(খণ্ড: ১)
গারীবুল কুরআন লিইবনি কুতাইবাহ তা. আহমাদ সাকর
(পৃষ্ঠা: -)
غريب القرآن لابن قتيبة ت أحمد صقر القسم: علوم القرآن وأصول التفسير
الكتاب: غريب القرآن
المؤلف: أبو محمد عبد الله بن مسلم بن قتيبة الدينوري (ت 276هـ)
المحقق: أحمد صقر
الناشر: دار الكتب العلمية (لعلها مصورة عن الطبعة المصرية)
السنة: 1398 هـ - 1978 م
[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]
عدد الصفحات: 543
تاريخ النشر بالشاملة: 8 ذو الحجة 1431
ইবনে কুতাইবাহ রচিত গরিবুল কুরআন, তাহকিক: আহমাদ সাকর বিভাগ: কুরআনুল কারীমের জ্ঞান এবং তাফসীরের মূলনীতি
কিতাব: গরিবুল কুরআন
লেখক: আবু মুহাম্মদ আবদুল্লাহ বিন মুসলিম বিন কুতাইবাহ আদ-দিনাওয়ারী (মৃত্যু ২৭৬ হিজরী)
গবেষক: আহমাদ সাকর
প্রকাশক: দারুল কুতুবিল ইলমিয়্যাহ (সম্ভবত এটি মিশরীয় সংস্করণের একটি প্রতিলিপি)
বছর: ১৩৯৮ হিজরী - ১৯৭৮ খ্রিস্টাব্দ
[বইটির নম্বর বিন্যাস মুদ্রিত কপির সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ]
পৃষ্ঠা সংখ্যা: ৫৪৩
শামিলা লাইব্রেরিতে প্রকাশের তারিখ: ৮ জিলহজ ১৪৩১
(খণ্ড: ১)
গারীবুল কুরআন লিইবনি কুতাইবাহ তা. আহমাদ সাকর
(পৃষ্ঠা: ৩)
مقدمةبسم الله الرحمن الرحيم
قال عبد الله بن مسلم بن قُتَيْبَةَ الدِّينَوَرِيُّ:
نَفَتتِحُ كتابَنا هذا بذكْر أسمائه الحُسنى، وصفاته العُلا (1) ؛ فنُخبِرُ بتأويلهما واشتقاقهما؛ ونُتْبِعُ ذلك ألفاظا كثر تَرْدادُها في الكتاب لم نر بعض السُّور أولى بها من بعض؛ ثم نبتدئ في تفسير غريب القرآن، دون تأويل مُشْكله: إذ كنا قد أفْرَدْنا للمشكل كتابًا جامعًا كافيًا، بحمد الله.
* * *
وغرضنا الذي امتثَلْناه في كتابنا هذا: أن نختصر ونُكْمل، وأن نوضِّح ونُجْمِلَ؛ وأن لا نستشهدَ على اللفظ المُبْتَذَل، ولا نُكْثِرَ الدِّلالةَ على الحرف المستعمل؛ وأن لا نحشُوَ كتابنا بالنحو وبالحديث والأسانيد. فإنَّا لو فعلنا ذلك في نقل الحديث: لاحتجنا إلى أن نأتِيَ بتفسير السلف - رحمة الله عليهم - بعينه؛ ولو أتَيْنا بتلك الألفاظ كان كتابنا كسائر الكتب التي أَلَّفَهَا نَقَلَةُ الحديث؛ ولو تكلَّفْنا بعدُ اقتصاصَ اختلافِهم، وتبيينَ معانيهم، وفتْقَ جُمَلِهم بألفاظنا، وموضعَ الاختيارِ من ذلك الاختلاف، وإقامةَ الدلائل عليه، والإخبارَ عن العلة فيه -: لأسْهبْنا في القول، وأطلنا الكتاب؛ وقطعْنا منه طمعَ المُتحفِّظ، وباعدْناه من بُغْيَة المُتأدِّب؛ وتكلَّفنا من نقل الحديث، ما قد وُقِينَاه وكُفِيناه.
--------------------------------------------
ভূমিকাপরম করুণাময় অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে
আব্দুল্লাহ ইবনে মুসলিম ইবনে কুতায়বাহ আদ-দিনাওয়ারী বলেছেন:
আমরা আমাদের এই গ্রন্থটি আল্লাহর সুন্দরতম নামসমূহ এবং সুউচ্চ গুণাবলির (১) আলোচনার মাধ্যমে শুরু করছি; অতঃপর আমরা সেগুলোর ব্যাখ্যা ও ব্যুৎপত্তি সম্পর্কে বর্ণনা করব; এবং আমরা সেটির অনুবর্তী করব এমন কিছু শব্দকে যেগুলোর পুনরাবৃত্তি এই কিতাবে অধিক হয়েছে এবং আমরা সেগুলোকে কোনো বিশেষ সূরার সাথে নির্দিষ্ট করা অপেক্ষা সাধারণভাবে উল্লেখ করাই অধিক সঙ্গত মনে করেছি; অতঃপর আমরা কুরআনের জটিল বিষয়সমূহের ব্যাখ্যা ছাড়াই এর দুর্বোধ্য শব্দাবলির ব্যাখ্যা শুরু করব: যেহেতু আল্লাহর প্রশংসায়, আমরা ইতোমধ্যেই জটিল বিষয়গুলোর জন্য একটি স্বতন্ত্র, পূর্ণাঙ্গ ও পর্যাপ্ত গ্রন্থ রচনা করেছি।
* * *
আর আমাদের এই গ্রন্থে আমরা যে উদ্দেশ্যটি অনুসরণ করেছি তা হলো: সংক্ষেপ করা অথচ পূর্ণতা দান করা, এবং স্পষ্ট করা অথচ সংক্ষিপ্ত রাখা; আর আমরা যেন অতি প্রচলিত শব্দের স্বপক্ষে কোনো প্রমাণ উপস্থাপন না করি এবং বহুল ব্যবহৃত অক্ষরের নির্দেশিকা দীর্ঘ না করি; এবং আমরা যেন আমাদের গ্রন্থটিকে ব্যাকরণ, হাদিস ও সনদসমূহ দিয়ে ভারাক্রান্ত না করি। কেননা আমরা যদি হাদিস বর্ণনার ক্ষেত্রে তা করতাম, তবে আমাদের সালাফদের—আল্লাহ তাঁদের প্রতি রহম করুন—ব্যাখ্যা হুবহু নিয়ে আসার প্রয়োজন হতো; আর আমরা যদি সেই শব্দাবলি উল্লেখ করতাম, তবে আমাদের গ্রন্থটি হাদিস বর্ণনাকারীদের সংকলিত অন্যান্য গ্রন্থের মতোই হয়ে যেত; আর আমরা যদি এরপর তাঁদের মতভেদ বিস্তারিত বর্ণনা করার, তাঁদের অর্থসমূহ স্পষ্ট করার, আমাদের নিজস্ব শব্দে তাঁদের সংক্ষিপ্ত বক্তব্যগুলো বিশ্লেষণ করার, সেই মতভেদের মধ্য থেকে পছন্দের স্থানটি নির্ধারণ করার, তার সপক্ষে প্রমাণাদি কায়েম করার এবং তার কারণসমূহ বর্ণনা করার প্রয়াস পেতাম—তবে আমরা কথা অনেক দীর্ঘ করে ফেলতাম এবং গ্রন্থটিকেও প্রলম্বিত করতাম; এতে আমরা মুখস্থকারীর আকাঙ্ক্ষাকে ছিন্ন করতাম এবং জ্ঞানপিপাসুর উদ্দেশ্য থেকে একে দূরে সরিয়ে দিতাম; আর আমরা হাদিস বর্ণনার এমন দায়ভার গ্রহণ করতাম যা থেকে আমাদের রক্ষা করা হয়েছে এবং যা আমাদের জন্য পর্যাপ্ত করা হয়েছে।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
গারীবুল কুরআন লিইবনি কুতাইবাহ তা. আহমাদ সাকর
(পৃষ্ঠা: ৪)
وكتابنا هذا مستنبط من كتب المفسرين، وكتب أصحاب اللغة العالمين. لم نخرج فيه عن مذاهبهم، ولا تكلَّفنا في شيء منه بآرائنا غيرَ معانيهم، بعد اختيارنا في الحرف أَوْلَى الأقاويلِ في اللغة، وأشْبَهَهَا بقصةِ الآية.
ونَبَذْنَا مُنكَرَ التأويل، ومَنحولَ التفسير. فقد نَحَلَ قومٌ ابنَ عباس، أنه قال في قول الله جل وعز: {إِذَا الشَّمْسُ كُوِّرَتْ} (1) إنها غُوِّرتْ؛ من قول الناس بالفارسية: كُورْ بِكِرد (2) .
وقال آخر في قوله: {عَيْنًا فِيهَا تُسَمَّى سَلْسَبِيلا} (3) أراد سَلْني سبيلا إليها يا محمدُ.
وقال الآخر في قوله: {وَيْلٌ لِلْمُطَفِّفِينَ} (4) إن الويل: وادٍ في جهنمَ.
وقال الآخر في قوله: {أَفَلا يَنْظُرُونَ إِلَى الإبِلِ كَيْفَ خُلِقَتْ} (5) إن الإبل: السحابُ.
--------------------------------------------
আমাদের এই কিতাবটি মুফাসসিরগণের কিতাব এবং বিজ্ঞ ভাষাবিদগণের কিতাবসমূহ হতে সংকলিত। আমরা এতে তাদের মাযহাবের বাইরে যাইনি এবং তাদের অর্থের বাইরে আমাদের নিজস্ব কোনো মত চাপিয়ে দেওয়ার কষ্ট করিনি; তবে আমরা শব্দের ক্ষেত্রে ভাষায় অধিকতর অগ্রগণ্য এবং আয়াতের প্রেক্ষাপটের সাথে সবচেয়ে সামঞ্জস্যপূর্ণ মতটি বেছে নিয়েছি।
আর আমরা বর্জন করেছি প্রত্যাখ্যাত অপব্যাখ্যা এবং বানোয়াট তাফসির। কেননা, একদল লোক ইবনে আব্বাস (রাযিয়াল্লাহু আনহু)-এর নামে চালিয়ে দিয়েছে যে, তিনি মহান আল্লাহর বাণী: {যখন সূর্য পেঁচিয়ে নেয়া হবে} (১) সম্পর্কে বলেছেন, এর অর্থ হলো সূর্যকে বিলুপ্ত করা হয়েছে; যা ফারসি ভাষায় মানুষের এই প্রবাদ হতে গৃহীত: 'কুর বিকের্দ' (অন্ধ করা) (২)।
অন্য একজন আল্লাহর বাণী: {সেখানে একটি ঝরনা রয়েছে যার নাম সালসাবিল} (৩) সম্পর্কে বলেছেন যে, এর দ্বারা উদ্দেশ্য হলো: হে মুহাম্মদ, আপনি আমার নিকট সেখানে যাওয়ার পথ চান।
অন্য একজন আল্লাহর বাণী: {দুর্ভোগ মেপে কম দানকারীদের জন্য} (৪) সম্পর্কে বলেছেন যে, 'ওয়াইল' হলো জাহান্নামের একটি উপত্যকা।
অন্য একজন আল্লাহর বাণী: {তারা কি উটের দিকে লক্ষ্য করে না যে, তা কীভাবে সৃষ্টি করা হয়েছে?} (৫) সম্পর্কে বলেছেন যে, 'ইবিল' অর্থ হলো মেঘমালা।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
গারীবুল কুরআন লিইবনি কুতাইবাহ তা. আহমাদ সাকর
(পৃষ্ঠা: ৫)
وقال الآخر في قوله: {ثُمَّ لَتُسْأَلُنَّ يَوْمَئِذٍ عَنِ النَّعِيمِ} (1) -: إن النعيم: الماء الحار في الشتاء.
وقال الآخر في قوله: {خُذُوا زِينَتَكُمْ عِنْدَ كُلِّ مَسْجِدٍ} (2) -: إن الزينة: المُشطُ.
وقال آخر في قوله: {وَأَنَّ الْمَسَاجِدَ لِلَّهِ} (3) إنها الآرَابُ التي يَسجد عليها المرء؛ وهي جبهتهُ ويداه، وركبتاه وقدماه.
وقال الآخر في قوله: {أَنْ تَضِلَّ إِحْدَاهُمَا فَتُذَكِّرَ إِحْدَاهُمَا الأخْرَى} (4) أن تُجعل كلُّ واحدة منهما ذُِكَرًا؛ يريد: أنهما يَقومان مَقام رجل، فإحداهما تُذكِّر الأخرى.
مع أشباهٍ لهذا كثيرة؛ لا ندري: أَمِن جهة المفسرين لها وَقَع الغلطُ؟ أو من جهة النَقَلة؟
وبالله نستعين، وإيّاه نسأل التوفيق للصواب.
--------------------------------------------
এবং অন্যজন তাঁর বাণী: {অতঃপর অবশ্যই সেদিন তোমাদেরকে নেয়ামত সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করা হবে} (১) - সম্পর্কে বলেছেন: নিশ্চয়ই নেয়ামত হলো শীতকালে গরম পানি।
এবং অন্যজন তাঁর বাণী: {তোমরা প্রত্যেক সালাতের সময় তোমাদের সৌন্দর্য গ্রহণ করো} (২) - সম্পর্কে বলেছেন: নিশ্চয়ই সৌন্দর্য হলো চিরুনি।
এবং অন্যজন তাঁর বাণী: {এবং নিশ্চয়ই মসজিদসমূহ আল্লাহর জন্য} (৩) সম্পর্কে বলেছেন: নিশ্চয়ই এগুলো হলো শরীরের সেই অঙ্গসমূহ যার ওপর মানুষ সেজদা করে; আর সেগুলো হলো তার কপাল, তার দুই হাত, তার দুই হাঁটু এবং তার দুই পা।
এবং অন্যজন তাঁর বাণী: {যাতে তাদের একজনের ভুল হলে অন্যজন তাকে স্মরণ করিয়ে দেয়} (৪) সম্পর্কে বলেছেন: তাদের প্রত্যেককে পুরুষের ন্যায় গণ্য করা হয়েছে; তিনি বুঝিয়েছেন: তারা উভয়ে একজন পুরুষের স্থলাভিষিক্ত হয়, ফলে তাদের একজন অন্যজনকে স্মরণ করিয়ে দেয়।
এর সাথে এই ধরণের আরও অনেক সদৃশ বিষয় রয়েছে; আমরা জানি না: ভুলটি কি এর ব্যাখ্যাকারীদের পক্ষ থেকে ঘটেছে? নাকি বর্ণনাকারীদের পক্ষ থেকে?
আর আমরা আল্লাহর কাছেই সাহায্য চাই এবং তাঁর কাছেই সঠিক বিষয়ের তাওফিক কামনা করি।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
গারীবুল কুরআন লিইবনি কুতাইবাহ তা. আহমাদ সাকর
(পৃষ্ঠা: ৬)
اشْتِقَاقُ أَسْمَاءِ اللهِ وَصِفَاتِه، وَإِظْهَار مَعَانِيهَا1- "الْرَّحْمنُ الرَّحِيمُ": صفتان مبنِيَّتان من "الرحمة". قال أبو عبيدةَ: وتقديرهما: نَدْمانُ، ونَدِيمٌ (1) .
* * *
2- ومن صفاته: "السَّلامُ". قال: {السَّلامُ الْمُؤْمِنُ الْمُهَيْمِنُ} (2) ومنه سُميَ الرجلُ: عبدَ السلام؛ كما يقال: عبدُ الله.
ويرى أهل النظر - من أصحاب اللغة -: أن "السلام" بمعنى السلامة؛ كما يقال: الرَّضاعُ والرَّضاعة، واللَّذَاذُ واللَّذَاذة (3) . قال الشاعر:
تُحَيِّى بِالسَّلامَةِ أُمُّ بَكْرٍ
… فَهَلْ لَكِ - بَعْدَ قَومِكِ - مِنْ سَلامِ?
فسَمى نفسه - جل ثناؤه - "سلامًا": لسلامته ممَّا يَلحق الخلقَ: من العيب والنقص، والفناء والموت.
