(খণ্ড: ১) আদ দুররুল মানযূম মিন কালামিল মুসতাফা আল মাসূম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম (পৃষ্ঠা: -)
الدر المنظوم من كلام المصطفى المعصوم صلى الله عليه وسلم   (علاء الدين مغلطاي)

القسم: كتب السنة


الكتاب: الدر المنظوم من كلام المصطفى المعصوم صلى الله عليه وسلم

المؤلف: علاء الدين مغلطاي البكجري الحنفي (المولود سنة 689 هـ، والمتوفى سنة 762 هـ)

الناشر: بدون

إشراف ومراجعة: محمد عوامة

تقديم وتعليق: حسن عبجي

عدد الصفحات: 570

أعده للشاملة: رابطة النساخ، تنفيذ (مركز النخب العلمية)، وبرعاية (أوقاف عبد الله بن تركي الضحيان الخيرية)

[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]

تاريخ النشر بالشاملة: 20 صفر 1440

মাসুম মুস্তাফা সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের বাণী হতে সুবিন্যস্ত মুক্তামালা   (আলাউদ্দিন মুগলতাই)

বিভাগ: সুন্নাহর কিতাবসমূহ


বই: মাসুম মুস্তাফা সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের বাণী হতে সুবিন্যস্ত মুক্তামালা

লেখক: আলাউদ্দিন মুগলতাই আল-বাকজারি আল-হানাফি (জন্ম ৬৮৯ হিজরি, এবং মৃত্যু ৭৬২ হিজরি)

প্রকাশক: নেই

তত্ত্বাবধান ও পর্যালোচনা: মুহাম্মদ আওয়ামাহ

ভূমিকা ও টীকা: হাসান আবজি

পৃষ্ঠা সংখ্যা: ৫৭০

শামেলার জন্য প্রস্তুত করেছে: রাবিতাতুন নুসসাখ, বাস্তবায়নে (মারকাজুন নুখাব আল-ইলমিয়্যাহ), এবং পৃষ্ঠপোষকতায় (আব্দুল্লাহ বিন তুর্কি আদ-দুহায়ান চ্যারিটেবল ট্রাস্ট)

[বইটির পৃষ্ঠাসংখ্যা মুদ্রিত কপির সাথে মিলপূর্ণ]

শামেলায় প্রকাশের তারিখ: ২০ সফর ১৪৪০

(খণ্ড: ১) আদ দুররুল মানযূম মিন কালামিল মুসতাফা আল মাসূম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম (পৃষ্ঠা: -)
الدر المنظوم من كلام المصطفى المعصوم صلى الله عليه وسلم

 

تأليف

الإمام الحافظ علاء الدين مغلطاي البكجري الحنفي

(المولود سنة 689 هـ، والمتوفى سنة 762 هـ) رحمه الله تعالى

 

إشراف ومراجعة

محمد عوامة

 

تقديم وتعليق

حسن عبجي
নিষ্পাপ মুস্তাফা (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর বাণীসমূহ হতে সুসংবদ্ধ মুক্তামালা

 

রচনা

ইমাম হাফেজ আলাউদ্দীন মুগলতাই আল-বাকজারি আল-হানাফি

(যিনি ৬৮৯ হিজরি সনে জন্মগ্রহণ করেন এবং ৭৬২ হিজরি সনে মৃত্যুবরণ করেন) আল্লাহ তাআলা তাঁর ওপর রহমত বর্ষণ করুন

 

তত্ত্বাবধান ও পর্যালোচনা

মুহাম্মদ আওয়ামাহ

 

উপস্থাপনা ও টীকা

হাসান আবজি
(খণ্ড: ১) আদ দুররুল মানযূম মিন কালামিল মুসতাফা আল মাসূম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম (পৃষ্ঠা: ٥)
بسم الله الرحمن الرحيم

الحمد لله رب العالمين، والصلاة والسلام الأتمان الأكملان على سيد الأنبياء وخاتم المرسلين، سيدنا ونبينا محمد بن عبد الله، وعلى آله وصحابته أجمعين، والتابعين لهم بإحسان إلى يوم الدين.

وبعد:

فإنَّ من خيرِ ما صنّفَ فيه المصنفون: أحاديثَ الأحكام، إذ هي أدلة الفقه وعليها يَسْتند، وبها تُعرف الأحكام ومنها تُسْتَمدّ، وبها يُعبد الرب على بصيرة.

لذلك فقد أولاها العلماء اهتمامًا بالغًا، وصنفوا فيها التصانيف المختلفة: فمنهم من أسهب، ومنهم من اختصر، ومنهم من توسط.

فمن الذين أسهبوا -بل أولهم-: الإمام الحافظ عبد الحق بن عبد الرحمن بن عبد الله الأزدي الإشبيلي، أبو محمد، المعروف بابن الخَرَّاط -ت 581 هـ- حيث ألف فيه "الأحكام الكبرى"، جاء في مقدمة "تحفة الأحوذي" 1: 271: "وهو كتاب كبير في نحو ثلاث مجلدات، انتقاه من كتب الحديث" انتهى.

ومنهم الإمام مجد الدين عبد السلام بن عبد الله بن أبي القاسم الحرَّانى المعروف بابن تيمية -ت 652 هـ- جدُّ شيخ الإسلام، ألف كتابه "الأحكام الكبرى" ثم انتقى منه خَمسة آلاف حديث وتسعة وعشرين حديثًا، وسماه "المنتقى".

ومن الذين توسطوا: الإمام تقي الدين محمد بن علي بن وهب بن مطيع القشيري المعروف بابن دقيق العيد -ت 702 هـ- صنَّف كتابه "الإلمام بأحاديث الأحكام" تضمن 1473 حديثًا.
পরম করুণাময় অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে।

সকল প্রশংসা বিশ্বজগতের প্রতিপালক আল্লাহর জন্য, এবং সর্বাধিক পূর্ণাঙ্গ ও নিখুঁত সালাত ও সালাম বর্ষিত হোক আম্বিয়াগণের সর্দার ও রসূলগণের মোহর, আমাদের নেতা ও নবী মুহাম্মদ বিন আব্দুল্লাহর ওপর, এবং তাঁর পরিবার-পরিজন, তাঁর সকল সাহাবী এবং কিয়ামত পর্যন্ত যারা নিষ্ঠার সাথে তাঁদের অনুসরণ করবেন, তাঁদের সকলের ওপর।

অতঃপর:

গ্রন্থকারগণ যেসব বিষয়ে গ্রন্থ রচনা করেছেন তার মধ্যে অন্যতম শ্রেষ্ঠ বিষয় হলো বিধিবিধান সম্পর্কিত হাদীসসমূহ, কারণ এগুলোই ফিকহ শাস্ত্রের দলিল এবং এর ওপরই ফিকহ নির্ভরশীল। এর মাধ্যমেই বিধিবিধানসমূহ জানা যায় এবং এগুলো থেকেই তা আহরণ করা হয়। এর মাধ্যমেই সুষ্পষ্ট প্রমাণের ভিত্তিতে রবের ইবাদত করা হয়।

এজন্য উলামায়ে কেরাম এই বিষয়ের প্রতি অত্যধিক গুরুত্বারোপ করেছেন এবং এ বিষয়ে বিভিন্ন ধরনের গ্রন্থ রচনা করেছেন। তাঁদের মধ্যে কেউ বিস্তারিত লিখেছেন, কেউ সংক্ষিপ্ত করেছেন, আবার কেউ মধ্যমপন্থা অবলম্বন করেছেন।

যারা বিস্তারিত আলোচনা করেছেন—বরং তাঁদের মধ্যে প্রথম হলেন—ইমাম হাফেজ আব্দুল হক বিন আব্দুর রহমান বিন আব্দুল্লাহ আল-আযদি আল-ইশবিলি, আবু মুহাম্মদ, যিনি ইবনুল খেররাত নামে পরিচিত (মৃত্যু: ৫৮১ হিজরী)। তিনি এ বিষয়ে ‘আল-আহকামুল কুবরা’ রচনা করেছেন। ‘তুহফাতুল আহওয়াযী’র ভূমিকার ১:২৭১ পৃষ্ঠায় এসেছে: "এটি প্রায় তিন খণ্ডের একটি বিশাল গ্রন্থ, যা তিনি হাদীসের কিতাবসমূহ থেকে চয়ন করেছেন।" সমাপ্ত।

তাদের মধ্যে অন্যতম হলেন ইমাম মাজদুদ্দীন আব্দুস সালাম বিন আব্দুল্লাহ বিন আবিল কাসিম আল-হাররানি, যিনি ইবনে তাইমিয়্যাহ নামে পরিচিত (মৃত্যু: ৬৫২ হিজরী)—তিনি শায়খুল ইসলামের দাদা। তিনি তাঁর ‘আল-আহকামুল কুবরা’ গ্রন্থটি রচনা করেন এবং অতঃপর তা থেকে পাঁচ হাজার ঊনত্রিশটি হাদীস চয়ন করেন এবং এর নাম দেন ‘আল-মুনতাকা’।

আর যারা মধ্যমপন্থা অবলম্বন করেছেন তাঁদের মধ্যে অন্যতম হলেন: ইমাম তাকিউদ্দীন মুহাম্মদ বিন আলী বিন ওয়াহাব বিন মুতি আল-কুশাইরি, যিনি ইবনু দাকীকিল ঈদ নামে পরিচিত (মৃত্যু: ৭০২ হিজরী)। তিনি ‘আল-ইলমাম বি আহাদিসিল আহকাম’ নামক গ্রন্থটি রচনা করেন যা ১৪৭৩টি হাদীস সম্বলিত।
(খণ্ড: ১) আদ দুররুল মানযূম মিন কালামিল মুসতাফা আল মাসূম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম (পৃষ্ঠা: ٦)
ومنهم: الحافظ أحمد بن علي بن حجر العسقلاني -ت 852 هـ- صنّف "بلوغ المرام من أدلة الأحكام" تضمن 1596 حديثًا.

ومن الذين اختصروا: الإمام الحافظ تقي الدين عبد الغني بن عبد الواحد المقدسي الدمشقي -ت 600 هـ - صنّف "عمدة الأحكام"، واشتمل على 419 حديثًا مما اتفق الشيخان على إخراجه.

ومنهم: مصنِّف كتابنا هذا: الحافظ علاء الدين مُغْلَطاي -ت 762 هـ- جاء كتابه مشتملًا على 361 حديثًا، موزعة على أبواب الفقه، متحريًا فيها أصحَّ الصحيح، وهو ما أجمع الأئمة الستة على تخريجه، ملحِقًا بكل باب فصلًا للأحاديث الضعيفة فيه، فجاء هذا الكتاب متميزًا عن الكتب السابقة بهذا النهج الجديد.

ولكونه مختصرًا: يسهل تداوله، وقراءته، والانتفاع به، وهو ما دعاني لخدمته وإخراجه.

وتتميمًا للفائدة: قدمت بين يدي الكتاب بترجمةٍ لمؤلفه، ودراسة موجزة للكتاب، تضمنَّتْ: توثيقَه، والتعريفَ بالنسخة الخطية التى اعتمدتها في إخراجه، والتعريفَ بناسخ الكتاب، ومنهجَ مُغْلَطاي فيه، وخدمتي للكتاب.

ولأستاذنا فضيلة الشيخ محمد عوامة حفظه الله الشكر الجزيل لإشرافه ومراجعته هذا العمل، وإرشادي إلى بعض مصادره، فجزاه الله عني خيرًا.

هذا، وإني أضرع إلى الله القدير أن يرحم مُصَنِّفَه، وأن ينفع به من أخرجه، وكلَّ من طالع أو نظر فيه، إنه أكرم مجيب، وصلي الله وسلم على سيدنا محمد وعلى آله وصحبه أجمعين، والحمد لله رب العالمين.

 

المدينة المنورة

28/ 1 / 1414

 

وكتبه

حسن عبجي
এবং তাদের মধ্যে অন্যতম: হাফেজ আহমদ ইবনে আলী ইবনে হাজার আল-আসকালানী -মৃত্যু ৮৫২ হিজরি- তিনি 'বুলুগুল মারাম মিন আদিল্লাতিল আহকাম' সংকলন করেছেন, যা ১৫৯৬টি হাদিস সম্বলিত।

এবং যারা সংক্ষিপ্ত আকারে লিখেছেন তাদের মধ্যে রয়েছেন: ইমাম হাফেজ তাকিউদ্দীন আব্দুল গনি ইবনে আব্দুল ওয়াহিদ আল-মাকদিসি আদ-দিমাশকি -মৃত্যু ৬০০ হিজরি- তিনি 'উমদাতুল আহকাম' সংকলন করেছেন, এবং এটি ৪১৯টি হাদিস অন্তর্ভুক্ত করেছে যা শাইখাইন (বুখারি ও মুসলিম) বর্ণনার ব্যাপারে একমত হয়েছেন।

এবং তাদের মধ্যে অন্যতম: আমাদের এই কিতাবের সংকলক: হাফেজ আলাউদ্দীন মুগলাতাই -মৃত্যু ৭৬২ হিজরি- তাঁর কিতাবটি ৩৬১টি হাদিস সম্বলিত হয়ে এসেছে, যা ফিকহের অধ্যায়গুলোতে বিন্যস্ত, যাতে তিনি সহিহ হাদিসগুলোর মধ্যে অধিকতর সহিহ হাদিসগুলো অনুসন্ধান করেছেন, যা ছয়জন ইমাম বর্ণনার ব্যাপারে ঐকমত্য পোষণ করেছেন। তিনি প্রতিটি অধ্যায়ের শেষে ঐ বিষয়ের দুর্বল হাদিসগুলোর জন্য একটি পরিচ্ছেদ যুক্ত করেছেন। ফলে এই নতুন পদ্ধতির কারণে কিতাবটি পূর্ববর্তী কিতাবগুলোর চেয়ে বৈশিষ্ট্যমণ্ডিত হয়েছে।

এবং এটি সংক্ষিপ্ত হওয়ার কারণে: এর প্রচার, পাঠ এবং এর দ্বারা উপকৃত হওয়া সহজ, আর এটাই আমাকে এর খিদমত ও প্রকাশে উদ্বুদ্ধ করেছে।

উপকারিতাকে পূর্ণতা দানের লক্ষ্যে: আমি কিতাবটির শুরুতে এর লেখকের জীবনী এবং কিতাবটির একটি সংক্ষিপ্ত পর্যালোচনা পেশ করেছি, যার মধ্যে অন্তর্ভুক্ত রয়েছে: এর প্রামাণিকতা নিশ্চিতকরণ, কিতাবটি প্রকাশের ক্ষেত্রে আমি যে পাণ্ডুলিপির ওপর নির্ভর করেছি তার পরিচয় প্রদান, কিতাবটির অনুলিপিকারীর পরিচয়, এতে মুগলাতাইয়ের অনুসৃত পদ্ধতি এবং কিতাবটির প্রতি আমার সম্পাদিত খিদমত।

আমাদের ওস্তাদ ফজিলাতুশ শাইখ মুহাম্মদ আওয়ামা হাফিজাহুল্লাহর প্রতি জানাই অশেষ কৃতজ্ঞতা এই কাজটির তত্ত্বাবধান ও পর্যালোচনার জন্য, এবং এর কিছু উৎসের ব্যাপারে আমাকে দিকনির্দেশনা দেওয়ার জন্য। আল্লাহ তাঁকে আমার পক্ষ থেকে উত্তম প্রতিদান দান করুন।

আর আমি সর্বশক্তিমান আল্লাহর নিকট প্রার্থনা করি যে, তিনি যেন এর সংকলককে রহম করেন এবং এর মাধ্যমে উপকৃত করেন তাঁকে যে এটি প্রকাশ করেছে এবং প্রত্যেককে যে এটি পাঠ করেছে বা দেখেছে। নিশ্চয়ই তিনি সর্বশ্রেষ্ঠ উত্তরদাতা। আল্লাহ তাআলা আমাদের নেতা মুহাম্মদ এবং তাঁর পরিবার ও সকল সাহাবীর ওপর দরুদ ও সালাম বর্ষণ করুন। আর সমস্ত প্রশংসা বিশ্বজগতের প্রতিপালক আল্লাহর জন্য।

 

মদিনা মুনাওয়ারা

২৮/ ০১ / ১৪১৪ হিজরি

 

এটি লিখেছেন

হাসান আবজি
(খণ্ড: ১) আদ দুররুল মানযূম মিন কালামিল মুসতাফা আল মাসূম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম (পৃষ্ঠা: ٨)
‌‌ترجمة المؤلف

- اسمه ونسبه

- مولده

- طلبه للعلم

- شيوخه

- تدريسه

- تلاميذه

- تصانيفه

- وفاته
লেখকের পরিচিতি

- তাঁর নাম ও বংশপরিচয়

- তাঁর জন্ম

- তাঁর জ্ঞানার্জন

- তাঁর উস্তাদগণ

- তাঁর শিক্ষাদান

- তাঁর ছাত্রবৃন্দ

- তাঁর রচনাবলি

- তাঁর ইন্তেকাল
(খণ্ড: ১) আদ দুররুল মানযূম মিন কালামিল মুসতাফা আল মাসূম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম (পৃষ্ঠা: ٩)
ترجمة الحافظ مُغْلَطاي (1)

 

‌‌اسمه ونسبه:

