عن الكذب، وبين معنى حديث ثلاث كذبات وغيره مما يورَد على هذا الأصل، وللمؤلف رسالة مستقلة بعنوان «إرشاد العامِه إلى الكذب وأحكامه» ، شرح فيها حقيقة الكذب والفرق بينه وبين المجاز، وما هي المعاريض؟ وما هو الذي يصح الترخيص فيه؟ وغير ذلك، وهي مطبوعة ضمن رسائل الأصول في هذه الموسوعة. وقد أشار إليها الشيخ في آخر هذا المبحث.
والباب الثالث في الاحتجاج بالنصوص الشرعية في العقائد، وهو أطول أبواب الكتاب، ذكر فيه أن التعمق في النظر العقلي أدى إلى ترك الاحتجاج بالنصوص وردّها أو تأويلها، وصرح بعضهم بأن أخبار الآحاد إذا
লেখক পরবর্তী ধারার (খালাফ) দুই উৎসের আলোচনায় ইতি টেনে বলেন: "পরবর্তী ধারার এই দুই উৎসের মধ্যে যতই দুর্বলতা থাকুক না কেন, দ্বীনের অন্তর্ভুক্ত নয় এমন বিষয়ে অথবা দ্বীনের মৌলিক নীতির সাথে সাংঘর্ষিক নয় এমন বিষয়ে এদের ওপর নির্ভর করতে আমরা বারণ করি না। একইভাবে, পূর্ববর্তী ধারার (সালাফ) দুই উৎস যথেষ্ট ও সন্তোষজনক হওয়ার বিষয়টি স্বীকার করে নেওয়ার পর, তাদের অনুকূলে যায় এমন বিষয়ের মাধ্যমে সাহায্য গ্রহণে আমরা বড় কোনো সমস্যা দেখি না। প্রকৃতপক্ষে যা নিষিদ্ধ ও বাতিল তা হলো এই দাবি করা যে, এই দুই উৎস দ্বীনের সত্য বর্ণনার ক্ষেত্রে যথেষ্ট নয়।"
দ্বিতীয় পরিচ্ছেদটি তিনি আল্লাহ এবং তাঁর রাসূলগণকে মিথ্যা থেকে পবিত্র ঘোষণা করার বিবরণে সাজিয়েছেন। এর মাধ্যমে তিনি ইলমুল কালামের ঐ সকল গোষ্ঠীর খণ্ডন করার উদ্দেশ্য পোষণ করেছেন যারা আকিদার ক্ষেত্রে কুরআন ও সুন্নাহর নসসমূহ প্রত্যাখ্যান করে থাকে। তাদের মধ্যে কেউ কেউ নসগুলো প্রত্যাখ্যান করার সময় স্পষ্টভাবে বলে যে, এগুলোর অনেক কিছুই এমন অর্থ বহন করে যা তাদের মতে বাতিল, এবং তাদের দাবি অনুযায়ী শরিয়ত জনসাধারণের বোধশক্তির সাথে তাল মেলাতে গিয়ে এগুলো এনেছে। তাদের মধ্যে কেউ কেউ দাবি করে যে, আকিদার ক্ষেত্রে এগুলো মোটেই প্রমাণ হিসেবে যোগ্য নয়। আবার তাদের কেউ কেউ স্পষ্টভাবে তা না বললেও, অন্যান্য বিষয়কে এগুলোর ওপর প্রাধান্য দিয়েছে এবং এগুলোর ব্যাখ্যায় এমন জবরদস্তি করেছে যা ভাষাগত নিয়মের বহির্ভূত। ফলে তাদের বক্তব্য থেকে এটিই প্রতীয়মান হয় যে, তারা ঐ সকল নসকে মিথ্যারূপে গণ্য করছে।
তিনি আল্লাহ ও নবীগণকে মিথ্যা থেকে পবিত্র রাখা সম্পর্কে বিস্তারিত আলোচনা করেছেন এবং 'তিনটি মিথ্যা' সংক্রান্ত হাদিস ও এ বিষয়ের সাথে সংশ্লিষ্ট অন্যান্য বিষয়ের তাৎপর্য ব্যাখ্যা করেছেন। এই লেখকের 'ইরশাদুল আমিহ ইলাল কাযিবি ওয়া আহকামিহি' শিরোনামে একটি স্বতন্ত্র পুস্তিকা রয়েছে, যেখানে তিনি মিথ্যার প্রকৃত রূপ, মিথ্যা ও রূপক (মাজায)-এর মধ্যে পার্থক্য, 'মাআরিয' (ইঙ্গিতময় কথা) কী, এবং কোন কোন ক্ষেত্রে অবকাশ রয়েছে ইত্যাদি আলোচনা করেছেন। এটি এই বিশ্বকোষের উসুল বিষয়ক পুস্তিকাসমূহের অন্তর্ভুক্ত হয়ে মুদ্রিত হয়েছে। শায়খ এই আলোচনার শেষে সেদিকে ইঙ্গিত করেছেন।
তৃতীয় পরিচ্ছেদটি আকিদার ক্ষেত্রে শরিয়তের নসসমূহের মাধ্যমে দলীল প্রদানের বিষয়ে, যা বইটির দীর্ঘতম অধ্যায়। সেখানে তিনি উল্লেখ করেছেন যে, বুদ্ধিবৃত্তিক চিন্তার গভীরে অতিমাত্রায় নিমগ্ন হওয়া শরিয়তের নস দ্বারা দলীল প্রদান বর্জন করা, সেগুলো প্রত্যাখ্যান করা অথবা অপব্যাখ্যার দিকে পরিচালিত করেছে। তাদের কেউ কেউ স্পষ্টভাবে বলেছে যে, খবরে ওয়াহিদ যখন
(খণ্ড: ١٠)
আত্তানাকীলু বিমা ফী তানীবিিল কাওসারী মিনাল আবাতীল - যিমনু আসারুল মুআল্লিমী
(পৃষ্ঠা: ٢٣)
خالفت المعقول يجب تأويلها أو ردُّها، ثم نشأ المتوغِّلون في الفلسفة كالفارابي وابن سينا، وكان مما خالفوه من العقائد الإسلامية أمر المعاد، فاحتج عليهم المتكلمون بالنصوص، فغافصهم ابن سينا مغافصة شديدة. وقد نقل المؤلف بعض عباراته، ولخص المقصود منها في عشرة مقاصد، ثم عقد مجلسًا للنظر في هذه المقاصد، حضره متكلم وسلفي وناقد، وأجرى الحوار على لسانهم في هذه الموضوعات، ليبين الحق والصواب فيها ويرد على ابن سينا وأتباعه في إنكار الاحتجاج بالنصوص الشرعية. وتطرق في أثنائها إلى أبحاث وتحقيقات، مثل الكلام على معنى آية {لَيْسَ كَمِثْلِهِ شَيْءٌ} [الشورى: 11] ، وبيان معنى اسم الله تعالى الواحد والرد على تفسير ابن سينا له، والرد عليه في زعمه أن ذات الله ليست منفصلة عن العالم ولا متصلة به، وبيان أن حاصل كلامه نسبة الكذب إلى الله والرسول، والموازنة بين كذبات إبراهيم عليه السلام وبين النصوص التي زعم بطلان معانيها من وجوه. وختم المؤلف كلامه في الرد على ابن سينا بمبحث في حشر الأجساد هل هو بجميع أجزائها المتفرقة أم بإنشاء أجساد أخرى؟
بعد الرد على ابن سينا انتقل إلى كلام الفخر الرازي في الاحتجاج بالنصوص الشرعية، ولخصه في ثلاثة مطالب:
الأول: ما يتوقف ثبوت الشرع على ثبوته (كوجود الله وعلمه بالمعلومات كلها، وصدق الرسول) ، فهذا يستحيل أن يعلم بإخبار الشارع.
الثاني: ثبوت أو انتفاء ما يقطع العقل بإمكان ثبوته وإمكان انتفائه، إذا لم يجده الإنسان من نفسه ولا أدركه بحسه، استحال العلم به إلا من جهة الشرع.
