(খণ্ড: ১)
হাশিয়াতুল খারাশী মুনতাহাল রাগবাহ ফি হাল্লি আলফাযিন নুখবাহ
(পৃষ্ঠা: -)
حاشية الخرشي منتهى الرغبة في حل ألفاظ النخبة القسم: علوم الحديث
الكتاب: منتهى الرغبة في حل ألفاظ النخبة (نُخْبةِ الفِكَرِ لابن حجر)
المؤلف: أبو عبد الله محمد بن عبد الله الخرشي (ت 1101 هـ)
المحقق: شعبان سليم سالم عودة
الناشر: دار اليسر - القاهرة
الطبعة: الأولى، 1441 هـ - 2020 م
عدد الأجزاء: 2
رموز الشرح: (ق) ابن قطلوبغا، (ب) البقاعي، (هـ) إبراهيم اللقاني، (ج) علي الأجهوري
[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]
تاريخ النشر بالشاملة: 14 ربيع الأول 1443
খারাশি-এর টীকাগ্রন্থ: মুনতাহাল রাগবাহ ফি হাল্লি আলফাজিন নুখবাহ বিভাগ: হাদিস শাস্ত্র
বই: মুনতাহাল রাগবাহ ফি হাল্লি আলফাজিন নুখবাহ (ইবনে হাজার রহ.-এর নুখবাতুল ফিকার-এর ব্যাখ্যা)
লেখক: আবু আব্দুল্লাহ মুহাম্মাদ বিন আব্দুল্লাহ আল-খারাশি (মৃত্যু ১১০১ হিজরি)
গবেষক/সম্পাদক: শাবান সালিম সালিম আওদাহ
প্রকাশক: দারুল ইউসর - কায়রো
সংস্করণ: প্রথম, ১৪৪১ হিজরি - ২০২০ খ্রিস্টাব্দ
খণ্ড সংখ্যা: ২
ব্যাখ্যার প্রতীকসমূহ: (ক্বাফ) ইবনে কুতলুবুগা, (বা) আল-বিকায়ি, (হা) ইব্রাহিম আল-লাক্কানি, (জিম) আলি আল-আঝহুরি
[বইয়ের নম্বর বিন্যাস মূল মুদ্রিত কপির অনুরূপ]
শামিলা লাইব্রেরিতে প্রকাশের তারিখ: ১৪ রবিউল আউয়াল ১৪৪৩ হিজরি
(খণ্ড: ১)
হাশিয়াতুল খারাশী মুনতাহাল রাগবাহ ফি হাল্লি আলফাযিন নুখবাহ
(পৃষ্ঠা: ৫)
وبه نستعين
مقدمة المحققالحمدُ لله ناصرِ عبادهِ الصَّالحينَ ولو بعدَ حينٍ، مُوفِّقِ مَن شاءَ منهم لنصرةِ هذا الدِّين، كلٌّ بما فتحَ الله عليهِ في حراسةِ ثغرٍ من ثُغورهِ على مَرِّ السِّنين، وَصلَّى الله وَسلَّمَ على نبيِّنا مُحمَّدٍ، وعلى صحابته، والتَّابعينَ لهم بإحسانٍ إلى يومِ الدِّين.
أمَّا بعد:
فإنَّ أَوْلَى ما يتنافسُ فيه المُتنافسون، وأَحْرى ما يتسابقُ في حَلَبةِ سباقهِ المتسابقون، ما كان بسعادةِ العبدِ في معاشهِ ومعادهِ كفيلًا، وعلى طريقِ هذهِ السَّعادةِ دليلًا، وذَلكَ العلمُ النَّافعُ والعملُ الصَّالحُ اللَّذانِ لا سعادةَ للعبدِ إلَّا بهما، ولا نجاةَ لهُ إلَّا بالتَّعلُّقِ بسَبَبِهِما، فمَن رُزقهما، فقد فازَ وغَنِمَ، ومَن حُرمَهما فالخيرَ كلَّهُ حُرِمَ.
ولمَّا كَانَ التَّلقِّي عَنهُ على نَوْعين: نوعٍ بواسطةٍ، ونوعٍ بغيرِ واسطةٍ، وكانَ التَّلقِّي بلا واسطةٍ حظَّ أصحابهِ الَّذينَ حازوا قصباتِ السِّباق، وَاسْتَوْلوا على الأمدِ، فلا طمعَ لأحدٍ منَ الأُمَّةِ بعدهم في اللَّحاق، وَلكنَّ المُبرَّزَ منِ اتَّبعَ صراطهمُ المُسْتقيم، واقْتفَى مِنْهاجهمُ القويمَ، وَالمُتَخلِّفَ مَن عَدلَ عن طريقهم ذاتَ اليمينِ، وذاتَ الشِّمال، فَذلكَ المنقطعُ التَّائهُ في بَيْداءِ المهالكِ والضَّلال.
فأيُّ خصلةِ خيرٍ لم يسبقوا إليها؟ وأيُّ خُطَّةِ رُشدٍ لم يَسْتَولوا عليها؟
تَاللهِ، لقد وَرَدوا رَأْسَ الماءِ من عينِ الحياةِ عذبًا صافيًا زُلَالًا، وأيَّدوا قَواعدَ الإسلامِ،
আমরা তাঁরই সাহায্য প্রার্থনা করছি
গবেষকের ভূমিকাসকল প্রশংসা আল্লাহর জন্য, যিনি তাঁর নেককার বান্দাদের সাহায্যকারী, যদিও তা কিছুকাল পরেই হোক। তিনি তাঁদের মধ্য থেকে যাকে ইচ্ছা এই দ্বীনের সাহায্যের জন্য তাওফিক দান করেন; যুগ যুগ ধরে দ্বীনের কোনো না কোনো সীমান্ত পাহারায় আল্লাহ যার জন্য যা উন্মুক্ত করেছেন সে অনুযায়ী। আর আল্লাহর সালাত ও সালাম বর্ষিত হোক আমাদের নবী মুহাম্মাদ-এর ওপর, তাঁর সাহাবীবর্গ এবং কিয়ামত পর্যন্ত নিষ্ঠার সাথে তাঁদের অনুসারীগণের ওপর।
অতঃপর:
নিশ্চয়ই প্রতিযোগীদের জন্য যাতে প্রতিযোগিতা করা সবচেয়ে বেশি উপযোগী এবং প্রতিযোগিতার ময়দানে দৌড়বিদদের জন্য যাতে দৌড়ানো সবচেয়ে বেশি কাম্য, তা হলো সেই বিষয় যা বান্দার ইহকালীন ও পরকালীন সৌভাগ্যের নিশ্চয়তা দেয় এবং এই সৌভাগ্যের পথের দিশারি হিসেবে কাজ করে। আর তা হলো সেই উপকারী ইলম ও নেক আমল, যা ব্যতীত বান্দার কোনো সৌভাগ্য নেই এবং এ দুটোর সাথে সংশ্লিষ্ট হওয়া ছাড়া তার কোনো নাজাত নেই। সুতরাং যাকে এই দুটি দান করা হয়েছে, সে সফল হয়েছে ও লাভবান হয়েছে; আর যাকে এগুলো থেকে বঞ্চিত করা হয়েছে, সে সকল কল্যাণ থেকেই বঞ্চিত হয়েছে।
যেহেতু তাঁর নিকট থেকে শিক্ষা গ্রহণের ধরন ছিল দুই প্রকার: এক প্রকার মাধ্যমের সাহায্যে এবং অন্য প্রকার মাধ্যম ছাড়া। আর মাধ্যম ছাড়া সরাসরি শিক্ষা লাভ ছিল তাঁর সেই সাহাবীদের সৌভাগ্য, যারা প্রতিযোগিতায় শ্রেষ্ঠত্ব অর্জন করেছেন এবং চূড়ান্ত লক্ষ্যে পৌঁছে গেছেন। তাই উম্মতের পরবর্তী কারও পক্ষে তাঁদের স্তরে পৌঁছার কোনো অবকাশ নেই। তবে সেই ব্যক্তিই শ্রেষ্ঠ যে তাঁদের সরল পথ অনুসরণ করেছে এবং তাঁদের সঠিক পদ্ধতির অনুগামী হয়েছে। আর সেই ব্যক্তিই পশ্চাৎপদ যে তাঁদের পথ ছেড়ে ডানে বা বামে বিচ্যুত হয়েছে; সে তো ধ্বংস ও গোমরাহীর মরুপ্রান্তরে বিচ্ছিন্ন হয়ে যাওয়া এক দিশেহারা পথিক।
সুতরাং কল্যাণের এমন কোন বৈশিষ্ট্য আছে যাতে তাঁরা অগ্রগামী হননি? আর হিদায়াতের এমন কোন কর্মপন্থা আছে যা তাঁরা আয়ত্ত করেননি?
আল্লাহর শপথ, তাঁরা জীবন-ঝরনা থেকে সুমিষ্ট, স্বচ্ছ ও নির্মল পানির উৎসে পৌঁছেছিলেন এবং ইসলামের ভিত্তিসমূহকে সুদৃঢ় করেছিলেন,
(খণ্ড: ১)
হাশিয়াতুল খারাশী মুনতাহাল রাগবাহ ফি হাল্লি আলফাযিন নুখবাহ
(পৃষ্ঠা: ৬)
فلم يَدَعوا لأحدٍ بعدهم مَقالًا، فتحوا القلوبَ بعَدْلهم بالقرآنِ والإيمانِ، والقُرَى بالجهادِ بالسَّيفِ والسِّنانِ، وأَلْقَوا إلى التَّابعينَ ما تَلقَّوهُ من مِشْكاةِ النُّبُّوةِ خالصًا صافيًا، وكانَ سندُهُم فيهِ عن نَبيِّهم صلى الله عليه وسلم عن جبريلَ، عن ربِّ العالمينَ سندًا صحيحًا عاليًا، وقالوا: هذا عهدُ نَبيِّنا إلينا، وقد عهدنا إليكم، وهذهِ وَصيَّةُ ربِّنا، وفَرْضهُ علينا، وَهِيَ وصيَّتهُ وفَرْضهُ عليكم، فجرى التَّابعونَ لهم بإحسانٍ على مِنْهاجهمُ القويم، وَاقْتَفوا على آثارهم صِرَاطهمُ المُسْتقيم، ثمَّ سلكَ تَابعو التَّابعينَ هذا المسلكَ الرَّشيد {وَهُدُوا إِلَى الطَّيِّبِ مِنَ الْقَوْلِ وَهُدُوا إِلَى صِرَاطِ الْحَمِيدِ} [الحج: 24]، وكانوا بالنِّسبةِ إلى مَنْ قبلهم كما قَالَ أصدقُ القائلين: {ثُلَّةٌ مِنَ الْأَوَّلِينَ (13) وَقَلِيلٌ مِنَ الْآخِرِينَ} [الواقعة: 13 - 14].
فَسَلَكوا على آثارِهمُ اقتصاصًا، وَاقْتَبسوا هذا الأمرَ عن مِشْكَاتهمُ اقتباسًا، وَكَانَ دينُ الله سبحانهُ أجلَّ في صُدُورهم، وأَعْظَمَ في نُفُوسهم من أن يُقدِّموا عليهِ رأيًا، أو معقولًا، أو تقليدًا، أو قياسًا، فَطارَ لَهُمُ الثَّناءُ الحسنُ في العَالَمينَ، وَجعلَ اللهُ سبحانهُ لهم لسانَ صِدْقٍ في الآخرين.
ثمَّ سَارَ على آثَارِهمُ الرَّعيلُ الأوَّلُ من أَتْباعِهِمْ، ودَرجَ على مِنْهاجهمُ المُوفَّقونَ من أشياعهم، فَكَانت قاعدةُ دَعْوتِهم قولَه تعالى: {قُلْ هَذِهِ سَبِيلِي أَدْعُو إِلَى اللَّهِ عَلَى بَصِيرَةٍ أَنَا وَمَنِ اتَّبَعَنِي وَسُبْحَانَ اللَّهِ وَمَا أَنَا مِنَ الْمُشْرِكِينَ} [يونس: 108]، فكَانَ تَبْليغُهُم على نوعين: تبليغِ أَلْفاظِهِ وما جَاءَ به، وتَبْليغِ معانيهِ، فَانْحَصروا في قسمين:
الأَوَّل: حُفَّاظُ الحديث.
الثَّاني: فُقَهاءُ الإسلام.
فأمَّا حُفَّاظُ الحديثِ، فَهُم جهابذتُهُ، ونُقَّادهُ الَّذينَ هم أئمَّةُ الأنام، الَّذينَ حفظوا على الأُمَّة معاقدَ الدِّينِ ومَعاقلَه، وحَمُوا منَ التَّغييرِ والتَّكْديرِ مَواردَهُ ومناهلَهُ، وهُمُ الَّذينَ قَالَ فيهمُ الإمامُ أحمدُ بنُ حنبلٍ في خطبتِهِ المشهورةِ في كتابِهِ في الرَّدِّ على الزَّنادقةِ وَالجَهميَّةِ:
তারা তাদের পরে আর কারো জন্য কোনো কথা বলার অবকাশ রাখেননি। তারা কুরআনের ইনসাফ ও ঈমানের মাধ্যমে মানুষের অন্তর জয় করেছেন, আর তলোয়ার ও বর্শা দ্বারা জিহাদের মাধ্যমে জনপদসমূহ জয় করেছেন। তারা নবীত্বের প্রদীপ হতে যা লাভ করেছিলেন, তা অতি স্বচ্ছ ও বিশুদ্ধ অবস্থায় তাবেয়ীদের কাছে পৌঁছে দিয়েছেন। এ ক্ষেত্রে তাদের সনদ ছিল তাদের নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে, জিবরাঈল থেকে এবং রব্বুল আলামীনের পক্ষ থেকে—যা ছিল একটি সহীহ ও সুউচ্চ সনদ। তারা বলেছিলেন: "এটি আমাদের প্রতি আমাদের নবীর অঙ্গীকার, আর আমরা তা তোমাদের নিকট অঙ্গীকার করছি। এটি আমাদের প্রতি আমাদের রবের ওসিয়ত এবং তাঁর পক্ষ থেকে আমাদের ওপর অর্পিত ফরয; আর এটিই তোমাদের প্রতি তাঁর ওসিয়ত এবং তোমাদের ওপর অর্পিত ফরয।" সুতরাং তাবেয়ীগণ ইহসানের সাথে তাদের সেই সুদৃঢ় পদ্ধতির ওপর পরিচালিত হলেন এবং তাদের সেই সিরাতুল মুস্তাকিমের পদাঙ্ক অনুসরণ করলেন। অতঃপর তাবে-তাবেয়ীগণও এই সঠিক পথ অবলম্বন করলেন: {তাদেরকে পবিত্র বাক্যের দিকে পরিচালিত করা হয়েছে এবং তাদেরকে প্রশংসিত সত্তার পথের দিকে পরিচালিত করা হয়েছে} [হাজ্জ: ২৪]। পূর্ববর্তীদের তুলনায় তাদের অবস্থা ছিল যেমনটি মহাসত্যবাদী আল্লাহ বলেছেন: {পূর্ববর্তীদের এক বড় দল এবং পরবর্তীদের সামান্য অংশ} [ওয়াকিয়া: ১৩-১৪]।
তারা যথাযথভাবে তাদের পদাঙ্ক অনুসরণ করলেন এবং তাদের প্রদীপ হতে এই বিষয়টিকে পূর্ণরূপে গ্রহণ করলেন। তাদের অন্তরে ও সত্তায় আল্লাহর দ্বীন এত বেশি মর্যাদাপূর্ণ ও মহান ছিল যে, তারা এর ওপর কোনো ব্যক্তিগত মত, যুক্তি, অন্ধ অনুসরণ কিংবা কিয়াসকে প্রাধান্য দিতেন না। ফলে বিশ্ববাসীর কাছে তাদের সুউচ্চ প্রশংসা ছড়িয়ে পড়ল এবং আল্লাহ সুবহানাহু তাআলা পরবর্তীদের মাঝে তাদের জন্য সুখ্যাতি দান করলেন।
অতঃপর তাদের পদাঙ্ক অনুসরণ করে চললেন তাদের অনুসারীদের প্রথম দলটি, এবং তাদের অনুসারীদের মধ্য হতে যারা তাওফীকপ্রাপ্ত ছিলেন তারা তাদের মানহাজ অনুযায়ী এগিয়ে গেলেন। তাদের দাওয়াতের মূল ভিত্তি ছিল মহান আল্লাহর এই বাণী: {বলুন, এটিই আমার পথ। আমি আল্লাহর দিকে ডাকছি জাগ্রত জ্ঞান বা বসীরতের সাথে—আমি এবং যারা আমার অনুসরণ করেছে তারা। আর আল্লাহ পবিত্র এবং আমি মুশরিকদের অন্তর্ভুক্ত নই} [ইউসুফ: ১০৮]। তাদের প্রচার ছিল দুই প্রকার: দ্বীনের শব্দাবলি ও যা কিছু এসেছে তা পৌঁছে দেওয়া, এবং এর মর্মার্থসমূহ পৌঁছে দেওয়া। ফলে তারা দুটি শ্রেণিতে বিভক্ত হলেন:
প্রথম: হাদীসের হাফেযগণ।
দ্বিতীয়: ইসলামের ফকীহগণ।
হাদীসের হাফেযদের কথা বলতে গেলে, তারা হলেন হাদীস শাস্ত্রের দক্ষ পণ্ডিত ও সমালোচক, যারা মানবজাতির ইমাম। তারা উম্মতের জন্য দ্বীনের মূল স্তম্ভ ও আশ্রয়স্থলসমূহকে সংরক্ষণ করেছেন। তারা দ্বীনের উৎস ও প্রস্রবণসমূহকে বিকৃতি ও কলুষতা থেকে রক্ষা করেছেন। তারাই সেই সব লোক যাদের সম্পর্কে ইমাম আহমাদ ইবনে হাম্বল যিনাদিকা ও জাহমিয়াদের খণ্ডন বিষয়ক তাঁর কিতাবের প্রসিদ্ধ ভূমিকায় বলেছেন:
(খণ্ড: ১)
হাশিয়াতুল খারাশী মুনতাহাল রাগবাহ ফি হাল্লি আলফাযিন নুখবাহ
(পৃষ্ঠা: ৭)
«الحمدُ للهِ الَّذي جَعلَ في كُلِّ زَمانِ فَتْرةٍ منَ الرُّسلِ بَقايَا من أهلِ العِلْمِ يَدْعونَ مَن ضلَّ إلى الهدى، ويَصْبرونَ منهم على الأذى، ويُحْيونَ بكتابِ الله تعالى المَوْتَى، ويُبصِّرونَ بنورِ الله أَهْلَ العَمَى، فَكَمْ من قتيلٍ لإبليسَ قد أَحْيَوه، وكَمْ من ضَالٍّ تَائهٍ قد هَدَوْه، فَمَا أحسنَ أثرَهم على النَّاس! وما أَقْبحَ أثرَ النَّاسِ عليهم! يَنْفونَ عن كتابِ الله تَحْريفَ الغالين، وانتحالَ المُبْطلين، وتَأْويلَ الجاهلينَ، الَّذينَ عقدوا أَلْويةَ البدعة، وأَطْلَقوا عِنَانَ الفتنة، فهم مُخْتلفونَ في الكتاب، مُخَالفونَ للكتابِ، مُجْمعونَ على مُفَارقةِ الكتابِ، يقولونَ على اللهِ، وفي اللهِ، وفي كتابِ اللهِ بغيرِ عِلْمٍ، يَتكلَّمونَ بالمُتَشابهِ منَ الكلامِ، ويَخْدعونَ جُهَّالَ النَّاسِ بما يُشبِّهونَ عليهم؛ فنَعُوذُ باللهِ من فِتْنةِ المُضلِّينَ»
(1).
فَعِلْمُ الحديثِ الشَّريفِ لهُ فضلٌ عظيمٌ، ومَناقبُ أهلهِ الكرامِ أمرٌ يجلُّ عنِ العدِّ والحصرِ، وقَدْ صَنَّفَ فيهِ المُصنِّفون، ومَهرَ فيهِ المَاهرونَ، لكنَّهُ يبقى بحرًا لا ساحلَ له، ومِدَادًا لا ينتهي؛ إذ إنَّ عِلْمَ الحديثِ الشَّريفِ أشرفُ العلومِ، وأَفْضَلُها بعدَ كتابِ اللهِ، فهُوَ أصلُ التَّشريعِ الثَّاني، وركنُهُ الأغرُّ الحَاني.