قال الله جل وعز: {وَاللَّهُ يَدْعُو إِلَى دَارِ السَّلامِ} (4) ؛ فالسلام: الله؛ ودارُه: الجنة. يجوز أن يكون سماها "سلاما": لأن الصائر إليها يَسلَمُ فيها من
--------------------------------------------
আল্লাহর নাম ও তাঁর গুণাবলির ব্যুৎপত্তি এবং সেগুলোর অর্থ উন্মোচন১- "আর-রাহমান আর-রাহিম": এই দুটি গুণ 'রহমত' (দয়া) থেকে গঠিত। আবু উবাইদাহ বলেন: এ দুটির গঠন বা ওজন হলো: নাদমান এবং নাদিম (১)।
* * *
২- তাঁর গুণাবলির অন্তর্ভুক্ত হলো: "আস-সালাম"। তিনি বলেন: {আস-সালাম, আল-মুমিন, আল-মুহাইমিন} (২)। এ নাম থেকেই মানুষের নাম রাখা হয়: আবদুস সালাম; যেমন বলা হয়: আবদুল্লাহ।
ভাষাবিদ গবেষকদের মতে: "আস-সালাম" শব্দটি "আস-সালামাহ" (নিরাপত্তা) অর্থে ব্যবহৃত; যেমন বলা হয়: আর-রাদা ও আর-রাদাহ, এবং আল-লাযায ও আল-লাযাযাহ (৩)। কবি বলেছেন:
উম্মু বকর নিরাপত্তার সাথে সম্ভাষণ জানায়
… তোমার সম্প্রদায়ের পরে তোমার কি কোনো নিরাপত্তা (সালাম) আছে?
তিনি—তাঁর প্রশংসা মহিমান্বিত হোক—নিজেকে "সালাম" নামে অভিহিত করেছেন: কারণ সৃষ্টিজগত যেসব দোষ-ত্রুটি, অভাব, ধ্বংস ও মৃত্যুর সম্মুখীন হয়, তা থেকে তিনি মুক্ত ও নিরাপদ।
মহান ও পরাক্রমশালী আল্লাহ বলেন: {এবং আল্লাহ শান্তির আবাসের (দারুস সালাম) দিকে আহ্বান করেন} (৪); এখানে সালাম হলেন: আল্লাহ; আর তাঁর আবাস হলো: জান্নাত। এটিও সম্ভব যে, তিনি এর নামকরণ "সালাম" করেছেন কারণ সেখানে গমনকারী নিরাপদ থাকে
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
গারীবুল কুরআন লিইবনি কুতাইবাহ তা. আহমাদ সাকর
(পৃষ্ঠা: ৭)
كل ما يكون في الدنيا: من مرض ووَصَبٍ، وموت وهَرَم؛ وأشباهِ ذلك. فهي دارُ السلام. ومِثلُه: {لَهُمْ دَارُ السَّلامِ عِنْدَ رَبِّهِمْ} (1) .
ومنه يقال: السلامُ عليكم. يراد: اسمُ السلام عليكم. كما يقال: اسمُ الله عليكم.
وقد بيَّن ذلك لَبِيدٌ، فقال:
إلَى الحَوْلِ، ثُمَّ اسْمُ السَّلامِ عَلَيْكُمَا
… وَمَنْ يَبْكِ حَوْلا كَامِلا فَقَدِ اعْتَذَرْ (2)
ويجوز (3) أن يكون [معنى] "السلامُ عليكم": السلامةَ لكم. وإلى هذا المعنى، يَذهب مَن قال: "سلامُ الله عليكم، وأَقرِئْ فلانًا سلامَ الله".
وقال: {وَأَمَّا إِنْ كَانَ مِنْ أَصْحَابِ الْيَمِينِ * فَسَلامٌ لَكَ مِنْ أَصْحَابِ الْيَمِينِ} (4) ؛ يريد: فسلامةٌ لك منهم؛ أي: يُخبِرُك عنهم بسلامة. وهو معنى قول المفسرين.
ويُسمَّى الصوابُ من القول "سلاما": لأنه سَلِم من العيب والإثم. قال: {وَإِذَا خَاطَبَهُمُ الْجَاهِلُونَ قَالُوا سَلامًا} (5) ؛ أي: سَدادًا من القول.
* * *
3- ومن صفاته: "القَيُّومُ" و "القَيَّامُ". وقُرِئ بهما جميعا.
وهما "فَيْعُولٌ" و "فَيْعَالٌ" (6) . من "قمتُ بالشيء": إذا وَلِيتُه. كأنه القَيِّم بكل شيء. ومثله في التقدير قولهم: ما فيها دَيُّورٌ وَدَيَّارٌ (7) .
--------------------------------------------
দুনিয়াতে যা কিছু ঘটে: অসুস্থতা ও ক্লান্তি, মৃত্যু ও বার্ধক্য এবং এই জাতীয় বিষয়াবলী থেকে (মুক্ত)। সুতরাং তা হলো শান্তির আবাস। অনুরূপভাবে: {তাদের জন্য তাদের রবের নিকট রয়েছে শান্তির আবাস} (১)।
এখান থেকেই বলা হয়: তোমাদের ওপর শান্তি বর্ষিত হোক। এর দ্বারা উদ্দেশ্য হলো: তোমাদের ওপর 'সালাম' (আল্লাহর নাম) বর্ষিত হোক। যেমন বলা হয়ে থাকে: তোমাদের ওপর আল্লাহর নাম বর্ষিত হোক।
লাবীদ এটি স্পষ্ট করেছেন, তিনি বলেছেন:
এক বছর পূর্ণ হওয়া পর্যন্ত, অতঃপর তোমাদের উভয়ের ওপর আল্লাহর নাম (সালাম) বর্ষিত হোক
... আর যে ব্যক্তি পূর্ণ এক বছর ধরে বিলাপ করে, সে তো তার ওজর পেশ করল (২)
এটিও অনুমোদিত (৩) যে, "তোমাদের ওপর সালাম বর্ষিত হোক" এর অর্থ হবে: তোমাদের জন্য নিরাপত্তা। যারা বলেন "তোমাদের ওপর আল্লাহর সালাম বর্ষিত হোক এবং অমুককে আল্লাহর সালাম পৌঁছে দিও", তারা এই অর্থের দিকেই গিয়েছেন।
এবং তিনি বলেছেন: {আর যদি সে ডানদিকের লোকদের অন্তর্ভুক্ত হয়, তবে (বলা হবে) তোমার প্রতি শান্তি, যেহেতু তুমি ডানদিকের লোকদের একজন} (৪); এর দ্বারা উদ্দেশ্য হলো: তাদের পক্ষ থেকে তোমার জন্য নিরাপত্তা; অর্থাৎ তিনি তোমাকে তাদের ব্যাপারে নিরাপত্তার সংবাদ দিচ্ছেন। এটিই মুফাসসিরগণের বক্তব্যের মর্মার্থ।
সঠিক কথাকেও "সালাম" বলা হয়: কারণ তা দোষ ও পাপ থেকে মুক্ত। তিনি বলেছেন: {এবং যখন অজ্ঞ ব্যক্তিরা তাদেরকে সম্বোধন করে, তারা বলে সালাম} (৫); অর্থাৎ সঠিক ও সংগত কথা।
* * *
৩- তাঁর গুণাবলির মধ্যে রয়েছে: "আল-কাইয়ূম" এবং "আল-কাইয়্যাম"। উভয় কিরাআতেই এই শব্দ দুটি পঠিত হয়েছে।
এই দুটি শব্দ "ফাইঊল" এবং "ফাইআল" (৬) ওজনে গঠিত। এটি "আমি বিষয়টির দায়িত্ব নিয়েছি" থেকে উদ্গত: যখন আমি তার তত্ত্বাবধান করি। যেন তিনি সবকিছুর তত্ত্বাবধায়ক। শব্দগঠনের দিক থেকে এর সদৃশ হলো আরবদের বক্তব্য: সেখানে কোনো বসবাসকারী বা অধিবাসী নেই (৭)।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
গারীবুল কুরআন লিইবনি কুতাইবাহ তা. আহমাদ সাকর
(পৃষ্ঠা: ৮)
4- ومن صفاته: "سُبُّوحٌ".
وهو حرف مبني على "فُعُّول"؛ من "سبَّح اللهَ": إذا نزهه وبرَّأه من كل عيب.
ومنه قيل: سبحان اللهِ؛ أي: تنزيهًا لله، وتبرئةً له من ذلك.
ومنه قوله: {يُسَبِّحُ لِلَّهِ مَا فِي السَّمَاوَاتِ وَمَا فِي الأرْضِ} (1) .
وقال الأعْشَى:
أَقُولُ لَمَّا جَاءَنَا فَخْرُهُ
… سُبْحَانَ مِنْ عَلْقَمَةَ الْفَاخِرِ (2)
أراد: التبرُّؤَ من علقمةَ. وقد يكون تَعجبَ [بالتسبيح من فخره؛ كما يقول القائل إذا تعجب] من شيء: سبحان الله.
فكأنه قال: عجبًا من علقمةَ الفاخرِ.
* * *
5- ومن صفاته: "قُدُّوسٌ".
وهو حرف مبني على "فُعُّول"؛ من "القُدْس" وهو: الطهارة.
ومنه قيل: "الأرْض الْمُقَدَّسَة" (3) ؛ يراد: المطهَّرة بالتبريك. ومنه قوله حكاية عن الملائكة: {وَنَحْنُ نُسَبِّحُ بِحَمْدِكَ وَنُقَدِّسُ لَكَ} (4) ؛ أي: نَنْسُبك
--------------------------------------------
৪- এবং তাঁর গুণাবলির অন্তর্ভুক্ত হলো: "সুব্বুহ" (পরম পবিত্র)।
এটি 'ফুউউল' ওজনে গঠিত একটি শব্দ; যা 'সাব্বাহাল্লাহ' (আল্লাহর তাসবিহ পাঠ করা) থেকে উদ্ভূত: যখন কেউ তাঁকে সমস্ত ত্রুটি-বিচ্যুতি থেকে পবিত্র ঘোষণা করে এবং মুক্ত গণ্য করে।
আর এখান থেকেই বলা হয়েছে: 'সুবহানাল্লাহ'; অর্থাৎ: আল্লাহর পবিত্রতা ঘোষণা করা এবং তাঁকে যাবতীয় দোষ থেকে মুক্ত রাখা।
এরই অন্তর্ভুক্ত তাঁর বাণী: {আসমানসমূহে যা কিছু আছে এবং যমীনে যা কিছু আছে সবই আল্লাহর পবিত্রতা ঘোষণা করে} (১)।
আল-আশা বলেছেন:
আমি বললাম যখন আমাদের নিকট তার দম্ভোক্তি পৌঁছাল... আলকামা অহংকারীর থেকে নিজেকে মুক্ত ঘোষণা করছি (২)।
তিনি উদ্দেশ্য করেছেন: আলকামা থেকে সম্পর্ক ছিন্ন করা বা মুক্ত হওয়া। আবার তাসবিহ পাঠের মাধ্যমে তার দম্ভের কারণে বিস্ময় প্রকাশ করাও হতে পারে; যেমন কোনো ব্যক্তি কোনো বিষয়ে বিস্মিত হলে বলে: সুবহানাল্লাহ।
যেন তিনি বললেন: অহংকারী আলকামার ব্যাপারে অতি বিস্ময়!
* * *
৫- এবং তাঁর গুণাবলির অন্তর্ভুক্ত হলো: "কুদ্দুস" (অতি পবিত্র)।
এটি 'ফুউউল' ওজনে গঠিত একটি শব্দ; যা 'আল-কুদস' থেকে উদ্ভূত, আর তা হলো: পবিত্রতা।
আর এখান থেকেই বলা হয়েছে: "পবিত্র ভূমি" (৩); এর দ্বারা উদ্দেশ্য হলো: বরকতের মাধ্যমে যা পবিত্র করা হয়েছে। আর ফেরেশতাদের বক্তব্য উদ্ধৃত করে তাঁর বাণীও এর অন্তর্ভুক্ত: {আর আমরা আপনার প্রশংসাসহ তাসবিহ পাঠ করি এবং আপনার পবিত্রতা বর্ণনা করি} (৪); অর্থাৎ: আমরা আপনাকে গুণান্বিত করি
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
গারীবুল কুরআন লিইবনি কুতাইবাহ তা. আহমাদ সাকর
(পৃষ্ঠা: ৯)
إلى الطهارة. و"نُقدّسك ونُقدِّس لك" و"نُسَبِّح لك ونُسبِّحك" بمعنى واحد.
وحَظِيرة القُدس - فيما قاله أهل النظر - هي: الجنة. لأنها موضع الطهارة من الأدناس التي تكون في الدنيا: من الغائط والبول والحيض، وأشباهِ ذلك.
* * *
6- ومن صفاته: "الرَّبُّ".
والرب: المالك. يقال: هذا ربُّ الدار، وربُّ الضَّيْعة، وربُّ الغلام. أي: مالكُه؛ قال الله سبحانه: {ارْجِعْ إِلَى رَبِّكَ} (1) ؛ أي: إلى سيِّدك.
ولا يقال لمخلوق: هذا الرب؛ معرَّفا بالألف واللام؛ كما يقال لله. إنما يقال: هذا ربُّ كذا. فيعرَّفُ بالإضافة. لأن الله مالكُ كل شيء. فإذا قيل: الربُّ؛ دلَّت الألف واللام على معنى العموم. وإذا قيل لمخلوق: ربُّ كذا وربُّ كذا؛ نُسِب إلى شيء خاص: لأنه لا يَملِك [شيئًا] غيره.
ألا ترى أنه قيل: "اللهُ"؛ فألزم الألفَ واللام: ليُدَلَّ بها على أنه إلهُ كل شيء. وكان الأصل: "الإلاه". فتُركت الهمزة: لكثرة ما يجري ذكره عز وجل على الألسنة؛ وأدغمتْ لام المعرفة في اللام التي لقيَتْها؛ وفُخِّمتْ وأُشْبِعتْ حتى طبَّق اللسانُ بها الحَنَك: لفخامة ذكره تبارك وتعالى؛ وليُفرَقَ أيضا - عند الابتداء بذكره - بينه وبين اللات [والعُزَّى] .
* * *
7- ومن صفاته: "الْمُؤْمِنُ".