هو الإمامُ العلاّمةُ المحدِّثُ، الحافظُ المُفْتَن، النْسَّابهُ المؤرخُ، علاءُ

--------------------------------------------

(1) من مصادر ترجمته: "البداية" لابن كثير 14: 296، و"الوفيات" لمحمد بن رافع السَّلامي 2: 243 - 244 و"الذيل على العبر" لأبي زرعة العراقي 1: 70 - 73، و"التبيان شرح بديعة البيان" لابن ناصر الدين الدمشقي مخطوط 156/ ب، و"الدرر الكامنة" 4: 352 - 354، و"لسان الميزان" 6: 72 - 74 كلاهما لابن حجر، و"لحظ الألحاظ" لابن فهد: 133 - 142، و"النجوم الزاهرة" لابن تَغْرِى بَرْدِي 11: 8، و"تاج التراجم" لابن قطلوبغا: 304 - 306 و"حسن المحاضرة" 1: 359، و"ذيل تذكرة الحفاظ" 365 - 366 و"طبقات الحفاظ": 538 جميعها للسيوطي، و"مفتاح السعادة" لطاش كبري زاده 1: 260، و"كشف الظنون" لحاجى خليفة 1: 98، 546، 2: 958، 1004، 1005، 1087، 1163، 1510، 1637، 1823، 1915، 1995، و"شذرات الذهب" لابن العماد 6: 197، و"البدر الطالع" للشوكانى 2: 312 - 313، و"إيضاح المكنون" 1: 103، 245، و"هدية العارفين" كلاهما للبغدادي 2: 467 - 468، و"الرسالة المستطرفة" للسيد محمد بن جعفر الكتانى: 117 - 118، 197، 208، 209، و"الأعلام" للزَّرِكْلي 7: 275، و"معجم المؤلفين" لكحَّالة 12: 313.
হাফেজ মুগলতাই-এর জীবনী (১)

 

‌‌তাঁর নাম ও বংশপরিচয়:

তিনি হলেন ইমাম, আল্লামা, মুহাদ্দিস, বহুবিদ বিদ্যায় পারদর্শী হাফেজ, বংশবিদ ও ঐতিহাসিক, আলাউ-

--------------------------------------------

(১) তাঁর জীবনীর উৎসসমূহের মধ্যে রয়েছে: ইবন কাসীরের "আল-বিদায়া" ১৪: ২৯৬, মুহাম্মদ ইবন রাফে আস-সালামীর "আল-ওয়াফায়াত" ২: ২৪৩ - ২৪৪, আবু যুরআ আল-ইরাকীর "আয-যাইলু আলাল ইবার" ১: ৭০ - ৭৩, ইবন নাসিরুদ্দিন আদ-দিমাশকীর "আত-তিবয়ান শারহু বাদীআতিল বায়ান" পাণ্ডুলিপি ১৫৬/ব, ইবন হাজারের "আদ-দুরারুল কামিনাহ" ৪: ৩৫২ - ৩৫৪ এবং "লিসানুল মিজান" ৬: ৭২ - ৭৪, ইবন ফাহাদের "লাহযুল আলহায": ১৩৩ - ১৪২, ইবন তাগরি বারদীর "আন-নুজুমুয যাহিরা" ১১: ৮, ইবন কুতলুবুগার "তাজুত তারাজিম": ৩০৪ - ৩০৬, সুয়ূতীর "হুসনুল মুহাদারা" ১: ৩৫৯, "যাইলু তাযকিরাতিল হুফফাজ" ৩৬৫ - ৩৬৬ এবং "তাবাকাতুল হুফফাজ": ৫৩৮, তাশ কুবরি যাদার "মিফতাহুস সাআদা" ১: ২৬০, হাজি খলিফার "কাশফুজ জুনুন" ১: ৯৮, ৫৪৬, ২: ৯৫৮, ১০০৪, ১০০৫, ১০৮৭, ১১৬৩, ১৫১০, ১৬৩৭, ১৮২৩, ১৯১৫, ১৯৯৫, ইবনুল ইমাদের "শাযারাতুয যাহাব" ৬: ১৯৭, শাওকানীর "আল-বাদরুত তালি" ২: ৩১২ - ৩১৩, বাগদাদীর "ঈদাহুল মাকনুন" ১: ১০৩, ২৪৫ এবং "হাদিয়াতুল আরিফিন" ২: ৪৬৭ - ৪৬৮, সাইয়িদ মুহাম্মদ ইবন জাফর আল-কাত্তানীর "আর-রিসালাতুল মুসতাতরিফাহ": ১১৭ - ১১৮, ১৯৭, ২০৮, ২০৯, যিরিকলীর "আল-আলাম" ৭: ২৭৫ এবং কাহহালার "মুজামুল মুআল্লিফিন" ১২: ৩১৩।
(খণ্ড: ১) আদ দুররুল মানযূম মিন কালামিল মুসতাফা আল মাসূম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম (পৃষ্ঠা: ١٠)
الدين، أبو عبد الله، مُغْلَطايُ (1)

--------------------------------------------

(1) "مُغْلَطاي": بضم الميم، وسكون الغين المعجمة، كذا ضبطه الحافظ ابن حجر بالقلم، ونقله عنه الشيخ أحمد العجمي في حواشيه القيمة على "تدريب الراوي" للسيوطي 11/ أ، وبمثله ضبطه العلامة الزرقاني في شرحه على "المواهب اللدنية" 1: 127.

وفي ضبطه أوجه أخرى:

- قال أحمد العجمي: "وضبطه الحافظ ابن ناصر بالقلم بفتحها -أي: الغينِ- في منظومته "بديعة البيان" حيث قال:

. . . . . . . … ذاك مغَلْطايُ فتى قِليج

فيحتمل أن ذلك لضرورة النّظْم" لكنه استدرك قائلًا: "ثم رأيته في غير المنظومة ضبطه كذلك بالفتح".

وعندي صورة من كتاب "بديعة البيان" مع شرحه "التبيان" عن نسخة خطية محفوظة في مكتبة شيخ الإسلام عارف حكمت رحمه الله بالمدينة المنورة، وفيها الشطر الذي ذكره أحمد العجمي 156/ ب لكن النسخة غير مضبوطة.

- وذكر أحمد العجمي رحمه الله في "حواشيه" ضبطًا ثالثًا: بضم الميم والغين المعجمة: مُغلْطاي، ولم يعزه لأحد، وفي تعليق للأستاذ الزِّرِكْلي في "الأعلام" 7: 276 حول ضبط "مغلطاي" قال: "وفي المتأخرين من جعل حركة الغين ضمة، وجزم بهذا جان سوفاجيه".

- وفي آخر النسخة الخطية من كتابنا هذا ص 72 نقل الأستاذ أحمد خيري =
দ্বীন, আবু আব্দুল্লাহ, মুগলতায় (১)

--------------------------------------------

(১) "মুগলতায়": মীম বর্ণে পেশ এবং ডটযুক্ত গাইন বর্ণে সুকুন সহকারে। হাফেজ ইবনে হাজার স্বহস্তে এভাবেই হরকত প্রদান করেছেন এবং শেখ আহমদ আল-আজমি সুয়ুতির "তাদরীবুর রাবী"-এর ওপর তার মূল্যবান টীকায় (১১/ক) এটি তার থেকে বর্ণনা করেছেন। আল্লামা যুরকানী "আল-মাওয়াহিব আল-লাদুন্নিয়া"-এর ব্যাখ্যাগ্রন্থে (১: ১২৭) একইভাবে হরকত দিয়েছেন।

এর উচ্চারণে আরও কিছু অভিমত রয়েছে:

- আহমদ আল-আজমি বলেন: "হাফেজ ইবনে নাসির তার কাব্যগ্রন্থ 'বাদিয়াতুল বায়ান'-এ গাইন বর্ণে ফাতহা (যবর) দিয়ে এটি লিপিবদ্ধ করেছেন, যেখানে তিনি বলেছেন:

. . . . . . . … তিনি কিলিয-এর পুত্র মুগালাতায়

সম্ভবত ছন্দের প্রয়োজনে তিনি এমনটি করেছেন।" তবে তিনি পুনরায় উল্লেখ করেছেন: "পরবর্তীতে আমি কাব্যগ্রন্থ বাদে অন্য স্থানেও একে ফাতহা (যবর) দিয়ে লিপিবদ্ধ দেখেছি।"

মদিনা মুনাওয়ারায় শাইখুল ইসলাম আরিফ হিকমত (রহ.)-এর লাইব্রেরিতে সংরক্ষিত পাণ্ডুলিপি থেকে 'বাদিয়াতুল বায়ান' ও এর ব্যাখ্যাগ্রন্থ 'আত-তিবয়ান'-এর একটি অনুলিপি আমার কাছে আছে। সেখানে আহমদ আল-আজমি উল্লিখিত কাব্যাংশটি (১৫৬/খ) বিদ্যমান, তবে পাণ্ডুলিপিটিতে হরকত দেওয়া নেই।

- আহমদ আল-আজমি (রহ.) তার টীকাসমূহে তৃতীয় একটি উচ্চারণ উল্লেখ করেছেন: মীম এবং গাইন উভয় বর্ণে পেশ দিয়ে: মুগুলতায়। তবে তিনি এটি কারো দিকে সম্বন্ধ করেননি। উস্তাদ যিরিকলি 'আল-আ'লাম' (৭: ২৭৬) গ্রন্থে 'মুগলতায়' শব্দের উচ্চারণের ওপর মন্তব্যে বলেছেন: "পরবর্তীদের মধ্যে কেউ কেউ গাইন বর্ণে পেশ দিয়েছেন এবং জঁ সোভাজে এ ব্যাপারে নিশ্চিত মত দিয়েছেন।"

- আমাদের এই গ্রন্থের পাণ্ডুলিপির শেষে ৭২ পৃষ্ঠায় উস্তাদ আহমদ খায়রি বর্ণনা করেছেন =
(খণ্ড: ১) আদ দুররুল মানযূম মিন কালামিল মুসতাফা আল মাসূম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম (পৃষ্ঠা: ١١)
ابنُ قِلِيجَ (1)

--------------------------------------------

= رحمه الله ضبط هذه الكلمات "مغلطاي" و"قليج" و"البكجري" عن أستاذه الشيخ محمد زاهد الكوثري رحمه الله إملاء، فقال: "مَغُلْطاي بفتح الميم، وضم الغين المعجمة، وسكون اللام، وفتح الطاء المهملة بعدها ألف، ثم ياء آخر الحروف".

فتحصل مما تقدم أربعة أوجه: مُغْلَطَاي، ومُغَلْطَاي، ومُغُلْطَاي، ومَغُلْطَاي، وفيها وفي مثلها كان يقول العلامة الكوثري: أعجمية فالْعَب بها كيف شئت، إذ لا ضابط فيها إلا نطق أهلها، وكم من حروف وحركات أعجمية تغيرت في العربية.

ومعنى "مُغْلَطاي":

قال الشيخ أحمد العجمي في حواشيه على "تدريب الراوي" 11/ أ:

"مُغُل: بضمتين، جيل من الناس، وطاي: بمعنى الفرخ، في اللغة التركية القديمة، كذا قيل"، وفي تعليقة الأستاذ أحمد خيري عن شيخه الكوثري: "ومعنى "طاي" بلغة الترك: المُهْرُ".

قلت: وهما متقاربان، فالمُهْرُ: ولد الخيل، والفَرْخُ: ولد الطير، ويكون المعنى: ولد جيل من الناس.

(1) "قِلِيج": "بكسر القاف واللام، وسكون الجيم، علم تركي" نقله الأستاذ أحمد خيري، عن شيخه الكوثري، وأفاد أحمد العجمي في حواشيه على "التدريب" أن الياء ترسم ولا ينطق بها. =
ইবনে কিলিজ (১)

--------------------------------------------

= আল্লাহ তাকে রহম করুন, তিনি এই শব্দগুলো 'মুঘলতাই', 'কিলিজ' এবং 'আল-বাকজারি' তাঁর উস্তাদ শেখ মুহাম্মদ জাহিদ আল-কাওসারী (আল্লাহ তাকে রহম করুন) এর নিকট থেকে শ্রুতিলিখন হিসেবে লিপিবদ্ধ করেছেন। তিনি বলেছেন: 'মাগুলতাই' মীম-এর উপর ফাতহাহ (যবর), মু'জাম গাইন-এর উপর দম্মাহ (পেশ), লাম-এর উপর সুকুন (জযম), এবং মুহমালা ত-এর উপর ফাতহাহ (যবর) এর পরে আলিফ এবং তারপর শেষ অক্ষর ইয়া।

পূর্বোক্ত আলোচনা থেকে চারটি রূপ পাওয়া যায়: মুঘলাতাই, মুঘালতাই, মুগুলতাই এবং মাগুলতাই। আল্লামা কাওসারী এই শব্দ এবং এ জাতীয় শব্দের ক্ষেত্রে বলতেন: এগুলো অনারবীয় শব্দ, তাই তোমার যেভাবে ইচ্ছা সেভাবে উচ্চারণ করো; কারণ এর মূল উচ্চারণ সেই জাতির লোকদের উচ্চারণের ওপর নির্ভরশীল। কত অনারবীয় বর্ণ এবং স্বরচিহ্ন আরবিতে এসে পরিবর্তিত হয়েছে।

'মুঘলতাই' শব্দের অর্থ:

শেখ আহমদ আল-আজমি 'তাদরিবুর রাবি'-এর টীকাগ্রন্থে (১১/ক) বলেছেন:

'মুগুল: দুটি দম্মাহ (পেশ) সহকারে, এর অর্থ এক শ্রেণির জাতি বা সম্প্রদায়, এবং তাই: প্রাচীন তুর্কি ভাষায় এর অর্থ পাখির ছানা, এমনটিই বলা হয়েছে।' উস্তাদ আহমদ খায়রির টিকায় তাঁর শায়খ কাওসারী থেকে বর্ণিত: 'তুর্কি ভাষায় তাই-এর অর্থ হলো ঘোড়ার বাচ্চা'।

আমি (গ্রন্থকার) বলছি: এই দুই অর্থ কাছাকাছি। কারণ 'মুহর' হলো ঘোড়ার বাচ্চা এবং 'ফারখ' হলো পাখির ছানা। ফলে এর অর্থ দাঁড়ায়: এক জাতির সন্তান।

(১) 'কিলিজ': 'কাফ এবং লাম-এর নিচে কাসরাহ (জের), এবং জীম-এর উপর সুকুন (জযম), এটি একটি তুর্কি নাম।' এটি উস্তাদ আহমদ খায়রি তাঁর শায়খ কাওসারী থেকে বর্ণনা করেছেন। আহমদ আল-আজমি 'আত-তাদরিব'-এর টীকায় উল্লেখ করেছেন যে, 'ইয়া' (ي) লেখা হয় কিন্তু উচ্চারিত হয় না। =
(খণ্ড: ১) আদ দুররুল মানযূম মিন কালামিল মুসতাফা আল মাসূম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম (পৃষ্ঠা: ١٢)
ابن عبد الله البَكْجَريُّ (1)، الحنفيُّ، المصريُّ من أصل تركي، الحِكْريُّ (2).

--------------------------------------------

= وضبطه الزركلي في "الأعلام" بفتح القاف وكسر اللام: قَلِيج، وذكر في التعليق أنه رآه كذلك مشكولًا في نسخة ابن حجر من "التبيان شرح بديعة البيان".

وما ذكره الزِّرِكْلي عن مطبوعة "النجوم الزاهرة": قليح، بالحاء المهملة: فليس بوجه بل هو من التصحيفات المطبعية، ومثله ما جاء في "لسان الميزان": فليح، بالفاء.

ومعنى "قِلِيج": السيف باللغة التركية، ذكره أحمد العجمي والكوثري، وزاد الثاني: "وتمنع من الصرف للعجمة والعلمية".

(1) "البَكْجَرِي": جاء في تعليقات العلامة الكوثري رحمه الله على "لحظ الألحاظ": 133 نقلًا عن الداودي كما في "ذيل لب اللباب": "بفتح الموحدة وسكون الكاف، وفتح الجيم، ثم راء"، وزاد الأستاذ أحمد خيري عنه: "ويلاحظ نطق الجيم قريبة من الشين المدغم فيها تاء".

ثم قال: "وهي مركبة من "بَكْ". بمعنى: الصُّلْب بالتركية، و"جري" بمعنى: الجندي، فيكون معناها: الجندي الصُّلْب، وربما كان هذا لقبًا لوالده قِلِج -هكذا بدون ياء كما تلفظ-، أو اسمًا لجده".

وما جاء في "لسان الميزان": الكنجري، فهو تصحيف، والله أعلم.

