0/0
(খণ্ড: ১) ইমারাতুল কুবুর ফিল ইসলাম - আল-মুসাওয়াদাহ - দিমনা আসারুল মুআল্লিমী (পৃষ্ঠা: -)
عمارة القبور في الإسلام - المسودة - ضمن «آثار المعلمي»   (عبد الرحمن المعلمي اليماني)

القسم: مسائل فقهية


الكتاب: عمارة القبور في الإسلام - المسودة

[آثار عبد الرحمن بن يحيى المعلمي اليماني (5)]

المؤلف: عبد الرحمن بن يحيى المُعَلِّمي اليماني (1313 - 1386 هـ)

المحقق: علي بن محمد العمران

راجعه: محمد أجمل الإصلاحي - سعود بن عبد العزيز العريفي

الناشر: دار عالم الفوائد للنشر والتوزيع

الطبعة: الأولى، 1434 هـ

قدمه للشاملة: مؤسسة «عطاءات العلم»، جزاهم الله خيرا

[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]

تاريخ النشر بالشاملة: 10 شوّال 1442

ইসলামে কবর নির্মাণ - খসড়া - «আসারুল মুয়াল্লিমি» এর অন্তর্ভুক্ত   (আবদুর রহমান আল-মুয়াল্লিমি আল-ইয়ামানি)

বিভাগ: ফিকহ শাস্ত্রীয় মাসায়েল


গ্রন্থ: ইসলামে কবর নির্মাণ - খসড়া

[আবদুর রহমান বিন ইয়াহইয়া আল-মুয়াল্লিমি আল-ইয়ামানি এর রচনাবলি (৫)]

লেখক: আবদুর রহমান বিন ইয়াহইয়া আল-মুয়াল্লিমি আল-ইয়ামানি (১৩১৩ - ১৩৮৬ হিজরি)

সম্পাদক: আলী বিন মুহাম্মদ আল-উমরান

নিরীক্ষণ করেছেন: মুহাম্মদ আজমল আল-ইসলাহি - সাউদ বিন আবদুল আজিজ আল-আরিফি

প্রকাশক: দার আলম আল-ফাওয়ায়িদ পাবলিশিং অ্যান্ড ডিস্ট্রিবিউশন

সংস্করণ: প্রথম، ১৪৩৪ হিজরি

শামেলার জন্য উপস্থাপন করেছে: «আতাআত আল-ইলম» ফাউন্ডেশন، আল্লাহ তাদের উত্তম প্রতিদান দিন

[গ্রন্থের পৃষ্ঠা নম্বর মুদ্রণ কপির অনুরূপ]

শামেলায় প্রকাশের তারিখ: ১০ শাওয়াল ১৪৪২

(খণ্ড: ৫) ইমারাতুল কুবুর ফিল ইসলাম - আল-মুসাওয়াদাহ - দিমনা আসারুল মুআল্লিমী (পৃষ্ঠা: ১)
عِمَارة القُبُور في الإسلام

(المُسوَّدة)

تأليف

الشيخ العلامة عبد الرحمن بن يحيى المعلمي اليماني

(1313 - 1386)

رحمه الله تعالى

 

تحقيق

علي بن محمد العمران
ইসলামে কবরের ওপর ইমারত নির্মাণ

(খসড়া পাণ্ডুলিপি)

রচনায়

শাইখ আল্লামা আবদুর রহমান বিন ইয়াহইয়া আল-মুয়াল্লিমি আল-ইয়ামানি

(১৩১৩ - ১৩৮৬)

আল্লাহ তাআলা তাঁর ওপর রহমত বর্ষণ করুন

 

যাচাইকরণ ও সম্পাদনা

আলি বিন মুহাম্মদ আল-উমরান
(খণ্ড: ৫) ইমারাতুল কুবুর ফিল ইসলাম - আল-মুসাওয়াদাহ - দিমনা আসারুল মুআল্লিমী (পৃষ্ঠা: ৩)
بسم الله الرحمن الرحيم

الحمد لله الذي أوضح لنا خاصّةَ سواء سبيله، وحفظ علينا كتابه وسنن رسوله.

وأشهد أن لا إله إلا الله وحده لا شريك له، وأشهد أن محمدًا عبده ورسوله، اللهم صلّ على محمد وعلى آل محمد، كما صليتَ على إبراهيم وعلى آل إبراهيم، وبارك على محمد وعلى آل محمد، كما باركت على إبراهيم وعلى آل إبراهيم، إنك حميدٌ مجيد.

أما بعد، فإني اطلعتُ على بعض الرسائل التي ألِّفت في هذه الأيام في شأن البناء على القبور(1)، وسمعتُ بما جرى في هذه المسألة من النزاع، فأردت أن أنظر في هذه المسألة نظرَ طالبٍ للحق، متحرٍّ للصواب، عملًا بقوله تعالى: {فَإِنْ تَنَازَعْتُمْ فِي شَيْءٍ فَرُدُّوهُ إِلَى اللَّهِ وَالرَّسُولِ إِنْ كُنْتُمْ تُؤْمِنُونَ بِاللَّهِ وَالْيَوْمِ الْآخِرِ ذَلِكَ خَيْرٌ وَأَحْسَنُ تَأْوِيلًا}(2) [النساء: 59]، وقوله عز وجل: {فَلَا وَرَبِّكَ لَا يُؤْمِنُونَ حَتَّى يُحَكِّمُوكَ فِيمَا شَجَرَ بَيْنَهُمْ ثُمَّ لَا يَجِدُوا فِي أَنْفُسِهِمْ حَرَجًا مِمَّا قَضَيْتَ وَيُسَلِّمُوا تَسْلِيمًا} [النساء: 65].

ولا ريب أن الردَّ إلى الله ورسوله بعد وفاته، إنما يحصل بالردِّ إلى الكتاب والسنة، وأن تحكيمه بعد وفاته، إنما هو بتحكيم الكتاب والسنة.

--------------------------------------------

(1) من هذه الرسائل "الرد على الوهابية" لحسن الصدر الرافضي (ت 1354 هـ)، فقد ذكرها المؤلف صراحة في النسخة الأخرى وتعقَّبه في مواضع منها. انظر (ص 3).

(2) ترك المؤلف بعد قوله (فإن تنازعتم … ) فراغًا بمقدار سطر لتتمة الآية.
পরম করুণাময় অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে।

সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর জন্য, যিনি আমাদের নিকট তাঁর সরল পথের বৈশিষ্ট্যসমূহ সুস্পষ্ট করেছেন এবং আমাদের জন্য তাঁর কিতাব ও তাঁর রাসুলের সুন্নাহসমূহ সংরক্ষণ করেছেন।

আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, আল্লাহ ছাড়া কোনো উপাস্য নেই, তিনি একক, তাঁর কোনো শরিক নেই। আমি আরও সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, মুহাম্মদ আল্লাহর বান্দা ও তাঁর রাসুল। হে আল্লাহ, আপনি মুহাম্মদ ও তাঁর পরিবারের ওপর রহমত বর্ষণ করুন, যেভাবে আপনি ইব্রাহিম ও তাঁর পরিবারের ওপর রহমত বর্ষণ করেছিলেন। আর আপনি মুহাম্মদ ও তাঁর পরিবারের ওপর বরকত দান করুন, যেভাবে আপনি ইব্রাহিম ও তাঁর পরিবারের ওপর বরকত দান করেছিলেন। নিশ্চয়ই আপনি প্রশংসিত ও মহিমান্বিত।

অতঃপর, বর্তমান সময়ে কবরের ওপর ইমারত বা স্থাপনা নির্মাণের বিষয়ে রচিত কিছু পুস্তিকা আমি দেখেছি(১), এবং এই মাসআলাটি নিয়ে যেসব বিবাদ সৃষ্টি হয়েছে সে সম্পর্কেও আমি শুনেছি। তাই আমি সত্যের অন্বেষী এবং সঠিক পথের সন্ধানী হিসেবে বিষয়টি নিয়ে পর্যালোচনা করতে চেয়েছি, মহান আল্লাহর এই বাণীর ওপর আমল করে: "অতঃপর কোনো বিষয়ে যদি তোমরা বিবাদে লিপ্ত হও, তবে তা আল্লাহ ও তাঁর রাসুলের দিকে ফিরিয়ে দাও, যদি তোমরা আল্লাহ ও শেষ দিবসের প্রতি ঈমান এনে থাকো। এটাই উত্তম এবং পরিণামের দিক থেকে অতি চমৎকার।"(২) [নিসা: ৫৯], এবং মহামহিমান্বিত আল্লাহর বাণী: "কিন্তু না, আপনার রবের শপথ! তারা ততক্ষণ পর্যন্ত মুমিন হতে পারবে না, যতক্ষণ না তারা তাদের পারস্পরিক বিবাদের ক্ষেত্রে আপনাকে বিচারক হিসেবে মেনে নেয়, অতঃপর আপনি যে ফয়সালা দেবেন সে ব্যাপারে তাদের মনে কোনো দ্বিধা না থাকে এবং তারা তা পূর্ণরূপে মেনে নেয়।" [নিসা: ৬৫]।

আর এতে কোনো সন্দেহ নেই যে, রাসুলের মৃত্যুর পর আল্লাহ ও তাঁর রাসুলের দিকে কোনো বিষয় ফিরিয়ে দেওয়া কেবল কুরআন ও সুন্নাহর দিকে ফিরিয়ে দেওয়ার মাধ্যমেই অর্জিত হয়। আর তাঁর মৃত্যুর পর তাঁকে বিচারক মানার অর্থ হলো কুরআন ও সুন্নাহকে বিচারক হিসেবে মেনে নেওয়া।

--------------------------------------------

(১) এই পুস্তিকাগুলোর মধ্যে একটি হলো রাফেজি হাসান আল-সদরের (মৃত্যু ১৩৫৪ হিজরি) "আর-রদ্দু আলাল ওয়াহহাবিইয়্যাহ"। লেখক অন্য একটি কপিতে স্পষ্টভাবে এর কথা উল্লেখ করেছেন এবং বেশ কিছু স্থানে তাঁর সমালোচনা করেছেন। দেখুন (পৃ. ৩)।

(২) লেখক ‘অতঃপর যদি তোমরা বিবাদে লিপ্ত হও...’ বলার পর আয়াতের বাকি অংশ পূর্ণ করার জন্য এক লাইন পরিমাণ জায়গা খালি রেখেছিলেন।
(খণ্ড: ৫) ইমারাতুল কুবুর ফিল ইসলাম - আল-মুসাওয়াদাহ - দিমনা আসারুল মুআল্লিমী (পৃষ্ঠা: ৪)
ولا ريب أن من الردِّ إلى الكتاب سؤالَ العلماء، كما أن من الردِّ إلى الرسول اعتبار أقوال خلفائه وورثته من أهل العلم، قال عز وجل: {فَاسْأَلُوا أَهْلَ الذِّكْرِ إِنْ كُنْتُمْ لَا تَعْلَمُونَ} [النحل: 43].

وفي حديث أبي الدرداء مرفوعًا: "العلماء خلفاء الأنبياء" أخرجه البزار(1)، ورجاله موثقون، كما في "مجمع الزوائد"(2).

وله في "السنن" حديث فيه: "وإن العلماء ورثة الأنبياء … "(3) الحديث.

ولا ريب أن الأئمة المجتهدين مِنْ أَوْلى مَن يدخل في ذلك.

--------------------------------------------

(1) "كشف الأستار" رقم (136).

(2) (1/ 126).

(3) أخرجه أبو داود رقم (3641)، والترمذي رقم (2682)، وابن ماجه رقم (223)، وأحمد رقم (21715)، وابن حبان رقم (88).

قال السخاوي في "المقاصد الحسنة" (ص 286): "صححه ابن حبان والحاكم وغيرهما وحسَّنه حمزة الكناني، وضعّفه غيرهم بالاضطراب في سنده، لكن له شواهد يتقوّى بها، ولذا قال شيخنا: له طرق يُعرف بها أن للحديث أصلًا" ا? . وانظر "فتح الباري": (1/ 193).
এতে কোনো সন্দেহ নেই যে, কিতাবের (কুরআনের) নিকট প্রত্যাবর্তনের একটি দিক হলো আলেমদের জিজ্ঞাসা করা; যেমনটি রাসুলের নিকট প্রত্যাবর্তনের একটি দিক হলো ইলমের অধিকারী তাঁর উত্তরসূরি ও ওয়ারিশদের বক্তব্যকে ধর্তব্য মনে করা। মহান আল্লাহ বলেন: {তোমরা যদি না জানো তবে জ্ঞানীদের জিজ্ঞাসা করো} [আন-নাহল: ৪৩]।

আবু দারদা থেকে বর্ণিত মারফু (مرفوع) হাদিসে এসেছে: "আলেমরা নবীদের উত্তরসূরি।" এটি আল-বাজ্জার বর্ণনা করেছেন(১) এবং এর বর্ণনাকারীরা নির্ভরযোগ্য সাব্যস্তকৃত (موثقون), যেমনটি 'মাজমাউজ যাওয়ায়েদ'-এ রয়েছে(২)।

তাঁর থেকে 'সুনান' গ্রন্থসমূহে বর্ণিত একটি হাদিসে রয়েছে: "নিশ্চয়ই আলেমরা নবীদের ওয়ারিশ..."(৩) হাদিস।

আর এতে কোনো সন্দেহ নেই যে, মুজতাহিদ (مجتهدون) ইমামগণ এর অন্তর্ভুক্ত হওয়ার ক্ষেত্রে সর্বাধিক উপযুক্ত।

--------------------------------------------

(১) 'কাশফুল আস্তার' নম্বর (১৩৬)।

(২) (১/ ১২৬)।

(৩) এটি বর্ণনা করেছেন আবু দাউদ নম্বর (৩৬৪১), তিরমিজি নম্বর (২৬৮২), ইবনে মাজাহ নম্বর (২২৩), আহমাদ নম্বর (২১৭১৫) এবং ইবনে হিব্বান নম্বর (৮৮)।

সাখাবি 'আল-মাকাসিদুল হাসানাহ' (পৃ. ২৮৬) গ্রন্থে বলেন: "একে ইবনে হিব্বান, হাকেম এবং আরও অনেকে সহিহ (صححه) বলেছেন এবং হামজা আল-কিনানি একে হাসান (حسنه) বলেছেন। অন্য অনেকে এর সনদে (سند) ওলটপালট (اضطراب) থাকার কারণে একে দুর্বল (ضعفه) বলেছেন। তবে এর কিছু সাক্ষ্যমূলক বর্ণনা (شواهد) রয়েছে যার দ্বারা এটি শক্তিশালী হয় (يتقوى)। এজন্য আমাদের শায়খ বলেছেন: এর এমন কিছু সূত্র (طرق) রয়েছে যার মাধ্যমে জানা যায় যে হাদিসটির ভিত্তি (أصل) আছে।" সমাপ্ত। এবং দেখুন 'ফাতহুল বারি': (১/ ১৯৩)।
(খণ্ড: ৫) ইমারাতুল কুবুর ফিল ইসলাম - আল-মুসাওয়াদাহ - দিমনা আসারুল মুআল্লিমী (পৃষ্ঠা: ৫)
[ص 2] عَرْض هذه القضية على كتاب الله عز وجل

قال الله عز وجل: {إِذْ يَتَنَازَعُونَ بَيْنَهُمْ أَمْرَهُمْ فَقَالُوا ابْنُوا عَلَيْهِمْ بُنْيَانًا رَبُّهُمْ أَعْلَمُ بِهِمْ قَالَ الَّذِينَ غَلَبُوا عَلَى أَمْرِهِمْ لَنَتَّخِذَنَّ عَلَيْهِمْ مَسْجِدًا} [الكهف: 21].

وتقرير الاستدلال بالآية(1): أن قوله عز وجل قبلها: {وَكَذَلِكَ أَعْثَرْنَا عَلَيْهِمْ … ابْنُوا عَلَيْهِمْ بُنْيَانًا رَبُّهُمْ أَعْلَمُ بِهِمْ … } إلخ، يدل أنهم ماتوا، فتنازع الحاضرون في شأنهم {فَقَالُوا ابْنُوا عَلَيْهِمْ بُنْيَانًا}، وهذا بناءٌ على قبر. {قَالَ الَّذِينَ غَلَبُوا عَلَى أَمْرِهِمْ} قال المفسرون: وهم المؤمنون بدليل قوله: {لَنَتَّخِذَنَّ عَلَيْهِمْ مَسْجِدًا} وهذا اتخاذ مسجد على قبر.

فلما قصَّ الله عز وجل هذا في كتابه، ولم يصحبه بما يدل على حظره، دل على جوازه.

بل إذا لاحظنا أن القَصَص الوارد في القرآن لم يرد لمجرَّد حكاية وقائع تاريخية، وإنما هو للاعتبار والإرشاد والموعظة= تبين لنا دلالة الآية على الاستحباب، وأن الله عز وجل أرشدنا بهذه الآية إلى ما ينبغي أن نعمله إذا مات فينا رجل صالح، أي: أننا على الأقل نبني على قبره بنيانًا، والأكمل أن نتخذ عليه مسجدًا.

* * * *

--------------------------------------------

(1) يعني على مذهب من يرى جواز البناء على القبور، وسيردّ المصنف على تقريرهم هذا بالتفصيل.
[পৃষ্ঠা ২] আল্লাহর কিতাব মহান আল্লাহর কাছে এই বিষয়টি পেশ করা

মহান আল্লাহ বলেন: {যখন তারা নিজেদের মধ্যে তাদের কাজ নিয়ে বিতর্ক করছিল, তারা বলল: তাদের ওপর একটি ইমারত নির্মাণ করো, তাদের প্রতিপালক তাদের সম্পর্কে ভালো জানেন। যারা তাদের বিষয়ে প্রভাবশালী ছিল তারা বলল: আমরা অবশ্যই তাদের ওপর একটি মসজিদ নির্মাণ করব।} [কাহাফ: ২১]।

আয়াতটি দ্বারা দলীল পেশ করার পদ্ধতি(১) হলো: এর আগে মহান আল্লাহর বাণী: {এবং এভাবেই আমি তাদের বিষয় অবগত করলাম... তাদের ওপর একটি ইমারত নির্মাণ করো, তাদের প্রতিপালক তাদের সম্পর্কে ভালো জানেন...} ইত্যাদি অংশ নির্দেশ করে যে তারা মৃত্যুবরণ করেছিলেন। ফলে উপস্থিত ব্যক্তিরা তাদের ব্যাপারে বিতর্কে লিপ্ত হলো {তারা বলল: তাদের ওপর একটি ইমারত নির্মাণ করো}, আর এটি কবরের ওপর ইমারত নির্মাণের অন্তর্ভুক্ত। {যারা তাদের বিষয়ে প্রভাবশালী ছিল তারা বলল} মুফাসসিরগণ বলেন: তারা ছিলেন মুমিন, যার প্রমাণ হলো মহান আল্লাহর বাণী: {আমরা অবশ্যই তাদের ওপর একটি মসজিদ নির্মাণ করব} এবং এটি হলো কবরের ওপর মসজিদ নির্মাণ করা।

আল্লাহ তাআলা যখন তাঁর কিতাবে এই ঘটনা বর্ণনা করেছেন এবং এর সাথে এমন কিছু যুক্ত করেননি যা এর নিষিদ্ধতা প্রমাণ করে, তখন এটি এর বৈধতা (جواز) নির্দেশ করে।

বরং আমরা যদি লক্ষ্য করি যে, কুরআনে বর্ণিত কাহিনীগুলো শুধুমাত্র ঐতিহাসিক ঘটনাবলি বর্ণনার জন্য আসেনি, বরং তা শিক্ষা গ্রহণ, দিকনির্দেশনা ও উপদেশের জন্য এসেছে; তখন আমাদের কাছে আয়াতটির মাধ্যমে মুস্তাহাব হওয়া (استحباب) সংক্রান্ত নির্দেশনা স্পষ্ট হয়ে যায়। আল্লাহ তাআলা এই আয়াতের মাধ্যমে আমাদের সেই বিষয়ের প্রতি দিকনির্দেশনা দিয়েছেন যা আমাদের করা উচিত যখন আমাদের মাঝে কোনো নেককার মানুষ মৃত্যুবরণ করেন। অর্থাৎ, আমরা যেন অন্তত তার কবরের ওপর কোনো ইমারত নির্মাণ করি এবং আরও পরিপূর্ণ কাজ হলো তার ওপর একটি মসজিদ নির্মাণ করা।

* * * *

--------------------------------------------

(১) অর্থাৎ, যারা কবরের ওপর ইমারত নির্মাণ বৈধ (جواز) মনে করেন তাদের মাযহাব (مذهب) অনুযায়ী। গ্রন্থকার শীঘ্রই তাদের এই দলীল উপস্থাপনের বিস্তারিত খণ্ডন করবেন।
(খণ্ড: ৫) ইমারাতুল কুবুর ফিল ইসলাম - আল-মুসাওয়াদাহ - দিমনা আসারুল মুআল্লিমী (পৃষ্ঠা: ৬)
تحليل الاستدلال

أولًا: قوله: "يدل أنهم ماتوا".