فأَهلُ الحديثِ: «قَناديلُ اللهِ، ونورُ البلادِ، وخيرُ العبادِ، بل هُمُ النَّاسُ، وهُمُ الفِرْقةُ الناجيةُ، والعُلماءُ العاملونَ، وأهلُ الحكمةِ المَغْبوطونَ، وهمُ الفرسانُ الَّذينَ أعْلَى اللهُ ذِكْرَهم، وكتبَ لهمُ القبولَ، فلا يُحبُّهم إلَّا كلُّ مؤمنٍ، ولا يبغضهم إلَّا كلُّ مبتدعٍ منافقٍ»
(2).
فإذا تَبيَّنَ لكَ فضلُ القومِ وسَبْقهم، علمتَ ضرورةَ فَهْمِ كَلامِهِم؛ إذْ بهِ يتَّضحُ مرادُ أصحابِهِ، ويتميَّزُ الثَّابتُ مِنَ المَتْروكِ، والمَجْروحُ منَ المقبولِ.
--------------------------------------------
«সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর জন্য, যিনি রাসূলদের আগমনের মধ্যবর্তী প্রতিটি বিরতিকালে ইলমওয়ালাদের একদল অবশিষ্টাংশ রেখেছেন, যারা পথভ্রষ্টদের হিদায়াতের দিকে আহ্বান করেন, তাদের পক্ষ থেকে আসা কষ্টের ওপর ধৈর্য ধারণ করেন, মহান আল্লাহর কিতাবের মাধ্যমে মৃতদের জীবিত করেন এবং আল্লাহর নূরের মাধ্যমে অন্ধদের দৃষ্টি দান করেন। শয়তানের হাতে নিহত কতজনকে তারা জীবিত করেছেন! পথহারা কত বিভ্রান্ত মানুষকে তারা পথ দেখিয়েছেন! মানুষের ওপর তাদের প্রভাব কতই না চমৎকার! আর তাদের ওপর মানুষের আচরণ কতই না জঘন্য! তারা আল্লাহর কিতাব থেকে সীমালঙ্ঘনকারীদের বিকৃতি, বাতিলপন্থীদের মিথ্যা আরোপ এবং অজ্ঞদের অপব্যাখ্যা দূর করেন—যারা বিদআতের ঝাণ্ডা উড়িয়েছে এবং ফিতনার লাগাম ছেড়ে দিয়েছে। তারা কিতাব বিষয়ে মতভেদে লিপ্ত, কিতাবের বিরোধী এবং কিতাবকে বর্জনের ব্যাপারে একমত। তারা আল্লাহ সম্পর্কে এবং আল্লাহর কিতাব সম্পর্কে জ্ঞান ছাড়াই কথা বলে। তারা অস্পষ্ট ও দ্ব্যর্থবোধক কথা বলে এবং মানুষকে বিভ্রান্ত করার মাধ্যমে অজ্ঞদের ধোঁকা দেয়। আমরা পথভ্রষ্টকারীদের ফিতনা থেকে আল্লাহর কাছে আশ্রয় চাই»
(১).
ইলমে হাদিসের মর্যাদা অত্যন্ত মহান, আর এর সম্মানিত ধারকদের গুণাবলি বর্ণনা করে শেষ করা অসম্ভব। গ্রন্থকারগণ এ বিষয়ে কিতাব রচনা করেছেন এবং দক্ষ পণ্ডিতগণ এতে পারদর্শিতা দেখিয়েছেন; তবে এটি এমন এক সমুদ্র যার কোনো তীর নেই এবং এমন এক প্রস্রবণ যা শেষ হবার নয়। কেননা ইলমে হাদিস হলো আল্লাহর কিতাবের পর সর্বশ্রেষ্ঠ ও সর্বাধিক মর্যাদাপূর্ণ ইলম। এটি শরীয়তের দ্বিতীয় উৎস এবং এর এক উজ্জ্বল ও অটল স্তম্ভ।
সুতরাং আহলে হাদিসগণ হলেন: «আল্লাহর প্রদীপ, জনপদের নূর এবং সৃষ্টির সেরা মানুষ। বরং তারাই প্রকৃত মানুষ, তারাই মুক্তিপ্রাপ্ত দল, আমলকারী আলেম এবং ঈর্ষণীয় প্রজ্ঞার অধিকারী। তারাই সেই বীর সেনানী যাদের আলোচনা আল্লাহ সমুন্নত করেছেন এবং যাদের জন্য কবুলিয়ত লিখে দিয়েছেন। কেবল মুমিনরাই তাদের ভালোবাসে এবং কেবল বিদআতি মুনাফিকরাই তাদের ঘৃণা করে»
(২).
যখন আপনার কাছে এই কাফেলার শ্রেষ্ঠত্ব ও অগ্রগামিতা স্পষ্ট হলো, তখন তাদের পরিভাষা বোঝার প্রয়োজনীয়তাও আপনি উপলব্ধি করলেন; কারণ এর মাধ্যমেই বক্তার উদ্দেশ্য স্পষ্ট হয় এবং বর্জনীয় থেকে প্রমাণিত বিষয় এবং গ্রহণযোগ্য থেকে প্রত্যাখ্যাত বিষয়গুলো পৃথক করা যায়।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
হাশিয়াতুল খারাশী মুনতাহাল রাগবাহ ফি হাল্লি আলফাযিন নুখবাহ
(পৃষ্ঠা: ৮)
وسبب هذه المعضلة
اتساع اللغة، وتعدد مدلولات الكلمة
يَقفُ البَاحثُ مَعَ بعضِ مُصْطلحاتِ القومِ موقفَ المُتَردِّدِ في تَنْزيلها على أيِّ المَدلولاتِ، فإذا ما كانتِ الكلمةُ قد رَسَختْ في ذهنِهِ على مدلولٍ مُعيَّنٍ، سارعَ في تنزيلِها حسَبَ اصطلاحِهِ هُوَ في كلامِهِ، لا على اصطلاحِ المتكلِّمِ.
ولهَذَا، وَقعَ الغلطُ في الفهمِ والاستدلالِ في شتَّى الفنونِ بسببِ العُزُوفِ عن فَهْمِ مُصْطلحاتِ المُتكلِّمِ قبلَ البدءِ في تَفهُّمِهِ، والاستدلالِ بِهِ.
قَالَ شيخُ الإسلامِ ابنُ تيميَّةَ رحمه الله:
«
… وكَذَلكَ الألفاظُ المشتركةُ والمنقولةُ والمُغيَّرةُ شرعًا، نقلًا وتغييرًا شَرعيِّينِ أو عُرْفيِّين، إنَّما يريدُ بها المتكلِّمُ -في الغالب- أحدَ المَعْنيينِ، مَعَ أنَّ المعانيَ الأُخرَ جائزةُ الإرادةِ، ولم ترد
… وهذا بَابٌ واسعٌ، فمَنْ تأمَّلَ كلَّ لفظٍ في كلامِ مُتكلِّمٍ، رأى أنَّهُ يجوزُ أن يُرَادَ بهِ منَ المعاني ما شاءَ اللهُ، والمُتكلِّمُ لم يُرِدْ إلَّا واحدًا من تلكَ المعاني
… »
(1).
وقَالَ ابْنُ القَيِّمِ رحمه الله:
«والعِلْمُ بمُرادِ المتكلِّمِ يُعْرفُ تارةً من عُمُومِ لفظِهِ، وتارةً من عُمُومِ علَّته، والحَوالةُ على الأوَّلِ أوضحُ لأربابِ الألفاظِ، وعَلَى الثَّاني لأربابِ المعاني والفهمِ والتَّدبُّرِ
… وقَدْ يعرضُ لكلٍّ من الفَريقينِ ما يُخِلُّ بمعرفةِ مُرَادِ المتكلِّمِ، فيعرضُ لأربابِ الألفاظِ التَّقصيرُ بها عن عُمُومِها، وهَضْمُها تارةً، وتَحميلُها فوقَ ما أُريدَ بها تارةً، ويَعْرضُ لأربابِ المعاني فيها نظيرُ ما يعرضُ لأربابِ الألفاظِ، فهذِهِ أربعُ آفاتٍ هِيَ مَنْشأُ غَلَطِ الفَريقينِ
… »
(2).
--------------------------------------------
এই সমস্যার কারণ হলো
ভাষার ব্যাপকতা এবং শব্দের বহুবিধ অর্থ।
একজন গবেষক সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের কিছু পরিভাষার ক্ষেত্রে সেটি কোন অর্থে প্রয়োগ হবে তা নিয়ে দ্বিধাগ্রস্ত হয়ে পড়েন। যখন কোনো শব্দ তার মস্তিষ্কে নির্দিষ্ট একটি অর্থে গেঁথে থাকে, তখন সে বিষয়টিকে বক্তার পরিভাষা অনুযায়ী না বুঝে বরং নিজের কথার পরিভাষা অনুযায়ী প্রয়োগ করতে তাড়াহুড়ো করে।
এই কারণেই বক্তার পরিভাষাগুলো বোঝার ও তা থেকে দলিল গ্রহণের চেষ্টার আগে তা বুঝতে বিমুখ হওয়ার দরুন বিভিন্ন শাস্ত্রে বুঝ ও দলিল গ্রহণের ক্ষেত্রে ভুল সংঘটিত হয়েছে।
শাইখুল ইসলাম ইবনে তাইমিয়্যাহ (রাহিমাহুল্লাহ) বলেন:
«
… অনুরূপভাবে শরিয়ত কর্তৃক বা প্রথাগতভাবে স্থানান্তরিত ও পরিবর্তিত শব্দাবলি এবং দ্ব্যর্থবোধক শব্দগুলোর ক্ষেত্রে বক্তা সাধারণত দুটি অর্থের একটি উদ্দেশ্য করেন, যদিও অন্যান্য অর্থ হওয়াও সম্ভব, কিন্তু সেগুলো উদ্দেশ্য করা হয়নি
… এটি একটি বিশাল অধ্যায়। সুতরাং যে ব্যক্তি কোনো বক্তার কথার প্রতিটি শব্দ নিয়ে চিন্তা করবে, সে দেখবে যে আল্লাহ যা চান সে অনুযায়ী তা থেকে অনেক অর্থ বের করা সম্ভব, অথচ বক্তা সেগুলোর মধ্য থেকে মাত্র একটি অর্থই উদ্দেশ্য করেছেন
… »
(১).
ইবনুল কাইয়্যিম (রাহিমাহুল্লাহ) বলেন:
«বক্তার উদ্দেশ্য সম্পর্কে কখনো তার শব্দের ব্যাপকতা থেকে জানা যায়, আবার কখনো তার কারণের ব্যাপকতা থেকে জানা যায়। শব্দানুগামীদের কাছে প্রথমটির ওপর নির্ভর করা অধিক স্পষ্ট, আর অর্থ ও অনুধাবনকারীদের কাছে দ্বিতীয়টির ওপর নির্ভর করা অধিকতর স্পষ্ট
… উভয় দলেরই এমন কিছু অবস্থার সম্মুখীন হতে হয় যা বক্তার উদ্দেশ্য জানার ক্ষেত্রে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করে। শব্দানুগামীরা কখনো শব্দের ব্যাপকতা বজায় রাখতে ব্যর্থ হয় এবং একে সংকুচিত করে ফেলে, আবার কখনো শব্দের ওপর তার উদ্দেশ্যের চেয়েও বেশি ভার চাপিয়ে দেয়। অনুরূপভাবে অর্থানুগামীদের ক্ষেত্রেও একই ধরণের বিষয় ঘটে থাকে। এই চারটি আপদই হলো উভয় দলের ভুলের মূল কারণ
… »
(২).
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
হাশিয়াতুল খারাশী মুনতাহাল রাগবাহ ফি হাল্লি আলফাযিন নুখবাহ
(পৃষ্ঠা: ৯)
وفي بابِ الجرحِ والتَّعديلِ يكونُ الغلطُ في فَهمِ مصطلحِ إمامٍ -من أئمَّةِ الجرحِ والتَّعديل- لَه أثرٌ واضحٌ في الحُكْمِ على الرَّاوي -جرحًا أو تعديلًا- وبالتَّالي يَظْهرُ الغلطُ في الحُكْمِ على الحديثِ، علمًا بأنَّ أَهمِّيَّةَ تَتبُّعِ المصطلحاتِ تظهرُ أكثرُ في فنِّ الجرحِ والتَّعديلِ.
يَقُولُ السُّبكيُّ رحمه الله:
«وممَّا يَنْبغي أن يُتفقَّدَ عندَ الجرحِ أيضًا: حالُ الجارحِ في الخبرةِ بمدلولاتِ الألفاظِ، فَكَثيرًا ما رَأيتُ مَنْ يسمعُ لفظةً، فيَفْهمها على غيرِ وَجْهِهَا، والخبرةُ بمدلولاتِ الألفاظِ -ولا سيَّما العُرْفيةُ الَّتي تختلفُ باختلافِ عُرْفِ النَّاس، وتَكُونُ في بعضِ الأزمنةِ مدحًا، وفي بعضها ذمًّا- أمرٌ شديدٌ، لا يُدْركهُ إلَّا قعيدٌ بالعِلْمِ»
(1).
وقالَ المُعَلميُّ رحمه الله:
«صِيَغُ الجرحِ والتَّعديلِ كثيرًا ما تُطْلَق على معانٍ مُغَايرةٍ لمعانيها المُقَرَّرةِ في كتبِ المصطلحِ، ومَعْرفةُ ذلكَ تَتوقَّفُ على طولِ الممارسةِ، واستقصاءِ النَّظرِ»
(2).
وقَالَ أيضًا رحمه الله: «
… مِنْهم مَن لا يُطْلق: (ثقةً) إلَّا على مَنْ كَانَ في الدَّرجةِ العليا من العدالةِ والضبطِ، وَمِنْهُمْ مَن يُطْلقُها على كلِّ عدلٍ ضابطٍ، وَإِنْ لَمْ يَكُنْ في الدَّرجةِ العليا، وَمِنْهُم مَن يُطْلقُها على العدلِ، وإنْ لَم يَكُنْ ضابطًا، ومِنْهُم مَن يُطْلقُها على المجهولِ الَّذي روى حديثًا واحدًا قد تُوبعَ عليه، ومِنْهُمْ مَنْ يُطلقُها على المجهولِ الَّذي رَوى حديثًا لهُ شاهدٌ، وَمِنْهُمْ مَنْ يُطْلقُها على المجهولِ الَّذي روى حديثًا لم يَسْتَنكرهُ هو، وَمِنْهُمْ مَن يُطْلقُها على المجهولِ الَّذي رَوى عَنهُ ثقةٌ
… إلى غَيْرِ ذلك، وهُمْ -مَعَ ذلك- مُخْتلفونَ في الاستدلالِ على أحوالِ الرُّواةِ، فمِنْهُمْ المُبَالغُ في التَّثبُّتِ، ومِنْهُم المُتَسامحُ، ومَنْ لم يَعرفْ مذهبَ الإمامِ منهم، ومَنْزلَتهُ من التَّثبُّتِ- لَم يَعرِفْ ما تُعْطيهِ كلمتُهُ، وحِينَئذٍ فَإمَّا أن يتوقَّفَ،
--------------------------------------------
জারহ ও তাদীল অধ্যায়ে কোনো ইমামের—জারহ ও তাদীল শাস্ত্রের ইমামগণের মধ্য থেকে—ব্যবহৃত পরিভাষা বুঝতে ভুল করা বর্ণনাকারীর বিষয়ে হুকুম প্রদানের ক্ষেত্রে (জারহ কিংবা তাদীল যাই হোক না কেন) একটি স্পষ্ট প্রভাব ফেলে। এর ফলে শেষ পর্যন্ত হাদিসের বিষয়ে প্রদত্ত হুকুমের ক্ষেত্রেও ভুল পরিলক্ষিত হয়। উল্লেখ্য যে, পরিভাষা অনুসন্ধানের গুরুত্ব জারহ ও তাদীল শাস্ত্রেই সবচেয়ে বেশি স্পষ্ট হয়ে ওঠে।
আস-সুবকী (রহিমাহুল্লাহ) বলেন:
«জারহ করার সময় আরেকটি যে বিষয় খতিয়ে দেখা উচিত তা হলো—শব্দের অর্থ ও প্রয়োগ সম্পর্কে জারহকারীর অভিজ্ঞতার অবস্থা। কারণ আমি প্রায়শই দেখেছি, কেউ কোনো শব্দ শোনে কিন্তু তা সঠিক প্রেক্ষাপটে না বুঝে ভিন্নভাবে গ্রহণ করে। শব্দের অর্থ ও প্রয়োগ সম্পর্কে অভিজ্ঞতা অর্জন করা—বিশেষ করে লোকজ বা প্রচলিত শব্দাবলি (পরিভাষা), যা মানুষের প্রথাভেদে ভিন্ন হয় এবং কোনো সময়ে তা প্রশংসা আবার কোনো সময়ে তা নিন্দা হিসেবে গণ্য হয়—একটি অত্যন্ত কঠিন বিষয়, যা কেবল জ্ঞানে সুগভীর পাণ্ডিত্যসম্পন্ন ব্যক্তিই অনুধাবন করতে পারেন»
(১)।
আল-মুয়াল্লিমী (রহিমাহুল্লাহ) বলেন:
«জারহ ও তাদীলের শব্দাবলি প্রায়শই এমন অর্থে ব্যবহৃত হয় যা উসুলে হাদিসের কিতাবসমূহে নির্ধারিত অর্থের চেয়ে ভিন্ন। এটি জানার বিষয়টি দীর্ঘ অনুশীলন ও গভীর পর্যালোচনার ওপর নির্ভর করে»
(২)।
তিনি আরও বলেন: «
… তাঁদের মধ্যে এমনও কেউ আছেন যারা 'সিকাহ' (নির্ভরযোগ্য) শব্দটি কেবল তাদের ক্ষেত্রেই ব্যবহার করেন যারা আদল ও জাব্ত (স্মৃতিশক্তি)-এর সর্বোচ্চ স্তরে রয়েছেন। আবার তাঁদের মধ্যে এমনও কেউ আছেন যারা একে প্রত্যেক আদিল ও জাবিত ব্যক্তির ক্ষেত্রে ব্যবহার করেন, যদিও সে সর্বোচ্চ স্তরের না হয়। তাঁদের মধ্যে এমনও কেউ আছেন যারা এটি কেবল ‘আদিল’ ব্যক্তির ক্ষেত্রে ব্যবহার করেন যদিও সে ‘জাবিত’ (স্মৃতিশক্তিসম্পন্ন) না হয়। তাঁদের মধ্যে এমনও কেউ আছেন যারা এমন ‘মাজহুল’ (অজ্ঞাত) ব্যক্তির ক্ষেত্রে এটি ব্যবহার করেন যে কেবল একটি হাদিস বর্ণনা করেছে যার সমর্থনকারী বর্ণনা (মুতাবায়াত) পাওয়া যায়। তাঁদের মধ্যে এমনও কেউ আছেন যারা এমন ‘মাজহুল’ ব্যক্তির ক্ষেত্রে ব্যবহার করেন যার বর্ণিত হাদিসের স্বপক্ষে অন্য কোনো প্রমাণ (শাহিদ) আছে। তাঁদের মধ্যে এমনও কেউ আছেন যারা এমন ‘মাজহুল’ ব্যক্তির ক্ষেত্রে এটি ব্যবহার করেন যে এমন একটি হাদিস বর্ণনা করেছে যা তিনি নিজে প্রত্যাখ্যান করেননি। আবার তাঁদের মধ্যে এমনও কেউ আছেন যারা এমন ‘মাজহুল’ ব্যক্তির ক্ষেত্রে এটি ব্যবহার করেন যার থেকে কোনো ‘সিকাহ’ রাবী বর্ণনা করেছেন
… এ ছাড়াও আরও অনেক ক্ষেত্র রয়েছে। পাশাপাশি বর্ণনাকারীদের অবস্থা নির্ণয়ের ক্ষেত্রেও তাঁরা পরস্পর ভিন্ন মত পোষণ করেন; তাঁদের কেউ অত্যন্ত কঠোর, আবার কেউ শিথিল। সুতরাং যে ব্যক্তি সংশ্লিষ্ট ইমামের মাযহাব (পদ্ধতি) এবং যাচাই-বাছাইয়ের ক্ষেত্রে তাঁর মান সম্পর্কে অবগত নয়, সে তাঁর ব্যবহৃত শব্দের প্রকৃত মর্মার্থ বুঝতে পারবে না। এমতাবস্থায় তাকে হয় বিরত থাকতে হবে,
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
হাশিয়াতুল খারাশী মুনতাহাল রাগবাহ ফি হাল্লি আলফাযিন নুখবাহ
(পৃষ্ঠা: ১০)
وإمَّا أَنْ يَحملَها على ما هو المشهورُ في كتبِ المصطلحِ، ولعلَّ ذَلكَ رَفعٌ لها عن دَرجتِهَا، وبالجملةِ؛ فَإِنْ لم يَتوقَّفْ، قَالَ بغيرِ عِلْمٍ، وَسارَ على غيرِ هدًى»
(1).
