(খণ্ড: ১)
মাওসূআতুল ফিরাকিল মুনতাসিবাহ লিল ইসলাম
(পৃষ্ঠা: -)
موسوعة الفرق المنتسبة للإسلام القسم: الفرق والردود
الكتاب: موسوعة الفرق المنتسبة للإسلام
إعداد: مجموعة من الباحثين بإشراف الشيخ عَلوي بن عبد القادر السقاف
الناشر: موقع الدرر السنية على الإنترنت dorar.net
عدد الأجزاء: 10
تم تحميله في/ ربيع الأول 1433 هـ
[الكتاب مرقم آليا]
تاريخ النشر بالشاملة: 28 ربيع الأول 1433
ইসলামের অন্তর্ভুক্ত দলসমূহের বিশ্বকোষ বিভাগ: দলসমূহ ও খণ্ডন
বই: ইসলামের অন্তর্ভুক্ত দলসমূহের বিশ্বকোষ
প্রস্তুতকরণ: শেখ আলউই বিন আব্দুল কাদির আস-সাক্কাফ-এর তত্ত্বাবধানে একদল গবেষক
প্রকাশক: আদ-দুরার আস-সানিয়্যাহ ওয়েবসাইট dorar.net
খণ্ড সংখ্যা: ১০
ডাউনলোড করা হয়েছে/ রবিউল আউয়াল ১৪৩৩ হিজরি
[বইটি স্বয়ংক্রিয়ভাবে সংখ্যায়িত]
শামেলায় প্রকাশের তারিখ: ২৮ রবিউল আউয়াল ১৪৩৩
(খণ্ড: ١)
মাওসূআতুল ফিরাকিল মুনতাসিবাহ লিল ইসলাম
(পৃষ্ঠা: -)
ـ[موسوعة الفرق المنتسبة للإسلام]ـ
إعداد: مجموعة من الباحثين بإشراف الشيخ عَلوي بن عبد القادر السقاف
الناشر: موقع الدرر السنية على الإنترنت dorar.net
عدد الأجزاء: 10
تم تحميله في/ ربيع الأول 1433 هـ
[الكتاب مرقم آليا]
[ইসলামের সাথে সম্পৃক্ত ফিরকাসমূহের বিশ্বকোষ]
প্রস্তুতিতে: শায়খ আলউই বিন আব্দুল কাদির আস-সাক্কাফ-এর তত্ত্বাবধানে একদল গবেষক
প্রকাশক: আদ-দুরার আস-সুননিয়াহ ইন্টারনেট সাইট dorar.net
খণ্ড সংখ্যা: ১০
আপলোড করা হয়েছে: রবিউল আউয়াল ১৪৩৩ হিজরি
[বইটি স্বয়ংক্রিয়ভাবে সংখ্যায়িত]
(খণ্ড: ١)
মাওসূআতুল ফিরাকিল মুনতাসিবাহ লিল ইসলাম
(পৃষ্ঠা: ١)
الباب الأول: مقدمة في الفرق• الفصل الأول: الهدف من دراسة الفرق.
• الفصل الثاني: أهمية دراسة الفرق ورد شبهة من يريد عدم دراستها.
• الفصل الثالث: تعريف الافتراق والفرق بينه وبين الاختلاف.
• الفصل الرابع: النهي عن التفرق.
• الفصل الخامس: أسباب التفرق.
• الفصل السادس: مضار الفرقة في الكتاب والسنة والآثار عن الصحابة.
• الفصل السابع: حصر الفرق في العدد المذكور في حديث الافتراق.
প্রথম অধ্যায়: দলসমূহ সম্পর্কে ভূমিকা• প্রথম পরিচ্ছেদ: দলসমূহ অধ্যয়নের উদ্দেশ্য।
• দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ: দলসমূহ অধ্যয়নের গুরুত্ব এবং যারা এগুলো অধ্যয়ন করতে চায় না তাদের সংশয় নিরসন।
• তৃতীয় পরিচ্ছেদ: বিভক্তির সংজ্ঞা এবং বিভক্তি ও মতভেদের মধ্যকার পার্থক্য।
• চতুর্থ পরিচ্ছেদ: বিভক্তি হতে নিষেধ।
• পঞ্চম পরিচ্ছেদ: বিভক্তির কারণসমূহ।
• ষষ্ঠ পরিচ্ছেদ: কুরআন, সুন্নাহ ও সাহাবীদের বর্ণনায় বিভক্তির অপকারিতা।
• সপ্তম পরিচ্ছেদ: বিভক্তি সংক্রান্ত হাদীসে উল্লিখিত সংখ্যার মধ্যে দলগুলোকে সীমাবদ্ধ করা।
(খণ্ড: ١)
মাওসূআতুল ফিরাকিল মুনতাসিবাহ লিল ইসলাম
(পৃষ্ঠা: ٢)
الفصل الأول: الهدف من دراسة الفرقدراستنا للفرق ليس إقراراً أو فرحاً بها، أو شماتة بالآخرين، وإنما ندرسها مع أسفنا الشديد للتفرق الحاصل بين المسلمين، والذي نرجو من وراء هذه الدراسة أن تحقق أهدافاً طيبة في خدمة الإسلام، وفي كسر حدة الخلافات التي مزقت المسلمين وفرقتهم إلى فرق وأحزاب.
والتي تهدف كذلك إلى جمع كلمتهم، ولفت أنظارهم إلى مواقع الخلاف فيما بينهم؛ ليبتعدوا عما وقع فيه من سبق من هذه الأمة، فإن الرجوع إلى الحق أولى من التمادي في الباطل، فهي نوع من أنواع العلاج لتلك المآسي الحالَّة بالمسلمين، وسبب من الأسباب التي تبذل لينفع الله بها إن شاء؛ لأن معرفة الدواء النافع يتوقف على معرفة الداء.
ولا يحتاج المسلمون لجمع كلمتهم، وإعادة مجدهم وعزهم وانتصارهم على جحافل الكفر والطغيان إلا إلى العودة الصادقة والنية الخالصة، فإن الأسس التي قام عليها عز الإسلام والمسلمين فيما سبق لا تزال كما هي قائمة قوية جديدة على مر الأيام والليالي - كتاب الله وسنة رسوله صلى الله عليه وسلم.
ولن يصلح آخر هذه الأمة إلا بما صلح به أولها.
وتلك الأهداف التي نتطلع إلى تحقيقها كثيرة نذكر أهمها فيما يأتي:
1 - تذكير المسلمين بما كان عليه أسلافهم من العزة والكرامة والمنعة حينما كانوا يداً واحدة، وقلباً واحداً.
2 - لفت أنظارهم إلى الحال الذي يعيشونه، ومدى ما لحقهم من الخسارة بسبب تفرقهم.
3 - توجيه الأمة الإسلامية إلى الوحدة فيما بينهم، وذلك بالتركيز على ذم التفرق وبيان مساوئه، وبيان محاسن اتحاد المسلمين، وجمعهم على طريق واحد.
4 - تبصير المسلمين بأسباب الخلافات التي مزقتهم فيما سبق من الزمان ليجتنبوها بعد أن يتدارسوها فيما بينهم بعزم قوي وصدق نية.
5 - معرفة ما يطرأ على العقيدة الإسلامية الصحيحة من أفكار وآراء هدامة مخالفة لحقيقة الإسلام بعيدة عن طريقه الواضحة.
6 - رصد تلك الحركات والأفكار التي يقوم بها أولئك الخارجون عن الخط السوي والصراط المستقيم؛ لتعرية دورهم الخطر في تفريق وحدة الأمة الإسلامية بتعريف الناس بأمرهم، وجلاء حقيقتهم للتحذير منهم، وبيان ما يقومون به من خدمة تلك الأفكار وترويجها. ذلك أنه ما من بلاء كان فيما سبق من الزمان إلا وهو موجود اليوم في وضوح تام؛ فلكل قوم وارث (1).
7 - حتى تبقى الفرقة الناجية علماً يهتدى به بعيدة عن تلك الشوائب الطارئة على العقيدة.
8 - وصل حاضر هذه الأمة بماضيها، وبيان منشأ جذور الخلافات بينهم والتي أدت إلى تفرقهم فيما مضى من الزمان للتحذير منها، وللرد على أولئك الذين يحاولون دعوة المسلمين إلى قطع صلتهم بماضيهم، والبناء من جديد كما يزعمون.
9 - ثم إن دراستنا للفرق وإن كان يبدو عليها أنها بمثابة جمع لتراث الماضين- فإنه يراد من وراء ذلك دعوة علماء المسلمين إلى القيام بدارسته وفحصه واستخراج الحق من ذلك، واستبعاد كل ما من شأنه أن يخرج بالمسلمين عن عقيدتهم الصحيحة أو يفرق كلمتهم.
وهذا فيما أرى هو أنجح الطرق وأقربها إلى إشعار المخالفين بالإنصاف وطلب الحق للاستدلال على خلافهم وخروجهم عن الصواب من كتبهم ومن كلام علمائهم لقطع كل حجة مخالفة بعد ذلك.
والتأليف في شأن الفرق يحتاج إلى: إثبات ما نقل عن الفرقة إليها والتأكد من نسبته وأخذ ذلك من مصادره الموثوقة ثم فهمه على الوجه الصحيح ثم نقد آراء تلك الفرقة على وفق منهج أهل السنة والجماعة مع لزوم الإنصاف والصدق والتجرد عن الهوى والعصبية
وتعر من ثوبين من يلبسهما
… يلقى الردى بمذمة وهوان
ثوب من الجهل المركب فوقه
… ثوب التعصب بئست الثوبان
وتحل بالإنصاف أفخر حلة
… زينت بها الأعطاف والكتفان
واجعل شعارك خشية الرحمن
… مع نصح الرسول فحبذا الأمران (2)
المصدر:مقدمة محقق كتاب الفوائد المجتمعة في بيان الفرق الضالة والمبتدعة لإسماعيل بن عبد الباقي اليازجي تقديم الدكتور يوسف بن محمد السعيد - ص8 - 9
--------------------------------------------
প্রথম পরিচ্ছেদ: ফেরকা বা দলসমূহ অধ্যয়নের লক্ষ্য ও উদ্দেশ্যআমাদের এই দলগত বিভাজন বা ফেরকা নিয়ে অধ্যয়ন কোনোভাবেই সেগুলোকে স্বীকৃতি প্রদান বা এ নিয়ে আনন্দ প্রকাশ কিংবা অন্যদের প্রতি বিদ্রূপ করার জন্য নয়। বরং মুসলমানদের মধ্যে বিদ্যমান এই বিভাজনের প্রতি গভীর দুঃখ প্রকাশ করে আমরা এগুলো অধ্যয়ন করছি। এই অধ্যয়নের মাধ্যমে আমাদের প্রত্যাশা হলো ইসলামের সেবায় কিছু উত্তম লক্ষ্য অর্জিত হওয়া এবং মুসলমানদের মধ্যে যে চরম মতবিরোধ তাদের ঐক্যকে ছিন্নভিন্ন করে বিভিন্ন দল ও উপদলে বিভক্ত করেছে, তার তীব্রতা হ্রাস করা।
এর উদ্দেশ্য হলো তাদের ঐক্যবদ্ধ করা এবং তাদের মধ্যকার মতভেদপূর্ণ বিষয়গুলোর প্রতি তাদের দৃষ্টি আকর্ষণ করা; যাতে তারা এই উম্মতের পূর্ববর্তীরা যে ভুলগুলোতে পতিত হয়েছিল তা থেকে বিরত থাকতে পারে। কেননা মিথ্যার ওপর অটল থাকার চেয়ে সত্যের দিকে ফিরে আসা অধিক উত্তম। এটি মুসলমানদের ওপর আপতিত এই দুর্দশাগুলোর এক প্রকার চিকিৎসা এবং সেই সব উপকরণের অন্তর্ভুক্ত যা আল্লাহর ইচ্ছায় উপকারের জন্য গ্রহণ করা হয়; কারণ কার্যকর ওষুধ সম্পর্কে জানা নির্ভর করে রোগটি সম্পর্কে জানার ওপর।
মুসলমানদের হারানো গৌরব ও সম্মান পুনরুদ্ধার এবং কুফর ও জুলুমের বাহিনীর বিরুদ্ধে বিজয়ী হওয়ার জন্য নিজেদের ঐক্যবদ্ধ করতে একনিষ্ঠ প্রত্যাবর্তন এবং খাঁটি নিয়ত ছাড়া আর কোনো কিছুর প্রয়োজন নেই। অতীতে ইসলামের এবং মুসলমানদের যে ভিত্তির ওপর শৌর্য-বীর্য প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল, তা দিন-রাতের আবর্তনে আজও আগের মতোই সুদৃঢ় ও অম্লান রয়েছে - আর তা হলো আল্লাহর কিতাব ও তাঁর রাসূল (তাঁর ওপর আল্লাহর রহমত ও শান্তি বর্ষিত হোক)-এর সুন্নাহ।
আর এই উম্মতের শেষ অংশ কখনোই সংশোধন হবে না সেই বস্তু ছাড়া যা দিয়ে এর প্রথম অংশ সংশোধিত হয়েছিল।
আমরা যে সকল লক্ষ্য অর্জনের প্রত্যাশা করি তা অনেক, যার মধ্যে প্রধানগুলো নিচে উল্লেখ করা হলো:
১ - মুসলমানদের সেই অতীত ইজ্জত, মর্যাদা ও শক্তির কথা স্মরণ করিয়ে দেওয়া যখন তারা এক হাত ও এক হৃদয়ের মতো ছিল।
২ - তারা বর্তমানে যে অবস্থায় অতিবাহিত করছে এবং বিভাজনের কারণে তারা কতটা ক্ষতির সম্মুখীন হয়েছে সেদিকে তাদের দৃষ্টি আকর্ষণ করা।
৩ - মুসলিম উম্মাহকে নিজেদের মধ্যে ঐক্যের দিকে পরিচালিত করা, যা সম্ভব হবে বিভাজনের নিন্দা ও এর কুফল বর্ণনার প্রতি গুরুত্বারোপ এবং মুসলমানদের ঐক্যের সুফল ও তাদের এক পথে একত্র করার বিষয়টি স্পষ্ট করার মাধ্যমে।
৪ - অতীতের যে সকল মতভেদের কারণে মুসলমানরা ছিন্নভিন্ন হয়ে গিয়েছিল, সেগুলোর কারণ সম্পর্কে তাদের সচেতন করা; যাতে তারা দৃঢ় সংকল্প ও স্বচ্ছ নিয়তে সেগুলো অধ্যয়ন করার পর তা বর্জন করতে পারে।
৫ - সঠিক ইসলামি আকিদার ওপর যে সকল ধ্বংসাত্মক চিন্তাধারা ও মতামত আপতিত হয়, যা ইসলামের প্রকৃত স্বরূপের পরিপন্থী এবং এর সুস্পষ্ট পথ থেকে দূরে - সেগুলো সম্পর্কে জ্ঞান লাভ করা।
৬ - সেই সকল আন্দোলন ও চিন্তাধারাকে পর্যবেক্ষণ করা যা সঠিক পথ ও সরল পথ থেকে বিচ্যুতরা পরিচালনা করে; মুসলিম উম্মাহর ঐক্য বিনষ্ট করার ক্ষেত্রে তাদের বিপজ্জনক ভূমিকা উন্মোচন করা, মানুষকে তাদের অবস্থা সম্পর্কে জানানো এবং তাদের থেকে সতর্ক করার জন্য তাদের প্রকৃত স্বরূপ প্রকাশ করা এবং তারা যে সকল ভ্রান্ত মতাদর্শ প্রচার ও প্রসারের কাজ করছে তা স্পষ্ট করা। কারণ অতীতে যে সব ফিতনা ও বালা-মুসিবত ছিল, তার সবই আজ পূর্ণ স্পষ্টভাবে বিদ্যমান; কেননা প্রতিটি সম্প্রদায়েরই উত্তরাধিকারী থাকে (১)।
৭ - যাতে নাজাতপ্রাপ্ত দল একটি দিশারি নিদর্শন হিসেবে আকিদার ওপর আপতিত এই সকল বাহ্যিক আবর্জনা থেকে মুক্ত থেকে টিকে থাকতে পারে।
৮ - এই উম্মতের বর্তমানকে তার অতীতের সাথে সংযুক্ত করা এবং তাদের মধ্যকার মতভেদের মূল উৎসগুলো স্পষ্ট করা যা অতীতে তাদের বিভাজনের কারণ হয়েছিল, যাতে তা থেকে সতর্ক থাকা যায়। পাশাপাশি সেই সব লোকেদের জবাব দেওয়া যারা মুসলমানদের তাদের অতীত থেকে বিচ্ছিন্ন করার এবং তাদের দাবিমতে নতুন করে সবকিছু গড়ে তোলার আহ্বান জানায়।
৯ - ফেরকা বা দলসমূহ নিয়ে আমাদের এই অধ্যয়ন যদিও মনে হতে পারে এটি পূর্ববর্তীদের ঐতিহ্য সংগ্রহের একটি মাধ্যম মাত্র - কিন্তু এর মূল উদ্দেশ্য হলো মুসলিম আলেম সমাজকে এগুলো অধ্যয়ন ও পরীক্ষা-পরীক্ষা করার আহ্বান জানানো যাতে এর মধ্য থেকে সত্যকে বের করে আনা যায় এবং এমন প্রতিটি বিষয়কে বর্জন করা যায় যা মুসলমানদের তাদের সঠিক আকিদা থেকে বিচ্যুত করে বা তাদের ঐক্য বিনষ্ট করে।
আমার মতে এটিই হলো সবচেয়ে সফল ও নিকটতম পথ যার মাধ্যমে বিরোধীদের প্রতি ইনসাফ প্রদর্শন এবং তাদেরই কিতাব ও তাদের আলেমদের বক্তব্যের মাধ্যমেই তাদের ভুল ও সত্য পথ থেকে বিচ্যুতি প্রমাণের মাধ্যমে সত্য অন্বেষণের সুযোগ দেওয়া যায়, যাতে পরবর্তীতে বিরোধিতার আর কোনো অজুহাত না থাকে।
আর ফেরকা সংক্রান্ত বিষয়ে রচনার জন্য প্রয়োজন: কোনো দলের পক্ষ থেকে যা বর্ণিত হয়েছে তা সাব্যস্ত করা এবং তার সম্বন্ধ নিশ্চিত করা, নির্ভরযোগ্য উৎস থেকে তা গ্রহণ করা, অতঃপর তা সঠিকভাবে অনুধাবন করা এবং আহলে সুন্নাত ওয়াল জামাআতের মানহাজ অনুযায়ী সেই দলের মতামতের সমালোচনা করা; আর এক্ষেত্রে ইনসাফ, সত্যবাদিতা এবং প্রবৃত্তি ও গোঁড়ামি থেকে মুক্ত থাকা অপরিহার্য।
আর তুমি দুটি পোশাক খুলে ফেল, যে ব্যক্তি তা পরিধান করে … সে নিন্দা ও লাঞ্ছনার সাথে ধ্বংসের সম্মুখীন হয়।
একটি পোশাক হলো মূর্খতা যা তার ওপর জেঁকে বসেছে … অপরটি হলো গোঁড়ামির পোশাক, কতই না নিকৃষ্ট এই পোশাক দুটি!
আর তুমি ইনসাফ বা ন্যায়বিচারের সর্বোত্তম পোশাকে সজ্জিত হও … যার দ্বারা ঘাড় ও কাঁধ সুশোভিত হয়।
আর পরম করুণাময় আল্লাহর ভয়কে তোমার মূলমন্ত্র বানাও … সাথে রাসূলের নসিহতকে গ্রহণ করো, কতই না চমৎকার এই দুটি বিষয়! (২)
উৎস: ইসমাইল বিন আব্দুল বাকি আল-ইয়াজিজি রচিত 'আল-ফাওয়ায়েদ আল-মুজতামিআহ ফি বায়ানিল ফিরাকিদ দাল্লাহ ওয়াল মুবতাদিআহ' গ্রন্থের মুহাক্কিকের ভূমিকা, উপস্থাপনায় ডক্টর ইউসুফ বিন মুহাম্মাদ আস-সাঈদ - পৃষ্ঠা ৮ - ৯।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ١)
মাওসূআতুল ফিরাকিল মুনতাসিবাহ লিল ইসলাম
(পৃষ্ঠা: ٣)
الفصل الثاني: أهمية دراسة الفرق ورد شبهة من يريد عدم دراستهابيّنّا فيما مضى بعض الأهداف التي ندرس الفرق من أجلها، ونجيب هنا عن شبهة لكثير من الناس ربما يرددها بعضهم منخدعاً بحسن نية، والبعض الآخر يرددها بنية سيئة.
وهي: لماذا نشغل أنفسنا بدراسة فرق انتهت، وربما لم يعد لها ذكر على الألسنة
… وقد رد العلماء عليها قديماً وحديثاً وانتهى الأمر؟
والجواب: إن هذا التساؤل قد انطوى على مغالطات خفية ونية سيئة، أو جهل شنيع، وذلك:
أولاً: إن هذه الفرق وإن كانت قديمة فليست العبرة بأشخاص مؤسسي تلك الفرق ولا بزمنهم، ولكن العبرة بوجود أفكار تلك الفرق في وقتنا الحاضر.
فإننا إذا نظرنا إلى فرقة من تلك الفرق الماضية نجد أن لها امتداداً يسري في الأمة سريان الوباء.
وأقرب مثال على ذلك فرقة المعتزلة، أليس أفكارهم لا زالت حية قوية يتشدق بها بعض المغرضين من الذين استهوتهم الحضارة الغربية أو الشرقية، فراحوا يمجدون العقل ويحكمونه في كل الأمور، ويصفون من يعتمد على ما وراء ذلك بالتأخر والانزواء.
إنهم يريدون الخروج عن النهج الإسلامي ولكنهم لم يجرءوا صراحة على ذلك، فوجدوا أن التستر وراء تلك الآراء التي قال بها من ينتسب إلى الإسلام خير وسيلة لتحقيق ذلك، فذهبوا إلى تمجيد تلك الأفكار لتحقيق أهدافهم البعيدة.
ثانياً: مما هو معلوم أن كل الأفكار والآراء التي سبقت لها أتباع ينادون بتطبيقها، فالنزعة الخارجية وتنطع أهلها في الدين، واستحلال دماء المسلمين لأقل شبهة، وتكفيرهم الشخص بأدنى ذنب - قائمة الآن في كثير من المجتمعات الإسلامية على أشدها، موهمين الشباب ومن قلت معرفته بالدين أن الدين هو هذا المسلك فقط.
كذلك نرى الصوفية وقد اقتطعت من المسلمين أعداداً كثيرة، مثقفين وغير مثقفين، جَرَفَهُم التيار الخرافي فراحوا ينادون بالجهل والخرافات، واتباع المنامات، وتحضير الأرواح، ومعرفة المغيبات، وتعظيم الأشخاص والغلو فيهم.
وغير ذلك من مسالك الصوفية التي سندرسها بالتفصيل إن شاء الله تعالى.
وعلى هذا، فدراستنا هذه وإن كانت في ظاهرها دراسة للماضي، ومراجعة للتاريخ لفرق المبتدعة الذين جَنَوا على ماضي المسلمين إلا أنها دراسة حاضرة كذلك من حيث إنها تكشف جذور البلاء الذي شتت قوى المسلمين وفرقهم شيعاً، وجعل بأسهم بينهم شديداً، بل هي نور يضيء لشبابنا طريقه وسط هذا الظلام الفكري المفتعل، الذي لا يخدم إلا أعداء الإسلام وشانئيه بتوجيه الأنظار إلى تلك الفرق التي تعمل في الظلام لنشر أفكارها، وفرض مخططاتها المعادية للإسلام. ثالثاً: إن دراسة الفرق والدعوة إلى الاجتماع واتحاد كلمة المسلمين -فيه تكثير لعدد الفرقة الناجية بانضمام أولئك الخارجين عن الحق ووقوفهم إلى جانب إخوانهم أهل الفرقة الناجية؛ فيكثر عددهم فيصح فيهم ما أخبر به الرسول صلى الله عليه وسلم من قيام فرقة من المسلمين: ((ظاهرين على الحق لا يضرهم من خالفهم أو خذلهم حتى يأتي أمر الله، وهم على ذلك)) (1) وتَرْكُنا لدراسة الفرق يفوِّت علينا هذا الخير العظيم.
رابعاً: أضف إلى ذلك أن ترك الناس دون دعوة إلى التمسك بالدين الصحيح، ودون بيان أضرار الفرق المخالفة، فيه إبطال لما فرضه الشرع من القيام بواجب الأمر بالمعروف والنهي عن المنكر، فإن الفرق التي ظهرت، ما من فرقة منها إلا وقد قامت مبادئها على كثير من المنكرات، وهي تدعي أنها هي المحقة وما عداها على الضلال، فألبسوا الحق بالباطل، وأظهروا مروقهم وخروجهم وفجورهم عن منهج الكتاب والسنة في أثواب براقة لترويج بدعهم، والدعوة لها.
--------------------------------------------
দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ: ফিরকা বা দলসমূহ অধ্যয়নের গুরুত্ব এবং যারা এগুলো অধ্যয়ন না করার পক্ষপাতী তাদের সংশয়ের নিরসনআমরা ইতিপূর্বে ফিরকা বা দলসমূহ অধ্যয়নের কিছু উদ্দেশ্য বর্ণনা করেছি। এখানে আমরা এমন একটি সংশয়ের উত্তর দেব যা অনেক লোক বারবার বলে থাকে; তাদের মধ্যে কেউ হয়তো সরল বিশ্বাসে প্রতারিত হয়ে এটি বলে, আবার কেউ হয়তো এটি বলে অসৎ উদ্দেশ্যে।
সেই সংশয়টি হলো: আমরা কেন এমন সব ফিরকা নিয়ে ব্যস্ত থাকব যারা বিলুপ্ত হয়ে গেছে এবং হয়তো মানুষের মুখে তাদের আর কোনো আলোচনাও নেই... অথচ আলেমগণ প্রাচীন ও বর্তমানকালে তাদের যথাযথ উত্তর দিয়েছেন এবং বিষয়টি সেখানেই শেষ হয়ে গেছে?
এর উত্তর হলো: এই প্রশ্নের মধ্যে সূক্ষ্ম বিভ্রান্তি এবং অসৎ উদ্দেশ্য কিংবা চরম মূর্খতা নিহিত রয়েছে। এর কারণসমূহ হলো:
প্রথমত: এই ফিরকাগুলো প্রাচীন হলেও বিবেচ্য বিষয় ওই ফিরকাগুলোর প্রতিষ্ঠাতাদের ব্যক্তিজীবন বা তাদের সময়কাল নয়; বরং বিবেচ্য বিষয় হলো বর্তমান সময়ে সেই ফিরকাগুলোর চিন্তাধারার বিদ্যমানতা।
কেননা আমরা যদি অতীতের সেই ফিরকাগুলোর কোনো একটির দিকে তাকাই, তবে দেখতে পাই যে উম্মতের মাঝে মহামারীর ন্যায় তাদের প্রভাব ছড়িয়ে রয়েছে।
এর নিকটতম উদাহরণ হলো মুতাজিলা ফিরকা। তাদের চিন্তাধারা কি আজও জীবন্ত ও শক্তিশালী নয়, যা নিয়ে পাশ্চাত্য বা প্রাচ্যের সভ্যতায় মোহিত হওয়া কিছু স্বার্থান্বেষী ব্যক্তি বাগাড়ম্বর করে থাকে? তারা বুদ্ধি বা বিবেককে মহিমান্বিত করে এবং সকল বিষয়ে একেই চূড়ান্ত বিচারক মনে করে। আর যারা এর বাইরের বিষয়ের ওপর নির্ভর করে, তাদেরকে তারা পশ্চাৎপদ ও একঘরে বলে আখ্যায়িত করে।
তারা মূলত ইসলামী পথ ও পন্থা থেকে বেরিয়ে যেতে চায়, কিন্তু স্পষ্টভাবে তা করার সাহস পায় না। তাই তারা ইসলামের সাথে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের ব্যক্ত করা মতাদর্শগুলোর আড়ালে আশ্রয় নেওয়াকেই তাদের লক্ষ্য অর্জনের সর্বোত্তম মাধ্যম হিসেবে গ্রহণ করেছে। ফলে তারা তাদের দূরভিসন্ধিমূলক উদ্দেশ্য হাসিলের জন্য সেইসব চিন্তাধারার গুণগানে লিপ্ত হয়েছে।
দ্বিতীয়ত: এটি সুপরিচিত যে, অতীতে গত হওয়া প্রতিটি চিন্তাধারা ও মতবাদের এমন অনুসারী থাকে যারা সেগুলো বাস্তবায়নের ডাক দেয়। উদাহরণস্বরূপ, খারেজী প্রবণতা এবং দ্বীনের ব্যাপারে তাদের কঠোরতা, সামান্য সংশয়ের কারণে মুসলমানদের রক্ত হালাল করা এবং সামান্যতম গুনাহের কারণে কোনো ব্যক্তিকে কাফের ফতোয়া দেওয়া—বর্তমানে অনেক মুসলিম সমাজে চরমভাবে বিদ্যমান। তারা যুবক এবং দ্বীন সম্পর্কে স্বল্প জ্ঞানসম্পন্ন ব্যক্তিদের বিভ্রান্ত করছে যে, এটিই একমাত্র দ্বীনের পথ।
একইভাবে আমরা সুফীবাদকে দেখি, যারা শিক্ষিত ও অশিক্ষিত নির্বিশেষে বিপুল সংখ্যক মুসলমানকে বিচ্ছিন্ন করে নিয়েছে। কুসংস্কারের স্রোত তাদেরকে ভাসিয়ে নিয়েছে, ফলে তারা অজ্ঞতা, কুসংস্কার, স্বপ্ন দেখা বা ইলহামের অনুসরণ, রূহ বা আত্মা হাজির করা, অদৃশ্যের জ্ঞান দাবি করা এবং ব্যক্তিদের অতিমূল্যায়ন ও তাদের ব্যাপারে বাড়াবাড়ি করার আহ্বান জানাচ্ছে।
সুফীবাদের এ জাতীয় আরও বহু পন্থা রয়েছে যা সম্পর্কে ইনশাআল্লাহ আমরা বিস্তারিত আলোচনা করব।
সুতরাং, আমাদের এই অধ্যয়ন বাহ্যিকভাবে অতীত এবং মুসলমানদের অতীতকে কলঙ্কিত করা বিদআতি দলগুলোর ইতিহাসের পর্যালোচনা মনে হলেও, এটি আসলে বর্তমান প্রেক্ষাপটেরই অধ্যয়ন। কারণ এটি সেই ফিতনার মূল উৎসগুলো উন্মোচন করে যা মুসলমানদের শক্তিকে বিচ্ছিন্ন করেছে এবং তাদেরকে দলাদলিতে বিভক্ত করেছে, আর তাদের নিজেদের মাঝে ভয়াবহ বিবাদের সৃষ্টি করেছে। বরং এটি এমন এক আলো যা কৃত্রিম বুদ্ধিবৃত্তিক অন্ধকারের মাঝে আমাদের যুবকদের পথ দেখাবে। এই অন্ধকার কেবল ইসলামের শত্রু ও বিদ্বেষীদেরই সেবা করে। এটি সেই সব দলের প্রতি দৃষ্টি আকর্ষণ করে যারা অন্ধকারে থেকে নিজেদের চিন্তাধারা প্রচার এবং ইসলাম বিরোধী পরিকল্পনা বাস্তবায়নের কাজ করে যাচ্ছে। তৃতীয়ত: ফিরকা বা দলসমূহ অধ্যয়ন এবং ঐক্য ও মুসলমানদের সংহতির দিকে আহ্বান করার মাধ্যমে ‘মুক্তিপ্রাপ্ত দল’ বা ফিরকা নাজিয়াহ-র সদস্য সংখ্যা বৃদ্ধি পায়। কারণ এর ফলে যারা সত্য বিচ্যুত তারা সত্যের পথে ফিরে এসে তাদের ফিরকা নাজিয়াহ-র ভাইদের পাশে এসে দাঁড়ায়। এতে তাদের সংখ্যা বৃদ্ধি পায় এবং তাদের ক্ষেত্রে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সেই বাণীটি সত্য প্রমাণিত হয় যেখানে তিনি মুসলমানদের একটি দল সম্পর্কে বলেছেন: “তারা সত্যের ওপর বিজয়ী থাকবে, যারা তাদের বিরোধিতা করবে বা যারা তাদের সহযোগিতা করা থেকে বিরত থাকবে তারা তাদের কোনো ক্ষতি করতে পারবে না, যতক্ষণ না আল্লাহর নির্দেশ উপস্থিত হয় এবং তারা সেই অবস্থাতেই থাকবে।” (১) ফিরকাগুলো অধ্যয়ন পরিত্যাগ করলে আমরা এই মহান কল্যাণ থেকে বঞ্চিত হব।
চতুর্থত: এর সাথে যোগ করা যায় যে, মানুষকে সঠিক দ্বীনের ওপর অটল থাকার দাওয়াত না দেওয়া এবং বিভ্রান্ত দলগুলোর ক্ষতি বর্ণনা না করার অর্থ হলো শরীয়ত কর্তৃক নির্ধারিত ‘সৎ কাজের আদেশ ও অসৎ কাজের নিষেধ’-এর আবশ্যিক দায়িত্বকে অকেজো করে দেওয়া। কারণ যে দলগুলো আত্মপ্রকাশ করেছে, তাদের প্রত্যেকের মূলনীতিই গড়ে উঠেছে বহুবিধ অন্যায়ের ওপর। অথচ তারা দাবি করে যে তারাই সত্যের ওপর আছে এবং অন্য সবাই ভ্রান্ত। এভাবে তারা সত্যকে মিথ্যার সাথে মিশ্রিত করে ফেলেছে এবং কিতাব ও সুন্নাহর পথ থেকে তাদের বিচ্যুতি, বহির্গমন ও পাপাচারকে তারা উজ্জ্বল পোশাকের আড়ালে প্রকাশ করে যাতে তাদের বিদআতগুলোর প্রসার ঘটানো যায় এবং তার প্রতি মানুষকে আহ্বান করা যায়।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ١)
মাওসূআতুল ফিরাকিল মুনতাসিবাহ লিল ইসলাম
(পৃষ্ঠা: ٤)
خامساً: إن عدم دراسة الفرق والرد عليها وإبطال الأفكار المخالفة للحق، ففيه إفساح المجال للفرق المبتدعة أن تفعل ما تريد، وأن تدعو إلى كل ما تريد من بدع وخرافات دون أن تجد من يتصدى لها بالدراسة والنقد كما هو الواقع؛ فإن كثيراً من طلاب العلم- فضلاً عن عوام المسلمين- يجهلون أفكار فرق يموج بها العالم، وهي تعمل ليلاً ونهاراً لنشر باطلهم، ولعل هذه الغفلة من المسلمين عن التوجه لكشف هذه الفرق المارقة لعله من تخطيط أولئك المارقين الذين نجحوا في حجب الأنظار عنهم وعن مخططاتهم الإجرامية. ولا أدل على ذلك من أنك تجد بعض الأفكار وبعض العبارات يرددها كثير من المسلمين دون أن يعرفوا أن مصدرها إما من المعتزلة (1)، أو من الصوفية (2)، أو البهائية (3)، أو القاديانية (4)، أو الخوارج (5)، أو الشيعة (6)، إلى غير ذلك. ومن المعلوم أن ذلك إنما يعود إلى الجهل بأفكار هذه الطوائف (7).
