(খণ্ড: ১) নাযমু উলূমিল হাদীস = আকসিল আমালি ওয়াস সূল ফি ইলমি হাদীসির রাসূল (পৃষ্ঠা: -)
نظم علوم الحديث = أقصى الأمل والسول في علم حديث الرسول   (شهاب الدين الخويي)

القسم: علوم الحديث


الكتاب: نَظْم علوم الحديث المُسماة: «أقصى الأمل والسُّول في علم حديث الرسول صلى الله عليه وسلم»

المؤلف: شهاب الدين محمد بن أحمد الخُوَيِّي الشافعي (المتوفى 693 هـ)

دراسة وتحقيق: نواف عباس حبيب المناور

أطروحة: مقدمة لكلية الدراسات العُليا لاستيفاء جزء من متطلبات درجة الماجستير في: برنامج الحديث الشريف وعلومه - الكويت، يونيو 2015

تحت إشراف: د. حامد حمد العلي

عدد الصفحات: 419

تاريخ النشر بالشاملة: 24 شعبان 1438

হাদিস বিজ্ঞানের পদ্যরূপ = আকসাল আমাল ওয়াস সুউল ফি ইলমি হাদিসির রাসূল   (শিহাব উদ্দিন আল-খুওয়ায়্যী)

বিভাগ: হাদিস বিজ্ঞান (علوم الحديث)


গ্রন্থ: হাদিস বিজ্ঞানের পদ্যরূপ, যার নাম: «আকসাল আমাল ওয়াস সুউল ফি ইলমি হাদিসির রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম»

লেখক: শিহাব উদ্দিন মুহাম্মদ ইবনে আহমদ আল-খুওয়ায়্যী আশ-শাফিঈ (মৃত্যু ৬৯৩ হিজরি)

গবেষণা ও সম্পাদনা: নাওয়াফ আব্বাস হাবিব আল-মুনাওয়ার

থিসিস: হাদিস শরিফ ও এর বিজ্ঞান (علوم الحديث) প্রোগ্রামে মাস্টার্স ডিগ্রির আংশিক প্রয়োজনীয়তা পূরণের লক্ষ্যে উচ্চতর শিক্ষা অনুষদে উপস্থাপিত: কুয়েত، জুন ২০১৫

তত্ত্বাবধানে: ড. হামিদ হামাদ আল-আলি

পৃষ্ঠা সংখ্যা: ৪১৯

শামেলা প্রকাশনার তারিখ: ২৪ শাবান ১৪৩৮

(খণ্ড: ১) নাযমু উলূমিল হাদীস = আকসিল আমালি ওয়াস সূল ফি ইলমি হাদীসির রাসূল (পৃষ্ঠা: -)
جامعة الكويت

 

كتاب: نَظْم علوم الحديث

تأليف: شهاب الدين محمد بن أحمد الخُوَيِّي الشافعي (المتوفى 693 هـ)

المُسماة: "أقصى الأمل والسُّول في علم حديث الرسول صلى الله عليه وسلم"

 

دراسة وتحقيق: نواف عباس حبيب المناور

 

أطروحة مقدمة لكلية الدراسات العُليا لاستيفاء جزء من متطلبات درجة الماجستير في: برنامج الحديث الشريف وعلومه

تحت إشراف

د. حامد حمد العلي

الكويت

يونيو 2015
কুয়েত বিশ্ববিদ্যালয়

 

গ্রন্থ: নাজমুল উলুমিল হাদিস (হাদিস বিজ্ঞানের (علوم الحديث) কাব্যরূপ)

রচনা: শিহাবুদ্দিন মুহাম্মদ ইবনে আহমদ আল-খুওয়ায়্যি আশ-শাফিঈ (মৃত্যু ৬৯৩ হিজরি)

নামকরণকৃত: "আকসাল আমাল ওয়াস সুল ফি ইলমি হাদিসির রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম"

 

গবেষণা ও সম্পাদনা (تحقيق): নাওয়াফ আব্বাস হাবিব আল-মুনাওয়ার

 

হাদিস শরিফ ও এর সংশ্লিষ্ট বিজ্ঞান (علوم الحديث) প্রোগ্রামে মাস্টার্স ডিগ্রির প্রয়োজনীয় শর্তাবলির অংশ বিশেষ পূরণের লক্ষ্যে উচ্চতর শিক্ষা অনুষদে পেশকৃত একটি থিসিস

তত্ত্বাবধানে

ড. হামিদ হামাদ আল-আলি

কুয়েত

জুন ২০১৫
(খণ্ড: ১) নাযমু উলূমিল হাদীস = আকসিল আমালি ওয়াস সূল ফি ইলমি হাদীসির রাসূল (পৃষ্ঠা: -)
© 2015

جميع الحقوق محفوظة
© 2015

সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত
(খণ্ড: ১) নাযমু উলূমিল হাদীস = আকসিল আমালি ওয়াস সূল ফি ইলমি হাদীসির রাসূল (পৃষ্ঠা: -)
-[الملخص]-

 

أقصد من خلال هذه الدراسة المساهمة في دراسة وتحقيق ونشر التراث الإسلامي الزاخر الذي لم يرَ كثيرٌ منه النورَ حتى الآن (1).

ومن تلك المخطوطات المهمة ما ألّفه العلّامة محمد بن أحمد بن خليل بن سعادة بن جعفر، شهاب الدين أبو عبدالله الخُويي الشافعي، قاضي دمشق وابن قاضيها (توفي 693 هـ) في مصطلح علوم الحديث؛ حيث نظم المقدمة الشهيرة في علوم الحديث لشيخه عثمان بن عبد الرحمن الكردي الشهرزوري الحافظ تقي الدين أبو عمرو المعروف بابن الصلاح الشافعي الدمشقي صاحب كتاب علوم الحديث (توفي 643 هـ)، نظمها في 1610 أبيات على بحر الرَّجَز، ولا يُعرف أحد سبقه في نظمها -فيما أعلم-، ثم تتابع العلماء من بعده على نظم تلك المقدمة.

وقيمة هذا النظم من قيمة مؤلفه، حيث قال عنه الذهبي: "كان من أعلم أهل زمانه وأكثرهم تفننا وأحسنهم تصنيفا وأحلاهم مجالسة". (2)

وقال ابن كثير: "كان من حسنات الزمان وأكابر الأعلام عفيفا نزيها بارعا محبا للحديث وعلمه وعلمائه". (3)

وقد انتظم هذا البحث في مقدمة وقسم لدراسة المخطوط ومقدمات علم مصطلح الحديث ونظمه حيث يشتمل على بابَيْنِ وفصول ومباحث ومطالب، وقسم للنص المحقق مع تصحيحه والتعليق عليه بما يلزم. (4)

--------------------------------------------

(1) انظر: لمحات في المكتبة والبحث والمصادر، للدكتور محمد عجاج الخطيب، ص 54، بيروت، مؤسسة الرسالة، الطبعة الرابعة والعشرون، 1426 هـ - 2005 م.

وانظر: تاريخ تدوين السنة وشبهات المستشرقين، للدكتور حاكم المطيري، ص 112، الكويت، جامعة الكويت مجلس النشر العلمي 2002.

(2) تاريخ الإسلام ووفيات المشاهير والأعلام، لأبي عبد الله محمد بن أحمد بن عثمان الذهبي (ت 748 هـ)، تحقيق: الدكتور بشار عواد معروف، بيروت، دار الغرب الإسلامي، الطبعة الأولى 1424 - 2003 (15/ 771)

(3) طبقات الفقهاء الشافعيين، لأبي الفداء إسماعيل بن عمر بن كثير (ت 774 هـ) تحقيق: الدكتور أحمد عمر هاشم - الدكتور محمد غرب، مصر - بور سعيد، مكتبة الثقافة الدينية، طبعة 1413 - 1993 (2/ 945)

(4) سيأتي بيان خطة البحث بالتفصيل في المقدمة.
-[সারসংক্ষেপ]-

 

এই গবেষণার মাধ্যমে আমার উদ্দেশ্য হলো সমৃদ্ধ ইসলামী ঐতিহ্যের অধ্যয়ন, সম্পাদনা এবং প্রসারে অবদান রাখা, যার একটি বড় অংশ এখন পর্যন্ত আলোর মুখ দেখেনি (১)।

সেই গুরুত্বপূর্ণ পাণ্ডুলিপিগুলোর মধ্যে একটি হলো আল্লামা মুহাম্মদ বিন আহমদ বিন খলিল বিন সায়াদাহ বিন জাফর, শিহাবুদ্দীন আবু আবদুল্লাহ আল-খুয়ি আশ-শাফিঈ, দামেস্কের প্রধান বিচারক এবং প্রধান বিচারকের পুত্র (মৃত্যু ৬৯৩ হিজরি) কর্তৃক হাদিস শাস্ত্রের পরিভাষা (مصطلح علوم الحديث) বিষয়ে রচিত গ্রন্থ; যেখানে তিনি তার শিক্ষক হাফেজ (الحافظ) তাকিউদ্দিন আবু আমর উসমান বিন আবদুর রহমান আল-কুর্দি আশ-শাহরাজুরি—যিনি ইবনুস সালাহ আশ-শাফিঈ আদ-দামেশকি নামে পরিচিত এবং 'উলূমুল হাদিস' গ্রন্থের রচয়িতা (মৃত্যু ৬৪৩ হিজরি)—তার হাদিস বিজ্ঞানের ওপর রচিত বিখ্যাত 'মুকাদ্দিমাহ' বা ভূমিকা গ্রন্থটিকে কাব্যাকারে বিন্যস্ত করেছেন। তিনি এটি ১৬১০টি পংক্তিতে 'রজজ' ছন্দে রচনা করেছেন এবং আমার জানামতে, এই গ্রন্থটি কাব্যাকারে সংকলনে তার আগে কেউ অগ্রসর হননি। পরবর্তীতে অন্যান্য ওলামায়ে কেরাম এই ভূমিকা গ্রন্থটি কাব্যাকারে সংকলনের ধারা অব্যাহত রাখেন।

এই কাব্যগ্রন্থের গুরুত্ব এর লেখকের যোগ্যতার প্রতিফলন, যার সম্পর্কে ইমাম যাহাবি বলেছেন: "তিনি ছিলেন তার সময়ের অন্যতম শ্রেষ্ঠ আলেম, বহুমুখী প্রতিভাধর, চমৎকার গ্রন্থ প্রণেতা এবং অত্যন্ত মনোরম মজলিসি ব্যক্তিত্ব।" (২)

ইবনে কাসির বলেছেন: "তিনি ছিলেন যুগের অন্যতম শ্রেষ্ঠ সজ্জা এবং মহান ইমামদের অন্তর্ভুক্ত; তিনি ছিলেন চরিত্রবান, পবিত্র, অত্যন্ত দক্ষ এবং হাদিস, হাদিস শাস্ত্র ও হাদিস বিশারদদের প্রতি অনুরাগী।" (৩)

এই গবেষণাটি একটি ভূমিকা এবং পাণ্ডুলিপি অধ্যয়ন ও হাদিস শাস্ত্রের পরিভাষা (مصطلح الحديث) ও এর কাব্যরূপের ভূমিকার সমন্বয়ে বিন্যস্ত হয়েছে, যা দুটি অধ্যায়, বিভিন্ন পরিচ্ছেদ ও উপ-পরিচ্ছেদে বিভক্ত। এ ছাড়াও এতে পাণ্ডুলিপির সম্পাদিত মূল পাঠের সাথে এর প্রয়োজনীয় সংশোধন ও টীকা সম্বলিত একটি অংশ রয়েছে। (৪)

--------------------------------------------

(১) দেখুন: 'লামহাত ফিল মাকতাবাহ ওয়াল বাহস ওয়াল মাসাদির', ড. মুহাম্মদ আজজাজ আল-খতিব, পৃ. ৫৪, বৈরুত, মুয়াসসাসাতুর রিসালাহ, ২৪তম সংস্করণ, ১৪২৬ হিজরি - ২০০৫ খ্রিস্টাব্দ।

আরও দেখুন: 'তারিখু তাদওয়িনিস সুন্নাহ ওয়া শুবহাতুল মুস্তাশরিকিন', ড. হাকিম আল-মুতাইরি, পৃ. ১১২, কুয়েত, কুয়েত বিশ্ববিদ্যালয় বৈজ্ঞানিক প্রকাশনা কাউন্সিল ২০০২।

(২) 'তারিখুল ইসলাম ওয়া ওয়াফায়াতুল মাশাহির ওয়াল আলাম', আবু আবদুল্লাহ মুহাম্মদ বিন আহমদ বিন উসমান আদ-যাহাবি (মৃত্যু ৭৪৮ হিজরি), সম্পাদনা: ড. বাশার আওয়াদ মারুফ, বৈরুত, দারুল গারব আল-ইসলামি, প্রথম সংস্করণ ১৪২৪ - ২০০৩ (১৫/৭৭১)।

(৩) 'তাবাকাতুল ফুকাহা আশ-শাফিঈয়িন', আবুল ফিদা ইসমাইল বিন উমর বিন কাসির (মৃত্যু ৭৭৪ হিজরি), সম্পাদনা: ড. আহমদ উমর হাশেম - ড. মুহাম্মদ গারব, মিশর - পোর্ট সাইদ, মাকতাবাতুস সাকাফাহ আদ-দিনিয়্যাহ, সংস্করণ ১৪১৩ - ১৯৯৩ (২/৯৪৫)।

(৪) গবেষণা পরিকল্পনার বিস্তারিত বিবরণ সামনে ভূমিকায় উল্লেখ করা হবে।
(খণ্ড: ১) নাযমু উলূমিল হাদীস = আকসিল আমালি ওয়াস সূল ফি ইলমি হাদীসির রাসূল (পৃষ্ঠা: -)
-[شكر وتقدير]-

 

لا يفوتني في هذا المقام، أن أحمد الله على أن تمم هذا البحث، وأشكر جامعة الكويت عموماً وكلية الشريعة خصوصاً، والعاملين فيها، حيث أتاحوا لي فرصة الدراسة والبحث والتحصيل، فلهم مني خالص الشكر والتقدير.

وأشكر كل من ساعدني في إتمام هذا البحث بالتحديد سواء بالنصيحة القولية أو بالجهد الفعلي من أساتذتي، وفي مقدمتهم أستاذي وشيخي الدكتور/ حامد بن حمد العلي، فجزاه الله خيراً لإشرافه على رسالتي وما بذل من وقته وأرشد ونصح وصبر، كذلك أشكر الدكتور طارق الطوراي والدكتور عادل الدمخي على تفضلهما بمناقشتي.

وكذلك أتقدم بالشكر لكل من قدم مساهمة في هذا البحث من خارج أسرة الجامعة، والحمد لله الذي بنعمته تتم الصالحات، وصلى الله على سيدنا محمد وعلى آله وصحبه أجمعين.
-[কৃতজ্ঞতা ও ধন্যবাদ]-

 

এই পর্যায়ে, এই গবেষণাটি সম্পন্ন করার তৌফিক দান করায় মহান আল্লাহর প্রশংসা করতে আমি ভুলছি না। আমি কুয়েত বিশ্ববিদ্যালয়, বিশেষ করে শরীআহ অনুষদ এবং এর সাথে সংশ্লিষ্ট সকলকে ধন্যবাদ জানাচ্ছি; তাঁরা আমাকে পড়াশোনা, গবেষণা ও জ্ঞান অর্জনের সুযোগ করে দিয়েছেন, সেজন্য তাঁদের প্রতি আমার আন্তরিক কৃতজ্ঞতা ও শ্রদ্ধা রইল।

আমার এই গবেষণাটি সুনির্দিষ্টভাবে সম্পন্ন করতে যারা আমাকে মৌখিক পরামর্শ কিংবা বাস্তব শ্রমের মাধ্যমে সহযোগিতা করেছেন, আমি আমার সেই সকল শিক্ষকদের ধন্যবাদ জানাচ্ছি। তাঁদের অগ্রভাগে রয়েছেন আমার শ্রদ্ধেয় উস্তাদ ও শাইখ ডক্টর হামিদ বিন হামদ আল-আলী। আমার এই গবেষণাপত্রটি তত্ত্বাবধানের ক্ষেত্রে তিনি যে মূল্যবান সময় ব্যয় করেছেন এবং যে দিকনির্দেশনা, উপদেশ ও ধৈর্য প্রদর্শন করেছেন, সেজন্য আল্লাহ তাঁকে উত্তম প্রতিদান দান করুন। পাশাপাশি, ডক্টর তারিক আল-তওয়ারী এবং ডক্টর আদিল আল-দামখী-কেও ধন্যবাদ জানাচ্ছি আমার গবেষণার মৌখিক পরীক্ষায় অংশগ্রহণের সদয় সম্মতির জন্য।

একইসাথে আমি বিশ্ববিদ্যালয়ের বাইরের সেই সকল ব্যক্তিদের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করছি যারা এই গবেষণায় অবদান রেখেছেন। সকল প্রশংসা আল্লাহর জন্য, যাঁর অনুগ্রহে সকল নেক কাজ সুসম্পন্ন হয়। আমাদের নেতা মুহাম্মদ এবং তাঁর পরিবারবর্গ ও সকল সহচরদের ওপর আল্লাহর রহমত ও শান্তি বর্ষিত হোক।
(খণ্ড: ১) নাযমু উলূমিল হাদীস = আকসিল আমালি ওয়াস সূল ফি ইলমি হাদীসির রাসূল (পৃষ্ঠা: ১)
المقدمة

 

الحمد لله والصلاة والسلام على رسول الله وعلى آله وصحبه ومن اتبع هداه.

{يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا اتَّقُوا اللَّهَ حَقَّ تُقَاتِهِ وَلَا تَمُوتُنَّ إِلَّا وَأَنْتُمْ مُسْلِمُونَ} [سورة آل عمران الآية: 102]

{يَا أَيُّهَا النَّاسُ اتَّقُوا رَبَّكُمُ الَّذِي خَلَقَكُمْ مِنْ نَفْسٍ وَاحِدَةٍ وَخَلَقَ مِنْهَا زَوْجَهَا وَبَثَّ مِنْهُمَا رِجَالًا كَثِيرًا وَنِسَاءً وَاتَّقُوا اللَّهَ الَّذِي تَسَاءَلُونَ بِهِ وَالْأَرْحَامَ إِنَّ اللَّهَ كَانَ عَلَيْكُمْ رَقِيبًا} [سورة النساء الآية: 1]

{يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا اتَّقُوا اللَّهَ وَقُولُوا قَوْلًا سَدِيدًا (70) يُصْلِحْ لَكُمْ أَعْمَالَكُمْ وَيَغْفِرْ لَكُمْ ذُنُوبَكُمْ وَمَنْ يُطِعِ اللَّهَ وَرَسُولَهُ فَقَدْ فَازَ فَوْزًا عَظِيمًا} [سورة الأحزاب الآيتان: 70 - 71]

 

أما بعد ..

فإن الله تبارك وتعالى أنزل كتابه الحكيم هداية ونوراً يضيء للناس سبل السعادة والسلام في دنياهم وآخرتهم، وجعله معجزةً لرسوله محمد صلى الله عليه وسلم باقية إلى يوم الدين، ثم أعطاه السنة مفصِلة للكتاب وشارحة له، كما قال تعالى: {وَأَنْزَلْنَا إِلَيْكَ الذِّكْرَ لِتُبَيِّنَ لِلنَّاسِ مَا نُزِّلَ إِلَيْهِمْ وَلَعَلَّهُمْ يَتَفَكَّرُونَ} [سورة النحل الآية: 44]، أي: فتفصِّل لهم ما أجمل، وتبين لهم ما أشكل. (1)

ولذلك قال الإمام أبو عبد الله محمد بن إدريس الشافعي، رحمه الله: كل ما حكم به رسول الله صلى الله عليه وسلم فهو مما فهمه من القرآن؛ قال الله تعالى: {إِنَّا أَنْزَلْنَا إِلَيْكَ الْكِتَابَ بِالْحَقِّ لِتَحْكُمَ بَيْنَ النَّاسِ بِمَا أَرَاكَ اللَّهُ} [سورة النساء الآية: 105]. (2)

فصار الكتاب والسنة ركيزتا هذه الملة، حيث العقائد توجد فيهما، والأحكام تستنبط منهما، والاعتماد عند كل نازلةٍ وخلاف عليهما، كما قال تعالى: {فَإِنْ تَنَازَعْتُمْ فِي شَيْءٍ فَرُدُّوهُ إِلَى اللَّهِ وَالرَّسُولِ} [سورة النساء الآية: 59] أي: فردوه إلى كتابه، وإلى الرسول مدة حياته، وبعد مماته إلى سنته. (3)

فمن فجر الإسلام والمسلمون يهتمون بالوحيين اهتماماً فائقاً؛ لِما مَرَّ من النصوص، وغيرها في القرآن الكريم، ولِما أمرَ به رسول الله صلى الله عليه وسلم أُمَّتَهُ في سنته بذلك، فقال: "بَلِّغُوا عَنِّي وَلَوْ آيَةً". (4) والمراد: بلغوا عني كل ما جئت به، آية مثلاً أو حديثاً. (5)

--------------------------------------------

(1) تفسير القرآن العظيم، لأبي الفداء إسماعيل بن عمر بن كثير (ت 774 هـ) تحقيق: أبو إسحاق الحويني - أ. د. حكمت بن بشير بن ياسين، الدمام، دار ابن الجوزي، الطبعة الأولى 1434 (4/ 684)

(2) تفسير القرآن العظيم 1/ 5

(3) انظر: جامع البيان عن تأويل آي القرآن، لأبي جعفر محمد بن جرير الطبري (ت 310 هـ)، تحقيق: الدكتور عبد الله بن عبد المحسن التركي، القاهرة، دار هجر، الطبعة الأولى، 1422 - 2001 (7/ 175)

(4) أخرجه البخاري في كتاب: أحاديث الأنبياء، باب: ما ذكر عن بني إسرائيل، حديث: 3461.

(5) انظر: التنوير شرح الجامع الصغير، لمحمد بن إسماعيل الأمير الصنعاني (ت 1182 هـ)، تحقيق: الدكتور محمد إسحاق محمد إبراهيم، الرياض، مكتبة دار السلام، الطبعة الأولى 1432 - 2011 (4/ 560).
ভূমিকা

 

সকল প্রশংসা আল্লাহর জন্য এবং সালাত ও সালাম বর্ষিত হোক আল্লাহর রাসুলের ওপর, তাঁর পরিবার-পরিজন, সাহাবীবর্গ এবং যারা তাঁর হেদায়েতের অনুসরণ করেছে তাদের ওপর।

{হে ঈমানদারগণ! তোমরা আল্লাহকে যথাযথভাবে ভয় করো এবং মুসলিম না হয়ে মৃত্যুবরণ করো না।} [সূরা আল-ইমরান, আয়াত: ১০২]

{হে মানবজাতি! তোমরা তোমাদের সেই রবকে ভয় করো, যিনি তোমাদেরকে সৃষ্টি করেছেন এক সত্তা থেকে এবং তা থেকে সৃষ্টি করেছেন তার জোড়া, আর তাদের উভয় থেকে ছড়িয়ে দিয়েছেন বহু পুরুষ ও নারী। আর আল্লাহকে ভয় করো, যাঁর দোহাই দিয়ে তোমরা একে অপরের কাছে কিছু চেয়ে থাকো এবং রক্ত সম্পর্কীয় আত্মীয়তার বন্ধন ছিন্ন করা থেকে সতর্ক থাকো। নিশ্চয়ই আল্লাহ তোমাদের ওপর তীক্ষ্ণ নজর রাখেন।} [সূরা আন-নিসা, আয়াত: ১]

{হে ঈমানদারগণ! তোমরা আল্লাহকে ভয় করো এবং সঠিক কথা বলো। (৭০) তিনি তোমাদের আমলসমূহ সংশোধন করে দেবেন এবং তোমাদের পাপসমূহ ক্ষমা করবেন। আর যে ব্যক্তি আল্লাহ ও তাঁর রাসুলের আনুগত্য করে, সে মহা সাফল্য লাভ করবে।} [সূরা আল-আহযাব, আয়াত: ৭০ - ৭১]

 

অতঃপর ..

নিশ্চয়ই আল্লাহ তাবারাকা ওয়া তায়ালা তাঁর হিকমতপূর্ণ কিতাবকে হেদায়েত ও নূর হিসেবে অবতীর্ণ করেছেন যা মানুষের দুনিয়া ও আখেরাতের সুখ ও শান্তির পথকে আলোকিত করে। তিনি একে তাঁর রাসুল মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর জন্য কিয়ামত পর্যন্ত স্থায়ী এক মুজিজা হিসেবে নির্ধারণ করেছেন। অতঃপর তিনি তাঁকে কিতাবের বিস্তারিত বর্ণনাকারী ও ব্যাখ্যা প্রদানকারী হিসেবে সুন্নাহ প্রদান করেছেন। যেমনটি মহান আল্লাহ ইরশাদ করেছেন: {আর আমি আপনার প্রতি যিকির (কুরআন) অবতীর্ণ করেছি যাতে আপনি মানুষের জন্য তা স্পষ্ট করে বুঝিয়ে দেন যা তাদের প্রতি নাযিল করা হয়েছে এবং যাতে তারা চিন্তা-গবেষণা করে।} [সূরা আন-নাহল, আয়াত: ৪৪]। অর্থাৎ: আপনি তাদের জন্য সংক্ষিপ্ত বিষয়গুলোর বিস্তারিত বর্ণনা দেবেন এবং অস্পষ্ট বিষয়গুলো স্পষ্ট করে দেবেন। (১)

এ কারণেই ইমাম আবু আবদুল্লাহ মুহাম্মদ বিন ইদরিস আশ-শাফিঈ (রহিমাহুল্লাহ) বলেছেন: রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যা কিছু ফয়সালা করেছেন তা তিনি কুরআন থেকেই বুঝেছেন। মহান আল্লাহ ইরশাদ করেছেন: {নিশ্চয়ই আমি আপনার প্রতি যথাযথভাবে কিতাব অবতীর্ণ করেছি যাতে আপনি মানুষের মধ্যে সেই অনুযায়ী ফয়সালা করেন যা আল্লাহ আপনাকে দেখিয়েছেন।} [সূরা আন-নিসা, আয়াত: ১০৫]। (২)

ফলে কিতাব ও সুন্নাহ এই মিল্লাতের দুটি স্তম্ভে পরিণত হয়েছে, যেখানে আকাইদ (বিশ্বাসমালা) বিদ্যমান এবং এ দুটি থেকেই বিধানসমূহ (أحكام) আহরণ (استنباط) করা হয়। যে কোনো উদ্ভূত পরিস্থিতি ও মতভেদের সময় এ দুটির ওপরই নির্ভর করা হয়, যেমনটি মহান আল্লাহ ইরশাদ করেছেন: {অতঃপর যদি তোমরা কোনো বিষয়ে বিবাদে লিপ্ত হও, তবে তা আল্লাহ ও রাসুলের দিকে ফিরিয়ে দাও।} [সূরা আন-নিসা, আয়াত: ৫৯]। অর্থাৎ: আল্লাহর কিতাবের দিকে এবং রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর জীবদ্দশায় তাঁর দিকে এবং তাঁর মৃত্যুর পর তাঁর সুন্নাহর দিকে ফিরিয়ে দাও। (৩)

ইসলামের সূচনালগ্ন থেকেই মুসলিমগণ এই উভয় ওহীর প্রতি অত্যন্ত গুরুত্বারোপ করে আসছেন; যা ইতিপূর্বে উল্লিখিত অকাট্য প্রমাণাদি (نصوص) ও কুরআনের অন্যান্য আয়াতের কারণে এবং রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর সুন্নাহর মাধ্যমে উম্মতকে যে নির্দেশ দিয়েছেন তার প্রেক্ষিতে। তিনি বলেছেন: "আমার পক্ষ থেকে পৌঁছে দাও, যদিও তা একটি আয়াত হয়।" (৪) এর অর্থ হলো: আমি যা কিছু নিয়ে এসেছি তার সবকিছুই আমার পক্ষ থেকে পৌঁছে দাও, চাই তা একটি আয়াত হোক কিংবা একটি হাদিস। (৫)

--------------------------------------------

(১) তাফসীরুল কুরআনিল আযীম, আবু আল-ফিদা ইসমাইল বিন উমর বিন কাসীর (মৃত্যু ৭৭৪ হিজরি), তাহকীক: আবু ইসহাক আল-হুয়াইনি - প্রফেসর ড. হিকমত বিন বাশীর বিন ইয়াসিন, দাম্মাম, দার ইবনিল জাওযি, প্রথম সংস্করণ ১৪৩৪ (৪/ ৬৮৪)

(২) তাফসীরুল কুরআনিল আযীম ১/ ৫

(৩) দেখুন: জামিউল বয়ান আন তাবীলি আয়িল কুরআন, আবু জাফর মুহাম্মদ বিন জারীর আত-তাবারী (মৃত্যু ৩১০ হিজরি), তাহকীক: ড. আবদুল্লাহ বিন আব্দুল মুহসিন আত-তুর্কী, কায়রো, দারু হাজার, প্রথম সংস্করণ, ১৪২২ - ২০০১ (৭/ ১৭৫)

(৪) ইমাম বুখারি এটি বর্ণনা (أخرجه) করেছেন ‘আহাদিসুল আম্বিয়া’ অধ্যায়ে, অনুচ্ছেদ: বনী ইসরাঈল সম্পর্কে যা বর্ণিত হয়েছে, হাদিস নম্বর: ৩৪۶১।

(৫) দেখুন: আত-তানভীর শারহুল জামিউস সাগীর, মুহাম্মদ বিন ইসমাইল আল-আমীর আস-সানআনী (মৃত্যু ১১৮২ হিজরি), তাহকীক: ড. মুহাম্মদ ইসহাক মুহাম্মদ ইব্রাহীম, রিয়াদ, মাকতাবাতু দারিস সালাম, প্রথম সংস্করণ ১৪৩২ - ২০১১ (৪/ ৫৬০)।
(খণ্ড: ১) নাযমু উলূমিল হাদীস = আকসিল আমালি ওয়াস সূল ফি ইলমি হাদীসির রাসূল (পৃষ্ঠা: ২)
فأما القرآن فقد تكفَّل الله عز وجل بحفظه من التبديل والزيادة والنقصان؛ كما قال تعالى: {إِنَّا نَحْنُ نَزَّلْنَا الذِّكْرَ وَإِنَّا لَهُ لَحَافِظُونَ} [سورة الحجر الآية: 9]، فتولى سبحانه حفظه فلم يزل محفوظاً. (1)

وأما الحديث فحفظه موكولٌ بهذه الأمة؛ "لذلك عنيت الأمة الإسلامية بالحديث النبوي، فأوعته حوافظها الفذة، وبذلت من أجله أعظم الجهد، وحاز حديث النبي صلى الله عليه وسلم من الوقاية والمحافظة ما لم يكن قط لحديث نبي من الأنبياء، فقد نقل لنا الرواة أقوال الرسول صلى الله عليه وسلم في الشؤون كلها العظيمة واليسيرة، بل في الجزئيات التي قد يتوهم أنها ليست موضع اهتمام، فنقلوا تفاصيل أحواله صلى الله عليه وسلم في طعامه وشرابه ويقظته ومنامه وقيامه وقعوده، حتى ليدرك من يتتبع كتب السنة أنها ما تركت شيئا صدر عنه صلى الله عليه وسلم إلا روته ونقلته". (2)

ثم وضع المسلمون للرواية قوانين تحقق ضبط الراوي للحديث، وتكلموا في الرجال، وذلك ليتميز المقبول فيعمل به، من غير المقبول، ومن هنا نشأ "علم مصطلح الحديث". (3)

وتطورت قواعد هذا العلم على مر السنين، فانتقل من كونه قواعد شفوية إلى مسائل ضمن المصنفات إلى كتبٍ مستقلة، إلى نضوج هذا العلم على زمن أبي عمرو ابن الصلاح (ت 643 هـ).

