(খণ্ড: ১)
মানহাজুল কুরআনি ফিল কাদায়ি ওয়াল কাদার
(পৃষ্ঠা: -)
منهج القرآن في القضاء والقدر (محمود محمد غريب)
القسم: العقيدة
الكتاب: منهج القرآن في القضاء والقدر
المؤلف: محمود محمد غريب
الناشر: دار القلم للتراث - القاهرة
الطبعة: الثانية، 1419 هـ - 1998 م
عدد الصفحات: 55
[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]
تاريخ النشر بالشاملة: 2 ربيع الآخر 1432
কাজা ও কদরের ক্ষেত্রে কুরআনের মানহাজ (মাহমুদ মুহাম্মদ গারিব)
বিভাগ: আকিদাহ
বই: কাজা ও কদরের ক্ষেত্রে কুরআনের মানহাজ
লেখক: মাহমুদ মুহাম্মদ গারিব
প্রকাশক: দারুল কলাম লিত-তুরাস - কায়রো
সংস্করণ: দ্বিতীয়, ১৪১৯ হিজরি - ১৯৯৮ খ্রিস্টাব্দ
পৃষ্ঠা সংখ্যা: ৫৫
[বইয়ের পৃষ্ঠা নম্বর মূল মুদ্রণের সাথে মিল রয়েছে]
শামেলায় প্রকাশের তারিখ: ২ রবিউস সানি ১৪৩২
(খণ্ড: ১)
মানহাজুল কুরআনি ফিল কাদায়ি ওয়াল কাদার
(পৃষ্ঠা: ২)
بسم الله الرحمن الرحيمالكتاب: منهج القرآن في القضاء والقدرالمؤلف: العلامة الشيخ / محمود غريب(أسلم على يدي المؤلف خمسةٌ من علماء أوربا في فترة السبعينيات)الناشر: دار القلم للتراث - القاهرةالطبعة: الثانية - 1419 هـ - 1998 م[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]جَزَى اللَّهُ كَاتِبَهُ خَيرَ الجَزَاءِ وَأَوفَاهُ.
পরম করুণাময় অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে।গ্রন্থ: কাজা ও কদরের ক্ষেত্রে কুরআনের মানহাজলেখক: আল্লামা শাইখ / মাহমুদ গারিব(সত্তরের দশকে লেখকের হাতে ইউরোপের পাঁচজন আলেম ইসলাম গ্রহণ করেছেন)প্রকাশক: দারুল কলাম লিত-তুরাস - কায়রোসংস্করণ: দ্বিতীয় - ১৪১৯ হিজরি - ১৯৯৮ খ্রিস্টাব্দ[গ্রন্থের পৃষ্ঠা নম্বর মুদ্রণ কপির সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ]আল্লাহ এর লেখককে সর্বোত্তম এবং পূর্ণাঙ্গ প্রতিদান দান করুন।
(খণ্ড: ১)
মানহাজুল কুরআনি ফিল কাদায়ি ওয়াল কাদার
(পৃষ্ঠা: ৩)
بسم الله الرحمن الرحيممقدمةبسم الله الرحمن الرحيمالحمد لله وسلام على عباده الذين اصطفى، وسلام على النبي المصطفى، أما بعد:فالدارس للكون، يدرك النظام البديع في ذراته ومجراته، وما دام خالق الكون هو خالق الناس، فلا بد من تدبير وتقدير يسبق وجود الناس، ويحكم سيرهم ومسيرتهم، فقانون الخلق واحد (مَا تَرَى فِي خَلْقِ الرَّحْمَنِ مِنْ تَفَاوُتٍ)وكل الخلق جاء ويمضي على قدر (إِنَّا كُلَّ شَيْءٍ خَلَقْنَاهُ بِقَدَرٍ (49)إن سير الأفلاك بحسبان وتقدير (وَجَعَلَ اللَّيْلَ سَكَنًا وَالشَّمْسَ وَالْقَمَرَ حُسْبَانًا ذَلِكَ تَقْدِيرُ الْعَزِيزِ الْعَلِيمِ (96).وكذلك
পরম করুণাময় অসীম দয়ালু আল্লাহর নামেভূমিকাপরম করুণাময় অসীম দয়ালু আল্লাহর নামেসমস্ত প্রশংসা আল্লাহর জন্য এবং তাঁর মনোনীত বান্দাদের ওপর শান্তি বর্ষিত হোক, আর শান্তি বর্ষিত হোক মনোনীত নবীর ওপর। অতঃপর:মহাবিশ্বের গবেষক এর অণু-পরমাণু ও গ্যালাক্সিসমূহের মধ্যে এক চমৎকার শৃঙ্খলা প্রত্যক্ষ করেন। আর যেহেতু মহাবিশ্বের স্রষ্টাই মানুষের স্রষ্টা, তাই মানুষের অস্তিত্বের পূর্বেই একটি পরিচালনা ও নির্ধারণ থাকা অপরিহার্য, যা তাদের গতি ও পথচলাকে নিয়ন্ত্রণ করবে। কেননা সৃষ্টির আইন অভিন্ন (পরম করুণাময়ের সৃষ্টিতে তুমি কোনো অসংগতি দেখতে পাবে না)আর সকল সৃষ্টিই একটি সুনির্দিষ্ট পরিমাপে এসেছে এবং অতিবাহিত হচ্ছে (নিশ্চয়ই আমি প্রতিটি বস্তু সৃষ্টি করেছি নির্ধারিত পরিমাপে (৪৯)নিশ্চয়ই গ্রহ-নক্ষত্রের পরিভ্রমণ এক সুনির্দিষ্ট হিসাব ও নির্ধারণ অনুযায়ী (তিনি রাতকে করেছেন প্রশান্তিদায়ক এবং সূর্য ও চাঁদকে করেছেন হিসাবের মানদণ্ড; এটা মহাপরাক্রমশালী সর্বজ্ঞের নির্ধারণ (৯৬)।এবং অনুরূপভাবে
(খণ্ড: ১)
মানহাজুল কুরআনি ফিল কাদায়ি ওয়াল কাদার
(পৃষ্ঠা: ৪)
سير الناس (فَلَبِثْتَ سِنِينَ فِي أَهْلِ مَدْيَنَ ثُمَّ جِئْتَ عَلَى قَدَرٍ يَا مُوسَى (40).وهذا التقدير الدقيق، والعلم القديم بما كان وما يكون، وعدم خروج الأمر عن دائرة التقدير الإلهي، هو ما ألزمنا الإسلام بالإيمان به، في موضوع القضاء والقدر، وجعله جزءًا من الإيمان بالله، لا يتم الإيمان إلا به.عن ابن عمر رضي الله عنهما أنه قال: وَالَّذِي يَحْلِفُ بِهِ عَبْدُ اللهِ بْنُ عُمَرَ «لَوْ أَنَّ لِأَحَدِهِمْ مِثْلَ أُحُدٍ ذَهَبًا، فَأَنْفَقَهُ مَا قَبِلَ اللهُ مِنْهُ حَتَّى يُؤْمِنَ بِالْقَدَرِ»رواه مسلم.ثم استدل بقوله صلى الله عليه وسلم عن الْإِيمَانِ: «أَنْ تُؤْمِنَ بِاللهِ، وَمَلَائِكَتِهِ، وَكُتُبِهِ، وَرُسُلِهِ، وَالْيَوْمِ الْآخِرِ، وَتُؤْمِنَ بِالْقَدَرِ خَيْرِهِ وَشَرِّهِ».وهذا القدر من الاعتقاد يكفي للنجاة في الآخرة.فكل ما أخطأك لم يكن ليصيبكوكل ما أصابك لم يكن ليخطئك
মানুষের পথচলা (অতঃপর তুমি মাদইয়ানবাসীদের মধ্যে কয়েক বছর অবস্থান করলে, হে মূসা! এরপর তুমি এক নির্ধারিত সময়ে উপস্থিত হলে) (৪০)।এই সূক্ষ্ম নির্ধারণ, যা ঘটেছিল এবং যা ঘটবে সে সম্পর্কে অনাদি জ্ঞান এবং কোনো বিষয়ই যে খোদায়ী নির্ধারণের সীমানার বাইরে নয়—এ বিষয়গুলোর প্রতি বিশ্বাস স্থাপন করাকেই ইসলাম আমাদের জন্য ক্বাযা ও ক্বদরের (ভাগ্য ও ললাটলিখন) ক্ষেত্রে আবশ্যক করেছে। তিনি একে আল্লাহর প্রতি ঈমানের একটি অংশ বানিয়েছেন, যার প্রতি বিশ্বাস স্থাপন ছাড়া ঈমান পূর্ণ হয় না।ইবনে উমর রাযিয়াল্লাহু আনহুমা থেকে বর্ণিত যে, তিনি বলেন: "যাঁর নামে আবদুল্লাহ ইবনে উমর শপথ করেন, তাঁর কসম! যদি তাদের কারো নিকট উহুদ পাহাড় সমপরিমাণ স্বর্ণ থাকে এবং সে তা ব্যয় করে, তবে আল্লাহ তার পক্ষ থেকে তা কবুল করবেন না যতক্ষণ না সে ক্বদরের প্রতি বিশ্বাস স্থাপন করে।"মুসলিম এটি বর্ণনা করেছেন।অতঃপর তিনি ঈমান সম্পর্কে রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর এই বাণী দ্বারা দলিল পেশ করেন: "ঈমান হলো এই যে, তুমি বিশ্বাস স্থাপন করবে আল্লাহর প্রতি, তাঁর ফেরেশতাগণের প্রতি, তাঁর কিতাবসমূহের প্রতি, তাঁর রাসুলগণের প্রতি, পরকালের প্রতি এবং তুমি বিশ্বাস স্থাপন করবে ভাগ্যের ভালো ও মন্দের প্রতি।"আকিদা বা বিশ্বাসের এই স্তরটুকু পরকালে নাজাতের জন্য যথেষ্ট।সুতরাং যা তোমার নিকট পৌঁছেনি, তা তোমার কাছে পৌঁছার ছিল না।আর যা তোমার নিকট পৌঁছেছে, তা তোমার থেকে বিচ্যুত হওয়ার ছিল না।
(খণ্ড: ১)
মানহাজুল কুরআনি ফিল কাদায়ি ওয়াল কাদার
(পৃষ্ঠা: ৫)
وكل ما يحدث في كون الله فقد أراده سبحانه.وهذا الإيمان يسلِّي النفس ويعزيها في كل فائت، ويطمئنها ويورثها الإقدام في كل مأمول. قال تعالى (مَا أَصَابَ مِنْ مُصِيبَةٍ فِي الْأَرْضِ وَلَا فِي أَنْفُسِكُمْ إِلَّا فِي كِتَابٍ مِنْ قَبْلِ أَنْ نَبْرَأَهَا إِنَّ ذَلِكَ عَلَى اللَّهِ يَسِيرٌ (22) لِكَيْلَا تَأْسَوْا عَلَى مَا فَاتَكُمْ وَلَا تَفْرَحُوا بِمَا آتَاكُمْ وَاللَّهُ لَا يُحِبُّ كُلَّ مُخْتَالٍ فَخُورٍ (23).إن كل شيء يقع على الأرض - حتى ورق الشجر - أو يجري على الناس، حتى النفَس الذي نتنفسه من قدر الله، ويقع حسب علمه القديم، ثم بنت الآيتان الكريمتان على هذه الحقائق ثلاثة أمور.أولاً: عزاء النفس في كل فائت (لِكَيْلَا تَأْسَوْا عَلَى مَا فَاتَكُمْ).ثانياً: حمايتها من الفرح الذي يطغي صاحبه
আল্লাহর মহাবিশ্বে যা কিছু ঘটে, তিনি তা ইচ্ছা করেছেন।আর এই ঈমান প্রতিটি হারিয়ে যাওয়া জিনিসের ক্ষেত্রে আত্মাকে সান্ত্বনা ও প্রবোধ দান করে, তাকে আশ্বস্ত করে এবং প্রতিটি কাঙ্ক্ষিত বিষয়ে তাকে সাহসিকতা দান করে। আল্লাহ তাআলা বলেছেন: "পৃথিবীতে অথবা তোমাদের নিজেদের ওপর যে বিপদই আপতিত হয়, তা আমরা সৃষ্টি করার পূর্বেই একটি কিতাবে লিপিবদ্ধ রয়েছে। নিশ্চয়ই এটি আল্লাহর জন্য সহজ। (২২) যাতে তোমরা যা হারিয়েছ তার জন্য দুঃখ না করো এবং তিনি তোমাদের যা দিয়েছেন তার জন্য উল্লসিত না হও। আর আল্লাহ কোনো দম্ভকারী ও অহঙ্কারীকে পছন্দ করেন না।" (২৩)পৃথিবীতে যা কিছু ঘটে—এমনকি গাছের পাতাও—অথবা মানুষের ক্ষেত্রে যা কিছু ঘটে, এমনকি আমরা যে নিঃশ্বাস গ্রহণ করি, তাও আল্লাহর তাকদিরের অন্তর্ভুক্ত এবং তাঁর অনাদি জ্ঞান অনুযায়ী সংঘটিত হয়। অতঃপর এই মহান আয়াতদ্বয় এই সত্যগুলোর ওপর ভিত্তি করে তিনটি বিষয় নির্ধারণ করেছে।প্রথমত: প্রতিটি হারানো জিনিসের জন্য আত্মাকে সান্ত্বনা দান (যাতে তোমরা যা হারিয়েছ তার জন্য দুঃখ না করো)।দ্বিতীয়ত: তাকে এমন আনন্দ থেকে রক্ষা করা যা তার অধিকারীকে উদ্ধত করে তোলে।