(2) جاء في "لب اللباب" للسيوطي: "الحِكْري بالكسر والسكون، إلى. . ." وانقطع الكلام. =
ইবনে আব্দুল্লাহ আল-বাকজারি (১), হানাফি, তুর্কি বংশোদ্ভূত মিশরীয়, আল-হিকরি (২)।

--------------------------------------------

= আয-যিরিকলি 'আল-আ'লাম' গ্রন্থে এর উচ্চারণ ক্বাফ-এ ফাতহাহ (যবর) এবং লাম-এ কাসরাহ (যের) দিয়ে 'ক্বালিজ' হিসেবে নির্ধারণ করেছেন। তিনি টিকায় উল্লেখ করেছেন যে, তিনি ইবনে হাজারের 'আত-তিবইয়ান শারহুবাদিআতিল বায়ান' পাণ্ডুলিপিতে হরকতসহ এভাবেই দেখেছেন।

আয-যিরিকলি 'আন-নুজুম আয-যাহিরাহ' এর মুদ্রিত সংস্করণ থেকে 'ক্বালিহ' (হা বর্ণ দিয়ে) যা উল্লেখ করেছেন, তা সঠিক নয় বরং এটি মুদ্রণজনিত ভুল। অনুরূপভাবে 'লিসানুল মিযান'-এ 'ফালিহ' (ফা বর্ণ দিয়ে) যা এসেছে তাও ভুল।

তুর্কি ভাষায় 'ক্বিলিজ' শব্দের অর্থ হলো 'তলোয়ার'। আহমদ আল-আজমি এবং আল-কাওসারি এটি উল্লেখ করেছেন। দ্বিতীয়জন আরও যোগ করেছেন: "অনারব শব্দ এবং নির্দিষ্ট নাম হওয়ার কারণে এটি রূপান্তরহীন (মামনু' মিনাস সারফ)।"

(১) 'আল-বাকজারি': আল্লামা আল-কাওসারি (রাহিমাহুল্লাহ) 'লাহযুল আলহায' (পৃ. ১৩৩) এর টিকায় আদ-দাওয়ুদি থেকে উদ্ধৃতি দিয়ে 'যাইলু লুববিল লুবাব'-এ যেমনটি উল্লেখ করেছেন: "প্রথম বর্ণে (বা) ফাতহাহ, কাফ বর্ণে সুকুন, জিম বর্ণে ফাতহাহ এবং এরপর রা বর্ণ।" উস্তাদ আহমদ খাইরি এর সাথে আরও যোগ করেছেন: "লক্ষণীয় যে, জিম বর্ণের উচ্চারণ তায়ের সাথে মিশে থাকা শিন বর্ণের কাছাকাছি হবে।"

অতঃপর তিনি বলেন: "এটি 'বাক' শব্দ থেকে গঠিত, তুর্কি ভাষায় যার অর্থ: শক্তিশালী, এবং 'জারি' যার অর্থ: সৈনিক। সুতরাং এর অর্থ দাঁড়ায়: শক্তিশালী সৈনিক। সম্ভবত এটি ছিল তাঁর পিতা ক্বিলিজ-এর উপাধি —উচ্চারণ অনুযায়ী ইয়া ছাড়া— অথবা তাঁর দাদার নাম।"

'লিসানুল মিযান'-এ যা 'আল-কানজারি' হিসেবে এসেছে তা লিখনজনিত ভুল। আল্লাহই ভালো জানেন।

(২) সুয়ুতির 'লুববুল লুবাব' গ্রন্থে এসেছে: "আল-হিকরি বর্ণে কাসরাহ এবং সুকুন দিয়ে, অমুক স্থানের দিকে..." এরপর বর্ণনাটি বিচ্ছিন্ন হয়ে গেছে। =
(খণ্ড: ১) আদ দুররুল মানযূম মিন কালামিল মুসতাফা আল মাসূম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম (পৃষ্ঠা: ١٣)
إمامُ وقته، وحافظُ عصره، من انتَهتْ رياسةُ الحديث في زمانه إليه رحمه الله تعالى وسائرَ علماء المسلمين.

 

‌‌مولده:

ولد مُغْلَطاي سنة تسع وثمانين وست مئة، وهذا منقول عنه، فقد كان يذكر هذا التاريخ لما يُسأل عن مولده (1).

وذهب السَّلامي إلى أن مولده سنة تسعين وست مئة (2)، وقارب بين القولين ابن ناصر الدين فقال: "في أواخر سنة تسع وثمانين" (3).

وبالنظر إلى هذه الأقوال نجدها متقاربة جدًا، ويكون مولده سنة 689 هـ كما ذكر هو عن نفسه، لكن ليس أول السنة ولا أثناءها، بل آخرها بحيث لم يبق منها إلا أيامٌ يسيرة فلم يحسُبْها من قال: ولد سنة تسعين، والله أعلم.

--------------------------------------------

= وفي "القاموس" مادة (ح ك ر): "الحُكْرة بالضم: مِخْلاف بالطائف"، والمِخْلاف: الناحية، ونحوه في "مراصد الاطلاع" 1: 416، ويبعد أن تكون نسبة المترجم إليها، والله أعلم.

(1) "ذيل العبر" 1: 71، و"الدرر الكامنة" 4: 352، و"لسان الميزان" 6: 72، و"لحظ الألحاظ": 133، و"النجوم الزاهرة" 11: 8، و"تاج التراجم": 304، وغيرها.

(2) "الوفيات" 2: 244.

(3) "التبيان شرح بديعة البيان" 106 / ب.
তিনি ছিলেন তাঁর সময়ের ইমাম, নিজ যুগের হাফেজ, যাঁর কাছে তৎকালীন সময়ে হাদিস শাস্ত্রের নেতৃত্ব পৌঁছেছিল। আল্লাহ তাঁর ওপর এবং সকল মুসলিম উলামাদের ওপর রহমত বর্ষণ করুন।

 

‌‌তাঁর জন্ম:

মুগলতাই ছয়শ উননব্বই হিজরি সালে জন্মগ্রহণ করেন, যা তাঁর থেকেই বর্ণিত হয়েছে। কেননা যখনই তাঁকে তাঁর জন্মকাল সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করা হতো, তিনি এই তারিখই উল্লেখ করতেন (১)।

আস-সালামি এই মত পোষণ করেছেন যে, তাঁর জন্ম ছয়শ নব্বই সালে (২)। ইবনে নাসিরুদ্দিন এই দুই মতের মধ্যে সমন্বয় করে বলেছেন: "ছয়শ উননব্বই সালের শেষের দিকে" (৩)।

এই মতগুলোর দিকে তাকালে আমরা দেখতে পাই যে সেগুলো অত্যন্ত কাছাকাছি। তাঁর জন্ম মূলত ৬৮৯ হিজরি সালেই হয়েছিল, যেমনটি তিনি নিজের সম্পর্কে উল্লেখ করেছেন। তবে তা বছরের শুরুতে বা মাঝে ছিল না, বরং বছরের শেষে ছিল; এতটাই শেষে যে তা থেকে মাত্র সামান্য কয়েকদিন বাকি ছিল। তাই যারা বলেছেন যে তিনি নব্বই সালে জন্মগ্রহণ করেছেন, তারা ওই সামান্য দিনগুলোকে হিসেবে ধরেননি। আর আল্লাহই সর্বজ্ঞ।

--------------------------------------------

= এবং "আল-কামুস" গ্রন্থের (হা-কা-রা) ধাতুতে এসেছে: "আল-হুকরাহ (পেশ যোগে): তায়েফের একটি মিখলাফ", আর 'মিখলাফ' অর্থ এলাকা বা অঞ্চল। অনুরূপ তথ্য "মারাসিদুল ইত্তিলা" ১: ৪১৬ গ্রন্থেও রয়েছে। তবে যার জীবনী বর্ণনা করা হচ্ছে তাঁর নিসবত বা সম্পর্ক এর সাথে হওয়াটা দূরবর্তী বিষয় বলে মনে হয়। আর আল্লাহই সর্বজ্ঞ।

(১) "যাইলুল ইবার" ১: ৭১, "আদ-দুরারুল কামিনাহ" ৪: ৩৫২, "লিসানুল মিজান" ৬: ৭২, "লাহযুল আলহায": ১৩৩, "আন-নুজুমুজ জাহিরাহ" ১১: ৮, "তাজুত তারাজিম": ৩০৪ এবং অন্যান্য।

(২) "আল-ওয়াফায়াত" ২: ২৪৪।

(৩) "আত-তিবইয়ান শারহু বাদিআতিল বায়ান" ১০৬ / খ।
(খণ্ড: ১) আদ দুররুল মানযূম মিন কালামিল মুসতাফা আল মাসূম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম (পৃষ্ঠা: ١٤)
وأبعد الصَّفَديُّ فقال: "ولد بعد التسعين وستِّ مئة" (1).

والأول هو الراجح.

 

‌‌طلبه للعلم:

اختصت العناية الإلهية هذا الغلام اليافع، بأن يكون من خدام هذا الدين، ومن وُرَّاث هذا العلم العظيم.

فصرف الله قلبَه عن لعب الصِّبا، ولهو الشباب، حتى صار لا يميل وهو في سن الصبا لأن يلهو مع أقرانه.

وحَبَّب الله إلى قلبه العلمَ الشريف، فصار يستحسنه ويُفَضِّله على كل ما عداه.

ذكر لنا ابن فهد (2): أن مُغْلَطاي وهو في صِباه، كان أبوه يرسله ليرمي بالنشاب، فيخالفه ويذهب إلى حِلَق أهل العلم فيحضرها.

فكان مخالطةُ حُبِّ العلم لقلبه، وشَغَفُه به، وإخلاصه فيه، من دواعي جِده ودَأبِه.

قال تلميذه الحافظ العراقي: "وكان دائم الاشتغال، منجمعًا عن الناس" (3).

--------------------------------------------

(1) نقله عنه الحافظ ابن حجر في "الدرر الكامنة" 4: 352، وابن فهد في "لحظ الألحاظ": 133، وغيرهما.

(2) "لحظ الألحاظ": 133.

(3) "الذيل على العبر" 1: 73.
আস-সাফাদী (বাস্তবতা থেকে) দূরে গিয়ে বলেছেন: "তিনি ছয়শত নব্বই সালের পরে জন্মগ্রহণ করেছেন" (১)।

আর প্রথমটিই অগ্রগণ্য।

 

‌‌তাঁর জ্ঞান অন্বেষণ:

ঐশ্বরিক বিশেষ অনুগ্রহ এই কিশোরকে এই দ্বীনের খাদেম এবং এই মহান ইলমের উত্তরাধিকারীদের অন্তর্ভুক্ত হওয়ার জন্য মনোনীত করেছে।

অতঃপর আল্লাহ তাঁর অন্তরকে শৈশবের খেলাধুলা এবং যৌবনের প্রমোদ থেকে ফিরিয়ে দিলেন, এমনকি তিনি শৈশবকালেও তাঁর সমবয়সীদের সাথে আমোদ-প্রমোদে মেতে উঠতে আগ্রহী ছিলেন না।

আর আল্লাহ তাঁর অন্তরে মর্যাদাপূর্ণ ইলমের প্রতি মহব্বত সৃষ্টি করে দিলেন, ফলে তিনি এটিকে পছন্দ করতেন এবং অন্য সবকিছুর ওপর অগ্রাধিকার দিতেন।

ইবনু ফাহদ (২) আমাদের কাছে উল্লেখ করেছেন যে: মুগলতাই যখন বালক ছিলেন, তখন তাঁর পিতা তাঁকে তীর নিক্ষেপ শেখার জন্য পাঠাতেন, কিন্তু তিনি পিতার নির্দেশের বিপরীতে আলেমদের ইলমি মজলিসগুলোতে চলে যেতেন এবং সেখানে উপস্থিত হতেন।

সুতরাং তাঁর অন্তরে ইলমের প্রতি মহব্বতের সংমিশ্রণ, এর প্রতি তাঁর আসক্তি এবং এতে তাঁর একনিষ্ঠতাই ছিল তাঁর কঠোর পরিশ্রম ও নিরন্তর প্রচেষ্টার কারণ।

তাঁর ছাত্র হাফিয আল-ইরাকী বলেন: "তিনি সর্বদা অধ্যয়নে ব্যস্ত থাকতেন এবং লোকালয় থেকে বিমুখ হয়ে থাকতেন" (৩)।

--------------------------------------------

(১) হাফিয ইবনু হাজার তাঁর থেকে এটি 'আদ-দুরারুল কামিনাহ' ৪: ৩৫২ গ্রন্থে এবং ইবনু ফাহদ 'লাহযুল আলহায' ১৩৩ পৃষ্ঠায় এবং অন্যরাও এটি বর্ণনা করেছেন।

(২) "লাহযুল আলহায": ১৩৩।

(৩) "আয-যাইলু আলাল ইবার" ১: ৭৩।
(খণ্ড: ১) আদ দুররুল মানযূম মিন কালামিল মুসতাফা আল মাসূম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম (পৃষ্ঠা: ١٥)
ونقل الحافظ ابن حجر عن الصَّفَدى: "كان ساكنًا، جامد الحركة، كثير المطالعة والكتابة والدَّأب" (1).

وجمود الحركة هنا مدح وليس بذم، فليس عنده طيش ولا خفة، بل ثبات أهل العزائم، وإصرار العلماء، حتى علا كعبه، وحاز قصب السبق على منافسيه، في الحديث وعلومه، واللغة، وفنون كثيرة.

فأما في الحديث وعلومه:

فقال ابن تَغْرِي بَردِي: "كان له اطِّلاعٌ كبير، وباغٌ واسع، في الحديث وعلومه" (2).

وقال السيوطي: "كان حافظًا عارفًا بفنون الحديث" (3).

حتى انتهت رياسة الحديث في زمانه إليه (4)، وصار يلقب بـ: "الشيخ الإمام شيخ المحدثين" (5).

وتبحر في علم الأنساب الذي هو أحد علوم الحديث، وتمكن في ذاك العلم، حتى قال مترجموه: "كان عَلَّامة في الأنساب" (3)، وترجمه الحافظ ابن ناصر الدين فقال: "هو. . . أبو عبد الله النسَّابة" (6).

--------------------------------------------

(1) "الدرر الكامنة" 4: 353.

(2) "النجوم الزاهرة" 11: 8.

(3) "حسن المحاضرة" 1: 359.

(4) "الدرر الكامنة" 4: 353 تعليقًا عن حاشية النسخ الخطية.

(5) "الذيل على العبر" 1: 70.

(6) "التبيان شرح بديعة البيان" 156 / ب.
হাফিজ ইবনে হাজার আস-সাফাদি থেকে বর্ণনা করেছেন: "তিনি ছিলেন শান্তপ্রকৃতির, ধীরস্থির, প্রচুর অধ্যয়নকারী ও লেখক এবং কঠোর পরিশ্রমী" (১)।

আর এখানে 'ধীরস্থিরতা' প্রশংসাসূচক, নিন্দাসূচক নয়; কেননা তাঁর মধ্যে কোনো চপলতা বা অস্থিরতা ছিল না, বরং ছিল দৃঢ়প্রতিজ্ঞ ব্যক্তিদের স্থৈর্য এবং আলিমদের সংকল্প। এমনকি তিনি উচ্চমর্যাদায় আসীন হয়েছিলেন এবং হাদিস ও এর সংশ্লিষ্ট জ্ঞানসমূহ, ভাষা এবং বহুবিদ বিদ্যায় তাঁর সমসাময়িক প্রতিদ্বন্দ্বীদের ওপর শ্রেষ্ঠত্ব অর্জন করেছিলেন।

হাদিস ও হাদিসশাস্ত্রের ক্ষেত্রে তাঁর অবস্থান:

ইবনে তাগরি বারদি বলেন: "হাদিস ও এর সংশ্লিষ্ট জ্ঞানসমূহে তাঁর ব্যাপক বিচরণ ও অগাধ পাণ্ডিত্য ছিল" (২)।

সুয়ূতী বলেন: "তিনি ছিলেন হাফিজ এবং হাদিসের বিভিন্ন শাখায় অভিজ্ঞ" (৩)।

এমনকি তাঁর সময়ে হাদিস শাস্ত্রের নেতৃত্ব তাঁর কাছেই সমর্পিত হয়েছিল (৪), এবং তিনি "আশ-শাইখ আল-ইমাম শাইখুল মুহাদ্দিসিন" উপাধিতে ভূষিত হন (৫)।

তিনি বংশতালিকাবিদ্যায় বুৎপত্তি লাভ করেছিলেন, যা হাদিসশাস্ত্রের অন্যতম একটি শাখা। এই বিদ্যায় তিনি এমন পারদর্শিতা অর্জন করেছিলেন যে, তাঁর জীবনীকাররা বলেছেন: "তিনি বংশতালিকাবিদ্যায় অনন্য পণ্ডিত ছিলেন" (৩)। হাফিজ ইবনে নাসিরুদ্দিন তাঁর জীবনী বর্ণনা করতে গিয়ে বলেন: "তিনি... আবু আব্দুল্লাহ বংশতালিকাবিদ" (৬)।

--------------------------------------------

(১) "আদ-দুরার আল-কামিনাহ" ৪: ৩৫৩।

(২) "আন-নুজুম আয-যাহিরাহ" ১১: ৮।

(৩) "হুসনুল মুহাদারা" ১: ৩৫৯।

(৪) "আদ-দুরার আল-কামিনাহ" ৪: ৩৫৩, পাণ্ডুলিপির টীকা থেকে উদ্ধৃত।

(৫) "আয-যাইল আলাল ইবার" ১: ৭০।

(৬) "আত-তিবইয়ান শারহু বাদিআতিল বায়ান" ১৫৬ / খ।
(খণ্ড: ১) আদ দুররুল মানযূম মিন কালামিল মুসতাফা আল মাসূম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম (পৃষ্ঠা: ١٦)
وقال الحافظ ابن حجر: "كان عارفًا بالأنساب معرفة جيدة، وأما غيرها من مُتَعلقات الحديث فله بها خبرة متوسطة" (1).

وتعبيره -وكذا من جاء بعده- بـ"خبرة متوسطة" لا يفيد عدم تمكن المترجم في العلوم الحديثيةِ سوى الأنساب، بل يريد خِبرة متوسطة بالنسبة لتبحره في علم الأنساب، وإتقانه له، وإمامتِه فيه، فالحكم نسبي لا على إطلاقه.

وإلا فكيف يتمكن ذو الخبرة المتوسطة بالحديث من شرح البخاري في عشرين مجلدًا مخطوطًا، وغيرِه، وغيرِه من المؤلفات الحديثية القيمة، التي ستراها في مبحث مُؤلَّفاته، وتلك خير شاهد على إمامته في الحديث.

ويدل على سَعَةِ إطِّلاعه وتمكنِه في الأنساب شهادة تلميذه شيخ الإِسلام أبي الفضل العراقي:

ذكر السيوطي في "التدريب" (2) أن الحافظ ابن حجر سأل شيخه العراقي رحمهما الله تعالى عن أربعة تعاصروا أيهم أحفظ: مُغلطاي، وابن كثير، وابن رافع، والحسيني؟

--------------------------------------------

(1) "الدرر الكامنة" 4: 353، ونحوه في "لحظ الألحاظ": 133 عن زين الدين ابن رجب، و"شذرات الذهب" 6: 197، وغيرهما.

