(খণ্ড: ১) ইমারাতুল কুবুর ফিল ইসলাম - আল-মুবাইয়্যাদাহ - দিমনা আসারুল মুআল্লিমী (পৃষ্ঠা: -)
عمارة القبور في الإسلام - المبيضة - ضمن «آثار المعلمي»   (عبد الرحمن المعلمي اليماني)

القسم: مسائل فقهية


الكتاب: عمارة القبور في الإسلام - المبيضة

[آثار عبد الرحمن بن يحيى المعلمي اليماني (5)]

المؤلف: عبد الرحمن بن يحيى المُعَلِّمي اليماني (1313 - 1386 هـ)

المحقق: علي بن محمد العمران

راجعه: محمد أجمل الإصلاحي - سعود بن عبد العزيز العريفي

الناشر: دار عالم الفوائد للنشر والتوزيع

الطبعة: الأولى، 1434 هـ

قدمه للشاملة: مؤسسة «عطاءات العلم»، جزاهم الله خيرا

[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]

تاريخ النشر بالشاملة: 10 شوّال 1442

ইসলামে কবর নির্মাণ - আল-মুবাইয়িযাহ - ‘আসারুল মুয়াল্লিমি’ এর অন্তর্ভুক্ত   (আবদুর রহমান আল-মুয়াল্লিমি আল-ইয়ামানি)

বিভাগ: ফিকহি মাসআলাসমূহ


গ্রন্থ: ইসলামে কবর নির্মাণ - আল-মুবাইয়িযাহ

[আবদুর রহমান ইবনে ইয়াহইয়া আল-মুয়াল্লিমি আল-ইয়ামানির রচনাবলি (৫)]

লেখক: আবদুর রহমান ইবনে ইয়াহইয়া আল-মুয়াল্লিমি আল-ইয়ামানি (১৩১৩ - ১৩৮৬ হিজরি)

সম্পাদনা: আলি বিন মুহাম্মদ আল-উমরান

পর্যালোচনা: মুহাম্মদ আজমল আল-ইসলাহি - সাউদ বিন আবদুল আজিজ আল-আরিফি

প্রকাশক: দার আলাম আল-ফাওয়ায়িদ প্রকাশনা ও বিতরণ

সংস্করণ: প্রথম، ১৪৩৪ হিজরি

শামিলা লাইব্রেরির জন্য পেশ করেছেন: ‘আতাআতুল ইলম’ ফাউন্ডেশন، আল্লাহ তাদের উত্তম প্রতিদান দান করুন

[গ্রন্থের পৃষ্ঠা নম্বর মুদ্রণ কপির অনুরূপ]

শামিলাতে প্রকাশের তারিখ: ১০ শাওয়াল ১৪৪২ হিজরি

(খণ্ড: ৫) ইমারাতুল কুবুর ফিল ইসলাম - আল-মুবাইয়্যাদাহ - দিমনা আসারুল মুআল্লিমী (পৃষ্ঠা: ১)
عمارة القبور في الإسلام - المبيضة

 

تأليف

الشيخ العلامة عبد الرحمن بن يحيى المعلمي اليماني

(1313 - 1386 هـ)

رحمه الله تعالى

 

تحقيق

علي بن محمد العمران
ইসলামে কবর নির্মাণ - পরিমার্জিত সংস্করণ

 

রচনায়

শায়খ আল্লামা আবদুর রহমান বিন ইয়াহইয়া আল-মুয়াল্লিমী আল-ইয়ামানী

(১৩১৩ - ১৩৮৬ হিজরি)

আল্লাহ তাআলা তাঁর প্রতি রহম করুন

 

সম্পাদনায়

আলী বিন মুহাম্মদ আল-উমরান
(খণ্ড: ৫) ইমারাতুল কুবুর ফিল ইসলাম - আল-মুবাইয়্যাদাহ - দিমনা আসারুল মুআল্লিমী (পৃষ্ঠা: ৩)
راجع هذا الجزء

 

محمد أجمل الإصلاحي

سعود بن عبد العزيز العريفي
এই অংশটি পর্যালোচনা করেছেন

 

মুহাম্মাদ আজমাল আল-ইসলাহী

সাউদ বিন আব্দুল আজীজ আল-আরিফী
(খণ্ড: ৫) ইমারাতুল কুবুর ফিল ইসলাম - আল-মুবাইয়্যাদাহ - দিমনা আসারুল মুআল্লিমী (পৃষ্ঠা: ৫)
بِسْمِ اللَّهِ الرَّحْمَنِ الرَّحِيمِ

 

‌‌مقدمة التحقيق

الحمد لله رب العالمين، اللهم صل وسلم على محمد وعلى آله وصحبه أجمعين، ومن تبعهم بإحسان إلى يوم الدين.

أما بعد، فهذه رسالة محررة من مؤلفات الشيخ العلامة عبد الرحمن المعلمي رحمه الله تعالى في مسألة من مسائل الفقه من حيثُ أصلُها، ولها تعلُّق بالعقيدة من حيث نتائجُها وما تفضي إليه، وهي مسألة البناء على القبور وحكمها في الإسلام؛ فحرّر القولَ فيها على طريقة الاجتهاد؛ من ذكر النصوص في المسألة، ثم النظر فيها ثبوتًا ودلالةً، على نحوٍ لم يسبقه إليه أحد ممن تكلم في المسألة، على عادة المصنف رحمه الله في التحقيق والتحرير.

وقد كُتب في هذه المسألة عدة مصنفات، وذكر المؤلف في مقدمة رسالته هذه أنه اطلع على بعض ما أُلف في هذه المسألة، فأراد هو أن ينظر فيها نظرَ متحرٍّ للحق بدليله من الكتاب والسنة. فكان ذلك ولله الحمد.

* فمِن المصنفات في المسألة على نهج أهل السنة ما يلي:

1 - رسالة في أن ما يوضع على القبور باطل، لنوح الرومي (ت 1070 هـ)، مخطوط في دار الكتب المصرية(1).

--------------------------------------------

(1) انظر "معجم الموضوعات المطروقة": (2/ 955).

পরম করুণাময় অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে।

 

‌‌সম্পাদকের ভূমিকা

সমস্ত প্রশংসা জগতসমূহের প্রতিপালক আল্লাহর জন্য। হে আল্লাহ, আপনি মুহাম্মদ, তাঁর পরিবারবর্গ এবং তাঁর সকল সাহাবীর ওপর রহমত ও শান্তি বর্ষণ করুন এবং কিয়ামত পর্যন্ত যারা নিষ্ঠার সাথে তাঁদের অনুসরণ করবেন তাদের ওপরও।

অতঃপর, এটি আল্লামা শাইখ আব্দুর রহমান আল-মুয়াল্লিমী (রাহিমাহুল্লাহ)-এর রচিত একটি পরিমার্জিত পুস্তিকা। এটি উৎসের দিক থেকে একটি ফিকহী মাসআলা হলেও এর ফলাফল এবং এর প্রভাবের দিক থেকে এটি আকিদার সাথে সম্পৃক্ত। আর তা হলো কবরের ওপর ইমারত বা স্থাপনা নির্মাণের মাসআলা এবং ইসলামে এর বিধান। তিনি এ বিষয়ে ইজতিহাদের পদ্ধতিতে চূড়ান্ত ফয়সালা প্রদান করেছেন; যেখানে এই মাসআলা সংক্রান্ত দলিলসমূহ উল্লেখ করার পর সেগুলোর বিশুদ্ধতা ও নির্দেশনার দিক থেকে এমনভাবে পর্যালোচনা করেছেন, যা তাঁর পূর্বে এই মাসআলা নিয়ে আলোচনাকারী অন্য কেউ করেননি। আর এটিই ছিল তাহকীক ও গবেষণার ক্ষেত্রে লেখকের (রাহিমাহুল্লাহ) চিরচেনা বৈশিষ্ট্য।

এই মাসআলায় বেশ কিছু গ্রন্থ রচিত হয়েছে। লেখক তাঁর এই পুস্তিকার ভূমিকায় উল্লেখ করেছেন যে, এই বিষয়ে লিখিত কিছু কিতাব তিনি পাঠ করেছেন এবং তিনি কিতাব ও সুন্নাহর দলিলের ভিত্তিতে সত্য অন্বেষণের দৃষ্টিতে বিষয়টি পর্যালোচনা করতে চেয়েছেন। আর আল্লাহর প্রশংসায় সেটি সম্ভব হয়েছে।

* আহলে সুন্নাতের মানহাজ অনুযায়ী এই মাসআলায় রচিত কিতাবসমূহের মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো:

১ - 'কবরের ওপর যা কিছু নির্মাণ করা হয় তা বাতিল' বিষয়ক একটি পুস্তিকা, লেখক নূহ আর-রুমী (মৃত্যু ১০৭০ হি.), এটি মিশরের 'দারুল কুতুব' লাইব্রেরিতে পাণ্ডুলিপি হিসেবে সংরক্ষিত।(১).

--------------------------------------------

(১) দেখুন: "মু'জামুল মাওদুআত আল-মাতরুকা": (২/ ৯৫৫)।

(খণ্ড: ৫) ইমারাতুল কুবুর ফিল ইসলাম - আল-মুবাইয়্যাদাহ - দিমনা আসারুল মুআল্লিমী (পৃষ্ঠা: ৬)
2 - شرح الصدور في تحريم رفع القبور، للشوكاني (ت 1250 هـ). وهي رسالة صغيرة لا تزيد على ست عشرة صفحة. وقد اطلع عليها المؤلف ونقل منها في مسوّداته لهذا الكتاب، انظر مجموع رقم (4717) في مكتبة الحرم المكي ص 57. لكنه لم ينقل منه في هاتين النسختين (المبيضة والمسوّدة) اللتين بين يديك.

3 - العِلْم المأثور والعَلَم المشهور واللواء المنشور في بدع القبور(1).

4 - كتاب القاضي العدل في حكم البناء على القبور، كلاهما لتقي الدين محمد بن عبد القادر الهلالي (ت 1407 هـ). وهذا الأخير طبع سنة 1346 هـ. وكان قد نُشر قبل ذلك في السنة نفسها في "مجلة المنار"، ثم أعيد طبعه سنة 1430 هـ بتحقيق د. صادق بن سليم. وهو رد على القزويني الرافضي.

* ومن المصنفات على طريقة أهل البدع:

5 - البيت المعمور في عمارة القبور، لعلي النقوي اللكهنوي الرافضي (ت 1408 هـ). وقد طبع في الهند سنة 1345 هـ(2). وهو ردّ على الوهّابية كما ذكر مؤلفه(3)!

--------------------------------------------

(1) ونُشرت هذه الرسالة أولًا في "مجلة الهدي النبوي" مجلد 30 الأعداد 3 - 5، 7 - 10 عام 1385 هـ بعنوان "العلم المأثور والعَلَم المنصور واللواء المنشور في الرد على أهل الغرور المستنجدين بالمقبور".

(2) انظر "معجم المطبوعات العربية في شبه القارة الهندية" (ص 317 - 318).

(3) انظر ترجمته لنفسه المنشورة في مجلة ينابيع عدد 32 لعام 1430 هـ.

২ - শারহুস সুদূর ফী তাহরীমি রাফইল কুবুর, শাওকানি (মৃ. ১২৫০ হি.) রচিত। এটি একটি ছোট পুস্তিকা যা ১৬ পৃষ্ঠার বেশি নয়। লেখক এটি দেখেছেন এবং এই গ্রন্থের খসড়া পাণ্ডুলিপিতে তা থেকে উদ্ধৃতি দিয়েছেন, মক্কার হারাম লাইব্রেরির মাজমু' নম্বর (৪৭১৭), পৃষ্ঠা ৫৭ দেখুন। তবে আপনার হাতে থাকা এই দুই সংস্করণে (চূড়ান্ত ও খসড়া) তিনি তা থেকে উদ্ধৃতি দেননি।

৩ - আল-ইলমুল মাসুর ওয়াল আলামুল মাশহুর ওয়াল লিওয়াউল মানশুর ফী বিদাউল কুবুর(১)।

৪ - কিতাবুল কাযিল আদল ফী হুকমিল বিনা-ই আলাল কুবুর, এ দুটি গ্রন্থই তাকিউদ্দীন মুহাম্মাদ বিন আব্দুল কাদির আল-হিলালি (মৃ. ১৪০৭ হি.)-র রচনা। এই শেষোক্ত গ্রন্থটি ১৩৪৬ হিজরিতে মুদ্রিত হয়েছে। এর আগে একই বছরে এটি "মাজাল্লাতুল মানার"-এ প্রকাশিত হয়েছিল, এরপর ১৪৩০ হিজরিতে ড. সাদিক বিন সালিমের সম্পাদনায় পুনরায় মুদ্রিত হয়। এটি রাফেযি কাজউইনির একটি খণ্ডন।

* বিদআতিদের পন্থায় রচিত গ্রন্থাবলির মধ্যে রয়েছে:

৫ - আল-বাইতুল মামুর ফী ইমারাতিল কুবুর, রাফেযি আলী নকভি আল-লাখনবি (মৃ. ১৪০৮ হি.) রচিত। এটি ভারতে ১৩৪৫ হিজরিতে মুদ্রিত হয়েছে(২)। এর লেখক যেমনটি উল্লেখ করেছেন, এটি ওহাবিদের একটি খণ্ডন(৩)!

--------------------------------------------

(১) এই পুস্তিকাটি প্রথমত ১৩৮৫ হিজরিতে "মাজাল্লাতুল হাদিউন নববী" ৩০তম খণ্ডের ৩-৫ ও ৭-১০ সংখ্যায় "আল-ইলমুল মাসুর ওয়াল আলামুল মানসুর ওয়াল লিওয়াউল মানশুর ফির রাদ্দি আলা আহলিল গুরূর আল-মুসতানজিদীনা বিল মাকবুর" শিরোনামে প্রকাশিত হয়েছিল।

(২) দেখুন "মুজামুল মাতবুয়াতিল আরাবিয়্যাহ ফী শিবহিল কাররাতিল হিন্দিয়্যাহ" (পৃষ্ঠা ৩১৭-৩১৮)।

(৩) ১৪৩০ হিজরির "মাজাল্লাতু ইয়ানাবী" ৩২তম সংখ্যায় প্রকাশিত তার নিজের জীবনী দেখুন।

(খণ্ড: ৫) ইমারাতুল কুবুর ফিল ইসলাম - আল-মুবাইয়্যাদাহ - দিমনা আসারুল মুআল্লিমী (পৃষ্ঠা: ৭)
6 - إحياء المقبور من أدلة استحباب بناء القباب على القبور، لأحمد بن الصديق الغماري (ت 1381 هـ). ولا أدري هل اطلع المصنف على هاتين الرسالتين؟

7 - الردّ على الوهابية، لحسن صدر الدين الكاظمي الرافضي (ت 1354 هـ). وهذه الرسالة طبعت سنة 1345 هـ. وهي لا تختصّ بمسألة البناء على القبور، بل معها جملة من المسائل في التوحيد والتوسل والشفاعة. وهذه الرسالة هي التي تعرّض المصنف لها بالنقد في عدّة مواضع من الكتاب، وسمّى مؤلِّفَها صراحةً، كما سيأتي في مبحث سبب تأليف الكتاب.

* * * *

ورسالتنا هذه كتبها المؤلّف عدة مرات في عدة نسخ، وقفتُ منها على ثلاث (سيأتي وصفها ص 22 - 24)، مع تقييدات أخرى متفرقة في المجاميع تتعلق بالموضوع، لكن ليست فيها نسخة مبيّضة نهائيّة، فكلها مسوّدات يكثر فيها الضرب والشطب والإلحاق والبياضات … ، لكن أكملها وأمثلها ترتيبًا هي التي أطلقتُ عليها (المبيضة)، وسميت النسخة الأخرى (المسوّدة). وأوضحت في مبحث مستقل (انظر ص 20 - 22) الفروق بينهما ودواعي نشر النسختين معًا، ولماذا لم نكتف بما اعتبرناه (المبيّضة).