(খণ্ড: ১)
মানহাজুল কুরআনি ফিল কাদায়ি ওয়াল কাদার
(পৃষ্ঠা: ৬)
(وَلَا تَفْرَحُوا بِمَا آتَاكُمْ) فإن كان الفرح غير مطغٍ فالله عز وجل لم يصادر عواطفنا، قال تعالى (قُلْ بِفَضْلِ اللَّهِ وَبِرَحْمَتِهِ فَبِذَلِكَ فَلْيَفْرَحُوا هُوَ خَيْرٌ مِمَّا يَجْمَعُونَ (58).ثالثاً: حفظ النفس من التطاول بنعم الله على خلقه (وَاللَّهُ لَا يُحِبُّ كُلَّ مُخْتَالٍ فَخُورٍ) وهذا هو دور الإيمان بالقدر في حياة الناس، وقد وقفت جماعة من المسلمين في موضوع القدر عند هذا الحد، واعتبرت أي مناقشة للموضوع بعد ذلك بدعة، بينما أفنى آخرون حياتهم، وشغلوا مَن بعدهم، في جدل عقيم.وهذه الرسالة مفتاح من مفاتيح القرآن الكريم؛ لفهم الآيات التي كثر النقاش حولها، وأخطأ كثير من المسلمين فهمها.وهي حلقة من سلسلة (حتى لا نخطئ فهم القرآن) التي سبق أن نشرتها بمجلة "التربية
(এবং তিনি তোমাদের যা দিয়েছেন তার জন্য উল্লসিত হয়ো না); সুতরাং আনন্দ যদি সীমা লঙ্ঘনকারী না হয়, তবে মহান আল্লাহ আমাদের আবেগ কেড়ে নেননি। মহান আল্লাহ বলেন: (বলুন, আল্লাহর অনুগ্রহে ও তাঁর দয়ায়—কাজেই তারা যেন এতেই আনন্দিত হয়। তারা যা পুঞ্জীভূত করে, তার চেয়ে এটি উত্তম (৫৮))।তৃতীয়ত: আল্লাহর সৃষ্টিজীবের ওপর তাঁর নেয়ামত নিয়ে দম্ভ করা থেকে নফসকে রক্ষা করা (আর আল্লাহ কোনো দাম্ভিক ও অহংকারীকে পছন্দ করেন না)। আর এটিই মানুষের জীবনে তাকদিরের ওপর ঈমানের ভূমিকা। আর মুসলিমদের একদল তাকদিরের বিষয়ে এই সীমার মধ্যেই অবস্থান করেছেন এবং এর অতিরিক্ত যেকোনো আলোচনাকে বিদআত হিসেবে গণ্য করেছেন; পক্ষান্তরে অন্যেরা তাদের জীবন শেষ করেছেন এবং তাদের পরবর্তী প্রজন্মকে এক নিষ্ফল বিতর্কে লিপ্ত রেখেছেন।আর এই পুস্তিকাটি পবিত্র কুরআনের চাবিকাঠিগুলোর একটি; যাতে সেইসব আয়াত অনুধাবন করা যায় যেগুলোর বিষয়ে প্রচুর বিতর্ক হয়েছে এবং যা বুঝতে অনেক মুসলিম ভুল করেছেন।এটি ‘যাতে আমরা কুরআন বুঝতে ভুল না করি’ শীর্ষক সিরিজের একটি অংশ, যা ইতোপূর্বে ‘আত-তারবিয়াহ’ সাময়িকীতে প্রকাশিত হয়েছে।
(খণ্ড: ১)
মানহাজুল কুরআনি ফিল কাদায়ি ওয়াল কাদার
(পৃষ্ঠা: ৭)
الإسلامية" ببغداد طوال سبع سنين.والله نسأل أن يلهمنا الصواب في فهم القرآن.* * *عدل اللهكل لظة في الكون، وكل حركة فيه، تؤكد عدل الله المطلق، بل تتجاوز عدل الله إلى مقام الإحسان، وقد قرر القرآن هذه القضية، فيما لا حصر له من آياته (تِلْكَ آيَاتُ اللَّهِ نَتْلُوهَا عَلَيْكَ بِالْحَقِّ وَمَا اللَّهُ يُرِيدُ ظُلْمًا لِلْعَالَمِينَ (108).(وَلَوْ يُؤَاخِذُ اللَّهُ النَّاسَ بِمَا كَسَبُوا مَا تَرَكَ عَلَى ظَهْرِهَا مِنْ دَابَّةٍ وَلَكِنْ يُؤَخِّرُهُمْ إِلَى أَجَلٍ مُسَمًّى فَإِذَا جَاءَ أَجَلُهُمْ فَإِنَّ اللَّهَ كَانَ بِعِبَادِهِ بَصِيرًا (45).وتأخيرهم إلى أجل مسمى يعطيهم فرصة العودة
বাগদাদের "ইসলামিয়া"-তে দীর্ঘ সাত বছর যাবৎ।আর আমরা আল্লাহর কাছে প্রার্থনা করি যে, তিনি যেন আমাদের কুরআন উপলব্ধিতে সঠিক পথের দিশা দান করেন।* * *আল্লাহর ন্যায়বিচারমহাবিশ্বের প্রতিটি মুহূর্ত এবং এর প্রতিটি গতিবিধি আল্লাহর নিরঙ্কুশ ন্যায়বিচারকে সুনিশ্চিত করে; বরং এটি আল্লাহর ন্যায়বিচারকে অতিক্রম করে ইহসানের (দয়া ও অনুগ্রহের) স্তরে পৌঁছে যায়। কুরআন তার অগণিত আয়াতের মাধ্যমে এই বিষয়টি সুপ্রতিষ্ঠিত করেছে: "এগুলো আল্লাহর আয়াত, যা আমি আপনার কাছে যথাযথভাবে পাঠ করছি এবং আল্লাহ বিশ্বজগতের প্রতি কোনো জুলুম করার ইচ্ছা পোষণ করেন না।" (১০৮)।"আর আল্লাহ যদি মানুষকে তাদের কৃতকর্মের জন্য পাকড়াও করতেন, তবে পৃথিবীর বুকে কোনো বিচরণকারী প্রাণীকে তিনি অবশিষ্ট রাখতেন না। কিন্তু তিনি একটি নির্দিষ্ট সময় পর্যন্ত তাদের অবকাশ দেন। অতঃপর যখন তাদের সেই নির্দিষ্ট সময় উপস্থিত হয়, তখন নিশ্চয়ই আল্লাহ তাঁর বান্দাদের প্রতি সম্যক দ্রষ্টা।" (৪৫)।আর তাদের একটি নির্দিষ্ট সময় পর্যন্ত অবকাশ প্রদান করা তাদের ফিরে আসার সুযোগ করে দেয়।
(খণ্ড: ১)
মানহাজুল কুরআনি ফিল কাদায়ি ওয়াল কাদার
(পৃষ্ঠা: ৮)
والإصلاح.فمن أصرَّ فمحكمة الآخرة هي محكمة (العدل المطلق)(وَنَضَعُ الْمَوَازِينَ الْقِسْطَ لِيَوْمِ الْقِيَامَةِ فَلَا تُظْلَمُ نَفْسٌ شَيْئًا وَإِنْ كَانَ مِثْقَالَ حَبَّةٍ مِنْ خَرْدَلٍ أَتَيْنَا بِهَا وَكَفَى بِنَا حَاسِبِينَ (47).وعدل الله وإحسانه، يؤكدان أن دائرة التكاليف في الأديان السماوية، وما يتبعها من ثواب وعقاب، مبنية على قاعدة (العدل المطلق) فالله عز وجل قد نزه نفسه عن العبث بأعصاب الناس، واللهو بهم، قال تعالى (لَوْ أَرَدْنَا أَنْ نَتَّخِذَ لَهْوًا لَاتَّخَذْنَاهُ مِنْ لَدُنَّا إِنْ كُنَّا فَاعِلِينَ (17).فكيف يتصور عاقل أن الله تعالى ألقى عباده - مكتوفين - في بحر القدر، ثم قال لهم: من ابتلَّ منكم فسيدخل النار؟إن الله أعطى الناس القدرة التي تعينهم على فعل الطاعات.إن الذين أحسنوا توجيهها، وهي نفسها القدرة التي يُحْدثون
এবং সংশোধন।অতঃপর যে ব্যক্তি স্বীয় সংকল্পে অটল থাকবে, পরকালের আদালতই হলো (চরম ন্যায়বিচারের) আদালত।(আর আমি কিয়ামত দিবসের জন্য ন্যায়বিচারের মানদণ্ডসমূহ স্থাপন করব, সুতরাং কারো প্রতি সামান্যতম জুলুম করা হবে না। আর যদি তা সরিষার দানা পরিমাণও হয়, আমি তা উপস্থিত করব। আর হিসাব গ্রহণকারী হিসেবে আমিই যথেষ্ট) (৪৭)।আল্লাহর ন্যায়বিচার ও তাঁর ইহসান একথাই সুনিশ্চিত করে যে, আসমানি ধর্মসমূহের বিধি-বিধানের ক্ষেত্র এবং এর অনুবর্তী সওয়াব ও আজাব (চরম ন্যায়বিচারের) মূলনীতির ওপর প্রতিষ্ঠিত। মহান আল্লাহ মানুষের অনুভূতি নিয়ে খেলা করা এবং তাদের নিয়ে তামাশা করা থেকে নিজেকে পবিত্র রেখেছেন। আল্লাহ তাআলা বলেন: (যদি আমি ক্রীড়া-কৌতুক গ্রহণ করতে চাইতাম, তবে আমি আমার নিজের পক্ষ থেকেই তা গ্রহণ করতাম, যদি আমি তা করতে চাইতাম) (১৭)।কোনো বুদ্ধিমান ব্যক্তি কীভাবে কল্পনা করতে পারে যে, আল্লাহ তাআলা তাঁর বান্দাদের হাত-পা বাঁধা অবস্থায় তকদিরের সমুদ্রে নিক্ষেপ করেছেন, তারপর তাদের বলেছেন: তোমাদের মধ্যে যে ভিজে যাবে, সে জাহান্নামে প্রবেশ করবে?নিশ্চয়ই আল্লাহ মানুষকে সেই সক্ষমতা দান করেছেন যা তাদের আনুগত্যমূলক কাজ সম্পাদনে সহায়তা করে।নিশ্চয়ই যারা এর সঠিক পরিচালনা করেছে, আর এটি সেই একই সক্ষমতা যার মাধ্যমে তারা সম্পন্ন করে...
(খণ্ড: ১)
মানহাজুল কুরআনি ফিল কাদায়ি ওয়াল কাদার
(পৃষ্ঠা: ৯)
بها المعصية، عندما ينحرفوا بنعم الله.إن كل وسيلة لطاعته عز وجل يمكن أن تكون وسيلة عصيان، والعبد يملك قانون البديلات.فالنتاج العقلي، وما ملكت أيدينا من خيرات، وطاقاتنا الجنسية والعضوية، يمكن أن ترفعنا إلى السماء، وأن تهوي بنا إلى الضياع.والاختيار - الذي منحنا الله إياه - يوجه الطاقة إلى الطاعة أو المعصية، وإذا فقد الإنسان القدرة على الاختيار سقطت عنه المؤاخذة؛ لأن التكاليف الشرعية، والحساب عليها لا يكونان إلا حيث تتوفر الإرادة الحرة (فَمَنِ اضْطُرَّ غَيْرَ بَاغٍ وَلَا عَادٍ فَلَا إِثْمَ عَلَيْهِ إِنَّ اللَّهَ غَفُورٌ رَحِيمٌ (173).وعمر بن الخطاب رضي الله عنه أسقط الحدَّ عن امرأة زنتْ، ثم أثبتت أن الراعي منعها الماء، وكاد يهلكها الظمأ، ولم يسقها حتى مكنته من نفسها.