فالجَهلُ بمدلولِ المصطلحِ، ومرادِ الإمامِ منهُ، قَدْ يؤدِّي إلى تجهيلِ الأئمَّةِ، ونِسْبتِهِم للتَّناقضِ.
فَلَا يزالُ هذا البابُ -وهوَ بَابُ ضبطِ مصطلحاتِ الأئمَّةِ، بَعْدَ جَمْعِهَا ودِرَاستِها وتَفهُّمِهَا- يعرضهُ الأئمَّةُ، مُتَمنِّينَ إتمامَه، أو يَعْرضهُ بعضُ أهلِ العِلْمِ، ويَعِدُ بإحكامِهِ.
قَالَ الذَّهبيُّ رحمه الله:
«
… ثمَّ نَحنُ نَفْتقرُ إلى تحريرِ عباراتِ التَّعديلِ والجرحِ، وما بَيْنَ ذَلكَ من العباراتِ المُتَجاذبةِ، ثمَّ أَهمُّ من ذَلكَ: أن نعلمَ -بالاستقراءِ التَّامِّ- عُرْفَ ذَلكَ الإمامِ الجِهْبذِ، واصطلاحَهُ ومقاصدَهُ بعباراتِهِ الكثيرةِ
… »
(2).
وَقَالَ السَّخاويُّ رحمه الله:
«
… مَنْ نَظرَ كُتبَ الرِّجالِ، ككِتَابِ ابنِ أبي حاتمٍ المذكورِ، والكاملِ لابنِ عديٍّ، والتَّهذيبِ، وغَيْرِها، ظَفرَ بألفاظٍ كثيرةٍ، ولَو اعْتنَى بارعٌ بتَتبُّعها، ووَضْعِ كُلِّ لفظةٍ بالمرتبةِ المُشَابهةِ لَها، مَعَ شَرْحِ مَعَانيها -لغةً واصطلاحًا- لَكانَ حسنًا، ولقَدْ كَانَ شَيخُنا يَلْهجُ بذكرِ ذلكَ، فما تَيسَّرَ، والواقفُ على عباراتِ القومِ يَفْهمُ مَقاصدَهم بما عَرفَ من عِبَاراتِهم -في غالبِ الأحوالِ- وبقرائنَ تُرْشدُ إلى ذلك»
(3).
فإذا اتَّضحَ لَكَ المقامُ، فهذِهِ مُشَاركةٌ لي في خدمةِ كتابٍ من كُتُبِ هذا الفنِّ، وهُوَ كتابُ:
--------------------------------------------
অথবা তিনি সেটিকে পরিভাষা বিষয়ক গ্রন্থসমূহে যা প্রসিদ্ধ সেটির ওপর প্রয়োগ করবেন, আর সম্ভবত এটি তাকে তার স্তরের চেয়ে উপরে নিয়ে যাওয়া। মোদ্দাকথা হলো, যদি তিনি থেমে না যান, তবে তিনি জ্ঞান ছাড়াই কথা বললেন এবং হেদায়াত ছাড়াই পথ চললেন।
(১)সুতরাং পরিভাষার অর্থ এবং তা থেকে ইমামের উদ্দেশ্য সম্পর্কে অজ্ঞতা কখনও কখনও ইমামগণকে অজ্ঞ হিসেবে প্রতিপন্ন করার এবং তাঁদের প্রতি পরস্পরবিরোধিতার অপবাদ দেওয়ার দিকে ধাবিত করে।
ইমামদের পরিভাষাগুলো সংগ্রহ, অধ্যয়ন ও অনুধাবনের পর সেগুলোকে সুসংহত করার এই বিষয়টি ইমামগণ সর্বদা পেশ করে আসছেন এবং এটি সম্পন্ন করার আকাঙ্ক্ষা প্রকাশ করেছেন; অথবা কোনো কোনো আলিম এটি পেশ করেন এবং একে সুদৃঢ় করার প্রতিশ্রুতি দেন।
আয-যাহাবী (রহিমাহুল্লাহ) বলেছেন:
«
… অতঃপর আমরা জারহ (সমালোচনা) ও তা'দীল (প্রশংসা) বিষয়ক শব্দাবলী এবং এ দুইয়ের মধ্যবর্তী পরস্পরবিরোধী শব্দাবলিকে সুনির্দিষ্ট করার মুখাপেক্ষী। এরপর এর চেয়েও গুরুত্বপূর্ণ হলো: আমরা যেন পূর্ণ অনুসন্ধানের মাধ্যমে সেই বিজ্ঞ ইমামের প্রচলিত প্রয়োগ, তাঁর পরিভাষা এবং তাঁর বহুবিধ শব্দাবলি দ্বারা তাঁর উদ্দেশ্য সম্পর্কে জানতে পারি
… »
(২).
আস-সাখাভী (রহিমাহুল্লাহ) বলেছেন:
«
… যে ব্যক্তি রিজাল শাস্ত্রের গ্রন্থসমূহ দেখবে—যেমন ইবনে আবি হাতিমের উল্লিখিত কিতাব, ইবনে আদীর আল-কামিল, আত-তাহযীব এবং অন্যান্য—সে প্রচুর শব্দাবলি খুঁজে পাবে। যদি কোনো দক্ষ ব্যক্তি এই শব্দগুলো অনুসন্ধানে যত্নবান হতেন এবং আভিধানিক ও পারিভাষিক অর্থ ব্যাখ্যাসহ প্রতিটি শব্দকে তার সমপর্যায়ের স্তরে বিন্যস্ত করতেন, তবে তা উত্তম হতো। আমাদের শাইখ সর্বদা এটি উল্লেখ করতেন, কিন্তু তা সহজসাধ্য হয়নি। তবে এই জামাতের (ইমামদের) শব্দাবলির ওপর যার জানাশোনা আছে, তিনি অধিকাংশ ক্ষেত্রে তাঁদের শব্দাবলির পরিচিতি এবং সেদিকে ইঙ্গিতকারী পারিপার্শ্বিক অবস্থার আলোকে তাঁদের উদ্দেশ্য বুঝতে পারেন »
(৩).
বিষয়টি যখন আপনার কাছে স্পষ্ট হলো, তখন এই শাস্ত্রের কিতাবসমূহের মধ্যে একটি কিতাবের খিদমতে এটি আমার পক্ষ থেকে একটি অংশগ্রহণ, আর সেটি হলো:
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
হাশিয়াতুল খারাশী মুনতাহাল রাগবাহ ফি হাল্লি আলফাযিন নুখবাহ
(পৃষ্ঠা: ১১)
نزهة النظرِ شرح نخبة الفكر
لخاتمة الحفاظ
أحمد بن علي بن حجر رحمه الله
يُعدُّ كتابُ «نُخْبةِ الفِكَرِ وشَرحُهُ نُزهةِ النَّظرِ» لمُصنِّفه من أكثرِ كُتُبِ المُصطلحِ رَواجًا عند المُتأخِّرين من أهلِ هذا الفنِّ، فمنذُ فراغِ مُصنِّفِهِ سنةَ ثمانِ عشرةَ وثمانمائةٍ
(1) إلى وقتنا هَذا لا يُحْصى ما كتبَ عَلَيها من شُروحٍ وحواشٍ حتَّى وصل ما كتبَ عَليْه إلى مائةٍ وثمانية عنوانًا، وَما يَعْنينا منها هو ما كُتِبَ على نُزهةِ النَّظرِ.
ما كتب على النزهة من شروح وحواش (2)ذُكر للنُّزهةِ وَحدهَا خمسٌ وعشرون عنوانًا ما بين شرحٍ وحاشيةٍ، إليكَ بيان أَصْحابِها:
1 - إبراهيم بن عمر بن حسن الرباط برهان الدين البقاعي الشافعي، المتوفى سنة (885 هـ)، وهو من تلاميذ الحافظ ابن حجر.
لَه حواشٍ على «النُّزهةِ»، نَسبَها إلَيه اللقانيُّ في «قَضاء الوَطرِ».
2 - قاسم بن قطلوبغا بن عبد الله المصري، المتوفى سنة (879 هـ)، وهو من تلاميذ الحافظ ابن حجر.
لَه حاشيةٌ على «النُّزهةِ»، تُعدُّ مِن أهمِّ الحواشي المُؤلَّفة عَليْها؛ لمَا احْتوَتهُ من تعليقاتٍ للحافظِ ابن حجرٍ على ما كَتبَه فيها، لذَا أكثرُ مَن جاءَ بعده من شُرَّاحِ «النُّزهةِ»، من النَّقل عنها، كَما فعلَ عليٌّ القاري، والمُناويُّ، واللقاني، والخرشيُّ في شُرُوحِهم.
--------------------------------------------
নুজহাতুন নাযার শারহু নুখবাতিল ফিকার
হাফেজদের সর্বশেষ প্রতিনিধি
আহমদ বিন আলী বিন হাজার রাহিমাহুল্লাহ
মুসান্নিফ রচিত «নুখবাতুল ফিকার এবং এর ব্যাখ্যাগ্রন্থ নুজহাতুন নাযার» এই শাস্ত্রের পরবর্তী আলিমদের নিকট ইলমে মুসতালাহ বা পরিভাষা শাস্ত্রের অন্যতম জনপ্রিয় গ্রন্থ হিসেবে গণ্য হয়। আটশ আঠারো হিজরী সালে মুসান্নিফ এটি রচনা সমাপ্ত করার পর থেকে
(১) বর্তমান সময় পর্যন্ত এর ওপর অসংখ্য ব্যাখ্যা ও টীকা লেখা হয়েছে, যার সংখ্যা একশ আটটি শিরোনাম পর্যন্ত পৌঁছেছে। এর মধ্যে আমাদের প্রধান উদ্দেশ্য হলো নুজহাতুন নাযারের ওপর যা কিছু লেখা হয়েছে তার বিবরণ দেওয়া।
নুজহাতুন নাযারের ওপর রচিত ব্যাখ্যাগ্রন্থ ও টীকাগুলো (২)কেবল নুজহাতুন নাযারের জন্যই ব্যাখ্যা ও টীকা মিলিয়ে পঁচিশটি শিরোনামের কথা উল্লেখ করা হয়েছে, নিচে সংশ্লিষ্ট লেখকদের বিবরণ দেওয়া হলো:
১ - ইবরাহিম বিন উমর বিন হাসান আল-রিবাত বুরহানুদ্দীন আল-বিকাঈ আল-শাফিঈ, মৃত্যু (৮৮৫ হিজরী), তিনি হাফেজ ইবনে হাজারের অন্যতম ছাত্র।
«নুজহাতুন নাযার» এর ওপর তাঁর কিছু টীকা রয়েছে, আল-লাক্কানী «কাদা উল ওয়াতার» গ্রন্থে তা তাঁর দিকে নিসবত করেছেন।
২ - কাসিম বিন কুতলুবুগা বিন আব্দুল্লাহ আল-মিসরী, মৃত্যু (৮৭৯ হিজরী), তিনি হাফেজ ইবনে হাজারের অন্যতম ছাত্র।
«নুজহাতুন নাযার» এর ওপর তাঁর একটি টীকা রয়েছে, যা এর ওপর রচিত টীকাগুলোর মধ্যে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে বিবেচিত হয়; কারণ এতে হাফেজ ইবনে হাজার যা লিখেছেন তার ওপর তাঁর (ইবনে হাজারের) নিজস্ব কিছু মন্তব্য সংকলিত হয়েছে। এই কারণেই তাঁর পরবর্তী অধিকাংশ নুজহাতুন নাযারের ব্যাখ্যাকার যেমন আলী আল-কারী, আল-মুনাবী, আল-লাক্কানী এবং আল-খারশী তাদের ব্যাখ্যাগ্রন্থগুলোতে এখান থেকে প্রচুর উদ্ধৃতি প্রদান করেছেন।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
হাশিয়াতুল খারাশী মুনতাহাল রাগবাহ ফি হাল্লি আলফাযিন নুখবাহ
(পৃষ্ঠা: ১২)
وقد ذَكر رضيُّ الدِّين الحلبيُّ في «قَفْو الأثرِ»
(1)، أنَّ ابنَ قطلوبغا سمَّى حاشيتَه هذه بـ: «القَولِ المُبتكرِ على شَرحِ نُخبةِ الفِكَرِ».
وقَد طُبعَتْ هذه الحاشيةُ في دارِ الوطنِ بالرياض بتحقيق الدُّكتور إبراهيم الناصر، سنة (1420 هـ).
3 - محمد بن محمد بن أبي بكر بن علي بن مسعود بن رضوان المري، كمال الدين المقدسي الشافعي، المعروف بابن أبي شريف، المتوفى سنة (906 هـ)، وهو مِن تلاميذِ الحافظِ ابن حجرٍ.
لَه حاشيةٌ على «نُزهةِ النظرِ»، تُعدُّ من أهمِّ الحواشي المُؤلَّفةِ على «النُّزهةِ»؛ لِمَا احتوَتْه من تعليقاتٍ للحافظِ ابنِ حجرٍ على نُزهتِهِ، نَقلها عنه تلميذُهُ الكمالُ ابن أبي شريف حالَ المُدارسةِ، وقَد طُبعَتْ هذه الحاشيةُ عن دارِ الوطن بالرياض، بتحقيق الدُّكتور إبراهيم الناصر، سنة (1420 هـ).
4 - عبد الرحمن بن كمال الدين أبي بكر بن محمد بن سابق الدين، جلال الدين أبو الفضل السيوطي الشافعي، المتوفى سنة (911 هـ).
لَه نُكتٌ على «النُّزهةِ»، نَسبَها إليهِ البغداديُّ في «هديَّةِ العارفينَ»
(2).
5 - محمد بن إبراهيم بن يوسف بن عبد الرحمن رضي الدين أبو عبد الله الحنفي، المعروف بابن الحنبلي، المتوفى سنة (971 هـ)
(3).
لَه حواشٍ على «النُّزهةِ»، سمَّاها: «مِنَح النغبةِ على شَرحِ النُّخبةِ»، ذَكرَها في
--------------------------------------------
রাযিউদ্দিন আল-হালাবি «কাফউিল আসার»
(১) গ্রন্থে উল্লেখ করেছেন যে, ইবন কুতলুবুগা তাঁর এই টীকাগ্রন্থটির নামকরণ করেছেন: «আল-কাওলুল মুবতাকির আলা শারহি নুখবাতিল ফিকার»।
এই টীকাগ্রন্থটি রিয়াদের দারুল ওয়াতান থেকে ড. ইব্রাহিম আন-নাসিরের সম্পাদনায় (১৪২০ হিজরি) সালে মুদ্রিত হয়েছে।
৩ - মুহাম্মদ বিন মুহাম্মদ বিন আবি বকর বিন আলি বিন মাসউদ বিন রিজওয়ান আল-মাররি, কামাল উদ্দিন আল-মাকদিসি আশ-শাফিয়ি, যিনি ইবন আবি শারিফ নামে পরিচিত, মৃত্যু (৯০৬ হিজরি), তিনি হাফিজ ইবন হাজারের অন্যতম ছাত্র ছিলেন।
«নুজহাতুন নজর»-এর ওপর তাঁর একটি টীকাগ্রন্থ রয়েছে, যা «নুজহা»-এর ওপর লিখিত অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ টীকাগুলোর একটি হিসেবে বিবেচিত; কারণ এতে হাফিজ ইবন হাজারের তাঁর নিজের «নুজহা»-এর ওপর করা এমন কিছু মন্তব্য অন্তর্ভুক্ত রয়েছে যা তাঁর ছাত্র কামাল ইবন আবি শারিফ পাঠদানকালে তাঁর কাছ থেকে বর্ণনা করেছেন। এই টীকাগ্রন্থটি রিয়াদের দারুল ওয়াতান থেকে ড. ইব্রাহিম আন-নাসিরের সম্পাদনায় (১৪২০ হিজরি) সালে মুদ্রিত হয়েছে।
৪ - আবদুর রহমান বিন কামাল উদ্দিন আবি বকর বিন মুহাম্মদ বিন সাবিক উদ্দিন, জালাল উদ্দিন আবুল ফজল আস-সুয়ুতি আশ-শাফিয়ি, মৃত্যু (৯১১ হিজরি)।
«নুজহা»-এর ওপর তাঁর কিছু সূক্ষ্ম আলোচনা (নুকাত) রয়েছে, যা বাগদাদি «হাদিয়্যাতুল আরিফিন»
(২) গ্রন্থে তাঁর দিকে সম্পৃক্ত করেছেন।
৫ - মুহাম্মদ বিন ইব্রাহিম বিন ইউসুফ বিন আবদুর রহমান রাযিউদ্দিন আবু আব্দুল্লাহ আল-হানাফি, যিনি ইবনুল হাম্বলি নামে পরিচিত, মৃত্যু (৯৭১ হিজরি)
(৩)।
«নুজহা»-এর ওপর তাঁর কিছু টীকা রয়েছে, যেটির নামকরণ তিনি করেছেন: «মিনাহুন নুগবাহ আলা শারহিন নুখবাহ», তিনি তা উল্লেখ করেছেন...
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
হাশিয়াতুল খারাশী মুনতাহাল রাগবাহ ফি হাল্লি আলফাযিন নুখবাহ
(পৃষ্ঠা: ১৩)
كتابِه «قَفْو الأثرِ»
(1).
6 - إبراهيم بن حسن الكوراني الشهرزوري الكردي الشافعي، أبو العرفان برهان الدين، المتوفى سنة (1101 هـ).
ذَكرَه صاحبُ «الفهرس الشامل»
(2).
7 - إبراهيم بن سليمان بن إبراهيم الكردي الكيلاني الشهير بالحلبي، المتوفى سنة (1101 هـ).
ذَكرَها صاحبُ «الفهرسِ الشاملِ»
(3).
8 - علي بن محمد بن سلطان محمد الهروي القاري، المتوفى سنة (1014 هـ).
لَه شرحٌ على «النُّزهةِ»، على طريقةِ المَزْجِ، طُبع عدَّة طبعاتٍ.
9 - محمد عبد الرؤوف ابن تاج العارفين بن علي ابن زين العابدين المناوي، القاهري الشافعي، المتوفى سنة (1031 هـ).
لَه شرحٌ على «النُّزهةِ»، سمَّاه: «اليَواقيت والدُّرر شَرح شَرح نُخبةِ ابن حَجر»
(4)، وقد طُبع هذا الكتابُ بتحقيق ربيع بن محمد السعودي عن دار الرشد بالرياض، سنة (1411 هـ)، ثمَّ طُبعَ بتحقيق الدُّكتور المُرتضى الزين أحمد، عن دار الرشد بالرياض، سنة (1420 هـ)
(5).
--------------------------------------------
তাঁর কিতাব ‘কাফউ আল-আসার’
(১)।
৬ - ইবরাহিম ইবনে হাসান আল-কুরানি আশ-শাহরাজুরি আল-কুর্দি আশ-শাফিঈ, আবু আল-ইরফান বুরহান উদ্দিন, মৃত্যু বছর (১১০১ হিজরি)।
‘আল-ফিহরিস আশ-শামিল’-এর লেখক এটি উল্লেখ করেছেন
(২)।
৭ - ইবরাহিম ইবনে সুলাইমান ইবনে ইবরাহিম আল-কুর্দি আল-কিলানি, আল-হালাবি নামে প্রসিদ্ধ, মৃত্যু বছর (১১০১ হিজরি)।
‘আল-ফিহরিস আশ-শামিল’-এর লেখক এটি উল্লেখ করেছেন
(৩)।
৮ - আলী ইবনে মুহাম্মদ ইবনে সুলতান মুহাম্মদ আল-হারাউই আল-কারি, মৃত্যু বছর (১০১৪ হিজরি)।
‘আন-নুজহা’-এর ওপর তাঁর একটি ব্যাখ্যাগ্রন্থ রয়েছে, যা সংমিশ্রিত পদ্ধতিতে রচিত এবং এটি কয়েকবার মুদ্রিত হয়েছে।
৯ - মুহাম্মদ আবদুর রউফ ইবনে তাজুল আরিফিন ইবনে আলী ইবনে জয়নুল আবেদিন আল-মুনাউই, আল-কাহিরি আশ-শাফিঈ, মৃত্যু বছর (১০৩১ হিজরি)।
‘আন-নুজহা’-এর ওপর তাঁর একটি ব্যাখ্যাগ্রন্থ রয়েছে, যার নাম তিনি রেখেছেন: ‘আল-ইয়াওয়াকিত ওয়া আদ-দুরার শারহু শারহি নুখবাতি ইবনে হাজার’
(৪), এই বইটি রিয়াদে ‘দারুর রুশদ’ থেকে রবি ইবনে মুহাম্মদ আস-সাউদির সম্পাদনায় ১৪১১ হিজরি সালে মুদ্রিত হয়েছে। পরবর্তীতে এটি রিয়াদে ‘দারুর রুশদ’ থেকেই ডক্টর আল-মুরতাজা আজ-জাইন আহমাদ-এর সম্পাদনায় ১৪২০ হিজরি সালে মুদ্রিত হয়েছে
(৫)।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
হাশিয়াতুল খারাশী মুনতাহাল রাগবাহ ফি হাল্লি আলফাযিন নুখবাহ
(পৃষ্ঠা: ১৪)
10 - برهان الدين إبراهيم بن إبراهيم اللقاني، المتوفى سنة (1041 هـ).