فألف كتابه المشهور "علوم الحديث" المعروف بمقدمة ابن الصلاح، فصار هذا الكتاب قطب رحى علم المصطلح، والناس في فلكه يدورون؛ شرحاً واختصاراً ونظماً ونقداً.

وممن أدلى بدلوه في هذا، تلميذ ابن الصلاح الإمام القاضي شهاب الدين أبو عبد الله محمد بن أحمد بن الخليل الخُوَيِّي الشافعي (ت 693 هـ)، فقد نظم كتاب شيخه في ألفيَّة ليختصره (4).

ولا تزال الأمة الإسلامية تعتني بحديث النبي صلى الله عليه وسلم من جميع جوانبه، إلى زماننا هذا؛ إضافةً وابتكاراً وشرحاً واختصاراً، ويدخل ضمن خدمة الحديث النبوي، إخراج التراث الإسلامي المخطوط القابع في ظلمات الخزائن التراثية تعلوه رمال السنين، لذلك حرصت بعض الجامعات على

--------------------------------------------

(1) الجامع لأحكام القرآن، لأبي عبد الله محمد بن أحمد القرطبي (ت 671 هـ)، بيروت، دار الكتب العلمية، 1413 - 1993 (10/ 5)

(2) منهج النقد في علوم الحديث، للدكتور نور الدين عتر، دمشق: دار الفكر - بيروت: دار الفكر المعاصر، الطبعة الحادية والثلاثون 1431 - 2010 ص 24

(3) انظر: المصدر نفسه ص 26

(4) كما أشار الناظم نفسُه في نظمه: وقد نظمتُ لُبّه مختصرا … لا مُسهب اللفظ ولا مقتصراً
কুরআনের ক্ষেত্রে মহান আল্লাহ তাআলা একে পরিবর্তন, পরিবর্ধন ও পরিমার্জন থেকে হেফাজত করার জিম্মাদারি গ্রহণ করেছেন; যেমনটি মহান আল্লাহ বলেছেন: {নিশ্চয় আমিই এই স্মরণিকা অবতীর্ণ করেছি এবং আমিই এর হেফাজতকারী} [সূরা আল-হিজর, আয়াত: ৯]। সুতরাং আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআলা স্বয়ং এর সংরক্ষণের দায়িত্ব গ্রহণ করেছেন, ফলে তা সর্বদা সংরক্ষিত রয়েছে। (১)

আর হাদিসের ক্ষেত্রে, তা সংরক্ষণের দায়িত্ব এই উম্মতের ওপর অর্পণ করা হয়েছে; "এই কারণেই মুসলিম উম্মাহ মহানবীর হাদিসের প্রতি বিশেষ যত্ন প্রদান করেছে এবং তাদের অসাধারণ স্মৃতিশক্তি একে ধারণ করেছে। এর জন্য তারা সর্বোচ্চ প্রচেষ্টা ব্যয় করেছে। মহানবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের হাদিস যে পরিমাণ সুরক্ষা ও সংরক্ষণ লাভ করেছে, তা অন্য কোনো নবীর বাণীর ক্ষেত্রে কখনোই ঘটেনি। বর্ণনাকারীরা (الرواة) রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের মহান থেকে ক্ষুদ্রাতিক্ষুদ্র সকল বিষয়ের বক্তব্য আমাদের নিকট পৌঁছে দিয়েছেন। এমনকি এমন সব খুঁটিনাটি বিষয়ও তারা বর্ণনা করেছেন যা হয়তো গুরুত্বহীন মনে হতে পারে। তাঁরা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের পানাহার, নিদ্রা-জাগরণ এবং উঠা-বসা সংক্রান্ত বিস্তারিত অবস্থা বর্ণনা করেছেন। এমনকি যারা সুন্নাহর কিতাবসমূহ পর্যালোচনাকারী তাদের নিকট এটি স্পষ্ট হয়ে উঠবে যে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে প্রকাশিত এমন কোনো বিষয় নেই যা তাঁরা বর্ণনা ও সংকলন করেননি।" (২)

অতঃপর মুসলিমরা হাদিস বর্ণনার (رواية) জন্য এমন কিছু নীতিমালা প্রণয়ন করেছেন যা বর্ণনাকারীর (الراوي) হাদিস সংরক্ষণের নির্ভুলতা (ضبط) নিশ্চিত করে। তারা বর্ণনাকারীদের (الرجال) সম্পর্কে পর্যালোচনা করেছেন, যাতে গ্রহণযোগ্য (مقبول) হাদিসকে অগ্রহণযোগ্য (غير مقبول) থেকে পৃথক করা যায় এবং সে অনুযায়ী আমল করা যায়। এখান থেকেই "হাদিস পরিভাষা শাস্ত্রের (علم مصطلح الحديث)" উদ্ভব হয়েছে। (৩)

কালক্রমে এই শাস্ত্রের নিয়মাবলি বিবর্তিত হয়েছে। এটি মৌখিক নিয়ম থেকে শুরু করে বিভিন্ন রচনার অন্তর্ভুক্ত মাসআলা হয়ে স্বতন্ত্র কিতাব হিসেবে রূপ লাভ করে এবং পরিশেষে আবু আমর ইবনুস সালাহ (মৃত্যু ৬৪৩ হি.)-এর যুগে এই ইলম পূর্ণতা লাভ করে।

তিনি তাঁর প্রসিদ্ধ কিতাব "উলূমুল হাদিস" রচনা করেন, যা 'মুকাদ্দিমাহ ইবনুস সালাহ' নামে পরিচিত। এই কিতাবটি হাদিস পরিভাষা শাস্ত্রের (علم المصطلح) মূলকেন্দ্রে পরিণত হয় এবং বিদ্বানগণ একে কেন্দ্র করেই আবর্তিত হতে থাকেন; কেউ এর ব্যাখ্যা (شرحاً), কেউ সংক্ষেপন (اختصاراً), কেউ কাব্যানুবাদ (نظماً) আবার কেউ এর সমালোচনা (نقداً) করেছেন।

এ ক্ষেত্রে যারা অবদান রেখেছেন, তাদের মধ্যে ইবনুস সালাহ-এর ছাত্র ইমাম কাযী শিহাবুদ্দীন আবু আব্দুল্লাহ মুহাম্মদ বিন আহমদ বিন আল-খালীল আল-খুওয়ায়্যী আশ-শাফিয়ী (মৃত্যু ৬৯৩ হি.) অন্যতম। তিনি তাঁর উস্তাদের কিতাবটিকে সংক্ষিপ্ত করার উদ্দেশ্যে দুই হাজার চরণে কাব্যানুবাদ (نظماً) করেছেন (৪)।

মুসলিম উম্মাহ বর্তমান সময় পর্যন্ত মহানবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের হাদিসের সকল দিকের যত্ন নিয়ে যাচ্ছে; সংযোজন, উদ্ভাবন, ব্যাখ্যা ও সংক্ষেপনের মাধ্যমে। এই হাদিস সেবারই একটি অংশ হলো পাণ্ডুলিপি আকারে গ্রন্থাগারগুলোর অন্ধকারে বছরের পর বছর ধুলোবালি জমে পড়ে থাকা ইসলামি ঐতিহ্যের পুনরদ্ধার করা। এজন্য কিছু বিশ্ববিদ্যালয় অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে

--------------------------------------------

(১) আল-জামি লি-আহকামিল কুরআন, আবু আব্দুল্লাহ মুহাম্মদ বিন আহমদ আল-কুরতুবী (মৃত্যু ৬৭১ হি.), বৈরুত, দারুল কুতুবিল ইলমিয়্যাহ, ১৪১৩ - ১৯৯৩ (১০/ ৫)

(২) মানহাজুন নাকদ ফি উলূমিল হাদিস, ড. নূরুদ্দীন ইতর, দামেস্ক: দারুল ফিকর - বৈরুত: দারুল ফিকরুল মুআসির, ৩১তম সংস্করণ ১৪৩১ - ২০১০, পৃ. ২৪

(৩) দেখুন: একই উৎস, পৃ. ২৬

(৪) যেমনটি কবি নিজে তাঁর কাব্যমালায় ইঙ্গিত করেছেন: "আমি এর সারমর্মকে সংক্ষেপে কাব্যরূপ দিয়েছি... যা অতি দীর্ঘ নয়, আবার অতি সংক্ষিপ্তও নয়।"
(খণ্ড: ১) নাযমু উলূমিল হাদীস = আকসিল আমালি ওয়াস সূল ফি ইলমি হাদীসির রাসূল (পৃষ্ঠা: ৩)
إدخال "تحقيق المخطوطات" ضمن أطروحات الطلاب في الدراسات العليا، منها: كلية الدراسات العليا في جامعة الكويت، قسم الحديث الشريف وعلومه.

وبعد مشاورة أهل العلم وأساتذتي، وقع اختياري على مخطوط شهاب الدين الخويي في نظم مقدمة ابن الصلاح، لدراسته وتحقيقه والتعليق عليه لنيل درجة الماجستير في قسم الحديث الشريف وعلومه في جامعة الكويت.

 

ومن أسباب اختياري لهذا المخطوط:

1 - أن له الأسبقية؛ فهو أول نظمٍ لمقدمة ابن الصلاح، بل أول ألفية في علم المصطلح ككل فيما أعلم.

2 - وأن المخطوط ما زال حبيس الخزائن التراثية، فلم يرَ نور التحقيق حتى الآن.

3 - والمساهمة في إخراج التراث الإسلامي، وإضافة الكتاب إلى المكتبة الإسلامية الحديثة.

 

أما أهمية المخطوط:

1 - فهو من نظم تلميذ مؤلف الأصل.

2 - وأنه من نظم إمامٍ في العلوم الإسلامية والعقلية.

3 - وأن هذا المخطوط يُبيِّن لنا المستوى العلمي الذي وصل إليه أهل القرن السابع في "علم المصطلح"، وما كانوا عليه من إبداع في إيصال هذا العلم بصور متعددة.

4 - وأن هذا النظم هو نقطة انطلاق الألفيات بعده، وهذا يفيدنا في دراسة تطور مستوى المنظومات العلمية في مصطلح الحديث خصوصاً وباقي العلوم عموماً.

 

وقد قسّمتُ هذا البحث إلى قسمينِ:

القسم الأول: الدراسة، وفيها بابان:

الباب الأول: التعريف بعلم المصطلح: وفيه أربعة فصول:

الفصل الأول: تعريف علم مصطلح الحديث ونشأته.

الفصل الثاني: أطوار التأليف في علم مصطلح الحديث.

الفصل الثالث: وفيه مبحثان:

المبحث الأول: التعريف بابن الصلاح.

المبحث الثاني: التعريف بمكانة وأهمية كتابه: "علوم الحديث".

الفصل الرابع: وفيه مبحثان:
উচ্চতর গবেষণার অভিসন্দর্ভগুলোর অন্তর্ভুক্ত হিসেবে "পাণ্ডুলিপি সম্পাদনা (تحقيق المخطوطات)"-কে গ্রহণ করা হয়েছে; যার মধ্যে কুয়েত বিশ্ববিদ্যালয়ের উচ্চতর শিক্ষা অনুষদভুক্ত হাদিস শরিফ ও এর বিজ্ঞান বিভাগ অন্যতম।

বিশেষজ্ঞ আলেম ও আমার শ্রদ্ধেয় উস্তাদদের সাথে পরামর্শের পর, আমি কুয়েত বিশ্ববিদ্যালয়ের হাদিস শরিফ ও এর বিজ্ঞান বিভাগে মাস্টার্স ডিগ্রি অর্জনের লক্ষ্যে শিহাব উদ্দিন আল-খুয়ায়্যি-এর ইবনুস সালাহ-এর মুকাদ্দিমার কাব্যরূপ পাণ্ডুলিপিটি অধ্যয়ন, সম্পাদনা (تحقيق) ও টীকা প্রদানের জন্য নির্বাচন করেছি।

 

এই পাণ্ডুলিপিটি নির্বাচনের অন্যতম কারণসমূহ:

1 - এটি অগ্রগণ্য; কারণ এটি ইবনুস সালাহ-এর মুকাদ্দিমার প্রথম কাব্যরূপ (نظم), এমনকি আমার জানামতে এটি সামগ্রিকভাবে পরিভাষা বিজ্ঞানের (علم المصطلح) প্রথম আলফিয়াহ (সহস্রপদীর কাব্য)।

2 - পাণ্ডুলিপিটি এখনো ঐতিহ্যবাহী সংগ্রহশালাগুলোতেই আবদ্ধ রয়েছে এবং এখন পর্যন্ত তা সম্পাদনার (تحقيق) আলোর মুখ দেখেনি।

3 - ইসলামী ঐতিহ্য প্রকাশে অবদান রাখা এবং আধুনিক ইসলামী লাইব্রেরিতে গ্রন্থটি যুক্ত করা।

 

পাণ্ডুলিপিটির গুরুত্ব:

1 - এটি মূল গ্রন্থের লেখকের ছাত্রের করা কাব্যরূপ (نظم)।

2 - এটি ইসলামী ও যুক্তিনির্ভর বিজ্ঞানের একজন ইমামের রচিত কাব্য।

3 - এই পাণ্ডুলিপিটি সপ্তম হিজরি শতাব্দীর আলেমদের "পরিভাষা বিজ্ঞানে (علم المصطلح)" অর্জিত পাণ্ডিত্যের স্তর এবং এই ইলমকে বিভিন্ন আঙ্গিকে উপস্থাপনের ক্ষেত্রে তাঁদের সৃজনশীলতার পরিচয় দেয়।

4 - এই কাব্যটি (نظم) পরবর্তী আলফিয়াহগুলোর যাত্রাবিন্দু। এটি বিশেষ করে হাদিস পরিভাষা (مصطلح الحديث) এবং সাধারণভাবে অন্যান্য বিজ্ঞানের ক্ষেত্রে বৈজ্ঞানিক কাব্যগুলোর (المنظومات العلمية) মানোন্নয়নের ধারা পর্যালোচনায় সহায়ক হবে।

 

আমি এই গবেষণাটিকে দুইটি অংশে বিভক্ত করেছি:

প্রথম অংশ: অধ্যয়ন, যাতে রয়েছে দুইটি অধ্যায়:

প্রথম অধ্যায়: পরিভাষা বিজ্ঞানের (علم المصطلح) পরিচিতি: এতে রয়েছে চারটি পরিচ্ছেদ:

প্রথম পরিচ্ছেদ: হাদিস পরিভাষা বিজ্ঞানের (علم مصطلح الحديث) সংজ্ঞা ও এর উদ্ভব।

দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ: হাদিস পরিভাষা বিজ্ঞানে (علم مصطلح الحديث) গ্রন্থ রচনার পর্যায়সমূহ।

তৃতীয় পরিচ্ছেদ: এতে দুইটি অনুচ্ছেদ রয়েছে:

প্রথম অনুচ্ছেদ: ইবনুস সালাহ-এর পরিচিতি।

দ্বিতীয় অনুচ্ছেদ: তাঁর গ্রন্থ "উলুমুল হাদিস"-এর মর্যাদা ও গুরুত্বের পরিচিতি।

চতুর্থ পরিচ্ছেদ: এতে দুইটি অনুচ্ছেদ রয়েছে:
(খণ্ড: ১) নাযমু উলূমিল হাদীস = আকসিল আমালি ওয়াস সূল ফি ইলমি হাদীসির রাসূল (পৃষ্ঠা: ৪)
المبحث الأول: التعريف بالمنظومات العلمية ونشأتها.

المبحث الثاني: التعريف بأهم المنظومات في مصطلح الحديث.

الباب الثاني: وفيه فصلان:

الفصل الأول: التعريف بصاحب النظم، وفيه مباحث:

المبحث الأول: لقبه، وكنيته، واسمه، ونسبه، ومذهبه، ومكان ولادته.

المبحث الثاني: عقيدته وصفاته الخلقية والخُلُقية.

المبحث الثالث: طلبه للعلم ومشايخه.

المبحث الرابع: أشهر تلاميذه.

المبحث الخامس: أعماله التي تولاها ومكانته العلمية وثناء العلماء عليه.

المبحث السادس: مؤلفاته.

المبحث السابع: وفاته.

الفصل الثاني: التعريف بالنظم:

المبحث الأول: نسبة النظم إلى مؤلفه وتسميته له.

المبحث الثاني: عدد أبياتها وتاريخ نظمها.

المبحث الثالث: المقارنة بينها وبين غيرها من الألفيات:

مطلب: المقارنة بينها وبين ألفية العراقي.

مطلب: المقارنة بينها وبين ألفية السيوطي.

المبحث الرابع: عناية العلماء بها.

المبحث الخامس: طبعاتها السابقة ونسخها المخطوطة.

المبحث السادس: منهج التحقيق.

القسم الثاني: النص المحقق.
প্রথম উপ-পরিচ্ছেদ: ইলমি মানজুমা বা জ্ঞানতাত্ত্বিক কাব্যসংকলন (المنظومات العلمية) এবং এর উদ্ভব ও বিকাশ।

দ্বিতীয় উপ-পরিচ্ছেদ: পরিভাষাগত হাদিস শাস্ত্রের (مصطلح الحديث) গুরুত্বপূর্ণ মানজুমাসমূহের পরিচয়।

দ্বিতীয় অধ্যায়: এতে দুটি পরিচ্ছেদ রয়েছে:

প্রথম পরিচ্ছেদ: কাব্য রচয়িতার পরিচয়, এতে কয়েকটি উপ-পরিচ্ছেদ রয়েছে:

প্রথম উপ-পরিচ্ছেদ: তাঁর উপাধি, কুনিয়াত, নাম, বংশপরিচয়, মাযহাব এবং জন্মস্থান।

দ্বিতীয় উপ-পরিচ্ছেদ: তাঁর আকিদা (عقيدة) এবং শারীরিক ও চারিত্রিক বৈশিষ্ট্য।

তৃতীয় উপ-পরিচ্ছেদ: তাঁর ইলম অন্বেষণ ও শিক্ষকগণ।

চতুর্থ উপ-পরিচ্ছেদ: তাঁর প্রসিদ্ধ ছাত্রবৃন্দ।

পঞ্চম উপ-পরিচ্ছেদ: তাঁর দায়িত্বরত কর্মসমূহ, জ্ঞানতাত্ত্বিক মর্যাদা এবং তাঁর সম্পর্কে আলেমদের প্রশংসা।

ষষ্ঠ উপ-পরিচ্ছেদ: তাঁর রচনাবলি।

সপ্তম উপ-পরিচ্ছেদ: তাঁর মৃত্যু।

দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ: কাব্যগ্রন্থটির (النظم) পরিচয়:

প্রথম উপ-পরিচ্ছেদ: রচয়িতার প্রতি কাব্যগ্রন্থের সম্বন্ধ এবং এর নামকরণ।

দ্বিতীয় উপ-পরিচ্ছেদ: এর শ্লোক সংখ্যা এবং রচনার তারিখ।

তৃতীয় উপ-পরিচ্ছেদ: এই কাব্যগ্রন্থ এবং অন্যান্য আলফিয়াসমূহের মধ্যে তুলনা:

প্রসঙ্গ: এই কাব্যগ্রন্থ এবং আলফিয়া ইরাকির মধ্যে তুলনা।

প্রসঙ্গ: এই কাব্যগ্রন্থ এবং আলফিয়া সুয়ুতির মধ্যে তুলনা।

চতুর্থ উপ-পরিচ্ছেদ: এর প্রতি আলেমদের বিশেষ গুরুত্ব ও মনোযোগ।

পঞ্চম উপ-পরিচ্ছেদ: এর পূর্ববর্তী মুদ্রণসমূহ এবং পাণ্ডুলিপি (المخطوطة) সমূহ।

ষষ্ঠ উপ-পরিচ্ছেদ: তাহকিক (التحقيق) বা সম্পাদনা পদ্ধতি।

দ্বিতীয় অংশ: সম্পাদিত মূল পাঠ (النص المحقق)।
(খণ্ড: ১) নাযমু উলূমিল হাদীস = আকসিল আমালি ওয়াস সূল ফি ইলমি হাদীসির রাসূল (পৃষ্ঠা: ৫)
القسم الأول: الدراسة.

 

‌‌الباب الأول: التعريف بعلم المصطلح: وفيه أربعة فصول:

الفصل الأول: تعريف علم مصطلح الحديث ونشأته.

الفصل الثاني: أطوار التأليف في علم مصطلح الحديث.

الفصل الثالث: وفيه مبحثان:

المبحث الأول: التعريف بابن الصلاح.

المبحث الثاني: التعريف بمكانة وأهمية كتابه: "علوم الحديث".

الفصل الرابع: وفيه مبحثان:

المبحث الأول: التعريف بالمنظومات العلمية ونشأتها.

المبحث الثاني: التعريف بأهم المنظومات في مصطلح الحديث.
প্রথম অংশ: গবেষণা।

 

‌‌প্রথম পরিচ্ছেদ: পরিভাষা বিজ্ঞানের (علم المصطلح) পরিচিতি: এতে চারটি অধ্যায় রয়েছে:

প্রথম অধ্যায়: হাদিসের পরিভাষা বিজ্ঞানের (علم مصطلح الحديث) সংজ্ঞা ও এর ক্রমবিকাশ।

দ্বিতীয় অধ্যায়: হাদিসের পরিভাষা বিজ্ঞানে (علم مصطلح الحديث) গ্রন্থ রচনার পর্যায়সমূহ।

তৃতীয় অধ্যায়: এতে দুটি অনুচ্ছেদ রয়েছে:

প্রথম অনুচ্ছেদ: ইবনে আস-সালাহ-এর পরিচিতি।

দ্বিতীয় অনুচ্ছেদ: তাঁর রচিত গ্রন্থ "উলুমুল হাদিস"-এর মর্যাদা ও গুরুত্বের পরিচয়।

চতুর্থ অধ্যায়: এতে দুটি অনুচ্ছেদ রয়েছে:

প্রথম অনুচ্ছেদ: জ্ঞানগর্ভ কাব্যরীতি (المنظومات العلمية) ও এর উদ্ভব সম্পর্কে আলোচনা।

দ্বিতীয় অনুচ্ছেদ: হাদিস পরিভাষা (مصطلح الحديث) বিষয়ক গুরুত্বপূর্ণ কাব্যগ্রন্থসমূহের পরিচয়।
(খণ্ড: ১) নাযমু উলূমিল হাদীস = আকসিল আমালি ওয়াস সূল ফি ইলমি হাদীসির রাসূল (পৃষ্ঠা: ৬)
‌‌الفصل الأول: تعريف علم مصطلح الحديث ونشأته.

‌‌أولا: تعريف علم مصطلح الحديث:

ويسمى "أصول الحديث"، والكلام في تعريف هذا العلم يكون على وجهين: على الإفراد، وعلى الإضافة.

تعريفه من جهة الإفراد:

أ- العلم: إدراك الشيء بحقيقته. (1)

ب- والاصطلاح: عبارةٌ عن اتفاق قوم على تسمية الشيء باسمٍ مَّا، ينقل عن موضعه الأول. (2)

ج- والأصل: أسْفَلُ الشيءِ. (3)

د- والحديث:

1 - في اللغة: الجديدُ، وكل ما يُتحدَّثُ به من كلامٍ وخَبَر. (4)

2 - وفي الاصطلاح: هو ما يضاف إلى النبي صلى الله عليه وسلم، من قوله وفعله وإقراره، وقيل: أو وصف خلْقِيٍّ أو خُلُقِيٍّ، وقيل: أو أضيف إلى الصحابي أو التابعي. (5)

 

أما تعريفه من جهة الإضافة بقولهم "علم مصطلح الحديث" أو "علم أصول الحديث" أو "علم المصطلح".

قال ابن حجر: " أولى التعاريف لعلم الحديث: معرفة القواعد التي يتوصل بها إلى معرفة حال الراوي والمروي". (6)

--------------------------------------------

(1) المعجم الوسيط، لمجمع اللغة العربية بالقاهرة، ص 655 مادة: علمه

(2) معجم التعريفات، علي بن محمد بن علي الزين الشريف الجرجاني (ت 816 هـ)، تحقيق: محمد صديق المنشاوي، القاهرة، دار الفضيلة، ص 27

(3) القاموس المحيط، لأبي طاهر محمد بن يعقوب الفيروزآبادى (ت 817 هـ)، تحقيق: مركز الرسالة للدراسات وتحقيق التراث بإشراف: محمد نعيم العرقسوسي، دمشق-بيروت، مؤسسة الرسالة، الطبعة الثالثة 1433 - 2012، ص 961 مادة: أصل

(4) القاموس المحيط ص 167 والمعجم الوسيط ص 181، مادة: حدث.

(5) انظر: مجموع الفتاوى، لأبي العباس أحمد بن عبد الحليم بن تيمية الحراني (ت 728 هـ)، حققه: عامر الجزار - أنور الباز، المنصورة: دار الوفاء - بيروت: دار ابن حزم، الطبعة الرابعة 1432 - 2011 (18/ 7)، وفتح الباري بشرح صحيح البخاري، لأبي الفضل أحمد بن علي محمد، ابن حجر العسقلاني (ت 852 هـ)، تحقيق: أبي قتيبة نظر الفاريابي، الرياض، دار طيبة، الطبعة الرابعة 1432 - 2011 (1/ 339)، منهج النقد في علوم الحديث ص 27.

(6) النكت على كتاب ابن الصلاح، لأبي الفضل أحمد بن علي محمد، ابن حجر العسقلاني (ت 852 هـ)، تحقيق: الدكتور ربيع بن هادي المدخلي، عجمان، مكتبة الفرقان، الطبعة الثالثة 1429 - 2008 (1/ 89)
প্রথম অধ্যায়: উলুমুল হাদিস (علم مصطلح الحديث) শাস্ত্রের সংজ্ঞা ও এর উৎপত্তি.

প্রথমত: উলুমুল হাদিস (علم مصطلح الحديث) শাস্ত্রের সংজ্ঞা:

একে "হাদিসের মূলনীতি (أصول الحديث)"ও বলা হয়। এই শাস্ত্রের সংজ্ঞার আলোচনা দুইভাবে হতে পারে: পৃথক শব্দ হিসেবে এবং যৌগিক নাম হিসেবে।

পৃথক শব্দ হিসেবে এর সংজ্ঞা:

ক- জ্ঞান (العلم): কোনো বস্তুকে তার প্রকৃত রূপসহ উপলব্ধি করা। (১)

খ- পরিভাষা (الاصطلاح): কোনো বস্তুকে একটি নির্দিষ্ট নামে নামকরণের ব্যাপারে কোনো জনগোষ্ঠীর ঐক্যমত পোষণ করা, যা তার মূল অর্থ থেকে সরিয়ে অন্য অর্থে ব্যবহার করা হয়। (২)

গ- মূল (الأصل): কোনো বস্তুর নিম্নভাগ বা ভিত্তি। (৩)

ঘ- হাদিস:

১ - শাব্দিক অর্থে: নতুন, এবং কথা ও সংবাদ (خبر) সংশ্লিষ্ট সকল বিষয় যা ব্যক্ত করা হয়। (৪)

২ - পারিভাষিক অর্থে: যা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর দিকে সম্পৃক্ত করা হয়; চাই তা তাঁর কথা, কাজ বা মৌন সম্মতি (إقرار) হোক। আরও বলা হয়েছে: অথবা তাঁর শারীরিক বা চারিত্রিক বৈশিষ্ট্য। আবার বলা হয়েছে: অথবা যা সাহাবি (الصحابي) বা তাবেয়ি (التابعي)-এর দিকে সম্পৃক্ত করা হয়। (৫)

 

আর যৌগিক নাম হিসেবে "উলুমুল হাদিস (علم مصطلح الحديث)" বা "হাদিসের মূলনীতি শাস্ত্র (علم أصول الحديث)" অথবা "পরিভাষা শাস্ত্র (علم المصطلح)"-এর সংজ্ঞা হলো:

ইবনে হাজার বলেন: "হাদিস শাস্ত্রের সবচেয়ে উত্তম সংজ্ঞা হলো: এমন কিছু মূলনীতি (القواعد) সম্পর্কে জ্ঞান লাভ করা, যার মাধ্যমে বর্ণনাকারী (الراوي) এবং বর্ণিত বিষয়ের (المروي) অবস্থা সম্পর্কে অবগত হওয়া যায়।" (৬)

--------------------------------------------

(১) আল-মুজাম আল-ওয়াসিত, মাজমাউল লুগাহ আল-আরাবিয়্যাহ কায়রো, পৃষ্ঠা ৬৫৫, মূলশব্দ: علمه

(২) মুজামুত তারিফাত, আলী বিন মুহাম্মদ বিন আলী আল-জাইন আল-শরীফ আল-জুরজানি (মৃত্যু ৮১৬ হি.), সম্পাদনা: মুহাম্মদ সিদ্দিক আল-মানশাভি, কায়রো, দারুল ফাদিলাহ, পৃষ্ঠা ২৭

(৩) আল-কামুস আল-মুহিত, আবু তাহের মুহাম্মদ বিন ইয়াকুব আল-ফিরোজাবাদি (মৃত্যু ৮১৭ হি.), সম্পাদনা: মারকাযুর রিসালাহ للدراسات وتحقيق التراث, তত্ত্বাবধানে: মুহাম্মদ নাঈম আল-আরকাসুসি, দামেস্ক-বৈরুত, মুয়াসসাসাতুর রিসালাহ, তৃতীয় সংস্করণ ১৪৩৩ - ২০১২, পৃষ্ঠা ৯৬১, মূলশব্দ: أصل

(৪) আল-কামুস আল-মুহিত পৃষ্ঠা ১৬৭ এবং আল-মুজাম আল-ওয়াসিত পৃষ্ঠা ১৮১, মূলশব্দ: حدث.