وأصلُ الإيمان: التصديقُ. قال: {وَمَا أَنْتَ بِمُؤْمِنٍ لَنَا وَلَوْ كُنَّا صَادِقِينَ}
--------------------------------------------
পবিত্রতার দিকে। এবং "আমরা আপনার পবিত্রতা বর্ণনা করি ও আপনার জন্য পবিত্রতা ঘোষণা করি" এবং "আমরা আপনার মহিমা ঘোষণা করি ও আপনার জন্য মহিমা ঘোষণা করি" একই অর্থে ব্যবহৃত।
আর 'হাজিরাতুল কুদস'—গবেষক আলেমদের মতে—তা হলো জান্নাত। কারণ এটি দুনিয়ার অপবিত্রতা থেকে পবিত্র হওয়ার স্থান: যেমন মল-মূত্র, ঋতুস্রাব এবং এই জাতীয় বিষয়গুলো থেকে।
* * *
৬- তাঁর গুণাবলির অন্তর্ভুক্ত হলো: "আর-রব" (প্রভু)।
আর 'রব' মানে হলো: মালিক। বলা হয়ে থাকে: ইনি গৃহের রব (মালিক), খামারের রব, দাসের রব। অর্থাৎ: তার মালিক; আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআলা বলেন: {তুমি তোমার রবের কাছে ফিরে যাও} (১); অর্থাৎ: তোমার মুনীবের কাছে।
আর সৃষ্টির ক্ষেত্রে 'আর-রব' (আলিফ-লাম যোগে নির্দিষ্ট করে) বলা হয় না; যেমনটা আল্লাহর ক্ষেত্রে বলা হয়। বরং বলা হয়: অমুকের রব। তখন তা সম্বন্ধের মাধ্যমে নির্দিষ্ট হয়। কারণ আল্লাহ হলেন সবকিছুর মালিক। সুতরাং যখন 'আর-রব' বলা হয়, তখন আলিফ এবং লাম ব্যাপক অর্থ প্রকাশ করে। আর যখন সৃষ্টির ক্ষেত্রে 'অমুকের রব' বা 'তমুকের রব' বলা হয়, তখন তা নির্দিষ্ট কোনো কিছুর সাথে সম্বন্ধযুক্ত হয়: কারণ সে তা ব্যতীত অন্য কিছুর মালিক নয়।
আপনি কি দেখেন না যে, "আল্লাহ" শব্দটি বলা হয়; এখানে আলিফ এবং লাম অপরিহার্য করা হয়েছে যাতে এর মাধ্যমে বোঝা যায় যে তিনি সবকিছুর ইলাহ (উপাস্য)। এর মূল শব্দ ছিল "আল-ইলাহ"। এরপর মানুষের মুখে মহান আল্লাহর নামের অধিক ব্যবহারের কারণে হামজাহটি বাদ দেওয়া হয়েছে; এবং নির্দিষ্টকারী 'লাম' কে তার পরবর্তী 'লাম' এর সাথে সংযুক্ত করা হয়েছে; এবং একে গাম্ভীর্যপূর্ণ ও পূর্ণতা দেওয়া হয়েছে যাতে উচ্চারণ করার সময় জিহ্বা তালু স্পর্শ করে: মহান আল্লাহর যিকিরের মাহাত্ম্যের কারণে; এবং তাঁর নাম উচ্চারণ শুরু করার সময় যেন 'লাত' ও 'উযযা'র সাথে পার্থক্য করা যায়।
* * *
৭- তাঁর গুণাবলির অন্তর্ভুক্ত হলো: "আল-মুমিন"।
আর 'ঈমান' শব্দের মূল অর্থ হলো: সত্যায়ন করা। তিনি বলেন: {আর আপনি আমাদের বিশ্বাস করবেন না, যদিও আমরা সত্যবাদী হই}
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
গারীবুল কুরআন লিইবনি কুতাইবাহ তা. আহমাদ সাকর
(পৃষ্ঠা: ১০)
(1) ؛ أي: وما أنت بمصدِّق ولو كنا صادقين. ويقال [في الكلام] : ما أُومِنُ بشيء مما تقول؛ أي: ما أُصدقُ بذلك.
فإيمانُ العبد بالله: تصديقهُ قولا وعملا وعَقْدًا. وقد سمى الله الصلاة - في كتابه - إيمانًا؛ فقال: {وَمَا كَانَ اللَّهُ لِيُضِيعَ إِيمَانَكُمْ} (2) ؛ أي: صلاتَكُمْ إلى بيت المَقْدس.
فالعبدُ مؤْمن، أي: مصدِّق مُحقِّق. والله مؤْمن، أي: مصدِّق ما وعده ومحقِّقُه، أو قابلٌ إيمانَه.
وقد يكون "المؤْمن" من "الأمَان"؛ أي: لا يأمَنُ إلا من أَمَّنَه [الله] .
وقد ذكرت الإيمان ووجوهَه، في كتاب "تأويل المشكل (3) ".
وهذه الصفةُ - من صفات الله جل وعزّ - لا تتصَرَّف تصرُّف غيرِها؛ لا يقال: أَمِنَ اللهُ؛ كما يقال: تقدَّس اللهُ. ولا يقال: يُؤْمِنُ اللهُ؛ كما يقال: يتقدَّس اللهُ.
وكذلك يقال: "تعالى الله". وهو تفاعُلٌ من "العُلُو". و"تبارَكَ الله" هو تفاعُلُ من "البركة" و"الله مُتعالٍ". ولا يقال: مُتبارِكٌ. لم نسمعه.
وإنما نَنْتَهي في صفاته إلى حيث انتَهَى؛ فإن كان قد جاء من هذا شيءٌ - عن الرسول صلى الله عليه وعلى آله، أو عن الأئمة -: جاز أن يُطَلقَ، كما أُطِلق غيرُه.
--------------------------------------------
(১) ; অর্থাৎ: আর আমরা সত্যবাদী হলেও আপনি আমাদেরকে বিশ্বাস করবেন না। আর (কথোপকথনে) বলা হয়: তুমি যা বলছ আমি তার কোনো কিছুতেই ঈমান রাখি না; অর্থাৎ: আমি তা বিশ্বাস করি না।
সুতরাং আল্লাহর প্রতি বান্দার ঈমান হলো: কথা, কাজ ও বিশ্বাসের মাধ্যমে সত্যায়ন করা। আর আল্লাহ তাঁর কিতাবে সালাতকে ‘ঈমান’ নামে অভিহিত করেছেন; তিনি বলেছেন: {আর আল্লাহ তোমাদের ঈমানকে বিনষ্ট করবেন না} (২); অর্থাৎ: বাইতুল মাকদিসের দিকে তোমাদের সালাতকে।
অতএব বান্দা হলো মুমিন, অর্থাৎ: সত্যায়নকারী ও বাস্তবায়নকারী। আর আল্লাহ হলেন মুমিন, অর্থাৎ: তিনি যা ওয়াদা করেছেন তার সত্যায়নকারী ও বাস্তবায়নকারী, অথবা তিনি বান্দার ঈমান কবুলকারী।
আর ‘মুমিন’ শব্দটি ‘আমান’ (নিরাপত্তা) থেকেও হতে পারে; অর্থাৎ: আল্লাহ যাকে নিরাপত্তা দান করেন সে ব্যতীত আর কেউ নিরাপদ হয় না।
আর আমি ঈমান এবং এর বিভিন্ন দিক সম্পর্কে ‘তাউয়ীলু মুশকিলিল কুরআন’ (৩) গ্রন্থে উল্লেখ করেছি।
আর আল্লাহর গুণাবলির মধ্যে এই গুণটি অন্যান্য গুণের মতো ক্রিয়া হিসেবে রূপান্তরিত হয় না; যেমন ‘আল্লাহ পবিত্র হয়েছেন’ বলা হয়, তেমনি ‘আল্লাহ নিরাপদ হয়েছেন’ (ক্রিয়া হিসেবে) বলা হয় না। আবার যেমন ‘আল্লাহ পবিত্র হন’ বলা হয়, তেমনি ‘আল্লাহ ঈমান আনেন/নিরাপত্তা দেন’ (ক্রিয়া হিসেবে) বলা হয় না।
অনুরূপভাবে বলা হয়: ‘তাআলাল্লাহ’ (আল্লাহ অতি উচ্চ)। এটি ‘উলু’ (উচ্চতা) থেকে ‘তাফাউল’ ছাঁচ। আর ‘তাবারাকাল্লাহ’ হলো ‘বারাকাহ’ (বরকত) থেকে ‘তাফাউল’ ছাঁচ এবং ‘আল্লাহু মুতাআলিন’ (আল্লাহ সুউচ্চ)। কিন্তু ‘মুতাবারিক’ বলা হয় না। আমরা এমনটি শুনিনি।
আর আমরা তাঁর গুণাবলির ক্ষেত্রে ঠিক সেখানেই সীমাবদ্ধ থাকব যেখানে দলিল পৌঁছেছে; যদি এ বিষয়ে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়া সাল্লাম থেকে অথবা ইমামগণের থেকে কিছু বর্ণিত হয়ে থাকে, তবে তা প্রয়োগ করা বৈধ হবে, যেমনটি অন্যান্য ক্ষেত্রে প্রয়োগ করা হয়েছে।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
গারীবুল কুরআন লিইবনি কুতাইবাহ তা. আহমাদ সাকর
(পৃষ্ঠা: ১১)
* * *
8- ومن صفاته: "المُهَيْمِنُ".
وهو: الشهيدُ. قال الله: {وَأَنزلْنَا إِلَيْكَ الْكِتَابَ بِالْحَقِّ مُصَدِّقًا لِمَا بَيْنَ يَدَيْهِ مِنَ الْكِتَابِ وَمُهَيْمِنًا عَلَيْهِ} (1) ؛ أي: شاهدًا عليه. هكذا قال ابن عباس في رواية أبي صالح عنه.
وروى عنه - من غير هذه الجهة - أنه قال: "أمينًا عليه" (2) .
وهذا أعجبُ إليَّ؛ وإن كان التفسيران متقارَبيْن. لأن أهل النظر - من أصحاب اللغة - يَرَون: أن "مُهَيْمِنًا" اسم مبني من "آمَنَ" (3) ؛ كما بُني "بَطِيرٌ" و "مُبَيْطِرٌ" و "بَيْطارٌ" من "بَطَر". قال الطِّرِمَّاحُ:
كَبَزْغِ الْبَطِيرِ الثَّقْفِ رَهْصَ الْكَوَادِنِ (4)
--------------------------------------------
৮- এবং তাঁর গুণাবলির অন্যতম হলো: "আল-মুহাইমিন"।
এর অর্থ হলো: সাক্ষ্যদাতা। আল্লাহ তাআলা বলেছেন: {এবং আমি আপনার প্রতি সত্যসহ কিতাব অবতীর্ণ করেছি, যা পূর্ববর্তী কিতাবসমূহের সত্যায়নকারী এবং সেগুলোর ওপর সাক্ষী ও রক্ষক} (১); অর্থাৎ সেগুলোর ওপর সাক্ষী। আবু সালেহ থেকে বর্ণিত রেওয়ায়েতে ইবনে আব্বাস এভাবেই বলেছেন।
তবে অন্য সূত্রে তাঁর থেকে বর্ণিত হয়েছে যে, তিনি বলেছেন: "সেগুলোর ওপর আমানতদার" (২)।
এটিই আমার কাছে অধিক পছন্দনীয়; যদিও ব্যাখ্যা দুটি কাছাকাছি। কারণ ভাষাবিদ গবেষকদের মতে "মুহাইমিন" শব্দটি "আমানা" থেকে গঠিত (৩); যেভাবে "বাতর" থেকে "বাতীর", "মুবাইতির" এবং "বাইতার" গঠিত হয়েছে। তিরিম্মাহ বলেছেন:
নিপুণ পশুচিকিৎসকের ছেদনের মতো যা খচ্চরের পায়ের জখম নিরাময় করে (৪)
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
গারীবুল কুরআন লিইবনি কুতাইবাহ তা. আহমাদ সাকর
(পৃষ্ঠা: ১২)
وقال النابغة:
شَكَّ المُبَيْطِرِ إِذْ يَشْفِي مِنَ الْعَضَدِ (1)
وكأن الأصل، "مُؤَيْمِنٌ"؛ ثم قُلبت الهمزة هاء: لقُرب مَخرجهما؛ كما تُقلب في "أَرَقتُ الماء"، فيقالُ: هَرَقت الماء. وقالوا: ماءٌ مُهَرَاق؛ والأصل: ماءٌ مُراق. وقالوا: "إبْرِيَةٌ وهِبْرِيَةٌ، وأَيْهاتَ وهَيْهَاتَ، وإيَّاكَ وهِيَّاكَ". فأبدلوا من الهمزة هاءَ. وأنشد الأخْفَش:
فَهِيَّاكَ وَالأمْرَ الَّذِي إِنْ تَوَسَّعَتْ
… مَوَارِدُهُ، ضَاقَتْ عَلَيْكَ مَصَادِرُهْ (2)
* * *
و"آمِينَ" اسم من أسماء الله. وقال قوم من المفسرين - في قول المصلي بعد فراغه من قراءة أمِّ الكتاب: "آمينَ"-: [أمينَ] قُصر من (3) ذلك؛ كأنه قال: يا ألله؛ وأضمر "استجبْ لي" -: لأنه لا يجوز أن يَظهر هذا في هذا الموضع من الصلاة؛ إذ كان كلامًا.- ثم تُحذف ياء النداء.
وهكذا يختار أصحاب اللغة في "أمينَ": أن يَقصرُوا الألف، ولا يُطَوِّلوا. وأنْشَدوا فيه:
--------------------------------------------
নাবিগাহ বলেন:
পশুচিকিৎসকের বিদ্ধ করার ন্যায়, যখন সে কাঁধের রোগ থেকে আরোগ্য দান করে। (১)
আর মূলত এটি ছিল, "মুআইমিন"; এরপর হামযাহ বর্ণটি 'হা' বর্ণে রূপান্তরিত হয়েছে: তাদের মাখরাজ (উচ্চারণস্থল) কাছাকাছি হওয়ার কারণে; যেমনটি "আরাকতুল মা" (আমি পানি ঢাললাম) শব্দে রূপান্তরিত হয়, তখন বলা হয়: "হারাকতুল মা"। তারা বলে: "মাউন মুহরাকুন" (ঢালা পানি); যার মূল হলো: "মাউন মুরাকুন"। তারা আরও বলে: "ইবরিয়াহ ও হিবরিয়াহ, আইহাতা ও হায়হাতা, এবং ইয়্যাকা ও হিয়্যাকা"। ফলে তারা হামযাহর পরিবর্তে 'হা' ব্যবহার করেছে। আখফাশ আবৃত্তি করেছেন:
সুতরাং তুমি সেই বিষয় থেকে বেঁচে থাকো, যার প্রবেশের পথ প্রশস্ত হলেও
... প্রস্থানের পথ তোমার জন্য সংকীর্ণ হয়ে যায়। (২)
* * *
এবং "আমীন" আল্লাহর নামসমূহের একটি নাম। মুফাসসিরগণের একটি দল—নামাযি ব্যক্তি সূরা ফাতিহা পাঠ শেষ করার পর যখন "আমীন" বলে, সে সম্পর্কে—বলেছেন: [আমীন] শব্দটিকে সেখানে সংক্ষেপ করা হয়েছে (৩); যেন সে বলছে: হে আল্লাহ; এবং "আমার দুআ কবুল করুন" কথাটি উহ্য রাখা হয়েছে—কারণ নামাযের এই স্থানে এটি প্রকাশ করা বৈধ নয়; যেহেতু তা মানুষের কথার অন্তর্ভুক্ত।—অতঃপর সম্বোধনের অব্যয় 'ইয়া' (হে) বিলুপ্ত করা হয়েছে।
অনুরূপভাবে ভাষাবিদগণ "আমীন" শব্দের ক্ষেত্রে আলিফকে হ্রস্ব করাকেই পছন্দ করেন, দীর্ঘ করেন না। আর তারা এ বিষয়ে কাব্য আবৃত্তি করেছেন:
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
গারীবুল কুরআন লিইবনি কুতাইবাহ তা. আহমাদ সাকর
(পৃষ্ঠা: ১৩)
تَبَاعَدَ مِنِّي فُطْحُلٌ إِذْ سَأَلْتُهُ
… أَمِينَ، فَزَادَ اللهُ مَا بَيْنَنَا بُعْدَا (1)
ويفتحونها: لانفرادها، وانقطاعها عما يُضمر فيها: من معنى النداء. حتى صارت عندهم معنى "كذلك فَعَل الله".
وقد أجازوا أيضا "آمينَ" مطوّلة الألف. وحكَوها عن قوم فصحاء.
وأصلها: "يا أمين" بمعنى: يا أللهُ. ثم تُحذف همزة "أمين" استخفافا لكثرة ما تَجْرى هذه الكلمة على ألسنة الناس. ومَخْرَجُها مخرج "آزيدُ". يريد: يا زيدُ. و "آراكبُ" يريد: يا راكبُ. وقد سمعنا من فصحاء العرب: "آخبيثُ"؛ يريدون: يا خبيثُ.
وفي ذلك قولٌ آخر؛ يقال: إنما مدت الألف فيها، ليطول بها الصوتُ.
كما قالوا: "أَوِّهْ" مقصورةَ الألف، ثم قالوا: "آوَّهْ" [ممدودة] . يريدون تطويل الصوت بالشكاية. وقالوا: "سقط على حاقِّ رأسِه"؛ أي: على حَقِّ رأسه (2) . وكذلك "آمين": أرادوا تطويل الصوت بالدعاء.
وهذا أعجب إليَّ.