لَه الشَّرحُ المعروفُ بـ «قَضاءِ الوَطرِ في نُزهةِ النَّظرِ في تَوضيحِ نُخبةِ الفِكَرِ في مُصْطلحِ أهلِ الأثرِ»، ضَمَّنه حَاشيتي برهان الدين البقاعي، وقاسم بن قطلوبغا -رحمهما الله-، وهُوَ مطبوعٌ في الدارِ الأثريَّةِ بتحقيق: شادي بن محمد آل نعمان.
11 - علي بن محمد بن عبد الرحمن الأجهوري، المتوفى سنة (1066 هـ).
لَه شرحٌ على «النُّزهةِ»، نَسبَها إلَيهِ المحبي في «خُلاصةِ الأثرِ»
(1)، وعبد الحي الكتاني في «فهرسِ الفَهارسِ»
(2).
وقَد طُبعَ هذا الكتابُ بتحقيقِ د/بشار مجيد خليل القيسي عن دار ابن حزم.
12 - غضنفر بن جعفر.
لَه حَاشيةٌ عَلى «النُّزهةِ»، وَهيَ مَذكورةٌ في «فهارسِ دارِ الكتبِ المصريَّةِ»
(3).
13 - محمد بن إبراهيم الدروري سري الدين المصري الحنفي، المعروف بابن الصائغ، المتوفى سنة (1069 هـ)
(4).
لَه حاشيةٌ على «النُّزهةِ»، نَسبَها إلَيه البغداديُّ في «هَديَّةِ العَارفينَ»
(5).
14 - محمد بن عبد الله الآمدي، الشهير بهينلي زاده، المتوفى سنة (1097 هـ).
لَه حاشيةٌ على «النُّزهةِ»، نَسبَها إلَيه البغداديُّ في «هَديَّةِ العَارفينَ»
(6)، وكحالة
--------------------------------------------
১০ - বুরহানুদ্দীন ইবরাহীম ইবন ইবরাহীম আল-লাকানি, মৃত্যু (১০৪১ হি.)।
তাঁর একটি সুপ্রসিদ্ধ ব্যাখ্যাগ্রন্থ রয়েছে যার নাম ‘কাদাউল ওয়াতার ফী নুযহাতিন নাযার ফী তাওদীহি নুখবাতিল ফিকার ফী মুসতালাহি আহলিল আসার’, এতে তিনি বুরহানুদ্দীন আল-বিকাঈ এবং কাসেম ইবন কুতলুবুগা —আল্লাহ তাঁদের প্রতি রহম করুন— এর দু’টি হাশিয়া (টীকা) অন্তর্ভুক্ত করেছেন। এটি শাদি ইবন মুহাম্মদ আল নুমান-এর সম্পাদনায় আদ-দারুল আসারিয়্যাহ থেকে মুদ্রিত হয়েছে।
১১ - আলী ইবন মুহাম্মদ ইবন আব্দুর রহমান আল-আজহুরী, মৃত্যু (১০৬৬ হি.)।
‘নুযহা’ এর ওপর তাঁর একটি ব্যাখ্যাগ্রন্থ রয়েছে; আল-মুহিব্বী ‘খুলাসাতুল আসার’ গ্রন্থে
(১) এবং আব্দুল হাই আল-কাত্তানি ‘ফিহরিসুল ফাহারিস’ গ্রন্থে
(২) এটি তাঁর প্রতি সম্বন্ধযুক্ত করেছেন।
এই কিতাবটি ড. বাশার মাজীদ খলীল আল-কায়সির সম্পাদনায় দার ইবন হাযম থেকে মুদ্রিত হয়েছে।
১২ - গাযানফার ইবন জাফর।
‘নুযহা’ এর ওপর তাঁর একটি হাশিয়া রয়েছে, যা ‘ফিহরিসু দারিল কুতুবিল মিসরিইয়াহ’ গ্রন্থে উল্লিখিত হয়েছে
(৩)।
১৩ - মুহাম্মদ ইবন ইবরাহীম আদ-দারুরি সিরইউদ্দীন আল-মিসরি আল-হানাফি, ইবনুস সায়িগ নামে পরিচিত, মৃত্যু (১০৬৯ হি.)
(৪)।
‘নুযহা’ এর ওপর তাঁর একটি হাশিয়া রয়েছে, আল-বাগদাদি ‘হাদিয়্যাতুল আরিফিন’ গ্রন্থে এটি তাঁর প্রতি সম্বন্ধযুক্ত করেছেন
(৫)।
১৪ - মুহাম্মদ ইবন আব্দুল্লাহ আল-আমিদি, হাইনলি জাদা নামে পরিচিত, মৃত্যু (১০৯৭ হি.)।
‘নুযহা’ এর ওপর তাঁর একটি হাশিয়া রয়েছে, আল-বাগদাদি ‘হাদিয়্যাতুল আরিফিন’ গ্রন্থে
(৬) এবং কাহহালাহ এটি তাঁর প্রতি সম্বন্ধযুক্ত করেছেন।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
হাশিয়াতুল খারাশী মুনতাহাল রাগবাহ ফি হাল্লি আলফাযিন নুখবাহ
(পৃষ্ঠা: ১৫)
في «مُعجمِ المؤلفين»
(1).
15 - محمد بن إسماعيل بن صلاح بن محمد الكحلاني، ثم الصنعاني، المعروف بالأمير، المتوفى سنة (1182 هـ).
لَه تَعْليقاتٌ على مبحثِ الجرحِ والتَّعديلِ من «النُّزهةِ»، سمَّاها: «ثَمراتِ النَّظرِ في عِلمِ الأثرِ»
(2).
وقَد طُبعَ الكتابُ في الرِّياض سنة (1417 هـ)، عن دارِ العاصمةِ بتحقيق رائد بن صبري.
16 - محمد بن صادق السندي، أبو الحسن الصغير، المتوفى سنة (1187 هـ)
(3).
وَاسمُ شرحِهِ: «بهجةُ النَّظرِ على شَرحِ نُخبةِ الفِكَرِ»، وهو مطبوعٌ بتحقيق علي بن صادق الكندي.
17 - محمد أكرم بن عبد الرحمن النصربوري السندي
(4).
وَاسمُ شَرحِهِ: «إمعانُ النَّظرِ شرحُ شرحِ نُخبةِ الفِكَرِ»، وهو مطبوعٌ بتحقيق غلام مصطفى القاسمي الباكستاني.
18 - الحسين آبادي.
ذَكرَه أصحابُ «الفهرسِ الشاملِ»
(5).
19 - عبد الحكيم الأفغاني القندهاري، المتوفى سنة (1326 هـ).
لَه تقريراتٌ على «النُّزهةِ»، نَسبَها إليه كحالة في «مُعجمِ المؤلفينَ»
(6).
--------------------------------------------
«মুজামুল মুআল্লিফীন»-এ
(১)।
১৫ - মুহাম্মদ বিন ইসমাইল বিন সালাহ বিন মুহাম্মদ আল-কাহলানি, অতঃপর আস-সানআনি, যিনি আল-আমীর নামে পরিচিত, মৃত্যু বছর (১১৮২ হি.)।
«আন-নুজহা»-এর জারহ ও তাদীল (সমালোচনা ও সংশোধন) সংক্রান্ত আলোচনার ওপর তাঁর কিছু টীকা রয়েছে, যেটির নাম তিনি দিয়েছেন: «সামারাতুন নজর ফি ইলমিল আসার»
(২)।
বইটি রিয়াদে ১৪১৭ হিজরিতে দারুল আসিমাহ থেকে রায়েদ বিন সাবরির তাহকীকে প্রকাশিত হয়েছে।
১৬ - মুহাম্মদ বিন সাদিক আস-সিন্ধি, আবুল হাসান আস-সগির, মৃত্যু বছর (১১৮৭ হি.)
(৩)।
তাঁর ব্যাখ্যাগ্রন্থের নাম: «বাহজাতুন নজর আলা শারহি নুখবাতিল ফিকার», এটি আলী বিন সাদিক আল-কিন্দির তাহকীকে মুদ্রিত।
১৭ - মুহাম্মদ আকরাম বিন আব্দুর রহমান আন-নাসরপুরি আস-সিন্ধি
(৪)।
তাঁর ব্যাখ্যাগ্রন্থের নাম: «ইমআনুন নজর শারহু শারহি নুখবাতিল ফিকার», এটি পাকিস্তানের গোলাম মোস্তফা আল-কাসেমির তাহকীকে মুদ্রিত।
১৮ - আল-হুসাইন আবাদি।
«আল-ফিহরিস আশ-শামিল»-এর লেখকগণ তাঁর উল্লেখ করেছেন
(৫)।
১৯ - আব্দুল হাকিম আল-আফগানি আল-কান্দাহারি, মৃত্যু বছর (১৩২৬ হি.)।
«আন-নুজহা»-এর ওপর তাঁর কিছু তাকরীর (ভাষ্য) রয়েছে, কাহহালা «মুজামুল মুআল্লিফীন»-এ তা তাঁর দিকে সম্বন্ধযুক্ত করেছেন
(৬)।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
হাশিয়াতুল খারাশী মুনতাহাল রাগবাহ ফি হাল্লি আলফাযিন নুখবাহ
(পৃষ্ঠা: ১৬)
20 - عبد الله بن حسين خاطر السمين العدوي المالكي الشاذلي الأزهري، من علماء القرن الرابع عشر.
لَه شَرحٌ على «النُّزهةِ»، سمَّاه: «لَقْط الدُّرر بشرحِ متنِ نُخبةِ الفِكَرِ»! وقد طُبعَ هذا الشرحُ في مطبعةِ مصطفى البابي الحلبي سنة (1356 هـ).
21 - محمد بن عبد الله التونكي الحنفي الهندي.
لَه حاشيةٌ على «النُّزهةِ»، طُبعتْ في الهند عام (1339 هـ).
22 - الخلواتي.
ذَكرَ له أصحابُ «الفهرسِ الشاملِ» حاشيةً على «النُّزهةِ»، وذَكرُوا أنَّ لَه نسخةً في دارِ الكتبِ المصريَّةِ، برقم (330)
(1).
23 - الخوافي.
ذَكرَ لَه أصحابُ «الفهرسِ الشاملِ» حاشيةً على «النُّزهةِ»، وذَكرُوا أنَّ له نسخةً في مكتبةِ سالارجنك برقم (2/ 4 U - H)
(2) .
24 - محمد ناصر الدين الألباني، المتوفى سنة (1420 هـ).
لَه حاشيةٌ على «النُّزهةِ»، أَوْردَها تلميذُهُ علي الحلبي كاملةً في ثنايا «نُكتِهِ على نُزهةِ النَّظرِ».
25 - محمد بن صالح بن محمد بن عثيمين، المتوفى سنة (1421 هـ).
لَه شرحٌ على «نُزهةِ النَّظرِ»، مطبوعٌ متداولٌ.
26 - علي بن حسن بن علي بن عبد الحميد الحلبي، حفظه الله تعالى.
لَه حاشيةٌ على «نُزهةِ النَّظرِ»، سمَّاها: «النُّكَت على نُزهةِ النَّظرِ»، وهُو مطبوعٌ متداولٌ.
فهذِهِ جملةُ ما تَوقَّفتُ عليه من شُروحٍ لنُزهةِ النَّظرِ.
--------------------------------------------
২০ - আব্দুল্লাহ বিন হুসাইন খাতির আস-সামিন আল-আদাওয়ী আল-মালিকি আশ-শাযিলি আল-আযহারি, চতুর্দশ শতাব্দীর একজন আলেম।
'নুযহা'-এর উপর তাঁর একটি শারহ (ব্যাখ্যাগ্রন্থ) রয়েছে, যার নাম তিনি রেখেছেন: 'লাকতুদ দুরার বি-শারহি মাতনি নুখবাতিল ফিকার'! এই ব্যাখ্যাগ্রন্থটি ১৩৫৬ হিজরিতে মোস্তফা আল-বাবি আল-হালাবি প্রেসে মুদ্রিত হয়েছে।
২১ - মুহাম্মদ বিন আব্দুল্লাহ আত-তুঙ্কি আল-হানাফি আল-হিন্দি।
'নুযহা'-এর উপর তাঁর একটি হাশিয়া (টীকা) রয়েছে, যা ১৩৩৯ হিজরিতে ভারতে মুদ্রিত হয়েছে।
২২ - আল-খালওয়াতি।
'আল-ফিহরিস আশ-শামিল'-এর সংকলকগণ 'নুযহা'-এর উপর তাঁর একটি হাশিয়ার কথা উল্লেখ করেছেন এবং তাঁরা বর্ণনা করেছেন যে দারুল কুতুব আল-মিসরিইয়্যাহ-তে ৩৩০ নম্বরে এর একটি পাণ্ডুলিপি রয়েছে।
(১)২৩ - আল-খাওয়াফি।
'আল-ফিহরিস আশ-শামিল'-এর সংকলকগণ 'নুযহা'-এর উপর তাঁর একটি হাশিয়ার কথা উল্লেখ করেছেন এবং তাঁরা বর্ণনা করেছেন যে সালার জং লাইব্রেরিতে (2/ 4 U - H) নম্বরে এর একটি পাণ্ডুলিপি রয়েছে।
(২) .
২৪ - মুহাম্মদ নাসিরুদ্দিন আল-আলবানি, মৃত্যু: ১৪২০ হিজরি।
'নুযহা'-এর উপর তাঁর একটি হাশিয়া রয়েছে, যা তাঁর ছাত্র আলী আল-হালাবি তাঁর 'নুকাতিহি আলা নুযহাতিন নাযার' গ্রন্থের ভেতরে পূর্ণাঙ্গভাবে উল্লেখ করেছেন।
২৫ - মুহাম্মদ বিন সালিহ বিন মুহাম্মদ বিন উসাইমিন, মৃত্যু: ১৪২১ হিজরি।
'নুযহাতুন নাযার'-এর উপর তাঁর একটি ব্যাখ্যাগ্রন্থ রয়েছে, যা মুদ্রিত এবং বহুল প্রচলিত।
২৬ - আলী বিন হাসান বিন আলী বিন আব্দুল হামিদ আল-হালাবি, হাফিজাহুল্লাহু তাআলা।
'নুযহাতুন নাযার'-এর উপর তাঁর একটি হাশিয়া রয়েছে, যার নাম তিনি রেখেছেন: 'আন-নুকাতু আলা নুযহাতিন নাযার', এবং এটি মুদ্রিত ও বহুল প্রচলিত।
এগুলো হলো 'নুযহাতুন নাযার'-এর সেই ব্যাখ্যাগ্রন্থগুলোর সমষ্টি যেগুলোর সন্ধান আমি পেয়েছি।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
হাশিয়াতুল খারাশী মুনতাহাল রাগবাহ ফি হাল্লি আলফাযিন নুখবাহ
(পৃষ্ঠা: ১৭)
ترجمة صاحب المتن المشروح
الحافظ
أحمد بن علي ابن حجر العسقلاني رحمه الله
(1)اسمه، ولقبه، ونسبه:
هُوَ شهابُ الدِّين أبو الفضل، أحمد بن علي بن محمد بن محمد بن محمد بن علي بن محمود بن أحمد بن حجر، الكناني، العسقلاني، المصري المولد، والمنشأ، والدار، والوفاة.
قَالَ السَّخاويُّ رحمه الله:
«وكُنِّي بذَلكَ تَشبيهًا بقاضي مكَّة أبي الفضل مُحمَّد بن أحمد بن عبد العزيز، العقيلي، النويري جَد صاحبنا خطيب مكَّة الآن، كَانَ الله لَه، إِذْ كان مع أبيهِ وهو طفلٌ هُنَاك»
(2).
مولده:
وُلِدَ في الثَّاني والعشرين من شعبان سنة (773 هـ)، عَلى شَاطئِ النِّيلِ بمصر القديمة «الفُسطاطِ» فِي منزلٍ بالقُربِ من دارِ النَّحاسِ، والجامعِ الجديدِ
(3).
--------------------------------------------
ব্যাখ্যায়িত মূলগ্রন্থের লেখকের জীবনী
হাফিয
আহমাদ ইবন আলী ইবন হাজার আল-আসকালানী (রাহিমাহুল্লাহ)
(১)তাঁর নাম, উপাধি এবং বংশপরিচয়:
তিনি হলেন শিহাবুদ্দীন আবুল ফযল আহমাদ ইবন আলী ইবন মুহাম্মাদ ইবন মুহাম্মাদ ইবন মুহাম্মাদ ইবন আলী ইবন মাহমূদ ইবন আহমাদ ইবন হাজার, আল-কিনানী, আল-আসকালানী। তাঁর জন্ম, শৈশব, আবাসন এবং মৃত্যু মিশরে।
আস-সাখাভী (রাহিমাহুল্লাহ) বলেন:
«মক্কার বিচারপতি আবুল ফযল মুহাম্মাদ ইবন আহমাদ ইবন আব্দুল আযীয আল-উকাইলী আন-নুওয়াইরী—যিনি আমাদের বর্তমান মক্কার খতিবের দাদা—এর সাথে মিল রেখে তাঁর এই উপনাম (কুনিয়াত) রাখা হয়েছিল। আল্লাহ তাঁর সহায় হোন, যেহেতু তিনি শৈশবে তাঁর পিতার সাথে সেখানে অবস্থান করেছিলেন»
(২)।
তাঁর জন্ম:
তিনি ৭৭৩ হিজরী সনের ২২শে শাবান প্রাচীন মিশরের «ফুসতাত» নামক এলাকায় নীল নদের তীরে দারুন নাহহাস এবং আল-জামি আল-জাদীদ এর নিকটবর্তী একটি ঘরে জন্মগ্রহণ করেন
(৩)।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
হাশিয়াতুল খারাশী মুনতাহাল রাগবাহ ফি হাল্লি আলফাযিন নুখবাহ
(পৃষ্ঠা: ১৮)
نشأته العلمية:
بَدَأ في حفظِ القرآنِ وعُمره خمسُ سنينَ، وأتمَّ حفظَه ولَه تسعُ سنين
(1)، وَفي سنةِ (785 هـ) حينما كَانَ مُجاورًا بمكَّةَ مع وَصيِّه زكي الدِّين الخروبي، فسَمعَ هناكَ غالبَ «صحيحِ البخاريِّ» على أحدِ كبارِ مُسْندي الحجازِ، وشَاركَ في البحثِ في الأحكامِ من خلالِ كتابِ: «عُمدةِ الأحكامِ»، على أحدِ الحُفَّاظِ المَكيِّينَ، ثمَّ اجتمعَ بحافظِ العصرِ زَين الدِّين العراقيِّ، فلازمَهُ عشرةَ أعوامٍ، وتخرَّج به في عُلومِ الحديثِ، وانتفعَ بمُلَازمتِه، وَقرَأ عليهِ الألفيَّةَ، ثم قرأَ عَليهِ نُكتَه على ابنِ الصَّلاحِ، وبعضَ الكُتبِ والأجزاءِ، وهو أوَّلُ مَن أذنَ له بالتَّدريسِ في علومِ الحديثِ، وذَلكَ في سنةِ سبعٍ وتسعينَ.
رحلاته في طلب العلم:
ثمَّ لَمْ يكتفِ ابنُ حجرٍ بتَحصيلِ العلمِ في موطنِه بمصرَ، فتَنقَّل في البلدانِ حتَّى إنَّه وَفدَ على أكثرَ من خمسينَ بلدًا.