(৫) দ্রষ্টব্য: মাজমুউল ফাতাওয়া, আবুল আব্বাস আহমদ বিন আব্দুল হালিম বিন তাইমিয়া আল-হাররানি (মৃত্যু ৭২৮ হি.), সম্পাদনা: আমির আল-জাজ্জার - আনোয়ার আল-বাজ, মানসুরাহ: দারুল ওয়াফা - বৈরুত: দারু ইবনি হাজম, চতুর্থ সংস্করণ ১৪৩২ - ২০১১ (১৮/ ৭), এবং ফাতহুল বারি বিশারহি সহিহ আল-বুখারি, আবুল ফজল আহমদ বিন আলী মুহাম্মদ, ইবনে হাজার আসকালানি (মৃত্যু ৮৫২ হি.), সম্পাদনা: আবি কুতাইবা নজর আল-ফারইয়াবি, রিয়াদ, দারু তাইয়িবাহ, চতুর্থ সংস্করণ ১৪৩২ - ২০১১ (১/ ৩৩৯), মানহাজুন নাকদ ফি উলুমিল হাদিস পৃষ্ঠা ২৭.

(৬) আন-নুকাত আলা কিতাবি ইবনিস সালাহ, আবুল ফজল আহমদ বিন আলী মুহাম্মদ, ইবনে হাজার আসকালানি (মৃত্যু ৮৫২ হি.), সম্পাদনা: ডক্টর রাবি বিন হাদি আল-মাদখালি, আজমান, মাকতাবাতুল ফুরকান, তৃতীয় সংস্করণ ১৪২৯ - ২০০৮ (১/ ৮৯)
(খণ্ড: ১) নাযমু উলূমিল হাদীস = আকসিল আমালি ওয়াস সূল ফি ইলমি হাদীসির রাসূল (পৃষ্ঠা: ৭)
ويقسم بعض العلماء علم الحديث إلى قسمين: علم رواية، وعلم دراية.

1 - : علم الحديث الخاص بالرواية:

علم يشتمل على نقل أقوال النَّبي صلى الله عليه وسلم وأفعاله، وروايتها، وضبطها، وتحرير ألفاظها.

2 - علم الحديث الخاص بالدِّراية:

علمٌ يعرف منه حقيقة الرِّواية، وشُروطها، وأنواعها، وأحْكَامها، وحال الرُّواة، وشُروطهم وأصْنَاف المرويات، وما يتعلق بها. (1)

وموضوع هذا العلم: هو السند والمتن.

وثمرته: تمييز الثابت من الأخبار من الضعيف.

وفضله: امتثال أمر رسول الله صلى الله عليه وسلم، ونيل بركة دعوته، إذ قال عليه الصلاة والسلام: "بَلِّغُوا عَنِّي وَلَوْ آيَةً". (2)

وقال: "نَضَّرَ اللَّهُ امْرَأً سَمِعَ مِنَّا حَدِيثًا، فَحَفِظَهُ حَتَّى يُبَلِّغَهُ، فَرُبَّ حَامِلِ فِقْهٍ إِلَى مَنْ هُوَ أَفْقَهُ مِنْهُ، وَرُبَّ حَامِلِ فِقْهٍ لَيْسَ بِفَقِيهٍ". (3)

نسبته إلى بقية العلوم: من علوم الآلة، ويحتاجه الطالب في كل علم من العلوم الشرعية.

أول من جمعه في مصنف: أول من أفرده بالتصنيف هو أبو محمد الحسن بن عبدالرحمن الرَّامَهُرْمُزِي. (4)

استمداد هذا العلم: مسائله مستمدةٌ من الكتاب والسنة وأقوال أهل العلم.

اسم هذا العلم: له عدة أسماء، مثل: علم مصطلح الحديث، علم أصول الحديث، وعلم أصول الرواية، ومصطلح أهل الأثر.

حكم تعلم هذا العلم: فرض كفاية، إذ لا بد من معرفة ما صح عن النبي صلى الله عليه وسلم من أخبار، فإن قام به مَن يكفي سقط الوجوب عن الباقي.

--------------------------------------------

(1) انظر: تدريب الراوي في شرح تقريب النواوي، لجلال الدين عبد الرحمن بن أبي بكر بن محمد ابن سابق الدين الخضيري السيوطي الشافعي (ت 911 هـ)، تحقيق: نظر محمد الفاريابي، الرياض، دار طيبة، الطبعة الثامنة 1427 (1/ 25)

(2) أخرجه البخاري في كتاب: أحاديث الأنبياء، باب: ما ذكر عن بني إسرائيل، حديث: 3461.

(3) أخرجه أبو داود (3660) وصححه الألباني.

(4) هو: الحسن بن عبد الرحمن بن خلاد الرامهرمزيّ الفارسيّ، أبو محمد، محدث العجم في زمانه، ومن أدباء القضاة، له: "المحدث الفاصل بين الراويّ والواعي" و"أدب الناطق" وغيرهما، توفي سنة 360 هـ. انظر: تذكرة الحفاظ 2/ 81، شذرات الذهب 3/ 135.
কিছু আলেম হাদিস বিজ্ঞানকে দুই ভাগে বিভক্ত করেছেন: বর্ণনাবিষয়ক বিজ্ঞান (علم الرواية) এবং অনুধাবনবিষয়ক বিজ্ঞান (علم الدراية)।

১ - : বর্ণনাবিষয়ক হাদিস বিজ্ঞান (علم الحديث الخاص بالرواية):

এটি এমন একটি বিজ্ঞান যা নবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর বাণী ও কার্যাবলি নকল করা, সেগুলো বর্ণনা করা, নিখুঁতভাবে সংরক্ষণ করা (ضبط) এবং সেগুলোর শব্দাবলি সংকলন করার বিষয়াবলী অন্তর্ভুক্ত করে।

২ - অনুধাবনবিষয়ক হাদিস বিজ্ঞান (علم الحديث الخاص بالدراية):

এটি এমন একটি বিজ্ঞান যার মাধ্যমে বর্ণনার (رواية) প্রকৃত অবস্থা, এর শর্তাবলি, প্রকারভেদ, বিধানসমূহ (أحكام), বর্ণনাকারীদের (رواة) অবস্থা ও তাদের শর্তাবলি এবং বর্ণিত বিষয়সমূহের শ্রেণিবিভাগ ও এ সংশ্লিষ্ট বিষয়াদি জানা যায়। (১)

এই বিজ্ঞানের আলোচ্য বিষয়: সনদ (سند) ও মতন (متن)।

এর ফলাফল: সংবাদের মধ্যে যা প্রমাণিত (ثابت) এবং যা দুর্বল (ضعيف) তার মধ্যে পার্থক্য নিরূপণ করা।

এর ফজিলত: রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর নির্দেশ পালন এবং তাঁর দোয়ার বরকত লাভ করা; যেহেতু তিনি (আলাইহিস সালাতু ওয়াস সালাম) বলেছেন: "আমার পক্ষ থেকে পৌঁছে দাও, যদি তা একটি আয়াতও হয়।" (২)

এবং তিনি বলেছেন: "আল্লাহ সেই ব্যক্তিকে সজীব ও প্রফুল্ল রাখুন, যে আমাদের থেকে কোনো হাদিস শুনল, অতঃপর তা সংরক্ষণ করল এবং অন্যের কাছে পৌঁছে দিল। কেননা অনেক ফিকহ (জ্ঞান) বহনকারী এমন ব্যক্তির কাছে তা পৌঁছে দেয় যে তার চেয়ে অধিক ফকিহ (বিজ্ঞ)। আবার অনেক ফিকহ বহনকারী নিজে ফকিহ নন।" (৩)

অন্যান্য বিজ্ঞানের সাথে এর সম্পর্ক: এটি সহায়ক বিজ্ঞানসমূহের (علوم الآلة) অন্তর্ভুক্ত এবং শরয়ী বিজ্ঞানের প্রতিটি শাখায় শিক্ষার্থীর জন্য এটি প্রয়োজনীয়।

সর্বপ্রথম যিনি একে কিতাব আকারে সংকলন করেছেন: স্বতন্ত্র কিতাব হিসেবে একে প্রথম সংকলন করেন আবু মুহাম্মদ হাসান ইবনে আব্দুর রহমান আর-রামাহুরমুজি। (৪)

এই বিজ্ঞানের উৎস: এর মাসআলাসমূহ কুরআন, সুন্নাহ এবং আহলে ইলমগণের (বিদ্বানদের) উক্তি থেকে গৃহীত।

এই বিজ্ঞানের নাম: এর বেশ কয়েকটি নাম রয়েছে, যেমন: ইলমুল মুসতালাহুল হাদিস (علم مصطلح الحديث), ইলমু উসুলিল হাদিস (علم أصول الحديث), ইলমু উসুলি রিওয়াহ (علم أصول الرواية) এবং মুসতালাহু আহলিল আসার (مصطلح أهل الأثر)।

এই বিদ্যা অর্জনের বিধান: ফরজে কেফায়া (فرض كفاية); কারণ নবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে বর্ণিত সংবাদসমূহের মধ্যে কোনটি সঠিক (صح) তা জানা আবশ্যক। যদি পর্যাপ্ত সংখ্যক লোক এটি সম্পন্ন করে, তবে বাকিদের ওপর থেকে এই আবশ্যকতা রহিত হয়ে যায়।

--------------------------------------------

(১) দেখুন: তাদরীবুর রাওয়ী ফী শারহি তাকরীবিন নাওয়াবী, জালালুদ্দীন আব্দুর রহমান বিন আবি বকর বিন মুহাম্মদ ইবনু সাবিকুদ্দীন আল-খুদাইরি আস-সুয়ূতী আশ-শাফেয়ী (মৃ. ৯১১ হিজরি), তাহকিক: নজর মুহাম্মদ আল-ফারিয়াবি, রিয়াদ, দারু তাইয়িবাহ, অষ্টম সংস্করণ ১৪২৭ (১/২৫)

(২) এটি বর্ণনা করেছেন বুখারি, কিতাব: আহাদিসুল আম্বিয়া, অধ্যায়: বনী ইসরাঈল সম্পর্কে যা বর্ণিত হয়েছে, হাদিস: ৩৪৬১।

(৩) এটি বর্ণনা করেছেন আবু দাউদ (৩৬৬০) এবং আলবানি একে সহিহ (صححه) বলেছেন।

(৪) তিনি হলেন: হাসান ইবনে আব্দুর রহমান ইবনে খাল্লাদ আর-রামাহুরমুজি আল-ফারিসি, আবু মুহাম্মদ। তিনি তাঁর সময়ের অনারবদের মধ্যে হাদিস বিশারদ (محدث) ছিলেন এবং তিনি বিচারক সাহিত্যিকদের অন্তর্ভুক্ত ছিলেন। তাঁর উল্লেখযোগ্য গ্রন্থ: "আল-মুহাদ্দিসুল ফাসিল বাইনার রাওয়ী ওয়াল ওয়াঈ" এবং "আদাবুন নাতিক" ইত্যাদি। তিনি ৩৬০ হিজরিতে মৃত্যুবরণ করেন। দেখুন: তাযকিরাতুল হুফফাজ ২/৮১, শাযারাতুয যাহাব ৩/১৩৫।
(খণ্ড: ১) নাযমু উলূমিল হাদীস = আকসিল আমালি ওয়াস সূল ফি ইলমি হাদীসির রাসূল (পৃষ্ঠা: ৮)
مسائله: هي المسائل المتعلقة بالسند والمتن من حيث القبول والرد، مثل: الاتصال والانقطاع والقلب والشذوذ ونحوها، وما يتعلق بحال الرُّواة: من العدالة والجرح، وشروطهم في التحمل وفي الأداء، إلى غير ذلك.
এর আলোচ্য বিষয়সমূহ: এগুলো হলো গ্রহণ (قبول) ও বর্জনের (رد) দিক থেকে সনদ (سند) এবং মতন (متن) সংশ্লিষ্ট বিষয়াবলি; যেমন: অবিচ্ছিন্নতা (اتصال), বিচ্ছিন্নতা (انقطاع), পরিবর্তন (قلب), বৈসাদৃশ্য (شذوذ) এবং এই জাতীয় অন্যান্য বিষয়। এছাড়া বর্ণনাকারীদের অবস্থা সংক্রান্ত বিষয়াবলি: যেমন ন্যায়পরায়ণতা (عدالة) ও সমালোচনা (جرح), এবং হাদিস গ্রহণ (تحمل) ও বর্ণনার (أداء) ক্ষেত্রে তাঁদের শর্তাবলি এবং এ জাতীয় আরও অন্যান্য বিষয়।
(খণ্ড: ১) নাযমু উলূমিল হাদীস = আকসিল আমালি ওয়াস সূল ফি ইলমি হাদীসির রাসূল (পৃষ্ঠা: ৯)
‌‌ثانياً: نشأة علم مصطلح الحديث:

إن نشأة علم مصطلح الحديث كنشأة العلوم الإسلامية، تكون مبثوبةً في القرآن الكريم والسنة النبوية وفعل أصحاب النبي صلى الله عليه وسلم ورضي عنهم، ثم بعد ذلك يتم استنباطها وتقعيدها على مر السنين حتى تتشكل ملامح ذلك العلم بأصوله وفروعه ومصنفاته.

وبعض أصول المصطلح قد أرشد الله سبحانه إليه، كما في قوله تعالى: {يَاأَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا إِنْ جَاءَكُمْ فَاسِقٌ بِنَبَإٍ فَتَبَيَّنُوا أَنْ تُصِيبُوا قَوْمًا بِجَهَالَةٍ فَتُصْبِحُوا عَلَى مَا فَعَلْتُمْ نَادِمِينَ} [سورة الحجرات: الآية 6].

قال ابن كثير: " يأمر تعالى بالتثبت في خبر الفاسق ليحتاط له، لئلا يحكم بقوله فيكون -في نفس الأمر-كاذبا أو مخطئا، فيكون الحاكم بقوله قد اقتفى وراءه، وقد نهى الله عن اتباع سبيل المفسدين، ومن هاهنا امتنع طوائف من العلماء من قبول رواية مجهول الحال لاحتمال فسقه في نفس الأمر، وقبلها آخرون". (1)

وكما بيَّن سبحانه في كتابه عدالة صحابة رسول الله صلى الله عليه وسلم، وهو نوعٌ من أنواع علم المصطلح مستقلٌ جعله أهل هذا العلم في مبحث خاص، قال الخطيب البغدادي: "عدالة الصحابة ثابتة معلومة بتعديل الله لهم وإخباره عن طهارتهم ، واختياره لهم في نص القرآن ، فمن ذلك قوله تعالى: {كُنْتُمْ خَيْرَ أُمَّةٍ أُخْرِجَتْ لِلنَّاسِ} [آل عمران: 110] ، وقوله: {وَكَذَلِكَ جَعَلْنَاكُمْ أُمَّةً وَسَطًا لِتَكُونُوا شُهَدَاءَ عَلَى النَّاسِ وَيَكُونَ الرَّسُولُ عَلَيْكُمْ شَهِيدًا} [البقرة: 143] ". (2)

وفي باب اتصال السند وأهمية الإسناد، استنبط بعضهم أصلَ ذلك من كتاب الله تعالى، فقد أسند الخطيب في "شرف أصحاب الحديث" عن مَطَر الوراق في قوله تعالى: {ائْتُونِي بِكِتَابٍ مِنْ قَبْلِ هَذَا أَوْ أَثَارَةٍ مِنْ عِلْمٍ} [الأحقاف: 4]، قال: {أَوْ أَثَارَةٍ مِنْ عِلْمٍ} يعني: إسناد الحديث. (3)

وفي باب آداب أهل الحديث، يذكر العلماء مسألة نفعِ طلبةِ العلمِ بعضهم بعضاً وإعارةِ الكُتُب لمن احتاجها وكان أميناً، ولهم في ذلك استنباط من كتاب الله تعالى، قال السيوطي: " قد ذم الله تعالى في كتابه مانع العارية بقوله: {وَيَمْنَعُونَ الْمَاعُونَ} [الماعون: 7]، وإعارة الكتب أهم من الماعون". (4)

وغير ذلك من قواعد علم المصطلح المستفادة من القرآن الكريم.

--------------------------------------------

(1) تفسير القرآن العطيم 6/ 707

(2) الكفاية في علم الرواية، لأبي بكر أحمد بن علي بن ثابت الخطيب البغدادي (ت 463 هـ)، تحقيق: حسن عبد المنعم شلبي، دمشق - بيروت، مؤسسة الرسالة، الطبعة الأولى 1430 - 2009، ص 58

(3) انظر: شرف أصحاب الحديث، لأبي بكر أحمد بن علي بن ثابت الخطيب البغدادي (ت 463 هـ)، تحقيق: الدكتور محمد سعيد خطيب أوغلي، القاهرة، مؤسسة تبوك للنشر والتوزيع، الطبعة الثالثة 2012، ص 39

(4) تدريب الراوي 1/ 524
দ্বিতীয়: হাদিস পরিভাষা শাস্ত্রের (علم مصطلح الحديث) উৎপত্তি:

হাদিস পরিভাষা শাস্ত্রের (علم مصطلح الحديث) উৎপত্তি অন্যান্য ইসলামি জ্ঞান-বিজ্ঞানের মতোই পবিত্র কুরআন, সুন্নাহ এবং নবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সাহাবিদের (রা.) কর্মপদ্ধতির মাঝে নিহিত ছিল। পরবর্তীতে বছরের পর বছর ধরে তা থেকে মূলনীতি আহরণ ও সংকলনের মাধ্যমে এই শাস্ত্রের মূল ভিত্তি, শাখা-প্রশাখা ও গ্রন্থাবলি একটি পূর্ণাঙ্গ রূপ লাভ করে।

হাদিস পরিভাষার (المصطلح) কিছু মূলনীতির প্রতি মহান আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআলা স্বয়ং দিকনির্দেশনা দিয়েছেন, যেমনটি তাঁর এই বাণীতে এসেছে: {হে মুমিনগণ! যদি কোনো পাপাচারী (فاسق) তোমাদের কাছে কোনো সংবাদ নিয়ে আসে, তবে তোমরা তা যাচাই (تبيّنوا) করে নাও, পাছে তোমরা অজ্ঞতাবশত কোনো সম্প্রদায়ের ক্ষতি করে বসো এবং পরে নিজেদের কৃতকর্মের জন্য অনুতপ্ত হও।} [সূরা আল-হুজুরাত: আয়াত ৬]।

ইবনে কাসির বলেন: "আল্লাহ তাআলা পাপাচারীর (فاسق) সংবাদের ব্যাপারে নিশ্চিত হওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন যেন সাবধানতা অবলম্বন করা যায়; যাতে তার কথা অনুযায়ী বিচার করতে গিয়ে সে ব্যক্তি প্রকৃতপক্ষে মিথ্যাবাদী (كاذب) বা ভুলকারী (مخطئ) সাব্যস্ত না হয়। এমতাবস্থায় বিচারক তার পদাঙ্ক অনুসরণকারী হয়ে যাবেন, অথচ আল্লাহ মন্দলোকদের পথ অনুসরণ করতে নিষেধ করেছেন। এখান থেকেই একদল আলেম অবস্থা অজ্ঞাত (مجهول الحال) এমন রাবির বর্ণনা গ্রহণ করা থেকে বিরত থেকেছেন, কারণ বাস্তবে তার মাঝে পাপাচার (فسق) থাকার সম্ভাবনা থাকে; তবে অন্যরা তা গ্রহণ করেছেন।" (১)

অনুরূপভাবে আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআলা তাঁর কিতাবে রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সাহাবিদের ন্যায়পরায়ণতা (عدالة) বর্ণনা করেছেন, যা হাদিস পরিভাষা শাস্ত্রের একটি স্বতন্ত্র প্রকার। এই শাস্ত্রের বিশেষজ্ঞগণ একে একটি বিশেষ অধ্যায়ে স্থান দিয়েছেন। খতিব আল-বাগদাদি বলেন: "সাহাবিদের ন্যায়পরায়ণতা (عدالة الصحابة) সুপ্রতিষ্ঠিত ও সুবিদিত; কারণ আল্লাহ তাদের ন্যায়পরায়ণ ঘোষণা (تعديل) করেছেন, তাদের পবিত্রতার সংবাদ দিয়েছেন এবং কুরআনের পাঠে তাদের মনোনীত করেছেন। যেমন মহান আল্লাহর বাণী: {তোমরাই শ্রেষ্ঠ উম্মত, মানবজাতির জন্য যাদের উত্থান ঘটানো হয়েছে।} [আল ইমরান: ১১০] এবং তাঁর বাণী: {আর এভাবেই আমি তোমাদের এক মধ্যপন্থী জাতি (أمة وسطاً) হিসেবে গড়ে তুলেছি, যাতে তোমরা মানবজাতির উপর সাক্ষী হতে পার এবং রাসুল তোমাদের উপর সাক্ষী হতে পারেন।} [আল-বাকারা: ১৪৩]"। (২)

সনদের নিরবচ্ছিন্নতা (اتصال السند) এবং সনদ পরম্পরার (الإسناد) গুরুত্বের অধ্যায়ে কেউ কেউ এর মূল ভিত্তি মহান আল্লাহর কিতাব থেকে গ্রহণ করেছেন। খতিব বাগদাদি তার 'শরাফ আসহাবিল হাদিস' গ্রন্থে মাতার আল-ওয়াররাক থেকে মহান আল্লাহর এই বাণীর ব্যাখ্যায় বর্ণনা করেছেন: {তোমরা এর আগের কোনো কিতাব অথবা কোনো জ্ঞানগত অবশিষ্টাংশ (أثارة من علم) আমার কাছে নিয়ে এসো।} [আল-আহকাফ: ৪]। তিনি বলেন: {জ্ঞানগত অবশিষ্টাংশ} (أثارة من علم) বলতে হাদিসের সনদকে (إسناد الحديث) বোঝানো হয়েছে। (৩)

হাদিস শাস্ত্রবিদদের শিষ্টাচার (آداب أهل الحديث) অধ্যায়ে আলেমগণ জ্ঞান অন্বেষণকারীদের একে অপরকে উপকৃত করা এবং যাদের প্রয়োজন ও যারা আমানতদার তাদের বই ধার দেওয়ার বিষয়টি উল্লেখ করেছেন। এই বিষয়েও তাঁরা মহান আল্লাহর কিতাব থেকে মূলনীতি আহরণ করেছেন। সুয়ূতী বলেন: "আল্লাহ তাআলা তাঁর কিতাবে নিত্যপ্রয়োজনীয় বস্তু ধার দিতে অস্বীকারকারীদের নিন্দা করেছেন তাঁর এই বাণীর মাধ্যমে: {এবং তারা নিত্যপ্রয়োজনীয় বস্তু (الماعون) দিতে বারণ করে।} [আল-মাউন: ৭]। আর বই ধার দেওয়া সাধারণ গৃহস্থালি সামগ্রীর চেয়েও বেশি গুরুত্বপূর্ণ।" (৪)

এভাবে হাদিস পরিভাষা শাস্ত্রের আরও অনেক নিয়মাবলি পবিত্র কুরআন থেকে আহরণ করা হয়েছে।

--------------------------------------------

(১) তাফসীরুল কুরআনিল আজিম ৬/ ৭০৭

(২) আল-কিফায়া ফি ইলমির রিওয়ায়াহ, আবু বকর আহমদ বিন আলী বিন সাবিত আল-খতিব আল-বাগদাদি (মৃত্যু ৪৬৩ হি.), সম্পাদনা: হাসান আব্দুল মোনয়েম শালবি, দামেস্ক - বৈরুত, মুয়াসসাসাতুর রিসালাহ, প্রথম সংস্করণ ১৪৩০ - ২০০৯, পৃ. ৫৮

(৩) দেখুন: শরাফ আসহাবিল হাদিস, আবু বকর আহমদ বিন আলী বিন সাবিত আল-খতিব আল-বাগদাদি (মৃত্যু ৪৬৩ হি.), সম্পাদনা: ড. মুহাম্মদ সাঈদ খতিব ওগলি, কায়রো, মুয়াসসাসাতু তাবুক পাবলিকেশন্স, তৃতীয় সংস্করণ ২০১২, পৃ. ৩৯

(৪) তাদরিবুর রাবি ১/ ৫২৪
(খণ্ড: ১) নাযমু উলূমিল হাদীস = আকসিল আমালি ওয়াস সূল ফি ইলমি হাদীসির রাসূল (পৃষ্ঠা: ১০)
وكذلك السنة النبوية؛ قد حوت كثيراً من أصول مصطلح الحديث التي استقى منها أهل هذا الشأن مسائل عديدة وجعلوها أنواعاً في مصنفاتهم.

ومن ذلك، أنهم يستدلون لصحة تحمل الكافر للحديث حال كفره وأدائه بعد إسلامه (1) بحديث مُحَمَّدِ بْنِ جُبَيْرٍ، عَنْ أَبِيهِ، قَالَ: "سَمِعْتُ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم: يَقْرَأُ فِي المَغْرِبِ بِالطُّورِ، وَذَلِكَ أَوَّلَ مَا وَقَرَ الإِيمَانُ فِي قَلْبِي". (2)

واستدلوا على جواز تعديل الرواة بقوله صلى الله عليه وسلم: "إِنَّ عَبْدَ اللَّهِ رَجُلٌ صَالِحٌ" (3)، وفي جرحهم بقوله عليه الصلاة والسلام: "بِئْسَ أَخُو العَشِيرَةِ، وَبِئْسَ ابْنُ العَشِيرَةِ". (4)

وقد يرد عن رسول الله صلى الله عليه وسلم حديثٌ يدخل في عدة أبواب في علم المصطلح، كما استدل بعضهم على ضبط الحديث وحفظه (5) بقول رسول الله صلى الله عليه وسلم: " نَضَّرَ اللَّهُ امْرَأً سَمِعَ مِنَّا حَدِيثًا، فَحَفِظَهُ حَتَّى يُبَلِّغَهُ، فَرُبَّ حَامِلِ فِقْهٍ إِلَى مَنْ هُوَ أَفْقَهُ مِنْهُ، وَرُبَّ حَامِلِ فِقْهٍ لَيْسَ بِفَقِيهٍ". (6)

واستُدل به أيضاً على قبول خبر الواحد (7)، وعلى عدم جواز الرواية بالمعنى (8).

فكان الصحابة رضي الله عنهم بسليقتهم العربية وسلامة فطرتهم ولزومهم النبيَّ صلى الله عليه وسلم، يفهمون هذه الأمور من الكتاب والسنة من غير الحاجة إلى تدوينها بقواعد، فانعكس ذلك على طريقتهم في تلقي الروايات عن النبي صلى الله عليه وسلم في حياته وبعد وفاته.

--------------------------------------------

(1) انظر: تدريب الراوي 1/ 413

(2) أخرجه البخاري في كتاب: المغازي، باب: (من غير ترجمة)، حديث: 4023، وأخرجه مسلم في كتاب: الصلاة، باب القراءة في الصبح، حديث: 1035.

(3) أخرجه البخاري في كتاب: فضائل أصحاب النبي صلى الله عليه وسلم، باب: مناقب عبد الله بن عمر بن الخطاب رضي الله عنهما، حديث: 3740، وأخرجه مسلم في كتاب: فضائل الصحابة، باب: فضل عبد الله بن عمر، حديث: 6369.

(4) أخرجه البخاري في كتاب: الأدب، باب: لم يكن النبي صلى الله عليه وسلم فاحشا ولا متفحشا، حديث: 6032، وأخرجه مسلم في كتاب: البر والصلة والآداب، باب: مداراة من يتقى فحشه، حديث: 6596.

(5) انظر: فيض القدير شرح الجامع الصغير، لمحمد عبد الرؤوف المناوي (ت 1031 هـ)، تحقيق: أحمد عبد السلام، بيروت، دار الكتب العلمية، الطبعة الرابعة 2009 (6/ 370)

(6) سبق تخريجه.

