(খণ্ড: ১) খারীদাতুল আজাইব ওয়া ফারীদাতুল গারাইব (পৃষ্ঠা: -)
خريدة العجائب وفريدة الغرائب   (ابن الوردي الحفيد، سراج الدين)

القسم: البلدان والرحلات


الكتاب : خريدة العجائب وفريدة الغرائب

المؤلف : سراج الدين أبو حفص عمر بن المظفر بن الوردي، البكري القرشي، المعري ثم الحلبي (المتوفى : 852هـ)

المنسوب خطأ : للقاضي زين الدين عمر بن الوردي البكري القرشي

المحقق : أنور محمود زناتي - كلية التربية ، جامعة عين شمس

الناشر : مكتبة الثقافة الإسلامية ، القاهرة

الطبعة : الأولى ، 1428 هـ - 2008 م

عدد الصفحات: 480

[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]

تاريخ النشر بالشاملة: 8 ذو الحجة 1431

খারিদাতুল আজায়িব ওয়া ফারিদাতুল গারায়িব   (ইবনুল ওয়ারদী আল-হাফিদ, সিরাজুদ্দীন)

বিভাগ: দেশসমূহ এবং ভ্রমণকাহিনী


বই : খারিদাতুল আজায়িব ওয়া ফারিদাতুল গারায়িব

লেখক : সিরাজুদ্দীন আবু হাফস উমর ইবনুল মুজাফফর ইবনুল ওয়ারদী, আল-বাকরি আল-কুরাশি, আল-মাআরি অতঃপর আল-হালাবি (মৃত্যু : ৮৫২ হিজরি)

ভুলভাবে যার প্রতি নিসবত করা হয় : কাজী জাইনুদ্দীন উমর ইবনুল ওয়ারদী আল-বাকরি আল-কুরাশি

সম্পাদক : আনোয়ার মাহমুদ যানাতি - শিক্ষা অনুষদ , আইন শামস বিশ্ববিদ্যালয়

প্রকাশক : মাকতাবাতুস সাকাফাহ আল-ইসলামিয়্যাহ , কায়রো

সংস্করণ : প্রথম , ১৪২৮ হিজরি - ২০০৮ খ্রিস্টাব্দ

পৃষ্ঠা সংখ্যা: ৪৮০

[বইটির পৃষ্ঠা নম্বর মুদ্রিত কপির অনুরূপ]

শামেলাতে প্রকাশের তারিখ: ৮ জিলহজ ১৪৩১

(খণ্ড: ১) খারীদাতুল আজাইব ওয়া ফারীদাতুল গারাইব (পৃষ্ঠা: -)
ـ[خريدة العجائب وفريدة الغرائب]ـ

المؤلف: سراج الدين أبو حفص عمر بن المظفر بن الوردي، البكري القرشي، المعري ثم الحلبي (المتوفى: 852هـ)

المنسوب خطأ: للقاضي زين الدين عمر بن الوردي البكري القرشي

المحقق: أنور محمود زناتي - كلية التربية، جامعة عين شمس

الناشر: مكتبة الثقافة الإسلامية، القاهرة

الطبعة: الأولى، 1428 هـ - 2008 م

عدد الأجزاء: 1

[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]
[খারীদাতুল আজায়িব ওয়া ফারিদাতুল গারায়িব]

লেখক: সিরাজুদ্দীন আবু হাফস উমর বিন আল-মুজাফফর বিন আল-ওয়ার্দি, আল-বাকরি আল-কুরাশি, আল-মাআরি অতঃপর আল-হালাবি (মৃত্যু: ৮৫২ হিজরি)

ভুলভাবে যার প্রতি সম্বন্ধিত করা হয়: কাজি জাইন উদ্দীন উমর বিন আল-ওয়ার্দি আল-বাকরি আল-কুরাশি

সম্পাদক: আনোয়ার মাহমুদ জানিতি - শিক্ষা অনুষদ, আইন শামস বিশ্ববিদ্যালয়

প্রকাশক: মাকতাবাতুস সাকাফাহ আল-ইসলামিয়্যাহ, কায়রো

সংস্করণ: প্রথম, ১৪২৮ হিজরি - ২০০৮ খ্রিস্টাব্দ

খণ্ডের সংখ্যা: ১

[গ্রন্থের সংখ্যায়ন মুদ্রিত কপির অনুরূপ]
(খণ্ড: ১) খারীদাতুল আজাইব ওয়া ফারীদাতুল গারাইব (পৃষ্ঠা: ৬)
‌‌خريدة لعجائب وفريدة الغرائب لسراج الدين ابن لوردي

ابن الوردي (الجد) :

كانت عائلة ابن الوردي نقطة بارزة في تاريخ الحضارة الاسلامية نشأت بمدينة معرة النعمان (1) ، ورائدها شاعر المعرة وعالمها ومؤرخها القاضي سراج الدين بن الوردي المعري صاحب اللامية الشهيرة:

اِعتزل ِذِكرَ الأغاني والغَزَل … وقُلِ الفَصْلَ وجانب من هَزَلْ

ودَعِ الذكرى لأيام الصبا … فلأيام الصبا نجم أفل

واهجرالخَمرَةَ إن كنت فتى … كيف يسعى في جُنُونٍ من عَقَلْ؟

ليس مَن يَقطَعُ طُرقاً بطلا … إنما مَن يتقي الله البطلْ

جَانِبِ السلطانَ واحذر بَطشَه … لا تُعَانِدْ مَن إذا قال فَعَل

 

‌‌وقد نُسِبَ مخطوط "خريدة العجائب وفريدة الغرائب" خطأ للقاضي زين الدين عمر بن الوردي البكري القرشي، (الجد) وهو في الحقيقة لسراج الدين عمر بن الوردي البكري القرشي (الحفيد) ، والفضل يعود في كشف هذه المسألة في المقام الأول إلى الباحث الأكاديمي السوري محمود السيد الدغيم حيث قال: -.

وهذه النسبة المغلوطة تشكل دليلا على أن أكثرية الناشرين والمحققين والمفهرسين والباحثين العرب لم يصلوا مرتبة الاجتهاد في تحقيق التراث كغيرهم من

--------------------------------------------

(1) معرة النعمان: مدينة كبيرة قديمة مشهورة، من أعمال حمص بين حلب وحماة، ماؤها سن الآبار، وفيها الزيتون الكثير والتين واليها ينتسب الفيلسوف والشاعر الشهير "أبو العلاء المعري".

 

(*) قال مُعِدُّ الكتاب للشاملة: أوردتُ هذا الجزء من مقدمة التحقيق، لبيان نسبة الكتاب إلى مؤلفه
সিরাজুদ্দীন ইবনুল ওয়ার্দীর 'খারীদাতুল আজায়িব ওয়া ফারীদাতুল গারায়িব'

ইবনুল ওয়ার্দী (দাদা):

ইবনুল ওয়ার্দী পরিবার ইসলামী সভ্যতার ইতিহাসে একটি উজ্জ্বল নক্ষত্র ছিল, যা মা'আররাতুন নু'মান শহরে বিকশিত হয়েছিল (১)। এর অগ্রপথিক ছিলেন মা'আররার কবি, আলিম ও ঐতিহাসিক কাজী সিরাজুদ্দীন ইবনুল ওয়ার্দী আল-মা'আররী, যিনি তাঁর বিখ্যাত 'লামিয়া' কাসিদার রচয়িতা:

গান ও প্রণয়গাথার চর্চা বর্জন করো … এবং সত্য কথা বলো ও উপহাস পরিহার করো

যৌবনকালের স্মৃতিচারণ ছেড়ে দাও … কারণ যৌবনকালের নক্ষত্র অস্তমিত হয়েছে

যদি তুমি যুবক হও তবে মদ্যপান ত্যাগ করো … একজন বিবেকবান ব্যক্তি কীভাবে উম্মাদনার পথে ধাবিত হতে পারে?

পথ রুদ্ধকারী কোনো বীর নয় … বরং যে আল্লাহকে ভয় করে সেই প্রকৃত বীর

সুলতান থেকে দূরে থাকো এবং তাঁর ক্রোধ থেকে সতর্ক থাকো … এমন কারো বিরোধিতা করো না যে যা বলে তা-ই করে দেখায়

 

'খারীদাতুল আজায়িব ওয়া ফারীদাতুল গারায়িব' পাণ্ডুলিপিটি ভুলবশত কাজী যাইনুদ্দীন উমর ইবনুল ওয়ার্দী আল-বাকরী আল-কুরাশীর (দাদা) প্রতি নিসবত করা হয়েছে, অথচ এটি মূলত সিরাজুদ্দীন উমর ইবনুল ওয়ার্দী আল-বাকরী আল-কুরাশীর (নাতি) রচনা। এই বিষয়টি উন্মোচনের কৃতিত্ব মূলত সিরীয় প্রাতিষ্ঠানিক গবেষক মাহমুদ আল-সাইয়্যিদ আদ-দুগাইমের, যেখানে তিনি বলেছেন:-

এই ভুল নিসবত বা সম্পৃক্তি এই কথার প্রমাণ বহন করে যে, অধিকাংশ আরব প্রকাশক, গবেষক, সূচিপত্র প্রস্তুতকারী ও অনুসন্ধানকারীগণ ঐতিহ্যবাহী পাণ্ডুলিপি সম্পাদনার ক্ষেত্রে অন্যদের মতো ইজতিহাদের স্তরে পৌঁছাতে পারেননি

--------------------------------------------

(১) মা'আররাতুন নু'মান: এটি একটি প্রাচীন ও সুপরিচিত বৃহৎ শহর, যা হিমস অঞ্চলের অন্তর্গত এবং হালাব (আলেপ্পো) ও হামার মাঝখানে অবস্থিত। এর পানির প্রধান উৎস হলো কূপ। এখানে প্রচুর পরিমাণে জলপাই ও ডুমুর জন্মে এবং বিখ্যাত দার্শনিক ও কবি 'আবু আল-আলা আল-মা'আররী' এই শহরেরই নিসবতধারী বা অধিবাসী ছিলেন।

 

(*) শামেলার গ্রন্থ প্রস্তুতকারী বলেছেন: মূল গ্রন্থটি কার রচনা তা স্পষ্টভাবে তুলে ধরার জন্য আমি পাণ্ডুলিপি সম্পাদনার ভূমিকার এই অংশটুকু এখানে উল্লেখ করেছি।
(খণ্ড: ১) খারীদাতুল আজাইব ওয়া ফারীদাতুল গারাইব (পৃষ্ঠা: ৭)
أبناء الأمم الأخرى، ولكن العرب اكتفوا بالتقليد والاجترار، وقد تكرَّرت الأخطاء في نسبة الكتب إلى غير مؤلفيها في كتب تراثية اخرى جَراء التدليس والتصحيف والتحريف

 

وأخطأ في نسبة كتاب خريدة العجائب إلى القاضي ابن الوردي يوسف سركيس في الصفحة 282 من المجلد الأول من معجم المطبوعات العربية والمعربة. وأخطا في نسبة كتاب خريدة العجائب إلى القاضي ابن الوردي عبد الجبار عبد الرحمن في الصفحة 278 من المجلد الأول من فهرس ذخائر التراث العربي الإسلامي الصادر في العراق سنة 1401 هـ/ 1981 م.

 

‌‌سرج الدين ابن الوردي (الحفيد صاحب المخطوط)

هو: سراج الدين أبو حفص عمر بن المظفر بن الوردي، البكري القرشي، المعري ثم الحلبي، المتوفى سنة (852 هـ/1447 م) وقيل سنة (861 هـ/1457 م) .