وقد قدّمتُ بين يدي هذه الرسالة في نسختيها عددًا من المباحث لمزيد التعريف بها، وهي:

- أولًا: اسم الكتاب.

- ثانيًا: ثبوت نسبته للمؤلف وتاريخ تأليفه.
৬ - ইহইয়াউল মাক্ববুর মিন আদিল্লাতি ইসতিহবাব বিনািল ক্বিবাবি আলাল ক্বুবুর (কবরসমূহের ওপর গম্বুজ নির্মাণের মুস্তাহাব হওয়ার দলিলসমূহ থেকে কবরের অধিবাসীকে পুনরুজ্জীবিত করা), লেখক আহমদ বিন সিদ্দিক আল-গুমারি (মৃত্যু ১৩৮১ হি.)। আমি জানি না গ্রন্থকার এই দুটি রিসালা বা পুস্তিকা দেখেছেন কি না?

৭ - আর-রাদ্দু আলাল ওয়াহাবিয়্যাহ (ওয়াহাবিদের খণ্ডন), লেখক হাসান সদরুদ্দিন আল-কাযিমি আর-রাফিযি (মৃত্যু ১৩৫৪ হি.)। এই রিসালাটি ১৩৪৫ হিজরিতে মুদ্রিত হয়েছে। এটি কেবল কবরের ওপর ইমারত নির্মাণের মাসআলার মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়, বরং এতে তাওহিদ, তাওয়াসসুল ও শাফায়াত বিষয়ক একগুচ্ছ মাসআলা রয়েছে। এই রিসালাটিকেই গ্রন্থকার কিতাবের বিভিন্ন স্থানে সমালোচনার লক্ষ্যবস্তু বানিয়েছেন এবং এর লেখকের নাম স্পষ্টভাবে উল্লেখ করেছেন, যা কিতাবটি রচনার কারণ শীর্ষক আলোচনায় সামনে আসবে।

* * * *

আমাদের এই রিসালাটি গ্রন্থকার কয়েক দফায় বিভিন্ন পাণ্ডুলিপিতে লিখেছেন, যেগুলোর মধ্য থেকে আমি তিনটির সন্ধান পেয়েছি (২২ - ২৪ পৃষ্ঠায় সেগুলোর বর্ণনা আসবে)। এর পাশাপাশি বিভিন্ন পাণ্ডুলিপি-সমষ্টিতে এই বিষয়বস্তু সংশ্লিষ্ট আরও কিছু বিক্ষিপ্ত টীকা রয়েছে। তবে সেগুলোর মধ্যে কোনোটিই চূড়ান্তভাবে পরিমার্জিত কপি নয়, বরং সবগুলোই হলো খসড়া পাণ্ডুলিপি, যাতে প্রচুর কাটাকাটি, বর্জন, সংযোজন এবং শূন্যস্থান বিদ্যমান … , তবে এগুলোর মধ্যে বিন্যাসের দিক থেকে যেটি সবচেয়ে পূর্ণাঙ্গ ও আদর্শ সেটিকে আমি 'পরিমার্জিত কপি' হিসেবে অভিহিত করেছি এবং অপর পাণ্ডুলিপিটিকে 'খসড়া কপি' নাম দিয়েছি। আমি একটি স্বতন্ত্র পরিচ্ছেদে (দেখুন ২০ - ২২ পৃষ্ঠা) এ দুটির মধ্যকার পার্থক্য এবং উভয় পাণ্ডুলিপি একত্রে প্রকাশের কারণ এবং কেন আমরা যাকে 'পরিমার্জিত কপি' মনে করেছি তাতেই সন্তুষ্ট থাকিনি, তা ব্যাখ্যা করেছি।

আমি এই রিসালাটির উভয় পাণ্ডুলিপি উপস্থাপনের আগে একে আরও বিস্তারিতভাবে পরিচয় করিয়ে দেওয়ার জন্য কিছু বিষয় তুলে ধরেছি, সেগুলো হলো:

- প্রথমত: কিতাবের নাম।

- দ্বিতীয়ত: লেখকের প্রতি এর সম্বন্ধের প্রামাণিকতা এবং এটি রচনার তারিখ।
(খণ্ড: ৫) ইমারাতুল কুবুর ফিল ইসলাম - আল-মুবাইয়্যাদাহ - দিমনা আসারুল মুআল্লিমী (পৃষ্ঠা: ৮)
- ثالثًا: سبب تأليفه.

-رابعًا: عرض موضوعات الكتاب في نسختيه.

- خامسًا: بين المسوّدة والمبيضة، ودواعي طبعهما.

- سادسًا: وصف النسخ الخطية.

- سابعًا: منهج التحقيق.

وختمته بالفهارس المتنوّعة، اللفظية والعلمية.

وصلى الله على نبينا محمد وعلى آله وصحبه وسلم.

 

وكتب

 

في 23 ربيع الأول 1432 هـ

Aliomraan@hotmail.com
তৃতীয়ত: এটি রচনার কারণ।

-চতুর্থত: উভয় সংস্করণে গ্রন্থের বিষয়বস্তুর উপস্থাপনা।

- পঞ্চমত: খসড়া ও চূড়ান্ত পাণ্ডুলিপির মধ্যকার বিবরণ এবং উভয়টি মুদ্রণের প্রেক্ষাপট।

- ষষ্ঠত: পাণ্ডুলিপিগুলোর বিবরণ।

- সপ্তমত: সম্পাদনা পদ্ধতি।

এবং আমি একে শব্দানুক্রমিক ও জ্ঞানতাত্ত্বিক বিভিন্ন নির্ঘণ্টের মাধ্যমে সমাপ্ত করেছি।

আমাদের নবী মুহাম্মাদ এবং তাঁর পরিবারবর্গ ও সকল সাহাবীর ওপর আল্লাহর রহমত ও শান্তি বর্ষিত হোক।

 

লিখেছেন

 

২৩ রবিউল আউয়াল ১৪৩২ হিজরী

Aliomraan@hotmail.com
(খণ্ড: ৫) ইমারাতুল কুবুর ফিল ইসলাম - আল-মুবাইয়্যাদাহ - দিমনা আসারুল মুআল্লিমী (পৃষ্ঠা: ৯)
‌‌التعريف بالكتاب في نسختيه

*‌‌ أولًا: اسم الكتاب:

ترك المصنف عدة نسخ من هذه الرسالة (كما سيأتي الكلام عليها) ليس على شيء منها اسمٌ لا على صفحة العنوان ولا في مقدمة الكتاب. لكن وجدت المؤلف قد ذكر اسم الكتاب صريحًا في مسوّدة الكتاب ضمن المجموع رقم (4717) إذ قال في ص 4 ما نصّه: "يلحق برسالة عمارة القبور في الإسلام". فهذا هو الاسم الكامل الذي وجدناه للكتاب.

ويؤيده ولا يناقضه أن المؤلف قد ذكره في كتابه الكبير "العبادة" في موضعين، وسماه هناك (عمارة القبور). قال في الموضع الأول: "وقد بسطنا الكلام على ذلك في رسالتنا (عمارة القبور) "(1). وفي الثاني: "وقد عَثَرْتُ له على عِلَّةٍ قادحةٍ بيَّنتُها في رسالَتي (عمارة القبور) "(2). وعدم ذكر عبارة "في الإسلام" لا يعدو أن يكون اختصارًا أو تخفيفًا كما جرت العادة بذلك.

وهذه التسمية لا نجزم أنها التسمية العَلَمية للكتاب، ولا أنها التي استقرّ المصنف على إطلاقها على كتابه؛ لأنه من عادة المؤلف أن يختار عنوانات مسجوعة لكتبه كما ذكرتُ في موضع آخر، ولأنه عادةً ما يُتسامح في تسمية الكتب إذا جاءت في غير صفحة العنوان أو مقدّمة المؤلف، فتُذكر بموضوع الرسالة أو يُختصر العنوان أو يُتصرّف فيه. ومهما يكن من أمر فإن ذِكر المؤلف له بهذا العنوان في ثلاثة مواضع قد قرّب لنا تسمية هذه الرسالة.

--------------------------------------------

(1) (ص 729).

(2) (ص 815).

‌‌দুই পাণ্ডুলিপিতে বইটির পরিচিতি

*‌‌ প্রথমত: বইটির নাম:

লেখক এই রিসালাহ বা পুস্তিকাটির বেশ কয়েকটি পাণ্ডুলিপি রেখে গেছেন (যে সম্পর্কে সামনে আলোচনা আসবে), যার কোনোটির শিরোনামের পাতায় বা বইয়ের ভূমিকায় কোনো নাম নেই। তবে আমি দেখেছি যে, লেখক ৪৭১৭ নম্বর সংকলনের অন্তর্ভুক্ত বইটির খসড়ায় স্পষ্টভাবে বইটির নাম উল্লেখ করেছেন। সেখানে ৪ নম্বর পৃষ্ঠায় তাঁর মূল বক্তব্য হলো: "ইসলামে কবরের ইমারত নির্মাণ শীর্ষক রিসালাহটির সাথে এটি যুক্ত হবে।" সুতরাং এটিই বইটির পূর্ণাঙ্গ নাম যা আমরা খুঁজে পেয়েছি।

এর সমর্থন পাওয়া যায় এবং এটি তার পরিপন্থী নয় যে, লেখক তাঁর বৃহৎ গ্রন্থ 'আল-ইবাদাহ'-তে দুটি স্থানে এর উল্লেখ করেছেন এবং সেখানে এর নাম দিয়েছেন 'ইমারাতুল কুবুর' (কবরের ইমারত নির্মাণ)। প্রথম স্থানে তিনি বলেছেন: "আমরা আমাদের 'ইমারাতুল কুবুর' নামক রিসালাহতে এ বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা করেছি।"(১)। দ্বিতীয় স্থানে বলেছেন: "আমি এতে একটি গুরুতর ত্রুটি খুঁজে পেয়েছি যা আমি আমার 'ইমারাতুল কুবুর' নামক রিসালাহতে বর্ণনা করেছি।"(২)। আর "ইসলামে" অংশটুকু উল্লেখ না করা কেবল সংক্ষেপণ বা সহজ করার উদ্দেশ্যে হতে পারে, যেমনটি সচরাচর ঘটে থাকে।

তবে এই নামকরণটিই বইটির জন্য নির্ধারিত প্রাতিষ্ঠানিক নাম কি না, কিংবা লেখক তাঁর বইটির জন্য এই নামটিই চূড়ান্ত করেছিলেন কি না, সে ব্যাপারে আমরা নিশ্চিত নই। কারণ লেখকের অভ্যাস হলো তাঁর বইগুলোর জন্য ছন্দোবদ্ধ শিরোনাম নির্বাচন করা, যেমনটি আমি অন্য স্থানে উল্লেখ করেছি। তাছাড়া সাধারণত শিরোনামের পৃষ্ঠা বা লেখকের ভূমিকার বাইরে যখন কোনো বইয়ের নাম আসে, তখন নামকরণের ক্ষেত্রে শিথিলতা অবলম্বন করা হয়; ফলে রিসালাহটির মূল বিষয়ের আলোকে নাম উল্লেখ করা হয় কিংবা শিরোনাম সংক্ষিপ্ত করা হয় অথবা তাতে কিছুটা পরিবর্তন আনা হয়। তবে বিষয়টি যা-ই হোক না কেন, তিনটি স্থানে লেখকের এই শিরোনামে বইটির উল্লেখ করা আমাদের কাছে এই রিসালাহটির নামকরণ স্পষ্ট করে দিয়েছে।

--------------------------------------------

(১) (পৃষ্ঠা ৭২৯)।

(২) (পৃষ্ঠা ৮১৫)।

(খণ্ড: ৫) ইমারাতুল কুবুর ফিল ইসলাম - আল-মুবাইয়্যাদাহ - দিমনা আসারুল মুআল্লিমী (পৃষ্ঠা: ১০)
*‌‌ ثانيًا: ثبوت نسبته للمؤلف وتاريخ تأليفه:

الكتاب ثابت النسبة لمؤلفه، فهو بخط مصنّفه المعروف في كل نسخه التي وُجدت، وهي نسخ (كما سيأتي وصفها) مسوّدة كثيرة الضرب والتعديل، وهذه لا تكون إلا من صنيع مؤلف الكتاب أو الرسالة كما هو معروف.

ومما يدلّ على ثبوت الكتاب له أنه قد ذكره في كتابه الكبير "العبادة" في موضعين (ص 729، 815) قال في الموضع الأول: "وقد بسطنا الكلام على ذلك في رسالتنا (عمارة القبور) "، وقال في الثاني: "وقد عَثَرْتُ له على عِلَّةٍ قادحةٍ بيَّنتُها في رسالَتي (عمارة القبور) ". ولكن يُشكل على هذا أننا لم نجد هذين البحثين في الكتاب، ولعلهما في أوراق لم نعثر عليها.

ثم هو جارٍ على طريقة الشيخ المعهودة في عرض المسائل والاستدلال عليها، والتمكّنُ في الكلام على الحديث والعلل والرجال ظاهر في الرسالة.

أما وقت تأليفها، فلم يظهر بالتحديد وقت تأليفها لكني أميل إلى أنه ألّفها بعد مَقدمه إلى مكة المكرمة بعد سنة 1371 هـ، وذلك أن المؤلف تعرّض في ردّ الشبهات إلى ما أورده حَسَنٌ الصدر في رسالته "الرد على الوهابية" وسمى مؤلفها في (المبيّضة ص 126). أما في (المسوّدة ص 58) فلم يذكره صراحة، لكنه ذَكَر أن بعض المتطرّفين الجهّال الذين يستحبّون البناء على القبور … وأنه إذا أنكر عليهم أحدٌ قالوا: "وهّابي" … وظني أن قضية الوهابية والنبز بها إنما برزت عند الشيخ ولمسها لمّا جاء إلى مكة، فالله أعلم.
দ্বিতীয়ত: লেখকের প্রতি এর সংশ্লিষ্টতার প্রমাণ এবং এর রচনার তারিখ:

বইটি তার লেখকের প্রতি সংশ্লিষ্ট হওয়া প্রমাণিত, কারণ এটি প্রাপ্ত সকল পাণ্ডুলিপিতে লেখকের পরিচিত হস্তলিপিতে লিখিত। আর এই পাণ্ডুলিপিগুলো (যেগুলোর বর্ণনা সামনে আসবে) হলো খসড়া কপি যাতে প্রচুর কাটাকাটি ও পরিমার্জন রয়েছে; আর এটি সুবিদিত যে, এমনটি কেবল বই বা পুস্তিকার লেখকের পক্ষেই সম্ভব।

লেখকের প্রতি বইটির সংশ্লিষ্টতা সাব্যস্ত হওয়ার একটি প্রমাণ হলো যে, তিনি তাঁর বৃহৎ গ্রন্থ 'আল-ইবাদাহ'-এর দুটি স্থানে (পৃষ্ঠা ৭২৯, ৮১৫) এর উল্লেখ করেছেন। প্রথম স্থানে তিনি বলেছেন: "আমরা আমাদের পুস্তিকা (ইমারাতুল কুবুর)-এ এই বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা করেছি", এবং দ্বিতীয় স্থানে বলেছেন: "আমি এতে একটি ক্ষতিকর ত্রুটি খুঁজে পেয়েছি যা আমি আমার পুস্তিকা (ইমারাতুল কুবুর)-এ স্পষ্ট করেছি"। তবে এখানে সমস্যা হলো যে, আমরা বইটিতে এই দুটি আলোচনা খুঁজে পাইনি; সম্ভবত সেগুলো এমন কোনো কাগজে ছিল যা আমাদের হস্তগত হয়নি।