وقَد كَانتْ أُولَى رحلاتِهِ في سنةِ (793 هـ)، إلى بلادِ الصَّعيدِ، ثمَّ رَحلَ إلى الإسكندريَّةِ في أواخرِ سنةِ (797 هـ)، وإلى اليمنِ عن طَريقِ البحرِ سنة (799 هـ)، ثمَّ عَاد إلى القَاهرةِ بعد ذَلكَ، ثمَّ رَحلَ إلى اليمنِ ثانيةً سنة (806 هـ) بعد أَنْ جَاورَ بمكَّةَ وحجَّ، وهذه الرحلةُ هي الَّتي غَرقتْ فيها كتبُهُ، وأمتعتُهُ، وواجَه فيها مِحنًا، ثمَّ تكرَّر قدومُهُ إلى الحجازِ للحجِّ والمُجاورةِ والزِّيارةِ بين سنةِ (800 هـ)، وسنةِ (824 هـ)، عدَّة مرَّاتٍ، ثمَّ رحلَ إلى الشَّامِ سنةَ (802 هـ)،
--------------------------------------------
তাঁর জ্ঞানতাত্ত্বিক বিকাশ:
তিনি পাঁচ বছর বয়সে কুরআন মুখস্থ করা শুরু করেন এবং নয় বছর বয়সে তা সম্পন্ন করেন
(১)। ৭৮৫ হিজরি সালে যখন তিনি তাঁর অভিভাবক জাকিউদ্দিন আল-খারুবির সাথে মক্কায় অবস্থান করছিলেন, তখন তিনি সেখানে হিজাজের অন্যতম প্রবীণ মুসনিদ (হাদিস বর্ণনাকারী)-এর নিকট 'সহীহ আল-বুখারি'-এর অধিকাংশ অংশ শ্রবণ করেন। মক্কার একজন হাফিজের নিকট তিনি 'উমদাতুল আহকাম' গ্রন্থের মাধ্যমে শরীয়তের বিধানসমূহ গবেষণায় অংশগ্রহণ করেন। এরপর তিনি সমসাময়িক কালের শ্রেষ্ঠ হাফিজ জয়নুদ্দিন আল-ইরাকির সাথে সাক্ষাৎ করেন এবং দশ বছর তাঁর সান্নিধ্যে অতিবাহিত করেন। তাঁর মাধ্যমেই তিনি হাদিসশাস্ত্রে ব্যুৎপত্তি অর্জন করেন এবং তাঁর সান্নিধ্য থেকে উপকৃত হন। তিনি তাঁর কাছে 'আলফিয়্যাহ' পাঠ করেন, এরপর ইবনুস সালাহ-এর ওপর তাঁর লিখিত টীকাসমগ্র (নুকাআত) এবং আরও কিছু গ্রন্থ ও অংশবিশেষ পাঠ করেন। তিনিই প্রথম ব্যক্তি যিনি তাঁকে হাদিসশাস্ত্রে অধ্যাপনার অনুমতি প্রদান করেছিলেন; যা ছিল (৭)৯৭ হিজরি সালে।
ইলম অর্জনে তাঁর সফরসমূহ:
অতঃপর ইবনে হাজার নিজের স্বদেশ মিশরে জ্ঞান অর্জনেই ক্ষান্ত হননি, বরং তিনি বিভিন্ন দেশে ভ্রমণ করেছেন, এমনকি তিনি পঞ্চাশটিরও বেশি জনপদে যাতায়াত করেছেন।
তাঁর প্রথম সফর ছিল ৭৯৩ হিজরি সালে সাঈদ (উর্ধ্ব-মিশর) অঞ্চলের দিকে। এরপর তিনি ৭৯৭ হিজরি সালের শেষের দিকে আলেকজান্দ্রিয়া সফর করেন এবং ৭৯৯ হিজরি সালে সমুদ্রপথে ইয়েমেন সফর করেন। এরপর তিনি কায়রোতে ফিরে আসেন, অতঃপর মক্কায় অবস্থান ও হজ পালনের পর ৮০৬ হিজরি সালে দ্বিতীয়বার ইয়েমেন সফর করেন। এটিই ছিল সেই সফর যেখানে তাঁর বইপত্র ও আসবাবপত্র (নৌকাডুবিতে) ডুবে গিয়েছিল এবং তিনি কঠিন পরীক্ষার সম্মুখীন হয়েছিলেন। এরপর ৮০০ হিজরি থেকে ৮২৪ হিজরি সালের মধ্যবর্তী সময়ে তিনি হজ, অবস্থান ও জিয়ারতের উদ্দেশ্যে কয়েকবার হিজাজে আগমন করেন। এরপর ৮০২ হিজরি সালে তিনি শাম (সিরিয়া) অঞ্চল সফর করেন।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
হাশিয়াতুল খারাশী মুনতাহাল রাগবাহ ফি হাল্লি আলফাযিন নুখবাহ
(পৃষ্ঠা: ১৯)
بتحريضٍ من شيخِهِ ابنِ الجَزريِّ (ت: 833 هـ)، ثمَّ رحلَ إليها ثانيةً سنةَ (836 هـ)، وكانَ يقيمُ في بعضِ مدارسِ الشَّامِ، فأَفاد واستفَادَ
(1).
شيوخه:
اعْتنَى الحَافظُ رحمه الله بذِكرِ شُيوخِهِ في الكثيرِ من كُتبِهِ، بَل إنَّه أَفْردَهم في كِتابَينِ:
الأوَّل: «المجمع المُؤسِّس للمُعْجم المُفَهرس»، وتَرْجمَ فيه لشيوخِهِ، وذكرَ فيه مرويَّاتِه عنهم بالسَّماعِ، أَو الإجازةِ، أَو الإفادةِ.
الثَّاني: «المُعْجم المُفَهرس»، وهو عبارةٌ عن فِهرسٍ للكتبِ والمَرويَّاتِ الَّتي تلقَّاها، وذكرَ فيه شيوخَهُ من خلالِ ذِكْرهِ لأسانيدِهِ في الكتبِ والمسانيدِ والمَرويَّاتِ
(2).
تلامذته:
ولقَد عدَّد السَّخاويُّ أسماءَ جماعةٍ من الآخِذينَ عنه دِرايةً ورِوايةً، فذَكر (626) شخصًا
(3).
مؤلفاته:
تَركَ الحَافظُ رحمه الله ورَاءَه ثروةً علميَّةً ضَخمةً أَثْرى بها المكتبةَ الإسلاميَّةَ في جَوانبَ كَثيرةٍ من جوانبِ العِلْمِ والمعرفةِ، وقَد اخْتُلفَ في عَددِ مُصنَّفاتِه، فذَكر السَّخاويُّ له ما يزيدُ على (273) عنوانًا
(4).
--------------------------------------------
তাঁর উস্তাদ ইবনুল জাযারি (মৃত্যু: ৮৩৩ হি.)-এর উৎসাহে, এরপর তিনি ৮৩৬ হিজরি সনে দ্বিতীয়বার সেখানে সফর করেন। তিনি শামের কিছু মাদরাসায় অবস্থান করেছিলেন, সেখানে তিনি অন্যদের যেমন উপকৃত করেছেন, নিজেও তেমনি উপকৃত হয়েছেন
(১)。
তাঁর উস্তাদগণ:
হাফেজ (ইবনে হাজার) রহমাতুল্লাহি আলাইহি তাঁর বহু গ্রন্থে তাঁর উস্তাদদের আলোচনা করার প্রতি গুরুত্বারোপ করেছেন, বরং তিনি তাঁদের জন্য পৃথক দুটি কিতাব রচনা করেছেন:
প্রথমটি: «আল-মুজামুল মুয়াসসিস লিল-মুজামিল মুফাহরাস», এতে তিনি তাঁর উস্তাদদের জীবনী বর্ণনা করেছেন এবং শ্রবণ, অনুমতি অথবা পাঠদানের মাধ্যমে তাঁদের নিকট থেকে যা কিছু বর্ণনা করেছেন তা উল্লেখ করেছেন।
দ্বিতীয়টি: «আল-মুজামুল মুফাহরাস», এটি তাঁর গ্রহণকৃত কিতাব ও বর্ণনাসমূহের একটি সূচিপত্র। এতে তিনি কিতাবসমূহ, মুসনাদসমূহ এবং বর্ণনাসমূহের সনদ উল্লেখ করার মাধ্যমে তাঁর উস্তাদদের নাম উল্লেখ করেছেন
(২)。
তাঁর ছাত্রবৃন্দ:
সাখাভী রহ. তত্ত্বীয় জ্ঞান (দিরায়াত) ও বর্ণনা (রেওয়ায়াত)-এর ক্ষেত্রে তাঁর নিকট থেকে ইলম গ্রহণকারী একদল ব্যক্তির নাম গণনা করেছেন এবং তিনি ৬২৬ জন ব্যক্তির উল্লেখ করেছেন
(৩)。
তাঁর রচনাবলি:
হাফেজ (ইবনে হাজার) রহমাতুল্লাহি আলাইহি তাঁর পশ্চাতে এক বিশাল ইলমী সম্পদ রেখে গেছেন, যার মাধ্যমে তিনি ইলম ও জ্ঞানের বহু ক্ষেত্রে ইসলামি পাঠাগারকে সমৃদ্ধ করেছেন। তাঁর রচিত গ্রন্থসমূহের সংখ্যা নিয়ে মতপার্থক্য রয়েছে, তবে সাখাভী তাঁর জন্য ২৭৩-টিরও বেশি শিরোনাম উল্লেখ করেছেন
(৪)。
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
হাশিয়াতুল খারাশী মুনতাহাল রাগবাহ ফি হাল্লি আলফাযিন নুখবাহ
(পৃষ্ঠা: ২০)
وَعدَّد عبدُ السَّتَّار الشَّيخ مُصنَّفاتِهِ، فأَوْصلَها إلى (289) مُصنَّفًا
(1).
وأمَّا الدُّكتور شاكر، فقَد ذكرَ بأنَّ عددَها (282) مُصنَّفًا
(2)، وأضافَ (38)، مُصنَّفًا تحتَ عُنوانِ: الكُتبُ المنسوبةُ إليهِ.
وفاته:
ابْتدَأ المَرضُ بالحافظِ رحمه الله في ذِي القَعدةِ سنةَ (852 هـ)، وفي لَيلةِ السَّبتِ الثَّامن عشرَ من ذِي الحِجَّةِ سنةَ (852 هـ)، بعد صلاةِ العشاءِ بنحو ساعةٍ انتقلَ إلى ربِّه، وصُلِّي عليهِ من الغدِ قُبيلَ صَلاةِ الظُّهرِ بمُصلَّى سبيلِ المنوني خارجَ القاهرةِ، وصلَّى عَليهِ الخليفةُ، وحَملَ نعشَه، وحضرَ الصَّلاةَ عليهِ السُّلطانُ فمَنْ دُونَه، وقَدَّر بعضُ الأَذكياءِ مَنْ حَضرَ جنازتَه بأَكْثرَ مِن خمسين ألفَ إنسانٍ، فرحمه رحمةً واسعةً، وغفرَ له مغفرةً جامعةً
(3).
--------------------------------------------
আব্দুস সাত্তার শাইখ তাঁর রচনার সংখ্যা গণনা করেছেন এবং একে ২৮৯টি পর্যন্ত নিয়ে গেছেন
(১)।
আর ডক্টর শাকের উল্লেখ করেছেন যে, এগুলোর সংখ্যা ২৮২টি
(২) এবং তিনি 'তাঁর প্রতি সম্বন্ধযুক্ত কিতাবসমূহ' শিরোনামের অধীনে আরও ৩৮টি রচনা যুক্ত করেছেন।
তাঁর মৃত্যু:
যুল-কাদাহ মাস, ৮৫২ হিজরিতে হাফেজ (রহিমাহুল্লাহ)-এর রোগ শুরু হয় এবং ১৮ই যুল-হিজ্জাহ, ৮৫২ হিজরি, শনিবার দিবাগত রাতে এশার সালাতের প্রায় এক ঘণ্টা পর তিনি তাঁর রবের সান্নিধ্যে চলে যান। পরের দিন যোহরের সালাতের কিঞ্চিৎ পূর্বে কায়রোর বাইরে সাবিল আল-মানুনি নামক ঈদগাহে তাঁর জানাজার সালাত আদায় করা হয়। খলিফা তাঁর জানাজা পড়িয়েছেন এবং তাঁর কফিন বহন করেছেন। সুলতান ও তাঁর অধীনস্থ ব্যক্তিবর্গ জানাজায় উপস্থিত ছিলেন। কয়েকজন তীক্ষ্ণধী ব্যক্তি তাঁর জানাজায় উপস্থিত ব্যক্তিদের সংখ্যা পঞ্চাশ হাজারেরও বেশি বলে অনুমান করেছেন। আল্লাহ তাঁকে প্রশস্ত রহমত দান করুন এবং তাঁকে পরিপূর্ণ ক্ষমা দান করুন
(৩)।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
হাশিয়াতুল খারাশী মুনতাহাল রাগবাহ ফি হাল্লি আলফাযিন নুখবাহ
(পৃষ্ঠা: ২১)
ترجمة صاحب الشرح
محمد بن عبد الله الخرشي
(1)اسمه ونسبه:
الفَقيهُ، الأُصُوليُّ، المُتكلِّمُ، المُحدِّثُ، النَّحْويُّ أبو عبد الله محمد بن عبد الله بن علي، المَنسوبُ لقريةٍ يُقَالُ لَها: أبو خراش، التَّابعة لمَركزِ شبراخيت، بمحافظةِ البُحيرةِ بمصرَ.
الصحيح في نسبته:
اختُلفَ في نسبتِهِ على أقوال:
أولا: الخَراشيُّ -بالفتح-
(2).
قَالَ المُرتضى الزَّبيديُّ رحمه الله:
«وأَبو خَراشٍ؛ كسَحابٍ: قريةٌ بالبُحيرةِ من أعمالِ مصرَ، ومنها مِنَ المُتأخِّرين: شَيخُ مَشايِخِنا أَبو عبدِ اللهِ مُحمَّدُ بنُ عبدِ اللهِ الخراشيُّ الإمام، شَارحُ مُختصرِ الشَّيخِ خليلٍ -رحمهما الله-»
(3).
--------------------------------------------
ব্যাখ্যাকারীর জীবনী
মুহাম্মাদ বিন আব্দুল্লাহ আল-খারশি
(১)তাঁর নাম ও বংশপরিচয়:
ফকিহ, উসুলি, মুতাকাল্লিম, মুহাদ্দিস ও নাহবি আবু আব্দুল্লাহ মুহাম্মাদ বিন আব্দুল্লাহ বিন আলী। তিনি মিশরের বুহাইরা প্রদেশের শুবরাখিত মারকাজের অন্তর্ভুক্ত আবু খারাশ নামক গ্রামের অধিবাসী হিসেবে পরিচিত।
তাঁর নিসবতের ক্ষেত্রে সঠিক অভিমত:
তাঁর নিসবত বা নামের শেষাংশের উচ্চারণ নিয়ে একাধিক মতভেদ রয়েছে:
প্রথমত: আল-খারাসি —ফাতহা যোগে—
(২)।
আল-মুরতাজা আজ-জাবিদি (রহিমাহুল্লাহ) বলেছেন:
«আর আবু খারাশ; ‘সাহাব’ শব্দের ওজনে: মিশরের বুহাইরা অঞ্চলের একটি গ্রাম। পরবর্তী যুগের আলিমদের মধ্যে এই গ্রামেরই একজন হলেন আমাদের শাইখদের শাইখ, ইমাম আবু আব্দুল্লাহ মুহাম্মাদ বিন আব্দুল্লাহ আল-খারশি, যিনি শাইখ খলিলের মুখতাসার-এর ব্যাখ্যাকারী— আল্লাহ তাঁদের উভয়ের প্রতি দয়া করুন—»
(৩)।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
হাশিয়াতুল খারাশী মুনতাহাল রাগবাহ ফি হাল্লি আলফাযিন নুখবাহ
(পৃষ্ঠা: ২২)
وكَذا قالَ مُحمَّد خليل الحسيني
(1)، ود. محمد عبد المنعم خفاجي
(2).
الثاني: الخِرَشيُّ -بكَسر الخاء-
(3).
كما قال الحضيكي رحمه الله:
«الخِرَشي - بكسر الخاء المعجمة-نسبة لخِرشة قرية من قرى مصر»
(4).
الثالث: الخَرَشيُّ -بفتحتينِ- كَما هو بخطِّه
(5).
ويَذهبُ إلى ضبطِهِ بـ الخَرَشيِّ: الجبرتي
(6)، وابن سالم مخلوف
(7)، والشيخ أبو الفيض الصديقي
(8)، وإسماعيل الباباني
(9)، والزركلي
(10)، وجُمهورُ أصحابِهِ المالكيَّة.
قلتُ:
فلَوْ صحَّ ضبطُ اسمِهِ بيدِهِ، فالمُرجَّحُ قطعًا حينَها أنْ يُضبطَ بـ «الخَرَشي» -وهُو المشهورُ عندَ أصحابِهِ المالكيَّةِ- وإذا عَمِلْنا بقَواعدِ النَّسبِ، فَعَلى ما قالَه الزَّبيديُّ رحمه الله.
--------------------------------------------
অনুরূপভাবে মুহাম্মদ খলিল আল-হুসাইনি
(১) এবং ড. মুহাম্মদ আব্দুল মুনয়িম খাফাজি
(২) বলেছেন।
দ্বিতীয়ত: আল-খিরাশি -'খা' অক্ষরে কাসরা (জের) সহকারে-
(৩)।
যেমন আল-হাদিকি (রাহিমাহুল্লাহ) বলেছেন:
«আল-খিরাশি -নুকতাযুক্ত 'খা' অক্ষরে কাসরা সহকারে- এটি মিশরের অন্যতম গ্রাম 'খিরশা'-এর সাথে সম্পর্কিত»
(৪)।
তৃতীয়ত: আল-খারাশি -উভয় অক্ষরে ফাতহা (জবর) সহকারে- যেমনটি তাঁর নিজ হস্তাক্ষরে পাওয়া যায়
(৫)।
জাবারতি
(৬), ইবনে সালিম মাখলুফ
(৭), শায়খ আবুল ফায়দ আস-সিদ্দিকি
(৮), ইসমাইল আল-বাবানি
(৯), আয-যিরিকলি
(১০) এবং তাঁর মালিকি অনুসারীদের অধিকাংশ এর উচ্চারণ 'আল-খারাশি' করার পক্ষপাতী।
আমি বলি:
যদি তাঁর নিজ হাতে করা নামের উচ্চারণটি সঠিক হয়, তবে নিশ্চিতভাবে তখন একে 'আল-খারাশি' বলাই অগ্রাধিকারযোগ্য হবে—আর এটিই তাঁর মালিকি অনুসারীদের নিকট প্রসিদ্ধ—তবে আমরা যদি বংশীয় সম্পর্কের (নিসবাহ) নিয়ম অনুযায়ী চলি, তবে তা আয-যাবিদি (রাহিমাহুল্লাহ) যা বলেছেন সে অনুযায়ী হবে।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
হাশিয়াতুল খারাশী মুনতাহাল রাগবাহ ফি হাল্লি আলফাযিন নুখবাহ
(পৃষ্ঠা: ২৩)
والَّذي أَميلُ إلَيه في ضبطِهِ هو: «الخَرَشيُّ»؛ لعدَّةِ أسبابٍ:
أوَّلًا: لأنَّه المشهورُ نقلًا عن أصحابِهِ المالكيَّةِ، فهُم أعلمُ بضبطِ اسمِهِ من غَيرِهم.
ثانيًا: أنَّ هذا غَالبُ اختيارِ مَن تَرجَم له.
ثالثًا: أنَّه المُثبتُ في أغلبِ مُصنَّفاتِهِ المَخطوطَةِ.
رابعًا: ولأنَّه المُثْبتُ في المَخطوطاتِ الَّتي اعْتَمدتُها في تَحقيقي.
وأمَّا ما رجحه الزَّبيديُّ، فيقولُ خيرُ الدِّين الزركلي رحمه الله:
«التَّاج، في هذا وأمثاله ثقة إلا عند تعارضه مع الخط، ولتراجع مخطوطة الزيتونة»
(1) فالله أعلم
أخلاقه والثَّناء عليه، وطرفًا من أقواله وأخباره:
هُو شيخُ المَالكيَّةِ، وإمامُ السَّالكين، وخَاتمةُ العلماءِ العَامِلينَ في زمانِهِ، وأولُ مَن تولَّى مشيخةَ الأزهرِ، وَانتهَتْ إليهِ الرِّئاسةُ في مصرَ، حتَّى إنَّه لم يبقَ في مصرَ أواخرَ عُمرهِ إلا طلبتُهُ وطلبةُ طلبتِهِ.
قالَ الجبرتي رحمه الله:
الإمامُ العَلَّامةُ، والحَبْرُ الفهَّامةُ شيخُ السَّلامِ والمسلمينَ، وارثُ عُلومِ سيِّدِ المُرسلينَ الشَّيخ مُحمَّد الخرشي المالكيُّ شارحُ خليلٍ وغيرِهِ
(2).