فيه شيءٌ، فإن الظاهر أن أحد الفتية الذي بعثوه إلى المدينة عاد إليهم ومعه القوم، فدخل [ص 3] الكهف إلى أصحابه وأخبرهم، ولعل الله عز وجل رفع الرعب الذي كان يعتري من اطلع عليهم، وذَكَره عز وجل بقوله: {لَوِ اطَّلَعْتَ عَلَيْهِمْ لَوَلَّيْتَ مِنْهُمْ فِرَارًا وَلَمُلِئْتَ مِنْهُمْ رُعْبًا} [الكهف: 18].

وحالهم تحتمل إحدى صور:

الأولى: أن يكون الفِتْية خرجوا إلى القوم، وجلسوا معهم ريثما تحققت الآية، ثم عادوا إلى كهفهم، وعاد الرعب كما كان، فانتظرهم القوم أيامًا، فلم يخرجوا، فعلموا أنهم عادوا لحالتهم، ولكنهم لا يعلمون أماتوا، أم ناموا كما كانوا؟

الثانية: أن يكون رُفِعَ الرعبُ أولًا حتى دخل إليهم القوم، وتقررت الآية= أمروا القومَ بالخروج عنهم، فخرجوا وعاد الرعب، وانتظر القوم أيامًا، فلما لم يخرج أحدٌ من الفِتْية، علموا أنهم إما ماتوا، وإما عادوا إلى النوم.

الثالثة: أنهم عادوا إلى مضجعهم والقوم عندهم، فعاد الرعب، فخرج القوم فارِّين مرعوبين، ثم انتظروا بباب الكهف أيامًا حتى يئسوا.

الرابعة والخامسة: أن يكونوا خرجوا إلى القوم، أو دخل القوم إليهم، وبعد تقرر الآية عادوا إلى مضجعهم فرآهم القوم كذلك، فحاولوا إيقاظهم، ثم انتظارهم حتى يئسوا.
প্রমাণ উপস্থাপনের (استدلال) বিশ্লেষণ

প্রথমত: তাঁর উক্তি: "এটি প্রমাণ করে যে তাঁরা মৃত্যুবরণ করেছেন।"

এতে কিছুটা সংশয় (فيه شيء) রয়েছে; কেননা প্রকাশ্য বিষয় হলো, যুবকদের মধ্য হতে যাকে তাঁরা শহরে পাঠিয়েছিলেন তিনি তাঁদের কাছে ফিরে এসেছিলেন এবং তাঁর সাথে অন্য লোকেরাও ছিল। অতঃপর তিনি [পৃষ্ঠা ৩] গুহায় তাঁর সাথীদের নিকট প্রবেশ করেন এবং তাঁদেরকে সংবাদ দেন। সম্ভবত মহান আল্লাহ সেই ভীতি বা আতঙ্ক দূর করে দিয়েছিলেন যা তাঁদের দেখলে সৃষ্টি হতো, আর মহান আল্লাহ তাঁর এই বাণীতে তা উল্লেখ করেছেন: {যদি তুমি তাঁদের উঁকি দিয়ে দেখতে, তবে তুমি তাঁদের ছেড়ে পেছনের দিকে পলায়ন করতে এবং তুমি তাঁদের ভয়ে আতঙ্কিত হয়ে পড়তে।} [আল-কাহাফ: ১৮]।

আর তাঁদের অবস্থা নিচের সুরত বা চিত্রগুলোর কোনো একটি হওয়ার সম্ভাবনা রাখে:

প্রথমটি: যুবকরা সম্ভবত সেই লোকদের নিকট বের হয়ে এসেছিলেন এবং যতক্ষণ পর্যন্ত নিদর্শন (آية) বাস্তবায়িত না হয়েছে ততক্ষণ তাঁদের সাথে অবস্থান করেছিলেন। এরপর তাঁরা আবার তাঁদের গুহায় ফিরে যান এবং পূর্বের ন্যায় ভীতি ফিরে আসে। ফলে লোকেরা বেশ কিছু দিন তাঁদের জন্য অপেক্ষা করে, কিন্তু তাঁরা বের না হওয়ায় তারা বুঝতে পারে যে তাঁরা তাঁদের পূর্বের অবস্থায় ফিরে গেছেন। তবে তাঁরা জানতেন না যে তাঁরা কি মারা গেছেন নাকি আগের মতোই ঘুমিয়ে আছেন?

দ্বিতীয়টি: প্রথমে ভীতি দূর করে দেওয়া হয়েছিল যাতে লোকেরা তাঁদের কাছে প্রবেশ করতে পারে এবং নিদর্শন (آية) সুপ্রতিষ্ঠিত হয়; অতঃপর তাঁরা লোকদেরকে তাঁদের নিকট থেকে বের হয়ে যাওয়ার নির্দেশ দেন। ফলে তারা বের হয়ে যায় এবং পুনরায় ভীতি ফিরে আসে। লোকেরা বেশ কয়েক দিন অপেক্ষা করল, কিন্তু যখন যুবকদের মধ্য হতে কেউ বের হয়ে আসলেন না, তখন তারা বুঝতে পারল যে তাঁরা হয় মৃত্যুবরণ করেছেন অথবা পুনরায় ঘুমে মগ্ন হয়েছেন।

তৃতীয়টি: তাঁরা তাঁদের শয্যায় ফিরে গিয়েছিলেন যখন লোকেরা তাঁদের নিকটেই ছিল, ফলে পুনরায় ভীতির সঞ্চার হলো। তখন লোকেরা আতঙ্কিত অবস্থায় পলায়ন করে বেরিয়ে এল। এরপর তারা গুহার প্রবেশপথে কয়েক দিন অপেক্ষা করে অবশেষে নিরাশ হয়ে গেল।

চতুর্থ ও পঞ্চমটি: তাঁরা হয়তো লোকদের নিকট বের হয়ে এসেছিলেন অথবা লোকেরা তাঁদের নিকট প্রবেশ করেছিল। নিদর্শন (آية) সুপ্রতিষ্ঠিত হওয়ার পর তাঁরা তাঁদের শয্যায় ফিরে গেলেন এবং লোকেরা তাঁদেরকে সেই অবস্থায় দেখল। এরপর তারা তাঁদেরকে জাগানোর চেষ্টা করল এবং দীর্ঘক্ষণ অপেক্ষা করার পর নিরাশ হলো।
(খণ্ড: ৫) ইমারাতুল কুবুর ফিল ইসলাম - আল-মুসাওয়াদাহ - দিমনা আসারুল মুআল্লিমী (পৃষ্ঠা: ৭)
[ص 4] ويرجِّح إحدى الصور الثلاث الأولى على الرابعة والخامسة قوله عز وجل ــ حكايةً عن القوم ــ: {رَبُّهُمْ أَعْلَمُ بِهِمْ} [الكهف: 21].

فإن هذا يدل أنهم لم يعلموا هل عاد الفتية لنومهم، أم ماتوا؟ ولو كانوا شاهدوهم بعد عودهم لمضجعهم لربما يترجَّح لهم أحد الأمرين.

لا يقال: إن قوله: {رَبُّهُمْ أَعْلَمُ بِهِمْ} قد يكون المراد به: أعلمُ مَنْ هم؟ ومِمّن هم؟ وما شأنهم؟ لأن الحكمة من الإعثار عليهم، وهي إظهار آية على البعث، لا تتمّ إلا بأن يخبروا القوم بحالهم، وممن هم، وفي عهد من كانوا، فتأمل!

ثانيًا: قوله: "وهذا بناءٌ على قبر".

فيه نظرٌ من وجوه:

الأول: أن الفتية لم يتقرر للقوم موتُهم حتى يصح أن يكون لهم قبر، إذ القبر لا يكون إلا للميت، والعبرة في الحكم بظن القوم لا بما في نفس الأمر.

الثاني: لم يكن لهم قبر، وإنما كانوا في صحن الكهف.

الثالث: أنه على فرض أن الواقع في عودهم إحدى الصور الثلاث المتقدمة، فالبناء إنما يكون على باب الكهف؛ لامتناع أن يدخل البناؤون إلى مرقد الفتية لمنع الرعب.

والبناء على باب الكهف إنما هو بمثابة سدّ جانب انهدم من عرض القبر، إذا صح لنا أن نعتبر القوم مُرجِّحين أن الفتية ماتوا، وأن يُعتبر الكهف بمثابة القبر.
[পৃষ্ঠা ৪] মহান আল্লাহর বাণী—কাওমের বক্তব্য বর্ণনাস্বরূপ—: {তাদের পালনকর্তাই তাদের বিষয়ে বেশি অবগত} [আল-কাহাফ: ২১], প্রথম তিনটি অবস্থাকে চতুর্থ ও পঞ্চম অবস্থার ওপর অগ্রাধিকার (ترجيح) প্রদান করে।

কারণ এটি প্রমাণ করে যে, তারা জানতেন না যুবকেরা কি পুনরায় ঘুমে আচ্ছন্ন হয়েছেন, নাকি তারা ইন্তেকাল করেছেন? যদি তারা তাদের শয্যাস্থানে ফিরে যাওয়ার পর তাদের দেখতেন, তবে সম্ভবত তাদের কাছে এই দুই বিষয়ের একটি প্রাধান্য (ترجح) পেত।

এমনটি বলা যাবে না যে: তাঁর বাণী: {তাদের পালনকর্তাই তাদের বিষয়ে বেশি অবগত}—এর উদ্দেশ্য হতে পারে: তিনি বেশি জানেন যে তারা কারা? তারা কার বংশোদ্ভূত? এবং তাদের অবস্থা কী ছিল? কারণ তাদের সন্ধান পাওয়ার হিকমত বা প্রজ্ঞা হলো পুনরুত্থানের একটি নিদর্শন প্রকাশ করা, যা তখনই পূর্ণতা পায় যখন তারা কাওমকে তাদের অবস্থা, পরিচয় এবং কার আমলে তারা ছিলেন সে সম্পর্কে অবহিত করেন। সুতরাং চিন্তা করুন!

দ্বিতীয়ত: তাঁর উক্তি: "এবং এটি কবরের ওপর নির্মিত স্থাপনা"।

এতে বিভিন্ন দিক থেকে পর্যালোচনা (نظر) রয়েছে:

প্রথমত: কাওমের কাছে যুবকদের মৃত্যু সুনিশ্চিত হয়নি যে তাদের কোনো কবর থাকা সঠিক (صح) হবে; কারণ কবর কেবল মৃত ব্যক্তির জন্যই হয়। আর কোনো বিষয়ে ফায়সালা প্রদানের ক্ষেত্রে কাওমের ধারণা ধর্তব্য (عبرة), প্রকৃত ঘটনা কী ছিল তা নয়।

দ্বিতীয়ত: তাদের কোনো কবর ছিল না, বরং তারা গুহার আঙিনায় ছিলেন।

তৃতীয়ত: যদি ধরে নেওয়া হয় যে তাদের প্রত্যাবর্তনের ক্ষেত্রে পূর্বোক্ত তিনটি অবস্থার কোনো একটি ঘটেছিল, তবে সেই স্থাপনা গুহার দরজার ওপরেই হওয়া সংগত; কারণ ভীতি সঞ্চারের আশঙ্কায় নির্মাতাদের পক্ষে যুবকদের শয্যাস্থলে প্রবেশ করা অসম্ভব ছিল।

আর গুহার দরজায় স্থাপনা নির্মাণ করা কবরের একদিকের ধসে পড়া অংশ বন্ধ করে দেওয়ার মতোই, যদি আমাদের নিকট এটি সঠিক (صح) হয় যে কাওম যুবকদের মৃত্যুবরণ করাকেই প্রাধান্যদানকারী (مرجح) হিসেবে গণ্য করেছিলেন এবং গুহাটিকে কবরের সমতুল্য গণ্য করা হয়।
(খণ্ড: ৫) ইমারাতুল কুবুর ফিল ইসলাম - আল-মুসাওয়াদাহ - দিমনা আসারুল মুআল্লিমী (পৃষ্ঠা: ৮)
وعلى فرض أن الواقع هو إحدى الصورتين الأُخْريين، فيحتمل أن يكونوا أرادوا بالبناء البناء على باب الكهف، وهو الأظهر الأنسب بالحال [ص 5] لاستغراب القوم هذه الحادثة واشتباههم في الفتية، أعادوا لنومهم، أم ماتوا؟

ويحتمل أن يكونوا أرادوا البناء على جثثهم في داخل الكهف، ومع بُعْدِ ذلك، فلم يكن هناك قبرٌ حتى يقال: إن البناء وقع عليه، وإنما البناء نفسه هو بمثابة القبر، واحتيج إليه لامتناع إخراج الفتية من الكهف، وحَفْر قبورٍ لهم كالعادة؛ لغرابة قصتهم، وعلاقتهم بالكهف، والشك في موتهم.

وهنا احتمال آخر، وهو: أن يكون المراد بالبنيان في الآية ما يُنصب تذكارًا لتلك الآية، وأن المناسب أن يكون بمكانٍ عالٍ مكشوف، إما بأن يكون خارج الكهف بعيدًا عنه، بحيث يظهر للمارة وغيرهم، وإما أن يُجْعَل على رأس الجبل الذي فيه الكهف.

وأن هذا أرجح من الأول؛ لأنه أنسب بالمقصود، وأظهر في معنى "على" كما سيأتي إيضاحه.

والحق الذي لا ريب فيه أن المراد به: البناء لسد باب الكهف؛ لأن مواراة جثث الفتية أمرٌ ضروريٌّ لابد منه، وحمل البنيان في الآية على هذا الأمر الضروري أولى من حمله على شيءٍ آخر.

وقد مر أن كون البنيان لسد باب الكهف أرجح من كونه حول الفتية في جوفه. وسيأتي في تقرير النزاع ما يزيد هذا بيانًا إن شاء الله.

ثالثًا: قوله: "قال المفسرون: وهم المؤمنون … " إلخ.
এবং যদি ধরে নেওয়া হয় যে বাস্তবতা হলো অপর দুটি সুরতের (অবস্থার) কোনো একটি, তবে সম্ভাবনা রয়েছে যে তারা ‘নির্মাণ’ বলতে গুহার প্রবেশদ্বারে নির্মাণের ইচ্ছা করেছিলেন। আর ঘটনার পারিপার্শ্বিকতায় এটাই অধিক স্পষ্ট ও সামঞ্জস্যপূর্ণ [পৃষ্ঠা ৫]; কারণ লোকেরা এই ঘটনায় বিস্ময় প্রকাশ করেছিল এবং যুবকদের ব্যাপারে তাদের সন্দেহ সৃষ্টি হয়েছিল যে, তারা কি পুনরায় ঘুমে তলিয়ে গেল নাকি মৃত্যুবরণ করল?

আরও সম্ভাবনা রয়েছে যে, তারা গুহার ভেতরে তাদের মরদেহের ওপর নির্মাণের ইচ্ছা করেছিলেন। যদিও এটি দূরবর্তী সম্ভাবনা, তবুও সেখানে কোনো কবর ছিল না যে বলা হবে—এর ওপর নির্মাণ করা হয়েছে। বরং সেই নির্মাণটিই ছিল কবরের সমতুল্য। আর এর প্রয়োজন দেখা দিয়েছিল এই কারণে যে, যুবকদের গুহা থেকে বের করা এবং স্বাভাবিক অভ্যাসমত তাদের জন্য কবর খনন করা অসম্ভব ছিল; তাদের কাহিনীর বিস্ময়করতা, গুহার সাথে তাদের সংশ্লিষ্টতা এবং তাদের মৃত্যুর ব্যাপারে সন্দেহের কারণে।

এখানে অন্য একটি সম্ভাবনাও রয়েছে, আর তা হলো: আয়াতে ‘বনিয়ান’ বা নির্মাণ বলতে এমন কিছু উদ্দেশ্য যা সেই অলৌকিক নিদর্শনের স্মারক হিসেবে স্থাপন করা হয়। আর এক্ষেত্রে সামঞ্জস্যপূর্ণ হলো এটি কোনো উঁচু ও উন্মুক্ত স্থানে হওয়া; হয় গুহার বাইরে কিছুটা দূরে—যাতে পথচারী ও অন্যদের দৃষ্টিগোচর হয়, অথবা সেই পাহাড়ের চূড়ায়—যেখানে গুহাটি অবস্থিত।

আর এটি প্রথমটির তুলনায় অধিকতর প্রাধান্যযোগ্য (أرجح); কারণ এটি উদ্দেশ্যের সাথে অধিক সামঞ্জস্যপূর্ণ এবং ‘আলা’ (ওপর) শব্দের অর্থের ক্ষেত্রেও অধিক স্পষ্ট, যার ব্যাখ্যা সামনে আসছে।

আর যে সত্যে কোনো সন্দেহ নেই তা হলো: এর দ্বারা উদ্দেশ্য গুহার প্রবেশদ্বার বন্ধ করার জন্য নির্মাণকাজ। কেননা যুবকদের মরদেহ ঢেকে রাখা বা দাফন করা একটি অপরিহার্য বিষয় ছিল, যা ছাড়া উপায় ছিল না। আর আয়াতের ‘বনিয়ান’ শব্দকে এই অপরিহার্য বিষয়ের ওপর প্রয়োগ করা অন্য কোনো কিছুর ওপর প্রয়োগ করার চেয়ে অগ্রাধিকারযোগ্য (أولى)।

ইতিপূর্বে অতিবাহিত হয়েছে যে, গুহার প্রবেশদ্বার বন্ধ করার জন্য নির্মাণ হওয়া বিষয়টি যুবকদের চারপাশে বা গুহার ভেতরে হওয়ার চেয়ে অধিকতর প্রাধান্যযোগ্য (أرجح)। আর মতপার্থক্যের বিবরণ পর্যালোচনায় এ বিষয়ে আরও বিশদ ব্যাখ্যা আসবে, ইনশাআল্লাহ।

তৃতীয়ত: তাঁর কথা: "মুফাসসিরগণ বলেছেন: তারা হলেন মুমিন … " ইত্যাদি।
(খণ্ড: ৫) ইমারাতুল কুবুর ফিল ইসলাম - আল-মুসাওয়াদাহ - দিমনা আসারুল মুআল্লিমী (পৃষ্ঠা: ৯)
سيأتي إن شاء الله بيان الخلاف فيه، وأن الراجح أن قائلي ذلك هم أهل الشرك.

رابعًا: قوله: "وهذا اتخاذ مسجد على قبر".

وفيه ما مرّ؛ أن القوم لم يتحققوا موت الفتية حتى يصح أن يكون لهم قبر، ولو صح موتُهم فلم يكن لهم قبر، وإنما كانوا في صحن الكهف.

ومع هذا، فإنه على الاحتمال الراجح أن الواقع هو إحدى الصور الثلاث، فواضحٌ أن بناء المسجد لا يكون داخل الكهف، وكذا على الاحتمال المرجوح أن الواقع هو إحدى الصورتين الأخريين؛ لأنه يمتنع أن يهموا ببناء مسجد محتوٍ على جثث الفتية بارزة، والكهوف وإن كانت أكبر من الغيران، فالغالب أن تكون صغيرة لا تسع بناءً كبيرًا، كبناء يشتمل على جثث تسعة أشخاص، مع بناء مسجد فوق ذلك البناء يتسع للمصلين(1).

[ص 15] ثم اعلم أن "على" في الآية في الموضعين لا تصلح لمعناه الحقيقي، وهو كون المستعلي فوق المستعلى عليه، محمولًا عليه، وكذا أن يكون مُسامتًا له من فوق في الهواء، بحيث لو سقط سقط عليه، فما بقي إلا الاستعلاء المجازي بأحد الأوجه الآتية:

إما بأن يكون المستعلي مجوفًا ينطبق على المستعلى عليه، كالجفنة على البيضة.

وإما أن يكون مستديرًا عليه، كالسور على المدينة.