অধিকন্তু, এটি মাসআলা উপস্থাপন ও তার স্বপক্ষে দলিল প্রদানের ক্ষেত্রে শাইখের পরিচিত পদ্ধতির অনুসারী। আর হাদিস, ত্রুটি (ইল্লাত) ও বর্ণনাকারী (রিজাল) শাস্ত্রের আলোচনায় পারদর্শিতা এই পুস্তিকাটিতে সুস্পষ্ট।

এটি রচনার সময়ের ব্যাপারে নির্দিষ্ট করে কিছু জানা যায়নি, তবে আমার ধারণা হলো তিনি এটি ১৩৭১ হিজরির পর মক্কাতুল মুকাররমায় আসার পর রচনা করেছেন। এর কারণ হলো, লেখক সংশয় নিরসনের আলোচনায় হাসান আস-সাদর তার 'আর-রাদ্দ আলাল ওয়াহাবিয়া' পুস্তিকায় যা উল্লেখ করেছেন তার জবাব দিয়েছেন এবং (পরিচ্ছন্ন অনুলিপি বা মুবায়্যাদাহ-এর ১২৬ পৃষ্ঠায়) এর লেখকের নাম উল্লেখ করেছেন। তবে (খসড়া বা মুসাওয়াদাহ-এর ৫৮ পৃষ্ঠায়) তিনি তার নাম স্পষ্টভাবে উল্লেখ করেননি, বরং উল্লেখ করেছেন যে, কতিপয় চরমপন্থী জাহেল যারা কবরের উপর ইমারত নির্মাণ করাকে পছন্দ করে … এবং কেউ যদি তাদের প্রতিবাদ করে তবে তারা বলে: "ওয়াহাবি" … আমার ধারণা এই যে, ওয়াহাবি ইস্যু এবং এটি নিয়ে তকমা দেওয়ার বিষয়টি শাইখের কাছে তখন প্রকাশ পায় এবং তিনি এটি অনুভব করেন যখন তিনি মক্কায় আসেন। আল্লাহই ভালো জানেন।
(খণ্ড: ৫) ইমারাতুল কুবুর ফিল ইসলাম - আল-মুবাইয়্যাদাহ - দিমনা আসারুল মুআল্লিমী (পৃষ্ঠা: ১১)
*‌‌ ثالثًا: سبب تأليفه:

بين المؤلف سبب تأليفه لرسالته هذه فقال في مقدمتها: "فإني اطلعت على بعض الرسائل التي ألفت في هذه الأيام في شأن البناء على القبور، وسمعت بما جرى في هذه المسألة من النزاع، فأردتُ أن أنظر فيها نظرَ طالبٍ للحق، متحرٍّ للصواب، عملًا بقول الله تبارك وتعالى: {يَاأَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا أَطِيعُوا اللَّهَ وَأَطِيعُوا الرَّسُولَ وَأُولِي الْأَمْرِ مِنْكُمْ فَإِنْ تَنَازَعْتُمْ فِي شَيْءٍ فَرُدُّوهُ إِلَى اللَّهِ وَالرَّسُولِ إِنْ كُنْتُمْ تُؤْمِنُونَ بِاللَّهِ وَالْيَوْمِ الْآخِرِ ذَلِكَ خَيْرٌ وَأَحْسَنُ تَأْوِيلًا} "(1).

ولم يسمّ المصنف هذه الكتب المؤلفة في هذه المسألة، لكنه ذكر واحدًا منها في أثناء كتابه، وهو كتاب "الرد على الوهابية" لحسن صدر الدين الكاظمي الرافضي (ت 1354 هـ)، فذكره صراحة في موضع واحد، فبعد أن ذكر رواية موضوعة أوردها هذا الرافضي قال: "من أراد الاطلاع على تلك الرواية، فلينظرها في رسالة حسن صدر الدين الكاظمي"(2). وكان المؤلف قد ذكرها باسمها "الرد … " إلا أنه ضرب عليه.

وذكر المؤلف كلام الصدر الرافضي في مواضع أخرى من الكتاب وردّ عليه، فإياه عنى بقوله (ص 62): "وزعم بعض الجهال أن الحديث مضطرب". وإياه عنى بقوله: "وقد قال قائل … " فذكر قوله ثم قال: "والجواب: أن هذا كذب من ثلاثة أوجه"، وكذلك عناه (ص 124) حين قال: "وقال آخر" ثم ردّ عليه. فهذه أربعة مواضع من المبيّضة رد فيها على

--------------------------------------------

(1) (ص 3 - المبيضة) وبنحوه في المسوّدة.

(2) (ص 126 - المبيضة).

তৃতীয়ত: এটি রচনার কারণ:

লেখক তাঁর এই পুস্তিকাটি রচনার কারণ বর্ণনা করে এর ভূমিকায় বলেছেন: "আমি বর্তমান সময়ে কবরের উপর ইমারত নির্মাণের বিষয়ে রচিত কিছু পুস্তিকা দেখেছি এবং এই বিষয়ে যে বিবাদ সৃষ্টি হয়েছে তা শুনেছি। তাই আমি সত্যের অন্বেষী এবং সঠিক বিষয় তালাশকারীর ন্যায় এতে দৃষ্টিপাত করতে চেয়েছি, মহান ও বরকতময় আল্লাহর এই বাণীর উপর আমল করে: {হে মুমিনগণ! তোমরা আল্লাহর আনুগত্য করো এবং রাসূলের আনুগত্য করো, আর তোমাদের মধ্য হতে যারা উলুল আমর (কর্তৃত্বশীল) তাদেরও। অতঃপর যদি কোনো বিষয়ে তোমরা বিবাদে লিপ্ত হও, তবে তা আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের দিকে ফিরিয়ে দাও—যদি তোমরা আল্লাহ ও পরকালের প্রতি ঈমান এনে থাকো। এটাই কল্যাণকর এবং পরিণামে উৎকৃষ্টতর।}"(১)।

গ্রন্থকার এই মাসআলায় রচিত বইগুলোর নাম উল্লেখ করেননি, তবে তিনি তাঁর কিতাবের মাঝে সেগুলোর একটির কথা উল্লেখ করেছেন। সেটি হলো হাসান সদরুদ্দীন আল-কাযেমী আর-রাফিযী (মৃত্যু ১৩৫৪ হিজরি) রচিত "আর-রাদ্দু আলাল ওয়াহহাবিয়্যাহ" (ওয়াহাবীদের খণ্ডন), তিনি একটি স্থানে স্পষ্টভাবে এর উল্লেখ করেছেন। এই রাফিযীর বর্ণিত একটি বানোয়াট বর্ণনা উল্লেখ করার পর তিনি বলেন: "যে ব্যক্তি সেই বর্ণনাটি সম্পর্কে অবগত হতে চায়, সে যেন হাসান সদরুদ্দীন আল-কাযেমীর পুস্তিকাটি দেখে নেয়"(২)। গ্রন্থকার এটি এর নাম "আর-রাদ্দু..." হিসেবে উল্লেখ করেছিলেন, তবে পরবর্তীতে তিনি তা কেটে দিয়েছিলেন।

লেখক বইটির অন্যান্য স্থানেও এই রাফিযী সদরের কথা উল্লেখ করেছেন এবং তার খণ্ডন করেছেন। পৃষ্ঠা ৬২-তে "কিছু মূর্খ ধারণা করেছে যে হাদীসটি মুদতারিব (সূত্রগতভাবে গোলযোগপূর্ণ)"—একথা দ্বারা তিনি তাকেই বুঝিয়েছেন। আবার যেখানে তিনি বলেছেন: "একজন বক্তা বলেছে..." অতঃপর তার উক্তিটি উল্লেখ করে বলেছেন: "উত্তর হলো: এটি তিনটি দিক থেকে মিথ্যা", সেখানেও তাকেই উদ্দেশ্য করা হয়েছে। একইভাবে পৃষ্ঠা ১২৪-এ যখন তিনি বলেছেন: "অন্যজন বলেছে" এবং তারপর তার খণ্ডন করেছেন, তখনো তাকেই উদ্দেশ্য করেছেন। সুতরাং মূল পাণ্ডুলিপির এই চারটি স্থানে তিনি খণ্ডন করেছেন...

--------------------------------------------

(১) (পৃষ্ঠা ৩ - মূল পাণ্ডুলিপি) এবং খসড়া পাণ্ডুলিপিতেও অনুরূপ রয়েছে।

(২) (পৃষ্ঠা ১২৬ - মূল পাণ্ডুলিপি)।

(খণ্ড: ৫) ইমারাতুল কুবুর ফিল ইসলাম - আল-মুবাইয়্যাদাহ - দিমনা আসারুল মুআল্লিমী (পৃষ্ঠা: ১২)
ذاك الرافضي. وفي الرسالة مواضع أخر يظهر منها تعرّض الشيخ لبعض الشُّبَه التي أثارها الصدر في كتابه. أما النسخة الأخرى (المسوّدة ص 58 - 59) فقد ذكر بعض شُبه الصدر وأنها شُبَه الغلاة الجهال الذين يَصِمون كلّ مَن خالفهم بأنه "وهّابي"! ثم ردّ عليه.

ورسالة الصدر هذه ناقش فيها أهل السنة (ويسميهم الوهابية) في مسائل من توحيد العبادة، وزيارة القبور والبناء عليها والتبرك بها والدعاء عندها، وطلب الشفاعة، وإيقاد السُّرج، والذبائح والنذور عندها. ورأى جواز ذلك كله بل استحبابه! مستدلًّا في كثير من المسائل بمراجع أهل السنة وأحاديثهم زيادة في التلبيس والتضليل! ولأجل هذا التلبيس المتعمّد ــ فيما يظهر ــ خصّه الشيخ بالذكر والتعقّب.

 

*‌‌ رابعًا: عرض موضوعات الكتاب في نسختيه:

‌‌1 - موضوعات المبيّضة:

بدأ المؤلف ببيان سبب تأليفه للكتاب، وأنه اطلع على بعض الرسائل المؤلفة في مسألة البناء على القبور، وعَلِم ما في المسألة من نزاع، فأراد أن يجتهد فيها طالبًا للحق، متحرّيًا للصواب بحسب الأدلة من الكتاب والسنة.

ثم ذكر أن رسالته مكونة من مقدمة وثلاثة فصول وخاتمة.

بدأ بالمقدمة (ص 4 ــ 15) وقد استغرقت اثنتي عشرة صفحة، وتطرق فيها إلى قضيتين:

الأولى: كمال الدين، وأنه لا هدي إلا هدي محمد صلى الله عليه وسلم، واستدل على ذلك بآيتين وحديثين، ذكرهما في صدر الكلام، ثم تكلم على وجه الاستدلال منها واحدًا واحدًا.
সেই রাফেযী। এবং এই পত্রে অন্যান্য এমন কিছু স্থান রয়েছে যেখান থেকে স্পষ্ট হয় যে, শায়খ আল-সদরের তার কিতাবে উত্থাপিত কিছু সংশয়ের ওপর আলোকপাত করেছেন। আর অন্য পাণ্ডুলিপিতে (খসড়া পৃ. ৫৮ - ৫৯) তিনি সদরের কিছু সংশয় উল্লেখ করেছেন এবং বর্ণনা করেছেন যে, এগুলো মূলত সেই অতিভক্তি প্রদর্শনকারী অজ্ঞদের সংশয় যারা তাদের বিরোধিতাকারীদের "ওয়াহ্হাবী" বলে আখ্যায়িত করে! অতঃপর তিনি এর উত্তর দিয়েছেন।

আল-সদরের এই পত্রে তিনি আহলুস সুন্নাহর (যাদের তিনি ওয়াহ্হাবী বলে অভিহিত করেছেন) সাথে তাওহীদুল ইবাদাহ, কবর যিয়ারত, কবরের ওপর ইমারত নির্মাণ, তা থেকে বরকত গ্রহণ, কবরের নিকট দুআ করা, শাফায়াত প্রার্থনা করা, প্রদীপ জ্বালানো এবং কবরের কাছে পশু জবাই ও মানত করার মাসআলাগুলো নিয়ে আলোচনা করেছেন। তিনি এই সবগুলোকে জায়েয বরং মুস্তাহাব মনে করেছেন! বিভ্রান্তি ও পথভ্রষ্টতা আরও বাড়ানোর জন্য তিনি অনেক মাসআলায় আহলুস সুন্নাহর সূত্র ও তাদের হাদিসগুলো দিয়ে দলিল পেশ করেছেন! আর যা প্রতীয়মান হয় তা হলো, এই ইচ্ছাকৃত প্রতারণা ও বিভ্রান্তি ছড়ানোর কারণেই শায়খ তাকে বিশেষভাবে উল্লেখ করেছেন এবং তার কঠোর সমালোচনা করেছেন।

 

*‌‌ চতুর্থত: কিতাবটির উভয় পাণ্ডুলিপির বিষয়বস্তু উপস্থাপন:

‌‌১ - চূড়ান্ত পাণ্ডুলিপির বিষয়বস্তু:

লেখক এই কিতাব রচনার কারণ বর্ণনার মাধ্যমে শুরু করেছেন; তিনি কবরের ওপর ইমারত নির্মাণের মাসআলায় রচিত কিছু পত্র অবগত হয়েছেন এবং এই মাসআলায় যে বিবাদ রয়েছে তা জানতে পেরেছেন। তাই তিনি কিতাব ও সুন্নাহর দলিলের আলোকে সঠিক বিষয়টি অনুসন্ধান করে সত্য লাভের উদ্দেশ্যে এতে ইজতিহাদ করতে চেয়েছেন।

অতঃপর তিনি উল্লেখ করেছেন যে, তার এই পত্রটি একটি ভূমিকা, তিনটি অধ্যায় এবং একটি উপসংহার নিয়ে গঠিত।

তিনি ভূমিকা (পৃ. ৪-১৫) দিয়ে শুরু করেছেন যা ১২ পৃষ্ঠা জুড়ে বিস্তৃত হয়েছে এবং সেখানে তিনি দুটি বিষয়ের অবতারণা করেছেন:

প্রথমত: দ্বীনের পূর্ণতা এবং মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের প্রদর্শিত পথই একমাত্র পথ। তিনি আলোচনার শুরুতে এর স্বপক্ষে দুটি আয়াত ও দুটি হাদিস দ্বারা দলিল পেশ করেছেন, অতঃপর সেগুলোর দলিলের ধরন নিয়ে একে একে আলোচনা করেছেন।
(খণ্ড: ৫) ইমারাতুল কুবুর ফিল ইসলাম - আল-মুবাইয়্যাদাহ - দিমনা আসারুল মুআল্লিমী (পৃষ্ঠা: ১৩)
الثانية: أن الأصل في الأشياء التي خلقها الله الإباحة ولا تنتقل عن هذا الأصل إلا بدليل، وأن أمور الدين توقيفية ليس لأحد أن يتدين بشيء إلا إذا ثبت بالكتاب أو السنة. واستدل على ذلك أيضًا بآيتين وحديثين، ذكرهما ثم ذكر وجه الاستدلال منهما، وهذه قاعدة كلية في المقاصد.

ثم خَلَص إلى القول في الوسائل وأنها على نوعين: وسيلة لا يمكن أن يؤدَّى المقصَد إلا بها، ووسيلة يمكن أن يؤدَّى بها وبغيرها.

ثم نظر المؤلف في النوع الثاني، وجعله ثلاثة أقسام:

1 ــ إن كان للوسيلة مزية دينية لا توجد في غيرها= كان لها حكم المقصد، وضَرَبَ مثالاً عليها.

