(খণ্ড: ১)
আল-ইরাব আনিল হাইরাতি ওয়াল ইলতিবাসিল মাওজুদাইনি ফী মাজাহিবি আহলির রা-য়ি ওয়াল কিয়াস
(পৃষ্ঠা: -)
الإعراب عن الحيرة والالتباس الموجودين في مذاهب أهل الرأي والقياس القسم: أصول الفقه
الكتاب: الإعراب عن الحيرة والالتباس الموجودين في مذاهب أهل الرأي والقياس.
المؤلف: أبو محمد علي بن أحمد بن سعيد بن حزم الظاهري (384 - 456 هـ)
دراسة وتحقيق: الدكتور محمد بن زين العابدين رستم
أصل التحقيق: رسالة الدكتوراة - جامعة القاضي عياض كلية الآداب والعلوم الإنسانية ببني ملال شعبة الدراسات الإسلامية
تقديم: الدكتور زين العابدين بن محمد بلافريج
الناشر: دار أضواء السلف، الرياض - المملكة العربية السعودية
الطبعة: الأولى، 1425 هـ - 2005 م
عدد الأجزاء: 3 (متسلسلة الترقيم)
[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]
تاريخ النشر بالشاملة: 19 ذو الحجة 1441
আহলুর রায় ও কিয়াসপন্থীদের মাযহাবসমূহে বিদ্যমান বিভ্রান্তি ও সংশয়ের ব্যাখ্যা
বিভাগ: উসূলুল ফিকহ
গ্রন্থ: আহলুর রায় ও কিয়াসপন্থীদের মাযহাবসমূহে বিদ্যমান বিভ্রান্তি ও সংশয়ের ব্যাখ্যা।
লেখক: আবু মুহাম্মদ আলী বিন আহমদ বিন সাঈদ বিন হাযম আদ-জাহিরি (৩৮৪ - ৪৫৬ হিজরি)
গবেষণা ও সম্পাদনা: ডক্টর মুহাম্মদ বিন যয়নুল আবেদীন রুস্তম
সম্পাদনার মূল উৎস: পিএইচডি থিসিস - কাদি আইয়াদ বিশ্ববিদ্যালয়, কলা ও মানববিদ্যা অনুষদ, বানি মাল্লাল, ইসলামি শিক্ষা বিভাগ
উপস্থাপনা: ড. যয়নুল আবেদিন বিন মুহাম্মদ বেলাফরিজ
প্রকাশক: দার আদওয়াউস সালাফ، রিয়াদ - সৌদি আরব রাজ্য
সংস্করণ: প্রথম، ১৪২৫ হিজরি - ২০০৫ খ্রিস্টাব্দ
খণ্ড সংখ্যা: ৩ (ধারাবাহিক পৃষ্ঠা নম্বর)
[বইয়ের পৃষ্ঠা নম্বর মুদ্রিত কপির অনুরূপ]
শামিলা লাইব্রেরিতে প্রকাশের তারিখ: ১৯ যিলহজ ১৪৪১
(খণ্ড: ১)
আল-ইরাব আনিল হাইরাতি ওয়াল ইলতিবাসিল মাওজুদাইনি ফী মাজাহিবি আহলির রা-য়ি ওয়াল কিয়াস
(পৃষ্ঠা: -)
الأعراب عن الحيرة والألتباس الموجودين في مذاهب أهل الرأي والقياس
تأليف
الإمام الحافظ أبي محمد علي بن أحمد بن سعيد بن حزم الظاهري
(384 هـ- 456 هـ)
دراسة وتحقيق
الدكتور محمد بن زين العابدين رستم
تقديم
الدكتور زين العابدين بن محمد بلافريج
أستاذ التعليم العالي بجامعة الدار البيضاء بالمغرب
أضواء السلف
আহলুর রায় এবং কিয়াসের মাযহাবসমূহে বিদ্যমান বিভ্রান্তি ও অস্পষ্টতার বিশদ বর্ণনা
রচনা
ইমাম হাফিজ আবু মুহাম্মদ আলী বিন আহমদ বিন সাঈদ বিন হাযম আদ-জাহিরি
(৩৮৪ হি. - ৪৫৬ হি.)
গবেষণা ও সম্পাদনা
ডক্টর মুহাম্মদ বিন যায়নুল আবিদীন রুস্তম
উপস্থাপনা
ডক্টর যায়নুল আবিদীন বিন মুহাম্মদ ব্লাফ্রেজ
মরক্কোর ক্যাসাব্লাঙ্কা বিশ্ববিদ্যালয়ের উচ্চশিক্ষা বিভাগের অধ্যাপক
আদওয়াউস সালাফ
(খণ্ড: ১)
আল-ইরাব আনিল হাইরাতি ওয়াল ইলতিবাসিল মাওজুদাইনি ফী মাজাহিবি আহলির রা-য়ি ওয়াল কিয়াস
(পৃষ্ঠা: ১)
بِسْمِ اللَّهِ الرَّحْمَنِ الرَّحِيمِ
تقديم الدكتور زين العابدين بن محمد بلا فريجأستاذ التعليم العالي بجامعة الدار البيضاء - المغرب
الحمد لله والصلاة والسلام على رسول الله وآله وصحبه ومن اتبع هداه.
أما بعد:
فإن تاريخ العلم عند المسلمين يزخر بتراث ضخم أصيل، سطرته أقلام العلماء بما جادت به قرائحهم الملهمة السيالة، استنادًا إلى قواعد العلم وتطبيقًا لأصوله المبنية على أدلة الكتاب والسنة، وقد نتج عن استعمالهم قواعد العلم وأصوله هذا الفقه الإسلامي الغزير، الذي يعد الفهم السديد لأدلة الشريعة، مهما تباينت بعض أقوال الفقهاء في مسائل منه، إذ أن لذلك أسبابًا معروفة مفصلة في موضعها من كتب الخلاف.
وظل هذا الفقه العتيد صامدًا منذ نشأنه في عصر الصحابة فمن بعدهم إلى عصور التدوين، وشهد خلال تاريخه مدارس متعددة، مرجعها إلى المذاهب الفقهية المشهورة المتبعة، مع تباين طرائقها في استنباط الفقه واعتماد مسائله.
وكان من لوازم حيوية الفقه الإسلامي مع نشوء المذاهب المتباينة أن
পরম করুণাময় অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে।
ডক্টর জাইনুল আবিদীন বিন মুহাম্মদ বিলা ফরিজের উপস্থাপনামরক্কোর কাসাব্লাঙ্কা বিশ্ববিদ্যালয়ের উচ্চশিক্ষা বিভাগের অধ্যাপক
সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর জন্য এবং সালাত ও সালাম বর্ষিত হোক আল্লাহর রাসূলের ওপর এবং তাঁর পরিবার-পরিজন, তাঁর সাহাবীগণ ও যারা তাঁর হেদায়েতের অনুসরণ করেছেন তাদের ওপর।
অতঃপর:
নিশ্চয়ই মুসলিমদের নিকট ইলমের ইতিহাস এক বিশাল ও মৌলিক ঐতিহ্যে সমৃদ্ধ, যা ওলামায়ে কেরামের কলম দ্বারা তাঁদের প্রবহমান ও অনুপ্রেরণালব্ধ মেধার বদৌলতে লিখিত হয়েছে। এটি ইলমের নীতিমালাসমূহের ওপর নির্ভর করে এবং কিতাব ও সুন্নাহর দলিলের ওপর ভিত্তি করে প্রতিষ্ঠিত মূলনীতিসমূহের প্রয়োগের মাধ্যমে সম্পাদিত হয়েছে। তাঁদের এই ইলমি কায়দা ও মূলনীতিসমূহের ব্যবহারের ফলে এই সমৃদ্ধ ইসলামী ফিকহ তৈরি হয়েছে, যা শরিয়তের দলীলসমূহের সঠিক উপলব্ধি হিসেবে বিবেচিত; যদিও এর বিভিন্ন মাসআলায় ফুকাহাদের কিছু মতামতে ভিন্নতা রয়েছে। এর পেছনে সুপরিচিত কারণসমূহ রয়েছে যা মতভেদ সংক্রান্ত কিতাবসমূহের স্ব-স্ব স্থানে বিস্তারিতভাবে বর্ণিত হয়েছে।
এই সুদৃঢ় ফিকহ সাহাবীগণের যুগ হতে এর সূচনা থেকে শুরু করে পরবর্তী সংকলনের যুগ পর্যন্ত অটল রয়েছে। এর ইতিহাসে এটি বহুমুখী চিন্তাধারার (মাদরাসা) সাক্ষী হয়েছে, যার মূল ভিত্তি হলো অনুসৃত প্রসিদ্ধ ফিকহি মাযহাবসমূহ, যদিও ফিকহ উদ্ভাবন এবং মাসআলা গ্রহণের ক্ষেত্রে তাদের পদ্ধতিতে ভিন্নতা রয়েছে।
বিভিন্ন মাযহাবের বিকাশের সাথে সাথে ইসলামী ফিকহের প্রাণস্পন্দনের একটি অপরিহার্য দাবি ছিল যে
(খণ্ড: ১)
আল-ইরাব আনিল হাইরাতি ওয়াল ইলতিবাসিল মাওজুদাইনি ফী মাজাহিবি আহলির রা-য়ি ওয়াল কিয়াস
(পৃষ্ঠা: ২)
يظهر الحوار الفقهي، إذ كانت رحمه موصولة، فكل مذهب على اطلاع بما عند الآخرين، وبوصول المعرفة بالمذاهب الفقهية إلى شتى فرق الفقهاء كان لابد من بروز مناقشات ومُدَارسات تصيب مقاصد العلم وتحقق له مزيدًا من الثراء.
فكم من مذهب ينعى على آخر احتجاجه بحديث ضعيف، أو فهمًا غير مستقيم لدليل، أو عدم استخدام القاعدة الأصولية على الوجه الصحيح، وغير ذلك من ردِّ وَهْم، أو دفع إيهام، أو كبح لجام العلم وتقييد الكلام المطلق، أو توسيع ما ضاق عطن صاحبه، أو انتقاد عدم اطراد منهج الأخذ والرد، فهذه وغيرها مقومات لأصول الجدل الفقهي، وبواعث حاملة على استمرار حراسة العلم، ورد طغيان الفهم أو انحساره، وهذا شيء كثير يستخرج عند تصفح كتب المذاهب وتراجم العلماء.
وكان الأدب الجم يطبع هذا الجدل الفقهي، لأن الدافع إليه تبيان الصواب، وإنصاف العلم والعلماء، من غير عصبية مخلة بالمروءة، بل متى لاح الشطط أنكروه، وقد أُثِرَ عنهم: "الحق عندنا أولى من الشافعي".
وفي نص حافل بهذه المعاني وغيرها يقول سلطان العلماء العز بن عبد السلام رحمه الله: "من العجب العجيب أن يقف المقلد على ضعف مأخذ إمامه، وهو مع ذلك يُقَلّده كأن إمامه نبي أرسل إليه، وهذا نَأْي عن الحق وبعد عن الصواب، لا يرضى به أحد من أولي الألباب، بل
ফিকহী সংলাপের বহিঃপ্রকাশ ঘটে, যেহেতু এর পারস্পরিক যোগসূত্র ছিল অবিচ্ছিন্ন। ফলে প্রতিটি মাযহাবই অন্যদের জ্ঞান ও চিন্তাধারা সম্পর্কে অবহিত ছিল। ফিকহী মাযহাবসমূহ সংক্রান্ত জ্ঞান ফকীহদের বিভিন্ন দলের কাছে পৌঁছে যাওয়ার ফলে এমন কিছু আলোচনা ও পর্যালোচনার উদ্ভব হওয়া ছিল অনিবার্য, যা ইলমের লক্ষ্যসমূহ অর্জন করে এবং এর সমৃদ্ধিকে আরও বৃদ্ধি করে।
কত মাযহাবই তো অন্য মাযহাবের দুর্বল হাদীস দ্বারা দলীল পেশ করা, দলীলের অসংগত উপলব্ধি, অথবা উসূলী নীতিমালার যথাযথ প্রয়োগ না করার সমালোচনা করে। এছাড়া কোনো ভ্রান্তি খণ্ডন, অস্পষ্টতা দূরীকরণ, ইলমের রাশ টেনে ধরা ও নিঃশর্ত বক্তব্যকে শর্তযুক্ত করা, কিংবা অন্যের সংকীর্ণ দৃষ্টিভঙ্গিকে প্রসারিত করা অথবা গ্রহণ ও বর্জনের মানহাযের ধারাবাহিকতাহীনতার সমালোচনা করার মতো বিষয়গুলো এতে বিদ্যমান। এগুলো এবং এই জাতীয় আরও অনেক বিষয়ই ফিকহী বিতর্কের মূল উপাদান এবং ইলমের সুরক্ষা অব্যাহত রাখার প্রেরণা। এটি বোধশক্তির অসারতা বা এর সংকোচনকে প্রতিহত করে। মাযহাবের কিতাবসমূহ এবং উলামায়ে কেরামের জীবনী পাঠ করলে এমন প্রচুর উপকরণ পাওয়া যায়।
আর এই ফিকহী বিতর্ক ছিল মহান আদব ও শিষ্টাচার দ্বারা মণ্ডিত; কারণ এর মূল প্রেরণা ছিল সত্যকে স্পষ্ট করা এবং ইলম ও উলামায়ে কেরামের প্রতি ইনসাফ প্রদর্শন করা। এতে ব্যক্তিত্ব ও মর্যাদাহানিকর কোনো গোঁড়ামি ছিল না; বরং যখনই কোনো বিচ্যুতি স্পষ্ট হয়েছে, তাঁরা তা প্রত্যাখ্যান করেছেন। তাঁদের থেকে বর্ণিত হয়েছে: "আমাদের কাছে ইমাম শাফি'র চেয়ে সত্যের অগ্রাধিকার বেশি।"
এসকল তাৎপর্যমণ্ডিত একটি বর্ণনায় সুলতানুল উলামা ইয ইবন আব্দুস সালাম রাহিমাহুল্লাহ বলেন: "এটি এক চরম বিস্ময়ের বিষয় যে, একজন মুকাল্লিদ তার ইমামের দলীলের দুর্বলতা সম্পর্কে অবগত হওয়ার পরেও তাকে এমনভাবে অনুসরণ করে চলে যেন তার ইমামই তার প্রতি প্রেরিত কোনো নবী। এটি সত্য থেকে বিচ্যুতি এবং সঠিক পথ থেকে দূরে সরে যাওয়া, যা কোনো বুদ্ধিমান ব্যক্তিই মেনে নেবে না, বরং...
(খণ্ড: ১)
আল-ইরাব আনিল হাইরাতি ওয়াল ইলতিবাসিল মাওজুদাইনি ফী মাজাহিবি আহলির রা-য়ি ওয়াল কিয়াস
(পৃষ্ঠা: ৩)
تجد أحدهم يُنَاضل عن مقلده، ويتحيّل لدفع ظواهر الكتاب والسنة ويتأولها، وقد رأيناهم يجتمعون في المجالس، فإذا ذكر لأحدهم خلاف ما وطَّن عليه نفسه، تعجب منه غاية التعجب، لما أَلِفَهُ من تأليف إمامه، حتى ظن أن الحق منحصر في مذهب إمامه".