وإما بأن يكون بمعنى: سدًّا لمنفذ. تقول: بنيت على الضبع جدارًا، إذا

--------------------------------------------

(1) هذه نهاية ص 10 بترقيم المؤلف، ثم أشار إلى أن التكملة في ص 29.
ইনশাআল্লাহ এতে বিদ্যমান মতভেদ (الخلاف) সম্পর্কে আলোচনা সামনে আসবে এবং অগ্রগণ্য (الراجح) মত হলো, যারা এ কথা বলেছে তারা ছিল শিরককারী।

চতুর্থত: তাঁর উক্তি: "আর এটি হলো কবরের ওপর মসজিদ নির্মাণ করা।"

আর এতে পূর্বে যা অতিবাহিত হয়েছে তা বিদ্যমান; তা হলো—কাওম বা সম্প্রদায় যুবকদের মৃত্যুর ব্যাপারে নিশ্চিত হয়নি যাতে তাদের কোনো কবর থাকাটা সঠিক হতে পারে। আর যদি তাদের মৃত্যু সঠিকও হয়, তবুও তাদের কোনো কবর ছিল না, বরং তারা গুহার চত্বরে অবস্থান করছিল।

এতদসত্ত্বেও, অগ্রগণ্য (الراجح) সম্ভাবনা (الاحتمال) অনুযায়ী বাস্তবতা হলো তিনটি সুরতের বা অবস্থার মধ্যে একটি। সুতরাং এটি স্পষ্ট যে, মসজিদ নির্মাণ গুহার ভেতরে হয়নি। অনুরূপভাবে অপ্রধান (المرجوح) সম্ভাবনা (الاحتمال) অনুযায়ী বাস্তবতা যদি অন্য দুটি সুরতের মধ্যে কোনো একটি হয়, তবুও (একই কথা প্রযোজ্য); কারণ যুবকদের উন্মুক্ত লাশের ওপর মসজিদ নির্মাণের সংকল্প করা অসম্ভব। আর গুহা যদিও গর্তের চেয়ে বড় হয়, তবুও সাধারণত তা ছোটই হয়ে থাকে যাতে কোনো বড় স্থাপনা সংকুলান হয় না—যেমন নয়টি মরদেহের ধারক কোনো স্থাপনা এবং সেই স্থাপনার ওপর মুসল্লিদের সংকুলান হয় এমন একটি মসজিদ নির্মাণ করা(১)।

[পৃষ্ঠা ১৫] অতঃপর জেনে রাখুন যে, আয়াতের দুটি স্থানে ব্যবহৃত ‘আলা’ (على) শব্দটি তার প্রকৃত (الحقيقي) অর্থে ব্যবহৃত হওয়া সঠিক নয়। আর তা হলো উর্ধ্বস্থিত বস্তু নিম্নস্থিত বস্তুর ওপরে হওয়া এবং তার ওপর ভর করে থাকা। অনুরূপভাবে বায়ুমণ্ডলে উপর থেকে সমান্তরালে অবস্থান করা, যাতে সেটি পড়ে গেলে নিচেরটির ওপরই পড়ে। সুতরাং নিচের কোনো একটি সুরতে রূপক (المجازي) উচ্চতা বা অবস্থান ছাড়া আর কোনো অর্থ অবশিষ্ট থাকে না:

হয় উর্ধ্বস্থিত বস্তুটি ফাঁপা হবে যা নিম্নস্থিত বস্তুর ওপর পুরোপুরি বসে যাবে, যেমন ডিমের ওপর পেয়ালা।

অথবা তার চারপাশে বেষ্টনকারী হবে, যেমন শহরের চারদিকের প্রাচীর।

অথবা কোনো প্রবেশপথ বন্ধ করার অর্থে। আপনি যেমন বলেন: আমি হায়েনার ওপর একটি দেয়াল নির্মাণ করেছি, যখন...

--------------------------------------------

(১) এটি লেখকের পৃষ্ঠা নম্বর অনুযায়ী ১০ নম্বর পৃষ্ঠার সমাপ্তি, এরপর তিনি ইঙ্গিত করেছেন যে এর পরবর্তী অংশ ২৯ নম্বর পৃষ্ঠায় রয়েছে।
(খণ্ড: ৫) ইমারাতুল কুবুর ফিল ইসলাম - আল-মুসাওয়াদাহ - দিমনা আসারুল মুআল্লিমী (পৃষ্ঠা: ১০)
سددتَ به بابَ وِجارِها.

وإما بأن يكون مشرفًا عليه من قرب، كالدار على دجلة.

وإما بأن يكون مشرفًا عليه من علو، كالقلعة على المدينة، إذا كانت على جبل مُطلٍّ على المدينة.

والوجهان الأولان ممتنعان هنا؛ لما مرَّ أن الاحتمال الراجح هو أن الواقع إحدى الصور الثلاث الأولى من الصور الخمس المار بيانها، وبيان الترجيح بدليله.

وعلى فرض أن الواقع إحدى الصورتين الأخيرتين، فيمتنع أن يُبْنى مسجد على جثث الفتية بارزة، والكهف يضيق عن بناء المسجد وحده، إذا تصورنا إمكان نحت قبورٍ في جوف الكهف، فضلًا عن بناء بنيان على الجثث، ثم بناء مسجد محيط به يتسع للمصلين.

والوجه الثالث متعين بالنسبة للبناء لما مرَّ، وأما بالنسبة إلى المسجد فكل منه(1)، ومن الوجهين الأخيرين محتمل.

وبما أن الأخير ألصق بلفظ "على" لظهور الاستعلاء فيه، مع إمكان أن يكون رأس الجبل الذي يكون البناء فيه فوق الكهف على خط مستقيم، فهو الراجح.

ويمكن أن يرجَّح [ص 16] أيضًا بأن الظاهر من ذكر المسجد أنهم قصدوا أن يكون معدًّا للصلاة، والظاهر من المقام أنهم قصدوا مع ذلك أن يكون تذكارًا لتلك الآية البالغة.

--------------------------------------------

(1) "فكل منه" كذا قرأتها، وهي غير واضحة لأنها في طرف الورقة.
আপনি এর দ্বারা তার গর্তের মুখ রুদ্ধ করে দিয়েছেন।

অথবা এটি হতে পারে নিকট থেকে সেটির ওপর দৃষ্টিগোচর হওয়া, যেমন দজলা নদীর তীরের ঘর।

অথবা এটি হতে পারে উচ্চতা থেকে সেটির ওপর দৃষ্টিগোচর হওয়া, যেমন শহরের ওপর অবস্থিত দুর্গ, যদি সেটি শহরের ওপর প্রলম্বিত কোনো পাহাড়ের ওপর অবস্থিত হয়।

আর এখানে প্রথম দুটি দিক অসম্ভব; কারণ ইতিপূর্বে অতিক্রান্ত হয়েছে যে, অগ্রগণ্য (الراجح) সম্ভাবনা হলো—বাস্তবতা পূর্বে বর্ণিত পাঁচটি সুরতের প্রথম তিনটি সুরতের অন্তর্ভুক্ত, এবং এর স্বপক্ষে দালিলিক অগ্রাধিকারের (الترجيح) বর্ণনাও গত হয়েছে।

আর এই অনুমানের ভিত্তিতে যে, বাস্তবতা যদি শেষোক্ত দুটি সুরতের কোনো একটি হয়, তবে যুবকদের প্রকাশ্য মরদেহের ওপর মসজিদ নির্মাণ করা অসম্ভব। আর গুহাটি কেবল মসজিদ নির্মাণের জন্যই অত্যন্ত সংকীর্ণ, যদি আমরা গুহার অভ্যন্তরে কবর খোদাই করার সম্ভাবনা কল্পনা করি, তবে মরদেহের ওপর কোনো স্থাপনা নির্মাণ এবং এরপর তাকে বেষ্টন করে মুসল্লিদের সংকুলান হয় এমন একটি মসজিদ নির্মাণ তো আরও দুরূহ বিষয়।

পূর্বোক্ত আলোচনার প্রেক্ষিতে স্থাপনার ক্ষেত্রে তৃতীয় দিকটি নির্ধারিত, আর মসজিদের ক্ষেত্রে সেটি এবং শেষোক্ত দুটি দিকের প্রতিটিই সম্ভাব্য (محتمل)।

যেহেতু শেষোক্তটি "আলা" (উপরে) শব্দের সাথে অধিক সামঞ্জস্যপূর্ণ—কারণ এতে উচ্চতা বা আধিপত্যের অর্থ প্রকাশ পায়—এবং পাহাড়ের চূড়া যেখানে স্থাপনাটি অবস্থিত সেটি গুহার ঠিক উপরে লম্বালম্বিভাবে থাকার সম্ভাবনা রয়েছে, তাই এটিই অগ্রগণ্য (الراجح)।

এবং একে [পৃষ্ঠা ১৬] এভাবেও প্রাধান্য (يرجَّح) দেওয়া সম্ভব যে, মসজিদ উল্লেখ করার বাহ্যিক (الظاهر) দিকটি হলো—তারা এটিকে সালাতের জন্য প্রস্তুত করার ইচ্ছা করেছিল, আর প্রসঙ্গের বাহ্যিক (الظاهر) দাবি হলো—তারা এর পাশাপাশি এটিকে সেই মহান নির্দর্শনের স্মারক হিসেবেও রাখতে চেয়েছিল।

--------------------------------------------

(১) "সুতরাং তার প্রতিটি" আমি এভাবেই পড়েছি, এবং এটি অস্পষ্ট কারণ এটি কাগজের এক প্রান্তে ছিল।
(খণ্ড: ৫) ইমারাতুল কুবুর ফিল ইসলাম - আল-মুসাওয়াদাহ - দিমনা আসারুল মুআল্লিমী (পৃষ্ঠা: ১১)
وبناء المسجد إعدادًا للصلاة إنما يكون بحيث يكثر وجود المصلين، وليس محل الكهف كذلك؛ لأن الفتية اختاروه مخبأً لهم، ولا يختبئون إلا بمكان بعيد عن الناس.

واحتمال أن يكون عَمَر ذلك المكان بعد نومهم يأباه قولهم لما بُعِثوا: {فَابْعَثُوا أَحَدَكُمْ بِوَرِقِكُمْ} الآية [الكهف: 19]، مع ما روي أنه ذهب إلى المدينة، القصة التي يذكرها المفسرون. ويأباه أيضًا قوله تعالى: {وَكَذَلِكَ أَعْثَرْنَا عَلَيْهِمْ} [الكهف: 21].

والإعثار إنما يستعمل في الشيء الخفي الذي لم يكن مترقبًا، والكهف ــ وإن كان ممنوعًا بالرعب ــ إذا كان بين العمارة يكون مترقبًا بسبب منعه بالرعب، هذا بخلاف رأس الجبل، فإنه لا مانع أن تكون عليه قرية مسكونة، محتاجة إلى مسجد.

وقَصْد التذكار يقتضي أن يكون بحيث يشاهده الناس ويرونه، وباب الكهف كجوفه لا يصلح لذلك، وأما خارجه فإنه وإن أمكن أن يكون مشاهدًا، إلا أن رأس الجبل أظهر في ذلك.

وعليه، فيكون المراد بناء المسجد على رأس الجبل عند القرية التي قدمنا احتمال وجودها، ويُكْتب فيه تاريخ العثور على الفتية وخبرهم، وما يتعلق بذلك.

وحينئذٍ يكون مسجدًا وتذكارًا كما يقتضي الحال.

[ص 17] ولكن هذا الترجيح معارضٌ باحتمال أن الغالبين إنما أرادوا بناء المسجد؛ ليكونوا يحضرون لزيارة قبور الفتية، والتبرك بها، والصلاة في
নামাযের প্রস্তুতির উদ্দেশ্যে মসজিদ নির্মাণ করা কেবল তখনই সঙ্গত হয় যেখানে মুসল্লিদের আধিক্য থাকে, কিন্তু গুহার বিষয়টি তেমন নয়; কেননা যুবকরা এটিকে তাদের আত্মগোপনের স্থান হিসেবে গ্রহণ করেছিলেন, আর তারা লোকালয় থেকে দূরবর্তী স্থান ব্যতীত অন্য কোথাও আত্মগোপন করতেন না।

তাদের নিদ্রার পর ওই স্থানটি আবাদ হওয়ার সম্ভাবনাকে তাদের সেই উক্তিটি নাকচ করে দেয় যখন তারা পুনরুত্থিত হয়েছিলেন: {অতঃপর তোমাদের একজনকে তোমাদের এই মুদ্রাসহ প্রেরণ করো} আয়াত [আল-কাহাফ: ১৯]। এর সাথে বর্ণিত (روي) সেই ঘটনাটিও রয়েছে যে, তাদের একজন শহরে গিয়েছিলেন—যে কাহিনী মুফাসসিরগণ উল্লেখ করেন। তদুপরি মহান আল্লাহর এই বাণীও একে নাকচ করে দেয়: {আর এভাবেই আমি তাদের সম্পর্কে অবগত করলাম} [আল-কাহাফ: ২১]।

'ই’সার' (খুঁজে পাওয়া) শব্দটি কেবল এমন গোপন বস্তুর ক্ষেত্রে ব্যবহৃত হয় যা প্রত্যাশিত ছিল না। আর গুহাটি—যদিও তা ভীতি দ্বারা সংরক্ষিত ছিল—যদি জনবসতির মাঝে হতো তবে তার ভীতিকর অবস্থার কারণেই তা মানুষের নজরে আসত। পাহাড়ের চূড়ার বিষয়টি এর বিপরীত, কারণ সেখানে জনবসতিপূর্ণ গ্রাম থাকার পথে কোনো বাধা নেই, যার একটি মসজিদের প্রয়োজন হতে পারে।

স্মারক রক্ষার উদ্দেশ্য দাবি করে যে, তা এমন স্থানে হবে যা মানুষ প্রত্যক্ষ করতে পারে। গুহার প্রবেশপথ এর অভ্যন্তরের ন্যায় এ কাজের উপযোগী নয়। আর এর বহিরাংশ দৃশ্যমান হওয়া সম্ভব হলেও পাহাড়ের চূড়াই এ ক্ষেত্রে অধিকতর সুস্পষ্ট।

সুতরাং, এর দ্বারা উদ্দেশ্য হলো পাহাড়ের চূড়ায় সেই গ্রামের নিকট মসজিদ নির্মাণ করা যার অস্তিত্বের সম্ভাবনার কথা আমরা পূর্বে উল্লেখ করেছি। সেখানে যুবকদের সন্ধান পাওয়ার ইতিহাস, তাদের সংবাদ এবং এ সংক্রান্ত বিষয়াবলি লিখে রাখা হবে।

এমতাবস্থায় পরিস্থিতি অনুযায়ী এটি একটি মসজিদ ও স্মারক হিসেবে গণ্য হবে।

[পৃষ্ঠা ১৭] কিন্তু এই অগ্রাধিকার প্রদান (ترجيح) এই সম্ভাবনার দ্বারা বিরোধপূর্ণ হয় যে, বিজয়ীরা মূলত মসজিদ নির্মাণের ইচ্ছা করেছিল যাতে তারা যুবকদের কবর যিয়ারত করতে পারে, তা থেকে বরকত হাসিল করতে পারে এবং সেখানে নামায আদায় করতে পারে।
(খণ্ড: ৫) ইমারাতুল কুবুর ফিল ইসলাম - আল-মুসাওয়াদাহ - দিমনা আসারুল মুআল্লিমী (পৃষ্ঠা: ১২)
المسجد المنسوب إليها.

وعلى هذا، فيجب أن يكونوا عزموا على بنائه بقرب الكهف، إن لم يكن في جوفه.

وسيمرّ بك ما يؤيد هذا، إلا أنه على كل حال لا يحتمل أن يكون في جوف الكهف؛ لما قدمنا.

خامسًا: قوله: "فلما قصَّ الله عز وجل هذا في كتابه، ولم يصحبه ما يدل على حظره، دل على جوازه".

فالجواب: يمنع أن يكون مثل هذا دليلًا على الجواز، سواءً أريد الجواز في تلك الواقعة فقط، أم في شرع تلك الأمة مطلقًا، أم في شرعنا بواسطة أننا متعبدون بشرع مَن قبلنا، أم في شرعنا مباشرة.

فقد قص عز وجل ما جرى من إخوة يوسف، ولم ينص في نفس القصة على حُرْمة كل ما هو حرام من تلك الأفعال، وإن ذكر الحكم في موضعٍ آخر من القرآن، فذلك لبيانه من حيث هو، لا ليكون تنبيهًا على ما في تلك القصة، وإلا لكان ناسخًا ومنسوخًا، ولا قائل به.

وفي القصة أنهم باعوه، وقد بينت السنة منع بيع الحر، وإن كان ابنًا أو أخًا للبائع.

وعلى فرض أن مثل هذا يكون دليلًا على الجواز، فالذي في الآية مجرد العزم، فلا يدل على جواز الفعل.

وعلى فرض التسليم بأنها تدل على جواز الفعل، فذلك لو لم يصحبها التنبيه بالحظر، وقد صَحِبها.
তার সাথে সংশ্লিষ্ট মসজিদ।

এর ওপর ভিত্তি করে, তারা গুহার অভ্যন্তরে না হলেও অন্তত তার নিকটবর্তী স্থানে এটি নির্মাণের সংকল্প করেছিল বলে প্রতীয়মান হয়।

শীঘ্রই আপনার নিকট এমন কিছু বিষয় আসবে যা একে সমর্থন করে, তবে যাই হোক না কেন, আমরা যা আগে উল্লেখ করেছি তার প্রেক্ষিতে এটি গুহার অভ্যন্তরে হওয়া সম্ভব নয়।

পঞ্চম: তাঁর বক্তব্য: "যখন মহান আল্লাহ তাঁর কিতাবে এটি বর্ণনা করেছেন এবং এর সাথে এর নিষিদ্ধতা (حظر) নির্দেশক কোনো কিছু উল্লেখ করেননি, তখন এটি এর বৈধতা (جواز) প্রমাণ করে।"

উত্তর হলো: এই ধরনের বিষয় বৈধতার (جواز) দলিল হওয়া অসম্ভব, চাই সেই বৈধতা (جواز) কেবল সেই বিশেষ ঘটনার ক্ষেত্রে উদ্দেশ্য হোক, অথবা সেই উম্মতের শরিয়তের জন্য সাধারণভাবে হোক, কিংবা আমাদের শরিয়তের ক্ষেত্রে আমাদের পূর্ববর্তীদের শরিয়ত পালনের বাধ্যবাধকতার মাধ্যমে হোক, অথবা সরাসরি আমাদের শরিয়তের ক্ষেত্রে হোক।

কেননা মহান আল্লাহ ইউসুফ (আলাইহিস সালাম)-এর ভাইদের সাথে যা ঘটেছিল তা বর্ণনা করেছেন, অথচ সেই একই বর্ণনায় উক্ত কাজগুলোর মধ্যে যা যা হারাম (حرام) ছিল তার নিষিদ্ধতা (حرمة) স্পষ্টভাবে উল্লেখ করেননি। যদিও কুরআনের অন্য স্থানে সেই বিধান বর্ণিত হয়েছে, তবে তা স্বতন্ত্রভাবে বিধান বর্ণনার জন্য হয়েছে, উক্ত ঘটনার ওপর সতর্কবার্তা হিসেবে নয়; অন্যথায় এখানে রহিতকারী (ناسخ) ও রহিত (منسوخ)-এর বিষয়টি চলে আসত, অথচ এমন কথা কেউ বলেননি।

উক্ত ঘটনায় বর্ণিত হয়েছে যে তারা তাঁকে বিক্রি করে দিয়েছিল, অথচ সুন্নাহ স্বাধীন মানুষকে বিক্রি করা নিষিদ্ধ হওয়ার বিষয়টি স্পষ্ট করেছে, যদিও সে বিক্রেতার সন্তান বা ভাই হয়।

আর যদি ধরেও নেওয়া হয় যে এই জাতীয় বিষয় বৈধতার (جواز) দলিল হতে পারে, তবে আয়াতে কেবল সংকল্পের কথা এসেছে, যা কাজের বৈধতা (جواز) নির্দেশ করে না।

এমনকি এটি কাজের বৈধতা (جواز) নির্দেশ করে বলে মেনে নিলেও, তা কেবল তখনই হতো যদি এর সাথে নিষিদ্ধতার (حظر) কোনো সতর্কবাণী না থাকত; অথচ এখানে তা বিদ্যমান রয়েছে।
(খণ্ড: ৫) ইমারাতুল কুবুর ফিল ইসলাম - আল-মুসাওয়াদাহ - দিমনা আসারুল মুআল্লিমী (পৃষ্ঠা: ১৩)
أما التنبيه الموعود؛ فهو على أوجه: مصحوبٍ بالآية نفسها، وواقعٍ في محلٍّ آخر من القرآن، وواقعٍ في السنة.

فأما الذي في الآية، فبيانه: أن الله عز وجل قال: {إِذْ يَتَنَازَعُونَ بَيْنَهُمْ}، فدل على تنازعٍ كان بين القوم في أمر الفتية.

ثم قال تعالى: {فَقَالُوا} فدل لوجود الفاء أن هذا بيانٌ وتفصيلٌ للتنازع المجمل قبل، كما تقول: اختلف الأئمة في كذا، فقال فلانٌ كذا، وقال فلانٌ كذا … إلخ.