2 ــ إن لم يكن لها مزية دينية، وإنما اختيرت اتفاقًا= فلا مزية لها على غيرها.

3 ــ إن لم يترجح أحد الجانبين فمحلّ نظر.

فإن تعدّدت الوسائل انطبقتْ عليها الأقسام الثلاثة.

ثم ذكر مثالًا وهو جمع المصحف وتكييف مشروعيته، ومن أي الوسائل هو؟ وأطال وأطاب، ثم ذكر باقي ما يَستدلّ به مَن يرى جواز بعض البدع وخرّجه على نظرية الوسائل السابقة.

ثم بيَّن معنى قوله صلى الله عليه وسلم: "من سنَّ سنَّة حسنة" وأن المراد بالحُسن الحُسن الشرعي الذي يُعلَم بالكتاب والسنة، وخَلَص إلى أن الحاكم في الأمور الدينية الشرع، وفي الأمور الدنيوية الأمر على الإباحة والسَّعَة.
দ্বিতীয়ত: আল্লাহর সৃষ্টি করা বস্তুসমূহের ক্ষেত্রে মূলনীতি হলো বৈধতা এবং কোনো দলীল ছাড়া এই মূলনীতি থেকে সরে যাওয়া যাবে না। আর দ্বীনের বিষয়সমূহ হলো শরীয়তের ভাষ্যের ওপর নির্ভরশীল (তাওকিফী); কিতাব বা সুন্নাহ দ্বারা প্রমাণিত না হওয়া পর্যন্ত কারো জন্য কোনো বিষয়কে দ্বীন হিসেবে গ্রহণ করার সুযোগ নেই। তিনি এর সপক্ষেও দুটি আয়াত ও দুটি হাদীস দ্বারা দলীল পেশ করেছেন, সেগুলো উল্লেখ করার পর সেগুলোর দলীলের দিকসমূহ বর্ণনা করেছেন। এটি মাকাসিদের (লক্ষ্য-উদ্দেশ্য) ক্ষেত্রে একটি সামগ্রিক মূলনীতি।

এরপর তিনি মাধ্যম বা উপায়সমূহ (ওয়াসাইল) প্রসঙ্গে আলোচনায় উপনীত হয়েছেন এবং বলেছেন যে সেগুলো দুই প্রকার: এমন মাধ্যম যা ছাড়া উদ্দেশ্য (মাকসাদ) অর্জন করা সম্ভব নয়, এবং এমন মাধ্যম যা দিয়েও উদ্দেশ্য অর্জন করা যায় আবার তা ছাড়াও অন্য কিছু দিয়েও সম্ভব।

এরপর লেখক দ্বিতীয় প্রকারের প্রতি দৃষ্টিপাত করেছেন এবং একে তিন ভাগে ভাগ করেছেন:

১. যদি মাধ্যমটির এমন কোনো ধর্মীয় বৈশিষ্ট্য থাকে যা অন্যগুলোতে নেই, তবে সেটিও মূল উদ্দেশ্যের (মাকসাদ) বিধান লাভ করবে। তিনি এর একটি উদাহরণও পেশ করেছেন।

২. যদি এর কোনো ধর্মীয় বৈশিষ্ট্য না থাকে, বরং ঘটনাচক্রে সেটি বেছে নেওয়া হয়, তবে অন্যগুলোর ওপর এর কোনো বিশেষ মর্যাদা থাকবে না।

৩. যদি কোনো পক্ষই প্রাধান্য না পায়, তবে সেটি পর্যালোচনার বিষয়।

যদি মাধ্যম একাধিক হয়, তবে তার ওপর এই তিন প্রকারের বিধান প্রযোজ্য হবে।

এরপর তিনি একটি উদাহরণ উল্লেখ করেছেন, আর তা হলো মুসহাফ (কুরআন) সংকলন এবং এর শরয়ী বৈধতার ধরন। এটি কোন প্রকারের মাধ্যমের অন্তর্ভুক্ত? তিনি এ বিষয়ে সুদীর্ঘ ও মনোহর বর্ণনা দিয়েছেন। এরপর যারা কিছু বিদআত জায়েয হওয়ার পক্ষে দলীল দেয় তাদের অবশিষ্ট যুক্তিগুলো উল্লেখ করেছেন এবং পূর্বোক্ত মাধ্যম সংক্রান্ত তত্ত্বের আলোকে সেগুলোর সমাধান দিয়েছেন।

এরপর তিনি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের বাণী: "যে ব্যক্তি কোনো ভালো পদ্ধতির সূচনা করল" এর অর্থ ব্যাখ্যা করেছেন। তিনি বলেছেন যে, এখানে 'ভালো' বলতে শরয়ী কল্যাণ বুঝানো হয়েছে যা কিতাব ও সুন্নাহ দ্বারা জানা যায়। তিনি এই সিদ্ধান্তে উপনীত হয়েছেন যে, দ্বীনি বিষয়ের ক্ষেত্রে ফয়সালাকারী হলো শরীয়ত, আর পার্থিব বিষয়ের ক্ষেত্রে মূল ভিত্তি হলো বৈধতা ও প্রশস্ততা।
(খণ্ড: ৫) ইমারাতুল কুবুর ফিল ইসলাম - আল-মুবাইয়্যাদাহ - দিমনা আসারুল মুআল্লিমী (পৃষ্ঠা: ১৪)
وبه خلص المؤلف إلى النظر في أمر أحوال القبور هل هي من الأمور الدينية فتكون توقيفية أو لا؟ ورجَّح أنها من الأمور الدينية بدلائل عدّة، فينبغي أن يبحث عن الكيفية التي قررها الشارع للقبور.

فبدأ بالفصل الأول (ص 16) فيما ثبت في كيفية القبر المشروعة.

ذكر فيه أولًا أن البحث يتركز على الكيفية الظاهرة، ثم ذكر آية {فَبَعَثَ اللَّهُ غُرَابًا يَبْحَثُ فِي الْأَرْضِ … }.

وحديث فَضالة بن عُبيد: أن رسول الله صلى الله عليه وسلم يأمر بتسوية القبور، فَسَاق الحديث من "صحيح مسلم" بلفظه ثم عقد عنوانًا (بيانُ طرقه)، وخلص إلى أن الحديث صحيح نظيف لا غبار عليه وإن وُجد في إحدى طريقيه ابن إسحاق … ثم ذكر أحاديث أخرى تشهد له وإن اختلفت ألفاظها، ثم ذكر بعض الآثار.

بعده عقد المؤلف عنوانًا (الأحكام المستنبطة من هذه الأدلة)، فبدأ بالآية، ثم حديث فضالة وأطال فيه، وبحث في معنى "التسوية" الواردة في الحديث، وخَلَص إلى القول: "فالمراد بتسوية القبر جعله سويًّا قويمًا على ما اقتضته الحكمة من غير إفراط ولا تفريط، وذلك على الهيئة التي قررها الشارع للقبور".

ثم تكلم على الألفاظ الواردة في بقية الأحاديث ومعانيها، وبحث بشيء من التفصيل عن لفظ "مبطوحة" التي وردت في حديث القاسم، ومعانيها المحتملة، وخَلَص إلى أن الراجح هو المعنى الرابع وهو جعل البطحاء على الشيء، وذلك يقتضي تسطيح القبر.
এর মাধ্যমে লেখক কবরের অবস্থার বিষয়টি পর্যালোচনার দিকে উপনীত হয়েছেন যে, এগুলো কি ধর্মীয় বিষয়াবলির অন্তর্ভুক্ত—ফলে তা কি ওহি-নির্ভর হবে, নাকি নয়? তিনি বিভিন্ন প্রমাণের ভিত্তিতে একে ধর্মীয় বিষয়াবলির অন্তর্ভুক্ত হিসেবে প্রাধান্য দিয়েছেন। সুতরাং শরিয়ত প্রণেতা কবরের জন্য যে পদ্ধতি নির্ধারণ করেছেন, তা অনুসন্ধান করা প্রয়োজন।

অতঃপর তিনি প্রথম পরিচ্ছেদ (পৃষ্ঠা ১৬) শুরু করেছেন কবরের বিধিসম্মত পদ্ধতির বিষয়ে যা সাব্যস্ত হয়েছে।

এতে তিনি প্রথমে উল্লেখ করেছেন যে, এই আলোচনাটি দৃশ্যমান পদ্ধতির ওপর আলোকপাত করে। এরপর তিনি এই আয়াতটি উল্লেখ করেছেন: {অতঃপর আল্লাহ একটি কাক পাঠালেন, যে মাটি খুঁড়ছিল … }।

এবং ফাদালা বিন উবাইদ বর্ণিত হাদিস: আল্লাহর রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কবর সমান করার নির্দেশ দিতেন। তিনি "সহিহ মুসলিম" থেকে হাদিসটি হুবহু উদ্ধৃত করেছেন, এরপর একটি শিরোনাম দিয়েছেন (এর সূত্রসমূহের বর্ণনা)। তিনি এই সিদ্ধান্তে উপনীত হয়েছেন যে, হাদিসটি সহিহ, পরিচ্ছন্ন এবং এতে কোনো অস্পষ্টতা নেই, যদিও এর একটি সূত্রে ইবনে ইসহাক রয়েছেন … এরপর তিনি একে সমর্থন করে এমন আরও কিছু হাদিস উল্লেখ করেছেন যদিও সেগুলোর শব্দে ভিন্নতা রয়েছে। অতঃপর তিনি কিছু আছার উল্লেখ করেছেন।

এরপর লেখক একটি শিরোনাম দিয়েছেন (এই দলিলসমূহ থেকে উদ্ভাবিত বিধানাবলি)। তিনি আয়াত দিয়ে শুরু করেছেন, তারপর ফাদালার হাদিসটি নিয়ে দীর্ঘ আলোচনা করেছেন এবং হাদিসে বর্ণিত "সমান করা" (তাসবিয়াহ) শব্দের অর্থ নিয়ে গবেষণা করেছেন। পরিশেষে তিনি বলেন: "কবর সমান করার উদ্দেশ্য হলো একে হিকমতের দাবি অনুযায়ী বাড়াবাড়ি ও ছাড়াছাড়ি মুক্ত রেখে সুষম ও সঠিক করা, আর তা শরিয়ত প্রণেতা কবরের জন্য যে রূপরেখা নির্ধারণ করেছেন সেই অনুযায়ী হওয়া।"

এরপর তিনি অবশিষ্ট হাদিসসমূহে ব্যবহৃত শব্দাবলি ও সেগুলোর অর্থ নিয়ে আলোচনা করেছেন। তিনি কাসিম বর্ণিত হাদিসে উল্লিখিত "মাবতুহাহ" শব্দ এবং এর সম্ভাব্য অর্থগুলো সম্পর্কে বিস্তারিত আলোচনা করেছেন। তিনি এই সিদ্ধান্তে উপনীত হয়েছেন যে, চতুর্থ অর্থটিই অগ্রগণ্য, আর তা হলো কোনো কিছুর ওপর কঙ্কর বা বালি বিছিয়ে দেওয়া, যা কবরকে সমতল করার দাবি রাখে।
(খণ্ড: ৫) ইমারাতুল কুবুর ফিল ইসলাম - আল-মুবাইয়্যাদাহ - দিমনা আসারুল মুআল্লিমী (পৃষ্ঠা: ১৫)
وخلص في آخر المبحث إلى أن ما يتعلق بظاهر القبور من الهيئة المشروعة أمور:

1 - "رد تراب الحفرة إليها وجمعه عليها بهيئة التسنيم حتى ترتفع نحو شبر باعتبار الوسط، ولا يُزَاد على ذلك إلا ما ثبت، كوضع شيء من الحصى لا يزيد في الارتفاع، ووضع حجر عند رأس القبر علامة بشرطه.

2 - إبراز القبر" اهـ.

ثم عقد الفصل الثاني وهو تتمّة لبيان الهيئة المشروعة فيما يتصل بالقبر، وذكر صفة الهيئة المشروعة للقبر، وبحث في علة النهي عن الرفع والتجصيص ونحوه، ومال إلى أنها الخشية من أن يؤدي تمييز القبور إلى تعظيمها.

- ثم ذكر أثرين في الباب وهما في "صحيح البخاري" الأول: أثر الحسن بن الحسن لما ضربت امرأتُه قبةً على قبره سنة. والثاني: أثر خارجة ابن زيد: رأيتني ونحن شَبَبة … إلخ. وبيَّن ضعفَ الأثرين سندًا ونكارتهما من جهة المعنى.

- ثم ذكر حديث علي رضي الله عنه: أبعثك على ما بعثني عليه رسول الله … (ص 50 ــ 69) فتكلم على رواياته وألفاظه، ثم تكلم على الاختلاف في أسانيده، ثم تكلم عن الاختلاف في متنه، ثم ذكر تنبيهين يتعلّقان بالصناعة الحديثية.

- ثم عقد عنوانًا جانبيًّا (رجوع) ذكر فيه أن ما زعمه بعضُ الجهّال (يعني حسنًا الصدر الرافضي) من أن الحديث مضطرب= مدفوع، وتعقّبه المؤلف أيضًا في قضايا حديثية عدة.
আলোচনার শেষে তিনি এই সিদ্ধান্তে উপনীত হয়েছেন যে, কবরের বাহ্যিক কাঠামোর শরিয়তসম্মত পদ্ধতির সাথে সংশ্লিষ্ট বিষয়গুলো হলো:

১ - "গর্তের মাটি কবরে ফিরিয়ে দেওয়া এবং কবরের মাঝখান থেকে প্রায় এক বিঘত উঁচু করে কুঁজ সদৃশ (তাসনিম) করে মাটি জমা করা। এর চেয়ে বেশি কিছু বাড়ানো যাবে না, কেবল যা প্রমাণিত তা ব্যতীত; যেমন কিছু কঙ্কর রাখা যা উচ্চতা বৃদ্ধি করে না, এবং কবরের শিয়রে একটি পাথর চিহ্ন হিসেবে রাখা (শর্তসাপেক্ষে)।

২ - কবরকে প্রকাশ্য রাখা।" সমাপ্ত।

এরপর তিনি দ্বিতীয় পরিচ্ছেদটি বিন্যস্ত করেছেন যা কবরের সাথে সংশ্লিষ্ট শরিয়তসম্মত পদ্ধতির বর্ণনার পরিপূরক। সেখানে তিনি কবরের শরিয়তসম্মত রূপ বা বৈশিষ্ট্যের বর্ণনা দিয়েছেন এবং কবর উঁচু করা ও চুনকাম করা ইত্যাদি নিষিদ্ধ হওয়ার কারণ নিয়ে আলোচনা করেছেন। তিনি এই মতের প্রতি ঝুঁকেছেন যে, কবরকে অন্যদের থেকে স্বতন্ত্র বৈশিষ্ট্যে চিহ্নিত করা হলে তা কবরকে অতি ভক্তি বা মহিমান্বিত করার দিকে নিয়ে যাওয়ার আশঙ্কাই হলো এর মূল কারণ।

- অতঃপর তিনি এই বিষয়ে দুটি আছার (বর্ণনা) উল্লেখ করেছেন যা "সহীহ বুখারী"তে বিদ্যমান। প্রথমটি: হাসান বিন হাসানের আছার, যখন তাঁর স্ত্রী তাঁর কবরের ওপর এক বছর ধরে একটি তাঁবু স্থাপন করেছিলেন। দ্বিতীয়টি: খারিজাহ ইবনে যায়িদের আছার: আমি আমাকে দেখেছি যখন আমরা যুবক ছিলাম... ইত্যাদি। তিনি এই আছার দুটির সনদের দুর্বলতা এবং অর্থের দিক থেকে সেগুলোর অসংগতি (নাকারাত) ব্যাখ্যা করেছেন।

- তারপর তিনি আলী রাদিয়াল্লাহু আনহুর হাদিসটি উল্লেখ করেছেন: "আমি কি তোমাকে সেই অভিযানে পাঠাব না যার জন্য রাসুলুল্লাহ আমাকে পাঠিয়েছিলেন..." (পৃষ্ঠা ৫০-৬৯)। এরপর তিনি এর বিভিন্ন বর্ণনা ও শব্দাবলি নিয়ে আলোচনা করেছেন, তারপর এর সনদসমূহের ভিন্নতা নিয়ে কথা বলেছেন, তারপর এর মূল পাঠের (মতন) ভিন্নতা নিয়ে আলোচনা করেছেন এবং পরিশেষে হাদিস শাস্ত্রের কারিগরি বিষয়ের সাথে সংশ্লিষ্ট দুটি সতর্কতা উল্লেখ করেছেন।

- এরপর তিনি একটি পার্শ্ব-শিরোনাম (প্রত্যাবর্তন) যুক্ত করেছেন যাতে উল্লেখ করেছেন যে, কিছু অজ্ঞ ব্যক্তি (অর্থাৎ রাফেজি হাসান আস-সদর) যে দাবি করেছে যে হাদিসটি মুজতারিব (অসংলগ্ন বা গোলমেলে)—তা ভিত্তিহীন ও প্রত্যাখ্যাত। লেখক অন্যান্য বেশ কিছু হাদিসতাত্ত্বিক বিষয়েও তাকে খণ্ডন করেছেন।
(খণ্ড: ৫) ইমারাতুল কুবুর ফিল ইসলাম - আল-মুবাইয়্যাদাহ - দিমনা আসারুল মুআল্লিমী (পৃষ্ঠা: ১৬)
- ثم ذكر حديث جابر (ص 70 - 89): "سمعت النبي صلى الله عليه وسلم نهى أن يقعد الرجل على القبر .... "، فتكلم على طُرقه وأسانيده وألفاظه، وروايات أخرى عن جابر في الباب نفسه.

