(খণ্ড: ১)
তুহফাতুত তালেবীন ফী তারজামাতিল ইমাম মুহিউদ্দীন
(পৃষ্ঠা: -)
تحفة الطالبين في ترجمة الإمام محيي الدين القسم: التراجم والطبقات
الكتاب: تحفة الطالبين في ترجمة الإمام محيي الدين
المؤلف: علي بن إبراهيم بن داود بن سلمان بن سليمان، أبو الحسن، علاء الدين ابن العطار (ت 724هـ)
ضبط نصه وعلق عليه وخرج أحاديثه: أبو عبيدة مشهور بن حسن آل سلمان
الناشر: الدار الأثرية، عمان - الأردن
الطبعة: الأولى، 1428 هـ - 2007 م
عدد الصفحات: 216
[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]
تاريخ النشر بالشاملة: 14 ذو القعدة 1433
ইমাম মুহিউদ্দিনের জীবনী বর্ণনায় শিক্ষার্থীদের জন্য উপহার বিভাগ: জীবনী ও জীবনকাব্য
গ্রন্থ: ইমাম মুহিউদ্দিনের জীবনী বর্ণনায় শিক্ষার্থীদের জন্য উপহার
লেখক: আলী বিন ইবরাহীম বিন দাউদ বিন সালমান বিন সুলাইমান, আবুল হাসান, আলাউদ্দিন ইবনুল আত্তার (মৃত্যু: ৭২৪ হিজরি)
পাঠ্য বিন্যাস, টীকা সংযোজন ও হাদিস যাচাইকরণ: আবু উবাইদাহ মাশহুর বিন হাসান আল সালমান
প্রকাশক: আদ-দারুল আসারিয়্যাহ, আম্মান - জর্ডান
সংস্করণ: প্রথম, ১৪২৮ হিজরি - ২০০৭ খ্রিস্টাব্দ
পৃষ্ঠা সংখ্যা: ২১৬
[গ্রন্থের পৃষ্ঠা নম্বর মুদ্রিত সংস্করণের অনুরূপ]
শামিলা লাইব্রেরিতে প্রকাশের তারিখ: ১৪ যুল-ক্বাদাহ ১৪৩৩
(খণ্ড: ১)
তুহফাতুত তালেবীন ফী তারজামাতিল ইমাম মুহিউদ্দীন
(পৃষ্ঠা: ١)
الإيجاز في شرح سنن أبي داود السجستاني
رحمه الله تعالى
للإمام النووي
وفي مقدمات تحقيقه
تحفة الطالبين
في
ترجمة للإمام محيي الدين
تصنيف
علاء الدين علي بن إبراهيم ابن العطار
(المتوفى سنة 724 هـ)
ضبط نصهما وعلّق عليهما وخرج أحاديثهما
أبو عبيدة مشهور حسن آل سلمان
الدار الأثرية
সুনানে আবু দাউদ আস-সিজিস্তানির সংক্ষিপ্ত ব্যাখ্যাগ্রন্থ আল-ইজাজ
আল্লাহ তাআলা তাঁর প্রতি রহম করুন
ইমাম নববী রচিত
এবং এর তাহকিকের উপক্রমণিকাসমূহে
তুহফাতুত তালিবিন
বিষয়ে
ইমাম মুহিউদ্দীনের জীবনী
রচনা
আলাউদ্দীন আলী বিন ইবরাহিম ইবনুল আত্তার
(মৃত্যু ৭২৪ হিজরি)
উভয় গ্রন্থের পাঠ বিন্যাস, টীকা সংযোজন ও হাদিস বিশ্লেষণ করেছেন
আবু উবাইদাহ মাশহুর হাসান আল সালমান
আদ-দারুল আসারিয়্যাহ
(খণ্ড: ১)
তুহফাতুত তালেবীন ফী তারজামাতিল ইমাম মুহিউদ্দীন
(পৃষ্ঠা: ٢)
بسم الله الرحمن الرحيم
পরম করুণাময় ও অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে।
(খণ্ড: ১)
তুহফাতুত তালেবীন ফী তারজামাতিল ইমাম মুহিউদ্দীন
(পৃষ্ঠা: ٣)
الإيجاز في شرح سنن أبي داود السجستاني
رحمه الله تعالى
সুনান আবি দাউদ আস-সিজিস্তানির ব্যাখ্যার সংক্ষিপ্তসার
আল্লাহ তাআলা তাঁর প্রতি রহম করুন
(খণ্ড: ১)
তুহফাতুত তালেবীন ফী তারজামাতিল ইমাম মুহিউদ্দীন
(পৃষ্ঠা: ٤)
جميع الحقوق محفوظة
الطبعة الأولى
1428 هـ - 2007 م
الدار الأثرية
عمّان - الأردن - تلفاكس: 65658045/ 00962
خلوي: 795943456/ 00962 - ص ب: 925595 - الرمز البريدي: 11190
الرمز الإلكتروني: alatharya1423@yahoo.com
সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত
প্রথম সংস্করণ
১৪২৮ হিজরি - ২০০৭ খ্রিস্টাব্দ
আদ-দারুল আসারিয়্যাহ
আম্মান - জর্ডান - টেলিফ্যাক্স: ০০৯৬২ / ৬৫৬৫৮০৪৫
মোবাইল: ০০৯৬২ / ৭৯৫৯৪৩৪৫৬ - পি.ও. বক্স: ৯২৫৫৯৫ - পোস্টাল কোড: ১১১৯০
ইমেইল: alatharya1423@yahoo.com
(খণ্ড: ১)
তুহফাতুত তালেবীন ফী তারজামাতিল ইমাম মুহিউদ্দীন
(পৃষ্ঠা: ٥)
مقدمة المحققإن الحمد لله، نحمده، ونستعينه، ونستغفره، ونعوذ بالله من شرور أنفسنا، ومن سيئات أعمالنا، من يهد الله فلا مضل له، ومن يضلل فلا هادي له. وأشهد أن لا إله إلَاّ الله وحده لا شريك له، وأشهد أنّ محمداً عبده ورسوله، أما بعد:
فهذا كتاب مهم ينشر لأوّل مرة، وهو لعالم رباني، وإمام متفنّن، وضع الله القبول لمؤلفاته، وأحسب ذلك لإخلاصه وعلمه وأدبه، وسليم قصده، ودقة عباراته، وبديع وصفه، وجودة سبكه، وحسن اختياره، وأمانة نقله، وعفّة لسانه، وتجرُّده للحق وعدم تعصّبه، وسلامة منهجه في دورانه مع الدليل، وإعطائه خواصه من الحاكمية والشمول والثبات والعصمة، وأنه قابل للعمل والتطبيق، مع التحرِّي في صحَّته، وإعمال قواعد أهل الصنعة في ذلك.
ووضعتُ بين يدي هذا الكتاب -ألا وهو "الإيجاز في شرح سنن أبي داود السجستاني رحمه الله"- تعريفاً به، ودراسة مستقصاة عن المقدار الذي وصل إليه صاحبه فيه، وتتبّعت النقص الذي فيه، وجهدتُ في حصره وإثباته في مقدِّمته.
واستحسنتُ البدء بالتعريف بصاحبه ومؤلفه، وهو الإمام الجليل العلامة محيي الدين يحيى بن شرف النووي (ت 676هـ)
সম্পাদকের ভূমিকাসমস্ত প্রশংসা আল্লাহর জন্য, আমরা তাঁর প্রশংসা করি, তাঁর কাছে সাহায্য প্রার্থনা করি এবং তাঁর কাছে ক্ষমা চাই। আমরা আমাদের নফসের অনিষ্টতা এবং আমাদের আমলের মন্দ দিকগুলো থেকে আল্লাহর নিকট আশ্রয় প্রার্থনা করছি। আল্লাহ যাকে পথ দেখান তাকে বিভ্রান্ত করার কেউ নেই, আর তিনি যাকে বিভ্রান্ত করেন তাকে পথ দেখানোর কেউ নেই। আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, আল্লাহ ছাড়া কোনো সত্য ইলাহ নেই, তিনি একক, তাঁর কোনো শরিক নেই। আমি আরও সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, মুহাম্মদ তাঁর বান্দা ও রাসূল। এরপর:
এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ গ্রন্থ যা প্রথমবারের মতো প্রকাশিত হচ্ছে। এটি একজন রব্বানী আলেম ও বহুমুখী প্রতিভার অধিকারী ইমামের রচনা, যাঁর রচনাবলির জন্য আল্লাহ কবুলিয়ত দান করেছেন। আমি মনে করি এটি তাঁর ইখলাস, ইলম, আদব, উদ্দেশ্যের সততা, সূক্ষ্ম প্রকাশভঙ্গি, চমৎকার বর্ণনাশৈলী, উন্নত লিখনশৈলী, উত্তম চয়ন, বর্ণনার বিশ্বস্ততা, পরিচ্ছন্ন ভাষা, হকের জন্য নিজেকে উৎসর্গ করা ও গোঁড়ামি পরিহার করা, এবং দলিলের অনুসারী হওয়ার ক্ষেত্রে তাঁর মানহাজের বিশুদ্ধতার কারণে হয়েছে। তিনি দলিলকে তার যথাযথ কর্তৃত্ব, ব্যাপকতা, স্থায়িত্ব এবং অভ্রান্ততা প্রদান করেছেন এবং এটি যে আমল ও প্রয়োগযোগ্য তা নিশ্চিত করেছেন, পাশাপাশি এর বিশুদ্ধতা যাচাইয়ে সতর্কতা অবলম্বন করেছেন এবং এই শাস্ত্রের পণ্ডিতদের মূলনীতিগুলো প্রয়োগ করেছেন।
আমি এই গ্রন্থটির—যা হলো "আল-ইজায ফি শারহি সুনানি আবি দাউদ আস-সিজিস্তানি (রহিমাহুল্লাহ)"—শুরুতে এর একটি পরিচিতি তুলে ধরেছি। লেখক এই গ্রন্থে যতটুকু পর্যন্ত পৌঁছেছেন সে বিষয়ে একটি বিস্তারিত গবেষণা উপস্থাপন করেছি এবং এতে থাকা অসম্পূর্ণতাগুলো অনুসন্ধান করেছি। আমি সেই অসম্পূর্ণ অংশগুলো চিহ্নিত করতে এবং এর ভূমিকায় তা সাব্যস্ত করতে প্রচেষ্টা চালিয়েছি।
আমি এই গ্রন্থের রচয়িতা ও লেখকের পরিচিতি দিয়ে শুরু করাকেই শ্রেয় মনে করেছি, আর তিনি হলেন সুমহান ইমাম, আল্লামা মুহিউদ্দীন ইয়াহইয়া ইবনে শারফ আন-নববী (মৃত্যু ৬৬৭ হিজরি)।
(খণ্ড: ১)
তুহফাতুত তালেবীন ফী তারজামাতিল ইমাম মুহিউদ্দীন
(পৃষ্ঠা: ٦)
رحمه الله تعالى بقلم صاحبه وأخصّ الناس به، وأقرب تلاميذه إليه، وأعرفهم به وبأحواله، وهو الإمام علاء الدين علي بن إبراهيم ابن العطار (ت 724 هـ)، فقد أفرده بتصنيف سمّاه "تحفة الطالبين في ترجمة الإمام محيي الدين"، كان مرجعاً لمن أتى بعده، واعتمد عليه جمع من مترجمي النووي، وكانوا عيالاً عليه فيه، وكنت قد نشرته قديماً، فأعدت النظر فيه، وزدتُ عليه وصححت أخطاء طبعيّة وقعت فيه، وألحقتُ فيه زيادات مهمة، جلها تخصُّ مؤلفات النووي والتعريف بنسخها الخطية، وإظهار طبعاتها المستجدة، وإثبات جهود العلماء حولها، والزيادات تشمل مواطن أخرى متفرّقة فيه.
والمرجو من الله أن أكون قد أصبتُ ووفّقتُ في ذلك، وأن يكتب لي الأجر في صنيعي هذا، الذي لا همَّ لي فيه إلَّا خدمة تراثنا المجيد، وديننا الحنيف، والله من وراء القصد.