(7) انظر: تدريب الراوي 1/ 74

(8) انظر: فتح المغيث بشرح ألفية الحديث، لأبي الخير محمد بن عبد الرحمن السخاوي (ت 902 هـ)، تحقيق: عبد الكريم بن عبد الله الخضير - محمد بن عبد الله آل فهيد، الرياض، دار المنهاج، الطبعة الثانية 1432 (3/ 124)
একইভাবে সুন্নাহর মধ্যেও হাদিস শাস্ত্রের পরিভাষার (مصطلح الحديث) অনেক মূলনীতি (أصول) নিহিত রয়েছে, যেখান থেকে এই শাস্ত্রের বিশেষজ্ঞগণ বহু মাসআলা বা বিষয় আহরণ করেছেন এবং সেগুলোকে তাঁদের গ্রন্থসমূহে বিভিন্ন প্রকার হিসেবে বিন্যস্ত করেছেন।

এর একটি উদাহরণ হলো, কাফির অবস্থায় হাদিস গ্রহণ (تحمل) করা এবং ইসলাম গ্রহণের পর তা বর্ণনা করার (أداء) বৈধতার স্বপক্ষে তাঁরা মুহাম্মদ ইবনে জুবায়েরের হাদিস দ্বারা দলিল পেশ করেন, যিনি তাঁর পিতা থেকে বর্ণনা করেছেন। তিনি বলেন: "আমি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে মাগরিবের নামাজে সূরা তূর তিলাওয়াত করতে শুনেছি; আর তখনই প্রথম আমার অন্তরে ঈমান বদ্ধমূল হয়েছিল।" (২)

বর্ণনাকারীদের নির্ভরযোগ্যতা ঘোষণা বা সত্যায়ন (تعديل) করার বৈধতার ওপর তাঁরা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের এই বাণী দ্বারা দলিল পেশ করেছেন: "নিশ্চয়ই আবদুল্লাহ একজন নেককার লোক" (৩); আর তাঁদের সমালোচনা বা দোষারোপ (جرح) করার ক্ষেত্রে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের এই বাণী দ্বারা দলিল দিয়েছেন: "সে গোত্রের কতই না মন্দ ভাই এবং সে গোত্রের কতই না মন্দ সন্তান।" (৪)

কখনও কখনও রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে এমন হাদিস বর্ণিত হতে পারে যা পরিভাষা বিজ্ঞানের (علم المصطلح) বেশ কয়েকটি অধ্যায়ের অন্তর্ভুক্ত হয়। যেমন কেউ কেউ হাদিসের নির্ভুলতা (ضبط) এবং তা মুখস্থ রাখার (حفظ) (৫) ওপর রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের এই বাণী দ্বারা দলিল পেশ করেছেন: "আল্লাহ সেই ব্যক্তিকে সজীব ও প্রফুল্ল রাখুন যে আমাদের থেকে কোনো হাদিস শুনল, অতঃপর তা (অন্যের নিকট) পৌঁছে দেওয়া পর্যন্ত মুখস্থ রাখল। কেননা অনেক জ্ঞানের বাহক এমন ব্যক্তির কাছে তা পৌঁছে দেয় যে তার চেয়ে অধিক সমঝদার, আবার অনেক জ্ঞানের বাহক নিজে ফকিহ বা সমঝদার নয়।" (৬)

এই হাদিস দ্বারা একক বর্ণনা (خبر الواحد) (৭) গ্রহণ করার ওপর এবং মর্মগত বর্ণনা (الرواية بالمعنى) (৮) নিষিদ্ধ হওয়ার ওপরেও দলিল পেশ করা হয়েছে।

সুতরাং সাহাবায়ে কেরাম (রা.) তাঁদের সহজাত আরবি ভাষাজ্ঞান, নির্মল প্রকৃতি এবং নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সান্নিধ্যে থাকার কারণে এই বিষয়গুলো কুরআন ও সুন্নাহ থেকে কোনো প্রকার ব্যাকরণ বা নিয়ম সংকলনের প্রয়োজন ছাড়াই বুঝতেন। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের জীবদ্দশায় এবং তাঁর ইন্তেকালের পর তাঁর থেকে বর্ণনা গ্রহণের পদ্ধতির ওপর এর প্রভাব পরিলক্ষিত হয়।

--------------------------------------------

(১) দেখুন: তদ্বরীবুর রাবী ১/৪১৩

(২) বুখারি এটি কিতাবুল মাগাযী, অধ্যায়: (শিরোনামহীন), হাদিস: ৪০২৩; এবং মুসলিম এটি কিতাবুস সালাত, ফজর নামাজে তিলাওয়াত অধ্যায়, হাদিস: ১০৩৫-এ বর্ণনা করেছেন।

(৩) বুখারি এটি কিতাব ফাযাইল আসহাবিন নবী, আবদুল্লাহ ইবনে ওমর (রা.)-এর মর্যাদা অধ্যায়, হাদিস: ৩৭৪০; এবং মুসলিম এটি কিতাব ফাযাইলুস সাহাবা, আবদুল্লাহ ইবনে ওমরের শ্রেষ্ঠত্ব অধ্যায়, হাদিস: ৬৩৬৯-এ বর্ণনা করেছেন।

(৪) বুখারি এটি কিতাবুল আদাব, নবী (সা.) অশালীন বা কটুভাষী ছিলেন না অধ্যায়, হাদিস: ৬০৩২; এবং মুসলিম এটি কিতাবুল বিররি ওয়াস সিলাতি ওয়াল আদাব, যার অনিষ্টতা থেকে বাঁচার জন্য নম্র ব্যবহার করা হয় অধ্যায়, হাদিস: ৬৫৯৬-এ বর্ণনা করেছেন।

(৫) দেখুন: ফয়জুল ক্বাদীর শারহু জামিইস সগীর, লেখক: মুহাম্মদ আবদুর রউফ আল-মুনাউয়ী (মৃত্যু ১০৩১ হি.), সম্পাদনা: আহমদ আবদুস সালাম, বৈরুত, দারুল কুতুবিল ইলমিয়্যাহ, চতুর্থ সংস্করণ ২০০৯ (৬/৩৭০)

(৬) পূর্বে এর তথ্যসূত্র উল্লেখ করা হয়েছে।

(৭) দেখুন: তদ্বরীবুর রাবী ১/৭৪

(৮) দেখুন: ফাতহুল মুগীস শারহু আলফিয়াতিল হাদিস, লেখক: আবুল খায়ের মুহাম্মদ বিন আবদুর রহমান আস-সাখাবী (মৃত্যু ৯০২ হি.), সম্পাদনা: আবদুল করিম বিন আবদুল্লাহ আল-খুদাইর - মুহাম্মদ বিন আবদুল্লাহ আল-ফুহাইদ, রিয়াদ, দারুল মিনহাজ, দ্বিতীয় সংস্করণ ১৪৩২ (৩/১২৪)
(খণ্ড: ১) নাযমু উলূমিল হাদীস = আকসিল আমালি ওয়াস সূল ফি ইলমি হাদীসির রাসূল (পৃষ্ঠা: ১১)
فمثال ذلك في حياته: ما أخرجه الشيخان عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عُمَرَ، قَالَ: بَيْنَا النَّاسُ بِقُبَاءٍ فِي صَلَاةِ الصُّبْحِ، إِذْ جَاءَهُمْ آتٍ، فَقَالَ: "إِنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم قَدْ أُنْزِلَ عَلَيْهِ اللَّيْلَةَ قُرْآنٌ، وَقَدْ أُمِرَ أَنْ يَسْتَقْبِلَ الكَعْبَةَ، فَاسْتَقْبِلُوهَا، وَكَانَتْ وُجُوهُهُمْ إِلَى الشَّأْمِ، فَاسْتَدَارُوا إِلَى الكَعْبَةِ". (1)

قال الحافظ ابن حجر: "فيه قبول خبر الواحد ووجوب العمل به ونسخ ما تقرر بطريق العلم به". (2)

ومثال تطبيقهم لتلك القواعد بعد وفاته: ما قَالَه ابْنُ عَبَّاسٍ: "إِنَّا كُنَّا مَرَّةً إِذَا سَمِعْنَا رَجُلًا يَقُولُ: قَالَ رَسُولُ اللهِ صلى الله عليه وسلم، ابْتَدَرَتْهُ أَبْصَارُنَا، وَأَصْغَيْنَا إِلَيْهِ بِآذَانِنَا، فَلَمَّا رَكِبَ النَّاسُ الصَّعْبَ، وَالذَّلُولَ، لَمْ نَأْخُذْ مِنَ النَّاسِ إِلَّا مَا نَعْرِفُ". (3)

قال أبو العباس القرطبي: " قوله: (لَمْ نَأْخُذْ مِنَ النَّاسِ إِلَّا مَا نَعْرِفُ) أي: ما نعرف ثقة نقلته وصحة مخرجه". (4)

وعلى مثل سير الصحابة سار التابعون لهم بإحسان، فطبقوا قواعد الحديث على روايات أهل البدع كما قال ابن سيرين (توفي 110 هـ): "لَمْ يَكُونُوا يَسْأَلُونَ عَنِ الْإِسْنَادِ، فَلَمَّا وَقَعَتِ الْفِتْنَةُ، قَالُوا: سَمُّوا لَنَا رِجَالَكُمْ، فَيُنْظَرُ إِلَى أَهْلِ السُّنَّةِ فَيُؤْخَذُ حَدِيثُهُمْ، وَيُنْظَرُ إِلَى أَهْلِ الْبِدَعِ فَلَا يُؤْخَذُ حَدِيثُهُمْ". (5)

أي: لم يكن التابعون يسألون عن الإسناد حتى وقعت فتنة مقتل عثمان أو فتنة الخوارج. (6)

واستمر الأمر على تناقل تلك القواعد شفوياً عشرات السنين، ثم بدأت مرحلة تدوين بعض مسائل المصطلح مفرقة في بعض التصانيف، وأول من دونها -فيما يُعلم- الإمام محمد بن إدريس الشافعي في كتابه "الرسالة". (7)

فتعرض لجملة مسائل هامة مما يتصل بعلم الحديث، كذكر خبر الآحاد والإحتجاج به (8)، والناسخ والمنسوخ (9) وشرط حفظ الراوي، والرواية بالمعنى (10)، وقبول خبر المدلِّس (11)، وتكلم عن الحديث المرسل (12).

--------------------------------------------

(1) أخرجه البخاري في كتاب: الصلاة، باب: باب ما جاء في القبلة، ومن لم ير الإعادة على من سها، فصلى إلى غير القبلة، حديث: 403. وأخرجه مسلم في كتاب: المساجد ومواضع الصلاة، باب: تحويل القبلة من القدس إلى الكعبة، حديث: 1178.

(2) فتح الباري 1/ 129

(3) أخرجه مسلم في مقدمة صحيحه ص 65

(4) المفهم لما أشكل من تلخيص كتاب مسلم، لأبي العباس أحمد بن عمر القرطبي (ت 656 هـ) حققه مجموعة من المحققين، مدشق- بيروت، دار ابن كثير، الطبعة الرابعة 1429 - 2008 (1/ 125)

(5) أخرجه مسلم في مقدمة صحيحه ص 66

(6) انظر: المفهم لما أشكل من تلخيص كتاب مسلم 1/ 122

(7) انظر: علم الرجال نشأته وتطوره، لمحمد بن مطر الزهراني، الرياض، دار المنهاج، الطبعة الأولى 1427، ص 7

وانظر: معجم المصطلحات الحديثية، لسيد عبد الماجد الغَوْري، دمشق-بيروت، دار ابن كثير، الطبعة الأولى 1428 - 2007 ص 13.

(8) انظر: الرسالة، لأبي عبد الله محمد بن إدريس الشافعي (ت 204 هـ)، اعتنى بها: الدكتور ناجي السويد، بيروت، المكتبة العصرية، الطبعة الأولى 2010 - 1431، ص 63

(9) انظر: الرسالة ص 95

(10) انظر: الرسالة ص 153

(11) انظر: الرسالة ص 156

(12) انظر: الرسالة ص 185
তাঁর জীবদ্দশায় এর উদাহরণ হলো: যা শায়খাইন (বুখারি ও মুসলিম) আবদুল্লাহ ইবনে ওমর (রাযি.) থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: "লোকেরা যখন কুবায় ফজরের নামাজ পড়ছিলেন, তখন এক ব্যক্তি তাঁদের নিকট এসে বললেন: 'রাসূলুল্লাহ ﷺ-এর ওপর আজ রাতে কুরআন নাজিল হয়েছে এবং তাঁকে কাবার দিকে মুখ করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে, অতএব আপনারাও কাবার দিকে মুখ ফিরুন।' তখন তাঁদের মুখ ছিল সিরিয়ার (বায়তুল মুকাদ্দাস) দিকে, এরপর তাঁরা কাবার দিকে ঘুরে গেলেন।" (১)

হাফেজ ইবনে হাজার বলেন: "এতে একক ব্যক্তির সংবাদ (خبر الواحد) গ্রহণ করা, সে অনুযায়ী আমল করা ওয়াজিব হওয়া এবং ইলম বা নিশ্চিত জ্ঞানের মাধ্যমে যা প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল তাকে এর মাধ্যমে রহিত (نسخ) করার প্রমাণ রয়েছে।" (২)

তাঁর ইন্তেকালের পর তাঁদের (সাহাবীদের) এই নিয়মগুলো প্রয়োগের উদাহরণ হলো: যা ইবনে আব্বাস (রাযি.) বলেছেন: "একটা সময় ছিল যখন আমরা কাউকে 'রাসূলুল্লাহ ﷺ বলেছেন' বলতে শুনলে আমাদের চোখগুলো তার দিকে দ্রুত নিবদ্ধ হতো এবং আমরা কান দিয়ে তাঁর কথা মনোযোগ দিয়ে শুনতাম। কিন্তু যখন মানুষ ভালো-মন্দ (الصعب والذلول) সব পথ অবলম্বন করল, তখন আমরা মানুষের নিকট থেকে কেবলমাত্র তাই গ্রহণ করতাম যা আমরা চিনতাম।" (৩)

আবু আল-আব্বাস আল-কুরতুবী বলেন: "তাঁর উক্তি: (আমরা কেবলমাত্র তাই গ্রহণ করতাম যা আমরা চিনতাম) অর্থাৎ: যার বর্ণনাকারীদের নির্ভরযোগ্যতা (ثقة) এবং উৎসের বিশুদ্ধতা (صحة) আমাদের জানা ছিল।" (৪)

আর সাহাবায়ে কেরামের পদাঙ্ক অনুসরণ করেই তাবেয়ীগণ নিষ্ঠার সাথে চলেছেন। তাঁরা বিদআতপন্থীদের (أهل البدع) বর্ণনার ক্ষেত্রে হাদিসের নিয়মগুলো প্রয়োগ করেছিলেন, যেমনটি ইবনে সিরিন (মৃত্যু ১১০ হি.) বলেছেন: "তাঁরা সনদ (الإسناد) সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করতেন না, কিন্তু যখন ফিতনা প্রকাশ পেল, তখন তাঁরা বলতে লাগলেন: 'তোমাদের বর্ণনাকারীদের নাম বলো।' তখন আহলুস সুন্নাহর দিকে লক্ষ্য করা হতো এবং তাঁদের হাদিস গ্রহণ করা হতো, আর বিদআতপন্থীদের (أهل البدع) দিকে লক্ষ্য করা হতো এবং তাঁদের হাদিস গ্রহণ করা হতো না।" (৫)

অর্থাৎ: উসমান (রাযি.)-এর শাহাদাত বা খারেজীদের ফিতনা প্রকাশ পাওয়ার আগ পর্যন্ত তাবেয়ীগণ সনদ (الإسناد) সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করতেন না। (৬)

এই নিয়মগুলো মৌখিকভাবে স্থানান্তরের বিষয়টি কয়েক দশক ধরে চলতে থাকে। এরপর পরিভাষার কিছু মাসআলা বিভিন্ন সংকলনে বিচ্ছিন্নভাবে লিপিবদ্ধ করার পর্যায় শুরু হয়। আর জানামতে সর্বপ্রথম ইমাম মুহাম্মদ বিন ইদ্রিস আল-শাফিঈ তাঁর "আর-রিসালা" গ্রন্থে এটি সংকলন করেন। (৭)

তিনি হাদিস শাস্ত্রের সাথে সংশ্লিষ্ট বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ বিষয় আলোচনা করেছেন, যেমন একক বর্ণনা (الآحاد) এবং তা দলিল হিসেবে গ্রহণ করা (الإحتجاج), রহিতকারী ও রহিতকৃত (الناسخ والمنسوخ), বর্ণনাকারীর মুখস্থ শক্তির (حفظ) শর্ত, মর্মার্থের ভিত্তিতে বর্ণনা (رواية بالمعنى), তাদলিসকারীর (المدلس) বর্ণনা গ্রহণ এবং তিনি বিচ্ছিন্ন (المرسل) হাদিস সম্পর্কেও আলোচনা করেছেন।

--------------------------------------------

(১) বুখারি এটি কিতাবুস সালাত, অধ্যায়: কিবলা বিষয়ক আলোচনা এবং যে ব্যক্তি ভুলবশত অন্য দিকে মুখ করে নামাজ পড়েছে তার পুনোরায় পড়ার প্রয়োজন নেই প্রসঙ্গে, হাদিস: ৪০৩; এবং মুসলিম এটি কিতাবুল মাসাজিদ ওয়া মাওয়াদিউস সালাত, অধ্যায়: বায়তুল মুকাদ্দাস থেকে কাবার দিকে কিবলা পরিবর্তন প্রসঙ্গে বর্ণনা করেছেন, হাদিস: ১১৭৮।

(২) ফাতহুল বারী ১/১২৯

(৩) ইমাম মুসলিম তাঁর সহিহ মুসলিম-এর মুকাদ্দামায় বর্ণনা করেছেন, পৃ. ৬৫।

(৪) আল-মুফহিম লিমা আশকালা মিন তালখিস কিতাব মুসলিম, আবু আল-আব্বাস আহমদ বিন ওমর আল-কুরতুবী (মৃ. ৬৫৬ হি.), একদল গবেষক কর্তৃক সম্পাদিত, দামেস্ক-বৈরুত, দার ইবনে কাসির, চতুর্থ সংস্করণ ১৪২৯ - ২০০৮ (১/১২৫)।

(৫) ইমাম মুসলিম তাঁর সহিহ মুসলিম-এর মুকাদ্দামায় বর্ণনা করেছেন, পৃ. ৬৬।

(৬) দেখুন: আল-মুফহিম লিমা আশকালা মিন তালখিস কিতাব মুসলিম ১/১২২।

(৭) দেখুন: ইলমুর রিজাল নাশআতুহু ওয়া তাতাওউরুহু, মুহাম্মদ বিন মাতার আল-জাহরানি, রিয়াদ, দারুল মিনহাজ, প্রথম সংস্করণ ১৪২৭, পৃ. ৭।

আরও দেখুন: মুজাম আল-মুসতালাহাত আল-হাদিসিয়্যাহ, সাইয়্যিদ আবদুল মাজেদ আল-গাওরি, দামেস্ক-বৈরুত, দার ইবনে কাসির, প্রথম সংস্করণ ১৪২৮ - ২০০৭, পৃ. ১৩।

(৮) দেখুন: আর-রিসালা, আবু আবদুল্লাহ মুহাম্মদ বিন ইদ্রিস আল-শাফিঈ (মৃ. ২০৪ হি.), সম্পাদনা: ড. নাজি আল-সুয়াইদ, বৈরুত, আল-মাকতাবাতুল আসরিয়্যাহ, প্রথম সংস্করণ ২০১০ - ১৪৩১, পৃ. ৬৩।

(৯) দেখুন: আর-রিসালা পৃ. ৯৫।

(১০) দেখুন: আর-রিসালা পৃ. ১৫৩।

(১১) দেখুন: আর-রিসালা পৃ. ১৫৬।

(১২) দেখুন: আর-রিসালা পৃ. ১৮৫।
(খণ্ড: ১) নাযমু উলূমিল হাদীস = আকসিল আমালি ওয়াস সূল ফি ইলমি হাদীসির রাসূল (পৃষ্ঠা: ১২)
وفي "الجامع الصحيح" للإمام البخاري ذكرٌ لبعض أنواع علوم الحديث ومسائله، كالتي في تراجم الأبواب، كقوله: "بابٌ: قول المحدث حدثنا وأخبرنا" (1)، وقوله: "باب ما يذكر في المناولة" (2)، وقوله: "باب: متى يصح سماع الصغير؟ " (3)، وقول: "باب: كتابة العلم" (4).

وكذلك فعل الإمام مسلم بن الحجاج، فقد ذكر مسائل عديدة من مسائل المصطلح في مقدمة (5) صحيحه، فذكر: زيادة الثقة، وآداب الرواية، والحديث المعنعن وصحة الاحتجاج به، وجواز الجرح وأنه ليس من الغيبة.

وأيضا الإمام أبو داود السجستاني ذكر جملةً من المسائل في رسالته لأهل مكة في وصف سننه.

وزاد عليهم الإمام أبو عيسى الترمذي إذ ختم جامعه بجزء نفيس ألحقه به، عُرف فيما بعد بـ"العلل الصغير" (6)، أودع فيه مسائل كثيرة من مسائل مصطلح الحديث، فذكر: أنواع التحمل، والرواية باللفظ، ودرجات إتقان المحدثين، وتكلم عن الحديث الحسن، والحديث المرسل، وزيادة الثقات، والغريب، والمنكر.

لكن لم يوجد في هذا الدور أبحاث تضم قواعد هذه العلوم وتذكر ضوابط تلك الاصطلاحات، اعتمادا منهم على حفظهم لها وإحاطتهم بها. (7)

ثم استمر الأمر على ذلك، -أعني: لم يكن هناك مُصنَّفاً مستقلاً في مصطلح الحديث؛ إنما هي مسائل متفرقة- حتى انقضت القرون الثلاثة الأولى، قال الدكتور محمد بن مطر الزهراني -وهو يتحدث عن نشأة تدوين المصطلح-: " كانت قواعده تتناقل إما مشافهة وإما منثورة في مصنفات شتَّى، وذلك

--------------------------------------------

(1) ذكره في صحيحه في كتاب العلم ص 69

(2) ذكره في صحيحه في كتاب العلم ص 70

(3) ذكره في صحيحه في كتاب العلم ص 73

(4) ذكره في صحيحه في كتاب العلم ص 78

(5) انظر: مقدمة صحيح مسلم ص 61 - 77

(6) انظر: سنن الترمذي، لأبي عيسى محمد بن عيسى بن سَوْرة الترمذي (ت 279 هـ)، تحقيق: مجموعة من المحققين، دمشق-بيروت، مؤسسة الرسالة، الطبعة الأولى 1432 - 2011، ص 1279.

(7) منهج النقد ص 61
ইমাম বুখারীর "আল-জামেউস সহীহ"-এ হাদিস বিজ্ঞানের (علوم الحديث) কিছু প্রকার ও মাসআলা সম্পর্কে আলোচনা রয়েছে, যেমনটি অনুচ্ছেদগুলোর শিরোনামে (تراجم الأبواب) দেখা যায়। যেমন তাঁর উক্তি: "পরিচ্ছেদ: হাদিস বর্ণনাকারীর (المحدث) 'হাদ্দাসানা' ও 'আখবারানা' বলা" (১), তাঁর উক্তি: "পরিচ্ছেদ: পাণ্ডুলিপি প্রদান (المناولة) প্রসঙ্গে যা বর্ণিত হয়েছে" (২), তাঁর উক্তি: "পরিচ্ছেদ: কখন ছোট শিশুর শ্রবণ (سماع) সহীহ হয়?" (৩), এবং উক্তি: "পরিচ্ছেদ: ইলম লিখে রাখা" (৪)।

অনুরূপভাবে ইমাম মুসলিম ইবনুল হাজ্জাজও করেছেন। তিনি তাঁর সহীহ-এর মুকাদ্দিমায় (৫) পরিভাষা (المصطلح) সংক্রান্ত বহু মাসআলা উল্লেখ করেছেন। তিনি বর্ণনা করেছেন: নির্ভরযোগ্য বর্ণনাকারীর অতিরিক্ত বর্ণনা (زيادة الثقة), হাদিস বর্ণনার আদব (آداب الرواية), 'আন' যোগে বর্ণিত হাদিস (المعنعن) এবং এর দ্বারা দলিল গ্রহণের (الاحتجاج) বিশুদ্ধতা, এবং সমালোচনার (الجرح) বৈধতা ও এটি যে গীবতের (الغيبة) অন্তর্ভুক্ত নয় সে বিষয়টি।

এছাড়াও ইমাম আবু দাউদ সাজিস্তানি তাঁর সুনান গ্রন্থের বর্ণনায় মক্কাবাসীদের নিকট প্রেরিত পত্রে বেশ কিছু মাসআলা উল্লেখ করেছেন।

তাদের চেয়েও অগ্রণী ভূমিকা পালন করেছেন ইমাম আবু ঈসা তিরমিযী। কারণ তিনি তাঁর জামে গ্রন্থের শেষে একটি মূল্যবান অংশ যুক্ত করেছেন, যা পরবর্তীতে "আল-ইলালুস সগির" (৬) নামে পরিচিতি লাভ করে। সেখানে তিনি হাদিসের পরিভাষা (مصطلح الحديث) সংক্রান্ত অনেক মাসআলা অন্তর্ভুক্ত করেছেন। তিনি বর্ণনা করেছেন: হাদিস গ্রহণের (التحمل) প্রকারভেদ, শব্দে শব্দে বর্ণনা (الرواية باللفظ), হাদিস বিশারদদের মুখস্থ ও নির্ভুলতার (إتقان) স্তরসমূহ। এছাড়া তিনি হাসান (حسن) হাদিস, বিচ্ছিন্ন (مرسل) হাদিস, নির্ভরযোগ্য বর্ণনাকারীদের অতিরিক্ত বর্ণনা (زيادة الثقات), বিরল (غريب) হাদিস এবং অগ্রহণযোগ্য (منكر) হাদিস সম্পর্কে আলোচনা করেছেন।

তবে এই যুগে এমন কোনো গবেষণা পাওয়া যায় না যা এই বিজ্ঞানের নিয়মাবলীকে একত্রিত করে বা সেই পরিভাষাগুলোর মূলনীতিসমূহ উল্লেখ করে। কারণ তাঁরা এই বিষয়গুলো মুখস্থ রাখার ও এ সম্পর্কে পূর্ণ জ্ঞান রাখার ওপরই নির্ভর করতেন। (৭)

অতঃপর বিষয়টি এভাবেই চলতে থাকে—অর্থাৎ হাদিসের পরিভাষা (مصطلح الحديث) বিষয়ে কোনো স্বতন্ত্র গ্রন্থ রচিত হয়নি; বরং এগুলো ছিল বিক্ষিপ্ত কিছু মাসআলা—পর্যন্ত প্রথম তিন শতাব্দী অতিক্রান্ত হয়। ডক্টর মুহাম্মদ বিন মাতার আজ-জহরানি পরিভাষা সংকলনের উদ্ভব সম্পর্কে আলোচনা করতে গিয়ে বলেন: "এর নিয়মাবলী হয় মৌখিকভাবে (مشافهة) স্থানান্তরিত হতো অথবা বিভিন্ন গ্রন্থে বিক্ষিপ্তভাবে ছড়িয়ে ছিল, আর তা...

--------------------------------------------

(১) তাঁর সহীহ গ্রন্থের 'কিতাবুল ইলম' অংশে এটি উল্লেখ করেছেন, পৃষ্ঠা ৬৯।

(২) তাঁর সহীহ গ্রন্থের 'কিতাবুল ইলম' অংশে এটি উল্লেখ করেছেন, পৃষ্ঠা ৭০।

(৩) তাঁর সহীহ গ্রন্থের 'কিতাবুল ইলম' অংশে এটি উল্লেখ করেছেন, পৃষ্ঠা ৭৩।

(৪) তাঁর সহীহ গ্রন্থের 'কিতাবুল ইলম' অংশে এটি উল্লেখ করেছেন, পৃষ্ঠা ৭৮।

(৫) দেখুন: মুকাদ্দিমা সহীহ মুসলিম, পৃষ্ঠা ৬১ - ৭৭।

(৬) দেখুন: সুনানে তিরমিযী, আবু ঈসা মুহাম্মদ বিন ঈসা বিন সাওরা আত-তিরমিযী (মৃত ২৭৯ হি.), সম্পাদনা: একদল গবেষক, দামেস্ক-বৈরুত, মুআসসাসাতুর রিসালাহ, প্রথম সংস্করণ ১৪৩২ - ২০১১, পৃষ্ঠা ১২৭৯।

(৭) মানহাজুন নাকদ (منهج النقد), পৃষ্ঠা ৬১।
(খণ্ড: ১) নাযমু উলূমিল হাদীস = আকসিল আমালি ওয়াস সূল ফি ইলমি হাদীসির রাসূল (পৃষ্ঠা: ১৩)
طيلة القرون الثلاثة الأولى، إذ لم يوجد - فيما أعلم - مصنف واحد يجمع تلك القواعد في هذه القرون الثلاثة، وإنما وجد بعضها منثوراً في مثل: "الرسالة" للإمام الشافعي، وكتاب "التمييز" للإمام مسلم، وكذلك في مقدمة "صحيحه"، وفي كتب معرفة الرجال والعلل، وكتب الجرح والتعديل المختلفة وغيرها". (1)

وهكذا في بقية العلوم الشرعية؛ تكون قواعده شفوية ثم تُدَوَّنُ بعضُ مسائل ثم يُفردُ بالتصنيف استقلالاً، وكان أول مَن أفردَ علمَ مصطلحِ الحديث بمُصنَّفٍ مستقل الحافظُ أبو محمد الحسن ابن عبدالرحمن الرَّامَهُرْمُزِي في كتابه "المحدث الفاصل بين الراوي والواعي"، ثم تتابع التصنيف بعده.