তার মাধ্যমে অবাধ্যতা সাধিত হয়, যখন তারা আল্লাহর নেয়ামতসমূহ নিয়ে বিপথে পরিচালিত হয়।মহান আল্লাহর আনুগত্যের প্রতিটি মাধ্যমই অবাধ্যতার মাধ্যম হতে পারে, আর বান্দা বিকল্প গ্রহণের ক্ষমতার অধিকারী।ফলে বুদ্ধিবৃত্তিক অর্জনসমূহ, আমাদের হস্তগত কল্যাণসমূহ এবং আমাদের যৌন ও শারীরিক শক্তি আমাদের আসমানে উন্নীত করতে পারে, আবার আমাদের ধ্বংসের অতল গহ্বরেও নিক্ষেপ করতে পারে।আর পছন্দ করার স্বাধীনতা—যা আল্লাহ আমাদের দান করেছেন—তা শক্তিকে আনুগত্য অথবা অবাধ্যতার দিকে পরিচালিত করে। আর মানুষ যদি পছন্দ করার সক্ষমতা হারিয়ে ফেলে, তবে তার ওপর থেকে জবাবদিহিতা রহিত হয়ে যায়; কেননা শরীয়তের বিধানসমূহ এবং সেগুলোর হিসাব গ্রহণ কেবল তখনই হয় যখন স্বাধীন ইচ্ছা বিদ্যমান থাকে (সুতরাং যে ব্যক্তি বাধ্য হয়, কিন্তু সে বিদ্রোহী বা সীমালঙ্ঘনকারী নয়, তবে তার কোনো পাপ নেই; নিশ্চয়ই আল্লাহ পরম ক্ষমাশীল, পরম দয়ালু [১৭৩])।আর উমর ইবনুল খাত্তাব (রাদিয়াল্লাহু আনহু) জনৈক ব্যভিচারিণী নারীর ওপর থেকে নির্ধারিত দণ্ড (হদ) রহিত করেছিলেন, যে ক্ষেত্রে প্রমাণিত হয়েছিল যে, এক রাখাল তাকে পানি পান করতে বাধা দিয়েছিল এবং তৃষ্ণা তাকে প্রায় ধ্বংসের দ্বারপ্রান্তে নিয়ে গিয়েছিল, আর সে তাকে ততক্ষণ পানি পান করায়নি যতক্ষণ না সে নিজেকে তার হাতে সঁপে দিতে বাধ্য হয়েছিল।
(খণ্ড: ১)
মানহাজুল কুরআনি ফিল কাদায়ি ওয়াল কাদার
(পৃষ্ঠা: ১০)
فسقوط الاختيار يسقط العقوبة، وحتى لا يخلط الشباب المسلم بين حرية الإنسان في أن يفعل أو لا يفعل، وبين ما قدَّره الله على العباد مما سبق به علمه عز وجل ولا يمكن دفعه، فسوف أُقسِّم (القضاء والقدر) إلى أقسام ثلاثة.أولاً: قضاء يستوجب الصبر أو الشكرثانياً: قضاء يستوجب المعالجة.ثالثاً: قضاء أنت فيه حرٌّ، وفي حدود الحرية محاسب.وهذا التقسيم الثلاثي يوضح منهج القرآن ويجلِّيه، وقد سبقني إلى هذا التقسيم الثلاثي أبو الوفا درويش رحمه الله وإن اختلفت طريقة العرض والمعالجة.
ইচ্ছাশক্তির বিলুপ্তি শাস্তিকেও রহিত করে দেয়। আর মুসলিম যুবসমাজ যাতে মানুষের কোনো কাজ করা বা না করার স্বাধীনতা এবং আল্লাহ বান্দাদের জন্য যা নির্ধারণ করেছেন—যা তাঁর অনাদি জ্ঞানের অন্তর্ভুক্ত এবং যা প্রতিহত করা সম্ভব নয়—এই দুয়ের মধ্যে বিভ্রান্তিতে না পড়ে, সেজন্য আমি তাকদিরকে (আল্লাহর ফয়সালা ও নির্ধারণ) তিনটি ভাগে বিভক্ত করব।প্রথমত: এমন ফয়সালা যা ধৈর্য ধারণ অথবা কৃতজ্ঞতা প্রকাশ দাবি করে।দ্বিতীয়ত: এমন ফয়সালা যা প্রতিকার বা ব্যবস্থা গ্রহণ দাবি করে।তৃতীয়ত: এমন ফয়সালা যাতে আপনি স্বাধীন, এবং সেই স্বাধীনতার সীমার মধ্যেই আপনি জবাবদিহিতার সম্মুখীন।এই ত্রিমুখী বিভাজন কুরআনের পদ্ধতিকে স্পষ্ট ও উদ্ভাসিত করে। আমার পূর্বে আবুল ওয়াফা দারবিশ (আল্লাহ তাঁর প্রতি রহম করুন) এই ত্রিমুখী বিভাজনটি করেছেন, যদিও উপস্থাপনা ও পর্যালোচনার পদ্ধতিতে ভিন্নতা রয়েছে।
(খণ্ড: ১)
মানহাজুল কুরআনি ফিল কাদায়ি ওয়াল কাদার
(পৃষ্ঠা: ১১)
النوع الأول: قضاء يستوجب الصبروهو كل ما يحدث للإنسان بدون تدخل من إرادته.الإيمان به عزاء، والصبر عليه واجب، وأجر الصبر والاحتساب أعظم من فقد الدنيا كلها (إِنَّمَا يُوَفَّى الصَّابِرُونَ أَجْرَهُمْ بِغَيْرِ حِسَابٍ (10).من ذلك ذكاء المء وغباؤه، وطول العمر وقصره، ووسامة الوجه وقبحه، وسعة الرزق وضيقه.إن الدنيا النُّخال على الدقيق، وتقطف شبابا يؤمل بقاؤهم، وترد إلى أرزل العمر من نتمنى موته رحمة به أو رحمة للآخرين، وتغيب الحكمة عنا، ولا نملك إلا الصبر والتسليم.(هُوَ الَّذِي يُصَوِّرُكُمْ فِي الْأَرْحَامِ كَيْفَ يَشَاءُ لَا إِلَهَ إِلَّا هُوَ الْعَزِيزُ الْحَكِيمُ (6).
প্রথম প্রকার: এমন ফয়সালা যা ধৈর্য দাবি করেআর তা হলো এমন সবকিছু যা মানুষের ইচ্ছা বা হস্তক্ষেপ ছাড়াই তার জীবনে ঘটে থাকে।এর ওপর ঈমান রাখা হলো সান্ত্বনাদায়ক, এর ওপর ধৈর্য ধারণ করা আবশ্যক, এবং ধৈর্য ও সওয়াবের প্রত্যাশা করার প্রতিদান সমগ্র দুনিয়া হারানোর চেয়েও মহত্তর (নিশ্চয়ই ধৈর্যশীলদেরকে তাদের প্রতিদান কোনো হিসাব ছাড়াই পূর্ণরূপে প্রদান করা হবে (১০))।এর অন্তর্ভুক্ত হলো মানুষের মেধা ও নির্বুদ্ধিতা, দীর্ঘায়ু ও স্বল্পায়ু, চেহারার সৌন্দর্য ও কুৎসিত হওয়া এবং রিজিকের প্রশস্ততা ও সংকীর্ণতা।নিশ্চয়ই দুনিয়া হলো আটার ওপর থাকা ভুসির মতো, এটি এমন সব যুবকদের প্রাণ কেড়ে নেয় যাদের বেঁচে থাকার আশা করা হয়েছিল, আবার কাউকে বার্ধক্যের এমন নিকৃষ্টতম পর্যায়ে পৌঁছে দেয় যেখানে তার নিজের প্রতি বা অন্যদের প্রতি করুণাবশত আমরা তার মৃত্যু কামনা করি। আর এর গূঢ় রহস্য আমাদের নিকট গোপন থাকে, ফলে ধৈর্য ধারণ ও আত্মসমর্পণ করা ছাড়া আমাদের আর কোনো উপায় থাকে না।(তিনিই সেই সত্তা যিনি মাতৃগর্ভে তোমাদেরকে যেভাবে ইচ্ছা আকৃতি দান করেন। তিনি ব্যতীত আর কোনো সত্য উপাস্য নেই, তিনি মহাপরাক্রমশালী, প্রজ্ঞাময় (৬))।
(খণ্ড: ১)
মানহাজুল কুরআনি ফিল কাদায়ি ওয়াল কাদার
(পৃষ্ঠা: ১২)
(وَاللَّهُ يَرْزُقُ مَنْ يَشَاءُ بِغَيْرِ حِسَابٍ (212).(ثُمَّ نُخْرِجُكُمْ طِفْلًا ثُمَّ لِتَبْلُغُوا أَشُدَّكُمْ وَمِنْكُمْ مَنْ يُتَوَفَّى وَمِنْكُمْ مَنْ يُرَدُّ إِلَى أَرْذَلِ الْعُمُرِ لِكَيْلَا يَعْلَمَ مِنْ بَعْدِ عِلْمٍ شَيْئًا) [الحج: 5]هذه كلها أمور تجري بها المقادير، ولا نملك دفعها.وواضح أنها أمور لا تدخل في دائرة التكاليف الشرعية، ولا يحاسب عليها الإنسان.* * *النوع الثاني: قضاء يستوجب المعالجة:وأعني به ارتباط الأسباب بالمسببات، مع إيماننا بأنَّ الله خالق الأسباب والمسببات، وواجب المسلم أن يبذل كل جهده في تحصيل الأسباب الموصلة - عادة - للنجاة.فإذا استنفد طاقته، فما يتمُّ بعد ذلك فهو قدر الله، فالمريض لا بد أن يعالج، وعندما سأل كعب بن مالك رسول الله صلى الله عليه وسلم -
এবং আল্লাহ যাকে ইচ্ছা তাকে অপরিমিত রিযিক দান করেন। (২১২)।অতঃপর আমি তোমাদেরকে শিশু হিসেবে বের করি, এরপর যাতে তোমরা তোমাদের পূর্ণ শক্তিতে (যৌবনে) উপনীত হও। আর তোমাদের মধ্যে কারো মৃত্যু ঘটানো হয় এবং তোমাদের মধ্যে কাউকে হীনতম বয়সে ফিরিয়ে নেওয়া হয়, যাতে সে জানার পরেও কিছু না জানে। [হজ: ৫]এই সবকিছুই এমন বিষয় যা তকদির বা পূর্বনির্ধারিত বিধান অনুযায়ী ঘটে থাকে এবং এগুলি প্রতিহত করার কোনো ক্ষমতা আমাদের নেই।এবং এটা স্পষ্ট যে, এগুলি শরয়ী বাধ্যবাধকতার পরিমণ্ডলে অন্তর্ভুক্ত নয় এবং এর জন্য মানুষকে জবাবদিহি করতে হবে না।* * *দ্বিতীয় প্রকার: এমন ফয়সালা যার প্রতিকার প্রয়োজন:আর এর দ্বারা আমি কারণের সাথে ফলাফলের সম্পর্ককে বুঝাচ্ছি, এই বিশ্বাসের সাথে যে আল্লাহই সমস্ত কারণ ও ফলাফলের স্রষ্টা। একজন মুসলিমের কর্তব্য হলো মুক্তি বা সাফল্যের দিকে নিয়ে যায় এমন মাধ্যম বা কারণসমূহ অর্জনে তার সর্বাত্মক প্রচেষ্টা ব্যয় করা।অতঃপর সে যখন তার সামর্থ্য নিঃশেষ করে দেয়, তারপর যা সংঘটিত হয় তা-ই আল্লাহর তকদির। সুতরাং অসুস্থ ব্যক্তির চিকিৎসা করা আবশ্যক। যখন কাব বিন মালিক রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে জিজ্ঞাসা করলেন—
(খণ্ড: ১)
মানহাজুল কুরআনি ফিল কাদায়ি ওয়াল কাদার
(পৃষ্ঠা: ১৩)
فقال: أرأيت دواء يتداوى به .. هل يرد قدر الله؟قال صلى الله عليه وسلم يا كعب: بل هو من قدر الله.والطالب لا بد أن يذاكر، وقواد الجيوش يعدون ما استطاعوا من قوة ومن رباط الخيل لقتال عدو الله.علينا أن نأخذ بكل الأسباب، والأسباب في حد ذاتها من قدر الله، فما يتمَّ بعد ذلك فهو قدر الله.علينا أن نسعى، وليس علينا إدراك النجاح.إن بعض الناس يهملون أسباب النجاة، ثم يتهمون القدروعاجز الرأي مضياع لفرصته. . . حتى إذا فات أمر عاتب القدرالقد عزم عمر بن الخطاب رضي الله عنه على دخول الشام، فعلم أن بها وباء الطاعون، فامتنع عن الدخول، فقال له أبو عبيدة بن الجراح: أتفرُّ من قدر الله؟قال عمر: أفرُّ
তিনি জিজ্ঞাসা করলেন: আপনার কী অভিমত সেই ঔষধ সম্পর্কে যা দিয়ে চিকিৎসা করা হয়... তা কি আল্লাহর তকদিরকে প্রতিহত করতে পারে?রাসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বললেন: হে কাব! বরং এটিও আল্লাহর তকদিরেরই অন্তর্ভুক্ত।একজন শিক্ষার্থীর জন্য অধ্যয়ন করা আবশ্যক, আর সেনাপতিরা আল্লাহর শত্রুর বিরুদ্ধে লড়াই করার জন্য তাদের সামর্থ্য অনুযায়ী শক্তি ও যুদ্ধের ঘোড়া প্রস্তুত করে থাকেন।আমাদের উচিত সকল উপায়-উপকরণ গ্রহণ করা, আর এই উপায়-উপকরণগুলো স্বয়ং আল্লাহর তকদিরের অন্তর্ভুক্ত; সুতরাং এরপর যা কিছু সম্পন্ন হয় তা-ও আল্লাহর তকদির।আমাদের কাজ হলো প্রচেষ্টা করা, কিন্তু সফলতা অর্জন করা আমাদের আয়ত্তাধীন নয়।নিশ্চয়ই কিছু মানুষ আত্মরক্ষার উপায়সমূহকে অবহেলা করে, অতঃপর তারা তকদিরকে অভিযুক্ত করে।আর অদূরদর্শী ব্যক্তি তার সুযোগ নষ্ট করে... এমনকি যখন কোনো বিষয় হাতছাড়া হয়ে যায়, তখন সে তকদিরকে ভর্ৎসনা করে।উমর ইবনুল খাত্তাব (রাদিয়াল্লাহু আনহু) শাম দেশে প্রবেশের সংকল্প করেছিলেন, অতঃপর তিনি জানতে পারলেন যে সেখানে প্লেগ মহামারি দেখা দিয়েছে, ফলে তিনি প্রবেশ করা থেকে বিরত থাকলেন। তখন আবু উবাইদাহ ইবনুল জাররাহ (রাদিয়াল্লাহু আনহু) তাকে বললেন: আপনি কি আল্লাহর তকদির থেকে পলায়ন করছেন?উমর বললেন: আমি পলায়ন করছি...