--------------------------------------------
পঞ্চমতঃ ফিরকা বা দলসমূহ নিয়ে পড়াশোনা না করা, সেগুলোর জবাব না দেওয়া এবং সত্যের পরিপন্থী চিন্তাধারাকে বাতিল না করার মধ্যে বিদআতি দলগুলোকে তাদের ইচ্ছামতো কাজ করার সুযোগ করে দেওয়া হয়; এবং তারা কোনো প্রকার পড়াশোনা ও সমালোচনার সম্মুখীন হওয়া ছাড়াই তাদের কাঙ্ক্ষিত বিদআত ও কুসংস্কারের দিকে দাওয়াত দেওয়ার সুযোগ পায়, যেমনটি বর্তমানে ঘটছে। কেননা অনেক ইলম অন্বেষী—সাধারণ মুসলিমদের কথা তো বাদই দিলাম—বিশ্বজুড়ে আলোড়ন সৃষ্টিকারী ফিরকা বা দলগুলোর চিন্তাধারা সম্পর্কে অজ্ঞ, অথচ তারা তাদের বাতিল মতবাদ প্রচারের জন্য দিনরাত কাজ করে যাচ্ছে। এই পথভ্রষ্ট দলগুলোকে উন্মোচন করার ক্ষেত্রে মুসলিমদের এই উদাসীনতা সম্ভবত সেই সব পথভ্রষ্টদেরই চক্রান্ত, যারা নিজেদের এবং তাদের অপরাধমূলক পরিকল্পনাগুলো থেকে মানুষের দৃষ্টি আড়াল করতে সফল হয়েছে। এর চেয়ে বড় প্রমাণ আর কিছু হতে পারে না যে, আপনি এমন কিছু চিন্তাধারা এবং কিছু পরিভাষা পাবেন যা অনেক মুসলিমই বারবার ব্যবহার করেন অথচ তারা জানেন না যে সেগুলোর উৎস হয় মুতাজিলা (১), অথবা সুফি (২), অথবা বাহায়ি (৩), অথবা কাদিয়ানী (৪), অথবা খারিজি (৫), অথবা শিয়া (৬) ইত্যাদি থেকে এসেছে। আর এটি যে এই দলগুলোর চিন্তাধারা সম্পর্কে অজ্ঞতার কারণেই হয়ে থাকে তা সর্বজনবিদিত (৭)।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ١)
মাওসূআতুল ফিরাকিল মুনতাসিবাহ লিল ইসলাম
(পৃষ্ঠা: ٥)
المبحث الأول: تعريف الافتراق لغة واصطلاحاالافتراق لغةً: خلاف الجماعة والاجتماع والجمع، قال تعالى: وَاعْتَصِمُواْ بِحَبْلِ اللهِ جَمِيعًا وَلَا تَفَرَّقُواْ [آل عمران:103]، أي: بعد الاجتماع، فالافتراق نقيض الاجتماع، ومنه قول الرسول صلى الله عليه وسلم: ((البيعان بالخيار ما لم يتفرقا)) (1) أي: عن مجلسهما فينفصل أحدهما عن الآخر، والافتراق: الانقسام، والفرق: الفلْق، والفلق من الشيء إذا انفلق منه، ومنه قوله تعالى: فَانْفَلَقَ فَكَانَ كُلُّ فِرْقٍ كَالطَّوْدِ الْعَظِيمِ [الشعراء:63]، والمفارقة: المباينة، وفارق الشيء مفارقةً وفراقاً: باينه، والاسم الفرقة، وتفارق القوم: فارق بعضهم بعضاً، والفرقة: الطائفة من الناس، والفريق أكثر منه، وفِرَقٌ: جمع فرقة، والفِراق: التفريق بين الشيئين والفصل بينهما، والتفرق والافتراق سواء، ومنهم من يجعل التفرق للأبدان، والافتراق في الكلام، يقال: فرّقتُ بين الكلامين فافترقا وفرّقت بين الرجلين فافترقا، والتفرق والتفرقة: التبديد والتمزيق، يقال: فرّقه تفريقاً وتفرقه أي بدده. وفي الجملة: أن الافتراق في اللغة يدور حول معاني: المفارقة، الانقطاع، التفرق، المفاصلة، الانفصال، الشذوذ، المباينة، الانقسام والتيه، والضياع، والضلال، المقاطعة، التشعب، الخروج عن الجادة وعن الأصل وعن الأكثر وعن الجماعة، التغيير (2).
الافتراق في الاصطلاح:
يطلق على أمور منها: 1 - التفرق في الدين والاختلاف فيه ومن ذلك قوله تعالى: وَاعْتَصِمُواْ بِحَبْلِ اللهِ جَمِيعًا وَلَا تفرقوا [آل عمران:103]، وقوله: وَلَا تَكُونُواْ كَالَّذِينَ تَفَرَّقُواْ وَاخْتَلَفُواْ [آل عمران:105]، وقوله: إِنَّ الَّذِينَ فَرَّقُواْ دِينَهُمْ وَكَانُواْ شِيَعًا لَّسْتَ مِنْهُمْ فِي شَيْءٍ إِنَّمَا أَمْرُهُمْ إِلَى اللهِ ثُمَّ يُنَبِّئُهُم بِمَا كَانُواْ يَفْعَلُونَ [الأنعام:159]، ومن ذلك قوله عليه الصلاة والسلام: ((إنما هلك من كان قبلكم من الأمم باختلافهم في الكتاب)) (3).2 - الافتراق عن جماعة المسلمين وهم عموم أمة الإسلام في عهد الرسول صلى الله عليه وسلم والصحابة وهم أهل السنة ومن كان على هديهم بعد ظهور الافتراق فمن خالف سبيلهم في أمر يقتضي الخروج عن أصولهم في الاعتقاد أو الشذوذ عنهم في المناهج أو الخروج على أئمتهم أو استحلال السيف فيهم فهو مفارق، وفيه قوله عليه الصلاة والسلام: ((من خرج من الطاعة وفارق الجماعة ثم مات مات ميتة جاهلية ومن قتل تحت راية عمية يغضب للعصبة ويقاتل للعصبة فليس من أمتي ومن خرج من أمتي على أمتي يضرب برها وفاجرها لا يتحاش من مؤمنها ولا يفي بذي عهدها فليس مني)) (4).
فذكر عليه الصلاة والسلام أصنافاً من المعارضين الخارجين: 1 - المفارقون للجماعة (5).
2 - الخارجون عن الطاعة.
3 - الخارجون عن الأمة بالسيف.
4 - المقاتلون تحت راية عمية وهو الأمر الأعمى الذي لا يستبين وجهه، ومنه قتال العصبية، والفتنة، والقوميات، والشعارات، والحزبيات ونحوها.
فالخروج عن أهل السنة والجماعة ولو في أصل واحد من أصول الدين الاعتقادية أو العملية المتعلقة بالقطعيات، أو بمصالح الأمة العظمى أو بهما معاً فإنه يعتبر تفرقاً؛ فالضابط في الافتراق أنه يؤدي إلى الفتن، والتفرق، والقتال، والبغي، والبدع، وبذلك يتضح أن أهل الافتراق هم أهل الأهواء والبدع. قال شيخ الإسلام ابن تيمية رحمه الله: والبدعة مقرونة بالفرقة، كما أن السنة مقرونة بالجماعة، فيقال: أهل السنة والجماعة كما يقال: أهل البدعة والفرقة. ثم قال: وإنما المقصود هنا التنبيه على وجه تلازمهما: موالاة المفترقين، وإن كان كلاهما فيه بدعة وفرقة (6).
المصدر:تناقض أهل الأهواء والبدع في العقيدة لعفاف بنت حسن بن محمد مختار – 1/ 39
- الضابط في الافتراق:
يحكم بالمفارقة على كل من خرج عن سبيل أهل السنة والجماعة في أصل مما عدوه من أصول الدين، أو قاعدة من قواعده أو خالف في فروعٍ كثيرة وجزئيات متعددة مخرجة عن سمة أهل السنة وهديهم؛ كبدع الشعائر والعبادات إذ كثرت، وهذا ما وضحه شيخ الإسلام رحمه الله من جعل العادة التي يتقرب بها إلى الله بدعة كاتخاذ لبس الصوف عبادةً وطريقاً إلى الله.
المصدر:تناقض أهل الأهواء والبدع في العقيدة لعفاف بنت حسن بن محمد مختار – 1/ 46
--------------------------------------------
প্রথম পরিচ্ছেদ: আভিধানিক ও পারিভাষিক অর্থে ইফতিরাক (বিভক্তি)-এর সংজ্ঞাআভিধানিক অর্থে ইফতিরাক (বিভক্তি): এটি জামাত (দল), ইজতিমা (একত্রীকরণ) এবং জমউল (সমষ্টি)-এর বিপরীত। আল্লাহ তাআলা বলেন: "তোমরা সকলে আল্লাহর রশিকে শক্তভাবে আঁকড়ে ধরো এবং পরস্পর বিচ্ছিন্ন হয়ো না" [আলে ইমরান: ১০৩], অর্থাৎ: ঐক্যবদ্ধ হওয়ার পর। সুতরাং ইফতিরাক হলো ঐক্যের বিপরীত। আর এ থেকেই রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের বাণী: ((ক্রেতা-বিক্রেতা যতক্ষণ বিচ্ছিন্ন না হয়, ততক্ষণ তাদের ইখতিয়ার থাকে)) (১) অর্থাৎ: তাদের মজলিস থেকে, যখন তারা একজন অন্যজন থেকে পৃথক হয়ে যায়। আর ইফতিরাক অর্থ: বিভক্ত হওয়া। আল-ফারক (الفرق) অর্থ: বিদীর্ণ করা। আল-ফালক (الفلق) কোনো কিছু থেকে বিদীর্ণ হওয়া অংশকে বলা হয়। এ থেকেই আল্লাহ তাআলার বাণী: "অতঃপর তা বিদীর্ণ হলো এবং প্রত্যেক অংশ বিশাল পাহাড়ের মতো হয়ে গেল" [আশ-শুআরা: ৬৩]। আল-মুফারাকাহ (المفارقة) অর্থ: পৃথক হওয়া। কোনো কিছু থেকে আলাদা হওয়াকে 'ফরাকা' (فارق) বলা হয়। এর বিশেষ্য হলো আল-ফিরকাহ (الفرقة)। তাফারাকুল কওম (تفارق القوم) মানে হলো লোকজনের একে অপরের থেকে বিচ্ছিন্ন হওয়া। আল-ফিরকাহ (الفرقة) হলো মানুষের একটি দল, আর আল-ফারিক (الفريق) তার চেয়ে বড়। ফিরাকুন (فِرَقٌ) হলো ফিরকাহ-এর বহুবচন। আল-ফিরাক (الفِراق) হলো দুটি জিনিসের মধ্যে বিভক্তি ও বিচ্ছেদ সৃষ্টি করা। আত-তাফাররুক (التفرق) এবং আল-ইফতিরাক (الافتراق) একই অর্থবোধক। কেউ কেউ বলেন যে, আত-তাফাররুক দেহের ক্ষেত্রে ব্যবহৃত হয় আর আল-ইফতিরাক কথার ক্ষেত্রে ব্যবহৃত হয়। বলা হয়: আমি দুটি কথার মধ্যে পার্থক্য করলাম ফলে তারা পৃথক হয়ে গেল, আর আমি দুই ব্যক্তির মধ্যে বিচ্ছেদ ঘটালাম ফলে তারা বিচ্ছিন্ন হয়ে গেল। আত-তাফাররুক এবং আত-তাফরিকাহ (التفرقة) অর্থ: বিক্ষিপ্ত করা ও ছিন্নভিন্ন করা। বলা হয়: সেটিকে পুরোপুরি বিক্ষিপ্ত ও ছিন্নভিন্ন করে দিয়েছে। সংক্ষেপে: আভিধানিক অর্থে ইফতিরাক বলতে বিচ্ছিন্নতা, বিচ্ছেদ, অনৈক্য, ভিন্নতা, পৃথক হওয়া, বিচ্যুতি, বিভাজন, কিংকর্তব্যবিমূঢ়তা, বিনাশ, পথভ্রষ্টতা, বয়কট, উপদলে বিভক্ত হওয়া, মূল পথ থেকে বিচ্যুত হওয়া, মূল নীতি থেকে বিচ্যুত হওয়া, সংখ্যাগরিষ্ঠ থেকে বিচ্ছিন্ন হওয়া এবং জামাত থেকে পৃথক হওয়া ও পরিবর্তন সাধন করাকে বোঝায় (২)।
পারিভাষিক অর্থে ইফতিরাক:
এটি কয়েকটি বিষয়ের ওপর প্রয়োগ করা হয়: ১ - দ্বীনের মধ্যে বিভক্তি ও মতভেদ সৃষ্টি করা। এ প্রসঙ্গে আল্লাহ তাআলা বলেন: "তোমরা সকলে আল্লাহর রশিকে শক্তভাবে আঁকড়ে ধরো এবং পরস্পর বিচ্ছিন্ন হয়ো না" [আলে ইমরান: ১০৩], এবং তাঁর বাণী: "তোমরা তাদের মতো হয়ো না যারা বিভক্ত হয়েছে এবং মতভেদ করেছে" [আলে ইমরান: ১০৫], এবং তাঁর বাণী: "নিশ্চয়ই যারা তাদের দ্বীনকে খণ্ডিত করেছে এবং বিভিন্ন দলে বিভক্ত হয়েছে, তাদের সাথে তোমার কোনো সম্পর্ক নেই; তাদের বিষয় আল্লাহর নিকট, অতঃপর তিনি তাদের কৃতকর্ম সম্পর্কে সংবাদ দেবেন" [আল-আনআম: ১৫৯]। এ বিষয়ে রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের বাণী: ((তোমাদের পূর্ববর্তী উম্মতসমূহ ধ্বংস হয়েছে কিতাব নিয়ে তাদের মতভেদের কারণে)) (৩)। ২ - মুসলিম জামাত থেকে বিচ্ছিন্ন হওয়া, যারা রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ও সাহাবীগণের যুগের সাধারণ মুসলিম উম্মাহ ছিলেন, আর তারা হলেন আহলে সুন্নাহ এবং বিভক্তি প্রকাশের পর যারা তাদের হেদায়েতের ওপর প্রতিষ্ঠিত ছিলেন। সুতরাং যে ব্যক্তি আকীদার মূলনীতিসমূহ থেকে বিচ্যুত হওয়ার মতো কোনো বিষয়ে তাদের পথের বিরোধিতা করবে, অথবা মানহাজের ক্ষেত্রে তাদের থেকে বিচ্যুত হবে, অথবা তাদের ইমামদের বিরুদ্ধে বিদ্রোহ করবে, কিংবা তাদের বিরুদ্ধে তলোয়ার চালানো বৈধ মনে করবে, সে-ই হলো মুফারিক (বিচ্ছিন্নতাকামী)। এ বিষয়ে রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের বাণী: ((যে ব্যক্তি আনুগত্য থেকে বের হয়ে গেল এবং জামাত থেকে বিচ্ছিন্ন হলো, অতঃপর মৃত্যুবরণ করল, সে জাহেলিয়াতের মৃত্যু লাভ করল। আর যে ব্যক্তি লক্ষ্যহীন পতাকাতলে যুদ্ধ করল, অন্ধ সংহতির জন্য রাগান্বিত হলো অথবা অন্ধ সংহতির জন্য যুদ্ধ করল, সে আমার উম্মতের অন্তর্ভুক্ত নয়। আর যে ব্যক্তি আমার উম্মতের বিরুদ্ধে বিদ্রোহ করল, ভালো-মন্দ নির্বিশেষে আঘাত করল, মুমিনদের পরোয়া করল না এবং প্রতিশ্রুতিবদ্ধদের চুক্তি রক্ষা করল না, সে আমার উম্মতভুক্ত নয়)) (৪)।
অতঃপর রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বিচ্যুত বিরোধীদের কয়েকটি প্রকার উল্লেখ করেছেন: ১ - জামাত থেকে বিচ্ছিন্নতাকামী (৫)।
২ - আনুগত্য থেকে বহিষ্কৃতকারী।
৩ - উম্মতের বিরুদ্ধে তলোয়ার নিয়ে বিদ্রোহকারী।
৪ - লক্ষ্যহীন পতাকাতলে যুদ্ধকারী; আর এটি হলো এমন বিষয় যার উদ্দেশ্য স্পষ্ট নয়, যেমন জাতিগত বিদ্বেষ, ফিতনা, জাতীয়তাবাদ, বিভিন্ন স্লোগান ও দলীয় সংকীর্ণতার লড়াই ইত্যাদি।
আহলে সুন্নাহ ওয়াল জামাত থেকে বিচ্যুত হওয়া, চাই তা দ্বীনের বিশ্বাসগত বা আমলগত মৌলিক নীতিমালার কোনো একটিতে হোক যা অকাট্য বিষয়সমূহের সাথে সংশ্লিষ্ট, অথবা উম্মতের বৃহত্তর স্বার্থের সাথে সংশ্লিষ্ট বা উভয়টির সাথে সংশ্লিষ্ট হোক—তাকে বিভক্তি হিসেবে গণ্য করা হবে। বিভক্তির মানদণ্ড হলো এটি ফিতনা, বিচ্ছিন্নতা, যুদ্ধ, সীমা লঙ্ঘন এবং বিদআতের দিকে ধাবিত করে। এর মাধ্যমে স্পষ্ট হয় যে, বিভক্তি সৃষ্টিকারীরা হলো প্রবৃত্তি পূজারী ও বিদআতী। শাইখুল ইসলাম ইবনে তাইমিয়্যাহ (রহ.) বলেছেন: বিদআত হলো বিভক্তির সাথে যুক্ত, যেমন সুন্নাহ হলো জামাতের সাথে যুক্ত। তাই যেমন বলা হয়: 'আহলে সুন্নাহ ওয়াল জামাত', তেমনি বলা হয়: 'আহলে বিদআত ওয়াল ফিরকাহ'। অতঃপর তিনি বলেন: এখানে উদ্দেশ্য হলো তাদের পারস্পরিক তলাজুম বা অনিবার্যতার দিকে ইঙ্গিত করা: অর্থাৎ বিভক্তদের সাথে বন্ধুত্ব রাখা, যদিও উভয়ের মধ্যেই বিদআত ও বিভক্তি বিদ্যমান থাকে (৬)।
উৎস: তানাকুদু আহলিল আহওয়া ওয়াল বিদা ফিল আকীদাহ - আফাফ বিনতে হাসান বিন মুহাম্মদ মুখতার – ১/ ৩৯
- বিভক্তির মানদণ্ড:
প্রত্যেক ওই ব্যক্তির ওপর বিভক্তির হুকুম আরোপ করা হবে যে আহলে সুন্নাহ ওয়াল জামাতের পথ থেকে এমন কোনো মৌলিক বিষয়ে বিচ্যুত হয়েছে যা দ্বীনের মূলনীতি হিসেবে গণ্য, অথবা তাদের কোনো উসূল বা মূল নীতির বিরোধিতা করেছে, অথবা এমন অনেক শাখা-প্রশাখা ও খুঁটিনাটি বিষয়ে বিরোধিতা করেছে যা আহলে সুন্নাহর বৈশিষ্ট্য ও পথ থেকে বের করে দেয়; যেমন ধর্মীয় রীতিনীতি ও ইবাদতের ক্ষেত্রে বিদআতের আধিক্য ঘটলে। আর এটিই শাইখুল ইসলাম (রহ.) স্পষ্ট করেছেন যে, আল্লাহর নৈকট্য লাভের উদ্দেশ্যে প্রচলিত কোনো অভ্যাসকে বিদআতে পরিণত করা, যেমন পশমী কাপড় পরিধান করাকে ইবাদত ও আল্লাহর নৈকট্য লাভের পথ হিসেবে গ্রহণ করা।
উৎস: তানাকুদু আহলিল আহওয়া ওয়াল বিদা ফিল আকীদাহ - আফাফ বিনতে হাসান বিন মুহাম্মদ মুখতার – ১/ ৪৬
--------------------------------------------
(খণ্ড: ١)
মাওসূআতুল ফিরাকিল মুনতাসিবাহ লিল ইসলাম
(পৃষ্ঠা: ٦)
المبحث الثاني: الفرق بين الافتراق والاختلافتعريف الاختلاف في اللغة:
تدور مادة خلف في اللغة حول أصول ثلاثة: 1 - أن يجيء شيء بعد شيء يقوم مقامه (1)؛ قال تعالى: وَهُوَ الَّذِي جَعَلَ اللَّيْلَ وَالنَّهَارَ خِلْفَةً [الفرقان:62] فالليل يجيء بعد النهار ويقوم مقامه، والنهار يجيء بعد الليل ويقوم مقامه. وقال تعالى: وَهُوَ الَّذِي جَعَلَكُمْ خَلَائِفَ [الأنعام:165] أي: أمة تجيء بعد أمة وتقوم مقامها.2 - عكس قدام (2)؛ قال تعالى: يَعْلَمُ مَا بَيْنَ أَيْدِيهِمْ وَمَا خَلْفَهُمْ [البقرة:255]، ومنه التأخر لقصور المنزلة، كما في قوله تعالى: فَخَلَفَ مِن بَعْدِهِمْ خَلْفٌ [الأعراف:169]. 3 - التغير؛ ومنه قوله عليه الصلاة والسلام: ((لخلوف فم الصائم أطيب عند الله من ريح المسك)) (3)، أي لتغير رائحة فم الصائم بسبب خلو المعدة عند الله أطيب من ريح المسك. والأصل الأول هو المقصود هنا، يقال: اختلف الناس في كذا أي: مختلفون لأن كل واحدٍ منهم ينحّي قول صاحبه ويقيم نفسه مقام الذي نحاه.
الاختلاف في الاصطلاح: أُطلقت (4) كلمة الاختلاف في اصطلاح التدوين على العلم الذي يبحث في الاختلافات الشرعية الفقهية خاصة؛ واشتهر عندهم بعلم الخلاف وعُرِّف بأنه (5): علم باحث عن وجوه الاستنباطات المختلفة من الأدلة الإجمالية أو التفصيلية الذاهب إلى كل منها طائفة من العلماء، ثم البحث عنها بحسب الإبرام والنقض. وعُرِّف أيضاً بأنه: علم يعرف من كيفية إيراد الحجج الشرعية ودفع الشبهة وقوادح الأدلة الخلافية بإيراد البراهين القطعية (6).ومن التعاريف: هو منازعة تجري بين المتعارضين لتحقيق جواز إبطال باطل (7).وعرَّفه الراغب بقوله: الخلاف والاختلاف والمخالفة أن يأخذ كل واحد طريقاً غير طريق الأول في فعله أو حاله (8).
فالتعريف في الاصطلاح لم يخرج عن المعنى اللغوي ولكنه جاء خاصاً بالمقاصد الشرعية والفقهية على الخصوص فالاختلاف يكون في الفقه، والافتراق في العقيدة، ولذا يظهر إدراك الفرق بين الاختلاف والافتراق حيث يجب أن يُعنى به أهل العلم، حيث نجد بعض الدعاة وبعض شباب الصحوة الذين لم يكتمل فقههم في الدين لا يفرّقون بين مسائل الخلاف ومسائل الافتراق.
ومن هنا قد يرتب بعضهم على مسائل الاختلاف مسائل الافتراق وهذا خطأ فاحش أصله الجهل بأصول الافتراق، ومتى يكون؟ وكيف يكون؟ ومن الذي يحكم بمفارقة شخص أو جماعة ما؟ ولذا يجب ذكر بعض الفروق بين الاختلاف والافتراق ومنها (9):
1 - إن الافتراق أشد أنواع الاختلاف بل هو من ثمار الخلاف إذ قد يصل الخلاف إلى حد الافتراق وقد لا يصل، فالافتراق اختلاف وزيادة لكن ليس كل اختلاف افتراق.
--------------------------------------------
দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ: ইফতিরাক (বিচ্ছিন্নতা) এবং ইখতিলাফের (মতভেদ) মধ্যে পার্থক্যঅভিধানে ইখতিলাফের সংজ্ঞা:
আরবি ভাষায় ‘খা-লাম-ফা’ (خلف) মূলবর্ণটি তিনটি মূল অর্থকে কেন্দ্র করে আবর্তিত হয়: ১- কোনো কিছুর পর অন্য কিছু আসা যা পূর্ববর্তীটির স্থলাভিষিক্ত হয় (১); আল্লাহ তাআলা বলেন: “আর তিনিই সেই সত্তা যিনি রাত ও দিনকে পরস্পর অনুগামী করেছেন” [সূরা আল-ফুরকান: ৬২]। অর্থাৎ রাত দিনের পরে আসে এবং এর স্থলাভিষিক্ত হয়, আর দিন রাতের পরে আসে এবং এর স্থলাভিষিক্ত হয়। আল্লাহ তাআলা আরও বলেন: “আর তিনিই তোমাদেরকে পৃথিবীতে স্থলাভিষিক্ত করেছেন” [সূরা আল-আন‘আম: ১৬৫]। অর্থাৎ এমন এক জাতি যারা অন্য এক জাতির পরে আসে এবং তাদের স্থলাভিষিক্ত হয়। ২- সামনের বিপরীত বা পশ্চাৎ (২); আল্লাহ তাআলা বলেন: “তিনি তাদের সামনে ও পেছনে যা আছে সব জানেন” [সূরা আল-বাকারাহ: ২৫৫]। মর্যাদা বা অবস্থানের স্বল্পতার কারণে পিছিয়ে থাকাও এর অন্তর্ভুক্ত, যেমন আল্লাহ তাআলা বলেছেন: “অতঃপর তাদের পরে এক অযোগ্য উত্তরসূরিরা স্থলাভিষিক্ত হলো” [সূরা আল-আরাফ: ১৬৯]। ৩- পরিবর্তন হওয়া; এর থেকেই এসেছে রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর বাণী: “নিশ্চয়ই রোযাদারের মুখের দুর্গন্ধ আল্লাহর কাছে মিসকের সুগন্ধির চেয়েও অধিক প্রিয়” (৩)। অর্থাৎ পেট খালি থাকার কারণে রোযাদারের মুখের গন্ধের যে পরিবর্তন হয়, তা আল্লাহর কাছে কস্তুরীর সুগন্ধির চেয়েও প্রিয়। এখানে প্রথম অর্থটিই উদ্দেশ্য। বলা হয়: মানুষ অমুক বিষয়ে ইখতিলাফ (মতভেদ) করেছে, অর্থাৎ তারা ভিন্ন মত পোষণ করছে কারণ তাদের প্রত্যেকেই তার সঙ্গীর বক্তব্যকে অপসারিত করে এবং নিজেকে সেই অপসারিত বক্তব্যের স্থলাভিষিক্ত করে।
পরিভাষায় ইখতিলাফ: কিতাব রচনার পরিভাষায় ‘ইখতিলাফ’ শব্দটি বিশেষ করে শরয়ী ও ফিকহী মতভেদ নিয়ে আলোচনা করে এমন শাস্ত্রের ক্ষেত্রে ব্যবহৃত হয়; যা আলেমদের নিকট ‘ইলমুল খিলাফ’ নামে পরিচিত। এর সংজ্ঞা দেওয়া হয়েছে এভাবে (৫): এটি এমন এক শাস্ত্র যা সামগ্রিক বা বিস্তারিত দলিলসমূহ থেকে বিভিন্ন প্রকার বিধান বের করার পদ্ধতি নিয়ে আলোচনা করে, যা আলেমদের একেকটি গোষ্ঠী গ্রহণ করেছেন; অতঃপর সেগুলোকে সাব্যস্ত করা বা খণ্ডন করা নিয়ে আলোচনা করা হয়। এর আরেকটি সংজ্ঞা হলো: এটি এমন এক শাস্ত্র যা অকাট্য প্রমাণাদি উপস্থাপনের মাধ্যমে শরয়ী দলিলসমূহ পেশ করার পদ্ধতি, সন্দেহ নিরসন এবং বিরোধপূর্ণ দলিলের ত্রুটি দূর করার উপায় সম্পর্কে জ্ঞান দান করে (৬)। সংজ্ঞাগুলোর মধ্যে আরও রয়েছে: এটি এমন এক বাদানুবাদ যা দুই প্রতিদ্বন্দ্বীর মধ্যে বাতিলের অসারতা প্রমাণের বৈধতা নিশ্চিত করার জন্য পরিচালিত হয় (৭)। আল-রাগেব এর সংজ্ঞায় বলেন: খিলাফ, ইখতিলাফ এবং মুখালাফাহ হলো কোনো কাজে বা অবস্থায় প্রত্যেকেরই প্রথম ব্যক্তির পথ ছাড়া অন্য পথ অবলম্বন করা (৮)।
সুতরাং পারিভাষিক সংজ্ঞাটি আভিধানিক অর্থ থেকে বিচ্ছিন্ন নয়, তবে এটি বিশেষভাবে শরয়ী ও ফিকহী উদ্দেশ্যের ক্ষেত্রে নির্দিষ্ট হয়ে এসেছে। সাধারণত ইখতিলাফ হয় ফিকহ বা বিধিবিধানের ক্ষেত্রে, আর ইফতিরাক (উপদল গঠন বা বিচ্ছিন্নতা) হয় আকীদার ক্ষেত্রে। এ কারণেই ইখতিলাফ ও ইফতিরাকের পার্থক্য অনুধাবন করা অত্যন্ত জরুরি, যার প্রতি ইলম অন্বেষণকারীদের যত্নবান হওয়া উচিত। কারণ আমরা কিছু দাঈ এবং জাগরণের এমন কিছু যুবককে দেখি যাদের দ্বীনি প্রজ্ঞা (ফিকহ) পূর্ণতা পায়নি, তারা ইখতিলাফী বিষয় (মতভেদপূর্ণ বিষয়) এবং ইফতিরাকী বিষয়ের (বিচ্ছিন্নতা বা উপদল সৃষ্টির বিষয়) মধ্যে পার্থক্য করতে পারে না।
এই কারণে তাদের কেউ কেউ ইখতিলাফের বিষয়গুলোর ওপর ইফতিরাকের হুকুম আরোপ করে। এটি একটি মারাত্মক ভুল যার মূল কারণ হলো ইফতিরাকের মূলনীতি সম্পর্কে অজ্ঞতা; যেমন: ইফতিরাক কখন হয়? কীভাবে হয়? এবং কোনো ব্যক্তি বা গোষ্ঠীর ব্যাপারে উপদলভুক্ত বা বিচ্ছিন্ন হওয়ার ফয়সালা কে দেবেন? এই জন্য ইখতিলাফ ও ইফতিরাকের মধ্যে কিছু পার্থক্য উল্লেখ করা আবশ্যক, যার মধ্যে রয়েছে (৯):
১ - ইফতিরাক হলো ইখতিলাফের চরম পর্যায়, বরং এটি ইখতিলাফেরই অন্যতম ফল। কারণ মতভেদ কখনো ইফতিরাক বা চরম বিচ্ছিন্নতা পর্যন্ত পৌঁছে, আবার কখনো পৌঁছে না। সুতরাং প্রতিটি ইফতিরাকই এক প্রকার ইখতিলাফ এবং তার অতিরিক্ত কিছু, কিন্তু প্রতিটি ইখতিলাফ ইফতিরাক নয়।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ١)
মাওসূআতুল ফিরাকিল মুনতাসিবাহ লিল ইসলাম
(পৃষ্ঠা: ٧)
2 - إن الافتراق غالبا يكون بعد العلم بالبينات كما قال تعالى إِنَّ الدِّينَ عِندَ اللهِ الإِسْلَامُ وَمَا اخْتَلَفَ الَّذِينَ أُوْتُواْ الْكِتَابَ إِلَاّ مِن بَعْدِ مَا جَاءهُمُ الْعِلْمُ بَغْيًا بَيْنَهُمْ وَمَن يَكْفُرْ بِآيَاتِ اللهِ فَإِنَّ اللهِ سَرِيعُ الْحِسَابِ [آل عمران: 19] وَلَا تَكُونُواْ كَالَّذِينَ تَفَرَّقُواْ وَاخْتَلَفُواْ مِن بَعْدِ مَا جَاءهُمُ الْبَيِّنَاتُ [آل عمران: 105].3 - إن الافتراق يؤدي إلى الهلاك لصاحبه ومن يتبعه كما قال رسول الله صلى الله عليه وسلم: ((لا تختلفوا فإن من كان قبلكم اختلفوا فهلكوا، وفي رواية: فأَهلَكُوا)) (1) - بفتح اللام وفي رواية بضم أوله وكسر اللام - وأما الاختلاف لا يوصل صاحبه إلى التهلكة لكونه لم يقصد الفرقة وإنما حصل ذلك لسوء فهم أو تأويل، أو جهل، قال تعالى: فَهَدَى اللهُ الَّذِينَ آمَنُواْ لِمَا اخْتَلَفُواْ فِيهِ مِنَ الْحَقِّ بِإِذْنِهِ [البقرة:213]، وقال: وَمَا أَنزَلْنَا عَلَيْكَ الْكِتَابَ إِلَاّ لِتُبَيِّنَ لَهُمُ الَّذِي اخْتَلَفُواْ فِيهِ [النحل:64].4 - إن الاختلاف قد يكون عن اجتهاد وعن حسن نية وقد يؤجر المخطئ، بينما الافتراق لا يكون عن حسن نية، وصاحبه لا يؤجر بل هو مذموم وآثم على كل حال. لقول الرسول عليه الصلاة والسلام: ((إذا حكم الحاكم فاجتهد ثم أصاب فله أجران وإذا حكم فاجتهد ثم أخطأ فله أجر واحد)) (2).5 - إن من الاختلاف ما لا يصل إلى حد الافتراق ولا التنازع في الدين، يقول الشاطبي: ووجدنا أصحاب رسول الله صلى الله عليه وسلم من بعده قد اختلفوا في أحكام الدين، ولم يتفرقوا ولا صاروا شيعاً لأنهم لم يفارقوا الدين وإنما اختلفوا فيما أذن هم من اجتهاد في الرأي والاستنباط من الكتاب والسنة فيما لم يجدوا فيه نصاً (3).أما الافتراق فيؤدي إلى التنازع والقتال والتكفير ومن ثم دخول النار، كما قال رسول الله صلى الله عليه وسلم: ((وتفترق أمتي على ثلاث وسبعين فرقة كلها في النار إلا واحدة)) (4).
