(খণ্ড: ১) আল কুরআনিয়ূন, নাশআতুহুম - আকাইদুহুম - আদিল্লাতুহুম (পৃষ্ঠা: -)
القرآنيون، نشأهم - عقائدهم - أدلتهم   (علي محمد زينو)

القسم: الفرق والردود


الكتاب: القرآنيون، نشأهم - عقائدهم - أدلتهم

المؤلف: علي محمد زينو

الناشر: دار القبس، دمشق

الطبعة: الأولى، 1432 هـ - 2011 م

عدد الصفحات: 156

[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]

تاريخ النشر بالشاملة: 24 شعبان 1438

কুরআনপন্থীগণ: তাদের উদ্ভব - আকিদাহ - প্রমাণাদি   (আলী মুহাম্মদ যাইনো)

বিভাগ: বিভিন্ন ফেরকা ও তাদের খণ্ডন


গ্রন্থ: কুরআনপন্থীগণ، তাদের উদ্ভব - আকিদাহ - প্রমাণাদি

লেখক: আলী মুহাম্মদ যাইনো

প্রকাশক: দারুল কাবাস، দামেস্ক

সংস্করণ: প্রথম، ১৪৩২ হিজরি - ২০১১ খ্রিস্টাব্দ

পৃষ্ঠা সংখ্যা: ১৫৬

[বইটির পৃষ্ঠাসংখ্যা মুদ্রিত কপির অনুরূপ]

শামিলা লাইব্রেরিতে প্রকাশের তারিখ: ২৪ শাবান ১৪৩৮

(খণ্ড: ১) আল কুরআনিয়ূন, নাশআতুহুম - আকাইদুহুম - আদিল্লাতুহুম (পৃষ্ঠা: ১)
القرآنيون

 

علي محمد زينو

 

الكتاب: القرآنيون

المؤلف: علي محمد زينو

الناشر: دار القبس، دمشق.

الطبعة: الأولى

تاريخ النشر: 1432/ 2011

[الكتاب موافق للمطبوع]
আল-কুরআনিউন

 

আলি মুহাম্মদ যাইনু

 

গ্রন্থ: আল-কুরআনিউন

লেখক: আলি মুহাম্মদ যাইনু

প্রকাশক: দারুল কাবাস, দামেস্ক।

সংস্করণ: প্রথম

প্রকাশের তারিখ: ১৪৩২ হিজরি/ ২০১১ খ্রিস্টাব্দ

[বইটি মুদ্রিত কপির অনুরূপ]
(খণ্ড: ১) আল কুরআনিয়ূন, নাশআতুহুম - আকাইদুহুম - আদিল্লাতুহুম (পৃষ্ঠা: ২)
‌‌الإهداء

إلى سيدي

وحبيب قلبي

وحبيب ربّ العالمين

سيدنا محمد بن عبد الله

رسول الله

صلى الله عليه وسلم

أستشفعهُ لنفسي وأهلي وأحبابي

يومَ الهول الأكبر

والحادث العَمِمِ
উৎসর্গ

আমার মহান নেতার সমীপে

আমার হৃদয়ের প্রিয়তমের চরণে

এবং যিনি জগতসমূহের প্রতিপালকের পরম প্রিয়

আমাদের সায়্যিদ মুহাম্মদ ইবনে আবদুল্লাহ

আল্লাহর রাসূল

(তাঁর ওপর আল্লাহর রহমত ও শান্তি বর্ষিত হোক)

আমি নিজের জন্য, আমার পরিবার-পরিজন এবং প্রিয়জনদের জন্য তাঁর সুপারিশ প্রার্থনা করছি

মহাভীতির দিবসে

এবং সেই সর্বব্যাপী মহা-সংকটের মুহূর্তে।
(খণ্ড: ১) আল কুরআনিয়ূন, নাশআতুহুম - আকাইদুহুম - আদিল্লাতুহুম (পৃষ্ঠা: ৩)
‌‌مقدمة البحث:

بسم الله الرحمن الرحيم

الحمد لله رب العالمين، والصلاة والسلام الأتَمّان الأكملان على حبيبنا وإمامنا سيدِنا محمد، وعلى آله الطيبين وأصحابه أجمعين، وتابعي هديِه إلى يوم الدين، وبعدُ.

 

‌‌سبب اختيار البحث:

إن الدوافعَ التي حدَت بي للكتابة عن «طائفة القرآنيين» موضوعاً لهذا البحث تعودُ إلى الإحساس بخطورة انتشار هذه الفِرقة في بعض البلاد الإسلامية (1)، وشيوعِ أفكارها كلاً أو جزءاً بين المسلمين (2)، وخصوصاً بعد إنشائها موقعاً الكترونياً ضخماً قويّ الإمكانات والمزايا خاصّاً بها، ناهيكَ عن استخدامها مواقعَ الانترنت المتنوعة الأخرى.

وأما السبب المباشرُ الذي دفعني إلى اتخاذ القرار بالكتابة عنهم فهو الذهولُ في أثناء قراءةِ خبرٍ في أحد مواقع الانترنت، رأيتُ فيه جرأةَ هذه الفئة، واستخفافَها بالمصطلحات الإسلامية، وبمشاعر المسلمين. ذلك في إطلاقهم على أنفُسِهم وصْفَ «الكفّار المسلمون» وهم يُروّجون لِعقدِهِم مؤتمراً لهم في مدينة نيويورك الأمريكية (3).

--------------------------------------------

(1) يُستَدلُّ على ذلك بأمرين:

- التنوع الجغرافي لأصحاب الكتب التي تطعن بالسنة النبوية المشرفة جمعاء، أو ببعضِ دواوينها الكُبرى، أو الأحاديث المُجمَعِ على صحتها فيها.

- التنوع الجغرافي للكتاب الذين يسطرون آرائهم في الموقع الرسمي لفرقة القرآنيين المسمى «أهل القرآن».

قائمة كتاب الموقع بتاريخ 10/ 3/2009.

«موقع أهل القرآن»: كُتّاب الموقع. (www.ahl-alquran.com/arabic/writers.php).

(2) يزعم رأس هذه الطائفة الدكتور أحمد صبحي منصور أنّ عدد المنتمين إلى جماعته يبلغ (10000) باحثٍ ودارسٍ كما وصفَهُم.

«موقع العربية نت» (Alarabiya.net) بتاريخ الثلاثاء 03 ربيع الأول 1429 هـ - 11 مارس 2008 م.

(3) جاء في «موقع العربية نت» (Alarabiya.net) بتاريخ: الثلاثاء 03 ربيع الأول 1429 هـ - 11 مارس 2008 م:

دبي - فراج إسماعيل:

تعتزم حركة القرآنيين تنظيم مؤتمر غير مسبوق هو الأول في أمريكا «للكفار المسلمين» حسب ما بثته وكالة «أمريكا إن آرابيك» بهدف إصلاحِ الإسلام وتقديم وجهات نظرٍ بديلةٍ للمفاهيم السائدة في العالم الإسلامي.

واختارت المجموعة المنظمة للمؤتمر لنفسها اسم «المهرطقون المسلمون»، أو «الكفار المسلمون» حسب الترجمة الحرفية.

لكن د. أحمد صبحي منصور زعيم حركة القرآنيين قال لـ «العربية نت»:

إن المعنى الحقيقي المقصود من وراء الاسم هو «المتهمون بالهرطقة»، ويحمل في طياته سخريةً من اتهامات الكفر والخروج عن الإسلام وإنكار السنة والعلمانية [كذا] الموجهة ضد من سماهم «الإصلاحيين المسلمين».
‌‌গবেষণার ভূমিকা:

পরম করুণাময় অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে শুরু করছি।

সকল প্রশংসা জগতসমূহের প্রতিপালক আল্লাহর জন্য। আমাদের প্রিয়তম ও ইমাম জনাব মুহাম্মাদ (সা.)-এর প্রতি বর্ষিত হোক পূর্ণাঙ্গ ও পরিপূর্ণ দরুদ ও সালাম, এবং তাঁর পবিত্র পরিবারবর্গ, সকল সাহাবী এবং বিচার দিবস পর্যন্ত তাঁর হেদায়েতের অনুসারীদের ওপর। অতঃপর:

 

‌‌গবেষণার বিষয় নির্বাচনের কারণ:

এই গবেষণার বিষয় হিসেবে «কুরআনি সম্প্রদায়» সম্পর্কে লেখার পেছনে যে প্রেরণাগুলো আমাকে উদ্বুদ্ধ করেছে, তা হলো কিছু মুসলিম দেশে এই ফেরকা বা দলের বিস্তারের ভয়াবহতা অনুভব করা (১), এবং সাধারণ মুসলমানদের মাঝে তাদের চিন্তাধারার আংশিক বা পূর্ণাঙ্গ প্রসার (২), বিশেষ করে তাদের বিশাল ও শক্তিশালী ফিচারসমৃদ্ধ নিজস্ব ওয়েবসাইট নির্মাণ এবং ইন্টারনেটের অন্যান্য বিবিধ মাধ্যম ব্যবহারের পর থেকে।

আর তাদের সম্পর্কে লেখার সিদ্ধান্ত নেওয়ার প্রত্যক্ষ কারণটি হলো ইন্টারনেটের একটি সংবাদ পড়ার সময় আমার স্তম্ভিত হয়ে যাওয়া, যেখানে আমি এই গোষ্ঠীর দুঃসাহস এবং ইসলামি পরিভাষা ও মুসলমানদের অনুভূতির প্রতি তাদের অবজ্ঞা প্রত্যক্ষ করেছি। তা হলো, তারা আমেরিকার নিউইয়র্ক শহরে তাদের একটি সম্মেলনের প্রচারণার সময় নিজেদের ওপর «মুসলিম কাফির» বিশেষণটি প্রয়োগ করেছে (৩)।

--------------------------------------------

(১) এটি দুটি বিষয়ের মাধ্যমে প্রমাণিত হয়:

- সেই সব বইয়ের লেখকদের ভৌগোলিক বৈচিত্র্য, যারা সামগ্রিকভাবে সুন্নাহর ওপর, অথবা সুন্নাহর বড় সংকলনগুলোর ওপর, অথবা সর্বসম্মতভাবে বিশুদ্ধ হাদিসগুলোর ওপর অপবাদ আরোপ করে থাকে।

- কুরআনি ফেরকার অফিসিয়াল ওয়েবসাইট «আহলে কুরআন»-এ যারা নিজেদের মতামত লিখছেন, সেই লেখকদের ভৌগোলিক বৈচিত্র্য।

১০/০৩/২০০৯ তারিখের লেখকদের তালিকা।

«আহলে কুরআন ওয়েবসাইট»: সাইটের লেখকবৃন্দ। (www.ahl-alquran.com/arabic/writers.php)।

(২) এই সম্প্রদায়ের প্রধান ড. আহমাদ সুবহি মানসুর দাবি করেন যে, তার দলের সাথে যুক্ত ব্যক্তির সংখ্যা ১০,০০০ গবেষক ও শিক্ষার্থী, যেমনটি তিনি তাদের বর্ণনা করেছেন।

«আল-আরাবিয়া নেট» (Alarabiya.net), তারিখ: মঙ্গলবার ০৩ রবিউল আউয়াল ১৪২৯ হিজরি - ১১ মার্চ ২০০৮ খ্রিস্টাব্দ।

(৩) «আল-আরাবিয়া নেট» (Alarabiya.net)-এ মঙ্গলবার ০৩ রবিউল আউয়াল ১৪২৯ হিজরি - ১১ মার্চ ২০০৮ খ্রিস্টাব্দ তারিখে প্রকাশিত হয়েছে:

দুবাই - ফাররাজ ইসমাইল:

কুরআনি আন্দোলন আমেরিকায় «মুসলিম কাফিরদের» জন্য এক নজিরবিহীন ও প্রথম সম্মেলনের আয়োজন করার পরিকল্পনা করছে, যা «আমেরিকা ইন অ্যারাবিক» এজেন্সি প্রচার করেছে। এর লক্ষ্য হলো ইসলামকে সংস্কার করা এবং মুসলিম বিশ্বে প্রচলিত ধারণাসমূহের বিকল্প দৃষ্টিভঙ্গি উপস্থাপন করা।

সম্মেলন আয়োজক গোষ্ঠী নিজেদের জন্য «মুসলিম ধর্মদ্রোহী» (হেরিটিকস) বা আক্ষরিক অনুবাদ অনুযায়ী «মুসলিম কাফির» নাম বেছে নিয়েছে।

তবে কুরআনি আন্দোলনের নেতা ড. আহমাদ সুবহি মানসুর «আল-আরাবিয়া নেট»-কে বলেছেন:

এই নামের পেছনের প্রকৃত উদ্দেশ্য হলো «ধর্মদ্রোহিতার দায়ে অভিযুক্ত», এবং এর মধ্যে কুফর, ইসলাম থেকে বিচ্যুতি, সুন্নাহ অস্বীকার এবং ধর্মনিরপেক্ষতার [অনুরূপ] অভিযোগগুলোর প্রতি এক ধরনের বিদ্রূপ লুকিয়ে আছে, যা তাঁর ভাষায় «মুসলিম সংস্কারপন্থীদের» বিরুদ্ধে করা হয়ে থাকে।
(খণ্ড: ১) আল কুরআনিয়ূন, নাশআতুহুম - আকাইদুহুম - আদিল্লাতুহুম (পৃষ্ঠা: ৮)
‌‌منهج البحث:

بُني هذا البحث الضئيل على أساس التعريف بهذه الفرقة وأهم معتقداتها عبر أدبياتِها، وتقديم نماذجَ من فقهها، ومناقشة موضوعية دعاواها، ومحاولة بيان تناقضها باستخدام الأدلة القرآنية والأدلة العقلية فحسب، وعدمُ الاستشهاد بالأحاديث النبوية الشريفة والآثار إلا استئناساً؛ لأن في ذلك احتجاجاً بالدعوى.

 

‌‌مصادر البحث:

- القرآن الكريم.

- مواقعُ انترنت مختلفة.

- كتبٌ لأرباب هذه الطائفة.

- مصادرُ أخرى.

 

‌‌العقبات التي واجهها هذا البحث:

كَكُلّ عملٍ بشريٍّ فقد لقي هذا البحثُ مصاعبَ في طريق إنجازه كان أهمّها:

1 - ضيقُ الصّدر، وإظلامُ القلب اللذان كانا يترصّدانِني كلما باشرتُ الكتابة!

والبواعثُ على ما ذكرتُ هي قُبحُ البِدَع، وبشاعةُ الانحراف، وسماجةُ الجري خلفَ الأهواء.

وأخطرُ هذه البواعث على الإطلاق الخوفُ على النفسِ من الضلال، والحذرُ على عقيدةٍ سُنّيّةٍ أنعمَ بها الله تبارك وتعالى عليَّ من الضّياع!
গবেষণার পদ্ধতি:

এই সংক্ষিপ্ত গবেষণাটি সংশ্লিষ্ট উপদলের পরিচিতি এবং তাদের নিজস্ব সাহিত্যের আলোকে তাদের প্রধান বিশ্বাসসমূহ তুলে ধরার ওপর ভিত্তি করে রচিত। এতে তাদের ফিকহের কিছু নমুনা পেশ করা হয়েছে এবং তাদের দাবিসমূহ বস্তুনিষ্ঠভাবে পর্যালোচনা করা হয়েছে। কেবল কুরআনি দলিল ও যৌক্তিক প্রমাণের মাধ্যমে তাদের স্ববিরোধিতা স্পষ্ট করার প্রচেষ্টা চালানো হয়েছে। রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর হাদিস ও আসারের (সাহাবী ও তাবিঈদের বর্ণনা) উদ্ধৃতি কেবলমাত্র আনুষঙ্গিক সমর্থনের জন্য প্রদান করা হয়েছে; কারণ এক্ষেত্রে হাদিসের মাধ্যমে প্রমাণ উপস্থাপন করা হবে দাবির মাধ্যমেই দাবির সত্যতা প্রমাণের চেষ্টার নামান্তর।

 

‌গবেষণার উৎসসমূহ:

- পবিত্র কুরআন।

- ইন্টারনেটের বিভিন্ন ওয়েবসাইট।

- এই উপদলের নেতৃবৃন্দের লিখিত গ্রন্থাবলি।

- অন্যান্য উৎস।

 

‌গবেষণার পথে অন্তরায়সমূহ:

যেকোনো মানবিক প্রচেষ্টার ন্যায় এই গবেষণাটি সম্পন্ন করার পথেও কিছু প্রতিকূলতার সম্মুখীন হতে হয়েছে, যার মধ্যে প্রধান হলো:

১ - মনের সংকীর্ণতা ও হৃদয়ের অন্ধকারচ্ছন্নতা, যা প্রতিটি লেখনীর প্রারম্ভে আমাকে আচ্ছন্ন করার প্রতীক্ষায় থাকত!

উল্লিখিত বিষয়ের কারণসমূহ হলো বিদআতের কদর্যতা, বিচ্যুতির বীভৎসতা এবং প্রবৃত্তির অনুসরণের অসারতা।

আর এসকল কারণের মধ্যে সবচেয়ে আশঙ্কাজনক বিষয়টি হলো নিজের পথভ্রষ্ট হওয়ার ভয় এবং আল্লাহ তাবারাকা ওয়া তাআলা আমাকে যে সুন্নি আকিদার নিয়ামত দান করেছেন, তা হারিয়ে ফেলার ব্যাপারে চরম সতর্কতা!
(খণ্ড: ১) আল কুরআনিয়ূন, নাশআতুহুম - আকাইদুহুম - আদিল্লাতুহুম (পৃষ্ঠা: ৯)
{رَبَّنَا لَا تُزِغْ قُلُوبَنَا بَعْدَ إِذْ هَدَيْتَنَا وَهَبْ لَنَا مِنْ لَدُنْكَ رَحْمَةً إِنَّكَ أَنْتَ الْوَهَّابُ} [سورة آل عمران 3: الآية 8].

«اللهم ربَّ جبرائيلَ وميكائيلَ وإسرافيلَ، فاطرَ السموات والأرض، عالمَ الغيب والشهادة، أنت تحكم بين عبادكَ فيما كانوا فيه يختلفون؛ اهدِني لِما اختُلِفَ فيه من الحقّ بإذنك؛ إنك تهدي من تشاء إلى صراط مستقيم» (1).

2 - ضرورةُ إنجاز البحثِ مُتقَناً وافياً في أجَلٍ حدّدتُهُ لنفسي كاد أن يَحول بيني وبينه ضيقُ الوقتِ الناجمُ عن كثرة الشواغل، ووفرة المسؤوليات، والله وحدَهُ المستعان، وعليه دون خلقِه التُّكلان، ولا حَوْلَ إلا بِه، ولا طَوْلَ إلا لَه.

 

علي محمد زينو

دمشق 22/ 3/2009

--------------------------------------------

(1) أخرجه مسلمٌ في «صحيحه» برقم (1811) عن أبي سلمة بن عبد الرحمن بن عوف قال: سألتُ عائشة أم المؤمنين: بأيّ شيء كان نبيُّ الله صلى الله عليه وسلم يفتتح صلاته إذا قام من الليل؟ قالت: كان إذا قام من الليل افتتح صلاته: «اللهم رب جبرائيل .... » الحديث.
{হে আমাদের প্রতিপালক! আপনি আমাদের হেদায়েত দান করার পর আমাদের অন্তরসমূহকে সত্যচ্যুৎ করবেন না এবং আপনার পক্ষ থেকে আমাদের রহমত দান করুন। নিশ্চয়ই আপনি পরম দাতা।} [সূরা আল-ইমরান ৩: আয়াত ৮]।

«হে আল্লাহ! জিবরাঈল, মিকাঈল ও ইসরাফীলের প্রতিপালক, আসমান ও যমীনের স্রষ্টা, দৃশ্য ও অদৃশ্যের পরিজ্ঞাতা, আপনার বান্দাগণ যে বিষয়ে মতবিরোধ করত সে বিষয়ে আপনিই তাদের মধ্যে ফয়সালা করে থাকেন। সত্যের ব্যাপারে যে বিষয়ে মতভেদ সৃষ্টি হয়েছে, আপনার অনুমতিক্রমে আমাকে সেই সত্যের পথে পরিচালিত করুন। নিশ্চয়ই আপনি যাকে ইচ্ছা সরল পথের দিশা দান করেন» (১)।

২ - নিজের জন্য নির্ধারিত সময়ের মধ্যে গবেষণাকর্মটি সুনিপুণ ও পরিপূর্ণভাবে সমাপ্ত করার প্রয়োজনীয়তা ছিল অনস্বীকার্য; কিন্তু নানাবিধ ব্যস্ততা এবং দায়-দায়িত্বের আধিক্যের কারণে সময়ের স্বল্পতা প্রায় বাধার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছিল। আল্লাহই একমাত্র সাহায্যস্থল এবং তাঁর সৃষ্টির পরিবর্তে কেবল তাঁর ওপরই ভরসা। আর আল্লাহর সাহায্য ব্যতীত কোনো উপায় নেই এবং তাঁর অনুগ্রহ ছাড়া কোনো শক্তি নেই।

 

আলী মুহাম্মদ যাইনো

দামেস্ক ২২/০৩/২০০৯

--------------------------------------------

(১) ইমাম মুসলিম তাঁর ‘সহীহ’ গ্রন্থে ১৮১১ নম্বর হাদিসে আবু সালামাহ ইবনে আব্দুর রহমান ইবনে আউফ থেকে এটি বর্ণনা করেছেন। তিনি বলেন: আমি উম্মুল মুমিনীন আয়েশাকে জিজ্ঞেস করলাম, আল্লাহর নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) রাতে যখন সালাতে দাঁড়াতেন তখন কী দিয়ে সালাত শুরু করতেন? তিনি বললেন: তিনি যখন রাতে সালাতের জন্য দাঁড়াতেন তখন এই বলে সালাত শুরু করতেন: “হে আল্লাহ! জিবরাঈলের প্রতিপালক...” (সম্পূর্ণ হাদিস)।
(খণ্ড: ১) আল কুরআনিয়ূন, নাশআতুহুম - আকাইদুহুম - আদিল্লাতুহুম (পৃষ্ঠা: ১১)
‌‌التمهيد

إن الصراعَ الفكريّ الذي شرَقَت به البشريةُ على امتداد عمرِها لم تسلَمْ منه الأمة المسلمة في عصرٍ من العصور، فقد تجادلت فرقُ المسلمين فيما بينها جدالاً لم يدَعْ وسيلةً إلا وسخّرها له، ولقد ولّد هذا الصراعُ الفكريّ خيراً كثيراً، وشرّاً مستطيراً!

أما الخيرُ الكثيرُ ففي بيان الحقّ، وإيضاح الهُدى، وإجلاء الرَّشَد؛ الأمر الذي لا يتطلب من باغي الحقّ إلا صِدْقَ القَصْدِ، وإخلاصَ النية؛ مشفوعَين بالجدّ في الطلب، والحثّ في السعي في سبيل رضا الباري جل وعلا.

وأما الشّرّ المستطير فإن الباطلَ قد تقيّأَ ضلالاتٍ وشُبَهاً وبِدعاً تلقّفتها القلوبُ المريضة، والتقطتها النفوسُ السقيمة؛ فأُشرِبَتْها وأُسكِرَت بحُميّاها، حتى اختفى أمامَ عيونِ بصائرِهم من الحقيقةِ مُحيّاها!

وإنّ شيئاً لن يُوقِفَ جولاتِ الصراعات بين أفكار الناس حتى المسلمين منهم، بل لعلّ المسلمين لديهم من وقود الصراع ما يفوقُ سواهُم من الناس!

ذلك بأنه إن كان ليس لدى غيرِ المسلمين إلا الأهواءُ المجرّدةُ عن الأدلة المعتبرة؛ ولا رابطَ حقيقيّاً يربطهم بجذورِ أمَمهم التي ينتسبون لها، ولا وشائجَ بينهم وبين مصادرِ أديانِهم إلا الخرافةُ والزور المُصدّق.

فإنّ بين يدي المسلمين سنةَ نبيٍّ كريمٍ صلى الله عليه وسلم ضَمّت ـ وضُمَّ إليها ـ الآلاف من الأحاديث التي تصارعت حولَها الطوائفُ والفِرق نفياً وإثباتاً، واستنباطاً وتطويعاً.

ولديهم كذلك تاريخٌ حافلٌ فيه سمومٌ ودُسوم، وفيه رواياتٌ متعارضَة، وأخبارٌ متناقضَة؛ بحيثُ لا يعدم صاحبُ فكرةٍ خبراً عن زيدٍ أو عمرٍو يؤيّدُ فكرتَه، أو روايةً تعضُدُ نظرتَه.

ويأتي على رأس ذلك كلِّهِ قرآنٌ لعِبَت بالاهتداء به الأهواء، وحاولت تسخيرَهُ الأنظارُ والآراء، فهو كما أنه نبراسُ الهداية، فهو مع ذلك مَزلّةُ الغواية، ومع أنه منارُ الرشد، فإنه مَزلقٌ إلى الضلالة، كما قال مُنزِلُهُ سبحانه وتعالى: {وَنُنَزِّلُ مِنَ الْقُرْآَنِ مَا هُوَ شِفَاءٌ وَرَحْمَةٌ لِلْمُؤْمِنِينَ وَلَا يَزِيدُ الظَّالِمِينَ إِلَّا خَسَارًا} [سورة الإسراء 17: الآية 82].
‌‌উপক্রমণিকা

মানবজাতি তার সুদীর্ঘ ইতিহাসে যে বুদ্ধিবৃত্তিক সংঘাতের ভারে জর্জরিত হয়েছে, কোনো যুগেই মুসলিম উম্মাহ তা থেকে মুক্ত ছিল না। মুসলিম দলগুলো নিজেদের মধ্যে এমন এক বিতর্কে লিপ্ত হয়েছে, যাতে তারা সম্ভাব্য সকল পথ ও মাধ্যম ব্যবহার করেছে। আর এই বুদ্ধিবৃত্তিক সংঘাত প্রভূত কল্যাণ বয়ে এনেছে, আবার ভয়াবহ অনিষ্টও ডেকে এনেছে!

কল্যাণের দিকটি হলো সত্যের প্রকাশ, হিদায়াতের স্পষ্টীকরণ এবং সঠিক পথের আলোকায়ন; যা সত্যসন্ধানীর কাছ থেকে কেবল সংকল্পের সততা ও নিয়তের একনিষ্ঠতা দাবি করে; এর সাথে প্রয়োজন মহান রবের সন্তুষ্টির পথে নিরলস অন্বেষণ ও ঐকান্তিক প্রচেষ্টা।

আর ভয়াবহ অনিষ্টের দিকটি হলো এই যে, বাতিল বা অসত্য এমন সব বিভ্রান্তি, সংশয় ও বিদআত উগড়ে দিয়েছে যা ব্যাধিগ্রস্ত অন্তরসমূহ লুফে নিয়েছে এবং অসুস্থ আত্মাগুলো কুড়িয়ে নিয়েছে। অতঃপর তারা সেগুলোতে নিমজ্জিত হয়েছে এবং তার উন্মাদনায় এমনভাবে মত্ত হয়েছে যে, তাদের অন্তর্দৃষ্টির সামনে থেকে সত্যের অবয়ব বিলীন হয়ে গেছে!

মানুষের ধ্যান-ধারণার মধ্যকার এই সংঘাতের পরিক্রমা কোনো কিছুই থামাতে পারবে না, এমনকি মুসলিমদের মধ্যেও নয়। বরং সম্ভবত মুসলিমদের কাছে এই সংঘাতের জ্বালানি অন্য যে কারো তুলনায় অনেক বেশি!