كان ابن الوردي الحفيد عالما زراعياً وجغرافيا، وقد ألف كتابا بعنوان: منافع النبات والثمار والبقول والفواكه، وله كتاب بعنوان: فرائض وفوائد، وأشهر كتبه "خريدة العجائب وفريدة الغرائب" ولكن هذا الكتاب منسوب إلى جده القاضي عمر بن الوردي (ت 749 هـ/ 1348 م) . وقد ألف ابن الوردي هذا الكتاب حسب ما ذكره المؤلف سنة 822 هـ/ 1419 م، أي بعد وفاة ابن الوردي الكبير بمدة إحدى وسبعين سنة شمسية.
অন্যান্য জাতির সন্তানরা, কিন্তু আরবরা কেবল অনুকরণ এবং চর্বিতচর্বণেই সন্তুষ্ট ছিল। জালিয়াতি, অনুলিখন প্রমাদ এবং বিকৃতির ফলে অন্যান্য ঐতিহ্যবাহী গ্রন্থেও বইগুলোকে তাদের প্রকৃত লেখক বাদে অন্যদের প্রতি ভুলভাবে আরোপ করার ঘটনা বারবার ঘটেছে।

 

ইউসুফ সারকিস তার 'মু'জাম আল-মাতবুয়াত আল-আরাবিয়্যাহ ওয়াল মুয়াররাবাহ' গ্রন্থের প্রথম খণ্ডের ২৮২ নম্বর পৃষ্ঠায় 'খারীদাতুল আজায়িব' বইটি কাযী ইবনুল ওয়ারদীর প্রতি ভুলভাবে আরোপ করেছেন। এবং আব্দুল জব্বার আব্দুল রহমান ১৯৮১ ঈসায়ী/১৪০১ হিজরী সালে ইরাক থেকে প্রকাশিত 'ফিহরিস যাখাইর আত-তুরাস আল-আরাবী আল-ইসলামী' গ্রন্থের প্রথম খণ্ডের ২৭৮ নম্বর পৃষ্ঠায় 'খারীদাতুল আজায়িব' বইটি কাযী ইবনুল ওয়ারদীর প্রতি ভুলভাবে আরোপ করার ক্ষেত্রে ভুল করেছেন।

 

‌‌সিরাজুদ্দীন ইবনুল ওয়ারদী (পৌত্র, পাণ্ডুলিপির মূল লেখক)

তিনি হলেন: সিরাজুদ্দীন আবু হাফস উমর বিন আল-মুজাফ্ফর বিন আল-ওয়ারদী, আল-বাকরি আল-কুরাশি, আল-মা'আরি অতঃপর আল-হালাবি, যিনি ৮৫২ হিজরী/১৪৪৭ ঈসায়ী সালে মৃত্যুবরণ করেন এবং বলা হয় যে তিনি ৮৬১ হিজরী/১৪৫৭ ঈসায়ী সালে মৃত্যুবরণ করেছেন।

পৌত্র ইবনুল ওয়ারদী ছিলেন একজন কৃষিবিদ এবং ভূগোলবিদ। তিনি 'মানাফিউন নাবাত ওয়াস সামার ওয়াল বাকুল ওয়াল ফাওয়াকিহ' শিরোনামে একটি গ্রন্থ রচনা করেন এবং তার 'ফারায়িদ ওয়া ফাওয়াইদ' নামক আরেকটি গ্রন্থ রয়েছে। তার সবচেয়ে বিখ্যাত গ্রন্থ হলো "খারীদাতুল আজায়িব ওয়া ফারীদাতুল গারায়িব", কিন্তু এই গ্রন্থটি তার পিতামহ কাযী উমর ইবনুল ওয়ারদীর (মৃত্যু ৭৪৯ হিজরী/ ১৩৪৮ ঈসায়ী) প্রতি ভুলভাবে আরোপ করা হয়। লেখকের বর্ণনা অনুযায়ী ইবনুল ওয়ারদী এই গ্রন্থটি ৮২২ হিজরী/ ১৪১৯ ঈসায়ী সালে রচনা করেন, অর্থাৎ প্রবীণ ইবনুল ওয়ারদীর মৃত্যুর দীর্ঘ ৭১ সৌর বছর পর।
(খণ্ড: ১) খারীদাতুল আজাইব ওয়া ফারীদাতুল গারাইব (পৃষ্ঠা: ৮)
والدليل قول المؤلف في مقدمة الكتاب:

"فحينئذٍ أشار إلى الفقير الخامل مَن إشارتُهُ الكريمة محمولة بالطاعة على الرؤوس، وسفارته المستقيمة بين الإمام المعظم والسودان الأعظم قد سطرت في التواريخ والطروس، وهو المقر الأشرف العالي المولوي الأميني الناصحي السيِّدي المالكي المخدومي السيفي شاهين المؤيد، مولانا نائب السلطنة الشريفة بالقلعة "الحلبية" المنصورة الجليلة، أعز الله أنصاره، ورفع درجته وأعلى مناره: أن أضع له دائرةً مشتملة على دائرة الأرض، صغيرةً توضح ما اشتملت عليه من الطول

والعرض، والرفع والخفض؟ ظنا منه- أحسن الله إليه- أني أقوم بهذا الصعب الخطير؟ وأنا والله لست بذلك، والفقير في دائرة هذا العالم أحقر حقير. فأنشدت:

إنَّ المقادير إذا ساعدت … ألحقت العاجزَ بالحازمِ"
এবং এর প্রমাণ হলো গ্রন্থের ভূমিকায় লেখকের বক্তব্য:

"অতঃপর এমন এক ব্যক্তিত্ব এই অখ্যাত ও নগণ্য ব্যক্তির প্রতি ইঙ্গিত করলেন, যাঁর মহৎ ইঙ্গিত আনুগত্যের সাথে মস্তকে ধারণ করা হয় এবং মহান ইমাম ও বিশাল জনগোষ্ঠীর মাঝে যাঁর সুদৃঢ় মধ্যস্থতা ইতিহাস ও পাণ্ডুলিপির পাতায় লিপিবদ্ধ হয়েছে। তিনি হলেন পরম সম্মানিত, উচ্চমর্যাদাশীল, আমাদের অভিভাবক, বিশ্বস্ত, হিতাকাঙ্ক্ষী, মহোদয়, মালিকি মাযহাবের অনুসারী, সেবা পাওয়ার যোগ্য, সাইফী শাহীন আল-মুআইয়্যাদ, বিজয়ী ও মহিমান্বিত 'হালাবি' (আলেপ্পো) দুর্গে আমাদের শরিফ সালতানাতের প্রতিনিধি; আল্লাহ তাঁর সাহায্যকারীদের শক্তিশালী করুন, তাঁর মর্যাদা সুউচ্চ করুন এবং তাঁর কীর্তিকে মহিমান্বিত করুন: (তাঁর নির্দেশটি ছিল) আমি যেন তাঁর জন্য পৃথিবীর পরিমণ্ডল সম্বলিত একটি মানচিত্র তৈরি করি, যা হবে ক্ষুদ্রাকৃতির কিন্তু তাতে পৃথিবীর দ্রাঘিমা

ও অক্ষাংশ এবং উচ্চতা ও নিম্নতার বিষয়গুলো স্পষ্টভাবে ফুটে উঠবে। তিনি—আল্লাহ তাঁর প্রতি কল্যাণ বর্ষণ করুন—এই ধারণা পোষণ করেছিলেন যে, আমি এই কঠিন ও ঝুঁকিপূর্ণ কাজটির আঞ্জাম দিতে পারব? অথচ আল্লাহর কসম, আমি তার উপযুক্ত নই; এই জগতের পরিমণ্ডলে এই নগণ্য ব্যক্তি অত্যন্ত তুচ্ছ। অতঃপর আমি আবৃত্তি করলাম:

যদি নিয়তি সহায় হয় … তবে তা অক্ষমকেও দৃঢ় সংকল্পবানের কাতারে শামিল করে দেয়।"
(খণ্ড: ১) খারীদাতুল আজাইব ওয়া ফারীদাতুল গারাইব (পৃষ্ঠা: ২১)
‌‌المقدمة

بسم الله الرحمن الرحيم

الحمد لله غافر الذنب وقابل التوب شديد العقاب. عالم الغيب، راحم الشيب، منزل الكتاب. ساتر العيب، كاشف الريب، مزلل الصعاب. مغيث الملهوف، دافع الصروف، رب الأرباب. خالق الخلق، باسط الرزق، مسبب الأسباب. مالك الملك، مسخر الفلك، مسير السحاب. رافع السبع الطباق مخيمة على الآفاق تخييم القباب. ساطح الغبراء، على متن الماء، ممسكة بحكمته عن الاضطراب. منها خلقناكم وفيها نعيدكم ومنها نخرجكم يوم الحشر والمآب.

أحمده وهو المحمود بكل لسان ناطق، وأشكره وهو المشكور في المغارب والمشارق.

وأشهد ان لا إله إلا الله لا شريك له، شهادة ركن الإيمان أركانها، وشيد الإتقان بنيانها، ومهد الإذعان أوطانها، وأكد البرهان إدمانها. وأشهد أن سيدنا محمداً عبده ورسوله. المستولي على شانئه بشأنه، ونبيه المفضل بمعاني علومه وبدائع بيانه، ورسوله الصادع بدليله وبرهانه، القائل: زينت لي مشارق الأرض ومغاربها كشفاً واطلاعاً بسره وعيانه صلى الله عليه وعلى آله وأصحابه وأنصاره وأعوانه، صلاة تبلغ من آمن به غاية أمنه وأمانه، وتسكن روعته في الدارين، بعفو الله وغفرانه، وسلم تسليماً كثيراً.
ভূমিকা

পরম করুণাময় অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে।

সকল প্রশংসা আল্লাহর জন্য, যিনি পাপ ক্ষমাকারী, তওবা কবুলকারী এবং কঠোর শাস্তিদাতা। তিনি অদৃশ্য জগতের পরিজ্ঞাত, বার্ধক্যের প্রতি দয়াবান এবং কিতাব অবতীর্ণকারী। দোষত্রুটি গোপনকারী, সন্দেহ দূরকারী এবং কাঠিন্যকে সহজকারী। বিপদগ্রস্তের ত্রাণকর্তা, বিপদাপদ দূরকারী এবং সকল পালনকর্তার পালনকর্তা। সৃষ্টির স্রষ্টা, রিযিক প্রশস্তকারী এবং সকল কার্যকারণের মূল কারণ। রাজত্বের মালিক, জলযানের নিয়ন্ত্রণকারী এবং মেঘমালার পরিচালক। দিগন্তের ওপর গম্বুজের ন্যায় পরিবেষ্টিত সাত আসমানকে তিনি সুউচ্চকারী। পানির উপরিভাগে পৃথিবীর সমতল বিস্তৃতকারী, যা তাঁর প্রজ্ঞার মাধ্যমে প্রকম্পিত হওয়া থেকে সংরক্ষিত। তা থেকেই আমি তোমাদের সৃষ্টি করেছি, তাতেই তোমাদের ফিরিয়ে দেব এবং সেখান থেকেই হাশর ও প্রত্যাবর্তনের দিনে তোমাদের বের করে আনব।

আমি তাঁর প্রশংসা করি, আর তিনি প্রতিটি বাকশক্তি সম্পন্ন রসনার দ্বারা প্রশংসিত; আমি তাঁর শুকরিয়া আদায় করি, আর তিনি পূর্ব ও পশ্চিমে কৃতজ্ঞতাভাজন।

আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, আল্লাহ ছাড়া কোনো উপাস্য নেই, তাঁর কোনো শরিক নেই; এমন সাক্ষ্য যার স্তম্ভসমূহ ঈমানের রুকনসমূহকে সুদৃঢ় করেছে, যার ভিত্তি নিপুণতাকে শক্তিশালী করেছে, যার নিবাস আনুগত্যের পথকে সুগম করেছে এবং যার স্থায়িত্বকে দলিল-প্রমাণ সুনিশ্চিত করেছে। আমি আরও সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, আমাদের নেতা মুহাম্মদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) তাঁর বান্দা ও রাসূল। যিনি তাঁর সুমহান মর্যাদার মাধ্যমে বিদ্বেষ পোষণকারীর ওপর বিজয়ী, তাঁর নবী যিনি তাঁর জ্ঞানের গূঢ় রহস্য ও অপূর্ব বাগ্মিতার মাধ্যমে শ্রেষ্ঠত্বপ্রাপ্ত, এবং তাঁর রাসূল যিনি তাঁর দলিল ও প্রমাণের মাধ্যমে সত্য উন্মোচনকারী; যিনি বলেছেন: "পৃথিবীর পূর্ব ও পশ্চিম প্রান্তসমূহ আমার সামনে উন্মোচিত করা হয়েছে এবং রহস্য ও চাক্ষুষ দর্শনের মাধ্যমে আমাকে তা অবগত করা হয়েছে।" তাঁর ওপর এবং তাঁর পরিবার-পরিজন, সাহাবীগণ, সাহায্যকারী ও সহযোগীদের ওপর আল্লাহর রহমত এবং অগণিত সালাম বর্ষিত হোক; এমন রহমত যা তাঁর প্রতি বিশ্বাসীদের পরম নিরাপত্তা ও প্রশান্তির শিখরে পৌঁছে দেয় এবং আল্লাহর ক্ষমা ও মার্জনার মাধ্যমে উভয় জগতে তাদের ভীতি দূর করে। অগণিত শান্তি বর্ষিত হোক।
(খণ্ড: ১) খারীদাতুল আজাইব ওয়া ফারীদাতুল গারাইব (পৃষ্ঠা: ২২)
وبعد: فإن خالق الخلق والبريئة، ومن له الإرادة والمشيئة، قد ميز الملوك والرعاة عمن دونهم من الرعية، فلذلك قد خصوا بالهمم العلية، والأخلاق السامية الزكية، ورغبوا في الاطلاع على الأمور الغامضة الخفية، ليكونوا فيما ندبوا له من الاسترعاء على بيضاء نقية، ويحصلوا من أخبار العالم على الأشياء الصادقة الجلية، فحينئذ أشار إلى الفقير الخامل من إشارته الكريمة محمولة بالطاعة على الرؤوس، وسفارته المستقيمة بين الإمام المعظم والسودان الأعظم قد سطرت في التواريخ والطروس وهو المقر الأشرف العالي المولوي الأميني الناصحي السيدي المالكي المخدومي السيفي شاهين المؤيد، مولانا نائب السلطنة الشريفة بالقلعة المنصورة الجليلة، أعز الله أنصاره؛ ورفع درجته وأعلى مناره إن أضع له دائرة مشتملة على دائرة الأرض، صغيرة توضح ما اشتملت عليه من الطول والعرض، والرفع والخفض؛ ظناً منه أحسن الله إليه أني أقوم بهذا الصعب الخطير؛ وأنا والله لست بذلك، والفقير في دائرة هذا العالم أحقر حقير. فأنشدت:

إن المقادير إذا ساعدت … ألحقت العاجز بالحازم

وتوسلت إلى رب الأرباب ومذلل الصعاب؛ وابتهلت إليه ابتهال المستغيث المصاب. ففتح سبحانة من فيضان لطفه أحسن باب؛ وسهل بامتناع عطفه ذلك الصعب المهاب؛ ويسر برأفته ما لم يخطر في بال وحساب؛ فنهضت مبادراً إلى السجود شاكراً لذي الإنعام والجود. ثم أقبلت على مطالعة حكماء الأنام، وتصانيف علماء الهيئة الأعلام؛ كشرح التذكرة لنصر الدين الطوسي، وجعفر الأنبياء
এরপর: নিশ্চয়ই সৃষ্টিজগত ও সমস্ত প্রাণীকুলের স্রষ্টা এবং ইচ্ছা ও সংকল্পের মালিক আল্লাহ তাআলা রাজা ও শাসকবর্গকে তাঁদের প্রজাদের থেকে স্বতন্ত্র বৈশিষ্ট্য দান করেছেন। সেই কারণে তাঁদেরকে উচ্চাকাঙ্ক্ষা এবং মহৎ ও পবিত্র চরিত্রে ভূষিত করা হয়েছে। তাঁরা রহস্যময় ও নিভৃত বিষয়াদি সম্পর্কে অবগত হওয়ার প্রতি আগ্রহী হয়েছেন, যেন তাঁরা যে মহান প্রজাপালনের দায়িত্বে নিয়োজিত হয়েছেন তাতে সুষ্পষ্ট ও নির্মল ভিত্তির ওপর প্রতিষ্ঠিত হতে পারেন এবং বিশ্বচরাচরের সংবাদসমূহ থেকে সত্য ও দিবালোকের মতো স্পষ্ট বিষয়াবলি অর্জন করতে পারেন। এমতাবস্থায় তিনি এই অখ্যাত দরিদ্রের প্রতি তাঁর মহান নির্দেশ প্রদান করেন, যা আনুগত্যের সাথে মস্তকে ধারণ করা হয়েছে। মহান ইমাম এবং সর্বশ্রেষ্ঠ সূদানের মধ্যে তাঁর সুপ্রতিষ্ঠিত দূতিয়ালি ইতিহাস ও গ্রন্থসমূহে লিপিবদ্ধ রয়েছে। তিনি হলেন অত্যন্ত মর্যাদাবান, উচ্চপদস্থ, অভিভাবক, বিশ্বস্ত, হিতাকাঙ্ক্ষী, মহোদয়, মখদুমী, সাইফী শাহীন আল-মুয়াইয়্যাদী; আমাদের মহানুভব ব্যক্তি, যিনি মহিমান্বিত মনসুর দুর্গের সম্মানিত সালতানাতের প্রতিনিধি—আল্লাহ তাঁর সাহায্যকারীদের সম্মানিত করুন, তাঁর মর্যাদা বৃদ্ধি করুন এবং তাঁর সুখ্যাতিকে সমুন্নত করুন। তিনি ইচ্ছা প্রকাশ করেছেন যেন আমি তাঁর জন্য পৃথিবীর মানচিত্র সম্বলিত একটি বৃত্তাকার নকশা তৈরি করি, যা আকারে ছোট হলেও তাতে পৃথিবীর দৈর্ঘ্য ও প্রস্থ এবং উচ্চতা ও নিম্নতা সংক্রান্ত যা কিছু রয়েছে তা স্পষ্টভাবে ফুটে ওঠে। তাঁর ধারণা ছিল—আল্লাহ তাঁর প্রতি কল্যাণ করুন—যে আমি এই কঠিন ও গুরুত্বপূর্ণ কাজটি সম্পন্ন করতে সক্ষম হব; অথচ আল্লাহর কসম, আমি তার যোগ্য নই, বরং এই জগতের চক্রে আমি অতি নগণ্য এক নিঃস্ব ব্যক্তি। তাই আমি আবৃত্তি করলাম:

তাকদির যদি সহায় হয় … তবে অক্ষম ব্যক্তিও সংকল্পবানের সমকক্ষ হয়ে যায়।

আমি প্রভুদের প্রভু এবং সকল কঠিন কাজ সহজকারীর নিকট অসিলা প্রার্থনা করলাম এবং তাঁর কাছে বিপন্ন আর্তনাদকারীর ন্যায় বিনীত প্রার্থনা জানালাম। ফলে পবিত্র সত্তা তাঁর অসীম করুণার প্রবাহ থেকে সর্বোত্তম দ্বার উন্মুক্ত করে দিলেন এবং তাঁর অনুগ্রহের মাধ্যমে সেই ভীতিপ্রদ কঠিন বিষয়কে সহজসাধ্য করে দিলেন। তাঁর মমতায় তিনি এমন সব বিষয় সহজ করে দিলেন যা কল্পনা বা হিসাবের বাইরে ছিল। অতঃপর আমি নেয়ামত ও দানশীলতার অধিপতির কৃতজ্ঞতায় সিজদায় লুটিয়ে পড়লাম। এরপর আমি পৃথিবীর প্রজ্ঞাবান ব্যক্তিদের দর্শন এবং জ্যোতির্বিজ্ঞান বিষয়ক প্রখ্যাত আলেমদের রচনাবলি অধ্যয়নে মনোনিবেশ করলাম; যেমন নাসিরুদ্দিন তুসীর শরহে তাযকিরা এবং জাফর আল-আম্বিয়া।
(খণ্ড: ১) খারীদাতুল আজাইব ওয়া ফারীদাতুল গারাইব (পৃষ্ঠা: ২৩)
لبطليموس، وتقويم البلاد للبلخي؛ ومروج الذهب للمسعودي، وعجائب المخلوقات لابن الأثير الجزري والمسالك والممالك للمراكشي؛ وكتاب
টলেমি-র, এবং আল-বালখির তাকভীমূল বিলাদ; এবং আল-মাসউদির মুরুজুজ জাহাব, এবং ইবনুল আসির আল-জাজরির আজায়িবুল মাখলুকাত এবং আল-মাররাকুশির আল-মাসালিক ওয়াল মামালিক; এবং কিতাব
(খণ্ড: ১) খারীদাতুল আজাইব ওয়া ফারীদাতুল গারাইব (পৃষ্ঠা: ২৪)
الابتداء، وغيرها من الكتب المعينة على تحصيل المطلوب.

ومعلوم أن الكتب الموضوعة بين الناس في هذا الغرض لم تخل من خلل والتباس؛ فإن ذلك أمر موهوم، لكنه وهم حسن. وكما قيل: بين اليقين والوهم بون كما بين اليقظة والوسن. والله سبحانه هو المتجاوز عن الخطأ والخلل والخطل، والموفق لصالح القول والعمل. وقد وضعت دائرة، مستعيناً بالله تعالى، على صورة شكل الأرض في الطول والعرض، بأقاليمها وجهاتها، وبلدانها، وصفاتها وعروضها وهيئاتها، وأقطارها وممالكها، وطرقها ومسالكها، ومفاوزها ومهالكها، وعامرها وغامرها، وجبالها ورمالها، وعجائبها وغرائبها، وموقع كل مملكة وإقليم من الأخرى، وذكر ما بينهما من المتالف والمعاطب براً وبحراً، وذكر الأمم المقيمة في الجهات والأقطار طراً، وسد ذي القرنين في سالف الأحقاب على يأجوج ومأجوج كما في نص الكتاب، وسميته: خريدة العجائب وفريدة الغرائب.

وبالله سبحانه الاعتصام، وهو حسبي على الدوام، ومنه أسأل السداد والتوفيق، فإنه أهل الإجابة والتحقيق. وهذه الدائرة المذكورة.
ইবতিদা (শুরু) এবং কাঙ্ক্ষিত লক্ষ্য অর্জনে সহায়ক অন্যান্য গ্রন্থসমূহ।

এটা সবার জানা যে, এই উদ্দেশ্যে মানুষের মধ্যে প্রচলিত গ্রন্থগুলো ভুলভ্রান্তি ও অস্পষ্টতা থেকে মুক্ত নয়; কারণ এটি একটি কল্পনামূলক বিষয়, তবে এটি একটি উত্তম কল্পনা। যেমন বলা হয়েছে: নিশ্চয়তা এবং কল্পনার মধ্যে ব্যবধান হলো জাগরণ এবং তন্দ্রার মধ্যে ব্যবধানের মতো। মহান আল্লাহ ভুলভ্রান্তি ও অসারতা ক্ষমাশীল এবং নেক কথা ও কাজের তাওফীকদাতা। আমি মহান আল্লাহর সাহায্য নিয়ে পৃথিবীর আকৃতির দৈর্ঘ্য ও প্রস্থের ওপর একটি মানচিত্র অঙ্কন করেছি, যার মধ্যে রয়েছে এর বিভিন্ন অঞ্চল ও দিকসমূহ, এর দেশসমূহ, সেগুলোর বৈশিষ্ট্য, অক্ষাংশ ও অবস্থা, এর প্রান্তসমূহ ও সাম্রাজ্যসমূহ, এর রাস্তা ও পথসমূহ, এর মরুভূমি ও ধ্বংসাত্মক স্থানসমূহ, এর জনবসতিপূর্ণ ও জনশূন্য এলাকা, এর পাহাড় ও বালুকাভূমি, এর বিস্ময়কর ও অদ্ভুত বিষয়সমূহ, এক সাম্রাজ্য ও অঞ্চলের বিপরীতে অন্যটির অবস্থান, স্থল ও জলপথে সেগুলোর মধ্যবর্তী ধ্বংসাত্মক ও বিপজ্জনক স্থানের বর্ণনা, পৃথিবীর বিভিন্ন প্রান্ত ও দিকে বসবাসকারী সকল জাতির বর্ণনা এবং কিতাবের বর্ণনা অনুযায়ী প্রাচীনকালে ইয়াজুজ ও মাজুজের বিরুদ্ধে যুল-কারনাইনের নির্মিত প্রাচীর। আমি এর নামকরণ করেছি: 'খারীদাতুল আজায়িব ওয়া ফারীদাতুল গারায়িব' (অপূর্ব বিস্ময় ও অনন্য অদ্ভুত বিষয়সমূহ)।

মহান আল্লাহর কাছেই আশ্রয় প্রার্থনা করি, তিনিই সর্বদা আমার জন্য যথেষ্ট, এবং আমি তাঁর কাছেই সঠিক পথ ও তাওফীক কামনা করি, কারণ তিনি প্রার্থনা কবুলকারী ও বাস্তবায়নকারী। আর এটিই সেই উল্লিখিত মানচিত্র।
(খণ্ড: ১) খারীদাতুল আজাইব ওয়া ফারীদাতুল গারাইব (পৃষ্ঠা: ২৫)
وهذه رسالة لطيفة باهرة كالشرح في توضيح ما في هذه الدائرة، تبين للناظر فيها أحوال الجبال، والجهات، والبحار والفلوات، وما اشتملت عليه من الممالك، مستوعباً فيها لذلك، إن شاء الله تعالى.

ولنشرع أولاً في ذكر جبل قاف: قال الله عز وجل في كتابه العزيز " ق، والقرآنِ المَجيدِ " وفي تفسير " ق " ستة أقوال للمفسرين، منها: أنه جبل من زبرجدة
এটি একটি সূক্ষ্ম ও চমৎকার রিসালাহ (পুস্তিকা) যা এই মানচিত্রের বিষয়বস্তু স্পষ্ট করার ক্ষেত্রে ব্যাখ্যাস্বরূপ; যা এর পাঠকের নিকট পাহাড়-পর্বত, দিকসমূহ, সমুদ্র ও মরুপ্রান্তর এবং এটি যে সকল রাজ্যকে বেষ্টন করে আছে তার অবস্থাসমূহ বর্ণনা করবে, ইনশাআল্লাহ তাআলা এটি এসব বিষয়কে পূর্ণাঙ্গভাবে ধারণ করবে।

আমরা প্রথমেই ক্বাফ পাহাড়ের বর্ণনায় প্রবৃত্ত হচ্ছি: মহান আল্লাহ তাঁর সুমহান কিতাবে ইরশাদ করেছেন, "ক্বাফ, শপথ মহিমান্বিত কুরআনের।" আর "ক্বাফ"-এর তাফসীরে মুফাসসিরগণের ছয়টি অভিমত রয়েছে, তন্মধ্যে একটি হলো: এটি একটি যাবারজাদ (সবুজ মণি) পাথরের পাহাড়।
(খণ্ড: ১) খারীদাতুল আজাইব ওয়া ফারীদাতুল গারাইব (পৃষ্ঠা: ২৬)
خضراء، قاله أبو صالح عن ابن عباس رضي الله عنهما. وروى عكرمة عن ابن عباس أيضاً رضي الله عنهما قال: خلق الله جبلاً يقال له قاف، محيطاً بالعالم السفلي، وعروقه متصلة بالصخرة التي عليها الأرض، وهي الصخرة التي ذكرها لقمان عليه السلام حيث قال: " يا بُنّي إنها إن تك مثقالَ حبّةٍ من خردلٍ فتكُنْ في صخرة أو في السموات أو في الأرض " الآية. فإذا أراد الله تعالى أن يزلزل قرية في الأرض أمر ذلك الجبل أن يحرك العرق الذي يلي تلك القرية، فتزلزل في الوقت. وقال مجاهد: هو جبل محيط بالأرض والبحار. وروي عن الضحاك أنه زمردة
সবুজ; এটি ইবনে আব্বাস (রাদিয়াল্লাহু আনহুমা) থেকে আবু সালিহ বর্ণনা করেছেন। আর ইকরিমাও ইবনে আব্বাস (রাদিয়াল্লাহু আনহুমা) থেকে বর্ণনা করেছেন যে, তিনি বলেছেন: আল্লাহ একটি পাহাড় সৃষ্টি করেছেন যাকে 'কাফ' বলা হয়, যা নিম্নজগতকে পরিবেষ্টন করে আছে এবং এর শিকড়গুলো সেই পাথরের সাথে সংযুক্ত যার ওপর পৃথিবী অবস্থিত। আর এটিই সেই পাথর যার কথা লোকমান (আলাইহিস সালাম) উল্লেখ করে বলেছিলেন: "হে বৎস, নিশ্চয়ই তা (আমল) যদি সরিষার দানা পরিমাণও হয় এবং তা যদি থাকে পাথরের ভেতরে অথবা আসমানসমূহে কিংবা জমিনের ভেতরে..." (আয়াত)। অতঃপর আল্লাহ তাআলা যখন জমিনের কোনো জনপদে ভূমিকম্প ঘটাতে চান, তখন তিনি সেই পাহাড়কে সেই জনপদ সংলগ্ন শিকড়টি নাড়ানোর নির্দেশ দেন, ফলে তৎক্ষণাৎ সেখানে ভূমিকম্প হয়। মুজাহিদ বলেন: এটি পৃথিবী ও সমুদ্রসমূহকে পরিবেষ্টনকারী একটি পাহাড়। যাহহাক থেকে বর্ণিত হয়েছে যে, এটি একটি পান্না।
(খণ্ড: ১) খারীদাতুল আজাইব ওয়া ফারীদাতুল গারাইব (পৃষ্ঠা: ২৭)
خضراء، وعليه كنفا السماء كالخيمة المسبلة. وخضرة السماء منه. والله سبحانه وتعالى أعلم.