(খণ্ড: ১)
মানহাজুল কুরআনি ফিল কাদায়ি ওয়াল কাদার
(পৃষ্ঠা: ১৪)
من قدر الله إلى قدر الله، هكذا فهم صحابة النبي صلى الله عليه وسلم هذا النوع من القدر، فجدوا في الأسباب* * *النوع الثالث: قضاء أنت فيه حرٌّ، وفي حدود الحرية محاسبوهذا النوع يتعلق بسلوك الإنسان إزاء التكاليف الشرعية.ذلك لأن التكاليف والمسئولية لا يكونان إلا حيث تتوفر الإرادة الحرة للإنسان.قال تعالى (قُلْ مَا أَسْأَلُكُمْ عَلَيْهِ مِنْ أَجْرٍ إِلَّا مَنْ شَاءَ أَنْ يَتَّخِذَ إِلَى رَبِّهِ سَبِيلًا (57).(فَمَنْ شَاءَ فَلْيُؤْمِنْ وَمَنْ شَاءَ فَلْيَكْفُرْ)(اعْمَلُوا مَا شِئْتُمْ إِنَّهُ بِمَا تَعْمَلُونَ بَصِيرٌ (40).فالقرآن يثبت نوعا من المشيئة، يوجه بها قدرته إلى ما يختار.
আল্লাহর তাকদির থেকে আল্লাহর তাকদিরের দিকে; নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সাহাবীগণ তাকদিরের এই প্রকারটিকে এভাবেই বুঝেছিলেন, ফলে তাঁরা উপায়-উপকরণ অবলম্বনে সচেষ্ট হয়েছিলেন।* * *তৃতীয় প্রকার: এমন ফয়সালা যাতে আপনি স্বাধীন এবং এই স্বাধীনতার সীমানায় আপনি জবাবদিহি করতে বাধ্যএই প্রকারটি শরয়ি বিধানের প্রতি মানুষের আচরণের সাথে সম্পর্কিত।কারণ, বিধান এবং দায়িত্ব কেবল তখনই থাকে যখন মানুষের স্বাধীন ইচ্ছা বিদ্যমান থাকে।আল্লাহ তাআলা বলেন: (বলুন, আমি তোমাদের নিকট এর জন্য কোনো প্রতিদান চাই না, তবে যে ইচ্ছা করে সে তার রবের দিকে পথ অবলম্বন করুক) (৫৭)।(অতএব যার ইচ্ছা সে ঈমান আনুক এবং যার ইচ্ছা সে কুফরি করুক)(তোমরা যা ইচ্ছা করো, নিশ্চয়ই তোমরা যা করো তিনি তা দেখেন) (৪০)।সুতরাং কুরআন এমন এক প্রকার ইচ্ছাশক্তিকে সাব্যস্ত করে, যার মাধ্যমে মানুষ তার সক্ষমতাকে তার পছন্দের বিষয়ের দিকে পরিচালিত করে।
(খণ্ড: ১)
মানহাজুল কুরআনি ফিল কাদায়ি ওয়াল কাদার
(পৃষ্ঠা: ১৫)
ولكن هذه المشيئة، لا تخرج الإنسان من دائرة العبودية لله، الذي انفرد وحده بفعل ما يريد.فمشيئتنا عطاءٌ من مشيئة الله سبحانه، كما أن علمنا شعاع من علمه(وَلَا يُحِيطُونَ بِشَيْءٍ مِنْ عِلْمِهِ إِلَّا بِمَا شَاءَ).إن مشيئة البشر واختيارهم لا تتجاوز في النهاية ما أراده الله.فالله عز وجل قد شاء أن يعبده كل الكون قهرا، بلا اختيار، فكل شيء في الكون يمارس نشاطه على وجه واحد بلا اختيار منه، إلا الإنسان فإن الله قد شاء أن يجعل له اختيارا في عبادته يؤهله للجزاء.(إِنَّ هَذِهِ تَذْكِرَةٌ فَمَنْ شَاءَ اتَّخَذَ إِلَى رَبِّهِ سَبِيلًا (29) وَمَا تَشَاءُونَ إِلَّا أَنْ يَشَاءَ اللَّهُ إِنَّ اللَّهَ كَانَ عَلِيمًا حَكِيمًا (30) يُدْخِلُ مَنْ يَشَاءُ فِي رَحْمَتِهِ وَالظَّالِمِينَ أَعَدَّ لَهُمْ عَذَابًا أَلِيمًا (31).فالقرآن أثبت لك مشيئة توجه بها قدرتك إلى طاعة
তবে এই ইচ্ছা মানুষকে আল্লাহর দাসত্বের পরিমণ্ডল থেকে বের করে দেয় না, যিনি আপন ইচ্ছানুযায়ী কর্ম সম্পাদনে অনন্য।সুতরাং আমাদের ইচ্ছা মহান আল্লাহর ইচ্ছারই এক দান, যেমনটি আমাদের জ্ঞান তাঁরই জ্ঞানের এক বিচ্ছুরিত রশ্মি।(আর তারা তাঁর জ্ঞানের কিছুই আয়ত্ত করতে পারে না, কেবল তিনি যতটুকু ইচ্ছা করেন তা ছাড়া)।প্রকৃতপক্ষে মানুষের ইচ্ছা ও তাদের স্বাধীনতা পরিশেষে আল্লাহর ইচ্ছার গণ্ডি অতিক্রম করে না।আল্লাহ মহান ও পরাক্রমশালী এটিই ইচ্ছা করেছেন যে, সমগ্র মহাবিশ্ব কোনো প্রকারের স্বাধীনতা ছাড়াই বাধ্যতামূলকভাবে তাঁর ইবাদত করবে; ফলে মহাবিশ্বের সবকিছুই তার স্বকীয় কার্যকলাপ নিজস্ব কোনো চয়ন ছাড়াই একমুখীভাবে পরিচালনা করে। তবে মানুষের বিষয়টি ভিন্ন, কেননা আল্লাহ তার ইবাদতের ক্ষেত্রে তাকে স্বাধীনতা প্রদানের ইচ্ছা করেছেন, যা তাকে প্রতিফল পাওয়ার যোগ্য করে তোলে।(নিশ্চয় এটি একটি উপদেশ, সুতরাং যার ইচ্ছা সে তার রবের দিকে পথ অবলম্বন করুক (২৯) আর আল্লাহর ইচ্ছা ব্যতীত তোমরা ইচ্ছা করতে পারো না; নিশ্চয় আল্লাহ সর্বজ্ঞ, প্রজ্ঞাময় (৩০) তিনি যাকে ইচ্ছা তাঁর রহমতে প্রবেশ করান, আর যালিমদের জন্য তিনি প্রস্তুত রেখেছেন যন্ত্রণাদায়ক শাস্তি (৩১)।সুতরাং কুরআন তোমার জন্য এমন এক ইচ্ছা সাব্যস্ত করেছে যার মাধ্যমে তুমি তোমার সক্ষমতাকে আনুগত্যের দিকে পরিচালিত করবে।
(খণ্ড: ১)
মানহাজুল কুরআনি ফিল কাদায়ি ওয়াল কাদার
(পৃষ্ঠা: ১৬)
الله، أو تهوي بها في النار (1)كما أثبت لك القرآن إرادة تستطيع بها أن تغير حالك، وتصلح من نفسك مع الله (مَنْ كَانَ يُرِيدُ حَرْثَ الْآخِرَةِ نَزِدْ لَهُ فِي حَرْثِهِ وَمَنْ كَانَ يُرِيدُ حَرْثَ الدُّنْيَا نُؤْتِهِ مِنْهَا وَمَا لَهُ فِي الْآخِرَةِ مِنْ نَصِيبٍ (20).فقوِّي إرادتك في الخير، ولا تتبع نفسك هواها، وتتمنى على الله الأماني(إِنَّ اللَّهَ لَا يُغَيِّرُ مَا بِقَوْمٍ حَتَّى يُغَيِّرُوا مَا بِأَنْفُسِهِمْ).فلك مشيئة ولك إرادة، وقدرة على الإصلاح والتغيير.وثمرة ذلك هي المسئولية عما تحاسب عليه.إن راكب
আল্লাহ, অথবা তা তাকে জাহান্নামের আগুনে নিক্ষেপ করবে (১)যেমন কুরআন আপনার জন্য এমন একটি ইচ্ছা সাব্যস্ত করেছে যার মাধ্যমে আপনি আপনার অবস্থা পরিবর্তন করতে পারেন এবং আল্লাহর সাথে নিজের সংশোধন করতে পারেন (যে পরকালের ফসল কামনা করে, আমরা তার ফসলে প্রবৃদ্ধি দান করি; আর যে ইহকালের ফসল কামনা করে, আমরা তাকে তা থেকে কিছু দান করি, কিন্তু পরকালে তার কোনো অংশ নেই (২০)।সুতরাং কল্যাণের পথে আপনার ইচ্ছাশক্তিকে শক্তিশালী করুন, আপনার নফসকে তার প্রবৃত্তির অনুসারী করবেন না এবং আল্লাহর ব্যাপারে অলীক আকাঙ্ক্ষা করবেন না(নিশ্চয়ই আল্লাহ কোনো সম্প্রদায়ের অবস্থা পরিবর্তন করেন না, যতক্ষণ না তারা নিজেদের অবস্থা নিজেরা পরিবর্তন করে)।অতএব আপনার অভিপ্রায় ও ইচ্ছা রয়েছে এবং সংশোধন ও পরিবর্তনের সক্ষমতাও রয়েছে।আর এরই ফলশ্রুতি হলো সেই দায়িত্ব যার জন্য আপনাকে হিসাব দিতে হবে।নিশ্চয়ই আরোহী
(খণ্ড: ১)
মানহাজুল কুরআনি ফিল কাদায়ি ওয়াল কাদার
(পৃষ্ঠা: ১৭)
السفينة حرُّ الحركة في حدودها، وهو مسئول عما عبث فيها، فإن أراد أن يتجاوز بحريته حجم السفينة، ابتلعته الأمواج.* * *قسمة جائرةبعض الناس يجعلون لله ما يكرهون وينسبون للقدر ما يستحون من نسبته لأنفسهم.فإن فعلوا حسنة تفاخروا بها، وتطاولوا على الناس، وإذا فعلوا فاحشة نسبوها إلى الله.قال تعالى (وَإِذَا فَعَلُوا فَاحِشَةً قَالُوا وَجَدْنَا عَلَيْهَا آبَاءَنَا وَاللَّهُ أَمَرَنَا بِهَا قُلْ إِنَّ اللَّهَ لَا يَأْمُرُ بِالْفَحْشَاءِ أَتَقُولُونَ عَلَى اللَّهِ مَا لَا تَعْلَمُونَ (28) قُلْ أَمَرَ رَبِّي بِالْقِسْطِ وَأَقِيمُوا وُجُوهَكُمْ عِنْدَ كُلِّ مَسْجِدٍ وَادْعُوهُ مُخْلِصِينَ لَهُ الدِّينَ كَمَا بَدَأَكُمْ تَعُودُونَ (29).