এর কারণ হলো, অমুসলিমদের কাছে নির্ভরযোগ্য প্রমাণহীন নিছক প্রবৃত্তি ছাড়া আর কিছুই নেই; তাদের পূর্বপুরুষদের শিকড়ের সাথে তাদের কোনো প্রকৃত যোগসূত্র নেই এবং কুসংস্কার ও সত্য বলে গৃহীত মিথ্যাচার ছাড়া তাদের ধর্মের উৎসগুলোর সাথে তাদের কোনো বন্ধন নেই।

পক্ষান্তরে, মুসলিমদের সম্মুখে রয়েছে প্রিয় নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর সুন্নাহ, যা হাজার হাজার হাদীসকে ধারণ করে আছে—এবং যাতে অনেক কিছু যুক্তও হয়েছে—যাকে কেন্দ্র করেই বিভিন্ন দল ও উপদল একে অপরের সাথে লড়াইয়ে লিপ্ত হয়েছে; কখনো তা প্রমাণ বা প্রত্যাখ্যান করতে, আবার কখনো নিজেদের অনুকূলে ব্যাখ্যা বা প্রয়োগ করতে।

তাদের আরও রয়েছে এক সমৃদ্ধ ইতিহাস, যাতে বিষ যেমন আছে, সুস্বাদু উপাদানও আছে। সেখানে রয়েছে পরস্পরবিরোধী বর্ণনা ও সাংঘর্ষিক সংবাদ; ফলে কোনো মতাদর্শের অনুসারী ব্যক্তি তার চিন্তাধারার সমর্থনে কোনো ব্যক্তির উদ্ধৃতি কিংবা তার দৃষ্টিভঙ্গিকে শক্তিশালী করার মতো বর্ণনার অভাব বোধ করে না।

আর এই সবকিছুর শীর্ষে রয়েছে কুরআন, যার হিদায়াত নিয়ে প্রবৃত্তি খেলা করেছে এবং মানুষের নানা দৃষ্টিভঙ্গি ও মতবাদ একে নিজেদের স্বার্থে ব্যবহারের চেষ্টা করেছে। সুতরাং এটি যেমন হিদায়াতের আলোকবর্তিকা, তেমনি এটি বিভ্রান্তির কারণও হতে পারে; এটি যেমন সঠিক পথের মিনার, তেমনি এটি বিচ্যুতিতেও ফেলতে পারে। যেমনটি এর অবতীর্ণকারী মহান আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআলা বলেছেন: "আর আমি কুরআনে এমন কিছু অবতীর্ণ করি যা মুমিনদের জন্য আরোগ্য ও রহমত, কিন্তু তা জালিমদের জন্য কেবল ক্ষতিই বৃদ্ধি করে।" [সূরা আল-ইসরা ১৭: আয়াত ৮২]।
(খণ্ড: ১) আল কুরআনিয়ূন, নাশআতুহুম - আকাইদুহুম - আদিল্লাতুহুম (পৃষ্ঠা: ১২)
وقال تبارك وتعالى: {قُلْ هُوَ لِلَّذِينَ آَمَنُوا هُدًى وَشِفَاءٌ وَالَّذِينَ لَا يُؤْمِنُونَ فِي آَذَانِهِمْ وَقْرٌ وَهُوَ عَلَيْهِمْ عَمًى} [سورة فصلت 41: الآية 44].

وقال عزّ من قائل: {وَأَمَّا الَّذِينَ فِي قُلُوبِهِمْ مَرَضٌ فَزَادَتْهُمْ رِجْسًا إِلَى رِجْسِهِمْ وَمَاتُوا وَهُمْ كَافِرُونَ} [سورة التوبة 9: الآية 125].

نعم، هو كذلك لِمن يَستَنِرْ به كما أراد الله تباركَ في علاه، ومَن لم يتّبِعْ مَنهَجَ النبيِّ صلى الله عليه وسلم وصحابته الأخيار الأبرار في الاهتداءِ به، ذلك المنهج الذي بنى أمةً أشرَقت أنوارُ حضارتِها إشراقةَ الشمسِ في الضحى الأغرّ، تلك الحضارة التي لو لم تكن ربّانيةً لَما نبغَت ذلك النبوغ الهائل كمّاَ ونوعاً، زماناً ومكاناً.

ذلك لأنّ هذا الكتابَ العزيزَ نزلَ دستوراً، وجعَلَهُ اللهُ تبارك وتعالى منهاجاً، وإنّ من شأن الدساتير، وديدن المناهج أنها تخلو من التفريعات والتفصيلات، وتُعرِضُ عن الدخول في الصغائرِ والجزئيّات.

إن القرآن الكريم نزل بأُسُس العقيدة المبنية على التوحيد الخالص، وجاءَ بشيءٍ من ركائزِ العبادات والمعاملات والأخلاق، وها هو بين أيدي الخلق أجمعين يتكلّم ببيانٍ يسمو عن الإجابة عن أسئلةٍ كثيرةٍ لا تُحصى، ويسكت عن مسائلَ أكثرَ من أن تُستقصى.

فلمَ كان ذلك؟ أهو نسيانٌ ممّن تكلّم به سبحانه لتلك الأشياء؟ أم تفريطٌ من رسولَيه الملَكيّ والإنسيِّ عليهما السلام؟ أم ضياعٌ من أمّةٍ اؤتُمِنَت فخانت، واستُحفِظَت فلم تحفَظ؟

إنّ كلّ ذلك ليس بكائن، بل إن هذا القرآنَ العظيم كتابُ هداية، ولكنّ هدايةَ القرآن هدايةٌ إجماليةٌ لا تفصيلية.

وإنّ سيدَنا محمداً عليه الصلاة والسلام العبدَ الكريمَ الذي نزل عليه القرآنُ وكُلّفَ بأدائه إلى عباد الله كما نزل فأدّى ذلك التكليف خير أداء، وُكِلَت إليه مع الأداءِ وظيفةٌ أخرى قد لا تقلّ عن الأولى شرفاً وخطراً.
মহান আল্লাহ তাআলা বলেন: "বলুন, এটি মুমিনদের জন্য পথনির্দেশক ও আরোগ্য। আর যারা ঈমান আনে না, তাদের কানে রয়েছে বধিরতা এবং এটি তাদের জন্য অন্ধত্ব।" [সূরা ফুসসিলাত ৪১: আয়াত ৪৪]।

মহিমান্বিত সত্তা আরও বলেন: "পক্ষান্তরে যাদের অন্তরে ব্যাধি রয়েছে, এটি তাদের কলুষের সাথে আরও কলুষ যুক্ত করে এবং তারা কাফির অবস্থায় মৃত্যুবরণ করে।" [সূরা আত-তাওবাহ ৯: আয়াত ১২৫]।

হ্যাঁ, এটি তাদের জন্যই এমন যারা এর মাধ্যমে আলোকপ্রাপ্ত হতে চায় যেভাবে মহান আল্লাহ তাঁর সুউচ্চ মর্যাদায় চেয়েছেন। আর যে ব্যক্তি এই কিতাব হতে হিদায়াত লাভের ক্ষেত্রে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এবং তাঁর শ্রেষ্ঠ ও পুণ্যবান সাহাবীদের অনুসৃত পদ্ধতির অনুসরণ করেনি—সেই পদ্ধতি যা এমন এক উম্মাহ গঠন করেছিল যার সভ্যতার আলো উজ্জ্বল পূর্বাহ্নের সূর্যের ন্যায় উদ্ভাসিত হয়েছিল—সেই সভ্যতা যদি রব্বানি বা ঐশী না হতো, তবে তা পরিমাণ ও গুণগত বিচারে এবং কাল ও পাত্রের সীমানায় এমন বিশাল উৎকর্ষ অর্জন করতে পারত না।

এর কারণ হলো, এই মহিমান্বিত কিতাব একটি সংবিধান হিসেবে অবতীর্ণ হয়েছে এবং মহান আল্লাহ একে একটি জীবনপদ্ধতি হিসেবে নির্ধারণ করেছেন। আর সংবিধানের বৈশিষ্ট্য এবং জীবনপদ্ধতির চিরাচরিত নীতিই হলো তা বিশদ ব্যাখ্যা ও শাখা-প্রশাখা থেকে মুক্ত থাকে এবং অতি ক্ষুদ্র ও খুঁটিনাটি বিষয়ে প্রবেশ করা থেকে বিরত থাকে।

নিশ্চয়ই কুরআন মাজীদ বিশুদ্ধ তাওহীদের ওপর প্রতিষ্ঠিত আকিদার মূলভিত্তি নিয়ে অবতীর্ণ হয়েছে এবং এতে ইবাদত, লেনদেন ও আখলাকের মৌলিক স্তম্ভগুলোর কিছু বর্ণনা এসেছে। আজ এটি সমগ্র সৃষ্টির সামনে এমন এক প্রাঞ্জল বর্ণনায় কথা বলছে যা অগণিত প্রশ্নের উত্তর দেওয়ার ঊর্ধ্বে অবস্থান করে এবং এমন বহু প্রসঙ্গের ক্ষেত্রে নীরবতা অবলম্বন করে যা গণনা করে শেষ করা দুষ্কর।

তবে কেন এমন হলো? যিনি এই কালাম পাঠ করেছেন, তিনি কি সেই বিষয়গুলো বিস্মৃত হয়েছেন? নাকি তাঁর ফেরেশতা ও মানব—এই দুই রাসূলের (তাঁদের ওপর শান্তি বর্ষিত হোক) পক্ষ থেকে কোনো অবহেলা হয়েছে? নাকি এটি এমন এক উম্মতের বিচ্যুতি যাদের কাছে আমানত রাখা হয়েছিল কিন্তু তারা খেয়ানত করেছে, যাদের সুরক্ষার দায়িত্ব দেওয়া হয়েছিল কিন্তু তারা তা রক্ষা করেনি?

প্রকৃতপক্ষে এর কোনটিই ঘটেনি। বরং এই মহান কুরআন হলো হিদায়াতের কিতাব। তবে কুরআনের এই হিদায়াত হলো সামগ্রিক, বিস্তারিত নয়।

আর আমাদের নেতা মুহাম্মদ (তাঁর ওপর শান্তি ও রহমত বর্ষিত হোক)—সেই সম্মানিত বান্দা যার ওপর কুরআন অবতীর্ণ হয়েছে এবং আল্লাহর বান্দাদের কাছে তা অবতীর্ণ রূপেই পৌঁছে দেওয়ার দায়িত্ব অর্পণ করা হয়েছে, অতঃপর তিনি সেই দায়িত্ব সর্বোত্তমভাবে পালন করেছেন—তাঁর ওপর এই প্রচারের পাশাপাশি আরও একটি দায়িত্ব ন্যস্ত করা হয়েছে যা মর্যাদা ও গুরুত্বের দিক থেকে প্রথমটির চেয়ে কোনো অংশে কম নয়।
(খণ্ড: ১) আল কুরআনিয়ূন, নাশআতুহুম - আকাইদুহুম - আদিল্লাতুহুম (পৃষ্ঠা: ১৩)
إنها مهمة بيانٍ للإبهام، وتوضيحٍ للإشكال، وتفصيلٍ للإجمال، وإجابةٍ عن كلّ ما يسأل عنه المسلمُ حين يقرأ موادّ الدستور الربانيّ، وأوامر المرسوم الإلهيّ: كيف يكون تطبيقُها؟ وكيف يكون استمرارُها نبراسَ هدايةٍ للبشرية مع اختلاف الأزمنة والأمكنة؟

وقد قام بذلك سيدُنا رسول الله صلى الله عليه وسلم خير قيام، وأجابَ عن التساؤلات الإنسانيةِ خيرَ إجابةٍ، ولم يدَعْ إلا ما تدعو إليه الحاجة غيرُ الحقيقية، ويدفعُ إليه بطَرُ التكلّف، وترَفُ التنطّع.

لقد ترك رسولُ الله صلى الله عليه وسلم سُنةً سدّت كلّ السُّبُل، وأوصدَت جميعَ الأبوابِ سواها إلى الله تعالى وتبارك، فاهتدى بهديها المسلمون أربعةَ عشرَ قرناً ونيّفاً، وجدوا فيها لكلّ داء دواءاً، ومن كلّ وجعٍ وبلسماً وشفاءاً.

إلا أنّ بعضَ أهل الأهواء في كلّ دهرٍ من الدهور، وعصرٍ من العصور، غصّ بالسُّنّة الغراء، وشرَقَ بالنعمة البيضاء؛ لأنها وقفت بينهم وبين جعلهم أهواءَهُم عقداً وديناً، فجرّدوا فيها مباضعَ التأويل وهو أول التضليل، وأغمدوا فيها نصولَ الاجتزاءِ وشِفارَ التطويع.

بل زادَ بعضُهم غيّاً إلى أن تجرّأ على ردّ ما لا يُعجِبُهُ منها، وتكذيب ما لا يحلو له من أحاديثها، وبلغ السيلُ زُباه، ووصل الضلالُ منتهاه؛ بأن نجمت منذُ أزيد من قرنٍ زَرافاتٌ من الناس أنكَروا السُّنّة بالكليّة، وردّوا كلّ ما أتاهم من الأحاديث النبويّة، وأعلنوا أنهم رمَوا بها ظِهريّاً، وأفرَطوا بأن تَجرّأ بعضُهم على التهكُّم بها واتخاذِها سُخريّاً.

واستمرّ الفكر الفاسد بتفريخ النَّكِرَة بعد الأخرى حتى طلعت على الناس في الآونة الأخيرة جماعةٌ سمّت نفسها «أهل القرآن» أو «القرآنيون»، أشهرت أنها لا تؤمن إلا بالقرآن وحدَه، وأن كلّ ما نُسِبَ إلى النبيّ صلى الله عليه وسلم كذبٌ وافتراء، وزورٌ ودجل!

وإنه لَمّا كانت لهذه الجماعة منابرُ إعلاميةٌ مرموقةٌ تبثّ فكرَها وتنشُرَه بين المسلمين، فقد أوضعت خلال بني الأمة تبغيهِمُ الفتنة، وأحدثت في جسدها جُرحاً جديداً من الجراح الأليمة، فانبرى عددٌ من المسلمين للردّ على هذا الضلال، ووقفوا في وجه هذا التجديف.
এটি মূলত অস্পষ্টতাকে ব্যাখ্যা করার, জটিলতা নিরসন করার, সংক্ষিপ্ত বিষয়কে বিস্তারিতভাবে বর্ণনা করার এবং মহান রব্বুল আলামীনের সংবিধান ও খোদায়ী ফরমানের বিধানাবলি পাঠ করার সময় একজন মুসলিমের মনে উদিত প্রতিটি জিজ্ঞাসার জবাব প্রদানের এক মহান দায়িত্ব। বিশেষত—তা কীভাবে বাস্তবায়িত হবে? এবং মহাকাল ও স্থানভেদে তা কীভাবে মানবতার জন্য হিদায়াতের আলোকবর্তিকা হিসেবে অব্যাহত থাকবে?

আমাদের নেতা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এ দায়িত্ব সর্বোত্তমভাবে পালন করেছেন এবং মানবিক জিজ্ঞাসাগুলোর শ্রেষ্ঠতম উত্তর দিয়েছেন। তিনি কেবল সেই বিষয়গুলোই পরিহার করেছেন, যার দিকে কোনো অহেতুক প্রয়োজন আহ্বান করে অথবা যা কৃত্রিম লৌকিকতা ও অনর্থক গভীরতা প্রদর্শনের বিলাসিতা থেকে উদ্ভূত হয়।

রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এমন এক সুন্নাহ রেখে গেছেন, যা আল্লাহ তাআলার নৈকট্য লাভের ক্ষেত্রে অন্য সকল পথ রুদ্ধ করে দিয়েছে এবং তাঁর দরবারে পৌঁছানোর জন্য একমাত্র এ পথটিই উন্মুক্ত রেখেছে। সুদীর্ঘ চৌদ্দশ বছরেরও অধিক সময় ধরে মুসলিম উম্মাহ এই সুন্নাহর মাধ্যমেই হিদায়াত লাভ করেছে; এর মাঝে তারা প্রতিটি রোগের মহৌষধ এবং প্রতিটি যন্ত্রণার উপশম ও শেফা খুঁজে পেয়েছে।

কিন্তু প্রতিটি যুগে ও সময়ে কিছু প্রবৃত্তিপূজারী মানুষ এই দীপ্তিমান সুন্নাহর প্রতি বিদ্বেষ পোষণ করেছে এবং এই শ্বেত-শুভ্র নিয়ামতকে অবজ্ঞা করেছে; কারণ এই সুন্নাহ তাদের প্রবৃত্তি ও খেয়াল-খুশিকে আকিদা ও দ্বীন হিসেবে গ্রহণ করার পথে অন্তরায় হয়ে দাঁড়িয়েছিল। ফলে তারা সুন্নাহর ওপর অপব্যাখ্যার ছুরি চালিয়েছে—যা বিভ্রান্তির প্রথম ধাপ—এবং এর ওপর খণ্ডন ও বিকৃতির ধারালো অস্ত্র প্রয়োগ করেছে।

এমনকি তাদের কেউ কেউ পথভ্রষ্টতায় এতদূর এগিয়ে গেছে যে, সুন্নাহর যা কিছু তাদের মনঃপূত হয়নি তা প্রত্যাখ্যান করার এবং তাদের রুচির পরিপন্থী হাদীসগুলোকে মিথ্যা প্রতিপন্ন করার ধৃষ্টতা দেখিয়েছে। পরিস্থিতির অবনতি চরম সীমায় পৌঁছেছে এবং বিভ্রান্তি তার চূড়ান্ত রূপ ধারণ করেছে; যখন এক শতাব্দীরও বেশি সময় আগে এমন কিছু দল ও গোষ্ঠীর আবির্ভাব ঘটে যারা সুন্নাহকে পুরোপুরি অস্বীকার করে বসে। তারা তাদের কাছে আসা সকল হাদীসে নববী প্রত্যাখ্যান করে এবং ঘোষণা দেয় যে তারা একে পিঠের পেছনে ছুড়ে ফেলেছে। এমনকি তাদের কেউ কেউ সীমালঙ্ঘন করে সুন্নাহ নিয়ে উপহাস ও বিদ্রূপ করার দুঃসাহসও দেখিয়েছে।

এই ভ্রান্ত চিন্তাধারা একের পর এক অপরিচিত ও অদ্ভুত মতবাদের জন্ম দিয়ে যেতে থাকে। অবশেষে সাম্প্রতিক সময়ে একদল মানুষের আবির্ভাব ঘটে যারা নিজেদেরকে «আহলে কুরআন» বা «কুরআনী» নামে অভিহিত করে। তারা প্রকাশ্যে ঘোষণা দেয় যে, তারা কেবল কুরআনেই বিশ্বাস করে এবং রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের দিকে যা কিছু সম্বন্ধযুক্ত করা হয়েছে তা মিথ্যা, বানোয়াট, জাল ও প্রতারণা মাত্র!

যেহেতু এই গোষ্ঠীর জন্য তাদের চিন্তাধারা প্রচার ও মুসলিমদের মাঝে তা ছড়িয়ে দেওয়ার জন্য প্রভাবশালী গণমাধ্যম বিদ্যমান ছিল, তাই তারা উম্মাহর ভেতরে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির উদ্দেশ্যে দ্রুত বিস্তার লাভ করে এবং উম্মাহর দেহে একটি নতুন যন্ত্রণাদায়ক ক্ষতের সৃষ্টি করে। ফলে একদল মুসলিম এই বিভ্রান্তির দাঁতভাঙা জবাব দেওয়ার জন্য এগিয়ে আসেন এবং এই অবমাননাকর অপতৎপরতার বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়ান।
(খণ্ড: ১) আল কুরআনিয়ূন, নাশআতুহুম - আকাইদুহুম - আদিল্লাতুহুম (পৃষ্ঠা: ১৪)
فأّلفَ عُلماءُ كرامٌ كُتباً عديدة (1)،

وغير ذلك كثيرٌ بحمد الله تعالى وفضله.

وحذّرَ من ضلالات «أعداء القرآن» دعاةٌ أفاضل، وتصدّت لشُبَهِهِم مواقع الكترونية متنوعة، وصدرت بحقهم فتاوى مختلفة، جزى اللهُ جميعَ من سعى للوقوف في وجه شرِّهم خيراً.

إلا أنّ كثيراً من الردود المنتشرة قاصرٌ أشدّ القصور عن بلوغ مستوى شُبُهات «القرآنيين»، والسواد الأعظم منها غير واقعيّ في مضمونه، فهو لا يتعدى ذِكرَ أنّ السنة رُكنُ التشريع الثاني، وأنّ مُنكِرها كافرٌ مرتدّ، ويُستدلّ لذلك بآيتين أو ثلاث، وبحديثٍ وربما اثنين، {وَكَفَى اللَّهُ الْمُؤْمِنِينَ الْقِتَالَ} [سورة الأحزاب 33: الآية 25].

--------------------------------------------

(1) تطول قائمةُ الكتب المؤلفة في هذا الباب، وأذكرُ منها في عجالة:

1. … «الأنوار الكاشفة لِما في كتاب أضواء على السنة من التضليل والمجازفة» للشيخ عبد الرحمن بن يحيى المعلمي اليماني رحمه الله.

2. … «الحديث حجة بنفسه في العقائد والأحكام» للشيخ ناصر الدين الألباني رحمه الله.

3. … «الحديث والمحدثون» أو «عناية الأمة الإسلامية بالسنة المحمدية»، للدكتور محمد محمد أبو زهو.

4. … «السنة المطهرة والتحديات»، للدكتور نور الدين عتر حفظه الله.

 

5. … «السنة النبوية بين دعاة الفتنة وأدعياء العلم»، للدكتور عبد الموجود محمد عبد اللطيف.

6. … «السنة النبوية في كتابات أعداء الإسلام في الكتابات العربية» للدكتور عماد الشربيني.

وهو كتابٌ أكثر من جيد اطلعت عليه على صورة ملف (word) فلم يُمكنّي الأخذُ عنه، ولكن بدا لي فيه جهدٌ كبير جزى الله مؤلفه خيراً.

7. … «السنة في مواجهة الأباطيل» للأستاذ محمد طاهر حكيم.

8. … «السنة النبوية في مواجهة التحدي»، للدكتور أحمد عمر هاشم حفظه الله

9. … «السنة قبل التدوين»، للدكتور محمد عجاج الخطيب حفظه الله

10. … «السنة ومكانتها في التشريع الإسلاميّ» للدكتور مصطفى السباعي رحمه الله.

11. … «السنة ومنزلتها في التشريع الإسلامي» للدكتور محمد أمان

12. … «القرآنيون وشبهاتهم حول السنة» للدكتور خادم حسين إلهي بخش.

13. … «المستشرقون والسنة» للدكتور سعد المرصفي.

14. … «دراسات في الحديث النبوي وتاريخ تدوينه» للدكتور محمد مصطفى الأعظمي.

15. … «دفاع عن أبي هريرة» لعبد المنعم صالح العلي العزي.

16. … «شبهات القرآنيين» للشيخ عثمان بن معلم محمود بن شيخ علي.

17. … «شبهات حول السنة» للشيخ عبد الرزاق عفيفي رحمه الله.

18. … «ظلمات أبي رية أمام أضواء السنة المحمدية» للأستاذ محمد عبد الرازق حمزة.

19. … «كيف نتعامل مع السنة النبوية» للدكتور يوسف القرضاوي حفظه الله.

20. … «معالم على طريق السنة» للدكتور أحمد عمر هاشم حفظه الله.
তাই সম্মানিত আলেমগণ অসংখ্য কিতাব রচনা করেছেন (১),

আর মহান আল্লাহর প্রশংসা ও তাঁর অনুগ্রহে এ জাতীয় আরও অনেক কিছু রয়েছে।

অনেক বিজ্ঞ দাঈ 'কুরআনের শত্রু'দের বিভ্রান্তি সম্পর্কে সতর্ক করেছেন, বিভিন্ন ওয়েবসাইট তাদের সন্দেহ-সংশয় নিরসনে সচেষ্ট হয়েছে এবং তাদের ব্যাপারে বিভিন্ন ফতোয়া জারি করা হয়েছে। যারা তাদের অনিষ্টের মোকাবিলায় এগিয়ে এসেছেন আল্লাহ তাদের সকলকে উত্তম প্রতিদান দান করুন।

তবে বর্তমানে প্রচলিত অনেক খণ্ডনমূলক জবাব 'কুরআনি'দের (তথাকথিত আহলে কুরআন) উত্থাপিত সংশয়গুলোর মোকাবিলায় চরমভাবে অপর্যাপ্ত। সেগুলোর অধিকাংশের বিষয়বস্তু বাস্তবসম্মত নয়; বরং সেগুলো কেবল সুন্নাহ যে শরীয়তের দ্বিতীয় উৎস এবং এর অস্বীকারকারী কাফের ও মুরতাদ—এই কথাগুলোর মধ্যেই সীমাবদ্ধ। আর এ বিষয়ের স্বপক্ষে প্রমাণ হিসেবে বড়জোর দুই-তিনটি আয়াত এবং একটি বা দুটি হাদিস পেশ করা হয়, যেন ‘যুদ্ধের ময়দানে আল্লাহ মুমিনদের জন্য যথেষ্ট হয়ে গেছেন’ [সূরা আল-আহযাব ৩৩: আয়াত ২৫]।

--------------------------------------------

(১) এই বিষয়ে রচিত কিতাবসমূহের তালিকা বেশ দীর্ঘ, আমি সংক্ষেপে কিছু উল্লেখ করছি:

১. … ‘আল-আনোয়ারুল কাশিফাহ লিমা ফী কিতাবি আদওয়া আলাস সুন্নাহ মিনাত তাদলীল ওয়াল মুজাযাফাহ’ - শাইখ আব্দুর রহমান বিন ইয়াহইয়া আল-মুআল্লিমী আল-ইয়ামানী (রহ.)।

২. … ‘আল-হাদিসু হুজ্জাতুন বি-নাফসিহি ফিল আকাইদি ওয়াল আহকাম’ - শাইখ নাসিরুদ্দিন আল-আলবানী (রহ.)।

৩. … ‘আল-হাদিস ওয়াল মুহাদ্দিসুন’ বা ‘ইনায়াতুল উম্মাতিল ইসলামিয়্যাহ বিস সুন্নাতিল মুহাম্মাদিয়্যাহ’ - ড. মুহাম্মদ মুহাম্মদ আবু যাহু।

৪. … ‘আস-সুন্নাতুল মুতাহহারাতু ওয়াত তাহাদিয়াত’ - ড. নুরুদ্দিন আতর (হাফিযাহুল্লাহ)।

 

৫. … ‘আস-সুন্নাতুন নাবাউইয়্যাহ বাইনা দুআতিল ফিতনা ওয়া আদয়িয়াইল ইলম’ - ড. আব্দুল মাওজুদ মুহাম্মদ আব্দুল লতিফ।

৬. … ‘আস-সুন্নাতুন নাবাউইয়্যাহ ফী কিতাবাতি আদাইল ইসলাম ফিল কিতাবাতিল আরাবিয়্যাহ’ - ড. ইমাদ আশ-শারবিনী।

এটি একটি অত্যন্ত চমৎকার কিতাব যা আমি ওয়ার্ড (word) ফাইল হিসেবে দেখেছি, তাই তা থেকে সরাসরি উদ্ধৃতি দেওয়া সম্ভব হয়নি, তবে এতে অনেক শ্রম দেওয়া হয়েছে বলে মনে হয়েছে; আল্লাহ এর লেখককে উত্তম প্রতিদান দান করুন।

৭. … ‘আস-সুন্নাহ ফী মুওয়াজাহাতিল আবাতীল’ - উস্তাদ মুহাম্মদ তাহির হাকিম।

৮. … ‘আস-সুন্নাতুন নাবাউইয়্যাহ ফী মুওয়াজাহাতিত তাহাদদী’ - ড. আহমাদ উমর হাশেম (হাফিযাহুল্লাহ)।

৯. … ‘আস-সুন্নাহ কবলাত তাদউইন’ - ড. মুহাম্মদ আজ্জাজ আল-খতিব (হাফিযাহুল্লাহ)।

১০. … ‘আস-সুন্নাহ ওয়া মাকানাতুহা ফিত তাশরিল ইসলামী’ - ড. মুস্তফা আস-সিবাঈ (রহ.)।

১১. … ‘আস-সুন্নাহ ওয়া মানযিলাতুহা ফিত তাশরিল ইসলামী’ - ড. মুহাম্মদ আমান।

১২. … ‘আল-কুরআনিয়্যুন ওয়া শুবুহাতুহুম হাওলাস সুন্নাহ’ - ড. খাদিম হুসাইন ইলাহি বখশ।

১৩. … ‘আল-মুস্তাশরিকুনা ওয়াস সুন্নাহ’ - ড. সাদ আল-মারসাফি।

১৪. … ‘দিরাসাতুন ফিল হাদিসিন নাবাউয়ি ওয়া তারিখি তাদউইনিহি’ - ড. মুহাম্মদ মুস্তফা আল-আযমী।

১৫. … ‘দিফাউন আন আবি হুরায়রা’ - আব্দুল মুনইম সালেহ আল-আলি আল-ইযযি।

১৬. … ‘শুবুহাতুল কুরআনিইয়ীন’ - শাইখ উসমান বিন মুআল্লিম মাহমুদ বিন শাইখ আলি।

১৭. … ‘শুবুহাতুন হাওলাস সুন্নাহ’ - শাইখ আব্দুর রাজ্জাক আফিফী (রহ.)।

১৮. … ‘যুলুমাতু আবি রাইয়্যাহ আমামা আদওয়াইস সুন্নাতিল মুহাম্মাদিয়্যাহ’ - উস্তাদ মুহাম্মদ আব্দুর রাজ্জাক হামযাহ।

১৯. … ‘কাইফা নাতাআমালু মাস সুন্নাতিন নাবাউইয়্যাহ’ - ড. ইউসুফ আল-কারযাভী (হাফিযাহুল্লাহ)।

২০. … ‘মাআলিম আলা ত্বরিকিস সুন্নাহ’ - ড. আহমাদ উমর হাশেম (হাফিযাহুল্লাহ)।
(খণ্ড: ১) আল কুরআনিয়ূন, নাশআতুহুম - আকাইদুহুম - আদিল্লাতুহুম (পৃষ্ঠা: ১৫)
وكثيرون هم الذين المؤلِّفون والكتّاب الذين أقدَموا على الاحتجاج على القرآنيين بالسنة الشريفة (1)، وهذا احتجاجٌ بالدعوى غيرُ مقبولٍ في البحث العلميّ.