--------------------------------------------

(1) علم الرجال نشأته وتطوره ص 6 - 7
প্রথম তিন শতাব্দী জুড়ে, আমার জানামতে—এই তিন শতাব্দীতে সেই নিয়মাবলিকে একত্রিত করে এমন কোনো একক গ্রন্থ বিদ্যমান ছিল না। বরং এগুলোর কিছু কিছু বিক্ষিপ্তভাবে ইমাম শাফিঈ-এর "আর-রিসালাহ", ইমাম মুসলিম-এর "কিতাবুত তাময়িজ", তাঁর "সহিহ"-এর মুকাদ্দিমা, বর্ণনাকারী পরিচিতি (معرفة الرجال) ও হাদিসের সূক্ষ্ম ত্রুটি (العلل) বিষয়ক গ্রন্থসমূহ এবং সমালোচনা ও মূল্যায়ন (الجرح والتعديل) সংক্রান্ত বিভিন্ন কিতাব ও অন্যান্য গ্রন্থে বিদ্যমান ছিল।" (১)

শরয়ী বিজ্ঞানের অন্যান্য শাখার ক্ষেত্রেও বিষয়টি এমনই হয়ে থাকে; প্রথমে এর নিয়মাবলি মৌখিক থাকে, এরপর কিছু মাসআলা লিপিবদ্ধ করা হয় এবং পরবর্তীতে তা স্বতন্ত্র সংকলন হিসেবে আত্মপ্রকাশ করে। আর হাফিজ আবু মুহাম্মদ হাসান ইবনে আব্দুর রহমান আর-রামাহুরমুজিই সর্বপ্রথম তাঁর "আল-মুহাদ্দিসুল ফাসিল বাইনার রাবি ওয়াল ওয়াই" গ্রন্থে হাদিস শাস্ত্রের পরিভাষা (مصطلح الحديث) বিজ্ঞানকে একটি স্বতন্ত্র বিষয় হিসেবে সংকলন করেন। এরপর ধারাবাহিকভাবে এর পরবর্তী সংকলনগুলো আসতে থাকে।

--------------------------------------------

(১) ইলমুর রিজাল: নাশআতুহু ওয়া তাতাওউরুহু, পৃষ্ঠা ৬-৭
(খণ্ড: ১) নাযমু উলূমিল হাদীস = আকসিল আমালি ওয়াস সূল ফি ইলমি হাদীসির রাসূল (পৃষ্ঠা: ১৪)
‌‌الفصل الثاني

أطوار التأليف في علم مصطلح الحديث

محاولةُ جمعِ هذه القواعد في كتاب واحد أو في كتب، مرحلةٌ امتدت من أوائل القرن الرابع إلى نهاية القرن الخامس تقريباً، وتميزت هذه المؤلفات بسرد الراويات والأسانيد ثم استخلاص القواعد منها، وذكر من قال بها أو ذهب إليها من السلف. (1)

قال ابن حجر رحمه الله: "أول من صنف في ذلك: القاضي أبو محمد الرامهرمزي في كتابه: "المحدث الفاصل" (2)، لكنه لم يستوعب، والحاكم أبو عبد الله النيسابوري (3)، لكنه لم يهذب، ولم يرتب، وتلاه أبو نعيم الأصبهاني فعمل على كتابه مستخرجا وأبقى أشياء للمتعقب، ثم جاء بعدهم الخطيب أبو بكر البغدادي فصنف في قوانين الرواية كتابا سماه: "الكفاية" (4)، وفي آدابها كتابا سماه: "الجامع لآداب الشيخ والسامع" (5)، وقَلَّ فنٌ من فنون الحديث إلا وقد صنف فيه كتابا مفردا؛ فكان كما قال الحافظ أبو بكر بن نقطة: كل مَن أنصفَ عَلِمَ أن المحدثين بعد الخطيب عيال على كتبه.

ثم جاء بعض من تأخر عن الخطيب، فأخذ من هذا العلم بنصيب: فجمع القاضي عياض كتابا لطيفا سماه: "الإلماع"، وأبو حفص الميانجي جزءا سماه: "ما لا يسع المحدث جهله" (6). وأمثال ذلك من التصانيف التي اشتهرت، وبسطت؛ ليتوفر علمها، واختصرت؛ ليتيسر فهمها". (7)

--------------------------------------------

(1) انظر: علم الرجال نشأته وتطوره ص 7

(2) المحدث الفاصل بين الراوي والواعي، لأبي محمد الحسن بن عبد الرحمن بن خلاد الرامهرمزي الفارسي (ت 360 هـ)، تحقيق: الدكتور محمد عجاج الخطيب، بيروت، دار الفكر.

(3) معرفة علوم الحديث وكمية أجناسه، لأبي عبد الله الحاكم محمد بن عبد الله النيسابوري، المعروف بابن البيع (ت 405 هـ)، تحقيق: الدكتور أحمد بن فارس السَّلوم، الرياض، مكتبة المعارف، الطبعة الثانية 1431 - 2010.

(4) الكفاية في علم الرواية، لأبي بكر أحمد بن علي بن ثابت الخطيب البغدادي (ت 463 هـ)، تحقيق: حسن عبد المنعم شلبي، دمشق - بيروت، مؤسسة الرسالة.

(5) الجامع لأخلاق الراوي وآداب السامع، لأبي بكر أحمد بن علي بن ثابت الخطيب البغدادي (ت 463 هـ)، تحقيق الدكتور: محمود الطحان، الرياض، مكتبة المعارف.

(6) ما لا يسعُ المحدثَ جهلُهُ، لأبي حفص عمر بن عبدالمجيد التونسي المَيَّانِشي (ت 583 هـ)، تحقيق: عبد الفتاح أبو غدة، بيروت، دار البشائر الإسلامية، الطبعة الثانية 1431 - 2010.

(7) نزهة النظر شرح نخبة الفكر، لأبي الفضل أحمد بن علي محمد، ابن حجر العسقلاني (ت 852 هـ)، تحقيق: أحمد بن سالم المصري، مصر، مكتبة أولاد الشيخ للتراث، ص 9 - 10
‌‌দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ

হাদিস শাস্ত্রের পরিভাষা (مصطلح الحديث) বিষয়ক গ্রন্থ রচনার পর্যায়সমূহ

এই নিয়মাবলিকে একটি গ্রন্থে বা একাধিক গ্রন্থে সংকলনের প্রচেষ্টা চতুর্থ হিজরি শতাব্দীর শুরু থেকে প্রায় পঞ্চম শতাব্দীর শেষভাগ পর্যন্ত বিস্তৃত ছিল। এই গ্রন্থগুলো বর্ণনা এবং সনদ (الأسانيد) বর্ণনার মাধ্যমে বৈশিষ্ট্যমণ্ডিত ছিল, যেখান থেকে পরবর্তীতে মূলনীতিসমূহ আহরণ করা হতো এবং পূর্বসূরিদের (السلف) মধ্যে যারা এগুলো বর্ণনা করেছেন বা এই মত গ্রহণ করেছেন তাদের উল্লেখ করা হতো। (১)

ইবনে হাজার (রহিমাহুল্লাহ) বলেন: "এই বিষয়ে সর্বপ্রথম গ্রন্থ রচনা করেন কাজী আবু মুহাম্মদ আর-রামহুরমুজি তাঁর 'আল-মুহাদ্দিসুল ফাসিল' গ্রন্থে (২), কিন্তু তিনি এতে সমস্ত বিষয় অন্তর্ভুক্ত করতে পারেননি। এরপর হাকেম আবু আব্দুল্লাহ আন-নাইসাবুরি গ্রন্থ রচনা করেন (৩), কিন্তু তিনি বিষয়গুলোকে সুসংগঠিত ও সুবিন্যস্ত করেননি। তাঁদের পদাঙ্ক অনুসরণ করেন আবু নুআইম আল-আসবাহানি; তিনি হাকেমের গ্রন্থের ওপর একটি মুস্তাখরাজ (مستخرج) রচনা করেন এবং পরবর্তী পর্যালোচকদের জন্য কিছু বিষয় অবশিষ্ট রাখেন। অতঃপর তাঁদের পরে আসলেন খতিব আবু বকর আল-বাগদাদি। তিনি বর্ণনার নিয়মাবলি (قوانين الرواية) বিষয়ে 'আল-কিফায়া' (৪) নামক একটি গ্রন্থ এবং বর্ণনার আদব সম্পর্কে 'আল-জামে লি আদাবিশ শাইখ ওয়াস সামি' (৫) নামক একটি গ্রন্থ রচনা করেন। হাদিসের এমন কোনো শাখা নেই বললেই চলে যে বিষয়ে তিনি স্বতন্ত্র কোনো গ্রন্থ রচনা করেননি। ফলে হাফেজ (الحافظ) আবু বকর ইবনে নুকতাহ যেমনটি বলেছেন: 'প্রত্যেক ন্যায়নিষ্ঠ ব্যক্তিই জানেন যে, খতিব আল-বাগদাদির পরবর্তী মুহাদ্দিসগণ (المحدثين) তাঁর গ্রন্থরাজির ওপর নির্ভরশীল।'

অতঃপর খতিব আল-বাগদাদির পরবর্তীকালে এমন কিছু লোকের আগমন ঘটে যারা এই ইলম থেকে অংশ গ্রহণ করেন। ফলে কাজী ইয়াদ 'আল-ইলমা' নামক একটি চমৎকার গ্রন্থ সংকলন করেন এবং আবু হাফস আল-মাইয়ানজি একটি পুস্তিকা (جزء) রচনা করেন যার নাম 'মা লা ইয়াসাউল মুহাদ্দিসা জাহলুহু' (৬)। এ জাতীয় আরও অনেক গ্রন্থ রয়েছে যা প্রসিদ্ধি লাভ করেছে; জ্ঞান প্রসারের উদ্দেশ্যে এগুলোর বিস্তারিত বর্ণনা করা হয়েছে এবং সহজবোধ্য করার জন্য এগুলোকে সংক্ষিপ্ত করা হয়েছে।" (৭)

--------------------------------------------

(১) দেখুন: বর্ণনাকারী বিষয়ক জ্ঞান (علم الرجال) এর উৎপত্তি ও ক্রমবিকাশ, পৃ. ৭

(২) 'আল-মুহাদ্দিসুল ফাসিল বাইনার রাওয়ী ওয়াল ওয়াঈ', আবু মুহাম্মদ হাসান ইবনে আব্দুর রহমান ইবনে খাল্লাদ আর-রামহুরমুজি আল-ফারিসি (মৃ. ৩৬০ হিজরি), তাহকিক: ড. মুহাম্মদ আজ্জাজ আল-খতিব, বৈরুত, দারুল ফিকর।

(৩) 'মা’রিফাতু উলুমিল হাদিস ওয়া কাম্মিয়াতু আজনাসিহি', আবু আব্দুল্লাহ আল-হাকেম মুহাম্মদ ইবনে আব্দুল্লাহ আন-নাইসাবুরি, যিনি ইবনুল বাইয়্যি নামে পরিচিত (মৃ. ৪০৫ হিজরি), তাহকিক: ড. আহমদ ইবনে ফারিস আস-সাল্লুম, রিয়াদ, মাকতাবাতুল মা’আরিফ, দ্বিতীয় সংস্করণ ১৪৩১ - ২০১০।

(৪) 'আল-কিফায়া ফি ইলমির রিওয়ায়াহ', আবু বকর আহমদ ইবনে আলী ইবনে সাবিত খতিব আল-বাগদাদি (মৃ. ৪৬৩ হিজরি), তাহকিক: হাসান আব্দুল মুনইম শালাবি, দামেস্ক - বৈরুত, মুয়াসসাসাতুর রিসালাহ।

(৫) 'আল-জামে লি আখলাকির রাওয়ী ওয়া আদাবিস সামি', আবু বকর আহমদ ইবনে আলী ইবনে সাবিত খতিব আল-বাগদাদি (মৃ. ৪৬৩ হিজরি), তাহকিক ড.: মাহমুদ আত-তাহহান, রিয়াদ, মাকতাবাতুল মা’আরিফ।

(৬) 'মা লা ইয়াসাউল মুহাদ্দিসা জাহলুহু', আবু হাফস ওমর ইবনে আব্দুল মাজিদ আত-তিউনিসি আল-মাইয়ানজি (মৃ. ৫৮৩ হিজরি), তাহকিক: আব্দুল ফাত্তাহ আবু গুদ্দাহ, বৈরুত, দারুল বাশাইর আল-ইসলামিয়াহ, দ্বিতীয় সংস্করণ ১৪৩১ - ২০১০।

(৭) 'নুজহাতুন নাযার শারহু নুখবাতিল ফিকার', আবুল ফজল আহমদ ইবনে আলী মুহাম্মদ ইবনে হাজার আল-আসকালানি (মৃ. ৮৫২ হিজরি), তাহকিক: আহমদ ইবনে সালিম আল-মিসরি, মিশর, মাকতাবাতু আওলাদিশ শাইখ লিত-তুরাস, পৃ. ৯ - ১০।
(খণ্ড: ১) নাযমু উলূমিল হাদীস = আকসিল আমালি ওয়াস সূল ফি ইলমি হাদীসির রাসূল (পৃষ্ঠা: ১৫)
ثم بدأ التصنيف يأخذ شكلاً آخر غير ما تقدمه من مصنفات، وذلك بعد القرن الخامس الهجري، قال الزهراني: " وهي مرحلةُ جمعِ القواعد من كتب مَن تقدم من الأئمة بدون ذكر الأسانيد أو الروايات، ثم محاولة إعادة ترتيبها وتهذيبها، ومن أبرز المؤلفات في ذلك كتاب "مقدمةٌ في علوم الحديث" للحافظ أبي عمرو ابن الصلاح (ت 643 هـ) " (1).

قال ابن حجر: "إلى أن جاء: الحافظ الفقيه تقي الدين أبو عمرو عثمان بن الصلاح بن عبد الرحمن الشهرزوري نزيل دمشق فجمع -لما ولي تدريس الحديث بالمدرسة الأشرفية- كتابه المشهور، فهذب فنونه، وأملاه شيئا بعد شيء؛ فلهذا لم يحصل ترتيبه على الوضع المتناسب، واعتنى بتصانيف الخطيب المفرقة، فجمع شتات مقاصدها، وضم إليها من غيرها نخب فوائدها، فاجتمع في كتابه ما تفرق في غيره؛ فلهذا عكف الناس عليه، وساروا بسيره، فلا يحصى كم ناظم له ومختصر، ومستدرك عليه ومقتصر، ومعارض له ومنتصر". (2)

فصار كتاب ابن الصلاح عمدة المتأخرين وإماما يحتذى به ومرجعا يقتدى به، فعوَّل عليه كل من جاء بعده في مصطلح الحديث، والكل في فلكه يدور، ولا يعيبه ما انتقد عليه في بعض مسائل المصطلح، إذ الكمال والعصمة لكتاب الله عز وجل، {وَلَوْ كَانَ مِنْ عِنْدِ غَيْرِ اللَّهِ لَوَجَدُوا فِيهِ اخْتِلَافًا كَثِيرًا} [سورة النساء: الآية 82]

قال الحافظ العراقي: " فإن أحسن ما صنَّفَ أهلُ الحديث في معرفة الاصطلاح كتاب علوم الحديث لابن الصلاح، جمع فيه غرر الفوائد فأوعى، ودعا له زمر الشوارد فأجابت طوعا، إلا أن فيه غير موضع قد خولف فيه، وأماكن أُخَر تحتاج إلى تقييد وتنبيه". (3)

ومن أهم المؤلفات في هذا الدور بعد كتاب "علوم الحديث": (4)

1 - "الإرشاد" للإمام يحيى بن شرف النووي (توفي سنة 676 هـ) لخص فيه كتاب ابن الصلاح ثم لخصه في كتاب "التقريب والتيسير لأحاديث البشير النذير".

2 - "التبصرة والتذكرة" منظومة عدد أبياتها (1002) للإمام الحافظ عبد الرحيم بن الحسين العراقي (المتوفى سنة 806 هـ) ضمنها كتاب ابن الصلاح وتعقبه، وزاد عليه مسائل نافعة، ثم شرحها شرحا قيما، اسمه: "شرح التبصرة والتذكرة".

--------------------------------------------

(1) علم الرجال ص 7

(2) نزهة النظر ص 9 - 10

(3) التقييد والإيضاح شرح مقدمة ابن الصلاح، لأبي الفضل عبد الرحيم بن الحسين العراقي (ت 806)، تحقيق: محمد راغب الطباخ، بيروت، دار الحديث، الطبعة الثانية 1405 - 1984، ص 2

(4) منهج النقد ص 67، سيأتي ذكر طبعات هذه الكتب عند الكلام عن كتاب ابن الصلاح وأهميته.
এরপর গ্রন্থনা পদ্ধতি পূর্ববর্তী সংকলনগুলোর চেয়ে ভিন্ন রূপ নিতে শুরু করে। এটি ছিল হিজরি পঞ্চম শতাব্দীর পরবর্তী সময়। আল-যাহরানি বলেন: "এটি হলো পূর্ববর্তী ইমামগণের কিতাব থেকে সনদসমূহ (أسانيد) অথবা বর্ণনাগুলো (روايات) উল্লেখ করা ছাড়াই মূলনীতিসমূহ সংগ্রহের পর্যায়। এরপর সেই নীতিগুলোকে পুনরায় বিন্যস্ত ও পরিমার্জন করার প্রচেষ্টা চালানো হয়। এই বিষয়ের অন্যতম বিশিষ্ট গ্রন্থ হলো হাফিজ আবু আমর ইবনুস সালাহ (মৃত্যু ৬৪৩ হি.) রচিত 'মুকাদ্দিমাহ ফি উলুমিল হাদিস'।" (১)

হাফিজ ইবনে হাজার বলেন: "পরবর্তীতে দামেস্কের অধিবাসী হাফিজ ও ফকিহ তাকিউদ্দীন আবু আমর উসমান ইবনুস সালাহ ইবনে আবদুর রহমান আশ-শাহরাযুরি আগমন করেন। আশরাফিয়া মাদরাসায় হাদিস শিক্ষাদানের দায়িত্ব নেওয়ার পর তিনি তার প্রসিদ্ধ কিতাবটি সংকলন করেন। তিনি এর বিষয়বস্তুগুলো পরিমার্জন করেন এবং একে একে তা শ্রুতিলিপি প্রদান করেন। একারণেই এর বিন্যাস যথাযথ ধারাবাহিকতায় সম্পন্ন হয়নি। তিনি খতিব আল-বাগদাদির বিক্ষিপ্ত সংকলনগুলোর প্রতি মনোনিবেশ করেন এবং সেগুলোর উদ্দেশ্যগুলোকে একত্রিত করেন। এর সাথে অন্যান্য গ্রন্থ থেকে বাছাইকৃত উপকারী বিষয়গুলো যুক্ত করেন। ফলে তার কিতাবে এমন সব বিষয় একত্রিত হয়েছে যা অন্যদের কিতাবে ছড়িয়ে ছিটিয়ে ছিল। একারণেই মানুষ এই কিতাবের ওপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ে এবং তার পথ অনুসরণ করে। ফলে এই কিতাবের ওপর ভিত্তি করে কতজন যে কাব্যরূপদানকারী, সংক্ষিপ্তকারী (مختصر), অপূর্ণতা পূরণকারী (مستدرك), সারসংক্ষেপকারী, আপত্তিকারী ও সমর্থনকারী রয়েছেন তা গণনা করা সম্ভব নয়।" (২)

এভাবে ইবনুস সালাহর কিতাবটি পরবর্তী যুগের আলিমদের প্রধান অবলম্বন, অনুসরণীয় ইমাম এবং অনুকরণের মডেলে পরিণত হয়। তার পরবর্তী সময়ে হাদিসের পরিভাষা (اصطلاح الحديث) বিষয়ে যারা কাজ করেছেন তারা সবাই এর ওপর নির্ভর করেছেন এবং সবাই একে কেন্দ্র করেই আবর্তিত হয়েছেন। পরিভাষার কিছু বিষয়ে তার ওপর সমালোচনা থাকলেও তা এই কিতাবের গুরুত্বকে ম্লান করে না। কেননা পূর্ণতা ও অভ্রান্ততা কেবল মহান আল্লাহর কিতাবের জন্য নির্ধারিত। "তবে কি তারা কুরআন নিয়ে গবেষণা করে না? যদি তা আল্লাহ ব্যতীত অন্য কারো পক্ষ থেকে হতো, তবে তারা তাতে অনেক বৈষম্য দেখতে পেত।" [সূরা নিসা: আয়াত ৮২]

হাফিজ আল-ইরাকি বলেন: "আহলুল হাদিসগণ পরিভাষা বিষয়ক জ্ঞানের ক্ষেত্রে যা কিছু সংকলন করেছেন তার মধ্যে ইবনুস সালাহর উলুমুল হাদিস কিতাবটি সর্বশ্রেষ্ঠ। তিনি এতে শ্রেষ্ঠতম উপকারী বিষয়গুলো অত্যন্ত নিপুণভাবে জমা করেছেন এবং দুর্লভ বিষয়গুলোকে একত্রিত করেছেন। তবে এতে এমন কিছু স্থান রয়েছে যেখানে তার সাথে ভিন্নমত পোষণ করা হয়েছে এবং অন্যান্য কিছু স্থান রয়েছে যেখানে সীমাবদ্ধকরণ (تقييد) ও সতর্কীকরণের (تنبيه) প্রয়োজন রয়েছে।" (৩)

এই পর্যায়ে "উলুমুল হাদিস" কিতাবটির পর অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ গ্রন্থসমূহ হলো: (৪)

১ - ইমাম ইয়াহইয়া ইবনে শরাফ আন-নববী (মৃত্যু ৬৭৬ হি.) রচিত "আল-ইরশাদ"। এতে তিনি ইবনুস সালাহর কিতাবকে সংক্ষেপ করেছেন। এরপর একে পুনরায় "আত-তাকরীব ওয়াত-তাইসীর লি আহাদিসিল বাশিরিন নাযীর" গ্রন্থে সংক্ষিপ্ত করেছেন।

২ - "আত-তাবসিরাহ ওয়াত-তাযকিরাহ", এটি ইমাম হাফিজ আবদুর রহীম ইবনুল হুসাইন আল-ইরাকি (মৃত্যু ৮০৬ হি.) রচিত ১০০২ পংক্তির একটি কাব্যগ্রন্থ (منظومة)। এতে তিনি ইবনুস সালাহর কিতাবকে অন্তর্ভুক্ত করেছেন এবং এর পর্যালোচনা করেছেন। সাথে অনেক উপকারী বিষয় সংযোজন করেছেন। এরপর তিনি নিজেই এর একটি মূল্যবান ব্যাখ্যাগ্রন্থ রচনা করেন যার নাম "শারহুত তাবসিরাহ ওয়াত-তাযকিরাহ"।

--------------------------------------------

(১) ইলমুর রিজাল, পৃ. ৭

(২) নুজহাতুন নাযার, পৃ. ৯ - ১০

(৩) আত-তাকয়িদ ওয়াল ঈদাহ শারহু মুকাদ্দিমাতি ইবনিস সালাহ, আবু ফাদল আবদুর রহীম ইবনুল হুসাইন আল-ইরাকি (মৃত্যু ৮০৬), সম্পাদনা: মুহাম্মদ রাগিব আত-তাব্বাখ, বৈরুত, দারুল হাদিস, দ্বিতীয় সংস্করণ ১৪০৫ - ১৯৮৪, পৃ. ২

(৪) মানহাজুন নাকদ, পৃ. ৬৭। ইবনুস সালাহর কিতাব ও তার গুরুত্ব আলোচনার সময় এই কিতাবগুলোর সংস্করণ সম্পর্কে বর্ণনা আসবে।
(খণ্ড: ১) নাযমু উলূমিল হাদীস = আকসিল আমালি ওয়াস সূল ফি ইলমি হাদীসির রাসূল (পৃষ্ঠা: ১৬)
3 - شرح للحافظ العراقي أيضا وضعه على كتاب ابن الصلاح: "التقييد والإيضاح لما أطلق وأغلق من كتاب ابن الصلاح" ويسمى أيضا "النكت".

4 - "النكت"، للحافظ أحمد بن علي بن حجر العسقلاني (المتوفى سنة 852 هـ).

5 - "نخبة الفكر" وشرحه "نزهة النظر" كلاهما للحافظ ابن حجر.

6 - "فتح المغيث شرح ألفية العراقي في علم الحديث"، للحافظ شمس الدين محمد السخاوي (المتوفى سنة 902 هـ)، امتاز بتحقيق وتتبع للمسائل في كتب السنة وعلوم الحديث.

7 - "تدريب الراوي شرح تقريب النواوي" للحافظ جلال الدين عبد الرحمن السيوطي (المتوفى سنة 911 هـ).

ثم جاء بعد ذلك عصر الركود العلمي في علم مصطلح الحديث، وقد امتد ذلك من القرن العاشر إلى مطلع القرن الهجري الحالي.

في هذه الفترة توقف الاجتهاد في مسائل العلم والابتكار في التصنيف، وكثرت المختصرات في علوم الحديث شعرا ونثرا، وشُغِلَ الكاتبون بمناقشاتٍ لفظية لعبارات المؤلفين دون الدخول في عمق الموضوع تحقيقا أو اجتهادا. (1)

ثم جاء دور اليقظة والتنبه في العصر الحديث من مطلع القرن الهجري الحالي إلى وقتنا هذا، وفيه تنبهت الأمة للأخطار المحدقة نتيجة اتصال العالم الإسلامي بالشرق والغرب، ثم نتيجة الصدام العسكري العنيف والاستعمار الفكري الذي يفوق في خبثه وخطره كل الأخطار، فقد ظهرت دسائس وشبهات حول السنة أثارها المستشرقون وتلقفها ضعفاء النفوس، فصاروا يدندنون بها ويلهجون، مما اقتضى تأليف أبحاث حولها والرد على أغاليطهم وافتراءاتهم، كما اقتضى الحال تجديد طريقة التأليف في علوم الحديث، فوفى العلماء بهذه المطالب وأخرجت المطابع الكثير من المؤلفات المبتكرة النافعة، ومن أبرز المصنفات في تلك الحقبة:

1 - "قواعد التحديث" للشيخ جمال الدين القاسمي (2).

2 - "السنة ومكانتها في التشريع الإسلامي"، للدكتور مصطفى السباعي (3)، وهو كتاب جليل القدر تحدث عن المستشرقين ومواقفهم العدائية للسنة والإسلام.

--------------------------------------------

(1) المصدر السابق ص 69

(2) جمال الدين (أو محمد جمال الدين) بن محمد سعيد بن قاسم الحلاق، من سلالة الحسين السبط: إمام الشام في عصره، علما بالدين، وتضلعا من فنون الأدب، مولده ووفاته في دمشق (1283 - 1332 هـ = 1866 - 1914 م)، كان سلفي العقيدة لا يقول بالتقليد، رحل إلى مصر، وزار المدينة، انقطع في منزله للتصنيف وإلقاء الدروس الخاصة والعامة، في التفسير وعلوم الشريعة الإسلامية والأدب، له اثنان وسبعين مصنفا أو تزيد.

 

انظر: الأعلام، لخير الدين الزركلي، بيروت، دار العلم للملايين، الطبعة الخامسة عشر مايو 2002 (2/ 135).