(2) "تدريب الراوي" 2: 405.
হাফেজ ইবনে হাজার বলেন: "তিনি বংশপরম্পরা বিদ্যায় অত্যন্ত দক্ষ ছিলেন, তবে হাদীস সংশ্লিষ্ট অন্যান্য বিষয়ে তাঁর মাঝারি মানের অভিজ্ঞতা ছিল" (১)।

তাঁর এই অভিব্যক্তি—এবং তাঁর পরবর্তী যারা এসেছেন তাঁদেরও—"মাঝারি মানের অভিজ্ঞতা" দ্বারা এটি বুঝায় না যে জীবনীকার বংশপরম্পরা বিদ্যা ছাড়া হাদীস শাস্ত্রে পারদর্শী ছিলেন না, বরং তিনি বংশপরম্পরা বিদ্যায় তাঁর অগাধ পাণ্ডিত্য, পারদর্শিতা এবং এই বিষয়ে তাঁর ইমামতের তুলনায় মাঝারি মানের অভিজ্ঞতার কথা বুঝিয়েছেন। সুতরাং এই রায়টি আপেক্ষিক, নিরঙ্কুশ নয়।

অন্যথায়, হাদীস শাস্ত্রে মাঝারি মানের অভিজ্ঞতাসম্পন্ন ব্যক্তি কীভাবে বিশটি পাণ্ডুলিপি খণ্ডে বুখারীর ব্যাখ্যাগ্রন্থ এবং অন্যান্য মূল্যবান হাদীস বিষয়ক গ্রন্থ রচনা করতে পারেন, যা আপনি তাঁর গ্রন্থতালিকা আলোচনায় দেখতে পাবেন; আর সেগুলিই হাদীস শাস্ত্রে তাঁর ইমামতের সর্বোত্তম প্রমাণ।

বংশপরম্পরা বিদ্যায় তাঁর জ্ঞানের পরিধি এবং দক্ষতার বিষয়টি তাঁর ছাত্র শায়খুল ইসলাম আবুল ফজল আল-ইরাকীর সাক্ষ্য দ্বারা প্রমাণিত হয়:

সুয়ূতী "আত-তাদরীব" (২)-এ উল্লেখ করেছেন যে, হাফেজ ইবনে হাজার তাঁর শিক্ষক আল-ইরাকী (আল্লাহ তাঁদের উভয়ের প্রতি দয়া করুন)-কে সমসাময়িক চারজন ব্যক্তি সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করেছিলেন যে, তাঁদের মধ্যে কে সবচেয়ে বেশি স্মৃতিধর: মুগলতাই, ইবনে কাসীর, ইবনে রাফে এবং আল-হুসাইনী?

--------------------------------------------

(১) "আদ-দুরারুল কামিনাহ" ৪: ৩৫৩, এবং অনুরূপ তথ্য রয়েছে জয়নুদ্দীন ইবনে রজব থেকে বর্ণিত "লাহজুল আলহাজ": ১৩৩ এবং "শাযারাতুয যাহাব" ৬: ১৯৭ ও অন্যান্য গ্রন্থে।

(২) "তাদরীবুর রাবী" ২: ৪০৫।
(খণ্ড: ১) আদ দুররুল মানযূম মিন কালামিল মুসতাফা আল মাসূম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম (পৃষ্ঠা: ١٧)
قال: "فأجاب -ومن خطه نقلت-:

أن أوسعَهُم إطلاعًا، وأعلمهم بالأنساب: مُغْلَطاي، على أغلاط تقع منه في تصانيفه.

وأحفظهم للمتون والتواريخ: ابن كثير.

وأقعدهم بطلب الحديث، وأعلمهم بالمُؤتَلِف والمختلف: ابن رافع.

وأعرَفَهُم بشيوخ المتأخرين وبالتاريخ: الحسيني، وهو دونهم في الحفظ".

فأوسَعُهم إطّلاعًا وأعْلَمُهم بالأنساب هو الإمام مُغْلَطاي، ولا يضيره أن يكون له بعض الأغلاط في تصانيفه، فمن ذا الذي لا يغلط من هؤلاء الأئمة المكثرين أمثاله؟!.

وأما في اللغة: فقد حفظ في صباه "كفاية المتحفظ" (1)، وكذلك حفظ "الفصيح" (2)، وكان على معرفة جيدة باللغة، مستحضرًا لها.

--------------------------------------------

(1) لابن الأجدابي: إبراهيم بن إسماعيل، المتوفى في حدود سنة 470 هـ، قال في "إنباه الرواة" 1: 193: "وصنف في اللغة مقدمة لطيفة، سماها كفاية المتحفظ يشتغل بها الناس في الغرب ومصر"، والرسالة طبعها قديما بحلب فضيلة العلامة الفقيه اللغوي مصطفى الزرقاء حفظه الله، وأمتع المسلمين بحياته، وأعاد طبعها من جديد محققة.

(2) لأحمد بن يحيى المعروف بـ"ثعلب" إمام الكوفيين في النحو واللغة، المتوفى سنة 291 هـ، وهو كتاب "صغير الحجم، كثير الفائدة، اعتنى به الأئمه". "كشف الظنون" 2: 1272، وهو مطبوع قديمًا.
তিনি বললেন: "তিনি উত্তর দিয়েছিলেন -এবং তাঁর হস্তলিপি থেকে আমি এটি নকল করেছি-:

নিশ্চয়ই তাঁদের মধ্যে সবচেয়ে ব্যাপক অধ্যয়নসম্পন্ন এবং বংশবিদ্যায় সবচেয়ে পারদর্শী হলেন: মুগলাতাই, যদিও তাঁর রচিত গ্রন্থসমূহে কিছু ভুল পরিলক্ষিত হয়।

আর মতন (মূল পাঠ) ও ইতিহাসের ক্ষেত্রে সবচেয়ে বড় হাফেজ (স্মৃতিশক্তিসম্পন্ন) হলেন: ইবনে কাসির।

আর হাদিস অন্বেষণে তাঁদের মধ্যে সবচেয়ে সুপ্রতিষ্ঠিত এবং 'মু'তালিফ ও মুখতালিফ' (নামের সমতা ও বৈচিত্র্য) বিষয়ে সবচেয়ে জ্ঞানী হলেন: ইবনে রাফে।

আর পরবর্তী যুগের শায়খদের সম্পর্কে এবং ইতিহাসের ব্যাপারে সবচেয়ে বেশি অভিজ্ঞ হলেন: আল-হুসাইনি, যদিও স্মৃতিশক্তির দিক থেকে তিনি অন্যদের তুলনায় কিছুটা পিছিয়ে।"

সুতরাং তাঁদের মধ্যে সবচেয়ে ব্যাপক অধ্যয়নসম্পন্ন এবং বংশবিদ্যায় সবচেয়ে পারদর্শী হলেন ইমাম মুগলাতাই। আর তাঁর রচিত গ্রন্থাবলীতে কিছু ভুল থাকা তাঁর মর্যাদাহানি করে না, কারণ তাঁর মতো বহু গ্রন্থ রচয়িতা ইমামদের মধ্যে এমন কে আছেন যিনি ভুল করেননি?!

আর ভাষাতত্ত্বের ক্ষেত্রে: তিনি তাঁর শৈশবেই "কিফায়াতুল মুতাহাফ্ফিয" (১) মুখস্থ করেছিলেন এবং একইভাবে তিনি "আল-ফাসিহ" (২) মুখস্থ করেছিলেন। ভাষাতত্ত্বের ওপর তাঁর চমৎকার জ্ঞান ছিল এবং এটি তাঁর নখদর্পণে থাকত।

--------------------------------------------

(১) ইবনুল আজদাবি: ইব্রাহিম বিন ইসমাইল, যিনি আনুমানিক ৪৭০ হিজরির দিকে মৃত্যুবরণ করেন। 'ইনবাহুর রুওয়াত' (১: ১৯৩) গ্রন্থে বলা হয়েছে: "তিনি ভাষাতত্ত্বের ওপর একটি চমৎকার সংক্ষিপ্ত গ্রন্থ রচনা করেছেন, যার নাম দিয়েছেন 'কিফায়াতুল মুতাহাফ্ফিয'। মাগরিব ও মিসরের মানুষ এটি নিয়ে অধ্যয়ন করে।" পুস্তিকাটি অনেক আগে হালব শহরে বিশিষ্ট আল্লামা, ফকিহ ও ভাষাবিদ মুস্তফা আজ-যারকা (আল্লাহ তাঁকে হিফাজত করুন এবং তাঁর হায়াত দ্বারা মুসলিমদের উপকৃত করুন) প্রকাশ করেছিলেন এবং পুনরায় এটি তাহকিকসহ মুদ্রণ করেছেন।

(২) আহমদ বিন ইয়াহইয়া, যিনি 'সা'লাব' নামে পরিচিত, নাহু ও ভাষাতত্ত্বে কুফাবাসীদের ইমাম, মৃত্যু ২৯১ হিজরি। এটি একটি "ক্ষুদ্রাকৃতির কিতাব, যা অত্যন্ত উপকারী এবং ইমামগণ এর প্রতি বিশেষ গুরুত্ব দিয়েছেন।" 'কাশফুয যুনুন' ২: ১২৭২। এটি প্রাচীনকালে মুদ্রিত হয়েছে।
(খণ্ড: ১) আদ দুররুল মানযূম মিন কালামিল মুসতাফা আল মাসূম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম (পৃষ্ঠা: ١٨)
قال الحافظ ابن حجر: "كان كثيرَ الاستحضار لها، متسع المعرفة فيها" (1)، وقال ابن فهد: "له اتساع في نقل اللغة" (2).

وتصنيفه في اللغة يدل على تمكنه وإمامته فيها.

ولم يقتصر رحمه الله على هذه العلوم فحسب، بل دَرَس علومًا شتى، وكان يكثر جدًا من القراءة بنفسه، حتى قيل: أكثرُ طَلَبِه بنفسه وبقراءته، قال الحافظ ابن حجر: "أكثرَ جدًا من القراءة بنفسه والسماع وكتب الطباق" (3)، فكان رحمه الله واسع الاطلاع، مشاركًا في فنون عديدة.

قال الحافظ ابن حجر: "حصَّل من المسموعات ما يطول عدُّه" (4).

وقال ابن فهد: "انتقى، وخرَّج، وأفاد، وكتب الطباق" (5).

وقال ابن تَغْري بردي: "رحل، وكتب، وصنَّف. . . وله مشاركة في فنون عديدة" (6).

--------------------------------------------

(1) "لسان الميزان" 6: 74.

(2) "لحظ الألحاظ": 140.

(3) "الدرر الكامنة" 4: 352، وكتابة الطباق: معناها كتابة أسماء السامعين والحاضرين لقراءة كتابٍ ما على أحد الشيوخ، كما يرى في آخر الكتب الحديثية وغيرها، وهذا يكون ممن يثق به الشيخ المقروء عليه، ويَكِلُ إليه هذا الأمر.

(4) "لسان الميزان" 6: 72.

(5) "لحظ الألحاظ": 138.

(6) "النجوم الزاهرة" 11: 8.
হাফেজ ইবনে হাজার বলেন: "তিনি এই বিষয়ের বর্ণনাসমূহ স্মরণে রাখার ক্ষেত্রে অত্যন্ত পারদর্শী এবং এতে তাঁর জ্ঞান ছিল সুপ্রসারিত" (১), এবং ইবনে ফাহদ বলেন: "ভাষাতত্ত্ব বর্ণনায় তাঁর ব্যাপক পরিধি ছিল" (২)।

ভাষাতত্ত্বের ওপর তাঁর সংকলনসমূহ এই শাস্ত্রে তাঁর পারদর্শিতা ও ইমামতের প্রমাণ দেয়।

তিনি (রাহিমাহুল্লাহ) কেবল এই শাস্ত্রগুলোর মধ্যেই সীমাবদ্ধ ছিলেন না, বরং তিনি বিভিন্ন শাস্ত্র অধ্যয়ন করেছেন। তিনি নিজে নিজে প্রচুর পড়াশোনা করতেন, এমনকি বলা হয়ে থাকে: তাঁর ইলম অন্বেষণের সিংহভাগই ছিল স্বীয় পড়াশোনা ও পাঠের মাধ্যমে। হাফেজ ইবনে হাজার বলেন: "তিনি নিজে নিজে পাঠ করা, শ্রবণ করা এবং 'তাবাক' (শ্রবণকারীদের তালিকা) লেখার কাজে অত্যন্ত মশগুল থাকতেন" (৩)। ফলে তিনি (রাহিমাহুল্লাহ) অত্যন্ত ব্যাপক জ্ঞানের অধিকারী এবং বহু বিদ্যায় পারদর্শী ছিলেন।

হাফেজ ইবনে হাজার বলেন: "শ্রবণকৃত হাদীস ও গ্রন্থাদির ক্ষেত্রে তিনি এত বেশি অর্জন করেছিলেন যে, তা গণনা করা দীর্ঘসাধ্য" (৪)।

ইবনে ফাহদ বলেন: "তিনি (পাণ্ডুলিপি থেকে) নির্বাচন করেছেন, (হাদীস) তাখরীজ করেছেন, (মানুষকে) উপকৃত করেছেন এবং 'তাবাক' লিখেছেন" (৫)।

ইবনে তাগরি বারদি বলেন: "তিনি সফর করেছেন, লিখেছেন এবং সংকলন করেছেন... আর বিভিন্ন বিদ্যায় তাঁর পদচারণা ছিল" (৬)।

--------------------------------------------

(১) "লিসানুল মিজান" ৬: ৭৪।

(২) "লাহযুল আলহায": ১৪০।

(৩) "আদ-দুরার আল-কামিনাহ" ৪: ৩৫২; আর 'তাবাক' লিখন: এর অর্থ হলো কোনো শাইখের নিকট কোনো গ্রন্থ পাঠের সময় শ্রবণকারী ও উপস্থিত ব্যক্তিদের নাম লিখে রাখা, যেমনটি হাদীস ও অন্যান্য গ্রন্থের শেষে দেখা যায়। এটি এমন ব্যক্তিই করেন যার ওপর শাইখ আস্থা রাখেন এবং এই কাজের দায়িত্ব তাঁর ওপর অর্পণ করেন।

(৪) "লিসানুল মিজান" ৬: ৭২।

(৫) "লাহযুল আলহায": ১৩৮।

(৬) "আন-নুজুম আয-যাহিরাহ" ১১: ৮।
(খণ্ড: ১) আদ দুররুল মানযূম মিন কালামিল মুসতাফা আল মাসূম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম (পৃষ্ঠা: ١٩)
ولم يكن موصوفًا بجمود النَّقَلة، بل كان ذا دراية، ونقد عن بصيرة ومعرفة، وله مآخذ على أهل اللغة، وعلى كثير من المحدثين (1).

وفي كتابنا هذا سوف ترى كيف حكم على بعض الأحاديث بالضعف وإن كانت من أدلة مذهبه، شأنه شأن كل إمام منصف يدور مع الحق حيث دار.

 

‌‌شيوخه:

قبل الشروع في ذكر شيوخ مُغْلَطاي، أشير إلى أن بعض معاصريه تكلم في أخذه عن بعض شيوخه، وشكك في سماعه منهم، أو إجازتهم له؛ والعمدة في ذلك قوله، فهم شيوخه وهر أدرى بهم: من هم؟ ومتى سمع منهم؟ فإن قال: حدثني فلان، أو أجازني فلان، مع معاصرته لذلك الشيخ وإمكان اللقاء بينهما فبقوله نأخذ.

كيف لا، وهو أمين لدينا في دين الله، ومُصَدَّق عندنا في النقل عن الله ورسوله، فلأن يكون مُصدقًا في مثل هذه الأمرر أحرى وأجدر.