مع أنه يمكن الاعتذارُ لمن يفعل ذلك بأنه يذكرُ أدلةَ مكانة السنة النبوية من نصوص السنة نفسِها لِمن يؤمنون بها؛ ليزيدهم إيماناً ويقيناً بها.

وهذا العذرُ مقبولٌ إذا كان الكلامُ موجّهاً إلى المؤمنين بالسنة، ولكنه ليس مقبولاً أن يُستخدَمَ في الحوار مع مُنكِريها!

فمن أمثلةِ ذلك أنه في مقالٍ للأستاذ أحمد أبو زيد (2) موجودٍ على العديد من المواقع الالكترونية، يحتجُّ الأستاذ جزاه الله خيراً على القرآنيين لِمنزلة السنة النبوية الشريفة فيقول:

«منزلة السنة:

وإذا نظرنا إلى موقف الإسلام من أفكار هؤلاء المكذبين بالسنة المطهرة، نجد أن العلماء والمجتهدين قد اتفقوا جميعاً على أن السنة النبوية أصلٌ من أصول التشريع الإسلامي، يجب الأخذ بها إذا صحّت وثبتّت نسبتُها لرسول الله صلى الله عليه وسلم مستندين في ذلك إلى الأمور التالية» … ثم يذكر:

--------------------------------------------

(1) كما فعل الأستاذ محمد طاهر حكيم جزاه الله خيراً في «السنة في مواجهة الأباطيل» الفصل الثالث من كتابه ص 17 - 20، وكثيرون جداً غيرُه.

(2) الأستاذ أحمد محمود أبو زيد، صحفي وكاتب مصري وباحث إسلامي، وعضو نقابة الصحفيين المصرية، وسكرتير تحرير جريدة الوفد. من مواليد قرية دلهمو بأشمون - محافظة المنوفية - مصر - عام 1964 م.

حاصل على بكالوريوس إعلام من جامعة القاهرة - قسم صحافة عام 1986 م بتقدير جيد جداً.

وحاصل على دبلوم عال من معهد الدراسات الإسلامية بالقاهرة عام 1992 م بتقدير جيد جداً.

 

له مجموعة من الكتب المنشورة: «منهاج الداعية»، و «محاكمة سلمان رشدي المصري»، و «الهجوم على الإسلام في الروايات الأدبية»، و «إنهم يقتلون الساجدين مذبحة الحرم الإبراهيمي وحرب المستوطنات».

يكتب في عدة مجلات إسلامية، ومواقع الكترونية في المملكة العربية السعودية والكويت ودول الخليج.

يُنظر: موقع الألوكة: دراسات: فكرية: أحمد أبو زيد:

(http://www.alukah.net/Articles/Author.aspx? AuthorID=212&CategoryID=39).

 

(www.eltwhed.com/vb/showthread.php)
বহু লেখক ও গ্রন্থকার এমন রয়েছেন যারা ‘কুরআনি’দের (সুন্নাহ অস্বীকারকারীদের) বিরুদ্ধে পবিত্র সুন্নাহর মাধ্যমেই দলিল পেশ করার প্রয়াস চালিয়েছেন (১); অথচ জ্ঞানতাত্ত্বিক গবেষণায় দাবির সপক্ষেই সেই দাবিকে দলিল হিসেবে পেশ করা গ্রহণযোগ্য নয়।

তবে যারা এমনটি করেন তাদের বিষয়ে এই বলে ওজর পেশ করা সম্ভব যে, তারা যারা সুন্নাহর প্রতি বিশ্বাসী, তাদের ঈমান ও দৃঢ়তা বৃদ্ধির জন্য সুন্নাহর বাণীসমূহ থেকেই সুন্নাহর মর্যাদার প্রমাণাদি উল্লেখ করেন।

আর এই ওজর বা যুক্তিটি তখনই গ্রহণযোগ্য যখন আলোচনাটি সুন্নাহর প্রতি বিশ্বাসীদের উদ্দেশ্যে হয়; কিন্তু সুন্নাহ অস্বীকারকারীদের সাথে বিতর্কের ক্ষেত্রে এটি ব্যবহার করা মোটেও গ্রহণযোগ্য নয়!

এর একটি উদাহরণ হলো উস্তাদ আহমদ আবু যাইদ (২)-এর একটি নিবন্ধ, যা বিভিন্ন ওয়েবসাইটে পাওয়া যায়। সেখানে উস্তাদ (আল্লাহ তাকে উত্তম প্রতিদান দিন) পবিত্র সুন্নাহর মর্যাদার বিষয়ে কুরআনিদের বিরুদ্ধে দলিল পেশ করতে গিয়ে বলেন:

«সুন্নাহর মর্যাদা:

পবিত্র সুন্নাহকে অস্বীকারকারীদের এসকল চিন্তাধারার বিষয়ে যদি আমরা ইসলামের অবস্থান লক্ষ্য করি, তবে দেখব যে—আলেম ও মুজতাহিদগণ এই বিষয়ে ঐকমত্য পোষণ করেছেন যে, সুন্নাহ হলো ইসলামি শরিয়তের অন্যতম একটি মূল উৎস। যদি সুন্নাহর সূত্র বিশুদ্ধ হয় এবং রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের প্রতি তার সম্বন্ধ অকাট্যভাবে সাব্যস্ত হয়, তবে তা গ্রহণ করা আবশ্যক। তাঁরা এ ক্ষেত্রে নিম্নোক্ত বিষয়গুলোর ওপর ভিত্তি করেছেন» … এরপর তিনি উল্লেখ করেন:

--------------------------------------------

(১) যেমনটি করেছেন উস্তাদ মুহাম্মদ তাহির হাকিম (আল্লাহ তাকে উত্তম প্রতিদান দিন) তাঁর ‘আস-সুন্নাহ ফি মুওয়াজাহাতিল আবাতিল’ (বাতিলের মোকাবিলায় সুন্নাহ) গ্রন্থের তৃতীয় পরিচ্ছেদে, পৃষ্ঠা ১৭-২০; এছাড়াও আরও অনেকেই এমনটি করেছেন।

(২) উস্তাদ আহমদ মাহমুদ আবু যাইদ; তিনি একজন মিশরীয় সাংবাদিক, লেখক ও ইসলামি গবেষক। তিনি মিশরীয় সাংবাদিক ইউনিয়নের সদস্য এবং ‘আল-ওয়াফদ’ পত্রিকার সম্পাদনা সচিব। ১৯৬৪ সালে মিশরের মুনোফিয়া প্রদেশের আশমুন এলাকার দালহামু গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।

তিনি ১৯৮৬ সালে কায়রো বিশ্ববিদ্যালয়ের সাংবাদিকতা বিভাগ থেকে ‘অত্যন্ত ভালো’ (ভেরি গুড) গ্রেডসহ স্নাতক ডিগ্রি অর্জন করেন।

১৯৯২ সালে কায়রোর ইনস্টিটিউট অফ ইসলামিক স্টাডিজ থেকে ‘অত্যন্ত ভালো’ (ভেরি গুড) গ্রেডসহ উচ্চতর ডিপ্লোমা সম্পন্ন করেন।

 

তাঁর বেশ কিছু গ্রন্থ প্রকাশিত হয়েছে: ‘মিনহাজুদ দায়িয়া’ (দাঈর কর্মপদ্ধতি), ‘মুহাকামাতু সালমান রুশদি আল-মিসরি’ (মিশরীয় সালমান রুশদির বিচার), ‘আল-হুজুমু আলাল ইসলাম ফিল রিওয়ায়াতিল আদাবিয়্যাহ’ (সাহিত্য উপন্যাসে ইসলামের ওপর আক্রমণ) এবং ‘ইন্নাহুম ইয়াকতুলুনাস সাজিদিন: মাজবাহাতুল হারমিল ইবরাহিমি ওয়া হারবুল মুস্তাওতিনিন’ (নিশ্চয়ই তারা সেজদাকারীদের হত্যা করছে: ইবরাহিমি হারামের হত্যাকাণ্ড ও বসতি স্থাপনকারীদের যুদ্ধ)।

তিনি সৌদি আরব, কুয়েত ও উপসাগরীয় দেশগুলোর বিভিন্ন ইসলামি সাময়িকী ও ওয়েবসাইটে লিখে থাকেন।

দেখুন: আল-উকা ওয়েবসাইট: গবেষণা: বুদ্ধিবৃত্তিক: আহমদ আবু যাইদ:

(http://www.alukah.net/Articles/Author.aspx? AuthorID=212&CategoryID=39).

 

(www.eltwhed.com/vb/showthread.php)
(খণ্ড: ১) আল কুরআনিয়ূন, নাশআতুহুম - আকাইদুহুম - আদিল্লাতুহুম (পৃষ্ঠা: ১৬)
«والأمر الثالث: الحديث، فقد وردت أحاديثُ كثيرةٌ تدلُّ على وجوب اتباع السنة ومصدريَّتها، كقوله صلى الله عليه وسلم: «تركتُ فيكم أمرَين لن تضلُّوا ما تمسكّتُم بهما: كتاب الله وسنتي» (1)، وقوله صلى الله عليه وسلم: «ألا إني أوتيت الكتاب ومثله» (2)، وقوله صلى الله عليه وسلم صلى الله عليه وسلم: «عليكم بسنتي، وسنة الخلفاء الراشدين المهديين، تمسكوا بها وعَضوا عليها بالنواجذ» (3)».

ثم ذكر أقوالاً عن بعض أهل العلم المعاصرين بتجهيلهم وتضليلهم وتكفيرهم (4).

وقريبٌ من هذا ما أجاب به فضيلة العلامة الدكتور محمد سعيد رمضان البوطي حفظه الله تعالى عندما سُئلَ حول القرآنيين السؤالَ التالي:

هل يعتبر القرآنيون من المسلمين؟ يؤمن هؤلاء بالقرآن الكريم ولكنهم ينكرون السنة النبوية الشريفة، ويفسرون القرآن بناء على عقولهم وأهوائهم.

فكان أن أجابَ ـ حفظه الله ـ إجابةً مقتضبةً جدّاً هي:

«كلّ من أنكر نبوةَ رسول الله، أو أنكر السُّنّةَ جملةً فهو كافرٌ، وإن شهد أن لا إله إلا الله» (5).

--------------------------------------------

(1) أخرجه الحاكم في «المستدرك» برقم (319) من حديث أبي هريرة رضي الله عنه مُسنَداً وصححه.

ورواه مالك في «الموطّأ» برواية يحيى برقم (1594) بلاغاً بلفظ «وسنة نبيه».

(2) أخرجه أحمد في «مسنده» برقم (17174)، وأبو داود في «سننه» برقم (4604) من حديث المقدام بن معدي كرب رضي الله عنه.

(3) أخرجه أحمد في «مسنده» برقم (17142)، وأبو داود في «سننه» برقم (4607)، والترمذي في «جامعه» برقم (2676) ـ وقال: هذا حديث صحيح ـ وابن ماجه في «سننه» برقم (42) في حديثِ العرباض بن سارية رضي الله عنه.

(4) «موقع التوحيد»: الأقسام الخاصة: كتاب ومقالات: سليمان الخراشي.

(5) «موقع الدكتور محمد سعيد رمضان البوطي»: الفتاوى: العقيدة: السنة.

(www.bouti.net/fatawas.php).

وكي لا يظنّ أنّ الدكتور البوطي حفظه الله تهوّر في هذا الحكم أذكرُ بعضَ من قال به من أهل العلم المتقدمين.

قال الإمام الآجري في كتابه «الشريعة»: 1/ 412:

«جميع فرائض الله التي فرضها في كتابه لا يعلم الحكم فيها إلا بسنن رسول الله صلى الله عليه وسلم. هذا قول علماء المسلمين، من قال غير هذا خرج عن ملة الإسلام ودخل في ملة الملحدين».

وقال الإمام ابن حزم الظاهري الأندلسيّ في «الإحكام في أصول الأحكام» 2/ 80:

«لو أن امرأً قال: لا نأخذ إلا ما وجدنا في القرآن لكان كافراً بإجماع الأمة، ولكان لا يلزمه إلا ركعة ما بين دلوك الشمس إلى غسق الليل، وأخرى عند الفجر؛ لأن ذلك هو أقلّ ما يقع عليه اسم صلاة، ولا حد للأكثر في ذلك، وقائل هذا كافر مشرك حلال الدم والمال، وإنما ذهب إلى هذا بعض غالية الرافضة ممن قد اجتمعت الأمة على كفرهم».

وقال الإمام السيوطي في «مفتاح الجنة في الاحتجاج بالسنة» ص 2:

«إن من أنكر كون حديث النبي? قولاً كان أو فعلاً ـ بشرطه المعروف في الأصول ـ حجة كَفَرَ، وخرج عن دائرة الإسلام، وحُشر مع اليهود والنصارى أو مع من شاء الله من فرق الكفرة».
«তৃতীয় বিষয়: হাদিস। সুন্নাহর অনুসরণ করা এবং তা শরিয়তের উৎস হওয়ার আবশ্যকতা প্রমাণ করে এমন অনেক হাদিস বর্ণিত হয়েছে। যেমন নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর বাণী: "আমি তোমাদের মাঝে দুটি বিষয় রেখে যাচ্ছি, যতক্ষণ তোমরা তা আঁকড়ে থাকবে, ততক্ষণ পথভ্রষ্ট হবে না: আল্লাহর কিতাব এবং আমার সুন্নাহ" (১)। এবং তাঁর (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বাণী: "জেনে রেখো, আমাকে কিতাব (কুরআন) এবং তার সাথে অনুরূপ আরও একটি জিনিস (সুন্নাহ) দেওয়া হয়েছে" (২)। এবং তাঁর (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বাণী: "তোমরা আমার সুন্নাহ এবং আমার পরবর্তী হিদায়েতপ্রাপ্ত খুলাফায়ে রাশেদিনের সুন্নাহকে আঁকড়ে ধরো; তা মজবুতভাবে ধারণ করো এবং দাঁত দিয়ে কামড়ে ধরে থাকো" (৩)।»

অতঃপর তিনি সমসাময়িক কিছু আলিমের বক্তব্য উল্লেখ করেছেন, যেখানে তাদের মূর্খ সাব্যস্ত করা, পথভ্রষ্ট বলা এবং কাফির ঘোষণা করা হয়েছে (৪)।

এর কাছাকাছি উত্তর দিয়েছেন প্রখ্যাত আল্লামা ডক্টর মুহাম্মদ সাঈদ রমজান আল-বুতি (আল্লাহ তায়ালা তাঁকে হিফাজত করুন), যখন তাঁকে 'কুরআনবাদী' (কুরআনিউন) সম্পর্কে নিম্নোক্ত প্রশ্নটি করা হয়েছিল:

কুরআনবাদীরা কি মুসলিম হিসেবে গণ্য হবে? তারা পবিত্র কুরআনের প্রতি বিশ্বাস রাখে কিন্তু মহানবীর (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) সুন্নাহকে অস্বীকার করে এবং তারা নিজেদের বিচারবুদ্ধি ও খেয়ালখুশি অনুযায়ী কুরআনের ব্যাখ্যা করে।

তখন তিনি—আল্লাহ তাঁকে হিফাজত করুন—খুবই সংক্ষিপ্ত একটি উত্তর দেন:

«যে ব্যক্তি আল্লাহর রাসূলের নবুওয়াত অস্বীকার করবে অথবা সুন্নাহকে পুরোপুরি অস্বীকার করবে, সে কাফির; যদিও সে সাক্ষ্য দেয় যে, আল্লাহ ছাড়া কোনো ইলাহ নেই» (৫)।

--------------------------------------------

(১) এটি ইমাম হাকিম তাঁর 'আল-মুস্তাদরাক'-এ ৩১৯ নম্বর হাদিসে আবু হুরায়রা (রা.) থেকে মুসনাদ হিসেবে বর্ণনা করেছেন এবং এটিকে সহিহ বলেছেন।

ইমাম মালেক তাঁর 'মুয়াত্তা'-তে ইয়াহিয়ার বর্ণনা অনুযায়ী ১৫৯৪ নম্বরে 'বালাগান' (সনদহীন বর্ণনা) হিসেবে 'এবং তাঁর নবীর সুন্নাহ' শব্দে বর্ণনা করেছেন।

(২) ইমাম আহমাদ তাঁর 'মুসনাদ'-এ ১৭১৭৪ নম্বরে এবং আবু দাউদ তাঁর 'সুনান'-এ ৪৬০৪ নম্বরে মিকদাম বিন মাদি কারিব (রা.) থেকে এটি বর্ণনা করেছেন।

(৩) ইমাম আহমাদ তাঁর 'মুসনাদ'-এ ১৭১৪২ নম্বরে, আবু দাউদ তাঁর 'সুনান'-এ ৪৬০৭ নম্বরে, তিরমিজি তাঁর 'জামে'-তে ২৬৭৬ নম্বরে বর্ণনা করেছেন—এবং তিনি বলেছেন: এটি একটি সহিহ হাদিস—এবং ইবনে মাজাহ তাঁর 'সুনান'-এ ৪২ নম্বরে ইরবাজ বিন সারিয়া (রা.)-এর হাদিস থেকে বর্ণনা করেছেন।

(৪) 'তাওহিদ ওয়েবসাইট': বিশেষ বিভাগসমূহ: বই ও প্রবন্ধাবলি: সুলাইমান আল-খারাশি।

(৫) 'ডক্টর মুহাম্মদ সাঈদ রমজান আল-বুতি ওয়েবসাইট': ফতোয়া: আকিদা: সুন্নাহ।

(www.bouti.net/fatawas.php)।

ডক্টর আল-বুতি (আল্লাহ তাঁকে হিফাজত করুন) এই ফতোয়া দেওয়ার ক্ষেত্রে তাড়াহুড়ো করেছেন বলে যেন কেউ মনে না করে, সে জন্য আমি পূর্বসূরি আলিমদের মধ্য থেকে যারা এই মত পোষণ করেছেন তাদের কয়েকজনের বক্তব্য উল্লেখ করছি।

ইমাম আজুররি তাঁর 'আশ-শরিয়াহ' কিতাবে (১/৪১২) বলেন:

«আল্লাহ তায়ালা তাঁর কিতাবে যেসব বিধান ফরজ করেছেন, সেগুলোর হুকুম বা পদ্ধতি আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর সুন্নাহ ব্যতীত জানা সম্ভব নয়। এটিই মুসলিম আলিমদের বক্তব্য। যে ব্যক্তি এর বিপরীত কথা বলবে, সে ইসলাম থেকে বের হয়ে যাবে এবং নাস্তিক-বেদ্বীনদের অন্তর্ভুক্ত হবে।»

ইমাম ইবনে হাজম জাহিরি আন্দালুসি তাঁর 'আল-ইহকাম ফি উসুলিল আহকাম' (২/৮০) গ্রন্থে বলেন:

«যদি কোনো ব্যক্তি বলে: 'কুরআনে যা পেয়েছি তা ছাড়া আমরা অন্য কিছু গ্রহণ করব না', তবে সে উম্মতের ইজমা অনুযায়ী কাফির বলে গণ্য হবে। সেক্ষেত্রে তার ওপর সূর্য ঢলে পড়া থেকে রাত ঘন হওয়া পর্যন্ত কেবল এক রাকাত এবং ভোরে আরেক রাকাত নামাজ পড়া আবশ্যক হবে; কারণ নামাজের জন্য এটিই ন্যূনতম পরিমাণ, এর বেশি কোনো সীমা নির্ধারিত নেই। এমন কথা যে বলবে সে কাফির, মুশরিক এবং তার রক্ত ও সম্পদ হালাল। কেবল কিছু চরমপন্থী রাফেজি এই মত পোষণ করেছে, যাদের কুফরির ব্যাপারে উম্মত ঐকমত্য পোষণ করেছে।»

ইমাম সুয়ূতি 'মিফতাহুল জান্নাহ ফিল ইহতিজাজ বিস সুন্নাহ' (পৃ. ২) গ্রন্থে বলেন:

«যে ব্যক্তি নবীজির হাদিস—চাই তা বাণী হোক বা কর্ম হোক এবং যা উসুল শাস্ত্রের সুপরিচিত শর্ত পূরণ করে—তা দলিল হওয়ার বিষয়টিকে অস্বীকার করে, সে কাফির বলে গণ্য হবে এবং ইসলামের গণ্ডি থেকে বেরিয়ে যাবে। হাশরের ময়দানে তাকে ইহুদি, নাসারা অথবা কাফিরদের যে কোনো দলের সাথে সমবেত করা হবে।»
(খণ্ড: ১) আল কুরআনিয়ূন, নাশআতুহুম - আকাইদুহুম - আদিল্লাতুহুম (পৃষ্ঠা: ১৭)
قال كاتب هذه الأسطر ـ عفا الله عنه ـ:

وإنه إن كان يُمكن الاعتذار عن المتعجّل، فإنه لا ينبغي أن يكون كلُّ ـ أو جلُّ ـ من كتب حول القرآنيين متعجِّلاً؛ بحيث يسوقُ مكرَّراً من الكلام، ويأتي بنزرٍ يسيرٍ من الأقوال والأحكام، يَحسبُ أنه يئدُ بذلك بدعةَ القرآنيين في مهدِها، ويقضي على شُبَهِهِم ويكرّ عليها بهدِّها!

ولقد أعجبَني انتباهُ بعضِ الغيارى إلى خطورةِ ضلالاتِ «أهل القرآن»، وأنهم ليسوا من السهولة على قدرٍ بحيث يُمكنُ أن يُنتَصَرَ عليهم بيسيرٍ من الجهد.

حيث وجدتُ على بعض المواقع الإسلامية أخاً يقول: «سادتي، هل من ردودٍ على من يُسمُّون أنفسهم بالقرآنيين».

فاستثارَ بهذا السؤال ردوداً كان أحدُها من أخٍ أجابه بالتالي:

«صدّقوني عندما أقول: إن نقاشهم ليس بالسهولة التي تتصورون أو بالبساطة التي يتصورها بعض من ألّف من العلماء ردا عليهم ودفاعا عن السنة النبوية، وغالبهم للأسف ما جالسوهم ولا ناقشوهم بل ردوا عليهم عن بعد بما سمعوا عنهم فقط، لذا فإني أقول بكل أسف أن ما اطلعت عليه مما كتب من ردود على بدعتهم لا يرتقي أبداً إلى مستوى خطورتهم وأنها في الغالب ردود إنشائية خطابية، ويحتاج الأمر الكثير من الجهد لإتمام الرد عليهم على الوجه الأكمل.

وجلُّ من يكتب دفاعاً عن السنة النبوية في وجههم يعتمد في دفعه على ذات السنة وأخبارها التي هم يرفضونها ويردونها رأساً؛ فلا يتمُّ له الاحتجاج بها عليهم، فلا يمكنك أن تثبت حجية السنة بالسنة أو غيرها من الأخبار.
এই পঙক্তিগুলোর লেখক —আল্লাহ তাঁকে ক্ষমা করুন— বলেন:

যদি কোনো ত্বরান্বিতকারীর পক্ষ থেকে ওজর পেশ করা সম্ভবও হয়, তবে ‘কুরআনি’ (হাদিস অস্বীকারকারী) মতবাদ সম্পর্কে যারা লিখেছেন তাদের সকলের —বা অধিকাংশের— ত্বরান্বিত হওয়া সমীচীন নয়; যেন তারা একই কথার পুনরাবৃত্তি করতে থাকেন এবং যৎসামান্য বক্তব্য ও বিধান উপস্থাপন করেন। তারা মনে করেন এর মাধ্যমেই তারা কুরআনিদের বিদআতকে আঁতুড়ঘরেই দাফন করে ফেলছেন এবং তাদের সংশয়গুলোকে সমূলে বিনাশ ও ধ্বংস করে দিচ্ছেন!

‘আহলুল কুরআন’ (তথাকথিত কুরআনি) ফেরকার গোমরাহির ভয়াবহতার প্রতি কিছু দ্বীনদার সচেতন ব্যক্তির মনোযোগ আমাকে মুগ্ধ করেছে; বিশেষ করে তাদের এই উপলব্ধি যে, তারা (কুরআনিরা) এমন সহজ কোনো প্রতিপক্ষ নয় যে সামান্য প্রচেষ্টায় তাদের ওপর বিজয় লাভ করা সম্ভব হবে।

আমি কিছু ইসলামি ওয়েবসাইটে একজন ভাইকে বলতে দেখেছি: “হে সুধী মণ্ডলী, যারা নিজেদের ‘কুরআনি’ বলে দাবি করে, তাদের খণ্ডনে কি কোনো জবাব আছে?”

এই প্রশ্নটি কিছু উত্তরের সূত্রপাত ঘটায়, যার মধ্যে একজন ভাই নিম্নোক্ত মন্তব্য করেন:

“বিশ্বাস করুন যখন আমি বলি: তাদের সাথে বিতর্ক করা আপনাদের ধারণার মতো অতটা সহজ নয়, কিংবা সুন্নাহর প্রতিরক্ষায় তাদের বিরুদ্ধে লেখনী ধারণকারী কতিপয় আলিম বিষয়টি যতটা সহজ মনে করেছেন ততটা সাধারণ নয়। অত্যন্ত পরিতাপের বিষয় এই যে, তাদের অধিকাংশ না তাদের সংস্পর্শে এসেছেন, না তাদের সাথে মতবিনিময় করেছেন; বরং তারা কেবল যা শুনেছেন তার ওপর ভিত্তি করেই দূর থেকে জবাব দিয়েছেন। তাই আমি অত্যন্ত দুঃখের সাথে বলছি, তাদের বিদআতের খণ্ডনে আমি যা কিছু দেখেছি তা কোনোভাবেই তাদের ভয়াবহতার স্তরের সাথে সংগতিপূর্ণ নয় এবং অধিকাংশ ক্ষেত্রে সেগুলো নিছক আলঙ্কারিক ও আবেগনির্ভর বক্তব্য। তাদের বিরুদ্ধে পূর্ণাঙ্গ ও যথোপযুক্ত জবাব প্রদানের জন্য ব্যাপক গবেষণার প্রয়োজন।

তাদের বিরুদ্ধে সুন্নাহর প্রতিরক্ষায় যারা লিখছেন, তাদের অধিকাংশ প্রতিরোধের ক্ষেত্রে মূলত সেই সুন্নাহ ও বর্ণনার ওপরই নির্ভর করেন যা তারা (কুরআনিরা) সরাসরি অস্বীকার ও প্রত্যাখ্যান করে। ফলে তাদের বিরুদ্ধে এগুলো দিয়ে দলিল পেশ করা অকার্যকর হয়ে পড়ে; কেননা আপনি খোদ সুন্নাহ কিংবা অন্য কোনো বর্ণনার মাধ্যমে সুন্নাহর প্রামাণিকতা (তাদের নিকট) সাব্যস্ত করতে পারেন না।”
(খণ্ড: ১) আল কুরআনিয়ূন, নাশআতুহুম - আকাইদুহুম - আদিল্লাতুহুম (পৃষ্ঠা: ১৮)
هم لا يحتكمون إلا إلى القرآن والعقل، وما جاء في السنة موافقاً للقرآن أخذوا به، وإلا فهو لا يعنيهم ولا ينظرون إليه أصلاً، ونقاشهم من أصعب الأمور لو جربتموه» (1).

قال كاتبه ـ غفر الله له ـ:

ولقد خُضتُ بحراً وقف الأكثرون بساحله من ضلالاتِ موقِعِهِم المسمى «أهل القرآن»، واطّلعت على كثيرٍ أُخرى في مواقعَ غيرِه، وقرأتُ مقداراً غير يسيرٍ من الكتب التي تتفق معهم في دعاواهم!

ووالله الذي لا إله غيره، إن لهم فِتناً يُمسي فيها الحليم حيرانَ، ولا آمنُ على طُلابِ علمٍ أن يَهوُوا في مهاويهم، فكيفَ بعامّة الناس وأنصاف ـ أو أرباعِ أو أعشار ـ المتعلّمين شرعيّاً منهم.

وعلى الرغم من قلة عدد هؤلاء نسبةً إلى مجموع الأمة المسلمة، إلا أنّ المسلم يحزن على نفسٍ واحدةٍ تُساقُ إلى النار، وعلى الأمة أن تعمل ما تستطيع في سبيل إنقاذ من هوى في تلك الهوّة السحيقة، وفي سبيل حمايةِ أبناء هذه الأمة وبناتِها من الانزلاق في مُنحدرِهم المُفضي الكفر الأكبر، وبالله العياذ.

اللهم سلِّمنا من الضلال، واعصِمنا من الغيّ، وأجِرنا من الخزي في الدارين يا كريم.

--------------------------------------------

(1) «منتديات روض الرياحين»: الدفاع عن أهل السنة.