(3) مصطفى بن حسني، أبو حسان السباعي: عالم إسلامي، مجاهد، من خطباء الكتاب، ولد بحمص وتوفي بدمشق (1333 - 1384 هـ = 1915 - 1967 م)، وتعلم بها وبالأزهر، كان على رأس كتيبة من (الإخوان المسلمين) في الدفاع عن بيت المقدس (1948) وأحرز شهادة (دكتور في التشريع الإسلامي وتاريخه) من الأزهر (1949) واستقر في دمشق، استاذا بكلية الحقوق (1950) ومراقبا عاما لجمعية الإخوان المسلمين، وعميدا لكلية الشريعة (1955) وقام برحلات، وأنشأ مجلة (حضارة الإسلام)، ونشر من تأليفه 21 كتابا ورسالة. انظر: الأعلام للزركلي 7/ 232
৩ - হাফিজ ইরাকি (রহ.)-এর একটি ব্যাখ্যাগ্রন্থ, যা তিনি ইবনে আস-সালাহর কিতাবের ওপর লিখেছেন: "আত-তাকয়িদ ওয়াল ইজাহ লিমা উতলিকা ওয়া উগলিক মিন কিতাব ইবনে আস-সালাহ", যা "আন-নুকাত" নামেও পরিচিত।

৪ - হাফিজ আহমাদ ইবনে আলি ইবনে হাজার আল-আসকালানি (মৃত্যু ৮৫২ হিজরি) রচিত "আন-নুকাত"।

৫ - "নুখবাতুল ফিকার" এবং এর ব্যাখ্যাগ্রন্থ "নুজহাতুন নাজার", উভয়টিই হাফিজ ইবনে হাজার রচিত।

৬ - হাফিজ শামসুদ্দিন মুহাম্মাদ আস-সাখাভি (মৃত্যু ৯০২ হিজরি) রচিত "ফাতহুল মুগিস শারহু আলফিয়াতিল ইরাকি ফি ইলমিল হাদিস"। এটি সুন্নাহর (السنة) কিতাবসমূহ এবং উলুমুল হাদিসের (علوم الحديث) মাসআলাগুলো যাচাই-বাছাই (تحقيق) ও বিশদ অনুসরণের মাধ্যমে বিশেষ বৈশিষ্ট্যমণ্ডিত হয়েছে।

৭ - হাফিজ জালালুদ্দিন আবদুর রহমান আস-সুয়ূতি (মৃত্যু ৯১১ হিজরি) রচিত "তাদরিবুর রাবি শারহু তাকরিবিন নাওয়াওয়ি"।

এরপর হাদিস পরিভাষা শাস্ত্রে (علم مصطلح الحديث) বুদ্ধিবৃত্তিক স্থবিরতার যুগ আসে, যা দশম হিজরি শতাব্দী থেকে বর্তমান হিজরি শতাব্দীর শুরু পর্যন্ত বিস্তৃত ছিল।

এই সময়ে ইলমের মাসআলাসমূহে ইজতিহাদ (الاجتهاد) এবং গ্রন্থ রচনায় নতুনত্ব স্তব্ধ হয়ে যায়। উলুমুল হাদিসে (علوم الحديث) কবিতা ও গদ্যাকারে সংক্ষিপ্তসার (المختصرات) রচনার আধিক্য দেখা দেয়। লেখকরা যাচাই-বাছাই (تحقيق) বা ইজতিহাদের (الاجتهاد) গভীরে প্রবেশ না করে কেবল মূল লেখকদের শব্দমালা নিয়ে শাব্দিক বিতর্কে লিপ্ত ছিলেন। (১)

এরপর বর্তমান হিজরি শতাব্দীর শুরু থেকে আমাদের সময় পর্যন্ত আধুনিক যুগে জাগরণ ও সচেতনতার পর্ব আসে। এতে মুসলিম উম্মাহ পূর্ব ও পশ্চিমের সাথে মুসলিম বিশ্বের যোগাযোগের ফলে সৃষ্টি হওয়া আসন্ন বিপদ সম্পর্কে সচেতন হয়। এরপর তীব্র সামরিক সংঘাত ও বুদ্ধিবৃত্তিক উপনিবেশবাদের ফলশ্রুতিতে—যা তার ধূর্ততা ও ভয়াবহতায় অন্য সকল বিপদের ঊর্ধ্বে ছিল—সুন্নাহর (السنة) ব্যাপারে প্রাচ্যবিদদের দ্বারা উত্থাপিত নানাবিধ চক্রান্ত ও সংশয় দেখা দেয়, যা দুর্বলমনা ব্যক্তিরা লুফে নেয়। ফলে তারা এসব বিষয় নিয়ে চর্চা ও প্রচার শুরু করে। এর ফলে এসব বিষয়ে গবেষণামূলক প্রবন্ধ রচনা এবং তাদের ভুল ও অপবাদের দাঁতভাঙা জবাব দেওয়া আবশ্যক হয়ে পড়ে। তেমনিভাবে উলুমুল হাদিসের (علوم الحديث) গ্রন্থ রচনার পদ্ধতিতেও আধুনিকায়নের প্রয়োজনীয়তা দেখা দেয়। উলামায়ে কেরাম এই দাবি পূরণ করেছেন এবং ছাপাখানাগুলো থেকে অনেক নতুন ও উপকারী গ্রন্থ প্রকাশিত হয়েছে। সেই সময়ের উল্লেখযোগ্য কিছু গ্রন্থ হলো:

১ - শেখ জামালুদ্দিন আল-কাসিমি (২) রচিত "কাওয়ায়িদুত তাহদিস"।

২ - ড. মুস্তাফা আস-সিবায়ি (৩) রচিত "আস-সুন্নাহ ওয়া মাকানাতুহা ফিত তাশরিয়িল ইসলামি"। এটি একটি অত্যন্ত মর্যাদা সম্পন্ন কিতাব যাতে প্রাচ্যবিদদের অবস্থান এবং সুন্নাহ (السنة) ও ইসলামের প্রতি তাদের শত্রুভাবাপন্ন আচরণ নিয়ে আলোচনা করা হয়েছে।

--------------------------------------------

(১) পূর্বোক্ত উৎস, পৃ. ৬৯।

(২) জামালুদ্দিন (বা মুহাম্মাদ জামালুদ্দিন) বিন মুহাম্মাদ সাঈদ বিন কাসিম আল-হাল্লাক, তিনি হুসাইন (রা.)-এর বংশধর: তৎকালীন শাম অঞ্চলের ইমাম, দ্বীনি ইলমে পারদর্শী এবং সাহিত্য শিল্পে (فنون الأدب) প্রগাঢ় পাণ্ডিত্যের অধিকারী। তাঁর জন্ম ও মৃত্যু দামেস্কে (১২৮৩ - ১৩৩২ হিজরি = ১৮৬৬ - ১৯১৪ খ্রিস্টাব্দ)। তিনি সালাফি আকিদা সম্পন্ন ছিলেন এবং অন্ধ অনুকরণের (التقليد) প্রবক্তা ছিলেন না। তিনি মিশরে ভ্রমণ করেছেন এবং মদিনা যিয়ারত করেছেন। তিনি গ্রন্থ রচনা এবং তাফসির (التفسير), ইসলামি শরিয়াহর জ্ঞান (علوم الشريعة الإسلامية) ও সাহিত্যের ওপর সাধারণ ও বিশেষ দরস প্রদানের জন্য নিজ গৃহে নিভৃত সময় কাটাতেন। তাঁর রচিত গ্রন্থের সংখ্যা ৭২টি বা তারও বেশি।

 

দেখুন: আল-আলাম, খাইরুদ্দিন আজ-জিরিকলি, বৈরুত, দারুল ইলম লিল-মালাউন, ১৫তম সংস্করণ মে ২০০২ (২/ ১৩৫)।

(৩) মুস্তাফা বিন হুসনি, আবু হাসান আস-সিবায়ি: একজন ইসলামি স্কলার, মুজাহিদ এবং সুবক্তা ও লেখক। তিনি হিমসে জন্মগ্রহণ করেন এবং দামেস্কে মৃত্যুবরণ করেন (১৩৩৩ - ১৩৮৪ হিজরি = ১৯১৫ - ১৯৬৭ খ্রিস্টাব্দ)। তিনি হিমস ও আজহার বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষালাভ করেন। তিনি বাইতুল মুকাদ্দাস রক্ষায় (১৯৪৮) 'ইখওয়ানুল মুসলিমুন'-এর একটি দলের নেতৃত্বে ছিলেন। তিনি আজহার থেকে 'ইসলামি আইন ও তার ইতিহাসের' ওপর ডক্টরেট ডিগ্রি অর্জন করেন (১৯৪৯) এবং দামেস্কে স্থায়ী হন। তিনি ১৯৫০ সালে আইন অনুষদের অধ্যাপক, ইখওয়ানুল মুসলিমুন সোসাইটির জেনারেল ইন্সপেক্টর এবং ১৯৫৫ সালে শরিয়াহ অনুষদের ডিন নিযুক্ত হন। তিনি বিভিন্ন দেশ সফর করেছেন, 'হাদারাতুল ইসলাম' নামক সাময়িকী প্রতিষ্ঠা করেছেন এবং তাঁর রচিত ২১টি বই ও রিসালা প্রকাশিত হয়েছে। দেখুন: আল-আলাম, জিরিকলি ৭/ ২৩২।
(খণ্ড: ১) নাযমু উলূমিল হাদীস = আকসিল আমালি ওয়াস সূল ফি ইলমি হাদীসির রাসূল (পৃষ্ঠা: ১৭)
3 - "الحديث والمحدثون" ألفه الشيخ الدكتور محمد محمد أبو زهو، بحث فيه جهود العلماء لخدمة الحديث. (1)

4 - مؤلفات العلامة عبدالرحمن المُعلمي، طبعت مؤخراً كاملة.

5 - مؤلفات العلامة ناصر الدين الألباني، وهي مطبوعة.

وإلى غير ذلك من رسائل وبحوث جامعية محكمة نالت مرتبة الشرف، والبحوث والكتب المستقلة في علم الحديث، وتتبع ذلك وإحصاؤه يعسر ويطول.

--------------------------------------------

(1) انظر: منهج النقد ص 70
৩ - "আল-হাদিস ওয়াল মুহাদ্দিসুন" এটি শায়খ ড. মুহাম্মদ মুহাম্মদ আবু যাহউ রচনা করেছেন; এতে তিনি হাদিসের খিদমতে উলামায়ে কেরামের প্রচেষ্টা সম্পর্কে আলোচনা করেছেন। (১)

৪ - আল্লামা আব্দুর রহমান আল-মুয়াল্লিমির রচনাবলি, যা সম্প্রতি পূর্ণাঙ্গভাবে মুদ্রিত হয়েছে।

৫ - আল্লামা নাসিরুদ্দিন আল-আলবানির রচনাবলি, যা বর্তমানে মুদ্রিত আকারে বিদ্যমান।

এছাড়াও রয়েছে বিভিন্ন উচ্চমান সম্পন্ন গবেষণাপত্র ও বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায়ের পর্যালোচিত (محكمة) গবেষণা এবং ইলমে হাদিস (علم الحديث) বিষয়ক স্বতন্ত্র গ্রন্থ ও গবেষণাসমূহ; এই সবকিছুর যথাযথ অনুসন্ধান ও পরিসংখ্যান করা অত্যন্ত কঠিন ও দীর্ঘসাধ্য বিষয়।

--------------------------------------------

(১) দেখুন: মানহাজুন নাকদ, পৃ. ৭০
(খণ্ড: ১) নাযমু উলূমিল হাদীস = আকসিল আমালি ওয়াস সূল ফি ইলমি হাদীসির রাসূল (পৃষ্ঠা: ১৮)
‌‌الفصل الثالث

‌‌المبحث الأول: التعريف بابن الصلاح (1)

‌‌مولده ونَسَبه:

هو: الإمام، الحافظ، العلامة، شيخ الإسلام، تقي الدين، أبو عمرو عثمان ابن المفتي صلاح الدين عبد الرحمن بن عثمان بن موسى الكردي، الشهرزوري، الموصلي، الشافعي، ولد سنة سبع وسبعين وخمس مائة.

 

‌‌رحلاته وشيوخه:

وتفقه على والده (2) بشهرزور وكان من جلة مشايخ الأكراد المشار إليهم، ثم اشتغل بالموصل مدة، وسمع من: عبيد الله ابن السمين (3)، ونصر بن سلامة الهيتي (4)، ومحمود بن علي الموصلي، وأبي المظفر بن البرني، وعبد المحسن ابن الطوسي (5)، وعِدَّةٌ بالموصل.

--------------------------------------------

(1) انظر ترجمته في: وفيات الأعيان وأنباء أبناء الزمان، لأبي العباس أحمد بن ابن خلكان البرمكي (ت 681 هـ)، تحقيق: إحسان عباس، بيروت، دار صادر (3/ 243)، سير أعلام النبلاء، لأبي عبد الله محمد بن أحمد بن عثمان الذهبي (ت 748 هـ)، تحقيق: مجموعة من المحققين بإشراف الشيخ شعيب الأرناؤوط، بيروت، مؤسسة الرسالة، الطبعة الثالثة 1405 - 1985 (23/ 140)، الوافي بالوفيات، لخليل بن أيبك بن عبد الله الصفدي (ت 764 هـ)، تحقيق: أحمد الأرناؤوط - تركي مصطفى، بيروت، دار إحياء التراث العربي، الطبعة الأولى 1420 - 2000 (20/ 26)، طبقات الشافعية الكبرى، لتاج الدين عبد الوهاب بن تقي الدين السبكي (ت 771 هـ)، تحقيق: الدكتور محمود محمد الطناحي- الدكتور عبد الفتاح محمد الحلو، هجر للطباعة والنشر والتوزيع، الطبعة الثانية 1413 (8/ 326)، طبقات الشافعيين 2/ 857، طبقات الشافعية، لأبي بكر بن أحمد بن محمد بن عمر الشهبي الدمشقي، تقي الدين ابن قاضي شُهْبَة (ت 851 هـ)، تحقيق: الدكتور الحافظ عبد العليم خان، الهند، حيدر أباد الدكن، دار المعارف العثمانية، الطبعة الأولى 1398 - 1978 (2/ 142)، طبقات الحفاظ، لجلال الدين عبد الرحمن بن أبي بكر بن محمد ابن سابق الدين الخضيري السيوطي الشافعي (ت 911 هـ)، تحقيق: لجنة من العلماء، بيروت، دار الكتب العلمية، الطبعة الأولى 1403 - 1983 (ص 503)، شذرات الذهب في أخبار من ذهب، لأبي الفلاح عبد الحي بن أحمد بن محمد ابن العماد الحنبلي (ت 1089 هـ)، تحقيق: مصطفى عبد القادر عطا، بيروت، دار الكتب العلمية، الطبعة الثانية 1433 - 2012 (5/ 343)، الأعلام للزركلي 4/ 207.

(2) انظر: تاريخ الإسلام 13/ 544

(3) انظر: تاريخ الإسلام 12/ 855، وانظر: الثقات ممن لم يقع في الكتب الستة، لأبي الفداء زين الدين قاسم بن قُطْلُوْبَغَا الحنفي (ت 879 هـ)، تحقيق: شادي بن محمد بن سالم آل نعمان، صنعاء، مركز النعمان للبحوث والدراسات الإسلامية وتحقيق التراث والترجمة، الطبعة الأولى 1432 - 2011، (7/ 9).

(4) انظر: تاريخ الإسلام 12/ 1159، وانظر: التقييد لمعرفة رواة السنن والمسانيد، لأبي بكر محمد بن عبد الغني الحنبلي، الشهير بابن نقطة (ت 629 هـ)، دائرة المعارف العثمانية - حيدر آباد، الدكن، الطبعة الأولى 1403 - 1983 (2/ 283)

(5) انظر: تاريخ الإسلام 13/ 712، الثقات ممن لم يقع في الكتب الستة 6/ 428.
‌‌তৃতীয় অধ্যায়

‌‌প্রথম পরিচ্ছেদ: ইবনুল সালাহ-এর পরিচিতি (১)

‌‌তাঁর জন্ম ও বংশপরিচয়:

তিনি হলেন: ইমাম, হাফিজ (الحافظ), আল্লামা, শাইখুল ইসলাম, তাকিউদ্দীন, আবু আমর উসমান ইবনুল মুফতি সালাহউদ্দীন আবদুর রহমান বিন উসমান বিন মুসা আল-কুর্দি, আশ-শাহরাজুরি, আল-মাওসিলি, আশ-শাফিয়ি। তিনি পাঁচশত ৭৭ হিজরি সনে জন্মগ্রহণ করেন।

 

‌‌তাঁর সফর ও শিক্ষকগণ:

তিনি শাহরাজুরে তাঁর পিতার (২) নিকট ফিকহ শাস্ত্র অধ্যয়ন করেন, যিনি কুর্দি শাইখদের মধ্যে অন্যতম বিশিষ্ট ও সুপরিচিত ব্যক্তিত্ব ছিলেন। এরপর তিনি দীর্ঘ সময় মাওসিলে জ্ঞানচর্চায় রত থাকেন এবং উবায়দুল্লাহ ইবনুল সামীন (৩), নাসর বিন সালামাহ আল-হিতি (৪), মাহমুদ বিন আলি আল-মাওসিলি, আবুল মুজাফফর ইবনুল বারনি, আবদুল মুহসিন ইবনুল তুসি (৫) এবং মাওসিলের আরও অনেকের নিকট থেকে হাদিস শ্রবণ করেন।

--------------------------------------------

(১) দেখুন তাঁর জীবনী: ওয়াফায়াতুল আইয়ান ওয়া আনবাউ আবনাইয যামান, লেখক: আবুল আব্বাস আহমদ ইবনে ইবনে খাল্লিকান আল-বারমাকি (মৃত্যু ৬৮১ হি.), সম্পাদনা: ইহসান আব্বাস, বৈরুত, দার সাদির (৩/ ২৪৩); সিয়ারু আলামিন নুবালা, লেখক: আবু আবদুল্লাহ মুহাম্মদ বিন আহমদ বিন উসমান আদ-ধাহাবি (মৃত্যু ৭৪৮ হি.), সম্পাদনা: শুয়াইব আল-আরনাউতের তত্ত্বাবধানে একদল গবেষক, বৈরুত, মুয়াসসাসাতুর রিসালাহ, তৃতীয় সংস্করণ ১৪০৫ - ১৯৮৫ (২৩/ ১৪০); আল-ওয়াফি বিল ওয়াফায়াত, লেখক: খলিল বিন আইবাক বিন আবদুল্লাহ আস-সাফাদি (মৃত্যু ৭৬৪ হি.), সম্পাদনা: আহমদ আল-আরনাউত ও তুর্কি মুস্তফা, বৈরুত, দারু ইহইয়াইত তুরাসিল আরবি, প্রথম সংস্করণ ১৪২০ - ২০০০ (২০/ ২৬); তাবাকাতুশ শাফিয়িয়্যাহ আল-কুবরা, লেখক: তাজউদ্দীন আবদুল ওয়াহহাব বিন তাকিউদ্দীন আস-সুবকি (মৃত্যু ৭৭১ হি.), সম্পাদনা: ড. মাহমুদ মুহাম্মদ আদ-তানাহি ও ড. আবদাল ফাত্তাহ মুহাম্মদ আল-হিলু, হাজার পাবলিকেশন, দ্বিতীয় সংস্করণ ১৪১৩ (৮/ ৩২৬); তাবাকাতুশ শাফিয়িয়্যিন ২/ ৮৫৭; তাবাকাতুশ শাফিয়িয়্যাহ, লেখক: আবু বকর বিন আহমদ বিন মুহাম্মদ বিন উমর আল-শাহবি আদ-দামিশকি, তাকিউদ্দীন ইবনে কাদি শুহবাহ (মৃত্যু ৮৫১ হি.), সম্পাদনা: ড. হাফিজ (الحافظ) আবদুল আলিম খান, ভারত, হায়দ্রাবাদ দাক্ষিণাত্য, দারুল মাআরিফ আল-উসমানীয়াহ, প্রথম সংস্করণ ১৩৯৮ - ১৯৭৮ (২/ ১৪২); তাবাকাতুল হুফফাজ (طبقات الحفاظ), লেখক: জালালুদ্দীন আবদুর রহমান বিন আবু বকর বিন মুহাম্মদ ইবনে সাবিকুদ্দীন আল-খুদাইরি আস-সুয়ুতি আশ-শাফিয়ি (মৃত্যু ৯১১ হি.), সম্পাদনা: একদল উলামা, বৈরুত, দারুল কুতুবিল ইলমিয়্যাহ, প্রথম সংস্করণ ১৪০৩ - ১৯৮৩ (পৃ. ৫০৩); শাযারাতুয যাহাব ফি আখবারি মান যাহাব, লেখক: আবুল ফালাহ আবদুল হাই বিন আহমদ বিন মুহাম্মদ ইবনুল ইমাদ আল-হাম্বলি (মৃত্যু ১০৮৯ হি.), সম্পাদনা: মুস্তফা আব্দুল কাদির আতা, বৈরুত, দারুল কুতুবিল ইলমিয়্যাহ, দ্বিতীয় সংস্করণ ১৪৩৩ - ২০১২ (৫/ ৩৪৩); আল-আলাম লিয যিরিকলি ৪/ ২০৭।

(২) দেখুন: তারিখুল ইসলাম ১৩/ ৫৪৪

(৩) দেখুন: তারিখুল ইসলাম ১২/ ৮৫৫, এবং আরও দেখুন: নির্ভরযোগ্য বর্ণনাকারীগণ (الثقات) যাদের উল্লেখ ছয়টি কিতাবে আসেনি, লেখক: আবুল ফিদা যয়নুদ্দীন কাসিম বিন কুতলুবুগা আল-হানাফি (মৃত্যু ৮৭৯ হি.), সম্পাদনা: শাদি বিন মুহাম্মদ বিন সালিম আল-নুমান, সানা, আল-নুমান সেন্টার ফর রিসার্চ অ্যান্ড ইসলামিক স্টাডিজ, প্রথম সংস্করণ ১৪৩২ - ২০১১, (৭/ ৯)।

(৪) দেখুন: তারিখুল ইসলাম ১২/ ১১৫৯, এবং আরও দেখুন: আল-তাকয়িদ লি-মারিফাতি রুওয়াত আল-সুনান ওয়াল মাসানিদ, লেখক: আবু বকর মুহাম্মদ বিন আবদুল গনি আল-হাম্বলি, যিনি ইবনে নুকতাহ (মৃত্যু ৬২৯ হি.) নামে পরিচিত, দাইরাতুল মাআরিফ আল-উসমানীয়াহ - হায়দ্রাবাদ দাক্ষিণাত্য, প্রথম সংস্করণ ১৪০৩ - ১৯৮৩ (২/ ২৮৩)

(৫) দেখুন: তারিখুল ইসলাম ১৩/ ৭১২, নির্ভরযোগ্য বর্ণনাকারীগণ (الثقات) যাদের উল্লেখ ছয়টি কিতাবে আসেনি ৬/ ৪২৮।
(খণ্ড: ১) নাযমু উলূমিল হাদীস = আকসিল আমালি ওয়াস সূল ফি ইলমি হাদীসির রাসূল (পৃষ্ঠা: ১৯)
ومن: أبي أحمد بن سكينة (1)، وأبي حفص بن طبرزذ (2)، وطبقتهما ببغداد، ومن أبي الفضل بن المعزم (3) بهمذان.

ومن: أبي الفتح منصور بن عبد المنعم ابن الفراوي (4) "صحيح البخاري" و"السنن الكبرى لأبي بكر البيهقي"، وسمع أيضاً من المؤيد بن محمد بن علي الطوسي (5) "صحيح البخاري" كذلك، وزينب بنت أبي القاسم الشعرية (6)، والقاسم بن أبي سعد الصفار (7)، ومحمد بن الحسن الصرام، وأبي المعالي بن ناصر الأنصاري، وأبي النجيب إسماعيل القارئ (8)، وطائفة بنيسابور.

ومن أبي المظفر ابن السمعاني (9) بمرو، ومن أبي محمد ابن الأستاذ (10) وغيره بحلب.

ومن الإمامين فخر الدين ابن عساكر (11) وموفق الدين ابن قدامة (12)، ومن القاضي أبي القاسم عبد الصمد بن محمد بن الحرستاني (13) وعدة بدمشق، ومن الحافظ عبد القادر الرهاوي (14) بحران.

 

‌‌الأعمال التي قام بها:

--------------------------------------------

(1) انظر: تاريخ الإسلام 13/ 163، طبقات الشافعية الكبرى 8/ 324.

(2) انظر: تاريخ الإسلام 13/ 167، الثقات ممن لم يقع في الكتب الستة 7/ 316.

(3) انظر: سير أعلام النبلاء 22/ 20، الثقات ممن لم يقع في الكتب الستة 6/ 275

(4) انظر: التقييد لمعرفة رواة السنن والمسانيد 2/ 262

(5) انظر: تاريخ الإسلام 13/ 532، التقييد لمعرفة رواة السنن والمسانيد 2/ 265

(6) انظر: سير أعلام النبلاء 22/ 85، الأعلام للزركلي 3/ 66

(7) انظر: تاريخ الإسلام 13/ 552

(8) انظر: تاريخ الإسلام 13/ 493

(9) انظر: تاريخ الإسلام 13/ 505، وفيات الأعيان 3/ 209

(10) انظر: تاريخ الإسلام 13/ 740.

(11) انظر: تاريخ الإسلام 13/ 613، طبقات الشافعية الكبرى 8/ 177

(12) انظر: تاريخ الإسلام 13/ 601، الثقات ممن لم يقع في الكتب الستة 5/ 477

(13) انظر: تاريخ الإسلام 13/ 411، طبقات الشافعية الكبرى 8/ 196

(14) انظر: تاريخ الإسلام 13/ 341
এবং: আবু আহমদ ইবনে সাকিনাহ (১), আবু হাফস ইবনে তাবারজাদ (২) এবং বাগদাদে তাঁদের সমপর্যায়ের (طبقتهما) ব্যক্তিবর্গের নিকট থেকে; এবং হামাদানে আবু আল-ফজল ইবনে আল-মুআজ্জাম (৩) থেকে।

এবং: আবুল ফাতহ মানসুর ইবনে আব্দুল মুনইম ইবনুল ফারাওয়ী (৪) থেকে "সহীহ বুখারী" ও "আবু বকর আল-বায়হাকীর সুনানুল কুবরা"; এবং তিনি একইভাবে আল-মুয়াইয়াদ ইবনে মুহাম্মদ ইবনে আলী আত-তুসী (৫) থেকে "সহীহ বুখারী" শ্রবণ করেছেন। এছাড়া জয়নব বিনতে আবুল কাসিম আশ-শারিয়্যাহ (৬), আল-কাসিম ইবনে আবু সাদ আস-সাফফার (৭), মুহাম্মদ ইবনুল হাসান আস-সাররাম, আবু আল-মাআলী ইবনে নাসির আল-আনসারী, আবু আন-নাজীব ইসমাইল আল-কারি (৮) এবং নিশাপুরের একদল আলিমের নিকট থেকে তিনি শ্রবণ করেছেন।

এবং মার্ভে আবুল মুজাফফর ইবনে আস-সামআনী (৯) থেকে, এবং আলেপ্পোতে আবু মুহাম্মদ ইবনুল উস্তাদ (১০) ও অন্যদের নিকট থেকে।

এবং দুই ইমাম ফখরুদ্দীন ইবনে আসাকির (১১) ও মুওয়াফফাকুদ্দীন ইবনে কুদামা (১২) থেকে; এবং দামেস্কে বিচারক আবু আল-কাসিম আব্দুল সামাদ ইবনে মুহাম্মদ ইবনুল হারাসতানী (১৩) ও আরও অনেকের নিকট থেকে এবং হাররানে হাফিজ (الحافظ) আব্দুল কাদির আল-রুহাভী (১৪) থেকে।

 

‌‌তাঁর সম্পাদিত কার্যাবলি:

--------------------------------------------

(১) দেখুন: তারিখুল ইসলাম ১৩/১৬৩, তাবাকাতুশ শাফিইয়্যাহ আল-কুবরা ৮/৩২৪।

(২) দেখুন: তারিখুল ইসলাম ১৩/১৬৭, নির্ভরযোগ্য বর্ণনাকারীগণ (الثقات) যাদের বর্ণনা ছয়টি কিতাবে আসেনি ৭/৩১৬।

(৩) দেখুন: সিয়ারু আলামিন নুবালা ২২/২০, নির্ভরযোগ্য বর্ণনাকারীগণ (الثقات) যাদের বর্ণনা ছয়টি কিতাবে আসেনি ৬/২৭৫

(৪) দেখুন: সুনান ও মাসানিদ গ্রন্থসমূহের বর্ণনাকারীদের (رواة) পরিচিতি মূলক আত-তাকয়ীদ ২/২৬২

(৫) দেখুন: তারিখুল ইসলাম ১৩/৫৩২, সুনান ও মাসানিদ গ্রন্থসমূহের বর্ণনাকারীদের (رواة) পরিচিতি মূলক আত-তাকয়ীদ ২/২৬৫

(৬) দেখুন: সিয়ারু আলামিন নুবালা ২২/৮৫, আল-আলাম লি-যিরিকলী ৩/৬৬

(৭) দেখুন: তারিখুল ইসলাম ১৩/৫৫২

(৮) দেখুন: তারিখুল ইসলাম ১৩/৪৯৩

(৯) দেখুন: তারিখুল ইসলাম ১৩/৫০৫, ওয়াফায়াতুল আইয়ান ৩/২০৯

(১০) দেখুন: তারিখুল ইসলাম ১৩/৭৪০।

(১১) দেখুন: তারিখুল ইসলাম ১৩/৬১৩, তাবাকাতুশ শাফিইয়্যাহ আল-কুবরা ৮/১৭৭

(১২) দেখুন: তারিখুল ইসলাম ১৩/৬০১, নির্ভরযোগ্য বর্ণনাকারীগণ (الثقات) যাদের বর্ণনা ছয়টি কিতাবে আসেনি ৫/৪৭৭

(১৩) দেখুন: তারিখুল ইসলাম ১৩/৪১১, তাবাকাতুশ শাফিইয়্যাহ আল-কুবরা ৮/১৯৬

(১৪) দেখুন: তারিখুল ইসলাম ১৩/৩৪১
(খণ্ড: ১) নাযমু উলূমিল হাদীস = আকসিল আমালি ওয়াস সূল ফি ইলমি হাদীসির রাসূল (পৃষ্ঠা: ২০)
درَّس بالمدرسة الصلاحية (1) ببيت المقدس، فلما أمر الملك المعظم (2) بهدم سور المدينة (3)،

نزح إلى دمشق، فدرس بالرواحية (4) مدة عندما أنشأها الواقف، فلما أنشئت الدار الأشرفية (5) صار شيخها، ثم ولي تدريس الشامية الصغرى (6).

وأشتغل، وأفتى، وجمع وألف، تخرج به الشافعية، وكان من كبار الأئمة.

 

‌‌تلاميذه:

1 - الإمام شمس الدين عبد الرحمن بن نوح المقدسي (7).

2 - والإمام كمال الدين سلار بن الحسن الإربلي (8).

--------------------------------------------

(1) المدرسة الصلاحية: بانيها نور الدين محمود بن زنكي الشهيد ونسبت إلى الملك الناصر صلاح الدين فاتح بيت المقدس. انظر: الدارس في تاريخ المدارس، لعبد القادر بن محمد النعيمي الدمشقي (ت 927 هـ)، تحقيق: إبراهيم شمس الدين، بيروت، دار الكتب العلمية، الطبعة الأولى 1410 - 1990 (1/ 250).

(2) السلطان الملك المعظم شرف الدّين عيسى ابن السّلطان الملك العادل سيف الدّين أَبِي بَكْر مُحَمَّد بْن أيّوب بْن شاذي، صاحب دمشق الفقيهُ الحنفيُّ الأديب، ولد بالقاهرة في سنة ستٍّ وسبعين وخمسمائة، ونشأ بالشام، وحفظ بالقرآن، وتَفَقَّه وَبَرَعَ في المَذْهَبِ، وكَانَ عالمًا بعدَّة علومِ، وكان يقول كثيرًا: اعتقادي في الأُصول ما سطَّره أبو جعفر الطّحاويّ، وكَانَ شُجاعًا، لكنه يشرب المُسْكِرَ ويجوِّزَ شُرْبَهُ! ، وكان ربّما أعطى العَطاء الكثير لمن لا يشرب حَتّى يشربه، وأَسَّسَ ظُلمًا كثيرًا ببلاد الشّام، وأَمَرَ بخراب القدس، لعجزه عن حِفْظه من الفِرنج، وغيرها من الحُصون، كَانَ يَظْلِمُ، ويُصادِر، وأدار الخُمور، توفي سَنَةَ أربعٍ وعشرين وستمائة. انظر: تاريخ الإسلام 13/ 777

(3) وكان ذلك في سنة ست عشرة وستمائة، في أول العام إذ خرّب الملك المعظّم سور بيت المقدس خوفا وعجزا من الفرنج أن تملكه، فشرعوا في هدم السور في أول يوم من المحرّم، وضج الناس، وخرج النساء المخدرات، والبنات، والشيوخ، والعجائز، والشباب إلى الصخرة والأقصى، فقطعوا شعورهم وخرجوا هاربين، وتركوا أموالهم وما شكّوا أن الفرنج يصبحوهم، فهرب بعضهم إلى مصر، وبعضهم إلى الكرك، وبعضهم إلى دمشق. انظر: البداية والنهاية، لأبي الفداء إسماعيل بن عمر بن كثير (ت 774 هـ) تحقيق: الدكتور عبد الله بن عبد المحسن التركي، الجيزة، دار هجر، الطبعة الأولى 1417 - 1997 (17/ 173)، وشذرات الذهب 5/ 151 ..