إذا ثبت هذا فإني ذاكرٌ شيوخَ مُغْلَطاي جميعَهم، مُتَرجمًا لكل شيخ بترجمة مختصرة، مُرتِّبا لهم على سني الوفاة، فأقدم من تقدَّت وفاتُه على من تُوفِّي بعد ذلك، ثم من توفي بعده، وهكذا، ذاكرًا أهمَّ مصادر ترجمته، والمصدرَ الذي عدَّ المترجمَ من شيوخ مُغلَطاي، فأقول -ومن الله أستمد العون والتوفيق-:

--------------------------------------------

(1) "الدرر الكامنة" 353: 4، و"ذيل طبقات الحفاظ" للسيوطي: 365، و"شذرات الذهب" 197: 6.
তিনি নিছক বর্ণনাকারীদের মতো স্থবির চিন্তার অধিকারী ছিলেন না, বরং তিনি ছিলেন গভীর প্রজ্ঞাবান এবং বিচক্ষণতা ও জ্ঞানের আলোকে সমালোচক। ভাষাবিদ এবং অনেক মুহাদ্দিসের ওপরও তাঁর কিছু আপত্তি বা পর্যবেক্ষণ ছিল (১)।

আমাদের এই কিতাবে আপনি দেখতে পাবেন যে, তিনি কীভাবে কিছু হাদীসকে দুর্বল বলে রায় দিয়েছেন, যদিও সেগুলো তাঁর মাযহাবের সপক্ষে দলিল হিসেবে ব্যবহৃত হতো। সত্য যেদিকেই ঘুরেছে, তিনিও সেদিকেই ঘুরেছেন—আর এটাই হলো প্রত্যেক ইনসাফগার ইমামের বৈশিষ্ট্য।

 

‌‌তাঁর উস্তাদগণ:

মুগলাতাইয়ের উস্তাদদের আলোচনা শুরু করার আগে আমি এই বিষয়ের দিকে ইঙ্গিত করছি যে, তাঁর সমসাময়িক কেউ কেউ তাঁর কোনো কোনো উস্তাদের নিকট থেকে ইলম অর্জনের বিষয়ে কথা তুলেছেন এবং তাঁদের থেকে তাঁর শ্রবণের (সামা') বা তাঁদের পক্ষ থেকে তাঁকে প্রদত্ত অনুমতির (ইজাযাহ) বিষয়ে সন্দেহ পোষণ করেছেন। তবে এই ক্ষেত্রে মূল ভিত্তি হলো তাঁর নিজের বক্তব্যই; কারণ তাঁরা তাঁর উস্তাদ এবং তাঁদের সম্পর্কে তিনিই ভালো জানেন: তাঁরা কারা? এবং কখন তিনি তাঁদের নিকট থেকে শুনেছেন? সুতরাং যখন তিনি বলেন যে, ‘অমুক আমাকে হাদীস বর্ণনা করেছেন’ অথবা ‘অমুক আমাকে অনুমতি দিয়েছেন’, এবং সেই শায়খের সাথে তাঁর সমসাময়িক হওয়া ও তাঁদের মাঝে সাক্ষাতের সম্ভাবনা বিদ্যমান থাকে, তখন আমরা তাঁর বক্তব্যকেই গ্রহণ করব।

কেনই বা তা হবে না? অথচ আল্লাহর দ্বীনের বিষয়ে তিনি আমাদের নিকট আমানতদার এবং আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের পক্ষ থেকে বর্ণনার ক্ষেত্রে আমাদের নিকট সত্যবাদী। সুতরাং এই ধরণের সাধারণ বিষয়ের ক্ষেত্রেও তিনি সত্যবাদী সাব্যস্ত হওয়াই অধিক যুক্তিযুক্ত ও সঙ্গত।

যখন এটি প্রমাণিত হলো, তখন আমি মুগলাতাইয়ের সকল উস্তাদের নাম উল্লেখ করছি এবং প্রত্যেক শায়খের সংক্ষিপ্ত পরিচিতি তুলে ধরছি। আমি তাঁদের মৃত্যুসালের ক্রমানুসারে সাজিয়েছি; অর্থাৎ যাঁদের মৃত্যু আগে হয়েছে তাঁদের আগে উল্লেখ করেছি, এরপর ক্রমান্বয়ে অন্যদের নাম এসেছে। সাথে সাথে তাঁদের জীবনীর প্রধান উৎসসমূহ এবং কোন কিতাবে উক্ত ব্যক্তিকে মুগলাতাইয়ের উস্তাদ হিসেবে গণ্য করা হয়েছে তা-ও উল্লেখ করেছি। আমি বলছি—আর আল্লাহর কাছেই আমি সাহায্য ও তাওফীক প্রার্থনা করছি—:

--------------------------------------------

(১) "আদ-দুরারুল কামিনাহ" ৪: ৩৫৩; সুয়ূতী রচিত "যায়লু তাবাকাতিল হুফফায": ৩৬৫; এবং "শাযারাতুয যাহাব" ৬: ১৯৭।
(খণ্ড: ১) আদ দুররুল মানযূম মিন কালামিল মুসতাফা আল মাসূম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম (পৃষ্ঠা: ٢٠)
1 - علي بن أحمد بن عبد الواحد بن أحمد بن عبد الرحمن، السَّعدي، المَقْدِسي، الصالحي، الحنبلي، الفَخْرُ ابنُ البخاري، أبو الحسن، مُسْنِد الدنيا، الرُّحْلة.

ولد سنة 595 هـ، وتوفي سنة 690 هـ، عن خمس وتسعين سنة.

سمع من حنبل، وابن طَبَرْزَد، وخلق. وأجاز له أبو المكارم اللبان، وابن الجوزى، وخلق كثير.

رحل الطلبة إليه من البلاد، وألحق الأحفاد بالأجداد، في علو الإسناد (1). ولمغلطاي إجازة منه (2).

2 - محمد بن علي بن وَهْب بن مُطِيع بنِ أبي الطّاعة، أبو الفتح، تَقِيُّ الدين، ابنُ دَقِيق العِيد، القُشَيريُّ، القُوصيُّ، قاضي قُضاةِ الشافعية، حاكمُ الحُكَّامِ، حُجَّةَ الإسلام، مفتي الأنام، شيخُ الإسلام، الفقيهُ المالكيُّ ثم الشافعيُّ.

ولد بالبحر سنه 625 هـ، وتوفي بالقاهرة سنه 702 هـ، عن سبع وسبعين سنة.

--------------------------------------------

(1) ترجمه: الذهبي في "العبر" 3: 373، وابن كثير في "البداية" 343: 13، وابن تغري بردي في "النجوم الزاهرة" 28: 8، وابن العماد في "شذرات الذهب" 5: 414.

(2) "ذيل العبر"، للعراقي 1: 72، "لسان الميزان" 73: 6، "لحظ الألحاظ": 133.
১ - আলী ইবনে আহমদ ইবনে আব্দুল ওয়াহিদ ইবনে আহমদ ইবনে আব্দুর রহমান, আস-সাদী, আল-মাকদিসী, আস-সালেহী, আল-হাম্বলী, ফখর ইবনে আল-বুখারী, আবুল হাসান, মুসনিদুদ দুনিয়া, আর-রুহলাহ।

তিনি ৫৯৫ হিজরীতে জন্মগ্রহণ করেন এবং ৬৯০ হিজরীতে পঁচানব্বই বছর বয়সে মৃত্যুবরণ করেন।

তিনি হাম্বল, ইবনে তাবারজাদ এবং আরও অনেকের নিকট থেকে শ্রবণ করেছেন। আর আবুল মাকারিম আল-লাব্বান, ইবনুল জাওযী এবং আরও অসংখ্য ব্যক্তি তাকে ইজাযাহ প্রদান করেছেন।

বিভিন্ন দেশ থেকে ছাত্ররা তার নিকট সফর করে আসত এবং তিনি উচ্চতর সনদের ক্ষেত্রে নাতিদের দাদাদের সমপর্যায়ে পৌঁছে দিয়েছেন (১)। মুগলতাইয়ের নিকট তার পক্ষ থেকে ইজাযাহ রয়েছে (২)।

২ - মুহাম্মদ ইবনে আলী ইবনে ওয়াহাব ইবনে মুতী' ইবনে আবীত ত'আহ, আবুল ফাতহ, তাকীউদ্দীন, ইবনে দাকীকুল ঈদ, আল-কুশাইরী, আল-কূসী, শাফেয়ী মাযহাবের প্রধান বিচারপতি, বিচারকদের বিচারক, হুজ্জাতুল ইসলাম, জগতবাসীর মুফতি, শায়খুল ইসলাম, মালেকী এবং পরবর্তীতে শাফেয়ী ফকীহ।

তিনি ৬২৫ হিজরীতে সমুদ্রযাত্রাকালে জন্মগ্রহণ করেন এবং ৭০২ হিজরীতে কায়রোতে ৭৭ বছর বয়সে মৃত্যুবরণ করেন।

--------------------------------------------

(১) তার জীবনী বর্ণনা করেছেন: আয-যাহাবী "আল-ইবার" গ্রন্থে ৩: ৩৭৩, ইবনে কাসীর "আল-বিদায়া" গ্রন্থে ১৩: ৩৪৩, ইবনে তাগরী বারদী "আন-নুজুম আয-যাহিরাহ" গ্রন্থে ৮: ২৮, এবং ইবনুল ইমাদ "শাযারাতুয যাহাব" গ্রন্থে ৫: ৪১৪।

(২) আল-ইরাকী রচিত "যাইলুল ইবার" ১: ৭২, "লিসানুল মীযান" ৬: ৭৩, "লাহযুল আলহায": ১৩৩।
(খণ্ড: ১) আদ দুররুল মানযূম মিন কালামিল মুসতাফা আল মাসূম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম (পৃষ্ঠা: ٢١)
سمع الكثير، ورحل، وخرَّج، وصنّف مُصنَّفاتٍ عديدةً، فريدةً مفيدةً، منها: "إحكام الأحكام"، و"الاقتراح"، و"الإلمام بأحاديث الأحكام" وكلُّها مطبوع و"الإمام" وهو كاسمه، وله غير ذلك، وكان رأسًا في العلم والعمل (1).

سمع منه مغلطاي (2).

3 - أحمد بن رجب بن الحسن بن محمد، أبو العباس، السَّلامي، البغدادي نزيل دمشق، والدُ المحدث المشهور، الإمامِ زين الدين عبد الرحمن بن أحمد ابن رجب الحنبلى.

ولد سنة 644 هـ ببغداد، ونشأ بها، وتوفي بدمشق سنة 705 هـ.

قرأ بالروايات، وطلب الحديث، ورحل إلى مصر وغيرها، وكان دَيِّنًا، خَيِّرًا، عفيفًا (3).

--------------------------------------------

(1) ترجمه: السبكي في "طبقات الشافعية الكبرى" 207: 9 - 249، والذهبي في "ذيل العبر": 6، وابن كثير في "البداية" 28: 14 - 29، والمقريزي في "المُقَفَّى الكبير" 367: 6 - 387، وابن حجر في "الدرر الكامنة" 4: 91 - 96 وابن تغرى بردي في "النجرم الزاهرة" 8: 164، وغيرهم.

(2) "التبيان لبديعة البيان" لابن ناصر الدين الدمشقي، و"ذيل العبر" للعراقي 1: 71، و"الدرر الكامنة" 353: 4، و"لسان الميزان" 73: 6 و"لحظ الألحاظ": 136.

(3) ترجمه: ابن الجَزَري في "غاية النهاية" 1: 53 (229)، وابن حجر في "الدرر الكامنة" 1: 130 - 131.
তিনি প্রচুর (হাদিস) শ্রবণ করেছেন, (ইলম অন্বেষণে) সফর করেছেন, (হাদিস) তাখরিজ করেছেন এবং অনেক অনন্য ও উপকারী গ্রন্থ রচনা করেছেন। সেগুলোর মধ্যে রয়েছে: "ইহকামুল আহকাম", "আল-ইকতিরাহ", এবং "আল-ইলমাম বি-আহাদিসিল আহকাম" - এগুলোর সবকটিই মুদ্রিত - এবং "আল-ইমাম", যা এর নামের মতোই (একটি মহান গ্রন্থ)। এছাড়া তাঁর আরও অনেক গ্রন্থ রয়েছে। তিনি ইলম ও আমলের ক্ষেত্রে শীর্ষস্থানীয় ছিলেন (১)।

মুগলতাই তাঁর নিকট থেকে (হাদিস) শ্রবণ করেছেন (২)।

৩ - আহমাদ বিন রাজাব বিন আল-হাসান বিন মুহাম্মদ, আবু আল-আব্বাস, আস-সালামি, আল-বাগদাদি, দামেস্কের অধিবাসী; তিনি প্রখ্যাত মুহাদ্দিস ইমাম যাইনুদ্দিন আবদুর রহমান বিন আহমাদ ইবনে রাজাব আল-হাম্বলীর পিতা।

তিনি ৬৪৪ হিজরিতে বাগদাদে জন্মগ্রহণ করেন এবং সেখানেই বেড়ে ওঠেন। ৭০৫ হিজরিতে দামেস্কে তিনি ইন্তেকাল করেন।

তিনি বিভিন্ন কিরাতের মাধ্যমে (কুরআন) পাঠ করেছেন, হাদিস অন্বেষণ করেছেন এবং মিসরসহ অন্যান্য স্থানে সফর করেছেন। তিনি ধর্মপ্রাণ, নেককার ও পবিত্র চরিত্রের অধিকারী ছিলেন (৩)।

--------------------------------------------

(১) তাঁর জীবনী বর্ণনা করেছেন: সুবকী "তাবাকাতুশ শাফিঈয়্যাহ আল-কুবরা" ৯: ২০৭ - ২৪৯-এ, যাহাবী "যাইলুল ইবার": ৬-এ, ইবনে কাসীর "আল-বিদায়া" ১৪: ২৮ - ২৯-এ, মাকরিজি "আল-মুকাফ্ফা আল-কাবীর" ৬: ৩৬৭ - ৩৮৭-এ, ইবনে হাজার "আদ-দুরারুল কামিনাহ" ৪: ৯১ - ৯৬-এ এবং ইবনে তাগরি বারদি "আন-নুজুমুজ জাহিরাহ" ৮: ১৬৪-এ এবং অন্যান্যরা।

(২) ইবনে নাসিরুদ্দিন আদ-দিমাশকি রচিত "আত-তিবইয়ান লি-বাদিআতিল বায়ান", ইরাকি রচিত "যাইলুল ইবার" ১: ৭১, "আদ-দুরারুল কামিনাহ" ৪: ৩৫৩, "লিসানুল মিজান" ৬: ৭৩ এবং "লাহযুল আলহায": ১৩৬।

(৩) তাঁর জীবনী বর্ণনা করেছেন: ইবনুল জাযারি "গায়াতুন নিহায়াহ" ১: ৫৩ (২২৯)-এ এবং ইবনে হাজার "আদ-দুরারুল কামিনাহ" ১: ১৩০ - ১৩১-এ।
(খণ্ড: ১) আদ দুররুল মানযূম মিন কালামিল মুসতাফা আল মাসূম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম (পৃষ্ঠা: ٢٢)
حدَّث عنه مغلطاي (1).

4 - عبد المؤمن بن خلف بن أبى الحسن، أبو محمد، شرف الدين الدِّمْياطى الشافعي، الإمام، الحافظ، الحجة، الفقيه، النّسَّابة، شيخ المحدثين، صاحب التصانيف.

ولد آخر سنة 613 هـ، وتوفي سنة 705 هـ، وكانت جنازته مشهودة. سمع منه خلائق مثل: اليُونِيني، والمزِّي، والذَّهَبي، وخلق سواهم (2).

ومن تصانيفه: "المتجر الرابح"، و"فضل الخيل" وهما مطبوعان، وله "المختصر في سيرة خير البشر"، وغير ذلك.

روى عنه مغلطاي (3).

--------------------------------------------

(1) "التبيان لبديعة البيان" 156 / ب.

(2) ترجمه: الذهبي في "المعجم الكبير" 1: 424، و"المعجم المختص": 95 - 96 و"تذكرة الحفاظ" 4: 1477 - 1479، والإسنوي في "طبقات الشافعية" 1: 270، وابن كثير في "البداية" 14: 42، وابن الجزري في "غاية النهاية" 1: 472 (1972)، وابن قاضي شهبة في "طبقات الشافعية" 2: 75، وابن حجر في "الدرر الكامنة" 417: 2، وابن تغري بردي في "النجوم الزاهرة" 8: 171 - 172، والزركلي في "الأعلام" 4: 169، وغيرهم.

(3) "الذيل على العبر" لأبي زرعة العراقي 1: 71، و"التبيان" لابن ناصر الدين 156 / ب، و"الدرر الكامنة" 4: 353، و"لحظ الألحاظ": 136.
মুগলতায় তাঁর থেকে বর্ণনা করেছেন (১)।

৪ - আবদুল মুমিন বিন খালাফ বিন আবিল হাসান, আবু মুহাম্মদ, শরফুদ্দিন আদ-দিময়াতি আশ-শাফিয়ি; তিনি ইমাম, হাফিজ, হুজ্জাহ (দলীল), ফকিহ, বংশবিদ, মুহাদ্দিসগণের শাইখ এবং বহু গ্রন্থের রচয়িতা।

তিনি ৬১৩ হিজরি সনের শেষভাগে জন্মগ্রহণ করেন এবং ৭০৫ হিজরি সনে মৃত্যুবরণ করেন। তাঁর জানাজায় এক বিশাল জনসমাগম হয়েছিল। তাঁর থেকে এক বিশাল সৃষ্টি (বহু মানুষ) হাদিস শ্রবণ করেছেন, যেমন: আল-ইউনিনি, আল-মিজ্জি, আল-জাহাবি এবং তাঁদের ছাড়াও আরও অনেকে (২)।

তাঁর রচিত গ্রন্থাবলির মধ্যে রয়েছে: "আল-মাতজারুর রাবিহ" এবং "ফাদলুল খাইল", এ দুটি মুদ্রিত হয়েছে। এছাড়াও তাঁর "আল-মুখতাসার ফি সিরাতি খাইরিল বাশার" সহ আরও অনেক গ্রন্থ রয়েছে।

মুগলতায় তাঁর থেকে বর্ণনা করেছেন (৩)।

--------------------------------------------

(১) "আত-তিবইয়ান লি বাদিআতিল বায়ান" ১৫৬ / খ।

(২) তাঁর জীবনী উল্লেখ করেছেন: আল-জাহাবি তাঁর "আল-মুজামুল কাবীর" ১: ৪২৪, "আল-মুজামুল মুখতাস": ৯৫-৯৬ এবং "তাযকিরাতুল হুফফাজ" ৪: ১৪৭৭-১৪৭৯ গ্রন্থে; আল-ইসনাওয়ি "তাবাকাতুশ শাফিইয়াহ" ১: ২৭০ গ্রন্থে; ইবনে কাসির "আল-বিদায়া" ১৪: ৪২ গ্রন্থে; ইবনুল জাযারি "গায়াতুন নিহায়া" ১: ৪৭২ (১৯৭২) গ্রন্থে; ইবনে কাদি শুহবাহ "তাবাকাতুশ শাফিইয়াহ" ২: ৭৫ গ্রন্থে; ইবনে হাজার "আদ-দুরারুল কামিনাহ" ২: ৪১৭ গ্রন্থে; ইবনে তাগরি বারদি "আন-নুজুমুজ জাহিরা" ৮: ১৭১-১৭২ গ্রন্থে; আয-যিরিকলি "আল-আলাম" ৪: ১৬৯ গ্রন্থে এবং আরও অনেকে।

(৩) আবু জুরআ আল-ইরাকির "আয-যাইল আলাল ইবার" ১: ৭১, ইবনে নাসিরুদ্দিনের "আত-তিবইয়ান" ১৫৬ / খ, "আদ-দুরারুল কামিনাহ" ৪: ৩৫৩ এবং "লাহযুল আলহাজ": ১৩৬।
(খণ্ড: ১) আদ দুররুল মানযূম মিন কালামিল মুসতাফা আল মাসূম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম (পৃষ্ঠা: ٢٣)
5 - علي بن نصر الله بن عمر، أبو الحسن القرشي، المصري، ابن الصواف، المُسْنِد، الشافعى.

