(খণ্ড: ১)
ফাদাইলুল বাইতিল মুকাদ্দাস - আল-ওয়াসিতী
(পৃষ্ঠা: -)
فضائل البيت المقدس - الواسطي القسم: كتب السنة
الكتاب: فضائل البيت المقدس
المؤلف: أبو بكر محمد بن أحمد بن محمد الواسطي
تحقيق وتخريج ودراسة: أبي المنذر عمرو بن عبد العظيم بن نيازي شريف الحويني
نظر فيه وقدم له: عصام محمد الشنطي رحمه الله (خبير معهد المخطوطات العربية)، طارق عوض الله محمد
الناشر: مركز بيت المقدس للدراسات التوثيقية - نيقوسيا - قبرص.
الطبعة: الأولى، 1431 هـ - 2010 م
عدد الصفحات: 460
تنبيه: أرسل إلينا المحقق - جزاه الله خيرا - تصويبات عديدة على المطبوع، أدرجناها في مواضعها من هذه النسخة الإلكترونية
[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]
تاريخ النشر بالشاملة: 16 شوّال 1442
বাইতুল মাকদিসের ফযীলতসমূহ - আল-ওয়াসিতী বিভাগ: সুন্নাহর কিতাবসমূহ
গ্রন্থ: বাইতুল মাকদিসের ফযীলতসমূহ
লেখক: আবু বকর মুহাম্মাদ বিন আহমাদ বিন মুহাম্মাদ আল-ওয়াসিতী
তাহকীক, তাখরীজ এবং গবেষণা: আবু আল-মুনযির আমর বিন আব্দুল আজিম বিন নিয়াযী শরীফ আল-হুওয়াইনী
নিরীক্ষণ এবং ভূমিকা: ইসাম মুহাম্মাদ আশ-শান্তী আল্লাহ তাঁকে রহম করুন (আরবি পাণ্ডুলিপি ইনস্টিটিউটের বিশেষজ্ঞ), তারিক আওয়াদুল্লাহ মুহাম্মাদ
প্রকাশক: মারকায বাইতুল মাকদিস আদ-দিরাসাত আত-তাওসিকিয়্যাহ - নিকোসিয়া - সাইপ্রাস.
সংস্করণ: প্রথম، ১৪৩১ হিজরি - ২০১০ ঈসায়ী
পৃষ্ঠা সংখ্যা: ৪৬০
দ্রষ্টব্য: মুহাক্কিক - আল্লাহ তাঁকে উত্তম প্রতিদান দান করুন - মুদ্রিত কপির ব্যাপারে আমাদের নিকট অনেকগুলো সংশোধন পাঠিয়েছেন, যা আমরা এই ইলেকট্রনিক সংস্করণে যথাস্থানে অন্তর্ভুক্ত করেছি।
[গ্রন্থের পৃষ্ঠা সংখ্যা মুদ্রিত কপির অনুরূপ]
শামিলা সফটওয়্যারে প্রকাশের তারিখ: ১৬ শাওয়াল ১৪৪২
(খণ্ড: ১)
ফাদাইলুল বাইতিল মুকাদ্দাস - আল-ওয়াসিতী
(পৃষ্ঠা: ٣)
كتاب
فضائل البيت المقدس
تصنيف
الخطيب الإمام أبي بكر محمد بن أحمد بن محمد الواسطي
رضي الله عنه
تحقيق وتخريج ودراسة
أبو المنذر الحويني
عمرو بن عبد العظيم بن نيازي شريف
نظر فيه وقدم له
الأستاذ: عصام محمد الشَّنْطِيّ (خبير معهد المخطوطات العربية)
الشيخ: طارق عوض الله محمد
গ্রন্থ
ফাযায়েলুল বাইতিল মুকাদ্দাস
রচনা
খতিব ইমাম আবু বকর মুহাম্মদ ইবনে আহমাদ ইবনে মুহাম্মদ আল-ওয়াসিতি
রাযিয়াল্লাহু আনহু
তাহকিক, তাখরিজ ও অধ্যয়ন
আবুল মুনযির আল-হুওয়াইনি
আমর ইবনে আব্দুল আযিম ইবনে নিয়াযি শরিফ
নিরীক্ষণ ও ভূমিকা প্রদান
উস্তায: ইসাম মুহাম্মদ আশ-শান্তি (আরবি পাণ্ডুলিপি ইনস্টিটিউটের বিশেষজ্ঞ)
শায়খ: তারিক আওয়াদুল্লাহ মুহাম্মদ
(খণ্ড: ১)
ফাদাইলুল বাইতিল মুকাদ্দাস - আল-ওয়াসিতী
(পৃষ্ঠা: ٥)
إهداءٌإلى شيخي الحبيب
العالم الجليل، ذي الفضل البار، والإفضال الشائع، والمحْتِد الأصيل، والمجد الأثيل، والعزة القَعْسَاء، والرُّتبة الشماء، الفائز من المكارم بالقِدْح المُعَلَّى، المتقلد من المكارم بالصارم المُحَلَّى، إمام الفضلاء، العالم المحدث الأثري، فضيلة الشيخ/أبي إسحاق الحويني، حرس الله مجده، وأسبغ ظله، وأهلَك نِدَّهُ
إذا نحن أثنينا عليك بصالح
… فأنت كما نثني وفوق الذي نثني
وإن جرت الألفاظ يوما بمِدحَةٍ
… لغيرك إنسانا فأنت الذي نعني
উৎসর্গআমার প্রিয় শায়খের প্রতি
মহান আলেম, পুণ্যময় অনুগ্রহ ও সুবিদিত দাক্ষিণ্যের অধিকারী, আভিজাত্যের মূলধারা ও সুপ্রতিষ্ঠিত মহিমার ধারক, অপরাজেয় সম্মান ও সুউচ্চ মর্যাদাসম্পন্ন, সৎগুণাবলীতে শ্রেষ্ঠতম অংশের বিজয়ী, অলঙ্কৃত তরবারির ন্যায় গুণাবলীতে সুসজ্জিত, গুণীজনদের ইমাম, আছারি আলেম ও মুহাদ্দিস, ফযীলাতুশ শায়খ আবু ইসহাক আল-হুওয়াইনী; আল্লাহ তাঁর মর্যাদাকে রক্ষা করুন, তাঁর ছায়াকে দীর্ঘায়িত করুন এবং তাঁর শত্রুকে ধ্বংস করুন।
আমরা যখন আপনার উত্তম প্রশংসা করি
… তখন আপনি তেমনটিই যেমনটি আমরা প্রশংসা করি, বরং আমাদের প্রশংসার ঊর্ধ্বে আপনার অবস্থান।
যদি কখনো অন্য কোনো মানুষের প্রশংসায় শব্দাবলি উচ্চারিত হয়
… তবে আপনিই সেই ব্যক্তি যাকে আমরা উদ্দেশ্য করি।
(খণ্ড: ১)
ফাদাইলুল বাইতিল মুকাদ্দাস - আল-ওয়াসিতী
(পৃষ্ঠা: ٧)
على سبيل التصدير
حكاية مخطوطة فريدة، في عَكَّا الأسيرة
بقلم: عصام محمد الشَّنْطِي
(1)شارَكَت فلسطينُ العربيةُ المنطقةَ في النشاطِ الثقافيِّ، الذِي انبعثَ في
… القرنِ التاسعَ عشرَ الميلاديِّ، ومَا قبلَهُ. فنشأَت ثلاثُ مكتباتٍ كبرَى للمخطوطاتِ في البلادِ. أوَّلُهَا: المكتبةُ الأحمديةُ، في جامعِ أحمدَ باشَا الَجزَّارِ، في مدينةِ عَكَّا، عامَ 1196 هـ /1781 م. والثانيةُ: مكتبةُ يافَا الإسلاميةُ، في جامعِ يافَا الكبيرِ، عامَ 1227 هـ / 1812 م. والثالثةُ: المكتبةُ الخالديَّةُ، في بيتِ المقدسِ، عامَ 1318 هـ / 1900 م.
وحِينَ أنشأَ أحمدُ باشَا الَجزَّارُ
(2) جامعَهُ، الذِي حملَ اسمَهُ، في عَكَّا، اهتمَّ في عمارتِهِ اهتمامًا بالغًا، وألحَقَ بِهِ مدرسةً للتعليمِ، جَمع لَهَا كثيرًا مِنَ المخطوطاتِ، حملَ بعضُهَا تواقيعَ الَجزَّارِ نفسِهِ.
ومِن مخطوطاتِ هذِهِ المكتبةِ مجموعٌ نفيسٌ، لا ندرِي، علَى وجهِ التحديدِ، متَى أُضيفَ إليهَا. إلّا أنَّ الخاتَمَ الذِي خُتمَت بِهِ إحدَى مخطوطاتِ المجموعِ جاءَ فِيهِ العبارةُ التاليةُ: «وقفُ مكتبةِ المدرسةِ الأحمديَّةِ، في جامعِ أحمدَ باشَا الَجزَّارِ، في عَكَّا المجدَّدةِ»، وفِي داخِلِ إطارِ الخاتَمِ، في آخرِ هذِهِ العبارةِ، كُتبَت سنةُ الوقفِ، وهيَ غيرُ واضحةٍ، ويُمكنُ قراءتُهَا، تخمينًا، 1323 هـ، وهِي تقابلُ عامَ 1905 م.
--------------------------------------------
ভূমিকা স্বরূপ
অবরুদ্ধ আক্কায় এক অনন্য পাণ্ডুলিপির কাহিনী
কলমে: ইসাম মুহাম্মদ আল-শান্তি
(১)আরব ফিলিস্তিন এই অঞ্চলের সেই সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডে অংশ নিয়েছিল, যা ঊনবিংশ শতাব্দী এবং তার পূর্ববর্তী সময়ে বিকশিত হয়েছিল। ফলে দেশে পাণ্ডুলিপির তিনটি বৃহৎ পাঠাগার গড়ে ওঠে। প্রথমটি: আল-আহমাদিয়া লাইব্রেরি, আক্কা শহরের আহমদ পাশা আল-জাজ্জার জামে মসজিদে, ১১৯৬ হিজরি / ১৭৮১ খ্রিস্টাব্দে। দ্বিতীয়টি: জাফা ইসলামি লাইব্রেরি, জাফার বড় জামে মসজিদে, ১২২৭ হিজরি / ১৮১২ খ্রিস্টাব্দে। তৃতীয়টি: আল-খালিদিয়া লাইব্রেরি, বায়তুল মুকাদ্দাসে, ১৩১৮ হিজরি / ১৯০০ খ্রিস্টাব্দে।
যখন আহমদ পাশা আল-জাজ্জার
(২) আক্কায় তাঁর নামাঙ্কিত মসজিদটি নির্মাণ করেন, তখন তিনি এর স্থাপত্যশৈলীর প্রতি অত্যন্ত গুরুত্বারোপ করেন এবং এর সাথে একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান (মাদরাসা) যুক্ত করেন। তিনি এর জন্য প্রচুর পাণ্ডুলিপি সংগ্রহ করেছিলেন, যার কোনো কোনোটিতে স্বয়ং আল-জাজ্জারের স্বাক্ষর বিদ্যমান।
এই পাঠাগারের পাণ্ডুলিপিসমূহের মধ্যে একটি মূল্যবান সংকলন রয়েছে, যা ঠিক কবে এতে যুক্ত করা হয়েছিল তা আমাদের সুনির্দিষ্টভাবে জানা নেই। তবে এই সংকলনের একটি পাণ্ডুলিপিতে যে সিলমোহরটি অঙ্কিত ছিল, তাতে নিম্নোক্ত ইবারতটি (বাক্য) পাওয়া যায়: "নবায়িত আক্কার আহমদ পাশা আল-জাজ্জার জামে মসজিদের আহমাদিয়া মাদরাসা লাইব্রেরির ওয়াকফ।" এই সিলমোহরের কাঠামোর অভ্যন্তরে উক্ত বাক্যের শেষে ওয়াকফ করার বছরটি লেখা ছিল, যা অস্পষ্ট; তবে অনুমান করা যায় যে এটি ১৩২৩ হিজরি, যা ১৯০৫ খ্রিস্টাব্দের সমসাময়িক।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
ফাদাইলুল বাইতিল মুকাদ্দাস - আল-ওয়াসিতী
(পৃষ্ঠা: ٨)
ونعلمُ علمَ اليقينِ، أنَّ المجموعَ كانَ عامَ 1930 م، في المكتبةِ المذكورةِ. ذلكَ؛ لأنَّ عبدَ اللهِ مُخْلِصَ (ت: 1367 هـ / 1947 م) العلَّامةَ
… الفلسطينيَّ، المشتغلَ بالتراثِ العربيِّ المخطوطِ، اطَّلعَ علَيهِ وهوَ في المكتبةِ، وقلَّبَهُ بيدَيهِ وعينَيهِ، وكشفَ عن وجودِهِ، في مقالةٍ نشرَهَا في مجلةِ المَجمَعِ العلميِّ العربيِّ بدمشقَ، بعُنوانِ: «مجموعٌ نادرٌ»، في عددِهَا الصادرِ في ذلكَ العامِ
(1).
واهتمَّت دارُ الكتبِ المصريةُ، آنذاكَ، بهذَا المجموعِ، بعدَ أن لفتَ
… عبدُ اللهِ مُخْلِصُ الأنظارَ إلَيهِ. وكانَت الصِّلةُ الثَّقافيَّةُ في فلسطينَ وثيقةً وقويةً بمصرَ، كمَا كانَت منفتحةً علَى دمشقَ مِن بلادِ الشامِ. فحملَ الشيخُ محمدُ عبدُ الحافظِ التيجانيُّ
(2) هذَا المجموعَ من مُستقَرِّهِ في عَكَّا إلى القاهرةِ، عامَ 1932 م، متحمِّلًا الَمشَقَّةَ على بُعدِ الشُّقَّةِ، في ذلكَ الوقتِ المبكِّرِ، فصوَّرَتهُ الدارُ
(3). ومِن ثَمَّ أُعيدَ إلَى مكانِهِ في المكتبةِ الأحمديَّةِ في عَكَّا.
والطريفُ، أنَّ معهدَ المخطوطاتِ العربيةِ، الذِي أُنشئَ عامَ 1946 م، في ظلِّ جامعةِ الدولِ العربيةِ بالقاهرةِ، حرصَ علَى اقتناءِ صورةٍ مِن هذَا المجموعِ النادرِ، فصوَّرَ لمكتبتِهِ صورةً
(4) مِن مصوَّرَةِ دارِ الكتبِ المصريةِ.
--------------------------------------------
আমরা সুদৃঢ়ভাবে জানি যে, ১৯৩০ খ্রিস্টাব্দে এই সংকলনটি উল্লিখিত লাইব্রেরিতেই ছিল। এর কারণ হলো, ফিলিস্তিনি পণ্ডিত
… আবদুল্লাহ মুখলিস (ওফাত: ১৩৬৭ হিজরি / ১৯৪৭ খ্রিস্টাব্দ), যিনি পাণ্ডুলিপি আকারে রক্ষিত আরবি ঐতিহ্য নিয়ে গবেষণায় নিয়োজিত ছিলেন, তিনি লাইব্রেরিতে থাকা অবস্থায় এটি পর্যবেক্ষণ করেছিলেন। তিনি নিজ হাতে এর পাতা উল্টিয়েছিলেন এবং নিজ চোখে তা দেখেছিলেন। সেই বছর দামেস্কের ‘মাজমাউল ইলমি আল-আরাবি’ সাময়িকীতে প্রকাশিত ‘মাজমুউ নাদির’ (একটি বিরল সংকলন) শীর্ষক একটি প্রবন্ধে তিনি এর অস্তিত্বের কথা প্রকাশ করেছিলেন
(১)।
আবদুল্লাহ মুখলিস দৃষ্টি আকর্ষণ করার পর তৎকালীন মিশরের ‘দারুল কুতুব আল-মিসরিয়্যাহ’
… এই সংকলনটির ব্যাপারে আগ্রহী হয়ে ওঠে। মিশরের সাথে ফিলিস্তিনের সাংস্কৃতিক সম্পর্ক ছিল অত্যন্ত নিবিড় ও সুদৃঢ়, যেমনটি ছিল শামের অন্তর্গত দামেস্কের সাথেও। এরপর শেখ মুহাম্মদ আব্দুল হাফিজ তিজানি
(২) ১৯৩২ খ্রিস্টাব্দে এই সংকলনটিকে তার অবস্থানস্থল আক্কা থেকে কায়রোতে নিয়ে যান। সেই শুরুর সময়ে দীর্ঘ দূরত্বের পথ পাড়ি দেওয়ার কষ্ট সহ্য করে তিনি এটি নিয়ে গিয়েছিলেন। সেখানে দারুল কুতুব এর অনুলিপি তৈরি করে
(৩)। এরপর এটি পুনরায় আক্কার ‘মাকতাবা আহমাদিয়া’তে তার নিজ স্থানে ফিরিয়ে দেওয়া হয়।
মজার বিষয় হলো, ১৯৪৬ খ্রিস্টাব্দে কায়রোতে আরব লীগের অধীনে প্রতিষ্ঠিত ‘ইনস্টিটিউট অফ অ্যারাবিক ম্যানুস্ক্রিপ্টস’ এই বিরল সংকলনটির একটি অনুলিপি সংগ্রহের ব্যাপারে অত্যন্ত আগ্রহী ছিল। তাই তারা দারুল কুতুব আল-মিসরিয়্যাহর কাছে রক্ষিত অনুলিপি থেকে নিজেদের লাইব্রেরির জন্য একটি অনুলিপি
(৪) তৈরি করে।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
ফাদাইলুল বাইতিল মুকাদ্দাস - আল-ওয়াসিতী
(পৃষ্ঠা: ٩)
وظلَّ هذَا المجموعُ قابعًا في مكانِه الطبيعيِّ منَ المكتبةِ الأحمديةِ، هادئًا هانئًا؛ لأنَّهُ بينَ أهلِهِ، ومعَ أقرانِهِ منَ المخطوطاتِ العربيةِ، إلَى أَن سمحَت السلطاتُ الإسرائيليةُ بزيارةِ المستعربِ الأمريكيِّ جيمز أ. بِلَمِي James A. Bellamy مدينةَ عَكَّا، بهدفِ الاطَّلاعِ علَى مخطوطةٍ مِن هذَا المجموعِ. وكانَ الشيخُ محمدُ عبدُ الحافظِ التيجانيُّ، الذِي زارَهُ المستعربُ في القاهرةِ، قَد نصحَهُ بالسفرِ إلَى عَكَّا، ورؤيةِ المخطوطةِ الأصليَّةِ، دونَ الاكتفاءِ بالاطلاعِ علَى مصوَّرَتِها في دارِ الكتبِ المصريةِ.
وسافرَ المستعربُ المذكورُ عامَ 1963، أو بعدَهُ بقليلٍ، وأقامَ في عَكَّا يومينِ، مكَّنَهُ فيهِمَا أحمدُ إدْلِبي، أمينُ اللجنةِ الإسلاميةِ في المدينةِ، مِن تفحُّصِ المجموعِ، وتسجيلِ ملاحظاتِهِ علَيهِ، خاصةً مخطوطةَ (مكارمُ الأخلاقِ)، لابنِ أبِي الدنيَا (281 هـ / 894 م)؛ لأنَّ المستعربَ كانَ مشغولًا بتحقيقِهَا.
وبعدَ زيارتِهِ هذِهِ لعَكَّا ببضعِ سنينَ، وقبلَ عامِ 1970 م، وهوَ تاريخُ كتابتِهِ مقدِّمةَ (مكارمُ الأخلاقِ)، الذِي قُلنَا إنَّهُ كانَ معنيًّا بتحقيقِهِ ونشرِهِ، زُوِّدَ المستعربُ المذكورُ بصورةٍ كاملةٍ مِن أصلِ هذَا المجموعِ، إِذ كانَ قَد نُقلَ إلَى الجامعةِ العِبريةِ، علَى نحوِ مَا سيأتِي.