والإمام ابن حزم الظاهري معروف بتعظيمه للحق والآثار، وإن كان مذهبه في الظاهري مردود من قِبَلِ الفقهاء، لكن ظاهريته لا تعنى خَطَأه في كل شيء إلا أن الطالب المنصف يقدر على الانتقاء من علمه، وإنصافه في إصابته وعدم الزهادة في علومه.
أما عن منهجه في التعقب وقلمه الذي يكتب به: فلا يعتقد طالب العلم العصمة لأحد في كل ما يكتب أو ينطق، وتعلمنا في أدب العلم أن نأخذ الحق عن أي لسان جاء، ونتجنب ما لا يليق بالأدب مع من كان.
وليست التعقبات الفقهية مقتصرة على مذهب دون آخر، فلكل مذهب نصيب من ذلك، فليس المراد الحط على مذهب بعينه، فما يجيء من هذا فالأصل فيه هو التصويب ليس إلا.
وكتاب الإعراب لابن حزم قطعة نادرة نفيسة بقيت مركونة قابعة في دياجير الدهاليز. لكنها وجدت عناية العلماء، وقد خص بهذه العناية أحد علماء الأثر والسنة في هذا العصر وهو الشيخ الفاضل البحاثة محمد بوخبزة أمتع الله بطول بقائه، فكان له الفضل في الدلالة والتوجيه.
আপনি দেখবেন যে তাদের কেউ তার অনুসৃত ব্যক্তির পক্ষ নিয়ে লড়াই করে এবং কুরআন ও সুন্নাহর প্রকাশ্য অর্থসমূহ প্রত্যাখ্যান করার জন্য অপকৌশল অবলম্বন করে ও সেগুলোর রূপক ব্যাখ্যা প্রদান করে। আমরা তাদের বিভিন্ন মজলিসে সমবেত হতে দেখেছি; যখন তাদের কারো সামনে তার অভ্যস্ত চিন্তার বিপরীত কিছু উল্লেখ করা হয়, তখন সে চরম বিস্ময় প্রকাশ করে। কারণ সে তার ইমামের রচনার সাথে এতটাই অভ্যস্ত হয়ে পড়েছে যে, সে ধারণা করে বসেছে সত্য কেবল তার ইমামের মাযহাবের মধ্যেই সীমাবদ্ধ।
ইমাম ইবনে হাযম আল-জাহিরী সত্য এবং আসার বা বর্ণিত ঘটনাবলির প্রতি তাঁর শ্রদ্ধাবোধের জন্য সুপরিচিত। যদিও ফকীহগণের নিকট তাঁর জাহিরী মাযহাব প্রত্যাখ্যাত, তবুও তাঁর জাহিরী মতাদর্শের অর্থ এই নয় যে তিনি সবকিছুতেই ভুল করেছেন। বরং একজন ইনসাফকারী শিক্ষার্থী তাঁর জ্ঞান থেকে সঠিক বিষয়টি নির্বাচন করতে সক্ষম এবং তাঁর সঠিক সিদ্ধান্তগুলোর প্রতি সুবিচার করতে ও তাঁর জ্ঞানকে তুচ্ছজ্ঞান না করতে পারদর্শী।
তাঁর ভুল সংশোধনের পদ্ধতি এবং তাঁর লেখনী সম্পর্কে বলতে গেলে: একজন জ্ঞান অন্বেষণকারী কোনো ব্যক্তির লেখা বা কথার ক্ষেত্রে তাঁকে অভ্রান্ত বলে বিশ্বাস করেন না। আমরা ইলমের আদব বা শিষ্টাচারের ক্ষেত্রে শিখেছি যে, সত্য যার মুখ দিয়েই আসুক না কেন তা গ্রহণ করতে হবে এবং যে কারো সাথেই হোক না কেন, শিষ্টাচার বহির্ভূত আচরণ বর্জন করতে হবে।
আর ফিকহী সমালোচনা বা পর্যালোচনা কোনো নির্দিষ্ট মাযহাবের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়, বরং প্রতিটি মাযহাবেরই এতে অংশ রয়েছে। সুতরাং এর উদ্দেশ্য কোনো সুনির্দিষ্ট মাযহাবকে খাটো করা নয়; বরং এক্ষেত্রে যা কিছু বর্ণিত হয় তার মূল লক্ষ্য হলো কেবল সংশোধন করা।
ইবনে হাযমের 'আল-ই'রাব' গ্রন্থটি একটি বিরল ও মূল্যবান রচনা, যা দীর্ঘকাল অন্ধকার প্রকোষ্ঠে অবহেলিত হয়ে পড়ে ছিল। তবে এটি আলেমদের মনোযোগ লাভে সমর্থ হয়েছে। বর্তমান যুগের আসার ও সুন্নাহর অন্যতম আলেম, পরম শ্রদ্ধেয় গবেষক মুহাম্মদ বুখাবজাহ—আল্লাহ তাঁকে দীর্ঘায়ু দান করে আমাদের উপকৃত করুন—বিশেষভাবে এই গ্রন্থের প্রতি মনোযোগ দিয়েছেন। এর দিকনির্দেশনা ও পথপ্রদর্শনে তাঁর বিশেষ অবদান রয়েছে।
(খণ্ড: ১)
আল-ইরাব আনিল হাইরাতি ওয়াল ইলতিবাসিল মাওজুদাইনি ফী মাজাহিবি আহলির রা-য়ি ওয়াল কিয়াস
(পৃষ্ঠা: ৪)
والكتاب رغم نقصانه شفعت له قيمته العلمية وإمامة مؤلفه، الذي يناقش السادة الحنفية في منهجهم في تقرير مسائل الفقه.
وليس في الحرص على إخراج هذا الكتاب ونظائره ما يتيح الفرصة للتجاسر على الفقهاء وتغيب الأدب في خطابهم.
هذا وإن الأخ الأستاذ محمد رستم قد اعتنى بهذه القطعة من كتاب الإعراب، وعكف على تحقيقها بما جاد به علمه ونثره وقلمه، فخدم الكتاب تحقيقًا وتعليقًا، وقدم له بمقدمة نافعة، شكر الله سعيه.
وأخيرًا نكرر الشكر لأضواء السلف على عنايتها بالتراث الإسلامي النافع المنتقى، وبذل المجهود في تأمينه - ثاب الله صاحبها الأخ الفاضل الشاب الحبيب علي الحربي على ما أظهر الله على يديه من كتب قيمة وتراث نفيس، سائلين له مزيد العون والتوفيق.
والله من وراء القصد.
وكتب
زين العابدين بن محمد بلا فريج
أستاذ التعليم العالي بجامعة الدار البيضاء - المغرب
গ্রন্থটি অসম্পূর্ণ হওয়া সত্ত্বেও এর ইলমি মান এবং এর লেখকের ইমামত (নেতৃত্ব) এর পক্ষে অনুকূল সাব্যস্ত হয়েছে, যিনি ফিকহী মাসআলা নির্ধারণের ক্ষেত্রে হানাফী উলামায়ে কেরামদের মানহাজ সম্পর্কে আলোচনা করেছেন।
এই গ্রন্থ এবং এর সদৃশ অন্যান্য গ্রন্থসমূহ প্রকাশের আগ্রহের মধ্যে এমন কিছু নেই যা ফকীহগণের প্রতি ধৃষ্টতা প্রদর্শন এবং তাঁদের সম্বোধনের ক্ষেত্রে আদব বর্জনের সুযোগ করে দেয়।
আর ভাই উস্তাদ মুহাম্মদ রুস্তম 'কিতাবুল ই'রাব'-এর এই অংশটির প্রতি বিশেষ যত্ন নিয়েছেন এবং তাঁর ইলম, গদ্য ও লেখনীর মাধ্যমে যা সম্ভব ছিল তা দিয়ে এর তাহকীক (সম্পাদনা) করার কাজে নিয়োজিত ছিলেন। তিনি তাহকীক ও তালীক (টীকা সংযোজন) এর মাধ্যমে গ্রন্থটির সেবা করেছেন এবং এর জন্য একটি উপকারী ভূমিকা পেশ করেছেন। আল্লাহ তাঁর প্রচেষ্টাকে কবুল করুন।
পরিশেষে, আমরা 'আদওয়াউস সালাফ'-কে পুনরায় ধন্যবাদ জানাই নির্বাচিত ও উপকারী ইসলামী ঐতিহ্য রক্ষার প্রতি তাদের বিশেষ যত্ন এবং তা সুরক্ষিত করার প্রচেষ্টার জন্য। আল্লাহ এর কর্ণধার, গুণী ভাই, প্রিয় যুবক আলী আল-হারবীকে এর প্রতিদান দান করুন সেই সকল মূল্যবান গ্রন্থ ও অমূল্য ঐতিহ্যের জন্য যা আল্লাহ তাঁর হাতের মাধ্যমে প্রকাশ করেছেন। আমরা তাঁর জন্য উত্তরোত্তর সাহায্য ও তাওফীক কামনা করছি।
আল্লাহই মূল উদ্দেশ্য সম্পর্কে অবগত।
লেখক
যয়নুল আবেদীন বিন মুহাম্মদ বিলা ফরীজ
উচ্চ শিক্ষা বিভাগের অধ্যাপক, ক্যাসাব্লাঙ্কা বিশ্ববিদ্যালয় - মরক্কো
(খণ্ড: ১)
আল-ইরাব আনিল হাইরাতি ওয়াল ইলতিবাসিল মাওজুদাইনি ফী মাজাহিবি আহলির রা-য়ি ওয়াল কিয়াস
(পৃষ্ঠা: -)
الإعراب عن الحيرة والالتباس الموجودين في مذاهب أهل الرأي والقياس القسم: أصول الفقه
الكتاب: الإعراب عن الحيرة والالتباس الموجودين في مذاهب أهل الرأي والقياس.
المؤلف: أبو محمد علي بن أحمد بن سعيد بن حزم الظاهري (384 - 456 هـ)
دراسة وتحقيق: الدكتور محمد بن زين العابدين رستم
أصل التحقيق: رسالة الدكتوراة - جامعة القاضي عياض كلية الآداب والعلوم الإنسانية ببني ملال شعبة الدراسات الإسلامية
تقديم: الدكتور زين العابدين بن محمد بلافريج
الناشر: دار أضواء السلف، الرياض - المملكة العربية السعودية
الطبعة: الأولى، 1425 هـ - 2005 م
عدد الأجزاء: 3 (متسلسلة الترقيم)
[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]
تاريخ النشر بالشاملة: 19 ذو الحجة 1441
আহলে রায় ও কিয়াসের মাযহাবসমূহের মধ্যে বিদ্যমান বিভ্রান্তি ও সংশয়ের বর্ণনা বিভাগ: উসূলে ফিকহ
কিতাব: আহলে রায় ও কিয়াসের মাযহাবসমূহের মধ্যে বিদ্যমান বিভ্রান্তি ও সংশয়ের বর্ণনা।
লেখক: আবু মুহাম্মাদ আলী ইবনে আহমাদ ইবনে সাঈদ ইবনে হাযম আয-যাহিরী (৩৮৪ - ৪৫৬ হিজরী)
গবেষণা ও তাহকীক: ডক্টর মুহাম্মাদ বিন যায়নুল আবেদীন রুস্তম
তাহকীকের মূল উৎস: পিএইচডি থিসিস - কাদি আইয়াদ বিশ্ববিদ্যালয়, কলা ও মানবিক অনুষদ, বনি মাল্লাল, ইসলামিক স্টাডিজ বিভাগ
উপস্থাপনা: ডক্টর যায়নুল আবেদীন বিন মুহাম্মাদ বালাফরীজ
প্রকাশক: দার আদওয়াউস সালাফ, রিয়াদ - সৌদি আরব রাজতন্ত্র
সংস্করণ: প্রথম, ১৪২৫ হিজরী - ২০০৫ খ্রিস্টাব্দ
খণ্ড সংখ্যা: ৩ (ধারাবাহিক নম্বরযুক্ত)
[গ্রন্থের নম্বরবিন্যাস মূল মুদ্রণের সাথে সংগতিপূর্ণ]
শামিলা লাইব্রেরিতে প্রকাশের তারিখ: ১৯ যুল হিজ্জাহ ১৪৪১
(খণ্ড: ১)
আল-ইরাব আনিল হাইরাতি ওয়াল ইলতিবাসিল মাওজুদাইনি ফী মাজাহিবি আহলির রা-য়ি ওয়াল কিয়াস
(পৃষ্ঠা: ১)
الأعراب عن الحيرة والألتباس الموجودين في مذاهب أهل الرأي والقياس
تأليف
الإمام الحافظ أبي محمد علي بن أحمد بن سعيد بن حزم الظاهري
(384 هـ- 456 هـ)
دراسة وتحقيق
الدكتور محمد بن زين العابدين رستم
تقديم
الدكتور زين العابدين بن محمد بلافريج
أستاذ التعليم العالي بجامعة الدار البيضاء بالمغرب
[الجزء الأول]
আহলুর রায় ও কিয়াসপন্থীদের মাযহাবসমূহে বিদ্যমান বিভ্রান্তি ও সংশয়ের অপনোদন
গ্রন্থনায়
ইমাম হাফিজ আবু মুহাম্মদ আলী বিন আহমদ বিন সাঈদ বিন হাযম আদ-জাহিরি
(৩৮৪ হিজরি - ৪৫৬ হিজরি)
গবেষণা ও সম্পাদনা
ডক্টর মুহাম্মদ বিন জয়নুল আবেদিন রুস্তম
উপস্থাপনা
ডক্টর জয়নুল আবেদিন বিন মুহাম্মদ ব্লাফ্রিজ
মরক্কোর কাসাব্লাঙ্কা বিশ্ববিদ্যালয়ের উচ্চশিক্ষা বিভাগের অধ্যাপক
[প্রথম খণ্ড]
(খণ্ড: ১)
আল-ইরাব আনিল হাইরাতি ওয়াল ইলতিবাসিল মাওজুদাইনি ফী মাজাহিবি আহলির রা-য়ি ওয়াল কিয়াস
(পৃষ্ঠা: ৩)
حقوق الطبع محفوظة
الطبعة الأولى
1425 هـ - 2005 م
دار أضواء السلف
الرياض - الربوة الدائري الشرقي مخرج 15
ص. ب: 121892 - الرمز: 11711 - ت: 2321045 - جوال: 55280328
সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত
প্রথম সংস্করণ
১৪২৫ হিজরি - ২০০৫ খ্রিস্টাব্দ
দার আদওয়াউস সালাফ
রিয়াদ - আর-রাবওয়া, পূর্ব বৃত্তাকার পথ, ১৫ নং এক্সিট
পি.ও. বক্স: ১২১৮৯২ - পোস্টাল কোড: ১১৭১১ - টেলিফোন: ২৩২১০৪৫ - মোবাইল: ৫৫২৮০৩২৮
(খণ্ড: ১)
আল-ইরাব আনিল হাইরাতি ওয়াল ইলতিবাসিল মাওজুদাইনি ফী মাজাহিবি আহলির রা-য়ি ওয়াল কিয়াস
(পৃষ্ঠা: ৪)
بِسْمِ اللَّهِ الرَّحْمَنِ الرَّحِيمِ
أصل هذا الكتاب عبارة عن رسالة علمية نال بها الباحث درجة الدكتوراة من جامعة القاضي عياض كلية الآداب والعلوم الإنسانية ببني ملال شعبة الدراسات الإسلامية بدرجة حسن جدا
পরম করুণাময় অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে।
এই গ্রন্থটির মূল উৎস হলো একটি উচ্চতর গবেষণাপত্র, যার মাধ্যমে গবেষক বানি মাল্লালস্থ আল-কাদি আইয়াদ বিশ্ববিদ্যালয়ের কলা ও মানবিক অনুষদের ইসলামি শিক্ষা বিভাগ থেকে 'খুব ভালো' মানসহ পিএইচডি ডিগ্রি লাভ করেছেন।
(খণ্ড: ১)
আল-ইরাব আনিল হাইরাতি ওয়াল ইলতিবাসিল মাওজুদাইনি ফী মাজাহিবি আহলির রা-য়ি ওয়াল কিয়াস
(পৃষ্ঠা: ৫)
بِسْمِ اللَّهِ الرَّحْمَنِ الرَّحِيمِ
مُقَدمة التحقِيق
إن الحمد لله نحمده ونستعينه ونستغفره ونعوذ بالله من شرور أنفسنا ومن سيئات أعمالنا، من يهده الله فلا مضل له، ومن يضلل فلا هادي له، وأشهد أن لا إله إلا الله، وحده لا شريك له، وأشهد أن محمدا عبده ورسوله، أرسله بالهدى، ودين الحق ليظهره على الدين كله، وكفى بالله شهيدا بين يدي الساعة بشيرًا ونذيرًا، وداعيًا إلى الله بإذنه، وسراجًا منيرًا.