জাহাজটি তার সীমানার মধ্যে চলাচলে স্বাধীন এবং সেখানে সে যা কিছু অনর্থ ঘটায় তার জন্য দায়ী। যদি সে তার স্বাধীনতার মাধ্যমে জাহাজের আয়তন অতিক্রম করতে চায়, তবে তরঙ্গমালা তাকে গ্রাস করবে।* * *একটি অন্যায় বণ্টনকিছু মানুষ আল্লাহর জন্য তা-ই সাব্যস্ত করে যা তারা (নিজেদের জন্য) অপছন্দ করে এবং তাকদিরের দিকে এমন কিছু সম্পৃক্ত করে যা নিজেদের দিকে সম্পৃক্ত করতে তারা লজ্জা বোধ করে।যদি তারা কোনো নেক কাজ করে তবে তা নিয়ে গর্ব করে এবং মানুষের ওপর বড়াই করে; আর যখন কোনো অশ্লীল কাজ করে তখন তা আল্লাহর দিকে সম্পৃক্ত করে।আল্লাহ তাআলা বলেন: (আর যখন তারা কোনো অশ্লীল কাজ করে, তখন বলে: ‘আমরা আমাদের পিতৃপুরুষদের এর ওপর পেয়েছি এবং আল্লাহ আমাদের এর নির্দেশ দিয়েছেন।’ বলুন: ‘নিশ্চয় আল্লাহ অশ্লীলতার নির্দেশ দেন না। তোমরা কি আল্লাহর ব্যাপারে এমন কথা বলছ যা তোমরা জানো না?’ (২৮) বলুন: ‘আমার রব ইনসাফের নির্দেশ দিয়েছেন। তোমরা প্রত্যেক সিজদাহর সময় তোমাদের লক্ষ্য স্থির রাখো এবং তাঁর আনুগত্যে একনিষ্ঠ হয়ে তাঁকে ডাকো। যেভাবে তিনি তোমাদের সূচনা করেছেন, সেভাবেই তোমরা ফিরে আসবে।’ (২৯)।
(খণ্ড: ১)
মানহাজুল কুরআনি ফিল কাদায়ি ওয়াল কাদার
(পৃষ্ঠা: ১৮)
بهذا أمر الله، وقد قدَّر للناس حرية الطاعة راضين، أو المعصية شاردين صاغرين.وفي سورة الأنعام حكى القرآن الكريم فرية من مزاعم المشركين - الذين أشركوا ونسبوا شركهم إلى الله.قال تعالى: (سَيَقُولُ الَّذِينَ أَشْرَكُوا لَوْ شَاءَ اللَّهُ مَا أَشْرَكْنَا وَلَا آبَاؤُنَا وَلَا حَرَّمْنَا مِنْ شَيْءٍ).لقد بنى المشركون شبهتهم على أنه لا يقع في كون الله إلا ما يريد، وقالوا: إن شركهم واقع فهو مراد الله.هذا زعمهم.وهي كلمة حق أريد بها باطل - كما قال الإمام محمد عبده - ويمكن أن نوجه إليهم نفس الحجة، فنقول لهم: إن التوحيد أمر واقع، وكل شيء يقع فهو مراد الله، فلماذا تحاربون التوحيد؟والله إنهم يكذبون على أنفسهم، ليستروا شركهم، وقد ردَّ القرآن عليهم بقوله (كَذَلِكَ كَذَّبَ الَّذِينَ مِنْ قَبْلِهِمْ حَتَّى ذَاقُوا بَأْسَنَا).
আল্লাহ এরই নির্দেশ দিয়েছেন, এবং তিনি মানুষের জন্য সন্তুষ্টচিত্তে আনুগত্য করার অথবা অবাধ্য হয়ে বিচ্যুত ও লাঞ্ছিত হওয়ার স্বাধীনতা নির্ধারণ করেছেন।আর সূরা আল-আনআমে পবিত্র কুরআন মুশরিকদের অমূলক দাবিসমূহের মধ্য থেকে একটি অপবাদ বর্ণনা করেছে—যারা শিরক করেছে এবং তাদের শিরককে আল্লাহর প্রতি আরোপ করেছে।মহান আল্লাহ বলেন: (অচিরেই মুশরিকরা বলবে, আল্লাহ যদি চাইতেন তবে আমরা শিরক করতাম না এবং আমাদের পিতৃপুরুষেরাও করত না, আর আমরা কোনো কিছুকে হারাম করতাম না)।মুশরিকরা তাদের সংশয়কে এই ভিত্তির ওপর দাঁড় করিয়েছে যে, আল্লাহর মহাবিশ্বে তাঁর ইচ্ছা ব্যতীত কিছুই ঘটে না; তারা বলেছে: যেহেতু তাদের শিরক সংঘটিত হচ্ছে, সুতরাং তা আল্লাহরই ইচ্ছা।এটি তাদের অমূলক ধারণা মাত্র।এটি একটি সত্য কথা যার মাধ্যমে বাতিলকে উদ্দেশ্য করা হয়েছে—যেমনটি ইমাম মুহাম্মদ আবদুহ বলেছেন—এবং আমরা তাদের প্রতি একই যুক্তি প্রদর্শন করতে পারি, আমরা তাদের বলতে পারি: তাওহীদ একটি বাস্তব বিষয়, আর যা কিছু ঘটে তা আল্লাহর ইচ্ছা; তাহলে তোমরা কেন তাওহীদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করছ?আল্লাহর কসম, তারা নিজেদের ওপর মিথ্যাচার করছে যাতে তাদের শিরককে আড়াল করতে পারে, আর কুরআন তাদের প্রতিবাদে বলেছে: (এভাবেই তাদের পূর্ববর্তীরা মিথ্যা প্রতিপন্ন করেছিল, যতক্ষণ না তারা আমাদের শাস্তির স্বাদ আস্বাদন করেছে)।
(খণ্ড: ১)
মানহাজুল কুরআনি ফিল কাদায়ি ওয়াল কাদার
(পৃষ্ঠা: ১৯)
وأنبياء الله قد قامت الحجة العقلية والنقلية على تأييد صدقهم. فهل عند المشركين دليل واحد على زعمهم (قُلْ هَلْ عِنْدَكُمْ مِنْ عِلْمٍ فَتُخْرِجُوهُ لَنَا) وهذا المطلب لمجرد التحدي، وحقيقة أمرهم كما وضح القرآن(إِنْ تَتَّبِعُونَ إِلَّا الظَّنَّ وَإِنْ أَنْتُمْ إِلَّا تَخْرُصُونَ (148).إن نتاج العقل - مهما بلغ - بمعزل عن هَدْي الله، ظن وتخرص، واليقين ما أوصى الله به من هدى (قُلْ فَلِلَّهِ الْحُجَّةُ الْبَالِغَةُ)فلا وزن لهرائهم(فَلَا تَذْهَبْ نَفْسُكَ عَلَيْهِمْ حَسَرَاتٍ)لأن الهداية بيد الله وحده (فَلَوْ شَاءَ لَهَدَاكُمْ أَجْمَعِينَ (149).ولكنه تعالى شاء أن يمنح هدايته لمن يستحقها، ممن قبِل هاية الإرشاد.وسوف نوضح هذا عند حديثنا عن (آيات تفسرها آيات).إن نسبة المعصية إلى القدر انحراف قديم، والإنسانية
আল্লাহর নবীগণের সত্যতার সমর্থনে যৌক্তিক ও প্রামাণিক দলিল প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। তবে মুশরিকদের নিকট কি তাদের দাবির সপক্ষে একটি দলিলও আছে? (বলুন: তোমাদের কাছে কি কোনো জ্ঞান আছে যা তোমরা আমাদের সামনে প্রকাশ করতে পার?) আর এই দাবিটি কেবল চ্যালেঞ্জ করার উদ্দেশ্যে, এবং তাদের প্রকৃত অবস্থা যেমনটি কুরআন স্পষ্ট করেছে:
(তোমরা তো কেবল ধারণারই অনুসরণ করো এবং তোমরা কেবল অনুমাননির্ভর কথা বলো (১৪৮))।
বুদ্ধিবৃত্তির নির্যাস—তা যত উচ্চপর্যায়েরই হোক না কেন—আল্লাহর হিদায়াত ব্যতিরেকে তা কেবল ধারণা ও অনুমান মাত্র; আর নিশ্চিত জ্ঞান হলো সেই হিদায়াত যার নির্দেশ আল্লাহ দিয়েছেন (বলুন: আল্লাহর জন্যই তো চূড়ান্ত দলিল)।
তাই তাদের প্রলাপের কোনো গুরুত্ব নেই।
(সুতরাং তাদের জন্য আক্ষেপে আপনার প্রাণ যেন ক্ষয় না হয়।)
কেননা হিদায়াত একমাত্র আল্লাহর হাতে (যদি তিনি চাইতেন তবে তোমাদের সকলকেই হিদায়াত দান করতেন (১৪৯))।
কিন্তু তিনি তাআলা তাদেরকেই হিদায়াত প্রদানের ইচ্ছা করেছেন যারা এর যোগ্য, অর্থাৎ যারা দিকনির্দেশনামূলক হিদায়াত গ্রহণ করেছে।
আমরা (এক আয়াতের ব্যাখ্যা অন্য আয়াত দ্বারা) প্রসঙ্গে আলোচনার সময় এটি আরও স্পষ্ট করব।
তাকদীরের ওপর পাপের দায়ভার চাপানো একটি প্রাচীন বিচ্যুতি, এবং মানবতা...