ثم إن جُعِلت الواو للجميع بناءً على الظاهر، ففي الكلام حذفٌ لا يتحقق التنازع الذي صرح به في الآية، وقام الدليل على أن ما بعد الفاء بيانٌ له، إلا بتقديره، كأنهم(1) قال: فقالوا جميعًا: ابنوا عليهم بنيانًا ربهم أعلم بهم. ثم قال أحد الفريقين: لا تزيدوا شيئًا غير البنيان مِن مسجدٍ وغيره= {قَالَ الَّذِينَ غَلَبُوا … } إلخ.

فاتفق القوم أجمعون على بناء بنيان لسَتْر جثث الفتية، وتنازعوا في بناء المسجد.

وإذا جُعِلت الواو لأحد الفريقين أطلقت بلا تأويل، وصحَّ مجيء الضمير مع عدم تقدّم مرجع له؛ لتقدم ما يدل عليه، وهو التنازع الدال على افتراقهم، فكأنه قال: "ففريقٌ منهم قالوا … " ففي الكلام إيهامٌ، أي: أن القائلين هم الجميع.

--------------------------------------------

(1) كذا ولعلها: "كأنه".
প্রতিশ্রুতিবদ্ধ সতর্কতা সম্পর্কে বলা যায়, এটি কয়েকভাবে হতে পারে: আয়াতের সাথে যুক্ত হয়ে, কুরআনের অন্য কোনো স্থানে কিংবা সুন্নাহতে (السنة)।

আর আয়াতের অন্তর্ভুক্ত বিষয়টি হলো: মহান আল্লাহ বলেছেন: {যখন তারা নিজেদের মধ্যে বাদানুবাদ করছিল}, যা নির্দেশ করে যে যুবকদের বিষয়ে কওমের মধ্যে একটি বাদানুবাদ বা বিতর্ক সংঘটিত হয়েছিল।

এরপর আল্লাহ তাআলা বলেছেন: {অতঃপর তারা বলল}, এখানে ‘ফা’ বর্ণের উপস্থিতি নির্দেশ করে যে এটি পূর্বোক্ত সংক্ষিপ্ত (مجمل) বাদানুবাদের বর্ণনা ও বিস্তারিত বিবরণ (تفصيل), যেমনটি আপনি বলে থাকেন: ইমামগণ অমুক বিষয়ে মতবিরোধ করেছেন, অতঃপর অমুক ব্যক্তি এটি বলেছেন এবং অমুক ব্যক্তি সেটি বলেছেন... ইত্যাদি।

অতঃপর বাহ্যিক (الظاهر) অবস্থার ওপর ভিত্তি করে যদি ‘ওয়াও’ বর্ণটিকে সকলের জন্য ধরা হয়, তবে বক্তব্যে এমন কিছু শব্দ উহ্য (حذف) রয়েছে যা ছাড়া আয়াতে স্পষ্টভাবে বর্ণিত বাদানুবাদটি পূর্ণ হয় না; আর এই প্রমাণ প্রতিষ্ঠিত হয়েছে যে ‘ফা’-এর পরের অংশটুকু তারই বর্ণনা, যতক্ষণ না তা উহ্য বা অনুমিত (تقديره) ধরে নেওয়া হয়। যেন তারা(১) বলেছে: অতঃপর তারা সকলেই বলল: তাদের ওপর একটি ইমারত নির্মাণ করো, তাদের প্রতিপালক তাদের সম্পর্কে ভালো জানেন। এরপর দুই দলের একদল বলল: ইমারত ছাড়া মসজিদ বা অন্য কিছু বৃদ্ধি করো না= {যারা জয়ী হয়েছিল তারা বলল...} ইত্যাদি।

সুতরাং যুবকদের মরদেহ আবৃত করার জন্য একটি ইমারত নির্মাণের ব্যাপারে কওমের সকলেই একমত হয়েছিলেন, কিন্তু মসজিদ নির্মাণের ব্যাপারে তারা বাদানুবাদে লিপ্ত হন।

আর যদি ‘ওয়াও’ বর্ণটিকে দুই দলের এক দলের জন্য নির্দিষ্ট করা হয়, তবে কোনো ব্যাখ্যা (تأويل) ছাড়াই এটি প্রয়োগ করা হবে এবং সর্বনামের (الضمير) পূর্বে তার নির্দেশিত শব্দ না থাকা সত্ত্বেও তার ব্যবহার সঠিক (صحَّ) হবে; কারণ পূর্বে এমন বিষয় রয়েছে যা তার প্রতি নির্দেশ করে—আর তা হলো সেই বাদানুবাদ যা তাদের মধ্যকার বিভাজনকে নির্দেশ করছে। যেন তিনি বললেন: "তাদের একটি দল বলল...", এমতাবস্থায় বক্তব্যে অস্পষ্টতা (إيهام) পরিলক্ষিত হয়, অর্থাৎ: বক্তব্য প্রদানকারী যেন সকলেই।

--------------------------------------------

(1) মূল পাঠে এভাবেই আছে, তবে সম্ভবত এটি: "যেন তিনি" (كأنه) হবে।
(খণ্ড: ৫) ইমারাতুল কুবুর ফিল ইসলাম - আল-মুসাওয়াদাহ - দিমনা আসারুল মুআল্লিমী (পৃষ্ঠা: ১৪)
وإذا جعلتها لأحد الفريقين بتأويل، أي: أنها عائدةٌ صناعةً إلى القوم جميعًا، ولكن لا على أنهم قالوا ذلك كلهم حقيقةً، بل على إقامة القائلين مُقام الجميع، فكأن القوم كلهم قالوا ذلك.

فأطلق على الفريق الأول الضمير الذي ظاهره أنه للجميع، لإقامة ذلك الفريق مقام الجميع، كأن الفريق الثاني لا وجود له.

والثاني أرجح؛ لما تقدم أن الفاء تدل على أن ما بعدها تفصيلٌ للتنازع، فلزم أن يكون مدخولها مما وقع فيه التنازع، وهذا إنما يتم على الثاني.

وأيضًا المجاز والإيهام على المعنى الذي قدمناه أبلغ من الحذف.

وأيضًا يؤيده قوله: {ابْنُوا} بالخطاب، ولو كان القائلون هم الجميع، لكان الظاهر أن يقال: "نبني" أو نحوه.

إذا تقرر هذا فأي الفريقين المؤمنون؟ فإن المفسرين اختلفوا في ذلك، كما سيأتي نقل كلامهم إن شاء الله(1).

فذهب بعضُهم إلى أن الغالبين هم المؤمنون، بناءً على عزمهم على اتخاذ المسجد، وعلى أخبارٍ مأثورة عمَّن قبلنا.

أما نحن فنقول: إن مجرَّد العزم على اتخاذ المسجد لا يكفي، بل ربما كان كفرًا كما ذكره الله عز وجل في أهل مسجد الضرار، وربما فعله المتدينون جهلًا، وهو حرامٌ كبنائه في غير المِلك، أو في طريق عامة، أو نحو ذلك.

--------------------------------------------

(1) لم يذكر المؤلف في هذه النسخة اختلاف المفسرين الذي وعد به. وذكر طرفًا منه في النسخة الأخرى في آخرها (ص 131 وما بعدها). وانظر "تفسير الطبري": (15/ 217)، و"الدر المنثور": (4/ 392)، و"تفسير ابن كثير": (5/ 2152).
আর যদি আপনি ব্যাখ্যার (تأويل) মাধ্যমে একে দুই দলের কোনো এক পক্ষের জন্য সাব্যস্ত করেন, অর্থাৎ এটি কৌশলগতভাবে পুরো গোত্রের দিকেই প্রত্যাবর্তন করছে, কিন্তু তারা সবাই প্রকৃতপক্ষে এটি বলেছে এমন অর্থে নয়, বরং যারা বলেছে তাদেরকে সবার স্থলাভিষিক্ত করার মাধ্যমে; যেন মনে হয় পুরো গোত্রই তা বলেছে।

ফলে প্রথম দলের ক্ষেত্রে এমন সর্বনাম প্রয়োগ করা হয়েছে যা বাহ্যত সবার জন্য প্রযোজ্য, যাতে সেই দলকে সবার স্থলাভিষিক্ত করা যায়, যেন দ্বিতীয় দলের কোনো অস্তিত্বই নেই।

আর দ্বিতীয় মতটিই অধিক অগ্রগণ্য (أرجح); কারণ ইতিপূর্বে অতিবাহিত হয়েছে যে, 'ফা' (ف) অব্যয়টি নির্দেশ করে যে এর পরবর্তী অংশটি বিবাদের বিস্তারিত বিবরণ, ফলে এর দ্বারা যা সূচিত হয়েছে তা বিবাদের বিষয়ের অন্তর্ভুক্ত হওয়া আবশ্যক, আর এটি কেবল দ্বিতীয় মতের ভিত্তিতেই সম্ভব হয়।

তাছাড়া, আমাদের বর্ণিত অর্থের ভিত্তিতে রূপক ও দ্ব্যর্থবোধকতা বজায় রাখা বিলোপ করার চেয়ে অধিক অলঙ্কারপূর্ণ।

এটি আরও সমর্থিত হয় তাঁর বাণী: {তোমরা নির্মাণ করো} সম্বোধনবাচক শব্দের মাধ্যমে; আর বক্তা যদি সবাই হতো তবে বাহ্যত 'আমরা নির্মাণ করি' বা এই জাতীয় শব্দ বলা হতো।

যখন এটি প্রতিষ্ঠিত হলো, তখন প্রশ্ন থাকে দুই দলের মধ্যে মুমিন কারা? কেননা মুফাসসিরগণ এ বিষয়ে মতভেদ করেছেন, যেমন ইনশাআল্লাহ তাদের বক্তব্যের উদ্ধৃতি সামনে আসবে।(১)

তাদের কেউ কেউ এই মত ব্যক্ত করেছেন যে, বিজয়ীরাই ছিল মুমিন; তাদের মসজিদ নির্মাণের সংকল্প এবং আমাদের পূর্ববর্তীদের থেকে বর্ণিত (مأثورة) খবরের (أخبار) ওপর ভিত্তি করে।

তবে আমরা বলি: কেবল মসজিদ নির্মাণের সংকল্পই যথেষ্ট নয়, বরং এটি কখনো কখনো কুফরিও হতে পারে, যেমন আল্লাহ আজ্জা ওয়া জাল্লা মাসজিদে দিরার-এর অধিবাসীদের ক্ষেত্রে উল্লেখ করেছেন। আবার কখনো দ্বীনদার ব্যক্তিরা অজ্ঞতাবশত এটি করতে পারেন, যা হারাম (حرام); যেমন অন্যের মালিকানাধীন জায়গায় বা সাধারণ চলাচলের পথে মসজিদ নির্মাণ করা বা এই জাতীয় কাজ।

--------------------------------------------

(১) লেখক এই পাণ্ডুলিপিতে মুফাসসিরগণের সেই মতভেদের কথা উল্লেখ করেননি যার প্রতিশ্রুতি তিনি দিয়েছিলেন। তবে তিনি অন্য পাণ্ডুলিপির শেষে (পৃষ্ঠা ১৩১ এবং পরবর্তী) এর কিছু অংশ উল্লেখ করেছেন। দেখুন: 'তাফসিরে তাবারী': (১৫/২১৭), 'আদ-দুররুল মানসুর': (৪/৩৯২) এবং 'তাফসিরে ইবনে কাসীর': (৫/২১৫২)।
(খণ্ড: ৫) ইমারাতুল কুবুর ফিল ইসলাম - আল-মুসাওয়াদাহ - দিমনা আসারুল মুআল্লিমী (পৃষ্ঠা: ১৫)
وأما الأخبار المأثورة؛ فإن صحَّ شيءٌ منها عن النبي صلى الله عليه وآله وسلم نظرنا فيه، وفي الأدلة المخالفة، وأخذنا بالأحسن كما أمرنا عز وجل.

وإن كانت عن غيره من أئمة أمته، نظرنا دليلهم، ورجحنا.

وإن كانت عن أهل الكتاب، لم نعبأ بها، فقد أُمرنا أن لا نصدّقهم في شيءٍ، وخاصة في هذه القصة نفسها، قال الله عز وجل: {وَلَا تَسْتَفْتِ فِيهِمْ} [الكهف: 22] أي: الفتية {مِنْهُمْ} أي: أهل الكتاب {أَحَدًا}.

أما ورود شيءٍ عن النبي صلى الله عليه وآله وسلم فلم يبلغنا، وأما عن بعض الأئمة، فنعم، ولكن لم نعلم لهم دليلًا إلا عزم الفريق الثاني على اتخاذ المسجد، وتقرر ما فيه، ومع ذلك ننظر في أدلة القول الآخر.

فننظر أولًا في الآية.

فنجد أولًا: إطلاق ضمير الجميع على الفريق الأول، أو إيهام ذلك، يدل أن له مزية استحق بها أن يُقام مُقام الجميع، وهذه المزية ليست الغلبة؛ لأن الله عز وجل أثبتها للفريق الثاني، فلم يبق هناك ما يصلح لكونه مزية بهذه المثابة إلا العلم والدين.

ونجد ثانيًا: أن الله عز وجل حكى عن الفريق الأول قولهم: {رَبُّهُمْ أَعْلَمُ بِهِمْ}. وهذه كلمة جليلةٌ، تدل على علم قائلها ودينه.

ونجد ثالثًا: تقديم الله عز وجل للفريق الأول، والتقديم يُشْعِر بمزية للمقدم، وأقرب ما يتصور من المزايا: العلم والدين.

ونجد رابعًا: قوله عز وجل في الفريق الثاني: {قَالَ الَّذِينَ غَلَبُوا عَلَى
আর বর্ণিত সংবাদসমূহের (الأخبار المأثورة) ব্যাপারে; যদি এর মধ্য হতে কোনো কিছু নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়া সাল্লাম থেকে সহিহ (صحَّ) হিসেবে প্রমাণিত হয়, তবে আমরা সেটি এবং এর বিপরীত দলিলসমূহ পর্যালোচনা করব এবং মহান আল্লাহর নির্দেশানুযায়ী যেটি সর্বোত্তম সেটি গ্রহণ করব।

আর যদি তা তাঁর উম্মতের অন্যান্য ইমামদের পক্ষ থেকে বর্ণিত হয়, তবে আমরা তাঁদের দলিলসমূহ বিবেচনা করব এবং অগ্রাধিকার (ترجيح) প্রদান করব।

আর যদি তা আহলে কিতাবদের পক্ষ থেকে বর্ণিত হয়, তবে আমরা সেগুলোর প্রতি ভ্রুক্ষেপ করব না। কেননা আমাদের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে যেন আমরা কোনো বিষয়েই তাদের সত্যায়ন না করি, বিশেষ করে এই নির্দিষ্ট ঘটনার ক্ষেত্রে। মহান আল্লাহ বলেছেন: {তাদের বিষয়ে কোনো ফতোয়া জিজ্ঞাসা করবেন না} [আল-কাহফ: ২২] অর্থাৎ: সেই যুবকদের ব্যাপারে {তাদের মধ্য হতে} অর্থাৎ: আহলে কিতাবদের {কারো কাছে}।

নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়া সাল্লাম থেকে এ বিষয়ে কোনো কিছু বর্ণিত হওয়ার (ورود) সংবাদ আমাদের কাছে পৌঁছেনি। তবে কোনো কোনো ইমামের পক্ষ থেকে বর্ণিত হয়েছে; কিন্তু তাঁদের স্বপক্ষে দ্বিতীয় দলের মসজিদ নির্মাণের সংকল্প এবং সে অনুযায়ী বিষয়টি স্থির হওয়া ব্যতীত অন্য কোনো দলিল আমাদের জানা নেই। তা সত্ত্বেও আমরা অন্য মতের দলিলসমূহ পর্যালোচনা করব।

সুতরাং আমরা প্রথমে আয়াতটি পর্যালোচনা করব।

আমরা প্রথমত দেখতে পাই: প্রথম দলের ক্ষেত্রে সমষ্টিবাচক সর্বনামের প্রয়োগ বা এর আভাস প্রদান করা এটিই নির্দেশ করে যে, তাদের এমন কোনো বৈশিষ্ট্য ছিল যার কারণে তারা সকলের স্থলাভিষিক্ত হওয়ার যোগ্য হয়েছিল। আর এই বৈশিষ্ট্যটি কেবল আধিপত্য নয়; কারণ আল্লাহ তাআলা দ্বিতীয় দলের জন্য তা সাব্যস্ত করেছেন। সুতরাং সেখানে জ্ঞান ও দ্বীনদারিতা ছাড়া এমন আর কিছুই অবশিষ্ট নেই যা এই স্তরের বৈশিষ্ট্য হওয়ার যোগ্য হতে পারে।

দ্বিতীয়ত আমরা দেখতে পাই: মহান আল্লাহ প্রথম দলের এই উক্তিটি উদ্ধৃত করেছেন: {তাদের প্রতিপালকই তাদের ব্যাপারে ভালো জানেন}। এটি একটি অত্যন্ত মর্যাদাপূর্ণ কথা, যা বক্তার জ্ঞান ও দ্বীনদারিতার প্রমাণ দেয়।

তৃতীয়ত আমরা দেখতে পাই: মহান আল্লাহ প্রথম দলটিকে অগ্রগণ্য (تقديم) করেছেন। আর কোনো বিষয়কে আগে উল্লেখ করা তার শ্রেষ্ঠত্বের ইঙ্গিত দেয়। এক্ষেত্রে শ্রেষ্ঠত্বের সবচেয়ে নিকটবর্তী ধারণা হলো জ্ঞান ও দ্বীনদারিতা।

চতুর্থত আমরা দেখতে পাই: দ্বিতীয় দলের ব্যাপারে মহান আল্লাহর বাণী: {যারা তাদের বিষয়ে বিজয়ী হয়েছিল তারা বলল...
(খণ্ড: ৫) ইমারাতুল কুবুর ফিল ইসলাম - আল-মুসাওয়াদাহ - দিমনা আসারুল মুআল্লিমী (পৃষ্ঠা: ১৬)
أَمْرِهِمْ} فأَشْعَر أن الحامل لهم على هذا العزم هو الغَلَبة، على ما قرره علماء البيان، في باب المسند إليه في مجيئه موصولًا؛ للإيماء إلى وجه بناء الخبر(1).

وقرّره أهل الأصول(2): أن إيقاع الحكم على المشتق يؤذن بِعِلِّية ما منه الاشتقاق، وهو في الموصول أوضح.

والغالب أن الغلبة تكون سببًا للمعصية، والغالبُ في الأمم السابقة: أن الغلبةَ إنما تكون للضالين، والغالبُ في الأمم السابقة أيضًا: التكذيب بالآيات، والضلال فيها نوع من التكذيب بها.

قال الله عز وجل: {وَقَلِيلٌ مِنْ عِبَادِيَ الشَّكُورُ} [سبأ: 13]. وقال تبارك وتعالى: {وَمَا وَجَدْنَا لِأَكْثَرِهِمْ مِنْ عَهْدٍ وَإِنْ وَجَدْنَا أَكْثَرَهُمْ لَفَاسِقِينَ} [الأعراف: 102].

وعلى كل حال، فوصف هؤلاء بالغَلَبة، مع وصف مقابليهم بما تقدم، يُشْعر بأنهم ذوو جهل وغلو، واتخاذ المسجد لا ينافي الجهل والغلو، كما لا يخفى.

وننظر ثانيًا في غير هذه الآية من القرآن؛ فنجد قوله عز وجل: {وَأَنَّ الْمَسَاجِدَ لِلَّهِ فَلَا تَدْعُوا مَعَ اللَّهِ أَحَدًا} [الجن: 18]. تدل أنه لا ينبغي بناء مسجد

--------------------------------------------

(1) انظر "التلخيص ــ شرح البرقوقي" (ص 60)، و"المطوّل شرح التلخيص" (ص 74).