* * *
وأما قول العباس بن عبد المُطَّلِب، في مدح رسول الله صلى الله عليه وسلم:
--------------------------------------------
ফুতহাল আমার থেকে দূরে সরে গেল যখন আমি তাকে জিজ্ঞাসা করলাম... আমীন, সুতরাং আল্লাহ আমাদের মধ্যকার দূরত্ব বাড়িয়ে দিন। (১)
এবং তারা এটি ফাতহা (যবর) যোগে উচ্চারণ করেন: এর একক হওয়ার কারণে এবং এর মধ্যে প্রচ্ছন্ন থাকা সম্বোধনের (নিদা) অর্থ থেকে বিচ্ছিন্ন হওয়ার কারণে। এমনকি এটি তাদের নিকট "আল্লাহ অনুরূপ করেছেন" অর্থে পরিণত হয়েছে।
তারা দীর্ঘ আলিফসহ "আমীন" বলারও অনুমতি দিয়েছেন। এবং তারা এটি বিশুদ্ধভাষী আরবদের থেকে বর্ণনা করেছেন।
আর এর মূল হলো: "হে আমীন" যার অর্থ: হে আল্লাহ। অতঃপর মানুষের জিহ্বায় এই শব্দের অধিক ব্যবহারের কারণে সহজীকরণের উদ্দেশ্যে "আমীন" এর হামযাটি বিলুপ্ত করা হয়েছে। আর এর উচ্চারণ পদ্ধতি "আ-যাইদু" এর মতো। এর অর্থ: হে যাইদ। এবং "আ-রাকিবু" অর্থ: হে আরোহী। আমরা বিশুদ্ধভাষী আরবদের থেকে শুনেছি: "আ-খাবীসু"; তারা এর দ্বারা বুঝিয়েছেন: হে মন্দ ব্যক্তি।
এ বিষয়ে অন্য একটি মতও রয়েছে; বলা হয়: এতে আলিফকে দীর্ঘ করা হয়েছে কেবল আওয়াজকে দীর্ঘায়িত করার জন্য।
যেমন তারা হ্রস্ব আলিফ যোগে "আউউহ্" বলে থাকে, আবার দীর্ঘ করে "আ-উউহ্" বলে থাকে। তারা অভিযোগ বা আর্তনাদের সময় শব্দকে দীর্ঘায়িত করতে চায়। তারা বলে: "সে তার মাথার মধ্যভাগে পড়েছে"; অর্থাৎ: তার মাথার ঠিক মাঝখানে (২)। ঠিক একইভাবে "আমীন": তারা দোয়ার সময় আওয়াজকে দীর্ঘ করার ইচ্ছা পোষণ করেছেন।
আর এটিই আমার নিকট অধিক পছন্দনীয়।
* * *
আর রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের প্রশংসায় আব্বাস ইবনে আব্দুল মুত্তালিবের বাণীর ক্ষেত্রে:
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
গারীবুল কুরআন লিইবনি কুতাইবাহ তা. আহমাদ সাকর
(পৃষ্ঠা: ১৪)
حَتَّى احْتَوَى بَيْتُك الْمُهَيْمِنُ مِنْ
… خِنْدِفَ، عَلْيَاءَ تَحْتَهَا النُّطُقُ (1)
فإنه أراد: حتى احتويتَ - يا مُهيمن- من خندفَ علياءَ؛ فأقام البيتَ مُقامَه: لأن بيته إذا حَلَّ بهذا المكان، فقد حل هو به. وهو كما يقال: بيتُه أعزُّ بيتٍ. وإنما يراد: صاحبُه. قال النابغة:
وَحَلَّتْ بُيُوتِي فِي يَفَاعٍ مُمَنَّعٍ
… تَخَالُ بِهِ رَاعي الْحُمُولَةِ طَائِرَا (2)
ولم يكن بيته في جبل بهذه الصفة؛ إنما أراد: أني ممتنعٌ على من أرادني، فكأني حللت في يفاع مُمنَّع.
* * *
9- ومن صفاته: "الغَفُورُ".
وهو من قولك: "غَفَرتُ الشيء": إذا غَطَّيتهَ. كما يقال: "كَفَرْتُه": إذا غطَّيْته. ويقال: كذا أَغْفَرُ من كذا؛ أي: أستَرُ. و "غَفْرُ الخَزِّ والصوف" ما علا فوق الثوب منها: كالزِّئْبِر. سمي "غفرا": لأنه ستر الثوب. ويقال لجُنَّة
--------------------------------------------
এমনকি আপনার আধিপত্য বিস্তারকারী ঘর খিন্দিফের সেই উচ্চস্থানকে আয়ত্ত করেছে, যার নিচে পাহাড়ের মধ্যবর্তী অঞ্চলসমূহ রয়েছে (১)
নিশ্চয়ই তিনি এর দ্বারা উদ্দেশ্য করেছেন: হে আধিপত্যশীল (মুহাইমিন)! আপনি খিন্দিফ থেকে সেই উচ্চস্থান আয়ত্ত করেছেন। এখানে তিনি 'ঘর'-কে তাঁর স্থলাভিষিক্ত করেছেন; কারণ তাঁর ঘর যখন এই স্থানে অবতরণ করেছে, তখন মূলত তিনিই সেখানে অবতরণ করেছেন। এটি ঠিক তেমনই যেমন বলা হয়: 'তার ঘর সবথেকে সম্মানিত ঘর'। এর দ্বারা মূলত এর মালিককেই উদ্দেশ্য করা হয়। নাবিগাহ বলেন:
আর আমার ঘরগুলো এমন এক দুর্ভেদ্য উচ্চভূমিতে অবতরণ করেছে, যেখানে তুমি উটচালককে উড্ডীয়মান (পাখির মতো অনেক উঁচুতে) মনে করবে (২)
প্রকৃতপক্ষে তাঁর ঘর এমন বৈশিষ্ট্যমণ্ডিত কোনো পাহাড়ে ছিল না; বরং তিনি এর মাধ্যমে বুঝাতে চেয়েছেন যে: যারা আমার ক্ষতি করতে চায় তাদের জন্য আমি দুর্ভেদ্য, যেন আমি এক দুর্ভেদ্য উচ্চভূমিতে অবস্থান করছি।
* * *
৯- আল্লাহর গুণাবলির মধ্যে একটি হলো: "আল-গাফুর" (অধিক ক্ষমাশীল)।
এটি আপনার এই কথা থেকে নির্গত: "আমি বস্তুটি গাফারতু (ক্ষমা/আবৃত করেছি)": যখন আপনি সেটি ঢেকে ফেলেন। যেমন বলা হয়: "আমি সেটি কাফারতু (ঢেকে দিয়েছি)": যখন আপনি তা আড়াল করেন। আরও বলা হয়: অমুক জিনিসটি তমুক জিনিসের চেয়ে বেশি "আঘফার" অর্থাৎ অধিক আবরণকারী। আর রেশম ও পশমের "গাফর" হলো কাপড়ের ওপরের সেই অংশ যা ভেসে থাকে: যেমন আঁশ বা তুলা। একে "গাফর" বলা হয় কারণ এটি কাপড়কে আবৃত করে রাখে। আর ঢালকে বলা হয়...
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
গারীবুল কুরআন লিইবনি কুতাইবাহ তা. আহমাদ সাকর
(পৃষ্ঠা: ১৫)
الرأس: "مِغفرٌ"؛ لأنها تستر الرأس (1) . فكأن "الغفور": الساترُ لعبده برحمته، أو الساترُ لذنوبه.
ونحوٌ منه قولهم: "تَغَمَّدْني برحمتك"؛ أي: ألبِسْني إياها. ومنه قيل: "غِمْدُ السيف"؛ لأنه يُغمد فيه، أي: يُدخل.
* * *
10- ومن صفاته: "الواسِعُ".
وهو الغنيُّ. والسَّعةُ: الغِنَى. قال الله [: {لِيُنْفِقْ ذُو سَعَةٍ مِنْ سَعَتِهِ} (2) أي] : يعط من سعته.
* * *
11- ومن صفاته: "البارِئُ".
ومعنى "البارئ": الخالقُ. يقال: بَرَأ الله الخلقَ يَبْرَؤُهم.
و"البَرِيَّة": الخلق. وأكثر العرب والقُراء: على ترك همزها؛ لكثرة ما جرت على الألسنة. وهي "فَعِيلةٌ" بمعنى "مَفْعولة".
ومن الناس مَن يزعم: أنها مأخوذة من "بَريْتُ العودَ".
ومنهم من يزعم: أنها من "البَرَى"، وهو: التراب أي: خُلق من التراب. وقالوا: لذلك لم يُهمز.
--------------------------------------------
মাথা: "মিগফার"; কারণ এটি মাথাকে ঢেকে রাখে (১)। সুতরাং "আল-গফুর" (ক্ষমাশীল) হলেন তিনি, যিনি স্বীয় রহমত দ্বারা তাঁর বান্দাকে আবরণ দান করেন, অথবা তাঁর পাপসমূহকে গোপনকারী।
অনুরূপ তাদের একটি উক্তি হলো: "আপনার রহমত দ্বারা আমাকে আচ্ছন্ন করুন"; অর্থাৎ আমাকে তা পরিধান করিয়ে দিন। আর এ থেকেই "তরবারির খাপ" কথাটি এসেছে; কারণ তাতে তা প্রবিষ্ট করানো বা রাখা হয়।
* * *
১০- এবং তাঁর গুণাবলির অন্যতম হলো: "আল-ওয়াসিউ" (প্রাচুর্যময়)।
তিনি হলেন অভাবমুক্ত। আর প্রাচুর্য হলো সচ্ছলতা। আল্লাহ তাআলা বলেছেন: {সামর্থ্যবান যেন তার সামর্থ্য অনুযায়ী ব্যয় করে} (২) অর্থাৎ: সে তার প্রাচুর্য থেকে দান করবে।
* * *
১১- এবং তাঁর গুণাবলির অন্যতম হলো: "আল-বারি" (স্রষ্টা)।
আর "আল-বারি" শব্দের অর্থ হলো: স্রষ্টা। বলা হয়: আল্লাহ সৃষ্টিজগতকে সৃষ্টি করেছেন এবং তিনি তাদের সৃষ্টি করেন।
আর "আল-বারিয়্যাহ" অর্থ হলো সৃষ্টিজগত। অধিকাংশ আরব ও ক্বারীগণ রসনায় অধিক প্রচলিত হওয়ার কারণে এতে হামজাহ উচ্চারণ বর্জন করেন। এটি "মাফঊলাহ" (সৃষ্ট) অর্থে "ফায়ীলাহ" ওজনে গঠিত।
মানুষের মধ্যে কেউ কেউ দাবি করেন যে: এটি "আমি কাঠ চেঁছেছি" থেকে গৃহীত।
তাদের মধ্যে কেউ কেউ আবার মনে করেন: এটি "আল-বারা" থেকে এসেছে, যার অর্থ: মাটি; অর্থাৎ যা মাটি থেকে সৃষ্টি করা হয়েছে। তারা বলেন: এ কারণেই এতে হামজাহ ব্যবহার করা হয়নি।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
গারীবুল কুরআন লিইবনি কুতাইবাহ তা. আহমাদ সাকর
(পৃষ্ঠা: ১৬)
وقد بينت هذا في كتاب "القراءات" (1) وذكرت موضع الأخبار منه.
* * *
12- ومِثلُ البارئ: "الذَّارِئُ".
وهو: الخالق. يقال: ذَرَأ الله الخلقَ. وقال: {وَلَقَدْ ذَرَأْنَا لِجَهَنَّمَ كَثِيرًا} (2) أي: خلَقْنا. و "الذُّرِّيةُ" منه؛ لأنها خلق الله من الرجل.
وأكثر القُراء والعرب: على ترك همزها؛ لكثرة ما يُتكلم بها.
ومنهم من يزعم: أنها من "ذَرَوْتُ" أو "ذَرَيْتُ".
* * *
13- ومن صفاته ما جاء على "فَعِيلٍ" بمعنى "فاعِلٍ"؛ نحو: "قَديرٍ" بمعنى "قادرٍ"، و"بصيرٍ" بمعنى "باصِرٍ"، و"سَميعٍ" بمعنى "سامعٍ"، و"حَفيظٍ" بمعنى "حافِظٍ" و"بَدِيءٍ" بمعنى: "بادئ الخلق"، و"شَهِيدٍ" بمعنى "شاهِدٍ"، و"عَليمٍ" بمعنى "عالِمٍ"، و"رَقِيبٍ" بمعنى "راقِبٍ" - وهو: الحافظ - و"كَفِيلٍ" بمعنى "كافِلٍ"، و"خَبيرٍ" بمعنى "خابِرٍ"، و"حَكِيمٍ" بمعنى "حاكِمٍ"، و"مَجِيدٍ" بمعنى "ماجد" وهو: الشريف.
* * *
14- ومن صفاته ما جاء على "فَعِيلٍ" بمعنى "مُفْعِلٍ"؛ نحو:
--------------------------------------------
আমি এটি "আল-কিরাআত" (১) কিতাবে বর্ণনা করেছি এবং সেখানে এর বর্ণনাসমূহের প্রেক্ষিত উল্লেখ করেছি।
* * *
১২- এবং 'আল-বারী'-এর অনুরূপ হলো: 'আয-যারিয়ু'।
এর অর্থ হলো: সৃষ্টিকর্তা। বলা হয়: আল্লাহ সৃষ্টিজগতকে সৃষ্টি (যারাআ) করেছেন। আর তিনি বলেছেন: {আর অবশ্যই আমি জাহান্নামের জন্য অনেককে সৃষ্টি করেছি} (২) অর্থাৎ: আমরা সৃষ্টি করেছি। আর 'যুররিয়্যাহ' (বংশধর) শব্দটি এ থেকেই এসেছে; কারণ তা হলো মানুষের মধ্য থেকে আল্লাহর সৃষ্টি।
অধিকাংশ ক্বারী এবং আরবরা এর অধিক ব্যবহারের কারণে এতে হামজাহ বর্জন করে (অর্থাৎ 'যারিয়া' উচ্চারণ করেন)।
তাদের মধ্যে কেউ কেউ ধারণা করেন যে, এটি 'যারাওতু' বা 'যারাইতু' থেকে উদ্ভূত।
* * *
১৩- তাঁর গুণাবলির মধ্যে এমন কিছু রয়েছে যা 'ফাঈল' (فعيل) ওজনে এসেছে 'ফায়িল' (فاعل) এর অর্থে; যেমন: 'ক্বদীর' (قدير) এসেছে 'ক্বাদির' (قادر) অর্থে, 'বাসীর' (بصير) এসেছে 'বাসীর' (باصر - দর্শনকারী) অর্থে, 'সামী' (سميع) এসেছে 'সামি' (سامع - শ্রবণকারী) অর্থে, 'হাফীজ' (حفيظ) এসেছে 'হাফিজ' (حافظ - সংরক্ষণকারী) অর্থে, 'বাদী' (بديء) এসেছে 'বাদীউল খালক্ব' (সৃষ্টির সূচনাকারী) অর্থে, 'শহীদ' (شهيد) এসেছে 'শাহিদ' (شاهد - সাক্ষী) অর্থে, 'আলীম' (عليم) এসেছে 'আলিম' (عالم - পরিজ্ঞাতা) অর্থে, 'রাকীব' (رقيب) এসেছে 'রাকিব' (راقب) অর্থে - যার অর্থ হলো রক্ষক - এবং 'কাফীল' (كفيل) এসেছে 'কাফিল' (كافل - জামিনদার) অর্থে, 'খাবীর' (خبير) এসেছে 'খাবির' (خابر - সম্যক অবগত) অর্থে, 'হাকীম' (حكيم) এসেছে 'হাকিম' (حاكم - বিচারক) অর্থে, এবং 'মাজীদ' (مجيد) এসেছে 'মাজিদ' (ماجد) অর্থে যার অর্থ হলো: মর্যাদাবান।
* * *
১৪- আর তাঁর গুণাবলির মধ্যে এমন কিছু রয়েছে যা 'ফাঈল' (فعيل) ওজনে এসেছে 'মুফইল' (مفعل) এর অর্থে; যেমন:
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
গারীবুল কুরআন লিইবনি কুতাইবাহ তা. আহমাদ সাকর
(পৃষ্ঠা: ১৭)
"بَصيرٍ" بمعنى "مُبْصِرٍ"، و "بَدِيعِ الخلْقِ" بمعنى "مُبْدِع الخلق". كما قالوا: "سميعٌ"؛ بمعنى مُسْمِعٍ. قال عَمْرُو بن مَعْدِيكَرِب:
أَمِنْ رَيْحَانَةَ الداعِي السَّمِيعُ (1)
و"عذابٌ أليمٌ" أي: مؤْلمٌ، و"ضرْبٌ وَجِيعٌ" أي: مُوجِعٌ.