أما بعد:
فلقد كان من لطائف المنن علي، ومحاسن النعم لدي، أن هديت إلى تحقيق كتاب "الإعراب"، وذلك لجملة أسباب، منها:
1 - جلالِة قَدْر مؤلِّفه، وعظم منزلة واضعه، وعلو شأن صاحبه، فابن حزم مُحدِّثٌ من المحدثين، وحافظ من الحفاظ وفقيه من الفقهاء، وأصولي من الأصوليين، ومؤرخ ثبت من أهل التاريخ، وأديب من الأدباء، قد حَفِظَ على أهل الإسلام علوما كثيرة، فأربى بذلك على من كان قبله، أو جاء بعده.
2 - نفاسة كتاب "الإعراب"، وعِظَمُ خَطَوِه وشَرَفُ موضوعِهِ، فهو خزانة فقه، ومدونة حديث، وجامع أثر، قد حوى علما كثيرا، وخيرا وفيرا، مع ما ملأه به واضعه من حط عظيم، واعتراض كثير، ونقد مسترسل، وتَعَقُّب بليغ.
পরম করুণাময় অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে।
সম্পাদনার ভূমিকা
নিশ্চয়ই সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর জন্য, আমরা তাঁরই প্রশংসা করি, তাঁর নিকট সাহায্য প্রার্থনা করি এবং তাঁর নিকট ক্ষমা প্রার্থনা করি। আর আমরা আমাদের নফসের অনিষ্টতা ও আমাদের মন্দ আমলসমূহ থেকে আল্লাহর নিকট আশ্রয় প্রার্থনা করি। আল্লাহ যাকে পথপ্রদর্শন করেন তাকে পথভ্রষ্ট করার কেউ নেই, আর তিনি যাকে পথভ্রষ্ট করেন তাকে পথপ্রদর্শনকারী কেউ নেই। আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, আল্লাহ ছাড়া কোনো সত্য ইলাহ নেই, তিনি একক, তাঁর কোনো শরীক নেই। আমি আরও সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, মুহাম্মদ আল্লাহর বান্দা ও তাঁর রাসূল। আল্লাহ তাঁকে হিদায়াত ও সত্য দ্বীনসহ প্রেরণ করেছেন যাতে তিনি একে সকল দ্বীনের ওপর বিজয়ী করেন; আর সাক্ষী হিসেবে আল্লাহই যথেষ্ট। কিয়ামতের প্রাক্কালে তিনি সুসংবাদদাতা, সতর্ককারী, আল্লাহর অনুমতিক্রমে তাঁর দিকে আহ্বানকারী এবং এক উজ্জ্বল প্রদীপ হিসেবে প্রেরিত হয়েছেন।
অতঃপর:
আমার প্রতি আল্লাহর সূক্ষ্ম অনুগ্রহ ও উত্তম নিয়ামতসমূহের অন্তর্ভুক্ত হলো যে, আমি 'আল-ই'রাব' গ্রন্থটি সম্পাদনার তাওফীক লাভ করেছি। এটি বেশ কিছু কারণে, যার মধ্যে রয়েছে:
১ - এর লেখকের সুমহান মর্যাদা, প্রণেতার বিশাল অবস্থান এবং সংকলকের উচ্চ শান। কেননা ইবনে হাযম ছিলেন মুহাদ্দিসদের মধ্যে অন্যতম একজন মুহাদ্দিস, হাফিযদের মধ্যে অন্যতম একজন হাফিয, ফকীহদের মধ্যে অন্যতম একজন ফকীহ, উসূলবিদদের মধ্যে অন্যতম একজন উসূলবিদ, ঐতিহাসিকদের মধ্যে একজন নির্ভরযোগ্য ঐতিহাসিক এবং সাহিত্যিকদের মধ্যে অন্যতম একজন সাহিত্যিক। তিনি মুসলিম উম্মাহর জন্য প্রচুর জ্ঞান সংরক্ষণ করেছেন, যার মাধ্যমে তিনি তাঁর পূর্ববর্তী ও পরবর্তীদের ছাড়িয়ে গেছেন।
২ - 'আল-ই'রাব' গ্রন্থের শ্রেষ্ঠত্ব, এর বিশাল ব্যাপ্তি এবং এর বিষয়ের আভিজাত্য। এটি হলো ফিকহের ভাণ্ডার, হাদীসের সংকলন এবং আছারের সমষ্টি। এতে প্রচুর জ্ঞান এবং প্রভূত কল্যাণ নিহিত রয়েছে। সেই সাথে এর প্রণেতা একে পূর্ণ করেছেন সুগভীর খণ্ডন, প্রচুর আপত্তি, ধারাবাহিক সমালোচনা এবং প্রাঞ্জল পর্যালোচনার মাধ্যমে।
(খণ্ড: ১)
আল-ইরাব আনিল হাইরাতি ওয়াল ইলতিবাসিল মাওজুদাইনি ফী মাজাহিবি আহলির রা-য়ি ওয়াল কিয়াস
(পৃষ্ঠা: ৬)
3 - الرغبة الشديدة في بعث كنوز التراث الأندلسي التي حوت نفائس كثيرة ودُرَرًا خطيرة، فكان منها منارات في سماء العلم، ومصابيح في دنيا الفكر ولقد أخرج للناس في هذا العصر منها جملة، وبقي منها بقية
…وكان أول عهدي بكتاب "الإعراب"، مذ تسع سنين، فلما وقفت عليه في مكتبة شيخنا العلامة المدقق المحقق محمد بن الأمين بو خبزة حفظه الله: وتأملته مليًّا، راقني موضوعه، وأعجبني مقصده وأسلوبه، وشدني إليه نقد صاحبه القاسي، ولفظ مخترعه النابي، فعزمت على تحقيقه، واستخرت الله في الاشتغال به.
ولقد حثني على ذلك وزينه في قلبي شيخنا محمد بن الأمين بو خبزة فأعارني نسخة الكتاب التي عنده، وبذل لي من النصح ما ذَلَّل لي سبيل البحث وأوضح لدي طريق التحقيق.
ثم كَلَّمْتُ بعد دهر شيخنا الدكتور زين العابدين بن محمد بلا فريج سلَّمه الله في قبول الإشراف على تحقيق "الإعراب"، فما هو إلا أن نظر في الكتاب، وتأمله قليلا، حتى بادر إلى القبول، ودعا بالتوفيق، ويسر حصول المأمول.
ثم إني طفقت أنظر في منهج تحقيق الكتاب ودراسته، فكان مما وقع لي من ذلك:
৩ - আন্দালুসি ঐতিহ্যের সেই ধনভাণ্ডারকে পুনর্জীবিত করার তীব্র আকাঙ্ক্ষা, যা অনেক মূল্যবান সম্পদ ও দুর্লভ মণি-মুক্তা ধারণ করে আছে। ফলে তা ছিল জ্ঞানের আকাশে আলোকবর্তিকা এবং চিন্তার জগতে প্রদীপ স্বরূপ। বর্তমান যুগে মানুষের সামনে এর একটি অংশ প্রকাশিত হয়েছে, তবে কিছু অংশ এখনো অবশিষ্ট রয়ে গেছে
…৯ বছর আগে 'আল-ই'রাব' গ্রন্থের সাথে আমার প্রথম পরিচয় ঘটে। যখন আমি আমাদের শাইখ, আল্লামা, সূক্ষ্মদর্শী গবেষক মুহাম্মদ বিন আল-আমিন বু খুবজাহ (আল্লাহ তাকে হিফাযত করুন)-এর পাঠাগারে এটি লাভ করি এবং দীর্ঘক্ষণ গভীর অভিনিবেশ সহকারে পর্যবেক্ষণ করি, তখন এর বিষয়বস্তু আমাকে বিমোহিত করে এবং এর লক্ষ্য ও শৈলী আমাকে বিস্মিত করে। এর লেখকের কঠোর সমালোচনা এবং উদ্ভাবকের বিরল শব্দচয়ন আমাকে এর প্রতি আসক্ত করে। ফলে আমি এটি তাহকীক করার দৃঢ় সংকল্প করি এবং এ কাজে লিপ্ত হওয়ার জন্য আল্লাহর কাছে ইস্তিখারা করি।
আমাদের শাইখ মুহাম্মদ বিন আল-আমিন বু খুবজাহ আমাকে এ কাজে উৎসাহিত করেছেন এবং আমার অন্তরে এর প্রতি ভালোবাসা জাগিয়ে দিয়েছেন। তিনি তাঁর নিকট সংরক্ষিত গ্রন্থের পাণ্ডুলিপিটি আমাকে ধার দেন এবং আমাকে এমন নসিহত প্রদান করেন যা গবেষণার পথকে আমার জন্য সুগম করেছে এবং তাহকীকের পথকে স্পষ্ট করেছে।
দীর্ঘ সময় পর আমি আমাদের শাইখ ড. জয়নুল আবিদীন বিন মুহাম্মদ বিলা ফরিজ (আল্লাহ তাকে নিরাপদ রাখুন)-এর সাথে 'আল-ই'রাব' গ্রন্থের তাহকীক তত্ত্বাবধানের বিষয়ে কথা বলি। তিনি কিতাবটির প্রতি দৃষ্টিপাত করে এবং সামান্য সময় ভেবেই তা গ্রহণ করতে সম্মত হন। তিনি সফলতার জন্য দোয়া করেন এবং কাঙ্ক্ষিত লক্ষ্য অর্জনের পথকে সহজ করে দেন।
অতঃপর আমি কিতাবটির তাহকীক ও গবেষণার পদ্ধতির দিকে দৃষ্টিপাত করতে শুরু করি। সেই প্রেক্ষিতে আমি যা করেছি তা হলো:
(খণ্ড: ১)
আল-ইরাব আনিল হাইরাতি ওয়াল ইলতিবাসিল মাওজুদাইনি ফী মাজাহিবি আহলির রা-য়ি ওয়াল কিয়াস
(পৃষ্ঠা: ৭)
أولا: القسم الأول: الدراسة
وتشتمل على خمسة فصول:
الفصل الأول: تكلمت فيه على عصر ابن حزم وبيئته، وفيه المباحث الآتية:
المبحث الأول: السياسة.
المبحث الثاني: الاقتصاد.
المبحث الثالث: الاجتماع.
المبحث الرابع: الفكر والعلم.
الفصل الثاني: وعقدته للكلام على حياة ابن حزم، وذلك في ستة مباحث:
المبحث الأول: نسبه وأصله ومولده.
المبحث الثاني: أسرته.
المبحث الثالث: أوليته وطلبه للعلم.
المبحث الرابع: شيوخه ومقروءاته.
المبحث الخامس: أخلاقه وصفاته.
المبحث السادس: رحلاته.
المبحث السابع: وفاته.
الفصل الثالث: وخصصته للكلام على مكانة ابن حزم العلمية وآثاره
وفيه:
المبحث الأول: تلاميذه.
প্রথমত: প্রথম ভাগ: গবেষণা
এটি পাঁচটি পরিচ্ছেদ সম্বলিত:
প্রথম পরিচ্ছেদ: এতে আমি ইবনে হাজমের যুগ ও তাঁর পরিবেশ নিয়ে আলোচনা করেছি, এবং এতে নিম্নোক্ত অনুচ্ছেদগুলো রয়েছে:
প্রথম অনুচ্ছেদ: রাজনীতি।
দ্বিতীয় অনুচ্ছেদ: অর্থনীতি।
তৃতীয় অনুচ্ছেদ: সমাজব্যবস্থা।
চতুর্থ অনুচ্ছেদ: চিন্তা ও জ্ঞান।
দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ: এটি আমি ইবনে হাজমের জীবন আলোচনার জন্য নির্ধারণ করেছি, যা ছয়টি অনুচ্ছেদে বিন্যস্ত:
প্রথম অনুচ্ছেদ: তাঁর বংশপরিচয়, আদি উৎস ও জন্ম।
দ্বিতীয় অনুচ্ছেদ: তাঁর পরিবার।
তৃতীয় অনুচ্ছেদ: তাঁর প্রারম্ভিক জীবন ও জ্ঞান অন্বেষণ।
চতুর্থ অনুচ্ছেদ: তাঁর শিক্ষকবৃন্দ ও পঠিত বিষয়াদি।
পঞ্চম অনুচ্ছেদ: তাঁর চরিত্র ও গুণাবলি।
ষষ্ঠ অনুচ্ছেদ: তাঁর সফরসমূহ।
সপ্তম অনুচ্ছেদ: তাঁর ইন্তেকাল।
তৃতীয় পরিচ্ছেদ: এটি আমি ইবনে হাজমের ইলমি মর্যাদা ও তাঁর রচনাবলি আলোচনার জন্য নির্দিষ্ট করেছি
এবং এতে রয়েছে:
প্রথম অনুচ্ছেদ: তাঁর ছাত্রবৃন্দ।
(খণ্ড: ১)
আল-ইরাব আনিল হাইরাতি ওয়াল ইলতিবাসিল মাওজুদাইনি ফী মাজাহিবি আহলির রা-য়ি ওয়াল কিয়াস
(পৃষ্ঠা: ৮)
المبحث الثاني: آثار ابن حزم العلمية.