وأما ذكر البحار: فأعظم بحر على وجه الأرض: المحيط المطوق بها من سائر جهاتها، وليس له قرار ولا ساحل إلا من جهة الأرض، وساحله من جهة الخلو البحر المظلم، وهو محيط بالمحيط كإحاطة المحيط بالأرض، وظلمته من بعده عن مطلع الشمس ومغربها، وقرب قراره. والحكمة في كون ماء البحر ملحاً أُجاجاً لا يذاق ولا يساغ، لئلا ينتن من تقادم الدهور والأزمان، وعلى ممر الأحقاب والأحيان، فيهلك من نتنه العالم الأرضي، ولو كان عذباً لكان كذلك. ألا ترى إلى العين التي ينظر بها الإنسان الأرض والسماء والعالم والألوان، وهي شحمة مغمورة في الدمع، وهو ماء مالح، والشحم لا يصان إلا بالملح فكان الدمع مالحاً لذلك. المعنى: قاف محيط بالكل، كما تقدم. وفي الظلمات: عين الحياة، التي شرب الخضر عليه السلام منها، وهي في القطعة بين المغرب والجنوب.
সবুজ, এবং এর ওপর আকাশের প্রান্তসমূহ প্রসারিত তাঁবুর ন্যায় ঝুলে আছে। আর আকাশের সবুজ আভা তা থেকেই উৎসারিত। আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআলা এ বিষয়ে সবচেয়ে ভালো জানেন।

আর সমুদ্রসমূহের বর্ণনা প্রসঙ্গে: ভূপৃষ্ঠের সবচেয়ে বড় সমুদ্র হলো সেই মহাসমুদ্র যা সব দিক থেকে পৃথিবীকে বেষ্টন করে রেখেছে। স্থলভাগের দিক ছাড়া এর কোনো তলদেশ বা তটরেখা নেই। আর এর নির্জন অংশের তটরেখা হলো অন্ধকার সমুদ্র, যা মহাসমুদ্রকে ঠিক সেভাবেই বেষ্টন করে আছে যেভাবে মহাসমুদ্র পৃথিবীকে বেষ্টন করে রেখেছে। সূর্যোদয় ও সূর্যাস্তের স্থান থেকে দূরে হওয়ায় এবং এর তলদেশ নিকটবর্তী হওয়ার কারণে এটি অন্ধকারাচ্ছন্ন। সমুদ্রের পানি লবণাক্ত ও তিক্ত হওয়ার রহস্য হলো—যাতে তা আস্বাদন ও গলাধকরণ করা না যায়—যাতে কালক্রমে এবং দীর্ঘ সময়ের ব্যবধানে তা পচে না যায়। অন্যথায় এর দুর্গন্ধের কারণে পার্থিব জগত ধ্বংস হয়ে যেত। যদি তা সুপেয় হতো, তবে পচনই ধরত। আপনি কি সেই চোখের দিকে তাকান না যা দিয়ে মানুষ পৃথিবী, আকাশ, জগত ও বর্ণরাজি দেখে? এটি মূলত অশ্রুতে নিমজ্জিত একটি চর্বি পিণ্ড। অশ্রু হলো লবণাক্ত পানি; আর চর্বি কেবল লবণের মাধ্যমেই সংরক্ষিত থাকে, তাই অশ্রুকে লবণাক্ত করা হয়েছে। এর অর্থ হলো: 'কাফ' পর্বত সবকিছুকে পরিবেষ্টন করে আছে, যা ইতিপূর্বে উল্লেখ করা হয়েছে। আর অন্ধকারের মধ্যে রয়েছে জীবনের ঝর্ণাধারা, যেখান থেকে খিজির আলাইহিস সালাম পান করেছিলেন; এটি পশ্চিম ও দক্ষিণ দিকের মধ্যবর্তী কোনো এক অংশে অবস্থিত।
(খণ্ড: ১) খারীদাতুল আজাইব ওয়া ফারীদাতুল গারাইব (পৃষ্ঠা: ২৮)
وفي المحيط: الأرض التي فيها عرش إبليس اللعين، هو في التي بين المشرق والمغرب والجنوب، وهو إلى المشرق أقرب في مقابلة الربع الخراب من الأرض. والله أعلم.

وأما الخلجان الآخذة من المحيط فهي ثلاثة: أعظمها وأهولها بحر فارس، وهو البحر الآخذ من المحيط الشرقي من حد أرض بلاد الصين إلى لسان القلزم الذي أغرق الله فيه فرعون، وضرب لموسى وقومه فيه طريقاً يبساً، ثم بحر
এবং ‘মুহিত’ গ্রন্থে বর্ণিত: যে ভূমিতে অভিশপ্ত ইবলিসের আরশ রয়েছে, তা পূর্ব, পশ্চিম এবং দক্ষিণের মধ্যবর্তী স্থানে অবস্থিত। আর তা পৃথিবীর জনশূন্য এক-চতুর্থাংশ এলাকার বিপরীতে পূর্ব দিকের অধিক নিকটবর্তী। আর আল্লাহই ভালো জানেন।

আর মহাসমুদ্র থেকে নির্গত উপসাগরসমূহ তিনটি: সেগুলোর মধ্যে সর্ববৃহৎ ও সবচেয়ে ভয়াবহ হলো পারস্য সাগর। এটি সেই সাগর যা পূর্ব মহাসাগর থেকে চীন ভূখণ্ডের সীমানা হয়ে কুলজুমের (লোহিত সাগরের) সেই সংকীর্ণ অংশ পর্যন্ত বিস্তৃত, যেখানে আল্লাহ ফেরাউনকে ডুবিয়ে মেরেছিলেন এবং মুসা ও তাঁর সম্প্রদায়ের জন্য সেখানে একটি শুষ্ক পথ তৈরি করে দিয়েছিলেন। অতঃপর সাগর
(খণ্ড: ১) খারীদাতুল আজাইব ওয়া ফারীদাতুল গারাইব (পৃষ্ঠা: ২৯)
الروم الآخذ من المحيط الغربي من حد الأندلس والجزيرة الخضراء، إلى أن يخالط خليج قسطنطينية. فأما إذا قطعت من لسان القلزم إلى حد الصين على حد مستقيم، كان مقدار تلك المسافة نحو مائتي مرحلة. وكذلك إذا شئت أن تبقطع من القلزم إلى أقصى حد بالمغرب على خط مستقيم، كان نحو مائة وثمانين مرحلة، وإذا
রোম সাগর যা আন্দালুস ও আল-জাজিরাতুল খাদরার সীমান্ত সংলগ্ন পশ্চিম মহাসাগর হতে কুস্তুনতুনিয়া উপসাগরের সঙ্গমস্থল পর্যন্ত বিস্তৃত। পক্ষান্তরে, যদি কুলজুমের প্রান্ত হতে চীনের সীমান্ত পর্যন্ত সরলরেখায় পথ অতিক্রম করা হয়, তবে সেই দূরত্বের পরিমাণ হবে প্রায় দুইশত পর্যায়। তদ্রূপ যদি কেউ কুলজুম হতে মাগরিবের দূরতম সীমান্ত পর্যন্ত সরলরেখায় পথ অতিক্রম করতে চায়, তবে তা হবে প্রায় একশত আশি পর্যায়; এবং যখন...
(খণ্ড: ১) খারীদাতুল আজাইব ওয়া ফারীদাতুল গারাইব (পৃষ্ঠা: ৩০)
قطعت من القلزم إلى حد العراق في البرية على خط مستقيم، وشققت أرض السماوة، ألفيته نحو شهر.

ومن العراق إلى نهر بلخ نحو شهرين، ومن نهر بلخ إلى آخر بلاد الإسلام في حد فرغانة نيف وعشرون مرحلة، ومن هذا المكان إلى بحر المحيط من آخر عمل الصين نحو شهرين، هذا في البر.

وأما من أراد قطع هذه المسافة من القلزم إلى الصين في البحر طالت المسافة عليه، وحصلت له المشقة العظيمة، لكثرة المعاطف والتواء الطرق واختلاف الرياح في هذه البحور، وأما بحر الروم فإنه يأخذ من المحيط الغربي، كما تقدم بين الأندلس وطنجة. حتى ينتهي إلى ساحل بلاد الشام، ومقدار ما ذكر في المسافة أربعة أشهر. وهذا البحر أحسن استقامة واستواء من بحر فارس، وذلك أنك إذا أخذت من فم هذا الخليج، يعني من مبدئه، إلى المحيط أتتك ريح واحدة إلى أكثر هذا البحر. وبين القلزم الذي هو لسان بحر فارس وبين بحر الروم، على سمت القبلة، أربع مراحل. وزعم بعض المفسرين في قوله تعالى: " بينهما برزَخٌ لا يَبْغيان " أنه هذا الموضع.
আমি কুলজুম থেকে ইরাকের সীমান্ত পর্যন্ত মরুভূমির মধ্য দিয়ে সোজা পথে পাড়ি দিয়েছি এবং সামাওয়াহর ভূমি অতিক্রম করেছি; আমি এটি প্রায় এক মাসের পথ হিসেবে পেয়েছি।

আর ইরাক থেকে বলখ নদী পর্যন্ত প্রায় দুই মাস, এবং বলখ নদী থেকে ফারগানার সীমান্তে মুসলিম ভূখণ্ডের শেষ সীমা পর্যন্ত বিশটিরও বেশি মঞ্জিল, আর এই স্থান থেকে চীনের প্রশাসনিক সীমানার শেষ প্রান্তের মহাসমুদ্র পর্যন্ত প্রায় দুই মাস; এটি হলো স্থলপথের হিসাব।

পক্ষান্তরে যে ব্যক্তি কুলজুম থেকে চীন পর্যন্ত এই দূরত্ব সমুদ্রপথে পাড়ি দিতে চায়, তার জন্য পথ দীর্ঘ হয়ে যায় এবং তাকে চরম কষ্টের সম্মুখীন হতে হয়; কারণ এই সমুদ্রগুলোতে প্রচুর বাঁক, আঁকাবাঁকা পথ এবং বাতাসের বিভিন্নমুখী পরিবর্তন রয়েছে। আর রোম সাগর সম্পর্কে বলা যায় যে, তা পশ্চিম মহাসাগর থেকে শুরু হয়েছে, যেমনটি আগে আন্দালুস ও তাঞ্জিয়ার মধ্যবর্তী বর্ণনায় এসেছে, যা শাম দেশের উপকূল পর্যন্ত গিয়ে শেষ হয়েছে; এই দূরত্বের পরিমাণ চার মাস বলে উল্লেখ করা হয়েছে। আর এই সমুদ্রটি পারস্য সাগরের তুলনায় অধিকতর সোজা ও সমতল। কারণ আপনি যদি এই খাড়ির মুখ থেকে অর্থাৎ এর শুরু থেকে মহাসমুদ্রের দিকে যাত্রা করেন, তবে এই সমুদ্রের অধিকাংশ স্থানে আপনি একমুখী বাতাস পাবেন। আর কুলজুম, যা পারস্য সাগরের একটি প্রবেশমুখ, এবং রোম সাগরের মধ্যবর্তী দূরত্ব কিবলার দিকে চার মঞ্জিল। মহান আল্লাহর বাণী: "উভয়ের মাঝখানে রয়েছে এক আড়াল যা তারা অতিক্রম করতে পারে না"—এর ব্যাখ্যায় কোনো কোনো মুফাসসির দাবি করেছেন যে, এটিই সেই স্থান।
(খণ্ড: ১) খারীদাতুল আজাইব ওয়া ফারীদাতুল গারাইব (পৃষ্ঠা: ৩১)
‌‌فصل في ذكر المسافات

فمن مصر إلى أقصى الغرب نحو مائة وثلاثين مرحلة، فكان ما بين أقصى المغرب وأقصاها بالمشرق نحو أربعمائة مرحلة. وأما عرضها من أقصاها في حد الشمال إلى أقصاها في حد الجنوب فإنك تأخذ من ساحل البحر المحيط حتى ينتهي إلى يأجوج ومأجوج ثم يمر على الصقالبة وتقطع أرض البلغار
দূরত্বের বিবরণে একটি পরিচ্ছেদ

মিসর থেকে দূরতম পশ্চিম পর্যন্ত দূরত্ব প্রায় একশ ত্রিশ মঞ্জিল। সুতরাং দূরতম পশ্চিম এবং সুদূর পূর্বের মধ্যবর্তী দূরত্ব প্রায় চারশ মঞ্জিল। আর এর প্রস্থের ক্ষেত্রে, উত্তর প্রান্তের শেষ সীমা থেকে দক্ষিণ প্রান্তের শেষ সীমা পর্যন্ত পরিব্যাপ্তি হলো— তুমি পরিবেষ্টিত সমুদ্রের উপকূল থেকে শুরু করবে যা ইয়াজুজ ও মাজুজ পর্যন্ত গিয়ে শেষ হয়, অতপর তা সাকালাবা অঞ্চল অতিক্রম করে এবং বুলগেরীয় ভূমিকে ছেদ করে।
(খণ্ড: ১) খারীদাতুল আজাইব ওয়া ফারীদাতুল গারাইব (পৃষ্ঠা: ৩২)
الداخلة وتمضي في بلاد الروم إلى الشام وأرض مصر والنوبة، ثم تمتد في برية بين بلاد السودان وبلاد الزنج حتى تنتهي إلى البحر المحيط. فهذا خط ما بين جنوب الأرض وشمالها.