(cb.rayaheen.net/showthread.php).
তারা কেবল কুরআন এবং বিবেকের কাছেই বিচারপ্রার্থনা করে। সুন্নাহর যা কিছু কুরআনের অনুকূলে আসে, তারা কেবল তা-ই গ্রহণ করে; অন্যথায় তা তাদের নিকট গুরুত্বহীন এবং তারা আদৌ সেদিকে ফিরেও তাকায় না। যদি আপনারা কখনও তাদের সাথে তর্কে লিপ্ত হন, তবে দেখবেন তাদের সাথে বিতর্ক করা অত্যন্ত কঠিন কাজগুলোর অন্তর্ভুক্ত» (১)।

এর লেখক—আল্লাহ তাঁকে ক্ষমা করুন—বলেন:

আমি এমন এক সাগরে অবগাহন করেছি যার উপকূলে অধিকাংশ মানুষই থমকে দাঁড়িয়েছে; আর তা হলো ‘আহলুল কুরআন’ নামক তাদের ওয়েবসাইটের বিভ্রান্তিসমূহ। আমি তাদের সাইট ছাড়াও অন্যান্য সাইটে এ জাতীয় আরও অনেক বিষয় প্রত্যক্ষ করেছি এবং তাদের দাবির সাথে একমত পোষণকারী প্রচুর কিতাবাদি পাঠ করেছি!

সেই আল্লাহর কসম যাঁর ব্যতীত অন্য কোনো উপাস্য নেই, নিশ্চয়ই তাদের এমন কিছু ফিতনা রয়েছে যাতে ধৈর্যশীল প্রাজ্ঞ ব্যক্তিও কিংকর্তব্যবিমূঢ় হয়ে পড়ে। আমি ইলম অন্বেষণকারীদের ব্যাপারেও নিরাপদ বোধ করি না যে তারা তাদের সেই ধ্বংসগহ্বরে নিপতিত হবে; এমতাবস্থায় সাধারণ মানুষ কিংবা যারা শরয়ী জ্ঞানে অর্ধেক, এক-চতুর্থাংশ বা এক-দশমাংশ শিক্ষিত, তাদের অবস্থা তো বলাই বাহুল্য!

মুসলিম উম্মাহর সামগ্রিক জনসংখ্যার তুলনায় তাদের সংখ্যা সামান্য হলেও একজন মুসলিমের জন্য এটি দুঃখজনক যে একটি প্রাণকেও জাহান্নামের দিকে টেনে নেওয়া হচ্ছে। উম্মাহর উচিত সেই গভীর গর্তে যারা নিপতিত হয়েছে তাদের উদ্ধারে সম্ভাব্য সকল পথ অবলম্বন করা এবং উম্মাহর সন্তানদের এমন পিচ্ছিল পথ থেকে রক্ষা করা যা ‘কুফরে আকবর’ বা বড় কুফরির দিকে ধাবিত করে। আমরা আল্লাহর কাছে এ থেকে আশ্রয় প্রার্থনা করি।

হে আল্লাহ! আমাদের পথভ্রষ্টতা থেকে রক্ষা করুন, বিভ্রান্তি থেকে বাঁচিয়ে রাখুন এবং উভয় জাহানে লাঞ্ছনা থেকে আমাদের মুক্তি দান করুন, হে পরম দয়ালু।

--------------------------------------------

(১) «মুনতাদায়াত রওদ আল-রাইয়্যাহিন»: আদ-দিফা' আন আহলিস সুন্নাহ (আহলুস সুন্নাহর প্রতিরক্ষা)।

(cb.rayaheen.net/showthread.php).
(খণ্ড: ১) আল কুরআনিয়ূন, নাশআতুহুম - আকাইদুহুম - আদিল্লাতুহুম (পৃষ্ঠা: ১৯)
‌‌الفصل الأول: بذور مُنكِري السُّنّة (في تاريخ المسلمين القديم).
প্রথম পরিচ্ছেদ: সুন্নাহ অস্বীকারকারীদের বীজ (প্রাচীন মুসলিম ইতিহাসে)
(খণ্ড: ১) আল কুরআনিয়ূন, নাশআতুহুম - আকাইদুহুম - আদিল্লাতুহুম (পৃষ্ঠা: ২১)
‌‌المبحث الأول: البذور الأولى:

لم يخلُ عصرٌ مِمّن تفيهَقَ وتحذلَقَ بالنّكير على أحاديثِ النبيِّ صلى الله عليه وسلم، وإنّ هذه السَّوأةَ عُرِفَت من صدرِ الإسلام الأول؛ حيثُ وُجِدَ أشخاصٌ متفرّقون اعترضوا على مرويّاتٍ بلغتهم، وأحكامٍ نبويةٍ وصلتهم، وتصدّوا لها بعقل يزعمونَه، ومنطقٍ يدّعونَه.

فها هي أم المؤمنين عائشةُ رضي الله عنها تسألها امرأةٌ: أتجزي إحدانا صلاتَها إذا طهُرت؟ فقالت: أحرورية أنت؟ كنا نحيض مع النبي صلى الله عليه وسلم فلا يأمرنا به، أو قالت: فلا نفعله (1).

وفي واقعةٍ أخرى وردَ أنّ سيدنا عمرانَ بن حصين رضي الله عنه (2) قال له رجل: يا أبا نجيد، إنكم لتحدثوننا بأحاديث ما نجد لها أصلاً في القرآن.

فغضب عمرانُ وقال للرجل: أوجدتُم في كلِّ أربعين درهماً درهم، ومن كلّ كذا وكذا شاة شاة، ومن كل كذا وكذا بعيراً كذا وكذا، أوجدتُم هذا في القرآن؟ قال لا.

قال: فعن من أخذتُم هذا؟ أخذتُموه عنّا، وأخذناه عن نبي الله صلى الله عليه وسلم، وذكر أشياء نحو هذا (3).

وفي روايةٍ أنّ عمرانَ رضي الله عنه ذكر الشفاعة، فقال رجل من القوم: يا أبا نجيد، إنكم تحدثوننا بأحاديثَ لم نجد لها أصلاً في القرآن، فغضب عمرانُ رضي الله عنه وقال للرجل: قرأت القرآن؟ قال: نعم.

--------------------------------------------

(1) أخرجه البخاري في «صحيحه» ـ واللفظ له ـ برقم (321).

وأخرجه مسلم في «صحيحه» برقم (761)، وأخرجه أحمد في مواضعَ من «مسنده» أولها برقم (24036).

(2) عمران بن حصين الخزاعي من أهل العلم من الصحابة. أسلم عام خيبر (سنة 7 هـ)، وكانت معه راية خزاعة يوم فتح مكة. بعثه عمر إلى أهل البصرة ليفقههم، وتوفي بها سنة (52 هـ).

يُنظَر لترجمته: «معرفة الصحابة» لأبي نعيم 4/ 2108 الترجمة (2204)، «الإصابة في تمييز الصحابة» 5/ 26 - 27 الترجمة (6005).

(3) أخرجه أبو داود في «سننه» برقم (1561)، وأخرجه الحاكم في «المستدرك» برقم (372) باختلاف.
প্রথম পরিচ্ছেদ: প্রাথমিক বীজসমূহ:

এমন কোনো যুগ অতিবাহিত হয়নি যেখানে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর হাদিসসমূহের প্রতি বিদ্বেষ ও পাণ্ডিত্য জাহির করে তা প্রত্যাখ্যান করার মতো লোকের অভাব ছিল। এই মন্দ প্রথা ইসলামের একেবারে শুরুর যুগ থেকেই পরিচিত ছিল; তখন বিক্ষিপ্তভাবে এমন কিছু লোকের অস্তিত্ব পাওয়া যেত যারা তাদের কাছে পৌঁছানো বর্ণনা এবং নববী বিধানের বিরোধিতা করত এবং তাদের দাবিকৃত বিবেক ও যুক্তির মাধ্যমে সেগুলোর মোকাবিলা করত।

এই তো উম্মুল মুমিনীন আয়েশা রাদিয়াল্লাহু আনহা, তাঁকে এক মহিলা প্রশ্ন করলেন: 'আমাদের মধ্যে কেউ (ঋতুস্রাব থেকে) পবিত্র হলে কি তাকে নামাজের কাজা আদায় করতে হবে?' তিনি বললেন: 'তুমি কি হারুরিয়া (খারেজি)? আমরা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর যুগে ঋতুবর্তী হতাম, কিন্তু তিনি আমাদের তা আদায়ের নির্দেশ দিতেন না।' অথবা তিনি বলেছিলেন: 'আমরা তা করতাম না।' (১)

অন্য এক ঘটনায় বর্ণিত হয়েছে যে, আমাদের নেতা ইমরান ইবনে হুসাইন রাদিয়াল্লাহু আনহুকে (২) এক ব্যক্তি বলল: 'হে আবু নুজাইদ, আপনারা আমাদের কাছে এমন সব হাদিস বর্ণনা করেন যেগুলোর কোনো মূল ভিত্তি আমরা কুরআনে পাই না।'

এতে ইমরান রাগান্বিত হলেন এবং লোকটিকে বললেন: 'তোমরা কি প্রতি চল্লিশ দিরহামে এক দিরহাম (জাকাত), এত সংখ্যক ছাগলে একটি ছাগল এবং এত সংখ্যক উটে একটি উট—এসব কি কুরআনে পেয়েছ?' সে বলল: 'না।'

তিনি বললেন: 'তাহলে এগুলো তোমরা কার কাছ থেকে গ্রহণ করেছ? তোমরা আমাদের কাছ থেকে এগুলো গ্রহণ করেছ, আর আমরা আল্লাহর নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর কাছ থেকে তা গ্রহণ করেছি।' এরপর তিনি অনুরূপ আরও কিছু বিষয় উল্লেখ করলেন। (৩)

অন্য এক বর্ণনায় এসেছে যে, ইমরান রাদিয়াল্লাহু আনহু সুপারিশ (শাফায়াত) সম্পর্কে আলোচনা করছিলেন। তখন উপস্থিত লোকদের মধ্য থেকে এক ব্যক্তি বলল: 'হে আবু নুজাইদ, আপনারা আমাদের কাছে এমন সব হাদিস বর্ণনা করেন যেগুলোর কোনো মূল ভিত্তি আমরা কুরআনে পাইনি।' এতে ইমরান রাদিয়াল্লাহু আনহু রাগান্বিত হলেন এবং লোকটিকে বললেন: 'তুমি কি কুরআন পড়েছ?' সে বলল: 'হ্যাঁ।'

--------------------------------------------

(১) এটি বুখারি তাঁর 'সহিহ' গ্রন্থে বর্ণনা করেছেন—এবং শব্দবিন্যাস তাঁরই—হাদিস নম্বর (৩২১)।

মুসলিম এটি তাঁর 'সহিহ' গ্রন্থে বর্ণনা করেছেন, হাদিস নম্বর (৭৬১)। আহমদ তাঁর 'মুসনাদ'-এর বিভিন্ন স্থানে এটি বর্ণনা করেছেন, যার প্রথমটি হলো হাদিস নম্বর (২৪০৩৬)।

(২) ইমরান ইবনে হুসাইন আল-খুজায়ি সাহাবায়ে কেরামের মধ্যে বিজ্ঞ আলেমদের অন্তর্ভুক্ত ছিলেন। তিনি খায়বারের বছর (৭ম হিজরি) ইসলাম গ্রহণ করেন এবং মক্কা বিজয়ের দিন খুজায়া গোত্রের পতাকা তাঁর সাথে ছিল। ওমর (রা.) তাঁকে বসরাবাসীদের দ্বীনি জ্ঞান শিক্ষার জন্য পাঠিয়েছিলেন এবং তিনি ৫২ হিজরিতে সেখানেই ইন্তেকাল করেন।

তাঁর জীবনীর জন্য দেখুন: আবু নুআইম রচিত 'মা'রিফাতুস সাহাবা' ৪/২১০৮, জীবনী নম্বর (২২০৪); 'আল-ইসাবাহ ফি তাময়িযিস সাহাবা' ৫/২৬-২৭, জীবনী নম্বর (৬০০৫)।

(৩) আবু দাউদ এটি তাঁর 'সুনান' গ্রন্থে বর্ণনা করেছেন, হাদিস নম্বর (১৫৬১)। হাকেম এটি 'আল-মুস্তাদরাক' গ্রন্থে বর্ণনা করেছেন, হাদিস নম্বর (৩৭২), তবে কিছুটা ভিন্ন শব্দে।
(খণ্ড: ১) আল কুরআনিয়ূন, নাশআতুহুম - আকাইদুহুম - আদিল্লাতুহুম (পৃষ্ঠা: ২২)
قال: فهل وجدت فيه صلاة العشاء أربعاً، ووجدت المغرب ثلاثاً، والغداة ركعتين، والظهر أربعاً، والعصر أربعاً؟ قال: لا.

قال: فعن من أخذتم ذلك؟ أخذتموه وأخذناه عن رسول الله صلى الله عليه وسلم.

ثم ذكر أشياء في أنصبة الزكاة، وتفاصيل الحج وغيرهما، وختم بقوله: أما سمعتم الله قال في كتابه: {وَمَا آَتَاكُمُ الرَّسُولُ فَخُذُوهُ وَمَا نَهَاكُمْ عَنْهُ فَانْتَهُوا} [سورة الحشر 59: الآية 7].

قال عمران: فقد أخَذْنا عن رسول الله صلى الله عليه وسلم أشياءَ ليس لكم بها علم (1).

 

وحتى في القرن الأول وُجِدَ أفرادٌ ضاقوا ذرعاً بالأحاديث النبوية، فقال قائلُهم ـ لِمُطرِّفِ بنِ عبد الله بن الشّخِّير (2) ـ: «لا تُحدّثونا إلا بالقرآن».

فأجابه مطرّفٌ رحمه الله: «والله ما نريد بالقرآن بدلاً، ولكن نريدُ من هو أعلمُ بالقرآن منّا» (3).

ولكنَّ مِن أقدمِ ما وردَ حول وجود فئةٍ نبتَت بين المسلمين تُنكرُ سنة رسول الله صلى الله عليه وسلم ما ذكره الإمام الشافعي في مطلع كتابه «جِماع العلم» عن مناظرةٍ جرَت بينه وبين أحد أفرادِ هؤلاء، حيث قال:

لم أسمع أحداً نسَبَهُ الناسُ ـ أو نسَبَ نفسَهُ ـ إلى علمٍ يُخالف في أنْ فرَضَ اللهُ عز وجل اتباعَ أمرِ رسول الله صلى الله عليه وسلم والتسليمَ لحُكمِه، بأن الله عز وجل لم يجعل لأحد بعده إلا اتباعه، وأنه لا يلزم قولٌ بكلِّ حالٍ إلا بكتاب الله أو سنة رسوله صلى الله عليه وسلم، وأن ما سواهما تبعٌ لهما، وأن فرضَ اللهُ علينا وعلى من بعدنا وقبلنا في قَبول الخبر عن رسول الله صلى الله عليه وسلم واحد لا يختلف في أن الفرض والواجب قَبول الخبر عن

--------------------------------------------

(1) أخرجه ابن عبد البر في «جامع بيان العلم» 2/ 1192 برقم (2348)، وقوّاه محققه على ضعفٍ في إسناده.

(2) مطرف بن عبد الله بن الشخير العامري، أبو عبد الله، من كبار التابعين، ثقة عابد، روى له الجماعة مات سنة (95 هـ).

ترجمته في «تهذيب الكمال» 28/ 67 - 70 الترجمة (6001).

(23) أراد النبيَّ صلى الله عليه وسلم.

والخبر في «جامع بيان العلم وفضله» لابن عبد البر 1/ 1193 برقم (2349)، وصحح محققه إسناده.
তিনি বললেন: তবে আপনি কি তাতে ইশার সালাত চার রাকাত, মাগরিব তিন রাকাত, ফজর দুই রাকাত, জোহর চার রাকাত এবং আসর চার রাকাত পেয়েছেন? তিনি বললেন: না।

তিনি বললেন: তবে আপনারা তা কার নিকট থেকে গ্রহণ করেছেন? আপনারা এবং আমরা তা আল্লাহর রাসুল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর নিকট থেকে গ্রহণ করেছি।

অতঃপর তিনি জাকাতের নিসাব, হজের বিস্তারিত বিবরণ এবং অন্যান্য বিষয়াদি উল্লেখ করলেন এবং তাঁর কথা এই বলে শেষ করলেন: আপনারা কি শোনেননি যে আল্লাহ তাঁর কিতাবে বলেছেন: {রাসুল তোমাদের যা দেন তা তোমরা গ্রহণ করো এবং যা থেকে তোমাদের নিষেধ করেন তা থেকে বিরত থাকো} [সুরা আল-হাশর ৫৯: আয়াত ৭]।

ইমরান বললেন: আমরা আল্লাহর রাসুল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর নিকট থেকে এমন কিছু বিষয় গ্রহণ করেছি যা সম্পর্কে তোমাদের কোনো জ্ঞান নেই (১)।

 

এমনকি প্রথম শতাব্দীতেও এমন কিছু ব্যক্তির দেখা পাওয়া গিয়েছিল যারা নববী হাদিসসমূহের প্রতি অতিষ্ঠ হয়ে উঠেছিল। তাদের মধ্য হতে এক ব্যক্তি মুতাররিফ বিন আব্দুল্লাহ বিন আশ-শিখখীর (২)-কে বলেছিল: "আমাদের কাছে কুরআন ছাড়া অন্য কিছু বর্ণনা করবেন না।"

উত্তরে মুতাররিফ (রাহিমাহুল্লাহ) বললেন: "আল্লাহর কসম, আমরা কুরআনের কোনো বিকল্প চাই না; বরং আমরা এমন একজনের (নির্দেশনা) চাই যিনি আমাদের চেয়ে কুরআন সম্পর্কে অধিক প্রজ্ঞাবান" (৩)।

তবে মুসলিমদের মাঝে এমন একটি দলের উদ্ভব হওয়া সম্পর্কে প্রাচীনতম বর্ণনাসমূহের অন্যতম হলো ইমাম শাফিয়ি তাঁর 'জিমউল ইলম' কিতাবের শুরুতে রাসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর সুন্নাহ অস্বীকারকারী এমন এক ব্যক্তির সাথে তাঁর যে বিতর্ক হয়েছিল সে সম্পর্কে যা উল্লেখ করেছেন। তিনি বলেন:

আমি এমন কাউকে শুনিনি যাকে মানুষ ইলমের (জ্ঞানের) দিকে নিসবত করে—অথবা সে নিজে নিজেকে ইলমের অধিকারী দাবি করে—যে এই বিষয়ে দ্বিমত পোষণ করে যে, আল্লাহ আজ্জা ওয়া জাল্লা রাসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর আদেশ অনুসরণ করা এবং তাঁর ফয়সালা মেনে নেওয়াকে ফরজ করেছেন। কেননা আল্লাহ আজ্জা ওয়া জাল্লা তাঁর (রাসুলের) পর অন্য কারো জন্য তাঁর অনুসরণ ছাড়া কোনো পথ রাখেননি। আর কোনো অবস্থাতেই আল্লাহর কিতাব অথবা তাঁর রাসুলের সুন্নাহ ব্যতীত অন্য কোনো কথা আবশ্যক নয় এবং এই দুটি ছাড়া বাকি সব কিছু এ দুটির অনুগামী। আমাদের ওপর এবং আমাদের পূর্ববর্তী ও পরবর্তী সকলের ওপর রাসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর পক্ষ থেকে আগত সংবাদ গ্রহণ করার ব্যাপারে আল্লাহর বিধান অভিন্ন। রাসুলুল্লাহর পক্ষ থেকে আগত সংবাদ গ্রহণ করা যে ফরজ ও ওয়াজিব, এ বিষয়ে কোনো মতভেদ নেই...

--------------------------------------------

(১) ইবনুল বার 'জামি বায়ানে ইলম' ২/১১৯২, হাদিস নং (২৩৪৮)-এ এটি বর্ণনা করেছেন এবং এর সনদে দুর্বলতা থাকা সত্ত্বেও এর মুহাক্কিক এটিকে শক্তিশালী বলেছেন।

(২) মুতাররিফ বিন আব্দুল্লাহ বিন আশ-শিখখীর আল-আমিরি, আবু আব্দুল্লাহ; তিনি উচ্চপদস্থ তাবেয়িদের অন্তর্ভুক্ত, নির্ভরযোগ্য ইবাদতগুজার ব্যক্তি, জামাআত (সকল প্রধান হাদিস গ্রন্থকার) তাঁর থেকে হাদিস বর্ণনা করেছেন। তিনি ৯৫ হিজরিতে মৃত্যুবরণ করেন।

তাঁর জীবনী দেখুন 'তাহজিবুল কামাল' ২৮/৬৭-৭০, জীবনী নং (৬০০১)।

(৩) তিনি এখানে নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-কে উদ্দেশ্য করেছেন।

এই বর্ণনাটি ইবনুল বার প্রণীত 'জামি বায়ানিল ইলমি ওয়া ফাদলিহি' ১/১১৯৩, হাদিস নং (২৩৪৯)-এ রয়েছে এবং এর মুহাক্কিক এর সনদকে সহিহ বলেছেন।
(খণ্ড: ১) আল কুরআনিয়ূন, নাশআতুহুম - আকাইদুহুম - আদিল্লাতুহুম (পৃষ্ঠা: ২৩)
رسول الله صلى الله عليه وسلم إلا فرقة سأصف قولَها إن شاء الله تعالى (1).

وقد رأى الدكتور مصطفى السباعي رحمه الله (2) أنهم معتزلة البصرة (3).

بينما ذهب الدكتور خادم حسين بخش (4) في كتابه «القرآنيون» إلى أنهم الخوارج (5).

ولعل الذي يُرجح ما ذهب إليه الدكتور خادم حسين بخش ما قاله الحافظُ ابن حجر العسقلاني (5) في «فتح الباري»:

--------------------------------------------

(1) «كتاب جماع العلم» المطبوع ضمن «كتاب الأم» 9/ 5.

(2) الدكتور مصطفى بن حسني السباعي: ولد بحمص سنة 1333 هـ/ 1915 م وتعلم بها وبالأزهر، اعتقله الإنكليز في مصر وفلسطين ستة أشهر، وأسلموه إلى الفرنسيين فسجنوه في لبنان 30 شهراً.

نال شهادة «دكتور في التشريع الإسلامي وتاريخه» من الأزهر 1949 م، واستقر في دمشق أستاذاً بكلية الحقوق 1950 م، ثم عميداً لكلية الشريعة 1955 م. أنشأ مجلة «حضارة الإسلام»، وأصيب بشلل نصفي 1957 م.

له 21 كتاباً ورسالة، منها «السنة ومكانتها في التشريع الإسلامي» وهو كتاب أطروحته، و «اشتراكية الإسلام»، و «شرح قانون الأحوال الشخصية» ثلاثة أجزاء، و «الدين والدولة في الإسلام» و «المرأة بين الفقه والقانون»، و «منهجنا في الإصلاح» وتوفي بدمشق 1384 هـ/ 1967 م.

عن موسوعة «الأعلام لللزركلي» 7/ 231 - 232 بتصرف يسير واختصار.

(3) «السنة ومكانتها في التشريع» ص 171.

(4) الدكتور خادم حسين إلهي بخش، ولد في البنجاب ـ الباكستان سنة (1953).

ماجستير من جامعة أم القرى في مكة المكرمة بعنوان «فرقة أهل القرآن بباكستان وموقف الإسلام منها»، وقد طبعت بعنوان «القرآنيون وشبهاتهم حول السنة».

دكتوراه في العقيدة الإسلامية عن رسالته «أثر الفكر الغربي في انحراف المجتمع المسلم بشبه القارة الهندية».

عضو هيئة التدريس بجامعة الطائف: كلية التربية: قسم الشريعة والدراسات الإسلامية.

له عدد من الكتب المطبوعة، وشارك في عدد من المؤتمرات والندوات. المشرف العام على «موقع صوت الحق».

المصدر: «موقع صوت الحق»: المشرف: السيرة الذاتية. (www.soutulhaq.com/index.php).

(5) «القرآنيون» ص 95.

(6) الإمام الحافظ أحمد ابن علي بن محمد العسقلاني الشافعي، المحدّث الفقيه المؤرخ. صاحب «فتح الباري شرح صحيح البخاري»، و «لسان الميزان»، و «الدرر الكامنة في أعيان المئة الثامنة»، و «الإصابة في تمييز الصحابة» وكثيرٍ غيرها من المصنّفات الفائقة. ولد (773 هـ) وتوفي (852 هـ).

يُنظَرُ لترجمته: «الضوء اللامع» للسخاوي 2/ 36 - 40 الترجمة (104).
রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ব্যতীত একটি দল, অচিরেই আমি ইনশাআল্লাহ তাদের মতবাদের বর্ণনা দেব (১)।

ডক্টর মুস্তফা আস-সিবায়ী রহিমাহুল্লাহ (২) মনে করেছেন যে, তারা বসরার মুতাজিলা (৩)।

পক্ষান্তরে ডক্টর খাদেম হুসাইন বখশ (৪) তার ‘আল-কুরআনিউিন’ গ্রন্থে অভিমত ব্যক্ত করেছেন যে, তারা হলো খাওয়ারিজ (৫)।

সম্ভবত ডক্টর খাদেম হুসাইন বখশ-এর অভিমতটিকে যা প্রাধান্য দেয় তা হলো হাফেজ ইবনে হাজার আল-আসকালানি (৫) তার ‘ফাতহুল বারি’ গ্রন্থে যা বলেছেন:

--------------------------------------------

(১) ‘কিতাবু জিমাউল ইলম’, যা ‘কিতাবুল উম্ম’-এর অন্তর্ভুক্ত হয়ে মুদ্রিত, ৯/৫।

(২) ডক্টর মুস্তফা বিন হুসনি আস-সিবায়ী: ১৩৩৩ হিজরি/১৯১৫ খ্রিস্টাব্দে হিমসে জন্মগ্রহণ করেন এবং সেখানে ও আল-আযহারে শিক্ষালাভ করেন। ব্রিটিশরা তাকে মিসর ও ফিলিস্তিনে ছয় মাস বন্দি করে রাখে এবং ফরাসীদের হাতে সোপর্দ করে, যারা তাকে লেবাননে ৩০ মাস কারারুদ্ধ করে রাখে।

তিনি ১৯৪৯ সালে আল-আযহার থেকে ‘ইসলামি আইন ও তার ইতিহাসের ওপর ডক্টরেট’ ডিগ্রি লাভ করেন। ১৯৫০ সালে দামেস্ক বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন অনুষদের অধ্যাপক এবং ১৯৫৫ সালে শরিয়াহ অনুষদের ডিন হিসেবে নিযুক্ত হন। তিনি ‘হাদারাতুল ইসলাম’ (ইসলামি সভ্যতা) সাময়িকী প্রতিষ্ঠা করেন এবং ১৯৫৭ সালে অর্ধাঙ্গ রোগে (প্যারালাইসিস) আক্রান্ত হন।

তার ২১টি বই ও গবেষণাপত্র রয়েছে, যার মধ্যে ‘আস-সুন্নাহ ওয়া মাকানাতুহা ফিত তাশরিইল ইসলামি’ (এটি তার থিসিস গ্রন্থ), ‘ইশতিরাকিয়াতুল ইসলাম’, ‘শারহু কানুনিল আহওয়ালিশ শাখসিয়্যাহ’ (তিন খণ্ড), ‘আদ-দিন ওয়াদ-দাওলা ফিল ইসলাম’, ‘আল-মারআতু বাইনাল ফিকহি ওয়াল কানুন’ এবং ‘মানহাজুনা ফিল ইসলাহ’ উল্লেখযোগ্য। তিনি ১৩৮৪ হিজরি/১৯৬৭ খ্রিস্টাব্দে দামেস্কে ইন্তেকাল করেন।

তথ্যসূত্র: যিরিকলির ‘আল-আলাম’ বিশ্বকোষ, ৭/২৩১-২৩২, কিছুটা পরিমার্জিত ও সংক্ষেপিত।

(৩) ‘আস-সুন্নাহ ওয়া মাকানাতুহা ফিত তাশরিই’, পৃষ্ঠা ১৭১।

(৪) ডক্টর খাদেম হুসাইন ইলাহি বখশ, ১৯৫৩ সালে পাকিস্তানের পাঞ্জাবে জন্মগ্রহণ করেন।

মক্কার উম্মুল কুরা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে তার স্নাতকোত্তর থিসিসের শিরোনাম ছিল ‘পাকিস্তানে আহলে কুরআন উপদল এবং তাদের প্রতি ইসলামের অবস্থান’, যা ‘আল-কুরআনিউিন ওয়া শুবুহাতুহুম হাওলাস সুন্নাহ’ শিরোনামে মুদ্রিত হয়েছে।

ইসলামি আকীদার ওপর ডক্টরেট লাভ করেন তার ‘ভারতীয় উপমহাদেশে মুসলিম সমাজের বিচ্যুতিতে পাশ্চাত্য চিন্তাধারার প্রভাব’ শীর্ষক গবেষণাপত্রের মাধ্যমে।

তিনি তায়েফ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক পরিষদের সদস্য: শিক্ষা অনুষদ: শরিয়াহ ও ইসলামি শিক্ষা বিভাগ।

তার বেশ কিছু মুদ্রিত গ্রন্থ রয়েছে এবং তিনি বিভিন্ন সম্মেলন ও সেমিনারে অংশগ্রহণ করেছেন। তিনি ‘সাওতুল হক’ ওয়েবসাইটের প্রধান তত্ত্বাবধায়ক।

উৎস: ‘সাওতুল হক’ ওয়েবসাইট: তত্ত্বাবধায়ক: জীবনবৃত্তান্ত। (www.soutulhaq.com/index.php)।

(৫) ‘আল-কুরআনিউিন’, পৃষ্ঠা ৯৫।

(৬) ইমাম হাফেজ আহমদ ইবনে আলী ইবনে মুহাম্মদ আল-আসকালানি আশ-শাফিয়ি, মুহাদ্দিস, ফকিহ ও ঐতিহাসিক। ‘ফাতহুল বারি শারহু সহিহিল বুখারি’, ‘লিসানুল মিজান’, ‘আদ-দুরারুল কামিনাহ ফি আয়ানিল মিআতিস সামিনাহ’, ‘আল-ইসাবাহ ফি তাময়িযিস সাহাবাহ’ এবং এর বাইরেও অসংখ্য কালজয়ী গ্রন্থের রচয়িতা। তিনি ৭৭৩ হিজরিতে জন্মগ্রহণ করেন এবং ৮৫২ হিজরিতে ইন্তেকাল করেন।

তার জীবনীর জন্য দেখুন: সাখাওয়ি বিরচিত ‘আদ-দাওউল লামি’, ২/৩৬-৪০, জীবনী নং (১০৪)।
(খণ্ড: ১) আল কুরআনিয়ূন, নাশআতুহুম - আকাইদুহুম - আদিল্লাতুহুম (পৃষ্ঠা: ২৪)
«ويقال لمن يعتقد مذهب الخوارج: «حروري»؛ لأن أول فرقة منهم خرجوا على عليٍّ بالبلدة المذكورة (1) فاشتُهروا بالنسبة إليها، وهم فرقٌ كثيرة، لكنْ من أصولهم المتفق عليها بينهم الأخذُ بما دلَّ عليه القرآن، وردُّ ما زاد عليه من الحديث مُطلَقاً» (2).