وكتب
أبو عبيدة مشهور بن حسن آل سلمان
السادس عشر من رمضان من سنة ألف وأربع مئة وست وعشرين من هجرة النبي صلى الله عليه وسلم
الأردن- عمان
আল্লাহ তাআলা তাঁর প্রতি রহম করুন; এটি তাঁর সঙ্গী, তাঁর সর্বাধিক ঘনিষ্ঠ ব্যক্তি, তাঁর নিকটতম ছাত্র এবং তাঁর ও তাঁর অবস্থা সম্পর্কে সর্বাধিক অবগত ব্যক্তির কলম থেকে নিসৃত। তিনি হলেন ইমাম আলাউদ্দীন আলী ইবনে ইব্রাহিম ইবনুল আত্তার (মৃত্যু ৭২৪ হি.), যিনি তাঁকে উৎসর্গ করে একটি স্বতন্ত্র গ্রন্থ রচনা করেছেন যার নাম দিয়েছেন "তুহফাতুত তালিবীন ফি তারজামাতিল ইমাম মুহিউদ্দীন"। এটি তাঁর পরবর্তী লেখকদের জন্য একটি প্রধান উৎস ছিল এবং ইমাম নববীর জীবনীকারদের একটি বড় দল এর ওপর নির্ভর করেছেন, এমনকি এ বিষয়ে তারা তাঁরই মুখাপেক্ষী ছিলেন। আমি ইতিপূর্বে এটি প্রকাশ করেছিলাম, এরপর আমি পুনরায় তা পর্যালোচনা করেছি, এতে পরিবর্ধন করেছি এবং মুদ্রণজনিত ভুলত্রুটিগুলো সংশোধন করেছি। আমি এতে কিছু গুরুত্বপূর্ণ সংযোজনও যুক্ত করেছি, যার অধিকাংশ ইমাম নববীর রচনাবলি, সেগুলোর পাণ্ডুলিপির পরিচিতি, নতুন সংস্করণগুলোর প্রকাশ এবং সেগুলোর ওপর উলামায়ে কেরামের প্রচেষ্টাসমূহ তুলে ধরা সম্পর্কিত। এছাড়া অন্যান্য বিক্ষিপ্ত স্থানেও কিছু পরিবর্ধন করা হয়েছে।
আল্লাহর কাছে আশা করি যে, আমি এতে সঠিক পথে পরিচালিত হয়েছি এবং তাওফিক লাভ করেছি। তিনি যেন আমার এই কার্যের প্রতিদান লিখে দেন, যা করার পেছনে আমাদের গৌরবময় ঐতিহ্য এবং আমাদের মহান দ্বীনের খেদমত ছাড়া অন্য কোনো উদ্দেশ্য আমার নেই। আল্লাহই মূল লক্ষ্য সম্পর্কে সম্যক অবগত।
লিখেছেন
আবু উবায়দাহ মাশহুর বিন হাসান আল সালমান
নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের হিজরতের এক হাজার চারশত ছাব্বিশ সালের ১৬ই রমজান
জর্ডান- আম্মান
(খণ্ড: ১)
তুহফাতুত তালেবীন ফী তারজামাতিল ইমাম মুহিউদ্দীন
(পৃষ্ঠা: ٧)
مقدمة تحقيق "تحفه الطالبين"
وتشتمل على الموضوعات التالية:
- من أَفرد ترجمة الإمام النووي بكتاب مستقلٍّ.
- تعريف بكتاب "تحفة الطالبين".
- توثيق نسبته لمصنفه وأهميته.
- تاريخ تصنيفه.
- النسخة المعتمدة في التحقيق.
- صور عن النسخة المعتمدة في التحقيق.
- عملي في التحقيق.
- ترجمة ابن العطار.
- مصادر ترجمته.
- ترجمته.
"তুহফাতুত ত্বালিবীন"-এর সম্পাদনার ভূমিকাএতে নিম্নোক্ত বিষয়সমূহ অন্তর্ভুক্ত রয়েছে:
- যারা ইমাম নববীর জীবনী নিয়ে স্বতন্ত্র গ্রন্থ রচনা করেছেন।
- "তুহফাতুত ত্বালিবীন" গ্রন্থের পরিচিতি।
- লেখকের প্রতি গ্রন্থটির সম্বন্ধের প্রামাণিকতা ও এর গুরুত্ব।
- এটি রচনার ইতিহাস।
- সম্পাদনার ক্ষেত্রে নির্ভরযোগ্য পাণ্ডুলিপি।
- সম্পাদনার ক্ষেত্রে নির্ভরযোগ্য পাণ্ডুলিপির চিত্রসমূহ।
- সম্পাদনার ক্ষেত্রে আমার কর্মপদ্ধতি।
- ইবনুল আত্তারের জীবনী।
- তাঁর জীবনীর উৎসসমূহ।
- তাঁর জীবনী।
(খণ্ড: ১)
তুহফাতুত তালেবীন ফী তারজামাতিল ইমাম মুহিউদ্দীন
(পৃষ্ঠা: ٩)
من أفرد ترجمة الإمام النووي بكتاب مستقلإنَّ الحمدَ لله، نحمدُه، ونستعينُه، ونستغفِرُه، ونعوذ بالله من شرور أنْفسِنا ومن سيِّئات أَعمالِنا، من يهده الله؛ فلا مضل له، ومن يضلل؛ فلا هاديَ له.
أما بعد:
فقد اعتنى العلماء والباحثون قديماً وحديثاً بترجمة الإمام أبي زكريا يحيى بن شرف النووي رحمه الله، وأفرده بالترجمة غير واحد، في كتبٍ لطيفةٍ مستقلَّة؛ منهم:
- تلميذه الشيخ الإمام العالم الزاهد علاء الدين علي بن إبراهيم ابن داود ابن العطار الشافعي، في كتابنا هذا، وسيأتي-إن شاء الله تعالى- الكلامُ عليه.
- الشيخ العلامة شمس الدين محمد بن عبد الرحمن بن أبي بكر ابن عثمان بن محمد السخاوي (ت 902 هـ) (1) في كتاب "المنهل العَذْب الرَّويّ، في ترجمة الإمام النووي"، طُبع في القاهرة عن جمعية
--------------------------------------------
যারা ইমাম নববীর জীবনী নিয়ে স্বতন্ত্র গ্রন্থ রচনা করেছেননিশ্চয়ই সকল প্রশংসা আল্লাহর জন্য; আমরা তাঁরই প্রশংসা করি, তাঁরই নিকট সাহায্য চাই এবং তাঁরই নিকট ক্ষমা প্রার্থনা করি। আমরা আমাদের নফসের অনিষ্টতা এবং আমাদের মন্দ আমলসমূহ থেকে আল্লাহর আশ্রয় প্রার্থনা করছি। আল্লাহ যাকে হেদায়েত দান করেন, তাকে পথভ্রষ্ট করার কেউ নেই; আর তিনি যাকে পথভ্রষ্ট করেন, তাকে পথ দেখানোর কেউ নেই।
অতঃপর:
প্রাচীন ও আধুনিককালের আলিম ও গবেষকগণ ইমাম আবু যাকারিয়া ইয়াহইয়া ইবনে শরাফ আন-নববী (রাহিমাহুল্লাহ)-এর জীবনীর প্রতি বিশেষ গুরুত্বারোপ করেছেন। একাধিক ব্যক্তি স্বতন্ত্র ছোট ও পূর্ণাঙ্গ গ্রন্থে তাঁর জীবনী বিশেষভাবে লিপিবদ্ধ করেছেন; তাঁদের মধ্যে রয়েছেন:
- তাঁর ছাত্র শায়খ, ইমাম, আলিম, যাহিদ (সংসারবিরাগী) আলাউদ্দীন আলী ইবনে ইবরাহীম ইবনে দাউদ ইবনুল আত্তার আশ-শাফিঈ, আমাদের এই কিতাবে। ইনশাআল্লাহ তাআলা এ প্রসঙ্গে সামনে আলোচনা আসবে।
- শায়খ আল্লামা শামসুদ্দীন মুহাম্মদ ইবনে আবদুর রহমান ইবনে আবি বকর ইবনে উসমান ইবনে মুহাম্মদ আস-সাখাবী (ওফাত ৯০২ হিজরী) (১), তাঁর "আল-মানহালুল আযবুর রওয়ী ফী তরজমাতিল ইমাম আন-নববী" নামক গ্রন্থে; যা কায়রো থেকে একটি সমিতির পক্ষ থেকে মুদ্রিত হয়েছে।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
তুহফাতুত তালেবীন ফী তারজামাতিল ইমাম মুহিউদ্দীন
(পৃষ্ঠা: ١٠)
النشر والتأليف الأزهرية، بعناية الشيخ محمود ربيع، سنة (1354 هـ- 935 م)، ثم طُبع طبعةٍ أنيقةٍ عن دار التراث بالمدينة النبوية، سنة 1409هـ تحقيق محمد العيد الخطراوي.
- الشيخ العلّامة جلال الدين عبد الرحمن السيوطي (ت 911 هـ)، في كتاب: "المنهاج السوي في ترجمة الإمام النووي"، طبع في بيروت عن دار ابن حزم، تحقيق: أحمد شفيق دمج، سنة (1408 هـ - 1988 م).
- محمد بن الحسن اللخمي (ت 738 هـ) في أربع ورقات؛ كما قال السخاوي (1).
- العلّامة الربّاني كمال الدين محمد بن محمد بن عبد الرحمن الشافعي القاهري المعروف بـ (ابن إمام الكاملية) (2) وشيخها (ت 874 هـ)، في جزء سمَّاه: "بغية الراوي في ترجمة الإمام النواوي".
- العلامة أبو الفضل النويري خطيب مكة، في جزء سماه: "تحفة الطالب والمنتهي في ترجمة الإمام النووي".
قال السخاوي: "وأفردها -أي: ترجمة الإمام النووي- أيضاً من مدَّة: العلامة الربَّاني كمال الدين إمام الكاملية وشيخها في جزء سمَّاه: "بغية الراوي في ترجمة النواوي"رحمه الله وقرأها -على ما بلغني- العلامة أبو الفضل النويري -خطيب مكة شرفها الله-.
--------------------------------------------
আন-নাশর ওয়াত-তালীফ আল-আযহারিয়াহ, শায়খ মাহমুদ রাবী-এর তত্ত্বাবধানে, ১৩৫৪ হিজরী - ১৯৩৫ খ্রিস্টাব্দে; অতঃপর এটি মদীনা মুনাওয়ারাহর দারুত তুরাস থেকে ১৪০৯ হিজরীতে মুহাম্মাদ আল-ঈদ আল-খাতরাভীর সম্পাদনায় একটি সুন্দর সংস্করণে মুদ্রিত হয়।
- শায়খ আল্লামা জালালুদ্দীন আবদুর রহমান আস-সুয়ূতী (মৃত্যু ৯১১ হি.), তাঁর "আল-মিনহাজুস সাওয়ী ফী তারজামাতিল ইমাম আন-নববী" নামক গ্রন্থে; এটি বৈরুতের দারু ইবনে হাযম থেকে আহমাদ শফিক দামাজ-এর সম্পাদনায় ১৪০৮ হিজরী - ১৯৮৮ খ্রিস্টাব্দে মুদ্রিত হয়েছে।
- মুহাম্মাদ ইবনুল হাসান আল-লাখমী (মৃত্যু ৭৩৮ হি.), চার পৃষ্ঠায়; যেমনটি সাখাভী (১) বলেছেন।
- আল্লামা রব্বানী কামালুদ্দীন মুহাম্মাদ ইবনে মুহাম্মাদ ইবনে আবদুর রহমান আশ-শাফেয়ী আল-কাহেরী, যিনি 'ইবনে ইমাম আল-কামিলিয়্যাহ' (২) হিসেবে পরিচিত এবং এর প্রধান শায়খ (মৃত্যু ৮৭৪ হি.), তাঁর একটি পুস্তিকায় যার নাম তিনি রেখেছেন: "বুগইয়াতুর রাওয়ী ফী তারজামাতিল ইমাম আন-নাওয়াবী"।
- আল্লামা আবুল ফজল আন-নুওয়াইরী, মক্কার খতীব, তাঁর একটি পুস্তিকায় যার নাম তিনি রেখেছেন: "তুহফাতুত ত্বালিব ওয়াল মুনতাহী ফী তারজামাতিল ইমাম আন-নববী"।
সাখাভী বলেন: "কিছুকাল আগে আল্লামা রব্বানী কামালুদ্দীন, ইমামুল কামিলিয়্যাহ এবং এর প্রধান শায়খ ইমাম নববীর জীবনী স্বতন্ত্রভাবে একটি পুস্তিকায় লিখেছেন, যার নাম তিনি দিয়েছেন: 'বুগইয়াতুর রাওয়ী ফী তারজামাতিন নাওয়াবী'—আল্লাহ তাঁর ওপর রহম করুন। আর আমার নিকট সংবাদ পৌঁছেছে যে, আল্লামা আবুল ফজল আন-নুওয়াইরী—আল্লাহ মক্কাকে সম্মানিত করুন, যিনি মক্কার খতীব ছিলেন—এটি পাঠ করেছেন।"
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
তুহফাতুত তালেবীন ফী তারজামাতিল ইমাম মুহিউদ্দীন
(পৃষ্ঠা: ١١)
وقد أخذها بعض الجماعة، فقال: إنه رتبها، وزاد عليها؛ لكونه استحسن جمعها، وما رضي وضعها، وسمَّاها "تحفة الطالب والمنتهي في ترجمة الإمام النووي"، ومن نفس التسمية يعلم المقصود.