--------------------------------------------
২ - অধিকাংশ ক্ষেত্রেই বিভেদ বা বিচ্ছিন্নতা সৃষ্টি হয় স্পষ্ট প্রমাণাদি ও জ্ঞান অর্জিত হওয়ার পর, যেমনটি আল্লাহ তাআলা বলেছেন: "নিশ্চয়ই আল্লাহর নিকট দীন হচ্ছে ইসলাম। আর যাদের কিতাব দেওয়া হয়েছিল, তারা তাদের নিকট জ্ঞান আসার পরই কেবল পরস্পরের মধ্যে বিদ্বেষবশত মতবিরোধ করেছিল। আর যে কেউ আল্লাহর আয়াতসমূহকে অস্বীকার করবে, তবে নিশ্চয়ই আল্লাহ দ্রুত হিসাব গ্রহণকারী।" [আলে ইমরান: ১৯] এবং "তোমরা তাদের মতো হয়ো না যারা তাদের নিকট স্পষ্ট প্রমাণাদি আসার পর বিচ্ছিন্ন হয়েছে ও মতবিরোধ করেছে।" [আলে ইমরান: ১০৫]। ৩ - বিচ্ছিন্নতা (ইফতিরাক) এর হোতা এবং তার অনুসারীদের জন্য ধ্বংস বয়ে আনে, যেমনটি রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: ((তোমরা মতবিরোধ করো না, কেননা তোমাদের পূর্ববর্তীরা মতবিরোধ করেছিল এবং তারা ধ্বংস হয়েছিল; অন্য বর্ণনায় রয়েছে: ফলে তারা অন্যদের ধ্বংস করেছিল)) (১) - 'লাম' বর্ণের ফাতহাহ (জবর) দিয়ে, এবং অন্য বর্ণনায় প্রথম বর্ণের দম্মাহ (পেশ) এবং 'লাম' বর্ণের কাসরাহ (জের) দিয়ে। আর সাধারণ মতবিরোধ (ইখতিলাফ) তার কর্তাকে ধ্বংসের দিকে নিয়ে যায় না, কারণ তার উদ্দেশ্য বিচ্ছিন্নতা নয়; বরং তা ঘটে থাকে বুঝের ত্রুটি, ভুল ব্যাখ্যা বা অজ্ঞতার কারণে। আল্লাহ তাআলা বলেন: "অতঃপর আল্লাহ ঈমানদারদেরকে তারা যে বিষয়ে মতবিরোধ করেছিল তাতে স্বীয় অনুমতিক্রমে সত্যের দিকে পরিচালিত করেন।" [বাকারা: ২১৩], এবং তিনি বলেন: "আমি আপনার প্রতি কিতাব অবতীর্ণ করেছি কেবল তারা যে বিষয়ে মতবিরোধ করছে তা তাদের নিকট স্পষ্টভাবে ব্যাখ্যা করার জন্য।" [নাহল: ৬৪]। ৪ - সাধারণ মতবিরোধ কখনো ইজতিহাদ ও সদিচ্ছার কারণে হতে পারে এবং সেক্ষেত্রে ভুলকারীও পুরস্কৃত হতে পারে। পক্ষান্তরে, বিচ্ছিন্নতা সদিচ্ছা থেকে হয় না এবং এর হোতা পুরস্কৃত হয় না; বরং সে সর্বাবস্থায় নিন্দিত ও পাপী। রাসুলুল্লাহ আলাইহিস সালাতু ওয়াসাল্লাম এর বাণী অনুযায়ী: ((যখন কোনো বিচারক বিচার করার ক্ষেত্রে ইজতিহাদ করে এবং সঠিক সিদ্ধান্তে উপনীত হয়, তবে তার জন্য দুটি পুরস্কার রয়েছে; আর যখন সে বিচার করতে গিয়ে ইজতিহাদ করে এবং ভুল করে, তবে তার জন্য একটি পুরস্কার রয়েছে)) (২)। ৫ - কিছু মতবিরোধ এমন যা বিচ্ছিন্নতা বা দীনের ক্ষেত্রে বিবাদের পর্যায়ে পৌঁছায় না। শাতবি বলেন: আমরা রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর সাহাবীদের দেখেছি যে, তাঁরা তাঁর পরবর্তীতে দীনের বিধানাবলীতে মতবিরোধ করেছেন, কিন্তু তাঁরা বিচ্ছিন্ন হয়ে যাননি এবং দলে দলে উপদলে বিভক্ত হননি। কারণ তাঁরা দীন ত্যাগ করেননি, বরং তাঁরা কেবল সেইসব ক্ষেত্রে মতবিরোধ করেছেন যাতে তাঁদেরকে রায় প্রদানের ইজতিহাদ এবং কুরআন ও সুন্নাহ থেকে বিধিবিধান আহরণের অনুমতি দেওয়া হয়েছিল এবং যে বিষয়ে তাঁরা কোনো স্পষ্ট পাঠ্য বা নস পাননি (৩)। পক্ষান্তরে, বিচ্ছিন্নতা বিবাদ, লড়াই এবং একে অপরকে কাফির সাব্যস্ত করার দিকে ধাবিত করে এবং ফলস্বরূপ জাহান্নামে প্রবেশের কারণ হয়। যেমনটি রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: ((এবং আমার উম্মত তেহাত্তরটি দলে বিভক্ত হবে, যাদের মধ্যে একটি বাদে বাকি সব জাহান্নামে যাবে)) (৪)।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ١)
মাওসূআতুল ফিরাকিল মুনতাসিবাহ লিল ইসলাম
(পৃষ্ঠা: ٨)
6 - إن كل افتراق اختلاف، وليس كل اختلاف افتراق، فكثير من المسائل التي يتنازع فيها المسلمون هي من المسائل الخلافية، ولا يجوز الحكم على المخالف فيها بالكفر ولا المفارقة ولا الخروج من السنة.
7 - الافتراق مذموم كله والاختلاف ليس كله مذموماً.
8 - الاختلاف يعذر صاحبه إذا كان مجتهداً والافتراق لا يعذر صاحبه، لأنه لا يكون إلا عن اتباع هوى أو ابتداع أو تقليدٍ مذمومٍ.
9 - الافتراق إنما يكون في الأصول الاعتقادية والقطعيات التي لا يسع الخلاف فيها والتي تثبت بنص قاطع، أو بإجماع، أما الاختلاف يكون فيما دون الأصول مما يقبل التعدد والرأي.
10 - إن الافتراق يتعلق به الوعيد وكله شذوذ، أما الاختلاف فليس كذلك.
11 - الافتراق يكون دائماً عن هوى أو بدعة أما الاختلاف فلا يلزم منه ذلك. 12 - الاختلاف قد يكون رحمةً وأهله ناجون إن شاء الله تعالى، والفرقة عذاب وأهلها متوعدون، يقول شيخ الإسلام رحمه الله: والنزاع في الأحكام قد يكون رحمة إذا لم يفض إلى شرٍ عظيم من خفاء الحكم (1).
13 - إن مسائل الاختلاف قد تكون من الأمور المأذون فيها بالاجتهاد، أما مسائل الافتراق فهي في الأمور التي حذر الشارع من الاقتراب منها.
14 - إن أهل الافتراق غالباً يعتمدون على المتشابه من الأدلة كما قال تعالى: فَأَمَّا الَّذِينَ في قُلُوبِهِمْ زَيْغٌ فَيَتَّبِعُونَ مَا تَشَابَهَ مِنْهُ ابْتِغَاء الْفِتْنَةِ وَابْتِغَاء تَأْوِيلِهِ [آل عمران:7]، أما أهل الاختلاف فعادةً يكون بسبب عدم فهم الدليل أو غير ذلك. 15 - إن أهل السنة لا يذمون من اختلف وقصده الاجتهاد وكان معروفاً بالذكر الجميل والثناء الحسن مع العمل الصالح ونصرة السنة والذب عنها أما المفترق الذي قضى عمره في الصد عن سبيل الله ومحاربة السنة ونشر البدعة فيذمونه ويبدعونه (2).
المصدر:تناقض أهل الأهواء والبدع في العقيدة لعفاف بنت حسن بن محمد مختار – 1/ 41
--------------------------------------------
৬ - প্রতিটি বিচ্ছিন্নতা (ইফতিরাক) হলো মতবিরোধ (ইখতিলাফ), কিন্তু প্রতিটি মতবিরোধ বিচ্ছিন্নতা নয়। মুসলিমদের মাঝে বিবাদপূর্ণ অনেক বিষয়ই হলো মতবিরোধমূলক বিষয়, যেগুলোতে বিরোধ পোষণকারীর ওপর কুফরী বা জামাত ত্যাগ করা বা সুন্নাহ থেকে বেরিয়ে যাওয়ার হুকুম লাগানো জায়েজ নয়।
৭ - সকল বিচ্ছিন্নতা (ইফতিরাক) নিন্দনীয়, কিন্তু সকল মতবিরোধ (ইখতিলাফ) নিন্দনীয় নয়।
৮ - মতবিরোধকারী যদি মুজতাহিদ (গবেষক) হন তবে তিনি ক্ষমাযোগ্য হতে পারেন, কিন্তু বিচ্ছিন্নতা সৃষ্টিকারী ক্ষমাযোগ্য নয়; কারণ এটি প্রবৃত্তি অনুসরণ, বিদআত বা নিন্দনীয় তাকলীদ ছাড়া অন্য কিছু থেকে সৃষ্টি হয় না।
৯ - বিচ্ছিন্নতা (ইফতিরাক) কেবল আকিদাগত মূলনীতি (উসুল) এবং সুনিশ্চিত (কাতঈ) বিষয়সমূহে হয়ে থাকে যেগুলোতে মতবিরোধের সুযোগ নেই এবং যা অকাট্য দলীল বা ইজমা (ঐক্যমত) দ্বারা প্রমাণিত। পক্ষান্তরে, মতবিরোধ (ইখতিলাফ) হয়ে থাকে মূলনীতি বা উসুলের নিম্নস্তরের বিষয়গুলোতে যা একাধিক মত ও দৃষ্টিভঙ্গি গ্রহণ করার অবকাশ রাখে।
১০ - বিচ্ছিন্নতা শাস্তির হুঁশিয়ারির সাথে সংশ্লিষ্ট এবং এর পুরোটাই বিচ্যুতি (শুজুজ), কিন্তু মতবিরোধ তেমন নয়।
১১ - বিচ্ছিন্নতা সবসময় প্রবৃত্তি বা বিদআত থেকে সৃষ্টি হয়, তবে মতবিরোধের ক্ষেত্রে বিষয়টি এমন হওয়া আবশ্যক নয়। ১২ - মতবিরোধ কখনো রহমত হতে পারে এবং এর সাথে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা ইনশাআল্লাহ মুক্তিপ্রাপ্ত হবেন, আর বিচ্ছিন্নতা হলো আযাব এবং এতে লিপ্তদের জন্য শাস্তির হুমকি রয়েছে। শাইখুল ইসলাম (রহিমাহুল্লাহ) বলেন: আহকাম বা বিধানগত বিষয়ে বিবাদ কখনো রহমত হতে পারে যদি তা হুকুম অস্পষ্ট হওয়ার মতো বড় কোনো মন্দের দিকে ধাবিত না করে (১)।
১৩ - মতবিরোধের বিষয়গুলো ইজতিহাদ বা গবেষণার অনুমতি রয়েছে এমন বিষয়ের অন্তর্ভুক্ত হতে পারে, কিন্তু বিচ্ছিন্নতার বিষয়গুলো এমন যাতে শরীয়ত প্রণেতা সেগুলোর নিকটবর্তী হতে সতর্ক করেছেন।
১৪ - বিচ্ছিন্নতা অবলম্বনকারীরা অধিকাংশ ক্ষেত্রে দ্ব্যর্থবোধক (মুতাশাবিহ) দলীলের ওপর নির্ভর করে যেমনটি মহান আল্লাহ বলেছেন: "অতএব যাদের অন্তরে বক্রতা রয়েছে, তারা ফিতনা সৃষ্টি ও অপব্যাখ্যার উদ্দেশ্যে মুতাশাবিহ বা দ্ব্যর্থবোধক বিষয়গুলোর অনুসরণ করে" [আলে ইমরান: ৭]। আর মতবিরোধকারীদের ক্ষেত্রে সাধারণত দলীল বুঝতে না পারা বা অনুরূপ কোনো কারণে মতবিরোধ হয়ে থাকে। ১৫ - আহলুস সুন্নাহ ঐ ব্যক্তিকে নিন্দা করেন না যিনি ইজতিহাদের উদ্দেশ্যে মতবিরোধ করেছেন এবং যিনি সৎ আমল, সুন্নাহর সাহায্য ও সুরক্ষার পাশাপাশি উত্তম প্রশংসা ও সুখ্যাতির জন্য পরিচিত। কিন্তু ঐ বিচ্ছিন্নতাবাদী ব্যক্তি যে তার জীবন আল্লাহর পথ থেকে বাধা প্রদান, সুন্নাহর বিরুদ্ধে লড়াই এবং বিদআত প্রচারে ব্যয় করেছে, তারা তাকে নিন্দা করেন এবং বিদআতী হিসেবে গণ্য করেন (২)।
উৎস:আকিদাহর ক্ষেত্রে প্রবৃত্তি পূজারী ও বিদআতীদের স্ববিরোধিতা - আফাফ বিনতে হাসান বিন মুহাম্মদ মুখতার - ১/ ৪১
--------------------------------------------
(খণ্ড: ١)
মাওসূআতুল ফিরাকিল মুনতাসিবাহ লিল ইসলাম
(পৃষ্ঠা: ٩)
المبحث الأول: النصوص التي جمعت بين الأمر بالجماعة والنهي عن الفرقة في موضع واحد لقد وردت نصوص عدة تأمر بالجماعة وتثني بالنهي عن الفرقة في موضع واحد مع أن الأمر بالجماعة يستلزم النهي عن الفرقة، والنهي عن الفرقة يستلزم الأمر بالجماعة ولو لم يذكر ذلك فكل من أمر بشيء فقد نهى عن فعل ضده، ومن نهى عن فعل فقد أمر بفعل ضده (1) مما يؤكد وجوب الأمر بالجماعة وترك الفرقة والنهي عنها، ومن هذه النصوص قول الله تعالى: وَاعْتَصِمُواْ بِحَبْلِ اللهِ جَمِيعًا وَلَا تَفَرَّقُواْ وَاذْكُرُواْ نِعْمَةَ اللهِ عَلَيْكُمْ إِذْ كُنتُمْ أَعْدَاء فَأَلَّفَ بَيْنَ قُلُوبِكُمْ فَأَصْبَحْتُم بِنِعْمَتِهِ إِخْوَانًا وَكُنتُمْ عَلَىَ شَفَا حُفْرَةٍ مِّنَ النَّارِ فَأَنقَذَكُم مِّنْهَا كَذَلِكَ يُبَيِّنُ اللهُ لَكُمْ آيَاتِهِ لَعَلَّكُمْ تَهْتَدُونَ [آل عمران: 103] ففي هذه الآية أمرنا الله عز وجل بالجماعة ونهانا عن التفرقة (2) يقول الإمام محمد بن جرير الطبري في تأويل قوله تعالى: وَاعْتَصِمُواْ بِحَبْلِ اللهِ جَمِيعًا وَلَا تَفَرَّقُواْ وتعلقوا بأسباب الله جميعا يريد بذلك تعالى ذكره: وتمسكوا بدين الله الذي أمركم به وعهده الذي عهده إليكم في كتابه من الألفة والاجتماع على كلمة الحق والتسليم لأمر الله. (3) ويقول الإمام القرطبي رحمه الله في معنى الآية: فإن الله يأمر بالألفة وينهى عن الفرقة فإن الفرقة هلكة والجماعة نجاة (4). وقال ابن عباس رضي الله عنهما لسماك الحنفي: يا حنفي الجماعة الجماعة!! فإنما هلكت الأمم الخالية لتفرقها، أما سمعت الله عز وجل يقول: وَاعْتَصِمُواْ بِحَبْلِ اللهِ جَمِيعًا وَلَا تَفَرَّقُواْ [آل عمران:103] (5).وهذا الأمر بالجماعة عام للأمة في كل زمان وكل مكان هذا حالهم أن يكونوا مجتمعين بحبل الله، فالله سبحانه وتعالى أمرهم بأن يعتصموا بحبل الله جميعا، وجميعا: منصوب على الحال أي: كونوا مجتمعين على الاعتصام بحبل الله (6).وفي هذه الآية وبعد أن أمرهم سبحانه بالجماعة والتمسك بها إذ به منعتهم وأمنهم، نهاهم عن الفرقة فقال ولا تفرقوا أي: لا تتفرقوا عن دين الله وعهده الذي عهد إليكم في كتابه من الائتلاف والاجتماع على طاعته وطاعة رسوله صلى الله عليه وسلم والانتهاء إلى أمره (7).يقول عبدالله بن مسعود رضي الله عنه: يا أيها الناس عليكم بالطاعة والجماعة فإنهما حبل الله الذي أمر به، وإن ما تكرهون في الجماعة والطاعة هو خير مما تستحبون في الفرقة (8).
--------------------------------------------
প্রথম পরিচ্ছেদ: একই স্থানে জামাআতবদ্ধ হওয়ার নির্দেশ এবং অনৈক্য থেকে নিষেধ সংবলিত পাঠ্যসমূহএকই স্থানে জামাআতবদ্ধ হওয়ার আদেশ এবং অনৈক্য থেকে নিষেধকারী একাধিক পাঠ্য বর্ণিত হয়েছে, যদিও জামাআতের আদেশ অনৈক্য থেকে নিষেধকে অপরিহার্য করে এবং অনৈক্য থেকে নিষেধ জামাআতের আদেশকে অপরিহার্য করে, এমনকি তা উল্লেখ না করা হলেও। কারণ যে ব্যক্তি কোনো কিছুর আদেশ করেন, তিনি মূলত তার বিপরীত কাজ থেকে নিষেধ করেন এবং যে ব্যক্তি কোনো কাজ থেকে নিষেধ করেন, তিনি তার বিপরীত কাজটির আদেশ করেন (১)। এটি জামাআতের আদেশের আবশ্যকতা এবং অনৈক্য বর্জন ও তা থেকে নিষেধের বিষয়টিকে গুরুত্ব প্রদান করে। এই পাঠ্যগুলোর মধ্যে রয়েছে মহান আল্লাহর বাণী: "তোমরা সকলে আল্লাহর রজ্জুকে দৃঢ়ভাবে আঁকড়ে ধরো এবং বিচ্ছিন্ন হয়ো না। আর তোমাদের ওপর আল্লাহর সেই অনুগ্রহের কথা স্মরণ করো, যখন তোমরা একে অপরের শত্রু ছিলে, অতঃপর তিনি তোমাদের হৃদয়ে প্রীতি স্থাপন করলেন এবং তাঁর অনুগ্রহে তোমরা ভাই ভাই হয়ে গেলে। আর তোমরা আগুনের গর্তের কিনারায় ছিলে, অতঃপর তিনি তোমাদের সেখান থেকে রক্ষা করলেন। এভাবেই আল্লাহ তোমাদের জন্য তাঁর নিদর্শনসমূহ স্পষ্টভাবে বর্ণনা করেন যাতে তোমরা হিদায়াত প্রাপ্ত হও" [আল ইমরান: ১০৩]। এই আয়াতে আল্লাহ আজ্জা ওয়া জাল্লা আমাদের জামাআতবদ্ধ হওয়ার আদেশ দিয়েছেন এবং অনৈক্য থেকে আমাদের নিষেধ করেছেন (২)। ইমাম মুহাম্মদ বিন জারির আত-তবারী মহান আল্লাহর বাণী: "তোমরা সকলে আল্লাহর রজ্জুকে দৃঢ়ভাবে আঁকড়ে ধরো এবং বিচ্ছিন্ন হয়ো না" এর ব্যাখ্যায় বলেন: "তোমরা সকলে আল্লাহর মাধ্যমসমূহের সাথে সম্পৃক্ত হও।" এর দ্বারা মহান আল্লাহ উদ্দেশ্য করেছেন: আল্লাহর সেই দ্বীনকে আঁকড়ে ধরো যার আদেশ তিনি তোমাদের দিয়েছেন এবং তাঁর সেই অঙ্গীকারকে যা তিনি তাঁর কিতাবে তোমাদের প্রতি করেছেন—তা হলো সম্প্রীতি, সত্য বাণীর ওপর ঐক্যবদ্ধ হওয়া এবং আল্লাহর আদেশের কাছে আত্মসমর্পণ করা (৩)। ইমাম কুরতুবী রাহিমাহুল্লাহ আয়াতের অর্থ সম্পর্কে বলেন: "নিশ্চয়ই আল্লাহ সম্প্রীতির আদেশ দেন এবং অনৈক্য থেকে নিষেধ করেন। কারণ অনৈক্য হলো ধ্বংস আর জামাআত হলো মুক্তি (৪)।" ইবনে আব্বাস রাদিয়াল্লাহু আনহুমা সিমাক আল-হানাফিকে বলেছিলেন: "হে হানাফি, জামাআত! জামাআত! (অর্থাৎ জামাআতবদ্ধ থাকো)। কারণ পূর্ববর্তী জাতিসমূহ তাদের অনৈক্যের কারণেই ধ্বংস হয়েছিল। তুমি কি মহান আল্লাহকে বলতে শোননি: 'তোমরা সকলে আল্লাহর রজ্জুকে দৃঢ়ভাবে আঁকড়ে ধরো এবং বিচ্ছিন্ন হয়ো না' [আল ইমরান: ১০৩]" (৫)। জামাআতের এই আদেশ সব সময়ের এবং সব স্থানের উম্মাহর জন্য সাধারণ। তাদের অবস্থা এমনই হওয়া উচিত যে তারা আল্লাহর রজ্জুর ওপর ঐক্যবদ্ধ থাকবে। মহান আল্লাহ তাদের আদেশ দিয়েছেন যেন তারা সকলে আল্লাহর রজ্জুকে আঁকড়ে ধরে। আর "জামি'আন" (সকলে) শব্দটি ব্যাকরণগতভাবে অবস্থা (হাল) হিসেবে ব্যবহৃত হয়েছে, অর্থাৎ: তোমরা আল্লাহর রজ্জু আঁকড়ে ধরার ওপর ঐক্যবদ্ধ হও (৬)। এই আয়াতে মহান আল্লাহ তাদের জামাআতের আদেশ দেওয়ার এবং তা আঁকড়ে ধরার মাধ্যমে তাদের সুরক্ষা ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করার পর, অনৈক্য থেকে নিষেধ করে বলেছেন: "তোমরা বিচ্ছিন্ন হয়ো না", অর্থাৎ: আল্লাহর দ্বীন এবং তাঁর কিতাবে তোমাদের প্রতি করা সেই অঙ্গীকার থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ো না যা আনুগত্যের ওপর সম্প্রীতি ও ঐক্য এবং তাঁর রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের আনুগত্য ও তাঁর আদেশের অনুবর্তিতা সম্পর্কে করা হয়েছে (৭)। আব্দুল্লাহ ইবনে মাসউদ রাদিয়াল্লাহু আনহু বলেন: "হে লোকসকল! তোমরা আনুগত্য ও জামাআতের আবশ্যকতা বজায় রাখো, কারণ এ দুটিই আল্লাহর সেই রজ্জু যার আদেশ তিনি দিয়েছেন। জামাআত ও আনুগত্যের মধ্যে তোমরা যা অপছন্দ করো তা অনৈক্যের মধ্যে তোমাদের পছন্দের বিষয়ের চেয়ে উত্তম (৮)।"
--------------------------------------------
(খণ্ড: ١)
মাওসূআতুল ফিরাকিল মুনতাসিবাহ লিল ইসলাম
(পৃষ্ঠা: ١٠)
ومعنى نهيه تعالى عن الفرقة في قوله: ولا تفرقوا: أي لا تفرقوا في دينكم كما افترقت اليهود والنصارى في أديانهم ولا تفرقوا متابعين للهوى والأغراض المختلفة (1).ويجب أن يعلم المؤمن أن الاجتماع على الحق والبعد عن الفرقة مما أمرنا الله به ورضيه لنا ففي الحديث قال رسول الله صلى الله عليه وسلم: ((إن الله يرضى لكم ثلاثا ويكره لكم ثلاثا فيرضى لكم أن تعبدوه ولا تشركوا به شيئا وأن تعتصموا بحبل الله جميعا ولا تفرقوا ويكره لكم ثلاثا: قيل وقال، وكثرة السؤال وإضاعة المال)) (2).فالله سبحانه حثنا على الاجتماع وأمرنا بلزوم جماعة المسلمين وتألف بعضهم ببعض وهذه إحدى قواعد الإسلام (3).
ولكن لا يكون الاجتماع لمجرد الاجتماع، فالأمر بالاجتماع ليس اجتماع على أي شيء أو اجتماع على لا شيء، بل اجتماع على الدين اجتماع على كلمة الحق والتسليم لأمر الله الاجتماع على طاعة الله وطاعة رسوله صلى الله عليه وسلم والعمل بنصوص الشريعة كلها.
وفي هذا رد على كل مدعٍ مطالب باجتماع الأمة لمجرد الاجتماع والسكوت عن باطل المخالف من أهل الأهواء وترك الإنكار عليه في بدعته حتى لا يتعكر صفو هذا الاجتماع أو التقارب المزعوم ورحم الله الإمام القرطبي إذ يبين الأساس الذي ينبغي أن يكون عليه الاجتماع وبه تتحقق وحدة الصف فيقول: فأوجب الله تعالى علينا التمسك بكتابه وسنة نبيه والرجوع إليهما عند الاختلاف وأمرنا بالاجتماع على الاعتصام بالكتاب والسنة اعتقادا وعملا وذلك سبب اتفاق الكلمة وانتظام الشتات الذي يتم به مصالح الدنيا والدين والسلامة من الاختلاف. ويسبق الإمام محمد بن إدريس الشافعي رحمه الله القرطبي في هذا المعنى ويبين أن اجتماع الأبدان ليس بمعتبر ولا مقصود بل المقصود والمعتبر الاجتماع على طاعة الله ورسوله الاجتماع على الحق فيقول بعد أن بين أن الأمر بلزوم جماعة المسلمين ليس له إلا معنى واحد ذلك أنه: إذا كانت جماعتهم متفرقة في البلدان فلا يقدر أحد أن يلزم جماعة أبدان قوم متفرقين وقد وجدت الأبدان تكون مجتمعة من المسلمين والكافرين ولأن اجتماع الأبدان لا يصنع شيئا فلم يكن للزوم جماعتهم معنى إلا ما عليهم جماعتهم من التحليل والتحريم والطاعة فيهما ومن قال بما تقول به جماعة المسلمين فقد لزم جماعتهم ومن خالف ما تقول به جماعة المسلمين فقد خالف جماعتهم التي أمر بلزومها (4).
--------------------------------------------
আল্লাহ তাআলার বাণী "তোমরা বিচ্ছিন্ন হয়ো না"-তে বিভেদ থেকে নিষেধ করার অর্থ হলো: তোমরা তোমাদের দ্বীনের ব্যাপারে এমনভাবে বিচ্ছিন্ন হয়ো না যেভাবে ইহুদি ও খ্রিস্টানরা তাদের দ্বীনের ব্যাপারে বিচ্ছিন্ন হয়েছিল এবং প্রবৃত্তি ও নানাবিধ হীন উদ্দেশ্যের অনুসারী হয়ে বিচ্ছিন্ন হয়ো না (১)। মুমিনের জানা আবশ্যক যে, হকের ওপর ঐক্যবদ্ধ হওয়া এবং বিভেদ থেকে দূরে থাকা এমন বিষয় যার নির্দেশ আল্লাহ আমাদের দিয়েছেন এবং যা আমাদের জন্য তিনি পছন্দ করেছেন। হাদিসে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: "নিশ্চয়ই আল্লাহ তোমাদের জন্য তিনটি বিষয় পছন্দ করেন এবং তিনটি বিষয় অপছন্দ করেন। তিনি পছন্দ করেন যে, তোমরা কেবল তাঁরই ইবাদত করবে এবং তাঁর সাথে কোনো কিছুকে শরিক করবে না, আর তোমরা সকলে আল্লাহর রজ্জুকে মজবুতভাবে আঁকড়ে ধরবে এবং বিচ্ছিন্ন হবে না। আর তিনি তোমাদের জন্য তিনটি বিষয় অপছন্দ করেন: অনর্থক কথাবার্তা বলাবলি করা, অধিক প্রশ্ন করা এবং সম্পদ নষ্ট করা" (২)। সুতরাং আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআলা আমাদের ঐক্যবদ্ধ হওয়ার জন্য উৎসাহিত করেছেন এবং মুসলিম জামাতের সাথে যুক্ত থাকতে ও একে অপরের সাথে সদ্ভাব বজায় রাখতে নির্দেশ দিয়েছেন; আর এটি ইসলামের অন্যতম মূলনীতি (৩)।
তবে ঐক্য কেবল ঐক্যের খাতিরে হওয়া উচিত নয়। কেননা ঐক্যের নির্দেশ মানে যেকোনো বিষয়ের ওপর বা লক্ষ্যহীন কোনো বিষয়ের ওপর ঐক্যবদ্ধ হওয়া নয়, বরং তা হলো দ্বীনের ওপর ঐক্য, হকের বাণীর ওপর ঐক্য, আল্লাহর আদেশের সামনে আত্মসমর্পণ করা, আল্লাহ ও তাঁর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের আনুগত্যের ওপর ঐক্য এবং শরীয়তের সকল নসুসের (দলীলসমূহ) ওপর আমল করার ক্ষেত্রে ঐক্য।
এর মধ্যে সেই সব দাবিদারের জবাব রয়েছে যারা কেবল ঐক্যের দোহাই দিয়ে উম্মাহর ঐক্যের দাবি জানায় এবং প্রবৃত্তি পূজারি বিরোধীদের বাতিলের ব্যাপারে নীরব থাকার ও তাদের বিদআতের প্রতিবাদ করা বর্জন করার কথা বলে, যাতে এই কথিত ঐক্য বা কথিত নৈকট্যের নির্মলতা নষ্ট না হয়। ইমাম কুরতুবী (রাহিমাহুল্লাহ)-এর ওপর আল্লাহ রহম করুন, তিনি সেই ভিত্তি বর্ণনা করেছেন যার ওপর ঐক্যের ভিত্তি হওয়া উচিত এবং যার মাধ্যমে কাতারবন্দী ঐক্য অর্জিত হয়। তিনি বলেন: "আল্লাহ তাআলা আমাদের ওপর তাঁর কিতাব ও তাঁর নবীর সুন্নাহকে আঁকড়ে ধরা এবং মতভেদের সময় সে দুটির দিকে ফিরে যাওয়াকে আবশ্যক করেছেন। তিনি আমাদের কিতাব ও সুন্নাহকে আঁকড়ে ধরার ওপর আকিদা ও আমলের ক্ষেত্রে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন। এটিই হলো সংহতি এবং বিক্ষিপ্ত অবস্থাকে সুশৃঙ্খল করার উপায়, যার মাধ্যমে দুনিয়া ও দ্বীনের কল্যাণ সাধিত হয় এবং অনৈক্য থেকে মুক্তি পাওয়া যায়।" ইমাম মুহাম্মদ ইবনে ইদ্রিস আশ-শাফিয়ী (রাহিমাহুল্লাহ) এই অর্থের বর্ণনায় ইমাম কুরতুবীর পূর্বেই ছিলেন এবং তিনি স্পষ্ট করেছেন যে, কেবল দৈহিক সমাবেশ কোনো ধর্তব্য বা উদ্দেশ্য নয়, বরং উদ্দেশ্য ও ধর্তব্য বিষয় হলো আল্লাহর আনুগত্য ও হকের ওপর ঐক্যবদ্ধ হওয়া। তিনি মুসলিম জামাতের সাথে থাকার নির্দেশের একমাত্র তাৎপর্য বর্ণনা করতে গিয়ে বলেন: "যদি তাদের জামাত বিভিন্ন জনপদে ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকে, তবে কারো পক্ষে বিচ্ছিন্ন একদল মানুষের দৈহিক সমাবেশকে আঁকড়ে থাকা সম্ভব নয়। অনেক সময় মুসলিম ও কাফিরদের দেহগুলোও একত্রে সমাবেশিত অবস্থায় পাওয়া যায়। যেহেতু কেবল দেহের সমাবেশ কোনো ফল বয়ে আনে না, তাই মুসলিম জামাতের সাথে থাকার কোনো অর্থ থাকতে পারে না কেবল জামাত যে হালাল-হারাম এবং সেই সংক্রান্ত আনুগত্যের ওপর প্রতিষ্ঠিত থাকে তা ব্যতীত। সুতরাং যে ব্যক্তি মুসলিম জামাত যা বলে তা বলবে, সে তাদের জামাতকে আঁকড়ে ধরল। আর যে ব্যক্তি মুসলিম জামাত যা বলে তার বিরোধিতা করল, সে সেই জামাতেরই বিরোধিতা করল যার সাথে থাকার নির্দেশ তাকে দেওয়া হয়েছে" (৪)।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ١)
মাওসূআতুল ফিরাকিল মুনতাসিবাহ লিল ইসলাম
(পৃষ্ঠা: ١١)
ومما ورد في الأمر بلزوم الجماعة والنهي عن الفرقة في موضع واحد قوله تعالى وَأَنَّ هَذَا صِرَاطِي مُسْتَقِيمًا فَاتَّبِعُوهُ وَلَا تَتَّبِعُواْ السُّبُلَ فَتَفَرَّقَ بِكُمْ عَن سَبِيلِهِ ذَلِكُمْ وَصَّاكُم بِهِ لَعَلَّكُمْ تَتَّقُونَ [الأنعام:153] يقول عبدالله بن عباس رضي الله عنهما في قوله: فَاتَّبِعُوهُ وَلَا تَتَّبِعُواْ السُّبُلَ فَتَفَرَّقَ بِكُمْ عَن سَبِيلِهِ [الأنعام:153] وقوله: أَقِيمُوا الدِّينَ وَلَا تَتَفَرَّقُوا فِيهِ [الشورى: 13] ونحو هذا في القرآن قال: أمر الله المؤمنين بالجماعة ونهاهم عن الاختلاف والفرقة وأخبرهم إنما هلك من كان قبلهم بالمراء والخصومات في دين الله (1) يقول الإمام الطبري رحمه الله في تفسير هذه الآية: وهذا الذي وصاكم به ربكم أيها الناس
… وأمركم بالوفاء به هو صراطه يعني طريقه ودينه الذي ارتضاه لعباده مستقيما قويما لا اعوجاج به عن الحق فاعملوا به واجعلوه لأنفسكم منهاجا تسلكونه ولا تسلكوا طريقا سواه ولا تركبوا منهجا غيره ولا تتبعوا دينا خلافه من اليهودية والنصرانية والمجوسية وغير ذلك من الملل فإنها بدع وضلالات (2)
نعم إن الجماعة والائتلاف لا تتحقق إلا بوحدة المعتقد ووحدة المنهج والسلوك عندها يتحقق للأمة الاجتماع على الحق والسير على الصراط المستقيم الذي وصاهم ربهم به
--------------------------------------------
ঐক্যবদ্ধ থাকা (জামাআত) এবং বিচ্ছিন্নতা থেকে নিষেধ করার বিষয়ে যে আয়াতগুলো একত্রে এসেছে, তার মধ্যে মহান আল্লাহর এই বাণী অন্যতম: "আর এটিই আমার সরল পথ, সুতরাং তোমরা এরই অনুসরণ করো এবং অন্য কোনো পথের অনুসরণ করো না, অন্যথায় তা তোমাদেরকে তাঁর পথ থেকে বিচ্ছিন্ন করে দেবে। তিনি তোমাদেরকে এই নির্দেশ দিয়েছেন যাতে তোমরা তাকওয়া অবলম্বন করতে পারো।" [আল-আন'আম: ১৫৩] আব্দুল্লাহ ইবনে আব্বাস (রাযিয়াল্লাহু আনহুমা) আল্লাহর এই বাণী: "সুতরাং তোমরা এরই অনুসরণ করো এবং অন্য কোনো পথের অনুসরণ করো না, করলে তা তোমাদের তাঁর পথ থেকে বিচ্ছিন্ন করে দেবে" এবং তাঁর এই বাণী: "তোমরা দীন প্রতিষ্ঠা করো এবং তাতে পরস্পর বিচ্ছিন্ন হয়ো না" [আশ-শুরা: ১৩] এবং কুরআনের অনুরূপ আয়াতসমূহ সম্পর্কে বলেন: "আল্লাহ মুমিনদের ঐক্যবদ্ধ থাকার নির্দেশ দিয়েছেন এবং তাদেরকে মতভেদ ও বিচ্ছিন্নতা থেকে নিষেধ করেছেন। আর তিনি তাদের জানিয়েছেন যে, তাদের পূর্ববর্তীরা কেবল আল্লাহর দীনের ব্যাপারে বিতর্ক ও বিবাদের কারণেই ধ্বংস হয়েছিল।" (১) ইমাম তাবারী (রহিমাহুল্লাহ) এই আয়াতের তাফসীরে বলেন: "হে লোকসকল! তোমাদের রব তোমাদের যা উপদেশ দিয়েছেন... এবং যা পূর্ণ করার নির্দেশ দিয়েছেন, তা-ই তাঁর পথ। অর্থাৎ তাঁর সেই পথ ও দীন যা তিনি তাঁর বান্দাদের জন্য পছন্দ করেছেন; যা অত্যন্ত সুদৃঢ় ও সরল, যাতে সত্য থেকে কোনো বিচ্যুতি নেই। সুতরাং তোমরা এর ওপর আমল করো এবং একে তোমাদের জন্য একটি চলার পথ হিসেবে গ্রহণ করো। এটি ছাড়া অন্য কোনো পথে চলো না এবং অন্য কোনো কর্মপন্থা অবলম্বন করো না। ইহুদি ধর্ম, খ্রিস্টধর্ম, অগ্নিপূজক এবং এ জাতীয় অন্যান্য ধর্ম যা এর বিরোধী, তার অনুসরণ করো না। কারণ সেগুলো বিদআত ও ভ্রষ্টতা।" (২)
হ্যাঁ, আকিদাগত অভিন্নতা এবং মানহাজ বা কর্মপন্থা ও আচরণের ঐক্য ব্যতীত জামাআত বা ঐক্যবদ্ধ থাকা এবং সংহতি বজায় রাখা সম্ভব নয়। যখন এটি অর্জিত হবে, তখনই উম্মাহর জন্য সত্যের ওপর ঐক্যবদ্ধ হওয়া এবং সেই সরল পথের ওপর চলা সম্ভব হবে যার উপদেশ তাদের রব তাদের দিয়েছেন।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ١)
মাওসূআতুল ফিরাকিল মুনতাসিবাহ লিল ইসলাম
(পৃষ্ঠা: ١٢)
والفرقة تقع في الأمة حينما تتعدد المناهج وتتعدد الطرق لذلك بين الله عز وجل لهم أن طريق الحق واحد وأن السبيل إلى الاجتماع واحد وهو السير على الصراط المستقيم أما إن أبو ذلك فإن السبل ستتخطفهم ويتشعبوا في الضلالات والبدع وواقع الأمة الآن شاهد على ذلك. يقول الإمام إسماعيل بن كثير رحمه الله: قوله تعالى: فَاتَّبِعُوهُ وَلَا تَتَّبِعُواْ [الأنعام:153] قال: إنما وحد سبيله لأن الحق واحد ولهذا جمع السبل لتفرقها وتشعبها (1) وهذه السبل بين معناها عبدالله بن عباس ترجمان القرآن رضي الله عنه فقال: لا تتبعوا الضلالات (2) وفي الحديث عن عبدالله بن مسعود قال: ((خط لنا رسول الله صلى الله عليه وسلم يوما خطاً، ثم قال: هذا سبيل الله، ثم خط خطوطا عن يمينه وخطوطا عن يساره ثم قال: هذه سبل على كل سبيل منها شيطان يدعو إليها"ثم قرأ هذه الآية)) (3) ويفسر عبدالله بن مسعود رضي الله عنه هذا الحديث وذلك أن رجلا قال لابن مسعود: ما الصراط المستقيم؟ قال تركنا محمد صلى الله عليه وسلم في أدناه وطرفه في الجنة وعن يمينه جواد وعن يساره جواد وثمّ رجال يدعون من مر بهم فمن أخذ في تلك الجواد انتهت به إلى النار ومن أخذ على الصراط المستقيم انتهى به إلى الجنة ثم قرأ ابن مسعود: وَأَنَّ هَذَا صِرَاطِي مُسْتَقِيمًا فَاتَّبِعُوهُ وَلَا تَتَّبِعُواْ السُّبُلَ فَتَفَرَّقَ بِكُمْ عَن سَبِيلِهِ ذَلِكُمْ وَصَّاكُم بِهِ لَعَلَّكُمْ تَتَّقُونَ [الأنعام:153] (4).وفي حديث النواس بن سمعان الأنصاري رضي الله عنه قال: قال رسول الله صلى الله عليه وسلم: ((ضرب الله مثلا صراطا مستقيما وعلى جنبتي الصراط سوران بينهما أبواب مفتحة وعلى الأبواب ستور مرخاة وعلى باب الصراط داع يقول: يا أيها الناس ادخلوا الصراط جميعا ولا تتفرقوا، وداع يدعو فوق الصراط، فإذا أراد إنسان فتح شيء من تلك الأبواب قال له: ويحك لا تفتحه فإنك إن تفتحه تلجه، فالصراط: الإسلام، والستور: حدود الله، والأبواب: محارم الله، والداعي على رأس الصراط: كتاب الله تعالى والداعي من فوق الصراط: واعظ الله في قلب كل مسلم)) (5)
فانظر رعاك الله أيها المسلم كيف أمرنا الله عز وجل بسلوك هذا الصراط المستقيم والدخول فيه والاجتماع عليه إذ لا يحيد عنه إلا مفارق لهؤلاء المجتمعين عليه من المسلمين فقال: يا أيها الناس ادخلوا الصراط المستقيم جميعا ولا تفرقوا.