وأما مسافة هذه الأرض وهذا الخط فمن ناحية يأجوج ومأجوج إلى بلغار وأرض الصقالبة نحو أربعين مرحلة، ومن أرض الصقالبة في بلد الروم إلى الشام نحو ستين مرحلة، ومن أرض الشام إلى أرض مصر نحو ثلاثين مرحلة، ومنها إلى أقصى النوبة نحو ثمانين مرحلة حتى تنتهي إلى هذه البرية. فذلك مائتان وعشر مراحل كلها عامرة.

وأما ما بين يأجوج ومأجوج والبحر المحيط في الشمال، وما بين براري السودان والبحر المحيط في الجنوب، فقفر خراب، فليس فيه عمارة ولا حيوان ولا نبات ولا يعلم مسافة هاتين البريتين إلى المحيط كم هي. وذلك أن سلوكها غير ممكن لفرط البرد الذي يمنع من العمارة والحياة في الشمال وفرط الحر المانع من العمارة والحياة في الجنوب. وجميع ما بين الصين والغرب فمعمور كله والبحر المحيط محتف به كالطوق ويأخذ البحر الرومي من المحيط ويصب فيه ويأخذ البحر الفارسي من المحيط أيضاً ولكن لا يصب فيه.
অভ্যন্তরীণ এবং যা রোম দেশ হয়ে শাম, মিশর ও নুবিয়া পর্যন্ত চলে যায়, এরপর সুদান ও জাঞ্জ দেশের মধ্যবর্তী মরুভূমির মধ্য দিয়ে বিস্তৃত হয়ে মহাসাগর পর্যন্ত গিয়ে শেষ হয়। এটিই হলো পৃথিবীর দক্ষিণ ও উত্তরের মধ্যবর্তী রেখা।

আর এই ভূখণ্ড ও এই রেখার দূরত্ব হচ্ছে ইয়াজুজ ও মাজুজ থেকে বুলগার ও সাকালিবা ভূমি পর্যন্ত প্রায় চল্লিশ মানজিল, আর সাকালিবা ভূমি থেকে রোম দেশ হয়ে শাম পর্যন্ত প্রায় ষাট মানজিল, শাম থেকে মিশর পর্যন্ত প্রায় ত্রিশ মানজিল এবং সেখান থেকে নুবিয়ার শেষ প্রান্ত পর্যন্ত প্রায় আশি মানজিল, যতক্ষণ না এই মরুভূমি পর্যন্ত পৌঁছে যায়। সুতরাং এটি মোট দুইশত দশ মানজিল, যার পুরোটাই জনবসতিপূর্ণ।

আর উত্তরে ইয়াজুজ ও মাজুজ এবং মহাসাগরের মধ্যবর্তী স্থান এবং দক্ষিণে সুদানের মরুভূমি ও মহাসাগরের মধ্যবর্তী স্থান জনশূন্য ও পরিত্যক্ত; সেখানে কোনো জনবসতি, জীবজন্তু বা উদ্ভিদ নেই এবং মহাসাগর পর্যন্ত এই দুই মরুভূমির দূরত্ব কত তা জানা নেই। কারণ সেখানে যাতায়াত করা সম্ভব নয়; উত্তরের অতিরিক্ত শীত জনবসতি ও জীবনধারণকে বাধাগ্রস্ত করে এবং দক্ষিণের অতিরিক্ত গরম জনবসতি ও জীবনধারণে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করে। চীন এবং পশ্চিমের মধ্যবর্তী সমগ্র অঞ্চলই আবাদকৃত এবং মহাসাগর একে কুণ্ডলীর মতো ঘিরে রেখেছে। আর রোম সাগর মহাসাগর থেকে উৎপত্তি লাভ করে তাতেই গিয়ে মেশে এবং পারস্য সাগরও মহাসাগর থেকে উৎপত্তি লাভ করে, কিন্তু তা সেখানে গিয়ে মেশে না।
(খণ্ড: ১) খারীদাতুল আজাইব ওয়া ফারীদাতুল গারাইব (পৃষ্ঠা: ৩৩)
وأما بحر الخزر فليس يأخذ من المحيط ولا من غيره شيئاً أصلاً غير أنه مخلوق من مكانه من غير مادة، لكن يصب المحيط بواسطة خليج القسطنطينية. وهو بحر هائل لو سار السائر على ساحله من الخزر على أرض الديلم وطبرستان وجرجان ومفازة سياه كوه لعاد إلى المكان الذي سار منه من غير أن يمنعه مانع إلا نهراً يقطع فيه. وأما بحيرة خوارزم فكذلك غير أن لا مصب لها في المحيط فهذه الأبحر الأربعة العظام التي على وجه الأرض.

وفي أراضي الزنج وبلدانهم خلجان تأخذ من المحيط، وكذلك من وراء أرض الروم خلجان وبحار لا تذكر لقصورها عن هذه البحار وكثرتها. ويأخذ من البحر
পক্ষান্তরে খাযার সাগর (কাস্পিয়ান) মহাসাগর বা অন্য কোনো উৎস থেকে প্রকৃতপক্ষে কিছুই গ্রহণ করে না; বরং এটি কোনো পূর্ব উপাদান ছাড়াই নিজ স্থানে সৃষ্ট। তবে কনস্টান্টিনোপল প্রণালীর মাধ্যমে মহাসাগর এতে পতিত হয়। এটি একটি বিশাল সমুদ্র; যদি কোনো পরিব্রাজক খাযার থেকে দাইলাম, তাবারিস্তান, জুরজান এবং সিয়াহ-কুহ মরুভূমি অঞ্চল হয়ে এর উপকূল ধরে পরিভ্রমণ করে, তবে কোনো বাধা ছাড়াই সে পুনরায় তার যাত্রারম্ভের স্থানে ফিরে আসবে, কেবল পথিমধ্যে কোনো নদী পার হওয়া ব্যতীত। আর খাওয়ারিজম হ্রদের বিষয়টিও তদ্রূপ, তবে মহাসাগরে এর কোনো বহির্গমন পথ নেই। এই হলো পৃথিবীর উপরিভাগে অবস্থিত চারটি বৃহৎ সমুদ্র।

যানজদের ভূমি ও তাদের দেশসমূহে এমন সব উপসাগর রয়েছে যা মহাসাগর থেকে উৎপন্ন। তদ্রূপ রোম ভূখণ্ডের পশ্চাতেও এমন অনেক উপসাগর ও সমুদ্র রয়েছে যা এই বৃহৎ সমুদ্রগুলোর তুলনায় ক্ষুদ্রাকার এবং সংখ্যায় অত্যধিক হওয়ায় এখানে উল্লেখ করা হয়নি। আর সমুদ্র থেকে...
(খণ্ড: ১) খারীদাতুল আজাইব ওয়া ফারীদাতুল গারাইব (পৃষ্ঠা: ৩৪)
المحيط أيضاً خليج حتى ينتهي على ظهر أرض الصقالبة نحو شهرين ويقطع أرض الروم على القسطنطينية حتى يقع بحر الروم. وأما أرض الروم فحدها من هذا البحر المحيط على بلاد الجلالقة وافرنجة ورومية وأشيناس إلى
মহাসাগরটিও একটি উপসাগর যা স্লাভদের ভূখণ্ডের উপরিভাগে প্রায় দুই মাসের পথ পর্যন্ত বিস্তৃত হয়ে সমাপ্ত হয়েছে এবং এটি কুসতুনতুনিয়া হয়ে রোমকদের ভূখণ্ডকে অতিক্রম করে রোম সাগরে গিয়ে পতিত হয়েছে। আর রোমকদের ভূখণ্ডের সীমানা এই মহাসাগর থেকে জালালিকাহ, ইফরাঞ্জাহ, রুমিয়্যাহ এবং আশিনাস দেশসমূহ পর্যন্ত...
(খণ্ড: ১) খারীদাতুল আজাইব ওয়া ফারীদাতুল গারাইব (পৃষ্ঠা: ৩৫)
القسطنطينية ثم إلى أرض ويشيدان يكون نحو مائة وسبعين مرحلة. وذلك أن من حد الثغور في الشمال إلى أرض الصقالبة نحو شهرين، وقد بينت لك أن من أقصى الجنوب إلى أقصى الشمال مائتي مرحلة وعشر مراحل.

وأما الروم المحض من حد رومية إلى حد الصقالبة وما ضمته إلى بلاد الروم من الأفرنجية والجلالقة وغيرهم فإن ألسنتهم مختلفة، غير أن الدين واحد والمملكة واحدة، كما أن في مملكة الإسلام ألسنة مختلفة والملك واحد، وأما مملكة الصين على ما زعم أبو إسحق الفارسي وأبو إسحق إبراهيم بن السكيت حاجب ملك خراسان فأربعة أشهر في ثلاثة أشهر الساكيت فإذا أخذت من فم الخليج حتى تنتهي إلى ديار الإسلام مما وراء النهر فهو نحو ثلاثة أشهر، وإذا أخذت من حد المشرق حتى تقطع إلى حد المغرب في أرض التبت. وتمتد في أرض التغزغز وخرخير وعلى ظهل كيماك إلى البحر فهو نحو شهر، ثم في أرض الصين ومملكته السنة مختلفة
কনস্টান্টিনোপল এবং তারপর উইশিদান ভূমি পর্যন্ত প্রায় একশ সত্তর মনজিল পথ। এর কারণ হলো, উত্তরের সীমান্ত রেখা থেকে স্লাভদের ভূমি পর্যন্ত প্রায় দুই মাসের পথ। আমি আপনার নিকট ইতিপূর্বে বর্ণনা করেছি যে, সুদূর দক্ষিণ থেকে সুদূর উত্তর পর্যন্ত দুইশ দশ মনজিলের পথ।

আর খাঁটি রোমান অঞ্চলসমূহের সীমানা—যা রোম থেকে স্লাভদের সীমানা পর্যন্ত বিস্তৃত এবং যার সাথে ফ্রাঙ্ক ও গ্যালিসীয়সহ অন্যান্যদের অঞ্চলসমূহ রোমান সাম্রাজ্যের অন্তর্ভুক্ত হয়েছে—সেখানের ভাষাগুলো ভিন্ন ভিন্ন। তবে তাদের ধর্ম এক এবং সাম্রাজ্যও এক, ঠিক যেমন ইসলামি সাম্রাজ্যে বিভিন্ন ভাষা থাকা সত্ত্বেও শাসনব্যবস্থা এক। আর চীন সাম্রাজ্যের ব্যাপারে আবু ইসহাক আল-ফারিসি এবং খোরাসানের বাদশাহর হাজিব আবু ইসহাক ইব্রাহিম ইবনুল সিক্কিতের দাবি অনুযায়ী, তা চার মাস দীর্ঘ ও তিন মাস প্রশস্ত পথ। আপনি যদি উপসাগরের মোহনা থেকে শুরু করে ট্রান্সঅক্সিয়ানার ইসলামি ভূখণ্ড পর্যন্ত যাত্রা করেন, তবে তা প্রায় তিন মাসের পথ। আর যদি পূর্ব সীমান্ত থেকে যাত্রা করে তিব্বত ভূখণ্ডের মধ্য দিয়ে পশ্চিম সীমান্ত পর্যন্ত অতিক্রম করেন—যা তুঘুজঘুজ, খিরখিজ এবং কিমাক মালভূমি হয়ে সমুদ্র পর্যন্ত বিস্তৃত—তবে তা প্রায় এক মাসের পথ। অতঃপর চীনের ভূখণ্ড ও তার সাম্রাজ্যেও বিভিন্ন ভাষা প্রচলিত রয়েছে।
(খণ্ড: ১) খারীদাতুল আজাইব ওয়া ফারীদাতুল গারাইব (পৃষ্ঠা: ৩৬)
وجميع الأتراك من التغزغز وخرخير وكيماك والغزية وإلى الخزلجية ألسنتهم واحدة، وبعضهم يفهم عن بعض، ومملكة الصين كلها منسوبة إلى الملك المقيم بالقسطنطينية، وكذلك مملكة الإسلام كانت منسوبة إلى المقيم ببغداد، ومملكة الهند منسوبة إلى الملك المقيم بقنوج، وفي بلاد الأتراك ملوك متميزون بممالكهم.