توفي سنه 712 هـ وقد جاوز التسعين.

سمع أكثر النسائي عن ابن باقا، وتفرَّد واشتهر، وسمع أيضًا من جعفر الهمذاني، والعلمِ ابن الصابوني، وغيرهما، ورحل الناس إليه وأكثروا عنه (1).

سمع منه مغلطاي (2).

6 - ست الوزراء بنت عمر بن أسعد بن المُنَجَّى، أم عبد الله التنوخية، الدمشقية، الحنبلية.

وتدعى: وزيرة بنت القاضي شمس الدين عمر، بن شيخ الحنابلة وجيه الدين، مُسْنِدَةُ الوقتِ، رُحْلَةُ زمانها.

ولدت سنة 624 هـ، وتوفيت فجأة سنة 716 هـ.

--------------------------------------------

(1) ترجمه: الذهبي في "ذيل العبر": 35، وابن حجر في "الدرر الكامنة" 3: 136، وابن العماد في "شذرات الذهب" 6: 31.

(2) "الذيل على العبر" للعراقي 1: 71، و"لسان الميزان" 73: 6، و"لحظ الألحاظ": 135.
৫ - আলী বিন নাসরুল্লাহ বিন উমর, আবুল হাসান আল-কুরাশি, আল-মিসরি, ইবনুস সাওয়াফ, আল-মুসনিদ, আশ-শাফিঈ।

তিনি ৭১২ হিজরি সনে ইন্তেকাল করেন এবং তাঁর বয়স নব্বই বছর ছাড়িয়েছিল।

তিনি ইবনু বাক্বার নিকট থেকে আন-নাসায়ির অধিকাংশ অংশ শ্রবণ করেছেন এবং এ ক্ষেত্রে তিনি অনন্য ও প্রসিদ্ধ ছিলেন। তিনি জাফর আল-হামদানি, আল-আলম ইবনুস সাবুনি এবং অন্যদের থেকেও শ্রবণ করেছেন। মানুষ তাঁর নিকট সফর করে আসতেন এবং তাঁর থেকে প্রচুর বর্ণনা গ্রহণ করেছেন (১)।

মুগলতাই তাঁর নিকট থেকে শ্রবণ করেছেন (২)।

৬ - সিতুল উযারা বিনতে উমর বিন আসআদ বিন আল-মুনাজ্জা, উম্মু আব্দুল্লাহ আত-তানুখিইয়াহ, আদ-দিমাশকিইয়াহ, আল-হানবালিইয়াহ।

তাঁকে ডাকা হতো: ওয়াযিরা বিনতে কাযি শামসুদ্দিন উমর ইবনে শাইখুল হানাবিলাহ ওয়াজিহুদ্দিন; তিনি ছিলেন নিজ সময়ের প্রধান মুসনিদাহ এবং তাঁর যুগের জ্ঞানপিপাসুদের সফরের কেন্দ্রস্থল।

তিনি ৬২৪ হিজরি সনে জন্মগ্রহণ করেন এবং ৭১৬ হিজরি সনে হঠাৎ ইন্তেকাল করেন।

--------------------------------------------

(১) তাঁর জীবনী: আয-যাহাবি "যাইলুল ইবার": ৩৫, ইবনু হাজার "আদ-দুরারুল কামিনাহ" ৩: ১৩৬, এবং ইবনুল ইমাদ "শাযারাতুয যাহাব" ৬: ৩১ পৃষ্ঠায় উল্লেখ করেছেন।

(২) আল-ইরাকির "আয-যাইলু আলাল ইবার" ১: ৭১, এবং "লিসানুল মিজান" ৬: ৭৩, এবং "লাহযুল আলহায": ১৩৫।
(খণ্ড: ১) আদ দুররুল মানযূম মিন কালামিল মুসতাফা আল মাসূম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম (পৃষ্ঠা: ٢٤)
روت عن أبيها، وابن الزُّبَيري، وحَدَّثَتْ بدمشق ومصر، وكانت طويلةَ الرُّوح على سماع الحديث، وكانت على خيرٍ عظيم (1).

روى عنها مغلطاي (2).

7 - محمد بن محمد بن عيسى بن الحسن، الجلال، القاهرى، طباخ الصوفية.

توفي سنة ثماني عشرة وسبع مائة.

حدث عن ابن قُمَيرة، وابنِ الجُمَّيْزيِّ، والسَّاوِيِّ، وطائفة (3).

سمع منه مغلطاي (4).

8 - الحسن بن عمر بن عيسى بن خليل، الكُرْدي، أبو علي وأبو محمد، الدِّمَشْقيُّ، المقرئ، الرُّحْلة.

--------------------------------------------

(1) ترجمها: الذهبي في "ذيل العبر": 44، وابن حجر في "الدرر الكامنة" 2: 129، وابن تغري بردي في "النحرم الزاهرة" 9: 169، وكناها بأم محمد، وابن العماد في "الشذرات" 6: 40.

(2) "التبيان لبديعة البيان" 156 / ب، و"لسان الميزان"، 6: 72، و"لحظ الألحاظ": 136.

(3) ترجمه: الذهبي في "ذيل العبر": 49، وعنه ابن العماد في "الشذرات" 6: 51.

(4) "الدرر الكامنة"4: 352، و"لحظ الألحاظ ": 134، و"النجوم الزاهرة" 8: 11، وعنده وعند ابن فهد: "ابن الطباخ".
তিনি তাঁর পিতা এবং ইবনে আয-যুবাইরীর নিকট থেকে বর্ণনা করেছেন। তিনি দামেস্ক ও মিশরে হাদীস বর্ণনা করেছেন। হাদীস শ্রবণের ক্ষেত্রে তিনি অত্যন্ত ধৈর্যশীল ছিলেন এবং তিনি মহৎ গুণের অধিকারী ছিলেন (১)।

মুগলতায় তাঁর থেকে বর্ণনা করেছেন (২)।

৭ - মুহাম্মদ বিন মুহাম্মদ বিন ঈসা বিন আল-হাসান, আল-জালাল, আল-কাহিরাভি, তাবাখ আস-সুফিয়া।

তিনি সাতশত আঠারো হিজরীতে ইন্তেকাল করেন।

তিনি ইবনে কুমাইরাহ, ইবনুল জুম্মাইযি, আস-সাভি এবং এক দল মুহাদ্দিস থেকে হাদীস বর্ণনা করেছেন (৩)।

মুগলতায় তাঁর থেকে শুনেছেন (৪)।

৮ - আল-হাসান বিন উমর বিন ঈসা বিন খলিল, আল-কুরদি, আবু আলী ও আবু মুহাম্মদ, আদ-দিমাশকি, আল-মুকরি, আর-রুহলাহ।

--------------------------------------------

(১) তাঁর জীবনী বর্ণনা করেছেন: আয-যাহাবি ‘যাইলুল ইবার’ গ্রন্থে: ৪৪; ইবনে হাজার ‘আদ-দুরারুল কামিনাহ’ গ্রন্থে ২: ১২৯; ইবনে তাগরি বারদি ‘আন-নুজুম আয-যাহিরাহ’ গ্রন্থে ৯: ১৬৯ এবং তাঁকে উম্মু মুহাম্মদ উপনামে ভূষিত করেছেন; ইবনুল ইমাদ ‘আশ-শাযারাত’ গ্রন্থে ৬: ৪০।

(২) ‘আত-তিবইয়ান লি-বাদিআতিল বয়ান’ ১৫৬ / খ, ‘লিসানুল মিজান’ ৬: ৭২ এবং ‘লাহযুল আলহায’: ১৩৬।

(৩) তাঁর জীবনী বর্ণনা করেছেন: আয-যাহাবি ‘যাইলুল ইবার’ গ্রন্থে: ৪৯ এবং তাঁর থেকে বর্ণনা করে ইবনুল ইমাদ ‘আশ-শাযারাত’ গ্রন্থে ৬: ৫১।

(৪) ‘আদ-দুরারুল কামিনাহ’ ৪: ৩৫২, ‘লাহযুল আলহায’: ১৩৪, ‘আন-নুজুম আয-যাহিরাহ’ ৮: ১১; সেখানে এবং ইবনে ফাহাদের নিকট: ‘ইবনু তাবাখ’।
(খণ্ড: ১) আদ দুররুল মানযূম মিন কালামিল মুসতাফা আল মাসূম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম (পৃষ্ঠা: ٢٥)
ولد سنة 630 هـ تقريبًا، وتوفي سنة 720 هـ.

سمع الحديث من ابن اللُّتِّي وجماعة، وأكثر من الرواية، وحدَّث، ورحل الناس إليه (1).

سمع منه مغلطاي (2).

9 - عبد الرحيم بن عبد المحسن بن حسن بن ضرغام بن صمصام الكناني، كمال الدين المصري، المُنْشاوي، العَدْل، الفقيه.

ولد بالمُنْشِيَّة بقناطر الأهرام سنة 627 هـ، وتوفي سنة 720 هـ، عن ثلاث وتسعين سنة. قال الذهبي: "كان خطيب جامع المُنْشِيَّةِ".

سمع صدرَ الدين البَكْريَّ، وطائفةً، وحدث قديمًا (3).

سمع منه مغلطاي (4).

--------------------------------------------

(1) ترجمه: الذهبي في "ذيل العبر": 57 - 58، والمقريزي في "المقفى الكبير" 3: 441، وابن حجر في "الدرر الكامنة" 2: 30 - 32، وغيرهم.

(2) "التبيان لبديعة البيان"، و"الدرر الكامنة" 4: 352، وتحرف فيه الاسم إلى "الحسين" فيصحح، و"لحظ الألحاظ": 134، و"النجوم الزاهرة" 11: 8.

(3) ترجمه: الذهبي في "ذيل العبر": 58، وابن حجر في "الدرر" 2: 357، وابن العماد في "الشذرات" 53: 6.

(4) "لسان الميزان" 6: 72، وتحرفت فيه "المنشاوي" إلى "المساوي" فتصحح، و"لحظ الألحاظ": 134.
তিনি আনুমানিক ৬৩০ হিজরীতে জন্মগ্রহণ করেন এবং ৭২০ হিজরীতে মৃত্যুবরণ করেন।

তিনি ইবনুল লুততি এবং একটি দল থেকে হাদীস শ্রবণ করেছেন, প্রচুর বর্ণনা করেছেন, হাদীস বর্ণনা করেছেন এবং মানুষ (ইলম অর্জনের জন্য) তাঁর নিকট সফর করত (১)।

তাঁর নিকট থেকে মুগলতাই শ্রবণ করেছেন (২)।

৯ - আব্দুর রহীম বিন আব্দুল মুহসিন বিন হাসান বিন দিরগাম বিন সামসাম আল-কিনানি, কামালুদ্দীন আল-মিসরি, আল-মুনশাওয়ি, আল-আদল, আল-ফকিহ।

তিনি ৬২৭ হিজরীতে কানাত্বিরুল আহরামের আল-মুনশিয়াহ-তে জন্মগ্রহণ করেন এবং ৯৩ বছর বয়সে ৭২০ হিজরীতে মৃত্যুবরণ করেন। আয-যাহাবি বলেন: "তিনি আল-মুনশিয়াহ জামে মসজিদের খতিব ছিলেন।"

তিনি সদরুদ্দীন আল-বাকরি এবং একটি দলের নিকট থেকে শ্রবণ করেছেন এবং পূর্বকালেই হাদীস বর্ণনা করেছেন (৩)।

তাঁর নিকট থেকে মুগলতাই শ্রবণ করেছেন (৪)।

--------------------------------------------

(১) তাঁর জীবনী বর্ণনা করেছেন: আয-যাহাবি 'যাইলুল ইবার'-এ: ৫৭-৫৮, আল-মাকরিজি 'আল-মুকাফফা আল-কাবীর' ৩: ৪৪১-এ, ইবনে হাজার 'আদ-দুরারুল কামিনাহ' ২: ৩০-৩২-এ এবং অন্যান্যরা।

(২) 'আত-তিবিয়ান লি বাদিআতিল বায়ান', 'আদ-দুরারুল কামিনাহ' ৪: ৩৫২, এতে নামটি 'আল-হুসাইন' হিসেবে বিকৃত হয়েছে তাই তা সংশোধন করা প্রয়োজন, 'লাহজুল আলহাজ': ১৩৪ এবং 'আন-নুজুমুয যাহিরহ' ১১: ৮।

(৩) তাঁর জীবনী বর্ণনা করেছেন: আয-যাহাবি 'যাইলুল ইবার'-এ: ৫৮, ইবনে হাজার 'আদ-দুরার'-এ ২: ৩৫৭ এবং ইবনুল ইমাদ 'আশ-শাযারাত'-এ ৫৩: ৬।

(৪) 'লিসানুল মিজান' ৬: ৭২, এতে 'আল-মুনশাওয়ি' শব্দটি 'আল-মাসায়ি' হিসেবে বিকৃত হয়েছে তাই তা সংশোধন করা প্রয়োজন এবং 'লাহজুল আলহাজ': ১৩৪।
(খণ্ড: ১) আদ দুররুল মানযূম মিন কালামিল মুসতাফা আল মাসূম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম (পৃষ্ঠা: ٢٦)
10 - أحمد بن علي بن وهب بن مطيع بن أبي الطَّاعة، تاج الدين، أبو العباس القُشَيريُّ، القُوصيُّ، أخو تقيّ الدين ابنِ دقيق العيد.

ولد سنة 636 هـ، وتوفي سنة 723 هـ، عن سبع وثمانين سنة.

سمع كثيرًا من ابن الجُمَّيْزِى، والرَّشِيدِ العَطَّار، والمُنْذِري، وغيرِهم، وكان كثيرَ العبادة، صائمَ الدهر، مُتَصدِّقًا، كافلًا للأيتام (1).

سمع منه مغلطاي (2).

11 - أحمد بن محمد بن علي بن شجاع، تاج الدين، أبو العباس القرشي الهاشمي، العباسي، الرئيس.

ولد سنة 642 هـ، وتوفي بمصر سنة 721 هـ.

--------------------------------------------

(1) ترجمه: الذهبي في "تذكرة الحفاظ" 4: 1494، وابن حجر في "الدرر الكامنة" 1: 571.

(2) "الوفيات" للسلامي 2: 244، و"ذيل العبر" للعراقي 1: 71، و"التبيان لبديعة البيان"، و"الدرر الكامنة" 4: 352، و"لسان الميزان" 72: 6، و"لحظ الألحاظ": 134، وفي ص 141 ساق ابن فهد حديثًا بسنده إلى مغلطاي قال: "أخبرنا الإمام تاج الدين، أبو العباس، أحمد بن علي بن وهب بن مطيع بن أبي الطاعة القشيري، سماعًا عليه في يوم الاثنين، الأول من شهر ربيع الأول، سنة سبع عشرة وسبع مائة، بالمدرسة الكاملية، من القاهرة المُعِزِّيَّة".
১০ - আহমাদ বিন আলী বিন ওয়াহাব বিন মুতী’ বিন আবিত ত্বা’আ, তাজউদ্দীন, আবুল আব্বাস আল-কুশাইরী, আল-কুসী; তাকীউদ্দীন ইবনে দাকীকুল ঈদের ভাই।

তিনি ৬৩৬ হিজরীতে জন্মগ্রহণ করেন এবং সাতাশি বছর বয়সে ৭২৩ হিজরীতে মৃত্যুবরণ করেন।

তিনি ইবনুল জুম্মাইযী, আর-রাশীদ আল-আত্তার, আল-মুনযিরী এবং অন্যদের নিকট থেকে প্রচুর হাদীস শ্রবণ করেছেন। তিনি অত্যধিক ইবাদতগুজার, সর্বদা রোযা পালনকারী, দানশীল এবং এতিমদের লালন-পালনকারী ছিলেন (১)।

মুগলত্বায়ী তাঁর নিকট থেকে হাদীস শ্রবণ করেছেন (২)।

১১ - আহমাদ বিন মুহাম্মদ বিন আলী বিন শুজা’, তাজউদ্দীন, আবুল আব্বাস আল-কুরাশী আল-হাশিমী, আল-আব্বাসী, প্রধান।

তিনি ৬৪২ হিজরীতে জন্মগ্রহণ করেন এবং ৭২১ হিজরীতে মিসরে মৃত্যুবরণ করেন।

--------------------------------------------

(১) তাঁর জীবনী দেখুন: আয-যাহাবীর "তাযকিরাতুল হুফফায" ৪: ১৪৯৪, এবং ইবনে হাজারের "আদ-দুরার আল-কামিনা" ১: ৫৭১।

(২) আস-সালামীর "আল-ওয়াফায়াত" ২: ২৪৪, আল-ইরাকীর "যাইলুল ইবার" ১: ৭১, "আত-তিবয়ান লি-বাদী’আতিল বায়ান", "আদ-দুরার আল-কামিনা" ৪: ৩৫২, "লিসানুল মীযান" ৬: ৭২, এবং "লাহযুল আলহায": ১৩৪। ইবনে ফাহদ ১৪১ পৃষ্ঠায় মুগলত্বায়ী পর্যন্ত তাঁর নিজস্ব সনদে একটি হাদীস বর্ণনা করে বলেছেন: "ইমাম তাজউদ্দীন আবুল আব্বাস আহমাদ বিন আলী বিন ওয়াহাব বিন মুতী’ বিন আবিত ত্বা’আ আল-কুশাইরী আমাদের সংবাদ দিয়েছেন—৭১৭ হিজরী সনের রবিউল আউয়াল মাসের প্রথম সোমবার কায়রো আল-মুয়িযযিয়্যাহ-র আল-মাদরাসা আল-কামিলিয়্যাহ-তে তাঁর নিকট শ্রবণের মাধ্যমে।"
(খণ্ড: ১) আদ দুররুল মানযূম মিন কালামিল মুসতাফা আল মাসূম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম (পৃষ্ঠা: ٢٧)
سمع كثيرًا من جده علي الكمال الضرير، ومن غيره (1).