ولو فرض -على سبيل التنزُّل- أن صاحب "التحفة" لم تكثر أوهامه، وكان ما زعمه -والعياذ بالله- صحيحاً؛ ما كان يجمل به هذا القول، بل اللائق الأدب مع أهل العلم والولايات، وإنزالهم منازلهم في البدايات والنهايات، ومن لم يجعل الله له نوراً؛ فما له من نور، وكأني به -ألهمنا الله رشدنا- قد أخذ ما وقع لي من الزَّوائد الفرائد، التي لا أعلم مَن سبقني إليها؛ مِن غير عزو، غافلًا عن قول القائل (1): "شُكر العلم عزوُه لقائله". "ولا حول ولا قوة إلا بالله" (2).
- الشيخ شمس الدين محمد ابن الفخر عبد الرحمن بن يوسف البعلي؛ كما قال السخاوي (3).
- أحمد بن محمد السُّحَيْمي المصري الشافعي (ت 1178هـ).
قال الأستاذ خير الدين الزِّرِكْلي في "الأعلام" (8/ 149): "وأفردت ترجمته في رسائل؛ إحداها: للسُّحَيْمي".
--------------------------------------------
দলের কেউ কেউ এটি গ্রহণ করেছেন এবং বলেছেন: তিনি এটি বিন্যস্ত করেছেন এবং এতে সংযোজন করেছেন; কারণ তিনি এর সংকলন পছন্দ করেছিলেন, কিন্তু এর বিন্যাসে সন্তুষ্ট ছিলেন না। তিনি এর নাম দিয়েছেন "তুহফাতুত তালিব ওয়াল মুনতাহী ফী তারজামাতি আল-ইমাম আন-নাওয়াবী"। নাম থেকেই উদ্দেশ্য বোঝা যায়।
যদি তর্কের খাতিরে ধরেও নেওয়া হয় যে, 'তুহফা' রচয়িতার ভুল-ভ্রান্তি বেশি ছিল না এবং তার দাবিটি -আল্লাহ রক্ষা করুন- সত্য ছিল; তবুও তার জন্য এই ধরনের কথা শোভা পেত না। বরং আলেম ও বিলায়াতপ্রাপ্ত ব্যক্তিদের সাথে শিষ্টাচার প্রদর্শন করা এবং শুরু ও শেষ উভয় অবস্থাতেই তাদেরকে তাদের যথাযথ মর্যাদায় আসীন করা ছিল উপযুক্ত। আর আল্লাহ যার জন্য কোনো নূর রাখেননি, তার কোনো নূর নেই। আমার মনে হয় -আল্লাহ আমাদের সঠিক পথ প্রদর্শন করুন- তিনি আমার উদ্ভাবিত সেই অনন্য সংযোজনগুলো গ্রহণ করেছেন, যা আমার পূর্বে আর কেউ করেছে বলে আমি জানি না; অথচ তিনি কোনো উদ্ধৃতি দেননি, সেই প্রবাদবাক্যটি (১) ভুলে গিয়ে যে: "জ্ঞানের কৃতজ্ঞতা হলো তা তার প্রবক্তার দিকে সম্বন্ধ করা (উদ্ধৃতি দেওয়া)।" "আল্লাহ ছাড়া কোনো শক্তি বা সামর্থ্য নেই" (২)।
- শায়খ শামসুদ্দীন মুহাম্মদ ইবনুল ফখর আবদুর রহমান ইবনে ইউসুফ আল-বালি; যেমনটি সাখাভী বলেছেন (৩)।
- আহমাদ ইবনে মুহাম্মদ আস-সুহাইমী আল-মিসরী আশ-শাফিঈ (মৃত্যু ১১৭৮ হিজরী)।
উস্তাদ খাইরুদ্দীন আয-যিরিকলী 'আল-আ'লাম' গ্রন্থে (৮/১৪৯) বলেছেন: "তার জীবনী নিয়ে স্বতন্ত্র রিসালাহ (পুস্তিকা) লেখা হয়েছে; যার একটি সুহাইমীর।"
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
তুহফাতুত তালেবীন ফী তারজামাতিল ইমাম মুহিউদ্দীন
(পৃষ্ঠা: ١٢)
- الشيخ عبد الغني الدَّقْر (معاصر)، في كتاب بعنوان: "الإمام النووي: شيخ الإسلام والمسلمين، وعمدة الفقهاء والمحدِّثين"، طبع في سوريا عن دار القلم، ضمن سلسلة: "أعلام التاريخ" (رقم 10)، آخر طبعاته سنة (1407 هـ- 1978م).
- الشيخ علي الطنطاوي (معاصر)، في كتاب بعنوان: "الإمام النووي"، طبع في سورية عن دار الفكر، ضمن سلسلة "أعلام التاريخ" (رقم 4)، أول طبعة له سنة (1380هـ -1960م).
- الدكتور الشيخ محمود رجا مصطفى حمدان (معاصر)، في أطروحته للدكتوراه؛ بعنوان: "الإمام النووي وأثره في الفقه الإسلامي"، مقدمة لقسم الدراسات الإسلامية بجامعة البنجاب، بإشراف الدكتور خالد علوي، سنة (1404 هـ-1984 م)، مضروبة على آلة كاتبة.
- الشيخ شحادة حميدي العَمْري، في أطروحته للماجستير، بعنوان: "الإمام النووي وجهوده في التفسير"، مقدمة لقسم أصول الدين في كلية الشريعة في الجامعة الأردنية، بإشراف الدكتور فضل حسن عبَّاس، سنة (1407 هـ- 1987 م)، مضروبة على آلة كاتبة.
- الأستاذ أحمد عبد العزيز قاسم الحداد، له أطروحة ماجستير مطبوعة بعنوان: "الإمام النووي وأثره في الحديث وعلومه" نشر دار البشائر الإسلامية، سنة1413 هـ- 1992 م.
- الأستاذ يعقوب كوج يغيت، له أطروحة ماجستير سنة 1409 هـ بعنوان: "محيي الدين النووي: حياته وآثاره ومنهجه في شرح صحيح مسلم"، وهي بإشراف الدكتور رمضان أيفالي، مقدمة لمعهد العلوم الاجتماعية في جامعة سلجوق، قونيا، في تركيا.
- শায়খ আবদুল গনি আদ-দাকর (সমসাময়িক), তাঁর লিখিত গ্রন্থ: "আল-ইমাম আন-নববী: শায়খুল ইসলাম ওয়াল মুসলিমিন, ওয়া উমদাতুল ফুকাহা ওয়াল মুহাদ্দিসিন", সিরিয়ার দারুল কালাম থেকে প্রকাশিত, "আলামুত তারিখ" সিরিজের (নং ১০) অন্তর্ভুক্ত, এর সর্বশেষ সংস্করণ ১৪০৭ হিজরী - ১৯৭৮ খ্রিস্টাব্দে প্রকাশিত।
- শায়খ আলি তানতাবি (সমসাময়িক), তাঁর লিখিত গ্রন্থ: "আল-ইমাম আন-নববী", সিরিয়ার দারুল ফিকর থেকে প্রকাশিত, "আলামুত তারিখ" সিরিজের (নং ৪) অন্তর্ভুক্ত, এর প্রথম সংস্করণ ১৩৮০ হিজরী - ১৯৬০ খ্রিস্টাব্দে প্রকাশিত।
- ডক্টর শায়খ মাহমুদ রাজা মুস্তাফা হামদান (সমসাময়িক), তাঁর পিএইচডি গবেষণাপত্রে; শিরোনাম: "আল-ইমাম আন-নববী ওয়া আসারুহু ফিল ফিকহিল ইসলামি", পাঞ্জাব বিশ্ববিদ্যালয়ের ইসলামিক স্টাডিজ বিভাগে পেশকৃত, ডক্টর খালিদ আলাভির তত্ত্বাবধানে, ১৪০৪ হিজরী - ১৯৮৪ খ্রিস্টাব্দ, যা টাইপরাইটারে টাইপ করা হয়েছে।
- শায়খ শিহাদা হামিদি আল-আমরি, তাঁর মাস্টার্স গবেষণাপত্রে, শিরোনাম: "আল-ইমাম আন-নববী ওয়া জুহুুদুহু ফিত তাফসির", জর্ডান বিশ্ববিদ্যালয়ের শরিয়াহ অনুষদের উসুলুদ দ্বীন বিভাগে পেশকৃত, ডক্টর ফাদল হাসান আব্বাসের তত্ত্বাবধানে, ১৪০৭ হিজরী - ১৯৮৭ খ্রিস্টাব্দ, যা টাইপরাইটারে টাইপ করা হয়েছে।
- উস্তাদ আহমদ আবদুল আজিজ কাসিম আল-হাদ্দাদ, তাঁর একটি মুদ্রিত মাস্টার্স গবেষণাপত্র রয়েছে যার শিরোনাম: "আল-ইমাম আন-নববী ওয়া আসারুহু ফিল হাদিসি ওয়া উলুমিহি", যা দারুল বাশাইর আল-ইসলামিয়া থেকে ১৪১৩ হিজরী - ১৯৯২ খ্রিস্টাব্দে প্রকাশিত।
- উস্তাদ ইয়াকুব কুজ ইয়িগিত, ১৪০৯ হিজরীতে তাঁর একটি মাস্টার্স গবেষণাপত্র রয়েছে যার শিরোনাম: "মুহিউদ্দিন আন-নববী: হায়াতুহু ওয়া আসারুহু ওয়া মানহাজুহু ফি শারহি সহিহি মুসলিম", এটি ডক্টর রামাদান আইফালির তত্ত্বাবধানে তুরস্কের কোনিয়া শহরের সেলজুক বিশ্ববিদ্যালয়ের সামাজিক বিজ্ঞান ইনস্টিটিউটে পেশ করা হয়েছে।
(খণ্ড: ১)
তুহফাতুত তালেবীন ফী তারজামাতিল ইমাম মুহিউদ্দীন
(পৃষ্ঠা: ١٣)
- الأستاذ حميد الداودي، له أطروحة بعنوان: "الإمام النووي المحدّث الفقيه من خلال كتابيه "المجموع" و"المنهاج"، قدمت لجامعة محمد الأول، في كلية الآداب، وجدة - المغرب، سنة 1414 هـ.