- ثم عقد عنوانًا لبيان حال أبي الزبير المكي (أحد رواة حديث جابر)، وعنوانًا آخر لبيان حال سليمان بن موسى الراوي عن أبي الزبير.

- ثم ذكر حديث أبي سعيد الخدري: "أن النبي صلى الله عليه وسلم نهى أن يُبنى على القبر". فذكر رواياته وأسانيده، وبحث حال القاسم بن مخيمرة أحد رواته (ص 90 ــ 92).

- ثم خلص إلى بحث اشتراط اللقاء بين الرَّاويَيْن (ملخّصًا)(1) (ص 93 ــ 99).

- ثم ذكر حديث أمّ سلمة: "نهى رسول الله صلى الله عليه وسلم أن يُبنى على القبر أو يجصّص" وتكلم على إسناده ورواته، ثم ذكر أثرين في الباب. (ص 100 ــ 104).

- ثم عقد عنوان (الأحكام المستنبطة من هذه الأدلّة) (ص 104 ــ 108) ــ يعني الأدلة التي أوردها في الفصل الثاني ــ من الأثرين المعلّقين في "صحيح البخاري"، فذكر ما يُستنبط منهما على فَرْض صحّتهما، فإنه قد رجّح ضعفَهما.

- ثم عقد الفصل الثالث وهو: شرح حديث عليّ المتقدم (ص 50) (ص 109 ــ 128)، وشرح معه بعض الآثار في الباب.

--------------------------------------------

(1) توسّع فيه في النسخة المسوّدة.

- এরপর তিনি জাবির (রা.)-এর হাদিস উল্লেখ করেন (পৃ. ৭০ - ৮৯): "আমি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে কোনো ব্যক্তির কবরের ওপর বসতে নিষেধ করতে শুনেছি....", অতঃপর তিনি এর সূত্রসমূহ, সনদসমূহ ও শব্দচয়ন এবং জাবির (রা.) হতে একই অধ্যায়ে বর্ণিত অন্যান্য বর্ণনাগুলো নিয়ে আলোচনা করেছেন।

- এরপর তিনি আবু যুবাইর আল-মাক্কী (জাবির-এর হাদিসের অন্যতম বর্ণনাকারী)-এর অবস্থা বর্ণনায় একটি শিরোনাম এবং আবু যুবাইর থেকে বর্ণনাকারী সুলাইমান বিন মুসা-এর অবস্থা বর্ণনায় অপর একটি শিরোনাম নির্ধারণ করেন।

- এরপর তিনি আবু সাঈদ আল-খুদরি (রা.)-এর হাদিস উল্লেখ করেন: "নিশ্চয়ই নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কবরের ওপর কোনো কিছু নির্মাণ করতে নিষেধ করেছেন।" অতঃপর তিনি এর বর্ণনা ও সনদগুলো উল্লেখ করেন এবং এর অন্যতম বর্ণনাকারী কাসিম বিন মুখাইমিরা-এর অবস্থা পর্যালোচনা করেন (পৃ. ৯০-৯২)।

- তারপর তিনি দুই বর্ণনাকারীর মধ্যে সাক্ষাতের শর্তের বিষয়ে পর্যালোচনায় উপনীত হন (সংক্ষেপে)(১) (পৃ. ৯৩-৯৯)।

- এরপর তিনি উম্মে সালামা (রা.)-এর হাদিস উল্লেখ করেন: "রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কবরের ওপর কোনো কিছু নির্মাণ করতে বা তা চুনকাম করতে নিষেধ করেছেন" এবং তিনি এর সনদ ও বর্ণনাকারীদের নিয়ে আলোচনা করেন, তারপর এই অধ্যায়ে দুটি আসার (বাণী) উল্লেখ করেন। (পৃ. ১০০-১০৪)।

- অতঃপর তিনি 'এই দলিলসমূহ হতে উদ্ভূত বিধানসমূহ' শিরোনামটি নির্ধারণ করেন (পৃ. ১০৪-১০৮) — অর্থাৎ দ্বিতীয় পরিচ্ছেদে তিনি যে দলিলগুলো উপস্থাপন করেছেন — "সহীহ বুখারী"-তে উল্লেখিত দুটি মুয়াল্লাক আসার (ঝুলন্ত বর্ণনা) থেকে। অতঃপর তিনি বর্ণনা দুটি সহীহ হওয়ার ভিত্তিতে সেগুলো থেকে কী বিধান উদ্ভূত হয় তা উল্লেখ করেন, যদিও তিনি সেগুলোর দুর্বল হওয়ার বিষয়টিকে প্রাধান্য দিয়েছেন।

- এরপর তিনি তৃতীয় পরিচ্ছেদ নির্ধারণ করেন যা হলো: পূর্বে উল্লেখিত (পৃ. ৫০) আলী (রা.)-এর হাদিসের ব্যাখ্যা (পৃ. ১০৯-১২৮), এবং এর সাথে এই অধ্যায়ের কিছু আসার (বাণী) ব্যাখ্যা করেন।

--------------------------------------------

(১) খসড়া কপিতে এ বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা করা হয়েছে।

(খণ্ড: ৫) ইমারাতুল কুবুর ফিল ইসলাম - আল-মুবাইয়্যাদাহ - দিমনা আসারুল মুআল্লিমী (পৃষ্ঠা: ১৭)
- ثم تكلم المؤلف على عدة مسائل تتعلق بالقبور هي (الكتابة، الزيادة على القبر، الجلوس على القبر ــ وأطال فيه ــ، البناء على القبر ــ وأطال فيه ــ وأخذ يردّ فيه على بعض شُبه الرافضي حسن صدر الدين الكاظمي (ت 1354 هـ). في البناء على القبور من رسالة له سماها "الرد على الوهّابية". (راجع مبحث سبب تأليف الكتاب).

- ثم عقد المؤلف عنوانًا سماه (آية الكهف: 21) وهي قوله تعالى: {لَنَتَّخِذَنَّ عَلَيْهِمْ مَسْجِدًا}، فذكر الأقوال فيها والخلاف في تفسيرها، ثم نظر فيها نظر اجتهاد وتحليل، واختار في قوله: {ابْنُوا عَلَيْهِمْ} أي: ابنوا عليهم مسجدًا يكون جداره سادًّا لباب الكهف، وأيّده بأنواع من الأدلة والترجيحات (ص 129 ــ 136). وبنهاية الكلام عليها ينتهي الكتاب.

 

‌‌2 - موضوعات (المسوّدة):

- بدأ المؤلف بمقدمة بيَّن فيها سبب تأليفه الكتاب كما سبق في (المبيضة) وأنه لابد من الرد إلى كتاب الله تعالى لتبيين الحق في المسألة، ومن الرد إلى كتاب الله سؤال أهل العلم.

- ثم عنون بـ (عرض هذه القضية على كتاب الله) فذكر آية: {إِذْ يَتَنَازَعُونَ بَيْنَهُمْ أَمْرَهُمْ فَقَالُوا ابْنُوا عَلَيْهِمْ} [الكهف: 21]، وذكر وجه استدلال مَن قال بجواز البناء على القبور منها.

- ثم ذكر عنوانًا (تحليل الاستدلال) فذكر فيه ما احتج به مَن يجيز ذلك ثم ناقشه وردّ عليه فقرة فقرة (ص 6 ــ 24).
- এরপর লেখক কবর সংশ্লিষ্ট বেশ কিছু মাসআলা নিয়ে আলোচনা করেছেন, সেগুলো হলো (লিখন, কবরের ওপর অতিরিক্ত মাটি দেওয়া, কবরের ওপর বসা —এ বিষয়ে তিনি দীর্ঘ আলোচনা করেছেন—, কবরের ওপর সৌধ নির্মাণ করা —এ বিষয়েও তিনি দীর্ঘ আলোচনা করেছেন— এবং এখানে তিনি রাফেজি হাসান সদরুদ্দিন আল-কাজিমীর (মৃত্যু ১৩৫৪ হিজরি) কিছু সংশয়ের খণ্ডন করতে শুরু করেন। কবরের ওপর সৌধ নির্মাণের বিষয়ে তাঁর একটি পুস্তিকা রয়েছে যার নাম তিনি দিয়েছেন "ওয়াহাবিবাদের খণ্ডন"। (বইটি রচনার কারণ শীর্ষক পরিচ্ছেদটি দেখুন)।

- এরপর লেখক (সূরা কাহাফ: ২১) শিরোনামে একটি পরিচ্ছেদ রচনা করেন, যা মহান আল্লাহর বাণী: {আমরা অবশ্যই তাদের ওপর একটি মসজিদ নির্মাণ করব}। তিনি এ বিষয়ে বিভিন্ন মতামত এবং এর তাফসিরের ক্ষেত্রে বিদ্যমান মতভেদ উল্লেখ করেছেন। এরপর তিনি এতে গবেষণাধর্মী ও বিশ্লেষণাত্মক দৃষ্টিপাত করেছেন এবং {তাদের ওপর নির্মাণ করো} এই বাণীর ক্ষেত্রে তিনি এই ব্যাখ্যাটি গ্রহণ করেছেন যে: অর্থাৎ তাদের ওপর এমন একটি মসজিদ নির্মাণ করো যার দেয়াল গুহার প্রবেশপথকে বন্ধ করে দেবে। তিনি বিভিন্ন প্রকার দলিল ও প্রাবল্যদানকারী যুক্তির মাধ্যমে এটিকে সমর্থন করেছেন (পৃষ্ঠা ১২৯-১৩৬)। এই আলোচনার সমাপ্তির মাধ্যমেই বইটি শেষ হয়েছে।

 

‌‌২ - বিষয়বস্তুসমূহ (খসড়া পাণ্ডুলিপি):

- লেখক একটি ভূমিকার মাধ্যমে শুরু করেছেন যাতে তিনি বইটি রচনার কারণ বর্ণনা করেছেন, যেমনটি পূর্বে (পরিমার্জিত পাণ্ডুলিপি) অংশে অতিক্রান্ত হয়েছে। আর তা হলো, এই বিষয়ে সত্য স্পষ্ট করার জন্য মহান আল্লাহর কিতাবের দিকে প্রত্যাবর্তন করা অপরিহার্য, আর আল্লাহর কিতাবের দিকে প্রত্যাবর্তনের একটি দিক হলো আলেমদের নিকট জিজ্ঞাসা করা।

- এরপর তিনি (আল্লাহর কিতাবের নিকট এই বিষয়টি উপস্থাপন) শিরোনাম দিয়েছেন। সেখানে তিনি আয়াতটি উল্লেখ করেছেন: {যখন তারা নিজেদের মধ্যে তাদের কার্যাদি নিয়ে বিতর্ক করছিল, তখন তারা বলল: তাদের ওপর নির্মাণ করো} [কাহাফ: ২১]। যারা এ থেকে কবরের ওপর সৌধ নির্মাণ বৈধ হওয়ার সপক্ষে দলিল পেশ করেন, তিনি তাদের দলিলের ধরনটি উল্লেখ করেছেন।

- এরপর তিনি (দলিলের বিশ্লেষণ) শিরোনামটি উল্লেখ করেছেন। যারা এটি বৈধ বলেন তারা যা দ্বারা দলিল পেশ করেছেন তিনি তা সেখানে উল্লেখ করেছেন, এরপর তিনি তা নিয়ে আলোচনা করেছেন এবং প্রতিটি অনুচ্ছেদ অনুযায়ী তার খণ্ডন করেছেন (পৃষ্ঠা ৬-২৪)।
(খণ্ড: ৫) ইমারাতুল কুবুর ফিল ইসলাম - আল-মুবাইয়্যাদাহ - দিমনা আসারুল মুআল্লিমী (পৃষ্ঠা: ১৮)
- بعده ذكر عنوان (تحديد محلّ النزاع) ذكر فيه أن المقصود من دفن جثث الموتى هو مواراتها، والأصل فيه الاقتصار على القدر الكافي للمواراة، ثم ذكر حكم تعدِّي ذلك، وتتطرّق إلى الدفن في المقبرة المسبّلة، وإلى الدفن في الموات، والوصية بالدفن في المِلك، والدفن في مِلك الدافن.

فحرر محل النزاع بقوله: "بقي رفع القبر في غير الملك، بدون إحكام ولا بناء، وإنما هو بزيادة حصى ورمل وتراب يُرْكَم عليه حتى يرتفع.

وبقي الرفع، والتوسعة، والإحكام، والبناء فيما إذا كان في ملك الفاعل، وهذا هو الذي يصلح أن يكون محلًّا للنزاع" (ص 25 ــ 28).

- ثم بدأ بالكلام على مسألة الرفع في غير الملك، فذكر أدلة المجيزين، ثم أجاب عنها واحدًا واحدًا (ص 29 ــ 38).

- ثم عقد فصلًا في تسوية القبور، فذكر حديث فَضالة بن عُبيد: سمعت رسول الله صلى الله عليه وسلم يأمر بتسويتها، وذكر طُرقه ورواياته وألفاظه.

- ثم عقد عنوانًا في (معنى التسوية) وخلص إلى أن معنى التسوية إذا أُطلقت كان المراد بها تسوية الشيء في نفسه ولا تُحمل على التسوية بالأرض إلا بقرينة. وقد وُجِدت قرينة في الحديث تدل على التسوية بالأرض (ص 43 ــ 46).