وأما الغزية فإن حدود ديارهم ما بين الخزر وكيماك وأرض الخزلجية وأطراف بلغار، وحدود الديلم ما بين جرجان إلى فاراب واسبيجاب وديار الكيماكية. وأما يأجوج ومأجوج فهم في ناحية الشمال إذا قطعت ما بين الكيماكية، والصقالبة، والله أعلم بمقاديرهم، وبلادهم شاهقة لا ترقاها الدواب ولا يصعدها إلا الرجالة. قال: ولم يخبر أحد عنهم خبراً أوجه من أبي إسحق صاحب خراسان فإنه أخبر أن تجارتهم إنما تصل إليهم على ظهور الرجال وأصلاب المعز، وأنهم ربما أقاموا في صعود الجبل ونزوله الأسبوع والعشرة أيام، وأما خرخير فإنهم ما بين التغزغز وكيماك والبحر المحيط وأرض الخزلجية والغزية.

وأما التغزغز فقوم من أطراف التبت وأرض الخزلجية وخرخير وأرض الصين. والصين ما بين البحر المحيط والتغزغز والتبت والخليج الفارسي. وأما أرض الصقالبة فعريضة طويلة نحو شهرين في شهرين.
তুঘুজঘুজ, খিরখির, কিমাক, গুযযিয়া এবং খালজিদের অন্তর্ভুক্ত সকল তুর্কিদের ভাষা এক এবং তারা একে অপরের ভাষা বুঝতে পারে। সমগ্র চীন সাম্রাজ্য কনস্টান্টিনোপলে অবস্থানকারী রাজার অনুগত হিসেবে গণ্য হত, ঠিক যেভাবে ইসলামি সাম্রাজ্য বাগদাদে অবস্থানকারী (খলিফা)-এর অনুগত ছিল এবং ভারত সাম্রাজ্য কনৌজে অবস্থানকারী রাজার অনুগত ছিল। তুর্কি ভূখণ্ডে এমন অনেক রাজা রয়েছেন যারা নিজ নিজ রাজ্যে স্বতন্ত্র মর্যাদাপ্রাপ্ত।

আর গুযযিয়াদের ভূখণ্ডের সীমানা হচ্ছে খাজার ও কিমাকদের মধ্যবর্তী অঞ্চল, খালজিদের ভূমি এবং বুলগারের প্রান্তদেশ পর্যন্ত। দাইলামের সীমানা জুরজান থেকে ফারাব ও আসবিজাব এবং কিমাকদের ভূখণ্ড পর্যন্ত বিস্তৃত। আর ইয়াজুজ ও মাজুজ উত্তর দিকে অবস্থিত, যখন কিমাক ও সাকালিবাদের (শ্লাভ) মধ্যবর্তী অঞ্চল অতিক্রম করা হয়; আল্লাহই তাদের সংখ্যা ও বিস্তার সম্পর্কে সম্যক অবগত। তাদের ভূখণ্ড অত্যন্ত খাড়া ও সুউচ্চ, যেখানে চতুষ্পদ জন্তু চড়তে পারে না এবং পদচারী মানুষ ব্যতীত কেউ সেখানে আরোহণ করতে পারে না। তিনি বলেন: খোরাসানের অধিপতি আবু ইসহাকের চেয়ে নির্ভরযোগ্য সংবাদ তাদের সম্পর্কে আর কেউ প্রদান করেননি। তিনি জানিয়েছেন যে, তাদের ব্যবসা-বাণিজ্য মানুষের পিঠে এবং ছাগলের পৃষ্ঠে বহন করে তাদের কাছে পৌঁছায়। পাহাড়ে আরোহণ এবং অবতরণ করতে তাদের হয়তো এক সপ্তাহ থেকে দশ দিন পর্যন্ত সময় লেগে যায়। আর খিরখির জাতি তুঘুজঘুজ, কিমাক, পরিবেষ্টিত মহাসাগর এবং খালজি ও গুযযিয়াদের ভূমির মধ্যবর্তী স্থানে অবস্থান করে।

আর তুঘুজঘুজরা হলো তিব্বতের প্রান্তদেশ, খালজিদের ভূমি, খিরখির এবং চীন ভূখণ্ডের মধ্যবর্তী একটি জাতি। চীন দেশ পরিবেষ্টিত মহাসাগর, তুঘুজঘুজ, তিব্বত এবং পারস্য উপসাগরের মধ্যবর্তী স্থানে অবস্থিত। আর সাকালিবাদের (শ্লাভ) ভূমি দৈর্ঘ্য ও প্রস্থে প্রায় দুই মাস চলার পথের সমান।
(খণ্ড: ১) খারীদাতুল আজাইব ওয়া ফারীদাতুল গারাইব (পৃষ্ঠা: ৩৭)
وبلغار مدينة صغيرة ليس لها أعمال كثيرة وكانت مشهورة لأنها كانت ميناء وفرضة لهذه الممالك فاكتسحتها الروس وأتل وسمندر في سنة ثمان وخمسين وثلثمائة فأضعفتها. والروس قوم بناحية بلغار فيما بينها وبين الصقالبة، وقد انقطعت طائفة من الترك عن بلادهم فصاروا ما بين الخزر والروم، ويقال لهم اليخياكية. وليس موضعهم بدار لهم على قدم الأيام.

وأما الخزر فإنهم جنس من الترك على هذا البحر المعروف بهم. وأما أتل فهم طائفة أخرى قديمة وسموا باسم نهرهم أتل الذي يصب في هذا البحر، وبلدهم أيضاً تسمى أتل وليس لهذا البلد سعة رزق ولا خفض عيش ولا اتساع مملكة، وهو بلد بين الخزر واليخياكية والسرير.

وأما التبت: فإنه بين أرض الصين والهند وأرض التغرغر الخزلجية وبحر فارس، وبعض بلاده في مملكة الهند وبعضها في مملكة الصين ولهم ملك قائم بنفسه يقال إن أصله من التبابعة ملوك اليمن. والله أعلم.

وأما جنوبي الأرض من بلاد السودان التي في أقصى المغرب على البحر المحيط فبلاد منقطعة ليس بينها وبين شيء من الممالك اتصال، غير أن حداً لها ينتهي إلى المحيط، وحداً لها ينتهي إلى برية بينها وبين أرض المغرب، وحداً لها إلى برية بينها وبين بلاد مصر على الواحات، وحداً لها إلى البرية التي ذكرنا أن لا نبات بها ولا حيوان ولا عمارة لشدة الحر، وقيل إن طول أرضهم سبعمائة فرسخ في مثلها غير أنها من البحر إلى ظهر الواحات وهو طولها وهو أطول من عرضها.

وأما أرض النوبة: فإن حداً لها ينتهي إلى بلاد مصر، وحداً لها إلى هذه البرية المهلكة التي
বুলগার একটি ছোট শহর যার তেমন কোনো প্রশাসনিক পরিধি নেই। এটি প্রসিদ্ধ ছিল কারণ এটি এই সকল রাজ্যের জন্য একটি বন্দর ও বাণিজ্য কেন্দ্র ছিল। অতঃপর তিনশত আটান্ন হিজরি সনে রুস, আতিল ও সামান্দার বাহিনী এটি আক্রমণ করে বিধ্বস্ত করে দেয় এবং একে দুর্বল করে ফেলে। রুসগণ বুলগার অঞ্চলের একটি জাতি যারা বুলগার ও সাকালিবাগণের (শ্লাভ) মধ্যবর্তী এলাকায় বসবাস করে। তুর্কিদের একটি দল তাদের স্বদেশ থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে খাজার ও রোম (বাইজেন্টাইন) সাম্রাজ্যের মধ্যবর্তী অঞ্চলে বসবাস শুরু করে, তাদেরকে ইখিয়াকিয়া বলা হয়। প্রাচীনকাল থেকে এই স্থানটি তাদের স্থায়ী আবাসভূমি ছিল না।

আর খাজারগণ হলো তুর্কিদের একটি জাতি যারা তাদের নামানুসারে পরিচিত এই সাগরের (কাসপিয়ান সাগর) উপকূলে বসবাস করে। আর আতিল হলো অপর একটি প্রাচীন গোষ্ঠী; তাদের নামকরণ করা হয়েছে আতিল নদীর নামানুসারে যা এই সাগরে পতিত হয়েছে। তাদের শহরকেও আতিল বলা হয়। এই জনপদে জীবিকার সচ্ছলতা, বিলাসী জীবন কিংবা রাজ্যের প্রশস্ততা ছিল না। এটি খাজার, ইখিয়াকিয়া এবং সারীর অঞ্চলের মধ্যবর্তী একটি দেশ।

আর তিব্বত: এটি চীন, ভারত, তাগুরগার খাজলাজিয়া অঞ্চল এবং পারস্য সাগরের মধ্যবর্তী স্থানে অবস্থিত। এর কিছু এলাকা ভারত সাম্রাজ্যের অন্তর্ভুক্ত এবং কিছু এলাকা চীন সাম্রাজ্যের অন্তর্ভুক্ত। তাদের একজন স্বাধীন রাজা রয়েছেন যার সম্পর্কে বলা হয় যে, তার বংশমূল হলো ইয়েমেনের তুব্বা (তাবাবিআহ) রাজন্যবর্গ। আর আল্লাহই সম্যক অবগত।

আর পৃথিবীর দক্ষিণাঞ্চল তথা সুদানের ভূখণ্ড, যা সুদূর পশ্চিমের মহাসাগর সংলগ্ন এলাকায় অবস্থিত, তা একটি বিচ্ছিন্ন জনপদ। অন্যান্য কোনো রাজ্যের সাথে এর সরাসরি সংযোগ নেই। তবে এর একটি সীমানা মহাসাগর পর্যন্ত বিস্তৃত, আরেকটি সীমানা মাগরিবের ভূমি ও এর মধ্যবর্তী মরুভূমি পর্যন্ত, অন্য একটি সীমানা মরূদ্যান সংলগ্ন মিশরীয় ভূখণ্ডের মধ্যবর্তী মরুভূমি পর্যন্ত এবং অপর একটি সীমানা সেই মরুভূমি পর্যন্ত পৌঁছেছে যার সম্পর্কে আমরা উল্লেখ করেছি যে, তীব্র তাপের কারণে সেখানে কোনো উদ্ভিদ, প্রাণী বা জনবসতি নেই। বলা হয়ে থাকে যে, তাদের ভূমির দৈর্ঘ্য ও প্রস্থ উভয়ই সাতশত ফারসাখ করে, তবে সমুদ্র থেকে মরূদ্যানের শেষ প্রান্ত পর্যন্ত এর দৈর্ঘ্য এর প্রস্থের তুলনায় অধিক।

আর নুবিয়া ভূমি: এর একটি সীমানা মিশরের ভূখণ্ডে গিয়ে শেষ হয়েছে এবং অপর একটি সীমানা এই ধ্বংসাত্মক মরুভূমি পর্যন্ত বিস্তৃত যা
(খণ্ড: ১) খারীদাতুল আজাইব ওয়া ফারীদাতুল গারাইব (পৃষ্ঠা: ৩৮)
ذكرناها، وحداً لها ينتهي بين بلاد السودان وبلاد مصر المتقدم ذكرها أيضاً، وحداً لها إلى أرض البجة. وأما أرض البجة فإن ديارهم صغيرة وهم فيها بين الحبشة والنوبة وهذه البرية التي لا تسلك.

وأما الحبشة فإنها على بحر القلزم وهو بحر فارس فينتهي حد لها إلى بلاد الزنج، وحد لها إلى البرية التي بين النوبة وبحر القلزم، وحد لها إلى البجة، والبرية لا تسلك. وأما أرض الزنج فإنها أطول أراضي بلاد السودان ولا تتصل بمملكة من الممالك أصلاً غير بلاد الحبشة وهي في مجاورة اليمن وفارس وكرمان في الجنوب إلى أن تحاذي أرض الهند.
আমরা তা উল্লেখ করেছি; এর একটি সীমানা সুদান ও ইতিপূর্বে বর্ণিত মিশর অঞ্চলের মাঝামাঝি স্থানে শেষ হয়েছে এবং অন্য একটি সীমানা বেজা ভূমি পর্যন্ত বিস্তৃত। আর বেজা ভূমির বিষয়ে বক্তব্য হলো, তাদের জনপদগুলো ক্ষুদ্র এবং তারা সেখানে হাবশা ও নুবিয়া এবং এই অগম্য মরুপ্রান্তরের মাঝে অবস্থান করে।

আর হাবশা লোহিত সাগরের (কুলজুম সাগর) তীরে অবস্থিত—যা পারস্য সাগর (হিসেবেও পরিচিত)—এর একটি সীমা জানজ দেশ পর্যন্ত সমাপ্ত হয়েছে, আরেকটি সীমা নুবিয়া ও লোহিত সাগরের মধ্যবর্তী মরুভূমি পর্যন্ত এবং অন্য একটি সীমা বেজা ভূমি পর্যন্ত বিস্তৃত; আর এই মরুভূমিটি অতিক্রম করা যায় না। জানজ ভূমির বিষয়ে বক্তব্য হলো, এটি সুদান অঞ্চলের দেশগুলোর মধ্যে দীর্ঘতম ভূমি এবং এটি হাবশা রাজ্য ব্যতিরেকে অন্য কোনো রাজ্যের সাথে সরাসরি সংযুক্ত নয়। এটি দক্ষিণে ইয়ামেন, পারস্য এবং কিরমানের সন্নিকটে অবস্থিত এবং ভারতের সীমানা পর্যন্ত বিস্তৃত।
(খণ্ড: ১) খারীদাতুল আজাইব ওয়া ফারীদাতুল গারাইব (পৃষ্ঠা: ৩৯)
وأما أرض الهند: فإن طولها من عمل مكران في أرض المنورة والبدهة وسائر بلاد السند إلى أن ينتهي إلى قنوج، ثم تحوزه إلى أرض التبت، نحو من أربعة أشهر، وعرضها من بحر فارس على أرض قنوج نحو من ثلاثة أشهر.