প্রফেসর হামিদ আদ-দাউদি, তাঁর একটি গবেষণাপত্র রয়েছে যার শিরোনাম: "তাঁর 'আল-মাজমু' এবং 'আল-মিনহাজ' গ্রন্থদ্বয়ের আলোকে মুহাদ্দিস ও ফকিহ হিসেবে ইমাম নববী", যা মরক্কোর উজদাহ-তে অবস্থিত মুহাম্মদ প্রথম বিশ্ববিদ্যালয়ের কলা অনুষদে ১৪১৪ হিজরি সালে পেশ করা হয়েছে।
(খণ্ড: ১)
তুহফাতুত তালেবীন ফী তারজামাতিল ইমাম মুহিউদ্দীন
(পৃষ্ঠা: ١٤)
تعريف بكتاب "تحفة الطالبين"
توثيق نسبته لمصنِّفه وأهميته:نسبة كتاب "تحفة الطالبين في ترجمة الإمام النووي محيي الدين" صحيحة لمصنِّفه ابن العطار، إذ ما من أحد ترجم للإمام النووي؛ إلَاّ ونقل منه، واعتمد عليه.
فنقل منه -وأكثر- الذهبيُّ في ترجمة الإمام النووي في كتابيه: "تذكرة الحفاظ"، و"تاريخ الإسلام"، وكذلك السخاويُّ في "المنهل العذب الروي"، والسيوطيُّ في "المنهاج السوي"، إذ لا تمر فقرة من فقرات هذه الكتب؛ إلا وفيها: "قال ابن العطار".
إلا أن الذهبي نقل نصوصاً صدَّرها بقوله: "قال ابن العطار"، ولم نجدها في الكتاب الذي بين أيدينا!
وتنبَّه لهذا الأمر -قديماً- السخاويُّ؛ إذ قال: "قلتُ: وقد أفرد ترجمته بالتَّصْنيف خادمُه العلَاّمة علاء الدين أبو الحسن علي بن إبراهيم بن داود الدِّمشقي، عُرف بـ (ابن العطار)، الذي كان لشدَّة ملازمته له، وتحقُّقه به؛ يقال له: (مختصر النووي)، استوفيتُ مقاصده هنا، وهو عمدتي، بل عمدة كلّ من أتى بعده".
"তুহফাতুত ত্বালিবীন" গ্রন্থের পরিচিতিএর লেখকের সাথে সম্পর্কের নির্ভরযোগ্যতা এবং এর গুরুত্ব:"তুহফাতুত ত্বালিবীন ফী তারজামাতিল ইমাম আন-নববী মুহিউদ্দীন" গ্রন্থটি এর লেখক ইবনুল আত্তারের প্রতি সম্পৃক্ত হওয়া সঠিক, কারণ যারাই ইমাম নববীর জীবনী লিখেছেন, তারা এটি থেকে উদ্ধৃত করেছেন এবং এর ওপর নির্ভর করেছেন।
হাফেজ যাহাবী তাঁর "তাযকিরাতুল হুফফাজ" এবং "তারিখুল ইসলাম" গ্রন্থদ্বয়ে ইমাম নববীর জীবনী আলোচনায় এটি থেকে প্রচুর উদ্ধৃতি দিয়েছেন। একইভাবে সাখাভী তাঁর "আল-মানহালুল আযবুর রাভী" এবং সুয়ূতী তাঁর "আল-মিনহাজুস সাভী" গ্রন্থেও তা করেছেন; এমনকি এই বইগুলোর কোনো অনুচ্ছেদই এমন পাওয়া যায় না যেখানে "ইবনুল আত্তার বলেছেন" কথাটি নেই।
তবে যাহাবী এমন কিছু পাঠ্য উদ্ধৃত করেছেন যার শুরুতে তিনি বলেছেন: "ইবনুল আত্তার বলেছেন", কিন্তু আমাদের সামনে উপস্থিত এই বইটিতে আমরা সেগুলো খুঁজে পাইনি!
প্রাচীনকালে সাখাভীও বিষয়টি লক্ষ্য করেছিলেন; তিনি বলেছেন: "আমি বলছি: তাঁর জীবনী নিয়ে স্বতন্ত্র গ্রন্থ রচনা করেছেন তাঁর খাদেম আল্লামা আলাউদ্দীন আবুল হাসান আলী বিন ইবরাহিম বিন দাউদ আদ-দিমাশকী, যিনি 'ইবনুল আত্তার' নামে পরিচিত। ইমাম নববীর সাথে তাঁর গভীর সান্নিধ্য ও তাঁর থেকে ইলম হাসিলের দৃঢ়তার কারণে তাঁকে 'মুখতাসারুন নববী' (নববীর সংক্ষিপ্ত রূপ) বলা হতো। আমি এখানে তাঁর গ্রন্থের উদ্দেশ্যসমূহ বিস্তারিতভাবে বর্ণনা করেছি। এটিই আমার প্রধান ভিত্তি, বরং তাঁর পরবর্তী যারাই এসেছেন তাদের সবারই প্রধান ভিত্তি হলো এটি।"
(খণ্ড: ১)
তুহফাতুত তালেবীন ফী তারজামাতিল ইমাম মুহিউদ্দীন
(পৃষ্ঠা: ١٥)
ووقع في كلام الذهبي في "سير النبلاء" (1) أنه في ست كراريس (2)، والمتداول بالأيدي في كراس وشيء، فيُحتمل أن يكون كتب فيه جميع المراثي، ثم حذفها منه بعضُ النساخ، ووجدتُ في نسخةٍ وقفتُ عليها ما يُسْتَأنسُ به لذلك.
وظاهر صنيع الذهبي في "تاريخه" مشعرٌ بكون التي وقف عليها فيها لم يستوفِ المراثي فيها.
وقد وقفتُ على نسخة بجميع المراثي (3) بخطّ تلميذه، شيخ شيوخنا، المسنِد، شهاب الدين أحمد ابن البدر حسن؛ لأبيه، وهو أبو عبد الله محمد ابن الواعظ أبي عبد الله محمد بن زكريا بن يحيى بن مسعود بن غنيمة السويداوي، عُرف هو وأبوه بـ: (القدسي)، كتبها بالخانقاه السميساطية بدمشق، وهي بسماعه على مؤلِّفها، بقراءة المحدّث ناصر الدين أبي عبد الله محمد بن طغر بك بن الصيرفي؛ سوى ورقتين، فبقراءة السويداوي، وذلك في ثلاثة مجالس، آخرها يوم الأربعاء، سادس عشر ربيع الآخر، سنة أربع وعشرين وسبع مئة، بمنزل المؤلف، بدار الحديث النورية بدمشق، وصحح بخطه.
وكتب السويداوي أن المصنف ابتدأ في تصنيفها في منتصف شعبان سنة ثمان وسبع مئة، ودعا له بقوله: "عافاه الله، وأحسن عقباه".
--------------------------------------------
আয-যাহাবীর কথা থেকে ‘সিয়ারুন নুবালা’ (১) গ্রন্থে পাওয়া যায় যে, এটি ছয়টি খণ্ডে (২) সমাপ্ত। অথচ বর্তমানে যা প্রচলিত আছে তা এক খণ্ড এবং সামান্য কিছু অংশ। তাই সম্ভাবনা রয়েছে যে, তিনি এতে সমস্ত শোকগাথা লিখেছিলেন, পরবর্তীতে কিছু অনুলিপিকারক তা এখান থেকে বাদ দিয়ে দিয়েছেন। আর আমি এমন একটি অনুলিপি পেয়েছি যা এ বিষয়টিকে সমর্থন করে।
আয-যাহাবীর ‘তারিখ’ (ইতিহাস) গ্রন্থের বর্ণনা থেকে প্রতীয়মান হয় যে, তিনি যে অনুলিপিটি দেখেছিলেন তাতে সমস্ত শোকগাথা পূর্ণাঙ্গভাবে ছিল না।
আমি সমস্ত শোকগাথা সম্বলিত একটি অনুলিপি (৩) দেখেছি যা তার ছাত্র, আমাদের শায়খদের শায়খ, মুসনিদ শিহাবুদ্দীন আহমাদ ইবনুল বদর হাসান-এর হস্তাক্ষরে লিখিত; তার পিতার জন্য, যিনি হলেন আবু আব্দুল্লাহ মুহাম্মাদ ইবনুল ওয়ায়েজ আবু আব্দুল্লাহ মুহাম্মাদ বিন জাকারিয়া বিন ইয়াহইয়া বিন মাসউদ বিন গানিমাহ আস-সুওয়াইদাওয়ী। তিনি ও তার পিতা ‘আল-কুদসী’ নামে পরিচিত ছিলেন। তিনি এটি দামেস্কের সামাইসাতিয়্যাহ খানকাহতে লিখেছিলেন। এটি লেখকের উপস্থিতিতে শ্রবণকৃত পাণ্ডুলিপি, যা মুহাদ্দিস নাসিরুদ্দীন আবু আব্দুল্লাহ মুহাম্মাদ বিন তুগরুল বেগ বিন আস-সাইরাফীর পাঠের মাধ্যমে সম্পন্ন হয়েছিল; কেবল দুটি পৃষ্ঠা ব্যতীত, যা আস-সুওয়াইদাওয়ীর পাঠের মাধ্যমে হয়েছিল। এটি তিনটি মজলিসে সম্পন্ন হয়, যার সর্বশেষ মজলিস ছিল দামেস্কের দারুল হাদিস আন-নুরিয়্যাহতে লেখকের নিজগৃহে ৭২৪ হিজরীর ১৬ই রবিউস সানি, বুধবার। তিনি তার নিজ হাতে এটি সংশোধনও করেছিলেন।
আস-সুওয়াইদাওয়ী লিখেছেন যে, লেখক এটি রচনা করতে শুরু করেন ৭০৮ হিজরীর শাবান মাসের মাঝামাঝি সময়ে। তিনি লেখকের জন্য এই বলে দোয়া করেন: “আল্লাহ তাকে সুস্থ রাখুন এবং তার পরিণাম সুন্দর করুন।”
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
তুহফাতুত তালেবীন ফী তারজামাতিল ইমাম মুহিউদ্দীন
(পৃষ্ঠা: ١٦)
وسبب ذلك أنه كان أصيب بالفالج من قبيل سنين، ويحتمل أن يكون تصنيفاً آخر، وهو بعيد، لكن يستأنس له بما وجدته في كلام الذهبي مدرجاً في كلام ابن العطارة مما لم أقف عليه في النسختين" (1).
انتهى.
قلت: ولا يبعد أنَّ نقل الذهبي عن ابن العطار مما شافهه به، وهذا يؤكد مقولة السخاوي السابقة: "ويحتمل أن يكون تصنيفاً آخر، وهو بعيد"! ويستأنس لهذا بما قاله ابن العطار في كتابنا هذا (ص 97): "ورأيت منه أموراً تحتمل مجلَّدات ".
وما قاله ابن العماد الحنبلي في "شذرات الذهب" (6/ 64): "وله معه حكايات، واطلع على أحواله".
وقد رأى الكتاني كتاب ابن العطار، وصرح أنه في مجلد، فقال في "فهرس الفهارس" (2/ 829) في ترجمة ابن العطار: "صاحب الشيخ محيي الدين النووي، وجامع ترجمته في مجلد، وقفت عليه بدمشق، وعليه خطه".
وذكر هذا الكتاب ونسبه للمصنِّف جماعة؛ منهم: حاجي خليفة في "كشف الظنون" (1/ 368)، وإسماعيل باشا البغدادي في "هدية العارفين" (1/ 717)، وعمر رضا كحالة في "معجم المؤلفين" (7/ 5)، وصلاح الدين المنجد في لمعجم المؤرخين الدمشقيين" (ص 128)، وقال: "في كراس على قول السخاوي، وستة كراريس على قول الذهبي". وغيرهم كثير.