لَم يُترك هذَا المجموعُ في مكانِهِ المعتادِ، فقَد امتدَّت إليهِ يدُ الجامعةِ العِبْريةِ، فأخذَهُ، بالقوَّةِ والاستيلاءِ، الأستاذُ في الجامعةِ مِئِير ي. قِسْطر Meir J. Kister ، ومكَّنَ تلميذَهُ إسحاقَ حسونَ Isaac Hasson ، وهوَ يهوديٌّ أيضًا، بالاطلاعِ علَيهِ، بل وضعَهُ تحتَ تصرفِهِ لتحقيقِ إحدَى مخطوطاتِ هذَا
এই সংকলনটি আহমাদিয়া লাইব্রেরিতে তার স্বাভাবিক স্থানে শান্ত ও নিশ্চিন্ত অবস্থায় সংরক্ষিত ছিল; কারণ এটি তার স্বজন এবং অন্যান্য সমজাতীয় আরবি পাণ্ডুলিপির মধ্যেই ছিল। অবশেষে ইসরায়েলি কর্তৃপক্ষ মার্কিন প্রাচ্যবিদ জেমস এ. বেলামিকে (James A. Bellamy) এক্কা শহর সফরের অনুমতি দেয়, যার উদ্দেশ্য ছিল এই সংকলনের একটি পাণ্ডুলিপি পর্যবেক্ষণ করা। শায়খ মুহাম্মদ আব্দুল হাফিজ আল-তিজানি, যাঁর সাথে কায়রোতে উক্ত প্রাচ্যবিদ সাক্ষাৎ করেছিলেন, তিনি তাকে এক্কা সফর করার এবং দারুল কুতুব আল-মিসরিয়্যাহ-তে সংরক্ষিত এর অনুলিপিতে সন্তুষ্ট না থেকে মূল পাণ্ডুলিপিটি দেখার পরামর্শ দিয়েছিলেন।
উক্ত প্রাচ্যবিদ ১৯৬৩ সালে অথবা তার কিছুকাল পরে সফর করেন এবং এক্কাতে দুই দিন অবস্থান করেন। সেই সময় শহরের ইসলামিক কমিটির ট্রাস্টি আহমাদ ইদলিবী তাকে সংকলনটি পরীক্ষা করার এবং সেটির ওপর নোট নেওয়ার সুযোগ করে দেন, বিশেষ করে ইবনে আবিদ দুনিয়ার (২৮১ হিজরি / ৮৯৪ খ্রিস্টাব্দ) 'মাকারিমুল আখলাক' পাণ্ডুলিপিটি; কারণ প্রাচ্যবিদ তখন এটি সম্পাদনার কাজে ব্যস্ত ছিলেন।
এক্কা সফরের কয়েক বছর পর এবং ১৯৭০ খ্রিস্টাব্দের আগে—যা হলো 'মাকারিমুল আখলাক' গ্রন্থের ভূমিকা রচনার তারিখ, যেটির সম্পাদনা ও প্রকাশের ব্যাপারে তিনি আগ্রহী ছিলেন বলে আমরা উল্লেখ করেছি—উক্ত প্রাচ্যবিদকে এই মূল সংকলনের একটি পূর্ণাঙ্গ প্রতিলিপি সরবরাহ করা হয়। কারণ ততদিনে এটি হিব্রু ইউনিভার্সিটিতে স্থানান্তরিত করা হয়েছিল, যার বিবরণ সামনে আসবে।
এই সংকলনটিকে তার স্বাভাবিক স্থানে রেখে দেওয়া হয়নি, বরং হিব্রু ইউনিভার্সিটির হাত এর দিকে প্রসারিত হয়। উক্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক মেয়ার জে. কিস্টার (Meir J. Kister) বলপ্রয়োগ ও দখলের মাধ্যমে এটি নিয়ে নেন এবং তার ছাত্র আইজ্যাক হাসন (Isaac Hasson)-কে এটি দেখার সুযোগ করে দেন, যিনি নিজেও একজন ইহুদি ছিলেন। এমনকি তিনি এই সংকলনের একটি পাণ্ডুলিপি সম্পাদনার জন্য এটি তার অধীনে ন্যস্ত করেন।
(খণ্ড: ১)
ফাদাইলুল বাইতিল মুকাদ্দাস - আল-ওয়াসিতী
(পৃষ্ঠা: ١٠)
المجموعِ، وهوَ كتابُ (فضائلُ البيتِ المُقَدَّسِ) لأبِي بكرٍ محمدِ بنِ أحمدَ بنِ محمدٍ الواسطيِّ المَقْدِسيِّ، لنيلِ درجةِ الماجستير M. A. ، بإشرافِهِ، مِن قِسمِ اللغةِ العربيةِ وآدابِهَا، بمعهدِ الدراساتِ الآسيويةِ والإفريقيةِ بالجامعةِ.
وتقعُ هذِهِ المخطوطةُ الرابعةَ في ترتيبِهَا مِن بينِ هذَا المجموعِ. وجاءَت في 25 ورقةً، أو 49 صفحةً، علَى وجهِ الدِّقَّةِ. وقَد كُتبَت في دمشقَ، في أواخرِ القرنِ السادسِ الهجريِّ (الثالثَ عشرَ الميلاديِّ).
وواضحٌ أنَّ هذِهِ المخطوطةَ، بَل المجموعَ كلَّهُ، قد نُقلَ مِن عَكَّا إلَى الجامعةِ العِبريةِ قُبيلَ اشتغالِ إسحاقَ حَسُّون بِهَا، في حدودِ عامِ 1967 م، أَو 1968 م. وطبيعيٌّ ألَّا يذكُرَهَا المفهرِسُ محمودُ عليُّ عطَا اللهِ مِن بينِ مخطوطاتِ المكتبةِ الأحمديَّةِ في عَكَّا، في فهرسِهِ الذِي نشرَهُ مجمعُ اللغةِ العربيةِ الأُرْدنيُّ، في عَمَّانَ (الأُردنِ)، عامَ 1403 هـ / 1983 م. وكانَ هذَا المفهرِسُ قَد وصفَ فِيهِ ثمانينَ مخطوطةً، ليسَت مِنهَا مخطوطةُ الواسطيِّ، ولَا مخطوطاتُ المجموعِ كلِّهِ. وقَد أشارَ المفهرِسُ، في مقدِّمةِ فهرسِهِ، إشارةً خفيةً إلَى أنَّ بعضًا مِن مخطوطاتِ المكتبةِ قَد فُقدَ لسببٍ أو لآخَرَ، وأنَّ هذَا العددَ المحدودَ مِنَ المخطوطاتِ لا يُشكِّلُ المكتبةَ الحقيقيةَ التِي عُرفتَ أيَّامَ الجَزَّارِ.
أمَّا الواسطيُّ المقدسيُّ، مُؤلِّفُ كتابِ (فضائلُ البيتِ الُمقَدَّسِ)، الذِي نحنُ بصددِهِ، فقَد كانَ مِن خطباءِ المسجدِ الأقصَى، وكانَ حيًّا عامَ 410 هـ، لأنَّهُ قرأَ في هذِهِ السَّنةِ كتابَهُ هذَا علَى تلاميذِهِ، في منزلِهِ ببَيتِ المقدِسِ.
সংকলনটি হলো আবু বকর মুহাম্মদ ইবন আহমদ ইবন মুহাম্মদ আল-ওয়াসিতি আল-মাকদিসি রচিত 'ফাদায়িলুল বাইতিল মুকাদ্দাস' (বাইতুল মুকাদ্দাসের ফযিলত) গ্রন্থ, যা বিশ্ববিদ্যালয়ের এশিয়ান অ্যান্ড আফ্রিকান স্টাডিজ ইনস্টিটিউটের আরবি ভাষা ও সাহিত্য বিভাগ থেকে তাঁর তত্ত্বাবধানে এম.এ (M.A.) ডিগ্রি অর্জনের জন্য প্রস্তুত করা হয়েছে।
এই পাণ্ডুলিপিটি এই সংকলনের মধ্যে ক্রমানুসারে চতুর্থ স্থানে রয়েছে। এটি সুনির্দিষ্টভাবে ২৫টি পত্রক বা ৪৯টি পৃষ্ঠায় বিন্যস্ত। এটি ষষ্ঠ হিজরি শতকের শেষের দিকে (ত্রয়োদশ খ্রিস্টাব্দ) দামেস্কে লিখিত হয়েছিল।
এটি স্পষ্ট যে, এই পাণ্ডুলিপিটি, এমনকি পুরো সংকলনটিই ১৯৬৭ বা ১৯৬৮ খ্রিস্টাব্দের দিকে ইসহাক হাসুন এটি নিয়ে কাজ শুরু করার ঠিক আগে আক্কা থেকে হিব্রু ইউনিভার্সিটিতে স্থানান্তরিত হয়েছিল। এটা স্বাভাবিক যে, সূচিপত্র প্রণেতা মাহমুদ আলী আতাআল্লাহ জর্ডানের আম্মানে জর্ডানীয় আরবি ভাষা একাডেমি কর্তৃক ১৪০৩ হিজরি / ১৯৮৩ খ্রিস্টাব্দে প্রকাশিত তাঁর ক্যাটালগে আক্কার আহমাদিয়া লাইব্রেরির পাণ্ডুলিপিগুলোর মধ্যে এটি উল্লেখ করেননি। এই সূচিপত্র প্রণেতা সেখানে আশিটি পাণ্ডুলিপির বিবরণ দিয়েছেন, যার মধ্যে আল-ওয়াসিতির পাণ্ডুলিপি বা সমগ্র সংকলনের কোনো পাণ্ডুলিপিই ছিল না। সূচিপত্র প্রণেতা তাঁর তালিকার ভূমিকায় সূক্ষ্ম ইঙ্গিত দিয়েছিলেন যে, লাইব্রেরির কিছু পাণ্ডুলিপি কোনো না কোনো কারণে হারিয়ে গেছে এবং পাণ্ডুলিপির এই সীমিত সংখ্যাটি আল-জায্যারের সময়ের পরিচিত সেই প্রকৃত লাইব্রেরিটিকে তুলে ধরে না।
আর আল-ওয়াসিতি আল-মাকদিসি, যিনি আমাদের আলোচ্য 'ফাদায়িলুল বাইতিল মুকাদ্দাস' গ্রন্থের লেখক, তিনি মাসজিদুল আকসার খতিবদের একজন ছিলেন। ৪১০ হিজরি সালেও তিনি জীবিত ছিলেন, কারণ এই বছর তিনি বাইতুল মুকাদ্দাসে তাঁর নিজ গৃহে তাঁর ছাত্রদের সামনে এই গ্রন্থটি পাঠ করেছিলেন।
(খণ্ড: ১)
ফাদাইলুল বাইতিল মুকাদ্দাস - আল-ওয়াসিতী
(পৃষ্ঠা: ١١)
وتعودُ أهميَّةُ هذَا الكتابِ إلَى أنَّهُ أقدمُ كتابٍ مستقلٍّ، وصلَ إلَينَا، تختصُّ مباحثُهُ بأكملِهَا في فضائلِ هذِهِ المدينةِ
(1). أمَّا مصادرُ مادتِهِ الرئيسةِ، فهيَ القرآنُ الكريمُ، والأحاديثُ النبويةُ، والأحداثُ التاريخيَّةُ في عهودِ الإسلامِ.
ولا شكَّ في أنَّ افتتاحَ الواسطيِّ كتابَهُ بالحديثِ النبويِّ المشهورِ (شدُّ الرِّحَالِ) الُمجمَعِ علَيهِ، واختتامَهُ إيَّاهُ بالآيةِ الكريمةِ (الإسراء) أكسبَاهُ معنًى إسلاميًّا كبيرًا متَّصلًا بقُدسيَّةِ هذِهِ المدينةِ. فقَد وُضعَت في الكتابِ في مكانِهَا الصحيحِ، بعدَ قُدسيَّةِ المسجدِ الحرامِ، ومسجدِ الرسولِ. بالإضافةِ إلَى أنَّهَا مدينةُ الإسراءِ والمعراجِ، وهَذَا حَسْبُ المسلمينَ.
علَى أنَّ مِن مصادرِ الكتابِ أيضًا ما يُسمَّى في التراثِ العربيِّ الإسلاميِّ بالإسرائيلياتِ، التِي أفضَت بطبيعَتِهَا إلَى القَصصِ الشعبيِّ، وهَذَا هوَ السرُّ في اهتمامِ الجامعةِ العِبْريةِ بالاستيلاءِ علَى المخطوطةِ الوحيدَةِ في العالمِ، وحفظِهَا لدَيهَا، ثمَّ نشرِهَا محقَّقةً معَ ملخَّصٍ باللغةِ الفرنسيةِ
(2)؛ ليطّلعَ علَيهَا مَن لَا يعرفُ العربيةَ. وفي الظَّنِّ أنَّ مثلَ هذِهِ الإسرائيلياتِ، ومَا أفضَت إلَيهِ مِن قَصصٍ شعبيٍّ، يُكسِبُ اليهودَ حَقًّا في هذِهِ المدينةِ العربيةِ. وما دَرَوا أنَّ دخولَ هذِهِ الإسرائيلياتِ في التراثِ العربيِّ الإسلاميِّ مَا هُوَ إلَّا شاهدٌ علَى سماحَةِ هذَا الدِّينِ الحنيفِ.
ونعنِي بالإسرائيلياتِ رواياتٍ دخَلَت الإسلامَ مِن مصادرَ يهوديَّةٍ، مِنَ التَّورَاةِ والتَّلمُودِ والزَّبُورِ. وأشهَرُ مَن روَاهَا وأشاعَهَا أبُو إسحاقَ كَعبُ
--------------------------------------------
এই কিতাবটির গুরুত্ব এই যে, এটি আমাদের নিকট পৌঁছানো প্রাচীনতম স্বতন্ত্র গ্রন্থ, যার সমস্ত আলোচনা এই শহরের শ্রেষ্ঠত্বকে কেন্দ্র করে আবর্তিত হয়েছে
(১)। আর এর মূল উপাদানের প্রধান উৎসসমূহ হলো আল-কুরআনুল কারীম, নবীজির হাদীসসমূহ এবং ইসলামের বিভিন্ন যুগের ঐতিহাসিক ঘটনাবলি।
এতে কোনো সন্দেহ নেই যে, আল-ওয়াসিতী কর্তৃক তার কিতাবটি সর্বসম্মত প্রসিদ্ধ নববী হাদীস 'শাদ্দুর রিহাল' (ইবাদতের উদ্দেশ্যে সফর করা) দিয়ে শুরু করা এবং পবিত্র আয়াতাংশ 'আল-ইসরা' দিয়ে শেষ করা গ্রন্থটিকে এই শহরের পবিত্রতার সাথে সম্পৃক্ত এক বিশাল ইসলামী তাৎপর্য দান করেছে। কেননা মাসজিদুল হারাম ও মাসজিদুন নববীর পবিত্রতার পরেই এই শহরটিকে কিতাবে তার সঠিক স্থানে স্থাপন করা হয়েছে। এর সাথে যুক্ত হয়েছে এটি ইসরা ও মেরাজের শহর হওয়ার বিষয়টি, আর মুসলমানদের জন্য এটিই যথেষ্ট।
তবে কিতাবটির উৎসসমূহের মধ্যে এমন কিছুও রয়েছে যাকে আরব-ইসলামী ঐতিহ্যে 'ইসরাঈলিয়াত' বলা হয়, যা স্বভাবগতভাবেই লোকগাঁথা বা জনশ্রুতির দিকে ধাবিত হয়েছে। আর এটিই হলো হিব্রু ইউনিভার্সিটির বিশ্বের একমাত্র পাণ্ডুলিপিটি হস্তগত করার ব্যাপারে আগ্রহী হওয়া, সেটিকে নিজেদের কাছে সংরক্ষণ করা এবং ফরাসি ভাষায় একটি সারসংক্ষেপসহ সম্পাদিত আকারে প্রকাশ করার মূল রহস্য
(২); যাতে যারা আরবি জানে না তারা এটি অধ্যয়ন করতে পারে। ধারণা করা হয় যে, এই ধরনের ইসরাঈলিয়াত এবং তা থেকে উৎসারিত লোকগাঁথাসমূহ ইহুদিদেরকে এই আরব শহরের ওপর একটি অধিকার দান করে। কিন্তু তারা অনুধাবন করতে পারেনি যে, আরব-ইসলামী ঐতিহ্যে এই ইসরাঈলিয়াতসমূহের অনুপ্রবেশ এই সঠিক দ্বীনের উদারতারই একটি প্রমাণ মাত্র।
ইসরাঈলিয়াত বলতে আমরা সেইসব বর্ণনাকে বুঝি যা তাওরাত, তালমুদ ও যাবুর এর মতো ইহুদি উৎস থেকে ইসলামে প্রবেশ করেছে। যারা এগুলো বর্ণনা ও প্রচার করেছেন তাদের মধ্যে সবচেয়ে প্রসিদ্ধ হলেন আবু ইসহাক কাব...
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
ফাদাইলুল বাইতিল মুকাদ্দাস - আল-ওয়াসিতী
(পৃষ্ঠা: ١٢)
الأَحبَارِ، المتوفَّى 32 هـ / 652 م، ووَهبُ بنُ مُنَبِّهٍ، المتوفَّى 114 هـ/732 م، وكانَا يهوديَّينِ فأسلَمَا
(1). كانَ الأوَّلُ مِن كبارِ علماءِ يهودِ اليمنِ في الجاهليَّةِ، وأسلَمَ في زمنِ أبِي بكرٍ الصِّدِّيقِ، وقدمَ مدينةَ الرَّسولِ في عهدِ عمرَ بنِ الخَطَّابِ، فأخذَ عَنهُ الصحابةُ وغيرُهم كثيرًا مِن أخبارِ الأُممِ الغابرةِ. أمَّا وَهبُ بنُ مُنَبِّهٍ، فإليهِ يرجعُ أكثرُ الإسرائيلياتِ المنتشرةِ في المؤلَّفاتِ العربيَّةِ. وكانَت أخبارُهُ ممزوجةً بالقَصصِ والأساطيرِ.
ولَا نشكُّ في أنَّ هذينِ المصدَرَين الأخيرَينِ، الإسرائيلياتِ والقَصصَ الشعبيَّ، علَى وجهِ الخصوصِ، قَد نالَا مِن أصالةِ كتابِ الواسطيِّ وقيمتِهِ. وبهذَا أصبَحَ مِنَ الضروريِّ التَّصدِّي لهذِهِ الإسرائيلياتِ، وكشفُ مَا تنطوِي علَيهِ مِن خرافاتٍ وأساطيرَ، وما تُخفِيهِ مِن أكاذيبَ، لا تصمُدُ أمامَ حقائقِ التاريخِ.
أمَّا المحقِّقُ والدَّارسُ إسحاقُ حَسُّونُ، فلم يخلُ في دراستِهِ مِن هوًى في نفسِهِ، الأمرُ الذِي أبعدَهُ، في كثيرٍ مِنَ الأحايينِ، عن النهجِ العلميِّ، وأقصَاهُ عن الطريقِ الأكاديميِّ الذي يسلكُهُ العلماءُ في بحوثِهِم الرَّصينةِ، إذَا مَا خلَت نفوسُهُم مِن أهواءٍ وأغراضٍ.
وهكَذَا يتَّضحُ لماذَا سطَا الصهاينةُ علَى هذِهِ المخطوطةِ العربيةِ، فأَسَرُوهَا، كما أَسَرُوا، مِن قَبلِهَا، مدينةَ عَكَّا التِي ضمَّتها بينَ حنايَاهَا أزمانًا طويلةً.
وبعدُ،،
فقَد مضَت سِنونَ، وظهرَت طبعةٌ أخرَى في القاهرةِ. والاثنتانِ غيرُ مُقنِعَتَينِ تحقيقًا ودَرسًا. فقامَ الشابُّ الطُّلَعةُ، عمرُو عبدُ العظيمِ نيازِي
…--------------------------------------------
আল-আহবার, যিনি ৩২ হিজরি / ৬৫২ খ্রিস্টাব্দে মৃত্যুবরণ করেন এবং ওয়াহব ইবনে মুনাব্বিহ, যিনি ১১৪ হিজরি / ৭৩২ খ্রিস্টাব্দে মৃত্যুবরণ করেন; তারা উভয়ে ইহুদি ছিলেন এবং পরবর্তীতে ইসলাম গ্রহণ করেন
(১)। তাদের মধ্যে প্রথমজন জাহেলি যুগে ইয়ামানের ইহুদিদের বড় আলেমদের অন্তর্ভুক্ত ছিলেন এবং আবু বকর আস-সিদ্দিক-এর যুগে ইসলাম গ্রহণ করেন। তিনি উমর ইবনুল খাত্তাব-এর শাসনামলে রাসূলের শহরে আগমন করেন এবং সাহাবীগণ ও অন্যান্যরা তার থেকে অতীত জাতিসমূহের অনেক সংবাদ গ্রহণ করেন। আর ওয়াহব ইবনে মুনাব্বিহ-এর ক্ষেত্রে বলা যায় যে, আরবি রচনাবলিতে প্রচলিত অধিকাংশ ইসরাঈলি বর্ণনার উৎস তিনিই। তার বর্ণনাগুলো গল্প ও উপকথায় মিশ্রিত ছিল।
এতে আমাদের কোনো সন্দেহ নেই যে, এই শেষোক্ত দুটি উৎস—বিশেষ করে ইসরাঈলি বর্ণনা এবং লোকগাঁথাগুলো—আল-ওয়াসিতির গ্রন্থের বিশুদ্ধতা ও গুরুত্বকে ক্ষুণ্ণ করেছে। তাই এই ইসরাঈলি বর্ণনাগুলোর মোকাবিলা করা এবং এগুলোর ভেতরে নিহিত কুসংস্কার ও উপকথাগুলো উন্মোচন করা এবং এতে লুকায়িত মিথ্যাগুলো প্রকাশ করা জরুরি হয়ে পড়েছে, যা ইতিহাসের সত্যের সামনে টিকতে পারে না।
অন্যদিকে গবেষক ও পর্যালোচক ইসহাক হাসুন তার অধ্যয়নে ব্যক্তিগত খেয়ালখুশি থেকে মুক্ত ছিলেন না, যা তাকে অনেক ক্ষেত্রে বৈজ্ঞানিক পদ্ধতি থেকে দূরে সরিয়ে দিয়েছে এবং সেই একাডেমিক পথ থেকে বিচ্যুত করেছে যা আলেমগণ তাদের গভীর গবেষণায় অনুসরণ করেন যখন তাদের অন্তর প্রবৃত্তি ও উদ্দেশ্য থেকে মুক্ত থাকে।
এভাবে এটা স্পষ্ট হয় যে কেন ইহুদিবাদীরা এই আরবি পাণ্ডুলিপিটি দখল করেছে এবং এটিকে বন্দী করেছে, যেমনটি তারা এর আগে আক্কা শহরকে বন্দী করেছিল, যা দীর্ঘকাল ধরে একে নিজের বুকে আগলে রেখেছিল।
অতঃপর,,
বহু বছর অতিবাহিত হয়েছে এবং কায়রোতে আরেকটি সংস্করণ প্রকাশিত হয়েছে। তবে সম্পাদনা ও পর্যালোচনার দিক থেকে উভয় সংস্করণই সন্তোষজনক নয়। তাই অনুসন্ধিৎসু যুবক আমরু আব্দুল আজিম নিয়াজি...