نعم جميعا ولا شيء يجمع المسلمين بحق غير الإسلام الانقياد للإسلام والعمل بشرائعه كلها وتطبيق أحكامه على مناحي الحياة وعلى الأفراد سواسية
…فدين الإسلام لا يقبل التجزئة وما حلت النكبات بالأمة وابتلوا وعذبوا بالفرقة إلا لما شابهوا أهل الكتاب في الإيمان ببعض الكتاب وترك البعض.
المصدر:موقف الصحابة من الفرقة والفرق لأسماء السويلم - ص121 - 127
--------------------------------------------
উম্মাহর মধ্যে অনৈক্য তখনই ঘটে যখন মানহাজ (পন্থা) ও পথ বহুমুখী হয়। এজন্য আল্লাহ আযযা ওয়া জাল্লা তাদের নিকট স্পষ্ট করেছেন যে, হকের পথ একটিই এবং ঐক্যবদ্ধ হওয়ার পথও একটিই; আর তা হলো সিরাতুল মুস্তাকিম বা সরল পথের ওপর চলা। কিন্তু তারা যদি তা অস্বীকার করে, তবে বিভিন্ন পথ তাদের বিচ্ছিন্ন করে ফেলবে এবং তারা বিভ্রান্তি ও বিদআতের মধ্যে শাখা-প্রশাখায় বিভক্ত হয়ে পড়বে। উম্মাহর বর্তমান বাস্তবতা এর সাক্ষী। ইমাম ইসমাইল ইবনে কাসীর রাহিমাহুল্লাহ বলেন: আল্লাহর বাণী: "সুতরাং তোমরা তাঁরই অনুসরণ করো এবং অন্য কোনো পথের অনুসরণ করো না" [আল-আনআম: ১৫৩]। তিনি বলেন: তিনি তাঁর পথকে একবচন হিসেবে উল্লেখ করেছেন কারণ হক একটিই, আর 'পথসমূহ'কে বহুবচন হিসেবে উল্লেখ করেছেন কারণ সেগুলো বিচ্ছিন্ন ও শাখা-প্রশাখায় বিভক্ত (১)। কুরআনের অনুবাদক আবদুল্লাহ ইবনে আব্বাস রাদিয়াল্লাহু আনহু এই পথসমূহের অর্থ ব্যাখ্যা করে বলেন: তোমরা ভ্রষ্টতাসমূহের অনুসরণ করো না (২)। আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদ থেকে বর্ণিত হাদিসে রয়েছে, তিনি বলেন: "একদিন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম আমাদের জন্য একটি রেখা টানলেন এবং বললেন: এটি আল্লাহর পথ। এরপর তিনি তার ডানে ও বামে আরও কিছু রেখা টানলেন এবং বললেন: এগুলো বিভিন্ন পথ, যার প্রতিটি পথের মাথায় একজন শয়তান রয়েছে যে সেদিকে আহ্বান করছে।" তারপর তিনি এই আয়াতটি তিলাওয়াত করলেন (৩)। আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদ রাদিয়াল্লাহু আনহু এই হাদিসের ব্যাখ্যা করেন। এক ব্যক্তি ইবনে মাসউদকে জিজ্ঞেস করেছিল: সিরাতুল মুস্তাকিম কী? তিনি বললেন: মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম আমাদের এর এক প্রান্তে রেখে গেছেন এবং এর অপর প্রান্ত জান্নাতে। এর ডানে ও বামে দ্রুতগামী ঘোড়সওয়ার রয়েছে এবং সেখানে এমন কিছু লোক রয়েছে যারা পথিকদের ডাকছে। যে ব্যক্তি ওই সব ঘোড়সওয়ারদের পথ ধরবে, তা তাকে জাহান্নামে নিয়ে যাবে। আর যে সিরাতুল মুস্তাকিমের ওপর থাকবে, তা তাকে জান্নাতে নিয়ে যাবে। এরপর ইবনে মাসউদ পাঠ করলেন: "আর এটিই আমার সরল পথ। সুতরাং তোমরা এরই অনুসরণ করো এবং অন্য কোনো পথের অনুসরণ করো না, অন্যথায় তা তোমাদের তাঁর পথ থেকে বিচ্ছিন্ন করে দেবে। তিনি তোমাদের এই নির্দেশ দিয়েছেন যেন তোমরা তাকওয়া অবলম্বন করো" [আল-আনআম: ১৫৩] (৪)। নাওয়াস ইবনে সামআন আল-আনসারী রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত হাদিসে তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন: "আল্লাহ একটি সরল পথের উদাহরণ দিয়েছেন, যার উভয় পাশে দুটি প্রাচীর রয়েছে এবং প্রাচীর দুটিতে অনেকগুলো খোলা দরজা রয়েছে। আর দরজাগুলোর ওপর পর্দা ঝোলানো আছে। পথের মাথায় একজন আহ্বানকারী বলছেন: হে মানুষ! তোমরা সবাই এই সরল পথে প্রবেশ করো এবং বিচ্ছিন্ন হয়ো না। আর পথের ওপর থেকে একজন আহ্বানকারী আহ্বান করছেন। যখন কোনো ব্যক্তি সেই দরজাগুলোর কোনো একটি খুলতে চায়, তখন তিনি বলেন: তোমার জন্য আফসোস! এটি খুলো না, কারণ তুমি যদি এটি খুলো তবে তাতে প্রবেশ করে ফেলবে। এখানে পথটি হলো ইসলাম, পর্দাগুলো হলো আল্লাহর সীমারেখা, দরজাগুলো হলো আল্লাহর নিষিদ্ধ বিষয়সমূহ, পথের মাথায় আহ্বানকারী হলো আল্লাহর কিতাব এবং পথের ওপরের আহ্বানকারী হলো প্রত্যেক মুসলিমের হৃদয়ে আল্লাহর পক্ষ থেকে থাকা নসিহতকারী" (৫)
অতএব হে মুসলিম, আল্লাহ আপনাকে রক্ষা করুন, লক্ষ্য করুন কীভাবে আল্লাহ আযযা ওয়া জাল্লা আমাদের এই সরল পথে চলার, এতে প্রবেশ করার এবং এর ওপর ঐক্যবদ্ধ হওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন। কেননা এটি থেকে বিচ্যুত হওয়া মানেই ওই মুসলমানদের থেকে বিচ্ছিন্ন হওয়া যারা এর ওপর ঐক্যবদ্ধ। তিনি বলেছেন: হে লোকসকল! তোমরা সবাই সরল পথে প্রবেশ করো এবং বিচ্ছিন্ন হয়ো না।
হ্যাঁ, সবাই মিলে; ইসলাম ছাড়া আর কোনো কিছুই সত্যিকার অর্থে মুসলমানদের ঐক্যবদ্ধ করতে পারে না। ইসলামের আনুগত্য এবং এর সকল বিধানের ওপর আমল করা এবং জীবনের সকল ক্ষেত্রে ও সকল ব্যক্তির ওপর সমানভাবে এর বিধান প্রয়োগ করাই ঐক্যের পথ
…ইসলামের দ্বীন খণ্ডিত হওয়া গ্রহণ করে না। উম্মাহর ওপর যে বিপর্যয় নেমে এসেছে এবং তারা বিচ্ছিন্নতার মাধ্যমে যে পরীক্ষায় পড়েছে ও আজাব ভোগ করছে, তার কারণ হলো তারা আহলে কিতাবদের মতো কিতাবের কিছু অংশের ওপর ঈমান এনেছে এবং কিছু অংশ ছেড়ে দিয়েছে।
উৎস:মাওকিফুস সাহাবাহ মিনাল ফিরকাতি ওয়াল ফিরাক - আসমা আস-সুওয়াইলাম - পৃষ্ঠা ১২১ - ১২৭
--------------------------------------------
(খণ্ড: ١)
মাওসূআতুল ফিরাকিল মুনতাসিবাহ লিল ইসলাম
(পৃষ্ঠা: ١٣)
المبحث الثاني: الأمر بلزوم الجماعة والتحذير من الفرقةتقدم في العنصر الأول أن النصوص سلكت مسلك الجمع بين ذكر الأمر بلزوم الجماعة والنهي عن الفرقة في موضع واحد لتغليظ الأمر في ذلك.
وكذلك سلكت النصوص مسلكا آخر حينما أمرت بالجماعة في نصوص ونهت عن الفرقة في نصوص أخرى، وقد سبق أن الأمر بالشيء يستلزم النهي عن ضده والنهي عن شيء يستلزم الأمر بضده. ومن النصوص التي تحث على الجماعة وترغب بلزومها وتبين أجر من لزم ولم يفارق، وتؤكد أن العصمة في وقت الفتن والمحن هو في التمسك بجماعة المسلمين فهي المخرج والمنجي بإذن الله منها قوله صلى الله عليه وسلم: ((من أراد بحبوحة الجنة فليلزم الجماعة فإن الشيطان مع الواحد وهو من الاثنين أبعد)) (1) فانظر عظم الأجر على لزوم الجماعة بل إن الخير كل الخير فيها كما قال رسول الله صلى الله عليه وسلم: ((يد الله مع الجماعة
… )) (2)
فيد الله مع الجماعة ويد الله على الجماعة ينصرهم ويؤيدهم ويسددهم وهو معهم معية خاصة: معية النصر والتأييد متى ما كانوا مجتمعين على الحق مجتمعين على طاعة الله وطاعة رسوله صلى الله عليه وسلم. ومما يبين فضل لزوم الجماعة ما رواه أنس بن مالك رضي الله عنه عن رسول الله صلى الله عليه وسلم قال: ((نضر الله عبدا سمع مقالتي هذه فحملها فرب حامل الفقه فيه غير فقيه، ورب حامل الفقه إلى من هو أفقه منه، ثلاث لا يغل عليهن صدر مسلم: إخلاص العمل لله عز وجل، ومناصحة أولي الأمر ولزوم جماعة المسلمين فإن دعوتهم تحيط من روائهم)) (3)
ومعنى لا يغل: (بضم الياء وكسر الغين) هو من الأغلال: الخيانة في كل شيء.
ويروى يُغل بفتح الياء من الغِل وهو الحقد والشحناء: أي لا يدخله حقد يزيله عن الحق. وروى يُغل بالتخفيف: من الوغول: الدخول في الشر والمعنى: أن هذه الخلال الثلاث تستصلح بها القلوب فمن تمسك بها طهر قلبه من الخيانة والدغل والشر
… (4)
--------------------------------------------
দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ: জামাআত বা ঐক্যবদ্ধ থাকার নির্দেশ এবং বিচ্ছিন্নতা সম্পর্কে সতর্কীকরণপ্রথম আলোচনায় অতিবাহিত হয়েছে যে, দলিলের টেক্সটসমূহ বিষয়টির গুরুত্বারোপ করার জন্য একই স্থানে জামাআতবদ্ধ থাকার নির্দেশ এবং বিচ্ছিন্নতা থেকে নিষেধ করার পদ্ধতি অবলম্বন করেছে।
অনুরূপভাবে, টেক্সটসমূহ অন্য একটি পদ্ধতিও অনুসরণ করেছে; যেখানে কিছু টেক্সটে জামাআতের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে এবং অন্য কিছু টেক্সটে বিচ্ছিন্নতা থেকে নিষেধ করা হয়েছে। আর এটি পূর্বেই আলোচিত হয়েছে যে, কোনো বিষয়ের আদেশ তার বিপরীত বিষয় থেকে নিষেধ করাকে অপরিহার্য করে এবং কোনো বিষয়ে নিষেধ তার বিপরীত বিষয়ের আদেশকে অপরিহার্য করে। জামাআতের প্রতি উৎসাহ প্রদানকারী, জামাআত আঁকড়ে ধরার প্রতি উদ্বুদ্ধকারী এবং যারা জামাআত আঁকড়ে থাকে ও বিচ্ছিন্ন হয় না তাদের সওয়াব বর্ণনাকারী টেক্সটসমূহের মধ্যে একটি হলো—যা এ কথা নিশ্চিত করে যে, ফিতনা ও পরীক্ষার সময় মুসলিম জামাআতকে আঁকড়ে ধরাই হলো সুরক্ষা এবং আল্লাহর অনুমতিতে তা থেকে উত্তরণ ও মুক্তির পথ—রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের বাণী: ((যে ব্যক্তি জান্নাতের সর্বোত্তম ও সুপ্রশস্ত স্থান কামনা করে, সে যেন জামাআতকে আঁকড়ে ধরে। কারণ শয়তান একাকী ব্যক্তির সাথে থাকে এবং সে দুইজন থেকে অধিক দূরে থাকে)) (১)। জামাআত আঁকড়ে ধরার মহান সওয়াবের দিকে লক্ষ করুন, বরং এতেই সকল কল্যাণ নিহিত রয়েছে, যেমনটি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: ((আল্লাহর হাত জামাআতের সাথে থাকে … )) (২)
সুতরাং আল্লাহর হাত জামাআতের সাথে থাকে এবং আল্লাহর হাত জামাআতের উপর থাকে; তিনি তাদের সাহায্য করেন, সমর্থন দেন এবং সঠিক পথে পরিচালিত করেন। তিনি তাদের সাথে এক বিশেষ সান্নিধ্যে থাকেন: যা সাহায্য ও সমর্থনের সান্নিধ্য, যতক্ষণ তারা সত্যের ওপর ঐক্যবদ্ধ থাকে এবং আল্লাহ ও তাঁর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের আনুগত্যে ঐক্যবদ্ধ থাকে। জামাআত আঁকড়ে ধরার ফজিলত বর্ণনায় আনাস ইবনে মালিক রাদিয়াল্লাহু আনহু রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে যা বর্ণনা করেছেন তাও অন্যতম, তিনি বলেছেন: ((আল্লাহ সেই বান্দাকে সজীব ও উজ্জ্বল রাখুন, যে আমার কথা শুনেছে এবং তা ধারণ করেছে। কারণ অনেক জ্ঞানের বাহক নিজে জ্ঞানী নয়, আবার অনেক জ্ঞানের বাহক তার চেয়ে অধিক জ্ঞানী ব্যক্তির কাছে তা পৌঁছে দেয়। তিনটি বিষয় এমন রয়েছে যাতে কোনো মুসলিমের অন্তর খিয়ানত বা বিদ্বেষ পোষণ করে না: আল্লাহর জন্য একনিষ্ঠভাবে আমল করা, শাসকদের কল্যাণকামনা করা এবং মুসলিমদের জামাআতকে আঁকড়ে ধরা। কারণ তাদের দাওয়াত তাদের পেছনের দিক থেকে তাদের পরিবেষ্টন করে রাখে)) (৩)
‘লা ইয়াঘিল্লু’ (ইয়া-তে পেশ এবং ঘাইন-এ যের যোগে) এর অর্থ হলো ‘আল-আঘলাল’ থেকে আগত, যার অর্থ সব বিষয়ে খিয়ানত বা বিশ্বাসভঙ্গ করা।
এটি ‘ইয়াঘাল্লু’ (ইয়া-তে যবর যোগে) হিসেবেও বর্ণিত হয়েছে, যা ‘আল-ঘিল’ থেকে আগত, এর অর্থ হলো হিংসা ও শত্রুতা। অর্থাৎ, সত্য থেকে বিচ্যুত করে এমন কোনো হিংসা তার অন্তরে প্রবেশ করবে না। আবার এটি ‘ইয়াঘিলু’ (হালকা উচ্চারণে) হিসেবেও বর্ণিত হয়েছে, যা ‘আল-উগুল’ থেকে আগত, যার অর্থ মন্দের মধ্যে প্রবেশ করা। এর মর্মার্থ হলো: এই তিনটি গুণের মাধ্যমে অন্তর সংশোধিত হয়। সুতরাং যে ব্যক্তি এগুলো আঁকড়ে ধরবে, তার অন্তর খিয়ানত, কলুষতা ও মন্দ থেকে পবিত্র হবে … (৪)
--------------------------------------------
(খণ্ড: ١)
মাওসূআতুল ফিরাকিল মুনতাসিবাহ লিল ইসলাম
(পৃষ্ঠা: ١٤)
ولقد جعل رسول الله صلى الله عليه وسلم هذه الأمور الثلاثة متوالية فلا بد من إخلاص العمل لله عز وجل يبتغي وجه ربه تعالى وهذا يدفعه لأن يلتزم أمر الله عز وجل وأمر رسوله صلى الله عليه وسلم فيناصح ولاة الأمر. ففي الحديث عن رسول الله صلى الله عليه وسلم قال: ((الدين النصيحة، قلنا لمن؟ قال: لله ولكتابه ولرسوله ولأئمة المسلمين وعامتهم)) (1) فجعل قاعدة الدين وما يمثله "النصيحة" والنصيحة وتشجيعهم على الحق إن سلكوه وطاعتهم على ذلك وهذا في حق القادرين عليه. وكذلك تكون النصيحة لهم بلزوم جماعتهم وهذا في حق كل أحد (2) ولا تعني مناصحة ولاة الأمر الخروج عليهم بالسيف وقتالهم، فهذا منهي عنه لما يؤدي إليه من الفرقة والفتنة ففي الحديث عن رسول الله صلى الله عليه وسلم قال: ((خيار أئمتكم الذين تحبونهم ويحبونكم ويصلون عليكم وتصلون عليهم (3) وشرار أئمتكم الذين تبغضونهم ويبغضونكم وتلعنونهم ويلعنونكم، قيل: يا رسول الله أفلا ننابذهم بالسيف؟ فقال: لا، ما أقاموا فيكم الصلاة، وإذا رأيتم من ولاتكم شيئا تكرهونه فاكرهوا عمله ولا تنزعوا يدا من طاعة)) (4) ولذلك عقب في حديث: ((ثلاث لا يغل عليهن
… )) (5) عقب بعد المناصحة لولاة الأمر بالأمر الثالث وهو لزوم جماعتهم. ولقد أمر الله عز وجل نبيه وأمته تبع له بلزوم الجماعة ففي الحديث عن رسول الله صلى الله عليه وسلم: ((إن الله أمر يحيى بن زكريا بخمس كلمات
… )) ثم قال رسول الله صلى الله عليه وسلم: ((وأنا آمركم بخمس الله أمرني بهن: السمع والطاعة والجهاد والهجرة والجماعة فإنه من فارق الجماعة قيد شبر فقد خلع ربقة الإسلام من عنقه إلا أن يرجع)) (6)
--------------------------------------------
নিশ্চয়ই রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) এই তিনটি বিষয়কে পরস্পর অনুগামী করেছেন। সুতরাং আল্লাহর জন্য আমলকে একনিষ্ঠ করা অপরিহার্য, যা হবে কেবল মহান রবের সন্তুষ্টি অর্জনের উদ্দেশ্যে। আর এটিই তাকে আল্লাহর নির্দেশ ও তাঁর রাসূলের (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) নির্দেশ পালনে উদ্বুদ্ধ করে, ফলে সে শাসকবর্গের প্রতি নসিহত প্রদান করে (শুভাকাঙ্ক্ষী হয়)। রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) থেকে বর্ণিত হাদিসে এসেছে, তিনি বলেন: "দীন হলো নসিহত (শুভকামনা)। আমরা বললাম: কার জন্য? তিনি বললেন: আল্লাহর জন্য, তাঁর কিতাবের জন্য, তাঁর রাসূলের জন্য এবং মুসলিমদের ইমামদের (শাসকদের) ও সাধারণ জনগণের জন্য।" (১) সুতরাং তিনি দীনের মূল ভিত্তি ও এর পরিচয় হিসেবে "নসিহত"কে নির্ধারণ করেছেন। আর নসিহত হলো তাদের হকের ওপর উৎসাহিত করা—যদি তারা তা অনুসরণ করে—এবং সেই বিষয়ে তাদের আনুগত্য করা, আর এটি তাদের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য যারা এর সামর্থ্য রাখে। একইভাবে তাদের প্রতি নসিহত হলো তাদের জামাআতে (দলে) অবিচল থাকা এবং এটি প্রত্যেকের ক্ষেত্রেই প্রযোজ্য। (২) আর শাসকবর্গের প্রতি নসিহত করার অর্থ এই নয় যে, তাদের বিরুদ্ধে তরবারি নিয়ে বিদ্রোহ করা ও তাদের সাথে যুদ্ধ করা। কেননা এটি নিষিদ্ধ, কারণ এর ফলে বিভেদ ও ফিতনা সৃষ্টি হয়। রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) থেকে বর্ণিত হাদিসে এসেছে, তিনি বলেন: "তোমাদের সর্বোত্তম শাসক তারাই, যাদের তোমরা ভালোবাসো এবং তারাও তোমাদের ভালোবাসে; তারা তোমাদের জন্য দোয়া করে এবং তোমরাও তাদের জন্য দোয়া করো (৩)। আর তোমাদের নিকৃষ্টতম শাসক তারা, যাদের তোমরা ঘৃণা করো এবং তারাও তোমাদের ঘৃণা করে; তোমরা তাদের অভিশাপ দাও এবং তারাও তোমাদের অভিশাপ দেয়। বলা হলো: হে আল্লাহর রাসূল! আমরা কি তাদের বিরুদ্ধে তরবারি নিয়ে ঝাঁপিয়ে পড়ব না? তিনি বললেন: না, যতক্ষণ তারা তোমাদের মধ্যে সালাত কায়েম রাখবে। আর যখন তোমরা তোমাদের শাসকদের মধ্যে এমন কিছু দেখবে যা তোমরা অপছন্দ করো, তখন তাদের সেই কাজকে অপছন্দ করো, কিন্তু আনুগত্য থেকে হাত গুটিয়ে নিও না।" (৪) এই কারণেই হাদিসে এসেছে: "তিনটি বিষয় এমন যাতে (মুমিনের অন্তর) খেয়ানত করে না... " (৫) শাসকবর্গের প্রতি নসিহতের নির্দেশের পরপরই তৃতীয় বিষয়টি উল্লেখ করা হয়েছে, আর তা হলো তাদের জামাআতে অবিচল থাকা। নিশ্চয়ই মহান আল্লাহ তাঁর নবীকে এবং তাঁর অনুসারী উম্মতকে জামাআতে অবিচল থাকার নির্দেশ দিয়েছেন। রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) থেকে বর্ণিত হাদিসে এসেছে: "নিশ্চয়ই আল্লাহ ইয়াহইয়া ইবনে জাকারিয়াকে পাঁচটি কালিমার (নির্দেশের) আদেশ দিয়েছিলেন... " অতপর রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বললেন: "আর আমিও তোমাদের পাঁচটি বিষয়ের নির্দেশ দিচ্ছি যেগুলোর নির্দেশ আল্লাহ আমাকে দিয়েছেন: শ্রবণ করা, আনুগত্য করা, জিহাদ করা, হিজরত করা এবং জামাআতবদ্ধ থাকা। কেননা যে ব্যক্তি জামাআত থেকে এক বিঘত পরিমাণ বিচ্ছিন্ন হলো, সে তার ঘাড় থেকে ইসলামের রশি খুলে ফেলল, যতক্ষণ না সে ফিরে আসে।" (৬)
--------------------------------------------
(খণ্ড: ١)
মাওসূআতুল ফিরাকিল মুনতাসিবাহ লিল ইসলাম
(পৃষ্ঠা: ١٥)
فبهذه الكلمات الخمس التي أمرنا بها يلتئم شمل الجماعة ويستصلح المجتمع ويؤكد الحبيب المصطفى عليه السلام أن النجاة والعصمة من وقوع الفتن يكون بلزوم الجماعة أما إذا انعدمت الجماعة إمامها في وقت الفتنة فلا خير في الفرق والسبل المتشعبة فتعتزل كلها ولا يلتزم بشيء منها لأن الجماعة غير موجودة. فعن حذيفة بن اليمان رضي الله عنه قال: ((كان الناس يسألون رسول الله صلى الله عليه وسلم عن الخير وكنت أسأله عن الشر مخافة أن يدركني فقلت: يا رسول الله إنا كنا في جاهلية وشر فجاءنا الله بهذا الخير فهل بعد هذا الخير من شر؟ قال: نعم. قلت: وهل بعد ذلك الشر من خير؟ قال: نعم. وفيه دخن (1) قلت: وما دخنه؟ قال: قوم يهدون بغير هديي تعرف منهم وتنكر قلت: فهل بعد ذلك الخير من شر؟ قال نعم، دعاة على أبواب جهنم من أجابهم إليها قذفوه فيها قلت: يا رسول الله صفهم لنا قال: هم من جلدتنا ويتكلمون بألسنتنا قال فما تأمرني إن أدركني ذلك؟ قال تلزم جماعة المسلمين وإمامهم قلت: فإن لم يكن لهم جماعة ولا إمام قال: فاعتزل تلك الفرق كلها ولو أن تعض بأصل شجرة حتى يدركك الموت وأنت على ذلك)) (2) ولقد بوب النووي رحمه الله لهذا الحديث وغيره " باب وجوب ملازمة جماعة المسلمين عند ظهور الفتن وفي كل حال، وتحريم الخروج من الطاعة ومفارقة الجماعة" (3) ويقول ابن بطال رحمه الله عن هذا الحديث: " فيه حجة لجماعة الفقهاء في وجوب لزوم جماعة المسلمين وترك الخروج على أئمة الجور (4).فتبين لك أيها المسلم أهمية لزوم الجماعة ومدى الحاجة إليها فهي من قواعد الدين، والخطر والشر في الفرقة لذا جاء النهي عن الفرقة والتحذير منها في أكثر من موضع: فعن عبدالله بن مسعود رضي الله عنه قال: ((سمعت رجلا قرأ آية وسمعت النبي صلى الله عليه وسلم يقرأ خلافها فجئت به النبي صلى الله عليه وسلم فأخبرته فعرفت في وجهه الكراهية وقال: كلاكما محسن ولا تختلفوا فإن من كان قبلكم اختلفوا فهلكوا)) (5) يقول الإمام أحمد بن حجر العسقلاني رحمه الله: " وفي هذا الحديث الحض على الجماعة والألفة والتحذير من الفرقة والاختلاف" (6)
ولقد كره رسول الله صلى الله عليه وسلم اختلافهم لأن كلا القراءتين صحيحة حيث قال: ((كلاكما محسن)) فهو مصيب إذ قرأ ما أقرأه رسول الله ونهاهما عن ذلك فقال:
--------------------------------------------
এই পাঁচটি নির্দেশের মাধ্যমে যা আমাদের পালন করতে বলা হয়েছে, জামাআতের ঐক্য সুসংহত হয় এবং সমাজ সংশোধিত হয়। প্রিয় নবী আলাইহিস সালাম নিশ্চিত করেছেন যে, ফিতনায় নিপতিত হওয়া থেকে মুক্তি ও সুরক্ষা লাভ সম্ভব জামাআতকে আঁকড়ে ধরার মাধ্যমে। তবে ফিতনার সময়ে যদি কোনো জামাআত ও তার ইমাম না থাকে, তবে বিভিন্ন দল ও উপদলের মধ্যে কোনো কল্যাণ নেই। তাই সেগুলোর সবকটি পরিত্যাগ করতে হবে এবং কোনোটির সাথেই যুক্ত হওয়া যাবে না, কারণ তখন প্রকৃত জামাআত বিদ্যমান নেই। হুজাইফা ইবনুল ইয়ামান রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: ((মানুষ রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে কল্যাণ সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করত, আর আমি তাঁকে অকল্যাণ সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করতাম এই ভয়ে যে, তা যেন আমাকে গ্রাস না করে। আমি বললাম: হে আল্লাহর রাসূল! আমরা জাহেলিয়াত ও অকল্যাণের মধ্যে ছিলাম, অতঃপর আল্লাহ আমাদের কাছে এই কল্যাণ নিয়ে আসলেন। এই কল্যাণের পর কি কোনো অকল্যাণ আছে? তিনি বললেন: হ্যাঁ। আমি বললাম: সেই অকল্যাণের পর কি কোনো কল্যাণ আছে? তিনি বললেন: হ্যাঁ, তবে তাতে কিছুটা কলুষতা থাকবে (১)। আমি বললাম: সেই কলুষতা কী? তিনি বললেন: এমন এক সম্প্রদায় যারা আমার সুন্নাহর বাইরে অন্য পথ অবলম্বন করবে; তাদের মাঝে তোমরা ভালো ও মন্দ উভয় দিকই দেখতে পাবে। আমি বললাম: সেই কল্যাণের পর কি কোনো অকল্যাণ আছে? তিনি বললেন: হ্যাঁ, জাহান্নামের দরজার দিকে আহ্বানকারী একদল দাঈ; যে ব্যক্তি তাদের ডাকে সাড়া দেবে, তারা তাকে জাহান্নামে নিক্ষেপ করবে। আমি বললাম: হে আল্লাহর রাসূল! আমাদের কাছে তাদের পরিচয় বর্ণনা করুন। তিনি বললেন: তারা আমাদেরই বংশোদ্ভূত এবং আমাদের ভাষাতেই কথা বলবে। আমি বললাম: যদি আমি সেই পরিস্থিতির সম্মুখীন হই, তবে আমাকে কী আদেশ করেন? তিনি বললেন: তুমি মুসলিমদের জামাআত ও তাদের ইমামকে আঁকড়ে ধরবে। আমি বললাম: যদি তাদের কোনো জামাআত ও ইমাম না থাকে? তিনি বললেন: তবে তুমি সেই সকল দল উপদল ত্যাগ করবে, যদিও তোমাকে গাছের শিকড় কামড়ে ধরে থাকতে হয় এবং সেই অবস্থাতেই তোমার মৃত্যু উপস্থিত হয়)) (২)। ইমাম নববী রাহিমাহুল্লাহ এই হাদিস ও অন্যান্য হাদিসের শিরোনাম দিয়েছেন: "ফিতনা প্রকাশকালে এবং সর্বাবস্থায় মুসলিমদের জামাআত আঁকড়ে থাকার আবশ্যকতা এবং আনুগত্য থেকে বের হয়ে যাওয়া ও জামাআত ত্যাগ করার হারাম হওয়া প্রসঙ্গে" (৩)। এই হাদিস সম্পর্কে ইবনে বাত্তাল রাহিমাহুল্লাহ বলেন: "এতে ফুকাহাদের জামাআতের পক্ষে দলিল রয়েছে যে মুসলিমদের জামাআত আঁকড়ে থাকা আবশ্যক এবং জালেম ইমামদের বিরুদ্ধে বিদ্রোহ করা বর্জনীয়" (৪)। হে মুসলিম! আপনার কাছে জামাআতের গুরুত্ব এবং এর প্রয়োজনীয়তা স্পষ্ট হয়েছে। এটি দ্বীনের অন্যতম মূলভিত্তি। অনৈক্যের মধ্যে বিপদ ও অকল্যাণ নিহিত, তাই একাধিক স্থানে অনৈক্য থেকে নিষেধ করা হয়েছে এবং এ বিষয়ে সতর্ক করা হয়েছে। আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদ রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: ((আমি এক ব্যক্তিকে একটি আয়াত তিলাওয়াত করতে শুনলাম, অথচ আমি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে তার বিপরীত তিলাওয়াত করতে শুনেছিলাম। আমি তাকে নিয়ে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর কাছে আসলাম এবং বিষয়টি তাঁকে জানালাম। আমি তাঁর চেহারায় অপছন্দের চিহ্ন দেখতে পেলাম। তিনি বললেন: তোমরা উভয়েই সঠিক। তোমরা মতভেদ করো না, কারণ তোমাদের পূর্ববর্তীরা মতভেদ করেছিল এবং ধ্বংস হয়ে গিয়েছিল)) (৫)। ইমাম আহমদ ইবনে হাজার আসকালানি রাহিমাহুল্লাহ বলেন: "এই হাদিসে জামাআতবদ্ধ থাকা ও সম্প্রীতির প্রতি উৎসাহ দেওয়া হয়েছে এবং অনৈক্য ও মতভেদ সম্পর্কে সতর্ক করা হয়েছে" (৬)।
রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাদের মতভেদ করাকে অপছন্দ করেছেন কারণ উভয় কিরাত বা পাঠই সঠিক ছিল, কেননা তিনি বলেছেন: ((তোমরা উভয়েই সঠিক))। সেই ব্যক্তি সঠিক ছিল কারণ সে তা-ই পাঠ করেছিল যা রাসূলুল্লাহ তাকে শিখিয়েছিলেন। তিনি তাদের এ থেকে নিষেধ করে বললেন:
--------------------------------------------
(খণ্ড: ١)
মাওসূআতুল ফিরাকিল মুনতাসিবাহ লিল ইসলাম
(পৃষ্ঠা: ١٦)