--------------------------------------------
এর কারণ হলো, তিনি কয়েক বছর আগে পক্ষাঘাতে আক্রান্ত হয়েছিলেন। সম্ভাবনা রয়েছে যে এটি অন্য কোনো রচনা হতে পারে, যদিও তা ক্ষীণ; তবে আল-যাহাবীর বক্তব্যে ইবনুল আত্তারের কথার অন্তর্ভুক্ত হিসেবে যা আমি পেয়েছি—যা আমি পূর্বোক্ত দুই পাণ্ডুলিপিতে পাইনি—তা এই সম্ভাবনাকে সমর্থন করে (১)।
সমাপ্ত।
আমি বলছি: ইবনুল আত্তার থেকে আল-যাহাবীর উদ্ধৃতি সরাসরি শ্রবণের মাধ্যমে হওয়াটা অসম্ভব নয়। আর এটি আস-সাখাবীর পূর্বোক্ত বক্তব্যকেই দৃঢ় করে: "সম্ভবত এটি অন্য কোনো রচনা হতে পারে, যদিও তা ক্ষীণ!" আমাদের এই কিতাবে (পৃ. ৯৭) ইবনুল আত্তারের বক্তব্য এই বিষয়টিকে সমর্থন করে: "আমি তাঁর মাঝে এমন সব বিষয় দেখেছি যা কয়েক খণ্ড হওয়ার যোগ্য।"
এবং ইবনুল ইমাদ আল-হাম্বলী 'শাযারাতুয যাহাব' (৬/৬৪) গ্রন্থে যা বলেছেন: "তাঁর সাথে তাঁর অনেক ঘটনা রয়েছে এবং তিনি তাঁর অবস্থাদি সম্পর্কে অবগত ছিলেন।"
আল-কাত্তানী ইবনুল আত্তারের কিতাবটি দেখেছেন এবং এটি এক খণ্ডে রচিত বলে স্পষ্টভাবে উল্লেখ করেছেন। তিনি 'ফিহরিসুল ফাহারিস' (২/৮২৯) গ্রন্থে ইবনুল আত্তারের জীবনীতে বলেছেন: "তিনি শাইখ মুহিউদ্দীন আন-নববীর ছাত্র এবং এক খণ্ডে তাঁর জীবনী সংকলনকারী। আমি দামেস্কে এটি দেখেছি এবং এতে তাঁর স্বহস্তলিপি রয়েছে।"
একদল আলেম এই কিতাবটির উল্লেখ করেছেন এবং একে লেখকের দিকে সম্বন্ধ করেছেন; তাঁদের মধ্যে রয়েছেন: হাজ্জী খলিফা 'কাশফুয যুনুন' (১/৩৬৮) গ্রন্থে, ইসমাইল পাশা আল-বাগদাদী 'হাদিয়্যাতুল আরিফিন' (১/৭১৭) গ্রন্থে, উমর রিদা কাহহালা 'মু'জামুল মুয়াল্লিফিন' (৭/৫) গ্রন্থে এবং সালাহুদ্দীন আল-মুনজিদ 'মু'জামুল মুয়াররিখীন আদ-দিমাশকিয়্যীন' (পৃ. ১২৮) গ্রন্থে। তিনি বলেছেন: "আস-সাখাবীর বক্তব্য অনুযায়ী এটি একটি পুস্তিকা এবং আল-যাহাবীর বক্তব্য অনুযায়ী এটি ছয়টি পুস্তিকা।" এ ছাড়াও আরও অনেকে।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
তুহফাতুত তালেবীন ফী তারজামাতিল ইমাম মুহিউদ্দীন
(পৃষ্ঠা: ١٧)
تاريخ تصنيف الكتاب:قال السخاوي -فيما سبق- نقلًا عن ناسخ الأصل الذي كان بين يديه من ترجمة ابن العطار: "وكتب السويداوي أن المصنّف ابتدأ في تصنيفها منتصف شعبان سنة ثمان وسبع مئة".
وذكر حاجي خليفة في "كشف الظنون" (1/ 368) أن الشيخ ابن العطار ألفها سنة سبعين وسبع مئة!!
وهذا خطأ، إذ وفاة ابن العطار -كما سيأتي- كانت سنة (724 هـ)، فكيف يتصور صحة مقولته؟!
ومما يوكِّد ما قاله السخاوي عدَّة أمور:
أولاً: جاء على طرة النسخة الخطيَّة التي اعتمدناها في التحقيق ما يلي:
"ابتدئ في تبييضها منتصف شعبان سنة ثمان وسبع مئة".
ثانياً: صرَّح المصنِّف في كتابه أن ابن صَصْرى التَّغلبي -ممن رثى الإمام النووي- حضر مجلسه في سنة اثنتين وسبع مئة (1).
وذكر الحسين بن صدقة -ممن رثى الإمام النووي أيضاً- وقال: "عفا الله عنه" (2).
وتدل هذه العبارة أن ابن صدقة كان ميتاً حينذاك، وإذا علمنا أن وفاته كانت بعد (705هـ) -كما قال ابن حجر في "الدرر الكامنة" (2/ 57) - فلا أقل من أنه صنَّفه بعد هذه السنة بسنة واحدة.
--------------------------------------------
গ্রন্থটি রচনার ইতিহাস:সাখাভী -পূর্বে যা অতিক্রান্ত হয়েছে- তার নিকট থাকা মূল পাণ্ডুলিপির লিপিকারের উদ্ধৃতি দিয়ে ইবনুল আত্তারের জীবনী থেকে বর্ণনা করেছেন: "সুওয়াইদাবী লিখেছেন যে, লেখক এটি রচনা শুরু করেছিলেন ৭০৮ হিজরির শাবান মাসের মাঝামাঝি সময়ে।"
হাজী খলিফা 'কাশফুয যুনুন' (১/৩৬৮) গ্রন্থে উল্লেখ করেছেন যে, শাইখ ইবনুল আত্তার এটি ৭৭০ হিজরিতে রচনা করেছিলেন!!
আর এটি একটি ভুল; কেননা ইবনুল আত্তারের মৃত্যু -যেমনটি সামনে আসবে- ৭২৪ হিজরিতে হয়েছিল, তাহলে তার এই উক্তিটি কীভাবে সঠিক হওয়া সম্ভব?!
সাখাভী যা বলেছেন তা বেশ কয়েকটি বিষয় দ্বারা নিশ্চিত হয়:
প্রথমত: আমরা সম্পাদনার কাজে যে পাণ্ডুলিপিটির ওপর নির্ভর করেছি, তার শিরোনামের অংশে নিম্নোক্ত তথ্যটি এসেছে:
"৭০৮ হিজরির শাবান মাসের মাঝামাঝি সময়ে এর চূড়ান্ত অনুলিপি তৈরির কাজ শুরু করা হয়েছে।"
দ্বিতীয়ত: লেখক তার গ্রন্থে স্পষ্টভাবে উল্লেখ করেছেন যে, ইবনু সাসরা আত-তাগলিবি -যিনি ইমাম নববীর প্রশংসায় শোকগাথা লিখেছিলেন- ৭০২ হিজরিতে তার মজলিসে উপস্থিত ছিলেন (১)।
এবং তিনি আল-হুসাইন বিন সাদাকার কথা উল্লেখ করেছেন -যিনিও ইমাম নববীকে নিয়ে শোকগাথা রচনা করেছিলেন- এবং বলেছেন: "আল্লাহ তাকে ক্ষমা করুন" (২)।
এই বাক্যটি প্রমাণ করে যে, ইবনু সাদাকা সেই সময়ে মৃত ছিলেন। আর যখন আমরা জানতে পারি যে তার মৃত্যু ৭০৫ হিজরির পরে হয়েছিল -যেমনটি ইবনু হাজার 'আদ-দুরারুল কামিনাহ' (২/৫৭) গ্রন্থে বলেছেন- তবে নিশ্চিতভাবেই তিনি এটি ওই বছরের অন্তত এক বছর পরে রচনা করেছেন।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
তুহফাতুত তালেবীন ফী তারজামাতিল ইমাম মুহিউদ্দীন
(পৃষ্ঠা: ١٨)
النسخة المعتمدة في التحقيق:اعتمدتُ في تحقيق هذا الكتاب على نسخة خطية نفيسة، بخط العالم الفقيه الشيخ جمال الدين داود بن إبراهيم بن داود، أبي سليمان، الدمشقي، الشافعي، أخي المصنِّف، إذ جاء في آخرها ما نصه:
"ووقع الفراغ من هذه الترجمة يوم الخميس، سابع ربيع الآخر، سنة أربع وأربعين وسبع مئة، على يد الفقير إلى الله تعالى: داود بن إبراهيم بن داود ابن العطار، عفا الله عنه، وعن والديه، وعن جميع المسلمين".
قال الذهبي في ترجمة الناسخ: "سمع الكثير، ونسخ كتباً كباراً، وله أثْباتٌ وأصولٌ، وليَ مشيخة القَلِيجيَّة بعد أخيه، حدثنا عن ابن أبي الخَيْر وغيره، وله أجزاء عالية، وفيه تعبُّدٌ وخير، ولد سنة خمس وستين وست مئة [665 هـ- 1297 م]، وهو أحدُ إخْوتي من الرَّضاعة" (1).
وتوفي ليلة الخميس ثالث جمادى الآخرة من سنة اثنتين وخمسين وسبع مئة (2).
وعارضها الناسخ على نسخة المصنِّف، فجاء في هامش اللوحة الأخيرة من المخطوط ما نصُّه:
"بلغ معارضة بأصل مؤلِّفه بخطه رحمه الله كتبه إبراهيم بن داود".
--------------------------------------------
সম্পাদনায় নির্ভরকৃত পাণ্ডুলিপি:এই কিতাবটির সম্পাদনায় (তাহকীক) আমি একটি মূল্যবান হস্তলিখিত পাণ্ডুলিপির ওপর নির্ভর করেছি, যা লেখক বা গ্রন্থকারের ভাই, আলেম ও ফকীহ শায়খ জামালুদ্দীন দাউদ বিন ইবরাহীম বিন দাউদ, আবু সুলায়মান, আদ-দিমাশকী, আশ-শাফিঈ-এর হস্তাক্ষরে লিখিত, কেননা এর শেষে যা বর্ণিত হয়েছে তা হলো:
“এই অনুলিপিটি সমাপ্ত হয়েছে বৃহস্পতিবার, সাতই রবিউস সানি, সাতশত চুয়াল্লিশ হিজরীতে, আল্লাহ তাআলার নিকট মুখাপেক্ষী দাউদ বিন ইবরাহীম বিন দাউদ ইবনুল আত্তার-এর হাতে; আল্লাহ তাকে, তার পিতামাতাকে এবং সকল মুসলিমকে ক্ষমা করুন।”
অনুলিপিকারকের জীবনীতে আয-যাহাবী বলেন: “তিনি অনেক হাদীস শুনেছেন, বহু বড় বড় কিতাব অনুলিপি করেছেন, তার নিকট নির্ভরযোগ্য দালিলিক সংকলন ও মূল পাণ্ডুলিপি রয়েছে এবং তিনি তার ভাইয়ের পর আল-কালজিইয়াহ মাদরাসার মাশায়েখ পদের দায়িত্ব লাভ করেন। তিনি ইবনুল আবিল খায়র ও অন্যদের থেকে আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তার নিকট উচ্চমানের সনদ সংবলিত অংশ রয়েছে এবং তার মাঝে ইবাদতগুজারি ও কল্যাণ বিদ্যমান ছিল। তিনি ৬৬৫ হিজরীতে [১২৯৭ খ্রিষ্টাব্দ] জন্মগ্রহণ করেন এবং তিনি আমার অন্যতম দুগ্ধ-ভাই।” (১)
এবং তিনি সাতশত বায়ান্ন হিজরীর তিনই জুমাদাস সানি, বৃহস্পতিবার রাতে মৃত্যুবরণ করেন (২)।
আর অনুলিপিকারক এটিকে মূল লেখকের পাণ্ডুলিপির সাথে মিলিয়ে সংশোধন করেছেন, ফলে পাণ্ডুলিপির শেষ পৃষ্ঠার পার্শ্বটীকায় যা এসেছে তা হলো:
“আল্লাহর রহমতপ্রাপ্ত লেখকের নিজ হাতের মূল কপির সাথে এর সংগতি যাচাই সম্পন্ন হয়েছে; এটি লিখেছেন ইবরাহীম বিন দাউদ।”
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
তুহফাতুত তালেবীন ফী তারজামাতিল ইমাম মুহিউদ্দীন
(পৃষ্ঠা: ١٩)
وخطها واضح ومقروء؛ إلا أن الرطوبة أصابت قسماً يسيراً جدّاً منها، فلم تؤثر إلا على الكلمة الأخيرة من السطر الأول من اللوحات الأخيرة التي على اليمين، وعلى الكلمة الأولى من السطر الأول -والثاني في بعض الأحايين- من أغلب اللوحات الأخيرة التي على الشمال.