المبحث الثالث: ثناء العلماء على ابن حزم.
الفصل الرابع: وتناولت فيه ظاهرية ابن حزم وذلك في خمسة مباحث:
المبحث الأول: المذهب الظاهري في الأندلس.
المبحث الثاني: أسباب ظاهرية ابن حزم.
المبحث الثالث: معالم المنهج الظاهري عند ابن حزم.
المبحث الرابع: الاعتراض على أهل الظاهر.
المبحث الخامس: محنة ابن حزم بسبب القول بالظاهر.
الفصل الخامس: دراسة تحليلية لكتاب "الإعراب" وفيه:
المبحث الأول: موضوع الكتاب وغايته وسبب التأليف وتاريخ ذلك.
المبحث الثاني: منهج المؤلف في الكتاب وموارده وفيه:
1 - ترتيب الكتاب ووضعه.
2 - منهج المؤلف في المناقشة والتَّعَقُب والجدل.
3 - أسلوب ابن حزم في الاعتراض.
4 - موارد ابن حزم في الكتاب.
المبحث الثالث: في محاسن الكتاب.
المبحث الرابع: التعقبات على الكتاب.
ثانيًا: القسم الثاني: التحقيق، وفيه
1 - تحقيق عنوان الكتاب.
দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ: ইবনে হাজমের ইলমি বা পাণ্ডিত্যপূর্ণ অবদানসমূহ।
তৃতীয় পরিচ্ছেদ: ইবনে হাজমের প্রশংসায় আলেমগণের অভিমত।
চতুর্থ অধ্যায়: এতে ইবনে হাজমের জাহিরি মতবাদ আলোচনা করা হয়েছে এবং তা পাঁচটি পরিচ্ছেদে বিন্যস্ত:
প্রথম পরিচ্ছেদ: আন্দালুসে জাহিরি মাযহাব।
দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ: ইবনে হাজমের জাহিরি মতবাদ গ্রহণের কারণসমূহ।
তৃতীয় পরিচ্ছেদ: ইবনে হাজমের নিকট জাহিরি মানহাজের বৈশিষ্ট্যসমূহ।
চতুর্থ পরিচ্ছেদ: জাহিরি মতাবলম্বীদের বিরুদ্ধে আপত্তি।
পঞ্চম পরিচ্ছেদ: জাহিরি মতবাদ প্রচারের কারণে ইবনে হাজমের উপর আপতিত পরীক্ষা ও বিপদ।
পঞ্চম অধ্যায়: "আল-ই’রাব" গ্রন্থের একটি বিশ্লেষণধর্মী অধ্যয়ন, এতে রয়েছে:
প্রথম পরিচ্ছেদ: গ্রন্থের বিষয়বস্তু, লক্ষ্য, রচনার কারণ এবং এর সময়কাল।
দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ: গ্রন্থে লেখকের অনুসৃত পদ্ধতি ও এর উৎসসমূহ, এতে রয়েছে:
১ - গ্রন্থের বিন্যাস ও অবয়ব।
২ - আলোচনা, সমালোচনা ও বিতর্কের ক্ষেত্রে লেখকের পদ্ধতি।
৩ - আপত্তির ক্ষেত্রে ইবনে হাজমের লিখনশৈলী।
৪ - গ্রন্থে ব্যবহৃত ইবনে হাজমের তথ্যসূত্রসমূহ।
তৃতীয় পরিচ্ছেদ: গ্রন্থের বৈশিষ্ট্য ও গুণাবলি প্রসঙ্গে।
চতুর্থ পরিচ্ছেদ: গ্রন্থের ওপর পর্যালোচনামূলক মন্তব্যসমূহ।
দ্বিতীয়ত: দ্বিতীয় অংশ: পাণ্ডুলিপি সম্পাদন (তাহকিক), এতে রয়েছে:
১ - গ্রন্থের শিরোনামের যথাযথ তাহকিক।
(খণ্ড: ১)
আল-ইরাব আনিল হাইরাতি ওয়াল ইলতিবাসিল মাওজুদাইনি ফী মাজাহিবি আহলির রা-য়ি ওয়াল কিয়াস
(পৃষ্ঠা: ৯)
2 - تصحيح نسبة الكتاب إلى ابن حزم.
3 - وصفا النسخ الخطية للكتاب.
4 - تحقيق الكتاب، ومن أجل ذلك سلكت المسالك الآتية:
1 - اعتمدت في التحقيق على نسختين خطيتين للكتاب، سيرد وصفهما وصفا علميا إن شاء الله تعالى.
2 - قابلت بين نسخة شسشربتي التي رمزت لها بحرف "ش"، وبين النسخة التونسية التي رمزت لها بحرف "ت".
3 - نسخت الكتاب وفق قواعد الخط العربب الحديث، من تحقيق الهمز، وإثبات الألف المحذوفة، وغير ذلك.
4 - قسمت الكتاب إلى فقرات تبعا للمعاني، واستعنت في ذلك بعلامات الترقيم.
5 - وضعت كل زيادة مني، أو لفظة تَوَقَفْتُ في قراءتها قراءة صحيحة بين معقوفتين، وأشرت إلى ذلك في الحاشية.
6 - إذا أشكل علي لفظ، أو انبهم علي أمر، نبهت عليه في الحاشية، وقلت: "كذا بالأصل"، وقد أتجاسر فأقترح وجها فيه، أرجح أنه هو الصواب فأقول: "كذا ولعل الصواب كيت وكيت
… ".
7 - أشرت إلى نهاية الورقة من النسختين اللتين بين يدي، ووضعت ذلك منفصلا عن متن الكتاب في جهة اليمين، وكان من خطتي في ذلك أن أذكر رقم الورقة أولا، ثم أضع خطًّا مائلا هكذا (/) يفصل بين الرقم، ورمز النسخة، ثم أجعل ذلك كله بين قوسين.
8 - خَرَجْتُ الآيات القرآنية: وذكرت مواضعها من السور التي
২ - ইবনে হাজমের প্রতি গ্রন্থটির সম্বন্ধের সঠিকতা যাচাই।
৩ - গ্রন্থটির পাণ্ডুলিপিদ্বয়ের বিবরণ।
৪ - গ্রন্থটির তাহকিক বা সম্পাদনা, আর এই উদ্দেশ্যে আমি নিম্নলিখিত পথগুলো অনুসরণ করেছি:
১ - আমি তাহকিকের ক্ষেত্রে গ্রন্থটির দুইটি পাণ্ডুলিপির ওপর নির্ভর করেছি, ইনশাআল্লাহু তাআলা যেগুলোর বৈজ্ঞানিক বর্ণনা সামনে আসবে।
২ - আমি চেস্টার বিটি পাণ্ডুলিপি (যাকে "শিন" বর্ণ দ্বারা চিহ্নিত করেছি) এবং তিউনিসীয় পাণ্ডুলিপির (যাকে "তা" বর্ণ দ্বারা চিহ্নিত করেছি) মধ্যে তুলনা করেছি।
৩ - আমি আধুনিক আরবি লিপির নিয়ম অনুযায়ী গ্রন্থটি অনুলিপি করেছি, যার মধ্যে হামযাহর তাহকিক, বিলুপ্ত আলিফ বহাল রাখা এবং অন্যান্য বিষয় অন্তর্ভুক্ত।
4 - আমি অর্থ অনুযায়ী গ্রন্থটিকে বিভিন্ন অনুচ্ছেদে বিভক্ত করেছি এবং এক্ষেত্রে বিরাম চিহ্নের সহায়তা নিয়েছি।
৫ - আমার পক্ষ থেকে যুক্ত করা প্রতিটি শব্দ অথবা সঠিক পাঠ নিয়ে আমি যে শব্দগুলোতে থমকে গিয়েছি তা থার্ড ব্র্যাকেটের [ ] মধ্যে রেখেছি এবং টীকায় সেদিকে ইঙ্গিত করেছি।
৬ - যদি কোনো শব্দ আমার কাছে অস্পষ্ট মনে হয় অথবা কোনো বিষয় দুর্বোধ্য লাগে, তবে আমি টীকায় সে ব্যাপারে সতর্ক করেছি এবং বলেছি: "মূল পাণ্ডুলিপিতে এরূপই আছে"। কখনও আমি দুঃসাহস দেখিয়ে সম্ভাব্য পাঠের প্রস্তাব দিয়েছি যা আমার কাছে সঠিক বলে মনে হয়েছে এবং বলেছি: "এরূপ আছে তবে সম্ভবত সঠিকটি এমন এমন হবে
…"।
৭ - আমার কাছে থাকা পাণ্ডুলিপিদ্বয়ের প্রতি পৃষ্ঠার সমাপ্তি চিহ্নিত করেছি এবং তা মূল পাঠ থেকে আলাদাভাবে ডান পাশে রেখেছি। এক্ষেত্রে আমার পদ্ধতি ছিল প্রথমে পৃষ্ঠার নম্বর উল্লেখ করা, এরপর একটি হেলানো রেখা (/) দিয়ে নম্বর ও পাণ্ডুলিপির সংকেতকে আলাদা করা এবং এরপর পুরো বিষয়টি ব্র্যাকেটের মধ্যে রাখা।
৮ - আমি কুরআনের আয়াতসমূহের তাখরিজ করেছি: এবং সংশ্লিষ্ট সূরাসমূহে সেগুলোর অবস্থান উল্লেখ করেছি যা...
(খণ্ড: ১)
আল-ইরাব আনিল হাইরাতি ওয়াল ইলতিবাসিল মাওজুদাইনি ফী মাজাহিবি আহলির রা-য়ি ওয়াল কিয়াস
(পৃষ্ঠা: ১০)
وردت فيها، ولقد جرى المؤلف على اقتطاع جزء من الآية المستشهد به في موضع، ثم اقتطاع جزء آخر من الآية نفسها في موضع آخر والاستشهاد به، فكنت كلما فعل ذلك وأمعن فيه، أخرج الآية في الموضع الثاني وإن تقدم ذلك في الموضع الأول، ولم أجد غضاضة في تخريج الآية مرة أخرى، إذا كررها المؤلف تارة أخرى، وربما خَرَّجتُ الآية داخل المتن، أو جَعَلْتُ التخريجَ في الحاشية.
9 - خرجت الأحاديث المرفوعة، وأمعنت في ذلك: فاستوعبت ما ذكره المؤلف من ذلك على جهة التصريح، أو على جهة الإشارة والتلميح، وقد يقطع المؤلف الحديث الواحد فيذكر منه في موضع ما لا يذكره في موضع آخر، فأخرجه في الموضع الأول، وأحيل على ذلك في الموضع الثاني، وقد يجمع المؤلف بين حديثين في سياق واحد، فيوردهما كأنهما من مخرج متحد، فأخرجهما مميزا بينهما، ودالا على أنهما حديثان اثنان.
ولقد كان من عادة المؤلف الجارية أن يشير إلى ما احتج به الحنفية من الحديث بقوله: "واحتجوا بأخبار فيها
… " فأجتهد في تخريج بعضا من تلك الأخبار لا كلها. ومن الأحاديث المرفوعة جملة، لم أقف على عين لَهَا ولا أثر فيما بين يدي من مصادر الحديث والسنة المعروفة المطبوعة، فكنت كلما عرض لي من ذلك شيء، علَّقت عليه بقولي: "لم أجده فيما بين يدي من المصادر" أو رُبَّما سَكَت.
ولا يذهبن عنك أن المؤلف رحمه الله واسع الرواية، مكثر من الاستقراء، وقف على بعض ما لم نقف عليه من دواوين السنن
এতে বর্ণিত হয়েছে, এবং লেখক কোনো এক স্থানে উদ্ধৃত আয়াতের একটি অংশ ব্যবহার করার পদ্ধতি অবলম্বন করেছেন, পুনরায় অন্য স্থানে সেই একই আয়াতের অন্য একটি অংশ উদ্ধৃত করে তা দিয়ে দলিল পেশ করেছেন। যখনই তিনি এমনটি করেছেন এবং তাতে গভীরভাবে মনোনিবেশ করেছেন, আমি দ্বিতীয় স্থানেও আয়াতটির উৎস নির্দেশ করেছি, যদিও ইতিপূর্বে প্রথম স্থানে তা অতিক্রান্ত হয়েছে। লেখক যদি পুনরায় তা উল্লেখ করে থাকেন, তবে আবারও আয়াতটির উৎস নির্দেশ করাতে আমি কোনো সংকোচবোধ করিনি। কখনো আমি মূল পাঠের ভেতরেই আয়াতটির উৎস উল্লেখ করেছি, আবার কখনো উৎস নির্দেশিকা টীকায় প্রদান করেছি।
৯ - আমি মারফু হাদিসসমূহ বের করেছি এবং এ বিষয়ে নিবিষ্ট হয়েছি। লেখক স্পষ্টভাবে কিংবা ইশারা ও ইঙ্গিতে যা উল্লেখ করেছেন, আমি তার সবটুকু আয়ত্ত করেছি। লেখক কখনো একটি হাদিসকে খণ্ডিত করেছেন, ফলে এক স্থানে যা উল্লেখ করেছেন তা অন্য স্থানে করেননি; এমতাবস্থায় আমি প্রথম স্থানে হাদিসটি পূর্ণাঙ্গভাবে উল্লেখ করেছি এবং দ্বিতীয় স্থানে তার দিকে ইঙ্গিত করেছি। আবার কখনো লেখক একই প্রেক্ষাপটে দুটি হাদিসকে একত্রিত করেছেন এবং এমনভাবে উপস্থাপন করেছেন যেন মনে হয় সেগুলো একই উৎস থেকে বর্ণিত, তখন আমি সেই দুটিকে পৃথক করে উপস্থাপন করেছি এবং নির্দেশ করেছি যে সেগুলো মূলত দুটি ভিন্ন হাদিস।
লেখকের প্রচলিত অভ্যাস ছিল হানাফিগণ যে হাদিস দ্বারা দলিল পেশ করেছেন সেদিকে এই বলে ইঙ্গিত করা যে: "তারা এমন কিছু সংবাদের মাধ্যমে দলিল পেশ করেছেন যাতে রয়েছে..."। আমি সেই সংবাদগুলোর সবকটি নয় বরং কয়েকটির উৎস নির্দেশের চেষ্টা করেছি। মারফু হাদিসগুলোর মধ্যে এমন একদল হাদিস রয়েছে, হাদিস ও সুন্নাহর প্রসিদ্ধ মুদ্রিত উৎসগুলোর মধ্যে যেগুলোর কোনো অস্তিত্ব বা চিহ্ন আমার কাছে থাকা গ্রন্থাদিতে আমি পাইনি। যখনই আমার সামনে এমন কিছু এসেছে, আমি এই বলে মন্তব্য করেছি: "আমার কাছে থাকা উৎসগুলোতে আমি এটি পাইনি" অথবা কখনো নীরব থেকেছি।
আপনার নিকট যেন এটি অস্পষ্ট না থাকে যে, লেখক (রহিমাহুল্লাহ) বর্ণনার ক্ষেত্রে ছিলেন অত্যন্ত সমৃদ্ধ এবং অনুসন্ধানে ছিলেন ব্যাপক পারদর্শী; তিনি সুনান গ্রন্থাবলির এমন কিছু বিষয়ের জ্ঞান রাখতেন যা আমাদের নিকট পৌঁছেনি।
(খণ্ড: ১)
আল-ইরাব আনিল হাইরাতি ওয়াল ইলতিবাসিল মাওজুদাইনি ফী মাজাহিবি আহলির রা-য়ি ওয়াল কিয়াস
(পৃষ্ঠা: ১১)
والأخبار، كمستخرج قاسم بن أصبغ، ومسند بقي بن مخلد ومصنفه، ومستخرج محمد بن عبد الملك بن أيمن، وجامع سفيان الثوري، ومصنف حماد بن سلمة، ومصنف وكيع بن الجراح، وغير ذلك، فلا يبعد أن يكون ما لم أقف عليه من الحديث في "الإعراب" موجودا في أحد هذه الكتب.