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
ফাদাইলুল বাইতিল মুকাদ্দাস - আল-ওয়াসিতী
(পৃষ্ঠা: ١٣)
ـ وهُوَ أحدُ تلاميذِي المتميِّزينَ في الدراساتِ العُليَا، ومِنَ الذينَ تربَّوا في رعايةِ جَدِّهِ الإمامِ العالِمِ أبِي إسحاقَ الحُوَينِيِّ، وشربَ مِن مَعينِ علمِهِ وفكرِهِ، في الحديثِ وعلومِهِ خاصةً ـ بإخراجِ الكتابِ تحقيقًا ودرسًا، وأقبَلَ علَى العملِ بجِدٍّ واجتهادٍ، وجَمعَ لَهُ كلَّ مَا يتَّصلُ بالموضوعِ، من قريبٍ أو بعيدٍ.
لقَد تصفَّحتُ العمَلَ بعدَ إنجازِهِ، فوجدتُ الجهدَ فيه باديًا، وأُعطيَ العملُ حقَّهُ مِنَ التدقيقِ والتنقيرِ. واتَّصفَ تحقيقُ النصِّ، والتعليقُ علَيهِ، ودراستُهُ، بالاستقصاءِ والشموليَّةِ، ولم يَترُك المحقِّقُ شاردةً ولا واردةً إلَّا أتَى علَى ذكرِهَا في موضِعِهَا اللائقِ. وأدَّت بِهِ الدِّقَّةُ إلَى تخريجِ الأحاديثِ والحكمِ علَيهَا بصورةٍ كافيةٍ مَرضِيَّةٍ، وكذلِكَ الإشارةِ إلَى مسائلَ كثيرةٍ مفيدةٍ.
والحقُّ أنَّ هذَا العملَ قد تميَّز عَمَّا سبقَهُ ممَّا طُبعَ، بأمورٍ يجدُهَا القارئُ مبثوثةً في ثنايَاهُ. وفِي يقينِي أنَّهُ سيُثبِتُ وجودَهُ. والبقاءُ، في كلِّ الأحوالِ، للأصلحِ.
واللهُ الموفِّقُ في الأوَّلِ والآخِرِ.
القاهرة، الأربعاء 4 جمادى الأُولى 1430 هـ عصام محمد الشَّنْطيّ
29 أبريل (نيسان) 2009 م
তিনি উচ্চশিক্ষায় আমার অন্যতম মেধাবী ছাত্র এবং তাদের অন্তর্ভুক্ত যারা তাদের দাদা প্রাজ্ঞ ইমাম আবু ইসহাক আল-হুওয়াইনীর তত্ত্বাবধানে লালিত-পালিত হয়েছেন। তিনি তাঁর জ্ঞান ও চিন্তার প্রস্রবণ থেকে পান করেছেন, বিশেষত হাদিস ও এর সংশ্লিষ্ট জ্ঞানসমূহে। তিনি এই গ্রন্থটি সম্পাদনা ও পর্যালোচনার মাধ্যমে প্রকাশের কাজ সম্পন্ন করেছেন এবং অত্যন্ত একাগ্রতা ও নিষ্ঠার সাথে এই কাজে আত্মনিয়োগ করেছেন। তিনি এই বিষয়ের সাথে প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে সংশ্লিষ্ট সবকিছুই এতে সংকলন করেছেন।
কাজ সমাপ্ত হওয়ার পর আমি এটি পাঠ করেছি এবং এতে শ্রমের স্বাক্ষর সুস্পষ্টভাবে দেখতে পেয়েছি। কাজটির যথাযথ বিশ্লেষণ ও সূক্ষ্ম যাচাইয়ের হক আদায় করা হয়েছে। মূল পাঠের সম্পাদনা, এর ওপর টীকা প্রদান এবং এর পর্যালোচনায় পূর্ণাঙ্গতা ও ব্যাপকতা ফুটে উঠেছে। সম্পাদক কোনো ছোট বা বড় বিষয়কেই তার যথাযথ স্থানে উল্লেখ করা ছাড়া ছেড়ে দেননি। এই সূক্ষ্মতা তাকে হাদিসসমূহের তাখরিজ ও সেগুলোর ওপর পর্যাপ্ত ও সন্তোষজনক হুকুম প্রদানের দিকে নিয়ে গেছে, পাশাপাশি তিনি অনেক গুরুত্বপূর্ণ ও উপকারী বিষয়ের প্রতিও ইঙ্গিত করেছেন।
প্রকৃতপক্ষে এই কাজটি এমন কিছু বৈশিষ্ট্যের মাধ্যমে এর পূর্বে প্রকাশিত সংস্করণগুলো থেকে স্বতন্ত্র মর্যাদা লাভ করেছে, যা পাঠক এর পরতে পরতে ছড়িয়ে থাকতে দেখবেন। আমার দৃঢ় বিশ্বাস যে, এটি নিজের শ্রেষ্ঠত্ব প্রমাণ করবে। আর সকল অবস্থায় যা অধিকতর যোগ্য, তাই টিকে থাকে।
আল্লাহই আদিতে ও অন্তে তাওফিকদাতা।
কায়রো, বুধবার ৪ জুমাদাল উলা ১৪৩০ হিজরি, ইসাম মুহাম্মদ আশ-শান্তি
২৯ এপ্রিল ২০০৯ খ্রিস্টাব্দ
(খণ্ড: ১)
ফাদাইলুল বাইতিল মুকাদ্দাস - আল-ওয়াসিতী
(পৃষ্ঠা: ١٤)
تقديم فضيلة الشيخ / طارق عوض الله - حفظه الله تعالى -
فِي زمانٍ صارَت العنايةُ بكتبِ التراثِ فيه عملًا تِجاريًّا، يتنافسُ فِيهِ الباحثونَ عن المالِ، ومِن ثَمَّ تكثُرُ النشراتُ للكتابِ الواحدِ، وكلُّ نشرةٍ لا تمتازُ من سابقتِهَا إلَّا بمزيدٍ مِنَ التصحيفَاتِ والتحريفَاتِ، والزيادَةِ والنُّقصانِ، حتَّى صارَ الرُّجوعُ إلَى الأصولِ الخطيَّةِ للكتُبِ المحقَّقةِ أمرًا يتفاخرُ بِهِ تِجَّارُ الكُتبِ (ناشرُونَ، أَو زاعِمُو التحقيقِ)، ولَا تلمسُ لَهُ واقعًا في الأعمالِ المَنشورةِ، فهذَا يكتُبُ علَى طُرَّةِ الكتابِ: «مُحقَّقٌ علَى كذَا وكذَا نسخةً خطِّيَّةً»، أَو «يُطبعُ علَى كذَا نسخةً خطِّيَّةً لأولِ مرَّةٍ»، ونحوَ هذِهِ العباراتِ التِي تخلُو منَ الصِّدقِ، وليسَ الغرضُ مِنهَا إلَّا إبهارُ القارئِ ليُقدِمَ علَى شراءِ الكتابِ، وتمتلئَ خزائنُ هؤلاءِ التجارِ.
وآخرُونَ يتنافسُونَ في تصغيرِ حجمِ الكتابِ ليُسهِّلَ علَيهِم ذلكَ المنافسةَ علَى السعرِ، فتجدُ الكتابَ الواحدَ في عِدَّةِ طبعاتٍ، بعضُهَا كبيرُ الحجمِ في عِدَّةِ مجلداتٍ، وبعضُهَا الآخرُ صغيرُ الحجمِ جدًّا يكادُ يكونُ في مُجَلَّدةٍ، ومَا غرضُ هؤلاءِ التجارِ بهذَا الصنيعِ إلَّا تصغيرُ حجمِ الكتابِ لمزيدٍ مِنَ المكاسبِ الماديَّةِ، حتَّى ولو كانَ الكتابُ في صورتِهِ هذَه لا يصلحُ للقراءةِ ولَا المطالَعةِ، ولَيتَهم إِذ صنعُوا ذلكَ وجَّهُوا عنايتَهُم بخدمةِ هذِهِ الكتبِ مِن حيثُ التصحيحِ والضبطِ والتحقيقِ، لكِن للأسفِ! فمِثلُ هذِهِ الطبعاتِ لَا تمتازُ عن غيرِهَا إلَّا بمزيدٍ مِن سوءِ التصحيحِ والتحقيقِ.
وآخرونَ عَمِدُوا إلى أسالِيبَ أخرَى لإخراجِ الكتبِ وإبهارِ القارئِ، حتَّى يُخرجَ مَا في جَيبِهِ من المالِ بنَفسٍ راضيةٍ، وشغفٍ شديدٍ، حيثُ ملئُوا حواشِي
শ্রদ্ধাভাজন শায়খ তারেক আওয়াদুল্লাহ -আল্লাহ তাআলা তাঁকে হিফাযত করুন- এর উপস্থাপনা।
এমন এক যুগে যেখানে ঐতিহ্যবাহী তুরাস গ্রন্থসমূহের প্রতি যত্ন নেওয়া একটি ব্যবসায়িক কর্মকাণ্ডে পরিণত হয়েছে, যাতে অর্থ অন্বেষণকারীরা প্রতিযোগিতায় লিপ্ত হয়। ফলে একই গ্রন্থের বহু সংস্করণ প্রকাশিত হচ্ছে, আর প্রতিটি সংস্করণ পূর্ববর্তী সংস্করণের তুলনায় কেবল আরও বেশি লিপিপ্ৰমাদ, বিকৃতি, সংযোজন ও বিয়োজনের মাধ্যমেই ভিন্নতা পায়। এমনকি সম্পাদিত গ্রন্থসমূহের মূল পাণ্ডুলিপির দিকে ফিরে যাওয়া এমন একটি বিষয়ে পরিণত হয়েছে যা নিয়ে গ্রন্থ-ব্যবসায়ীরা (প্রকাশক অথবা সম্পাদনার দাবিদারগণ) গর্ব করে থাকে, অথচ প্রকাশিত কাজগুলোতে এর বাস্তব কোনো প্রতিফলন খুঁজে পাওয়া যায় না। সুতরাং কেউ বইয়ের মলাটে লিখে থাকে: «এত এত সংখ্যক পাণ্ডুলিপির ওপর ভিত্তি করে সম্পাদিত», অথবা «প্রথমবারের মতো এতগুলো পাণ্ডুলিপির সাহায্যে মুদ্রিত»—এই জাতীয় এমন সব বাক্য যা সত্যতা বর্জিত। এসবের উদ্দেশ্য কেবল পাঠককে চমৎকৃত করা যাতে তারা বইটি কিনতে প্রলুব্ধ হয় এবং এই ব্যবসায়ীদের ভাণ্ডার পূর্ণ হয়।
আবার অন্যরা বইয়ের আয়তন ছোট করার প্রতিযোগিতায় লিপ্ত হয় যাতে তাদের জন্য মূল্যের ক্ষেত্রে প্রতিযোগিতা করা সহজ হয়। ফলে একই বই বিভিন্ন মুদ্রণে পাওয়া যায়, যার কোনটি বড় আকৃতির এবং কয়েক খণ্ডে সমাপ্ত, আবার কোনটি অত্যন্ত ছোট আকৃতির যা প্রায় এক খণ্ডেই সীমাবদ্ধ। এই ব্যবসায়ীদের এমন কাজের উদ্দেশ্য পার্থিব মুনাফা বৃদ্ধির জন্য বইয়ের আয়তন ছোট করা ছাড়া আর কিছুই নয়, যদিও সেই অবস্থায় বইটি পড়ার বা অধ্যয়ন করার উপযোগী না থাকে। হায়! তারা যদি এটি করার সময় সংশোধন, সঠিক নির্ধারণ ও সম্পাদনার মাধ্যমে এই গ্রন্থগুলোর খিদমতের প্রতি মনোযোগী হতো! কিন্তু পরিতাপের বিষয়! এ জাতীয় সংস্করণগুলো অন্যদের তুলনায় কেবল আরও বেশি ভুল সংশোধন ও মন্দ সম্পাদনার মাধ্যমেই স্বতন্ত্র হয়।
আবার অন্যরা বই প্রকাশের ক্ষেত্রে ভিন্ন কৌশল অবলম্বন করে যাতে পাঠককে চমৎকৃত করা যায়, যেন সে সন্তুষ্ট চিত্তে এবং প্রবল আগ্রহে নিজের পকেটের অর্থ ব্যয় করে। যেখানে তারা টীকাগুলোকে পূর্ণ করে...
(খণ্ড: ১)
ফাদাইলুল বাইতিল মুকাদ্দাস - আল-ওয়াসিতী
(পৃষ্ঠা: ١٥)
هذِهِ الكتبِ بتخريجِ الأحاديثِ التِي اشتملَ علَيهَا الكتابُ، والحكمِ علَيهَا تصحيحًا وتضعيفًا، وتِلكَ خُطَّةٌ جيِّدةٌ، وطريقةٌ سويَّةٌ، لَو أنَّ سالِكِيهَا اتَّبعُوا الأُصولَ العلميَّةَ في التخريجِ والحُكمِ علَى الأحاديثِ، لكنَّ الباحثَ الفاهِمَ يعلمُ أنَّ كثيرًا مِن هذِهِ الأعمالِ بعيدةٌ كلُّ البعدِ عن الطرقِ العلميَّةِ التِي بيَّنَهَا أهلُ العلمِ، واتبعُوهَا في أعمالِهم. فصارَ عملُ هؤلاءِ أشبَه بعزوٍ وملءٍ للحواشِي بأسماءِ الكتبِ، وأرقامِ الأجزاءِ والصَّفحاتِ؛ هُروبًا مِن مشقَّةِ التصحيحِ والضبطِ، وإخفاءً للعيوبِ التِي تعتَرِي أعمالَهُم، فالحواشِي منفوخةٌ بالتخريجَاتِ والأرقامِ، والكتابُ يكادُ يكونُ أعجميًّا مِن كثرةِ مَا فِيهِ مِن تصحيفاتٍ وتحريفاتٍ، وحذفٍ وسقطٍ، وزيادةٍ وإقحامٍ، وتقديمٍ وتأخيرٍ، وتصرُّفٍ غيرِ محمودٍ.
فِي خِضَمِّ هذِهِ الأحوالِ المؤسفَةِ، فاجئَنِي أخِي وحبِيبِي: عمرُو
… عبدُ العظِيمِ نيازِي شريفُ، بعملٍ، هوَ عبارةٌ عن تحقيقٍ علميٍّ لكتابِ
… (فضائلُ البيتِ المقدَّسِ) لأبِي بكرٍ محمدِ بنِ أحمدَ بنِ محمدٍ الواسطيِّ المقدسيِّ، اعتمادًا علَى أصلِهِ الخطّيِّ الوحيدِ، والذِي لا يوجدُ فيما يُعلمُ سواهُ. وهو عملٌ قَد جمَعَ فِيهِ صانعُهُ كلَّ مُقوِّماتِ العملِ العلميِّ مِن حيثُ التصحيحِ والضَّبطِ، والرُّجوعِ إلَى مادَّةِ الكتابِ، والفروعِ التِي أُخذَت عَنهُ؛ لضبطِ مَا يحتاجُ إلَى ضبطِهِ مِنَ الأسانيدِ والمتونِ وأسماءِ الرِّجالِ، وتخريجِ الأحاديثِ والآثارِ الواردةِ فِيهِ، والحكمِ علَيهَا تصحيحًا وتضعيفًا، مُترجِمًا لرواةِ الأسانيدِ، وأيضًا لرواةِ الكتابِ إلَى مؤلِّفِهِ، فضلًا عن تلكَ الترجمةِ التِي أثبتَها لمؤلِّفِ الكتابِ ـ وقد ذَكَر أنَّه استفادَهَا منَ الأستاذِ / عصامِ محمدِ الشَّنْطيِّ ـ حفظَهُ اللهُ تعالَى ـ، كلُّ ذلكَ بأسلوبٍ ليسَ فِيهِ تطويلٌ مملٌّ، ولا اختصارٌ مخلٌّ.
এই বইগুলো সেই হাদীসগুলোর তাখরীজ এবং সেগুলোর সহীহ বা যঈফ হওয়ার হুকুম প্রদানের মাধ্যমে সংকলিত হয়েছে যা এই কিতাবে অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। এটি একটি উত্তম পরিকল্পনা এবং সঠিক পদ্ধতি, যদি এর অনুসারীরা হাদীসের তাখরীজ ও হুকুম প্রদানের ক্ষেত্রে বৈজ্ঞানিক মূলনীতি অনুসরণ করতেন। তবে একজন বিচক্ষণ গবেষক জানেন যে, এই কাজগুলোর অধিকাংশই আলেমদের দ্বারা ব্যাখ্যায়িত এবং তাদের কর্মপদ্ধতিতে অনুসৃত বৈজ্ঞানিক পদ্ধতিগুলো থেকে অনেক দূরে। ফলস্বরূপ, তাদের কাজগুলো কেবল টীকাগুলোতে কিতাবের নাম এবং খণ্ড ও পৃষ্ঠা নম্বর দিয়ে ভরপুর করার মতো হয়ে দাঁড়িয়েছে; যা মূলত তাহকীক ও যথাযথ বিন্যাসের কষ্ট থেকে পলায়ন এবং তাদের কাজে বিদ্যমান ত্রুটিগুলো আড়াল করার নামান্তর। ফলে টীকাগুলো তাখরীজ ও সংখ্যা দিয়ে ফুলে-ফেঁপে উঠেছে, অথচ কিতাবটি অতিরিক্ত ভুল বানান, বিকৃতি, বর্জন ও বিচ্যুতি, অতিরিক্ত সংযোজন ও অনুপ্রবেশ, আগপাছ করা এবং অনভিপ্রেত পরিবর্তনের কারণে প্রায় একটি দুর্বোধ্য রূপ ধারণ করেছে।
এই পরিতাপজনক পরিস্থিতির মাঝে আমার ভাই ও প্রিয়পাত্র আমরু
… আব্দুল আযীম নিয়াযী শরীফ আমাকে এমন একটি কাজ দিয়ে চমৎকৃত করেছেন, যা মূলত আবু বকর মুহাম্মদ বিন আহমদ বিন মুহাম্মদ আল-ওয়াসিতি আল-মাকদিসি রচিত
… (ফাযায়িলুল বাইতিল মুকাদ্দাস) কিতাবটির একটি বৈজ্ঞানিক তাহকীক। এটি কিতাবটির একমাত্র পাণ্ডুলিপির ওপর ভিত্তি করে করা হয়েছে, যা ছাড়া অন্য কোনো পাণ্ডুলিপির কথা জানা নেই। এটি এমন একটি কাজ যেখানে এর প্রস্তুতকারী সংশোধন, সূক্ষ্ম বিন্যাস এবং কিতাবের মূল বিষয়বস্তু ও তা থেকে উদ্ভূত শাখাগুলোর দিকে প্রত্যাবর্তনের মাধ্যমে বৈজ্ঞানিক কাজের সমস্ত অনুষঙ্গ একত্রিত করেছেন; যাতে প্রয়োজনীয় সনদ, মতন ও রাবীদের নামের সঠিক বিন্যাস করা যায় এবং এতে বর্ণিত হাদীস ও আসারসমূহের তাখরীজ এবং সেগুলোর সহীহ বা যঈফ হওয়ার হুকুম প্রদান করা যায়। তিনি সনদের রাবীদের জীবনী এবং লেখক পর্যন্ত কিতাবটির বর্ণনাকারীদের পরিচয় তুলে ধরেছেন। এছাড়া কিতাবের লেখকের যে জীবনী তিনি লিপিবদ্ধ করেছেন—যার উৎস হিসেবে তিনি উস্তাদ ইসাম মুহাম্মদ আশ-শান্তি (আল্লাহ তাঁকে হিফাযত করুন)-এর কথা উল্লেখ করেছেন—তা সবই এমন এক শৈলীতে করেছেন যা বিরক্তিকর দীর্ঘও নয়, আবার কোনো ত্রুটিপূর্ণ সংক্ষিপ্ততাও নয়।
(খণ্ড: ১)
ফাদাইলুল বাইতিল মুকাদ্দাস - আল-ওয়াসিতী
(পৃষ্ঠা: ١٦)
وهذَا بطبيعةِ الحالِ عملٌ جيِّدٌ، قَد وُفّقَ فِيهِ المحقِّقُ الفاضلُ إلَى حدٍّ بعيدٍ، لاسيَّما إذَا قُورِنَ عملُه هذَا بأعمالِ مَن سبقَهُ إلَى إخراجِ ذلكَ الكتابِ؛ فإنَّها أعمالٌ قَد انتابَهَا قُصورٌ شديدٌ في جوانبَ عِدَّةٍ، فمِنهَا جانبُ ضبطِ النَّصِّ وتصحيحِهِ، فلَم يكُن بالدرجةِ المطلوبةِ والمرجُوَّةِ، ومِنهَا ما يتعلقُ بتحقيقِ الأحاديثِ والحكمِ علَيهَا، وهذَا لم يُعنَ بِهِ مَن سبقُوهُ إلَى نشرِ هذَا الكتابِ، فهُو ممَّا تميَّزَ به عملُهُ.