وقَالَ ابنُ سالم مخلوف رحمه الله:
الفقيهُ العلَّامةُ، البَركةُ القُدوةُ الفهَّامةُ، شيخُ المالكيَّةِ، وإمامُ السَّالكينَ،
--------------------------------------------
এর উচ্চারণ নির্ধারণে আমি যেটির প্রতি আগ্রহী তা হলো: «আল-খারশি»; এর পিছনে বেশ কিছু কারণ রয়েছে:
প্রথমত: কারণ এটি তাঁর মালিকি অনুসারীদের নিকট থেকে বর্ণিত প্রসিদ্ধ রূপ, আর তাঁরা অন্যদের তুলনায় তাঁর নামের সঠিক উচ্চারণ সম্পর্কে অধিক পরিজ্ঞাত।
দ্বিতীয়ত: এটিই তাঁর জীবনী লেখকদের অধিকাংশের পছন্দ।
তৃতীয়ত: এটিই তাঁর অধিকাংশ পাণ্ডুলিপি রচনায় সাব্যস্ত হয়েছে।
চতুর্থত: এবং কারণ এটিই সেই পাণ্ডুলিপিগুলোতে সাব্যস্ত হয়েছে যেগুলোর ওপর আমি আমার সম্পাদনায় নির্ভর করেছি।
আর যাবীদি যেটিকে প্রাধান্য দিয়েছেন সে প্রসঙ্গে খাইরুদ্দিন আয-যিরিকলি (রাহিমাহুল্লাহ) বলেন:
«তাজ (যাবীদি) এ জাতীয় বিষয়ে নির্ভরযোগ্য, তবে যখন পাণ্ডুলিপির লেখার সাথে তা সাংঘর্ষিক হয় তখন ভিন্ন কথা; যায়তুনা গ্রন্থাগারের পাণ্ডুলিপিটি পুনঃনিরীক্ষণ করা উচিত»
(১) আর আল্লাহই সর্বজ্ঞ।
তাঁর চরিত্র, তাঁর প্রশংসা এবং তাঁর কিছু বাণী ও সংবাদ:
তিনি মালিকি মাযহাবের শায়খ, আধ্যাত্মিক পথের পথিকদের ইমাম এবং তাঁর জামানার আমলকারী আলেমদের সমাপনী প্রতীক। তিনি আল-আযহারের প্রধান শায়খের দায়িত্ব পালনকারী প্রথম ব্যক্তি। মিশরে নেতৃত্বের সকল ধারা তাঁর নিকট এসে সমাপ্ত হয়েছিল, এমনকি তাঁর জীবনের শেষ ভাগে মিশরে কেবল তাঁর ছাত্র এবং ছাত্রদের ছাত্ররাই অবশিষ্ট ছিল।
قالَ الجبرتي رحمه الله:
আল্লামা ইমাম, প্রাজ্ঞ পণ্ডিত, ইসলাম ও মুসলিমদের শায়খ, রাসুলগণের সরদারের ইলমের উত্তরাধিকারী শায়খ মুহাম্মদ আল-খারশি আল-মালিকি; যিনি 'খলিল' ও অন্যান্য গ্রন্থের ব্যাখ্যাকার
(২)।
ইবনে সালিম মাখলুফ (রাহিমাহুল্লাহ) বলেন:
আল্লামা ফকিহ, বরকত ও অনুসরণের আদর্শ মহাজ্ঞানী, মালিকি মাযহাবের শায়খ এবং আধ্যাত্মিক পথের পথিকদের ইমাম,
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
হাশিয়াতুল খারাশী মুনতাহাল রাগবাহ ফি হাল্লি আলফাযিন নুখবাহ
(পৃষ্ঠা: ২৪)
وخاتمةُ العلماءِ العَاملينَ، إليهِ انتهَت الرِّئاسةُ بمصرَ
(1).
وقال مُحمَّد خليل الحسيني، أبو الفضل رحمه الله:
الإمامُ الفقيهُ ذو العُلومِ الوهبيَّة، والأخلاقِ المَرضيَّةِ، المُتَّفقُ على فضلِهِ، وولايتِهِ، وحُسنِ سِيرتِهِ
(2).
وقال الشَّيخُ أبو الفيض الصديقي الهندي رحمه الله:
انْتهَتْ إليهِ الرِّئاسةُ في مصرَ، حتَّى لم يبقَ بها في آخر عُمرهِ إلَّا طلبتُهُ. وقَد اشتُهِرَ اشتهارًا كبيرًا
(3).
ويقول د. محمد عبد المنعم خفاجي رحمه الله:
وكَانَ مُتواضعًا، عفيفًا، واسعَ الخُلق، كثيرَ الأدبِ والحياءِ، كريمَ النَّفسِ، حُلوَ الكلامِ، كثيرَ الشَّفاعاتِ عند الأُمراءِ، مَهيبَ المَنظرِ، دائمَ الطَّهارةِ، كثيرَ الصَّمتِ، كثيرَ الصِّيامِ والقيامِ، زاهدًا ورعًا، مُتقشِّفًا في مَأكلِهِ ومَلبسِهِ ومَفرشِهِ، وكَانَ لا يُصلِّي الصُّبحَ صيفًا وشتاءً إلَّا بالجامعِ الأزهرِ، وكانَ يَقضي مصالحَهُ من السُّوقِ بيدِهِ، ومصالحَ بيتِهِ في منزلِهِ، يَتعمَّمُ بشَملةٍ صوفٍ بيضاءَ، وكَانتْ ثيابُهُ قصيرةً على السُّنةِ المُحمديَّةِ، وَاشتُهِرَ في بلادِ الأرضِ من بلادِ الغربِ والتكرورِ والشَّامِ والحجازِ والرُّومِ واليمنِ، وكَانَ يُعِيرُ من كُتبِهِ من خِزَانةِ الوقفِ بيدِهِ لكلِّ طَالبٍ مع السُّهولةِ؛ إيثارًا لوجهِ اللّهِ تعالَى، ولا يَملُّ في درسِهِ من سؤالِ سائلٍ،
--------------------------------------------
এবং আমলকারী আলেমগণের সমাপ্তি রেখা, মিসরের নেতৃত্ব তাঁর কাছে এসেই সমাপ্ত হয়েছে
(১)।
মুহাম্মদ খলিল আল-হুসাইনি, আবুল ফাদল (রহিমাহুল্লাহ) বলেছেন:
ইলমে ওয়াহবি (প্রদত্ত জ্ঞান) এবং পছন্দনীয় চরিত্রের অধিকারী ফকিহ ইমাম, যাঁর শ্রেষ্ঠত্ব, বেলায়েত (আল্লাহর বন্ধুত্ব) এবং সুন্দর জীবন চরিতের ওপর সকলে একমত
(২)।
শাইখ আবুল ফায়েজ আস-সিদ্দিকি আল-হিন্দি (রহিমাহুল্লাহ) বলেছেন:
মিসরের নেতৃত্ব তাঁর কাছে এসে শেষ হয়েছে, এমনকি তাঁর জীবনের শেষ ভাগে সেখানে তাঁর ছাত্র ছাড়া আর কেউ (নেতৃত্বের জন্য) বাকি ছিল না। আর তিনি ব্যাপক খ্যাতি লাভ করেছিলেন
(৩)।
ড. মুহাম্মদ আবদুন মুনইম খাফাজি (রহিমাহুল্লাহ) বলেন:
তিনি ছিলেন বিনয়ী, পবিত্র চরিত্রের অধিকারী, উন্নত চরিত্রের অধিকারী, অধিক শিষ্টাচার ও লজ্জাশীলতার অধিকারী, উদার মনের মানুষ, মিষ্টভাষী, আমীর-উমরাদের কাছে অধিক সুপারিশকারী, গাম্ভীর্যপূর্ণ চেহারার অধিকারী, সর্বদা পবিত্রতা রক্ষাকারী, অধিক নীরবতা অবলম্বনকারী, প্রচুর সিয়াম পালনকারী ও রাতে ইবাদতকারী, দুনিয়াবিমুখ ও পরহেজগার, পানাহার, পোশাক-পরিচ্ছদ ও বিছানার ক্ষেত্রে অনাড়ম্বর জীবনযাপনকারী। তিনি গ্রীষ্ম বা শীত কোনো ঋতুতেই আল-আজহার মসজিদ ছাড়া ফজরের সালাত আদায় করতেন না। তিনি নিজের বাজারের কেনাকাটা নিজ হাতেই করতেন এবং ঘরের কাজ ঘরেই সারতেন। তিনি সাদা রঙের পশমি চাদর দিয়ে পাগড়ি বাঁধতেন। মুহাম্মদী সুন্নাহ অনুযায়ী তাঁর পোশাক ছিল খাটো। তিনি পশ্চিমা দেশসমূহ, তাকরুর, শাম (সিরিয়া), হিজাজ, রুম ও ইয়েমেনসহ বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তে খ্যাতি লাভ করেছিলেন। তিনি আল্লাহর সন্তুষ্টির উদ্দেশ্যে অত্যন্ত সহজভাবে নিজ হাতে ওয়াকফ লাইব্রেরি থেকে ছাত্রদের কিতাব ধার দিতেন এবং পাঠদানের সময় কোনো প্রশ্নকারীর প্রশ্নে বিরক্ত হতেন না।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
হাশিয়াতুল খারাশী মুনতাহাল রাগবাহ ফি হাল্লি আলফাযিন নুখবাহ
(পৃষ্ঠা: ২৫)
وكانَ أكثرُ قراءتِهِ بالأقبغاويةِ، وَكانَ لَه في منزلِهِ خَلوةٌ للعبادةِ
(1).
جاءَ في مُقدِّمةِ شرحِهِ على خليل
(2):
«كَانَ إمامًا في العلومِ والمعارفِ، مُتواضعًا عفيفًا، لا يكادُ جليسُهُ يَملُّ من مُجالستِهِ، انْتَهتْ إليهِ الرِّياسةُ في العِلمِ، وَوَقفَ الناسُ عندَ فَتاويهِ، وَكانَ مُتقشِّفًا في مَأكلِهِ ومَلبسِهِ ومَفرشِهِ، وكانَ لا يُصلِّي الصُّبحَ صيفًا وشتاءً إلَّا بالجامعِ الأزهرِ.
وَكانَ خلقُهُ واسعًا، إذا تَجادلَ عندَه الطَّلبةُ يشتغلُ هو بالذِّكرِ حتَّى يفرغَ الجدالُ، وكانَ يَقْضي بعضَ مصالحِهِ بيدِه من السُّوقِ، ويَحملُها ويَتعاطَى مصالحَ بيتِهِ في منزلِهِ أيضًا، وكانَ كثيرَ الأَدبِ والحياءِ، كريمَ النَّفسِ، جميلَ المُعاشرةِ، حُلوَ الكَلامِ.
وكَانَ كثيرَ الشَّفاعاتِ عندَ الأُمراءِ وغَيرِهم، وَكانوا يَهابُونهُ ويُجلُّونَه، ويَقبلُونَ شَفاعتَه، وكانَ مَهيبَ المَنظرِ، عَليهِ سَمْتُ العُلماءِ العَاملينَ، والأَولياءِ الصَّالحينَ، وكانَ دائمَ الطَّهارةِ، كثيرَ الصَّمتِ، زاهدًا وَرِعًا، كثيرَ الصِّيامِ، طويلَ القيامِ، وَكانَ لَه تَهجُّدٌ عظيمٌ في اللَّيلِ، وَكانَ نهارُهُ كلُّه في طاعةٍ؛ إمَّا في عِلْمٍ، أو قراءةِ قرآنٍ، أو وِرْدٍ.
يَقُولُ بعضُ مَنْ عايَشه:
ما ضَبَطْنا عَليه قطُّ ساعةً هو فيها غافلٌ عن مَصالحِ دُنياهُ أو آخرتِهِ، وَكانَ يتعمَّمُ بشَملةٍ بَيضاءَ صوفٍ، ولَهُ سُبحةٌ ألفُ حَبَّةٍ، وَكانَت ثيابُهُ قصيرةً على السُّنة المُحمَّديةِ.
وكانَ كثيرَ الذِّكرِ للهِ تعالَى، لا يَكادُ يغفُلُ عن قولِ «لَا إلَه إلَّا اللهُ» في حالِ
--------------------------------------------
তাঁর পাঠদানের অধিকাংশ সময় আকবাগাভিয়্যাহ মাদরাসায় অতিবাহিত হতো এবং তাঁর নিজ গৃহে ইবাদতের জন্য একটি নির্জন কক্ষ ছিল
(১)।
খলীলের ওপর রচিত তাঁর শারহ-এর (ব্যাখ্যাগ্রন্থের) ভূমিকায় এসেছে
(২):
«তিনি ছিলেন জ্ঞান-বিজ্ঞানে একজন ইমাম, বিনয়ী ও পবিত্র চরিত্রের অধিকারী। তাঁর কাছে বসা কোনো ব্যক্তি তাঁর সাহচর্যে ক্লান্তি অনুভব করত না। ইলমের ক্ষেত্রে নেতৃত্ব তাঁর কাছে এসে সমাপ্ত হয়েছিল এবং লোকজন তাঁর ফতোয়ার ওপর নির্ভর করত। তিনি তাঁর আহার, পোশাক ও শয্যায় অত্যন্ত অনাড়ম্বর ছিলেন। গ্রীষ্ম বা শীত কোনো ঋতুতেই তিনি জামে আযহার ব্যতীত ফজরের সালাত আদায় করতেন না।
তাঁর চরিত্র ছিল অত্যন্ত উদার। যখন তাঁর সামনে ছাত্ররা বিতর্ক করত, তখন তিনি যিকিরে মশগুল থাকতেন যতক্ষণ না বিতর্ক শেষ হতো। তিনি বাজার থেকে নিজ হাতে নিজের প্রয়োজনীয় কিছু জিনিসপত্র ক্রয় করতেন এবং তা বহন করতেন। তিনি তাঁর নিজ গৃহের কাজকর্মও নিজেই সম্পাদন করতেন। তিনি অত্যন্ত আদব ও লজ্জাশীলতার অধিকারী, উদারমনা, সচ্চরিত্রবান এবং মিষ্টভাষী ছিলেন।
তিনি আমির ও অন্যদের কাছে প্রচুর সুপারিশ করতেন। তারা তাঁকে ভয় পেত এবং শ্রদ্ধা করত ও তাঁর সুপারিশ গ্রহণ করত। তাঁর চেহারা ছিল গাম্ভীর্যপূর্ণ। তাঁর মধ্যে কর্মনিষ্ঠ আলিম এবং নেককার ওলিদের ছাপ বিদ্যমান ছিল। তিনি সর্বদা পবিত্র অবস্থায় থাকতেন, অধিক সময় নীরব থাকতেন, দুনিয়াবিমুখ ও মুত্তাকি ছিলেন। তিনি প্রচুর রোজা রাখতেন এবং দীর্ঘ সময় দাঁড়িয়ে ইবাদত করতেন। রাতে তাঁর এক বিশাল তাহাজ্জুদের আমল ছিল এবং তাঁর পুরো দিনটিই আনুগত্যের মধ্যে অতিবাহিত হতো; হয় ইলম চর্চায়, না হয় কুরআন তিলাওয়াতে কিংবা কোনো ওজিফা পালনে।
তাঁর সমসাময়িক কেউ কেউ বলেন:
আমরা তাঁকে কখনও এমন একটি মুহূর্তের জন্যও উদাসীন পাইনি যাতে তিনি তাঁর দুনিয়া বা আখিরাতের কল্যাণ থেকে বিমুখ ছিলেন। তিনি একটি সাদা পশমি চাদর দিয়ে পাগড়ি পরিধান করতেন এবং তাঁর একটি এক হাজার দানার তসবিহ ছিল। তাঁর পোশাক সুন্নাতে মুহাম্মদী অনুযায়ী খাটো ছিল।
তিনি আল্লাহ তায়ালার অধিক যিকিরকারী ছিলেন। কোনো অবস্থাতেই তিনি ‘লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ’ বলা থেকে প্রায় বিমুখ হতেন না...
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
হাশিয়াতুল খারাশী মুনতাহাল রাগবাহ ফি হাল্লি আলফাযিন নুখবাহ
(পৃষ্ঠা: ২৬)
درسِهِ، وفي حالِ عملِه، وكَانَ لا يُسْمعُ منه قطُّ مُذاكرةُ أحدٍ بسوءٍ، وكانَ النُّورُ يَخفِقُ عَلى وجهِهِ يدركُهُ.
وَكانَ إذا ركبَ حمارَه، ومرَّ في السُّوقِ، يَقْتتلُ النَّاسُ عَليه، وكانَ قَد اشْتُهِرَ في أقطارِ الأرضِ كالغربِ والشَّامِ والحجازِ والرُّومِ واليمنِ، وصَاروا يَضربُونَ به المثلَ، وأَذْعنَ له عُلماءُ مصرَ؛ الخاصُّ منهم والعامُّ، وكانَ دائمَ الطَّهارةِ، لا يُحْدثُ إلَّا ويتوضَّأُ، هكذَا قالَ أصحابُهُ، وكانَ لا يَذكرُ أحدًا بغِيَبةٍ، ولَا يَحسُدُ أَحدًا من أقرانِه على ما آتاه اللهُ من عِلمٍ، أَو جاهٍ، أو إقبالٍ من الناسِ، بَلْ يَقُولُ: لَولَا أنَّه يستحقُّ ما أعطاهُ اللهُ تعالَى، وما كانَ قطُّ يُزاحمُ علَى شيءٍ من الدُّنيا، ولا يَتردَّدُ إلى أحدٍ مِن الوُلاةِ إلَّا لِضَرورةٍ شرعيَّةٍ من شفاعةٍ لمَظْلومٍ، ونحو ذَلكَ.
وكانَ إذا حضرَ إلَيهِ جماعةٌ ممَّن يَحسُدُونهُ، يُجلُّهم ويُكرمُهم في غَيْبتهم وحُضُورِهم، ولا يُؤَاخذُ أحدًا منهم عَلى ما وقعَ منه في حقِّهِ، بَل هو كثيرُ الاحتمال للأذى بطيبةِ نفسٍ، وكانَ يُعِيرُ مِن كُتبِهِ، ومِن خِزانتِهِ الكُتبَ الغريبةَ العزيزةَ من جَميعِ الفُنونِ، فَضاعَ له بذَلكَ جملةٌ من الكُتبِ.
وكانَ يَأتيهِ الطَّالبُ ببَراءةٍ فيها اسمُ كتابٍ يطلبُه، فيُخرجُهُ مِن الخِزانةِ، فيُعطِي لَه منه من غيرِ مَعرفةِ اسمِهِ، واسمِ أبيهِ، أو بلدِهِ، فيُقيِّد بَعدَما يتوجَّه من عندِه: «أَخذَ منِّي الكتابَ الفلانيَّ الرجلُ الطَّويلُ، أو القصيرُ، أو لحيتُهُ كبيرةٌ، أو صغيرةٌ، أو أبيضُ، أو أسودُ، أو نحو ذَلكَ»، وكانَ منهُ في ذلكَ العجبُ العُجابُ؛ إيثارًا لوَجهِ اللهِ تَعالَى.