وجاءَ بعدَ الإمام الشافعيُّ الإمامُ أحمدُ ابنُ حنبلٍ فصنّف «طاعة الرسول صلى الله عليه وسلم» ردَّ فيه على من احتج بظاهر القرآن في معارضة سنة رسول الله صلى الله عليه وسلم وترك الاحتجاج بها (3).

ويؤكّد الشيخ الدكتور محمد لقمان الأعظمي الندوي (4) أن هذا الاتجاه لإنكار السنة [بالكلية] (5) لم يكن منتشراً في الأقطار، بل وُجد عند بعض الأفراد ولا يشكل ظاهرة (6).

--------------------------------------------

(1) قال الحموي في «معجم البلدان» 2/ 245:

حروراء: بفتحتين وسكون الواو وراء أخرى وألف ممدودة، يجوز أن يكون مشتقاً من الريح الحرور، وهي الحارة وهي بالليل كالسموم بالنهار، كأنه أُنّثَ نظراً إلى أنه بقعة قيل: هي قرية بظاهر الكوفة، وقيل: موضع على ميلين منها نزل به الخوارج الذين خالفوا علي بن أبي طالب رضي الله عنه فنُسبوا إليها. وقال ابن الأنباري: حروراء: كورة. وقال أبو منصور: الحرورية منسوبون إلى موضع بظاهر الكوفة نسبت إليه الحرورية من الخوارج، وبها كان أول تحكيمهم واجتماعهم حين خالفوا عليه. قال: ورأيت بالدهناء رملة وعثة يقال لها: رملة حروراء.

(2) «فتح الباري بشرح صحيح البخاري» 1/ 560.

(3) ذكره ابن قيم الجوزية في «أعلام الموقعين» 2/ 255.

(4) الدكتور محمد لقمان الأعظمي رحمه الله أستاذ ورئيس قسم العقيدة بكلية المعلمين في حائل السعوديةِ سابقاً.

دكتوراه من جامعة القاهرة، على رسالته «مجتمع المدينة المنورة في عصر النبوة كما يصوره القرآن الكريم».

هندي الجنسية، ولكنه أمضى ما يزيد عن ربع قرن في حائل، وتوفي ودفن فيها 12/ 10/1421 هـ.

تنقل خلال مسيرته التربوية بين التعليم العام والجامعي والمكتبة العامة.

المصدر: «موقع ملتقيات فضاء»: فضاء حائل: ملتقى فضاء حائل: حملة الدكتوراه من أبناء حائل.

(www.fadhaa.com/vb/showthread.php)

و«موقع جريدة الجزيرة السعودية»: العدد (10342) الأحد 26/شوال/1421 هـ.

(www.al-jazirah.com.sa)

(5) زيادة مني للتوضيح.

(6) محمد لقمان الأعظمي «دراسات في الحديث النبوي» ص 26.
যারা খাওয়ারিজদের মতবাদে বিশ্বাস করে তাদের 'হারুরি' বলা হয়; কারণ তাদের প্রথম দলটি উল্লিখিত জনপদে (১) আলীর (রাদিয়াল্লাহু আনহু) বিরুদ্ধে বিদ্রোহ করেছিল, ফলে তারা সেই স্থানের সাথে সম্পর্কিত হয়ে প্রসিদ্ধি লাভ করে। তারা অনেক দলে বিভক্ত, তবে তাদের অন্যতম সর্বসম্মত মূলনীতি হলো কুরআনের নির্দেশনার ওপর আমল করা এবং হাদীসের মধ্য থেকে যা কুরআনের অতিরিক্ত তা সম্পূর্ণ বর্জন করা (২)।

ইমাম শাফেয়ীর পর ইমাম আহমাদ ইবনে হাম্বল এসে 'তাআত আর-রাসূল' (রাসূলের আনুগত্য) গ্রন্থ রচনা করেন। সেখানে তিনি তাদের প্রতিবাদ করেন যারা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের সুন্নাহর বিরোধিতা করতে এবং তা দিয়ে দলীল পেশ করা বর্জন করতে কুরআনের বাহ্যিক অর্থের মাধ্যমে যুক্তি দেয় (৩)।

শাইখ ডক্টর মুহাম্মদ লুকমান আল-আজমি আন-নাদভী (৪) নিশ্চিত করেন যে, সুন্নাহকে [সম্পূর্ণরূপে] (৫) অস্বীকার করার এই প্রবণতা বিভিন্ন অঞ্চলে বিস্তৃত ছিল না, বরং তা কিছু ব্যক্তির মধ্যে পাওয়া যেত এবং এটি কোনো ব্যাপক রূপ পরিগ্রহ করেনি (৬)।

--------------------------------------------

(১) হামাউয়ি 'মুজামুল বুলদান' ২/২৪৫-এ বলেছেন:

হারুরা: হা ও রা বর্ণে ফাতহা, ওয়াও বর্ণে সুকুন, এরপর আরেকটি রা এবং আলিফে মামদুদা। এটি 'হারুর' বায়ু থেকে উদ্ভূত হতে পারে, যা একটি তপ্ত হাওয়া। এটি রাতের বেলা 'সামুম' (লু হাওয়া) এর মতো হয়। জায়গা হিসেবে একে স্ত্রীবাচক গণ্য করা হয়েছে। বলা হয়: এটি কুফার উপকণ্ঠে অবস্থিত একটি গ্রাম। আবার কেউ কেউ বলেন: এটি কুফা থেকে দুই মাইল দূরে অবস্থিত একটি স্থান, যেখানে আলী ইবনে আবু তালিব রাদিয়াল্লাহু আনহুর বিরোধী খাওয়ারিজরা অবস্থান নিয়েছিল, ফলে তাদের এর সাথে সম্পর্কিত করা হয়। ইবনুল আনবারি বলেন: হারুরা একটি প্রদেশ। আবু মানসুর বলেন: হারুরিয়্যাহগণ কুফার উপকণ্ঠে অবস্থিত একটি স্থানের সাথে সম্পর্কিত, যেখানকার দিকে খাওয়ারিজদের হারুরিয়্যাহ দলটিকে নিসবত করা হয়। সেখানে তাদের প্রথম সালিশি ও সমাবেশ ঘটেছিল যখন তারা আলীর বিরোধিতা করেছিল। তিনি আরও বলেন: আমি দাহনায় একটি নরম বালুকাময় ভূমি দেখেছি যাকে 'রামলা হারুরা' বলা হয়।

(২) 'ফাতহুল বারি বি-শারহি সহীহিল বুখারী' ১/৫৬০।

(৩) ইবনুল কায়্যিম আল-জাওজিয়্যাহ 'আলামুল মুওয়াক্কিয়িন' ২/২৫৫-এ এটি উল্লেখ করেছেন।

(৪) ডক্টর মুহাম্মদ লুকমান আল-আজমি (রাহিমাহুল্লাহ) ইতিপূর্বে সৌদি আরবের হাইল টিচার্স কলেজের আকীদা বিভাগের অধ্যাপক ও বিভাগীয় প্রধান ছিলেন।

তিনি কায়রো বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ডক্টরেট ডিগ্রি লাভ করেন, তাঁর থিসিসের বিষয় ছিল 'কুরআন কারীমে চিত্রিত নবুওয়াতের যুগে মদীনা মুনাওয়ারার সমাজ'।

তিনি ভারতীয় নাগরিক ছিলেন, তবে হাইল শহরে পঁচিশ বছরেরও বেশি সময় কাটিয়েছেন এবং ১২/১০/১৪২১ হিজরিতে সেখানেই ইন্তেকাল করেন ও সমাহিত হন।

তিনি তাঁর কর্মজীবনে সাধারণ শিক্ষা, উচ্চশিক্ষা ও গণগ্রন্থাগারে বিভিন্ন দায়িত্ব পালন করেছেন।

উৎস: 'মুলতাকায়াত ফাদা' ওয়েবসাইট: ফাদা হাইল: হাইল এলাকার ডক্টরেট ডিগ্রিধারীবৃন্দ।

(www.fadhaa.com/vb/showthread.php)

এবং 'সৌদি আল-জাজিরা পত্রিকা' ওয়েবসাইট: সংখ্যা (১০৩৪২), রবিবার ২৬/শাওয়াল/১৪২১ হিজরি।

(www.al-jazirah.com.sa)

(৫) স্পষ্টীকরণের জন্য অনুবাদকের পক্ষ থেকে সংযোজন।

(৬) মুহাম্মদ লুকমান আল-আজমি, 'দিরাসাত ফিল হাদীস আন-নববী', পৃষ্ঠা ২৬।
(খণ্ড: ১) আল কুরআনিয়ূন, নাশআতুহুম - আকাইদুহুম - আদিল্লাতুহুম (পৃষ্ঠা: ২৫)
وبعد القرن الثاني لا نرى في كتب التاريخ والعقائد ومن ألّف في الفرق والمذاهب ظهور هذه الفرقة وهذا المذهب (1).

وإنّ هذا الاستقراءَ الصحيحَ من الدكتور الأعظمي، والذي تشهد له كتب التاريخ والعقائد لا يُعكِّرُ عليه ما قال الحافظ ابن حجر العسقلاني؛ لأنّ الأمر لم يبلغ بالخوارج حدَّ الإنكار جملةً، بل إنّ الحافظ رحمه الله قال: «مُطلَقاً»، وفي قوله إمكانيةُ ردِّهم، وأنهم متهيّئون للردّ كلما لم يُوافقِ الحديث آراءَهم، لا أنهم ردّوا السنةَ جملةً، وأنكروها أصلاً.

ولا يُعكّرُ عليه كذلك ما ذكره الإمام السيوطي رحمه الله (2) في مطلع رسالته القيمة «مفتاح الجنة في الاحتجاج بالسُّنّة»:

« … وأن مما فاح ريحه في هذا الزمان، وكان دراساً بحمد الله تعالى منذ أزمان، وهو أن قائلاً رافضيا زنديقاً أكثر في كلامه أن السنة النبوية، والأحاديث المرويّة ـ زادها الله علوّاً وشرفاً ـ لا يُحتجُّ بها، وأن الحجة في القرآن خاصة».

إلى أن قال رحمه الله: «وأصل هذا الرأي الفاسد أن الزنادقة وطائفة من غلاة الرافضة ذهبوا إلى إنكار الاحتجاج بالسنة والاقتصار على القرآن وهم في ذلك مختلفو المقاصد .... »، ثم بعد أن عدد من مقاصدهم قال:

--------------------------------------------

(6) د. محمد لقمان الأعظمي «دراسات في الحديث النبوي» ص 26.

(1) هو الإمامُ جلالُ الدين عبدُ الرحمن بنُ أبي بكرِ بنِ محمد بن سابق الدين أبي بكرِ السيوطي.

ولد في القاهرة سنة (849 هـ)، ونشأ يتيماً، طلب العلم على يد كبار علماء عصره كالجلال المحلي، والزين العقبي، والعلم البُلقيني، والتقي الحصكفي، وكثيرٍ غيرِهم من أقرانهم؛ حتى نبغ في جملة من علوم اللغة والشريعة.

عندما بلغ أربعين اختلى بنفسه وتجرّد للعبادة، وهجر كلَّ معارفِه، وترك الإفتاءَ والتدريس، وعكف على التأليف.

له حوالي ستِّ مئةِ مصنَّفٍ بين رسالة صغيرةٍ من وُريقاتٍ، وموسوعة ضخمةٍ من مجلّدات! من أشهرها: «الإتقان في علوم القرآن»، و «الدرّ المنثور في التفسير بالمأثور»، و «تدريب الراوي بشرح تقريب النواوي»، و «الأشباه والنظائر» في فروع الشافعية، و «تاريخ الخلفاء»، و «الجامع الصغير»، و «الجامع الكبير»، وكثيرٌ جدّاً غير ذلك.

توفّيَ الإمام السيوطيُّ رحمه الله سنة (911 هـ).

يُنظر لترجمة الإمام السيوطي: «الضوء اللامع في أعيان القرن التاسع» للسخاوي 4/ 65 - 70.
দ্বিতীয় শতাব্দীর পর ইতিহাস ও আকীদা এবং যারা বিভিন্ন ফিরকা ও মাযহাব নিয়ে গ্রন্থ রচনা করেছেন, তাদের কিতাবসমূহে আমরা এই দল এবং এই মতাদর্শের আবির্ভাব লক্ষ্য করি না (১)।

ডক্টর আযমীর এই সঠিক আরোহী সিদ্ধান্ত—যার সাক্ষ্য ইতিহাস ও আকীদার কিতাবসমূহ প্রদান করে—হাফিজ ইবনে হাজার আসকালানীর বক্তব্য দ্বারা ক্ষুণ্ণ হয় না; কারণ খারেজীদের বিষয়টি সুন্নাহকে সামগ্রিকভাবে অস্বীকার করার পর্যায়ে পৌঁছায়নি। বরং হাফিজ (রহিমাহুল্লাহ) 'মুতলাকান' (নিঃশর্তভাবে/সম্পূর্ণভাবে) শব্দটি ব্যবহার করেছেন, আর তাঁর এই বক্তব্যের মাধ্যমে তাদের পক্ষ থেকে সুন্নাহ প্রত্যাখ্যানের সেই বিশেষ অবস্থার সম্ভাবনা বুঝানো হয়েছে যে, যখনই কোনো হাদিস তাদের নিজস্ব মতামতের সাথে সংগতিপূর্ণ হয় না, তখনই তারা তা প্রত্যাখ্যান করতে উদ্যত হয়। এটি এমন নয় যে তারা সামগ্রিকভাবে সুন্নাহকে বর্জন করেছে বা মূলত একে অস্বীকার করেছে।

ইমাম সুয়ূতী (রহিমাহুল্লাহ) (২) তাঁর মূল্যবান রিসালা ‘মিফতাহুল জান্নাহ ফিল ইহতিজাজ বিস সুন্নাহ’-এর শুরুতে যা উল্লেখ করেছেন, তাও এই সিদ্ধান্তকে ক্ষুণ্ণ করে না:

« ... বর্তমান সময়ে যার দুর্গন্ধ ছড়িয়ে পড়েছে, অথচ আল্লাহর রহমতে যা দীর্ঘকাল যাবত বিলুপ্ত ছিল, তা হলো এই যে—একজন রাফেযী যিনদীক তার বক্তব্যে বারবার প্রচার করছে যে, সুন্নতে নববী এবং বর্ণিত হাদিসসমূহ (আল্লাহ এগুলোর মর্যাদা ও সম্মান আরও বৃদ্ধি করুন) দলিল হিসেবে গ্রহণযোগ্য নয় এবং প্রমাণ কেবল কুরআনের মধ্যেই সীমাবদ্ধ। »

ইমাম সুয়ূতী (রহিমাহুল্লাহ) আরও বলেন: «এই ভ্রান্ত মতামতের মূল উৎস হলো যিনদীক এবং একদল চরমপন্থী রাফেযী, যারা সুন্নাহর প্রামাণিকতা অস্বীকার করার এবং কেবল কুরআনের ওপর সীমাবদ্ধ থাকার পথ বেছে নিয়েছে। এ ক্ষেত্রে তাদের উদ্দেশ্য ভিন্ন ভিন্ন...» এরপর তাদের কিছু উদ্দেশ্য বর্ণনা করে তিনি বলেন:

--------------------------------------------

(৬) ড. মুহাম্মদ লোকমান আযমী, ‘দিরাসাত ফিল হাদিসিন নববী’, পৃষ্ঠা ২৬।

(১) তিনি হলেন ইমাম জালালুদ্দীন আব্দুর রহমান বিন আবু বকর বিন মুহাম্মদ বিন সাবিকুদ্দীন আবু বকর আস-সুয়ূতী।

তিনি (৮৪৯ হি.) সালে কায়রোতে জন্মগ্রহণ করেন এবং এতিম হিসেবে লালিত-পালিত হন। তিনি তাঁর সময়ের প্রথিতযশা আলেমদের নিকট ইলম অর্জন করেন, যেমন জালাল আল-মহল্লী, যাইন আল-উকবী, আলাম আল-বুলকিনী, তাকী আল-হিসকাফী এবং তাঁদের সমসাময়িক আরও অনেকের কাছে; এমনকি তিনি ভাষা ও শরীয়তের বহুবিদ বিদ্যায় পারদর্শিতা লাভ করেন।

যখন তাঁর বয়স চল্লিশ বছর হয়, তখন তিনি নির্জনতা অবলম্বন করেন এবং ইবাদতের জন্য নিজেকে উৎসর্গ করেন। তিনি তাঁর সকল পরিচিতি ত্যাগ করেন, ফতোয়া প্রদান ও শিক্ষকতা বর্জন করেন এবং গ্রন্থ রচনায় মনোনিবেশ করেন।

কয়েক পাতার ছোট পুস্তিকা থেকে শুরু করে বহু খণ্ডের বিশাল বিশ্বকোষ পর্যন্ত তাঁর প্রায় ছয়শটি রচনা রয়েছে। তাঁর প্রসিদ্ধ গ্রন্থগুলোর মধ্যে রয়েছে: ‘আল-ইতকান ফী উলূমিল কুরআন’, ‘আদ-দুররুল মানসূর ফীত তাফসীর বিল মা’সূর’, ‘তাদরীবুর রাভী ফী শারহি তাকরীবিন নাভাবী’, শাফেয়ী ফিকহের শাখা-প্রশাখার ওপর ‘আল-আশবাহ ওয়ান নাযাইর’, ‘তারীখুল খুলাফা’, ‘আল-জামেউস সাগীর’, ‘আল-জামেউল কাবীর’ এবং আরও অনেক।

ইমাম সুয়ূতী (রহিমাহুল্লাহ) (৯১১ হি.) সালে ইন্তেকাল করেন।

ইমাম সুয়ূতীর জীবনীর জন্য দেখুন: সাখাবীর ‘আদ-দাওউল লামে’ ফী আইয়ানিল করনিল তাসি’’, ৪/৬৫-৭০।
(খণ্ড: ১) আল কুরআনিয়ূন, নাশআতুহুম - আকাইদুহুম - আদিল্লাতুহুম (পৃষ্ঠা: ২৬)
«وهذه آراء ما كنت أستحل حكايتها لولا ما دعت إليه الضرورة من بيان أصل هذا المذهب الفاسد الذي كان الناس في راحة منه من أعصار، وقد كان أهل هذا الرأي موجودين بكثرة في زمن الأئمة الأربعة فمن بعدهم، وتصدى الأئمة الأربعة وأصحابهم في دروسهم ومناظراتهم وتصانيفهم للرد عليهم، وسأسوق إن شاء الله تعالى جملة من ذلك والله الموفق» (1).

هذا ما رأيتُهُ جمعاً بين قوله والاستقراءِ في مصادر التشريع، ومصادر التاريخ التي لم تُثبِتْ تلك البدعة المُنكرة عنهم.

--------------------------------------------

(1) «مفتاح الجنة» ص 2 - 3.
«আর এগুলো এমন কিছু অভিমত যা বর্ণনা করা আমি বৈধ মনে করতাম না, যদি না এই ভ্রান্ত মতবাদের মূল উৎস উন্মোচনের আবশ্যকতা দেখা দিত; যে মতবাদ থেকে মানুষ দীর্ঘকাল শান্তিতে ছিল। চার ইমাম ও তাঁদের পরবর্তী যুগে এই মতাবলম্বীদের ব্যাপক উপস্থিতি ছিল। চার ইমাম এবং তাঁদের অনুসারীরা তাঁদের শিক্ষা আসর, বিতর্ক ও গ্রন্থাবলির মাধ্যমে তাঁদের খণ্ডন করতে সচেষ্ট হয়েছিলেন। আমি ইনশাআল্লাহ এর একটি সারসংক্ষেপ উপস্থাপন করব, আর আল্লাহ-ই তাওফীকদাতা» (১)।

তাঁর বক্তব্য এবং শরয়ি বিধানের উৎসসমূহ ও ইতিহাসের উৎসসমূহের পর্যালোচনার সমন্বয়ে আমি এটিই অনুধাবন করেছি; যেসব উৎস তাঁদের পক্ষ থেকে এই গর্হিত বিদআত সাব্যস্ত করে না।

--------------------------------------------

(১) «মিফতাহুল জান্নাহ» পৃষ্ঠা ২-৩।
(খণ্ড: ১) আল কুরআনিয়ূন, নাশআতুহুম - আকাইদুহুম - আদিল্লাতুহুম (পৃষ্ঠা: ২৭)
‌‌المبحث الثاني: الخوارج (2):

تمثيلاً على إنكار السنن النبوية، المروية بالأسانيد الصحيحة عن خير البرية، صلى الله عليه وسلم لدى فِرَقِ الخوارج أسوقُ هذه النماذجَ الثلاثةَ التي تؤكد أنهم لم يرُدّوا السنةَ جملةً، بل هم قد ردّوا ما لا يحلو لهم منها فحسب.

وسيأتي عن قريبٍ في خبرٍ فيه ردُّهم حديثَ رسول الله صلى الله عليه وسلم، وكيف أنهم بادَروا بطلب سماعِ حديثٍ عن رسول الله صلى الله عليه وسلم! (1).

 

‌‌المطلب الأول: إنكار بعض الأحكام الشرعية الأخرى:

إنّ مما اشتُهِرَت به الأزارقة (إحدى أكبر فرق الخوارج) (2) أنّ من بدعهم «إسقاط الرجم عن الزاني؛ إذ ليس في القرآن ذكره، وإسقاط حد القذف عمّن قذف المحصَنين من الرجال مع وجوب الحدّ على قاذف المُحصَنات من النساء» (3).

«وأنكرت الأزارقةُ الرجمَ واستحلوا كفر الأمانة التي أمر الله تعالى بأدائها وقالوا: إن مخالفينا مشركون فلا يلزمنا إذا أمانتنا إليهم ولم يقيموا الحد

--------------------------------------------

(1) قال الشهرستاني في «الملل والنحل» ص 132:

«كل من خرج عن الإمام الحق الذي اتفقت الجماعة عليه يسمى خارجياً، سواء كان الخروج في أيام الصحابة على الأئمة الراشدين، أو كان بعدهم على التابعين بإحسان والأئمة في كل زمان».

وقال ص 133:

«ويجمعهم القول بالتبري من عثمان وعلي رضي الله عنهما، ويقدمون ذلك على كلِّ طاعة، ولا يصححون المناكحات إلا على ذلك.

ويُكفّرون أصحابَ الكبائر، ويَرَون الخروجَ على الإمام إذا خالف السنة حقّاً واجباً».

ينظر لبيان فرقهم وعقائدهم:

«الملل والنحل» للشهرستاني ص 131 - 161، «الفرق بين الفرق» لعبد القاهر البغدادي ص 72 - 113، و «الفِصل في الملل والأهواء والنِّحل» 5/ 51 - 56.

(2) سيردُ في المطلب الثالث من هذا المبحث.

(3) تنتسب هذه الفئة إلى نافع بن الأزرق، وهي من أكثر فرق الخوارج تطرُّفاً وجرأةً في التكفير، واستباحة الدماء.

يُنظر: «الملل والنحل» ص 137 - 141، و «الفرق بين الفرق» لعبد القاهر البغدادي ص 82 - 87، و «الفصل في الملل والأهواء والنِّحل» 5/ 52.

(4) «الملل والنحل» للشهرستاني ص 140.
দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ: খাওয়ারিজ (২):

সৃষ্টির শ্রেষ্ঠতম সত্তা রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে সহিহ সনদে বর্ণিত সুন্নাহসমূহ খাওয়ারিজদের বিভিন্ন উপদল কর্তৃক অস্বীকার করার উদাহরণ হিসেবে আমি এখানে তিনটি নমুনা পেশ করছি। যা একথাই নিশ্চিত করে যে, তারা সুন্নাহকে পুরোপুরি প্রত্যাখ্যান করেনি; বরং তারা কেবল সুন্নাহর সে অংশটুকুই প্রত্যাখ্যান করেছে যা তাদের খেয়ালখুশির অনুকূলে ছিল না।

শীঘ্রই এমন একটি বিবরণ আসবে যেখানে তাদের রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের হাদিস প্রত্যাখ্যানের বিষয়টি ফুটে উঠবে, এবং একই সাথে এটিও স্পষ্ট হবে যে তারা কীভাবে রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের হাদিস শোনার জন্য ব্যতিব্যস্ত হয়ে উঠত! (১)।

 

প্রথম অনুচ্ছেদ: অন্যান্য কিছু শরয়ি বিধান অস্বীকার করা:

আজারিকা (খাওয়ারিজদের অন্যতম একটি বড় উপদল) (২) যে বিষয়গুলোর জন্য প্রসিদ্ধি লাভ করেছে, তার মধ্যে অন্যতম হলো তাদের উদ্ভাবিত এই বিদআত যে: «ব্যভিচারীর ওপর থেকে রজম (পাথর নিক্ষেপে মৃত্যুদণ্ড) বাতিল করা; কারণ কুরআনে এর কোনো উল্লেখ নেই। আর সতী-সাধ্বী পুরুষদের অপবাদ প্রদানকারীর ওপর থেকে ‘হদ্দে কাজফ’ (অপবাদের দণ্ড) বিলুপ্ত করা, যদিও তারা সতী-সাধ্বী নারীদের অপবাদ প্রদানকারীর ওপর এই দণ্ড প্রয়োগ করা আবশ্যক মনে করে» (৩)।

«আজারিকারা রজম অস্বীকার করেছে এবং আমানত খেয়ানত করাকে বৈধ মনে করেছে যা আল্লাহ তাআলা আদায়ের নির্দেশ দিয়েছেন। তারা বলেছে: আমাদের বিরোধীরা মুশরিক, তাই তাদের কাছে আমানত রক্ষা করা আমাদের জন্য আবশ্যক নয় এবং তারা দণ্ডবিধিও কার্যকর করেনি

--------------------------------------------

(১) শাহরাস্তানি তাঁর ‘আল-মিলাল ওয়ান নিহাল’ গ্রন্থের ১৩২ পৃষ্ঠায় বলেন:

«যিনি জামাত বা মুসলিম উম্মাহর ঐকমত্য পোষণকারী সত্যনিষ্ঠ ইমামের বিরুদ্ধে বিদ্রোহ করেন তাকেই খারিজি বলা হয়; চাই এই বিদ্রোহ সাহাবায়ে কিরামের যুগে খুলাফায়ে রাশিদিনের বিরুদ্ধে হোক, কিংবা তাঁদের পরবর্তীকালে উত্তমভাবে অনুসরণকারী তাবেঈন ও প্রতি যুগের ইমামদের বিরুদ্ধে হোক»।

তিনি ১৩৩ পৃষ্ঠায় আরও বলেন:

«উসমান ও আলী রাদিয়াল্লাহু আনহুমা-এর সাথে সম্পর্কচ্ছেদের বিষয়টি তাদের সবাইকে একসূত্রে গেঁথেছে। তারা এই বিষয়টিকে প্রতিটি আনুগত্যের ঊর্ধ্বে স্থান দেয় এবং এই শর্ত পূরণ না হলে বিবাহ বন্ধনকেও শুদ্ধ মনে করে না।

তারা কবিরা গুনাহগারকে কাফির সাব্যস্ত করে এবং ইমাম যদি সুন্নাহর বিরুদ্ধাচরণ করেন তবে তাঁর বিরুদ্ধে বিদ্রোহ করাকে একটি অবধারিত অধিকার ও ওয়াজিব মনে করে»।

তাদের উপদল ও আকিদাহর বিস্তারিত বিবরণের জন্য দেখুন:

শাহরাস্তানি রচিত ‘আল-মিলাল ওয়ান নিহাল’, পৃষ্ঠা ১৩১-১৬১; আব্দুল কাহের আল-বাগদাদি রচিত ‘আল-ফারকু বাইনাল ফিরাক’, পৃষ্ঠা ৭২-১১৩ এবং ‘আল-ফিসাল ফিল মিলাল ওয়াল আহওয়া ওয়ান নিহাল’ ৫/৫১-৫৬।

(২) এই পরিচ্ছেদের তৃতীয় অনুচ্ছেদে এ বিষয়ে বিস্তারিত আসবে।

(৩) এই দলটি নাফে ইবনুল আজরাকের সাথে সংশ্লিষ্ট। এটি খাওয়ারিজদের অন্যতম চরমপন্থী একটি দল, যারা কাফির সাব্যস্ত করা ও রক্তপাত হালাল করার ক্ষেত্রে অত্যন্ত ধৃষ্টতা প্রদর্শন করে।

দেখুন: ‘আল-মিলাল ওয়ান নিহাল’, পৃষ্ঠা ১৩৭-১৪১; আব্দুল কাহের আল-বাগদাদি রচিত ‘আল-ফারকু বাইনাল ফিরাক’, পৃষ্ঠা ৮২-৮৭ এবং ‘আল-ফিসাল ফিল মিলাল ওয়াল আহওয়া ওয়ান নিহাল’ ৫/৫২।

(৪) শাহরাস্তানি রচিত ‘আল-মিলাল ওয়ান নিহাল’, পৃষ্ঠা ১৪০।
(খণ্ড: ১) আল কুরআনিয়ূন, নাশআতুহুম - আকাইদুহুম - আদিল্লাতুহুম (পৃষ্ঠা: ২৮)
على قاذف الرجل المحصن وأقاموه على قاذف المحصنات من النساء، وقطعوا يد السارق في القليل والكثير، ولم يعتبروا في السرقة نصاباً» (1).