وقد يجزم المؤلِّف: أن ما احتج به الحنفية في قولٍ أو رأي، من قبيل
المرسل، فأبحث عنه فيما بين يدي من مصادر. فلا أقف من ذلك -بعد التأني والروية- إلا على السند، فأخرجه كما وجدته مُنَبِّهًا على ذلك.
على أن بعض ما لم أجده من الحديث، أَحَلْتُ فيه على "المُحَلَّى"، إذ ربما أورده المؤلِّف هناك بسنده متصلا إلى مخرجه، أو أسقط السند منه، فساقه على سبيل الحكاية والذكر.
وكان من عادتي في التخريج أن أذكر الجزء والصفحة والكتاب، والباب، ورقم الحديث إن وجد: وإذا كان للمؤلِّف كتابان أخرج الحديث في أحدهما، ذكرته بما يميزه فقلت مثلا: "أخرجه النسائي في الكبرى
… "، أو "أخرجه البيهقي في الصغرى
… "، وما ذكرته من طريقتي في التخريج قد لا يطرد لي في التحقيق كله، إذ قد يختلف الكتاب الواحد المخرج منه، في الطبعة، فأخرج الحديث منه أحيانا من طبعة مُرَقَّمة، وأحيانا من طبعة غير مرقمة كما وقع لي في مسند الإمام أحمد.
وإذا كان الحديث في الصحيحين، أو أحدهما، أمسكت عن الكلام عليه، وإذا كان في غيرهما تكلمت عليه -غالبا- تصحيحا وتضعيفا.
এবং অন্যান্য বর্ণনা, যেমন কাসিম ইবন আসবাগের মুস্তাখরাজ, বাকি ইবন মাখলাদের মুসনাদ ও মুসান্নাফ, মুহাম্মদ ইবন আবদিল মালিক ইবন আইমানের মুস্তাখরাজ, সুফিয়ান সাওরির জামি, হাম্মাদ ইবন সালামার মুসান্নাফ, ওয়াকি ইবনুল জাররাহর মুসান্নাফ এবং এর বাইরে আরও অনেক। ফলে এটা অসম্ভব নয় যে, 'আল-ই'রাব' গ্রন্থে যে হাদিসগুলো আমি খুঁজে পাইনি, তা এই বইগুলোর কোনো একটিতে বিদ্যমান আছে।
এবং লেখক হয়তো দৃঢ়তার সাথে বলেছেন যে, হানাফিগণ কোনো মত বা রায়ের ক্ষেত্রে যা দ্বারা দলিল পেশ করেছেন তা মুরসাল পর্যায়ের; তখন আমি আমার কাছে থাকা উৎসগুলোতে তা অনুসন্ধান করি। এরপর ধৈর্য ও সতর্কতার সাথে তালাশ করার পর আমি কেবল সনদটিই খুঁজে পাই, তখন আমি সেটিকে যেভাবে পেয়েছি সেভাবেই বর্ণনা করি এবং সে বিষয়ে সচেতন করে দেই।
তবুও আমি যে সব হাদিস খুঁজে পাইনি, সেগুলোর ক্ষেত্রে 'আল-মুহাল্লা'র দিকে রেফার করেছি; কারণ লেখক সম্ভবত সেখানে হাদিসটি এর মূল উৎস পর্যন্ত মুত্তাসিল (নিরবচ্ছিন্ন) সনদে বর্ণনা করেছেন, অথবা সেখান থেকে সনদটি বাদ দিয়েছেন এবং তা বর্ণনা ও আলোচনার অংশ হিসেবে উল্লেখ করেছেন।
তাখরিজের ক্ষেত্রে আমার অভ্যাস ছিল খণ্ড, পৃষ্ঠা, কিতাব, অধ্যায় এবং হাদিস নম্বর থাকলে তা উল্লেখ করা। যদি লেখকের দুটি কিতাব থাকে এবং তিনি তার একটিতে হাদিসটি বর্ণনা করেন, তবে আমি সেটিকে পার্থক্যকারী বৈশিষ্ট্যের মাধ্যমে উল্লেখ করেছি; যেমন আমি বলেছি: "নাসায়ি এটি আল-কুবরা-তে
…" অথবা "বায়হাকি এটি আস-সুগরা-তে
…"। আর তাখরিজের যে পদ্ধতির কথা আমি উল্লেখ করেছি, তা হয়তো পুরো তাহকিক জুড়ে সমানভাবে অনুসরণ করা সম্ভব হয়নি; কারণ যে কিতাব থেকে তাখরিজ করা হয়েছে তার সংস্করণ ভিন্ন হতে পারে। ফলে কখনো আমি হাদিসটি নম্বরযুক্ত সংস্করণ থেকে উল্লেখ করেছি, আবার কখনো নম্বরবিহীন সংস্করণ থেকে, যেমনটি ইমাম আহমদের মুসনাদের ক্ষেত্রে আমার সাথে ঘটেছে।
আর যদি হাদিসটি সহিহাইন বা এর যেকোনো একটিতে থাকে, তবে আমি সেটির ওপর মন্তব্য করা থেকে বিরত থেকেছি। আর যদি তা এই দুটি ছাড়া অন্য কিতাবে থাকে, তবে আমি সাধারণত সেটির বিশুদ্ধতা (সহিহ) বা দুর্বলতা (জয়িফ) নিয়ে আলোচনা করেছি।
(খণ্ড: ১)
আল-ইরাব আনিল হাইরাতি ওয়াল ইলতিবাসিল মাওজুদাইনি ফী মাজাহিবি আহলির রা-য়ি ওয়াল কিয়াস
(পৃষ্ঠা: ১২)
وربما سقت الحديث بلفظه أثناء التخريج، إذا أعرض المؤلف عن ذكره، واكتفى بالإشارة إليه.
10 - خرجت الآثار الموقوفة والمقطوعة: والمؤلف قد ملأ بها كتابه حتى أكثر، وكنت أخرج الأثر وأسوق ألفاظه إذا أشار إليه المؤلف بقوله: "
… وهو قول علي وعثمان"، أو بقوله: "وجاءت رواية عن ابن مسعود
… "، أو نحو ذلك.
ولقد خرجت من الآثار قدرا كبيرا، وتركت منها قدرا غير يسير، لم أجده فيما بين يدي من المصادر، ولعل منه قسطا وفيرا خرجه المؤلف بأسانيده في كتاب الإيصال الذي لم يصل إلينا، أو أخرج طائفة من الكتب -التي تقدم ذكرها آنفا- مما وقف عليه المؤلف، ولم نظفر به اليوم. وكان إذا وقع عندي من ذلك شيء لم أقف عليه -بعد البحث- قلت: "لم أجده"، وربما سَكَت.
11 - ضبطت الآيات ضبطا تاما، وما عذا ذلك من متن الكتاب، فضبطت منها ما أشكل.
12 - شرحت ما وقع في الكتاب من لفظ غريب، أو كلمة مشكلة، واستعنت في ذلك بمعاجم اللغة، وأحلت عليها بذكر الجزء والصفحة والمادة اللغوية، كما استعنت بالنهاية لابن الأثير، وغريب الحديث لأبي عبيد القاسم بن سلام لشرح غريب الحديث والأثر.
13 - ترجمت للأعلام المذكورين في الكتاب، ما عدا الصحابة الذين طبقت شهرتهم الآفاق، كالعشرة المبشرين بالجنة، ومن جرى مجراهم في نباهة الذكر، وجلالة القدر، والسبق إلى الإِسلام، فإن كان
এবং অনেক সময় আমি তাখরিজের (উৎস নির্দেশনার) সময় হাদিসের শব্দসহ উল্লেখ করেছি, যখন লেখক তা উল্লেখ না করে কেবল সেদিকে ইঙ্গিত প্রদান করেছেন।
১০ - আমি মাওকুফ ও মাকতু আছারসমূহের (সাহাবী ও তাবেয়ীদের বাণী) তাখরিজ করেছি: লেখক তাঁর গ্রন্থে এগুলো প্রচুর পরিমাণে নিয়ে এসেছেন, এমনকি তিনি সেগুলোর আধিক্য ঘটিয়েছেন। যখন লেখক তাঁর উক্তি— "
… আর এটি আলী ও উসমানের কথা", অথবা তাঁর উক্তি— "ইবনে মাসউদ থেকে একটি বর্ণনা এসেছে
… " বা এই জাতীয় কিছুর মাধ্যমে কোনো আছারের প্রতি ইঙ্গিত করেছেন, তখন আমি সেই আছারটির শব্দাবলি উল্লেখপূর্বক তাখরিজ করেছি।
আমি আছারসমূহের একটি বড় অংশের তাখরিজ করেছি এবং তার মধ্য থেকে উল্লেখযোগ্য একটি অংশ ছেড়ে দিয়েছি যা আমার নিকট বিদ্যমান উৎসসমূহে খুঁজে পাইনি। সম্ভবত এর একটি বড় অংশ লেখক তাঁর ‘আল-ঈসাল’ গ্রন্থে স্বীয় সনদসহ উল্লেখ করেছেন যা আমাদের নিকট পৌঁছেনি, অথবা তিনি এমন কিছু কিতাব থেকে চয়ন করেছেন—যার কথা ইতিপূর্বে উল্লিখিত হয়েছে—যেগুলো লেখকের হস্তগত হয়েছিল কিন্তু বর্তমানে আমরা তা খুঁজে পাইনি। যখন অনুসন্ধানের পরও আমি এমন কিছু খুঁজে পাইনি, তখন আমি বলেছি: "আমি এটি খুঁজে পাইনি", আর কখনো কখনো আমি নীরব থেকেছি।
১১ - আমি আয়াতসমূহের পূর্ণাঙ্গ হরকত (যের-যবর) প্রদান করেছি, আর কিতাবের মূল পাঠের (মতন) বাকি অংশের মধ্যে যা অস্পষ্ট ছিল কেবল তা চিহ্নিত করে হরকত প্রদান করেছি।
১২ - কিতাবে আসা অপরিচিত শব্দ বা জটিল শব্দের ব্যাখ্যা করেছি এবং এ ক্ষেত্রে আমি অভিধানসমূহের সহায়তা নিয়েছি। আমি খণ্ড, পৃষ্ঠা ও শব্দমূল (মাদ্দাহ) উল্লেখপূর্বক সেগুলোর দিকে উদ্ধৃতি দিয়েছি। এছাড়া হাদিস ও আছারের অপরিচিত শব্দাবলির ব্যাখ্যার জন্য ইবনুল আসীরের ‘আন-নিহায়াহ’ এবং আবু উবায়দ আল-কাসিম বিন সাল্লামের ‘গারিবুল হাদিস’-এর সহায়তা নিয়েছি।
১৩ - আমি কিতাবে উল্লিখিত ব্যক্তিবর্গের জীবনী আলোচনা করেছি, তবে সেই সব সাহাবী ব্যতীত যাদের খ্যাতি বিশ্বজুড়ে ছড়িয়ে আছে, যেমন জান্নাতের সুসংবাদপ্রাপ্ত দশ জন (আশারায়ে মুবাশশারা) এবং সুখ্যাতি, সুউচ্চ মর্যাদা ও ইসলাম গ্রহণের অগ্রগণ্যতার ক্ষেত্রে যারা তাদের সমপর্যায়ের। কেননা যদি...
(খণ্ড: ১)
আল-ইরাব আনিল হাইরাতি ওয়াল ইলতিবাসিল মাওজুদাইনি ফী মাজাহিবি আহলির রা-য়ি ওয়াল কিয়াস
(পৃষ্ঠা: ১৩)
الصحابي مذكورا بكنيته، أو مغمورا، أو في صحبه خلاف، أو نحو ذلك ترجمت له.
وأعرضت عن الترجمة لأعلام العلماء كأصحاب المذاهب المتبوعة، وبعض أهل الحديث الذين اشتهر ذكرهم، وعلا نجمهم.
وكان من عادتي في الترجمة أن أذكر اسم الرجل، ونسبه، ومولده، ومشايخه ومنزلته في العلم: وشهرته بذلك، ووفاته، ثم أختم ذلك بذكر بعض مؤلفاته إن عرف بالتأليف، وأشير إليها برمز (ط) إن كانت مطبوعة: و (ح) إن كانت محققة، و (خ) إن كانت مخطوطة، وإذا كان المترجم له من رجال الكتب الستة، نبهت على ذلك. واشترطت على نفسي أن أترجم للرجل من ثلاثة مصادر فأكثر، وربما لم أجد ترجمته إلا في المصدر أو المصدرين فأسوقها من هناك.
وفي بعض من ذكرهم المؤلف طائفة قليلة، لم أتف على تراجمهم فيما بين يدي من مصادر، أو ربما أشكل علي حالهم، فلم أعرفهم، إذ لم يذكرهم المؤلف بما يعينهم أو تحرفت أسماؤهم في النسخة التي بين يدي، ومن هؤلاء نفر لم أعلق عليهم بشيء، ومنهم نفر كنت أقول فيهم: "لم أجده فيما بين يدي من المصادر"، أو "لم أعرفه". وأترجم للرجل عند أول موضع ذكر فيه، ثم أحيل على ترجمته إذا ذكر في موضع ثان، وربما أسكت إذا تكرر ذكر الرجل مرات كثيرة.