যা যুক্তিবিরোধী তা অবশ্যই ব্যাখ্যা করতে হবে অথবা প্রত্যাখ্যান করতে হবে; অতঃপর আল-ফারাবি ও ইবনে সিনার মতো দর্শনে নিমগ্ন এক দলের আবির্ভাব ঘটে। তারা যে সকল ইসলামী আকিদার বিরোধিতা করেছিলেন তার মধ্যে অন্যতম ছিল পরকাল বা পুনরুত্থানের বিষয়টি। এর বিপরীতে মুতাকাল্লিমগণ (ধর্মতাত্ত্বিকগণ) দালিলিক প্রমাণ পেশ করলে ইবনে সিনা তাদের অত্যন্ত কঠোরভাবে আক্রমণ করেন। লেখক তাঁর কিছু বক্তব্য উদ্ধৃত করেছেন এবং সেগুলোর উদ্দেশ্য দশটি পরিচ্ছেদে সারসংক্ষেপ করেছেন। অতঃপর তিনি এই বিষয়গুলো পর্যালোচনার জন্য একটি আলোচনার আয়োজন করেন, যেখানে একজন মুতাকাল্লিম, একজন সালাফি এবং একজন সমালোচক উপস্থিত ছিলেন। তিনি এই বিষয়গুলোতে তাদের ভাষায় সংলাপ পরিচালনা করেছেন যাতে সত্য ও সঠিক পথ উন্মোচিত হয় এবং শরয়ী দলীল দ্বারা দলিল প্রদানের অস্বীকৃতির ক্ষেত্রে ইবনে সিনা ও তাঁর অনুসারীদের যথাযথ উত্তর দেওয়া যায়। আলোচনার মাঝে তিনি কিছু উচ্চতর গবেষণা ও বিশ্লেষণ উল্লেখ করেছেন, যেমন: 'তাঁর সদৃশ কিছুই নেই' [আশ-শূরা: ১১] আয়াতের ব্যাখ্যা, মহান আল্লাহর 'আল-ওয়াহিদ' নামের অর্থ স্পষ্ট করা এবং ইবনে সিনা প্রদত্ত এ নামের ব্যাখ্যার খণ্ডন; এছাড়া আল্লাহর সত্তা জগত থেকে বিচ্ছিন্ন বা সংযুক্ত নয়—ইবনে সিনার এই দাবির প্রতিবাদ এবং এটি স্পষ্ট করা যে, তাঁর বক্তব্যের সারকথা হলো আল্লাহ ও রাসূলের প্রতি মিথ্যারোপ করা। সেই সাথে ইব্রাহিম (আলাইহিস সালাম)-এর কৌশলগত উক্তি এবং ঐ সকল দলীলের মধ্যে সামঞ্জস্য বিধান করা যেগুলোর অর্থ ইবনে সিনা বিভিন্ন দিক থেকে অসার দাবি করেছিলেন। লেখক ইবনে সিনার বক্তব্যের রদ সমাপ্ত করেছেন শারীরিক পুনরুত্থান সংক্রান্ত আলোচনার মাধ্যমে—তা কি দেহের সকল বিচ্ছিন্ন অংশ একত্রিত করার মাধ্যমে হবে নাকি নতুন দেহ সৃষ্টির মাধ্যমে হবে?
ইবনে সিনার বক্তব্যের উত্তর দেওয়ার পর তিনি শরয়ী দলীল দ্বারা প্রমাণ পেশ করার বিষয়ে ফখর আল-রাযীর বক্তব্যের দিকে অগ্রসর হন এবং তা তিনটি দাবিতে সারসংক্ষেপ করেন:
প্রথম: যে বিষয়গুলোর প্রমাণের ওপর শরীয়তের সত্যতা নির্ভরশীল (যেমন আল্লাহর অস্তিত্ব, তাঁর সর্বব্যাপী জ্ঞান এবং রাসূলের সত্যবাদিতা); এ সকল বিষয় শরীয়ত প্রবর্তকের সংবাদের মাধ্যমে জানা অসম্ভব।
দ্বিতীয়: যে সকল বিষয়ের অস্তিত্ব অথবা অনস্তিত্ব সম্ভব হওয়ার ব্যাপারে বুদ্ধি নিশ্চিত সিদ্ধান্ত দেয়, কিন্তু মানুষ তা স্বয়ংক্রিয়ভাবে বা ইন্দ্রিয়ের মাধ্যমে উপলব্ধি করতে পারে না, শরীয়তের দিকনির্দেশনা ব্যতিরেকে তা জানা অসম্ভব।
(খণ্ড: ١٠)
আত্তানাকীলু বিমা ফী তানীবিিল কাওসারী মিনাল আবাতীল - যিমনু আসারুল মুআল্লিমী
(পৃষ্ঠা: ٢٤)
الثالث: وجوب الواجبات وإمكان الممكنات واستحالة المستحيلات يُعلَم من طريق العقل، فأما العلم به بإخبار الشارع فمشكل، لأن خبر الشارع في هذا المطلب إن وافقه عليه العقل فالاعتماد على العقل، وخبر الشارع فضل، وإن خالفه العقل وجب تقديم العقل وتأويل الخبر، وإن لم يعلم موافقة العقل الخبر ولا مخالفته له كان محتملًا أن يكون العقل مخالفًا له فيجب تأويله، ومع هذا الاحتمال لا يفيد العلم.
ناقش المؤلف رأي الرازي، ورد عليه بتفصيل في منعه الاحتجاج بالنصوص في العقائد، وألزمه بإلزامات لا مفرَّ منها، وذكر أن كثيرًا من النصوص التي ينكر المتعمقون ظواهرها كانت عقول المخاطبين الأولين تقطع بوجوب ما دل عليه بعضها وجواز ما دل عليه الباقي.
ثم ذكر المؤلف كلام العضد وغيره في هذه المسألة، ورد عليه وعلى الشريف الجرجاني والسعد التفتازاني في قولهم: إن الأدلة النقلية لا تفيد اليقين، وتَوصَّل في النهاية إلى أن من تدبر القرآن والسنة وآثار السلف لم يَخْفَ عليه الحق في كثير منها، وأنه لا يمنعه من القطع والاستيقان ــ إن منعه ــ إلا الشبهات المحدثة المبنية على التعمق، فأما من يقوى إيمانه ولا يبالي بتلك الشبهات، فإنه يقطع بدلالة كثير من تلك النصوص ويؤمن بها، وأما من لا إيمان له وهو مفتون بالشبهات فإنه لا يقطع بتلك الدلالة ويكفر بها.