والمخطوط يقع في (46) ورقة، في كل ورقة لوحتان، عدا الغلاف، وورقة بعده؛ فيها كثير من التملكات، وثَبَتٌ في أسماء من قرأه، وتكررت فيه هذه العبارة: "طالع هذه الترجمة الميمونة متبركاً بمآثر المترجَم العبدُ الفقير إلى الله تعالى
… ".
وعلى الغلاف ما صورته:
"تحفة الطالبين في ترجمة شيخنا الإمام النووي محيي الدين، قدس الله روحه، ونوَّر ضريحه.
تصنيف: الشيخ الإمام العالم العامل الزاهد علاء الدين علي بن إبراهيم بن داود ابن العطار الشافعي -عفا الله عنهم-".
وعليها تملكات كثيرة؛ من بينها:
"الحمد لله، مِن نعم الله على عبده: محمد بن أحمد بن عبد الهادي" (1).
****
--------------------------------------------
এর হাতের লেখা স্পষ্ট এবং পঠনযোগ্য; তবে এর একটি অতি সামান্য অংশে আর্দ্রতা লেগেছে, যা কেবল ডানদিকের শেষ পাতাগুলোর প্রথম লাইনের শেষ শব্দকে এবং বামদিকের অধিকাংশ শেষ পাতাগুলোর প্রথম লাইনের—এবং কোনো কোনো ক্ষেত্রে দ্বিতীয় লাইনের—প্রথম শব্দকে প্রভাবিত করেছে।
পাণ্ডুলিপিটি (৪৬) পত্রে বিন্যস্ত, প্রতিটি পত্রে দুটি করে পৃষ্ঠা রয়েছে, তবে মলাট এবং এর পরবর্তী একটি পত্র এর ব্যতিক্রম; এতে অনেক মালিকানা স্বত্ব এবং পাঠকারীদের নামের একটি তালিকা রয়েছে, আর এতে এই বাক্যটি বারবার এসেছে: "আল্লাহ তাআলার মুখাপেক্ষী দরিদ্র বান্দা
... অনুবাদকৃত ব্যক্তির মহিমান্বিত কর্মের মাধ্যমে বরকত হাসিলের উদ্দেশ্যে এই বরকতময় জীবনীটি পাঠ করেছেন।"
আর মলাটের ওপর যা লিখিত আছে তা হলো:
"তুহফাতুত তালিবীন ফী তারজামাতী শাইখিনা আল-ইমাম আন-নওয়াবী মুহিউদ্দীন, আল্লাহ তাঁর আত্মাকে পবিত্র করুন এবং তাঁর সমাধিকে আলোকিত করুন।
রচনায়: আশ-শাইখ আল-ইমাম আল-আলিম আল-আমিল আজ-জাহিদ আলাউদ্দীন আলী বিন ইবরাহীম বিন দাউদ ইবনুল আত্তার আশ-শাফিঈ —আল্লাহ তাঁদের ক্ষমা করুন—।"
এর ওপর অনেক মালিকানা স্বত্ব রয়েছে; সেগুলোর মধ্যে অন্যতম হলো:
"সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর জন্য, আল্লাহর তাঁর বান্দার প্রতি দেওয়া নেয়ামতসমূহের অন্তর্ভুক্ত: মুহাম্মদ বিন আহমদ বিন আব্দুল হাদী" (১)।
****
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
তুহফাতুত তালেবীন ফী তারজামাতিল ইমাম মুহিউদ্দীন
(পৃষ্ঠা: ٢١)
صورة عن طرة النسخة المعتمدة في التحقيق
সম্পাদনায় ব্যবহৃত নির্ভরযোগ্য পাণ্ডুলিপির শিরোনাম পৃষ্ঠার প্রতিচ্ছবি
(খণ্ড: ১)
তুহফাতুত তালেবীন ফী তারজামাতিল ইমাম মুহিউদ্দীন
(পৃষ্ঠা: ٢٢)
صورة عن اللوحة الأولى من المخطوط
পাণ্ডুলিপির প্রথম পৃষ্ঠার চিত্র।
(খণ্ড: ১)
তুহফাতুত তালেবীন ফী তারজামাতিল ইমাম মুহিউদ্দীন
(পৃষ্ঠা: ٢٣)
صورة عن اللوحة الأخيرة من المخطوط
পাণ্ডুলিপির শেষ পৃষ্ঠার ছবি
(খণ্ড: ১)
তুহফাতুত তালেবীন ফী তারজামাতিল ইমাম মুহিউদ্দীন
(পৃষ্ঠা: ٢٤)
عملي في التحقيق
يتلخص عملي في هذا الكتاب بما يلي:أوَّلاً: قمتُ بنسخ المخطوط، وضبطتُ نصه، ومن ثم قابلتُه بالأصل مرة أخرى؛ خشية السقط والتحريف أثناء النسخ.
ثانياً: ذكرتُ في الهامش مَن نقل عبارة المصنِّف، ووجدتُ -كما أشرتُ سابقاً- أن السخاوي والسيوطي قد نقلا -وأكثرا جدّاً- عن المصنِّف، فكأن كتابيهما نسخ أُخرى -غير النسخة المعتمدة في التحقيق- لولا الأخطاء، والتصحيفات، والنقص في بعض العبارات منهما.
ثالثاً: ذكرتُ في الهامش الزيادات الواقعة في نسخة الذهبي -على حدِّ تعبير السخاوي-.
رابعاً: عرَّفت ببعض الغريب الواقع في الكتاب.
خامساً: أشرتُ إلى مصادر ترجمة الأعلام الوارد ذكرهم في الكتاب، وآثرتُ ذكر المصادر دون الترجمة -إلا للنزر اليسير منهم- خوف الإطالة.
سادساً: عرَّفت بالأماكن التي وردت في النص.
سابعاً: اعتنيتُ بالكتب التي ذكرها المصنِّف للنووي، فبيَّنتُ
আমার সম্পাদনা পদ্ধতি
এই কিতাবে আমার কাজ নিম্নরূপভাবে সংক্ষেপ করা যায়:প্রথমত: আমি পাণ্ডুলিপিটি অনুলিপি করেছি এবং এর পাঠের শুদ্ধতা নিশ্চিত করেছি। এরপর অনুলিপি করার সময় কোনো অংশ বাদ পড়া বা বিকৃতি ঘটার আশঙ্কায় পুনরায় মূল পাণ্ডুলিপির সাথে তা মিলিয়ে দেখেছি।
দ্বিতীয়ত: মূল লেখকের বক্তব্য যারা উদ্ধৃত করেছেন, আমি পাদটীকায় তাঁদের উল্লেখ করেছি। আমি লক্ষ্য করেছি যে—যেমনটি আমি পূর্বে ইঙ্গিত করেছি—সাখাভী ও সুয়ূতী মূল লেখকের থেকে অত্যন্ত অধিক পরিমাণে উদ্ধৃতি দিয়েছেন। ফলে তাঁদের গ্রন্থদ্বয় যেন এই সম্পাদনায় ব্যবহৃত পাণ্ডুলিপির অতিরিক্ত আরও দুটি পাঠ—যদি না তাঁদের উদ্ধৃতিতে কিছু ভুল, শব্দগত বিকৃতি এবং কোনো কোনো বক্তব্যে অসম্পূর্ণতা থাকত।
তৃতীয়ত: ইমাম যাহাবীর পাণ্ডুলিপিতে বিদ্যমান অতিরিক্ত অংশসমূহ—ইমাম সাখাভীর বর্ণনা অনুযায়ী—আমি পাদটীকায় উল্লেখ করেছি।
চতুর্থত: কিতাবে আসা কিছু দুর্বোধ্য শব্দের পরিচয় প্রদান করেছি।
পঞ্চমত: কিতাবে উল্লিখিত ব্যক্তিদের জীবনীর উৎসের প্রতি ইঙ্গিত করেছি। বর্ণনা দীর্ঘ হওয়ার ভয়ে—খুব সামান্য সংখ্যক ব্যক্তি ব্যতীত—জীবনীর বিস্তারিত আলোচনার পরিবর্তে কেবল উৎসের নাম উল্লেখ করাকেই অগ্রাধিকার দিয়েছি।
ষষ্ঠত: মূল পাঠে উল্লিখিত স্থানসমূহের পরিচয় প্রদান করেছি।
সপ্তমত: লেখক ইমাম নববীর যেসব কিতাবের কথা উল্লেখ করেছেন সেগুলোর প্রতি বিশেষ যত্ন নিয়েছি এবং তা স্পষ্ট করেছি—
(খণ্ড: ১)
তুহফাতুত তালেবীন ফী তারজামাতিল ইমাম মুহিউদ্দীন
(পৃষ্ঠা: ٢٥)
المطبوع من المخطوط، وبيَّنتُ الكتاب الذي طُبع أكثر من مرة، ومكان طبعه، واسم محقِّقه -إن وجد-، ومن ثمَّ ذكرتُ ثبتاً في الكتب التي لم يذكرها ابن العطار، وبيَّنتُ -كذلك- مطبوعها من مخطوطها، وأماكن وجود مخطوطاتها، والكتب التي نُسبت للإمام النووي خطأ، وأسهبتُ في هذا (1)، لأن كتابنا هذا أهم مرجع للمحققين والدارسين لحياة الإمام النووي وتصانيفه، فأكون بهذا العمل قد وفَّرتُ عليهم وقتاً طويلًا، وجهداً عظيماً، ولا أخفي على القارئ أن هذا العمل من أهم بواعثي على تحقيق هذا الكتاب.
ثامناً: عزوتُ الآياتِ القرآنية إلى أماكنها، فذكرتُ السورة ورقم الآية، وخرَّجتُ الأحاديث النبوية؛ ذاكراً درجتها من الصحة والحسن والضَّعف.
تاسعاً: ألحقتُ بكتابنا هذا تتمة فيها: تحذير الإمام النووي من البدع (2).
عاشراً: وأخيراً
… ذيَّلت الكتاب بمجموعة فهارس، تسهل على القاريء الوقوف عى مبتغاه.
وأخيراً
… الله تعالى أسأل، وباسمه وصفاته أتوسل، أن يكتب لي أجرين في كل ما علَّقتُ عليه، وأن يرزقني فهماً في كتابه، ثم في سنَّة نبيِّه صلى الله عليه وسلم، قولاً وعملاً يؤدِّي به عنَّا حقَّه، ويوجب لنا نافلة مزيدِه، إنه سميعٌ مجيب.