((ولا تختلفوا)) وعلل سبب النهي بقوله: ((فإن من كان قبلكم اختلفوا فهلكوا)) فلما كان الاختلاف يؤدي إلى الفرقة المؤدية إلى الهلكة كرهه عليه الصلاة والسلام ونهى عنه. بل ونهى عن كل سبب يؤدي إليه: ففي الحديث عن رسول الله صلى الله عليه وسلم قال: ((اقرؤوا القرآن ما ائتلفت عليه قلوبكم فإذا اختلفتم فقوموا عنه)) (1).وقوله: ((ما ائتلفت عليه قلوبكم)) أي: اجتمعت، فاقرؤوه وأنتم مجتمعون عليه معانيه عندما تخشى عليكم الفرقة ووقوع النزاع بينكم فالواجب القيام عنه لذلك قال" فقوموا عنه" أي تفرقوا لئلا يتمادى بكم الاختلاف إلى الشر (2).ولقد كان صلى الله عليه وسلم يغضب ويشتد غضبه عند اختلاف أصحابه في أمر من أمور الدين خشية ما يؤدي إليه من فرقة وهلكة ففي الحديث عن عبدالله بن عمرو قال: ((هجرت إلى رسول الله صلى الله عليه وسلم يوما فسمع أصوات رَجُلَيْنِ اخْتَلَفَا في آيَةٍ فَخَرَجَ عَلَيْنَا رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم يُعْرَفُ في وَجْهِهِ الْغَضَبُ فقال: إنما أهلك من كان قبلكم من الأمم باختلافهم في الكتاب)) (3).ولقد كان الصحابة الكرام رضي الله عنهم من أشد الناس تحذيرا من الفرقة ونهيا عنها وبيانا لأضرارها يقول عمر بن الخطاب رضي الله عنه ناصحا ومرشدا لرعيته: إياكم والفرقة بعدي (4).ويقول معاوية بن أبي سفيان رضي الله عنهما في إحدى خطبه محذرا من الفتنة التي تؤدي للفرقة يقول: إياكم والفتنة فلا تهموا بها فإنها تفسد المعيشة وتكدر النعمة وتورث الاستيصال (5).ولقد نصح النعمان بن بشير رضي الله عنه أهل المدينة حينما خلعوا بيعة يزيد بن معاوية في نهاية عام 62هـ وحذرهم من عواقب الفرقة ومضارها وما ينتج عنها من سفك للدماء ودمار للديار فقال لهم رضي الله عنه: إن الفتنة يا نعمان على تفريق جماعتنا وفساد ما أصلح الله من أمرنا؟ فقال له النعمان أما والله لكأني وقد تركت تلك الأمور التي تدعو إليها وقامت الرجال على الركب التي تضرب مفارق القوم وجباههم بالسيوف ودارت رحى الموت بين الفريقين وكأني بك قد ضربت جنب بغلتك إلي وخلفت هؤلاء المساكين ـ يعني الأنصارـ يقتلون في سككهم ومساجدهم وعلى أبواب دورهم فعصاه الناس فلم يسمعوا منه فانصرف وكان الأمر والله كما قال سواء (6)
المصدر:موقف الصحابة من الفرقة والفرق لأسماء السويلم - ص127 - 133
--------------------------------------------
((তোমরা মতভেদ করো না)) এবং তিনি এই নিষেধের কারণ দর্শিয়ে বলেছেন: ((কেননা তোমাদের পূর্ববর্তীরা মতভেদ করেছিল, ফলে তারা ধ্বংস হয়ে গিয়েছিল।)) যখন মতভেদ এমন অনৈক্যের দিকে নিয়ে যায় যা ধ্বংসের কারণ হয়, তখন তিনি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম একে অপছন্দ করেছেন এবং তা থেকে নিষেধ করেছেন। বরং তিনি এমন প্রতিটি কারণ থেকেই নিষেধ করেছেন যা এর দিকে পরিচালিত করে। হাদিসে বর্ণিত হয়েছে যে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: ((তোমরা কুরআন তিলাওয়াত করো যতক্ষণ তোমাদের অন্তরসমূহ তাতে মিলিত থাকে, যখন তোমরা মতভেদে লিপ্ত হবে তখন তা থেকে উঠে যাও।)) (১)। আর তাঁর বাণী: ((যতক্ষণ তোমাদের অন্তরসমূহ তাতে মিলিত থাকে)) অর্থাৎ ঐক্যবদ্ধ থাকে। সুতরাং তোমরা তা এমন অবস্থায় পাঠ করো যখন এর অর্থসমূহের ক্ষেত্রে তোমাদের মাঝে ঐকমত্য থাকে। আর যখন তোমাদের মাঝে অনৈক্য ও বিবাদ ঘটার আশঙ্কা হবে, তখন তা থেকে উঠে যাওয়া ওয়াজিব। এই কারণেই তিনি বলেছেন "তা থেকে উঠে যাও" অর্থাৎ তোমরা পৃথক হয়ে যাও যাতে তোমাদের মতভেদ তোমাদেরকে অনিষ্টের দিকে ঠেলে না দেয় (২)। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম দ্বীনের কোনো বিষয়ে তাঁর সাহাবীদের মতভেদ দেখলে রাগান্বিত হতেন এবং তাঁর রাগ তীব্র হতো এই আশঙ্কায় যে, এটি অনৈক্য ও ধ্বংসের দিকে নিয়ে যেতে পারে। আবদুল্লাহ ইবনে আমর থেকে বর্ণিত হাদিসে তিনি বলেন: ((আমি একদিন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের কাছে গেলাম, তখন তিনি দুই ব্যক্তির কণ্ঠস্বর শুনতে পেলেন যারা একটি আয়াত নিয়ে মতভেদ করছিল। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাদের কাছে এমন অবস্থায় বেরিয়ে এলেন যে তাঁর চেহারা মোবারকে রাগের চিহ্ন দেখা যাচ্ছিল। তিনি বললেন: তোমাদের পূর্ববর্তী উম্মতসমূহ কেবল কিতাব নিয়ে তাদের মতভেদের কারণেই ধ্বংস হয়েছে।)) (৩)। সাহাবায়ে কেরাম রাদিয়াল্লাহু আনহুম ছিলেন অনৈক্য থেকে কঠোরভাবে সতর্ককারী, তা থেকে নিষেধকারী এবং এর ক্ষতিসমূহ বর্ণনাকারী। উমর ইবনুল খাত্তাব রাদিয়াল্লাহু আনহু তাঁর প্রজাদের নসিহত ও দিকনির্দেশনা দিতে গিয়ে বলেন: আমার পর তোমরা অনৈক্য থেকে বেঁচে থেকো (৪)। মুআবিয়া ইবনে আবু সুফিয়ান রাদিয়াল্লাহু আনহুমা তাঁর এক খুতবায় অনৈক্যের দিকে নিয়ে যাওয়া ফিতনা থেকে সতর্ক করে বলেন: তোমরা ফিতনা থেকে সাবধান থেকো, এর সংকল্প করো না; কেননা এটি জীবনযাপনকে কলুষিত করে, নেয়ামতকে ঘোলাটে করে এবং সমূলে বিনাশ ঘটায় (৫)। নুমান ইবনে বাশির রাদিয়াল্লাহু আনহু ৬২ হিজরি সালের শেষের দিকে মদিনাবাসীদের নসিহত করেছিলেন যখন তারা ইয়াজিদ ইবনে মুআবিয়ার আনুগত্যের শপথ ত্যাগ করেছিল। তিনি তাদেরকে অনৈক্যের পরিণাম ও অপকারিতা এবং এর ফলে রক্তপাত ও জনপদ ধ্বংস হওয়া সম্পর্কে সতর্ক করেছিলেন। জনৈক ব্যক্তি তাঁকে বলেছিল: হে নুমান, এই ফিতনা কি আমাদের জামাতকে বিভক্ত করা এবং আমাদের যে বিষয়গুলো আল্লাহ সংশোধন করে দিয়েছেন তা নষ্ট করার ওপর ভিত্তি করে? নুমান তখন তাকে বললেন: আল্লাহর কসম, আমি যেন দেখতে পাচ্ছি—যদি তুমি সেই সব বিষয় ত্যাগ করো যার দিকে তুমি আহ্বান জানাচ্ছ—তবে পুরুষরা তাদের হাঁটুর ওপর ভর দিয়ে তলোয়ার হাতে দাঁড়িয়ে যাবে এবং মানুষের মাথা ও কপালে তলোয়ার দিয়ে আঘাত করবে, আর দুই দলের মাঝে মৃত্যুর জাঁতাকল ঘুরতে থাকবে। আর আমি যেন তোমাকে দেখতে পাচ্ছি তুমি তোমার খচ্চরের পার্শ্বদেশে আঘাত করে আমার দিকে পালিয়ে আসছ এবং এই অসহায়দের—অর্থাৎ আনসারদের—ছেড়ে যাচ্ছ যেন তারা তাদের গলিতে, মসজিদে এবং ঘরের দরজায় দরজায় নিহত হয়। কিন্তু লোকেরা তাঁর অবাধ্য হলো এবং তাঁর কথা শুনলো না। অতঃপর তিনি ফিরে গেলেন এবং আল্লাহর কসম, বিষয়টি ঠিক তেমনই ঘটেছিল যা তিনি বলেছিলেন (৬)
উৎস:মাওকিফুস সাহাবা মিনাল ফিরকাতি ওয়াল ফিরাক - আসমা আল-সুওয়াইলাম - পৃষ্ঠা ১২৭ - ১৩৩
--------------------------------------------
(খণ্ড: ١)
মাওসূআতুল ফিরাকিল মুনতাসিবাহ লিল ইসলাম
(পৃষ্ঠা: ١٧)
المبحث الثالث: بيان حال أهل الفرقة والاختلافإن الحق أبلج، والباطل لجلج، فالحق هو الحق في كل زمان وكل مكان لا يختلف ولا يتغير ولا يتعدد بل هو واحد وما ذاك إلا لوحدة المصدر الذي يستقى منه، إنه من لدن حكيم خبير. لذلك نجد النصوص حين تذكر الصراط تذكره بصيغة الإفراد لأنه واحد كما قال تعالى: وَأَنَّ هَذَا صِرَاطِي مُسْتَقِيمًا فَاتَّبِعُوهُ وَلَا تَتَّبِعُواْ السُّبُلَ فَتَفَرَّقَ بِكُمْ عَن سَبِيلِهِ ذَلِكُمْ وَصَّاكُم بِهِ لَعَلَّكُمْ تَتَّقُونَ [الأنعام:153] (1).
وبلزوم هذا الصراط تتحقق الجماعة ويلتئم شمل الأمة وبمخالفة هذا الصراط والبعد عنه تحدث الفرقة ويجانب المرء الحق والصواب ويرتكب الباطل، هذا الباطل المتعدد المتلون والذي حذرنا الله تعالى منه. قال ابن كثير رحمه الله في هذه الآية "إنما وحد سبيله لأن الحق واحد ولهذا جمع السبل لتفرقها وتشعبها (2).
نعم إنها السبل الضلالات المحدثات إنها متعددة متفرقة وهذا حال أهل الفرقة: من حاد عن الصراط المستقيم فهم في فرقة واختلاف وتنازع وشقاق كل واحد منهم يأخذ شقا وجانبا غير جانب وشق الآخر.
ولقد وصفهم الله عز وجل بقوله: ذَلِكَ بِأَنَّ اللهَ نَزَّلَ الْكِتَابَ بِالْحَقِّ وَإِنَّ الَّذِينَ اخْتَلَفُواْ فِي الْكِتَابِ لَفِي شِقَاقٍ بَعِيدٍ [البقرة: 176].
وقال سبحانه: فَإِنْ آمَنُواْ بِمِثْلِ مَا آمَنتُم بِهِ فَقَدِ اهْتَدَواْ وَّإِن تَوَلَّوْاْ فَإِنَّمَا هُمْ فِي شِقَاقٍ فَسَيَكْفِيكَهُمُ اللهُ وَهُوَ السَّمِيعُ الْعَلِيمُ [البقرة: 137]
وقال عز وجل عن الكافرين: وَإِنَّ الظَّالِمِينَ لَفِي شِقَاقٍ بَعِيدٍ [الحج: 53].ففي الآيات السابقة يصف الله تعالى حال المخالفين للحق المفارقين له وأنهم في شقاق: شقاق مع الحق وشقاق مع القائمين به والداعين إليه والشقاق في هذه الآيات يأتي بمعان ثلاث (3):1ـ الشقاق بمعنى الخلاف والمعاداة والمنازعة وأصله من الشق وهو الجانب فكأن كل واحد من الفريقين في شق غير شق صاحبه (4) وهذا حال المجانبين للحق المفارقين له من أهل الكفر من الأديان والملل ومن أهل البدع أصحاب الفرقة فهم في شقاق في خلاف ومعاداة ومنازعة للحق وقد وصفهم الله تعالى بقوله: بَلِ الَّذِينَ كَفَرُوا فِي عِزَّةٍ وَشِقَاقٍ [ص: 2]. أي: الخلاف والعداوة لرسول الله صلى الله عليه وسلم ووصف أهل الكتاب من اليهود والنصارى بقوله: فَإِنَّمَا هُمْ فِي شِقَاقٍ [البقرة: 137] أي إنهم إنما هم في عصيان وفراق وحرب لله ولرسوله (5).
ووصف أهل البدع أصحاب القلوب المريضة بأنهم واقعون في الشقاق فقال سبحانه: لِيَجْعَلَ مَا يُلْقِي الشَّيْطَانُ فِتْنَةً لِّلَّذِينَ فِي قُلُوبِهِم مَّرَضٌ وَالْقَاسِيَةِ قُلُوبُهُمْ وَإِنَّ الظَّالِمِينَ لَفِي شِقَاقٍ بَعِيدٍ [الحج: 53]. فيجعل الله عز وجل ما يلقيه الشيطان فتنة وضلالة (6)
لطائفتين من الناس هما:
أـ الذين في قلوبهم مرض: الشك والنفاق. ب ـ والقاسية قلوبهم: وهم المشركون فإن قلوبهم لا تلين للحق أبدا ولا ترجع إلى الصواب بحال (7).
--------------------------------------------
তৃতীয় পরিচ্ছেদ: অনৈক্য ও বিভেদ সৃষ্টিকারীদের অবস্থা বর্ণনানিশ্চয়ই সত্য সুস্পষ্ট এবং মিথ্যা অস্পষ্ট ও সংশয়পূর্ণ। সত্য সব সময়ে ও সব স্থানেই সত্য, যা পরিবর্তন হয় না, যার কোনো ভিন্নতা নেই এবং যা বহুবিধ নয়; বরং সত্য এক। আর এটি সত্যের উৎসের একত্বের কারণেই হয়েছে, যা মহাপ্রজ্ঞাময় ও সর্বজ্ঞ সত্তার পক্ষ থেকে অবতীর্ণ। এজন্যই আমরা দেখতে পাই যে, যখনই নصوص (শরয়ি প্রমাণসমূহ) সিরাত বা পথের কথা উল্লেখ করে, তখন তা একবচনের শব্দে উল্লেখ করে; কারণ সত্য পথ একটিই। যেমন মহান আল্লাহ বলেছেন: “আর এটিই আমার সরল পথ, সুতরাং তোমরা এরই অনুসরণ করো এবং অন্যান্য পথের অনুসরণ করো না, অন্যথায় সেসব পথ তোমাদেরকে তাঁর পথ থেকে বিচ্ছিন্ন করে দেবে। তিনি তোমাদেরকে এই নির্দেশ দিয়েছেন যাতে তোমরা তাকওয়া অবলম্বন করো।” [আল-আন'আম: ১৫৩] (১)।
এই পথ আঁকড়ে ধরার মাধ্যমেই জামাআত (ঐক্য) প্রতিষ্ঠিত হয় এবং উম্মাহর সংহতি সুসংহত হয়। আর এই পথের বিরোধিতা ও তা থেকে দূরে সরে যাওয়ার মাধ্যমেই বিভেদ সৃষ্টি হয়, মানুষ সত্য ও সঠিক পথ থেকে বিচ্যুত হয় এবং মিথ্যার পথে ধাবিত হয়। এই মিথ্যা বহুমুখী ও বহুরূপী, যা থেকে মহান আল্লাহ আমাদের সতর্ক করেছেন। ইবন কাসীর (রহিমাহুল্লাহ) এই আয়াতের ব্যাখ্যায় বলেছেন, "তিনি তাঁর পথকে একবচন হিসেবে উল্লেখ করেছেন কারণ সত্য এক। পক্ষান্তরে অন্যান্য পথগুলোকে বহুবচনে উল্লেখ করেছেন কারণ সেগুলো অনেক ও বহু শাখায় বিভক্ত" (২)।
হ্যাঁ, এগুলোই হলো ভ্রষ্টতা ও নবউদ্ভাবিত পথসমূহ; এগুলো বহু ও পরস্পর বিচ্ছিন্ন। আর এটিই অনৈক্য সৃষ্টিকারীদের অবস্থা: যারা সরল পথ থেকে বিচ্যুত হয়েছে, তারা বিচ্ছিন্নতা, মতভেদ, বিবাদ ও দ্বন্দ্বে লিপ্ত। তাদের প্রত্যেকেই একেকটি ভিন্ন পথ ও পক্ষ অবলম্বন করে যা অন্যের থেকে আলাদা।
মহান আল্লাহ তাদের বর্ণনা দিতে গিয়ে বলেছেন: “তা এই কারণে যে, আল্লাহ সত্যসহ কিতাব নাজিল করেছেন এবং নিশ্চয় যারা কিতাব সম্পর্কে মতভেদ সৃষ্টি করেছে, তারা সুদূরপ্রসারী বিরোধে লিপ্ত।” [আল-বাকারাহ: ১৭৬]।
তিনি আরও বলেছেন: “অতঃপর তোমরা যেভাবে ঈমান এনেছ তারাও যদি সেভাবে ঈমান আনে, তবে তারা হেদায়েত পাবে। আর যদি তারা মুখ ফিরিয়ে নেয়, তবে তারা বিরোধে লিপ্ত; সুতরাং তাদের বিপরীতে আপনার জন্য আল্লাহই যথেষ্ট। আর তিনি সর্বশ্রোতা, সর্বজ্ঞ।” [আল-বাকারাহ: ১৩৭]
কাফিরদের সম্পর্কে মহান আল্লাহ বলেছেন: “আর নিশ্চয়ই জালিমরা সুদূরপ্রসারী বিরোধে লিপ্ত।” [আল-হাজ্জ: ৫৩]। উপরোক্ত আয়াতসমূহে মহান আল্লাহ সত্যের বিরোধিতাকারী ও সত্যচ্যুতদের অবস্থা বর্ণনা করেছেন যে, তারা বিরোধে লিপ্ত: সত্যের সাথে বিরোধ এবং যারা সত্যের ওপর প্রতিষ্ঠিত ও সত্যের দিকে আহ্বানকারী তাদের সাথে বিরোধ। এই আয়াতগুলোতে ‘শিকাক’ (বিরোধ) শব্দটি তিনটি অর্থে এসেছে (৩): ১- ‘শিকাক’ অর্থ মতভেদ, শত্রুতা ও বিবাদ। এর মূল উৎস হলো ‘শিক্ক’ বা পার্শ্ব; যেন বিবদমান দুই দলের প্রত্যেকেই তার সঙ্গীর বিপরীত পার্শ্বে অবস্থান করছে (৪)। এটিই হলো সত্যবিচ্যুত ও সত্যত্যাগী কাফিরদের অবস্থা যারা বিভিন্ন ধর্ম ও মতাদর্শের অনুসারী, এবং বিদআতিদের অবস্থা যারা অনৈক্য সৃষ্টিকারী। তারা সত্যের সাথে বিরোধ, শত্রুতা ও বিবাদে লিপ্ত। মহান আল্লাহ তাদের বর্ণনা দিতে গিয়ে বলেছেন: “বরং যারা কুফরি করেছে তারা অহংকার ও বিরোধে লিপ্ত।” [সোয়াদ: ২]। অর্থাৎ রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের প্রতি বিরোধিতা ও শত্রুতা। আর আহলে কিতাব তথা ইহুদি ও খ্রিস্টানদের বর্ণনা দিয়ে তিনি বলেছেন: “তবে তারা বিরোধে লিপ্ত” [আল-বাকারাহ: ১৩৭]। অর্থাৎ তারা মূলত অবাধ্যতা, বিচ্ছিন্নতা এবং আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের সাথে যুদ্ধে লিপ্ত (৫)।
তিনি রুগ্ন অন্তরের অধিকারী বিদআতিদের বর্ণনা দিয়েছেন যে তারা বিরোধে লিপ্ত। মহান আল্লাহ বলেছেন: “যাতে শয়তান যা প্রক্ষিপ্ত করে তিনি তাকে তাদের জন্য পরীক্ষাস্বরূপ করে দেন যাদের অন্তরে ব্যাধি রয়েছে এবং যাদের অন্তর কঠোর; আর নিশ্চয়ই জালিমরা সুদূরপ্রসারী বিরোধে লিপ্ত।” [আল-হাজ্জ: ৫৩]। শয়তান যা প্রক্ষিপ্ত করে মহান আল্লাহ সেটিকে ফিতনা ও ভ্রষ্টতা স্বরূপ করে দেন (৬)
দুই শ্রেণির মানুষের জন্য, তারা হলো:
ক- যাদের অন্তরে ব্যাধি রয়েছে: অর্থাৎ সন্দেহ ও মুনাফিকি। খ- যাদের অন্তর কঠোর: তারা হলো মুশরিকরা; কারণ তাদের অন্তর সত্যের প্রতি কখনো নরম হয় না এবং তারা কোনো অবস্থাতেই সঠিক পথে ফিরে আসে না (৭)।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ١)
মাওসূআতুল ফিরাকিল মুনতাসিবাহ লিল ইসলাম
(পৃষ্ঠা: ١٨)
ثم سجل على هاتين الطائفتين بأنهم ظالمون فقال: وَإِنَّ الظَّالِمِينَ لَفِي شِقَاقٍ بَعِيدٍ [الحج: 53]. أي: عداوة شديدة (1)
فأهل الفرقة في شقاق وعداء للحق وكذلك هم في شقاق فيما بينهم قد تعددت أقوالهم وتناقضت آراؤهم واختلفوا فيما بينهم وهذا دليل على بطلان دعاويهم لأنهم إنما يتبعون السبل. لذلك وصف أهل الكتاب بقوله تعالى: ذَلِكَ بِأَنَّ اللهَ نَزَّلَ الْكِتَابَ بِالْحَقِّ وَإِنَّ الَّذِينَ اخْتَلَفُواْ فِي الْكِتَابِ لَفِي شِقَاقٍ بَعِيدٍ [البقرة: 176] 2ـ المعنى الثاني للشقاق بأنه يأتي بمعنى الشق وهو الصدع (2) أو الفصل في الشيء (3) ويطلق على أهل الفرقة وذلك لأنهم فارقوا الجماعة وشقوا عصا الطاعة (4)
فهم في شقاق بهذا الاعتبار.
3ـ والمعنى الثالث للشقاق أن يطلق ويراد به المشقة وهي فعل ما يشق ويصعب فكأن كل واحد من الفريقين يحرص على ما يشق على صاحبه ويؤذيه.
وهذا دأب أصحاب الفرقة كما وصفهم سبحانه: لَا يُقَاتِلُونَكُمْ جَمِيعًا إِلَّا فِي قُرًى مُّحَصَّنَةٍ أَوْ مِن وَرَاء جُدُرٍ بَأْسُهُمْ بَيْنَهُمْ شَدِيدٌ تَحْسَبُهُمْ جَمِيعًا وَقُلُوبُهُمْ شَتَّى ذَلِكَ بِأَنَّهُمْ قَوْمٌ لَّا يَعْقِلُونَ [الحشر:14]
ولقد وصفهم الله عز وجل بوقوع العداوة والبغضاء فيما بينهم لمخالفتهم بعض ما جاء من الحق قال تعالى: وَمِنَ الَّذِينَ قَالُواْ إِنَّا نَصَارَى أَخَذْنَا مِيثَاقَهُمْ فَنَسُواْ حَظًّا مِّمَّا ذُكِّرُواْ بِهِ فَأَغْرَيْنَا بَيْنَهُمُ الْعَدَاوَةَ وَالْبَغْضَاء إِلَى يَوْمِ الْقِيَامَةِ وَسَوْفَ يُنَبِّئُهُمُ اللهُ بِمَا كَانُواْ يَصْنَعُونَ [المائدة: 14]
ولقد ذكر الله عز وجل ذلك كله تنفيرا من الفرقة وحثا للأمة على الجماعة، لهذا جاء الوعيد الشديد للمفارق للجماعة الخارج عنها يقول سبحانه وتعالى: وَمَن يُشَاقِقِ الرَّسُولَ مِن بَعْدِ مَا تَبَيَّنَ لَهُ الْهُدَى وَيَتَّبِعْ غَيْرَ سَبِيلِ الْمُؤْمِنِينَ نُوَلِّهِ مَا تَوَلَّى وَنُصْلِهِ جَهَنَّمَ وَسَاءتْ مَصِيرًا [النساء: 115]
وقال تعالى: إِنَّ الَّذِينَ فَرَّقُواْ دِينَهُمْ وَكَانُواْ شِيَعًا لَّسْتَ مِنْهُمْ فِي شَيْءٍ إِنَّمَا أَمْرُهُمْ إِلَى اللهِ ثُمَّ يُنَبِّئُهُم بِمَا كَانُواْ يَفْعَلُونَ [الأنعام: 159] ولقد وردت النصوص النبوية تتوعد الخارج عن الجماعة المفارق لها بأشد وعيد (5) وقد أورد الإمام مسلم عدة أحاديث في (صحيحه) حول هذا الموضوع بوب لها الإمام النووي تحت قوله: باب وجوب ملازمة جماعة المسلمين عند ظهور الفتن وفي كل حال وتحريم الخروج من الطاعة ومفارقة الجماعة (6) وأورد تحتها عدة أحاديث منها: قوله صلى الله عليه وسلم: ((من خرج من الطاعة وفارق الجماعة فمات مات ميتة جاهلية)) (7). وقال أيضا عليه السلام: ((من رأى من أميره شيئا يكرهه فليصبر فإنه من فارق الجماعة شبرا فمات فميتة جاهلية)) (8) وقال: ((من خلع يداً من طاعة لقي الله يوم القيامة لا حجة له ومن مات وليس في عنقه بيعة مات ميتة جاهلية)) (9) ويقول حذيفة بن اليمان رضي الله عنه: " والله ما فارق رجل الجماعة شبرا إلا فارق الإسلام " (10)
فهذا مما توعد الله به أهل الفرقة وما ذاك إلا لسوء فعلهم وفي هذا نهي عن الفرقة وردع عن سلوك سبلها أو السير خلف دعاتها ويتعين حينها لزوم الجماعة والتمسك بها هدانا الله للحق وبصرنا به.
المصدر:موقف الصحابة من الفرقة والفرق لأسماء السويلم - ص134 - 138
--------------------------------------------
অতঃপর তিনি এই দুই দলের ব্যাপারে লিপিবদ্ধ করেছেন যে তারা জালেম। তিনি বলেছেন: "নিশ্চয় জালেমরা ঘোর বিরোধে লিপ্ত।" [আল-হাজ্জ: ৫৩]। অর্থাৎ: কঠোর শত্রুতা (১)
অনৈক্য সৃষ্টিকারীরা সত্যের সাথে বিরোধ ও শত্রুতায় লিপ্ত। তেমনিভাবে তারা নিজেদের মধ্যেও বিরোধে লিপ্ত; তাদের বক্তব্য বহুবিধ, তাদের মতামত স্ববিরোধী এবং তারা আপোসে মতভেদ করে। এটি তাদের দাবিগুলো বাতুল হওয়ার প্রমাণ, কারণ তারা ভিন্ন ভিন্ন পথের অনুসরণ করে। এজন্যই আল্লাহ তাআলা আহলে কিতাবদের বর্ণনা দিয়ে বলেছেন: "তা এজন্য যে, আল্লাহ সত্যসহ কিতাব নাজিল করেছেন এবং যারা কিতাব নিয়ে মতভেদ করেছে, তারা অবশ্যই ঘোর বিরোধে লিপ্ত।" [আল-বাকারা: ১৭৬]। ২- শেকাকের (বিরোধ) দ্বিতীয় অর্থ হলো এটি ফাটল বা বিচ্ছেদ অর্থে আসে (২) অথবা কোনো বস্তুর বিভাজন (৩)। এটি অনৈক্য সৃষ্টিকারীদের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হয়, কারণ তারা জামাআত থেকে বিচ্ছিন্ন হয়েছে এবং আনুগত্যের ধারাকে ছিন্ন করেছে (৪)।
তারা এই বিবেচনায় বিরোধে লিপ্ত।
৩- শেকাকের তৃতীয় অর্থ হলো এর দ্বারা কষ্ট বা ক্লেশ (মাশাক্কাহ) উদ্দেশ্য নেওয়া হয়। আর তা হলো এমন কাজ করা যা কষ্টকর ও কঠিন। যেন প্রতিটি পক্ষ অপর পক্ষের জন্য কষ্টদায়ক ও যন্ত্রণাদায়ক বিষয়গুলো ঘটাতে সচেষ্ট থাকে।
এটিই অনৈক্য সৃষ্টিকারীদের বৈশিষ্ট্য, যেমন আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআলা তাদের বর্ণনা করেছেন: "তারা সুরক্ষিত জনপদ অথবা প্রাচীরের আড়াল ব্যতিরেকে তোমাদের বিরুদ্ধে একত্রিত হয়ে যুদ্ধ করবে না। তাদের নিজেদের মধ্যে লড়াই অত্যন্ত কঠিন। তুমি তাদের ঐক্যবদ্ধ মনে করবে, কিন্তু তাদের অন্তরসমূহ ভিন্ন ভিন্ন। এটি এজন্য যে, তারা এক নির্বোধ জাতি।" [আল-হাশর: ১৪]
আল্লাহ আযযা ওয়া জাল তাদের মধ্যে শত্রুতা ও বিদ্বেষ সৃষ্টির কথা বর্ণনা করেছেন কারণ তারা প্রাপ্ত সত্যের কিছু অংশের বিরোধিতা করেছে। আল্লাহ তাআলা বলেন: "আর যারা বলে, 'আমরা নাসারা (খ্রিস্টান)', আমরা তাদের থেকেও অঙ্গীকার গ্রহণ করেছিলাম। অতঃপর তাদের যে উপদেশ দেওয়া হয়েছিল, তার একাংশ তারা ভুলে গেল। ফলে আমরা কিয়ামত দিবস পর্যন্ত তাদের মধ্যে শত্রুতা ও বিদ্বেষ জাগিয়ে দিলাম। আর আল্লাহ অচিরেই তাদের জানিয়ে দেবেন তারা কী করত।" [আল-মায়িদাহ: ১৪]
আল্লাহ আযযা ওয়া জাল এই সমস্ত বিষয় উল্লেখ করেছেন অনৈক্য থেকে দূরে রাখার জন্য এবং উম্মতকে জামাআতের প্রতি উৎসাহিত করার জন্য। একারণেই জামাআত ত্যাগকারী ও তা থেকে বিচ্ছিন্ন ব্যক্তির জন্য কঠোর সতর্কবাণী এসেছে। আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআলা বলেন: "হেদায়েত স্পষ্ট হওয়ার পর যে ব্যক্তি রাসূলের বিরোধিতা করে এবং মুমিনদের পথ ছাড়া অন্য পথের অনুসরণ করে, আমি তাকে সেই পথেই ছেড়ে দেব যে পথ সে বেছে নিয়েছে এবং তাকে জাহান্নামে দগ্ধ করব। আর তা কতই না মন্দ আবাস!" [আন-নিসা: ১১৫]
আল্লাহ তাআলা আরও বলেন: "নিশ্চয় যারা নিজেদের দ্বীনকে খণ্ড-বিখণ্ড করেছে এবং বিভিন্ন দলে বিভক্ত হয়েছে, তাদের সাথে তোমার কোনো সম্পর্ক নেই। তাদের বিষয়টি আল্লাহরই ইখতিয়ারে। অতঃপর তারা যা করত, তিনি তাদের তা জানিয়ে দেবেন।" [আল-আনআম: ১৫৯]। জামাআত থেকে বহিষ্কৃত ও বিচ্ছিন্ন ব্যক্তির জন্য সুন্নাহর নসসমূহে অত্যন্ত কঠোর হুঁশিয়ারি এসেছে (৫)। ইমাম মুসলিম তাঁর (সহীহ) গ্রন্থে এ বিষয়ে বেশ কিছু হাদিস বর্ণনা করেছেন, যার শিরোনাম ইমাম নববী এভাবে দিয়েছেন: "ফিতনা প্রকাশ পাওয়ার সময় এবং সর্বাবস্থায় মুসলমানদের জামাআত আঁকড়ে থাকার আবশ্যকতা এবং আনুগত্য থেকে বের হওয়া ও জামাআত ত্যাগ করার হারাম হওয়া সংক্রান্ত অধ্যায়" (৬)। তিনি এর অধীনে বেশ কিছু হাদিস এনেছেন, যার মধ্যে রয়েছে: রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের বাণী: "যে ব্যক্তি আনুগত্য থেকে বের হয়ে গেল এবং জামাআত ত্যাগ করল, অতঃপর সে মারা গেল, তবে সে জাহিলিয়াতের মৃত্যু বরণ করল" (৭)। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আরও বলেছেন: "যে ব্যক্তি তার আমীরের কাছ থেকে অপছন্দনীয় কিছু দেখে, সে যেন ধৈর্য ধরে। কেননা যে ব্যক্তি জামাআত থেকে এক বিঘত পরিমাণ বিচ্ছিন্ন হলো এবং মারা গেল, সে জাহিলিয়াতের মৃত্যু বরণ করল" (৮)। তিনি আরও বলেন: "যে ব্যক্তি আনুগত্য থেকে হাত সরিয়ে নিল, কিয়ামতের দিন সে আল্লাহর সাথে এমন অবস্থায় সাক্ষাৎ করবে যে, তার কোনো দলিল থাকবে না। আর যে ব্যক্তি এমন অবস্থায় মারা গেল যে তার ঘাড় বাইআত (আনুগত্যের অঙ্গীকার) শূন্য ছিল, সে জাহিলিয়াতের মৃত্যু বরণ করল" (৯)। হুযাইফা বিন ইয়ামান রাদিয়াল্লাহু আনহু বলেন: "আল্লাহর কসম, কোনো ব্যক্তি যদি জামাআত থেকে এক বিঘত পরিমাণও বিচ্ছিন্ন হয়, তবে সে ইসলাম থেকেই বিচ্ছিন্ন হয়ে গেল" (১০)।
এটি অনৈক্য সৃষ্টিকারীদের জন্য আল্লাহর পক্ষ থেকে কঠোর হুঁশিয়ারি এবং তা তাদের মন্দ কর্মের কারণেই। এর মাধ্যমে অনৈক্য সৃষ্টি করতে নিষেধ করা হয়েছে এবং অনৈক্যের পথে চলা বা এর আহ্বায়কদের অনুসরণ করা থেকে বিরত থাকার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এমতাবস্থায় জামাআতকে আঁকড়ে ধরা এবং তার ওপর অবিচল থাকা অপরিহার্য। আল্লাহ আমাদের সত্যের পথে হেদায়েত দিন এবং তার ওপর দূরদৃষ্টি দান করুন।
উৎস: আসমা আল-সুওয়াইলিমি রচিত 'মাওকিফুস সাহাবা মিনাল ফিরকা ওয়াল ফিরাক' - পৃষ্ঠা ১৩৪ - ১৩৮
--------------------------------------------
(খণ্ড: ١)
মাওসূআতুল ফিরাকিল মুনতাসিবাহ লিল ইসলাম
(পৃষ্ঠা: ١٩)
المبحث الرابع: التأكيد على أسباب الاجتماع وبيان طرق تأليف قلوب المسلمين لقد سلكت النصوص الواردة في النهي عن الفرقة هذا المسلك للتأكيد على النهي عن الفرقة والأمر بلزوم الجماعة إذ الأمر بالجماعة والنهي عن الفرقة أصل من أصول الإسلام العظيمة وقاعدة من قواعد الدين يقول شيخ الإسلام أحمد بن تيمية: " وهذا الأصل العظيم: وهو الاعتصام بحبل الله جميعا وأن لا يتفرق هو من أعظم أصول الإسلام، ومما عظمت وصية الله تعالى به في كتابه ومما عظم ذمه لمن تركه من أهل الكتاب وغيرهم ومما عظمت به وصية النبي صلى الله عليه وسلم في مواطن عامة وخاصة. (1) ويقول أيضا: وتعلمون أن من القواعد العظيمة التي هي من جماع الدين: تأليف القلوب واجتماع الكلمة وصلاح ذات البين (2)
والناظر في أركان الإسلام الخمسة يجد أن هذا الأصل قد تجلى بوضوح في هذه الأركان .... فالركن الأول: شهادة أن لا إله إلا الله وشهادة أن محمدا رسول الله صلى الله عليه وسلم، فعقيدة التوحيد هي أعظم ما يجمع المسلمين في مشارق الأرض ومغاربها إذ هذه الكلمة ينطقها كل مسلم عربي أو غير عربي.