وفي آخر الباب الثالث بحث نفيس عن المحكم والمتشابه، تطرق إليه المؤلف لأن كثيرًا من المتكلمين يسترون تكذيبهم للنصوص بدعوى أن ما يخالفونه منها هو من المتشابه المنهي عن اتباعه. ذكر المؤلف في معنى المحكم والمتشابه قولين عن السلف:
তৃতীয়ত: আবশ্যিক বিষয়াবলির আবশ্যকতা, সম্ভাব্য বিষয়াবলির সম্ভাবনা এবং অসম্ভব বিষয়াবলির অসম্ভবতা বিবেকের মাধ্যমে জানা যায়। তবে শরীয়তপ্রণেতার সংবাদের মাধ্যমে এ সম্পর্কে জ্ঞান লাভ করা সমস্যাকুল; কারণ এই উদ্দিষ্ট বিষয়ে শরীয়তপ্রণেতার সংবাদ যদি বিবেকের অনুকূলে হয়, তবে মূলত বিবেকের ওপরই নির্ভর করা হয় এবং শরীয়তপ্রণেতার সংবাদ তখন অতিরিক্ত হিসেবে গণ্য হয়। আর যদি বিবেক এর বিরোধিতা করে, তবে বিবেককে অগ্রাধিকার প্রদান এবং সংবাদের ব্যাখ্যা (তাউয়িল) করা আবশ্যক হয়ে পড়ে। আর যদি সংবাদটি বিবেকের অনুকূল নাকি প্রতিকূল তা জানা না যায়, তবে বিবেক এর বিরোধী হওয়ার সম্ভাবনা থেকে যায়, ফলে এর ব্যাখ্যা করা আবশ্যক হয়ে পড়ে; আর এই সম্ভাবনার উপস্থিতিতে তা নিশ্চিত জ্ঞান প্রদান করে না।
লেখক আল-রাযীর মতামতের ওপর আলোচনা করেছেন এবং আকিদার ক্ষেত্রে শাস্ত্রীয় পাঠের (নস) মাধ্যমে দলিল প্রদানের বিষয়ে তাঁর নিষেধাজ্ঞার বিস্তারিত খণ্ডন করেছেন। তিনি তাঁকে এমন কিছু অকাট্য বিষয়ের সম্মুখীন করেছেন যেখান থেকে পলায়নের কোনো পথ নেই। তিনি উল্লেখ করেছেন যে, অনেক শাস্ত্রীয় পাঠ যেগুলোর বাহ্যিক অর্থ তথাকথিত গভীর দার্শনিকরা অস্বীকার করেন, সেগুলোর ক্ষেত্রে প্রথম যুগের সম্বোধিত ব্যক্তিদের বিবেক এর কোনোটির নির্দেশিত অর্থের আবশ্যকতা এবং বাকিগুলোর নির্দেশিত অর্থের বৈধতার বিষয়ে দৃঢ়নিশ্চয়তা পোষণ করত।
অতঃপর লেখক এই মাসআলায় আল-আদুদ ও অন্যদের বক্তব্য উল্লেখ করেছেন এবং তাঁর, শরীফ আল-জুরজানী ও আস-সাদ আত-তাফতাযানীর এই উক্তির প্রতিবাদ করেছেন যে—শ্রুতিজাত প্রমাণাদি (দালাইলে নাকলিয়া) নিশ্চিত জ্ঞান প্রদান করে না। পরিশেষে তিনি এই সিদ্ধান্তে উপনীত হয়েছেন যে, যে ব্যক্তি কুরআন, সুন্নাহ এবং পূর্বসূরিদের (সালাফ) বাণীর ওপর গভীর চিন্তা-গবেষণা করবে, তার কাছে এগুলোর অধিকাংশের সত্যতা গোপন থাকবে না। আর এই নিশ্চয়তা ও দৃঢ়বিশ্বাস লাভে তাকে যদি কোনো কিছু বাধা প্রদান করে—যদি করেই থাকে—তবে তা কেবল দার্শনিক সূক্ষ্মতার ওপর ভিত্তি করে সৃষ্ট নবউদ্ভূত সংশয়সমূহ। তবে যার ঈমান শক্তিশালী এবং এই সংশয়গুলোর পরোয়া করে না, সে এই শাস্ত্রীয় পাঠগুলোর অনেকগুলোরই নির্দেশিত অর্থের ওপর দৃঢ়নিশ্চয়তা পোষণ করে এবং সেগুলোতে বিশ্বাস স্থাপন করে। আর যার ঈমান নেই এবং সে সংশয় দ্বারা আচ্ছন্ন, সে এগুলোর নির্দেশিত অর্থের ওপর দৃঢ়নিশ্চয়তা পায় না এবং সেগুলো অস্বীকার করে।
তৃতীয় অধ্যায়ের শেষে মুহকাম (সুস্পষ্ট) ও মুতাশাবিহ (রূপক) সম্পর্কে একটি মূল্যবান গবেষণা রয়েছে। লেখক এ প্রসঙ্গে আলোকপাত করেছেন কারণ অনেক কালামশাস্ত্রবিদ শাস্ত্রীয় পাঠের (নস) প্রতি তাঁদের অস্বীকৃতিকে এই দাবির মাধ্যমে আড়াল করেন যে, তাঁরা যে বিষয়গুলোর বিরোধিতা করছেন তা মূলত সেই মুতাশাবিহ বিষয়ের অন্তর্ভুক্ত যা অনুসরণ করতে নিষেধ করা হয়েছে। লেখক মুহকাম ও মুতাশাবিহের সংজ্ঞায় পূর্বসূরিদের থেকে বর্ণিত দুটি অভিমত উল্লেখ করেছেন:
(খণ্ড: ١٠)
আত্তানাকীলু বিমা ফী তানীবিিল কাওসারী মিনাল আবাতীল - যিমনু আসারুল মুআল্লিমী
(পৃষ্ঠা: ٢٥)
الأول: أن المحكم كل آية بينة بنفسها، والمتشابهات ما تحتاج إلى أن يبينها غيرها، كالمنسوخ والمجمل.
الثاني: أن المحكمات كل آية يتهيأ للسامع (مع معرفة معناها الذي سيقت لبيانه) أن يعرف ما تتوق إليه نفسه مما يتعلق بما اشتملت عليه، والمتشابهات ما عدا ذلك.
شرح المؤلف ذلك بالأمثلة، وذكر أن القولين يمكن تطبيقهما على سياق الآية، وبين وجه تسمية بعض الآيات متشابهات، وتكلم على جواز الوقوف على قوله تعالى: {إِلَّا اللَّهُ} [آل عمران: 7] وتركه، وتحدث عن معنى التأويل مع ذكر أمثلة من القرآن، ورد على المتكلمين في تعلُّقهم بهذه الآية.
أما الباب الرابع الأخير فهو في بيان عقيدة السلف والكلام على عدة مسائل منها. ذكر فيه أن السلف لم يكن لهم مأخذ لعقائدهم غير المأخذين السلفيين الفطرة والشرع، وأنهم كانوا يقطعون بما يفيدان فيه القطع، وأن كلمة العقل فيها تدليس، فهناك العقل الفطري الصريح الذي لا التباس فيه، وهو الذي كان حاصلًا للأمم التي بعث الله فيها رسله وأنزل فيها كتبه، وهو الذي كان حاصلًا للصحابة ومن بعدهم من السلف، فهذا هو الذي يسوغ أن يقال: إن ما أثبته قطعًا فهو حق. وهناك نظر متعمَّق فيه، مبني على تدقيق وتخرُّص ومقاييس يلتبس فيها الأمر في الإلهيات ويشتبه، ويكثر الخطأ واللغط، فهذا هو الذي اعتمده المتكلمون مع اعترافهم بوهنه ورجوع بعض أكابرهم عنه.