(2) انظر "البحر المحيط": (5/ 201) للزركشي، و"التحبير شرح التحرير": (7/ 3349 - 3350) للمرداوي.
{তাদের বিষয়} এটি ইঙ্গিত দেয় যে, তাদের এই সংকল্পের পেছনে চালিকাশক্তি ছিল তাদের প্রবলতা বা প্রাধান্য (الغلبة), যা অলঙ্কারশাস্ত্রবিদগণ (علماء البيان) 'মুসনাদ ইলাইহি' (المসند إليه) পরিচ্ছেদে এটি 'মাওসুল' (موصولاً) হিসেবে আসার ক্ষেত্রে সংবাদের ভিত্তি রচনার কারণ হিসেবে স্থির করেছেন(১)。

এবং মূলনীতিবিদগণ (أهل الأصول)(২) এটি নির্ধারণ করেছেন যে: কোনো ব্যুৎপন্ন শব্দের (المشتق) ওপর বিধান আরোপ করা সেই শব্দের বুৎপত্তিগত উৎসের কারণ (علية) হওয়ার জানান দেয়, আর 'মাওসুল' (الموصول) এর ক্ষেত্রে এটি আরও স্পষ্ট।

আর সাধারণত প্রাধান্য বা ক্ষমতা (الغلبة) পাপাচারের কারণ হয়ে থাকে। পূর্ববর্তী উম্মতদের ক্ষেত্রে দেখা যায় যে, প্রাধান্য কেবল পথভ্রষ্টদের জন্যই হতো। পূর্ববর্তী উম্মতদের মধ্যে আরও একটি বিষয় পরিলক্ষিত হয়: নিদর্শনসমূহের প্রতি মিথ্যারোপ করা; আর পথভ্রষ্টতা হলো সেই মিথ্যারোপেরই একটি রূপ।

আল্লাহ আযযা ওয়া জাল্লা বলেছেন: {আমার বান্দাদের মধ্যে অল্প সংখ্যকই কৃতজ্ঞ} [সাবা: ১৩]। এবং তিনি তাবারাকা ওয়া তাআলা বলেছেন: {আমি তাদের অধিকাংশের মধ্যে কোনো প্রতিশ্রুতির প্রতিফলন পাইনি; বরং আমি তাদের অধিকাংশকেই পাপাচারী হিসেবে পেয়েছি} [আরাফ: ১০২]।

যাই হোক, এই লোকদের প্রাধান্য (الغلبة) দ্বারা বিশেষিত করার পাশাপাশি তাদের বিপরীতে অবস্থানকারীদের পূর্বোক্ত গুণাবলী দ্বারা বিশেষিত করা—এটিই নির্দেশ করে যে তারা ছিল অজ্ঞ ও চরমপন্থী (غلو)। আর মসজিদ নির্মাণ করা অজ্ঞতা ও চরমপন্থার (غلو) পরিপন্থী নয়, যা মোটেই অস্পষ্ট নয়।

আমরা দ্বিতীয়ত কুরআনের এই আয়াত ব্যতীত অন্য আয়াতের দিকে তাকালে পাই মহান আল্লাহর বাণী: {আর নিশ্চয়ই মসজিদসমূহ আল্লাহরই জন্য, সুতরাং তোমরা আল্লাহর সাথে অন্য কাউকে ডেকো না} [জিন: ১৮]। এটি নির্দেশ করে যে, মসজিদ নির্মাণ করা সমীচীন নয়...

--------------------------------------------

(১) দেখুন "আত-তালখিস ــ শারহুল বারকুকি" (পৃ. ৬০), এবং "আল-মুতাউওয়াল শারহুত তালখিস" (পৃ. ৭৪)।

(২) দেখুন যরকাশি রচিত "আল-বাহরুল মুহিত": (৫/২০১), এবং মারদাউয়ি রচিত "আত-তাহবির শারহুত তাহরির": (৭/৩৩৪৯ - ৩৩৫০)।
(খণ্ড: ৫) ইমারাতুল কুবুর ফিল ইসলাম - আল-মুসাওয়াদাহ - দিমনা আসারুল মুআল্লিমী (পৃষ্ঠা: ১৭)
على قبر، كما سيأتي إن شاء الله تعالى(1)، وهذا هو القسم الثاني من التنبيه.

وننظر ثالثًا في السنة النبوية؛ فنجدها متواترة بذمّ الذين كانوا من الأمم السابقة يتخذون قبور أنبيائهم وصُلَحائهم مساجد ولَعْنهم، واشتداد غضب الله عليهم، كما سيأتي بيانه إن شاء الله.

وقد جاء النصّ على النصارى بشيءٍ من الأحاديث، كما سيأتي إن شاء الله(2)، ولاسيما وأكثر المفسرين على أن القوم الذين أعثروا على أهل الكهف كانوا نصارى، فتبين الصبح لذي عينين.

ونقطع أن الفريق الأول هم أهل العلم والدين، وأنهم محمودون بما ذهبوا إليه من الأمر ببناء جدار على باب الكهف، يستر جثث أولئك الفتية.

وأن الفريق الثاني بخلاف ذلك كله، في مخالفتهم للفريق الأول، وعزمهم على بناء مسجد على باب الكهف، يكون أحد جدرانه ساترًا للكهف، كما يدل عليه معنى الآية، على ما قدمناه من التفصيل.

وهذا هو القسم الثالث من التنبيه.

وعلى فرض عدم التنبيه، فهي واقعةُ عينٍ لا عمومَ لها ، وعلى فرض قيام دليل على العموم، ففي حق تلك الأمة فقط، بناء على أننا غير متعبَّدين بشرع من قبلنا.

وعلى تسليم أننا مُتعبَّدون بشرع من قبلنا، فذلك إذا لم يوجد في شرعنا ما يخالفه، وقد وُجِد كما مرَّ مفصَّلًا.

--------------------------------------------

(1) (ص 21).

(2) لم يأتِ شيء في هذه النسخة، وانظر الأخرى (ص 24، 132).
কবরের উপর, যেমনটি ইনশাআল্লাহ তাআলা সামনে আসবে(১), আর এটিই সতর্কবার্তার দ্বিতীয় অংশ।

তৃতীয়ত, আমরা সুন্নাহর প্রতি দৃষ্টিপাত করি; সেখানে আমরা একে ব্যাপকভাবে বর্ণিত (متواترة) পাই সেই সব পূর্ববর্তী জাতিদের নিন্দার ক্ষেত্রে, যারা তাদের নবি ও নেককারদের কবরসমূহকে মসজিদে রূপান্তর করেছিল এবং তাদের প্রতি লানত ও আল্লাহর কঠোর ক্রোধের বিষয়েও, যা ইনশাআল্লাহ সামনে বিস্তারিত বর্ণিত হবে।

খ্রিস্টানদের বিষয়ে কিছু হাদিসে সুস্পষ্ট বর্ণনা এসেছে, যা ইনশাআল্লাহ সামনে আসবে(২)। বিশেষ করে অধিকাংশ মুফাসসিরের মতে, আসহাবে কাহাফের সন্ধান পাওয়া সেই দলটি ছিল খ্রিস্টান; সুতরাং বিষয়টি এখন দিবালোকের ন্যায় স্পষ্ট।

আমরা সুনিশ্চিতভাবে বলতে পারি যে, প্রথম দলটি ছিল ইলম ও দীনের অধিকারী এবং তারা গুহার প্রবেশপথে একটি দেয়াল নির্মাণের যে সিদ্ধান্ত নিয়েছিল—যাতে সেই যুবকদের মৃতদেহগুলো ঢেকে রাখা যায়—তার জন্য তারা প্রশংসার যোগ্য।

আর দ্বিতীয় দলটি এর সম্পূর্ণ বিপরীত ছিল; তারা প্রথম দলের বিরোধিতা করেছিল এবং গুহার প্রবেশপথে একটি মসজিদ নির্মাণের সংকল্প করেছিল, যার একটি দেয়াল গুহাটিকে আড়াল করে রাখবে। যেমনটি আয়াতের অর্থ থেকে প্রতীয়মান হয় এবং আমরা পূর্বে যে বিস্তারিত আলোচনা করেছি।

আর এটিই সতর্কবার্তার তৃতীয় অংশ।

আর যদি সতর্কবার্তা না-ও থাকে, তবুও এটি একটি বিশেষ ঘটনা (واقعة عين), যার কোনো ব্যাপকতা (عموم) নেই। আর যদি ব্যাপকতার কোনো দলিল পাওয়াও যায়, তবে তা কেবল সেই উম্মতের জন্যই প্রযোজ্য হবে। কারণ, আমাদের পূর্ববর্তী উম্মতগণের শরিয়ত মেনে চলতে আমরা আদিষ্ট নই।

যদি মেনেও নেওয়া হয় যে আমরা পূর্ববর্তীদের শরিয়ত পালনে আদিষ্ট, তবে তা কেবল তখনই প্রযোজ্য হবে যখন আমাদের শরিয়তে তার বিপরীত কিছু না থাকবে; অথচ আমাদের শরিয়তে এর বিপরীত বিধান বিদ্যমান রয়েছে, যা ইতিপূর্বে বিস্তারিত আলোচিত হয়েছে।

--------------------------------------------

(১) (পৃ. ২১)।

(২) এই নুসখায় কিছু উল্লেখ নেই, অন্যটি দেখুন (পৃ. ২৪, ১৩২)।
(খণ্ড: ৫) ইমারাতুল কুবুর ফিল ইসলাম - আল-মুসাওয়াদাহ - দিমনা আসারুল মুআল্লিমী (পৃষ্ঠা: ১৮)
فإن قيل: إن الدليل هنا على كونه شرعًا لِمَن قبلنا في الكتاب، والدليل المخالف له في السنة، فيكون نسخًا للكتاب بالسنة.

أجيب: أن في جواز نسخ الكتاب بالسنة خلافًا، ولكن لا حاجة بنا لذكره، وبيان الراجح، فإن ما نحن فيه ليس من نسخ الكتاب بالسنة في شيء، وإنما هو من نَسْخ شرع من قبلنا بشرعنا، والمنسوخ في الحقيقة هو خطاب من الله عز وجل لنبي تلك الأمة.

فأما الآية التي في كتابنا، فأقصى ما يُدَّعى فيها: أنها في قوة خبر، بأن ذلك الفعل كان جائزًا في شرع تلك الأمة، وهذا ــ على فرض صحة الدعوى ــ خبرٌ صادق لا يتصور نسخه أصلًا، وهذا بيِّنٌ، فلا نطيل بزيادة إيضاحه، وذكر أمثلته.

[ص 10] بقي أن يكون المراد بالجواز المدَّعى دلالة الآية عليه، الجواز في شرعنا مباشرة، وهذا لا وجه له. وعلى فرض أن له شِبْه دلالة، فأقصى ما يُدَّعَى فيها أنها دلالة ظاهرة.

فيجاب: بأن السنة بينت عدم اعتبارها، ولا حاجة لزيادة الفروض والتسليمات، فالأمر أوضح من ذلك.

سادسًا: قوله: "بل إذا لاحظنا أن القَصَص الوارد في القرآن لم يرد لمجرَّد حكاية وقائع تاريخية، وإنما هو للاعتبار … " إلخ.

قد يقال: إن قصة أصحاب الكهف نزلت ــ كما في أسباب النزول(1) ــ لما سألت قريشٌ النبيَّ صلى الله عليه وآله وسلم عنهم بإيعاز اليهود إليهم،

--------------------------------------------

(1) انظر "الدر المنثور": (4/ 380).
যদি বলা হয়: এখানে এটি আমাদের পূর্ববর্তীদের জন্য শরিয়ত হওয়ার দলিল কিতাবে বিদ্যমান, আর এর বিপরীত দলিল সুন্নাহয় বিদ্যমান, ফলে এটি সুন্নাহ দ্বারা কিতাব রহিতকরণ (نسخ) হওয়া বুঝায়।

উত্তর হলো: সুন্নাহর মাধ্যমে কিতাব রহিতকরণ (نسخ) হওয়ার বৈধতা নিয়ে মতভেদ রয়েছে, তবে তা উল্লেখ করার বা অগ্রগণ্য (الراجح) মতটি বর্ণনা করার প্রয়োজন আমাদের নেই। কারণ আমাদের আলোচ্য বিষয়টি সুন্নাহর মাধ্যমে কিতাব রহিতকরণ (نسخ) হওয়ার অন্তর্ভুক্ত নয়; বরং এটি আমাদের শরিয়ত দ্বারা আমাদের পূর্ববর্তীদের শরিয়ত রহিতকরণ (نسخ) মাত্র। প্রকৃতপক্ষে যা রহিত (المنسوخ) করা হয়েছে, তা হলো সেই উম্মতের নবীর প্রতি মহান আল্লাহর পক্ষ থেকে আসা সম্বোধন।

আমাদের কিতাবের আয়াতের ব্যাপারে সর্বোচ্চ যা দাবি করা যায় তা হলো: এটি একটি সংবাদ (خبر) এর সমতুল্য যে, সেই কাজটি সেই উম্মতের শরিয়তে বৈধ ছিল। আর এই দাবি সঠিক ধরে নিলেও, এটি একটি সত্য সংবাদ (خبر صادق), যার রহিতকরণ (نسخ) আদৌ কল্পনা করা যায় না। এটি একটি স্পষ্ট বিষয়, তাই এর অধিকতর ব্যাখ্যা এবং উদাহরণ দিয়ে আমরা কথা দীর্ঘ করব না।

[পৃষ্ঠা ১০] বাকি থাকল আয়াতের নির্দেশনা (دلالة) অনুযায়ী দাবিকৃত বৈধতা দ্বারা সরাসরি আমাদের শরিয়তে বৈধ হওয়া উদ্দেশ্য হওয়া, কিন্তু এর কোনো ভিত্তি নেই। আর যদি ধরেও নেওয়া হয় যে এতে নির্দেশনার (دلالة) সাদৃশ্য রয়েছে, তবে বড়জোর একে প্রকাশ্য নির্দেশনা (دلالة ظاهرة) হিসেবে দাবি করা যেতে পারে।

জবাবে বলা হবে: সুন্নাহ এর অগ্রহণযোগ্যতা স্পষ্ট করে দিয়েছে, তাই অতিরিক্ত অনুমান বা স্বীকৃতির প্রয়োজন নেই, বিষয়টি এর চেয়েও স্পষ্ট।

ষষ্ঠত: তাঁর বক্তব্য: "বরং আমরা যদি লক্ষ্য করি যে কুরআনে বর্ণিত কাহিনীগুলো কেবল ঐতিহাসিক ঘটনাবলি বর্ণনা করার জন্য আসেনি, বরং তা শিক্ষা গ্রহণের (الاعتبار) জন্য এসেছে..." ইত্যাদি।

বলা যেতে পারে: আসহাবুল কাহাফের ঘটনা অবতীর্ণ হয়েছে—যেমনটি শানে নুযুল (أسباب النزول)(১)-এ বর্ণিত হয়েছে—যখন কুরাইশরা ইহুদিদের প্ররোচনায় নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়া সাল্লাম-কে তাদের সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করেছিল।

--------------------------------------------

(১) দেখুন "আদ-দুররুল মানসুর": (৪/ ৩৮০)।
(খণ্ড: ৫) ইমারাতুল কুবুর ফিল ইসলাম - আল-মুসাওয়াদাহ - দিমনা আসারুল মুআল্লিমী (পৃষ্ঠা: ১৯)
فكانت الحكمة في إنزالها أن تكون معجزةً له صلى الله عليه وآله وسلم بالإخبار عن حالهم، ولا يعلمه أحدٌ إلا أن بعض أهل الكتاب يعلم بعضَه، وهذه الحكمة كافية.

ولما كانت المعجزة لا تتم إلا بحكاية القصة على وجهها، دخل فيها التآمر بالبناء، والعزم على اتخاذ المسجد، فلا يلزم أن يكون لهما حِكْمة خاصة.

على أن الحق الحقيق هو أن نقول: إن لها حكمة خاصةً غير ما ذكرتموه، وهي [أن] في التآمر بالبناء تنبيه الأمة إلى سدِّ القبور، وأن لا تترك فيها فُرْجة، وأن أهل العلم والدين ممن قبلنا كانوا يكتفون بذلك، وينازعون من أراد غير ذلك، كبناء مسجد.

وفي اتخاذ المسجد بيان مخالفة العامة لأولي العلم والدين، وضلالهم من حيث إنهم يَحْسبون أنهم يحسنون صنعًا، وتحذيرنا من مثل ذلك.

وصحَّ تصديق الرسول صلى الله عليه وآله وسلم فيما كان يقوله لأصحابه: [ص 7] "إن من كان قبلهم كانوا يتخذون قبور أنبيائهم وصُلَحائهم مساجد"(1)، إلى غير ذلك من المناسبات.

سابعًا: قوله: "فأرشدنا عز وجل بهذه الآية إلى ما ينبغي أن نعمله إذا مات فينا رجل صالح، أي: أننا على الأقل نبني على قبره بنيانًا، والأكمل أن نتخذ عليه مسجدًا".

الجواب: أن الحق عكس ذلك، كما علمتَ مما قدمناه، دلت عليه الآيةُ

--------------------------------------------

(1) أخرجه مسلم (532) من حديث جندب البجلي رضي الله عنه.
সুতরাং এই আয়াতগুলো নাজিল করার হিকমত বা প্রজ্ঞা ছিল রাসূলুল্লাহ (সা.)-এর জন্য একটি অলৌকিক নিদর্শন (معجزة) হওয়া, যা তাঁদের অবস্থা সম্পর্কে সংবাদ প্রদানের মাধ্যমে প্রকাশিত হয়েছে। এই বিষয়গুলো কেউ জানত না, কেবল আহলে কিতাবদের কেউ কেউ এর কিছু অংশ জানত। আর এই হিকমতই যথেষ্ট।

যেহেতু অলৌকিক নিদর্শন (معجزة) পূর্ণ হয় না যদি না ঘটনাটি তার প্রকৃত রূপ অনুযায়ী বর্ণনা করা হয়, তাই এতে ইমারত নির্মাণের পরামর্শ এবং মসজিদ তৈরির দৃঢ় সংকল্পের বিষয়টিও অন্তর্ভুক্ত হয়েছে। সুতরাং এই দুটির জন্য আলাদা কোনো বিশেষ হিকমত থাকার প্রয়োজন নেই।

তবে প্রকৃত সত্য হলো—আমরা বলব: আপনারা যা উল্লেখ করেছেন তা ছাড়াও এর একটি বিশেষ হিকমত রয়েছে। আর তা হলো—ইমারত নির্মাণের পরামর্শের মাধ্যমে উম্মতকে সতর্ক করা হয়েছে যাতে কবরগুলো বন্ধ করে দেওয়া হয় এবং সেখানে কোনো ফাঁকা জায়গা না রাখা হয়। আর আমাদের পূর্ববর্তী আলেম ও দ্বীনদার ব্যক্তিগণ কবরের ক্ষেত্রে এইটুকুর ওপরই ক্ষান্ত হতেন এবং যারা এর বাইরে অন্য কিছু (যেমন মসজিদ নির্মাণ) করতে চাইত, তাদের সাথে বিবাদে লিপ্ত হতেন।

আর মসজিদ নির্মাণের বিষয়টি উল্লেখ করার মাধ্যমে আলেম ও দ্বীনদার ব্যক্তিদের সাথে সাধারণ মানুষের বিরোধ এবং তাদের পথভ্রষ্টতা (ضلال) স্পষ্টভাবে ফুটে উঠেছে; কারণ তারা ধারণা করত যে তারা ভালো কাজ করছে। এটি আমাদের জন্য এই ধরনের কাজ থেকে সতর্কবাণী।

এর মাধ্যমে রাসূলুল্লাহ (সা.) সাহাবীদের নিকট যা বলতেন তার সত্যতা বিশুদ্ধভাবে (صح) প্রমাণিত হয়েছে: [পৃষ্ঠা ৭] "নিশ্চয়ই তোমাদের পূর্ববর্তী লোকেরা তাদের নবী ও নেককার ব্যক্তিদের কবরসমূহকে মসজিদে পরিণত করত"(১), এ ছাড়াও আরও অনেক প্রাসঙ্গিক বিষয় রয়েছে।

সপ্তম: তাঁর বক্তব্য: "আল্লাহ তাআলা এই আয়াতের মাধ্যমে আমাদের নির্দেশনা দিয়েছেন যে, আমাদের মধ্যে কোনো নেককার ব্যক্তি ইন্তেকাল করলে কী করা উচিত। অর্থাৎ, আমাদের অন্তত তার কবরের ওপর কোনো ইমারত নির্মাণ করা উচিত, আর সবচেয়ে পূর্ণতা হলো সেখানে একটি মসজিদ তৈরি করা।"

উত্তর: প্রকৃত সত্য এর বিপরীত, যেমনটি আপনি আমাদের পূর্ববর্তী আলোচনা থেকে জেনেছেন এবং আয়াতটি সেদিকেই ইঙ্গিত করেছে।

--------------------------------------------

(১) এটি মুসলিম (৫৩২) জুন্দুব আল-বাজালি (রা.)-এর বর্ণিত হাদিস থেকে উদ্ধৃত করেছেন।
(খণ্ড: ৫) ইমারাতুল কুবুর ফিল ইসলাম - আল-মুসাওয়াদাহ - দিমনা আসারুল মুআল্লিমী (পৃষ্ঠা: ২০)
نفسُها، وغيرها من القرآن والسنة المتواترة.