لازَم القُرَّاءَ سيَّما بعد شيخِهِ البُرهانِ اللقانيِّ، فكانَ يَقرأُ إلى الضُّحى قراءةَ
তাঁর পাঠদানকালে এবং তাঁর কর্মব্যস্ততার সময়েও। তাঁর পক্ষ থেকে কখনও কাউকে মন্দভাবে স্মরণ করতে শোনা যেত না। তাঁর চেহারায় এক উজ্জ্বল জ্যোতি ঝিলিক দিত যা প্রত্যক্ষ করা যেত।
যখন তিনি তাঁর গাধার ওপর সওয়ার হতেন এবং বাজারের মধ্য দিয়ে যেতেন, তখন মানুষ (তাঁর নিকটবর্তী হওয়ার জন্য) একে অপরের সাথে প্রায় যুদ্ধে লিপ্ত হতো। তিনি পৃথিবীর বিভিন্ন প্রান্তে যেমন— মাগরিব (পশ্চিম), শাম, হিজাজ, রুম এবং ইয়েমেনে প্রসিদ্ধি লাভ করেছিলেন এবং মানুষ তাঁর দৃষ্টান্ত পেশ করত। মিসরের আলেমগণ— তাঁদের বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ এবং সাধারণ সকলে— তাঁর শ্রেষ্ঠত্ব স্বীকার করে নিয়েছিলেন। তিনি সর্বদা পবিত্র অবস্থায় থাকতেন; তাঁর সঙ্গীরা বলেছেন যে, অযু ভঙ্গ হলেই তিনি অযু করে নিতেন। তিনি কাউকে পরনিন্দার মাধ্যমে স্মরণ করতেন না এবং আল্লাহ তাআলা তাঁর সমসাময়িকদের যে ইলম, প্রভাব-প্রতিপত্তি বা জনসমর্থন দান করেছিলেন, সে বিষয়ে তিনি তাদের কাউকেও হিংসা করতেন না; বরং তিনি বলতেন: "আল্লাহ তাআলা তাকে যা দান করেছেন, সে যদি তার যোগ্য না হতো (তবে তিনি তা দিতেন না)।" তিনি দুনিয়াবী কোনো বিষয়ের জন্য কখনও প্রতিযোগিতা করতেন না এবং কোনো শাসকের কাছে যাতায়াত করতেন না, কেবল মজলুমের জন্য সুপারিশ করার মতো কোনো শরয়ি প্রয়োজন ব্যতিরেকে।
যখন তাঁর কাছে এমন একদল লোক আসত যারা তাঁকে হিংসা করত, তখন তিনি তাঁদের অনুপস্থিতিতে এবং উপস্থিতিতেও সম্মান ও সমাদর করতেন। তাঁর প্রতি করা তাদের কোনো অন্যায়ের জন্য তিনি কাউকে পাকড়াও করতেন না; বরং তিনি অত্যন্ত উদার চিত্তে কষ্ট সহ্য করতেন। তিনি তাঁর গ্রন্থাগার থেকে সকল বিষয়ের দুষ্প্রাপ্য ও মূল্যবান বইসমূহ ধার দিতেন, ফলে তাঁর এক বিশাল সংখ্যক বই হারিয়ে গিয়েছিল।
কোনো ছাত্র একটি চিরকুট নিয়ে তাঁর কাছে আসত যাতে তার কাঙ্ক্ষিত বইটির নাম থাকত; তিনি গ্রন্থাগার থেকে সেটি বের করে তাকে দিয়ে দিতেন অথচ তিনি তার নাম, তার পিতার নাম কিংবা তার দেশের নামও জানতেন না। সে চলে যাওয়ার পর তিনি লিখে রাখতেন: "অমুক বইটি আমার কাছ থেকে নিয়ে গেছে সেই লম্বা লোকটি, অথবা খাটো লোকটি, অথবা যার দাড়ি বড়, অথবা যার দাড়ি ছোট, অথবা ফর্সা লোকটি, কিংবা কালো লোকটি"— অথবা এই জাতীয় কোনো বিবরণ। তাঁর পক্ষ থেকে এটি ছিল এক অত্যন্ত আশ্চর্যজনক বিষয়; আর এটি তিনি করতেন কেবল মহান আল্লাহর চেহারার সন্তুষ্টির নিমিত্তে।
তিনি পাঠকদের সান্নিধ্যে থাকতেন, বিশেষ করে তাঁর শায়খ বুরহান আল-লাক্কানির পরে। তিনি চাশতের সময় পর্যন্ত পাঠ করতেন...
(খণ্ড: ১)
হাশিয়াতুল খারাশী মুনতাহাল রাগবাহ ফি হাল্লি আলফাযিন নুখবাহ
(পৃষ্ঠা: ২৭)
تحقيقٍ وتدقيقٍ، ثمَّ يقومُ يُصلِّي الضُّحى، ويتوجَّهُ إلى بيتِهِ، وربَّما مَشى بعدُ لِشَفاعةٍ في أَمرِ النَّاسِ، أو يُصلحُ بينَ النَّاسِ، ثمَّ يرجعُ إلى المَسجدِ يُصلِّي الظُّهرَ بمجلسِهِ بالابتغاويَّة، ثمَّ يأتي إلى الدَّرسِ بجوارِ المِنبرِ بالمَقصورَةِ، فيَقرأُ دَرْسَهُ من «مُختصرِ خَليلٍ»، ثمَّ يتوجَّهُ إلى مجلسِهِ المذكورِ، أو إلَى بيتِهِ.
وكانَ يَقْسمُ مَتْنَ خليلٍ نِصفينِ: نِصفٍ يَقرؤُه في مجلسِهِ بالابتغاويَّة، ونصفٍ يَقرؤُه بعدَ الظُّهرِ عندَ المِنْبرِ، وَكانَ يُمازحُ الطَّلبةَ في درسِهِ، ويَقولُ لهُمْ: «أنتُمْ جُهَلاءُ، ولا يَعْقلُها إلَّا العَالِمونَ».
ويَقُولُ لَهُمْ: «إنَّما أَقولُ لَكُمْ ذَلكَ؛ لأجلِ أَنْ تَبذلُوا هِمَمَكُمْ لطَلبِ العِلْمِ ومُطالعتِهِ».
وَكانَ في درسِهِ إذا قرأَ شَرْحَه الصَّغيرَ بحَضرةِ الطَّلبةِ، يَقولُ لَهم: «هَذَا شَرحٌ نفيسٌ، ما أَحْسنَه!».
يَقُولُ بعضُ مَن عَايَشه:
لَازمتُهُ ما يَنوفُ عن عِشرينَ سنةً في درسِهِ بالمَقْصورةِ خارجَ الدَّرسِ فَما أظنُّ أنَّ كاتبَ الشِّمالِ كتبَ عَليه شيئًا وإنْ وقَع أنَّه عرضَ لأحدٍ على وجهِ التَّنفيرِ، فَذلكَ من بابِ النُّصحِ للأُمَّةِ لا لحظِّ نفسِهِ، فَرَحِمَهُ اللهُ رحمةً واسعةً.
أوَّل شيخٍ للأزهرِ:
كانَ مَن يتولَّى شُئونَ الأزهرِ في أوَّلِ عهدِهِ يُسمَّى: مُشْرفًا، ثمَّ جاءَ عهدُ المَماليكِ، فَكانَ مَن يتولَّى أَمْرَه يسمَّى: نَاظرًا.
مِنهُم: الأميرُ الطواشيُّ بهادر، وَلِيَ نَظرَه في سنة 874 هـ.
গবেষণা ও সূক্ষ্ম পর্যালোচনার পর তিনি চাশতের (দুহা) নামায পড়ার জন্য উঠতেন এবং নিজের ঘরের দিকে যেতেন। সম্ভবত এরপর তিনি মানুষের কোনো বিষয়ের সুপারিশ করার জন্য অথবা মানুষের মাঝে বিবাদ মিমাংসা করার জন্য হাঁটতেন। তারপর তিনি মসজিদে ফিরে আসতেন এবং ইবতিগাউয়্যাহ নামক স্থানে তার মজলিসে যোহরের নামায আদায় করতেন। এরপর তিনি মিম্বরের পাশে মাকসুরাহ নামক স্থানে পাঠদানের জন্য আসতেন এবং 'মুখতাসার খালীল' থেকে তার সবক পড়তেন। এরপর তিনি তার উল্লিখিত মজলিসে অথবা নিজের ঘরে যেতেন।
তিনি মতনে খালীলের পাঠকে দুই ভাগে ভাগ করতেন: এক ভাগ তিনি ইবতিগাউয়্যাহর মজলিসে পড়তেন এবং অন্য ভাগ যোহরের পর মিম্বরের কাছে পড়তেন। তিনি পাঠদানকালে ছাত্রদের সাথে রসিকতা করতেন এবং তাদের বলতেন: "তোমরা অজ্ঞ, জ্ঞানীরা ছাড়া কেউ এটা বুঝবে না।"
তিনি তাদের বলতেন: "আমি তোমাদের এই কথা এ কারণেই বলছি, যেন তোমরা জ্ঞান অর্জন এবং তা অধ্যয়নের জন্য তোমাদের সর্বোচ্চ প্রচেষ্টা ব্যয় করো।"
তিনি যখন ছাত্রদের উপস্থিতিতে নিজের রচিত 'শারহুস সাগীর' পড়তেন, তখন তাদের বলতেন: "এটি একটি মূল্যবান ব্যাখ্যাগ্রন্থ, এটি কতই না চমৎকার!"
তার সমসাময়িকদের একজন বলেন:
আমি বিশ বছরেরও বেশি সময় ধরে মাকসুরাতে এবং পাঠদানের বাইরেও তার সান্নিধ্যে ছিলাম। আমার মনে হয় না যে, বাম পাশের ফেরেশতা (আমল লেখক) তার বিরুদ্ধে কিছু লিখেছেন। যদি কখনও তিনি কারো প্রতি বিরক্তি প্রকাশ করতেন, তবে তা উম্মতের কল্যাণের উদ্দেশ্যেই ছিল, নিজের ব্যক্তিগত স্বার্থে নয়। আল্লাহ তাকে প্রশস্ত রহমত দান করুন।
আল-আযহারের প্রথম শাইখ:
শুরুর যুগে আল-আযহারের বিষয়াবলি যিনি পরিচালনা করতেন তাকে 'মুশরিফ' (তত্ত্বাবধায়ক) বলা হতো। এরপর মামলুকদের যুগ এলো এবং তখন এর পরিচালনার দায়িত্বপ্রাপ্ত ব্যক্তিকে 'নাযির' (পরিচালক) বলা হতো।
তাদের মধ্যে অন্যতম ছিলেন: আমীর তাওয়াশী বাহাদুর, যিনি ৮৭৪ হিজরি সালে এর পরিচালনার দায়িত্বভার গ্রহণ করেন।
(খণ্ড: ১)
হাশিয়াতুল খারাশী মুনতাহাল রাগবাহ ফি হাল্লি আলফাযিন নুখবাহ
(পৃষ্ঠা: ২৮)
ومِنهُم: الأميرُ سودوب القاضي، وَلِيَ نظرَه سنةَ 818 هـ.
أمَّا تلك الرِّياسةُ الدِّينيَّةُ العلميَّةُ، فَعرفَها الأزهرُ في العهدِ التُّركيِّ بلقبِ «شَيخِ الأَزهرِ».
لمَّا دَخلَ الأتراكُ العُثمانيُّون مصرَ، سَارُوا على نَهجِ مَن سَبقَهم مِن سَلاطينِ مصرَ وأُمرائِها، فَحافَظُوا على الأَوضاعِ المَرعيَّةِ في الأزهرِ، وَاهْتَموا برعايةِ شؤونِهِ، والسَّهرِ على مصالحِ أهلِه، واقتدَى الوُلاةُ العُثمانيُّون بسَلاطينِ آلِ عثمانَ، فَعرفُوا لهذا المَعهدِ العلميِّ الدِّينيِّ الإسلاميِّ حقَّه من الرِّعايةِ والتَّقديرِ، وجَدَّدوا به كلَّ دارسٍ، وزَادوا في عمارتِهِ، ووَسَّعوا من رُقعتِهِ، وأَوْقفَ الأُمراءُ، والوُلاةُ، وكبارُ رجالِ الدَّولةِ، والأعيانُ، الكثيرَ مِنَ الأموالِ والأملاكِ، والعَقاراتِ على علمائِهِ وطلبتِهِ، فَاتَّسعتْ إدارتُهُ، وتَشعَّبت مصالحُ أهلِهِ، وأَصبحَت الحَاجةُ ماسَّةً إلى وُجودِ شخصٍ يتفرَّغُ للإشرافِ على شُؤونِ هذا المَعهدِ؛ الدِّينيَّةِ والإداريَّةِ معًا، ويكونُ رئيسًا لشُيوخِ المَذاهبِ والأَرْوقةِ، وَسائرِ عُلماءِ الأزهرِ وطُلَّابهِ، ومَسؤولًا مباشرةً أمامَ الوُلاةِ والسَّلاطينِ، وحَلقةَ اتِّصالٍ بينَ الحُكومةِ وأقسامِ الأزهرِ، فَاسْتَحسنت الدَّولةُ العليَّةُ قُبيلَ نهايةِ القرنِ الحادي عشرَ الهجريِّ أن يُعيِّنَ للأزهرِ شيخَ عمومٍ، يُديرُ شُؤونَه، ويُراقبُ أُمورَه مِن تَعاليمَ وغَيرِها، ويُلقَّبُ: بـ «شَيخِ الجامعِ الأزهرِ».
ومُنذُ العهدِ التُّركيِّ العثمانيِّ والجامعُ الأزهرُ يحتفظُ بهذه الوَظيفَةِ، الَّتي تطوَّرت مَظاهرُها، واتَّسعَت اختصاصَاتُها على حسَب تَطوُّراتِ الزمنِ، ومُقتَضياتِ الظُّروفِ والأَحوالِ، حتَّى آلَتْ إلى ما هي عَلَيه الآن، ولقَد تَوالَى على هذِهِ الرِّياسةِ منذ إِنْشائِهَا حتَّى الآن خَمسُونَ شيخًا، وأَوَّلُهم الشَّيخُ الخرشيُّ رحمه الله
(1).
--------------------------------------------
তাদের মধ্যে রয়েছেন: আমির সুদুব আল-কাদি, তিনি ৮১৮ হিজরি সনে এর তত্ত্বাবধানের দায়িত্ব লাভ করেন।
আর সেই ধর্মীয় ও ইলমি নেতৃত্বকে উসমানীয় যুগে আল-আজহার 'শাইখুল আজহার' (আজহারের প্রধান) উপাধি হিসেবে চিনেছে।
উসমানীয় তুর্কিরা যখন মিশরে প্রবেশ করল, তখন তারা মিশরের পূর্ববর্তী সুলতান ও আমিরদের অনুসৃত পথই অবলম্বন করল। তারা আল-আজহারে প্রচলিত নিয়ম-নীতিগুলো বহাল রাখল এবং এর বিভিন্ন বিষয়ের রক্ষণাবেক্ষণ ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের কল্যাণের প্রতি মনোযোগী হলো। উসমানীয় গভর্নরগণ উসমানীয় রাজবংশের সুলতানদের পদাঙ্ক অনুসরণ করলেন; তারা এই দ্বীনি ও ইলমি প্রতিষ্ঠানের যথাযথ মর্যাদা ও কদরের প্রতি সজাগ থাকলেন। তারা এর জরাজীর্ণ অংশগুলো সংস্কার করলেন, এর স্থাপত্যে পরিবর্ধন আনলেন এবং এর আয়তন প্রশস্ত করলেন। আমিরগণ, গভর্নরগণ, রাষ্ট্রের উচ্চপদস্থ ব্যক্তিবর্গ এবং সম্ভ্রান্ত ব্যক্তিগণ এর আলেম ও ছাত্রদের জন্য প্রচুর অর্থ-সম্পদ, জমি-জমা ও স্থাবর সম্পত্তি ওয়াকফ করলেন। ফলে এর প্রশাসনিক পরিধি বিস্তৃত হলো এবং এর সাথে সংশ্লিষ্টদের স্বার্থ ও প্রয়োজনীয়তা বহুমুখী হয়ে উঠল। তখন এই প্রতিষ্ঠানের ধর্মীয় ও প্রশাসনিক—উভয় দিক তদারকি করার জন্য এমন একজন ব্যক্তির একনিষ্ঠ উপস্থিতির প্রয়োজনীয়তা তীব্র হয়ে দাঁড়াল, যিনি মাযহাবগুলোর প্রধান শাইখগণ, ছাত্রাবাসগুলো (রিওয়াক) এবং আল-আজহারের অন্যান্য আলেম ও ছাত্রদের প্রধান হিসেবে বিবেচিত হবেন। পাশাপাশি তিনি সরাসরি গভর্নর ও সুলতানদের কাছে দায়বদ্ধ থাকবেন এবং সরকার ও আল-আজহারের বিভিন্ন বিভাগের মধ্যে যোগাযোগের মাধ্যম হিসেবে কাজ করবেন। অতঃপর একাদশ হিজরি শতাব্দীর শেষের দিকে উসমানীয় সাম্রাজ্য (আদ-দাওলাতুল আলিয়্যাহ) আল-আজহারের জন্য একজন প্রধান শাইখ নিয়োগ করাকে সমীচীন মনে করল, যিনি এর কার্যাবলী পরিচালনা করবেন এবং শিক্ষা ও অন্যান্য বিষয় তদারকি করবেন; আর তাঁর উপাধি হবে: 'শাইখুল জামি আল-আজহার'।
উসমানীয় তুর্কি যুগ থেকেই জামে আল-আজহার এই পদটি ধরে রেখেছে, যার স্বরূপ সময়ের বিবর্তনে এবং পরিস্থিতির প্রয়োজনে পরিবর্তিত হয়েছে এবং এর এখতিয়ার সম্প্রসারিত হয়েছে, এমনকি শেষ পর্যন্ত এটি বর্তমান রূপে উপনীত হয়েছে। এই পদটি সৃষ্টির পর থেকে এ পর্যন্ত পঞ্চাশজন শাইখ একে একে এই নেতৃত্বের দায়িত্ব পালন করেছেন, যাদের মধ্যে প্রথম ছিলেন শাইখ আল-খারশি (রহিমাহুল্লাহ)
(১)।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
হাশিয়াতুল খারাশী মুনতাহাল রাগবাহ ফি হাল্লি আলফাযিন নুখবাহ
(পৃষ্ঠা: ২৯)
قَالَ الشَّيخُ أبو الفيض الصديقيُّ الهنديُّ رحمه الله:
وَفي القرنِ الحادي عشرَ جعلَ الشَّيخُ الخرشيُّ له شيخًا؛ لِكَثرةِ الوَاردينَ على الأزهرِ، فَصارَ شيخُ الأزهرِ بمَنزلةِ شَيخِ الإسلامِ بدارِ الخِلَافةِ، وهُو يَقومُ بشُؤونِ جميعِ أهلِ الأزهرِ، ومَنُوطٌ به إقامَةُ شعائرِ الدِّينِ في جميعِ الأنحاءِ في القُطرِ المصريِّ.
فأَوَّلُ مَن تولَّى مَشْيخةَ الأزهرِ: الإمامُ أبو عبدِ الله مُحمَّد بن عبد الله الخرشيُّ المالكيُّ
(1).
من شيوخِهِ:
والدُهُ عبدُ الله، والبُرهان اللقاني، والنُّور الأجهوري، والشَّيخ يُوسُف القيشي، والشَّيخ عبد المعطي البصير، وغَيرهم.
قَالَ المُرتَضى الزَّبيدي:
«أَخذَ عَن والدِهِ، وعَن البُرهانِ اللقانيِّ، وأَجازَ الهيتنوكيَّ وَصَاحبَ المِنحِ، وهُمَا من شُيوخِ مَشايِخِنا، وعبد اللهِ محمَّد بن عامرٍ القاهريِّ، أجازَه سنةَ وفاتِهِ، وَهي سُنَّةٌ، وهُوَ من شُيوخِنا»
(2).
ومن تلاميذِهِ:
قَالَ الشَّيخُ عليٌّ الصعيديُّ العدويُّ رحمه الله:
تَخرَّجَ عليهِ جماعةٌ حتَّى وصلَ مُلازمُوه نَحوَ مائةٍ
(3).
--------------------------------------------
শায়খ আবু আল-ফায়দ আস-সিদ্দিকী আল-হিন্দি (রহিমাহুল্লাহ) বলেছেন:
একাদশ শতাব্দীতে আল-আজহারে আগমনকারীদের সংখ্যা বৃদ্ধির কারণে শায়খ আল-খারশিকে এর প্রধান বা শায়খ নিযুক্ত করা হয়। ফলে আল-আজহারের শায়খ খিলাফতের রাজধানীতে শায়খুল ইসলামের মর্যাদাসম্পন্ন হয়ে ওঠেন। তিনি আল-আজহারের সকল সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের কার্যাবলি পরিচালনা করতেন এবং মিশরের সকল অঞ্চলে দ্বীনি বিধানসমূহ ও নিদর্শনসমূহ প্রতিষ্ঠার দায়িত্ব তাঁর ওপর ন্যস্ত ছিল।
আল-আজহারের প্রধানের পদে সর্বপ্রথম যিনি অধিষ্ঠিত হন তিনি হলেন: ইমাম আবু আব্দুল্লাহ মুহাম্মদ বিন আব্দুল্লাহ আল-খারশি আল-মালিকি
(১)।
তাঁর উস্তাদগণের মধ্যে রয়েছেন:
তাঁর পিতা আব্দুল্লাহ, আল-বুরহান আল-লাক্কানি, আন-নূর আল-আজহুরি, শায়খ ইউসুফ আল-কাইশি, শায়খ আব্দুল মুতি আল-বাসীর এবং অন্যান্যরা।
মুরতাজা আজ-জাবিদি বলেছেন:
«তিনি তাঁর পিতার নিকট এবং আল-বুরহান আল-লাক্কানির নিকট শিক্ষা গ্রহণ করেছেন। তিনি আল-হিতনুকি এবং 'আল-মিনাহ' গ্রন্থের রচয়িতাকে ইজাজত প্রদান করেছেন, আর তাঁরা উভয়েই আমাদের উস্তাদদের উস্তাদ ছিলেন। এছাড়াও তিনি আব্দুল্লাহ মুহাম্মদ বিন আমির আল-কাহিরিকে তাঁর ইন্তেকালের বছরে ইজাজত দিয়েছেন, এবং তিনি আমাদের উস্তাদদের অন্তর্ভুক্ত»
(২)।
তাঁর ছাত্রদের মধ্যে রয়েছেন:
শায়খ আলী আস-সাইদি আল-আদাবি (রহিমাহুল্লাহ) বলেছেন:
তাঁর নিকট একদল ছাত্র শিক্ষা সমাপন করেছেন, এমনকি তাঁর নিয়মিত অনুসারী ছাত্রের সংখ্যা প্রায় একশতে পৌঁছেছিল
(৩)।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
হাশিয়াতুল খারাশী মুনতাহাল রাগবাহ ফি হাল্লি আলফাযিন নুখবাহ
(পৃষ্ঠা: ৩০)
فَمِنْهم: الشَّيخُ علي النوري، ومُحمَّد عبد الباقي الزرقاني، وأحمد الشرفي الصَّفاقسي، وعلي بن خليفة المساكني، وعلي اللقاني، وشمس الدِّين اللقاني، وأخوه داود، وأحمد الشبرخيتي، والفيومي -أحدُ شُيوخِ الأزهرِ- وعبد السلام بن صالح حفيد الشَّيخ عبد السَّلام الأسمر، ومُحمَّد النَّفراوي وأخوه أحمد، وأبو عبد الله السلموني، وغيرهم.