[ومنه] : {إِنَّ اللَّهَ كَانَ عَلَى كُلِّ شَيْءٍ حَسِيبًا} (2) ؛ أي: كافيًا. من قولك: "أَحْسَبَني هذا الشيءُ"، أي: كفاني (3) . و"اللهُ حَسِيبي وحسيبُك" أي: كافينا؛ أي: يكون حَكَما بيننا كافيًا. قال الشاعر:
وَنُقْفِي وَلِيدَ الْحَيِّ: إنْ كَانَ جَائِعًا
… وَنُحْسِبُهُ: إنْ كَانَ لَيْسَ بِجَائِعِ (4)
أي: نُعطيه ما يَكفيه، حتى يقولَ: حَسْبِي.
وقال بعض المفسرين -في قوله: {إِنَّ اللَّهَ كَانَ عَلَى كُلِّ شَيْءٍ حَسِيبًا} -: أي مُحاسبًا. وهو -على هذا التأويل- في مذهب "جَليس" و "أَكِيل" و "شرِيب" و "نَديمٍ" و "قَعيدٍ".
* * *
15- ومن صفاته ما جاء على "فَعِيلٍ": لا يكونُ منها غيرُ لفْظِها؛ نحو:
--------------------------------------------
"বাসির" অর্থ হলো "দর্শনকারী", এবং "বাদিউল খালক" অর্থ "সৃষ্টির উদ্ভাবক"। যেমন তারা বলেন: "সামিউন" যার অর্থ হলো "শ্রবণ করানোকারী"। আমর বিন মাদিকারিব বলেছেন:
রাইহানার পক্ষ থেকে কি আহ্বানকারী শ্রবণ করানোকারী (১)
এবং "আযাবুন আলিম" অর্থাৎ: যন্ত্রণাদায়ক, এবং "দারবুন ওয়াজিউন" অর্থাৎ: বেদনাদায়ক।
[তন্মধ্যে রয়েছে]: {নিশ্চয়ই আল্লাহ সর্ববিষয়ে হিসাব গ্রহণকারী/পর্যাপ্তকারী} (২); অর্থাৎ: যথেষ্ট। আপনার কথা: "এই বিষয়টি আমাকে যথেষ্ট করেছে", অর্থাৎ: আমাকে তুষ্ট করেছে (৩)। এবং "আল্লাহ আমার হাসিবি এবং আপনার হাসিবি" অর্থাৎ: আমাদের জন্য যথেষ্ট; অর্থাৎ তিনি আমাদের মধ্যে বিচারক হিসেবে যথেষ্ট হবেন। কবি বলেছেন:
আমরা গোত্রের শিশুকে অগ্রাধিকার প্রদান করি: যদি সে ক্ষুধার্ত হয়
… এবং তাকে আমরা যথেষ্ট দান করি: যদি সে ক্ষুধার্ত না হয় (৪)
অর্থাৎ: আমরা তাকে তা দান করি যা তার জন্য যথেষ্ট, যতক্ষণ না সে বলে: আমার জন্য যথেষ্ট।
এবং কিছু মুফাসসির - আল্লাহর এই বাণীর ক্ষেত্রে: {নিশ্চয়ই আল্লাহ সর্ববিষয়ে হিসাব গ্রহণকারী} - বলেছেন: অর্থাৎ হিসাব গ্রহণকারী। এই ব্যাখ্যা অনুযায়ী এটি "জলিস" (সহচর), "আকিল" (সহভোজী), "শারিব" (সহ-পানকারী), "নাদিম" (সখা) এবং "কাইদ" (সহ-উপবেশনকারী) এর আদলে গঠিত।
* * *
১৫- এবং আল্লাহর গুণাবলির মধ্যে যা "ফাইল" ওজনে এসেছে: সেগুলোর শব্দরূপ ছাড়া অন্য কিছু হয় না; যেমন:
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
গারীবুল কুরআন লিইবনি কুতাইবাহ তা. আহমাদ সাকর
(পৃষ্ঠা: ১৮)
"قَريب" و"جَليل" و"حَليم" و"عَظيم" و"كَبير" و"كَريم" -وهو الصَّفُوح عن الذنوب- و"وَكيل" وهو الكَفيل. قال: {وَاللَّهُ عَلَى مَا نَقُولُ وَكِيلٌ} (1) {وَكَفَى بِاللَّهِ وَكِيلا} (2) {وَتَوَكَّلْ عَلَيْهِ} (3) ؛ أي: اجعلْه كافلَك، واعتمد على كفالته لك. ووكيل الرجل في ماله هو الذي كفَلَه له، وقام به.
* * *
16 - ومن صفاته: "الوَدُودُ".
وفيه قولان. يقال: هو "فَعُولٌ" بمعنى "مَفْعول"؛ كما يقال: رجل هَيُوب؛ أي مَهيبٌ، يراد به: مَوْدودٌ.
ويقال: هو "فَعُول" بمعنى "فاعل" كقولك: غفورٌ؛ بمعنى غافر. أي: يَودُّ عباده الصالحين.
وقد تأتي الصفةُ بالفعل لله ولعبده، فيقال: "العبدُ شكورٌ لله" أي: يشكر نعمه. و "اللهُ شكور للعبد" أي: يشكر له عملَه. و "العبدُ تَوَّابٌ إلى الله من الذنب"، و "اللهُ توَّابٌ عليه".
* * *
17- و "كِبْرياءُ اللهِ": شَرَفُه. وهو من "تكبَّر": إذا أعلا نفسَه.
--------------------------------------------
"নিকটবর্তী", "মহিমান্বিত", "সহনশীল", "মহান", "বিরাট" এবং "দয়ালু" — আর তিনি হলেন গুনাহসমূহ মার্জনাকারী — এবং "অভিভাবক" (ওয়াকিল), যিনি জিম্মাদার। তিনি বলেছেন: {আমরা যা বলছি সে বিষয়ে আল্লাহ্ই অভিভাবক} (১) {আর অভিভাবক হিসেবে আল্লাহ্ই যথেষ্ট} (২) {এবং আপনি তাঁরই ওপর ভরসা করুন} (৩); অর্থাৎ: আপনি তাঁকে আপনার জিম্মাদার বানান এবং আপনার জন্য তাঁর জিম্মাদারির ওপর নির্ভর করুন। আর কোনো ব্যক্তির সম্পদের অভিভাবক (ওয়াকিল) হলেন সেই ব্যক্তি, যে সেই সম্পদের জিম্মাদার হয় এবং তা পরিচালনা করে।
* * *
১৬ - এবং তাঁর অন্যতম গুণ হলো: "আল-ওয়াদুদ" (অত্যন্ত প্রেমময়)।
এ বিষয়ে দুটি অভিমত রয়েছে। বলা হয়: এটি 'মাফউল' (কর্ম) অর্থে 'ফাউল' ওজনে এসেছে; যেমন বলা হয়: 'হায়ুব' ব্যক্তি; অর্থাৎ যাকে ভয় করা হয় (মহিব)। এর দ্বারা উদ্দেশ্য হলো: 'মাওদুদ' (যাকে ভালোবাসা হয়)।
আবার বলা হয়: এটি 'ফায়িল' (কর্তা) অর্থে 'ফাউল' ওজনে এসেছে, যেমন আপনার উক্তি: 'গাফুর', যা 'গাফির' (ক্ষমাশীল) অর্থে ব্যবহৃত হয়। অর্থাৎ: তিনি তাঁর নেককার বান্দাদের ভালোবাসেন।
কখনও কখনও গুণবাচক শব্দটি আল্লাহ এবং তাঁর বান্দার জন্য ক্রিয়া হিসেবে আসতে পারে, তখন বলা হয়: "বান্দা আল্লাহর প্রতি অত্যন্ত কৃতজ্ঞ (শাকুর)" অর্থাৎ: সে তাঁর নেয়ামতের শুকরিয়া আদায় করে। এবং "আল্লাহ বান্দার প্রতি অত্যন্ত গুণগ্রাহী (শাকুর)" অর্থাৎ: তিনি তার আমলের প্রতিদান দেন। এবং "বান্দা গুনাহ থেকে আল্লাহর নিকট অত্যন্ত তওবাকারী (তাওয়াব)", আর "আল্লাহ তার তওবা কবুলকারী (তাওয়াব)"।
* * *
১৭- এবং "আল্লাহর কিবরিয়া": তাঁর শ্রেষ্ঠত্ব ও মর্যাদা। এটি 'তাকাব্বারা' শব্দ থেকে এসেছে: যখন কেউ নিজেকে সুউচ্চ করেন।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
গারীবুল কুরআন লিইবনি কুতাইবাহ তা. আহমাদ সাকর
(পৃষ্ঠা: ১৯)
18- و "جَدُّ اللهِ": عَظَمتُه. ومنه قوله: {تَعَالَى جَدُّ رَبِّنَا} (1) .
ومنه يقال في افتتاح الصلاة: "تَبَارَك اسمُك، وتعالَى جَدُّك" (2) .
يقال: جَدَّ الرجلُ في صدور الناس وفي عيونهم، إذا عَظُم. ومنه قول أنسٍ: "كان الرجُل إذا قرأ البقرة وآلَ عمران، جَدَّ فينا" (3) ؛ أي: عَظُم.
19- و "مَجْدُ اللهِ": شرَفُه، وكرَمُه.
20- و "جَبَرُوتُه": تجَبُّرُه؛ أي تعظُّمُه.
21- و "مَلَكُوتُه": مُلْكُه. ويقال: دارُ مُلكِه.
وزيدتْ التاءُ فيهما، كما زيدتْ في "رَهَبُوتٍ" و "رَحَمُوتٍ". تقول العرب: "رَهَبوتٌ خيرٌ من رَحَموتٍ"؛ أي: [أنْ] تُرهَبَ خير من أن تُرحمَ.
* * *
22- و "فَضْلُ اللهِ": عطاؤه. وكذلك "منُّه" هو: عطاؤه. يقال: الله ذو مَنٍّ عظيم. ومنه قوله: {هَذَا عَطَاؤُنَا فَامْنُنْ أَوْ أَمْسِكْ بِغَيْرِ حِسَابٍ} (4) ؛ أي أعط أو أمسك. وقوله: {وَلا تَمْنُنْ تَسْتَكْثِرُ} (5) ؛ أي: لا تعطِ لتأخذ من المكافأة أكثر مما أعطيتَ.
* * *
23- و "حَمْدُ اللهِ": الثناء عليه بصفاته الحسنى. و "شُكْرُه":
--------------------------------------------
১৮- এবং "আল্লাহর জাদ্দ": তাঁর মহানত্ব। এরই অন্তর্ভুক্ত তাঁর বাণী: {আমাদের রবের মহিমা সুউচ্চ} (১)।
এরই অন্তর্ভুক্ত সালাত শুরুর দোয়ায় বলা হয়: "আপনার নাম বরকতময় এবং আপনার মহিমা সুউচ্চ" (২)।
বলা হয়: ব্যক্তিটি মানুষের অন্তরে ও চোখে মহান হয়েছে (জাদ্দা), যখন সে মহানত্ব লাভ করে। এরই অন্তর্ভুক্ত আনাস (রা.)-এর উক্তি: "কোনো ব্যক্তি যখন সূরা আল-বাকারাহ ও আলে ইমরান পাঠ করত, সে আমাদের নিকট মহান হয়ে যেত" (৩); অর্থাৎ: মহান হওয়া।
১৯- এবং "আল্লাহর মাজদ": তাঁর মর্যাদা ও বদান্যতা।
২০- এবং তাঁর "জাবারুত": তাঁর প্রতাপ; অর্থাৎ তাঁর মহানত্ব।
২১- এবং তাঁর "মালাকুত": তাঁর রাজত্ব। বলা হয়: তাঁর রাজত্বস্থল।
এই শব্দ দুটিতে 'তা' অতিরিক্ত যোগ করা হয়েছে, যেমনটি "রাহাবুত" ও "রাহামুত" শব্দে যোগ করা হয়েছে। আরবরা বলে: "রাহাবুত রাহামুত অপেক্ষা উত্তম"; অর্থাৎ: [মানুষের নিকট] ভীতিপ্রদ হওয়া দয়া পাওয়ার পাত্র হওয়ার চেয়ে উত্তম।
* * *
২২- এবং "আল্লাহর ফজল": তাঁর দান। অনুরূপভাবে "মান্নু" অর্থ হলো: তাঁর দান। বলা হয়: আল্লাহ মহান অনুগ্রহের অধিকারী। এরই অন্তর্ভুক্ত তাঁর বাণী: {এটি আমাদের দান, সুতরাং তুমি দান করো অথবা বিরত থাকো কোনো হিসাব ছাড়াই} (৪); অর্থাৎ দান করো অথবা বিরত থাকো। এবং তাঁর বাণী: {এবং তুমি অধিক পাওয়ার আশায় দান করো না} (৫); অর্থাৎ: তুমি যা দিয়েছ তার চেয়ে বেশি প্রতিদান পাওয়ার উদ্দেশ্যে দান করো না।
* * *
২৩- এবং "আল্লাহর হামদ": তাঁর সুন্দর গুণাবলির মাধ্যমে তাঁর প্রশংসা করা। এবং তাঁর "শুকর":
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
গারীবুল কুরআন লিইবনি কুতাইবাহ তা. আহমাদ সাকর
(পৃষ্ঠা: ২০)
الثناء عليه بنعمه وإحسانِه. تقول: "حمِدتُ الرجل": إذا أثنيتَ عليه بكرم وحسب وشجاعة: وأشباهِ ذلك؛ و "شكرتُ له": إذا أثنيتَ عليه بمعروفٍ أَوْلاكَهُ.
وقد يوضعُ الحمدُ موضع الشكر. ولا يوضع الشكرُ موضع الحمد.
* * *
24- و "أسماءُ اللهِ الحُسنى": (1) الرحمنُ، والرحيم، والغفورُ، والشكُورُ؛ وأشباهُ ذلك.
* * *
25- والإلحادُ (2) في أسمائه: [الجورُ عن الحق والعدولُ عنه، وذكرُ] اللاتِ والعُزَّى، وأشباهِ ذلك.
* * *
26- و "مَثَلُه الأعلى" (3) لا إله إلا اللهُ. ومعنى المَثَل -ها هنا- معنى الصفة؛ أي: هذه صفته. وهي أعلى من كل صفة: إذ كانت لا تكون إلا له.
ومِثْل هذا -مما المَثَلُ فيه بمعنى الصفة- قوله في صفة أصحاب رسوله: {ذَلِكَ مَثَلُهُمْ فِي التَّوْرَاةِ} (4) ؛ أي: صِفَتهم. وقوله: {مَثَلُ الْجَنَّةِ الَّتِي وُعِدَ الْمُتَّقُونَ} (5) ؛ أي: صفتُها. وقد بينت هذا في كتاب "الْمُشْكل" (6) .