ولو كان ما زعمتَه مراد الله عز وجل، لكان فَهِمَه رسول الله صلى الله عليه وآله وسلم، وعَمِل به في حياته في حق أصحابه الذين توفوا في حياته، كعثمان بن مظعون، وسعد بن معاذ، وعمه حمزة، ومن معه من الشهداء، وأولاده صلى الله عليه وآله وسلم.

وعدم فعله صلى الله عليه وآله وسلم ذلك كافٍ في إبطال هذا الزعم، فكيف والواقع أنه ثبت عنه النهي عن البناء على القبور، والأمر بتسويتها مطلقًا، وتواتر عنه لعن من اتخذ القبور مساجد، وفي بعض الروايات الصحيحة التصريح بأن المراد باتخاذها مساجد بناء المساجد مشتملة عليها، وسيأتي بيان الأدلة التي تدل على أن مثل ذلك بناء المساجد عند القبور وإن لم تكن مشتملةً عليها، وكذا بناؤها لأجلها وإن كانت بعيدة عنها. وسيأتي إيضاح ذلك إن شاء الله(1).

ثم جاء مِن بعده أصحابه، فلزموا طريقته، وثبت عن أمير المؤمنين علي بن أبي طالب أنه بعث صاحب شرطته لتسوية كلّ قبرٍ مشرفٍ مطلقًا(2)، واستمرَّ الحالُ على ذلك في القرون الأولى المشهود لها بالخير، حتى جاء بعض المتشيّعين بعد الألف، يزعم أن الآية تدل على خلاف ذلك كله، سبحانك هذا بهتان عظيم! !

وقال الله عز وجل: {وَأَنَّ الْمَسَاجِدَ لِلَّهِ فَلَا تَدْعُوا مَعَ اللَّهِ أَحَدًا} [الجن: 18].

--------------------------------------------

(1) (ص).

(2) سبق تخريجه موسَّعًا في المبيضة (ص 50 وما بعدها)، ورواية "صاحب الشرطة" في (ص 66) منها.
নফস স্বয়ং এবং কুরআন ও মুতাওয়াতির (متواترة) সুন্নাহর অন্যান্য অংশ।

আপনি যা দাবি করেছেন তা যদি আল্লাহ আজ্জা ওয়া জাল্লা-এর উদ্দেশ্য হতো, তবে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়ালিহি ওয়াসাল্লাম তা বুঝতেন এবং তাঁর জীবদ্দশায় যে সকল সাহাবী ইন্তেকাল করেছিলেন—যেমন উসমান ইবনে মাজউন, সাদ ইবনে মুয়াজ, তাঁর চাচা হামজাহ ও তাঁর সাথে থাকা শহীদগণ এবং নবীজির (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়ালিহি ওয়াসাল্লাম) সন্তানগণ—তাদের ক্ষেত্রে তিনি সেই অনুযায়ী আমল করতেন।

রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়ালিহি ওয়াসাল্লাম কর্তৃক তা না করা এই দাবি বাতিল করার জন্য যথেষ্ট। তদুপরি বাস্তবতা হলো যে, কবরের উপর স্থাপনা নির্মাণ করা থেকে তাঁর নিষেধ করা এবং কবরকে সমান করে দেওয়ার নিঃশর্ত নির্দেশ তাঁর থেকে সাব্যস্ত হয়েছে। যারা কবরকে মসজিদে রূপান্তর করে তাদের প্রতি তাঁর অভিশাপ প্রদানের বিষয়টি মুতাওয়াতির (تواتر) পর্যায়ের। কিছু সহিহ (صحيحة) বর্ণনায় স্পষ্টভাবে উল্লেখ আছে যে, কবরকে মসজিদে রূপান্তর করা বলতে কবরকে অন্তর্ভুক্ত করে মসজিদ নির্মাণ করা বোঝায়। শীঘ্রই সেই সকল দলিলের বর্ণনা আসবে যা প্রমাণ করে যে, কবরের পাশে মসজিদ নির্মাণ করাও একই পর্যায়ের, যদিও তা কবরকে অন্তর্ভুক্ত না করে। একইভাবে কবরের উদ্দেশ্যে মসজিদ নির্মাণ করাও নিষিদ্ধ, যদিও তা কবর থেকে দূরে হয়। ইনশাআল্লাহ শীঘ্রই এর স্পষ্ট ব্যাখ্যা আসবে(১)।

অতঃপর তাঁর পরে তাঁর সাহাবীগণ আসলেন এবং তাঁরা তাঁর পথ অনুসরণ করলেন। আমিরুল মুমিনীন আলী ইবনে আবি তালিব থেকে সাব্যস্ত হয়েছে যে, তিনি তাঁর পুলিশ প্রধানকে প্রতিটি উঁচু (مشرف) কবর নিঃশর্তভাবে সমান করার জন্য পাঠিয়েছিলেন(২)। কল্যাণ ও শ্রেষ্ঠত্বের সাক্ষ্যপ্রাপ্ত প্রথম তিন যুগে এ অবস্থা অব্যাহত ছিল, যতক্ষণ না এক হাজার হিজরীর পর কিছু চরমপন্থী শিয়া মতাবলম্বী এসে দাবি করতে শুরু করল যে, এই আয়াতটি এই সবকিছুর বিপরীত বিষয়ের প্রমাণ বহন করে। আপনি পবিত্র, এটি এক গুরুতর অপবাদ!

আল্লাহ আজ্জা ওয়া জাল্লা বলেছেন: "আর মসজিদসমূহ আল্লাহরই জন্য, সুতরাং তোমরা আল্লাহর সাথে অন্য কাউকে ডেকো না।" [আল-জিন: ১৮]।

--------------------------------------------

(১) (পৃ.)।

(২) আল-মুবায়্যাদাহ-তে বিস্তারিতভাবে এর তাখরিজ (تخريج) করা হয়েছে (পৃ. ৫০ এবং পরবর্তী), আর 'সাহেবুল শুরতাহ' সম্পর্কিত বর্ণনাটি এর ৬৬ পৃষ্ঠায় রয়েছে।
(খণ্ড: ৫) ইমারাতুল কুবুর ফিল ইসলাম - আল-মুসাওয়াদাহ - দিমনা আসারুল মুআল্লিমী (পৃষ্ঠা: ২১)
وتقرير الاستدلال بالآية: أن لفظ "المساجد" عام يتناول كل مسجد، والجملة مفيدة للاختصاص، كما في {الْحَمْدُ لِلَّهِ} [الفاتحة: 1]، بل الأمر هـ? هنا أظهر، والحصر هـ? هنا حصر إفراد، لقوله: {فَلَا تَدْعُوا مَعَ اللَّهِ أَحَدًا} أي: أن المساجد كلها لله وحده لا شريك له، خالصةً من كل شرك.

فتبين أن من خواصِّ المسجد أن يكون خالصًا لله، فمن بنى بناءً، وزعم أنه قصد به أن يكون مسجدًا، فإن كانت نيته في بنائه خالصة لله وحده لا شريك له، كان البناء مسجدًا. وإن لم يكن كذلك، كأنْ قَصَد أن يكون على قبر فلان الصالح، [ص 11] أو بالقرب منه، فهذا لم يُبْنَ خالصًا لله وحده لا شريك له، وبهذا فُقِدَت منه تلك الخاصَّة المعتبرة في المساجد.

ومما يُؤيَّد به هذا الاستدلال حديث مسلم(1) عن أبي هريرة قال: قال رسول الله صلى الله عليه وآله وسلم: "قال الله تعالى: أنا أغنى الشركاء عن الشرك، من عَمِل عملًا أشركَ فيه معيَ غيري، تركتُه وشِرْكَه".

وفي رواية: "فأنا منه بريء، وهو للذي عَمِلَه"(2).

والذين يبنون المساجد على القبور لا يحملهم على بنائها إلّا وجود القبور، حتى لو لم يكن هناك قبورٌ لما بنوا.

ويجاب عن هذا: بأن غاية ما فيه أن يكون وجود القبر سببًا حاملًا على بناء المسجد، وهذا كما يمرّ إنسان على قرية آهلةٍ، ليس لها مسجد، فيحمله ذلك على أن يبني فيها مسجدًا، وبأن قَصْد أن يكون المسجد على قبر فلان

--------------------------------------------

(1) رقم (2985).

(2) هذا لفظ ابن ماجه رقم (4202)، وابن خزيمة في الصحيح رقم (893) وغيرهما.
আয়াতটি থেকে দলিল গ্রহণের পদ্ধতি (تقرير الاستدلال) হলো: "আল-মাসাজিদ" (মসজিদসমূহ) শব্দটি সাধারণ (عام) যা প্রতিটি মসজিদকে অন্তর্ভুক্ত করে। বাক্যটি বিশিষ্টতা (اختصاص) প্রকাশ করে, যেমনটি {সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর জন্য} [ফাতিহা: ১]-এর ক্ষেত্রে হয়। বরং এখানে বিষয়টি আরও সুস্পষ্ট। আর এখানকার সীমাবদ্ধকরণ হলো একক সীমাবদ্ধকরণ (حصر إفراد), কারণ আল্লাহ তাআলার বাণী: {অতএব তোমরা আল্লাহর সাথে অন্য কাউকে ডেকো না}। অর্থাৎ সকল মসজিদ একমাত্র আল্লাহর জন্য যাঁর কোনো শরিক নেই, যা সকল শিরক হতে মুক্ত (خالص)।

সুতরাং এটি স্পষ্ট হলো যে, মসজিদের অন্যতম বৈশিষ্ট্য হলো এটি আল্লাহর জন্য একনিষ্ঠ (خالص) হওয়া। অতএব, যে ব্যক্তি কোনো স্থাপনা নির্মাণ করল এবং দাবি করল যে সে এর দ্বারা মসজিদ নির্মাণের সংকল্প করেছে, তবে যদি তা নির্মাণে তার নিয়ত একমাত্র আল্লাহর জন্য একনিষ্ঠ (خالص) হয় যাঁর কোনো শরিক নেই, তবে সেই স্থাপনাটি মসজিদ হিসেবে গণ্য হবে। আর যদি বিষয়টি এমন না হয়, যেমন সে কোনো পুণ্যবান ব্যক্তির কবরের উপর [পৃষ্ঠা ১১] বা তার নিকটে মসজিদ নির্মাণের ইচ্ছা করে, তবে এটি একমাত্র আল্লাহর জন্য একনিষ্ঠভাবে (خالص) নির্মিত হয়নি। এর ফলে মসজিদের জন্য ধর্তব্য (معتبرة) সেই বিশেষ বৈশিষ্ট্যটি এতে অনুপস্থিত থাকে।

এই দলিলের সমর্থনে মুসলিম-এর একটি হাদিস পেশ করা যায় যা আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেন: "মহান আল্লাহ বলেন: আমি শরিকদের শিরক থেকে সম্পূর্ণ অমুখাপেক্ষী। যে ব্যক্তি এমন কোনো কাজ করল যাতে সে আমার সাথে অন্যকে শরিক করেছে, আমি তাকে এবং তার শিরককে বর্জন করি।"

অন্য একটি বর্ণনাতে (رواية) এসেছে: "আমি তার থেকে দায়মুক্ত, আর সেই আমলটি তারই জন্য যে তা করেছে"(২)।

যারা কবরের উপর মসজিদ নির্মাণ করে, কবর বিদ্যমান থাকাই তাদের সেই নির্মাণ কাজে উদ্বুদ্ধ করে; এমনকি সেখানে কবর না থাকলে তারা মসজিদ নির্মাণ করত না।

এর উত্তরে বলা হয়: এর শেষ কথা এই যে, কবরের উপস্থিতি মসজিদ নির্মাণের একটি উদ্বুদ্ধকারী কারণ হওয়া। এটি ঠিক তেমনি যেমন কোনো ব্যক্তি কোনো জনবসতিপূর্ণ গ্রামের পাশ দিয়ে যাওয়ার সময় দেখল সেখানে কোনো মসজিদ নেই, আর এটি তাকে সেখানে একটি মসজিদ নির্মাণে উদ্বুদ্ধ করল। আর অমুক ব্যক্তির কবরের ওপর মসজিদ হওয়ার উদ্দেশ্য...

--------------------------------------------

(১) নং (২৯৮৫)।

(২) এটি ইবনে মাজাহ-এর শব্দ, নং (৪২০২) এবং ইবনে খুজাইমা তাঁর সহিহ গ্রন্থে বর্ণনা করেছেন, নং (৮৯৩) ও অন্যান্য।
(খণ্ড: ৫) ইমারাতুল কুবুর ফিল ইসলাম - আল-মুসাওয়াদাহ - দিমনা আসারুল মুআল্লিমী (পৃষ্ঠা: ২২)
الصالح، أو بقربه قَصْد شرعي أيضًا، ومثل هذا لا يضر كما كان النبي صلى الله عليه وآله وسلم يصلي بالناس أداءً للفريضة، وليعلم الناس.

ويردّ هذا بوضوح الفرق في كلا الوجهين، فالذي مرَّ على القرية الآهلة وليس لها مسجد، فحمله ذلك على بناء مسجد فيها، إنما استجاب لسبب شرعي، وهو أن الشرع إنما يدعو إلى بناء المساجد عند الحاجة إليها، فلو كان لقرية [ص 12] مسجد يكفي أهلها، لم يستحبّ بناء مسجد آخر فيها، بل يكره أو يحرم؛ لكونه يكون سببًا للتفريق، وضياعًا للمال الذي يستدعيه البناء في غير محله، وتحجُّرًا لتلك البقعة عن أن ينتفع بها المسلمون في غير فائدة.

فالحاصل: أن هذا الرجل لما مرَّ على القرية المذكورة سمع نداء الشرع يقول له: إن الله عز وجل يدعوك إلى بناء مسجد في هذه القرية، يُصلَّى له فيه، ويُذْكَر فيه اسمه.

وأما باني المسجد على القبر، فلم يستجب لسبب شرعي؛ لأن الشرع لا يدعو إلى بناء المساجد على القبور، بل حرَّم ذلك، واشتدَّ غضب الله ولعنته على فاعله، نعم، إنما استجابَ لداعٍ شيطاني، يقول له: إن الشيطان يدعوك إلى بناء باسم مسجد على هذا القبر، ليكون ذلك معصيةً لله ورسوله، ويشتد غضب الله ولعنته على بانيه، ومن أعانه، أو رضي بفعله، أو لم ينهه بقدر طاقته، ويتطاير شرر ذلك إلى من صلى فيه، ويتشعَّب ذلك إلى شعب أخرى، هي ملحظ الشارع في النهي عن بناء المساجد على القبور.

ومما يكشف عُوار هؤلاء: أن أحدهم يعرف عدة قرى آهِلَة، ليس فيها مساجد، فلا يستيجب داعي الشرع لبناء مسجد فيها، ثم يعمد إلى قبرٍ بقفرة،
নেককার ব্যক্তি অথবা তার নিকটবর্তী হওয়ার পেছনেও শরয়ি উদ্দেশ্য থাকতে পারে। এই ধরনের বিষয় ক্ষতিকারক নয়, যেমন নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়া সাল্লাম) লোকদের নিয়ে ফরজ আদায়ের জন্য এবং মানুষকে শিক্ষা দেওয়ার উদ্দেশ্যে সালাত আদায় করতেন।

উভয় দিকের পার্থক্য স্পষ্টভাবে এটি প্রত্যাখ্যান করে। যে ব্যক্তি কোনো জনবসতিপূর্ণ গ্রাম অতিক্রম করল যেখানে কোনো মসজিদ নেই এবং এই বিষয়টি তাকে সেখানে একটি মসজিদ নির্মাণে উদ্বুদ্ধ করল, সে মূলত একটি শরয়ি কারণেই তা করল। কারণ শরিয়ত প্রয়োজন থাকলেই কেবল মসজিদ নির্মাণের প্রতি আহ্বান জানায়। যদি কোনো গ্রামে [পৃষ্ঠা ১২] গ্রামবাসীদের জন্য যথেষ্ট এমন একটি মসজিদ থাকে, তবে সেখানে অন্য একটি মসজিদ নির্মাণ করা পছন্দনীয় (مستحب) নয়; বরং তা অপছন্দনীয় (مكروه) অথবা নিষিদ্ধ (حرام) হবে। কারণ এটি বিভেদ সৃষ্টির কারণ হবে এবং অহেতুক স্থানে সম্পদ অপচয় করার শামিল হবে, যা মুসলমানদের জন্য কোনো উপকার ছাড়াই সেই স্থানটিকে আটকে রাখার নামান্তর।

সারকথা হলো: এই ব্যক্তি যখন উল্লিখিত গ্রামের পাশ দিয়ে অতিক্রম করল, তখন সে শরিয়তের আহ্বান শুনতে পেল যা তাকে বলছে: নিশ্চয়ই আল্লাহ আজ্জা ওয়া জাল্লা আপনাকে এই গ্রামে একটি মসজিদ নির্মাণের জন্য আহ্বান করছেন, যাতে সেখানে তাঁর উদ্দেশ্যে সালাত আদায় করা হয় এবং সেখানে তাঁর নাম স্মরণ করা হয়।

কিন্তু যে ব্যক্তি কবরের ওপর মসজিদ নির্মাণ করে, সে কোনো শরয়ি কারণে তা করেনি; কারণ শরিয়ত কবরের ওপর মসজিদ নির্মাণের আহ্বান জানায় না, বরং তা নিষিদ্ধ (حرام) করেছে এবং এর সম্পাদনকারীর ওপর আল্লাহর ক্রোধ ও অভিশাপ কঠোর হয়েছে। প্রকৃতপক্ষে সে শয়তানি আহ্বানে সাড়া দিয়েছে, যা তাকে বলছে: শয়তান তোমাকে এই কবরের ওপর মসজিদের নামে একটি স্থাপনা নির্মাণের আহ্বান জানাচ্ছে, যাতে এটি আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের অবাধ্যতা হিসেবে গণ্য হয়। আর এর ফলে এর নির্মাতার ওপর, এর সহযোগীর ওপর, এর প্রতি সন্তুষ্ট ব্যক্তির ওপর অথবা যে ব্যক্তি সাধ্যমতো তা থেকে নিষেধ করেনি তার ওপর আল্লাহর ক্রোধ ও অভিশাপ কঠোর হয়। এর অশুভ প্রভাব সেই ব্যক্তির ওপরও পড়ে যে সেখানে সালাত আদায় করে এবং এটি আরও বহু শাখা-প্রশাখায় ছড়িয়ে পড়ে, যা কবরের ওপর মসজিদ নির্মাণ নিষিদ্ধ করার পেছনে শরিয়ত প্রবর্তকের মূল উদ্দেশ্য।

এদের দোষ-ত্রুটি যা দিয়ে প্রকাশ পায় তা হলো: তাদের কেউ কেউ অনেক জনবসতিপূর্ণ গ্রাম চেনে যেখানে কোনো মসজিদ নেই, অথচ সে সেখানে মসজিদ নির্মাণের শরয়ি আহ্বানে সাড়া দেয় না, কিন্তু সে নির্জন প্রান্তরে থাকা একটি কবরের দিকে ধাবিত হয়...
(খণ্ড: ৫) ইমারাতুল কুবুর ফিল ইসলাম - আল-মুসাওয়াদাহ - দিমনা আসারুল মুআল্লিমী (পৃষ্ঠা: ২৩)
أو بمدينة كثيرة المساجد، فيبني عليه.

وأما صلاة النبي صلى الله عليه وآله وسلم أداءً للفريضة مع قَصْد تعليم الناس، فقصد التعليم قصدٌ شرعي شريف، وأين منه قصد الانغماس في غضب الله ولعنته؟ !
অথবা বহু মসজিদ বিশিষ্ট কোনো নগরে, তবে তিনি এর ওপর ভিত্তি করবেন।

আর নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়া সাল্লাম) কর্তৃক মানুষকে শিক্ষা প্রদানের উদ্দেশ্যে ফরজ নামাজ আদায় করার বিষয়টি হচ্ছে একটি মহৎ শরিয়তসম্মত উদ্দেশ্য; আর এর বিপরীতে আল্লাহর ক্রোধ ও অভিশাপে নিমজ্জিত হওয়ার হীন সংকল্পের তুলনা কীভাবে হতে পারে?!
(খণ্ড: ৫) ইমারাতুল কুবুর ফিল ইসলাম - আল-মুসাওয়াদাহ - দিমনা আসারুল মুআল্লিমী (পৃষ্ঠা: ২৪)
[ص 24] الحمد لله

 

‌‌تحديد محلّ النزاع

مما لا نزاع فيه أن المقصود من دَفْن جثث الموتى، إنما هو مواراتها، قال الله عز وجل في قصة ابني آدم: {فَبَعَثَ اللَّهُ غُرَابًا يَبْحَثُ فِي الْأَرْضِ لِيُرِيَهُ كَيْفَ يُوَارِي سَوْءَةَ أَخِيهِ … } الآية [المائدة: 31].