سمع منه مغلطاي (2).

12 - علي بن عمر بن أبي بكر، نور الدين، أبو الحسن الوَانِي، الصوفي، نزيل مصر.

ولد سنة 635 هـ، وتوفي سنة 727 هـ، عن اثنتين وتسعين سنة.

سمع من ابن رَوَاج، والسِّبْط، والمُرْسي، وغيرهم، وتفرَّدَ بعوالٍ، وكان دَيِّنًا صالحًا خيرًا، وكان قد أضرَّ بأَخَرةٍ، ثم عولج فأبصر (3).

سمع منه مغلطاي (4).

--------------------------------------------

(1) ترجمه: الذهبي في "ذيل العبر": 61، والمقريزي في "المقفى الكبير" 1: 623، وابن حجر في "الدرر الكامنة" 1: 282، وابن العماد في "الشذرات" 6: 54.

(2) "التبيان لبديعة البيان"، و"الدرر الكامنة" 4: 352.

(3) ترجمه: الذهبي في "ذيل العبر": 80، وابن حجر في "الدرر الكامنة" 3: 90، والسيوطي في "حسن المحاضرة" 393: 1، وابن العماد في "شذرات الذهب"6: 78، وتحرفت في الأخير "الواني" إلى "الداني" فتصحح.

(4) "الوفيات" للسلامي 2: 244، و"ذيل العبر" للعراقي 1: 71، و"الدرر الكامنة" 4: 352، و"لحظ الألحاظ": 134، و"تاج التراجم" لابن قطلوبغا: 305 وفيه التصريح باسمه: علي بن عمر، ومع ذلك ترى الأستاذ المحقق لكتاب ابن قطلوبغا يترجم رجلًا آخر من "الجواهر المضية" 3: 12 عرف بالواني، واسمه محمد بن إبراهيم الدمشقي!!.
তিনি তাঁর দাদা আলী আল-কামাল আদ-দারীর এবং অন্যদের কাছ থেকে অনেক শ্রবণ করেছেন (১)।

তাঁর নিকট থেকে মুঘলতাই শ্রবণ করেছেন (২)।

১২ - আলী বিন উমর বিন আবি বকর, নূরুদ্দীন, আবুল হাসান আল-ওয়ানী, আস-সূফী, মিশরে বসবাসকারী।

তিনি ৬৩৫ হিজরিতে জন্মগ্রহণ করেন এবং ৯২ বছর বয়সে ৭২৭ হিজরিতে মৃত্যুবরণ করেন।

তিনি ইবনে রওয়াজ, আস-সিবত, আল-মুরসী এবং অন্যদের কাছ থেকে শ্রবণ করেছেন। তিনি উচ্চতর সনদ বর্ণনায় অনন্য ছিলেন এবং তিনি একজন দ্বীনদার, সৎ ও নেককার ব্যক্তি ছিলেন। শেষ বয়সে তিনি দৃষ্টিশক্তি হারিয়েছিলেন, পরবর্তীতে চিকিৎসার মাধ্যমে পুনরায় দৃষ্টি ফিরে পান (৩)।

তাঁর নিকট থেকে মুঘলতাই শ্রবণ করেছেন (৪)।

--------------------------------------------

(১) তাঁর জীবনী উল্লেখ করেছেন: আয-যাহাবী ‘যাইলুল ইবার’-এ: ৬১, আল-মাকরিযী ‘আল-মুকাফ্ফা আল-কাবীর’ ১: ৬২৩, ইবনে হাজার ‘আদ-দুরারুল কামিনাহ’ ১: ২৮২ এবং ইবনুল ইমাদ ‘আশ-শাযারাত’ ৬: ৫৪-এ।

(২) ‘আত-তিবইয়ান লি-বাদিয়াতিল বায়ান’ এবং ‘আদ-দুরারুল কামিনাহ’ ৪: ৩৫২।

(৩) তাঁর জীবনী উল্লেখ করেছেন: আয-যাহাবী ‘যাইলুল ইবার’-এ: ৮০, ইবনে হাজার ‘আদ-দুরারুল কামিনাহ’ ৩: ৯০, আস-সুয়ূতী ‘হুসনুল মুহাদারা’ ১: ৩৯৩ এবং ইবনুল ইমাদ ‘শাযারাতুয যাহাব’ ৬: ৭৮-এ। শেষোক্ত গ্রন্থে ‘আল-ওয়ানী’ শব্দটি ‘আদ-দানী’ হিসেবে বিকৃত হয়ে গেছে, যা সংশোধনযোগ্য।

(৪) আস-সালামীর ‘আল-ওয়াফায়াত’ ২: ২৪৪, আল-ইরাকির ‘যাইলুল ইবার’ ১: ৭১, ‘আদ-দুরারুল কামিনাহ’ ৪: ৩৫২, ‘লাহযুল আলহায’: ১৩৪ এবং ইবনে কুতলুবুগার ‘তাজুত তারাজিম’: ৩০৫; সেখানে তাঁর নাম স্পষ্টভাবে ‘আলী বিন উমর’ উল্লেখ করা হয়েছে। এতদসত্ত্বেও ইবনে কুতলুবুগার গ্রন্থের মুহাক্কিক উস্তাদকে দেখা যায় যে, তিনি ‘আল-জাওয়াহিরুল মুদিয়্যাহ’ ৩: ১২ থেকে অন্য এক ব্যক্তির জীবনী আলোচনা করেছেন যিনি আল-ওয়ানী নামে পরিচিত, অথচ তাঁর নাম ছিল মুহাম্মদ বিন ইবরাহিম আদ-দিমাশকী!!।
(খণ্ড: ১) আদ দুররুল মানযূম মিন কালামিল মুসতাফা আল মাসূম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম (পৃষ্ঠা: ٢٨)
13 - يونس بن إبراهيم بن عبد القوي، فتحُ الدين، أبو النونِ الكنانيُّ، العَسْقلانيُّ، ثم المِصْريُّ، الدَّبَابيسيُّ -ويقال أيضًا: الدَّبُوسي- مُسْنِد مصر.

ولد سنة 635 هـ، وتوفي سنة 729 هـ.

آخر من روى عن ابن المُقيَّر بالسماع، وبالإجازة عنه وعن كثير غيره، وتفرَّد، وروى الكثير (1).

سمع منه مُغْلطاي، وأكثر عنه جدًا وعن أهل عصره (2).

14 - أحمد بن أبي طالب بن نعمة بن الحسن، شهاب الدين، أبو العباس الدَّيْرُمُقْرِنيُّ، ثم الصَّالحيُّ الدمشقي، الحنفي، الثمهير بابن الشِّحْنَةِ الحجَّارِ، مُسْنِدُ الدنيا.

ولد في حدود سنة 622 هـ، قال الحافظ: "عُمِّر حتى ألحق الأحفاد بالأجداد"، وتوفي سنة 730 هـ، ونزل الناس بموته درجة.

--------------------------------------------

(1) ترجمه: الذهبي في "ذيل العبر": 86، وابن حجر في "درره" 4: 484 والسيوطي في "حسن المحاضرة"393: 1، وابن العماد في "شذراته" 6: 92.

(2) "الوفيات" للسَّلامي 2: 244، و"ذيل العبر" للعراقي 1: 71، و"الدرر الكامنة" 4: 352، و"لسان الميزان" 6: 72، و"لحظ الألحاظ": 134، و"ذيل التذكرة" للسيوطي: 365.
১৩ - ইউনুস ইবনে ইবরাহীম ইবনে আব্দুল ক্বাউয়ি, ফাতহুদ দীন, আবু আল-নুন আল-কিনানী, আল-আসকালানী, অতঃপর আল-মিসরী, আদ-দাবাবিসী —তাঁকে আদ-দাবূসীও বলা হয়— মিসরের মুসনিদ।

জন্ম ৬৩৫ হিজরি সনে এবং মৃত্যু ৭২৯ হিজরি সনে।

তিনি ইবনে আল-মুক্বাইয়ার থেকে সরাসরি শ্রবণের মাধ্যমে এবং তাঁর থেকে ও আরও অনেকের থেকে ইজাযতের মাধ্যমে বর্ণনাদানকারী সর্বশেষ ব্যক্তি। তিনি একক বৈশিষ্ট্যের অধিকারী ছিলেন এবং প্রচুর বর্ণনা করেছেন (১)।

মুগলাতায়ী তাঁর নিকট থেকে শ্রবণ করেছেন এবং তাঁর থেকে ও তাঁর সমসাময়িকদের থেকে প্রচুর বর্ণনা করেছেন (২)।

১৪ - আহমাদ ইবনে আবি তালিব ইবনে নি'মাহ ইবনে আল-হাসান, শিহাব উদ্দীন, আবু আল-আব্বাস আদ-দাইরুমুকরিনী, অতঃপর আস-সালিহী আদ-দিমাশকী, আল-হানাফী, যিনি ইবনে আশ-শিহনা আল-হাজ্জার নামে পরিচিত, বিশ্বের মুসনিদ।

জন্ম আনুমানিক ৬২২ হিজরি সনে। হাফেজ বলেন: "তিনি এতো দীর্ঘায়ু লাভ করেছিলেন যে, তিনি নাতিদেরকে দাদাদের স্তরে পৌঁছে দিয়েছিলেন।" ৭৩০ হিজরি সনে তাঁর মৃত্যু হয় এবং তাঁর মৃত্যুর মাধ্যমে মানুষের (হাদিসের সনদের) মান এক ধাপ নিচে নেমে যায়।

--------------------------------------------

(১) তাঁর জীবনী: আয-যাহাবী "যাইলুল ইবার": ৮৬; ইবনে হাজার তাঁর "আদ-দুরার" ৪: ৪৮৪; আস-সুয়ূতী "হুসনুল মুহাদারা" ১: ৩৯৩; এবং ইবনুল ইমাদ তাঁর "শাযারাতুয যাহাব" ৬: ৯২-এ বর্ণনা করেছেন।

(২) আস-সালামী প্রণীত "আল-ওয়াফায়াত" ২: ২৪৪; আল-ইরাকী প্রণীত "যাইলুল ইবার" ১: ৭১; "আদ-দুরারুল কামিনাহ" ৪: ৩৫২; "লিসানুল মীযান" ৬: ৭২; "লাহযুল আলহায": ১৩৪; এবং আস-সুয়ূতী প্রণীত "যাইলুত তাযকিরাহ": ৩৬৫।
(খণ্ড: ১) আদ দুররুল মানযূম মিন কালামিল মুসতাফা আল মাসূম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম (পৃষ্ঠা: ٢٩)
سمع الصحيح من الحسين بن المبارك الزَّبيدى، وابن اللُّتّي، وأجاز له ابنُ رُوزْبة، والقَطِيعيُّ، وعِدَّةٌ، وحدث بالصحيح أكثر من سبعين مرة، وصام رمضان وأتبعه بست من شوال وهو ابن مئة سنة، وكان حينئذ يغتسل من غشيان زوجته بالماء البارد، وحدَّث يوم موته (1)!! رحمه الله تعالى.

سمع منه مُغْلطاي (2).

15 - يوسف بن عمر بن حسين بن أبي بكر، بدر الدين، أبو المحاسن الخُتَني، الحنفي، المصري، الشيخُ العَدْل، مُسْنِد البلاد المصرية.

توفي سنة 731 هـ، عن أربع وثمانين سنة، وعلى هذا: فمولده سنة 647 لا 645 كما في مطبوعة "الدرر الكامنة".

سمع من ابن رَوَاج، والمُنْذريِّ، وغيرِهما (3).

--------------------------------------------

(1) ترجمه الذهبي في "ذيل العبر": 88، وابن كثير في "البداية" 157: 14 وابن حجر في "درره" 1: 142 - 143، وابن تغري بردي في "النجوم الزاهرة" 9: 204، والكوثري في تعليقه على "لحظ الألحاظ": 134 - 135.

(2) "ذيل العبر" للعراقي 1: 71 و"لحظ الألحاظ": 134.

(3) ترجمه: الذهبي في "ذيل العبر" 4: 89 - 90، وابن حجر في "الدرر الكامنة" 4: 466 - 467، وابن تغري بردي في "النجوم الزاهرة" 9: 209. وابن العماد في "الشذرات" 6: 97.
তিনি হুসাইন ইবনুল মুবারক আল-যাবদী এবং ইবনুল লুততি থেকে সহীহ (বুখারী) শ্রবণ করেছেন। ইবনু রুযবাহ, আল-ক্বাতীঈ এবং আরও অনেকে তাঁকে ইজাযত দিয়েছেন। তিনি সত্তরবারেরও বেশি সহীহ (বুখারী) বর্ণনা করেছেন। তিনি একশ বছর বয়সে রমযানের রোযা রেখেছেন এবং তার পরে শাওয়ালের ছয়টি রোযাও রেখেছেন। সে সময় তিনি স্বীয় স্ত্রীর সাথে সহবাস করার পর শীতল পানি দিয়ে গোসল করতেন। তিনি তাঁর মৃত্যুর দিনও হাদীস বর্ণনা করেছেন (১)!! আল্লাহ তাআলা তাঁর প্রতি রহম করুন।

মুগলাত্বায়ী তাঁর থেকে শ্রবণ করেছেন (২)।

১৫ - ইউসুফ ইবনে উমর ইবনে হুসাইন ইবনে আবী বকর, বদরুদ্দীন, আবুল মাহাসিন আল-খুতানি, আল-হানাফী, আল-মিসরী, ন্যায়নিষ্ঠ শায়খ, মিসর ভূখণ্ডের মুসনিদ (হাদীস বর্ণনার উচ্চ সনদধারী)।

তিনি ৭৩১ হিজরীতে চুরাশি বছর বয়সে ইন্তেকাল করেন। সে হিসেবে তাঁর জন্ম ৬৪৭ হিজরীতে, ৬৪৫ হিজরীতে নয়, যেমনটি "আদ-দুরারুল কামিনাহ"-এর মুদ্রিত সংস্করণে রয়েছে।

তিনি ইবনে রাওয়াজ, আল-মুনযিরী এবং অন্যদের থেকে শ্রবণ করেছেন (৩)।

--------------------------------------------

(১) আয-যাহাবী তাঁর জীবনী উল্লেখ করেছেন "যায়লুল ইবার": ৮৮-এ, ইবনে কাসীর "আল-বিদায়া" ১৪: ১৫৭-এ, ইবনে হাজার তাঁর "দুরার" ১: ১৪২-১৪৩-এ, ইবনে তাগরীবর্দী "আন-নুজুম আয-যাহিরাহ" ৯: ২০৪-এ এবং আল-কাওসারী "লাহযুল আলহায"-এর ওপর তাঁর টীকায়: ১৩৪-১৩৫-এ।

(২) আল-ইরাকী রচিত "যায়লুল ইবার" ১: ৭১ এবং "লাহযুল আলহায": ১৩৪।

(৩) তাঁর জীবনী উল্লেখ করেছেন: আয-যাহাবী "যায়লুল ইবার" ৪: ৮৯-৯০-এ, ইবনে হাজার "আদ-দুরারুল কামিনাহ" ৪: ৪৬৬-৪৬৭-এ, ইবনে তাগরীবর্দী "আন-নুজুম আয-যাহিরাহ" ৯: ২০৯-এ এবং ইবনুল ইমাদ "আশ-শাযারাত" ৬: ৯৭-এ।
(খণ্ড: ১) আদ দুররুল মানযূম মিন কালামিল মুসতাফা আল মাসূম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম (পৃষ্ঠা: ٣٠)
سمع منه مُغْلطاي (1).

16 - علي بن إسماعيل بن إبراهيم بن قريش المخزومي، نور الدين بن التاج العَدْلُ الصالح.

ولد سنة 652 هـ، وتوفي سنة 732 هـ.

سمع الزَّكيَّ المُنْذريَّ، والرشيدَ العطَّار، والعزَّ ابن عبد السلام، وغيرهم، وكان مُكْثِرًا (2).

سمع منه مُغْلطاي (3).

--------------------------------------------

(1) "الوفيات" للسَّلامي 2: 244، و"الدرر الكامنة" 4: 352، و"لسان الميزان" 72: 6، و"لحظ الألحاظ": 134، و"تاج التراجم": 305، و"ذيل تذكرة الحفاظ" للسيوطي: 365، و"شذرات الذهب" 6: 197، وتحرف في الأخير "الختني" إلى "الحسيني" فيصحح.

(2) ترجمه: الذهبي في "ذيل العبر": 93، وابن حجر في "الدرر" 23: 3 وابن العماد في "الشذرات" 6: 102.

ووهم الأستاذ صالح مهدي عباس محقق "الذيل على العبر" لأبي زرعة 1: 71 فترجم ابن قريش آخر، وهو: إسحاق بن إبراهيم بن عبد الرحمن بن قريش، القرشي المصري المخزومي، المتوفى سنة 690 هـ، وما تنبه إلى أن سنة وفاة هذا هي سنة ميلاد مغلطاي، أو بعد ميلاده بسنة، فكيف يمكنه السماع منه؟!.