وأما مملكة الإسلام: فإن طولها من حد فرغانة حتى تقطع خراسان والجبال والعراق وديار العرب إلى سواحل اليمن فهو نحو خمسة أشهر، وعرضها من بلاد الروم حتى تقطع الشام والجزيرة والعراق وفارس وكرمان إلى أرض المنصورة على شاطئ بحر فارس نحو أربعة أشهر. وإنما تركت في ذكر طول مملكة الإسلام حد المغرب إلى الأندلس لأنه مثل الكم في الثوب، وليس في شرقي المغرب ولا في غربيه إسلام، لأنك إذا جاوزت شرقي أرض المغرب كان جنوبي المغرب بلاد السودان وشماله بحر الروم ثم أرض الروم. ولو صلح أن يجعل من أرض فرغانة إلى أرض المغرب والأندلس طول الإسلام لكان مسيرة مائتي مرحلة وزيادة، لأن من أقصى المغرب إلى مصر نحو تسعين مرحلة، ومن مصر إلى العراق نحو ثلاثين مرحلة، ومن العراق إلى بلخ نحو ستين مرحلة، ومن بلخ إلى فرغانة نحو عشرين مرحلة. والله سبحانه وتعالى أعلم.
আর হিন্দুস্তান ভূমি প্রসঙ্গে: এর দৈর্ঘ্য মাকরান এলাকা হতে আল-মুনাওওয়ারা ও আল-বুদহা ভূমি এবং সিন্ধুর অন্যান্য শহর হয়ে কানৌজ পর্যন্ত পৌঁছেছে, অতঃপর তা তিব্বত পর্যন্ত বিস্তৃত হয়েছে, যা প্রায় চার মাসের পথ। আর এর প্রস্থ পারস্য সাগর হতে কানৌজ পর্যন্ত প্রায় তিন মাসের পথ।

আর ইসলামি সাম্রাজ্য প্রসঙ্গে: এর দৈর্ঘ্য ফারগানা সীমান্ত হতে শুরু করে খুরাসান, আল-জিবাল (পার্বত্য অঞ্চল), ইরাক এবং আরব ভূখণ্ড অতিক্রম করে ইয়ামেনের উপকূল পর্যন্ত প্রায় পাঁচ মাসের পথ। আর এর প্রস্থ রোমীয় ভূখণ্ড হতে শুরু করে শাম, আল-জাজিরা, ইরাক, পারস্য এবং কিরমান অতিক্রম করে পারস্য সাগর তীরের আল-মানসুরা ভূমি পর্যন্ত প্রায় চার মাসের পথ। আমি ইসলামি সাম্রাজ্যের দৈর্ঘ্যের বর্ণনায় মাগরিব হতে আন্দালুস পর্যন্ত সীমানা উল্লেখ করা ছেড়ে দিয়েছি, কারণ তা পোশাকের আস্তিনের মতো। মাগরিবের পূর্বে বা পশ্চিমে কোনো ইসলাম নেই; কেননা আপনি যদি মাগরিবের পূর্ব দিক অতিক্রম করেন, তবে মাগরিবের দক্ষিণে সুদানের দেশসমূহ এবং উত্তরে রোম সাগর ও রোমীয় ভূমি পাবেন। যদি ফারগানা ভূমি হতে মাগরিব ও আন্দালুস ভূমি পর্যন্ত ইসলামের দৈর্ঘ্য নির্ধারণ করা যুক্তিসঙ্গত হতো, তবে তা দুই শত মনজিল বা তারও বেশি সময়ের পথ হতো। কারণ সুদূর মাগরিব হতে মিসর পর্যন্ত প্রায় নব্বই মনজিল, মিসর হতে ইরাক পর্যন্ত প্রায় ত্রিশ মনজিল, ইরাক হতে বালখ পর্যন্ত প্রায় ষাট মনজিল এবং বালখ হতে ফারগানা পর্যন্ত প্রায় বিশ মনজিল। আর আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআলা সর্বাধিক অবগত।
(খণ্ড: ১) খারীদাতুল আজাইব ওয়া ফারীদাতুল গারাইব (পৃষ্ঠা: ৪০)
‌‌فصل في صفة الأرض وتقسيمها

من غير الوجه الذي تقدم ذكره

قال الله عز وجل: " ألم نَجعلِ الأَرْضَ مِهاداً والجِبالَ أوْتاداً " وقال عز من قائل: " الذي جعل لكم الأرض فراشاً والسماء بناء ". وقال سبحانه وتعالى: " والله جعل لكم الأرض بساطاً " قال قوم من المفسرين: معنى المهاد والبساط: القرار عليها والتمكن منها والتصرف فيها.

وقد اختلف العلماء في هيئة الأرض وشكلها: فذكر بعضهم أنها مبسوطة مستوية السطح في أربع جهات المشرق والمغرب والجنوب والشمال. وزعم آخرون أنها كهيئة المائدة. ومنهم من زعم أنها كهيئة الطبل. وذكر بعضهم أنها تشبه نصف الكرة كهيئة القبة وأن السماء مركبة على أطرافها. والذي عليه الجمهور أن الأرض مستديرة كالكرة وأن السماء محيطة بها من كل جانب كإحاطة البيضة بالمحة، فالصفرة بمنزلة الأرض، وبياضها بمنزلة الماء وجلدها بمنزلة السماء، غير أن خلقها ليس فيه استطالة كاستطالة البيضة بل هي مستديرة كاستدارة الكرة المستديرة المستوية الخرط، حتى قال مهندسوهم: لو حفر في الوهم وجه الأرض لأدى إلى الوجه الآخر، ولو نقب مثلاً بأرض الأندلس لنفذ الثقب بأرض الصين. وزعم قوم أن الأرض مقعرة، وسطها كالجام.
পরিচ্ছেদ: জমিনের প্রকৃতি ও এর বিভাজন সম্পর্কে

ইতিপূর্বে বর্ণিত আলোচনার প্রেক্ষাপট ব্যতিরেকে

মহান আল্লাহ বলেন: "আমি কি জমিনকে শয্যা এবং পাহাড়গুলোকে পেরেক বানাইনি?" মহান সত্তা আরও বলেন: "যিনি তোমাদের জন্য জমিনকে বিছানা এবং আকাশকে ছাদ স্বরূপ নির্মাণ করেছেন।" আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তা'আলা আরও বলেন: "আর আল্লাহ তোমাদের জন্য জমিনকে গালিচার মতো বিছিয়ে দিয়েছেন।" একদল মুফাসসির বলেছেন: 'মিহাদ' (শয্যা) ও 'বিসাত' (গালিচা)-এর অর্থ হলো—এর উপর স্থিত হওয়া, এর উপর সক্ষমতা অর্জন করা এবং এতে বিচরণ করা।

জমিনের আকৃতি ও রূপ নিয়ে আলেমগণ মতভেদ করেছেন: তাদের মধ্যে কেউ কেউ উল্লেখ করেছেন যে, এটি চার দিকে—পূর্ব, পশ্চিম, দক্ষিণ ও উত্তর—প্রসারিত ও সমতল উপরিভাগ বিশিষ্ট। অন্যরা দাবি করেছেন যে, এটি দস্তরখানের মতো। তাদের মধ্যে কেউ কেউ দাবি করেছেন যে, এটি ঢোলের মতো। আবার কেউ উল্লেখ করেছেন যে, এটি গোলকের অর্ধেক বা গম্বুজ সদৃশ এবং আকাশ এর প্রান্তসমূহের উপর স্থাপিত। জমহুর বা সংখ্যাগরিষ্ঠের অভিমত হলো, জমিন বলের মতো গোলাকার এবং আকাশ একে সব দিক থেকে পরিবেষ্টন করে আছে, যেমন ডিমের কুসুমকে তার সাদা অংশ ঘিরে থাকে। এতে কুসুম হলো জমিন তুল্য, সাদা অংশ পানি তুল্য এবং খোসা হলো আকাশ তুল্য। তবে এর সৃষ্টি ডিমের মতো লম্বাটে নয়, বরং এটি গোলাকার বলের মতো সুষম গোলকাকৃতি। এমনকি তাদের প্রকৌশলীগণ বলেছেন: যদি কাল্পনিকভাবে জমিনের এক পিঠ খুঁড়া হয়, তবে তা অপর পিঠ পর্যন্ত পৌঁছে যাবে। উদাহরণস্বরূপ, যদি আন্দালুসের জমিনে ছিদ্র করা হয়, তবে সেই ছিদ্র চীনের জমিন পর্যন্ত গিয়ে ঠেকবে। একদল দাবি করেছেন যে, জমিন অবতল, এর মধ্যভাগ পেয়ালার মতো।
(খণ্ড: ১) খারীদাতুল আজাইব ওয়া ফারীদাতুল গারাইব (পৃষ্ঠা: ৪১)
واختلف في كمية عدد الأرضين قال الله عز وجل وهو أصدق القائلين: " الذي خلق سبع سمواتٍ ومن الأرضِ مثلهنّ " فاحتمل هذا التمثيل أن يكون في العدد والطباق. فروي في بعض الأخبار أن بعضها فوق بعض، وغلظ كل أرض مسيرة خمسمائة عام، حتى عدد بعضهم لكل أرض أهلاً على صفة وهيئة عجيبة، وسمى كل أرض باسم خاص، كما سمى كل سماء باسم خاص. وزعم بعضهم أن في الأرض الرابعة حيات أهل الدنيا وفي الأرض السادسة حجارة أهل النار، فمن نازعته نفسه إلى الاستشراف عليها نظر في كتب وهب بن منبه وكعب ومقاتل. وعن عطاء بن يسار في قول الله عز وجل: " سبع سموات ومن الأرض مثلهن " قال: في كل أرض آدم مثل آدمكم، ونوح مثل نوحكم، وإبراهيم مثل إبراهيمكم. والله أعلم.

পৃথিবীর সংখ্যার পরিমাণ নিয়ে মতভেদ রয়েছে। মহান আল্লাহ বলেছেন—এবং তিনিই সর্বাপেক্ষা সত্যবাদী বক্তা—: "যিনি সাতটি আসমান এবং পৃথিবীও তাদের অনুরূপ সৃষ্টি করেছেন।" এই সাদৃশ্যটি সংখ্যা এবং স্তরের ক্ষেত্রে হওয়ার সম্ভাবনা রাখে। কিছু বর্ণনায় বর্ণিত হয়েছে যে, পৃথিবীর স্তরগুলো একটির ওপর অন্যটি অবস্থিত এবং প্রতিটি পৃথিবীর পুরুত্ব পাঁচশত বছরের পথ। এমনকি কেউ কেউ প্রতিটি পৃথিবীর জন্য অদ্ভুত বৈশিষ্ট্য ও আকৃতির অধিবাসীদের কথা উল্লেখ করেছেন এবং প্রতিটি পৃথিবীর জন্য পৃথক নাম নির্দিষ্ট করেছেন, যেমনটি প্রতিটি আসমানের জন্য পৃথক নাম দেওয়া হয়েছে। কেউ কেউ দাবি করেছেন যে, চতুর্থ পৃথিবীতে দুনিয়াবাসীদের জন্য সাপ এবং ষষ্ঠ পৃথিবীতে জাহান্নামীদের জন্য পাথর রয়েছে। সুতরাং যার মনে এগুলো বিস্তারিতভাবে জানার আকাঙ্ক্ষা জাগে, সে যেন ওয়াহাব ইবনে মুনাব্বিহ, কাব এবং মুকাতিলের গ্রন্থসমূহ পর্যালোচনা করে। আতা ইবনে ইয়াসার থেকে মহান আল্লাহর বাণী "সাতটি আসমান এবং পৃথিবীও তাদের অনুরূপ" সম্পর্কে বর্ণিত হয়েছে যে, তিনি বলেছেন: প্রতিটি পৃথিবীতে তোমাদের আদমের মতো একজন আদম, তোমাদের নূহের মতো একজন নূহ এবং তোমাদের ইব্রাহিমের মতো একজন ইব্রাহিম রয়েছেন। আর আল্লাহই সবচেয়ে ভালো জানেন।

(খণ্ড: ১) খারীদাতুল আজাইব ওয়া ফারীদাতুল গারাইব (পৃষ্ঠা: ৪২)
وليس هذا القول بأعجب من قول الفلاسفة: إن الشموس شموس كثيرة والأقمار أقمار كثيرة ففي كل اقليم شمس وقمر ونجوم. وقال القدماء الأرض سبع على المجاورة والملاصقة وافتراق الإقليم، لا على المطابقة والمكابسة. وأهل النظر من المسلمين يميلون إلى هذا القول، ومنهم من يرى أن الأرض سبع على الانخفاض والارتفاع كدرج المراقي. ويزعم بعضهم أن الأرض مقسومة خمس مناطق وهي: المنطقة الشمالية والجنوبية والمستوية والمعتدلة والوسطى، واختلفوا في مبلغ الأرض وكميتها، فروي، عن مكحول أنه قال: مسيرة ما بين أقصى الدنيا إلى أدناها خمسمائة سنة، مائتان من ذلك في البحر، ومائتان ليس يسكنها أحد، وثمانون فيها يأجوج ومأجوج، وعشرون فيها سائر الخلق.