ثم درس المؤلف بعض المسائل من عقيدة السلف التي انتقدها الكوثري،
প্রথমত: মুহকাম (সুস্পষ্ট) হলো সেই প্রতিটি আয়াত যা স্বয়ংসম্পূর্ণভাবে সুস্পষ্ট, আর মুতাশাবিহাত (অস্পষ্ট বা রূপক) হলো সেগুলো যা ব্যাখ্যা করার জন্য অন্য কিছুর প্রয়োজন হয়, যেমন মানসুখ (রহিত) এবং মুজমাল (সংক্ষিপ্ত)।
দ্বিতীয়ত: মুহকামাত হলো সেই সকল আয়াত যেখানে শ্রোতার জন্য (সেটির উদ্দেশ্যগত অর্থ জানার পাশাপাশি) আয়াতের অন্তর্নিহিত বিষয়বস্তু সম্পর্কে তার মনের আকাঙ্ক্ষা অনুযায়ী জ্ঞান লাভ করা সম্ভব হয়, আর মুতাশাবিহাত হলো এর ব্যতিক্রম।
লেখক উদাহরণসহ এ বিষয়টি ব্যাখ্যা করেছেন এবং উল্লেখ করেছেন যে, উভয় মতকে আয়াতের প্রেক্ষাপটে প্রয়োগ করা সম্ভব। তিনি কিছু আয়াতকে ‘মুতাশাবিহাত’ নামকরণের কারণ স্পষ্ট করেছেন এবং মহান আল্লাহর বাণী: {আল্লাহ ব্যতীত} [আল-ইমরান: ৭] এর ওপর থামা (ওয়াকফ করা) বা না থামার বৈধতা নিয়ে আলোচনা করেছেন। এ ছাড়াও তিনি কুরআনের উদাহরণসহ ‘তাবিল’ (ব্যাখ্যা)-এর অর্থ নিয়ে আলোচনা করেছেন এবং এই আয়াতের ওপর ভিত্তি করে ইলমুল কালাম শাস্ত্রবিদদের যুক্তির খণ্ডন করেছেন।
আর চতুর্থ তথা সর্বশেষ অধ্যায়টি হলো সালাফদের আকিদা বর্ণনা এবং এ সংক্রান্ত কয়েকটি মাসআলার আলোচনা প্রসঙ্গে। এতে তিনি উল্লেখ করেছেন যে, সালাফদের আকিদার উৎস ছিল কেবল দুটি সালাফি উৎস—ফিতরাত (সহজাত প্রকৃতি) এবং শরয় (শরীয়ত)। তারা সেই সকল বিষয়ে অটল থাকতেন যেগুলোতে এই দুই উৎস সুনিশ্চিত সিদ্ধান্ত প্রদান করে। তিনি আরও উল্লেখ করেন যে, ‘আকল’ (বিবেক) শব্দটির ব্যবহারে চাতুরতা রয়েছে; কারণ একটি হলো স্পষ্ট ও সহজাত বিবেক যাতে কোনো সংশয় নেই—যা সেই সকল জাতির মধ্যে বিদ্যমান ছিল যাদের কাছে আল্লাহ তাঁর রাসূল পাঠিয়েছেন ও কিতাব নাজিল করেছেন, এবং যা সাহাবী ও পরবর্তী সালাফদের মধ্যে ছিল। এটিই সেই বিবেক যার সম্পর্কে বলা সংগত যে, এটি যা নিশ্চিতভাবে প্রমাণ করে তা সত্য। অন্যদিকে রয়েছে এক গভীর তাত্ত্বিক দৃষ্টিভঙ্গি, যা সূক্ষ্ম বিশ্লেষণ, অনুমান এবং এমন কিছু মানদণ্ডের ওপর ভিত্তি করে দাঁড়িয়ে যেখানে ঐশ্বরিক বিষয়াদিতে বিভ্রান্তি ও অস্পষ্টতা সৃষ্টি হয় এবং ভুল ও অসার তর্কের অবকাশ থাকে। ইলমুল কালাম শাস্ত্রবিদরা এটিকেই অবলম্বন করেছেন, যদিও তারা এর দুর্বলতা স্বীকার করেছেন এবং তাদের বড় বড় পণ্ডিতদের কেউ কেউ এ থেকে ফিরে এসেছেন।
এরপর লেখক সালাফদের আকিদার এমন কিছু মাসআলা নিয়ে আলোচনা করেছেন যেগুলোর সমালোচনা কাওসারি করেছিলেন।
(খণ্ড: ١٠)
আত্তানাকীলু বিমা ফী তানীবিিল কাওসারী মিনাল আবাতীল - যিমনু আসারুল মুআল্লিমী
(পৃষ্ঠা: ٢٦)
وهي: الأينية أو الفوقية (أو كما يقولون: الجهة) ، والقرآن كلام الله غير مخلوق، والإيمان قول وعمل يزيد وينقص، وقول: أنا مؤمن إن شاء الله. وبين ما كان عليه السلف، ورد على الكوثري بنصوص الكتاب والسنة وأقوال السلف.
وفي آخر الكتاب خاتمة فيما جاء في ذم التفرق، وأنه لا تزال طائفة قائمة بالحق، وما يجب على أهل العلم في هذا العصر. نصح فيها أهل العلم أن يبدأ كل منهم بنفسه فيسعى في تثبيتها على الصراط المستقيم، وإفرادها عن اتباع الهوى، ثم يبحث عن إخوانه، ويتعاون معهم على الرجوع بالمسلمين إلى سبيل الله، ونبذ الأهواء التي فرقوا لأجلها دينهم وكانوا شِيَعًا. وختم المؤلف الكتاب بذكر البرنامج العملي لذلك.
*
قيمة الكتاب العلميةتتجلى أهمية هذا الكتاب من بين الكتب التي ألفت في العصر الحديث أنه جمع بين دفتيه بيان منهج أهل الحديث في تقرير العقيدة، وبحث المسائل الفقهية، وتحرير قواعد الجرح والتعديل، ورد المطاعن عن أئمة السنة وثقات رواتها.
وهو فريد في هذا الباب، لا نجد له نظيرًا في منهجه وأسلوبه، سواء في علوم الحديث والجرح والتعديل وتراجم الرجال، أو تحقيق الكلام في المسائل الفقهية، أو تقرير صحة عقيدة أهل الحديث بالحجج الواضحة إجمالًا ثم دراسة عدة مسائل منها. فالكتاب مرجع مهم للباحثين في علوم مختلفة، يجدون نظرات دقيقة، وتنبيهات على نكت وفوائد، واستنباطات لم يُسبق إليها المؤلف.
সেগুলো হলো: ‘আইনিয়্যাহ’ (কোথায় থাকা) বা ‘ফাওকিয়্যাহ’ (উচ্চতা) [অথবা তারা যেভাবে বলে: দিক বা স্থান], কুরআন আল্লাহর কালাম ও তা সৃষ্ট নয়, ঈমান হলো কথা ও কাজের সমন্বয় যা বৃদ্ধি পায় ও হ্রাস পায়, এবং ‘ইনশাআল্লাহ আমি একজন মুমিন’—একথা বলা। তিনি এতে সালাফগণ যে আদর্শের ওপর প্রতিষ্ঠিত ছিলেন তা স্পষ্ট করেছেন এবং কুরআন, সুন্নাহ ও সালাফদের বাণীর আলোকে আল-কাওসারীর মতবাদের সমুচিত জবাব দিয়েছেন।
বইটির শেষে একটি উপসংহার রয়েছে যেখানে অনৈক্যের নিন্দা, সত্যের ওপর একটি দলের সর্বদা অবিচল থাকা এবং বর্তমান যুগে আলিম সমাজের ওপর অর্পিত দায়িত্ব সম্পর্কে আলোচনা করা হয়েছে। এতে তিনি বিজ্ঞ আলিমদের এই উপদেশ দিয়েছেন যে, প্রত্যেকে যেন নিজের সংশোধন দিয়ে শুরু করেন এবং নিজেকে সিরাতুল মুস্তাকিমের ওপর সুপ্রতিষ্ঠিত করতে ও কুপ্রবৃত্তির অনুসরণ থেকে মুক্ত রাখতে সচেষ্ট হন। অতঃপর নিজের দ্বীনি ভাইদের অনুসন্ধান করেন এবং তাদের সাথে সহযোগিতার ভিত্তিতে মুসলিমদেরকে পুনরায় আল্লাহর পথে ফিরিয়ে আনতে এবং সেই সব ভ্রান্ত প্রবৃত্তি বর্জন করতে সচেষ্ট হন যেগুলোর কারণে তারা তাদের দ্বীনকে খণ্ডবিখণ্ড করেছে এবং বিভিন্ন দলে বিভক্ত হয়েছে। লেখক এই বিষয়ের একটি প্রায়োগিক কর্মপরিকল্পনা উল্লেখ করার মাধ্যমে গ্রন্থটি সমাপ্ত করেছেন।
*
গ্রন্থটির তাত্ত্বিক গুরুত্বআধুনিক যুগে রচিত গ্রন্থাবলির মধ্যে এই বইটির বিশেষত্ব ও গুরুত্ব এখানে ফুটে ওঠে যে, এটি একই সাথে আকিদা নির্ধারণে আহলে হাদিসগণের মানহাজ বা কর্মপদ্ধতি বর্ণনা, ফিকহী মাসআলাসমূহের পর্যালোচনা, জারাহ ও তা’দীলের (বর্ণনাকারী যাচাই পদ্ধতি) মূলনীতিসমূহের বিশ্লেষণ এবং সুন্নাহর ইমাম ও নির্ভরযোগ্য বর্ণনাকারীদের বিরুদ্ধে আনীত অভিযোগের খণ্ডনকে একত্রিত করেছে।
এই বিষয়টি অত্যন্ত অনন্য, যার মানহাজ ও শৈলীর কোনো দৃষ্টান্ত আমাদের নজরে পড়ে না; চাই তা হাদিস শাস্ত্র, জারাহ ও তা’দীল এবং রিজাল শাস্ত্রের (বর্ণনাকারীদের জীবনী) ক্ষেত্রে হোক, কিংবা ফিকহী মাসআলাসমূহের সূক্ষ্ম বিশ্লেষণ, অথবা অকাট্য দলীল-প্রমাণের মাধ্যমে সামগ্রিকভাবে আহলে হাদিসদের আকিদার বিশুদ্ধতা প্রমাণ ও পরবর্তীতে এর কতিপয় মাসআলা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনার ক্ষেত্রে হোক। সুতরাং গ্রন্থটি বিভিন্ন শাস্ত্রের গবেষকদের জন্য একটি অপরিহার্য আকর গ্রন্থ, যেখানে তারা সূক্ষ্ম তাত্ত্বিক দৃষ্টি, বিভিন্ন নুকতা ও ইলমী ফায়দা এবং এমন সব গবেষণালব্ধ সিদ্ধান্ত খুঁজে পাবেন যা ইতিপূর্বে কেউ উপস্থাপন করেনি।
(খণ্ড: ١٠)
আত্তানাকীলু বিমা ফী তানীবিিল কাওসারী মিনাল আবাতীল - যিমনু আসারুল মুআল্লিমী
(পৃষ্ঠা: ٢٧)
وتحتوي الفصول الخمسة التي تعبتر تمهيدًا للكتاب على بيان أن السنة مدارها على النقل، ومدار النقل على أولئك الثقات الذين طعن فيهم الكوثري، وأن الغلوّ في الأفاضل من أوسع أودية الباطل، وأنه يؤدي إلى الطعن في الأئمة الآخرين وبيان حقيقة ما روي من المثالب في الإمام أبي حنيفة، وطريقة نقد الروايات في المدح والقدح، والموقف الحكيم تجاه ما أورده الخطيب من الحكايات في تاريخ بغداد، وبيان أن السنة لا يمكن الإحاطة بها، واجتهاد أصحاب الحديث في جمعها، وتشددهم في قبولها، ومنهج أهل الرأي والمتكلمين في رد الأحاديث الصحيحة التي تخالفهم وتكلفهم في تأويلها، واستنباطهم لأصول بمقابل أهل الحديث.