(4) المدرسة الرواحية: شرقي مسجد ابن عروة بالجامع الأموي ولصيقه شمالي جيرون وغربي الدولعية وقبلي الشريفية الحنبلية قال ابن شداد: بانيها زكي الدين أبو القاسم التاجر المعروف بابن رواحة. انظر: الدارس في تاريخ المدارس 1/ 199

(5) دار الحديث الإشرفية: جوار باب القلعة الشرقي غربي العصرونية وشمالي القيمازية الحنفية، وقد كانت دار الحديث الإشرفية دارا للأمير صارم الدين قايماز بن عبد الله النجمي واقف القيمازية، وله بها حمام، فاشترى ذلك الملك الأشرف مظفر الدين موسى بن العادل وبناها دار حديث وأخرب الحمام وبناه سكنا للشيخ المدرس بها. انظر: الدارس في تاريخ المدارس 1/ 15

(6) وهي المدرسة الشامية الجوانية: أنشأتها ست الشام بنت نجم الدين أيوب بن شادي بن مروان، درس بها تقي الدين بن الصلاح. انظر: الدارس في تاريخ المدارس 1/ 227

(7) انظر: تاريخ الإسلام 14/ 758، طبقات الشافعية الكبرى 8/ 188

(8) انظر: تاريخ الإسلام 15/ 182، طبقات الشافعية الكبرى 8/ 149
তিনি বায়তুল মুকাদ্দাসের আল-মাদরাসা আস-সালাহিয়্যাহ-তে (১) পাঠদান করতেন। অতঃপর যখন আল-মালিক আল-মুয়াযযাম (২) শহরের প্রাচীর ভেঙে ফেলার (৩) আদেশ দিলেন, তখন তিনি দামেস্কে চলে যান।

সেখানে তিনি আর-রাওয়াহিয়্যাহ মাদরাসায় (৪) কিছুকাল পাঠদান করেন যখন এর দাতা সেটি প্রতিষ্ঠা করেছিলেন। অতঃপর যখন আদ-দারুল আশরাফিয়্যাহ (৫) প্রতিষ্ঠিত হলো, তখন তিনি এর শায়খ (شيخ) নিযুক্ত হন। পরবর্তীতে তিনি আশ-শামিয়্যাহ আস-সুগরা (৬) মাদরাসায় পাঠদানের দায়িত্ব লাভ করেন।

তিনি জ্ঞানচর্চা, ফতোয়া প্রদান এবং সংকলন ও গ্রন্থ রচনায় ব্যাপৃত ছিলেন। তাঁর মাধ্যমে অনেক শাফেয়ি আলেম শিক্ষা সমাপ্ত করেন এবং তিনি বড় ইমামদের (أئمة) অন্তর্ভুক্ত ছিলেন।

 

‌‌তাঁর ছাত্রবৃন্দ:

১ - ইমাম (إمام) শামসুদ্দিন আবদুর রহমান ইবনে নূহ আল-মাকদিসি (৭)।

২ - এবং ইমাম (إمام) কামালুদ্দিন সাল্লার ইবনে আল-হাসান আল-ইরবিলি (৮)।

--------------------------------------------

(১) আল-মাদরাসা আস-সালাহিয়্যাহ: এর প্রতিষ্ঠাতা নূরুদ্দিন মাহমুদ ইবনে জাঙ্কি আশ-শাহিদ এবং এটি বায়তুল মুকাদ্দাস বিজয়ী আল-মালিক আন-নাসির সালাহুদ্দিনের প্রতি নিসবত করা হয়েছে। দেখুন: আদ-দারিস ফি তারিখিল মাদারিস, লেখক: আবদুল কাদির ইবনে মুহাম্মদ আন-নুয়াইমি আদ-দামেশকি (মৃত্যু: ৯২৭ হি.), তাহকিক: ইব্রাহিম শামসুদ্দিন, বৈরুত, দারুল কুতুবিল ইলমিয়্যাহ, প্রথম প্রকাশ ১৪১০ - ১৯৯০ (১/ ২৫০)।

(২) সুলতান আল-মালিক আল-মুয়াযযাম শরাফুদ্দিন ঈসা ইবনে সুলতান আল-মালিক আল-আদিল সাইফুদ্দিন আবু বকর মুহাম্মদ ইবনে আইয়ুব ইবনে শাযি, দামেস্কের অধিপতি, হানাফি ফকীহ ও সাহিত্যিক। তিনি ৫৭৬ হিজরি সনে কায়রোতে জন্মগ্রহণ করেন এবং শামে বেড়ে ওঠেন। তিনি কুরআন হিফজ করেন এবং মাযহাবে (المذهب) ব্যুৎপত্তি ও পারদর্শিতা লাভ করেন। তিনি বিভিন্ন বিদ্যায় পারদর্শী ছিলেন এবং প্রায়ই বলতেন: "উসূল (الأصول) শাস্ত্রে আমার আকিদা তাই যা আবু জাফর আত-তহাবি লিপিবদ্ধ করেছেন।" তিনি সাহসী ছিলেন, তবে তিনি নেশাজাতীয় দ্রব্য পান করতেন এবং তা পান করা বৈধ মনে করতেন! এমনকি অনেক সময় যারা পান করত না তাদের অনেক বড় উপঢৌকন দিতেন যাতে তারা তা পান করে। তিনি শাম দেশে অনেক জুলুমের ভিত্তি স্থাপন করেছিলেন এবং ফ্রঙ্করা (ক্রুসেডার) দখল করে নিতে পারে—এই আশঙ্কায় ও তা রক্ষায় অক্ষম হয়ে বায়তুল মুকাদ্দাসসহ অন্যান্য দুর্গ ধ্বংস করার আদেশ দিয়েছিলেন। তিনি জুলুম করতেন ও সম্পদ বাজেয়াপ্ত করতেন এবং মদ্যপান পরিচালনা করতেন। তিনি ৬২৪ হিজরি সনে মৃত্যুবরণ করেন। দেখুন: তারিখুল ইসলাম ১৩/ ৭৭৭।

(৩) এটি ছিল ৬১৬ হিজরি সনের শুরুর দিকের ঘটনা যখন আল-মালিক আল-মুয়াযযাম ফ্রঙ্করা দখল করে নেবে এই ভয়ে ও অক্ষমতার কারণে বায়তুল মুকাদ্দাসের প্রাচীর ধ্বংস করেছিলেন। তারা মহররমের প্রথম দিনে প্রাচীর ভাঙা শুরু করে। এতে মানুষ কান্নাকাটি শুরু করে এবং পর্দানশিন নারী, কুমারী মেয়ে, বৃদ্ধ, বৃদ্ধা ও যুবকরা সাখরা (পবিত্র পাথর) ও আকসা মসজিদের দিকে বেরিয়ে আসে। তারা (শোকে) চুল কেটে ফেলে এবং পলায়ন করে। তারা তাদের ধন-সম্পদ ফেলে যায় এবং তাদের কোনো সন্দেহ ছিল না যে ফ্রঙ্করা ভোরেই তাদের ওপর আক্রমণ করবে। ফলে তাদের কেউ মিশরে, কেউ কারাকে এবং কেউ দামেস্কে পালিয়ে যায়। দেখুন: আল-বিদায়া ওয়ান-নিহায়া, লেখক: আবুল ফিদা ইসমাইল ইবনে উমর ইবনে কাসির (মৃত্যু: ৭৭৪ হি.), তাহকিক: ড. আবদুল্লাহ ইবনে আবদুল মুহসিন আত-তুর্কি, গিজা, দারু হাজার, প্রথম প্রকাশ ১৪১৭ - ১৯৯৭ (১৭/ ১৭৩), এবং শাযারাতুয যাহাব ৫/ ১৫১।

(৪) আল-মাদরাসা আর-রাওয়াহিয়্যাহ: উমাইয়া মসজিদের ইবনে উরওয়া মসজিদের পূর্বে, জায়রুনের উত্তরে, আদ-দাওলাইয়্যাহর পশ্চিমে এবং আশ-শরিফিয়্যাহ আল-হাম্বলিইয়্যাহর দক্ষিণে অবস্থিত। ইবনে শাদ্দাদ বলেছেন: এর প্রতিষ্ঠাতা যাকিউদ্দিন আবুল কাসিম আত-তাজির, যিনি ইবনে রাওয়াহা নামে পরিচিত। দেখুন: আদ-দারিস ফি তারিখিল মাদারিস ১/ ১৯৯।

(৫) দারুল হাদিস আশরাফিয়্যাহ: কেল্লার পূর্ব দরজার পাশে, আল-আসরুনিয়্যাহর পশ্চিমে এবং আল-কাইমাযিয়্যাহ আল-হানাফিয়্যাহর উত্তরে অবস্থিত। দারুল হাদিস আশরাফিয়্যাহ মূলত আমির সারিমুদ্দিন কাইমায ইবনে আবদুল্লাহ আন-নাজমি—যিনি কাইমাযিয়্যাহর দাতা—তাঁর বাড়ি ছিল এবং সেখানে তাঁর একটি হাম্মাম (গোসলখানা) ছিল। অতঃপর আল-মালিক আল-আশরাফ মুযাফফরুদ্দিন মুসা ইবনে আদিল সেটি ক্রয় করেন এবং একটি দারুল হাদিস হিসেবে নির্মাণ করেন। তিনি হাম্মামটি ভেঙে সেখানে পাঠদানকারী শায়খ (الشيخ) এর আবাসন তৈরি করেন। দেখুন: আদ-দারিস ফি তারিখিল মাদারিস ১/ ১৫।

(৬) এটি হলো আল-মাদরাসা আশ-শামিয়্যাহ আল-জুওয়ানিয়্যাহ: নাজমুদ্দিন আইয়ুব ইবনে শাদি ইবনে মারওয়ানের কন্যা সিতুশ শাম এটি প্রতিষ্ঠা করেন। এখানে তাকিউদ্দিন ইবনুস সালাহ পাঠদান করেছেন। দেখুন: আদ-দারিস ফি তারিখিল মাদারিস ১/ ২২৭।

(৭) দেখুন: তারিখুল ইসলাম ১৪/ ৭৫৮, তাবাকাতুশ শাফিইয়্যাহ আল-কুবরা ৮/ ১৮৮।

(৮) দেখুন: তারিখুল ইসলাম ১৫/ ১৮২, তাবাকাতুশ শাফিইয়্যাহ আল-কুবরা ৮/ ১৪৯।
(খণ্ড: ১) নাযমু উলূমিল হাদীস = আকসিল আমালি ওয়াস সূল ফি ইলমি হাদীসির রাসূল (পৃষ্ঠা: ২১)
3 - والإمام كمال الدين إِسحاق بْن أحمد المعري، كَانَ معيدًا عند ابن الصّلاح بالمدرسة الرواحية (1).

4 - والقاضي تقي الدين محمد بن الحسين بن رزين العامري، لازم الشَّيْخ تقيّ الدّين ابن الصلاح، وشرح عليه وعلّق عَنْهُ (2).

5 - العلامة تاج الدين عَبْد الرَّحْمَن بْن إِبْرَاهِيم بْن سباع الفَزَاريّ، الفِرْكَاح (3).

6 - وأخوه الخطيب: شرف الدين أحمد بن ابراهيم بن سباع، سمع على ابن الصلاح من أول كتاب السنن الكبير للبيهقي الى آخر المجلد السادس من تجزئة عشرة وبعض المجلد السابع من هذه التجزئة، وأيضاً سمع منه كتابه في علوم الحديث (4).

7 - مجد الدين يوسف بن محمد المهتار (5).

8 - فخر الدين عمر بن يحيى الكرجي، لزم الشيخ تقي الدين ابن الصلاح وخدمه وتفقه عليه (6).

9 - القاضي شهاب الدين محمد بن أحمد الخُويي.

10 - المحدث عبد الله بن يحيى الجزائري (7).

11 - المفتي جمال الدين محمد بن أحمد الشَّريشيّ (8).

12 - المفتي فخر الدين عبد الرحمن بن يوسف البَعلَبَكّيّ، حفظ كتاب "علوم الحديث" لابن الصّلاح وعرضه حِفْظًا عليه (9).

13 - ناصر الدين مُحَمَّد بْن عَرَبْشاه الهمذاني (10).

14 - الشيخ أحمد بن عبد الرحمن الشهرزوري، سمع على الحافظ تقي الدين ابن الصلاح كتابه في علوم الحديث (11).

--------------------------------------------

(1) انظر: تاريخ الإسلام 14/ 635.

(2) انظر: تاريخ الإسلام 15/ 399.

(3) انظر: تاريخ الإسلام 15/ 660، الأعلام 3/ 293

(4) انظر: ذيل التقييد في رواة السنن والأسانيد، لتقي الدين محمد بن أحمد بن علي، أبو الطيب المكي الحسني الفاسي (المتوفى: 832 هـ)، تحقيق: كمال يوسف الحوت، بيروت، دار الكتب العلمية، الطبعة الأولى 1410 - 1990.

(5) انظر: تاريخ الإسلام 15/ 563، ذيل التقييد في رواة السنن والأسانيد 2/ 327.

(6) انظر: تاريخ الإسلام 15/ 669، طبقات الشافعية الكبرى 8/ 344

(7) انظر: تاريخ الإسلام 15/ 467

(8) انظر: تاريخ الإسلام 15/ 549

(9) انظر: تاريخ الإسلام 15/ 608، ذيل التقييد في رواة السنن والمسانيد 2/ 104

(10) انظر: تاريخ الإسلام 15/ 353

(11) انظر: ذيل التقييد في رواة السنن والمسانيد 1/ 328
3 - এবং ইমাম কামালুদ্দিন ইসহাক বিন আহমদ আল-মা'রি, তিনি মাদ্রাসা রাওয়াহিয়ায় ইবনুস সালাহর অধীনে সহকারী শিক্ষক ছিলেন (১)।

4 - এবং কাজী তাকীয়ুদ্দিন মুহাম্মদ বিন আল-হুসাইন বিন রাজিন আল-আমেরি, তিনি শাইখ তাকীয়ুদ্দিন ইবনুস সালাহর সান্নিধ্যে ছিলেন, তাঁর নিকট পাঠ গ্রহণ করেছেন এবং তাঁর থেকে টীকা লিপিবদ্ধ করেছেন (২)।

5 - আল্লামা তাজউদ্দিন আবদুর রহমান বিন ইব্রাহিম বিন সিবাহ আল-ফাজারি, যিনি আল-ফিরকাহ নামে পরিচিত (৩)।

6 - এবং তাঁর ভাই খতিব: শরফুদ্দিন আহমদ বিন ইব্রাহিম বিন সিবাহ; তিনি ইবনুস সালাহর নিকট বাইহাকির সুনানুল কাবির কিতাবটির শুরু থেকে দশ খণ্ডের বিভাজনে ষষ্ঠ খণ্ডের শেষ পর্যন্ত শ্রবণ করেছেন এবং এই বিভাজনের সপ্তম খণ্ডের কিছু অংশও শ্রবণ করেছেন, আর তাঁর নিকট থেকে তাঁর হাদিস বিজ্ঞান (علوم الحديث) বিষয়ক কিতাবটিও শ্রবণ করেছেন (৪)।

7 - মাজদুদ্দিন ইউসুফ বিন মুহাম্মদ আল-মুহতার (৫)।

8 - ফখরুদ্দিন উমর বিন ইয়াহইয়া আল-কারজি, তিনি শাইখ তাকীয়ুদ্দিন ইবনুস সালাহর সান্নিধ্যে ছিলেন, তাঁর খিদমত করেছেন এবং তাঁর নিকট ফিকহ শিক্ষা করেছেন (৬)।

9 - কাজী শিহাবুদ্দিন মুহাম্মদ বিন আহমদ আল-খুয়ী।

10 - মুহাদ্দিস (المحدث) আবদুল্লাহ বিন ইয়াহইয়া আল-জাজাইরি (৭)।

11 - মুফতি জামালুদ্দিন মুহাম্মদ বিন আহমদ আল-শারিশি (৮)।

12 - মুফতি ফখরুদ্দিন আবদুর রহমান বিন ইউসুফ আল-বালবাকি, তিনি ইবনুস সালাহর "হাদিস বিজ্ঞান (علوم الحديث)" কিতাবটি মুখস্থ করেন এবং তাঁর নিকট তা মুখস্থ পাঠ হিসেবে পেশ করেন (৯)।

13 - নাসিরুদ্দিন মুহাম্মদ বিন আরবশাহ আল-হামদানি (১০)।

14 - শাইখ আহমদ বিন আবদুর রহমান আল-শাহরাজুরি, তিনি হাফেজ (الحافظ) তাকীয়ুদ্দিন ইবনুস সালাহর নিকট তাঁর হাদিস বিজ্ঞান (علوم الحديث) বিষয়ক কিতাবটি শ্রবণ করেছেন (১১)।

--------------------------------------------

(১) দেখুন: তারিখুল ইসলাম ১৪/৬৩৫।

(২) দেখুন: তারিখুল ইসলাম ১৫/৩৯৯।

(৩) দেখুন: তারিখুল ইসলাম ১৫/৬৬০, আল-আলাম ৩/২৯৩।

(৪) দেখুন: জাইলুত তাকয়ীদ ফি রুওয়াতিস সুনানি ওয়াল আসানিদ, লেখক: তাকীয়ুদ্দিন মুহাম্মদ বিন আহমদ বিন আলি, আবু তৈয়ব আল-মাক্কি আল-হাসানি আল-ফাসি (মৃত্যু: ৮৩২ হিজরি), সম্পাদনা: কামাল ইউসুফ আল-হুত, বৈরুত, দারুল কুতুবিল ইলমিয়্যাহ, প্রথম সংস্করণ ১৪১০ - ১৯৯০।

(৫) দেখুন: তারিখুল ইসলাম ১৫/৫৬৩, জাইলুত তাকয়ীদ ফি রুওয়াতিস সুনানি ওয়াল আসানিদ ২/৩২৭।

(৬) দেখুন: তারিখুল ইসলাম ১৫/৬৬৯, তাবাকাতুশ শাফিইয়াতিল কুবরা ৮/৩৪৪।

(৭) দেখুন: তারিখুল ইসলাম ১৫/৪৬৭।

(৮) দেখুন: তারিখুল ইসলাম ১৫/৫৪৯।

(৯) দেখুন: তারিখুল ইসলাম ১৫/৬০৮, জাইলুত তাকয়ীদ ফি রুওয়াতিস সুনানি ওয়াল মাসানিদ ২/১০৪।

(১০) দেখুন: তারিখুল ইসলাম ১৫/৩৫৩।

(১১) দেখুন: জাইলুত তাকয়ীদ ফি রুওয়াতিস সুনানি ওয়াল মাসানিদ ১/৩২৮।
(খণ্ড: ১) নাযমু উলূমিল হাদীস = আকসিল আমালি ওয়াস সূল ফি ইলমি হাদীসির রাসূল (পৃষ্ঠা: ২২)
15 - صدر الدين محمد بن حسن الأرموي (1).

16 - ناصر الدين محمد بن يوسف المعروف بابن المهتار، سمع من ابن الصلاح كتابه في علوم الحديث، وجَزأ من حديثه قبل المسلسل بالأولية والمجلدة الأولى والثانية والثالثة والرابعة والخامسة والسادسة (2).

17 - القاضي أحمد بن علي بن الزبير الجيلي، سمع على ابن الصلاح من السنن الكبير للبيهقي مجلدا وهو الأول (3).

18 - الشهاب أحمد بن العفيف الحنفي، سمع على ابن الصلاح بعضاً من السنن الكبير للبيهقي (4).

 

‌‌ثناء العلماء عليه:

قال ابن خلكان: بلغني أنه كرر على جميع "المهذب" (5) قبل أن يطر شاربه، ثم أنه صار معيدا عند العلامة عماد الدين بن يونس، وكان تقي الدين أحد فضلاء عصره في التفسير والحديث والفقه، وله مشاركة في عدة فنون، وكانت فتاويه مسددة، وهو أحد شيوخي الذين انتفعت بهم، أقمت عنده للاشتغال، ولازمته سنة، وهي سنة اثنتين وثلاثين وستمائة (6).

وذكره المحدث عمر بن الحاجب، فقال: إمام ورع، وافر العقل، حسن السمت، متبحر في الأصول والفروع، بالغ في الطلب حتى صار يضرب به المثل، وأجهد نفسه في الطاعة والعبادة (7).

قال الذهبي: كان ذا جلالة عجيبة، ووقار وهيبة، وفصاحة، وعلم نافع، وكان متين الديانة، سلفي الجملة، صحيح النحلة، كافا عن الخوض في مزلات الأقدام، مؤمنا بالله، وبما جاء عن الله من أسمائه ونعوته، حسن البزة، وافر الحرمة، معظما عند السلطان (8).

وكان مع تبحره في الفقه مجودا لما ينقله، قوي المادة من اللغة والعربية، متفننا في الحديث، متصونا، مكبا على العلم، عديم النظير في زمانه.

--------------------------------------------

(1) انظر: تاريخ الإسلام 15/ 959

(2) انظر: ذيل التقييد في رواة السنن والمسانيد 1/ 283

(3) انظر: ذيل التقييد في رواة السنن والمسانيد 1/ 346

(4) انظر: ذيل التقييد في رواة السنن والمسانيد 1/ 392

(5) المهذب في فقة الإمام الشافعي لأبي إسحاق إبراهيم بن علي بن يوسف الشيرازي (توفي 476 هـ).

(6) انظر: وفيات الأعيان 3/ 243

(7) انظر: سير أعلام النبلاء 23/ 142

(8) المصدر السابق
15 - সদরুদ্দীন মুহাম্মদ বিন হাসান আল-আরমাউয়ি (১)।

16 - নাসিরুদ্দীন মুহাম্মদ বিন ইউসুফ, যিনি ইবনুল মুকতার নামে পরিচিত; তিনি ইবনুস সালাহ থেকে তাঁর ‘উলূমুল হাদিস’ (হাদিস বিজ্ঞান) গ্রন্থটি শ্রবণ করেছেন এবং মুসালসাল (مسلسل) বিল আওওয়ালিয়াহ-এর পূর্ব পর্যন্ত তাঁর হাদিসের একটি জুয (جزء) এবং প্রথম, দ্বিতীয়, তৃতীয়, চতুর্থ, পঞ্চম ও ষষ্ঠ খণ্ড শ্রবণ করেছেন (২)।

17 - কাযী আহমদ বিন আলী বিন আয-যুবাইর আল-জিলি; তিনি ইবনুস সালাহ-এর নিকট বায়হাকির ‘সুনানুল কুবরা’-এর একটি খণ্ড শ্রবণ করেছেন, যা ছিল প্রথম খণ্ড (৩)।

18 - আশ-শিহাব আহমদ বিন আল-আফিফ আল-হানাফি; তিনি ইবনুস সালাহ-এর নিকট বায়হাকির ‘সুনানুল কুবরা’-এর কিছু অংশ শ্রবণ করেছেন (৪)।

 

‌‌তাঁর সম্পর্কে ওলামায়ে কেরামের প্রশংসা:

ইবনে খাল্লিকান বলেছেন: আমার কাছে সংবাদ পৌঁছেছে যে, তিনি তাঁর গোঁফ রেখা দৃশ্যমান হওয়ার আগেই (কৈশোরে) সম্পূর্ণ ‘আল-মুহাযযাব’ গ্রন্থটি পুনরাবৃত্তি (অধ্যয়ন) করেছিলেন (৫)। অতঃপর তিনি আল্লামা ইমাদুদ্দীন বিন ইউনুসের নিকট সহকারী শিক্ষক হিসেবে নিযুক্ত হন। তাকিউদ্দীন তাফসির, হাদিস এবং ফিকহ শাস্ত্রে তাঁর যুগের অন্যতম শ্রেষ্ঠ পণ্ডিত ছিলেন এবং বিভিন্ন শাস্ত্রে তাঁর পাণ্ডিত্য ছিল। তাঁর ফতোয়াগুলো ছিল সঠিক ও সুসংগত। তিনি আমার সেই সকল শায়খদের একজন যাদের মাধ্যমে আমি উপকৃত হয়েছি; আমি জ্ঞান অর্জনের উদ্দেশ্যে তাঁর নিকট অবস্থান করেছি এবং এক বছর তাঁর সান্নিধ্যে ছিলাম, আর তা ছিল ৬৩২ হিজরি সাল (৬)।

মুহাদ্দিস (محدث) উমর বিন আল-হাজিব তাঁর কথা উল্লেখ করে বলেছেন: তিনি ছিলেন একজন ইমাম (إمام), পরহেযগার, অত্যন্ত বুদ্ধিমান ও সচ্চরিত্রের অধিকারী; উসুল (أصول) ও ফুরু (فروع) শাস্ত্রে সুগভীর পাণ্ডিত্যের অধিকারী। তিনি জ্ঞান অন্বেষণে এমন চূড়ান্ত পর্যায়ে পৌঁছেছিলেন যে, উদাহরণ দেওয়ার মতো ব্যক্তিতে পরিণত হয়েছিলেন এবং ইবাদত ও আনুগত্যে নিজেকে কঠোর শ্রমে নিয়োজিত রেখেছিলেন (৭)।

আয-যাহাবি বলেছেন: তিনি ছিলেন বিস্ময়কর গাম্ভীর্য, মর্যাদা, প্রভাব, প্রাঞ্জলতা এবং উপকারী ইলমের অধিকারী। তিনি দ্বীনদারিতে ছিলেন অত্যন্ত দৃঢ়, সামগ্রিকভাবে সালাফি (سلفي) মানহাজের অনুসারী এবং বিশুদ্ধ আকিদাপন্থী। তিনি পদস্খলনের স্থানগুলোতে (বিতর্কিত ও অসার আলোচনায়) লিপ্ত হওয়া থেকে বিরত থাকতেন। তিনি আল্লাহর প্রতি এবং আল্লাহর পক্ষ থেকে আগত তাঁর নাম ও গুণাবলির প্রতি বিশ্বাসী ছিলেন। তিনি পরিপাটি পোশাক পরিধান করতেন, অত্যন্ত সম্মানিত ছিলেন এবং সুলতানের নিকট বিশেষ মর্যাদাপ্রাপ্ত ছিলেন (৮)।

ফিকহ শাস্ত্রে অগাধ পাণ্ডিত্যের পাশাপাশি তিনি যা বর্ণনা করতেন তা অত্যন্ত নিখুঁতভাবে সংরক্ষণ করতেন। ভাষা ও আরবি সাহিত্যে তাঁর শক্তিশালী দখল ছিল। তিনি হাদিসশাস্ত্রে বহুমুখী পারদর্শী, আত্মমর্যাদাবান এবং জ্ঞানের প্রতি একনিষ্ঠ ছিলেন; তিনি ছিলেন নিজ সময়ের এক অনন্য ব্যক্তিত্ব।

--------------------------------------------

(1) দেখুন: তারীখুল ইসলাম ১৫/৯৫৯

(2) দেখুন: যাইলুত তাকয়ীদ ফী রুওয়াতিল সুনান ওয়াল মাসানিদ ১/২৮৩

(3) দেখুন: যাইলুত তাকয়ীদ ফী রুওয়াতিল সুনান ওয়াল মাসানিদ ১/৩৪৬

(4) দেখুন: যাইলুত তাকয়ীদ ফী রুওয়াতিল সুনান ওয়াল মাসানিদ ১/৩৯২

(5) ইমাম শাফেয়ী রহ.-এর ফিকহ শাস্ত্রের ওপর আবু ইসহাক ইবরাহিম বিন আলী বিন ইউসুফ আশ-শিরাযী (মৃত্যু: ৪৭৬ হি.) রচিত 'আল-মুহাযযাব'।

(6) দেখুন: ওয়াফায়াতুল আইয়ান ৩/২৪৩

(7) দেখুন: সিয়ারু আ'লামিন নুবালা ২৩/১৪২

(8) পূর্বোক্ত উৎস
(খণ্ড: ১) নাযমু উলূমিল হাদীস = আকসিল আমালি ওয়াস সূল ফি ইলমি হাদীসির রাসূল (পৃষ্ঠা: ২৩)
قال ابن كثير: يكره طرائق الفلسفة والمنطق يغض منها ولا يمكن من قراءتها بالبلد، والملوك تطيعه في ذلك (1).

 

‌‌وفاته:

لم يزل أمره جارياً على سداد وصلاح حال واجتهاد في الاشتغال والنفع إلى أن توفي الشيخ تقي الدين رحمه الله في سحر يوم الأربعاء، الخامس والعشرين من شهر ربيع الآخر، سنة ثلاث وأربعين وست مائة، وحمل على الرؤوس، وازدحم الخلق على سريره، وكان على جنازته هيبة وخشوع، فصلي عليه بجامع دمشق، ودفنوه بمقابر الصوفية.

 

‌‌مؤلفاته:

1 - معرفة أنواع علوم الحديث (2). 2 - الأمالي (3).

3 - الفتاوى، جمعه بعض أصحابه (4). 4 - شرح مشكل الوسيط، في الفقه الشافعي (5).

5 - صلة الناسك في صفة المناسك (6). 6 - فوائد الرحلة (7).

7 - أدب المفتي والمستفتي (8). 8 - طبقات الفقهاء الشافعية (9).

9 - المؤتلف والمختلف في أسماء الرجال (10). 10 - صيانة صحيح مسلم (11).

--------------------------------------------

(1) انظر: طبقات الفقهاء الشافعيين 2/ 857

(2) طُبع بتحقيق: الدكتور نور الدين عتر، دمشق: دار الفكر -بيروت: دار الفكر المعاصر، في مجلد.

(3) "الأمالي: جمع الإملاء، وهو: أن يقعد عالم، وحوله تلامذته بالمحابر، والقراطيس، فيتكلم العالم بما فتح الله سبحانه وتعالى عليه من العلم، ويكتبه التلامذة، فيصير كتابا، ويسمونه: الإملاء، والأمالي، كذلك كان السلف من: الفقهاء، والمحدثين، وأهل العربية، وغيرها، في علومهم، فاندرست لذهاب العلم والعلماء، وإلى الله المصير".كشف الظنون 1/ 160

وقد طُبع من هذه الأمالي "المجلس الثالث" بتحقيق: رياض حسين الطائي، في دار النوادر، سورية-لبنان-الكويت 1434 - 2013.

(4) طبع بتحقيق: الدكتور موفق عبد الله عبد القادر، بيروت، مكتبة العلوم والحكم - عالم الكتب.

(5) طبع بتحقيق: الدكتور عبد المنعم خليفة أحمد بلال، السعودية، دار كنوز إشبيليا للنشر والتوزيع.

(6) طبع بتحقيق عبدالكريم بن صنيتان العمري المدينة المنورة: الجامعة الإسلامية، عمادة البحث العلمي، 1432 هـ.

(7) وهي أجزاء كثيرة مشتملة على فوائد غريبة من أنواع العلوم نقلها في رحلته إلى خراسان، انظر: معجم المطبوعات العربية والمعربة، ليوسف بن إليان بن موسى سركيس (ت 1351 هـ)، القاهرة، مكتبة الثقافة الدينية، في مجلدين. (1/ 143)، لم يُطبع حتى الآن -فيما أعلم-، ولم أعثر له على مخطوط في الفهارس.