--------------------------------------------
তাঁর নেয়ামত ও অনুগ্রহের জন্য তাঁর প্রশংসা করা। আপনি বলবেন: "আমি লোকটির প্রশংসা করেছি": যখন আপনি তার দানশীলতা, বংশমর্যাদা, বীরত্ব এবং এই জাতীয় গুণের প্রশংসা করবেন; আর "আমি তার প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছি": যখন আপনি তার পক্ষ থেকে আপনার প্রতি কৃত কোনো উপকারের জন্য তার প্রশংসা করবেন।
কখনো কখনো হামদ (প্রশংসা)-কে শুকর (কৃতজ্ঞতা)-এর স্থলে ব্যবহার করা হয়। তবে শুকর-কে হামদের স্থলে ব্যবহার করা হয় না।
* * *
২৪- এবং "আল্লাহর সুন্দরতম নামসমূহ" হলো: (১) পরম করুণাময়, অসীম দয়ালু, অতি ক্ষমাশীল, গুণগ্রাহী; এবং এই জাতীয় নামসমূহ।
* * *
২৫- এবং তাঁর নামসমূহের ক্ষেত্রে "ইলহাদ" (২) হলো: [সত্য থেকে বিচ্যুত হওয়া ও তা থেকে সরে যাওয়া, এবং] লাত ও উজ্জার নাম উল্লেখ করা এবং এই জাতীয় বিষয়গুলো।
* * *
২৬- এবং "তাঁর সুউচ্চ উদাহরণ" (৩) হলো 'আল্লাহ ছাড়া কোনো সত্য উপাস্য নেই'। এখানে উদাহরণ শব্দের অর্থ হলো 'বৈশিষ্ট্য'; অর্থাৎ: এটি তাঁর বৈশিষ্ট্য। আর এটি প্রতিটি বৈশিষ্ট্যের চেয়ে সুউচ্চ: কারণ এটি কেবল তাঁর জন্যই সাব্যস্ত হয়।
এর অনুরূপ—যেখানে উদাহরণ শব্দটি বৈশিষ্ট্য অর্থে ব্যবহৃত হয়েছে—তাঁর রাসূলের সাহাবীদের বর্ণনায় তাঁর বাণী: {তাওরাতে তাদের উদাহরণ এটিই} (৪); অর্থাৎ: তাদের বৈশিষ্ট্য। এবং তাঁর বাণী: {মুত্তাকীদের যে জান্নাতের ওয়াদা দেওয়া হয়েছে তার উদাহরণ হলো এটি} (৫); অর্থাৎ: এর বৈশিষ্ট্য। আমি এটি "আল-মুশকিলা" (৬) গ্রন্থে স্পষ্ট করেছি।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
গারীবুল কুরআন লিইবনি কুতাইবাহ তা. আহমাদ সাকর
(পৃষ্ঠা: ২১)
بَابُ تَأْوِيلِ حُرُوفٍ كَثُرَتْ فِي الْكِتَابِ1- {الجن} من "الاجْتنان"، وهو الاسْتِتارُ. يقال للدرع: جُنَّةٌ؛ لأنها سترت. ويقال: أجَنَّه الليل؛ أي: جعله من سواده في جُنّة؛ وجَنَّ عليه الليلُ.
وإِنما سموا جِنًّا: لاستتارهم عن أبصار الإنس.
وقال بعض المفسرين في قوله: {فَسَجَدُوا إِلا إِبْلِيسَ كَانَ مِنَ الْجِنِّ فَفَسَقَ عَنْ أَمْرِ رَبِّهِ} (1) ؛ أي: من الملائكة (2) . فسماهم جنًّا: لاجتِنَانهم واستتارهم عن الأبصار.
وقال الأعشى يذكر سليمانَ النبيَّ صلى الله عليه وسلم:
وَسَخَّرَ مِنْ جِنِّ الْمَلائِكِ تِسْعَةً
… قِيَامًا لَدَيْهِ يَعْمَلونَ بِلا أَجْرِ (3)
* * *
2- وسُمي {الإنس} إنسا: لظهورهم، وإدراكِ البصر إياهم. وهو من قولك: آنستُ كذا؛ أي: أبصرتُه. قال الله جل ثناؤه: {إِنِّي آنَسْتُ نَارًا} (4) أي: أبصرت.
--------------------------------------------
কিতাবে বারবার আসা শব্দগুলোর ব্যাখ্যার পরিচ্ছেদ১- {জিন} 'আল-ইজতিনান' থেকে উদ্ভূত, যার অর্থ গোপন হওয়া বা অদৃশ্য হওয়া। ঢালকে 'জুন্নাহ' বলা হয়; কারণ এটি ঢেকে রাখে। বলা হয়: 'রাত তাকে ঢেকে ফেলেছে'; অর্থাৎ রাতের অন্ধকার তাকে একটি আবরণের মধ্যে নিয়ে নিয়েছে; এবং 'রাত তার ওপর ছেয়ে গেছে'।
তাদের 'জিন' নামকরণ করা হয়েছে মানুষের দৃষ্টি থেকে তাদের অদৃশ্য থাকার কারণে।
কিছু মুফাসসির আল্লাহর এই বাণীর ক্ষেত্রে বলেন: {তারা সিজদা করল কিন্তু ইবলিস ব্যতীত, সে ছিল জিনদের অন্তর্ভুক্ত, ফলে সে তার রবের আদেশ অমান্য করল}; অর্থাৎ: ফেরেশতাদের মধ্য থেকে। তাদের 'জিন' নাম দেওয়া হয়েছে দৃষ্টি থেকে তাদের অদৃশ্য ও গোপন থাকার কারণে।
আল-আ'শা নবী সুলাইমান (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর কথা উল্লেখ করে বলেন:
তিনি ফেরেশতা-জিনদের মধ্য থেকে নয়জনকে বশীভূত করেছিলেন … যারা তাঁর সামনে দণ্ডায়মান হয়ে কোনো পারিশ্রমিক ছাড়াই কাজ করত।
* * *
২- আর {ইনস} (মানুষ)-কে 'ইনস' নামকরণ করা হয়েছে তাদের প্রকাশ্যতা এবং দৃষ্টির মাধ্যমে তাদের দেখা যাওয়ার কারণে। এটি আপনার কথা 'আনিসতু কাযা' (আমি এটি প্রত্যক্ষ করেছি) থেকে এসেছে; অর্থাৎ আমি এটি দেখেছি। আল্লাহ তাআলা বলেন: {নিশ্চয়ই আমি আগুন প্রত্যক্ষ করেছি} অর্থাৎ আমি দেখেছি।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
গারীবুল কুরআন লিইবনি কুতাইবাহ তা. আহমাদ সাকর
(পৃষ্ঠা: ২২)
وقد روي عن ابن عباس، أنه قال: إنما سُمي إنسانا: لأنه عُهد إليه فنَسىَ (1) .
وذهب إلى هذا قوم من أهل اللغة. واحتجوا في ذلك بتصغير إنسان وذلك: أن العرب تُصغره "أْنَيْسيان": بزيادة ياء؛ كأن مكبَّره "إنْسِيانٌ" -إفْعِلانٌ- من النِّسيان؛ ثم تُحذف الياء من مكبَّره استخفافا: لكثرة ما يجرى على اللسان؛ فإذا صُغر رجعت الياء وردّ إلى أصله؛ لأنه لا يكثر مصغَّرا كما يكثر مكبَّرا.
والبصريون يجعلونه "فِعْلانًا" على التفسير الأول. وقالوا: زيدت الياء في تصغيره، كما زيدت في تصغير ليلة، فقالوا: لُيَيْلة. وفي تصغير رجل، فقالوا: رُوَيْجل.
* * *
3- وهما {الثقلان} ؛ يعني: الجن والإنس. سميا بذلك (2) لأنهما ثِقْل الأرض، إذ كانت تحملهم أحياء وأمواتا. ومنه قول الله: {وَأَخْرَجَتِ الأرْضُ أَثْقَالَهَا} (3) أي: موتاها. وقالت الخنساء ترثي أخاها:
أبَعْدَ ابنِ عَمْرٍو من آل الشَّرِيـ
… دِ حَلَّتْ به الأرضُ أَثْقَالَهَا (4)
--------------------------------------------
ইবনে আব্বাস থেকে বর্ণিত হয়েছে যে, তিনি বলেছেন: একে ইনসান (মানুষ) নামকরণ করা হয়েছে কেবল এই কারণে যে, তাকে প্রতিশ্রুতি প্রদান করা হয়েছিল কিন্তু সে তা ভুলে গিয়েছিল (১)।
ভাষাবিদদের একটি দল এই মতের দিকে গিয়েছেন। তারা এর সপক্ষে 'ইনসান' শব্দের ক্ষুদ্রার্থবোধক রূপ (তাসগির) দ্বারা দলিল পেশ করেছেন। আর তা হলো: আরবরা এর ক্ষুদ্রার্থবোধক রূপ হিসেবে 'উনাইসিয়ান' ব্যবহার করে; অতিরিক্ত একটি 'ইয়া' যোগ করার মাধ্যমে। যেন এর মূল রূপটি ছিল 'ইনসিয়ান' (ইফ'লান ওজনে), যা 'নিসিয়ান' (বিস্মৃতি) থেকে উদ্ভূত। অতঃপর জিহ্বায় অধিক উচ্চারিত হওয়ার কারণে সহজ করার উদ্দেশ্যে এর মূল রূপ থেকে 'ইয়া' অক্ষরটি বিলুপ্ত করা হয়। কিন্তু যখন শব্দটিকে ক্ষুদ্রার্থবোধক করা হয়, তখন 'ইয়া' অক্ষরটি ফিরে আসে এবং তা তার মূলে প্রত্যাবর্তন করে। কারণ ক্ষুদ্রার্থবোধক রূপটি মূল শব্দের মতো অধিক ব্যবহৃত হয় না।
আর বসরাবাসী ব্যাকরণবিদগণ প্রথম ব্যাখ্যানুযায়ী একে 'ফি'লান' ওজনের গণ্য করেন। তারা বলেন: এর ক্ষুদ্রার্থবোধক রূপে 'ইয়া' অতিরিক্ত যোগ করা হয়েছে, যেমনটি 'লায়লাহ' (রাত) শব্দের ক্ষুদ্রার্থবোধক রূপ করার সময় 'লুয়াইলাহ' এবং 'রাজুল' (ব্যক্তি) শব্দের ক্ষেত্রে 'রুওয়াইজল' বলা হয়।
* * *
৩- আর তারা উভয়ই হলো {সাক্বলান}; অর্থাৎ: জিন ও মানুষ। তাদের এই নামকরণ করা হয়েছে (২) কারণ তারা হলো জমিনের বোঝা, যেহেতু জমিন তাদের জীবিত ও মৃত উভয় অবস্থায় বহন করে। এরই প্রেক্ষিতে আল্লাহর বাণী: {আর জমিন তার বোঝাগুলো বের করে দেবে} (৩) অর্থাৎ: তার মৃতদের। খানসা তার ভাইয়ের শোকগাঁথায় বলেছেন:
আশ-শারীদ বংশের আমর-এর পুত্রের পর কি জমিন তার সমস্ত বোঝা নামিয়ে দিয়েছে (অর্থাৎ তাকে কবরে গ্রহণ করেছে) (৪)
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
গারীবুল কুরআন লিইবনি কুতাইবাহ তা. আহমাদ সাকর
(পৃষ্ঠা: ২৩)
قالوا: حلَّت من التَّحْلِيَة، لا مِنَ الحَلِّ الذي هو ضد العقد. أي: حلَّتْ به موتاها كأنها زيّنتهم به.
* * *
4- و {الملائكة} من الألُوك. وهي الرسالة. وهي المأْلُكَة والمأْلَكَة، ومنه قالت الشعراء: أَلِكْنِي. أي أرسلني. وبمعنى كن رسولي، واحدهم ملك -بترك الهمزة- لكثرة ما يجرى في الكلام، والهمزة في الجمع مؤخرة لأنهم رسل الله.
* * *
5- و (إبليس) فيه قولان: قال أبو عبيدة: هو اسم أعجمي ولذلك لا يصرف. (1) وقال غيره: هو "إفْعِيل" من أبْلَسَ الرجل إذا يَئِسَ. قال الله جل ثناؤه: {أَخَذْنَاهُمْ بَغْتَةً فَإِذَا هُمْ مُبْلِسُونَ} (2) أي: يائسون. [كذلك قال ابن عباس في رواية أبي صالح عنه] ؛ قال: ولما لعنه الله وغضب عليه أبْلَس من رحمته أي: يئس [منها] فسماه [الله عز وجل] إبليس. وكان اسمه عَزَازِيل.
قال: ولم يصرف لأنه لا سَمِيَّ له فاستثقل.
* * *
6- و {الشيطان} تقديره فَيْعَال. والنون من نفس الحرف. كأنه من شَطَنَ أي: بَعُدَ. ومنه يقال شَطَنَتْ دارُه [أي: بعدت] وقَذفَتْه نَوًى [شَطُون] أي: بعيدة. وشياطين الجن: مَرَدَتُهم. وكذلك شياطين الإنس: مَرَدتهم [أيضًا] .
--------------------------------------------
তারা বলেন: এটি ‘তাহলিয়াহ’ (অলঙ্করণ) থেকে এসেছে, ‘হাল্ল’ থেকে নয় যা ‘আকদ’ (গিঁট) এর বিপরীত। অর্থাৎ: সে তার মৃতদের এর মাধ্যমে সজ্জিত করেছে যেন সে তাদের অলঙ্কৃত করেছে।
* * *
৪- এবং {মালাইকাহ} শব্দটি ‘আল-আলুক’ থেকে এসেছে, যার অর্থ বার্তা। এটি ‘মা’লুকাহ’ ও ‘মা’লাকাহ’ হিসেবেও ব্যবহৃত হয়। এ থেকেই কবিরা বলেন: ‘আলিকনী’, অর্থাৎ আমাকে বার্তা দিয়ে পাঠাও বা আমার বার্তাবাহক হও। এদের একবচন হলো ‘মালাক’—কথোপকথনে প্রচুর ব্যবহারের কারণে এতে হামজা বর্জন করা হয়েছে। আর বহুবচনে হামজাটি পিছিয়ে দেওয়া হয়েছে কারণ তারা আল্লাহর বার্তাবাহক।
* * *
৫- এবং (ইবলিস) শব্দের বিষয়ে দুটি মত রয়েছে: আবু উবাইদাহ বলেন: এটি একটি অনারবীয় নাম, এ কারণে এটি রূপান্তরহীন। (১) অন্যরা বলেন: এটি ‘ইফঈল’ ওজনে ‘আবলাসা’ থেকে এসেছে, যার অর্থ হতাশ হওয়া। আল্লাহ জাল্লা সানাউহু বলেন: {আমি তাদের হঠাৎ পাকড়াও করলাম, তখন তারা হতাশ হয়ে পড়ল} (২) অর্থাৎ: নিরাশ। [আবু সালেহ বর্ণিত রেওয়ায়েতে ইবনে আব্বাসও অনুরূপ বলেছেন]; তিনি বলেন: যখন আল্লাহ তাকে লানত দিলেন এবং তার ওপর রাগান্বিত হলেন, তখন সে আল্লাহর রহমত থেকে নিরাশ হয়ে পড়ল, তাই আল্লাহ আজ্জা ওয়া জাল্লা তার নাম রাখলেন ‘ইবলিস’। তার নাম ছিল আজাজিল।
তিনি বলেন: এর কোনো সমজাতীয় নাম না থাকায় উচ্চরণ গুরুভার মনে করে একে রূপান্তরহীন রাখা হয়েছে।
* * *
৬- এবং {শাইতান} শব্দটি ‘ফাইয়াল’ ওজনে গঠিত। এর ‘নূন’ মূল অক্ষরের অংশ। এটি ‘শাতানা’ থেকে এসেছে যার অর্থ: দূরে যাওয়া। এ থেকেই বলা হয় ‘শাতানাত দারুহু’ [অর্থাৎ: তার ঘর দূরে সরে গেছে] এবং ‘শাতুন’ যার অর্থ: দূরবর্তী। আর জিনের শয়তান বলতে তাদের অবাধ্যদের বোঝায়। তেমনি মানুষের শয়তান বলতেও তাদের অবাধ্যদের বোঝানো হয়।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
গারীবুল কুরআন লিইবনি কুতাইবাহ তা. আহমাদ সাকর
(পৃষ্ঠা: ২৪)
كأن المارد منهم يخرج عن جملتهم ويبعد [منهم] لتمرُّده. ومثله قولهم: شَاطِر وشُطَّار. لأنهم كانوا يبعدون عن منازلهم. فسُمِّي بذلك كلُّ من فَعَلَ مثل فعلهم وإن لم يَعْزُب عن أهله. قال طرَفَة:
في القوم الشُّطُرْ (1)
أي: البعداء.
والدليل على أن النون من شيطان من نفس الحرف قول أمية بن أبي الصلت في وصف سليمان النبي صلى الله عليه-:
أَيُّمَا شَاطِنٍ عَصَاهُ عَكَاهُ
… ثُمَّ يُلْقَى في السجْنِ والأغْلالِ (2)
فجاء به على فاعل من شطن.