وقد قصد المؤلف بهذه الفصول بيان المنهج الذي يجب أن يسير عليه كل من يخوض في هذه الموضوعات، فالدفاع عن إمام أو عالم لا يتم بالغلو فيه والقدح في الأئمة الآخرين، وعلى الباحث أن يدرس الروايات وينقدها في ضوء أصول أهل الحديث، ولا يتبع قواعد أهل الرأي وأصول المتكلمين لرد الأحاديث الصحيحة أو تأويلها.
ومن الخصائص التي يتميز بها الكتاب: تحرير قواعد في علوم الحديث والجرح والتعديل بما لا يوجد مثله في عامة المؤلفات، منها: رمي الراوي بالكذب في غير الحديث النبوي، والتهمة بالكذب وأنها على وجهين، ورواية المبتدع وتفصيل القول فيها مع التحقيق، وبيان أن قدح الساخط ومدح المحب وغير ذلك في كلام العالم على وجهين، وهل يشترط تفسير الجرح؟ وذكر عشرة أمور يجب على من نظر في كتب الجرح والتعديل أن يراعيها، وإذا اجتمع جرح وتعديل فبأيهما يعمل؟ ومعنى قولهم:
বইটির ভূমিকা হিসেবে বিবেচিত পাঁচটি অধ্যায়ে স্পষ্টভাবে বর্ণিত হয়েছে যে, সুন্নাহর ভিত্তি হলো বর্ণনার (নাকল) ওপর এবং বর্ণনার ভিত্তি হলো সেই সকল নির্ভরযোগ্য ব্যক্তিবর্গের ওপর যাদেরকে কাওসারী আক্রমণ করেছেন। আরও আলোচিত হয়েছে যে, বরেণ্য ব্যক্তিদের প্রতি অতিশয়োক্তি বাতিলের এক প্রশস্ত পথ এবং এটি অন্য ইমামদের প্রতি কটাক্ষের কারণ হয়ে দাঁড়ায়। এছাড়া এতে ইমাম আবু হানিফা সম্পর্কে বর্ণিত ত্রুটি-বিচ্যুতির প্রকৃত হাকিকত, প্রশংসা ও সমালোচনামূলক বর্ণনাগুলো পর্যালোচনার পদ্ধতি এবং 'তারিখে বাগদাদ' গ্রন্থে খতিব বাগদাদির বর্ণিত কাহিনীগুলোর ক্ষেত্রে ভারসাম্যপূর্ণ অবস্থান ব্যাখ্যা করা হয়েছে। সুন্নাহ যে পূর্ণাঙ্গরূপে আয়ত্ত করা সম্ভব নয়, তা সংগ্রহে মুহাদ্দিসগণের নিরলস প্রচেষ্টা, তা গ্রহণে তাঁদের কঠোরতা এবং আহলুর রায় ও মুতাকাল্লিমদের সেই সব সহিহ হাদিস প্রত্যাখ্যানের পদ্ধতি যা তাঁদের মতের পরিপন্থী, সেই সঙ্গে তাঁদের কষ্টকল্পিত ব্যাখ্যা এবং আহলুল হাদিসের বিপরীতে তাঁদের উদ্ভাবিত মূলনীতিসমূহ এখানে আলোচিত হয়েছে।
লেখক এই অধ্যায়গুলোর মাধ্যমে সেই কর্মপদ্ধতি (মানহাজ) স্পষ্ট করতে চেয়েছেন যা এই জাতীয় বিষয়ে গবেষণাকারীদের জন্য অনুসরণীয়। কোনো ইমাম বা আলেমের পক্ষাবলম্বন তাঁকে নিয়ে অতিশয়োক্তি করা এবং অন্য ইমামদের হেয় করার মাধ্যমে সম্পন্ন হতে পারে না। বরং একজন গবেষকের উচিত আহলুল হাদিসদের মূলনীতির আলোকে বর্ণনাগুলো অধ্যয়ন ও বিশ্লেষণ করা এবং সহিহ হাদিস প্রত্যাখ্যান বা অপব্যাখ্যার উদ্দেশ্যে আহলুর রায় ও মুতাকাল্লিমদের নিয়ম-কানুন অনুসরণ না করা।
গ্রন্থটির অন্যতম বৈশিষ্ট্য হলো: এতে উলূমুল হাদিস এবং জারহ ও তাদিল শাস্ত্রের এমন কিছু সূক্ষ্ম মূলনীতি সুসংজ্ঞায়িত করা হয়েছে যা সাধারণ গ্রন্থসমূহে সচরাচর দেখা যায় না। যেমন: হাদিসে নববী ব্যতীত অন্য ক্ষেত্রে রাবিকে মিথ্যার অভিযোগে অভিযুক্ত করা, মিথ্যার অভিযোগের প্রকারভেদ, বিদআতি ব্যক্তির বর্ণনা ও এ বিষয়ে বিস্তারিত বিশ্লেষণধর্মী আলোচনা, রাগান্বিত ব্যক্তির সমালোচনা ও অনুরক্ত ব্যক্তির প্রশংসার ক্ষেত্রে আলেমদের বক্তব্যের ধরন, জারহ-এর ব্যাখ্যা প্রদান কি আবশ্যক? এছাড়া জারহ ও তাদিল বিষয়ক গ্রন্থ অধ্যয়নকারীদের জন্য পালনীয় দশটি অপরিহার্য বিষয়, এবং যদি কোনো রাবির ক্ষেত্রে জারহ ও তাদিল উভয়টি পাওয়া যায় তবে কোনটি প্রাধান্য পাবে—সেসবের আলোচনা এবং তাঁদের উক্তির মর্মার্থ:
(খণ্ড: ١٠)
আত্তানাকীলু বিমা ফী তানীবিিল কাওসারী মিনাল আবাতীল - যিমনু আসারুল মুআল্লিমী
(পৃষ্ঠা: ٢٨)
من ثبتت عدالته لم يقبل فيه الجرح، ومباحث في الاتصال والانقطاع وهذه الأبحاث يتكون منها القسم الأول من الكتاب، وفي أثناء الكتاب ضمن الأقسام الأخرى أبحاث أخرى حقق المؤلف الكلام فيها مما يدل أنه من المجددين في علوم الحديث والجرح والتعديل، ولا نجد بعد الحافظين الذهبي وابن حجر من تكلم في هذه الموضوعات مثل المعلمي الذي راعى الجانب النظري والتطبيقي، وتتبع كلام أئمة الحديث والجرح والتعديل وصنيعهم في الحكم على الأحاديث والرجال، وذكر من الأدلة والشواهد على ما قاله ورجحه ما يقنع الباحث المنصف.