فضلًا عن اعتنائِهِ بنصِّ الكتابِ أسماءً وأسانيدَ ومتونًا ، بالضبطِ بالشَّكلِ، ووضعِ علاماتِ الترقيمِ في مواضِعهَا المناسبةِ، وعملِ فهارسَ علميَّةٍ للكتابِ، وكلُّ ذلكَ، بلا شكٍّ، يُعينُ علَى الاستفادةِ مِنَ الكتابِ علَى أكملِ وجهٍ.
فأسألُ اللهَ تعالَى أن يُوفِّقَ أخِي إلَى مزيدٍ مِن مثلِ هذِهِ الأعمالِ الجيِّدةِ، وأَن يُسدِّدَ خطاهُ، وأَن يُعينَهُ علَى الثباتِ علَى هذَا النَّهجِ الذِي قلّ سالكُوهُ في هذَا الزمانِ.
واللهُ سبحانه وتعالى يأجُرُهُ خيرًا، ويجعلُ ذلكَ في ميزانِ حسناتِهِ، إنَّهُ وليُّ ذلكَ والقادرُ علَيهِ.
وصلَّى اللهُ علَى نبيِّنَا محمدٍ وعلَى آلِهِ وصحبِهِ وسلَّمَ.
وكتبه
أبو معاذ طارق بن عوض الله
الخميس: 19 من جمادى الأولى 1430 هـ
14 من مايو 2009 م
স্বাভাবিকভাবেই এটি একটি উত্তম কাজ, যাতে বিদগ্ধ গবেষক (মুহাক্কিক) বহুলাংশে সফল হয়েছেন; বিশেষ করে যখন তাঁর এই কাজটিকে এই কিতাবটি ইতিপূর্বে যারা প্রকাশ করেছেন তাদের কাজের সাথে তুলনা করা হয়। কেননা, পূর্ববর্তী কাজগুলোতে বিভিন্ন দিক থেকে চরম ত্রুটি বিদ্যমান ছিল। তার মধ্যে একটি দিক হলো মূল পাঠ (নস) নির্ধারণ ও তা সংশোধন, যা কাঙ্ক্ষিত ও আশানুরূপ মানে ছিল না। আরেকটি দিক হলো হাদিসের তাহকিক (সত্যায়ন) ও সেগুলোর ওপর হুকুম প্রদান সংক্রান্ত; যারা ইতিপূর্বে এই কিতাবটি প্রকাশ করেছেন তারা এ বিষয়ে গুরুত্ব দেননি। ফলে এটিই তাঁর কাজটিকে বৈশিষ্ট্যমণ্ডিত করেছে।
এর পাশাপাশি তিনি কিতাবের মূল পাঠের নামসমূহ, সনদসমূহ ও মতনসমূহের প্রতি যত্নশীল ছিলেন—সেগুলোকে যথাযথভাবে হরকত প্রদান, উপযুক্ত স্থানে বিরামচিহ্ন স্থাপন এবং কিতাবটির জন্য ইলমি সূচিপত্র তৈরির মাধ্যমে। নিঃসন্দেহে এই সবকিছুই কিতাবটি থেকে পূর্ণাঙ্গভাবে উপকৃত হতে সাহায্য করবে।
অতএব আমি আল্লাহ তাআলার নিকট প্রার্থনা করি, তিনি যেন আমার ভাইকে এই জাতীয় আরও উত্তম কাজের তাওফিক দান করেন, তাঁর পদক্ষেপসমূহকে সঠিক পথে পরিচালিত করেন এবং তাঁকে এই পদ্ধতির ওপর অবিচল থাকতে সাহায্য করেন, বর্তমান যুগে যার অনুসারীর সংখ্যা অতি নগণ্য।
আর আল্লাহ সুবহানু ওয়া তাআলা তাঁকে উত্তম প্রতিদান দান করুন এবং এটিকে তাঁর নেক আমলের পাল্লায় জমা করুন; নিশ্চয়ই তিনি এর অভিভাবক এবং এর ওপর সক্ষম।
আল্লাহ আমাদের নবী মুহাম্মাদ, তাঁর পরিবারবর্গ ও তাঁর সাহাবীদের ওপর দরুদ ও সালাম বর্ষণ করুন।
এটি লিখেছেন
আবু মুআয তারিক বিন আওয়াদুল্লাহ
বৃহস্পতিবার: ১৯ জুমাদাল উলা ১৪৩০ হিজরি
১৪ মে ২০০৯ খ্রিস্টাব্দ
(খণ্ড: ১)
ফাদাইলুল বাইতিল মুকাদ্দাস - আল-ওয়াসিতী
(পৃষ্ঠা: ١٧)
مقدِّمةُ المحقِّقِإنَّ الحمدَ للهِ، نحمدُهُ، ونستعينُهُ، ونستغفرُهُ. ونعوذُ باللهِ منِ شُرورِ أنفُسِنَا، ومِن سيِّئاتِ أعمالِنَا. مَن يهدِهِ اللهُ فلَا مُضلَّ لَهُ، ومَن يُضلِل فَلَا هادِيَ لَهُ. وأشهَدُ أَن لا إلَهَ إلَّا اللهُ، وحدَهُ لَا شريكَ لهُ، وأشهَدُ أنَّ محمَّدًا عبدُهُ ورسولُهُ ..
{يَاأَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا اتَّقُوا اللَّهَ حَقَّ تُقَاتِهِ وَلَا تَمُوتُنَّ إِلَّا وَأَنْتُمْ مُسْلِمُونَ} ..
{يَاأَيُّهَا النَّاسُ اتَّقُوا رَبَّكُمُ الَّذِي خَلَقَكُمْ مِنْ نَفْسٍ وَاحِدَةٍ وَخَلَقَ مِنْهَا زَوْجَهَا وَبَثَّ مِنْهُمَا رِجَالًا كَثِيرًا وَنِسَاءً وَاتَّقُوا اللَّهَ الَّذِي تَسَاءَلُونَ بِهِ وَالْأَرْحَامَ إِنَّ اللَّهَ كَانَ عَلَيْكُمْ رَقِيبًا} ..
{يَاأَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا اتَّقُوا اللَّهَ وَقُولُوا قَوْلًا سَدِيدًا * يُصْلِحْ لَكُمْ أَعْمَالَكُمْ وَيَغْفِرْ لَكُمْ ذُنُوبَكُمْ وَمَنْ يُطِعِ اللَّهَ وَرَسُولَهُ فَقَدْ فَازَ فَوْزًا عَظِيمًا} ..
أمَّا بعدُ،،
فلَقَد شهِدَ القرنانِ، الثالثُ والرَّابعُ الهجريَّانِ، نهضةً عِلميَّةً كبيرةً في جميعِ بُلدانِ المسلِمينَ، حيثُ انتَشَر التَّألِيفُ والتَّصنيفُ في جميعِ مناحِي العُلومِ والمَعرِفةِ، مِن تفسيرٍ، وفِقهٍ، وحديثٍ، ولُغةٍ، وأدَبٍ، وجُغرافِيَّةٍ، وغيرِهَا.
ومِن ضِمنِ هذِهِ العُلومِ الَّتِي كانَت مَوضِعَ اهتمامٍ، وبَحثٍ، ونَظَرٍ لدَى العُلمَاءِ في تِلكَ الحِقبةِ التَّاريخيَّةِ، علمُ التَّارِيخِ، فكَثُرَ التَّأليفُ فيهِ، فألَّفَ الوَاقديُّ (فُتوحُ الشَّامِ)، والبِلَاذُرِيُّ (فتوحُ البُلدانِ)، وألَّفَ بحشَلُ
… (تاريخُ وَاسِط)، والخطيبُ البغداديُّ (تاريخُ بَغدادَ)، وغيرُهَا. ومِن كُتبِ التَّارِيخِ تأتِي كُتبُ الفَضَائلِ، فضائلِ البُلدانِ، فرَأَينَا (فَضائلَ الشَّامِ
… ودِمَشقَ) و (فضَائِلَ مِصرَ)، وغيرَهَا.
গবেষকের ভূমিকানিশ্চয়ই সকল প্রশংসা আল্লাহর জন্য, আমরা তাঁর প্রশংসা করি, তাঁর কাছে সাহায্য চাই এবং তাঁর কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করি। আর আমরা আমাদের নফসের অনিষ্টতা এবং আমাদের মন্দ আমলসমূহ থেকে আল্লাহর কাছে আশ্রয় চাই। আল্লাহ যাকে পথ প্রদর্শন করেন তাকে পথভ্রষ্ট করার কেউ নেই, আর তিনি যাকে পথভ্রষ্ট করেন তাকে পথ দেখানোর কেউ নেই। আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, আল্লাহ ছাড়া কোনো সত্য ইলাহ নেই, তিনি একক, তাঁর কোনো শরিক নেই। আর আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, মুহাম্মদ তাঁর বান্দা ও রাসুল...
{হে মুমিনগণ! তোমরা আল্লাহকে যথাযথভাবে ভয় করো এবং তোমরা মুসলিম না হয়ে মৃত্যুবরণ করো না} ...
{হে মানবজাতি! তোমরা তোমাদের রবের তাকওয়া অবলম্বন করো, যিনি তোমাদেরকে এক ব্যক্তি থেকে সৃষ্টি করেছেন এবং তাঁর থেকে তাঁর জোড়া সৃষ্টি করেছেন, আর তাঁদের উভয় থেকে বহু নর ও নারী ছড়িয়ে দিয়েছেন। আর তোমরা আল্লাহকে ভয় করো, যাঁর নামে তোমরা একে অপরের কাছে যাচনা করো এবং সতর্ক থাকো রক্ত-সম্পর্কীয় আত্মীয়তা বন্ধন অটুট রাখার ব্যাপারে। নিশ্চয়ই আল্লাহ তোমাদের ওপর তীক্ষ্ণ দৃষ্টি রাখেন} ...
{হে মুমিনগণ! তোমরা আল্লাহকে ভয় করো এবং সঠিক ও সত্য কথা বলো। তিনি তোমাদের জন্য তোমাদের আমলসমূহ সংশোধন করে দেবেন এবং তোমাদের পাপসমূহ ক্ষমা করবেন। আর যে ব্যক্তি আল্লাহ ও তাঁর রাসুলের আনুগত্য করে, সে অবশ্যই মহা সাফল্য অর্জন করল} ...
অতঃপর,,
নিশ্চয়ই হিজরি তৃতীয় ও চতুর্থ শতাব্দীতে মুসলিম দেশগুলোতে এক মহান জ্ঞানতাত্ত্বিক জাগরণ পরিলক্ষিত হয়েছিল, যেখানে তাফসির, ফিকহ, হাদিস, ভাষা, সাহিত্য, ভূগোল এবং অন্যান্য জ্ঞান-বিজ্ঞানের সকল ক্ষেত্রে গ্রন্থ রচনা ও সংকলন ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়েছিল।
সেই ঐতিহাসিক যুগে আলেমদের আগ্রহ, গবেষণা ও পর্যালোচনার কেন্দ্রবিন্দু ছিল এমন সব জ্ঞান-বিজ্ঞানের মধ্যে অন্যতম হলো ইতিহাস শাস্ত্র। তাই এই বিষয়ে প্রচুর গ্রন্থ রচিত হয়েছে। আল-ওয়াকিদি (ফুতুহুশ শাম), আল-বালাজুরি (ফুতুহুল বুলদান), বাহশাল
… (তারিখু ওয়াসিত), আল-খতিব আল-বাগদাদি (তারিখে বাগদাদ) এবং আরও অনেক গ্রন্থ রচিত হয়েছে। আর ইতিহাসের গ্রন্থসমূহের মধ্যেই অন্তর্ভুক্ত হলো দেশ ও জনপদের ফজিলত বা গুরুত্ব বিষয়ক কিতাবসমূহ। ফলে আমরা দেখতে পাই (শাম
… ও দামেস্কের ফজিলত) এবং (মিসরের ফজিলত) সহ অন্যান্য গ্রন্থাবলি।
(খণ্ড: ১)
ফাদাইলুল বাইতিল মুকাদ্দাস - আল-ওয়াসিতী
(পৃষ্ঠা: ١٨)
وانطِلاقًا مِن الحديثِ، المتَّفَقِ عَليهِ مِن حديثِ أبِي هُريرَةَ رضي الله عنه مرفُوعًا: «لَا تُشدُّ الرِّحالُ إلَّا إلَى ثلاثةِ مساجِدَ: المسجدِ الحرَامِ، ومَسجِدِي هذَا، والمسجدِ الأَقصَى»، فقَد أولَى العُلماءُ المُهتمُّونَ بهَذَا الجانبِ مِنَ العُلومِ هذِهِ الأَماكِنَ الثَّلاثةَ: مكَّةَ، والمَدِينَةَ، والقُدسَ اهتمَامًا خاصًّا، وكَانَت أكثرُ المؤَلَّفاتِ في كُتبِ الفَضائِلِ عن هذِهِ المُدنِ الثَّلاثِ.
ومِنَ الكُتبِ المُؤلَّفةِ في هذَا، كِتابُ (فَضائِلُ البَيتِ المُقدَّسِ) لأَبِي بكرٍ الخطيبِ الواسطيِّ، والَّذِي أملَاهُ علَى تلامِذتِهِ في منزِلِهِ ببيتِ المَقدِسِ عامَ 410 هـ. جمَعَ فِيهِ مِن فضائلِ هذِهِ المدينةِ المُبارَكةِ شيئًا غيرَ قلِيلٍ مِن نُصوصٍ مرفُوعةٍ، ومَوقُوفَةٍ، وحتَّى بعضَ الأَقوَالِ المأثُورَةِ عن بعضِ أهلِ الكِتابِ، والَّتِي يروِيهَا بعضُ أَفاضِلِ التَّابِعينَ، مِن أمثالِ: كعبِ الأحبَارِ، ووَهبِ بنِ مُنبِّهٍ، وأبِي عِمرَانَ الجُونيِّ، وسَعِيدِ بنِ المُسيَّبِ، وقتادةَ، وخالدِ بنِ مَعدَانَ، وغيرِهِم مِنَ التَّابعِينَ الأخيارِ، رحمَهُم اللهُ تعالَى.
أمَّا النُّصوصُ في فضَائلِ القُدسِ، إسلاميَّةً أَو إسرَائِيليَّةً، فقَد ذَكَرَ الإمامُ ابنُ القَيِّمِ في كتابِهِ (المنارُ المُنِيفُ) أنَّهُ لَم يَصحّ في فضائِلِ بيتِ المقدِسِ، مِن قسمِ المَرفُوعِ، إلَّا أربَعةُ أحادِيثَ. وأمَّا مَا ذكرَهُ الواسطيُّ في هذَا المؤلَّفِ مِن هذِهِ النُّصوصِ، فبالنَّظرِ فيهِ نجِدُ أنَّهُ روَى جُلَّهَا، إِن لَم يكُن كلَّهَا، بأسانيدَ تدُورُ بَينَ الضَّعفِ، والضَّعفِ الشَّديدِ، بَل وحتَّى الوَضعِ في بعضِ الأحَايِينِ.
وتتجلَّى أهميَّةُ هذَا الكتابِ في أنَّهُ مِن أوائِلِ المؤَلَّفاتِ في هذَا الموضُوعِ، لذَا، جعلَهُ العُلماءُ اللَّاحقونَ الَّذينَ كتَبُوا في هذَا الموضُوعِ عُمدةً لهُم، فأخذُوا عَنهُ، ورَوَوا مِن طريقِهِ جُلَّ الكِتابِ، كمَا فعلَ الضِّياءُ المقدسيُّ في (فضائلُ بيتِ المقدسِ)، وابنُ عساكرَ في (تاريخُ دمشقَ)، وابنُهُ في (الجامعُ المستَقصَى
আবু হুরায়রা রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত এবং রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে মারফু হিসেবে বর্ণিত মুত্তাফাকুন আলাইহি (সর্বসম্মত) হাদীসের ভিত্তিতে: "তিনটি মসজিদ ব্যতীত অন্য কোথাও (সওয়াবের উদ্দেশ্যে) সফর করা যাবে না: মসজিদুল হারাম, আমার এই মসজিদ এবং মসজিদুল আকসা", তাই বিজ্ঞানের এই শাখার প্রতি আগ্রহী আলেমগণ এই তিনটি স্থান—মক্কা, মদিনা এবং কুদসকে বিশেষ গুরুত্ব প্রদান করেছেন। আর ফযীলত বিষয়ক গ্রন্থসমূহের মধ্যে অধিকাংশই এই তিনটি শহর সম্পর্কে রচিত হয়েছে।
এই বিষয়ে রচিত গ্রন্থসমূহের মধ্যে একটি হলো আবু বকর আল-খতিব আল-ওয়াসিতীর রচিত গ্রন্থ 'ফাযায়িলুল বাইতিল মুকাদ্দাস' (বায়তুল মুকাদ্দাসের ফযীলত), যা তিনি ৪১০ হিজরিতে বায়তুল মুকাদ্দাসে নিজ বাসভবনে তাঁর ছাত্রদেরকে লিখিয়েছিলেন। তিনি এতে এই বরকতময় শহরের ফযীলত সম্পর্কে মারফু ও মাওকুফ বর্ণনা সম্বলিত অনেক পাঠ সংগ্রহ করেছেন, এমনকি আহলে কিতাবদের থেকে বর্ণিত কিছু উক্তিও এতে রয়েছে যা কতিপয় শ্রেষ্ঠ তাবেয়িগণ বর্ণনা করেছেন, যেমন: কাব আল-আহবার, ওয়াহাব ইবনে মুনাব্বিহ, আবু ইমরান আল-জাওনি, সাঈদ ইবনুল মুসায়্যিব, কাতাদা, খালিদ ইবনে মা’দান এবং অন্যান্য শ্রেষ্ঠ তাবেয়িগণ (আল্লাহ তাআলা তাঁদের প্রতি দয়া করুন)।
আর কুদসের ফযীলত সংক্রান্ত বর্ণনাগুলো চাই তা ইসলামী হোক বা ইসরাঈলী হোক, ইমাম ইবনুল কাইয়্যিম তাঁর 'আল-মানারুল মুনিফ' গ্রন্থে উল্লেখ করেছেন যে, মারফু হাদীসসমূহের মধ্য থেকে বায়তুল মুকাদ্দাসের ফযীলত সম্পর্কে মাত্র চারটি হাদীস বিশুদ্ধ। আর আল-ওয়াসিতী তাঁর এই গ্রন্থে যেসব বর্ণনা উল্লেখ করেছেন, সেগুলো পর্যালোচনা করলে আমরা দেখতে পাই যে, তিনি তার অধিকাংশই, বরং সবটুকুই এমন সনদে বর্ণনা করেছেন যা দুর্বল ও অত্যন্ত দুর্বল, এমনকি কোনো কোনো ক্ষেত্রে তা জাল বর্ণনার অন্তর্ভুক্ত।
এই গ্রন্থের গুরুত্ব এতেই স্পষ্ট হয় যে, এটি এই বিষয়ের প্রাথমিক রচনাগুলোর অন্তর্ভুক্ত, ফলে পরবর্তী সময়ে যারা এই বিষয়ে লিখেছেন সেই আলেমগণ একে তাঁদের প্রধান ভিত্তি হিসেবে গ্রহণ করেছেন। তাঁরা এটি থেকে তথ্য গ্রহণ করেছেন এবং তাঁর মাধ্যমেই গ্রন্থের অধিকাংশ বিষয় বর্ণনা করেছেন; যেমনটি করেছেন জিয়াউল মাকদিসী 'ফাযায়িলু বাইতিল মুকাদ্দাস' গ্রন্থে, ইবনে আসাকির 'তারিখে দামেশক' গ্রন্থে এবং তাঁর পুত্র 'আল-জামি উল মুস্তাকসা' গ্রন্থে।
(খণ্ড: ১)
ফাদাইলুল বাইতিল মুকাদ্দাস - আল-ওয়াসিতী
(পৃষ্ঠা: ١٩)
بِفضائِلِ المسجِدِ الأقصَى)، وغيرُهُم ممَّن وصلَنَا، أَو لَم يصِلنَا وعرَفنَا ما نقلَهُ مِن كُتبٍ لغيرِهِ.