14 - خرجت المسائل الفقهية الكثيرة التي ذكرها المؤلف: من مصادر فقه الحنفية المعتمدة، وربما كرر المؤلف المسألة الفقهية بعينها: فأكرر تخريجها إذا طال العهد بها، أو ساقها المؤلف على غير وجهها عند
যদি কোনো সাহাবীকে তাঁর উপনাম (কুনিয়া) দিয়ে উল্লেখ করা হয়, অথবা তিনি অল্প পরিচিত হন, কিংবা তাঁর সাহাবী হওয়ার বিষয়ে মতভেদ থাকে, অথবা এই জাতীয় অন্য কিছু হয়, তবে আমি তাঁর জীবনী সংকলন করেছি।
আর আমি প্রখ্যাত উলামায়ে কেরাম যেমন অনুসরণীয় মাযহাবসমূহের ইমামগণ এবং এমন কিছু হাদীস বিশারদ যাদের খ্যাতি ছড়িয়ে পড়েছে এবং যাদের নক্ষত্র সমুজ্জ্বল হয়েছে, তাঁদের জীবনী উল্লেখ করা থেকে বিরত থেকেছি।
জীবনী বর্ণনার ক্ষেত্রে আমার রীতি ছিল ব্যক্তির নাম, বংশপরিচয়, জন্ম, তাঁর শিক্ষকবৃন্দ এবং ইলমের ক্ষেত্রে তাঁর মর্যাদা উল্লেখ করা: বিশেষত সেই বিষয়ে তাঁর প্রসিদ্ধি এবং মৃত্যুসন। এরপর যদি তিনি গ্রন্থ রচনার জন্য পরিচিত হয়ে থাকেন, তবে তাঁর কিছু রচনার নাম উল্লেখ করে তা শেষ করেছি। গ্রন্থটি যদি মুদ্রিত হয় তবে তাকে (ত), যদি সম্পাদিত (তাহকীককৃত) হয় তবে (হ) এবং যদি পাণ্ডুলিপি হয় তবে (খ) সংকেত দিয়ে চিহ্নিত করেছি। আর যাঁর জীবনী আলোচনা করা হয়েছে তিনি যদি কুতুবে সিত্তার বর্ণনাকারী হয়ে থাকেন, তবে আমি সে বিষয়ে আলোকপাত করেছি। আমি নিজের জন্য এই শর্তারোপ করেছি যে, কোনো ব্যক্তির জীবনী অন্তত তিনটি বা ততোধিক উৎস থেকে সংকলন করব; তবে কখনও কখনও একটি বা দুটি উৎস ছাড়া আর কোথাও তাঁর জীবনী না পেলে আমি সেখান থেকেই তা উদ্ধৃত করেছি।
লেখক যাঁদের উল্লেখ করেছেন তাঁদের মধ্যে সামান্য কিছু এমন ব্যক্তি রয়েছেন, যাঁদের জীবনী আমার নিকট বিদ্যমান উৎসসমূহে আমি খুঁজে পাইনি; অথবা সম্ভবত তাঁদের অবস্থা আমার নিকট অস্পষ্ট ছিল, ফলে আমি তাঁদের চিনতে পারিনি। কারণ লেখক তাঁদের নির্দিষ্ট করার মতো কোনো তথ্য প্রদান করেননি অথবা আমার নিকট থাকা পাণ্ডুলিপিতে তাঁদের নাম বিকৃত হয়ে গিয়েছিল। তাঁদের মধ্যে এমন একদল রয়েছে যাঁদের ব্যাপারে আমি কোনো মন্তব্য করিনি, আর অন্য একদলের ক্ষেত্রে আমি বলেছি: "আমার নিকট বিদ্যমান উৎসসমূহে আমি তাঁকে পাইনি" অথবা "আমি তাঁকে চিনতে পারিনি"। আমি কোনো ব্যক্তির জীবনী তাঁর নামের প্রথম উল্লেখের স্থানে প্রদান করেছি, এরপর দ্বিতীয়বার তাঁর নাম আসলে সেই প্রথম জীবনীর দিকে নির্দেশ করেছি। আর যদি কোনো ব্যক্তির নাম বারবার আসতে থাকে, তবে কখনও কখনও আমি নীরব থেকেছি।
১৪ - লেখক যে অসংখ্য ফিকহী মাসআলা উল্লেখ করেছেন, আমি সেগুলো হানাফী ফিকহ শাস্ত্রের নির্ভরযোগ্য উৎসসমূহ থেকে বের করেছি। লেখক অনেক সময় একই ফিকহী মাসআলার পুনরাবৃত্তি করেছেন; সেক্ষেত্রে ব্যবধান দীর্ঘ হলে অথবা লেখক বিষয়টি ভিন্ন আঙ্গিকে উপস্থাপন করলে আমি পুনরায় তার উৎস নির্দেশ করেছি।
(খণ্ড: ১)
আল-ইরাব আনিল হাইরাতি ওয়াল ইলতিবাসিল মাওজুদাইনি ফী মাজাহিবি আহলির রা-য়ি ওয়াল কিয়াস
(পৃষ্ঠা: ১৪)
الحنفية، وربما اكتفيت بالإحالة على ما تقدم من تخريجها، ولقد أسكت تارة أخرى عن ذلك كله. ولقد أحيل على مصادر هذه المسائل مرتبا لها، حسب تقدم وفاة مؤلفيها، وربما خالفت ذلك لبعض التدبير.
15 - نقلت من كلام ابن حزم في "المحلى" ما هو بموضوع الكتاب أشكل، وبه أَعْلقُ، وأحلت عليه -أحيانا- لبيان أن المؤلف قد اعترض على الحنفية بنحو ما ورد في "الإعراب".
16 - تعقبت المؤلف فيما وقع له من أوهام، وبينت الوجه في ذلك: مع ذِكْرِ الدليل.
17 - شرحت مذهب الحنفية في المسألة التي يوردها المؤلف، وبينت أدلتهم، وذكرت الخلاف عنهم في ذلك.
ثالثا: القسم الثالث: فهارس الكتاب وهي
1 - فهرس الآيات القرآنية.
2 - فهرس الأحاديث المرفوعة.
3 - فهرس المراسيل.
4 - فهرس الآثار عن الصحابة.
5 فهرس الآثار عن التابعين فمن دونهم.
6 - فهرس المسائل الفقهية على الكتب.
7 - فهرس الأمثال المرسلة.
8 - فهرس الأعلام.
হানাফী মাযহাব, আর কখনো আমি সেগুলোর পূর্বোক্ত তথ্যসূত্র বা তাখরিজের ওপরই ক্ষান্ত হয়েছি, আবার কখনো কখনো সে সবকিছু থেকেই নিশ্চুপ থেকেছি। আমি এই মাসআলাগুলোর উৎসসমূহের প্রতি তাদের লেখকদের মৃত্যুর তারিখের অগ্রাধিকার ভিত্তিতে ক্রমানুসারে রেফারেন্স প্রদান করেছি, তবে বিশেষ কোনো ব্যবস্থাপনার কারণে কখনো কখনো এর ব্যতিক্রমও করেছি।
১৫ - আমি ইবনে হাজমের "আল-মুহাল্লা" থেকে এমন কিছু বক্তব্য উদ্ধৃত করেছি যা এই কিতাবের বিষয়ের সাথে অধিক সামঞ্জস্যপূর্ণ এবং ঘনিষ্ঠভাবে সংশ্লিষ্ট; আর কখনো কখনো তার দিকে রেফারেন্স প্রদান করেছি এটা স্পষ্ট করতে যে, লেখক হানাফীদের ওপর "আল-ই'রাব"-এ বর্ণিত বিষয়ের মতোই আপত্তি উত্থাপন করেছেন।
১৬ - লেখকের যেসব ক্ষেত্রে বিভ্রম বা ভুল ঘটেছে আমি তা অনুসরণ ও পর্যালোচনা করেছি এবং দলিলসহ সেগুলোর সঠিক দিকটি বর্ণনা করেছি।
১৭ - লেখক যে মাসআলাগুলো উল্লেখ করেছেন সেগুলোতে হানাফী মাযহাবের ব্যাখ্যা প্রদান করেছি, তাদের দলিলসমূহ বর্ণনা করেছি এবং এ বিষয়ে তাদের মধ্যকার মতভেদগুলোও উল্লেখ করেছি।
তৃতীয়ত: তৃতীয় অংশ: গ্রন্থের নির্ঘণ্টসমূহ (সূচিপত্র), আর সেগুলো হলো-
১ - কুরআনের আয়াতসমূহের নির্ঘণ্ট।
২ - মারফু হাদিসসমূহের নির্ঘণ্ট।
৩ - মুরসাল হাদিসসমূহের নির্ঘণ্ট।
৪ - সাহাবায়ে কেরামের আসার (বাণী ও কর্ম)-এর নির্ঘণ্ট।
৫ তাবিঈ ও তাদের পরবর্তীগণের আসার-এর নির্ঘণ্ট।
৬ - কিতাব বা অধ্যায়ভিত্তিক ফিকহী মাসআলাসমূহের নির্ঘণ্ট।
৭ - প্রবাদ ও প্রবচনসমূহের নির্ঘণ্ট।
৮ - ব্যক্তিনাম বা বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গের নির্ঘণ্ট।
(খণ্ড: ১)
আল-ইরাব আনিল হাইরাতি ওয়াল ইলতিবাসিল মাওজুদাইনি ফী মাজাহিবি আহলির রা-য়ি ওয়াল কিয়াস
(পৃষ্ঠা: ১৫)
9 - فهرس الكتب الواردة في الكتاب.
10 - فهرس الأيام والغزوات.
11 - فهرس المواضع والبلدان.
12 - فهرس الفرق والمذاهب والطوائف.
13 - فهرس ما تكلم ابن حزم عليه من حديث أو أثر.
14 - فهرس آراء ابن حزم في مسائل أصولية.
15 - فهرس الرواة الذين تكلم فيهم ابن حزم.
16 - فهرس الفوائد اللغوية عن ابن حزم.
17 - فهرس الموضوعات.
18 - فهرس مصادر ومراجع الدراسة والتحقيق.
وبعد: فلقد نَخَلْتُ في تحقيق ودراسة هذا الكتاب العجيب مخزون رأيي، وبذلت فيه غاية وسعي، فأسهرت فيه ليلي، وأمضيت فيه أكثر نهاري، فلئن وفقت للإصابة، وهديت للإجادة، فذلك فضل من الله ونعمة، وإن تكن الأخرى، فها أنذا أبسط عذري، وأظهر عجزي، وأبدي ضعفي، وأستغفر الله فكل ذلك عندي.
ولقد كان غيري أحجم عن تحقيق هذا الكتاب لهول المطلع، وشدة الجهد، وخطر البلاء
(1): ولقد كان يسعني ما وسعهم، لكني أقدمت
--------------------------------------------
৯ - গ্রন্থে উল্লিখিত কিতাবসমূহের নির্ঘণ্ট।
১০ - ঐতিহাসিক দিবস ও যুদ্ধবিগ্রহের নির্ঘণ্ট।
১১ - স্থান ও দেশসমূহের নির্ঘণ্ট।
১২ - দল, মাযহাব ও গোষ্ঠীসমূহের নির্ঘণ্ট।
১৩ - ইবনে হাজম যে সকল হাদিস বা আছারের ওপর আলোচনা করেছেন তার নির্ঘণ্ট।
১৪ - উসুল সংক্রান্ত মাসআলাসমূহে ইবনে হাজমের মতামতসমূহের নির্ঘণ্ট।
১৫ - ইবনে হাজম যে সকল বর্ণনাকারীর ব্যাপারে আলোচনা করেছেন তাদের নির্ঘণ্ট।
১৬ - ইবনে হাজম বর্ণিত ভাষাতাত্ত্বিক উপকারিতাসমূহের নির্ঘণ্ট।
১৭ - বিষয়সূচি।
১৮ - অধ্যয়ন ও তাহকিকের উৎস এবং তথ্যসূত্রসমূহের নির্ঘণ্ট।
অতঃপর: এই বিস্ময়কর কিতাবটির তাহকিক ও অধ্যয়নে আমি আমার চিন্তার নির্যাস ঢেলে দিয়েছি এবং এতে আমার সাধ্যের সর্বোচ্চ চেষ্টা ব্যয় করেছি। এর জন্য আমি রাত জেগেছি এবং দিনের অধিকাংশ সময় অতিবাহিত করেছি। যদি আমি সঠিক সিদ্ধান্তে পৌঁছাতে সফল হই এবং উত্তম কাজের তাওফিক পাই, তবে তা আল্লাহর পক্ষ থেকে অনুগ্রহ ও নেয়ামত। আর যদি অন্য কিছু হয়, তবে আমি আমার ওজর পেশ করছি, নিজের অক্ষমতা প্রকাশ করছি এবং নিজের দুর্বলতা জাহির করছি। আর আমি আল্লাহর কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করছি, কারণ সকল ত্রুটি আমার পক্ষ থেকেই।
অন্য অনেকে এই কিতাবটির তাহকিক করার ক্ষেত্রে এর সূচনা পর্বের ভয়াবহতা, কঠোর পরিশ্রম এবং বিপদের আশঙ্কায় বিরত ছিলেন
(১): অন্যদের জন্য যা সম্ভব ছিল তা আমার জন্য অবকাশমূলক হতে পারত, কিন্তু আমি অগ্রসর হয়েছি।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-ইরাব আনিল হাইরাতি ওয়াল ইলতিবাসিল মাওজুদাইনি ফী মাজাহিবি আহলির রা-য়ি ওয়াল কিয়াস
(পৃষ্ঠা: ১৬)
إذ تقاعدوا: وتجاسرت إذ تراجعوا: واستعنت بالله ربي إذ لم يفعلوا.
ثم المشكور بعدُ، صاحبُ الفضل علي، ودائم النصح والإفادة لدي، شيخنا الدكتور زين العابدين بن محمد بلا فريج، فجزاه الله عني الجزاء الأوفى.
اللهم اغفر لي زلات الكلمات، وسقطات الألفاظ، وهفوات اللسان.
{الْحَمْدُ لِلَّهِ الَّذِي هَدَانَا لِهَذَا وَمَا كُنَّا لِنَهْتَدِيَ لَوْلَا أَنْ هَدَانَا اللَّهُ}
(1).
{رَبَّنَا لَا تُزِغْ قُلُوبَنَا بَعْدَ إِذْ هَدَيْتَنَا وَهَبْ لَنَا مِنْ لَدُنْكَ رَحْمَةً إِنَّكَ أَنْتَ الْوَهَّابُ}
(2).
وصل اللهم وسلم على عبدك ورسولك محمد وعلى آله وصحبه وسلم تسليما كثيرا.