(3) "ذيل العبر" لأبي زرعة العراقي 1: 71، و"لحظ الألحاظ": 134.
মুগলতাই তাঁর নিকট থেকে শুনেছেন (১)।

১৬ - আলী বিন ইসমাইল বিন ইব্রাহিম বিন কুরাইশ আল-মাখজুমি, নূরুদ্দীন বিন আত-তাজ আল-আদল আস-সালিহ।

তিনি ৬৫২ হিজরিতে জন্মগ্রহণ করেন এবং ৭৩২ হিজরিতে মৃত্যুবরণ করেন।

তিনি আজ-জাকি আল-মুনজিরি, আর-রশিদ আল-আত্তার, আল-ইজ্জ ইবনে আব্দুস সালাম এবং অন্যদের নিকট থেকে হাদিস শ্রবণ করেছেন এবং তিনি প্রচুর বর্ণনাকারী ছিলেন (২)।

মুগলতাই তাঁর নিকট থেকে শুনেছেন (৩)।

--------------------------------------------

(১) আস-সালামি কৃত "আল-ওয়াফায়াত" ২: ২৪৪, "আদ-দুরারুল কামিনাহ" ৪: ৩৫২, "লিসানুল মিজান" ৬: ৭২, "লাহজুল আলহাজ": ১৩৪, "তাজুত তারাজিম": ৩০৫, আস-সুয়ুতী কৃত "যাইলু তাযকিরাতিল হুফফাজ": ৩৬৫, এবং "শাযারাতুয যাহাব" ৬: ১৯৭; শেষোক্ত গ্রন্থে "আল-খুতানি" শব্দটি বিকৃত হয়ে "আল-হুসাইনি" হয়ে গিয়েছে, যা সংশোধনযোগ্য।

(২) তাঁর জীবনী আলোচনা করেছেন: আয-যাহাবি "যাইলুল ইবার"-এ: ৯৩, ইবনে হাজার "আদ-দুরার"-এ ৩: ২৩ এবং ইবনুল ইমাদ "আশ-শাযারাত"-এ ৬: ১০২।

আবু যুরআ রচিত "আয-যাইলু আলাল ইবার"-এর মুহাক্কিক উস্তাদ সালিহ মাহদি আব্বাস ১: ৭১ পৃষ্ঠায় বিভ্রান্ত হয়ে ইবনে কুরাইশ নামক অন্য এক ব্যক্তির জীবনী উল্লেখ করেছেন, যিনি হলেন: ইসহাক বিন ইব্রাহিম বিন আব্দুর রহমান বিন কুরাইশ আল-কুরাশি আল-মিসরি আল-মাখজুমি, যিনি ৬৯০ হিজরিতে মৃত্যুবরণ করেছেন। তিনি এ বিষয়টি খেয়াল করেননি যে, এই ব্যক্তির মৃত্যুসাল হলো মুগলতাইয়ের জন্মসাল অথবা তাঁর জন্মের মাত্র এক বছর পর, সুতরাং তাঁর পক্ষে এই ব্যক্তির নিকট থেকে হাদিস শ্রবণ করা কীভাবে সম্ভব?!

(৩) আবু যুরআ আল-ইরাকি কৃত "যাইলুল ইবার" ১: ৭১ এবং "লাহজুল আলহাজ": ১৩৪।
(খণ্ড: ১) আদ দুররুল মানযূম মিন কালামিল মুসতাফা আল মাসূম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম (পৃষ্ঠা: ٣١)
17 - محمد بن محمد بن محمد بن سيد الناس، فَتْحُ الدين، أبو الفتح اليَعْمُريُّ، الشافعي، الإمام الحافظ المحدِّث، العلامة المتفنن، الأديب المشهور.

ولد سنة 671 هـ، وتوفي فجأة سنة 734 هـ.

سمع على القُطْب القَسْطَلَّاني، وابن الأنْماطي، وخلقٍ، وخرَّج، ورحل، وجمع وصَنّف، وله النَّظْمُ والنّثرُ، ومعرفة السِّيَر والرجال، واللغة، وبراعة الخط (1).

من تصانيفه المطبوعة: "عيون الأثر"، و"بشرى اللبيب في ذكرى الحبيب"، و"النَّفْحُ الشَّذِي في شرح جامع الترمذي" ولم يكمله، وله "تحصيل الإصابة في تفضيل الصحابة" وهو مخطوط، وغير ذلك.

تخرّج مُغْلطاي به (2).

18 - محمد بن عبد الرحمن بن عمر، أبو المعالي، جلال الدين القَزْويني، الشافعي، القاضي، المعروف بخطيب دمشق.

--------------------------------------------

(1) ترجمه: الذهبي في "ذيل العبر": 99، وابن شاكر الكتبي في "فوات الوفيات" 287: 3 - 292، وابن كثير في "البداية" 14: 178، وابن حجر في "الدرر الكامنة" 4: 208 - 213، وابن تغري بردي في "النجوم الزاهرة" 9: 223، وابن العماد في "الشذرات" 6: 108 - 109، والشوكاني في "البدر الطالع" 2: 249 - 251، والزِّرِكْلي في "الأعلام" 7: 34.

(2) "لحظ الألحاظ": 138، و"النجوم الزاهرة" 8: 11.
১৭ - মুহাম্মদ বিন মুহাম্মদ বিন মুহাম্মদ বিন সাইয়্যিদুন নাস, ফাতহুদ দ্বীন, আবুল ফাতহ আল-ইয়ামুরি, আশ-শাফিয়ি; তিনি ইমাম, হাফিজ, মুহাদ্দিস, বহুমুখী প্রতিভার অধিকারী আল্লামা এবং প্রসিদ্ধ সাহিত্যিক।

তিনি ৬৭১ হিজরিতে জন্মগ্রহণ করেন এবং ৭৩৪ হিজরিতে আকস্মিকভাবে মৃত্যুবরণ করেন।

তিনি কুতুব আল-কাসতাল্লানি, ইবনুল আনমাতি এবং বহু সংখ্যক আলিমের নিকট ইলম হাসিল করেছেন। তিনি ছাত্র তৈরি করেছেন, ইলমি সফর করেছেন এবং গ্রন্থ সংকলন ও রচনা করেছেন। কাব্য ও গদ্য রচনা, সীরাত ও রিজাল শাস্ত্রের জ্ঞান, ভাষাতত্ত্ব এবং হস্তলিপিতে তাঁর বিশেষ পারদর্শিতা ছিল (১)।

তাঁর মুদ্রিত গ্রন্থগুলোর মধ্যে রয়েছে: "উয়ুনুল আসার", "বুশরাল লাবিব ফি জিকরিল হাবিব", এবং "আন-নাফহুশ শাজি ফি শারহি জামিয়িত তিরমিজি" যা তিনি সম্পন্ন করতে পারেননি; এবং তাঁর রচিত পাণ্ডুলিপির মধ্যে রয়েছে "তাহসিলুল ইসাবাহ ফি তাফদিলিস সাহাবাহ" ইত্যাদি।

মুগলতায় তাঁর নিকট শিক্ষা সমাপ্ত করেছেন (২)।

১৮ - মুহাম্মদ বিন আব্দুর রহমান বিন উমর, আবুল মাআলি, জালালুদ্দীন আল-কাজওয়িনি, আশ-শাফিয়ি; তিনি বিচারক এবং খতিবে দামেশক হিসেবে পরিচিত।

--------------------------------------------

(১) তাঁর জীবনী দেখুন: আয-যাহাবি রচিত "যাইলুল ইবার": ৯৯; ইবনু শাকির আল-কুতুবি রচিত "ফাওয়াতুল ওয়াফিয়াত" ৩: ২৮৭-২৯২; ইবনু কাসির রচিত "আল-বিদায়াহ" ১৪: ১৭৮; ইবনু হাজার রচিত "আদ-দুরারুল কামিনাহ" ৪: ২০৮-২১৩; ইবনু তাগরি বিরদি রচিত "আন-নুজুমুজ জাহিরাহ" ৯: ২২৩; ইবনুল ইমাদ রচিত "আশ-শাযারাত" ৬: ১০৮-১০৯; আশ-শাওকানি রচিত "আল-বাদরুত তালি" ২: ২৪৯-২৫১; আয-যিরিকলি রচিত "আল-আলাম" ৭: ৩৪।

(২) "লাহযুল আলহায": ১৩৮ এবং "আন-নুজুমুজ জাহিরাহ" ৮: ১১।
(খণ্ড: ১) আদ দুররুল মানযূম মিন কালামিল মুসতাফা আল মাসূম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম (পৃষ্ঠা: ٣٢)
ولد سنة 666 هـ، وتوفي سنة 739 هـ، عن ثلاث وسبعين سنة.

سمع الحديث من العز الفاروثيِّ، وغيره، وخرَّج له البِزْراليُّ جزءًا حدث به، وكان فَهِمًا، منصفًا في البحث، مع الذكاء والذوق في الأدب، وحُسْنِ الخط.

وهو مصنف كتاب "تلخيص المفتاح" في المعاني والبيان، وهو من أجل المختصرات فيه، وكتاب "الإيضاح" في شرح "تلخيص المفتاح"، وكلاهما مطبوع، وله غير ذلك (1).

قال الحافظ: "وكان -أي: العلامةُ مُغْلطاي- قد لازم الجلال القَزْويني" (2).

وقد أثنى عليه مغلطاي ثناء عظيمًا في مقدمة كتابه المختصر في السيرة "الإشارة"، وذكر أنه ألَّفه بناء على طلب الجلال القزويني.

19 - سعيد بن عبد الله، نجم الدين، أبو الخير الدِّهْلي، -بكسر الدال المهملة، وسكون الهاء- البغدادي، الحنبلي، المحدِّث الحافظ الُموَرِّخ.

ولد سنة 712 هـ، وتوفي بالطاعون سنة 749 هـ، عن سبع وثلاثين سنة!

--------------------------------------------

(1) ترجمه: السبكي في "الطبقات الكبرى" 158: 9 - 161، وابن حجر في "الدرر الكامنة" 4: 3 - 6، والسيوطي في "بغية الوعاة" 1: 156 - 157، والزركلي في "الأعلام" 6: 192، وغيرهم كثير.

(2) "الدرر" 4: 352، و"الشذرات" 6: 197.
তিনি ৬৬৬ হিজরিতে জন্মগ্রহণ করেন এবং ৭৩৯ হিজরিতে ৭৩ বছর বয়সে মৃত্যুবরণ করেন।

তিনি ইজ্জ আল-ফারুসী এবং অন্যদের থেকে হাদিস শ্রবণ করেছেন। আল-বিজরালী তাঁর জন্য একটি ‘জুজ’ (হাদিস সংকলন) বের করেছিলেন যা তিনি বর্ণনা করেছেন। তিনি ছিলেন অত্যন্ত প্রজ্ঞাবান, গবেষণায় ইনসাফকারী, সেই সঙ্গে তীক্ষ্ণ মেধাসম্পন্ন, সাহিত্যে উন্নত রুচির অধিকারী এবং সুন্দর হস্তাক্ষরের অধিকারী।

তিনি বালাগাত শাস্ত্রের (আল-মাআনী ওয়াল বায়ান) ‘তালখীসুল মিফতাহ’ কিতাবটির রচয়িতা, যা এই বিষয়ের অন্যতম শ্রেষ্ঠ সংক্ষিপ্তসার। এছাড়াও তিনি ‘তালখীসুল মিফতাহ’-এর ব্যাখ্যাগ্রন্থ ‘আল-ইজাহ’ রচনা করেছেন। এই উভয় কিতাবই মুদ্রিত হয়েছে এবং এছাড়া তাঁর আরও অনেক রচনা রয়েছে (১)।

হাফিজ (ইবনে হাজার) বলেন: “আর তিনি—অর্থাৎ আল্লামা মুগলতাই—জালাল আল-কাযভিনীর সান্নিধ্যে থাকতেন” (২)।

মুগলতাই তাঁর সিরাত বিষয়ক সংক্ষিপ্ত গ্রন্থ ‘আল-ইশারা’-এর ভূমিকায় তাঁর ভূয়সী প্রশংসা করেছেন এবং উল্লেখ করেছেন যে, জালাল আল-কাযভিনীর অনুরোধেই তিনি এটি রচনা করেছেন।

১৯ - সাঈদ বিন আব্দুল্লাহ, নাজম উদ্দীন, আবু আল-খায়ের আদ-দিহলি—দাল বর্ণে কাসরা এবং হা বর্ণে সুকুন যোগে—আল-বাগদাদী, আল-হাম্বলী; তিনি ছিলেন একজন মুহাদ্দিস, হাফিজ ও ইতিহাসবিদ।

তিনি ৭১২ হিজরিতে জন্মগ্রহণ করেন এবং ৭৪৯ হিজরিতে প্লেগ রোগে আক্রান্ত হয়ে মাত্র ৩৭ বছর বয়সে মৃত্যুবরণ করেন!

--------------------------------------------

(১) তাঁর জীবনী বর্ণিত হয়েছে: আস-সুবকি প্রণীত ‘আত-তাবাকাত আল-কুবরা’ ৯: ১৫৮-১৬১; ইবনে হাজার প্রণীত ‘আদ-দুরার আল-কামিনাহ’ ৪: ৩-৬; আস-সুয়ূতী প্রণীত ‘বুগইয়াতুল উয়াত’ ১: ১৫৬-১৫৭; আয-যিরিকলী প্রণীত ‘আল-আলাম’ ৬: ১৯২ এবং আরও অনেকের গ্রন্থে।

(২) ‘আদ-দুরার’ ৪: ৩৫২ এবং ‘আশ-শাযারাত’ ৬: ১৯৭।
(খণ্ড: ১) আদ দুররুল মানযূম মিন কালামিল মুসতাফা আল মাসূম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম (পৃষ্ঠা: ٣٣)
سمع ببغداد، ودمشق، ومصر والإسكندرية، ومن شيوخه: أبو بكر بن الرَّضي، وزينب بنت الكمال، وغيرهما، وحدَّث، وحفظ في نوع الوفيات كثيرًا، وجمع تراجم لبعض الأعيان (1).

حدَّث عنه مُغْلطاي (2).

20 - ابن سند: حدث عنه مغلطاي (3).

--------------------------------------------

(1) ترجمه: الحسيني في "ذيل العبر": 153، والسَّلامي في "الوفيات" 2: 111، والذهبي في "المعجم المختص": 104، وابن حجر في "الدرر" 2: 134 - 135، وابن العماد في "الشذرات" 163: 6.

(2) "التبيان لبديعة البيان" لابن ناصر الدمشقي 156 / ب.

(3) ذكره ابن ناصر الدين في "التبيان"، وفي المترجمين: محمد بن موسى بن محمد بن سند بن تميم اللخمي المصري، ثم الدمشقي، شمس الدين، أبو عبد الله، الإمام الحافظ. ولد سنة 729 هـ، وتوفي سنة 792 هـ، وهذا لا يصلح أن يكون شيخًا لمغلطاي، لأنه من طبقة تلاميذه، ولم أعثر على آخر عرف بابن سند، فالله أعلم.
তিনি বাগদাদ, দামেস্ক, মিসর ও আলেকজান্দ্রিয়ায় (হাদিস) শ্রবণ করেছেন। তাঁর শিক্ষকদের মধ্যে রয়েছেন: আবু বকর বিন আল-রাদি, যয়নাব বিনতে আল-কামাল এবং আরও অনেকে। তিনি হাদিস বর্ণনা করেছেন, মৃত্যু-সংক্রান্ত (ওফিয়াত) বিষয়ে প্রচুর মুখস্থ রেখেছেন এবং কিছু বিশিষ্ট ব্যক্তির জীবনী সংকলন করেছেন (১)।

মুগলতাই তাঁর থেকে হাদিস বর্ণনা করেছেন (২)।

২০ - ইবনে সানাদ: তাঁর থেকে মুগলতাই হাদিস বর্ণনা করেছেন (৩)।

--------------------------------------------

(১) তাঁর জীবনী উল্লেখ করেছেন: আল-হুসাইনি 'যাইলুল ইবার'-এ: ১৫৩; আস-সালামি 'আল-ওফিয়াত' ২: ১১১-এ; আয-যাহাবি 'আল-মু'জামুল মুখতাস' ১০৪-এ; ইবনে হাজার 'আদ-দুরার' ২: ১৩৪-১৩৫-এ এবং ইবনুল ইমাদ 'আশ-শাযারাত' ১৬৩: ৬-এ।

(২) ইবনে নাসির আদ-দিমাশকির 'আত-তিবইয়ান লি বাদিআতুল বায়ান' ১৫৬ / খ।

(৩) ইবনে নাসিরুদ্দিন 'আত-তিবইয়ান'-এ এটি উল্লেখ করেছেন। আর জীবনীগ্রন্থগুলোতে রয়েছেন: মুহাম্মাদ বিন মুসা বিন মুহাম্মাদ বিন সানাদ বিন তামিম আল-লাখমি আল-মিসরি, অতঃপর আদ-দিমাশকি, শামসুদ্দিন, আবু আব্দুল্লাহ, ইমাম আল-হাফিজ। তিনি ৭২৯ হিজরিতে জন্মগ্রহণ করেন এবং ৭৯২ হিজরিতে মৃত্যুবরণ করেন। তিনি মুগলতাইয়ের শিক্ষক হওয়ার যোগ্য নন, কারণ তিনি তাঁর ছাত্রের স্তরের। আমি ইবনে সানাদ নামে পরিচিত অন্য কাউকে খুঁজে পাইনি, আল্লাহই ভালো জানেন।