- بعده ذكر بحثًا عَنونه بـ (تحقيق الحق في هذا البحث) أي في معنى التسوية، وأنها لا تعارض رفع القبر قليلًا من تراب حفرته، وكذلك إذا أريد تمييزه لمقصد شرعي صحيح بوضع علامة عليه … (ص 47 ــ 49).
এর পরে (বিরোধপূর্ণ বিষয়ের পরিসীমা নির্ধারণ) শিরোনামটি উল্লেখ করা হয়েছে, যাতে তিনি উল্লেখ করেছেন যে মৃতদেহ দাফনের উদ্দেশ্য হলো তা আড়াল করা বা ঢেকে রাখা। আর এক্ষেত্রে মূল নিয়ম হলো আড়াল করার জন্য যতটুকু প্রয়োজন ততটুকুর ওপর সীমাবদ্ধ থাকা। অতঃপর তিনি এর অতিরিক্ত করার বিধান বর্ণনা করেছেন এবং ওয়াকফকৃত কবরস্থানে দাফন করা, মালিকানাধীন নয় এমন অনাবাদী জমিতে দাফন করা, নিজের মালিকানাধীন জায়গায় দাফনের অসিয়ত করা এবং দাফনকারীর নিজ মালিকানাধীন জায়গায় দাফন করার বিষয়টি নিয়ে আলোচনা করেছেন।

অতঃপর তিনি এই বলে বিরোধপূর্ণ বিষয়ের সীমা নির্ধারণ করেছেন যে: "মালিকানাধীন নয় এমন জায়গায় মজবুত করা বা কোনো স্থাপনা নির্মাণ করা ব্যতিরেকে কবরের উপরিভাগ উঁচু করার বিষয়টি রয়ে গেছে; আর তা মূলত পাথরকুচি, বালু ও মাটি স্তূপাকারে জমা করে উঁচু করা।

আর যখন দাফনকারীর নিজস্ব মালিকানাধীন জায়গায় হয়, তখন তা উঁচু করা, প্রশস্ত করা, মজবুত করা এবং এর উপর ইমারত নির্মাণ করার বিষয়টি বাকি থাকে। এটিই মূলত বিতর্কের কেন্দ্রবিন্দু হওয়ার উপযুক্ত" (পৃ. ২৫-২৮)।

- এরপর তিনি মালিকানাধীন নয় এমন স্থানে কবর উঁচু করার মাসআলা নিয়ে আলোচনা শুরু করেন। সেখানে তিনি এর বৈধতা দানকারীদের দলিলসমূহ উল্লেখ করেন এবং একে একে সেগুলোর উত্তর প্রদান করেন (পৃ. ২৯-৩৮)।

- অতঃপর তিনি কবর সমান করার বিষয়ে একটি পরিচ্ছেদ তৈরি করেন এবং ফাদালা ইবনু উবাইদ-এর বর্ণিত হাদিসটি উল্লেখ করেন: আমি আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে কবর সমান করার নির্দেশ দিতে শুনেছি। তিনি হাদিসটির বিভিন্ন সূত্র, বর্ণনা এবং পাঠসমূহ উল্লেখ করেছেন।

- এরপর তিনি (সমান করার অর্থ) শিরোনামে একটি পরিচ্ছেদ উল্লেখ করেন এবং এই সিদ্ধান্তে উপনীত হন যে, 'তাসবিয়াহ' (সমান করা) শব্দটি যখন সাধারণভাবে ব্যবহৃত হয়, তখন তার অর্থ হয় কোনো বস্তুকে তার নিজের অবয়বে সুবিন্যস্ত করা। কোনো প্রমাণ ছাড়া একে মাটির সাথে সমতল করার অর্থে গ্রহণ করা যাবে না। আর উক্ত হাদিসে এমন একটি প্রমাণ পাওয়া গেছে যা মাটির সাথে সমতল করার অর্থ নির্দেশ করে (পৃ. ৪৩-৪৬)।

- এরপর তিনি (এই গবেষণায় সত্যের অনুসন্ধান) শিরোনামে একটি আলোচনা উল্লেখ করেছেন, যার উদ্দেশ্য হলো সমান করার অর্থের সঠিক বিশ্লেষণ করা। আর এটি কবরের গর্তের মাটি দিয়ে তা সামান্য উঁচু করার বিরোধী নয়। তেমনিভাবে যদি সঠিক শরয়ি উদ্দেশ্যে কোনো চিহ্ন রেখে কবরকে আলাদা করে চেনার ইচ্ছা করা হয় … (পৃ. ৪৭-৪৯)।
(খণ্ড: ৫) ইমারাতুল কুবুর ফিল ইসলাম - আল-মুবাইয়্যাদাহ - দিমনা আসারুল মুআল্লিমী (পৃষ্ঠা: ১৯)
- بعده عنون بـ (القدر المشروع لرفع القبر) وذكر في ذلك حديث جابر: أن النبي صلى الله عليه وسلم رُفع قبره نحوًا من شبر.

- ثم تكلم على (كيفية رفع القبر) وعن معنى قوله "مبطوحة" وما قيل فيها، والراحج من ذلك، ثم ذكر جملة من أدلة التسنيم (ص 51 ــ 58).

- ثم تكلم على مسألة (البناء على القبر) وهو خاص ببحث مسألة البناء على القبور في المِلك، وذكر أن الناس فريقان: القائلون بالكراهة في المِلك والحرمة في المسبّلة. الفريق الثاني من غلاة الجهّال الذين يقولون بأنه مستحب أو واجب، وهم لفرط جهلهم يتهمون من ينكر عليهم بقولهم (وهابي)! ! وغير ذلك … ويستدلون على هذا القول بأدلة والرد عليها.

- ثم ذكر أدلة النهي عن البناء ونحوه ووجه دلالتها على الحرمة (ص 59 ــ 65).

- ثم ذكر المؤلف حديث جابر في النهي عن البناء على القبور، وذكر رواياته وألفاظه، والكلام عليه وما يشهد له. وتضمَّن مباحث حديثية دقيقة.

- ثم عنون بـ (تحقيق حال أبي الزبير) (ص 81 ــ 87).

- بعده عنون بـ (تحقيق حال سليمان بن موسى) (ص 88 ــ 91).

- بعده تكلم على حديث أبي سعيد الخدري، وتكلم على حال القاسم بن مخيمرة (92 ــ 93).

ثم عقد بحثًا عنونه بـ (بحث شرط اللقاء) وعقد البحث على صورة مناظرة بين فريقين، جعل لمذهب مسلم رقم (1)، ومقابله رقم (2) وجرى هذا إلى آخر البحث (ص 94 ــ 108).
এরপর তিনি শিরোনাম দিয়েছেন (কবর কতটুকু উঁচু করা শরীয়তসম্মত) এবং তাতে জাবির-এর হাদীস উল্লেখ করেছেন যে: নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর কবর প্রায় এক বিঘত পরিমাণ উঁচু করা হয়েছিল।

অতঃপর তিনি (কবর উঁচু করার পদ্ধতি) নিয়ে এবং "মাবতুহা" শব্দের অর্থ ও এ বিষয়ে যা বলা হয়েছে এবং তার মাঝে প্রাধান্যযোগ্য মতটি নিয়ে আলোচনা করেছেন। এরপর তিনি তাসনীম (উটের পিঠের কুঁজের ন্যায় উঁচু করা)-এর সপক্ষে একগুচ্ছ দলীল উল্লেখ করেছেন (পৃ. ৫১–৫৮)।

এরপর তিনি (কবরের ওপর ইমারত নির্মাণ) মাসআলা নিয়ে আলোচনা করেছেন। এটি বিশেষ করে ব্যক্তিগত মালিকানাধীন জায়গায় কবরের ওপর ইমারত নির্মাণের মাসআলা সংক্রান্ত। তিনি উল্লেখ করেছেন যে, এ বিষয়ে মানুষ দুই দলে বিভক্ত: একদল যারা মালিকানাধীন জায়গায় এটাকে অপছন্দনীয় (মাকরুহ) এবং সর্বসাধারণের জন্য ওয়াকফকৃত জায়গায় হারাম বলেন। দ্বিতীয় দলটি হলো চরমপন্থী মূর্খদের দল, যারা বলে যে এটি মুস্তাহাব বা ওয়াজিব। তারা তাদের চরম মূর্খতার কারণে যারা তাদের প্রতিবাদ করে তাদের (ওহাবী)!! এবং অন্যান্য অপবাদ দিয়ে অভিযুক্ত করে... তারা তাদের এই বক্তব্যের সপক্ষে কিছু দলীল দেয় এবং সেগুলোর জবাবও দেওয়া হয়েছে।

অতঃপর তিনি নির্মাণকাজ ও অনুরূপ বিষয়সমূহ নিষেধ হওয়ার দলীলসমূহ এবং এগুলো যে হারাম হওয়ার প্রমাণ বহন করে, তার ধরন উল্লেখ করেছেন (পৃ. ৫৯–৬৫)।

এরপর লেখক কবরের ওপর ইমারত নির্মাণ নিষেধ হওয়ার ব্যাপারে জাবির-এর হাদীস উল্লেখ করেছেন এবং এর বিভিন্ন বর্ণনা ও শব্দসমূহ উল্লেখ করেছেন, এবং এর ওপর আলোচনা ও এর সপক্ষে অন্যান্য প্রমাণাদি নিয়ে কথা বলেছেন। এটি সূক্ষ্ম হাদীসতাত্ত্বিক গবেষণাকে অন্তর্ভুক্ত করেছে।

এরপর তিনি শিরোনাম দিয়েছেন (আবু যুবাইর-এর অবস্থার অনুসন্ধান) (পৃ. ৮১–৮৭)।

এরপর তিনি শিরোনাম দিয়েছেন (সুলাইমান ইবনে মুসা-এর অবস্থার অনুসন্ধান) (পৃ. ৮৮–৯১)।

এরপর তিনি আবু সাঈদ আল-খুদরী-এর হাদীস নিয়ে আলোচনা করেছেন এবং কাসেম ইবনে মুখাইমিরাহ-এর অবস্থা নিয়ে আলোচনা করেছেন (৯২–৯৩)।

অতঃপর তিনি একটি পরিচ্ছেদ রচনা করেছেন যার শিরোনাম দিয়েছেন (সাক্ষাৎকার হওয়ার শর্তের গবেষণা)। তিনি এই গবেষণাটি দুই দলের মধ্যে বিতর্কের আকারে সাজিয়েছেন, যেখানে মুসলিমের মাযহাবকে ১ নম্বর এবং তার বিপরীত পক্ষকে ২ নম্বর হিসেবে নির্ধারণ করেছেন। এটি গবেষণার শেষ পর্যন্ত এভাবেই চলেছে (পৃ. ৯৪–১০৮)।
(খণ্ড: ৫) ইমারাতুল কুবুর ফিল ইসলাম - আল-মুবাইয়্যাদাহ - দিমনা আসারুল মুআল্লিমী (পৃষ্ঠা: ২০)
- ثم ذكر حديث أم سلمة في نهي النبي صلى الله عليه وسلم أن يُبنى على القبر أو يجصص وتكلم على ثبوته (ص 109 ــ 111).

- ثم عقد ما يشبه الاستدراك أو الإضافة فقال: (تتمة لحديث جابر وأبي سعيد وناعم) (ص 112 ــ 113).

 

*‌‌ خامسًا: بين المسوّدة والمبيّضة، ودواعي طبعهما:

نعقد هذا المبحث لنوازن بين هاتين النسختين من هذه الرسالة، من حيثُ التقسيمُ، والترتيبُ، والزيادات وما تميّزت به كلٌّ منهما، وبه يظهر لنا دواعي طبعهما معًا وعدم الاكتفاء بإحداهما عن الأخرى، فنقول:

1 - التقسيم: في المبيضة صرّح المؤلف بتقسيمها إلى مقدمة وثلاثة فصول وخاتمة، وقد وفى بترتيبه هذا في الجملة، غير أن الخاتمة لم يتمكن من كتابتها بعد أن كتب عنوانها فقط.

أما المسوّدة فلم يقسمها تقسيمًا واضح المعالم، وإنما يعنون عنوانات جانبية ويبحث تحتها المسائل، ويحيل إلى مباحث أنه سيأتي ذكرها ولم نجدها في هذه النسخة.

2 - الترتيب: ظهر من عرض الرسالة في نسختيها أنّ هناك اختلافًا في ترتيبهما، إذ بعد اتفاقهما في التصدير تبدأ المبيّضة بمقدّمة طويلة عقدها المؤلف للتدليل على أن أمور الشرع توقيفية لا تؤخَذ إلا من الشارع، ثم تكلّم على الوسائل وخَلَص إلى أن شأن القبور شأن شرعيّ يجب أن ينظر فيه بنظر الشرع. بينما المسوَّدة تخلو من هذا البحث.
- এরপর তিনি কবরের উপর ইমারত নির্মাণ বা চুনকাম করতে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের নিষেধ সম্পর্কিত উম্মে সালামার হাদীসটি উল্লেখ করেছেন এবং এর প্রামাণিকতা নিয়ে আলোচনা করেছেন (পৃষ্ঠা ১০৯-১১১)।

- অতঃপর তিনি একটি পরিশিষ্ট বা সংযোজনীর মতো অধ্যায় যুক্ত করে বলেছেন: (জাবির, আবু সাঈদ এবং নাঈমের হাদীসের পরিশিষ্ট) (পৃষ্ঠা ১১২-১১৩)।

 

*‌‌ পঞ্চম: খসড়া ও চূড়ান্ত কপির মধ্যে তুলনা এবং উভয়টি মুদ্রণের কারণসমূহ:

আমরা এই পরিচ্ছেদটি এই পুস্তিকার দুটি পাণ্ডুলিপির মধ্যে বিভাগ, বিন্যাস, সংযোজন এবং প্রত্যেকের স্বতন্ত্র বৈশিষ্ট্যের নিরিখে তুলনা করার জন্য নির্ধারণ করেছি। এর মাধ্যমে আমাদের কাছে স্পষ্ট হবে কেন উভয়টিই একত্রে মুদ্রণ করা প্রয়োজন এবং কেন একটিকে অন্যটির বিকল্প হিসেবে যথেষ্ট মনে করা হয়নি। আমরা বলছি:

১ - বিন্যাস: চূড়ান্ত কপিতে লেখক এটি একটি ভূমিকা, তিনটি অধ্যায় এবং একটি উপসংহারে বিভক্ত করার কথা স্পষ্টভাবে উল্লেখ করেছেন। তিনি মোটের ওপর এই বিন্যাস বজায় রেখেছেন, তবে উপসংহারটির কেবল শিরোনাম লেখার পর তিনি তা লিখে সম্পন্ন করতে পারেননি।

পক্ষান্তরে খসড়া কপিতে তিনি কোনো সুস্পষ্ট বিভাজন করেননি, বরং কেবল কিছু পার্শ্ব-শিরোনাম দিয়েছেন এবং তার অধীনে মাসআলাসমূহ আলোচনা করেছেন। তিনি এমন কিছু আলোচনার দিকে ইঙ্গিত করেছেন যা সামনে আসবে বলে উল্লেখ করা হলেও আমরা এই কপিতে সেগুলো খুঁজে পাইনি।

২ - ক্রমবিন্যাস: পুস্তিকাটির উভয় পাণ্ডুলিপি পর্যালোচনায় দেখা গেছে যে, তাদের বিন্যাসে ভিন্নতা রয়েছে। শুরুতে উভয়টি একমত থাকলেও চূড়ান্ত কপিটি শুরু হয়েছে একটি দীর্ঘ ভূমিকা দিয়ে, যেখানে লেখক প্রমাণ করেছেন যে শরীয়তের বিষয়সমূহ অহি-নির্ভর, যা কেবল শরীয়তদাতার থেকেই গ্রহণ করা যায়। এরপর তিনি মাধ্যমসমূহ নিয়ে আলোচনা করেছেন এবং এই সিদ্ধান্তে পৌঁছেছেন যে কবরের বিষয়টি একটি শরয়ী বিষয়, যা শরীয়তের মানদণ্ডেই বিচার করা আবশ্যক। অন্যদিকে, খসড়া কপিতে এই আলোচনাটি নেই।
(খণ্ড: ৫) ইমারাতুল কুবুর ফিল ইসলাম - আল-মুবাইয়্যাদাহ - দিমনা আসারুল মুআল্লিমী (পৃষ্ঠা: ২১)
فبدأت المبيضة بالفصل الأول: فيما ثبت في كيفية القبر المشروعة. ثم عقد الفصل الثاني وهو تتمة لبيان الهيئة المشروعة فيما يتصل بالقبر وذكر فيه جملة من أحاديث الباب وشرحها. ثم عقد المؤلف عنوانًا سمّاه (آية الكهف: 21). ثم ختم بالفصل الثالث: شرح حديث عليّ المتقدم.