--------------------------------------------
পাণ্ডুলিপি থেকে যা মুদ্রিত হয়েছে তা আমি বর্ণনা করেছি, এবং যে কিতাব একাধিকবার মুদ্রিত হয়েছে তা, তার মুদ্রণস্থান এবং যদি থাকে তবে তার সম্পাদকের নাম উল্লেখ করেছি। অতঃপর আমি ইবনুল আত্তার উল্লেখ করেননি এমন কিতাবসমূহের একটি তালিকা প্রদান করেছি এবং একইভাবে সেগুলোর পাণ্ডুলিপি থেকে মুদ্রিত সংস্করণসমূহ, তাদের পাণ্ডুলিপিপ্রাপ্তির স্থানসমূহ এবং ইমাম নববীর দিকে ভুলভাবে আরোপিত কিতাবসমূহ বর্ণনা করেছি। আমি এ বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা করেছি (১), কারণ আমাদের এই কিতাবটি ইমাম নববীর জীবন ও রচনাবলী নিয়ে গবেষক ও শিক্ষার্থীগণের জন্য সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ তথ্যসূত্র। এই কাজের মাধ্যমে আমি তাদের অনেক সময় ও বিশাল শ্রম বাঁচিয়ে দিয়েছি। আর আমি পাঠকের নিকট এটি গোপন করছি না যে, এই কাজটি সম্পন্ন করাই ছিল এই কিতাবটি সম্পাদনার প্রতি আমার অন্যতম প্রধান প্রেরণা।
অষ্টম: আমি কুরআনের আয়াতসমূহকে তাদের নির্দিষ্ট স্থানে উদ্ধৃত করেছি, তাই আমি সূরার নাম ও আয়াতের নম্বর উল্লেখ করেছি। আর আমি নববী হাদীসসমূহের তাখরীজ করেছি; সেগুলোর সহীহ, হাসান ও যঈফ হওয়ার মান উল্লেখ করার মাধ্যমে।
নবম: আমি আমাদের এই কিতাবের সাথে একটি পরিশিষ্ট যুক্ত করেছি যাতে রয়েছে: বিদআত সম্পর্কে ইমাম নববীর সতর্কতা (২)।
দশম: পরিশেষে
… আমি কিতাবটির শেষে একগুচ্ছ নির্ঘণ্ট যুক্ত করেছি, যা পাঠকের জন্য তার কাঙ্ক্ষিত বিষয় খুঁজে পাওয়া সহজ করবে।
পরিশেষে
… আমি মহান আল্লাহর নিকট প্রার্থনা করছি এবং তাঁর নাম ও গুণাবলীর মাধ্যমে ওসিলা করছি, তিনি যেন আমার প্রতিটি টীকা-টিপ্পনীর জন্য আমাকে দ্বিগুণ প্রতিদান দান করেন। আর তিনি যেন আমাকে তাঁর কিতাব এবং অতঃপর তাঁর নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সুন্নাহর সঠিক বুঝ দান করেন—এমন কথা ও কাজের মাধ্যমে যা আমাদের পক্ষ থেকে তাঁর হক আদায় করে এবং আমাদের জন্য তাঁর অতিরিক্ত অনুগ্রহকে অবধারিত করে। নিশ্চয়ই তিনি শ্রবণকারী ও কবুলকারী।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
তুহফাতুত তালেবীন ফী তারজামাতিল ইমাম মুহিউদ্দীন
(পৃষ্ঠা: ٢٦)
ترجمة الإمام ابن العطار (1)
--------------------------------------------
ইমাম ইবনুল আত্তার-এর জীবনী (১)
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
তুহফাতুত তালেবীন ফী তারজামাতিল ইমাম মুহিউদ্দীন
(পৃষ্ঠা: ٢٧)
اسمه ونسبه ولقبه وولادته:هو الإمام الفقيه المفتي الزاهد المحدِّث بقيَّة السلف علاء الدين علي بن إبراهيم بن داود بن سلمان بن سليمان أبو الحسن ابن العطار الشافعي.
ولد يوم عيد الفطر، سنة أربع وخمسين وست مئة [654 هـ- 1256 م]، كان أبوه عطاراً، وجدُه طبيباً.
اشتغل على الشيخ محيي الدين النووي، ولازمه حتى كان يقال له: "مختصر النووي"، وقد يختصر، فيقال: "المختصر".
…
شيوخه:- سمع على: أحمد بن عبد الدائم، وإسماعيل بن أبي اليُسْر،
--------------------------------------------
তাঁর নাম, বংশপরিচয়, উপাধি ও জন্ম:তিনি হলেন ইমাম, ফকিহ, মুফতি, জাহিদ, মুহাদ্দিস, সালাফদের উত্তরসূরি আলাউদ্দিন আলি ইবন ইবরাহিম ইবন দাউদ ইবন সালমান ইবন সুলায়মান আবুল হাসান ইবনুল আত্তার আশ-শাফেয়ি।
তিনি ঈদুল ফিতরের দিন, ৬৫৪ হিজরি [১২৫৬ খ্রিস্টাব্দ] সনে জন্মগ্রহণ করেন। তাঁর পিতা ছিলেন একজন আত্তার (সুগন্ধি বিক্রেতা) এবং তাঁর দাদা ছিলেন একজন চিকিৎসক।
তিনি শাইখ মুহিউদ্দিন আন-নববীর নিকট জ্ঞানার্জন করেন এবং তাঁর সান্নিধ্যে এমনভাবে লেগে ছিলেন যে, তাঁকে "মুখতাসারুন নববী" (নববীর সারসংক্ষেপ) বলা হতো; কখনো কখনো সংক্ষেপে কেবল "আল-মুখতাসার" বলা হতো।
…
তাঁর শিক্ষকগণ:- তিনি হাদিস শ্রবণ করেছেন: আহমাদ ইবন আব্দুল দায়িম এবং ইসমাইল ইবন আবিল ইউসর-এর নিকট,
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
তুহফাতুত তালেবীন ফী তারজামাতিল ইমাম মুহিউদ্দীন
(পৃষ্ঠা: ٢٨)
وعبد الوهاب بن الناصح، والكمال بن عبد، وابن أبي الخير، وجمال الدين بن مالك، وابن النشبي، والكمال بن فارس، وأخذ العربية عن ابن مالك، وغيره.
- وسمع بالحرمين، ونابلس، والقاهرة؛ من عدَّة أشياخ يزيدون على المئتين، وخرَّج له أخوه لأمه من الرَّضاعة الشيخ شمس الدين الذهبي معجماً.
قال الذهبي: "خرَّجتُ له معجماً في مجلَّد،
… انتفعتُ به، وأحسنَ إليَّ باستجازته لي كبار المشيخة".
وأفاد ابن السبكي أنه نيَّف فيه على ثمانين شيخاً.
وتجد مجموعة من شيوخه في جزئه "التساعيات"، وهنالك عدد لا بأس من شيوخه في كتابه هذا "تحفة الطالبين"، وانظر قائمة في اثنين وأربعين نفساً منهم في مقدمة تحقيق "شرح العمدة" له (15 - 18).
…
علاقته مع الإمام النووي:كان الشيخ علاء الدين ابن العطار شديد المحبة لشيخه النووي، وكانت بينهما مودَّة أكيدة، واجتماع دائم، ومذاكرات، ودراسات، وكان الإمام النووي يحبُّه ويسرّ برؤيته.
قال ابن العطار: "
… فبلغني مرضه، فذهبتُ من دمشق لعيادته، ففرح رحمه الله بذلك" (1).
وكانت لابن العطار منزلة خاصة عند شيخه الأمام أبي زكريا،
--------------------------------------------
এবং আবদুল ওয়াহহাব বিন আন-নাসিহ, আল-কামাল বিন আবদ, ইবনুল আবি খায়র, জামালুদ্দিন বিন মালিক, ইবনুন নাশবীয়ি, আল-কামাল বিন ফারিস; এবং তিনি ইবনে মালিক ও অন্যদের নিকট আরবি ভাষা অর্জন করেছেন।
- তিনি দুই হারাম (মক্কা ও মদিনা), নাবলুস এবং কায়রোতে দুইশতেরও অধিক সংখ্যক মাশায়েখের নিকট শ্রবণ করেছেন। তাঁর দুধ-ভাই শেখ শামসুদ্দিন আদ-দাহাবি তাঁর জন্য একটি 'মুজাম' (শিক্ষকদের তালিকা সংবলিত গ্রন্থ) সংকলন করে দিয়েছেন।
আদ-দাহাবি বলেন: "আমি তাঁর জন্য এক খণ্ডে একটি মুজাম সংকলন করেছি,
… আমি এর দ্বারা উপকৃত হয়েছি এবং তিনি প্রবীণ মাশায়েখদের নিকট থেকে আমার জন্য ইজাজত (অনুমতি) প্রার্থনা করে আমার প্রতি ইহসান করেছেন।"
এবং ইবনুস সুবকি উল্লেখ করেছেন যে, তিনি এতে আশি জনেরও বেশি শিক্ষকের কথা উল্লেখ করেছেন।
আপনি তাঁর শিক্ষকদের একটি দল তাঁর "আত-তুসায়িয়্যাত" পুস্তিকায় পাবেন এবং তাঁর এই "তুহফাতুত তালিবিন" গ্রন্থেও বেশ কিছু সংখ্যক শিক্ষকের নাম রয়েছে। তাঁর "শারহুল উমদাহ" গ্রন্থের তাহকিকের (সম্পাদনা) ভূমিকার ১৫ থেকে ১৮ পৃষ্ঠায় তাঁদের মধ্য থেকে বিয়াল্লিশ জনের একটি তালিকা দেখুন।
…
ইমাম আন-নববীর সাথে তাঁর সম্পর্ক:শেখ আলাউদ্দিন ইবনুল আত্তার তাঁর উস্তাদ নববীর প্রতি অত্যন্ত গভীর মহব্বত পোষণ করতেন। তাঁদের মধ্যে ছিল সুদৃঢ় প্রীতি, নিরন্তর সাহচর্য, জ্ঞানগর্ভ আলোচনা ও শিক্ষা সংক্রান্ত পর্যালোচনা। ইমাম নববীও তাঁকে ভালোবাসতেন এবং তাঁকে দেখে আনন্দিত হতেন।
ইবনুল আত্তার বলেন: "
… এরপর আমি তাঁর অসুস্থতার কথা জানতে পারলাম, তাই আমি তাঁকে দেখার জন্য দামেস্ক থেকে গেলাম; এতে তিনি (আল্লাহ তাঁর ওপর রহমত বর্ষণ করুন) অত্যন্ত আনন্দিত হলেন" (১)।
এবং তাঁর উস্তাদ ইমাম আবু জাকারিয়ার নিকট ইবনুল আত্তারের একটি বিশেষ মর্যাদা ছিল।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
তুহফাতুত তালেবীন ফী তারজামাতিল ইমাম মুহিউদ্দীন
(পৃষ্ঠা: ٢٩)
وكانت للإمام النووي عناية خاصة من تلميذه ابن العطار أيضاً.
قال ابن العطار: "كان -أي: الإمام النووي- رفيقاً بي، شفيقاً عليَّ، لا يمكِّن أحداً من خدمته غيري على جَهدِ مني في طلب ذلك منه، مع مراقبته لي رضي الله عنه في حركاتي وسكناتي، ولطفه بي في جميع ذلك، وتواضعه معي في جميع الحالات، وتأديبه لي في كلِّ شيء حتى الخطرات، وأعجز عن حصر ذلك" (1).
وكان الإمام النووي يثق بمقدرة تلميذه، ويعتقد فيه الصلاح والتقوى، فها هو يقول عنه: "
… وقد أخبرني مَن أثق بخبره وصلاحه وكراماته وفلاحه
… " (2).
أما عن ثقته بمقدرة تلميذه العلميَّة؛ فالدليل عليها ما قال التلميذ عن نفسه: "
… وأذِنَ لي رضي الله عنه في إصلاح ما يقع لي في تصانيفه، فأصلحْتُ بحضرته أشياء، فكتبه بخطِّه، وأقرَّني عليه (3)، ودفع إليَّ ورقةً بعدَّةِ الكتب التي كان يكتب منها ويصنِّف بخطه، وقال لي: إذا انتقلتُ إلى الله تعالى؛ فأتمم "شرح المهذب" من هذه الكتب، فلم يُقدَّر ذلك لي" (4).