(খণ্ড: ১)
মানহাজুল কুরআনি ফিল কাদায়ি ওয়াল কাদার
(পৃষ্ঠা: ২০)
جميعا تعرف قصة آدم وإبليس.لقد عصى آدمُ ربَّه عندما أكل من الشجرة التي نهاه - سبحانه - عنهاقال تعالى: (وَعَصَى آدَمُ رَبَّهُ فَغَوَى (121).ونعلم أن إبليس عصى ربَّه من قبل عندما امتنع عن السجود لآدم.نزل آدم وزوجه إلى الأرض، ونزل إبليس إلى الأرض.فما سرُّ أن يتوب الله على آدم وزوجه، ويبقى إبليس في اللعنةإلى يوم يبعثون؟وقد أجاب عن هذا السؤال فضيلة الأستاذ / محمد الغزالي رحمه الله فقال:إن آدم
আমরা সবাই আদম ও ইবলিসের কাহিনী জানি।আদম তাঁর রবের অবাধ্য হয়েছিলেন যখন তিনি সেই গাছ থেকে ভক্ষণ করেছিলেন যা থেকে তিনি —সুবহানাহু— তাঁকে নিষেধ করেছিলেন।আল্লাহ তাআলা বলেছেন: (আর আদম তাঁর রবের অবাধ্য হলেন, ফলে তিনি পথভ্রষ্ট হলেন (১২১))।আর আমরা জানি যে, ইবলিস ইতিপূর্বে তার রবের অবাধ্য হয়েছিল যখন সে আদমকে সিজদাহ করতে অস্বীকার করেছিল।আদম ও তাঁর স্ত্রী পৃথিবীতে অবতরণ করলেন এবং ইবলিসও পৃথিবীতে অবতরণ করল।তবে এর রহস্য কী যে, আল্লাহ আদম ও তাঁর স্ত্রীর তাওবা কবুল করলেন, আর ইবলিস অভিশপ্ত অবস্থায় রয়ে গেলপুনরুত্থান দিবস পর্যন্ত?এই প্রশ্নের উত্তর দিয়েছেন শ্রদ্ধেয় উস্তাদ মুহাম্মদ আল-গাযালী (রাহিমাহুল্লাহ), তিনি বলেছেন:নিশ্চয়ই আদম
(খণ্ড: ১)
মানহাজুল কুরআনি ফিল কাদায়ি ওয়াল কাদার
(পৃষ্ঠা: ২১)
وزوجه عندما أكلا من الشجرة نسبا المعصية إلى نفسيهما واعتذرا إلى الله(قَالَا رَبَّنَا ظَلَمْنَا أَنْفُسَنَا وَإِنْ لَمْ تَغْفِرْ لَنَا وَتَرْحَمْنَا لَنَكُونَنَّ مِنَ الْخَاسِرِينَ (23).بينما نسب إبليس سبب المعصية إلى الله، وبرَّأ نفسه منها(قَالَ رَبِّ بِمَا أَغْوَيْتَنِي لَأُزَيِّنَنَّ لَهُمْ فِي الْأَرْضِ وَلَأُغْوِيَنَّهُمْ أَجْمَعِينَ (39) إِلَّا عِبَادَكَ مِنْهُمُ الْمُخْلَصِينَ (40).فقد نسب الإواء إلى الله (بِمَا أَغْوَيْتَنِي).إن قصة الخليقة الناجية - كما مثلها آدم - خطأ ومتاب.وقصة الخليقة الهالكة - كما مثلها إبليس - جريمة وإصرار، وسوف يبقى هذا الأمر إلى يوم القيامة، من نسب المعصية إلى نفسه تاب، يكتب مع آدم.ومن شرد عن الله، وأصرَّ على معصيته، يكتب مع إبليس، فتخير لنفسك ما شئت، فأنت تملك الخيار.* * *
এবং তাঁর স্ত্রী যখন বৃক্ষটি থেকে আহার করলেন, তখন তাঁরা উভয়েই অবাধ্যতাকে নিজেদের প্রতি সম্বন্ধযুক্ত করলেন এবং আল্লাহর নিকট ক্ষমা প্রার্থনা করলেন(তাঁরা বললেন, “হে আমাদের রব! আমরা নিজেদের ওপর জুলুম করেছি। আর আপনি যদি আমাদের ক্ষমা না করেন এবং আমাদের ওপর দয়া না করেন, তবে অবশ্যই আমরা ক্ষতিগ্রস্তদের অন্তর্ভুক্ত হব।” (২৩))পক্ষান্তরে, ইবলিস অবাধ্যতার কারণকে আল্লাহর দিকে সম্বন্ধযুক্ত করল এবং এ থেকে নিজেকে নির্দোষ সাব্যস্ত করল(সে বলল, “হে আমার রব! যেহেতু আপনি আমাকে পথভ্রষ্ট করেছেন, সেহেতু আমি অবশ্যই জমিনে তাদের নিকট (পাপকে) শোভনীয় করে তুলব এবং তাদের সকলকেই পথভ্রষ্ট করব; (৩৯) তবে তাদের মধ্য থেকে আপনার একনিষ্ঠ বান্দারা ব্যতীত।” (৪০))সে পথভ্রষ্টতাকে আল্লাহর প্রতি সম্বন্ধযুক্ত করল (যেহেতু আপনি আমাকে পথভ্রষ্ট করেছেন)।নিশ্চয়ই মুক্তিপ্রাপ্ত সৃষ্টির ইতিবৃত্ত—যেমনটি আদম তুলে ধরেছেন—তা হলো ভুল করা এবং অতঃপর তওবা করা।আর ধ্বংসপ্রাপ্ত সৃষ্টির ইতিবৃত্ত—যেমনটি ইবলিস তুলে ধরেছেন—তা হলো অপরাধ এবং তাতে অনড় থাকা। আর কিয়ামত পর্যন্ত এই ধারা অব্যাহত থাকবে; যে ব্যক্তি অবাধ্যতাকে নিজের দিকে সম্বন্ধযুক্ত করে তওবা করবে, তাকে আদমের সাথে লিপিবদ্ধ করা হবে।আর যে আল্লাহ থেকে বিমুখ হবে এবং অবাধ্যতায় অবিচল থাকবে, তাকে ইবলিসের সাথে লিপিবদ্ধ করা হবে। অতএব, নিজের জন্য যা ইচ্ছা বেছে নিন, কারণ আপনার কাছে নির্বাচনের সুযোগ রয়েছে।* * *
(খণ্ড: ১)
মানহাজুল কুরআনি ফিল কাদায়ি ওয়াল কাদার
(পৃষ্ঠা: ২২)
القلب حرم آمنأي فعل يصدر عن الإنسان يأخذ مرحلتين:مرحلة داخلية تمثل النية والسريرة، ومكانها جوانية الإنسان وقلبه.ومرحلة خارجية، تمثل التنفيذ.ومعلوم أن المرحلة الثانية - مرحلة التنفيذ - يدخلها الخطأ والإكراه.أما المرحلى القلبية فهي المرحلة التي لا يمكن أن يدخلها الإكراه، فأنت تستطيع أن ترغم خادمك على فعل ما تريد، ولكنك لا تستطيع أن ترغمه على أن يضمر ما تريد.وقد فرَّق القرآن الكريم بين الخطإ والخطيئة.فالخطأ ما خلا من القصد الجنائي.والخطيئة ما تعمده القلب من معصية، قال تعالى (وَلَيْسَ عَلَيْكُمْ جُنَاحٌ فِيمَا أَخْطَأْتُمْ بِهِ وَلَكِنْ مَا تَعَمَّدَتْ قُلُوبُكُمْ وَكَانَ اللَّهُ غَفُورًا رَحِيمًا (5).وقال تعالى (وَلَكِنْ يُؤَاخِذُكُمْ بِمَا كَسَبَتْ قُلُوبُكُمْ).
হৃদয় এক নিরাপদ অভয়ারণ্যমানুষের পক্ষ থেকে যে কোনো কাজ সংঘটিত হওয়ার ক্ষেত্রে তা দুটি পর্যায় অতিক্রম করে:একটি অভ্যন্তরীণ পর্যায়, যা নিয়ত ও গোপন সংকল্পের প্রতিনিধিত্ব করে, এবং এর স্থান হলো মানুষের অভ্যন্তরীণ সত্তা ও তার হৃদয়।আর একটি বাহ্যিক পর্যায়, যা বাস্তবায়নের প্রতিনিধিত্ব করে।এটা সুবিদিত যে, দ্বিতীয় পর্যায়টি—অর্থাৎ বাস্তবায়নের পর্যায়টি—ভুল ও জবরদস্তির শিকার হতে পারে।তবে হৃদয়ের পর্যায়টি এমন একটি পর্যায় যেখানে জবরদস্তি প্রবেশ করতে পারে না। আপনি আপনার সেবককে আপনার ইচ্ছামতো কাজ করতে বাধ্য করতে পারেন, কিন্তু আপনার কাঙ্ক্ষিত বিষয়টি অন্তরে পোষণ করতে তাকে বাধ্য করতে পারেন না।পবিত্র কুরআন অনিচ্ছাকৃত ভুল এবং সংকল্পবদ্ধ অপরাধের মধ্যে পার্থক্য নিরূপণ করেছে।অনিচ্ছাকৃত ভুল হলো তা, যা অপরাধমূলক উদ্দেশ্য থেকে মুক্ত।আর সংকল্পবদ্ধ অপরাধ হলো সেই অবাধ্যতা যা হৃদয় ইচ্ছা করে। মহান আল্লাহ বলেন: "আর তোমরা কোনো বিষয়ে ভুল করলে তোমাদের কোনো পাপ নেই, কিন্তু তোমাদের হৃদয় যা সংকল্প করেছে (তাতে পাপ হবে)। আর আল্লাহ অতি ক্ষমাশীল, পরম দয়ালু।" (৫)মহান আল্লাহ আরও বলেন: "বরং তোমাদের হৃদয় যা অর্জন করেছে, তিনি তোমাদের সেই বিষয়ের জন্য পাকড়াও করবেন।"
(খণ্ড: ১)
মানহাজুল কুরআনি ফিল কাদায়ি ওয়াল কাদার
(পৃষ্ঠা: ২৩)
فالفرق بين الخطإ - الذي يعفو الله عنه - والخطيئة التي يؤاخذ الله عليها - هو عمل القلب -.فالسريرة هي سبب المؤاخذة، لأنها محل الاختيار المطلق، والأعمال بالنيات.كما أخبر النبي الكريم صلى الله عليه وسلمومنطقة القلب هي الحم الآمن الذي لا يستطيع أحد من جنود الشر أن يدخله إلا بإذنك.قال تعالى: (إِنَّ عِبَادِي لَيْسَ لَكَ عَلَيْهِمْ سُلْطَانٌ إِلَّا مَنِ اتَّبَعَكَ مِنَ الْغَاوِينَ (42).والله عز وجل شاء عدم إرغام عباده على شيء ولو كان هذا الشيء هو الإيمان بالله.قال تعالى (وَلَوْ شَاءَ رَبُّكَ لَآمَنَ مَنْ فِي الْأَرْضِ كُلُّهُمْ جَمِيعًا أَفَأَنْتَ تُكْرِهُ النَّاسَ حَتَّى يَكُونُوا مُؤْمِنِينَ (99).فكيف يرغمهم على الكفر؟!!ومن أين يأتي الإكره على العمل، وأنت تعرف أن
সুতরাং অনিচ্ছাকৃত ভুল—যা আল্লাহ ক্ষমা করে দেন—এবং স্বেচ্ছাকৃত অপরাধ—যার জন্য আল্লাহ পাকড়াও করেন—এ দুয়ের মধ্যে পার্থক্য হলো হৃদয়ের কর্ম।সুতরাং অন্তরের গোপন সংকল্পই হলো পাকড়াওয়ের মূল কারণ, কেননা তা হলো নিরঙ্কুশ ইচ্ছাশক্তির ক্ষেত্র, আর সমস্ত আমল নিয়তের ওপর নির্ভরশীল।যেমনটি নবী কারীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সংবাদ দিয়েছেন।আর হৃদয়ের অঞ্চলটি হলো এমন এক নিরাপদ সংরক্ষিত এলাকা, যেখানে আপনার অনুমতি ব্যতীত অনিষ্টের কোনো বাহিনী প্রবেশ করতে সক্ষম নয়।আল্লাহ তাআলা বলেন: "নিশ্চয়ই আমার বান্দাদের ওপর তোমার কোনো আধিপত্য নেই, তবে পথভ্রষ্টদের মধ্য থেকে যারা তোমার অনুসরণ করবে তারা ব্যতীত" (৪২)।আর আল্লাহ আযযা ওয়া জাল্লা তাঁর বান্দাদের কোনো বিষয়ের ওপর বাধ্য না করার ইচ্ছা করেছেন, এমনকি সেই বিষয়টি যদি আল্লাহর প্রতি ঈমান আনয়নও হয়।আল্লাহ তাআলা বলেন: "আর তোমার রব যদি চাইতেন, তবে জমিনে যারা আছে তারা সকলে মিলে ঈমান আনত। তবে কি তুমি মানুষকে মুমিন হওয়ার জন্য বাধ্য করবে?" (৯৯)।সুতরাং তিনি কীভাবে তাদের কুফরির ওপর বাধ্য করবেন?!!আর কোনো কাজের ওপর জবরদস্তি কোথা থেকে আসবে, যেখানে আপনি জানেন যে...