وبوحدة المعتقد تتحقق وحدة الجماعة ومتى ما كان المعتقد خالصا صافيا صائبا كانت الجماعة مجتمعة ملتئمة أما إن دب الخلاف في العقيدة تلاه اختلاف في الجماعة وتفرق. ثم إن وحدة المعتقد ووحدة الجماعة مما رضيه الله لنا ففي الحديث عن رسول صلى الله عليه وسلم قال: ((إن الله يرضى لكم ثلاثا ويكره لكم ثلاثا فيرضى لكم أن تعبدوه ولا تشركوا به شيئاً وأن تعتصموا بحبل الله جميعا ولا تفرقوا ويكره لكم قيل وقال وكثرة السؤال وإضاعة المال)) (3). فقرن هنا بين وحدة المعتقد على توحيد الله ووحدة الجماعة على الاعتصام بحبل الله.
أما الركن الثاني وهو الصلوات الخمس المفروضة فهي أنموذج أمثل للوحدة بين المسلمين في اتحادهم في عددها وأركانها وشروطها وكيفيتها مما يجمع المسلمين ومما يجتمعون عليه. بالصلاة يعرف المسلم من الكافر إذ هي عمود الدين ففي الحديث عن رسول الله صلى الله عليه وسلم قال: ((العهد الذي بيننا بينهم الصلاة فمن تركها فقد كفر)) (4) ثم إن في أداء الصلاة جماعة في المسجد مثال واضح لكيفية تأليف القلوب واتحاد الجماعة باتحاد الأبدان في أداء فعل واحد في مكان واحد خلف إمام واحد، لذلك جاء الأمر بتسوية صفوف الصلاة وإتمامها الأول فالأول، والإشارة إلى أن اختلاف الصف في الصلاة سبب لاختلاف القلوب وتنافر النفوس يقول الرسول صلى الله عليه وسلم: ((استووا ولا تختلفوا فتختلف قلوبكم)) (5) أي: إذا تقدم بعضكم على بعض في الصفوف تأثرت قلوبكم ونشأ بينكم الخلف ومنه الحديث الآخر: ((لتسوّن صفوفكم أو ليخالفن الله بين وجوهكم)) (6) يريد أن كلا منهم يصرف وجهه عن الآخر ويوقع بينهم التباغض فإن إقبال الوجه على الوجه من أثر المودة والألفة (7)
--------------------------------------------
চতুর্থ পরিচ্ছেদ: ঐক্যের কারণসমূহের ওপর গুরুত্বারোপ এবং মুসলিমদের অন্তরসমূহকে প্রীতিবদ্ধ করার পদ্ধতিসমূহের বর্ণনাদলবিচ্ছিন্নতা ও বিভেদ নিষিদ্ধকরণ বিষয়ে বর্ণিত দলীলসমূহ বিভেদ বারণ এবং জামাআত বা ঐক্যবদ্ধ থাকাকে অপরিহার্য করার গুরুত্বারোপের জন্য এই পথ অনুসরণ করেছে। কেননা ঐক্যবদ্ধ হওয়া এবং বিভেদ পরিহার করা ইসলামের এক মহান মূলনীতি এবং দ্বীনের অন্যতম ভিত্তি। শায়খুল ইসলাম আহমদ ইবনে তাইমিয়্যাহ বলেন: "এই মহান মূলনীতি—অর্থাৎ আল্লাহর রজ্জুকে সকলে মিলে শক্তভাবে আঁকড়ে ধরা এবং বিচ্ছিন্ন না হওয়া—ইসলামের অন্যতম শ্রেষ্ঠ মূলনীতি। এটি এমন একটি বিষয় যার ব্যাপারে মহান আল্লাহ তাঁর কিতাবে কঠোর নির্দেশ দিয়েছেন এবং যারা এটি বর্জন করেছে সেই আহলে কিতাব ও অন্যদের কঠোর নিন্দা করেছেন। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামও সাধারণ ও বিশেষ মজলিসসমূহে এর ওপর অত্যন্ত গুরুত্বারোপ করেছেন।" (১) তিনি আরও বলেন: "তোমরা জেনে রেখো, দ্বীনের অন্যতম সারসংক্ষেপ যে মহান মূলনীতিসমূহ রয়েছে তার মধ্যে অন্যতম হলো: অন্তরসমূহের মধ্যে প্রীতি স্থাপন, অভিন্ন অবস্থানে ঐক্যবদ্ধ হওয়া এবং পারস্পরিক সম্পর্কের উন্নয়ন।" (২)
ইসলামের পঞ্চস্তম্ভের দিকে তাকালে দেখা যায় যে, এই মূলনীতিটি এই স্তম্ভগুলোর মধ্যে অত্যন্ত স্পষ্টভাবে ফুটে উঠেছে... প্রথম স্তম্ভ হলো: এই সাক্ষ্য দেওয়া যে আল্লাহ ছাড়া কোনো সত্য উপাস্য নেই এবং মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আল্লাহর রাসূল। তাওহীদের আকিদাই হলো পূর্ব থেকে পশ্চিম পর্যন্ত বিস্তৃত বিশ্বের সকল মুসলিমকে ঐক্যবদ্ধ করার সবচেয়ে বড় মাধ্যম, কারণ এই বাক্যটি প্রত্যেক মুসলিম—চাই সে আরব হোক বা অনারব—উচ্চারণ করে থাকে।
আকিদাগত ঐক্যের মাধ্যমেই জামাআতের বা দলের ঐক্য অর্জিত হয়। যখনই আকিদা বিশুদ্ধ, স্বচ্ছ ও সঠিক হবে, তখনই জামাআত সুসংহত ও সুসংবদ্ধ হবে। কিন্তু যদি আকিদাতে মতবিরোধ দেখা দেয়, তবে জামাআতের মাঝেও মতভেদ ও বিচ্ছিন্নতা দেখা দেয়। তদুপরি, আকিদাগত ঐক্য ও জামাআতের ঐক্য এমন বিষয় যা আল্লাহ আমাদের জন্য পছন্দ করেছেন। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে বর্ণিত হাদীসে তিনি বলেন: "নিশ্চয়ই আল্লাহ তোমাদের জন্য তিনটি বিষয় পছন্দ করেন এবং তিনটি বিষয় অপছন্দ করেন। তিনি পছন্দ করেন যে, তোমরা কেবল তাঁরই ইবাদত করবে এবং তাঁর সাথে কোনো কিছুকে শরিক করবে না, তোমরা সকলে মিলে আল্লাহর রজ্জুকে শক্তভাবে আঁকড়ে ধরবে এবং পরস্পর বিচ্ছিন্ন হবে না। আর তিনি তোমাদের জন্য ‘কথার পিঠে কথা’ (অহেতুক কথা), অধিক হারে প্রশ্ন করা এবং সম্পদ বিনষ্ট করা অপছন্দ করেন।" (৩) এখানে তিনি আল্লাহর তাওহীদের ওপর ভিত্তি করে আকিদাগত ঐক্য এবং আল্লাহর রজ্জুকে আঁকড়ে ধরার ওপর ভিত্তি করে জামাআতের ঐক্যের মধ্যে সমন্বয় ঘটিয়েছেন।
দ্বিতীয় স্তম্ভ অর্থাৎ পাঁচ ওয়াক্ত ফরয সালাত হলো মুসলিমদের মধ্যে ঐক্যের এক সর্বোত্তম দৃষ্টান্ত; যা তাদের সালাতের সংখ্যা, রোকন, শর্ত এবং পদ্ধতির অভিন্নতার মাধ্যমে মুসলিমদের ঐক্যবদ্ধ করে এবং যার ওপর তারা একত্র হয়। সালাতের মাধ্যমেই মুসলিম ও কাফিরের মাঝে পার্থক্য করা যায়, কেননা এটি দ্বীনের স্তম্ভ। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে বর্ণিত হাদীসে তিনি বলেন: "আমাদের ও তাদের মধ্যে যে অঙ্গীকার রয়েছে তা হলো সালাত; সুতরাং যে ব্যক্তি সালাত ত্যাগ করল সে কুফরি করল।" (৪) অধিকন্তু, মসজিদে জামাআতের সাথে সালাত আদায়ের মধ্যে এক ইমামের পেছনে এক স্থানে একই কর্ম সম্পাদনে শরীরসমূহের একত্রিত হওয়ার মাধ্যমে অন্তরসমূহের প্রীতি এবং জামাআতের ঐক্যের এক স্পষ্ট উদাহরণ বিদ্যমান। এ কারণেই সালাতের কাতার সোজা করার এবং প্রথম কাতার থেকে ক্রমানুসারে পূর্ণ করার নির্দেশ এসেছে। সালাতে কাতারের বিশৃঙ্খলা যে অন্তরসমূহের বৈরিতা ও মনের অমিলের কারণ, সেদিকে ইঙ্গিত করে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন: "তোমরা সোজা হয়ে দাঁড়াও এবং আঁকাবাঁকা হয়ো না, অন্যথায় তোমাদের অন্তরসমূহে বিভেদ সৃষ্টি হবে।" (৫) অর্থাৎ: যদি তোমাদের কেউ কাতারে অন্যের আগে বা পরে অবস্থান করে, তবে তোমাদের অন্তরে এর প্রভাব পড়বে এবং তোমাদের মধ্যে মতভেদ তৈরি হবে। এরই প্রেক্ষিতে অন্য হাদীসে এসেছে: "তোমরা অবশ্যই তোমাদের কাতারগুলো সোজা করবে, অন্যথায় আল্লাহ তোমাদের চেহারাগুলোর মধ্যে বিরোধ সৃষ্টি করে দেবেন।" (৬) এর অর্থ হলো তাদের একেকজন অন্যের থেকে মুখ ফিরিয়ে নেবে এবং তাদের মধ্যে পারস্পরিক ঘৃণা সৃষ্টি হবে। কারণ একজনের চেহারার দিকে অন্যজনের মুখ ফেরানো বা সম্মুখবর্তী হওয়া ভালোবাসা ও হৃদ্যতার ফল। (৭)
--------------------------------------------
(খণ্ড: ١)
মাওসূআতুল ফিরাকিল মুনতাসিবাহ লিল ইসলাম
(পৃষ্ঠা: ٢٠)
ولقد عاب الله سبحانه على الذين اتخذوا مسجدا ضراراً في عهد رسول الله صلى الله عليه وسلم إذ كان مقصدهم التفريق بين جماعة المسلمين فقال الله عنهم: وَالَّذِينَ اتَّخَذُواْ مَسْجِدًا ضِرَارًا وَكُفْرًا وَتَفْرِيقًا بَيْنَ الْمُؤْمِنِينَ وَإِرْصَادًا لِّمَنْ حَارَبَ اللهَ وَرَسُولَهُ مِن قَبْلُ وَلَيَحْلِفَنَّ إِنْ أَرَدْنَا إِلَاّ الْحُسْنَى وَاللهُ يَشْهَدُ إِنَّهُمْ لَكَاذِبُونَ [التوبة: 107] قال الإمام أبو عبدالله محمد القرطبي: " قوله: وَتَفْرِيقًا بَيْنَ الْمُؤْمِنِينَ أي يفرقون به جماعتهم ليتخلف أقوام عن النبي صلى الله عليه وسلم. وهنا يدلك على أن المقصد الأكبر والغرض الأظهر من وضع الجماعة تأليف القلوب والكلمة على الطاعة وعقد الذمام والحرمة بفعل الديانة حتى يقع الأنس بالمخالطة وتصفوا القلوب من وضر الأحقاد (1)
وهذا التكاتف والتآلف يتضح أيضا في الركن الثالث من أركان الإسلام وهو الزكاة التي تزكي نفوس أبناء المجتمع المسلم قبل أموالهم تزكيهم غنيهم وفقيرهم وتطهرها تطهر الأغنياء من الجشع والبخل والشح إذ يبذل هذا المال للفقراء حقا مشروعا لهم وتطهر الفقراء من الحقد والحسد الذي قد ينتاب بعض النفوس المحرومة حينما ترى غيرها من الأغنياء في نعمة ورخاء.
أما الركن الرابع من أركان الإسلام فهو الصوم فالشهر الواحد الذي يصومه المسلمون في أوقات واحدة: من النهار إلى الليل وامتناعهم عن المفطرات ذاتها وتخلقهم بما حثهم الإسلام عليه حال صومهم ثم تتوجهم هذه الوحدة في هذه العبادة بأداء عبادة أخرى تعطي أنموذجا فريدا للتكافل الاجتماعي في البناء المسلم ووحدة أبنائه وتعاضدهم بأداء زكاة الفطر ليشترك الجميع بأداء صلاة العيد ويشتركون في الفرح بفضل الله ونعمته عليهم بإتمام صوم شهرهم والأغنياء والفقراء في ذلك اليوم عندهم قوت يومهم.
كل ذلك حرصا على قيام الجماعة المسلمة على أساس الألفة والمحبة وسدا لباب الضغينة والحقد والحسد والشح الذي يفرق الجماعة ويفتك بالأمة.
والركن الخامس في هذا الدين العظيم: شعيرة الحج إلى البيت الحرام قال تعالى: ِ وَأَذِّن فِي النَّاسِ بِالْحَجِّ يَأْتُوكَ رِجَالاً وَعَلَى كُلِّ ضَامِرٍ يَأْتِينَ مِن كُلِّ فَجٍّ عَمِيقٍ لِيَشْهَدُوا مَنَافِعَ لَهُمْ وَيَذْكُرُوا اسْمَ اللَّهِ فِي أَيَّامٍ مَّعْلُومَاتٍ عَلَى مَا رَزَقَهُم مِّن بَهِيمَةِ الأَنْعَامِ فَكُلُوا مِنْهَا وَأَطْعِمُوا الْبَائِسَ الْفَقِيرَ ثُمَّ لْيَقْضُوا تَفَثَهُمْ وَلْيُوفُوا نُذُورَهُمْ وَلْيَطَّوَّفُوا بِالْبَيْتِ الْعَتِيقِ [الحج: 27 ـ 29] فمن بداية الحج تظهر الوحدة جلية بين المسلمين في وحدة اللباس: لباس الإحرام ووحدة القول: التلبية بالإحرام، والمكان: البيت الحرام ووحدة الفعل: من الطواف بالبيت والتنفل في مشاعر الحج ووحدة بذل المال والعطاء: من تقديم الهدي وهم في ذلك كله موحدون لله عز وجل مخلصون له العمل متجهون إليه لا يقصدون أحدا سواه سبحانه. وهذه الآيات في سورة الحج التي عرضت لشعائر الحج وبضع أحكامه ذكرت بالتوحيد في أوله وفي ثناياه وفي خاتمته (2) لتؤكد أن وحدة العمل ووحدة الجماعة لا تكون إلا بوحدة المعتقد بتوحيد الله رب العالمين.
هذه إشارات لما في أركان الإسلام من تحقيق الوحدة والحرص على تحقيق الجماعة بين المسلمين.
--------------------------------------------
নিশ্চয়ই মহান আল্লাহ তাদের নিন্দা করেছেন যারা রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের যুগে মসজিদে দিরার (ক্ষতিকারক মসজিদ) নির্মাণ করেছিল, যেহেতু তাদের উদ্দেশ্য ছিল মুসলিম জামাতের মধ্যে বিভেদ সৃষ্টি করা। আল্লাহ তাদের সম্পর্কে বলেছেন: "আর যারা একটি মসজিদ নির্মাণ করেছে ক্ষতিসাধন, কুফরি ও মুমিনদের মধ্যে বিভেদ সৃষ্টির উদ্দেশ্যে এবং ইতিপূর্বে যারা আল্লাহ ও তাঁর রাসুলের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করেছে তাদের গোপন আস্তানা হিসেবে ব্যবহারের জন্য; তারা অবশ্যই শপথ করে বলবে যে, আমরা তো কেবল কল্যাণই চেয়েছি। আর আল্লাহ সাক্ষ্য দিচ্ছেন যে, তারা অবশ্যই মিথ্যাবাদী।" [আত-তাওবাহ: ১০৭]। ইমাম আবু আব্দুল্লাহ মুহাম্মদ আল-কুরতুবী বলেন: "তাঁর বাণী: 'মুমিনদের মধ্যে বিভেদ সৃষ্টির জন্য' অর্থাৎ এর মাধ্যমে তারা তাদের জামাতকে বিচ্ছিন্ন করতে চেয়েছিল যাতে একদল লোক নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে পৃথক হয়ে যায়। আর এটি আপনাকে নির্দেশ করে যে, জামাত বা ঐক্যবদ্ধ হওয়ার সর্ববৃহৎ উদ্দেশ্য ও সুষ্পষ্ট লক্ষ্য হলো আনুগত্যের ভিত্তিতে অন্তর ও বক্তব্যকে ঐক্যবদ্ধ করা এবং দ্বীনি আমলের মাধ্যমে নিরাপত্তা ও মর্যাদা নিশ্চিত করা, যাতে পারস্পরিক মেলামেশার মাধ্যমে সখ্যতা তৈরি হয় এবং বিদ্বেষের পঙ্কিলতা থেকে অন্তরসমূহ পরিচ্ছন্ন হয়।" (১)
আর এই সংহতি ও সখ্যতা ইসলামের তৃতীয় রোকন তথা যাকাতের মধ্যেও সুষ্পষ্ট হয়, যা মুসলিম সমাজের সদস্যদের সম্পদের পূর্বে তাদের নফস বা আত্মাকে পবিত্র করে। এটি ধনী-দরিদ্র উভয়ের আত্মাLineকেই পবিত্র করে; ধনীদের আত্মাকে লোভ, কৃপণতা ও লালসা থেকে পবিত্র করে, কারণ তারা এই সম্পদকে দরিদ্রদের শরিয়তসম্মত পাওনা হিসেবে প্রদান করে। আবার এটি দরিদ্রদের অন্তরকে সেই বিদ্বেষ ও হিংসা থেকে পবিত্র করে যা অনেক সময় বঞ্চিতদের মনে দানা বাঁধে যখন তারা ধনীদের নেয়ামত ও সচ্ছলতার মধ্যে দেখতে পায়।
আর ইসলামের চতুর্থ রোকন হলো রোজা। যে একটি মাস মুসলিমরা একই সময়ে রোজা রাখে—দিন থেকে রাত পর্যন্ত, একই ধরনের পানাহার বর্জন করে এবং রোজাবস্থায় ইসলাম যে উন্নত চরিত্রের নির্দেশ দিয়েছে তা ধারণ করে। অতঃপর এই ইবাদতে তাদের এই ঐক্য আরেকটি ইবাদত পালনের মাধ্যমে পূর্ণতা পায়, যা মুসলিম সমাজে সামাজিক সংহতি এবং এর সদস্যদের ঐক্য ও পারস্পরিক সহযোগিতার এক অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করে। আর তা হলো সাদাকাতুল ফিতর আদায় করা, যাতে সবাই মিলে ঈদুল ফিতরের নামাজে শরিক হতে পারে এবং আল্লাহর অনুগ্রহ ও নেয়ামতে আনন্দিত হতে পারে যে তিনি তাদের মাসের রোজা পূর্ণ করার তাওফিক দিয়েছেন। সেই দিনে ধনী ও দরিদ্র উভয়ের নিকট অন্তত একদিনের খাবার মজুদ থাকে।
এই সবকিছুর লক্ষ্য হলো সখ্যতা ও ভালোবাসার ভিত্তিতে মুসলিম জামাতকে প্রতিষ্ঠা করা এবং বিদ্বেষ, ঘৃণা, হিংসা ও কৃপণতার পথ রুদ্ধ করা, যা জামাতকে বিচ্ছিন্ন করে দেয় এবং উম্মতকে ধ্বংসের মুখে ঠেলে দেয়।
আর এই মহান দ্বীনের পঞ্চম রোকন হলো পবিত্র ঘরে হজের বিধান। মহান আল্লাহ বলেন: "আর মানুষের মধ্যে হজের ঘোষণা দাও; তারা তোমার কাছে আসবে পায়ে হেঁটে এবং সব ধরনের কৃশ উটের পিঠে সওয়ার হয়ে, তারা আসবে দূর-দূরান্তের গভীর পথ অতিক্রম করে। যাতে তারা তাদের কল্যাণের স্থানগুলোতে উপস্থিত হতে পারে এবং নির্দিষ্ট দিনগুলোতে আল্লাহর নাম স্মরণ করতে পারে সেই সব পশুদের ওপর যা তিনি তাদের রিজিক হিসেবে দিয়েছেন। অতঃপর তোমরা তা থেকে আহার করো এবং দুস্থ-দরিদ্রকে আহার করাও। এরপর তারা যেন তাদের অপরিচ্ছন্নতা দূর করে, তাদের মানত পূর্ণ করে এবং প্রাচীন ঘরের (কাবা) তাওয়াফ করে।" [আল-হাজ: ২৭-২৯]। হজের শুরু থেকেই পোশাকের ঐক্যের মাধ্যমে মুসলিমদের মধ্যে ঐক্য স্পষ্টভাবে ফুটে ওঠে: ইহরামের পোশাক, বাণীর ঐক্য: ইহরামের তালবিয়া, স্থানের ঐক্য: পবিত্র বাইতুল্লাহ, এবং কর্মের ঐক্য: বাইতুল্লাহর তাওয়াফ করা, হজের স্থানসমূহে নফল ইবাদত করা এবং সম্পদ ব্যয়ের ঐক্য: হাদী (কুরবানি) পেশ করার মাধ্যমে। এই সবকিছুর মাধ্যমে তারা মহান আল্লাহর একত্ববাদ ঘোষণা করে, তাঁরই জন্য একনিষ্ঠভাবে আমল করে এবং তাঁর দিকেই রুজু হয়; তারা মহান আল্লাহ ব্যতীত আর কারো উদ্দেশ্য পোষণ করে না। সূরা হজের এই আয়াতগুলো—যেখানে হজের বিধান ও কিছু হুকুম বর্ণিত হয়েছে—তা এর শুরুতে, মাঝে এবং শেষে তাওহীদের কথা স্মরণ করিয়ে দিয়েছে (২), যাতে এটি নিশ্চিত হয় যে আমলের ঐক্য ও জামাতের ঐক্য আল্লাহর তাওহীদের ওপর ভিত্তি করে আকিদার ঐক্য ছাড়া সম্ভব নয়।
এগুলো ইসলামের রোকনসমূহে বিদ্যমান ঐক্যের প্রতিফলন এবং মুসলিমদের মাঝে জামাতবদ্ধ থাকার গুরুত্বের প্রতি কিছু ইঙ্গিত।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ١)
মাওসূআতুল ফিরাকিল মুনতাসিবাহ লিল ইসলাম
(পৃষ্ঠা: ٢١)
ولو نظرنا إلى جانب آخر من جوانب هذا الدين العظيم والذي نعمل على تأصيل مبدأ الجماعة والتحذير من الفرقة لوجدنا ذلك في حثه على إقامة الأخوة بين المسلمين على أساس رابط الإيمان بالله وحثه على القيام بواجب هذه الأخوة وأداء حقوقها يقول الله تعالى: وَالْمُؤْمِنُونَ وَالْمُؤْمِنَاتُ بَعْضُهُمْ أَوْلِيَاء بَعْضٍ يَأْمُرُونَ بِالْمَعْرُوفِ وَيَنْهَوْنَ عَنِ الْمُنكَرِ وَيُقِيمُونَ الصَّلَاةَ وَيُؤْتُونَ الزَّكَاةَ وَيُطِيعُونَ اللهَ وَرَسُولَهُ أُوْلَئِكَ سَيَرْحَمُهُمُ اللهُ إِنَّ اللهَ عَزِيزٌ حَكِيمٌ [التوبة: 71].ففي هذه الآية بين الله عز وجل أن أساس الجماعة وسبب الاجتماع هو الإيمان ورباط الأخوة الإيمانية: الأخوة في الدين أعظم رباط وعلى أساسه يكون الولاء أو البراء، فقوله تعالى: وَالْمُؤْمِنُونَ وَالْمُؤْمِنَاتُ بَعْضُهُمْ أَوْلِيَاء بَعْضٍ أي: يوالي بعضهم بعضا فهم يد واحد يأمرون بالإيمان وينهون عن الكفر (1) ويبين الإمام إسماعيل بن كثير رحمه الله أن الولاية بين المؤمنين في هذه الآية هي النصرة والتعاضد فيقول: وَالْمُؤْمِنُونَ وَالْمُؤْمِنَاتُ بَعْضُهُمْ أَوْلِيَاء بَعْضٍ أي: يتناصرون ويتاضدون كما جاء في (الصحيح): ((المؤمن للمؤمن كالبنيان يشد بعضه بعضا)) وشبك بين أصابعه (2) وفي (الصحيح) أيضاً: ((مثل المؤمنين في توادهم وتراحمهم كمثل الجسد الواحد إذا اشتكى منه عضو تداعى له سائر الجسد بالحمى والسهر)) (3) (4) ويضيف العلامة محمد الشوكاني رحمه الله معنى آخر للولاية بين المؤمنين وهي محبة المؤمن لأخيه المؤمن فيقول: قوله بَعْضُهُمْ أَوْلِيَاء بَعْضٍ أي: قلوبهم متحدة في التوادد والتحابب والتعاطف بسبب ما جمعهم من أمر الدين وضمهم من الإيمان (5)
بهذا تكون الجماعة وبهذا يتحقق الاتحاد في الأمة حينما تتناصر وتتعاضد وتكون يدا واحدة حينما تجتمع القلوب وتتعاطف على أساس قوي ورابط أبدي على أساس الإيمان بالله تعالى الذي لا تؤثر عليه دنيا ولا يغيره عرض زائل عندها تستحق الأمة العلو والسيادة والريادة. ويبين عبدالله بن عباس ويؤكد أن الولاء والبراء لا بد أن يقوم على أساس الإيمان بالله تعالى فيقول: أحب في الله وأبغض في الله ووال في الله وعاد في الله فإنما تنال ولاية الله بذلك ولن يجد عبد حلاوة الإيمان وإن كثر صلاته وصيامه حتى يكون كذلك، وقد صارت مؤاخاة الناس اليوم أو عامتهم في الدنيا وذلك لا يجزئ عن أهله شيئا (6)
--------------------------------------------
যদি আমরা এই মহান দ্বীনের অন্য একটি দিকের প্রতি দৃষ্টিপাত করি, যার মাধ্যমে আমরা জামায়াত বা ঐক্যবদ্ধ থাকার মূলনীতি প্রতিষ্ঠা এবং অনৈক্য ও বিচ্ছিন্নতা সম্পর্কে সতর্ক করার কাজ করছি, তবে আমরা তা দেখতে পাব মুসলিমদের মধ্যে আল্লাহর প্রতি ঈমানের বন্ধনের ভিত্তিতে ভ্রাতৃত্ব স্থাপনে এবং এই ভ্রাতৃত্বের আবশ্যিক কর্তব্য পালন ও এর অধিকারসমূহ আদায়ের ব্যাপারে এর উৎসাহ প্রদানের মধ্যে। আল্লাহ তাআলা বলেন: "আর মুমিন পুরুষ ও মুমিন নারীরা একে অপরের বন্ধু, তারা সৎকাজের আদেশ দেয় ও অসৎকাজে নিষেধ করে, সালাত কায়েম করে, জাকাত প্রদান করে এবং আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের আনুগত্য করে; এদেরকেই আল্লাহ শীঘ্রই দয়া করবেন। নিশ্চয় আল্লাহ পরাক্রমশালী, প্রজ্ঞাময়" [আত-তাওবা: ৭১]। এই আয়াতে মহান আল্লাহ স্পষ্ট করেছেন যে, জামায়াত বা ঐক্যের ভিত্তি এবং একত্রিত হওয়ার কারণ হলো ঈমান ও ঈমানি ভ্রাতৃত্বের বন্ধন। দ্বীনি ভ্রাতৃত্ব হলো সর্বশ্রেষ্ঠ বন্ধন এবং এর ওপর ভিত্তি করেই 'ওয়ালা' (বন্ধুত্ব) ও 'বারা' (বিচ্ছিন্নতা) নির্ধারিত হয়। মহান আল্লাহর বাণী: "আর মুমিন পুরুষ ও মুমিন নারীরা একে অপরের বন্ধু" অর্থাৎ: তারা একে অপরের বন্ধু ও সহযোগী, ফলে তারা এক হাতের মতো যারা ঈমানের আদেশ দেয় এবং কুফর থেকে নিষেধ করে (১)। ইমাম ইসমাইল বিন কাসির (রাহিমাহুল্লাহ) স্পষ্ট করেছেন যে, এই আয়াতে মুমিনদের মধ্যকার 'ওয়ালায়াত' (বন্ধুত্ব) হলো সাহায্য ও পারস্পরিক সহযোগিতা। তিনি বলেন: "আর মুমিন পুরুষ ও মুমিন নারীরা একে অপরের বন্ধু" অর্থাৎ: তারা একে অপরকে সাহায্য ও সহযোগিতা করে, যেমনটি 'সহিহ' গ্রন্থে এসেছে: "এক মুমিন অপর মুমিনের জন্য ইমারত স্বরূপ, যার এক অংশ অপর অংশকে শক্তিশালী করে" এবং তিনি স্বীয় হাতের আঙুলগুলো একটির ভেতর অন্যটি প্রবেশ করালেন (২)। 'সহিহ' গ্রন্থে আরও এসেছে: "মুমিনদের পারস্পরিক ভালোবাসা, দয়া ও সহমর্মিতার উদাহরণ একটি দেহের মতো, যখন দেহের কোনো অঙ্গ ব্যথিত হয়, তখন পুরো শরীর জ্বর ও অনিদ্রায় তার সাথে শরিক হয়" (৩) (৪)। আল্লামা মুহাম্মদ আশ-শাওকানি (রাহিমাহুল্লাহ) মুমিনদের মধ্যকার বন্ধুত্বের আরেকটি অর্থ যোগ করেছেন, যা হলো এক মুমিনের প্রতি অপর মুমিনের ভালোবাসা। তিনি বলেন: তাঁর বাণী "একে অপরের বন্ধু" অর্থাৎ: দ্বীনি বিষয় ও ঈমানের বন্ধন তাদের একত্রিত করার কারণে তাদের অন্তরসমূহ সৌহার্দ্য, ভালোবাসা ও সহমর্মিতায় একীভূত (৫)।
এভাবেই জামায়াত বা ঐক্য গঠিত হয় এবং উম্মাহর মধ্যে একতা অর্জিত হয় যখন তারা একে অপরকে সাহায্য ও সহযোগিতা করে এবং এক হাতের মতো হয়ে যায়, যখন আল্লাহর প্রতি ঈমানের শক্তিশালী ভিত্তি এবং চিরন্তন বন্ধনের ওপর ভিত্তি করে অন্তরসমূহ একত্রিত ও সমব্যথী হয়—এমন এক ভিত্তি যার ওপর দুনিয়া কোনো প্রভাব ফেলে না এবং ক্ষণস্থায়ী বস্তু যাকে পরিবর্তন করতে পারে না। তখন উম্মাহ শ্রেষ্ঠত্ব, কর্তৃত্ব ও নেতৃত্বের যোগ্য হয়। আবদুল্লাহ বিন আব্বাস বর্ণনা করেন এবং জোর দিয়ে বলেন যে, 'ওয়ালা' ও 'বারা' অবশ্যই আল্লাহর প্রতি ঈমানের ভিত্তিতে হতে হবে। তিনি বলেন: আল্লাহর জন্য ভালোবাসো, আল্লাহর জন্য ঘৃণা করো, আল্লাহর জন্য বন্ধুত্ব করো এবং আল্লাহর জন্য শত্রুতা করো; কারণ এর মাধ্যমেই আল্লাহর বন্ধুত্ব লাভ করা যায়। আর বান্দা ঈমানের স্বাদ আস্বাদন করতে পারবে না, যদিও তার সালাত ও সিয়াম অধিক হয়, যতক্ষণ না সে এরূপ হয়। বর্তমানকালে মানুষের ভ্রাতৃত্ব বা তাদের অধিকাংশের বন্ধুত্ব গড়ে ওঠে পার্থিব স্বার্থের ওপর, যা এর অধিকারীদের কোনো উপকারে আসবে না (৬)
--------------------------------------------
(খণ্ড: ١)
মাওসূআতুল ফিরাকিল মুনতাসিবাহ লিল ইসলাম
(পৃষ্ঠা: ٢٢)
ويؤكد المولى الكريم سبحانه على الأخوة الإيمانية بين المؤمنين والتي بها يسد كل باب يؤدي إلى الاختلاف والفرقة ومن خلالها يلتئم شمل الجماعة وتعم الألفة والمحبة فيقول عز من قائل: إِنَّمَا الْمُؤْمِنُونَ إِخْوَةٌ فَأَصْلِحُوا بَيْنَ أَخَوَيْكُمْ وَاتَّقُوا اللَّهَ لَعَلَّكُمْ تُرْحَمُونَ [الحجرات: 10] يقول الشيخ عبدالرحمن السعدي عن قوله تعالى: إِنَّمَا الْمُؤْمِنُونَ يقول: هذا عقد عقده الله بين المؤمنين أنه إذا وجد من أي شخص كان في مشرق الأرض ومغربها الإيمان بالله وملائكته وكتبه ورسله واليوم الآخر إنه أخ للمؤمنين أخوة توجب أن يحب له المؤمنين ما يحبون لأنفسهم ويكرهوا له ما يكرهون لأنفسهم. (1)
وحرصا على هذه الرابطة المهمة بين المسلمين أمر بالإصلاح بين المسلمين لو طرأ على هذه الرابطة ما يوهنها أو يوجب تفرقها لذلك قال: فَأَصْلِحُوا بَيْنَ أَخَوَيْكُمْ ثم يؤكد الله عز وجل رابطة الأخوة الإيمانية السابقة بأن ينهى عن الأسباب التي تؤدي إلى إضعافها من سلوكيات خاطئة تؤثر سلبا على المجتمع المسلم والتي من شأنها أن توغر القلوب وتحرك الضغائن في النفوس فتتفرق القلوب وتهتز هذه الأخوة الإيمانية وتضطرب لذلك قال سبحانه بعد الآية السابقة: يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا لا يَسْخَرْ قَومٌ مِّن قَوْمٍ عَسَى أَن يَكُونُوا خَيْرًا مِّنْهُمْ وَلا نِسَاء مِّن نِّسَاء عَسَى أَن يَكُنَّ خَيْرًا مِّنْهُنَّ وَلا تَلْمِزُوا أَنفُسَكُمْ وَلا تَنَابَزُوا بِالأَلْقَابِ بِئْسَ الاِسْمُ الْفُسُوقُ بَعْدَ الإِيمَانِ وَمَن لَّمْ يَتُبْ فَأُوْلَئِكَ هُمُ الظَّالِمُونَ يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا اجْتَنِبُوا كَثِيرًا مِّنَ الظَّنِّ إِنَّ بَعْضَ الظَّنِّ إِثْمٌ وَلا تَجَسَّسُوا وَلا يَغْتَب بَّعْضُكُم بَعْضًا أَيُحِبُّ أَحَدُكُمْ أَن يَأْكُلَ لَحْمَ أَخِيهِ مَيْتًا فَكَرِهْتُمُوهُ وَاتَّقُوا اللَّهَ إِنَّ اللَّهَ تَوَّابٌ رَّحِيمٌ [الحجرات:11 - 12] وفي الحديث عن رسول الله صلى الله عليه وسلم: ((إياكم والظن فإن الظن أكذب الحديث ولا تحسسوا ولا تجسسوا ولا تناجشوا ولا تحاسدوا ولا تباغضوا ولا تدابروا وكونوا عباد الله إخوانا)) (2)