ومما يدل على أهمية الكتاب أن فيه ردًّا على شبهات أهل الكلام وأهل الرأي التي يرددونها دائمًا في كتب الكلام والأصول، وقد أطال المؤلف فيه مناقشتهم، ونقل كلام أئمتهم وعقب عليه بما يبطله ويبين وهاءه. وفي القسم الرابع من الكتاب (القائد) وغيره أمثلة من هذه الردود والمناقشات للدفاع عن منهج أهل الحديث لا توجد بعد شيخ الإسلام ابن تيمية وابن القيم بمثل هذه القوة إلا عند المؤلف.
وفي الكتاب حل مشكلات في علوم الحديث والفقه والأصول والعقيدة والجرح والتعديل، وتفسير بعض الآيات القرآنية، وتحقيق الكلام على بعض الأحاديث، مما لا يوجد مثله في المصادر المعروفة، وأغلبه من بنات فكر المؤلف واجتهاده. وبعضه استدراك وتعقيب على كلام الآخرين.
ونجد في «القائد» تأصيل منهج أهل الحديث في مسائل الاعتقاد، ونقد مناهج المتكلمين والفلاسفة بسلاحهم، وبيان تناقضهم وتهافتهم، والكلام على مآخذ العقائد ومراتبها، وهي الفطرة والشرع عند السلف وأهل
যাঁদের ন্যায়পরায়ণতা (আদালাত) প্রমাণিত হয়েছে তাঁদের বিরুদ্ধে কোনো সমালোচনা (জারহ) গ্রহণযোগ্য নয়—এ সংক্রান্ত নীতিমালা এবং সনদের সংলগ্নতা ও বিচ্ছিন্নতা বিষয়ক আলোচনা নিয়ে এই গ্রন্থের প্রথম অংশটি গঠিত হয়েছে। এছাড়া গ্রন্থের অন্যান্য অংশেও লেখক এমন কিছু গবেষণালব্ধ আলোচনা অন্তর্ভুক্ত করেছেন যা প্রমাণ করে যে, তিনি ইলমে হাদিস এবং জারহ ও তা'দিল শাস্ত্রের অন্যতম একজন সংস্কারক (মুজাদ্দিদ)। হাফেজ যাহাবি এবং ইবনে হাজারের পর আমরা এমন কাউকে দেখি না যিনি আল-মুয়াল্লিমির ন্যায় এই বিষয়গুলো নিয়ে আলোচনা করেছেন। তিনি তাত্ত্বিক ও প্রায়োগিক উভয় দিক রক্ষা করেছেন এবং হাদিস ও জারহ-তা'দিলের ইমামগণের বক্তব্য ও হাদিস এবং বর্ণনাকারীদের মূল্যায়নে তাঁদের কর্মপদ্ধতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করেছেন। তিনি তাঁর বক্তব্য ও অগ্রাধিকারপ্রাপ্ত মতের সপক্ষে এমন সব দলিল ও প্রমাণ উপস্থাপন করেছেন যা একজন ন্যায়নিষ্ঠ গবেষককে সন্তুষ্ট করার জন্য যথেষ্ট।
এই গ্রন্থের গুরুত্বের আরেকটি দিক হলো—এতে ইলমুল কালাম ও আহলুর রায়ের পক্ষ থেকে কালামশাস্ত্র ও উসুলের কিতাবগুলোতে সবসময় যেসব সংশয় উত্থাপন করা হয়, সেগুলোর দাঁতভাঙা জবাব দেওয়া হয়েছে। লেখক তাদের সাথে দীর্ঘ আলোচনা করেছেন এবং তাদের ইমামদের বক্তব্য উদ্ধৃত করে তা বাতিল ও অসার প্রমাণ করেছেন। গ্রন্থের চতুর্থ খণ্ড (আল-কায়িদ) এবং অন্যান্য অংশে আহলে হাদিসদের মানহাজ বা কর্মপদ্ধতি রক্ষায় এমন বলিষ্ঠ খণ্ডন ও আলোচনা রয়েছে যা শায়খুল ইসলাম ইবনে তাইমিয়্যাহ এবং ইবনুল কাইয়্যিমের পর কেবল এই লেখকের কাছেই পাওয়া সম্ভব।
এই কিতাবে ইলমে হাদিস, ফিকহ, উসুল, আকিদা এবং জারহ ও তা'দিলের বহু জটিল সমস্যার সমাধান রয়েছে; সেই সাথে কুরআনের কিছু আয়াতের তাফসির এবং নির্দিষ্ট কিছু হাদিসের সূক্ষ্ম বিশ্লেষণ রয়েছে যা অন্য কোনো পরিচিত উৎসে পাওয়া যায় না। এর অধিকাংশ বিষয়ই লেখকের নিজস্ব উদ্ভাবনী চিন্তা ও ইজতিহাদের ফসল। আর কিছু বিষয় অন্যদের বক্তব্যের ওপর তাঁর পর্যবেক্ষণ ও সংশোধনী।
আমরা ‘আল-কায়িদ’ গ্রন্থে আকিদার বিষয়গুলোতে আহলে হাদিসদের মানহাজের মৌলিক ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন, মুতাকাল্লিম ও দার্শনিকদের নিজস্ব যুক্তি দিয়ে তাঁদের মতবাদের সমালোচনা এবং তাঁদের স্ববিরোধিতা ও অসারতার উন্মোচন দেখতে পাই। এছাড়া এতে বিশ্বাসের উৎস ও স্তরসমূহ তথা সালাফ ও সংশ্লিষ্টদের নিকট ফিতরাত (সহজাত প্রবৃত্তি) ও শরয়ি বিধানের অবস্থান নিয়ে আলোচনা করা হয়েছে।
(খণ্ড: ١٠)
আত্তানাকীলু বিমা ফী তানীবিিল কাওসারী মিনাল আবাতীল - যিমনু আসারুল মুআল্লিমী
(পৃষ্ঠা: ٢٩)
الحديث، والنظر العقلي المتعمَّق فيه والكشف التصوفي عند الخلف من المتكلمين والفلاسفة والصوفية، وموقفهم من الاحتجاج بالنصوص الشرعية في العقائد، ونقد أقطاب الفلسفة والكلام (مثل ابن سينا والغزالي والرازي والعضد وغيرهم) في هذا الباب، والاحتجاج لصحة عقيدة السلف ودراسة بعض المسائل منها.
أما معالجته للقضايا الفقهية فقد توسع في الكلام على بعضها، ودراسة الأحاديث الواردة فيها وتخريجها، ودفع إيرادات الكوثري وغيره عليها، والنظر في أدلة الحنفية والكلام عليها.
وللمؤلف نفس حديثي وفقهي، فكما أنه يتكلم على الأحاديث والآثار الواردة في الباب، ينظر في تعليل وتوجيه المسائل عند الفقهاء ويبين سبب الخلاف بينهم، مع الاحترام للجميع.
والكتاب أكبر شاهد على تعدد معارف المؤلف وسعة اطلاعه على المكتبة الإسلامية في كافة الفنون، وعدم اقتصاره على النقل منها، بل الاستدراك عليها والإضافة إليها من فكره واجتهاده، ويظهر ذلك بمقارنة ما عند المؤلف هنا بغيره من الكتب، فهو يبحث الجوانب التي لم يفصل فيها السابقون، ويناقش المؤلفين فيما ذهبوا إليه ويعقِّب عليهم.