* * *
--------------------------------------------
যখন তারা নিষ্ক্রিয় ছিল; আমি সাহসী হয়েছিলাম যখন তারা পিছু হটেছিল; এবং আমি আমার প্রতিপালক আল্লাহর কাছে সাহায্য চেয়েছিলাম যখন তারা তা করেনি।
অতঃপর কৃতজ্ঞতাভাজন হলেন আমার প্রতি অনুগ্রহকারী এবং আমাকে সর্বদা নসিহত ও উপকার প্রদানকারী, আমাদের শায়খ ডক্টর জয়নুল আবেদিন ইবনে মুহাম্মদ বিলা ফরিজ। আল্লাহ যেন তাকে আমার পক্ষ থেকে সর্বোত্তম প্রতিদান দান করেন।
হে আল্লাহ, আপনি শব্দের বিচ্যুতি, বাক্যের পতন এবং জিহ্বার স্খলন ক্ষমা করে দিন।
{সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর জন্য, যিনি আমাদের এই পথের দিশা দিয়েছেন। আল্লাহ আমাদের হিদায়াত না দিলে আমরা কক্ষনো হিদায়াত পেতাম না।}
(১)।
{হে আমাদের প্রতিপালক! আমাদের হিদায়াত দানের পর আমাদের অন্তরগুলোকে সত্যবিচ্যুত করবেন না এবং আপনার নিকট থেকে আমাদের অনুগ্রহ দান করুন। নিশ্চয় আপনিই পরম দাতা।}
(২)।
হে আল্লাহ, আপনি আপনার বান্দা ও রাসূল মুহাম্মদ এবং তাঁর পরিবারবর্গ ও সহচরদের ওপর অগণিত সালাত ও সালাম বর্ষণ করুন।
* * *
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-ইরাব আনিল হাইরাতি ওয়াল ইলতিবাসিল মাওজুদাইনি ফী মাজাহিবি আহলির রা-য়ি ওয়াল কিয়াস
(পৃষ্ঠা: ১৭)
القِسْمِ الأَوَّلقسم الدراسة
(খণ্ড: ১)
আল-ইরাব আনিল হাইরাতি ওয়াল ইলতিবাসিল মাওজুদাইনি ফী মাজাহিবি আহলির রা-য়ি ওয়াল কিয়াস
(পৃষ্ঠা: ১৯)
الفَصْلُ الأَوَّلُعَصْرُ ابْنِ حَزْم وَبِيَئِتِهِ
প্রথম পরিচ্ছেদইবনে হাজমের যুগ ও তাঁর পরিবেশ
(খণ্ড: ১)
আল-ইরাব আনিল হাইরাতি ওয়াল ইলতিবাসিল মাওজুদাইনি ফী মাজাহিবি আহলির রা-য়ি ওয়াল কিয়াস
(পৃষ্ঠা: ২১)
(المبحث الأول) السياسةكان دخول العرب المسلمين إلى شبه جزيرة إيبيريا (إسبانيا والبرتغال)، فتحا عظيما وجهادا كبيرا رائعا، نقل تلك القطعة من الأرض من حال إلى حال، ومن عهد إلى عهد، بما أحدث فيها من حضارة وعمران، ومدنية وازدهار.
والأندلس -ناحية من تلك الجزيرة عمرها العرب المسلمون، فسكنوا مدنها وقراها وكورها، وشادوا في جنباتها مدارس العلم، ومعاهد الآداب والفنون، ودور الصناعة، وأسواق التجارة. وغدت لهم - بعد الغربة- دَارًا ووطنا، ملء أسماعهم وأبصارهم، لا تفتر ألسنتهم عن ذكر محاسنها، ولا تنقطع بهم فنون القول عن تعداد فضائلها، حتى بعدما جلوا عن أرضها وسمائها.
يقول لسان الدين ابن الخطيب: "خَصَّ الله تعالى بلاد الأندلس من الريع، وغدق السقيا، ولذاذة الأقوات، وفراهة الحيوان، ودرور الفواكه، وكثرة المياه، وتبحر العمران، وشرف الآنية، وكثرة السلاح، وجودة اللباس، وصحة الهواء، ابيضاض ألوان الإنسان، ونبل الأذهان، وفنون الصنائع، وشهامة الطباع، ونفوذ الإدراك، وإحكام التمدن والاعتمار، بما حرمه الكثير من الأقطار
… "
(1).
ولم ير العرب المسلمون في الأرض: بلادا أجمل من أندلسهم، ولا
--------------------------------------------
(প্রথম পরিচ্ছেদ) রাজনীতিআইবেরীয় উপদ্বীপে (স্পেন ও পর্তুগাল) মুসলিম আরবদের প্রবেশ ছিল এক মহান বিজয় এবং এক চমৎকার মহান জিহাদ, যা ভূমির সেই অংশকে এক অবস্থা থেকে অন্য অবস্থায় এবং এক যুগ থেকে অন্য যুগে স্থানান্তরিত করেছে—সেখানে সভ্যতা, নির্মাণ, নগরায়ন ও সমৃদ্ধির যে বিকাশ তারা ঘটিয়েছিল তার মাধ্যমে।
আর আন্দালুস—সেই উপদ্বীপের একটি অঞ্চল যা মুসলিম আরবরা আবাদ করেছিল; তারা এর শহর, গ্রাম ও জনপদগুলোতে বসতি স্থাপন করেছিল এবং এর চারদিকে গড়ে তুলেছিল জ্ঞানের বিদ্যাপীঠ, সাহিত্য ও শিল্পকলার প্রতিষ্ঠান, শিল্পভবন এবং বাণিজ্যিক বাজার। পরবাসের পর এটি তাদের জন্য এমন এক ঘর ও স্বদেশে পরিণত হয়েছিল যা তাদের শ্রবণ ও দৃষ্টি জুড়ে ছিল; এর সৌন্দর্য বর্ণনায় তাদের জিহ্বা কখনো ক্লান্ত হতো না এবং এর শ্রেষ্ঠত্ব ও গুণাবলী গণনায় তাদের বাকশৈলী কখনো ফুরিয়ে যেত না, এমনকি তারা এর ভূমি ও আকাশ থেকে বিদায় নেওয়ার পরেও।
লিসানুদ্দিন ইবনুল খাতিব বলেন: "আল্লাহ তাআলা আন্দালুস ভূখণ্ডকে ফসলের প্রাচুর্য, পর্যাপ্ত জলসিঞ্চন, সুস্বাদু খাদ্যদ্রব্য, গবাদি পশুর সজীবতা, ফলের আধিক্য, পানির প্রাচুর্য, আবাদের ব্যাপকতা, তৈজসপত্রের আভিজাত্য, অস্ত্রের প্রাচুর্য, পোশাকের গুণমান, নির্মল বাতাস, মানুষের গায়ের রঙের শুভ্রতা, মেধার শ্রেষ্ঠত্ব, বিচিত্র কারুশিল্প, স্বভাবজাত বীরত্ব, উপলব্ধির প্রখরতা এবং নগরায়ন ও আবাদের সুশৃঙ্খলতা দিয়ে এমনভাবে বৈশিষ্ট্যমণ্ডিত করেছেন, যা তিনি অনেক অঞ্চলকেই দান করেননি... "
(১)।
আর মুসলিম আরবরা পৃথিবীতে তাদের আন্দালুসের চেয়ে সুন্দর কোনো দেশ দেখেনি, আর না...
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-ইরাব আনিল হাইরাতি ওয়াল ইলতিবাসিল মাওজুদাইনি ফী মাজাহিবি আহলির রা-য়ি ওয়াল কিয়াস
(পৃষ্ঠা: ২২)
إقليما أحسن من صقعهم، لأنه جمع من المحاسن ما تفرق في غيره، ومن الفضائل ما تشتت في سواه، يقول أبو عبيد البكري: "الأندلس شامية في طيبها وهوائها، يمانية في اعتدالها واستوائها، هندية في عطرها وذكائها، أهوازية في عظم جبايتها، صينية في جواهر معادنها، عدنية في منافع سواحلها
… "
(1).
وكانت هذه الأرض الطيبة هي تلك التي نطيت فيها عن ابن حزم تمائمه، فولد فيها، ودرج بين أكفانها، وعاش بين جنباتها بين سنة 384 هـ وسنة 456 هـ، وفي هذه الفترة شهدت الأندلس أفول نجم الخلافة، ومجيء دول الطوائف والتنازع على الإمارة. وتفصيل ذلك: أنه لما توفي الحكم الثاني المستنصر بالله
(2) سنة 366 هـ خلفه ابنه الصبي هشام المؤيد بالله
(3)، وهو فتى في العاشرة من عمره، قليل التجربة، ضعيف العقل، خائر القوى، فحجبه في القصر، واستبد بالأمر دونه المنصور بن أبي عامر
(4) الذي استطاع أن يتسنم ذروة الحكم الحقيقي في
--------------------------------------------
এমন এক অঞ্চল যা তাদের জনপদের চেয়েও সুন্দর, কারণ এতে এমন সব সৌন্দর্য একত্রিত হয়েছে যা অন্যত্র ছড়িয়ে-ছিটিয়ে আছে, এবং এমন সব বৈশিষ্ট্য যা অন্য কোথাও ভিন্ন ভিন্ন অবস্থায় রয়েছে। আবু উবাইদ আল-বাকরি বলেন: "আন্দালুস তার সুগন্ধ ও আবহাওয়ায় শামী (সিরীয়), তার ভারসাম্য ও সমতায় ইয়ামানি, তার সুগন্ধি ও প্রখরতায় হিন্দি (ভারতীয়), তার বিশাল রাজস্বে আহওয়াজি, তার খনিজ মণি-মুক্তায় চীনা এবং তার উপকূলীয় উপযোগিতায় আদানি (ইয়েমেনের এডেন)..."
(১).
আর এই পবিত্র ভূমিটিই ছিল সেই জায়গা যেখানে ইবনে হাজমের শৈশব কেটেছে, তিনি এখানেই জন্মগ্রহণ করেন, এর কোলে বেড়ে ওঠেন এবং ৩৮৪ হিজরি থেকে ৪৫৬ হিজরির মধ্যবর্তী সময়ে এর আনাচে-কানাচে বসবাস করেন। এই সময়েই আন্দালুস খিলাফতের পতন এবং ‘দুওয়ালুত তাওয়ায়েফ’ (ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র রাজবংশ)-এর আবির্ভাব ও ক্ষমতার দ্বন্দ্ব প্রত্যক্ষ করেছিল। এর বিস্তারিত বিবরণ হলো: যখন ৩৬৬ হিজরিতে আল-হাকাম আস-সানি আল-মুসতানসির বিল্লাহ
(২) মৃত্যুবরণ করেন, তখন তার উত্তরাধিকারী হন তার শিশু পুত্র হিশাম আল-মুয়াইয়াদ বিল্লাহ
(৩)। তিনি ছিলেন মাত্র দশ বছর বয়সী এক বালক, যার অভিজ্ঞতা ছিল সামান্য, বুদ্ধি ছিল অপরিপক্ব এবং সামর্থ্য ছিল দুর্বল। ফলে তাকে প্রাসাদে অবরুদ্ধ করে রাখা হয় এবং মানসুর ইবনে আবি আমির
(৪) তার পরিবর্তে একচ্ছত্র ক্ষমতা দখল করেন, যিনি প্রকৃত শাসনের শিখরে আরোহণ করতে সক্ষম হয়েছিলেন...
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-ইরাব আনিল হাইরাতি ওয়াল ইলতিবাসিল মাওজুদাইনি ফী মাজাহিবি আহলির রা-য়ি ওয়াল কিয়াস
(পৃষ্ঠা: ২৩)
الأندلس، وأن يصيره في ذريته من بعد فترة تزيد على ثلاثة عقود
(1).
ولقد تمكن المنصور بن أبي عامر من القضاء على خصومه، والظهور عليهم، فدانت له الأندلس، وأمنت به، ولم يضطرب عليه شيء منها أيام حياته، لعظيم سياسته وهيبته، ومع ذلك فقد أساء حينما أزال هيبة الخلافة الأموية من نفوس الناس، بتسلطه عليها، وجعلها شعارا لا معنى له، ودولة لا سلطان لها، وعرشا لا حكم له، كما أساء مرة أخرى حينما جرى على سنن الناصر
(2) في اتخاذ البربر والصقالبة والمأجورين والمرتزقة أعوانا وأنصارا وصنائع من دون العرب
(3).
وتقلد الإمارة بعد المنصور ابنه المظفر أبو مروان عبد الملك بن محمد، فجرى في الغزو والسياسة، والنيابة عن هشام المؤيد، وحجابته مجرى أبيه، وكانت أيامه أعيادا دامت سبع سنين إلى أن مات
(4).
وتَوَلَّى بعده أخوه عبد الرحمن بن المنصور الملقب بشنجول، وكان نحسا على نفسه، وعلى أهل الأندلس
(5)، إذ أقدم على تنصيب نفسه وليا للعهد بعد هشام الثاني، وتم له ذلك بمرسوم صدر في شهر ربيع
--------------------------------------------
আন্দালুস, এবং তিন দশকেরও বেশি সময় অতিক্রান্ত হওয়ার পর তা যেন তার বংশধরদের হাতে চলে যায়
(১)।
আল-মনসুর বিন আবি আমির তার শত্রুদের নির্মূল করতে এবং তাদের ওপর বিজয়ী হতে সক্ষম হয়েছিলেন। ফলে আন্দালুস তার বশ্যতা স্বীকার করে এবং তার শাসনে নিরাপদ হয়। তার সুনিপুণ রাজনীতি ও গাম্ভীর্যের কারণে তার জীবদ্দশায় সেখানে কোনো বিশৃঙ্খলা দেখা দেয়নি। তা সত্ত্বেও, তিনি তখন ভুল করেছিলেন যখন তিনি উমাইয়া খিলাফতের ওপর আধিপত্য বিস্তার করে মানুষের মন থেকে এর গাম্ভীর্য ও মর্যাদা মুছে দিয়েছিলেন; তিনি খিলাফতকে একটি অর্থহীন প্রতীকে, কর্তৃত্বহীন রাষ্ট্রে এবং শাসনহীন সিংহাসনে পরিণত করেছিলেন। তেমনিভাবে তিনি দ্বিতীয়বার ভুল করেছিলেন যখন তিনি আন-নাসিরের
(২) নীতি অনুসরণ করে আরবদের পরিবর্তে বারবার, সাকালিবা (স্লাভ), ভাড়াটে ও বেতনভোগী সৈন্যদের সাহায্যকারী, সমর্থক ও অনুগত বাহিনী হিসেবে গ্রহণ করেছিলেন
(৩)।
আল-মনসুরের পর তার পুত্র আল-মুজাফফর আবু মারওয়ান আব্দুল মালিক বিন মুহাম্মদ আমিরাতের দায়িত্ব গ্রহণ করেন। যুদ্ধাভিযান, রাজনীতি, হিশাম আল-মুআইয়াদের প্রতিনিধিত্ব এবং হাজিব (প্রধান মন্ত্রী) হিসেবে দায়িত্ব পালনের ক্ষেত্রে তিনি তার পিতার পথই অনুসরণ করেন। তার শাসনকাল ছিল উৎসবমুখর, যা তার মৃত্যু পর্যন্ত সাত বছর স্থায়ী হয়েছিল
(৪)।
তার পর তার ভাই আব্দুর রহমান বিন মনসুর ক্ষমতা গ্রহণ করেন, যার উপাধি ছিল শানজুল। তিনি নিজের জন্য এবং আন্দালুসবাসীর জন্য অশুভ প্রমাণিত হয়েছিলেন
(৫); কারণ তিনি দ্বিতীয় হিশামের পর নিজেকে খিলাফতের উত্তরাধিকারী মনোনীত করার দুঃসাহস দেখান এবং রবিউল আউয়াল মাসে জারিকৃত একটি ফরমানের মাধ্যমে তা সম্পন্ন হয়।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-ইরাব আনিল হাইরাতি ওয়াল ইলতিবাসিল মাওজুদাইনি ফী মাজাহিবি আহলির রা-য়ি ওয়াল কিয়াস
(পৃষ্ঠা: ২৪)
الأول سنة 399 هـ: ولم تحمد سيرة عبد الرحمن، إذ انكب على لهوه وشَرَابِهِ، وقرب إليه بطانة السوء التي زينت له ذلك، وأعانته عليه
(1).