ولَيسَ لهذَا الكتابِ في مكتباتِ المَخطُوطاتِ، فِيمَا يُعلَمُ، إلَّا أصلٌ خطِّيٌ وحِيدٌ، وعَلَيهِ حقَّقتُ هذَا الكتابَ، واتَّبعتُ فِيهِ الطَّريقَ الآتِي:
ا. نَسختُ الكِتابَ عن أصلِهِ الخطِّيِّ.
ب. قابلتُهُ علَى الطَّبعتَينِ السَّابِقتينِ لَهُ.
جـ. خَرَّجتُ نُصوصَ الكِتابِ، وحَكَمتُ علَيهَا حَسبَمَا تقتضِيهِ قواعِدُ علمِ الحديثِ مَا استطَعتُ.
د. قدَّمتُ للنَّصِ بدراسةٍ، اشتَمَلَت علَى تِسعةِ فصُولٍ:
1 - ترجمةِ المؤلِّفِ.
2 - نِسبةِ الكتابِ للمؤلِّفِ.
3 - ترجمَةُ رُواةِ الكتابِ.
4 - القُدسُ في زمانِ المؤلِّفِ.
5 - موضُوعِ الكتابِ.
6 - ردِّ بعضِ شُبهِ المُستشرقِينَ حولَ قُدسيَّةِ القُدسِ.
7 - الكُتبِ المؤلَّفةِ في هذَا الموضُوعِ.
8 - تَقيِيمِ الطَّبعتَينِ السَّابقتَينِ.
9 - وصفِ المخطُوطِ.
هـ. أردَفتُ النَّصَّ بفهارِسَ علميَّةٍ متنوِّعةٍ، اشتَمَلَت علَى:
1 - فهرسِ الآياتِ القُرآنيَّةِ.
2 - فهرسِ الأحاديثِ والآثارِ.
3 - معجَمِ شُيوخِ المصنِّفِ.
(মসজিদুল আকসার ফযীলত সম্পর্কে), এবং অন্যান্য যারা আমাদের নিকট পৌঁছেছেন, অথবা যারা পৌঁছেননি কিন্তু অন্য কারও কিতাব থেকে তারা যা বর্ণনা করেছেন সে সম্পর্কে আমরা জানতে পেরেছি।
জানা মতে, পাণ্ডুলিপি গ্রন্থাগারগুলোতে এই কিতাবের মাত্র একটিই মূল পাণ্ডুলিপি রয়েছে। তার ওপর ভিত্তি করেই আমি এই কিতাবটি সম্পাদনা করেছি এবং এতে নিম্নোক্ত পদ্ধতি অনুসরণ করেছি:
ক. আমি মূল পাণ্ডুলিপি থেকে কিতাবটি অনুলিপি করেছি।
খ. আমি একে এর পূর্ববর্তী দুটি মুদ্রণের সাথে মিলিয়ে দেখেছি।
গ. আমি কিতাবের উদ্ধৃতিগুলোর তথ্যসূত্র যাচাই করেছি এবং সাধ্যমতো ইলমে হাদীসের মূলনীতি অনুযায়ী সেগুলোর ওপর হুকুম প্রদান করেছি।
ঘ. আমি মূল পাঠের শুরুতে একটি গবেষণামূলক ভূমিকা পেশ করেছি, যা নয়টি পরিচ্ছেদ সংবলিত:
১ - লেখকের জীবনী।
২ - লেখকের প্রতি কিতাবটির সম্পৃক্ততা।
৩ - কিতাবের বর্ণনাকারীদের জীবনী।
৪ - লেখকের যুগে কুদস (জেরুজালেম)।
৫ - কিতাবের বিষয়বস্তু।
৬ - কুদসের পবিত্রতা নিয়ে প্রাচ্যবিদদের তোলা কিছু সংশয়ের নিরসন।
৭ - এই বিষয়ে রচিত অন্যান্য কিতাবসমূহ।
৮ - পূর্ববর্তী দুটি মুদ্রণের মূল্যায়ন।
৯ - পাণ্ডুলিপির বর্ণনা।
ঙ. আমি মূল পাঠের শেষে বিভিন্ন ইলমী নির্ঘণ্ট যুক্ত করেছি, যার মধ্যে রয়েছে:
১ - কুরআনের আয়াতসমূহের নির্ঘণ্ট।
২ - হাদীস ও আসারসমূহের নির্ঘণ্ট।
৩ - গ্রন্থকারের শায়খদের তালিকা।
(খণ্ড: ১)
ফাদাইলুল বাইতিল মুকাদ্দাস - আল-ওয়াসিতী
(পৃষ্ঠা: ٢٠)
4 - فهرسِ الأعلامِ ما عدَا الصَّحابةِ.
5 - فهرسِ أسماءِ الصَّحابةِ.
6 - فهرسِ الأمَاكنِ والبُلدانِ.
7 - فهرسِ المصادِرِ والمَرَاجعِ.
8 - فهرسِ الموضُوعاتِ.
وممَّا يجدُرُ بِي ذكرُهُ في هذَا المقامِ، أنَّ فصُولَ الدِّراسَةِ، وكذِلكَ الفَهارِسِ العامَّةِ، منها مَا قد لَا يهُمُّ إلَّا قِطاعًا خاصًّا مِن البَاحِثِينِ، ذَكرتُ ذلِكَ؛ لأنَّ بعضَ إِخوانِنَا اقترَحَ أَن تُحذَفَ بعضُ أنواعِ الفهارسِ، وكذلِكَ بعضُ فُصولِ الدِّراسةِ، الَّتِي رأَى أنَّهَا قَد لا تهُمُّ القارِئَ.
ولكِن، الأمرُ كمَا يقُولُ ياقوتُ الحَمَوِيُّ: «رُبَّ راغبٍ عن كلِمةٍ، غيرُهُ مُتهالِكٌ علَيهَا، وزاهدٍ عن نُكتةٍ، غيرُهُ مَشغُوفٌ بِهَا يُنضِي الرِّكابَ إِلَيهَا».
ومِن حُسنِ الطَّالِعِ، أَن وفَّقنِي اللهُ عز وجل بَعدَ إِتمامِ الكِتابِ إِلَى عرضِهِ علَى فضيلةِ الشَّيخِ الدُّكتورِ / أحمدَ معبدِ عبدِ الكريمِ، وفضيلةِ الشَّيخِ / أبِي إِسحاقَ الحُوينيِّ، حفِظهُمَا اللهُ تعالَى، فنظرَا فِيهِ، وأَثنَيَا علَيهِ خَيرًا، مَعَ إِبدائِهِمَا بعضَ المُلاحظَاتِ.
وكذلِكَ عرضتُهُ علَى سماحةِ الأُستاذِ / عصامِ مُحمَّدٍ الشَّنْطيِّ، وفضيلةِ الشَّيخِ / طارقِ عوضِ اللهِ مُحمَّدٍ، حفظهُمَا اللهُ تعَالَى، فنظرَا فِيهِ، ونبَّهَا علَى بعضِ النِّقاطِ، ثُمَّ زيَّنَا هذَا العمَلَ بالتَّصدِيرِ لَهُ.
فإِليهِم جميعًا أتقدَّمُ بخالِصِ شُكرِي وامتِنانِي.
ولَا يفوتُنِي أَن أشكُرَ كلَّ مَن أعانَنِي علَى إِخراجِ هذَا العَملِ علَى هذِهِ الصُّورةِ، الَّتِي أرجُو أَن تكُونَ مُرضيَةً، وأخُصُّ بالذِّكرِ مِنهُم: الأخَ الأكبرَ عبدَ السَّلامِ عبدَ المُعطِي إمامَ، والأخَ / عمرَو شريفَ مُحمَّدَ شريفَ،
৪ - সাহাবীগণ ব্যতীত উল্লেখযোগ্য ব্যক্তিদের নির্ঘণ্ট।
৫ - সাহাবীগণের নামের নির্ঘণ্ট।
৬ - স্থান ও দেশসমূহের নির্ঘণ্ট।
৭ - উৎস ও তথ্যসূত্রসমূহের নির্ঘণ্ট।
৮ - বিষয়সূচির নির্ঘণ্ট।
এই পর্যায়ে আমার এটি উল্লেখ করা সমীচীন মনে হচ্ছে যে, গবেষণামূলক অধ্যায়সমূহ এবং সাধারণ নির্ঘণ্টের কিছু অংশ সম্ভবত কেবলমাত্র গবেষকদের একটি বিশেষ শ্রেণীর কাছেই গুরুত্বপূর্ণ হবে। আমি এটি উল্লেখ করলাম কারণ আমাদের কিছু ভাই পরামর্শ দিয়েছিলেন যে, নির্ঘণ্টের কিছু ধরন এবং গবেষণার কিছু অধ্যায় যেন বাদ দেওয়া হয়, যা তাঁদের মতে সাধারণ পাঠকদের জন্য হয়তো গুরুত্বপূর্ণ নয়।
কিন্তু বিষয়টি হলো যেমনটি ইয়াকুত আল-হামাভী বলেছেন: «হয়তো এমন কোনো শব্দ যা কারো কাছে গুরুত্বহীন, অন্যের কাছে তা অত্যন্ত আকাঙ্ক্ষিত; আবার এমন কোনো সূক্ষ্ম বিষয় যা কারো কাছে তুচ্ছ, অন্য কেউ সেটির প্রতি আসক্ত হয়ে দূর-দূরান্ত থেকে বাহন ছুটিয়ে তার কাছে ছুটে আসে»।
আর এটি সৌভাগ্যের বিষয় যে, কিতাবটি সমাপ্ত করার পর মহান আল্লাহ আমাকে এটি সম্মানিত শায়খ ডক্টর আহমাদ মাবাদ আব্দুল কারীম এবং সম্মানিত শায়খ আবু ইসহাক আল-হুওয়াইনী (আল্লাহ তাঁদের উভয়কে হিফাযত করুন)-এর সামনে পেশ করার তাওফীক দিয়েছেন। তাঁরা এটি দেখেছেন এবং কিছু পর্যবেক্ষণ প্রদানের পাশাপাশি কিতাবটির ভূয়সী প্রশংসা করেছেন।
অনুরূপভাবে আমি কিতাবটি শ্রদ্ধেয় উস্তাদ ইসাম মুহাম্মদ আশ-শান্তি এবং সম্মানিত শায়খ তারিক ইওয়াদুল্লাহ মুহাম্মদ (আল্লাহ তাঁদের উভয়কে হিফাযত করুন)-এর সামনেও পেশ করেছি। তাঁরা এটি দেখেছেন এবং কিছু বিষয়ের প্রতি দৃষ্টি আকর্ষণ করেছেন, অতঃপর কিতাবটির ভূমিকা লিখে এই কাজটিকে অলংকৃত করেছেন।
তাঁদের সকলের প্রতি আমি আমার আন্তরিক কৃতজ্ঞতা ও ঋণ স্বীকার করছি।
আর যারা এই কাজটি এই রূপে প্রকাশ করতে আমাকে সাহায্য করেছেন তাঁদের সকলকে ধন্যবাদ জানাতে আমি ভুলব না, যে রূপটি সন্তোষজনক হবে বলে আমি আশা করি। তাঁদের মধ্যে আমি বিশেষভাবে উল্লেখ করছি: বড় ভাই আব্দুস সালাম আব্দুল মু’তি ইমাম এবং ভাই আমর শরীফ মুহাম্মদ শরীফ-কে।
(খণ্ড: ১)
ফাদাইলুল বাইতিল মুকাদ্দাস - আল-ওয়াসিতী
(পৃষ্ঠা: ٢١)
وشقِيقِيَ الأصغرَ / خالِدَ عبدَ العَظِيمَ، وكلًّا منَ الأُستاذَينِ / أحمدَ
… عبدَ الباسِطِ، وأحمدَ عبدَ السَّتَّارِ، الباحثَينِ في قِسمِ تحقيقِ التُّراثِ، بدارِ الكُتبِ المِصريَّةِ، ومُحقِّقَي كتابِ (الجامعُ المستقصَى) لبَهاءِ الدِّينِ ابنِ عساكرَ.
وختامًا،،
أسألُ المولَى عز وجل أَن يَهَبَ لنَا رحمةً مِن لدُنهُ يَستُرُ بِهَا نقائِصنَا، وتوفِيقًا يَرأَبُ بِهِ مَا تشعَّبَ مِن قُصورِنَا، فإِنَّهُ تعالَى أقربُ مدعوٍّ، وأكرمُ مرجُوٍّ ..
وصلَّى اللهُ علَى نبيِّنَا محمَّدٍ، وعلَى آلِهِ وصحبِهِ وسلَّمَ.
وَكَتبَ
أبُو المُنذِر الحُوينيُّ
عَمرُو بنُ عبدِ العظيمِ بنِ نيازِي شريفُ
حُويَن/كفرالشيخ 5 مِن رجبِ الفردِ 1430 هـ
28 مِن يُونيَه 2009 م
এবং আমার ছোট ভাই খালিদ আব্দুল আজীম, এবং উস্তাদ আহমদ
… আব্দুল বাসিত ও আহমদ আব্দুস সাত্তার উভয়কে—যারা মিশরের দারুল কুতুব আল-মিসরিয়্যাহর ঐতিহ্য পাণ্ডুলিপি গবেষণা (তাহকীক) বিভাগের গবেষক এবং বাহাউদ্দীন ইবনু আসাকিরের ‘আল-জামি আল-মুস্তাকসা’ গ্রন্থের মুহাক্কিক।
পরিশেষে,,
আমি মহান প্রতিপালকের নিকট প্রার্থনা করি যেন তিনি তাঁর পক্ষ হতে আমাদের প্রতি এমন রহমত দান করেন যার মাধ্যমে তিনি আমাদের সকল ত্রুটি-বিচ্যুতি ঢেকে দেন এবং এমন তাওফিক দান করেন যার মাধ্যমে আমাদের বিবিধ অপূর্ণতাগুলো সংশোধিত হয়; নিশ্চয়ই তিনি সবচেয়ে নিকটবর্তী আহ্বানযোগ্য সত্তা এবং সর্বোত্তম আশাস্থল...
আল্লাহর রহমত ও শান্তি বর্ষিত হোক আমাদের নবী মুহাম্মদ, তাঁর পরিবারবর্গ ও সাহাবীগণের ওপর।
লিখক
আবু আল-মুনজির আল-হুওয়াইনি
আমর ইবনু আব্দুল আজীম ইবনু নিয়াজি শরিফ
হুওয়াইন/কাফরুশ শায়খ, ৫ রজব ১৪৩০ হিজরি
২৮ জুন ২০০৯ খ্রিস্টাব্দ
(খণ্ড: ১)
ফাদাইলুল বাইতিল মুকাদ্দাস - আল-ওয়াসিতী
(পৃষ্ঠা: ٢٥)
الفصل الأولترجمةُ المؤلِّفِ (1)«هوَ أبُو بكرٍ محمدُ بنُ أحمدَ الواسِطِيُّ المَقدِسِيُّ
(2). لم يصل إلينا عنهُ إلَّا القليلُ، الذي لَا يُطفئُ ظَمَأً ولَا يَشفِي غَلِيلًا. فالسَّمعَانيُّ أبُو سعدٍ
… عبدُ الكريمِ بنُ محمدِ بنِ منصورٍ التَّميميُّ المتوفَّى 562 هـ صَاحِبُ كتابِ
… (الأنساب) ذَكَرَ المؤلِّفَ عَرَضًا عندَ ذِكرِ أخيهِ أبِي حفصٍ عمرَ الواسِطِيِّ نزيلِ بيتِ المَقدِسِ
(3). أمَّا القاضِي مُجِيرُ الدِّينِ العُلَيمِيُّ الحنبليُّ المتوفَّى 927 هـ صَاحِبُ كتابِ (الأُنسُ الجليل بتاريخِ القُدسِ والخَلِيل) فهُوَ يُتَرجِمُ لكثيرٍ منَ المَقدِسِيِّينَ، ولكنَّهُ لا يَجِدُ للواسِطِيِّ ترجمةً في المَصَادِرِ يروِيهَا لنَا في كِتَابِهِ، سِوَى أنَّه عَدَّهُ من خُطَبَاءِ المَسجد الأَقصَى الشافِعِيِّينَ في بَيتِ المَقدِسِ
(4).
وبِإِزَاءِ هذَا الغُمُوضِ حَولَ المؤلِّف، نَجِدُ مِنَ المُحدَثِينَ مَن جَانَبَهُم الصوابُ، كالمُستَشرِقِ الرُّوسِيِّ إِغنَاطيُوس كرَاتشُكُوفِسكِي المتوفَّى 1951 م، والذِي قَرّرَ أنّ الواسِطِيَّ قَد وَضَعَ كتابَهُ حَوالَي عَامَ 500 هـ
(5). وَنَعُدُّ قولَ كرَاتشُكُوفِسكِي هَذَا مِنَ الوهمِ؛ لأنَّ الواسِطِيَّ لم تَصِل حياتُهُ، بكُلِّ تأكِيدٍ، إلَى هَذِهِ السَّنَةِ، للأسبابِ التِي سنذكُرُهَا بعدَ قليلٍ، ولأنَّه ـ أي: الواسِطِيَّ ـ
--------------------------------------------
প্রথম পরিচ্ছেদলেখকের জীবনী (১)«তিনি হলেন আবু বকর মুহাম্মাদ ইবনে আহমাদ আল-ওয়াসিতি আল-মাকদিসি
(২)। তাঁর সম্পর্কে আমাদের কাছে খুব সামান্যই তথ্য পৌঁছেছে, যা তৃষ্ণা মেটায় না এবং জ্ঞানপিপাসাও নিবারণ করে না। আবু সা’দ আস-সামআনি
… আব্দুল কারিম ইবনে মুহাম্মাদ ইবনে মানসুর আত-তামিমি (মৃত্যু ৫৬২ হিজরি), যিনি
… (আল-আনসাব) গ্রন্থের রচয়িতা, তিনি বাইতুল মাকদিসের বাসিন্দা তাঁর ভাই আবু হাফস উমর আল-ওয়াসিতির উল্লেখ করার সময় প্রসঙ্গক্রমে লেখকের কথা উল্লেখ করেছেন
(৩)। আর কাজী মুজিরুদ্দীন আল-উলাইমি আল-হাম্বালি (মৃত্যু ৯২৭ হিজরি), যিনি (আল-উনসুল জলিল বি তারিখিল কুদসি ওয়াল খালিল) গ্রন্থের রচয়িতা, তিনি অনেক মাকদিসি ব্যক্তির জীবনী বর্ণনা করেছেন, কিন্তু তিনি তাঁর গ্রন্থে আমাদের জন্য বর্ণনা করার মতো উৎসগুলোতে আল-ওয়াসিতির কোনো জীবনী খুঁজে পাননি; কেবল এতটুকু ছাড়া যে, তিনি তাকে বাইতুল মাকদিসের মসজিদুল আকসার শাফেয়ি খতিবদের অন্তর্ভুক্ত বলে গণ্য করেছেন
(৪)।
লেখকের ব্যাপারে এই অস্পষ্টতার বিপরীতে, আধুনিক লেখকদের মধ্যে আমরা এমন কাউকে পাই যারা সঠিক সিদ্ধান্ত নিতে ব্যর্থ হয়েছেন, যেমন রুশ প্রাচ্যবিদ ইগনাতি ক্রাচকোভস্কি (মৃত্যু ১৯৫১ খ্রিস্টাব্দ), যিনি সিদ্ধান্ত দিয়েছেন যে আল-ওয়াসিতি তাঁর গ্রন্থটি আনুমানিক ৫০০ হিজরি সনের দিকে রচনা করেছেন
(৫)। আমরা ক্রাচকোভস্কির এই বক্তব্যকে ভ্রান্ত বলে মনে করি; কারণ আল-ওয়াসিতির জীবনকাল নিশ্চিতভাবেই এই বছর পর্যন্ত পৌঁছায়নি, সেইসব কারণে যা আমরা একটু পরেই উল্লেখ করব, এবং যেহেতু তিনি—অর্থাৎ আল-ওয়াসিতি—
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
ফাদাইলুল বাইতিল মুকাদ্দাস - আল-ওয়াসিতী
(পৃষ্ঠা: ٢٦)
مِن شُيوخِ ابنِ عقيلٍ المتوفَّى سنةَ 513 هـ
(1). ويقعُ في الوهمِ أيضًا الدُّكتورُ إسحاقُ موسَى الحُسَينِيُّ
(2) الذِي يَجِدُّ في أن يَعثُرَ عَلَى ترجمةٍ للواسِطِيِّ، فلَا يقعُ عَلَى شيءٍ مِن ذَلِكَ، ولكنَّه يَجتَهِدُ فيُرَجِّحُ أنَّ والدَ المؤَلِّفِ أحمدَ بنَ محمدٍ الواسِطِيِّ هُوَ الذِي ترجمَ لَهُ تاجُ الدِّينِ السُّبكِيُّ المتوفَّى 771 هـ في (طبقاتُ الشافعيةِ الكبرَى)
(3)، وهُوَ الذِي كانَ معَ ابنِ المُوَفَّقِ الخليفةِ العَبَاسِيِّ المُعتَضِدِ باللهِ في الوَقعَةِ التِي جَرَت بينَهُ وبينَ خُمَارَوَيهِ بنِ أحمدَ بنِ طُولُونَ التِي تُسَمَّى وقعةَ الطَّوَاحِينِ بِنَواحِي الرَّملَةِ، وأنَّهُ كانَ كاتِبًا لَهُ. ويَستمرُّ الدُّكتورُ الحُسَينِيُّ في الاستِنتَاجِ فيقولُ إِنَّهُ مِنَ المُحتمَلِ أَنَّ الابنَ ـ وهو المؤلِّفُ ـ انتقلَ إلَى بَيتِ المَقدِسِ حيثُ تَوَلَّى فيهَا الخَطَابَةَ، وحدَّثَ بِكِتَابِهِ في بَيتِهِ سنةَ 410 هـ.