ومن أهمِّ ما يميِّز الكتاب والمؤلف أيضًا: الأسلوب العلمي القائم على الأدلة والبراهين، دون تجريح شخص أو القدح في آخر. وقد كان المؤلف يرد على الكوثري الذي عُرِف بعدائه لأهل الحديث والطعن فيهم بشتى الطرق، ولكن المؤلف التزم المنهج العلمي في مناقشته وبيان تناقضه، ولم
হাদীস এবং এতে গভীর যুক্তিনির্ভর চিন্তা, এবং পরবর্তী প্রজন্মের মুতাকাল্লিম (ইলমুল কালামবিদ), দার্শনিক ও সুফিদের মধ্যকার আধ্যাত্মিক উন্মোচন (কাশফ) এবং আকীদার ক্ষেত্রে শরয়ী দলীল উপস্থাপনের ব্যাপারে তাদের অবস্থান; সেইসাথে এই ক্ষেত্রে দর্শনের ও ইলমুল কালামের দিকপালদের (যেমন ইবনে সিনা, গাজ্জালী, রাজী, আযুদ প্রমুখ) সমালোচনা করা এবং সালাফদের আকীদার সঠিকতা প্রমাণে দলীল উপস্থাপন ও এর কতিপয় মাসয়ালা নিয়ে পর্যালোচনা।
আর ফিকহী বিষয়সমূহ সমাধানের ক্ষেত্রে তিনি কোনো কোনো বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা করেছেন এবং সে বিষয়ে বর্ণিত হাদীসসমূহ নিয়ে গবেষণা ও সেগুলোর তাখরীজ করেছেন। এছাড়া সেগুলোর ওপর কাওসারী ও অন্যদের উত্থাপিত আপত্তিগুলো খণ্ডন করেছেন এবং হানাফী মাযহাবের দলীলসমূহ পর্যালোচনা ও বিশ্লেষণ করেছেন।
লেখকের মধ্যে হাদীস ও ফিকহ শাস্ত্রের এক অনন্য রুচি ও পাণ্ডিত্য বিদ্যমান। তিনি যেমন সংশ্লিষ্ট হাদীস ও আসারসমূহ নিয়ে আলোচনা করেন, তেমনি ফকীহদের মাসআলাগুলোর কারণ ও দিকনির্দেশনা প্রত্যক্ষ করেন এবং সবার প্রতি শ্রদ্ধা বজায় রেখে তাদের মধ্যকার মতভেদের কারণসমূহ স্পষ্ট করেন।
এই গ্রন্থটি লেখকের বহুমুখী জ্ঞান এবং ইসলামী কুতুবখানার সকল বিদ্যায় তাঁর গভীর পাণ্ডিত্যের এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত। তিনি কেবল উদ্ধৃতি প্রদানের মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকেননি, বরং স্বীয় চিন্তা ও ইজতিহাদের মাধ্যমে সেগুলোর সংশোধন ও সংযোজন করেছেন। লেখকের এই কাজটিকে অন্যান্য গ্রন্থের সাথে তুলনা করলে বিষয়টি স্পষ্ট হয়ে ওঠে; কেননা তিনি এমন সব দিক নিয়ে গবেষণা করেছেন যা পূর্বসূরিরা বিস্তারিত বর্ণনা করেননি এবং তিনি অন্যান্য লেখকদের মতাদর্শ নিয়ে আলোচনা ও সেগুলোর ওপর পর্যালোচনা পেশ করেছেন।
এই গ্রন্থ ও লেখকের অন্যতম প্রধান বৈশিষ্ট্য হলো: দলীল ও প্রমাণের ভিত্তিতে প্রতিষ্ঠিত এক বৈজ্ঞানিক ধারা, যেখানে কাউকে ব্যক্তিগতভাবে আক্রমণ বা হেয়প্রতিপন্ন করা হয়নি। লেখক কাওসারীর জবাব দিয়েছেন, যিনি আহলে হাদীসদের প্রতি শত্রুতা পোষণ এবং নানাভাবে তাদের ওপর আক্রমণ করার জন্য পরিচিত ছিলেন। তবে লেখক তাঁর সাথে আলোচনায় বৈজ্ঞানিক পদ্ধতি অনুসরণ করেছেন এবং তাঁর স্ববিরোধিতাগুলো উন্মোচন করেছেন, তিনি কখনও...
(খণ্ড: ١٠)
আত্তানাকীলু বিমা ফী তানীবিিল কাওসারী মিনাল আবাতীল - যিমনু আসারুল মুআল্লিমী
(পৃষ্ঠা: ٣٠)
يقدح في شخصيته، فاحتار الكوثري في «الترحيب» كيف يرد على المعلمي، الذي هدم كل ما بناه في «التأنيب» بإظهار تناقضه وبيان تدليسه وإيهام القراء خلاف الحق والصواب، دون أن يمسَّ ذاته وشخصه.
ومما يتصل بالأمر السابق الإنصاف في البحث، والأمانة العلمية، ونسبة كل قول إلى قائله، وعدم تقويله ما لم يقله، ودون تحوير الكلام وتحريف معناه (كما هو صنيع الكوثري). كان غرض المؤلف دائمًا أن يصل إلى الحق، ويبين ما في كلام الخصم من الخطأ والصواب مع ذكر الأدلة والقرائن على ذلك، وقد يعذره إذا خفي عليه الأمر. والقسم الثاني الخاص بالتراجم شاهد لما ذكرناه، ومن الخير للباحثين في الجرح والتعديل أن يضمُّوا كلام المؤلف على هؤلاء الرجال (الذين عددهم 273 شخصًا) إلى مصادر ترجمتهم، لتتم الفائدة المرجوة، ولا يغتروا ببعض الأقوال فيهم، ويفهموها على حقيقتها.
هذه بعض الجوانب المضيئة للكتاب، تبين أهميته ومكانته بين الكتب التي ألفت في بابه، ويكفي أن المؤلف قَصَد من كتابه هذا بما فيه من تحقيق وتحرير: أن يعين على التبحّر في العلم، كما نص عليه في «الطليعة» وحسبك بهذه الكلمة من مثل المعلمي رحمه الله.
*
الكتب التي لها علاقة بالتنكيل1 - «تأنيب الخطيب على ما ساقه في ترجمة أبي حنيفة من الأكاذيب»
ألَّف الشيخ محمد زاهد الكوثري (ت 1371 هـ) كتابًا عنونه بـ «تأنيب الخطيب على ما ساقه في ترجمة أبي حنيفة من الأكاذيب» انتقد فيه ما ساقه
এটি তাঁর ব্যক্তিত্বকে ক্ষুণ্ণ করে, তাই কাওসারী ‘আত-তারহীব’ গ্রন্থে বুঝতে পারছিলেন না কীভাবে মুয়াল্লিমীর জবাব দেবেন, যিনি ‘আত-তানিবে’ তাঁর (কাওসারীর) নির্মিত ভিত্তিগুলো ধুলিসাৎ করে দিয়েছিলেন। মুয়াল্লিমী তাঁর স্ববিরোধিতা প্রকাশ করে, তাঁর প্রতারণা উন্মোচন করে এবং পাঠকদের সামনে সত্য ও সঠিকের বিপরীতে বিভ্রান্তিকর বিষয়গুলো তুলে ধরে তাঁর সকল যুক্তি খণ্ডন করেছেন, অথচ তাঁর ব্যক্তিগত সত্তাকে স্পর্শ করেননি।
পূর্বোক্ত প্রসঙ্গের সাথে সংশ্লিষ্ট বিষয়গুলো হলো গবেষণায় ন্যায়পরায়ণতা, ইলমি আমানতদারি, প্রতিটি বক্তব্যকে তার প্রকৃত বক্তার দিকে সোপর্দ করা, বক্তা যা বলেননি তা তাঁর ওপর আরোপ না করা এবং কথার মোড় পরিবর্তন বা অর্থ বিকৃতি না করা (যেমনটি কাওসারী করেছেন)। লেখকের উদ্দেশ্য সর্বদা সত্যে উপনীত হওয়া এবং প্রতিপক্ষের বক্তব্যের ভুল ও সঠিক দিকগুলো প্রমাণ ও আনুষঙ্গিক নিদর্শনসহ স্পষ্ট করা; এমনকি ক্ষেত্রবিশেষে বিষয়টি প্রতিপক্ষের কাছে অস্পষ্ট থাকলে তিনি তাঁকে ক্ষমার দৃষ্টিতেও দেখেছেন। জীবনী সংক্রান্ত দ্বিতীয় অংশটি আমাদের আলোচনার সপক্ষে একটি প্রমাণ। ‘জারহ ও তা’দীল’ (রাবীদের দোষগুণ বিচার) বিষয়ের গবেষকদের জন্য এটি কল্যাণকর হবে যদি তাঁরা এই ব্যক্তিদের (যাঁদের সংখ্যা ২৭৩ জন) ব্যাপারে লেখকের মন্তব্যসমূহ তাঁদের জীবনীর মূল উৎসগুলোর সাথে যুক্ত করেন; যাতে কাঙ্ক্ষিত সুফল অর্জিত হয় এবং তাঁরা তাঁদের সম্পর্কে প্রচলিত কিছু উক্তিতে বিভ্রান্ত না হয়ে সেগুলোর প্রকৃত হাকীকত উপলব্ধি করতে পারেন।
এগুলো এই গ্রন্থের কিছু উজ্জ্বল দিক, যা এই শাস্ত্রের গ্রন্থরাজির মাঝে এর গুরুত্ব ও মর্যাদা ফুটিয়ে তোলে। এতটুকু বলাই যথেষ্ট যে, লেখক এই কিতাবের তাহকীক ও সম্পাদনার মাধ্যমে ইলমের গভীরতা অর্জনে সহায়তা করার সংকল্প করেছিলেন, যেমনটি তিনি ‘আত-তালিআহ’ গ্রন্থে উল্লেখ করেছেন। মুয়াল্লিমী (রাহিমাহুল্লাহ)-এর মতো ব্যক্তিত্বের এই কথাটিই আপনার জন্য যথেষ্ট।
*
‘আত-তানাকীল’ গ্রন্থের সাথে সংশ্লিষ্ট বইসমূহ১ - ‘তানিবে খাতীব আলা মা সাকাহু ফী তারজামতি আবী হানীফা মিনাল আকাযীব’
শায়খ মুহাম্মদ যাহেদ আল-কাওসারী (মৃত্যু: ১৩৭১ হিজরী) ‘তানিবে খাতীব আলা মা সাকাহু ফী তারজামতি আবী হানীফা মিনাল আকাযীব’ শিরোনামে একটি গ্রন্থ রচনা করেন, যেখানে তিনি ইমাম আবু হানিফার জীবনীতে বর্ণিত বিষয়গুলোর সমালোচনা করেন...