وعن قتادة قال: الدنيا أربعة وعشرون ألف فرسخ، منها اثنا عشر ألف فرسخ ملك السودان، وملك الروم ثمانية آلاف فرسخ، وملك العجم والترك ثلاثة آلاف فرسخ، وملك العرب ألف فرسخ، وعن عبد الله بن عمر رضي الله عنهما قال: ربع من لا يلبس الثياب من السودان أكثر من جميع الناس.
এই বক্তব্যটি দার্শনিকদের বক্তব্যের চেয়ে অধিক বিস্ময়কর নয় যে: সূর্য অনেকগুলো এবং চাঁদও অনেকগুলো, ফলে প্রতিটি অঞ্চলেই সূর্য, চাঁদ ও নক্ষত্ররাজি রয়েছে। প্রাচীনগণ বলেছেন, পৃথিবী সাতটি, যা পাশাপাশি অবস্থান, সংলগ্নতা এবং আঞ্চলিক পার্থক্যের ভিত্তিতে; এটি স্তরীভূত বা উপর্যুপরি বিন্যস্ত হওয়ার ভিত্তিতে নয়। মুসলিম চিন্তাবিদগণ এই মতের দিকেই ঝুঁকেছেন, আবার তাদের কেউ কেউ মনে করেন যে সিঁড়ির ধাপের ন্যায় নিচু ও উঁচুর বিচারে পৃথিবী সাতটি। তাদের কেউ কেউ দাবি করেন যে পৃথিবী পাঁচটি অঞ্চলে বিভক্ত, যথা: উত্তর অঞ্চল, দক্ষিণ অঞ্চল, সমতল অঞ্চল, নাতিশীতোষ্ণ অঞ্চল এবং মধ্য অঞ্চল। তারা পৃথিবীর আয়তন ও পরিমাণের বিষয়ে মতভেদ করেছেন। মাকহুল থেকে বর্ণিত হয়েছে যে তিনি বলেছেন: পৃথিবীর এক প্রান্ত থেকে অন্য প্রান্ত পর্যন্ত দূরত্বের পথ পাঁচশ বছরের; তার মধ্যে দুইশ বছর সমুদ্রে, দুইশ বছর জনমানবহীন, আশি বছর ইয়াজুজ ও মাজুজের অধীনে এবং বিশ বছর বাকি সৃষ্টির জন্য।

কাতাদাহ থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: পৃথিবী চব্বিশ হাজার ফারসাখ; তার মধ্যে বারো হাজার ফারসাখ সুদানীদের রাজ্য, আট হাজার ফারসাখ রোমানদের রাজ্য, তিন হাজার ফারসাখ অনারব ও তুর্কিদের রাজ্য এবং এক হাজার ফারসাখ আরবদের রাজ্য। আব্দুল্লাহ বিন উমর (রাযিয়াল্লাহু আনহুমা) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: সুদানীদের মধ্যে যারা পোশাক পরিধান করে না, তাদের এক-চতুর্থাংশ সকল মানুষের চেয়ে সংখ্যায় অধিক।
(খণ্ড: ১) খারীদাতুল আজাইব ওয়া ফারীদাতুল গারাইব (পৃষ্ঠা: ৪৩)
وقد حدد بطليموس مقدار قدر الأرض واستدارتها في المجسطي بالتقريب، قال: استدارة الأرض مائة ألف وثمانون ألف اسطاربوس؛ والاسطاربوس أربعة وعشرون ميلاً فيكون هذا الحكم مائة ألف ألف وأربعمائة وأربعين ألف فرسخ، والفرسخ ثلاثة أميال، والميل ثلاثة آلاف ذراع بالملكي، والذراع ثلاثة أشبار، وكل شبر اثنا عشر أصبعاً، والأصبع الواحد خمس شعيرات مضمومات بطون بعضها إلى بعض، وعرض الشعيرة الواحدة ست شعيرات من شعر بغل. والإسطاربوس اثنان وسبعون ألف ذراع، قال: وغلظ الأرض وهو قطرها سبعة آلاف وستمائة وثلاثون ميلاً فيكون ألفين وخمسمائة فرسخ وخمسة وأربعين فرسخاً وثلثي فرسخ. قال: فبسط الأرض كلها مائة واثنان وثلاثون ألف ألف وستمائة ألف ميل فيكون مائتي ألف وثمانية وثمانين ألف فرسخ، فإن كان ذلك حقاً فهو وحي من الحق سبحانه أو إلهام، وإن كان قياساً واستدلالاً فقريب أيضاً من الحق. والله أعلم.

পিটোলেমি ‘আল-মাজিসতী’ গ্রন্থে পৃথিবীর আয়তন ও পরিধির পরিমাপ মোটামুটিভাবে নির্ধারণ করেছেন। তিনি বলেছেন: পৃথিবীর পরিধি হলো এক লক্ষ আশি হাজার ইস্তারবুস; আর এক ইস্তারবুস হলো চব্বিশ মাইল। ফলে এই হিসাব অনুযায়ী তা দশ কোটি চল্লিশ লক্ষ চল্লিশ হাজার ফারসাখ হয়। এক ফারসাখ হলো তিন মাইল, আর এক মাইল হলো রাজকীয় মাপে তিন হাজার হাত। এক হাত হলো তিন বিঘত এবং প্রতি বিঘত হলো বারো আঙুল। এক আঙুল হলো পরস্পর সংলগ্ন পাঁচটি যব। একটি যবের প্রস্থ হলো খচ্চরের ছয়টি পশমের সমান। আর এক ইস্তারবুস হলো বাহাত্তর হাজার হাত। তিনি বলেছেন: পৃথিবীর স্থূলতা তথা এর ব্যাস হলো সাত হাজার ছয় শত ত্রিশ মাইল, ফলে তা দুই হাজার পাঁচ শত পঁয়তাল্লিশ ফারসাখ এবং এক ফারসাখের দুই-তৃতীয়াংশ হয়। তিনি বলেছেন: পৃথিবীর সমগ্র ক্ষেত্রফল হলো তেরো কোটি ছাব্বিশ লক্ষ মাইল, যা দুই লক্ষ আটাশি হাজার ফারসাখ হয়। যদি এটি সত্য হয়, তবে তা সত্য সত্তা (আল্লাহ) সুবহানাহু ওয়া তায়ালার পক্ষ থেকে আসা ওহী অথবা ইলহাম। আর যদি তা অনুমান ও যুক্তি-নির্ভর হয়, তবে তাও সত্যের নিকটবর্তী। আর আল্লাহই অধিক জ্ঞাত।

(খণ্ড: ১) খারীদাতুল আজাইব ওয়া ফারীদাতুল গারাইব (পৃষ্ঠা: ৪৪)
وأما قول قتادة ومكحول فلا يوجب العلم اليقين الذي يقطع على الغيب به.

واختلفوا في البحار والمياه والأنهار، فروى المسلمون أن الله خلق ماء البحار مراً زعافاً وأنزل من السماء ماء عذباً كما قال الله تعالى: " أفرأيتم الماء الذي تشربون، أأنتم أنزلتموه من المُزْن أم نحن المُنْزِلون، لو نشاء لجعلناه أجاجاً فَلَوْلا تشكرون " وقال تعالى " وأنزلنا من السماء ماء بقدر فأسكناه في الأرض " فكل ماء عذب من بئر أو نهر أو عين فمن ذلك الماء المنزل من السماء، فإذا اقتربت الساعة بعث الله ملكاً معه طست لا يعلم عظمته إلا الله تعالى فجمع تلك المياه فردها إلى الجنة.

وزعم أهل الكتاب أن أربعة أنهار تخرج من الجنة: الفرات وسيحان وجيحان ودجلة. وذلك أنهم يزعمون أن أهل الجنة في مشارق الأرض. وروي أن
কাতাদাহ ও মাকহুলের বক্তব্যের কথা বলতে গেলে, তা এমন অকাট্য নিশ্চিত জ্ঞান প্রদান করে না যার মাধ্যমে অদৃশ্যের বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া যায়।

আর তারা সাগর, পানি ও নদ-নদী সম্পর্কে মতভেদ করেছেন। মুসলমানরা বর্ণনা করেছেন যে, আল্লাহ সমুদ্রের পানি তিক্ত ও অতি লবণাক্ত হিসেবে সৃষ্টি করেছেন এবং আকাশ থেকে সুপেয় পানি বর্ষণ করেছেন, যেমনটি আল্লাহ তাআলা বলেছেন: "তোমরা যে পানি পান করো সে সম্পর্কে কি তোমরা ভেবে দেখেছ? তোমরাই কি তা মেঘ থেকে নামিয়ে আনো, নাকি আমি তা বর্ষণ করি? আমি চাইলে তাকে লোনা করে দিতে পারতাম। তবে কেন তোমরা কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করো না?" আল্লাহ তাআলা আরও বলেছেন, "আর আমি আকাশ থেকে পরিমিতভাবে পানি বর্ষণ করি, অতঃপর আমি তা জমিনে সংরক্ষণ করি।" সুতরাং কুয়া, নদ-নদী বা ঝরনার প্রতিটি সুপেয় পানি আকাশ থেকে বর্ষিত সেই পানিরই অংশ। অতঃপর যখন কিয়ামত নিকটবর্তী হবে, আল্লাহ এমন একজন ফেরেশতা পাঠাবেন যার সাথে এমন এক পাত্র থাকবে যার বিশালতা আল্লাহ ছাড়া কেউ জানে না; তিনি সেই পানিগুলো সংগ্রহ করবেন এবং তা জান্নাতে ফিরিয়ে দেবেন।

আর আহলে কিতাবরা দাবি করে যে, চারটি নদী জান্নাত থেকে নির্গত হয়: ফোরাত, সিহান, জিহান ও দজলা। আর এর কারণ হলো তারা দাবি করে যে, জান্নাতবাসীরা পৃথিবীর পূর্ব প্রান্তসমূহে রয়েছে। আর বর্ণিত আছে যে
(খণ্ড: ১) খারীদাতুল আজাইব ওয়া ফারীদাতুল গারাইব (পৃষ্ঠা: ৪৫)
الفرات جزر في أيام معاوية رضي الله عنه، فرمى برمانة مثل البعير البارك، فقال كعب: إنها من الجنة. فإن صدقوا فليست هي بجنة الخلد ولكنها من جنان الأرض. وعند القدماء أن المياه من الاستحالات، فطعم كل ماء على طعم أرضه وتربته؛ وأما نحن فلا ننكر قدرة الله تعالى على إحالة الشيء على ما يشاء كما تحول النقطة علقة والعلقة مضغة، ثم كذلك حالاً بعد حال إلى أن يفنيه كما يشاء وكما أنشأه. فسبحان من قدرته صالحة لكل شيء.

واختلفوا أيضاً في ملوحة البحر: فزعم قوم أنه لما طال مكثه وألحت الشمس عليه بالإحراق صار مراً ملحاً واجتذب الهواء ما لطف من أجزائه فهو بقية ما صفته الأرض من الرطوبة فغلظ لذلك. وزعم آخرون أن في البحر عروقاً تغير ماء
মুয়াবিয়া (রাদিয়াল্লাহু আনহু)-এর যুগে ফুরাত নদীর পানি হ্রাস পেয়েছিল, তখন সেখানে বসা উটের ন্যায় বড় একটি ডালিম পাওয়া গিয়েছিল। কাব (রা.) বললেন: এটি জান্নাতের অংশ। তারা যদি সত্য বলে থাকেন, তবে তা চিরস্থায়ী জান্নাতের নয়, বরং তা পৃথিবীর জান্নাতসমূহের অন্তর্ভুক্ত। প্রাচীনদের মতে, পানি রূপান্তরের বিষয়, তাই প্রতিটি পানির স্বাদ তার ভূখণ্ড ও মাটির স্বাদের ওপর নির্ভর করে। আর আমরা কোনো বস্তুকে আল্লাহ যা ইচ্ছা করেন তাতে রূপান্তর করার ক্ষেত্রে মহান আল্লাহর কুদরতকে অস্বীকার করি না, যেমন তিনি শুক্রবিন্দুকে রক্তপিণ্ডে এবং রক্তপিণ্ডকে মাংসপিণ্ডে রূপান্তর করেন, অতঃপর একইভাবে এক অবস্থার পর অন্য অবস্থায় পরিবর্তিত করেন যতক্ষণ না তিনি তাকে স্বীয় ইচ্ছানুযায়ী বিলীন করে দেন, ঠিক যেভাবে তিনি তাকে সৃষ্টি করেছিলেন। সুতরাং সেই সত্তা অতি পবিত্র যাঁর ক্ষমতা প্রতিটি বিষয়ের ওপর কার্যকর।

তারা সমুদ্রের লবণাক্ততার বিষয়েও মতভেদ করেছেন: একদল ধারণা করেন যে, যখন সমুদ্রের পানি দীর্ঘকাল অবস্থান করল এবং সূর্য তার ওপর প্রচণ্ড উত্তাপ দিল, তখন তা তিক্ত ও লবণাক্ত হয়ে পড়ল এবং বাতাস তার সূক্ষ্ম অংশগুলোকে আকর্ষণ করে নিল; ফলে এটি মাটির অবশিষ্ট আর্দ্রতা হিসেবে রয়ে গেল এবং এ কারণেই তা ঘন হয়ে গেল। অন্যেরা মনে করেন যে, সমুদ্রের তলদেশে এমন কিছু শিরা বা জলপথ রয়েছে যা পানিকে পরিবর্তিত করে দেয়।