وَيُلاحِظُ الدُّكتورُ كَامِل جَمِيل العَسَلِيُّ بُعدَ هَذَا الافتراضِ والاستنتاجِ؛ لأنَّ وَقعَةَ الطَّوَاحِينَ جَرَت حَوالَي سنةَ 280 هـ، وَمِنَ الصَّعبِ أن نَخلُصَ إَلَى أنَّ أحمدَ الواسِطِيَّ الذِي اشتَرَكَ فيهَا يُمكِنُ أن يكُونَ أَبًا للمؤلِّفِ الذِي وُلِدَ بَعدَ المعركَةِ بِمَا لا يِقِلُّ عن مِئَةِ عَامٍ
(4).
وَلَا يُفِيدُنَا كثيرًا ما وَصَلَ إلينَا مِن نسبةِ المؤلِّفِ إِلَى واسِطٍ، وأَنَّهَا كانَت مَوطِنَهُ الأصلِيَّ، هو أو أجدادُه، فَلَا يستقيمُ الافتِرَاضُ أنَّهُ منسوبٌ إَلَى مِدِينَةِ وَاسِطِ العراقِ رَغمَ شُهرَتِهَا، وَهِيَ التِي بنَاهَا الحَجَّاجُ بنُ يُوسُفَ الثَّقَفِيُّ في عهدِ الأُمَوِيِّينَ، وفَرَغَ مِن بنائِهَا عامَ 86 هـ.
--------------------------------------------
৫১৩ হিজরিতে ইন্তেকালকারী ইবনে আকীলের অন্যতম শিক্ষক
(১)। ড. ইসহাক মূসা আল-হুসাইনীও
(২) একই ভ্রমে পতিত হয়েছেন, যিনি আল-ওয়াসিতির একটি জীবনী খুঁজে পাওয়ার জন্য অনেক চেষ্টা করেন কিন্তু সফল হননি। তবে তিনি গবেষণার মাধ্যমে প্রবল ধারণা ব্যক্ত করেন যে, লেখক আহমদ ইবনে মুহাম্মাদ আল-ওয়াসিতির পিতা সেই ব্যক্তি, যাঁর জীবনী বর্ণনা করেছেন ৭৭১ হিজরিতে ইন্তেকালকারী তাজউদ্দীন আস-সুবকী তাঁর ‘তাবাকাতুশ শাফিইয়্যাহ আল-কুবরা’
(৩) গ্রন্থে। এবং তিনি সেই ব্যক্তি যিনি আব্বাসীয় খলিফা আল-মুতাদিদ বিল্লাহ ইবনুল মুওয়াফফাকের সাথে খুমারওয়াইহ ইবনে আহমদ ইবনে তুলুনের মধ্যকার সেই যুদ্ধে উপস্থিত ছিলেন, যা রামলার উপকণ্ঠে সংঘটিত ‘তাওয়াহীন’ যুদ্ধ নামে পরিচিত; এবং তিনি তাঁর সচিব ছিলেন। ড. হুসাইনী তাঁর অনুমানের ধারায় আরও বলেন যে, সম্ভবত পুত্র—যিনি লেখক—বায়তুল মাকদিসে স্থানান্তরিত হয়েছিলেন, সেখানে তিনি খুতবা প্রদানের দায়িত্ব পালন করেন এবং ৪১০ হিজরিতে নিজ গৃহে তাঁর এই কিতাবটি বর্ণনা করেন।
ড. কামিল জামীল আল-আসালি এই অনুমান ও সিদ্ধান্তের অসারতা পর্যবেক্ষণ করেন; কারণ তাওয়াহীনের যুদ্ধ সংঘটিত হয়েছিল আনুমানিক ২৮০ হিজরিতে। আর এমন উপসংহারে পৌঁছানো কঠিন যে, সেই যুদ্ধে অংশগ্রহণকারী আহমদ ওয়াসিতি এই লেখকের পিতা হতে পারেন, যিনি সেই যুদ্ধের কমপক্ষে ১০০ বছর পর জন্মগ্রহণ করেছেন
(৪)।
লেখকের নামের সাথে ‘ওয়াসিত’ নিসবত (সম্পর্কযুক্ত করা) থেকে আমাদের কাছে যা পৌঁছেছে তা আমাদের জন্য খুব একটা ফলপ্রসূ নয়; অর্থাৎ সেটিই তাঁর বা তাঁর পূর্বপুরুষদের আদি নিবাস ছিল কি না। কেননা সুপরিচিত হওয়া সত্ত্বেও তিনি ইরাকের ‘ওয়াসিত’ শহরের অধিবাসী হওয়ার ধারণাটি সঠিক বলে মনে হয় না, যা উমাইয়া যুগে হাজ্জাজ ইবনে ইউসুফ আস-সাকাফি নির্মাণ করেছিলেন এবং যার নির্মাণ কাজ ৮৬ হিজরিতে শেষ হয়েছিল।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
ফাদাইলুল বাইতিল মুকাদ্দাস - আল-ওয়াসিতী
(পৃষ্ঠা: ٢٧)
نقولُ ذلِكَ؛ لأنَّ يَاقُوتَ الحَمَوِيَّ في (مُعجَمِ البُلدانِ) رَوَى لنَا في مادَّةِ
… «واسِطٍ» أَكثَرَ مِن خمسةَ عشَرَ مَوضعًا في العِرَاقِ وغَيرِ العراقِ يَحملُ هَذَا
… الاسمَ
(1)، وأَنَّ كثيرًا مِن هذِهِ المواضِعِ قد نُسِبَ إليهَا عُلَمَاءٌ غيرُ المؤلِّفِ
(2).
وَحَسبُنَا مِن حَيَاةِ الواسِطِيِّ فَوقَ مَا عَرَفنَا، عَلَى قِلَّتِهِ، ما تَكشِفُهُ لنَا مخطوطةُ الفضائِلِ التِي نحنُ بِصَدَدِهَا. فَفِي أوَّلِهَا أنَّهُ قَرَأَ الكتابَ في مَنزِلِهِ ببيتِ المَقدِسِ عامَ 410 هـ
(3). وحِينَ نفترضُ أنَّهُ كانَ آنذاكَ قد بَلَغَ مَبلَغَ الرجالِ، وبلغَ مِنَ العِلمِ أن وَضَعَ كتابَهُ هَذَا، يُصبِحُ مِنَ المقبولِ أَن نفترضَ أيضًا أَنَّهُ وُلِدَ في أوائِلِ الرُّبعِ الأخيرِ منَ القَرنِ الرابعِ الهِجرِيِّ، وأنَّهُ حِينَ حَدَّثَ بالكتابِ في مَنزِلِه كانَ في الثَّلاثِينَ مِن عُمُرِهِ، يَقِلُّ أو يزيدُ قليلًا
(4).
ويكشِفُ لنَا الكتابُ أنَّهُ كانَ علَى اهتمامٍ بالحديثِ النَّبَوِيِّ، وأَنَّ الأحاديثَ النَّبَوِيَّةَ التِي أَورَدَهَا، وكذلِكَ جميعَ الأخبارِ الأُخرَى، رَوَاها بِأَسانِيدِهَا
--------------------------------------------
আমরা এটি বলছি; কারণ ইয়াকুত আল-হামাউই (মু'জামুল বুলদান)-এ ‘ওয়াসিত’ ভুক্তিতে ইরাক এবং ইরাকের বাইরে পনেরটিরও বেশি স্থানের কথা উল্লেখ করেছেন যেগুলোর নাম এই...
… (১), এবং এই স্থানগুলোর অনেকগুলোর সাথে লেখক ব্যতীত অন্য আলেমদেরও সম্বন্ধ (নিসবাত) করা হয়েছে
(২)।
ওয়াসিতির জীবন সম্পর্কে আমরা যা জেনেছি—তা অল্প হওয়া সত্ত্বেও—আমাদের সামনে থাকা ‘ফাদায়িল’ পাণ্ডুলিপিটি যা প্রকাশ করে তা-ই আমাদের জন্য যথেষ্ট। এর শুরুতে উল্লেখ আছে যে, তিনি ৪১০ হিজরি সালে বায়তুল মাকদিসে তাঁর নিজ বাড়িতে কিতাবটি পাঠ করেছিলেন
(৩)। আমরা যদি ধরে নিই যে, তখন তিনি প্রাপ্তবয়স্ক হয়েছিলেন এবং এই কিতাবটি রচনা করার মতো ইলম অর্জন করেছিলেন, তবে এটিও ধরে নেওয়া গ্রহণযোগ্য হবে যে, তিনি চতুর্থ হিজরি শতাব্দীর শেষ চতুর্থাংশের শুরুর দিকে জন্মগ্রহণ করেছিলেন এবং যখন তিনি তাঁর বাড়িতে কিতাবটি বর্ণনা করছিলেন, তখন তাঁর বয়স ছিল ত্রিশের কোঠায়, কিছুটা কম বা বেশি
(৪)।
কিতাবটি আমাদের কাছে এটি প্রকাশ করে যে, তিনি নববী হাদিসের প্রতি অত্যন্ত আগ্রহী ছিলেন এবং তিনি যে সকল নববী হাদিস ও অন্যান্য সকল বর্ণনা উল্লেখ করেছেন, তা তিনি তাঁর নিজ সনদসহ বর্ণনা করেছেন।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
ফাদাইলুল বাইতিল মুকাদ্দাস - আল-ওয়াসিতী
(পৃষ্ঠা: ٢٨)
كَامِلَةً دُونَ حذفٍ أَو اختِصَارٍ، مُتَّبِعًا في ذَلِكَ طُرُقَ المُحَدِّثِينَ. وَمِن هَذِهِ الأسَانِيدِ عَرَفنَا شُيُوخَهُ، كمَا عَرَفنَا مِن بَعضِهَا شُيُوخَ أَخِيهِ أَبِي حَفصٍ عُمَرَ، الأمرُ الذِي يُفضِي إِلَى أَنَّ أخَاهُ هَذَا كَانَ عَلَى اهتِمَامٍ وعِنَايَةٍ بالحديثِ النَّبَوِيِّ أيضًا. وَعَرَفنَا كَذَلِكَ بَعضَ مَن نقلَ عنهُ الفضائِلَ
(1)،
سَوَاءٌ كَانَت النُّقُولُ فُصُولًا كَامِلَةً، أو أحاديثَ وأخبارًا متفرِّقَةً.» ا. هـ
--------------------------------------------
পূর্ণাঙ্গভাবে, কোনো কর্তন বা সংক্ষেপণ ছাড়াই, এতে তিনি মুহাদ্দিসগণের পদ্ধতি অনুসরণ করেছেন। আর এই সনদসমূহ থেকেই আমরা তাঁর শিক্ষকদের সম্পর্কে জানতে পেরেছি, যেমন এগুলোর মধ্য থেকে কয়েকটির মাধ্যমে আমরা তাঁর ভাই আবু হাফস উমরের শিক্ষকদের সম্পর্কেও জানতে পেরেছি; যা এই বিষয়টির দিকে ধাবিত করে যে, তাঁর এই ভাইও নববী হাদীসের প্রতি আগ্রহী ও যত্নশীল ছিলেন। এবং একইভাবে আমরা তাঁদের সম্পর্কেও জানতে পেরেছি যারা তাঁর থেকে ফজিলতসমূহ বর্ণনা করেছেন
(১),
চাই সেই উদ্ধৃতিগুলো পূর্ণাঙ্গ অধ্যায় হোক বা বিক্ষিপ্ত হাদীস ও বর্ণনা হোক।" (সমাপ্ত)।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
ফাদাইলুল বাইতিল মুকাদ্দাস - আল-ওয়াসিতী
(পৃষ্ঠা: ٢٩)
الفصل الثانينسبةُ الكتابِ للمؤلِّفِبِالإضافَةِ إِلَى مَا كُتِبَ عَلَى لَوحَةِ العُنوانِ للمَخطُوطِ: «كتابُ فضائلِ البَيتِ المُقَدَّسِ، تصنيفُ الخَطِيبِ الإمامِ أبِي بَكرٍ محمدِ بنِ أحمدَ بنِ محمدٍ الواسِطِيِّ رضي الله عنه.»، فقَد ذَكَرَهُ ونَسَبَهُ للمؤلِّفِ جماعةٌ مِن أهلِ العِلمِ.
ومِمّن وقفتُ عليهِم:
1 - الإمامِ أبِي الفَرَجِ ابنِ الجَوزِيِّ رحمه الله (ت: 597 هـ). لَهُ كِتَابٌ سمَّاهُ
… (فضائلُ القُدسِ)، رَوَى مِن طَرِيقِ المؤلِّف أَربَعًا وأربَعِينَ (44) روايَةً بِمَا يُعادِلُ 80% مِن كِتَابِهِ.
2 - الإمامِ أبِي مُحمَّدٍ بهاءِ الدِّينِ ابنِ عساكِرَ رحمه الله (ت: 600 هـ). لَهُ كِتابٌ سمَّاهُ (الجَامعُ المُستقصَى في فضَائلِ المَسجِدِ الأقصَى)، مفقُودٌ مِنهُ الأجزَاءُ مِن 1 إلى 11، وموجودٌ مِنهُ الأجزاءُ مِن 12 إلى 15 وهُو نهَايةُ الكِتابِ، روَى فِيهَا مِن طريقِ المُصنِّفِ 86 روايةً، بمَا يُعادِلُ نِصفَ كِتابِنَا.
2 - الحافظِ ضِيَاءِ الدِّينِ المَقدِسِيِّ رحمه الله (ت: 643 هـ). لَهُ كِتَابٌ في فضائِلِ الشَّامِ، النِّصفُ الثَّانِي مِنهُ طُبِعَ مُفرَدًا بعُنوانِ (فضائلُ بَيتِ المَقدِسِ)، رَوَى مِن طَرِيقِ المؤلِّف إِحدَى عَشرةَ (11) روايَةً بِمَا يُعَادِلُ 1/ 6 الكتابِ؛ حيثُ إنَّ عددَ روايَاتِهِ ستٌّ وستّونَ (66) روايَةً.
3 - الإمامِ أبِي عَبدِ اللهِ الذَّهَبِيِّ رحمه الله (ت: 748 هـ). ذَكَرَهُ في كِتَابِهِ (مِيزَانُ الاعتدال في نقدِ الرّجَال) في ترجَمَةِ محمدِ بنِ مخلدٍ بَعدَ أَن رَوَى لَهُ حديثًا،
দ্বিতীয় পরিচ্ছেদলেখকের প্রতি কিতাবটির সম্পৃক্ততাপাণ্ডুলিপির শিরোনামের পাতায় যা লেখা আছে তা ছাড়াও: «কিতাবু ফাদায়িলিল বাইতিল মুকাদ্দাস, সংকলনে: খতীব ইমাম আবু বকর মুহাম্মদ ইবনে আহমাদ ইবনে মুহাম্মদ আল-ওয়াসিতী (আল্লাহ তাঁর প্রতি সন্তুষ্ট হোন)», একদল আলেম গ্রন্থটি উল্লেখ করেছেন এবং লেখকের প্রতি তা সম্পৃক্ত করেছেন।
যাদের বিষয়ে আমি অবগত হতে পেরেছি তাদের মধ্য হতে:
১ - ইমাম আবুল ফারাজ ইবনুল জাওযী (রাহিমাহুল্লাহ) (মৃত্যু: ৫৯৭ হিজরি)। তাঁর একটি গ্রন্থ রয়েছে যার নাম
... (ফাদায়িলুল কুদস); তিনি লেখকের সূত্রে চুয়াল্লিশটি (৪৪) বর্ণনা উদ্ধৃত করেছেন যা তাঁর কিতাবের ৮০%-এর সমতুল্য।
২ - ইমাম আবু মুহাম্মদ বাহাউদ্দীন ইবনে আসাকির (রাহিমাহুল্লাহ) (মৃত্যু: ৬০০ হিজরি)। তাঁর একটি কিতাব রয়েছে যার নাম (আল-জামি আল-মুস্তাকসা ফি ফাদায়িলিল মাসজিদিল আকসা), এর ১ থেকে ১১ পর্যন্ত খণ্ডগুলো নিখোঁজ, আর ১২ থেকে ১৫ পর্যন্ত খণ্ডগুলো বিদ্যমান যা কিতাবটির শেষাংশ; তিনি এতে লেখকের সূত্রে ৮৬টি বর্ণনা উদ্ধৃত করেছেন, যা আমাদের কিতাবের অর্ধেকের সমতুল্য।
২ - হাফেজ জিয়াউদ্দীন আল-মাকদিসী (রাহিমাহুল্লাহ) (মৃত্যু: ৬৪৩ হিজরি)। শামের মর্যাদাবিষয়ক তাঁর একটি কিতাব রয়েছে, যার দ্বিতীয় অর্ধাংশ স্বতন্ত্রভাবে (ফাদায়িলু বাইতিল মাকদিস) শিরোনামে মুদ্রিত হয়েছে; তিনি লেখকের সূত্রে এগারোটি (১১) বর্ণনা উদ্ধৃত করেছেন যা কিতাবটির ১/৬ অংশের সমতুল্য, যেহেতু এর বর্ণনার সংখ্যা ছিষট্টিটি (৬৬)।
৩ - ইমাম আবু আব্দুল্লাহ আদ-দাহাবী (রাহিমাহুল্লাহ) (মৃত্যু: ৭৪৮ হিজরি)। তিনি তাঁর কিতাব (মিযানুল ইতিদাল ফি নাকদির রিজাল)-এ মুহাম্মদ ইবনে মাখলাদ-এর জীবনীতে একটি হাদিস বর্ণনা করার পর এটি উল্লেখ করেছেন,
(খণ্ড: ১)
ফাদাইলুল বাইতিল মুকাদ্দাস - আল-ওয়াসিতী
(পৃষ্ঠা: ٣٠)
قال: «رَوَاهُ أبُو بكرٍ محمدُ بنُ أحمدَ الواسِطِيُّ الخطيبُ في (فضائِلُ بَيتِ المَقدِسِ)»
(1). وانظُر (لسانُ المِيزانِ) للحافظِ ابنِ حجرٍ العَسقلَانِيِّ رحمه الله
(2).
4 - الإمامِ شهابِ الدِّينِ المَقدِسِيِّ رحمه الله (ت: 765 هـ). ذَكَرَه في كِتَابِهِ
… (مثيرُ الغَرَامِ) في آخِرِهِ، فقال: «وَقَد صَنَّفَ جماعةٌ كثيرُونَ كُتُبًا في فَضلِ القُدسِ الشَّرِيفِ، كالمُشَرَّفِ بنِ المُرَجَّا المَقدِسِيِّ، والخطيبِ أبِي بكرٍ محمدِ بنِ أحمدَ بنِ محمدٍ الواسِطِيِّ، خطيبِ المسجدِ الأَقصَى الشَّرِيفِ، ..... تَغَمَّدَهُم اللهُ تعالَى بالرّحمَةِ والرِّضوَانِ.»
(3).
5 - الإمامِ الزَّركَشِيِّ رحمه الله (ت: 794 هـ). ذَكَرَهُ في كتَابِهِ (إعلامُ السَّاجِد بِأَحكَامِ المَسَاجِد)
(4).