وعليه، فالأصل أن يُقْتَصر على القدر الكافي للمواراة.

وهل يجوز أن يتعدّى ذلك؟

لا خلاف أن القبر إذا كان بمقبرة مُسَبَّلة لم يجز أن يتعدّى به القدر الكافي، لأن التعدي تصرُّفٌ في غير حق، سواءً أكان التعدي بالإفراط في توسعة القبر، أم بالبناء عليه، أم بإحكام رَدْمه حتى يشقّ حَفرُه.

أما الإفراط في التوسعة والبناء على القبر، فواضحٌ؛ لأنه لا حقَّ إلا في القدر الكافي.

وأما إحكام الرَّدْم حتى يشقّ الحفر؛ فلأنه لا حقَّ للجثة في تلك البقعة، إلا ما دامت محتاجةً للمواراة، فإذا صارت ترابًا زال الحق [ص 25] لزوال المقتضي، وإذا صارت عظامًا لم يكن الحق إلا في القدر الكافي لتلك العظام.

إذا فهمتَ هذا، فلا شك أن لأولياء الموتى الحق في حفر القبور في أي موضعٍ كان من المقبرة المُسَبَّلة ما دام غير مشغول بحق آخر، فلهم الحق بالحفر في موضع القبر الذي يُظَن أن الجثة التي فيه قد أَرِمت، فإذا كان
[পৃষ্ঠা ২৪] সকল প্রশংসা আল্লাহর জন্য।

 

‌‌বিরোধপূর্ণ বিষয়ের ক্ষেত্র নির্ধারণ

এ বিষয়ে কোনো বিরোধ নেই যে, মৃতদেহ দাফন করার উদ্দেশ্য হলো তা কেবল গোপন করা (মৃত্তিকাগর্ভে রাখা)। আল্লাহ তাআলা আদমের দুই পুত্রের ঘটনায় বলেন: {অতঃপর আল্লাহ একটি কাক পাঠালেন, যে মাটি খনন করছিল যাতে তাকে দেখাতে পারে যে, সে কীভাবে তার ভাইয়ের মৃতদেহ গোপন করবে...} আয়াত [সূরা আল-মায়েদাহ: ৩১]।

অতএব, মূল নীতি হলো যে, মৃতদেহ গোপন করার জন্য যতটুকু প্রয়োজন, কেবল ততটুকুর মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকা।

আর এর অতিরিক্ত করা কি বৈধ?

এ বিষয়ে কোনো মতভেদ নেই যে, কবরটি যদি সর্বসাধারণের জন্য উৎসর্গীকৃত (مسبلة) কবরস্থানে হয়, তবে প্রয়োজনীয় পরিমাণের অতিরিক্ত জায়গা নেয়া বৈধ নয়। কারণ, প্রয়োজনের অতিরিক্ত করা হলো অনধিকার চর্চা; চাই তা কবরের প্রশস্ততায় বাড়াবাড়ি করার মাধ্যমে হোক, অথবা তার ওপর ইমারত নির্মাণের মাধ্যমে হোক, কিংবা মাটি ভরাট করার কাজকে এমন সুদৃঢ় করার মাধ্যমে হোক যা পরবর্তীতে খনন করাকে কষ্টসাধ্য করে তোলে।

কবরের প্রশস্ততায় বাড়াবাড়ি করা এবং তার ওপর ইমারত নির্মাণের বিষয়টি তো স্পষ্ট; কারণ যতটুকু প্রয়োজন কেবল ততটুকুতেই অধিকার রয়েছে।

আর দাফনের মাটি সুদৃঢ় করা—যাতে পুনরায় খনন করা কঠিন হয়—এর কারণ হলো, ওই নির্দিষ্ট স্থানে লাশের কোনো অধিকার নেই কেবল যতক্ষণ পর্যন্ত তা মাটিচাপা থাকার মুখাপেক্ষী থাকে। সুতরাং যখন তা মাটিতে মিশে যায়, তখন প্রয়োজনীয় কারণটি না থাকার ফলে সেই অধিকারও বিলুপ্ত হয়ে যায় [পৃষ্ঠা ২৫]। আর যদি তা হাড়ে পরিণত হয়, তবে সেই হাড়গুলোর জন্য যতটুকু স্থান প্রয়োজন, কেবল ততটুকুর ওপরই অধিকার অবশিষ্ট থাকে।

আপনি যদি বিষয়টি বুঝে থাকেন, তবে এতে কোনো সন্দেহ নেই যে, সর্বসাধারণের জন্য উৎসর্গীকৃত (مسبلة) কবরস্থানের যেকোনো স্থানে কবর খনন করার অধিকার মৃতব্যক্তির অভিভাবকদের রয়েছে, যতক্ষণ না তা অন্য কোনো ন্যায়সঙ্গত কারণে ব্যস্ত থাকে। সুতরাং যে কবরের লাশটি ইতিপূর্বে পচে মাটির সাথে মিশে গেছে বলে প্রবল ধারণা হয়, সেই স্থানে তাদের পুনরায় কবর খনন করার অধিকার রয়েছে। যখন...
(খণ্ড: ৫) ইমারাতুল কুবুর ফিল ইসলাম - আল-মুসাওয়াদাহ - দিমনা আসারুল মুআল্লিমী (পৃষ্ঠা: ২৫)
محكمًا، فإن الحفر يشق عليه جدًّا، حتى ربما تركوا تلك البقعة لذلك.

فظهر أن الشخص الذي أحكم البناء قد تصرَّف في غير حقه تصرفًا يضر غيره من المستحقين في وقت استحقاقهم، وهذا حرامٌ لا شكّ فيه.

 

‌‌المقبرة المُسَبَّلة:

أما المقبرة المُسَبَّلة؛ فهي بقعة غير مملوكة، خُصّصت للدفن، بحيث لا يجوز أن تُبنى فيها دار للسكنى، أو حمام، أو مصنع، أو نحو ذلك.

فدخل ما عُلِم أنه كان مملوكًا، وأن المالك سبَّله للدفن، وما عُلِم أنه كان مَواتًا حتى يشرع في الدفن فيه، وكذا ما لم يُعلم حاله قبل تخصيصه للدفن؛ لأن الأصل عدم الملك، فالظاهر أنه كان مَواتًا حتى خُصِّص للدفن.

أمّا ما عُلِم أنه كان ملك شخص، ولم يعلم أنَّه سبَّله، ففيه نظر. وليس من موضوعنا؛ لأنه إن لم يُحْكَم بالتسبيل حُكِم ببقاء المِلك، فيمنع الدفن، ويكون للورثة الاستيلاء على البقعة وحرثها، أو البناء فيها للسكنى، أو غير ذلك، بعد بِلى من دُفِن فيها سابقًا، إلى غير ذلك مما لا يهمنا.

[ص 27]‌‌ الدفن في المَوات:

 

الدفن في المَوات في حكم الدفن في المسبَّلة؛ لأن مجرد حفر القبر والدفن فيه ليس إحياءً مُملِّكًا، وإنما يفيد الأحقية ما دامت الجثة باقية.

كل هذا مما يغنينا اتفاقُ العلماء عليه عن ذكر حُجَجِه، مع أن الآية التي صدَّرنا بها البحث دالة عليه، كما لا يخفى على العارف.

وعلى كل قادر النهي عن الإفراط في التوسعة، والإحكام، والبناء في
সুদৃঢ়ভাবে (محكمًا) তৈরি করা হলে, সেখানে খনন করা অত্যন্ত কঠিন হয়ে পড়ে, এমনকি সম্ভবত তারা এই কারণেই সেই স্থানটি পরিত্যাগ করে।

ফলে এটি স্পষ্ট হয় যে, যে ব্যক্তি নির্মাণকাজ সুদৃঢ় করেছে, সে তার অধিকার বহির্ভূত এমন কাজ করেছে যা অন্যান্য হকদারদের প্রাপ্য সময়ে তাদের জন্য ক্ষতিকর, আর এটি যে হারাম (حرام), তাতে কোনো সন্দেহ নেই।

 

‌‌ওয়াকফকৃত (مُسَبَّلة) কবরস্থান:

আর ওয়াকফকৃত (مُسَبَّلة) কবরস্থান হলো এমন একটি মালিকানাবিহীন ভূখণ্ড যা দাফনের জন্য নির্ধারিত করা হয়েছে, যাতে সেখানে কোনো বসতবাড়ি, গোসলখানা, কারখানা বা এ জাতীয় কিছু নির্মাণ করা বৈধ নয়।

এর অন্তর্ভুক্ত হলো সেই জায়গা যার মালিকানা সম্পর্কে জানা গেছে এবং মালিক তা দাফনের জন্য ওয়াকফ (سبَّله) করেছেন। আর যা দাফন শুরু করার আগ পর্যন্ত অনাবাদী বা পতিত (مَواتًا) জমি হিসেবে পরিচিত ছিল, অনুরূপভাবে যার দাফনের জন্য নির্দিষ্ট করার পূর্বের অবস্থা জানা নেই; কারণ মূল নীতি হলো মালিকানা না থাকা, তাই বাহ্যিকভাবে প্রতীয়মান হয় যে, দাফনের জন্য নির্দিষ্ট করার আগ পর্যন্ত তা অনাবাদী বা পতিত (مَواتًا) ভূমি ছিল।

তবে যা কারো মালিকানাধীন হিসেবে পরিচিত কিন্তু তা ওয়াকফ (سبَّله) করার বিষয়টি জানা যায়নি, সে ক্ষেত্রে পর্যালোচনার অবকাশ রয়েছে। এটি আমাদের আলোচ্য বিষয় নয়; কারণ যদি ওয়াকফ (تسبيل) হওয়ার ফয়সালা না দেওয়া হয়, তবে তা মালিকানাধীন হিসেবেই গণ্য হবে, ফলে সেখানে দাফন করা নিষিদ্ধ হবে এবং পূর্বে দাফনকৃতদের দেহাবশেষ মাটির সাথে মিশে যাওয়ার পর ওয়ারিশদের জন্য সেই স্থানটি দখল করা, চাষাবাদ করা বা সেখানে বসবাসের জন্য ঘরবাড়ি নির্মাণ করা বা অন্য কিছু করার অধিকার থাকবে—এ জাতীয় আরও অনেক বিষয় রয়েছে যা আমাদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ নয়।

[পৃষ্ঠা ২৭]‌‌ অনাবাদী বা পতিত (مَوات) ভূমিতে দাফন:

 

অনাবাদী বা পতিত (مَوات) ভূমিতে দাফন করার বিধান ওয়াকফকৃত (مسبَّلة) স্থানে দাফন করার বিধানের অনুরূপ; কারণ কেবল কবর খনন করা এবং তাতে দাফন করা মালিকানা সৃষ্টিকারী আবাদকরণ (إحياء) নয়, বরং লাশ অবশিষ্ট থাকা পর্যন্ত এটি কেবল অগ্রাধিকারের অধিকার প্রদান করে।

এ সবকিছুর ওপর আলেমদের ঐকমত্য (اتفاق) থাকায় এর সপক্ষে প্রমাণাদি উল্লেখ করার প্রয়োজন পড়ে না, যদিও আমরা যে আয়াতটি দিয়ে গবেষণাটি শুরু করেছি তা এর নির্দেশক (دالة), যা বিজ্ঞ ব্যক্তিদের কাছে গোপন নয়।

আর কবরকে অতিরিক্ত প্রশস্ত করা, সুদৃঢ় করা এবং এর ওপর নির্মাণকাজ করার বাড়াবাড়ি থেকে নিষেধ করা প্রত্যেক সক্ষম ব্যক্তির ওপর আবশ্যক।
(খণ্ড: ৫) ইমারাতুল কুবুর ফিল ইসলাম - আল-মুসাওয়াদাহ - দিমনা আসারুল মুআল্লিমী (পৃষ্ঠা: ২৬)
المُسبَّلة، وإزالة ذلك، ولو قبل البلى، وقبل الاحتياج إلى تلك البقعة؛ لأن الفعل الحرام يجب إزالته في كل حال.

فأما بعد البلى، فإن بقعة القبر نفسها تستعمل.

[ص 28 ب] تنبيه:

ليس من البناء المحرَّم أن يموت ميت في غار، ويتعذَّر إخراجه منه، فيُسَدّ باب الغار، ومِنْ هذا ما حكاه الله عز وجل في قصة أصحاب الكهف من قول القوم: {ابْنُوا عَلَيْهِمْ بُنْيَانًا}، فإن الفتية لما رجعوا إلى الكهف بعد بروزهم إلى القوم الذي يقتضيه إظهار الآية، عادوا إلى مضجعهم، وعاد الرعب الذي ذكره عز وجل بقوله: {لَوِ اطَّلَعْتَ عَلَيْهِمْ لَوَلَّيْتَ مِنْهُمْ فِرَارًا وَلَمُلِئْتَ مِنْهُمْ رُعْبًا} [الكهف: 18]، وانتظرهم القوم خارج الكهف حتى يئسوا، كما يدل عليه قولهم: {رَبُّهُمْ أَعْلَمُ بِهِمْ}، أي: أماتوا، أم عادوا إلى نومهم.

وليس المراد {أَعْلَمُ بِهِمْ} مِمَّن هم؟ وكم لهم؟ لأن الآية التي أعثر الله عليهم لأجلها لا تتم إلا بأن يخبروا القوم بأنهم كانوا في عهد كذا، وجرى لهم كذا، وسيأتي بَسْط الكلام على هذا الآية في فصل "اتخاذ المساجد على القبور" إن شاء الله(1).

--------------------------------------------

(1) تقدم الكلام على قصة أصحاب الكهف بالتفصيل عند استدلال المخالف بالآية على جوازالبناء على القبور انظر (ص 5 - 22). ولعل المؤلف أراد تأخير هذا البحث إلى الموضع الذي ذكره أعلاه وهذا ما وضعه في النسخة الأخرى انظر (ص 131 - 138).
সর্বসাধারণের জন্য ওয়াকফকৃত (المسبلة) ভূমি এবং তা (স্থাপনা) অপসারণ করা, যদিও তা মৃতদেহ পচে যাওয়ার আগে হয় এবং ঐ স্থানের প্রয়োজন হওয়ার আগে হয়; কারণ হারাম (الحرام) কাজ সর্বাবস্থায় মিটিয়ে দেওয়া আবশ্যক (يجب)।

তবে মৃতদেহ পচে যাওয়ার পর কবরের ঐ স্থানটিই ব্যবহার করা যাবে।

[পৃষ্ঠা ২৮ খ] সতর্কতা:

নিষিদ্ধ নির্মাণের (البناء المحرم) অন্তর্ভুক্ত নয় যদি কোনো মৃত ব্যক্তি গুহায় মারা যায় এবং তাকে সেখান থেকে বের করা অসম্ভব হয়ে পড়ে, ফলে গুহার মুখ বন্ধ করে দেওয়া হয়। মহান আল্লাহ আসহাবুল কাহফের কাহিনীতে তাদের সম্প্রদায়ের যে উক্তি বর্ণনা করেছেন তা এই পর্যায়েরই: {তাদের ওপর একটি ইমারত নির্মাণ করো}, কারণ যুবকেরা যখন সম্প্রদায়ের সামনে আত্মপ্রকাশ করার পর গুহায় ফিরে গেলেন—যা মূলত আল্লাহর নিদর্শন প্রকাশের দাবি ছিল—তখন তারা তাদের শয্যাস্থলে ফিরে গেলেন এবং সেই ভীতির সঞ্চার হলো যা আল্লাহ তাআলা তাঁর এই বাণীর মাধ্যমে উল্লেখ করেছেন: {তুমি যদি তাদের দিকে উঁকি দিতে তবে তাদের থেকে পিছন ফিরে পালাতে এবং তোমার অন্তর তাদের ভয়ে পূর্ণ হয়ে যেত} [আল-কাহফ: ১৮]। আর লোকেরা গুহার বাইরে তাদের জন্য অপেক্ষা করতে লাগল যতক্ষণ না তারা নিরাশ হয়ে পড়ল, যেমনটি তাদের এই উক্তি দ্বারা প্রমাণিত হয়: {তাদের রব তাদের সম্পর্কে ভালো জানেন}, অর্থাৎ: তারা কি মৃত্যুবরণ করেছেন নাকি পুনরায় তাদের ঘুমে ফিরে গেছেন?

আর {তাদের সম্পর্কে ভালো জানেন} এর অর্থ এই নয় যে তারা কারা এবং তাদের সংখ্যা কত? কারণ যে নিদর্শনের জন্য আল্লাহ তাদের সন্ধান দিয়েছিলেন তা পূর্ণতা পায় না যতক্ষণ না তারা কওমকে অবহিত করেন যে তারা অমুক যুগে ছিলেন এবং তাদের সাথে এমন ঘটনা ঘটেছিল। ইনশাআল্লাহ ‘কবরের ওপর মসজিদ নির্মাণ’ পরিচ্ছেদে এই আয়াতের বিস্তারিত আলোচনা আসবে(১).

--------------------------------------------

(১) কবরের ওপর ইমারত নির্মাণের বৈধতার স্বপক্ষে বিরোধী (المخالف) পক্ষের এই আয়াতের মাধ্যমে দলীল পেশের খণ্ডনে আসহাবুল কাহফের কাহিনী নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা গত হয়েছে, দেখুন (পৃষ্ঠা ৫ - ২২)। সম্ভবত লেখক এই আলোচনাটি উপরে বর্ণিত স্থানে করার জন্য পরবর্তী সময়ের জন্য রেখেছিলেন এবং এটিই তিনি অন্য পাণ্ডুলিপিতে রেখেছেন, দেখুন (পৃষ্ঠা ১৩১ - ১৩৮)।
(খণ্ড: ৫) ইমারাতুল কুবুর ফিল ইসলাম - আল-মুসাওয়াদাহ - দিমনা আসারুল মুআল্লিমী (পৃষ্ঠা: ২৭)
‌‌الوصية بالدفن في المِلك:

قرر العلماء أن الشخص إذا أوصى أن يُدفن في ملكه، لم تنفَّذ وصيته، بل يدفن في مقبرة المسلمين، فإن أراد الورثة أن يدفنوه حيث أوصى كان دفنًا في ملك الدافن، وسيأتي حكمه.

وإذا أوصى مع ذلك أن يُفْرَط في توسعة قبره، وإحكامه، والبناء عليه، وأراد الورثة الدفنَ المعتاد فقط، لم يلزمهم غيره، فإن فعلوا، فهو في ملكهم، وسيأتي حكمه.

[ص 28]‌‌ الدفن في مِلك الدافن:

السُّنَّة المطَّرِدة في عصره صلى الله عليه وآله وسلم الدفن في مقبرة المسلمين، أما دفنه صلى الله عليه وآله وسلم في بيت زوجِه فله سببٌ خاصٌّ، سيأتي إن شاء الله بيانه، وبيان سبب دفن صاحِبَيه معه في فصلٍ مفرد(1).

 

ثم إن الدفن في ملك الدافن لا يقتضي التخليد، فله بيع البقعة التي فيها القبر، وتدخل بقعة القبر في البيع، كما أنه إذا مات وُرِثت عنه، وإذا وقفها مقبرةً أو غيرها، دخلت بقعة القبر في الوقف، ولكن لا يجوز استعمال بقعة القبر إلا بعد البِلى، فإذا كان البِلى، جاز استعمالها بزرع وبناء للسُّكْنى وغيره.

[ص 29]‌‌ محلُّ النزاع:

بقي رفع القبر في غير الملك، بدون إحكام ولا بناء، وإنما هو بزيادة حصى ورمل وتراب يُرْكَم عليه حتى يرتفع.

--------------------------------------------

(1) لم يتمكن المؤلف من عقد هذا الفصل في هذه النسخة.
নিজের মালিকানাধীন জায়গায় দাফন করার অসিয়ত:

আলেমগণ সিদ্ধান্ত দিয়েছেন যে, কোনো ব্যক্তি যদি তার নিজের মালিকানাধীন জায়গায় দাফন করার অসিয়ত করে, তবে তার অসিয়ত কার্যকর করা হবে না; বরং তাকে মুসলমানদের সাধারণ কবরস্থানে দাফন করা হবে। তবে উত্তরাধিকারীরা যদি তাকে তার অসিয়তকৃত স্থানেই দাফন করতে চায়, তবে তা দাফনকারীর মালিকানাধীন জায়গায় দাফন হিসেবে গণ্য হবে, যার বিধান সামনে আসছে।

আর যদি সে এর সাথে তার কবরকে অত্যধিক প্রশস্ত করা, সুদৃঢ় করা এবং তার ওপর ইমারত নির্মাণের অসিয়ত করে, অথচ উত্তরাধিকারীরা কেবল স্বাভাবিক দাফন করতে চায়, তবে তাদের ওপর অতিরিক্ত কিছু করা আবশ্যক নয়। যদি তারা তা করে, তবে তা তাদের মালিকানাধীন জায়গায় করা বলে গণ্য হবে এবং এর বিধান সামনে আসছে।

[পৃষ্ঠা ২৮]‌‌ দাফনকারীর মালিকানাধীন জায়গায় দাফন:

রাসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়া সাল্লাম)-এর যুগে নিরবচ্ছিন্ন সুন্নাহ (السنة المطردة) ছিল মুসলমানদের সাধারণ কবরস্থানে দাফন করা। তবে নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়া সাল্লাম)-কে তাঁর স্ত্রীর ঘরে দাফন করার একটি বিশেষ কারণ ছিল, যা এবং তাঁর দুই সঙ্গীকে তাঁর সাথে দাফন করার কারণ ইনশাআল্লাহ একটি স্বতন্ত্র পরিচ্ছেদে বর্ণিত হবে(1).