فوثب على الحكم أحد أحفاد عبد الرحمن الناصر ويدعى محمد بن هشام ابن عبد الجبار، وقاد ثورة استولى بها على قصر الخلافة، ورغب إلى هشام المؤيد خلع نفسه فبادر هشام بالقبول خشية البطش به، ووليها محمد بن هشام، وتلقب بالمهدي بالله
(2).
وسولت للمهدي نفسه أن يزيل من نفوس الناس التعلق بإعادة الأمر إلى هشام المؤيد، فادعى موته، ودعا بالفقهاء وعلية القوم، فشهدوا جنازة رجل على أنه الخليفة، وكانت تلك الحادثة سنة 399 هـ
(3)، وكان ابن حزم ووالده ممن حضرها، وأورد الأول أخبارها في "الفصل"
(4). ولم يطمئن الأمر للمهدي غير قليل، حتى نشبت بينه وبين البربر فتنة أودت بحياته، وأعادت الخليفة هشام بن الحكم، وكان ذلك على رأس القرن الرابع الهجري
(5).
وكانت السبعة أعوام الأولى للفتنة "شدادا نكدات، صعابا مشؤومات، كريهات المبدأ والفاتحة، قبيحة المنتهى والخاتمة، لم يعدم
--------------------------------------------
৩৯৯ হিজরি সালের প্রথম দিকে: আব্দুর রহমানের কর্মজীবন প্রশংসিত ছিল না, কারণ তিনি আমোদ-প্রমোদ ও মদ্যপানে নিমজ্জিত ছিলেন। তিনি তাঁর নিকট এমন এক কুচক্রী মহলকে স্থান দিয়েছিলেন, যারা তাঁর সামনে এসকল কাজকে সুশোভিত করেছিল এবং তাঁকে এসবে সহায়তা করেছিল
(১)।
এরপর আব্দুর রহমান আন-নাসিরের অন্যতম পৌত্র মুহাম্মদ ইবনে হিশাম ইবনে আব্দুল জব্বার ক্ষমতা দখলের চেষ্টা করেন। তিনি এক বিপ্লবের নেতৃত্ব দিয়ে খিলাফত প্রাসাদ দখল করেন এবং হিশাম আল-মুয়াইয়াদকে পদত্যাগের আহ্বান জানান। হিশাম তাঁর রোষানল থেকে বাঁচার ভয়ে দ্রুত তাতে সম্মত হন। ফলে মুহাম্মদ ইবনে হিশাম শাসনভার গ্রহণ করেন এবং 'আল-মাহদী বিল্লাহ' উপাধি ধারণ করেন
(২)।
মাহদীর মনে এই কুপ্রবৃত্তি জাগল যে, মানুষের অন্তর থেকে হিশাম আল-মুয়াইয়াদকে পুনরায় ক্ষমতায় ফিরিয়ে আনার আকাঙ্ক্ষা নির্মূল করে দেবেন। তাই তিনি হিশামের মৃত্যুর মিথ্যা দাবি করলেন এবং ফকিহ ও গণ্যমান্য ব্যক্তিদের ডাকলেন। ফলে তাঁরা জনৈক ব্যক্তির জানাজায় তাঁকে খলিফা মনে করে উপস্থিত হলেন। এই ঘটনাটি ৩৯৯ হিজরিতে ঘটেছিল
(৩)। ইবনে হাজম এবং তাঁর পিতা এতে উপস্থিত ব্যক্তিদের অন্তর্ভুক্ত ছিলেন এবং প্রথমোক্ত ব্যক্তি তাঁর "আল-ফাসল" গ্রন্থে এর সংবাদ প্রদান করেছেন
(৪)। মাহদীর জন্য শাসনকাল সামান্য সময় ব্যতীত স্থিতিশীল হয়নি, যতক্ষণ না তাঁর ও বারবারদের মধ্যে দাঙ্গা ছড়িয়ে পড়ে যা তাঁর প্রাণ কেড়ে নেয় এবং খলিফা হিশাম বিন হাকামকে পুনরায় ক্ষমতায় ফিরিয়ে আনে। এটি চতুর্থ হিজরি শতাব্দীর শেষভাগের ঘটনা ছিল
(৫)।
দাঙ্গার প্রথম সাতটি বছর ছিল "কঠোর ও কষ্টদায়ক, অত্যন্ত কঠিন ও অশুভ, যার সূচনা ও প্রারম্ভ ছিল অত্যন্ত ঘৃণ্য এবং সমাপ্তি ও উপসংহার ছিল অত্যন্ত কদর্য, যা কখনো শেষ হয়নি...
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-ইরাব আনিল হাইরাতি ওয়াল ইলতিবাসিল মাওজুদাইনি ফী মাজাহিবি আহলির রা-য়ি ওয়াল কিয়াস
(পৃষ্ঠা: ২৫)
فيها حيف، ولا فُورق فيها خوف، ولا تم سرور، ولا فقد محذور مع تغيير السيرة، وخرق الهيبة واشتعال الفتنة، واعتلاء العصبية، وظعن الأمن، وحلول المخافة"
(1).
ولم يلبث هشام المؤيد أن قتل، واختار البربر سليمان بن الحكم بن سليمان، فبايعوه خليفة ولقب المستعين
(2). وفي سنة 422 هـ أعلن أهل قرطبة وعلى رأسهم أبو الحزم جهور بن محمد بن جهور إلغاء الخلافة وبدأ بالأندلس عهد جديد أطلق عليه "عهد دول الطوائف"
(3).
وانتثر عقد الأندلس بين عناصر متصارعة ثلاثة وهي: البَرْبَر في الجنوب، والصقالبة في الشرق، والعرب في بقية الأطراف الأخرى، وتوزع هؤلاء في ممالك ودول في أرجاء الأندلس في نحو عشرين دولة
(4) وهي:
1 - موالي العامرية في شرق الأندلس وهم: خيران العامري في المرية ومرسية، ومجاهد العامري وابنه في دانية.
2 - بنو زيري في جنوب الأندلس: في غرناطة ومالقة، ثم بسط هؤلاء بعد ذلك نفوذهم على قبرة وجيان ومالقة وبطليوس وطليطلة.
3 - بنو عباد أصحاب إشبيلية، الذين بسطوا نفوذهم على حساب إمارات أخرى.
--------------------------------------------
তাতে অবিচার বিদ্যমান ছিল, সেখান থেকে ভয় বিদায় নেয়নি, আনন্দ পূর্ণতা পায়নি, এবং সতর্ক থাকার প্রয়োজনীয়তাও ফুরায়নি। সাথে ছিল জীবনযাত্রার পরিবর্তন, মর্যাদার হানি, ফিতনার প্রজ্বলন, গোত্রবাদের আধিপত্য, নিরাপত্তার প্রস্থান এবং ভীতির আগমন।"
(১).
হিশাম আল-মুয়াইয়্যাদ শীঘ্রই নিহত হন এবং বার্বাররা সুলাইমান ইবনুল হাকাম ইবনে সুলাইমানকে নির্বাচন করে। তারা তাকে খলিফা হিসেবে বায়আত দান করে এবং তার উপাধি হয় আল-মুসতাঈন
(২)। ৪২২ হিজরি সনে কর্ডোবার অধিবাসীগণ, যাদের নেতৃত্বে ছিলেন আবু আল-হাজম জাহওয়ার বিন মুহাম্মদ বিন জাহওয়ার, খেলাফতের বিলুপ্তি ঘোষণা করেন এবং আন্দালুসে এক নতুন যুগের সূচনা হয়, যাকে "তায়েফা রাজ্যসমূহের যুগ" (عهد دول الطوائف) বলা হয়
(৩)।
আন্দালুসের ঐক্য তিনটি বিবদমান শক্তির মধ্যে ছিন্নভিন্ন হয়ে যায়, সেগুলো হলো: দক্ষিণে বার্বার, পূর্বে সাকালিবা (স্লেভস) এবং অন্যান্য অবশিষ্ট প্রান্তে আরবগণ। তারা সমগ্র আন্দালুস জুড়ে প্রায় বিশটি রাজ্য ও রাষ্ট্রে বিভক্ত হয়ে পড়ে
(৪), সেগুলো হলো:
১ - পূর্ব আন্দালুসে আমিরি মাওয়ালিগণ: আল-মেরিয়া ও মুরসিয়ায় খায়রান আল-আমিরি এবং দানিয়ায় মুজাহিদ আল-আমিরি ও তার পুত্র।
২ - দক্ষিণ আন্দালুসে বনু জিরি: গ্রানাডা ও মালাগাতে; পরবর্তীতে তারা কাবরা, জায়ান, মালাগা, বাদাজোজ ও টলেডোতে তাদের প্রভাব বিস্তার করে।
৩ - সেভিলের শাসক বনু আব্বাদ, যারা অন্যান্য আমিরাতগুলোর বিনিময়ে নিজেদের প্রভাব বিস্তার করেছিল।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-ইরাব আনিল হাইরাতি ওয়াল ইলতিবাসিল মাওজুদাইনি ফী মাজাহিবি আহলির রা-য়ি ওয়াল কিয়াস
(পৃষ্ঠা: ২৬)
4 - بنو هود أصحاب سرقسطة، وبنو القاسم الفهريون في البونت، وبنو حمود الحسنيون بالجزيرة.
5 - بنو جهور موالي بني أمية في قرطبة، وَتَضُّمُّ إماراتهم مدنا أخرى مثل جيان وبياسة وأيذ؛ ولقد سار أبو الحزم بن جهور في قرطبة بسيرة حسنة، أعجبت المؤرخين، فأثنوا عليها، يقول المقوي "
… فاستولى على قرطبة عند ذلك أبو الحزم، ودبر أمرها بالجد والعزم، وضبطها ضبطا أمن خائفها، ورفع طارق تلك الفتنة وطائفها، وخلا له الجو فطار، وقضى اللُّبانات، والأوطار"
(1).
وهكذا انقسم ذاك الفردوس الذي كان منجمعا تحت راية واحدة، وتنافس ملوك الطوائف على السلطة، وطمع بعضهم فيما تحت يد الآخر، وثارت بينهم حروب وفتن، واستنصر بعضهم على بعض بالنصارى في الشمال، ولقد وصف ابن الحزم حال الأندلس أيام الطوائف فقال في سياق بليغ، "اجتمع عندنا بالأندلس في صُقْعٍ واحد خلفاء أربعة، كل واحد منهم يخطب له بالخلافة بموضعه، وتلك فضيحة لم ير مثلها، أربعة رجال في مسافة ثلاثة أيام كلهم يتسمى بالخلافة، وإمارة المؤمنين، وهم: خلف الحصري بإشبيلية على أنه هشام، من بعد اثنتين وعشرين سنة من موت هشام، وشهد له خصيان ونسوان، فخطب له على منابر الأندلس، وسفكت الدماء من
--------------------------------------------
৪ - সারাকুস্তার অধিপতি বনু হুদ, আল-পুন্তের বনু কাসিম আল-ফিহরি এবং আল-জাজিরার বনু হাম্মুদ আল-হাসানি।
৫ - কর্ডোবায় উমাইয়াদের মুক্তদাস বনু জাহওয়ার; তাদের আমিরাতের অধীনে জিয়ান, বায়াছা এবং আইদ-এর মতো আরও অন্যান্য শহর অন্তর্ভুক্ত ছিল। আবু আল-হাজম ইবনে জাহওয়ার কর্ডোবায় উত্তম আদর্শের সাথে শাসন পরিচালনা করেছিলেন, যা ঐতিহাসিকদের মুগ্ধ করেছিল এবং তাঁরা এর প্রশংসাও করেছেন। আল-মাক্কারি বলেন, "
… সেই সময়ে আবু আল-হাজম কর্ডোবার নিয়ন্ত্রণ গ্রহণ করেন এবং দৃঢ়তা ও সংকল্পের সাথে এর বিষয়াদি পরিচালনা করেন। তিনি একে এমনভাবে সুসংগঠিত করেন যে ভীত-সন্ত্রস্তরা নিরাপত্তা লাভ করে। তিনি সেই ফিতনা ও বিশৃঙ্খলার আপদ দূর করেন। তাঁর জন্য পথ সুগম হলো এবং তিনি তাঁর লক্ষ্য ও প্রয়োজনসমূহ পূরণ করলেন।"
(১).
এভাবেই সেই জান্নাতসম ভূমি, যা একসময় একটি পতাকার নিচে ঐক্যবদ্ধ ছিল, তা খণ্ডিত হয়ে পড়ল। তওয়াইফ বা ক্ষুদ্র রাজ্যের রাজারা ক্ষমতার জন্য প্রতিযোগিতায় লিপ্ত হলো এবং একে অন্যের হাতে যা ছিল তার প্রতি লালসা পোষণ করতে লাগল। তাদের মধ্যে যুদ্ধ ও ফিতনা ছড়িয়ে পড়ল এবং কেউ কেউ অন্যের বিরুদ্ধে উত্তরের খ্রিষ্টানদের সাহায্য প্রার্থনা করতে শুরু করল। ইবনে হাজম তওয়াইফদের আমলে আন্দালুসের অবস্থার বর্ণনা দিতে গিয়ে এক সাবলীল ভঙ্গিতে বলেন, "আন্দালুসের এক ক্ষুদ্র ভূখণ্ডে আমাদের এখানে চারজন খলিফা একত্রিত হয়েছিল, যাদের প্রত্যেকের জন্য নিজ নিজ এলাকায় খিলাফতের খুতবা পাঠ করা হতো। এটি এমন এক কলঙ্কজনক ঘটনা ছিল যার নজির দেখা যায়নি। তিন দিনের দূরত্বের ব্যবধানে চারজন ব্যক্তি, যারা প্রত্যেকেই নিজেকে খিলাফত ও আমিরুল মুমিনীন উপাধিতে ভূষিত করেছিল। তারা হলেন: সেভিলে খালাফ আল-হুসারি—এই যুক্তিতে যে তিনি হলেন হিশাম, অথচ হিশামের মৃত্যুর বাইশ বছর অতিক্রান্ত হয়েছিল। কতিপয় খোজা ও নারী তার পক্ষে সাক্ষ্য দিয়েছিল। এরপর আন্দালুসের মিম্বরগুলোতে তার নামে খুতবা পাঠ করা হতে লাগল এবং এর ফলে রক্তপাত ঘটল..."
--------------------------------------------