وذُكرَ عنهم أنهم «أوجبوا على الحائضِ الصلاةَ والصيامَ في حيضِها» (2).

وقد أتى مبتدعُ الفرقة الميمونية (3)، «بضلالة اشتقّها من دين المجوس! وذلك أنه أباح نكاح بنات الأولاد من الأجداد وبنات أولاد الإخوة والأخوات، وقال: إنما ذكر الله تعالى في تحريم النساء بالنسب الأمهات والبنات والأخوات والعمات والخالات وبنات الأخ وبنات الأخوات، ولم يذكر بنات البنات ولا بنات البنين، ولا بنات أولاد الإخوة ولا بنات أولاد الأخوات، فإنْ طَرَدَ قياسَهُ في أمهات الأمهات وأمهات الآباء والأجداد انْمَحَضَ في المجوسية، وإن لم يُجِزْ نكاحَ الجدات وقاس الجدات على الأمهات؛ لزمه قياسُ بنات الأولاد على بنات الصلب، وإن لم يطَّرِدْ قياسُه في هذا الباب نقض اعتلاله» (4).

وحُكي عنهم «أنهم أنكروا أن تكون سورةُ يوسفَ من القرآن، وُمنكِرُ بعضِ القرآن كمُنكِرِ كلِّه، ومن استحلّ بعضَ ذوات المحارم في حكم المجوس، ولا يكون المجوسي معدوداً في فرق الإسلام» (5).

ورأى بعضُهم «أن لا صلاةَ واجبةً إلا ركعة واحدة بالغداة، وركعة أخرى بالعشي فقط، ويرون الحجّ في جميع شهور السنة» (6).

--------------------------------------------

(1) «الفرق بين الفرق» لعبد القاهر البغدادي ص 84.

ويُنظَر كذلك «الملل والنحل» ص 149 و «الفصل في الملل والأهواء والنِّحل» 5/ 53.

(2) ذكره ابن حزم في «الفِصَل» 5/ 51 - 52.

(3) سماه الشهرستاني في «الملل والنحل» ص 149: «ميمون بن خالد»، ولم يزد البغدادي في «الفرق بين الفرق» ص 280 على اسمه الأول «ميمون».

وقد ذكرا أنه كان من الخوارج العجاردة؛ لذلك ذكر الشهرستاني «الميمونية» في أصناف العجاردة.

بينما ذكرهم البغدادي في الفرق الغالية الخارجة عن الإسلام.

(4) «الفرق بين الفرق» لعبد القاهر البغدادي ص 281.

ويُنظَر كذلك «الملل والنحل» ص 149، و «الفصل في الملل والأهواء والنِّحل» 5/ 53.

(5) «الفرق بين الفرق» لعبد القاهر البغدادي ص 281.

ويُنظَر كذلك «الملل والنحل» ص 149، و «الفصل في الملل والأهواء والنِّحل» 2/ 271 حيث ذكرهم وذكر قولهم دون أن يُسمِّيَهُم.

(6) ذكره ابن حزم في «الفِصَل» 5/ 51 - 52 عن الأزارقة.
সতী-সাধ্বী নারীদের অপবাদদাতার ন্যায় সচ্চরিত্র পুরুষের অপবাদদাতার ওপরও [দণ্ড] কার্যকর করত। তারা অল্প ও অধিক উভয় পরিমাণ চুরির ক্ষেত্রেই চোরের হাত কেটে ফেলত এবং চুরির ক্ষেত্রে কোনো নিসাব (ন্যূনতম পরিমাণ) বিবেচনায় নিত না (১)।

তাদের সম্পর্কে বর্ণিত আছে যে, তারা ঋতুবতী নারীর ওপর ঋতুচলাকালীন অবস্থাতেই সালাত ও সিয়াম ফরজ সাব্যস্ত করেছিল (২)।

মায়মুনিয়্যাহ ফেরকার উদ্ভাবক (৩) এমন এক ভ্রষ্টতা নিয়ে এসেছিল, যা সে অগ্নিপূজকদের (মাজুসিদের) ধর্ম থেকে আহরণ করেছিল! আর তা হলো, সে নাতি-নাতনিদের সাথে দাদাদের বিবাহ এবং ভাই ও বোনদের সন্তানদের সন্তানদের সাথে বিবাহ বৈধ করে দিয়েছিল। সে বলেছিল: ‘আল্লাহ তাআলা বংশীয় সম্পর্কের ভিত্তিতে যাদের বিবাহ হারাম করেছেন, তাদের বর্ণনায় কেবল মা, মেয়ে, বোন, ফুফু, খালা এবং ভাই ও বোনের মেয়েদের কথা উল্লেখ করেছেন। তিনি মেয়ের ঘরের মেয়ে (নাতনি), ছেলের ঘরের মেয়ে (নাতনি) কিংবা ভাই-বোনের নাতি-নাতনিদের কথা উল্লেখ করেননি।’ এখন সে যদি তার এই কিয়াস (অনুমান) নানি ও দাদিদের ক্ষেত্রেও প্রয়োগ করে, তবে তা নিছক অগ্নিপূজায় পর্যবসিত হবে। আর যদি সে দাদি-নানিদের সাথে বিবাহ বৈধ না করে এবং দাদি-নানিদের মায়ের ওপর কিয়াস করে, তবে তার ওপর আবশ্যিক হবে সন্তানদের সন্তানদের (নাতনিদের) ঔরসজাত সন্তানদের (মেয়েদের) ওপর কিয়াস করা। আর যদি এই ক্ষেত্রে তার কিয়াস সামঞ্জস্যপূর্ণ না হয়, তবে তার যুক্তিই খণ্ডিত হয়ে পড়বে (৪)।

তাদের সম্পর্কে আরও বর্ণিত হয়েছে যে, তারা সূরা ইউসুফ কুরআনের অংশ হওয়াকে অস্বীকার করত। আর কুরআনের কিছু অংশ অস্বীকারকারী তো সম্পূর্ণ কুরআন অস্বীকারকারীর মতোই। যে ব্যক্তি মাহরাম নারীদের (যাদের সাথে বিবাহ হারাম) বিবাহ বৈধ মনে করল, সে অগ্নিপূজকদের বিধানের অন্তর্ভুক্ত হবে, আর অগ্নিপূজকদের ইসলামের কোনো ফেরকার অন্তর্ভুক্ত গণ্য করা হয় না (৫)।

তাদের কেউ কেউ মনে করত যে, সকালে মাত্র এক রাকাত এবং বিকেলে এক রাকাত ব্যতীত কোনো সালাত ফরজ নেই। আর তারা বছরের সকল মাসে হজ পালন করা বৈধ মনে করত (৬)।

--------------------------------------------

(১) আব্দুল কাহির আল-বাগদাদির ‘আল-ফারকু বাইনাল ফিরাক’, পৃষ্ঠা ৮৪।

আরও দেখুন: ‘আল-মিলাল ওয়ান নিহাল’, পৃষ্ঠা ১৪৯ এবং ‘আল-ফাসলু ফিল মিলাল ওয়াল আহওয়া ওয়ান নিহাল’ ৫/৫৩।

(২) ইবনে হাজম এটি ‘আল-ফিসাল’ গ্রন্থে (৫/৫১-৫২) উল্লেখ করেছেন।

(৩) শাহরাস্তানি ‘আল-মিলাল ওয়ান নিহাল’ (পৃষ্ঠা ১৪৯)-এ তার নাম ‘মায়মুন ইবনে খালিদ’ বলেছেন, আর বাগদাদি ‘আল-ফারকু বাইনাল ফিরাক’ (পৃষ্ঠা ২৮০)-এ কেবল তার প্রথম নাম ‘মায়মুন’ উল্লেখ করেছেন।

তাঁরা উভয়ে উল্লেখ করেছেন যে, সে খাওয়ারিজদের আজারিদাহ উপদলের অন্তর্ভুক্ত ছিল; এজন্য শাহরাস্তানি ‘মায়মুনিয়্যাহ’কে আজারিদাহ-এর শাখাগুলোর মধ্যে উল্লেখ করেছেন।

অন্যদিকে বাগদাদি তাদেরকে ইসলাম থেকে বহিষ্কৃত চরমপন্থী দলগুলোর মধ্যে অন্তর্ভুক্ত করেছেন।

(৪) আব্দুল কাহির আল-বাগদাদির ‘আল-ফারকু বাইনাল ফিরাক’, পৃষ্ঠা ২৮১।

আরও দেখুন: ‘আল-মিলাল ওয়ান নিহাল’, পৃষ্ঠা ১৪৯ এবং ‘আল-ফাসলু ফিল মিলাল ওয়াল আহওয়া ওয়ান নিহাল’ ৫/৫৩।

(৫) আব্দুল কাহির আল-বাগদাদির ‘আল-ফারকু বাইনাল ফিরাক’, পৃষ্ঠা ২৮১।

আরও দেখুন: ‘আল-মিলাল ওয়ান নিহাল’, পৃষ্ঠা ১৪৯ এবং ‘আল-ফাসলু ফিল মিলাল ওয়াল আহওয়া ওয়ান নিহাল’ ২/২৭১, যেখানে তিনি নাম উল্লেখ না করেই তাদের এবং তাদের মতবাদ সম্পর্কে আলোচনা করেছেন।

(৬) ইবনে হাজম ‘আল-ফিসাল’ গ্রন্থে (৫/৫১-৫২) আজারিদাহদের সম্পর্কে এটি উল্লেখ করেছেন।
(খণ্ড: ১) আল কুরআনিয়ূন, নাশআতুহুম - আকাইদুহুম - আদিল্লাতুহুম (পৃষ্ঠা: ২৯)
‌‌المطلب الثاني: ردُّهُم لأحاديثِ فضائلِ بعض كُبراءِ الصحابة:

لقد جهر الخوارجُ بتكفير عددٍ من أعلام الصحابةِ مثل سيدِنا عثمانَ بنِ عفان، وسيدنا عليِّ بنِ أبي طالب، وسيدنا معاويةَ بنِ أبي سفيان، وغيرِهم رضي الله عنهم.

وقد أبى هؤلاءِ القَبول بما وردَ في السنة المطهَّرة من أحاديثِ فضائلِ هؤلاء، وهي تشهدُ لهم بالإيمان جملةً، ولبعضِهم بالجنة، وهذا يرُدُّ دعواهم، ودعوى غيرِهم بكفرِ أو فسقِ هؤلاء الصحابة الأجلّة، إلا أنّ الخوارج دانوا بكفرِ هؤلاء؛ وأَبَوا تصديق الروايات الصحيحة الثابتة بفضائل هؤلاء الصحابة رضي الله عنهم.

بل إنّ هؤلاء المجرمين احتملوا دمَ خير خلق الله في زمانه سيدِنا أميرِ المؤمنين أبي الحسنين عليِّ بن أبي طالب رضي الله عنه، قتلَهُ أشقى هذه الأمة عبد الرحمن [بل الشيطان] ابن ملجم المرادي الخارجي لعنه الله (1).

--------------------------------------------

(1) عبد الرحمن بن ملجم المرادي التدؤلي الحميري: فاتك ثائر، من أشداء الفرسان.

أدرك الجاهلية، وهاجر في خلافة عمر، وقرأ على معاذ بن جبل فكان من القراء وأهل الفقه والعبادة.

ثم شهد فتح مصر وسكنها، فكان فيها فارس بني تدؤل.

وكان من شيعة علي بن أبي طالب رضي الله عنه وشهد معه صفين، ثم خرج عليه، ثم كان المتصدي لقتله في مؤامرة قتله ومعاويةَ وعمرَ بن العاص رضي الله عنهم سنة 40 هـ، فقُتِلُ بعليٍّ رضي الله عنه قصاصاً، قبّحه الله.

بوّب ابن سعد في «الطبقات الكبرى» 3/ 31 - 38:

ذكُر عبد الرحمن بن ملجم المرادي وبيعة علي ورده إياه وقوله: لتخضبن هذه من هذه، وتمثله بالشعر وقتله علياً عليه السلام وكيف قتله عبد الله بن جعفر والحسين بن علي ومحمد بن الحنفية.

ترجمته في «الأعلام» 3/ 339.

 

ووصفُهُ بأشقى الأمة مُستنده أحاديثُ عديدة منها ما أخرجه النسائي في «السنن الكبرى» برقم (8485) والإمام أحمد في «مسنده» برقم (18321) عن عمار بن ياسر رضي الله عنهما قال: كنت أنا وعليَّ بن أبي طالب رفيقَين في غزوة العشيرة فلما نزلها رسول الله صلى الله عليه وسلم وأقام بها رأينا أناساً من بني مدلج يعملون في عين لهم ـ أو في نخل ـ فقال لي علي: يا أبا اليقظان هل لك أن نأتي هؤلاء فنظر كيف يعملون؟ قال: قلت: إن شئت! فجئناهم فنظرنا إلى عملهم ساعة ثم غشينا النوم، فانطلقت أنا وعلي حتى اضطجعنا في ظل صور من النخل ودقعاء من التراب، فنمنا فوالله ما أنبهنا إلا رسول الله صلى الله عليه وسلم يحركنا برجله وقد تتربنا من تلك الدقعاء التي نمنا فيها فيومئذ قال رسول الله صلى الله عليه وسلم لعلي: «ما لك يا أبا تراب» لِما يرى مما عليه من التراب ثم قال: «ألا أحدثكما بأشقى الناس؟ » قلنا: بلى يا رسول الله.

قال: «أُحيمِرُ ثمود الذي عقر الناقة، والذي يضربك يا عليُّ على هذه» ووضع يده على قرنه «حتى يبلَّ منها هذه» وأخذ بلحيته.
দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ: কয়েকজন বিশিষ্ট সাহাবীর ফযীলত সম্পর্কিত হাদীসসমূহ তাদের প্রত্যাখ্যান:

খারিজিরা প্রকাশ্যেই বেশ কয়েকজন প্রখ্যাত সাহাবীকে কাফির আখ্যায়িত করেছে, যেমন—আমাদের নেতা উসমান ইবন আফফান, আমাদের নেতা আলী ইবন আবি তালিব, আমাদের নেতা মুয়াবিয়া ইবন আবি সুফিয়ান এবং অন্যান্য সাহাবীগণ (আল্লাহ তাঁদের প্রতি সন্তুষ্ট হোন)।

পবিত্র সুন্নাহর যে সকল হাদীসে এই মহান ব্যক্তিদের ফযীলত বর্ণিত হয়েছে, তারা তা গ্রহণ করতে অস্বীকার করেছে। অথচ সেই হাদীসসমূহ সামগ্রিকভাবে তাঁদের ঈমানের সাক্ষ্য দেয় এবং তাঁদের মধ্যে কয়েকজনকে জান্নাতের সুসংবাদ দেয়। এটি তাঁদের এবং অন্যদের এই সকল সম্মানিত সাহাবীকে কাফির বা ফাসিক বলার দাবিকে খণ্ডন করে। তা সত্ত্বেও খারিজিরা তাঁদের কুফরের ধর্মাদর্শ গ্রহণ করেছে এবং তাঁদের ফযীলত সম্পর্কিত প্রমাণিত ও বিশুদ্ধ বর্ণনাগুলোকে বিশ্বাস করতে অস্বীকৃতি জানিয়েছে (আল্লাহ তাঁদের প্রতি সন্তুষ্ট হোন)।

বরং এই অপরাধীরা সে সময়ের আল্লাহর সৃষ্টির শ্রেষ্ঠ মানুষ—আমীরুল মুমিনীন, হাসান-হুসাইনের পিতা, আমাদের নেতা আলী ইবন আবি তালিব (রা.)-এর রক্তপাতের মতো মহাপাপ সংঘটিত করেছে। এই উম্মতের সবচেয়ে হতভাগা ব্যক্তি আব্দুর রহমান [বরং শয়তান] ইবন মুলজিম আল-মুরাদী আল-খারিজি (আল্লাহ তাকে অভিশাপ দিন) তাঁকে হত্যা করেছে (১)।

--------------------------------------------

(১) আব্দুর রহমান ইবন মুলজিম আল-মুরাদী আত-তাদউলী আল-হিময়ারি: সে ছিল এক বিদ্রোহী ও চরম আক্রমণকারী, শক্তিধর অশ্বারোহীদের অন্যতম।

সে জাহিলী যুগ পেয়েছিল এবং উমর (রা.)-এর খিলাফতকালে হিজরত করেছিল। সে মুয়াজ ইবন জাবাল (রা.)-এর নিকট কিরাত শিক্ষা করেছিল এবং সে একজন কারী, ফকীহ ও আবিদ (ইবাদতকারী) হিসেবে পরিচিত ছিল।

এরপর সে মিসর বিজয়ে অংশ নেয় এবং সেখানে বসবাস শুরু করে। সেখানে সে বনী তাদউলের অশ্বারোহী ছিল।

সে শুরুতে আলী ইবন আবি তালিব (রা.)-এর অনুসারী ছিল এবং সিফফীনের যুদ্ধে তাঁর সাথে অংশগ্রহণ করেছিল। পরবর্তীতে সে তাঁর বিরুদ্ধে বিদ্রোহ করে এবং ৪০ হিজরীতে আলী, মুয়াবিয়া ও আমর ইবনুল আস (রা.)-কে হত্যার ষড়যন্ত্র বাস্তবায়নে অগ্রসর হয়। পরিশেষে আলী (রা.)-কে হত্যার দায়ে কিসাস হিসেবে তাকে হত্যা করা হয়। আল্লাহ তাকে কলঙ্কিত করুন।

ইবন সাদ তাঁর ‘আত-তাবাকাতুল কুবরা’ (৩/৩১-৩৮) গ্রন্থে পরিচ্ছেদ রচনা করেছেন:

আব্দুর রহমান ইবন মুলজিম আল-মুরাদীর আলোচনা, আলীর বাইয়াত এবং তার প্রতি তাঁর প্রত্যাখান, তাঁর উক্তি: ‘এটি (দাড়ি) অবশ্যই এটি (রক্ত) দ্বারা রঞ্জিত হবে’, কবিতার চরণে তার রূপক বর্ণনা এবং কীভাবে সে আলীকে (আ.) শহীদ করল এবং কীভাবে আব্দুল্লাহ ইবন জাফর, হুসাইন ইবন আলী ও মুহাম্মাদ ইবনুল হানাফিয়্যাহ তাকে হত্যা করলেন।

তার জীবনী দ্রষ্টব্য: ‘আল-আলাম’ (৩/৩৩৯)।

 

তাকে ‘উম্মতের সর্বাধিক হতভাগা’ হিসেবে অভিহিত করার ভিত্তি হলো অনেক হাদীস। তন্মধ্যে একটি ইমাম নাসাঈ ‘আস-সুনানুল কুবরা’ (হাদীস নং ৮৪৮৫) এবং ইমাম আহমাদ তাঁর ‘মুসনাদ’ (হাদীস নং ১৮৩২১)-এ আম্মার ইবন ইয়াসির (রা.) থেকে বর্ণনা করেছেন। তিনি বলেন: আমি ও আলী ইবন আবি তালিব উশায়রার যুদ্ধে সঙ্গী ছিলাম। যখন রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) সেখানে অবতরণ করলেন এবং অবস্থান করলেন, তখন আমরা বনী মুদলিজের কিছু লোককে তাদের একটি ঝরনা অথবা খেজুর বাগানে কাজ করতে দেখলাম। আলী আমাকে বললেন: ‘হে আবুল ইয়াকজান! আপনি কি আমাদের সাথে সেখানে যাবেন? দেখি তারা কীভাবে কাজ করছে।’ আমি বললাম: ‘আপনি চাইলে চলুন!’ আমরা সেখানে গিয়ে কিছুক্ষণ তাদের কাজ দেখলাম, এরপর আমাদের ঘুম পেয়ে গেল। আমি ও আলী একটি নিভৃত স্থানে খেজুর গাছের ছায়ায় ধূলিময় মাটিতে শুয়ে পড়লাম এবং ঘুমিয়ে পড়লাম। আল্লাহর কসম! রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) এসে তাঁর পা দিয়ে আমাদের নাড়া দেওয়ার আগে আমাদের ঘুম ভাঙেনি। আমরা যে মাটিতে ঘুমিয়েছিলাম, তার ধুলোয় আমরা ধূসর হয়ে গিয়েছিলাম। সেদিন রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) আলীকে তাঁর গায়ের ধুলো দেখে বললেন: ‘হে আবু তুরাব (মাটির পিতা), তোমার কী হয়েছে?’ এরপর তিনি বললেন: ‘আমি কি তোমাদেরকে মানুষের মধ্যে সবচেয়ে হতভাগা দুই ব্যক্তি সম্পর্কে বলব না?’ আমরা বললাম: ‘অবশ্যই, হে আল্লাহর রাসূল!’

তিনি বললেন: ‘সামুদ জাতির সেই লাল বর্ণের ছোট লোকটি যে উটনীকে হত্যা করেছিল, আর যে তোমাকে হে আলী, এখানে আঘাত করবে’—এ কথা বলে তিনি তাঁর হাত তাঁর মাথার তালুর ওপর রাখলেন—‘যাতে এটি রক্তে ভিজে যায়’—এবং তিনি তাঁর দাড়িতে হাত দিলেন।
(খণ্ড: ১) আল কুরআনিয়ূন, নাশআতুহুম - আকাইদুহুম - আদিল্লাতুহুম (পৃষ্ঠা: ৩০)
وإن قتْلَهُ رضي الله عنه لم يكُ تصرُّفاً فردياً من ابن ملجم، بل مُعتقداً جَمْعياً للخوارج!

فقد تغنّى به بعضُ شعرائهم؛ كما روى المبرد (1) في رائعته «الكامل في اللغة والأدب» قول عمران بن حطان (2) يمدح ابن ملجم لعنه الله:

يا ضربة من تقيٍّ ما أراد بها … إلا ليبلغ من ذي العرش رضوانا

إني لأذكره حيناً فأحسبُهُ أوفى البريّةِ عندَ الله ميزانا (3)

--------------------------------------------

(1) أبو العباس محمد بن يزيد بن عبد الأكبر الثمالي الأزدي البصري المعروف بالمبرد ـ بكسر الراء ـ إمام النحو واللغة في البصرة. ولد سنة (210 هـ) على الأشهر، ووفاته سنة (285 هـ).

وثّقه المحدّثون وكبار المؤرخين كالخطيب البغدادي والذهبي وابن كثير.

أخذ عن الجرمي والمازني وأبي حاتم السجستاني والجاحظ وغيرهم، وأخذ عنه الأخفش الأوسط، والخرائطي ونفطويه والصولي، وسواهم. له عديد من المصنّفات البديعة النافعة أشهرها: «الكامل في اللغة والأدب»، و «المقتضب»، و «الفاضل».

ترجمته في «معجم الأدباء» 6/ 2678 - 2684 الترجمة (1135)، و «الوافي بالوفيات» 5/ 141 - 142 الترجمة (2286).

وله ترجمةٌ غير يسيرة في مقدمة «كتاب الكامل في اللغة والأدب» ص 5 - 13 طبعة مؤسسة الرسالة ناشرون بعناية الفقير كاتب هذه السطور.

(2) أبو سماك عمران بن حطان بن ظبيان السدوسي الشيباني الوائلي، رأس القعدة من الصفرية، وخطيبهم وشاعرهم.

كان قبل لحاقه بالخوارج من رجال العلم والحديث، من أهل البصرة، وأدرك جماعة من الصحابة فروى عنهم، وروى أصحاب الحديث عنه. طلبه الحجاج ففر إلى عمان، وآواه الأزد حتى مات بينهم سنة (84 هـ).

«الأعلام» 5/ 70.

(3) «الكامل في اللغة والأدب» ص 541.

والبيتان مُشتَهران وهما في «الملل والنحل» ص 140، «الفرق بين الفرق» ص 93.

وقد قال عبد القاهر البغدادي صاحب كتاب «الفَرْقُ بين الفِرَق» ص 93:

وقد أجبناه عن شعره هذا بقولنا:

يا ضربةً من كفورٍ ما استفادَ بها … إلا الجداء بما يُصليهِ نيرانا

إني لَألعنُهُ ديناً، وألعَنُ مَن … يرجو لهُ أبداً عفواً وغُفرانا

وذاك ابنُ ملجمَ أشقى الناسِ كلِّهِمِ … أخفِّهِم عندَ ربّ النّاسِ ميزانا

وما في بيته الثاني، ذلك لأنّه منصوصٌ على أن قاتلَ عليٍّ رضي الله عنه أشقى هذه الأمة، ولولا ذلك لم يكن بعيداً شرعاً ولا عقلاً أن يُغفَرَ له!
নিশ্চয়ই তাঁর (রাদিয়াল্লাহু আনহু) হত্যাকাণ্ড ইবনে মুলজিমের ব্যক্তিগত কোনো আচরণ ছিল না, বরং তা ছিল খারেজিদের একটি সামষ্টিক বিশ্বাস!

তাদের কয়েকজন কবি এ নিয়ে কাব্য রচনা করেছেন; যেমন মুবাররাদ (১) তাঁর অনবদ্য গ্রন্থ ‘আল-কামিল ফিল লুগাহ ওয়াল আদব’-এ ইমরান ইবনে হিত্তানের (২) পঙ্ক্তি বর্ণনা করেছেন, যেখানে সে ইবনে মুলজিমকে (আল্লাহ তার ওপর লানত করুন) প্রশংসা করে বলেছে:

ওহে এক পরহেজগার ব্যক্তির আঘাত, যা দিয়ে সে আরশের অধিপতির সন্তুষ্টি অর্জন ছাড়া অন্য কিছু চায়নি!