6 - الإِمَامِ أَبِي حَفصٍ سِرَاجِ الدِّينِ الأَنصَارِيِّ، المَعرُوفِ بِابنِ المُلَقِّنِ
… (ت: 804 هـ) رحمه الله. قَالَ في (التَّوضِيح بِشَرحِ الجَامِعِ الصَّحِيح): «وَفِي
… (فَضَائِلُ بَيتِ المَقدِسِ) لِلوَاسِطِيِّ مِن حَدِيثِ ابنِ لَهِيعَةَ، عن يَزِيدَ، عن عَطَاءٍ، عن عَائِشَةَ
… » وَذكَرَ الأَثرَ الآتِي بِرَقَم (18)
(5).
7 - الإمامِ تقيِّ الدِّينِ المَقرِيزِيِّ رحمه الله (ت: 845 هـ). ذَكَرَهُ في كِتَابِهِ
… (المُقَفَّى الكَبِيرُ)، فقالَ في ترجمَةِ قَاضِي الحَرَسِ محمدِ بنِ سُلَيمَانَ: «رَوَى عَنهُ القَاضِي أبُو بَكرٍ المَعَافِرِيُّ، وأبُو بَكرٍ محمدُ بنُ أحمدَ الواسِطِيُّ صاحِبُ
… (فضائلُ بيتِ المَقدِسِ).»
(6).
--------------------------------------------
তিনি বলেন: «এটি আবু বকর মুহাম্মদ বিন আহমদ আল-ওয়াসিতি আল-খাতিব (ফাদায়িলু বাইতিল মাকদিস) গ্রন্থে বর্ণনা করেছেন»
(১)। এবং হাফেজ ইবনে হাজার আল-আসকালানি (রহিমাহুল্লাহ)-এর (লিসানুল মিজান) গ্রন্থটি দেখুন
(২)।
৪ - ইমাম শিহাবুদ্দিন আল-মাকদিসি (রহিমাহুল্লাহ) (মৃত্যু: ৭৬৫ হিজরি)। তিনি এটি তাঁর কিতাব
… (মুথিরুল গারাম)-এর শেষে উল্লেখ করেছেন, তিনি বলেন: «পবিত্র কুদস বা জেরুজালেমের ফযিলত সম্পর্কে অনেক জামায়াত কিতাব রচনা করেছেন, যেমন মুশাররাফ বিন আল-মুরাজ্জা আল-মাকদিসি এবং পবিত্র মসজিদুল আকসার খতিব আবু বকর মুহাম্মদ বিন আহমদ বিন মুহাম্মদ আল-ওয়াসিতি, ..... আল্লাহ তাআলা তাঁদের রহমত ও সন্তুষ্টির চাদরে আবৃত করুন।»
(৩)।
৫ - ইমাম আজ-যারকাশি (রহিমাহুল্লাহ) (মৃত্যু: ৭৯৪ হিজরি)। তিনি এটি তাঁর কিতাব (ইলামুস সাজিদ বি-আহকামিল মাসাজিদ)-এ উল্লেখ করেছেন
(৪)।
৬ - ইমাম আবু হাফস সিরাজুদ্দিন আল-আনসারি, যিনি ইবনুল মুলাক্কিন নামে পরিচিত
… (মৃত্যু: ৮০৪ হিজরি) (রহিমাহুল্লাহ)। তিনি (আত-তাওদিহ বি-শারহিল জামিউস সহিহ) গ্রন্থে বলেছেন: «এবং ওয়াসিতির
… (ফাদায়িলু বাইতিল মাকদিস) গ্রন্থে ইবনে লাহিয়া থেকে, তিনি ইয়াজিদ থেকে, তিনি আতা থেকে, তিনি আয়েশা থেকে বর্ণনা করেছেন
… » এবং তিনি ১৮ নং ক্রমিকে পরবর্তী বর্ণনাটি উল্লেখ করেছেন
(৫)।
৭ - ইমাম তাকিউদ্দিন আল-মাকরিজি (রহিমাহুল্লাহ) (মৃত্যু: ৮৪৫ হিজরি)। তিনি তাঁর কিতাব
… (আল-মুকাফফা আল-কাবির)-এ এটি উল্লেখ করেছেন, এবং কাজিউল হারাস মুহাম্মদ বিন সুলাইমানের জীবনীতে বলেছেন: «তাঁর থেকে কাজি আবু বকর আল-মাআফিরি এবং
… (ফাদায়িলু বাইতিল মাকদিস)-এর লেখক আবু বকর মুহাম্মদ বিন আহমদ আল-ওয়াসিতি বর্ণনা করেছেন।»
(৬)।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
ফাদাইলুল বাইতিল মুকাদ্দাস - আল-ওয়াসিতী
(পৃষ্ঠা: ٣١)
8 - الإمامِ العَينِيِّ رحمه الله (ت: 855 هـ). ذَكَرَهُ في كتابه (عُمدَةُ القَارِي) تَحتَ شَرحِ حَدِيثِ (774).
9 - الإمامِ السَّخَاوِيِّ رحمه الله (ت: 902 هـ). ذَكَرَهُ في كِتابِهِ (الإعلانُ بالتّوبِيخ لِمَن ذمّ أهلَ التَّارِيخ)، قال: «بيتُ المَقدِسِ جمعَ تاريخَهُ
… وفضائِلَهُ ..... ، وأبُو بَكرٍ محمدُ بنُ أحمدَ بنِ محمدٍ الواسِطِيُّ الخطيبُ.»
(1).
10 - الإمامِ جَلَالِ الدِّينِ السِّيُوطِيِّ رحمه الله (ت: 911 هـ). ذَكَرَهُ في (الدُّرُّ المَنثُور في التَّفسِيرِ بالمَأثُور) في تَفسِيرِ سورةِ الإِسرَاءِ وغيرِها، أَورَدَ ستّةَ عَشَرَ (16) أَثَرًا من كِتَابِ الواسِطِيِّ، مِنهَا:
أ- قالَ: «وَأَخرَجَ الواسِطِيُّ في (فضائلُ بيتِ المَقدِسِ) عن كعبٍ .. »، وذَكَرَ الأَثَرَ الآتِي برَقَمِ (117)
(2).
ب- قالَ: «وَأَخرَجَ الواسِطِيُّ، عن الوَلِيدِ بنِ مُسلِمٍ، قَالَ: حَدَّثَنِي بَعضُ أَشيَاخِنَا .. »، وَذَكَرَ الأثَرَ الآتِي برَقَمِ (72) (2).
ج- قالَ: «وَأَخرَجَ أبُو بَكرٍ الواسِطِيُّ في كتابِ بيتِ المَقدِسِ، عن عَلِيِّ ابنِ أبِي طَالِبٍ، قالَ: .. »، وذَكَرَ الأثَرَ الآتِي برَقَمِ (7)
(3).
د- قالَ: «وَأَخرَجَ الواسِطِيُّ، عن سَعِيدِ بنِ المُسَيّبِ، قال: .. »، وذَكَرَ الأثَرَ الآتِي برَقَمِ (5)
(4).
هـ - قالَ: «وأَخرَجَ الواسِطِيُّ، عن الشَّيبَانِيِّ، قال: .. »، وذَكَرَ الأثَرَ الآتِي برَقَمِ (6)
(5).
--------------------------------------------
৮ - ইমাম আইনী রাহিমাহুল্লাহ (ওফাত: ৮৫৫ হিজরি)। তিনি এটি তাঁর ‘উমদাতুল কারী’ কিতাবে (৭৭৪) নম্বর হাদিসের ব্যাখ্যার অধীনে উল্লেখ করেছেন।
৯ - ইমাম সাখাবী রাহিমাহুল্লাহ (ওফাত: ৯০২ হিজরি)। তিনি এটি তাঁর ‘আল-ইলান বিত-তাওবীখ লিমান জাম্মা আহলাত তারিখ’ কিতাবে উল্লেখ করেছেন। তিনি বলেছেন: «বাইতুল মাকদিস, এর ইতিহাস … এবং এর ফযিলতসমূহ সংগ্রহ করেছেন ..... , আবু বকর মুহাম্মদ ইবনে আহমদ ইবনে মুহাম্মদ আল-ওয়াসিতি আল-খতিব।»
(১)।
১০ - ইমাম জালালুদ্দীন সুয়ূতী রাহিমাহুল্লাহ (ওফাত: ৯১১ হিজরি)। তিনি সূরা আল-ইসরা ও অন্যান্য সূরার তাফসিরে ‘আদ-দুররুল মানসুর ফিত-তাফসির বিল-মা’সুর’ কিতাবে এটি উল্লেখ করেছেন। তিনি ওয়াসিতির কিতাব থেকে ষোলোটি (১৬) আসার (বর্ণনা) উদ্ধৃত করেছেন, যার মধ্যে রয়েছে:
ক- তিনি বলেছেন: «ওয়াসিতি ‘ফাযায়িলু বায়তিল মাকদিস’ কিতাবে কাব (রা.) থেকে বর্ণনা করেছেন .. », এবং তিনি নিচে (১১৭) নম্বর আসারটি উল্লেখ করেছেন
(২)।
খ- তিনি বলেছেন: «ওয়াসিতি ওয়ালীদ ইবনে মুসলিম থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেছেন: আমাদের কিছু শায়খ আমার কাছে বর্ণনা করেছেন .. », এবং তিনি নিচে (৭২) নম্বর আসারটি উল্লেখ করেছেন (২)।
গ- তিনি বলেছেন: «আবু বকর ওয়াসিতি বাইতুল মাকদিস বিষয়ক কিতাবে আলী ইবনে আবি তালিব (রা.) থেকে বর্ণনা করেছেন: .. », এবং তিনি নিচে (৭) নম্বর আসারটি উল্লেখ করেছেন
(৩)।
ঘ- তিনি বলেছেন: «ওয়াসিতি সাঈদ ইবনুল মুসায়্যিব থেকে বর্ণনা করেছেন: .. », এবং তিনি নিচে (৫) নম্বর আসারটি উল্লেখ করেছেন
(৪)।
ঙ- তিনি বলেছেন: «ওয়াসিতি শায়বানী থেকে বর্ণনা করেছেন: .. », এবং তিনি নিচে (৬) নম্বর আসারটি উল্লেখ করেছেন
(৫)।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
ফাদাইলুল বাইতিল মুকাদ্দাস - আল-ওয়াসিতী
(পৃষ্ঠা: ٣٢)
و- قالَ: «وأَخرَجَ ابنُ حِبَّانَ في (الضعفاء)، والطَّبَرَانِيُّ،
… وابنُ مَردَوَيهِ، والوَاسِطِيُّ، عن رَافِعِ بنِ عُمَيرٍ .. »، وذَكَرَ الأثَرَ الآتِي برَقَمِ
… (22)
(1).
11 - وَأَورَدَ لَهُ أيضًا في كتَابِهِ (الحَبَائِك في أَخبَارِ المَمَالِك)
(2).
12 - الإمامِ الآلُوسِيِّ رحمه الله (ت: 1270 هـ). ذَكَرَهُ في (رَوحُ المَعَانِي) تحتَ تفسيرِ سُورَةِ ق
(3).
وغيرُهُم كَثِيرٌ، كأَبِي القَاسِمِ عليِّ بنِ الحسَنِ بنِ عَسَاكِرَ (ت: 571 هـ) في (تَارِيخُ دِمَشقَ الكَبِيرُ)، والنُّوَيرِيِّ (ت: 733 هـ) في (نِهَايَةُ الأَرَب في فُنُونِ الأَدَب)، وَابنِ فَضلِ اللهِ العُمَرِيِّ (ت: 749 هـ) في (مَسَالِكُ الأَبصَار في مَمَالِكِ الأَمصَار)، وَشَمسِ الدِّينِ السِّيُوطِيِّ المِنهَاجِيِّ (ت: 880 هـ) في
… (إِتحَافُ الأَخِصَّا بِفَضِائِلِ المَسجِدِ الأَقصَى)، والصَّالِحِيِّ (ت: 942 هـ) في
… (سُبُلُ الهُدَى وَالرَّشَادِ)، وعَلَاءِ الدِّينِ عَلِيِّ بنِ مُحَمَّدٍ المَعرُوفِ بِابنِ عِرَاقٍ (ت: 963 هـ) في (تَنزِيهُ الشَّرِيعَةِ المَرفُوعَة عن الأَخبَارِ الشَّنِيعَةِ المَوضُوعَة).
--------------------------------------------
ও- তিনি বলেছেন: «এবং ইবনু হিব্বান (আয-যুয়াফা গ্রন্থে), তাবারানি,
… ইবনু মারদুওয়াইহ এবং ওয়াসিতি রাফি ইবনু উমাইর থেকে বর্ণনা করেছেন .. », এবং তিনি পরবর্তী বর্ণনাটি
… (২২) নম্বর অধীনে উল্লেখ করেছেন
(১).
১১ - তিনি তাঁর (আল-হাবায়িক ফি আখবারিল মামালিক) কিতাবেও এটি উল্লেখ করেছেন
(২).
১২ - ইমাম আলূসী রহমাতুল্লাহি আলাইহি (মৃত্যু: ১২৭০ হি.). তিনি এটি (রুহুল মাআনি) গ্রন্থে সূরা ক্বাফ-এর তাফসিরের অধীনে উল্লেখ করেছেন
(৩).
এবং তাঁরা ছাড়াও আরও অনেকে রয়েছেন, যেমন আবুল কাসিম আলী ইবনুল হাসান ইবনু আসাকির (মৃত্যু: ৫৭১ হি.) (তারিখু দিমাশক আল-কাবীর) গ্রন্থে, নুওয়াইরি (মৃত্যু: ৭৩৩ হি.) (নিহায়াতুল আরাব ফি ফুনুনিল আদাব) গ্রন্থে, ইবনু ফাযলুল্লাহ আল-উমারি (মৃত্যু: ৭৪৯ হি.) (মাসালিকুল আবসার ফি মামালিকিল আমসার) গ্রন্থে, শামসুদ্দিন আস-সুয়ুতি আল-মিনহাজি (মৃত্যু: ৮৮০ হি.)
… (ইতহাফুল আখিসসা বি ফাযায়িলিল মাসজিদিল আকসা) গ্রন্থে, সালিহি (মৃত্যু: ৯৪২ হি.)
… (সুবুলুল হুদা ওয়ার রাশাদ) গ্রন্থে, এবং আলাউদ্দিন আলী ইবনু মুহাম্মদ যিনি ইবনু ইরাক নামে পরিচিত (মৃত্যু: ৯৬৩ হি.) (তানজিহুশ শারিয়াহ আল-মারফুআ আনিল আখবারিশ শানিআ আল-মাওযুআ) গ্রন্থে।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
ফাদাইলুল বাইতিল মুকাদ্দাস - আল-ওয়াসিতী
(পৃষ্ঠা: ٣٣)
الفصل الثالثترجمةُ رواةِ الكِتَابِلَم تَصِل إِلينَا نُسخَةُ الكِتابِ بخطِّ مؤلِّفِهِ، حظُّهُ في ذَلكَ حظُّ غالِبِ الكُتبِ، وَإنَّمَا وَصلَت إِلينَا نُسخَةٌ كُتبَت بَعدَ إِملَاءِ المُؤلِّفِ لِكتَابِهِ بِمَا يُقارِبُ القَرنَينِ، فَوصَلَت إِلينَا بِإسنَادٍ رُباعِيٍّ إِلَى المُؤلِّفِ.
وأَحدُ رِجالِ الإِسنَادِ إلَى المُؤلِّفِ ـ وهُو تِلمِيذُهُ: أبُو مُحمَّدٍ عَبدُ العَزيزِ بنُ أَحمَدَ بنِ عُمرَ، المَعرُوفِ بِابنِ النَّصيبِيِّ ـ لَم أَقِف لَهُ عَلَى تَرجَمةٍ. وَلَا تَضرُّ جَهالَةُ أَحدِ رُواةِ الكِتابِ في إِثبَاتِ نِسبَةِ الكِتابِ إِلَى مُؤلِّفِهِ؛ ذَلكَ لِشُهرَةِ الكِتابِ بَينَ العُلمَاءِ. وَقَد مَرَّ في فَصلِ «نِسبَةُ الكِتابِ لِلمُؤلِّفِ» نَقلٌ كَثيرٌ مِنَ العُلمَاءِ عن المُؤلِّفِ. وَمعلُومٌ عِندَ العُلمَاءِ أَنَّ شُهرَةَ الكِتابِ تُغنِي عن إِسنَادِهِ. قَالَ الحَافظُ ابنُ حَجرٍ العَسقَلَانِيُّ رحمه الله في (نُكتِهِ عَلَى ابنِ الصَّلاحِ) ـ كمَا في
… (عُلومُ الحَديثِ) (1/ 104 - 105) ـ: «الكِتابُ المَشهُورُ الغَنيُّ بِشُهرَتِهِ عن اعتِبارِ الإِسنَادِ مِنَّا إِلَى مُصنِّفِهِ، كَسُننِ النَّسائِيِّ مَثلًا، لَا يَحتاجُ في صِحَّةِ نِسبَتِهِ إِلَى النَّسائِيِّ إِلَى اعتِبَارِ حَالِ رِجالِ الإِسنَادِ مِنَّا إِلَى مُصنِّفِهِ» ا. هـ
(1)1 - أبُو الحُسينِ ابنُ المَوازينيِّ.
«الشيخُ العالِمُ، المُحَدِّثُ المُسنِدُ، أبُو الحُسَينِ أحمدُ بنُ حمزةَ ابنِ المُحَدِّثِ أبِي الحَسَنِ عليِّ بنِ الحسنِ بنِ الحُسَينِ بنِ المَوَازِيِنِيِّ الدِّمَشقِيُّ المُعَدَّلُ. وُلِدَ في رَبيعِ الأَوَّلِ سنةَ ستٍّ وخمسِ مِئَةٍ.
--------------------------------------------
তৃতীয় পরিচ্ছেদগ্রন্থের বর্ণনাকারীদের জীবনীলেখকের স্বহস্তে লিখিত গ্রন্থের কোনো পাণ্ডুলিপি আমাদের কাছে পৌঁছেনি; এই ক্ষেত্রে এর অবস্থা অধিকাংশ গ্রন্থের মতোই। বরং আমাদের কাছে এমন একটি পাণ্ডুলিপি পৌঁছেছে যা লেখকের গ্রন্থটি শ্রুতিলিখনের প্রায় দুই শতাব্দী পর লেখা হয়েছে। ফলে এটি লেখকের নিকট পর্যন্ত চার স্তরের একটি সনদের মাধ্যমে আমাদের কাছে পৌঁছেছে।
আর লেখকের নিকট পৌঁছানোর সনদের একজন বর্ণনাকারী—যিনি তাঁর ছাত্র ছিলেন: আবু মুহাম্মদ আব্দুল আজিজ বিন আহমদ বিন উমর, যিনি ইবনুন নাসিবী নামে পরিচিত—তাঁর কোনো জীবনী আমার নজরে আসেনি। আর গ্রন্থের কোনো একজন বর্ণনাকারীর পরিচয় অজ্ঞাত হওয়া লেখকের প্রতি গ্রন্থটির সম্বন্ধ সাব্যস্ত করার ক্ষেত্রে কোনো ক্ষতি করে না; এর কারণ হলো আলেমদের নিকট গ্রন্থটির প্রসিদ্ধি। ইতোমধ্যেই "লেখকের প্রতি গ্রন্থটির সম্বন্ধ" পরিচ্ছেদে আলেমদের থেকে লেখক সম্পর্কে অনেক উদ্ধৃতি অতিক্রান্ত হয়েছে। আর আলেমদের নিকট এটি সুবিদিত যে, গ্রন্থের প্রসিদ্ধি এর সনদের প্রয়োজনীয়তা দূর করে দেয়। হাফেয ইবনে হাজার আসকালানী (রাহিমাহুল্লাহ) তাঁর (ইবনুস সালাহ-এর ওপর লিখিত টিকাগ্রন্থ) ‘নুকাত’-এ বলেছেন—যেমনটি
… (উলূমুল হাদীস) (১/ ১০৪ - ১০৫)-এ রয়েছে: «যে কিতাব প্রসিদ্ধ এবং যা প্রসিদ্ধ হওয়ার কারণে আমাদের থেকে তার লেখক পর্যন্ত সনদের আবশ্যকতা থেকে মুক্ত, যেমন উদাহরণস্বরূপ সুনানে নাসাঈ; নাসাঈর প্রতি এর সম্বন্ধ সঠিক হওয়ার জন্য আমাদের থেকে লেখক পর্যন্ত সনদের বর্ণনাকারীদের অবস্থা যাচাই করার প্রয়োজন নেই।» [সমাপ্ত]
(১)১ - আবুল হুসাইন ইবনুল মাওয়াযিনী।
«বিদ্বান শায়খ, মুহাদ্দিস, মুসনিদ, আবুল হুসাইন আহমদ বিন হামযাহ বিন মুহাদ্দিস আবুল হাসান আলী বিন হাসান বিন হুসাইন বিন মাওয়াযিনী দিমাশকী আল-মুয়দ্দাল। তিনি পাঁচশ ছয় হিজরীর রবিউল আউয়াল মাসে জন্মগ্রহণ করেন।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
ফাদাইলুল বাইতিল মুকাদ্দাস - আল-ওয়াসিতী
(পৃষ্ঠা: ٣٤)
سَمِعَ من جَدِّهِ أبي الحسنِ، ووالدَتِهِ شُكرِ بنتِ سهلِ بنِ بِشرٍ الإسفِرَايِينِيِّ، وأجازَ لهُ أبُو عليٍّ الحدادُ، وارتَحَلَ فسمعَ مِن أبِي بكرٍ الزَّاغُونِيِّ، ومحمدِ بنِ عُبَيدِ اللهِ الرُّطَبِيِّ، وأبِي الكَرَمِ الشَّهرُزُورِيِّ، وسعيدِ بنِ البَنَّاءِ، وطائفةٍ.