(8) طبع أيضاً بتحقيق: الدكتور موفق عبد الله عبد القادر، بيروت، مكتبة العلوم والحكم - عالم الكتب.

(9) طُبع بتحقيق: محيي الدين علي نجيب، بيروت، دار البشائر الإسلامية 1992 م، في مجلدين.

(10) انظر: معجم المؤلفين، لعمر بن رضا كحالة (المتوفى: 1408 هـ) بيروت، مكتبة المثنى -دار إحياء التراث العربي 6/ 257

وله نسخة مخطوطة في المكتبة المركزية-الرياض، تحت رقم 1582/ف، ولم يُطبع حتى الآن -فيما أعلم- انظر: خزانة التراث، الرقم التسلسلي: 67518.

(11) طبع بتحقيق: الدكتور موفق عبدالله عبدالقادر، بيروت، دار الغرب الإسلامي.
ইবনে কাসির বলেন: তিনি দর্শন ও যুক্তিশাস্ত্রের পথ ও পদ্ধতি অপصন্দ করতেন এবং এগুলোকে তুচ্ছজ্ঞান করতেন। তিনি শহরে এগুলো পড়ার সুযোগ দিতেন না এবং শাসকরা এ বিষয়ে তাকে অনুসরণ করত (১)।

 

‌‌তাঁর মৃত্যু:

তাঁর সামগ্রিক অবস্থা সঠিক পথ অবলম্বন, সংশোধন এবং জ্ঞানচর্চা ও উপকারের কাজে আত্মনিয়োগের মধ্য দিয়েই অতিবাহিত হতে থাকে। অবশেষে শায়খ তাকিউদ্দীন (রহিমাহুল্লাহ) ৬৪৩ হিজরির ২৫শে রবিউস সানি, বুধবার শেষ রাতে ইন্তেকাল করেন। তাঁর জানাজা মাথায় করে বহন করা হয় এবং খাটিয়ার চারপাশে মানুষের উপচে পড়া ভিড় ছিল। তাঁর জানাজায় গাম্ভীর্য ও বিনম্রতা বিরাজ করছিল। দামেস্কের জামে মসজিদে তাঁর জানাজা অনুষ্ঠিত হয় এবং সুফিয়া গোরস্তানে তাঁকে দাফন করা হয়।

 

‌‌তাঁর রচনাবলি:

১ - মারিফাতু আনওয়াউল উলুমিল হাদিস (২)। ২ - আল-আমালি (৩)।

৩ - আল-ফাতাওয়া, তাঁর জনৈক ছাত্র এটি সংকলন করেছেন (৪)। ৪ - শারহু মুশকিলাল ওয়াসিত, শাফিঈ ফিকহ বিষয়ক (৫)।

৫ - সিলাতুন নাসিক ফি সিফাতিল মানাসিক (৬)। ৬ - ফাওয়াঈদুর রিহলাহ (৭)।

৭ - আদাবুল মুফতি ওয়াল মুস্তাফতি (৮)। ৮ - তাবাকাতুল ফুকাহাইশ শাফিঈয়্যাহ (৯)।

৯ - আল-মু’তালিফ ওয়াল মুখতালিফ ফি আসমাইর রিজাল (১০)। ১০ - সিয়ানাতু সহিহ মুসলিম (১১)।

--------------------------------------------

(১) দেখুন: তাবাকাতুল ফুকাহাইশ শাফিঈয়্যিন ২/ ৮৫৭

(২) ডক্টর নুরুদ্দিন আতর-এর সম্পাদনায় (تحقيق) বৈরুতের দারুল ফিকর আল-মুআসির এবং দামেস্কের দারুল ফিকর থেকে এক খণ্ডে মুদ্রিত হয়েছে।

(৩) "আল-আমালি: এটি শ্রুতলিখন (إملاء) এর বহুবচন। এর পদ্ধতি হলো: একজন আলেম বসবেন এবং তাঁর চারপাশে দোয়াত ও কাগজ নিয়ে তাঁর ছাত্ররা থাকবে। অতঃপর আলেম মহান আল্লাহ তাঁর ওপর জ্ঞানের যা দ্বার উন্মোচন করেন তা বলবেন এবং ছাত্ররা তা লিখে নেবে। এভাবে তা একটি কিতাবে পরিণত হয়। একে শ্রুতলিখন (إملاء) বা আল-আমালি বলা হয়। সলফদের মধ্যে ফকিহগণ (الفقهاء), হাদিস বিশারদ (المحدثين), আরবি ভাষাবিদ এবং অন্যান্য শাস্ত্রের পণ্ডিতগণ তাঁদের জ্ঞানচর্চায় এ পদ্ধতি অনুসরণ করতেন। পরে জ্ঞান ও আলেমদের চলে যাওয়ার ফলে এ পদ্ধতি বিলুপ্ত হয়ে যায়। আল্লাহর দিকেই সকলের প্রত্যাবর্তন।" কাশফুয যুনুন ১/ ১৬০।

এই আমালি গ্রন্থ থেকে "তৃতীয় মজলিস" রিয়াদ হুসাইন আত-তাঈ-এর সম্পাদনায় (تحقيق) সিরিয়া-লেবানন-কুয়েতের দারুন নাওয়াদির থেকে ১৪৩৪ হিজরি - ২০১৩ সালে মুদ্রিত হয়েছে।

(৪) ডক্টর মুয়াফফাক আব্দুল্লাহ আব্দুল কাদির-এর সম্পাদনায় (تحقيق) বৈরুতের মাকতাবাতুল উলুম ওয়াল হিকাম - আলমুল কুতুব থেকে মুদ্রিত হয়েছে।

(৫) ডক্টর আব্দুল মুনইম খলিফা আহমাদ বিলাল-এর সম্পাদনায় (تحقيق) সৌদি আরবের দারু কুনুজি ইশবিলিয়া থেকে মুদ্রিত হয়েছে।

(৬) আব্দুল কারিম বিন সানিতান আল-উমরি-এর সম্পাদনায় (تحقيق) মদিনা মুনাওয়ারার জামিয়া ইসলামিয়া থেকে ১৪৩২ হিজরিতে মুদ্রিত হয়েছে।

(৭) এটি অনেকগুলো খণ্ডের সমষ্টি যাতে খোরাসান সফরের সময় সংগৃহীত বিভিন্ন শাস্ত্রের বিরল ও উপকারী তথ্যাবলি (فوائد غريبة) রয়েছে। দেখুন: ইউসুফ বিন ইলিয়ান বিন মুসা সারকিস (মৃত্যু ১৩৫১ হি.) রচিত মুজামুল মাতবুয়াতিল আরাবিয়্যাহ ওয়াল মুয়াররাবাহ, কায়রোর মাকতাবাতুস সাকাফাহ আদ-দ্বীনিয়্যাহ, দুই খণ্ডে (১/ ১৪৩)। আমার জানা মতে এটি এখন পর্যন্ত মুদ্রিত হয়নি এবং ক্যাটালগগুলোতে এর কোনো পাণ্ডুলিপি (مخطوط) আমি খুঁজে পাইনি।

(৮) এটিও ডক্টর মুয়াফফাক আব্দুল্লাহ আব্দুল কাদির-এর সম্পাদনায় (تحقيق) বৈরুতের মাকতাবাতুল উলুম ওয়াল হিকাম - আলমুল কুতুব থেকে মুদ্রিত হয়েছে।

(৯) মুহিউদ্দিন আলী নাজিব-এর সম্পাদনায় (تحقيق) বৈরুতের দারুল বাশায়ির আল-ইসলামিয়্যাহ থেকে ১৯৯২ সালে দুই খণ্ডে মুদ্রিত হয়েছে।

(১০) দেখুন: উমর বিন রেজা কাহহালা (মৃত্যু ১৪০৮ হি.) রচিত মুজামুল মুআল্লিফিন, বৈরুতের মাকতাবাতুল মুসান্না - দারু ইহয়াইত তুরাসিল আরাবি ৬/ ২৫৭।

রিয়াদের মাকতাবাতুল মারকাযিয়্যাহ-তে ১৫৮২/ফা নম্বরে এর একটি পাণ্ডুলিপি (نسخة مخطوطة) রয়েছে। আমার জানা মতে এটি এখন পর্যন্ত মুদ্রিত হয়নি। দেখুন: খুযানাতুত তুরাস, ক্রমিক নম্বর: ৬৭৫১৮।

(১১) ডক্টর মুয়াফফাক আব্দুল্লাহ আব্দুল কাদির-এর সম্পাদনায় (تحقيق) বৈরুতের দারুল গারব আল-ইসলামি থেকে মুদ্রিত হয়েছে।
(খণ্ড: ১) নাযমু উলূমিল হাদীস = আকসিল আমালি ওয়াস সূল ফি ইলমি হাদীসির রাসূল (পৃষ্ঠা: ২৫)
‌‌المبحث الثاني: التعريف بمكانة وأهمية كتابه: "علوم الحديث"

تقدم طرفٌ من ثناء أهل العلم على كتاب: "علوم الحديث"، وقد أحسن ابن حجر الوصف حين قال: " فاجتمع في كتابه ما تفرق في غيره؛ فلهذا عكف الناس عليه، وساروا بسيره، فلا يحصى كم ناظم له ومختصر، ومستدرك عليه ومقتصر، ومعارض له ومنتصر". (1)

وامتاز هذا الكتاب بعدة مزايا، منها:

1 - امتاز بالاستنباط الدقيق لمذاهب العلماء وقواعدهم من أقوالهم المأثورة عنهم.

2 - أنه ضبط التعاريف التي سبق بها وحررها، وأوضح تعاريف لم يصرح بها من قبله.

3 - أنه عقب على أقوال العلماء بتحقيقاته واجتهاداته. (2)

وسبب هذا الإتقان أنه وضعه وقد تقدمت سنه، واكتمل وقد بلغ أشده في العلم، وراعى في تصنيفه الأناة والتبصر، فأملاه في مجالس كثيرة، فقد جاء في بعض النسخ المخطوطة: "فرغ مصنفه من تصنيفه وإملائه آخر المحرم من سنة أربع وثلاثين وستمائة"، أي: كان عمره سبع وخمسون عاماً؛ قبل وفاته بتسع سنين تقريباً.

ومن الملاحظات حول هذا الكتاب: أنه لم يرتبه على نظام معين؛ فتراه يذكر نوعاً يتعلق بالإسناد مثلاً ثم ينتقل إلى نوع يتعلق بالمتن، أو بهما معاً. (3)

والسبب في ذلك ما ذكره برهان الدين البقاعي، قال: " قيل: إنَّ ابنَ الصلاحِ أملى كتابه إملاءً، فكتبه في حالِ الإملاء جمع جمّ، فلم يقع مرتَّباً على ما في نفسه، وصارَ إذا ظهر له أنّ غير ما وقعَ له أحسن ترتيباً، يراعي ما كتب منَ النَّسخ، ويحفظ قلوبَ أصحابها، فلا يغيرها، وربّما غابَ بعضُها، فلو غير ترتيبَ غيرِهِ تخالفت النُّسخُ، فتركها". (4)

لكن العلماء في تآليفهم تابعوه على هذا الترتيب، كما فعل النووي في "التقريب" والعراقي والسيوطي في ألفيتيهما، وغيرهم، لأن الكتاب أصبح القدوة في هذا الفن. (5)

 

وهذا بعض ثناء أهل الحديث على هذا المصنَّف:

--------------------------------------------

(1) نزهة النظر ص 10

(2) منهج النقد ص 61

(3) انظر: مقدمة تحقيق د. نور الدين عتر لعلوم الحديث ص 18

(4) النكت الوفية بما في شرح الألفية، لإبراهيم بن عمر البقاعي (ت 885 هـ) تحقيق: الدكتور ماهر ياسين الفحل، الرياض، مكتبة الرشد، الطبعة الأولى 1428 - 2007، في مجلدين (2/ 436).

(5) انظر: مقدمة تحقيق د. نور الدين عتر لعلوم الحديث ص 18 أيضاً
দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ: তাঁর গ্রন্থ "উলূমুল হাদিস"-এর মর্যাদা ও গুরুত্বের পরিচিতি

"উলূমুল হাদিস" গ্রন্থের প্রতি আলিমগণের প্রশংসার কিঞ্চিৎ অংশ পূর্বে অতিবাহিত হয়েছে। হাফিজ ইবনে হাজার একে চমৎকারভাবে বর্ণনা করেছেন, যখন তিনি বলেন: "অন্যান্য গ্রন্থে যা বিচ্ছিন্নভাবে ছিল, তাঁর এই গ্রন্থে তা একত্রিত হয়েছে। একারণেই মানুষ এর প্রতি নিবিষ্ট হয়েছে এবং তাঁর দেখানো পথ অনুসরণ করেছে। এই গ্রন্থের কত যে কাব্যরূপ দানকারী, সংক্ষিপ্তকারী (مختصر), পরিপূরক রচনাকারী (مستدرك), সারসংক্ষেপকারী, সমালোচক এবং সমর্থনকারী রয়েছে তা গণনা করে শেষ করা যাবে না।" (১)

এই গ্রন্থটি বেশ কিছু বৈশিষ্ট্যের কারণে অনন্য, যার মধ্যে রয়েছে:

১ - আলিমগণের বর্ণিত উক্তিগুলো থেকে তাঁদের মাযহাব ও মূলনীতিসমূহের সূক্ষ্ম উদ্ভাবন (استنباط)-এর ক্ষেত্রে এটি বৈশিষ্ট্যমণ্ডিত।

২ - এটি তাঁর পূর্ববর্তী সংজ্ঞাগুলোকে সুসংহত ও পরিমার্জিত করেছে এবং এমন কিছু সংজ্ঞা স্পষ্ট করেছে যা ইতিপূর্বে কেউ পরিষ্কারভাবে ব্যক্ত করেনি।

৩ - তিনি আলিমগণের উক্তিগুলোর ওপর তাঁর নিজস্ব গবেষণা (تحقيق) ও ইজতিহাদ (اجتهاد)-এর মাধ্যমে পর্যালোচনা করেছেন। (২)

এই নিপুণতার কারণ হলো, তিনি এটি তাঁর বয়সের পরিণত সময়ে রচনা করেছেন এবং ইলমের পূর্ণতা লাভের পর এটি সমাপ্ত হয়েছে। তিনি গ্রন্থটি রচনার ক্ষেত্রে ধৈর্য ও দূরদর্শিতার প্রতি লক্ষ্য রেখেছেন এবং বহু মজলিসে এটি শ্রুতলিপি (إملاء) হিসেবে পাঠ করেছেন। কিছু পাণ্ডুলিপিতে পাওয়া যায়: "এর লেখক এটি রচনা ও শ্রুতলিপি (إملاء) প্রদানের কাজ শেষ করেছেন ৬৩৪ হিজরির মহররম মাসের শেষে।" অর্থাৎ তখন তাঁর বয়স ছিল সাতান্ন বছর; তাঁর মৃত্যুর প্রায় নয় বছর পূর্বে।

এই গ্রন্থটি সম্পর্কে একটি পর্যবেক্ষণ হলো: এটি তিনি কোনো বিশেষ ধারাক্রমে বিন্যস্ত করেননি। আপনি দেখবেন, তিনি হয়তো প্রথমে সনদ (إسناد)-এর সাথে সংশ্লিষ্ট কোনো প্রকার (نوع) উল্লেখ করছেন, এরপর মতন (متن)-এর সাথে সংশ্লিষ্ট কোনো প্রকার (نوع), অথবা উভয়টির সাথে সংশ্লিষ্ট বিষয়ে চলে যাচ্ছেন। (৩)

এর কারণ সম্পর্কে বুরহানুদ্দিন আল-বিকায়ি যা উল্লেখ করেছেন, তিনি বলেন: "বলা হয় যে, ইবনে আস-সালাহ তাঁর গ্রন্থটি শ্রুতলিপি (إملاء) হিসেবে প্রদান করেছিলেন এবং সেই মজলিসে এক বিশাল জনসমাবেশ তা লিপিবদ্ধ করছিল। ফলে তাঁর মনের ইচ্ছা অনুযায়ী এটি বিন্যস্ত হওয়া সম্ভব হয়নি। পরবর্তীতে যখন তাঁর কাছে এর চেয়ে উত্তম কোনো বিন্যাস প্রকাশ পেত, তখন তিনি ইতোমধ্যে লিপিবদ্ধ করা কপিগুলোর প্রতি লক্ষ্য রাখতেন এবং সেগুলোর লেখকদের মনের অবস্থার প্রতি খেয়াল করে তাতে পরিবর্তন করতেন না। সম্ভবত তাদের কেউ কেউ অনুপস্থিত থাকতেন, তাই তিনি যদি বিন্যাস পরিবর্তন করতেন তবে কপিগুলোর মধ্যে বৈসাদৃশ্য দেখা দিত; একারণেই তিনি একে সেভাবেই রেখে দিয়েছেন।" (৪)

তবে আলিমগণ তাঁদের রচনাবলিতে এই বিন্যাসেই তাঁর অনুসরণ করেছেন, যেমনটি ইমাম নববী তাঁর 'আত-তাকরীব' গ্রন্থে এবং ইরাকি ও সুয়ূতি তাঁদের দুটি 'আলফিয়াহ' গ্রন্থে এবং অন্যান্যরা করেছেন। কারণ এই শাস্ত্রের ক্ষেত্রে বইটি একটি আদর্শে পরিণত হয়েছে। (৫)

 

আর এই রচনার প্রতি হাদিস বিশারদগণের (أهل الحديث) কিছু প্রশংসা নিম্নরূপ:

--------------------------------------------

(১) নুঝহাতুন নাজর, পৃ. ১০

(২) মানহাজুন নাকদ, পৃ. ৬১

(৩) দেখুন: ড. নুরউদ্দিন ইতর সম্পাদিত উলূমুল হাদিস-এর ভূমিকা, পৃ. ১৮

(৪) আন-নুকাতেল ওয়াফিয়্যাহ বিমা ফী শারহিল আলফিয়্যাহ, ইব্রাহিম ইবনে উমর আল-বিকায়ি (মৃত্যু ৮৮৫ হি.), সম্পাদনা: ড. মাহের ইয়াসিন আল-ফাহল, রিয়াদ, মাকতাবাতুর রুশদ, প্রথম সংস্করণ ১৪২৮-২০০৭, দুই খণ্ডে (২/৪৩৬)।

(৫) দেখুন: ড. নুরউদ্দিন ইতর সম্পাদিত উলূমুল হাদিস-এর ভূমিকা, পৃ. ১৮ ও।
(খণ্ড: ১) নাযমু উলূমিল হাদীস = আকসিল আমালি ওয়াস সূল ফি ইলমি হাদীসির রাসূল (পৃষ্ঠা: ২৬)
1 - قال الإمام النووي (ت 676 هـ): "هو كتاب كثير الفوائد، عظيم العوائد، قد نبَّه المصنِّف رحمه الله في مواضع من الكتاب وغيره، عَلَى عظم شأنه، وزيادة حسنه وبيانه، وكفى بالمشاهدة دليلاً قاطعاً، وبرهاناً صادعاً". (1)

2 - وقال الخويي (ت 693 هـ) في منظومته:

وخيرُ ما صُنِّفَ فيها واشتهر كتابُ شيخِنا الإمامِ المعتبر

وهو الذي بابنِ الصلاحِ يُعرَفُ فليسَ فيه مثلُه مُصَنَّفُ

3 - وقال ابن جماعة (ت 733 هـ): "واقتفى آثارهم الشَّيْخ الإمام الحافظ تقي الدين أبو عمرو بن الصلاح بكتابه الذي أوعى فيه الفوائد وجمع، وأتقن في حسن تأليفه ما صنع". (2)

4 - قال ابن كثير (ت 774 هـ): "ولما كان الكتاب الذي اعتنى بتهذيبه الشَّيْخ الإمام العلَاّمة أبو عمرو بن الصلاح - تغمَّده الله برحمته - من مشاهير المصنفات في ذلك بَيْنَ الطلبة لهذا الشأن وربَّما عني بحفظه بعض المهرة من الشبَّان، سلكت وراءه واحتذيت حذاءه". (3)

5 - وقال الزركشي (ت 794 هـ): "وجاء بعدهم الإمام أبو عَمْرو بن الصَّلَاح فجمع مفرّقهم، وحقّق طرقهم، وأجلب بكتابه بدائع العجب، وأتى بالنكت والنخب، حَتَّى استوجب أن يكتب بذوب الذهب". (4)

6 - وقال الأبناسي (ت 802 هـ): "وأحسن تصنيف فِيْهِ وأبدع، وأكثر فائدة وأنفع: علوم الْحَدِيْث للشيخ العلاّمة الحافظ تقي الدين أبي عمرو بن الصلاح فإنّه فتح مغلق كنوزه، وحلّ مشكل رموزه". (5)

7 - وقال ابن الملقن (ت 804 هـ): "ومن أجمعها: كتاب العلامة الحافظ تقي الدين أبي عمرو بن الصلاح -سقى الله ثراه، وجعل الجنة مأواه - فإنه جامع لعيونها ومستوعب لفنونها". (6)

--------------------------------------------

(1) إرشاد طلاب الحقائق إلى معرفة سنن خير الخلائق، لأبي زكريا يحيى بن شرف النووي (ت 676 هـ)، تحقيق: نور الدين عتر، دمشق، دار اليمامة، الطبعة الرابعة 1423. ص 108

(2) المنهل الروي في مختصر علوم الحديث النبوي، لأبي عبد الله محمد بن إبراهيم بن جماعة (ت 733 هـ)، تحقيق: محيي الدين عبد الرحمن رمضان، دمشق، دار الفكر، الطبعة الثانية 1406، ص 26

(3) الباعث الحثيث شرح اختصار علوم الحديث، لأبي الأشبال أحمد محمد شاكر (ت 1377 هـ) الدمَّام، دار ابن الجوزي، الطبعة الأولى 1435، ص 2

(4) النكت على كتاب ابن الصلاح، لأبي الفضل أحمد بن علي محمد، ابن حجر العسقلاني (ت 852 هـ)، تحقيق: الدكتور ربيع بن هادي المدخلي، عجمان، مكتبة الفرقان، الطبعة الثالثة 1429 - 2008، (1/ 9)

(5) الشذا الفياح من علوم ابن الصلاح، لأبي إسحاق إبراهيم بن موسى بن أيوب الأبناسي (ت 802 هـ)، تحقيق: صلاح فتحي هلل، الرياض، مكتبة الرشد، الطبعة الأولى 1418 - 1998، (1/ 63)

(6) المقنع في علوم الحديث، لأبي حفص عمر بن رسلان البلقيني (ت 805 هـ)، تحقيق: عبد الله بن يوسف الجديع، الإحساء، دار فواز للنشر، الطبعة الأولى 1413 هـ، (1/ 39)
১ - ইমাম নববী (মৃত্যু ৬৭৬ হি.) বলেন: "এটি প্রচুর উপকারসমৃদ্ধ এবং অত্যন্ত কল্যাণময় একটি কিতাব। গ্রন্থকার—আল্লাহ তাঁর প্রতি রহম করুন—কিতাবের বিভিন্ন স্থানে এবং অন্যত্র এর সুমহান মর্যাদা, শ্রেষ্ঠত্ব ও সুস্পষ্ট বর্ণনার ব্যাপারে আলোকপাত করেছেন। সচক্ষে দেখাই এর জন্য অকাট্য দলিল ও প্রদীপ্ত নিদর্শনের জন্য যথেষ্ট।" (১)

২ - আল-খুওয়াইয়ি (মৃত্যু ৬৯৩ হি.) তাঁর কাব্যগ্রন্থে বলেন:

এই বিষয়ে যা কিছু রচিত ও প্রসিদ্ধ হয়েছে, তার মধ্যে শ্রেষ্ঠ হলো আমাদের নির্ভরযোগ্য (المعتبر) ইমাম ও শায়খের কিতাব।

যা ইবনুস সালাহ নামে পরিচিত, হাদিস শাস্ত্রে এর সমতুল্য কোনো গ্রন্থ রচিত হয়নি।

৩ - ইবনে জামাআহ (মৃত্যু ৭৩৩ হি.) বলেন: "শায়খ, ইমাম, হাফেজ (الحافظ) তাকিউদ্দিন আবু আমর ইবনুস সালাহ তাদের পদাঙ্ক অনুসরণ করেছেন তাঁর এই কিতাবের মাধ্যমে, যাতে তিনি অনেক উপকার সন্নিবেশিত ও একত্রিত করেছেন এবং এর চমৎকার বিন্যাসে নিপুণতা প্রদর্শন করেছেন।" (২)

৪ - ইবনে কাসির (মৃত্যু ৭৭৪ হি.) বলেন: "যেহেতু শায়খ, ইমাম, আল্লামা আবু আমর ইবনুস সালাহ —আল্লাহ তাঁকে তাঁর রহমতে সিক্ত করুন— কর্তৃক পরিমার্জিত কিতাবটি এই শাস্ত্রের শিক্ষার্থীদের নিকট সর্বাধিক প্রসিদ্ধ গ্রন্থসমূহের অন্তর্ভুক্ত এবং দক্ষ তরুণদের অনেকেই এটি মুখস্থ করার গুরুত্বারোপ করে থাকেন, তাই আমি তাঁরই পথ অনুসরণ করেছি এবং তাঁরই পদাঙ্ক অনুসরণ করেছি।" (৩)

৫ - যারকাশি (মৃত্যু ৭৯৪ হি.) বলেন: "তাদের পরে ইমাম আবু আমর ইবনুস সালাহ আগমন করেন এবং তিনি বিক্ষিপ্ত বিষয়গুলোকে একত্রিত করেন, তাদের সূত্রগুলো (طرق) যাচাই-বাছাই করেন এবং তাঁর কিতাবের মাধ্যমে বিস্ময়কর সব দুর্লভ বিষয় উপস্থাপন করেন। তিনি এতে অতি সূক্ষ্ম (النكت) ও নির্বাচিত (النخب) বিষয়গুলো নিয়ে এসেছেন, এমনকি এটি স্বর্ণাক্ষরে লিখে রাখার মর্যাদা লাভ করেছে।" (৪)

৬ - আল-আবনাসী (মৃত্যু ৮০২ হি.) বলেন: "এই শাস্ত্রে সবচেয়ে সুন্দর, সৃজনশীল, অধিক উপকারী ও ফলপ্রসূ রচনা হলো শায়খ, আল্লামা, হাফেজ (الحافظ) তাকিউদ্দিন আবু আমর ইবনুস সালাহ-এর 'উলুমুল হাদিস'; কেননা তিনি এর রুদ্ধ ভাণ্ডারগুলো উন্মোচন করেছেন এবং এর জটিল রহস্যগুলোর সমাধান করেছেন।" (৫)

৭ - ইবনুল মুলাক্কিন (মৃত্যু ৮০৪ হি.) বলেন: "সবচেয়ে তথ্যবহুল কিতাবগুলোর অন্যতম হলো আল্লামা, হাফেজ (الحافظ) তাকিউদ্দিন আবু আমর ইবনুস সালাহ-এর কিতাব —আল্লাহ তাঁর কবরকে সিক্ত করুন এবং জান্নাতকে তাঁর আবাসস্থল করুন— কারণ এটি এই শাস্ত্রের সারবস্তুকে একত্রিতকারী এবং এর সকল শাখাকে পরিবেষ্টনকারী।" (৬)

--------------------------------------------

(১) এরশাদু তুল্লাবিল হাকায়েক ইলা মা'রিফাতি সুনানি খাইরিল খালায়েক, আবু জাকারিয়া ইয়াহইয়া ইবনে শারাফ নববী (মৃত্যু ৬৭৬ হি.), সম্পাদনা: নুরুদ্দিন আতার, দামেস্ক, দারুল ইয়ামামা, চতুর্থ সংস্করণ ১৪২৩, পৃষ্ঠা ১০৮।

(২) আল-মানহালুর রাওয়ি ফি মুখতাসার উলুমিল হাদিসিন নববী, আবু আব্দুল্লাহ মুহাম্মদ ইবনে ইবরাহিম ইবনে জামাআহ (মৃত্যু ৭৩৩ হি.), সম্পাদনা: মহিউদ্দিন আব্দুর রহমান রামাদান, দামেস্ক, দারুল ফিকর, দ্বিতীয় সংস্করণ ১৪০৬, পৃষ্ঠা ২৬।

(৩) আল-বায়িসুল হাসিস শারহু ইখতিসার উলুমিল হাদিস, আবু আশবাল আহমদ মুহাম্মদ শাকের (মৃত্যু ১৩৭৭ হি.), দাম্মাম, দারু ইবনিল জাওজি, প্রথম সংস্করণ ১৪৩৫, পৃষ্ঠা ২।

(৪) আন-নুকাতি আলা কিতাবি ইবনিস সালাহ, আবুল ফজল আহমদ ইবনে আলী মুহাম্মদ ইবনে হাজার আসকালানি (মৃত্যু ৮৫২ হি.), সম্পাদনা: ড. রাবি ইবনে হাদি মাদখালি, আজমান, মাকতাবাতুল ফুরকান, তৃতীয় সংস্করণ ১৪২৯ - ২০০৮, (১/ ৯)।

(৫) আশ-শাযাল ফাইয়াহ মিন উলুমি ইবনিস সালাহ, আবু ইসহাক ইবরাহিম ইবনে মুসা ইবনে আইয়ুব আল-আবনাসী (মৃত্যু ৮০২ হি.), সম্পাদনা: সালাহ ফাতহি হালাল, রিয়াদ, মাকতাবাতুর রুশদ, প্রথম সংস্করণ ১৪১৮ - ১৯৯৮, (১/ ৬৩)।

(৬) আল-মুকনি ফি উলুমিল হাদিস, আবু হাফস উমর ইবনে রাসলান আল-বুলকিনি (মৃত্যু ৮০৫ হি.), সম্পাদনা: আব্দুল্লাহ ইবনে ইউসুফ আল-জুদি, আল-আহসা, দারু ফাওয়াজ লিন-নাশর, প্রথম সংস্করণ ১৪১৩ হি., (১/ ৩৯)।