ومن شدَّة إعجاب ابن العطار بشيخه الإمام النووي -ويحق له ذلك - فقد انقطع فترة تزيد عن ست سنوات إلى التلمذة عليه، والأخذ
--------------------------------------------
ইমাম নববীর প্রতি তাঁর ছাত্র ইবনুল আত্তারেরও বিশেষ যত্ন ও মনোযোগ ছিল।
ইবনুল আত্তার বলেন: "তিনি—অর্থাৎ ইমাম নববী—আমার প্রতি কোমল ও দয়াবান ছিলেন। আমার পক্ষ থেকে অনেক প্রচেষ্টার পর তিনি আমি ব্যতীত অন্য কাউকে তাঁর খিদমত করার সুযোগ দিতেন না। পাশাপাশি তিনি (আল্লাহ তাঁর প্রতি সন্তুষ্ট হোন) আমার প্রতিটি নড়াচড়া ও স্থিরতার প্রতি খেয়াল রাখতেন। এসকল ক্ষেত্রে তিনি আমার প্রতি সদয় ছিলেন এবং সকল অবস্থায় আমার সাথে বিনয়ী আচরণ করতেন। এমনকি মনের কুচিন্তার বিষয়েও তিনি আমাকে আদব শিক্ষা দিতেন। আমি এসব বিষয় গণনা করে শেষ করতে পারব না" (১)।
ইমাম নববী তাঁর ছাত্রের যোগ্যতার ওপর আস্থা রাখতেন এবং তাকে নেককার ও মুত্তাকী বলে বিশ্বাস করতেন। তিনি তাঁর সম্পর্কে বলেন: "
… এবং আমাকে এমন একজন ব্যক্তি সংবাদ দিয়েছেন যার সংবাদ প্রদান, নেক আমল, কারামত ও সফলতার ওপর আমি আস্থা রাখি
… " (২)।
ছাত্রের ইলমি যোগ্যতার ওপর তাঁর আস্থার প্রমাণ হিসেবে ছাত্র নিজেই নিজের সম্পর্কে বলেন: "
… তিনি (আল্লাহ তাঁর প্রতি সন্তুষ্ট হোন) আমাকে তাঁর রচনাবলীতে যা ধরা পড়ে তা সংশোধনের অনুমতি দিয়েছিলেন। আমি তাঁর উপস্থিতিতেই কিছু বিষয় সংশোধন করেছিলাম, যা তিনি নিজ হাতে লিখেছিলেন এবং আমার সংশোধনের ওপর সমর্থন ব্যক্ত করেছিলেন (৩)। তিনি আমাকে তাঁর নিজ হাতে লেখা বইপত্রের একটি তালিকা প্রদান করেন এবং আমাকে বলেন: যদি আমি আল্লাহর সান্নিধ্যে চলে যাই, তবে তুমি এই কিতাবগুলো থেকে 'শারহুল মুহাযযাব' পূর্ণ করো। কিন্তু সেটি আমার ভাগ্যে জোটেনি" (৪)।
তাঁর উস্তাদ ইমাম নববীর প্রতি ইবনুল আত্তারের অতিশয় ভক্তির কারণে—আর এটি তাঁর জন্য যথার্থই ছিল—তিনি দীর্ঘ ছয় বছরেরও বেশি সময় কেবল তাঁর ছাত্রত্ব গ্রহণ ও জ্ঞান অর্জনের জন্য নিজেকে উৎসর্গ করেছিলেন।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
তুহফাতুত তালেবীন ফী তারজামাতিল ইমাম মুহিউদ্দীন
(পৃষ্ঠা: ٣٠)
منه، فها هو يقول: "وكانت مدَّة صحبتي له؛ مقتصراً عليه دون غيره، من أوَّل سنة سبعين ويست مئة وقبلها بيسير إلى حين وفاته" (1).
وحفظ ابن العطار كتاب "التنبيه" بين يدي شيخه النووي.
…
طلبه للعلم ومرضه وتدريسه:نسخ الشيخ علاء الدين الأجزاء، وكتب الطباق، وغلب عليه الفقه.
قال الذهبي: "سمع وكتب الكثير، وحدَّث، ودرَّس، وأفتى، وولِيَ مشيخة النُّورية، والغوصيّة، والقليجية (2)، وغير ذلك".
أصيب بفالج سنة (701 هـ)، وكان يُحْمَل في مِحَفَّة، ويُطاف به، وكتب بشماله مدَّة.
وباشر الشيخ علاء الدين مشيخة المدرسة النورية من سنة أربع وتسعين إلى سنة وفاته مدة ثلاثين سنة.
…
مدحه وثناء العلماء عليه:مدحه كل مَن ترجم له، فقال عنه تلميذه الذهبي: "كان صاحب معرفة حسنة، وأجزاء، وأصول".
وقال أيضاً: "له فضائل، وتألُّه -أي: عبادة-، واتِّباع".
--------------------------------------------
সেখান থেকে, তিনি বলছেন: "এবং তাঁর সাথে আমার সাহচর্যের সময়কাল ছিল কেবল তাঁর ওপরই সীমাবদ্ধ অন্য কারো ওপর নয়, ৬৭০ হিজরি সালের শুরু থেকে এবং তার কিছু আগে থেকে তাঁর মৃত্যু পর্যন্ত।" (১)।
এবং ইবনুল আত্তার তাঁর শায়খ নববীর নিকট 'আত-তানবিহ' কিতাবটি মুখস্থ করেছিলেন।
...
তাঁর ইলম অন্বেষণ, অসুস্থতা এবং শিক্ষকতা:শায়খ আলাউদ্দিন হাদীসের বিভিন্ন খণ্ড প্রতিলিপি করেছেন, তিবাক (সনদের স্তর) লিখেছেন এবং তাঁর ওপর ফিকহ শাস্ত্রের প্রভাব প্রবল ছিল।
যাহাবী বলেছেন: "তিনি অনেক শুনেছেন ও লিখেছেন, হাদীস বর্ণনা করেছেন, পাঠদান করেছেন, ফতোয়া দিয়েছেন এবং নূরিয়া, গাওসিয়া, কলিজিয়া (২) ও অন্যান্য মাদরাসার শায়খ হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন।"
৭০১ হিজরি সালে তিনি পক্ষাঘাতে আক্রান্ত হন, তাঁকে পালকিতে করে বহন করা হতো এবং তাঁকে নিয়ে ঘুরে বেড়ানো হতো, আর তিনি একটি দীর্ঘ সময় বাম হাত দিয়ে লিখেছেন।
এবং শায়খ আলাউদ্দিন ৬৯৪ হিজরি থেকে তাঁর মৃত্যুর বছর পর্যন্ত টানা ৩০ বছর নূরিয়া মাদরাসার প্রধান হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।
...
তাঁর প্রশংসা এবং তাঁর সম্পর্কে আলেমদের অভিমত:যারা তাঁর জীবনী লিখেছেন তারা সবাই তাঁর প্রশংসা করেছেন। তাঁর ছাত্র যাহাবী তাঁর সম্পর্কে বলেছেন: "তিনি উত্তম জ্ঞান, হাদীসের পাণ্ডুলিপি এবং মূলনীতির অধিকারী ছিলেন।"
তিনি আরও বলেছেন: "তাঁর অনেক মর্যাদা রয়েছে এবং তিনি ইবাদতগুজার ও সুন্নাহর অনুসারী ছিলেন।"
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
তুহফাতুত তালেবীন ফী তারজামাতিল ইমাম মুহিউদ্দীন
(পৃষ্ঠা: ٣١)
وقال النُّعيمى: "وكان فيه زهد، ويفيد، ويأمر بالمعروف على عادة [شيخه] في أخلاقه، وله أتباع ومحبُّون".
وقال ابن هدايته الله: "كان ديِّناً ورعاً".
وقال ابن العماد الحنبلي: "وعدَّه في الحفَّاظ العلامة ابن ناصر الدين، وأثنى عليه".
…
مصنَّفاته:قال ابن كثير: "له مصنَّفات، وفوائد، ومجاميعُ، وتخاريجُ".
قلت: من مصنفاته:
- "شرح العمدة"؛ أخذ شرح ابن دقيق العيد، وزاد عليه من "شرح صحيح مسلم" للنووي، مع فوائد أخر حسنة؛ سمَّاه: "العُدَّة شرح العمدة"، طبع عن دار البشائر، بيروت، ووقف على طبعه والعناية به الأستاذ نظام يعقوبي.
- مصنَّف في "فضل الجهاد".
- وآخر بعنوان: "آداب الخطيب"، طبع عن دار الغرب الإسلامي.
- وآخر بعنوان: "الوثائق المجموعة".
- وآخر في: "حكم البلوى وابتلاء العباد".
- وآخر في: "حكم الأخبار والاحتكار عند غلاء الأسعار".
- وآخر: "حكم صوم رجب وشعبان، وما الصواب فيه عند أهل العلم والعرفان، وما أُحدث فيهما، وما يلزمه من البدع التي يتعين إزالتها على أهل الإيمان" طبع بتحقيق جاسم الفَجّي، عن مكتبة أهل الأثر ومكتبة غراس، الكويت، سنة 1425هـ، في (77) صفحة.
এবং আন-নুয়াইমি বলেন: "তার মধ্যে দুনিয়াবিমুখতা ছিল, তিনি অন্যকে উপকৃত করতেন এবং নিজের চরিত্রের ক্ষেত্রে তার [উস্তাদের] রীতি অনুযায়ী সৎকাজের আদেশ দিতেন। তার বহু অনুসারী ও অনুরাগী ছিল।"
ইবনে হিদায়াতুল্লাহ বলেন: "তিনি ধার্মিক ও পরহেযগার ছিলেন।"
ইবনে আল-ইমাদ আল-হাম্বালি বলেন: "আল্লামা ইবনে নাসিরুদ্দিন তাকে হাফেজদের (হাদিস বিশারদ) অন্তর্ভুক্ত বলে গণ্য করেছেন এবং তার প্রশংসা করেছেন।"
...
তার রচনাবলী:ইবনে কাসীর বলেন: "তার বহু গ্রন্থ, গবেষণালব্ধ ফায়েদা, সংকলন এবং তাখরীজ (হাদিসের উৎস নির্ণয়) রয়েছে।"
আমি বলি: তার রচনাবলীর মধ্যে রয়েছে:
- "শরহুল উমদাহ"; তিনি ইবনে দাকীকুল ঈদের ব্যাখ্যাগ্রন্থটি গ্রহণ করেছেন এবং তাতে ইমাম নববীর "শরহু সহীহ মুসলিম" থেকে আরও কিছু যোগ করেছেন, সাথে অন্যান্য সুন্দর ফায়েদাও যুক্ত করেছেন; তিনি এর নামকরণ করেছেন: "আল-উদ্দাহ শরহুল উমদাহ"। এটি বৈরুতের দারুল বাশাইর থেকে মুদ্রিত হয়েছে এবং এর মুদ্রণ ও পরিচর্যার দায়িত্ব পালন করেছেন উস্তাদ নিযাম ইয়াকুবী।
- "ফাযলুল জিহাদ" (জিহাদের ফজিলত) বিষয়ক একটি গ্রন্থ।
- "আদাবুল খাতীব" (খতীবের আদব) শিরোনামের আরেকটি গ্রন্থ, যা দারুল গারব আল-ইসলামী থেকে মুদ্রিত হয়েছে।
- "আল-ওয়াসাইকুল মাজমুআহ" শিরোনামের আরেকটি গ্রন্থ।
- "হুকমুল বালওয়া ওয়া ইবতিলাউল ইবাদ" (বিপদাপদ ও বান্দাদের পরীক্ষার বিধান) বিষয়ক আরেকটি গ্রন্থ।
- "হুকমুল আখবার ওয়াল ইহতিকার ইনদা গিলায়িল আসআর" (দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতির সময় সংবাদ ও মজুদদারীর বিধান) বিষয়ক আরেকটি গ্রন্থ।
- আরেকটি গ্রন্থ হলো: "হুকমু সাওমি রজব ওয়া শা'বান, ওয়া মাস-সাওয়াবু ফীহি ইনদা আহলিল ইলমি ওয়াল ইরফান, ওয়া মা উহদিসা ফীহিমা, ওয়া মা ইয়ালযামুহু মিনাল বিদা'ই আল্লাতি ইয়াতাইয়্যানু ইযালাতুহা আলা আহলিল ঈমান" (রজব ও শা'বান মাসের রোযার বিধান, এ বিষয়ে আলেম ও আধ্যাত্মিক সাধকদের নিকট সঠিক মত কী, এ মাসে উদ্ভাবিত নতুন বিষয়াদি এবং যেসব বিদআত দূর করা মুমিনদের জন্য আবশ্যক)। এটি জাসিম আল-ফাজ্জির তাহকীকে কুয়েতের মাকতাবাতু আহলিল আসার এবং মাকতাবাতু গিরাসের পক্ষ থেকে ১৪২৫ হিজরীতে ৭৭ পৃষ্ঠায় মুদ্রিত হয়েছে।