أما المسودة فبدأت بعنوان (عرض هذه القضية على كتاب الله) فذكر آية 21 من سورة الكهف، ثم ذكر في عنوان مستقلّ (تحليل الاستدلال) أي من الآية، وضمَّنه افتراضات عقلية لم ترد في النسخة المبيضة لأنه رأى أن الأمر أوضح من ذلك. بعده ذكر عنوان (تحديد محلّ النزاع)، ثم بدأ بالكلام على مسألة الرفع في غير الملك، ثم عقد فصلًا في (تسوية القبور)، وآخر في (القدر المشروع لرفع القبر)، ثم تكلم على (كيفية رفع القبر)، ثم تكلم على (البناء على القبر) وهو خاص ببحث مسألة البناء على القبور في المِلك، فذكر حديثي جابر وأبي سعيد في النهي عن البناء وتكلم عليهما. ثم عقد بحثًا عنونه بـ (بحث شرط اللقاء) وتوسع فيه على شكل مناظرة بين فريقين، أما المبيّضة فالبحث فيها ملخص وليس على صورة مناظرة. ثم ختم النسخة بحديث أم سلمة في نهي النبي صلى الله عليه وسلم أن يُبنى على القبر أو يجصص، ثم الاستدراك والإضافة.

3 - الزيادات والميزات: تميزت المبيضة بحسن الترتيب ووضوح فكرة المؤلف، واكتمال البحث في صورته الأخيرة، وتحديد موضع النزاع، واستيعاب الأحاديث والآثار في المسألة والكلام عليها سندًا ومتنًا. وفيها أيضًا الرد على الرافضي حسن الصدر الكاظمي في جملة من المسائل. وتمتاز المسودة بالإضافة والإفاضة في بحث آية 21 من سورة الكهف، وبحث شرط اللقاء، وذكر بعض المسائل المتعلقة بالقبور لم تذكر في المبيّضة.
পরিমার্জিত পাণ্ডুলিপিটি প্রথম পরিচ্ছেদ দিয়ে শুরু হয়েছে: কবরের শরীয়তসম্মত পদ্ধতি সম্পর্কে যা প্রমাণিত হয়েছে। এরপর দ্বিতীয় পরিচ্ছেদটি বিন্যস্ত করেছেন যা কবরের সাথে সংশ্লিষ্ট শরীয়তসম্মত অবস্থার বর্ণনার পরিশিষ্ট এবং এতে সংশ্লিষ্ট অধ্যায়ের একগুচ্ছ হাদীস ও তার ব্যাখ্যা উল্লেখ করেছেন। এরপর লেখক একটি শিরোনাম দিয়েছেন যার নাম দিয়েছেন (সূরা কাহাফের ২১ নম্বর আয়াত)। এরপর তিনি তৃতীয় পরিচ্ছেদের মাধ্যমে শেষ করেছেন: আলীর বর্ণিত পূর্বোক্ত হাদীসের ব্যাখ্যা।

অন্যদিকে খসড়া পাণ্ডুলিপিটি শুরু হয়েছে এই শিরোনামের মাধ্যমে (আল্লাহর কিতাবের সামনে এই বিষয়টি উপস্থাপন)। সেখানে তিনি সূরা কাহাফের ২১ নম্বর আয়াত উল্লেখ করেছেন। এরপর একটি স্বতন্ত্র শিরোনামে উল্লেখ করেছেন (দলিলের বিশ্লেষণ) অর্থাৎ আয়াতটি থেকে, এবং এতে এমন কিছু বুদ্ধিভিত্তিক ধারণা অন্তর্ভুক্ত করেছেন যা পরিমার্জিত পাণ্ডুলিপিতে আসেনি, কারণ তিনি মনে করেছিলেন বিষয়টি এর চেয়েও স্পষ্ট। এরপর তিনি (বিবাদের মূলবিন্দু নির্ধারণ) শিরোনামটি উল্লেখ করেছেন। এরপর ব্যক্তিগত মালিকানাধীন নয় এমন জায়গায় কবর উঁচু করার মাসআলা নিয়ে আলোচনা শুরু করেছেন। এরপর (কবর সমান করা) বিষয়ে একটি পরিচ্ছেদ এবং (কবর উঁচু করার শরীয়তসম্মত পরিমাণ) বিষয়ে অন্য একটি পরিচ্ছেদ বিন্যস্ত করেছেন। তারপর তিনি (কবর উঁচু করার পদ্ধতি) সম্পর্কে আলোচনা করেছেন। অতঃপর তিনি (কবরের উপর ইমারত নির্মাণ) সম্পর্কে আলোচনা করেছেন, যা মালিকানাধীন জায়গায় কবরের ওপর ইমারত নির্মাণের মাসআলা সংক্রান্ত গবেষণার জন্য নির্দিষ্ট। সেখানে তিনি কবর নির্মাণে নিষেধাজ্ঞার বিষয়ে জাবির ও আবু সাঈদের বর্ণিত দুটি হাদীস উল্লেখ করেছেন এবং সেগুলোর ওপর আলোচনা করেছেন। এরপর তিনি (সাক্ষাতের শর্তের গবেষণা) শিরোনামে একটি গবেষণা বিন্যস্ত করেছেন এবং সেখানে দুই পক্ষের মধ্যে বিতর্কের আকারে বিস্তারিত আলোচনা করেছেন; অথচ পরিমার্জিত পাণ্ডুলিপিতে এই গবেষণাটি সারসংক্ষেপ হিসেবে রয়েছে এবং বিতর্কের আকারে নেই। এরপর তিনি পাণ্ডুলিপিটি উম্মে সালামাহ বর্ণিত সেই হাদীসের মাধ্যমে সমাপ্ত করেছেন যেখানে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কবরের ওপর ইমারত নির্মাণ করতে বা চুনকাম করতে নিষেধ করেছেন। এরপর রয়েছে সংশোধনী ও সংযোজন।

৩ - সংযোজন ও বৈশিষ্ট্যসমূহ: পরিমার্জিত পাণ্ডুলিপিটি সুবিন্যস্ত বিন্যাস, লেখকের চিন্তাধারার স্পষ্টতা, গবেষণার চূড়ান্ত রূপের পূর্ণতা, বিরোধপূর্ণ বিষয়টি নির্ধারণ এবং সংশ্লিষ্ট মাসআলার হাদীস ও আসারসমূহ আয়ত্তে এনে সেগুলোর সনদ ও মতনের ওপর আলোচনার মাধ্যমে বৈশিষ্ট্যমণ্ডিত হয়েছে। এতে কিছু মাসআলায় রাফেযী হাসান আস-সদর আল-কাযিমীর খণ্ডনও রয়েছে। আর খসড়া পাণ্ডুলিপিটি সূরা কাহাফের ২১ নম্বর আয়াতের গবেষণা, সাক্ষাতের শর্তের গবেষণা এবং কবরের সাথে সংশ্লিষ্ট এমন কিছু মাসআলা বর্ণনার মাধ্যমে বৈশিষ্ট্যমণ্ডিত হয়েছে যা পরিমার্জিত পাণ্ডুলিপিতে উল্লেখ করা হয়নি।
(খণ্ড: ৫) ইমারাতুল কুবুর ফিল ইসলাম - আল-মুবাইয়্যাদাহ - দিমনা আসারুল মুআল্লিমী (পৃষ্ঠা: ২২)
فكانت تلك الأمور مجتمعة داعيةً إلى نشر النسختين لما في كل واحدة منهما من ميزة يحسن الوقوف عليها والإفادة منها. أما ترك المسوّدة دون طباعة فسيفقدنا تلك الفوائد، وأما التلفيق بين النسختين فغير مرضيّ لأنا سنُخرِج حينئذ كتابًا لم يكتبه المؤلف، وأما ذكر الزوائد في الحواشي فسيفقدها قيمتها، وربما تصدُّ القارئَ عن الوقوف عليها.

 

*‌‌ سادسًا: وصف النسخ الخطية.

1 - نسخة المبيضة: محفوظة في مكتبة الحرم المكي الشريف برقم [4668/ 2] فليم رقم (3592) تقع في 120 ورقة بخط مؤلفها العلامة المعلمي، عدد الأسطر متفاوت في غالب الصفحات، كُتِبت في دفتر مسطّر معتاد بخطٍّ متفاوت في الثخانة والدّقة والوضوح، ويعود ذلك لاختلاف أقلام الكتابة، واختلاف أوقاتها.

والرسالة كغالب كتب الشيخ؛ كثيرة الضرب (فقد يضرب على صفحة أو أكثر) واللحق والإضافة والتحويل والبياضات (فقد يترك ورقة كاملة أملًا في إلحاق شيء). وكان من المفترض أن تكون هذه هي مبيّضة الكتاب الأخيرة؛ لأن الشيخ قد كتب عدّة نسخ من هذه الرسالة هذه آخرها فيما أرجح، لكنها عادت مسوّدة كما بدأتْ. وقد أطلقنا عليها (المبيّضة) باعتبارها آخر ما كتب الشيخ من نُسَخ هذه الرسالة، لا باعتبار حقيقة الحال.

تبدأ النسخة بعدة صفحات تبلغ التسع فيها مقيّدات لفوائد متنوعة انتقاها الشيخ من كتاب "الاعتصام" للشاطبي (دون أن يصرح باسمه)(1) أشبه

--------------------------------------------

(1) وفي مجموع رقم 4717 انتقى أيضًا فوائد من "الاعتصام" مع التصريح باسمه (ص 121 - 137).

এই বিষয়গুলো সম্মিলিতভাবে উভয় পাণ্ডুলিপি প্রকাশের দাবি রাখে, কারণ প্রত্যেকটির মধ্যেই এমন বিশেষ বৈশিষ্ট্য রয়েছে যা লক্ষ্য করা এবং তা থেকে উপকৃত হওয়া বাঞ্ছনীয়। আর খসড়া অনুলিপিটি মুদ্রণ ছাড়া রেখে দিলে আমরা সেই ফায়দাগুলো হারাব। আর উভয় অনুলিপির মধ্যে সংমিশ্রণ ঘটানো সন্তোষজনক নয়, কারণ সেক্ষেত্রে আমরা এমন একটি বই প্রকাশ করব যা লেখক নিজে (এই বিন্যাসে) লেখেননি। আর অতিরিক্ত অংশগুলো পাদটীকায় উল্লেখ করলে সেগুলোর গুরুত্ব হারিয়ে যাবে এবং সম্ভবত তা পাঠককে সেগুলো দেখা থেকে বিমুখ করবে।

 

*‌‌ ষষ্ঠত: পাণ্ডুলিপিগুলোর বিবরণ.

১ - পরিমার্জিত অনুলিপি (মুবাইয়াদা): এটি মক্কা মুকাররমার হারাম শরীফ লাইব্রেরিতে [৪৬৬৮/ ২] নম্বর এবং ফিল্ম নম্বর (৩৫৯২)-এর অধীনে সংরক্ষিত। এটি ১২০ পৃষ্ঠা সম্বলিত যা এর লেখক আল্লামা মুআল্লিমীর স্বহস্তে লিখিত। অধিকাংশ পৃষ্ঠায় লাইনের সংখ্যা ভিন্ন ভিন্ন। এটি একটি সাধারণ রুলটানা খাতায় লেখা হয়েছে, যার লিপি স্থূলতা, সূক্ষ্মতা এবং স্পষ্টতার দিক থেকে বিভিন্ন রকম; আর এর কারণ হলো লেখার কলম এবং সময়ের ভিন্নতা।

এই রিসালাহটি শায়খের অধিকাংশ বইয়ের মতোই; এতে প্রচুর কাটাকাটি (কখনো তিনি এক বা একাধিক পৃষ্ঠা কেটে দিয়েছেন), সংযোজন, পরিমার্জন, পরিবর্তন এবং শূন্যস্থান রয়েছে (কখনো তিনি কোনো কিছু সংযোজনের আশায় পুরো একটি পৃষ্ঠা খালি রেখেছেন)। ধারণা করা হয়েছিল যে এটিই হবে বইটির সর্বশেষ পরিমার্জিত অনুলিপি; কারণ শায়খ এই রিসালাহর বেশ কয়েকটি অনুলিপি লিখেছিলেন এবং আমার প্রবল ধারণা মতে এটিই ছিল সর্বশেষ। কিন্তু এটি যেভাবে শুরু হয়েছিল সেভাবেই আবার খসড়াতে পরিণত হয়েছে। আর আমরা একে 'পরিমার্জিত অনুলিপি' হিসেবে অভিহিত করেছি কারণ এটি শায়খের লেখা এই রিসালাহর অনুলিপিগুলোর মধ্যে সর্বশেষ, প্রকৃত অবস্থার বিচারে নয়।

অনুলিপিটি নয়টি পৃষ্ঠা দিয়ে শুরু হয়েছে যাতে শাতীবীর "আল-ইতিসাম" গ্রন্থ থেকে শায়খের চয়নকৃত বিভিন্ন শিক্ষণীয় বিষয় লিপিবদ্ধ রয়েছে (বইটির নাম স্পষ্ট উল্লেখ করা ছাড়াই)(১) অনেকটা...

--------------------------------------------

(১) এবং ৪৭১৭ নম্বর সমষ্টিতে তিনি "আল-ইতিসাম" থেকে নাম উল্লেখ করেই বিভিন্ন বিষয় চয়ন করেছেন (পৃ. ১২১ - ১৩৭)।

(খণ্ড: ৫) ইমারাতুল কুবুর ফিল ইসলাম - আল-মুবাইয়্যাদাহ - দিমনা আসারুল মুআল্লিমী (পৃষ্ঠা: ২৩)
بالفهرس للفوائد، يذكر رقم الصفحة ثم يذكر الفائدة كاملة تارة ومُشارًا إلى رأسها تارة أخرى. وقد استمرّت كتابة هذه الفوائد إلى بداية مقدمة الكتاب وصفحة تليها، والظاهر أن الشيخ كان قد ترك ورقات من أول الدفتر فارغة وكتب المقدمة بعد عدة صفحات، فلما قرأ كتاب "الاعتصام" قيّد فوائده في تلك الصفحات الفارغة وطالت حتى تجاوزت مقدمة الرسالة.

وكلها تقييدات دون تعليق إلا في موضع واحد فقد استدرك على الشاطبي في معنى "الجماعة" الواردة في الأحاديث فقال: " … معنى الجماعة في الأحاديث، ولم يأتِ فيها بتحقيق شافٍ. والصواب والله أعلم أن الجماعة هي السواد الأعظم من علماء الأمة المُسلّم كونهم علماء، فيدخل في ذلك عامة الصحابة رضي الله عنهم وأئمة التابعين وهلمّ جرًّا. والشاذّ من الجماعة المراد به عالم زلّ، وعلى ذلك جاء التحذير من زلّة العالم، فالغاية واحدة، وعلى هذا فعامة أهل البدع خارجون عن الجماعة أصلا إذ ليس عامتهم من العلماء، فإن اتفق أن عالمًا ابتدع فهو الشاذّ في النار ونهبة الشيطان". والله أعلم.