(খণ্ড: ১)
মানহাজুল কুরআনি ফিল কাদায়ি ওয়াল কাদার
(পৃষ্ঠা: ২৪)
النية تشكل العمل، والنية محلها القلب، والقلب - كما ذكرنا - حرم آمن.ولم يقبل رب العالمين أن يكرهنا على الإيمان، فكيف يكرهنا على الكفر؟!!ولم يسمح رب العالمين للشيطان أن يدخل حرم القلب إلا بإذنٍ من صاحبه.فاغتنم حياتك ووجه قلبك إلى الله، ودع الجدل. (1)
--------------------------------------------
(1) أخبرت السنة أن الله تجاوز لهذه الأمة عن الخطإ والنسيان وما استكرهوا عليه. فما معنى الاستغفار من الخطإ والنسيان في قوله تعالى (رَبَّنَا لَا تُؤَاخِذْنَا إِنْ نَسِينَا أَوْ أَخْطَأْنَا)؟والذي أفهمه أن الله عز وجل يربي المسلمين عن طريق " الدعاء القرآني " يربيهم على أن تنحصر ذنوبهم في أمرين - الخطأ والنسيان - فلا يتعمدوا معصية الله، ولا يصروا عليها.ونفس المعنى في التربية يمكن أن نلحظه في قوله تعالى (وَمَا كَانَ لِمُؤْمِنٍ أَنْ يَقْتُلَ مُؤْمِنًا إِلَّا خَطَأً) فلفظ الآية هو الإخبار بعدم وقوع القتل العمد في المجتمع المسلم، ولكن معناها هو النهي في أبلغ صوره عن هذه الجريمة، كأن الله نهى المسلمين عن القتل فالتزموا بالنهي، فصور حالهم من الطاعة والالتزام، ونفى حدوث القتل العمد منهم. وهذا ما يسبيه العلماء " التعبير بالجمل الخبرية عن المعاني الإنشائية ".
নিয়ত আমলকে রূপ দান করে, আর নিয়তের স্থান হলো অন্তর। আর অন্তর—যেমনটি আমরা উল্লেখ করেছি—একটি নিরাপদ পবিত্র স্থান।রাব্বুল আলামীন আমাদেরকে ঈমানের ওপর জবরদস্তি করা পছন্দ করেননি, তবে কীভাবে তিনি আমাদেরকে কুফরের ওপর জবরদস্তি করবেন?!!রাব্বুল আলামীন শয়তানকে অন্তরের পবিত্র সীমানায় প্রবেশের অনুমতি দেননি, কেবল তার মালিকের অনুমতি ব্যতিরেকে।সুতরাং আপনার জীবনকে গনীমত হিসেবে গ্রহণ করুন এবং আপনার অন্তরকে আল্লাহর দিকে নিবদ্ধ করুন, আর বিতর্ক পরিহার করুন। (১)
--------------------------------------------
(১) সুন্নাহ সংবাদ দিয়েছে যে, আল্লাহ তাআলা এই উম্মতের ভুল, বিস্মৃতি এবং যে বিষয়ে তাদের বাধ্য করা হয়েছে, তা ক্ষমা করে দিয়েছেন। তাহলে মহান আল্লাহর বাণী—"হে আমাদের প্রতিপালক, যদি আমরা বিস্মৃত হই অথবা ভুল করি, তবে আপনি আমাদের পাকড়াও করবেন না"—এর মধ্যে ভুল ও বিস্মৃতির জন্য ক্ষমা প্রার্থনার অর্থ কী?আমি যা বুঝি তা হলো, আল্লাহ তাআলা "কুরআনি দুআ"-র মাধ্যমে মুসলমানদের তারবিয়ত (গড়ে তোলা) দিচ্ছেন। তিনি তাদের এমনভাবে তারবিয়ত দিচ্ছেন যেন তাদের গুনাহ কেবল দুটি বিষয়ের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকে—ভুল ও বিস্মৃতি—যাতে তারা ইচ্ছাকৃতভাবে আল্লাহর অবাধ্য না হয় এবং তার ওপর অটল না থাকে।তারবিয়তের এই একই অর্থ আমরা মহান আল্লাহর বাণীতে লক্ষ্য করতে পারি—"কোনো মুমিনের জন্য শোভা পায় না অন্য কোনো মুমিনকে হত্যা করা, ভুলবশত ব্যতীত।" আয়াতের শাব্দিক রূপটি মুসলিম সমাজে ইচ্ছাকৃত হত্যা সংঘটিত না হওয়ার একটি সংবাদ প্রদান করছে, কিন্তু এর অর্থ হলো এই অপরাধ থেকে অত্যন্ত প্রাঞ্জল ভাষায় নিষেধ করা। যেন আল্লাহ মুসলমানদের হত্যার ব্যাপারে নিষেধ করেছেন এবং তারা সেই নিষেধ মেনে নিয়েছে; ফলে তিনি তাদের আনুগত্য ও প্রতিশ্রুতিবদ্ধতার চিত্র ফুটিয়ে তুলেছেন এবং তাদের থেকে ইচ্ছাকৃত হত্যার ঘটনা ঘটাকে অস্বীকার করেছেন। আর একেই আলিমগণ "বর্ণনামূলক বাক্যের মাধ্যমে নির্দেশনামূলক অর্থ প্রকাশ করা" বলে অভিহিত করেন।
(খণ্ড: ১)
মানহাজুল কুরআনি ফিল কাদায়ি ওয়াল কাদার
(পৃষ্ঠা: ২৫)
ساعة وساعةالدارس لطبائع الناس يدرك أن الإنسان سريع التأثر باللحظة التي يعيشها، فساعة تلين له الدنيا، فيشعر أنه صاحب الأمر والنهي، وساعة تميل عنه الدنيا، وتكشر له من أنيابها، فيحسد النمل على طمأنينته وسعيه.فالنمرود - طاغية العراق في عهد إبراهيم الخليل -أخذه الغرور حتى قال: (أَنَا أُحْيِي وَأُمِيتُ)وفرعون أطغاه المنصب، فأعماه عن حقيقة حجمه، فقال: (يَا هَامَانُ ابْنِ لِي صَرْحًا لَعَلِّي أَبْلُغُ الْأَسْبَابَ (36) أَسْبَابَ السَّمَاوَاتِ فَأَطَّلِعَ إِلَى إِلَهِ مُوسَى).وقارون عندما طُلب منه حق الله في المال، أنكر دور القدر في الرزق وقال: (إِنَّمَا أُوتِيتُهُ عَلَى عِلْمٍ عِنْدِي).ونابليون في التاريخ الحديث - قال: لا مستحيل.لحظات تنتاب الضعاف من الناس فيتناسوا حقيقتهم.
সময়ের বিবর্তনমানুষের স্বভাব নিয়ে যারা অধ্যয়ন করেন তারা উপলব্ধি করেন যে, মানুষ তার বর্তমান মুহূর্তের দ্বারা দ্রুত প্রভাবিত হয়। কোনো এক মুহূর্তে দুনিয়া তার প্রতি নমনীয় হয়, তখন সে নিজেকে আদেশ ও নিষেধের দণ্ডমুণ্ডের কর্তা মনে করে। আবার কোনো এক মুহূর্তে দুনিয়া তার থেকে বিমুখ হয় এবং তার সামনে বিষদাঁত উন্মোচন করে, তখন সে পিঁপড়াকেও তার প্রশান্তি ও কর্মতৎপরতার জন্য ঈর্ষা করে।নমরূদ—ইবরাহিম খলীল-এর যুগে ইরাকের প্রতাপশালী শাসক—অহংকার তাকে এমনভাবে গ্রাস করেছিল যে সে বলেছিল: (আমিই জীবন দান করি এবং মৃত্যু ঘটাই)।আর ফেরাউনকে তার পদমর্যাদা উদ্ধত করেছিল, যা তাকে তার প্রকৃত সামর্থ্য সম্পর্কে অন্ধ করে দিয়েছিল। সে বলেছিল: (হে হামান, আমার জন্য একটি সুউচ্চ প্রাসাদ নির্মাণ করো, যাতে আমি উপায়-উপকরণ পর্যন্ত পৌঁছাতে পারি, আসমানসমূহের উপায়-উপকরণসমূহ পর্যন্ত, অতঃপর আমি মূসার ইলাহকে উঁকি দিয়ে দেখতে পারি)।আর কারুন, যখন তার কাছে সম্পদের ব্যাপারে আল্লাহর হক দাবি করা হলো, তখন সে রিযিকের ক্ষেত্রে তাকদীরের ভূমিকা অস্বীকার করল এবং বলল: (আমি তো এটি আমার কাছে থাকা জ্ঞানের কল্যাণেই প্রাপ্ত হয়েছি)।আর আধুনিক ইতিহাসে নেপোলিয়ন বলেছিল: অসম্ভব বলতে কিছু নেই।এগুলো এমন কিছু মুহূর্ত যা দুর্বল মানুষদের আচ্ছন্ন করে ফেলে, ফলে তারা তাদের প্রকৃত সত্যকে বিস্মৃত হয়।
(খণ্ড: ১)
মানহাজুল কুরআনি ফিল কাদায়ি ওয়াল কাদার
(পৃষ্ঠা: ২৬)
فإذا وصل الإنسان إليها، أو قاربها، جاء القرآن معالجاً، وجاءت آياته تخفف عن النفس غرورها الذي انحدر بها إلى التعالي.في مثل هذا المقام، يسوق القرآن الآيات التي تجرد الإنسان حتى من ملكية نفسه (أَلَا لَهُ الْخَلْقُ وَالْأَمْرُ)(وَرَبُّكَ يَخْلُقُ مَا يَشَاءُ وَيَخْتَارُ مَا كَانَ لَهُمُ الْخِيَرَةُ)إذن كل شيء بيد الله، وكل الدنيا ليس لها من الأمر شيء.(وَإِنْ تَتَوَلَّوْا يَسْتَبْدِلْ قَوْمًا غَيْرَكُمْ ثُمَّ لَا يَكُونُوا أَمْثَالَكُمْ (38).(وَمَا أُوتِيتُمْ مِنَ الْعِلْمِ إِلَّا قَلِيلًا (85).بهذه الحقائق يعالج القرآن نشوز النفس، ويعيدها إلى حجمها من الاعتدال، هذه ساعة.وساعة أخرى يصاب الإنسان بضعف الإرادة، وفقدان العزيمة،
যখন মানুষ এ পর্যায়ে পৌঁছায় অথবা এর নিকটবর্তী হয়, তখন কুরআন প্রতিকার হিসেবে আবির্ভূত হয় এবং এর আয়াতসমূহ নফসের সেই অহংকারকে প্রশমিত করে যা তাকে ঔদ্ধত্যের দিকে ধাবিত করেছিল।এইরূপ ক্ষেত্রে কুরআন এমন সব আয়াত পেশ করে যা মানুষকে এমনকি তার নফসের মালিকানা থেকেও বিমুক্ত করে দেয় (জেনে রেখো, সৃষ্টি ও আদেশ তাঁরই)।(এবং তোমার রব যা ইচ্ছা সৃষ্টি করেন এবং মনোনীত করেন; তাদের কোনো নির্বাচনের অধিকার নেই)।অতএব সবকিছুই আল্লাহর হাতে, আর সমগ্র জগতের কোনো বিষয়েই কোনো কর্তৃত্ব নেই।(আর যদি তোমরা বিমুখ হও, তবে তিনি তোমাদের পরিবর্তে অন্য এক জাতিকে নিয়ে আসবেন, অতঃপর তারা তোমাদের মতো হবে না (৩৮)।(এবং তোমাদেরকে সামান্য জ্ঞানই প্রদান করা হয়েছে (৮৫)।এইসব সত্যের মাধ্যমে কুরআন নফসের অবাধ্যতার চিকিৎসা করে এবং একে পরিমিতিবোধের সঠিক সীমায় ফিরিয়ে আনে; এটি একটি অবস্থা।আবার অন্য সময় মানুষ ইচ্ছাশক্তির দুর্বলতা ও সংকল্পহীনতায় আক্রান্ত হয়,
(খণ্ড: ১)
মানহাজুল কুরআনি ফিল কাদায়ি ওয়াল কাদার
(পৃষ্ঠা: ২৭)
ويضيق به الفضاء، فيفقد السيطرة حتى على نفسه، ويشعر أنه ريشة في مهب الريح، تعبث به الأقدار حيث تشاء.وإنسان بهذا العجز عبء على الحياة ثقيل.وهنا يأتي القرآن ليغرس فيهم الأمل، وينمي شعورهم بأنفسهم ويرفع إرادتهم الحرة حتى يوصلهم إلى درجة الاعتدال، بما يؤلهم لتحمل المسئولية، وهذا دور الآيات التي تثبت الإرادة والمشيئة والقدرة على التغيير للإنسان.(فَمَنْ شَاءَ فَلْيُؤْمِنْ وَمَنْ شَاءَ فَلْيَكْفُرْ)(اعْمَلُوا مَا شِئْتُمْ)(إِنَّ اللَّهَ لَا يُغَيِّرُ مَا بِقَوْمٍ حَتَّى يُغَيِّرُوا مَا بِأَنْفُسِهِمْ)(ذَلِكَ بِأَنَّ اللَّهَ لَمْ يَكُ مُغَيِّرًا نِعْمَةً أَنْعَمَهَا عَلَى قَوْمٍ حَتَّى يُغَيِّرُوا مَا بِأَنْفُسِهِمْ).