يقول الحافظ أحمد بن حجر رحمه الله عن قوله: ((وكونوا عباد الله إخوانا)) هذا الجملة تشبه التعليل لما تقدم كأنه قال: إذا تركتم هذه المنهيات كنتم إخوانا، ومفهومه إذا لم تتركوها تصيروا أعداء ومعنى كونوا إخوانا: اكتسبوا ما تصيرون به إخوانا مما سبق ذكره وغير ذلك من الأمور المقتضية لذلك إثباتا ونفيا. وقوله: عباد الله: أي يا عباد الله بحذف حرف النداء وفيه إشارة إلى أنكم عبيد الله فحقكم أن تتواخوا بذلك، قال القرطبي: المعنى كونوا كإخوان النسب في الشفقة والرحمة والمحبة والمواساة والمعاونة والنصيحة (3)
--------------------------------------------
মহান দয়াময় আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআলা মুমিনদের মধ্যে ঈমানি ভ্রাতৃত্বের ওপর জোর দিয়েছেন, যার মাধ্যমে মতভেদ ও বিভক্তির প্রতিটি পথ বন্ধ হয়ে যায় এবং এর মাধ্যমে জামাআতের সংহতি পুনর্স্থাপিত হয় এবং সম্প্রীতি ও ভালোবাসা ছড়িয়ে পড়ে। সেই মহান সত্তা বলেন: মুমিনরা তো পরস্পর ভাই ভাই; অতএব তোমরা তোমাদের দুই ভাইয়ের মধ্যে আপস-নিষ্পত্তি করে দাও এবং আল্লাহকে ভয় করো, যাতে তোমরা অনুগ্রহপ্রাপ্ত হও। [হুজুরাত: ১০] শায়খ আবদুর রহমান আস-সাদী মহান আল্লাহর বাণী: "মুমিনরা তো পরস্পর ভাই ভাই" প্রসঙ্গে বলেন: এটি এমন এক চুক্তি যা আল্লাহ মুমিনদের মধ্যে সম্পাদন করেছেন। পৃথিবীর পূর্ব বা পশ্চিম প্রান্তে অবস্থিত যে কোনো ব্যক্তির মধ্যে যখন আল্লাহ, তাঁর ফেরেশতাকুল, তাঁর কিতাবসমূহ, তাঁর রাসূলগণ এবং পরকালের প্রতি ঈমান পাওয়া যাবে, তখন সে মুমিনদের ভাই হিসেবে গণ্য হবে। এই ভ্রাতৃত্ব দাবি করে যে, মুমিনরা তার জন্য তাই পছন্দ করবে যা তারা নিজেদের জন্য পছন্দ করে এবং তার জন্য তা অপছন্দ করবে যা তারা নিজেদের জন্য অপছন্দ করে। (১)
মুসলমানদের মধ্যকার এই গুরুত্বপূর্ণ সম্পর্কের সুরক্ষায় তিনি মুসলমানদের মধ্যে আপস-নিষ্পত্তি করার নির্দেশ দিয়েছেন, যদি এই সম্পর্কে এমন কিছু দেখা দেয় যা একে দুর্বল করে দেয় বা বিচ্ছেদের কারণ হয়। এজন্য তিনি বলেছেন: অতএব তোমরা তোমাদের দুই ভাইয়ের মধ্যে আপস-নিষ্পত্তি করে দাও। অতঃপর আল্লাহ আযযা ওয়া জাল্লা পূর্বোক্ত ঈমানি ভ্রাতৃত্বের বন্ধনকে আরও সুদৃঢ় করেছেন সেই সব কারণসমূহ নিষিদ্ধ করার মাধ্যমে যা একে দুর্বল করে দেয়। এর মধ্যে রয়েছে ভুল আচরণসমূহ যা মুসলিম সমাজের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলে এবং যা অন্তরে বিদ্বেষ সৃষ্টি করে ও মনে শত্রুতা জাগিয়ে তোলে, ফলে হৃদয়গুলো বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে এবং এই ঈমানি ভ্রাতৃত্ব কেঁপে ওঠে ও বিপর্যস্ত হয়। তাই সেই মহান সত্তা পূর্ববর্তী আয়াতের পর বলেছেন: হে মুমিনগণ, কোনো সম্প্রদায় যেন অন্য কোনো সম্প্রদায়কে বিদ্রূপ না করে; হতে পারে তারা তাদের চেয়ে উত্তম। আর কোনো নারী যেন অন্য কোনো নারীকে বিদ্রূপ না করে; হতে পারে তারা তাদের চেয়ে উত্তম। তোমরা একে অপরের প্রতি দোষারোপ করো না এবং তোমরা একে অপরকে মন্দ নামে ডেকো না। ঈমান গ্রহণের পর মন্দ নামে ডাকা কতই না নিকৃষ্ট! যারা তাওবাহ করে না তারাই তো যালিম। হে মুমিনগণ, তোমরা অধিক অনুমান থেকে বেঁচে থাকো; নিশ্চয় কোনো কোনো অনুমান পাপ। আর তোমরা একে অপরের গোপনীয়তা অনুসন্ধান করো না এবং একে অপরের গীবত করো না। তোমাদের মধ্যে কি কেউ তার মৃত ভাইয়ের গোশত খেতে পছন্দ করবে? তোমরা তো তা অপছন্দই করো। তোমরা আল্লাহকে ভয় করো; নিশ্চয় আল্লাহ তাওবাহ কবুলকারী, পরম দয়ালু। [হুজুরাত: ১১ - ১২] রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে বর্ণিত হাদিসে এসেছে: ((তোমরা অনুমান থেকে বেঁচে থাকো, কারণ অনুমান সবচেয়ে বড় মিথ্যা কথা। তোমরা কারও ছিদ্রান্বেষণ করো না, কারও গোপনীয়তা অনুসন্ধান করো না, কেনা-বেচার দরে ধোঁকাবাজি করো না, একে অপরের প্রতি হিংসা করো না, একে অপরের প্রতি বিদ্বেষ পোষণ করো না এবং একে অপরের প্রতি পৃষ্ঠপ্রদর্শন করো না। বরং হে আল্লাহর বান্দারা! তোমরা ভাই ভাই হয়ে থাকো।)) (২)
হাফেজ আহমদ ইবনে হাজার রহিমাহুল্লাহ "হে আল্লাহর বান্দারা! তোমরা ভাই ভাই হয়ে থাকো" এই উক্তি সম্পর্কে বলেন: এই বাক্যটি পূর্ববর্তী নির্দেশের কারণ বর্ণনার সদৃশ, যেন তিনি বলেছেন: যদি তোমরা এই নিষিদ্ধ বিষয়গুলো ত্যাগ করো, তবেই তোমরা ভাই হতে পারবে। এর মর্মার্থ হলো, যদি তোমরা এগুলো ত্যাগ না করো, তবে তোমরা একে অপরের শত্রু হয়ে যাবে। "ভাই ভাই হয়ে থাকো" এর অর্থ হলো: সেই সব গুণাবলি অর্জন করো যার মাধ্যমে তোমরা ভাই হতে পারবে, যা পূর্বে উল্লেখ করা হয়েছে এবং এ ছাড়া অন্যান্য বিষয় যা ইতিবাচক বা নেতিবাচকভাবে ভ্রাতৃত্বের দাবি পূরণ করে। আর "হে আল্লাহর বান্দারা" কথাটিতে সম্বোধনসূচক অব্যয় উহ্য রয়েছে, এতে ইঙ্গিত রয়েছে যে তোমরা আল্লাহর গোলাম, তাই তোমাদের উচিত এই কারণে ভ্রাতৃত্বের বন্ধনে আবদ্ধ হওয়া। আল-কুরতুবী বলেন: এর অর্থ হলো দয়া, মমতা, ভালোবাসা, সমবেদনা, সহযোগিতা ও নসিহতের ক্ষেত্রে রক্তের সম্পর্কের ভাইদের মতো হয়ে যাও। (৩)
--------------------------------------------
(খণ্ড: ١)
মাওসূআতুল ফিরাকিল মুনতাসিবাহ লিল ইসলাম
(পৃষ্ঠা: ٢٣)
ومن حرص الإسلام على الجماعة وعلى الأخوة الإيمانية وإغلاقه لباب الفرقة وسده لسلبها أنه أمر بالانتساب إلى الأسماء المشروعة ونهى عن الانتساب إلى غيرها أو رفع شعارات تدعو إلى الحزبية أو تنادي إلى القومية خاصة إذا كانت هذه الشعارات وهذه الانتماءات ترفع للعصبية والحمية التي من شأنها أن تفرق بين الجماعة المسلمة فتحل هذه الانتماءات والولاءات مكان الأخوة الإيمانية العامة الشاملة لكل مؤمن في مشارق الأرض ومغاربها. ففي الحديث أن رسول الله صلى الله عليه وسلم قال: ((
… وأنا آمركم بخمس الله أمرني بهن: السمع والطاعة والجهاد والهجرة والجماعة فإنه من فارق الجماعة قيد شبر فقد خلع ربقة الإسلام من عنقه إلا أن يرجع ومن دعا بدعوى الجاهلية فهو من جثى جهنم قالوا: يا رسول الله وإن صام وصلى؟ قال: وإن صام وصلى فادعوا الله الذي سماكم: المسلمين، المؤمنين، عباد الله)) (1) ولقد شدد الرسول صلى الله عليه وسلم على من انتمى لغير هذا الدين العظيم أو رفع شعارات أو انتماءات يتحزب لها ويوالي ويعادي عليها فهذا كله من دأب الجاهلية وعاداتها التي أمرنا بتركها والكف عنها ففي الحديث عن جابر بن عبدالله رضي الله عنهما قال: ((كنا في غزاة فكسع رجل من المهاجرين رجلا من الأنصار فقال الأنصاري: يا للأنصار وقال المهاجري: يا للمهاجرين. فسمع ذلك رسول الله صلى الله عليه وسلم فقال: ما بال دعوى جاهلية؟ قالوا: يا رسول الله كسع رجل من المهاجرين رجلا من الأنصار فقال: دعوها فإنها منتنة)) (2).
فعد رسول الله صلى الله عليه وسلم هذه الانتماءات وهذه الدعاوى من أمور الجاهلية ووصفها بالقبح والخبث مع أنهم انتسبوا رضي الله عنهم إلى أعمال صالحة ومفاخر عظيمة في دين الله: الهجرة والنصرة ومع ذلك لما كانت للعصبية وهمت أن تفرق بين المسلمين وتوقع القتال إذ أخذ كل سلاحه سماها عليه الصلاة والسلام " عوى جاهلية"
وهذه التسميات والانتماءات يختلف حكمها بحسبها وهي على ثلاثة أنحاء:
1ـ من هذه الانتسابات ما هو حسن محمود وهو الانتساب إلى اسم شرعي جاء في الكتاب أو في السنة كتسميتنا مسلمين ومؤمنين وعباد الله والمهاجرين والأنصار وكأن ينتسب الرجل إلى عمل مشروع كنسبة الرجل إلى أهل الحديث أو إلى أهل السنة فهذه تسميات وانتماءات محمودة جاء الشرع بها ومدح أهلها.
2ـ ومن هذه الانتسابات ما هو مباح كالانتساب إلى قبيلة أو مصر أو جهة لقصد التعريف فقط ويلحق به والله أعلم الانتساب إلى جهات معينة أو جماعات أو منظمات القصد منها تنظيم العمل وحسن إدارته وتوزيع الجهود لتتكامل فيما بينها لخدمة المجتمع والدعوة إلى دين الله تعالى.
3ـ ومن هذه الانتسابات ما هو مكروه أو محرم كالانتساب إلى الطرق الصوفية أو الفرق الكلامية المذمومة. ويلحق به: إذا كان الانتساب إلى اسم شرعي محمود أو انتساب إلى اسم مباح كقبيلة أو مصر لكن قصد من الانتساب الحمية والعصبية وأفضى إلى الفرقة والخلاف فهذا مذموم منهي عنه (3)
نسأل الله عز وجل أن ينعم على الأمة المسلمة بأن يؤلف بين قلوب أفرادها وأن يرحمها ويجمعها على الإيمان به تعالى إذ الجماعة نعمة من الله ورحمة والفرقة عذاب
…
المصدر:موقف الصحابة من الفرقة والفرق لأسماء السويلم - ص138 - 148
--------------------------------------------
ইসলামের জামাত বা ঐক্য এবং ঈমানি ভ্রাতৃত্বের প্রতি একাগ্রতা এবং বিভেদের পথ রুদ্ধ করার অন্যতম দিক হলো এই যে, এটি শরিয়তসম্মত নামের সাথে সম্পৃক্ত হওয়ার নির্দেশ দিয়েছে এবং অন্য কোনো নামের সাথে সম্পৃক্ত হতে বা দলীয় সংকীর্ণতা (হিজবিয়াহ) ও জাতীয়তাবাদের স্লোগান দিতে নিষেধ করেছে; বিশেষ করে যদি এই স্লোগান বা সম্বন্ধগুলো অন্ধ গোত্রপ্রীতি ও উত্তেজনার ভিত্তিতে হয় যা মুসলিম জামাতের মধ্যে বিভেদ সৃষ্টি করে। ফলে এই সম্বন্ধ ও আনুগত্যগুলো প্রতিটি মুমিনের জন্য প্রযোজ্য সাধারণ ও ব্যাপক ঈমানি ভ্রাতৃত্বের স্থলাভিষিক্ত হয়ে যায়। হাদিসে এসেছে যে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: (( ... আমি তোমাদের পাঁচটি জিনিসের নির্দেশ দিচ্ছি যেগুলোর নির্দেশ আল্লাহ আমাকে দিয়েছেন: শ্রবণ, আনুগত্য, জিহাদ, হিজরত এবং জামাত (ঐক্যবদ্ধ থাকা)। কারণ যে ব্যক্তি জামাত থেকে এক বিঘত পরিমাণ বিচ্ছিন্ন হলো, সে তার ঘাড় থেকে ইসলামের রজ্জু খুলে ফেলল, যতক্ষণ না সে ফিরে আসে। আর যে ব্যক্তি জাহেলি যুগের আহ্বান জানাল, সে জাহান্নামের ইন্ধন হবে। তারা বলল: হে আল্লাহর রাসূল! সে যদি সালাত আদায় করে এবং সিয়াম পালন করে তবুও? তিনি বললেন: সে যদি সালাত আদায় করে এবং সিয়াম পালন করে তবুও। অতএব তোমরা আল্লাহর সেই নামে ডাকো যে নামে তিনি তোমাদের নামকরণ করেছেন: মুসলিম, মুমিন ও আল্লাহর বান্দা)) (১)। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সেই ব্যক্তির প্রতি অত্যন্ত কঠোরতা প্রদর্শন করেছেন যে এই মহান দ্বীন ব্যতীত অন্য কিছুর দিকে নিজেকে সম্বন্ধ করে অথবা এমন স্লোগান বা সম্বন্ধ তৈরি করে যার ভিত্তিতে সে দলাদলি, বন্ধুত্ব ও শত্রুতা পোষণ করে। এর সবই জাহেলি যুগের রীতি ও অভ্যাস, যা আমাদের বর্জন করার ও তা থেকে বিরত থাকার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। জাবির ইবনে আব্দুল্লাহ (রাদিয়াল্লাহু আনহুমা) থেকে বর্ণিত হাদিসে এসেছে, তিনি বলেন: ((আমরা একটি যুদ্ধে ছিলাম, তখন একজন মুহাজির এক আনসারীকে আঘাত করলেন। তখন আনসারী বললেন: হে আনসারগণ (সাহায্যে এসো)! আর মুহাজির বললেন: হে মুহাজিরগণ! রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তা শুনে বললেন: জাহেলি যুগের আহ্বান কেন? তারা বলল: হে আল্লাহর রাসূল! জনৈক মুহাজির এক আনসারীকে আঘাত করেছে। তিনি বললেন: এসব বর্জন করো, কারণ এগুলো অত্যন্ত দুর্গন্ধযুক্ত)) (২)।
রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এই সম্বন্ধ ও আহ্বানগুলোকে জাহেলি বিষয় হিসেবে গণ্য করেছেন এবং এগুলোকে কদর্য ও অপবিত্র হিসেবে বর্ণনা করেছেন, যদিও তারা (সাহাবায়ে কেরাম) আল্লাহর দ্বীনের অত্যন্ত নেক আমল ও মহান গৌরবের বিষয়ের দিকে নিজেদের সম্বন্ধ করেছিলেন; যেমন—হিজরত ও নুসরাত (সাহায্য)। তা সত্ত্বেও যখন এটি গোত্রপ্রীতির রূপ নিল এবং মুসলমানদের মধ্যে বিভেদ ও লড়াই সৃষ্টির উপক্রম হলো (যেহেতু প্রত্যেকে অস্ত্র হাতে নিয়েছিল), তখন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম একে "জাহেলি আহ্বান" বলে অভিহিত করেছেন।
এই নামকরণ ও সম্বন্ধগুলোর বিধান সেগুলোর ধরণ অনুযায়ী ভিন্ন ভিন্ন হয় এবং তা তিন প্রকার:
১- এই সম্বন্ধগুলোর মধ্যে কিছু রয়েছে উত্তম ও প্রশংসনীয়। আর তা হলো সেই শরয়ী নামের দিকে সম্বন্ধ করা যা কুরআন বা সুন্নাহতে এসেছে। যেমন—নিজেদের মুসলিম, মুমিন, আল্লাহর বান্দা, মুহাজির ও আনসার হিসেবে পরিচয় দেওয়া। অথবা কোনো ব্যক্তি কোনো শরয়ী আমলের দিকে নিজেকে সম্বন্ধ করল, যেমন—আহলুল হাদিস বা আহলুস সুন্নাহ। এগুলো প্রশংসনীয় নামকরণ ও সম্বন্ধ যা শরিয়তে এসেছে এবং এর অধিকারীদের প্রশংসা করা হয়েছে।
২- এই সম্বন্ধগুলোর মধ্যে কিছু রয়েছে বৈধ। যেমন—কেবল পরিচয়ের উদ্দেশ্যে কোনো গোত্র, দেশ বা অঞ্চলের দিকে নিজেকে সম্বন্ধ করা। আল্লাহই ভালো জানেন, এর অন্তর্ভুক্ত হবে নির্দিষ্ট কোনো বিভাগ, জামাত বা সংস্থার দিকে সম্বন্ধ করা যার উদ্দেশ্য হলো কাজের শৃঙ্খলা বজায় রাখা, উত্তম ব্যবস্থাপনা এবং আল্লাহর দ্বীনের দাওয়াত ও সমাজের সেবার জন্য সম্মিলিত প্রচেষ্টাকে বণ্টন করে দেওয়া।
৩- এই সম্বন্ধগুলোর মধ্যে কিছু রয়েছে মাকরূহ (অপছন্দনীয়) বা হারাম। যেমন—সুফি তরিকা বা নিন্দিত ইলমুল কালামের দলগুলোর দিকে নিজেকে সম্বন্ধ করা। এর সাথে এটিও যুক্ত হবে যে: যদি কোনো প্রশংসনীয় শরয়ী নাম বা বৈধ নামের (যেমন গোত্র বা দেশ) দিকে সম্বন্ধ করা হয় কিন্তু সেই সম্বন্ধের উদ্দেশ্য হয় অন্ধ পক্ষপাতিত্ব ও গোত্রপ্রীতি এবং তা বিভেদ ও মতপার্থক্যের দিকে নিয়ে যায়, তবে তা নিন্দিত ও নিষিদ্ধ (৩)।
আমরা মহান আল্লাহর কাছে প্রার্থনা করি তিনি যেন মুসলিম উম্মাহর ওপর অনুগ্রহ করেন, তাদের সদস্যদের অন্তরে হৃদ্যতা সৃষ্টি করেন, তাদের প্রতি দয়া করেন এবং তাঁর প্রতি ঈমানের ভিত্তিতে তাদের ঐক্যবদ্ধ করেন। নিশ্চয়ই জামাত বা ঐক্য আল্লাহর পক্ষ থেকে এক নিয়ামত ও রহমত, আর বিভেদ হলো আযাব...
উৎস: আসমা আস-সুওয়াইলাম রচিত ‘মাওকিফুস সাহাবা মিনাল ফিরকা ওয়াল ফিরাক’ (উম্মাহর বিভেদ ও দল-উপদল প্রসঙ্গে সাহাবায়ে কেরামের অবস্থান) - পৃষ্ঠা ১৩৮ - ১৪৮
--------------------------------------------
(খণ্ড: ١)
মাওসূআতুল ফিরাকিল মুনতাসিবাহ লিল ইসলাম
(পৃষ্ঠা: ٢٤)
المبحث الخامس: الفرقة والاختلاف عذاب وعقوبةإن الفرقة والاختلاف عذاب وعقوبة من الله عز وجل للأمة حينما تعصيه، أما الاجتماع والائتلاف فهو رحمة بالأمة ونعمة من الله على عباده المؤمنين. لقد أمر الله عباده المؤمنين أن يلزموا الجماعة ويلتزموا السمع والطاعة، وبين سبحانه أن النجاة تكون بالتمسك والاعتصام بحبله سبحانه الذي هو الجماعة (1) كما قال سبحانه: وَاعْتَصِمُواْ بِحَبْلِ اللهِ جَمِيعًا وَلَا تَفَرَّقُواْ وَاذْكُرُواْ نِعْمَةَ اللهِ عَلَيْكُمْ إِذْ كُنتُمْ أَعْدَاء فَأَلَّفَ بَيْنَ قُلُوبِكُمْ فَأَصْبَحْتُم بِنِعْمَتِهِ إِخْوَانًا وَكُنتُمْ عَلَىَ شَفَا حُفْرَةٍ مِّنَ النَّارِ فَأَنقَذَكُم مِّنْهَا كَذَلِكَ يُبَيِّنُ اللهُ لَكُمْ آيَاتِهِ لَعَلَّكُمْ تَهْتَدُونَ [آل عمران:103]. ومتى ما عملت الأمة بأمر الله وأمر رسوله صلى الله عليه وسلم عاشت بخير واستطاعت أن تبلغ دينها وتعلي كلمته واستطاعت أن تقود البشرية إلى كل خير في الدنيا والآخرة. والمتأمل للقرون الماضية في تاريخ الأمة الإسلامية يجد هذا الأمر جلياً واضحاً أنه متى ما تمسكت الأمة بكتاب ربها وسنة نبيها صلى الله عليه وسلم واجتمعت على الحق وائتلفت قلوبها قويت هذه الجماعة وسادت وقادت وهذا رحمة من الله بها وما إن تدب الفرقة في صفوف الأمة وتتخلى عن بعض ما أمرت به وتتهاون في تطبيق سنة بينها صلى الله عليه وسلم تضعف وتهون وتصبح لقمة سائغة في أيدي الأعداء وما ذاك إلا لأن الجماعة رحمة من الله بالأمة أما الفرقة فهي عذاب وعقوبة من الله عز وجل يعاقب بها الأمة حينما تعصيه ففي الحديث عن رسول الله صلى الله عليه وسلم قال: ((الجماعة رحمة والفرقة عذاب)) (2) وفي الحديث عن رسول الله صلى الله عليه وسلم قال: ((سألت ربي ثلاثا فأعطاني ثنتين ومنعني واحدة، سألت ربي أن لا يهلك أمتي بالسنة فأعطانيها، وسألته أن لا يهلك أمتي بالغرق فأعطانيها، وسألته أن لا يجعل بأسهم بينهم فمنعنيها)) (3) وفي الحديث عن جابر بن عبدالله رضي الله عنهما أنه قال: ((لما نزل على رسول الله صلى الله عليه وسلم: قُلْ هُوَ الْقَادِرُ عَلَى أَن يَبْعَثَ عَلَيْكُمْ عَذَابًا قال: أعوذ بوجهك. أَوْ مِن تَحْتِ أَرْجُلِكُمْ قال أعوذ بوجهك. فلما نزلت: أَوْ يَلْبِسَكُمْ شِيَعاً وَيُذِيقَ بَعْضَكُم بَأْسَ بَعْضٍ قال: هاتان أهون أو أيسر)) (4) قال علي بن خلف بن بطال رحمه الله: "أجاب الله دعاء نبيه في عدم استئصال أمته بالعذاب ولم يجبه في أن لا يلبسهم شيعا أي فرقا مختلفين وأن لا يذيق بعضهم بأس بعض أي: بالحرب والقتل بسبب ذلك وإن كان ذلك من عذاب الله لكنه أخف من الاستئصال وفيه للمؤمنين كفارة (5).
--------------------------------------------
পঞ্চম পরিচ্ছেদ: অনৈক্য ও দলাদলি হলো আজাব ও শাস্তিনিশ্চয়ই অনৈক্য ও দলাদলি হলো মহান আল্লাহর পক্ষ থেকে উম্মতের জন্য আজাব ও শাস্তি যখন তারা তাঁর নাফরমানি করে। আর ঐক্য ও সংহতি হলো উম্মতের প্রতি রহমত এবং তাঁর মুমিন বান্দাদের ওপর আল্লাহর একটি নেয়ামত। আল্লাহ তাঁর মুমিন বান্দাদের নির্দেশ দিয়েছেন জামাত বা দলের সাথে থাকতে এবং কথা শোনা ও আনুগত্য করাকে আবশ্যিক করতে। মহান আল্লাহ বর্ণনা করেছেন যে, মুক্তি রয়েছে তাঁর রশিকে আঁকড়ে ধরা এবং তা শক্তভাবে ধারণ করার মাধ্যমে, আর সেই রশি হলো জামাত (১), যেমনটি মহান আল্লাহ বলেছেন: “আর তোমরা সকলে আল্লাহর রশিকে শক্তভাবে আঁকড়ে ধরো এবং পরস্পর বিচ্ছিন্ন হয়ো না। তোমাদের প্রতি আল্লাহর সেই নেয়ামতের কথা স্মরণ করো যখন তোমরা একে অপরের শত্রু ছিলে, অতঃপর তিনি তোমাদের অন্তরে প্রীতি স্থাপন করলেন, ফলে তোমরা তাঁর অনুগ্রহে ভাই ভাই হয়ে গেলে। আর তোমরা ছিলে আগুনের গর্তের কিনারায়, তখন তিনি তোমাদের তা থেকে রক্ষা করলেন। এভাবেই আল্লাহ তোমাদের জন্য তাঁর নিদর্শনসমূহ স্পষ্টভাবে বর্ণনা করেন যাতে তোমরা হেদায়েতপ্রাপ্ত হও” [আলে ইমরান: ১০৩]। আর উম্মত যখনই আল্লাহ ও তাঁর রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর নির্দেশ অনুযায়ী আমল করেছে, তখনই তারা কল্যাণের সাথে বসবাস করেছে এবং তাদের দ্বীন প্রচার করতে ও তাঁর বাণীকে সমুন্নত করতে সক্ষম হয়েছে, আর সক্ষম হয়েছে মানবজাতিকে দুনিয়া ও আখেরাতের সকল কল্যাণের পথে পরিচালিত করতে। উম্মতে ইসলামিয়ার ইতিহাসের বিগত শতাব্দীগুলোর প্রতি দৃষ্টিপাতকারী ব্যক্তি এ বিষয়টি অতি সুস্পষ্টভাবে দেখতে পায় যে, যখনই উম্মত তার রবের কিতাব ও তার নবীর সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সুন্নাহকে আঁকড়ে ধরেছে এবং হকের ওপর ঐক্যবদ্ধ হয়েছে ও তাদের অন্তরসমূহ একে অপরের সাথে মিশে গেছে, তখনই এই জামাত শক্তিশালী হয়েছে এবং নেতৃত্ব ও কর্তৃত্ব লাভ করেছে। এটি ছিল তাদের প্রতি আল্লাহর পক্ষ থেকে এক রহমত। আর যখনই উম্মতের সারিতে বিভেদ সৃষ্টি হয়েছে এবং তাদেরকে যা নির্দেশ দেওয়া হয়েছে তার কিছু অংশ বর্জন করেছে এবং নবীর সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সুন্নাহ বাস্তবায়নে শিথিলতা প্রদর্শন করেছে, তখনই তারা দুর্বল ও লাঞ্ছিত হয়েছে এবং শত্রুদের জন্য একটি সহজ গ্রাসে পরিণত হয়েছে। এর কারণ হলো, জামাত বা ঐক্য হলো উম্মতের জন্য আল্লাহর পক্ষ থেকে রহমত, আর অনৈক্য হলো মহান আল্লাহর পক্ষ থেকে আজাব ও শাস্তি, যার মাধ্যমে তিনি উম্মতকে শাস্তি দেন যখন তারা তাঁর অবাধ্য হয়। রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে বর্ণিত হাদিসে তিনি বলেন: ((জামাত বা ঐক্য হলো রহমত এবং অনৈক্য হলো আজাব)) (২)। রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে বর্ণিত অপর হাদিসে তিনি বলেন: ((আমি আমার রবের কাছে তিনটি বিষয় চেয়েছি, তিনি আমাকে দুটি দিয়েছেন এবং একটি থেকে আমাকে বিরত রেখেছেন। আমি আমার রবের কাছে আবেদন করেছি যেন তিনি আমার উম্মতকে দুর্ভিক্ষ দিয়ে ধ্বংস না করেন, তিনি আমাকে তা দান করেছেন। আমি তাঁর কাছে আবেদন করেছি যেন তিনি আমার উম্মতকে প্লাবন দিয়ে ধ্বংস না করেন, তিনি আমাকে তা দান করেছেন। আর আমি তাঁর কাছে আবেদন করেছি যেন তিনি তাদের মাঝে পারস্পরিক লড়াই ও বিবাদ না রাখেন, কিন্তু তিনি আমাকে তা দেননি)) (৩)। জাবির ইবনে আব্দুল্লাহ রাদিয়াল্লাহু আনহুমা থেকে বর্ণিত হাদিসে তিনি বলেন: ((যখন রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর ওপর এই আয়াত নাজিল হলো: ‘বলুন, তিনি তোমাদের ওপর থেকে আজাব পাঠাতে সক্ষম’, তখন তিনি বললেন: আমি আপনার চেহারার আশ্রয় প্রার্থনা করছি। ‘অথবা তোমাদের পায়ের নিচ থেকে’, তখন তিনি বললেন: আমি আপনার চেহারার আশ্রয় প্রার্থনা করছি। এরপর যখন নাজিল হলো: ‘অথবা তোমাদেরকে বিভিন্ন দলে বিভক্ত করতে এবং তোমাদের একদলকে অন্য দলের যুদ্ধের স্বাদ গ্রহণ করাতে’, তখন তিনি বললেন: এই দুটি সহজতর বা অধিকতর হালকা)) (৪)। আলী ইবনে খালাফ ইবনে বাত্তাল রহিমাহুল্লাহ বলেন: "আল্লাহ তাঁর নবীর দোয়া কবুল করেছেন তাঁর উম্মতকে আজাব দিয়ে সমূলে বিনাশ না করার ক্ষেত্রে, কিন্তু তাঁর দোয়া কবুল করেননি তাদের বিভিন্ন দলে বিভক্ত না করার ক্ষেত্রে এবং একদলকে অন্য দলের যুদ্ধের স্বাদ গ্রহণ না করানোর ক্ষেত্রে—অর্থাৎ যুদ্ধের মাধ্যমে ও একে অপরকে হত্যার মাধ্যমে। যদিও এটি আল্লাহর আজাবের অন্তর্ভুক্ত, তবে এটি সমূলে বিনাশ করার চেয়ে অধিকতর হালকা এবং এতে মুমিনদের জন্য কাফফারা রয়েছে (৫)।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ١)
মাওসূআতুল ফিরাকিল মুনতাসিবাহ লিল ইসলাম
(পৃষ্ঠা: ٢٥)
ويقول عبدالله بن عباس رضي الله عنهما في قوله: أَوْ يَلْبِسَكُمْ شِيَعاً قال: الأهواء والاختلاف" وقال في قوله: وَيُذِيقَ بَعْضَكُم بَأْسَ بَعْضٍ قال: يسلط بعضكم على بعض بالقتل والعذاب (1)
وكما بين الله عز وجل فيما مضى من نصوص أن هذه الفرقة عقوبة وعذاب امتن الله عز وجل على المؤمنين بتأليف قلوبهم وذكرهم نعمته عليهم بأن جمع شملهم ووحد كلمتهم بهذا الدين العظيم وبقيام الأخوة الإيمانية بينهم وقد كانوا في جاهلية وشر وكفر بالله عز وجل وفرقة لا يعلمها إلا الله فجاء الله سبحانه بدينه ونبيه وجمع بينهم، وفي هذا تنبيه للمسلمين على أهمية الجماعة وأنها من نعم الله العظمية وآلائه الجزيلة، وفيه تنفير من الفرقة التي هي عقوبة وعذاب.