وخَرَّجَ وجَمَعَ، وسَكَنَ بسَفحِ قَاسيُونَ، وأنشأَ زاويةً. وكَانَ مُقبِلًا علَى شأنِهِ، مُؤثِرًا للعُزلةِ، مُوَاسِيًا للفقراءِ. خَرَّجَ لنفسِهِ مَشيَخَةً حَسَنَةً، فِيهَا
… عن: أبِي الفضلِ الأَرمَوِيِّ، وابنِ الطَّلَّايَةِ، وعِدَّةٍ. رَوَى عنهُ: الحافظُ الضِّيَاءُ، وابنُ خَلِيلٍ، وعبدُ الحَقِّ بنُ خَلَفٍ، والبهاءُ عبدُ الرَّحمَنِ، ومُحَمّدُ بنُ سعدٍ، وخَطِيبُ مَردَا، والعِمَادُ بنُ عبدِ الهَادِي، والعمادُ عبدُ اللهِ بنُ النَّحَّاسِ، والزَّينُ بنُ عبدِ الدَّائِمِ، وخَلقٌ.
قالَ الضياءُ: كَانَ دَيِّنًا خَيِّرًا، قد انحنَى. سمِعنَا مِنهُ أكثرَ (الحِليَةِ). مَاتَ في المُحَرَّمِ سنةَ خمسٍ وثَمَانِينَ وخمسِ مِئَةٍ.»
(1).
وقالَ الإمامُ شهابُ الدِّينِ ابنُ العِمَادِ: «وسَمِعَ مِن جَدِّه. ورحلَ إِلَى بَغدادَ في الكُهُولَةِ، فسَمِعَ مِن أبِي بكرِ بنِ الزَّاغُونِيِّ وطَبَقَتِهِ. وكانَ صَالِحًا خَيِّرًا، مُحَدِّثًا فَهِمًا. تُوُفِّيَ في المُحَرَّمِ وهُو في عَشرِ التِّسعِينَ.» ا. هـ
(2).
2 - أبُو جَعفرٍ العبَّاسيُّ المكيُّ، نقيبُ الهاشمِيِّينَ بمَكةَ.
«الشيخُ الإمامُ، الصَّالحُ العابِدُ المُسنِدُ، أبُو جعفرٍ أحمدُ بنُ محمدِ بنِ
… عبدِ العزيزِ بنِ علِيِّ بنِ إسماعيلَ بنِ عليِّ بنِ سليمانَ بنِ يعقوبَ بنِ إبراهيمَ ابنِ الأميرِ إسماعيلَ بنِ عليِّ بنِ العباسِ بنِ عبدِ المُطَّلِبِ العَبَّاسِيِّ المَكِّيِّ، نقيبُ الهَاشِمِيِّينَ بِمَكَّةَ. وُلِدَ سنةَ ثمانٍ وسِتّينَ وأربعِ مِئَةٍ.
--------------------------------------------
তিনি তাঁর দাদা আবুল হাসান এবং তাঁর মা শুকার বিনতে সাহল বিন বিশর আল-ইসফিরায়িনি থেকে (হাদিস) শুনেছেন। আবু আলী আল-হাদ্দাদ তাঁকে ইজাযত প্রদান করেন। তিনি সফর করেন এবং আবু বকর আল-জাগুনি, মুহাম্মাদ বিন উবাইদুল্লাহ আর-রুতাবি, আবুল কারাম আশ-শাহরাজুরি, সাঈদ ইবনুল বান্না এবং একদল (আলেম) থেকে শুনেছেন।
তিনি হাদিস সংকলন ও বিন্যস্ত করেছেন, কাসিউন পর্বতের পাদদেশে বসবাস করেছেন এবং সেখানে একটি যাওয়িয়া (খানকাহ) নির্মাণ করেন। তিনি নিজের কাজে নিবিষ্ট থাকতেন, নির্জনতা পছন্দ করতেন এবং দরিদ্রদের প্রতি সহানুভূতিশীল ছিলেন। তিনি নিজের জন্য একটি চমৎকার 'মাশইয়াখাহ' (শিক্ষকদের তালিকা) সংকলন করেছিলেন, যাতে রয়েছে
… আবুল ফজল আল-আরমাওয়ি, ইবনুত তাল্লায়াহ এবং আরও অনেকের বর্ণনা। তাঁর থেকে বর্ণনা করেছেন: হাফেজ আদ-দিয়া, ইবনে খলিল, আব্দুল হক বিন খালাফ, আল-বাহা আব্দুর রহমান, মুহাম্মাদ বিন সাদ, খাতিবে মারদা, আল-ইমাদ বিন আব্দুল হাদি, আল-ইমাদ আব্দুল্লাহ ইবনুন নাহহাস, আয-যাইন বিন আব্দুল দায়িম এবং আরও একদল লোক।
আদ-দিয়া বলেন: তিনি দ্বীনদার ও পুণ্যবান ছিলেন, বার্ধক্যের কারণে নুয়ে পড়েছিলেন। আমরা তাঁর কাছ থেকে 'হিলইয়াহ'-এর অধিকাংশ শুনেছি। তিনি ৫৮৫ হিজরীর মহরম মাসে মৃত্যুবরণ করেন।»
(১).
এবং ইমাম শিহাবুদ্দিন ইবনুল ইমাদ বলেন: «তিনি তাঁর দাদা থেকে শুনেছেন। প্রৌঢ়াবস্থায় তিনি বাগদাদে সফর করেন এবং আবু বকর বিন আল-জাগুনি ও তাঁর সমপর্যায়ের আলেমদের থেকে শুনেছেন। তিনি নেককার, পুণ্যবান এবং বিজ্ঞ মুহাদ্দিস ছিলেন। তিনি মহরম মাসে মৃত্যুবরণ করেন যখন তাঁর বয়স নব্বইয়ের কোঠায় ছিল।» সমাপ্ত
(২).
২ - আবু জাফর আল-আব্বাসি আল-মাক্কি, মক্কায় হাশেমি বংশীয়দের প্রধান।
«শায়খ, ইমাম, সৎকর্মশীল, আবেদ, মুসনিদ, আবু জাফর আহমদ বিন মুহাম্মাদ বিন
… আব্দুল আজিজ বিন আলী বিন ইসমাইল বিন আলী বিন সুলায়মান বিন ইয়াকুব বিন ইব্রাহিম ইবনুল আমির ইসমাইল বিন আলী বিন আব্বাস বিন আব্দুল মুত্তালিব আল-আব্বাসি আল-মাক্কি, মক্কায় হাশেমি বংশীয়দের প্রধান। তিনি ৪৬৮ হিজরীতে জন্মগ্রহণ করেন।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
ফাদাইলুল বাইতিল মুকাদ্দাস - আল-ওয়াসিতী
(পৃষ্ঠা: ٣٥)
سَمِعَ جماعةَ أجزاءٍ مِن أَبِي عليٍّ الحسنِ بنِ عبدِ الرحمنَ الشافعيِّ، تَفَرَّد بِعُلُوِّهَا.
قال السَّمعَانِيُّ: شيخٌ ثِقَةٌ، صالحٌ مُتَواضِعٌ، ما رَأَيتُ في الأشرافِ مِثلَهُ. قَدِمَ علينَا أَصبَهَانَ لِدَينٍ رَكِبَهُ ومَعَهُ خمسةُ أجزاءٍ، فسَمِعتُ منهُ. وقد سمع في الكُهُولَةِ، ونسخَ الكثيرَ، ثمَّ قَدِمَ أَصبَهَانَ رَاجِعًا مِن كِرمَانَ في سَنَة 547 هـ.
وَقالَ ابنُ النجارِ: كانَ صَدُوقًا زَاهِدًا عَابِدًا. قَرأتُ بخَطِّهِ، قالَ: سمِعتُ الحديثَ مِن أبِي عليٍّ الشافعيِّ وعُمرِي سبعُ سنينَ.
قلتُ ـ الذهبيُّ ـ: حَدَّثَ عنهُ: ابنُ عساكرَ، والسَّمعَانِيُّ، والقاضِي أسعدُ ابن مُنَجَّا، وثابتُ بنُ مشَرِّفٍ، وعبدُ السَّلامِ الدَّاهِرِيُّ، وأبُو الحَسَنِ محمدُ بنُ أحمدَ القَطِيعِيُّ، وأبُو محمدِ بنُ عُلوَانَ الحَلَبِيُّ، وآخَرُونَ، وتفَرَّدَ عنهُ بالإِجَازةِ أبُو الحسنِ بنُ المُقَيَّرِ.
تُوُفِّيَ في شَعبَانَ سنةَ أربعٍ وخمسينَ وخمسِ مِئَةٍ. وهو جَدُّ المُحَدِّثِ الحافظِ جعفرِ بنِ محمدٍ العباسِيِّ.
قالَ ابنُ النجارِ: سمعَ أبَا علِيٍّ الشافِعِيَّ، وعبدَ القاهِرِ العباسيَّ المُقرِئَ، وعيسَى بنَ أبِي ذَرٍّ، وعبدَ السَّاترِ بنَ عبدِ اللهِ الزِّيَادِيَّ، وببغدادَ مِن:
… ابنِ الحُصَينِ، وأبِي غالبٍ ابنِ البَنَّاءِ. وكَتَبَ بخَطِّهِ كثيرًا، كتب عنهُ:
… ابنُ ناصِرٍ. حَدَّثَنَا عنهُ: ابنُ سُكَينَةَ، وابنُ الأخضَرِ، وعبدُ الرَّزَّاقِ، والحسنُ ابنُ محمدِ بنِ حَمدُونَ، وتُركُ بنُ محمدٍ الكاتِبُ.
سَمِعتُ عامَّةَ شُيُوخِنَا يُثنُونَ عليهِ، ويَصِفُونَه بالزُّهدِ والعِبَادَةِ، والوَرَعِ والنَّزَاهَةِ.»
(1).
--------------------------------------------
তিনি আবু আলী আল-হাসান ইবনে আবদুর রহমান আশ-শাফি'ঈ থেকে বেশ কিছু হাদিসের খণ্ড শ্রবণ করেছেন, যার উচ্চতর সূত্রের (উলুউ) বর্ণনায় তিনি একক ছিলেন।
আস-সামআনী বলেছেন: তিনি একজন নির্ভরযোগ্য শাইখ, সৎ ও বিনয়ী; আমি অভিজাতদের মধ্যে তাঁর মতো কাউকে দেখিনি। তিনি ঋণের দায়ে আমাদের কাছে আসফাহানে এসেছিলেন এবং তাঁর সাথে পাঁচটি হাদিসের খণ্ড ছিল, আমি তাঁর কাছ থেকে সেগুলো শ্রবণ করেছি। তিনি প্রৌঢ় বয়সে হাদিস শ্রবণ করেছিলেন এবং প্রচুর অনুলিপি তৈরি করেছিলেন, অতঃপর ৫৪৭ হিজরিতে কিরমান থেকে ফেরার পথে পুনরায় আসফাহানে আসেন।
ইবনুল নাজ্জার বলেছেন: তিনি সত্যবাদী, দুনিয়াবিমুখ ও ইবাদতগুজার ছিলেন। আমি তাঁর স্বহস্তে লেখা পাণ্ডুলিপিতে পড়েছি, তিনি বলেছেন: আমি যখন আবু আলী আশ-শাফি'ঈর নিকট হাদিস শ্রবণ করি তখন আমার বয়স ছিল সাত বছর।
আমি (আয-যাহাবি) বলছি: তাঁর থেকে হাদিস বর্ণনা করেছেন: ইবনে আসাকির, আস-সামআনী, আল-কাদি আসআদ ইবনে মুনাজ্জা, সাবিত ইবনে মুশাররাফ, আবদুস সালাম আদ-দাহিরি, আবুল হাসান মুহাম্মদ ইবনে আহমদ আল-কাতি'ঈ, আবু মুহাম্মদ ইবনে উলওয়ান আল-হালাবি এবং আরও অনেকে; আর আবুল হাসান ইবনুল মুকাইয়ার তাঁর কাছ থেকে ইজাজতের মাধ্যমে বর্ণনায় একক ছিলেন।
তিনি ৫৫৪ হিজরির শাবান মাসে মৃত্যুবরণ করেন। তিনি হলেন মুহাদ্দিস হাফেজ জাফর ইবনে মুহাম্মদ আল-আব্বাসির দাদা।
ইবনুল নাজ্জার বলেছেন: তিনি আবু আলী আশ-শাফি'ঈ, মুকরি আব্দুল কাহির আল-আব্বাসি, ঈসা ইবনে আবু যার এবং আব্দুল সাত্তার ইবনে আব্দুল্লাহ আজ-জিয়াদি থেকে হাদিস শুনেছেন। বাগদাদে তিনি:
… ইবনুল হুসাইন এবং আবু গালিব ইবনুল বান্না থেকে হাদিস শ্রবণ করেন। তিনি স্বহস্তে প্রচুর লিখেছেন, তাঁর থেকে অনুলিপি করেছেন:
… ইবনে নাসির। আমাদের নিকট তাঁর থেকে হাদিস বর্ণনা করেছেন: ইবনে সুকাইনা, ইবনুল আখদার, আব্দুর রাজ্জাক, হাসান ইবনে মুহাম্মদ ইবনে হামদুন এবং তুর্ক ইবনে মুহাম্মদ আল-কাতিব।
আমি আমাদের সাধারণ শাইখদের তাঁর প্রশংসা করতে শুনেছি এবং তাঁরা তাঁকে যুহদ, ইবাদত, পরহেজগারী ও চারিত্রিক শুভ্রতার গুণাবলিতে ভূষিত করতেন।»
(১).
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
ফাদাইলুল বাইতিল মুকাদ্দাস - আল-ওয়াসিতী
(পৃষ্ঠা: ٣٦)
3 - أبُو الحُسينِ ابنُ الفَرَّاءِ الحنبَليُّ.
«الإمامُ العلَّامَةُ، الفقيهُ القاضِي، أبُو الحُسينِ محمدُ ابنُ القاضِي الكبِيرِ أبِي يَعلَى محمدِ بنِ الحُسينِ بنِ محمدِ بنِ خلفِ بنِ الفَرَّاءِ الحنبليُّ البغداديُّ. وُلِدَ سنةَ إِحدَى وخمسِينَ
(1).
وسَمِعَ أبَاهُ، وأبَا جعفرٍ ابنِ المُسلِمَةَ، وأبَا بكرٍ الخطيبَ، وعبدَ الصَّمدِ بنَ المأمونِ، وأبَا المُظَفَّرِ هنَّادًا النَّسَفِيَّ، وأبَا الحُسَينِ ابنَ المُهتَدِي باللهِ،
… وأبَا الحُسَينِ ابنَ النَّقُّورِ، وعِدَّةً. وَأجَازَ لهُ أبُو محمدٍ الجَوهَرِيُّ.
وتَفَقَّهَ بعدَ موتِ أبِيهِ، وبَرَعَ وناظَرَ، ودَرَّسَ وصَنَّفَ. وكَانَ يُبَالغُ في السُّنَّةِ، ويَلهَجُ بالصِّفَةِ
(2). وجَمَعَ طبقاتِ الحَنَابِلَةِ.
حَدَّثَ عنه: السِّلَفِيُّ، وابنُ عساكرَ، وأبُو مُوسَى المَدِينِيُّ، وتَمَّامُ بنُ
… الشَّنَّا، وذَاكِرُ الله الحَربِيُّ، ومُظَفَّرُ بنُ البَريِّ، وعليُّ بنُ عمرَ الواعظُ،
… وعبدُ اللهِ بنُ محمدِ بنِ عُلَيَّانَ، ومحمدُ بنُ غُنَيمَةَ بنِ القَاقِ، وعِدَّةٌ.
قالَ السِّلَفِيُّ: كانَ أبُو الحُسَينِ مُتَعَصِّبًا في مَذهَبِهِ، وكانَ كثيرًا ما يتكلمُ في الأَشَاعِرَةِ ويُسمِعُهُم، لَا تأخذُهُ في اللهِ لَومَةُ لَائِمٍ. وكانَ دَيِّنًا ثِقَةً ثبتًا، ولَهُ تَصَانِيفُ في مَذهَبِهِ، وسَمِعنَا عَنه.
قالَ ابنُ الجَوزِيِّ: كانَ لهُ بيتٌ في دَارِهِ بِبَابِ دَارِهِ ببَابِ المَرَاتِبِ يبيتُ وحدَهُ
(3)، فعَلِمَ مَن كانَ يَخدُمُه بِأَنَّ لهُ مالًا، فذَبَحُوه ليلًا وأَخَذُوا المَالَ، لَيلَةَ عاشُوراءَ، سنةَ ستٍّ وعشرينَ وخمسِ مِئَةٍ، ثُمَّ وَقَعُوا بِهِم فَقُتِلُوا.
--------------------------------------------
৩ - আবুল হুসাইন ইবনুল ফাররা আল-হাম্বলি।
«ইমাম আল্লামা, ফকিহ ও বিচারক (কাজি), আবুল হুসাইন মুহাম্মদ ইবনুল কাজি আল-কাবীর আবু ইয়ালা মুহাম্মদ ইবনুল হুসাইন ইবনে মুহাম্মদ ইবনে খালাফ ইবনুল ফাররা আল-হাম্বলি আল-বাগদাদি। তিনি ৪ ৫১ হিজরি সালে জন্মগ্রহণ করেন
(১)।
তিনি তার পিতা, আবু জাফর ইবনুল মুসলিমাহ, আবু বকর আল-খাতিব, আবদুস সামাদ ইবনুল মামুন, আবু মুজাফফর হান্নাদ আন-নাসাফি, আবু হুসাইন ইবনুল মুহতাদি বিল্লাহ, ... এবং আবু হুসাইন ইবনুন নাক্কুর ও আরও অনেকের নিকট থেকে (হাদিস) শ্রবণ করেছেন। আবু মুহাম্মদ আল-জাওহারি তাকে অনুমতি (ইজাজাহ) প্রদান করেছিলেন।
পিতার মৃত্যুর পর তিনি ফিকহ শাস্ত্র অর্জন করেন এবং এতে পারদর্শিতা লাভ করেন, বিতর্ক করেন, পাঠদান করেন এবং গ্রন্থ রচনা করেন। তিনি সুন্নাহর ক্ষেত্রে কঠোরতা অবলম্বন করতেন এবং আল্লাহর গুণাবলি (সিফাত) বর্ণনায় অত্যন্ত আগ্রহী ছিলেন
(২)। তিনি হাম্বলিদের জীবনী গ্রন্থ 'তাবাকাতুল হানাবিলাহ' সংকলন করেন।
তার থেকে হাদিস বর্ণনা করেছেন: আস-সিলাফি, ইবনে আসাকির, আবু মুসা আল-মাদিনি, তাম্মাম ইবনুশ... শান্না, জাকিরুল্লাহ আল-হারবি, মুজাফফর ইবনুল বাররি, আলী ইবনে উমর আল-ওয়ায়েজ, ... এবং আবদুল্লাহ ইবনে মুহাম্মদ ইবনে উলাইয়ান, মুহাম্মদ ইবনে গুনাইমাহ ইবনুল কাক এবং আরও অনেকে।
আস-সিলাফি বলেন: আবুল হুসাইন তার মাজহাবের ব্যাপারে অত্যন্ত একনিষ্ঠ ছিলেন এবং তিনি প্রায়শই আশআরিদের সমালোচনা করতেন ও তাদের বিরুদ্ধে কথা বলতেন, আল্লাহর দ্বীনের ব্যাপারে তিনি কোনো নিন্দুকের নিন্দার পরোয়া করতেন না। তিনি ধর্মপ্রাণ, নির্ভরযোগ্য ও সুদৃঢ় ছিলেন এবং নিজ মাজহাবের ওপর তার অনেক রচনা রয়েছে, আমরা তার থেকে (হাদিস) শুনেছি।
ইবনুল জাওজি বলেন: বাবুল মারাতবিতে তার ঘরের একটি কক্ষে তিনি একাকী রাত কাটাতেন
(৩)। যারা তার সেবা করত তারা জানতে পেরেছিল যে তার কাছে সম্পদ আছে, ফলে তারা ৫২৬ হিজরি সালের আশুরার রাতে তাকে জবাই করে এবং সম্পদ নিয়ে যায়। পরবর্তীতে তারা ধরা পড়ে এবং তাদের হত্যা করা হয়।
--------------------------------------------