وفي آخر الدفتر بعد تمام الرسالة كتب الشيخ منتقيات وفوائد من "مختصر جامع بيان العلم وفضله" و"المعجم الصغير" للطبراني ــ ولم يُسَمّ الأخير ــ في 27 ورقة.

2 - نسخة المسودة: نسختها في مكتبة الحرم المكي الشريف برقم [4669] فليم رقم (3591) تقع في 141 ورقة. ويقال في وصفها ما قيل في وصف سابقتها. وفي أول الدفتر خمس صفحات قيد فيها المؤلف بعض الآيات والنقول من "تهذيب التهذيب" وغيره.
উপকারের সূচিপত্রে পৃষ্ঠাসংখ্যা উল্লেখ করা হয়েছে, অতঃপর কখনো পূর্ণ উপকারটি পূর্ণাঙ্গভাবে বর্ণনা করা হয়েছে, আবার কখনো কেবল তার শুরুর অংশের দিকে ইঙ্গিত করা হয়েছে। এই উপকারসমূহ লেখার ধারা বইটির ভূমিকার শুরু এবং তার পরবর্তী পৃষ্ঠা পর্যন্ত অব্যাহত ছিল। স্পষ্টত প্রতীয়মান হয় যে, শায়খ খাতার শুরুতে কিছু পৃষ্ঠা খালি রেখেছিলেন এবং কয়েক পৃষ্ঠা পর ভূমিকা লিখেছিলেন। অতঃপর যখন তিনি "আল-ইতিসাম" গ্রন্থটি পাঠ করেন, তখন সেই খালি পৃষ্ঠাগুলোতে এর শিক্ষণীয় বিষয় ও উপকারসমূহ লিপিবদ্ধ করেন এবং তা দীর্ঘ হতে হতে রিসালার ভূমিকা পর্যন্ত ছাড়িয়ে যায়।

এগুলো সবই কোনো মন্তব্য ছাড়াই কেবল টীকা হিসেবে নেওয়া হয়েছে, তবে একটি স্থান ব্যতীত; সেখানে তিনি হাদিসে বর্ণিত "জামায়াত" শব্দের অর্থের ব্যাপারে শাতীবির ওপর সংশোধনী প্রদান করেছেন। তিনি বলেন: " … হাদিসসমূহে জামায়াতের অর্থ; আর তিনি এ বিষয়ে কোনো সন্তোষজনক বিশ্লেষণ প্রদান করেননি। সঠিক বিষয় হলো—আর আল্লাহই ভালো জানেন—জামায়াত হলো উম্মতের আলেমদের সেই সুবিশাল সংখ্যাগরিষ্ঠ অংশ, যাদের আলেম হওয়া সর্বজনস্বীকৃত। ফলে সাধারণ সাহাবায়ে কেরাম (রাদিয়াল্লাহু আনহুম), তাবেয়িগণের ইমামগণ এবং এভাবেই পরবর্তীগণ এর অন্তর্ভুক্ত হবেন। আর জামায়াত থেকে বিচ্যুত বা 'শাজ' বলতে ওই আলেমকে বোঝানো হয়েছে যার পদস্খলন ঘটেছে। এরই ভিত্তিতে আলেমের পদস্খলন থেকে সতর্কবাণী উচ্চারিত হয়েছে; সুতরাং মূল লক্ষ্য অভিন্ন। এ হিসেবে বিদআতপন্থীদের সাধারণ গোষ্ঠী মূলত জামায়াতের বহির্ভূত, কারণ তাদের সাধারণ লোক আলেম নয়। যদি এমন হয় যে কোনো আলেম বিদআতে লিপ্ত হলেন, তবে তিনিই হবেন সেই বিচ্যুত ব্যক্তি যে জাহান্নামে যাবে এবং শয়তানের শিকারে পরিণত হবে।" আল্লাহই ভালো জানেন।

খাতার শেষে রিসালা সমাপ্ত হওয়ার পর শায়খ "মুখতাসার জামি বায়ানে ইলম ওয়া ফাদলিহি" এবং তাবারানির "আল-মুজামুস সাগির"—যদিও শেষোক্তটির নাম তিনি উল্লেখ করেননি—থেকে চয়নকৃত কিছু অংশ ও উপকারিতা ২৭ পৃষ্ঠাব্যাপী লিখেছেন।

২ - খসড়া পাণ্ডুলিপি: এর অনুলিপি মক্কার পবিত্র হারাম লাইব্রেরিতে [৪৬৬৯] নম্বর ও (৩৫৯১) নম্বর মাইক্রোফিল্ম হিসেবে সংরক্ষিত আছে এবং এটি ১৪১ পৃষ্ঠাব্যাপী বিস্তৃত। এর বর্ণনায় তা-ই বলা হবে যা পূর্ববর্তীটির বর্ণনায় বলা হয়েছে। খাতার শুরুতে পাঁচটি পৃষ্ঠা রয়েছে যেখানে লেখক কিছু আয়াত এবং "তাহজিবুত তাহজিব" ও অন্যান্য গ্রন্থ থেকে কিছু উদ্ধৃতি লিপিবদ্ধ করেছেন।
(খণ্ড: ৫) ইমারাতুল কুবুর ফিল ইসলাম - আল-মুবাইয়্যাদাহ - দিমনা আসারুল মুআল্লিমী (পৃষ্ঠা: ২৪)
3 - المسوّدة الثانية: نسخة مسوّدة كُتبت قبل النسخة السالفة فيما أرجح تقع ضمن مجموع رقم (4717) في مكتبة الحرم المكي الشريف في 87 صفحة بترقيم المؤلف، تبدأ النسخة بتعاليق تتعلق بمسند الإمام أحمد وكأنه تخطيط لترتيب أحاديثه، ثم تقييد لأرقام صفحات كثيرة وكُتب فوقها: "يلحق برسالة عمارة القبور في الإسلام" ولم أهتدِ إلى مراده بهذه الأرقام!

ثم تبدأ هذه المسودة من ص 9 بقوله: "الحمد لله، الحكم الذي تدل عليه الأحاديث … وقدمنا أن المراد … " فالإشارة إلى ما تقدم لعله في دفتر آخر ولم نقف عليه، والنسخة ينقصها الكثير من المباحث، فلعلها في هذه النسخة المحال إليها.

وفي هذه النسخة بعض الفوائد ليست في النسخ الأخرى أثبتُّ بعضها في الهوامش، وبعضها في ملحق آخر الكتاب. وفي المجموع أيضًا مختصر لـ"طبقات المدلسين" لابن حجر، وفوائد من "اقتضاء الصراط المستقيم" لابن تيمية، وفوائد منتقاة من "الاعتصام" للشاطبي.

 

-‌‌ سابعًا: منهج التحقيق

أثبتنا الكتاب في نسختيه كما تركه مؤلفه، وتتبّعنا إلحاقاته وتحويلاته في تقديم مبحث أو نصّ إلى مكانه الذي حوله إليه (انظر ق 55 و 93) وغير ذلك من إشاراته، ولم نتدخّل في كبير شيء إلا في موضع واحد قدمنا فيه جملةً من الآثار كان حقها التقديم.

أما المسودة الثانية فاستعرضتُها فرأيت فيها موضعين مفيدين يحسن إثباتهما، فأثبتّ الأول في هامش ص 114 وهو تعليق للشيخ على كلام ابن حجر الهيتمي، والموضع الثاني في مسألة البناء على القبور وشُبهة قد يثيرها
৩ - দ্বিতীয় পাণ্ডুলিপি: এটি একটি খসড়া কপি যা আমার প্রবল ধারণা মতে পূর্বোক্ত পাণ্ডুলিপির আগেই লেখা হয়েছিল। এটি মক্কা হারম শরীফ লাইব্রেরির ৪৭১৭ নম্বর সংগ্রহের অন্তর্ভুক্ত, যা লেখকের নিজস্ব পৃষ্ঠাসংখ্যা অনুযায়ী ৮৭ পৃষ্ঠা জুড়ে বিস্তৃত। পাণ্ডুলিপিটি ইমাম আহমদের মুসনাদ সংশ্লিষ্ট কিছু টীকা দিয়ে শুরু হয়েছে, যা দেখে মনে হয় এটি তাঁর হাদিসগুলো বিন্যাসের একটি পরিকল্পনা ছিল। এরপর অনেকগুলো পৃষ্ঠার নম্বর লিপিবদ্ধ করা হয়েছে এবং তার উপরে লেখা হয়েছে: "ইসলামে কবর নির্মাণের ওপর রিসালার সাথে যুক্ত হবে", কিন্তু আমি এই নম্বরগুলো দ্বারা তাঁর উদ্দেশ্য কী ছিল তা বুঝতে পারিনি!

এরপর এই খসড়াটি ৯ নম্বর পৃষ্ঠা থেকে তাঁর এই কথার মাধ্যমে শুরু হয়েছে: "সকল প্রশংসা আল্লাহর, হাদিসসমূহ যে বিধানের ওপর দালালত করে … এবং আমরা পূর্বে উল্লেখ করেছি যে উদ্দেশ্য হলো … " সুতরাং পূর্বে যা উল্লেখ করার প্রতি ইঙ্গিত করা হয়েছে, তা সম্ভবত অন্য কোনো খাতায় ছিল যা আমরা খুঁজে পাইনি। আর এই কপিতে অনেকগুলো আলোচনার অভাব রয়েছে, সম্ভবত সেগুলো সেই কপিতে রয়েছে যেটির দিকে ইঙ্গিত করা হয়েছে।

এই কপিতে এমন কিছু ফায়দা বা উপকারী নোট রয়েছে যা অন্য কপিগুলোতে নেই। আমি সেগুলোর কিছু টীকায় (হাশিয়ায়) এবং কিছু বইয়ের শেষের পরিশিষ্টে যুক্ত করেছি। এছাড়াও এই সংগ্রহটিতে ইবনে হাজারের "তাবাকাতুল মুদাল্লিসীন"-এর সংক্ষিপ্তসার, ইবনে তাইমিয়্যাহর "ইকতিদাউস সিরাতিল মুস্তাকিম" থেকে কিছু ফায়দা এবং শাতেবীর "আল-ইতিসাম" থেকে সংগৃহীত কিছু ফায়দা রয়েছে।

 

-‌‌ সপ্তম: সম্পাদনা পদ্ধতি

আমরা বইটিকে এর উভয় পাণ্ডুলিপি অনুযায়ী লেখক যেভাবে রেখে গেছেন সেভাবেই সাব্যস্ত করেছি। আমরা কোনো আলোচনা বা উদ্ধৃতিকে লেখকের নির্দেশিত স্থানে সরিয়ে নেয়ার ক্ষেত্রে তাঁর সংযোজন ও পরিবর্তনগুলো অনুসরণ করেছি (দেখুন পৃষ্ঠা ৫৫ ও ৯৩) এবং তাঁর অন্যান্য ইশারাগুলোও খেয়াল রেখেছি। একটি স্থান ছাড়া আমরা তেমন বড় কোনো হস্তক্ষেপ করিনি, যেখানে আমরা কতগুলো আছার (বর্ণনা) আগে নিয়ে এসেছি কারণ সেগুলো আগে আনাই সংগত ছিল।

দ্বিতীয় পাণ্ডুলিপিটির ক্ষেত্রে, আমি সেটি পর্যালোচনা করে তাতে দুটি উপকারী স্থান পেয়েছি যা উল্লেখ করা সমীচীন মনে হয়েছে। প্রথমটি আমি ১১৪ নম্বর পৃষ্ঠার টীকায় যুক্ত করেছি, যা ইবনে হাজার আল-হাইতামীর বক্তব্যের ওপর শায়খের একটি মন্তব্য। আর দ্বিতীয় স্থানটি কবরের ওপর ইমারত নির্মাণ এবং এর ফলে উদ্ভূত হতে পারে এমন একটি সংশয় সম্পর্কিত বিষয়ের ওপর।
(খণ্ড: ৫) ইমারাতুল কুবুর ফিল ইসলাম - আল-মুবাইয়্যাদাহ - দিমনা আসারুল মুআল্লিমী (পৃষ্ঠা: ২৫)
مَن يجيز البناء مع الجواب عليها، ومع أنها مذكورة في (المبيَّضة) إلا أنها هنا تختلف في طريقة عرضها وزيادة الجواب في جوانب منها. فأثبتها في آخر الرسالة للوقوف عليها.

وانتهجنا النهجَ نفسَه في خدمة كتب الشيخ كما ذكرناه في غير موضع، وكما شرحناه في مقدمة المشروع.

والحمد لله رب العالمين.
যারা ইমারত নির্মাণ বৈধ মনে করেন তাদের মত এবং এর উত্তরসহ; যদিও এটি (আল-মুবায়্যিদাহ)-তে উল্লেখ করা হয়েছে, তবে এখানে তা উপস্থাপনের পদ্ধতিতে ভিন্নতা রয়েছে এবং কিছু দিক থেকে উত্তরের পরিধি বৃদ্ধি করা হয়েছে। তাই বিষয়টি সম্পর্কে অবগত হওয়ার জন্য আমি এটিকে রিসালার শেষে সংযুক্ত করেছি।

শাইখের কিতাবসমূহের খিদমতের ক্ষেত্রে আমরা সেই একই পদ্ধতি অবলম্বন করেছি যা আমরা ইতিপূর্বে বিভিন্ন স্থানে উল্লেখ করেছি এবং প্রকল্পের ভূমিকায় ব্যাখ্যা করেছি।

সকল প্রশংসা বিশ্বজগতের প্রতিপালক আল্লাহর জন্য।
(খণ্ড: ৫) ইমারাতুল কুবুর ফিল ইসলাম - আল-মুবাইয়্যাদাহ - দিমনা আসারুল মুআল্লিমী (পৃষ্ঠা: ২৭)
‌‌نماذج من النُّسخ الخطية
পাণ্ডুলিপির নমুনাসমূহ
(খণ্ড: ৫) ইমারাতুল কুবুর ফিল ইসলাম - আল-মুবাইয়্যাদাহ - দিমনা আসারুল মুআল্লিমী (পৃষ্ঠা: ২৯)
الورقة الأولى من "عمارة القبور - المبيّضة"
"কবর নির্মাণ - পরিমার্জিত অনুলিপি" এর প্রথম পৃষ্ঠা।
(খণ্ড: ৫) ইমারাতুল কুবুর ফিল ইসলাম - আল-মুবাইয়্যাদাহ - দিমনা আসারুল মুআল্লিমী (পৃষ্ঠা: ৩০)
ورقة من "عمارة القبور - المبيّضة"
"কবর নির্মাণ - চূড়ান্ত অনুলিপি" এর একটি পৃষ্ঠা।
(খণ্ড: ৫) ইমারাতুল কুবুর ফিল ইসলাম - আল-মুবাইয়্যাদাহ - দিমনা আসারুল মুআল্লিমী (পৃষ্ঠা: ৩১)
ورقة أخرى من "عمارة القبور - المبيّضة"
"কবর নির্মাণ - চূড়ান্ত অনুলিপি" থেকে অন্য একটি পৃষ্ঠা।
(খণ্ড: ৫) ইমারাতুল কুবুর ফিল ইসলাম - আল-মুবাইয়্যাদাহ - দিমনা আসারুল মুআল্লিমী (পৃষ্ঠা: ৩২)
الورقة الأولى من "عمارة القبور - المسوّدة"
"কবর নির্মাণ - খসড়া" এর প্রথম পৃষ্ঠা
(খণ্ড: ৫) ইমারাতুল কুবুর ফিল ইসলাম - আল-মুবাইয়্যাদাহ - দিমনা আসারুল মুআল্লিমী (পৃষ্ঠা: ৩৩)
ورقة من "عمارة القبور - المسوّدة"
"কবর নির্মাণ - খসড়া" থেকে একটি পৃষ্ঠা।