এবং তার জন্য পরিপার্শ্ব সংকীর্ণ হয়ে যায়, ফলে সে নিজের ওপরও নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ফেলে এবং অনুভব করে যে সে বাতাসের মুখে একটি পালক মাত্র, নিয়তি তাকে যেখানে ইচ্ছা নিয়ে খেলা করছে।আর এমন অক্ষমতার অধিকারী মানুষ জীবনের ওপর এক ভারী বোঝা স্বরূপ।এখানেই কুরআন আসে তাদের মাঝে আশা সঞ্চার করতে, তাদের আত্মসচেতনতা বৃদ্ধি করতে এবং তাদের স্বাধীন ইচ্ছাশক্তিকে জাগ্রত করতে, যাতে তাদের ভারসাম্যপূর্ণ পর্যায়ে পৌঁছে দেয় যা তাদের দায়িত্ব বহনের উপযুক্ত করে তোলে। আর এটাই সেই আয়াতগুলোর ভূমিকা যা মানুষের ইচ্ছা, অভিপ্রায় এবং পরিবর্তনের ক্ষমতাকে সাব্যস্ত করে।(অতএব যার ইচ্ছা সে ঈমান আনুক এবং যার ইচ্ছা সে কুফরি করুক)(তোমাদের যা ইচ্ছা তোমরা করো)(নিশ্চয়ই আল্লাহ কোনো জাতির অবস্থা পরিবর্তন করেন না, যতক্ষণ না তারা নিজেদের অবস্থা নিজেরা পরিবর্তন করে)(এটা এ কারণে যে, আল্লাহ কোনো জাতিকে যে নেয়ামত দান করেছেন তা পরিবর্তন করেন না, যতক্ষণ না তারা নিজেদের অবস্থা নিজেরা পরিবর্তন করে)।
(খণ্ড: ১)
মানহাজুল কুরআনি ফিল কাদায়ি ওয়াল কাদার
(পৃষ্ঠা: ২৮)
(مَنْ كَانَ يُرِيدُ الْعَاجِلَةَ عَجَّلْنَا لَهُ فِيهَا مَا نَشَاءُ لِمَنْ نُرِيدُ).آيات تدفع الإنسان إلى جادة الطريق، وتغرس فيه العزم.فنحن نلهوا والقدر جاد، ولا عذر لمتباطئ.والكون من حوله سريع، ومن انزوى عن الحياة لأول خسارة واجهته خسر نفسه.هذا منهج القرآن في علاج متناقضات النفس.وواجب الداعي أن يكون طبيبا، يأخذ لكل نفس من القرآن ما يصلحها.فالمتعالي على الأقدار، وعلى الناس، يعالجه القرآن، والهابط إلى الارتخاء، يجذبه لمركب الحياة.والآيات في كلا الجانبين حقيقة.فمشيئتنا شعاع من مشيئة الله(إِنَّ هَذِهِ تَذْكِرَةٌ فَمَنْ شَاءَ اتَّخَذَ إِلَى رَبِّهِ سَبِيلًا (29) وَمَا تَشَاءُونَ إِلَّا أَنْ يَشَاءَ اللَّهُ إِنَّ اللَّهَ كَانَ عَلِيمًا حَكِيمًا (30).
(যে ব্যক্তি এই ক্ষণস্থায়ী দুনিয়া কামনা করে, আমি তার জন্য যা ইচ্ছা এবং যাকে ইচ্ছা শীঘ্রই প্রদান করি।)এগুলো এমন আয়াত যা মানুষকে সঠিক পথে পরিচালিত করে এবং তার অন্তরে দৃঢ় সংকল্প গেঁথে দেয়।আমরা খেল-তামাশায় মত্ত অথচ তাকদীর অত্যন্ত সুদৃঢ়, আর অলস ব্যক্তির জন্য কোনো অজুহাত নেই।তার চারপাশের মহাবিশ্ব অত্যন্ত গতিশীল, আর যে ব্যক্তি প্রথম লোকসানের সম্মুখীন হয়েই জীবন থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে, সে আসলে নিজেকেই হারাল।আত্মার বৈপরীত্যসমূহ নিরাময়ে এটিই কুরআনের কর্মপদ্ধতি।একজন দায়ীর কর্তব্য হলো একজন চিকিৎসকের ভূমিকা পালন করা, যিনি প্রত্যেক ব্যক্তির জন্য কুরআন থেকে তা-ই গ্রহণ করবেন যা তাকে সংশোধন করে।অতএব, যে ব্যক্তি তাকদীর এবং মানুষের ওপর ঔদ্ধত্য প্রদর্শন করে, কুরআন তার চিকিৎসা করে; আর যে ব্যক্তি অবসাদের অতলে তলিয়ে যায়, কুরআন তাকে জীবনের নৌকায় টেনে আনে।উভয় দিকের আয়াতসমূহ বাস্তব সত্য।আমাদের ইচ্ছা হলো আল্লাহর ইচ্ছারই একটি রশ্মি মাত্র।(নিশ্চয়ই এটি একটি উপদেশ; সুতরাং যার ইচ্ছা সে তার রবের দিকে পথ অবলম্বন করুক। আর আল্লাহ ইচ্ছা না করলে তোমরা ইচ্ছা করতে পারো না। নিশ্চয়ই আল্লাহ সর্বজ্ঞ, প্রজ্ঞাময়)।
(খণ্ড: ১)
মানহাজুল কুরআনি ফিল কাদায়ি ওয়াল কাদার
(পৃষ্ঠা: ২৯)
فلا تعارض بين الحقائق القرآنية في الموضوعين، ولكن التعارض والتمزق في نفوس أصحاب الأهواء من المتنطعين (وَلَا تُطِعْ مَنْ أَغْفَلْنَا قَلْبَهُ عَنْ ذِكْرِنَا وَاتَّبَعَ هَوَاهُ وَكَانَ أَمْرُهُ فُرُطًا (28).ويزيد الطين بلَّة، بعض الذين يتصدون للدعوة وهم ليسوا من فرسانها، فلا يجيد تخير الدواء لمريضه من " صيدلية القرآن الكريم ".إن الدعوة إلى الله إخلاص وبصيرة (قُلْ هَذِهِ سَبِيلِي أَدْعُو إِلَى اللَّهِ عَلَى بَصِيرَةٍ أَنَا وَمَنِ اتَّبَعَنِي).والأخذ بيد المستضعفين، يغاير علاج المستكبرين، ولكل مقام مقال، كما أن الحديث في مجتمع انكبَّ على العمل، وتكالب على الدنيا، ونسي ما وراءها، يجب أن يختلف عن الحديث في مجتمع تكاسل عن ركب الحياة، ورغب عنها.إن المال - في نظر القرآن -
তাই এই উভয় বিষয়ের কুরআনিক সত্যসমূহের মধ্যে কোনো বৈপরীত্য নেই, বরং বৈপরীত্য ও বিশৃঙ্খলা রয়েছে কেবল সেই চরমপন্থী প্রবৃত্তি পূজারীদের অন্তরে (আর আপনি সেই ব্যক্তির আনুগত্য করবেন না যার অন্তরকে আমি আমার স্মরণ হতে বিমুখ করে দিয়েছি, যে নিজের প্রবৃত্তির অনুসরণ করে এবং যার কর্মকাণ্ড সীমা ছাড়িয়ে গেছে (২৮)।আর পরিস্থিতিকে আরও ঘোলাটে করে তোলে এমন কিছু ব্যক্তি যারা দাওয়াহর ময়দানে অবতীর্ণ হয়েছে অথচ তারা এর যোগ্য অশ্বারোহী নয়; তাই তারা "পবিত্র কুরআনের মহৌষধালয়" থেকে রোগীর জন্য সঠিক ঔষধ নির্বাচনে পারঙ্গম নয়।নিশ্চয়ই আল্লাহর পথে আহ্বান হচ্ছে একনিষ্ঠতা ও প্রজ্ঞার নাম (বলুন: এটিই আমার পথ; আমি এবং যারা আমার অনুসরণ করেছে, আমরা প্রজ্ঞার সাথে আল্লাহর দিকে আহ্বান করি)।দুর্বলদের হাত ধরে টেনে তোলা আর দাম্ভিকদের চিকিৎসা করা এক বিষয় নয়; প্রতিটি পরিস্থিতির জন্য স্বতন্ত্র বক্তব্য রয়েছে। যেমন, যে সমাজ কর্মব্যস্ততায় মগ্ন, দুনিয়ার মোহে অন্ধ এবং পরকালকে ভুলে গেছে, তাদের প্রতি বক্তব্য অবশ্যই সেই সমাজের প্রতি বক্তব্য থেকে ভিন্ন হতে হবে যারা জীবনের গতিধারা থেকে পিছিয়ে পড়েছে এবং বিমুখ হয়ে অলসতায় মগ্ন।নিশ্চয়ই সম্পদ — কুরআনের দৃষ্টিতে —
(খণ্ড: ১)
মানহাজুল কুরআনি ফিল কাদায়ি ওয়াল কাদার
(পৃষ্ঠা: ৩০)
خير (وَإِنَّهُ لِحُبِّ الْخَيْرِ لَشَدِيدٌ (8).والسعي على الكسب عبادة، ولأن تذر ورثتك أغنياء، خير من أن تزرهم عالة، يتكففون الناس، هذه حقائق لا مراء فيها.ولكن من الجهل بعلاج النفوس، أن يركز الداعي عليها، في مجتمع انكبَّ على الدنيا، ونسي الله ولقاءه.ونفس الخطأ يقع فيه الداعي الذي بركز على دعوة الناس إلى الزهد في الدنيا، والفرار من زينتها، في مجتمع الكسالى والمتواكلين.إن الحقائق في الموضوعين ثابتة، ولكن اختيار الدواء بصيرة، ولكل مقام مقال.* * *آيات تفسرها آياتزلَّت أقدام كثيرة عندما حاول أصحابها أن يدرسوا موضوع" القضاء والقدر " بمعزل عن منهج القرآن،
কল্যাণ (আর নিশ্চয়ই সে ধন-সম্পদের মোহে অত্যন্ত আসক্ত (৮))।জীবিকা অন্বেষণে প্রচেষ্টা চালানো একটি ইবাদত। আর তোমার উত্তরসূরিদের সচ্ছল অবস্থায় রেখে যাওয়া তাদের অভাবগ্রস্ত অবস্থায় মানুষের কাছে হাত পাতা অবস্থায় ছেড়ে যাওয়ার চেয়ে উত্তম। এগুলো এমন সত্য যাতে কোনো সন্দেহ নেই।কিন্তু আত্মার চিকিৎসার ক্ষেত্রে এটি একটি মূর্খতা যে, একজন দাঈ এমন এক সমাজে এই বিষয়ের ওপর জোর দেবেন যারা দুনিয়ার মোহে মগ্ন এবং আল্লাহ ও তাঁর সাথে সাক্ষাতের কথা ভুলে গেছে।অনুরূপ ভুল সেই দাঈও করেন, যিনি অলস এবং পরনির্ভরশীল ব্যক্তিদের সমাজে মানুষকে দুনিয়াবিমুখতা এবং এর চাকচিক্য থেকে পলায়ন করার দাওয়াত দেওয়ার ওপর জোর দেন।উভয় বিষয়ের সত্যতা অনড়, তবে সঠিক ঔষধ নির্বাচন করা হলো প্রজ্ঞা; আর প্রতিটি প্রেক্ষাপটের জন্য রয়েছে আলাদা বক্তব্য।* * *আয়াত যার ব্যাখ্যা দেয় অন্য আয়াতঅনেকের পা-ই স্খলিত হয়েছে যখন তারা কুরআনের পদ্ধতির বাইরে গিয়ে"তকদির ও নির্ধারণ" বিষয়টি অধ্যয়ন করার চেষ্টা করেছে,