ومِن أهمِّ مُصنَّفاتِهِ:
1 - الشَّرح الكبير على متن خليل (المعروف بشرح الخرشي).
2 - الشَّرح الصَّغير على متن خليل أيضًا.
3 - الفوائد السَّنيَّة في شرح المقدِّمة السُّنوسيَّة.
4 - منتهى الرَّغبة في حلِّ ألفاظ النُّخبة لابن حجر، وهو كتابنا.
وفاتُهُ:
تُوفِّي رحمه الله في صَبيحةِ يومِ الأحدِ 27 من ذي الحِجَّة سنةَ 1101 هـ.
يقول د. محمَّد عبد المنعم خفاجي رحمه الله:
ودُفِنَ معَ والدِهِ بقُربِ مَدفنِ سيِّدي محمَّد البنوقري بواسطةِ قرافة المُجَاورين
(1)، فَرحمه الله رحمةً واسعةً، وأَسْكنَه فَسيحَ جنَّاتِهِ.
--------------------------------------------
তাদের মধ্যে রয়েছেন: শাইখ আলী আন-নূরী, মুহাম্মদ আবদুল বাকী আজ-জুরকানী, আহমদ আশ-শারফী আস-সাফাকুসী, আলী ইবনে খলিফা আল-মাসাকিনী, আলী আল-লাক্কানী, শামসুদ্দীন আল-লাক্কানী এবং তাঁর ভাই দাউদ, আহমদ আশ-শুবরাখিতী, আল-ফায়্যুমী -আল-আযহারের অন্যতম শাইখ-, শাইখ আবদুস সালাম আল-আসমারের পৌত্র আবদুস সালাম ইবনে সালিহ, মুহাম্মদ আন-নাফরাবী ও তাঁর ভাই আহমদ, আবু আবদুল্লাহ আস-সালমুনী এবং আরও অনেকে।
এবং তাঁর গুরুত্বপূর্ণ রচনাবলির মধ্যে রয়েছে:
১ - মাতনে খলীলের ওপর আশ-শারহুল কাবীর (শারহুল খারশী নামে পরিচিত)।
২ - মাতনে খলীলের ওপর আশ-শারহুস সাগীরও।
৩ - আল-ফাওয়ায়েদ আস-সানিয়্যাহ ফি শারহিল মুকাদ্দিমাহ আস-সুনুসিয়্যাহ।
৪ - ইবনে হাজারের নুখবার শব্দাবলির বিশ্লেষণে মুনতাহা আর-রাগবাহ, যা আমাদের এই কিতাব।
তাঁর ইন্তেকাল:
তিনি ১১০১ হিজরির ২৭শে যিলহজ রবিবার সকালে রহমাতুল্লাহি আলাইহি ইন্তেকাল করেন।
ড. মুহাম্মদ আবদুল মুনয়িম খাফাজী রহমাতুল্লাহি আলাইহি বলেন:
তিনি তাঁর পিতার সাথে সাইয়্যিদি মুহাম্মদ আল-বানুকারীর কবরের নিকটবর্তী কুরাফাতুল মুজাওয়িরীন নামক স্থানে সমাহিত হন
(১)। আল্লাহ তাঁকে প্রশস্ত রহমত দান করুন এবং তাঁকে জান্নাতের প্রশস্ত উদ্যানে স্থান দান করুন।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
হাশিয়াতুল খারাশী মুনতাহাল রাগবাহ ফি হাল্লি আলফাযিন নুখবাহ
(পৃষ্ঠা: ৩১)
طريقة المؤلف في شرحه وتوثيقنسبة الكتاب إليهطَريقَةُ المُؤلِّفِ:
«مُنْتهى الرَّغبةِ في حَلِّ ألفاظِ النُّخبةِ» عبارةٌ عَن فَوائدَ جَمعَها المُصنِّفُ رحمه الله تعالَى- ثمَّ أَضافَ إلَيْها تَلخيصًا؛ أربعَ حَواشٍ، وَهِيَ:
أوَّلًا: حَاشيةُ البقاعيِّ إبراهيم بن عمر بن حسن الرباط برهان الدِّين الشَّافعي، المتوفى سنةَ (885 هـ)، وهُو من تَلاميذِ الحافظِ ابنِ حجرٍ.
الثَّانِي: قاسم بن قطلوبغا بن عبد الله المصري، المتوفى سنةَ (879 هـ)، وهُو من تلاميذِ الحَافظِ ابنِ حجرٍ أيضًا.
الثَّالث: برهان الدين إبراهيم بن إبراهيم اللقاني، المتوفى سنةَ (1041 هـ).
الرَّابع: علي بن مُحمَّد بن عبد الرَّحمن الأجهوري، المتوفى سنةَ (1066 هـ).
ورَمزَ لكلِّ وَاحدٍ ممَّن نقلَ عنه على هذا النَّحوِ:
1 - البقاعيِّ، رَمزَ لَه بـ: (ب).
2 - القاسم الحنفي -يعني: ابن قطلوبغا- رَمَز له بـ: (ق).
3 - إبراهيم اللقَّاني، رَمزَ لَه بـ: (هـ).
4 - علي الأجهوري، رَمزَ لَه بـ: (ج).
والنَّاظرُ إلى كتابِهِ يجدُ أنَّه نقل عن حواشٍ أُخرى كحاشيةِ ابن أبي شريف، محمد بن أبي بكر بن علي، كمال الدِّين المقدسي الشَّافعي، المتوفى سنةَ (906 هـ)، وهُوَ من تَلاميذِ الحَافظِ ابن حجرٍ رحمه الله.
লেখকের ব্যাখ্যা পদ্ধতি এবং তাঁর প্রতি গ্রন্থটির সম্বন্ধের প্রামাণ্যতালেখকের পদ্ধতি:
‘মুনতাহির রাগবা ফী হাল্লি আলফাজিন নুখবা’ মূলত এমন কিছু উপকারী তথ্যের সমষ্টি যা গ্রন্থকার (আল্লাহ তাআলা তাঁর ওপর রহম করুন) সংকলন করেছেন; অতঃপর তিনি তাতে চারটি টীকাগ্রন্থের সারসংক্ষেপ যোগ করেছেন, সেগুলো হলো:
প্রথমত: বুরহান উদ্দিন ইব্রাহিম বিন উমর বিন হাসান আর-রিবাত আল-বিকাইয়ি আশ-শাফিঈ-এর টীকা, যিনি ৮৮৫ হিজরিতে মৃত্যুবরণ করেন এবং তিনি হাফেজ ইবনে হাজার-এর অন্যতম ছাত্র ছিলেন।
দ্বিতীয়: কাসিম বিন কুতলুবুগা বিন আব্দুল্লাহ আল-মিসরি, যিনি ৮৭৯ হিজরিতে মৃত্যুবরণ করেন এবং তিনিও হাফেজ ইবনে হাজার-এর অন্যতম ছাত্র ছিলেন।
তৃতীয়: বুরহান উদ্দিন ইব্রাহিম bin ইব্রাহিম আল-লাক্কানি, যিনি ১০৪১ হিজরিতে মৃত্যুবরণ করেন।
চতুর্থ: আলি বিন মুহাম্মদ বিন আব্দুর রহমান আল-আজহুরি, যিনি ১০৬৬ হিজরিতে মৃত্যুবরণ করেন।
এবং তিনি যাদের থেকে উদ্ধৃতি দিয়েছেন তাদের প্রত্যেকের জন্য এভাবে সংকেত ব্যবহার করেছেন:
১ - আল-বিকাইয়ি, তাঁর জন্য সংকেত দিয়েছেন: (বা)।
২ - আল-কাসিম আল-হানাফি—অর্থাৎ: ইবনে কুতলুবুগা—তাঁর জন্য সংকেত দিয়েছেন: (কাফ)।
৩ - ইব্রাহিম আল-লাক্কানি, তাঁর জন্য সংকেত দিয়েছেন: (হা)।
৪ - আলি আল-আজহুরি, তাঁর জন্য সংকেত দিয়েছেন: (জিম)।
আর তাঁর গ্রন্থের প্রতি দৃষ্টিপাতকারী দেখতে পাবেন যে, তিনি অন্যান্য টীকা থেকেও উদ্ধৃতি দিয়েছেন, যেমন ইবনে আবি শরিফ মুহাম্মাদ বিন আবি বকর বিন আলি কামাল উদ্দিন আল-মাকদিসি আশ-শাফিঈ-এর টীকা, যিনি ৯০৬ হিজরিতে মৃত্যুবরণ করেন এবং তিনি হাফেজ ইবনে হাজার (আল্লাহ তাঁর ওপর রহম করুন)-এর অন্যতম ছাত্র ছিলেন।
(খণ্ড: ১)
হাশিয়াতুল খারাশী মুনতাহাল রাগবাহ ফি হাল্লি আলফাযিন নুখবাহ
(পৃষ্ঠা: ৩২)
والَّذي يظهرُ لي أنَّ هذا التَّلخيصَ للحواشي الأربعِ من انتقائِهِ رحمه الله، ويظهرُ هذا جليًّا في تلخيصِهِ لكَلامِهِم، فكثيرًا ما تجدُهُ يُلخِّصُ كلامَهم، ثمَّ يقولُ كَما قَالَه (ق)، أو (ب)، أو (ج)، أو (هـ)، وبالعَودةِ إلى أُصولِ هذه الحواشي تجدُهُ قد قامَ بتَلخيصِ ما انْتهَى إليه صاحبُ الحَاشيةِ، ولا شكَّ أنَّ هذا لا يكونُ من تَصرُّفِ النُّسَّاخِ في الغالبِ.
جَاءَ في المُقدِّمةِ:
«وبعدُ: فَإنَّ الفقيرَ مُحمَّدَ بن جمال الدِّين عبد الله بن علي الخرشيِّ البحيريَّ، الشَّهيرَ نسبُهُ ونسبُ عصابتِهِ بأولادِ صباحِ الخيرِ، جَمَعَ في أوراقٍ مُسْتكثَرةٍ فَوائدَ وأبحاثًا تتعلَّقُ بـ: «نُخبةِ الفِكَرِ في مُصْطلحِ أهلِ الأثرِ»، تأليف مولانا العالِم العلَّامة ابنِ حجرٍ العسقلانيِّ، جَعلتُها لنفسي تَذْكرةً، فأَردتُ عَزْوَها لقَائِلِيها، ثمَّ إنِّي رأيتُ ألَّا تَكْملَ الفائدةُ إلَّا إذا ضُمَّ إليها ما تفرَّق، ممَّا تحتاجُ إليه كلُّ مسألةٍ، مِن شرحٍ وتقييدٍ، فشَرعتُ في ذَلكَ بعدَ الاستخارَةِ، وسمَّيتُهُ: «مُنْتهى الرَّغبةِ في حلِّ ألفاظِ النُّخبةِ».
ولخَّصتُهُ مِنَ الحَواشي المَوْضوعةِ عَلَيه للشَّيخ قاسم الحنفيِّ تلميذِ المؤلِّف، وللبقاعيِّ، وللشيخ عَليٍّ الأجهوري، وللعَلَّامة شيخنا إبراهيم اللَّقاني، ورَمزتُ للأوَّلِ ما صورتُهُ (ق)، وللثانِي (ب)، وللثالثِ (ج)، وللرابعِ (هـ).
وأَرْجو مِن اللهِ تعالَى أن يُتمِّمَ هذَا التَّعليقَ، ويُغْنينا بِهِ عن الشُّروحِ والحَواشي المُتَداولةِ بينَ أَيْدي أهلِ هَذَا العصرِ، بحيثُ يَجدُها الطَّالبُ في المحلِّ الواحِدِ، فأَقولُ -وهُوَ حَسْبي ونِعْم الوَكيلُ، رَاجيًا مِنَ الله الكَريمِ المَعُونةَ على ذلكَ، والنَّفعَ به، وقَبولَه بمَنِّه وكرمِهِ».
আমার নিকট এটিই প্রতীয়মান হয় যে, এই চারটি টীকাগ্রন্থের (হাশিয়া) সারসংক্ষেপ তাঁরই (রহিমাহুল্লাহ) নিজস্ব চয়ন। তাদের বক্তব্য সংক্ষেপ করার পদ্ধতিতে এটি স্পষ্টভাবে প্রকাশ পায়; কেননা প্রায়শই দেখা যায় যে তিনি তাদের বক্তব্য সংক্ষেপ করছেন এবং এরপর বলছেন—যেমনটি বলেছেন (ক), অথবা (ব), অথবা (জ), অথবা (হ)। এই টীকাগ্রন্থগুলোর মূল উৎসের দিকে ফিরলে দেখা যায় যে, তিনি মূল টীকা লেখক যে সিদ্ধান্তে উপনীত হয়েছেন তারই সারসংক্ষেপ করেছেন। নিঃসন্দেহে এটি সাধারণত অনুলিপিকারদের কাজ নয়।
ভূমিকায় এসেছে:
«অতঃপর: নিঃস্ব মুহাম্মাদ ইবন জামালুদ্দীন আব্দুল্লাহ ইবন আলী আল-খারশী আল-বুহাইরী—যাঁর বংশ ও আত্মীয়-স্বজন 'আওলাদু সাবাহিল খায়র' নামে প্রসিদ্ধ—আমাদের অভিভাবক, আলিম ও আল্লামা ইবন হাজার আল-আসকালানী বিরচিত 'নুখবাতুল ফিকার ফী মুসতালাহি আহলিল আসার' সংশ্লিষ্ট বহু সংখ্যক পৃষ্ঠায় বিভিন্ন ফায়দা ও তাত্ত্বিক আলোচনা সংগ্রহ করেছেন। আমি এগুলো নিজের জন্য স্মারক হিসেবে তৈরি করেছিলাম, অতঃপর আমি এগুলোকে তাদের প্রবক্তাদের দিকে সম্বন্ধ করার ইচ্ছা করলাম। এরপর আমি দেখলাম যে, বিক্ষিপ্ত বিষয়গুলোকে একত্রে সন্নিবেশিত না করলে এর উপকারিতা পূর্ণাঙ্গ হবে না, যা প্রতিটি মাসআলার ব্যাখ্যা ও বিশ্লেষণের জন্য প্রয়োজন। তাই ইসতিখারা করার পর আমি এ কাজে প্রবৃত্ত হলাম এবং এর নামকরণ করলাম: 'মুনতাহাল রাগবাহ ফী হাল্লি আলফাযিন নুখবাহ'।
এবং আমি এটি সেই সব টীকাগ্রন্থ থেকে সংক্ষেপ করেছি যা মূল গ্রন্থের ওপর লেখা হয়েছে; যেমন লেখকের ছাত্র শায়খ কাসিম আল-হানাফী, আল-বিকাঈ, শায়খ আলী আল-উজহুরী এবং আমাদের উস্তাদ আল্লামা ইবরাহীম আল-লাকানীর টীকাগ্রন্থ। আমি প্রথমজনের জন্য প্রতীক ব্যবহার করেছি (ক), দ্বিতীয়জনের জন্য (ব), তৃতীয়জনের জন্য (জ) এবং চতুর্থজনের জন্য (হ)।
এবং আমি মহান আল্লাহর নিকট আশা করি যেন তিনি এই টীকাটি সম্পন্ন করেন এবং এর মাধ্যমে বর্তমান যুগের মানুষের নিকট প্রচলিত অন্যান্য ব্যাখ্যাগ্রন্থ ও টীকাগ্রন্থ থেকে আমাদের অমুখাপেক্ষী করে দেন, যাতে করে ছাত্ররা এক স্থানেই তা পেয়ে যায়। অতএব আমি বলছি—আর তিনিই আমার জন্য যথেষ্ট ও উত্তম কর্মবিধায়ক—আল্লাহ দয়াময়ের কাছে এ বিষয়ে সাহায্য, এর দ্বারা উপকার লাভ এবং তাঁর অনুগ্রহ ও করুণায় এটি কবুল হওয়ার প্রার্থনা করছি»।
(খণ্ড: ১)
হাশিয়াতুল খারাশী মুনতাহাল রাগবাহ ফি হাল্লি আলফাযিন নুখবাহ
(পৃষ্ঠা: ৩৩)
تَوثيقُ نِسْبةِ الكتَابِ:
صرَّح عددٌ من المُتأخِّرينَ الَّذين ذكَروا مُؤلَّفاتِ الخرشيِّ، باسْمِ الكتَابِ، ونَسبُوه إلَيهِ، بِاسْمِ: «مُنْتهى الرَّغبةِ في حلِّ ألفاظِ النُّخبةِ»
(1): فمِنْهُم:
1 - الزركلي رحمه الله في «الأعلام» (6/ 240).
2 - عمر كحالة في «معجم المؤلفين» (10/ 210).
3 - إسماعيل الباباني في «إيضاح المكنون» (4/ 571).
فَجَميعُ هذِهِ المَصَادرِ ذَكرَتِ الكتابَ، وأكَّدتْ نِسْبتَه للمُصنِّفِ رحمه الله، ولَمْ أَجدْ مَن نَقلَ عَن المُصنِّفِ شيئًا، أو نوَّه بذِكْرِ كلامِهِ في مُؤلَّفاتِ هذَا الفنِّ المُتأخِّرةِ، ولعلَّ هَذا لتَأخُّرِ مُصَنفهِ، وَعدمِ اشْتهارِ الكِتابِ الشُّهرةَ الكَافيةَ، وَاللهُ أَعْلمُ
(2).
--------------------------------------------
কিতাবটির নিসবত বা রচয়িতার নাম নিশ্চিতকরণ:
পরবর্তীকালের বহু আলেম, যারা আল-খারশির রচনাবলির উল্লেখ করেছেন, তারা এই কিতাবটির নাম স্পষ্টভাবে উল্লেখ করেছেন এবং তাঁর দিকে এর নিসবত (সম্পর্ক) করেছেন। কিতাবটির নাম হলো: «মুনতাহা আর-রাগবাহ ফি হাল্লি আলফাযিন নুখবাহ»
(১): তাঁদের মধ্যে রয়েছেন:
১ - আল-যিরিকলি (রহিমাহুল্লাহ) তাঁর «আল-আলাম» গ্রন্থে (৬/ ২৪০)।
২ - উমর কাহহালা তাঁর «মুজামুল মুআল্লিফিন» গ্রন্থে (১০/ ২১০)।
৩ - ইসমাইল আল-বাবানি তাঁর «ঈযাউল মাকনুন» গ্রন্থে (৪/ ৫৭১)।
এই সমস্ত উৎস কিতাবটির কথা উল্লেখ করেছে এবং লেখকের (রহিমাহুল্লাহ) প্রতি এর নিসবতকে সুনিশ্চিত করেছে। আমি এমন কাউকে খুঁজে পাইনি যিনি এই শাস্ত্রের পরবর্তী কোনো কিতাবে লেখকের নিকট থেকে কিছু উদ্ধৃত করেছেন অথবা তাঁর কোনো বক্তব্য উল্লেখ করেছেন। সম্ভবত এর কারণ হলো লেখকের পরবর্তী যুগের হওয়া এবং কিতাবটির পর্যাপ্ত খ্যাতি লাভ না করা। আল্লাহ-ই ভালো জানেন
(২)।
--------------------------------------------