يقول الله عز وجل: وَاعْتَصِمُواْ بِحَبْلِ اللهِ جَمِيعًا وَلَا تَفَرَّقُواْ وَاذْكُرُواْ نِعْمَةَ اللهِ عَلَيْكُمْ إِذْ كُنتُمْ أَعْدَاء فَأَلَّفَ بَيْنَ قُلُوبِكُمْ فَأَصْبَحْتُم بِنِعْمَتِهِ إِخْوَانًا وَكُنتُمْ عَلَىَ شَفَا حُفْرَةٍ مِّنَ النَّارِ فَأَنقَذَكُم مِّنْهَا كَذَلِكَ يُبَيِّنُ اللهُ لَكُمْ آيَاتِهِ لَعَلَّكُمْ تَهْتَدُونَ [آل عمران: 103]. يقول الطبري في تأويل قوله سبحانه: وَاذْكُرُواْ نِعْمَةَ اللهِ عَلَيْكُمْ إِذْ كُنتُمْ أَعْدَاء فَأَلَّفَ بَيْنَ قُلُوبِكُمْ فَأَصْبَحْتُم بِنِعْمَتِهِ إِخْوَانًا يقول: "واذكروا أيها المؤمنون نعمة الله عليكم التي أنعم بها عليكم حين كنتم أعداء أي: بشرككم يقتل بعضكم بعضا عصبية في غير طاعة الله، ولا طاعة رسوله فألف الله بالإسلام بين قلوبكم فجعل بعضكم لبعض إخوانا بعد إذ كنتم أعداء تتواصلون بألفة الإسلام واجتماع كلمتكم عليه (2) وعن قتادة بن دعامة السدوسي قوله: " كنتم تذابحون فيها يأكل شديدكم ضعيفكم حتى جاء الله بالإسلام فآخى به بينكم وألف به بينكم أما والله الذي لا إله إلا هو إن الألفة لرحمة وإن الفرقة لعذاب (3) وأما قوله: " فأصبحتم بنعمته إخوانا" فإنه يعني فأصبحتم بتأليف الله عز وجل بينكم بالإسلام وكلمة الحق والتعاون على نصرة أهل الإيمان والتآزر على من خالفكم من أهل الكفر إخوانا متصادقين لا ضغائن بينكم ولا تحاسد. وقال رجل لعبد الله بن مسعود: كيف أصبحتم؟ قال: أصبحنا بنعمة الله إخوانا (4) نعم هذه صفة الجماعة المسلمة وحال أفرادها: متحابين بجلال الله متواصلين في ذات الله متعاونين على البر والتقوىولقد نصر الله عز وجل نبيه صلى الله عليه وسلم بنصره المؤزر وبالمؤمنين المجتمعين على طاعة الله وطاعة رسوله وهذا مما امتن الله به على نبيه صلى الله عليه وسلم وأنعم الله به على المؤمنين إذ يقول الله تعالى: وَإِن يُرِيدُواْ أَن يَخْدَعُوكَ فَإِنَّ حَسْبَكَ اللهُ هُوَ الَّذِيَ أَيَّدَكَ بِنَصْرِهِ وَبِالْمُؤْمِنِينَ وَأَلَّفَ بَيْنَ قُلُوبِهِمْ لَوْ أَنفَقْتَ مَا فِي الأَرْضِ جَمِيعاً مَّا أَلَّفَتْ بَيْنَ قُلُوبِهِمْ وَلَكِنَّ اللهَ أَلَّفَ بَيْنَهُمْ إِنَّهُ عَزِيزٌ حَكِيمٌ [الأنفال:62 - 63] (5) بالألفة والمحبة بين المسلمين وبرباط الأخوة الإيمانية تتحد الجماعة المسلمة وتقوى وتسود لتنشر هذا الدين العظيم.
وأما إذا نزعت ورفعت هذه الألفة حل محلها العداوة والبغضاء ودبت الفرقة والخصومات بين الناس وضعفت الجماعة الإسلامية وعاشت العذاب بالفرقة إلا أن يرحمها ربها بالجماعة.
المصدر:موقف الصحابة من الفرقة والفرق لأسماء السويلم - ص148 - 152
--------------------------------------------
এবং আব্দুল্লাহ বিন আব্বাস (রাদিয়াল্লাহু আনহুমা) আল্লাহর বাণী: "অথবা তোমাদেরকে বিভিন্ন দলে বিভক্ত করে দেন" সম্পর্কে বলেন: "প্রবৃত্তি ও অনৈক্য।" আর তিনি আল্লাহর বাণী: "এবং তোমাদের এককে অন্যের কষ্টের স্বাদ আস্বাদন করান" সম্পর্কে বলেন: "হত্যা ও শাস্তির মাধ্যমে তোমাদের এককে অন্যের ওপর চাপিয়ে দেওয়া।" (১)
যেমনটি আল্লাহ আযযা ওয়া জাল ইতিপূর্বের দলীলসমূহে বর্ণনা করেছেন যে, এই অনৈক্য হলো একটি শাস্তি ও আযাব; তেমনি আল্লাহ আযযা ওয়া জাল মুমিনদের হৃদয়ে সম্প্রীতি সৃষ্টি করে এবং তাদের ওপর তাঁর নেয়ামতের কথা স্মরণ করিয়ে দিয়ে অনুগ্রহ করেছেন যে, তিনি এই মহান দ্বীন এবং ঈমানী ভ্রাতৃত্ব প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে তাদের বিচ্ছিন্নতাকে একত্রিত করেছেন এবং তাদের লক্ষ্যকে ঐক্যবদ্ধ করেছেন। অথচ তারা জাহেলিয়াত, মন্দ কাজ, মহান আল্লাহর প্রতি কুফরী এবং এমন অনৈক্যের মধ্যে নিমজ্জিত ছিল যা আল্লাহ ছাড়া আর কেউ জানত না। অতঃপর আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআলা তাঁর দ্বীন ও নবীকে নিয়ে আসলেন এবং তাদের মধ্যে ঐক্য স্থাপন করলেন। এতে মুসলমানদের জন্য জামায়াত বা ঐক্যবদ্ধ থাকার গুরুত্বের প্রতি সতর্কবাণী রয়েছে এবং এটি আল্লাহর মহান নেয়ামত ও অঢেল অনুগ্রহসমূহের অন্তর্ভুক্ত। আর এতে অনৈক্যের প্রতি অনীহা সৃষ্টির বার্তা রয়েছে, যা মূলত শাস্তি ও আযাব।
আল্লাহ আযযা ওয়া জাল বলেন: "আর তোমরা সকলে আল্লাহর রজ্জুকে শক্তভাবে ধারণ করো এবং পরস্পর বিচ্ছিন্ন হয়ো না। আর তোমাদের ওপর আল্লাহর সেই নেয়ামতের কথা স্মরণ করো, যখন তোমরা একে অপরের শত্রু ছিলে, অতঃপর তিনি তোমাদের হৃদয়ে প্রীতির সঞ্চার করলেন এবং তাঁর অনুগ্রহে তোমরা ভাই ভাই হয়ে গেলে। আর তোমরা ছিলে আগুনের গর্তের কিনারে, অতঃপর তিনি তোমাদেরকে তা থেকে উদ্ধার করলেন। এভাবেই আল্লাহ তোমাদের জন্য তাঁর নিদর্শনাবলী বর্ণনা করেন যাতে তোমরা হিদায়াত প্রাপ্ত হও।" [আল ইমরান: ১০৩]। তাবারী মহান আল্লাহর বাণী—"আর তোমাদের ওপর আল্লাহর সেই নেয়ামতের কথা স্মরণ করো, যখন তোমরা একে অপরের শত্রু ছিলে, অতঃপর তিনি তোমাদের হৃদয়ে প্রীতির সঞ্চার করলেন এবং তাঁর অনুগ্রহে তোমরা ভাই ভাই হয়ে গেলে"—এর ব্যাখ্যায় বলেন: "হে মুমিনগণ! তোমরা তোমাদের ওপর আল্লাহর সেই নেয়ামতের কথা স্মরণ করো যা তিনি তোমাদের দান করেছেন যখন তোমরা শত্রু ছিলে; অর্থাৎ তোমাদের শিরকের কারণে তোমরা আল্লাহর আনুগত্য এবং তাঁর রাসূলের আনুগত্যহীন গোত্রপ্রীতির বশবর্তী হয়ে একে অন্যকে হত্যা করতে। অতঃপর আল্লাহ ইসলামের মাধ্যমে তোমাদের হৃদয়ে প্রীতির সঞ্চার করলেন এবং তোমরা শত্রু থাকার পর তিনি তোমাদের একে অন্যের ভাই বানিয়ে দিলেন, যারা ইসলামের সম্প্রীতি এবং এর ওপর তোমাদের ঐক্যের মাধ্যমে পরস্পর সম্পৃক্ত।" (২) আর কাতাদাহ ইবনে দিয়ামাহ আস-সাদূসী থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: "তোমরা একে অন্যকে যবাই করতে, তোমাদের শক্তিমানরা দুর্বলদের গ্রাস করত, অবশেষে আল্লাহ ইসলাম নিয়ে আসলেন এবং এর মাধ্যমে তোমাদের মধ্যে ভ্রাতৃত্ব ও সম্প্রীতি স্থাপন করলেন। আল্লাহর কসম, যিনি ছাড়া কোনো ইলাহ নেই, নিশ্চয়ই সম্প্রীতি হলো রহমত আর অনৈক্য হলো আযাব।" (৩) আর তাঁর বাণী—"অতঃপর তাঁর অনুগ্রহে তোমরা ভাই ভাই হয়ে গেলে"—এর অর্থ হলো: তোমরা ইসলাম, সত্যের বাণী, ঈমানদারদের সাহায্যার্থে সহযোগিতা এবং তোমাদের বিরোধী কুফরী শক্তির বিরুদ্ধে পারস্পরিক সমর্থনের মাধ্যমে আল্লাহ আযযা ওয়া জালের পক্ষ থেকে তোমাদের মধ্যে সৃষ্ট সম্প্রীতির বদৌলতে পরস্পরের প্রতি সত্যনিষ্ঠ ভাই হয়ে গেলে, যাদের মধ্যে কোনো বিদ্বেষ বা হিংসা নেই। জনৈক ব্যক্তি আব্দুল্লাহ ইবনে মাসউদকে জিজ্ঞাসা করলেন: আপনারা কেমন আছেন? তিনি বললেন: আমরা আল্লাহর নেয়ামতে ভাই ভাই হিসেবে আছি। (৪) হ্যাঁ, এটাই মুসলিম জামায়াতের বৈশিষ্ট্য এবং এর সদস্যদের অবস্থা: তারা আল্লাহর মহত্ত্বের খাতিরে পরস্পরকে ভালোবাসে, আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য পরস্পর যোগাযোগ রাখে এবং সওয়াব ও তাকওয়ার কাজে পরস্পরকে সহযোগিতা করে। আল্লাহ আযযা ওয়া জাল তাঁর নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে তাঁর শক্তিশালী সাহায্য এবং আল্লাহর আনুগত্য ও তাঁর রাসূলের আনুগত্যে ঐক্যবদ্ধ মুমিনদের মাধ্যমে সাহায্য করেছেন। এটি এমন বিষয় যার মাধ্যমে আল্লাহ তাঁর নবীর ওপর অনুগ্রহ করেছেন এবং মুমিনদের নেয়ামত দান করেছেন। আল্লাহ তাআলা বলেন: "আর যদি তারা তোমাকে প্রতারণা করতে চায়, তবে তোমার জন্য আল্লাহই যথেষ্ট। তিনিই তোমাকে তাঁর সাহায্য ও মুমিনদের দ্বারা শক্তিশালী করেছেন। আর তিনি তাদের হৃদয়ে প্রীতি স্থাপন করেছেন; যদি তুমি যমীনে যা কিছু আছে তার সবই ব্যয় করতে, তবুও তাদের হৃদয়ে প্রীতি স্থাপন করতে পারতে না। কিন্তু আল্লাহ তাদের মধ্যে প্রীতি স্থাপন করেছেন। নিশ্চয়ই তিনি পরাক্রমশালী, প্রজ্ঞাময়।" [আল-আনফাল: ৬২ - ৬৩] (৫) মুসলমানদের মধ্যে সম্প্রীতি ও ভালোবাসা এবং ঈমানী ভ্রাতৃত্বের বন্ধনের মাধ্যমে মুসলিম জামায়াত ঐক্যবদ্ধ হয়, শক্তিশালী হয় এবং এই মহান দ্বীন প্রচারের জন্য প্রভাব বিস্তার করে।
পক্ষান্তরে যখন এই সম্প্রীতি ছিনিয়ে নেওয়া হয় বা উঠিয়ে নেওয়া হয়, তখন তার স্থলাভিষিক্ত হয় শত্রুতা ও ঘৃণা এবং মানুষের মধ্যে অনৈক্য ও বিবাদ ছড়িয়ে পড়ে, ফলে ইসলামী জামায়াত দুর্বল হয়ে যায় এবং অনৈক্যের কারণে আযাব ভোগ করে—যদি না তাদের রব জামায়াত বা ঐক্যের মাধ্যমে তাদের ওপর দয়া করেন।
উৎস: সাহাবীদের অবস্থান অনৈক্য ও দলউপদলসমূহের ব্যাপারে - আসমা আস-সুওয়াইলাম - পৃষ্ঠা ১৪৮ - ১৫২
--------------------------------------------
(খণ্ড: ١)
মাওসূআতুল ফিরাকিল মুনতাসিবাহ লিল ইসলাম
(পৃষ্ঠা: ٢٦)
المبحث السادس: الإخبار أن الفرقة واقعة لا محالة ليعلم هذا ويحذرلقد نهى الله عز وجل عن الفرقة أشد النهي وبين سبحانه أنها عذاب وعقوبة تحل بالأمة المسلمة إذا اكتسبت من المعاصي ما تستحق به السخط والعقاب من الله عز وجل ومع التحذير الشديد من الفرقة والأمر اللازم بالجماعة والتمسك بها أخبر المولى الخبير سبحانه أن هذه الفرقة لا بد وأن تدب وأن هذه الأمة ستفترق لا محالة وأن هذا واقع كونا وقدرا وإن كنا نهينا عن الفرقة شرعا ودينا.
والإخبار عن وقوع الفرقة في الأمة وأن الله عز وجل شاء ذلك وقدره علينا لا يعني الاستسلام للفرقة والتخبط في سبلها، بل إن الله عز وجل نبه على ذلك وأخبر به ليحذر المسلم منها ولا يسلك مسلكها وينجو من كتب الله له النجاة منها.
ষষ্ঠ পরিচ্ছেদ: এই সংবাদ প্রদান যে বিভেদ অনিবার্যভাবে সংঘটিত হবে, যেন এটি জানা যায় এবং এ থেকে সতর্ক হওয়া যায়মহান আল্লাহ বিভেদ থেকে কঠোরভাবে নিষেধ করেছেন এবং তিনি পবিত্র সত্তা হিসেবে স্পষ্ট করেছেন যে, এটি একটি আযাব ও শাস্তি যা মুসলিম উম্মাহর ওপর আপতিত হয়, যখন তারা এমন সব পাপাচারে লিপ্ত হয় যার ফলে তারা মহান আল্লাহর ক্রোধ ও শাস্তির উপযুক্ত হয়ে যায়। বিভেদ থেকে কঠোর সতর্কবাণী এবং জামাআত বা ঐক্যবদ্ধ থাকা ও তা আঁকড়ে ধরার অত্যাবশ্যকীয় নির্দেশ থাকা সত্ত্বেও, সর্বজ্ঞ প্রভু পবিত্র সত্তা হিসেবে সংবাদ দিয়েছেন যে, এই বিভেদ অবশ্যই দেখা দেবে এবং এই উম্মাহ অনিবার্যভাবে বিভক্ত হবে। আর মহাজাগতিক ও তাকদিরি লিখন অনুযায়ী এটি সংঘটিত হবেই, যদিও শরিয়ত ও দ্বীনি বিধান অনুযায়ী আমাদের বিভেদ থেকে নিষেধ করা হয়েছে।
উম্মাহর মধ্যে বিভেদ সৃষ্টি হওয়া এবং মহান আল্লাহ তা চেয়েছেন ও আমাদের জন্য নির্ধারণ করেছেন—এই সংবাদের অর্থ বিভেদের কাছে আত্মসমর্পণ করা এবং এর পথে লক্ষ্যহীনভাবে বিভ্রান্ত হওয়া নয়। বরং মহান আল্লাহ এ বিষয়ে সচেতন করেছেন এবং সংবাদ দিয়েছেন যেন মুসলিম ব্যক্তি এ থেকে সতর্ক থাকতে পারে, এর পথে না চলে এবং আল্লাহ যার জন্য মুক্তি নির্ধারিত করেছেন সে যেন এ থেকে পরিত্রাণ পায়।
(খণ্ড: ١)
মাওসূআতুল ফিরাকিল মুনতাসিবাহ লিল ইসলাম
(পৃষ্ঠা: ٢٧)
يقول الله عز وجل: وَلَوْ شَاء رَبُّكَ لَجَعَلَ النَّاسَ أُمَّةً وَاحِدَةً وَلَا يَزَالُونَ مُخْتَلِفِينَ إِلَاّ مَن رَّحِمَ رَبُّكَ وَلِذَلِكَ خَلَقَهُمْ وَتَمَّتْ كَلِمَةُ رَبِّكَ لأَمْلأنَّ جَهَنَّمَ مِنَ الْجِنَّةِ وَالنَّاسِ أَجْمَعِينَ [هود: 118ـ 119].يقول الإمام إسماعيل بن كثير رحمه الله في تفسيرها: " وقوله: وَلَا يَزَالُونَ مُخْتَلِفِينَ إِلَاّ مَن رَّحِمَ رَبُّكَ أي: لا يزال الخلف بين الناس في أديانهم واعتقادات مللهم ونحلهم ومذاهبهم وآرائهم (1).ويقول سبحانه: وَلَوْ شَاء رَبُّكَ لآمَنَ مَن فِي الأَرْضِ كُلُّهُمْ جَمِيعًا أَفَأَنتَ تُكْرِهُ النَّاسَ حَتَّى يَكُونُواْ مُؤْمِنِينَ [يونس: 99] أي: لو شاء ربك لآمن من في الأرض كلهم بحيث لا يخرج عنهم أحد مجتمعين على الإيمان لا يتفرقون فيه ويختلفون ولكنه لم يشأ ذلك لكونه مخالفا للمصلحة التي أرادها الله سبحانه ولما كان النبي صلى الله عليه وسلم حريصا على إيمان جميع الناس أخبره الله بأن ذلك لا يكون لأن مشيئته الجارية على الحكمة البالغة والمصالح الراجحة لا تقتضي ذلك (2) ومثله قول تعالى: وَلَوْ أَنَّ قُرْآنًا سُيِّرَتْ بِهِ الْجِبَالُ أَوْ قُطِّعَتْ بِهِ الأَرْضُ أَوْ كُلِّمَ بِهِ الْمَوْتَى بَل لِّلّهِ الأَمْرُ جَمِيعًا أَفَلَمْ يَيْأَسِ الَّذِينَ آمَنُواْ أَن لَّوْ يَشَاء اللهُ لَهَدَى النَّاسَ جَمِيعًا وَلَا يَزَالُ الَّذِينَ كَفَرُواْ تُصِيبُهُم بِمَا صَنَعُواْ قَارِعَةٌ أَوْ تَحُلُّ قَرِيبًا مِّن دَارِهِمْ حَتَّى يَأْتِيَ وَعْدُ اللهِ إِنَّ اللهَ لَا يُخْلِفُ الْمِيعَادَ [الرعد: 31].فإيمان الناس جميعا وهدايتهم غير مرادة لله عز وجل كونا والفرقة واقعة بينهم لا محالة فمن شاء الله عز وجل له الهداية هداه، ومن شاء له الضلال أضله سبحانه، فهو الملك الحكيم العليم الله عز وجل شأنه (3) ولقد أخبرنا رسول الله صلى الله عليه وسلم بوقوع الفرقة في هذه الأمة فقال: ((والذي نفسي بيده لتفترقن على ثلاث وسبعين فرقة فواحدة في الجنة واثنتان وسبعين في النار" قيل: يا رسول الله من هم؟ قال: هم الجماعة)) (4).
--------------------------------------------
মহান আল্লাহ বলেন: “তোমার প্রতিপালক চাইলে সমস্ত মানুষকে এক জাতি করতে পারতেন, কিন্তু তারা মতভেদ করতেই থাকবে; তারা ব্যতীত যাদের প্রতি তোমার প্রতিপালক দয়া করেছেন এবং এজন্যই তিনি তাদের সৃষ্টি করেছেন। আর তোমার প্রতিপালকের এই কথা পূর্ণ হয়েছে যে, আমি অবশ্যই জিন ও মানুষ উভয় দ্বারা জাহান্নাম পূর্ণ করব।” [হুদ: ১১৮-১১৯]। ইমাম ইসমাঈল ইবনে কাসীর (রাহিমাহুল্লাহ) এর তাফসীরে বলেন: “তাঁর বাণী: ‘কিন্তু তারা মতভেদ করতেই থাকবে; তারা ব্যতীত যাদের প্রতি তোমার প্রতিপালক দয়া করেছেন’ অর্থাৎ: মানুষের মধ্যে তাদের ধর্ম, বিশ্বাস, আদর্শ, দল ও মতামতের ক্ষেত্রে সর্বদা মতভেদ চলতেই থাকবে।” (১)। মহান আল্লাহ আরও বলেন: “তোমার প্রতিপালক চাইলে দুনিয়ার সবাই অবশ্যই ঈমান আনত; তবে কি তুমি মুমিন হওয়ার জন্য মানুষের উপর জবরদস্তি করবে?” [ইউনুস: ৯৯]। অর্থাৎ: যদি তোমার প্রতিপালক চাইতেন তবে জমিনে যারা আছে তারা সবাই এমনভাবে ঈমান আনত যে তাদের কেউ বাদ পড়ত না এবং তারা ঈমানের ওপর ঐক্যবদ্ধ থাকত, এতে তারা বিচ্ছিন্ন বা মতভেদ করত না। কিন্তু তিনি তা চাননি, কারণ তা আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তায়ালা যে কল্যাণ চেয়েছিলেন তার পরিপন্থী ছিল। আর যখন নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) সমস্ত মানুষের ঈমান আনার ব্যাপারে অত্যন্ত আগ্রহী ছিলেন, তখন আল্লাহ তাকে সংবাদ দিলেন যে তা হওয়ার নয়; কারণ গভীর প্রজ্ঞা ও অগ্রাধিকারযোগ্য কল্যাণের ওপর চলমান তাঁর ইচ্ছা এটি দাবি করে না (২)। অনুরূপ মহান আল্লাহর বাণী: “যদি এমন কোন কুরআন থাকত যা দ্বারা পাহাড়কে গতিশীল করা যেত অথবা জমিকে টুকরো করা যেত অথবা মৃতদের সাথে কথা বলা যেত (তবেও তারা বিশ্বাস করত না)। বরং সকল সিদ্ধান্ত আল্লাহরই। যারা ঈমান এনেছে তারা কি এ বিষয়ে নিশ্চিত হয়নি যে, আল্লাহ চাইলে অবশ্যই সকল মানুষকে সৎপথে পরিচালিত করতেন? যারা কুফরি করে তাদের কর্মফলের কারণে তাদের ওপর আপদ আসতেই থাকবে অথবা তা তাদের ঘরবাড়ির কাছাকাছি আপতিত হবে যতক্ষণ না আল্লাহর প্রতিশ্রুতি আসবে। নিশ্চয়ই আল্লাহ প্রতিশ্রুতির ব্যতিক্রম করেন না।” [আর-রাদ: ৩১]। সুতরাং সমস্ত মানুষের ঈমান আনা এবং তাদের হেদায়েত প্রাপ্ত হওয়া আল্লাহর সৃষ্টিগত ইচ্ছার অন্তর্ভুক্ত নয়। আর তাদের মধ্যে বিচ্ছিন্নতা ঘটা অনিবার্য। অতএব, আল্লাহ যার জন্য হেদায়েত চান তাকে হেদায়েত দেন এবং যার জন্য গোমরাহি চান তাকে গোমরাহ করেন। তিনি মহিমাম্বিত বাদশাহ, প্রজ্ঞাময় ও সর্বজ্ঞানী আল্লাহ (৩)। নিশ্চয়ই রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) আমাদের এই উম্মতের মধ্যে অনৈক্য বা দলাদলি ঘটার সংবাদ দিয়েছেন। তিনি বলেছেন: “সেই সত্তার কসম যাঁর হাতে আমার প্রাণ! অবশ্যই এই উম্মত তিয়াত্তরটি দলে বিভক্ত হবে, যার একটি জান্নাতে যাবে আর বাহাত্তরটি জাহান্নামে যাবে।” জিজ্ঞাসা করা হলো: হে আল্লাহর রাসূল! তারা কারা? তিনি বললেন: “তারা হলো আল-জামাআহ।” (৪)।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ١)
মাওসূআতুল ফিরাকিল মুনতাসিবাহ লিল ইসলাম
(পৃষ্ঠা: ٢٨)
فمما تقدم من نصوص تبين أن الافتراق واقع في الأمة وحال المسلمين الآن خير شاهد على وقوع هذه الفرقة من رفع رايات الحزبية والعصبية للرأي أو الاختلاف في أمور الدين أو بسبب التهالك على أمور الدنيا وما أكثرها.
ولقد جاءت هذه النصوص ليس فقط لتخبر وتعلم المسلم بوقوع الفرقة ولكن تخبره ليحتاط فلا يقع فيها وتعلمه بها ليلزم الجماعة ويتمسك بالسنة ويحذر الفرقة. يقول الإمام أبو بكر محمد الآجري رحمه الله: اعلموا رحمنا الله وإياكم أن الله تعالى قد أعلمنا وإياكم في كتابه أنه لا بد من أن يكون الاختلاف بين خلقه ليضل من يشاء ويهدي من يشاء جعل ذلك الله عز وجل موعظة يتذكر بها المؤمنون فيحذرون الفرقة ويلزمون الجماعة ويدعون المراء والخصومات في الدين ويتبعون ولا يبتدعون. (1) ويقول شيخ الإسلام أحمد بن تيمية بعد أن ذكر نصوصا كثيرة تخبر بوقوع الافتراق في هذه الأمة قال: وهذا المعنى محفوظ عن النبي صلى الله عليه وسلم من غير وجه يشير إلى أن التفرقة والاختلاف لا بد من وقوعهما في الأمة وكان يحذر أمته لينجو منه من شاء الله له السلامة (2).لذلك يخطئ من يتعامل بسلبية وانهزامية مع الأحداث الواقعة في الأمة والفرقة التي تفتك بها منظرا أقدار الله لتقع محتجا أنها واقعة لا محالة فلم العمل؟!! مع أن المصطفى المختار أرشدنا ودفع هذه الشبهة عنا فعن عمران بن حصين قال: ((قال رجل: يا رسول الله أيعرف أهل الجنة من أهل النار؟ قال: نعم. قال: فلم يعمل العاملون؟ قال: كل يعمل لما خلق له أو لما يسر له)) (3).وعن علي رضي الله عنه قال: ((كنا جلوسا مع النبي صلى الله عليه وسلم ومعه عود ينكث به في الأرض فنكس وقال: ما منكم من أحد إلا قد كتب مقعده من النار أو من الجنة فقال رجل من القوم: ألا نتكل يا رسول الله؟ قال: لا اعملوا فكل ميسر ثم قرأ: فَأَمَّا مَن أَعْطَى وَاتَّقَى وَصَدَّقَ بِالْحُسْنَى فَسَنُيَسِّرُهُ لِلْيُسْرَى وَأَمَّا مَن بَخِلَ وَاسْتَغْنَى وَكَذَّبَ بِالْحُسْنَى فَسَنُيَسِّرُهُ لِلْعُسْرَى [الليل:5 - 10] (4).
فانظر حينما سألوه: فيم يعمل العاملون؟ وظنوا أن التقدير يدفع إلى الاتكال وترك العمل رد عليهم رسول الله صلى الله عليه وسلم بإيجاب العمل فقال: (اعملوا) نعم يجب على المؤمن أن يعمل بما أمر الله به ويجتهد بأخذ الأسباب الموصلة إلى السلامة في الدنيا والآخرة وهو مع ذلك مؤمن بقدر الله وأنه (كل ميسر لما خلق).
المصدر:موقف الصحابة من الفرقة والفرق لأسماء السويلم - ص152 - 156
--------------------------------------------
পূর্ববর্তী আলোচনা ও টেক্সটসমূহ থেকে এটি স্পষ্ট যে, উম্মাহর মাঝে বিভক্তি ঘটা অবধারিত। মুসলমানদের বর্তমান অবস্থা এই অনৈক্য ও বিভক্তির জ্বলন্ত সাক্ষী; যেখানে দলাদলির ঝাণ্ডা উত্তোলন, মতামতের ক্ষেত্রে গোঁড়ামি, দ্বীনি বিষয়ে বিবাদ অথবা পার্থিব বিষয়ের প্রতি অতিমাত্রায় আসক্তি পরিলক্ষিত হয়—আর এসবের সংখ্যা কতই না বেশি।
আর এই টেক্সটগুলো কেবল মুসলিমদের বিভক্তি সম্পর্কে সংবাদ দেওয়ার জন্য আসেনি, বরং এগুলোর উদ্দেশ্য হলো তাকে সতর্ক করা যাতে সে এতে নিপতিত না হয়। এটি তাকে শিক্ষা দেয় যেন সে জামাআতকে আঁকড়ে ধরে, সুন্নাহর অনুসারী হয় এবং বিভক্তি থেকে বেঁচে থাকে। ইমাম আবু বকর মুহাম্মদ আল-আজুরি (রহিমাহুল্লাহ) বলেন: "জেনে রাখুন, আল্লাহ আমাদের ও আপনাদের ওপর দয়া করুন, আল্লাহ তাআলা তাঁর কিতাবে আমাদের ও আপনাদের অবহিত করেছেন যে, তাঁর সৃষ্টির মধ্যে মতপার্থক্য হওয়া অনিবার্য, যাতে তিনি যাকে ইচ্ছা পথভ্রষ্ট করেন এবং যাকে ইচ্ছা হিদায়াত দান করেন। আল্লাহ আযযা ওয়া জাল্লা একে নসিহত হিসেবে নির্ধারণ করেছেন যা মুমিনরা স্মরণ রাখবে; ফলে তারা বিভক্তি থেকে সতর্ক থাকবে, জামাআতকে আঁকড়ে ধরবে, দ্বীনের বিষয়ে বিতর্ক ও ঝগড়া পরিহার করবে এবং অনুসরণ করবে, নব-উদ্ভাবন করবে না।" (১) শাইখুল ইসলাম আহমাদ ইবনে তাইমিয়্যাহ এই উম্মাহর মধ্যে বিভক্তি ঘটার বিষয়ে অনেকগুলো টেক্সট উল্লেখ করার পর বলেন: "এই বিষয়টি নবি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) থেকে একাধিক সূত্রে সংরক্ষিত হয়েছে, যা ইঙ্গিত দেয় যে উম্মাহর মাঝে অনৈক্য ও বিভক্তি ঘটা অনিবার্য। তিনি তাঁর উম্মাহকে এ বিষয়ে সতর্ক করতেন যাতে আল্লাহ যার জন্য নিরাপত্তা চান সে যেন এর থেকে মুক্তি পায়" (২)। তাই যারা উম্মাহর ওপর আপতিত ঘটনাপ্রবাহ এবং একে ধ্বংসকারী বিভক্তির সামনে নেতিবাচক ও পরাজয়বাদী মনোভাব পোষণ করে এবং আল্লাহর তাকদিরের দোহাই দিয়ে কর্মত্যাগ করে বলে যে, 'এগুলো তো ঘটবেই, তাহলে আমল করে লাভ কী?!'—তারা ভুল করছে। অথচ মনোনীত রাসুল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) আমাদের সঠিক পথ দেখিয়েছেন এবং আমাদের থেকে এই সংশয় দূর করেছেন। ইমরান ইবনে হুসাইন (রাদিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: "এক ব্যক্তি বলল: হে আল্লাহর রাসুল! জান্নাতি ও জাহান্নামিদের কি চেনা গেছে? তিনি বললেন: হ্যাঁ। সে বলল: তবে আমলকারীরা কেন আমল করে? তিনি বললেন: প্রত্যেকে সেই আমলই করে যার জন্য তাকে সৃষ্টি করা হয়েছে অথবা যা তার জন্য সহজ করা হয়েছে" (৩)। আর আলী (রাদিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: "আমরা নবি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর সাথে বসা ছিলাম, তাঁর হাতে একটি কাঠি ছিল যা দিয়ে তিনি মাটিতে আঁচড় কাটছিলেন। এরপর তিনি মাথা নিচু করলেন এবং বললেন: তোমাদের মধ্যে এমন কেউ নেই যার ঠিকানা জাহান্নামে অথবা জান্নাতে লিখে রাখা হয়নি। উপস্থিত লোকদের মধ্য থেকে এক ব্যক্তি বলল: হে আল্লাহর রাসুল! তবে কি আমরা (তাকদিরের ওপর) ভরসা করে বসে থাকব না? তিনি বললেন: না, তোমরা আমল করে যাও, কেননা প্রত্যেকের জন্যই তা সহজ করা হয়েছে। এরপর তিনি তিলাওয়াত করলেন: 'অতএব যে দান করে ও তাকওয়া অবলম্বন করে, আর যা উত্তম তা সত্য বলে বিশ্বাস করে, আমি তার জন্য সুগম করে দেব সহজ পথ। আর যে কার্পণ্য করে ও নিজেকে স্বয়ংসম্পূর্ণ মনে করে, আর যা উত্তম তা মিথ্যা বলে গণ্য করে, অচিরেই আমি তার জন্য সুগম করে দেব কঠিন পথ।' [লাইল: ৫-১০]" (৪)।
লক্ষ্য করুন, যখন তারা তাঁকে জিজ্ঞাসা করল: আমলকারীরা কিসের জন্য আমল করে? এবং তারা ধারণা করল যে তাকদির হয়তো কর্মত্যাগের কারণ হবে, তখন আল্লাহর রাসুল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) আমল করাকে আবশ্যক করে তাদের উত্তর দিলেন এবং বললেন: "(বরং) তোমরা আমল করো।" হ্যাঁ, মুমিনের ওপর আবশ্যক হলো আল্লাহ যা নির্দেশ দিয়েছেন তা আমল করা এবং দুনিয়া ও আখিরাতে মুক্তি লাভের মাধ্যম ও উপকরণগুলো গ্রহণ করার জন্য সচেষ্ট হওয়া। এর পাশাপাশি সে আল্লাহর তাকদিরের ওপর ঈমান রাখবে যে, "প্রত্যেকের জন্য তাই সহজ করা হয় যার জন্য সে সৃষ্ট।"
উৎস: আসমা আল-সুওয়াইলাম রচিত 'মাওকিফুস সাহাবা মিনাল ফিরকা ওয়াল ফিরাক' - পৃষ্ঠা ১৫২ - ১৫৬
--------------------------------------------