আমি যখনই তাকে স্মরণ করি, তখন আমি তাকে আল্লাহর নিকট পাল্লায় সৃষ্টির সবচেয়ে পূর্ণ ও শ্রেষ্ঠ ব্যক্তি বলে মনে করি। (৩)

--------------------------------------------

(১) আবু আব্বাস মুহাম্মদ ইবনে ইয়াজিদ ইবনে আব্দুল আকবর আস-সুমালি আল-আযদি আল-বাসরি, যিনি মুবাররাদ —র এর নিচে কাসরাসহ— নামে পরিচিত। তিনি বসরার নাহু (ব্যাকরণ) ও লুগাহর (ভাষা) ইমাম। তিনি সর্বাধিক প্রসিদ্ধ মতানুসারে ২১০ হিজরিতে জন্মগ্রহণ করেন এবং ২৮৫ হিজরিতে মৃত্যুবরণ করেন।

মুহাদ্দিসগণ এবং বড় বড় ঐতিহাসিক যেমন খতিব আল-বাগদাদি, যাহাবি ও ইবনে কাসির তাঁকে নির্ভরযোগ্য (সিকাহ) বলে উল্লেখ করেছেন।

তিনি আল-জারমি, আল-মাযিনি, আবু হাতিম আস-সিজিস্তানি, আল-জাহিয এবং অন্যদের নিকট থেকে জ্ঞান লাভ করেছেন। তাঁর থেকে আল-আখফাশ আল-আওসাত, আল-খারাইতি, নাফতাওয়াইহি, আস-সুলি ও অন্যরা জ্ঞান অর্জন করেছেন। তাঁর অনেকগুলো চমৎকার ও উপকারী গ্রন্থ রয়েছে, যার মধ্যে সবচেয়ে বিখ্যাত হলো: ‘আল-কামিল ফিল লুগাহ ওয়াল আদব’, ‘আল-মুকতাদাব’ এবং ‘আল-ফাদিল’।

তাঁর জীবনী পাওয়া যাবে ‘মুজামুল উদাবা’ ৬/ ২৬৭৮ - ২৬৮৪, জীবনী নং (১১৩৫) এবং ‘আল-ওয়াফি বিল ওয়াফায়াত’ ৫/ ১৪১ - ১৪২, জীবনী নং (২২৮৬)।

এবং ‘আল-কামিল ফিল লুগাহ ওয়াল আদব’ গ্রন্থের মুকাদ্দিমায় ৫ - ১৩ পৃষ্ঠায় তাঁর একটি নাতিদীর্ঘ জীবনী রয়েছে (মুয়াসসাসাতুর রিসালাহ নাশিরুন সংস্করণ), যা এই অধমের (এ লেখার লেখকের) তত্ত্বাবধানে প্রকাশিত হয়েছে।

(২) আবু সিমাক ইমরান ইবনে হিত্তান ইবনে দাবইয়ান আস-সাদুসি আশ-শাইয়ানি আল-ওয়াইলি, সে ছিল সুফরিয়া খারেজিদের ‘কাদা’ (যুদ্ধবিমুখ) গোষ্ঠীর নেতা এবং তাদের বাগ্মী ও কবি।

খারেজিদের সাথে যুক্ত হওয়ার আগে সে ইলম ও হাদিসের লোক এবং বসরার অধিবাসী ছিল। সে একদল সাহাবীকে পেয়েছিল এবং তাঁদের থেকে বর্ণনা করেছে, আর হাদিসের ইমামগণ তার থেকে বর্ণনা করেছেন। হাজ্জাজ তাকে খুঁজলে সে ওমানে পালিয়ে যায় এবং আযদিরা তাকে আশ্রয় দেয়। অবশেষে ৮৪ হিজরিতে সে তাদের মাঝেই মারা যায়।

‘আল-আলাম’ ৫/ ৭০।

(৩) ‘আল-কামিল ফিল লুগাহ ওয়াল আদব’ পৃ. ৫৪১।

এই পঙ্ক্তি দুটি সুপরিচিত এবং তা ‘আল-মিলাল ওয়ান নিহাল’ পৃ. ১৪০ ও ‘আল-ফারকু বাইনাল ফিরাক’ পৃ. ৯৩-এ রয়েছে।

‘আল-ফারকু বাইনাল ফিরাক’ গ্রন্থের লেখক আব্দুল কাহির আল-বাগদাদি (পৃ. ৯৩) বলেছেন:

আমরা তার এই কবিতার উত্তর আমাদের এই পঙ্ক্তিগুলোর মাধ্যমে দিয়েছি:

ওহে এক কুফরি করা ব্যক্তির আঘাত, যা দিয়ে সে সেই প্রতিদান ছাড়া আর কিছুই পায়নি যা তাকে জাহান্নামের আগুনে দগ্ধ করবে!

আমি দ্বীনদারির অংশ হিসেবে তাকে অভিশাপ দেই, এবং তাকেও অভিশাপ দেই যে তার জন্য সর্বদা ক্ষমা ও মার্জনার আশা রাখে!

সেই ইবনে মুলজিম তো সকল মানুষের মধ্যে সবচেয়ে দুর্ভাগা; মানুষের রবের নিকট যার পাল্লা হবে সবচেয়ে হালকা।

ইমরানের দ্বিতীয় চরণে যা বলা হয়েছে তার বিপরীতে এই উত্তর, কারণ এটি সহিহ বর্ণনা দ্বারা প্রমাণিত যে, আলীর (রাদিয়াল্লাহু আনহু) হত্যাকারী এই উম্মতের মধ্যে সবচেয়ে দুর্ভাগা। আর তা না হলে শরয়ি বা যুক্তির নিরিখে তাকে ক্ষমা করা অসম্ভব ছিল না।
(খণ্ড: ১) আল কুরআনিয়ূন, নাশআতুহুম - আকাইদুহুম - আদিল্লাতুহুম (পৃষ্ঠা: ৩১)
‌‌المطلب الثالث: واقعة قتل عبد الله بن خباب بن الأرتّ:

وإن من شنيع ما رُويَ عن الخوارج ـ وفيه ردُّهمُ الحديثَ النبويّ الشريف ـ ما أخرجه الإمام أحمد في «مسنده» عن رجلٍ من عبد القيس (1) كان مع الخوارج ثم فارقهم قال: دخلوا قريةً فخرج عبدُ الله بن خبّاب (2) ذعراً يَجُرُّ رداءَه، فقالوا: لم تُرَع! قال: والله لقد رعتموني!

قالوا: أنت عبد الله بن خباب صاحبِ رسول الله صلى الله عليه وسلم؟ قال: نعم. قال: فهل سمعتَ من أبيك حديثاً يُحدّثُه عن رسول الله صلى الله عليه وسلم تُحدّثُناه؟ قال: نعم. سمعتُهُ يُحدّث عن رسول الله صلى الله عليه وسلم أنّه ذكر فتنةً القاعدُ فيها خيرٌ من القائم، والقائمُ فيها خير من الماشي، والماشي فيها خير من الساعي.

قال: «فإن أدركت ذاك فكن عبد الله المقتول».

قال أيوب (3): ولا أعلمه إلا قال: «ولا تكن عبد الله القاتل».

قالوا: أأنت سمعتَ هذا من أبيك يحدثه عن رسول الله صلى الله عليه وسلم؟

قال: نعم. قال: فقدَّموه على ضفّة النهر، فضربوا عُنُقَه، فسال دمُهُ كأنه شِراكُ نعلٍ ما ابذقرّ، وبقَروا أمَّ ولدِهِ عما في بطنها (4).

--------------------------------------------

(1) عبد القيس من قبائل بني أسد تُنسَبُ إلى عبد القيس بن أفصى بن دُعميّ بن جديلة بن أسد بن ربيعة بن نزار.

يُنظَرُ: «جمهرة أنساب العرب» لابن حزم ص 278

(2) أدرك النبيّ صلى الله عليه وسلم، مختلَفٌ في صحبته، له رؤية ولأبيه صحبة، قتلته الخوارج.

بذا ترجم له الحافظ أبو نعيم في «معرفة الصحابة» 3/ 1632 الترجمة (1621).

وقال ابن حجر: ذكره الطبراني وغيره من الصحابة. «الإصابة في تمييز الصحابة» 4/ 62 الترجمة (4638).

(3) هو أحد رجال إسناد الحديث أيوبُ بنُ أبي تميمةَ السختياني التابعيّ، رأى أنس بن مالك، أحدُ الحفّاظ في البصرة، حديثُه في الصحيحين فما دونَهما، توفي سنة (131 هـ).

ترجمته في «تهذيب الكمال» الترجمة (607) 3/ 457 - 464.

(4) أخرجه الإمام أحمد في «مسنده» برقم (21064).

والطبراني في «المعجم الكبير» برقمَي (3630) و (3631)، وغيرُهم.

قال الهيثمي في «مجمع الزوائد» برقم (12335): ولم أعرف الرجل الذي من عبد القيس وبقية رجاله رجال الصحيح.

وأخرجه أحمدُ مفسّراً برقم (21065) عن حميد بن هلال نحوه إلا أنه قال: «ما امذقرّ» يعني: لم يتفرق، وقال: «لا تكن عبد الله القاتل»، وكذلك قال بهز أيضاً. ا. هـ.

وقوله: «ابذقر» أو «امذقر» بمعنى تفرّق.

قال ابن الأثير في «النهاية في غريب الحديث والأثر» 4/ 312:

قال أبو عبيد: أي: ما امْتَزَج بالماء.

وقال شَمِر: الامْذِقْرارُ: أن يجتمعَ الدّمُ ثم يتَقطّع قِطَعاً ولا يختِلط بالماء. يقول: لم يكن كذلك ولكنه سال وامتزج. وهذا بخلاف الأوّل. وسِياق الحديث يشهَدُ للأوّل أي: أنه مَرَّ كالطريقة الواحدة لم يختلط به. ولذلك شَبَّهَهُ بالشِّراك الأحمر، وهو سَيرٌ من سيُور النَّعل.

وذكر المُبَرّد هذا الحديث في «الكامل» قال: ثم قرّبوه إلى شاطئ النهر فذبحوه وقَرّبوه إلى شاطِئ النَّهر فذَبَحوه فامْذَقَرّ دَمُه. أي: جَرى مُستطيلاً مُتَفرِّقاً. هكذا رواه بغير حرف النَّفْي. ورواه بعضهم بالباء وهو بمعناه.

قلتُ: ما قاله المبرد في «الكامل» ص 564 فامذقرّ دمُه، أي: جرى مستطيلاً على دقة.

ثم إنّ المبرد أتمّ الخبرَ قال:

وساموا رجلاً نصرانياً على نخلة له، فقال: هي لكم، فقالوا: ما كنا لنأخذها إلا بثمن. قال: ما أعجب هذا? أتقتلون مثل عبد الله بن خباب ولا تقبلون منا نخلة إلا بثمن!
তৃতীয় অনুচ্ছেদ: আবদুল্লাহ ইবনে খাব্বাব ইবনে আল-আরাতকে হত্যার ঘটনা:

খারিজিদের ব্যাপারে বর্ণিত জঘন্য ঘটনাবলির মধ্যে একটি হলো—যার মধ্যে তাদের পবিত্র হাদিস প্রত্যাখ্যানের প্রমাণও রয়েছে—যা ইমাম আহমাদ তাঁর ‘মুসনাদ’-এ আবদ আল-কায়স গোত্রের এক ব্যক্তি (১) থেকে বর্ণনা করেছেন, যিনি খারিজিদের সাথে ছিলেন এবং পরে তাদের ত্যাগ করেছিলেন। তিনি বলেন: তারা একটি গ্রামে প্রবেশ করলে আবদুল্লাহ ইবনে খাব্বাব (২) ভীতসন্ত্রস্ত অবস্থায় তাঁর চাদর টেনে টেনে বের হয়ে আসলেন। তারা বলল: ‘ভয় পাবেন না!’ তিনি বললেন: ‘আল্লাহর কসম, আপনারা তো আমাকে ভীত করেছেন!’

তারা জিজ্ঞেস করল: ‘আপনি কি রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সাহাবী আবদুল্লাহ ইবনে খাব্বাব?’ তিনি বললেন: ‘হ্যাঁ।’ তারা বলল: ‘আপনি কি আপনার পিতার নিকট থেকে রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের কোনো হাদিস শুনেছেন যা আপনি আমাদের শোনাতে পারেন?’ তিনি বললেন: ‘হ্যাঁ। আমি তাঁকে রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে বর্ণনা করতে শুনেছি যে, তিনি এমন এক ফিতনার (বিপর্যয়) কথা উল্লেখ করেছেন যেখানে উপবিষ্ট ব্যক্তি দণ্ডায়মান ব্যক্তির চেয়ে উত্তম, দণ্ডায়মান ব্যক্তি পদব্রজে চলন্ত ব্যক্তির চেয়ে উত্তম এবং পদব্রজে চলন্ত ব্যক্তি ধাবমান ব্যক্তির চেয়ে উত্তম।’

তিনি (রাসুলুল্লাহ) বলেছিলেন: ‘যদি তুমি সেই সময়ের সম্মুখীন হও, তবে তুমি আল্লাহর সেই বান্দা হও যাকে হত্যা করা হয়েছে (নিহত বান্দা)।’

আইয়ুব (৩) বলেন: আমার জানামতে তিনি এও বলেছিলেন: ‘আর তুমি আল্লাহর হত্যাকারী বান্দা হয়ো না।’

তারা বলল: ‘আপনি কি সত্যিই এটি আপনার পিতার কাছ থেকে রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সূত্রে শুনেছেন?’

তিনি বললেন: ‘হ্যাঁ।’ এরপর তারা তাঁকে নদীর তীরে নিয়ে গেল এবং তাঁর শিরশ্ছেদ করল। তাঁর রক্ত জুতার ফিতার মতো সোজা হয়ে প্রবাহিত হলো, তা বিন্দুমাত্র ছড়িয়ে পড়েনি। আর তারা তাঁর গর্ভবতী উম্মে ওয়ালাদকে (সন্তানবতী দাসী) বিদীর্ণ করে তাঁর গর্ভস্থ সন্তান বের করে ফেলল (৪)।

--------------------------------------------

(১) আবদ আল-কায়স হলো বনী আসাদ গোত্রের একটি শাখা, যাদের বংশসূত্র আবদ আল-কায়স বিন আফসা বিন দুয়মি বিন জাদিদাহ বিন আসাদ বিন রাবিয়াহ বিন নিযার পর্যন্ত পৌঁছেছে।

দ্রষ্টব্য: ইবনে হাজম বিরচিত ‘জামহারাত আনসাব আল-আরব’, পৃষ্ঠা ২৭৮।

(২) তিনি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের যুগ পেয়েছিলেন; তাঁর সাহাবী হওয়া নিয়ে মতভেদ রয়েছে। তাঁর নবীকে দেখার সৌভাগ্য হয়েছিল এবং তাঁর পিতা একজন সাহাবী ছিলেন। খারিজিরা তাঁকে হত্যা করে।

হাফিজ আবু নুয়াইম ‘মা’রিফাত আস-সাহাবাহ’ গ্রন্থে (৩/১৬৩২, জীবনী নম্বর ১৬২১) এভাবেই তাঁর জীবনী উল্লেখ করেছেন।

ইবনে হাজার বলেন: তাবারানি ও অন্যান্যরা তাঁকে সাহাবীদের অন্তর্ভুক্ত করেছেন। ‘আল-ইসাবাহ ফি তাময়িজ আস-সাহাবাহ’ (৪/৬২, জীবনী নম্বর ৪৬৩৮)।

(৩) তিনি হাদিসের অন্যতম বর্ণনাকারী আইয়ুব ইবনে আবি তামি মাহ আল-সাখতিয়ানি, যিনি একজন তাবেয়ি ছিলেন। তিনি আনাস ইবনে মালিককে দেখেছিলেন। তিনি বসরার অন্যতম হাফিজ (হাদিস বিশারদ) ছিলেন। তাঁর বর্ণিত হাদিস বুখারি ও মুসলিমসহ অন্যান্য হাদিস গ্রন্থে রয়েছে। তিনি ১৩১ হিজরিতে মৃত্যুবরণ করেন।

তাঁর জীবনী দেখুন: ‘তাহজিব আল-কামাল’ (৩/৪৫৭-৪৬৪, জীবনী নম্বর ৬০৭)।

(৪) ইমাম আহমাদ তাঁর ‘মুসনাদ’-এ এটি বর্ণনা করেছেন (হাদিস নম্বর ২১০৬৪)।

তাবারানিও ‘আল-মু’জাম আল-কবির’-এ (হাদিস নম্বর ৩৬৩০ ও ৩৬৩১) এবং অন্যান্যরা এটি বর্ণনা করেছেন।

হাইসামি ‘মাজমাউজ জাওয়াইদ’ গ্রন্থে (হাদিস নম্বর ১২৩৩৫) বলেন: আবদ আল-কায়স গোত্রের সেই লোকটিকে আমি চিনতে পারিনি, তবে অন্যান্য বর্ণনাকারীগণ নির্ভরযোগ্য (সহিহ গ্রন্থের বর্ণনাকারী)।

ইমাম আহমাদ বিশদভাবে এটি বর্ণনা করেছেন (হাদিস নম্বর ২১০৬৫), যেখানে হুমাইদ ইবনে হিলাল অনুরূপ বর্ণনা দিয়ে বলেছেন: ‘রক্ত ছড়িয়ে পড়েনি’ অর্থাৎ তা বিচ্ছিন্ন হয়নি। তিনি আরও বলেছেন: ‘তুমি হত্যাকারী বান্দা হয়ো না।’ বাহজও অনুরূপ বলেছেন। (সমাপ্ত)

আর ‘ইবজাকার’ বা ‘ইমজাকার’ অর্থ হলো ছড়িয়ে পড়া বা বিচ্ছিন্ন হওয়া।

ইবনে আল-আসির ‘আন-নিহায়াহ ফি গরিব আল-হাদিস ওয়াল আসার’ গ্রন্থে (৪/৩১২) বলেন:

আবু উবায়েদ বলেন: অর্থাৎ তা পানির সাথে মেশেনি।

শামির বলেন: ‘আল-ইমজিকরার’ হলো রক্ত জমাট বেঁধে টুকরো টুকরো হয়ে যাওয়া এবং পানির সাথে না মেশা। তিনি বলেন: রক্ত তেমন ছিল না, বরং তা প্রবাহিত হয়ে মিশে গিয়েছিল। এটি প্রথম মতের বিপরীত। হাদিসের প্রেক্ষাপট প্রথম মতকেই সমর্থন করে, অর্থাৎ তা একটি রেখার মতো প্রবাহিত হয়েছিল এবং মিশে যায়নি। এজন্যই রক্তকে লাল ফিতার সাথে তুলনা করা হয়েছে, যা জুতার চামড়ার ফিতা বিশেষ।

মুবাররাদ এই হাদিসটি ‘আল-কামিল’ গ্রন্থে উল্লেখ করে বলেছেন: তারপর তারা তাঁকে নদীর তীরে নিয়ে জবাই করল এবং তাঁর রক্ত দীর্ঘাকারে প্রবাহিত ও বিক্ষিপ্ত হলো। তিনি এখানে না-বোধক শব্দ ছাড়াই বর্ণনা করেছেন। কেউ কেউ ‘বা’ বর্ণ দিয়ে এটি বর্ণনা করেছেন, যা একই অর্থ প্রকাশ করে।

আমি (লেখক) বলছি: মুবাররাদ ‘আল-কামিল’ গ্রন্থের ৫৬৪ পৃষ্ঠায় যা বলেছেন তার অর্থ হলো—রক্ত সরু ও লম্বা হয়ে প্রবাহিত হয়েছিল।

এরপর মুবাররাদ সংবাদটি পূর্ণ করে বলেন:

তারা (খারিজিরা) জনৈক খ্রিস্টানের কাছে তার একটি খেজুর গাছ কিনতে চাইল। সে বলল: এটি আপনাদের। তারা বলল: আমরা মূল্য পরিশোধ না করে এটি নেব না। তখন সে বলল: ‘এটি কতই না আশ্চর্যের বিষয়! আপনারা আবদুল্লাহ ইবনে খাব্বাবের মতো মানুষকে হত্যা করেন, অথচ আমার একটি খেজুর গাছ মূল্য ছাড়া গ্রহণ করতে রাজি নন!’
(খণ্ড: ১) আল কুরআনিয়ূন, নাশআতুহুম - আকাইদুহুম - আদিল্লাতুহুম (পৃষ্ঠা: ৩৩)
‌‌المبحث الثالث: المعتزلة (1):

لقد تفنَّن المعتزلةُ ـ بحسبِ اتباعِ كلٍّ من كُبرائهم لآرائه ونظراته ـ في ردّ ما يبلغهم من الأحاديث النبوية الثابتة التي جاوزت قنطرةَ الشكّ باجتماع شروط الصحّة المعتبرة فيها (2).

ولكن المعتزلة ـ وأؤكِّد على هذا ـ لم يُنكِروا السنةَ جملةً؛ بدليل روايتهم واحتجاجهم بما لا يُحصى من الأحاديث النبوية الشريفة.

فعلى سبيل المثال لا الحصر هذا هو كتاب القاضي عبد الجبار (3) «فضل الاعتزال وطبقات المعتزلة ومباينتهم لسائر المختلفين» يعُجُّ بما يُصحِّحُه القاضي من الروايات عن النبي صلى الله عليه وسلم.

من ذلك على سبيل المثال أنه قال: وقد صحّ عنه صلى الله عليه وسلم أنه قال: «تفكروا في نعماء الله، ولا تتفكرون (4) في الله» (5).

--------------------------------------------

(1) ينظر:

«الملل والنحل» للشهرستاني ص 56 - 96، «الفرق بين الفرق» لعبد القاهر البغدادي ص 114 - 201، و «الفصل في الملل والنحل» لابن حزم 5/ 58 - 72.

(2) الناظرُ في علم مصطلح الحديث بتمعُّن يجدُ أن شروطَ الصحةِ الخمسةَ التي توطأ عليها المحدثون شروطٌ غيرُ نقلية، بل هي شروطٌ منطقية عقلية بحتة؛ يفرضها اتباعُ العقل الباحث عن التثبُّتِ من واقعةٍ كانت في الماضي الغابر.

(3) القاضي أبو الحسن عبد الجبار بن أحمد بن عبد الجبار الأسدآبادي، شيخ المعتزلة، وكبار فقهاء الشافعية.

تولى القضاء في الري وهمدان وغيرهما. توفي سنة (415 هـ)

يُنظَر: «سير أعلام النبلاء» 17/ 244 - 245 الترجمة (150)، «طبقات الشافعية الكبرى» للسبكي 5/ 97 - 98 الترجمة (443).

وتُنظَرُ ترجمته قُبيل كتابه «فضل الاعتزال وطبقات المعتزلة ومباينتهم لسائر المختلفين» للقاضي عبد الجبار المطبوعُ ثانيَ ثلاثة كتبٍ بعنوانٍ جامعٍ هو «فضل الاعتزال وطبقات المعتزلة» ص 121 - 127.

(4) كذا.

(5) «فضل الاعتزال وطبقات المعتزلة ومباينتهم لسائر المختلفين» للقاضي عبد الجبار ضمن «فضل الاعتزال وطبقات المعتزلة» ص 140.

والحديث الذي ذكره صحيح المعنى، إلا أنه يُتوقَّفُ في صحته من جهة الإسناد.

أخرج الطبراني في «المعجم الأوسط» برقم (6319)، والبيهقي في «شعب الإيمان» برقم (119) عن ابن عمر رضي الله عنهما قال: قال رسول الله صلى الله عليه وسلم: «تَفَكَّروا في آلاء الله، ولا تَفَكَّروا في الله»

قال الهيثمي في «مجمع الزوائد» برقم (260): فيه الوازع بن نافع وهو متروك.

وروى أبو نعيم في «حلية الأولياء» 6/ 75 - 76 عن ابن عباس رضي الله عنهما أنه صلى الله عليه وسلم خرج على أصحابه فقال: ما جمعكم؟ » فقالوا: اجتمعنا نذكر ربنا ونتفكر في عظمته، فقال: «تفكروا في خلق الله ولا تتفكروا في الله؛ فإن ربنا خلق ملكاً قدماه في الأرض السابعة السفلى ورأسه قد جاوز السماء العليا ما بين قدميه إلى ركبتيه مسيرة ست مئة عام وما بين كعبيه إلى أخمص قدميه مسيرة ست مئة عام والخالق أعظم من المخلوق»؟

وقد قال العجلوني في «كشف الخفا» (1005) بعد أن ساق أحاديثَ: وأسانيدها ضعيفة، ولكن اجتماعها يكسبه قوة ومعناه صحيح، وفي «صحيح مسلم» [برقم (343)] عن أبي هريرة رضي الله عنه رفعه: «لا يزال الناس يتساءلون حتى يقال: هذا خلَقَ اللهُ الخلقَ، فمن خلَقَ اللهَ؟ فمن وجد ذلك شيئاً فليقل: آمنت بالله».

وقد نقصَ العجلوني في متن الحديث فزدتُه.
তৃতীয় পরিচ্ছেদ: মুতাযিলা সম্প্রদায় (১):

মুতাযিলাগণ—তাদের প্রধানদের প্রত্যেকের নিজস্ব মতামত ও দৃষ্টিভঙ্গির অনুসরণের প্রেক্ষিতে—তাদের কাছে পৌঁছানো সেই সকল অকাট্য নববী হাদিস প্রত্যাখ্যান করার ক্ষেত্রে নানা কৌশল অবলম্বন করেছে, যা গ্রহণযোগ্য সহিহ হওয়ার শর্তসমূহ পূরণ করার মাধ্যমে সন্দেহের সীমা অতিক্রম করেছে (২)।

তবে মুতাযিলাগণ—আমি এ বিষয়ে গুরুত্বারোপ করছি—সুন্নতকে পুরোপুরি অস্বীকার করেননি; তার প্রমাণ হলো অগণিত সম্মানীয় নববী হাদিসের বর্ণনা প্রদান ও সেগুলোর মাধ্যমে তাদের দলিল পেশ করা।

উদাহরণস্বরূপ, এটিই হলো কাজী আব্দুল জব্বারের (৩) কিতাব ‘ফাদলুল ই’তিযাল ওয়া তাবাকাতুল মুতাযিলা ওয়া মুবায়ানাতুহুম লি-সাইরিল মুখতালিফীন’ (মুতাযিলা মতাদর্শের শ্রেষ্ঠত্ব, তাদের স্তরসমূহ এবং অন্যান্য ভিন্নমতাবলম্বীদের থেকে তাদের পার্থক্য), যা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে বর্ণিত এমন সব বর্ণনায় পরিপূর্ণ যেগুলোকে কাজী (আব্দুল জব্বার) সহিহ বলে গণ্য করেছেন।

এর উদাহরণ হিসেবে তিনি বলেছেন: আর নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে এটি সহিহভাবে বর্ণিত হয়েছে যে, তিনি বলেছেন: “তোমরা আল্লাহর নেয়ামতসমূহ নিয়ে চিন্তা করো, কিন্তু আল্লাহ সম্পর্কে (তাঁর সত্তা নিয়ে) চিন্তা করো না (৪)” (৫)।

--------------------------------------------

(১) দ্রষ্টব্য:

শাহরাস্তানির ‘আল-মিলাল ওয়ান নিহাল’ পৃষ্ঠা ৫৬-৯৬, আব্দুল কাহের আল-বাগদাদির ‘আল-ফারকু বাইনাল ফিরাক’ পৃষ্ঠা ১১৪-২০১ এবং ইবনে হাজমের ‘আল-ফিসাল ফিল মিলাল ওয়ান নিহাল’ ৫/৫৮-৭২।

(২) হাদিসশাস্ত্রের মূলনীতি (মুসতালাহুল হাদিস) নিয়ে গভীর গবেষণাকারী দেখতে পাবেন যে, মুহাদ্দিসগণ সহিহ হওয়ার যে পাঁচটি শর্তের ব্যাপারে একমত হয়েছেন সেগুলো নিছক শ্রুতি বা বর্ণনাভিত্তিক নয়; বরং সেগুলো সম্পূর্ণ যৌক্তিক ও বুদ্ধিবৃত্তিক শর্ত; যা সুদূর অতীতের কোনো ঘটনা নিশ্চিতভাবে যাচাইয়ের ক্ষেত্রে অনুসন্ধিৎসু বিবেকের অনুসরণের দাবি রাখে।

(৩) কাজী আবুল হাসান আব্দুল জব্বার ইবনে আহমদ ইবনে আব্দুল জব্বার আল-আসাদাবাদি, মুতাযিলাদের শায়খ এবং শাফেয়ি মাজহাবের অন্যতম বড় ফকিহ।

তিনি রাই, হামাদান ও অন্যান্য স্থানে বিচারকের দায়িত্ব পালন করেন। তিনি ৪১৫ হিজরি সনে মৃত্যুবরণ করেন।

দ্রষ্টব্য: ‘সিয়ারু আলামিন নুবালা’ ১৭/২৪৪-২৪৫, জীবনী নং (১৫০); সুবকির ‘তাবাকাতুশ শাফিইয়্যাতিল কুবরা’ ৫/৯৭-৯৮, জীবনী নং (৪৪৩)।

কাজী আব্দুল জব্বারের ‘ফাদলুল ই’তিযাল ওয়া তাবাকাতুল মুতাযিলা ওয়া মুবায়ানাতুহুম লি-সাইরিল মুখতালিফীন’ গ্রন্থের শুরুতে তাঁর জীবনী দ্রষ্টব্য, যা ‘ফাদলুল ই’তিযাল ওয়া তাবাকাতুল মুতাযিলা’ শিরোনামে প্রকাশিত তিনটি বইয়ের মধ্যে দ্বিতীয়টি, পৃষ্ঠা ১২১-১২৭।

(৪) মূল পাঠে এভাবেই আছে।

(৫) কাজী আব্দুল জব্বারের ‘ফাদলুল ই’তিযাল ওয়া তাবাকাতুল মুতাযিলা ওয়া মুবায়ানাতুহুম লি-সাইরিল মুখতালিফীন’, যা ‘ফাদলুল ই’তিযাল ওয়া তাবাকাতুল মুতাযিলা’ এর অন্তর্ভুক্ত, পৃষ্ঠা ১৪০।

তিনি যে হাদিসটি উল্লেখ করেছেন তার অর্থ সহিহ, তবে এর সনদের বিশুদ্ধতার ব্যাপারে সংশয় রয়েছে।

তাবারানি ‘আল-মুজামুল আওসাত’-এ (নং ৬৩১৯) এবং বায়হাকি ‘শুআবুল ঈমান’-এ (নং ১১৯) ইবনে উমর রাদিয়াল্লাহু আনহুমা থেকে বর্ণনা করেছেন যে, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: “তোমরা আল্লাহর নেয়ামতসমূহ নিয়ে চিন্তা করো, কিন্তু আল্লাহ নিয়ে চিন্তা করো না।”

হাইসামি ‘মাজমাউয যাওয়াইদ’-এ (নং ২৬০) বলেছেন: এতে ওয়াযে ইবনে নাফে’ নামক রাবি রয়েছেন, যিনি পরিত্যক্ত।

আবু নুআইম ‘হিলইয়াতুল আউলিয়া’ গ্রন্থে ৬/৭৫-৭৬ পৃষ্ঠায় ইবনে আব্বাস রাদিয়াল্লাহু আনহুমা থেকে বর্ণনা করেছেন যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর সাহাবিদের কাছে আসলেন এবং বললেন: “তোমরা কেন সমবেত হয়েছ?” তাঁরা বললেন: “আমরা আমাদের রবকে স্মরণ করতে এবং তাঁর মহানুভবতা নিয়ে চিন্তা করতে সমবেত হয়েছি।” তখন তিনি বললেন: “তোমরা আল্লাহর সৃষ্টি নিয়ে চিন্তা করো, কিন্তু আল্লাহ সম্পর্কে চিন্তা করো না। কেননা আমাদের রব এমন একজন ফেরেশতা সৃষ্টি করেছেন যার দুই পা সপ্তম জমিনের নিচে এবং মাথা উর্ধ্ব আকাশ অতিক্রম করে গেছে। তাঁর দুই পায়ের পাতা থেকে হাঁটু পর্যন্ত দূরত্ব ছয়শ বছরের পথ এবং তাঁর গোড়ালি থেকে পায়ের তলা পর্যন্ত দূরত্ব ছয়শ বছরের পথ। আর সৃষ্টিকর্তা সৃষ্টির চেয়েও অনেক মহান।”

আজলুনি ‘কাশফুল খাফা’ গ্রন্থে (১০০৫) বেশ কিছু হাদিস উল্লেখ করার পর বলেছেন: এগুলোর সনদ দুর্বল, কিন্তু এগুলোর সমষ্টি হাদিসটিকে শক্তিশালী করে এবং এর অর্থ সহিহ। ‘সহিহ মুসলিম’-এ [নং ৩৪৩] আবু হুরায়রা রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত মারফু হাদিসে আছে: “মানুষ একে অপরকে প্রশ্ন করতে থাকবে যতক্ষণ না বলা হবে: আল্লাহ মাখলুক সৃষ্টি করেছেন, তাহলে আল্লাহকে কে সৃষ্টি করেছে? যে ব্যক্তি এমন কিছুর সম্মুখীন হয়, সে যেন বলে: আমি আল্লাহর প্রতি ঈমান এনেছি।”

আজলুনি হাদিসের মূল পাঠে কিছুটা বাদ দিয়েছিলেন, আমি তা পূর্ণ করে দিয়েছি।
(খণ্ড: ১) আল কুরআনিয়ূন, নাশআতুহুম - আকাইদুহুম - আদিল্লাতুহুম (পৃষ্ঠা: ৩৪)
ثم صحّح في الصفحة التالية حديثَ النبي صلى الله عليه وسلم فيما يرويه عن ربه عز وجل: «إني حرّمتُ الظلم على نفسي، وجعلته محرماً بينكم فلا تظالَموا، يا عبادي أنتم تخطئون بالليل والنهار وأنا أغفر الذنوبَ ولا أبالي، فاستغفِروني أغفِرْ لكم» (1).