 

অধিকন্তু দাফনকারীর মালিকানাধীন জায়গায় দাফন করা স্থায়ী স্বত্ব দাবি করে না। সুতরাং মালিক সেই জায়গাটি বিক্রি করতে পারেন যেখানে কবর রয়েছে এবং কবরের জায়গাটিও বিক্রির অন্তর্ভুক্ত হবে। একইভাবে যদি তিনি মারা যান, তবে তা উত্তরাধিকার সূত্রে বন্টিত হবে। আর যদি তিনি তা কবরস্থান বা অন্য কোনো উদ্দেশ্যে ওয়াকফ করে দেন, তবে কবরের স্থানটিও ওয়াকফের অন্তর্ভুক্ত হবে। কিন্তু মৃতদেহ গলে মাটির সাথে মিশে যাওয়ার (البلى) আগে কবরের জায়গাটি ব্যবহার করা বৈধ নয়। যখন দেহ নিঃশেষ (البلى) হয়ে যাবে, তখন সেখানে চাষাবাদ, বসবাসের জন্য ইমারত নির্মাণ বা অন্য কোনো কাজে তা ব্যবহার করা জায়েজ হবে।

[পৃষ্ঠা ২৯]‌‌ মতপার্থক্যের ক্ষেত্র:

মালিকানাধীন জায়গা ব্যতীত অন্য স্থানে কবরকে মজবুত করা বা ইমারত নির্মাণ ছাড়াই উঁচু করা অবশিষ্ট রয়েছে; আর তা কেবল পাথরকুচি, বালু ও মাটি স্তূপ করে দেওয়ার মাধ্যমে করা হয় যাতে তা উঁচু হয়ে যায়।

--------------------------------------------

(1) লেখক এই পাণ্ডুলিপিতে উক্ত পরিচ্ছেদটি সংকলন করতে সক্ষম হননি।
(খণ্ড: ৫) ইমারাতুল কুবুর ফিল ইসলাম - আল-মুসাওয়াদাহ - দিমনা আসারুল মুআল্লিমী (পৃষ্ঠা: ২৮)
وبقي الرفع، والتوسعة، والإحكام، والبناء فيما إذا كان في ملك الفاعل، وهذا هو الذي يصلح أن يكون محلًا للنزاع.

الرفع في غير المِلك

لا شك أن الرفع زائدٌ على القدر الكافي للمواراة التي هي المقتضي للدفن، كما دلت عليه الآية، وفيه أيضًا ضرر على المستحقين إذا أرادوا حفر القبر بعد البِلى، وإن كان خفيفًا، فهذا يقتضي المنع، فالدليل على من يدعي الجواز.

[ص 30] بِيَد المجيزين متمسَّكات:

منها: ما علقه البخاري في "صحيحه"(1) في باب: الجريد على القبر، قال: "وقال خارجة بن زيد: رأيتني ونحن شبَّان في زمن عثمان رضي الله عنه، وإن أشدنا وثبةً الذي يَثِبُ قبرَ عثمان بن مظعون حتى يجاوزه".

وهذا وإن كان معلقًا إلا أن البخاري ذكره بصيغة الجزم، وذلك حكمٌ بصحته(2)، كما هو مقررٌ في موضعه.

ومنها: ما رواه الشافعي عن [إبراهيم بن محمد](3) عن جعفر بن محمد عن أبيه: أن النبي صلى الله عليه وآله وسلم حثى على الميت ثلاث حثيات بيديه جميعًا(4).

--------------------------------------------

(1) (2/ 95 ــ الأميرية).

(2) يعني إلى من علقه عنه. وانظر "هدى الساري" (ص 19 - 22).

(3) ما بين المعكوفين تركه المؤلف بياضًا.

(4) أخرجه الشافعي في "المسند" رقم (601)، و"الأم": (1/ 628 - 629).
বাকি রয়ে গেল (কবর) উঁচু করা, প্রশস্ত করা, মজবুত করা এবং নির্মাণ করা—যখন তা সম্পাদনকারীর মালিকানাধীন জায়গায় হয়। আর এটিই বিতর্কের বিষয় হওয়ার উপযুক্ত।

মালিকানা বহির্ভূত জায়গায় (কবর) উঁচু করা

এতে কোনো সন্দেহ নেই যে, কবর উঁচু করা মৃতদেহ ঢাকার জন্য যতটুকু প্রয়োজন তার অতিরিক্ত, যা দাফনের মূল দাবি; যেমনটি আয়াত দ্বারা নির্দেশিত হয়েছে। এছাড়া এটি (কবর পুরাতন হয়ে) হাড়গোড় মিশে যাওয়ার পর যারা সেখানে পুনরায় কবর খনন করার অধিকার রাখেন তাদের জন্য ক্ষতিকারক, যদিও তা সামান্যই হোক না কেন। সুতরাং এটি নিষিদ্ধ হওয়ারই দাবি রাখে। তাই যারা এটি বৈধ হওয়ার দাবি করেন, প্রমাণ পেশ করার দায়িত্ব তাদেরই।

[পৃষ্ঠা ৩০] যারা বৈধ বলেন তাদের সপক্ষে কিছু দলিল রয়েছে:

তন্মধ্যে একটি হলো: যা ইমাম বুখারি তাঁর সাহিহ গ্রন্থে(১) ‘কবরের ওপর খেজুরের ডাল রাখা’ অধ্যায়ে বিচ্ছিন্ন (معلق) হিসেবে বর্ণনা করেছেন। তিনি বলেন: "খারিজাহ বিন যাইদ বলেন: আমি নিজেকে দেখেছি যখন আমরা উসমান (রা.)-এর যুগে যুবক ছিলাম, আমাদের মধ্যে সবচেয়ে শক্তিশালী লম্ফদানকারী সেই ছিল, যে উসমান বিন মাজউন (রা.)-এর কবরের ওপর দিয়ে লাফিয়ে তা অতিক্রম করতে পারত।"

এটি যদিও বিচ্ছিন্ন (معلق), তবুও ইমাম বুখারি এটি দৃঢ়তাজ্ঞাপক শব্দে (بصيغة الجزم) উল্লেখ করেছেন। আর এটি উক্ত বর্ণনাটি বিশুদ্ধ (صحيح) হওয়ার পক্ষেই সিদ্ধান্ত(২), যেমনটি এর নিজ স্থানে নির্ধারিত রয়েছে।

আরেকটি হলো: যা ইমাম শাফেয়ি [ইবরাহিম বিন মুহাম্মদ](৩) থেকে, তিনি জাফর বিন মুহাম্মদ থেকে, তিনি তাঁর পিতা থেকে বর্ণনা করেছেন যে: নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়া সাল্লাম তাঁর উভয় হাত দিয়ে মিতের কবরে তিন আঁজলা মাটি দিয়েছেন(৪)।

--------------------------------------------

(১) (২/ ৯৫ — আল-আমিরিয়্যাহ)।

(২) অর্থাৎ যার থেকে এটি বিচ্ছিন্ন (معلق) অবস্থায় বর্ণনা করেছেন তার পর্যন্ত। আর দেখুন ‘হুদাস সারি’ (পৃষ্ঠা ১৯-২২)।

(৩) তৃতীয় বন্ধনীভুক্ত অংশটি লেখক খালি রেখেছিলেন।

(৪) এটি ইমাম শাফেয়ি ‘মুসনাদ’ (নং ৬০১) এবং ‘আল-উম্ম’ (১/ ৬২৮-৬২৯) গ্রন্থে বর্ণনা করেছেন।
(খণ্ড: ৫) ইমারাতুল কুবুর ফিল ইসলাম - আল-মুসাওয়াদাহ - দিমনা আসারুল মুআল্লিমী (পৃষ্ঠা: ২৯)
وأنه رشَّ على قبر ابنه إبراهيم، ووضع عليه حصباء(1).

وهذا مرسلٌ صحيحٌ، وأكثر الأئمة يحتجون بالمرسل.

والشاهد في وضع الحصباء، ولا شك أن وضعها على القبر يؤثّر في رفعه.

[ص 31] ومنها: ما أخرجه ابن أبي شيبة في "المصنف"(2) قال: ثنا يحيى بن سعيد عن سفيان عن أبي حصين عن الشعبي: رأيتُ قبور شهداء أحد جُثًى مُسنَّمة.

وهذا الحديث صحيح، ذكره في "الجوهر النقي"(3).

--------------------------------------------

(1) أخرجه الشافعي في "المسند" رقم (599). من الطريق نفسها.

وتكلم المصنف عن إسناد الأثر في النسخة الأخرى (ص 23) قال: "إبراهيم بن محمد: أجمع الأئمة على تضعيفه، إلا ابن الأصبهاني والشافعي، قال الشافعي: كان لأن يخر من السماء ــ أو قال: من بُعد ــ أحبّ إليه من أن يكذب.

وصرح جماعة من الأئمة بأنه يكذب، وقال الإمام أحمد: يضع.

وقال ابن عدي: قد نظرت أنا الكثير من حديثه، فلم أجد له حديثًا منكرًا، إلا عن شيوخ يحتملون، وقد حدث عنه الثوري وابن جريج والكبار.

وعلى كل حال، فالرجل ضعيف، ومع هذا فالحديث مرسل، وفي الاحتجاج بالمرسل خلافٌ، لا حاجة لذكره" ا? .

قلت: وللحديث الأول شاهد عند ابن ماجه (1565) من حديث أبي هريرة، وضعفه أبو حاتم الرازي. وللثاني شاهد عند أبي داود في "المراسيل" (424)، وآخر رواه البيهقي (3/ 411) عن جعفر بن محمد عن أبيه في الرش على القبر.

(2) (3/ 215). وأبو داود في المراسيل" (423)، وعبد الرزاق: (3/ 505) من طريق الثوري أخبرني بعض أصحابنا عن الشعبي بمثله.

(3) (4/ 4 ــ بهامش سنن البيهقي).
এবং তিনি তাঁর পুত্র ইব্রাহিমের কবরের ওপর পানি ছিটিয়েছিলেন এবং তার ওপর কঙ্করাবৃত পাথর রেখেছিলেন(১)।

আর এটি একটি বিচ্ছিন্ন (مرسل) এবং সঠিক (صحيح) বর্ণনা, আর অধিকাংশ ইমামই বিচ্ছিন্ন (مرسل) হাদিস দ্বারা দলিল গ্রহণ করেন।

আর দলিল হলো কঙ্করাবৃত পাথর রাখা, আর এতে কোনো সন্দেহ নেই যে কবরের ওপর তা রাখা কবরের উচ্চতাকে প্রভাবিত করে।

[পৃষ্ঠা ৩১] এবং এর মধ্য হতে: যা ইবনে আবি শায়বা তাঁর "আল-মুসান্নাফ"(২) গ্রন্থে সংকলন করেছেন, তিনি বলেন: আমাদের নিকট ইয়াহইয়া ইবনে সাঈদ বর্ণনা করেছেন সুফিয়ান থেকে, তিনি আবু হাসিন থেকে, তিনি শাবি থেকে; তিনি বলেন: আমি উহুদ যুদ্ধের শহীদদের কবরসমূহকে উঁচু ও উটের কুঁজের মতো স্তূপীকৃত দেখেছি।

আর এই হাদিসটি সঠিক (صحيح), যা "আল-জাওহারুন নাকি"(৩) গ্রন্থে উল্লেখ করা হয়েছে।

--------------------------------------------

(১) শাফেয়ী এটি "আল-মুসনাদ" (নং ৫৯৯)-এ একই সূত্রে বর্ণনা করেছেন।

লেখক অন্য পাণ্ডুলিপিতে (পৃষ্ঠা ২৩) এই বর্ণনার সনদ সম্পর্কে আলোচনা করেছেন, তিনি বলেন: "ইব্রাহিম ইবনে মুহাম্মদ: ইমামগণ তাঁকে দুর্বল (تضعيف) সাব্যস্ত করার ব্যাপারে ঐক্যমত পোষণ করেছেন, তবে ইবনুল আসবাহানি এবং শাফেয়ী ব্যতীত। ইমাম শাফেয়ী বলেন: আকাশ থেকে পড়ে যাওয়া—অথবা তিনি বলেন: অনেক দূর থেকে পড়ে যাওয়া—তাঁর নিকট মিথ্যা বলার চেয়ে অধিক পছন্দনীয় ছিল।

আর একদল ইমাম স্পষ্টভাবে বলেছেন যে তিনি মিথ্যা বলেন, এবং ইমাম আহমাদ বলেন: তিনি হাদিস জাল (يضع) করেন।

وقال ابن عدي: قد نظرت أنا الكثير من حديثه، فلم أجد له حديثًا منكرًا، إلا عن شيوخ يحتملون، وقد حدث عنه الثوري وابن جريج والكبار. ইবনে আদি বলেন: আমি তাঁর অনেক হাদিস পর্যবেক্ষণ করেছি, আমি তাঁর কোনো প্রত্যাখ্যাত (منكر) হাদিস পাইনি, কেবল এমন কিছু শায়খ থেকে বর্ণিত হাদিস ছাড়া যারা সহনশীল। আর তাঁর থেকে সাওরি, ইবনে জুরাইজ এবং বড় ইমামগণ হাদিস বর্ণনা করেছেন।

যা-ই হোক, এই ব্যক্তি দুর্বল (ضعيف), আর এর পাশাপাশি হাদিসটি বিচ্ছিন্ন (مرسل), আর বিচ্ছিন্ন (مرسل) হাদিস দ্বারা দলিল গ্রহণের ক্ষেত্রে মতভেদ রয়েছে, যা উল্লেখ করার প্রয়োজন নেই।" সমাপ্ত।

আমি (সম্পাদক) বলছি: প্রথম হাদিসটির একটি সমর্থক বর্ণনা (شاهد) ইবনে মাজাহ-তে (১৫৬৫) আবু হুরায়রার হাদিস থেকে বর্ণিত হয়েছে, এবং আবু হাতিম আর-রাজি একে দুর্বল (ضعفه) বলেছেন। দ্বিতীয় হাদিসটির একটি সমর্থক বর্ণনা (شاهد) আবু দাউদের "আল-মারাসিল" (৪২৪)-এ রয়েছে এবং অন্যটি বায়হাকি (৩/৪১১) জাফর ইবনে মুহাম্মদ থেকে, তিনি তাঁর পিতা থেকে কবরের ওপর পানি ছিটানো প্রসঙ্গে বর্ণনা করেছেন।

(২) (৩/ ২১৫)। এবং আবু দাউদ "আল-মারাসিল" (৪২৩)-এ এবং আব্দুর রাজ্জাক: (৩/ ৫০৫) সাওরির সূত্রে; তিনি বলেন, আমাদের কিছু সাথী আমাকে শাবি থেকে অনুরূপ বর্ণনা করেছেন।

(৩) (৪/ ৪ — সুনানে বায়হাকির পার্শ্বটীকায়)।
(খণ্ড: ৫) ইমারাতুল কুবুর ফিল ইসলাম - আল-মুসাওয়াদাহ - দিমনা আসারুল মুআল্লিমী (পৃষ্ঠা: ৩০)
ومنها: الإجماع من المسلمين على رفع القبور في المقابر المسبَّلة، واختلافهم في قدره وكيفيته لا يقدح في الإجماع، ما داموا مجتمعين على أصل الرفع.

ومنها: أن للقبور أحكامًا؛ من النهي عن القعود عليها، والصلاة إليها، وغير ذلك، وهذا يقتضي رفعها؛ لتتميز عن الأرض، فتُعْرَف.

[ص 32] والجواب:

• أما أثر خارجة؛ فقال في "فتح الباري"(1): "إن البخاري وصله في "تاريخه الصغير".

وقد نظرنا "التاريخ الصغير"، فوجدناه قال (ص 23)(2) طبعة إله آباد: "حدثنا عَمرو بن محمد ثنا يعقوب ثنا أبي عن ابن إسحاق حدثني يحيى بن عبد الله بن عبد الرحمن بن أبي عَمْرة الأنصاري قال: سمعت خارجة بن زيد بن ثابت: رأيتني ونحن غلمان شُبَّان زمن عثمان، وإن أشدّنا وَثْبة الذي يَثِبُ قبر عثمان بن مظعون حتى يجاوزه" ا? .

والكلام عليه من وجوه:

أولًا: من حيث إسناده.

فيه ابن إسحاق، وهو وإن كان الحق أنه صدوق، وصرَّح بالتحديث، فالتحقيق ما قاله الذهبي في "الميزان"(3) في فَذْلَكة(4) ترجمة ابن إسحاق

--------------------------------------------

(1) (3/ 265).

(2) "التاريخ الأوسط" رقم (126 ــ ط الرشد).

(3) (4/ 395).

(4) أي في نهايتها.
এর মধ্যে একটি হলো: জনসাধারণের জন্য নির্ধারিত গোরস্থানগুলোতে কবর উঁচু করার বিষয়ে মুসলিমদের সর্বসম্মতি (إجماع); এবং এর পরিমাণ ও পদ্ধতি নিয়ে তাদের মধ্যকার মতপার্থক্য এই সর্বসম্মতির (إجماع) কোনো ক্ষতি করে না, যতক্ষণ তারা মূল কবর উঁচু করার বিষয়ে একমত থাকেন।

আরেকটি হলো: কবরের কিছু বিধান রয়েছে; যেমন এর ওপর বসতে নিষেধ করা, এর দিকে মুখ করে সালাত আদায় করা এবং এই জাতীয় অন্যান্য বিষয়। এটি কবরকে ভূমি থেকে পৃথক করার জন্য উঁচু করার দাবি রাখে, যাতে তা চেনা যায়।

[পৃষ্ঠা ৩২] উত্তর:

• খারিজার আসার (أثر) সম্পর্কে; "ফাতহুল বারী"-তে(১) বলা হয়েছে: "নিশ্চয়ই বুখারী একে তাঁর 'তারিখুস সাগির' গ্রন্থে অবিচ্ছিন্নভাবে বর্ণনা করেছেন (وصله)।

আমরা 'তারিখুস সাগির' পর্যালোচনা করে দেখেছি যে, তিনি (পৃষ্ঠা ২৩)(২) এলাহাবাদ মুদ্রণে বলেছেন: "আমর ইবনে মুহাম্মদ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন ইয়াকুব আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন আমার পিতা ইবনে ইসহাক থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন ইয়াহইয়া ইবনে আবদুল্লাহ ইবনে আবদুর রহমান ইবনে আবি আমরাহ আল-আনসারী আমার নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমি খারিজাহ ইবনে যায়িদ ইবনে সাবিতকে বলতে শুনেছি: আমি উসমানের যুগে যখন আমরা কিশোর যুবক ছিলাম তখন আমাদের দেখেছি, আমাদের মধ্যে সেই ব্যক্তিই সবচেয়ে শক্তিশালী লম্ফবিদ ছিল যে উসমান ইবনে মাজউনের কবরের ওপর দিয়ে লাফিয়ে তা পার হতে পারত।" সমাপ্ত।

এর ওপর পর্যালোচনা কয়েকটি দিক থেকে:

প্রথমত: এর সনদের (إسناد) দিক থেকে।

এতে ইবনে ইসহাক রয়েছেন; যদিও সত্য এই যে তিনি সত্যবাদী (صدوق) এবং তিনি সরাসরি শ্রবণের কথা (تحديث) স্পষ্টভাবে উল্লেখ করেছেন, তবুও সঠিক বিশ্লেষণ হলো যা যাহাবী 'মিজান'(৩) গ্রন্থে ইবনে ইসহাকের জীবনীর সারসংক্ষেপে(৪) উল্লেখ করেছেন।

--------------------------------------------

(১) (৩/ ২৬৫)।

(২) "তারিখুল আওসাত" নম্বর (১২৬ ــ রুশদ প্রকাশনী)।

(৩) (৪/ ৩৯৫)।

(৪) অর্থাৎ এর শেষে।