(খণ্ড: ١٠)
আত্তানাকীলু বিমা ফী তানীবিিল কাওসারী মিনাল আবাতীল - যিমনু আসারুল মুআল্লিমী
(পৃষ্ঠা: ٣١)
الحافظ الخطيب البغدادي (ت 463 هـ) في ترجمة أبي حنيفة من كتابه «تاريخ بغداد» من المثالب عن السالفين. وطبع كتابه في مصر عام 1360 هـ. في 189 صفحة، ثم طبع طبعات أخرى فيها تصحيحات وتعليقات للكوثري كان علّقها على نسخته، وتعليقات لتلميذه أحمد خيري.
فلما اطلع عليه المؤلف بطلب من أحد الأفاضل ــ بعد أن اعتذر أول مرة من عدم النظر فيه ــ رأى أنه بحاجة إلى جوابٍ مفصّل عما وقع فيه الكوثري من الأخطاء العلمية والطعن في أئمة السنة ورواتها، فألف كتابًا ــ وهو في الهند ــ سماه «التنكيل بما في تأنيب الكوثري من الأباطيل» وقسمه إلى أربعة أقسام: قسم القواعد، وقسم الرواة، وقسم الفقهيّات، وقسم العقائد.
2 - «طليعة التنكيل بما في تأنيب الكوثري من الأباطيل»
ولما كان كتاب «التنكيل» على وشك التمام رأى المؤلف أن يقتضب منه نموذجًا يذكر فيه أهم ما وقع فيه الكوثري من الأخطاء، وسماه «طليعة التنكيل بما في تأنيب الكوثري من الأباطيل». طُبع لأول مرة بمصر سنة 1368 هـ في نحو 100 ص من القطع المتوسط. بيّن فيه مغالطات الكوثري فيما يتعلّق برواة الحديث خاصةً، وجعلها أنواعًا ثمانية، ذكرناها بالتفصيل عند التعريف بموضوعات الكتاب ص 13 - 14.
وقد طبع الكتاب والمؤلف في الهند فلم يطلع على بروفاته الأخيرة، فوقعت فيه جملة من الأخطاء المطبعية، وتصرف وزاد المعلِّق عليه الشيخُ محمد عبد الرزاق حمزة بعض العبارات القاسية نكاية بالكوثري، فلم يرتضها المؤلف، واستغلّها الكوثري في نقده الآتي ذكره.
হাফিজ আল-খাতিব আল-বাগদাদী (মৃত্যু ৪৬৩ হিজরি) তাঁর ‘তারিখ বাগদাদ’ গ্রন্থে ইমাম আবু হানিফার জীবনী আলোচনায় পূর্বসূরিদের সমালোচনা সংক্রান্ত বিষয়সমূহ অন্তর্ভুক্ত করেছেন। তাঁর গ্রন্থটি ১৩৬০ হিজরিতে মিশরে ১৮৯ পৃষ্ঠায় মুদ্রিত হয়। পরবর্তীতে এর আরও কিছু সংস্করণ প্রকাশিত হয়, যাতে আল-কাওসারীর নিজস্ব কপিতে করা সংশোধনী ও টীকা এবং তাঁর ছাত্র আহমদ খাইরির টীকা অন্তর্ভুক্ত ছিল।
জনৈক মহৎ ব্যক্তির অনুরোধে লেখক যখন এটি পর্যালোচনা করলেন—যদিও প্রথমবার তিনি এটি দেখার ব্যাপারে অপারগতা প্রকাশ করেছিলেন—তখন তিনি দেখলেন যে, আল-কাওসারী যে সকল ইলমি ভুল করেছেন এবং সুন্নাহর ইমাম ও বর্ণনাকারীদের প্রতি যে অপবাদ আরোপ করেছেন, তার একটি বিস্তারিত জবাব দেওয়া প্রয়োজন। ফলে তিনি—ভারতে অবস্থানকালে—একটি গ্রন্থ রচনা করেন যার নাম দেন ‘আত-তানকিল বিমা ফি তানিবে আল-কাওসারি মিনাল আবাতির’। তিনি গ্রন্থটিকে চারটি ভাগে বিভক্ত করেন: মূলনীতি অধ্যায়, বর্ণনাকারী অধ্যায়, ফিকহি মাসআলাহ অধ্যায় এবং আকিদাহ অধ্যায়।
২ - ‘তলিআতু আত-তানকিল বিমা ফি তানিবে আল-কাওসারি মিনাল আবাতির’
যখন ‘আত-তানকিল’ গ্রন্থটি সমাপ্তির পথে, তখন লেখক এর থেকে একটি সংক্ষিপ্ত নমুনা প্রস্তুত করার সিদ্ধান্ত নিলেন যেখানে আল-কাওসারীর করা প্রধান ভুলগুলো উল্লেখ করা হবে। তিনি এর নাম দিলেন ‘তলিআতু আত-তানকিল বিমা ফি তানিবে আল-কাওসারি মিনাল আবাতির’। এটি সর্বপ্রথম ১৩৬৮ হিজরিতে মিশরে মাঝারি আকারের প্রায় ১০০ পৃষ্ঠায় মুদ্রিত হয়। এতে তিনি বিশেষ করে হাদিস বর্ণনাকারীদের বিষয়ে আল-কাওসারীর বিভ্রান্তিগুলো স্পষ্ট করেছেন এবং সেগুলোকে আটটি প্রকারে বিন্যস্ত করেছেন, যা আমরা বইয়ের বিষয়বস্তুর পরিচিতি পর্বে ১৩-১৪ পৃষ্ঠায় বিস্তারিত উল্লেখ করেছি।
বইটি মুদ্রণকালে লেখক ভারতে অবস্থান করায় তিনি এর চূড়ান্ত পাণ্ডুলিপি বা প্রুফ দেখতে পারেননি, ফলে এতে কিছু মুদ্রণজনিত ত্রুটি রয়ে যায়। এছাড়া এর টীকাকার শেখ মুহাম্মদ আব্দুর রাজ্জাক হামজাহ আল-কাওসারীর প্রতি কঠোরতা প্রদর্শনার্থে কিছু রূঢ় বাক্য সংযোজন ও পরিবর্তন করেছিলেন, যা লেখক অনুমোদন করেননি। আল-কাওসারী তাঁর পরবর্তী সমালোচনায় এই বিষয়টিকে সুযোগ হিসেবে ব্যবহার করেছিলেন।