وهذا هو الجاحظ (2) إمام أهل الأدب الفذُّ، وإمامُ الفرقة «الجاحظية» من فرق المعتزلة (3) يروي آلافَ الأحاديثِ النبويةِ في كتبه التي طُبِعَ كثيرٌ منها.

ومن قرأ في كتابيه العظيمين «الحيوان» و «البيان والتبيين» وجدَهُ يذكرُ الكثير من الأحاديث المنسوبة إلى رسول الله صلى الله عليه وسلم، ذلك بغضِّ النظرِ عن كونه يروي دون أسانيد، وأنه يُصحِّحُ غير المعتبرِ عند حُفّاظ أهل السُّنّة، ويرُدُّ كثيراً من المعتَبَر لديهم.

--------------------------------------------

(1) «فضل الاعتزال وطبقات المعتزلة» ص 141.

وأما الحديث فهو ـ ولم يأخذه القاضي عن هذه المصادر ـ مرويٌّ مطوَّلاً في «صحيح مسلم» برقم (6572)، وفي مواضعَ من «مسند أحمد» أولها برقم (21367) من حديث أبي ذرٍّ.

(2) عمرو بن بحر بن محبوب الليثي، أبو عثمان الجاحظ، كبير أئمة الأدب، ورئيس الفرقة الجاحظية من المعتزلة.

له تصانيف كثيرة، منها «الحيوان»، و «البيان والتبيين»، و «البخلاء»، و «المحاسن والأضداد»، وكثيرٌ غيرُها جُمعَ بعضُها في «رسائل الجاحظ». توفي في البصرة سنة (255 هـ).

يُنظر لترجمته: «فضل الاعتزال وطبقات المعتزلة» ص 275 - 277 ضمن الطبقة السابعة منهم.

ويُنظَر: «معجم الأدباء» 5/ 2101 - 2122 الترجمة (872).

(3) يُنظَرُ التعريفُ بالجاحظية وضلالاتِها في «الملل والنحل» ص 87 - 89، و «الفرق بين الفرق» لعبد القاهر البغدادي ص 175 - 178.
অতঃপর তিনি পরবর্তী পৃষ্ঠায় নবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের সেই হাদিসটিকে বিশুদ্ধ আখ্যা দিয়েছেন যা তিনি তাঁর মহান প্রতিপালকের পক্ষ থেকে বর্ণনা করেছেন: «আমি আমার নিজের ওপর জুলুমকে হারাম করেছি এবং তোমাদের মাঝেও একে হারাম সাব্যস্ত করেছি; সুতরাং তোমরা একে অপরের ওপর জুলুম করো না। হে আমার বান্দারা, তোমরা রাত-দিন গুনাহ করো আর আমি সব গুনাহ ক্ষমা করি এবং তাতে আমি কোনো পরোয়া করি না; অতএব তোমরা আমার কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করো, আমি তোমাদের ক্ষমা করে দেব» (১)।

আর এই সেই জাহিয (২), যিনি সাহিত্যের ইমামদের মধ্যে অনন্য এবং মুতাজিলা সম্প্রদায়ের অন্যতম উপদল ‘জাহিযিয়্যাহ’র (৩) ইমাম; তিনি তাঁর গ্রন্থাবলিতে হাজার হাজার নববি হাদিস বর্ণনা করেছেন, যার অনেকগুলোই ইতিমধ্যে মুদ্রিত হয়েছে।

যে ব্যক্তি তাঁর মহান দুটি গ্রন্থ ‘আল-হায়াওয়ান’ এবং ‘আল-বায়ান ওয়াত তাবয়িন’ পড়বে, সে দেখতে পাবে যে তিনি রসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের প্রতি সম্বন্ধযুক্ত অনেক হাদিস উল্লেখ করেছেন। তবে এক্ষেত্রে এই বিষয়টি বিবেচ্য নয় যে তিনি সূত্র (সনদ) ছাড়াই বর্ণনা করেন এবং আহলে সুন্নতের হাফিজগণের নিকট যা গ্রহণযোগ্য নয় তাকে তিনি বিশুদ্ধ বলেন, আবার তাদের নিকট যা গ্রহণযোগ্য তা অনেক ক্ষেত্রে প্রত্যাখ্যান করেন।

--------------------------------------------

(১) ‘ফাদলুল ইতিযাল ওয়া তাবাকাতুল মুতাজিলাহ’, পৃষ্ঠা ১৪১।

আর হাদিসটি—যদিও কাজি এই উৎসগুলো থেকে তা গ্রহণ করেননি—‘সহিহ মুসলিম’-এ (ক্রমিক ৬৫৭২) এবং ‘মুসনাদে আহমাদ’-এর বিভিন্ন স্থানে বিস্তারিতভাবে বর্ণিত হয়েছে, যার প্রথমটি হলো আবু যার (রা.) থেকে বর্ণিত হাদিস নং ২১৩৬৭।

(২) আমর ইবন বাহর ইবন মাহবুব আল-লাইসি, আবু উসমান আল-জাহিয; সাহিত্যের ইমামদের মধ্যে অগ্রগণ্য এবং মুতাজিলাদের জাহিযিয়্যাহ উপদলের প্রধান।

তাঁর অসংখ্য রচনা রয়েছে, যার মধ্যে ‘আল-হায়াওয়ান’, ‘আল-বায়ান ওয়াত তাবয়িন’, ‘আল-বুখালা’ ও ‘আল-মাহাসিন ওয়াল আদদাদ’ অন্যতম। এ ছাড়াও আরও অনেক রচনা রয়েছে যার কিছু অংশ ‘রাসায়িলে জাহিয’-এ সংকলিত হয়েছে। তিনি ২৫৫ হিজরি সনে বসরায় মৃত্যুবরণ করেন।

তাঁর জীবনী দেখার জন্য দেখুন: ‘ফাদলুল ইতিযাল ওয়া তাবাকাতুল মুতাজিলাহ’, পৃষ্ঠা ২৭৫-২৭৭, তাদের সপ্তম স্তরের অন্তর্ভুক্ত হিসেবে।

আরও দেখুন: ‘মুজামুল উদাবা’, ৫/২১০১-২১২২, জীবনী নং ৮৭২।

(৩) জাহিযিয়্যাহ এবং তাদের ভ্রান্তিগুলোর পরিচয় জানার জন্য দেখুন: ‘আল-মিলাল ওয়ান নিহাল’, পৃষ্ঠা ৮৭-৮৯ এবং আবদুল কাহির আল-বাগদাদির ‘আল-ফারকু বাইনাল ফিরাক’, পৃষ্ঠা ১৭৫-১৭৮।
(খণ্ড: ১) আল কুরআনিয়ূন, নাশআতুহুম - আকাইদুহুম - আদিল্লাতুহুম (পৃষ্ঠা: ৩৫)
‌‌المطلب الأول: رفض أحاديث رؤية الله تبارك وتعالى:

لقد تحققّ شبهُ إجماعٍ من المعتزلة على نفيِ رؤية الله تبارك وتعالى في الآخرة، وردِّ الأحاديث التي تُثبِتُ هذه الرؤية، وتأويلِ الآيات الواردة فيها.

حيث ذكر القاضي عبد الجبار أنّ المعتزلة أجمعوا على «أن أفعاله تدل عليه؛ لأنه لا يُرى ولا يُدرَكُ بالحواسّ» (1).

وها هو الجاحظُ يُجادلُ أصحابَ الرؤية بكلامٍ طويلٍ في فصلٍ من كتابه «الردّ على المشبّهة» بقول:

«ثم رجع الكلام إلى أول المسألة، حيث جعلنا القرآن بيننا قاضياً، واتخذناه حاكماً، فقلنا: قد رأينا اللهَ استعظَمَ الرؤيةَ استعظاماً شديداً، وغضبَ على من طلب ذلك وأراده، ثم عذّب عليه، وعجّب عبادَه ممن سأله ذلك، وحذّرهم أن يسلكوا سبيلَ الماضين، فقال في كتابه لنبيه صلى الله عليه وسلم: {يَسْأَلُكَ أَهْلُ الْكِتَابِ أَنْ تُنَزِّلَ عَلَيْهِمْ كِتَابًا مِنَ السَّمَاءِ فَقَدْ سَأَلُوا مُوسَى أَكْبَرَ مِنْ ذَلِكَ فَقَالُوا أَرِنَا اللَّهَ جَهْرَةً فَأَخَذَتْهُمُ الصَّاعِقَةُ} [سورة النساء 4: الآية 153].

فإن كان الله تعالى ـ في الحقيقة ـ يجوز أن يكون مرئياً، وببعض الحواسِّ مُدرَكاً، وكان ذلك عليه جائزاً، فالقوم إنما سألوا أمراً مُمكِناً، وقد طمعوا في مَطمَع، فلِمَ غضب هذا الغضب، واستعظم سؤالهم هذا الاستعظام، وضرب به هذا المثل، وجعله غاية في الجرأة وفي الاستخفاف بالربوبية … ؟ » إلى آخر ما ذكر من المجادلة (2).

وقد نقل عُلماءِ العقائد والفرق إطباقَ السواد الأعظم من المعتزلة على نفيِ الرؤية، فقد قال الشهرستاني:

«واتفَقوا على نفي رؤية الله تعالى بالأبصار في دار القرار، ونفي التشبيه عنه من كل وجه: جهة ومكاناً، وصورة وجسماً، وتحيُّزاً وانتقالاً، وزوالاً وتغيُّراً وتأثُّراً، وأوجَبوا تأويلَ الآياتِ المتشابهة فيها وسَمَّوْا هذا النمطَ: توحيداً» (3).

--------------------------------------------

(1) «طبقات الاعتزال وفضل المعتزلة» ص 346.

(2) «كتاب المعلمين وكتاب في الرد على المشبهة»: فصول من كتاب في الرد على المشبهة: ص 117.

(3) «الملل والنحل» ص 57.
প্রথম পরিচ্ছেদ: আল্লাহ তাবারাকা ওয়া তায়ালার দিদার (দর্শন) সংক্রান্ত হাদীসসমূহের প্রত্যাখ্যান:

মুতাযিলাদের মধ্যে পরকালে আল্লাহ তাবারাকা ওয়া তায়ালার দর্শন অস্বীকার করা, এই দর্শন সাব্যস্তকারী হাদীসসমূহ প্রত্যাখ্যান করা এবং এ সংক্রান্ত আয়াতসমূহের অপব্যাখ্যা (তাবীল) করার বিষয়ে প্রায় ঐকমত্য প্রতিষ্ঠিত হয়েছে।

এ প্রসঙ্গে কাযী আব্দুল জব্বার উল্লেখ করেছেন যে, মুতাযিলাগণ এ বিষয়ে একমত হয়েছেন যে, «তাঁর কার্যাবলিই তাঁর অস্তিত্বের প্রমাণ দেয়; কেননা তাঁকে দেখা যায় না এবং ইন্দ্রিয় দ্বারা উপলব্ধি করা যায় না» (১)।

জাহিয তার «আর-রদ্দু আলাল মুশাব্বিহা» গ্রন্থের একটি অধ্যায়ে দর্শনের সমর্থকদের সাথে দীর্ঘ বিতর্কে লিপ্ত হয়ে বলেন:

«অতঃপর আলোচনা মাসআলার শুরুতে ফিরে এল, যেখানে আমরা কুরআনকে আমাদের মাঝে ফয়সালাকারী ও বিচারক হিসেবে গ্রহণ করেছি। আমরা বলেছি: আমরা দেখেছি যে আল্লাহ দর্শনপ্রার্থনার বিষয়টিকে অত্যন্ত গুরুতর হিসেবে গ্রহণ করেছেন, এবং যিনি তা চেয়েছেন ও ইচ্ছা করেছেন তাঁর প্রতি ক্রোধান্বিত হয়েছেন। অতঃপর তার ওপর শাস্তি দিয়েছেন এবং যারা তাঁর কাছে এটি প্রার্থনা করেছে তাদের প্রতি তাঁর অন্য বান্দাদের বিস্মিত করেছেন। আর তাদেরকে পূর্ববর্তীদের পথ অনুসরণ করা থেকে সতর্ক করেছেন। ফলে তিনি তাঁর কিতাবে তাঁর নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-কে উদ্দেশ্য করে বলেছেন: {আহলে কিতাব আপনার নিকট আবেদন জানায় যে, আপনি আসমান থেকে তাদের কাছে একটি কিতাব নাযিল করবেন। তারা তো মূসার কাছে এর চেয়েও বড় আবদার করেছিল। তারা বলেছিল: আমাদের প্রকাশ্যে আল্লাহকে দেখাও। ফলে তাদের ধৃষ্টতার দরুন বজ্রপাত তাদের পাকড়াও করেছিল} [সূরা আন-নিসা ৪: আয়াত ১৫৩]।

যদি প্রকৃতপক্ষে আল্লাহ তায়ালা দৃশ্যমান হওয়া সম্ভব হতো এবং কোনো ইন্দ্রিয়ের মাধ্যমে তাঁর উপলব্ধি সম্ভব হতো, আর এটি যদি তাঁর জন্য বৈধ হতো—তবে সেই সম্প্রদায় তো কেবল একটি সম্ভবপর বিষয়েরই প্রার্থনা করেছিল এবং তারা একটি প্রত্যাশিত বিষয়েরই আশা করেছিল। তবে কেন তিনি এমন রাগান্বিত হলেন, কেন তাদের এই প্রার্থনাকে এত গুরুতর মনে করলেন, কেন একে দৃষ্টান্ত হিসেবে পেশ করলেন এবং কেন একে রুবুবিয়াতের প্রতি ধৃষ্টতা ও অবজ্ঞা প্রদর্শনের চূড়ান্ত সীমা হিসেবে গণ্য করলেন … ?» বিতর্কের শেষ পর্যন্ত যা তিনি উল্লেখ করেছেন (২)।

আকিদাহ ও ফেরকা বিশেষজ্ঞ ওলামায়ে কেরাম মুতাযিলাদের বিশাল সংখ্যাগরিষ্ঠ অংশের পক্ষ থেকে দর্শনের অস্বীকৃতির নিরঙ্কুশ ঐকমত্যের কথা বর্ণনা করেছেন। শাহরাস্তানি বলেন:

«আর তারা চিরস্থায়ী আবাসে চর্মচক্ষুর সাহায্যে আল্লাহ তায়ালার দর্শনের অস্বীকৃতির বিষয়ে একমত হয়েছেন। সেইসাথে তাঁর থেকে সবদিক দিয়ে সাদৃশ্য অস্বীকার করার ব্যাপারেও—দিক, স্থান, রূপ, দেহ, সীমাবদ্ধতা, স্থানান্তর, বিলোপ, পরিবর্তন এবং প্রভাবিত হওয়া থেকে তিনি মুক্ত। তারা এই সংক্রান্ত রূপক আয়াতসমূহের ব্যাখ্যা (তাবীল) করাকে আবশ্যক করেছেন এবং এই পদ্ধতিটির নামকরণ করেছেন: তাওহীদ» (৩)।

--------------------------------------------

(১) «তাবাকাতুল ই’তিযাল ওয়া ফাদলুল মুতাযিলা» পৃ. ৩৪৬।

(২) «কিতাবুল মুয়াল্লিমীন ওয়া কিতাবুন ফির-রদ্দু আলাল মুশাব্বিহা»: ফুসুলুম মিন কিতাবিন ফির-রদ্দু আলাল মুশাব্বিহা: পৃ. ১১৭।

(৩) «আল-মিলাল ওয়ান নিহাল» পৃ. ৫৭।
(খণ্ড: ১) আল কুরআনিয়ূন, নাশআতুহুম - আকাইদুহুম - আদিল্লাতুহুম (পৃষ্ঠা: ৩৬)
وقد ذُكرَ أنّ مما يجمع فرق المعتزلة أمورٌ، «ومنها قولهم باستحالة رؤية الله عز وجل بالأبصار، وزعموا أنه لا يرى نفسَهُ، ولا يراه غيره، واختلفوا فيه: هل هو راءٍ لِغيره أم لا؟ فأجازه قوم منهم، وأباه قومٌ آخرونَ منهم» (1).

 

‌‌المطلب الثاني: رفضُ بعض أعلام المعتزلة لبعض الأحاديث الشريفة:

وأما أفرادُ رجالات المعتزلة فقد وردَ أنّ عَمْرَو بنَ عُبَيدٍ (2) سمعَ حديثَ عبد الله بن مسعود قال: حدثنا رسولُ الله صلى الله عليه وسلم وهو الصادق المصدوق: «إن خلق أحدِكُم يُجمَعُ في بطن أمه أربعين يوماً … » الحديثَ (3).

فقال: لو سمعتُ الأعمشَ (4) يقول هذا لقلتُ له: كذبتَ، ولو سمعتُ زَيْد بن وَهْبٍ (5) يقول ذلك لقلتُ له: كذبتَ، ولو سمعتُ ابن مَسعُودٍ يقول ذلك ما قبلتُه، ولو سمعتُ رسولَ الله صلى الله عليه وسلم يقول ذلك لرددتُه، ولو سمعتُ اللهَ يقول ذلك لقلتُ: ليس على هذا أخذتَ ميثاقنا (6).

--------------------------------------------

(1) «الفرق بين الفِرَق» ص 114.

(2) عمرو بن عبيد بن باب التيمي بالولاء، أبو عثمان البصري: شيخ المعتزلة في عصره، وأحد الزهاد المشهورين.

واشتهر بأخباره مع المنصور العباسي حتى قال المنصور: كلكم طالب صيد، غير عمرو بن عبيد. بل إنه رثاه، ولم يَرثِ خليفة مَن دونه سواه! له رسائلُ وخطب، ونُقلَتْ عنه أخبارٌ فيها بدعٌ كثيرة. توفي سنة (143 هـ).

يُنظر لترجمته: «فضل الاعتزال وطبقات المعتزلة» ص 242 - 248 ضمن الطبقة الرابعة منهم.

و«تهذيب الكمال» 22/ 123 - 135 الترجمة (4406)، «ميزان الاعتدال في نقد الرجال» 5/ 329 - 334 الترجمة (6410).

(3) أخرجه البخاري في «صحيحه» برقم (7454)، ومسلم في «صحيحه» برقم (6724)، وأحمد في «مسنده» برقم (3624).

(4) سليمان بن مهران الأسدي ولاءَ، الملقب بالأعمش تابعي ثقة. رأى أنس بن مالك وأبا بكرة الثقفي، أخرج له الجماعة، كان عالماً بالقرآن والحديث والفرائض، قال شعبة: ما شفاني أحد في الحديث ما شفاني الأعمش. توفي سنة (148 هـ).

يُنظر لترجمته: «تهذيب الكمال» للحافظ المزي 12/ 76 - 91 الترجمة (2570).

(5) زيد بن وهب الجهني أبو سليمان الكوفي، تابعيٌّ ثقة، أدرك زمن النبي صلى الله عليه وسلم وهاجر إليه ولم يدركه حديث عن كثيرٍ من الصحابة. روى له الجماعة. توفي سنة (96 هـ).

يُنظر لترجمته: «تهذيب الكمال» للحافظ المزي 10/ 111 - 114 الترجمة (2131).

(6) «تهذيب الكمال» للحافظ المزي 22/ 129، «ميزان الاعتدال» للذهبي 5/ 333.
বর্ণিত হয়েছে যে, মুতাজিলা সম্প্রদায়ের বিভিন্ন উপদলকে কতিপয় বিষয় ঐক্যবদ্ধ করে, «এবং তার মধ্যে অন্যতম হলো তাদের এই বক্তব্য যে, চর্মচক্ষুর মাধ্যমে মহান আল্লাহকে দেখা অসম্ভব। তারা দাবি করে যে, তিনি স্বয়ং নিজেকে দেখেন না এবং অন্য কেউও তাঁকে দেখে না। তবে তিনি অন্যকে দেখেন কি না, সে বিষয়ে তারা মতভেদ করেছেন; তাঁদের একদল এটি জায়েজ মনে করেছেন এবং অন্য দল তা অস্বীকার করেছেন» (১)।

 

‌‌দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ: মুতাজিলাদের কতিপয় ইমাম কর্তৃক কিছু হাদিস প্রত্যাখ্যান:

আর মুতাজিলাদের ব্যক্তিবর্গের ক্ষেত্রে বর্ণিত হয়েছে যে, আমর ইবনে উবাইদ (২) আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদের বর্ণিত একটি হাদিস শুনলেন, যাতে তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম—যিনি সত্যবাদী ও সত্যপ্রত্যাদেশপ্রাপ্ত—আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন: «নিশ্চয়ই তোমাদের প্রত্যেকের সৃষ্টির উপাদান তার মায়ের পেটে চল্লিশ দিন পর্যন্ত জমা রাখা হয় … » হাদিস (৩)।

তখন তিনি বললেন: যদি আমি আ’মাশকে (৪) এটি বলতে শুনতাম, তবে অবশ্যই তাকে বলতাম: তুমি মিথ্যা বলেছ। যদি আমি যায়িদ ইবনে ওয়াহাবকে (৫) তা বলতে শুনতাম, তবে অবশ্যই তাকে বলতাম: তুমি মিথ্যা বলেছ। যদি ইবনে মাসউদকে তা বলতে শুনতাম, তবে আমি তা গ্রহণ করতাম না। যদি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে তা বলতে শুনতাম, তবে আমি তা প্রত্যাখ্যান করতাম। আর যদি খোদ আল্লাহকে তা বলতে শুনতাম, তবে আমি বলতাম: আপনি এই বিষয়ের ওপর আমাদের থেকে অঙ্গীকার গ্রহণ করেননি (৬)।

--------------------------------------------

(১) «আল-ফারকু বাইনাল ফিরাক» পৃষ্ঠা ১১৪।

(২) আমর ইবনে উবাইদ ইবনে বাব আত-তাইমি আল-ওয়ালা, আবু উসমান আল-বাসরি: সমসাময়িক মুতাজিলাদের প্রধান শায়খ এবং প্রসিদ্ধ যাহিদদের (সংসারত্যাগী) একজন।

তিনি আব্বাসীয় খলিফা মানসুরের সাথে তাঁর সুসম্পর্কের জন্য পরিচিত ছিলেন, এমনকি মানসুর বলেছিলেন: তোমরা সবাই শিকারের অন্বেষী, আমর ইবনে উবাইদ ব্যতীত। এমনকি তিনি তাঁর জন্য শোকগাথা রচনা করেছিলেন, অথচ তিনি অন্য কোনো খলিফার জন্য এমনটি করেননি! তাঁর বেশ কিছু পত্র ও ভাষণ রয়েছে এবং তাঁর থেকে এমন কিছু বর্ণনা পাওয়া যায় যাতে প্রচুর বিদআত বিদ্যমান। তিনি ১৪৩ হিজরিতে মৃত্যুবরণ করেন।

তাঁর জীবনবৃত্তান্তের জন্য দেখুন: «ফাদলুল ইতিজাল ওয়া তাবাকাতুল মুতাজিলা» পৃষ্ঠা ২৪২ - ২৪৮, চতুর্থ স্তরের অন্তর্ভুক্ত।

এবং «তাহযিবুল কামাল» ২২/ ১২৩ - ১৩৫ জীবনী নং (৪৪০৬), «মিযানুল ইতিদাল ফি নাকদির রিজাল» ৫/ ৩২৯ - ৩৩৪ জীবনী নং (৬৪১০)।

(৩) বুখারি তাঁর «সহিহ» গ্রন্থে হাদিস নং (৭৪৫৪), মুসলিম তাঁর «সহিহ» গ্রন্থে হাদিস নং (৬৭২৪) এবং আহমাদ তাঁর «মুসনাদ» গ্রন্থে হাদিস নং (৩৬২৪) এ এটি বর্ণনা করেছেন।

(৪) সুলাইমান ইবনে মিহরান আল-আসাদি আল-ওয়ালা, আল-আ’মাশ উপাধিতে পরিচিত, একজন নির্ভরযোগ্য তাবেয়ি। তিনি আনাস ইবনে মালিক ও আবু বাকরাহ আস-সাকাফিকে দেখেছেন। জামাআত (ছয়টি প্রধান হাদিস গ্রন্থকার) তাঁর থেকে হাদিস বর্ণনা করেছেন। তিনি কুরআন, হাদিস ও ফারায়েজ (উত্তরাধিকার আইন) শাস্ত্রে বিজ্ঞ ছিলেন। শু’বাহ বলেন: আ’মাশ আমাকে হাদিসের ক্ষেত্রে যতটা তৃপ্ত করেছেন, অন্য কেউ তা করতে পারেনি। তিনি ১৪৮ হিজরিতে মৃত্যুবরণ করেন।

জীবনবৃত্তান্তের জন্য দেখুন: হাফেজ মিজ্জি রচিত «তাহযিবুল কামাল» ১২/ ৭৬ - ৯১ জীবনী নং (২৫৭০)।

(৫) যায়িদ ইবনে ওয়াহাব আল-জুহানি আবু সুলাইমান আল-কুফি, একজন নির্ভরযোগ্য তাবেয়ি। তিনি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সময়কাল পেয়েছিলেন এবং তাঁর কাছে হিজরত করেছিলেন কিন্তু তাঁর সাথে সাক্ষাৎ হয়নি। অনেক সাহাবির সূত্রে তাঁর বর্ণনা রয়েছে। জামাআত তাঁর থেকে হাদিস বর্ণনা করেছেন। তিনি ৯৬ হিজরিতে মৃত্যুবরণ করেন।

জীবনবৃত্তান্তের জন্য দেখুন: হাফেজ মিজ্জি রচিত «তাহযিবুল কামাল» ১০/ ১১১ - ১১৪ জীবনী নং (২১৩১)।

(৬) হাফেজ মিজ্জি রচিত «তাহযিবুল কামাল» ২২/ ১২৯, যাহাবি রচিত «মিযানুল ইতিদাল» ৫/ ৩৩৩।