* * *
7- وقوله {يَتَوَفَّى الأنْفُسَ} (3) هو من استيفاء العدد واستيفاء الشيء إذا استقصيته كله. يقال: توفيته واستوفيته. كما يقال: تيقَّنت الخبر واسْتَيْقَنْتُه، وتثبَّت في الأمر واسْتَثْبَتُه. وهذا [هو] الأصل. ثم قيل للموت: وفاة وتوف.
--------------------------------------------
মনে হয় যেন তাদের মধ্যে বিদ্রোহী ব্যক্তিটি তাদের দল থেকে বের হয়ে যায় এবং তার অবাধ্যতার দরুন [তাদের থেকে] দূরে সরে যায়। তদ্রূপ তাদের কথা: ‘শাতির’ এবং ‘শুত্তার’। কেননা তারা তাদের আবাসস্থল থেকে দূরে অবস্থান করত। ফলে যারা তাদের ন্যায় আচরণ করত, তাদের সকলকেই এই নামে অভিহিত করা হত, যদিও তারা নিজ পরিবার থেকে বিচ্ছিন্ন না হত। তরাফা বলেছেন:
সম্প্রদায়ের দূরবর্তী লোকদের মধ্যে (১)
অর্থাৎ: যারা দূরে অবস্থানকারী।
আর ‘শয়তান’ শব্দের ‘নূন’ যে মূলবর্ণের অংশ, তার প্রমাণ নবী সুলায়মান —তাঁর ওপর শান্তি বর্ষিত হোক— এর বর্ণনায় উমাইয়া ইবনে আবিস সালতের উক্তি:
যে কোনো বিদ্রোহী যে তাঁর অবাধ্যতা করত, তিনি তাকে আষ্টেপৃষ্ঠে বাঁধতেন … অতপর তাকে কারাগারে ও শৃঙ্খলে নিক্ষেপ করা হত (২)
এখানে তিনি এটি ‘শাতানা’ ধাতু থেকে ‘ফা-য়িল’ ছাঁচে ব্যবহার করেছেন।
* * *
৭- এবং তাঁর বাণী {তিনি প্রাণসমূহ গ্রহণ করেন} (৩) এটি সংখ্যা পূর্ণ করা এবং কোনো বস্তুকে পূর্ণরূপে গ্রহণ করা থেকে এসেছে যখন আপনি তা পুরোপুরি আয়ত্ত করেন। বলা হয়ে থাকে: ‘তাওয়াফফাইতুহু’ এবং ‘ইস্তাওফাইতুহু’। যেমন বলা হয়: ‘তায়াক্কানতুল খাবার’ (আমি সংবাদটি নিশ্চিতভাবে জেনেছি) এবং ‘ইস্তাইকানতুহু’, এবং ‘তাথাব্বাত্তু ফিল আমর’ (আমি বিষয়টি যাচাই করেছি) ও ‘ইস্তাসবাত্তুহু’। আর এটাই হলো মূল ভিত্তি। অতপর মৃত্যুকে ‘ওয়াফাত’ এবং ‘তাওয়াফফি’ বলা হয়েছে।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
গারীবুল কুরআন লিইবনি কুতাইবাহ তা. আহমাদ সাকর
(পৃষ্ঠা: ২৫)
والعرب تسمى الدم نفسا لاتصال النفس به على مذهبهم في تسمية الشيء بما اتصل به أو جاوره أو كان سببا له.
ويقولون: نَفِسَت المرأة: إذا حاضت كأنها دَمِيَت. وقال أصحاب اللغة: وإنما سمِّيت المرأة نُفَسَاء لسيلان الدم.
وقال إبراهيم (1) : كل شيء ليست له نفس سائلة فإنه لا ينجس الماء إذا سقط فيه. يريد كل شيء ليس له دم سائل.
وتسمى العرب النفس نسمة. وأصل النسمة النفس. وروي في بعض الحديث "تَنَكَّبُوا الغبار فإن منه تكون النسمة" (2) يراد منه يكون النفس.
والربو سمي نفسًا لأنه عن النفس يكون.
والعرب تقول: مات فلان حتف نفسه، وحتف أنفه إذا مات على فراشه؛ لأنه لا يزال يتنفس حتى يموت فتخرج نفْسُه نَفَسًا من أَنفه وفمه.
* * *
8- و {يَوْمَ يُنْفَخُ فِي الصُّورِ} (3) قال أبو عبيدة: وهو جمع صُورَة. يقال: صُورَة وصُوَر وصَوَر.
قال: ومثله سُورَةُ البناء وسُورُه. وأنشد:
--------------------------------------------
আরবরা রক্তকে ‘নাফস’ (প্রাণ) নামে অভিহিত করে। এর কারণ তাদের রীতি অনুযায়ী কোনো বস্তুকে তার সাথে সংশ্লিষ্ট, সংলগ্ন অথবা তার কারণ হিসেবে বিদ্যমান বিষয়ের নামে নামকরণ করা।
তারা বলে: নারী ঋতুবতী হয়েছে (নাফিসাতিল মারআতু), যেন সে রক্তক্ষরণ করেছে। ভাষাবিদগণ বলেন: রক্ত প্রবাহিত হওয়ার কারণেই প্রসূতি নারীকে ‘নুফাসা’ বলা হয়।
ইবরাহিম (১) বলেন: প্রতিটি বস্তু যার প্রবাহমান প্রাণ (রক্ত) নেই, তা পানির মধ্যে পড়লে পানিকে অপবিত্র করে না। তিনি এর দ্বারা এমন প্রতিটি বস্তু বুঝিয়েছেন যার প্রবাহমান রক্ত নেই।
আরবরা প্রাণকে ‘নাসামাহ্’ বলে অভিহিত করে। আর ‘নাসামাহ্’-এর মূল উৎস হলো ‘নাফস’ (শ্বাস-প্রশ্বাস)। কোনো কোনো হাদিসে বর্ণিত হয়েছে, “তোমরা ধূলিবালি থেকে দূরে থাকো, কেননা তা থেকে ‘নাসামাহ্’ সৃষ্টি হয়” (২); এর অর্থ হলো শ্বাস-প্রশ্বাসের কষ্ট বা হাঁপানি সৃষ্টি হয়।
হাঁপানিকেও ‘নাফাস’ বলা হয় কারণ এটি শ্বাস-প্রশ্বাস থেকে উদ্ভূত হয়।
আরবরা বলে: অমুক ব্যক্তি স্বাভাবিক মৃত্যু বরণ করেছে (হাতফু নাফসিহি), কিংবা ‘হাতফু আনফিহি’ (নাক বরাবর মৃত্যু), যখন সে তার বিছানায় মৃত্যুবরণ করে। কারণ সে মৃত্যু পর্যন্ত শ্বাস নিতে থাকে, অতঃপর তার প্রাণ শ্বাস হিসেবে তার নাক ও মুখ দিয়ে বের হয়ে যায়।
* * *
৮- এবং {যেদিন শিঙায় ফুঁৎকার দেওয়া হবে} (৩); আবু উবাইদাহ বলেন: এটি ‘সুরাহ’ (আকৃতি) শব্দের বহুবচন। বলা হয়ে থাকে: সুরাহ, সুওয়ার এবং সাওয়ার।
তিনি বলেন: এর উদাহরণ হলো দালানের স্তর বা দেয়াল এবং তার বেষ্টনী। তিনি কাব্য আবৃত্তি করেন:
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
গারীবুল কুরআন লিইবনি কুতাইবাহ তা. আহমাদ সাকর
(পৃষ্ঠা: ২৬)
سُرْتُ إليه في أَعَالِي السُّورِ (1)
قال: وسور المجد أعاليه. أي ينفخ في صُوَرِ الناس.
وقال غيره: الصُّور القَرْن بلغة قوم من أهل اليمن، وأنشد:
نَحْنُ نَطَحْناهمْ غَداةَ الْجَمعَيْن
… بالضَّابِحَاتِ في غُبارِ النَّقْعَين (2)
نَطْحًا شدِيدًا لا كَنَطحِ الصُّورَين
وهذا أعجب إليَّ من القول الأول (3) لقول رسول الله صلى الله عليه وعلى آله (4) : "كيف أَنْعَمُ وصاحب القرْن قد التَقَمه وحنَى جبْهَته، ينتظر متى يؤْمر فينفخ" (5) .
* * *
9- و (اللَّعنُ) في اللغة أصله الطّرْد. ولعن الله إبليس: طرده حين قال: {اخْرُجْ مِنْهَا مَذْءُومًا} (6) ثم انتقل ذلك فصار قولا. قال الشماخ: -وذكر ماء-
--------------------------------------------
আমি দেয়ালের উচ্চতায় তাঁর দিকে লাফিয়ে উঠলাম (১)
তিনি বলেছেন: গৌরবের প্রাচীর হলো এর উচ্চতা। অর্থাৎ মানুষের আকৃতিসমূহে ফুঁ দেওয়া হবে।
অন্য একজন বলেছেন: ইয়ামেনের একটি গোত্রের ভাষায় 'সুর' অর্থ হলো 'শিঙা', আর তিনি আবৃত্তি করেছেন:
আমরা দুই দলের সমাবেশের সকালে তাদের ওপর আঘাত হেনেছি... ধূলিকণার মাঝে হাঁপাতে থাকা ঘোড়াগুলোর মাধ্যমে (২)
এক প্রবল আঘাত, যা দুই শিঙাধারীর আঘাতের মতো নয়
আর প্রথম মতের চেয়ে এটিই আমার কাছে অধিক পছন্দনীয় (৩), আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়া সাল্লাম)-এর বাণীর কারণে (৪): "আমি কীভাবে সুখে থাকতে পারি অথচ শিঙার অধিপতি তা মুখে নিয়েছেন এবং স্বীয় কপাল নত করেছেন, তিনি কখন আদিষ্ট হবেন এবং ফুঁ দেবেন সেই অপেক্ষায় রয়েছেন" (৫)।
* * *
৯- এবং (লা'নাত) আভিধানিক অর্থে এর মূল হলো বিতাড়ন। আল্লাহ ইবলিসকে লানত করেছেন: অর্থাৎ তাকে বিতাড়িত করেছেন যখন তিনি বলেছিলেন: {এখান থেকে লাঞ্ছিত অবস্থায় বের হয়ে যাও} (৬) তারপর তা কথায় রূপান্তরিত হয়েছে। আশ-শাম্মাখ বলেছেন: -এবং তিনি পানির কথা উল্লেখ করেছেন-
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
গারীবুল কুরআন লিইবনি কুতাইবাহ তা. আহমাদ সাকর
(পৃষ্ঠা: ২৭)
ذَعَرْتُ به القَطَا وَنَفَيْتُ عنه
… مَقَامَ الذِّئْبِ كالرَّجُلِ الُلَّعِينِ (1)
أراد مقام الذئب اللعين. أي الطريد كالرَّجُل. فكأن القائل: لعنه الله، أراد طردَه الله عنه، باعده الله منه، أسحقه الله، هذا أو نحوه.
* * *
10- و (الشِّرْك) في اللغة مصدر شَرِكْتُه في الأمر أشْرَكُه، وفي الحديث: أن مُعَاذا أجاز بين أهل اليمن الشِّرْك (2) . يراد في المزارعة أن يشترك فيها رجلان أو ثلاثة. فكان الشِّرْكَ بالله هو أن يجعل له شريك قال: {وَمَا يُؤْمِنُ أَكْثَرُهُمْ بِاللَّهِ إِلا وَهُمْ مُشْرِكُونَ} (3) .
قال أبو عُبَيْدَة: كانت تَلْبِيَةُ أهل الجاهلية: لَبَّيْكَ لا شرِيك لك إلا شريك هُوَ لَكَ تَمْلِكُهُ وما مَلَكَ (4) . فأنزل الله هذه الآية.
* * *
11- و (الجَحْدُ) في اللغة: إنكارك بلسانك ما تَسْتَيْقِنهُ نَفْسُك. قال الله جل ثناؤه: {وَجَحَدُوا بِهَا وَاسْتَيْقَنَتْهَا أَنْفُسُهُمْ} (5) وقال: {فَإِنَّهُمْ لا يُكَذِّبُونَكَ وَلَكِنَّ الظَّالِمِينَ بِآيَاتِ اللَّهِ يَجْحَدُونَ} (6) يريد أنهم لا يَنْسبُونَكَ إلى الكذب في قراءة من قرأ "يُكَذِّبُونَك" بالتشديد. ومن قرأ "يُكْذِبونك"
--------------------------------------------
আমি এর দ্বারা কাতা পাখিকে ভীত করলাম এবং তার থেকে দূর করলাম
... অভিশপ্ত ব্যক্তির মতো নেকড়ের অবস্থানকে (১)।
তিনি অভিশপ্ত নেকড়ের অবস্থান বুঝিয়েছেন। অর্থাৎ মানুষের মতো বিতাড়িত। যেন বক্তা যখন বলেন: আল্লাহ তাকে অভিশাপ দিয়েছেন, তখন তিনি উদ্দেশ্য করেন: আল্লাহ তাকে তার থেকে তাড়িয়ে দিয়েছেন, আল্লাহ তাকে তার থেকে দূরে সরিয়ে দিয়েছেন, আল্লাহ তাকে ধ্বংস করেছেন, এটি বা এই জাতীয় কিছু।
* * *
১০- এবং অভিধানে (শির্ক) শব্দটি 'আমি কোনো বিষয়ে তার অংশীদার হলাম' অর্থে ব্যবহৃত ক্রিয়ামূল থেকে আগত। আর হাদিসে বর্ণিত হয়েছে যে, মুআয (রা.) ইয়ামেনবাসীদের মধ্যে শির্ক (অংশীদারিত্বের) অনুমতি দিয়েছিলেন (২)। এর দ্বারা বর্গাচাষে দুই বা তিনজন ব্যক্তির অংশীদার হওয়াকে বুঝানো হয়েছে। সুতরাং আল্লাহর সাথে শির্ক করা হলো তাঁর জন্য কোনো অংশীদার সাব্যস্ত করা। তিনি বলেছেন: {তাদের অধিকাংশ আল্লাহর প্রতি বিশ্বাস স্থাপন করে না, কিন্তু তারা শিরক করে} (৩)।
আবু উবায়দাহ বলেন: জাহেলি যুগের লোকদের তালবিয়াহ ছিল: "লাব্বাইক, আপনার কোনো শরিক নেই, তবে এমন শরিক যা আপনারই; আপনি তার এবং তার মালিকানাধীন সবকিছুর মালিক" (৪)। তখন আল্লাহ এই আয়াতটি নাজিল করেন।
* * *
১১- এবং অভিধানে (জাহদ) হলো: তোমার মনে যে বিষয়ে দৃঢ় বিশ্বাস রয়েছে, তা মুখে অস্বীকার করা। আল্লাহ তাআলা বলেছেন: {তারা অন্যায় ও অহংকারবশত সেগুলো অস্বীকার করল, যদিও তাদের অন্তর সেগুলো সত্য বলে নিশ্চিত ছিল} (৫)। এবং তিনি বলেছেন: {তারা তো আপনাকে মিথ্যাবাদী বলে না, বরং জালিমরা আল্লাহর আয়াতসমূহকে অস্বীকার করে} (৬)। এর অর্থ হলো, যারা ‘ইউকাযযিবুনাকা’ (তাসদিদসহ) পাঠ করেছেন তাদের কিরাত অনুযায়ী—তারা আপনাকে মিথ্যার দিকে সম্বন্ধযুক্ত করে না। আর যারা ‘ইউকযিবুনাকা’ পাঠ করেছেন—
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
গারীবুল কুরআন লিইবনি কুতাইবাহ তা. আহমাদ সাকর
(পৃষ্ঠা: ২৮)
بالتخفيف، أراد: لا يجدونك كذابا ولكنهم بآيات الله يجحدون. أي ينكرونها بألسنتهم وهم مستيقنون [أنك] لم تكذب ولم تأت بها إلا عن الله تبارك اسمه.
* * *
12- و (الكُفْرُ) في اللغة من قولك كَفَرْتُ الشيءَ إذا غَطَّيته. يقال لليل كافر لأنه يستر بظلمته كل شيء. ومنه قول الله عز وجل: {كَمَثَلِ غَيْثٍ أَعْجَبَ الْكُفَّارَ نَبَاتُهُ} (1) يريد بالكُفَّار الزُّرَّاع. سمّاهم كفّارًا لأنهم إذا ألقوا البذر في الأرض كفَرُوه أي: غطوه وستروه، فكأن الكافر ساتر للحق وساتر لنعم الله عز وجل.
* * *
13- و (الظلم) في اللغة وضع الشيء غير موضعه.
ومنه ظُلْمُ السِّقَاءِ وهو شُرْبُهُ قبل الإدْرَاك؛ لأنَّه وضع الشُّرْب غيرَ موضعه.
وظلم الجَزُورِ وهو نَحْرُه لغير عِلَّة.
ومنه يقال: من أشبه أباه فما ظَلَمَ (2) أي: ما وضع الشبه غير موضعه. ومنه قول النابغة:
والنُّؤْيُ كالحَوْضِ بالمَظْلُومَةِ الجَلَدِ (3)
--------------------------------------------
সহজ পাঠরীতিতে, তিনি বুঝিয়েছেন: তারা আপনাকে মিথ্যাবাদী মনে করে না, বরং তারা আল্লাহর আয়াতসমূহকে অস্বীকার করে। অর্থাৎ তারা তাদের জিহ্বা দিয়ে তা অস্বীকার করে, অথচ তারা নিশ্চিতভাবে জানে যে [আপনি] মিথ্যা বলেননি এবং আপনি আল্লাহর পক্ষ থেকেই তা নিয়ে এসেছেন—যাঁর নাম বরকতময়।
* * *
১২- আর ভাষাতত্ত্বে 'কুফর' (অবিশ্বাস/আচ্ছাদন) শব্দটি আপনার উক্তি 'আমি বস্তুটি ঢেকে দিয়েছি' থেকে এসেছে যখন আপনি কোনো কিছুকে আচ্ছাদিত করেন। রাতকে 'কাফির' (আচ্ছাদনকারী) বলা হয় কারণ এটি তার অন্ধকার দিয়ে সবকিছুকে ঢেকে ফেলে। আর এ থেকেই মহান আল্লাহর বাণী: {বৃষ্টির ন্যায়, যার উৎপন্ন ফসল কৃষকদের মুগ্ধ করে} (১) এখানে 'কাফিরুন' দ্বারা কৃষকদের বুঝিয়েছেন। তিনি তাদের 'কাফির' নামকরণ করেছেন কারণ তারা যখন জমিতে বীজ বপন করে তখন তারা তা ঢেকে দেয় অর্থাৎ আচ্ছাদিত ও গোপন করে। সুতরাং কাফির যেন সত্যকে গোপনকারী এবং মহান আল্লাহর নিয়ামতকে গোপনকারী।
* * *
১৩- আর ভাষাতত্ত্বে 'যুলুম' (অন্যায়) হলো কোনো বস্তুকে তার অযোগ্য স্থানে রাখা।
আর এ থেকেই 'মশকের প্রতি অবিচার' কথাটি এসেছে, যা হলো দই জমার আগেই তা পান করা; কারণ সে পান করার কাজটিকে তার সঠিক সময়ের বাইরে (ভুল স্থানে) রেখেছে।
আর 'উটের প্রতি অবিচার' হলো কোনো কারণ বা রোগ ছাড়াই তাকে যবেহ করা।
আর এ থেকেই বলা হয়: যে ব্যক্তি তার পিতার সদৃশ হলো, সে যুলুম করেনি (২) অর্থাৎ সে সাদৃশ্যকে ভুল জায়গায় স্থাপন করেনি। আর এ থেকেই নাবিগার উক্তি:
আর পরিখাটি যেন শক্ত ও 'মাজলুমা' (অনাবাদি) জমিনের একটি হাউজ (৩)
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
গারীবুল কুরআন লিইবনি কুতাইবাহ তা. আহমাদ সাকর
(পৃষ্ঠা: ২৯)
والمظلومة: الأرض التي حُفِرَ فيها ولم تكن موضع حفْر. سميت بذلك لأن الحفر وُضِع غير موضعه.
فكأَن الظالم هو الذي أزال الحق عن جهته وأخذ ما ليس له، هذا وما أشبهه.
ثم يتفرع من الظلم معان قد ذكرتها في كتاب "تأويل المشكل" (1) .
* * *
14- و (الفِسْقُ) في اللغة: الخروج عن الشيء. ومنه قول الله جل وعز: {إِلا إِبْلِيسَ كَانَ مِنَ الْجِنِّ فَفَسَقَ عَنْ أَمْرِ رَبِّهِ} (2) أي خرج من طاعته. قال الفراء: ومنه يقال فَسَقَت الرُّطَبَةُ: إذا خرجت من قشرها.
* * *
15- و (النِّفَاق) في اللغة مأخوذ من نافِقاء اليَرْبُوعِ وهو جُحْر من جِحَرتِه يخرج منه إذا أخذ عليه الجُحْر الذي دخل فيه. فيقال: قد نَفَقَ ونافَق، شبِّه بفعل اليربوع؛ لأنه يدخل من باب ويخرج من باب. وكذلك المنافق يدخل في الإسلام باللفظ ويخرج منه بالعقد. وقد ذكرت هذا في كتاب "غريب الحديث" بأكثر من هذا البيان.
والنفاق لفظ إسلامي لم تكن العرب قبل الإسلام تعرفه (3) .
--------------------------------------------
'আল-মাজলুমাহ' (অবিচারিত ভূমি): এমন জমি যা খনন করা হয়েছে অথচ তা খননের স্থান ছিল না। একে এই নামে অভিহিত করা হয়েছে কারণ খনন কার্যটি তার সঠিক স্থানের পরিবর্তে অন্য স্থানে করা হয়েছে।
যেন জালেম (অত্যাচারী) সেই ব্যক্তি যে সত্যকে তার সঠিক পথ থেকে বিচ্যুত করে এবং যা তার নয় তা গ্রহণ করে, এটি এবং এর সদৃশ বিষয়গুলো।
অতঃপর 'জুলুম' থেকে আরও কিছু অর্থ নির্গত হয় যা আমি "তাউয়িলুল মুশকিল" (১) কিতাবে উল্লেখ করেছি।
* * *
১৪- আর অভিধানে (আল-ফিসক) অর্থ: কোনো কিছু থেকে বের হয়ে যাওয়া। এ থেকেই মহান ও পরাক্রমশালী আল্লাহর বাণী: "তবে ইবলিস ব্যতীত; সে ছিল জিনদের অন্তর্ভুক্ত এবং সে তার রবের আদেশ অমান্য করল (বের হয়ে গেল)" (২) অর্থাৎ তার আনুগত্য থেকে বের হয়ে গেল। আল-ফাররা বলেছেন: এ থেকেই বলা হয় খেজুর 'ফাসাকাত' (ফেটে বের হওয়া): যখন তা তার খোসা থেকে বের হয়ে যায়।
* * *
১৫- আর অভিধানে (আন-নিফাক) শব্দটি ইয়ারবু'র (মরু-ইঁদুর) 'নাফিকা' থেকে গৃহীত, যা তার গর্তগুলোর মধ্যে এমন একটি গর্ত যা দিয়ে সে বের হয়ে যায় যখন তার সেই গর্তটি অবরুদ্ধ করা হয় যেটিতে সে প্রবেশ করেছিল। তখন বলা হয়: সে 'নাফাকা' ও 'নাফাকা' করল। এটি ইয়ারবু'র আচরণের সাথে তুলনা করা হয়েছে; কারণ সে এক দরজা দিয়ে প্রবেশ করে এবং অন্য দরজা দিয়ে বের হয়। অনুরূপভাবে মুনাফিক মৌখিক উচ্চারণের মাধ্যমে ইসলামে প্রবেশ করে এবং বিশ্বাসের (অন্তরের সংকল্পের) মাধ্যমে তা থেকে বের হয়ে যায়। আমি এটি "গারিবুল হাদিস" কিতাবে এর চেয়েও বিস্তারিত বর্ণনা করেছি।
আর নিফাক একটি ইসলামি পরিভাষা যা ইসলামপূর্ব আরবরা জানত না (৩)।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
গারীবুল কুরআন লিইবনি কুতাইবাহ তা. আহমাদ সাকর
(পৃষ্ঠা: ৩০)
* * *
16- و (البُهْتَانُ) من بَهت الرجلَ إذا واجهته بالباطل.
* * *
17- و (العُدْوَان) من عَدَوْت وتَعَدَّيت على الرجل. والعَدَاء: الظلم.
* * *
18- و (الخُسْرَان) النُّقْصَان. وكذلك الخُسْرُ، ويكون بمعنى الهلَكة. قال الله تعالى: {وَأُولَئِكَ هُمُ الْخَاسِرُونَ} (1) أي الهالكون: وقال: {فَمَا تَزِيدُونَنِي غَيْرَ تَخْسِيرٍ} (2) أي هلكة، وقال في موضع آخر: {وَمَا زَادُوهُمْ غَيْرَ تَتْبِيبٍ} (3) أي هلكة.
* * *
19- و (الإفْكُ) الكذب، لأنه كلام قُلِبَ عن الحق. وأصله من أفَكْتُ الرجلَ إذا صرفته عن رأي كان عليه. ومنه قيل لمدائن قوم لوط: {المؤتفكات} (4) لانقلابها. ومنه قول الله جل وعز: {فَأَنَّى تُؤْفَكُونَ} (5) أي: من أين تحرمون وتُصْرفون عن الحق، قال الشاعر:
إنْ تَكُ عَنْ أَحْسَنِ الصَّنِيعَة مَأْ
… فُوكًا فَفِي آخَرِين قَدْ أُفِكُوا (6)
--------------------------------------------
১৬- এবং (বুহতান) শব্দটি 'বাহাতা' থেকে উদ্ভূত, যার অর্থ হলো কারো সামনে মিথ্যা নিয়ে উপস্থিত হওয়া।
* * *
১৭- এবং (উদওয়ান) শব্দটি 'আদাওতু' এবং 'তাআদ্দাইতু' থেকে এসেছে যার অর্থ কারো প্রতি সীমালঙ্ঘন করা। আর 'আদা' অর্থ হলো জুলুম।
* * *
১৮- এবং (খুস রান) অর্থ হলো ঘাটতি বা হ্রাস পাওয়া। অনুরূপভাবে 'খুসর' শব্দটিও ব্যবহৃত হয়, আর এটি বিনাশ বা ধ্বংস অর্থেও আসে। আল্লাহ তাআলা বলেছেন: {আর তারাই হলো ক্ষতিগ্রস্ত} (১) অর্থাৎ ধ্বংসপ্রাপ্ত। তিনি আরও বলেছেন: {তোমরা আমার বিনাশ বৃদ্ধি করা ছাড়া আর কিছুই করছ না} (২) অর্থাৎ ধ্বংস। তিনি অন্য স্থানে বলেছেন: {তারা তাদের বিনাশই বৃদ্ধি করেছিল} (৩) অর্থাৎ ধ্বংস।
* * *
১৯- এবং (ইফক) অর্থ হলো মিথ্যা, কারণ এটি এমন কথা যা সত্য থেকে বিচ্যুত বা বিবর্তিত। এর মূল হলো 'আফাকতু' যখন তুমি কাউকে তার পূর্বের কোনো মতামত থেকে ফিরিয়ে দাও। এ থেকেই লুত সম্প্রদায়ের জনপদসমূহকে 'মুতাফাকাত' (৪) বলা হয়েছে তাদের উল্টে যাওয়ার কারণে। এ থেকেই মহান ও পরাক্রমশালী আল্লাহর বাণী: {সুতরাং তোমাদেরকে কোথায় ফিরিয়ে নেয়া হচ্ছে} (৫) অর্থাৎ কোথা থেকে তোমরা বঞ্চিত হচ্ছ এবং সত্য থেকে বিচ্যুত হচ্ছ। কবি বলেছেন:
যদি তুমি উত্তম কাজ করা থেকে বিচ্যুত হও, তবে
… তোমার মতো আরও অনেকে আছে যারা বিচ্যুত হয়েছে। (৬)
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
গারীবুল কুরআন লিইবনি কুতাইবাহ তা. আহমাদ সাকর
(পৃষ্ঠা: ৩১)
أي: إن تك عن أحسن الصنيعة مَعدُولا.
* * *
20- وكذلك (الفجور) هو الميل عن الحق إلى الباطل. ويقال للكذب أيضا: فجور، وهو الميل عن الصدق.
* * *
21- و (الافْتِرَاء) الاختلاق، قال الله تعالى: {وَلَكِنَّ الَّذِينَ كَفَرُوا يَفْتَرُونَ عَلَى اللَّهِ الْكَذِبَ} (1) أي: يختلقونه. ومنه قيل: افترى فلان على فلان، إذا قذفه بما ليس فيه، أو قذف أبويه.
* * *
22- (إقامة الصّلاة) إدامتها لأوقاتها. والعرب تقول: قامت السوق وأقمتها: إذا أدمتها ولم أعطلها. قال الشاعر:
أقَامَتْ غَزَالَةُ سُوقَ الضِّرَابِ
… لأهْلِ العِراقَيْنِ حَوْلا قَمِيطًا (2)
ويقولون في خلاف ذلك: نامت السوق، إذا عطلت أو كسدت.
* * *
23- و (التَّزْكِيَةُ) من الرسول صلى الله عليه وسلم وعلى آله، أَخْذُ الزكاة. قال: {يَتْلُو عَلَيْكُمْ آيَاتِنَا وَيُزَكِّيكُمْ} (3)
وأصل الزكاة النَّماء والزيادة. ومنه قيل للصدقة عن المال: زكاة لأنها
--------------------------------------------
অর্থাৎ: আপনি যদি সর্বোত্তম কাজ থেকে বিমুখ হন।
* * *
২০- অনুরূপভাবে 'ফুরজ' (পাপাচার) হলো সত্য থেকে বিচ্যুত হয়ে মিথ্যার দিকে ঝুঁকে পড়া। মিথ্যাকেও 'ফুজুর' বলা হয়, আর তা হলো সত্যবাদিতা থেকে বিচ্যুতি।
* * *
২১- আর 'ইফতিরা' (মিথ্যা আরোপ) হলো উদ্ভাবন বা বানোয়াট কিছু বলা। আল্লাহ তাআলা বলেছেন: "বরং যারা কুফরি করেছে তারা আল্লাহর ওপর মিথ্যারোপ করে" (১) অর্থাৎ: তারা তা উদ্ভাবন করে। এ থেকেই বলা হয়: অমুক ব্যক্তি অমুকের ওপর অপবাদ দিয়েছে, যখন সে তাকে এমন কোনো বিষয়ে অভিযুক্ত করে যা তার মধ্যে নেই, অথবা তার পিতামাতাকে গালি দেয়।
* * *
২২- 'সালাত কায়েম করা' হলো নির্দিষ্ট সময়ে নিয়মিতভাবে তা আদায় করা। আরবরা বলে থাকে: বাজার জমে উঠেছে বা আমি তা জমিয়েছি; যখন আমি তা চালু রাখি এবং বন্ধ হতে দিই না। কবি বলেছেন:
গাজালা যুদ্ধের বাজার জমিয়ে তুলেছিল... দুই ইরাকবাসীর জন্য পূর্ণ এক বছর পর্যন্ত (২)
এর বিপরীতে তারা বলে থাকে: বাজার ঘুমিয়ে পড়েছে; যখন তা বন্ধ হয়ে যায় বা মন্দা দেখা দেয়।
* * *
২৩- আর রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়া সাল্লাম-এর পক্ষ থেকে 'তাযকিয়াহ' হলো যাকাত গ্রহণ করা। আল্লাহ তাআলা বলেছেন: "সে তোমাদের নিকট আমাদের আয়াতসমূহ তিলাওয়াত করে এবং তোমাদের পবিত্র করে" (৩)
মূলত যাকাত শব্দের অর্থ হলো প্রবৃদ্ধি ও বৃদ্ধি। এ কারণেই সম্পদের সাদাকাকে যাকাত বলা হয় কারণ তা সম্পদের বরকত বৃদ্ধি করে।
--------------------------------------------